সালমান আলি আগা অধিনায়ক হওয়ার পর আগ্রাসী ক্রিকেটের মন্ত্রে উজ্জীবিত পাকিস্তান গড়ে তুলছে নিজস্ব ঘরানার। গত দুটি সিরিজে খেলেছে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। বাংলাদেশ সফরেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় তারা।
গত মে-জুন মাসে ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পর সালমান বলেছিলেন, তার নেতৃত্বে সামনের দিনগুলোতেও ‘বেপরোয়া না হয়েও সাহসী ক্রিকেট’ খেলার মন্ত্রে এগোবে পাকিস্তান।
বাংলাদেশ সিরিজের আগে নিউ জিল্যান্ড সফরেও একই ঘরানার ক্রিকেট খেলে তারা। তখন অবশ্য সাফল্য মেলেনি, পাঁচ ম্যাচের সিরিজে হারে ৪-১ ব্যবধানে। তবে ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারানোর পর এই ঘরানার ক্রিকেট খেলতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে তাদের।
পাকিস্তানের নতুন এই অ্যাপ্রোচের মূল মন্ত্র, কম বলে বেশি রান অর্থাৎ স্ট্রাইক রেট বাড়িয়ে ব্যাটিং করা। ব্যাটসম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া থাকে, ৩০-৩৫ বলের মধ্যে যত বেশি সম্ভব রান করে নিতে।
এর ছাপ দেখা গেছে, চলতি বছর তাদের দুই সিরিজেই। নিউ জিল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ ম্যাচ মিলিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানের মাত্র ৩টি ইনিংস ছিল ৪০ বলের বেশি। এর দুটিতে সেঞ্চুরি করেন মোহাম্মদ হারিস ও হাসান নাওয়াজ।
এছাড়া বেশিরভাগ ইনিংসই ১৫ থেকে ৩৫ বলের মধ্যে এবং সিংহভাগ ইনিংসে স্ট্রাইক রেটও ছিল ১৬০ বা এর বেশি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে নতুন সিরিজে মাঠে নামার আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এই একই অ্যাপ্রোচে এগোনোর কথা বলেন সালমান।
“হ্যাঁ আমরা খেলার ধরন বদলেছি এবং আমরা এভাবেই খেলতে চাই। তবে কন্ডিশন পর্যবেক্ষণ করাটা খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখব এখানের কন্ডিশন কেমন এবং আমরা কীভাবে খেলতে চাই।”
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রথাগত মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটে এই অ্যাপ্রোচে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে জানেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তাই কন্ডিশন অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর আভাসও দিয়ে রাখলেন তিনি।
“যদি কন্ডিশন তেমন হয়, তাহলে আমরা সেভাবে (আগ্রাসী) খেলব। কন্ডিশন সেটার অনুমোদন না দিলে, আমরা খেলব না। আমাদের লক্ষ্য হল, পার স্কোরের চেয়ে ১০-১৫ বেশি রান করা আর বোলিংয়ের সময় পার স্কোরের ওপরে যেতে না দেওয়া।”
মিরপুরের উইকেট ও কন্ডিশনের ধারণা পাওয়া খুব একটা কঠিন নয় পাকিস্তানের জন্য। এই সিরিজের পাকিস্তান স্কোয়াডে থাকা ৯ ক্রিকেটারের রয়েছে বিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা। এছাড়া ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমট সম্প্রতি বাংলাদেশের হয়েও কাজ করেছেন।
তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা বললেন সালমান।
“হ্যাঁ অবশ্যই। বেশিরভাগ ক্রিকেটার বিপিএল খেলেছে, যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য ও অভিজ্ঞতা পাওয়ার ক্ষেত্রে। তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা নিজেদের ইনপুট দিয়েছে এবং সেভাবে পরিকল্পনা করেছি।”
এছাড়া বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজেদের দেশে মিরপুরের মতো উইকেট বানিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান।
“করাচিতে আমরা একটি ক্যাম্প করেছি। সেখানে আমরা এখানে যেমন উইকেট পাব, তেমন উইকেট বানিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। আমরা আবার খেলার জন্য ও বাংলাদেশ কাপ ধরে রাখার জন্য প্রস্তুত।”
পরিসংখ্যান বিবেচনায় এই সিরিজে ফেভারিট পাকিস্তান। গত মে-জুন মাসে পাকিস্তান সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের একটিতেও লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে ঘরের মাঠেও তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয় তারা।
২০১৬ সালের এশিয়া কাপের পর থেকে পাকিস্তানকে আর টি-টোয়েন্টিতে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে অবশ্য জিতেছিল তারা। তবে ওই টুর্নামেন্টে কেউই মূল দল নিয়ে অংশগ্রহণ করেনি।
ওই জয়সহ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টি। তবে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে সতর্ক পাকিস্তান অধিনায়ক।
“বাংলাদেশ দল যে কোনো স্টেডিয়াম, যে কোনো মাঠ, যে কোনো দেশে খুব ভালো দল। আর খেলা যখন তাদের দেশে হয়, তারা খুব খুব ভালো দল। আর আমরা জানি, কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আসতে চলেছে। আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং খেলার জন্য রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায়।”
মিরপুরে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় শুরু সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
