সকাল ১১:৩৫, রবিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

এবারের আইপিএলটা মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য হতাশাতেই কেটে যাচ্ছে। ভারত যাওয়ার পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে সেই যে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলো, এরপর আর একাদশে আসার কোনো নাম-গন্ধই নেই যেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্ট মোস্তাফিজকে খেলানোর কথাই যেন চিন্তা করছে না। যে কারণে আজও রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে একাদশে রাখা হলো না কাটার মাস্টারকে।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টের বিপক্ষে টস হেরেছেন সানরাইজার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। জিতেছেন পুনে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে প্রথমে ব্যাট করার জন্য তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারকেই।

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পরিবর্তে পুনে দলে সুযোগ পাওয়া ওয়াশিংটন সুন্দরের যে কোনো পর্যায়ে অভিষেক আজ। বাদ পড়েছেন রাহুল চাহার। সানরাইজার্সের একাদশে অসুস্থতার কারণে আজ নেই যুবরাজ সিং। তার পরিবর্তে দলে ফিরেছেন বিপুল শর্মা। টস হেরে ব্যাট করার সুযোগ পাওয়ার পর সানরাইজার্স অধিনায়ক ওয়ার্নার বলেন, ‘টস জিতলে আমরাও বোলিং নিতাম। কারণ উইকেটে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বোলারদের জন্যই সহায়ক। এবং রান তাড়া করাটা হবে সহজ।’

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ : ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন, মইসেস হেনরিক্স, দিপক হুদা, নোমান ওঝা, বিপুল শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, রশিদ খান, মোহাম্মদ সিরাজ, সিদ্ধার্থ কাউল।

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট : আজিঙ্কা রাহানে, রাহুল ত্রিপাথি, স্টিভেন স্মিথ, মহেন্দ্র সিং ধোনি, বেন স্টোকস, ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান, মনোজ তিওয়ারি, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুর, জয়দেব উনাড়কট, ইমরান তাহির।

‘এটম গাম’এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তাসকিন

চুইংগাম ব্র্যান্ড ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন প্রাণ কনফেকশনারির হেড অব মার্কেটিং সাখাওয়াত আহমেদ।

এ সময় তরুণ এই ফাস্ট বোলার নতুন করে ‘এটম গাম’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তাসকিন আগামী দুই বছর এটম-এর বিভিন্ন প্রমোশনাল কাজে অংশগ্রহণ করবেন।

তাসকিন আহমেদ বলেন, খুব ভালো লাগছে। এটম একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় চুইংগাম ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। খেলার পাশাপাশি ফ্রি টাইমে এটম-এর সঙ্গে থাকব।

অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত আহমেদ বলেন, তাসকিন বাংলাদেশের একজন তারকা ক্রিকেটার। তাকে ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। তরুণ এই পেসার এটম-এর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রাণ কনফেকশনারির ব্র্যান্ড ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আগে এটম-এর পেঅফ লাইন ছিল, ‘চাপার জোর বাড়াও।’এবারের পেঅফ লাইন হচ্ছে ‘আওয়াজ বাড়াও।’ আমরা সমাজের অনেক ভালো দিক দেখেও দেখি না। সবার সামনে তুলে ধরছি না। এগুলো তুলে ধরতেই এটম-এর আওয়াজ। সমাজের খারাপ কাজ যেগুলো আমরা দেখেও দেখছি না, সেগুলোর বিরুদ্ধেও এ আওয়াজ তুলতে হবে।

টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক সাকিব

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক করা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। শনিবার বিসিবি এই সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার জায়গায় এই অলরাউন্ডারের নাম ঘোষণা করে।

সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার ফলে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে তিন জন ভিন্ন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবে। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার কথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আগের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়া চালিয়ে যাবেন এই পেসার। টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

সাব্বির টপ অর্ডারে তাই দলে নাসির

বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে আছেন প্রায় বছর খানেক। এর মাঝে তাকে নিয়ে অনেক কথাই বলছেন অনেকে। বাদ যাননি খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। অনেকে তাকে ‘বাতিল’ এর খাতায়ও ফেলে দিয়েছিলেন। সেই নাসির হোসেন আবার ফিরেছেন টাইগারদের ডেরায়। সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের দলে আছেন মিস্টার ফিনিশার। তাই হঠাৎ করে আবার তাকে দলে নেওয়া নিয়েও শুরু হয় আলোচনা। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর যুক্তি সাব্বির রহমান টপ অর্ডারে ব্যাটিং করায় সাত নম্বরে বিকল্প খেলোয়াড় রাখতেই নাসিরকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

‘একই পজিশনে আগে তিনটা খেলোয়াড় ছিল। সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ এ তিনজন খেলোয়াড়ের পরে কিন্তু নাসির। এখন সাব্বির খেলছে তিন নম্বরে। এখানে একটা জায়গা খালি হয়েছে। সে হিসেবে ও দলে এসেছে। এখন ওদের তিনজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে ছয় ও সাত নম্বরে ব্যাটিং করার জন্য। তাই ওকে প্রস্তুত করতেই আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’ – নাসির হোসেনকে ফিরিয়ে আনার ব্যাখ্যা দিয়ে এমনটাই বলেন প্রধান নির্বাচক।

তবে বেশ কিছুদিন থেকেই ব্যাটও কথা বলছে নাসিরের। ইমার্জিং কাপে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও করেছেন সেঞ্চুরি। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার এটাও একটা কারণ বলে উল্লেখ করেন নান্নু, ‘নাসির হোসেন এক বছর ধরে দলের সঙ্গে সফর করছে না। সেই হিসেবে ওকে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনেছি। ও ইমার্জিং কাপ ও ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো খেলেছে। যেহেতু সাসেক্সে প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে। তা ছাড়া আয়ারল্যান্ড সফরে ওকে অভ্যস্ত করা দরকার। সামনে আমাদের অনেকগুলো অ্যাওয়ে সিরিজও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের বড় সিরিজ আছে সেই হিসেবে ১৮ জন নিয়ে যাচ্ছি।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নন নাসির। তাই দ্রুতই আবার অভ্যস্ত হয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করেন নান্নু, ‘ও অনেকদিন ধরে দলের বাইরে আছে। এখন টিম ম্যানজমেন্টের সঙ্গে কাজ করবে। যেহেতু আমাদের ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে ইংল্যান্ডে। তো এখানে ওকে দেখা হবে। আর যেহেতু ওর অভিজ্ঞতা আছে তাই তাড়াতাড়ি আগের ছন্দে ফিরবে।’

‘আমাদের অধিনায়কইতো পেস অলরাউন্ডার’

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বুধবার দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করে সে দলে চারজন পেস অলরাউন্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ দলেও পেস অলরাউন্ডারের প্রাধান্য থাকবে। সে বিবেচনায় অনেকেই ভেবেছিলেন দলে হয়তো থাকবেন সাইফউদ্দিন। তাকে দলে না রাখায় কে এ অভাব পূরণ করবেন। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানান, আমাদের অধিনায়ক মাশরাফিইতো পেস অলরাউন্ডার।

‘বর্তমানেতো আমাদের অধিনায়কই পেস অলরাউন্ডার। তবে আমরা আরেকজনকে মাত্র শুরু করেছি পেস অলরাউন্ডার হিসেবে, সাইফউদ্দিন। ওকে আমরা ইতোমধ্যেই টি-টোয়েন্টিতে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এখন ওকে আরও উন্নতি করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে একটু সময় লাগে। ওর যথেষ্ট যোগ্যতা আছে, ওকে ওইভাবেই তৈরি করা হবে। আগামীতে ওকে নিয়ে ভাবা হবে।’

এক দশকের বেশি সময় পর আবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে বাংলাদেশ। তাই এ আসর নিয়ে চলছে একটু বাড়তি উম্মাদনা। সবার প্রত্যাশা দারুণ কিছু ফলফল করবে টাইগাররা। তাই কন্ডিশন বিবেচনায় মাশরাফিকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে পেস অলরাউন্ডারের। আর সে সামর্থ্য আছে টাইগার অধিনায়কের।

প্রাণ ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন তাসকিন

প্রাণ কনফেকশনারির জনপ্রিয় পণ্য ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এখন এ পণ্যের প্রচার কার্যক্রমে দেখা যাবে এই ক্রিকেটারকে।

রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে আগামী ২২ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল ৪.৩০ মিনিটে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এ সময় তাসকিন আহমেদসহ প্রাণ কনফেকশনারির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি জনপ্রিয় নাম। আর প্রাণ কনফেকশনারির জনপ্রিয় পণ্য ‘এটম গাম’ এবার টাইগার এই বোলারের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চায়।

ফিটনেস ঠিক থাকায় দলে শফিউল

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ১৫ সদস্য ছাড়াও আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ১৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ত্রিদেশীয় সিরিজ উভয় দলেই ডাক পেয়েছেন পেসার শফিউল ইসলাম।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

এদিকে ঘোষিত দুই দলে শফিউলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, বিপিএলে ইনজুরিতে না পড়লে ও আমাদের সঙ্গে অনেকগুলো সিরিজেই থাকতো। তাছাড়া ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছু নেতিবাচক মনোভাব ছিল যে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই ওকে আমরা শ্রীলঙ্কায় দেইনি। কারণ শ্রীলঙ্কায় অনেক গরম ছিল ওখানে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে। আর যেহেতু ওর ফিটনেস লেভেল এখন ঠিক আছে আর যেহেতু ঠান্ডা কন্ডিশন খলবো সেহেতু ও টানা ম্যাচ খেলতে পারবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

নাসিরকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও প্রস্তুতি ম্যাচে জায়গা হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা হয়নি নাসিরের। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য মাশরাফির নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। এদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ফিরেছেন পেসার শফিউল ইসলাম। আর দুটি থেকেই বাদ পড়েছেন শুভাগত হোম চৌধুরী।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্ট্যান্ড বাই: নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শুভাশীস রায়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ইংল্যান্ডে ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশীস রায়, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত-পাকিস্তান

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে আগামী ১ জুন পর্দা উঠছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। তবে এর আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। আর সেখানে মাশরাফি বাহিনীর প্রতিপক্ষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ও পাকিস্তান। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকরাম খান জানান, `আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে আমরা ইংল্যান্ডে ১০ দিন প্রস্তুতি ক্যাম্প করবো। সেখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিবো। আয়ার‌ল্যান্ডে চারটির মত ম্যাচ খেলার পর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেব। সেখানে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গেও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে আমাদের।`

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ক্যাম্প করার জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে ৭ মে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে খেলতে যাবে মাশরাফিরা। ডাবলিনে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২৪ মে। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম ম্যাচ ১ জুন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণার শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল। তবে আকরাম খান জানলেন, প্রস্তুতি কাম্পে আরও ২-১ জন ক্রিকেটার বেশি নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা

রোববার রাত থেকেই ফেসবুক সয়লাব ছবি আর নানা প্রতিক্রিয়ায়। একটা সময় ছিল যখন বড় প্রাপ্তির পর কারো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতো মিডিয়ায়। এখন আর সে অপেক্ষা নয়, কিছু অর্জন আর প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেরাই জনাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া। সেটা সব ক্ষেত্রেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে একসঙ্গে ৩৩৯ জন ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করেছেন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, শ্যূটিং, সুইমিং, দাবা, ভারোত্তোলন, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, আরচারি, হ্যান্ডবল, রোলার স্কেটিং, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন খেলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল গণভবন।

অক্টোবর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলীয় কিংবা ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেয়া ক্রীড়াবিদরাই ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত। স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্রোঞ্জজয়ী নয়- প্রধানমন্ত্রীর চোখে ছিলেন সবাই সমান। ৩৩৯ জনকে দেয়া অর্থ পুরস্কারও তাই সমান। প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ টাকা করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দ ছিল গত এসএ গেমসে স্বর্ণ পাওয়া তিন ক্রীড়াবিদ সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত আর শ্যূটার শাকিল আহমেদের। রাজউকের উত্তরায় নির্মিত ফ্ল্যাটের চাবিও তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এসএ গেমসের পর এ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

Mabia

কেউ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পুরস্কারের অর্থের চেকের ছবি, কেউ পুরস্কার গ্রহনের ছবি, কেউ ফ্ল্যাটের চাবির ছবি, কেউ ডিনারের ছবি, কেউ গল্প করার ছবি পোস্ট করে ভরিয়ে ফেলেছেন ফেসবুকে নিজেদের ওয়াল। ছিল নানা রকম প্রতিক্রিয়াও। সেখানে বেশি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন রাত তো আগে কখনো আসেনি।

শিলা, মাবিয়া ও শাকিল প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্ল্যাটের চাবি গ্রহণকে তাদের জীবনের সেরা মুহুর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাবিয়া বলেছেন, ‘দেশের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। এখন আমাদের দেশকে দেয়ার পালা।’ শাকিল বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে ডেকেছি। আমাদের দায়িত্ব এখন আরো বেড়ে গোলো।’

Rony

দেশের খেলাধুলায় পরিচিত মুখ ‘দাবার রানী’ রানী হামিদ থেকে শুরু করে এ প্রজন্মের খেলোয়াড় শ্যূটার শাকিল আহমেদ, রোলবল খেলোয়াড় আফিস হোসেন হৃদয়, আরচারির হিরামনি, ব্যাডমিন্টনের ইরিনা সবার মুখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা। সবার দৃঢ়বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আরো ভালো পারফরমেন্স করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আমরা তো আন্তর্জাতিকভাবে ভালো রেজাল্ট করলেও কেউ খোঁজ নেয় না। সবাই মেতে থাকে ক্রিকেট নিয়ে- অন্যান্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এমন অনুযোগ শোনা যেত; কিন্তু রোববার রাতের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩৩৯ জনকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের ধারনাও বদলে গেছে। তারা যে বড় পাওয়াটাই পেয়েছেন-প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়েছেন পুরস্কার।

গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের প্রতিক্রিয়া ছিল এরকম, ‘এটা একটা বিশাল সম্মান। এতটা আশা করার সাহসই পাইনি। এটা ক্রীড়াঙ্গনের নজিরবিহীন ঘটনা এটা। আমি আন্তরিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

Three

রানী হামিদ বলেছেন, ‘অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এত বড় মর্যাদা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এটা বিশাল পাওয়া। তিনি খেলোয়াড়দের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। সবার দায়িত্বও বেড়ে গেল।’

শাটলার মিনহাজের প্রতিক্রিয়া, ‘গনভবনে প্রথম গেলাম। অনেক ভালো লাগছে। ৯ বছর ধরে খেলছি; কিন্তু এমন স্বীকৃতি আগে কখনো পাইনি।’

আর্চারি হীরামনির কথা, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছি। জীবনের প্রথম আর্থিক পুরস্কার। তাও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। এজন্যই বেশি ভালো লাগছে।’ হকি খেলোয়াড় মামুনুর রহমান চয়ন বলেছেন, ‘এ সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রমান হলো প্রধানমন্ত্রী কেবল নির্দিষ্ট কোনো খেলার নন, সবার।’

রোলবল অধিনায়ক দীপ্র  বলেছেন, ‘এ পুরস্কার আমাদের আগামীতে ভালো খেলতে আরো অনুপ্রারিণত করবে।’ ভলিবল খেলোয়াড় সাঈদ আল জাবিরের প্রতিক্রিয়া ‘এটা অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার, কল্পনার বাইরে ছিল আমার।’

মাশরাফিকে টাকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন রাসেল

সময়টা ২০০৭ বিশ্বকাপ। দুর্দান্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। সে আসরে ভারতকে বিদায় করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও জয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে গ্রায়েম স্মিথ ও জ্যাক ক্যালিসকে সাজঘরে ফেরানো বোলারটি ছিলেন সৈয়দ রাসেল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে শুরু থেকে নজর কাড়েন সৈয়দ রাসেল। গতি নির্ভর ছিলেন না রাসেল, তবে ছিল নিখুঁত মাপা লাইন ও লেন্থ আর ছিল উইকেটের দু’দিকে সুইং করানোর ক্ষমতা। কিন্তু সেই রাসেল ইনজুরির কারণে সম্ভাবনাময় ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। পাননি ক্রিকেট বোর্ড থেকেও তেমন কোনো সহায়তা কিংবা সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা।

মাঝে কোমরের কঠিন ইনজুরিতে পড়েন। তবে সেই ইনজুরি থেকে রেহাই পাবার আগেই যুক্ত হয় বাঁ কাঁধের ইনজুরি। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল মোটা অর্থ। সৈয়দ রাসেলের অস্ত্রোপচারের অর্থ সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

২০১০ সালের জুলাই থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন রাসেল। ইনজুরির কারণে ক্লাব-ক্রিকেটেও খেলতে পারছেন না। কাঁধের ইনজুরির অস্ত্রোপচার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে করাতে লাগতো প্রায় ৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে ভারতের মুম্বাইতে করালে প্রায় চার লাখ। কিন্তু এতো পরিমাণ অর্থ রাসেলের কাছে ছিল না।

এক সময়ের বোলিং জুটি, বন্ধু মাশরাফির কাছে ধার চেয়েছিলেন রাসেল, ‘দোস্ত, আমি তো মাঠের বাইরে আছি বেশ কিছু দিন। হাতে টাকা পয়সাও নেই তেমন। আমাকে লাখ চারেক টাকা ধার দিবি? চিকিৎসা করাবো।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে ওঠা মাশরাফির উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ দেবো। তবে ধার নয়, বন্ধুকে ভালোবেসে। এই টাকা শোধ করতে হবে না।’

পরে মাশরাফির কাছে সেই অর্থ নিয়ে ভারতে চিকিৎসা করাতে যান রাসেল। কিন্তু ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, অস্ত্রোপচার লাগবে না। কিছু ঔষুধেই সেরে যাবে। এরপর দেশে ফিরে আবার নতুন করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নেন তিনি। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্লাবে নাম লিখিয়ে সেখান থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে মাশরাফির কাছ থেকে নেয়া অর্থ শোধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন রাসেল। মাশরাফি কিছুতেই সেই অর্থ ফেরত নেননি।

এদিকে রাসেলের আশা, ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে দ্রুতই মাঠে নামতে পারবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হয়ে ৬ টেস্টে ১২টি আর ৫২ ওয়ানডেতে ৬১টি উইকেট শিকার করেছেন রাসেল।

তামিম ঝড়ে মোহামেডানের বড় সংগ্রহ

তামিম ইকবালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) ৩০৭ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে এ সংগ্রহ পায় মোহামেডান।

এদিন ব্যাটিংয়ে নেমে নিজের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি উদযাপন করেন দেশসেরা ওপেনার তামিম। নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি তামিম। প্রথমবারের মতো এবারের আসরে মাঠে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন।

বিকেএসপিএর চার নম্বর গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হয় মোহামেডান ও কলাবাগান। আর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান। ওপেনার শামসুর রহমান ৩৮ রানে বিদায় নিলেও সে সময় ১৫.৪ ওভারে ৭৩ রান তোলে দলটি।

এরপর অবশ্য দ্রুতই রনি তালুকদার, রাকিবুল হাসান ও রহমত শাহ ফিরে যান। কিন্তু উইকেটে অবিচল থাকেন অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা তামিম। অসাধারণ ফর্মে থাকা এ তারকা তুলে নেন সেঞ্চু্রি। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে ১০৩ বলে ১৩ চার দুই ছক্কা হাঁকান তিনি।

সঞ্জিত শাহ’র বলে আউট হওয়ার আগে তামিম খেলেন ১৫৭ রানের ঝড়ো এক ইনিংস। মাত্র ১২৫ বলে ১৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান ড্যাশিং এ ব্যাটসম্যান।

সঞ্জিত ১০ ওভারে ৫২ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান নাবিল সামাদ ও মুক্তার আলী।

‘দেশের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত’

ভিন্ন ধাতুতে গড়া মাশরাফির নেতৃত্বগুণ, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাশের মতো আর কোনো ক্রিকেটার নিজের ইনজুরিকে তোয়াক্কা না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার। পা বাঁচাতে যখন মাশরাফিকে না খেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘পায়ে গুলি খেয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমি কেন সামান্য সার্জারি নিয়ে মাঠে খেলতে পারবো না?’

দৃঢ়চেতা মনোভাব, ব্যক্তিত্ব আর সহজাত ক্রিকেটীয় মেধার সঙ্গে দারুণ নেতৃত্বগুণ অন্য আরো ১০ জন ক্রিকেটার থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। তিনিই দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থাকলে- অনেক কিছুই সম্ভব। ম্যাচ জিতিয়ে গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতে, মাশরাফি তখন হাঁটুর ব্যথায় কাতরান ড্রেসিংরুমে। ক্রিকেটে তার মতো ইনজুরি জয় করা খেলোয়াড় আর একজন আছেন বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি তাই ধ্রুবতারা!

টাইগারদের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি নিজের পরিবার নিয়ে বৈশাখের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন খাগড়াছড়িতে। সেখান থেকে ফিরে মাঠে নেমেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। টানা দুই ম্যাচ জিতেছে তাদের দল। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) মাশরাফি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিশাল স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সৈনিকদের কথা, তাদের বীরত্ব গাঁথা, তাদের আত্মত্যাগ, তাদের দেশাত্মবোধের কথা।

মাশরাফির লেখাটি তুলে ধরা হলো:

‘প্রথমে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন। আমার এবারের খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ভ্রমণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি একজন সৈনিক তাঁর মাতৃভূমির জন্য কি পরিমাণ আত্মত্যাগ করেন। আপনারা হলেন সেই সব মানুষ যারা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে, কিন্তু আপনাদের বীরত্ব গাঁথা হয়ত কখনো কোন জাতীয় দৈনিক বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। আমার সাথে এমন একজন সৈনিক এর দেখা হয়েছে যিনি খুব শিগগিরই বাবা হবেন। অথচ দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ তাঁর পরিবার থেকে বহুদূরের এই সেনা ক্যাম্প এ অবস্থান করছেন। আমি স্বীকার করি অনেকের কাছেই সেপাই পলাশ এর দেশের প্রতি অঙ্গীকার একটি সামান্য পরিসংখ্যান ছাড়া আর কিছুই নয়।’

‘নিজের কাজ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা কিংবা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেয়াকেই আমরা হয়ত দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হিসেবে মনে করি। কিন্তু মনে রাখবেন, এর কোনকিছুই আপনাদের আত্মত্যাগের সমতূল্য নয়। আজ বাংলাদেশ আর্মির এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন। আমার এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে আপনারা এবং আপনাদের আপনজনেরা অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেন যেন আমরা নিরাপদে ঘুম থেকে উঠতে পারি। যেদিন আমাদের দেশের সকল নাগরিক একই ভাবে দেশের জন্য আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হবে সেদিন আমরা পাবো সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’

মাশরাফি আরও লিখেছেন, মনে রাখবেন, “সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে”। সর্বশেষ এই বলতে চাই, “যদি কখনো বাংলাদেশ আর্মির সাথে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” এত সময় ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ।

-আপনাদের মাশরাফি (একজন ব্যক্তি যে শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলে)

হায়দ্রাবাদকে হারালো কলকাতা

আইপিএলের ১৪তম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল সাকিব আল হাসান ছাড়া কলকাতা নাইট রাইডার্স আর মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হায়দ্রাবাদকে ১৭ রানে হারিয়েছে কলকাতা।

হায়দ্রাবাদের দলপতি ডেভিড ওয়ার্নার টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে কলকাতা ১৭২ রান তোলে। জবাবে, ২০ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারানো হায়দ্রাবাদের ইনিংস থামে ১৫৫ রানের মাথায়।

কলকাতার ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে চারটায় ম্যাচটি শুরু হয়। একাদশে সুযোগ পেলে মোস্তাফিজের মুখোমুখি হতেন সাকিব। এবারের আইপিএল আসর এখনো জমাতে পারেননি এই দুই টাইগার। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে শুরুটা ভালো হয়নি ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমানের। এদিকে, টানা চার ম্যাচে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবকে ডাগআউটে বসিয়ে রেখে একাদশ সাজায় শাহরুখ খানের কেকেআর। মোস্তাফিজের নিজের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স সবাইকে রীতিমতো অবাকই করেছে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে (১২ এপ্রিল) তার বোলিং ছিল খরুচে। ২.৪ ওভারে ৩৪ রানের বিনিময়ে একটি উইকেটও পাননি।

ব্যাটিংয়ে কলকাতার ওপেনার গৌতম গম্ভীর করেন ১৫ রান। আরেক ওপেনার সুনীল নারাইন ৬ রানে বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা রবীন উথাপ্পা ৩৯ বলে ৫টি চার আর ৪টি ছক্কায় করেন ৬৮ রান। মনিষ পান্ডের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন ইউসুফ পাঠান।

হায়দ্রাবাদের হয়ে ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় তিনটি উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার। একটি করে উইকেট দখল করেন ৪ ওভারে ৩৫ রান দেওয়া আশিষ নেহারা, ৪ ওভারে ৪১ রান দেওয়া বেন কাটিং এবং ৪ ওভারে ২৯ রান দেওয়া রশিদ খান। ২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন মোস্তাফিজের জায়গায় দলে আসা মইসেস হেনরিকস।

১৭৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে হায়দ্রাবাদের ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ৩০ বলে চারটি বাউন্ডারিতে করেন ২৬ রান। আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। মইসেস হেনরিকস করেন ১৩ রান। ১৬ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৬ রানে সাজঘরে ফেরেন যুবরাজ সিং। দীপক হুদা ১৩ আর বেন কাটিং ১৫ রানে বিদায় নেন।

শেষ দিকে নোমান ওঝা ১১ বলে ১১ আর বিপুল শর্মা ১৪ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকলেও দলকে জেতাতে পারেননি।

কলকাতার হয়ে দুটি উইকেট নেন ক্রিস ওকস। একটি করে উইকেট দখল করেন ট্রেন্ট বোল্ট, নারাইন, কুলদীপ ডাদব আর ইউসুফ পাঠান।

গত মৌসুমে ৩ বার মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব-মোস্তাফিজরা। যেখানে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল সাকিবরা। তবে, প্রথম এলিমিনেটরে সাকিবদের হারিয়ে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেয় মোস্তাফিজের হায়দ্রাবাদ।

পাঞ্জাবের বিপক্ষে একাদশে ফিরছেন সাকিব

দলের সঙ্গে ছিলেন শুরু থেকেই। তবে প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি সাকিব। সব ঠিক থাকলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আইপিএলের চলতি আসরে মাঠে ফিরছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই হারের স্বাদ পায় কলকাতা। তাই এ ম্যাচে সাকিবের একাদশে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরতে পারেন পেসার উমেশ যাদব। তবে ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ান ‘হার্ডহিটার’ ক্রিস লিনকে হারিয়ে বড় এক ধাক্কাই খেয়েছে কেকেআর।

পাঞ্জাব শিবিরে কোনো ইনজুরি উদ্বেগ নেই। মোহিত শর্মার জায়গায় ইশান্ত শর্মা বিবেচনায় আসতে পারেন। কিন্তু, নতুন মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচই জেতায় আগের একাদশ অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কলকাতা একাদশ (সম্ভাব্য): গৌতম গম্ভীর (অধিনায়ক), রবিন উথাপ্পা (উইকেটরক্ষক), মানিশ পান্ডে, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, সুরিয়াকুমার যাদাব, ক্রিস উকস, সুনীল নারিন, কুলদিপ যাদব, উমেশ যাদব / পিয়ুস চাওলা, ট্রেন্ট বোল্ট।

পাঞ্জাব একাদশ (সম্ভাব্য): হাশিম আমলা, মানান ভোহরা, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অধিনায়ক), ডেভিড মিলার, মার্কাস স্টয়নিস, আক্সার প্যাটেল, মোহিত শর্মা, সন্দীপ শর্মা, বরুন অ্যারন, থাঙ্গারাসু নাতারাজন।

‘আইপিএলে মালিঙ্গার মতোই গুরুত্বপূর্ণ মোস্তাফিজ’

ছিলেন দীর্ঘ ইনজুরিতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ফেরেন। ফেরাটা অবশ্য খুব একটা সুখকর হয়নি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হন। শততম টেস্ট ম্যাচে আলো ছড়ান। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও নামের প্রতি সুবিচার করেন। ওই ম্যাচে চারটি উইকেট লাভ করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

লঙ্কা সফর শেষে দলের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন কাটার। অপেক্ষায় ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ছাড়পত্র পাওয়ার। সেটা পেয়েই গতকাল মঙ্গলবার যান ভারতে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের আজকের (বুধবার) ম্যাচ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে মোস্তাফিজকে নিয়ে কথা বলেন ভারতের সাবেক পেসার অজিত আগারকার।

মোস্তাফিজের প্রশংসা করেন আগারকার। গত মৌসুমে যেভাবে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেছেন মোস্তাফিজ, তা তো আর ভোলার নয়। কাটার মাস্টারের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আইপিএলে যেমন লাসিথ মালিঙ্গার গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি হায়দরাবাদের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ। সুনিল নারিনকেও একইভাবে দেখবেন। এরা টি-টোয়েন্টির জন্য পারফেক্ট।’

মোস্তাফিজ হায়দারাবাদে যোগ দেয়ায় চ্যাম্পিয়নরা আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেটাই বললেন আগারকার, ‘বলের বৈচিত্র্য, ধারাবাহিকতা, নতুন বলে ভালো করা, রান কম দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে মোস্তাফিজ। উইকেটও তুলে নিতে পারে। মোস্তাফিজ হায়দরাবাদে যোগ দেয়ায় দল আরও শক্তিশালী হলো। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে আরও ভালো করবে তারা।’

এদিকে হায়দরাবাদে যোগ দেয়ার পর আজই মাঠে নেমেছেন মোস্তাফিজ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে আছেন চ্যাম্পিয়ন দলটির একাদশে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করছে মোস্তাফিজের দল হায়দরাবাদ।

প্রসঙ্গত, প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেন মোস্তাফিজুর রহমান। নবম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। কাটার-স্লোয়ার-ইয়র্কারের সংমিশ্রণে দুর্দান্ত বোলিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন।

১৬ ম্যাচে ২৪.৭৬ গড়ে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। আর তাতেই প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হায়দরাবাদ। গত মৌসুমে নিজেকে প্রমাণ করায় কাটার মাস্টারকে রেখে দিয়েছে হায়দরাবাদ।

দিল্লিতে বাংলাদেশি প্রতিবন্ধীদের প্রথম জয়

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যকার তিন ম্যাচ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলকে ৮১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

IFrame

বুধবার দিল্লির আরডি রাজপাল স্কুল মাঠে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ২৫২ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে শারীরিক প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম ৪৮ বল খেলে ১১টি ছক্কা ও ২০টি চারের সাহায্যে ১৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ১৫ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৭০ রান করতে সক্ষম হয় ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ড্রীম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন ও ভারতের প্যারা স্পোর্টস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সিরিজের আয়োজন করেছে। গত ১০ এপ্রিল ক্রিকেট সিরিজ খেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত যায় বাংলাদেশ এর হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

বার্সাকে হারিয়ে সেমির পথে জুভেন্টাস

শেষ কয়েক বছর ধরেই একক প্রাধান্য বিস্তার করে ইতালিয়ান লিগের শিরোপা নিজেদের করে নিলেও ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল জুভেন্টাস। দুই বছর আগে ফাইনালে উঠলেও বার্সার কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় দলটির। তাই এবার শেষ আটের লড়াইয়ে সুযোগ ছিল প্রতিশোধের। আর সুযোগটা ভালো মতই কাজে লাগাল তুরিনোর দলটি। আর্জেন্টাইন তারকা দিবালার জোড়া গোলে ঘরের মাঠে বার্সাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শেষ চারের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল ইতালির পরাশক্তিরা।

মঙ্গলবার রাতে তুরিনোতে ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সা শিবিরে আক্রমণ করে খেলতে থাকে জুভেন্টাস। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে গোলের সুযোগও পায় ইতালির দলটি। তবে হিগুয়াইনের হেড সোজা যায় বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের কাছে। এর চার মিনিট পর স্বাগতিকদের লিড এনে দেন আর্জেন্টাইন তারকা দিবালা। ডান দিক থেকে হুয়ান কুদ্রাদোর বাড়ানো বলে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান দিবালা।

messi

ম্যাচের ২১ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বার্সা। তবে চার ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে মেসির জাদুকরী পাস থেকে বল পেয়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ইনিয়েস্তার নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ফেরান ৩৯ বছর বয়সী জানলুইজি বুফ্ন। পরের মিনিটে আবার দিবালার যাদু। বাঁ দিক থেকে মারিও মানজুকিচের বাড়ানো বলে বাঁকানো শটে বাঁ পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন এই তারকা।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধানোর লক্ষ্যে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় তুরিনোর দলটি। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে হিগুয়াইনের দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান টের স্টেগেন। পরের মিনিটে আবারো হিগুয়াইনকে হতাশ করেন বার্সার এই গোলরক্ষক। তবে ৫৫ মিনিটে আর পারেননি। কর্নার থেকে উড়ন্ত বলে মাসচেরানোকে ফাঁকি দিয়ে  হেডে বল জালে জড়ান জর্জো কিয়েল্লিনি।

messi

শেষ দিকে অন্তত মূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়ে বার্সেলোনা। তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মাত্র দুটি গোল খাওয়া জুভেন্টাসের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি মেসি, নেইমার, সুয়ারেজরা।

এদিকে এখনো শেষ হয়নি বার্সার শেষ চারের আশা। শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারিসে ৪-০ গোলের হারের পর ঘরের মাঠে ৫-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে ওঠার ইতিহাস গড়া বার্সেলোনা কি পারবে আবার সেই রূপকথার জন্মদিতে, তা সময়ই বলে দিবে।

সাকিব-ইমরুলের নতুন জুটি সাকিব’স ৭৫

দুইজনই বাঁহাতি। মিল বলতে গেলে এটুকুই। একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান, আরেকজন মিডেল অর্ডারে ব্যাট করার পাশাপাশি বল হাতেও দেশ সেরা স্পিনার। তবে মাঠের বাইরে দুইজনই ভালো বন্ধু। ইমরুল কায়েস ও সাকিব আল হাসান এবার দুইজন মিলে বাণিজ্যে নামছেন। রাজধানীর মিরপুরে সাকিব’স ৭৫ নামে নতুন রেস্টুরেন্ট খুলেছেন এ দুই তারকা ক্রিকেটার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাকিব’স ৭৫-এ তারকাদের ঢল নামে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মান, নুরুল হাসান সোহান, তাইজুল ইসলাম, এনামুল হক বিজয়ের মতো খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেক কেটে সাকিব’স ৭৫ এর উদ্বোধন করা হয়।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলার কারণে এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি সাকিব। তবে মুঠোফোনে খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান অংশীদার ইমরুল কায়েস। তবে সাকিবের প্রতিনিধি হিসেবে এ সময় কন্যা আউব্রেকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির।

ইমরুল কায়েস রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নতুন হলেও অনেক আগে থেকেই জড়িত আছেন সাকিব। বনানীতে সাকিব’স ডাইন নামে রেস্টুরেন্ট খুলেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সাকিব’স।

প্রিমিয়ার লিগের অধিনায়ক ও বিদেশিরা

সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে। আর এ বছরে অধিনায়কত্ব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা হচ্ছে না তামিম ইকবালেরও। তাই আগামীকাল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে প্রথম দিনে কোন দলের নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো কোন দলে কে নেতৃত্বে থাকছেন পাশাপাশি কোন বিদেশিরা খেলছেন।

তামিম ইকবাল মোহামেডানে চলে যাওয়ায় অধিনায়ক নিয়ে ভাবতে হয় আবাহনীকে। তার পরিবর্তে দলটি ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফরমার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই বেছে নিয়েছেন। বিদেশি খেলোয়াড় কোটায় গতবার খেলে যাওয়া ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান উদয় কাউলের উপর আস্থা রেখেছে দলটি। আর মোহামেডানে নিয়মিত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তামিম। তবে প্রথম ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তার পরিবর্তে দলটির নেতৃত্ব দেবেন রকিবুল হাসান। মোহামেডানে বিদেশি খেলোয়াড় কোটায় খেলবেন আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার রহমত শাহ।

বাংলাদেশ দলের দুই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মুশফিকুর রহীম একই দলে খেলায় অনেকেই ভেবেছিলেন দলটির নেতৃত্ব দেবেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। তবে শেষ পর্যন্ত দলটির দায়িত্ব পেয়েছেন মুশফিক। মাশরাফির অনুরোধেই অধিনায়ক হয়েছেন মুশফিক।

গতবারের রানার্স আপ প্রাইম দোলেশ্বর আস্থা রেখেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পারফরমার ফরহাদ রেজার উপর। আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান পুনিত সিং। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের নেতৃত্বে আছেন নাসির হোসেন আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে কাশ্মীর থেকে উড়িয়ে এনেছেন পারভেজ রসুলকে।

অভিজ্ঞ তুষার ইমরানকে অধিনায়ক ঘোষণা করেছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে এনেছে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে। প্রাইম ব্যাংকের অধিনায়ক হয়েছেন তরুণ সাব্বির রহমান। আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এবারও খেলবেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান উম্মুখ চাঁদ।

ব্রাদার্স ইউনিয়ন বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দলে নিয়েছেন ভারতীয় অভিষেক নায়ারকে। খেলাঘরের অধিনায়ক নাফিস ইকবাল। পারটেক্সের অধিনায়ক তরুণ তারিক আহমেদ রুবেন। আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এসেছেন ভারতীয় জসপাল সিং।

মাত্র ৪ বলে ৯২ রান, তাও আবার ঢাকার ক্রিকেটে!

এ এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। ঢাকার ক্রিকেটে মাত্র ৪ বলেই হলো ৯২ রান। তাও কী চিন্তা করা যায়! বাস্তবেই ঘটেছে এমন ঘটনা এবং আজই। দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ঘটেছে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা। মাত্র ৪ বল খেলেই ৯২ রান তুলে জয় তুলে নেয় এক্সিউম। এই চার বলের মধ্যে অতিরিক্ত থেকেই এসেছে ৮০ রান।

মূলতঃ বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে লালমাটিয়া। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৪ ওভারে ৮৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল লালমাটিয়া।

score

এরপর বোলিং করতে নেমে সুজন মাহমুদ বৈধ বল করেছেন ৪টি। এর মধ্যে ৮০ রান দিয়েছেন অতিরিক্ত থেকে। যার ৬৫টি ওয়াইড বল এবং বাকি ১৫টি নো বল। ক্রিকেটের রেকর্ড বুকে এমন অদ্ভূতুড়ে ঘটনা আর দ্বিতীয়টি নেই। দেশের তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও এমন নজির নেই!

পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক সাকিব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সফরের পর মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসরে পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক হচ্ছেন ‘মিস্টার সেভেনটি ফাইভ’। বর্তমানে তিনি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ দলকে ২৭ টি-২০তে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বাধিক ৯ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন মাশরাফি। তার উত্তরসূরি হিসেবে দলের দায়িত্ব দেওয়ার মতো রয়েছেন, তামিম, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটার।

তবে দ্রুতই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) কলম্বোয় খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান জাতীয় দলের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সংবাদভিত্তিক কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে বিসিবি সভাপতির বরাতে ইতোমধ্যে এ সংবাদ প্রচার হচ্ছে।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, (ফাইল ছবি)সাকিব আল হাসান এর আগে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক থাকাকালে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৪ ম্যাচে। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ওই চার ম্যাচের কোনোটিতেই অবশ্য জিততে পারেনি টাইগাররা।

সাকিব টেস্ট-ওয়ানডের মতো ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ভার্সনেও নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৮ ম্যাচে তার রান ১১৭০, আর উইকেট সংগ্রহ ৬৭।

দিন বদলের অধিনায়ক মাশরাফি

যদি জিজ্ঞেস করা হয় বাংলাদেশকে হঠাৎ এভাবে কে বদলে দিল? কার হাত ধরে লাল-সবুজের ক্রিকেট আজ এমন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে? পরাশক্তি দলগুলোর চোখে চোখ রেখে এ দেশের ক্রিকেটারদের মোকাবেলা করার সাহস কে যুগিয়েছেন? সবাই একবাক্যে বলবেন মাশরাফি।

হ্যাঁ, সত্যিই তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক বীর। যিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আজ শ্রেষ্ঠত্বের তকমা এনে দিয়েছেন। যার অনুপ্রেরণায় উজ্জিবীত হয় গোটা দল। যার সম্মোহনি শক্তিতে জেগে উঠে শুধু দলই নয় গোটা দেশও।

শুরুটা হয়েছিল ২০১৪ সালে। বাংলাদেশের ক্রিকেট যখন হারের দুঃসহ এক একটি যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল। ঠিক তখনই বছরটি শেষের দিকে রঙিন পোশাকে অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় মাশরাফির কাঁধে। এটা অবশ্য নভেম্বরে।

তার আগে আমরা ওই বছরে বাংলাদশের হারের চিত্রটা একটু দেখে নেই। যেহেতু মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনা সেহেতু এটা শুধুই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির কথাই বলছি।

বছরটির শুরুতেই (ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সফরে আসে শ্রীলঙ্কা। সিরিজে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সহ দুই ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। পরের মাসেই ঘরের মাটিতে বসলো টি-২০ বিশ্বকাপের আসর যেখানে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল আয়োজক দেশটি।

একই বছর জুনে ভারত বাংলাদেশ সফরে এসে ২-০ সিরিজ হারায় টাইগারদের। আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েও তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে ৩-০তে হারে সফরকারীরা।

অবস্থা যখন এমন ভঙ্গুর ও নড়বড়ে ঠিক তখন নভেম্বর মাসে মুশফিককে সরিয়ে ওয়ানডে ও টি-২০ ফরম্যাটের অধিনায়কের দায়িত্ব পান ম্যাশ। তার বীরোচিত প্রত্যাবর্তনে শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরেকটি স্বর্নালি অধ্যায়ের, যা শুধুই দাপুটে এক একটি জয়ের চাদরে মোড়া।

মাশরাফি দায়িত্ব নেয়ার মাসেই বাংলাদেশ সফরে এসে ৫-০ হোয়াইটওয়াশ হল সফরকারী জিম্বাবুয়ে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বসলো বিশ্বকাপের আসর। সেখানেও এক গৌরবের অধ্যায় রচনা করলেন ম্যাশ। প্রথমবারের মত দলকে নিয়ে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। সে বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে আবার এলো পাকিস্তান।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর ক্রিকেটের কোন ফরম্যোটে আর একটিও জয়ের দেখা না পাওয়া বাংলাদেশ ওই সিরিজে পাকিস্তানকে ওয়াডেতে দিল ৩-০তে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। একমাত্র টি-২০ও শহীদ আফ্রিদিদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়লো টাইগাররা।

এরপর জুনে শক্তিশালী ভারতকে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ হারিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ।

বাদ যায়নি পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকাও। জুলাইয়ে সফকারীদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ২-১ এ সিরিজে জয়ের অমরগাঁথা রচনা করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর এর সব কিছুই এসেছে ওই মাশরাফির নেতৃত্বে।

পরের বছর বাংলাদেশে বসলো এশিয়া কাপের আসর। যেখানেও তার বলিষ্ট নেতৃত্ব ভক্তদের আপ্লুত করলো। কেননা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। লাল-সবুজের ক্রিকেটের এই গৌরবটিও এলো মাশরাফির যোগ্য নেতৃত্বেই।

সঙ্গত কারণেই তাকে দিন বদলের অধিনায়ক তকমা দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম।‘বাংলাদেশ ক্রিকেট আজকের যে অবস্থানে এসেছে সেখানে মাশরাফির অবদান অনেক। তার সমতুল্য খেলোয়াড় আমি আজ অবদি বাংলাদেশ ক্রিকেটে দেখিনি। তাকে পূরণ করা বাংলাদেশদলের পক্ষে সহজ হবে না। ওর মতো খেলোয়াড় এক যুগে একটার বেশি আসে না। তার থেকে যা চেয়েছি তার থেকে বেশি পেয়েছি। সে যেভাবে জুনিয়র ক্রিকেটারদের ইনকারেজ করছে সেটা অভাবনীয়। অতীতে কিন্তু আমাদের ড্রেসিং রুমে এরকম পরিবেশ ছিলো না। সে যে শারিরীক অবস্থা নিয়ে মাঠে থাকে আমি মনে করি না বিশ্বের অন্য কোনো স্পোর্টসম্যান এটা করত’।

বাংলাদেশের জার্সিতে গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে উইকেট মাশরাফির। টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটেরও মালিক তিনি। বাংলাদেশ টি-২০তে সবচাইতে বেশি (৯ টি) জিতেছে মাশরাফির নেতৃত্বে। আবার সবচেয়ে বেশি (১৭টি) হারও তার হাত ধরেই এসেছে।  টি-২০তে বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে মাশরাফিই সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন (২৮টি)।

বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে টি-২০তে চতুর্থ সর্বোচ্চ ছক্কার অধিকারী কিন্তু তিনিই (২৩টি)। সবচাইতে বেশি ২৯টির মালিক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দ্বিতীয় তামিম (২৮) ও তৃতীয় সাকিব (২৭টি)।

টি-২০তে উইকেট দখলের দিক থেকে তিনে মাশরাফি (৪১টি)। ৪৪টি নিয়ে দুইয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও ৬৭টি উইকেট থলিতে পুড়ে শীর্ষে সাকিব আল হাসান। শুধু বলেই নয়, ব্যাট হাতেও তিনি কতটা বিষ্ফোরক ছিলেন তার প্রমান দিতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। বাংলাদেশে ১০টির বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে সবাচাইতে ভাল স্ট্রাইক রেট ম্যাশরাফির। ৫৩ ম্যাচে তিনি রান তুলেছেন ১৩৬.৫৯ স্ট্রাইকরেটে।

সেই মাশরাফিই টি-২০কে বিদায় জানিয়ে দিলেন! কাজটি কতটা আগে হয়েছে, কতটা ঠিক হয়েছে সেটা অনুধাবন করার সক্ষমতা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ম্যানেজমেন্টের হয়তো নেই। থাকলে এ দেশের ক্রিকেটের বর্তমান উন্নয়নের ধারার কথা বিবেচনা করে তাকেই রাখা হতো। অথবা তাকে বিদায় জানানোর কাজটি আরও সুন্দর হতে পারতো। যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাকে টি-২০ ছাড়া করা হল, সেটা দুঃখজনক।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে মিসবাহ’র অবসর

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে আগেই ছেড়েছেন, এবার পাকিস্তান টেস্ট দল থেকেও অবসরের ঘোষণা দিলেন দলটির অধিনায়ক হিসেবে থাকা মিসবাহ-উল-হক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষেই জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন তিনি।

সম্প্রতি পাকিস্তান দলে মিসবাহ’র খেলা, না খেলা নিয়ে বেশ নাটকীয়তা তৈরি হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন ১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়া অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান।

বুধবারই ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইসডেনে মর্যাদাপূর্ণ পাঁচজন ক্রিকেটারের মধ্যে নিজের নাম লেখান ৪২ বছর বয়সী মিসবাহ। যেখানে সম্প্রতি তার টেস্ট খেলা নিয়ে সুবিবেচনা করা হয়। অথচ ‍তার অধীনেই প্রথমবারের মতো টেস্টে শীর্ষ দল হিসেবে পাকিস্তান পরিচিতি পায়। পরে অবশ্য টানা ছয়টি ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছে।

২০০১ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের মধ্যদিয়ে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল মিসবাহ’র। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে ৪৫.৮৪ গড়ে ৪ হাজার ৯৫১ রান করে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানের তালিকায় সাতে রয়েছেন। তার সেঞ্চুরি আছে ১০টি ও হাফসেঞ্চুরি ৩৬টি।

মিসবাহ পাকিস্তানের সবচেয় সফল টেস্ট অধিনায়কও। তার অধীনে ৫৩ ম্যাচের ২৪টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসর নেন তিনি। আর ২০১২ সালে সর্বশেষ টি-২০ খেলেছিলেন।

জয়ের রঙে রঙিন হবে তো মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর, সিরিজে সমতা আনার। কিন্তু সেই বিষয়টি ছাপিয়ে এখন টিম বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জয় উপহার দেয়া। কেননা এই ম্যাচটির পরে টি-২০তে আর তাকে দেখা যাবে না।

এই ম্যাচটির মধ্য দিয়েই দীর্ঘ্য ১০ বছরের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানবেন লাল-সবুজের দাপুটে অধিনায়ক মাশরাফি।

জয় দিয়ে অধিনায়কের শেষ ম্যাচটিকে রঙিন করে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-২তে লঙ্কানদের মুখামুখি হবে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)স্বাগতিক লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজের শুরু থেকেই যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে, তাতে তাদের দাপুটে বললে এতটুকুও কম বলা হবে না। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা জিতলেও দ্বিতীয় ও শততম টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা এনে মোক্ষম জবাব দিয়েছে মুশফিকুর রহিম ও তার দল।

শততম টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা আনার পর তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে ৯০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিল মাশরাফি বিন মর্তুজা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। অবশ্য ওয়ানডে সিরিজের শেষ পর্যন্ত এই দাপট ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। দ্বিতীয়টি বৃষ্টিতে ভসে যাওয়ার পর তৃতীয়টি হেরে গেল ৭০ রানে। ফলে  ওয়ানডে সিরিজ শেষ করলো ১-১ সমতা নিয়ে।

ওয়ানডে সমতা নিয়ে শেষ করলেও শেষে টি-২০তে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার শক্তিমত্তার সামনে বাংলাদেশ কতটা ভাল করতে পারবে সেটা নিয়ে সংশয় থাকলেও সফরকারীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সেই শঙ্কা অনেকাংশেই দূর করতে সক্ষম হয়েছে।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৫৫ রান করেও টাইগারদের লড়াইটা ছিল কাঁধে কাঁধেই। আর ২০ রান হলে হয়তো জয়ের শেষ হাসিটা মাশরাফিরাই হাসতে পারতেন।

বুধবার (৫ এপ্রিল) ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈতকও তাই বলেছেন। তবে আর পেছনে তাকাতে চাইছেন না তিনি। বরং চাইছেন দ্বিতীয় ম্যাচে জয় নিয়ে সিরিজে সমতা আনতে। ‘প্রথম ম্যাচ হারের পর তো বলতে পারছি না, জিতবো।  ড্র ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। আমাদের সামনে একটাই ম্যাচ সেটায় জিতে সিরিজ ড্র করার চেষ্টা করবো।’

এ কথা ঠিক এই ম্যাচটি জিতলেই সিরিজে সমতা আনতে পারবে টাইগাররা। কিন্তু লঙ্কান শিবেরে চিত্র আবার সম্পূর্ণই উল্টো। কেননা, এই ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশের সাথে চলতি সিরিজে প্রথম কোন সিরিজ জয় করতে পারবে।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)সেই লক্ষ্যে লঙ্কানরা সফল হলে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচটি হয়তো জয়ের রাঙিয়ে রাখতে পারবেন না সতীর্থরা। কিন্তু মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে এদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমীর চোখ যে এদিন তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে সেকথা বলার আর অপেক্ষা থাকছে কই?

ভক্তদের এমন ভালবাসা কি জয়ের রঙের চাইতে কোন অংশে কম?

বাংলাদেশের বিপক্ষে লঙ্কান টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। রোববার রাতে ঘোষিত দলে ফিরেছেন স্পিন অলরাউন্ডার শেহান জয়াসুরিয়া, পেস অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা ও ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা।

চোটের কারণে ওয়ানডে থেকে ছিটকে যাওয়া কুশল পেরেরাকেও দলে রাখা হয়েছে। তবে ফিটনেস টেস্টে ব্যর্থ হলে তার জায়গায় দলে ঢুকবেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অভিষেক হওয়া সানদুন বীরাকোডি।

ওয়ানডে সিরিজের সেঞ্চুরিয়ান কুশল মেন্ডিসের অবশ্য টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হয়নি। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় অনুমিতভাবে টি-টোয়েন্টি দলেও নেই অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তার অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতেও দলকে নেতৃত্ব দেবেন উপুল থারাঙ্গা।

আগামী ৪ এপ্রিল কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। একই মাঠে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি ৬ এপ্রিল।

শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দল: উপুল থারাঙ্গা, দিলশান মুনাবীরা, দানুশকা গুনাথিলাকা, কুশল পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গা, ইসুরু উদানা, নুয়ান কুলাসেকারা, দাসুন শানাকা, বিকুম সঞ্জয়া, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা, আসেলা গুনারত্নে, সিকুগে প্রসন্ন, চামারা কাপুগেদারা, থিসারা পেরেরা, লাকশান সান্দাকান, শেহান জয়াসুরিয়া।

স্ট্যান্ড বাই: সানদুন বীরাকোডি।

শুভ জন্মদিন তাসকিন

তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের অন্যতম পেস বোলার। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী এই বোলার নিয়মিত ১৪০ কি.মি. গতিতে বল করতে পারেন। ওয়ানডেতে দেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের স্বাদ। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনে আত্মীয়-স্বপজন ও ভক্তদের শুভেচ্ছায় উদ্ভাসিত এই তরুণ পেসার।

১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মাদপুরে জন্ম নেন তাসকিন। অক্টোবর ২০১১ সালে ঢাকা মেট্রোপলিসের হয়ে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে তাসকিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সৃষ্টি তিনি। ২০১৪ সালের ১৭ জুন ভারতের বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়। অভিষেকেই ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। একই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় এই তারকার। আর চলতি বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় এই তারকার।

এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েতে হয় বাংলাদেশ দলের এই অন্যতম পেস বোলারকে। তবে পরীক্ষা দিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম ভরসা। আর এখন অনেক দূর এগিয়ে যাবেন তাসকিন আহমেদ জন্মদিনে সেই প্রত্যাশাই সবার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তৃতীয় ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পোর্ট অব স্পেনে কাল চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না ক্যারিবীয়রা। স্বাগতিকদের ৭ উইকেটে হারিয়ে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। আগের ম্যাচে ৪৫ বলে ৯১ রান করা এভিন লুইসকে এদিন ঝড় তোলার আগেই বিদায় করেন ইমাদ ওয়াসিম। ৮ বলে ৭ রান করে বাঁহাতি স্পিনারের বলে হাসান আলীকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্যারিবীয় ওপেনার।

এরপর পাকিস্তানের বোলারদের তোপে পড়ে একটা পর্যায়ে ৮৩ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে একশ’র আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে অষ্টম উইকেটে সুনীল নারিনের সঙ্গে অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেটের ৩৮ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১২৪ রান করতে পারে স্বাগতিকরা। তাদের ইনিংসে ৬৬ বলই ছিল ডট! যার মধ্যে ৮টি উইকেট।

২৪ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রাফেট। সর্বোচ্চ ৪১ রান অবশ্য চাঁদউইক ওয়ালটনের। এ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল মারলন স্যামুয়েলস (২২)।

৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে দুটি মেডেনসহ ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার হাসান আলী। নিজের টানা দুই ওভারে কোনো রান না দিয়ে উইকেট দুটি নেন ২৩ বছর বয়সি এই পেসার। লেগ স্পিনার শাদাব খানও ২ উইকেট নেন ১৬ রানে।

জবাবে আহমেদ শেহজাদের ৫৩ (৪৫ বলে ৬ চার ও এক ছক্কা) ও বাবর আজমের ৩৮ রানের সুবাদে ১২৫ রানের লক্ষ্যটা ৬ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। কামরান আকমল করেন ২০ রান।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান আলী। চার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন শাদাব খান।

৭ এপ্রিল ভারত যাচ্ছেন মুস্তাফিজ!

৫ এপ্রিল মাঠে গড়াবে আইপিএলের দশম আসর। এবারও সানরাইজার্স হায়দরাবাদেই আছেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন কাটার মাস্টার। তার উপর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। ৬ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ খেলার আগে ছাড়পত্র পেলে ৭ এপ্রিল সানরাইজার্স শিবিরে যোগ দিবেন মুস্তাফিজুর রহমান। হিন্দুস্থান টাইমসকে এমনটাই জানিয়েছেন হায়দরাবাদের কোচ টম মুডি।

তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা প্রত্যাশা করছি যে সে আমাদের হয়ে খেলতে আসবে। যদিও এখনো আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাইনি। তবে আশা করছি ৭ এপ্রিলের মধ্যে আমরা তাকে দলে পাব। যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু শুনতে না হয়। তবে আমরা তাকে পাওয়ার আশা ছাড়ছি না।’

আইপিএলের উদ্বোধনী দিনে সানরাইজার্স হায়দরাাবাদ নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। এই ম্যাচে অবশ্য মুস্তাফিজ খেলতে পারছেন না।

শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার কোনো চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুডি বলেন, ‘আমার জন্য এটা আরেকটি নতুন অধ্যয়। আসলে নতুন বই। সুতরাং গেল বছরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই।’ ডেভিড ওয়ার্নারের ইনজুরির বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গুঞ্জন চলছে। ওয়ার্নারের ইনজুরির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে মুডি বলেন, ‘ওয়ার্নার শতভাগ ফিট রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে সে তার পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাচ্ছে। শিগগিরই সে দলে যোগ দিবে।’