নারী এশিয়ান কাপের চল্লিশ বছরের ইতিহাসে টুর্নামেন্ট হয়েছে মোট ২০ সংস্করণে। এর মধ্যে ৯ বার শিরোপা ঘরে তুলেছে চিন। চার বছর আগে ভারতে অনুষ্ঠিত ২০তম সংস্করণের শিরোপাও নিজেদের করে নিয়েছিল তারা। ফাইনালে হারিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে। সেই চীনের সঙ্গে ৩ মার্চ ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান কাপে অভিষেক হবে বাংলাদেশের। এর দুই দিন পর ৬ মার্চ একই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে পড়তে হবে উত্তর কোরিয়ার সামনে। এশিয়ান কাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল দল তারা। জিতেছে তিনটি শিরোপা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান নবম। আর বি গ্রুপে বাংলাদেশের আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে তারা আছে ৫১তম স্থানে।
১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে শুরু হতে যাওয়া ১২ দলের আসরে গ্রুপ সংখ্যা তিনটি। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে ছয়টি সেরা দল ও তৃতীয়স্থানে থাকা সেরা দুই দল চলে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তিন গ্রুপের সেরা ছয় দল সরাসরি সুযোগ পাবে ২০২৭ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে। আর দুই সেরা তৃতীয় দল পাবে কন্টিনেন্টাল প্লে-অফ খেলার সুযোগ। র্যাংকিংয়ের নবমে থাকা উত্তর কোরিয়া ও ১৭তম স্থানের চীনকেকে গ্রুপের সেরা দুই দল ধরলে তৃতীয় দলের সেরা দুটির একটি হয়ে শেষ আটে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের। উজবেকিস্তানকে যদি হারানোর লক্ষ্য থাকে এবং হারাতে পারেও সেক্ষেত্রে আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের নিশ্চিত করতে হবে কম ব্যবধানে হারা। বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা বললেও এই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি ও তার দল প্রস্তুত বলে দাবী করেন, ‘গ্রুপটা খুবই শক্তিশালী, তবে আমি মুখিয়ে আছি। আমার মনে হয়, এটা মেনে নেওয়া ও উপভোগ করা উচিত। আমার ও দলের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ১২ মাস আগে আমরা চাইনজি তাইপের বিপক্ষে খেলেছিলাম। তারপর থেকে দলটাকে পরিবর্তন করতে শুরু করি। ধীরে ধীরে আমাদের উন্নতি হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছি। ১২ মাস আগের চেয়ে আমরা এখন ভালো দল। ৬ মাস এমনকি ৩ মাস আগের চেয়েও ভালো অবস্থানে আছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা উন্নতির পথে আছি।’
চীন খেলবে দশম শিরোপায় চোখ রেখে। তাই তাদের বিপক্ষে সেরাটা দেওয়া মোটেই সহজ হবে না এশিয়ান কাপে প্রথম সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য। বাটলার বলেন, ‘চীনের বিপক্ষে খেলা খুব কঠিন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও তাই। তবে যে কোন কিছুই সম্ভব। আমি এই চ্যালেঞ্জ নিতে চাই এবং সবাইকে বলতে চাই আমরা লড়াই করব, নিজেদের সর্বোচ্চটা দেব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা যে ভালো করছি তার ছাপ রাখতে হবে।’
এশিয়ান কাপে প্রত্যাশা ছুঁতে হলে ভালো পরিকল্পনা করে এগুনোর কথা বলেছেন বাটলার। হাতে আছে আর সাত মাস। বাটলার বাফুফের দিকে তাকিয়ে আছেন একটা ভালো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য, ‘আমার পরিকল্পনা আছে, তবে সবকিছু নির্ভর করছে বাফুফের অর্থায়নের ওপর। কথা বলা সহজ। আমি বলতে পারি, আমি সৌদি আরবে খেলতে চাই অথবা অন্য কোথাও যেতে চাই। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আমি কেবল অনুরোধ করতে পারি, বাকিটা আসলে বাফুফের ব্যাপার। আমি পরিকল্পনা ও কৌশল দিয়ে থাকি, এরপর সব নির্ভর করে কর্তৃপক্ষের ওপর যাদের অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। আশা করছি, আমরা কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ ও প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারব।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
