আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে সাহসী মামুনুল

আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে সাহসী মামুনুল

অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে বলেই হয়ত মামুনুল ইসলাম দলের বাকিদের চেয়ে একটু বেশি সাহসী। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান নিয়ে সতর্কতা থাকলেও তাই ভয়-ডর নেই তার। মামুনুল জানালেন, আফগানদের বধ করে লক্ষ্য পূরণের পথে প্রথম সিঁড়িটি পার হতে উন্মুখ তার দল।
দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটটি বর্তমানে আফগানিস্তানের মাথায় শোভা পাচ্ছে। মুকুট ধরে রাখার কঠিন কাজটি করতে ভারতের কেরালার রাজধানী ত্রিভান্দ্রামে পা রেখেছে দলটি। ফিফার র‌্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের (১৮২তম) চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান (১৫০তম)। বাংলাদেশ সাফ ফুটবলের প্রথম ও একমাত্র শিরোপাটি জিতেছে ২০০৩ সালে।
আফগানিস্তানকে স্বাভাবিকভাবেই তাই এগিয়ে রাখছেন মামুনুল। তবে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ের ম্যাচগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ আশাবাদী করে তুলেছে এই মিডফিল্ডারকে।
আফগানিস্তানের বর্তমান দলটির কয়েকজনের জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কসহ ইউরোপের অনেক দেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। শারীরিক শক্তিতেও এগিয়ে তারা। প্রতিপক্ষকে তাই এগিয়ে রাখছেন ‘সতর্ক’ মামুনুল।
“দল হিসেবে আফগানরা ভালো। তাদের খেলার অনেকগুলো ভিডিও দেখেছি। তাদের যে দলটা বিশ্বকাপের বাছাইয়ে খেলেছে; এটা সেই একই দল; mamunul-1একই কোচ; আবার যদি তাদের ফ্যাসিলিটিজসহ সব কিছু দেখেন, মানতে হবে তারা ভালো দল এবং অনেক কিছু তাদের পক্ষে।”
এর পরই সাম্প্রতিক অতীতের হিসেবটা দিয়ে নিজেদের পাল্লা ভারী বলে দাবি করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে একটা ম্যাচও বাংলাদেশ জেতেনি। তবে অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, কিরগিজস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাকে কোনোভাবে ছোট করে দেখছেন না তিনি।
“মাঝে আমরা খুব বড়-বড় ম্যাচ খেলেছি। অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, কিরগিজস্তান, এই দলগুলোর বিপক্ষের ম্যাচগুলো আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। এ ধরনের ম্যাচ খেলার কারণে এখন আর আমাদের ভয় করে না। তারাও ভালো দল। আমরাও ভালো দল। তারা পাওয়ার ফুটবল খেলে; আমরা ট্যাকটিক্যালি ভালো।”
নেপালের বিপক্ষে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ ১-০ গোলে জিতলেও মন ভরেনি সমর্থকদের। খোদ কোচ মারুফুল হকও ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় শিষ্যদের মানসিকতার কড়া সমালোচনা করেছিলেন। মামুনুল দাবি করলেন, মানসিকতা বদলে সাহসী হয়ে উঠেছে তার দল।
“প্রস্তুতির সময় অল্প ছিল। তবে মানসিকতা আমরা অনেকটাই বদলে ফেলেছি। একটা টুর্নামেন্ট জেতার জন্য আমাদের যা যা করা দরকার, অনুশীলনে তা-ই করেছি। সাফল্য পেতে আসলে জয়ের মানসিকতা দরকার। শেষ ম্যাচগুলো (বিশ্বকাপ বাছাইয়ের) আমরা হেরেছি। এক বছর পর আমরা একটা ম্যাচ জিতেছি নেপালের বিপক্ষে। জয়ের মানসিকতা এখন আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে আছে। দলের মধ্যে সাহসটা আসছে যে, আমরা জিততে পারি।”
জামাল ভূইয়াকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পাবে না বাংলাদেশ। কোচও প্রথম ম্যাচে এই মিডফিল্ডারকে পাওয়া যাবে না ধরে নিয়ে ছক কষছেন। ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি ছিটকে গেছেন আরও আগে। আবুল বাতেন মজুমদার কমল ও কেষ্ট কুমার বিশ্বাস চোটের কারণে দলের বাইরে। নির্ভরযোগ্য সতীর্থদের না পাওয়া আর মাত্র ১৮ দিনের প্রস্তুতির কমতি নিয়ে কিছুটা হলেও খুঁতখুঁতে ভাব আছে মামুনুলের।
আবার সাফ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ‘বি’ গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষ কোচ ও অধিনায়কের পাশে কিছুটা চিন্তিতও দেখা গেল মামুনুলকে। চিন্তার বড় অংশ জুড়ে যে জামালকে আফগানিস্তান ম্যাচে না পাওয়া, তা অবশ্য আড়াল করেননি তিনি।
“জামাল অনেকদিন ধরে ওই পজিশনে খেলছে। ওই পজিশনে ওকে মিস করব। ওকে খুবই দরকার ছিল। কেননা, ওই পজিশনে সে-ই একমাত্র প্লেয়ার। রাজু ওখানে খেলবে। সে অনেকদিন দলের বাইরে ছিল; শেষ কয়েকটা ম্যাচ রাজু খেলেছে। আশা করি, সে ভালো করবে; তারপরও বলছি-আমরা জামালকে মিস করব।”
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জামালের অভাব বাকিরা পূরণ করে দেবে বলে বিশ্বাস মামুনুলের। নেপালের বিপক্ষে জাহিদ-জুয়েল জুটির জমে না ওঠা নিয়ে চিন্তাটা আছে, সেটাও দূর হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। এমিলির রেখে যাওয়া জায়গাটা শাখাওয়াত হোসেন রনি কিংবা নাবীব নেওয়াজ জীবন নেবে-এমন আশা নিয়ে আফগানিস্তান ম্যাচের ক্ষণ গুণছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
আগামী বৃহস্পতিবার কেরালার ত্রিভান্দ্রাম স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD