রাত ৩:২৭, শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে সবসময় প্রশংসিত হয়ে এসেছে মিরপুর স্টেডিয়াম। কিন্তু সেই ভাবমূর্তি রক্ষা করা গেল না, সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে। প্রশ্ন উঠেছে বিসিবির কিউরেটর থেকে শুরু করে পুরো গ্রাউন্ডস কমিটির অদূরদর্শিতা নিয়ে। বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী অবশ্য কাউকে দোষারোপ করতে চান না। তিনি জানান, ‘স্বীকৃতি পাওয়ার পর শের-ই-বাংলা নিয়ে কোনো অভিযোগ কখনও পাইনি। এই মাঠে আইসিসির কয়েকটি বড় আয়োজন হয়েছে। ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল এখানে হয়েছে। পরপর তিনটি এশিয়া কাপ আমরা এখানেই আয়োজন করেছি। মাঠের যে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিলো না। বৈরি আবহাওয়ার কারণে এটা হয়েছে। আইসিসি কিন্তু শুধুমাত্র ঘাসের কারণে অভিযোগ করেছে। অন্যান্য দিক ঠিক আছে। এখন সময়ের সাথে সাথে এটা ভালো হয়ে যাবে। আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিলো, তা বলবো না।’

সংস্কারের পর পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে গড়ায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট। ম্যাচ শুরুর আগে দেখা যায় মাঠের ঘাসগুলোর মাঝে প্রচুর ফাঁক। আন্তর্জাতিক ভেন্যুর এমন দশা কেন হল, তার জবাব চেয়ে বিসিবিকে চিঠি দেয় আইসিসি। নির্ধারিত ১৪ দিন পার হওয়ার আগেই কারণ ব্যাখ্যা করে আইসিসিতে চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। চিঠিতে কী উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি গোপন রেখে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আইসিসি শেরে বাংলার আউটফিল্ডকে বাজে বলে আখ্যায়িত করেছে। আমরা এ বিষয়ে আইসিসিকে একটা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আপনারা জানেন যে, গত চার-পাঁচ মাসে বাংলাদেশে যে বন্যা পরিস্থিতি ও বৃষ্টি, তাতে সময় মতো মাঠটা প্রস্তুত করা একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিলো। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা মনে করি, আমাদের গ্রাউন্ডস কমিটি খুব কষ্ট করে কাজ করেছে।’

বিসিবি যে কারণ দেখিয়েছে সেটিতে আইসিসি সন্তুষ্ট না হতে হলে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে বিসিবিকে। সঙ্গে আইসিসির তরফ থেকে তিরস্কার তো থাকবেই।

ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নে‌ওয়ার অভিযান কাল শুরু মুশফিকদের

ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের মানিয়ে নিতে সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ বেশ গুরুত্বপূর্ন বলে মনে করেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। প্রস্তুতি ম্যাচের আগে নিজেদের অনুশীলন শেষে একথা বলেন তিনি। বেনোনিতে দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর দু’টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো টেস্ট খেলুড়ে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর সঙ্গে জেতা হলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এখনও জয়হীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ঘরের মাটিতে সমীহ জাগানো প্রতিপক্ষ হয়ে উঠলেও বিদেশে এখনও সেভাবে নিজেদেরকে প্রমান করতে পারে নি টাইগাররা। এবার সেটা প্রমানের পালা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বেনোনিতে অনুশিলন শেষে তেমনটাই জানালেন। বললেন, ‘বেশ কিছুদিন যাবত ঘরের মাঠে আমরা বেশ ভালো করছি। সুতরাং সেই অভিজ্ঞতা আমরা বিদেশের মাটিতেও কাজে লাগাতে চাই। অন্তত নিজেদের ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্যও সেটা আমাদেরকে করতে হবে।’
মুশফিক আরো জানান, ‘দেশের মতো বিদেশেও আমাদের ভালো খেলার সার্মথ আছে। সেই সার্মথের পরিচয় দিতে পারলেও কেবল বড় দল হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যেতে পারবে বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য সেটাই।’

ঘরের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটেও প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কে পরিনত হয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর ইংল্যান্ডকে এক সেশনেই উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামর্থের জানান দিয়েছিলো মুশফিক বাহিনী। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াও দেখেছে টাইগারদের গর্জে ওঠা। ঢাকা টেস্টে পিছিয়ে পড়েও একদিন বাকি থাকতেই হারায় অজিদের।
তবে ক্রিকেটের পরাশক্তি হয়ে উঠতে হলে দাপটের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে বিদেশের মাটিতেও। ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে স্বাগতিক দলকে আতঙ্কে ডোবাতে পারলেই শক্তিশালী দল হয়ে উঠবে টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এবার তেমন কিছুই করে দেখাতে চায় মুশফিকবাহিনী। তাই একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি বেশ গুরুত্বের সাথেই দেখছেন টেস্ট অধিনায়ক।

এমনিতেই ভিন্ন কন্ডিশনে খেলা। তার ওপর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দলে না থাকায় এবার বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন। কঠিনকে জয় করতে পারলেই বড় দল হয়ে উঠবে টাইগাররা। তাই এই সিরিজে নতুনদের সাথে নিয়ে দলগত পারফরমেন্স উপহার দিতে চান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘পুরো শক্তি নিয়ে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় আসতে পারি নি। তবে নতুন পুরণোদের নিয়ে বাংলাদেশ এখন বেশ ব্যালান্সড দল। কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে ভালো ফল পা‌ওয়া সম্ভব।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত খেলা ১০ টেস্টে এখন পর্যন্ত জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলদেশ। দুটি টেস্ট ড্র করেছে, তা‌ও আবার বৃষ্টির আশীর্বাদে। তবে এবার জয়ের সেই সুমধুর স্বাদ পেতে প্রত্যয়ী টাইগাররা।

বিপিএলে সাকিবের মূল্য কোটি টাকা!

ভেতরে ভেতরে দল সাজানো এবং ঘোচানোর কাজ শুরু হয়েছে কয়েক মাস আগেই। বিপিএলের ইতিহাসে এবারই সবার আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা তাদের পছন্দের আইকন ক্রিকেটার বেছে নেয়ার পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটার- কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া সেরে ফেলেছে।

প্লেয়ার্স ড্রাফটে দেশি আর বিদেশি মিলে ৯ থেকে ১০ জন করে ক্রিকেটার বেছে নেয়ার কাজটি ছাড়া অন্য সব আগে-ভাগেই হয়ে গেছে এবার। সেই প্লেয়ার্স ড্রাফটে দেশের সর্বোচ্চ ৯জন আর বিদেশি দু'জন করে পছন্দের ক্রিকেটার বেছে নিয়েছে দলগুলো।

মোট কথা, বিপিএলের সাত দলের ঘর গোছানোর কাজ শেষ। এরই মধ্যে ফিকশ্চার, ভেন্যুও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষা শুধু ময়দানি লড়াই কবে শুরু হবে, তার।

সবার জানা ৩ নভেম্বর সিলেট স্টেডিয়ামে গতবারের বিজয়ী ঢাকা ডায়নামাইটস আর স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্সের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের বিপিএল। যদিও জাতীয় দল এখন দক্ষিণ আফ্রিকায়। চলতি মাসের বাকি দিনগুলো তো বটেই, অক্টোবরের প্রায় পুরো সময় জাতীয় দলের বহর ব্যস্ত থাকবে প্রোটিয়াদের সাথে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের দৃষ্টি ও মনযোগ এখন টাইগারদের দক্ষিণ আফ্রিকা মিশন নিয়ে।

তারপরও বিপিএল নিয়েও আছে উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আগ্রহ। কোন দল কেমন হলো? দলগুলোর শক্তি কেমন? তাদের সম্ভাবনা নিয়ে চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। সবার কৌতুহলি প্রশ্ন দুটি; এক) কাগজে কলমে কোন দল এক নম্বর? দুই) দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন কোন ক্রিকেটার?

দল গঠন প্রক্রিয়া শেষে কম-বেশি সবাই মানছেন, কাগজে কলমে এক নম্বর দল গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসই। বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট সাকিব ঢাকার অন্যতম প্রাণশক্তি। সাথে কুমারা সাঙ্গাকারা, শেন ওয়াটসন, শহিদ আফ্রিদি, সুনিল নারিন আর মোহাম্মদ আমিরের মত বিশ্বমানের পারফরমার যে দলে, সে দলকে সবার ওপরে রাখা ছাড়া আসলে উপায়ও নেই।

তারপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা টাইটান্স, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুর। চিটাগাং ভাইকিংস তুলনামূলক পিছনে। এতো গেল, দলগুলোর শক্তি ও সামর্থ্যের প্রসঙ্গ।

এবার আসা যাক পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনায়। সবচেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন কোন কোন ক্রিকেটার? আগেই জানা এ প্লাস ক্যাটাগরি বা আইকন ক্রিকেটার হিসেবে থাকা সাত দেশি ক্রিকেটার বাকিদের চেয়ে বেশি পাবেন।

সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম, মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ- এই পাঁচজনের পারিশ্রমিক গড়পড়তা ৫০ লাখের মত। আর অন্য দুই আইকন সাব্বির রহমান রুম্মন ও সৌম্য সরকারের পারিশ্রমিক ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার মত।

তবে এটা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বেঁধে দেয়া মূল্য। কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের এর চেয়ে কম টাকায় দলে ভেড়াতে পারেনি; কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। এর বাইরেও কথা আছে।

ভিতরের খবর, বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ও আইপিএল, বিগ ব্যাশ, কাউন্টি টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ, সিপিএল, পিসিএল আর এসএলপিএল সহ বিশ্বের সব নামী ও অভিজাত টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলা সাকিব আল হাসান বাস্তবে তার দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি অর্থ পাচ্ছেন। সাকিব একা নন। তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহীমও মোটা অংকের অর্থ পাচ্ছেন। এই তিনজনের সত্যিকার পারিশ্রমিক গড়পড়তা প্রায় এক কোটি টাকা কিংবা তারও বেশি। আর মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহর সত্যিকার মূল্য ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মধ্যে।

দেশের ক্রিকেটের পাঁচ শীর্ষ তারকা আসলে কত পেয়েছেন? বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বেঁধে দেয়া ৫০-৫৫ লাখ টাকায় তাদের দলে টানা সম্ভব হয়েছে কি না? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে মূলতঃ আয়করের বিষয়টি মাথায় রেখেই আইকন ও বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রকৃত পারিশ্রমিকের মূল্য অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে।

খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যার পারিশ্রমিক যত বেশি, আনুপাতিক হারে তার আয়করের পরিমানও তত বেশি। তাই কম-বেশি সব ক্রিকেটারই তার সত্যিকার পাওনার কথা চেপে যাচ্ছেন; কিন্তু নির্ভরযোগ্য সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আইকন ক্রিকেটারের মধ্যে সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহর কেউই শেষ পর্যন্ত ওই ৫০-৫৫ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হননি।

আইকন কিংবা এ প্লাস ক্যাটাগরির পারফরমার- যাই বলা হোক না কেন, সাকিব আল হাসানকে ধরে রাখতে ঢাকা ডায়নামাইটস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে কোটি টাকার ওপরে গুণতে হয়েছে।

প্রসঙ্গতঃ সাকিব এর আগেরবারও আইকন ক্রিকেটার হিসেবে ৫৫ লাখ টাকার সাথে একটি দামি গাড়ী উপহার পেয়েছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছ থেকে। যার যোগফল ছিল প্রায় ৯০ লাখ টাকা। খুব স্বাভাবিকভাবেই এবার তার মূল্য ২০ লাখের মত বেড়ে দাঁড়িয়েছে।

একই কথা প্রযোজ্য তামিম-মাশরাফি কিংবা মুশফিকের বেলায়ও। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ তিনজনই এবার নতুন দলে নাম লিখিয়েছেন। তামিম চিটাগাং থেকে কুমিল্লায়। মাশরাফি কুমিল্লা থেকে রংপুর রাইডার্সে। আর মুশফিকুর রহীম বরিশাল বুলস থেকে রাজশাহী কিংসে।

কাজেই তাদের দরও আগেরবারের চেয়ে কম করে হলেও ১০-১৫ লাখ টাকার মত বেশি হয়েছে। মাহমুদউল্লাহ খুলনা টাইটান্সে থেকে গেলেও পারিশ্রমিক বেড়েছে বেশ। মোদ্দা কথা সাত আইকনের শীর্ষ পাঁচজন বিপিএলের বেঁধে দেয়া অর্থর চেয়ে অনেক বেশি টাকা পেয়েছেন। তবে জানা গেছে অপর দুই এ প্লাস ক্যাটাগরির পারফরমার সৌম্য ও সাব্বির গতবারে চেয়ে লাখ পাঁচেক টাকা বেশি করে পাচ্ছেন।

এতো গেল দেশি তারকাদের অর্থ প্রাপ্তির কথা। বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের খবর কী? সেখানেও একই বিষয়। আয়করের কথা ভেবে সবার মুখে তালা। সেখানেও বিদেশি ক্রিকেটারদের কোটা বেঁধে দেয়া আছে; কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ গুণতে হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের।

যতদুর জানা গেছে ঢাকা ডায়নামাইটসের অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ইংলিশ ব্যাটসম্যান কাম উইকেটকিপার জস বাটলারই এবারের বিপিএলে গড়-পড়তা সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন। এদের পেতে ঢাকা ও কুমিল্লা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ম্যাচ পিছু ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা করে গুনতে হবে।

ঢাকার অপর তিন বিদেশি সুনিল নারিন, কুমারা সাঙ্গাকারা আর আফ্রিদির পিছনেও যাবে অনেক টাকা। এদের মধ্যে শেন ওয়াটসন ম্যাচ পিছু ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১৮,৭৫০ মার্কিন ডলার) করে নেবেন। সাঙ্গাকারা ও সুনিল নারিনও ১১-১২ লাখ টাকার মত পাবেন।

অন্যদিকে কুমিল্লার ইংলিশ রিক্রুট জস বাটলারের পারিশ্রমিকও শেন ওয়াটসনের মত। তার মানে ওয়াটসন ও বাটলার সেমিফাইনালের আগে সব ম্যাচ খেললে গড়ে পৌনে দুই কোটি টাকা করে পাবেন।

বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরিতে উড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে মঙ্গলবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে জিততেই হতো গেইল-স্যামুয়েলসদের। কিন্তু জনি বেয়ারস্টোর দারুণ সেঞ্চুরিতে ক্যারিবীয়ানদের সেই স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে। ইংলিশরা ম্যাচটি সাত উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতে নিয়েছে।

এখন ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে হলে গেইল-স্যামুয়েলসের খেলতে হবে বাছাইপর্ব। বাছাই পর্বে শীর্ষ দুইয়ে না থাকলে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারাবেন তারা।

টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে উইন্ডিজ ৯ উইকেটে ২০৪ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে বেয়ারস্টোরের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে এসেছিল ৪২ ওভারে।

দুই দলের সবশেষ ১৩ মুখোমুখিতে ১২টিতেই জয় ইংল্যান্ডের। পরিসংখ্যান দুই দলের পার্থক্য স্পষ্ট করলেও ওল্ড ট্রাফোর্ডের ম্যাচটি নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। টেস্ট সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ধারণা করা হচ্ছিল, গেইল, স্যামুয়েলসরা স্বরূপে ফিরে ক্যারিবীয়ানদের সঠিক পথ দেখাবেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের দাপটের দিনে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজরা।

জনি বেয়ারস্টো ৯৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ওপেনিংয়ে অ্যালেক্স হেলসকে (১৯) হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে জো রুটের সঙ্গে ১৯ ওভারে ১২৫ রান যোগ করেন বেয়ারস্টো। ইংল্যান্ডের জয় সেখানেই নিশ্চিত হয়ে যায়। রুট ৫৪ করে ফিরে গেলেও বেয়ারস্টো শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন। বেন স্টোকসকে (২৩) সাথে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ওপেনিংয়ে নেমে বেয়ারস্টো পান সেঞ্চুরির স্বাদ। ৯৭ বলে ১১ চারে ১০০ রানের ইনিংসটি সাজান ২৭ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হযে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। এছাড়া দলে ফেরা ক্রিস গেইল ৩৭ এবং সাই হোপ ৩৫ রান করেন। বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন বেন স্টোকস। ২ উইকেট পান ক্রিস ওকস ও আদিল রশীদ।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন বেয়ারস্টো। বৃহস্পতিবার নটিংহ্যামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত শ্রীলঙ্কার

কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’ কথাটি হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলংকা দলের জন্য সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারে। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের যখন সর্বনাশ ঠিক তখনই এই সুযোগে পৌষ মাস এসেছে শ্রীলঙ্কার ঘরে। ক্যারিবীয়ানদের পরাজয়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকেট নিশ্চিত হয়েছে লঙ্কানদের।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁচা-মরার লড়াই। কারণ ম্যাচটি হারলেই গেইলদের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলা হাতছাড়া হয়ে যাবে। হয়েছেও তাই। ইংল্যান্ডের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটি হেরেছে ৭ উইকেটে।

এখন ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে হলে গেইল-স্যামুয়েলসের খেলতে হবে বাছাইপর্ব। বাছাইপর্বে শীর্ষ দুইয়ে না থাকলে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারাবে তারা।

বাংলাদেশ র্যাংকিংয়ে সাতে থাকায় অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা। এবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল বাংলাদেশসহ বাকি কোন সাত দল খেলছে সরাসরি বিশ্বকাপ।

বাংলাদেশ ছাড়াও সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার শর্ত ছিল এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যাংকিংয়ে সেরা আটে থাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত শেষ আটের লড়াইয়ে কাগজে-কলমে টিকেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বুধবার ম্যানচেস্টারে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানেড সিরিজের প্রথমটিতে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ায় আইসিসির নির্ধারিত সময়ের আগে চূড়ান্ত হয়ে গেল র্যাংকিংয়ের সেরা আট।

বাকি চার ওয়ানডে জিতলেও আট নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কাকে টপকাতে পারবে না নয় নম্বরে থাকা দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আইসিসি ঘোষিত সবশেষ র্যাংকিং অনুযায়ী ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে সাতে বাংলাদেশ, ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে আটে শ্রীলঙ্কা, ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে ১০ দলের অংশগ্রহণে শুরু হবে বিশ্বকাপ। তার আগে বাছাইপর্বে অংশ নেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড। সেরা দুটি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপ খেলার।

২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সরাসরি খেলবে শ্রীলঙ্কা

অবশেষে ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সরাসরি খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত হলো ১৯৯৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার। স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তারাও সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপ।

গতকাল মঙ্গলবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে, পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটের পরাজয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে না। তবে তারাও আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে ক্যারিবিয়দের খেলে আসতে হবে কোয়ালিফাইং রাউন্ড।

এর আগে, আইসিসি জানিয়েছিল চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরাজয়ের পর শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে দলের অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা জানান, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা (শ্রীলঙ্কা দল) কঠিণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য দর্শক-সমর্থকদের সাধুবাদ জানাই। সেই সঙ্গে আশা করছি, তা সব সময়ই অব্যাহত থাকবে।’

দশ দলের এই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে। তাদের সঙ্গে এই রাউন্ডে অংশ নেবে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড। লিগ ভিত্তিক সেই কোয়ালিফাইং রাউন্ডের সেরা দুই দল অর্থাৎ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চূড়ান্ত পর্বে। যেখানে আগেই আছে- স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা।

আগামী ২০১৯ সালের ৩০ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডে বসবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর।

বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরিতে ‌ও.ইন্ডজিকে ৭ উইকেটে হারালো ইংল্যান্ড

বেয়ারস্টোর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পাচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গেইল-স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে এনেও প্রথম ওয়ানডে জেতা হলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে টস জিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ই তুলেছিলেন ক্রিস গেইল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে জীবন পেয়ে‌ও খুব একটা বড় করতে পারেন নি নিজের ইনিংসকে। ৩ ছক্কা ও ২ চারে ২৭ বলে ৩৭ রান করেন ক্রিস গেইল।

বৃষ্টির কারণে ৪২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৯ উইকেটে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে মাত্র ২০৪ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। উইকেটকিপার শাই হোপস করেন ৩৫ রান। ইংল্যান্ডের বোলার বেন স্টোকস ৪৩ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন আদিল রশিদ ও ক্রিস ওকস।
জবাবে দলের ৩১ রানে ওপেনার অ্যালেক্স হেলষের বিদায়‌ও থামে না অন্য ‌ওপেনার জনি বেয়ারস্টোর ব্যাট। ৯৭ বলে ১১ বাউন্ডারিতে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ৯৭ বলে ঠিক ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। সর্বশেষ ৪ ইনিংসে এটি তাঁর তৃতীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। তাতে ৬৭ বল বাকী রেখেই জয় নিশ্চিত করে ইংলিশরা।

বাংলাদেশকে ভয় গিবসনের

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নতুন কোচ ওটিস গিবসন বাংলাদেশ সর্ম্পকে বেশ সর্তক করে দিয়েছেন দলের খেলোয়াড়দের। টেস্ট ক্রিকেটেও এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ, তাই কন্ডিশন যেমনই হোক তাদের হালকাভাবে নেয়ার কোন কারণ নেই বলে দলের খেলোয়াড়দের বলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় পত্রিকা টাইমস লাইভে দেয়া এক সাক্ষাতকারে একথা বলেন প্রোটিয়াদের নতুন কোচ। গিবসন আরও বলেন, গত বছর তিনি ইংল্যান্ড দলের দায়িত্বে থাকার সময়ই দেখেছেন ইংলিশদের কিভাবে এক সেশনেই গুটিয়ে দিয়েছে মুশফিকরা। তাছাড়া সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের টেস্ট জয়ই বলে দেয়, কোন কন্ডিশনেই এখন আর সহজ প্রতিপক্ষ নয় বাংলাদেশ।

ওটিস গিবসন বলেন, র্কোটনি ওয়ালশের মতো বিখ্যাত লোক রয়েছে তাদের টেকনিক্যাল স্টাফে। তিনি আবার বোলিং কোচও। আর তাদের হেড কোচ তো দলকে দারুণভাবে তৈরি করছে। একটি দলকে অন্যের কাছ থেকে সমীহ আদায় করে নিতে যা করা দরকার, তিনি সেটাই করছেন। তার কারণেই বাংলাদেশ একটি কঠিণ প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পচেস্টফ্রমে প্রথম টেস্ট এবং ৬ অক্টোবর প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হবে মুশফিকবাহিনী।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের অনুশিলন

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রস্তুতি ম্যাচকে সামনে রেখে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ। বেনোনিতে স্থানীয় সময় দুপুর একটার দিকে অনুশীলন শুরু করে মুশফিক বাহিনী।

দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর। নয় বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের বিপক্ষে পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। তাই তিন দিনের ম্যাচের আগে কন্ডিশনের সাথে নিজেদের নিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মুশফিকরা। ২৮ সেপ্টেম্বর দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা।

বিপিএলের চূড়ান্ত সূচি

এরই মধ্যে হয়েছে বিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফটস। নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড় দলে টেনেছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে বিপিএলের জমজমাট ৫ম আসর। আগের বারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসের সাথে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেবে সিলেট সিক্সার্স নাম নিয়ে আবার নতুন করে আসা সিলেটের স্বাগতিকরা।

প্রথম দিন দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে গতবারের রানার্সআপ রাজশাহী কিংস ও রংপুর রাইডার্স। যেহেতু এবারের আসর শুরু হচ্ছে শুক্রবার। তাই প্রথম ম্যাচ শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়। আর দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সোয়া সাতটায়।

শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন খেলা শুরু হবে দুপুর দুইটায়। আর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন প্রথম ম্যাচ শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়। আর পরের খেলা ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে।

৩ থেকে ৭ নভেম্বর পাঁচদিন খেলা হবে সিলেটে। তবে এর মধ্যে ৫ নভেম্বর বিরতি। ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় দিন প্রথম ম্যাচটিও খেলবে সিলেট সিক্সার্স। প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যার ম্যাচটি খেলবে খুলনা টাইটান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস।

৬ নভেম্বর প্রথম ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বী দল চিটাগাং ভাইকিংস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলবে সিলেট সিক্সার্স ও রাজশাহী কিংস। ৭ নভেম্বর প্রথম ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে রংপুর রাইডার্স ও চিটাগাং ভাইকিংস। আর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে সিলেট সিক্সার্স ও খুলনা টাইটান্স।

৮ ও ৯ নভেম্বর বিরতি। তারপর ১০ নভেম্বর থেকে শুরু দ্বিতীয় পর্ব। ওই পর্বে খেলা হবে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ঢাকা পর্বে খেলা হবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। ঢাকায় দ্বিতীয় পর্বের আয়ুস্কাল ১১ দিন হলেও মাঝে থাকবে তিনদিন বিরতি। এরপর ২২-২৩ নভেম্বর বিশ্রাম ও যাতায়াতের জন্য দু'দিন বিরতি।

২৪ নভেম্বর থেকে শুরু চট্টগ্রাম পর্ব। এরপর আবার ঢাকায় ফিরবে বিপিএল। ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শেরে বাংলায় ফাইনাল।

তারিখ

ম্যাচ নম্বর

মুখোমুখি

সময়

ভেন্যু

নভেম্বর ৩

সিলেট বনাম ঢাকা

দুপুর ২.৩০

সিলেট

রাজশাহী বনাম রংপুর

সন্ধ্যা ৭.১৫

নভেম্বর ৪

সিলেট বনাম কুমিল্লা

দুপুর ২টা

খুলনা বনাম ঢাকা

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ৬

চিটাগং বনাম কুমিল্লা

দুপুর ২টা

সিলেট বনাম রাজশাহী

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ৭

রংপুর বনাম চিটাগং

দুপুর ২টা

সিলেট বনাম খুলনা

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ১০

রংপুর বনাম রাজশাহী

দুপুর ২.৩০

ঢাকা

১০

ঢাকা বনাম সিলেট

সন্ধ্যা ৭.১৫

নভেম্বর ১১

১১

চিটাগং বনাম খুলনা

দুপুর ২টা

১২

রাজশাহী বনাম কুমিল্লা

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ১৩

১৩

ঢাকা বনাম খুলনা

দুপুর ২টা

১৪

কুমিল্লা বনাম চিটাগং

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ১৪

১৫

খুলনা বনাম সিলেট

দুপুর ২টা

১৬

ঢাকা বনাম চিটাগং

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ১৭

১৭

রাজশাহী বনাম সিলেট

দুপুর ২.৩০

১৮

খুলনা বনাম চিটাগং

সন্ধ্যা ৭.১৫

নভেম্বর ১৮

১৯

ঢাকা বনাম রাজশাহী

দুপুর ২টা

২০

রংপুর বনাম কুমিল্লা

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ২০

২১

ঢাকা বনাম কুমিল্লা

দুপুর ২টা

২২

সিলেট বনাম রংপুর

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ২১

২৩

রাজশাহী বনাম খুলনা

দুপুর ২টা

২৪

ঢাকা বনাম রংপুর

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ২৪

২৫

খুলনা বনাম রংপুর

দুপুর ২.৩০

চট্টগ্রাম

২৬

চিটাগং বনাম সিলেট

সন্ধ্যা ৭.১৫

নভেম্বর ২৫

২৭

কুমিল্লা বনাম রাজশাহী

দুপুর ২টা

২৮

চিটাগং বনাম রংপুর

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ২৭

২৯

চিটাগং বনাম ঢাকা

দুপুর ২টা

৩০

খুলনা বনাম রাজশাহী

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ২৮

৩১

রংপুর বনাম সিলেট

দুপুর ২টা

৩২

খুলনা বনাম কুমিল্লা

সন্ধ্যা ৭টা

নভেম্বর ২৯

৩৩

চিটাগং বনাম রাজশাহী

দুপুর ২টা

৩৪

কুমিল্লা বনাম ঢাকা

সন্ধ্যা ৭টা

ডিসেম্বর ২

৩৫

কুমিল্লা বনাম রংপুর

দুপুর ২টা

ঢাকা

৩৬

ঢাকা বনাম রাজশাহী

সন্ধ্যা ৭টা

ডিসেম্বর ৩

৩৭

সিলেট বনাম চিটাগং

দুপুর ২টা

৩৮

রংপুর বনাম খুলনা

সন্ধ্যা ৭টা

ডিসেম্বর ৫

৩৯

কুমিল্লা বনাম খুলনা

দুপুর ২টা

৪০

রাজশাহী বনাম চিটাগং

সন্ধ্যা ৭টা

ডিসেম্বর ৬

৪১

ঢাকা বনাম রংপুর

দুপুর ২টা

৪২

কুমিল্লা বনাম সিলেট

সন্ধ্যা ৭টা

ডিসেম্বর ৮

৪৩

এলিমিনেটর (পয়েন্ট টেবিলের তিন ও চার নম্বর দল)

দুপুর ২.৩০

৪৪

প্রথম কোয়ালিফায়ার (পয়েন্ট টেবিলের এক ও দুই নম্বর দল)

সন্ধ্যা ৭.১৫

ডিসেম্বর ১০

৪৫

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার (৪৩ নম্বর ম্যাচে জয়ী দল ও ৪৪ নম্বর ম্যাচে পরাজিত দল)

সন্ধ্যা ৭টা

ডিসেম্বর ১২

৪৬

ফাইনাল (৪৪ ও ৪৫ নম্বর ম্যাচে জয়ী দল)

সন্ধ্যা ৭টা

ডিসেম্বর ১৩

 

ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে

 

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাননি রুবেল

পূর্ণাঙ্গ সফরে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছে বাংলাদেশ দল। সন্ধ্যার ফ্লাইটে মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে ছিলেন রুবেল হোসেনও। তবে জানা গেছে রুবেল হোসেনকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়া হয়নি এই পেসারের।

এ নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, সফরের ক্ষেত্রে নুতন নিয়ম হয়েছে। ভ্রমণকারীকে অবশ্যই ‘ওকে টু বোর্ড’ ক্লিয়ারেন্স পেপার নিয়ে সফর করতে হয়। রুবেলের দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স ছিল না। অন্য সবার ক্লিয়ারেন্স পেলেও রুবেল হোসেনের ক্লিয়ারেন্স পায়নি বিমান কর্তৃপক্ষ। এ কারণে রুবেল যেতে পারেনি। তবে আমরা ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।’

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে সে বিষয়টি নিয়ে মর্মাহত।

গতকাল বেনোনিতে প্রথমবারের মতো অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছেন শুভাশিষ রায়। তামিম ইকবালও দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিটকে গেলেন মরিস

ইনজুরির কারণে আগেই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন স্টেইন ও ফিলান্ড্যার। এবার আরেকটি ধাক্কা খেল প্রোটিয়া শিবির। ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলা হচ্ছে না অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসেরও। প্রোটিয়া দলের ম্যানেজার মোহাম্মদ মুসাজি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রোটিয়াদের হয়ে ৪ টেস্ট খেলা ক্রিস মরিস টেস্ট সিরিজ মিস করলেও ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে থাকবেন ৩০ বছর বয়সি এ ক্রিকেটার। আগামি ১৫ অক্টোবর থেকে সীমিত পরিসরের সিরিজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পচেফ্স্ট্রুমে সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। পরের টেস্টটি শুরু হবে ব্লুমফন্টেইনে, ৬ অক্টোবর

ড্র ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান বিজয় সেরা খেলোয়াড়

চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হতে বাকি ছিল ৪৬ ওভার। বৃষ্টির হানায় খেলা আর হতেই পারে নি। তাতে রংপুর-খুলনা ম্যাচ ড্র। তবে ড্রয়ের আগে বল হাতে ঝলক দেখিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এনামুল হক বিজয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি আর মাশরাফির বোলিং উত্তাপ শেষে ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডে খুলনা ও রংপুরের মধ্যকার ম্যাচটি ড্র হয়।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৭১ রান করে রংপুর বিভাগ। জবাবে বিজয়ের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি আর রবিউল ইসলাম রবির সেঞ্চুরিতে ভর করে ৯ উইকেটে ৪৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা। খুলনার ২৪ রানের লিডকে সামনে রেখে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর। কিন্তু আজ শেষ দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের ৮ ওভার ব্যাট করে ৩৭ রান তুলতেই বৃষ্টি হানা দেয়। বৃষ্টির কারণে আউট ফিল্ড ভেজা থাকায় ম্যাচ ড্র ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনার হয়ে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে নিজেকে খুব একটা মেলে ধরতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং উত্তাপ ছড়ান জাতীয় দলের এই ওয়ানডে অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে রংপুরের শেষ উইকেটটি তুলে নেন মাশরাফি। আজ ৪ ওভার বল করে মাত্র ১২ রানের খরচায় ৩ উইকেট নেন তিনি। ব্যক্তিগত ৫ রানে নাসির হোসেনকে ফেরানোর পর মাহমুদুল হাসান ও আরিফুল হককে বিদায় করেন রানের খাতা খোলার আগেই।
এর আগে প্রথম রাউন্ডের প্রথম স্তরের এ ম্যাচে নিজেদের প্রথম ইনিংসে রংপুরের বড় সংগ্রহে ভূমিকা রাখেন দুই সেঞ্চুরিয়ান ধীমান ঘোষ ও অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। ১০৫ রান করেন ধীমান। আর সর্বোচ্চ ১৩৫ রান আসে নাঈমের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী শুভ ৮৯ ও সায়মন আহমেদ ৫০ রান করেছিলেন।

প্রথম ইনিংসে বল হাতে খুলনার হয়ে আল-আমিন হোসেনের ৪ উইকেটের সঙ্গে ৩টি উইকেট নেন রাজ্জাক। এছাড়া একটি করে উইকেট পান মাশরাফি ও তুষার ইমরান।

জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খুলনার হয়ে প্রায় একাই জবাব দেন এনামুল হক বিজয়। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৬ রান করে নাসির হোসেনের বলে লেগবিফোর হন, ম্যাচ সেরা এই খেলোয়াড়। তার সঙ্গে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি। এছাড়া তুষার ইমরান ৫৪, মোহাম্মদ মিথুন ৪০ ও জিয়াউর রহমান ৩০ রান করেন।

রংপুরের হয়ে মোহাম্মদ নাসির হোসেন একাই নেন ৫ উইকেট। দুটি উইকেট নেন সোহরাওয়ার্দী শুভ।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে অসিদের হারাল ভারত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়েই সিরিজ শুরু করলো স্বাগতিক ভারত। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে জয় পায় কোহলি বাহিনী।

রোববার চেন্নাই এর এমএ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অসি বোলার ন্যাথান কার্টার নাইলের বোলিং তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। দলীয় ১১ রানেই সাজঘরে ফেরেন আজিঙ্কা রাহানে (৫), অধিনায়ক বিরাট কোহলি (০) মনিশ পান্ডে (০)।

এরপর চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন রোহিত শর্মা ও কেদার যাদব। চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রানের জুটিও গড়েন এ দুইজন। তবে দলীয় ৬৪ রানে রোহিত (২৮) ও ৮৭ রানে কেদার যাদবকে (৪০) আউট করে ভারতকে আবারো স্টাইনিস।

ষষ্ঠ উইকেটে মাহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে জুটি বাধেন হার্দিক পান্ডিয়া। দুইজনের গড়া ১১৮ রানের জুটিই মূলত ভারতকে খেলায় ফেরায়। ৬৬ বলে ৫টি চার ও সমান সংখ্যক ছক্কায় করে ফেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৮৩ রান করেন পান্ডিয়া।

জাম্পার বলে পান্ডিয়ার বিদায়ের পর হাত-খুলে খেলতে থাকেন ধোনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ভুবনেশ্বর কুমার। ৮৮ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৭৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ধোনি। ভুবনেশ্বর কুমার ৩২ রান করলে ২৮১ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় ভারত।

তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সময় বাগড়া বাধে বৃষ্টি। পড়ে খেলা শুরু হলে বৃষ্টি আইনে ২১ ওভারে অসিদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৪। টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় নিলে জয়টা খুব কঠিন নয়। তবে অস্ট্রেলিয়া শুরু করলো ছন্ন ছাড়া ভাবে। তাতে ২১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানেই শেষ হয় অসিদের ইনিংস।

ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এছাড়া ৩২ রান করেন জেমস ফকনার। ভারতের হয়ে যজুবেন্দ্র চাহাল ৩টি উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া ও কুলদীপ যাদব।

রাজশাহীর দাপুটে জয়

১৯তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডে দাপুটে জয় পেয়েছে রাজশাহী বিভাগ। সিলেটকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা।

সোমবার রাজশাহীর কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে, শেষ দিনে  রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের অপেক্ষায় ছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু কোনো রোমাঞ্চই ছড়াল না। জয়ের জন্য রাজশাহীর দরকার ছিল ১২৬ রান। আর সিলেটের ৮ উইকেট। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিক দল।

প্রথম রাউন্ডে দ্বিতীয় স্তরের এই ম্যাচে রাজশাহীকে ২১২ রান টার্গেট দেয় সিলেট বিভাগ। রোববার তৃতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ৮৬ রান তোলে রাজশাহী। জুনায়েদ সিদ্দিক ২৮ এবং ফরহাদ হোসেন ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

শেষ দিনের শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলেন রাজশাহীর অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান। সিলেটের বোলাররা কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। দলীয় ১৩৬ রানে জুনায়েদ সিদ্দিক হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে শাহানুর রহমানের বলে আউট হন। ৭৩ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করেন জুনায়েদ। চতুর্থ উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান ফরহাদ হোসেন ও মাইশুকুর রহমান। জয়ের থেকে ৯ রান দূরে থাকতে ফরহাদ শাহানুরের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। ৯৯ বলে ৭০ রান করে আউট হন ফরহাদ হোসেন। জয়ের বাকি কাজটুকু সারেন মাইশুকুর ও ফরহাদ রেজা। মাইশুকুর ৩৭ ও ফরহাদ রেজা ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ১২৮ রান করে ৪৯ রানের লিড পায় সিলেট। কারণ রাজশাহী প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ৭৯ রানে। স্পিনার সায়েম আলম রিজভী ৩২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে রাজশাহীকে একাই গুড়িয়ে দেন। প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করতে পারেনি সিলেট। রাজশাহীর দাপুটে বোলিংয়ে ১৬২ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

রাজশাহী ম্যাচ জিতলেও প্রথম ইনিংসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন সিলেটের সায়েম আলম।

জাতীয় লিগে বিজয়ের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি

০১২ সালে ফতুল্লায় ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ১৯৩ রানের ইনিংস খেলে ৭ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছিলেন সাজঘরে। তবে এবার আর তিক্ত স্বাদ পেলেন না। নতুন ঘরোয়া মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিলেন বিজয়। ১৭২ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে আউট হন ২১৬ রানে।

আগের দিনের ১৭২ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেন বিজয়। ৩৩০ বলে ১৭ চার আর দুই ছক্কায় ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান বিজয়। ডাবল সেঞ্চুরি করে অবশ্য বেশিক্ষণ এই তারকা। ৩৫৬ বলে ২১৬ রান করে আউট হয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১২টি সেঞ্চুরি ছিল বাংলাদেশ দলের হয়ে চারটি টেস্ট খেলা বিজয়ের।

গেইল-লুইসে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড

টি-টোয়েন্টিতে কেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা- সেটা আবারও প্রমাণ করলো তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২১ রানের দারুণ এক জয় পেয়েছে ক্রিস গেইল এবং সুনিল নারিনরা। চেস্টার লি স্ট্রিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেয়া ১৭৭ রানের জবাবে ১৯.৩ ওভারে ১৫৫ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ইংল্যান্ড। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন ক্রিস গেইল আর এভিন লুইস। দুই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ৬.৩ ওভারে ৭৭ রান তোলার পরই বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি। তাও রানআউটের খাঁড়ায় পড়ে। ততক্ষণে ২১ বলে ৪০ রান তুলে ফেলেন গেইল। ৩টি বাউন্ডারি আর ৪টি ছক্কার মার ছিল তাতে।

এভিন লুইস করেন সর্বোচ্চ ৫৫ রান। তার ব্যাটেও ছিল ঝড়। ২৮ বল খেলে ৬টি বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কায় এই রান করেন লুইস। এছাড়া ১৯ বলে ২৮ রান করেন রভম্যান পাওয়েল। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই জেসন রয়ের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে শুধু জেসন রয়ই নয়, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে স্বাগতিকদের। সর্বোচ্চ ১৭ বলে ৪৩ রান করে আউট হন আলেক্স হেলস। ৮টি বাউন্ডারি এবং একটি ছক্কার মার মারেন তিনি।

এছাড়া ৩০ রান করেন জস বাটলার, ২৭ রান করেন জনি বেয়ারেস্ট, লিয়াম প্লাঙ্কেট করেন ১১ বলে ১৮ রান। তবুও ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে গেলো ইংল্যান্ড। ৩টি করে উইকেট নেন কেসরিক উইলিয়ামস এবং কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। ২ উইকেট নেন সুনিল নারিন এবং ১টি করে উইকেট নেন জেরোম টেলর এবং অ্যাশলে নার্স।

আগুয়েরোর হ্যাটট্রিক: ম্যানসিটির হাফ ডজন

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন দিন আগেই নিজেদের শক্তি প্রদর্শণ করেছিল পেপ গার্দিওলার দল ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরে এসে এবার ওয়ার্টফোর্ডের মাঠে গিয়ে তাদেরকেই হাফ ডজন গোল দিলো ম্যানসিটি। হ্যাটট্রিক করলেন সার্জিও আগুয়েরো। বাকি তিন গোল করলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস, নিকোলাস ওতামেন্দি এবং রাহিম স্টার্লিং।

হ্যাটট্রিকের সঙ্গে একটি মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন সার্জিও আগুয়েরো। ম্যানসিটির হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৭ গোল রয়েছে এরিক ব্রুকসের। ১৯৩৯ সালের পর থেকে এই রেকর্ড নিয়ে সবার ওপরে স্থান ব্রুকসের। অবশেষে ৭৮ বছর পর এসে সেই রেকর্ডের কাছাকাছি আগুয়েরো। তার গোল সংখ্যা এখন ১৭৫। এরিক ব্রুকসের রেকর্ড পার হতে হলে আর মাত্র তিনটি গোল প্রয়োজন আর্জেন্টাইন এই সুপারস্টারের।

নিজেদের মাঠে ওয়ার্টফোর্ড খেলতে নেমেছিল, ১৯৮২ সালের পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার মিশনে। কারণ, ম্যানসিটিকে হারাতে পারলেই আপাতত শীর্ষে উঠে যেতো তারা। কিন্তু স্বপ্ন তাদের স্বপ্নই থেকে গেলো। ঘরের মাঠে ৬-০ গোলে পরাজিত হলো তারা।

২৭ মিনিটে গোলের সূচনা করেন সার্জিও আগুয়েরো। কেভিন ডি ব্রুইনের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে দারুন এক হেডে ওয়ার্টফোর্ডের জালে বল জড়ান তিনি। চার মিনিট পর (৩১ মিনিটে) আবারও গোল। এবারও গোলদাতা আগুয়েরো। ডেভিড সিলভার পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

৩৭ মিনিটে তৃতীয় গোল করে বসে ম্যানসিটি। এবার গোলদাতা গ্যাব্রিয়েল জেসুস। এই গোলের জোগানদাতা আগুয়েরো। তার কাছ থেকে বল পেয়ে বাম কোন থেকে ওয়ার্টফোর্ডের জালে বল জড়ান জেসুস। ৩-০ ব্যবধানে শেষ হয় খেলার প্রথমার্ধ।

খেলার ৬৩ মিনিটে চতুর্থ গোল করে ম্যানসিটি। এই গোলটির কারিগর নিকোলাস ওতামেন্দি। ডেভিড সিলভার ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন ওতামেন্দি।

৮১ মিনিটে এসে হ্যাটট্রিক পূরণ করে ফেলেন সার্জিও আগুয়েরো। কাইল ওয়াকারের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শট নেন আগুয়েরো। সেটিই গিয়ে জড়িয়ে যায় ওয়ার্টফোর্ডের জালে। ৮৯ মিনিটে হাফ ডজন পূর্ণ করেন রাহিম স্টার্লিং। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন তিনি।

৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ম্যানচেষ্টার সিটি। ৪ ম্যাচে ম্যানইউর পয়েন্ট ১০। চেলসির পয়েন্ট ৯ এবং ওয়ার্টফোর্ডের পয়েন্ট ৮।

২ বছর নিষিদ্ধ চামারা সিলভা

সাবেক ক্রিকেটার চামারা সিলভাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। ক্রিকেট সম্পর্কিত সকল কার্যক্রম থেকে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটে টায়ার ‘বি’ প্রথম শ্রেনীর ম্যাচে সন্দেহজনক স্কোরিং রেটের কারণেই সাতমাস ধরে চামারা সিলভার ব্যাপারে তদন্ত করে এসএলসি। এরপরই জানা গেছে, ফিক্সিং করেছিলেন তিনি।

গত জানুয়ারিতে কালুতারা ফিজিক্যাল কালচার ক্লাবের বিপক্ষে পানাদুরা ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচ চলাকালীন তৃতীয় দিন এ ঘটনার জন্ম দেন চামারা সিলভা। শুধু চামারা সিলভাই নয়, আরও কয়েকজনকে নিষিদ্ধ করা হয়। তালুতারা ক্লাবের অধিনায়ক মনোজ দেশাপ্রিয়াকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া বাকি খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তাদেরকে ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে প্রতিটি খেলোয়াড় এবং কোচের জরিমানা করা হয়েছে ৫ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি করে। যে ম্যাচে ফিক্সিংয়ের ঘটনা ঘটে, সেই ম্যাচটি হিসেবের বাইরে নেয়া হয়েছে। ওই ম্যাচের ফল হিসেব করা হবে না। এর অর্থ, শ্রীলঙ্কা পোর্ট অথরিটি ক্রিকেট ক্লাব প্রমোশন পেয়ে টায়ার ‘এ’তে চলে গেলো। রেলিগেশনে পড়লো পানাদুরা এবং কালুতারা ক্লাব।

ওই ম্যাচের শেষ দিন ২ উইকেটে ১৮০ রান নিয়ে শুরু করে পানাদুরা ক্লাব। ওটা ছিল তাদের প্রথম ইনিংস। পরে পানাদুরা আরও মাত্র ২২.২ ওভারে ২২৩ রান যোগ করে। রান তোলার গড় ছিল ১০.৩৪ করে। ম্যাচের বাকি দুই ইনিংসও বিপজ্জনকভাবে শেষ হয়ে যায় ওইদিন। দ্বিতীয় ইনিংসে কালুতারা ক্লাব অলআউট হয়ে যায় ১৯৭ রান করে। তারা খেলেছিল ২২.৫ ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে পানাদুরা ৭ উইকেটে ১৬৭ রান করে জয় তুলে নেয়। এই রান তোলার জন্য পানাদুরার হাতে ছিল মাত্র ১৫ ওভার। অথচ তারা জিতে যায় ১৩.৪ ওভারেই।

ভুতুড়ে এই কাণ্ডের পরই ম্যাচটির খোঁজে নামে এসএলসি। শেষ পর্যন্ত জানা গেলো, ম্যাচটি ছিল পুরোপুরি পাতানো। চামারা সিলভা ওইদিনের ঘটনায় মাঠে না নামলেও তাকে সবচেয়ে কঠিন শাস্তিটি দেয়া হলো। কারণ তিনি ছিলেন পানাদুরার অধিনায়ক কাম কোচ। এসএলসির ভাই প্রেসিডেন্ট কে মাথিভান্না বলেন, ‘সে পানাদুরার অধিনায়ক কাম কোচ। সুতরাং, এ ব্যাপারে তিনি কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়াদে পারেন না।’

ইসলামাবাদের বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনুস

মুলতান্স সুলতান্সের হেড কোচের দায়িত্ব নেয়ার কথা ছিল ওয়াকার ইউনুসের। পিএসএলের নতুন ফ্রাঞ্চাইজিতে হওয়ার কথা ছিল টু-ডব্লিউর (ওয়াকার-ওয়াসিম) পুনর্মিলন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াকার ইউনুস আর গেলেন না। ফ্রাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বনিবনা হলো না তার। তবে, পিএসএলে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ওয়াকার। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক।

পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের দু’বার প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন ওয়াকার ইউনুস। তবে পিএসএলের প্রথম দুই আসরে কোনো ফ্রাঞ্চাইজি তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগায়নি। এবার তিনি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের শুধু কোচই নন, দায়িত্ব পালণ করবেন ক্রিকেট ডিরেক্টরেরও। এই দায়িত্বটি এর আগে পালন করেছেন ওয়াসিম আকরাম।

ওয়াকার ইউনুসের নিয়োগের ঘোষণাটি এক সঙ্গে দিয়েছেন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মালিক আলি নাকভি এবং অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক। এ সময় মিসবাহ বলেন, ‘একজন অধিনায়ক যদি তিনি ব্যাটসম্যান হন তাহলে তার জন্য অনেক বেশি সুবিধা হয়ে দাঁড়ায় যদি কোচ হিসেবে একজন পেস বোলারকে পেয়ে যান। একই সঙ্গে তার ওপর যদি সবার আস্থা থাকে এবং স্থানীয় ও বিদেশী ক্রিকেটারদের সম্মান আদায় করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। ওয়াকার ভাইয়ের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। আমি মনে করি, তার নিয়োগ ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের জন্য দারুণ একটি বিষয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের বোলাররা দারুণ উপকার পাবে। একই সঙ্গে আমাদের ড্রেসিং রুমও দুর্দান্ত হয়ে উঠবে।’

ওই সময় ওয়াকার ইউনুস ছিলেন। তিনি বলেন, ‘মিসবাহ এবং আমি- একে অন্যের ওপর দারুণ আস্থাবান। একে অপরকে আমরা অনেক সহযোগিতা করি। আশা করি সামনের দিনগুলোতেও আমরা একইভাবে এগিয়ে যেতে পারবো।’

রাজশাহী কিংসে মোস্তাফিজ

বিপিএলের চলতি আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে আইকন খেলোয়াড় হিসেবেই খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজের। তবে ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে না পারায় পঞ্চম আসর থেকে বাদ দেওয়া হয় বরিশাল বুলসকেই। ফলে যে কোনো দলে খেলার জন্য উন্মুক্ত ছিল মোস্তাফিজ। আজ (শনিবার) বিপিএলের ড্রাফটে এ+ ক্যাটাগরির একমাত্র দেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজকে দলে টেনেছে রাজশাহী কিংস।

স্থানীয় ১৩৬ আর বিদেশি ২০৮ ক্রিকেটারকে নিয়ে প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠান শুরু হয়। ড্রাফটের শুরুতেই মোস্তাফিজকে কিনে নেয় রাজশাহী কিংস। এরএর প্রথম রাউন্ডে বাকি ছয়টি দলও একজন করে দেশি খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে ভেড়ায়।

এখন পর্যন্ত ড্রাফটে কে কোন দলে:

ঢাকা ডায়নামাইটস: আবু হায়দার রনি, জহুরুল ইসলাম, নাদিফ চৌধুরী
চিটাগং ভাইকিংস: সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ আল আমিন, আলাউদ্দিন বাবু
খুলনা টাইটান্স: নাজমুল হোসেন শান্ত, আবু জাহিদ রাহি, আফিফ হোসেন ধ্রুব
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: আল আমিন হোসেন, আরাফাত সানি, অলক কাপালী
রংপুর রাইডার্স: শাহরিয়ার নাফীস, নাজমুল হোসেন অপু, জিয়াউর রহমান
রাজশাহী কিংস: মোস্তাফিজুর রহমান, জাকির হোসেন, নিহাদুজ্জামান
সিলেট সিক্সার্স: আবুল হাসান রাজু, শুভাগত হোম, কামরুল ইসলাম রাব্বি

সাকিবকে মিস করবেন মুশফিক

নয় বছর পর পূর্ণাঙ্গ সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। তবে এ সফরে দুটি টেস্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন দলের সেরা তারকা সাকিব আল হাসান। আর সাকিব সাময়িক বিশ্রামে থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে মিস করবেন বলে মন্তব্য করেছেন টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। শনিবার মিরপুরের শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, ‘সাকিব বাংলাদেশ দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক খেলোয়াড়। তার পরিবর্তে দলে একজন ব্যাটসম্যান ও বোলারের প্রয়োজন হয়। তবে তিনি না খেললে আমরা দলগতভাবে খেলে তার অভাব পূরণ করার চেষ্টা করবো।’

দক্ষিণ আফ্রিকার আজ দুই ভাগে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। সেখানে পৌঁছে চারদিন অনুশীলন করবেন ক্রিকেটাররা। এরপর ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশের বিরুদ্ধে বেনোনিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। প্রথম টেস্ট ২৮ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রমে, দ্বিতীয় টেস্ট ৬ অক্টোবর ব্লুমফন্টেইনে। টেস্টের পর তিনটি ওয়ানডে, দুটি টি- টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, সাকিব বিশ্রামের জন্য ছুটির আবেদন করায় তাকে ছাড়াই দল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তিনি চাইলে দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ টেস্ট দল: মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মু্স্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শুভাষীশ রায় ও মুমিনুল হক।

মুশফিকের একান্ত অনুরোধ

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত টাইগাররা। সকালেই দলের নতুন ম্যানেজার ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ ও তিন ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তাইজুল ইসলাম, লিটন দাস ঢাকা ত্যাগ করেন। আর টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এসেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে দলের অবস্থা নিয়ে কথা বলেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বের হয়ে যাওয়ার আগে, মুশফিক হাত তুলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার একটা ছোট্ট অনুরোধ আছে। অনুরোধ করতে গিয়ে টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘আমার একটা অনুরোধ ছিল যে, খেলোয়াড়রা সবাই চায় ভালো খেলতে। কিন্তু আপনাদের কাছে আমার একটা ব্যক্তিগত অনুরোধ। রিসেন্টলি ৩/৪ জন ক্রিকেটার সৌম্য, ইমরুল আর সাব্বিরকে নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা হতেই পারে। তবে ওদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় কোন কথা বলে চাপে ফেলবেন না। ওদের কমফোর্টজন থেকে সরিয়ে নিবেন না।’

এরা যদি বাদ পরে তবে দলেরই ক্ষতি হবে বলে জানিয়ে মুশফিক আরও বলেন, ‘দিনের শেষে ওরা যদি ভাল করতে না পেরে দল থেকে বের হয়ে যায় তবে বাংলাদেশ দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে আমারও কোন লাভ নাই, কারোরই কোন লাভ নাই। বাংলাদেশ দলের ক্ষতি।’

এদের রিপ্লেস পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ‘আমি বলবো, এরা যারা আছে এদের রিপ্লেস পেতে অনেক সময় লাগবে। আপনারাও জানেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কতটা কঠিন।’

তাই সমালোচোনা করে অস্বস্তিতে ফেলতে অনুরোধ করেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই সমালোচোনা করবেন। তবে এমনভাবে করবেন না যাতে তারা অস্বস্তিতে থাকে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা হবে চ্যালেঞ্জিং: মুশফিকুর রহিম

সাম্প্রতিক পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে যে কোন দলকে হারানো সম্ভব-এমনটাই বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বোলারদের চেয়ে ব্যাটসম্যানদের জন্যই বেশী চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে মিরপুর স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মুশফিক।

নিজেদের সবশেষ টেস্টে সিরিজে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে চারদিনেই হারিয়ে এখন আরও বেশী আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। তার আগে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টাইগারদের শততম টেস্ট জয় আর গত বছর ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এরই মধ্যে টেস্টেও নিজেদের সামর্থের প্রমাণ দিয়েছে মুশফিকুর রহিমের দল। নিজেদের খেলা শেষ ৮ টেস্টের তিন জয় আর পাঁচটিতে পরাজয় থাকলেও লড়াকু ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তাই এখন নিজেদের সামর্থ্যে আতœবিশ্বাসী টেস্ট অধিনায়ক।

দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে পেসারদের দাপটটাই বেশী থাকে। টাইগারদের পেস অ্যাটাক অনভিজ্ঞ হলেও তাদের মেধা আর কৌশল আন্তর্জাতিক মানের। তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য এই সিরিজটা আরও বেশী চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মন্তব্য করেন দেশের হয়ে টেস্টের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান।
মুশফিকুর রহিম জানান, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় যে কোনো দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ থাকে। ‌ওদের কন্ডিশনটাই এমন। আমাদের জন্য‌ও চ্যালেঞ্জ থাকবে সেখানে।’ তিনি আরো জানান, দলে যে পাচজন পেসার আছে তারা ভালো করতে পারলে আর ব্যাটসম্যানরা যদি নিজেদের সামর্থের প্রমান দিতে পারে তবে সেখানে‌ও ভালো করা সম্ভব। আমার বিশ্বাস এবারকার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আমরা ভালোই করবো।’

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দলে না থাকায় টেস্ট সিরিজটা যে কঠিনই হবে তা ভালই বোঝেন মুশফিক। তবে বাংলাদেশ দল এখন আর একক পারফরমেন্সের ওপর নির্ভর করেনা। তাই দলগত পারফরমেন্সের দিকেই তাকিয়ে টাইগার অধিনায়ক। সাকিবের না থাকাটা নতুনদের জন্য সুযোগ হিসেবেই দেখছেন মুশফিক।তিনি জানান, ‘সাকিব এমনই একজন খেলোয়াড় যে কিনা যে কোনো দলের জন্য বিশাল এক সম্পদ। দলে থাকলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো। কিন্তু তার বদলে দলে যারা আছে তারা‌ও একেবারে খারাপ নয়। তাদের‌ও সামর্থ আছে ভালো করার। আশা করছি একটি ভালো সিরিজই হবে আমাদের জন্য।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা ১০ টেস্টে এখন পর্যন্ত জয়ের স্বাদ পায়নি টাইগাররা। তবে এবার সেই অপূর্নতা ঘোচাতে প্রত্যয়ী মুশফিকুর রহিমের দল।

তামিম-ডুপ্লেসিদের হারিয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

 ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের আগের দুই ম্যাচে এক-এক ব্যবধানে সমতায় ছিল দু’দল। তাই সিরিজ নির্ধারণের জন্য তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটিতে চোখ ছিল ক্রিকেট ভক্তদের। গতকাল রাতে শেষটিতে বিশ্ব একাদশকে ৩৩ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান।

ঘরের মাঠে ক্রিকেট ফেরানোর লক্ষ্যে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের এই তিনটি ম্যাচ নিয়ে পাকিস্তানের দর্শকদের আগ্রহ আর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। গতকাল রাতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে আহমেদ শেহজাদের ৮৯ রানের ইনিংসে ২০ ওভারে পাকিস্তান ৪ উইকেটে ১৮৩ রান করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে বিশ্ব একাদশ তুলতে পারে ১৫০।

বিশ্ব একাদশের হয়ে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তামিম ইকবাল গতকালও পারেননি ভালো কিছু করতে। আউট হয়েছেন ১৪ রানে।

প্রথম দুই ম্যাচের মতো শুক্রবারও পাকিস্তানকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যায় দলের টপ অর্ডার। ২৫ বলে ২৭ রান করে আগে ফেরেন ফখর জামান। তবে ততক্ষণে ৫০ বলে ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়ে গেছে পাকিস্তান। এরপর শেহজাদ ও বাবর আজমের জুটি এদিনও পাকিস্তানের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। ৩৭ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে শেহজাদ। অর্ধশতকের পর একটু কমে গিয়েছিল তার গতি। শেষ দিকে আবারও ঝড় তোলেন তিনি। ৫৫ বলে ৮৯ রানে রানআউট হন তিনি। প্রথম ম্যাচের নায়ক বাবর এদিন করেন ৩১ বলে ৪৮। শেষ দিকে যথারীতি দুই ছক্কায় ৭ বলে অপরাজিত ১৭ শোয়েব মালিক।
 

 


জয়ের জন্য ১৮৪ রানের লক্ষ্যে বিশ্ব একাদশের রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই ইমাদ ওয়াসিমকে তিনটি চার মারেন তামিম। তবে তার দৌড় শেষ দ্বিতীয় ওভারেই। বাঁহাতি পেসার উসমান খানের একটু নিচু হওয়া বলে বোল্ড তামিম। আর তাতেই তার ১০ বলে ১৪ রানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। এছাড়া আগের ম্যাচে অপরাজিত ৭২ রান করা হাশিম আমলার বিদায় এদিন ২১ রানে। ১০ ওভারেই টপ অর্ডার ৫ উইকেট হারায় বিশ্ব একাদশ।

১৩ বলে ৩২ রানের ইনিংসে ছোট ঝড় তুললেও দলের হার এড়াতে এদিন ভূমিকা রাখতে পারেননি আগের ম্যাচে বিশ্ব একাদশকে জেতানো থিসারা পেরেরা। ৩২ রান করেছেন ডেভিড মিলার আর ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন স্যামি। শেষপর্যন্ত ১৫০ রানে বিশ্ব একাদশের ইনিংস গুটিয়ে গেলে ৩৩ রানে জয়ের মধ্য দিয়ে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরছেন ইরফান

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ছয় মাস শেষ করেছেন মোহাম্মদ ইরফান। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলার প্রত্যশা রয়েছে জায়ান্ট এ পেসারের।

চলতি বছরের অক্টোবরে লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলতে রাজি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। ঘরের আঙিনায় বহুল প্রতীক্ষিত এ ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন পাকিস্তানের দীর্ঘকায় পেসার ইরফান।

স্পট ফিক্সিং অপরাদে জড়িত থাকার অভিযোগ মোহাম্মদ ইরফানকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেই সঙ্গে ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয় তাকে। এছাড়া পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে তাকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি।

তবে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেও পিসিবির নিষেধাজ্ঞা নির্দেশনা ঠিকমতো মেনে চলায় নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাস পরই ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে ইরফানের। এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সুনজর পেলেই কেবল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।

 

 

আবারও জিম্বাবুয়ে দলে টেইলর

এক সময়ে জিম্বাবুয়ে দলে তারকা ব্যাটসম্যান ছিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। মাঝপথে জিম্বাবুয়ে দল ছেড়ে ইংলিশ কাউন্টির দল নটিংহ্যামশায়ারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। তবে কাউন্টি ছেড়ে আবারও জিম্বাবুয়ের জার্সিতে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে ৩১ বছর বয়সি এ তারকার।

২০১৫ সালে কোলপাক চুক্তিতে নটিংহ্যামশায়ারের সঙ্গে যোগ দেন টেইলর। তবে সেই চুক্তি ছেড়ে আবারও জাতীয় দলে যোগ দিচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যেই তাকে চুক্তি বাতিলের অনুমতি দিয়েছে কাউন্টির ক্লাব নটিংহ্যামশায়ার। এর ফলে তার জাতীয় দলে ফিরতে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে এক বিজ্ঞিপ্তিতে জানিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড।

সবশেষে ২০১৫ সালের মার্চে অকল্যান্ডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের হয়ে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন টেইলর। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। তবে এবার সিদ্ধান্ত পাল্টানোয় নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান ‘এ’ দল এবং অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের জন্য জিম্বাবুয়ে দলের ট্রেণিং ক্যাম্পে যোগ দেবেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ২৩ টেস্টে চার সেঞ্চুরিতে ১৪৯৩ রান রয়েছে টেইলরের। এছাড়া দলটির হয়ে ১৬৭ ওয়ানডে ও ২৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ওয়ানডেতে ৩২টি ফিফটি ও ৮ সেঞ্চুরিতে ৫ হজারের ওপর রান রয়েছে ৩১ বছর বয়সি ব্রেন্ডন টেইলরের।

বিপিএলে দেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কেমন?

চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্লেয়ার ড্রাফট। সাতটি দল এবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে। ২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে বিপিএল। এবার তিনটি ভেন্যুতে বিপিএলের সাতটি দল মুখোমুখি হবে।

দেশি ক্রিকেটাররা কে কত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমিদের আগ্রহ বেশ। গত দুই আসরের মতো এবারও গ্রেডিং পদ্ধতিতে দেশী ক্রিকেটারদের বিপিএলের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। গ্রেডিং অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবেন ক্রিকেটাররা। তবে ব্যতিক্রম সাত দলের সাত আইকন ক্রিকেটার। আইকন ক্রিকেটাররা নিজেদের পারিশ্রমিক ফ্রাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে নিয়েছেন। সাত আইকন ক্রিকেটার হচ্ছেন- সাকিব, মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, তামিম, সৌম্য এবং সাব্বির।

এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম মুস্তাফিজুর রহমান। এ+ গ্রেডের একমাত্র ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের পারিশ্রমিক ৪৫ লাখ টাকা।

মোট পাঁচটি গ্রেডে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। পাঁচটি গ্রেড হচ্ছে এ+, এ, বি, সি, ডি।

এ+ গ্রেডের একমাত্র ক্রিকেটার মুস্তাফিজের পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা। 

এ গ্রেডে রয়েছেন ১১ ক্রিকেটার। তাদের পারিশ্রমিক ২৫ লাখ টাকা।

বি গ্রেডে রয়েছেন ২২ ক্রিকেটার। তাদের পারিশ্রমিক ১৮ লাখ টাকা।

সি গ্রেডে রয়েছেন ৪৩ ক্রিকেটার। তাদের পারিশ্রমিক ১২ লাখ টাকা।

ডি গ্রেডে রয়েছেন ৭১ ক্রিকেটার। তাদের পারিশ্রমিক ৫ লাখ টাকা। 

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই ক্রিকেট কোচ খুন

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া। সন্ত্রাস প্রবণ এলাকা হিসেবে বেশ বদনাম রয়েছে এর। এবার সেই প্রিটোরিয়াতেই খুন হলেন দুই ক্রিকেট কোচ।

প্রিটোরিয়ায় লাউডিয়াম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত বৃহস্পতিবার খুন হওয়া দুই কোচের সঙ্গে আরও দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

নিহত দুই কোচের নাম গিভেন এনকোসি ও চার্লসন মাসেকো। তারা লাউডিয়াম স্টেডিয়ামের আবাসিক কক্ষে থাকতেন। পুলিশের মুখপাত্র অগাস্টিনা জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে দুই কোচের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

ক্রিকেট কোচদের ওপর এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট পরিবারের জন্য এ এক মর্মান্তিক আঘাত। ’

আহত আরও দুই ব্যক্তিকে প্রিটোরিয়ার স্থানীয় এক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পুলিশ। তবে ঠিক কি কারণে তাদের হামলা করা হয়েছে সে ব্যপারে এখনো কিছু জানাতে পারছে না পুলিশ।

এমন এক দুঃসংবাদের মধ্য দিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ খেলতে আজ দেশটির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে শঙ্কার কারণ নেই। কেননা প্রিটোরিয়ায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের কোনো খেলা নেই।