আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শেষ দিকে বাংলাদেশের হার যেন নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটি ও জাকের আলী অনিকের ৩৪ বলে ৬৮ রানের তাণ্ডবে শেষ বল পর্যন্ত লড়াইটা টেনে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষে গিয়ে আর হলো না। শেষ বলে ৪ রানের সমীকরণে সিঙ্গেলই নিতে পেরেছেন ক্রিজে থাকা দুই ব্যাটসম্যান তাসকিন ও শরীফুল। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার পর আফসোস জাগিয়ে ৩ রানে হেরে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এমন শেষ দিকে হার নতুন কিছু নয়। বারবার শেষ দিকে গিয়েই যেন স্নায়ুর চাপের কাছে হার মেনে যায় দলটা। পরিসংখ্যান তো তা-ই বলে!
টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ম্যাচ জয়ের চেয়ে হারের মুখ দেখেছে বেশি। রান তাড়া করেছে – এমন ৮২ ম্যাচে ২৯ জয়ের বিপরীতে হার ৫২টি! আর প্রসঙ্গ যখন শেষ বলে হার, সেভাবে বাংলাদেশের হার মোট ৬টি।
গতকাল সিলেটে লঙ্কানদের বিপক্ষে শেষ বলে হারের আগে আরো একবার তাদের বিপক্ষেই ২০১৪ সালে শেষ বলে ২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই দশ বছর আগে থেকেই শেষ বলে টি-টোয়েন্টিতে হেরে যাওয়া যেন বাংলাদেশের অলিখিত ভাগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৬ বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ৩ বলে ২ রানের সমীকরণ থেকেও মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ‘আত্মহননে’ শেষ বলে ১ রানের হারের দুঃখগাঁথা এখনো ভোলেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কখনো ভুলতে হয়তো পারবেনও না। এরপর আবারও ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ বলে ১ রানে হারে বাংলাদেশ।
তিন বছর বাদে ২০২১ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারটা শেষ বল হলেও সেবার ব্যবধানটা ছিল ৩ রানের। একই ব্যবধানে গতকাল সিলেটেও শেষ বলে হার। এর মাঝে ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ভারতের বিপক্ষে আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ বলে হারের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ, সেবার ব্যবধান ছিল ৫ রান।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শেষ বলে বাংলাদেশ যে শুধু হেরেই চলেছে বিষয়টা তেমন না। শেষ বলে দুবার জয়ও ছিনিয়ে নিয়েছে টাইগাররা, যার একটি গত বছরের এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে। অন্য ম্যাচটি ১২ বছর আগে ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
