ঘরোয়া ক্রিকেটে হার্ডহিটার হিসেবে বেশ সুনাম আছে হাবিবুর রহমান সোহানের। তবে নজর কেড়েছেন কিছুদিন আগে শেষ হওয়া রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে। বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই ওপেনার। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হংকং জাতীয় দলের বিপক্ষে হাঁকিয়েছিলেন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরি। স্বাভাবিকভাবেই বিপিএলের নিলামে সোহানকে নিয়ে হয়েছে বেশ কাড়াকাড়ি।
গতকাল (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল র্যাডিসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিপিএলের ১২তম আসরের নিলাম। প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশ নিতে যাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস নিলাম থেকে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে দলে টেনেছে ‘এ’ দলে খেলা হাবিবুর রহমান সোহানকে। বড় অঙ্কের টাকায় এই হার্ডহিটার ওপেনারকে দলে নিয়ে কোনো ভুল করেনি বলে মনে করেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ কোচ সুজন জানান, নিলামের আগেই সোহানকে দলে নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল নবীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের দুই তারকা জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে ভিত্তিমূল্যে পাওয়া দলের জন্য সুবিধা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। সুজন জানিয়েছেন, জাকেরকে নিয়ে যত সমালোচনাই হোক এবার তাকে অফসাইডে খেলাবেন তিনি।
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে সোহান সেঞ্চুরি হাঁকিয়েই বিপিএলে হটকেকে পরিণত হওয়াটা নিশ্চিত করেছিলেন। এরপর পুরো আসরেই তার ব্যাট কথা বলেছে তরবারির ভাষায়, কচুকাটা করেছে প্রতিপক্ষকে। তার অভিধানে সম্ভবত ‘ঠেকানো’ শব্দটাই নেই, মেরে তক্তা বানানোই তার একমাত্র লক্ষ্য।
আর এই বিষয়টাই তাকে দলে নিতে আগ্রহী করেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে। ছোটবেলার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনেরও দাবি ছিলো সোহানকে নিয়েই। তাই তো শেষ পর্যন্ত তার দাম উঠলো আকাশে। ৫০ লাখে সোহান মাতাবে নোয়াখালী।
সুজন বলেন, ‘সোহানকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি, আম জানি ওর মধ্যে অ্যাবিলিটি আছে। ঢাকার (আগের বিপিএলে) একটা ম্যাচে ও সাত নম্বরে নেমে একটা অবিশ্বাস্য ম্যাচ জিতিয়েছিল। আমি জানি ওর যোগ্যতা আছে। অ্যাবিলিটি অনেক ছেলের মধ্যেই আছে, কিন্তু ও যেমন ভয়ডরহীন, ওর ক্রিকেট হলো ওয়ান ওয়ে, ও জানে শুধু মারতে। তো আমি এটাকে এনকারেজ করব। আমি আশা করি, ও ওইরকম কিছু ইনিংসই খেলবে যেন আমাদের অন্যান্য ব্যাটারের জন্য ব্যাট করাটা সহজ হয়ে যায়। ম্যাচ জেতাও সহজ হয়ে যায়।’
নিলামের নিয়মের মারপ্যাঁচে কপাল খুলেছে নোয়াখালীর। বিগেনারস লাক শব্দটার উপযুক্ত উদাহরণ এখন পর্যন্ত তারাই। ভিত্তিমূল্যে নিলামের নিয়ম মেনে তাদের দলে তাই অঙ্কন-জাকের। তবে, জাকেরকে নিয়ে তো সমালোচনা বিস্তর। কিন্তু সুজন জানালেন, এটা নিয়ে ভাবছেন না তিনি। জাকেরকে অফসাইডে খেলাটা প্রয়োজনে শিখিয়ে দেবেন তিনি।
সুজনের ভাষায়, ‘জাকের আবাহনীর হয়ে আমাকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে এবং যখন এমন হয়েছে যে উইকেট আগলে খেলতে হবে, সেটাও করেছে। যেদিন আমার লাস্ট ছয় ওভার ব্যাট করতে হবে সেই ছয় ওভারেও ও বড় বড় ছয় মেরেছে। জাকেরের দারুণ অ্যাবিলিটি আছে। অনেকেই বলে, ও লেগ সাইড ছাড়া খেলতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি, এই বিপিএলে আমি জাকেরকে বেশি বেশি অফসাইডে শট খেলাতে পারব।’
নতুন ফ্রাঞ্চাইজি নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ক্যাপ্টেন হিসেবে এখনো কাউকে ভাবে নি মালিকপক্ষ। তবে হেড কোচের পছন্দের শীর্ষে সৌম্য সরকার। নোয়াখালীর হেডকোচ সুজন বলেন, ‘আমি চাই সৌম্য ক্যাপ্টেন্সি করুক, যদি ও করতে চায়। অনেক সময় প্লেয়াররা বাড়তি প্রেশার নিতে চায় না। যে করতে চায়…যদি জাকেরের কথা চিন্তা করি, সত্যি ব্লতে আমি জাকেরকে চাই না (অধিনায়কত্ব করুক), প্রেশার ফ্রি ক্রিকেট খেলুক। ও বিপিএলটা উপভোগ করুক, ছন্দে ফিরুক।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
