রাত ৯:৪৯, মঙ্গলবার, ২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং

ইস! আম্পায়ারিংটা যদি ভাল হতো, কিংবা কিছু সিদ্ধান্ত পক্ষে আসতো- তাহলে হয়ত আজকেই জয়ের পথে অনেকদুর এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ।’

কলম্বোর পি সারা ওভালে চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকদের মুখে এমন কথা শোনা যাচ্ছে। ক্রিকেট খেলাটাই এমন। গৌরবময় অনিশ্চয়তার। সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র খেলা, যেখানে অনেক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মধ্যেও ঘুরে ফিরে ‘যদি’ ‘তবে’ চলে আসে।

কি হলে কি হতো- তা নিয়ে দিন বা খেলা শেষে সবচেয়ে বেশি কথা হয়। আজ যেমন বাংলাদেশের বোলারদের ঘুরে দাড়ানোর গল্প ছাপিয়ে দিন শেষে যত কথা আম্পায়ারিং আর রিভিউ নিয়ে। অথচ শনিবার পি সারায় মোস্তাফিজ-সাকিব কী দারুণ বোলিংটাই না করেছেন।

ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখুন, আজ লাঞ্চের পর যেভাবে টাইগাররা বল হাতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, গত পাঁচ মাসে চার টেস্টে এমন কামব্যাক করার একটি নজিরও নেই। ঠিক এ রকম অবস্থায় যতই সময় গড়িয়েছে, ততই বোলিংয়ের ধার কমেছে। ফিল্ডাররাও খেই হারিয়ে ফেলেছেন; কিন্তু আজ ছিল ব্যতিক্রম।

ব্যতিক্রম তো হবেই। টাইগাররা যে শততম টেস্টকে সোনালী সাফল্যে মুড়িয়ে রাখতে মুখিয়ে! তাই তো প্রাণপন চেষ্টা, দেখি না লঙ্কানদের হাত থেকে খেলা ঘোরাতে পারি কি না?

লাঞ্চের সময় লঙ্কানদের স্কোর ১ উইকেটে ১৩১। বাংলাদেশের চেয়ে ২ রানে এগিয়ে। হাতে নয় উইকেট। যারা এরই মধ্যে লম্বা সময় উইকেটে থাকার এবং বড়-সড় ইনিংস খেলার সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন, সেই কুশল মেন্ডিস আর চান্দিমালদের কেউ আউট হননি।

ইস! কি যে হবে? সমর্থকদের মনে চিন্তার কালো মেঘ। ঠিক সে রকম অবস্থায় দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসলো মুশফিকের দল।

গত বছর অক্টোবরে ঢাকার শেরে বাংল স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার পর আজই সম্ভবত সেরা বোলিং করেছেন টাইগার বোলাররা। ওই ম্যাচে ইংলিশদের প্রথম ইনিংসে ২৪৪ রানে অলআউট করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে১৬৪‘তে বেঁধে ফেলে ১০৮ রানের ঐতিহাসিক জয়ের দেখা মিলেছিল বাংলাদেশের।

পি সারা ওভালে শততম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানে এগিয়ে যাবার পর হেরাথের দল যখন উল্টো বাংলাদেশকে চাপে ফেলার পথ খুঁজে পেয়েছিল, ঠিক তখন আঘাত মোস্তাফিজের। সারা দিন আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত পক্ষে যায়নি তেমন। আক্ষেপ-হতাশা আছে রিভিউ নিয়েও। তারপরও কঠিন সত্য হলো বাংলাদেশের ভাগ্য খুলেছে সেই রিভিউতেই।

মোস্তাফিজের বলে কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ছুঁয়েছে কী ছোঁয়নি। অধিনায়ক মুশফিক বল গ্লাভসে নিয়েই আবেদন করলেন। আম্পায়ার কট বিহাইন্ড দিলেন না। তাৎক্ষনিক রিভিউ চেয়েই মিললো ফল। কট বিহাইন্ড।

সেই শুরু। করুনারত্নে একদিক আগলে রাখলেও বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজ আর সাকিবের স্পিন ঘূর্ণিতে লঙ্কানরা ব্যাকফুটে চলে গেল অল্প সময়ের মধ্যেই। মোস্তাফিজের বলে ডান দিকে মাটিতে শরীর ফেলে চান্দিমালের অসাধারন ক্যাচ ধরে লঙ্কানদের হতোদ্যম করলেন অধিনায়ক মুশফিক।

তারও পরে কিপার ডিকভেলার ক্যাচটি দলকে চাঙ্গা ও উজ্জীবিত করার টনিক হয়ে গেল। সাকিবের বলে রিভার্স সুইপ করতে গেলেন ডিকভেলা। বল বেরিয়ে যাচ্ছিলো; কিন্তু উইকেটের ওপর হুমুড়ি খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মুশফিক অসামান্য দক্ষতা ও চপলতায় তা ধরে ফেললেন।

এরপর সেঞ্চুরিয়ান করুনারত্নেকে অফস্ট্যাম্পের বাইরে টার্নে পরাস্ত করে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা সাকিব মেতে উঠলেন উৎসব আনন্দে। সাধারনতঃ তেমন আনন্দ উল্লাস প্রকাশ না করলেও করুনারত্নেকে ফিরিয়ে সাকিব দু’হাত শূন্যে ছুড়ে, শূন্যে ঘুষি মেরে বুঝিয়ে দিলেন, ‘আরে চলে যাও  সাজঘরে!’

ওপরের সবগুলোই উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হবার দাওয়াই। তাই তো দিন শেষে আম্পায়ারিং নিয়ে হতাশা ও আক্ষেপ যাই থাকুক না কেন, টিম বাংলাদেশ চাঙ্গা। মাঠ ছেড়ে সন্ধ্যায় যখন টিম বাসে ওঠার পথে সাজঘর থেকে একেকজন যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখন সবার চোখ-মুখে একটা অন্যরকম আভা, আলোর ঝিলিক।

এ আভা যেন ভোরের সূর্য্য উদয়ের আগের ‘রঙিন আলো’। যা পুব আকাশকে করে দেয় আলোকিত। সবার শরীরি ভাষা বলে দিচ্ছিল, তারা জয়ের কথাই ভাবছেন। না ভাবার কোনই কারণ নেই।

খেলাটা এখনো টাইগারদের হাতে। হেরাথের দল এগিয়ে ১৩৯ রানে। তাদের হাতে আছে দুই উইকেট। দুই বোলার লাকমাল আর পেরেরা ক্রিজে। এরপর আছেন শুধু ল²ন সান্দাকান।

বাংলাদেশ শিবিরের আশা, আগামীকাল রোববার সকাল সকাল লঙ্কান ইনিংসের লেজ মুড়িয়ে দেয়া যাবে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে অভিষেক হওয়া মোসাদ্দেক জানিয়ে গেলেন, তাদের লক্ষ্য লঙ্কান ইনিংসকে দেড়শোর আশপাশে বেধে ফেলা। কোনভাবেই যাতে ১৬০ রানের বেশি টার্গেট না হয়।

যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয়, লক্ষ্যটা যদি দেড়শোর আশপাশে থাকে তাহলে মুশফিকের দল জয়ের আশা করতেই পারে। ইতিহাস জানাচ্ছে, দু‘শোর বেশি (২০০৯ সালে গ্রানাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২১৫) রান তাড়া করার রেকর্ডও আছে টাইগারদের।

চতুর্থ দিন শেষে উইকেটের যা অবস্থা, তাতে লক্ষ্যটা দেড়শো ছাড়িয়ে গেলেও ভড়কে যাবার কিছু নেই। আজও উইকেট মোটামুটি স্বাভাবিকই ছিল। সাধারনতঃ চার দিনের পিচে কিছু না কিছু ফাটল সৃষ্টি হয়। পি সারায় তা হয়নি। বল বিপজ্জনকভাবে লফিয়ে ওঠেনি। নিচুও হয়নি। টার্ন হয়েছে অল্প-বিস্তর।

আজ শেষ দিন পিচের চরিত্র অতিনাটকীয় পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের চিন্তার কারণ সামান্যই। এখন দেখার বিষয়, লঙ্কান ইনিংস কাল শেষ দিন কতক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সকালে শুরুর পরপর থামিয়ে দিতে পারলে তো কথাই নেই। প্রথম আধঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে পারলেও চলবে।

তখন হয়ত ওই ১৬০ রানের মতই টার্গেট দাঁড়াবে। সময় মিলবে ৮০ ওভারের মত। ঠান্ডা মাথায় ধৈর্য্য ধরে লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত সময় ও অবকাশও মিলবে। তখন ওভার পিছু লক্ষ্য দাঁড়াবে ২ করে।

তামিম, সৌম্য, ইমরুল, মুশফিক, সাকিব, সাব্বির, মোসাদ্দেকরাও দেখে-বুঝে খেলার সময় পাবেন। তার আগে কাল (রোববার) সকাল-সকাল বাকি দুই উইকেটের পতন ঘটাতে হবে। কাল সকালে আর ২০-২৫ রানের মধ্যে লঙ্কান ইনিংসের শেষ দুই উইকেটের পতন ঘটাত পারলেই হয়ত শততম টেস্টে মিলবে স্মরনীয় জয়ের দেখা।

এআরবি/আইএইচএস

আমি হতাশ : মেসি

ছয় বছর ধরে চলছে। কখন যে এর শেষ হয়; তা কি কেউ জানে? সিরিয়ায় নিরন্তর ধ্বংসলীলা অব্যাহত। আর সেই ধ্বংসের মুখ হিসেবে বারবার উঠে আসছে বিধ্বস্ত শিশুর ছবি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো- যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে শিশু।

কোনো শিশু শেষ হয়ে যাচ্ছে চিরতরে, কারও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। যাদের ক্ষেত্রে ক্ষতি শারীরিক নয়, এক দুঃসহ পরিস্থিতি মানসিকভাবে তাদের শেষ করে দিচ্ছে।

messi
একজন বাবা হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই শিশুদের জন্য মন কাঁদে লিওনেল মেসির। তাই যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার ও ইউনিসেফের অ্যাম্বাসেডর। পাশাপাশি সিরিয়ায় বারবার শিশুরা সহিংসতার শিকার হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘যুদ্ধের সময়টা অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ার শিশুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই নিষ্ঠুরতা চলছে ৬ বছর ধরে। এমনিতেই যুদ্ধ শিশুদের জিম্মি করে রাখে। একজন বাবা এবং ইউনিসেফের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সিরিয়ার এই ঘটনায় আমি হতাশ। যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউনিসেফের সঙ্গে আপনারাও আওয়াজ তুলুন।’

ভাগ্যই শততম টেস্টে গ্লাভস তুলে দিচ্ছে মুশফিকের হাতে

কী আশ্চর্য্য! শততম টেস্টের আগেও ঠিক অভিষেক টেস্টের আগের রাতের মত অবস্থা। ২০০০ সালের ৯ নভেম্বর প্র্যাকটিস সেশনেও যে সম্ভাব্য লাইনআপ ছিল, তা বদলে গিয়েছিল ম্যাচের আগের রাতের টিম মিটিংয়ে।

ইতিহাস যাকে সব সময় বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে জানে এবং জানবেও সেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে খেলাতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। খেলা নিয়ে সংশয় ছিল হাবিবুল বাশারেরও।

পরে টিম মিটিংয়ে অধিনায়ক নাঈমুর রহমানের নেয়া কঠোর অবস্থানের কারণে ভাগ্য খোলে আমিনুল ও বাশারের। প্রথম জন সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যকে মেলে ধরেন। আর বাশার হাফ সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে অধিনায়কের মুখ রক্ষা করেন।

এবার কলম্বোয় শততম টেস্টের আগের রাতেও দল সাজানো নিয়ে নানা গুঞ্জন। টিম ম্যানেজমেন্ট তথা কোচ হাথুরুসিংহে খানিক দ্বিধায়। এ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বাড়লো রাতে লিটন দাসের ইনজুরিতে একাদশ থেকে ছিটকে পড়ার খবরে।

গলেও গরম ছিল। তবে তুলনামুলক ঘাম কম হয় বলে অত অসহনীয় মনে হয় না; কিন্তু কলম্বোয় একেবারে কম্মকাবার হবার জোগাড়। যেমন গরম। তেমন আদ্রতা। ঘাম হয় প্রচণ্ড। দুপুরে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে; কিন্তু তাতে উত্তাপ কমেনি। বরং গরম বেড়েছে আরও।

সে অসহনীয় গরম আর ঘেমে নেয়ে ওঠা কমলো অল্প কিছুক্ষণ আগে; বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ (কলম্বোয় তখন রাত আটটা)। বেশ তর্জন-গর্জন করে বিদ্যুৎ চমকে এক পশলা ভারী বৃষ্টি হলো। তাতে শীতল কলম্বো।

কলম্বোবাসী ভ্যাপসা গরম থেকে খানিক নিস্তার পেলেও বাংলাদেশ শিবিরে আজ রাত আটটা নাগাদই নেমে এসেছে এক অস্বস্তির পরশ। শততম টেস্টের ১২ ঘন্টা আগে ইনজুরিতে ছিটকে পড়েছেন লিটন দাস।

আজ সন্ধ্যার পরই কপাল পোড়া খবর পেয়েছেন এ কিপার কাম মিডল অর্ডার। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে জানালেন, গতকাল সোমবার নেটে বুকে বল লেগেছিল লিটনের। বুকের পাঁজরে বলের আঘাতটা শুরুতে তেমন গুরুতর মনে না হলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে ব্যাথা বাড়তে থাকায় এমআরআই করে দেখা গেছে, সমস্যা আছে। চিকিৎসকরা তিন সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই লিটনের পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না।’

এখানেই শেষ নয়। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের শেষ কথা, ‘এখন তো আর কোন বিকল্প নেই। তাই মুশফিকুর রহীমই কিপিং করবে।’

মুশফিক কিপিং করবে- এখন এটাই নিশ্চিত খবর। এটুকু শুনে মনে হতেই পারে, ভাগ্য পুড়লো লিটন দাসের। আর ইচ্ছে পূরণ মুশফিকুর রহীমের। অনেক আশা নিয়ে শ্রীলঙ্কা আসা লিটনের। কে জানতো শততম টেস্টের আগে গিয়ে বুকে বল লাগবে? তাই আশাহতের বেদনায় দগ্ধ লিটন।

মুশফিক মনে মনে নিশ্চয়ই খুশি! দেশ ছাড়ার আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও কিপিং চালিয়ে যাবার দৃঢ় সংকল্প ছিল কন্ঠে। শ্রীলঙ্কা আসার পর টিম ম্যানেজমেন্টের চাপেই হোক, কিংবা তাদের পরামর্শেই হোক- কিপিং ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বসলেন ক্যাপ্টেন।

অবশেষে শততম টেস্টের আগের রাতে অতি নাটকীয়ভাবে আবার কিপিংয়ের দায়িত্ব তার কাঁধেই চলে আসলো আবার।

পিএসএলে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় বিজয়

এনামুল হক বিজয়  ছিলেন আইপিএলের নিলামেও। তার ভিত্তি মূল্য ছিল ৩০ লাখ রুপি। ওই নিলামে দল পাননি। বাংলাদেশের মোট ছয়জন ক্রিকেটার নিলামে ছিলেন। কারো ব্যাপারেই অবশ্য আগ্রহ না দেখায়নি ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।

তবে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার একটা সুযোগ পেয়েছেন বিজয়। তা-ও আবার ফাইনাল ম্যাচটি। নিরাপত্তা অজুহাতে লাহোরে যেতে রাজি হননি কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিদেশি খেলোয়াড়রা। সেই সুবাদে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিজয় গেছেন লাহোরে।

এবারই প্রথম বিদেশি লিগ হিসেবে পিএসএলে খেলছেন এনামুল হক। বাংলাদেশ জাতীয় দলে উপেক্ষিত এই ক্রিকেটার এখন বিদেশি লিগে নিজেকে প্রমাণ করতে চান। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৯টায় পিএসএলের ফাইনাল ম্যাচ মাঠে গড়াবে। একাদশে জায়গা পেলে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করবেন বাংলাদেশি এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান; তা বলা বাহুল্য।

পিএসএলে খেলার সুযোগ দেয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে কৃতজ্ঞ এনামুল হক। বলেন, ‘প্রথমত আমি  ধন্যবাদ জানাতে চাই বিসিবিকে; যারা আমাকে পিএসএলের ফাইনাল খেলতে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। বিসিবি আমার কাছে আমার অভিভাবকের (মা-বাবা) মতোই। আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করে থাকে। বিসিবি আমাকে প্রমাণের (বিদেশি লিগে) সুযোগ করে দিয়েছে।’

সুসময়ে ও দুঃসময়ে যেসব ভক্তকে পাশে পান বিজয়; তাদেরও ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেননি, ‘আমি আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার ভক্তদের; যারা সব সময় আমার পাশেই থাকেন। হোক সেটা ভালো সময় কিংবা খারাপ সময়। তারা আমার হৃদয়ে আছেন।’

সর্বশেষ পিএসএল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশি এই ক্রিকেটার। বলেন, ‘আমি পিএসএলের কর্তাদের কাছে কৃতজ্ঞ; তারা আমাকে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। এখানকার সবাইকে ধন্যবাদ। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

ক্যারিবীয়ান লিগের নিলামে চার বাংলাদেশি

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জ্যামাইকা তালওয়াস ধরে রাখায় সিপিএলে নিলামে নেই সাকিব আল হাসান। তবে আসন্ন ক্যারিবীয়ান লিগের নিলামে উঠছেন বাংলাদেশি চার তারকা তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও এনামুল হক বিজয়।

খেলোয়াড় নিলামে আরও রাখা হয়েছে এবারের আইপিএলে চমক সৃষ্টি করা ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার তাইমাল মিলসকে। এছাড়া আছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবী।

নিলামের ড্রাফটে থাকা ২৫৮জন খেলোয়াড়ের মধ্যে পাকিস্তানের ৪৬ জন, অস্ট্রেলিয়ার ২৮ জন, নিউজিল্যান্ডের ১৭ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ১৬, শ্রীলঙ্কার ১৯, ইংল্যান্ডের ৪ জন, আয়ারল্যান্ডের ৩, আফগানিস্তানের ৫, কানাডার ২, ওমানের ১, যুক্তরাষ্ট্রের ১ ও জিম্বাবুয়ের ৪ জন খেলোয়াড় রয়েছেন। আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে নিলাম। আগামী ১ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসরটি অনুষ্ঠিত হবে।

রিয়ালকে টপকে শীর্ষে মেসির বার্সা

মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে গোল উৎসব করেছে বার্সা। ঘরের মাঠে ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর গোলে স্পোর্টিং গিজনকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এর আগে লিগের প্রথম পর্বেও স্পোর্টিং গিজনকে তাদের মাঠেই ৫-০ গোলে হারিয়েছিল মেসিরা।

ঘরের মাঠে জিতলেই রিয়ালকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার ম্যাচে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে থাকে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের নবম মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন মেসি। মাসচেরানোর বাড়ানো বল এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে জড়ান পাঁচবারের বর্ষসেরা এই খেলোয়াড়।

এর দুই মিনিট পর কাতালানদের আক্রমণ ফেরাতে হিমশিম খেতে থাকা স্পোর্টিং গিজনের ডিফেন্ডার হুয়ান রদ্রিগেজ নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলের লিড উপহার দেন। ম্যাচের ২১ মিনিটে গিজনের কার্লস ক্যাস্ত্রো গোল করে ব্যবধান কমিয়ে খেলায় ফেরার ইঙ্গিত দেয়। তবে ম্যাচের ২৭ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ গোল করে দলের লিড ৩-১ এ নিয়ে গিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করেন।

বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার বেড়ে যায় বার্সার। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে ডান দিক থেকে মেসির পাস ধরে সোজাসুজি উঁচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সুয়ারেসের বদলি নামা আলকাসের। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগলে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত হন মেসি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে গোলের দেখা পান নেইমার। ডান দিক থেকে অসাধারণ বাঁকানো ফ্রি-কিকে লক্ষ্যভেদ করেন। নির্ধারিত সময় শেষের তিন মিনিট আগে স্পোর্টিংয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন ইভান রাকিটিক। দুরূহ কোণ থেকে বুলেট শটে বল জালে জড়ান ক্রোয়েশিয়ার এই মিডফিল্ডার। এ জয়ে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে কাতালান শিবির।

আরচারিতে বাংলাদেশের ৬ স্বর্ণ

নয়টি স্বর্ণের মধ্যে ৬ টি জিতে প্রথম আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজেদের করে নিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আরচারদের জয়জয়কারের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

ছেলেদের এককের ব্যর্থতা ঢেকে গেছে দলগত ইভেন্টের সফলতায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৬ স্বর্ণ জয়ের যে প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, তা পূরণ হয়েছে শতভাগ।

শেষ দিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে সবগুলো ইভেন্টের স্বর্ণ পদক। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পতাকা উঠেছিল নারী আরচার হীরা মনি নৈপূণ্যে। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দেন বাংলাদেশকে।

মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে পরাজিত করেন।

Archary
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে পরাজিত করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ফাইনালে মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ ফিরদাউস বিন ইসা ১৪১-১৪০ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের নিক আহমদ ডেনিয়াল বিন মোহাম্মদ কামারুলজামানকে পরাজিত করেন।

মহিলা এককে ইরাকের ফাতিমাহ আল মাসহাদানী ১৩৫-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বন্যা আক্তারকে পরাজিত করেন। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭  পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেন।

কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে পরাজিত করেন।

সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।  উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইক্টের খালিদ বিন আল শায়েখ, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহ সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।

পদক তালিকা
দেশ                 স্বর্ণ    রৌপ্য    তাম্র    মোট
বাংলাদেশ           ৬       ১         ২       ৯
মালয়েশিয়া         ১        ২         ০      ৩
সৌদিআরব         ১        ০         ১       ১
ইরাক                ১        ১         ২      ৪
নেপাল               ০        ১        ০       ১
ভুটান                ০        ৩         ১      ৫
আজারবাইজান     ০         ১         ১     ২

সুন্দর সকালের পর চরম হতাশার একদিন

‘হাই গুড মর্নিং। হোয়াট এ লাভলি মর্নিং! ব্রাইট সানশাইন। ব্লু-স্কাই। নট সো হেভি উইন্ড ব্লোয়িং। ভেরি সুইটেবল টু ইউ, আই গেইজ। হ্যাভ এ নাইস ডে।’ সকাল সকাল মাঠে আসার পথে হোটেল রিসিপশনিষ্টের কাছ থেকে আবহাওয়া সম্পর্কে এমন তথ্য নির্ভর শুভ কামনা শুনে মনটা চাঙ্গা হয়ে গেল। হোটেল থেকে কয়েক শ`গজ দূরেই বেসিন রিজার্ভ। হাঁটা পথে দুই থেকে আড়াই মিনিটের পথ। খোলা আকাশের নিচে আসতেই চোখ গেল আকাশের দিকে। সত্যিই নীল আকাশ।

ওয়েলিংটন আসার পর এত রোদেলা সকাল আর চোখে পড়েনি। এমনকি সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহীম যে দিন ৩৫৯ রানের হিমালয় সমান পার্টনারশিপ গড়ে উঠেছিল, সেদিনের চেয়েও সুন্দর সকাল। উত্তরবঙ্গ ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে যেমন আবহাওয়া থাকে, অনেকটা তেমন।

সুন্দর নীল আকাশ। মৃদু মন্দ বাতাস। কিন্তু শীত নেই। আজ ওয়েলিংটনে অমন সুন্দর রোদ ঝলমলে সকাল! এ গ্রীষ্মে নাকি তেমন একটা দেখা যায়নি। কিন্তু এ সকাল মাটি হলো দিনের প্রথম ওভারেই। পঞ্চম দিনের পাঁচ নম্বর ডেলিভারিতে আউট সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং করা সাকিব আজ শেষ দিন সকালে ফিরলেন খালি হাতে। ফুটবল যেমন গোলই শেষ কথা। ক্রিকেটে তেমনি রান করা বা আউট হওয়াই আসল।

একজন ব্যাটসম্যান আউট হতেই পারেন। হন। হবেনও। এটাই ক্রিকেটের রীতি। কিন্তু তারও একটা ধরন থাকে। খুব ভালো বলে আউট হলে কিছুর বলার ছিল না। খুব ভাল ক্যাচের শিকার হলেও ব্যাটসম্যান সাকিবের দোষ খুঁজতেন না কেউ। কিন্তু বেসিন রিজার্ভে আজ দিনের প্রথম ওভারে সাকিব যেভাবে আউট হলেন, তা চোখে দেখেও বিশ্বাস করা কঠিন। একটা দল টেস্ট ম্যাচ বাঁচাতে লড়ছে। সেই দলের প্রথম ইনিংসের টপ স্কোরার তিনি, দল তার দিকে তাকিয়ে। কোথায় দাায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের সেরাটা দিবেন, তা না রিতিমত উইকেট বিসর্জন দিয়ে গেলেন সাকিব।

যখন উইকেটে থাকা খুব দরকার, তখন দাইয়িত্বহীন শট খেলে নিজের বিপদ ডেকে আনা যে চরম দায়িত্বহীনতা। প্রথম ইনিংসের নায়ক সাকিব এবার প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিলেন। সেটাই বড় কথা।

আগের দিন পড়ন্ত বিকেলে ছোট মড়কে ধুকছিল দল। ইনজুরি গ্রাস করে আছে চারিদিক থেকে। তামিম-মাহমুদউল্লাহ সাজঘরে। ইমরুল কায়েসও উরুর ইনজুরিতে। ব্যাট করতে পারবেন কিনা ? সন্দেহ। এখন কাজ একটাই বলের মেধা ও গুণ বিচার করে দেখে খেলে সময় পাড় করা। তা না দিনের প্রথম ওভারে বিগ হিট নিতে যাওয়া। তাও মানা যেত, যদি সামনে টার্গেট থাকতো। যদি বাংলাদেশের সামনে ৩০০ রানের টার্গেট থাকতো, তাহলে সাকিব এমন আক্রমণাত্মক শটস খেলতে গিয়ে আউট হলে সেভাবে হয়তো সমালোচনার মুখে পড়তেন না।

কিন্তু বাংলাদেশ তো আর রান তাড়া করছে না। বরং ম্যাচ বাঁচাতে লড়ছে। এ সংগ্রাম সফল করতে দরকার ছিল দাঁতে দাঁত চেপে উইকেটে পড়ে থাকা। সাকিবদের সামনে লক্ষ্য ছিল একটাই, যতটা সম্ভব বেশি সময় উইকেটে কাটিয়ে ম্যাচ বাঁচানো। সে মিশনে নেমে দিনের প্রথম ওভারে বিগ হিট নিতে গিয়ে আউট! আত্মঘাতী ছাড়া আর কি?

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সাকিবের মত বড় ক্রিকেটার দলের প্রয়োজনে সেই আত্মঘাতী কাজই করলেন। বাঁহাতি স্পিনার মিচেল সান্টনারের বলে হঠাৎ দুম করে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাকাতে গিয়ে উইকেট বিসর্জন দিলেন সাকিব। বলের পিছনে শরীর ও পা কিছুই যায়নি। বল আকাশে উঠে চলে গেল মিড অনে। মিড অন ফিল্ডার উইলিয়ামসন একটু পিছনে দৌড়ে তা ধরে ফেললেন। অমন সোনালি সকালে বিষাদের মেঘ। সকালটাই মাটি।

আগের দিন ইমরুলের ইনজুরি। বুকের পাজরে ব্যথা নিয়ে মুমিনুলের ব্যাটিং করা। আঙ্গুলের ব্যথা নিয়েও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের প্যাড পড়ে বসে থাকা। তামিম-মাহমুদউল্লাহর মত দুই দুজন ব্যাটিং স্তম্ভ সাজঘরে। তারপরও এমন দায়িত্বহীন ও বলগাহীন ব্যাটিং মানা কঠিন। সাকিবের এ ভুল পথে হাটাই কাল হলো। আর সঠিক পথের সন্ধান মিললো না।

২০১৭ সালের ১৬ জুন এক বিষাদময় দিন হয়ে থাকল টাইগাররে জন্য। সারা দিন ব্যর্থতার গ্লানির সঙ্গে যোগ হল অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের মাথার ইনজুুরি। স্রষ্টাকে ধন্যবাদ। তার কৃপায় তবু অল্পে রক্ষা মুশফিকের। সাউদির বাউন্সার মাথার পিছনের দিকে লাগার পরমনে হচ্ছিল আঘাত গুরুতর। কিন্তু পরে মাথার পিছন ও ঘাড়ের এক্স-রেতে কোন সমস্যা ধরা না পরায় হাসপাতাল থেকে ফেরা।

অপয়া ১৩ জানুয়ারিতে সাকিব-মুশফিকের রেকর্ড পার্টনারশিপ দেখে মনে হচ্ছিল ১৩ অপয়া না। কিন্তু আজ যখন মুশফিক ১৩ রানে মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে গেলেন, তখন আবার মনে হলো , সত্যিই বুঝি ‘১৩ অপয়া।’ ব্যর্থতা আছে। তামিম, মাহমুদউল্লাহ আর সাকিবের মত স্তম্ভরা দ্বিতীয় ইনিংসে চরম ব্যর্থ।

তারপরও সাব্বির আশা জাগাচ্ছিলেন। হয়তো একটা সাপোর্ট পেলেও ম্যাচ বাঁচানোর মিশনে আরও অনেকটা পথ যেতে পারতেন। কাল শেষ বিকেলে ইমরুল যেমন খেলছিলেন, তেমন একটা ইনিংস আর অধিনায়ক মুশফিক একপ্রাান্ত আগলে রাখতে পারলেই হয়তো হতাশাজনক পরাজয়ের বদলে ‘বীরোচিত ড্র`ই সঙ্গী হয়ে থাকতে পারত।  কিন্তু মুশফিক-ইমরুল কায়েসের ইনজুরিতে পথও রুদ্ধ। কাজেই ব্যর্থতার সাথে ভাগ্য বিরম্বনার এক দলিল হয়েই থাকল বেসিন রিজার্ভ।

এখন পর্যন্ত তারা যেভাবে খেলছে তা বিস্ময়কর : টেলর

ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ৯৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। আর তাতে জয় মাত্র ৮টি। বাকি যে কয়টি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে তার সিংহভাগই ঘরের মাঠে। দেশের বাইরে বিশেষ করে বড় দেশগুলোর বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। তবে নিউজিল্যান্ডে প্রথম টেস্টে অন্য বাংলাদেশকেই দেখেছে কিউইরা। আর তাতে কিছুটা হলেও অবাক কিউই সাংবাদিকরা।

তাই সাংবাদিক সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের এক সিনিয়র সাংবাদিক রস টেইলরের কাছে জানতে চাইলেন এর কারণ, ‘বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ওয়ানডের পাশপাশি টেস্টেও ভালো খেলে, অন্তত তাদের রেকর্ড তাই বলে। কিন্তু দেশের বাইরে তাদের পারফরম্যান্স তেমন উন্নত নয়। এখানে আপনাদের বিপক্ষে বেশ ভালো খেলছে। এতে আপনাদের মূল্যায়ন কি?’

প্রশ্নটা শুনে ক্ষীণ হাসলেন টেইলর। স্বভাবসুলভ বিনয়ীভাব রেখেই উত্তর দিলেন, ‘আমার মনে হয় এখন পর্যন্ত যেভাবে তারা খেলেছে  তা বিস্ময়কর!’

বরাবরই বাংলাদেশ খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। আর দেশের বাইরে তো খুবই কম। এ কথা জানেন টেইলর, ‘দেশের বাইরে তারা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলে না তাই তাদের অভিজ্ঞতা কম। তারা যত বেশি বাইরে ক্রিকেট খেলবে তত ভালো হবে।’

নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচেই (প্রথম ওয়ানডে) ইনজুরিতে পড়েন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। সে ম্যাচে ৪২ রানে ব্যাট করার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়ে সীমিত ওভারের ম্যাচে আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি। আর এতে বাংলাদেশের শক্তি অনেকটাই কমেছিল বলে মনে করেন টেইলর। মুশফিক থাকলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে ফলাফল যা হয়েছে তার চেয়েও কাছাকাছি ছিল। সেখানে তারা তাদের অধিনায়ককে (মুশফিক) মিস করেছে, টেস্টে সে ফিরে এসে মিডেল অর্ডারে তার সামর্থ্য দেখিয়েছে। তার উপর দল অনেকটাই নির্ভরশীল। যদি সে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং করতে পারতো তাহলে হয়তো অন্যরকম চিত্র হতে পারতো।’

শুধু মুশফিকের প্রশংসা করেই থামেননি টেইলর। সাকিব, মিরাজ এমনকি পেসারদের প্রসংসাও করেন তিনি, ‘সাকিব সবসময়ই একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়, এবং তাদের তরুণ স্পিনারও ভালো করেছে। আমরা আজকে ওপেনিংয়ে তাকে আশা করিনি। এখানে এসে বল করা খুব সহজ নয়। সে গিয়েছে এবং সকল বোলারের চেয়ে ভালো রান কম দিয়েছে। এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের শক্তির কথা জানিয়ে দেয়। আর পেসাররাও এখনকার কন্ডিশন উপভোগ করেছে তবে যত তারা দেশের বাইরে বল করবে তত তারা আরও ভালো হয়ে উঠবে।’

উল্লেখ্য, কিউইদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। আর নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে করেছেন ২৯২ রান।

ইমরুলের পর তামিমের বিদায়

ওয়ানডে সিরিজের হারের পর টি-টোয়েন্টি তে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে টস জিতে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। তবে মাঠে  শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। ম্যাট হেনরির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যক্তিগত ও রানে উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন ইমরুল কায়েস।

আর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফিরে গেলেন তামিমও। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ২৮ রান।

আগের রাতে ম্যাকলিন পার্কে বৃষ্টি হয়েছে। তবে মুষলধারে নয়। ঝিরঝিরে। ইলশেগুঁড়িরও বলা যায়। আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত নেপিয়ারের আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ইলশেগুঁড়ির কমে একদম হালকা টিপ টিপ বৃষ্টিতে রুপান্তরিত হয়। বেলা ১২টা পর্যন্ত সূর্য আর মেঘের লড়াই হয়েছে। তারপর যত সময় গড়িয়েছে ততই পরিষ্কার হয়েছে নেপিয়ারের আকাশ।

এদিকে আজকের ম্যাচের লাইন আপ আগেই জানা। ১৫ জনের মধ্য থেকে এ ম্যাচের বাইরে আছেন অলরাউন্ডার শুভগত হোম, দুই পেসার শুভাশীষ রায় ও তাসকিন আহমেদ এবং বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার মানে মুশফিকুর রহিমের কিল্প হিসেবে ওয়ানডের দুই ম্যাচ খেলা নুরুল হাসান সোহানকে ধরে এ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান আটজন ( তামিম, ইমরুল, সাব্বির, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য, মোসাদ্দেক ও নুরুল হাসান)।

পেসার তিনজন অধিনায়ক মাশরাফি, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজ। স্পেশালিষ্ট স্পিনার সে অর্থে সাকিব একা। ওয়ানডের মত টি- টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায়ও বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি তামিম ইকবাল আর  ইমরুল কায়েস। তিন নম্বরে সাব্বির রহমান রুম্মন। সৌম্য সরকারকে খেলনো হবে ছয় নম্বরে।

সেঞ্চুরি হাকিয়ে নতুন রেকর্ড ওয়ার্নারের

বছরের শুরুতেই ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে নিজেকে আবারো প্রমাণ করলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে প্রথম দিনের প্রথম সেশনের লাঞ্চ বিরতির আগেই সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। এর ফলে প্রথম সেশনে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ওয়ার্নার।

লাঞ্চ বিরতির আগে সেঞ্চুরি হাঁকানো ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়ার্নার পঞ্চম।  নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর্য়ানারই প্রথম এমন সেঞ্চুরি করলেন।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ঘরের মাঠে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত সেঞ্চুরি তুলে নেন ওর্য়ানার। ৯৫ বল মোকাবেলায় ১৭ চারের সাহায্যে ১১৩ রানের ইনিংস খেলে ওয়াহাব রিয়াজের বলে আউট হয়েছেন। তবে আউট হবার আগে গড়লেন নতুন এ রেকর্ড।

জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ড শুরু মঙ্গলবার

ওয়ালটন ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ ও শেষ রাউন্ড শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। ৩ থেকে ৬ জানুয়ারি জাতীয় লিগের দুই স্তরের আটটি দল দেশের চারটি ভেন্যুতে লড়বে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ম্যাচগুলো শুরু হবে।
প্রথম স্তরের ম্যাচে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে খুলনা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রো। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম স্তরের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে বরিশাল ও ঢাকা বিভাগ।
দ্বিতীয় স্তরে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রংপুর খেলবে রাজশাহীর বিপক্ষে। এই স্তরের অন্য ম্যাচটিতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক চট্টগ্রামের বিপক্ষে লড়বে সিলেট বিভাগ।

ফাইনালের লড়াইয়ে মুখোমুখি সাব্বির-মাহমুদউল্লাহ

বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আজ সাব্বির-স্যামির রাজশাহীর বিপক্ষে মাঠে নামবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্স। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা পৌনে ৬ টায়।

দলীয় পারফরম্যান্স দিয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তামিম-গেইলদের দল চিটাগাংকে বিদায় করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে উত্তীর্ণ হয়েছে স্যামির রাজশাহী। সাব্বির, মমিনুল, স্যামি ব্যাট হাতে, মিরাজ, আবুল হাসান রাজু, ফরহাদ রেজা, সামিত প্যাটেল, সামি বল হাতে ধারাবাহিকভাবেই সফল। আর স্যামির উজ্জীবনী অধিনায়কত্ব দলকে আরো চনমনে আর আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ফাইনালে জায়গা করে নিতে আজ তাদের প্রতিপক্ষ খুলনা।

প্লে অফে ঢাকার কাছে হারলেও ফাইনালে খেলার আরেকটি সুযোগ পাচ্ছে খুলনা। তবে খুলনা অনেকাংশে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের উপরে নির্ভরশীল। তবে এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত অন্যতম সফল বোলার খুলনা টাইটান্সের শফিউল ইসলাম। এছাড়া মোশাররফ হোসেন রুবেল, জুনায়েদ খানদের নিয়ে খুলনার বোলিং আক্রমণ যথেষ্ঠ শক্তিশালী। আব্দুল মজিদ, হাসানুজ্জামান, পুরান, হাওয়েল কে নিয়ে ব্যাটিং লাইন আপটাও হেলাফেলা করার মতো নয়। কিন্তু, রিয়াদ জ্বলে না উঠলে যেনো পুরো দলই খেলতে ভুলে যায়। তাই ফাইনালে যেতে রিয়াদকেই জ্বলে উঠতে হবে।

জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে কুমিল্লার

গতবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস টানা ৫ ম্যাচ হারার পর শনিবার হারের বৃত্ত ভেঙেছে। রাজশাহী কিংসকে নিজেদের ৬ষ্ঠ ম্যাচে ৩২ রানে হারিয়েছে কুমিল্লা। এই জয়ের পরে কুমিল্লা হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বলে মনে করেন তরুণ অলরাউন্ডার নাজমুল হোসেন শান্ত।

সোমবার কুমিল্লার প্রতিপক্ষ চিটাগং ভাইকিংস। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবে দল দুটি। প্রথম লড়াইটিতে অবশ্য জিতেছিল চিটাগং ভাইকিংস। ৮ নভেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচটি খেলেছিল তারা।

পরবর্তী ম্যাচগুলো নিয়ে জানতে চাইলে তরুণ অলরাউন্ডার নাজমুল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছিলাম। এই জয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। আশা করি সামনের ম্যাচগুলোতে এটা খুব কাজে দেবে।’

অন্য সব ম্যাচের চেয়ে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে শারীরিক ভাষাটা আক্রমণাত্মক ছিল। এটাই মূলত জয় পেতে সাহায্য করেছে কুমিল্লাকে, ‘ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের শুরু থেকেই আক্রণাত্মক ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা ছিল।’

সমর্থকদের দাবি : ফিনিশার নাসিরকে চাই

কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর অনেক রেকর্ড রয়েছে নাসির হোসেনের। ম্যাচ শেষ করে আসার কারণেই তার অপর নাম ফিনিশার নাসির। শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭১ রান থেকে ২৮৮- এই ১৭ রানের ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ হেরে গেলো ২১ রানের ব্যবধানে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা এবং চায়ের টেবিলে ঝড় উঠছে, কেন দলে নেই নাসির?

সমর্থকদের দাবি- সাকিব আউট হয়ে যাওয়ার পর যদি নাসির থাকতো, তাহলে নিশ্চিত ম্যাচটা জিতে বেরিয়ে আসতে পারতো বাংলাদেশ। শেষটায় যেভাবে লেজে-গোবরে অবস্থার তৈরী করেছিল ব্যটসম্যানরা, নাসির থাকলে এমনটা হতো না।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও ১৪ জনের দলে ছিলেন। অথচ বসে থাকতে হয়েছে সাইডলাইনে। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলে থেকেও জায়গা পাচ্ছেন না।

গত বছর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন। যদিও এরপর বাংলাদেশই ওয়ানডে খেলেনি। এর মধ্যে অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। সবগুলোরই দলে ছিলেন নাসির। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি কিংবা ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- কোনটাতেই সুযোগ পাননি তিনি। বসে থাকতে হয়েছে সাইডলাইনে। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে শুধু খেলেছিলেন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর সাইডলাইনই তার জন্য নির্ধারিত স্থান।

শুক্রবার ইংল্যান্ডের কাছে তীরে এসে তরি ডোবানোর পর ফেসবুক-টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ঝড় উঠে গেছে- কেন নেই নাসির? কেন নাসিরকে খেলানো হচ্ছে না? পরের ম্যাচে নাসিরকে নেয়া হোক। বাদ দেয়া হোক মোশাররফ রুবেলকে।

ফরহাদ টিটো। বাংলাদেশের প্রথিতযশা একজন স্পোর্টস রাইটার। এখন প্রবাসী। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জনগনের সিদ্ধান্তে আগামী খেলায় নাসির খেলছেন। টিম ম্যানেজমেন্ট মানে যারা সেরা এগারো বাছাই করেন তাদের আর কোনো উপায় নাই এইবার। কারণ জনগনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত!’

সাজ্জাদ কবির অমি নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পরাজয়ের এই দিনে,নাসির তোমায় মনে পড়ে…। ঈশশ!!! যদি আজ (শুক্রবার) মোশাররফ রুবেলের বদলে নাসিরকে নেয়া যেতো!!! একটা সময় ৫২ বলে ৩৯ রানের দরকার ছিলো, হাতে ছিল ৬ উইকেট। তবুও ২১ রানের হার। এটাকে কি দূর্ভাগ্য বলবো না ব্যার্থতা….???’

শাওন তালুকদার নামে একজন লিখেছেন, একটা জেতা ম্যাচ কিভাবে হারতে হয় তা আরও একবার দেখলাম। নাসিরের জায়গায় কত মোশাররফ, মোসাদ্দেক, লিটন দাশ, শুভাগত- কত কি আসলো আর গেল; কিন্তু নাসিরের অভাব পুরন করতে পারলো না কেউ। এরপরও নাসির খারাপ, কারণ তার ৮০ টা গার্লফ্রেন্ড আর ২০টা মোবাইল। শেষ ৯ রানে ৫ উইকেট এটা মানার মত ব্যাপার না। নাসির কত ম্যাচ ফিনিশিং দিয়েছে, প্রমানিত একজন প্লেয়ার কিন্তু এই প্রমানিত প্লেয়ারকে না নিয়ে আমরা নতুন নতুন প্লেয়ার নামানোর জুয়া খেলা খেলছি।’

শাম শুভ নামে একজন তো ২০১৫ সালে নাসিরের পারফরম্যান্সের পুরো পরিসংখ্যান দিয়ে লিখেছে- ‘মোটামুটি অসাধারণ পারফরমেন্স। তার উইকেটগুলোর বেশিরভাগই মূল্যবান এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্র্যাক থ্রু এনে দেয়া। তার ফিল্ডিং নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না, কারণ নিঃসন্দেহে সে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার। আর তার রানের ইনিংসগুলো দলের বিপদের সময় হাল ধরার সমান। এতকিছুর পরও কোন অজুহাতে তাকে দলের বাইরে রাখা হচ্ছে আমার মাথায় আসে না।’

শফিকুল আলম শাওন নামে একজন লিখেছেন, ‘বোলিং ফিগার ৩-০-২৩-০ , সাথে দুই দুইটা ক্যাচ মিস । আমার মতে , ক্যাচ দুইটা মিস না হলে রান ২৮০ এর উপর যাইত না । মোশাররফের তুলনায় বোলিং-এ নাসির বিন্দুমাত্র কম ইফেক্টিভ হবে বলে মনে হয় না। আর ফিল্ডিং এ নাসির এর সাথে মোশাররফ এর তুলনা চলে না। আর ব্যাটিং এ তো অবশ্যই যোজন যোজন এগিয়ে নাসির। এরপরও কি টিম ম্যানেজমেন্টের টনক নড়বে না। আর কতদিন অবহেলিত থাকবেন একসময়ের বাংলাদেশের ফিনিশার খ্যাত নাসির হোসেন???’

মুমিত খান পূর্ণ লিখেছেন, ‘নাসির কে নিয়ে আর কতো? বিপিএল-এর আইকন প্লেয়ার লিস্ট থেকেও বাদ দিলেন!!! কি এমন পাপ করছে নাসির? জাতির সামনে তা সংবাদ সম্মেলন-এ তুলে ধরতে পারবেন একটু? অনেক শান্তি পাইতাম, আর কতো স্ট্যাটাস দিতে হবে!!! ছেলেটাকে কি মাফ করা যায় নাহ? অন্তত আমাদের দেশের স্বার্থে??????কি করা যায় নাহ???’

পাঠকদের জন্য রাখা মন্তব্যের ঘরে একের পর এক দাবি উঠছে, পরের ম্যাচে নাসিরকে খেলানো হোক। নাসিরকে কেন বাদ দেয়া হচ্ছে তার জবাব চাই।’

তবে সাধারণ মানুষের ভেতর থেকে যতই দাবি উঠুক, বিসিবির ভাব-সাবে মনে হচ্ছে নাসিরকে দ্বিতীয় স্যাচেও নামানো হবে না। কারণ, বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, কার জায়গায় খেলাবো নাসিরকে? দলীয় ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও জানিয়েছেন, টিম কম্বিনেশনের কারণেই পারা যাচ্ছে না নাসিরকে খেলাতে।’

পেসারদের নিয়ে ওয়ালশের বিশেষ অনুশীলন

মাঠের পশ্চিমপ্রান্তে গোল হয়ে বসে আছেন বেশ কিছু ক্রিকেটার। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত কয়েকজন বিশ্রাম নিচ্ছেন। তবে একটু নজর দিতেই দেখা গেলো বাংলাদেশ জাতীয় দলের সব পেসার বসে আছেন সেখানে। মনোযোগ দিয়ে শুনছেন নবনিযুক্ত পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের কথা। প্রথমবারের মত বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে মঙ্গলবার মাশরাফিদের নিয়ে দারুন একটি সেশন কাটালেন ক্যারিবিয়ান এই কিংবদন্তী।

ঈদের আগে তিনদিনের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন ওয়ালশ। তখন টাইগারদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সেরে শুধু তাদের বোলিং দেখেছিলেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে দুইদিন আগে অনুশীলন শুরু হলেও সেভাবে পেসারদের নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়নি তাকে। আগের দুদিনই পেসারদের বোলিং পাখির চোখে নিরীক্ষা করেছেন ওয়ালশ। তবে টুকটাক টিপস কেউ চাইলে তা দিলেও নিজ থেকে তেমন কিছু করতে দেখা যায়নি তাকে।

তবে মঙ্গলবার অনুশীলনের দিনটি ছিল শুধুই ওয়ালশময়। পেসারদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর মিরপুরের প্রথম উইকেটে চলে যান তারা। প্রথমেই বল হাতে তুলে দেন তাসকিন আহমেদের হাতে। টানা ছয়টি বল করলেও স্ট্যাম্পে লাগাতে পারেননি একটিও। এরপরই বল হাতে নেন শফিউল ইসলাম সুহাস। প্রথমবারেই স্ট্যাম্প ভাংলো বল। আর সাথেই সাথেই হাততালি দিলেন ওয়ালশ। এভাবে একের পর এক সব পেসাররাই বল করলেন। এরপর উইকেটে একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেন ওয়ালশ। সেখানে রুবেল হোসেনই বার বার হাততালি পেয়েছেন এ ক্যারিবিয়ানের।

তবে অপর প্রান্তে নিয়মিত ব্যাটিং অনুশীলন চালিয়ে যান ব্যাটসম্যানরা। সাকিব-সাব্বিরদের বল করেন দলের স্পিনাররা। লেগস্পিন খেলার দুর্বলতা কাটানোর জন্য এইচপির নুর হোসেন মুন্নাও বল করে যান তাদেরকে।

দেশবাসীর দোয়ায় ভালো আছি : মোস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলে ভারত থেকে ইনজুরি নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের বিস্ময়বালক মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর প্রায় এক মাস রিহ্যাবে থাকার পর সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ও রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপ খেলতে লন্ডনে যান কাটার মাস্টার। কিন্তু সেখানেও দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়েনি। দুই ম্যাচ খেলেই ইনজুরিতে পড়েন তিনি। আর তাতে প্রায় ছয় থেকে নয় মাসের জন্য ছিটকে যান তিনি। তবে অস্ত্রোপচারের পর এখন ভালো আছেন বলে জানান মোস্তাফিজ।

অস্ত্রোপচার শেষে গত শুক্রবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও আজ সোমবার দেশে ফেরেন মোস্তাফিজ। লন্ডন থেকে ১১ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে এদিন সকাল ১১ টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পা রাখেন তিনি। এরপর হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো, আল্লাহ ভালো রেখেছেন। কাজ করতে আরও ভালো হবে। আপনাদের দোয়া আছে, দেশবাসীর দোয়া আছে।’

দেশে ফিরলেও এখন নিজের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় যাচ্ছেন না তিনি। আপাতত ক্যান্টনমেন্টে মামার বাসায় থাকবেন তিনি। সেখানে ইংল্যান্ডের ডাক্তার অ্যান্ড্রু ওয়ালেসের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে যাবেন তিনি, ‘অস্ত্রোপচারের পর ডাক্তার আমাকে কাজ দেখিয়ে দিয়েছে এবং দেবাশীষ দাকে বুঝিয়ে দিয়েছে। কিভাবে কি করতে হবে বুঝিয়ে দিয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করবো। তবে চার সপ্তাহ পর থেকে আমার কাজটা আরও বাড়তে থাকবে।’

মোস্তাফিজকে পেতে বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে ছিল সাসেক্স। কিন্তু মোস্তাফিজের মত দুর্ভাগ্য তাদেরও। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলকে জেতানোর পর তাদের প্রত্যাশার পারদ আরও উঁচুতে ছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ইনজুরিতে পড়ে আর খেলতে পারেননি। তাই স্বাভাবিকভাবেই খেলতে না পারায় খারাপ লাগছে বলে জানান মোস্তাফিজ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড টেস্ট দলে নতুন মুখ

পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে নামার আগে ১২ সদস্যের ইংল্যান্ড দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। দলে একমাত্র নতুন মুখ মিডলসেক্সের পেসার টবি রোল্যান্ড-জোনস। জেমস অ্যান্ডারসনের ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ড দলে ডাক পান ডান হাতি এই পেসার।

টবি ছাড়াও পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে দলে জায়গা হয়নি বেন স্টোকস এবং জস বাটলারের। তারা দুজনই ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন প্রথম টেস্ট থেকে। ইংলিশ ব্যাটসম্যান নিক কম্পটনের সাময়িক অবসরের কারনে দলে অনেকদিন পর ডাক পেয়েছেন গ্যারি বিলিংস।

২৮ বছর বয়সি পেসার টবি রোল্যান্ড-জোনস মিডলসেক্সের হয়ে গত কয়েক মৌসুম দারুণ পারফর্ম করে আসছিলেন। শেষ ম্যাচে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে দলের জয়ে গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ব্যাট হাতে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকার পর বল হাতে দুই ইনিংসে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

শ্রীলঙ্কা সিরিজে ওপেনিংয়ে অসাধারণ খেললেও জ্যাসন রয়কে এখনই টেস্ট দিলে নিতে নারাজ অ্যালিস্টার কুক। লাল বলে আরো অনুশীলনের পরেই তাকে সাদা জার্সি গায়ে দেখতে চান তিনি। এছাড়া শ্রীলঙ্কা সিরিজে দলে ডাক পেলেও এক ম্যাচও না খেলা জ্যাক বল রয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের একাদশে।

ইংল্যান্ড দল: অ্যালেস্টার কুক (অধিনায়ক), অ্যালেক্স হেলস, জো রুট, জেমস ভিঞ্চ, গ্যারি ব্যালেন্স, জনি ব্রেয়াটসো, মঈন আলী, ক্রিস ওয়াকস, স্টুয়ার্ট ব্রড, স্টিভেন ফিন, জেক বল, টবি রোল্যান্ড-জোনস।

দেখা মিলল তামিম পুত্রের

এশিয়া কাপ চলাকালীন সময়ে পুত্র সন্তানের বাবা হন তামিম ইকবাল। সন্তান এবং স্ত্রীকে সময় দিতে এশিয়া কাপে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন তামিম। তামিম পুত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহের কমতি ছিল না। অবশেষে তামিম ইকবাল খানের ছেলে আরহাম খানকে দেখা গেল অনুষ্ঠানে।
এ বছরেরই ২৮শে ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসেন আরহাম খান। আর শুক্রবারই তাকে প্রথম দেখা যায়। আরহাম খানের আকিকা অনুষ্ঠানে তাকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তামিম ইকবাল এবং আয়েশা দম্পতি।

নিজ জেলা চট্টগ্রামে একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলের আকিকা সম্পন্ন করেন দেশ সেরা এই ওপেনার। অনুষ্ঠানে তামিমের আত্মীয় স্বজনসহ সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ দলের খেলা না থাকায় ছুটিতে রয়েছেন তামিম। এ ফাঁকেই সেরে নিলেন ছেলের আকিকা অনুষ্ঠানটি। জন্ম নেয়ার ৩৯ দিন পরেই আকিকা হলো আরহাম খানের।

বিশ্বকাপটা স্বপ্নের মতই কেটেছে তামিম ইকবালের। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন তামিম। এছাড়াও ছিল বিশ্বকাপে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি। ওমানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেরা ১০৩ রান করেছিলেন তামিম।

আমিরকে দুয়ো দিল নিউজিল্যান্ড দর্শকরা

স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে পাঁচ বছরের নির্বাসন শেষে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন মোহাম্মদ আমির। ঘরোয়া লিগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চোখে ধাঁধানো পারফরম্যান্সে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন পাকিস্তান জাতীয় দলে। আর আমিরের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

জাতীয় দলে ফিরে প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন আমির। শুক্রবার অকল্যান্ডের ওই ম্যাচে ১৬ রানে জয় পায় পাকিস্তান। ম্যাচে বল করার সময় স্বাগতিক দর্শকরা আমিরকে উদ্দেশ করে চিৎকার চেঁচামেচি ও অবজ্ঞাসূচক ধ্বনি উচ্চারণ করে বলে দাবি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের।

অকল্যান্ডে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ হাফিজের ৬১ রানে ভর করে ১৭১ রান করে পাকিস্তান। পরে শহীদ আফ্রিদির অলরাউন্ডিং নেতৃত্বে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। ওই ম্যাচে ৪ ওভারে ৩১ রানের খরচায় ১ উইকেট পান আমির। বল করার সময় কিউই দর্শকরা আমিরকে দুয়ো দেন বলে দাবি করেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কামরান আকমল।

আকমল বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মানুষ বেশ অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। তারা ক্রিকেটটা বেশ ভালো করেই বোঝেন। আমিরের প্রত্যাবর্তনে তাদের এমন প্রতিক্রিয়া আমি আশা করিনি।’

তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে আমির আরো আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন বলে মনে করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ম্যানেজার ইনতিখাব আলম। বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমিরের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সে বেশ ভালো করছে। আমির বেশ আত্মবিশ্বাসী রয়েছে এবং সতীর্থদের সঙ্গে তার ভালোই বোঝাপড়া হচ্ছে।’

 

ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় বিচ টেনিস টুর্নামেন্ট

ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ওয়ালটন প্রথম বিচ টেনিস টুর্নামেন্ট।’
বিজয় দিবস টেনিস টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা ৮জন মেয়ে ও ৮জন ছেলেকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট।

ওয়ালটন বিজয় দিবস কুস্তি বৃহস্পতিবার শুরু

ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ওয়ালটন বিজয় দিবস পুরুষ ও মহিলা কুস্তি প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় দুইদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতা শেষ হবে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এবারের বিজয় দিবস পুরুষ ও মহিলা কুস্তি প্রতিযোগিতায় ৪টি দলের ১২৮ জন নারী ও পুরুষ কুস্তিগীর অংশ নেবেন। যার মধ্যে ৬৪ জন পুুরুষ ও ৬৪ জন মহিলা। অংশ নিতে যাওয়া দল চারটি হচ্ছে-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার।
পুরুষ ও মহিলা বিভাগে ৮টি করে ওজন শ্রেণীতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পুরুষদের ওজন শ্রেণীগুলো হল- ৫৫ কেজি, ৬১ কেজি, ৬৫ কেজি, ৭০ কেজি, ৭৪ কেজি, ৮৬ কেজি, ৯৭ কেজি ও ১২৫ কেজি। মহিলাদের ওজন শ্রেণীগুলো হল- ৪৮ কেজি, ৫৩ কেজি, ৫৫ কেজি, ৫৮ কেজি, ৬০ কেজি, ৬৩ কেজি, ৬৯ কেজি ও ৭৫ কেজি। প্রতিটি ওজন শ্রেণীর প্রথম তিনজনকে পুরস্কৃত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের ফার্স্ট সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান পালোয়ান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন আজাদসহ অন্যান্যরা।

পুলিশ টেনিস প্রতিযোগিতায় শরীফুল চ্যাম্পিয়ন

বাংলাদেশ পুলিশের ‘বার্ষিক পুলিশ টেনিস প্রতিযোগিতা-২০১৫’ এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় এককে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শরীফুল ইসলাম চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এ ছাড়া টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সরওয়ার রানারআপ হয়েছেন।
দ্বৈতে স্পেশাল ব্রাঞ্চের এস এস এস এন নজরুল ইসলাম ও এসএস বরকত উল্লাহ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। রানার্সআপ হয়েছেন টুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হোসেন ও অতিরিক্ত ডিআইজি সরওয়ার। রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ পুলিশ টেনিস গ্রাউন্ডে রবিবার রাতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ টেনিস উপ-পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরঅ্যান্ডপি) মো. মইনুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল এ কে এম শহীদুল হক বিপিএম পিপিএম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেগম শামসুন্নাহার রহমান।

মালয়েশিয়া যাচ্ছে থ্রোবল দল

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হবে ‘এশিয়ান জুনিয়র থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৫।’ এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মালয়েশিয়া যাবে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ জুনিয়র থ্রোবল দল। তাদের সার্বিক সহায়তা করছে দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।
এ উপলক্ষে রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের ফার্স্ট সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), ওয়ালটনের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যাক্ষ আশিক-আল-মামুন ও বাংলাদেশ থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম-আল-মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
এ সময় এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘প্রত্যেকটা সংগঠনই অল্প অল্প করে এগিয়ে যায়। থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনও এগিয়ে যাচ্ছে। গেল কয়েক বছরে তারা বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুটি পুরস্কারও পেয়েছে। ওয়ালটন গ্রুপ তাদের এগিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করার চেষ্টা করছে। আশা করছি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ জুনিয়র থ্রোবল দল ভালো করবে এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে নিয়ে আসবে।’
আশিক-আল-মামুন মালয়েশিয়াগামী থ্রোবল দলের কাছে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশ জুনিয়র থ্রোবল দল মালয়েশিয়া যাচ্ছে। আশা করছি তাদের কাছ থেকে ভালো ফল পাব। বাংলাদেশ দলের জন্য শুভকামনা থাকল।’
বাংলাদেশ থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম-আল-মামুন বলেন, ‘থ্রোবলের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। এখনো আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে এফিলিয়েটেড হতে পারিনি। কিন্তু আমরা ভালো কিছু করার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশকিছু টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছি, পুরস্কার জিতেছি। আমরা ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় মালয়েশিয়া থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় কুয়ালালামপুরে চলতি মাসের ২৭-২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক মালয়েশিয়া। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ২৬ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে বাংলাদেশ জুনিয়র থ্রোবল দল।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম শুরু হয় থ্রোবল খেলা। ১৯৫০ সালে ভারতে শুরু হয় এই খেলা। এরপর খেলাটি আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশের এই খেলাটি শুরু হয়েছে বেশি দিন হয়নি। ২০১২ সালে প্রাক্তন খ্যাতিমান ভলিবল খেলোয়াড় আবুল কাশেম খান বাংলাদেশ থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। থ্রোবল অনেকটা ভলিবলের মতোই। মোট ২৫ পয়েন্টের খেলা হয়। তবে ভলিবল যেখানে ছয়জন খেলেন, সেখানে থ্রোবল খেলেন সাতজন।

রকিবুলকে ঘিরে বিতর্ক তদন্ত করবে বিসিবি

বিপিএলের ম্যাচে টস নিয়ে সন্দেহ ও পরে সেটা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে বিসিবি। টস বিতর্কটি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা ডায়নামাইটস ও বরিশাল বুলসের এলিমিনেটর ম্যাচের ঘটনা। ম্যাচ রেফারি ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশে ম্যাচ রেফারিদের প্রধান, রকিবুল হাসান। শিশিরের কারণে রাতের ম্যাচের টস ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল ঢাকা।
সে সময় টস নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। কিন্তু পরে একাত্তর টিভি টসের ফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে একটি প্রতিবেদন প্রচার করে। যেখানে ভিডিও রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, নিক্ষেপিত মুদ্রা উইকেট থেকে তোলার সময় মুদ্রা উল্টে দিয়ে টসের ফলও উল্টে দিয়েছিলেন ম্যাচ রেফারি।
দুই অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহমুদউল্লাহ ও ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলকে পেছন দিকে রেখে মুদ্রা তুলেছিলেন রকিবুল; এরপর জানিয়েছিলেন বিজয়ী কে। মুদ্রা মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ওই তিনজন দেখার সুযোগই পাননি। এটা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে।
রোববার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি প্রধানের বিপিএল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উঠল এই প্রসঙ্গ। নাজমুল হাসান জানালেন, সঠিক নিয়ম নিয়ে ধোঁয়াশায় আছে বোর্ডও।
“আসলে ওই ঘটনার পর আমরা নিয়মটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অধিনায়কেরা দেখার পরই মুদ্রা মাটি থেকে তুলতে হবে, নাকি ম্যাচ রেফারি আগেই তুলতে পারবেন, এটা পরিষ্কার উল্লেখ নেই কোথাও। পরে আমরা বিপিএলের অন্য বেশ কিছু ম্যাচও দেখেছি, অনেক ম্যাচেই এমন হয়েছে। এজন্যই নিয়মবহির্ভুত কিনা, বলতে পারছি না। আইসিসিতে যোগাযোগ করে দেখব।”
ওই ভিডিও নিয়ে পরে আরও একটি প্রতিবেদন করা হয়, যেখানে রকিবুল হাসানকে অনেক বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যায়। প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য, প্রতিবেদকের ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করাসহ তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া, বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান, সাবেক বিসিবি ও আইসিসি প্রধান আ হ ম মুস্তফা কামালসহ বেশ কজন বিসিবি পরিচালককেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও দেখা যায় রকিবুলকে।
এ প্রসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বটি বিসিবি প্রধান ছেড়ে দিলেন শৃঙ্খলা কমিটির ওপর।

ক্রিকেটারদের টাকা পরিশোধে সবার আগে কুমিল্লা, চিটাগং

আগের দুই আসরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে খেলোয়াড়দের টাকা পরিশোধ নিয়ে এবার অনেক বেশি সতর্ক ছিল বিসিবি। তার সুফলও পেয়েছে তারা। সময় মতোই পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা।
টুর্নামেন্টে সিলেট সুপার স্টার্সের শেষ ম্যাচের পর অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি জানিয়েছিলেন, দলের কিছু খেলোয়াড় তখনও প্রাপ্য পারিশ্রমিক পাননি। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল তখনই জানিয়েছিলেন, প্রাপ্য পারিশ্রমিক সময় মতোই পেয়েছেন তারা।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানান, এবার সময় মতোই টাকা পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। কোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারিত সময়ের আগেই পারিশ্রমিক পরিশোধ করছে।
“প্রথম দুই আসরের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, টাকা পরিশোধ নিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতা হয়। এবার তার কোনো সুযোগই আমরা রাখিনি। কুমিল্লা, চিটাগং এর মধ্যে সবার শতভাগ পারিশ্রমিক শোধ করেছে। রংপুর বিদেশি খেলোয়াড়দের শতভাগ ও দেশি খেলোয়াড়দের ৭৫ শতাংশ পরিশোধ করেছে। বাকি সবাই ৭৫ শতাংশ করে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রাপ্য পারিশ্রমিক শোধ করেছে।”
বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশ পেয়ে যাওয়ার কথা ক্রিকেটারদের। টুর্নামেন্ট চলার সময় পাওয়ার কথা আরও ২৫ ভাগ। বাকি ২৫ ভাগ টুর্নামেন্ট শেষের এক মাসের মধ্যে।
অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে অবশ্য এবার ক্রিকেটারদের পারিশ্রামিক বাবদ প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা করে ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে রেখেছে বিসিবি।

তামিমকে গালাগালি: সিদ্ধান্ত বোর্ড সভায়

মাঠে চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রতিপক্ষ দল সিলেট সুপার স্টার্সের মালিক আজিজুল ইসলামের গালাগালি করার ঘটনায় প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান বলেন, “শৃঙ্খলা কমিটি এরই মধ্যে তাদের রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেছে। তাদের সুপারিশ দেখে আমরা বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেব।”
মাঠে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না জানিয়ে বিসিবি প্রধান বলেন, “খেলার আগে তো তামিমের সঙ্গে সিলেটের মালিকের দেখা হওয়ারই কথা না। তারপরও এটা হল। আর যেন এমন কিছু না ঘটে আমরা তা নিশ্চিত করতে চাই।”
বিপিএলের দ্বিতীয় দিনে (২৩ নভেম্বর) চিটাগং ও সিলেট ম্যাচের আগে নাটকীয় সব ঘটনা প্রবাহের সময় ঘটে গালিগালাজের ওই ঘটনা। সিলেটের বিদেশি দুই জন ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র না পাওয়ার জটিলতায় ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয় ৭০ মিনিট। এরই এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে দেখা যায় তামিম ও সিলেটের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামকে। মাঠের পাশে গ্যালারির খুব কাছে দর্শকদের সামনেই ঘটে এই ঘটনা।
পরে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজে থেকেই সে প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তামিম। একই সঙ্গে তিনি এও আশা করেন, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি।

ওয়ালটন ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া উৎসব সমাপ্ত

ওয়ালটন ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া উৎসব শেষ হয়েছে। ২ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা শনিবার পুরস্কার বিতরণী মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে। বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন ওয়ালটন গ্রুপের ফার্স্ট সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন)। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা কামরুন নাহার হিরু, ফরিদা আক্তার বেগম প্রমুখ।
ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত মহিলা ক্রীড়া উৎসবে ময়মনসিংহ, জামালপুর, ফরিদপুর ও ঢাকার ২ শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। ধানমণ্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অ্যাথলেটিকস, হ্যান্ডবল, ভলিবল ও কাবাডি- এই ৪টি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে কাবাডি প্রতিযোগিতায় জামালপুর জেলা ২১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গাজীপুর জেলা ১৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হয়েছে। সেরা খোলেয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জামালপুরের মাসুমা জান্নাত আয়শা। আর ভলিবলে ফরিদপুর জেলা ৩-১ সেটে জামালপুর জেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

মহিলা রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা

প্রথম শমসের আলী মেমোরিয়াল মহিলা রেটিং দাবা প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে ৯জন খেলোয়াড় স্ব-স্ব খেলায় জয়ী হয়ে পূর্ণ ২ পয়েন্ট করে অর্জন করেছেন। এরা হলেন- মহিলা ফিদে মাস্টার শারমীন সুলতানা শিরিন, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, মহিলা ফিদে মাস্টার নাজরানা খান ইভা, মহিলা ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানা, সাবেকুন নাহার তনিমা, ফাতেমা তুজ জোহরা শ্রাবণী, প্রতিভা তালুকদার, ফারজানা হোসেন এ্যানি ও জাহানারা হক রুনু।
শনিবার দাবা কক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় শিরিন সুমাইয়া খন্দকারকে, রানী হামিদ আফরিন জাহান মুনিয়াকে, ইভা জোহরাতুল জান্নাত জিশাকে, জাকিয়া হামিদা মাহমুদকে, তনিমা আমেনা খাতুনকে, শ্রাবণী সৈয়দা ফাহমিদা মালেককে, এ্যানি নোশিন আঞ্জমকে ও রুনু সামিহা আক্তারকে হারিয়েছেন। তাসমিন সুলতানা কিশোয়ারা সাজরীন ইভানার সাথে ড্র করেছেন। আর প্রতিভা কুমুদি নার্গিসের বিপক্ষে ওয়াক-ওভার পেয়েছেন। গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ মহিলা দাবা সমিতির আয়োজনে এই আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিজয় দিবস ইন্টার মোরাল হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ট্রেনিং সেন্টার এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় আজ বুধবার সকাল ৯টা হতে দুপুর ৩টা পর্যন্ত দিনব্যাপী ‘বিজয় দিবস ৩য় এইচ.টি.সি.বি ইন্টার মোরাল হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট-২০১৫’ অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ (ক্যাপ্টেন) এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উক্ত টুর্নামেন্টে হ্যান্ডবল ট্রেনিং সেন্টারের বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক ছেলে ও মেয়েদের দল বিভিন্ন গ্রুপে বিভিক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করে।
খেলা শেষে দুপুর সাড়ে তিনটায় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. হাসান উল্লাহ খান রানা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এ ছাড়াও অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহকারী সাধারণ সম্পাদক এস. এম. খালেকুজ্জামান স্বপন, কোষাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও হ্যান্ডবল ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপক মো. সেলিম মিয়া বাবুসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

বাংলাদেশে আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে অবস্থান করবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ব ভ্রমণে বিশ্বকাপের ট্রফি বের হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আসছে ট্রফিটি। রোববার ভারতের মুম্বাই থেকে ট্রফির ভ্রুমণ শুরু হবে। ১২টি দেশ ঘুরে দিল্লীতে ট্রফির ভ্রমণ শেষ হবে ১ ফ্রেবুয়ারি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর বসছে ভারতে। ১১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত পরিসরের এ আসর অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার মুম্বাই থেকে স্কটল্যান্ডের উদ্দেশ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি যাত্রা শুরু করবে। স্কটল্যান্ড থেকে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস ভ্রমণ করবে ট্রফিটি। ইউরোপ থেকে আফ্রিকাতে চলে যাবে ট্রফিটি। ২ ও ৩ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের হারারেতে বিশ্বকাপের ট্রফি অবস্থানের পর ৫-৭ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ভ্রমণ করবে।
আফ্রিকার পর উপমহাদেশে আসবে বিশ্বকাপের ট্রফি। পাকিস্তানে ১১ ও ১২ জানুয়ারি, বাংলাদেশে ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি এবং শ্রীলঙ্কাকে ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বিশ্বকাপের ট্রফি অবস্থান করবে।
শ্রীলঙ্কা থেকে ট্রফি চলে যাবে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে। ২১ থেকে ২৪ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডেই থাকবে ট্রফিটি। ২৬ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রফিটি অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ শেষে ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লীতে পৌঁছবে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজকের ভূমিকা পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।