বিকাল ৫:২২, শুক্রবার, ২৪শে মে, ২০১৯ ইং
/ ক্রিকেট

আইসিসির আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের ১০ অধিনায়ক একসঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিল সংবাদ মাধ্যমের। মঞ্চের ঠিক মাঝখানে রাখা ট্রফি। পাশের সোফায় বসেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। একই আসনে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিস। বাকি সব অধিনায়কের মতো মাশরাফির দিকেও বেশ কিছু প্রশ্ন গেল। সে সবের উত্তর দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বললেন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা।

একটি মজার প্রশ্ন ছিল ১০ অধিনায়কের উদ্দেশে। যদি একজন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সুযোগ থাকত, কাকে নিতেন। মাশরাফি বলেন, বিরাট কোহলির কথা। এ সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান। চাপের মুখে নিজের সেরাটা খেলেন। একজনকে নেওয়ার সুযোগ থাকলে মাশরাফি কোহলিকেই দলে নিতেন।

এউইন মরগান বলেন, এখনকার কোনো ক্রিকেটার নয়, সুযোগ থাকলে তিনি রিকি পন্টিংকে নিতেন। দু’বারের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের দলটার সংস্কৃতির ভক্ত ছিলেন বলে। কোহলি জানান, ‘প্রশ্নটার জবাব দেওয়া কঠিন। নিজেদেরই যথেষ্ট ভালো মনে করি আমরা। একজনকে যদি নিতেই হয়, এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যেই কি নিতে হবে? আমি এবি ডি ভিলিয়ার্সের কথাই বলতাম, কিন্তু ও তো অবসর নিয়ে নিয়েছে। হুম, ফাফ ডু প্লেসিকে নিতাম। আমার ভালো বন্ধু।’

সরফরাজ এক কথায় জবাব দিয়েছেন, তিনি নিতেন জস বাটলারকে। জেসন হোল্ডার ও গুলবাদিন নাইব প্রশ্নটার উত্তর এড়িয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, তিনি চান কাগিসো রাবাদাকে। রাবাদার মতো খেলোয়াড় শুধু বল হাতে নয়, দলেও কতটা ‘এনার্জি’ নিয়ে আসেন। তাঁর চোখে রাবাদা ‘সুপারস্টার’। ফাফ ডু প্লেসি বলেছেন জসপ্রিত বুমরা ও রশীদ খানের কথা। লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে বলেন, তিনি নিতেন বেন স্টোকসকে। আর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেছেন রশীদ খানের কথা।

তবে নিজের বিশ্বকাপ দল নিয়েই মাশরাফি খুশি, তাও জানিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমাদের দলে একগাদা ভালো ক্রিকেটার আছে। বেশ কজন সিনিয়র ক্রিকেটারের পাশাপাশি তরুণরাও উঠে আসছে যারা সবখানেই দারুণ ক্রিকেট খেলছে। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্য মিলিয়ে দারুণ মিশেল আছে আমাদের দলে। আয়ারল্যান্ডে হয়ে যাওয়া গত সিরিজেও সবাই ভালো খেলেছে। আশা করছি বিশ্বকাপটাও ভালোভাবে শুরু করতে পারব। ২ জুন ফাফের (দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের দিকে তাকিয়ে) দলের বিপক্ষেই তো আমাদের শুরু। আশা করছি ভালো শুরুই হবে।’

সিপিএলে আফিফ

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) সপ্তম আসরের নিলামে এবার সাকিব-তামিমের মতো বাংলাদেশের বড় তারকারা দল না পেলে‌ও চমক জাগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব। তিনি খেলবেন সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে।

সিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফটে এবার ছিল বাংলাদেশের ১৮ খেলোয়াড়ের নাম। বড় তারকাদের মধ্যে ছিলেন- সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু তাদের কাউকেই নিলামে কেনেনি কোনো দল। বাংলাদেশ থেকে শুধু দল পেয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তাকে কিনেছে সেন্ট কিটস এবং নেভিস প্যাট্রিয়টস।

দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে বিদেশেী লিগে সুযোগ পেয়েছেন আফিফ। আর এবারই প্রথম দেশের বাইরে কোন ফ্র্যাঞ্জাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছেন তিনি। সিপিএলে এর আগে, বাংলাদেশ থেকে খেলেছেন- সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ আর মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ড্রাফটে থাকা তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, লিটন কুমার দাস, জাকির হোসেন, আরিফুল হক, জুবায়ের হোসেন লিখন, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, মুশফিক, আবুল হাসান রাজু, আবু হায়দার রনি এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন‌ও দল পাননি।

লন্ডন গেলেন মাশরাফি

পরিবারের সাথে ছুটি কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলের সাথে যোগ দিতে ইংল্যান্ড রওয়ানা দিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ বুধবার সকালে লন্ডনের উদ্দ্যেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

বিমানবন্দরে সংবাদিকদের মাশরাফি বলেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে সাফল্য পেতে দলের শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার লন্ডনে আইসিসি আয়োজিত সব দেশের অধিনায়কদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন মাশরাফি। সেখান থেকে কার্ডিফে গিয়ে মাশরাফি দলের সাথে যোগ দেবেন। আগামী ২৬ ও ২৮ মে পাকিস্তান ও ভারতের সাথে দু’টি ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

সাকিব আবার‌ও বিশ্বসেরা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের নক্ষত্রই তিনি। নানা অর্জনে বারবার নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানকে তেমনই বানিয়ে ফেলেছিলেন ‘নিজস্ব সম্পত্তি’। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে জায়গাটা কেড়ে নেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান। ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত খেলে সাকিব আবারও ফিরলেন শীর্ষস্থানে। আজ ওয়ানডের হালনাগাদ করা র‌্যাঙ্কিং তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার।

ত্রিদেশীয় সিরিজে ৫ ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই খেলতে পারেননি সাকিব। এক ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে, অন্যটিতে আঘাত হানে চোট। তাতে ফাইনালে দর্শক হয়ে বসে থাকতে হয় ড্রেসিংরুমে। কিন্তু তার আগেই যা করার করে ফেলেন সাকিব। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করা সাকিবের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৩৫৯। দুইয়ে নেমে যাওয়া রশিদ খানের রেটিং পয়েন্ট ৩৩৯।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে দুটিতে অপরাজিত ফিফটি তুলে নেন সাকিব। এতে ৩ ম্যাচে তাঁর রান ১৪০, ব্যাটিং গড়ও ১৪০! বল হাতেও কম যাননি। ২ উইকেট পেলেও তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৪.৩১। বল হাতে বেশ ভুগিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না রশিদ। শেষ ম্যাচে ‘গোল্ডেন ডাক’ দেখতে হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট পেলেও পরের ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। পরিণতিতে শীর্ষস্থান হারাতে হলো সাকিবের কাছে। আট মাস পর শীর্ষ ওয়ানডে অলরাউন্ডারের জায়গা ফিরে পেলেন সাকিব।

বিশ্বকাপ জার্সি বিক্রির সিন্ডিকেট ভাঙার দাবী

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়া বাংলাদেশ দলের জার্সি বিক্রি পড়েছে চার সিন্ডিকেটের হাতে। সেই সিন্ডিকেট ভাঙার দাবীতে আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইস্পোর্টার্স এসোসিয়েশন।

এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম ‌ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিখিত বক্তব্যে জানান, আপনারা জানেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল লাল-সবুজের গৌরবময় জার্সি পড়ে মাঠে নামবে। সারা দেশের মানুষও দেশের গৌরবময় এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলা উপভোগ করবেন। জার্সি গায়ে বিশ্বকে ‘বাংলাদেশ’কে চেনাবেন। কিন্তু কিছু হঠকারী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জার্সি ক্রয় করার প্রত্যাশা পুরণ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন।

কারণ হিসেবে তারা বলেন, ৩০০ টাকায় তৈরী করা জার্সি ক্রয় করতে হবে সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ১১৫০ টাকায়। কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়া একটি সিন্ডিকেটের চার প্রতিষ্ঠান ‘অঞ্জনস’, ‘জেন্টল পার্ক’, ‘স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টস’ এবং ‘রবিন স্পোর্টস’কে জার্সি তৈরী ও বিক্রয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। এই চার সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কোন ক্রীড়া পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই জার্সি তৈরী বা বিক্রয় করতে পারবে না বলে তারা সকল ক্রীড়া ব্যবসায়ীকে সতর্ক করছে। এর ফলে সাধারণ ক্রীড়ানুরাগীদের পক্ষে উচ্চ মূল্যে অর্থাৎ ১১৫০ টাকায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানো সম্ভব হয়ে উঠবে না। আমরা এই অনিয়ম এবং ৩০০ টাকার জার্সি ৪০০ টাকা না হয়ে ১১৫০ টাকায় বিক্রয়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রযুক্তিঘেরা এক ক্রিকেট বিশ্বকাপ

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সর্বাধিক প্রচারিত এবং প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বকাপ। ৪৬ দিনের এই আসরের মূল পর্বের ৪৮ টি ম্যাচ তো বটেই, সাথে প্রথমবার ১০টি প্রস্তুতি ম্যাচও সরাসরি সম্প্রচার করতে যাচ্ছে আইসিসি। আর ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য থাকছেন ২৪ জন ধারাভাষ্যকার। শুধু তাই নয়, এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে ব্যবহৃত হবে কমপক্ষে ৩২ টি ক্যামেরা। যার মধ্যে থাকবে ৮ টি আল্ট্রা মোশন ‘হক আই ক্যামেরা’ যা দিয়ে বলের সম্ভাব্য গতিবিধি নির্ণয় করা হয়ে থাকে। উইকেটের সামনে এবং পেছন দিকের ছবি নেয়ার জন্য স্টাম্পের সামনে এবং পেছনে দুইটি করে ক্যামেরা থাকবে। সাথে থাকবে স্পাইডার ক্যামেরা যা তারের মাধ্যমে বিচরণ করবে মাঠের চারদিক।

দর্শকদের জন্য চমক হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও রিপ্লের ব্যবস্থা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পিয়েরোর সাহায্যে একাধিক ক্যামেরার ভিডিও একসাথে করে ৩৬০ ডিগ্রি রিপ্লে দেখানো হবে। যা জটিল মুহূর্তগুলোকে বিশ্লেষণে সহযোগিতা করবে। ইংল্যান্ড আর ওয়েলসের মাঠগুলো আকাশ ও ভূপৃষ্ঠ থেকে টিভির পর্দায় দেখানোর জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশ থেকে গোটা স্টেডিয়ামগুলো দেখানো যাবে আর বাগি ক্যাম দিয়ে গ্রাউন্ড ভিউ অর্থাৎ মাঠের ভূপৃষ্ঠের ভিডিও দেখানো হবে। এছাড়া স্পোর্টস গ্রাফিক্স বিশেষজ্ঞ অ্যালস্টন এলিওট একটি নতুন গ্রাফিক্স প্যাকেজ তৈরি করেছে এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচার উপলক্ষে। যার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্কোর এবং পরিসংখ্যান খেলা চলাকালীন সময়ে তুলে ধরা হবে টিভির পর্দায়।

আইসিসির মিডিয়া স্বত্বের প্রধান আরতি দাবাস বলেন, এমন একটি সম্প্রচারকারী দল পেয়ে আমি আনন্দিত। ক্রিকেট ভক্তদের কাছে এরা এবারের বিশ্বকাপকে প্রাণবন্ত করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগের যেকোনো বারের তুলনায় দর্শকদের এবার আরো বেশি সম্পৃক্ত করা। আমাদের বিচক্ষণ দল সেই উদ্দেশ্য সফলেরই পরিকল্পনা দিয়েছে।

এবারে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ধারাভাষ্যকারদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপভোগ করতে পারবে দর্শকরা, যা এই বিশ্বকাপকে করে তুলবে আরো বেশি আকর্ষণীয়। আইসিসি টিভি মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়েও বিষয়বস্তু তৈরি করে তাদের সম্প্রচার অংশীদারদের সরবরাহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই বিষয়বস্তুর মধ্যে থাকবে প্রতিদিনের প্লেয়ার প্রোফাইল, টিম ফিচার, ম্যাচ প্রিভিউ, ভেন্যু ফিচারসহ মাঠের বাইরের আরও অনেক তথ্য।

ফিরেছেন মাশরাফি

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্ত্তোজাসহ ৪ ক্রিকেটার আয়ারল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। গতকাল শনিবার রাত ১১ টায় হযরত শাহজালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দরে ইমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা অবতরণ করেন।

দেশে ফেরা বাকি ক্রিকেটাররা হলো তাসকিন, রাব্বি ও নাঈম। এছাড়া দলের নিবার্চক মিনহাজুল আবেদিনও ফিরেছেন। বহুজাতিক কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম ট্রফি জেতা অধিনায়ক মাশরাফি ব্যক্তিগত ছুটিতে এসে জানন, সবার প্রচেষ্টাতেই দলের এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। টিমের সব সদস্য সাথে না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

পরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল বলেন, বড় ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ টিমের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভাল খেলবে বলে, প্রত্যাশা করেন তিনি।

এবার শুরু বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি নিতে এখন লেস্টারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল শনিবারই ডাবলিন থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছায় টাইগাররা।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর সরাসরি লেস্টারের পথে রওনা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে হোটেল পৌঁছে বিশ্রামেই কাটিয়েছেন মুশফিক-সাকিব-সৌম্যরা। তবে আজ রোববার হালকা অনুশিলন শুরু করার কথা রয়েছ। বাংলাদেশ সময় বিকেলে লেস্টার ক্রিকেট মাঠে অনুশিলনে যাবেন তারা।

সবচেয়ে বেশি প্রাইজমানির বিশ্বকাপ

ঘরের দরোজায় কড়া নাড়ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। দলগুলো‌ও প্রস্তুত নিজেদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য। তবে আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পুরস্কারের টাকার অংকে সব কিছুকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিজয়ী দল পাবে ৪০ লাখ ডলার যা টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। আর প্রতিযোগিতায় দশটি দলের জন্য সবমিলিয়ে থাকছে ১ কোটি ডলারের অর্থ পুরস্কার।

৪৬ দিনের এই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ দল পাবে ২০ লাখ ডলার। ৮ লাখ ডলার করে পাবে সেমিফাইনালে বাদ পড়া দুটি দল। সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া ৬টি দল পাবে ১ লাখ ডলার করে।

প্রতিযোগিতাকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে লিগের ৪৫টি ম্যাচের প্রতিটিতে বিজয়ী দলের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা অর্থ পুরস্কার। ৪০ হাজার ডলার করে পাবে প্রতিটি ম্যাচের জয়ী দল। আগামী ৩০ মে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার খেলা দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বাদশ আসর।

অবশেষে শিরোপায় হাত বাংলাদেশের

ব্যর্থতার ষষ্ঠসোপান পেরিয়ে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন আছে সপ্তম স্বর্গে। বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে ডাক‌ওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৭ বল আগেই চ্যাম্পিয়ন হয় টাইগাররা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২৪ ‌ওভারে ১ উইকেটে ১৫২ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। বৃষ্টি আইনে জয়ের টার্গেট পায় বাংলাদেশ ২১০ রানের।

এর আগে ছয়বার কোনো টুর্ণামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল টাইগাররা। কিন্তু শিরোপা জয়টা অধরাই ছিল। অবশেষে বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সেই অধরা শিরোপাটায় প্রথমবার ছুঁতে পারল লাল-সবুজের দল। আর বাংলাদেশর এই শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন তরুণ দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ‌ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল ফিফটি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের পর মুশফিক, মিঠুনরা যখন একে একে ফিরে যাচ্ছিলেন আর বাংলাদেশ তখন জয় থেকে ধীরে ধীরে দুরে সরে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই মালাহাইডে ঝড়টা ফিরিয়ে আনলেন মোসাদ্দেক। ২২তম ওভারের ফ্যাবিয়েন এলেনের ওভার থেকেই মোসাদ্দেক নিলেন ২৫ রান। মূলতঃ ম্যাচটা ওই ওভারেই বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় চলে আসে। তিনটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি ওই ওভারে।

২৩তম ওভারের পঞ্চম বলে রেমন রেইফারকে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত, ২৪ বলে ৫২ রানে ম্যাচ সেরা মোসাদ্দেক এবং ২১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ করলো ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের বৃষ্টি আইন এটা।

এর আগে সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের উড়ন্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো, সেটা মোটেও কাজে লাগলো না। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে গেলেন সাব্বির। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেলো। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহিম।

মুশফিক-সৌম্যর ব্যাটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে ওঠে। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে।

তিনি আউট হওয়ার পর মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মুশফিক করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে বৃষ্টির কারণে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়। কার্টেল ওভারে ম্যাচটি নির্ধারণ করা হয় ২৪ ওভারে। সেই নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৫২ রান।

কিন্তু বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ালো ২১০ রান। ওভার সেই ২৪টিই।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।

মাশরাফি বিশ্বকাপে সবচে’ বেশি বয়সী অধিনায়ক

আর মাত্র ১৩ দিন পরই সবাই মেতে উঠবেন বিশ্বকাপ ক্রিকেটর মৌতাতে। ইংল্যান্ডে শুরু হবে ক্রিকেট কার্নিভ্যাল। ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস মুখরিত হবে বিশ্বের সেরা সেরা ক্রিকেটার আর দর্শক-সমর্থকদের উপস্থিতিতে। বিশ্বকাপের মেগা আসর যে সখানেই।

এবারের বিশ্বকাপে যে দশটি দল অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী অধিনায়ক বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। আসন্ন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামতে চলেছেন তিনি। মাশরাফির বর্তমান বয়স ৩৫ বছর।

বয়সের হিসেবে তাঁর পরই আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসি। প্রোটিয়াদের অধিনায়কের বয়স ৩৪ বছর। আর তিন নম্বরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার দলপতি অ্যারন ফিঞ্চ। বয়সের বিচারে অধিনায়কদের মধ্যে তিন নম্বরে রয়েছেন তিনি। অজি কাপ্তানের বয়স ৩২ বছর। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় ১৯৮৬ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ফিঞ্চ।

বয়সের হিসেবে অধিনায়কদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রেয়েছন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। ব্রিটিশ অধিনায়কের বর্তমান বয়স ৩২ বছর। ইয়ন জোসেফ জেরার্ড মর্গ্যান, ১৯৮৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি আয়ারল্যান্ডের পক্ষ হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেছিলেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই দেশের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন ইয়ন মর্গান।

শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে, বয়স ৩১ বছর। ১৯৮৮ সালের ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বকাপের অধিনায়কদের মধ্য এই বাহাতি ‌ওপেনার বয়সের হিসেবে আছেন পঞ্চমে। পাকিস্তানের অধিনায়ক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের বয়সও ৩১ বছর।

এদিকে, ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। অধিনায়ক হিসেবে বিরাট বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন ৩০ বছর বয়সে। নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনের বয়স ২৮ বছর। আফগানিস্তানের ক্যাপ্টেন গুলবাদিন নায়েবের বয়স‌ও ২৮ বছর। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের বয়স ২৭ বছর। এবারের বিশ্বকাপে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক।

বিশ্বকাপে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার

বিশ্বকাপের আমেজে মেতে উঠতে খুব বেশি দিন আর নেই। দরজায় কড়া নাড়ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছেন কারা। এবার জানাবো সেই কথাটাই।

অভিজ্ঞদের মধ্যে তালিকায় শীর্ষে আছে ক্রিস্টোফার হেনরি গেইলের নাম। অর্থাৎ ক্রিস গেইলের নাম। এখনও পর্যন্ত মোট চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫ বিশ্বকাপে খেলছেন ‘ইউনির্ভাল বস’। চার বিশ্বকাপ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন ক্রিস গেইল।

গেইলের পরই তালিকায় দু’নম্বরে আছেন নিউজিল্যান্ডের রস টেলর। ২০০৭, ২০১১ ‌ও ২০১৫ বিশ্বকাপ মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন টেলর। আর তিন নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ পেসার লাসিথ মালিঙ্গা, দেশের হয়ে তিন বিশ্বকাপে মোট ২২টি ম্যাচ খেলেছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্ত্তজা- ২০০৩, ২০০৭ ‌ও ২০১৫ বিশ্বকাপ মিলিয়ে মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছেন। বাংলাদেশের আরও দুই ক্রিকেটার তিন বিশ্বকাপে মোট ২১টি করে ম্যাচ খেলেছেন। তারা হলেন, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি তিন বিশ্বকাপে ২০০৭, ২০১১ ‌ও ২০১৫ সালে খেলেছেন ২০টি ম্যাচ। এই তিন বিশ্বকাপের মধ্যে দুটি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেন ধোনি। জিতেছেন ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে ভারতকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের ফাইনাল বিড়ম্বনা

পরাগ আরমান

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এর আগে, মোট ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থতা আর হাতাশার কান্নায় পুড়তে হয়েছে। আরো একটি ফাইনালের সামনে বাংলাদেশ। এবার প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফাইনাল হলেই হৃদকম্প শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। কারণ টাইগারদের ফাইনালের রেকর্ড মোটেই সুবিধার নয়। একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে, একবারও শিরোপা জিততে পারেনি। ঘরের মাঠেই হেরেছে চারটি ফাইনাল। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত ২ রানের আক্ষেপে কাঁদতে হয়েছে ক্রিকেটারসহ পুরো বাংলাদেশকে।

এর আগে ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জয়ের সুবাস পেয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে হারতে হয় লাল-সবুজের দলকে। ২০১২ এশিয়া কাপের হৃদয় ভেঙে দেওয়া ফাইনালের পর, ২০১৬ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ও সবশেষ গত জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে হেরেছে বাংলাদেশ।

আর স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিদেশের মাটিতে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেও শেষ বলে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয়। বিদেশে আরো একটি ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পারবে কি বাংলাদেশ ভাগ্য বদলে শিরোপা জিতে নতুন রেকর্ড গড়তে, নাকি আরো একবার শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হবে টাইগারদের। তার জন্য অপেক্ষা আরো একটি বিকেলের।

নেপালকে হারাল বাংলাদেশ

এশিয়া কাপ হুইলচেয়ার টি-টোয়ন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের বেদনা ভুলে জয়ে ফিরেছে মোহাম্মদ মোহসিনের দল। নেপালে, স্বগতিকদের দেয়া ১৪৯ রানের টার্গেট ২ উইকেট হারিয়ে আট বল হাতে রেখেই ছুয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

এরআগে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের বোলিং তোপে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক নেপাল। ৫ বল বাকি থাকতেই ১৪৮ রানে অলআউট হয় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন হোমনাথ রাই। এছাড়া দিগম সিং ৩৫ ও বিষ্ণু পাকর ১৬ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মহিদুল ইসলাম ২৬ রানে দুটি এবং রামিম শেখ ২২ রানে একটি উইকেট তুলে নেন।

জবাবে, ১৪৯ রানের টার্গেটে নেমে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। মাত্র ১৮.৪ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম টাইগার। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ রিপন। জাভেদ আহমেদ ৩৮ এবং সাজ্জাদ হোসেন ৩১ রান করেন। নেপালের বোলারদের মধ্যে দিগরাম সিং ‌ও সুদীপ পাই একটি করে উইকেট নেন।

আগামীকাল শুক্রবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা থেকে।

পাত্তাই পেল না আয়ারল্যান্ড

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচটা ছিল শুধুই নিয়ম রক্ষার। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইবার সহজেই হারিয়ে বাংলাদেশ আগেই ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। প্রায় তিনশ’র কাছাকাছি টার্গেটে নেমেও আইরিশদের উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বুধবার বাংলাদেশ জিতেছে ৬ উইকেটে। আগে ব্যাট করতে নেমে পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২৯২ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। প্রথম তিন ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে বাংলাদেশ সেটি পেরিয়ে যায় ৪২ বল বাকি থাকতেই। আর বল হাতে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা আবু জায়েদ রাহী।

আগেই ফাইনাল নিশ্চিত হ‌ওয়ায় বাংলাদেশ চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া রুবেল হোসেন দ্বিতীয় ওভারেই জেমস ম্যাককলামকে (৫) ফিরিয়ে ভাঙেন ২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। অ্যান্ডি বালবির্নিকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট নেন রাহী।

এরপর অনেকটা সময়জুড়েই বাংলাদেশের বোলারদের ভুগিয়েছে স্টার্লিং ও পোর্টারফিল্ডের ১৭৪ রানের জুটি। ১৫ ম্যাচে প্রথম ফিফটি পেলেন পোর্টারফিল্ড। স্টার্লিং ২০১৮ সালের মার্চের পর প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান। তবে ৬ রানের জন্য আইরিশ অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড (৯৪) সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। তাকে ফিরিয়ে বড় জুটি ভাঙেন রাহী।

রাহী নিজের পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে নেন কেভিন ও’ব্রায়েন ও স্টার্লিংয়ের উইকেটও। ১৪১ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১৩০ রান করেন স্টার্লিং। গ্যারি উইলসনকে ফিরিয়ে রাহী পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ছিল নাগালেই। বাংলাদেশ বড় লক্ষ্য পায় এবারই প্রথম। তামিমের সঙ্গে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন সৌম্য সরকারের বিশ্রামে সুযোগ পাওয়া লিটন। তিন ম্যাচে বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় শতরানের উদ্বোধনী জুটি। ১১৭ রানের জুটি ভাঙে তামিমের বিদায়ে (৫৭)।

সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল লিটনের। কিন্তু ব্যারি ম্যাককার্থির স্লোয়ারে তিনি বোল্ড হন ৭৬ রানে। তৃতীয় উইকেটে ৮৪ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সাকিব ও মুশফিক। মুশফিক ৩৫ করে সাজঘরে ফেরেন। আর সাকিব ৫১ বলে ৫০ করে মাঠ ছাড়েন ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে। মোসাদ্দেক হোসেন ১৪ রানে ফেরেন। এরপর দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান। ২৯ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। আগের ম্যাচে ব্যাটিং না পাওয়া সাব্বির ৮ বলে করেন ৭ রান।

আগামী ১৭ মে (শুক্রবার) ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আইপিএলে মুম্বাই চ্যাম্পিয়ন

শেষ বলের নাটকীয় জয়ে আইপিএলের দ্বাদশ শিরোপা ঘরে তুলল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এ জয়ে আইপিএলে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। মালিঙ্গার করা ম্যাচের শেষ ওভারে ৯ রান করতে পারলেই জয় পেত চেন্নাই। শেষ বলে চেন্নাইয়ের জয়ে দরকার ২ রান।মালিঙ্গার ইয়র্কারের শিকার হয়ে শারদুল ঠাকুর সাজঘরে ফিরলে চেন্নাইয়ের চতুর্থ শিরোপা জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটে। চলতি মৌসুমে চতুর্থ সাক্ষাতেও রোহিত শর্মার দলকে হারাতে পারল না মহেন্দ্র সিংহ ধোনির চেন্নাই। তাছাড়া ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭ সালের পর আবার‌ও সেই বিজোড় বছর ২০১৯ সালে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

এর আগে হায়দরাবাদে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে পোলার্ডের ৪১ রানের ওপর ভর করে ১৪৯ রান করে মুম্বাই। ১০১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একটা সময় বিপর্যয়ের মুখে পড়া মুম্বাইকে টেনে তোলে পান্ডিয়া-পোলার্ড জুটি। এই জুটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত চেন্নাইকে ১৫০ রানের লক্ষ্য দেয় মুম্বাই।

জবাবে শুরুটা ভালোই করেছিল চেন্নাই। ৩৩ রানের মাথায় ডু প্লেসিকে হারালেও অন্য প্রান্তে ভালোই ঝড় তোলেন ওয়াটসন। শেষ ওভারে এসে ওয়াটসনের উইকেট আর মাঝে ধোনির রান আউটই চেন্নাইয়ের শিরোপা জয়ের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে, আইপিএল ফাইনালে শুরুতে ব্যাট করে ১৫০’র কমে রান করে জেতার নজির ছিল তিনটি। ২০০৯ সালে ডেকান চার্জার্স (১৪৩ রান) বাদ দিলে বাকি দু’বারই জয় পেয়ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

২০১৩ সালে শুরুতে ব্যাট করে ১৪৮ রান করে মুম্বাই হারিয়েছিল এই সিএসকে-কে। আর ২০১৭ সালের আইপিএলে ১২৯ রান করে রোহিতের দল হারিয়েছিল রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসকে।

শীর্ষে উঠে গেলো ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ

‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে যে দুজন সেঞ্চুরি পেলেন তারা কেউই বিশ্বকাপ দলে নেই। তবু তাদের কল্যাণেই ম্যাচটি সাতশ’র কাছাকাছি রানে চলে গেলো। আর সেই ম্যাচে অ্যান্ডি বালবার্নির সেঞ্চুরিকে ম্লান করে সুনিল আমব্রিসের বীরত্বে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতে ক্যারিবিয়ানরা উঠে গেল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে। ওয়ানডেতে এর আগে একবারই তিনশ বা তার বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে ৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে।

সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩২৮ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গেছে ১৩ বল বাকি থাকতে। টুর্নামেন্টে এটা ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় জয়।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও এর আগে সেঞ্চুরি ছিল না আমব্রিসের। জন ক্যাম্পবেলের চোটে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার ১২৬ বলে খেলেন ১৪৮ রানের দারুণ এক ইনিংস। ১৯ চার ও এক ছক্কায় গড়া ইনিংস তাকে এনে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার‌ও।

এর আগে ডাবলিনে, শনিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জেমস ম্যাককলামকে হারায় আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিংয়ের সঙ্গে ১৪৬ রানের জুটিতে দলকে পথ দেখান বালবার্নি। আট চার ও দুই ছক্কায় ৭৭ রান করা স্টার্লিংকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ১০০ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান বালবার্নি। ১১ চার ও চার ছক্কায় ১২৪ বলে ১৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩২৭ রানে থামে ৫ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড।

বড় রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দেয় সফরকারীদের। আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শেই হোপকে ৩০ রানে থামান বয়েড র‌্যানকিন। মাত্র চতুর্থ ওয়ানডেতে খেলতে নামা আমব্রিস, রোস্টন চেইসের সঙ্গে ১২৮ রানের জুটিতে দলকে গড়ে দেন জয়ের ভিত। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া আর আমব্রিসকে থামান র‌্যানকিন। শেষ পর্যন্ত হোল্ডার ও জোনাথন কার্টারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজেই জয় পায় ক্যারিবিয়ানরা। ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন কার্টার।

এই জয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের পয়েন্ট ৬। আগামী সোমবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড।

বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই: বিসিবি সভাপতি

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই, বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। দলীয় অনুশীলনে পেসার আবু জায়েদ রাহি বোলিং না করায় তার ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়। গুঞ্জন ওঠে তার পরিবর্তে বাংলাদেশ দলে ফিরতে পারেন তাসকিন আহমেদ।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের বাসায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি জানান, তাসকিনকে নেওয়া কিংবা জায়েদকে বাদ দেওয়া- কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি। যে চারজন পেসার আছে- মাশরাফি, মুস্তাফিজ, রুবেল এবং আবু জায়েদ রাহী। এদের সবার উচ্চতা, পেস প্রায় কাছাকাছি। রুবেল হয়তো একটু জোরে বোলিং করে। সবার বোলিংয়ের ধরণ প্রায় একই। এখানে যদি বৈচিত্র্য চান, ওরা মনে করছে তাসকিন হতে পারে একটা বৈচিত্র্য। ওর উচ্চতা, গতি, বাউন্সার ও ইয়র্কার দেওয়ার সামর্থ্যে টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, তাসকিন ভালো একটা বিকল্প হতে পারে।’

তবে বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হওয়ার আগে ইনজুরি ছাড়া দলে কোন পরির্বতনের সুযোগ নেই। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন চাইলে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে তা আলোচনা করা হবে বলেও জানান বিসিবি সভাপতি। তাসকিনকে বিশ্বকাপ দলে না নেওয়ার পেছনে বড় যুক্তি ছিল তার ফিটনেসের ঘাটতি। এই ঘাটতি কতটা কাটিয়ে উঠেছেন তাসকিন? বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি মনে করি এখনো সে পুরোপুরি ফিট না, পূর্ণ ছন্দে ফিরতে পারেনি। লাইন-লেন্থ এখনো ঠিক হয়নি। এসব ঠিক না হওয়ার আগে রাহীকে বাদ দেব, আরেকজন অন্তর্ভুক্ত করব; এটা যদি টিম ম্যানেজমেন্ট করতে চায়, আমার মনে হয় সেটা ঠিক হবে না। এমন কোনো প্রস্তাবও আসেনি আমার কাছে। তবে সে (তাসকিন) যদি ভালো করে, ২২ তারিখ পর্যন্ত একটা সুযোগ তো থাকছেই।’

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার জন্য এখন‌ও সময় আছে তাসকিনের সামনে। ২২ মে পর্যন্ত দলে পরিবর্তন আনা যাবে। ১৫ জনের স্কোয়াডের শেষ ক্রিকেটারকে এখনও নির্বাচন করেনি বিসিবি। এ বিষয়ে পাপন বলেন, ‘শুধু ফিট থাকলেই চলবে না, যদি ভালো বোলিং করতে পারে তবে। এখনো তেমন কিছু দেখেনি। দুর্দান্ত কিছুই সে করে দেখায় নি। তুলনা করার সুযোগই তো পাইনি। রাহী একটা ম্যাচও খেলেনি। এটা নিয়ে কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। কেউ যদি চোটে পড়ে তবে বিকল্প হিসেবে যেতে পারে। এখনো অপেক্ষায় থাকতে হবে। পরের ম্যাচটা যদি আমরা জিতি, শেষ ম্যাচটা হয়তো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে।’

দশবারের মধ্যে আটবারই ফাইনালে চেন্নাই

শুক্রবার দ্বাদশ আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লিকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেল ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। এই নিয়ে দশ মৌসুমে (আইপিএলের ১২ মৌসুমের মধ্যে দু’বছরের নির্বাসনে ছিল চেন্নাই) ৮ বারই ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেল সিএসকে। নি:সন্দেহে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল চেন্নাই। তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়ের পর টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার রেকর্ড রয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। দ্বাদশ আইপিএল নিয়ে মুম্বাই পঞ্চমবারের জন্য ফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

একনজরে ধোনির চেন্নাইয়ের ১০ মৌসুমে ৮ ফাইনালের খুঁটিনাটি

১) ২০০৮ সালে প্রথম আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ফাইনালে খেলেছিল চেন্নাই। ফাইনালের অবশ্য চেন্নাইকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রাজস্থান।

২) ২০০৮ পর ২০১০ সালে আবার ফাইনালে সুপার কিংস। এবার মুম্বাইকে ২২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য আইপিএল শিরোপা জেতে তারা।

৩) ২০১১ সালে চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আরসিবিকে ৫৮ রান হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয় চেন্নাই।

৪) টানা দু’বার ট্রফি জিতে হ্যাটট্রিকের প্রত্যাশা জাগালেও স্বপ্ন সত্যি হয়নি চেন্নাইয়ের। ২০১২ সালে চেন্নাইকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কোলকাতা নাইট রাইডার্স।

৫) পরের বার ২০১৩ সালে চেন্নাইকে ২৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

৬) ২০১৫ সালের ফাইনালে মুম্বইয়ের কাছে হার স্বীকার চেন্নাইয়ের। সেবার ফাইনালে ৪১ রানে ম্যাচ হারে ধোনিরা।

৭) দু’বছরের নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন করে ২০১৮ সালে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ফাইনালে জয় পায় চেন্নাই। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হায়দরাবাদকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মাহি অ্যান্ড কোম্পানি।

৮) ২০১৮ পর ২০১৯, আরও একবার ফাইনালে উঠল মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।

সব মিলিয়ে দু’বছরের নির্বাসন বাদ দিলে টুর্নামেন্টে ১০ মৌসুম খেলে ৮ বার ফাইনালে ওঠার অনন্য রেকর্ড গড়ল চেন্নাই সুপার কিংস।

আইপিএলের ফাইনালে চেন্নাই

আইপিএলের দ্বিতীয় প্লে-অফে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ১৪৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে এক ওভার বাকি থাকতে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ধোনিরা। তাতে অষ্টমবারের জন্য আইপিএল ফাইনালে পৌঁছে গেল চেন্নাই সুপার কিংস। ফাইনালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে খেলবে সিএসকে। রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের হয়ে ডুপ্লেসি ও ওয়াটসন ফিফটি করেছেন। এই দুই ওপেনারের উপর ভরসা করেই ফাইনালের টিকিট নিয়ে হায়দরাবাদ উড়ে যাচ্ছে ধোনিরা, যেখানে তাদের অপেক্ষায় মুম্বাই।

তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার ম্যাচে প্রথমে ফিল্ডিং নিয়ে লিগের অন্যতম সফল দল দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১৪৭ রানে বেঁধে রাখে চেন্নাই। রান তাড়া করতে নেমে এরপর ওয়াটসন-ডুপ্লেসি শোয়ের সামনে ফিকে হয়ে যায় দিল্লি। রানের ছন্দে ফিরলেন ধোনির ফেভারিট ওপেনার শেন ওয়াটসন।

দ্বিতীয় প্লে-অফের আগে পর্যন্ত মাত্র এক ম্যাচে ব্যাট হাতে বোলারদের শাসন করতে পেরেছিলেন ওয়াটসন। দ্বাদশ আইপিএল তাঁর অফ ফর্ম নিয়ে সমালোচকরা মুখ খোলার আগেই ‘সেমিফাইনাল’ ম্যাচে ব্যাট হাতে সমালোচনার জবাব দিয়ে দিলেন শেন। দিল্লির বোলারদের শাসন করে এদিন ৩২ বলে ৫০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ান এই ওপেনার। ওয়াটসনের ইনিংস সাজানো ৩টি চার ও ৪টি ছয় দিয়ে। অন্য ওপেনার ফাফ ডুপ্লেসিকেও পাওয়া গেল বিধ্বংসী মেজাজে৷ ৩৯ বলে অর্ধশতরান করে সাজঘরে ফেরেন প্রোটিয়া ক্রিকেটার। ইনিংসের ৭টা চার ও ১টি ছয় রয়েছে।

দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া ব্যাটিং ভিতের উপর ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১ ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিল চেন্নাই। মারকাটারি ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ডুপ্লেসি।

অন্যদিকে প্রথমবারের জন্য আইপিএল ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকলেও স্বপ্ন সত্যি করতে ব্যর্থ দিল্লি। ব্যাটিং থেকে বোলিং, কোন বিভাগেই এদিন অভিজ্ঞ চেন্নাইয়ের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি সৌরভের দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রত্যাশা জাগিয়েও উনিশের আইপিএলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে অভিযান শেষ করল রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজি।

বৃষ্টির কবলে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ

বৃষ্টির কবলে পড়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটি। সেদেশের আবহাওয়া বার্তাই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। গত পরশু বৃষ্টি হবে হবে করেও হয়নি। তবে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টির দাপট। এ কারণে অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। আজ বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের টস পিছিয়ে দিয়েছে বৃষ্টি। এই মুহূর্তে ডাবলিনের মালাহাইডে ঝরছে বৃষ্টি। এদিকে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে পয়েন্ট হারানোর শংকা পেয়ে বসেছে বাংলাদেশকে।

উল্লেখ্য, ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। এদিকে প্রথম ম্যাচে বোনাস পয়েন্ট পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। আজকের ম্যাচটি না হলে বাংলাদেশ একটু বিপদে পড়ে যাবে। এই ম্যাচ ভেসে যাওয়া মানে সম্ভাব্য ৩ পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে মাত্র ২ পয়েন্ট পাবে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড দুই দল।

জয়ে শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়েই ত্রিদেশিয় ‌ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে, ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ দল।

অবশ্য ২৬২ রান তাড়া করতে নেমে সতর্ক সূচনা তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের। ১২ ওভারে দলের স্কোরে যোগ করেন তারা ৫৫ রান। ওপেনিং জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল ৮৯ রান। ১৮.৪ ওভারে আসে ১০০ রান।

সৌম্য ৪৭ বলে পেয়ে যান ফিফটির দেখা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভরপুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আয়ারল্যান্ডে যাওয়া এ বাঁহাতি ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও করেন দারুণ ব্যাটিং। অভিজ্ঞ তামিম ৭৮ বলে করেন ফিফটি। তাদের ১৪৪ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের জয়ের পথটা সুগম হয়। বাকী কাজটা সারেন সাকিব আল হাসান, মুশফিককে নিয়ে। তামিম ৮০, সৌম্য ৭৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সাকিব ৬১ আর মুশফিক ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। তখন‌ও বাকী ছিল ৩০ বল।

এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬১ রান তোলে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ১৭০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা শাই হোপ টাইগারদের বিপক্ষে করেন ১০৯। তাতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার‌ও পান তিনি। স্লগ ওভারে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিলে নাগালেই থাকে বাংলাদেশের লক্ষ্য।

বাংলাদেশের টার্গেট ২৬২ রান

শুরুতে দারুণ ব্যাটিং করে‌ও পরের সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বড় স্কোর গড়া হলো না ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাতে ডাবলিনে ত্রিদেশিয় সিরিজের ম্যাচ জয়ে ২৬২ রানের টার্গট পায় বাংলাদেশ। দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, নিয়েছেন ৩টি উইকেট। যে কারণে হোপের সেঞ্চুরি এবং চেজের ফিফটির পরেও ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬১ রানের বেশি করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৬২ রান।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে টাইগার বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ঘণ্টায় (১৬ ওভারে) বিনা উইকেটে তোলে তারা ৮৫ রান।

১৭তম ওভারে আক্রমণে আসেন মিরাজ। তাকে বাউন্ডারি মেরে তাকে স্বাগত জানান অ্যামব্রিস। তবে পরের বলেই অ্যামব্রিসকে শর্ট কভারে থাকা মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ বানিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নেন মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ৪টি বাউন্ডারি মেরে ৫০ বলে ৩৮ রান করেছেন অ্যামব্রিস। পরের ওভারে ড্যারেন ব্রাভোকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব আল হাসান। ব্রাভো আউট হন ৪ বলে মাত্র ১ রান করে।

পরপর দুই উইকেট পড়লেও তৃতীয় উইকেটে রস্টোন চেজকে নিয়ে আবার‌ও জুটি গড়েন শাই হোপ। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টাইগারদের বিপক্ষে টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২১তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারিয়ারের দুই হাজার রানও পূরণ করেন হোপ। একইসঙ্গে ভেঙে দিয়েছেন দুই সাবেক ক্যারিবীয় তারকা স্যার ভিভ রিচার্ডস এবং ব্রায়ান লারার রেকর্ড।

এতদিন ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে কম ইনিংসে ২০০০ ওয়ানডে রান করার রেকর্ড ছিলো স্যার ভিভের। তিনি করেছিলেন ৪৮ ইনিংসে। আজ নিজের ৪৭তম ইনিংসেই ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন শাই হোপ। এছাড়াও ক্যারিবীয়দের হয়ে সবচেয়ে কম সময়ে ২০০০ ওয়ানডে রান পূরণ করার নতুন রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন ডানহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হোপ। অভিষেকের ২ বছর ১৭৩ দিনের মাথায় ২০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। আগের রেকর্ড ছিল বাঁহাতি তারকা ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারার, ২ বছর ৩৬১ দিনে।

দুই কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙার পর চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরিটিও তুলে নেন হোপ। গত অক্টোবরের আগে ৩৭ ম্যাচের ৩৪ ইনিংসে মাত্র ১টি সেঞ্চুরি করতে পেরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শাই হোপ। সেই তিনিই গত ৬ মাসে মাত্র ১৪ ম্যাচের ১৩ ইনিংসে হাঁকালেন আরও ৫টি সেঞ্চুরি।

শেষ পর্যন্ত ২৬১ রানে থামে ৯ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে অধিনায়ক মাশরাফি ৪৯ রানে ৩ উইকেট তুলে ন‌েওয়া ছাড়াও ২টি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন এবং মুস্তাফিজ। দুই স্পিনার মিরাজ ও সাকিব নেন ১টি করে উইকেট।

গানের জগতে রাসেল

আইপিএলের শীর্ষ চারে উঠতে পারেনি আন্দ্রে রাসেলের দল কোলকাতা নাইট রাইডার্স। তাই খেলায় নেই তিনি। গত রবিবার মুম্বাইয়ের কাছে হেরে দল প্লে-অফে কোয়ালিফাই না করতে পারলে কী হিবে, দ্বাদশ আইপিএলে বিনোদনকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান আন্দ্রে রাসেল। অমানবিক ব্যাটিংয়ে বিপক্ষের ত্রাস তো হয়ে উঠেছেনই, একইসঙ্গে সুদূর ক্যালিপসোর দেশ থেকে এসে নাইট শিবিরের মধ্যমনি হয়ে ওঠেন তিনি। এবার আর ব্যাট হাতে নয়, মাইক হাতে বলিউড মাতাতে আসছেন আন্দ্রে রাসেল।

এর আগে, আন্দ্রে রাসেলকে একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল টিম হোটেলে সতীর্থদের সঙ্গে হিন্দি গান গাইতে। ইন্টারনেটে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে উঠেছে। তার গানের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রাসেল সত্যিই এবার বলিউডে তাঁর ডেব্যু প্লে-ব্যাক সেরেই ফেললেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি মিউজিকের প্রতি রাসেলের প্যাশনের কথা অনুরাগীদের অজানা নয়। ২০১৫ জামাইকান জনপ্রিয় গায়ক বেনি ম্যানের সহযোগীতায় ‘দ্রে রাস’ নামে সিঙ্গেলও রেকর্ড করেছিলেন রাসেল। এবার ভারতে এসে অল্পদিনের মধ্যেই বলিউডে পসার জমিয়ে ফেললেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট তারকা। বলিউডে তাঁর প্রথম প্লে-ব্যাকের কথা নিজেই জানালেন অনুরাগীদের।

মিউজিক কম্পোজার পলাশ মুচ্ছালের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে রাসেল জানান, বলিউডে তাঁর প্রথম প্লে-ব্যাকের কথা। তবে এক্ষেত্রেও সিঙ্গেলই রেকর্ড করেছেন রাসেল। স্বভাবতই রাসেলের পোস্ট দেখে ভারতের মাটিতে তাঁর নতুন ইনিংসের জন্য শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি অনুরাগীরা। ব্যাট হাতে ২০৪.৮১ স্ট্রাইক রেটে আইপিএলে সবচেয়ে বিনোদন প্রদানকারী ক্রিকেটার এবার বিনোদন-দুনিয়ায় কেমন পারফর্ম করেন, সেই অপেক্ষায় সবাই।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট করছে ও.ইন্ডিজ

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস ভাগ্যটা ভাল হল না বাংলাদেশের। ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে বাধ্য হয়েই ফিল্ডিং করতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ক্যারিবিয়রা। অন্যদিকে প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের কাছে হেরে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে রয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের বিপক্ষে এ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। পিঠের ব্যথায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শেন ডাওরিচ। বাংলাদেশ দলে সুযোগ মেলেনি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের।

গেইল এবার সহ অধিনায়ক

বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার ক্রিস গেইল নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ওপেনার এবার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। তাকে গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ডে আসন্ন বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় দলের অধিনায়ক থাকবেন জেসন হোল্ডার। তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গেইলকে। অর্থাৎ বিশ্বকাপে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

এমন এক দায়িত্ব পেয়ে গেইল নিজেও ভীষণ খুশি। এক বিবৃতিতে এই ক্যারিবিয়ান জানিয়েছেন, ‘যে কোনো ফরমেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করা সম্মানের ব্যাপার। আর এই বিশ্বকাপ তো আমার জন্য স্পেশাল। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে অধিনায়ক এবং দলের প্রতিটি সদস্যকে সমর্থন দেয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’

এদিকে, আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে জেসন হোল্ডারের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শাই হোপকে। আর আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ।

আইপিএলের পরিসংখ্যান

আইপিএলে লিগ পর্বের খেলা শেষ। এবার প্লে অফের অপেক্ষা। তার আগে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক চলতি আইপিএলে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানগুলি৷ সঙ্গে আইপিএলের চূড়ান্ত পয়েন্ট টেবিল।

কমলা টুপি: লিগের খেলা শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরলেও এখনও পর্যন্ত চলতি আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহ করে অরেঞ্জ ক্যাপের দখল রেখেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। ১২ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৬৯২ রান। পঞ্জাবের লোকেশ রাহুল (৫৯৩) ও কলকাতার আন্দ্রে রাসেল (৫১০) রয়েছেন দুই ও তিন নম্বরে। তবে দুটি দলই প্লে-অফে জায়গা করতে না পারায় তাদের পক্ষে ওয়ার্নারকে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় ডেভিডের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন মুম্বইয়ের কুইন্টন ডি’কক (৪৯২) ও দিল্লির শিখর ধাওয়ান (৪৮৬)। তবে তাদের পক্ষে শেষ কয়েকটা ম্যাচে ওয়ার্নারকে টপকে যাওয়া কঠিন বলেই আপাতত মনে হচ্ছে।

বেগুনি টুপি: ১২ ম্যাচে ২৫টি উইকেট নিয়ে চলতি আইপিএলের বেগুনি টুপি আপাতত নিজের সংগ্রহে রেখেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের কাগিসো রাবাদা। ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে যাওয়ায় নতুন করে উইকেট সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে। ১৪ ম্যাচে ২১টি উইকেট নিয়ে রাবাদাকে তাড়া করছেন চেন্নাইয়ের ইমরান তাহির। যারা প্লে-অফের লড়াইয়ে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রাবাদাকে ছুঁতে পারেন মুম্বইয়ের জসপ্রীত বুমরাহ (১৭) ও হায়দরাবাদের খলিল আহমেদ (১৭)।

এছাড়া চলতি আইপিএলে সব থেকে বেশি ৫২টি ছক্কা মেরেছেন আন্দ্রে রাসেল। ক্রিস গেইল ৩৪টি ছক্কা মেরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ছ’টি সেঞ্চুরির মধ্যে সব থেকে বড় ১১৪ রানের ইনিংস খেলেছেন হায়দরাবাদের জনি বেয়ারস্টো। সব থেকে বেশি ৮টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন ওয়ার্নার। সব থেকে বেশি ৫৮টি চার মেরেছেন শিখর ধাওয়ান। এক ইনিংসে সব থেকে বেশি ১০টি ছক্কা মেরেছেন মুম্বইয়ের কাইরন পোলার্ড। এক ইনিংসে সব থেকে বেশি ১২টি চার মেরেছেন জনি বেয়ারস্টো ও পৃথ্বী শ।

দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া (১৭ বলে)। দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন বেয়ারস্টো (৫২ বলে)। সবচেয় বড় ১১১ মিটারের ছক্কা মেরেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। স্ট্রাইক রেট সব থেকে ভালো আন্দ্রে রাসেলের (২০৪.৮১)। বোলিংয়ে সব থেকে বেশি ২টি মেডেন ওভার নিয়েছেন রাজস্থানের জোফ্রা আর্চার। সবচেয়ে বেশি ১৫৬টি ডট বল করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ২০টি ডট বল করেছেন চেন্নাইয়ের দীপক চাহার। দশটির বেশি ম্যাচ খেলা বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ বোলার হলেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি ওভার প্রতি ৬.৪৪ রান খচর করেছেন।

সেরা বোলিং গড় আলজারি জোসেফের। তিনি ১২ রানে ৬টি উইকেট নিয়েছেন। ৪ ওভারে সব থেকে বেশি ৬৬ রান খরচ করেছেন মুজির উর রহমান। সবচেয়ে জোরে ১৫৪.২৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বল করেছেন রাবাদা। হ্যাটট্রিক করেছেন শ্রেয়স গোপাল ও স্যাম কুরান।

আইপিএলের পয়েন্ট টেবিল:

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.৪২১)।
চেন্নাই সুপার কিংস: ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.১৩১)।
দিল্লি ক্যাপিটালস: ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.০৪৪)।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.৫৭৭)।
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.০২৮)।
কিংস ইলেভেন পঞ্জাব: ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (নেট রানরেট:-০.২৫১)।
রাজস্থান রয়্যালস: ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট (নেট রানরেট:-০.৪৪৯)।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর: ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট (নেট রানরেট:-০.৬০৭)।

আইপিএলের প্লে অফ সূচি

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে গ্রু পর্বের খেলা শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। আট দলের অংশগ্রহণে তুমুল লড়াইয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে দুর্দান্ত খেলেও প্লে অফ নিশ্চিত করতে পারেনি আন্দ্রে রাসেলদের দল কোলকাতা নাইট রাইডার্স। গ্রু পর্বের শেষ ম্যাচে রোববার মুম্বাইয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। প্রত্যাশিত পারফর্ম করেও দুর্ভাগ্যবশত ট্রফির লড়াই থেকে ছিটকে যায় বিরাট কোহলির দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

প্লে অফে ওঠা চারটি দল নিয়ে আগামী ৭ মে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু হবে। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। চেন্নাইয়ে, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচে যারা জিতবে তারা সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে।

আর যারা হেরে যাবে তারা ৮ মে এলিমিনেটর ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচে জয়ী দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে খেলবে। আর সেই (দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার) ম্যাচে যারা জিতবে তারা ১২ মে ফাইনালে খেলবে।

প্লে অফের সূচি

প্রথম কোয়ালিফায়ার

৭ মে: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম চেন্নাই সুপার কিংস (চেন্নাই, রাত ৮টা )।

এলিমিনেটর

৮ মে: দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (বিশাখাপত্তনম, রাত ৮টা)।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার

১০ মে: ১ম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত বনাম এলিমিনেটরের জয়ী (বিশাখাপত্তনম, রাত ৮টা)।

ফাইনাল

১২ মে: ১ম কোয়ালিফায়ারের জয়ী বনাম ২য় কোয়ালিফায়ারের জয়ী (হায়দরাবাদ, রাত ৮টা)।

মুম্বাই লিগের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার অর্জুন

মুম্বাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগের নিলামে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ রুপিতে বিক্রি হলেন ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন টেল্ডুলকার। মুম্বাই টি-টোয়েন্টি লিগের দ্বিতীয় মৌসুমের জন্য ১৯ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি পেসারকে কিনে নেয় আকাশ টাইগার্স মুম্বাই ওয়ের্স্টান সুবার্ব।

গত শনিবার অনুষ্ঠিত ‌ওই নিলামে পেসারদের ক্যাটাগরিতে এক লাখ রুপির বেইস প্রাইসের তালিকায় ছিলেন অর্জুন। নিলামে তার নাম ডাকার পরই এই পেসারকে দলে ভেড়াতে দফরফা শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। শেষ পর্যন্ত দু’টি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ প্রাইস ৫ লাখে গিয়ে অর্জুনকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তাই বাধ্য হয়ে লটারি করা হয় অর্জুনকে নিয়ে। সেই লটারিতে জিতে অর্জুনকে কিনে নেয় আকাশ টাইগার্স মুম্বাই। এই লিগে ৫ লাখের উপরে কোনো খেলোয়াড়কে কিনে নেয়ার কোন নিয়ম নেই।

আগামী ১৪ মে থেকে শুরু হবে আট দলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর শচীন টেন্ডুলকার।