সকাল ৬:৫৮, বুধবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৯ ইং
/ ক্রিকেট

হেরে গেল রাজস্থান। শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে দরকার ছিল ২১ রান। মাত্র ৬ রানের বেশি তুলতেই পারল না স্টিভ স্মিথের দল রাজস্থান রয়্যালস। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা তুলল ১৭০ রান। তাতে আইপিএলের প্রথম ম্যাচটি হার দিয়ে শুরু করল তারা।

href=”http://bangladesherkhela.com/wp-content/uploads/2019/03/KP-03.jpg”>

শেষ ওভারের প্রথম বলেই আউট হন জয়দেব উনাদকাট। নিজের বলেই ক্যাচ ধরলেন অঙ্কিত রাজপুত। পরের বলেই আউট কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। এবার তালুবন্দি করেন মোহাম্মদ শামি।

এর আগে পাঞ্জাবের ১৮৪ রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল রাজস্থান রয়্যালস। বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করেন জস বাটলার। তাঁর ৬৯ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংসটি সাজানো ছিল দুটি ছক্কা এবং দশটি চার দিয়ে। মাত্র ৪৩ বলে এই রান করেন তিনি। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও খেলছেন অতি ভরসাযোগ্য এক ইনিংস। বাটলারকে যোগ্য সহায়তা করছিলেন তিনি। তারপরই যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

রাহানেকে বোল্ড করেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তারপরই মুহূর্তের অসতর্কতায় ফিরে যান জস বাটলারও। বল করছিলেন অশ্বিন। তিনি নন-স্ট্রাইকার এন্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্রিজ থেকে দু’পা এগিয়ে গিয়েছিলেন বাটলার। অশ্বিন বল করা থামিয়ে দিয়ে বেলস ফেলে দেন। দৃশ্যতই প্রবল অসন্তুষ্ট বাটলার মাথা নাড়তে নাড়তে ফিরে যান ড্রেসিংরুমে। অশ্বিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এর আগে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ২০ ওভারের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে তুলল ১৮৪ রান। মাঠে ঝড় তুললেন ক্রিস গেইল! ৪৭ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। সোমবার রাতে মানসিংহ স্টেডিয়ামে নিজেদের আইপিএল সফর শুরু করল প্রথমবারের চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালস।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে আবাহনীর জয়

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের আজ সোমবারের ম্যাচে জয় পেয়েছে আবাহনী, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড।

আগে ব্যাট করে ইরফান শুক্কুর ও রকিবুল হাসানের জোড়া ফিফটিতে ৭ উইকেটে ২৪৮ রান তোলে মোহামেডান। সাইফুদ্দিন ও রুবেল ৩টি করে উইকেট নেন। জবাবে জহুরুলের ৯৬ আর সৌম্যর ৪৩ রানে ভর করে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় আবাহনী।

ফতুল্লায় গাজী গ্রুপকে ৪৩ রানে হারায় শেখ জামাল। আগে ব্যাট করে শেখ জামালের ৬ উইকেটে ২৭৭ রানের জবাবে ২৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় গাজীর ইনিংস। আর বিকেএসপিতে, খেলাঘর সবুজ সংঘকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জার্সি

আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের জার্সি বিক্রির স্বত্ব ঘোষণা নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার পরিচয় দিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী আগামী এক বছরের জন্য স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টসের সাথে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির স্বত্ত্ব ঘোষণা দিলেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জার্সি তৈরি করার হবে বললেও, সেই তৃতীয় পক্ষ কারা, কয়টি ফ্রাঞ্চাইজির মাধ্যমে, কোন কোন আউটলেটে, কিংবা কত টাকায় জার্সি বিক্রি করা হবে, সে সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি নিজামউদ্দিন চৌধুরী কিংবা স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টস-এর প্রতিনিধিরা। এমনকি জার্সি বিক্রি শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানাতে গিয়েও দুজন দু’রকম তথ্য দেন।

তাতে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি বিক্রির স্বত্ব কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির বিষয়টি হয়ে থাকলো বিতর্কিত।

জার্মানির জয় ক্রোয়েশিয়ার পরাজয়

নিকো সালসের শেষ মুহূর্তের গোলে ইউরো বাছাইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে জার্মানি। এছাড়া সাইপ্রাসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে বেলজিয়াম। তবে হাঙ্গেরির কাছে ২-১ গোলে হেরে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে বিশ্বকাপের বর্তমান রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া।

ক্ষণিকের ভুলে কেউ কাঁদে, কেউ হাসে। আমস্টারডামে রক্ষণের সেই ভুলের মাশুল দিলো নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে ৯০ মিনিটে গোল করে নায়ক বনে গেলেন নিকো সালসে। তবে জার্মানদের এই জয়টা না হলে অবিচার হয়ে যেতো। পুরো ম্যাচ জুড়েই দাপট দেখিয়েছেন জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা। প্রথম ৩৪ মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান ২-০। গোলদাতা লেরয় সানে, সার্জি নারবি।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুড়ে দাঁড়ানোর গল্প ডাচদের। ডি লিট আর মেমফিস ডিপে টানা দু ম্যাচে হারের স্বাদ দিতে চলেছিলেন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের বয়স তখন ৬৩ মিনিট। তবে শেষ রক্ষা নিকো সালসের জাদুতে।

ডাচদের ঘুঁড়ে দাড়ানোর গল্পটা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও, গ্রুপ ই’র ম্যাচে তা করে দেখালো হাঙ্গেরি। যদিও বিশ্বকাপের বর্তমান রানার্সআপ ক্রেয়েশিয়া ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় আন্তে রেবিচের গোলে।

তবে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বর দলের বিপক্ষে ৫২তম লড়াইয়ে শেষ হাসি ফেরেঙ্ক পুসকাসের উত্তরসুরীদের। অ্যাডাম সাজলেই আর ম্যাট পেতকাই জয় এনে দেন ৩৪ আর ৭৬ মিনিটের গোলে।

অন্যদিকে, গতবিশ্বকাপের রানার্সআপরা যে কাজটি পারেনি। তাই করে দেখালেন সেমিফাইনালিস্টরা। সাইপ্রাসের বিপক্ষে ম্যাচের ১৮ মিনিটের মধ্যেই ২-০ তে এগিয়ে যায় দ্যা রেড ডেভিলসরা। গোল করে বেলজিয়ামের জার্সিতে শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন এডেন হ্যাজার্ড। গোল পেয়েছেন বাতসুয়াইও।

রাসেল ঝড়ে হার সাকিবের হায়দ্রাবাদের

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এবারের আইপিএলে জয় দিয়ে শুরু করল দীনেশ কার্তিকের দল কোলকাতা নাইটরাইডার্স। অবশ্য নাইটদের ব্যাটিংয়ে ১৫.২ ওভার নাগাদ ফ্লাডলাইটের কিছু আলো বন্ধ হয়ে যায়। আলো ফিরতেই ইডেনে শুরু হয় রাসেল ঝড়। আর সেই ঝড়েই কুপোকাত হায়দরাবাদ। ক্যারিবিয়ান বিগ হিটারের দাপটে আইপিএলের দ্বাদশ আসর জয় দিয়েই শুরু করল কোলকাতা।

অবশ্য খেলার শুরুতে ইডেন গার্ডেন্সে ‌ওঠে কমলা রঙের ঝড়। ডেভিড ওয়ার্নারের ৮৫, জনি বেয়ারস্টোর ৩৯ এবং বিজয় শঙ্করের অপরাজিত ৪০ রানে প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ তোলে ৩ উইকেটে ১৮১ রান। নয় চার আর তিন ছক্কায় ৫৩ বলে ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার আগে অবশ্য ৩৫ বলে ৩৯ রান করে আউট হন জনি বেয়ারস্টো। প্রথম উইকেটে ১১৮ রানের পার্টনারশিপ হায়দরাবাদের। এরপর বিজয় শঙ্কর ২৪ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন। সুনীল নারিন, কুলদীপ যাদবরা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ৩২ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন আন্দ্রে রাসেল।

জবাবে, ১৮২ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাকিব আল হাসান তুলে নেন ক্রিস লিনের উইকেট। বিপদে পড়ে কোলকাতা। এরপর নীতিশ রানা ও রবিন উথাপ্পা জুটি টেনে তোলেন নাইটদের। কিন্তু পর পর উইকেট হারিয়ে আবার‌ও চাপে পরে কোলকাতা। রানা ৬৮ আর উথাপ্পা ৩৫ রান করেন। মাত্র ২ রান করেন দীনেশ কার্তিক। এরপরেই ইডেনে নামে রাসেল ঝড়। তাতে লন্ডভন্ড সাকিবের হায়দরাবাদের সকল প্রতিরোধ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন তিনি। আর ১০ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন শুভমান গিল। তাতে দুই বল বাকি ম্যাচ জিতে নেয় শাহরুখ খানের দল।

আইপিএলের পুরস্কার যতো

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের যতো অর্থের ছড়াছড়ি থাকে পৃথিবীর আর কোনো টুর্নামেন্টে ততটা থাকে না। এখানে চলে কোটি কোটি টাকার খেলা। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএলের দ্বাদশ সংস্করণে‌ও প্রতিবারের মতো আছে টাকার ছড়াছড়ি। জেনে নেওয়া যাক এবারের আইপিএলের প্রাইজমানি:

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১৫ কোটি টাকা। রানার্সদল পাবে ১০ কোটি টাকা। প্লে-অফের অন্য দুই দল পাবে পাঁচ কোটি টাকা করে। লিগ পর্যায়ে ম্যাচের সেরা হওয়া ক্রিকেটার পাবেন ১ লাখ টাকা। প্লে অফ রাউন্ডে ম্যাচের সেরা হওয়া ক্রিকেটার পাবেন ৫ লাখ টাকা। প্রতি ম্যাচে সেরা ক্যাচ ধরা ফিল্ডার পাবেন ১ লাখ টাকা। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কা হাকানো ব্যাটসম্যান পাবেন ১ লাখ রুপি। দুজন ব্যাটসম্যান সমান সংখ্যক ছক্কা মারলে সবচেয়ে লম্বা ছক্কা মারা ব্যাটসম্যান পাবেন সেরার পুরষ্কার।

অরেঞ্জ ক্যাপ: সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকারীর মাথায় থাকবে অরেঞ্জ ক্যাপ।

পার্পল ক্যাপ: সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর মাথায় উঠবে পার্পল ক্যাপ।

সাতটি কিংবা তার থেকে বেশি ম্যাচ আয়োজন করা মাঠ পাবে ৫০ লাখ টাকা। সাতটির কম ম্যাচ আয়োজন করা মাঠ পাবে ২৫ লাখ টাকা।

টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ ধরা ক্রিকেটার পাবেন ১০ লাখ টাকা।

গোটা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যান পাবেন ১০ লাখ রুপি। এক্ষেত্রেও টাই হলে ছক্কার দূরত্ব বিচার করা হবে।

দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান পাবেন ১০ লাখ টাকা। টাই হলে বিচার্য হবে স্ট্রাইক রেট।

সেরা স্টাইলিশ প্লেয়ার পাবেন ১০ লাখ টাকা।

টুর্নামেন্টের সব থেকে অভিনব ও দর্শনীয় শট খেলা ব্যাটসম্যান পাবেন ১০ লাখ টাকা।

উদীয়মান ক্রিকেটার পাবেন ১০ লাখ টাকা।

মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার হওয়া ক্রিকেটার পাবেন ১০ লাখ টাকা। (সবগুলো অর্থ মূল্যই ভারতীয় রুপিতে)

আইপিএলে জয়ে শুরু চেন্নাইয়ের

কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেন না বিরাট কোহলিরা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে আইপিএলে চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে যাত্রা শুরু করল চেন্নাই সুপার কিংস। এদিন আরসিবি-কে মাত্র ৭০ রানে অল আউট করে সিএসকে।

চেন্নাইয়ের স্পিনারদের সামনে কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেননি কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সরা। চেন্নাইয়ের হয়ে ৯ রানে ৩ উইকেট নেন ইমরান তাহির। ২০ রানের খরচায় হরভজন‌ও তুলে নেন ৩ উইকেট।

আগে ব্যাট করে, বিরাট কোহলি (৬) ও এবি ডিভিলিয়ার্স (৯) প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল চেন্নাই। কোহলি ফিরে যাওয়ার পরে তিন নম্বরে নামা মঈন আলি ৯ রানে এবংডি ভিলিয়ার্সও ৯ রানে ফেরেন। সকলের চোখ ছিল শিমরান হেটমায়ারের দিকে। তবে শূন্য রানে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি। তারপরে নামা শিবম দুবে (২), কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমরাও (৪) রান করতে ব্যর্থ হন। আরসিবি-র হয়ে একমাত্র পার্থিব প্যাটেল ২৯ রান করেন। আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

জবাবে চেন্নাই ১০ বল বাকী থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ৭১ রান তুলে জয় পায়। অাম্বাতি রাইডু ২৮, সুরেশ রায়না ১৯ করলেও শেন ওয়াটসন শূন্য রানে ফেরেন। কেদার যাদব ১৩ ও রবীন্দ্র জাদেজা ৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরেন।

টাই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

কেপটাউনে টাই হওয়া প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলংকাকে সুপার ওভারে হারিয়ে, তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২২ মার্চ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দু’দল মুখোমুখি হবে সেঞ্চুরিয়নে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রিত শ্রীলংকা, শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। কুশল মেন্ডিসের ২৯ বলে ৪১ রানের ইনিংসে ভর করে কোনো রকমে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান তোলে সফরকারীরা। প্রোটিয়াদের হয়ে ফেলুকওয়াও ৩ উইকেট নেন।

জবাবে, ম্যাচ সেরা মিলনারের ২৩ বলে ৪১ আর ভ্যান্ডার ডুসেনের ৩০ বলে ৩৪ রানের পরও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ঠিক ১৩৪-এই থামে প্রোটিয়াদের ইনিংস। তাতে সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে ডেভিড মিলনার স্বাগতিকদের হয়ে এক ওভারে ১২ রান তুললেও ইমরান তাহিরের বোলিং দৃঢ়তায় ৫ রানের বেশি তুলতেই পারেনি লংকানরা।

মনোবিদ নিয়োগ করবে বিসিবি

ক্রাইস্টচার্চ হামলার ধকল কাটানো ছাড়াও আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে মনোবিদ নিয়োগ দেবে বিসিবি। দুপুরে মিরপুরে ক্রাইস্টচার্চ হামলা থেকে ক্রিকেটাররা রক্ষা পাওয়ার কারণে শোকরানা দোয়া মাহফিলের পর একথা জানান, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে নিরাপত্তা পর্যক্ষেক পাঠানোর পরিকল্পনা না থাকলেও চুক্তির সুযোগ-সুবিধা যাচাই করার উদ্যোগ নেবে বিসিবি।

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। খেলোয়াড়রা নিরাপদে দেশে ফিরে আসার পর তাই বিসিবি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে ছুটি দেয়া হলেও ঢাকায় থাকা ক্রিকেটাররাও অংশ নেন, এই দোয়া অনুষ্ঠানে। পরে ক্রিকেটারদের মানসিক ট্রমা কাটানোর জন্য মনোবিদ নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, আমরা ওদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তবে এ জন্যই (ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা) যে মনোবিদ আসবে, তা নয়। আমরা ঠিক করেছি যে, সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ আছে সামনে, তার আগে একজন মনোবিদ এসে যদি ওদের সাথে সময় কাটায় তা দলের জন্যই ভালো। তখন যদি কারো মনে হয় কারো বিশেষ কোনো সাহায্য দরকার, তাহলে অবশ্যই তা নেয়া হবে।

এখন থেকে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি বিদেশ সফরের আগে পূর্ণ নিরাপত্তার দাবি জানানো হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন সভাপতি। তবে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সফরে আলাদা করে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। পাপন জানান, আগে তো বিষদ আলোচনা করতাম না। নিউজিল্যান্ডে তিনদিন ছিলাম, সেখানে কোনো পুলিশই দেখিনি। ওই দেশটাই হয়তো এমন। পুলিশ থাকলেও তারা মসজিদে পাহারা দেয়ার কথা চিন্তাই করেনি; কিন্তু নতুন ঘটনা চোখ খুলে দিয়েছে। এখন ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমাদের যদি মনে হয় বিদেশ থেকে যা দিচ্ছে, তা যদি যথেষ্ট মনে না হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো (নিজস্ব সিকিউরিটি পাঠাবো)। তবে এটা তারা যা দিচ্ছে, তার উপর নির্ভর করবে।

গেলো কয়েকদিন ধরে সাকিব আল হাসানের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে আগ্রহ প্রকাশের কারণে যে আলোচনা শুরু হয়েছিলো, তা পুরোপুরি নাকচ করে দেন বিসিবি সভাপতি। জানান, ড্রাফটে নাম না থাকা খেলোয়াড়রা খেলতে পারবেন না।

আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়

আয়ারল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম জয় পেল আফগানিস্তান। ভারতের দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানরা তাদের দ্বিতীয় টেস্টেই জয় তুলে নিল। ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণে পা রাখার ২৭৭ দিন পর প্রথম জয় পেল আফগানিস্তান।

এর আগে, আফগানিস্তানের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে প্রথম টেস্ট জয় পেয়েছে শুধু অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ইতিহাসের প্রথম টেস্টই। আফগানিস্তানের মতো নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ ষষ্ঠ টেস্টে, জিম্বাবুয়ে একাদশ, দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বাদশ, শ্রীলঙ্কা ১৪ তম, ভারত ২৫, বাংলাদেশ ২৫ এবং নিউজিল্যান্ড প্রথম জয় পেয়েছিল ৩৫ তম টেস্টে।

১৪৭ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ সোমবার চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১১৮ রান। আর আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ৯ উইকেট। আইরিশদের কোন সুযোগই দেননি রহমত শাহ ও ইহসানউল্লাহ। এই দুজনের ফিফটিতে আফগানরা জয় নিশ্চিত করেছে লাঞ্চের আগেই। জয়ের কাছে গিয়ে রহমত ৭৬ রানে আউট হলেও ইহসানউল্লাহ শেষ পর্যন্ত ৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

গত বছর বেঙ্গালুরুতে আফগানিস্তান তাদের অভিষেক টেস্টে ভারতের কাছে দুই দিনেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। আর আয়ারল্যান্ড ডাবলিনে তাদের অভিষেক টেস্টে পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটে হারলেও চার দিন লড়াই করেছিল। এবার প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতাই আইরিশদের ডোবাল। ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে আফগানরা পেল ঐতিহাসিক জয়। দুই ইনিংসেই ফিফটি করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রহমত শাহ।

অবশেষে দেশে ফিরলেন ক্রিকেটাররা

এ যেন এক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। ক্রিকেটারদের দেশে ফেরায় সেই অপেক্ষার অবসান। স্বস্তি পরিবার-পরিজন, খেলাপ্রেমি এবং দেশবাসীর মধ্যে। ক্রাইস্টচার্চে গতকাল শুক্রবার দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় বদলে গেছে বাস্তবতা। শেষ টেস্ট বাতিল হওয়ায় নিউজিল্যান্ড থেকে আজ দেশে ফিরেছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা। অবশ্য অন্য সময় হলে, টেস্ট সিরিজে কেমন পারফরম্যান্স করল বাংলাদেশ সেটি নিয়েই থাকত আলোচনা। প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তাই নিরাপদে দেশে ফেরাতেই স্বস্তি সবখানে।

রাত ১০টা ৪২ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফসহ দেশে ফিরেছেন মোট ১৯ জন।

গতকাল জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয় ৪৯ জন। হ্যাগলি ওভালের খুব কাছের নূর মসজিদেই ঘটেছে হতাহতের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। যেখানে জুমার নামাজ আদায় করার কথা ছিল বাংলাদেশ দলেরও। মসজিদে পৌঁছতে মিনিট পাঁচেক দেরী হ‌ওয়ায় হামলার শিকার হওয়া থেকে বেঁচে যান তামিম-মুশফিকরা।

ওই সময় ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকা দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট পরে ঘটনার বর্ণনায় বলেছিলেন, ‘মসজিদ আমরা বাস থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম। আমরা হয়তো ৫০ গজ দূরে ছিলাম। আর যদি ৩-৪ মিনিট আগে চলে আসতাম; তাহলে আমরা মসজিদেই হয়তো থাকতাম। হয়তো বিশাল, ভয়ানক একটা ঘটনা ঘটে যেতে পারত।’

৮-১০ মিনিট বাসে বসে থাকার পর নেমে হ্যাগলি পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে মাঠে ফিরে ড্রেসিংরুমে ঘণ্টা দুয়েক অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন ক্রিকেটাররা। এরপর ফেরেন হোটেলে। বাসে চড়ার আগে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সংবাদ সম্মেলন একটু দেরিতে শেষ হওয়ায় এবং সেখানে পৌঁছার পর একজন নারী মসজিদের ভেতরে গোলাগুলি চলছে জানিয়ে আর সামনে না এগোনোর আহ্বান জানানোয় রক্ষা পায় দল।

অবশ্য আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় শুরু হওয়ার কথা ছিল তৃতীয ‌ও শেষ টেস্ট। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলার কারণে সেটি হয়নি। শেষ পর্যন্ত একই ফ্লাইটের দেশে ফিরে আসেন টাইগাররা। নিরাপদে ফিরে আসলেও ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় ক্রিকেটারদের যে মানসিক ধাক্কা লেগেছে, সেটা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বেশ।

দেশে ফিরে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দেশে ফিরে আসছে। আজ শনিবার নিউজিল্যান্ড সময় দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ দল দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে চড়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রাত ১০টা ৪০মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দওে এসে পৌছাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বহনকারী বিমানটি।

এরআগে গতকাল শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের কিছুদূরে একটি মসজিদে বন্দুকধারী সন্ত্রাসী হামলা করে। মসজিদটিতে জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন কিউই সফরে থাকা টাইগার দলের ক্রিকেটাররা। এই ঘটনায় নিরাপত্তা জনিত কারণে কিউই সফর বাতিল করে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ড সফর বাতিলে আইসিসি’র সমর্থন

ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কারণে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় ‌ও শেষ টেস্টটি বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। এর আগে অবশ্য তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে-বিসিবি’র সঙ্গে কথা বলে সম্মতি নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন ঘটনার পর খেলার মানসিকতা থাকে না। তাছাড়া অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা মানসিক ট্রমায় আছেন। সব মিলিয়ে টেস্ট বাতিলের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছে আইসিসি।

বিশ্ব ক্রিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ‘ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ হামলায় যে সকল পরিবার ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয়েছে তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। দুই দল, স্টাফ ও ম্যাচ অফিশিয়ালরা নিরাপদে আছেন। টেস্ট ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতি আইসিসির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’

সবার আগে চাই নিরাপত্তা: নাজমুল হাসান

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিরাপত্তার ব্যাপারে বেশ জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। সবার আগে চাইছেন তিনি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা। যে সকল দেশ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা দিতে পারবে না সেখানে বাংলাদেশ সফর করবে না বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

ভবিষ্যতে দেশের বাইরে খেলতে গেলে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকার কথা জানান নাজমুল। তিনি বলেন, ‘আজকের ঘটনার পর এটা নিশ্চিত, খেলোয়াড়রা যে দেশেই যাক না কেনো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। যারা দিতে পারবে আমরা শুধু সেখানেই খেলতে যাব; যারা দিতে পারবে না সেখানে আমরা যাব না।’

নিউজিল্যান্ডে লম্বা সফরে একটি টেস্ট বাকি ছিল বাংলাদেশ দলের। শুরু হওয়ার কথা ছিল আগামীকাল শনিবার। ম্যাচের আগের দিন আজ শুক্রবার সকালে অনুশীলন করতে হ্যাগলি ওভাল মাঠে ব্যাগ রেখে স্টেডিয়ামের অদূরে একটি মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে রওনা হন তামিম-মুশফিকরা।

মসজিদের খুব কাছে গিয়ে ক্রিকেটাররা জানতে পারেন সেখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। গুলির আওয়াজ পেয়ে পার্কের ভেতর দিয়ে দৌড়ে প্রাণ নিয়ে স্টেডিয়ামে ফিরে আসেন তারা। ড্রেসিংরুমে কিছুসময় উদ্বিগ্নহয়ে কাটানোর পর স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ক্রিকেটাররা টিম হোটেলে ফিরে যান।

ক্রিকেটাররা নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর গুলশানে নিজ বাস ভবনে, সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পাপন। অবশ্য তার আগেই দুই দেশের বোর্ড মিলে তৃতীয় টেস্টটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমাদের দেশে যখন ওরা খেলতে আসে, নিরাপত্তা নিয়ে যে ধরণের কথাবার্তা বলে, যেমন নিরাপত্তা আমাদের দিতে হয়, এখন পর্যন্ত আমরা তেমনটা কোথাও গিয়ে পাইনি। সত্যি কথা বলতে জোরাজুরিও করিনি। অন্যান্য দেশও ওসব দেশে খেলতে গেলে করে না। আমার মনে হয়েছে এ ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে, এ ধারণাই তাদের নেই। পূর্ব-প্রস্তুতি বা এমন হলে তাৎক্ষণিকভাবে কী করতে হবে সেটিও তাদের ছিল না। ঘটনাস্থলে পুলিশ যেতে যতটা সময় লেগেছে, এটা তো অস্বাভাবিক। আমাদের দেশে বা আশপাশের দেশে এমন কিছু হলে পুলিশ আসতে এত দেরি হতে পারে না। নিশ্চিতভাবেই ওরা মনে হয় অপ্রস্তুত ছিল।’

‘আমরা যখন বিদেশে যাই, বিশেষ করে এ ধরণের দেশে, তখন কিন্তু আমাদের দেশে তাদের জন্য যে ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয় সেটা থাকে না ক্রিকেট দলের জন্য। আমরা সবসময় বলে এসেছি এ ধরণের ঘটনা যেকোনো দেশেই হতে পারে। প্রত্যেকটা দেশ, প্রত্যেকটা দলকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেকে মনে করতে পারেন, এ ধরণের ঘটনা আমাদের এখানে হতে পারে বা উপমহাদেশে হতে পারে; ওদের ওখানে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ জিনিসটা এখন আর নেই। আমরা যে ধরণের নিরাপত্তা দিয়ে থাকি তার ধারেকাছেও তাদের ছিল না, এটা সত্যি। শুধু নিউজিল্যান্ডে না, যত জায়গায় আমরা সফরে যাই অতটা নিরাপত্তা দেখি না।’ বলেন নাজমুল হাসান।

শনিবার রাতে ফিরছে টাইগাররা

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় ‌ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি বাতিল ঘোষণার পর ক্রিকেটারদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করেছে বিসিবি। দলের সঙ্গে থাকা ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট জানান, শনিবার রাতে ঢাকা পৌঁছাবে টাইগাররা।

খালেদ মাসুদ জানান, শনিবার নিউজিল্যান্ড সময় দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ দলের দেশে আসার ফ্লাইট। রাত ১০টা ৪০মিনিটে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে ক্রিকেটারদের।

প্রথমে জটিলতার আশঙ্কা ছিল। দ্রুত দলের সকল সদস্যকে একই ফ্লাইটের টিকিট পা‌ওয়া ছিল কষ্টকর। সেই জটিলতা কেটে গেছে। সব ক্রিকেটার একসঙ্গেই দেশে ফিরছেন বলে জানান, খালেদ মাসুদ।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছে একটি মসজিদে বন্দুকধারী সন্ত্রাসী হামলা করে। মৃত্যের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। সেই মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন কিউই সফরে থাকা টাইগার দলের ক্রিকেটাররা।

খেলোয়াড়রা নামাজ পড়তে গিয়ে খানিক আগেই ঘটা সন্ত্রাসী হামলার কথা শোনেন। তারা দ্রুত হ্যাগলি ওভালে ফেরত আসেন। শুরুতে মাঠের ড্রেসিংরুমে আশ্রয় নেন। পরে তাদের নিরাপদে টিম হোটেলে সরিয়ে নেয়া হয়। নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড পরে জানিয়েছে, দুবোর্ডের যৌথ আলোচনায় সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিন টেস্টের সিরিজের শেষটি হওয়ার কথা ছিল ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে, আগামীকাল শনিবার থেকে।

প্রাণে বাঁচল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের এক মসজিদে জঙ্গি হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা। এই বর্বর ঘটনাকে ‘ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন দলের অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। পাশাপাশি মুশফিকুর রহিম এই সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করে পুরো দলের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ‌ও শেষ টেস্ট বাতিল হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার জন্য এই সফর বাতিল করে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে আজ শুক্রবারের নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর নামের ঐ মসজিদে বন্দুকধারী হামলা চালায়। লিটন দাস ও নঈম হাসান ছাড়া বাংলাদেশ দলের সবাই অনুশীলন শেষে ঐ মসজিদে নামাজ পড়তে যান। মসজিদে ঢোকার সময় স্থানীয় একজন তাঁদের মসজিদে ঢুকতে নিষেধ করেন। বলেন, এখানে জঙ্গি হামলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ক্রিকেটাররা স্বভাবতই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এবং মাঠে চলে আসেন।

পরে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তামিম টুইটারে জানান, ‘পুরো দল বন্দুকধারীদের হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। এটা খুবই ভীতিকর অভিজ্ঞতা। সবাই আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন।’ একই ঘটনা নিয়ে টুইটারে মুশফিক লিখেছেন, ‘আমরা খুবই ভাগ্যবান। তাই জঙ্গি হামলা থেকে প্রাণে বাঁচলাম। আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘দলের বেশিরভাগ সদস্য টিম বাসে চড়ে মসজিদে যাচ্ছিলেন। মসজিদে ঢোকার মুহূর্তে জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে।’ এদিকে আগামীকাল শনিবার থেকে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা। সেই টেস্ট বাতিল হয়ে গেল। শুধু তাই নয়, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার জন্য এই সফর বাতিল করে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই সন্ত্রাসবাদী হামলায় মসজিদে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে।

অভিজ্ঞতার অভাবই টেস্টে বাংলাদেশের মূল সমস্যা: আবু জায়েদ

অভিজ্ঞতার অভাবেই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসাররা সফল হতে পারছেন না বলে মনে করেন পেসার আবু জায়েদ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্টে অংশ নিতে ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছার পর প্রথম দিনের অনুশিলন শেষে তিনি একথা বলেন।

দেশের বাইরে বেশিরভাগ সময় পেসারদের ভালো করার সুযোগ থাকলেও অনভ্যাসের কারণেই তারা পিছিয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন এই তরুণ টাইগার পেসার। তবে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সুবিধা নিতে পারায় তারা বোলিং এখন আরো অনেক ভালো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আবু জায়েদ।

সিরিজে হার ভারতের

প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে শুরুতেই ২-০ এগিয়েছিল ভারত। তবে দুরন্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। পরের তিনটি ওয়ানডে টানা জিতে ৩-২ সিরিজ জিতে নিল অজিরা। উসমান খাজাদের করা ২৭২ রানের জবাব দিতে নেমে বুধবার রাতে টিম ইন্ডিয়া অলআউট ২৩৭ রানে। তাতে ৩৫ রানের দারুণ এক জয়ে ‌ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

শিখর ধাওয়ান (১২), বিরাট কোহালি (২০), ঋষভ পান্ট (১৬), বিজয় শঙ্কর-রা (১৬) ব্যাটে ব্যর্থ। অস্ট্রেলিয়াকে জবাব দিচ্ছিলেন কেদার যাদব ও ভুবনেশ্বর কুমার। তবে পর পর দু’ বলে ফিরে যান ভুবি (৪৬) ও কেদার (৪৪)। তারপরে আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি ভারতের।

অবশ্য দিল্লিতে টস জিতে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রলিয়া বড় রান সংগ্রহের ইঙ্গিতই দিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের দাপটে ৯ উইকেট হারানো অজিদের থামতে হয় মাত্র ২৭২ রানে। তবুও বিরাট কোহলিবাহিনী ব্যর্থ এই রান তাড়া করায়।

এ দিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। স্বপ্নের ফর্মে ওপেনার উসমান খাজা। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ঘরের মাঠ রাঁচীতে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। মোহালিতে করেন ৯১। আর সিরিজের শেষ ম্যাচেও খাজার ব্যাট কথা বলল; ফিরোজ শাহ কোটলায় ১০৬ বলে ঠিক একশ’ই করেন খাজা।

উদ্বোধনী জুটিতে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে করেন ৭৬ রান। ফিঞ্চ ফিরে যাওয়ার পরে পিটার হ্যান্ডসকম্বের সঙ্গে ইনিংস গড়ার কাজ শুরু করেন উসমান খাজা। দু’জনের ৯৯ রানের পার্টনারশিপে বড় সংগ্রহের ভিত পায় অস্ট্রেলিয়া। দলের ১৭৫ রানে সাজঘরে ফেরেন ম্যাচ সেরা উসমান খাজা। হ্যান্ডসকম্বের ৫২ রানে ৯ উইকেট হারানো অজিরা থামে ২৭২ রানে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ভুবনেশ্বর কুমার তিনটি, রবীন্দ্র জাদেজা ‌ও মোহাম্মদ সামি নেন দুটি করে উইকেট।

জবাবে শুরু থেকে উইকেট পড়ায়, ভাল পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারেনি ভারত। যে কারণে টানা দুই ম্যাচ জিতে এগিয়ে থাকা ভারত সিরিজ হারল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। অবশ্য টানা দুই ম্যাচ হারের পর এটিই প্রথম সিরিজ জয় নয়, এটি পঞ্চম ঘটনা। এরমধ্যে বাংলাদেশ‌ও জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর ৩-০ তে সিরিজ জিতেছিল।

ফিট থাকলে আইপিএল খেলবেন সাকিব

টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের আইপিএল খেলার অনুমতি আছে, তবে খেলতে যাওয়ার আগে শতভাগ ফিটনেস থাকতে হবে তার। আইসিসি ও কোকাকোলার গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ঘোষণার অনুষ্ঠান শেষে একথা বলেন, বিসিবি’র পরিচালক জালাল ইউনুস।

তিনি বলেন, পুরোপুরি ফিট থাকলে আইপিএলে সাকিবের খেলা নিয়ে কোন সমস্যা নেই। তবে আইপিএলের পরই যেহেতু বিশ্বকাপ তাই তার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে, যেন আবারও ইনজুরির শঙ্কায় না পড়েন সাকিব আল হাসান।

আইসিসি-কোকাকোলার চুক্তির এই অনুষ্ঠানে আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার ক্যাম্পবেল জেমিসন, কোকাকোলার সাউথ ওয়েস্ট এশিয়া অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট সন্দীপ বাজোরিয়া এবং বিসিবি’র কর্মকর্তাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন ক্রাইস্টচার্চে

স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচে অংশ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ক্রাইস্টচার্চে পৌছেছে। এবারের নিউজিল্যান্ড সফরকে বাংলাদেশের কাছে দু:স্বপ্নে মতোই মনে হওয়ার কথা।

কারণ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর, টেস্ট সিরিজেও হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার শঙ্কায় এখন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। এরআগে, হ্যামিল্টন ও ওয়েলিংটন টেস্টে কিউইদের কাছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। আগামী ১৬ মার্চ থেকে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচটি।

আর‌ও একটি ইনিংস পরাজয় বাংলাদেশের

অবশেষে ইনিংস পরাজয়ই হলো ‌ওয়েলিংটনে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গড়া ফিফটিতেও ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ১২ রানে হেরে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০-তে সিরিজ হাতছাড়া করল সফরকারীরা। অবশ্য এই টেস্টটি যেন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম টেস্টের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে সেই টেস্টের প্রথম দু’দিন‌ও বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। তাতে‌ও কিউইদের জয় ঠেকানো যায়নি। এবারের মতো ব্যাটিং ব্যর্থতায় নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস ব্যবধানেই হেরেছিল বাংলাদেশ।

টেস্টের শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার ইনিংস পরাজয় এড়াতে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৪১ রান। আর জয়ের জন্য কিউইদের প্রয়োজন সাত উইকেট। এই কাজটি স্বাগতিকরা করে ফেলে প্রথম সেশনেই। বাংলাদেশের ব্যাটিং ছেটে ফেলার নেতৃত্ব দেন নেইল ‌ওয়াগনার ‌ও ট্রেন্ট বোল্ট।
সিরিজের তৃতীয় ‌ও শেষ টেস্টে হবে ১৬ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে। হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর মিশন তখন বাংলাদেশের।

৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৪১ রানে পিছিয়ে থেকে পঞ্চম ও শেষদিন শুরু করা টাইগাররা দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২০৯ রানে। চতুর্থদিনে ২২১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮০ রান তুলে দিন শেষ করেছিল তারা। টানা দুদিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর তৃতীয় দিনে এসে মাঠে গড়িয়েছিল খেলা। সেদিন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২১১ রানে। জবাবে রস টেলরের ডাবল সেঞ্চুরি ও হেনরি নিকোলসের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৩২ রান তোলার পর প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে কিউইরা।

আগের দিনের ১২ রান নিয়ে মাঠে নামা সৌম্যর ইনিংসটি বেশি বড় করতে দেননি ট্রেন্ট বোল্ট। ২৮ রান করা সৌম্যকে টেলরের ক্যাচ বানিয়ে পরাজয়ের রাস্তা দেখানোর শুরুটা করেন তিনি। আরেক অপরাজিত মিঠুন কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ৪৭ রানের বেশি এগোতে পারেননি। লিটন দাস (১) আরেকবার ব্যর্থ হলে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জাগে টাইগার শিবিরে।

তবে লড়াইটা চালিয়ে যান একাই মাহমুদউল্লাহ। টাইগার অধিনায়ক ওয়ানডে ঢংয়ে ফিফটি তুলে নিয়ে অন্তত ইনিংস হারের লজ্জা এড়াতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ১২ চার ও এক ছক্কায় ৬৯ বলে ৬৮ রান করে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি সাজঘরে ফিরতেই নিয়তি ঠিক হয়ে যায়।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইবাদতকে আউট করে আনুষ্ঠানিকতা সারেন ওয়াগনার। ৪৫ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন ‌ওয়াগনার। ট্রেন্ট বোল্ট নেন ৪ উইকেট।

নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ১৪১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ওয়েলিংটন টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ১৪১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ, হাতে আছে ৭ উইকেট। ৩ উইকেটে ৮০ রান নিয়ে দিন শেষ করে টাইগাররা।

এরআগে দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ৩৮ রান নিয়ে খেলতে নেমে, রস টেলররের ডাবল সেঞ্চুরির পর ৬ উইকেটে ৪৩২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ২১১ রান করেছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। দিনের শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ছিল দ্রুত রান তোলার চেষ্টা। বাংলাদেশের ক্যাচ মিসের সাথে বাজে বোলিং সহজ করে দেয় কাজটা।

২০ রানে দুইবার জীবন পেয়ে রস টেইলর ডাবল সেঞ্চুরি করে থামেন। সেঞ্চুরি করেছেন হেনরি নিকোলাস‌ও। প্রথম সেশনে ১৬০ আর দ্বিতীয় সেশনে কিউইরা তোলে ১৭৪ রান। তাতে ১২২ বলে নিকোলাস ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। টেইলরের ২১১ বলে পেয়ে যান তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। চা বিরতির আধ ঘণ্টা পর ৪৩২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড।

বোলিংয়ের হতাশা দেখা যায় ব্যাটিংয়ে‌ও। ট্রেন্ট বোল্টের পেস নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংস শুরু করা তামিম সাজঘরে ফেরেন বোল্টের শিকার হয়ে। দারুণ খেলতে থাকা সাদমান উইকেট হারিয়েছেন ম্যাট হেনরির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে। মিঠুন ও সৌম্য কোনরকমে কাটিয়ে দেন দিনের বাকিটা সময়। তবু পরাজয়ের শঙ্কা কাটেনি বাংলাদেশের।

রানের পাহাড়ে চড়েও ভারতের হার

রানের পাহাড়ে চড়েও হারতে হলো ভারতকে। উসমান খাজা (৯১), পিটার হ্যান্ডসকম্ব (১১৭) ও টার্নারের (৮৪ অপরাজিত) ব্যাটিংয়ে সিরিজে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২-এ সমতা ফিরিয়ে আনল অজিরা। হেরে হতাশ টিম ইন্ডিয়া। এই ম্যাচও যে হারতে হবে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য বিরাট কোহলির দলের কাছে।

মোহালিতে, ভারতের বিশাল ৩৫৮ রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত ফিরেই সাজঘরে ফেরেন অ্যারন ফিঞ্চ ও শন মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গড়ার কাজ করেন উসমান খাজা ও হ্যান্ডসকম্ব। তাঁরা ১৯২ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। খাজা যখন ফেরেন তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেটে ২০৪। ম্যাক্সওয়েল করেন ২৩ রান। হ্যান্ডসকম্ব আউট হওয়ার পরে টার্নারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। টার্নার-ক্যারি ৪২ বলে ৮৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। মোক্ষম সময়ে কেদার যাদব ও শিখর ধাওয়ান ক্যাচ ফেললে ম্যাচ জেতা সহজ হয়ে যায় অজিদের। শেষ পর্যন্ত ১৩ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় টিম অস্ট্রেলিয়া।

চতুর্থ ওয়ানডেতে ফর্মে ফেরেন শিখর ধাওয়ান। ১১৫ বলে ১৪৩ রান করে শিখর যখন ফিরছেন, ভারতের স্কোরে তখন পর্বত ছোঁয়ার ইঙ্গিত। ৫০ ওভারের শেষে তাদের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান।

আগের তিনটি ম্যাচে ধাওয়ানের ব্যাটে ছিল রান খরা। অথচ আজ রোববার এই বাঁহাতি ওপেনার রীতিমতো রানের খই ফোটান ব্যাটে। মোহালির সবুজ গালিচায় ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ১৪৩ রান করেন। এই মোহালিতেই অভিষেক টেস্টে শিখর ধাওয়ান খেলেছিলেন ১৮৭ রানের রাজকীয় ইনিংস।

ধাওয়ানের মতোই আরেক ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মাও নিন্দুকদের মুখবন্ধ করে দেন এদিন। শেষ তিনটি ওয়ানডে থেকে ‘হিটম্যান’ করেছিলেন মাত্র ৫১ রান। এদিন গর্জে উঠেন তিনি। রোহিত ও ধাওয়ান অজি বোলিংকে তুলোধুনো করে উদ্বোধনী জুটিতে দলের সংগ্রহে যোগ করেন ১৯৩ রান। অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া করেন রোহিত (৯৫)। কিন্তু ধাওয়ান ঠিকই তুলে নেন সেঞ্চুরি (১১৫ বলে ১৪৩ রান)।

তিন নম্বরে নেমে লোকেশ রাহুল ২৬ রানের বেশি করতে পারেন নি। রোহিত-ধাওয়ানের বিস্ফোরণের পরে বাকিরা জ্বলে উঠতে না পারায়, বেশি রান সংগ্রহ করতে না পারলে‌ও পুঁজিটা ফুলেফেপে ‌ওঠে তাদের। পরে অবশ্য অস্ট্রলিয়ান ব্যাটসম্যানরা সেটা মামুলি স্কোরে নামিয়ে আনেন।

আরিফুলের নৈপুণ্যে জিতল প্রাইম ব্যাংক

স্পোর্টস রিপোর্টার
আরিফুল হকের ক্যাচটা ধরতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। হয়তো প্রাইম ব্যাংককে হারিয়ে বিজয়ের পতাকা উড়াত খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। কিন্তু হলো না। শেষ পর্যন্ত খেলাঘরকে ২ উইেকেট হারিয়ে জয় তুলে নিলো প্রাইম ব্যাংকই।

খেলাঘরের দেওয়া ১৯৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে তখনও ১৬ রান পিছিয়ে প্রাইম ব্যাংক। হাতে ৪ উইকেট। ইরফান হোসেনের বলে সিলি মিড অনে ক্যাচ তোলেন আরিফুল। কিন্তু ফিল্ডারের হাত ফসকে পড়ে যায় বল। ২৫ রানে জীবন পেয়ে আরিফুল দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু তার ক্যাচটা হলে ম্যাচ ভিন্ন হতেও পারত।

আরিফুল জীবন পাওয়ার পর প্রাইম ব্যাংক মুহূর্তেই হারায় আরও ২ উইকেট। নাহিদুল (৩১) ও মোহর (৬) আউট হন। কিন্তু খেলাঘর শেষ হাসিটা হাসতে পারেননি। ৩২ রানে অপরাজিত থেকে আরিফুল প্রাইম ব্যাংককে এনে দেয় কাঙ্খিত জয়।

ব্যাটিংয়ের আগে বোলিংয়েও দ্যুতি ছড়ান জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটার। মিরপুরের দারুণ উইকেটে সকালে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন এ মিডিয়াম পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে খেলাঘর টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১৯৫ রান। রান তাড়া করতে গিয়ে ১৮ বল আগে ২ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জেতে প্রাইম ব্যাংক। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন আরিফুল হক।

লক্ষ্য তাড়ায় প্রাইম ব্যাংকের শুরুটা খারাপ ছিল না। ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও রুবেল মিয়া ৬৩ রানের জুটি গড়েন। রবিউল হক, বিজয়কে (৩৭) সাজঘরের পথ দেখান ১৪তম ওভারে। রুবেল হোসেন ফিফটি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে আউট হন মোসাদ্দেক ইফতেখারের বলে। এরপর ধারাবাহিক উইকেট হারিয়ে প্রাইম ব্যাংক, ম্যাচ জটিল করে তোলে। জাকির হাসান (৬), আল-আমিন (১২) ও সুদ্বীপ চ্যাটার্জি (১৪) আউট হন। ষষ্ঠ উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে আরিফুল ও নাহিদুল দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। নাহিদুল শেষ করে আসতে না পারলেও আরিফুল জয় নিয়ে ফিরেছেন। খেলাঘরের দুই পেসার ইরফান ৩ ও রবিউল ২ উইকেট নিয়ে লড়াই করলেও ব্যাটসম্যানরা ভালো পুঁজি না পাওয়ায় জয়ের দেখা পায়নি। ব্যাটিংয়ে খেলাঘরের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন অমিত মজুমদার। ৩৫ রান আসে অশোক ম্যানেরিয়ার ব্যাট থেকে। অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন করেন ২৯ রান।

ম্যাচ শেষে আরিফুল বলেন,‘ক্যাচটা হয়ে গেলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতেও পারত। ক্রিকেট খেলা তো বলা যায় না কিছুই। রানের থেকে বল অনেক বেশি ছিল। আবার শেষের দিকে আমাদের ব্যাটসম্যান ছিল না। যেহেতু অল্পরান ছিল, আমাদের আরেকটু সহজে জেতা উচিত ছিল।’

সৌরভের প্রেমে নাগমা

বলিউডে এক সময়ে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করতেন নাগমা। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে খুবই পরিচিত এক নাম। টলিউড থেকে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন বলিউডে। ৪৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী তেলেগু এবং তামিল ছবিতে‌ও দাপট দেখিয়েছেন। পরে নামেন রাজনীতিতে। কিন্তু নাগমা আজ পর্যন্ত বিয়ে করেননি। বিয়ে করার প্রসঙ্গে তিনি বহুবার বলেছেন লাইফ পার্টনারের খোঁজ এখনও পাননি তিনি। আর তাই বিয়েও করেননি।

আসলে নব্বইয়ের দশকের অভিনেত্রী নাকি তখনকার ভারত অধিনায়ক সৌরভের সঙ্গে প্রেম করছেন, এই জল্পনা জোরালো গুঞ্জনের আকার নিয়েছিল। দু‘জনের ক্যারিয়ারই তখন টপে। ক্রিকেট আর চলচ্চিত্র জগত সবসময়েই ভীষণ কাছাকাছি হাঁটে। কিন্তু ওই জল্পনার পর আর কিছু বিশেষ হয়নি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর এক স্বীকারোক্তি দেন নাগমা। সৌরভ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ভালোবাসতাম, সেই সময় আমার ক্যারিয়ার নিয়ে আমি ব্যস্ত ছিলাম। আমার ওপর অনেক দায়িত্ব ছিল। দু‘জনের ক্যারিয়ারই খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছিল। ফলে সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তাই আমি পিছিয়ে এসেছিলাম।’

শেখ জামাল চ্যাম্পিয়ন

ফরহাদ রেজা একাই লড়ে গেলেন। শুরুতে বল হাতে এরপর ব্যাটিংয়েও। কিন্তু এগারজনের ক্রিকেটে একা কী সব করা যায়? যায়না বলেই গতকাল সোমবার রাতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে হারতে হলো প্রাইম দোলেশ্বর ক্রিকেট ক্লাবকে। ২৪ রানের অনায়াস জয়ে ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টুয়েন্টির শিরোপা জিতেছে শেখ জামাল। শেখ জামাল ধানমন্ডির ৭ উইকেটে ১৫৭ রানের জবাবে ৮ উইকেটে ১৩৩ রানে থামে প্রাইম দোলেশ্বর।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, ফাইনালে টস জিতে নূরুল হাসান সোহানের ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটা যে যৌক্তিক সেটা প্রমানে নামেন শেখ জামালের দুই ওপেনার। ৬২ রানের জুটি গড়েন ইমতিয়াজ হোসেন ও ফারদিন হাসান। এরমধ্যে ২০ বলে ১৮ রান তুলে সাজঘরের পথ ধরেন ফারদিন। এরপর অবশ্য হতাশ করে ফেরেন হাসানুজ্জামান (৪) ও নাসির হোসেন (৫)।

তবে সাবলীল ছিল ইমতিয়াজের ব্যাট। ৪০ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। আরাফাত সানির বলে উইকেট উড়ে যাওয়ার আগে ৪৪ বলে দুটি ছক্কা ও চারটি বাউন্ডারিতে তিনি করেন ৫৮ রান। এরপর ২৭ বলে ৩৩ রান তুলে সাজঘরের পথ ধরেন নূরুল হাসান সোহান। শেষে তানভীর হায়দার ১৫ বলে করেন ৩১ রান। তারই পথ ধরে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় শেখ জামাল। প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজা ৩২ রানে নেন ৩ উইকেট।

জবাবে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত ছিল প্রাইম দোলেশ্বরের। দ্রুত ৩৮ রান তুলে পথ দেখান সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ আরাফাত। ৩৩ করে ফেরেন সানি জুনিয়র। ‍তারপরই অবশ্য দল পথ হারায়। দ্রুত বিদায় নেন ৪ ব্যাটসম্যান। সাইফ হাসান ফেরেন ২৬ রানে। তার পিছু নেন মার্শাল আইয়ুব (৩), মাহমুদুল হাসান (৩) ও ফরহাদ হোসেন (৬)।

তবে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিলেন ফরহাদ রেজা। ২০ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে দলকে নিয়ে যান লক্ষ্যের কাছাকাছি। কিন্তু নূরুল হাসান সোহানের দুর্দান্ত ক্যাচে ধরেন সাজঘরের পথ। শেষ ৬ বলে ২৮ রান চাই তাদের। কিন্তু ফরহাদ রেজার লড়াই বৃথা করে দোলেশ্বর আটকে যায় ১৩৩ রানে। ৪ উইকেট নেন শহীদুল ইসলাম।
৫৮ রানের ইনিংস খেলা শেখ জামালের ওপেনার ইমতিয়াজ হন ফাইনালের সেরা। আর ১০৭ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা দোলেশ্বর অধিনায়ক ফরহাদ রেজা।

ভারতের উপর করের বোঝা!

ভারতের উপর করের বোঝা চাপাতে চাইছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-আইসিসি। সেদেশের সরকার কর ম‌ওকুফ না করলে ভারতে আসন্ন দুই বিশ্বকাপের জন্য বিসিসিআইয়ের উপর প্রায় দেড়শো কোটি টাকার করের বোঝা চাপবে বলে জানিয়েছে আইসিসি। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন বোর্ড কর্তারা। লোকসভা নির্বাচনের পরে নতুন সরকার গঠন না হলে এই ব্যাপারে আলোচনায়‌ও বসতে পারছেন না তাঁরা। তাই আইসিসির কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ড।

২০২১ সালে বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ও ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ভারতে হওয়ার কথা। এই দুই প্রতিযোগিতার জন্য বিপুল অঙ্কের কর দিতে হবে সরকারকে। তবে করের বোঝা আইসিসি নিজেদের কাঁধে নিতে রাজি নয়। অন্যান্য দেশের সরকার কর ছাড় দিলেও ২০১৬ সালে যখন বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি হয়েছিল ভারতে, তখন সরকার কর ম‌ওকুফ করেনি। তাই গত দু’দিনে দুবাইয়ে আইসিসি-র যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়, তাতে সংস্থার চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর ভারতীয় বোর্ড কর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত সরকার যদি এবারেও কর ম‌ওকুফ না করে, তবে সেই কর সেদেশের বোর্ডকেই দিতে হবে।

লোকসভা নির্বাচনের পরে বোর্ড কর্তারা কর ম‌ওকুফের বিষয় নিয়ে নতুন সরকারের সাথে আলোচনা করতে চান। তাই আইসিসি’র কাছে সময় চেয়েছেন তাঁরা। তবে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী আইসিসি। আইসিসি’র কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের (সিওএ) চেয়ারম্যান বিনোদ রাই জানান, ‘কর সংক্রান্ত আইন বেশ জটিল। তাই সব না জেনে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না। তবে আমার মনে হয় এই সমস্যার সমাধান হবে।’

এদিকে, সন্ত্রাসে মদতদাতা পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়ার যে আবেদন করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তা বাতিল করে দিয়েছে আইসিসি।

হ্যামিল্টনে বাংলাদেশের ইনিংস পরাজয়

সৌম্য সরকার আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরির পরও হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫২ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড। ৪৮১ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা সফরকারীরা অলআউট হয় ৪২৯ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৩৪ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ডের রান ছিলো ৭১৫।

এ যেনো এক রুপকথা। যে গল্পে রাজা দুজন। এটা যেমন ব্যতিক্রম। এ রূপকথায় রাজাদের বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়তে না পারাটাও ব্যতিক্রম। তবু সৌম্য সরকার আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে এতোটা উচ্ছাস কেনো? জানতে একটু ইনিংসে চোখ বুলাতে হচ্ছে। আগের দিন ১২৬ রানে চার উইকেট হারানোর পর কে ভেবেছিলো, এই ইনিংস তৃতীয় সেশনে গড়াবে? কে ভেবেছিলো প্রথম ইনিংসে ৬০ ওভার গুড়িয়ে যাবার পর দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগাররা খেলবেন ১০৩ ওভার?

ট্রেন্ট বোল্ট, নেইল ওয়াগনারদের পাঁজর লক্ষ্য করে ছোঁড়া বলগুলো সৌম্য-রিয়াদরা একের পর এক সীমানার বাইরে আঁছড়ে ফেলবেন এমনটাই বা কে ধরে নিয়েছিলেন? সেই সব ভিভীষিকা আর শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করতে পারাতেই এই টেস্টটা বিশেষ হয়ে থাকছে বাংলাদেশের।

অথচ প্রায় দুই বছর পর ফিফটি আর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পরও সৌম্যের উদযাপনে কোন বিশেষত্ব ধরা পড়লোনা। তামিমের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুয়েও, তিনি যেনো বুঝাতে চাইলেন পুর্ণজম্মের গল্পটা সবে শুরু।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দলকে সৌম্যের সাথে টেনে নিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও দেখালেন ক্যাপ্টেন্স নক কাকে বলে। এতো সব প্রমাণের দিনে টাইগাররা পায় পঞ্চম উইকেটে তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৩৫ রানের জুটি। ১৬ রানে শেষ তিন উইকেট হারিয়ে টাইগাররা আর লিড নিতে পারেনি। তাই পরিসংখ্যান বলবে এটি ছিলো ইনিংস পরাজয়। তবে লড়াইয়ের আগেই হেরে না যাবার মানসিকতা দেখানো সৌম্য-রিয়াদদের প্রাপ্য সম্মানটুকু তো দিতেই হবে।

ভারতের সামনে টি-টোয়েন্টি পরাজয়ের প্রতিশোধ মিশন

শুরুতে পরাজয়ের শঙ্কায় থাকলে‌ও মহেন্দ্র সিং ধোনী ‌ও কেদার যাদবের ব্যাটে দশ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে সিরিজের প্রথম ‌ওয়ানডে ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের জ্বালা কিছুটা হলে‌ও জুড়ালো ভারত। সেই সাথে প্রতিশোধ নেওয়ার‌ও বড় সুযোগ এখন ভারতের সামনে। মাত্র ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারালে‌ও পঞ্চম উইকেটে ধোনী ‌ও যাদব শুধু ১৪১ রান দলের স্কোরে যোগই করেন নি, এনে দেন দারুণ এক জয়। আজ শনিবার মোহাম্মদ শামির নেতৃ্ত্বে ভারতীয় বোলারদের দৌরাত্ম্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারের শেষে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল সাত উইকেটে ২৩৬ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১০ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া।

২৩৭ রানের টার্গেটে নেমে রান পাননি শিখর ধা‌ওয়ান (০)। রোহিত শর্মা (৩৭), বিরাট কোহলি (৪৪) ও রায়ডু (১৩) ফিরে যাওয়ার পর, ভারতের ইনিংসের হাল ধরেন ধোনি ও কেদার যাদব। দু’জনে পঞ্চম উইকেটে ১৪১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। এই পার্টনারশিপই ভারতকে এনে দেয় কাঙ্খিত জয়। ম্যাচ সেরা কেদার যাদব ৮১ ‌ও মঞেন্দ্র সিং ধোনী ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

বিশ্বকাপের আগে এটাই শেষ ওয়ানডে সিরিজ ভারতের। অজিদের মাটি নামানোর পাশাপাশি বিরাট কোহলির দলের শক্তি পরীক্ষা করে নেওয়া এবং দলের পরীক্ষা-নিরীক্ষার এটাই শেষ সুযোগ। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতীয় বোলাররা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেন। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই দাপটের সঙ্গে বোলিং করতে দেখা যায় ভারতীয় বোলারদের।

ইনিংসের নবম বলেই প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই অ্যারন ফিঞ্চকে (০) ফিরিয়ে দেন জাসপ্রিত বুমরা। শুরুর ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন উসমান খাজা ও মার্কাস স্টোনিস। কেদার যাদব ফেরান স্টোনিসকে (৩৭)। অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ২ উইকেটে ৮৭।

স্কোর বোর্ডে আরও ১০ রান যোগ করার পরে খাজাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান কুলদীপ যাদব। বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন, দেশের মাটিতে ভারতের রিস্ট স্পিনারদের সামলাতে বেগ পেতে হবে অজিদের। হায়দরাবাদেও তাই হল। হ্যান্ডসকম্বকে (১৯) ফেরান কুলদীপ। ঠিক ভাবে পার্টনারশিপ গড়তে না গড়তেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে অজিরা।

পরে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৪০ ‌ও অ্যালেক্স ক্যারে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে শামি, বুমরা ও কুলদীপ দুটি করে উইকেট নেন।