বিকাল ৫:১৭, বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং
/ ক্রিকেট

বিশ্বকাপের ছুটি শেষ। বসে থাকার দিন‌ও শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের। সামনেই যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‌ওয়ানডে সিরিজ। সেই সিরিজের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এখন টাইগাররা।

শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম দিনে সাত ক্রিকেটার নিয়ে অন্তর্বতীকালিন কোচ খালেদ মাহমুদ সূজনের অধীনে অনুশীলন করে টাইগাররা। এই সফরে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে টাইগারদের। কারণ ঘরের মাটিতে এমনিতেই শক্তিশালী লংকানরা। অন্যদিকে, এই এই সফরে দলে থাকছেন না বাংলাদেশের প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসান। তবুও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভাল খেলার প্রত্যাশা খালেদ মাহমুদ সূজনের।

আগামী ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দলে ফিরলেন বিজয় ‌ও তাইজুল

মাশরাফি বিন মোর্ত্তজাকে অধিনায়ক করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। ছুটিতে থাকায় স্কোয়াডে নেই সাকিব আল হাসান এবং লিটন দাসের নাম। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ওপেনার এনামুল হক বিজয় এবং স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে দল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

বিশ্বকাপে থাকা ১৫ সদস্যের দল থেকে বাদ দেয়া হলো আবু জায়েদ রাহির নাম। ১৪ সদস্যের দলের সদস্যরা হলেন, মাশরাফি, মুশফিকুর, মাহমুদউল্লাহ, তামিম, সৌম্য, মিথুন, সাব্বির, রুবেল, মুস্তাফিজুর, মিরাজ, মোসাদ্দেক এবং সাইফুদ্দিন। তাইজুল আর বিজয়ের জায়গা পাওয়ার কারন হিসেবে প্রধান নির্বাচক বললেন, বিসিবি একাদশ আর এ দলের হয়ে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স।

এ সিরিজ দিয়ে বিশ্বকাপের হতাশা কাটাতে চায় টাইগাররা। মাথায় থাকছে র‌্যাঙ্কিংয়ে উপরের উঠার বিষয়টিও। প্রধান নির্বাচক জানান কিছু ক্রিকেটার নিজেদের প্রমানের চেস্টাও করবেন।

বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম তিন বছর পর ওয়ানডে দলে ডাক পেলেন। আর ডানহাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয় গত বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেটি খেলেছেন। কলম্বোয় ২৬ জুলাই প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডে ২৮ তারিখ, আর তৃতীয়টি ৩১ জুলাই।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে সংবর্ধনা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে ডাউনিং স্ট্রিটে থেরেসা মে’র বাসভবনে অধিনায়ক ইয়ন মর্গানের নেতৃত্বে হাজির ছিলেন দলের সদস্যরা।

জোফরা আর্চার, বেন স্টোকসদের সাথে হাত মেলানোর পর ট্রফি হাতে নিয়ে ছবি তোলেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে থেরেসা মে বলেন, এই জয় বিশ্ব দরবারে আধুনিক ব্রিটেনের নামকে আরো উজ্জল করবে। এসময় এই অভিযানে ক্রিকেট দলের সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রশ্নবিদ্ধ ইংল্যান্ডের শিরোপা উল্লাস

অনেক ঐতিহাসিক ঘটনারই সাক্ষী লর্ডস। সেই লর্ডসেই গতকাল হয়ে গেলো আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। পঞ্চমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলো ইংল্যান্ডের লর্ডসে। তবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো টানটান উত্তেজনার আর কখনও দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। এ ম্যাচেই ক্রিকেটভক্তরা দখলেন অদ্ভুত এক জয়। হতবাক হয়ে গেলেন তারা এই জয় দেখে। অনেকে মনে করলেন, লিগ টেবিলে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ওপরে থাকার জন্যই হয়তো কাপ জিতলো ইংল্যান্ড। বিষয়টি বোধগম্য হয় কিছুক্ষণ পরে। জানা যায়, ম্যাচে কিউয়িদের চেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারায় জিতেছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জয়ের এক আলাদা তৃপ্তি আছে। কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদে একটু হলেও যেন কেমন ময়লা পড়ে গেল ইংল্যান্ডের। ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয় সমান সমান অবস্থায়। সুপার ওভারও শেষ হয় অমীমাংসিতভাবে। এই অবস্থায় কী করে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে শুধুমাত্র বাউন্ডারি মারার সংখ্যা? এই প্রশ্নই ঘুরছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাথায়।

চার বছরের অপেক্ষা। ১০ দলের লড়াই। ৪৪ দিন ধরে চলা মেগা টুর্নামেন্ট। একাধিক টানটান ম্যাচ। সেই টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণ হলো দুটি দলের মধ্যে কে বেশি চার মেরেছে তাই দিয়ে! ক্রিকেটে কি তা হলে শুধু বেশি বাউন্ডারি মারাই প্রধান লক্ষ্য? ‘জেন্টলম্যানস গেম’ বলা হয় ক্রিকেটকে। বোলার বুদ্ধি খাটিয়ে বল করে উইকেট নেন। ধীরে ধীরে সিঙ্গলস নিয়ে ইনিংস গড়েন ব্যাটসম্যান। কত রকমের মাইন্ড গেম চলে, তার ইয়ত্তা নেই। একের পর এক উইকেট হারানোর পরে ব্যাটসম্যান দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ইনিংস গড়েন, বোলারের মারাত্মক বাউন্সারের ছোবল সহ্য করেও ব্যাট করে চলার তো তা হলে কোনও মূল্য রইল না!

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে এ সব প্রশ্ন উঠছে। একটা ফাইনাল বেশ বিতর্ক তৈরি করে দিয়ে গেল। লর্ডসের হার নিউজিল্যান্ড শিবিরকে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়ার কথা। গতবারের হারের থেকেও এই হার যে বেশি যন্ত্রণার।

৫০ ওভারে ২৪১ রান করে দু’ দলই। কিন্তু সেই রান তুলতে নিউজিল্যান্ডের থেকে বেশি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। কিউইরা তো বটেই, ক্রিকেটবিশ্বের একটা বড় অংশের দাবি, কেন সেই বিষয়টা গ্রাহ্য করা হবে না? অনেকে আবার মনে করেন, এই অবস্থায় আইসিসি যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করলেই পারতো। ১০০ ওভারের শেষে দুটো দেশেরই রান সংখ্যা সমান। সুপার ওভারেও রান সমান। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড ক্রিকেটিয় বিচারে কোনও অবস্থাতেই ফাইনালে হারাতে পারেনি কিউইদের। পরে যে দল বেশি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে, সেই দলকেই চ্যাম্পিয়ন করে দেওয়া হোক। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মহামঞ্চে এভাবে হারটা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

এরকম নিয়মের বেড়াজালে হেরে যাওয়া সত্যিই দুঃখের। ২০১৮-র সেপ্টেম্বর থেকে ধার্য হওয়া আইসিসি-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী সুপার ওভার ড্র হলে বাউন্ডারি যেদল বেশি মেরেছে তাদের জয়ী ঘোষণা করা হবে। কথা উঠেছে গাপ্টিলের থ্রো স্টোকসের ব্যাটে লেগে হওয়া চারে ছয় রান দেওয়া নিয়েও। কারও মতে, এটা পাঁচ রান হওয়ার কথা ছিল। আইসিসি-র নিয়মও সে রকমই বলছে।

আলোচনা, যুক্তি পাল্টা যুক্তি চলতেই থাকবে। পাল্টানো যাবে না মহাম্যাচের ফলাফল। ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরুর ৪৪ বছর পর জিতলো ক্রিকেটের জনকেরা। কিন্তু সেই জয়টা‌ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রইলো।

আইসিসি’র বিশ্বসেরা একাদশে সাকিব

আইসিসি’র বিশ্ব সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে এই একাদশের অধিনায়কের দায়িত্বে রেখেছে আইসিসি। দ্বাদশ ব্যাক্তি হিসেবে রাখা হয়েছে, কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টকে।

একাদশে সবচেয়ে বেশি, বিশ্বকাপ জয়ী দল ইংল্যান্ডের চারজন, রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের দুইজন করে এবং বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।

আইসিসির বিশ্ব সেরা একাদশের খেলোয়াড়রা হলেন – জেসন রয় (ইংল্যান্ড), রোহিত শর্মা (ভারত), কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক, নিউজিল্যান্ড), জো রুট (ইংল্যান্ড), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার, অস্ট্রেলিয়া), মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া), জোফরা আর্চার (ইংল্যান্ড), লকি ফার্গুসন (নিউজিল্যান্ড), জাসপ্রিত বুমরা (ভারত)।

ইংল্যান্ডের অপেক্ষার অবসান

এ যেনো রবার্ট ব্রুটসের কাহিনী। তিনবার ব্যর্থতার পর চতুর্থবারে এসে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপুরণ করলো ইংল্যান্ড। লর্ডসে, নিউজিল্যান্ডকে সুপার ওভারে পরাজিত করে প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে, ক্রিকেটের জনকরা। তবে এর আগে, তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি ইংলিশদের। চতুর্থ সুযোগে পূর্বসূরিদের সেই আক্ষেপ দূর করলেন, ইয়ন মর্গানরা।

অবশেষে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হলো ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ আসরের জন্মের পর এবারই প্রথম সোনালী ট্রফি ছুঁতে পারলো ক্রিকেট খেলার জনকেরা। নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৪২ রানের টার্গেটে নেমে খেলা টাই। সুপার ওভারও টাই। ফলাফল নির্ধারণে বাইলজের স্মরণ। তাতে কিউইদের ১৪টি বাউন্ডারির বিপরীতে ২২ টি হাঁকানোয় জয় পায় থ্রি লায়নরা। তাতে ইংলিশরা প্রথমবার পেলো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ।

তবে এর আগের তিনবারই পরে ব্যাট করেছিলো ইংলিশরা। অর্থাৎ জয়ের টার্গেটে তিনবারই ব্যর্থ থ্রি লায়নরা। হতাশার বোনো জলে ভেসে যায় তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। ১৯৭৯ সালে থেকে ১৯৯২, এই ১৩ বছরের মধ্যে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ড। অথচ ছুঁয়ে দেখা হয়নি সোনালী ট্রফি। তিনবারই রান তাড়া করতে গিয়ে ব্যর্থ তারা।

১৯৭৯ সালে এই লর্ডসেই প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। তখন ৬০ ওভারে হতো ওয়ানডে ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২৮৭ রানে টার্গেটে নেমে, অধিনায়ক মাইক বিয়ারলি ও জিওফ বয়কটের ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটিও জেতাতে পারেনি ইংল্যান্ডকে। জোয়েল গার্নার মাত্র ৩৮ রানে ৫ উইকেট শিকার করলে, ১৯৪-এ গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর ১৯৮৭ বিশ্বকাপে ভারতে ইডেন গার্ডেনসে আবার এক ট্র্যাজিক ঘটনার জন্ম দেয় ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫৪ রানের লক্ষ্যে নেমে শিরোপার খুব কাছেও হেরে যায়, মাইক গ্যাটিংয়ের দল। মাত্র ৭ রানের পরাজয়ে বিশ্বকাপটা সেবারও ছোঁয়া হয়নি ইংলিশদের।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার এখানেই শেষ নয় ইংল্যান্ডের। ১৯৯২ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডেও বিশ্বকাপ লুকোচুরি খেলে তাদের সাথে। ২৫০ রানের টার্গেটে নেমে, ওয়াসিম আকরামের পেস আর মুস্তাক আহমেদের স্পিনে হাবুডুবু খায় গ্রাহাম গুচের দল। তাতে ২২ রানে ইংলিশদের হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে পাকিস্তান। আর আরো একবার বিশ্বকাপ-ফাইনালে পরাজয়ে ট্র্যাজিক উপাখ্যানের জন্ম দেয় ইংল্যান্ড।

এবার সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ডকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করায় ইয়ন মর্গান-ব্রিগেড।

অবশেষে ইংল্যান্ড বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের। লর্ডসে শ্বাসরুদ্ধকর এক ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে সুপার ওভারে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতলো ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ওভারের ম্যাচ টাই হওয়ায় খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও টাই হওয়ার পর বেশি সংখ্যক বাউন্ডারি হাঁকানোর সুবাদে শিরোপা উল্লাসে মাতে ইংলিশরা।

দুর্দান্ত, অসাধারণ, চোখ জুড়ানো- যে উপমাতেই সাজানো হোক না কেনো, এমন এক ম্যাচের সবচেয়ে বড় পুরষ্কারই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারা। কিন্তু বিশ্বকাপের ফরম্যাট বলেই হয়তো খালি হাতে ফিরতে হলো নিউজিল্যান্ডকে। নাটক আর পাল্টা নাটকের পর ৫০ ওভারের ম্যাচ টাই আর সুপার ওভারেও একই ফল থাকার পর বেশি সংখ্যক বাউন্ডারির সুবাদে প্রথমবারের মত বিশ্বসেরার মুকুট পেলো ইংল্যান্ড।

ফাইনাল তো দূরে থাক, বিশ্বকাপের কোনো পর্যায়েই এমন জমজমাট আর নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচ কখনও দেখেনি কেউ। বারবার কেবল বাইলজ ঘাঁটতে হয়নি ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের। সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে বেন স্টোকস আর জশ বাটলার জুটি তোলেন ১৫ রান। জোফরা আর্চার বল হাতে নিয়ে গাপ্টিল-নিশামকে রুখে দেন সেই একই সংগ্রহে।

অথচ এর আগে, ইংলিশদের জয়ের লক্ষ্যটা তেমন কঠিন মনে হয়নি। ২৪২ রান লর্ডসের মাঠে মোটেও বিশাল চ্যালেঞ্জ নয়। কিন্তু, ম্যাট হেনরি, গ্রান্ডহোম, ফার্গুসনদের বোলিং তোপে সেটাই যেনো পাহাড়ের মত ঠেকছিলো ইংলিশ টপ অর্ডার আর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায়। দলের ৮৬ রানের মধ্যে সাজঘরে প্রথম চার ব্যাটসম্যান। লর্ডসের আকাশে তখন মেঘের সাথে দর্শক-সমর্থকদের মধ্যেও দুশ্চিন্তার ঘনঘটা। এরপরই কান্ডারির ভূমিকায় নামেন জশ বাটলার আর বেন স্টোকস। এর আগেও বহুবার এমন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার অভিজ্ঞতা আছে এই দুই ইংলিশের। এবারও তারা জুটি গড়ে দেখালেন তেমনই কৃতিত্ব। ১১০ রানের জুটি গড়ে বাটলার ফেরার পরও দলকে প্রায় জয়ের বন্দরেই পৌঁছে দেন বেন স্টোকস। কিন্তু শেষ বলে আর পেরে ওঠেননি। তাতে টাই ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

এরআগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৪১ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। হেনরি নিকোলস ৫৫ ও টম ল্যাথাম করেন ৪৭ রান। ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস ও লিয়াম প্লাঙ্কেট তুলে নেন তিনটি করে উইকেট।

বিশ্বকাপ জয়ে ইংল্যান্ডের দরকার ২৪২ রান

ইংল্যান্ডের বোলিং দাপটে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ব্যাকফুটে নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে বড় রান করতে ব্যর্থ কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু লিয়াম প্লাঙ্কেট ‌ও ক্রিস ওকসরা ঠিকই তাদের কাজটা করে দেখিয়েছেন। তাতে লর্ডসে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান তোলে। বিশ্বকাপ জিততে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট এখন ২৪২ রানের।

বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্রিন টপ উইকেট। মাঠ আর উইকেট যেন আলাদা করা যাচ্ছে না। এমন উইকেটে পেসাররা যে আগুন ঝড়াবেন তা বলাই বাহুল্য। তবুও লর্ডসে মেগা ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। হেনরি নিকলস ধীরে শুরু করলেও কিছুটা আক্রমনাত্মক ব্যাটিং করেন। বিশ্বকাপে অফ ফর্মে থাকা গাপটিলকে ১৯ রানে ফিরিয়ে কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন ক্রিস ওকস। এরপর অবশ্য নিকোলস ও উইলিয়ামসন জুটি নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান। কিন্তু ৩০ রানে উইলিয়ামসনকে ফেরান লিয়াম প্লাঙ্কেট। নিকলসকেও ৫৫ রানে ফেরান সেই প্লাঙ্কেটই। ১৫ রানে আউট রস টেলর। জিমি নিশাম করেন ১৯ রান।

১৬ রান করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। শেষ দিকে টম ল্যাথাম করেন ৪৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড পায় ২৪১ রানের পুজি। বিশ্বকাপ জিততে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট ২৪২ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম প্লাঙ্কেট ও ক্রিস ওকস ৩টি করে উইকেট তুলে নেন।

বাংলাদেশ রানার্সআপ

এমপিদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যায় নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দল।

খেলার শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশ সংসদীয় দল ৮ উইকেটে তোলে ১০৪ রান। জবাবে পাকিস্তান ৮ ওভার বাকী থাকতেই এক উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তুলে জয় পায়। অথচ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এই পাকিস্তানকেই পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে বিজয়ীর বেশেই দেশে ফিরবেন এমপিরা।

এমপিদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশ

ইন্টার পার্লামেন্টারি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। কেন্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশের সাংসদরা। শুক্রবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হন নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দল।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে বাংলাদেশ।

১৮৪ রানে জয়ের টার্গেটে খেলতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানে থেমে যান ইংল্যান্ডের সাংসদরা।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দল।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য দল: শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), জাহিদ আহসান রাসেল (ক্রীড়া ও যুব প্রতিমন্ত্রী), নাজমুল হাসান পাপন (বিসিবি সভাপতি), আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব (চেয়ারম্যান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ-১), নাহিম রাজ্জাক (শরীয়তপুর-৩), জুয়েল আরেঙ (ময়মনসিংহ-১), আনোয়ারুল আজিম (আনার) (ঝিনাইদহ-৪), জুনায়েদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী), শেখ তন্ময় (বাগেরহাট-২), ছোট মনির (টাঙাইল-২), আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন (ময়মনসিংহ-৯), নুরুন্নবী চৌধুরী (ভোলা-৩), মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন (ফরিদপুর-৪), আহসান আদেলুর রহমান আদিল (নীলফামারী-৪), মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন (টাঙাইল-৫), মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম শিমুল (নাটোর-২), ফাহিম গুলান্দাজ বাবেল (ময়মনসিংহ-১০), মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন (রাজশাহী-৩) ও ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারি (গাইবান্ধা-১)।

সংসদীয় ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

ইন্টারপার্লামেন্টারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছ বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পাকিস্তান সংসদীয় দলকে ১২ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।

প্রথমে ব্যাট করে, বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট দল নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে।

জবাবে পাকিস্তান সংসদীয় ক্রিকেট দলের ইনিংস থামে ১২৩ রানে। তাতে জয় দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করল বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট দল।

ভারতকে বিদায় করে বিশ্বকাপের সেমিতে নিউজিল্যান্ড

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড। এতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে এখন কিউইরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডের বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৩৯ রানের ফাইটিং স্কোর গড়ে কেন উইলিয়ামসনের দল। জবাবে, তিন বল বাকী থাকতেই ২২১ রানে অলআউট হয় ভারত। ম্যাচ সেরা হন কিউই পেসার ম্যাট হেনরি।

ভারতের জয়ে ১০ বলে প্রয়োজন ২৪ রান। ক্রিজে তখনো অভিজ্ঞ মহেন্দ্র সিং ধোনী। তাই টিম টিম করে জ্বলছিল ভারতের জয়ের সলতেটাও। কিন্তু মার্টিন গাপ্টিলের ম্যাজিক্যাল থ্রো মহেন্দ্র সিং ধোনির ফিফটি আটকাতে না পারলেও, ঠিকই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয় ভারতকে।

অবশ্য ২৪০ রান করলেই টিম ইন্ডিয়া পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। এমন সমীকরনের ম্যাচে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বিরাট কোহলিরা। বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে থাকা, রেকর্ড পাঁচ সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মাকে মাত্র এক রানের পুঁজিতে সাজঘরে ফেরান, ম্যাচ সেরা ম্যাট হেনরি।

অধিনায়ক বিরাট কোহলিও ব্যর্থ। মাত্র এক রানে ট্রেন্ট বোল্টের শিকার তিনি। লোকেশ রাহুলও এক রানের পুঁজিতে প্যাভিলিয়নে। তাতে ৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে প্রচন্ড চাপে পড়ে ভারত। দলের ২৪ রানে দিনেশ কার্তিক, হেনরির তৃতীয় শিকার হলে, কিউই পেস আক্রমনে সবকিছু ভেঙে পড়ার অবস্থা তখন ভারতের।

হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে ৪৭ রানের জুটিতে দলের বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা চলে ঋষভ পান্টের। বাহাতি স্পিনার স্যান্টনার তাদের বিদায় করলে, ৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বল্পরানে গুটিয়ে যাওয়ার শংকায় পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে রাবিন্দু জাদেজা ও মহেন্দ্র সিং ধোনীর ব্যাট ঠিকই ভারতকে জয়ের পথে রাখে। ১০৩ বলে তাদের ১১৬ রানের জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট- ৭৭ রানে থাকা জাদেজাকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করে। ধোনীর বিদায়ের পর আর কোনো প্রতিরোধই করতে পারেনি ভারত। তাতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড।

এর আগে, মেঘ আর বৃষ্টি মুক্ত ওল্ড ট্রাফোর্ডে, আগের দিনের, ৪৬ ওভার এক বলে, পাঁচ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে রিজার্ভ ডে-তে ব্যাট করতে নেমে, দলের স্কোরে আরো ২৮ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করা রস টেলর রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে, ভারতের বিপক্ষে ৮ উইকেট ২৩৯ রানের ফাইটিং স্কোর পায় নিউজিল্যান্ড। ভারতের বোলারদের মধ্যে ভুবনেশ্বর কুমার ৪৩ রানে তুলে নেন তিন উইকেট।

স্টিভ রোডসের বিদায়

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ স্টিভ রোডসেকে বিদায় করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। সমঝোতার ভিত্তিতে ক্রিকেট দলের কোচ স্টিভ রোডসের সাথে চুক্তি বাতিল করেছে বিসিবি। আগামী বোর্ড সভায় নতুন কোচের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস।

২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত ইংলিশ কোচ স্টিভ রোর্ডসের সাথে চুক্তি ছিলো ক্রিকেট বোর্ডের। চুক্তি বাতিল করা হলেও, শ্রীলঙ্কা সফরে টাইগারদের কোচের দায়িত্বে কে থাকবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আসন্ন বোর্ড সভায়। সেখানে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের বিদায়ের গুঞ্জন বেশ জোড়ালো হয়ে উঠছে। সেই সাথে স্পিন কোচ সুনিল যোশির বিষয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাঞ্চেস্টারে কাল বৃষ্টির সম্ভাবনা

এবারের বিশ্বকাপে বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না। এই ম্যাঞ্চেস্টারেই গ্রুপের ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি‌ও বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। আগামীকাল মঙ্গলবার ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথম সেমিফাইনালে আবার‌ও মুখোমুখি হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড। ম্যাঞ্চেস্টারে মেঘে ঢাকা আকাশ সঙ্গে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে আগামীকাল মঙ্গলবার। তবে সেমিফাইনালে অবশ্য রিজার্ভ ডে আছে। সুতরাং ম্যাচ পন্ড হ‌ওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এবারের বিশ্বকাপে এক নম্বরে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে গতবারের রানার্স নিউজিল্যান্ড চার নম্বরে লিগ শেষ করেছে। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে গ্রুপ লিগে কিউইদের সঙ্গে টিম ইন্ডিয়ার সাক্ষাত্ হয়েছিল ১৩ জুন, নটিংহ্যামে। কিন্তু বৃষ্টিতে এক বলও খেলা হয়নি। ভেস্তে যায় ম্যাচ। পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল। বিশ্বকাপের ওয়ার্মআপ ম্যাচে অবশ্য কিউইদের কাছে হেরেছিল কোহলিরা।

মঙ্গলবার ম্যাঞ্চেস্টারে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস। এরপর কিছু সময়ের জন্য মেঘ সরে যাবে। কিন্তু টসের সময় কালো মেঘে ঢাকা থাকতে পারে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশ। দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশে কালো মেঘ থাকবে। ফলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা‌ও থেকে যাচ্ছে। সন্ধা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। তারপর অবশ্য বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা থাকছে না। তবে মেঘে ঢাকা থাকবে ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশ। সান্ত্বনা অবশ্য এটুকুই যে সেমিফাইনালে অবশ্য রিজার্ভ ডে আছে।

বিশ্বকাপে কাল ভারত-নিউজিল্যান্ড লড়াই

ফারদিন আল সাজু

বিশ্বকাপে এর আগে, ভারত ‌ও নিউজিল্যান্ড এই দুইদল সাতবার মুখোমুখি হয়েছিলো। তবে জয়ের পাল্লাটা কিউইদেরই বেশি। চারবার জিতেছে ব্লাকক্যাপরা আর তিনবার জয় পায় ভারত।

এদিকে, গ্রুপের ৪৫টি ম্যাচ শেষ। বিশ্বকাপ কে জিতবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর তিন ম্যাচ। তার আগে সেমিফাইনালের মহারণে লড়বে চার দেশ। ৯ ম্যাচের ৭ টিতেই জিতে যেখানে সবার উপরে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক ম্যাচ হারা কোহলিরা লড়বে গতবারের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আসরে ৫টি জয় নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছি কেন উলিয়ামসনের দল। গ্রুপ পর্বে দুই দলের ম্যাচটি বৃষ্টি কারনে পরিত্যাক্ত হয়েছেলো। আগামীকাল মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বিশ্বকাপ শুরু আগে ধারণা করা হয়েছিলো, এবারে অন্যতম ফেভারেট দল ভারত। কাগজে-কলমেও এগিয়েিছল তারা। সেই ধারা অব্যাহত রেখে, এবারে আসরে ১টি মাত্র হার। বিশ্ব আসরে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে কোহেলিরা। এবারে আসরে ধারালো তরবারি মতোই ব্যাট করছেন রোহিত শর্মা। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরি। তবে রান খড়ায় ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহেলি। সাথে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং করছেন সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে ফাইনাল খেলতে হলে জ্বলে উঠতে হবে তাদের ব্যাট।

এদিকে কিউ বধের বড় অস্ত্র ভারতের বোলিং লাইনআপ। এবারে আসরে তাদের বোলিং আছে সেরা ছন্দে । গ্রুপ পর্বে সামির হ্যাট্রিকের সাথে বুমরার কিপটে বোলিং বেশ ভুগিয়েছে বড় বড় দলগুলোকে। সাথে হার্দিক পান্ডিয়া, ভুবনেশ্বর, চাহালদের কৃতিত্বে ম্যাচ জিতেছে ভারত।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সেরা ছন্দে ফেরে নিউজিল্যান্ড। তবে শেষে এসে সেই ছন্দের উত্থান-পতন ঘটে। একমাত্র অধিনায়ক ছাড়া তেমন কোন ব্যাটসম্যান ছন্দে নেই। তবে বেলিংটা ঠিক ঠাকই করেছেন ফার্গুনসন-বোল্টরা।

এর আগে ৭ বার সেমিফাইনাল খেলেছে ব্লাকক্যাপরা। ফাইনাল খেলেছে মাত্র একবার। এবার ভারতের প্রাচীর টপকাতে পারলে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলবে কিউইরা।

ঠিক হয়ে গেছে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের লাইনআপ

বিশ্বকাপে প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে করে বাংলাদেশকে সরিয়ে পয়েন্ট টেবিলের সপ্তমস্থানে এখন প্রোটিয়ারা।

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩২৫ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে, ডেভিড ওয়ার্নারের ১২২ রানও অস্ট্রেলিয়াকে জেতাতে পারেনি। এক বল আগেই অলআউট হয় তারা ৩১৫ রানে।

এতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে দ্বিতীয় হওয়ায় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। আর অন্য সেমিতে, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল ভারত মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের।

সহজেই শ্রীলঙ্কাকে হারাল ভারত

রোহিত শর্মার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার দেয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্য ৭ উইকেট হাতে রেখেই ছুঁয়ে গ্রুপপর্বের লড়াই শেষ করলো ভারত। আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বেশ নির্ভার ছিলো বিরাট কোহলির দল। রোহিতের ইতিহাস গড়া এবং রাহুলের প্রথম সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।

রোহিত শর্মা এখন যা ধরছেন, তাতেই সোনা ফলাচ্ছেন। নতুন রেকর্ড গড়ছেন, তাঁর ব্যাটের দাপটে ভাঙতে বসেছে পুরনো সব রেকর্ড। আজ শনিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ‘হিটম্যান’।

এক বিশ্বকাপে পাঁচ-পাঁচটি সেঞ্চুরি করার বিরল রেকর্ড এখন রোহিতের। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশের পরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও তাঁর ব্যাট কথা কয়ে উঠলো। ১০৩ রান করে ফিরে যাওয়ার আগে লিডসের আনাচকানাচে ছড়িয়ে দিলেন দারুণ সব মণিমুক্তো।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই কুমার সঙ্গকারাকে ছুঁয়েছিলেন রোহিত। চার বছর আগের বিশ্বকাপে পর পর চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন লংকান সাবেক উইকেটকিপার। আজ যেনো অন্য গ্রহের বাসিন্দা হয়ে গেলেন রোহিত। এক বিশ্বকাপে পাঁচটি সেঞ্চুরি করায় তাঁর আশপাশে কেউ নেই। চলতি বিশ্বকাপে ৬৪৭ রান করে রোহিত এখন, সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে সবার উপরে। শচীন তেন্ডুলকরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। ২০০৩ বিশ্বকাপে ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ ৬৭৩ রান করেছিলেন। সেই রেকর্ডও এখন ভাঙনের মুখে।

বিশ্বকাপে মোট ছ’টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন শচিন। রোহিতও ছুঁয়ে ফেললেন তাঁর ‘আইডল’কে। চার বছর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক। আর এই বিশ্বকাপে তো ইতিহাস গড়লেন— পাঁচ-পাঁচটি সেঞ্চুরি। রোহিতের পাশাপাশি লোকেশ রাহুলও সেঞ্চুরি করেন।

সেমিফাইনালের আগে বিরাট শ্রীলঙ্কার ২৬৪ রানের জবাবে রোহিত ও রাহুল ওপেনিং জুটিতে ১৮৯ রান যোগ করেন। তাতেই অর্ধেক জেতা হয়ে যায় ভারতের। বাকি কাজটা শেষ করেন বিরাট কোহালি-সহ বাকিরা। ৩৯ বল বাকি থাকতে সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

লিডসে শুরুটা দারুণ করেছিলেন ভারতীয় বোলাররা। দ্রুত শ্রীলঙ্কার চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন বুমরা-পান্ডিয়া-জাদেজারা। ভারতীয় বোলারদের দাপটে তাসের ঘরের মতো তখন ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। বিপর্যয় থেকে শ্রীলঙ্কাকে উদ্ধার করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। পান্ডিয়াকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি করেন তিনি।

থিরিমানে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে কুলদীপ যাদবের বলে আউট হলেও ম্যাথুজ ১১৩ রান করে বুমরার শিকারে পরিণত হন। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারের শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৬৪ রান।

রোববার ফিরে আসবে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ মিশন শেষ। এবার দেশে ফেরার পালা। আগামীকাল রোববার দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল টাইগাররা। এই হারে টাইগারদের জয় নিয়ে ফেরার স্বপ্নের সমাপ্তি হলো। হতাশাজনক বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংটাও আশানুরূপ না হওয়ায় শেষ ম্যাচের ফলটাও এসেছে নেতিবাচক।

প্রত্যাশা মতো খেলতে পারলে বাংলাদেশ দলকে দেশে ফেরার যাত্রাটা এতো আগেই করতে হতো না। মঙ্গলবার (৯ জুন) অন্তত প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচের পর বোঝা যেত কবে দেশে ফিরবে টাইগাররা।

কিন্তু মাঠের খেলায় প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। যে কারণে সেমিফাইনাল রাউন্ড শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিমান ধরবেন মাশরাফি-সাকিবরা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে না পারার কারণেই মূলত টাইগারদের এত তড়িঘড়ি করে দেশে ফেরা হচ্ছে।

বিসিবি থেকে জানানো হয়েছে আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২০ মিনিট হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দরে অবতরণ করবে টাইগাররা।

এর আগে লন্ডন থেকে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিট (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে) এমিরেটসের ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবে দল। যাত্রাপথে দুবাইতে ট্রানজিট করে পরে ঢাকায় আসবেন তারা।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ইংল্যান্ড-ওয়েলসে বিশ্বকাপ খেলার উদ্দেশে গত ১ মে তারিখে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রায় সোয়া দুই মাসের সফর শেষে তারা রবিবার দেশে ফিরছেন ক্রিকেটাররা।

মুস্তাফিজ এবার লর্ডসে

মুস্তাফিজ মানে পেসার মুস্তাফিজুর রহমান মানে কাটার ফিজ। বিশ্ব ক্রিকেটেরও বড় তারকা হওয়ার আভাস ক্যারিয়ারের শুরুতেই দিয়েছিলেন। নিজের প্রথম ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে জানান দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বোলিংয়ের ঝান্ডা থাকবে তার হাতেই। হয়ে উঠবেন ভরসা‌ও।

তবে মাঝখানে কিছুটা খেঁই হারিয়ে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। যে কাটারে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করতেন ব্যাটসম্যানদের, সেটাও যেন ঠিকঠাক মতো কাজ করছিল না। হয়ে গিয়েছিল ভোঁতা। চলতি বিশ্বকাপের শুরুতেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি তিনি।

নিজের আসল ছন্দটা খুঁজে পান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। ওই ম্যাচে ১০ ওভার বল করে এক মেইডেনসহ ৫৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে ৫ উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়েন মুস্তাফিজ।

আর শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক লর্ডসে বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নতুন এক কীর্তি গড়েন মুস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে ৭৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন কাটার মাস্টার।

আর এই পাঁচ উইকেটের মাধ্যমেই ঐতিহাসিক লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুলেছেন এই পেসার। এর আগে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুলেছিলেন তামিম ইকবাল ও পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিব।

তবে তারা দুজনই নাম তুলেছিলেন টেস্ট খেলে। এবার মুস্তাফিজ অনার্স বোর্ডে নাম তুললেন ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়ে।

অবসরে শোয়েব মালিক

গত বছরই জানিয়েছিলেন বিশ্বকাপের পর ‌ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ না হলে‌ও পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। তাই প্রত্যাশিতভাবেই একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন শোয়েব মালিক। শুক্রবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হতেই সাংবাদিক সম্মেলনে শোয়েব জানিয়ে দেন, পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মনোযোগ দিতেই একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর।

৩৭ বছর বয়সী শোয়েব মালিক চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে মাত্র ৩টি ম্যাচে খেলার সুযোগ পান। করেন মাত্র ৮ রান। যার মধ্যে দুটি ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন।

২০১৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি। ১৯৯৯ সালে একদিনের ক্রিকেটে অভিযেক হয় শোয়েব মালিকের। ২৮৭ টি একদিনের ম্যাচে শোয়েব মালিক করেছেন ৭৫৩৪ রান। ৯টি সেঞ্চুরি আর ৪৪টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। নিয়েছেন ১৫৮টি উইকেট। শুক্রবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দলে না থাকলেও খেলা শেষে সরফরাজরা শোয়েব মালিককে গার্ড অব অনার দেন।

পারলোনা বাংলাদেশ মুস্তাফিজের শত উইকেট

১৯৯৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ‌ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তানকে হারিয়ে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিল আমিনুল ইসলামের বাংলাদেশ। তখন দারুণ এক দল পাকিস্তান। ওয়াসিম আকরামের পাশাপাশি ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেটের দুর্দান্ত সব বোলারকে সামলে সেবার বাংলাদেশ ৬২ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে।

চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ ইতিমধ্যেই জিতেছে। শুক্রবার লর্ডসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাংলাদেশের কাছে ২০ বছর আগের এক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির। বিশ্বকাপ থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছে বাংলাদেশ। অঙ্কের হিসেবে বেঁচে ছিল পাকিস্তানের শেষ চারে পৌঁছনোর আশা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ৫০ ওভারের শেষে পাকিস্তান থামল ৯ উইকেটে ৩১৫ রানে। মাশরাফিদের ৭ রানে অলআউট করলে পাকিস্তান চলে যেত শেষ চারে। বাংলাদেশ খুব সহজেই সেই রান করে ফেলায় সেমিফাইনালের দরজা বন্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানের জন্য। পাকিস্তানী ওপেনার ইমাম উল হক ১০০ রান করেন। বাবর আজম ৯৬ রানে ফেরেন প্যাভিলিয়ানে। সেঞ্চুরি না পেলেও বাবর আজম গড়েন রেকর্ড। সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদকে টপকে পাকিস্তানের হয়ে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করার মালিক এখন তিনি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ৪৩৭ রান করেছিলেন মিয়াঁদাদ। বাবর করলেন ৪৭৪ রান।

বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি এদিন। তবে ব্যতিক্রম মুস্তাফিজুর রহমান। হারিস সোহেলকে ফিরিয়ে ৫৪ ম্যাচে ১০০ উইকেট নেন তিনি। জিতলে‌ও বাবর আজমের রেকর্ড গড়ার দিনে, সেমিফাইনালের আগেই লর্ডস ছাড়তে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

বিশ্বকাপে কাল বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াই

ফারদিন আল সাজু
আসরে শেষ ম্যাচে কাল লর্ডসে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেলেও নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপটা স্মরণীয় রাখতে চাইবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সেমির স্বপ্ন টিকে থাকলেও অনেক কঠিন সমীকরণের মারপ্যাঁচে ম্যধ্যে আছে পাকিস্তান। তাই তারা চাইবে সমীকরণটা ঠিক রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিয়ে সেমিতে খেলতে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায়।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলো দু’দল। তবে ভারতের বিপক্ষে তীরে এসে তৈরি ডুবিয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় টিম বাংলাদেশের। অথচ এই বিশ্বকাপে কি দারুন শুরুই না করেছিলো বাংলাদেশ। স্বয়ং ভাগ্যদেবী ছিলো বাংলাদেশের পক্ষে। তাইতো বাংলাদেশের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নপূরণ আর হলোনা। এবার রূপকথার গল্পের মতোই বিশ্বকাপ শুরু করেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দলকে একাই যেন টেনেছেন তিনি। ৫৪২ রান এবং ১১ উইকেট মালিক এই বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সাকিব ছাড়া বলা যায় এবারে বিশ্বকাপে বাকি ব্যাটসম্যানরা সুপার ফ্লপ। তবে শেষ ম্যাচটি জয়ের জন্য সাকিবের পাশাপাশি সৌম্য, তামিম, লিটন, মুশফিকদের দায়িত্ব নিতে হবে বড় ইনিংস খেলার। এবং পাশাপাশি সেরা বোলিংটা দিতে হবে মাশরাফি, সাইফুদ্দিন, মুস্তাফিজদের। সেরাটাও দিতে হবে ফিলিংয়েও। কেননা বাংলাদেশের একের পর এক ক্যাচ মিসের মাশুল গুনতে হচ্ছে ম্যাচে হেরে। ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

অপরদিকে সেমিফাইনাল খেলতে হলে অনেক মারপ্যাঁচের মধ্যে আছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে জিতলেই তাদের পয়েন্ট হবে ১১। কিন্তু রান রেটে সমান পয়েন্ট পা‌ওয়া নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেটাই পিছিয়ে পাকিস্তান। তাদেরকে সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪৫০ রান তুলে, মাশারাফী বিন মোর্ত্তজার দলকে ১২৯ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩২১ রানে। অথবা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪০০ রান তুলে টাইগারদের ৮৪ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩১৬ রানে। কিংবা স্কোরবোর্ডে ৩৫০ রান তুলে বাংলাদেশকে ৩৮ রানে অলআউট করে সরফরাজদের ম্যাচ জিততে হবে ৩১২ রানে।

যদিও সমকরটি অনেক কঠিন। কিন্তু আমির, শাহীন আফ্রিদি, রিয়াজদের বোলিংয়ের সামনে তা অসম্ভব নয়। তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিলো। সেবার পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

সম্ভাবনা থাকলে‌ও সেমিফাইনাল খেলা হচ্ছে না পাকিস্তানের

কাগজে-কলমে এখন‌ও পাকিস্তানের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা টিকে আছে। কিন্তু খেলা হচ্ছেনা পাকিস্তানের। গতকাল বুধবার নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রান হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের এই জয়ে, পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ভাগ্য ঝুলে রইলো।

লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল শুক্রবার পাকিস্তান, বাংলাদেশকে হারাতে পারলে ৯ ম্যাচ শেষে ১১ পয়েন্টে হবে। অন্যদিকে ৯ ম্যাচ খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেক্ষেত্রে ৯ ম্যাচ শেষে দুই দলের নেট রান রেট দেখা হবে। আর সেখানেই পিছিয়ে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের চেয়ে নেট রান রেটে অনেক এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। লিগ পর্ব শেষ কিউইদের নেট রান রেট +০.১৭৫। সেখানে পাকিস্তানের নেট রান রেট -০.৭৯২। তবে খাতা-কলমে এখনও পাকিস্তানের সেমিতে যাওয়ার অঙ্ক রয়েছে।

১.বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪৫০ রান তুলে, মাশারাফী বিন মোর্ত্তজার দলকে ১২৯ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩২১ রানে।
২. বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪০০ রান তুলে টাইগারদের ৮৪ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩১৬ রানে।
৩. স্কোরবোর্ডে ৩৫০ রান তুলে বাংলাদেশকে ৩৮ রানে অলআউট করে সরফরাজদের ম্যাচ জিততে হবে ৩১২ রানে।

অঙ্ক অনুযায়ী সরফরাজের টস ভাগ্যের উপরই পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ভাগ্য ঝুলে আছে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলে তবেই সেমির জন্য অন্তত শেষ চেষ্টা করতে পারবে পাকিস্তান। আর বাংলাদেশ টস জিতে ব্যাটিং করলে, বল মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেমির স্বপ্নভঙ্গ হবে পাকিস্তানের। আসলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আশা শেষ পাকিস্তানের। চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলবে নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড

ডারহ্যামের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে তৃতীয় দল হিসাবে সেমিফাইনালে চলে গেল ইংল্যান্ড। টসে জিতে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ৩০৬ রান তোলে। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউইরা।

দারুণ শুরু করে ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি। জেসন রয় ৬০ রান করে ফিরে গেলেও জনি বেয়ারস্টো এই ম্যাচেও ১০৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন। তবে মিডল অর্ডারে কেউ সেভাবে বড় রান করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৫ রানে ইনিংসে ইতি টানে।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই কিউই ব্যাটসম্যানরা আউট হতে শুরু করেন। হেনরি নিকোলাস ফেরেন শূন্য রানে। মার্টিন গাপটিল ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ভালো শুরু করেও ২৭ রানে রান আউট হন। রস টেলরও ফেরেন ২৮ রানে। একদিকে টম ল্যাথম ইনিংস ধরে রাখলেও অপর প্রান্ত থেকে পরপর উইকেট খোয়াতে থাকে কিউইরা। টম ল্যাথম ৫৭ রান করেন। সবমিলিয়ে ১০ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে মার্ক উড ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া ক্রিস ওকস, জোফ্রা আর্চার, লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট, আদিল রশিদ ও বেন স্টোকস একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

বিশ্বকাপে সেমির স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

ভারতের কাছ ২৮ রানে হেরে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। ক্রিকেটে প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে-ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। বাংলাদেশকে এই ক্যাচ মিসের চড়া মাশুল গুনতে হলো মঙ্গলবার। বিশ্বকাপের মহামঞ্চে ভারতের মতো দাপুটে প্রতিপক্ষকে চোখ রাঙাতে হাফ চান্সকেও সুবর্ণ সুযোগ পরিণত করতে হয়। সেখানে রোহিত শর্মার সহজ ক্যাচই ফেলে দেন তামিম ইকবাল। ৯ রানে জীবন পাওয়া রোহিত সুদে-আসলে বুঝিয়ে দিলেন পাওনা। তার সেঞ্চুরিতে ভারত পেল রানের পাহাড়।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান করে ভারত। জবাবে টাইগাররা সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান তোলে। হেরে যায় ২৮ রানে। হারলেও বাংলাদেশের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছেন টাইগার পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন।

ভারতের দেওয়া ৩১৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম এবং সৌম্য সরকার সাবধানী শুরু করেন। এরপরই সেট হয়ে আউট হন তামিম ও সৌম্য। ২২ রানে মোহাম্মদ শামীর বল খোঁচা মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান দেশসেরা তামিম। এরপর হার্দিক পান্ডিয়ার বলে এক্সট্রা কভারে সৌম্যও ধরে পড়লেন অধিনায়ক বিরাট কোহলির হাতে। ৩৮ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করেছেন এ ওপেনার।

দলীয় ৭৪ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সে চাপ থেকে দলকে উত্তরণের চেষ্টা করেছেন দেশ সেরা দুই ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দলকে ভরসা দেওয়া মুশফিক লেগ স্পিনার যুবেন্দ্র চাহালের বল সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ শামি মুঠোয়। ২৪ রানে ফিরে যান মুশি।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু এক প্রান্তে সাকিব ধরে খেলছিলেন। রানের গতিও সচল রেখেছেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। ফিরে গেছেন লিটন দাস; একই পথে হেঁটেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও।

এরপর লিটন-মোসাদ্দেকের দ্রুত বিদায়ের পর ফিরে গেলেন সাকিবও (৬৬)। এক্সট্রা কভারে সহজ ক্যাচ তুলে দেন দিনেশ কার্তিকের হাতে। ৭৪ বলে ৬টি চারের সাহায্যে করেছেন ৬৬ রান।

মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে দলের সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সপ্তম উইকেটে ইনিংস মেরামতের কাজ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে করছিলেন সাব্বির রহমান। একটা সময় মনে হচ্ছিলো এই দুজনের ব্যাট থেকে ভালো সংগ্রহ পাবে বাংলাদেশ। দলকে উপহারও দিয়েছেন প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি। কিন্তু দলীয় ২৪৫ রানে বুমরাহর বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাব্বির। ৩৬ বলে ৩৬ রান করেছিলেন তিনি।

এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের বিপর্যয়ে অধিনায়কের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেছিল দল। ভুবনেশ্বর কুমারের প্রথম বলে দারুণ একটি ছক্কাও মেরেছিলেন। কিন্তু পরের বলে আরও একটি মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন ম্যাশ। শেষের দিকে দুর্দান্ত লড়াই করে সাইফ ফিফটি তুলে নিলেও তাকে কেউ সঙ্গ দিতে না পারায় হারতে হলো বাংলাদেশকে। ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন সাইফ।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি ও লোকেশ রাহুলের ৭৭ রানের সূচনার পর ৯ উইকেটে ৩১৪ রান তোলে ভারত। শেষ দশ ওভারে মাত্র ৬৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগার শিবির।

তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ মিসে আফসোস হচ্ছে। ইনিংসের পঞ্চম বলে ভারতের সেরা হার্ডহিটার রোহিত শর্মা, যিনি এ বিশ্বকাপেও দুরন্ত ছন্দে ছিলেন। নয় রানে থাকা তারই ক্যাচ ফেলে দিলেন তামিম। নয়তো আরও কম সংগ্রহ গড়তে পারত টিম ইন্ডিয়া।

জীবন পেলে আরও ভয়ঙ্কর হন রোহিত, বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাই হলো। লোকেশ রাহুলকে নিয়ে অনায়াসে তিনি গড়েন শতরানের জুটি। ৪৫ বলে রোহিত ও ৫৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন রাহুল। অপরদিকে, টাইগার শিবির তখন উইকেটের জন্য হাহাকার করছিল।

৯০ বলে ২৬তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন রোহিত সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায়। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বাধিক চার সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে রোহিত স্পর্শ করেন কুমার সাঙ্গাকারাকে। বাংলাদেশকে অবশেষে ব্রেক থ্রু এনে দেন সৌম্য। ফিরিয়ে দেন ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান রোহিতকে। ৯২ বলে ১০৪ রানে আউট রোহিত। এ বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৮০ রানের ওপেনিং জুটি থামে ভারতের।

রোহিতকে ফিরিয়ে টাইগার বোলাররা নিজেদের খুঁজে পায়। পেসার রুবেল প্যাভিলিয়নে পাঠান লোকেশ রাহুলকে। ৯২ বলে ৭৭ রান করেন তিনি ছয় চার ও এক ছক্কায়। এরপর মুস্তাফিজের ডাবল ব্রেক থ্রুতে বিরাট কোহলি ও হারদিক পান্ডিয়াকে আউট করলে স্বস্তি নামে মাশরাফিদের। পঞ্চম উইকেটে দুই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্ত ও মহেন্দ্র সিং ধোনি গড়েন ৪০ রানের জুটি। তবে পান্তকে ৪৮ রানে আউট করেন সাকিব। টাইগারদের হয়ে সবচেয়ে কম খরুচে বোলিং করেন তিনি। দশ ওভারে মাত্র ৪১ রান দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

শেষদিকে দুর্দান্ত বোলিং করেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। দ্রুত ফিরিয়ে দেন দিনেশ কার্তিককে। ইনিংসের পঞ্চাশতম ওভারে মহেন্দ্র সিং ধোনি ৩৩ বলে ৩৫ রানে ফিরে যান। বুমরাহকে আউট করে বিশ্বকাপে স্বপ্নের পাঁচ উইকেট পেলেন মুস্তাফিজ। সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে এ কীর্তি মুস্তাফিজের।

ভারতের বিপক্ষে ভুল করার যাবে না: মাশরাফী

শুধু ব্যাটিং কিংবা বোলিং নয়- ভারতকে হারাতে হলে সব বিভাগেই নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এ ছাড়া ম্যাচে ভুল করারও সুযোগ নেই বলে‌ও জানান তিনি। মঙ্গলবার বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বার্মিংহামের এজবাস্টনে বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ভারতকে হারাতেই হবে টাইগারদের।

শক্তিশালী ভারতকে হারানো কঠিন। তবে বিরাট কোহলির দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসীই শোনাল মাশরাফিকে। সোমবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক জয়ের প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমি অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী। ভারত অনেক শক্তিশালী দল। তবে আমরাও আমাদের সেরাটা চেষ্টা করব। আত্মবিশ্বাসী ভাবে নিজেদের কাজটা করার চেষ্টা করব।’

এরপরই মাশরাফি যোগ করে বললেন, ‘তবে সমস্ত ক্ষেত্রেই আমাদের ভুলের পরিমাণ কম করতে হবে।’ অর্থাৎ নিজেদের ভুলের সুযোগ যেন প্রতিপক্ষ নিতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে চায় টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে ভুল করলে ম্যাচ জয়ের সুযোগ নেই বলে বিশ্বাস করেন মাশরাফির।

এ ছাড়া সব বিভাগেই ভালো করার তাগিদ টাইগার অধিনায়কের। এক প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা যখন যার বিপক্ষেই জিতি না কেন, আমার মনে হয় না আমরা একটা বিভাগ দিয়ে জিতেছি। সব জায়গায় ভালো ক্রিকেট খেলেই জিতেছি। ক্যাচিং, গ্রাউন্ড ফিল্ডিং, বোলিং তো অবশ্যই, ব্যাটিংয়ের আমরা ভালো করে জিতেছি। এবং এই টুর্নামেন্টেও। আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকটা জায়গা থেকেই আমরা ভালো খেলে জিততে পারি।’

উদাহরণ টেনে মাশরাফি বলেন, ‘যদি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখেন ব্যাটিং ভালো করেছি, বোলিং করিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যাটিং একটা পর্যায় পর্যন্ত ভালো করেছি, বোলিং ভালো করিনি। সব বিভাগেই যদি আমরা এক সাথে ক্লিক করতে পারি, আমরা যদি কম্বিনেশন ঠিক রাখতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা জিততে পারি।’

‘তবে একটা বিভাগে ভালো করে, অন্য বিভাগে খারাপ করে এই ধরনের পর্যায়ে ভারতের মতো দলের বিপক্ষে জেতা কঠিন হবে। আমি আশা করি আমরা যখন যেটা করি যেন ভালো করতে পারি।’

রানীর শহরে বাংলাদেশের জেতার লড়াই

রানীর শহর বার্মিংহামে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্য়াচে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। ইংল্যান্ডের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে নামছে টিম ইন্ডিয়া। আর হারলেই বিদায় নিতে হবে এমন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে। সাকিবদের হারালেই কাল সেমিফাইনাল সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যাবে ভারতের।
তেমনিভাবে ভারতকে পরাজিত করলেই বিশ্বকাপে টিকে থাকবে বাংলাদেশ (৭ ম্যাচে ৭)। ভারত, পাকিস্তান- পরপর দুটি ম্যাচে জিতলে, সেমিফাইনালে ওঠার একটা সম্ভাবনা‌ও তৈরি হবে টাইগারদের। কাজটা কঠিন, তবে একেবারে অসম্ভব নয়।

বিশ্বকাপে ৩টি জয় ও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচে লড়ে হারলেও মন জিতেছে বাংলাদেশ। তবে আগামী দুটি ম্যাচের ওপরেই নির্ভর করছে সাকিব-মাশরাফীদের বিশ্বকাপ ভাগ্য। টাইগাররা অবশ্য একটা একটা ম্য়াচ ধরে এগিয়ে যেতে চায়। তবে ইংল্যান্ড রোববার ভারতকে হারিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের কাজটা কঠিন হয়ে গেছে।

ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে দু’দেশের সমর্তকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ইদানিং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আবেগেকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ম্য়াচ। সাম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কোহলিরা যতটা একপেশেভাবে জিতেছেন, ঠিক উল্টোটা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে। গত বিশ্বকাপে ২০১৫ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। ধোনিদের বিরুদ্ধে সেই ম্য়াচে বেশ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আম্পায়ারদের পক্ষপাতিত্বে জয় পায়নি টাইগাররা।

এই ম্য়াচটি তাই ২০১৫-র বিশ্বকাপের বদলা হিসেবে দেখছে মাশরাফীবাহিনী। তবে টুর্নামেন্টে টানা ৬টা ম্য়াচে জেতা ভারতের বিজয়রথ আটকে সাকিবদের সামনে কিছু জেতার রাস্তা খুলে গিয়েছে ইংল্যান্ড। আর সেটা হল ভারতীয় ব্যাটিং অনেকটাই রোহিত, কোহলি নির্ভরশীল। ভারতীয় পেসারদের প্রথমে উইকেট না দিলে, আর স্পিনারদের পরে আক্রমণ করলে ভারতীয় বোলিং একেবারে সাদামাটা দেখায়। তামিম-সাকিবরা তেমনটাই চাইছেন।

৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট পেয়ে সেমিফাইনালের একেবারে দোরগড়ায় দাঁড়িয়ে কোহলিরা কালই বাংলাদেশকে হারিয়ে শেষ চার সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে চাইছেন। শেষ ম্য়াচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্য়াচটাকে সেমিফাইনালের প্রস্তুতি হিসেবেই রাখতে চান কোহলিরা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোহলিদের মূলত তিনটি লক্ষ্য থাকবে-১) ইংল্য়ান্ডের কাছে হারের পর আবার নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া। ২) সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা, ৩) মিডল অর্ডার ও স্পিনারদের ফর্মে ফেরা। খারাপ ব্য়াটিং করা ধোনির উপরেও নজর থাকবে।

সেমিফাইনালের কঠিন অঙ্কে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে এখন‌ও পর্যন্ত কেবল অস্ট্রেলিয়া। আর সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। আশা টিকে আছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশেরও। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রেখেছে বাংলাদেশ। সাত ম্যাচে অর্জন ৭ পয়েন্ট। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল জিতেছে ‌ও হেরেছে তিনটি করে ম্যাচে। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে অন্যটি।

বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকা হিসেব করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে বাদ পড়তে হবে ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের যে কোনো একটি দলকে। সমান আট ম্যাচ খেলে কিউইদের অর্জন ১১ পয়েন্ট, ইংলিশদের ১০। এই তালিকায় ভারতও আছে। তবে তাদের হাতে রয়েছে দুটি ম্যাচ। শেষটি আবার দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তাছাড়া, ভারত রান রেটেও অনেক এগিয়ে (+০.৮৫৪)। তাই তাদের শেষ চারে খেলাটা একরকম নিশ্চিতই।

বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকা

দল                     ম্যাচ       জয়      হার      পরিত্যক্ত       পয়েন্ট          রান রেট

১. অস্ট্রেলিয়া            ৮         ৭        ১          ০             ১৪            +১.০০০

২. ভারত                 ৭         ৫        ১          ১              ১১             +০.৮৫৪

৩. নিউজিল্যান্ড         ৮         ৫        ২         ১              ১১             +.০.৫৭২

৪. ইংল্যান্ড              ৮        ৫         ৩         ০              ১০             +১.০০০

৫. পাকিস্তান             ৮         ৪         ৩         ১               ৯              -০.৭৯২

৬. বাংলাদেশ           ৭         ৩         ৩         ১               ৭               -০.১৩৩

৭. শ্রীলঙ্কা               ৭         ২         ৩         ২                ৬              -১.১৮৬

৮. দক্ষিণ আফ্রিকা      ৮        ২         ৫         ১                ৫               -০.০৮০

৯. ওয়েস্ট ইন্ডিজ      ৭        ১          ৫         ১               ৩               -০.৩২০

১০. আফগানিস্তান      ৮        ০          ৮        ০               ০              -১.৪১৮

বাংলাদেশের হাতে আছে দুটি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আবার মহা-পরাক্রমশালী ভারত ও পাকিস্তান। আগামীকাল মঙ্গলবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে বিরাট কোহলিদের মুখোমুখি হ‌ওয়ার পর, ৫ জুলাই লর্ডসে সাকিব-মুশফিকরা খেলবেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুটি ম্যাচেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। কোনো বিকল্প নেই। তাতেও অবশ্য সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত নয় টাইগারদের। তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য ম্যাচের ফলের দিকে। তবে নিজেদের কাজটা আগে সেরে নিতে হবে টাইগারদের অর্থাৎ দুটি ম্যাচেই তুলে নিতে হবে জয়। যে কোনো একটিতে হারলেই বেজে যাবে বিদায় ঘণ্টা। থাকবে টুর্নামেন্ট শেষের আগেই দেশে ফেরার শঙ্কা‌ও। দুই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে হবে ১১।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পরদিন লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচের ফল খুব গুরুত্বপূর্ণ মাশরাফিদের জন্য। স্বাগতিক ইংলিশরা যদি কিউইদের কাছে হেরে যায় তবে নিজেদের ম্যাচ দুটিতে জিতলেই বাংলাদেশ পাবে সেমিফাইনালের টিকিট। তখন নিউজিল্যান্ডের হবে ১৩ পয়েন্টে। পাকিস্তানের পয়েন্ট থাকবে ৯, ইংল্যান্ডের ১০ আর বাংলাদেশের ১১। পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় সেমিতে যাবে বাংলাদেশ।

উল্টোটা যদি ঘটে অর্থাৎ ইংল্যান্ড জিতে যায়, তবে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ, সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে রান রেট বাড়িয়ে নেওয়া ছাড়া তখন আর কোনো উপায় থাকবে না। এমনিতেই রান রেটে কিউইরা বেশ এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। তাদের রান রেট +০.৫৭২। বাংলাদেশের -০.১৩৩। এই ব্যবধান পুষিয়ে নিতে উপমহাদেশের দুই দলকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। এমনটা ঘটলে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট তখন হবে ১২, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের সমান ১১। রান রেটে এগিয়ে সেমিতে উঠবে বাংলাদেশ।

এই সমীকরণের মারপ্যাঁচ মিলিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠাটা বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব নয়। তবে খুবই কঠিন। দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ কাটিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে নেওয়া মাশরাফী বাহিনী শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতেও পারে। তবে অর্জনগুলো তো আর মোছা যাবে না। ব্যাট-বল হাতে সাকিব আল হাসানের একের পর এক অনন্য কীর্তি, মুশফিকুর রহিমের ধারাবাহিক রান পাওয়া, মুস্তাফিজুর রহমান-মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনদের উইকেটের শিকারে দুই অঙ্কে পৌঁছানো, নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোর, সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতা- এত সাফল্য বিশ্বকাপের একক কোনো আসরে আগে কখনওই তো পায়নি বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বিজয় শঙ্কর

বিশ্বকাপে প্রথম হারের ধাক্কার পর এবার ইনজুরির চোখ রাঙানি। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর। পায়ের আঙুলে চোট পাওয়ায় শঙ্করের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। শিখর ধাওয়ানের পর বিশ্বকাপ চলাকালীন আরও এক ভারতীয় ক্রিকেটার ছিটকে গেলেন দল থেকে।

নেটে অনুশীলনে জাসপ্রিত বুমরার বলে আঙুলে আঘাত পাওয়ায় বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যায় শঙ্করের। যেমন নাটকীয়বাবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছিলেন শঙ্কর, তেমন নাটকীয়ভাবে তাঁর অভিযানও শেষ হয়ে গেল।

কারণ শঙ্করের চোট দেখে প্রথমে বোঝাই যায়নি যে চোটটা এত গুরুতর হতে পারে। গতকাল রোববার বার্মিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে টসের সময় অধিনায়ক বিরাট কোহলি জানিয়েছিলেন, শঙ্করের আঙুলে চোট থাকায় তিনি খেলতে পারবেন না।

বিজয়ের জায়গায় খেলেন ঋষভ পান্ট। ঋষভ দলে যোগ দেন, শিখর ধাওয়ানের চোট পাওয়ায় পরিবর্ত হিসেবে। আম্বাতি রাইড়ুকে অগ্রাহ্য করে বিজয় শঙ্করকে ভারতের বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়েছিল। এবার‌ও অগ্রাহ্য করা হলো সেই রাইডুকে। বিজয় শঙ্করেরর পরিবর্তে নেওয়া হবে কর্ণাটকের ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে।