রাত ৪:৫০, বৃহস্পতিবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে কে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী? এই প্রশ্নের উত্তর ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হতে পারে। কখনও মাশরাফি আবার কখনও সাকিব আল হাসান। আসলে কে সেরা?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজ শুরুর আগে সাকিবের উইকেট ছিল ২২০টি। নিঃসন্দেহে সবার ওপরে তিনি। এক উইকেট কম নিয়ে মাশরাফি একেবারে সাকিবের ঘাড়ের ওপরই নিঃশ্বাস ফেলছিলেন।

ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি-সাকিব দুজনই। তবে মাশরাফি দুটি এবং সাকিব পেলেন একটি। ফলালফল দুজনেরই উইকেট হয়ে গেল সমান ২২১টি করে।

একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে আসবেন আরও কিছুক্ষণ পর। টস জিতে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বোলিংয়ে এসে ইনিংসের শুরুটা করলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারটা এমনিই কেটে গেল। দ্বিতীয় ওভারে এসেই তৃতীয় বলে ফিরিয়ে দিলেন ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকাকে। একই সঙ্গে সাকিব আল হাসানকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

তবে এ পরিসংখ্যানই হয়তো মাচের শেষ দিকে উল্টে যেতে পারে। উল্টে দিতে পারেন সাকিব। তিনি যদি দুটি কিংবা তারও অধিক উইকেট নেন এবং মাশরাফি যদি আর উইকেট না পান, তাহলে আবার সাকিবই উঠে যাবেন শীর্ষে।

শুরুতেই গুনাথিলাকে ফেরালেন মাশরাফি

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বল হাতে বাংলাদেশকে শুভ সূচনা এনে দিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুর্দান্ত এক কাটারে লঙ্কান ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকে সাজঘরে ফেরালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মাশরাফিকে স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মুশফিকুর রহীমের তালুবন্দি হন গুনাথিলা। ১১ বল খেলে ৯ করতেই বিদায় নিতে হলো তাকে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ ওভারে ১ উইকেটে ২১ রান।

প্রসঙ্গত,  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙেনি বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি বলেন, টস জিতলে আমিও ব্যাটিং নিতাম। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছেন টাইগাররা। প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

 

এদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে স্বাগতিক দল তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে। দ্বিতীয় ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দাকান। তাদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ আর অফস্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ : উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), দানুশকা গুনাথিলা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, মিলিন্দা সিরিবর্ধনে, থিসারা পেরেরা, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ।

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

জিতলেই সিরিজ জয় আর হারলে তাকিয়ে থাকতে হবে শেষ ম্যাচের দিকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে ডাম্বুলায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে প্রথমে বোলিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের পর সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি বলেন, টস জিতলে আমিও ব্যাটিং নিতাম।

এদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে স্বাগতিক দল তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে। দ্বিতীয় ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান। আর জায়গা পেয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ আর অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা।

বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।

নাসিরের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৫৭

দীর্ঘ দিন থেকেই জাতীয় দলের বাইরে থাকা নাসির হোসেন ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়েই নিজেকে মেলে ধরেছেন। ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। আর তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক মুমিনুলের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে নেপালের বিপক্ষে ২৫৭ রান করেছে বাংলাদেশ।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল ও নাসির। দুইজনে মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। এরই মধ্যে অধিনায়ক মুমিনুল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৬১ রান করে তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে সেঞ্চুরি তুলে নেন নাসির। আর তার ব্যাটে ভর করে শুরু ব্যর্থতা কাটিয়ে ২৫৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ সফরে ক্ষতিপূরণ চাইবে পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন ট্রফির আগে বাংলাদেশকে লাহোরে গিয়ে খেলার আমন্ত্রণ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় জুলাইতে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পিসিবির চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।

বোর্ড প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার খান জানিয়েছেন, ‘আমরা সম্প্রতি বাংলাদেশে দুইবার সফর করেছ। আবারো সফরের বিষয়টি আমরা ভেবে দেখবো। আর বিসিবি যদি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ সফরে নিতে চায় আমরা হয়তো আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইব।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল লাহোরে সফল ভাবে আয়োজন করার পর বাংলাদেশকে ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ দেয় পাকিস্তান। তবে এ মুহূর্তে পাকিস্তানের যাওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই বলে তাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশের মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, পিএসএলের ফাইনালে আটজন বিদেশি তারকা খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এনামুল হক বিজয়ও খেলেছেন।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ ভারতের

জয়ের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তৃতীয় দিনেই। চতুর্থ দিন তা পূর্ণতা পেল। ধর্মশালায় অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ২-১ এ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ভারতীয় বোলারদের বোলিং তোপে মাত্র ১৩৭ রানেই শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। আর এতে ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০৬ রানের। আগের দিন বিনা উইকেটে ২৬ রান করা ভারত ১০ উইকেট আর মাত্র ৮৭ রানের টার্গেট নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে। দিনের শুরুর দিকে মুরালি বিজয়কে (৮) ফিরিয়েছেন কামিন্স। ম্যাক্সওয়েলের থ্রুতে রান আউটে সাজঘরে রানের খাতা খুলতে না পারা পূজারা। ৪৬ রানে পরপর দুটি উইকেট হারিয়েও নড়বড়ে হয়ে পড়েনি ভারত।

উদ্বোধনী লোকেশ রাহুলকে নিয়ে এই ম্যাচে কোহলির জায়গায় অধিনায়কত্ব করা আজিঙ্কা রাহানে শেষ করেই ফিরেছেন। রাহুল ৯ চারে ৫১ আর রাহানে ৪ চার ও ২ ছয়ে ২৭ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।

চার টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে পুনেতে ৩৩৩ রানের ধামাকা জয়ে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বেঙ্গালোরে ৭৫ রানের জিতে সমতা ফেরায় ভারত। রাঁচিতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়া দুদল ১-১ সমতায় থাকায় শেষ ম্যাচটি অঘোষিত ফাইনাল হয়ে উঠেছিল। নিজেদের প্রথম ইনিংসে স্টিভেন স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল ৩০০ রান। জবাবে ভারত করেছিল ৩৩২।

ইমার্জিং কাপে নাসিরের হাফ সেঞ্চুরি

দীর্ঘ দিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আসা যাওয়ার মধ্যে নাসির হোসেন। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ব্যানারে থাকলেও একাদশে জায়গা পাননি ঠিকমত। আর সে ধারায় নিউজিল্যান্ড, ভারতের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজেও জায়গা হয়নি দেশসেরা এই ফিনিশারের।

তবে জাতীয় দলে ফিরতে এই তারকা যে মরিয়া ব্যাট হাতে তা আবারো প্রমাণ দিলেন ঘরের মাঠে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে। নেপালের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল ও নাসির। দুইজনে মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। এরই মধ্যে অধিনায়ক মুমিনুল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৬১ রান করে তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন নাসির। আর তার ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আইপিএলে নতুন জার্সিতে সাকিব-গম্ভীররা

ভারতের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (আইপিএল) দশম আসর শুরু হচ্ছে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে। আর এ আসরে নতুন জার্সি পড়ে মাঠ মাতাবেন সাকিব-গম্ভীরদের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

সম্প্রতি তাদের খেলোয়াড়দের একটি ফিটনেস ট্রেনিং সেশন শেষে নতুন জার্সি পরিহিত অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ছবি শেয়ার করেছে কেকেআর। সেখানেই চোখে পড়ে আগের বেগুনী-স্বর্ণালী জার্সির পরিবর্তে লাল-কালো রংয়ের জার্সি পড়ে আছে কেকেআরের খেলোয়াড়রা।

এদিকে ৫ এপ্রিল হায়দরাবাদ-রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়ে আইপিএলের দশম আসর শুরু হলেও কেকেআর নিজেদের প্রথম ম্যাচে  মাঠে নামবে ৭ এপ্রিল, গুজরাটের বিপক্ষে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ ডিকভেলার

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ৯০ রানে হেরে এমনিতেই পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। এবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামার আগে বড় এক দুঃসংবাদ শুনলো লঙ্কান শিবির। ইনজুরির কারণে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন লঙ্কান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

শ্রীলঙ্কান ম্যানেজার জানান, ডিকভেলার ইনজুরি খুব বেশি গুরুতর নয়। সুস্থ হতে দুই সপ্তাহের মতো লাগবে। আর এতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজও অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।  তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে।

দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কান একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। লাহিরু কুমারার পরিবর্তে কুলাসেকারার খেলা প্রায় নিশ্চিত। সুরাঙ্গা লাকমালের পরিবর্তে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে নুয়ান প্রদীপের।

আর বাম হাতি স্লো অর্থোডক্স সাচিথ পাথিরানার পরিবর্তে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে, ব্যাটিং অলরাউন্ডার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ  ৪ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান। মুমিনুল ৪৩ আর নাসির ১৪ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের পর অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামে টাইগাররা। তবে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে : তামিম

তার ব্যাট হাসলে বাংলাদেশের স্কোর হয় সমৃদ্ধ। প্রতিপক্ষের সামনে টাইগাররা ছুড়ে দিতে পারে বিশাল লক্ষ্য। রণগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শনিবার হাসল তামিম ইকবালের ব্যাট। আর তাতে বাংলাদেশও পেল বড় পুঁজি, ৩২৪ রানের। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২৫ রানের।

রণগিরি ডাম্বুলা স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান বলছিল, এই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া বড্ড কঠিনই। হয়েছে ঠিক তা-ই। মাশরাফি বিন মর্তুজা, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসানদের তোপে ২৩৪ রানেই অলআউট শ্রীলঙ্কা। আর তাতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

ম্যাচ সেরা তামিম ইকবাল খেলেছেন ১২৭ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। ১৪২ বল মোকাবেলা করেছেন। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৫টি চার ও একটি ছক্কায়। বলের চেয়ে রান কম; তামিমের নামের সঙ্গে যায় না! ড্যাশিং ওপেনার যে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত।

তবে তামিমের লক্ষ্য ছিল- ধরে খেলবেন। দলকে ভালো একটা পর্যায়ে নিয়ে তারপর খেলবেন হাত খুলে। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিটা পেয়ে গেলেন। তিন অঙ্কের ফিগারে পৌঁছার পর মারমুখী ভঙ্গিতে খেলেছেন।

তামিম আউট হয়েছেন দলীয় ৪৮তম ওভারে। সুরাঙ্গা লাকমালের বল লংঅনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে গুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তামিম জানালেন, এতটা সময় ক্রিজে থাকতে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। লঙ্কান বোলারদের পরীক্ষায় সফল হয়ে খুশি বাংলাদেশের এই ওপেনার।

‘আমার বেশ কিছু সুযোগ হয়েছিল ফিফটি করার; কিন্তু সেগুলোতে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেনি। অতীতকে পেছনে ফেললাম। সুযোগটাকে কাজে লাগালাম। আমি স্কোর করতে চাই। যত দূর সম্ভব দলে অবদান রাখতে চাই। ৪৫ ওভার (মূলত ৪৮ ওভার) পর্যন্ত ব্যাটিং করে যাওয়া সহজ নয়; ঘাম ঝরাতে হয়েছে অনেক। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ব্যাট করেছি; আর স্ট্রাইক ধরে রেখেছি।’

সাকিবের প্রশংসা করে তামিম বলেন, ‘সাকিব যেভাবে খেলেছে, তা ছিল অসাধারণ। আর জানতাম, আমি যদি ১৩৫ বা তার কাছাকাছি করতে পারি, তাহলে দলের স্কোর ৩০০ হতে পারে। সে পথেই এগিয়েছিলাম। মন বলছিল সেটাই।’

জয়ের নায়ক তামিমের প্রশংসায় মাশরাফি

শুরুতেই সৌম্য সরকারের বিদায়। দলীয় ২৯ রানের মাথায় সুরাঙ্গা লাকমালের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সৌম্য। এই বিপদ বাংলাদেশ সামলে ওঠে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। এ যাত্রায় সাব্বির রহমান রুম্মনকে নিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল। যেখানে সাব্বিরের অবদান ৫৪ রান; আর তামিমের ২৮!

অনেকটা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তামিম। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গ তেমন পেলেন না। কারণ ১ রানের মাথায় ফিরে যান মুশফিক। তবে চতুর্থ ইনিংসে বন্ধু সাকিব আল হাসানের সঙ্গে গড়েন ১৪৪ রানের জুটি। যা ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর মধ্যে সাকিবের অবদান ৭২; আর তামিমের ৬৬।

সাকিবের বিদায়ের পর আসলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পঞ্চম উইকেটে মোসাদ্দেকের সঙ্গে ২৫ রানের জুটি গড়লেন তামিম। এখানে তামিম ছিলেন মারমুখী; ১৯ রান অবদান তার। আর মোসাদ্দেকের ৬। তামিম শেষ পর্যন্ত ১২৭ রানে থেমেছেন। তার ১৪২ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ ১৫টি চার ও একটি ছক্কায়। স্ট্রাইক রেট ৮৯.৪৩!

তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৯০ রানে। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটাও জিতেছেন ড্যাশিং এই ওপেনার। তাই জয়ের নায়ক তামিমকে প্রশংসার বানে ভাসলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টাইগার দলপতি বলেন, ‘যদি আপনি লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখবেন- তামিম অনেক অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়। খেলছে গত দশ বছর ধরে। মুশফিকও তা-ই। আমি মনে করি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের ক্ষেত্রে তামিমের ইনিংসটি ছিল কার্যকর।’
এ ছাড়া সাকিব, মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহর প্রশংসা করেন মাশরাফি, ‘সাকিব ভালো খেলেছে। মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ ফিনিংয়ের কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে। অবশ্যই, এই জয়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম ম্যাচে জয় পেলে দলের জন্য ভালো হয়। সব মিলে এটা পারফেক্ট ম্যাচ ছিল।’

 

মিরাজে মুগ্ধ তামিম

ধুমকেতুর মত উদয় যেন মেহেদী হাসান মিরাজের। তবে হারিয়ে যেতে আসেননি যে তিনি, তা ইতোমধ্যেই  প্রমাণ করে ফেলেছেন। টেস্ট সিরিজে অভিষেকে যেভাবে নজর কাড়তে পেরেছিলেন, তেমন ওয়ানডে অভিষেকেও সবার দৃষ্টি কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু অমিত সম্ভাবনায়ই নয়, তার চালচলন এবং সাহস দেখে কে বলবে, এই ছেলেটার মাত্র অভিষেক হলো। মিরাজ যে লম্বা রেসের ঘোড়া সেটা তিনি প্রমাণ করেই ছাড়লেন।

টেস্ট সিরিজের পর দেশে ফিরে এসেছিলেন ওয়ানডে দলে নেই বলে। কিন্তু ভাগ্যে থাকলে ঠেকায় কে? হঠাৎ টিম ম্যানেজমেন্টের ডাকে উড়াল দিলেন কলম্বোয়। সেখান থেকে ডাম্বুলা এবং সিরিজের প্রথম ম্যাচেই অভিষেক। মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে নিলেন ২ উইকেট। অভিষেকে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সই বলা যায়।

মিরাজের বোলিং দারুণ মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম মিরাজের বোলিং নিয়ে বলেন, ‘মিরাজের বোলিং দেখে আমি যারপরনাই খুশি। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, টেস্টেরমত ওয়ানডে অভিষেকেও কী অসাধারণ বোলিং করলো মিরাজ। মাঠে তার চলাফেরা, সাহস, আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দেখে মনেই হয়নি, এটা ছিল তার প্রথম ওয়োনডে ম্যাচ।’

এখন লক্ষ্য একটাই, সিরিজ জয়: তামিম

গত বিশ্বকাপের পর থেকেই ঘরের মাঠে দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকারমত দেশকে সিরিজে হারিয়েছে টিম বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে নিজেদেরকে পরাশক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে পারলেও পরের মাঠে নিজেদের প্রমাণ করার অনেক বাকি ছিল। নিউজিল্যান্ড এবং ভারত সফরে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি টিম বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা সফরে এসে সেই লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে বাংলাদেশের। টেস্ট সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করার পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এগিয়ে বাংলাদেশ। সুতরাং, তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন সিরিজ জয়ের আশা করতেই পারে। সে কথাই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন তামি ইকবাল।

প্রথমে জানালেন বাংলাদেশের নিজেদের প্রমাণ করার বিষয়টি। তামিম বলেন, ‘এতদিন আমরা দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে ভালো দল হিসেবে নাম লিখিয়েছি। এখন লক্ষ্য একটাই, দেশের বাইরে ভালো খেলার চ্যালেঞ্জ নেয়া। নিউজিল্যান্ডে পারিনি। এখানে এরই মধ্যে ১-০ তে এগিয়ে গেলাম।’

সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী তামিম। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তো ১-০ তে এগিয়েই গেলাম। এখন যদি সিরিজ জিততে পারি, সেটা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।’

আজকের ম্যাচ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, প্রথম পাঁচ-ছয় জনের যে কোনো একজন ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেললে, দলের স্কোরলাইন বড় হয়। আজ সেটাই হয়েছে।’

নিজের ব্যাটিং নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি একদিক আগলে রাখার পাশাপাশি স্কোরবোর্ড সচল রাখতে। সেটা পেরেছিলাম। এই পারাটা অনেক কাজে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও যদি এমন দায়িত্ব নিয়ে লম্বা ইনিংস খেলতে পারি, তাহলে আমার এবং দলের জন্য ভালো হবে। আমার নিজের ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হবে। দলও উপকৃত হবে।’

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০ হাজার রানের কৃতিত্ব গড়ায় তামিম নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করছে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করতে পেরে খুবই গর্বিত এবং নিজেকে আনন্দিত মনে হচ্ছে। এরকম আনন্দের দিনে আমার সেঞ্চুরি আর দল জেতার ঘটনা সত্যিই অন্যরকম ভালো লাগার।’

সেঞ্চুরির পেছনের রহস্য জানালেন তামিম

তামিম ইকবালের ব্যাটে গত ১৩ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি নেই্। সবচেয়ে বড় কথা, হাফ সেঞ্চুরি করার পরও তিন অঙ্কের ঘরের দেখা না পাওয়া। গল টেস্টের এক ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি। কলম্বো টেস্টে প্রথমে ৪৯। পরে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তামিম আউট হয়েছেন ৮২ রানে। আক্ষেপে পোড়াছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তামিমের।

নিউজিল্যান্ড সফরেও একটি হাফ সেঞ্চুরি, ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচেও নিষ্প্রভ ছিলেন তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কা সফরে এসে ভালো ব্যাটিং করার পরও কেন যেন হাহাকার তামিমের মনে। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারছিলেন না। অবশেষে পারলেন তামিম। সেঞ্চুরি করার পর সেটাকে নিয়ে গেলেন আর ২৭ রানের উচ্চতায়।

তবে তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি এমনি এমনি আসেনি। ৪০ রানে থাকা অবস্থাতেই তামিমের অস্বস্তি লাগা শুরু হয়। এরপর কোচ এবং অধিনায়কের চেষ্টায় সেই অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তামিম এবং সেঞ্চুরি উপহার দেন।

ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম জানালেন তার সেঞ্চুরির রহস্যের কথা। তিনি বলেন, ‘৪০ এর ঘরে গিয়ে আমি কিছুটা অস্বস্তিবোধ করছিলাম। ওই সময় কোচ মেসেজ পাঠালেন, আর মাশরাফি ভাই ড্রেসিং রুমের বাইরে এসে ঝেড়ে গলায় বললেন, তুই উইকেটে থাক। তখনই আমি চিন্তা করলাম, আমি যতটুকু পারি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো, উইকেটে থাকতে।’

তবে তামিম জানালেন উইকেট ব্যাটসম্যানদের সহায়ক ছিল না। এটা ছিল বোলারদের। তামিম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ৩২০-এর ঘরে পৌঁছে গেছি বলেই ভাবার কারণ নেই, যে উইকেট খুব সহজ ছিল। প্রথমত উইকেট ছিল স্লো। কিছু বল থেমে এসেছে। আবার কোনো কোনো ডেলিভারি টার্নও করেছে। সে করণেই আমার মনে হয়, এই উইকেটে ৩২৪ অনেক রান।’

সাব্বির আর সাকিব দারুণ সহযোগিতা করেছে : তামিম

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারকে নিয়ে সূচনাটা ভালোই ছিল তামিম ইকবালের। তবে সৌম্য অফস্ট্যাম্পের বল অযথা খোঁচা মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে আউট হন। এরপর ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামা সাব্বির রহমান জুটি বাধেন তামিমের সঙ্গে। সর্বশেষ কলম্বো টেস্টে এই দু’জনের জুটির ওপরই তো গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের বিজয়ের সৌধ। সেটাকেই যেন ডাম্বুলায় টেনে আনলেন তারা দু’জন। গড়লেন ৯০ রানের বড় ‍জুটি।

৫৪ রান করে সাব্বির আউট হওয়ার পরপরই মুশফিক বিদায় নেন ১ রান করে। বড় স্কোর গড়ার জন্য আরও একটি বড় জুটি প্রয়োজন ছিল। সেই দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিলেন দুই বন্ধু তামিম-সাকিব। চতুর্থ উইকেট জুটিতে উঠলো ১৪৪ রান। সাকিব আউট হন ৭২ রানে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। সাব্বির আর সাকিবের সঙ্গে তামিমের যে দুটি বড় জুটি গড়ে উঠেছে, সেটাই বাংলাদেশের রান ৩২৪-এর ঘরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশের জয়ের আসল নায়ক তামিম ইকবাল নিজের অনুভুতি জানাতে গিয়ে এক কথায় বলেছেন, ‘ খুবই ভালো লাগছে। প্রচণ্ড গরম ছিল। তবুও চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। দলের জয়ে অবদান রাখতে পারলে সব সময়ই ভালো লাগে।’

সাব্বির আর সাকিব আল হাসানের দুই জুটিতে অবদানের কথা স্বীকার করে তামিম বলেন, ‘সাব্বির আর সাকিব দারুণ সাপোর্ট দিয়েছে। ওই দুটি জুটি, বিশেষ করে সাকিব আর আমার জুটি আমাদের ৩২০ রানের বেশি করার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। আমি আর সাকিব খুব পরিকল্পনা মাফিক আগানোর চেষ্টা করেছি।’

সাকিব-তামিমের জুটির সময় হঠাৎ চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছিল লঙ্কানরা। এ বিষয়টা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা দুইজন যখন ক্রিজে, তখন হঠাৎ লঙ্কানরা ভালো বল করতে শুরু করলো। আমি আর সাকিব ঠিক করলাম, যতক্ষণ পারা যায় ততক্ষণ ধরে উুইকেটে থাকবো এবং রানের চাকাও সচল রাখবো। আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে, সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।’

তিন বিভাগেই আমাদের উন্নতি করতে হবে : থারাঙ্গা

মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকারত্নে দিলশানের বিদায়ের পর লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে আগের ধার নেই। আবার ধার নেই বোলিংয়েও! ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে যার কাছে সাধারণত ব্যাটসম্যানরা ধরাশায়ী হয়, সেই লাসিথ মালিঙ্গাও নেই পুরনো ছন্দে। তার ওপর ইনজুরি তো লেগেই আছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে নেই মালিঙ্গা। অভিজ্ঞ বোলারদের মধ্যে রয়েছেন সুরাঙ্গা লাকমাল। তরুণ পেসার লাহিরু কুমারা ও স্পিনার লক্ষ্মণ সান্দাকান বোলিংয়ে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন লঙ্কান দলে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপের সামনে অসহায় ছিলেন তারাও।

তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান রুম্মন, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তাতে কিছু করারও ছিল না স্বাগতিক বোলারদের। তার চেয়ে বড় কথা, ফিল্ডিংয়েও তাদের দেখা যায়নি চেনারূপে। ২৫ থেকে ৩০ রান অতিরিক্ত দিয়েছেন লঙ্কান ফিল্ডাররা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এটা বাড়তি চাপ হয়ে যায় যে কোনো দলের জন্য। লঙ্কানদের জন্যও হলো তা-ই।

৩২৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা। এই লক্ষ্য তাড়া করতে জিততে হলে কাউকে না কাউকে লম্বা ইনিংস খেলতে হতো। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সেটা করতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। শুরুতেই বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন মাশরাফি। ব্যক্তিগত প্রথম দুই ওভারে তো কোনো রানই দেননি টাইগার দলনেতা। অপরপ্রান্তে লঙ্কানদের ঠেসে ধরেন অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া মোস্তাফিজ-সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের দৌড় থামে ২৩৪ রানে। বাংলাদেশ পায় ৯০ রানের জয়।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা যেমন জানালেন, ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই তাদের উন্নতি করতে হবে। বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের ইনিংসে মাঝামাঝি সময় আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারিনি। বোলাররা ভালো করতে পারেনি। ফিল্ডিংটাও ভালো হয়নি; ২৫-৩০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি। আমাদের তিন বিভাগেই উন্নতি করতে হবে।’

থারাঙ্গার আক্ষেপ, ‘বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমাদের কাউকে লম্বা ইনিংস খেলার দরকার ছিল। দেখুন, প্রথম ১০ ওভারেই আমরা তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। তিনশো রান তাড়া করতে যা করা দরকার ছিল, সেটা আজ (শনিবার) আমরা করতে পারিনি।’

সাকিবকে হটিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মাশরাফি

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় তারা দুজন আছেন। তাদের অবদান ভোলার নয়। মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান। সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে যেমন দলকে দিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের শতভাগ। তেমনি নেতৃত্ব পেলেও শতভাগ উজাড় করে দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে থাকেন মরিয়া।

সাকিব আল হাসান বর্তমানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের সহঅধিনায়ক। অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন আগে। আর বাংলাদেশ দলের সীমিত ওভারের বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি। নড়াইল এক্সপ্রেস দলকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্দান্ত গতিতে।

পরিসংখ্যানই বলছে সে কথাই। জয়ের হিসেবে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সফল অধিনায়ক মাশরাফি। এই তালিকায় ছাড়িয়ে গেছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের ২৪তম জয়।

এর আগে ২৩টি জয় নিয়ে সাকিবের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মাশরাফি। ২৩টি জয় পেতে সাকিবের লেগেছে ৪৯টি ওয়ানডে। আর মাশরাফি ২৪তম জয় পেলেন ৩৮টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে। তার মানে, ১১টি ম্যাচ কম খেলেই সাকিবকে টপকে গেলেন বাংলাদেশ দলের বর্তমান অধিনায়ক!

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। তার নেতৃত্বে টাইগাররা ২৯টি ওয়ানডেতে জয় পেয়েছে। আর এই ২৯টি জয় পেতে হাবিবুল বাশারের লেগেছিল ৬৯টি ওয়ানডে। খুব বেশি দেরি নয়, বাশারকে হয়তো ছাড়িয়ে যাবেন মাশরাফি। সে জন্য বর্তমান অধিনায়কের দরকার আর মাত্র ৬টি ওয়ানডে জয়।

কেকেআরের মালিক শাহরুখ-জুহিকে শোকজ নোটিশ ইডির

শুরু থেকেই ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিচারে আইপিএলের অন্যতম ধনী দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। শাহরুখের জনপ্রিয়তা এবং দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারতে কেকেআরের সমর্থক বেশি। বিপুল পরিমাণ সমর্থক রয়েছে দেশের বাইরেও।

এবার কিছুটা বিপাকে পড়েছে কেকেআর। দলটির মালিক শাহরুখ খান, তার স্ত্রী গৌরি খান ও সহ-কর্ণধার জুহি চাওলাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- ভারতে বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করেছেন। ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়, কেআরএসপিএল-এর শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে (ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট) ২০০০-এর ৪(১) নম্বর আইন ভঙ্গ করেছেন শাহরুখ খান, গৌরি খান ও জুহি চাওলা। এ নিয়ে ২০১৫ সালেই শাহরুখকে সমন পাঠিয়েছিল ইডি।

ইডি সূত্র জানিয়েছে, শাহরুখ খানের রেড চিলিজ প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থায় অংশীদারি রয়েছে জুহি চাওলা এবং তার স্বামী জয় মেহতার। প্রথমে রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট গৌরি খানের নামে সমস্ত শেয়ার কিনত। পরে নতুন শেয়ার কেনে  কেআরএসপিএল। যার মধ্যে একটা আর্থিক অংশ শেয়ার মূল্য হিসাবে দেওয়া হয় জুহিকে। অভিযোগ- বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ওইসব শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।

সরি’ বলতে পারেন না কোহলি!

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ক্রিকেটীয় বাকযুদ্ধ যেন থামছেই না। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যম ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির। কোহলিকে নিয়ে একের পর এক বিতর্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে তারা। এবার অজি ক্রিকেট বোর্ড প্রধান জেমস সাদারল্যান্ডও সেই দলে যোগ দিলেন।

কোহলির সমালোচনা করে সাদারল্যান্ড বলেন, ‘কোহলি বোধহয় ‘সরি’ শব্দটাও ঠিক মতো বলতে জানে না!’ বেঙ্গালুরু টেস্টের পর ডিআরএস বিতর্ক থেকে এখনও বের হতে পারেনি ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ কোহলিকে মিথ্যাবাদীও বলেছেন। অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যমে আশা করেছিলো, কোহলি হয়তো দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

তাই কিছুটা হতাশ হয়েই সাদারল্যান্ড এই কথা বলেছেন। স্থানীয় একটি রেডিওতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জানি না কোহলি ঠিকমতো সরি বলতে জানে কি না! এই টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দলের অনেকেই আইপিএলে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। সেটা যেন বিফলে না যায়। অনেকটা সময় তারা এক সাথে থাকবে। সেখানেই হয়তো ভালো কিছু দেখতে পাবো আমরা।’

বিসিবির দিকে ভাসের অভিযোগের তীর

বাংলাদেশের সম্ভাব্য ফাস্ট বোলিং কোচের তালিকায় কোর্টনি ওয়ালশের পাশাপাশি নাম ছিলো শ্রীলঙ্কার সাবেক ফাস্ট বোলার চামিন্দা ভাসেরও। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাথে আলোচনাটা খুব বেশিদূর এগোয়নি। এবার বিসিবির বিরুদ্ধে অভিযোগই করে বসলেন কিংবদন্তি লঙ্কান পেসার। তার দাবি, চুক্তিপত্র পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে। তারপর আর কেউ যোগাযোগ করেনি। 

বুধবার কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড একাদশের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন এই কিংবদন্তি। বর্তমানে নিজ দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করা এই লঙ্কানের অভিযোগ, শুধু আলোচনাই নয়, বিসিবি নাকি তাকে চুক্তিপত্রও দিয়েছিলো। তারপর আর যোগাযোগ করেনি কেউ।

এমন অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাস। বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিককে ভাস বলেন, আপনাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে একটি চুক্তিপত্র পাঠিয়েছিলো। কিন্তু এরপর আর কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।

তবে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সরাসরি অস্বীকার করলেন এমন অভিযোগ। তিনি জানান, ভাসকে চুক্তিপত্র পাঠানোর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না, তার অজ্ঞাতসারে এমন কিছু হওয়ার কথাও নয়।

বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে কোহলিদের

মাঝখানে খারাপ সময় যাচ্ছিলো বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই)। অস্ট্রেলিয়া দলকে আতিথেয়তা দিতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয়েছে। সেই বোর্ডই এবার ক্রিকেটারদের বেতন দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে। শুধু বেতনই নয়, ম্যাচ ফি’র পরিমাণটাও বাড়ছে একই হারে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট সংস্থা বিসিসিআই ঘোষণা দিয়েছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে সব ম্যাচ ফি এবং চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বেতন দ্বিগুণ করা হবে। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয় ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বসর্বা প্রতিষ্ঠানটি।

বলা হচ্ছে, ‘এ’ ক্যাটাগরির যেসব ক্রিকেটাররা গেল মৌসুমে এক কোটি রুপি পেতো, আসছে মৌসুমে তাদের বেতন বেড়ে প্রায় দুই কোটি (৩০৫,০০০ ইউএস ডলার) রুপি হতে যাচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বেতন পান ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। আরো ব্যাখা করলে জো রুট পান (৮৭০,৮০০ ইউএস ডলার) কিংবা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথরা পান (৮৫৮,৮১৬ ইউএস ডলার)।

মূলত তাদের সাথে তাল মেলাতেই এই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে বিসিসিআই। সেক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ক্রিকেটাররা হলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি, সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানে। নতুন চুক্তিতে এই দলে জায়গা হতে যাচ্ছে চেতেশ্বর পূজারা, রবীন্দ্র জাদেজা এবং মুরালি বিজয়ের। এদের সবাই ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার।

‘বি’ ক্যাটাগরির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা হলেন ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা, পেসার মোহাম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা ও উমেশ যাদব। নতুন চুক্তি অনুযায়ী তাদের সবাই পাবেন এক কোটি রুপি। ‘সি’ গ্রেডের ক্রিকেটারদের ভাগ্যে জুটবে ৫০ লাখ রুপি।

দ্বিগুণ হচ্ছে ম্যাচ ফি’র অর্থও। এখন থেকে টেস্ট খেলে প্রত্যেক ভারতীয় ক্রিকেটার পাবেন ১৫ লাখ রুপি। ওয়ানডেতে ৬ লাখ আর টি-টোয়েন্টিতে ৩ লাখ রুপি করে পাবে

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাসেলের আপিল

ডোপ আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। এবার এই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল করলেন রাসেল।

২০১৫ সালে রাসেলকে প্রথমবার পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু তিনি হাজির হননি। এরপর আরও দুইবার তাকে হাজির হতে বললেও তিনি পরীক্ষা দেননি। বাধ্য হয়ে জ্যামাইকা ডোপ বিরোধি কমিশন গেল মার্চে তার বিরুদ্ধে কমিশন গঠিন করে।

এই কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে জানতে চায়, তিনি কেন বারবার ডাকার পরেও উপস্থিত হননি এবং পরীক্ষা দেননি? কিন্তু রাসেল কোন উত্তর দেননি এই প্রশ্নের। এরপরই তাকে এক বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

২০ মার্চ জ্যামাইকা এন্টি-ডোপিং ডিসিপ্লিনারি প্যানেল বরাবর শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রাসেল। তবে তার এই আপিল খারিজ হলে কমিশন তার শাস্তি বাড়িয়ে দুই বছর করতে পারে, এমনটাই জানা গেছে।

ওয়ানডে সিরিজের আগে লঙ্কান শিবিরে দুঃসংবাদ

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ থেকে বাদ পড়েছেন কুশল পেরেরা। কলোম্বোয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়েন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। সেই চোটই মাঠের বাইরে নিয়ে গেলো তাকে।

স্বাগতিক দলের ম্যানেজার আশাঙ্কা গুরুসিংহে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাম উরুর স্ট্রেইনে পাওয়া এই চোট খুব বেশি গুরুতর নয়। সেক্ষেত্রে প্রথম দুই ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বদলি ক্রিকেটারের ব্যাপারটিও শুক্রবারের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গেল বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন কুশল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে সুবিধা করতে পারেননি। জায়গা হয়নি সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও। সেদিক থেকে বাংলাদেশ সিরিজটি ছিল নিজেকে ফিরে পাওয়ার অন্যতম পথ।

কিন্তু দূর্ভাগ্য ৬৮ ওয়ানডেতে তিনটি সেঞ্চুরি আর আটটি হাফ সেঞ্চুরিসহ মোট ১৬৩৫ রান করা কুশল পেরেরার। ‘প্রস্তুত’ হতে গিয়েই চোটে পড়লেন। আগের দিন মাশরাফি-তাসকিনদের বিপক্ষে ৬৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার পর চোটের কারণেই স্বেচ্ছায় অবসরে যান এই ক্রিকেটার।

সাকিব-তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ডাম্বুলায় বাংলাদেশ দল

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে খেলতে ডাম্বুলায় পৌঁছেছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার দল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় রওয়ানা দেয় সফরকারীরা।

টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করার পর একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও প্রস্তুতিটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। এবারের লক্ষ্য ওয়ানডে ম্যাচ। দলের সবাইকে নিয়েই ডাম্বুলায় গেছে টি ম্যানেজমেন্ট। ছুটিতে থাকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল; দু’জনই যোগ দিয়েছেন।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ও ২৮ মার্চ। শেষ ম্যাচটি খেলতে আবারও কলোম্বোয় ফিরবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ম্যাচটি গড়াবে এক এপ্রিল, প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। ওয়ানডের পর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

শেষ মুহূর্তে ওয়ানডে দলে মিরাজ চমক

টেস্ট খেলার পরপরই দেশে ফিরেছিলেন স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর দুইদিন আগে আবারও উড়লেন শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে। অর্থাৎ, ওয়ানডে দলে থাকছেন তিনি।

চমকটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই দিনে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন মিরাজ। 

যদিও খানিকটা ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মিরাজ। জানিয়েছিলেন সীমিত ওভারে খেলার আকুতি। তবে সেটা যে শ্রীলঙ্কা সফরেও হতে পারে তা হয়তো নিজেও জানতেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘অনেক দিন ওয়ানডে খেলা হয় না। ইমার্জিং কাপ ও প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলে চেষ্টা করব ওয়ানডে দলে আসতে।’

সেক্ষেত্রে ইমার্জিং কাপে থাকা হচ্ছে না এই অলরাউন্ডারের। তার জায়গায় সুযোগ হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অফস্পিনার নাঈম ইসলামের। চিটাগং ডিভিশনের হয়ে খেলেন এই ক্রিকেটার।

গেল বছরে সাদা পোশাকে বাংলাদেশ দলের হয়ে অভিষেক হওয়া মিরাজ শুরু থেকেই বল হাতে তাক লাগিয়ে চলেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। ব্যাট হাতে শুরুর দিকে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মিরাজ। কিন্তু খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। শ্রীলঙ্কার আগে ভারত সফরে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হেসেছে তার ব্যাট। দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তার রান ছিল যথাক্রমে ৪১,২৮,২৪, ২*।

মিরাজের অন্তর্ভুক্তিতে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের স্কোয়াডঃ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান , সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশীষ রায়, সানজামুল ইসলাম, শুভাগত হোম চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল সফলভাবে হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত দেখছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। আগেই বলা হয়েছিলো, সব ঠিকঠাকভাবে হলে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী মে মাসে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় দেশটি।

নিজেদের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ খেলা অনেক বড় একটি সুযোগ বলে মনে করেন পিসিবির কর্মকর্তারা। শিগগিরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠাবে বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানে। এরপর ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে স্বল্প পরিসরে পাকিস্তান সফরে যায়। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের সাথে সিরিজ থাকলেও সে সময়ে আবারো দেশের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় দেশ দুটি সফর বাতিল করে।

শ্রীলঙ্কায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা হাতে তাসকিনরা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা যখন ঢাকায় এলো, বাংলাদেশ দল তখন শ্রীলঙ্কায় টেস্ট নিয়ে ব্যস্ত। ঢাকায় স্বপ্নের টুর্নামেন্টের শিরোপা দেখে চোখ জুড়িয়েছিল সমর্থকরা। কিন্তু দেখা হয়নি ক্রিকেটারদের। অবশেষে তারাও ছুঁয়ে দেখলেন, শ্রীলঙ্কাতে বসেই।

বাংলাদেশ ঘুরে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। সেখানেই আকাঙ্খিত ট্রফিটির দেখা পেলেন তাসকিন-সাব্বিররা। টুর্নামেন্টের আগে সুযোগ পেতেই উদযাপন করতেও ভুললেন না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে ট্রফির শিরোপার সঙ্গে ছবি প্রকাশ করেছেন তাসকিন। অন্যান্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিলেন টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জুনের এক তারিখ থেকে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বাকি দলগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে সাব্বির-তাসকিনরা

বিশ্বকাপের পরই আইসিসির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। র‌্যাংকিংয়ে থাকা সেরা আটটি দল নিয়ে ১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হবে আইসিসির দ্বিতীয় সেরা এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশকে পেছনে ফেলে এবার বাংলাদেশ খেলবে আইসিসির প্রেস্টিজিয়াস এই টুর্নামেন্টটিতে।

গত ২ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে আইসিসি ট্রফির বিশ্ব ভ্রমণ। অংশগ্রহণকারী ৮টি দেশের মোট ১৯টি শহর প্রদক্ষিণ করবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ট্রফিটি। ২ মার্চ ভারতের মুম্বাই থেকে শুরু হয় ‘নিশান আইসিসি ট্রফি ট্যুর’। এরপর বাংলাদেশ হয়ে এই ট্রফিটি এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। আর বাংলাদেশ দলও আছে লঙ্কা সফরে।

তাই নিজের দেশে এই ট্রফিটি দেখতে না পারলেও শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পর ট্রফিটি হাতে নিয়ে ছবি তুলেছে টাইগার তারকা সাব্বির-তাসকিন-সৌম্যরা। পর নিজের ফেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ ছবি শেয়ার দেন সাব্বির।