নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ দল। তবুও সমীকরণের ম্যারপ্যাঁচে সেমিফাইনালে ওঠার কিঞ্চিৎ আশা বেঁচে ছিল। এজন্য গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না টাইগ্রেসদের সামনে। সে লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলার মেয়েরা। লঙ্কানদের ২০২ রানে থামিয়ে দেয়ার পর শারমিন আক্তার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যাটে জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হেরে সেমির স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৯ রান, হাতে ৫ উইকেট। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর করা প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রাবেয়া। পরের বলে এক রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়েছেন নাহিদা আক্তার। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানার কাছে ক্যাচ দিয়েছেন জ্যোতি। চতুর্থ বলে মারুফা আক্তারকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আতাপাত্তু। ফলে শেষ দুই বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৯ রানে, তবে বাংলাদেশ করতে পেরেছে কেবল এক রান।
সোমবার (২০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খানদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে শ্রীলঙ্কা। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে একই ভেন্যুতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে আগামী ২৮ অক্টোবরের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য স্রেফ নিয়মরক্ষার।
২০৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। ৫ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর আরেক ওপেনার ফারজানা হক পিংকিকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনে নামা শারমিন আক্তার সুপ্তা। কিন্তু দেখে-শুনে খেলেও সুবিধা করতে পারেননি পিংকি। উল্টো বেশ কিছু ডট বল খেলে রানআউটে কাটা পড়েন তিনি। বিদায়ের আগে ৩৫ বলে ৭ রান করেন তিনি।
এরপর জ্যোতির বদলে চার নম্বরর ব্যাট করতে নেমেছিলেন সোবহানা মোস্তারি। কিন্তু ব্যাটিংয়ে প্রমোশন পেয়েও সুবিধা করতে পারেননি এই মিডল অর্ডার ব্যাটার৷ ১৩ বলে ৮ রান করে মোস্তারির বিদায়ে দলীয় ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলের হাল ধরেন নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। দুজনের ব্যাটে চড়ে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগ্রেসরা। তবে চতুর্থ উইকেটে তাদের ৮২ রানের জুটি থেমে যায় ১০২ বলে ৬৪ রান করা সুপ্তা চোটে পড়ে মাঠ ছাড়লে।
এরপর স্বর্ণা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই লড়াই করছিলেন জ্যোতি। তাদের ৫০ রানের জুটিতে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। তবে ২৭ বলে ১৯ রান করে স্বর্ণা ফিরলে ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে। এরপর রিতু মনি, রাবেয়া খানদের কেউই সুবিধা করতে পারেননি। জ্যোতি শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৯৮ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৭৭ রান। লঙ্কানদের হয়ে বোলিংয়ে একাই ৪ উইকেট শিকার করেন আতাপাত্তু। এছাড়া সুগন্ধিকা কুমারি ২টি এবং উদেশিকা প্রাবোধানি ১টি উইকেট পান৷
এর আগে, টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। টাইগ্রেস পেসার মারুফা আক্তারের দুর্বোধ্য ইনসুইংয়ে লঙ্কান ওপেনার বিশ্মি গুনারত্নে গোল্ডেন ডাক মারেন। এরপর অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ও হাসিনি পেরেরা দ্বিতীয় উইকেটে ৭৫ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন। আতাপাত্তুকে এলবিডব্লিউয়ে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রাবেয়া খান। বিদায়ের আগে ৪৩ বলে ৪৬ রান করেন লঙ্কান অধিনায়ক। সেখান থেকে ১০০ রানে ৪ উইকেট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। চারে নামা হার্শিতা সামারাবিক্রমা (৪) রান আউট হন। কাভিসা দিলহারাকে (৪) আউট করেন নাহিদা আক্তার।
পঞ্চম উইকেটে ৭৪ রানের জুটিতে শ্রীলংকাকে বড় পুঁজির স্বপ্ন দেখান পেরেরা ও নিলাকশিকা সিলভা। কিন্তু পেরেরা ও সিলভাকে শিকার করে লংকানদের বড় সংগ্রহের আশা ধুলিসাৎ করে দেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার স্বর্ণা আক্তার। পেরেরা ৯৯ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন। সিলভার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ বলে ৩৭ রান৷ তাতে কোনোরকমে দুইশ ছুঁয়ে অলআউট হয় দল। বাংলাদেশের হয়ে ২৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার স্বর্ণা। এছাড়া রাবেয়া ২টি, নাহিদা, মারুফা ও নিশি ১টি করে উইকেট নেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
