রাত ১০:২৬, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

আর মাত্র ক’দিন পরেই শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আট দলের অংশগ্রহনে এবারের আসরটি বেশ জমজমাটই হতে চলেছে। এই টুর্নামেন্টে এক দশকেরও বেশি সময় পর খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যেখানে ইতোমধ্যে যেকোনো দলের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। আগামী ১ জুন ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদেরই বিপে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা দলগুলোই লড়াই করবে। যেখানে গ্রুপ ‘এ’তে রয়েছে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। আর ‘বি’ গ্রুপে আছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দণি আফ্রিকা। এই আটটি দলে রয়েছে অসংখ্য তারকা ক্রিকেটার। যারা এবারের আসরে দেখাতে পারেন চমক করা পারফরম্যান্স। এই তারকাদের একজন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলি এক কলামে আট দল থেকে একজন করে সেরা ক্রিকেটার বাছাই করা হয়েছে। এ তালিকায় টাইগার ড্যাশিং ব্যাটসম্যান তামিমের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
কলামে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে এই দলটি দারুণ উন্নতি করেছে। অবশ্যই তারা টুর্নামেন্টে অন্য দলগুলোর জন্য হুমকি। তাদের কয়েকজন সেরা স্পিনার রয়েছেন যারা প্রতিপরে জন্য টার্নিং উইকেটে ভয়ঙ্কর হতে পারেন। পরে বিশেষ ক্রিকেটার হিসেবে তামিম সম্পর্কে বলা হয়, টপ অর্ডারে দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান তামিম। তার দিনে সে প্রতিপকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সত্যিকারের একজন স্ট্রোক খেলোয়াড়, যে কিনা প্রথম বল থেকেই ভয়হীন ক্রিকেট খেলেন।
নিচে অন্য সাত দলের সেরা ক্রিকেটারের নাম দেওয়া হলো :
ভারত-রবিচন্দ্রন অশ্বিন (স্পিন অলরাউন্ডার)।
দণি আফ্রিকা-কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক-ব্যাটসম্যান)।
শ্রীলঙ্কা-অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (ব্যাটিং অলরাউন্ডার)।
পাকিস্তান-মোহাম্মদ আমির (ফাস্ট বোলার)।
ইংল্যান্ড-আদিল রশিদ (লেগ স্পিনার অলরাউন্ডার)।
অস্ট্রেলিয়া-জেমস প্যাটিনসন (ফাস্ট বোলার)।
নিউজিল্যান্ড-কেন উইলিয়ামসন (ব্যাটসম্যান)।

এ ম্যাচও হারল বাংলাদেশ!

এটাকে কি বলা চলে? জিততে না চাওয়া? ৩৪১ রান করে পাকিস্তানের আট উইকেট ২৪৯ রানে ফেলে দেয়ার পরও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ জিততে পারল না। দুই বোলার ফাহিম আশরাফ ও হাসান আলী মিলে নাকাানিচুবানি খাওয়ালেন বাংলাদেশের বোলারদের। ৪৪ বলে দরকার ছিল ৯৩ রান। যা তারা ৩ বল হাতে রেখে তুলে নেন। ৪২.৪ ওভারে ২৪৯ রানে পাকিস্তান তাদের ৮ উইকেট হারায়। এ সময় মনে হচ্ছিল জয় বাংলাদেশের হাতের নাগালে। কিন্তু মাশরাফি-তাসকিনদের নিয়ে ছেলেখেলা খেললেন ফাহিম ও হাসান। ফাহিমের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। এই বোলার মাত্র ৩০ বলে চারটি করে চার ও ছক্কা মেরে অপরাজিত ৬৪ রান করেন। বাংলাদেশের জয় তুলে নেয়ার কাজে সাহায্যে করেন হাসান আলীও। তিনি ১৫ বলে ২৭ রান করে অজেয় হয়ে যান টাইগার বোলাদের কাছে। পাকিস্তান ২ উইকেটে জয় লাভ করে ৩ বল বাকি রেখে।
অথচ রানের পাহাড়ে চড়তে গিয়ে পাকিস্তান ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারায়। তাসকিন আহমেদের বলে মাত্র ৮ রানে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ হন পাকিস্তানি ওপেনার। পরের ওভারে মাশরাফি মুর্তজা পান দ্বিতীয় উইকেট। এবারও মুশফিক গ্লাভসবন্দি করেন বাবর আজমকে (১)।
আহমেদ শেহজাদ ও মোহাম্মদ হাফিজ তাদের ব্যাটিং লাইনআপকে কিছুটা মেরামত করতে সফল হন। ৫৯ রানের জুটি গড়েন তারা। এ শক্ত জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ৪৪ রানে শেহজাদকে বোল্ড করেন তিনি।
এর পর শোয়েব মালিককে নিয়ে দাঁড়িয়ে যান হাফিজ। ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি হাফিজ। ৪৯ রানে তাকে ক্রিজ ছাড়া করেন শফিউল ইসলাম। মোসাদ্দেক হোসেন প্রতিপ অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে ফেরালে পাকিস্তানকে আরও চাপে ফেলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়া শোয়েব মালিক সাজঘরে ফেরেন ৭২ রান করে। তাকে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানান মেহেদী হাসান মিরাজ। কয়েক ওভার যেতেই সাদাব খান রান আউট হন। পরের ওভারে মিরাজ ফেরান ইমাদ ওয়াসিমকে (৪৫)।
এর আগে টস জিতে পাকিস্তানের বিপে দুর্দান্ত ব্যাটিং অনুশীলন করে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল ৯ উইকেটে ৩৪১ রান করেছে তারা।
বার্মিংহামের এজবাস্টনে শুরুটা হোঁচট খায় বাংলাদেশ। জুনাইদ খানের বলে মাত্র ১৯ রানে সৌম্য সরকার বাবর আজমের ক্যাচ হন। এর পর ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় উইকেটে ১৪২ রানের শক্তিশালী জুটি গড়েন তারা। হাফসেঞ্চুরি পাওয়ার পর বেশিণ টিকতে পারেননি ইমরুল। ৬২ বলে ৮ চারে ৬১ রানে সাদাব খানের শিকার তিনি। তবে তামিম অপর প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রেখেছিলেন। মুশফিকের সঙ্গে মাত্র ৪০ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে ফিরতে হয় তাকে। সাদাব তাকে ফেরান। জুনাইদের ক্যাচ হওয়ার আগে তামিম ৯৩ বলে ৯ চার ও ৪ ছয়ে ১০২ রান করেন।
মুশফিক ৩টি করে চার ও ছয়ে হাফসেঞ্চুরির আপে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩৫ বলে ৪৬ রানে তিনি জুনাইদের শিকার হলে দুর্বার রানের গতি কিছুটা কমে যায়।
হাসান আলী তার এক ওভারে মাহমুদউল্লাহ (২৯) ও সাকিব আল হাসানকে (২৩) ফেরালে পরের ব্যাটসম্যানরা বড় অবদান রাখতে পারেনি। মোসাদ্দেক ১৫ বলে ২৬ রানের ছোট ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের জুনাইদ খান তার শেষ ২ ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ৯ ওভারে ৭৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। দুটি করে পান হাসান ও সাদাব।

প্রস্তুতি ম্যাচে তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রান পেয়েছেন। চার ম্যাচের দুই ম্যাচেই পেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নিলেন তামিম। ৮৮ বলে ৯ চার ৪ ছয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৪ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান।

বার্মিংহামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য। তামিম একটু ধীর গতিতে খেললেও সৌম্য রানের চাকা সচল রাখছিলেন। তবে নিজের ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১৯ রান করে জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

তবে সৌম্যের বিদায়ের পর চেনা রূপে ব্যাট করতে থাকেন এই ব্যাটসম্যান। জুনায়েদ খানের এক ওভারেই তুলেন ২৫ রান। পাকিস্তানের বাকি বোলারদেরও ছেড়ে কথা বলেননি তামিম। ৩৯ বলে ৭ চার ২ ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার।

তামিমের পর পাকিস্তান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন ইমরুল। ৪৬ বলে ৭ চারে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানও। তবে এরপর ব্যক্তিগত ৬১ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে দুইজন মিলে গড়েন ১৪২ রানের জুটি।

ইমরুলের বিদায়ের পর মুশফিককে সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যান তামিম। তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি। তবে এরপর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি তামিম। ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

৩০০ পেরিয়ে বাংলাদেশ

তামিমের সেঞ্চুরি ইমরুলের হাফ সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত শুরুতেই দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এই দুইজনের বিদায়ের পর শঙ্কা ছিল রানের গতি নিয়ে। তবে মুশফিক, সাকিবদের ব্যাটে রানের গতি ঠিক রেখে ৪৪ ওভারেই ৩০০ পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান।

বার্মিংহামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য। তামিম একটু ধীর গতিতে খেললেও সৌম্য রানের চাকা সচল রাখছিলেন। তবে নিজের ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১৯ রান করে জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

তবে সৌম্যের বিদায়ের পর চেনা রূপে ব্যাট করতে থাকেন এই ব্যাটসম্যান। জুনায়েদ খানের এক ওভারেই তুলেন ২৫ রান। পাকিস্তানের বাকি বোলারদেরও ছেড়ে কথা বলেননি তামিম। ৩৯ বলে ৭ চার ২ ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার।

তামিমের পর পাকিস্তান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন ইমরুল। ৪৬ বলে ৭ চারে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানও। তবে এরপর ব্যক্তিগত ৬১ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে দুইজন মিলে গড়েন ১৪২ রানের জুটি।

ইমরুলের বিদায়ের পর মুশফিককে সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যান তামিম। তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি। তবে এরপর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি তামিম। ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি মুশফিকও। ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। এরপর সাকিব ২৩ ও মাহমুদউল্লাহ ২৯ রান করে ফিরলেও বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়ছে পাকিস্তান

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ জয়ে ৩৪২ রানের টার্গেটে নেমে, ১৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে পাকিস্তান। দলের ১৪ রানে ওপেনার আজহার আলীকে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দি করান তাসকিন আহমেদ। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১৪ বলে ৮ রান করেন আজহার আলী। দলের ১৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বাবর আজম। ৩ বলে ১ রান সংগ্রহ করা বাবরকে মুশফিকের গ্লাভসে জমা করান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এরআগে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৩৪১ রান তোলে বাংলাদেশ।
এজবাস্টনে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার জুনায়েদ খানের বলে ১৯ রানের পুঁজিতে ফিরে গেলেও, নবম ওভারে জুনাইদের ওই ওভার থেকে মোট ২৫ রান নেয় টাইগাররা। ইমরুলের সঙ্গে তামিমের জুটিও বরাবরের মতো জমে যায় দারুণ। ৩৯ বলে ফিফটি করেন তামিম। আর ইমরুল করেন ৪৭ বলে। ১২২ বলে ১৪২ রানের জুটি গড়ে ইমরুল বিদায় নেন ৬১ রান করে। মুশফিককে নিয়ে চালিয়ে খেলেন তামিম। সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন ৮৮ বলে। ৯৩ বলে ৯টি চার, ৪টি ছক্কায় ১০২ রানের ইনিংস খেলা তামিমকে থামান শাদাব খান।
পরে মুশফিকের ৪৬, মাহমুদুল্লাহর ২৯ এবং মোসাদ্দেকের ২৬ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩৪১ রান।

এখানেই থেমে থাকতে রাজি নন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

ওয়ালটন ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার বিষয়টিও এক প্রকার নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

শুক্রবার প্রস্তুতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা এখন র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দের। দলের সবাই এই উন্নতিতে খুবই খুশি। তবে আমরা এখান থেকে আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাই। এখন থেকে যতদূর যাওয়া সম্ভব ততদূর যেতে চাই।’

২০০৬ সালের পর আবার আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ডেথ গ্রুপ খ্যাত ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তার আগে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

আগামীকাল শনিবার প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি ও পিটিবি। আর ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস-৪ এ।

আইপিএল জয়ী কোচ জয়াবর্ধনে এবার খুলনা টাইটান্সে

ক্রীড়া ডেস্ক :

আইপিএলের দশম আসরের চ্যাম্পিয়ন দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। এবার তাকেই কোচ হিসেবে পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ তথা বিপিএলের দল খুলনা টাইটান্স। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন খুলনা টাইটান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী ইনাম আহমেদ।

মাহেলা জয়াবর্ধনেকে কোচ হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, ‘বিপিএলের পরবর্তী দুই আসরের জন্য মাহেলা জয়াবর্ধনেকে খুলনা টাইটান্সের প্রধান কোচ হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তিনি সব সময় মাঠে বড় মাপের নেতা ছিলেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে বড় বড় টুর্নামেন্ট জিতেছেন। সম্প্রতি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের ভূমিকায় থেকে তিনি শিরোপা জেতায় আমরা মুগ্ধ হয়েছি। আমরা নিশ্চিত তার কাছ থেকে খুলনা টাইটান্স অনেক কিছু শিখতে পারবে এবং তার উপস্থিতি টুর্নামেন্টকে সমৃদ্ধ করবে।’

মাহেলা জয়াবর্ধনে বলেন, ‘গেল বছর আমি বিপিএলে খেলাটা বেশ উপভোগ করেছি। গেল বছরের অভিজ্ঞতা আসন্ন আসরে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে দরকার হবে। বিপিএল বাংলাদেশে খুবই আকর্ষণীয় একটি টুর্নামেন্ট। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের জন্য। খুলনা টাইটান্সের মতো একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’

এর আগে খুলনা টাইটান্সের কোচের ভূমিকায় ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট ল। তিনি সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। সে কারণে খুলনা টাইটান্সর কোচের ভূমিকায় থাকতে পারছেন না। ল এর স্থলাভিষিক্ত হবেন মাহেলা।

শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনেকে দুই মৌসুমের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে খুলনা টাইটান্স। জয়াবর্ধনে আইপিএলের গেল আসরেও ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলেছেন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন দেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলছেন। কখনো তিনি খেলোয়াড়ের ভূমিকায়। আবার কখনো মেন্টর কিংবা কোচের ভূমিকায়। তবে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত আইপিএলে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচের ভূমিকায় ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আইপিএলের দশম আসরের শিরোপা জিতেছে।

বিপিএলের পঞ্চম আসর মাঠে গড়াবে ৪ নভেম্বর থেকে। গেল আসরে খুলনা টাইটান্সকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার অধিনায়কত্বে লিগ পর্যায়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউট পর্বে উঠেছিল খুলনা।

টি-টোয়েন্টিতেও আসছে রিভিউ

ক্রীড়া ডেস্ক :

টেস্ট ও ওয়ানডের পর এবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও আসতে চলেছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)। লন্ডনে কাল আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভার বৈঠকে এই নতুন প্রস্তাব উঠে এসেছে। অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন আইসিসির ক্রিকেট কমিটি ক্রিকেটের আইন পরিবর্তন করার আরো বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন।

টেস্টে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও আসবে পরিবর্তন। বর্তমানে আম্পায়ারের কোনো এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ নেওয়া হলে, যদি রিপ্লেতে ‘আম্পায়ার্স কল’ দেখা যায় তবে সে সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন হয় না এবং আবেদন করা দলটির একটি রিভিউ নষ্ট হয়ে যায়। তবে ক্রিকেট কমিটি যে সুপারিশ করেছে তাতে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তে ‘আম্পায়ার্স কল’ হলে সিদ্ধান্ত পক্ষে না পাওয়া দলকে রিভিউ হারাতে হবে না। সেক্ষেত্রে অবশ্য প্রতি ৮০ ওভারে নতুন দুটি রিভিউ পাওয়ার নিয়মটা বাতিল হয়ে যাবে। তখন পুরো ইনিংসেই শুধু দুটি রিভিউ থাকবে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলো পাশ হলে আসছে অক্টোবর থেকেই নিয়মগুলো চালু হবে। আইসিসির ১৩ সদস্যের ক্রিকেট কমিটি আরো যেসব সুপারিশ করেছেন:

বদলি খেলোয়াড়
পরীক্ষামূলকভাবে দুই বছরের জন্য এটা চালু করতে চায় ক্রিকেট কমিটি। কোনো খেলোয়াড় গুরুতর আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লে, তার বদলি হিসেবে নতুন একজনকে নামানো যাবে। অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ ঘরোয়া মৌসুমে এটা চালু করা হয়েছিল।

লাল কার্ড
মাঠে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভব্য আচরণের জন্য ক্রিকেটারদের লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দিতে পারবেন আম্পায়ার। ইংল্যান্ডের নিচের স্তরের ক্রিকেটে এরই মধ্যে এই নিয়ম চালু হয়েছে।

নো বল
নতুন প্রস্তাবে থার্ড আম্পায়ার প্রতিটা বল পর্যবেক্ষণ করবেন। নো বল হলে রিপ্লে দেখে সঙ্গে সঙ্গে থার্ড আম্পায়ার তার সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন। নমুনা হিসেবে গত বছর ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের একটি ম্যাচের ভিডিও দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেট কমিটি।

রানআউটের নিয়ম সংশোধন

বর্তমানে ব্যাটসম্যান ক্রিজ অতিক্রম করার পর বেল পড়ার সময় যদি তার ব্যাট বা পা শূন্য থাকে, তাহলে তাকে রানআউট দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে একবার ব্যাট বা পা ক্রিজ অতিক্রম করলে, পরে শূন্য থাকলেও ব্যাটসম্যানকে আর রানআউট হতে হবে না।

তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো।

আফগানিস্তানের লিগে খেলবেন তামিম-সাব্বির-ইমরুল

ক্রীড়া ডেস্ক :

বাংলাদেশ কখনো আফগানিস্তান সফর করেনি। বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় এর আগে আফগানিস্তানের কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে যায়নি। ভবিষ্যতে যাবে কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। কিন্তু আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শাপাগিজা ক্রিকেট লিগের দল স্পিন গড় টাইগার্স, বুস্ট ডিফেন্ডার্স ও কাবুল ঈগলস দলে ভিড়িয়েছে তামিম ইকবাল ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমানকে। ছয় দলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্ট ১৮ থেকে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার এই লিগের অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অকশনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দের রাখা হয়। এর আগে এই লিগে শুধু জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা খেলেছিলেন। এবার বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছেন।

বাংলাদেশের তামিম ইকবালকে ২১ লাখ আফগানিতে (প্রায় ২৫ লাখ টাকা) দলে ভিড়িয়েছে স্পিনগড় টাইগার্স। ইমরুল কায়েসকে ৭ লাখ আফগানিতে (প্রায় ৯ লাখ টাকা) বুস্ট ডিফেন্ডার্স ও একই মূল্যে সাব্বির রহমানকে দলে ভিড়িয়েছে জিপি কাবুল ঈগলস।

ছয়টি দলের ছয়টিই আফগানিস্তানের শিল্পপতিদের মালিকানাধীন। বাইরের কারো মালিকানা নেই। লিগের ম্যাচগুলো আফগানিস্তানেই অনুষ্ঠিত হবে। এই মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে খেলাটিকে আরো জনপ্রিয় করে তোলা হবে। পাশাপাশি আফগানিস্তান যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ সেটা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

ম্যাথুস ৯৫, শ্রীলঙ্কা ৩১৮

ক্রীড়া ডেস্ক :

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূল মঞ্চে নামার আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই হলো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। তার দল আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তুলেছে ৩১৮ রান। ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন আসেলা গুনারত্নে।

অস্ট্রেলিয়া আজ তাদের নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে ছাড়াই খেলছে। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার শুরুটা হয় উড়ন্ত। দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্কা ও নিরোশান ডিকভেলা ৬ ওভারে বিনা উইকেটে তোলেন ৪৭ রান। কিন্তু এরপর কিছুটা পথ হারায় শ্রীলঙ্কা, একশর আগেই বিদায় নেন ওপরের দিকের চার ব্যাটসম্যান। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ রান ডিকভেলার। দিনেশ চান্দিমাল করেন ১৭।

এরপর পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম উইকেটে পঞ্চাশোর্ধ তিনটি জুটি শ্রীলঙ্কাকে এনে দেয় বড় সংগ্রহ। পঞ্চম উইকেটে চামারা কাপুগেদারার (৩০) সঙ্গে ৬০ ও ষষ্ঠ উইকেটে গুনারত্নের সঙ্গে ৯০ রানের বড় জুটি গড়েন ম্যাথুস। লঙ্কান অধিনায়কের সামনে ছিল সেঞ্চুরি সুযোগ। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতে মইসেস হেনরিকেসের বলে অ্যাডাম জামপাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ১০৬ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৯৫ রানের ইনিংসটি সাজান লঙ্কান অধিনায়ক।

২৪৩ রানে ম্যাথুসের বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার সংগ্রহটা তিনশ পেরিয়েছে মূলত সপ্তম উইকেটে গুনারত্নে ও সিকুগে প্রসন্নর মাত্র ৩৭ বলে ৭০ রানের জুটিতে। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে ৩ ছক্কা ও এক চারে ৩১ রান করেন প্রসন্ন। ৫৬ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন গুনারত্নে। ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার হেনরিকেস। জশ হ্যাজেলউড, জেমস প্যাটিনসন, প্যাট কামিন্স ও ট্রাভিস হেড নেন একটি করে উইকেট।

টানা পাঁচ ইনিংসে সেঞ্চুরি সাঙ্গাকারার

ক্রীড়া ডেস্ক :

আগের ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করে কুমার সাঙ্গাকারা ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের কাউন্টি মৌসুম শেষেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন। লঙ্কান গ্রেট কাল পরের ম্যাচেই আবার করলেন সেঞ্চুরি!

আট দিনের মধ্যে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা পাঁচ ইনিংসে সেঞ্চুরি! সারের আর কোনো ব্যাটসম্যানের এই কীর্তি নেই।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ইতিহাসেই সাঙ্গাকারার আগে এই কীর্তি গড়েছেন কেবল সাতজন। এর মধ্যে চার্লস বার্জেস ফ্রাই, মাইক প্রোক্টার ও স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সেঞ্চুরি আছে টানা ছয় ইনিংসে।

অথচ চেমসফোর্ডে কাল এসেক্সের বিপক্ষে সাঙ্গাকারা যখন উইকেটে এলেন, ৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে সারে। দ্রুত বিদায় দেখেছেন আরো তিন সতীর্থের। প্রথম ৫০ মিনিটে ৩১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়া সারে তখন একশ’র আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায়।

কিন্তু সারের আছে যে একজন সাঙ্গাকারা! লঙ্কান গ্রেট সব শঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে তিনি স্যাম কুরানকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১৯১ রানের বিশাল জুটি। কুরান ৯০ করে ফিরলেও লঙ্কান গ্রেট তুলে নেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬১তম সেঞ্চুরি।

অষ্টম উইকেটে সাঙ্গাকারা-স্টুয়ার্ট মেকারের অবিচ্ছিন্ন ৯৫ রানের জুটিতে সারে প্রথম দিন শেষ করেছে ৭ উইকেটে ৩৩৪ রানে! ২৭৬ বলে ২৩টি চারের সাহায্যে ১৭৭ রানে অপরাজিত থাকা সাঙ্গাকারা আছেন ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষায়।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা সাঙ্গাকারার ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা চার ইনিংসে সেঞ্চুরি আছে। যে কীর্তি নেই আর কারও!

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৯ বছর বয়সি সাঙ্গাকারার শেষ পাঁচ ইনিংস- ১৭৭*, ১২০, ১১৪, ১০৫ ও ১৩৬।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা ইনিংসে সেঞ্চুরি

খেলোয়াড় সেঞ্চুরি-সংখ্যা মৌসুম
স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ১৯৩৮-৩৯
চার্লস বার্জেস ফ্রাই ১৯০১
মাইক প্রোক্টার ১৯৭০-৭১
ব্রায়ান লারা ১৯৯৩-৯৪
স্যার এভারটন উইকস ১৯৫৫-৫৬
মাইক হাসি ২০০৩
পার্থিব প্যাটেল ২০০৭-০৮
কুমার সাঙ্গাকারা ২০১৭

 

ইংল্যান্ডের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি

ক্রীড়া ডেস্ক :

ঘরের মাঠে আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে দারুণ ছন্দে আছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। নিজেদের শেষ দুই ওয়ানডে সিরিজে যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংলিশরা। এউইন মরগানের দলের সামনে এবার আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি। তাও আবার ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

লিডসে গত বুধবার প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭২ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেবে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়।

প্রথম ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি পেয়েছেন মরগান। অধিনায়কের ৯৩ বলে করা ১০৭ রানে ইংল্যান্ড তুলেছিল ৩৩৯ রান। হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসির ব্যাটে পাল্টা জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সফরকারীরা ১ উইকেটে তুলে ফেলেছিল ১৪৫ রান। কিন্তু ৫৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ৭২ রানে ম্যাচ হারে প্রোটিয়ারা।

চোট সারিয়ে আজ ইংল্যান্ড দলে ফিরছেন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। আজ ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস তাই আরো বাড়বে। ওদিকে হাশিম আমলার সামনে দারুণ এক মাইলফলকের হাতছানি। আর ৪৭ রান করলেই বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে দ্রুততম ৭ হাজার রানের রেকর্ড গড়বেন প্রোটিয়া ওপেনার।

প্রস্তুতি ম্যাচে ফিঞ্চের তাণ্ডব

ক্রীড়া ডেস্ক : লন্ডনের কেনিংটন ওভালের ২২ গজে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন অ্যারন ফিঞ্চ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূল পর্ব শুরুর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১০৯ বলে ১৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

শনিবার শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩১৯ রানের বড় লক্ষ্যে ভালো শুরু দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ফিঞ্চের সঙ্গে ৬৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ১৯ রানে ফেরেন এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়া ওয়ার্নার।

ফিঞ্চ শুরুতে দেখেশুনে খেললেও পরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৩৯ বলে ফিফটি করার পর পরের পঞ্চাশ করেন ৩৭ বলে।  ব্যক্তিগত ৯৫ থেকে আসেলা গুনারত্নেকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৭৬ বলে ছুঁয়ে ফেলেন তিন অঙ্ক।

শ্রীলঙ্কার পেসার নুয়ান প্রদীপের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১০৯ বলে ১১ চার ও ৬ ছক্কায় ১৩৭ রানের টর্নেডো ইনিংসটি সাজান ফিঞ্চ। তার বিদায়ের পরের বলে গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৩৫.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ২১৮।

 

পাকিস্তান এখনও অনেক বড় দল : মাশরাফি

পাকিস্তানকে র‌্যাংকিংয়ে নিচে ফেলে দেয়া হয়েছে আরও দুই বছর আগে। পাকিস্তানের আগেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মাঠে নামার আগে সেই পাকিস্তানের বিপক্ষেই নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার ম্যাচ মাশরাফিদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য প্রস্তুতিটা কেমন হলো, এই ম্যাচ যেন তার মডেল টেস্ট। বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল ৩.৩০ এ মুখোমুখি হবে দুই দল।

প্রস্তুতি ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে নিয়েও সতর্ক বাংলাদেশ। তাদেরকে সমীহই করছে বাংলাদেশ। বরং, মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়ে দিলেন র্যাংকিংয়ে নিচে থাকলেও তারা এখনও অনেক বড় দল। বড় দল বলে পাকিস্তানের ওপরও চাপ থাকবে বলে জানালেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘যদি কিছু করতে চান, সেটা করার এটাই সময়। আমরা যদি কিছু করতে চাই, তা করার এটাই সময়। দরকার হলো সামনে এগিয়ে কাজে নামার। যখনই আমরা তাদের সঙ্গে খেলি না কেন, পাকিস্তানই বড় দল। আর এ ধরনের টুর্নামেন্টে সবার ওপরেই চাপ থাকে।’

তাই বলে নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন মাশরাফি? তিনি জানিয়ে দিলেন, নিজেদের দিনে যে কাউকে হারাতে পারে বাংলাদেশ,‘এই দলটা খুব শক্তিশালী। নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। তাই খুব ভালো সুযোগ আছে বড় কিছু করার।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাটিং-বোলিংয়ে অনেক উন্নতি করলেও ফিল্ডিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে। মাশরাফির বিশ্বাস, এই বিভাগেও সমানভাবে উন্নতি করার সুযোগ আছে এবং এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই সে উন্নতিটা তারা দেখাতে চান। একই সঙ্গে মাশরাফি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল নির্দিষ্ট একজন বোলারের ওপর নির্ভরশীল নয়।

মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কি না দল, এটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মাত্র মোস্তাফিজের ওপর নির্ভরশীল নই। আরও অনেক ভালোমানের বোলার আমাদের হাতে রয়েছে। গত দুই বছর মোস্তাফিজ দারুণ পারফরম্যান্স করে আসছে। এরপর ইনজুরির কারণে কাঁধে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। সেখান থেকেও খুব ভালোভাবে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে সে এবং আমাদের জয়ে দারুণ ভুমিকা রাখছে।’

বাংলাদেশকে সমীহ করছেন সরফরাজ

গত দুই বছর ধরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের উন্নতি বলছে সে কথাই। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছেন টাইগাররা। ওই জয়ের সুবাদে প্রথমবারের মতো আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ছয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে কথা বলেন সরফরাজ আহমেদ। সেখানে টিম বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। আগামীকাল শনিবার প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ সমীহ করেন তিনি।

মাশরাফি-তামিমদের প্রশংসায় সরফরাজ বলেন, ‘গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দুর্দান্ত পারফর্ম করছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে প্রস্তুতি ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই দারুণ সুযোগ। উভয় দলই ম্যাচ জিততে চাইবে। তাই ভালো একটি প্রস্তুতি ম্যাচই হবে এটি।’

তামিম ইকবালের কথা উল্লেখ করে সরফরাজ বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ভালো করছে তারা (বাংলাদেশ)। তামিম ইকবালের মতো ব্যাটসম্যানকে আমরা দেখব। যদি আমরা সেমিফাইনাল খেলি!’

ইংল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি ভুলে যেতে চান মাশরাফি

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের। এই দলটির বিপক্ষে অনেক সাফল্য রয়েছে বাংলাদেশের। টানা দুই বিশ্বকাপে এই দলটিকে হারিয়েছে টাইগাররা। গত বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হয়তো সিরিজ হারাতে পারেনি, তবে তাদের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি আছে। শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডকে টেস্টেও হারিয়ে দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

এবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মাশরাফি কী ভাবছেন? তার কাছে এভাবেই জানতে চাওয়া হয়েছিল আইসিসির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে। মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, ২ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েই বাংলাদেশ খেলেছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। এবারও কী তেমন কিছু প্রত্যাশা করছেন মাশরাফি? এবার কী এ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলতে পারবে বাংলাদেশ?

মাশরাফি সুখস্মৃতি মনে করে আত্মভোলা হতে চাইলে না। বাস্তবতাকেই আঁকড়ে ধরতে চান। প্রতিটি দিনকেই মনে করছেন ‘নতুন’। জয়ের স্মৃতি হয়তো কিছুটা অনুপ্রেরণা যোগায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে সেটাই সব কিছু নয়। জিততে হলে দিনটাকে নিজের করেই নিতে হবে। না হয়, কোনোভাবেই সাফল্যের দেখা পাওয়া যাবে না।

এ কারণেই মাশরাফি বললেন, ‘সর্বশেষ আইসিসি প্রতিযোগিতা হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে। জয় অবশ্যই আপনাকে সযোগিতা করবে। তবে আমার কাছে তেমনটি নয়। কারণ, আমার কাছে এটা সম্পূর্ণই নতুন একটা দিন, নতুন একটা ম্যাচ।’

নতুন দিনে, নতুন ম্যাচে ভালো কিছু করতে হলে কী করতে হবে তার একটা সাধারণ ফর্মুলা বলেও দিলেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ভালো কিছু করতে চান, তাহলে দিনটাকে আপনার নিজের করে নিতে হবে। দিনটা আপনার হলেই কেবল, যা চাইবেন তা হতে পারে। সুতরাং, এগিয়ে যাও এবং কাজটা সঠিকভাবে করো।’

আর দিনটা যদি সত্যি সত্যি নিজের না হয়? তাহলে কী করতে হবে? ম্যাচ ছেড়ে দেবে? সেটাও নয়। মাশরাফি এর জন্যও উপায় বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে দিনটা আপনার জন্য খারাপ দিন হয়ে যায়, তখন আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি বিভাগে মনযোগ দিতে হবে। একটা ভালো না হলেও আরেকটাকে ভালো করে নিতে হবে। যেমন ধরুন, শেষ ম্যাচটার কথা (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। আমরা ওই ম্যাচে অন্তত চারটা ক্যাচ ফেলে দিয়েছি (পরে ম্যাচটা জিতেছি)। বড় স্টেজে এমন কাজ করা যাবে না মোটেও। আমরা আশা করবো, বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের মত আমাদের ফিল্ডিংটাও ভালো হবে।’

প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বার্মিংহামে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসর। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী আটটি দেশের মধ্যে ছয়টি দল খেলবে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ওয়ানডে ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলায় তাদের কোন অনুশীলন ম্যাচ রাখেনি আইসিসি।
দু’টি করে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে হারায় শ্রীলংকাকে। শ্রীলংকার ৭ উইকেটে ৩১৮ রানের জবাবে ৮ উইকেটে ৩১৯ রান করে ২ বল আগে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। আজ শনিবার দ্বিতীয় প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে সুখস্মৃতি নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে রানার্স-আপ হওয়া ছাড়াও, সিরিজের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপ রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারায় মাশরাফির দল। এই জয়ে ওয়ানডে র‌্যাংকিং-এর ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ দল। ত্রিদেশীয় সিরিজের ডাবল লিগ-পর্বে ৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে ২টি জয়, ১টি হার ও ১টি পরিত্যক্ত ম্যাচ নিয়ে ১০ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হয় নিউজিল্যান্ড।
ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। তাই ফুরফুরা মেজাজে থেকেই প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ শুরু করছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পর ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে আগামী ১ জুন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী দিন লন্ডনের কেনিংটন ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় মর্যাদাকর আসর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী দু’টি ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, আগামী ৫ ও ৯ জুন।

ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ দুটি গুরুত্বপূর্ণ : মাশরাফি

ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে আগামী মাসের ১ তারিখ শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। তবে এর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে এশিয়ার দুই পরাশক্তি পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আর প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে সাসেক্সে ১০ দিনের ক্যাম্প করে বাংলাদেশ। এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে মাশরাফিরা। তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনটা আয়ারল্যান্ডের চেয়ে ভিন্ন হবে বলে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে মাশরাফি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আয়ারল্যান্ডের চেয়ে ইংল্যান্ডের উইকেট পুরোপুরি ভিন্ন। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা একটা ধারণা পাব। সুতরাং প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিও আমাদের জন্য বড় ম্যাচ।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবারের মত দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও বাংলাদেশের গ্রুপে আছে কিউইরা। ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে আমাদের জয় হাতছাড়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই আমরা হেরেছি। তবে শেষ দুটি ম্যাচে আমরা খুব ভালো খেলেছি। এই মুহূর্তে দলের আত্মবিশ্বাস অনেক ওপরে।’
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি খেলবে বাংলাদেশ দল।

প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে দল পেলেন সাব্বির-ইমরুল

আইপিএলের নিলামে ডাক পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু তার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। যে কারণে আইপিএলের নিলামে অবিক্রীত থেকে যান বাংলাদেশ ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট খ্যাত এই ব্যাটসম্যান।
অপেক্ষার অবসান হলো। প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে দল পেলেন সাব্বির রহমান। তিনি খেলবেন আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট এসপাগিজা টি-টোয়েন্টি লিগে। সাব্বিরকে নিয়েছে কাবুল ইগলস। তাকে দলে টানতে দলটিকে খরচ করতে হয়েছে ৭ লাখ আফগানি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন ইমরুল কায়েসও। বাংলাদেশি এই ওপেনারকে কিনেছে বুস্ট ডিফেন্ডার্স। তার মূল্য সাব্বিরের সমান, ৭ লাখ আফগানি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
আফগান লিগে খেলবেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ড্যাশিং এই ওপেনারকে নিয়েছে স্পিনগড় টাইগার্স। তামিমকে পেতে স্পিনগড়কে খরচ করতে হয়েছে সাব্বির-ইমরুলের তিনগুণ। অর্থাৎ ২১ লাখ আফগানির বিনিময়ে তামিমকে নিয়েছে স্পিনগড়। বাংলাদেশি মুদ্রায় খরচের পরিমাণটা ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রসঙ্গত, ছয় দল নিয়ে আয়োজন করা হবে আফগান লিগ। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়েছেন। টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ১৮ জুলাই, ফাইনাল ২৮ জুলাই। যুদ্ধ কবলিত দেশটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা খেলবেন কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।

রোনালদোর জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে যাচ্ছেন তামিম

ক্রিকেট পেশা হলে কী, ফুটবল মিশে আছে তার অন্তরে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বলতে তিনি অজ্ঞান। পতুর্গিজ যুবরাজের অন্ধভক্ত সেই তামিম ইকবালের অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। গ্যালারিতে বসে চোখের সামনে দেখতে পাবেন তিনি রোনালদোর পায়ের কারুকাজ। তাও আবার যেনতেন ম্যাচ নয়, ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে উত্তেজনা ও মর্যাদার লড়াইয়ের সাক্ষী হচ্ছেন বাংলাদেশি ওপেনার। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ৩ জুন কার্ডিফে মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ-জুভেন্টাস, ওই ম্যাচ মাঠে বসে দেখবেন তামিম।
২০১৬-১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মঞ্চ কার্ডিফের মিলেনিয়াম স্টেডিয়াম। ৩ জুনের ওই ফাইনালের আগেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শুরু হয়ে যাবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই। বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ডে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন শুরু করবে মাশরাফিরা। ১ জুনের ওই ম্যাচের চার দিন পর দ্বিতীয় ম্যাচ। খেলা না থাকায় তাই কার্ডিফের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল দেখার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাননি তামিম। বিশেষ করে গ্যালারি থেকে রোনালদোর খেলা সরাসরি দেখতে পাবেন বলে তামিমের আনন্দের মাত্রাটা যেন আরও বেশি, ‘গ্যালারিতে বসে রোনালদোর খেলা দেখাটা আমার অনেক দিনের স্বপ্ন। অবশেষে সুযোগটা এসেছে আমার সামনে। এমন সুবর্ণ সুযোগ আমি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইনি।’
রোনালদোর খেলা, সঙ্গে আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল, তাই কোচকে জানালেন নিজের ইচ্ছার কথা। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও আপত্তি করছেন না। শিষ্যের ছুটি মঞ্জুর করে দিলেন অনুমতি, তামিমের ভাষায় যা এমন, ‘ম্যাচ দেখতে যাওয়ার জন্য কোচের কাছে একদিনের ছুটি চেয়েছি। উনি না করেননি, ছুটি দিয়েছেন।’
রিয়াল-জুভেন্টাসের ফাইনাল দেখতে কিন্তু চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে তামিমকে! মূল্যটা সত্যিকার অর্থেই টাকার মূল্য। খেলাটাকে দারুণভাবে উপভোগ করার জন্য ডাগআউটের ঠিক পেছনেই লোয়ার স্ট্যান্ডের টিকিট কেটেছেন তিনি, আর তার জন্য খরচ করতে হয়েছে ২৭০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় অঙ্কটা প্রায় আড়াই লাখের মতো! টাকার অঙ্কটা বেশি হলেও সুযোগটা তো আর সবসময় আসবে না, তামিম বিষয়টা জানেন বলেই স্পষ্ট গলায় জানালেন, ‘এই ধরনের সুযোগ তো আর প্রতিদিন আসবে না। তাই আমি পুরো সুযোগটা নিতে চেয়েছি।’
সত্যিই তো, রোনালদোর খেলা কি আর গ্যালারিতে বসে সবসময় দেখা সম্ভব! বিশেষ করে মঞ্চটা যখন আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের।

খুলনা টাইটানসের কোচ হলেন জয়াবর্ধনে

বিপিএলের গত আসরে নতুন দল হিসেবে নাম লিখিয়েছিল খুলনা টাইটানস। আর প্রথমবারেই আলো ছড়িয়ে তৃতীয় হয়েছিল দলটি। সেই সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে খুলনা টাইটানস নিয়ে আসছে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে। শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটিং-কিংবদন্তিকে দুই বছরের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে খুলনা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টাইটানস।
এবারের আইপিএলের শিরোপাজয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের দায়িত্বে থাকা জয়াবর্ধনে গত মৌসুমেও ছিলেন বিপিএলে। তবে গতবার কোচ নয়, ঢাকা ডায়নামাইটসের খেলোয়াড়ের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সঙ্গে খেলছেন শ্রীলঙ্কার এই সাবেক অধিনায়ক। এ মৌসুমে ইংল্যান্ডের টি২০ ব্লাস্টে তিনি খেলবেন ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে।
জয়াবর্ধনের মতো কিংবদন্তিকে কোচ হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত খুলনা টাইটানসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘বিপিএলের আগামী দুই মৌসুমের জন্য টাইটানসের প্রধান কোচ হিসেবে মাহেলা জয়াবর্ধেনেকে নিয়োগ দিতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। মাঠের মধ্যে তিনি সব সময়ই একজন দুর্দান্ত নেতা। শ্রীলঙ্কার হয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট জিতেছেন। সম্প্রতি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচ হিসেবে তাকে আইপিএল জিততে দেখে আমরা রোমাঞ্চিত। আমি নিশ্চিত, টাইটানসের সবাই তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে। আর তার উপস্থিতিতে এই টুর্নামেন্ট আরও সমৃদ্ধ হবে।’
গত বছর খুলনার কোচ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ স্টুয়ার্ট ল। এবার টাইটানসের দায়িত্ব পেয়ে জয়াবর্ধনে আনন্দিত। তিনি বলেছেন, ‘গত বছর বিপিএলে খেলাটা দারুণ উপভোগ করেছিলাম। তখনই ভালোমতো উপলব্ধি করেছিলাম, ২০১৭ সালের টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘বিপিএল শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই একটা উত্তেজনাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতার অন্যতম সম্মানিত ও ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা দল খুলনা টাইটানস। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি রোমাঞ্চ অনুভব করছি।’
শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক জয়াবর্ধনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দারুণ উজ্জ্বল। টেস্ট ক্রিকেটে ৩৪টি সেঞ্চুরি সহ ১১ হাজার ৮১৪ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে ডাবল সেঞ্চুরির সংখ্যা ৭টি। টেস্টে তার চেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরি আছে শুধু ডন ব্র্যাডম্যান, কুমারা সাঙ্গাকারা ও ব্রায়ান লারার। ওয়ানডেতেও ব্যাট হাতে দারুণ সফল জয়াবর্ধনে। ১৯টি সেঞ্চুরি সহ ১২ হাজার ৬৫০ রান সেই সাক্ষ্য দিচ্ছে। ২০০৭ ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া শ্রীলঙ্কা দলের গর্বিত সদস্য তিনি।
অধিনায়ক হিসেবেও জয়াবর্ধনে সফল। শ্রীলঙ্কাকে ৩৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ১৮টিতে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ২০০৭ বিশ্বকাপে তিনিই ছিলেন দলের অধিনায়ক।
পুরো ক্যারিয়ারে মোট ৬৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন জয়াবর্ধনে। লঙ্কানদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তার চেয়ে এগিয়ে আছেন শুধু শচীন টেন্ডুলকার। ভারতের ব্যাটিং-গ্রেট খেলেছেন ৬৬৪টি ম্যাচ।

ক্রিকেটে আসতে পারে যেসব নতুন নিয়ম

মাঠের ক্রিকেটকে আরো আকর্ষণীয় করতে ও ভালোভাবে পরিচালনার জন্য নতুন কিছু নিয়মের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ করে আসছে আইসিসি। সংস্থাটির ক্রিকেট কমিটির নতুন এক প্রস্তাবে তার কিছু বাস্তবায়নের সুপারিশও করা হয়েছে।
আইসিসির ক্রিকেট কমিটিতে অনিল কুম্বলের নেতৃত্বে আছেন রাহুল দ্রাবিড়, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ড্যারেন লেম্যান এবং কেভিন ও’ব্রায়েনের মতো সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। তারা সর্বশেষ প্রস্তাবে কিছু সিদ্ধান্তের সুপারিশ করেছেন ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কাছে। নির্বাহী কমিটির সভায় প্রস্তাবিত সুপারিশের যেগুলো পাশ হবে, সেগুলো আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হতে পারে।
এক নজরে ক্রিকেটে আসতে পারে যেসব নতুন নিয়ম-
লাল কার্ড: ফুটবলের ক্ষেত্রে কার্যকরী এই লাল কার্ড আইন ক্রিকেটেও আসতে পারে। আইসিসির ক্রিকেট কমিটি নতুন প্রস্তাবে আম্পায়ারদের এমন ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলেছে। মাঠে অতি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটারদের অসদাচরণের কারণে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগে আম্পায়ারদের কাছে থাকবে এই লাল কার্ড।
ডিআরএস: ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)’এ পরিবর্তন আসতে পারে। তাতে আম্পায়ার্স কলের বিপরীতে রিভিউ ডেকে কোন দল হেরে গেলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি নষ্ট হবে না। তারা আরেকবার রিভিউ নিতে পারবে। যেহেতু ‘আম্পায়ার্স কল’র ক্ষেত্রে মাঠের সিদ্ধান্ত উল্টো হলেই রিভিউ সঠিক হয়ে যেত, সেক্ষেত্রে রিভিউটি বাতিল হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তাই রিভিউতে সফল হলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি অক্ষত থাকবে। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, টেস্টের প্রথম ৮০ ওভারে প্রতিটি দল দুটি করে রিভিউ নিতে পারে। ওডিআইতে ইনিংসে একটি করে। নতুন নিয়ম হলে, প্রতি ৮০ ওভারে নতুন দুটি রিভিউ পাওয়ার নিয়মটা বাতিল হয়ে পুরো ইনিংসেই শুধু দুটো রিভিউ থাকবে।
এলবিডব্লিউর নিয়মানুযায়ী মাঠের আম্পায়ার আউট ঘোষণা করার পর রিভিউ নিলে রিপ্লেতে যদি ‘বেনিফিট অব ডাউট’ অর্থাৎ এমন থাকে যে- আউট দিলেও দেয়া যায়, না দিলেও হয়; তখন থার্ড আম্পায়ার আউট ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, মাঠের আম্পায়ারকে তিনি সমর্থন করেন। সেটি আরো কার্যকরী করবে নতুন সুপারিশ। সঙ্গে এখন পর্যন্ত টেস্ট এবং ওয়ানডেতে রিভিউ পদ্ধতি চালু থাকলেও টি-টুয়েন্টিতে নেই। কমিটির টি-টুয়েন্টিতেও রিভিউ চালু করার সুপারিশ করেছে। আবার টেস্টের প্রতি ইনিংসে রিভিউর সংখ্যাও বাড়তে পারে।
বদলি খেলোয়াড়: ক্রিকেটে আগেও একবার বদলি খেলোয়াড়ের নিয়ম চালু করা হয়েছিল। তবে এবারেরটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাথায় আঘাত পেয়ে কোন ক্রিকেটার মাঠ ছাড়লে, তার বদলি হিসেবে নতুন একজনকে নামানোর নিয়ম করতে সুপারিশ এসেছে কমিটির থেকে। নিয়মটি দুই বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কথা বলেছে কমিটি।
রান আউট: সংশোধন আসতে পারে রান আউটের নিয়মেও। চলতি নিয়মে ব্যাটসম্যান ক্রিজ পার হয়েও পা ও ব্যাট দুটোই বাতাসে রাখলে, তখন স্টাম্প ভেঙে দিলে সেটা রান আউট। নতুন নিয়মে ব্যাট বা পা একবার ক্রিজ অতিক্রম করলেই আর রান আউট হবে না।
নো বল: এক্ষেত্রে টিভি আম্পায়ারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এখন মাঠের আম্পায়াররা ব্যাটসম্যান আউট হলেই কেবল রিপ্লেতে দেখে নেন যে বলটা নো ছিল কিনা, নতুন প্রস্তাবে বল ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গেই রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত জানাতে পারবে।
ব্যাটের পুরুত্ব: নতুন সুপারিশে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি পুরু ব্যাট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আসতে যাচ্ছে।

এজবাস্টনের বাংলাদেশের অনুশীলন

এজবাস্টনে আজ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কারণ বার্মিংহামের এই এজবাস্টন স্টেডিয়ামেই আগামীকাল প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। আগামী ৩০ মে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগাররা মুখোমুখি হবে ভারতের। ম্যাচটি হবে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে। এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে কেনিংটন ওভালেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মাশরাফিরা।

*** বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভিডিও ফুটেজ ও মাশরাফির ইন্টারভিউ সংযুক্ত করা হলো। ***

বাংলাদেশের ভাবনায় র‌্যাংকিং

আগামী ১ জুন থেকে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা দিয়ে লন্ডনে শুরু হবে এবার বাংলাদেশের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। আগের দুটি আসরে খেলার সুযোগই পায়নি বাংলাদেশ। র‌্যাংকিংয়ের সেরা আটে থাকতে না পারার মাশুল গুণতে হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দর্শক হয়ে থাকতে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। কিন্তু সেই দিন এখন অতীত। বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলছে বাংলাদেশ। তাও আবারও তিন তিনটি বিশ্বকাপজয়ী দলের চেয়ে এগিয়ে থেকে!
নিজেদের তিন দশকের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নামতে যাচ্ছে ১৯৯৬র চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা আর ১৯৯২র চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। দুই বিশ্বকাপের মালিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই নেই! তিন বিশ্বকাপজয়ীর চেয়ে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডের। র‌্যাংকিংয়ের পাঁচে উঠে যাওয়ার পথ সময়সাপেক্ষ; কিন্তু আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিতের কাজ অনেকটাই হাতের নাগালে।
আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদ করা র‌্যাংকিং টেবিল বলছে, পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনেকখানি পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে র‌্যাংকিংয়ের সাত থেকে ছয়ে উঠে এসেছে মাশরাফি মুর্তজার দল। সাত নম্বরে নেমে যাওয়া শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ উভয়েরই পয়েন্ট ৯৩ করে। তবে ০.৫০ শতাংশে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। লংকার পয়েন্ট ৯৩ দেখানো হলেও মূলত তা ৯২.৮। আর বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯৩ হলেও আসলে সংখ্যাটা ৯৩.৩। র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বরে থাকা পাকিস্তানের পয়েন্ট ৮৮। আর নয় নম্বরে থাকা উইন্ডিজের সংগ্রহে ৭৯ পয়েন্ট, বাংলাদেশের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট পেছনে।
আগে থেকেই জানা, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে আটটি দল। স্বাগতিক ইংল্যান্ড বাদে র‌্যাংকিংয়ের প্রথম সাতটি দল পাবে এই সুযোগ। ইংলিশদের বাদ দিলে বাংলাদেশ এখন সাত দলের মধ্যে পঞ্চম স্থানে আছে। র‌্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত হিসাব যেহেতু ৩০ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের সেরা সাতের মধ্যে থেকে যাওয়া তাই অনেকটাই নিশ্চিত। আর ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যদি ন্যূনতম একটি জয় আসে, তাহলে পুরোপুরিই নিশ্চিত হয়ে যাবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষের একটি মাত্রই ত্রিদেশীয় সিরিজে হারিয়ে দেওয়া নিউজিল্যান্ড। তার আগে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম দিনই অবশ্য স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। যে হিসাব নিয়ে আইসিসি র‌্যাংকিং তৈরি করে, তাতে দেখা যাচ্ছে ইংল্যান্ডকে হারালে ৩ পয়েন্ট পাবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হারালে আসবে আরও দুটি পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ৯৮ পয়েন্ট জোগাড় করে বেশ নিশ্চিন্তেই থাকবেন মাশরাফিরা। তবে দুটি ম্যাচেই হেরে গেলে উল্টো বিপদ আছে। সেক্ষেত্রে পয়েন্ট নেমে যাবে ৯২-তে, র‌্যাংকিং চলে যাবে সাতে। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রীলংকার ম্যাচগুলোরও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা আছে। র‌্যাংকিংয়ের দুইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া আর পাঁচে থাকা ইংল্যান্ডের মধ্যে যে কোনো একটি ম্যাচে জিতলেও অবশ্য বাংলাদেশের লাভ আছে। তখন পয়েন্ট হবে ৯৫, টিকে থাকবে ছয় নম্বরের অবস্থান।
আইসিসি র‌্যাংকিংয়ের প্রথম পাঁচটি দলেরই পয়েন্ট ১১০’র উপরে থাকায় তাদের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ পুরোপুরি নিশ্চিত। বাকি তিনটি জায়গার জন্য কম-বেশি লড়াই বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান আর উইন্ডিজের। বিশেষ করে পাকিস্তান আর উইন্ডিজের মধ্যেই মূল লড়াই। পাকিস্তান দল যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবে, উইন্ডিজ তখন ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেবে আফগানিস্তানকে। দশ নম্বরে থাকা আফগানদের বিপক্ষে জয় পেলে অবশ্য ক্যারিবীয়দের তেমন কোনো লাভ নেই। এজন্য তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ভারতকে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আমন্ত্রণও জানিয়ে রেখেছে। তিন নম্বরে থাকা ভারতকে হারাতে পারলে উইন্ডিজের অবশ্য পয়েন্ট বাড়িয়ে আটের দিকে ওঠার পথ খুলতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বিপদে থাকবে পাকিস্তানই। বাংলাদেশের লড়াইটা থাকবে শ্রীলংকার সঙ্গে, র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বর স্থান ধরে রাখা না রাখা নিয়ে।

একযুগে মুশফিকুর রহিম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ মুশফিকের একযুগ পূর্তি হচ্ছে। ২২ গজে ১২ বছর কাটিয়ে দিলেন তিনি। ২০০৫ সালে এইদিনেই ১৭ বছর বয়সে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের। তারপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গণ্ডিতে ক্রমাগত ছুটে বেড়িয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। উদ্বোধনী টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইংলিশ পেসার ম্যাথু হগার্ডের বলে উইকেট হারানোর আগে ৫৬ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেছিলেন মুশফিক। আর দ্বিতীয় ইনিংসে তোলেন ৯ বলে ৩ রান। তারপরই ফ্লিনটফের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। সেই থেকে ৫৪ টেস্টের ১০০ ইনিংসে মুশফিকের রান ৩২৬৫। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরিটিও তার। টেস্টে মোট সেঞ্চুরি ৫টি। ১৭২ ওয়ানডেতে শুশফিকের রান ৪২৩৫। সেঞ্চুরি আছে ৪টি। সর্বোচ্চ ১১৭, ভারতের বিপক্ষে। এদিকে, ৫৯ টি-টোয়েন্টিতে মুশফিক সংগ্রহ করেন ৭৫৬ রান, সর্Ÿোচ্চ ৫০ রান।
মাশরাফির পর দেশের হয়ে একটানা একযুগেরও বেশি সময় খেলা ক্রিকেটার তিনি। এই সময়ে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে অবদান রেখেছেন দেশের জন্য, সমৃদ্ধ করেছেন নিজের ক্যারিয়ার।
গত ৯ মে জন্মদিনে ভক্তদের অভিবাদন জানাতে গিয়েও কথা বলেছেন ১২ বছর পূর্তি সম্পর্কে। মুশফিক বলেছিলেন, ‘সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। যেভাবে সবাই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, আমি মুগ্ধ। এই দিনটা অবশ্যই আমার জন্য বিশেষ কিছু। এই মাসটাই আমার জন্য বিশেষ কিছু। এই মাসে আমার জন্ম, এই মাসেই আমার জাতীয় দলে টেস্ট অভিষেক।’ এক সময় ক্রিকেটের তিন ফরমেটেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেন তিনি। ২০১১ সালে প্রথম জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান মুশফিক। সে বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে হোম সিরিজে তার অধিনায়কত্বের শুরু। পরবর্তীতে টেস্ট ও ওয়ানডের অধিনায়কত্ব অন্যদের কাঁধে চলে গেলেও টেস্টে এখনো নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বেই শ্রীলঙ্কায় নিজেদের শততম টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বেই ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল ও ২০১৩ সালে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে টাইগাররা।
যুগপূর্তির এইক্ষণে মুশফিকুর রহিমকে অনেক অনেক অভিনন্দন। বাংলাদেশের অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমির মতো আমরাও মুফিকুর রহিমের দীর্ঘ ক্যারিয়ার কামনা করছি।

ইংল্যান্ডে এখন টিম বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠস্থানে ওঠার ম্যাচ জয়ের পর রাতে আনন্দ-উৎসব করেছে টিম বাংলাদেশ। উৎসব না করার কোনো কারণও নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়ে যেভাবে জয় তুলে নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।
সামনেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে হবে খুব শিগগিরই। তার আগে নিজেদের চাঙা রাখতে রাতের উৎসব। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের পথে রওনা হওয়া। ১ ঘন্টা পাঁচ মিনিট বিমান ভ্রমণ শেষে বার্মিংহামে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। টাইগারদের থাকার হোটেলের নাম হায়াত বার্মিংহাম।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে বাংলাদেশ দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। বার্মিংহামে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ২৭ মে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। পর দিন লন্ডনে যাবে মাশরাফির দল।
ভারতের বিপক্ষে ৩০ মে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ১ জুন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে দেশে ফিরে আসার কথা নাসির হোসেন ও শুভাশীষ রায়ের। ক্রিকেট বোর্ড আগেই জানিয়েছিল, মুশফিকুর রহিমের স্ট্যান্ডবাই হিসেবে কাজী নুরুল হাসান সোহান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফর করবে।

সাকিব আবারো বিশ্ব সেরা

ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারানোয় বেশকিছু অর্জন হয়েছে বাংলাদেশের। সেইসব অর্জনের পিছু পিছু সাকিব আল হাসানও আবার হলেন বিশ্বসেরা। ক্রিকেটের তিন ফরমেটেই অলরাউন্ডার হিসেবে আবারো বিশ্ব সেরা হলেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির নতুন র‍্যাংকিংয়ে তিনটি ফরম্যাটেই শীর্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ৪৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে, ৩৬৩ পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে আর ৩৫৩ পয়েন্ট নিয়ে টি-টোয়েন্টির সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
টেস্টে ৪৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সাকিব। তার পরের স্থানে রাবিন্দু জাদেজা। তার পয়েন্ট ৩২২। ওয়ানডেতে সাকিবের পরে ৩৫৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতয় স্থানে পাকিস্তানে মোহাম্মদ হাফিজ। আর তৃতীয় স্থানে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। সাকিব টি-টোয়েন্টিতে ৩৫৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। তার পরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তার পয়েন্ট ৩৪৪।

ব্যাটিংয়ে সেরা তামিম, বোলিংয়ে মোস্তাফিজ

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হয়েছে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ। সিরিজের শেষ ম্যাচে কিউইদের পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। বিদেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়।
পুরো সিরিজেই অসাধারণ ব্যাট করেছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। তিন হাফ সেঞ্চুরিতে তার মোট রান ২৮৫। এই সিরিজে তিনিই সেরা রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান। ২৫৭ রান করে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের টম লাথাম।
অন্যদিকে, এই সিরিজের সেরা উইকেশিকারি বোলার হচ্ছেন টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি শিকার করেছেন নয়টি উইকেট। আটটি উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার।
ত্রিদেশীয় সিরিজে সেরা রান সংগ্রহকারী পাঁচ ব্যাটসম্যান
১.তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)-২৮৫ রান
২.টম লাথাম (নিউজিল্যান্ড)-২৫৭ রান
৩.নেইল ব্রুম (নিউজিল্যান্ড)-২২৮ রান
৪.সাব্বির রহমান (বাংলাদেশ)-২০১ রান
৫.রস টেইলর (নিউজিল্যান্ড)-১৯৪ রান
ত্রিদেশীয় সিরিজে সেরা উইকেটশিকারি পাঁচ বোলার
১.মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ)-৯টি উইকেট
২.মিচেল স্যান্টনার (নিউজিল্যান্ড)-৮টি উইকেট
৩.মাশরাফি বিন মর্তুজা (বাংলাদেশ)-৭টি উইকেট
৪.পিটার চেজ (আয়ারল্যান্ড)-৬টি উইকেট
৫.স্কট কুগ্গেলেইজন (নিউজজিল্যান্ড)-৫টি উইকেট

র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে বাংলাদেশ

শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে ক্রিকেটে র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বরে উঠে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল বুধবার রাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামার আগে ৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এই ম্যাচে জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে হলো ৯৩। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান কিভাবে নির্ণয় করা হবে। নিয়ম হলো পয়েন্ট সমান হলে দশমিক পয়েন্টের ভিত্তিতে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই পয়েন্ট টেবিলে উপরের অবস্থানে থাকবে। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। কারণ, বাংলাদেশের মূল পয়েন্ট হচ্ছে ৯৩.৩। আর শ্রীলঙ্কার মূল পয়েন্ট হচ্ছে ৯২.৮। অর্থা, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পয়েন্ট ফাইভ বা হাফ পয়েন্ট এগিয়ে টাইগাররা। এ কারণে র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে গেছে বাংলাদেশ।
২০১৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে র‌্যাঙ্কিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বিশ্বকাপের আসর বসবে ইংল্যান্ডে। সরাসরি আটটি দল বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। এই আসরে স্বাগতিক হিসেবে ইংল্যান্ড সরাসরি অংশ নিবে।
তাছাড়া আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা সাতটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নিবে। বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেয়ার শর্ত হচ্ছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা সাতে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন শক্ত অবস্থানেই রয়েছে।