সন্ধ্যা ৭:০৪, বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ ক্রিকেট

২১৮ রানে ঢাকা টেস্ট জিতে দুইম্যাচ সিরিজে জিম্বাবুয়ের সাথে ১-১-এ ড্র করলো বাংলাদেশ। ৪৪৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ দিন চা বিরতির আগেই সফরকারীরা ২২৪ রানে অলআউট হলে বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করে মিরজা-তাইজুলের ঘুর্ণিবিষেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৭ উইকেটে ৫২২ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে করেছিলো ৩০৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে জিম্বাবুয়ের সামনে বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় মাহমুদুল্লাহর দল।

১৫ মাস আর ৮ টেস্ট পরে জয়। টাইগারদের আনন্দটাও তাই একটু বেশি। অবশেষে ঢাকার চেনা উইকেটে শেষ দিনে স্পিনারদের সাফল্যেই নিজেদের একাদশ টেস্ট জয়।

মিরপুর স্টেডিয়ামে ১৮ তম টেস্ট ম্যাচ। অথচ মাত্র পঞ্চমবারের মত শেষ দিনের দেখা পেয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। অতিরিক্ত স্পিনিং উইকেটের কারণে যেখানে বেশিরভাগ সময় চার দিনের মধ্যেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে যায়, ঢাকার সেই পিচে এবার শেষ দিনের শুরুতেই ব্যাটসম্যানরা ছিলেন স্বচ্ছন্দ।

২ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে শেষ দিন অবশ্য রক্ষণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিলেন ব্রেন্ডন টেলর ও শন উইলিয়ামস। তবে প্রথম ঘন্টা না যেতেই মুস্তাফিজ আর তাইজুলের কল্যাণে কিছুটা স্বস্তি পায় স্বাগতিকরা। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন শন উইলিয়ামস। আর তাইজুল ফেরান সিকান্দার রাজাকে।

কিন্তু প্রথম ইনিংসের মত এবারও পিটার মুরকে নিয়ে গলার কাঁটা হয়ে ওঠেন ব্রেন্ডন টেলর। টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ টেলর।

তবে তার হার না মানা ১০৬ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের জয়কে কেবল বিলম্বিতই করতে পেরেছে।
কাইল জার্ভিসকে ফিরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ পঞ্চমবারের মত ইনিংসে পাঁচ উইকেট তুলে নিলে ২২৪ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস।

হারের বৃত্তে বাংলাদেশের নারীরা

মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও শ্রীলংকার কাছে ২৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। সেন্ট লুসিয়ায় আগে ব্যাট করে জাহানারার বোলিং তোপে শুরু থেকেই চাপে পড়ে লংকানরা।

দলের রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারাতে শুরু করা দলটি শেস পর্যন্ত ৭ উইকেটে তোলে মাত্র ৯৭ রান। সর্বোচ্চ ৩১ রান এসেছে সিরিবর্ধনের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের পক্ষে জাহানারা ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। আট ব্যাটসম্যানই দু’অঙ্কেরা কোঠায় পৌঁছাতে পারেননি। তার মধ্যে রানের খাতা খোলা হয়নি দুজনের। তাতে ৯৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৭২ রানে অলআউট হয়েছে সালমা খাতুনের দল। শ্রীলংকার পক্ষে জয়াঙ্গিনি ৩ এবং ম্যাচসেরা সিরিবর্ধনে ও প্রবন্ধনী ২টি করে উইকেট নেন। এদিকে, দিনের অন্যম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩১ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

‌ও.ইন্ডিজের একাংশ এখন বাংলাদেশে

বাংলাদেশের বিপক্ষে পুর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের একাংশ। দলের সাথে রয়েছেন পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, উইকেট কিপার ডাওরিচ, অলরাউন্ডার রোস্টন চেজসহ মোট নয় ক্রিকেটার।

ঢাকা পৌঁছেই সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ক্যারিবিয়রা। বাকি ক্রিকেটাররা পরবর্তীতে দলের সাথে যোগ দেবেন। আগামী ২২ নভেম্বর চট্টগ্রামে শুরু হবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের প্রথম টেস্ট।

এরআগে, চট্টগ্রামের এম.এ. আজিজ স্টেডিয়ামে একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে অংশ নেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেজন্য রুবেল হোসেনকে অধিনায়ক করে ১৩ সদস্যের দলও ঘোষণা করেছে বিসিবি।

আর ৮ উইকেট দরকার বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৮ উইকেট। অন্যদিকে এই ম্যাচ জিততে হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৩৬৭ রান করতে হবে জিম্বাবুয়েকে। ড্র করতে হলে খেলতে হবে টানা তিন সেশন। ৪৪৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ২ উইকেটে ৭৬ রান তুলেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেইলর (৪) এবং শন উইলিয়ামস (২) অপরাজিত আছেন।

বাংলাদেশের দেওয়া পাহাড়সম টার্গেট মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে জিম্বাবুয়ে। মিরাজের কল্যাণে জীবন পেয়ে উইকেটে টিকে থাকার সংগ্রাম করেন মাসাকাদজা এবং চারি। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৮ রান। দুই ক্যাচ মিস করা সেই মেহেদী হাসান মিরাজই মাসাকাদজাকে (২৫) সাজঘরে পাঠান। ২ রানের ব্যবধানে ৪৩ রান করা অপর ওপেনার ব্রায়ান চারিকে লেগবিফোরের ফাদে ফেলন তাইজুল ইসলাম। এরপর ব্রেন্ডন টেইলর আর শন উইলিয়ামস বাকী দিন কাটিয়ে দেন।

আজ চতুর্থ দিন চা বিরতির সাথে সাথে ৬ উইকেটে ২২৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ৪৪৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২২ বলে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কায় অপরাজিত ১০১* রান করেন বাংলাদেশ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সুযোগ পেয়েও জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করায়নি বাংলাদেশ। ২১৮ রানের বড় লিড পেয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে মাহমুদউল্লাহর দল। কিন্তু মিরপুরে চতুর্থ দিনে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ইমরুল কায়েস। অপর ওপেনার লিটন দাস করেন ৬ রান। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক‌ও (১) ভরসা দিতে পারেননি। ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমও ব্যর্থ। ৭ রান করেন তিনি। ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে তখন বাংলাদেশ।

এরপর অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। প্রচণ্ড চাপের মাঝে ৯১ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন মিঠুন। মিঠুন ৬৭ রান করে বিদায় নে‌ওয়ার পর আরিফুল হক‌ও অল্পতেই সাজঘরে ফেরেন। এরপর মেহেদী মিরাজকে নিয়ে যান ব্যাটিং চালান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘ ৮ বছর পর ১২২ বলে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। ৬ উইকেটে ২২৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ১০১* এবং মেহেদী মিরাজ ২৭* রানে অপরাজিত থাকেন।

আট বছর পর মাহমুদুল্লাহর সেঞ্চুরি

আগের দশ ইনিংসে ফিফটি নেই। তার মধ্যে শূন্য তিনটি। দু’অঙ্ক‌ও ছুঁতে পারেননি পাঁচটি ইনিংসে। সর্বোচ্চ ৩৬, সেটিও চলতি মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে। ব্যাটে বেশ চাপেই ছিলেন সাকিবের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব সামলানো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে চাপেই যার সেরাটা বেরিয়ে আসে, তিনি দুঃসময় দীর্ঘ হতে দিলেন না। মাহমুদউল্লাহ দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ঘুরে দাঁড়ালেন। তার অপরাজিত ১০১ রানে ভর করে মিরপুরে চারশ’ পেরোনো লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচাতে জিততেই হবে, এমন ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪৪৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা। প্রথম টেস্টে জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকা সফরকারীদের অলআউট করতে হাতে চার সেশন সময় পাচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর দিনে মাহমুদউল্লাহ ৮ বছর আর ৪৭ ইনিংস পর টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট শতক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিনে ব্যাট করা খুব সহজ ছিল না।

২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপদে, তখন মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। টাইগার অধিনায়ক মিঠুনকে(৬৭) নিয়ে গড়েছেন ১১৮ রানের জুটি। ১২২ বলে ৪ চার আর ২ ছক্কায় অনেকটা ওয়ানডে ঢংয়ে শতক তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই তিন অঙ্কের ফিগার স্পর্শ করেন মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম টেস্টেই পেয়ে যান সেঞ্চুরি। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে খেলেন ১১৫ রানের ইনিংস। পরে খেলেছেন আরও ৩৬ টেস্ট, ১৫টি ফিফটিও আছে, অথচ নামের পাশে লেখা হয়নি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অবশেষে ক্যারিয়ারের ৪২তম টেস্টে আক্ষেপ মেটালেন টাইগার অধিনায়ক।

সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

নিউজিল্যান্ডকে ৩৩ রানে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যম্যাচে, আয়ারল্যান্ডকে ৩৮ রানে হারিয়ে আসরে টিকে থাকলো পাকিস্তান।

বি গ্রুপের ম্যাচে, আগে ব্যাট করে অ্যালিসা হ্যালির ফিফটিতে ভর করে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। ৫৩ রান করেন হ্যালি। এছাড়া র‌্যাচেল হেইন্স অপরাজিত ২৯ আর বেথ মুনি করেন ২৬ রান। জবাবে সুজি বেটসের ৪৮ রান স্বত্ত্বেও ১২০০এই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। অজিদের পক্ষে মেগান স্কাট ৩ এবং সোফি মলিনাক্স ও ডেলিসা কিমিন্স ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে, দিনের অন্যম্যাচে, জাভেরিয়া খানের ৭৪ রানে ভর করে আসরে টিকে রইলো পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে জাভেরিয়ার ৫২ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ১৩৯ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে ৯ উইকেটে ১০১ রানে থামে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের সামনে বাংলাদেশের রানের পাহাড়

অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুনের ফিফটি আর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে জিম্বাবুয়ের সামনে পাহাড়সম টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রানের ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। তাতে ম্যাচ জিততে জিম্বাবুয়েকে করতে হবে ৪৪৩ রান।

চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশ দল ফলোঅন না করিয়ে আবারও ব্যাট করতে নামার বাংলাদেশের রান কত হবে এমন ভাবনাই ছিল সবার। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই টপঅর্ডাররা ব্যর্থ হলে, সম্ভাবনাটা নেমে আসে ধরা-ছোয়ায়। মাত্র ২৫ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার চাপ সামাল দিয়ে মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহ মিলে গড়েন ১১৮ রানের জুটি। ৬৭ রান করে মিঠুন ফিরে গেলেও একপ্রান্ত ধরে রাখেন মাহমুদউল্লাহ। আরিফুলও ফিরে যান অল্পতেই।

তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের সাথে ১৪৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়া মেহেদি হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটে তারা দলের স্কোরে ৭৩ রান যোগ করেন। ৭০ বলে দুই চার এবং এক ছক্কায় ক্যারিয়ারের ১৬ তম ফিফিট পূরণ করেন মাহমুদউল্লাহ। পরে হাত খুলে খেলে মাত্র ৫২ বলে আরও দুটি চার এবং একটি ছক্কার মারে পরবর্তী পঞ্চাশ রান করে ফেলেন তিনি। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে ২২৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ২৭ রান করে।

ইংল্যান্ডের কাছে বড় হার নারীদের

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। সেন্ট লুসিয়ায় আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৭৬ রান তোলে সালমারা। জবাবে, ৩৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় ইংলিশরা।

এশিয়ার বাইরে বিশ্বমঞ্চে যাদের খেলার সৌভাগ্য হয় কালেভদ্রে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে তারাতো একটু ভড়কাবেই। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর এ ম্যাচেও তাই নড়বড়ে বাংলাদেশ। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই আউট শুন্য রানে।

আয়েশা রহমানের ব্যাট একপ্রান্তে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে। রয়েছে অবাক করা পরিসংখ্যানও। প্রথম ৯ ওভারে তোলা ২৪ রানের ২৩-ই আয়েশার ব্যাটে। অপরপ্রান্তে তখনও কেউ রানের খাতা খোলেননি।

৫২ বলে দুই চার আর তিন ছয়ে ৩৯ রান করে বাংলাদেশের ওপেনার ফেরেন দলীয় ৪২ রানে। এরপর বাকীরা আসা যাওয়ায় ব্যস্ত হলে ৭৬ রানে থামে সালমার দলের ইনিং।

বৃষ্টি আইনে ১৬ ওভারে ৬৪ রানের লক্ষ্য ইংলিশরা ছুয়ে ফেলে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই। দুই উইকেট সালমার, একটি নেন কুবরা।

প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানে লিড বাংলাদেশের

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফলোঅনে পড়েছে জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় দিন শেষ বলে ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায়। তবে চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত জানাবে আবারো জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠোবে কিনা। ৪৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে ১ উইকেটে ২৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে ৩০৪-এ অলআউট হয় সফরকারীরা। এর আগে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিলো। এদিন তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়ার নজির গড়েছেন তাইজুল।

উড়লেন তাইজুল; সাথে বল হাতে উড়িয়েও দিলেন জিম্বাবুয়েকে। তাতেই তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের নজির। তৃতীয় দিন শেষেও তাই ঢাকা টেস্টের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে।

সকালটা শুরু হয়েছিলো তাইজুলের সাফল্য দিয়েই। দলীয় ৪০ রানে নাইটওয়াচম্যান তিরিপানোকে ফিরিয়ে এই বাঁহাতি দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন স্বাগতিকদের।

উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া ব্রায়ান চারীকে মধ্যাহ্ন বিরিতর আগেই ফিরিয়ে খেলায় নিয়ন্ত্রন ধরে রাখে বাংলাদেশ। মিরাজের এই উইকেটের পেছনে অবশ্য অধিনায়ক মাহমুদুল¬াহর বুদ্ধিদীপ্ত রিভিউ আবেদনের কৃতিত্বই বেশি।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ফলো অনের শঙ্কায় ফেলেন তাইজুল। ১৩১ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পরও যে জিম্বাবুয়ে পুরো দিন লড়ে গেছে তার কৃতিত্ব ব্রেন্ডন টেলরের। পিটার মুরের সাথে তার ১৩৯ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখে সফরকারীরা।

৮০ রান করা পিটার মুরকে ফিরিয়েছেন পার্টটাইম বোলার আরিফুল হক। ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের একমাত্র সাফল্য এটি। বাকি আটটি উইকেট ভাগাভাগি করেছেন তাইজুল আর মিরাজ।

এরপর গলার কাঁটা হয়ে থাকা টেলরকে অবিশ্বাস্য ক্যাচে ফিরিয়েছেন তাইজুল। তাতে আবারো ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। টেন্ডাই চাতারা ইনজুরির কারণে ব্যাট করতে নামতে পারবেন না বলে তাইজুল জিম্বাবুয়ের নবম উইকেট তুলে নেয়ার সাথে সাথেই তাদের গুটিয়ে দেয়ার উল্লাসে মাতে মাহমুদুল্লাহর দল। সাকিব আল হাসান আর এনামুল হক জুনিয়রের পর তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখালেন তাইজুল।

২১৮ রান পেছনে থাকায় ফলোঅনে পড়েছে সফরকারীরা। তবে তাদের ফলোঅন করানো হবে কি-না, তা চতুর্থ দিন সকালে জানাবে বাংলাদেশ টীম ম্যানেজমেন্ট।

মুশফিকের বিশ্বরেকর্ড

ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস মুশফিকুরের৷ জিম্বাবেুয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে দুশো রানের ম্যারাথন ইনিংস খেললেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম৷ তাঁর অপরাজিত ২১৯ রানে (৪২১ বলে) ভর করে মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ৫২২/৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ মুশফিকুরের ইনিংস সাজানো ১৮টি চার ও একটি ছয় দিয়ে৷ জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে প্রথম উইকেট খুইয়ে ২৫ রান তুলেছে জিম্বাবেুয়ে।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ইনিংসে সর্বাধিক রান ছিল সাকিব আল হাসানের৷ তার ব্যাটে এসেছে ২১৭ রানের ইনিংস৷ সেই রান টপকে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বাধিক রানের মালিক হয়ে গেলেন মুশফিক।

সেই সঙ্গে এদিন আরও একটি রেকর্ডের মালিক হলেন তিনি৷ টেস্টে ক্রিকেটে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিক প্রথম কিপার যিনি ক্যারিয়ারে দুটি দ্বিশতরান হাঁকালেন৷ এর আগে শ্রীলঙ্কার গলে (২০১৩সালে) ব্যাট হাতে ২০০ রান হাঁকিয়েছিলেন তিনি।

উইকেটকিপারদের মধ্যে টেস্টে এক ইনিংস সর্বাধিক রান হাঁকানোর তালিকায় শীর্ষ রয়েছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার৷ জিম্বাবেুয়ের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন ভারতের বিরুদ্ধে নাগপুরে (২০০০সালে) ২৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন৷ ঢাকায় আজ ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা না করলে ফ্লাওয়ারকে টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল মুশফিকের। এই তালিকায় চার নম্বরে এখন তিনি।

একনজরে উইকেটকিপারদের মধ্যে টেস্টে এক ইনিংস সর্বাধিক রান হাঁকানোর তালিকা:

১) অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার- ২৩২*রান
২) কুমার সঙ্গাকারা-২৩০ রান
৩) এম এস ধোনি-২২৪ রান
৪) মুশফিকুর রহিম-২১৯* রান
৫) তাসমিল আরিফ-২১০* রান

মুশফিকের রেকর্ডে রানের পাহাড়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের একমাত্র উইকেটকিপার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিতে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে ৭ উইকেটে ৫২২ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। মুশফিক বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ২১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। জবাবে, দিনশেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৫ রান। তাতে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৯৭ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা, হাতে আছে ৯ উইকেট।

টানা আটটি টেস্ট ইনিংসে যে দল দুশ’ পেরোতে পারেনি; নবম ইনিংসে সে দলের এক ব্যাটসম্যানের ব্যাটেই কিনা ডাবল সেঞ্চুরি। তা-ও বিশেষ এক বিশ্বরেকর্ডে। অবিশ্বাস্য! উইকেটকিপার হিসেবে খেলতে নেমে আর কেউ যে একের বেশিবার ছুঁতে পারেননি ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাজিক ফিগার! মুশফিকুর রহিমের হার না মানা এই ইনিংসে ভর করেই দ্বিতীয় দিন শেষে এখন স্বস্তিমাখা চেহারা স্বাগতিকদের।

৫ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে সকালটা দারুণ কেটেছে টাইগারদের। প্রথম সেশনে প্রতিপক্ষ বোলারদের কোন সুযোগই দেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিম। তবে ৭৩ রানের জুটি গড়ে লাঞ্চের পরই ছন্দপতন। জুটি ভাঙে ৩৬ রান করা অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর বিদায়ে। দলীয় ৩৭৮ রানে আরিফুল হককে আউট করে ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেন কাইল জার্ভিস। সারাদিনে জিম্বাবুয়ের সাফল্য বলতে ওটুকুই।

ঝকঝকে এক ইনিংস খেলে চা বিরতির পরপরই ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো সেঞ্চুরির ডাবলে পৌছে যান মুশফিক। সেই সাথে নিজেকে নিয়ে গেলেন অন্য এক উচ্চতায়। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার কিংবা সাঙ্গাকারাদের মত কিংবদন্তিদের টপকে উইকেটকিপার হিসেবে খেলতে নেমে একাধিকবার দ্বিশতক গড়ার মালিক কেবল বাংলাদেশের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিক। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সাকিবের সর্বোচ্চ ২১৭ রান টপকে মুশফিক ২১৯-এ পৌঁছাতেই প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন মাহমুদুল্লাহ। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ২৩২ রানের রেকর্ডটি আর ভাঙা হলো না মুশির।

অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা তাউজুলের ঘূর্ণিবলে দলের ২০ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলে‌ও, দিনের বাকী সময়ে কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেননি জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটসম্যান ব্রায়ান চারি ‌ও টিরিপানো।

শেষ বলে জয় ভারতের

চেন্নাইয়ে তৃতীয় তথা সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একেবারে শেষ বলে ৬ উইকেটে নাটকীয় এক জয় পেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে দীর্ঘদিন পর শিখর ধাওয়ানের (৬২ বলে ৯২) ও ঋষভ পান্টের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে (৩৮ বলে ৫৮) রানটা সহজেই তোলার পথে ছিল ভারত। কিন্তু ১১ বলে ৭ রান তুলতে শেষ বল পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরায় ক্যারিবিয়রা। তাতে শেষ বলে হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৮২ রানের টার্গেটে নেমে প্রথম পাওয়ার প্লে-এর মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন রোহিত শর্মা (৬ বলে ৪) ও রাহুল (১০ বলে ১৭)। কিমো পলের একটি স্লোয়ার না বুঝতে পেরে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ভারত অধিনায়ক। আর থমাসের বল রাহুলের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা হয় উইকেটরক্ষকের হাতে।

স্কোরকার্ডে বড় রান তোলার পর শুরুতেই এই সাফল্যে দারুণ উৎসাহ পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। কিন্তু সিরিজের একেবারে শেষ ম্যাচে এসে রানে ফিরলেন শিখর ধাওয়ান। ৮ ইনিংস পর পেলেন ফিফটি। তারপরই তাঁকে সঙ্গ দেন ঋষভ। জুটিতে ১৩০ রান যোগ করে ভারতকে ১৮.১ ওভারে ১৭৫/২ তে নিয়ে যান। সেখান থেকে আর বাকি ১০ বলে ভারতের জেতার জন্য ৭ রান প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু এরপর প্রথমে ১৯ তম ওভারে কিমো পলের বলে পান্ট আউট হন। ক্রিজে এসেছিলেন মনীশ পাণ্ডে। শেষ ওভারে বাকি ছিল ৫ রান। বল করতে আসেন ফাবিয়ান অ্যালেন। শেষ ২ বলে ১ রান দরকার এই অবস্থায় অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বলে ছয় মারতে গিয়ে লঙ অনে পোলার্ডের হাতে ধরা পড়েন ধাওয়ান। তবে মনীশ পাণ্ডে শেষ বল মিড অনে ঠেলে দিয়ে ভারতকে জেতান।

এর আগে, শুরুর দু-এক ওভার দেখে খেলে তারপর হাত খুলতে শুরু করেছিলেন দুই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার। প্রথম পাওয়ার প্লেতে তারা বিনা উইকেটে ৫১ রান তোলেন। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই আঘাত হানেন চাহাল।

এদিন চাহালই ভারতের পক্ষে সেরা বোলিং করেন। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। প্রথমে শাই হোপ (২২ বলে ২৪), পরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওটার মুখে হেটমায়ার (২১ বলে ২৬)-কে ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর অভিজ্ঞ ডারেন ব্রাভো (৩৭ বলে ৪৩*) ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান। ১৫ ওভারে তারা পৌঁছেছিল ১১৭/৩-এ। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১৮১ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মুমিনুল-মুশফিকে স্বস্তিতে বাংলাদেশ

মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে, মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ৫ উইকেটে ৩০৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তাতে অনেকদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে একটা ভালো দিন কাটলো টাইগারদের। ১৬১ রান করে মুমিনুল আউট হলেও, ১১১ রানে উইকেটে আছেন মুশফিকুর। কাইল জার্ভিস নেন তিন উইকেট।

‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে’। সকাল দেখেই নাকি দিনের চিত্র বোঝা যায়। কখনও কখনও এই প্রবাদও যে ভুল হতে পারে মিরপুর টেস্টে তা প্রমান হলো।

আর সেটা প্রমান করলেন ‘কক্সবাজারের রাজপুত্র’। আট ইনিংস পর হাফসেঞ্চুরিকে তিনি রূপ দিলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় আর সব মিলিয়ে মমিনুল পেলেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি।

আরেক প্রান্তে, নয় ইনিংস পর অর্ধশতকের স্বাদ নিলেন মুশফিকুর রহিম। তার উদযাপনটা আরো পুর্ণতা পেলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম, আর সব মিলিয়ে ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে। এ দুজনের জুটিতেই মিরপুর টেস্টে শক্ত অবস্থানে স্বাগতিকরা।

দিনের শেষটা দেখে বোঝার উপায় নেই শুরুতে কি ঝড় বয়ে গেছে। দুই ওপেনার লিটন দাস আর ইমরুল কায়েস প্যাভিলিয়নে ৯ ওভারের মধ্যেই। একজন শুন্য আরেকজনের রান মাত্র ৯। শিকারী কাইল জার্ভিস।

অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও। দলের ২৬ রানে ত্রিপানোকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আরেকবার সিলেট টেস্টের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন তিনি।

তবে দ্বিতীয় আর তৃতীয় সেশনে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন মুমিনুল আর মুশফিক। দুজনের জুটিতে যোগ হয় ২৬৬ রান। যে কোন উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে এটি চতুর্থ সেরা।

এ দুজনের ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে আট ইনিংস পর ২০০ রানের দেখা পেয়েছে টাইগাররা। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো দেড়শো পার হওয়া ইনিংস মুমিনুলের। তার ১৬১ রান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস।

আগামীকাল অধিনায়ক রিয়াদকে নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন মুশফিকুর রহিম।

জিততেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ: মাহমুদুল্লাহ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সমতা ফেরাতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, অনুশীলন শেষে এমন কথাই জানান, টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘মিরপুর টেস্টে ভালো খেলাটাই দলের মূল লক্ষ্য। প্রথম ম্যাচ হেরে দে্ওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। সুতরাং জেতা ছাড়া কোনো পথ নেই।’

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেক ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানে হেরে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০-তে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা। আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে নয়টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার সিরিজের শেষ টেস্টটি শুরু হবে।

পরাজয় দিয়েই শুরু বাংলাদেশের

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৬০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের ১০৬ রানে আটকে দিয়েও মাত্র ৪৬ রানে গুটিয়ে যায় সালমারা। এরচেয়ে বাজে শুরু আর কি হতে পারে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হয়ে লজ্জার রেকর্ড এখন বাংলাদেশের দখলে।

একের পর এক নির্বিষ বোলিংয়ের সামনেও ব্যাটসম্যানরা যখন আউট হচ্ছিলেন, ধারাভাষ্যকাররা সমালোচনায় বিদ্ধ করছিলেন শামীমা-আয়েশাদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের আউটগুলো ছিলো শিক্ষানবীশদের মতো।

২৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সালমার দল ম্যাচ হেরে বসে মুলত নবম ওভারেই। শেষ পর্যন্ত ১৪ দশমিক চার বলে মাত্র ৪৬ রানে অলআউট। দেন্দ্রা দত্তিনের স্টাম্প টু স্টাম্প বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তাতে ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং ফিগার গড়লেন ক্যারিবীয় এই বোলার।

অথচ টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বোলাররা রীতিমতো নাভি:শ্বাস তুলে ফেলেছিলেন ক্যারিবীয়দের। জাহানারা আর রুমানাদের বোলিং তোপে ৫০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১০৬ রানে থামে টেইলরদের ইনিংস। জাহানারা তিনটি আর রুমানা নেন ২ উইকেট।

জাতীয় লিগে রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন

২ উইকেটে ১৮২ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করার পরেই সবার বোঝা হয়ে গিয়েছিল, এবার জাতীয় লিগের শিরোপা উঠছে রাজশাহী বিভাগের হাতে। জুনায়েদ সিদ্দিকী ১২০ রান করে সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিলেন। সঙ্গে ছিল জহুরুল ইসলাম অমির ৬৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। এতে বরিশাল বিভাগকে অনায়াসেই ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে জাতীয় লিগের শিরোপা জিতে নেয় রাজশাহী বিভাগ।

সাত বছর পর আবারও জাতীয় লিগের শিরোপা জিতলো রাজশাহী। ২০১১-১২ মৌসুমের পর এবার সাব্বির, জুনায়েদ, জহুরুল ইসলাম অমি কিংবা সানজামুল ইসলামদের নৈপুণ্যে আবারও শিরোপা জিততে পারলো উত্তরাঞ্চলের দলটি।

ছয় ম্যাচে দুই জয় ও চারটি ড্রয়ে ৩৪.৮১ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্তরের টেবিলে শীর্ষস্থানটি দখলে নেয় রাজশাহী। ২৪.৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান তথা রানারআপ হয়েছে রংপুর বিভাগ। শেষ ম্যাচে জিততে পারলে হয়তো সম্ভাবনা ছিল রংপুরের। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তাদেরকে ড্র করতে হলো। তবে, শেষ মুহূর্তে জিতলেও কাজ হতো না, কারণ বোনাস পয়েন্টে পিছিয়ে যেতে হতো রংপুরকে।

গত তিনটি মৌসুমে জাতীয় লিগে একাধিপত্য দেখিয়েছিল খুলনা বিভাগ। টানা তিন বার শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার তাদের আধিপত্যের অবসান ঘটালো রাজশাহী। অথচ, গত মৌসুমে রাজশাহী খেলেছিল দ্বিতীয় স্তরে। ঢাকা মেট্রো, সিলেট এবং চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলে প্রথম স্তরে উঠে আসে তারা এবং প্রথম স্তরে আসার প্রথম মৌসুমেই জিতে নিলো শিরোপা।

চতুর্থ ইনিংসে রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮৪ রান। আগেরদিনই সাব্বির হোসেন এবং মিজানুর রহমানের দারুণ জুটিতে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল রাজশাহী। দু’জন মিলে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। ৩০ রান করে আউট হন মিজানুর। ৪৯ রান করে আউটন সাব্বির হোসেন।

তবে তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন জুনায়েদ সিদ্দিকী এবং জহুরুল ইসলাম। ১২০ রান করে জুনায়েদ আউট হন। ৬৪ রান করে আউট হন জহুরুল ইসলাম অমি। ফরহাদ হোসেন এবং সাব্বির রহমান দু’জনই অপরাজিত থাকেন ৪ রানে। দিনের প্রথম সেশনেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজশাহী।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ‌ও.ইন্ডিজ

আগামীকাল শুক্রবার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। এবারের প্রতিযোগিতাটি বেশকিছু নতুনত্বের দাবীদার। কারণ এবারই প্রথম পুরুষদের বিশ্বকাপের বাইরে গিয়ে আলাদাভাবে আয়োজিত হচ্ছে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাছাড়া এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যবহৃত হবে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম-ডিআরএস। এরআগে, পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ডিআরএস ব্যবহার হয়নি।

এবার সব ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিশ্বের ২০০টি দেশ টিভি পর্দায় সরাসরি এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাবে। আইসিসি তাদের গ্লোবাল ব্রডকাস্টার স্টার স্পোর্টসের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি ক্রিকেটভক্তদের এই টুর্নামেন্টের খেলার দেখার সুযোগ করে দেবে।

খেলাগুলো দেখা যাবে- স্টার স্পোর্টস (ভারত ও ভারতীয় উপমহাদেশ), স্টার স্পোর্টস (যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড), সুপার স্পোর্ট (দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল), ওএসএস (মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা), ফক্স স্পোর্টস (অস্ট্রেলিয়া), উইলো টিভি (যুক্তরাষ্ট্র), স্কাই টিভি (নিউজিল্যান্ড), টেন স্পোর্টস (পাকিস্তান), ইএসপিএন (ক্যারিবিয়ান অঞ্চল), গাজী টিভি (বাংলাদেশ), এসএলআরসি (শ্রীলঙ্কা), ফক্স নেটওয়ার্ক গ্রুপ (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) এবং ডিজিসেল (প্যাসিফিক আইল্যান্ড অঞ্চল)।

ইারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ধারাভাষ্যে থাকবেন- ভারতের সাবেক অধিনায়ক আঞ্জুম চোপড়া, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় লিসা স্থেলেকার, ক্রিকেট ব্রডকাস্টার মেলানি জোন্স, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেন, ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান সঞ্জয় মাঞ্জেরকার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ইয়ান বিশপ।

আগামীকাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। আগামীকাল রাতে গায়ানায়, নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বোল্টের হ্যাটট্রিকে পাকিস্তানকে হারালো নিউজিল্যান্ড

পেসার ট্রেন্ট বোল্টের হ্যাটট্রিকে পাকিস্তানকে ৪৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ‌ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি সিরিজে একতরফা আত্মসমর্পণ করলেও ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল কিউইরা।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে শুরুতেই হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পরে রস টেলর ও টম ল্যাদামের পার্টনারশিপে ভর করে ম্যাচে ফেরে তারা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৬ রান তোলে কিউইরা।

জিতলে‌ও আবুধাবিতে কিউইদের ইনিংসের শুরুটা মোটেও মনে রাখার মতো হয়নি। দলের মাত্র ৭৮ রানে সাজঘরে ফেরেন ওয়ার্কার (১), মুনরো (২৯) ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (২৭)। সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরেন টেলর-ল্যাদাম জুটি। চতুর্থ উইকেটে তারা দলের স্কোরে যোগ করেন ১৩০ রান। দলের ২০৮ রানে শাদব খানের একই ওভারে আউট হন ল্যাদাম (৬৯), নিকোলস (০) ও গ্র্যান্ডহোম (০)। পরের ওভারে ক্রিজ ছাড়েন টেলর (৮০)।

শেষ দিকে টিম সাউদি ২০ ও ইস সোধি ২৪ রান করে শাহীন শাহ আফ্রিদির শিকার হন। ফার্গুসন ৩ ও বোল্ট ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের হয়ে আফ্রিদি ও শাদব ৪টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই আত্মসমর্পণ করে বসে বোল্টের গতি ও নিয়ন্ত্রিত স্যুইংয়ের কাছে। প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে সরফরাজ আহমেদ ও ইমাদ ওয়াসিমের জুটি পাকিস্তানকে দু’শোর গন্ডি পার করান। তবে বাকিরা ব্যর্থ হলে ৪৭.২ ওভারে ২১৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের ইনিংসে মাত্র ৮ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। বোল্ট নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ফখর জামান (১), বাবর (০) ও হাফিজকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিক করেন। তাতেই ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। ইমাম উল হক (৩৪), শোয়েবরা (৩০) পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ। সরফরাজ-ইমাদ জুটি ১০৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েও পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেননি। ইমাদ ৫০ ও সরফরাজ ৬৪ রান করে আউট হন।

ফার্গুসন ও বোল্ট উভয়েই তিনটি করে উইকেট নিলেও পাকিস্তানের মাথা ছেঁটে ফেলার সুবাদে ম্যাচের সেরার পুরস্কার জেতেন বোল্ট। শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ‌ওয়ানডে‌ও হবে আবুধাবিতে।

১৭ বছর পর জিম্বাবুয়ের টেস্ট জয়

২০০১ সালের নভেম্বরে শেষবার বিদেশে টেস্ট জিতেছিল জিম্বাবায়ে য়ে। ১৭ বছর পর আবার তা এলে বাংলাদেশে। সিলেটে আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৫১ রানে জিম্বাবুয়ে হারায় বাংলাদেশকে।

৩ নভেম্বর টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জিম্বাবায়ের য়ে অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসাকাদজা। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবায়ে য়ে করে ২৮২ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৪৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবায়ে য়ে তোলে ১৮১ রান। চতুর্থ ইনিংসে জেতার জন্য বাংলাদেশকে করতে হতো ৩২১ রান।

এদিন বিনা উইকেটে ২৬ নিয়ে সকালে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম উইকেটে ওঠে ৫৬ রান। তারপর নিয়মিত পড়তে থাকে উইকেট। মাহমুদুল্লাহর দলের ইনিংসে দাঁড়ি পড়ে ১৬৯ রানে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ঘাতক হয়ে ওঠেন লেগস্পিনার ব্র্যান্ডন মাভুতা। তিনি ২১ রানে নেন চার উইকেট। সিকান্দার রাজা ৪১ রানে নেন তিন উইকেট।

সব মিলিয়ে এটা জিম্বাবায়ে য়ের অ্যাওয়ে টেস্টে তৃতীয় জয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেষবার জিম্বাবায়ে য়ে টেস্ট জিতেছিল। মানে পাঁচ বছর পর ঘরে-বাইরে মিলিয়ে কোনও টেস্ট জিতলো তারা। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ০-৩ হেরেছিল বলেই জিম্বাবোয়ের টেস্ট জয়ের তাৎপর্য আলাদা।

দেড়দিন আগেই জিম্বাবুয়ের কাছে হার বাংলাদেশের

বাজে আর কান্ড-জ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের খেসারত দিয়ে সিলেট টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেই গেলো বাংলাদেশ। শক্তির দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। বাংলাদেশের কাছে সর্বশেষ চার টেস্টেই হেরেছে জিম্বাবুয়ে। তারা এবার পরাজয়ের লজ্জা দিলো টাইগারদের।

বিশাল টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ মঙ্গলবার ম্যাচের চতুর্থ দিনে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই সিকান্দার রাজার স্পিনে লেগ বিফোর হন লিটন দাস (২৩)। ভাঙে ৫৬ রানের ওপেনিং জুটি। তিন নম্বরে নামা মুমিনুল হক দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ। মাত্র ৯ রান করে জার্ভিসের বলে বোল্ড হন ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ খ্যাত এই ব্যাটসম্যান। একপ্রান্ত আগলে ভালোই খেলছিলেন ইমরুল কায়েস। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৩ রানে তিনি সেই সিকান্দার রাজার বলে সুইপ করতে গিয়ে উইকেট হারান তিনি। ৮৩ রানে প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়তে থাকে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এই ইনিংসেও ব্যর্থ। ১৬ রান করে সিকান্দার রাজার শিকার হন তিনি। সুযোগ পেয়েও কিছু করে দেখাতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত (১৩)। সিকান্দার রাজার তৃতীয় শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। ১১১ রানেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সিলেট টেস্টের কোনো ইনিংসেই দলকে নির্ভরতা দিতে পারলেন না ‘মি. ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে ৩১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দল যখন হারের মুখে আছে, মুশি তখন ব্যক্তিগত ১৩ রানে মাভুতার বলে উইলিয়াম মাসাকাদজার তালুবন্দি হলেন। মেহেদী মিরাজও (৭) মুশির পথ অনুসরণ করে মাভুতার বলে ক্যাচ তুলে দিলেন পতন হলো ৭ম উইকেটের।

তাইজুল ইসলাম আর নাজমুল ইসলাম অপু দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি, ‘ডাক’ মেরেছেন। তাদের উইকেটে পেয়েছেন ডেব্যুটেন্ট উইলিয়াম মাসাকাদজা এবং মাভুতা। ৩৮ রান করা আরিফুল হককে চাকাভার গ্লাভসবন্দি করে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন ৪ উইকেট নেওয়া মাভুতা। ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৫১ রানের বড় জয় নিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। আগামী ১১ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ‌ও শেষ টেস্ট।

সিলেট জয়ের পথে জিম্বাবুয়ে

ধীরে ধীরে সিলেট টেস্ট জয়ের পথে এগিয়ে হলেছে সফরকারী দল জিম্বাবুয়ে। জয়ের বড় লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ মঙ্গলবার ম্যাচের চতুর্থ দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। নিয়মিত হারাচ্ছে উইকেট। ১১১ রানেই হারিয়েছে ৫ উইকেট। এই ধ্বংসযজ্ঞে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিকান্দার রাজা। এখন পর্যন্ত তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট।

দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সিকান্দার রাজার স্পিনে লেগ ববিফোর হন লিটন দাস (২৩)। ভাঙে ৫৬ রানের ওপেনিং জুটি। তিন নম্বরে নামা মুমিনুল হক দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ। মাত্র ৯ রান করে জার্ভিসের বলে উইকেট হারিয়ে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের এই ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’। একপ্রান্ত ভালো ভালোই আগলে রেখেছিলেন ইমরুল কায়েস। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৩ রানে তিনি সেই সিকান্দার রাজার বলে সুইপ করতে গিয়ে উইকেট হারান। ৮৩ রানে প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়তে থাকে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এই ইনিংসেও ব্যর্থ। ১৬ রান করে সিকান্দার রাজার তৃতীয় শিকার হন তিনি। সুযোগ পেয়েও কিছু করে দেখাতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত (১৩)। মাভুতার শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।

এর আগে গতকাল সোমবার বিনা উইকেটে ২৬ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তাইজুল-মিরাজ-অপুদের ঘূর্ণিতে ১৮১ রানে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের। তাতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ৩২১ রানের।

সিলেট টেস্ট জিততে হলে রেকর্ড করতে হবে বাংলাদেশকে। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকডর্ আছে। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে সেন্ট জর্জে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেয়েছিল ৪ উইকেটের জয়।

পদত্যাগ করলেন মার্ক টেলর

চেয়ারম্যান ডেভিড পিভারের পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড অফ ডিরেক্টরস থেকে পদত্যাগ করলেন মার্ক টেলর। গভর্নিং বডির ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে টালমাটাল অবস্থা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ডেভিড পিভারের পদত্যাগের চার দিনের মধ্যে ইস্তফা দিলেন টেলর। তবে চলতি বছর মার্চে কেপটাউন টেস্টে বল-বকৃতির ঘটনার পর সমালোচনার মুখে পরতে হয়েছিল পিভারকে। সেখান থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। একই রাস্তায় হাঁটলেন টেলর। তবে ৫৪ বছরের প্রাক্তন অজি ওপেনার সবচেয়ে বেশিদিন বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের পদে আসীন ছিলেন। ১৮ মাস ধরে এই পদে ছিলেন তিনি।

এক সংবাদ সম্মেলনে টেলর বলেন, ‘গত ১৩ বছরের মধ্যে শেষ ১৮ মাস অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে আমার ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সপ্তাহ দু’য়েক ধরে আমার মনের মধ্যে ধন্ধ চলছিল। আমার এনার্জি কমে গিয়েছে। এবার সরে দাঁড়ানো উচিত। অন্য কাউকে জায়গাটা ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

পিভারের উত্তরসূরি হিসেবে টেলরকে ভাবা হলেও স্থানীয় টেলিভিশন ব্রডকাস্টারের সঙ্গে চুক্তি থাকায় সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। তিনি বলেন, এটা অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। অন্য কোনও প্রাক্তন ক্রিকেটারের এই পদে আসা উচিত। যিনি দারুণভাবে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যালেন্স করতে পারবেন।’

টেলর হলেন তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি ছ’মাসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। পিভারের আগে ডিরেক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়ান বব এভরি। গত মে মাসে পিভারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন। পিভার সরে দাঁড়ানোয় অন্তবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইয়ার্ল এডিংস।

কঠিণ টার্গেট বাংলাদেশের সামনে

সিলেটে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট জিততে শেষ দু’দিনে আরো ২৯৫ রান চাই বাংলাদেশের। হাতে আছে ১০ উইকেট। তৃতীয় দিনে বিনা উইকেটে ১ রান নিয়ে খেলতে নেমে তাইজুলের ৫ উইকেট শিকারে ১৮১ রানে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেলে ৩২১ রানের জয়ের টার্গেট পায় স্বাগতিকরা।

নিজেদের খেলা ১০৯ টেস্টে যেখানে সর্বোচ্চ ২১৭ রান পর্যন্ত তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের, সেখানে সিলেট টেস্ট জিততে স্বাগতিকদের সামনে ৩২১ রানের পাহাড় ডিঙানোর লক্ষ্য। তার ওপর তৃতীয় দিনেই উইকেটে টার্ন পাচ্ছেন বোলাররা, তাতে সিকান্দার রাজা আর শন উইলিয়ামসের স্পিন সামলে শেষ দু’দিনে রান করাটাও বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে মুশফিক-ইমরুল-মাহমুদুল্লাহাদের জন্য।

১৪০ রানে এগিয়ে থেকে বিনা উইকেটে ১ রান নিয়ে সকালে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিলো সফরকারী দল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু মিরাজ আর তাইজুলের ঘূর্ণিবিষে প্রথম সেশনেই বিপদে পড়ে তারা। লাঞ্চের আগেই ব্রায়ান চারী আর ব্রেন্ডন টেইলরের উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে চা বিরতির পরপরই গুটিয়ে গেছে তাইজুলের দাপটে। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ম্যাচে দশ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট করে নেয়ার কৃতিত্ব দেখান এই বাঁহাতি স্পিনার।

তবে এরই মাঝে রেজিস চাকাভা আর ওয়েলিংটন মাসাকাদজার জুটিতে ৩০০ রানের ওপরে লিড নিশ্চিত করে সফরকারীরা। সেই সাথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পুরোটাই চলে যায় তাদের হাতে। কারণ অসম্ভব না হলেও তিনশ’র বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ক্রিকেট ইতিহাসেই হাতে গোনা।

আলোর অভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে স্বাগতিকদের বিনা উইকেটে ২৬ রান তাই খুব বেশি আশা জাগাতে পারছে না দর্শক-সমর্থক মনে।

জয় পেতে ইতিহাস গড়তে হবে বাংলাদেশকে

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে মহাবিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। আজ সবেমাত্র ম্যাচের তৃতীয় দিন। কিন্তু এখনই জয়-পরাজয়ের হিসাব শুরু হয়ে গেছে। কারণ জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ৩২১ রান। যা দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ঘটেছে মাত্র ২০ বার! আর ড্র করতে হলে খেলতে হবে আরও দুই দিন। কোনটা বেছে নেবে টাইগাররা?

যে কোনো দলের জন্যই চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা ভীষণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শরীর আর উইকেট দুটোই ব্যাটসম্যানদের চরম পরীক্ষা নেয়। ক্লান্তি চেপে বসে শরীরে। সেই সঙ্গে আছে জয়ের জন্য টার্গেট চেজ করার মানসিক চাপ। প্রতিপক্ষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জয় এবং ড্র দুটির সম্ভাবনা রেখেই নিজেদের ইনিংস শেষ করে। টেস্ট ক্রিকেটের ২ হাজার ৩২৩ তম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছে ৩২১ রানের লক্ষ্য। দেড়শ বছরে ৩২১ কিংবা এর বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির আছে ২০টি। উপমহাদেশে এর সংখ্যা মাত্র ৫টি!

আর টেস্ট ইতিহাসে ৩শর বেশি রান চেজ করে জয়ের রেকর্ড আছে মাত্র ৩০ টি। তাছাড়া বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করে জিতেছে মাত্র তিনবার। ২০১৭ সালে নিজেদের শততম টেস্টে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯১ রান, ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০১ রান তাড়া করে জিতেছিল। এছাড়া নিজেদের সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছিল বাংলাদেশ।

চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ তিন শ পেরিয়েছেই মাত্র তিনবার। তিনবারই বাংলাদেশ হেরেছে। এর মধ্যে ২০০৮ সালে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। এটাই চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে চার শ কিংবা এর বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে মাত্র চারটি। সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৭ রান তাড়া করে জিতেছিল এক সময়ের প্রবল পরাক্রমশালী দলটি।

পাকিস্তানের কাছে কিউইরা হোয়াইট‌ওয়াশ

আরব আমিরাতের মাটিতে এসে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। শুরুতেই ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই শোচনীয়ভাবে সরফরাজ আহমেদের দলের কাছে হেরেছে কেন উইলিয়ামসবাহিনী। শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কিউইদের ৪৭ রানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশই করলো পাকিস্তান।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই লড়াই করতে পারেনি পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। তিনি যখন দলকে একটা পর্যায়ে রেখে এসেছিলেন, তখনও জয়ের আশা ছিল নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ধ্বস নামে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে।

মাত্র ২৯ বল এবং ২৩ রানের ব্যবধানে কিউইদের হারাতে হয় ৮ উইকেট। তাতে চড়া মাশুল দিয়ে পাকিস্তানের কাছে ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে হার।

জয়ের জন্য ১৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কলিন মুনরো (২) এবং কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের (৬) উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ১৩ রানে ২ উইকেট পড়ার পর যে বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিল সেটা কাটিয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপস আর কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে। দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৮৩ রানের অনবদ্য জুটি।

এমন এক জুটির পর মুহূর্তে কে বলতে পারবে, অভাবনীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়বে কোনো দল! ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলেই হয়তো এটা সম্ভব। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দলটির নাম আবার পাকিস্তান। ১২.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৬ রান থেকে ১৬.৫ ওভারে ১১৯ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড। ৯৬ রানে তৃতীয় উইকেট হিসেবে আউট হন উইলিয়ামসন। ৩৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন তিনি।

পাকিস্তানি স্পিনার শাদাব খানের বলে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে তার ফিরে যাওয়ার পরই ধ্বস নামে। ৯৭ রানের মাথায় ফেরেন গ্লেন ফিলিপস। ২৪ বলে ২৬ রান করেন তিনি। বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে ইস শোধি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউই আর দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

শাদাব খান ৩০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ওয়াকাস মাকসুদ ২১ রান দিয়ে ২টি, ইমাদ ওয়াসিম ২৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ফাহিম আশরাফ নেন ১ উইকেট।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৬ রান তোলে। হাফসেঞ্চুরি করেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ। পাকিস্তানের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে ফাখর জামান ১১ রান করে আউট হন। এরপর হাফিজের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাবর দ্বিতীয় উইকেটে ৯৪ রান যোগ করেন। শেষে ৭৯ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। ৫৮ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন বাবর।

শোয়েব মালিক চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯ বলে ১৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন। আসিফ আলিকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানকে লড়াই করার রসদ এনে দেন হাফিজ। আসিফ ২ রান করে নটআউট থাকেন। হাফিজ আপরাজিত থেকে যান ব্যক্তিগত ৫৩ রানে। ৩৪ বলের ইনিংসে তিনি ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন।

তাইজুলের দশ উইকেট সাথে হ্যাটট্রিকের আক্ষেপ

ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকেই করেছিলেন হ্যাটট্রিক। অভিষেক ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বোলারও ছিলেন তিনি। হতে পারতেন ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের প্রথম বোলার। কিন্তু দুইবার সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারলেন না বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তবে দুই বল পর ঠিকই তৃতীয় উইকেট নিয়েছেন তিনি।

তবে তাইজুলের স্পিন ঘূর্ণিতে বিপদে পরে গিয়েছে জিম্বাবুয়ে। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার পরে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। সে ধারাবাহিকতায় পরপর দুই বলে প্রথম ইনিংসের দুই হাফসেঞ্চুরিয়ান শন উইলিয়ামস এবং পিটার মুরকে আউট করেছেন তাইজুল।

ফলে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সৃষ্টি হয় তাইজুলের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। কিন্তু সিকান্দার রাজা তার হ্যাটট্রিক বলটি খেলেন আয়েশি ভঙ্গীতে। পরের বলটিও খেলেন নির্ভার হয়ে। কিন্তু এরপরের বলটি আর ঠেকাতে পারেননি রাজা। মাত্র ৫ বলেই ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তাইজুল।

এরইসাথে চলতি ম্যাচে দশ উইকেট শিকার করে ফেলেছেন তিনি। এনামুল হক জুনিয়র (২০০৫), সাকিব আল হাসান (২০১৪ ও ২০১৭) এবং মেহেদি হাসান মিরাজের (২০১৬) পরে চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে ম্যাচে দশ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন তাইজুল। একই সাথে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সরিয়ে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডকে হারালো সালমারা

ওয়েস্ট ইন্ডিজে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রোভিডেন্সে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে, জাহানারা-রুমানার বোলিং তোপে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আয়ারল্যান্ডের মেয়েরা। কিম গার্থ ৩৫ রান করে কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্যদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ৮৭ রান তোলে তারা। রুমানা ১০ রান দিয়ে ৩টি এবং জাহানারা ১১ রানে নেন ২টি উইকেট।

জবাবে আয়েশার ২৫ আর ফারজানার অপরাজিত ২১ রানের সুবাদে ৩২ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান করে জয় তুলে নেয় সালমা খাতুনের দল। সানজিদা ইসলাম ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারলো ভারত

কোলকাতায় সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক ভারত। টস হেরে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই দিনেশ রামদীনকে হারিয়ে চাপে পড়ে। কুলদীপ যাদবের ৩ উইকেট শিকারে মাত্র ১০৯ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। কুলদীপ মাত্র ১৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

জবাবে দীনেশ কার্তিকের অপরাজিত ৩১ রানের সুবাদে ১৩ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ভারত। কার্তিক ৩১ আর পান্ডিয়া ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা। আগামী ৬ নভেম্বর লক্ষণোতে হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।

সিলেটে উইকেট বৃষ্টি

সিলেটে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জিম্বাবুয়ে। দিনশেষে স্বাগিতকদের চেয়ে ১৪০ রানে এগিয়ে আছে তারা। হাতে আছে ১০ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে দিন শুরু করে তাইজুলের ৬ উইকেট শিকারে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ২৮২ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে চাতারা-সিকান্দার রাজার বোলিং দাপটে মাত্র ১৪৩ রানেই থামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনশেষে সফরকারীদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে এক রান।

প্রথম দিন উইকেট নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বোলারদের। অথচ দ্বিতীয় দিনেই উল্টো চিত্র। ৭৯ ওভার তিন বলে পড়েছে ১৫ উইকেট। তাতে সিলেট টেস্ট পঞ্চম দিনের আলো দেখবে কি না, রয়েছে সেই সংশয়।

অবশ্য সকালটা শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশের আনন্দের মধ্য দিয়েই। প্রথম ঘন্টা না পেরোতেই সাজঘরে চাকাভা-মাসাকাদজা। দুজনই তাইজুলের শিকার। এই বাঁহাতি ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মত ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেয়ার কৃতিত্ব দেখান কাইল জার্ভিসকে ফিরিয়ে। তাইজুলের ১০৮ রানে ৬ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে ২৮২ রানে সফরকারীরা গুটিয়ে যায়।

কিন্তু স্বাগতিক সমর্থকদের হাসি মিলিয়ে যায় নিজেদের ব্যাটিং শুরু হতেই। দলের ৮ রানে চাতারার শিকার ইমরুল কায়েস। জার্ভিস লিটন দাসকে ফেরানোর পর, শান্ত আর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও চাতার শিকারে পরিণত হলে ১৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুলকে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মুশফিকুর রহিম। সিকান্দার রাজার ঘুর্ণিবিষে কুপোকাত মুমিনুল-তাইজুল-নাজমুলরা।

তাতে মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে দিনের আলো নেভার আগেই নিভে যায় স্বাগতিক সমর্থকদের সব আনন্দ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে দিনশেষের দু’ওভারে বিনা উইকেটে এক রান তুলে জিম্বাবুয়ে জানিয়েছে, এই উইকেটে টিকে থাকাটা খুব একটা কঠিন নয় মোটেও।