সকাল ৮:৪৫, সোমবার, ২৪শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজকে সামনে রেখে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অনুশীলনের সময় পিঠের ইনজুরিতে পড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারকে।
রোববার সকালে জিমনেশিয়ামে ওয়েট তুলতে গিয়ে পিঠে টান পড়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ব্যথা অনুভব করায় মাহমুদউল্লাহকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। অ্যাপোলো হাসপাতালে তার পিঠের এক্স-রে করা হয়েছে। তবে বিসিবির সহকারী চিকিৎসক মইনুল আমিন জানান, মারাত্মক কোনো ব্যথা নয় এটা।

টাকার জন্য পাকিস্তানে ক্রিকেটাররা

দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে মরিয়া পাকিস্তান। তার জন্য নানা চেষ্টা চালাচ্ছে সেদেশের ক্রিকেট বোর্ড। জিম্বাবুয়ে দলের সফরের পর পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল হয় লাহোরে। সেখানে বেশ কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় অংশ নেন।
সফরভাবে সেই ফাইনাল সস্পন্ন করার পর নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয় পিসিবি। আইসিসির পূর্ণ তত্তাবধায়নে বিশ্বের তারকাদের নিয়ে গঠিত একটি দল পাকিস্তানে টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলানোর আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। অংশ হিসেবে ‘বিশ্ব একাদশে’র হয়ে পাকিস্তান খেলতে যাবেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ও সাউথ আফ্রিকার হাশিম আমলার মতো ক্রিকেটাররা।
তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ১২-১৯ সেপ্টেম্বরে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর পিসিবি এখন সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়। ম্যাচ হবে পিএসএলের ফাইনালে হওয়া সেদেশের সবচেয়ে বড় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।
পিসিবি চেয়ারম্যান শাহারিয়ার খান পাকিস্তান টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘বিশ্ব একাদশের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বর্তমান পাকিস্তান দলের ব্যাটিং কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।
আর পাকিস্তানে যাচ্ছেন মাইকেল ক্লার্ক, হাশিম আমলা, নিউজিল্যান্ডের লুক রনকি, অস্ট্রেলিয়ার টিম পেইনের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা।
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা খেলোয়াড়দের বহন করা বাসে বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর পর আর কোনো টেস্ট দল পাকিস্তান সফর করেনি। শুধু ২০১৫ সালে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফর করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল।

সরে গেলেন রাহুল দ্রাবিড়

ভারত ক্রিকেট দলের ব্যাটিং পরামর্শকের পদ থেকে সরে গেলেন রাহুল দ্রাবিড়। শনিবার বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ)-এর প্রধান বিনোদ রাই জানান, সিনিয়ার দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে অংশ নিতে পারবেন না রাহুল। তিনি বলেন, “দ্রাবিড়ের চুক্তি সম্পর্কিত সব সমস্যাই মিটে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে অংশ নেবেন না।”
বর্তমানে ইন্ডিয়া ‘এ’ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের কোচ রাহুল। আগামী বছরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য দলকে আরও ভালও ভাবে তৈরি করতেই যে রাহুলের এই সিদ্ধান্ত তা এ দিন জানিয়ে দেন বিনোদ। তিনি বলেন, “আগামী বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাহুল। তবে, সিনিয়র দলের কোচ রবি শাস্ত্রী যদি চান তা হলে, ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে বিরাটদের পরামর্শদাতা হিসেবে যোগ দিতে পারেন দ্রাবিড়।” তবে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপই রাহুলের সরে যাওয়ার মূল কারণ নয় বলে মনে করছেন অধিকাংশ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, কোচ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অপমানিত হওয়ার কারণেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন রাহুল।

শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ চামিন্দা ভাস

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক যে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা, এর অন্যতম কারণ বোলিংয়ে দুর্বলতা। এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই সাবেক পেসার চামিন্দা ভাসের সরণাপন্ন হয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। বোলিং কোচ হিসেবে ভাসকে নিয়োগি দিতে যাচ্ছে তারা। চম্পকা রামানায়েকের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের পরই লঙ্কান ক্রিকেট দলের বোলিং কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চম্পকা রামানায়েকে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দুই বছর দায়িত্ব পালন করার পর রামানায়েকে লঙ্কান দলের বোলিং কোচের পদ ছাড়লেন।

চম্পকা রামানায়েকে পদত্যাগ করার পর শুক্রবারই নতুন বোলিং কোচ হিসেবে চামিন্দা ভাসের নাম ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। নিয়োগ দেয়ার সময়ই এসএলসি জানিয়ে দেয়, ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কান পেস অ্যাটাককে গাইড করবেন তিনি। তবে ২০১৬ সাল থেকেই নানাভাবে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভাস।

কী কারণে রামানায়েকে লঙ্কান জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন সেটা তিনি জানাননি। বলেছেন, তার কয়েকটি গন্তব্য রয়েছে। তবে এসবই মুখের কথা। রামানায়েকের পরবর্তী গন্তব্য বাংলাদেশ। জাগো নিউজেই সবার আগে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এইচপি দলের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। বিসিবির সঙ্গে কথা পাকাপাকি হওয়ার পরই তিনি লঙ্কান বোলিং কোচের চাকরিটা ছেড়ে দেন।

২০০৮ সালেই প্রথম বিসিবি চম্পকা রামানায়েকেকে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে সাত বছর তিনি লঙ্কান ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের পেস বোলারদের কাছে তিনি বেশ প্রিয়। কারণ, তারা নিজেদের উঠতি সময়টাতে পেয়েছে রামানায়েকেকে। বিশেষ করে রুবেল এবং শফিউলকে খুঁজে বের করার কৃতিত্ব দেয়া হয় রামানায়েকেকে।

এক গোল দিয়ে তিনটি হজম যুবাদের

তাজিকিস্তান জাতীয় দলের বিরুদ্ধে একটি জয় আছে বাংলাদেশের। ২০১০ সালে শ্রীলংকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে তাজিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। সাত বছর আগের বড়দের ওই জয় কিছুটা হলেও সাহস জুগিয়েছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে।

ফিলিস্তিনে এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুটাও ছিল সুন্দর। প্রথম ম্যাচে জর্ডানের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাজিকিস্তানকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ছিল লাল-সবুজ জার্সিধারী যুবাদের, কিন্তু কে জানতো প্রথমার্ধে ১-০ গোলে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল খেয়ে মাঠ ছাড়বে?

বাস্তবে হয়েছেও তাই। প্রথমার্ধে তাজিকদের চেয়ে ভালো খেলেই এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৩ মিনিটে ডান দিক থেকে নেয়া কর্নার কিক এক ডিফেন্ডার ফিরিয়ে দিলে বল পান বক্সের বাইরে সোহেল রানা। তিনি বলটি থামিয়ে শট নেন বা পায়ে। তাজিকিস্তানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় সোহেল মিয়ার সামনে। তিনি ভুল করেননি- প্লেসিং শটে বল পাঠিয়ে দেন তাজিকিস্তানের জালে।

পিছিয়ে পড়া তাজিকিস্তান দ্বিতীয়ার্ধে আহত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের উপর। ৫৫ মিনিটে ম্যাচে সমতা আনেন তাজিকিস্তানের আমিরঝোন সাফারভ। তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন তিনি। ৬৬ মিনিটে পেনাল্টি গোলে তাজিকিস্তানকে এগিয়ে দেন নোজিম বাবাদজানভ। তার নেয়া পেনাল্টি শট গোলরক্ষক জিকো বাম দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাবাদজানভ ফিরতি বল পাঠিয়ে দেন জালে।

তাজিকিস্তান জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ৮৬ মিনিটে। আবদুগাফারভের পাস থেকে গোল করেন জইর জোরাবায়েভ। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ রোববার স্বাগতিক ফিলিস্তিনের বিপক্ষে। পর পর দুই ম্যাচ হারা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে শেষ ম্যাচটা এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।

প্রত্যাশিত শিক্ষা পাওয়াতেই খুশি এইচপি দলের খেলোয়াড়রা

সব ম্যাচে জয় নয়, বরং কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে প্রত্যাশিত শিক্ষা নিয়ে আসতে পেরেই বেশি খুশি বিসিবির হাই পারফর্মেন্স দলের খেলোয়াড়রা। অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরিতে ১৫ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ৫ ওয়ানডে আর একটি তিনদিনের ম্যাচের সবগুলো জিতে দেশে ফেরার পর নিয়মিত অনুশিলন শেষে একথা জানান দলের অধিনায়ক লিটন ও পেসার সাইফুদ্দিন।
দুই সপ্তাহের সফর শেষে সোমবার রাতে দেশে ফেরে বিসিবি এইচপি দল। ডারউইনে নর্দান টেরিটরি আমন্ত্রিত একাদশের বিপে পাঁচটি একদিনের ম্যাচ ও একটি তিন দিনের ম্যাচের সবকটি জিতেছে বাংলাদেশের দলটি। তবে জয়ের চেয়ে বেশি কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে নিজেদের কাঙ্খিত শিাটা অর্জন করে আসতে পারাতেই বরং সন্তুষ্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও পেসার সাইফুদ্দিন আহমেদের। তবে বিরুপ আবহাওয়ায় কিভাবে মানিয়ে নিতে হয় সে শিাটাও তারা নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে। এইচপি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস সেটাই বললেন, ‘বাংলাদেশে প্রচুর সোয়েটিং হয়। ওখানেও হয়েছে। কিন্তু সেখানে প্রচুর বাতাস থাকে। তাতে ঘাম খুব একটা অসুবিধা করতে পারে নি। আমরা নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
এই দুই তরুণই আছেন অস্ট্রেলিয়া ও দণি আফ্রিকার বিপে সিরিজের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডে। এই সফরে অলরাউন্ডারের ভূমিকায় আর্বিভূত হন পেসার সাইফুদ্দিন। তিনি একটি ম্যাচে সেঞ্চুরিও করেন। তাতে দল পায় সহজ জয়। জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন থাকলেও এ মুহূর্তে ভাবনা জুড়ে কেবলই বর্তমানের দায়িত্বটুকু। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা এই ক্রিকেটার জানান, ‘জাতীয় দলে খেলার ভাবনা নিয়ে তো খেলি নি। খেলেছি দলের নিজের দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করার জন্য। সেটা করতে পেরেই আমি সন্তুষ্ট। আর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারলে এমনিতেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসবে।’
বেলিং নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও ব্যাটিং নিয়ে আছে কিছুটা হতাশা। আরও ভালো হতে পারত ব্যাটিং। উন্নতির সুযোগ আছে ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ে। বোর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বে এবারের সফরে খেলতে পারেন নি অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটোরির নিয়মিত খেলোয়াড়রা। তারপরও একম্যাচ ছাড়া বাকি কোনোটিতেই বড় স্কোর করতে না পারায় দলের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা হতাশা আছে দুজনেরই।

নিজের ব্যাটে খেলতে পারবেন না গেইল ওয়ার্নার ও ধোনী-রা

ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, ডেভিড ওয়ার্নার এবং মহেন্দ্র সিং ধোনী তাদের পছন্দের ব্যাট দিয়ে আর খেলতে পারবেন না। আগামী অক্টোবর থেকেই নিজেদের প্রিয় ব্যাটটি দূরে রাখতে হবে তাদের। মেরিলিবোন ক্রিকেট কাব-এমসিসি যারা ক্রিকেটের নিয়মগুলো করে থাকে তারা ব্যাটের আকারে পরিবর্তনের নিয়ম এনেছে।
সেই হিসেবে ব্যাটের প্রস্থ ১০৮ মিলিমিটারের বেশি হতে পারবে না। সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিমিটার পুরো হবে ব্যাট। আর তার কানারা হতে হবে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার। আর ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, ডেভিড ওয়ার্নার এবং মহেন্দ্র সিং ধোনীর ব্যাটের কিনারা তো ৪০ মিলিমিটারের চেয়ে বেশি। তাই আগামী ১ অক্টোবর থেকে চালু হতে যাওয়া নিয়ম অনুযায়ী তারা নিজেদের প্রিয় ব্যাট দিয়ে খেলতে পারবেন না।
অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল এবং পোলার্ডের ব্যাটের কিনারা ৫০ মিলিমিটারের ওপরে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনীর ব্যাটের কিনারা হলো ৪৫ মিলিমিটার। আর এই ব্যাট দিয়েই তারা বোলারদের আঁছড়ে ফেলেন মাঠ কিংবা গ্যালারির বাইরে। জানা গেছে, নতুন ব্যাটে অভ্যস্ত হতে এখন থেকেই অনুশীলন শুরু করেছেন কাইরন পোলার্ড।

সনির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন শচীন টেন্ডুলকার

ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলো ভারতের সনি পিকচার নেটওয়ার্ক। তাদের দুটি নতুন চ্যানেলের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের মালিক শচীন টেন্ডুলকার। মুম্বাইয়ে চ্যানেল দুটির অ্যাম্বাসেডর হিসেবে টেন্ডুলকারকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এ সময় তিনি আসন্ন ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপকে সফল করে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ক্রিকেটকে যেমন ভালোবাসে ভারতের জনগণ তেমনি দেশের অন্যান্য খেলাকেও ভালোবাসেন, এটাই এবার প্রমানের সময়। আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আসর।

নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড

চরম নাটকীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২ উইকেটে হারিয়ে মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ভারতের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা দলটি এখন প্রতিযোগিতার ফাইনালে। মঙ্গলবার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের নেমে ৬ উইকেটে ২১৮ রান তোলে প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বড় রান করেন লরা উলভার্ট(৬৬) এবং মিগনন ডু’প্রেজ(৭৬)।
জবাবে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৯.৪ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ৮ উইকেট হারিয়ে হিথার নাইটের দল তোলে ২২১ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সারা টেলর(৫৪)। সারা ছাড়াও এই জয়ের নেপথ্যে অবদান রাখেন ফ্রান উইলসন(৩০), নাইট(৩০), জেনি গান(২৭)। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দু’উইকেট উইকেট পান শাবনিম আয়বঙ্গা খাকা এবং সান লুস। এ দিনের ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজ উইকেটরক্ষক সারা টেলর।

টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আশা মুমিনুলের

গত কিছুদিন যাবত টেস্টে যেভাবে খেলছে বাংলাদেশ তাতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকেও হারানো সম্ভব। এমনটাই মনে করেন টাইগারদের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে এমনটাই জানান তিনি।
স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বে অস্ট্রলিয়ার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খারাপ নয়। তারপরও সেই দলটিকেই হারাতে চান বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই আশা যোগাচ্ছে বাংলাদেশের ‘দ্যা ওয়াল’কে। আগামী মাসের ১৮ তারিখে ঢাকায় আসার কথা অস্ট্রেলিয়ার। তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নিতে চলছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। আজ মঙ্গলবারের অনুশীলন শেষে মুমিনুল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার ইচ্ছা ২-০ তে জেতা। গত কয়েক বছরে আমরা যেভাবে টেস্ট খেলেছি তাতে করেই আমার এ বিশ্বাস। ১-১ হলেও খারাপ হয় না। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের দুটি ম্যাচই জেতার সামর্থ্য রয়েছে। কেননা আগের চেয়ে আমাদের টেস্ট দলটা অনেক ভালো।’
গত বছর থেকে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচেও ভালো খেলছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে হারলেও দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টাইগাররা। ভারতেও টাইগারদের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখ করার মতোই। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শততম টেস্ট জয়। এ সকল কারণেই মুমিনুল আত্মবিশ্বাস অনেক তুঙ্গে। যুক্তি তুলে ধরে মুমিনুল জানান, ‘বলছি না আমরা ২-০ তেই জিতবো। তবে আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলছি এবং যদি এভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে ২-০ তে জেতা সম্ভব।’
অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগে খেলা ৪ ম্যাচেই হেরেছে টাইগাররা। হোম সিরিজে টাইগাররা তুলনামূলকভাবে সুবিধা পাবে বলে মনে করেন মুমিনুল। বলেন, ‘আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের চেয়ে খানিকটা কঠিন হবে। কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়া ভারতের কন্ডিশনে খেলে এসেছে। আর ইংল্যান্ড আমাদের বিপক্ষে খেলে ভারতে গিয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খানিকটা কঠিন হবে। ওরা এই কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত। আমাদের সেভাবেই প্রস্তুত হতে হবে।’

রেকর্ড গড়া জয়ে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারালো শ্রীলঙ্কা

নিজেদের মাটিতে সর্বোচ্চ ৩৮৮ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে কলম্বো টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ার রেকর্ড পাকিস্তানের। ২০১৫ সালে পালেকেল্লের সেই টেস্ট ৭ উইকেট জিতেছিল অতিথরা। দেশের মাটিতে লঙ্কানরা সর্বোচ্চ ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে, ২০০৬ সালে পি সারা ওভালে। এটা সবমিলিয়ে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

ষষ্ঠ উইকেটে ডিকাভেলা ও গুনারত্নের ১২১ রানই জয়ের পথ দেখায় শ্রীলঙ্কাকে।

রীতিমত অবিশ্বাস্য। লঙ্কানদেরও সম্ভবত কেউ বিশ্বাস রাখতে পারেননি, তারা জিততে পারেন। ওয়ানডে সিরিজে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর মানসিকভাবে জিম্বাবুয়ে যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিল, তাতে কলম্বো টেস্ট জয় যেন তাদের জন্য খুব সহজ একটি কাজ; কিন্তু শেষ দিনে এসে কিছুটা বুড়ো হাঁড়ের ভেলকি দেখাল শ্রীলঙ্কা। যদিও দলের ক্রিকেটাররা অনেক তরুণ।
শেষ মুহূর্তে অ্যাসেলা গুনারত্নে এবং নিরোশান ডিকভেলার দারুণ একটি জুটিতেই ঐতিহাসিক জয় পেয়ে গেলো শ্রীলঙ্কা।
জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল ৩৮৮ রান। নিজেদের মাঠে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড লঙ্কানদের তো ছিলই না। এমনকি এশিয়া মহাদেশেও এত বড় রান তাড়া করার রেকর্ড নেই। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ২০১৫ সালে ৩৮২ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের। এবার সেটাকেও পার হয়ে গেলেন দিনেশ চান্দিমালরা।
লাঞ্চের পরই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। একমাত্র টেস্টের এই সিরিজে জয়ের মধ্য দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে দারুণ অভিষেক হলো দিনেশ চান্দিমালেরও।
কলম্বো টেস্টের শেষদিনে ৬ উইকেটে ৩৯১ রান তোলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ সেরা আসেলা গুনারত্নে ৮০ রানে এবং দিলরুয়ান পেরেরা ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এর আগে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭৭ রান করে লঙ্কাকে ৩৮৮ রানে জয়ের টার্গেট দেয় জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩৪৬ রানে অল আউট হয়েছিলো শ্রীলঙ্কা।
টেস্টের ১৪০ বছরের ইতিহাসে এটি তৃতীয় ঘটনা যে ম্যাচের চারটি ইনিংসই ৩০০-৪০০ র মধ্যে রান হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে : ৩৫৬ ও ৩৭৭।
শ্রীলংকা : ৩৪৬ ও ৩৯১/৬(ডিকভেলা ৮১, গুনারুত্নে ৮০*, ক্রেমার ৪/১৫১)।
ফল : শ্রীলংকা ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আসেলা গুনারত্নে (শ্রীলংকা)
ম্যান অব দ্য সিরিজ : রঙ্গনা হেরাথ (শ্রীলংকা)

বৃহস্পতিবার থেকে নারী ক্রিকেটারদের অনুশীলন

২০ জুলাই থেকে শুরু হবে নারী ক্রিকেটারদের অনুশীলন ক্যাম্প। এই ক্যাম্পের জন্য ৪২ ক্রিকেটারকে ডাকা হয়েছে। ১৯ জুলাই বিকেল ৫টায় ক্রীড়া পল্লিতে তাদেরকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
ক্যাম্প চলাকালে ৪২ ক্রিকেটারকে ৩টি দলে বিভক্ত করা হবে। পদ্মা একাদশ, মেঘনা একাদশ ও যমুনা একাদশ। এই তিন দল ২২ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।
ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৪২ নারী ক্রিকেটার হলেন : রুমানা আহমেদ, জাহানারা আলম, সানজিদা ইসলাম, সালমা খাতুন, ফারাজানা হক, রিতু মনি, নিগার সুলতানা, সুরাইয়া আজমিন, পান্না ঘোষ, শারমিন আক্তার সুপ্তা, আয়শা রহমান, খাদিজাতুল কুবরা, শায়লা শারমিন, নাহিদা আক্তার, ফাহিমা খাতুন, শারমিন সুলতানা, মোর্শেদা খাতুন, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, নুজহাত তাসনিয়া টুম্পা, লতা মন্ডল, তৃপ্তি মন্ডল, শামীমা সুলতানা, সানজিদা জান্নাত, লিলি রানি, শবনম মুস্তারি, তাজ নাহার, ইশমা তানজিম, পাব্রিতা রায়, লাবনি আক্তার, সানদিহা ইসলাম, ইসমত জাহান ইমু, বৈশাখি সুলতানা ইয়াসমিন, বৃষ্টি রায়, ইসমত আরা, সামিয়া আক্তার সালমা, জান্নাতুল ফেরদৌস তিথি, পূজা চক্রবর্তী, আয়েশা আক্তার, নিপা আক্তার, তানিয়া সরকার ইলা, হ্যাপি আলম ও সোহেলি আক্তার।

সমতায় ফিরলো দক্ষিণ আফ্রিকা, ধরাশায়ী ইংল্যান্ড

নটিংহাম টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে ৪ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা আনলো প্রোটিয়ারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান ব্যবধানে এটি প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় বড় জয়।
তৃতীয় দিনই ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৪ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বেলায় ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ১ রান তুলে দিন শেষ করেছিলো ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ইংলিশদের ব্যাটসম্যান। ফলে ১৩৩ রানে নিজেদের ইনিংস গুটিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ভারনন ফিল্যান্ডার ও কেশব মহারাজ ৩টি করে উইকেট নেন।
ওভালে আগামী ২৭ জুলাই হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা : ৩৩৫ ও ৩৪৩/৯(ডি)।
ইংল্যান্ড : ২০৫ ও ১৩৩(কুক ৪২, ফিলান্ডার ৩/২৪)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৪০ রানে জয়ী।
সিরিজ : ৪ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা।

আরও এক ইতিহাসের সামনে জিম্বাবুয়ে

কলম্বো টেস্টের পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার ২১৮ রান আর জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ৭ উইকেট। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩-২ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর এবার একমাত্র টেস্টেও পরাজয়ের লজ্জার মুখে লঙ্কানরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট জিততে হলে এখন রীতিমত রেকর্ড গড়তে হবে।
সিকান্দার রাজার অসাধারণ এক সেঞ্চুরির ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে জিম্বাবুয়ে। অলআউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে জিম্বাবুয়ের রান ওঠে ৩৭৭। প্রধম ইনিংসে ১০ রানে লিডসহ মোট ৩৮৭ রানের লিড নিয়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ৩৮৮ রান।

টেস্টের যে পরিস্থিতি, তাতে লঙ্কানদের জন্য এই ৩৮৮ রান বলতে গেলে অসম্ভবই। আবার নিজেদের মাটিতে জিততে হলে লঙ্কানদের রীতিমত রেকর্ডই গড়তে হবে। কারণ, চতুর্থ ইনিংসে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সর্বোচ্চ ৩৮২ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানের। ২০১৫ সালে ইউনিস খানের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে এই রান তাড়া করে জিতেছিল পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের করা রেকর্ডটি গুঁড়িয়ে দিতে হবে দিনেশ চান্দিমালদের।
তবে ইতিহাস গড়া লঙ্কানদের পক্ষে সম্ভব হবে কি না তাতে যথেষ্টই সন্দেহের। কারণ ১৩৩ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছে শ্রীলঙ্কা। ফিরে গেছেন দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা, দিমুথ করুনারত্নে এবং অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। করুনারত্নে আর থারাঙ্গা মিলে ৫৮ রানের জুটি গড়ার পর স্পিনার ক্রেমারের হাতে ভাঙে ওপেনিং জুটি। ২৭ রানে ফিরে যান থারাঙ্গা। এরপর ৪৯ রান করে করুনারত্নে এবং ১৫ রান করে আউট হয়ে যান। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ আর কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভালোই ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। চতুর্থ দিন শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭০ রান। ৬০ রান নিয়ে কুশল মেন্ডিস এবং ম্যাথিউজ অপরাজিত আছেন ১৭ রানে।

মিরাজের ‌ওযেস্ট ইন্ডিজ যাত্রা ২৭ জুলাই

আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয় গেছে। রোববার অনাপত্তিপত্রে সই করেছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে আগামী ২৭ জুলাই রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
পুরো টুর্নামেন্ট অবশ্য খেলতে পারবেন না মিরাজ। দেশে ফিরতে হবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেই। অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। ত্রিনবাগো তাকে পাবে তাই প্রথম ৫ ম্যাচে। এদিকে, সিপিএলে দল পেয়ে সে সময় দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন মিরাজ।
জানিয়েছিলেন, অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলতে পারার কথা। তাদের কাছ থেকে শিখে নিজের খেলায় উন্নতি করার কথাও।
সিপিএলে মিরাজ খেলবেন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সে। অস্ট্রেলিয়ান চায়নাম্যান বোলার ব্র্যাড হগের বদলে বাংলাদেশের অফ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে নিয়েছে দলটি।
সিপিএলের এবারের আসর শুরু হবে ৪ অগাস্ট। উদ্বোধনী দিনেই মিরাজের দল খেলবে সেন্ট লুসিয়া স্টার্সের বিপক্ষে।
একই আসরে জ্যামাইকা তালাওয়াহসের হয়ে খেলবেন সাকিব আল হাসান। তার দেশ ছাড়ার কথা ২৯ জুলাই।

সৌম্যর চোখে অস্ট্রেলিয়া বধের স্বপ্ন

২০১৫ সালে অভিষেকের বছরটা বেশ ভালই কেটেছিলো বাংলাদেশের ওপেনার সৌম্য সরকারের। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সেবছরই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে সবার প্রশংসাও পেয়েছিলেন বাঁহতি এই ওপেনার। কিন্তু বর্তমান সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছেনা তার। চলিত বছর খেলা ১১ ওয়ানডেতে প্রায় ২১ গড়ে তার রান মাত্র ২৩৫। তবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগেই নিজের পুরেণা সেই ছন্দে ফিরতে প্রত্যয়ী সৌম্য সরকার। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে মাত্র ১টি টেস্ট খেলেছেন, সেটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই সৌম্যর টার্গেট এবার অস্ট্রেলিয়া। সোমবার মিরপুরে অনুশীলন শেষে স্টিভেন স্মিথের দলের বিপক্ষে দারুণ কিছু করার প্রত্যয় তার কণ্ঠে, ‘এটা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার প্রথম টেস্ট সিরিজ হবে। আমি এটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। আমার ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে যেন আমরা দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম কোন টেস্ট জিততে পারি সেই চেষ্টাই করব।’
টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর প্রায় ১৭ বছর কাটিয়ে দিলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা মোট ম্যাচের সংখ্যা মাত্র ৪টি। সবশেষ টেস্ট সিরিজটি ছিলো ২০০৬ সালের এপ্রিলে, বাংলাদেশেই। এরপর কেটে গেছে ১১ বছরের বেশি সময়। অসিদের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলা দলের মধ্যে একমাত্র মাশরাফি বিন মুর্তজা এখনও ক্রিকেট খেলেন। তবে শুধু মাত্র ওয়ানডে। টেস্টে নেই তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই অসিদের বিপক্ষে এটাই হবে বর্তমান দলের সবার জন্যই প্রথম টেস্ট।
কদিন আগেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করেছিল বাংলাদেশ। সেই ওয়ানডেতে দলে ছিলেন সৌম্য। এর আগে ভারতে আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও অসিদের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি। তাই এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা তার জন্য খুব নতুন কিছু না। তবে ওদের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তো আর নেই। তা সত্ত্বেও জয়টাই লক্ষ্য থাকবে বলে জানালেন সৌম্য, ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ। আমাদের এখানে তারা আসবে। তাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা মুখিয়ে আছি। আশা করি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারব।’ টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বাংলাদেশের জন্য প্রায় অসম্ভব ভাবনা। কিন্তু সময়টা তো বাংলাদেশেরও বদলেছে। সৌম্যও জানালেন সেই কথা, ‘আমরাতো এমনিতেই টেস্ট কম খেলি। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও কম খেলি। তবে গত কিছুদিন ধরে আমরা টেস্ট ভালো খেলছি। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা টেস্ট সিরিজে ভালো করেছি।’

অনুশীলনে নামার অপেক্ষায় সাকিব

গত সপ্তাহে ইনজুরিতে পড়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ইনজুরির কারণে ফিটনেস ক্যাম্পেও কয়েকদিন ধরে যোগ দিতে পারছেন না তিনি। তবে শীঘ্রই ইনজুরি সেরে মাঠে ফিরছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
জানা যায়, বাসার সিড়ি থেকে নামতে গিয়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান সাকিব। এই চোটের কারণে বেশ কয়েকদিন বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে তাকে। তবে এখন আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ সাকিব। আশা করা যাচ্ছে ৫-৬ দিনের মধ্যেই সেরে উঠবেন তিনি। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে না আসার কারণে এখনো অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেনি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারা। কোচ আসার পরেই ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন শুরু করবে ক্রিকেটাররা। তাই পুরোপুরি সুস্থ হয়েই অনুশীলন শুরু করতে পারবেন সাকিব আল হাসান।
এদিকে, বাংলাদেশদ দলের ফিজিও এবং ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ান আশা করছেন অতি শীঘ্রই পুরোদমে সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে ক্যাম্পে যোগ দেবেন সাকিব। ট্রেনার মারিও আরো জানান, সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্যে হালকা অনুশীলন করবেন সাকিব এবং মঙ্গলবার থেকে সাইক্লিং করবেন তিনি।

সিকান্দার রাজার ব্যাটে জিম্বাবুয়ের লিড- চাপে শ্রীলঙ্কা

প্রথম সেঞ্চুরির পথে থাকা সিকান্দার রাজার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। রঙ্গনা হেরাথের চমৎকার বোলিংয়ের পরও কলম্বো টেস্টে বিপদে শ্রীলঙ্কা।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৫২ রান। সিকান্দার রাজা ৯৭ ও ম্যালকম ওয়ালার ৫৭ রানে অপরাজিত আছেন। সপ্তম উইকেটে তাদের অপরাজিত ১০৭ রানের জুটিতে ২৬২ রানের লিড নিয়েছে অতিথিরা, হাতে আছে ৪ উইকেট।
৫৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং। লঙ্কান স্পিনে কুপোকাত জিম্বাবুয়ে। দ্রুত রান তুলে দলের ওপর চাপ সরিয়ে দেন সিকান্দার রাজা। পরে ব্যাট করেছেন পরিস্থিতি অনুযায়ী। রাজার ৯৭ রানের ইনিংসটি গড়া ১৫৮ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায়।
এরআগে কলম্বায়, ১০ রানের লিড পেয়ে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে শুরুতে কাঁপিয়ে দেন হেরাথ। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনারের দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ২৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে অতিথিরা।
দিনের বাকি সময়টুকু শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ স্পিনারের জন্য শুধুই হতাশার। খুব সহজেই তাকে খেলেছেন রাজা, পিটার মুর ও ওয়ালার। অন্য স্পিনার পেরেরাও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। বাড়তি গতির জন্য যা একটু ভুগিয়েছেন পেসার লাহিরু কুমারা।
এই পেসারই ভাঙেন মুরের সঙ্গে রাজার ৮৬ রানের জুটি। মুরের সংগ্রহ ৪০ রান। ৮৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন হেরাথ। কুমারা ও পেরেরার শিকার একটি করে।
এর আগে রোববার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ২৯৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা শ্রীলঙ্কা, ৩৪৬ রানে অলআউট হয়। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৩৫৬
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৪৬
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ২৫২/৬ (রাজা ৯৭*, ওয়ালার ৫৭*; হেরাথ ৪/৮৫)

অন্যের সমালোচনা নয় খেলা নিয়েই বেশি ভাবনা নাসিরের

পত্রিকা খুব একটা পড়া হয়ে ওঠে না জাতীয় দলের অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের। ফেসবুকও খুব কম ব্যবহার করেন তিনি। তাতে সমালোচনা নজরে আসে কম। সমালোচনা নিয়ে নয়; খেলা নিয়েই ভাবতে চান এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। আজ (রোববার) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) লাউঞ্জে বসে এ কথা বলেন তিনি।
নাসির আরও বলেন, ‘যাদের নাম হয়, তাদের বদনামও হয়। আর আপনি আমাকে এক চোখে দেখবেন আর অন্যজন অন্য চোখে দেখবে এটাই স্বাভাবিক।’

অলরাউন্ডার নাসির হোসেন

ফিটনেস ক্যাম্প নিয়ে নাসির বলেন, ‘ভালো পারফর্ম করার জন্য ফিটনেস ৬০ ভাগ সাহায্য করে। আমি আমারটা ফিটনেস ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। মনোযোগ আর প্রস্তুতি এখন ফিটনেস ট্রেনিং নিয়ে। ব্যাটিং-বোলিং শুরু করার পর সেখানেও ভালো করার চেষ্টা করব।’
দলে ফেরার ব্যাপারে এই টাইগার ক্রিকেটার বলেন, ‘দলে ফেরার জন্য আমি সিরিয়াস অনুশীলন করছি। দলে প্রবেশের সুযোগ আমার হাতে নেই। আমার করণীয় যেটা, সেটা আমি করছি। এতটুকু বিশ্বাস আছে, আমি যেভাবে খেলছি সেভাবে খেলতে পারলে অবশ্যই জাতীয় দলে ঢুকব।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়েই ভাবছেন নাসির। তিনি আশা করছেন, জাতীয় দলের জার্সিতে সেখান থেকেই সূচনা হতে পারে নাসিরের । তার মতে, ‘টেস্ট সিরিজ নিয়ে তেমন কোনো লক্ষ্য নেই। ওয়ানডেতে যদি আমি খেলি অবশ্যই দল আমার থেকে যা চায়, সেটাই করার চেষ্টা করব।’
মাঠের বাইরের জীবনযাপন নিয়ে এদেশে সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারের নাম নাসির হোসেন। বরাবরই আলোচনায় থাকেন ফিনিশার খ্যাত এই অলরাউন্ডার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশরাফির পর সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটারও এই নাসির।

সৌরভের মূর্তি বসানো নিয়ে সমস্যা

নিজের মূর্তি উন্মোচন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন মহারাজ। নিরাপত্তা থেকে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, সবই ছিল প্রত্যাশা মাফিক। কিন্তু মূর্তি উন্মোচন করতে গিয়েই দেখা দিল আরেক সমস্যা।
শনিবার বালুরঘাট ছিল সৌরভময়। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়কের জন্য ব্যানার ও পোস্টারে সেজে উঠেছিল বালুরঘাট। সৌরভের উপস্থিতির জন্য স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা। বালুরঘাট স্টেডিয়ামে নিজের মূর্তি উন্মোচনের কথা ছিল সৌরভের। যথারীতি সেই মূর্তিও এসে যায়। অথচ তা বালুরঘাট স্টেডিয়ামে বসানো সম্ভব হয়নি। কেন? আসলে বালুরঘাট স্টেডিয়ামের যে কমিটি রয়েছে তার প্রধান হলেন এই জেলার ডিএম। তিনি আইনিগত সমস্যাকে তুলে ধরে জানিয়ে দেন, এখনই মূর্তি বসানোর অনুমতি দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এতে নিজের মূর্তি উদ্বোধন করে গেলেও তা কোথায় বসানো হবে তা নিয়ে জটিলতা রয়ে যায়। এই ব্যাপারে সৌরভ হাসতে হাসতে বলেন, ‘তেমন হলে আমি এই মূর্তি নিয়ে চলে যাব।’
শিলিগুড়ির শিল্পী সুশান্ত পাল প্রায় ৩ মাস ধরে সৌরভের এই মূর্তিটি তৈরি করেছেন। ২০০৩ বিশ্বকাপে অধিনায়ক সৌরভের আদলে মূর্তিটি তৈরি করা হয়। গত সোমবার মূর্তিটি বালুরঘাটে এসে পৌঁছায়।

রবি শাস্ত্রীর বেতন বছরে ৭ কোটি রুপি

ভারতের নতুন কোচ রবি শাস্ত্রীকে বছরে দেওয়া হবে ৭ কোটি রুপিরও বেশি। বিসিসিআই এমনই জানিয়েছে। প্রাক্তন কোচ অনিল কুম্বলেও সমপরিমাণ টাকাই দাবি করেছিলেন বোর্ডের কাছে। এর আগে শাস্ত্রী যখন টিম ডিরেক্টর ছিলেন তখনও বছরে ৭ কোটির বেশি পেতেন তিনি।
এক বোর্ড কর্তা জানিয়েছেন, ‘‌রবি শাস্ত্রীকে বছরে ৭ কোটিরও বেশি দেওয়া হবে। অনিল কুম্বলেও গত মে মাসে এই টাকাই দাবি করেছিলেন। তবে শাস্ত্রীকে সাড়ে ৭ কোটির বেশি যে দেওয়া হবে না এটুকু নিশ্চিত।’‌ শাস্ত্রীর সাপোর্ট স্টাফরা বছরে পাবেন ২ কোটির কাছাকাছি। যে তালিকায় সঞ্জয় বাঙ্গার ছাড়াও ভরত অরুণরা রয়েছেন। খুব শীঘ্রই বোর্ড শাস্ত্রী ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলবে।
তবে ভরত অরুণের চুক্তি এখনও নিশ্চিত নয়। ভরত অরুণ আবার বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ও হায়দরাবাদ রনজি দলের বোলিং কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। ভারতীয় দলের বোলিং কোচ নিযুক্ত হলে এই দায়িত্ব ছেড়ে আসতে হবে অরুণকে। বাঙ্গার যেমন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের দায়িত্ব ছাড়ার পরই জাতীয় দলের সহকারী কোচ নিযুক্ত হন। আবার রাহুল দ্রাবিড় যেমন ভারতীয় এ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্বের জন্য প্রথম বছরে পাবেন সাড়ে চার কোটি। দ্বিতীয় বছর পাঁচ কোটি। বিদেশ সফরে ভারতীয় দলের ব্যাটিং পরামর্শদাতা হওয়ায় বাড়তি টাকা পাবেন রাহুল। জাহির খানকে নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বোর্ড। জাহিরকে কতদিন পাওয়া যাবে তার উপর নির্ভর করছে চুক্তির টাকার অঙ্ক। গতবারও জাহিরকে বোলিং পরামর্শদাতা হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেবার ১০০ দিনের জন্য ৪ কোটি চেয়েছিলেন জাহির।

একটু সম্মানের আশা মুশফিকের

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির আসন্ন আসরকে ঘিরে নিজেদের মতো করে দল সাজাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তবে দল নিয়ে এখনই ভাবছে না বরিশাল বুলস। গত আসরে তাদের আইকন ক্রিকেটার ছিলেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বিপিএল চলাকালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বরিশাল বুলসের মালিক পক্ষের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনও লেগেছিলো, যার প্রভাব পড়েছে মাঠেও।
তবে এবারের আসরে আইকন ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিককে পছন্দ নন বলে জানান, বরিশাল বুলসের অন্যতম কর্ণধার এম এ আউয়াল চৌধুরী। তিনি বলেন, মুশফিকের কারণেই ভালো ফলাফল পায়নি বরিশাল বুলস। শুধু মুশফিকের অধিনায়কত্বই নয়, প্রশ্ন তোলেন দলের ক্রিকেটারদের প্রতি মুশফিকের দায়িত্ববোধ নিয়েও।
বাংলাদেশ টেস্ট দলের সফল অধিনায়ককে নিয়ে এমন মন্তব্য কতটা রুচিকর ছিলো সেটা নিয়ে ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। মুশফিককে বলা হয় দলের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার। অনুশীলন থাক বা না থাক, সবার আগে মাঠে হাজির হয়ে অনুশীলনে নেমে পড়েন দলের এই সফল উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এমন দায়িত্ববান ক্রিকেটারের সম্পর্কে তার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলাতে বিব্রত সবাই। নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য শুনে হতাশা মুশফিকও। বিষয়টি জানান বিসিবিকে মুশফিক। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে
আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুশফিক। বলেন, দীর্ঘদিন দলের হয়ে খেলার সুবাদে অন্তত এটুকু সম্মান তো পেতে পারেন। জানান,
‘আমার সম্পর্কে যেকোন টিম মালিক এটুকু বলতে পারে, আমি খেলোয়াড় হিসেবে ভালো না কিংবা অন্যকিছু। কিন্তু আমার কোন দায়িত্বজ্ঞান নেই, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে পারি না, টিম মিটিংয়ে কথা বলতে পারি না বা আমি নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলি না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের খেলোয়াড়রা জানে বা বাংলাদেশের অনেকেই জানে আমি কেমন এবং কতটুকু করতে পারি। তিনি যে ভাষ্য (বরিশাল বুলসের কর্ণধার) গুলো দিয়েছেন সেগুলো খুবই খারাপ লেগেছে।’
‘ক্রিকেট খেলছি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এবং আন্তর্জাতিক খেলছি ১২ বছর ধরে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের খেলার সুবাদে, অন্তত এইটুকু সম্মান তো পেতে পারি।’

ইনজুরিতে সাকিব আল হাসান

জাতীয় ক্রিকেট দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে এসে ইনজুরিতে পড়লেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সাকিব ইনজুরিতে পড়েছেন। তবে এ নিয়ে সাকিব নিজে তো না’ই, অন্য কেউও কিছু বলছেন না।
জানা যায়, সাকিব যখন গাড়ি থেকে নেমে মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন দেখা গেলো তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। ডান পায়ে ব্যান্ডেজ বাধা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় পূর্ণাঙ্গ সফরের লক্ষ্যে মিরপুরে শুরু হয়েছে ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। আজ ছিল ক্যাম্পের ৬ষ্ঠ দিন। সকাল থেকেই গুঞ্জন ছিল সাকিব ইনজুরিতে পড়েছেন।
যদিও ইনজুরির ধরন সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। তিনি নাকি ডান পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পেয়েছেন তিনি। আঘাতের ধরণ দেখতে স্ক্যান করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুরোপুরি বিষয়টা জানা যাবে। তবে কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে তাকে।

আরভিনের সেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে জিম্বাবুয়ে

শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনের নায়ক জিম্বাবুয়ের ক্রেইগ আরভিন। কলম্বোতে সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনই সেঞ্চুরি করে ১৫১ রানে অপরাজিত তিনি। তার এমন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে লংকানদের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩৪৪ রান তুলে দিন শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতে উজ্জীবিত জিম্বাবুয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি। ৩৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় তারা। দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ১৯ ও রেগিস চাকাভা ১২ রান করে লংকান বাঁ-হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের শিকার হন।
তিন নম্বরে নামা তারিসাই মুসাকান্দা ৬ রান করে পেসার লাহিরু কুমারার বলে আউট হন। ১৩ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
চতুর্থ উইকেটে আরভিন ও সিন উইলিয়ামস সেই চাপ দূর করার চেষ্টা করে‌ও সফল হননি। দলীয় ৭০ রানে আউট হ‌ওয়ার আগে উইলিয়ামস করেন ২২ রান। তবে সিকান্দার রাজার সাথে পঞ্চম উইকেট জুটি গড়ে সফল হন আরভিন। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে দলের স্কোর দেড়শ পার করেন তারা। কিন্তু এরপরই ঘটে ছন্দপতন।
ম্যাচের ৪০তম ওভারে আক্রমণে এসেই আরভিন-রাজার জুটিতে ভাঙ্গন ধরান জিম্বাবুয়ের প্রথম দুই উইকেট শিকারী হেরাথ। এতে দেশের মাটিতে ৪৪তম ম্যাচে নিজের ২৫০ উইকেটও পূর্ণ করেন তিনি। দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে পঞ্চমস্থানে আছেন হেরাথ।
হেরাথের শিকার হবার আগে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৬ রান করেন রাজা। আরভিনের সাথে ১৯ ওভারে ৮৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।
দলীয় ১৫৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পরও ভড়কে যায়নি জিম্বাবুয়ে। কারণ ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন আরভিন। তাকে দেখে সাহস পান উইকেটরক্ষক পিটার মুর।
আরও একটি বড় জুটির স্বপ্ন দেখছিলেন আরভিন-মুর। তাদের স্বপ্নে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান শ্রীলংকার মিডিয়াম পেসার আসলে গুনারতেœ। ১৯ রানে থাকা মুরকে আউট করে শ্রীলংকাকে খেলায় ফেরান গুনারতেœ।
এরপর দলকে বড় জুটির স্বাদ দিয়েছেন আরভিন ও ম্যালকম ওয়ালার। সেই সাথে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ১২তম ম্যাচ খেলতে নামা আরভিন। ২০১৬ সালের আগস্টে বুলাওয়েতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন তিনি
আরভিনের সেঞ্চুরির কিছুক্ষণ পরই আউট হন ওয়ালার। দারুন জমে উঠা জুটিতে ভাঙ্গন ধরান হেরাথ। ৪টি চারে ৩৯ বলে ৩৬ রান করা ওয়ালারকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান হেরাথ।
ওয়ালারের বিদায়ের পর উইকেটে গিয়ে আরভিনকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার। মাত্র ১৩ রান করে আউট হন তিনি।
তবে দশ নম্বরে ব্যাট হাতে নামা ডোনাল্ড তিরিপানোকে নিয়ে দিনের বাকী খেলা ভালোভাবেই শেষ করে দেন আরভিন। ১৫১ রানে অপরাজিত থাকেন আরভিন। তার ২৩৮ বলের ইনিংসে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। অন্যপ্রান্তে ৪৫ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিরিপানো। শ্রীলংকার হেরাথ ১০৬ রানে ৪ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
জিম্বাবুয়ে : ৩৪৪/৮, ৯০ ওভার (আরভিন ১৫১*, ওয়ালার ৩৬, হেরাথ ৪/১০৬)।

লিড নিয়েছে নর্দান টেরিটোরি

অস্ট্রেলিয়া সফরে নর্দান টেরিটোরি একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের একমাত্র ম্যাচটির প্রথম দিন নিজেদের করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের ব্যাটসম্যানরা। ৬ উইকেটে তুলেছিল ৩১২ রান। কিন্তু শুক্রবার দ্বিতীয় দিনটা মনের মতো কাটাতে পারলো না লিটন কুমার দাশ, এনামুল হক বিজয়রা। ওভার নাইট ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাশ। ব্যাটিংয়ে নেমে নর্দান টেরিটোরি সারাদিন কেবল হতাশাই উপহার দিয়েছে বিসিবি এইচপি একাদশের বোলারদের। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে তুলেছে ৩১৬ রান। ৭ উইকেট হাতে রেখে ৪ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা।
ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে, নর্দান টেরিটরি ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তোলে ৮৪ রান। ন্যাথান ম্যাকসুইনিকে ৪০ রানে ফিরিয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠা এ জুটিটি ভাঙ্গেন নিহাদ-উজ-জামান। এরপর নর্দান টেরিটরি অধিনায়ক আলেক্সান্ডার গ্রেগোরিকে ফিরিয়েছেন তানবীর হায়দার। কিন্তু জ্যাকব ডিকম্যানকে সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশি বোলারদের হতাশা বাড়িয়ে তোলেন রায়ান হ্যাকনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯৯ রান তোলেন এ দুই ব্যাটসম্যান।
রায়ান হ্যাকনি অবশ্য ৯৭ রান করে ফিরেছেন তানবীরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। তবে জ্যাকব ডিকম্যান তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। চতুর্থ উইকেটে জ্যাক ডয়েলের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১০৫ রানের জুটি গড়ে দিনটি নিজেদের করে নেন এনটি একাদশের ব্যাটসম্যানরা। ১০২ রান অপরাজিত আছেন ডিকম্যান। ১৭০ বলের ইনিংসটি ৯টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে সাজান এ ব্যাটসম্যান। ডয়েল অপরাজিত আছেন ৪৬ রানে।
বাংলাদেশের বোলারদের বিবর্ণ দিনে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন তানবীর। ২৯ রানের খরচায় তুলে নিয়েছেন ২টি উইকেট। আর নিহাদ-উজ-জামান ৩২ রানের বিনিময়ে পেয়েছেন ১টি উইকেট।
তিন দিনের ম্যাচের আগে এই নর্দান টেরিটোরির বিপক্ষেই ৫টি একদিনের ম্যাচ খেলেছে বিসিবি এইচপি একাদশ। ৫ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পায় লিটন-বিজয়রা। তিন দিনের ম্যাচেও প্রথম দিন প্রাধান্য বিস্তার করার পর দ্বিতীয় দিনে পিছিয়ে পড়েছে তারা। শনিবার ম্যাচের তৃতীয় ও শেষ দিন।
দ্বিতীয় দিনশেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর :

এইচপি বিসিবি : ৩১২/৬ (ইনিংস ঘোষণা)
নর্দান টেরিটোরি : ৩১৬/৩ (ডিকম্যান ১০২*, হ্যাকনি ৯৭, ডয়েল ৪৬, ম্যাকসুইনি ৪০, গ্রেগোরি ১৭; তানবীর ২৯/২, নিহাদ-উজ-জামান ৩২/১)

টি-টোয়েন্টির সেরা পাঁচে সাকিব-রিয়াদ

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা আইসিসি-র নতুন র‍্যাংকিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার ক্যাটাগোরিতে প্রথমবারের মতো সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। এরা হলেন- সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার একমাত্র টি-টোয়েন্টি শেষে র‍্যাংকিং আপডেট করেছে আইসিসি। নতুন এই র‍্যাংকিংয়ে ৩৫৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন সাকিব। ২০৩ রেটিং পয়েন্টি নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন রিয়াদ। এবারই প্রথমবারের মতো কোন নির্দিষ্ট ফরম্যাটের অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ে সেরা পাঁচেও জায়গা করে নিয়েছেন রিয়াদ।
সেরা টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন অজি অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তার রেটিং পয়েন্ট ৩৪৩। ২৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছেন যথাক্রমে মারলন স্যামুয়েলস ও আফগান নবী। পাঁচ থেকে ছয়ে নেমে গেছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং।

শুরুতেই শাস্ত্রী বিরোধী উপদেষ্টা কমিটি

ভারতীয় কোচ হিসেবে নাম ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ঘোর বিপাকে শাস্ত্রী। সুপারিশ না মেনে নিজের পছন্দের সহকারী চেয়ে বোর্ড প্রধানের কাছে আবেদন জানানোয় শাস্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ সৌরভ গাঙ্গুলি, শচীন টেন্ডুলকার ও ভিভিএস লক্ষণের সমন্বয়ে গড়া তিন সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি।
নতুন নিয়োগ পাওয়া ভারতীয় এই কোচের বিরুদ্ধে কাজকর্মে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বোর্ড প্রধান ও সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের দল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসকে (সিওএ) লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। সঙ্গে আছেন শচীন-লক্ষণও।
লিখিত সেই অভিযোগে তারা জানান, জহির খানকে বোলিং কোচ হিসেবে বেছে নেওয়ার পরও শাস্ত্রী নিজের পছন্দের ভরত অরুণকে বোলিং কোচ করতে চাইছেন। এমনকি সেইজন্য ক্রিকেটের অ্যাডভাইজারি কমিটির কাজেও নাক গলাচ্ছেন। বলা হয়ে থাকে, সৌরভ গাঙ্গুলী শাস্ত্রীকে কোচ হিসেবে বেছে নিতে মোটেই রাজি ছিলেন না। পরে তাকে করানো হয় শাস্ত্রীর সঙ্গে জহির খান, রাহুল দ্রাবিড়কে জুড়ে দিয়ে।

সৌরভ গাঙ্গুলি, ভিভিএস লক্ষণ ও শচীন টেন্ডুলকার (বাম থেকে)।

কিন্তু শাস্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, হেড কোচ হওয়ার সুবাদে তিনি সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের অধিকারী। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর অনুযায়ী, কোচ নির্বাচিত হওয়ার পর শাস্ত্রী তার পুরনো কোচিং স্টাফ ফেরানোর জন্য চেষ্টা করেন।
প্রথমবার যখন শাস্ত্রী কোচ ছিলেন তখন ব্যাটিং কোচ ছিলেন সঞ্জয় বাঙ্গার এবং বোলিং কোচ ছিলেন ভরত অরুণ। বিষয়টি মোটেই ভালোভাবেই নেননি শচিন-সৌরভ-লক্ষণরা। তারা সরাসরি কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স ও বোর্ড প্রধানকে মেইল করে পুরো বিষয়টা জানিয়েছেন।
আগামী ১৫ জুলাই শনিবার বোর্ডের প্রশাসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা শাস্ত্রীর।

নৃত্যশ্পিল্পী থেকে বিশ্বরেকর্ডধারী ক্রিকেটার

বরাবরই তাঁকে মহিলা ক্রিকেটের শচীন টেন্ডুলকার বলা হয়। তিনি মহিলাদের বিশ্ব ক্রিকেটে যে দাপট দেখিয়েছেন তা এক কথায় অনন্য। ব্যাটসম্যান হিসেবে একেরপর এক শৃঙ্গ জয় করেছেন। বলছি, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তথা সবচেয়ে সেরা ব্যাটসম্যান মিতালি রাজের কথা। প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের বিশ্ব ক্রিকেটে ৬ হাজার রান করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্রিস্টলে এই রেকর্ড গড়েছেন মিতালি রাজ। এই রেকর্ডের ফলে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান শার্লট এডওয়ার্ডসকে পিছনে ফেললেন তিনি। শার্লট একদিনের ম্যাচে ৫৯৯২ রান করে এতদিন শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন। মিতালি নিজের কেরিয়ারের ১৮৩ তম একদিনের ম্যাচে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪ রান করে মিতালি নতুন কৃতিত্ব অর্জন করেন। সেই ম্যাচে শেষপর্যন্ত ৬৯ রান করে মিতালি আউট হন।

মিতালি রাজ

সবচেয়ে কমবয়সে একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে মিতালির। এছাড়া অভিষেকেই শতরান করেছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মিতালি টেস্ট ম্যাচেও দ্বিশতরান করেছেন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পরপর সাতটি একদিনের ম্যাচে অর্ধশতরানের রেকর্ডও রয়েছে এই তারকা মহিলা ক্রিকেটারের।
তবে ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলা বা খেলোয়াড় হওয়ার প্রতি সেরকম আগ্রহ ছিল না। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ‘শচীন তেন্ডুলকার’ মিতালি রাজ ভরতনট্যম নৃত্যশিল্পী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর তখন। তবে একটু বয়স হতেই ক্রিকেটের প্রতি টান তৈরি হয়। পরে বদলে যায় ভালোবাসায়। মিতালিকে ভারতীয় ক্রিকেটকে উপহার দেওয়ার কৃতিত্ব মূলত দুজনের। একজন প্রাক্তন হায়দরাবাদী পেসার জ্যোতি প্রসাদ, অন্যজন প্রয়াত এনআইএস কোচ সম্পত কুমার। জ্যোতি দশবছর বয়সী মিতালির মধ্যে ট্যালেন্ট দেখেন। সম্পত অ্যাকাডেমিতে মিতালিকে গড়ে তোলেন।

মিতালি রাজ

মিতালির বাবা ডোরাই রাজ ভারতের বিমানবাহিনীর প্রাক্তন সেনা। পরে ব্যাঙ্কে চাকরি নেন। তিনিই হাতে ধরে মেয়েকে সেকেন্দ্রাবাদে সেন্ট জন্স কোচিং ক্যাম্পে নিয়ে যেতেন। তখন মিতালির বয়স মাত্র ১০ বছর। সেখানেই জ্যোতি প্রসাদ চিনে নেন মিতালির প্রতিভাকে। সঙ্গে প্র্যাকটিস করতেন মিতালির ভাইও। কয়েকমাস পরে ডোরাই রাজকে ডেকে জ্যোতি প্রসাদ বলেন, ছেলে নয়, মেয়ের প্রতি বেশি মনোনিবেশ করতে। কারণ মিতালি বেশি প্রতিভাবান। তবে জ্যোতি প্রসাদের ক্যাম্পে বেশিদিন ক্রিকেট শেখা হয়নি মিতালির। সেখানে ছেলেদের ক্রিকেট শেখানো হতো। ফলে জ্যোতির পরামর্শেই মিতালিকে নিয়ে বাবা ডোরাই রাজ হাজির হন সম্পত কুমারের কাছে। কিছুদিনের মধ্যেই মিতালির প্রতিভা দেখে মুগ্ধ সম্পত জানিয়ে দেন, এই মেয়ে শুধু ভারতের হয়ে খেলবেই না, বহু রেকর্ড ভেঙে দেবে।

মিতালি রাজ

১৯৯৯ সালের ২৬ জুন মাত্র ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করে, মিতালি যে রেকর্ড গড়েন তা আজও অটুট।
একদিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক রান
কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্যক্তিগত ৬ হাজার রানের মাইলস্টোন টপকে গেছেন মিতালি। এর আগে মহিলাদের একদিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ছিলেন ইংল্যান্ডের শার্লট এডওয়ার্ডস। তাঁর করা ৫৯৯২ রান টপকে মিতালি আপাতত ৬০২৮ রানে দাঁড়িয়ে। আর আশেপাশে তাঁকে ধরার মতো কেউ নেই।
একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ গড়
ওয়ানডে ক্রিকেটে গড়ের হিসেবেও সকলকে টপকে গেছেন ভারত অধিনায়ক মিতালি রাজ। অন্তত তিন হাজার রান করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ে সবার উপরে রয়েছেন মিতালি। তাঁর গড় ৫১.৫২। তাঁর পরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার কারেন রল্টন (৪৮.১৪ গড়) ও বেলিন্ডা ক্লার্ক (৪৭.৪৯)। তবে এরা মিতালির চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে।
সবচেয়ে বেশি অর্ধশতরান
দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মিতালি মাত্র ১৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে তার মধ্যে ৪৯টি অর্ধশতরান করেছেন তিনি। তাঁর পিছনে রয়েছেন শার্লট এডওয়ার্ডস (৪৬টি) ও কারেন রল্টন (৩৩টি)।
মিতালি খেলা মানে ভারত জেতা। মহিলা ক্রিকেটে এটাই দস্তুর। মিতালি দলের জয়ে ভূমিকা নিয়েছেন অনেক বেশি। দল জিতেছে এমন ম্যাচে মিতালির ব্যাটিং গড় ৭৫.৭২। অনেক পিছনে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর (৬৬.১৩ গড়) ও অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং (৬৩.৪০ গড়)।

সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার আশা গেইলের

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে স্বাগতিক শ্রীলংকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরাজয়ে কিছুটা আশাবাদী হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সুযোগে সরাসরি আগামী ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছে তারা। দলের ওপেনার ক্রিস গেইল তো আবার এককাঠি সরেস। ইংল্যান্ডে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ইচ্ছেও পোষণ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে গেইল জানান, ‌’আমরা ২০১৯ বিশ্বকাপ জিততে চাই। তবে এটা সত্যি যে টুর্নামেন্টের অংশিদার হতে আমাদেরকে প্রচুর কষ্ট করতে হবে।’
তবে এখন দলের বাইরে আছেন ক্রিস গেইল সহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। নতুন করে দলে নেওয়া হয়েছে ক্যারিবিয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যামেরনকে ‘বিগ ইডিয়ট’ বলে গত নভেম্বর মাসে বহিস্কার হওয়া ড্যারেন ব্রাভোকে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইন, কাইরন পোলার্ড এবং ডোয়াইন ব্রাভোকেও শিগগিরই ফিরিয়ে আনা হবে। বর্তমানে ওয়ানডে র‌্যাকিংয়ের নবমস্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আসন্ন ইংল্যান্ড সফরে তাদেরকে অনেক ভালো করে র‌্যাকিংয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে। কারণ ২০১৯ বিশ্বকাপে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় আটটি দল সরাসরি খেলবে। পরের চারটি দলের মধ্যে কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষে দুটি দল চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। অর্থাৎ ১০টি দল নিয়ে হবে ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট।