বিকাল ৪:২০, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং

এটাকে কি বলা চলে? জিততে না চাওয়া? ৩৪১ রান করে পাকিস্তানের আট উইকেট ২৪৯ রানে ফেলে দেয়ার পরও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ জিততে পারল না। দুই বোলার ফাহিম আশরাফ ও হাসান আলী মিলে নাকাানিচুবানি খাওয়ালেন বাংলাদেশের বোলারদের। ৪৪ বলে দরকার ছিল ৯৩ রান। যা তারা ৩ বল হাতে রেখে তুলে নেন। ৪২.৪ ওভারে ২৪৯ রানে পাকিস্তান তাদের ৮ উইকেট হারায়। এ সময় মনে হচ্ছিল জয় বাংলাদেশের হাতের নাগালে। কিন্তু মাশরাফি-তাসকিনদের নিয়ে ছেলেখেলা খেললেন ফাহিম ও হাসান। ফাহিমের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। এই বোলার মাত্র ৩০ বলে চারটি করে চার ও ছক্কা মেরে অপরাজিত ৬৪ রান করেন। বাংলাদেশের জয় তুলে নেয়ার কাজে সাহায্যে করেন হাসান আলীও। তিনি ১৫ বলে ২৭ রান করে অজেয় হয়ে যান টাইগার বোলাদের কাছে। পাকিস্তান ২ উইকেটে জয় লাভ করে ৩ বল বাকি রেখে।
অথচ রানের পাহাড়ে চড়তে গিয়ে পাকিস্তান ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারায়। তাসকিন আহমেদের বলে মাত্র ৮ রানে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ হন পাকিস্তানি ওপেনার। পরের ওভারে মাশরাফি মুর্তজা পান দ্বিতীয় উইকেট। এবারও মুশফিক গ্লাভসবন্দি করেন বাবর আজমকে (১)।
আহমেদ শেহজাদ ও মোহাম্মদ হাফিজ তাদের ব্যাটিং লাইনআপকে কিছুটা মেরামত করতে সফল হন। ৫৯ রানের জুটি গড়েন তারা। এ শক্ত জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ৪৪ রানে শেহজাদকে বোল্ড করেন তিনি।
এর পর শোয়েব মালিককে নিয়ে দাঁড়িয়ে যান হাফিজ। ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি হাফিজ। ৪৯ রানে তাকে ক্রিজ ছাড়া করেন শফিউল ইসলাম। মোসাদ্দেক হোসেন প্রতিপ অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে ফেরালে পাকিস্তানকে আরও চাপে ফেলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়া শোয়েব মালিক সাজঘরে ফেরেন ৭২ রান করে। তাকে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানান মেহেদী হাসান মিরাজ। কয়েক ওভার যেতেই সাদাব খান রান আউট হন। পরের ওভারে মিরাজ ফেরান ইমাদ ওয়াসিমকে (৪৫)।
এর আগে টস জিতে পাকিস্তানের বিপে দুর্দান্ত ব্যাটিং অনুশীলন করে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল ৯ উইকেটে ৩৪১ রান করেছে তারা।
বার্মিংহামের এজবাস্টনে শুরুটা হোঁচট খায় বাংলাদেশ। জুনাইদ খানের বলে মাত্র ১৯ রানে সৌম্য সরকার বাবর আজমের ক্যাচ হন। এর পর ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় উইকেটে ১৪২ রানের শক্তিশালী জুটি গড়েন তারা। হাফসেঞ্চুরি পাওয়ার পর বেশিণ টিকতে পারেননি ইমরুল। ৬২ বলে ৮ চারে ৬১ রানে সাদাব খানের শিকার তিনি। তবে তামিম অপর প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রেখেছিলেন। মুশফিকের সঙ্গে মাত্র ৪০ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে ফিরতে হয় তাকে। সাদাব তাকে ফেরান। জুনাইদের ক্যাচ হওয়ার আগে তামিম ৯৩ বলে ৯ চার ও ৪ ছয়ে ১০২ রান করেন।
মুশফিক ৩টি করে চার ও ছয়ে হাফসেঞ্চুরির আপে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩৫ বলে ৪৬ রানে তিনি জুনাইদের শিকার হলে দুর্বার রানের গতি কিছুটা কমে যায়।
হাসান আলী তার এক ওভারে মাহমুদউল্লাহ (২৯) ও সাকিব আল হাসানকে (২৩) ফেরালে পরের ব্যাটসম্যানরা বড় অবদান রাখতে পারেনি। মোসাদ্দেক ১৫ বলে ২৬ রানের ছোট ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের জুনাইদ খান তার শেষ ২ ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ৯ ওভারে ৭৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। দুটি করে পান হাসান ও সাদাব।

প্রস্তুতি ম্যাচে তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রান পেয়েছেন। চার ম্যাচের দুই ম্যাচেই পেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নিলেন তামিম। ৮৮ বলে ৯ চার ৪ ছয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৪ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান।

বার্মিংহামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য। তামিম একটু ধীর গতিতে খেললেও সৌম্য রানের চাকা সচল রাখছিলেন। তবে নিজের ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১৯ রান করে জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

তবে সৌম্যের বিদায়ের পর চেনা রূপে ব্যাট করতে থাকেন এই ব্যাটসম্যান। জুনায়েদ খানের এক ওভারেই তুলেন ২৫ রান। পাকিস্তানের বাকি বোলারদেরও ছেড়ে কথা বলেননি তামিম। ৩৯ বলে ৭ চার ২ ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার।

তামিমের পর পাকিস্তান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন ইমরুল। ৪৬ বলে ৭ চারে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানও। তবে এরপর ব্যক্তিগত ৬১ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে দুইজন মিলে গড়েন ১৪২ রানের জুটি।

ইমরুলের বিদায়ের পর মুশফিককে সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যান তামিম। তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি। তবে এরপর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি তামিম। ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

৩০০ পেরিয়ে বাংলাদেশ

তামিমের সেঞ্চুরি ইমরুলের হাফ সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত শুরুতেই দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এই দুইজনের বিদায়ের পর শঙ্কা ছিল রানের গতি নিয়ে। তবে মুশফিক, সাকিবদের ব্যাটে রানের গতি ঠিক রেখে ৪৪ ওভারেই ৩০০ পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান।

বার্মিংহামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য। তামিম একটু ধীর গতিতে খেললেও সৌম্য রানের চাকা সচল রাখছিলেন। তবে নিজের ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১৯ রান করে জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

তবে সৌম্যের বিদায়ের পর চেনা রূপে ব্যাট করতে থাকেন এই ব্যাটসম্যান। জুনায়েদ খানের এক ওভারেই তুলেন ২৫ রান। পাকিস্তানের বাকি বোলারদেরও ছেড়ে কথা বলেননি তামিম। ৩৯ বলে ৭ চার ২ ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার।

তামিমের পর পাকিস্তান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন ইমরুল। ৪৬ বলে ৭ চারে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানও। তবে এরপর ব্যক্তিগত ৬১ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে দুইজন মিলে গড়েন ১৪২ রানের জুটি।

ইমরুলের বিদায়ের পর মুশফিককে সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যান তামিম। তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি। তবে এরপর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি তামিম। ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি মুশফিকও। ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। এরপর সাকিব ২৩ ও মাহমুদউল্লাহ ২৯ রান করে ফিরলেও বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়ছে পাকিস্তান

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ জয়ে ৩৪২ রানের টার্গেটে নেমে, ১৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে পাকিস্তান। দলের ১৪ রানে ওপেনার আজহার আলীকে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দি করান তাসকিন আহমেদ। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১৪ বলে ৮ রান করেন আজহার আলী। দলের ১৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বাবর আজম। ৩ বলে ১ রান সংগ্রহ করা বাবরকে মুশফিকের গ্লাভসে জমা করান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এরআগে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৩৪১ রান তোলে বাংলাদেশ।
এজবাস্টনে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার জুনায়েদ খানের বলে ১৯ রানের পুঁজিতে ফিরে গেলেও, নবম ওভারে জুনাইদের ওই ওভার থেকে মোট ২৫ রান নেয় টাইগাররা। ইমরুলের সঙ্গে তামিমের জুটিও বরাবরের মতো জমে যায় দারুণ। ৩৯ বলে ফিফটি করেন তামিম। আর ইমরুল করেন ৪৭ বলে। ১২২ বলে ১৪২ রানের জুটি গড়ে ইমরুল বিদায় নেন ৬১ রান করে। মুশফিককে নিয়ে চালিয়ে খেলেন তামিম। সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন ৮৮ বলে। ৯৩ বলে ৯টি চার, ৪টি ছক্কায় ১০২ রানের ইনিংস খেলা তামিমকে থামান শাদাব খান।
পরে মুশফিকের ৪৬, মাহমুদুল্লাহর ২৯ এবং মোসাদ্দেকের ২৬ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩৪১ রান।

এখানেই থেমে থাকতে রাজি নন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

ওয়ালটন ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার বিষয়টিও এক প্রকার নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

শুক্রবার প্রস্তুতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা এখন র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দের। দলের সবাই এই উন্নতিতে খুবই খুশি। তবে আমরা এখান থেকে আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাই। এখন থেকে যতদূর যাওয়া সম্ভব ততদূর যেতে চাই।’

২০০৬ সালের পর আবার আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ডেথ গ্রুপ খ্যাত ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তার আগে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

আগামীকাল শনিবার প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি ও পিটিবি। আর ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস-৪ এ।

আইপিএল জয়ী কোচ জয়াবর্ধনে এবার খুলনা টাইটান্সে

ক্রীড়া ডেস্ক :

আইপিএলের দশম আসরের চ্যাম্পিয়ন দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। এবার তাকেই কোচ হিসেবে পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ তথা বিপিএলের দল খুলনা টাইটান্স। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন খুলনা টাইটান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী ইনাম আহমেদ।

মাহেলা জয়াবর্ধনেকে কোচ হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, ‘বিপিএলের পরবর্তী দুই আসরের জন্য মাহেলা জয়াবর্ধনেকে খুলনা টাইটান্সের প্রধান কোচ হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তিনি সব সময় মাঠে বড় মাপের নেতা ছিলেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে বড় বড় টুর্নামেন্ট জিতেছেন। সম্প্রতি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের ভূমিকায় থেকে তিনি শিরোপা জেতায় আমরা মুগ্ধ হয়েছি। আমরা নিশ্চিত তার কাছ থেকে খুলনা টাইটান্স অনেক কিছু শিখতে পারবে এবং তার উপস্থিতি টুর্নামেন্টকে সমৃদ্ধ করবে।’

মাহেলা জয়াবর্ধনে বলেন, ‘গেল বছর আমি বিপিএলে খেলাটা বেশ উপভোগ করেছি। গেল বছরের অভিজ্ঞতা আসন্ন আসরে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে দরকার হবে। বিপিএল বাংলাদেশে খুবই আকর্ষণীয় একটি টুর্নামেন্ট। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের জন্য। খুলনা টাইটান্সের মতো একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’

এর আগে খুলনা টাইটান্সের কোচের ভূমিকায় ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট ল। তিনি সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। সে কারণে খুলনা টাইটান্সর কোচের ভূমিকায় থাকতে পারছেন না। ল এর স্থলাভিষিক্ত হবেন মাহেলা।

শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনেকে দুই মৌসুমের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে খুলনা টাইটান্স। জয়াবর্ধনে আইপিএলের গেল আসরেও ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলেছেন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন দেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলছেন। কখনো তিনি খেলোয়াড়ের ভূমিকায়। আবার কখনো মেন্টর কিংবা কোচের ভূমিকায়। তবে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত আইপিএলে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচের ভূমিকায় ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আইপিএলের দশম আসরের শিরোপা জিতেছে।

বিপিএলের পঞ্চম আসর মাঠে গড়াবে ৪ নভেম্বর থেকে। গেল আসরে খুলনা টাইটান্সকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার অধিনায়কত্বে লিগ পর্যায়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউট পর্বে উঠেছিল খুলনা।

টি-টোয়েন্টিতেও আসছে রিভিউ

ক্রীড়া ডেস্ক :

টেস্ট ও ওয়ানডের পর এবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও আসতে চলেছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)। লন্ডনে কাল আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভার বৈঠকে এই নতুন প্রস্তাব উঠে এসেছে। অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন আইসিসির ক্রিকেট কমিটি ক্রিকেটের আইন পরিবর্তন করার আরো বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন।

টেস্টে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও আসবে পরিবর্তন। বর্তমানে আম্পায়ারের কোনো এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ নেওয়া হলে, যদি রিপ্লেতে ‘আম্পায়ার্স কল’ দেখা যায় তবে সে সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন হয় না এবং আবেদন করা দলটির একটি রিভিউ নষ্ট হয়ে যায়। তবে ক্রিকেট কমিটি যে সুপারিশ করেছে তাতে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তে ‘আম্পায়ার্স কল’ হলে সিদ্ধান্ত পক্ষে না পাওয়া দলকে রিভিউ হারাতে হবে না। সেক্ষেত্রে অবশ্য প্রতি ৮০ ওভারে নতুন দুটি রিভিউ পাওয়ার নিয়মটা বাতিল হয়ে যাবে। তখন পুরো ইনিংসেই শুধু দুটি রিভিউ থাকবে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলো পাশ হলে আসছে অক্টোবর থেকেই নিয়মগুলো চালু হবে। আইসিসির ১৩ সদস্যের ক্রিকেট কমিটি আরো যেসব সুপারিশ করেছেন:

বদলি খেলোয়াড়
পরীক্ষামূলকভাবে দুই বছরের জন্য এটা চালু করতে চায় ক্রিকেট কমিটি। কোনো খেলোয়াড় গুরুতর আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লে, তার বদলি হিসেবে নতুন একজনকে নামানো যাবে। অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ ঘরোয়া মৌসুমে এটা চালু করা হয়েছিল।

লাল কার্ড
মাঠে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভব্য আচরণের জন্য ক্রিকেটারদের লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দিতে পারবেন আম্পায়ার। ইংল্যান্ডের নিচের স্তরের ক্রিকেটে এরই মধ্যে এই নিয়ম চালু হয়েছে।

নো বল
নতুন প্রস্তাবে থার্ড আম্পায়ার প্রতিটা বল পর্যবেক্ষণ করবেন। নো বল হলে রিপ্লে দেখে সঙ্গে সঙ্গে থার্ড আম্পায়ার তার সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন। নমুনা হিসেবে গত বছর ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের একটি ম্যাচের ভিডিও দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেট কমিটি।

রানআউটের নিয়ম সংশোধন

বর্তমানে ব্যাটসম্যান ক্রিজ অতিক্রম করার পর বেল পড়ার সময় যদি তার ব্যাট বা পা শূন্য থাকে, তাহলে তাকে রানআউট দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে একবার ব্যাট বা পা ক্রিজ অতিক্রম করলে, পরে শূন্য থাকলেও ব্যাটসম্যানকে আর রানআউট হতে হবে না।

তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো।

আফগানিস্তানের লিগে খেলবেন তামিম-সাব্বির-ইমরুল

ক্রীড়া ডেস্ক :

বাংলাদেশ কখনো আফগানিস্তান সফর করেনি। বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় এর আগে আফগানিস্তানের কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে যায়নি। ভবিষ্যতে যাবে কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। কিন্তু আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শাপাগিজা ক্রিকেট লিগের দল স্পিন গড় টাইগার্স, বুস্ট ডিফেন্ডার্স ও কাবুল ঈগলস দলে ভিড়িয়েছে তামিম ইকবাল ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমানকে। ছয় দলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্ট ১৮ থেকে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার এই লিগের অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অকশনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দের রাখা হয়। এর আগে এই লিগে শুধু জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা খেলেছিলেন। এবার বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছেন।

বাংলাদেশের তামিম ইকবালকে ২১ লাখ আফগানিতে (প্রায় ২৫ লাখ টাকা) দলে ভিড়িয়েছে স্পিনগড় টাইগার্স। ইমরুল কায়েসকে ৭ লাখ আফগানিতে (প্রায় ৯ লাখ টাকা) বুস্ট ডিফেন্ডার্স ও একই মূল্যে সাব্বির রহমানকে দলে ভিড়িয়েছে জিপি কাবুল ঈগলস।

ছয়টি দলের ছয়টিই আফগানিস্তানের শিল্পপতিদের মালিকানাধীন। বাইরের কারো মালিকানা নেই। লিগের ম্যাচগুলো আফগানিস্তানেই অনুষ্ঠিত হবে। এই মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে খেলাটিকে আরো জনপ্রিয় করে তোলা হবে। পাশাপাশি আফগানিস্তান যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ সেটা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

ম্যাথুস ৯৫, শ্রীলঙ্কা ৩১৮

ক্রীড়া ডেস্ক :

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূল মঞ্চে নামার আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই হলো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। তার দল আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তুলেছে ৩১৮ রান। ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন আসেলা গুনারত্নে।

অস্ট্রেলিয়া আজ তাদের নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে ছাড়াই খেলছে। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার শুরুটা হয় উড়ন্ত। দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্কা ও নিরোশান ডিকভেলা ৬ ওভারে বিনা উইকেটে তোলেন ৪৭ রান। কিন্তু এরপর কিছুটা পথ হারায় শ্রীলঙ্কা, একশর আগেই বিদায় নেন ওপরের দিকের চার ব্যাটসম্যান। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ রান ডিকভেলার। দিনেশ চান্দিমাল করেন ১৭।

এরপর পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম উইকেটে পঞ্চাশোর্ধ তিনটি জুটি শ্রীলঙ্কাকে এনে দেয় বড় সংগ্রহ। পঞ্চম উইকেটে চামারা কাপুগেদারার (৩০) সঙ্গে ৬০ ও ষষ্ঠ উইকেটে গুনারত্নের সঙ্গে ৯০ রানের বড় জুটি গড়েন ম্যাথুস। লঙ্কান অধিনায়কের সামনে ছিল সেঞ্চুরি সুযোগ। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতে মইসেস হেনরিকেসের বলে অ্যাডাম জামপাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ১০৬ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৯৫ রানের ইনিংসটি সাজান লঙ্কান অধিনায়ক।

২৪৩ রানে ম্যাথুসের বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার সংগ্রহটা তিনশ পেরিয়েছে মূলত সপ্তম উইকেটে গুনারত্নে ও সিকুগে প্রসন্নর মাত্র ৩৭ বলে ৭০ রানের জুটিতে। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে ৩ ছক্কা ও এক চারে ৩১ রান করেন প্রসন্ন। ৫৬ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন গুনারত্নে। ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার হেনরিকেস। জশ হ্যাজেলউড, জেমস প্যাটিনসন, প্যাট কামিন্স ও ট্রাভিস হেড নেন একটি করে উইকেট।

টানা পাঁচ ইনিংসে সেঞ্চুরি সাঙ্গাকারার

ক্রীড়া ডেস্ক :

আগের ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করে কুমার সাঙ্গাকারা ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের কাউন্টি মৌসুম শেষেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন। লঙ্কান গ্রেট কাল পরের ম্যাচেই আবার করলেন সেঞ্চুরি!

আট দিনের মধ্যে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা পাঁচ ইনিংসে সেঞ্চুরি! সারের আর কোনো ব্যাটসম্যানের এই কীর্তি নেই।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ইতিহাসেই সাঙ্গাকারার আগে এই কীর্তি গড়েছেন কেবল সাতজন। এর মধ্যে চার্লস বার্জেস ফ্রাই, মাইক প্রোক্টার ও স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সেঞ্চুরি আছে টানা ছয় ইনিংসে।

অথচ চেমসফোর্ডে কাল এসেক্সের বিপক্ষে সাঙ্গাকারা যখন উইকেটে এলেন, ৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে সারে। দ্রুত বিদায় দেখেছেন আরো তিন সতীর্থের। প্রথম ৫০ মিনিটে ৩১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়া সারে তখন একশ’র আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায়।

কিন্তু সারের আছে যে একজন সাঙ্গাকারা! লঙ্কান গ্রেট সব শঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে তিনি স্যাম কুরানকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১৯১ রানের বিশাল জুটি। কুরান ৯০ করে ফিরলেও লঙ্কান গ্রেট তুলে নেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬১তম সেঞ্চুরি।

অষ্টম উইকেটে সাঙ্গাকারা-স্টুয়ার্ট মেকারের অবিচ্ছিন্ন ৯৫ রানের জুটিতে সারে প্রথম দিন শেষ করেছে ৭ উইকেটে ৩৩৪ রানে! ২৭৬ বলে ২৩টি চারের সাহায্যে ১৭৭ রানে অপরাজিত থাকা সাঙ্গাকারা আছেন ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষায়।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা সাঙ্গাকারার ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা চার ইনিংসে সেঞ্চুরি আছে। যে কীর্তি নেই আর কারও!

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৯ বছর বয়সি সাঙ্গাকারার শেষ পাঁচ ইনিংস- ১৭৭*, ১২০, ১১৪, ১০৫ ও ১৩৬।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা ইনিংসে সেঞ্চুরি

খেলোয়াড় সেঞ্চুরি-সংখ্যা মৌসুম
স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ১৯৩৮-৩৯
চার্লস বার্জেস ফ্রাই ১৯০১
মাইক প্রোক্টার ১৯৭০-৭১
ব্রায়ান লারা ১৯৯৩-৯৪
স্যার এভারটন উইকস ১৯৫৫-৫৬
মাইক হাসি ২০০৩
পার্থিব প্যাটেল ২০০৭-০৮
কুমার সাঙ্গাকারা ২০১৭

 

ইংল্যান্ডের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি

ক্রীড়া ডেস্ক :

ঘরের মাঠে আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে দারুণ ছন্দে আছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। নিজেদের শেষ দুই ওয়ানডে সিরিজে যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংলিশরা। এউইন মরগানের দলের সামনে এবার আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি। তাও আবার ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

লিডসে গত বুধবার প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭২ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেবে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়।

প্রথম ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি পেয়েছেন মরগান। অধিনায়কের ৯৩ বলে করা ১০৭ রানে ইংল্যান্ড তুলেছিল ৩৩৯ রান। হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসির ব্যাটে পাল্টা জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সফরকারীরা ১ উইকেটে তুলে ফেলেছিল ১৪৫ রান। কিন্তু ৫৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ৭২ রানে ম্যাচ হারে প্রোটিয়ারা।

চোট সারিয়ে আজ ইংল্যান্ড দলে ফিরছেন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। আজ ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস তাই আরো বাড়বে। ওদিকে হাশিম আমলার সামনে দারুণ এক মাইলফলকের হাতছানি। আর ৪৭ রান করলেই বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে দ্রুততম ৭ হাজার রানের রেকর্ড গড়বেন প্রোটিয়া ওপেনার।

প্রস্তুতি ম্যাচে ফিঞ্চের তাণ্ডব

ক্রীড়া ডেস্ক : লন্ডনের কেনিংটন ওভালের ২২ গজে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন অ্যারন ফিঞ্চ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূল পর্ব শুরুর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১০৯ বলে ১৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

শনিবার শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩১৯ রানের বড় লক্ষ্যে ভালো শুরু দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ফিঞ্চের সঙ্গে ৬৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ১৯ রানে ফেরেন এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়া ওয়ার্নার।

ফিঞ্চ শুরুতে দেখেশুনে খেললেও পরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৩৯ বলে ফিফটি করার পর পরের পঞ্চাশ করেন ৩৭ বলে।  ব্যক্তিগত ৯৫ থেকে আসেলা গুনারত্নেকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৭৬ বলে ছুঁয়ে ফেলেন তিন অঙ্ক।

শ্রীলঙ্কার পেসার নুয়ান প্রদীপের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১০৯ বলে ১১ চার ও ৬ ছক্কায় ১৩৭ রানের টর্নেডো ইনিংসটি সাজান ফিঞ্চ। তার বিদায়ের পরের বলে গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৩৫.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ২১৮।

 

পাকিস্তান এখনও অনেক বড় দল : মাশরাফি

পাকিস্তানকে র‌্যাংকিংয়ে নিচে ফেলে দেয়া হয়েছে আরও দুই বছর আগে। পাকিস্তানের আগেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মাঠে নামার আগে সেই পাকিস্তানের বিপক্ষেই নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার ম্যাচ মাশরাফিদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য প্রস্তুতিটা কেমন হলো, এই ম্যাচ যেন তার মডেল টেস্ট। বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল ৩.৩০ এ মুখোমুখি হবে দুই দল।

প্রস্তুতি ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে নিয়েও সতর্ক বাংলাদেশ। তাদেরকে সমীহই করছে বাংলাদেশ। বরং, মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়ে দিলেন র্যাংকিংয়ে নিচে থাকলেও তারা এখনও অনেক বড় দল। বড় দল বলে পাকিস্তানের ওপরও চাপ থাকবে বলে জানালেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘যদি কিছু করতে চান, সেটা করার এটাই সময়। আমরা যদি কিছু করতে চাই, তা করার এটাই সময়। দরকার হলো সামনে এগিয়ে কাজে নামার। যখনই আমরা তাদের সঙ্গে খেলি না কেন, পাকিস্তানই বড় দল। আর এ ধরনের টুর্নামেন্টে সবার ওপরেই চাপ থাকে।’

তাই বলে নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন মাশরাফি? তিনি জানিয়ে দিলেন, নিজেদের দিনে যে কাউকে হারাতে পারে বাংলাদেশ,‘এই দলটা খুব শক্তিশালী। নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। তাই খুব ভালো সুযোগ আছে বড় কিছু করার।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাটিং-বোলিংয়ে অনেক উন্নতি করলেও ফিল্ডিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে। মাশরাফির বিশ্বাস, এই বিভাগেও সমানভাবে উন্নতি করার সুযোগ আছে এবং এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই সে উন্নতিটা তারা দেখাতে চান। একই সঙ্গে মাশরাফি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল নির্দিষ্ট একজন বোলারের ওপর নির্ভরশীল নয়।

মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কি না দল, এটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মাত্র মোস্তাফিজের ওপর নির্ভরশীল নই। আরও অনেক ভালোমানের বোলার আমাদের হাতে রয়েছে। গত দুই বছর মোস্তাফিজ দারুণ পারফরম্যান্স করে আসছে। এরপর ইনজুরির কারণে কাঁধে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। সেখান থেকেও খুব ভালোভাবে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে সে এবং আমাদের জয়ে দারুণ ভুমিকা রাখছে।’

বাংলাদেশকে সমীহ করছেন সরফরাজ

গত দুই বছর ধরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের উন্নতি বলছে সে কথাই। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছেন টাইগাররা। ওই জয়ের সুবাদে প্রথমবারের মতো আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ছয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে কথা বলেন সরফরাজ আহমেদ। সেখানে টিম বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। আগামীকাল শনিবার প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ সমীহ করেন তিনি।

মাশরাফি-তামিমদের প্রশংসায় সরফরাজ বলেন, ‘গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দুর্দান্ত পারফর্ম করছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে প্রস্তুতি ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই দারুণ সুযোগ। উভয় দলই ম্যাচ জিততে চাইবে। তাই ভালো একটি প্রস্তুতি ম্যাচই হবে এটি।’

তামিম ইকবালের কথা উল্লেখ করে সরফরাজ বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ভালো করছে তারা (বাংলাদেশ)। তামিম ইকবালের মতো ব্যাটসম্যানকে আমরা দেখব। যদি আমরা সেমিফাইনাল খেলি!’

ইংল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি ভুলে যেতে চান মাশরাফি

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের। এই দলটির বিপক্ষে অনেক সাফল্য রয়েছে বাংলাদেশের। টানা দুই বিশ্বকাপে এই দলটিকে হারিয়েছে টাইগাররা। গত বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হয়তো সিরিজ হারাতে পারেনি, তবে তাদের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি আছে। শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডকে টেস্টেও হারিয়ে দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

এবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মাশরাফি কী ভাবছেন? তার কাছে এভাবেই জানতে চাওয়া হয়েছিল আইসিসির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে। মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, ২ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েই বাংলাদেশ খেলেছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। এবারও কী তেমন কিছু প্রত্যাশা করছেন মাশরাফি? এবার কী এ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলতে পারবে বাংলাদেশ?

মাশরাফি সুখস্মৃতি মনে করে আত্মভোলা হতে চাইলে না। বাস্তবতাকেই আঁকড়ে ধরতে চান। প্রতিটি দিনকেই মনে করছেন ‘নতুন’। জয়ের স্মৃতি হয়তো কিছুটা অনুপ্রেরণা যোগায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে সেটাই সব কিছু নয়। জিততে হলে দিনটাকে নিজের করেই নিতে হবে। না হয়, কোনোভাবেই সাফল্যের দেখা পাওয়া যাবে না।

এ কারণেই মাশরাফি বললেন, ‘সর্বশেষ আইসিসি প্রতিযোগিতা হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে। জয় অবশ্যই আপনাকে সযোগিতা করবে। তবে আমার কাছে তেমনটি নয়। কারণ, আমার কাছে এটা সম্পূর্ণই নতুন একটা দিন, নতুন একটা ম্যাচ।’

নতুন দিনে, নতুন ম্যাচে ভালো কিছু করতে হলে কী করতে হবে তার একটা সাধারণ ফর্মুলা বলেও দিলেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ভালো কিছু করতে চান, তাহলে দিনটাকে আপনার নিজের করে নিতে হবে। দিনটা আপনার হলেই কেবল, যা চাইবেন তা হতে পারে। সুতরাং, এগিয়ে যাও এবং কাজটা সঠিকভাবে করো।’

আর দিনটা যদি সত্যি সত্যি নিজের না হয়? তাহলে কী করতে হবে? ম্যাচ ছেড়ে দেবে? সেটাও নয়। মাশরাফি এর জন্যও উপায় বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে দিনটা আপনার জন্য খারাপ দিন হয়ে যায়, তখন আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি বিভাগে মনযোগ দিতে হবে। একটা ভালো না হলেও আরেকটাকে ভালো করে নিতে হবে। যেমন ধরুন, শেষ ম্যাচটার কথা (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। আমরা ওই ম্যাচে অন্তত চারটা ক্যাচ ফেলে দিয়েছি (পরে ম্যাচটা জিতেছি)। বড় স্টেজে এমন কাজ করা যাবে না মোটেও। আমরা আশা করবো, বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের মত আমাদের ফিল্ডিংটাও ভালো হবে।’

প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বার্মিংহামে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসর। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী আটটি দেশের মধ্যে ছয়টি দল খেলবে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ওয়ানডে ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলায় তাদের কোন অনুশীলন ম্যাচ রাখেনি আইসিসি।
দু’টি করে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে হারায় শ্রীলংকাকে। শ্রীলংকার ৭ উইকেটে ৩১৮ রানের জবাবে ৮ উইকেটে ৩১৯ রান করে ২ বল আগে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। আজ শনিবার দ্বিতীয় প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে সুখস্মৃতি নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে রানার্স-আপ হওয়া ছাড়াও, সিরিজের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপ রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারায় মাশরাফির দল। এই জয়ে ওয়ানডে র‌্যাংকিং-এর ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ দল। ত্রিদেশীয় সিরিজের ডাবল লিগ-পর্বে ৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে ২টি জয়, ১টি হার ও ১টি পরিত্যক্ত ম্যাচ নিয়ে ১০ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হয় নিউজিল্যান্ড।
ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। তাই ফুরফুরা মেজাজে থেকেই প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ শুরু করছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পর ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে আগামী ১ জুন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী দিন লন্ডনের কেনিংটন ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় মর্যাদাকর আসর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী দু’টি ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, আগামী ৫ ও ৯ জুন।

ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ দুটি গুরুত্বপূর্ণ : মাশরাফি

ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে আগামী মাসের ১ তারিখ শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। তবে এর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে এশিয়ার দুই পরাশক্তি পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আর প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে সাসেক্সে ১০ দিনের ক্যাম্প করে বাংলাদেশ। এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে মাশরাফিরা। তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনটা আয়ারল্যান্ডের চেয়ে ভিন্ন হবে বলে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে মাশরাফি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আয়ারল্যান্ডের চেয়ে ইংল্যান্ডের উইকেট পুরোপুরি ভিন্ন। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা একটা ধারণা পাব। সুতরাং প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিও আমাদের জন্য বড় ম্যাচ।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবারের মত দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও বাংলাদেশের গ্রুপে আছে কিউইরা। ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে আমাদের জয় হাতছাড়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই আমরা হেরেছি। তবে শেষ দুটি ম্যাচে আমরা খুব ভালো খেলেছি। এই মুহূর্তে দলের আত্মবিশ্বাস অনেক ওপরে।’
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি খেলবে বাংলাদেশ দল।

প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে দল পেলেন সাব্বির-ইমরুল

আইপিএলের নিলামে ডাক পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু তার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। যে কারণে আইপিএলের নিলামে অবিক্রীত থেকে যান বাংলাদেশ ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট খ্যাত এই ব্যাটসম্যান।
অপেক্ষার অবসান হলো। প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে দল পেলেন সাব্বির রহমান। তিনি খেলবেন আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট এসপাগিজা টি-টোয়েন্টি লিগে। সাব্বিরকে নিয়েছে কাবুল ইগলস। তাকে দলে টানতে দলটিকে খরচ করতে হয়েছে ৭ লাখ আফগানি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
প্রথমবারের মতো বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন ইমরুল কায়েসও। বাংলাদেশি এই ওপেনারকে কিনেছে বুস্ট ডিফেন্ডার্স। তার মূল্য সাব্বিরের সমান, ৭ লাখ আফগানি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
আফগান লিগে খেলবেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ড্যাশিং এই ওপেনারকে নিয়েছে স্পিনগড় টাইগার্স। তামিমকে পেতে স্পিনগড়কে খরচ করতে হয়েছে সাব্বির-ইমরুলের তিনগুণ। অর্থাৎ ২১ লাখ আফগানির বিনিময়ে তামিমকে নিয়েছে স্পিনগড়। বাংলাদেশি মুদ্রায় খরচের পরিমাণটা ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রসঙ্গত, ছয় দল নিয়ে আয়োজন করা হবে আফগান লিগ। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়েছেন। টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ১৮ জুলাই, ফাইনাল ২৮ জুলাই। যুদ্ধ কবলিত দেশটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা খেলবেন কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।

রোনালদোর জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে যাচ্ছেন তামিম

ক্রিকেট পেশা হলে কী, ফুটবল মিশে আছে তার অন্তরে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বলতে তিনি অজ্ঞান। পতুর্গিজ যুবরাজের অন্ধভক্ত সেই তামিম ইকবালের অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। গ্যালারিতে বসে চোখের সামনে দেখতে পাবেন তিনি রোনালদোর পায়ের কারুকাজ। তাও আবার যেনতেন ম্যাচ নয়, ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে উত্তেজনা ও মর্যাদার লড়াইয়ের সাক্ষী হচ্ছেন বাংলাদেশি ওপেনার। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ৩ জুন কার্ডিফে মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ-জুভেন্টাস, ওই ম্যাচ মাঠে বসে দেখবেন তামিম।
২০১৬-১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মঞ্চ কার্ডিফের মিলেনিয়াম স্টেডিয়াম। ৩ জুনের ওই ফাইনালের আগেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শুরু হয়ে যাবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই। বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ডে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন শুরু করবে মাশরাফিরা। ১ জুনের ওই ম্যাচের চার দিন পর দ্বিতীয় ম্যাচ। খেলা না থাকায় তাই কার্ডিফের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল দেখার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাননি তামিম। বিশেষ করে গ্যালারি থেকে রোনালদোর খেলা সরাসরি দেখতে পাবেন বলে তামিমের আনন্দের মাত্রাটা যেন আরও বেশি, ‘গ্যালারিতে বসে রোনালদোর খেলা দেখাটা আমার অনেক দিনের স্বপ্ন। অবশেষে সুযোগটা এসেছে আমার সামনে। এমন সুবর্ণ সুযোগ আমি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইনি।’
রোনালদোর খেলা, সঙ্গে আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল, তাই কোচকে জানালেন নিজের ইচ্ছার কথা। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও আপত্তি করছেন না। শিষ্যের ছুটি মঞ্জুর করে দিলেন অনুমতি, তামিমের ভাষায় যা এমন, ‘ম্যাচ দেখতে যাওয়ার জন্য কোচের কাছে একদিনের ছুটি চেয়েছি। উনি না করেননি, ছুটি দিয়েছেন।’
রিয়াল-জুভেন্টাসের ফাইনাল দেখতে কিন্তু চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে তামিমকে! মূল্যটা সত্যিকার অর্থেই টাকার মূল্য। খেলাটাকে দারুণভাবে উপভোগ করার জন্য ডাগআউটের ঠিক পেছনেই লোয়ার স্ট্যান্ডের টিকিট কেটেছেন তিনি, আর তার জন্য খরচ করতে হয়েছে ২৭০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় অঙ্কটা প্রায় আড়াই লাখের মতো! টাকার অঙ্কটা বেশি হলেও সুযোগটা তো আর সবসময় আসবে না, তামিম বিষয়টা জানেন বলেই স্পষ্ট গলায় জানালেন, ‘এই ধরনের সুযোগ তো আর প্রতিদিন আসবে না। তাই আমি পুরো সুযোগটা নিতে চেয়েছি।’
সত্যিই তো, রোনালদোর খেলা কি আর গ্যালারিতে বসে সবসময় দেখা সম্ভব! বিশেষ করে মঞ্চটা যখন আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের।

খুলনা টাইটানসের কোচ হলেন জয়াবর্ধনে

বিপিএলের গত আসরে নতুন দল হিসেবে নাম লিখিয়েছিল খুলনা টাইটানস। আর প্রথমবারেই আলো ছড়িয়ে তৃতীয় হয়েছিল দলটি। সেই সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে খুলনা টাইটানস নিয়ে আসছে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে। শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটিং-কিংবদন্তিকে দুই বছরের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে খুলনা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টাইটানস।
এবারের আইপিএলের শিরোপাজয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের দায়িত্বে থাকা জয়াবর্ধনে গত মৌসুমেও ছিলেন বিপিএলে। তবে গতবার কোচ নয়, ঢাকা ডায়নামাইটসের খেলোয়াড়ের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সঙ্গে খেলছেন শ্রীলঙ্কার এই সাবেক অধিনায়ক। এ মৌসুমে ইংল্যান্ডের টি২০ ব্লাস্টে তিনি খেলবেন ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে।
জয়াবর্ধনের মতো কিংবদন্তিকে কোচ হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত খুলনা টাইটানসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘বিপিএলের আগামী দুই মৌসুমের জন্য টাইটানসের প্রধান কোচ হিসেবে মাহেলা জয়াবর্ধেনেকে নিয়োগ দিতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। মাঠের মধ্যে তিনি সব সময়ই একজন দুর্দান্ত নেতা। শ্রীলঙ্কার হয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট জিতেছেন। সম্প্রতি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচ হিসেবে তাকে আইপিএল জিততে দেখে আমরা রোমাঞ্চিত। আমি নিশ্চিত, টাইটানসের সবাই তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে। আর তার উপস্থিতিতে এই টুর্নামেন্ট আরও সমৃদ্ধ হবে।’
গত বছর খুলনার কোচ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ স্টুয়ার্ট ল। এবার টাইটানসের দায়িত্ব পেয়ে জয়াবর্ধনে আনন্দিত। তিনি বলেছেন, ‘গত বছর বিপিএলে খেলাটা দারুণ উপভোগ করেছিলাম। তখনই ভালোমতো উপলব্ধি করেছিলাম, ২০১৭ সালের টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘বিপিএল শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই একটা উত্তেজনাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতার অন্যতম সম্মানিত ও ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা দল খুলনা টাইটানস। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি রোমাঞ্চ অনুভব করছি।’
শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক জয়াবর্ধনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দারুণ উজ্জ্বল। টেস্ট ক্রিকেটে ৩৪টি সেঞ্চুরি সহ ১১ হাজার ৮১৪ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে ডাবল সেঞ্চুরির সংখ্যা ৭টি। টেস্টে তার চেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরি আছে শুধু ডন ব্র্যাডম্যান, কুমারা সাঙ্গাকারা ও ব্রায়ান লারার। ওয়ানডেতেও ব্যাট হাতে দারুণ সফল জয়াবর্ধনে। ১৯টি সেঞ্চুরি সহ ১২ হাজার ৬৫০ রান সেই সাক্ষ্য দিচ্ছে। ২০০৭ ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া শ্রীলঙ্কা দলের গর্বিত সদস্য তিনি।
অধিনায়ক হিসেবেও জয়াবর্ধনে সফল। শ্রীলঙ্কাকে ৩৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ১৮টিতে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ২০০৭ বিশ্বকাপে তিনিই ছিলেন দলের অধিনায়ক।
পুরো ক্যারিয়ারে মোট ৬৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন জয়াবর্ধনে। লঙ্কানদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তার চেয়ে এগিয়ে আছেন শুধু শচীন টেন্ডুলকার। ভারতের ব্যাটিং-গ্রেট খেলেছেন ৬৬৪টি ম্যাচ।

ক্রিকেটে আসতে পারে যেসব নতুন নিয়ম

মাঠের ক্রিকেটকে আরো আকর্ষণীয় করতে ও ভালোভাবে পরিচালনার জন্য নতুন কিছু নিয়মের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ করে আসছে আইসিসি। সংস্থাটির ক্রিকেট কমিটির নতুন এক প্রস্তাবে তার কিছু বাস্তবায়নের সুপারিশও করা হয়েছে।
আইসিসির ক্রিকেট কমিটিতে অনিল কুম্বলের নেতৃত্বে আছেন রাহুল দ্রাবিড়, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ড্যারেন লেম্যান এবং কেভিন ও’ব্রায়েনের মতো সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। তারা সর্বশেষ প্রস্তাবে কিছু সিদ্ধান্তের সুপারিশ করেছেন ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কাছে। নির্বাহী কমিটির সভায় প্রস্তাবিত সুপারিশের যেগুলো পাশ হবে, সেগুলো আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হতে পারে।
এক নজরে ক্রিকেটে আসতে পারে যেসব নতুন নিয়ম-
লাল কার্ড: ফুটবলের ক্ষেত্রে কার্যকরী এই লাল কার্ড আইন ক্রিকেটেও আসতে পারে। আইসিসির ক্রিকেট কমিটি নতুন প্রস্তাবে আম্পায়ারদের এমন ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলেছে। মাঠে অতি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটারদের অসদাচরণের কারণে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগে আম্পায়ারদের কাছে থাকবে এই লাল কার্ড।
ডিআরএস: ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)’এ পরিবর্তন আসতে পারে। তাতে আম্পায়ার্স কলের বিপরীতে রিভিউ ডেকে কোন দল হেরে গেলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি নষ্ট হবে না। তারা আরেকবার রিভিউ নিতে পারবে। যেহেতু ‘আম্পায়ার্স কল’র ক্ষেত্রে মাঠের সিদ্ধান্ত উল্টো হলেই রিভিউ সঠিক হয়ে যেত, সেক্ষেত্রে রিভিউটি বাতিল হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তাই রিভিউতে সফল হলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি অক্ষত থাকবে। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, টেস্টের প্রথম ৮০ ওভারে প্রতিটি দল দুটি করে রিভিউ নিতে পারে। ওডিআইতে ইনিংসে একটি করে। নতুন নিয়ম হলে, প্রতি ৮০ ওভারে নতুন দুটি রিভিউ পাওয়ার নিয়মটা বাতিল হয়ে পুরো ইনিংসেই শুধু দুটো রিভিউ থাকবে।
এলবিডব্লিউর নিয়মানুযায়ী মাঠের আম্পায়ার আউট ঘোষণা করার পর রিভিউ নিলে রিপ্লেতে যদি ‘বেনিফিট অব ডাউট’ অর্থাৎ এমন থাকে যে- আউট দিলেও দেয়া যায়, না দিলেও হয়; তখন থার্ড আম্পায়ার আউট ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, মাঠের আম্পায়ারকে তিনি সমর্থন করেন। সেটি আরো কার্যকরী করবে নতুন সুপারিশ। সঙ্গে এখন পর্যন্ত টেস্ট এবং ওয়ানডেতে রিভিউ পদ্ধতি চালু থাকলেও টি-টুয়েন্টিতে নেই। কমিটির টি-টুয়েন্টিতেও রিভিউ চালু করার সুপারিশ করেছে। আবার টেস্টের প্রতি ইনিংসে রিভিউর সংখ্যাও বাড়তে পারে।
বদলি খেলোয়াড়: ক্রিকেটে আগেও একবার বদলি খেলোয়াড়ের নিয়ম চালু করা হয়েছিল। তবে এবারেরটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাথায় আঘাত পেয়ে কোন ক্রিকেটার মাঠ ছাড়লে, তার বদলি হিসেবে নতুন একজনকে নামানোর নিয়ম করতে সুপারিশ এসেছে কমিটির থেকে। নিয়মটি দুই বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কথা বলেছে কমিটি।
রান আউট: সংশোধন আসতে পারে রান আউটের নিয়মেও। চলতি নিয়মে ব্যাটসম্যান ক্রিজ পার হয়েও পা ও ব্যাট দুটোই বাতাসে রাখলে, তখন স্টাম্প ভেঙে দিলে সেটা রান আউট। নতুন নিয়মে ব্যাট বা পা একবার ক্রিজ অতিক্রম করলেই আর রান আউট হবে না।
নো বল: এক্ষেত্রে টিভি আম্পায়ারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এখন মাঠের আম্পায়াররা ব্যাটসম্যান আউট হলেই কেবল রিপ্লেতে দেখে নেন যে বলটা নো ছিল কিনা, নতুন প্রস্তাবে বল ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গেই রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত জানাতে পারবে।
ব্যাটের পুরুত্ব: নতুন সুপারিশে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি পুরু ব্যাট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আসতে যাচ্ছে।

এজবাস্টনের বাংলাদেশের অনুশীলন

এজবাস্টনে আজ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কারণ বার্মিংহামের এই এজবাস্টন স্টেডিয়ামেই আগামীকাল প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। আগামী ৩০ মে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগাররা মুখোমুখি হবে ভারতের। ম্যাচটি হবে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে। এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে কেনিংটন ওভালেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মাশরাফিরা।

*** বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভিডিও ফুটেজ ও মাশরাফির ইন্টারভিউ সংযুক্ত করা হলো। ***

বাংলাদেশের ভাবনায় র‌্যাংকিং

আগামী ১ জুন থেকে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা দিয়ে লন্ডনে শুরু হবে এবার বাংলাদেশের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। আগের দুটি আসরে খেলার সুযোগই পায়নি বাংলাদেশ। র‌্যাংকিংয়ের সেরা আটে থাকতে না পারার মাশুল গুণতে হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দর্শক হয়ে থাকতে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। কিন্তু সেই দিন এখন অতীত। বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলছে বাংলাদেশ। তাও আবারও তিন তিনটি বিশ্বকাপজয়ী দলের চেয়ে এগিয়ে থেকে!
নিজেদের তিন দশকের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নামতে যাচ্ছে ১৯৯৬র চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা আর ১৯৯২র চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। দুই বিশ্বকাপের মালিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই নেই! তিন বিশ্বকাপজয়ীর চেয়ে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডের। র‌্যাংকিংয়ের পাঁচে উঠে যাওয়ার পথ সময়সাপেক্ষ; কিন্তু আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিতের কাজ অনেকটাই হাতের নাগালে।
আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদ করা র‌্যাংকিং টেবিল বলছে, পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনেকখানি পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে র‌্যাংকিংয়ের সাত থেকে ছয়ে উঠে এসেছে মাশরাফি মুর্তজার দল। সাত নম্বরে নেমে যাওয়া শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ উভয়েরই পয়েন্ট ৯৩ করে। তবে ০.৫০ শতাংশে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। লংকার পয়েন্ট ৯৩ দেখানো হলেও মূলত তা ৯২.৮। আর বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯৩ হলেও আসলে সংখ্যাটা ৯৩.৩। র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বরে থাকা পাকিস্তানের পয়েন্ট ৮৮। আর নয় নম্বরে থাকা উইন্ডিজের সংগ্রহে ৭৯ পয়েন্ট, বাংলাদেশের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট পেছনে।
আগে থেকেই জানা, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে আটটি দল। স্বাগতিক ইংল্যান্ড বাদে র‌্যাংকিংয়ের প্রথম সাতটি দল পাবে এই সুযোগ। ইংলিশদের বাদ দিলে বাংলাদেশ এখন সাত দলের মধ্যে পঞ্চম স্থানে আছে। র‌্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত হিসাব যেহেতু ৩০ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের সেরা সাতের মধ্যে থেকে যাওয়া তাই অনেকটাই নিশ্চিত। আর ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যদি ন্যূনতম একটি জয় আসে, তাহলে পুরোপুরিই নিশ্চিত হয়ে যাবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষের একটি মাত্রই ত্রিদেশীয় সিরিজে হারিয়ে দেওয়া নিউজিল্যান্ড। তার আগে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম দিনই অবশ্য স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। যে হিসাব নিয়ে আইসিসি র‌্যাংকিং তৈরি করে, তাতে দেখা যাচ্ছে ইংল্যান্ডকে হারালে ৩ পয়েন্ট পাবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হারালে আসবে আরও দুটি পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ৯৮ পয়েন্ট জোগাড় করে বেশ নিশ্চিন্তেই থাকবেন মাশরাফিরা। তবে দুটি ম্যাচেই হেরে গেলে উল্টো বিপদ আছে। সেক্ষেত্রে পয়েন্ট নেমে যাবে ৯২-তে, র‌্যাংকিং চলে যাবে সাতে। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রীলংকার ম্যাচগুলোরও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা আছে। র‌্যাংকিংয়ের দুইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া আর পাঁচে থাকা ইংল্যান্ডের মধ্যে যে কোনো একটি ম্যাচে জিতলেও অবশ্য বাংলাদেশের লাভ আছে। তখন পয়েন্ট হবে ৯৫, টিকে থাকবে ছয় নম্বরের অবস্থান।
আইসিসি র‌্যাংকিংয়ের প্রথম পাঁচটি দলেরই পয়েন্ট ১১০’র উপরে থাকায় তাদের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ পুরোপুরি নিশ্চিত। বাকি তিনটি জায়গার জন্য কম-বেশি লড়াই বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান আর উইন্ডিজের। বিশেষ করে পাকিস্তান আর উইন্ডিজের মধ্যেই মূল লড়াই। পাকিস্তান দল যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবে, উইন্ডিজ তখন ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেবে আফগানিস্তানকে। দশ নম্বরে থাকা আফগানদের বিপক্ষে জয় পেলে অবশ্য ক্যারিবীয়দের তেমন কোনো লাভ নেই। এজন্য তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ভারতকে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আমন্ত্রণও জানিয়ে রেখেছে। তিন নম্বরে থাকা ভারতকে হারাতে পারলে উইন্ডিজের অবশ্য পয়েন্ট বাড়িয়ে আটের দিকে ওঠার পথ খুলতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বিপদে থাকবে পাকিস্তানই। বাংলাদেশের লড়াইটা থাকবে শ্রীলংকার সঙ্গে, র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বর স্থান ধরে রাখা না রাখা নিয়ে।

একযুগে মুশফিকুর রহিম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ মুশফিকের একযুগ পূর্তি হচ্ছে। ২২ গজে ১২ বছর কাটিয়ে দিলেন তিনি। ২০০৫ সালে এইদিনেই ১৭ বছর বয়সে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের। তারপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গণ্ডিতে ক্রমাগত ছুটে বেড়িয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। উদ্বোধনী টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইংলিশ পেসার ম্যাথু হগার্ডের বলে উইকেট হারানোর আগে ৫৬ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেছিলেন মুশফিক। আর দ্বিতীয় ইনিংসে তোলেন ৯ বলে ৩ রান। তারপরই ফ্লিনটফের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। সেই থেকে ৫৪ টেস্টের ১০০ ইনিংসে মুশফিকের রান ৩২৬৫। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরিটিও তার। টেস্টে মোট সেঞ্চুরি ৫টি। ১৭২ ওয়ানডেতে শুশফিকের রান ৪২৩৫। সেঞ্চুরি আছে ৪টি। সর্বোচ্চ ১১৭, ভারতের বিপক্ষে। এদিকে, ৫৯ টি-টোয়েন্টিতে মুশফিক সংগ্রহ করেন ৭৫৬ রান, সর্Ÿোচ্চ ৫০ রান।
মাশরাফির পর দেশের হয়ে একটানা একযুগেরও বেশি সময় খেলা ক্রিকেটার তিনি। এই সময়ে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে অবদান রেখেছেন দেশের জন্য, সমৃদ্ধ করেছেন নিজের ক্যারিয়ার।
গত ৯ মে জন্মদিনে ভক্তদের অভিবাদন জানাতে গিয়েও কথা বলেছেন ১২ বছর পূর্তি সম্পর্কে। মুশফিক বলেছিলেন, ‘সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। যেভাবে সবাই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, আমি মুগ্ধ। এই দিনটা অবশ্যই আমার জন্য বিশেষ কিছু। এই মাসটাই আমার জন্য বিশেষ কিছু। এই মাসে আমার জন্ম, এই মাসেই আমার জাতীয় দলে টেস্ট অভিষেক।’ এক সময় ক্রিকেটের তিন ফরমেটেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেন তিনি। ২০১১ সালে প্রথম জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান মুশফিক। সে বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে হোম সিরিজে তার অধিনায়কত্বের শুরু। পরবর্তীতে টেস্ট ও ওয়ানডের অধিনায়কত্ব অন্যদের কাঁধে চলে গেলেও টেস্টে এখনো নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বেই শ্রীলঙ্কায় নিজেদের শততম টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বেই ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল ও ২০১৩ সালে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে টাইগাররা।
যুগপূর্তির এইক্ষণে মুশফিকুর রহিমকে অনেক অনেক অভিনন্দন। বাংলাদেশের অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমির মতো আমরাও মুফিকুর রহিমের দীর্ঘ ক্যারিয়ার কামনা করছি।

ইংল্যান্ডে এখন টিম বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠস্থানে ওঠার ম্যাচ জয়ের পর রাতে আনন্দ-উৎসব করেছে টিম বাংলাদেশ। উৎসব না করার কোনো কারণও নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়ে যেভাবে জয় তুলে নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।
সামনেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে হবে খুব শিগগিরই। তার আগে নিজেদের চাঙা রাখতে রাতের উৎসব। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের পথে রওনা হওয়া। ১ ঘন্টা পাঁচ মিনিট বিমান ভ্রমণ শেষে বার্মিংহামে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। টাইগারদের থাকার হোটেলের নাম হায়াত বার্মিংহাম।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে বাংলাদেশ দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। বার্মিংহামে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ২৭ মে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। পর দিন লন্ডনে যাবে মাশরাফির দল।
ভারতের বিপক্ষে ৩০ মে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ১ জুন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে দেশে ফিরে আসার কথা নাসির হোসেন ও শুভাশীষ রায়ের। ক্রিকেট বোর্ড আগেই জানিয়েছিল, মুশফিকুর রহিমের স্ট্যান্ডবাই হিসেবে কাজী নুরুল হাসান সোহান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফর করবে।

সাকিব আবারো বিশ্ব সেরা

ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারানোয় বেশকিছু অর্জন হয়েছে বাংলাদেশের। সেইসব অর্জনের পিছু পিছু সাকিব আল হাসানও আবার হলেন বিশ্বসেরা। ক্রিকেটের তিন ফরমেটেই অলরাউন্ডার হিসেবে আবারো বিশ্ব সেরা হলেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির নতুন র‍্যাংকিংয়ে তিনটি ফরম্যাটেই শীর্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ৪৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে, ৩৬৩ পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে আর ৩৫৩ পয়েন্ট নিয়ে টি-টোয়েন্টির সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
টেস্টে ৪৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সাকিব। তার পরের স্থানে রাবিন্দু জাদেজা। তার পয়েন্ট ৩২২। ওয়ানডেতে সাকিবের পরে ৩৫৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতয় স্থানে পাকিস্তানে মোহাম্মদ হাফিজ। আর তৃতীয় স্থানে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। সাকিব টি-টোয়েন্টিতে ৩৫৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। তার পরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তার পয়েন্ট ৩৪৪।

ব্যাটিংয়ে সেরা তামিম, বোলিংয়ে মোস্তাফিজ

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হয়েছে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ। সিরিজের শেষ ম্যাচে কিউইদের পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। বিদেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়।
পুরো সিরিজেই অসাধারণ ব্যাট করেছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। তিন হাফ সেঞ্চুরিতে তার মোট রান ২৮৫। এই সিরিজে তিনিই সেরা রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান। ২৫৭ রান করে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের টম লাথাম।
অন্যদিকে, এই সিরিজের সেরা উইকেশিকারি বোলার হচ্ছেন টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি শিকার করেছেন নয়টি উইকেট। আটটি উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার।
ত্রিদেশীয় সিরিজে সেরা রান সংগ্রহকারী পাঁচ ব্যাটসম্যান
১.তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)-২৮৫ রান
২.টম লাথাম (নিউজিল্যান্ড)-২৫৭ রান
৩.নেইল ব্রুম (নিউজিল্যান্ড)-২২৮ রান
৪.সাব্বির রহমান (বাংলাদেশ)-২০১ রান
৫.রস টেইলর (নিউজিল্যান্ড)-১৯৪ রান
ত্রিদেশীয় সিরিজে সেরা উইকেটশিকারি পাঁচ বোলার
১.মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ)-৯টি উইকেট
২.মিচেল স্যান্টনার (নিউজিল্যান্ড)-৮টি উইকেট
৩.মাশরাফি বিন মর্তুজা (বাংলাদেশ)-৭টি উইকেট
৪.পিটার চেজ (আয়ারল্যান্ড)-৬টি উইকেট
৫.স্কট কুগ্গেলেইজন (নিউজজিল্যান্ড)-৫টি উইকেট

র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে বাংলাদেশ

শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে ক্রিকেটে র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বরে উঠে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল বুধবার রাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামার আগে ৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এই ম্যাচে জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে হলো ৯৩। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান কিভাবে নির্ণয় করা হবে। নিয়ম হলো পয়েন্ট সমান হলে দশমিক পয়েন্টের ভিত্তিতে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই পয়েন্ট টেবিলে উপরের অবস্থানে থাকবে। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। কারণ, বাংলাদেশের মূল পয়েন্ট হচ্ছে ৯৩.৩। আর শ্রীলঙ্কার মূল পয়েন্ট হচ্ছে ৯২.৮। অর্থা, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পয়েন্ট ফাইভ বা হাফ পয়েন্ট এগিয়ে টাইগাররা। এ কারণে র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে গেছে বাংলাদেশ।
২০১৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে র‌্যাঙ্কিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বিশ্বকাপের আসর বসবে ইংল্যান্ডে। সরাসরি আটটি দল বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। এই আসরে স্বাগতিক হিসেবে ইংল্যান্ড সরাসরি অংশ নিবে।
তাছাড়া আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা সাতটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নিবে। বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেয়ার শর্ত হচ্ছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা সাতে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন শক্ত অবস্থানেই রয়েছে।

বিপিএল শুরু ৪ নভেম্বর খেলোয়াড় নিলাম ১৬ সেপ্টেম্বর

আট দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগÑবিপিএল’র পঞ্চম আসর শুরু হবে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে। খেলোয়াড়দের নিলাম হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার একথা জানায়, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। হোম এন্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টের খেলা এবারও সব বিভাগে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে এবার সিলেটেও কিছু ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের। এ আর এমনকি। তেমনটা হলে একবছর পর সিলেটে ফিরছে বিপিএলের আসর। কিন্তু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান জানান, ‘এবার চার, এমনকি পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড় থাকতে পারেন একাদশে। এটা অবশ্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে কথা বলে পরে চূড়ান্ত— করা হবে।’ তখনই নড়েচড়ে বসেন প্রেসমিটে আসা সাংবাদিকরা।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের গুরুত্ব বাড়াতে বিগ ব্যাশ বা আইপিএল বিদেশি খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়। চারজনের বেশি বিদেশি যেমন থাকতে পারে না আইপিএলের কোনো ম্যাচের একাদশে। বিপিএলে আবার নিয়মটা উল্টো। এখানে কমপক্ষে চারজন বিদেশি খেলোয়াড় রাখতে হয়। কারণ ম্যাচের আকর্ষণ বাড়ানো। এবার সংখ্যাটি আরো বাড়বে।
বাড়ার কারণটা ব্যাখ্যা করলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সচিব ইসমাইল হায়দার, ‘চার-পাঁচটা ফ্র্যাঞ্চাইজি আবেদন করেছে। যদি একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি দল এবার বাড়ে, বাংলাদেশে তো ভারতের মতো অত প্রতিভা আমাদের নেই। বিপিএল-র মতো কমার্শিয়াল ভেঞ্চারকে প্রমোট করা মত এত লোকাল প্লেয়ার তো আমাদের স্টকে নেই, যারা এত বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের মেলে ধরতে প্রস্তুত। ভারতে যে পরিমাণ প্রতিভা আছে, বাংলাদেশে এখনো সেটা খুঁজে পাইনি। আমরা যদি আটটা দল করি, তাহলে আরও সাত-আটজন স্থানীয় খেলোয়াড়ের সরবরাহ থাকতে হবে।’
মজার কথা হলো, আইপিএল, বিপিএল, কিংবা বিগব্যাশের মত টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোর প্রচলনই হয়েছিলো মূলত দেশের উদিয়মান ক্রিকেটারদের বিশ্বমঞ্চে পরিচয় করানোর লক্ষ্য থেকে। অন্য সব দেশ এই নীতি মেনে চললেও, বাণিজ্যিক ফায়দা নেয়ার অজুহাতে বিপিএলে, নিয়মটা শিথিল করা হলো। অন্তত চারজন বিদেশি খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে একাদশে রাখতেই হবে। ফ্রেঞ্চাইজিদের দাবির অজুহাতে আরও একবার প্রমান হলো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ অবস্থা। ফ্র্যাঞ্চাইজি সামলানোর মতো কোনো শক্তি বা যুক্তি-বুদ্ধিই নেই তাদের। তাই অবধারিতভাবে প্রশ্ন ওঠে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রতিটি দলে মাত্র একজন বিদেশি খেলোয়াড় সুযোগ পান। প্রিমিয়ার ক্রিকেটের মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও প্রশ্ন নেই। সেখানে যদি স্থানীয় খেলোয়াড় জোগানে কোনো ঘাটতি না হয়, বিপিএলে হয় কী করে?
এদিকে, দলসংখ্যা বাড়ার আগেই খেলার পরিসর খানিকটা বাড়ানোর ইচ্ছে ছিলো এবার আয়োজকদের। হোম এন্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে সব দলই প্রত্যেক প্রতিপক্ষের সাথে দু’বার মুখোমুখি হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হোম ম্যাচ পায় না বেশিরভাগ দলই। এবার খানিকটা এগোনোর কথা শোনালেন আয়োজকরা। সিলেটই হবে এবারের বিপিএল আসরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর তৃতীয় ভেন্যু।

অনন্য এক কীর্তি গড়লেন মাহমুদউল্লাহ

ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আলো ছড়িয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ম্যাচটিতে জয়সূচক শটটি তো তারই। হামিশ বেনেটের বলে মিড উইকেটে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার ৩৬ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ ৬টি চার ও ১টি ছক্কায়।

ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাবে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে এবারই প্রথম কিউই-বধের কৃতিত্ব দেখালেন টাইগাররা। ম্যাচটিতে খেলতে নেমে অনন্য এক কীর্তি গড়লেন মাহমুদউল্লাহ। কিউইদের বিপক্ষে ২৮ রান করতেই পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে তিন হাজারি ক্লাবে নাম লেখান ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ১৪১টি ওয়ানডে খেলা মাহমুদউল্লাহর বর্তমান রান সংখ্যা ৩০১৮। গড় ৩৩.৯১!

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে চার ব্যাটসম্যান ওয়ানডেতে তিন হাজারের বেশি রান করেছেন। তালিকায় সবার ওপরে তামিম ইকবাল। ১৬৯ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে মারকুটে এই ওপেনার করেছেন ৫৪৫০ রান। গড় ৩৩.৪৩। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাকিব আল হাসান নামের পাশে যোগ করেছেন ৪৮১৫ রান। ১৭৩টি একদিনের ম্যাচ খেলা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাটিং গড় ৩৪.৬৪।

‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহীম রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। ১৭২টি ওয়ানডেতে ৩১.৮৪ গড়ে ঝুড়িতে জমা করেছেন ৪২৩৫ রান। তালিকায় মোহাম্মদ আশরাফুলের অবস্থান চতুর্থ। টাইগারদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। ১৭৫টি একদিনের ম্যাচ খেলে ২২.৩৭ গড়ে করেছেন ৩৪৬৮ রান।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ছয়ে টাইগাররা

৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। বুধবার জয় দিয়ে শেষটা রাঙানোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে উঠেছে টাইগাররা।

নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ ছিল সপ্তম স্থানে। কিউইদের ৫ উইকেটে হারানোয় মাশরাফির দলের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৯৩। শ্রীলঙ্কার পয়েন্টও সমান, তবে ভগ্নাংশে এগিয়ে থেকে ছয়ে উঠে গেছে বাংলাদেশ। আর শ্রীলঙ্কা নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।

ষষ্ঠ স্থানে উঠে যাওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার দৌড়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে গেল টাইগাররা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি  বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।

অবশ্য অত দিন অপেক্ষা না-ও করতে হতে পারে। আগামী ১ জুন শুরু হতে হওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুটো ম্যাচ জিতলে ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের।

আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র‌্যাংকিং

অবস্থান দল পয়েন্ট
১. দক্ষিণ আফ্রিকা ১২৩
২. অস্ট্রেলিয়া ১১৮
৩. ভারত ১১৭
৪. নিউজিল্যান্ড ১১৬
৫. ইংল্যান্ড ১১০
৬. বাংলাদেশ ৯৩
৭. শ্রীলঙ্কা ৯৩
৮. পাকিস্তান ৮৮
৯. ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৯
১০. আফগানিস্তান ৫২

ম্যাচ সেরার পুরস্কার মুশফিকের

অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন মুশফিকুর রহীম। তামিম ইকবাল কিংবা সাব্বির রহমানের মত বড় স্কোর গড়েননি। তবে যে কার্যকর ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি, তাতে বিচারকদের দৃষ্টিতে মুশফিককেই ম্যাচের সেরা বলে গণ্য হয়েছে। ম্যাচ সেরা হিসেবে ৫০০ মার্কিন ডলারও জিতে নিয়েছেন তিনি।

৪৫ বলে ৪৫ রান করেছেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে গড়েছেন ৭২ রানের জুটি। মোস্তাফিজুর রহমান জিতেছেন পুরো সিরিজের কোয়ালিটি প্লেয়ারের পুরস্কার। তিনিও পেয়েছেন ৫০০ মার্কিন ডলার।

২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সৌম্য সরকারের উইকেট হরিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর তামিম-সাব্বির জুটি ১৩৬ রান উপহার দিলেই বাংলাদেশের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়; কিন্তু হঠাৎকরে দ্রুত চারটি উইকেট পড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের জয়টা সুদুর পরাহত হিসেবেই দেখা দিয়েছিল।

অবশেষে মুশফিকুর রহীম এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দু’জন মিলে ৭২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে অসাধারণ জয় উপহার দেন।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের

কত স্বপ্ন আর কত আকাঙ্খা জড়িয়ে ছিল এই একটি ম্যাচ ঘিরে। এই একটি ম্যাচে হবে অনেক অর্জন। মোটা দাগে বললে তিনটি বড় বড় অর্জন তো হবেই বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডই একমাত্র দেশ বাকি ছিল, যাদেরকে বিদেশের মাটিতে পরাজয়ের স্বাদ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই অপূর্ণ স্বাদ আস্বাদন করা। একই সঙ্গে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে ছয় নম্বরে উঠে যাওয়া এবং সর্বশেষ বড় প্রাপ্তি, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা।
৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। বুধবার জয় দিয়ে শেষটা রাঙানোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে উঠেছে টাইগাররা।
নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ ছিল সপ্তম স্থানে। কিউইদের ৫ উইকেটে হারানোয় মাশরাফির দলের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৯৩। শ্রীলঙ্কার পয়েন্টও সমান, তবে ভগ্নাংশে এগিয়ে থেকে ছয়ে উঠে গেছে বাংলাদেশ। আর শ্রীলঙ্কা নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।
ষষ্ঠ স্থানে উঠে যাওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার দৌড়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে গেল টাইগাররা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।
অবশ্য অত দিন অপো না-ও করতে হতে পারে। আগামী ১ জুন শুরু হতে হওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুটো ম্যাচ জিতলে ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের।
ডাবলিনের কনটার্ফ ক্রিকেট কাব গ্রাউন্ডে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সবগুলো অর্জন একসঙ্গে ব্যাগ পুরে নিলো মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। কিউইদের ছুড়ে দেয়া ২৭১ রানের ল্য তাড়া করতে নেমে ১০ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
প্রথম দিকে জয়ের নায়ক ছিলেন তামিম ইকবাল এবং সাব্বির রহমান। দু’জনের ১৩৬ রানের অসাধারণ এক জুটি বাংলাদেশকে জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়। মাঝে চারটি উইকেট টানা পড়ে গেলেও দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে বহু আকাংখিত জয়টি উপহার দেন। মুশফিক ৪৫ বলে ৪৫ এবং মাহমুদুল্লাহ ৩৬ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।
১৭১ রানের ল্েয ব্যাট করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ধকল টাইগাররা সামলে উঠেছেন দ্বিতীয় উইকেটে। এই জুটিতে বাংলাদেশ পায় ১৩৬ রান। জুটি ভাঙল তামিম আউট হওয়ায়। মিচেল স্যান্টনারের বল মিড উইকেটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হাশিম বেনেটের তালুবন্দি হন তামিম।
তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশিণ ক্রিজে থাকতে পারলেন না সাব্বিরও। মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউটে কাটা পড়লেন সাব্বির। এরপর ১০ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
সৈকতের পর বিদায় নেন চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলীয় ১৬০ রানের মাথায় জিতান প্যাটেলের বলে প্যাডে বল লাগিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। উইকেটে নামা সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহীম মিলে চেষ্টা করেন ৩৯ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার। দলীয় ১৯৯ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সাকিব আল হাসানও। হামিশ বেনেটের বলে লং লেগ অঞ্চলে তার ক্যাচ ধরেন মিচেল সান্টনার। এরপরই জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুর রহিম।
২৭১ রানের ল্য। তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। দলীয় ৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন সৌম্য সরকার। তিনি শিকার জিতান প্যাটেলের। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে সজোরে ব্যাট চালাতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার কোরি অ্যান্ডারসনের হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশি ওপেনার।
এদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন নিউজিল্যান্ডের তিন ব্যাটসম্যান। টম ল্যাথাম, নেইল ব্রুমের পর রস টেলর। এই তিন ফিফটিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭০ রান তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নতুন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশ অনূ্র্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডেমিয়েন রাইট। আগামী বছর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য যুব বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলে থাকবেন তিনি। জুলাই মাস থেকে জুনিয়র টাইগারদের দায়িত্ব নেবেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন এ ক্রিকেটার।

টাইগারদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন স্টার্স, হোবার্ট হারিক্যান, তাসমানিয়া এবং ভিক্টোরিয়ার মতো দলে কোচিং করিয়েছেন ডেমিয়েন রাইট। ২০১১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর কোচিং পেশায় মনোনিবেশ করেন তিনি। ১৯৯৭-৯৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর দেশের বাইরে পাঁচটি কাউন্টি দলে খেলেছেন তিনি। এছাড়া প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে খেলেছেন নিউজিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের হয়ে। জাতীয় দলে খেলা না হলেও অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন তিনি।

অনূর্ধ্ব-১৯ যুব দল নিয়ে শেরে-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন ক্যাম্প করছেন আব্দুল করিম জুয়েল। তার সঙ্গে এসে যোগ দেবেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া কোচ ডেমিয়েন রাইট। নতুন দায়িত্ব নিয়ে রাইট বলেন, ‘আমরা কিছু অনুশীলন ম্যাচ খেলবো। ছেলেদের বেশ প্রস্তুত ও সজীব মনে হয়। তদের কঠোর পরিশ্রমী মনে হচ্ছে। এটা থাকা অসাধারণ। নিজেদের যাচাইয়ের জন্য  আমাদের অনেকগুলো উইকেট রয়েছে। তাই আমাদের কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। আমরা ধীরভাবে উন্নতি করে সঠিক সময়ে চূড়ায় উঠতে চাই। আমি এই মূহুর্তেই অনেক দূর চোখ রাখছি না। তবে নিশ্চিতভাবে নিউজিল্যান্ডে আমরা সেরা অবস্থানে পৌঁছতে চাই।’

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আস্থা রাখছে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে বসবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আসর। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ঠিক আগে ম্যানচেস্টার শহরে ঘটল ন্যক্কারজনক ঘটনা।

সোমবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-র আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে ম্যানচেস্টার শহরে। এতে ২২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১১৯ জন। আত্মঘামী বোমা হামলায় ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ক্রিকেটবিশ্ব।

ওয়ানডের সেরা আট দল খেলবে ইংল্যান্ডে। টুর্নামেন্টের আয়োজক আইসিসিও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ দল এখন আয়ারল্যান্ডে। ২৫ মে আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ড যাবে টাইগাররা। বর্তমান নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উদ্বিগ্ন হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখছে। সৃষ্ট পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বিসিবি।

মঙ্গলবার বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন এমটাই জানালেন। তিনি বলেন,‘নিরাপত্তা নিয়ে আমরা অবশ্যই চিন্তিত। এরকম ঘটনা সব সময়ই চিন্তার কারণ। কিন্তু আমরা আস্থা রাখছি আইসিসি এবং স্বাগতিক বোর্ডের উপর। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আইসিসি এরই মধ্যে জানিয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থান দ্বিগুণ জোরদার করা হচ্ছে। আমরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ করব।’

নিজামউদ্দিন চৌধুরী যোগ করেন,‘আমরা ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সাথে অবশ্যই থাকব। তারা গত বছর আমাদের এখানে সফর করেছে। সফরের আগে এরকম ঘটনা চিন্তার কারণ। আমরা এখানে ওদেরকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছি ওরাও ঠিক একইভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে। অস্ট্রেলিয়া যখন আমাদের এখানে সফর করেনি তখন ইংল্যান্ড কিন্তু এখানে এসেছিল। তারা সব সময়ই আমাদের পাশে ছিল। আমরাও থাকব।’

বাংলাদেশকে শিরোপা জেতাতে চান রাইট

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ডেমিয়েন রাইট খেলা ছেড়েছেন খুব বেশিদিন হয়নি, ২০১১ সালে। এরপর ক্রিকেট কোচিং নিয়েই ব্যস্ত। খুব অল্প সময়ে কাজ করেছেন বড় বড় দলের সঙ্গে।

নিউজিল্যান্ডের বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। হেড কোচ ছিলেন বিগ ব্যাশের দল হোবার্ট হ্যারিকেনের। ৪১ বছর বয়সি অস্ট্রেলিয়ান এ কোচকে যুব দলের কোচ হিসেবে যুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত যুব দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রাইট। ১২৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা রাইট বিসিবির সঙ্গে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সারতে সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন। চুক্তি সেরে যুবাদের নিয়ে মিনিট দশেক মিটিং করেন একাডেমির হল রুমে।

পরিচিত পর্ব থাকলেও কিছুটা টিপস দিয়েছেন পেসারদের। আগামীকাল ঢাকা ছাড়বেন রাইট। ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিং শেষ করে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাইট জানালেন, বাংলাদেশকে একটি শিরোপা জিতাতে চান তিনি। সে লক্ষ্যেই কাজ করবেন যুবাদের নিয়ে। যুব বিশ্বকাপের সবশেষ আসরে বাংলাদেশ তৃতীয় হয়েছিল। সেবার ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে থাকলেও চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সেমিফাইনালে হেরে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এবারও শিরোপায় চোখ রেখে মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। তবে এবার কাজটা খুব একটা সহজ হবে না।

 

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে হবে পরের যুব বিশ্বকাপ। আর নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন বাংলাদেশের কাছে পুরোটাই অজানা। রাইটের ব্যাখ্যা, সামর্থ্য থাকলে শিরোপা জয় করা সম্ভব। শিষ্যদের চোখে-মুখে সেই ক্ষুধা দেখতে পারছেন তিনি। তাই শিরোপা নিয়ে প্রশ্ন করতেই বললেন,‘অবশ্যই তাদের পক্ষে শিরোপা জয় করা সম্ভব। এখনও ৭-৮ মাস রয়েছে। আমাদের প্রস্তুতির সময় আছে। আমরা এখনই বিশ্বকাপ জিততে পারব না। আমাদেরকে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মোমেনটাম প্রস্তুত করতে হবে।’

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন নিয়ে এতটা মাথা ঘামাচ্ছেন না রাইট। তিনি মনে করেন, ধারাবাহিকভাবে ছেলেরা উন্নতি করতে পারলে যে কোনো কন্ডিশনেই সাফল্য পাবে। সব কন্ডিশনেই যেন ভালো করতে পারে সেভাবেই ছেলেদের প্রস্তুত করবেন তিনি। ছেলেদের নিয়ে রাইট বলেন,‘আমি এখানে এসে সম্মানিত। প্রথমবার বাংলাদেশে এলাম। মাত্র ৫-১০ মিনিট ছেলেদের সঙ্গে কথা হল। তারা দারুণ। আমি তাদের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি। তারা ক্রিকেটকে কতুটুক ভালোবাসে সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। আমি তাদেরকে সেরা বানাতে চাই। এজন্য আমি নিজেও উচ্ছ্বসিত।’

বুধবার দেশে ফিরে একমাস পর বাংলাদেশে আসবেন ডেমিয়েন রাইট। জুনের শেষ দিকে ভারতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। আনুষ্ঠানিকভাবে তখন থেকেই কাজ শুরু করবেন রাইট।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি প্রিভিউ : পাকিস্তান

ইয়াসিন হাসান:

২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপ। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে তরুণ এক ক্রিকেটার, সরফরাজ আহমেদ। ইমাদ ওয়াসিম, আনোয়ার আলীদের পাকিস্তান দলটি দ্বিতীয়বারের মতো জয় করে সবাইকে চমকে দেয়।
ফাইনালে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল রোহিত শর্মা, রবীন্দ্রর জাদেজাদের ভারত। ভারতের তুখোড় দলটির বিপক্ষে ফাইনাল জয়ের পর পাকিস্তানের ক্রিকেটবোদ্ধারা সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে বলেছিলেন,‘পাকিস্তানের ভবিষ্যত সরফরাজ আহমেদ। পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে পরবর্তীতে নেতৃত্ব দিবে তরুণ ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানকে দিবে শিরোপার স্বাদ।’

এক বছরের মাথায় জাতীয় দলে অভিষেক উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যানের। কিন্তু শুরুর দিকে ভালো করতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়েন সরফরাজ। এরপর ফিরে এসেছেন। দলকে দিয়েছেন সাফল্য। প্রথমে সহ-অধিনয়ক এরপর অধিনায়ক। ২০১৬ সাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর শহীদ আফ্রিদির কাছ থেকে ক্রিকেটের সবথেকে ছোট্ট ফরম্যাটের দায়িত্ব বুঝে নেন সরফরাজ। দায়িত্ব নিয়েই বাজিমাত সরফরাজের। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয়টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েন। চলতি বছরের শুরুতে আজহারের থেকে নেন ওয়ানডের দায়িত্ব। ওয়ানডেতেও একই সাফল্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কিছুদিন আগেই পাকিস্তান হারিয়েছে ২-১ ব্যবধানে।

 


ছোট্ট ক্যারিয়ারের সফল অধিনায়কের হাত ধরেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নাম লেখাতে যাচ্ছে পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সাফল্য সেমিফাইনাল। ২০০০, ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে গৌরবের এ আসরের শেষ চারে উঠেছিল পাকিস্তান। কিন্তু প্রতিবারই ফাইনালের টিকিট পেতে ব্যর্থ প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পাকিস্তান ক্রিকেটপ্রেমিরা বিশ্বাস করে এবার ট্রফির ফাইনাল জিতবে পাকিস্তান। ফাইনালের ভাবনা একটু পরই ভাবতে হবে তাদেরকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবথেকে হাইভোল্টেজ ম্যাচে আগামী ৪ জুন মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। ফেভারিট পাকিস্তান ভারতকে হারাতে পারলে শুরুতেই এগিয়ে যাবে।

আনপ্রেডিকটেবল পাকিস্তানের এ টুর্নামেন্টে হারানোর কিছু থাকবে না। নতুন অধিনায়কের নেতৃত্ব দলটি মাত্র গড়ে উঠছে।সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসর এবং একাধিক খেলোয়াড় ফর্মে না থাকায় পাকিস্তানের দলটিকে ফেভারিট বলা যাচ্ছে না। তবে দলে রয়েছে একাধিক ম্যাচ জয়ী তারকা। নিজেদের দিনে তারা সেরা। মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিকের সঙ্গে রয়েছেন আজহার আলী ও আহমেদ শেহজাদ। বোলিং বিভাগে রয়েছে এক ঝাঁক পেসার। ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ আমির ও জুনায়েদ খান যেদিন জ্বলে উঠবেন সেদিন কপাল খারাপ ব্যাটসম্যানদের!

 


সবার নজর থাকবে বাবর আজমের দিকে। তরুণ এ ক্রিকেটার সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে রান করছেন। ২২ বছর বয়সি এ ক্রিকেটার ২৬ ওয়ানডেতে পেয়েছেন ৫ সেঞ্চুরির স্বাদ। গত মাসেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছেন।বিশ্বমঞ্চে কেমন পারফরম্যান্স করেন সেটাই দেখার। চাপে থাকবেন পেসার মোহাম্মদ আমির। ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে শাস্তি পাওয়ার পর ১৫ ওয়ানডে খেলেছেন আমির। সাফল্য বলতে পেয়েছেন মাত্র ২০ উইকেট। নজরকাড়া বোলিং করেছেন তা বলা দুরহ। ইংলিশ কন্ডিশন তার জন্য আদর্শ। ভারত, শ্রীলঙ্কা কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পেতে হলে আমিরকে জ্বলে উঠতেই হবে। তার উপরই নির্ভর করতে পাকিস্তানের বোলিং সাফল্য।

ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে আটে রয়েছে পাকিস্তান। এবার টুর্নামেন্টে ভালো করতে না পারলে রেটিং পয়েন্ট নিশ্চিত কমে যাবে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেরা আটে থাকতে হবে তাদেরকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সাফল্যর উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। দেখা যাক যুব বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে সরফরাজের হাত ধরে বড় কোনো সাফল্য পায় কি না ওয়াসিম আকরাম, ইনজামাম-উল-হকের উত্তরসূরীরা! বাজিরদরে পাকিস্তান পিছিয়ে। কিন্তু দলটি যখন পাকিস্তান তখন অনেক কিছুই সম্ভব। বরাবরই তারা আনপ্রেডিকটেবল!

পাকিস্তানের ম্যাচ:
৪ জুন: প্রতিপক্ষ ভারত
৭ জুন: প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা
১২ জুন:  প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা

প্রস্তুতি ম্যাচ:
২৭ মে: প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ
২৯ মে: প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া

 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকেও অবসর নিচ্ছেন সাঙ্গাকারা

ক্রীড়া ডেস্ক :

শ্রীলঙ্কার তারকা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকেও অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব সারের হয়ে এই মৌসুম শেষে (সেপ্টেম্বর) আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলবেন না তিনি।

তবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে যাবেন।

অবসরের বিষয়ে সঙ্গাকারা বিবিসিকে বলেন, ‘এবারই আমি শেষবারের মতো চারদিনের ক্রিকেট খেলব। কয়েক মাসের মধ্যেই আমি ৪০ এ পা দিব। কাউন্টি ক্রিকেটে এটাই হয়তো আমার শেষ মৌসুম। ক্রিকেটার কিংবা অন্য যেকোনো অ্যাথলেটের জন্য একটি মেয়াদউত্তীর্ণের তারিখ থাকে। তার আগেই বিদায় নেওয়া উচিত। আমি খুবই ভাগ্যবান যে যতদিন চেয়েছি খেলতে পেরেছি। তবে খেলার বাইরেও জীবনযাপন করার প্রয়োজন আছে।’

কুমার সাঙ্গাকারা ২০১৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরে যান। টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার আগে ১৩৪ টেস্টে ১২ হাজার ৪০০ রান করেন। যা তাকে টেস্টে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদে তালিকায় পাঁচে স্থান করে দিয়েছে। টেস্টে তার গড় ছিল ৫৭.৪০।

টেস্টের বাইরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও বড় মাপের তারকা ব্যাটসম্যান ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপে তিনি শ্রীলঙ্কাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। যদিও শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে এবং ২০১১ সালে ভারতের কাছে ফাইনালে হেরে যায় তারা।

২০১৫ সালে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর কাউন্টি ক্রিকেট দল সারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। গেল মৌসুমে সারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ১ হাজারের উপরে রান করেন। যেখানে তার দুটি সেঞ্চুরিও ছিল। কিন্তু আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লঙ্কান এই তারকা।

 

‘বাংলাদেশেরও এখানে থাকা উচিত নয়

ইয়াসিন হাসান :

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা মিনি বিশ্বকাপ। যে যেই নামেই ডাকুন না কেন, আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলের এই টুর্নামেন্ট মানেই ভিন্ন উত্তেজনা, ভিন্ন আবহ। ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির রয়েছে ভিন্ন উন্মাদনা। রয়েছে অতীত স্মৃতি।

আগের সাত আসরে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ক্রিকেটার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শুরুর আগে কিংবা পরে নিজেদের বক্তব্যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কখনো তাদের বক্তব্য ভালোবাসা বাড়িয়েছে, কখনো বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

এবারের আসরের শুরুতে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত রাইজিংবিডি ডটকমের পাঠকদের ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে-

ব্রায়ান লারা :
২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সরাসরি অংশ নেয় র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয় দল (ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড)। র‌্যাঙ্কিংয়ের পরবর্তী চারটি দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ কোয়ালিফাইং রাউন্ড খেলে। ২৩ মার্চ কেনিয়াকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে (র‌্যাঙ্কিংয়ে দশম) চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে (কোয়ালিফাইং রাউন্ড) নাম লেখায় বাংলাদেশ। অবশ্য কোয়ালিফাইং রাউন্ড থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূলপর্বে অংশ নেয়।

 


৮ অক্টোবর জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে হারায় ব্রায়ান লারার দল। ক্যারিবীয়ানদের পরবর্তী ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে, ১১ অক্টোবর। বাংলাদেশের ম্যাচ নিয়ে লারাকে ম্যাচের পর প্রশ্ন করা হয়েছিল। লারা বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে উত্তরটি দিয়েছিলেন এভাবে, ‘যদি জিম্বাবুয়ে এখানে খেলার সুযোগ না পায়, বাংলাদেশেরও এখানে থাকা উচিত নয়।’

আরো পড়ুন : ‘ঈশ্বর কিন্তু আমাদের আজ বাঁচাতে আসবে না’

পাশাপাশি ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে লারা বাংলাদেশকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘যদি আপনি আপনার তুলনায় নিম্ন স্তরের একটি দলের বিরুদ্ধে খেলেন, তাহলে আপনাকে কোনো ধরণের খুঁত ছাড়া মাঠে নামতে হবে। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দাপট দেখিয়ে ম্যাচটি জিতে নেওয়া। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে তাদের আর আমাদের মধ্যে দূরত্ব রাখা এবং ব্যবধান স্পষ্ট করা।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে লারার বক্তব্য ছাপা হয়েছিল। লারার বক্তব্যে বাংলাদেশ বেশ তেঁতে উঠেছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ তেঁতে উঠতে পারেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেয়েছিল ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে। তবে এখন মুদ্রার ওপিঠ দেখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিতে পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ পারছে না। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখন অন্যান্য দলগুলোর বড় চিন্তার কারণ। ১১ বছর আগে লারা বাংলাদেশকে কটাক্ষ করেছিলেন ঠিকই। কিন্তু রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া দেশটির মানুষ কতটুকু সামর্থ্য রাখে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা ক্রিকেটের বরপুত্রের ছিল না।

আইপিএলের দশম আসরের বিভিন্ন পুরস্কারের প্রাইজমানি

ক্রীড়া ডেস্ক :

রোববার রাতে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টকে ১ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মিচেল জনসনের করা শেষ ওভারটিতে নাটকীয়ভাবে জিতে যায় মুম্বাই। সেই সাথে সমাপ্তি ঘটে জাকজমকপূর্ণ দশম আসরের। আইপিএলের ইতিহাসে একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতলেন রোহিত শর্মা।

চলুন দেখে নিই ফাইনালের পুরস্কার বিতরণীতে কোন পুরস্কারের কত প্রাইজমানি ছিল-

১. ভিভো পারফেক্ট ক্যাচ অব দ্যা ম্যাচ (১ লাখ রুপি) – জয়দেব উনাদকাট (রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট)।

২. ইয়েস ব্যাংক ম্যাক্সিমাম সিক্স (১ লাখ রুপি) – ক্রুনাল পান্ডিয়া (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)।

৩. স্টাইলিশ প্লেয়ার অব দ্যা ডে (১ লাখ রুপি)- শারদুল ঠাকুর (রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট)।

৪. ম্যান অব দ্যা ম্যাচ (১ লাখ রুপি)- ক্রুনাল পান্ডিয়া (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)।

আসরের অন্যান্য পুরস্কার সমূহের প্রাইজমানি-

৫. ভিভো পারফেক্ট ক্যাচ অব দ্যা সিজন (১০ লাখ রুপি)- সুরেশ রায়না (গুজরাট লায়ন্স)

৬. ইয়েস ব্যাংক ম্যাক্সিমাম সিজন অ্যাওয়ার্ড (১০ লাখ রুপি)- গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (কিংস এলেভেন পাঞ্জাব)।

৭. ভোডাফোন সুপারফার্স্ট ফিফটি (১০ লাখ রুপি)- সুনিল নারিন (কেকেআর)।

৮. ভিটারা ব্রেজা গ্ল্যাম শট অব দ্যা সিজন (১ লাখ রুপি)- যুবরাজ সিং (সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ)।

৯. স্টাইলিশ প্লেয়ার অব দ্যা সিজন (১ লাখ রুপি)- গৌতম গাম্ভীর (কেকেআর)।

১০. অরেঞ্জ ক্যাপ (১০ লাখ রুপি)- ডেভিড ওয়ার্নার (সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ)।

১১. পার্পল ক্যাপ (১০ লাখ রুপি) – ভুবনেশ্বর কুমার (সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ)।

১২. ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড (ট্রফি)- গুজরাট লায়ন্স।

১৩. ইমার্জিং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড (১০ লাখ রুপি)- বাসিল থাম্পি (গুজরাট লায়ন্স)।

১৪. মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (১০ লাখ রুপি) – বেন স্টোকস (রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট)।

১৫. আইপিএল ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন (১৫ কোটি রুপি)- মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

১৬. আইপিএল ২০১৭ রানারআপ (১০ কোটি রুপি)- রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট।

ম্যানচেস্টারের হামলা ভাবাচ্ছে বিসিবিকেও

উৎসব মুখরই ছিলো ইংল্যান্ডে। চলছিলো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ক’দিন পরই এখানে শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেট। কিন্তু সব ওলোট-পালোট করে দিলো আত্মঘাতি হামলা। ম্যানচেস্টারে বোমা হামলার পর ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তার কথা জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি)। সেরা আট দলের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দু’দিন পরই ইংল্যান্ডে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। যে কারণে ম্যানচেস্টারের বোমা হামলার বিষয়টি ভাবাচ্ছে বিসিবিকেও। আজ মঙ্গলবার এমনটাই জানান, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
ম্যানচেস্টারের বোমা হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা এমন একটি ঘটনা যেটা দেখার পর চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্বভাবতই আমাদেরও চিন্তা হচ্ছে। তবে আমার মনেহয় নিরাপত্তার ব্যাপারে ইংল্যান্ড ও আইসিসির ওপর ভরসা রাখা যায়। তাদের ওপর আমাদের সেই আস্থা আছে। কারণ এতগুলো দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে তারা কোনো কিছুই করবে না। এই ঘটনার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে বলে বিশ্বাস বিসিবির প্রধান নির্বাহীর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নিরাপত্তার জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিলো এখন হয়তো তার পরিধি আরো বাড়ানো হবে। আইসিসি এবং ইংল্যান্ড এ বিষয়ে অনেক সতর্ক। ইতিমধ্যে দলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি।
এমন অবস্থায় বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার আশা করতেই পারে ইংল্যান্ড। কারণ গত বছর গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরও বাংলাদেশ সফরে এসেছিলো ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। পুরো এক মাস বাংলাদেশ সফর করে গেছে তারা। সেটা মনে করেই নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুটি বড় বড় ঘটনার পরও কিন্তু ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর বাতিল করেনি। তারা এসেছিলো। ম্যানচেস্টারে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসিও। সোমবার রাতে ম্যানচেস্টারে একটি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্দে। কনসার্ট চলাকালে বোমা হামলা হয়। প্রাথমিকভাবে ইংল্যান্ডের পুলিশ এটাকে আত্মঘাতি হামলা বলে জানায়। এই বোমা হামলায় ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যানেজার আকরাম

আবারও হাত বদল হচ্ছে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খালেদ মাহমুদ সুজনের পরিবর্তে টাইগারদের ম্যানেজার আকরাম খান। খবরটি নিজেই জানান, আকরাম খান। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ মে লন্ডনে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সাবেক এই ক্রিকেটার। আর এক ম্যাচ পরেই আয়ারল্যান্ড ছাড়বে টিম বাংলাদেশ। আগামীকাল বুধবার নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপ নিউজিল্যান্ড। এই সিরিজের পর ২৫ মে ইংল্যান্ডে ফিরে যাবে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি পর্বে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের বিপে খেলবে বাংলাদেশ। ১ জুন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাশরাফিদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। ৫ জুন ইংল্যান্ডের ওভালে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপ অস্ট্রেলিয়া। আর গ্র“প পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচ ৯ জুন কার্ডিফের সুফিয়া গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপে মাঠে নামবে মাশরাফি বাহিনী।

রেকর্ডের সামনে সৌম্য সরকার

মার মার কাট কাট করেই গত বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। ছয়টি ম্যাচেই জানান দিয়েছিলেন তার আগমণী বার্তা। তার ব্যাটের মূর্চ্ছনায় মুগ্ধ সবাই। তবে গত এক-দেড় বছর ছন্দে ছিলেন না বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ওপেনার। বেশ কিছুদিন রান খড়ায় ভুগতে থাকা সৌম্যর সামনে এবার রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি। তা করতে ২৪ বছর বয়সী এই ওপেনারেরপ্রয়োজন আর মাত্র ৭৫ রান। তা হলো বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করার। মাত্র ৭৫ রান করতে পারলেই আরেক বাঁহাতি ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসকে টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুততম এক হাজার রানের রেকর্ড গড়বেন সৌম্য। দেশের হয়ে এক নম্বর তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটে ২৪তম দ্রুত ১০০০ রানের মালিক হবেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে আউট হন। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফেরেন স্বরূপে, করেন ৬১ রান। তৃতীয় ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে বিধ্বংসী সৌম্য ৬৮ বলে ১১টি চার আর দুটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৮৭ রান। বাংলাদেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে সৌম্যর সংগ্রহ ৯২৫ রান। আর ২০০৬ সালে ২৯ ম্যাচ খেলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দ্রুততম এক হাজার রানের রেকর্ড গড়েছিলেন শাহরিয়ার নাফিস। যে রেকর্ড ১১ বছর ধরে অক্ষুণœ রয়েছে। সৌম্যর সামনে সুযোগ রয়েছে নাফিসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এজন্য আরও ৩টি ইনিংস খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। আগামীকাল বুধবার ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সৌম্য বর্তমানে যে ফর্মে আছেন তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বুধবারের ম্যাচেই তিনি এই রেকর্ড গড়ে ফেলতে পারেন। ক্রিকেট বিশ্বে দ্রুততম ১ হাজার রানের কীর্তি ক্যারিবীয়ান কিংবদন্তি স্যার ভিভ রিচার্ডসের। তিনি ১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিডনিতে ক্যারিয়ারের ২২তম ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

কাল থেকে শুরু সুপার লিগের লড়াই

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ছয় দল নিয়ে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সুপার লিগ। তিন দলের রেলিগেশন লিগ শুরু ২৯ মে থেকে। প্রথম পর্বের মতো সুপার লিগেও প্রতিটি দলে খেলবেন একজন করে বিদেশী ক্রিকেটার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের সমন্বয়ক (সিসিডিএম) আমিন খান। মিরপুরে সিসিডিএমের কার্যালয়ে তিনি বলেন, ‘দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই ২৪ মে থেকে সুপার লিগ খেলতে রাজি। তাই কোনো প্রাকৃতিক সমস্যা না হলে, আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াবে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগ।’
আসছে ঈদুল ফিতরের আগেই শেষ হচ্ছে এবারের প্রিমিয়ার লিগ। ছয়টি দল একে-অপরের সঙ্গে একবার করে মুখোমুখি হবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল হবে চ্যাম্পিয়ন। শিরোপার লড়াইয়ে তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে বিবেচনায় আসবে নিট রানরেট। আর দুটি দলের পয়েন্ট সমান হলে বিবেচনা আসবে হেড-টু-হেড জয়ের হিসাব।
সুপার লিগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে বিদেশী খেলোয়াড় কোটায় দুজন করে খেলানোর প্রস্তাব ছিল সিসিডিএমের। কিন্তু সুপার লিগ নিশ্চিত করা ছয় দলের কেউই বিদেশী ক্রিকেটারের কোটায় এক থেকে বাড়িয়ে দুজন করতে রাজি হয়নি।

জুনিয়র টাইগারদের কোচ ডেমিয়েন রাইট

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক মিডিয়াম পেসার ডেমিয়েন জিওফ্রে রাইটকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। আগামী বছর নিউজিল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট পর্যন্ত দলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ৪১ বছর বয়সী এই কোচকে।
লেভেল কোচিং লাইসেন্সধারী ডেমিয়েন রাইট প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৯৯৭ সালে তাসমানিয়ার হয়ে খেলেন। এরপর ভিক্টোরিয়া এবং ইংলিশ দল গ্ল্যামারগেন, নটিংহ্যাম্পশায়ার,সমারসটে, সাসেক্স এবং উরচেস্টারশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছিলেন। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া এ দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে খেলা ছেড়ে কোচিং পেশায় ঝুঁকে পড়েন রাইট। সে সময় তিনি নিউজিল্যান্ড দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১৩-১৪ সালে বিগ ব্যাশের দল হোবার্ট হ্যারিকেনের হয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ডেমিয়েন রাইট। সেই মৌসুমে ফাইনালে উঠে পার্থ স্কচার্সের কাছে পরাজিত হয়েছিলো তার দল হোবার্ট হ্যারিকেন।

ক্রিকেটকে ‘গুডবাই’ সাঙ্গাকারার

আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ব্যাট-প্যাড কিংবা গ্লভস গুটিয়ে রেখেছেন আগেই। তবে চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট। এবার সেটাকেও ‘গুডবাই’ বলার অপেক্ষায় শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক কুমারা সাঙ্গাকারার। ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শেষেই ক্রিকেটকে জানাবেন তিনি চিরবিদায়, কাউন্টি দল সারের হয়ে খেলা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাঙ্গাকার অবসর নিয়েছেন ২০১৫ সালে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১২ হাজার ৪৪০ টেস্ট রান। বিশ্বের সর্বকালের সেরা রান সংগ্রহকারীদের তালিকার পঞ্চমে আছেন সাঙ্গকারা। ১৩৪ টেস্টে গড় ৫৭.৪০।
৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ‘চার দিনের ক্রিকেট খেলা, এটাই আমার জীবনে শেষ বার। আর ক’দিন বাদেই চল্লিশে পা দেব। তাই বিদায় জানানোর পালা এসে গেছে। আর নয়। সবকিছুরই একটা এক্সপায়ারি ডেট থাকে। তাহলে ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারের থাকবে না কেন? শুধু ইচ্ছে রয়েছে, বিদায় জানানোর আগে সারেকে সাফল্য দেওয়া।’

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি প্রিভিউ : ভারত

ইয়াসিন হাসান :

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় গত আসর ২০১৩ সালে। সেটাও ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত ধরে।

বার্মিংহামের ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ভারত কতটা নাটকীয়ভাবে হারিয়েছিল, তা কম-বেশি সবারই জানা। ধোনি সবচেয়ে খরুচে বোলার ইশান্ত শর্মাকে বোলিংয়ে এনে অনেকটা বাজি ধরেই ভারতকে দিয়েছেন অরাধ্য এক ট্রফির স্বাদ। এবারও ধোনি আছেন। চার বছরে ধোনি পাল্টাননি একটুও। পাল্টেছে শুধু ধোনির ‘আর্মব্যান্ড’! ধোনি এবার শুধু উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। ভারতের বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তার নেতৃত্বেই ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া।

চ্যাম্পিয়নদের নেতৃত্বে বর্তমান সময়ের সেরা অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত অংশ নিবে কি না, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু অংশ নেওয়ার ঘোষণার পর সম্ভাব্য সেরা দলটিকেই বেছে নিয়েছে বিসিসিআই। গত আসরের নয় ক্রিকেটার এবারের দলে আছেন। তারা হলেন- কোহলি, ধোনি, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, দিনেশ কার্তিক, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, উমেশ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার। নতুন করে যোগ দিয়েছেন অজিঙ্কা রাহানে, যুবরাজ সিং, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, মোহাম্মদ শামি ও জাসপ্রীত বুহরাহ। ঘোষিত দলে ছিলেন মানিশ পান্ডে। কিন্তু আইপিএল খেলার সময় ইনজুরিতে পড়ায় তাকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে কার্তিককে।

 


নামগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকাদের। বিরাট কোহলি যেদিন জ্বলে উঠবেন সেদিন একাই পুষিয়ে দেবেন। এ ছাড়া ধোনি, যুবরাজ, রোহিত, ধাওয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরীক্ষিত পারফরমার। বোলিংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দ্যুতি ছড়ানো পারফরমারদের নিয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে বোলিং, ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি ভারসাম্য দল গঠন করেছে তারা।

‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভারত। ভারতের সঙ্গী পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। ৪ জুন এজবাস্টনে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। আইপিএল খেলেই ইংল্যান্ডে যাবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। সেখানে ক্যাম্প করবে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের মতে এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হয়ে থাকবেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর ব্যাট হাতে সময়টা ভালো কাটছে ধোনির। কিন্তু সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে পারছেন না। ধোনি ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তার পাফরম্যান্সের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে মনে করেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

 


ধোনির পাশাপাশি চাপে রয়েছেন বিরাট কোহলিও। বিশ্বমঞ্চে এবারই প্রথম ভারতকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন কোহলি। ধোনির আদর্শে উদ্ধুদ্ধ হওয়া কোহলি ভারতকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কতদূর নিতে যেতে পারেন, সেটাই দেখার।

ভারতের ম্যাচ:

জুন: প্রতিপক্ষ পাকিস্তান

জুন: প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা

১১ জুনপ্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রস্তুতি ম্যাচ:

২৮ মে: প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড

৩০ মে: প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ

 

সবচেয়ে বেশি রান লিটনের, সর্বাধিক উইকেট আরাফাত সানির

প্রথম পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। কিন্তু শুনে অবাক হবেন, এই পর্বে রান তোলা আর উইকেট শিকারে শীর্ষ তিনে নেই গাজী গ্রুপের কোনো ক্রিকেটার। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে চার নম্বর জায়গাটি দখল করে আছেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল গাজী গ্রুপের দুই পারফরমার এনামুল হক বিজয় ও আবু হায়দার রনি।

সবার জানা, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল খেলতে যাওয়ার কারণে এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম পর্বের একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি আর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়ার জন্য প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দেশ ছাড়া মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশিস রায়, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সানজামুল ইসলামরাও গড়পড়তা চার ম্যাচের বেশি অংশ নিতে পারেননি।

খুব স্বাভাবিকভাবে জাতীয় ক্রিকেটারদের কেউই প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম পর্বে রান তোলা আর উইকেট শিকারে ওপরের দিকে নেই। প্রথম লিগের টপ স্কোরার লিটন দাস। আবাহনীর এ ওপেনার পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরিতে ১০ খেলায় অংশ নিয়ে সর্বাধিক ৫৭৮ রান তোলায় সবার শীর্ষে।

বর্তমান জাতীয় দলের বাইরে থাকা লিটন দাসের ঠিক পেছনে জায়গা হয়েছে জাতীয় দলের আরেক সাবেক অলরাউন্ডার নাঈম ইসলামের। লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের নাঈম প্রথম লিগে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী। ১০ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৫২৭।

রান তোলায় তিন নম্বরে যিনি, তার নামের আগেও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারের তকমা এঁটে গেছে। তিনি জুনায়েদ সিদ্দিকী। ব্রাদার্স ইউনিয়নের এ বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৯০ রান। রান সংগ্রহে চতুর্থ স্থানটিও আরেক সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের। তার সংগ্রহ ৪৬৪। তবে অনেক প্রতিষ্ঠিত পারফরমারকে পেছনে ফেলে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৪৫৭ রান করে পাঁচ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ্যের তরুণ সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান রবিউল ইসলাম রবি।

ওদিকে উইকেট শিকারে সবার ওপরেও জাতীয় দলের বাইরে থাকা আরাফাত সানি। প্রাইম দোলেশ্বরের এ বাঁহাতি স্পিনারের ঝুলিতে জমা পড়েছে সর্বাধিক ২৮ উইকেট (১১ খেলায়)। উইকেট শিকারে দ্বিতীয় স্থানটিও আরেক বাঁহাতি স্পিনারের। তিনি তাইজুল ইসলাম। মোহামেডানের হয়ে খেলা এ বাঁহাতি স্পিনারের উইকেট সংখ্যা ২৫টি। তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট শিকারিও একজন স্পিনার। তবে বাঁহাতি অর্থোডক্স নয়। অফস্পিনার। নাম নিহাদউজ্জামান। এ তরুণ দখল করেছেন ২৩ উইকেট।

২২ উইকেট পেয়ে উইকেট শিকারে চার নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন গাজী গ্রুপের বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি।
পাঁচ নম্বর জায়গাটি তিন বোলার আব্দুর রাজ্জাক (শেখ জামাল), মোহাম্মদ শরীফ ও মোশাররফ রুবেল (দুজনই লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের) ভাগ করে নিয়েছেন।

শেখ জামাল অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে না পড়লে হয়তো প্রথম পর্বে সর্বাধিক উইকেট শিকারি হতে পারতেন এ অভিজ্ঞ স্পিনার। মাত্র ৭ খেলায় তার সংগ্রহ ২১ উইকেট। প্রতি ম্যাচে গড়ে তিন উইকেট শিকারি রাজ্জাক একই অনুপাতে উইকেট পেলে ১১ ম্যাচে তার শিকার দাঁড়াত ৩৩ টি।

প্রথম লিগে দুই সেঞ্চুরি করলেও রান তোলায় সেরা পাঁচে জায়গা পাননি আবাহনীর বাঁহাতি নাজমুল হোসেন শান্ত (৪২৪)। এছাড়া সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী লিটন দাস, দ্বিতীয় স্থান পাওয়া নাঈম ইসলাম, তৃতীয় জুনায়েদ সিদ্দিকী এবং পঞ্চম স্থান পাওয়া রবিউল ইসলাম রবি- প্রত্যেকে দুুটি করে শতরান করেছেন।

চার নম্বরে জায়গা পাওয়া এনামুল হক বিজয় সেঞ্চুরি করতে না পারলেও সর্বাধিক পাঁচ অর্ধশতকের মালিক। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে ১৯০ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস উপহার দিলেও বাকি খেলাগুলোতে সে তুলনায় রান করতে না পারা মোহামেডান অধিনায়ক রকিবুল হাসান রান (৪৪৪) তোলায় হয়েছেন ছয় নম্বর।

লিটন দাস শুধু রান তোলায় ওপরে নয়, গড়ও বেশ ভাল (৫৭.৮০)। তার স্ট্রাইক রেট প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক ১০৮.০৩। তিন হাফ সেঞ্চুরি ও জোড়া শতক উপহার দেয়া লিটন দাসের সর্বোচ্চ ১৩৬। সমান দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির মালিক নাঈম ইসলামের গড় ৬৫.৮৭। আর স্ট্রাইক রেট ৮৩.৫১।

অন্যদিকে সর্বাধিক উইকেট শিকারি আরাফাত সানি দুইবার পাঁচবার বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। এ বাঁহাতি স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগার ৫৬ রানে ৬ উইকেট। অন্যদিকে একবার পাঁচ বা ততোধিক আর একবার ৪ উইকেট দখল করা তাইজুল ইসলামের সেরা বোলিং ৬/২৪।

জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড যাওয়ার আগে ব্যাট হাতে সফল মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নাসির হোসেন। লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের অধিনায়ক মুশফিকের সংগ্রহ ৪ খেলায় ২৭৯। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি। আবাহনী অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কোনো সেঞ্চুরি করতে না পারলেও তিন ফিফটিতে ২৪৭ করে গেছেন। আর গাজী গ্রুপের ক্যাপ্টেন নাসির হোসেনের সংগ্রহ ২২৬। তার আছে একটি করে শতক ও অর্ধশতক।

নাসির ফিরলে দলের ভারসাম্য ঠিক হয়ে যাবে : সালাউদ্দীন

জাতীয় দলের মুশফিকুর রহীম আর সাকিব আল হাসান তার ছাত্র। বিকেএসপিতে তার অধীনে খেলে খেলেই হাত পাকিয়েছেন এ দুই দেশসেরা ক্রিকেটার। তার সরাসরি ছাত্র না হলেও অফ ফর্ম ও দুঃসময়ে প্রয়োজনীয় বুদ্ধি ও পরামর্শ নিতে যান তামিম ইকবালও।

অতীতে বহুবার ভাল খেলার পর মিডিয়ার সামনে কোচ সালাউদ্দীনের উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন সাকিব, তামিম ও মুশফিক। বাংলাদেশের ক্রিকেটের তিন স্তম্ভ যাকে ‘গুরু’ মানেন- সেই সালাউদ্দীনের সু’ প্রশিক্ষণেই এবার প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

দলটির এবারের অধিনায়ক নাসির হোসেন আর অন্যতম চালিকাশক্তি মমিনুল হকও যে তার ছাত্র! বিকেএসপিতে যে সালাউদ্দীন স্যারের তত্ত¡াবধানে বেড়ে ওঠা, সেই মানুষটিই এবার গাজীর কোচ। তাই তো নাসির ও মমিনুল যেন একটু বেশি সিরিয়াস।

জাতীয় দলে বিভিন্ন সময় সহকারী ও ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালনের সময় আরও কাছে পাওয়া এনামুল হক বিজয়, জহুরুল ইসলাম অমি ও শফিউল ইসলামের সাথেও সখ্য অন্যরকম। সব মিলে কোচ সালাউদ্দীনের হাতে এবার গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স যেন একটি পরিবার।

শেষ দিকে হঠাৎ ছন্দপতন না হলে হয়ত প্রথম লিগেই অনেকদুর এগিয়ে যেত সালাউদ্দীনের শিষ্যরা। টানা নয় ম্যাচ জেতার পর একদম শেষ দিকে এসে প্রথমে কলাবাগান আর পরে প্রাইম ব্যাংকের কাছে হেরে যাওয়া। রাউন্ড রবিন লিগ শেষে তারপরও সবার ওপরে গাজী গ্রুপ।

কেমন ছিল এবার লিগ যাত্রা? এত ভাল খেলে সর্বাধিক ও টানা নয় ম্যাচ জেতার নেপথ্য কাহিনী কী? আবার শেষ দিকে পর পর দুই ম্যাচ হারার কারণই বা কি? জাগো নিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সে সব কথাই জানিয়েছেন কোচ সালাউদ্দীন। আসুন শোনা যাক সে কথোপকাথন-

জাগো নিউজ : টানা নয় ম্যাচ জেতার পর শেষ দিকে এসে দুই ম্যাচ পরপর হেরে গেলেন, হঠাৎ কি হলো?

সালাউদ্দীন : শেষ দুই ম্যাচ হারার কারণ ভিন্ন। আগে কলাবাগানের কাছে হারের কথা বলি, কলাবাগানের সাথে আমরা হেরেছি বাজে ব্যাটিংয়ের কারণে। আসলে ওই ম্যাচে আমাদের ব্যাটসম্যানরা উইকেটের চরিত্র দেখে-বুঝে ব্যাট করেনি। অ্যাপ্রোচটা উইকেট ও খেলার অবস্থা অনুযায়ি ঠিক হয়নি। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান একটু তড়িগড়ি করে ব্যাট চালিয়েছে। আবার কেউ কেউ একটু বেশি উচ্চাভিলাষি শট খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছে। বলতে পারেন ‘অতি লোভে তাঁতি নষ্ট হয়েছে।’

আর সর্বশেষ প্রাইম ব্যাংকের সাথে ম্যাচে ইনজুরি আমাদের দারুণ ভুগিয়েছে। টসের কয়েক মিনিট আগে আলাউদ্দীন বাবু হঠাৎ এসে বলে ভাই আমি ইনজুরড। আমার হাঁটুতে একটু লেগেছে। ব্যাথা করছে। আমার পক্ষে খেলা সম্ভব নয়। আর খেললেও বল করতো পারবো না। জানেন ততক্ষণে প্লেয়ার লিস্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মানে ১১জন চূড়ান্ত করে ফেলেছিলাম আমরা।

একবার ভাবুনতো অবস্থাটা কেমন ছিল? কি আর করা। আলাউদ্দীন বাবুকে তখন আর বাদ দেয়ার সুযোগ ছিল না। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানো হলো তাকে। এতে করে আমাদের বোলিং শক্তি গেল কমে। মূল পেসারই বল করতে পারবে না। বাধ্য হয়ে পারভেজ রসুলকে আগেভাগে নিয়ে আসতে হয়েছে।

ভাগ্য বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। ব্যাটিং করতে গিয়ে ক্র্যাম্প হলো জহুরুল ইসলাম অমির। অথচ তখন অমি (জহুরুল) আর মুমিনুলের জুটি জমে উঠেছে। অগত্যা কি আর করা! অমি স্বেচ্ছায় ফিরে আসলো সাজঘরে। অমি পুরো ইনিংস শেষ করতে পারলে আমাদের স্কোরবোর্ডের চেহারা অন্যরকম হতে পারতো।

জাগো নিউজ : এখনো সবার ওপরে থেকে সুপার লিগ যাত্রা শুরু করবে আপনার দল। আপনি কতটা আশাবাদী?

সালাউদ্দীন : সত্যি কথা বলতে কী, শেষ দুই ম্যাচ হারায় হয়তো নিকট প্রতিদ্ব›দ্বীদের সঙ্গে পয়েন্ট পার্থক্য কমে গেছে। তবে আমি একটুও মনোবল হারাইনি। এখনো যথেষ্ঠ আশাবাদী।

জাগো নিউজ : আশাবাদী হবার কারণ কী শুধুই দুই পয়েন্ট এগিয়ে থাকা?

সালাউদ্দীন : নাহ তা বলবো না। আসলে সুপার লিগে আমি নাসিরকে দলে ফিরে পাবো। নাসির একাই অনেক। আমার অধিনায়ক। ব্যাটিং স্তম্ভ। বল হাতেও নির্ভরতার প্রতীক। সবচেয়ে বড় কথা আমার দলের ব্যালেন্সটা আবার ফিরে আসবে।

জাগো নিউজ : তাহলে কি নাসির ও শফিউল চলে যাওয়ায় শক্তির ভারসাম্য কমে গিয়েছিল?

সালাউদ্দীন : হ্যাঁ, তা কমে গিয়েছিল অবশ্যই। নাসির টিমের ক্যাপ্টেন। ব্যাট হাতে নির্ভরতার প্রতীক। তার বোলিংটাও কার্যকর। এমন একজন পারফরমারের অভাব সব সময়ই অনুভব হয়। আমি নাসিরকে খুব মিস করেছি। শফিউল চলে যাওয়ায় পেস আক্রমণের শক্তিও কমে গিয়েছে। শফিউল যে কয় ম্যাচ খেলেছে, ভাল বল করেছে। কাজেই নাসির ও শফিউলের অভাববোধ হয়েছে।

জাগো নিউজ : শেষ দুই ম্যাচ হারার পরও প্রথম লিগে আপনার দল সবার ওপরে। দল হিসেবেও সেরা ক্রিকেট খেলেছে। এই ভাল খেলার পেছনের রহস্য কি? এটা কি কোচ সালাউদ্দীনের ক্যারিশমা?

সালাউদ্দীন : না না। সব কৃতিত্ব ক্রিকেটারদের। তারা সামর্থ্যরে সবটুকু উজাড় করে চেষ্টা করেছে। তাই মাঠে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স এত ভাল খেলেছে।

জাগো নিউজ : এর বাইরে গাজী গ্রুপের ভাল খেলার আরও কোন বিশেষ কারণ?

সালাউদ্দিন : একটা কথা বলতে পারি, আমাদের শিবিরের ভেতর ও বাইরের অবস্থাটা খুব ভাল। পুরো দল যেন একটা পরিবার। পরিবেশ-পরিস্থিতি ভাল বলে ক্রিকেটাররাও সামর্থ্যরে সবটুকু উজাড় করে খেলেছে। আমার মনে হয় সবার মধ্যেই টিম ফিলিংসটা কাজ করেছে। সবাই দলের প্রতি অন্যরকম দরদ অনুভব করে খেললে আপনাআপনি পারফরমেন্স ভাল হয়। আমাদেরও হয়েছে।

এর বাইরে আরও একটি কারণ আছে। তাহলো, আমাদের দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের মধ্যেই ভাল খেলার একটা দৃঢ় সংকল্প লক্ষ্য করেছি। সবাই নিজের সেরাটা উপহার দিতে চেষ্টা করেছে। মানে ব্যক্তিগতভাবে ভাল খেলার তাগিদ অনুভব করেছে। এতে করে দল সার্ভিস পেয়েছে বেশি।

জাগো নিউজ : আগের বছর আম্পায়ারিং নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। এবার আম্পায়ারিং কেমন হচ্ছে? আপনার দল কি দূর্বল, ত্রুটিপূর্ণ কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়েছে কোনো ম্যাচে?

সালাউদ্দীন : নাহ, সামগ্রিকভাবে এবার আম্পায়ারিং ভাল হয়েছে। হাতে গোনা বিচ্ছিন্ন কিছু সিদ্ধান্তের ঘটনা বাদ দিলে এবার খেলা পরিচালনার মান সস্তোষজনক।

জাগো নিউজ : সুপার লিগের অন্য পাঁচ প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে কিছু বলুন?

সালাউদ্দীন : কে কিভাবে দেখবেন, জানি না। তবে আমার মনে হয় শক্তি ও সামর্থ্যরে দিক থেকে সেরা ছয় দলই সুপার লিগে উঠেছে। খালি চোখে মোহামেডানকে তুলনামূলক কমজোরি মনে হয়; কিন্তু আসলে তা নয়। মোহামেডান শক্তিশালী দল। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে বেশ কজন পরীক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পারফরমার রয়েছে এই দলে। মোদ্দা কথা, আমার চোখে রূপগঞ্জের চেয়ে মোহামেডান শক্তিতে এগিয়ে।

এছড়া সুপার লিগের অপর চার দল আবাহনী, প্রাইম দোলেশ্বর, প্রাইম ব্যাংক ও শেখ জামাল প্রায় সমান ও কাছাকাছি শক্তির। কাউকে হালকাভাবে নেয়ার কিছু নেই। কাউকে হেলাফেলার সুযোগও নেই। আমার মনে হয় এই দলগুলোর শক্তি ও সামর্থ্য খুব কছাকাছি। এরা যে কেউ যে কাউকে হারাতে পারে। তারপরও আমার মনে হয় সুপার লিগের প্রথম দুুটি ম্যাচ খুব ভাইটাল। প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পথে থাকতে পারলে লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব।

অনুশীলনে টয়লেট বিড়ম্বনায় টাইগাররা!

সাধারনত তিন জাতি টুর্নামেন্ট মানেই রাউন্ড রবিন লিগ শেষে ফাইনাল; কিন্তু আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক আইরিশদের নিয়ে যে তিন জাতি আসর বসেছে, সেখানে ফাইনাল নেই।

কাজেই রাউন্ড রবিন লিগের ফিরতি পর্ব শেষে চার খেলায় যে দল বেশি জিতবে তাকেই ধরা হবে শিরোপাজয়ী। সে আলোকে এক ম্যাচ আগেই এ আসরের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড।

বø্যাক ক্যাপ্সরা এরই মধ্যে তিন খেলার সব কটায় জিতে অঘোষিত বিজয়ী। তবে তিন জাতি টুর্নামেন্ট জিততে না পারলেও বাংলাদেশের সামনে এখনো নৈতিক বিজয়ের সুযোগ আছে। আগামী পরশু , ২৪ মে শেষ ম্যাচে কিউইদের হারাতে পারলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়-পরাজয় সমান হয়ে যাবে মাশরাফি বাহিনীর।

আর তা করতে পারলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে শুধু মনোবলই চাঙ্গা হবে না, কিউইদেরকে বিদেশের মাটিতে হারানোর স্বপ্নও হবে পূরণ হবে।

ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে, ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতকে হারানোর আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে এই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে হই চই ফেলে দিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল।

কিউইদের বিপক্ষে ওয়ার্মআপ ম্যাচে টাইগারদের দারুণ জয়ের পর ভারতের বিখ্যাত আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছিল, ‘গা গরমের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের বাজার গরম করলো বাংলাদেশ।’

এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে অবশ্য পাকিস্তান ও ভারতের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা হবে বাংলাদেশের। ২৭মে পাকিস্তান আর ৩০মে ভারতের সাথে হবে গা গরমের ম্যাচ। তার আগে বুধবার আয়ারল্যান্ডে তিনজাতি আসরের শেষ ম্যাচ। নিজেদের ঝালিয়ে নিতে মুখিয়ে আছে মাশরাফির দল।

সে লক্ষ্যে আজ মালাহাইদে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ ও নিবিঢ় অনুশীলন করে টাইগাররা। স্থানীয় সময় সকাল দশটায় শুরু হয়েছে প্র্যাকটিস। চলেছে দুপুর একটা পর্যন্ত। ডাবলিনের শহরতলী থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এই মাঠেই গত ১৯ মে আয়ারল্যান্ডের সাথে ফিরতি পর্বের ম্যাচ অনায়াসে ৮ উইকেটে জিতেছে মাশরাফির দল। ২৪ মে কিউইদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি হবে ডাবলিনের ক্লনটার্ফে।

তার আগে আজ ডাবলিনের অদুরে মালাহাইডে প্র্যাকটিস করতে গিয়ে খানিক বিড়ম্বনার শিকার ক্রিকেটাররা। টিভিতে খেলা দেখে নিশ্চয়ই বুঝেছেন মালাহাইড ক্লাব মাঠ বাংলাদেশের শেরেবাংলা, ফতুল্লা, চট্রগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী কিংবা খুলনারর শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের মত পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট কমপ্লেক্স নয়।

মুলতঃ ক্লাবের ক্রিকেট মাঠ। এখানে অঅন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আনুসাঙ্গিক সুযোগ সুবিধাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা হয়।

ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স- সবই অস্থায়ীভাবে নির্মিত। যেহেতু এ মাঠে খেলা শেষ। তাই বিভিন্ন অস্থায়ী অবকাঠামোগুলোও খুলে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের সাথে যে অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন করা হয়েছিল, তার বেশির ভাগই নেই।

তাই প্র্যাকটিসে এসে টয়লেট ও গোসল সারতে রীতিমত সমস্যাই হয়েছে ক্রিকেটারদের। দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

নাসিরকে এক ম্যাচ বেশি পাচ্ছে গাজী গ্রুপ

গরমের কারণে সুপার লিগ মাঠে গড়াবে দু`দিন বিরতি দিয়ে। প্রিমিয়ার ক্রিকেটের লিগ কমিটির এ সময়োচিত সিদ্ধান্তে অন্যরকম স্বস্তির পরশ গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স শিবিরে।

কোচ সালাউদ্দীন আশ্বস্ত, ‘যাক আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। নাসির ফিরে এসে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে খেলতে পারবে। আগের ফিকচারে ২৪ মে মোহামেডানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল ২৬ মে। ২৫ মে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া নাসির বিমানের সরাসরি ফ্লাইটে আসলেও ২৬ তারিখের আগে ঢাকা পৌঁছাতে পারতেন না । তাতে শেখ জামালের সঙ্গে দ্বিতীয়ও ম্যাচও খেলা হতো না।

এখন দু`দিন বিরতির পর গাজী গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ ২৭ মে। আগামীকাল শেষ ম্যাচের পরদিন মানে ২৫ মে দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে চেপে বসলে ২৬ মে ঢাকা পৌঁছে যাবেন নাসির। ২৭ তারিখ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতেও পারবেন।

এদিকে নাসিরের ইংল্যান্ডের সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্প আর আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়াই সার। আগেই বোঝা গেছে, তাকে নেয়া নিছকই ‘আই ওয়াশ।’ আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি আসরে তার খেলার সম্ভাবনা খুব কম। ‘নাসিরকে নেয়া শুধুই আইওয়াশ’ শীর্ষক শিরোনামে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। নাসির কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। অভিযোগ আছে, নেটে ব্যাটিংয়ের সুযোগও মেলে খুব কম।

আয়ারল্যান্ডের তিন জাতি ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলতে না পারা নাসির আগামীকাল (বুধবার) শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। যতদূর জানা গেছে, বুধবার শেষ ম্যাচে টাইগারদের সম্ভাব্য একাদশেও নেই নাসির। ম্যাচ খেলার সুযোগ না মিলুক, স্কোয়াডে যেহেতু আছেন, তাই টুর্নামেন্ট শেষ হবার আগে তার দেশে ফেরত আসার কোন সুযোগও নেই।

সেরা র‌্যাংকিংয়ে মোস্তাফিজ

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ১৩ ধাপ এগিয়েছেন টাইগারদের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডেতে ১৮তম স্থানে উঠে এসেছেন বাঁহাতি এ পেসার। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা র‌্যাংকিং।
সোমবার দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ওয়ানডের নতুন র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে। এদিকে, শীর্ষ দশে রয়েছেন টাইগার স্পিনার সাকিব আল হাসান। ১৫ নম্বরে টাইগারদের ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশ বর্তমানে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছে। সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে বল করার সুযোগ হয়নি মোস্তাফিজের। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩৩ রান খরচায় তুলে নেন ২টি উইকেট। আর নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ গুড়িয়ে দেন আইরিশদের ব্যাটিং ইনিংস। তুলে নেন চারটি উইকেট। দুর্দান্ত এই সাফল্য তাকে র‌্যাংকিংয়ে উপরের দিকে তুলে দেয়। ১৩ ধাপ এগিয়ে চলে আসেন শীর্ষ ২০-এ। অবস্থান নেন ১৮-তে। শীর্ষ দশে রয়েছেন যথাক্রমে ইমরান তাহির, মিচেল স্টার্ক, সুনীল নারাইন, ট্রেন্ট বোল্ট, কেগিসো রাবাদা, জস হ্যাজেলউড, ক্রিস ওকস, মোহাম্মদ নবী, ম্যাট হেনরি আর সাকিব।

এক ইনিংসেই দুই হ্যাটট্রিক তার!

ক্রীড়া ডেস্ক :

ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড ভুরি ভুরি থাকলেও এক ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিক কিংবা এক ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিকের রেকর্ড খুব কমই আছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ রেকর্ড খুবই কম। যেটুকু আছে, সেগুলোও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে একই ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিকের কোনো ঘটনা নেই। তবে এক ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জিমি ম্যাথুস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যানচেস্টারে ১৯১২ সালে দুই ইনিংসে দুটি হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান অস্ট্রেলিয়ার এই লেগ স্পিনার।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে রোনাল্ড বেমোন্টের উইকেট নেওয়ার পর সিড স্লেগার ও টমি ওয়ার্ডের উইকেট নেন জিমি। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও জিমির হাত থেকে বাঁচতে পারেনি প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ইনিংসে হেরবি টেলর, রেগিনেল্ড ওস্কার ও টমি ওয়ার্ডের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জিমি। মজার বিষয় হচ্ছে, দুই ইনিংসে ৩টির বেশি উইকেট নিতে পারেননি জিমি ম্যাথুস!

এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একই ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছেন জেনকিন্স, আমিন লাখানি, পার্কার, যোগিন্দর রাও, আলফের্ড শ ও অ্যালবার্ট ট্রট। এদের মধ্যে যোগিন্দর রাও ও অ্যালবার্ট ট্রট এক ইনিংসেই দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছিলেন।

ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম এ রেকর্ডটি গড়েছিলেন ইংলিশ পেসার অ্যালবার্ট ট্রট। ১৯০৭ সালে আজকের এই দিনে (২২ মে) ডানহাতি মিডিয়াম পেসার মিডলসেক্সের হয়ে সমারসেটের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান। প্রথমে তার চার বলে আউট হন লুইস, পয়ন্টস, উডস ও রবসন। প্রথম তিন উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান ট্রট। পরবর্তীতে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান ইনিংসের শেষ দিকে।  সমারসেটের ব্যাটসম্যান মোরডাউন্টকে দিয়ে হ্যাটট্রিকের পথে পা বাড়ান ট্রট। দ্বিতীয় বলে আউট হন উইকহ্যাম। তৃতীয় বলে বেইলি। সব মিলিয়ে দুই হ্যাটট্রিকসহ অ্যালবার্ট ট্রটের ইনিংসে বোলিং ফিগার ছিল এরকম ৮-২-২০-৭!

ইংলিশ এ পেসার ছাড়াও ভারতের যোগিন্দর রাও ১৯৬৩ সালে এক ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশের আশা শেষ, চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড

অনেক সমীকরণই ছিল। আর সেই সমীকরণ কাজে দিত, যদি আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাস্ত হতো নিউজিল্যান্ড। সেটা আর হলো না। তাই আশা ফুরিয়ে গেল বাংলাদেশের। রোববার আইরিশদের ১৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন টম লাথামের নিউজিল্যান্ড।

আগের ম্যাচে আইরিশদের ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আশা জিইয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ পয়েন্ট। উদ্বোধনী ম্যাচে আইরিশদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায় দুই দল ভাগাভাগি করে পয়েন্ট। বাংলাদেশের ভাণ্ডারে জমা পড়ে দুই পয়েন্ট; সমান পয়েন্ট পায় স্বাগতিকরাও।

পরের ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে যায় নিউজিল্যান্ডের কাছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পয়েন্ট হারিয়েছেন টাইগাররা। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আইরিশদের হারিয়ে বাংলাদেশ ঝুলিতে জমা করল মোট ৬ পয়েন্ট (৪+২)। মাশরাফিদের হাতে বাকি আছে একটি ম্যাচ। ২৪ মে অনুষ্ঠিতব্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১০।

এই পয়েন্টও (১০) কোনো কাজে দেবে না। কারণ নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। কিউইরা সংগ্রহ করেছে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট। তাই আর কোনো সমীকরণই বাকি রইল না। বাংলাদেশের আশা শেষ, ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা উঠল নিউজিল্যান্ডের শোকেসে।

এদিকে ডাবলিনের মালাহাইডে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড তোলে ৬ উইকেটে ৩৪৪ রান। জবাবে আইরিশদের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৪ রান করেন অধিনায়ক টম লাথাম। অভিজ্ঞ রস টেলর করেন ৫৭ রান। আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রানের ইনিংসটি অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের। উইলসন করেছেন ৩০ রান। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের লাথাম।

সবচেয়ে বেশি রান লিটনের, সর্বাধিক উইকেট আরাফাত সানির

প্রথম পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। কিন্তু শুনে অবাক হবেন, এই পর্বে রান তোলা আর উইকেট শিকারে শীর্ষ তিনে নেই গাজী গ্রুপের কোনো ক্রিকেটার। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে চার নম্বর জায়গাটি দখল করে আছেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল গাজী গ্রুপের দুই পারফরমার এনামুল হক বিজয় ও আবু হায়দার রনি।

সবার জানা, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল খেলতে যাওয়ার কারণে এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম পর্বের একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি আর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়ার জন্য প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দেশ ছাড়া মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশিস রায়, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সানজামুল ইসলামরাও গড়পড়তা চার ম্যাচের বেশি অংশ নিতে পারেননি।

খুব স্বাভাবিকভাবে জাতীয় ক্রিকেটারদের কেউই প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম পর্বে রান তোলা আর উইকেট শিকারে ওপরের দিকে নেই। প্রথম লিগের টপ স্কোরার লিটন দাস। আবাহনীর এ ওপেনার পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরিতে ১০ খেলায় অংশ নিয়ে সর্বাধিক ৫৭৮ রান তোলায় সবার শীর্ষে।

বর্তমান জাতীয় দলের বাইরে থাকা লিটন দাসের ঠিক পেছনে জায়গা হয়েছে জাতীয় দলের আরেক সাবেক অলরাউন্ডার নাঈম ইসলামের। লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের নাঈম প্রথম লিগে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী। ১০ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৫২৭।

রান তোলায় তিন নম্বরে যিনি, তার নামের আগেও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারের তকমা এঁটে গেছে। তিনি জুনায়েদ সিদ্দিকী। ব্রাদার্স ইউনিয়নের এ বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৯০ রান। রান সংগ্রহে চতুর্থ স্থানটিও আরেক সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের। তার সংগ্রহ ৪৬৪। তবে অনেক প্রতিষ্ঠিত পারফরমারকে পেছনে ফেলে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৪৫৭ রান করে পাঁচ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ্যের তরুণ সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান রবিউল ইসলাম রবি।

ওদিকে উইকেট শিকারে সবার ওপরেও জাতীয় দলের বাইরে থাকা আরাফাত সানি। প্রাইম দোলেশ্বরের এ বাঁহাতি স্পিনারের ঝুলিতে জমা পড়েছে সর্বাধিক ২৮ উইকেট (১১ খেলায়)। উইকেট শিকারে দ্বিতীয় স্থানটিও আরেক বাঁহাতি স্পিনারের। তিনি তাইজুল ইসলাম। মোহামেডানের হয়ে খেলা এ বাঁহাতি স্পিনারের উইকেট সংখ্যা ২৫টি। তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট শিকারিও একজন স্পিনার। তবে বাঁহাতি অর্থোডক্স নয়। অফস্পিনার। নাম নিহাদউজ্জামান। এ তরুণ দখল করেছেন ২৩ উইকেট।

২২ উইকেট পেয়ে উইকেট শিকারে চার নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন গাজী গ্রুপের বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি।
পাঁচ নম্বর জায়গাটি তিন বোলার আব্দুর রাজ্জাক (শেখ জামাল), মোহাম্মদ শরীফ ও মোশাররফ রুবেল (দুজনই লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের) ভাগ করে নিয়েছেন।

শেখ জামাল অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে না পড়লে হয়তো প্রথম পর্বে সর্বাধিক উইকেট শিকারি হতে পারতেন এ অভিজ্ঞ স্পিনার। মাত্র ৭ খেলায় তার সংগ্রহ ২১ উইকেট। প্রতি ম্যাচে গড়ে তিন উইকেট শিকারি রাজ্জাক একই অনুপাতে উইকেট পেলে ১১ ম্যাচে তার শিকার দাঁড়াত ৩৩ টি।

প্রথম লিগে দুই সেঞ্চুরি করলেও রান তোলায় সেরা পাঁচে জায়গা পাননি আবাহনীর বাঁহাতি নাজমুল হোসেন শান্ত (৪২৪)। এছাড়া সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী লিটন দাস, দ্বিতীয় স্থান পাওয়া নাঈম ইসলাম, তৃতীয় জুনায়েদ সিদ্দিকী এবং পঞ্চম স্থান পাওয়া রবিউল ইসলাম রবি- প্রত্যেকে দুুটি করে শতরান করেছেন।

চার নম্বরে জায়গা পাওয়া এনামুল হক বিজয় সেঞ্চুরি করতে না পারলেও সর্বাধিক পাঁচ অর্ধশতকের মালিক। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে ১৯০ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস উপহার দিলেও বাকি খেলাগুলোতে সে তুলনায় রান করতে না পারা মোহামেডান অধিনায়ক রকিবুল হাসান রান (৪৪৪) তোলায় হয়েছেন ছয় নম্বর।

লিটন দাস শুধু রান তোলায় ওপরে নয়, গড়ও বেশ ভাল (৫৭.৮০)। তার স্ট্রাইক রেট প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক ১০৮.০৩। তিন হাফ সেঞ্চুরি ও জোড়া শতক উপহার দেয়া লিটন দাসের সর্বোচ্চ ১৩৬। সমান দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির মালিক নাঈম ইসলামের গড় ৬৫.৮৭। আর স্ট্রাইক রেট ৮৩.৫১।

অন্যদিকে সর্বাধিক উইকেট শিকারি আরাফাত সানি দুইবার পাঁচবার বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। এ বাঁহাতি স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগার ৫৬ রানে ৬ উইকেট। অন্যদিকে একবার পাঁচ বা ততোধিক আর একবার ৪ উইকেট দখল করা তাইজুল ইসলামের সেরা বোলিং ৬/২৪।

জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড যাওয়ার আগে ব্যাট হাতে সফল মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নাসির হোসেন। লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের অধিনায়ক মুশফিকের সংগ্রহ ৪ খেলায় ২৭৯। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি। আবাহনী অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কোনো সেঞ্চুরি করতে না পারলেও তিন ফিফটিতে ২৪৭ করে গেছেন। আর গাজী গ্রুপের ক্যাপ্টেন নাসির হোসেনের সংগ্রহ ২২৬। তার আছে একটি করে শতক ও অর্ধশতক।

এক কথায় অসাধারণ এক ম্যাচ : শচীন

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং খুবটা ভালো ছিল না। টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় অল্প পুঁজিই পেয়েছিল রোহিত শর্মার দল। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ১২৯ রান। এই পুঁজি নিয়ে কি আইপিএলের ফাইনালে জেতা সম্ভব? হ্যাঁ, এমন অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন মুম্বাইয়ের বোলাররা। রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মুম্বাইকে ১ রানের নাটকীয় জয় এনে দিয়েছেন মালিঙ্গা-বুমরাহ-জনসন-হার্দিকরা।

শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমে শতভাগ সফল মুম্বাই। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল রোহিতের দল। এর আগে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে আইপিএল সেরার খেতাব জিতেছিল মুম্বাই।

 

মুম্বাইয়ের সাবেক ক্রিকেটার ও ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার ম্যাচটি উপভোগ করেছেন। এমনকি ফাইনালে দলকে অনুপ্রেরণা জোগানোর কাজটিও করেছেন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটিতে মুম্বাই জয় পাওয়ায় খুশি শচীন। দুর্দান্ত পারফর্ম করায় মুম্বাইয়ের ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় গোটা দলকে জানিয়েছেন অভিনন্দন।

ফাইনাল নিয়ে শচীনের ভাষ্য, ‘সত্যিই দারুণ। এক কথায়, অসাধারণ এক ম্যাচ। বিরতিতে আমরা একত্রিত হয়েছিলাম। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। মাহেলা (জয়াবর্ধনে) আমাদেরকে অনুপ্রেরণদায়ক কথা বলেছে। যা খুবই দরকার ছিল। আমি এখানে তার পুনরাবৃত্তি করতে পারছি না। আমাদের ভাবনাটা ঠিক রাখা দরকার ছিল। তা করেছি। পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। বিশ্বাস ছিল-আমরা পারব, রোহিত বাহিনী তা-ই করে দেখাল।’

২৪ মে থেকে সুপার লিগ

জাতীয় দলের ক্রিকেটারা গড়ে তিন থেকে চার ম্যাচ খেলে চলে গেছেন ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডে। মনে হচ্ছিল, তারকাদের অনুপস্থিতিতে লিগ ফিকে হয়ে যাবে। আকর্ষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও যাবে কমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিগের আকর্ষণ কমেনি। মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।

এ লড়াই শেষে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, আবাহনী লিমিটেড, প্রাইম দোলেশ্বর, প্রাইম ব্যাংক, শেখ জামাল ধানমন্ডি ও মোহামেডান জায়গা করে নিয়েছে সুপার লিগে। এর মধ্যে গাজী গ্রুপ ১১ খেলায় সর্বাধিক নয়টিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে। আর আবাহনী, প্রাইম দোলেশ্বর ও প্রাইম ব্যাংক তিন দলের পয়েন্ট সমান; ১১ খেলায় ১৬ করে।

এরপরে শেখ জামাল ধানমন্ডি। তাদের সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট। আর ছয় নম্বরে মোহামেডান। সাদা-কালোদের ঝুলিতে জমা আছে ১২ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেরা ছয়ে নাম লেখাতে পারেনি লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জ। হেড টু হেডে মোহামেডানের কাছে হারের কারণে সাত নম্বরে স্থান হয়েছে রূপগঞ্জের।

এদিকে সুপার লিগ শেষে তিন দিন বিরতির পর আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হচ্ছে সুপার লিগ। প্রিমিয়ার লিগের কো-অর্ডিনেটর আমিন খান জাগো নিউজকে আজ এ তথ্য দিয়েছেন। আমিন খান জানান, ‘আমরা টেলিফোনে দলগুলোর সাথে কথা বলেছি। তাতে বেশির ভাগ দল ২৪ মে থেকে সুপার লিগ খেলতে রাজি হয়েছে। তাই কোনো প্রাকৃতিক সমস্যার উদ্ভব না ঘটলে আগামী বুধবার থেকেই মাঠে গড়াবে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগ।’

তার মানে, আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি টুর্নামেন্ট ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যে জাতীয় ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন, তাদের এবার আর প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগ খেলা হচ্ছে না। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলতে না পারলে দলগুলো শক্তির ভারসাম্য ঠিক রাখতে একজন বাড়তি বিদেশি ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্তির দাবি তুলতে পারে- এমন সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। সুপার লিগের ছয় দলের কেউই বিদেশি ক্রিকেটারের কোটা এক থেকে বাড়িয়ে দুইজন করতে রাজি হয়নি। যার যা শক্তি আছে, তা নিয়েই সুপার লিগ খেলতে রাজি হয়েছে। তাই আর বিদেশি কোটা বাড়ছে না।

এদিকে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের কো-অর্ডিনেটরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথম লেগের মতোই প্রতিদিন তিন ভেন্যু- ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম আর বিকেএসপি তিন ও চার নম্বর মাঠে তিনটি করে খেলা হবে। আবার এক দিন বিরতি দিয়ে আরেক পর্ব।

খুব স্বাভাবিকভাবেই আগামী পরশু বুধবার প্রথম দিন সবার ওপরে থাকা গাজী ট্যাংকের মোকাবিলা হবে মোহামেডানের সাথে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনী খেলবে পাঁচ নম্বরে জায়গা পাওয়া শেখ জামালের বিপক্ষে। তিন নম্বর প্রাইম দোলেশ্বরের সাথে প্রথম দিন দেখা হবে চার নম্বরে থাকা প্রাইম ব্যাংকের।

এদিকে সুপার লিগই শুধু নয়। এর সাথে আছে রেলিগেশন লিগও। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বাইলজ ও প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী ১২ দলের একদম তলানিতে থাকা দুই দল রেলিগেশনে পড়বে। সেটা যে শুধু প্রথম পর্বের পয়েন্ট টেবিলের ভিত্তিতেই হবে, এমন নয়। সেখানে আছে রেলিগেশন লিগ।

প্রিমিয়ার লিগ কো-অর্ডিনেটর আমিন খান জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘যেহেতু ভেন্যু মাত্র তিনটি। তাই সুপার ও রেলিগেশন লিগ একসঙ্গে চালানো সম্ভব না। তাই আগে সুপার লিগ শুরু করে রেলিগেশন লিগ পরে শুরু করব। যেহেতু তিনটি ম্যাচ। তাই দেরিতে শুরু করলেও সুপার লিগের সাথেই শেষ করা যাবে।’

প্রসঙ্গত, লিগে টেবিলের একদম নিচে থাকা ভিক্টোরিয়া, পারটেক্স আর খেলাঘর সমাজ কল্যাণ খেলবে রেলিগেশন লিগে।
যেহেতু প্রথম পর্বের পয়েন্ট ধরা হবে, তাই তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে খেলাঘর। এ দলটির সংগ্রহ ৬।
অন্যদিকে সমান একটি করে ম্যাচ জেতা ভিক্টোরিয়া ও পারটেক্সের পয়েন্ট সমান ২ করে। এ দল দুটির রেলিগেশন বাঁচানো কঠিন হবে।

প্রথম পর্বের পয়েন্ট টেবিল

অসম্ভব এক জয়ে সুপার সিক্সে শেখ জামাল

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে অসম্ভবকেও সম্ভব করলো এবারের লিগের অন্যতম দাপুটে দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। লিগের প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ছুঁড়ে দেয়া ৩৪০ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্যও শেখ জামাল শেষ পর্যন্ত টপকে যেতে সক্ষম হয় ২ বল আর ১ উইকেট হাতে রেখে। আর এই জয়ে লিগের শেষ ছ’য়ে উঠে গেল মোহাম্মদ সেলিমের শিষ্যরা। জামাল ওপেনার প্রশান্ত চোপরার ৬০ বলে ৮৬, সোহাগ গাজী ৬৪ বলে ৮৯ ও তানবির হায়দারের ৭২ বলে ৭৭ রানের ইনিংস এই অসম্ভবকে সম্ভব করে শেষ ছ’য়ে তোলে দলটিকে। এদিকে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় পাওয়ার সুবাদে শেখ জামালের সাথে সুপার সিক্সে উঠলো মোহামেডানও। তবে বাদ পড়ে গেল মাশরাফি-মুশফিকের লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ। শেষ ছ’য়ে উঠতে অবশ্য শেখ জামালের এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না। কেননা ১২ পয়েন্ট নিয়ে রুপগঞ্জের সাথে টেবিলের সমান অবস্থানে ছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মুখোমুখি লড়াইয়ে রুপগঞ্জ এগিয়ে থাকায় মোহামেডানকে হারানো অবশ্যকর্তব্য ছিল। গতকাল রোববার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস জিতে মোহামেডানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় শেখ জামাল। সুযোগটা অবশ্য বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে রনি তালুকদার ও তার দল। ওপেনার শামসুর রহমান শুভর অপরাজিত ১৪৪ ও রনি তালুকদারের ১১০ রানে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রান সংগ্রহ করে মোহামেডান। শেখ জামালের হয়ে বল হাতে ইলিয়াস সানি ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ২টি করে আর শাহাদাত হোসেন নিয়েছেন ১টি উইকেট।
জবাবে জয়ের জন্য ৩৪০ রানের দুর্গম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রশান্ত চোপরার ৮৬, সোহাগ গাজীর ৮৯ ও তানবির হায়দারের ৭৭ রানে ২ বল বাকি থাকতে ৩৪৩ রান সংগ্রহ করে সুপার সিক্সে উঠার আনন্দে মেতে মাঠ ছাড়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। এদিকে মোহামেডানের হয়ে বল হাতে আজিম ৪টি, তাইজুল ইসলাম ও এনামুল হক জুনিয়র ২টি করে এবং চ্যারিথ আশালঙ্কা নিয়েছেন ১টি উইকেট।

সুপার লিগের লড়াই এবার

ঢাকার ১২টি শীর্ষ ক্লাবের অংশগ্রহণে গত ১২ এপ্রিল মাঠে গড়ায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের এবারের আসরের প্রথম পর্বের খেলা। গতকাল রোববার শেষ হয়েছে প্রথম পর্বের লড়াই। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে দলগুলো একবার করে একে অপরের মুখোমুখি হয়। আর প্রথম পর্বে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ছয় দল নিয়ে আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হবে সুপার লিগের খেলা। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বিদেশে অবস্থান করায় খেলতে পারছেন না সুপার লিগে। বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে সুপার লিগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে দুইজন করে বিদেশি ক্রিকেটার রাখতে চেয়েছিল ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। কিন্তু ক্লাবগুলো বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ না দেখালে একজন করেই বিদেশি খেলোয়াড় সুযোগ পাচ্ছেন সুপার লিগে। এ বিষয়ে রোববার মিরপুর বিসিবির মিডিয়া লাউঞ্জে সিসিডিএমের সমন্বয়ক আমিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, যত দ্রুত লিগটা শেষ করা যায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। হয়তো ২৪ অথবা ২৫ তারিখ সুপার লিগ শুরু করবো। সুপার লিগের ফাঁকেই রেলিগেশন লিগ চলবে। এদিকে ২৪ মে থেকে অনুষ্ঠেয় সুপার লিগ শেষ হবে ঈদুল ফিতরের আগেই। লিগে ছয়টি দল একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মুখোমুখি হবে। টেবিলের শীর্ষে থাকা দল হবে চ্যাম্পিয়ন। দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে বিবেচনা করা হবে হেড টু হেড। আর তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে বিবেচনা করা হবে রান রেট।

কিউইদের বিপক্ষে জয়ই চাইছেন মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। জিতেনি আইরিশরাও। বৃষ্টির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টাইগারদের পয়েন্টে ভাগ বসায় স্বাগতিকরা। দুই দলই ২ পয়েন্ট করে পায়। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজের আরেক প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বসে মাশরাফি বাহিনী। হতাশা বাড়ে টাইগারদের। তবে, তৃতীয় ম্যাচে নেমেই লাল-সবুজরা উড়িয়ে দেয় আইরিশদের। পূর্ণ চার পয়েন্ট তুলে নেয় টাইগাররা। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আবারো নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচেও জয় চাইছেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। ত্রিদেশীয় সিরিজে দ্বিতীয় জয় তুলে নিতে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর প্রত্যয় তার। ২৪ মে আবারো মুখোমুখি টাইগার-কিউইরা। নিউজিল্যান্ডকে হারালেই র‌্যাংকিয়ের ছয়ে উঠবে বাংলাদেশ। ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে জয় ভিন্ন কিছুই ভাবছে না টাইগাররা। বিদেশের মাটিতে এখনও কিউইদের হারাতে পারেননি টাইগাররা। সেই আক্ষেপ তো আছেই। সঙ্গে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হওয়ার সুযোগও। মাশরাফির কথাতেও একই সুর, আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার প্রতীক্ষায় আছি। গত ম্যাচেই (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ) অবশ্য সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা শুরুর দিকে উইকেট ফেলতে পারিনি। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বোলাররা ঠিক সেই কাজটাই সাফল্যের সঙ্গে করেছে। জয়ের জন্যই আমরা শেষ ম্যাচে মাঠে নামবো। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (১ জুন শুরু) সামনে রেখে এবং র‌্যাংকিং বিবেচনায় নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে থাকছে কিউইদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো অ্যাওয়ে ম্যাচ জেতার হাতছানি। জিতলেই শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে র‌্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে শোভা পাবে বাংলাদেশের নাম। যোগ হবে তিন রেটিং পয়েন্ট। লঙ্কানদের সমান ৯৩ রেটিং পয়েন্ট হলেও পয়েন্টের ভগ্নাংশ হিসেবে এগিয়ে থাকবে টাইগাররা। ম্যাচ হারলে কমবে ১ রেটিং পয়েন্ট। তবে অবস্থান থাকবে অপরিবর্তিত। মাশরাফি আরও যোগ করেন, বোলারদের কাছ থেকে সব সময় ভালো কিছু চাই। তামিম-সৌম্যরা ভালো করছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, সামনে এভাবে খেলতে পারলে শেষ ম্যাচটিতেও আমাদের জয়ের সুযোগ রয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের র‌্যাংকিংয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে শীর্ষ আটে থাকা দলগুলো সরাসরি ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা

বিপিএলে আবার ফিরছে সিলেট

দিন ক্ষণের হিসাব গুনতে গেলে বলতে হবে, এবারের বিপিএল শুরু হতে এখনও পাঁচ মাস বাকি। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল); কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে আরও আগে থেকেই।

এরই মধ্যে দুটি দলের মালিকানাও বদল হয়েছে। প্রথমে রংপুর রাইডার্স। পরে চিটাগাং ভাইকিংস। রংপুর রাইডার্সের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আর ডিবিএল গ্রুপের বদলে চিটাগাং ভাইকিংসের নতুন মালিক চট্টগ্রাম মহানগরীর মেয়র আ জ ম নাছির ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান।

এদিকে আজ (২০ মে) ছিল দল নিবন্ধনের শেষ দিন। শনিবার শেষ দিন নতুন করে নিবন্ধিত হয়েছে সিলেট। বিপিএলের শুরু থেকে সিলেটের ফ্রাঞ্চাইজি থাকলেও, আগেরবার মানে বিপিএলের চতুর্থ আসরে ছিল না সিলেট। এবার আবার বিপিএলে ফিরছে সিলেট বিভাগ।

ফ্র্যাঞ্চাইজিও ঠিক হয়ে গেছে। সিলেট স্পোর্টস লিমিটেড নামের এক নতুন কর্পোরেট হাউজ হয়েছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক আজ দুপুরে শেরেবাংলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে সিলেটের আবার বিপিএলে ফেরার খবর নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত সিলেটকে ধরে এবারের বিপিএলে দল সংখ্যা দাঁড়াল আট। ছয় বিভাগীয় শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালের বাইরে কুমিল্লাও আগেরবারের বিপিএল খেলেছে।

বিভাগীয় শহর হিসেবে সিলেট বাদ পড়েছিল। আগের ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বোর্ডের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী পেমেন্ট পরিশোধ না করায় বিপিএলে নাম কাটা পড়ে সিলেটের। এবার আবার নতুন মালিকানায় ফিরেছে সিলেট।

সিলেট স্পোর্টস লিমিটেডের নামে নিবন্ধিত হলেও ভিতরের খবর, দলটির পিছনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রয়েছেন। আর বোর্ড পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নতুন সিলেটের কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকায় থাকবেন।

এদিকে বিপিএলে সিলেটের ফেরা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি সিলেটের কেউ নতুন করে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি হোক। সে লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিলেটের প্রকৃত মানুষই নতুন করে দলটির মালিক হয়েছে।’

মল্লিক আরও জানান, আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। তাতে সাড়া দিয়েছিল তিন-চারটি কর্পোরেট হাউজ; কিন্তু এর মধ্যে সিলেট স্পোর্টস সিলেটের আদি বাসিন্দা। তাই তাদের হাতেই সিলেটের নতুন মালিকানা তুলে দেয়া হয়েছে।

বাবার পথে হাঁটছে ছেলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলে  খেলার সুযোগ পাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারের কথা মনে আছে? মাখায়া এনটিনি।

সদা হাস্যোজ্জ্বল এ ক্রিকেটার দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন। দলকে দিয়েছেন একাধিক সাফল্য। একটা সময় এনটিনিকে বাদ দিয়ে একাদশ চিন্তাও করা যেত না। বরাবরই আস্থাভাজন ছিলেন ডানহাতি এ পেসার। কিন্তু বয়স ও পারফরম্যান্সের কারণে একটা সময় তাকেও বিদায় নিতে হয়। ৩৩ বছর বয়সে ক্রিকেটকে গুডবাই বলেছিলেন এনটিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই বললেও ক্রিকেট থেকে দূরে সরে থাকেননি। নিজ এলাকায় ক্রিকেট একাডেমি গড়েছেন। সেখানেই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ছেলে থান্ডো এনটিনিকে। বাবার মতো ছেলেও ডানহাতি পেসার। বাবার হাত থেকে ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ পাওয়া এ পেসার এবার নাম লিখাতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে।   প্রোটিয়া বয়সভিত্তিক সুযোগ পেয়েছে থান্ডো এনটিনি। যুব ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৫টি ওয়ানডে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ ওয়ানডে সিরিজের জন্য যুব দলে জায়গা পেয়েছেন থান্ডো এনটিনি। এবারই প্রথমবারের মত বয়সভিত্তিক দলে ডাক পেলেন ১৬ বছর বয়সী থান্ডো। ৯ জুলাই থেকে শুরু হবে সিরিজটি।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১০১ টেস্টে ৩৯০ এবং ১৭৩ ওয়ানডেতে ২৬৬ উইকেট নিয়েছেন বাবা মাখায়া এনটিনি।  বাবার বিশ্বাস ছেলে থান্ডো এনটিনিও সার্ভিস দিবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

উইন্ডিজ দলে বিপিএল খেলা বিটন

ক্রীড়া ডেস্ক :

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। কার্লোস ব্রাফেটকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করা হয়।

২৪ বছর বয়সি পেসার রন্সফোর্ড বিটনকে দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে আঞ্চলিক সুপার ৫০ ওভারের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ২৬ ম্যাচে ৪১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন ডানহাতি এ পেসার। গত বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়েও খেলেছিলেন বিটন। ২ ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ২ উইকেট।

দল থেকে বাদ পড়েছেন জনাথন কার্টার, আন্দ্রে ফ্লেচার ও ভিরামাসি পেরামল। ওয়ানডের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ডাক পেয়েছেন কাইরন পোলার্ড ও সুনীল নারিন। খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাদ পড়লেও টি-টোয়েন্টিতে টিকে গেছেন ডানহাতি ওপেনার।

আগামী ৩০ জুন প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সফর শুরু করবে আফগানিস্তান। সেন্ট কিটসে প্রথম ম্যাচ হবে ২ জুন। পরবর্তী দুই ম্যাচ হবে ৩ ও ৫ জুন। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর সেন্ট লুসিয়া যাবে দু্ই দল। সেখানে ৩টি ওয়ানডে খেলবে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দল: কার্লোস ব্রাফেট, স্যামুয়েল বদ্রি, রন্সফোর্ড বিটন, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, সুনীল নারিন, কাইরন পোলার্ড, রোবম্যান পাওয়েল, মারলন স্যামুয়েলস, লেন্ডল সিমন্স, জেরম টেলর, চাঁদউইক ওয়ালটন, কেসরিক উইলিয়ামস।

যুবাদের অনুশীলন ক্যাম্পের দল ঘোষণা

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য যুব দলকে প্রস্তুত করতে এক মাসের একটি অনুশীলন ক্যাম্পের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই ক্যাম্পের জন্য শনিবার ২৪ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়েছে।

মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে ২১ মে থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত চলবে অনুশীলন ক্যাম্প। দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের সেখানে রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ যুব বিশ্বকাপ হয়েছিল ২০১৬ সালে বাংলাদেশেই। পরের আসর বসবে ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডে।

প্রস্তুতি ক্যাম্পের যুব দল:

ব্যাটসম্যান: সাইফ হাসান, সজীব হোসেন, পিনাক ঘোষ, নাঈম শেখ, জালাল উদ্দিন, আফিফ হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রায়ান রাফসান রহমান, শামিম হোসেন পাটোয়ারী, হাবিবুর রহমান মারুফ, মোহাম্মদ রাকিব

উইকেটরকিপার: মাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া অঙ্কন, শাকিল হোসেন

স্পিনার: মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক, নাঈম হাসান, শাখাওয়াত হোসেন,

পেসার: কাজী অনিক ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত, মুকিদুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, হাসান মাহমুদ, রবিউল হক।

২০ বছর আগে সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪

ক্রীড়া ডেস্ক:

২০ বছর আগে আজকের এ দিনে ভারতীয় বোলারদের তুলোধুনো করে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন পাকিস্তানের ওপেনার সাঈদ আনোয়ার।

চেন্নাইয়ে স্বাধীনতা কাপ টুর্নামেন্টে বাঁহাতি ওপেনার ১৯৪ রান করেন মাত্র ১৪৬ বলে। ২২ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় পুরো ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন সাঈদ। অনিল কুম্বলেকে এক ওভারে টানা তিনটি ছক্কাও মেরেছিলেন বাঁহাতি ড্যাশিং ওপেনার। বড় ইনিংস খেলতে সাঈদ আনোয়ারকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন শহীদ আফ্রিদি।ইনিংসের ১৯তম ওভার থেকে সাঈদ আনোয়ারের রানার ছিলেন আফ্রিদি। ফলে একপাশ থেকে সাঈদ আনোয়ার শুধু ব্যাটিং করে যান অন্যপ্রান্তে আফ্রিদি তার হয়ে দৌড়ান।

সাঈদ আনোয়ারের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান ৫ উইকেটে করে ৩২৭ রান। পরবর্তীতে ৩৫ রানে জয় পায় পাকিস্তান। অবাক করা বিষয় ছিল, সাঈদ আনোয়ারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ করে রান করেন ইজাজ আহমেদ ও ইনজামাম উল হক।

ইনিংসের শেষ দিকে শচীন টেন্ডুলকারের বলে সৌরভ গাঙুলির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাঈদ আনোয়ার। একমাত্র ভুল শটটি না খেললে সেদিনই আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেত।

১২ বছর নিজের কাছে রেকর্ডটি রেখেছিলেন সাঈদ আনোয়ার। ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট চার্লস কভেন্ট্রি বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন ১৯৪ রান। পরের বছরের শুরুতেই ভারতের মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার ওয়ানডে ক্রিকেটকে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০ রান করেন টেন্ডুলকার।

এরপর বীরেন্দর শেবাগ ২০১১ সালে ২১৯ রান করেন। ভারতের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ২০১৩ সালে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নেন রোহিত শর্মা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৯ রান করেন রোহিত। এক বছর পর রোহিত ছাড়িয়ে যান সবাইকে। ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর কলকাতায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ রানের ইনিংস উপহার দেন ডানহাতি এ ওপেনার, যা এখনও ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩৭ রান করেছেন মার্টিন গাপটিল। ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়েলিংটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংসটি খেলেন গাপটিল। ওই বিশ্বকাপেই ক্রিস গেইলের ব্যাট থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসে ২১৫ রানের ইনিংস।

আইপিএলের শিরোপা যুদ্ধে পুনে-মুম্বাই

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।  টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন ও সুপার সিক্স।

শিরোপার লড়াইয়ে প্রথম মুখোমুখি রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও স্টিভেন স্মিথের রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। এর আগে ২০১৩ এবং ২০১৫ আসরে আইপিএলের শিরোপা পেয়েছিল মুম্বাই। অন্যদিকে পুনে গতবারই প্রথম টুর্নামেন্টে নাম লেখায়। দ্বিতীয় আসরেই তারা ফাইনালে। ধোনি-স্মিথদের শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

এবারের আসরে দুই দল এখন পর্যন্ত ৩টি ম্যাচ খেলেছে। তিনটিতেই জিতেছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। আসরের শেষ মুখোমুখিতে কাদের মুখে হাসি ফোটে সেটা দেখার অপেক্ষায় এখন কোটি ক্রিকেটপ্রেমি।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল মুম্বাই। ১০ জয় নিয়ে সবার আগে কোয়ালিফাইয়ার নিশ্চিত করে তারা। অন্যদিকে ‍পুনে শুরুর দিকে সাদামাটা পারফরম্যান্স করলেও পরবর্তীতে দারুণ ছন্দে ফিরে।

ব্যাটিংয়ে স্মিথ, রাহানে ও তিওয়ারির সঙ্গে আছেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি ও রাহুল ত্রিপাথি। বোলিংয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন শার্দুল ঠাকুর ও ওয়াশিংটন সুন্দর। অন্যদিকে রোহিত শর্মার দলের সঙ্গে রয়েছেন সিমন্স, পার্থিব প্যাটেল, রাইডু, হার্দিক পান্ডে ও পোলার্ডের মতো তারকা ক্রিকেটার। বোলিংয়ে মালিঙ্গা, জনসন ও বুহরাহ রয়েছেন সেরা ফর্মে।

শক্তির বিচারে মুম্বাই এগিয়ে থাকলেও পুনের রয়েছে আত্মবিশ্বাস। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠে নামছে পুনে। এবার বিগ ফাইনালে মুম্বাই ব্যবধান কমাতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

জয়ের পথে মোহামেডান

ওপেনার শামসুর রহমানের অপরাজিত ১৪৪ এবং রনি তালুকদারের ১১০ রানে ভর করে শেখ জামালকে জয়ের জন্য ৩৪০ রানের টার্গেট দিলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে বিকেএসপি-র ৩নং মাঠে টসে হেরে ব্যাট করে, শামসুর রহমান ও রনি তালুকদারের সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রান তোলে মোহামেডান।
প্রথমে ব্যাট করে দলের ৭৬ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৈকত আলী। ২৮ বলে ৩৯ রান করে তিনি ইলিয়াস সানীর শিকারে পরিণত হন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে শামসুর রহমান ও রনি তালুকদার ১৭৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। দলের ২৪৯ রানে রনি যখন ইলিয়াস সানীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তখন তার সংগ্রহে ৯৯ বলে ১১০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। এরপর অধিনায়ক রকিবুল হাসান (৫), চারিথা আসালঙ্কা (২) এবং নাজমুল মিলন (২১) দ্রুত বিদায় নিলে, ৫ উইকেট হারানো মোহামেডানের ইনিংস থামে ৩৩৯ রানে। শামসুর রহমান ১৫২ বলে ১৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিলো ৭টি চার ও সমান ছক্কার মার। কামরুল উসলাম রাব্বি ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।
জবাবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯ ওভার ২ বলে ৭০ রানে ২ উইকেট হারায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ফজলে রাব্বি ২৮ এবং রাসেল আল মামুন ০ রানে বিদায় নেন। মোহামেডানের পক্ষে ২টি উইকেট নেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

বিশ্ব মাতাচ্ছেন সাতক্ষীরার দুই ক্রিকেটার

স্বল্প সময়ে তারকাখ্যাতি পেয়ে যাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান। জেলার কালিগজ্ঞের তেঁতুলিয়ার অজপাড়া গাঁয়ের গ্রাম্য মাঠ দাপিয়ে উঠে আসা এই পেসার এখন কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন গোটা বিশ্ব ক্রিকেট। ধূমকেতুর মত আর্বিভাব। এরপর নিজের প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করে তুলেছেন ক্রিকেট বিশ্বে। অল্প দিনেই ক্রিকেট দুনিয়ায় কাটার মাস্টার খ্যাতি পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান কাটার জাদুতে আবারও শুক্রবার মাঠ কাঁপিয়েছেন। ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার পর চেনা রুপে প্রথম মাঠে দেখা গেলো এই বিস্ময় বালককে।

অন্যদিকে, ব্যাট হাতে আবারো নিজেকে মেলে ধরেছেন জাতীয় দলের ওপেনার, সাতক্ষীরার আরেক কৃতিসন্তান সৌম্য সরকার। ব্যাট হাতে তার দৃষ্টিনন্দন শট, দূর্দান্ত পারফরন্সে খুব সহজেই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।

সাতক্ষীরার এই দুই তারকা ক্রিকেটারের ওপর ভর করেই শুক্রবার আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে বল হাতে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ৪ উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে আইরিশ বোলারদের শাসন করেছেন সৌম্য সরকার। এই দুই কৃতি ক্রিকেটারকে নিয়ে এখন মেতে উঠেছে সাতক্ষীরাবাসী। তাদের গর্ব ছুঁয়ে যাচ্ছে যেন পুরো দেশকেই।

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক একেএম আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকার যেমন গোটা দেশের গর্ব, তেমনি আমাদের সাতক্ষীরাবাসীর গর্ব। তারা ভালো খেলছে বলে, আমাদের অনুভূতিটাও খুব আনন্দের। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও তারা ভালো খেলবে আশা করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাতক্ষীরায় বয়স ভিত্তিক গ্রুপে কিছু ছেলে রয়েছে, যারা খুব ভালো পারফরমেন্স করছে। আশাকরি পর্যায়ক্রমে তারাও একদিন জাতীয় দলে পৌঁছে যাবে।’

একই অভিমত ব্যক্ত করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি আশরাফুজ্জামান আশুও। মোস্তাফিজকে ভালো খেলতে দেখলে নিজের ভালোলাগার অনুভ‚তিটা প্রকাশহীন জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের মেঝো ভাই মোকলেছুর রহমান পল্টু জাগো নিউজকে বলেন, ‘খুবই ভালো লাগে যখন বল হাতে মোস্তাফিজকে উইকেট নিতে দেখি। বাংলাদেশ জিতে যায়। দলের যে কোন খেলোয়াড়কে ভালো খেলতে দেখলেই ভালো লাগে। গতকালকের ম্যাচটি ভালো খেলেছে সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজ। এই ধারা অব্যাহত থাক, সে দোয়া করি।’

ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সাইফ-আফিফ

ভারতের অনুষ্ঠিত হবে বহুজাতি টুর্নামেন্ট। এই আসরে খেলতে আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত সেই দলে রাখা হয়েছে ২৪ জন ক্রিকেটার।

প্রাথমিক দলটিতে রয়েছে অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটার। তারা হলেন- সাইফ হাসান, পিনাক ঘোষ এবং মোহাম্মদ হালিম। রয়েছেন বিস্ময় বালক আফিফ হোসেনও। এই দলে জায়গা পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে ১২ জন ব্যাটসম্যান, তিনজন উইকেটরক্ষক, চার স্পিনার ও ছয় পেসার।

টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে নিজেদের আগেভাগেই ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ এক মাসের ক্যাম্প করবে প্রাথমিক দলে থাকা ক্রিকেটাররা। আজ রোববার (২১ মে) থেকে ক্যাম্প শুরু, চলবে ২৩ জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল :
সাইফ হাসান, সজিব হাসান, পিনাক ঘোষ, নাঈম শেখ, মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, তৌহিদ হৃদয়, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রায়হান রাফসান, শামিম হোসেন পাটোয়ারী, হাবিবুর রহমান মারুফ, মাহিদুল ইসলাম, শাকিল হোসেন, ভূঁইয়া অঙ্কন, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম, নাঈম হাসান, মোহাম্মদ রাকিব, শাকাওয়াত হোসেন, কাজী অনিক ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত, মুকিদুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, হাসান মাহমুদ ও রবিউল হক।

শেষটা রাঙাতে চান মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে বাংলাদেশ পড়েছিল বৃষ্টির কবলে। ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কাছেই হার মানল ক্রিকেট! শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেনি; আবার হারেনি স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডও। পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে যায়। বাংলাদেশ পেয়েছে দুই পয়েন্ট, আইরিশদের ঝুড়িতেও জমা পড়েছে দুই।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫১ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। পয়েন্ট হারিয়ে হতাশ ছিল টাইগার শিবির। সেই হতাশার কিছুটা হলেও দূর হয়েছে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে। আইরিশদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের সাক্ষাতে বাংলাদেশের জয়টা ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং ও সৌম্য সরকারের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে জয়ে ফেরেন টাইগাররা।

আগামী ২৪ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে এখনও কিউইদের হারাতে পারেননি টাইগাররা। সেই আক্ষেপ তো আছেই। সঙ্গে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হওয়ার সুযোগও।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শেষটা রাঙাতে চান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বলেন, ‘আমরা এটার (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ) জন্য প্রতীক্ষায় রয়েছি। গত ম্যাচেই (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ) অবশ্য সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, সামনে এভাবে খেলতে পারলে শেষ ম্যাচটিতেও আমাদের জয়ের সুযোগ রয়েছে।’

র‌্যাংকিয়ে ছয়ে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ছয়ে ওঠার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজের ফিরতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলেই শ্রীলংকাকে হটিয়ে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে উঠে যাবে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।
ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি ও দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে ওঠার সুযোগ লাভ করবে মাশরাফির নেতৃত্বাধীন টাইগাররা।
ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে আগামী বুধবার (২৪ মে) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে কিউইদের বধ করতে পারলেই শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে নিজেদের সেরা র‍্যাঙ্কিংয়ে ওঠে আসবে বাংলাদেশ।
বর্তমানে ৯০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে রয়েছে। টাইগারদের চেয়ে তিন পয়েন্ট বেশি নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে শ্রীলঙ্কা। আগামী ম্যাচে কিউইদের হারাতে পারলে বাংলাদেশের নামের পাশে যোগ হবে তিন রেটিং পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার সমান ৯৩ রেটিং পয়েন্ট হলেও ভগ্নাংশে এগিয়ে থেকে লঙ্কানদের ছাপিয়ে প্রথমবারের মতো ছয়ে ওঠে আসবে টাইগাররা।
আপাত দৃষ্টিতে সহজ সমীকরণ হলেও, মাশরাফিদের জন্য যে কাজটা মোটেও সহজ হবে না তা মানছেন খোদ ক্রিকেটাররাই। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে জয় তুলে নিতে প্রত্যয়ী ক্রিকেটাররা।
উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আয়ার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয় দুই দলের মধ্যে। পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায় বাংলাদেশ।

সাকিব ছাড়াই আইপিএলের সেরা একাদশ

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের মধ্যকার খেলা দিয়েই আজ শেষ হচ্ছে আইপিএলের দশম আসর। দীর্ঘ ৪২ দিন ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটের পর জুরি বোর্ড বাছাই করে আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ। জানা যায়, ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটে বাংলাদেশ ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এগিয়ে থাকলেও জুরি বোর্ডের হস্তক্ষেপে বাদ পড়েন আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ থেকে।
আইপিএলের নিয়ম মেনে অর্থাৎ, সাতজন স্থানীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি চারজন বিদেশী ক্রিকেটারকে নিয়ে গড়া আইপিএলের দলে ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিকেটার ডোয়েন ব্রাভোর কাছে জায়গা হারিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে প্রতিনিধিত্ব করা সাকিব আল হাসান।
তবে নাটকীয়ভাবে সর্বকালের সেরা একাদশের চার বিদেশী ক্রিকেটারের মধ্যে তিনজনই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার সাথে বাকী তিনজন বিদেশী ক্রিকেটার হলেন, ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইন এবং ডোয়াইন ব্রাভো।
ক্রিকেট অনলাইন ইএসপিএন ক্রিকইনফো ঘোষিত আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ হলো: মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার/ অধিনায়ক), ক্রিস গেইল, বিরেন্দ্র শেবাগ, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা, ডোয়াইন ব্রাভো, সুনীল নারাইন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং ভুবনেশ্বর কুমার।

নিউজিল্যান্ডের পরাজয়ে চোখ বাংলাদেশের

ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচের ফলাফলের দিকে চেয়ে আছে বাংলাদেশ। কারণ এ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড হেরে গেলে আর সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেলেই শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ। ডাবলিনের মালাহিডে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
এ পর্যন্ত ২ ম্যাচে দুই জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। আর ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ২ হার ও ১টি পরিত্যাক্ত হওয়ায় স্বাগতিকদের পয়েন্ট ২।
তাই ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগামীকাল জয় পেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে নিউজিল্যান্ড। আর যদি কিউইরা হেরে যায়, তবে চ্যাম্পিয়ন হবার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের। তখন সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই হবে টাইগারদের। এছাড়া আগামীকালের ম্যাচটি ড্র বা পরিত্যক্ত হলেও, শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি রান রেটে এগিয়ে থাকতে হবে মাশরাফিদের।
নিউজিল্যান্ড হারালেও, চ্যাম্পিয়ন হবার কোন সুযোগ থাকছে না আয়ারল্যান্ডের। তবুও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাইবে স্বাগতিকরা। এদিকে, জয়ের জন্য মরিয়া থাকবে নিউজিল্যান্ড। শুধুমাত্র শিরোপা নিশ্চিতের জন্যই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে জয়ের মধ্যেই থাকতে চায় কিউইরা। প্রথম পর্বে আয়ারল্যান্ডকে ৫১ রানে ও বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিলো কিউইরা।
আয়ারল্যান্ড দল : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), এন্ড্রু ব্যালবিরনি, পিটার চেজ, জর্জ ডকরেল, এড জয়সে, টিম মুরতাগ, সিমি সিং, ব্যারি ম্যাককার্থি, কেভিন ও’ব্রায়ান, নিয়াল ও’ব্রায়ান, পল স্টার্লিং, স্টুয়ার্ট থমসন, গ্যারি উইলসন ও ক্রেইগ ইয়ং।
নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড : টম লাথাম (অধিনায়ক), নিল ব্রুম, কলিন মুনরো, হেনরি নিকোলস, সেথ রেন্স, মিচেল স্যান্টনার, রস টেইলর, জর্জ ওরকার, হামিশ বেনেট, স্কট কুগিলজন, জেমস নিশাম, জিতান প্যাটেল, লুক রঞ্চি (উইকেটরক্ষক), ইশ সোধি ও নিল ওয়াগনার।

আইপিএলের ফাইনাল আগামীকাল

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসরের ফাইনালে আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনাল খেলতে নামবে পুনে। পক্ষান্তরে মুম্বাইয়ের চোখ তৃতীয় শিরোপার দিকে। হায়দারাবাদে এই ফাইনালটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।
গেল আসরে সপ্তম স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করেছিলো পুনে। তাই চলমান মৌসুম শুরুর আগেই অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনে পুনে ফ্র্যাঞ্চাইজি। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয় পুনে। এমনকি দলের শক্তি বাড়াতে নিলামে বেশ পারদর্শীতা দেখায় তারা। ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে রেকর্ড মূল্যে দলে ভেড়ায় তারা। তাকে দলে নেয়ার কারণটা লিগ পর্বে প্রদর্শন করেছেন স্টোকস। ব্যাট-বল দিয়ে সেরা পারফরমেন্সই দেখিয়েছেন তিনি। তবে প্লে-অফে খেলা হয়নি তার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন স্টোকস।
তবে কোয়ালিফাইয়ার-১এর বাঁধা পেরিয়ে যেতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি পুনের। আজিঙ্কা রাহানে-মনোজ তিওয়ারির হাফ-সেঞ্চুরির সাথে সাবেক ধোনির ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রান লড়াই করার পুঁজি দেয় পুনেকে।
এরপর শুরুতেই অফ-স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের ধাক্কায় খেই হারিয়ে ফেলে মুম্বাই। পরবর্তীতে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মুম্বাই। শারদুল ঠাকুরের পেস তোপে ১৬৩ রানের টার্গেটে ১৪২ পর্যন্ত সমর্থ হয় মুম্বাই। ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সুন্দর। তাই স্টোকসের অভাব বুঝতে পারেনি পুনে।
তবে আগামী মৌসুম থেকে আইপিএলে থাকছে না পুনে ও গুজরাট লায়ন্স। কারন স্পট ফিক্সিং-এর দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া দুই দল চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসকে ফিরিয়ে আনার সিদ্বান্ত নিয়েছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। আগামী মৌসুম থেকে পুনে ও গুজরাটের পরিবর্তে আইপিএলে দেখা যাবে চেন্নাই ও রাজস্থানকে।
তাই ভালোভাবে এই মৌসুম শেষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন স্মিথ, ‘টুর্নামেন্টের সঠিক সময়ে সেরাটাই এখন প্রয়োজন। এটি সত্যিই এখন আমাদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়।’
এবারের আসরে ১৪ ম্যাচে ৪২১ রান করেছেন স্মিথ। অধিনায়কত্ব হারালেও, ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় সময় ঠিকই জ্বলে উঠেছেন ধোনি। কোয়ালিফাইয়ার-১এ ধোনি ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রানের কল্যাণে লড়াই করার পুঁজি পায় পুনে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এক কলামে ভারতের সবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার বলেন, ‘স্মিথের নেতৃত্বে পুনে ফাইনালে ওঠে। তবে অবশ্যই ধোনির সাহায্য নিয়ে।’
পুনের বোলিং-কে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন বাঁ-হাতি জয়দেব উনাদকত। তার সাথে সহযোগিতায় থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার ড্যান ক্রিস্টিয়ান-লেগ স্পিনার এডাম জাম্পা ও সুন্দর-ঠাকুর।
কোয়ালিফাইয়ার-১এ পুনের কাছে হারলেও, কোয়ালিফাইয়ার-২এ কলকাতা নাইট রাইডার্সকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট পায় মুম্বাই। এই নিয়ে চতুর্থবারের মত ফাইনাল খেলবে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১১ জয়কে সাথে নিয়ে ফাইনালে খেলতে নামবে মুম্বাই।
কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি। শিরোপা জয় থেকে এখন আমরা এক ধাপ দূরে। পুনের বিপক্ষে আমাদের ভালো রেকর্ড নেই। তবে আর মাত্র একটি বাঁধা।’
এই মৌসুমে পুনের সাথে তিনবারের দেখায় সবগুলোতেই হেরেছে মুম্বাই।
২০১৩ ও ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের হাতে রয়েছে একাই ম্যাচ ঘুড়িয়ে দেয়ার মত বহু খেলোয়াড়। বিদেশীদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড ও নিউজিল্যান্ডের পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান অন্যতম। চলমান মৌসুমে সেটি বেশ কয়েকবারই প্রমান দিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছেন ওপেনার উইকেটরক্ষক পার্থিব প্যাটেল। পরের দিকে রোহিতের সাথে পোলার্ড-দুই পান্ডে ভাই দলের জয়ে প্রধান ভূমিকাও রাখেন। তাই এরা পুনের বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন।
বোলিং-এ মুম্বাইয়ের সেরা অস্ত্র জসপ্রিত বুমরাহ। ডেথ ওভারে দুর্দান্ত সব ইর্য়কারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি দিচ্ছেন বুমরাহ। সাথে আছেন শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা-ম্যাকক্লেনাঘান-করন শর্মার মত বোলার। ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কলকাতাকে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন করন। ফাইনালেও তার স্পিন বিষ দেখতে চাইবে মুম্বাই। এতে তৃতীয়বারের মত আইপিএলের শিরোপা জয় করতে সুবিধাই হবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের।

চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে পাকিস্তানের লক্ষ্য শিরোপা জয়

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যতই এগিয়ে আসছে এর উত্তেজনাও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যেকোন টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে যেখানে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকে এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজিত না হওয়ায় আইসিসি’র টুর্নামেন্টগুলোতেই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকে সমর্থকরা।
এবারও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সব আকর্ষনই থাকবে আগামী ৪ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনের দিকে। এই দিনই ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক জানিয়েছেন তারা শুধুমাত্র ভারতকে পরাজিত করতে নয় বরং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিততেই ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো ইনজামামের বরাত দিয়ে এই কথা জানিয়েছে। ২০০৪ সালে এই এজবাস্টনে ভারতকে হারানোর সুখস্মৃতি আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ইনজামাম। ঐ সময় পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এবারও তার পুনরাবৃত্তির আশা করছেন ইনজামাম। সম্প্রতী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজ জয় করা পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস বেশ তুঙ্গে। ইনজামাম বিশ্বাস করেন এই জয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভাল খেলতে তার দলকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

প্রিমিয়ার ক্রিকেটে আবাহনীর পরাজয়

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রাথমিক পবের্র শেষ রাউন্ডে আবাহনী লিমিটেডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে আবাহনীর দেয়া ২৪৭ রানের টার্গেটে নেমে প্রাইম দোলেশ্বর ১৭ বল হাতে রেখেই জয় পায়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় আবাহনী দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিটন দাসের উইকেট হারিয়ে। লিগের সর্বোচ্চ রান করা এই স্কোরার ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। ব্যর্থ সাদমান, সাইফ ও শান্ত। ৫০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আবাহনী তখন ব্যাকফুটে। ব্যাটিং বিপর্যয় ঠেকান আফিফ হোসেন। পঞ্চম উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৮৯ রানের জুটি গড়েনক। ৩৪ রান করে মিঠুন প্যাভিলিয়নে ফিরলেও আফিফ আউট হন, ৯৪ রান করে। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে থামে আবাহনীর ইনিংস।

জবাবে প্রাইম দোলেশ্বরের শুরুটাও ছিলো না আশা জাগানিয়। দলের রান পঞ্চাশ পেরুতেই হারায় তারা দুই ওপেনারকে। তৃতীয় উইকেটে মার্শাল ও শাহরিয়ার ১০৯ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। ৬৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন শাহরিয়ার নাফীস। ম্যাচ সেরা শেষ মার্শাল আউয়ুব ৯৪ বলে ৮৩ করে রান আউটে কাটা পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে প্রাইম দোলেশ্বর। এই জয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত হয় তাদের।

রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন সৌরভ

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ৮ জুন রাজ্যসভা নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়ার জোর গুজব সৌরভের নামে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন করার কথা শোনা যাচ্ছে ভাইচুং ভুটিয়ারও। ২২ মে মনোনয়ন জমা দেয়া শুরু হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় সৌরভ, ভাইচুং ছাড়াও আছে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কন্য শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের নামও।
তবে নিজের প্রার্থীতা বিষয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি কিছু জানেন না বলে সংবাদ মাধ্যমে খরব বের হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। কিছু বলতেও পারব না।’ পরে সৌরভ জানান, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলাম। আবার যেতে হবে। আমি কিছুই জানি না।’
অবশ্য এর আগে, সৌরভ তৃণমূল কংগ্রেস আবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, এমন খরব বের হয়েছিলো। তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবারও তেমন খবর বের হলো। কিছুদিন পরই সেই খবরের সত্যতা জানা যাবে। আপাতত শুধু অপেক্ষা।

মিসবাহ-আফ্রিদির কাছে আশরাফুলদের হার

বাহরাইনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন ক্রিকেট উৎসবে মিসবাহ-আফ্রিদিদের মিসবাহ ইগলসের কাছে হেরে গেছে স্যামুয়েলস-আশরাফুলদের ইরফান ফ্যালকন্স। মিসবাহর সেঞ্চুরি আর আফ্রিদির হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৪৪ রান সংগ্রহ করেন মিসবাহ ইগলস। জবাবে ১৭৫ রান থামে ইরফান ফ্যালকন্সের ইনিংস।

বাহরাইন জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে বোলারদের উপর ঝড় তোলেন মিসবাহ-আফ্রিদি। ৩৮ বলে ১২১ রান করেন অধিনায়ক মিসবাহ। আর আফ্রিদি  করেন ৪৯ বলে ৭৯ রান। ফলে ২৪৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ পায় দলটি।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ইরফান ফ্যালকন্স ৪ উইকেটে ১৭৫ রান তুলে। ৬৯ রানের বড় পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয় তাদেরকে। স্যামুয়েলস ৩৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৭২ রান। মোহাম্মদ আশরাফুল ৩৬ বলে করেন ৪৪ রান।

উল্লেখ্য, এ ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীশান্ত ও ইউসুফ পাঠানের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা খেলতে পারেননি। তবে ইরফান পাঠান প্রতিযোগিতায় মাঠে ছিলেন।

ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের প্রথম ৪ উইকেট!

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ৪ উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ। কি অবাক হয়ে গেলেন! ভাবছেন, যার ক্যারিয়ার শুরু ৫ উইকেট শিকার দিয়ে। দ্বিতীয় খেলায় যে বোলারের ঝুলিতে জমা পড়েছে ৬ উইকেট, সেই বোলার দুই বছর পার করে ১৭ নম্বর ম্যাচে এসে কিনা প্রথম চার উইকেট পেলেন! মেলাতে গিয়ে ধাঁধায় পড়ে যাচ্ছেন। ঘুরিয়ে বললে গোলমেলে ঠেকছে তাই না। তা পড়ারই কথা।

তবে পরিসংখ্যান জানাচ্ছে সেটাই ঠিক। গতকাল ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কাটার মাষ্টারের বলে আউট হয়েছেন চার আইরিশ। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে এটাই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেট শিকার মোস্তাফিজের। কালকের ম্যাচের আগে ১৬ খেলায় তিনবার পাঁচ বা তার বেশি ( দুবার ৫ উইকেট আর একবার ৬ উইকেট) উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন মোস্তাফিজ। তিনবার তার ঝুলিতে তিনটি করে উইকেট জমা পড়েছে। আর দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ছয়বার। এক উইকেট মাত্র একবার।

ম্যাচে উইকেট না পাবার ঘটনা আছে দুটি ; প্রথমবার ২০১৫ সালের ১০ জুলাই শেরে বাংলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৬ ওভারে ০/১৫। আর পরেরবার ঐ বছরই ৭ নভেম্বর; সেটাও মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। ঐ ম্যাচেও ৬ ওভারে ২৭ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন এ বাঁহাতি পেসার।

তাহলে কারিয়ারের ব্রেক আপ কি দাড়ালো ? মিলিয়ে নিন, ১৭ ম্যাচ। পাঁচ বা তার বেশি উইকেট তিনবার ( দুবার ভারতের বিরুদ্ধে ৫/৫০ ও ৬/৪৩)। আর একবার জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৫/৩৪)। তিন উইকেট তিনবার (৩/৩৮+৩/৩৩+৩/৫৬)। দুই উইকেট ছয়বার। আর এক উইকেট একবার। দুই ম্যাচ উইকেট শূন্য। যোগ করে দাঁড়ালো ১৫ ম্যাচ। আর গত ১২ মে আয়ারল্যান্ডের সাথে ডাবলিনে বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে যাওয়া ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পাননি।

তাই পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ১৭ খেলায় অংশ নিলেও বল করার সুযোগ মিলেছে ১৬ বার। যার ১৫ ম্যাচের ব্রেক আপ ওপরে দেয়া হয়েছে। এবার নিশ্চয়ই পরিষ্কার হয়েছে, ১৭ খেলায় ৪২ উইকেট শিকারি মোস্তাফিজ। গত ১৯ মে শুক্রবার প্রথম ৪ উইকেট শিকার করেছেন।

সৌম্য-মোস্তাফিজে বাংলাদেশের বড় জয়

সবুজ উইকেটে প্রথমে জ্বলে উঠলেন মোস্তাফিজ। দুর্দান্ত বোলিং করে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। আর তার বোলিংয়ে ভর করেই আয়ারল্যান্ডকে বেঁধে রাখল অল্প রানেই। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন সৌম্যও। তুলে নিলেন টানা দ্বিতীয় অর্ধশত। আর সাতীরার দুই টাইগারের উপর ভর করেই আয়ারল্যান্ডের বিপে ৮ উইকেটের বড় জয় পেল বাংলাদেশ।
আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে কিউইদের ধারে কাছেও ছিল না টাইগাররা। সেই বাংলাদেশই পরের ম্যাচে খোলস ছাড়িয়ে বেরিয়েছে। আয়ারল্যান্ডকে এক কথায় ওয়ানডে খেলা শিখিয়েছে মাশরাফির দল। ১৮১ রানে তাদের গুটিয়ে দিয়ে ২৭.১ ওভারে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।
১৮২ রানের ছোট ল্েয খেলতে নেমে নির্ভারই ছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। বোলিংয়ে আইরিশদের গুড়িয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও তাদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন দুজন। দুই ওপেনারের ব্যাটেই ১০ ওভারে ৬৯ রান পার করে টাইগাররা। তবে ১৪তম ওভারে ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেননি ওপেনার তামিম। ৪৭ রানে কেভিন ও’ব্রায়েনের লাফিয়ে ওঠা বলে তাকে তালুবন্দী করেন নিয়েল ও’ব্রায়েন। তার ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার। তামিম কিছুটা সতর্ক ভঙ্গিতে খেললেও তার চেয়ে ঝড়ো গতিতে খেলেন ছন্দে ফেরা সৌম্য। ৪০ বলেই করে ফেলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। ধীরে ধীরে শতকের কাছেই ছিলেন। কিন্তু ৮৭ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। তার সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৬ রানের জুটি গড়েন সাব্বির। ৩৫ রানে তাকে ডকরেলের হাতে তালুবন্দী করান ম্যাককার্থি। যদিও শেষ দিকে মুশফিক এসে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ২ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জয় তুলে নেয় ২৭.১ ওভারে।
এর আগে বাংলাদেশ আইরিশদের গুটিয়ে দেয় ১৮১ রানে। এমন ম্যাচে অভিষেক ওয়ানডেতেই চমক দেখিয়েছেন সানজামুল। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে এড জয়েসকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে লং অনে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন আয়ারল্যান্ডের এ ব্যাটসম্যান। এরপর ৪৪তম ওভারেও ভেলকি দেখান তিনি। ব্যারি ম্যাকার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১২ রানে তাকে সাজঘরের পথ ধরান সানজামুল। বিপর্যস্ত সেই আইরিশদের শেষ দিকে একাই টেনে নিচ্ছিলেন জর্জ ডকরেল।। কিন্তু ৪৭তম ওভারে তাকেও বিদায় করেন অধিনায়ক মাশরাফি। মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৫ রান করেন তিনি। একইওভারের চতুর্থ বলে সেই মুশফিকের হাতেই শেষ ব্যাটসম্যান পিটার চেজকে তালুবন্দী করান মাশরাফি। আয়ারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে।
এর আগে অবশ্য আইরিশদের ভিত্তি নাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন স্টারলিংয়ের উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলেও তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিয়াল ও’ব্রায়েনকে (৩০)। থার্ড ম্যানে তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ হন আইরিশ ব্যাটসম্যান। পরের বলে কেভিন ও’ব্রায়েনের উইকেটটি পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কয়েক ইঞ্চির জন্যে সাব্বির রহমান ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। বাংলাদেশ আউটের আবেদন করলে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল মাটিতে লেগে সাব্বিরের হাতে গেছে। সেই মোস্তাফিজ ৩১.৪ ওভারে আর ব্যর্থ হননি। তার বলে কেভিনকে তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন। কেভিন বিদায় নেন ১০ রানে। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর। বিতর্কিতভাবে দেওয়া এই আউটে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম।
এই সিরিজে বাকিরা সাফল্য পেলেও নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব। কিন্ত এই ম্যাচ দিয়েই ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম উইকেট পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে (১২) বোল্ড করেন। মোসাদ্দেক হোসেন তার আগে নেন আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট। আগের ওভারেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে শর্ট এক্সট্রা কভারে জীবন দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে উইকেটবঞ্চিত করার পর নিজেই সেই আপে কাটান তিনি। ক্রিজে শক্তিশালী হয়ে ওঠা আয়ারল্যান্ড অধিনায়ককে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানে আউট হন পোর্টারফিল্ড।
শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুটা দারুণভাবেই করে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেন করেন মেডেন। আর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তাদের কোনও রান না দিয়েই উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার। সেই মুস্তাফিজই ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি ৬.৩ ওভারে ১৮ রানে দুই্ উইকেট ও ৫ ওভারে ২২ রান খরচে দুই উইকেট নেন সানজামুল। আর একটি করে নেন মোসাদ্দেক ও সাকিব আল হাসান।

আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ

মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয় পেলো বাংলাদেশ। ডাবলিনে স্বাগতিকদের দেয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য ১৩৭ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সৌম্য সরকার ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ডাবলিনে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথম জয় পেলো টাইগাররা। আইরিশদের দেয়া ১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২৩ ওভার বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
জয়ের টার্গেট ছোটে। তাই হয়তো একেবারে নির্ভার হয়ে খেললেন তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৮৩ বলে দলের স্কোরে যোগ করেন ৯৫ রান। তাতেই বড় জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। কেভিন ও’ব্রায়েনের গুড লেংথ বলে উইকেটরক্ষক নায়াল ও’ব্রায়ানের তালুবন্দি হন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার আগে ৫৪ বলে ৬ চারে তুলে নেন ৪৭ রান।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের সপ্তম স্থান আর ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা জরুরী ছিলো বাংলাদেশের জন্য। যার পথটা তৈরি করেছেন টাইগার বোলাররা। পরে জয়ের পথে স্বাচ্ছন্দেই হেঁটেছেন ব্যাটসম্যানরা। ৩৪ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রানের পুঁজিতে প্যাভিলিয়েনে ফেরেন সাব্বির রহমান। তারপর মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন সৌম্য সরকার। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত তিনি। আর মুশফিক ৩ রানে। মুস্তাফিজুর রহমান ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচ সেরা।

১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের যেন পাত্তাই দিলেন না তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ১৩ ওভার ৫ বলে ৯৫ রানের ঝড়ো উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কেভিন ও’ব্রায়েনের স্লোয়ারের ফাঁদে পা দেয়ার আগে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। এরপরও ঝড় থামাতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ১১ ওভারে ৭৬ রানের জুটি গড়ে আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সৌম্য ও সাব্বির রহমান। সাব্বির ৩৫ রানে বিদায় নিলেও অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন সৌম্য। ৬৮ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিলো ১১ বাউন্ডারি আর দুই ছক্কায়। এটি সৌম্যের ষষ্ঠ ওয়ানডে ফিফটি। তাতে ২৭ ওভারে ২ উইকেটে ১৮২ রান তোলে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্যটা আগেই সহজ করে দেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো বাংলাদেশ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণে বেশি সময় নেয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পল স্টারলিংয়ের উইকেট তুলে নেন ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’। ধাক্কাটা সামলে নিতে দেননি সাকিব ও মোসাদ্দেক, দলের ৬১ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে।


এরপর নেইল ও’ব্রায়েন, কেভিন ও’ব্রায়েন এবং গ্যারি উইলসনকে বিদায় করে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেন মুস্তাফিজ। তাঁর সেই ধার আর নেই—এমন সমালোচকদের বল হাতেই যেন জবাব দিলেন ‘ফিজ’। ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হন সাতক্ষীরার সন্তান। আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করা এড জয়েসকে ক্যারিয়ারের প্রথম শিকারে পরিণত করেন স্পিনার সানজামুল ইসলাম। পরে কার্থারকে বিদায় করে অভিষেক ম্যাচটা আরও রঙ্গিন করেন তিনি। ৪৭তম ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জোড়া আঘাতে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: শ্রীলঙ্কা আন্ডারডগ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০০২ সালে নিজেদের সেরা সাফল্য পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেবার দেশের মাটিতে আয়োজিত আসরের ফাইনালে উঠেছিল লঙ্কানরা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচ আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর আর কখনও চ্যাম্পিয়ন্স টফির ফাইনাল খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আগামী এক জুন ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের। তাই ক্রীড়াপ্রেমীদের আলোচনা এখন আসরের ফেভারিটদের নিয়ে। সেই তালিকায় ক্রিকেটপ্রেমীরা শ্রীলঙ্কাকে তো রাখবেই। কিন্তু ফেভারিটদের তালিকায় লঙ্কানদের দেখছেন না দেশটির প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড নিজেই! ‘বি’ গ্রুপে এই দলটিকে লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। একমাত্র পাকিস্তানই আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কার চেয়ে। পাকিস্তান এই মুহূর্তে আট নম্বরে আর শ্রীলঙ্কা ছয় নম্বরে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর এবং ভারত তিন নম্বর দল। গ্রুপের অন্য দলগুলোর তুলানায় তারা যে পিছিয়ে আছেই বলে মত কোচ গ্রাহাম ফোর্ডেরও। তাই নিজেদের আন্ডারডগ মেনে নিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। লঙ্কান কোচ ফোর্ডের ভাষ্য, আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের মেনে নিতে হবে যে এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে যাচ্ছি। যদিও মাঝে মাঝে এটা খুবই ভাল অবস্থান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারার সঙ্গে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার চামারা কাপুগেদেরা ফেরাতে ভাল একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে দলে। আর এই দলটি নিয়ে যে কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা ফোর্ডের, চমৎকার কিছু খেলোয়াড় আছে আমাদের। আমরা শুধু যে ম্যাচটি সামনে আসবে সেটা নিয়েই ভাবব। একটি ছেড়ে পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তার কোন কারণ দেখি না। বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে গেছে অনেক কঠিন। প্রতিটি দলেই কিছু উচ্চ পর্যায়ের ভাল নৈপুণ্য দেখতে পাই আমরা। আমাদের গ্রুপে যে প্রতিপক্ষরা আছে তাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। ভাল কিছু করার জন্য আমাদের অবশ্যই নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে খেলতে হবে গতবারের শিরোপাজয়ী ভারত, ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে শীর্ষ দুটি দল। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে পারে, এমন ধারণাই করছেন অনেকে। তবে এখনই সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ শ্রীলঙ্কার কোচ ফোর্ড। তিনি এগুতে চান একটা একটা করে ম্যাচ, আমাদের এক সময়ে একটা ম্যাচ নিয়েই ভাবতে হবে। আগেই পরের ম্যাচগুলোর কথা ভেবে কোনো লাভ নেই। বর্তমান সময়ে প্রতিটা ম্যাচই হবে খুব কঠিন। আগামী ৩ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন। এর প্রায় ১৫ দিন আগেই ইংল্যান্ডে এসেছে দলটি। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য এটা দারুণ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন ফোর্ড। এছাড়া ২৬ ও ৩০ মে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এটা আরও ফলপ্রসূ হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে। এ টুর্নামেন্ট উপলক্ষে দলের বোলিং বিভাগকে আরও শাণিত করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার এলান ডোনাল্ডকে পেস বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। ইংল্যান্ডের পরিবেশের কথা বিবেচনায় রেখে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ মিটার উঁচু ভূমিতে ক্যান্ডির পাহাড়ী অঞ্চলে বিশেষ অনুশীলন করেছে লঙ্কানরা। অধিনায়ক ম্যাথুসও তাই দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই দিনকে দিন উন্নতি করছি। আমি নিশ্চিত ছেলেরা আসন্ন যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এটা নিয়ে বাড়তি চাপে থাকার কিছু নেই।

খেলার মাঠে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ প্রিয়তি

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ মাঠে বসে দেখবেন মিস আয়ারল্যান্ড খ্যাত বাংলাদেশি তরুণী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় খেলা দেখা হয়নি তার। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই কথা রেখেছেন। বাংলাদেশের জার্সি পরে মাশরাফি-সাকিবদের সমর্থন দিতে মাঠে বসে খেলা দেখছেন বর্তমানে আয়ারল্যান্ডেই স্থায়ীভাবে বসবাস করা প্রিয়তি। নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিওতে প্রিয়তি বলেন, আমার জার্সি দেখেই বোঝা যাচ্ছে আমি বাংলাদেশ দলকে সাপোর্ট করার জন্য মাঠে এসেছি এবং তাদের দাওয়াতেই মাঠে এসেছি। সো আমি বাংলাদেশ দলকেই সাপোর্ট করবো সব সময়। আমার আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিও শুভ কামনা আছে। তবে আজ আমি বাংলাদেশকেই সাপোর্ট করছি। উল্লেখ্য, এর আগে ৭০০ প্রতিযোগীকে হারিয়ে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ নির্বাচিত হন বাংলাদেশের মেয়ে মাকসুদা প্রিয়তি। একই সঙ্গে তিনি পান ‘সুপার মডেল’ ও ‘মিজ ফটোজেনিক’ খেতাব।

আয়োজনে আগ্রহ নেই বাংলাদেশের

২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। এমনটিই জানিয়েছিল আইসিসি। তবে তা আয়োজনে আপত্তি দেখিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।
বাছাইপর্বের নতুন দেশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্টে এই খবরটি প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বর্তমানে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে সাত নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ২০১৯ বিশ্বকাপের মূলপর্ব একরকম নিশ্চিতই করে ফেলেছে বলা যায়। এজন্যই বাছাইপর্বের ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহ হারিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো বাংলাদেশ থেকে সরে যাওয়ায় পরবর্তীতে আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু আবহাওয়া ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি আইসিসি। শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডই হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আয়োজক। ২০১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ইংল্যান্ড। তবে এই আসরে অংশ নেবে মোট ১০টি দল। যেখানে সরাসরি সুযোগ পাবে ৮টি দেশ। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে দলগুলো ওয়ানডে তালিকার সেরা আটে থাকবে তারাই সুযোগ পাবে। বাকি দুটি দলকে বাছাইপর্বের হার্ডল পার হয়ে আসতে হবে।

অভিষেক ওয়ানডেতে সানজামুলের চমক

অভিষেক ওয়ানডেতে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে চমক দেখিয়েছেন সানজামুল। এড জয়েসকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন এ স্পিনার। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে লং অনে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন আয়ারল্যান্ডের এ ব্যাটসম্যান। এরপর ৪৪তম ওভারেও ভেলকি দেখান তিনি। ব্যারি ম্যাককার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১২ রানে তাকে সাজঘরের পথ ধরান সানজামুল। আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৪৪ ওভারে ৮ উইকেটে ১৭৪।
এর আগে অবশ্য আইরিশদের ভিত্তি নাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন স্টারলিংয়ের উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলেও তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিয়াল ও’ব্রায়েনকে (৩০)। থার্ড ম্যানে তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ হন আইরিশ ব্যাটসম্যান। পরের বলে কেভিন ও’ব্রায়েনের উইকেটটি পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কয়েক ইঞ্চির জন্যে সাব্বির রহমান ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। বাংলাদেশ আউটের আবেদন করলে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল মাটিতে লেগে সাব্বিরের হাতে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ৩১.৪ ওভারে আর ব্যর্থ হননি। কেভিনকে তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন। কেভিন বিদায় নেন ১০ রানে। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর। বিতর্কিত ভাবে দেওয়া এই আউটে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। ৪১ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৬৩ রান আয়ারল্যান্ডের।
এই সিরিজে বাকিরা সাফল্য পেলেও নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব। কিন্ত এই ম্যাচ দিয়ে ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম উইকেট পান সাকিব আল হাসান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে (১২) বোল্ড করেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেন তার আগে নেন আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট। আগের ওভারেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে শর্ট এক্সট্রা কভারে জীবন দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে উইকেটবঞ্চিত করার পর নিজেই সেই আক্ষেপ কাটান তিনি। ক্রিজে শক্তিশালী হয়ে ওঠা আয়ারল্যান্ড অধিনায়ককে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানে আউট হন পোর্টারফিল্ড।
শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরু থেকে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেন করেন মেডেন। আর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তাদের কোনও রান না দিয়ে উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার।
আয়ারল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটিতে ক্রিজে নেমেছিলেন পল স্টারলিং ও এড জয়েস। রুবেলের গতির কাছে সতর্ক হয়ে ৬ বল পার করেন জয়েস। দ্বিতীয় ওভারে প্রথম দুটি বল সামাল দিলেও তৃতীয় বলে মোস্তাফিজের স্লোয়ারে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দেন স্টারলিং।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় হেরেছে তারা।
শুক্রবারের এ ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে সানজামুল ইসলামের। মেহেদী হাসান মিরাজের বদলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ দলে আর কোনও পরিবর্তন নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকের পর এ ম্যাচেই প্রথমবার জাতীয় দল থেকে বাদ পড়তে হলো টেস্ট দলে দুরন্ত অভিষেক হওয়া মিরাজকে।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৮২

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটি হয়েছিল পরিত্যক্ত। বৃষ্টির বাধায় সেরকম কিছুই করে দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু পরের ম্যাচে ভালোভাবেই জবাব দিয়েছে টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের কাছে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ আইরিশদের গুটিয়ে দিয়েছে ১৮১ রানে। ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৮২ রান।
এমন ম্যাচে অভিষেক ওয়ানডেতেই চমক দেখিয়েছেন সানজামুল। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে এড জয়েসকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে লং অনে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন আয়ারল্যান্ডের এ ব্যাটসম্যান। এরপর ৪৪তম ওভারেও ভেলকি দেখান তিনি। ব্যারি ম্যাকার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১২ রানে তাকে সাজঘরের পথ ধরান সানজামুল। বিপর্যস্ত সেই আইরিশদের শেষ দিকে একাই টেনে নিচ্ছিলেন জর্জ ডকরেল।। কিন্তু ৪৭তম ওভারে তাকেও বিদায় করেন অধিনায়ক মাশরাফি। মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৫ রান করেন তিনি। একইওভারের চতুর্থ বলে সেই মুশফিকের হাতেই শেষ ব্যাটসম্যান পিটার চেজকে তালুবন্দী করান মাশরাফি। আয়ারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে।
এর আগে অবশ্য আইরিশদের ভিত্তি নাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন স্টারলিংয়ের উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলেও তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিয়াল ও’ব্রায়েনকে (৩০)। থার্ড ম্যানে তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ হন আইরিশ ব্যাটসম্যান। পরের বলে কেভিন ও’ব্রায়েনের উইকেটটি পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কয়েক ইঞ্চির জন্যে সাব্বির রহমান ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। বাংলাদেশ আউটের আবেদন করলে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল মাটিতে লেগে সাব্বিরের হাতে গেছে। সেই মোস্তাফিজ ৩১.৪ ওভারে আর ব্যর্থ হননি। তার বলে কেভিনকে তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন। কেভিন বিদায় নেন ১০ রানে। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর। বিতর্কিতভাবে দেওয়া এই আউটে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম।
এই সিরিজে বাকিরা সাফল্য পেলেও নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব। কিন্ত এই ম্যাচ দিয়েই ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম উইকেট পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে (১২) বোল্ড করেন। মোসাদ্দেক হোসেন তার আগে নেন আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট। আগের ওভারেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে শর্ট এক্সট্রা কভারে জীবন দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে উইকেটবঞ্চিত করার পর নিজেই সেই আক্ষেপ কাটান তিনি। ক্রিজে শক্তিশালী হয়ে ওঠা আয়ারল্যান্ড অধিনায়ককে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানে আউট হন পোর্টারফিল্ড।
শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুটা দারুণভাবেই করে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেন করেন মেডেন। আর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তাদের কোনও রান না দিয়েই উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার। সেই মুস্তাফিজই ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি ৬.৩ ওভারে ১৮ রানে দুই্ উইকেট ও ৫ ওভারে ২২ রান খরচে দুই উইকেট নেন সানজামুল। আর একটি করে নেন মোসাদ্দেক ও সাকিব আল হাসান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ১২ আম্পায়ার, ৩ ম্যাচ রেফারি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর্দা উঠবে আগামী ১ জুন । আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। ১ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই।
ম্যাচ পরিচালনার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ সদস্যের এলিট আম্পায়ারিং প্যানেলের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি।এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা হলেন-আলীম দার, কুমার ধর্মাসেনা, মারাইস এরাসমাস, ক্রিস গ্রাফানে, ইয়ান গৌল্ড, রিচার্ড ইলিংয়র্থ, রিচার্ড ক্যাটেলবারোহ, নাইজল লং, ব্রছ অক্সেনফোর্ড, সুন্দারাম রবি, পল রাইফেল ও রড টাকার। আর এতে ম্যাচ রেফারি থাকবেন ৩ জন। তারা হলেন-ক্রিস ব্রড, ডেভিড বুন ও অ্যান্ডি পাইক্রফট। শুধু মূল আসর নয়, ওয়ার্মআপ ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করবেন তারা। পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছেন ২০০৯ ও ২০১১ সালে সেরা আম্পায়ারের পুরস্কার পাওয়া আলীম দার। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যাচ পরিচালনা করবেন। দ্বিতীয়বারের মতো নাম লিখালেন ধর্মাসেনা, ইরাসমাস, কাটেলবারোহ, লং, অক্সেনফোর্ড এবং টাকার। এবারই অভিষেক হতে যাচ্ছে গ্রাফানে, ইলিংয়র্থ, রবি ও রাইফেলের। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ওভালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন সুন্দারাম রবি ও রড টাকার। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অক্সেনফোর্ড ও গ্রাফানে। ম্যাচ রেফারি হিসেবে থাকবেন বুন।
৫ জুন ওভালে খেলবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন নাইজেল লং ও ক্রিস গ্রাফেনি। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয় ও সুন্দারাম রবি চতুর্থ আম্পায়ার থাকবেন। ম্যাচ রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৯ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। কার্ডিফে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন নাইজেল লং ও ইয়ান গৌল্ড। তৃতীয় আম্পায়ার আলীম দার, চতুর্থ আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংয়র্থ। এই ম্যাচেও রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড।
এদিকে আইসিসির মূলমঞ্চে মাঠে নামার আগে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইলিংয়র্থ ও রাইফেল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইরাসমাস ও লং। প্রসঙ্গত, দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের আম্পায়ার নির্বাচন করেনি আইসিসি।

বিসিবির নির্বাচন : বাদ পড়ছেন চারজন, নতুন মুখ তিন!

চার বছর আগে এ সময়ে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। হই চই হয়েছে যথেষ্ট। ক্রিকেট পাড়ায় অনেক গুঞ্জন আর জল্পনা-কল্পনার ফানুসও উড়েছে। ২০১৩ সালের শুরু থেকেই বিসিবি পরিচালক পর্ষদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছিল।

দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম রূপকার সাবের হোসেন চৌধুরী ঘটা করেই বিসিবি প্রধান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। তার সে ইচ্ছার কথা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারও হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আর নির্বাচন করেননি।

দেখতে দেখতে সময় গড়িয়ে আবার বিসিবির নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলো। ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর নির্বাচন হবার দিন থেকে হিসেবে করলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান বিসিবি পরিচালক পর্ষদের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর।

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে হিসেব করলে আর চার মাস বাকি। তার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করেই হোক কিংবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই হোক, একটা পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতেই হবে; কিন্তু এবার আগের মত সে রকম উত্তেজনা নেই। হই চই কিংবা শোরগোল নেই বললেই চলে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তেমন কোন সাড়া শব্দ নেই কেন? খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। উত্তর একটাই- এবার সে অর্থে কেউ বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন না। ২০১৩ সালের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সাবের হোসেন চৌধুরী একাধিকবার মিডিয়ার সামনে এসেছেন এবং অনেক কথার ভিড়ে বোর্ড প্রধান পদে নির্বাচন করার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

কিন্তু এবার তিনি নিশ্চুপ। বিসিবি পরিচালক পর্ষদে নির্বাচন করার কোন সম্ভাবনাই নেই। আর কোন প্রার্থীর কথাও সেভাবে শোনা যাচ্ছে না। এক সময় সরকারি দলের সাংসদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক গাজী গ্রুপের স্বত্বাধিকারী গাজী গোলাম দস্তগীরের কথা শোনা গিয়েছিল। ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন ছিল, তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতেও পারেন।

এমনও শোনা গেছে ঢাকার ৫৮ কাউন্সিলরের প্রায় ১৮ থেকে ২০টি কাউন্সিলর তার পক্ষে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সে উত্তাপ কমেছে। এখন পর্যন্ত গাজী গোলাম দস্তগীরের নির্বাচন করার তেমন তোড়জোড় চোখে পড়ছে না।

ক্রিকেট পাড়ায় কারো মুখে শোনা যাচ্ছে না, ‘দস্তগীর ভাই (গাজী গোলাম দস্তগীর) নির্বাচন করবেন না। বরং শোনা যাচ্ছে বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সমর্থনপুষ্ট প্যানেলেই থাকছেন তার পুত্র গাজী গোলাম মর্তুজা। প্রসঙ্গতঃ গোলাম মর্তুজা এখনো বোর্ড পরিচালক এবং বিসিবির অন্যতম স্ট্যান্ডিং কমিটি সিসিডিএমের প্রধান।

শেষ খবর, বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য এবং নামী ক্রিকেট সংগঠক বোর্ড প্রধান পদে দাঁড়ানোর ইচ্ছে ব্যক্ত করেননি। কারো নামও শোনা যাচ্ছে না। ঢাকার ক্লাব পাড়া, জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, প্লেয়ার্স ও সার্ভিসের কেউ সভাপতি পদে না দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত এবারও হয়ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিসিবি প্রধান নির্বাচিত হয়ে যাবেন নাজমুল হাসান পাপন।

শুধু তাই নয়। এবার অন্য পদগুলোতেও সে অর্থে বিরোধী পক্ষ থেকে কারো দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, কাউন্সিলরদের মূল ও বড় অংশ বর্তমান সভাপতির সমর্থনপুষ্ট প্যানেলের সঙ্গে। তবে এবার বর্তমান পরিচালক পর্ষদে রদবদলের সম্ভাবনা আছে।

বর্তমান পরিচালকদের অন্তত চারজনের না থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি। এর মধ্যে অন্যতম পরিচালক নাজমুল করিম টিংকু সদ্য প্রয়াত। তার জায়গা খালি হয়ে গেছে। এখানে একজনের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত।

এছাড়া আহমেদ ইকবাল হাসানও বোর্ডে প্রায় আসা ছেড়েই দিয়েছেন। জানা গেছে, বেশ অনেক দিন তিনি বোর্ড সভায়ও থাকছেন অনুপস্থিত। তারও পরবর্তী প্যানেলে জায়গা পাবার সম্ভাবনা খুব কম।

এর বাইরে শওকত আজিজ রাসেলের না থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে জোড়েশোরে। প্রসঙ্গতঃ শওকত আজিজ রাসেল পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার  এমএ হাসেমের পুত্র এবং সাবেক বোর্ড কর্মকর্তা আজিজ আল কায়সার টিটোর ছোট ভাই।

সম্ভাব্য বাদ পড়াদের তালিকায় দু’জন নামী ও হাই-প্রোফাইল পরিচালকও ছিলেন। যার একজন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। অভিষেক টেস্টের এই অধিনায়কের সঙ্গে বর্তমান বোর্ড প্রধানের দূরত্ব ছিল ওপেন সিক্রেট। তবে অতি সম্প্রতি সে দূরত্ব কেটে গেছে এবং নাঈমুরের আগামী বোর্ডে থাকা মোটামুটি নিশ্চিত।

এছাড়া না থাকাদের দলে আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির নামও শোনা যাচ্ছে। আবাহনী তথা দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে তিন যুগের বেশি সময় ধরে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির নাম। বিনয়ী, সদালাপী, বিচক্ষণ ও ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড দক্ষ ববির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এ নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে ৯০-এর দশকের প্রথম দিকে বিএনপির সময়ও বোর্ডের যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোদ্ধা মহিউদ্দীন আহমেদের পুত্র ববি পারিবারিকভাবেও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহভাজন।

তারপরও বর্তমান বোর্ডে তেমন কোন উচ্চপদে নেই এ পরীক্ষিত ক্রিকেট সংগঠক। তাই তার এবারের বোর্ডে থাকা নিয়েও আছে সংশয়। তবে অনেকের মত, শেষ পর্যন্ত নিজের মেধা-যোগ্যতা, সততার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে থাকবেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম। তিনজন বাইরে থাকার অর্থ সমান সংখ্যক পরিচালকের অন্তর্ভুক্তি।

এখানে তিনজনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে খুব বেশি। তারা হলেন ওবায়েদ নিজাম, মোকসদুর রহমান বাদল এবং তানভির আহমেদ টিটু। ওবায়েদ নিজাম প্রায় এক যুগ ধরে নানাভাবেই ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

ওল্ডডিওএইচএস ক্লাবের পরিচালনা দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের বন্ধুস্থানীয় ওবায়েদ নিজাম আগেরবার বিপিএলে ঢাকা ডাইনাইটসের সিইও হিসেবে কাজ করেছেন।

এছাড়া মোকসদুর রহমান বাদল হচ্ছেন ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের ক্রিকেট কমিটির বর্তমান সভাপতি (নাজমুল হাসান পাপনের ফুফাতো ভাইও)। আর তানভির আহমেদ টিটু নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। এ তিনজনের অন্তর্ভুক্তি মোটামুটি নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।

১৭ বছর পর শিরোপার স্বাদ পেল মোনাকো

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের শিরোপা জিতল মোনাকো। বুধবার নিজেদের মাঠে সেন্ত এতিয়েনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিওনার্দো জারদিমের শিষ্যরা। এ জয়ে অবসান হল প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) টানা চার বছরের রাজত্বের।

ম্যাচ ড্র অথবা জিতলেই চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণ নিয়ে ঘরের মাঠে খেলতে নামে মোনাকো। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ শিবিরে একের পর এক আক্রমণ করে খেলতে থাকে দলটি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এমবেপে। ফ্যালকাওয়ের পাস থেকে বল জালে জড়ান ফ্রেঞ্চ এই তারকা।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। অবশেষে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জার্মেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ফলে জয়ের আনন্দ দিয়েই শিরোপা উৎসবে মাতে মোনাকো।

২০ রানের আক্ষেপ মাশরাফির

সুযোগ ছিল দেশের বাইরে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ড হারানো। তবে জুটি গড়েও তা বড় না করার আক্ষেপটাই শেষ পর্যন্ত রয়ে গেল মাশরাফির। আর তাই দেশের বাইরে অধরাই থেকে গেল নিউজিল্যান্ড বধ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের জয়ের আশা নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। সৌম্য, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে প্রথমে ব্যাট করে ২৫৭ রান করে টাইগাররা। জবাবে ১৫ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে হতাশ মাশরাফি বলেন, ‘সৌম্য রান করেছে, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহও রান পেয়েছে। টপ অর্ডারে তামিম ও সৌম্য ভালো জুটি গড়েছে। তবে আমরা জুটিগুলোকে বড় করতে পারিনি। আউট হয়ে গেছি। ব্যাটিংয়ে আমাদের ২০ রানের ঘাটতি ছিল।’

বোলিংয়ে মাশরাফির ছিল বাজে দিন। সহায়ক উইকেটেও বিবর্ণ ছিলেন সাকিব ও মিরাজ। তাই রানের পাশাপাশি বোলিং নিয়েও সন্তুষ্ট নন টাইগার অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে আমার বোলিং আরও ভালো হতে পারত, আমি পারিনি। মোস্তাফিজ ভালো করেছে। রুবেলও দারুণভাবে ফিরেছে। তবে বোলিংয়ে শুরুতে উইকেট নিতে হবে।’

পিসিবিকে এবার হুমকি দিলেন নাসির জামশেদ

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাসির জামশেদের বিরুদ্ধে স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। আপাতত সাময়িক নিষিদ্ধ রয়েছেন। লন্ডনে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছিল, অ্যান্টি-করাপশন কোড ভাঙায় নাসির জামশেদকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে পিসিবি।

পিসিবির অভিযোগের বিরুদ্ধে আগেই চ্যালেঞ্জ জানানোর কথা জানিয়েছিলেন জামশেদ। এবার তো বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিই দিলেন পাকিস্তানি এই ক্রিকেটার। জামশেদের অভিযোগ, পিসিবি তার নামে অপবাদ ছড়াচ্ছে।

গতকাল বুধবার নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে জামশেদ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে পিসিবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। ভিডিওর পাশে লিখেছেন, ‘আমার নীরবতার সুযোগ নিচ্ছে পিসিবি। সময় এসেছে জবাব দেয়ার। সময় এসেছে তাদের আদালতে নেয়ার।’

নাসির জামশেদ নিজেদের অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘পিসিবি আমার সঙ্গে যা করছে, তা অনুচিত। আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এখানেই শেষ নয়, পিসিবি আমার নামে অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমি বিপিবির কাছে অনুরোধ রেখেছি, তারা যেন প্রমাণ হাজির করে। জনসম্মুখে আমি তাদের প্রমাণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই। পেশাদার ক্যারিয়ার বলতে কিছু আছে। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এসব প্রভাব ফেলছে। আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। এর জন্য পিসিবিকে আদালতে নেয়ার ইচ্ছাও রয়েছে।’

জরিমানা গুনলেন উমর-জুনায়েদ

ঘটনাটি গত এপ্রিলের। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান কাপের একটি ম্যাচ নিয়ে বাগযুদ্ধে জড়ান পাঞ্জাবের দুই ক্রিকেটার উমর আকমাল ও জুনায়েদ খান। তাদের এই বাগযুদ্ধ মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করে। নজরে আসে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। ঘটনাটি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষ।

বোর্ড চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় ওই কমিটি। পাশাপাশি দুজনকে সতর্কও করেছিল। অপেক্ষা ছিল সিদ্ধান্তের। সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। উমর আকমল এবং জুনায়েদ খানকে ম্যাচ ফি`র ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে পিসিবি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গত মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান কাপে অসদাচরণের কারণে উমর আকমল এবং জুনায়েদ খানকে ম্যাচ ফি`র ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে পিসিবি। দুজনকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এক মাস তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সময়টা শুরু ১৮ মে থেকে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে এক মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে উমর-জুনায়েদ।’

ঘরোয়া লিগে পাঞ্জাবের অধিনায়ক উমর। পাঞ্জাব-সিন্ধুর ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে একাদশ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় অধিনায়ক উমরকে। উমর জানান, ম্যাচটিতে পেসার জুনায়ের খানের পরিবর্তে খেলবেন অলরাউন্ডার নাসির নজীর।

পাঞ্জাব অধিনায়ক বলেন, ‘মাঠে প্রবেশের সময় আমি জানতে পারি, সে (জুনায়েদ খান) এখানে অনুপস্থিত। আমি খুব অবাক হয়েছি। ম্যানেজার এবং কোচ আমাকে জানান, জুনায়েদ আজ খেলবে না। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য বিস্ময়ের।’

কিছুক্ষণ পর জুনায়েদ এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘উমার আকমল মাত্র বলল আমি ম্যাচ থেকে পালিয়ে এসেছি- এটা শুনে আমি খুবই হতাশ। সত্যি ব্যাপারটি হচ্ছে, আমি খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যায় ভুগছি। আমি বিষয়টা দলকে জানিয়েছি এবং তারা আমাকে বিশ্রাম নিতে বলেছেন।’

জুনায়েদের সেঞ্চুরিতে মোহামেডানকে হারাল ব্রাদার্স

চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে দারুণ ফর্মেই রয়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। আবাহনীর বিপক্ষে পেয়েছিলেন সেঞ্চুরির দেখা। ওই ম্যাচে তার দুর্দান্ত সেই ইনিংসটি (১১৪ রান) গিয়েছিল ভেস্তে। আবাহনীর কাছে হেরে যায় জুনায়েদের দল ব্রাদার্স ইউনিয়ন (৩২ রানে)।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আবাহনীর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন জুনায়েদ। এবার আর আক্ষেপ নয়, স্বস্তিই পেয়েছেন তিনি। জুনায়েদের দল পেয়েছে বড় জয়। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে মোহামেডানকে ১১৯ রানে হারাল ব্রাদার্স।

বিস্তারিত আসছে…

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের হার

ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরেছে বাংলাদেশ দল। কিউইদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরাস্ত হতে হয় ৪ উইকেটে। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের কোনটার্ফ ক্রিকেট কাব গ্রাউন্ডে ২৫৮ রানের ল্য ছুড়ে দিয়ে শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডকে চেপে ধরার চেষ্টা করে মাশরাফিবাহিনী। কিন্তু ১৫ বল বাকি রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ড এক পর্যায়ে ৩০.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান তুলেছিল। এখান থেকে দলকে জয়ের পথ দেখান নেইল ব্রুম ও জিমি নিশাম। তারা পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১২.২ ওভার ব্যাট করে ৮০ রান তুলে নেন। দলীয় ২২৭ রানে রুবেলের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরে যান ব্রুম। তিনি ৬৫ বলে তুলে নেন ৪৮ রান। রুবেল হোসেন দারুণ বল করেছেন। তিনি কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকেও আউট করেন। নিশাম ৪৮ বলে ৫২ রান করে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফির বলে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন মোসাদ্দেক হোসেনকে। ১৪ রানের ব্যবধানে এই দুই সেট ব্যাটসম্যানকে আউট করে ম্যাচে নাটকীয় কিছু করার চেষ্টা করেন রুবেল-মাশরাফিরা। কিন্তু দ্রুতই অবশিষ্ট ১৭ রান তুলে নেন কলিন মুনরো (১৪ বলে ১৬ রান) ও মাইকেল সেন্টনার (৩ বলে ৫ রান)। ফলে হেরেই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ফলে দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট টাইগারদের।
কিউইদের বিরুদ্ধে চেনা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে বল করতে পারেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের বিপে লুক রনকিকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রুটা এনে দেন তিনি। এরপর ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন রস টেলরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে। ৩১তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম দুই বলেই পরাস্ত করেন রস টেলরকে। তৃতীয় বলে দারুণ লেন্থে ডেলিভারি দিলেন মোস্তাফিজ। আবারও পরাস্ত টেলর। এবার জোরালো আবেদন। তাতেই সাড়া দিয়ে দিলেন আম্পায়ার। ৪০ বলে ২৫ রান করে আউট হলেন টেলর।
এর আগে দারুণ এক ডেলিভারিতে রুবেল মনে করালেন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপে করা সেই দুটি ডেলিভারিকে। যে দুটি সবার চোখে ভাসার কথা। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপে দুই ইয়র্কারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড আর জেমস অ্যান্ডারসনের উইকেট। সেভাবে হয়তো স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেননি, তবে তেমনই একটি আনপ্লেবল ডেলিভারি দিলেন রুবেল হোসেন। ডাবলিনের কোনটার্ফ ক্রিকেট কাব গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের বিপে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে অসাধারণ ডেলিভারিতে সাজ ঘরে ফেরালেন বাংলাদেশের এই পেসার। ৬৪ বলে ৫৪ রান করে ফেলেছিলেন টম ল্যাথাম। ইনিংস ওপেন রকতে নেমে এক প্রান্তে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট করে যান তিনি। লুক রনকি আর জর্জ ওয়ার্কার আউট হয়ে গেলেও কিউইদের কাঙ্খিত ল্েয পৌঁছে দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ২১তম ওভারের তৃতীয় বলটিতে এমন ডেলিভারি দিলেন রুবেল, যেটা বুঝতেই পারেননি ল্যাথাম। ব্যাটের ভেতরের কানায় লাগিয়ে দিলেন। ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে গেলো উইকেটরক মুশফিকের হাতে।
এর আগে ডাবলিনের কোনটার্ফ ক্রিকেট কাব গ্রাউন্ডে ২৫৮ রানের ল্য ছুড়ে দিয়ে শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডকে চেপে ধরার অব্যাহত চেষ্টা ছিল বাংলাদেশ দলের বোলারদের। অব্যাহত চাপের মুখে অবশেষে সপ্তম ওভারে এসে দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিউই দলের ওপেনার লুক রনকিকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। বল করতে এসে দুই কিউই ওপেনারকে কাটার, স্লোয়ার দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন মোস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে এসে সফল হন। দারুণ এক স্লোয়ার দিলেন মোস্তাফিজ। বুঝতে না পেরে ব্যাট পেতে দেন লুক রনকি। ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল হাওয়ায় ভেসে ওঠে। মিড অফে দাঁড়িয়ে থেকেই ক্যাচটি তালুবন্দি করে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে মোটামুটি বিধ্বংসী হয়ে উঠছিলেন রনকি। ২৭ বলে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। চারটি বাউন্ডারির সঙ্গে মারেন একটি ছক্কার মার। টম ল্যাথামকে নিয়ে গড়েন ৩৯ রানের জুটি। এরপর সাব্বিরের দুর্দান্ত এক থ্রুতে রান আউটে কাটা পড়েন জর্জ ওয়ার্কার। কিউই এই ব্যাটসম্যান করেন ১৭ রান।

শেরে বাংলায় নতুন মাটির ওপরে নতুন ঘাস

সবার জানা, এবার শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়র লিগ হচ্ছে না। তার বদলে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এবং বিকেএসপির তিন ও চার নম্বর মাঠে নিয়মিত চলছে লিগের ম্যাচগুলো।

কেন মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে লিগ হচ্ছে না? সে কারণও মোটামুুটি জানা- হোম অব ক্রিকেটের আউটফিল্ডের সংস্কার ও পরিচর্যার কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করা হয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ। এখনও চলছে সেই কাজ। স্টেডিয়াম সংস্কার কাজের কী অবস্থা, কিভাবে চলছে আউটফিল্ড প্রস্তুতির

একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিচর্যা ও সংস্কার কাজের প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে চলে আসে পিচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কথা। প্রথমেই জানিয়ে রাখি, ২০০৫ সালে নির্মিত শেওে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যাধুনিক।

এবার যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হলো, সেখানে পিচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কোন কাজ হয়নি। কাজ করার প্রয়োজনও ছিল না। পিচ রয়েছে আগের মতই। পাশাপাশি যে পাঁচ-ছয়টি উইকেট আছে, তা সম্পুর্ণ অক্ষত রেখেই শুরু হয় মাঠের সংস্কার কাজ।

stadium

সেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যাধুনিক ও কার্যকর আছে। তাই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও কাজ হয়নি। মূলতঃ কাজ হয়েছে আউটফিল্ডের ওপরের স্তরের মাটি উপড়ে নতুন মাটি ও বালুর মিশ্রনে ওপরের ছয় ইঞ্চি আবরণ নতুন করে নির্মাণ। আর সাথে পুরনো ঘাস উপড়ে ফেলে দিয়ে নতুন দূর্বা ঘাস লাগানো।

সর্বশেষ খবর, ওপরের ছয় ইঞ্চি স্তরের মাটি অপসারণ এবং নতুন মাটি ও বালুর সংমিশ্রনের কাজ শেষ হয়েছে মাস খানেক আগেই। এরপর ঘাস লাগানোর কাজও শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। সর্বশেষ অবস্থা, মানে আজকের শেরে বাংলার অবস্থা  হলো- ঘাস লাগানো শেষে মাঠের ৩০ গজে নতুন সবুজ মিহি দূর্বা ঘাস গজাতে শুরু করেছে।

প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে (ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়েছিল প্রাথমিক কাজ। ধারনা করা হচ্ছে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে আবার মুখর হয়ে উঠবে শেওে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

এর আগে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হলো, তা নিয়ে  সাথে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটি চেয়ারম্যান হানিফ ভুঁইয়া। আলোচনার শুরুতেই হানিফ ভুঁইয়া জানালেন, আমরা হুট করেই কাজে হাত দেইনি। একটা সুদুরপ্রসারি লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় মাঠের কাজ শুরু করেছি। কাজ শুরুর পর আমরা স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগিয়েছি এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রথম দেশি দূর্বা ঘাসের ব্যবহার করা হয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামে।

কাজের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন হয়েছেন জানিয়ে হানিফ ভুঁইয়া বলেন, ‘মূল কাজে হাত দেবার আগে আমরা ও বিসিবির কিউরেটর কিংবা স্থানীয় বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন হইনি। আমরা লক্ষ্য করেছি, দেশের সব কটি মাঠের মত হোম অব ক্রিকেট শেরে বাংলার আউটফিল্ডের চেহারাও কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে উঠছে। ঘাসের ঔজ্জ্বল্যে মিহি ভাব কমে কেমন যেন খাপছাড়া লাগতো। তাই মাঠে কী ধরনের কাজ প্রয়োজন, তা জানতে বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি সর্বপ্রথম  অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ সিয়াম স্মিথের সরণাপন্ন হই। যাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ল্যাবো স্পোর্টস। এ বছরের শুরুর দিকে, গত ১৫ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ ঢাকা আসেন এবং শেরেবাংলার মাঠ খুঁটিয়ে দেখেন। তারপর কি কি করনীয়, সে সম্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মাঠের সংস্কার কাজে হাত দেয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি এই মাঠের সংস্কার ও পরিচর্যার কাজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে পাঠকরা আগেই জেনে গিয়েছিলেন, শেরে বাংলার অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা একদম ঠিক ও কার্যকর আছে। তাতে হাত দেবার প্রয়োজন নেই।

আজ বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি প্রধানও সেটা জানালেন। পুরো মাঠের নির্মাণ শৈলি ও ড্রেনেজ সিস্টেমে হাত দেয়া হয়নি। শুধু আউট ফিল্ডের ওপরের স্তরের ৬ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি কেটে নতুন মাটি ফেলা হচ্ছে। তাতে করে ওপরের স্তরে চেপে বসা বালু সরে যাবে। মাঠ আরও সজীব সতেজ হয়ে উঠবে।

Stadium

হানিফ ভুঁইয়া আরও জানান, মাঝে কন্ট্রাক্টদের গড়িমসি ও গাফিলতিতে মাঠের ওপরের স্তরের মাটি উপড়ে নতুন মাটি ফেলার কাজে একটু বিলম্ব হয়েছে। সেটা দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তিন মাস লেগেছে। এরপর শুরু হয় ঘাস লাগানোর কাজ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন এবং অস্ট্রেলিয়া সিডনি স্টেডিয়াম থেকে এনে ঘাস লাগানোর কথা শোনা গেলেও হানিফ ভুঁইয়া জানান, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কচি মিহি দূর্বা ঘাসই লাগানো হয়েছে।

গত ১মে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাস লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘাস লাগানো শেষ হবার পর খেলা উপযোগি হতে অন্তত ১০ সপ্তাহ সময় লাগে। এর অর্থ, মে-জুন শেষে জুলাইয়ের মাঝামাঝি শেরে বাংলার ঘাসের ওপর দিয়ে দৌড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিশাল কর্মযজ্ঞর শুরু অসি বিশেষজ্ঞর প্রেসক্রিপশন মেনে; কিন্তু কাজ হয়েছে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তত্ত¡াবধান ও পরামর্শে। হানিফ ভুঁইয়া জানান, প্রকৌশল ও  কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক কাজ করেছেন। তাদের পরামর্শও নেয়া হয়েছে। এরকম একটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কত খরচ হতে পারে?

এ প্রশ্ন করা হলে বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি প্রধান জানালেন, ‘সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার মত খরচ হচ্ছে।’

হানিফ ভুঁইয়া আর কিছু না জানালেও ভিতরের খবর, অসি বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনা জমা দেয়ার আগে স্থানীয় মাঠ পরিচর্যা ও সংস্কার নির্মাতা এক প্রতিষ্ঠান এই কাজে সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্য হাঁকিয়ে বসেছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিন ভাগের এক ভাগ অর্থে এ কাজ সম্পাদিত হচ্ছে।

হানিফ ভুঁইয়া সে জন্য কৃতিত্ব দাবি না করলেও বোর্ডের অভ্যন্তরে তাকে বিশেষ সাধুবাদ জানানো হয়েছে। বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কিছু দিন আগেও কক্সবাজার স্টেডিয়ামে ঘাস লাগানো বাবদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২২ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছে। আর শেরে বাংলার বিশাল আউটফিল্ডে ঘাস লাগাতে কোন বাড়তি অর্থই খরচ হয়নি বলতে গেলে।

হোম অব ক্রিকেটের মাঠ কর্মীরাই সে কাজ করে দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। এই প্রথম বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি নিজেদের অর্থায়ন ও উদ্যোগে একটি নার্সারিও করতে যাচ্ছে। যা বোর্ডে অনুমোদন পেয়েছে।

হানিফ ভুঁইয়া  জানালেন, ‘সব প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তিরই নিজস্ব নার্সারি আছে। আমাদের ছিল না। আমরা কক্সবাজার স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি নার্সারি গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করছি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ঈদের ছুটির পর ঐ নার্সারি তৈরির কাজে হাত দেয়া হবে। তারপর সেখান থেকে দেশের সব স্টেডিয়ামে ঘাসের চারা সরবরাহ করা হবে। আর ঘাসের জন্য বিদেশে ছোটাছুটি করতে হবে না। বিপুল অর্থও ব্যয় হবে না।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরছেন মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এ ম্যাচে নেতৃত্বে ফিরছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ডাবলিনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটা ৪৫ মিনিটে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টিভি ও মাছরাঙ্গা টিভি।

শ্রীলঙ্কা সফরে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে স্লো ওভার রেটের কারণে অধিনায়ক মাশরাফিকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি ওয়ানডে অধিনায়কের।

এদিকে মাশরাফি দলে ফেরায় একটি পরিবর্তন নিশ্চিত বাংলাদেশ শিবিরে। তিন পেসার নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামলে বাদ পড়বেন আগের ম্যাচে সুযোগ পাওয়া রুবেল হোসেন। আর চার পেসার নিয়ে খেললে সে ক্ষেত্রে একাদশ থেকে বাদ পরতে পারেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

উল্লেখ্য, নিজেদের খেলা একমাত্র ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে পূর্ণ চার পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার প্রথমস্থানে অবস্থান করছে কিউইরা। অপরদিকে, বৃষ্টি বাগড়ায় ভেস্তে যাওয়া ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে অবস্থান মাশরাফি-সাকিবদের।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ/ রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে গড়িয়েছে ম্যাচটি। এই ম্যাচে ফিরেছেন টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশের বাইরে ছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। মাশরাফিকে জায়গা করে দিতে একাদশ থেকে ছিটকে গেছেন তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশ একাদশ :  মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : টম লাথাম (অধিনায়ক), লুক রনকি, নেইল ব্রুম, জর্জ ওয়ার্কার, রস টেলর, কলিন মুনরো, জিমি নিশাম, সেথ রেনস, মিচেল স্যান্টনার, ইস সোধি ও হামিশ বেনেত।

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ আগামীকাল

ত্রিদেশীয় সিরিজের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি। এটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার মিশনও। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ক’টি ম্যাচে পরাজিত হয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হাতুরুসিংহের দল। কারণ ভারতে আইপিএলের ম্যাচ খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিউজিল্যান্ড দলের বেশকিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে ৮ জয়ের বিপরীতে ২০ ম্যাচে হেরেছে টাইগাররা। দেশের বাইরে কিউইদের বিপক্ষে এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে ম্যাচ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। তবে এবার ভালো সুযোগ রয়েছে মাশরাফি বাহিনীর। কারণ টাইগারদের তুলনায় কিউইদের দলে অভিজ্ঞদের সংখ্যা কিছুটা কম। ভারতে আইপিএল খেলতে অনেক কিউই খেলোয়াড় এখন ব্যস্ত আছেন। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেতে বেশ ঘাম ঝড়াতে হয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাছাড়া নিরপেক্ষ ভেন্যূতে খেলা বলেই ম্যাচ জয়ে আত্মœবিশ্বাসী হতেই পারে মাশরাফির দল।

উমর-জুনায়েদকে সতর্ক করল পিসিবি

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটার- উমর আকমল ও জুনায়েদ খান। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য পাকিস্তান দলেও রয়েছেন এই দুই ক্রিকেটার। কিন্তু তাদের আচরণ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

উমর-জুনায়েদকে আচরণে উন্নতি আনতে বলেছে বোর্ড। যদি তারা আচরণ না শোধরান, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে। উমর-জুনায়েদকে এমন সতর্কবার্তাই দিল পিসিবি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, জুনায়েদ এবং আকমলকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তাদের আচরণে উন্নতি দেখা না গেলে বড় ধরনের শাস্তিই পাবেন। আর ভালো আচরণ দেখাতে পারলে শাস্তি এড়াতে সক্ষম হবেন।’

উমর-জুনায়েদকে পিসিবির এমন সতর্কবার্তা কেন? গত মাসে বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন দুজন। পাকিস্তান ঘরোয়া লিগে উমর আকমলের দল পাঞ্জাব প্রভিন্সের বিপক্ষে সিন্ধুর খেলার সময়। দুজনই খেলেছেন একই দলে। পাঞ্জাবের অধিনায়ক উমর। পাঞ্জাব-সিন্ধুর ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে একাদশ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় অধিনায়ক উমরকে। উমর জানান, ম্যাচটিতে পেসার জুনায়ের খানের পরিবর্তে খেলবেন অলরাউন্ডার নাসির নজীর।

পাঞ্জাব অধিনায়ক বলেন, ‘মাঠে প্রবেশের সময় আমি জানতে পারি, সে (জুনায়েদ খান) এখানে অনুপস্থিত। আমি খুব অবাক হয়েছি। ম্যানেজার এবং কোচ আমাকে জানান, জুনায়েদ আজ খেলবে না। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য বিস্ময়ের।’

কিছুক্ষণ পর জুনায়েদ এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘উমার আকমল মাত্র বলল আমি ম্যাচ থেকে পালিয়ে এসেছি- এটা শুনে আমি খুবই হতাশ। সত্যি ব্যাপারটি হচ্ছে, আমি খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যায় ভুগছি। আমি বিষয়টা দলকে জানিয়েছি এবং তারা আমাকে বিশ্রাম নিতে বলেছেন।’

তাদের এই বাগযুদ্ধ মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করে। নজরে আসে পিসিবির। ঘটনাটি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত শেষ। বোর্ড চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে ওই কমিটি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তার আগে কমিটি ইতোমধ্যে দুজনকে সতর্ক করে দিয়েছে। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, বর্তমান আচরণ সন্তোষজনক না হলে শাস্তির কবলে পড়বেন উমর-জুনায়েদ।

অস্ট্রেলিয়া দলকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির প্রধান শন ক্যরোলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশে সফর করলে তাদের নিরাপত্তায় আশ্বস্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তারা মনে করেছে বাংলাদেশ সবসময় সেভ। সেজন্য তারা খেলতে আসছে।

তারা জানতে চায় তাদের আমরা ইংল্যান্ডের মতো নিরাপত্তা দেবো কিনা? তাদের আমরা বলেছি বাংলাদেশ স্পোর্ট লাভিং কান্ট্রি। খেলার জন্য সবকিছুই করে এদেশের মানুষ। শুধু জনগণ নয় খেলাকে প্রমোট করার জন্য প্রধানমন্ত্রীও যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আর উনি ক্রিকেট লাভার এটা সবাই জানে।

তাদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু ইংল্যান্ডের মতো নয়, অস্ট্রেলিয়া যে ধরনের নিরাপত্তা চাইবে সে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার বলে জানান তিনি।

স্টুয়ার্ট লকে জরিমানা

পাকিস্তানের কাছে দিনের খেলা এক ওভার বাকি থাকতে নাটকীয়ভাবে হেরে প্রথমবারের মত নিজেদের মাটিতে সিরিজ হারের স্বাদ পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় জরিমানা করা হয়েছে ক্যারিবীয় কোচ স্টুয়ার্ট লকে।

শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ইয়াসির শাহর বল শেন ডোরিচের ব্যাট-প্যাডে লেগলে বাবর আজম ক্যাচ নেন। আম্পায়ার ব্রুস অক্সেনফোর্ডও আউট দেন। তবে রোস্টন চেজের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিও চান ডোরিচ। রিপ্লেতে পরিষ্কার বোঝা না গেলেও মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন তৃতীয় আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো।

এরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ল তৃতীয় আম্পায়ারের রুমে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ কারণেই আইসিসি তার ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। ল শাস্তি মেনে নেওয়ায় কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

উদ্বোধনী জুটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চারদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দারুণ এক কীর্তি গড়লেন ভারতের দুই ব্যাটসম্যান দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউত। উদ্বোধনী জুটিতে ৩২০ রানের জুটি গড়েন নারী দলের এই দুই তারকা। আর ক্রিকেট বিশ্ব ওয়ানডেতে প্রথম দেখল উদ্বোধনী জুটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি।

উদ্বোধনী জুটিতে মেয়েদের ক্রিকেট তো বটেই, ছেলেদের ওয়ানডে মিলিয়েও উদ্বোধনীতে এটি সবচেয়ে বড় রানের জুটি। ছেলেদের ক্রিকেটে ২০০৬ সালে লিডসে ইংল্যান্ডের ৩২১ রান তাড়া করতে নেমে সনৎ জয়াসুরিয়া ও উপুল থারাঙ্গা মিলে গড়েছিলেন ২৮৬ রানের জুটি। আর মেয়েদের ক্রিকেটে ২০০৮ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৬৮ রানের জুটি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের সারাহ টেলর ও ক্যারোলিন অ্যাটকিন্স।

এদিকে জুটির রেকর্ড গড়লেও ব্যক্তিগত একটি মাইলফলকের খুব কাছে গিয়ে আউট হন দীপ্তি। মাত্র ১২ রানের জন্য করতে পারেননি ডাবল সেঞ্চুরি। ২৭ চার ও ২ ছক্কায় ১৬০ বলে করেন ১৮৮। আর পুনম ১০৯ রান করে অবসর নেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ফিরতে চান স্টেইন

ইনজুরি কাটিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়েই ক্রিকেটে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন প্রোটিয়া তারকা ডেল স্টেইন। তবে সুস্থ হয়ে না ওঠায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট সিরিজ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ডেল স্টেইন। আর বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে চান দক্ষিণ আফ্রিকার এ গতিতারকা।

স্টেইন বলেন, ‘আমার ইনজুরির অগ্রগতি ভালোই হচ্ছে। এ মুহূর্তে দৌঁড়ানো, জিম অনেক কিছুই করতে পারছি। কিন্তু বোলিং করাটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ইংল্যান্ড সিরিজের আগে ফিট হতে পারবো না।’

তবে কখন ফিরবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার লক্ষ্য হচ্ছে অক্টোবরে বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে মাঠে ফেরা। তবে বাংলাদেশ সিরিজের আগে আমাকে খেলার মধ্যে থাকতে হবে। এজন্যই আমি ইংল্যান্ড এ দলের বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম।’

উল্লেখ্য, কাঁধে ইনজুরির কারণে গত নভেম্বর থেকে মাঠের বাইরে রয়েছেন স্টেইন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৩ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার কাঁধে আঘাত পাওয়ায় মাঠ ছাড়েন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেই ঘরোয়া সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে চান স্টেইন-গান।

ভারতের নারী ক্রিকেটারদের বিশ্বরেকর্ড

বিশ্ব রেকর্ডই করে ফেললো ভারতের নারী ক্রিকেট দল। ব্যাট হাতে তারা ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ কওে এই বিশ্ব রেকর্ডেও অধিকারী হন। বিশ্ব ক্রিকেটে এবারই প্রথম কোনো নারী দল তিনশ’ রানের গন্ডি পাড় হলো।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমে চারজাতি ক্রিকেট সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫৮ রানের বিরাট স্কোর গড়ে মিতালী রাজের দল। শুধু তাই নয়, দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের সেঞ্চুরিতে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ভারতের মেয়েরা। দীপ্তি শর্মা ১৮৮ রানের ইনিংস খেললেন। দীপ্তি শর্মার ১৬০ বলে ১৮৮ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ২৭টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারিতে। ভারতের হয়ে এটাই সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান। এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল জয়া শর্মার ১৩৮। এই সিরিজেই এর আগে সর্বোচ্চ উইকেট নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন ঝুলন গোস্বামী। আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পুনম রাউতের ব্যাট থেকে আসে ১০৯ রান। এর পরের আর কাউকে বেশি কিছু করতে হয়নি। ভারতের ওপেনিংয়ের ব্যাটন ছিল দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের হাতে। যার ফলে নিজেদের সর্বোচ্চ রান ২৯৮ পেছনে ফেলে নতুন স্কোর গড়লো ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। এটাই তাদের সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান। বলাই বাহুল্য রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়া এই ম্যাচে ভারতের জয় ২৪৯ রানের।

ডাবলিনে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। ডাবলিনের ম্যারাহাইড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমে জিমনেশিয়ামে অনুশীলনে ঘাম ঝরায় টাইগাররা। পরে বৃষ্টির কারণে ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করতে পারেনি তারা। নেটেই অনুশীলন করেছে কোচ হাতুরুসিংহের দল।
শুক্রবারের ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর একদিনের বিশ্রাম শেষে আবারও অনুশীলনে নামে মাশরাফির দল। ম্যাচটি পরিত্যাক্ত হওয়ায় দু’দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে। এদিকে, ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করেছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার মিশনও। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজে হোওয়ায়াইওয়াশ হয়েছিলো টাইগাররা। তাই এই ম্যাচকে ঘিরে জয়ের আশার করছে বাংলাদেশ। আগামী বুধবার ডাবলিনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় বিকেল পোনে চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়ী টেস্ট জিতল পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক:

ইয়াসির শাহর ফ্লাইটেট ডেলিভারী পেয়ে লোভ সামলাতে পারলেন না শ্যানন গ্যাবরিয়েল। ভিতরে সব ফিল্ডার, চেয়েছিলেন ওভার দ্যা টপে বল বাউন্ডারিতে পাঠাতে।

কিন্তু লেগ স্পিনারের ঘূর্ণিতে বধ গ্যাবরিয়েল। ব্যাটের কানায় লেগে বল আঘাত করল স্ট্যাম্পে। ১১তম বারের মত ইয়াসির শাহ পেলেন পাঁচ উইকেট। ১০১ রানে পাকিস্তান পেল জয়। ৩০৪ রানের জবাবে ২০২ রানে অলআউট ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ পাকিস্তানের। প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজ জিতল পাকিস্তান।


এতো প্রাপ্তির মধ্যেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের চোখে-মুখে হতাশা! বিষাদময় মুখগুলো বলে দিচ্ছিল বড় কিছু হারাতে যাচ্ছে তারা। সত্যিই তাই। বড় প্রাপ্তির ম্যাচে দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে হারিয়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এ ম্যাচ দিয়েই বিদায় নিলেন দলের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ও দলের সবথেকে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ইউনিস খান। সতীর্থরা জয় দিয়ে বিদায় দেন দুই ক্রিকেটারকে। সতীর্থদের কাঁধে চড়ে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়েন ইউনুস-মিসবাহ।

রোববার ডোমিনিকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরোদিন লড়াই করে। কিন্তু শেষ দিকে এলোমেলো হয়ে যায় ক্যারিবীয় শিবির। লড়াইয়ের নেতৃত্বে ছিলেন রোস্টন চেইস। তার বিরোচিত ইনিংসে ম্যাচ প্রায় ড্র করে ফেলেছিল স্বাগতিক দল। কিন্তু শ্যানন গ্যাবরিয়েলের ওই শটে শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ। ইয়াসির শাহর ওই ওভারের পর দিনের খেলার বাকি ছিল মাত্র এক ওভার। শেষ ওভার নিজে খেলবেন বলে পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেননি রেইস। কিন্তু ষষ্ঠ বলেই আউট গ্যাবরিয়েল। দিনের মাত্র এক ওভার বাকি থাকতে এমন আউটে বিস্মিত পুরো ক্যারিবীয় শিবির। অন্যদিকে উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয় পাকিস্তান শিবির।


৭ রানে শেষ দিনের খেলা শুরু করেন ব্রেথওয়েট (৩) ও শিমরণ হেটমায়ের। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ব্রেথওয়েট। ৩ রান যোগ করে আউট হন ইয়াসির শাহর বলে। এরপর মোহাম্মদ আমিরের বলে বোল্ড হন হেটমায়ের। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে হোপের (১৭) উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে রোস্টন চেইস সেই চাপ কিছুটা কমিয়ে দেন। পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে একাই লড়াই করেন তিনি। তবে ভাগ্যটাকেও পাশে পেয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। হাসান আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছেন। আবার মোহাম্মদ আব্বাসের নো বলের কল্যাণেও উইকেটেও টিকে যান। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেও দলের হার এড়াতে পারেননি। ২৩৯ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন চেইস। পাঁচে নেমে উইকেটে টিকে থাকেন ৩৬৬ মিনিট। পড়ন্ত বিকেলে ইয়াসিরের পাঁচ উইকেটে সিরিজ জয়ের সুযোগ হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রোস্টন চেইস। ৩ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা ইয়াসির শাহ।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কে কত পাবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

: প্রাইজমানি বেড়েছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। এবারের টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টুর্নামেন্টের চেয়ে মোট প্রাইজমানি বেড়েছে ৫ লাখ ডলার।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রাইজমানির কথা জানায় আইসিসি। আগামী ১ জুন ইংল্যান্ডে শুরু টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২২ লাখ ডলার। রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে ১১ লাখ ডলার।

সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে সাড়ে ৪ লাখ ডলার করে। প্রতিটি গ্রুপের তৃতীয় দল পাবে ৯০ হাজার ডলার। আর গ্রুপে শেষ স্থানে থাকা দল পাবে ৬০ হাজার ডলার।

আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। প্রতিটা গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সেমিফাইনাল

পাঞ্জাবকে গুঁড়িয়ে দুইয়ে পুনে

ক্রীড়া ডেস্ক :

ম্যাচটা দুই দলের জন্যই বাঁচা-মরার লড়াই। যারা জিতবে, তারা প্লে-অফে উঠবে। যারা হারবে, তারা বিদায় নেবে। আর এমন সমীকরণে আজ রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই ছাড়াই অসহায় আত্মসমর্পণ করল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দলটিকে আইপিএলে তাদের সর্বনিম্ন ৭৩ রানে অলআউট করার পর ৯ উইকেটে জিতে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে পুনে।

এই ম্যাচ শেষ হওয়ার মধ্যে দিয়ে আইপিএলের সেরা চারে (প্লে-অফ) কারা খেলবে, সেটাও চূড়ান্ত হয়ে গেল। আগের দিন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আজ পুনের জয়ে দুই থেকে তিনে নেমে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর চারে কলকাতা।

আগামী ১৬ মে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে মুম্বাই ও পুনে। যারা জিতবে, তারা সরাসরি চলে যাবে ফাইনালে। হেরে যাওয়া দলটি অবশ্য ফাইনালে ওঠার আরেকটি সুযোগ পাবে। এলিমিনেটরে হায়দরাবাদ ও কলকাতা ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দল।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে পাঞ্জাবকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ইনিংসের প্রথম বলেই মার্টিন গাপটিলকে আউট করে অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন পেসার জয়দেব উনাডকট।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো পাঞ্জাব অর্ধশত রানের আগেই অর্ধেক ব্যাটসম্যান খুইয়েছে। জয়দেব, শারদুল ঠাকুর, ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানদের পেস আর অ্যাডাম জামপার স্পিন আক্রমণে দিশেহারা হয়ে ১৫.৫ ওভারেই ৭৩ রানে গুটিয়ে গেছে পাঞ্জাবের ইনিংস। আইপিএলে এটিই পাঞ্জাবের সর্বনিম্ন স্কোর।

পাঞ্জাবের ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল চারজন। সর্বোচ্চ ২২ রান অক্ষর প্যাটেলের। ঋদ্ধিমান সাহা করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ রান। ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পুনের সেরা বোলার শারদুল। উনাডকট, ক্রিস্টিয়ান ও জামপা নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। একটি রানআউট।

জবাবে রাহুল ত্রিপাথির উইকেট হারিয়ে ৪৮ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পুনে। ৩৪ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন অজিঙ্কা রাহানে। ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক স্মিথ। ২৮ রান করে অক্ষর প্যাটেলের বলে বোল্ড হন ত্রিপাথি।

আয়ারল্যান্ডকে ২৯০ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড

ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড। মালাহাইদে টস জিতে প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার জন্য আমন্ত্রণ জানায় আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। ব্যাট করতে নেমে তিন ফিফটিতে স্বাগতিকদের সামনে ২৯০ রানের লক্ষ্য বেধে দেয় কিউইরা।

ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আইরিশদের ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ নেয় নিউজিল্যান্ড। লুক রনকি আর টম ল্যাথাম মিলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। যদিও ২৫ বলে ১৫ রান করে আউট হয়ে যান ল্যাথাম। ২৭ বলে ৩৭ রান করে আউট হন রনকি।

এরপর জর্জ ওয়ার্কার আর রস টেলর মিলে আইরিশ বোলারদের শাসন করতে থাকেন। দু’জন মিলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন। ৬০ বলে ৫২ রান করে আউট হয়ে যান টেলর। ৮৯ বলে ৫০ রান করেন জর্জ ওয়ার্কার। ৬৩ বলে ৭৯ রান করে রানআউট হন নেইল ব্রুম। ২৯ বলে ৩০ রান করেন জিমি নিশাম।

শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। আইরিশদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন টিম মুরতাগ এবং ব্যারি ম্যাকআর্থি। ১টি করে উইকেট নেন পিটার চেজ এবং কেভিন ও’ব্রায়েন।

আইপিএলের প্লে অফে খেলবে যারা

গ্রুপ পর্বের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো শেষ চার নির্ধারণে। আগেই তিনটি নির্ধারিত হয়েছিল। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাকি দলটির জন্য অপেক্ষা করতে হলো আজ (শেষ দিন) পর্যন্ত। শেষ চারে যাওয়ার দাবিদার ছিল দুটি ফ্রাঞ্চাইজি। রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট এবং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

শেষ চারে যাওয়ার লড়াইয়ে পুনে সুপার জায়ান্টের কাছে রীতিমত বিধ্বস্ত হয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭৩ রানে অলআউট হয়েছে তারা। জবাব দিতে নেমে ১২ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পুনে। একই সঙ্গে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে প্লে অফে খেলতে যাচ্ছে ধোনি-স্মিথদের দল।

পুনের জয়ে পয়েন্ট টেবিলে কিছুটা ওলট-পালট হয়ে গেলো। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ নেমে গেলো তিনে এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স থাকলো চার নম্বরে। অর্থ্যাৎ হায়দরাবাদ আর কেকেআরকে ইলিমিনেটর খেলে উঠতে হবে কোয়ালিফায়ারে। এরপর সম্ভব হলে ফাইনাল।

 

সে যাই হোক, আজ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আর দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ম্যাচের আগেই নির্ধারণ হয়ে গেলো আইপিএলের প্লে অফের লাইনআপ। ১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে থাকলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ১৪ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। ১৪ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকলো কলকাতা নাইট রাইডার্স।

১৪ পয়েন্ট পাওয়া কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বিদায় নিয়েছে। একই সঙ্গে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাট লায়ন্স এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুরও।

আইপিএলের পয়েন্ট টেবিল

দল ম্যাচ জয় পরাজয় টাই পয়েন্ট রান রেট
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৪ ১০ ২০ +০.৭৮৪
রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ১৪ ১৮ +০.১৭৬
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৪ ১৭ +০.৫৯৯
কলকাতা নাইট রাইডার্স ১৪ ১৬ +০.৬৪১
কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ১৪ ১৪ -০.০০৯
দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ১৩ ১২ -০.৫১৪

প্লে অফের সূচি

১৬ মে, রাত ৮.৩০টা কোয়ালিফায়ার-১ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স-পুনে সুপার জায়ান্ট মুম্বাই
১৭মে, রাত ৮.৩০টা ইলিমিনেটর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কেকেআর বেঙ্গালুরু
১৯ মে, রাত ৮.৩০টা কোয়ালিফায়ার-২ কোয়ালিফায়ার-১ পরাজিত-ইলিমিনিটর জয়ী বেঙ্গালুরু
২১ মে, রাত ৮.৩০টা ফাইনাল দুই কোয়ালিফায়ার জয়ী হায়দরাবাদ

ও’ব্রায়েনের সেঞ্চুরিতেও হেরে গেলো আয়ারল্যান্ড

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচের মত দ্বিতীয় ম্যাচও পড়েছিল বৃষ্টির কবলে। তবে, প্রথম ম্যাচের মত দ্বিতীয় ম্যাচকে বাতিল ঘোষণা করতে হয়নি। বরং, কিউইদের বিপক্ষে দারুণ লড়াই জমিয়ে তুলেছিল স্বাগতিক আইরিশরা। নেইল ও’ব্রায়েনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পরও শেষ পর্যন্ত ৫১ রানে পরাজয় মানতে বাধ্য হলো আয়ারল্যান্ডকে।

নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেয়া ২৯০ রান তাড়া করতে নামার পরই আয়ার‌ল্যান্ডকে অপেক্ষায় রাখে বৃষ্টি। বেশ কিছুক্ষণ বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু করা হয় খেলা। এক প্রান্তে নেইল ও’ব্রায়েন ধরে রাখলেও বাকিরা ছিল স্রেফ আসা-যাওয়ার মিছিলে।

ও’ব্রায়েনের সঙ্গে ছোট ছোট দুটা জুটি গড়েছিলেন শুধু অ্যান্ডি বালবিরনি এবং গ্যারি উইলসন। বালবিরনির সঙ্গে ৮৬ রানের এবং উইলসনের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়লে বিপক্ষে কিউইদের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৪৫.৩ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান। শেষ পর্যন্ত নেইল ও’ব্রায়েন দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আউট হন ১০৯ রান করে। বালবিরনি করেন ৩৬ এবং উইলসন করেন ৩০ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নেইল ব্রুমের ৭৯, রস টেলরের ৫২ এবং জর্জ ওয়ার্কারের ৫০ রানের ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ২৮৯ রান।

ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান

পাকিস্তান ক্রিকেটের একটা আক্ষেপ দূর হলো। কয়েক যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল; কিন্তু সিরিজ জিততে পারেনি পাকিস্তান। এশিয়ান দলটির সেই অপূর্ণতা এবার রূপ নিল পূর্ণতায়। মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে। বিদায়ী মঞ্চে পাকিস্তানকে সেরাটাই দিয়ে গেলেন এই অধিনায়ক।

ডোমিনিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০১ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট সিরিজ জিতল এশিয়ান এই পরাশক্তি। জেসন হোল্ডারের ক্যারিবীয় দলকে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে মিসবাহ বাহিনী।

এদিকে ১ উইকেটে ৭ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রেইগ ব্রাফোর্ড ৩ রান যোগ করেই আউট হন ইয়াসির শাহর কাছে পরাস্ত হয়ে। হেটমেয়ার ২৫ রান করে মোহাম্মদ আমিরের বলে সরাসরি বোল্ড। শাই হোপের আশা থেমে গেছে ১৭ রানে।

সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করা রস্টন চেজ হার মানেননি পাকিস্তানি বোলারদের কাছে। ২৩৯ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন। বিফলে গেল চেজের বীরোচিত লড়াই। অধিনায়ক জেসন হোল্ডার ২২ রান করে হাসান আলীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের সেরা বোলার ইয়াসির শাহ। ৯২ রানে খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। হাসান আলি পকেটে পুরেছেন ৩টি উইকেট। আর একটি করে উইকেট লাভ করেছেন মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আব্বাস। তবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন চেজ; আর সিরিজ সেরা ইয়াসির শাহ।

গেইল-কোহলি নৈপুণ্যে শেষটা রাঙাল বেঙ্গালুরু

তারকাখচিত দলই গড়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু সে তুলনায় গোটা টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স ছিল বেমানানই। প্লে-অফ থেকে ছিটকে গেছে আগেই। গ্রুপপর্বে ১৪টি ম্যাচ খেলে বিরাট কোহলির দল জয় পেয়েছে মাত্র ৩টিতে। গেইল-কোহলি নৈপুণ্যে জয় দিয়েই শেষটা রাঙাল বেঙ্গালুরু।

নিজেদের শেষ ম্যাচ তথা আইপিএলের দশম আসরের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ১০ রানে হারিয়েছে গত মৌসুমের রানার্স-আপ দলটি। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় প্রথমে ব্যাট করে বেঙ্গালুরু। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে কোহলির দল সংগ্রহ করে ১৬১ রান। জবাবে ২০ ওভার খেললেও ১৫১ রানে থামে দিল্লির ইনিংস।

এবার ৮টি দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। সবার নিচের অবস্থান বেঙ্গালুরুর। ১৪ ম্যাচে একটি টাই হওয়ায় তাদের পুঁজি ৭ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স সংগ্রহ করেছে ২০ পয়েন্ট। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের অর্জন ১৮।

১৬২ রানের লক্ষ্যমাত্রা। তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দিল্লি। দলের স্কোরশিটে কোনো রান যোগ না হতেই সানজু স্যামসনকে হারিয়ে ফেলে। অপর ওপেনার করুন নায়ারও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ২৬ রান করতেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।

দিল্লির পক্ষে মারলন স্যামুয়েলসের ৪৫ রানের ইনিংসটিই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রানের ইনিংসটি খেলেছেন শ্রেয়াস আয়ার। মোহাম্মদ সামি করেছেন ২২ রান। বাকি ব্যাটসম্যানরা ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। বেঙ্গালুরুর পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন হারশল প্যাটেল ও পবন নেগি।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন ক্রিস গেইল। গেইলের ঝড় থেমেছে ৪৮ রানে। বেঙ্গালুরুর এই ওপেনারের ৩৮ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ তিনটি করে চার ও ছক্কায়। বেঙ্গালুরুর ইনিংসে সর্বোচ্চ অবদান কোহলির, ৫৮ রান। জহির খানের শিকার হওয়ার আগে ৪৫ বলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ভারতীয় এই সুপারস্টার।

সমান ১২ করে এসেছে কেদার যাদব ও শচীন বেবির ব্যাট থেকে। ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন পবন নেগি। দিল্লির পক্ষে দুটি উইকেট নেন প্যাট কামিন্স। একটি করে উইকেট গেছে জহির খান ও নাদিমের দখলে।

মনে রাখার মতোই বিদায়ী উপহার পেলেন মিসবাহ-ইউনিস

সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটাই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের শেষ ম্যাচ। ডোমিনিকায় সেটা খেলে ফেলেছেন। পাকিস্তান জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না মিসবাহ-উল-হক ও ইউনিস খানকে।

ইয়াসির শাহর অসাধারণ নৈপুণ্যে ডোমিনিকা টেস্টে ১০১ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতেছে মিসবাহ বাহিনী। আর তাতে ইতিহাসটাও গড়ে ফেলল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জিতল এশিয়ান এই দলটি।

বলার অপেক্ষা রাখে যে, মিসবাহ-ইউনিসকে দারুণ এক বিদায়ী উপহার দিল পাকিস্তান। মনে রাখার মতোই। পাকিস্তান ক্রিকেটের বড়সড় এক আক্ষেপ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতে না পারার। সেই আক্ষেপটা ঘুচল। মিসবাহ-উল-হকের অসাধারণ নেতৃত্বে।

মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়ী টেস্ট বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন ইয়াসির শাহ। প্রথম ইনিংসে ৪০ ওভারে চারটি মেডেনসহ ১২৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন পাকিস্তানি এই স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে আর ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন ইয়াসির। ৩৭ ওভারে মেডেন নিয়েছেন ১৩টি। ৯২ রান খরচায় পকেটে পুরেছেন ৫ উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিততে পারেননি।

ম্যাচ সেরা হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা রস্টন চেজ। দুই ইনিংসে তার রান সংখ্যা; ৬৯ ও ১০১*। তবে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানি স্পিনার ইয়াসিরই।

বিদায়ী টেস্টে ব্যাট হাতে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিসবাহ। প্রথম ইনিংসে করেছেন ৫৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ভালো করতে পারেননি। থেমেছেন মাত্র ২ রানেই। তবে ডোমিনিকায় তার নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতোই। স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের তিনি বধ করেছেন দারুণ বিচক্ষণতায়।

বিদায় বলে দেয়া আরেক পাকিস্তানি ইউনিস ফিফটির দেখা পাননি। তবে তার অবদানও কম নয়। দুই ইনিংস মিলে অবশ্য ‌‘ফিফটি’ হয়েছে। ৫৩ রান করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৮ রান, আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৩৫।

জিততে জিততে হেরে গেলো আয়ারল্যান্ড

জিততে জিততেই হেরে গেলো আয়ারল্যান্ড। নেইল ও’ব্রায়েনের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে জয়ের খুব কাছেই ছিলো আইরিশরা। কিন্তু শেষ দিকে কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার জ্বলে ওঠায় হাতছাড়া হলো আয়ারল্যান্ডের জয়। আর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় দিয়েই শুরু করলো নিউজিল্যান্ড। ম্যালাহাইডে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতলো নিউজিল্যান্ড ৫১ রানে।
টসে হেরে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৮৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন নিল ব্রুম। রস টেলর ৫২ এবং জর্জ ওয়ার্কার ৫০ রান করেন। আইরিশ বোলারদের মধ্যে টিম মুরতাগ ৬২ রানে ২টি। এবং ব্যারি ম্যাকার্থি ৫৯ রানে ২টি উইকেট তুলে নেন।
২৯০ রান তাড়া করতে নামা আয়ারল্যান্ড এগিয়েছে নেইল ও’ব্রায়েনের ব্যাটে চড়েই। একটা সময় আইরিশদের দরকার ছিল ৭৮ বলে ৮৭ রান। হাতে ৫ উইকেট। দলের আশার সলতে হয়ে নেইল তখন অপরাজিত ৯০ রানে। ২৬ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে সমীকরণটা আর মেলাতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। তবে আলো ছড়ানো এক সেঞ্চুরিতে কিউইদের ভালোই পরীক্ষায় নিয়েছেন নেইল ও’ব্রায়েন।
২৯০ রানের টার্গেটে নেমে ২৬ রানেই ২ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। নেইল ও’ব্রায়েন ও ব্যালবিরনি তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের প্রতিরোধে বৃষ্টির সঙ্গে হাত মেলান কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। তবে সবকিছুকে তুচ্ছ করে নেইল ও’ব্রায়েন তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত থামেন তিনি ১০৯ রানে। তাতে ২৩৮ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড। ৫০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আইরিশ শিবির ধ্বংসযজ্ঞ চালান ম্যাচ সেরা স্যান্টনার। নিউজিল্যান্ডকে সহজে জিততে না দেওয়াটাই হতে পারে এই ম্যাচে আইরিশদের বড় প্রাপ্তি।

অনুশীলনে ব্যস্ত মাশরাফিরা

সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তাতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডকে। সেই দুঃখ পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন টার্গেট করেছে আগামী বুধবারের দিকে। সেদিন টাইগারদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার প্রতিশোধ মিশন এবার মাশরাফিদের।
আয়ারল্যান্ডের বেশিরভাগ মাঠের উইকেট সবুজ ঘাসে ঢাকা। তাই পেসারদের নিয়ে একটু বেশিই সময় কাটিয়েছেন পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের শক্তি আর দুর্বলতার জায়গা ‘শিষ্য’দের ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।
ব্যাটসম্যানরাও ঘাম ঝরিয়েছেন অনুশীলনে। সেন্ট্রাল উইকেটের পাশাপাশি ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তারা। গত শুক্রবার প্রথম ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল টাইগারদের। ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে বিপদ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। বুধবার যেন তেমন ভুল না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক ব্যাটসম্যানরা।
তবে কিউইদের মাটিতে কিংবা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টাইগারদের পারফরম্যান্স ভালো নয়। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে সবশেষ সফরে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা।
আইপিএলে ব্যস্ত থাকার কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজে অবশ্য কিউইদের কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার নেই। তবু বুধবারের প্রতিপক্ষ নিয়ে সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে বাড়তি সতর্কতা, ‘আমরা নতুন চেহারার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলব। আইপিএলের কারণে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে তারা পাচ্ছে না। অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তাদের দলে কয়েকজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার আছে। তারা আমাদের কঠিন পরীক্ষাই নেবে।’

স্কুল ৫ বছর, কোচ ১০ বছর নিষিদ্ধ

জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে নিয়ম ভাঙার অভিযোগে প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো ঢাকা মেট্রো চ্যাম্পিয়ন শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজকে।
শুধু স্কুলই নয়, একই অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন স্কুলটির কোচ সাদ্দাম হোসেন অনি। কোচের সাজা অবশ্য স্কুলের চেয়ে আরও পাঁচ বছর বেশি। অর্থাৎ আগামী ১০ বছর তিনি কোচের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর আগে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে আম্পায়ারের পক্ষপাত দুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ করে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গত ২ মে ১০ বছরের জন্য বিসিবি নিষিদ্ধ করে লালমাটিয়া ক্লাবের বোলার মোহাম্মদ সুজন ও ফিয়ার ফাইটার্স ক্লাবের বোলার তাসনিম হাসানকে। তাছাড়া দুই ক্লাবকেও আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়।

টিকে থাকতে হায়দরাবাদের চাই ১৫৫ রান

ক্রীড়া ডেস্ক :

আইপিএলের ৫৩তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও গুজরাট লায়ন্স। এই ম্যাচটি উভয় দলের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচে হায়দরাবাদ জয় পেলে প্লে-অফ নিশ্চিত হবে। আর হেরে গেলে অপেক্ষায় থাকতে হবে যেন শেষ ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব হেরে যায়। আজকের ম্যাচে যদি হায়দরাবাদ হেরে যায় এবং শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব জিতে যায় তাহলে ওয়ার্নারদের পেছনে ফেলে প্লে-অফে নাম লেখাবে। আর আজ হায়দরাবাদ জিতে গেলে শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব জিতলেও লাভ হবে না।

শনিবার কানপুরের গ্রিনপার্ক স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নামে গুজরাট লায়ন্স। উদ্বোধনী জুটিতে ডোয়াইন স্মিথ ও ইশান কিষান ১১১ রান তোলেন। এরপর গুজরাটের ব্যাটিং লাইন-আপে নাটকীয় বিপর্যয় দেখা দেয়। ১১১ থেকে ১৫৪ রান পর্যন্ত যেতে দশ-দশটি উইকেট হারায় গুজরাট। শেষ ৪৩ রানে তারা হয় তাদের দশটি উইকেট।

দলীয় ১১১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৫৪ রানে আউট হন স্মিথ। ১২০ রানে ফিরে যান কিষান (৬১)। ১২০ রানেই আউট হন রায়না (২) ও দিনেশ কার্তিক (০)। ১২৩ রানে অ্যারন ফিঞ্চ (২), ১৪২ রানে জেমস ফকনার (৮), ১৪২ রানে প্রদীপ (০), ১৫৩ রানে অঙ্কিত সনি (০), ১৫৪ রানে প্রাভীন কুমার (১) ও ১৫৪ রানেই আউট হন মুনাফ প্যাটেল (০)। তাতে ১৫৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় গুজরাট লায়ন্স।

বল হাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মোহাম্মদ সিরাজ ৪ ওভার বল করে ৩২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। রশিদ খান ৪ ওভার বল করে ৩৪ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। ৩.২ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ভুবনেশ্বর কুমার নেন ২টি উইকেট। অপর উইকেটটি নেন সিদ্ধার্ত কুল।

পুনে না পাঞ্জাব কে যাবে প্লে অফে

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের এরই মধ্যে প্লে অফ নিশ্চিত নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর বাদ পড়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাট লায়নস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে। শেষ দিনে দল দুটি মুখোমুখি হবে পরস্পরের। যে জিতবে সেই চলে যাবে প্লে অফে। বাঁচা-মরার লড়াইটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪.৩০ মিনিটে।

পুনে ১৩ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ অবস্থানে। পাঞ্জাবের বিপক্ষে আজ যদি তারা জেতে, তাহলে দ্বিতীয় সেরা দল হয়েই প্লে অফ খেলবে। দুই থেকে নেমে যাবে তিনে হায়দরাবাদ আর কেকেআর চারে। এদিকে পয়েন্ট টেবিলে প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকার সুবিধা হলো, প্লে অফে এই দুটি দল অন্তত দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় ফাইনালে যাওয়ার।

 

আইপিএলের চলতি আসরে প্রথম দিকে খোঁড়াতে থাকা পাঞ্জাব গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যে ছন্দে তারা আছে, এক সময় বাদ পড়ার শঙ্কায় থাকা দলটি এখন অন্যতম ফেবারিট।

কেকেআরকে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত মুম্বাইর

জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। উইকেটে ব্যাট হাতে দুই বোলার। উমেষ যাদব আর ট্রেন্ট বোল্ট। হার্দিক পান্ডিয়ার মত স্লগ ওভারের সেরা বোলারকে পিটিয়ে ১৪ রান তোলা তাদের পক্ষে দুঃস্বাধ্য। হলোও তাই। দু’জন মিলে নিতে পারলেন মাত্র ৪ রান। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরূদ্ধকর লড়াই শেষে কেকেআরকে ৯ রানে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান অর্জন করলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। গ্রুপ পর্বের ১৪ ম্যাচ শেষে মুম্বাইর পয়েন্ট ২০।

আগেই প্লে অফ নিশ্চিত হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। তবুও মুম্বাইর বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল কেকেআরের জন্য ভিন্ন গুরুত্ববহ। কারণ, এই ম্যাচে জিতলেই নিশ্চিত হতো দুই নম্বর স্থান। ফলে, প্লে-অফে একটি ম্যাচ খেলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকতো। কিংবা হেরেও গেলেও ক্ষতি ছিল না। আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতো; কিন্তু মুম্বাইর কাছে ৯ রানে হারের ফলে এখন তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

ফলে প্লে অফে প্রথম ম্যাচ জিতলেও লাভ নেই; কারণ তাদের ক্ষেত্রে প্রথমটা হবে ইলিমিনেটর রাউন্ড। দ্বিতীয়টা কোয়ালিফায়ার। অর্থ্যাৎ দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেই কেবল মিলবে ফাইনালের টিকিট।

কেকেআরের সমান ১৬ পয়েন্ট করে রয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসেরও। পাঞ্জাবের পয়েন্ট ১৪। আজ পাঞ্জাবকে হারাতে পারলেই তারা উঠে যাবে দ্বিতীয় স্থানে। সে ক্ষেত্রে সানরাইজার্স  হায়দরাবাদ নেমে যাবে তিনে এবং কেকেআর নেমে যাবে চারে। আর যদি আজ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বড় ব্যবধানে জিতে যায়, তাহলে রানরেটের ব্যবধানে পুনেকে পেছনে ফেলে প্লে অফ নিশ্চিত করে ফেলবে তারা। একই সঙ্গে রান রেটের ব্যবধানে কেকেআরকেও পেছনে ফেলে তিনে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

ইডেন গার্ডেনে মুম্বাইর দেয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ‘নিয়মিত’ ওপেনার হয়ে ওঠা সুনিল নারিনের উইকেট হারায় কেকেআর। ৪ বল খেলে কোনো রান না করেই আউট হয়ে যান তিনি। এরপর ক্রিস লিন আর গৌতম গম্ভীর চেষ্টা করেন দলের বিপর্যয় সামাল দেয়ার; কিন্তু কেকেআরের বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। বড় ইনিংসও খেলতে পারেনি কেউ।

ক্রিস লিন ১৪ বলে ২৬, গম্ভীর ১৬ বলে ২১, মানিস পান্ডে ৩৩ বলে ৩৩, ইউসুফ পাঠান ৭ বলে ২০, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১৬ বলে ২৯ এবং ১৫ বলে ১৬ রান করেন কুলদিপ যাদব। শেষ পর্যন্ত কেকেআরের ইনিংস থেমে যায় ৮ উইকেটে ১৬৪ রানে। মুম্বাইর হয়ে ২ উইকেট করে নেন টিম সাউদি, বিনয় কুমার এবং হার্দিক পান্ডিয়া ২টি করে উইকেট নেন। মিচেল জনসন ও কর্ন শর্মা নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সৌরভ তিওয়ারির ৫২ এবং আম্বাতি রাইডুর ৩৭ বলে ৬৩ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। যদিও শুরুতে তারা স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই হারায় লেন্ডল সিমন্সের উইকেট। তবুও সৌরভ তিওয়ারি এবং রোহিত শর্মার দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ২১ বলে ২৭ রান করে আউট হয়ে যান রোহিত। ৪৩ বলে ৫২ রান করেন তিওয়ারি।

ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় পাকিস্তান

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এখনো সিরিজ না জেতা পাকিস্তান দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে ম্যাচের শেষ দিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৯ উইকেট। আর স্বাগতিকরা পিছিয়ে আছে ২৯৬ রানে।

এর আগে ৫ উইকেট ২১৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৪৭ রানে থামে  নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটির হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন রোস্টন চেজ। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস।

১২৯ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে পাকিস্তান। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার ৯০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে অষ্টম উইকেটে মোহাম্মদ আমির ও ইয়াসির শাহ ৬১ রানে জুটি গড়লে পর ৮ উইকেটে ১৭৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা। ফলে দলটির লিড দাঁড়ায় ৩০৩ এ।

৩০৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭ রান তুলতেই ১ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। ফলে পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য ২৯৭ রান দরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর ৯ উইকেট চাই পাকিস্তানের।

সাকিব-মুশফিকের মা দিবস উদযাপন

যে কোন মানুষের জীবনে বড় হবার পথে মায়ের ভালবাসা আর প্রেরণার কোন বিকল্প নেই। ব্যতিক্রম নন জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। বিভিন্ন সময় তারা জানিয়েছেন মায়ের প্রতি তাদের ভালবাসার কথা, তাদের জীবনে তাদের মায়ের অবদানের কথা।

মা দিবস উপলক্ষ্যে সাকিব তার ফেসবুক পেইজে নিজের মা ও মেয়ে আলাইনার একটি ছবি দিয়ে লেখেন, মায়েদের কাজ এর কোনো শেষ নেই। মায়েরা কাজ করে, রান্না করে, বাজার করে, সেবা করে এবং আরও অনেক কিছু করে। কিন্তু এতো কিছুর পরও মায়েরা থেমে থাকেনা। তাই তো তারা আসল অল-রাউন্ডার! সকল অল-রাউন্ডার মায়েদের জানাই মা দিবসের শুভেচ্ছা।

Shakib

বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিক লেখেন, আমি যে আজকে এতদূর আসতে পেরেছি এটার পেছনে আমার মায়ের অনেক বিরাট অবদান রয়েছে। আমাদের সম্পর্কটা ভাষায় বোঝানো যাবে না…মায়ের হাসিই আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। অনেক ভালোবাসি তোমাকে মা। সকল মায়েদের জানাই মা দিবসের শুভেচ্ছা।

কার্ট রেসিংয়ে মুশফিক-তাসকিনরা

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে দফায় দফায় বৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় শনিবার কোন অনুশীলন করেনি জাতীয় দল। পুরো দল মিলে চলে যায় ডাবলিনের কার্ট-সিটি রেসওয়েতে। রেসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে ছবি ও পোস্ট করেছেন মুশফিক-সৌম্য-তাসকিনরা।

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে দফায় দফায় বৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় শনিবার কোন অনুশীলন করেনি জাতীয় দল। পুরো দল মিলে চলে যায় ডাবলিনের কার্ট-সিটি রেসওয়েতে। রেসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে ছবি ও পোস্ট করেছেন মুশফিক-সৌম্য-তাসকিনরা।

mushfik

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ছাড়াও তৃতীয় দল হিসেবে আছে নিউজিল্যান্ড। বুধবার এই ডাবলিনেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। আর এ লম্বা সময় ধরেই দেশের বাইরে থাকায় নিজেদের চাঙ্গা রাখতেই ঘোরাঘুরির পাশাপাশি রেসিংয়ের স্বাদও নিলেন সৌম্য-তাসকিনরা।

 

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ছাড়াও তৃতীয় দল হিসেবে আছে নিউজিল্যান্ড। বুধবার এই ডাবলিনেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। আর এ লম্বা সময় ধরেই দেশের বাইরে থাকায় নিজেদের চাঙ্গা রাখতেই ঘোরাঘুরির পাশাপাশি রেসিংয়ের স্বাদও নিলেন সৌম্য-তাসকিনরা।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ১-১৮ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে মোট সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ২০১৩ সালের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার পাঁচ লাখ পাউন্ড বাড়ানো হয়েছে। খেলা হবে তিনটি ভেন্যু কার্ডিফ, এজবাস্টন ও ওভালে। এরমধ্যে শিরোপা জয়ী দল পাবে ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড আর রানার্সআপ দল পাবে ১.১ মিলিয়ন পাউন্ড। দুই সেমিফাইনালিস্ট পাবে সাড়ে চার লাখ পাউন্ড করে। প্রত্যেক গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল পাবে ৯০ হাজার পাউন্ড। আর গ্রুপের শেষ দল পাবে ৬০ হাজার পাউন্ড।

আগামীকাল মুখোমুখি আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড

ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল (রোববার) মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ডাবলিনের মালাহিডে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেতেই মাঠে নামবে আইরিশরা। অন্যদিকে, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় কিউইরা।
এরআগে শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। মালাহিডে টস হেরে ব্যাটিং-এ নেমে ৩১ দশমিক ১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দু’দল।
তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে আইরিশরা। এমনটাই জানান দলের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা জয় চাই। নিউজিল্যান্ড শক্তিশালী ও বড় দল। তাদের হারানো কঠিন। তারপরও তাদেরকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবো আমরা।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে ত্রিদেশীয় সিরিজকেই ভাবছে নিউজিল্যান্ড। তেমনই সুর কিউই দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাদামের। বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এই টুর্নামেন্টটি আমাদের প্রস্তুত করে তুলবে। এই সিরিজ দিয়ে নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নেবো আমরা। তাই ভালো খেলার জন্যই মাঠে নামবে দল। জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে দারুণ হবে।’
আয়ারল্যান্ড দল : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), এন্ড্রু ব্যালবিরনি, পিটার চেজ, জর্জ ডকরেল, এড জয়সে, টিম মুরতাগ, সিমি সিং, ব্যারি ম্যাককার্থি, কেভিন ও’ব্রায়ান, নিয়াল ও’ব্রায়ান, পল স্টার্লিং, স্টুয়ার্ট থমসন, গ্যারি উইলসন ও ক্রেইগ ইয়ং।
নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড : টম ল্যাদাম (অধিনায়ক), নিল ব্রুম, কলিন মুনরো, হেনরি নিকোলস, সেথ রেন্স, মিচেল স্যান্টনার, রস টেইলর, জিওর্জ ওরর্কার, হামিশ বেনেট, স্কট কুগিলজন, জেমস নিশাম, জিতান প্যাটেল, লুক রঞ্চি (উইকেটরক্ষক), ইশ সোধি ও নিল ওয়াগনার।

মাত্র ‘ছাব্বিশেই’ ক্রিকেটকে গুডবাই

ক্রীড়া ডেস্ক :

মাত্র কিছুদিন আগেই পঁচিশ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্পিনার জাফর আনসারি। এবার ছাব্বিশ বছর বয়সে ক্রিকেটকে গুডবাই বললেন আরেন ক্রিকেটার।

জাফর আনসারির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও ছব্বিশ বছর বয়সি রায়ান কার্টাসের জাতীয় দলের জার্সি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান শুক্রবার ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাট-প্যাড উঠিয়ে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন রায়ান কার্টাস। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছে ২৬ বছর বয়সি কার্টাসের। তার পছন্দের সাবজেক্ট দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে কার্টাস বলেন,‘অস্ট্রেলিয়ায় এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে ক্রীড়াক্ষেত্রে বাদেও সম্মানজনক অনেক পেশা রয়েছে। আমি সব সময় আমার খেলা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। সারাজীবন খেলতে পারব তারও নিশ্চয়তা নেই। আমি সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করতে চাই।’

ক্যানবেরায় জন্মগ্রহণ করা এ ক্রিকেটার যুব বয়সে খেলেছেন এসিটি আন্ডারএজ ক্রিকেটে। এরপর ভিক্টোরিয়ায় উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে যোগদান করেন। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান উইকেট রক্ষক ম্যাথু ওয়েডের পরিবর্তে উইকেট কিপিংয়ের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ৪৩ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকা রায়ান কার্টাস ৩৫.৯২ গড়ে রান করেছেন ২৫১৫। ২০১৫-১৬ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের সফরকারী দলের বিপক্ষে ২০৯ রান তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। এছাড়া ২২টি লিস্ট এ ম্যাচ ও ৩৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল কার্টাসের। বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে এক মৌসুম টি-টোয়েন্টিও খেলেছিলেন।

লারা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলবেন ইমরান-রানাতুঙ্গা

ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল শচীন একাদশ বনাম লারা একাদশ। ব্যস্ততার কারণে ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার উপস্থিত থাকতে পারছেন না। যে কারণে দলের নামই পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন লারা একাদশের প্রতিপক্ষ বিশ্ব একাদশ।

টেস্ট কিংবা ওয়ানডে নয়, ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর কথা আজ। কিন্তু ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর আকাশে চোখ রাঙানি রয়েছে বৃষ্টির। তাই ম্যাচটি আজ গড়াবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলবেন দুই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক; পাকিস্তানের ইমরান খান ও শ্রীলঙ্কার অর্জুনা রানাতুঙ্গা। রয়েছেন বিশ্বকাপে ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানো হারশেল গিবসও। কার্টলি অ্যামব্রোসের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারও লড়বেন বিশ্ব একাদশের হয়ে।

লারা একাদশের হয়ে যারা লড়বেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন দিনেশ রামদিন, এভিন লুইস, কেভিন কুপার, জেসন মোহাম্মদ, রিয়াদ এমরিত, ডোয়াইন ব্রাভো। যাদের অধিকাংশই বর্তমানে বিভিন্ন লিগ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন।

লারা একাদশ (সম্ভাব্য) : ব্রায়ান লারা, মারভিন দিলন, দিনেশ রামদিন, এভিন লুইস, কেভিন কুপার, জেসন মোহাম্মদ, রিয়াদ এমরিত, ডোয়াইন ব্রাভো, কারস্টন ক্যালিচারান, টিওন ওয়েবস্টার, দিনানাথ রামনারায়ন।

বিশ্ব একাদশ (সম্ভাব্য) : হারশেল গিবস, ডেভন মালকম, গোল্ডস্টোন স্মল, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার, রামনেশ সারওয়ান, ইমরান খান, কার্টলি অ্যামব্রোস, রিচার্ড পাওয়েল ও কোর্টনি ব্রাউন।

সাকিবের ‘ফিফটি’

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডেতে স্লো ওভার রেটের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হচ্ছে না মাশরাফির।

মাশরাফির পরিবর্তে আজ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান। এ ম্যাচের মধ্যে নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৫০তম ম্যাচে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। সাকিব বাদে অধিনায়কত্বের রেকর্ডে হাফ-সেঞ্চুরি অতিক্রম করেছেন হাবিবুল বাশার সুমন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৬৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুল বাশার। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ২৯:৪০।

এর আগের ৪৯ ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৩ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন সাকিব। সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হেরেছে ২৬ ম্যাচ। অন্যদিকে মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলেছে ৪০ ম্যাচ। জিতেছে ২৪টি, হেরেছে ১৫টি।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতবে ভারত : কপিল দেব

ক্রীড়া ডেস্ক :

ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক কপিল দেব বিশ্বাস করেন, আসন্ন চ্যাম্পিয়নন্স ট্রফি ঘরে তোলার সামর্থ্য রয়েছে ভারতের। তিনি মনে করেন, ভারত ইংল্যান্ড থেকে এবারও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ঘরে নিয়ে আসবে।

আগামী ১ ‍জুন থেকে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলকে নিয়ে ইংল্যান্ডে বসছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। টুর্নামেন্টের উত্তেজনা শুরু থেকে ছড়িয়ে দিতে আইসিসি ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রেখেছে। আইসিসি থেকে রাজস্ব হারানোয় ধারণা করা হচ্ছিল ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিবে না। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ঠিকই দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবশেষ আসরে শিরোপা তুলেছিলে মাহেন্দ্র সিং ধোনীর দল। এবার বিরাট কোহলির নেতৃত্বে খেলবে ভারত। ওই দলের আট ক্রিকেটার এবার ভারতের জার্সিতে মাঠ মাতাবেন। দলের সেরা ক্রিকেটাররা থাকায় কপিল দেবের বিশ্বাস ভারত এবারও শিরোপা ঘরে তুলবে।

শুক্রবার দিল্লিতে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটের এ কিংবদন্তী বলেন,‘ভারত যেভাবে খেলছে…আমি বিশ্বাস করি তাদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রয়েছে। শিরোপা না জেতার কোনো কারণ আমি দেখছি না।এখানে প্রতিপক্ষরা বেশ দূর্দান্ত, শক্তিশালী। তবুও আমরা আত্মবিশ্বাসী। সবথেকে ভালো দিক হচ্ছে শেষবার আমরা এখানে খেলেই শিরোপা জিতেছি। এটা আমাদের এগিয়ে রাখছে।’

১৯৮৩ এর বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেব মনে করেন, ভারতকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সবথেকে বেশি চ্যালেঞ্জ জানাবে ইংল্যান্ড। এইউন মরগানের দলকে নিয়েই যত ভয় কপিল দেবের। ইংল্যান্ডকে নিয়ে কপিল দেব বলেন,‘আপনি সবগুলো দলকে হারাতে পারবেন কিন্তু ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারানো কঠিন। তারা দারুণ দল। অন্যান্য দলগুলোর থেকে তারা কন্ডিশন সম্পর্কে বেশি অবগত।’

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ৪ জুন এজবাস্টনে মাঠে নামবে দুই দল। এরপর ৮ জুন ও ১১ জুন শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মাঠে নামার আগে আগামী ৩০ জুন বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ধোনির দল।

পরিত্যক্ত হল বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

আয়ারল্যান্ডে ওয়ালটন ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

৩১.১ ওভার খেলা হওয়ার পর বৃষ্টি এসে হানা দেয়। সেই বৃষ্টি আর না থামলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

বৃষ্টির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩১.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান। ব্যাটিংয়ে ছিলেন তামিম ইকবাল (৬৪) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪৩)। এ জুটি ৮৭ রান  সংগ্রহ করেছিল।

আউট হয়েছেন : ৮/১ সৌম্য সরকার (৫), ৯/২ সাব্বির রহমান (০), ৪৭/৩ মুশফিকুর রহিম (১৩), ৭০/৪ সাকিব আল হাসান (১৪)।

নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ অবশ্য খেলতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার পরিবর্তে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

আয়ারল্যান্ডের একাদশ : পল স্টার্লিং, উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), নীল ও’ব্রায়েন (উইকেটরক্ষক), অ্যান্ড্রু বালবিরনি, স্টুয়ার্ট থম্পসন, গ্যারি উইলসন, কেভিন ও’ব্রায়েন, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাককার্থি, টিম মুরতাগ ও পিটার চেস।

নিউজিল্যান্ডের অপেক্ষায় সাকিব

ডাবলিনের মালাহাইড মাঠে উইকেট আর আউটফিল্ডের কোনো পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না কাল। অনেকে তো মজা করেই বলছিলেন ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড উইকেট বানাতে ভুলে গিয়ে সবুজ মাঠেই স্টাম্প গেড়ে খেলা শুরু করে দিয়েছে। শ্যামল-সবুজ উইকেটে টসে হেরে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিংয়ের নামল, তখনই বুক দুরুদুরু বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। এমন উইকেটে দাঁড়াতে পারবে তো বাংলাদেশ!
এমনিতেই কনকনে ঠান্ডা, তার ওপর উইকেটের এই চেহারা। কাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার আগে ‘কঠিন পরীক্ষা’ই ছিল বাংলাদেশের জন্য। সে পরীক্ষায় শুরুর দিকে বিপর্যয় হলেও পরে তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহর ৮৭ রানের জুটিতে ভালোই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দল। এই দুই ব্যাটসম্যান যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত হলে বাংলাদেশই হয়তো–বা এগিয়ে থাকত আয়ারল্যান্ডের চেয়ে।
বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য আশাবাদীই দলকে নিয়ে। তাঁর আশাবাদ মূলত তামিম-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখেই। আয়ারল্যান্ড-কন্ডিশনে এই সিরিজের সময় যত গড়াবে, বাংলাদেশ ততই ভালো খেলবে বলে বিশ্বাস তাঁর। প্রথম ম্যাচে এমন কন্ডিশনের অনভ্যাসটাই দলকে ভুগিয়েছে বলে অভিমত তাঁর, ‘যে কন্ডিশনে খেলে আমরা অভ্যস্ত, প্রথম দিকের পরিস্থিতি ছিল পুরোপুরিই ভিন্ন। খুব কঠিন ছিল কন্ডিশনটা। তবে সময় যত গড়িয়েছে, বল যত পুরোনো হয়েছে, সেটা তত সহজেই ব্যাটে এসেছে। অভিজ্ঞতা ভালোই হলো। আমরা এখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।’
তামিম-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ সাকিব, ‘তামিম দারুণ খেলেছে। এই উইকেটে সে দারুণভাবে নিজেকে প্রয়োগ করেছে। মাহমুদউল্লাহর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ওদের জুটিটা ম্যাচের চেহারা পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটাও আমরা হাতে তুলে নিয়েছিলাম।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা। যদিও আইপিএলের কারণে ১০ ক্রিকেটার ছাড়া আয়ারল্যান্ডে সিরিজ খেলতে এসেছে নিউজিল্যান্ড। তারপরও সাকিবের শতভাগ সমীহই পাচ্ছে তারা, ‘নতুন চেহারার একটা দল খেলছে নিউজিল্যান্ডের। আইপিএলের কারণে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে তারা পাচ্ছে না। অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থাকলেও দ্বিতীয় বাছাই দল তারা। নিউজিল্যান্ড আমাদের কঠিন পরীক্ষাই নেবে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের সিরিজের কথা উল্লেখ করলেও সাকিব সে স্মৃতি ভুলেই ডাবলিনে কিউদের বিপক্ষে নামতে চান, ‘কয়েক মাস আগে আমরা নিউজিল্যান্ডের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছি। তবে সেই স্মৃতি ভুলে যেতে চাই আমরা, সেখানে খুব একটা ভালো অভিজ্ঞতা হয়নি আমাদের। খুব ভালোও খেলিনি। তবে এবার ভিন্ন কন্ডিশনে, ভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা ভালো করব বলেই বিশ্বাস করি আমি।’

তামিম-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং ও বৃষ্টি

বাংলাদেশ দলের ওয়ালটন ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটা বৃষ্টিতে পরিত্যক্তই হয়ে গেছে! তার আগে শেষ হয়নি ম্যাচের এক ইনিংসও। ৩১.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৭ রান করেছিল বাংলাদেশ দল। দুই দলই পাবে ২ পয়েন্ট করে।
ডাবলিনের এই ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের আশা বাড়িয়ে দিয়েছিল বেলফাস্টের প্রস্তুতি ম্যাচ। সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির রহমানসহ সবার আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৯৯ রানের বিশাল জয় দেখে মনে হয়েছে, বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। আয়ারল্যান্ড আর সাসেক্সের ক্যাম্প মিলে সে কাজটা ভালোই হয়েছে।
কিন্তু কাল টস জিতে বল হাতে নিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত আনল আইরিশরা। সকালের ঝিরিঝিরি বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর। মালাহাইড ক্রিকেট ক্লাব মাঠের সবুজ উইকেটও হয়ে উঠেছিল আরেকটু পেসসহায়ক। আউট হওয়ার দুই বল আগে সৌম্য সরকার ডিপ পয়েন্ট দিয়ে পিটার চেজকে বাউন্ডারিতে পাঠালেও এই মিডিয়াম পেসারের বলই পরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য দুরূহ হয়ে ওঠে। শর্ট বলে সৌম্যকে কট বিহাইন্ড বানানোর পর নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১ রানের ব্যবধানে চেজ ফেরান সাব্বিরকেও। অবশ্য বোলারের যতটা না কৃতিত্ব, ওই আউটে তার চেয়ে বেশি ‘অবদান’ ব্যাটসম্যানেরই ছিল।
প্রস্তুতি ম্যাচে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পর অবসর নিয়েছিলেন। কাল তিন নম্বরে নেমে যেন সেখান থেকেই ব্যাটিং শুরু করতে চাইলেন সাব্বির! আউট হওয়ার আগে খেলা চেজেরই দুটি বলের কোনোটিতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। তবু সাব্বির চেজকেই ‘চেজ’ করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ক্যাচ। কী শট খেলতে গিয়েছিলেন, সেটা তিনি নিজেও জানেন কি না সন্দেহ।
দলের ৯ রানের মধ্যে সৌম্য-সাব্বিরের বিদায় কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। তামিম ইকবালের বদলে যাওয়া ব্যাটিংটা না থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারত আরও। অন্য প্রান্তের নড়বড়ে অবস্থা দেখে বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাট হলো সংযত, ওই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ইনিংস ঠিক এটাই দাবি করছিল তাঁর মতো অভিজ্ঞ আর ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে।
কিন্তু তামিম একা কী করবেন! আরও দুই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসানও যে পারেননি তাঁকে যোগ্য সংগত দিতে। দুজনই আউট হয়েছেন বাজে শট খেলে।
৭০ রানের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেছেন ওপরের দিকের চার ব্যাটসম্যান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা সহজ ছিল না। তবে বৃষ্টিতে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত বাকি খেলায় সেই কঠিন কাজটাই করে দেখাচ্ছিলেন তামিম-মাহমুদউল্লাহ। অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটি হয়ে গেছে ততক্ষণে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাট হাতে তাঁদের আত্মবিশ্বাস দেখে মনেই হচ্ছিল না, ওই জুটিটা শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্তও দারুণ দুঃসময় পার করছিল বাংলাদেশের ইনিংস।
সংযত ব্যাটিংয়েও তামিম আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শুরু থেকে। ৭৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছেন ম্যাকার্থিকে স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরে। ওই ওভারেই এর আগে বাউন্ডারি ছিল আরও একটা। এর আগে চাপের মধ্যে টিম মারটাগকেও মেরেছেন পরপর দুই বাউন্ডারি। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে নামের পাশে ৮৮ বলে অপরাজিত ৬৪। আর মাহমুদউল্লাহর তো প্রথম স্কোরিং শটটাই ম্যাকার্থিকে চার মেরে। ঘরোয়া ক্রিকেটের ফর্ম ধরে রেখে প্রস্তুতি ম্যাচে করেছিলেন ৪৯। কালও তাঁর ব্যাটে ছিল সেই ধারা। ৫৬ বলে অপরাজিত ৪৩ রানে চার বাউন্ডারি। বাঁহাতি স্পিনার ডকরেলকে তাঁরই মাথার ওপর দিয়ে মেরেছেন বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটি।
তামিম-মাহমুদউল্লাহ মিলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংসটা কোথায় নিয়ে যেতে পারতেন, বৃষ্টির বাধায় সেটি আর দেখা যায়নি। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে পরিত্যক্ত হয়ে যায় ম্যাচ। ডাবলিন তখনো ভিজছিল বৃষ্টিতে।

কানাডায় ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে চান আফ্রিদি

ক্রীড়া ডেস্ক :

পাকিস্তানের হয়ে ২০ বছর বেশ দাপটের সঙ্গে ক্রিকেটে খেলেছেন শহীদ আফ্রিদি। এবার উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন পাকিস্তানি প্রাক্তন এ অলরাউন্ডার।

বর্তমানে কানাডা সফরে রয়েছেন আফ্রিদি। কানাডার টরেন্টোর মেয়র জন টরি তার অফিসে আফ্রিদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কানাডায় ক্রিকেটের প্রসার কিভাবে ঘটানো যায় এ ব্যাপারে আফ্রিদির সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সিবিস নিউজকে আফ্রিদি জানান, ‘এটা এখানে আমার জন্য বেশ সম্মানের। টরি এবং শানের সঙ্গে দেখা করার জন্য সিটি হলে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়। টরেন্টোতে এটা আমার চতুর্থ সফর। এটা বেশ চমৎকার শহর। এখানে কিছু মহৎ কাজ এবং ক্রিকেটের জন্য আমি কিছু করতে চাই।’

টরেন্টোতে মেয়র টরি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের তরুণদের এগিয়ে নিতে আমরা তাকে (আফ্রিদি) প্রস্তাব দিতে চাই। ক্রিকেটে যারা আগ্রহী আমরা তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাই। আমি জানি ক্রিকেটে আফ্রিদির বেশ শক্তিশালী একটি প্রভাব রয়েছে। আমরা তার প্রতিভা ও অর্জনকে সম্মান জানাই।’

ধীর ব্যাটিংয়ে ক্যারিবীয়দের জবাব

ক্রীড়া ডেস্ক :

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ডোমিনিকো টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ধীর ব্যাটিংয়ে জবাব দিচ্ছে স্বাগতিক দলটি।

ইউনিস ও মিসবাহর বিদায়ী টেস্টের শেষটা ভালো ভাবেই শুরু করে পাকিস্তান। আজহার আলীর সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। জবাবে  পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে মাটি কামড়ে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছে ক্যারিবীয়রা।

ডোমিনিকো টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৮ রান। শেন ডাওরিচ ২০ ও জেসন হোল্ডার ১১ রানে অপরাজিত রয়েছেন। উইন্ডসর পার্কে শুক্রবার বিনা উইকেটে ১৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুটা ভালোই করেন ওপেনাররা। ৪৩ রান করতে ২৭ ওভার ব্যাটিং করেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েইট ও কাইরন পাওয়েল। ৮২ বলে দুটি চারে ৩১ রান করা পাওয়েল ইয়াসির শাহর বলে ক্যাচ দেন আজহার আলিকে।

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটা এসেছে রোস্টন চেজের কাছ থেকে। ১২৯ বল মোকাবেলা করে ৬০ রান করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এছাড়া ওপেনিংয়ে নেমে ব্রেথওয়েট ২৯ ও সাই হোপ সমান সংখ্যক রান করে সাজঘরে ফেরেন। ১৭ রান করেন হেটমেয়ার।

বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে ইয়াসির শাহ সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান মোহাম্মদ আব্বাস ও আজহার আলী।

মিসবাহ-ইউনিসের প্রতি আফ্রিদির শ্রদ্ধা

ক্রীড়া ডেস্ক:

দীর্ঘ ২০ বছর পাকিস্তানের হয়ে খেলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আফ্রিদির বিদায়টা বর্ণিলভাবে হয়নি। তবে নিজের আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও দীর্ঘদিনের দুই সতীর্থ মিসবাহ-উল-হক ও ইউনিস খানের ক্ষেত্রে এমনটা চাইছেন না আফ্রিদি। কৃতিত্বের কথা স্বীকার করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন এ অলরাউন্ডার।

এক ভিডিও বার্তায় মিসবাহ ও ইউনিসের বিদায় নিয়ে আফ্রিদি জানান, ‘আমি তাদের দুজনকে ধন্যবাদ দিতে চাই। প্রত্যেকেই মিসবাহ ও ইউনিসের সেবার কথা জানে।নিঃস্বার্থভাবে পাকিস্তান ক্রিকেটের সেবা করায় দেশের জনগণ এবং নিজ থেকে আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’

অবসরের পর মিসবাহ ও ইউনিসের অভিজ্ঞতাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজে লাগানোর প্রয়োজন অনুভব করেন আফ্রিদি। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমরা সর্বদাই ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতির কথা বলে আসছি। আমাদের দুই গ্রেট ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেছিলেন। তারা আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সমস্যা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের গঠন প্রণালী পরিবর্তনের জন্য পিসিবির উচিত তাদের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করা।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোমিনিকোতে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলছেন ইউনিস খান ও অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। এই ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের কাতারে যোগ দিবেন এই দুই গ্রেট তারকা।

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ

ম্যাচের শুরু হওয়ার আগেই বাগড়া বসিয়েছিল বৃষ্টি। এতে কিছুটা দেরিতে শুরু হয় খেলা। ম্যাচের মাঝপথে আবারও হানা দিয়েছে বৃষ্টি। ম্যাচের ৩২তম ওভারের প্রথম বলটি করতে পেরেছেন টিম মুরতাগ। এরপরই নামে বৃষ্টি। ক্রিকেটারদের নিয়ে ড্রেসিংরুমে চলেন যান আম্পায়াররা। আপাতত খেলা বন্ধ আছে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৭ রান। তামিম ইকবাল ৬৪ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩ রানে ব্যাট করছেন।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে সাকিব আল হাসানের দল। সূচনাটা ভালো হয়নি টাইগারদের। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। ৭ বল মোকাবেলা করেছেন এই ওপেনার। একটি বাউন্ডারিতে ৫ রান করতেই পিটার চেজের বলে নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য।

প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু মূল লড়াইয়ে এসে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন তিনি। ৩ বল খেলেও দলের স্কোরশিটে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি। পিটার চেজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির ধরা পড়েন টিম মুরতাগের হাতে।

মুশফিকুর রহীমও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। টাইগারদের অন্যতম ভরসা আজ থেমেছেন ১৩ রানে। ব্যারি ম্যাকআর্থির বল থার্ডম্যান অঞ্চলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে গ্যারি উইলসনের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। ১৭ বলে তিনটি চারের মারে ইনিংসটি সাজান মুশফিক।

এরপর আয়ারল্যান্ডের বোলারদের তোপে পড়েছে বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা। সেই বিপর্যয় কাটিতে উঠতে হাল ধরতে পারতেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু পারেননি। ১৬ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৪ রান করতেই পিটার চেজের শিকারে পরিণত হন। দলীয় ৭০ রানের মাথায় আইরিশ উইকেটরক্ষক নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাকিব প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এক রাশ হতাশা উপহার নিয়ে।

এদিকে ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসকে। দলের জন্য শুভকামনা থাকছে মাশরাফির। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব।

এই সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাসেক্সে দুটি। আয়ারল্যান্ডে একটি। তিনটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব রান করেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই হারেননি মুশফিকরা। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ হয়েছে পণ্ড। আর বাকি দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের মুখোমুখি হয় মাশরাফির দল। ম্যাচটিতে ১৯৯ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি (৮৬ বলে ১০০) ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ফিফটিতে (৭৪ বলে ৮৬) ভর করে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে সফরকারীরা। জবাবে ৪১.২ ওভারে ১৯৫ রানে অলআউট হয় উলভস।

ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে ভালো করতে পারলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবেন টাইগাররা। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। তার জন্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফি-সাকিবদের। ৯১ রেটিং নিয়ে বর্তমানে টাইগারদের অবস্থান সপ্তম।

বাংলাদেশ একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আয়ারল্যান্ড একাদশ : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), পল স্টার্লিং, নেইল ও`ব্রেইন, অ্যান্ড্রু বালবিরনি, স্টুয়ার্ট থম্পসন, গ্যারি উইলসন. কেভিন ও`ব্রেইন, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাকআর্থি, টিম মুরতাগ ও পিটার চেজ।

পাকিস্তানকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না ভারত

কয়েকদিন আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের দাবি, ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্বারক অনুযায়ী পারস্পরিক যে সিরিজ বিনিময় হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো খেলতে ভারত রাজী না হওয়ায় বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে পাকিস্তান। পিসিবির লিগ্যাল নোটিশে পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানকে কোন ক্ষতিপূরণ দেবে না ভারত, এমনকি মামলা করেও লাভ নেই।

চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। কিন্তু সীমান্তে দুদেশের সম্পর্ক উষ্ণ হয়ে ওঠায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই সিরিজ না খেলতে আদেশ দেওয়া হয় দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে। আর সিরিজ না হওয়ায় পিসিবি ২০ থেকে ৩০ কোটি ডলারের মতো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভারতের কাছে ছয় কোটি মার্কিন ডলার দাবি করেছে পিসিবি।

তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পিসিবির সঙ্গে শুধু দ্বিপাক্ষিক একটা সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়েছিল, কিন্তু এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তাই কোনো সিরিজ না হলে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয় ভারত।

হায়দ্রাবাদ-কলকাতার প্লে-অফ নিশ্চিত করার লড়াই আজ

আইপিএলে এখন পর্যন্ত প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে শুধু মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। বাকি তিনটি দল কারা হবে তা নিশ্চিত হতে আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে, আজই দুইটি দল তাদের শেষ চারে খেলার ব্যাপারটা নিশ্চিত করে ফেলতে পারে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) আজ দুইটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দিনের প্রথম ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। কানপুরের গ্রীন পার্কে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে চারটায়।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

আজ যদি কলকাতা ও হায়দ্রাবাদ জয়লাভ করতে পারে তাহলে তাদের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যদি দুই দলই হারে তাহলে তাদের আগামীকাল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

যদিও কলকাতার নেট রানরেট ভালো। সুতরাং, হারলেও তাদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাট লায়ন্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বাদ পড়াটা ইতোমধ্যে বাদ পড়েছে। টিকে আছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

ভালোই জবাব দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে গতকাল। শুক্রবার দিন শেষে পাকিস্তানের চেয়ে ১৫৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের হাতে রয়েছে পাঁচ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতকাল দিন শেষে সংগ্রহ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রান। ৬০ রান করে রিটায়ারর্ড হার্ট হয়েছেন রস্টন চেজ। শেন ডাউরিচ ২০ ও জ্যাসন হোল্ডার ১১ রান করে অপরাজিত আছেন। পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আমির ৩টি, মোহাম্মদ আব্বাস ১টি ও আজহার আলী ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

ডোমিনিকায় গত ১০ মে ম্যাচের প্রথমদিন টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে, ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রান করে অলআউট হয়ে যায় তারা। দলটির ওপেনার আজহার আলী সেঞ্চুরি করেন। ১২৭ রান করে আউট হন তিনি। এছাড়া বাবর আজম ৫৫, মিসবাহ-উল-হক ৫৯ ও সরফরাজ আহমেদ ৫১ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আলজারি যোসেফ ১টি, রস্টন চেজ ৪টি, জ্যাসন হোল্ডার ৩টি ও দেবেন্দ্র বিশু ২টি করে উইকেট নেন।

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে কোনও উইকেট না হারিয়ে ১৪ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করে। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৫ ও কাইরান পাওয়েল ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই সিরিজে এখন ১-১ সমতা রয়েছে। এই ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানাবেন পাকিস্তানি অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। অবসরে যাবেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ইউনিস খানও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

তৃতীয় দিন শেষে ১৫৮ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ৩৭৬ (১৪৬.৩ ওভার)

(আজহার আলী ১২৭, শান মাসুদ ৯, বাবর আজম ৫৫, ইউনিস খান ১৮, মিসবাহ-উল-হক ৫৯, আসাদ শফিক ১৭, সরফরাজ আহমেদ ৫১, মোহাম্মদ আমির ৭, ইয়াসির শাহ ০, মোহাম্মদ আব্বাস ৪, হাসান আলী ৮*; শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ০/৬৭, আলজারি যোসেফ ১/৬৪, রস্টন চেজ ৪/১০৩, জ্যাসন হোল্ডার ৩/৭১, দেবেন্দ্র বিশু ২/৬১)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২১৮/৫ (১০০ ওভার)

(ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ২৯, কাইরান পাওয়েল ৩১, শিমরন হেটমায়ার ১৭, শাই হোপ ২৯, রস্টন চেজ ৬০, ভিশাউল সিং ৮, শেন ডাউরিচ ২০*, জ্যাসন হোল্ডার ১১*; মোহাম্মদ আমির ০/২৪, মোহাম্মদ আব্বাস ১/৪৩, ইয়াসির শাহ ৩/১০৮, হাসান আলী ০/২২, আজহার আলী ১/১৫)।

বৃষ্টিতে পন্ড বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ

অবশেষে পন্ডই হলো ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ। ডাবলিনের ম্যালাহাইডের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে, ৩০ ওভার ১ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তোলার পর বৃষ্টিতে আর খেলা হতেই পারেনি। প্রায় আড়াই ঘন্টা প্রবল বর্ষণের পর বৃষ্টি থেমে আসলেও আর খেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
আইরিশদের কাছে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলের ৮ রানে হারায় সৌম্য সরকারের উইকেট। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। ৭০ রানে চার উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলকে খাদের কিনার থেকে টেনে তোলেন তামিম ইকবাল। মারকুটে এই ওপেনার বিপর্যয় সামাল দেন দারুণভাবেই।
দলের বিপর্যয় কাটানোর পাশাপাশি হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। ৭৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটি পূরণ করেন তিনি। খেলা পন্ড হওয়ার আগে পর্যন্ত ৮৭ বলে ৮টি চারে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ৮৭ রানের জুটি গড়ে তোলেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে।
আগামী ১৭ মে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

সৌম্যর পর সাজঘরে সাব্বির

প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু মূল লড়াইয়ে এসে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন তিনি। ৩ বল খেলেও দলের স্কোরশিটে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি। পিটার চেজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির ধরা পড়েন টিম মুরতাগের হাতে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯ রান।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে সাকিব আল হাসানের দল। সূচনাটা ভালো হয়নি টাইগারদের। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। ৭ বল মোকাবেলা করেছেন এই ওপেনার। একটি বাউন্ডারিতে ৫ রান করতেই পিটার চেজের বলে নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য।

এদিকে ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসকে। দলের জন্য শুভকামনা থাকছে মাশরাফির। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব।

এই সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাসেক্সে দুটি। আয়ারল্যান্ডে একটি। তিনটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব রান করেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই হারেননি মুশফিকরা। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ হয়েছে পণ্ড। আর বাকি দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের মুখোমুখি হয় মাশরাফির দল। ম্যাচটিতে ১৯৯ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি (৮৬ বলে ১০০) ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ফিফটিতে (৭৪ বলে ৮৬) ভর করে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে সফরকারীরা। জবাবে ৪১.২ ওভারে ১৯৫ রানে অলআউট হয় উলভস।

ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে ভালো করতে পারলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবেন টাইগাররা। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। তার জন্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফি-সাকিবদের। ৯১ রেটিং নিয়ে বর্তমানে টাইগারদের অবস্থান সপ্তম।

মাহমুদউল্লাহ-তামিমে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

৭০ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে সফরকারীরা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তামিম ইকবালের ব্যাটে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ফিফটি করে ফেলেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ-তামিম মিলে গড়েছেন ৫২* রানের জুটি। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১২২ রান।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে সাকিব আল হাসানের দল। সূচনাটা ভালো হয়নি টাইগারদের। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। ৭ বল মোকাবেলা করেছেন এই ওপেনার। একটি বাউন্ডারিতে ৫ রান করতেই পিটার চেজের বলে নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য।

প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু মূল লড়াইয়ে এসে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন তিনি। ৩ বল খেলেও দলের স্কোরশিটে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি। পিটার চেজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির ধরা পড়েন টিম মুরতাগের হাতে।

মুশফিকুর রহীমও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। টাইগারদের অন্যতম ভরসা আজ থেমেছেন ১৩ রানে। ব্যারি ম্যাকআর্থির বল থার্ডম্যান অঞ্চলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে গ্যারি উইলসনের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। ১৭ বলে তিনটি চারের মারে ইনিংসটি সাজান মুশফিক।

এরপর আয়ারল্যান্ডের বোলারদের তোপে পড়েছে বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা। সেই বিপর্যয় কাটিতে উঠতে হাল ধরতে পারতেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু পারেননি। ১৬ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৪ রান করতেই পিটার চেজের শিকারে পরিণত হন। দলীয় ৭০ রানের মাথায় আইরিশ উইকেটরক্ষক নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাকিব প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এক রাশ হতাশা উপহার নিয়ে।

এদিকে ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসকে। দলের জন্য শুভকামনা থাকছে মাশরাফির। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব।

এই সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাসেক্সে দুটি। আয়ারল্যান্ডে একটি। তিনটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব রান করেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই হারেননি মুশফিকরা। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ হয়েছে পণ্ড। আর বাকি দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের মুখোমুখি হয় মাশরাফির দল। ম্যাচটিতে ১৯৯ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি (৮৬ বলে ১০০) ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ফিফটিতে (৭৪ বলে ৮৬) ভর করে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে সফরকারীরা। জবাবে ৪১.২ ওভারে ১৯৫ রানে অলআউট হয় উলভস।

ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে ভালো করতে পারলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবেন টাইগাররা। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। তার জন্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফি-সাকিবদের। ৯১ রেটিং নিয়ে বর্তমানে টাইগারদের অবস্থান সপ্তম।

বাংলাদেশ একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আয়ারল্যান্ড একাদশ : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), পল স্টার্লিং, নেইল ও`ব্রেইন, অ্যান্ড্রু বালবিরনি, স্টুয়ার্ট থম্পসন, গ্যারি উইলসন. কেভিন ও`ব্রেইন, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাকআর্থি, টিম মুরতাগ ও পিটার চেজ।

বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে হাফ সেঞ্চুরি তামিমের

ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে আজ গড়িয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। টাইগারদের শুরুটা হয়েছে বাজেভাবে। দলীয় ৮ রানের মাথায় সৌম্য সরকারকে (৫) হারায় সফরকারীরা।

এরপর একে একে সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির রহমান রুম্মন, মুশফিকুর রহীম ও সাকিব আল হাসান। ৭০ রানে চার উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলকে খাদের কিনার থেকে টেনে তোলেন তামিম ইকবাল। মারকুটে এই ওপেনার বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন দারুণভাবেই।

দলের বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম। ৭৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম। ব্যারি ম্যাকআর্থির বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পঞ্চাশের কোটা পূরণ করেন বাংলাদেশি এই ড্যাশিং ওপেনার।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮৭ বলে ৮টি চারে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন তামিম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে (৪২*) নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান।

বৃষ্টির বাধায় এখনো বন্ধ খেলা

সব সময়ই তো বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস ছিলো ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে। সেই পূর্বাভাসের জের ধরেই ৩১ ওভার ১ বল খেলা শেষ হওয়ার পরে বৃষ্টিতে থেমে আছে খেলা। থেমে থাকার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৭ রান। তামিম ৬৪ এবং মাহমুদুল্লাহ ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

স্কুল ক্রিকেট সেমিফাইনাল পর্যায়ে

প্রাইম ব্যাংক ইয়ং টাইগার্স ন্যাশনাল ক্রিকেটের জাতীয় পর্যায়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে রংপুর বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল। তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে খুলনা বিভাগের সেরা সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজকে ৬৮ রানে হারায় দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল।
এদিকে শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সিলেট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন মৌলভীবাজারের কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুলকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রো চ্যাম্পিয়ন শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। ৪ উইকেটে জয় পায় শামসুল হক স্কুল।

বৃষ্টির ফাঁদে আয়ারল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ

ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠলেও বৃষ্টির বিপর্যয় এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুক্রবার ডাবলিনের ম্যালাহাইড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বৃষ্টির কারণে প্রথমে খেলা শুরু হং ২৫ মিনিট দেরীতে শুরু হয় খেলা। আবার তামিম-মাহমুদুল্লাহর কল্যাণে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা বাংলাদেশ পড়ে বৃষ্টির ফাঁদে।
তামিম আর মাহমুদুল্লাহর পঞ্চম উইকেটে বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটান। ৩১.১ ওভারে এই জুটিতে রান ৮৬। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৭। তামিম ৬৪ আর মাহমুদুল্লাহ ৪৩ রানে আছে।
তামিমের ফিফটিতে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করছে এখন বাংলাদেশ। তামিম ব্যাট করছেন ৫৪ রান নিয়ে। মুশফিক, সাবিকের বিদায়ের পর মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে দলের বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল। মুশফিক ১৩ ও সাকিব ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরত আসেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ, ১৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান।
প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। পিটার চেইসের বলে ক্যাচ দেন টিম মারটাগের হাতে।
তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৭ বলে এক বাউন্ডারিতে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার।
এরআগে, টস হয়েছে নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে শুক্রবার ডাবলিনের ম্যালাহাইডে ঠিক সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর শুরু হয় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে দলে ফিরেছেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত এপ্রিলে খেলা শেষ ওয়ানডের বাংলাদেশ দল থেকে পরিবর্তন এই একটিই।

বৃষ্টিতে থেমে আছে বাংলাদেশের খেলা

তামিম আর মাহমুদুল্লাহর পঞ্চম উইকেটে বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটান। ৩১.১ ওভারে এই জুটিতে রান ৮৬। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৭। তামিম ৬৪ আর মাহমুদুল্লাহ ৪৩ রানে আছে।
তামিমের ফিফটিতে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করছে এখন বাংলাদেশ। তামিম ব্যাট করছেন ৫৪ রান নিয়ে। মুশফিক, সাবিকের বিদায়ের পর মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে দলের বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল। মুশফিক ১৩ ও সাকিব ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরত আসেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ, ১৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান।
প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। পিটার চেইসের বলে ক্যাচ দেন টিম মারটাগের হাতে।
তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৭ বলে এক বাউন্ডারিতে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার।
এরআগে, টস হয়েছে নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে শুক্রবার ডাবলিনের ম্যালাহাইডে ঠিক সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর শুরু হয় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে দলে ফিরেছেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত এপ্রিলে খেলা শেষ ওয়ানডের বাংলাদেশ দল থেকে পরিবর্তন এই একটিই।

আফগানিস্তানের কোচ ইউনিস খান

অবসরের পর আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ হবেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ইউনিস খান। সেদেশের ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আফগান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আতিফ মাশাল জানান, কোচ হওয়ার ব্যাপারে ইউনিস সম্মত হয়েছেন। আর বোর্ডও নিশ্চিত করেছে।
৩৯ বছর বয়সী ইউনিস খান ওয়েস্ট ইন্ডিজে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলছেন। চলতি সিরিজ শেষে অবসর নেওয়ার ঘোষণাটা দিতে আগেই দিয়েছিলেন। এই সিরিজেই প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে ইউনিস খান ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অবশ্য আফগানিস্তান দল কোচ হিসেবে বরাবর পাকিস্তানিদেরকে ঈয়ন্দ করে এসেছে। ইউনিসের আগে এই দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, ইনজামাম উল হক, রশীদ লতিফ এবং কবির খান।

আইপিএলের ফাইনালকে মনোহরের না

আইপিএলের ফাইনালে থাকবেন না আইসিসি-র চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড-বিসিসিআই মনোহর ও তার স্ত্রী বর্ষা মনোহরকে আইপিএলের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য দাওয়াত করলে, তিনি তা প্রত্যাক্ষান করেন। আগামী ২১ মে হায়দ্রাবাদে হবে এবারের আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচটি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত বিসিসিআই-র বর্তামান কমিটি শশাঙ্ক মনোহরকে আমন্ত্রণ জানায়। তিনি হায়দ্রাবাদের ফাইনালে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির কিছু সদস্যের সঙ্গে মনোহর এবং তার সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ থাকার কারণেই তিনি সেখানে যাবেন না। তবে পারিবারিক ব্যস্ততার কারণই বলেছেন তিনি আইপিএলের ফাইনালে উপস্থিত হতে না পারার কারণ হিসেবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে স্বাগতিক দল ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে নিউজিল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এই সিরিজটি বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের জন্য বেশ গুরুত্ব¡পূর্ণ। আইসিসির নিয়মানুযায়ী প্রতিযোগিতার আগে একই গ্রুপের কোনো দল পরস্পর মুখোমুখি হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে না; কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ড যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রয়েছে একই গ্রুপে।
পাঁচ মাস আগেই বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচ সিরিজে পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। আবারও মুখোমুখি তারা। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি আয়ারল্যান্ডের। শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটায় ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। এবার জেনে নেয়া যাক ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি:

তারিখ সময় দল ভেন্যু

১২ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

১৪ মে ৩.৪৫মি. নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

১৭ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্লনটার্ফ, ডাবলিন

১৯ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

২১ মে ৩.৪৫মি. নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

২৪ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্লনটার্ফ, ডাবলিন

আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি আজ বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ শুক্রবার স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি। নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ম্যাচ খেলতে পারছেন না অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার পরিবর্তে টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ ছাড়া পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামতে পারবে সফরকারীরা। এই সিরিজে কোনো ফাইনাল না থাকায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল চ্যাম্পিয়ন বলে বিবেচিত হবে। তবে সিরিজটিকে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। সিরিজের তৃতীয় দল নিউজিল্যান্ড। তার ওপর এই সিরিজটিই বাংলাদেশকে পাইয়ে দিতে পারে আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপের টিকিট। কারণ আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এ বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। বাংলাদেশ বর্তমানে ৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে। এই সিরিজে চার ম্যাচই জিতলে ৯৭ ও তিনম্যাচ জিতলে ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলংকাকে টপকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে যাবে। দুই ম্যাচ জিতলে ৯০ পয়েন্ট নিয়েও সাতেই থাকবে টাইগাররা। তবে তিন বা চারটি ম্যাচই হারলে রেটিং পয়েন্ট হবে ৮৭ ও ৮৩। েেসেত্র আটে নেমে যাওয়া বাংলাদেশকে অপো করতে হবে শেষ দিন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই পয়েন্ট পেরোতে পারে কি না তা দেখার জন্য।

সেরা একাদশের অধিনায়ক সৌরভ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বকালের সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলিকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা একাদশের নাম ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি-র এই টুর্নামেন্টে সেরা পারফর্মারদের নিয়ে সর্বকালের সেরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একাদশ প্রকাশ করা হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে। আর এই দলটির অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সৌরভ গাঙ্গুলিকে। দলের উইকেটকিপার হিসেবে রাখা হযেছে রাহুল দ্রাবিড়কে। এছাড়া আর কোনো ভারতীয় খেলোয়াড়ের জায়গা হয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সেই দলে। এমনি শচীন টেন্ডুলকারেরও ঠাঁই হয়নি সেখানে।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন- ক্রিস গেইল, হার্শেল গিবস, জাক কালিস, ড্যামিয়েন মার্টিন, শেন ওয়াটসন, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, কাইল মিলস, মুত্তিয়া মুরলীধরন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা।

১১ বছর পর যুবরাজ, ছ’বার শোয়েব খেলবেন

নানা কারণে খেলতে পারেননি অনেকদিন। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করতে হয় জীবনের সঙ্গে। ফিরলেও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা হয়নি যুবরাজ সিংহর। ১১ বছর পর আবার সুযোগ এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার। ভারতের ১৫ জনের দলে জায়গা হয়েছে তার। যুবরাজ বলেন, ভারতের হয়ে ৫০ ওভারের আইসিসি টুর্নামেন্টে ফিরতে পেরে খুশি। মুখিয়ে রয়েছি নিজের সেরাটা দিয়ে ট্রফি ধরে রাখতে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ছ’টি টুর্নামেন্টে খেলার রেকর্ডের সামনে আছেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক। এই তালিকায় আগেই আছেন- রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া), রাহুল দ্রাবিড় (ভারত)। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (নিউজিল্যান্ড), মার্ক বাউচার ও জ্যাক কালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা), সনাত জয়সুরিয়া, মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)। শোয়েব বলেন, এত বড়ো টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দলে সুযোগ পেয়ে খুশি। আমার আগে যারা ছ’বার এই ট্রফি খেলেছে তারা বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা আইকন।

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার হাতছানি মাশরাফিদের

ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথে আরও এগোনোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। তবে প্রাপ্তির সম্ভাবনার সঙ্গে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের সামনে আছে হারানোর শঙ্কাও। ১২ থেকে ২৪ মে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও র‌্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে যেমন পয়েন্ট প্রাপ্তি থাকবে তেমনি আয়ারল্যান্ডে কাছে হারলে দিতে হবে চড়া মূল্য। দেশে থাকতেই মাশরাফি বলে গেছেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের ব্যাপারটি এই সিরিজে তাদের মাথায় থাকবে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি জয়ে ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পিছনে ফেলতে পারে ষষ্ঠ স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কাকে (৯৩)। চারটি ম্যাচই জিতলে মাশরাফিদের পয়েন্ট হবে ৯৭। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি জয়ের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের কাছে দুই হারে বাংলাদেশ হারাবে ১ পয়েন্ট। নিউ জিল্যান্ডের কাছে দুই হারের সঙ্গে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এক পরাজয়ে ৮৭ পয়েন্ট নিয়ে মাশরাফিদের নেমে যেতে হবে পাকিস্তানের নিচে। চার ম্যাচেই হারলে পয়েন্ট হবে ৮৩। গত ১ মে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং বার্ষিক হালনাগাদের পর বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯১। আট নম্বরে থাকা পাকিস্তানের চেয়ে ৩ আর নয় নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছে চন্দিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ হারলেও চার নম্বরেই থাকবে নিউ জিল্যান্ড। ১১৫ পয়েন্ট থেকে কমবে তিন পয়েন্ট। এর সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারলে ইংল্যান্ডের (১০৯) পিছনে পড়তে হবে তাদের। ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে কোন আট দল, সেটি নির্ধারিত হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও র‌্যাঙ্কিংয়ের অন্য শীর্ষ সাত দল পাবে সরাসরি খেলার টিকেট। বাকি দুই দলকে আসতে হবে বাছাইপর্ব খেলে।

সানির ভাবনায় নেই জাতীয় দল

তাসকিন আহমেদের মতো বোলিং অ্যাকশন শুধরে ক্রিকেট মাঠে ফিরেছেন ঠিকই। কিন্তু এখনও জাতীয় দলে ফিরতে পারেন নি আরাফাত সানি। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের স্পষ্ট কথা, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো না খেললে সানির জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই। এই বাঁহাতি স্পিনারের চিন্তা-চেতনায় অবশ্য জাতীয় দল নেই আপাতত।
এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। স্পিনের মায়াজালে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে তিনি ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ২২ উইকেট। এখন নিশ্চয়ই জাতীয় দলে ফেরার কথা ভাবছেন? বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এমন প্রশ্নে সানির জবাব, আমি এক ফোঁটাও হতাশ নই। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে এমন (দল থেকে বাদ পড়া) হতেই পারে। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায় নিয়ে বাদ পড়েছিলাম। অ্যাকশন শোধরানোর পর পারফরর্ম করেই আমাকে দলে জায়গা করে নিতে হবে। লিগে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারলে হয়তো (জাতীয় দলের) দরজা খুলে যাবে আমার জন্য। নতুন অ্যাকশনে বোলিং আরও কার্যকর হয়েছে বলে মনে করেন সানি। তার অভিমত, নতুন অ্যাকশনে বোলিং করা বেশ কঠিন ছিল আমার জন্য। তবে অভ্যস্ত হওয়ার পর বুঝতে পারছি, আগের চেয়ে টার্ন অনেক বেশি পাচ্ছি। গ্রিপও আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে।
এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে ঢাকা মেট্রোর হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন সানি। সাফল্য মোটামুটি, উইকেট নিয়েছিলেন ১০টি। তবে ওই চার ম্যাচে ১১৬ ওভার বল করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। জানান, আমি ভাগ্যবান, অ্যাকশন শুধরে ফেরার পর জাতীয় লিগের চারটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ বলে সেখানে ওভারের কোনও লিমিটেশন ছিল না। একটানা বোলিং আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। প্রাইম দোলেশ্বরকে প্রতিনিধিত্ব করা সানি এখন লিগের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। সামনের ম্যাচগুলোতে সাফল্য ধরে রাখার প্রত্যাশা তার কণ্ঠে, এখন পর্যন্ত আমি লিগের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। লিগ পর্বের তিনটি ম্যাচ বাকি। সুপার লিগে খেলার সুযোগ পেলে আরও পাঁচটা ম্যাচ পাবো। আপাতত শীর্ষে আছি বলে খুব ভালো লাগছে। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বড় জয়

বেলফাস্টে প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসকে ১৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারালো বাংলাদেশ। ৩৯৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করে, ১৯৫ রানে অলআউট হয়, আয়ারল্যান্ড উলভস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও রুবেল ২টি করে এবং সৌম্য সরকার একটি উইকেট তুলে নেন। এরআগে, সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। স্টারমন্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ রানে সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বিরকে নিয়ে ১০৩ রানের জুটি গড়ে টাইগারদের বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তামিম ইকবাল। ৭৪ বলে ৮৬ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। সাব্বির রহমান ৮২ বলে ১৬ চার আর এক ছক্কায় সেঞ্চুরি পূরণ করে বিশ্রামে যান। মাহমুদুল¬াহর ৪৯, সাকিবের ৪৪ আর মুশফিকের ৪১ রানে শেষ পর্যন্ত, ৭ উইকেটে ৩৯৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।
শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে টাইগাররা। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে চারটায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের সময় পাওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম ম্যাচে মাশরাফিকে থাকতে হবে একাদশের বাইরে। দলকে নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ডাবল লিগ পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টের তৃতীয় দল নিউজিল্যান্ড।

দুটি টেস্ট খেলতেই বাংলাদেশ আসবে অজিরা

আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার ব্যাপারে আরো এক ধাপ এগিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের বরাত দিয়ে তাদের এ নীতিগত সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাদারল্যান্ড জানান, তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের সবুজ সংকেত পেলে আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সময়সূচি অনুমোদন করলে এই সিরিজের পথে আর কোনো বাঁধা থাকবে না। তবে তিনি এও জানান, ওয়ানডে সিরিজ সংযোজনের গুঞ্জন উঠলেও তা মোটেই সত্য নয়। বরং কোরবানির ঈদের আগে-পরে শুধু দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতেই বাংলাদেশ আসবে অজিরা। ২০১৫ সালের অক্টোবরের এই টেস্ট সিরিজটি নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে সে সময় পিছিয়ে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে টাইগারদের ধারাবাহিক ভালো পারফমেন্সের ফল হিসেবেই অস্ট্রেলিয়া আবারো বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আইসিসিতেই থাকছেন শশাঙ্ক মনোহর

অবশেষে মত পাল্টালেন আইসিসি-র চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ চেয়ারম্যান পদে মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসির চেয়ারম্যান পদে থাকছেন। অবশ্য গত ১৫ মার্চ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আইসিসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও দেড় মাসের ব্যবধানেই নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন মনোহর। এতে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত নিজের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবেই থাকছেন।
এর আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ১৫ মার্চ হঠাৎই আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান শশাঙ্ক মনোহর। পরে আইসিসির গঠনতন্ত্র সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বোর্ড কর্মকর্তাদের অনুরোধেই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন সংস্থাটির প্রথম স্বাধীন চেয়ারম্যান। এবার গঠনতন্ত্র সংশোধন হওয়ার পর নিজের পূর্ণ সময় চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত জানান মনোহর।
ভারতের আইনজীবী শশাঙ্ক মনোহর ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত বিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে এই পদে নির্বাচিত হন। শ্রীনিবাসন অপসারিত হওয়ার পরই আইসিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শশাঙ্ক মনোহর।

টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান মোহাম্মদ আমির

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারকে আরো বাড়াতে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চাইছেন পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির। এমনই এক সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ডেকান ক্রনিকল।
স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত আমির পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালে আবারো ফেরেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। পাকিস্তানের হয়ে ইতোমধ্যে ১৫টি টেস্ট ম্যাচও খেলে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু দলের প্রয়োজনে বলার মতো তেমন কোনো সাফল্যই নেই তার। এই কারণে টেস্ট ক্রিকেটকে গুডবাই জানানোর বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি দলের অন্য খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। তাতে নিজের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার অন্তত: বাড়বে বলেও মনে করেন আমির। তাছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে অনেক বেশি ফিটনেস এবং অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। বার্বাডোজে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজয়ের পরই এই বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টর সঙ্গে আলোচনা করেন মোহাম্মদ আমির।

আইপিএলে এতো রঙ!

টেস্ট ক্রিকেটের পর ওয়ানডের সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বের পরিচয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যেতে থাকে ক্রিকেটের খোল-নলচে। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার পর তো রীতিমতো বিপ্লব ঘটে ক্রিকেটবিশ্বে। তার প্রভাব পড়ে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজিতেও। প্রভাব পড়ে পোশাক-আশাকে, জার্সিতে এবং জীবনাচারেও। ক্রিকেটারদের পরণে এখন রঙিন জার্সি, সেই সঙ্গে রংবেরংয়ের ট্রাউজার। ভক্তদের চোখ টানে প্রিয় ব্যাটসম্যানের গ্লাভস, জুতো, প্যাডও। ক্রিকেটে এতো রঙ ভালো নয় বলে অনেকেই হচ্ছেন সমালোচনামুখর।
এই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বদৌলতে কত কিছুই না ঘটছে মাঠে। মাঠে আপেলের পসরা নিয়ে বসছেন সুন্দরী বিদেশিনী। আম্পায়ারকে বলের পরিবর্তে দিচ্ছেন আপেল। চিয়ারলিডাররা উদ্দাম নাচছেন। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সির রংও চোখ পরার মতো। যুবরাজ সিংহ, ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, রবিন উথাপ্পা, মিচেল মার্শরা রঙিন জুতো পরে খেলছেন আইপিএল-এর আসরে। ব্যাট করতে নামার সময়ে বদলে যায় জুতো-প্যাড এমনকি হেলমেটের রংও।
হায়দরাবাদ-এর তারকা ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিংহ জানান, রংবেরংয়ের জুতো, প্যাড, গ্লাভস পরার কারণ। বলেন, ক্রিকেট কিট প্রস্তুকারী সংস্থাগুলো এখন ক্রিকেটারদের কথা মাথায় রেখেই গ্লাভস, প্যাড, জুতো রঙিন করেই এখন বানাচ্ছে। ক্রিকেটাররা এখন রোল মডেল, নায়ক একেকজন। বিশ্বজুড়ে তাদের ভক্তের সংখ্যাও অসংখ্য। মাঠের ভিতরে তাদের হাটা চলা, জামা কাপড় পরার ধরনধারণ অনুকরণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের চোখে পছন্দের নায়ক যাতে আরও গ্ল্যামারার্স হয়ে ওঠেন, সেই কারণেই কিট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো সবকিছুতেই রং মেশায় আজকাল। হরেকরকমের জার্সি ও ট্রাউজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গ্লাভস-প্যাডও রঙিন বানানো হচ্ছে। ব্যাট করার সময়ে সেগুলো পরে ব্যাটসম্যানদের আরও আকর্ষণীয় দেখায়।

জয়ে ফিরলো প্রাইম ব্যাংক

টানা ছয় জয়ের পর কিছুটা ছন্দপতন হয়েছিলো প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের। প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনীর কাছে পরপর দুই ম্যাচেই পরাজিত হয় তারা। দুই হারের পর আবারও জয়ে ফিরেছে প্রাইম ব্যাংক। ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ-ডিপিএলের অষ্টম রাউন্ডেচ পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মেহেদী মারুফের দল।
মঙ্গলবার ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৪৬.২ ওভারে ১৯২ রানেই গুটিয়ে যায় পারটেক্সের ইনিংস। বৃষ্টিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে প্রাইম ব্যাংকের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ৭৮ রান। কিন্তু ততক্ষণে দুই ওপেনার মেহেদী মারুফ ও জাকির হাসানের ব্যাটে সে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক। মারুফ ও জাকিরের জোড়া ফিফটিতে ২৪ ওভার শেষে প্রাইম ব্যাংকের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৪ রান। এই জুটির কল্যাণে ১০ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ৬৯ বলে দুই চার ও দুই ছয়ে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক মেহেদী মারুফ। এছাড়া ৭৫ বলে চারটি চার ও এক ছয়ে ৫৫ রান আসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকিরের ব্যাট থেকে।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করে, জনি তালুকদার এবং জাতিন সাক্সেনার ৭৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে থাকে পারটেক্স। জাতিন সাক্সেনা ব্যক্তিগত ৪০ রানে ফিরে গেলেও হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জনি। ৮৬ বলে ছয় চার ও দুই ছয়ে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৯২ রানে গুটিয়ে যায় তারা। প্রাইম ব্যাংকের বোলার নাজমুল ইসলাম ২৩ রানের খরচায় তুলে নেন ৩ উইকেট।
বৃষ্টি আইনে হেরে গেল শেখ জামাল
বৃষ্টি আইনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে নিজেদের ৮ম ম্যাচে ২৪ রানে হেরেছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ২৩৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা গাজী গ্রুপের ব্যাটিং ইনিংসের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে বৃষ্টি হানা দিলে ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। গাজী গ্রুপের দলীয় সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ১১৪ রান। পরে বৃষ্টি আইনে ২৪ রানে গাজী গ্রুপকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

আইরিশদের নতুন তিন অতিথি

জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি তাদের। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এখনও খেলার সুযোগ পাননি মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং মোসাদ্দেক হোসেন। অবশেষে ত্রিদেশীয় সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আইরিশ দর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন এই তিন টাইগার ক্রিকেটার। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের ১২ তারিখে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সে ম্যাচ দিয়েই হয়তো আইরিশ পরীক্ষায় নামবেন, মুস্তাফিজ-মিরাজ-মোসাদ্দেকের।
এদিকে, সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্প সেরে আয়ারল্যান্ডে আছে বাংলাদেশ দল। গত সোমবার বিশ্রাম নেওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে আয়ারল্যান্ডে অনুশীলন শুরু করেন সাকিব-তামিমরা। বুধবার সেখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। এরপর ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ১৭ মে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা। ১৯ মে আবার আয়ারল্যান্ড ও ২৪ মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে ২৫ মে ইংল্যান্ডে ফিরে যাবে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রস্তুতি পর্বে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। ১ জুন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাশরাফিদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। ৫ জুন ইংল্যান্ডের ওভালে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচ ৯ জুন কার্ডিফের সুফিয়া গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাশরাফিবাহিনী।
এর আগে ইংল্যান্ডে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে নরফোক একাদশের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৪৫ রান সংগ্রহ করেছিল সফরকারীরা। অবশ্য বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে সাসেক্স একাদশকে ১৩৪ রানে পরাজিত করে বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ড দল ঘোষণা

ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আয়ারল্যান্ড। মাত্রই শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সফরের স্কোয়াড থেকে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের জায়গায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেলেন ত্রিশ বছর বয়সী অলরাউন্ডার সিমি সিং। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্য পাঞ্জাবে জন্ম নেওয়া সিমি সিং আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমান। গত মাসেই আইরিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে তার স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। কোচ জন ব্রেসওয়েলের চোখে সিমি সিংয়ের অসাধারণ দক্ষতাই তাকে আইরিশ টিমে সুযোগ দিয়েছে। আগামী ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল পোনে চারটা থেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (১ জুন শুরু) সামনে রেখে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের ট্রেনিং ক্যাম্প শেষে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছে টাইগাররা। আয়ারল্যান্ড স্কোয়াড : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), অ্যান্ড্রু বালবির্নি, পিটার চেজ, জর্জ ডকরেল এড জয়েস, টিম মার্টাগ, ব্যারি ম্যাককার্থি, কেভিন ও’ব্রায়েন, নায়াল ও’ব্রায়েন, সিমি সিং, পল স্টার্লিং, স্টুয়ার্ট থম্পসন ও গ্যারি উইলসন।

নারী ক্রিকেটের নিজস্ব পরিচিতির চেষ্টায় আইসিসি

ক্রিকেট বিশ্বে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের মধ্যে ব্যবধান অনেক। বিশ্বায়নের এই যুগে ছেলেদের ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিটি বোর্ডের কাছে যতটা গুরুত্ব পায় নারীদের ক্রিকেট যেন ততটাই অচ্ছুত ও উপেক্ষিত। এর সুস্পষ্ট একটি প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও। ছেলেদের ক্রিকেটের জন্য যেভাবে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসে নারী ক্রিকেটের প্রতি ঠিক ততটাই বিমুখ।
সমস্যাটি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড ও আইসিসি-র স্থায়ী অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। সঙ্গত কারণেই ‘অস্তিত্ব সংকটের’ মুখে নারী ক্রিকেট। আর নারী ক্রিকেটের এমন সমস্যা সমাধানে নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। ছেলেদের ক্রিকেটের অনুরূপ বিশ্বব্যাপী নারী ক্রিকেটেরও একটি নিজস্ব পরিচিতি এনে দিতে নতুন নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আইসিসি-র দুই দিনের এক কর্মশালা। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ন্যাশনাল গেমস ডেভেলপমেন্টের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম। মঙ্গলবার বিসিবি-তে সেই কর্মশালার কথাই তুলে ধরেন গণমাধ্যমে। ফাহিম জানান, এখনও মনে করা হয় যে নারী ক্রিকেট হলো ছেলেদের ক্রিকেটের বর্ধিতাংশ। ওদের নিজস্ব একটি পরিচিতি দরকার। এটি ছাড়া নারী ক্রিকেটকে বাঁচানো যাবে না। সবার মনে রাখা উচিত নারী ক্রিকেট একটি আলাদা বিষয়। সেটা প্রথমে প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, কীভাবে আমরা তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও উন্নতি করতে পারি, তাদের কোন ফর্মেটকে উৎসাহিত করতে পারি সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মেয়েদের জন্য আলাদা নারী কোচের ব্যবস্থা করা, তাদের আলাদাভাবে কোচিংয়ে নিয়ে আসা, নতুন নতুন সুযোগ তৈরী করা। তাছাড়া তাদের বল কেমন হতে পারে, তাদের জন্য আলাদা ক্রিকেট সামগ্রী তৈরী করা যায় কী না এমন বিষয়ের ওপর গুরুত্বা দেয়া হয়। কর্মশালায় নারী ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনা এসেছে বলে জানন, ন্যাশনাল গেমস ডেভেলপমেন্ট প্রধান।

আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ কাল

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে আগামীকাল বাংলাদেশ দল মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ডর্স উলভসের। স্টরমন্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলাটি শুরু হবে বাংরাদেশ সময় বিকেল পোনে চারটায়। এ উপলক্ষ্যে আজ বেলা সোয়া দুইটা থেকে এক ঘন্টার অনুশলিন করেছে মাশরাফি বাহিনী। ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। প্রস্তুতি ম্যাচেও তার খেলার সম্ভবনা রয়েছে। নেটে বল করেছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমানও।
দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অনুশীলন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম গ্রুপে ছিলেন- ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাঞ্জামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, শুভাশিষ রয়, নূরুল হাসান সোহান ও মুস্তাফিজুর রহমান। আর দ্বিতীয় গ্রুপে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে অনুশীলন করেন- তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
ইংল্যান্ডে ১০ দিনের কন্ডিশন ক্যাম্প শেষে রোববার আয়ারল্যান্ডে পৌছে মুশফিক-রিয়াদরা। আগামী ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা।

আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনুশীলন

ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে প্রথম দিনের অনুশীলনে নেটে ব্যাটিং শুরু করেছেন বাহাতি এই ওপেনার। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে আগামী বুধবার সেখানে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলার সম্ভাবনা আছে তার। ইংল্যান্ডে ১০ দিনের কন্ডিশন ক্যাম্প শেষে রোববার আয়ারল্যান্ডে পৌছেছে মাশরাফি-মুশফিক-সাকিব-রিয়াদরা। একদিন বিশ্রামের পরই অনুশীলন শুরু করে বাংলাদেশ। আগামী ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপে মাঠে নামবে টাইগাররা।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারালো আবাহনী

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির জমজমাট লড়াই আবারো উপভোগ করলো বিকেএসপির দর্শকরা। আবাহনীর পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে সামান্য বিচলিত হয়নি মোহামেডানের ক্রিকেটাররা। তবে অধিনায়ক রকিবুল হাসানের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি সত্ত্বেও শেষ রা হয়নি সাদা-কালো শিবিরের। আবাহনীর ৫ উইকেটে ৩৬৬ রানের জবাবে মোহামেডানের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ৩৩৯ রানে। ২৭ রানে মোহামেডান হারলেও দুই ঐতিহ্যবাহী দলের জমজমাট লড়াইয়ে জয় হয়েছে ক্রিকেটের। মোহামেডানকে ৩৬৭ রানের পাহাড়সম ল্যই ছুঁড়ে দিয়েছিল আবাহনী। এ রান তাড়া করতে নেমে ৩৮ রানেই সাজঘরে ফেরত যান মোহামেডানের প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান। ব্যাটিং বিপর্যয়ে তখন মোহামেডান। আরও একটি একপেশে ম্যাচের অপোয় তখন দর্শকরা।
দলের ত্রাতা হয়ে মাঠে নামেন অধিনায়ক রকিবুল। সঙ্গী হিসেবে পান লঙ্কান ব্যাটসম্যান চরিথ আসালাঙ্কাকে। ১৭৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে উল্টো দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান তারা। ৬০ বলে ৬৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা আসালাঙ্কা ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখছিলেন রকিবুল। ব্যাটিং করেন শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩০ রানের। ছক্কা মারতে গিয়ে দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। তবে এর আগে গড়ে যান নতুন রেকর্ড। লিস্ট এ ক্রিকেটে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ১৯০ রানের অনবদ্য এক ইনিংসটি খেলেন মাত্র ১৩৮ বলে। ইনিংস ১৭টি চার ও ১০টি ছক্কা মারেন রকিবুল। এক ইনিংসে ২৭টি বাউন্ডারিও বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ২৭ রান দূরেই থামে মোহামেডানের ইনিংস। আবাহনীর বোলারদের মধ্যে ৪৭ রানে ৫ উইকেট নেন মানান শর্মা। ২টি উইকেট পান কাজী অনিক।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে আবাহনীর শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও সাদমান ইসলাম দলকে শতরানের জুটি এনে দেন। জুটি ভাঙে ১০৩ রানে। সাদমান ২৮ রান করে তাইজুলের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে তিন নম্বরে নেমে লিটনের সঙ্গে মোহামেডান বোলারদের উপর চড়াও হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১০৩ বলে ১৩৫ রান করেন লিটন। তার ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ২টি ছয়। অন্যদিকে ১০০ বলে ১১০ রান করেন নাজমুল। তাদের বিদায়ের পর শেষ দিকে শুভাগত হোম ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাতেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৬৬ রানের বিশাল স্কোর গড়ে আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা।

অবশেষে ভারতের দল ঘোষণা

বিরাট কোহলিকে অধিনায়ক করে অবশেষে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করলো ভারত। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ওপেনার রোহিত শর্মা ও ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ শামি। এই দুজনকে ঘরোয়া ক্রিকেট আর আইপিএল খেলে নিজেদের ফিটনেসের প্রমাণ দিতে হয়েছে। তবে এর বাইরে এখনও ইনজুরি থেকে পুরোপির সেরে না উঠেই দলে জায়গা নিশ্চিত করেছেন স্পিনার রবিচন্দ্রন আশ্বিন। ২৫ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দল ঘোষণা না করার পর শনিবার সুপ্রীম কোর্ট মনোনীত সদস্যের সভায় আজকের মধ্যে দল গোষণার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। সব মিলে ভারতের দলটি হলো- বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, কেদার জাদভ, মানিষ পান্ডে, মহেন্দ্র সিং ধোনি, যুবরাজ সিং, রবীন্দ্র জাদেজা, হারদিক পান্ডে, ভূবনেশ্বর কুমার, উমেষ যাদব, জাসপ্রিত বুমরাহ, আজিঙ্কা রাহানে, রবিচন্দ্রন আশ্বিন ও মোহাম্মদ শামি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন আয়ারল্যান্ডে

ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে অংশ নিতে লন্ডন থেকে আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে পৌছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে প্লেন ছাড়তে প্রায় দেড় ঘন্টা দেরী হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বেলফাস্টে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও। আগামী ১০ মে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে, ১২ মে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলাটি হবে ডাবলিনে বাংলাদেশ সময় বেলা পোনে চারটায়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে ভারত

অবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দল পাঠাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই। আজ রবিবার দিল্লীতে বোর্ডের বিশেষ সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিরাট কোহালির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সেদেশের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার। আইসিসি লভ্যাংশ থেকে দাবী করা যে টাকাটা পাওয়া যাচ্ছে না, সেটা কীভাবে পাওয়া যেতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয় বোর্ড সভায়।

আসছে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল

বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভেন্যু পর্যবেণ করতে চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল। তবে পাকিস্তানের বাতিল হয়ে যাওয়া সফর নিয়ে নতুন কোন আশার আলো দেখাতে পারেননি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। ২০১৫ সালে নিরাপত্তার ঘাটতি’র অজুহাতে বাংলাদেশে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরটি চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে করার কথা দলটির। এরই মধ্যে বিসিবি সভাপতি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সফরে আসছে স্মিথ-ওয়ার্নাররা। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো ভাবাচ্ছে অজিদের। তাই এ মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পর্যবেক দল আসছে ঢাকায়। যদিও বিসিবি-র প্রধান নির্বাহী নিশ্চিত করেছেন এটি শুধুমাত্র তাদের রুটিন ওয়ার্ক। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ডের মতো বড় দলগুলো প্রতিটি সিরিজের আগেই নিরাপত্তা পর্যবেক পাঠায়। সফর বাতিলের ব্যাপারে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা না দেওয়ায় তাদের সফরসূচী পাঠিয়েছে বিসিবি। তবে পাকিস্তানের কাছ থেকে এখনো কোন জবাব আসেনি বলে জানান, বিসিবি-র প্রধান নির্বাহী।

ডি সিলভা’র পদত্যাগ

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অরবিন্দ ডি সিলভা। শুক্রবার এসএলসির এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডি সিলভার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট থিলান সামাথিপালা। ২০১৬ সালের মার্চে এসএলসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ১৩ মাসের মাথায়ই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সেই গুরুদায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ডি সিলভা এর আগে দুই মেয়াদে শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ছিলেন এসএলসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের একজন। ৫১ বছর বয়সী ডি সিলভা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরাদের একজন। দীর্ঘ ১৯ বছরের (১৯৮৪ থেকে ২০০৩) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৯৩টি টেস্ট ও ৩০৮টি ওয়ানডে। টেস্টে ২০টি সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৬৩৬১ রান। ওয়ানডেতে করেছেন ৯২৮৪ রান, সেঞ্চুরি ১১টি।
সেই ১১ সেঞ্চুরির একটি ছিল ১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ, পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, বিশ্বকাপের ফাইনালে। অস্ট্রেলিয়ার ২৪১ রান তাড়া করতে নেমে ২৩ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। এই অবস্থায় উইকেটে নেমে ডি সিলভা অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে উপহার দেন প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। যে ইনিংসটি তাকে এনে দিয়েছিল ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।

নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি

নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি দ্বিগুণ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। আগামী মাসে ইংল্যান্ডে শুরু মেয়েদের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ২০ লাখ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ টেলিভিশনে সরাসরি দেখা যাবে। প্রথমবারের মতো মেয়েদের ক্রিকেটে থাকছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমও (ডিআরএস)।
২০১৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সবশেষ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার প্রাইজমানি ছিল মাত্র ২ লাখ ডলার।
২০১৫ সালে আইসিসি ঘোষণা দিয়েছিল, ২০১৭ নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি হবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার। কাল সেটি দ্বিগুণ করার কথা নিশ্চিত করেছে আইসিসি। ক্রিকেটের স্বার্থেই নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের জয়

বৃষ্টি প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং অনুশীলনটা হয়নি বাংলাদেশের। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আর আক্ষেপে পোড়া নয়। তাসকিন আহমেদ-মেহেদী হাসান মিরাজদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সাসেক্সের দ্বিতীয় একাদশের বিপক্ষে ১৩৪ রানের বড় জয়ই পেয়েছেন মুশফিকুর রহিমরা। বাংলাদেশের ৮ উইকেটে ৩১৪ রানের জবাবে ১৮০ রানে গুটিয়ে যায় সাসেক্স। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি আর ২টি করে উইকেট তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রায়ের।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে অন্যদের সুযোগ দিতে ইমরুল কায়েস অবসর নেন ৭৮ বলে ৯২ রানে। সাব্বির রহমান ৫২ রানে আউট হলেও মেহেদী হাসান মিরাজ ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডে অনুশীলন শিবিরের দ্বিতীয় এই প্রস্তুতি ম্যাচেও মাশরাফির অনুপস্থিতিতে মুশফিকই অধিনায়ক। বিশ্রামে ছিলেন তামিম ইকবাল। প্রস্তুতি ম্যাচ, তাই সাসেক্সের হয়ে খেলেছেন মাহমুদ উল্লাহ ও শফিউল ইসলাম।
বাংলাদেশ শুরুতে সৌম্য সরকারকে হারালেও ইমরুল ও সাব্বিরের ব্যাটে বড় সংগ্রহেরই আভাস মেলে। ৫২ রানে আউট হন সাব্বির, ইমরুলকেও ফিরিয়ে আনা হয় ৯২ রানে। বাংলাদেশ এখন আয়ারল্যান্ডে যাবে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে।

আবারও টাইগারদের পৃষ্ঠপোষক ‘রবি অজিয়াটা’

গত কয়েক বছরে দারুণ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই টাইগারদের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার জন্য আগ্রহের মাত্রা আরো বেড়েছে দেশের প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কোম্পানির। কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালতেও পিছপা হচ্ছে না তারা। গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ টাকা খরচ করে আবারো জাতীয় দলের পৃষ্ঠপোষক হলো ‘রবি অজিয়াটা’। আজ বিকেল ৪ টায় ছিল নতুন টিম স্পন্সরশিপের টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ সময়। বিকেল সাড়ে চারটায় শেরেবাংলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসে সাংবাদিকদের সামনে বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দল, নারী দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের টিম স্পন্সর হিসেবে রবির নাম ঘোষণা করেন। আগামী দুই বছরের (১ জুলাই ২০১৭ থেকে ১ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত) জন্য টিম স্পন্সর বাবদ রবি কত টাকা দিয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান। তবে বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, রবির প্রদেয় টাকার পরিমাণ ৬০-৬১ কোটির মধ্যে। দেশের চার-পাঁচটি কর্পোরেট হাউজ অংশ নিয়েছিল এই টেন্ডারে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম স্পন্সরশিপ স্বত্ব কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছিল প্রাণ গ্রুপ, রবি, গ্রামীণফোন, মেঘনা গ্রুপের ব্র্যান্ড ফ্রেশ ও বিকাশ। বিসিবির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬০ কোটি টাকা। তবে আগেই গ্রামীণফোন, মেঘনা গ্রুপের ব্র্যান্ড ফ্রেশ ও বিকাশের আর্থিক শর্ত গ্রহণযোগ্য হয়নি। শেষ পর্যন্ত রবির সঙ্গে লড়াইয়ে ছিল প্রাণ গ্রুপ। প্রাণ গ্রুপকে পেছনে ফেলে জাতীয় দলের টিম স্পন্সর হলো রবি। নতুন টিম স্পন্সরশিপ নিয়ে বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, ‘আগামী দুই বছরের জন্য রবিই বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম স্পন্সর। লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। আমরা খুশি।’

পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বার্বাডোজ টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ এ সমতা ফেরালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের ক্যারয়িার সেরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ৮১ রানে অলআউট করে জেসন হোল্ডারের দল।
ইতিহাস সৃষ্টি করার ম্যাচে ১৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দিতে থাকে পাকিস্তান। দলের ১০ রানে সফরাজের বিদায়ের পর কোন রান না করেই সাজঘরে ফেরেন বাবর আজম। দলীয় ২৭ রানে ব্যক্তিগত ৫ রান করে আউট হন শেষ টেস্ট সিরিজ খেলতে নামা ইউনিস খান। প্রথম ইনিংসে তিন উইকটে তুলে নেওয়া লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু বল হাতে নেওয়ার সুযোগই পাননি। ওয়স্টে ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে লেগ স্পিনার ইয়াসরি শাহ ৯৪ রানে ৭ উইকেট নেওয়ার পর বিশুকেই ভাবা হয়েছিলো মূল হুমকি হিসবে। কিন্তু তিনি আক্রমণে আসার আগেই অলআউট হয়ে যায় পাকস্তিান।
দলের বিপর্যয়ে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন শেষ সিরিজ খেলতে নামা অধিনায়ক মিসবাহও। কোন রান না করেই ফিরে যান তিনি সাজঘরে। এরপর দ্রুত আসাদ শফিক (০), আহমেদ শেহজাদ (১৪) ও শাদাব খান (১) বিদায় নিলে ৩৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। এরপর সরফরাজ আহমেদ এবং মোহাম্মদ আমির ধরে খেলার চেষ্টা করলেও ৮১ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে সরফরাজ আহমেদের ব্যাট থেকে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেন আমির।
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের সামনে এদিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ১১ ওভার বল করে মাত্র ১১ রান দিয়ে পাকিস্তানের পাঁচটি উইকেট তুলে নেন এই তারকা। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন গ্যাব্রিয়েল। এছাড়া জেসন হোল্ডার তিনটি এবং দুটি উইকেট লাভ করেন জোসেফ।
এর আগে ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে ৯ উইকেটে ২৬৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চার রান যোগ করেই নিজেদের শেষ উইকেট হারায় দলটি। বিশুকে আজহারের ক্যাচে পরিণত করে ইনিংসে নিজের সপ্তম উইকেট নেন ইয়াসির শাহ। আগামী বুধবার ডমেনিকার রসুইয়ে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষে টেস্ট। সেই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবনে মিসবাহ-ইউনুস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৩১২ ও ২৬৮, পাকিস্তান : ৩৯৩ ও ৮১।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৬ রানে জয়ী, ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

সন্ধ্যায় ফিরছেন মুস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে অংশ নিতে ভারতে থাকায়, সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে দলের সঙ্গে এখনো যোগ দেননি বাংলাদেশ দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। অথচ আগেই আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে সাসেক্সে অবস্থান করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ইতোমধ্যে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা সাসেক্সের ডিউক অফ নরফোক দলের বিপক্ষে। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়া সেই ম্যাচে, বাংলাদেশের দেয়া ৩৪৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৮ ওভারে ১০১ রান করে ডিউক অফ নরফোক। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ১৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। সে যাই হোক আইপিএলের দল হায়দ্রাবাদ সানরাইজার্সের সঙ্গে ভারতে অবস্থান করায় দলের সঙ্গে যোগ দেননি মুস্তাফিজ। এবার কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দিতে আজ সন্ধ্যায় দেশে ফিরছেন বাঁ-হাতি এই পেসার। দেশে আসরে পরের পরদিনই তিনি ইংল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। আইপিএলের প্রথম দুই ম্যাচ মিস করেছিলেন শ্রীলঙ্কা সিরিজ থাকার কারণে। দেশে ফেরার পর এক সপ্তাহ বিশ্রামে থেকে আইপিএল খেলতে যান মুস্তাফিজ। গিয়েই পরদিন মাঠে নেমেছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে। ২.৪ ওভার বল করে রান দিয়েছিলেন ৩৪টি। তবে কোনো উইকেট পাননি। এরপর থেকেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে খেলার আর সুযোগ মেলেনি তার।

Bangladesh bowler Mustafizur Rahman on Saturday at Eden during a ICC T20 World Cup match between Bangladesh and New Zealand. He scalped five wickets in the match. Express photo by Subham Dutta. 26.03.16

বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডই দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রিকেট দল

বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডই দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রিকেট দল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাত্রই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া সাকিব কথা বলেছেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে। মূলতঃ আইপিএল নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেট আর তাঁর অধিনায়কত্ব নিয়ে। সেখানেই তিনি জানান, যে কোনো চ্যালেঞ্জেই নিজেকে প্রমাণ করতে পছন্দ তাঁর। দ্বিতীয়বারের মতো অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়ায় বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি নিজেকে প্রমাণের তাগিদটাই বেশি অনুভব করছেন সাকিব। এদিকে, ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগাররা কঠিন গ্রুপে থাকলেও নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য টাইগারদের আছে বলেই বিশ্বাস সাকিব আল হাসানের।

ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই হলো মুশফিক-সৌম্যদের

প্রস্তুতি ম্যাচ। ব্যাটে-বলে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়াটাই যেখানে মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে ব্যাটিং অনুশীলনটা বেশ দারুণ হলো বাংলাদেশের। ডিউক অব নরফোক একাদশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৪৫ রান করেছে সফরকারী দল।

দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ব্যাটিং অনুশীলন সেরেছেন মুশফিকুর রহিম। চারে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মাশরাফির অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মুশফিক। ৯৮ বলে ১৪ চার ও এক ছক্কায় ইনিংসটি সাজান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

স্কোরবোর্ড। ছবি: এফএসিসিসি ক্রিকেট টুইটার

সৌম্য সরকার করেছেন ফিফটি। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৩ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে (৪০ বল, ৭ চার) ফেরেন ইমরুল। ৬৪ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় সৌম্য করেছেন ৭৩।

এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৪ বলে ৩১, নাসির হোসেন ৩০ বলে ২৬ রান করে ব্যাটিং অনুশীলন সারেন।  ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে স্বাগতিক দলের সেরা বোলার জেমস কির্টলি।


ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের একাংশ। ছবি: এফএসিসিসি ক্রিকেট টুইটার

বাংলাদেশের বোলাররা বোলিং অনুশীলনটা অবশ্য ঠিকমতো করতে পারেননি। ডিউক অব নরফোক ১৮ ওভারে বিনা উইকেটে ১০১ রান তোলার পরই বৃষ্টি নামে। যে বৃষ্টিতে পরে আর খেলা হয়নি, ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

পশ্চিম সাসেক্সের আরুনডেল ক্যাসল ক্রিকেট ক্লাব মাঠে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেল ৪টায়। সাসেক্সের প্রথা অনুযায়ী সফরকারী দলগুলো সেখানে গেলে ডিউক অব নরফোকের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। আগামী ৫ মে হোভে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সাসেক্স একাদশ।

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের

বার্ষিক হালনাগাদের পর সোমবার নতুন ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ আগের অবস্থানে থাকলেও এক রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে। রেটিং পয়েন্ট হারালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের।

২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে হলে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আটে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের আটে থাকা প্রায় নিশ্চিত। বরং বর্তমানে সাতে থাকা বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতে পারে ছয়ে ওঠার!

বাংলাদেশ চলতি মাসেই আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচ জিতলেই শ্রীলঙ্কাকে টপকে ছয়ে উঠে যাবে বাংলাদেশ। এরপর ১ জুন ইংল্যান্ডে শুরু চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো করলে র‌্যাঙ্কিংয়ে আরো উন্নতি হবে।

অন্যদিকে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পরেই আছে পাকিস্তান। নয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ব্যবধান যথাক্রমে ৩ ও ১২। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পয়েন্ট ব্যবধান বেশি থাকায় বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি পাকিস্তানেরও এই মুহূর্তে ওয়ানডে সিরিজ নেই।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের বিশ্বাস, বাংলাদেশ সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। সোমবার মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে তিনি বলেন, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পরে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবস্থান করছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের ১২ পয়েন্টের ব্যবধান আছে। এজন্য সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে আমরা আশাবাদী।’

পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে নিজামউদ্দিন বলেন, ‘পাকিস্তানকে ২-১ দিনের মধ্যে আমাদের প্রস্তাবিত সূচি পাঠাব। যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ থাকবে। তাদের ফিডব্যাকের জন্য আমরা অপেক্ষা করব।’

বার্ষিক হালনাগাদের পর ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং

র‍্যাঙ্ক দল পয়েন্ট
দক্ষিণ আফ্রিকা ১২৩ (+৪)
অস্ট্রেলিয়া ১১৮ (-)
ভারত ১১৭ (+৫)
নিউজিল্যান্ড ১১৫ (+২)
ইংল্যান্ড ১০৯ (+১)
শ্রীলঙ্কা ৯৩ (-৫)
বাংলাদেশ ৯১ (-১)
পাকিস্তান ৮৮ (-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৯ (-৪)
১০ আফগানিস্তান ৫২ (-)
১১ জিম্বাবুয়ে ৪৬ (-২)
১২ আয়ারল্যান্ড ৪৩ (+১)

 

 

র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কার আরো কাছে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়েছে বাংলাদেশ। বার্ষিক হালনাগাদের পর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান কমে হয়েছে ২ রেটিং পয়েন্ট।

বার্ষিক হালনাগাদের পর সোমবার নতুন র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের ওয়ানডেতে র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে এক রেটিং পয়েন্ট কমেছে মাশরাফির দলের। র‌্যাঙ্কিংয়ে সাতে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৯১। ছয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট ৯৩। ৫ রেটিং পয়েন্ট কমে বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি তারা।

রেটিং পয়েন্ট কমেছে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের। দুই রেটিং পয়েন্ট কমে পাকিস্তানের পয়েন্ট ৮৮। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৭৯। বার্ষিক হালনাগাদের আগে তাদের পয়েন্ট ছিল ৮৩। দুই রেটিং পয়েন্ট কমে জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ৪৬। আয়ার‌ল্যান্ডের এক রেটিং পয়েন্ট বাড়লেও আফগানিস্তানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রোটিয়াদের চার রেটিং পয়েন্ট বাড়লেও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারতের রেটিং পয়েন্ট ১১২ থেকে ১১৭ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের দুই ও ইংল্যান্ডের এক রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে। পাঁচ রেটিং পয়েন্ট বাড়ায় ভারত নিউজিল্যান্ডকে টপকে তিনে উঠেছে। নিউজিল্যান্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে চারে নেমে গেছে।

 

রেটিং পয়েন্ট হালনাগাদ হওয়ায় সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছে পাকিস্তান। র‌্যাঙ্কিংয়ে নয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান বেড়েছে। চলতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের র‌্যাকিংয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে ২০১৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে যাওয়া দলগুলোর তালিকা। বর্তমান র‌্যাকিং অনুযায়ী আটে থাকা পাকিস্তান ও সাতে থাকা বাংলাদেশ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আশা টিকে থাকলো লিভারপুলের

তিনটি ওয়ানডে, দুটি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য আগামী ৯ জুলাই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। দুবাইয়ে আইসিসির সভা শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান বলেন বাংলাদেশ সফরে যাবে না পাকিস্তান দল। তবে এবার আগের মন্তব্য পাল্টে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়নি। দুই বোর্ডের ঐক্যমতের সঙ্গে সফরটি বিলম্বিত হয়েছে।

পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান বলেন, ‘পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়নি। দুই বোর্ডের ঐক্যমতের সঙ্গে সফরটি বিলম্বিত হয়েছে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে কিছুদিনের মধ্যেই চিঠি পাঠানো হবে। চিঠিতে সফর নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান বিস্তারিত জানানো হবে।’

এদিকে তৃতীয় কোন দেশে এ সিরিজ আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়ে শাহরিয়ার খান আরও বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত দুইবার বাংলাদেশ সফর করেছি। এখন আমরা চিন্তা করেছি আমরা টানা তৃতীয়বারের মত সফরে যেতে পারি না। তাই একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আমরা অবশ্য তৃতীয় কোন দেশে খেলতে প্রস্তুত আছি।’

বাংলাদেশ দল ২০০৭-০৮ মৌসুমে শেষবার পাকিস্তান সফর করেছিল। ওই সফরে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। এর পর ২০১১-১২ মৌসুম একবার ও ২০১৫ সালে বিসিবির কাছ থেকে ৩২৫,০০০ মার্কিন ডলার নিয়ে পাকিস্তান দল আবার বাংলাদেশ সফরে আসে।

উল্লেখ্য, এ বছর পিসিবি বাংলাদেশকে তাদের দেশে গিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার আমন্ত্রন জানিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।

দ্বিতীয় দিন শেষে পিছিয়ে পাকিস্তান

শুরুটা দুর্দান্ত ছিল পাকিস্তানের। উদ্বোধনী জুটিতে আজহার আলী ও আহমেদ শেহজাদ মিলে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে ৩ উইকেটে ১৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। আর স্বাগতিকদের চেয়ে এখনও ১৪০ রানে পিছিয়ে আছে সফরকারী পাকিস্তান।

স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩১২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজহার আলী ও আহমেদ শেহজাদ। দুইজনে মিলে গড়েন ১৫৫ রানের জুটি। তবে ৭০ রান করে শেহজাদের বিদায়ের পরই ঘটে ছন্দপতন। কোন রান না করেই দ্রুত বিদায় নেন বাবর আজম ও ইউনিস খান। দিন শেষ মিসবাহ ৭ ও আজাহার আলী ৮০ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে ২৮৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান চেইজ-হোল্ডার। আগের দিনের ৫৮ রানের সঙ্গে কোন রান যোগ না করেই মোহাম্মদ আব্বাসের শিকারে পরিণত হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। আর সেঞ্চুরিয়ান চেইজও কোন রান যোগ করতে দেননি আমির। আগের দিনের করা ১৩১ রানেই সাজঘরে ফিরেন এই তারকা।

শেষ দিকে নবম উইকেটে দেবেন্দ্র বিশু ও আলজারি জোসেফের ২৬ রানের জুটি গড়লে ৩১২ রানের সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের সেরা বোলার মোহাম্মদ আব্বাস। ৫৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। মোহাম্মদ আমির ঝুলিতে জমা করেছেন ৩টি উইকেট।

বিয়ে করছেন জহির খান

‘চ্যাক দে ইন্ডিয়া’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখা সাগরিকা গাটগে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা জহির খান। বলিউডের এই অভিনেত্রীর সঙ্গে সোমবার বাগদান আংটি বদল করেন ভারতীয় এই পেসার।

নিজের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে সাগরিকার সাথে এক ছবি পোষ্ট করেছেন জহির খান। ছবির ক্যাপশনে জহির খান লিখেছেন, ‘কখনোই স্ত্রীর পছন্দ নিয়ে হাসাহাসি করবেন না। আপনি তো তার পছন্দেরই একজন। আর গোটা জীবনের অংশ। বাগদান সাগরিকা গাটগে।’

অপরদিকে সাগরিকা গাটগেও টুইট করে জানিয়েছেন এই খবর। সাগরিকা লিখেছেন, ‘সারা জীবনের সঙ্গী।’ ছবিতে সাগরিকার হাতে বাগদানের আংটি ছিল।

বেশ কিছুদিন যাবত জহির খান ও সাগরিকা গাটগে এক সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিতেন। সবশেষ যুবরাজ সিং ও হ্যাজেল কিচে’র বিয়েতেও দুজনকে এক সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।

এমন মাইলফলক চাই সবাই যেন মনে রাখে : মুশফিক

তার সমসাময়ীক মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল সবারই আগে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে। এর মধ্যে মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্যারিয়ার শুরুর দুই বছর আগেই ( ২০০৭ সালের জুলাইতে) ওয়ানডে খেলতে শুরু করেন। সাকিবেরও টেস্ট অভিষেকের আট মাস আগে ওয়ানডে অভিষেক হয়। আর তামিম টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরুর ১১ মাস আগেই ওয়ানডে অভিষিক্ত হন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মুশফিকুর রহীম। মাত্র ১৮ বছর বয়সে টেস্ট দিয়ে শুরু হয় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। উইকেটরক্ষক হিসেবে নয়। পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হিসেবেই।

২০০৫ সালের ২৬ মে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে অভিষেক হয় মুশফিকের। তারও ১৫ মাস পর শুরু ওয়ানডে ক্যারিয়ার। খালেদ মাসুদ পাইলটের মত সব সময়ের অন্যতম সেরা কিপার উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়ালেও মুশফিক শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে এসেছিলেন। তার মানে ঐ অতটুকু বয়সেই মুশফিকের ব্যাটিং প্রতিভা আকৃষ্ঠ করেছিল সে সময়ের অধিনায়ক, কোচ, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে।

তাদের হিসেব ভুল হয়নি। এক যুগ আগে লর্ডসে ক্যারিয়ার শুরু করা মুশফিক এখন সন্দেহাতীতভাবে টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে মজবুত খুঁটি। ওয়ানডেরও অন্যতম নির্ভরতা। বাংলাদেশ দল যেখানেই টেস্ট-ওয়ানডে খেলুক, মুশফিক অন্যতম নির্ভরতা। টেস্টে তামিম (৩৬৭৭) ও সাকিবের পর (৩৪৭৯) তৃতীয় সর্বাধীক ৫৪ ম্যাচে ৩২৬৫ রান। সাকিবের সঙ্গে দ্বিতীয় সর্বাধীক পাঁচটি করে সেঞ্চুরিরও মালিক। ওয়ানডেতেও তামিম (৫২৫১) আর সাকিবের (৪৭৭৬) পর তৃতীয় সর্বাধীক ৪১১৯।

কিন্তু কেন যেন ইংল্যান্ডের মাটিতে তার রেকর্ড অত ভালো না। ইংল্যান্ডে তিন টেস্টে ছয় ইনিংসে রান মোটে ৬২। সর্বোচ্চ ১৯। ২০১০ সালে এক ম্যাচে ২২। একই ভাবে আয়ারল্যান্ডে তার ব্যাট সেভাবে কথা বলেনি। দুই ম্যাচে রান ২২। সর্বোচ্চ ১৩*।

তার ব্যাট যেখানে ভীষণ অনুজ্জ্বল, সেই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে খেলতে যাবেন। নিজেকে কীভাবে তৈরি করছেন মুশফিক? ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মাটিতে পরিসংখ্যান খারাপ ভেবে চিন্তিত? নাকি আগে ভালো করতে না পারার সব ব্যর্থতা ঝেড়ে মুছে এবার ভালো কিছু করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ? জানতে ইচ্ছে করছে খুব, তাই না। জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে অনেক কিছু নিয়েই খোলাখুলি কথা বলেছেন মুশফিক।

অনেক কথার ভীড়েও একটা বিষয় পরিষ্কার ইংল্যান্ডে আগের অনুজ্জ্বলতা কাটিয়ে এবার ভালো করতে মুখিয়ে মুশফিক। সামর্থ্যের সবটুকু উজার করে দিতেও প্রস্তুত। কথা বার্তায় পরিষ্কার, নিজেকে মেলে ধরতে মুখিয়ে আছেন এ ব্যাটসম্যান কাম উইকেটরক্ষক। সাম্প্রতিক পারফরমেন্সও ভালো। মাঝে টেস্টে কিপিং নিয়ে খানিক মানসিক উৎপীড়নে ছিলেন। পরে তা কেটে গেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, শ্রীলঙ্কায় একদিনের ফরম্যাটে কিপার মুশফিকের পারফরমেন্স ছিল বেশ ভালো। সে দিক থেকে একটা মানসিক প্রশান্তিও আছে।

mushfik

এদিকে প্রিমিয়ার লিগের পারফরমেন্সটাও দারুণ। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে সর্বাধীক রান এসেছে তার ব্যাট থেকেই। সব মিলে মুশফিক আত্ববিশ্বাসী। নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থাও যথেষ্ঠ। তার বিশ্বাস, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে যে প্রায় দুই সপ্তাহর অনুশীলন ক্যাম্প হবে, সেটা খুব কাজে লাগবে। যদিও আমাদের সঙ্গে আবহাওয়া ও উইকেটে ওখানে দুই সপ্তাহ চেষ্টা করবো কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে।

উইকেট কিপিং প্রসঙ্গ উঠতেই সোজা সাপটা উচ্চারণ, ‘কে কিপিং করবে? সেটাতো ম্যানেজমেন্টের ওপর নির্ভর করবে। তারা যেটা ভালো মনে করবে সেটাই হবে। তবে আমি ওয়ানডেতে নিয়মিতই কিপিং করেছি। আর আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কায় আমি ভালোই করেছি। কিপিং পার্ট নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। এই দায়িত্বটা আবার পেলে সাধ্যমত চেষ্টা করবো ভালো করতে এবং দলকে সার্ভিস দিতে।’

টেষ্ট অভিষেকের পাঁচ বছর পর ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়েও নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব হয়নি। সেই মাটিতে আবারে। কোন বাড়তি উদ্যম, অনুপ্রেরণা ও সংকল্প?

মুশফিকের কথা, ‘হ্যা। আমি এখনো আফসোস করি টেস্ট অভিষেকের পর ইংল্যান্ডে আমি প্রত্যাশা মেটাতে পারিনি। নিজে যে টার্গেট সেট করে গেছি, তা পূর্ণ হয়নি। ফিরে এসেছি অসন্তুষ্টি নিয়ে। এবার আর সেই ইংল্যান্ডে খেলা। তাও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত বড় আসরে। খুব স্বাভাবিকভাবেই সবার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে সে আসরের দিকে। আমিও তাকিয়ে। অনেক বড় সুযোগ ও প্লাটফর্ম। আমি অনেক কনফিডেন্ট। এমন কিছু করে দেখাতে চাই যাতে সবাই আমাকে মনে রাখে।’

তার একান্ত বিশ্বাস ও আস্থা, আমি যদি নিজের সেরাটা খেলতে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব। ইংলিশ কন্ডিশনে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তুলনামূলক কঠিন ও শক্ত প্রতিপক্ষ কিনা?

মুশফিকের ধারণা, `কন্ডিশনের কথা চিন্তা চিন্তা করলে তুলনামূলক কঠিন। তবে তা নিয়ে চিন্তার কিছু দেখতে চান না। তার অনুভব, যেমন কন্ডিশনে খেলা হোক আর প্রতিপক্ষ যেই থাকুক না কেন, আমার মনে হয় আমরা আর আগের জায়গায় নেই। আমার বিশ্বাস ওয়ানডেতে এখন আমরা অন্যরকম দল। আমরা শেষ তিন বছর যে ক্রিকেট খেলেছি, তাতে করে এখন আর কাউকে ভয় বা সমীহর কিছু নেই। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, আমরা যদি সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে ৩০০ রান করে এবং তাড়া করেও জিততে পারি।’

ব্যাটসমানদের না হয় ৩০০ করার শক্তি আছে। বোলারদেরও কি যে কোন দলকে আটকানোর পর্যাপ্ত সামর্থ্য ও শক্তি আছে? মুশফিকের দাবি, অবশ্যই আছে। আমাদের এমন বোলিংও আছে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপেও আমাদের পেসাররা অসম্ভব ভালো বোলিং করেছিলেন। মাশরাফি ভাই, তাসকিন আর রুবেল কি দারুণ বোলিং করেছিল। এবার তার সঙ্গে মোস্তাফিজ যোগ হয়েছে। আর শফিউল আছে। আমার মনে হয় আমাদের বোলাররা বিশেষ করে পেসাররা ভালো স্পেল করতে পারে, তাহলে স্কোর বোর্ডে যে রানই করি না না কেন, বিশ্ব মানের ব্যাটসম্যানদেরও চাপে ফেলার সামর্থ রাখেন আমাদের বোলাররা। ’

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে নিজের কোন বিশেষ লক্ষ্য ও পরিকল্পনা?

‘অবশ্যই আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা আছে। আমি জানি এটা খুব বড় আসর। বড় প্লাটফর্ম এবং নিজেকে মেলে ধরার খুব উপযোগী ক্ষেত্র। তাই চেষ্টা করেছি নিজেকে তৈরি করতে। নিজেকে উজাড় করে দেয়ার সব চেষ্টাই থাকবে। যে কয়টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না কেন, চেষ্টা থাকবে এমন কিছু করে দেখানোর, যাতে সবাই মনে রাখে। নিজে এবং দল হিসেবে এমন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

নিজের উপর আস্থা তার প্রবল। নিজের ব্যাটিংয়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মুশফিকের ব্যাখ্যা, এখন আমি অনেক পরিণত ও আত্ববিশ্বাসী। ধারাবাহিকতাও আগের চেয়ে অনেক বেশি। এসব কিছুই আমাকে ভাল খেলতে সাহস জোগাচ্ছে। অনুপ্রাণিত করছে। মনে হচ্ছে আমি পারবো। যদি আমার নিজের সেরাটা খেলতে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো খেলা এবং বড় স্কোর গড়া সম্ভব। শুধু আমার না, আমাদের সবারই বিশ্বের সেরা বোলিংয়ের বিরুদ্ধেও রান করার সামর্থ্য আছে।’

মুশফিকের শেষ সংলাপ বলে দেয়, তার ভেতরের অনুভূতি ‘আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুব এক্সাইটেড। অনেক রোমাঞ্চিত। অনেক উদ্বেলিত। ভালো করতে মুখিয়ে আছি।’ মুশফিকের আশা পূর্ণ হলে টিম বাংলাদেশেরই মঙ্গল। কারণ ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত তিন-চার বছরে বাংলদেশের অনেক অর্জন ও স্মরণীয় সাফল্যে মুশফিকের অবদান প্রচুর। কাজেই তার ব্যাট কথা বলা মানেই টিম বাংলাদেশের জ্বলে ওঠা।

মঙ্গলবার নয়, মোস্তাফিজ দেশে আসছেন ৩ মে

ভারতীয় মিডিয়ায় গত দু’দিন বেশ গুঞ্জন। গুরুত্বসহকারে সংবাদ চাপিয়েছে, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খেলতে দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য মঙ্গলবারই (২৫ এপ্রিল) দেশে ফিরবেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

এবারের আইপিএল খেলতে যাওয়ার পর মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। যদিও মাত্র ২.৪ ওভার বল করে ৩৪ রান দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ম্যাচের পর ম্যাচ যায়, মোস্তাফিজ আর একাদশে সুযোগ পান না। তার চেয়ে বরং, দলের সঙ্গে গিয়ে সাসেক্সে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প করলে সেটাই বরং কাজে দেবে। এ কারণেই তিনি ২৫ তারিখ দেশে ফিরে এসে ২৬ তারিখ দলের সঙ্গে লন্ডন যাওয়ার কথা।

কিন্তু আজ আবার হঠাৎ জানা গেলো, ২৫ এপ্রিল নয়, ৩ মে ঢাকায় আসবেন তিনি। এরপর ৪ মে রাতে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে এ খবর। ৪ মে রাতে মোস্তাফিজ একা নন, তার সঙ্গে লন্ডন রওয়ানা হবেন সাকিব আল হাসানও। ৪ তারিখই সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন তিনি।

জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে এ সংবাদের সত্যতা জানিয়ে বলেন, ‘বোর্ডের কোনো নির্দেশনা নেই। এটা তাদের নিজস্ব অভিমত এবং সিদ্ধান্ত। ৫ মের মধ্যে দলের সঙ্গে যোগ দিতে হবে, লন্ডনে গিয়ে কোচকে রিপোর্ট করবেন তারা দুজন এটাই বলে দেয়া আছে। এর আগে কখন তারা যাবেন, ঢাকা আসবেন নাকি ভারত থেকে লন্ডন যাবেন সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, মোস্তাফিজ ঢাকায় আসবে ৩ মে রাতে এবং সাকিব আসবে ৪ মে সকালে। ওইদিনই রাতে তারা লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বিমানে উঠবে।’

মোস্তাফিজের বড় ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টুও জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ২৫ তারিখ মোস্তাফিজ দেশে ফিরছে না। তবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি ৩ তারিখ দেশে ফিরবেন নাকি সেখান থেকে লন্ডন যাবেন।

২৫ তারিখ (মঙ্গলবার) না এসে ৩ মে আসার সিদ্ধান্ত নিলে, এর মধ্যে আরও চারটি ম্যাচ পাচ্ছেন কাটার মাস্টার। এই চার ম্যাচের কোনটিতে হয়তো বা মাঠে নামার সুযোগও পেতে পারেন তিনি। সাকিব আল হাসান ৩ তারিখ ফিরবেন না, কারণ ওইদিন ইডেনে পুনের বিপক্ষে কেকেআরের ম্যাচ রয়েছে। ওই ম্যাচের পরই ৪ তারিখ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন তিনি। কয়েকঘণ্টার বিশ্রাম নিয়ে আবারও বিমানে উঠবেন সাকিব। সঙ্গী হবেন মোস্তাফিজ।

মিসবাহর ১ রানের আক্ষেপ

পাকিস্তানকে শতরানের লিড এনে দেওয়া মিসবাহ-উল-হক মাঠ ছেড়েছেন মাত্র ১ রানের জন্য শতক না পাওয়ার হতাশা নিয়ে। জ্যামাইকা টেস্টের চতুর্থ দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়েছেন ইয়াসির শাহ।

স্যাবিনা পার্কে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৩ রান। নাইটওয়াচম্যান দেবেন্দ্র বিশু ও অভিষিক্ত ভিশাল সিং এখনও রানের খাতা খোলেননি। স্বাগতিকরা এখনও পিছিয়ে ২৮ রানে।

৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে খেলতে নেমে পাকিস্তান সোমবার সকালেই হারায় আসাদ শফিককে। অধিনায়কের সঙ্গে ৮৮ রানের চমৎকার জুটিতে দলকে লিড এনে দেন সরফরাজ আহমেদ। একবার স্টাম্পিংয়ের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ফিরেন ৫৪ রান করে।

সেখান থেকে টেলএন্ডারদের নিয়ে খেলে দলকে ১২১ রানের লিড এনে দেন নিজের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে নামা মিসবাহ। ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটিতে লিড যায় তিন অঙ্কে। ২১ বল খেলে ১ রান করা অভিষিক্ত আব্বাসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে পাকিস্তানকে ৪০৭ রানে গুটিয়ে দেন রোস্টন চেইস।

পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া মিসবাহ মাত্র ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অপরাজিত থাকেন ৯৯ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার গ্যাব্রিয়েল ও আলজারি জোসেফ নেন তিনটি করে উইকেট।

প্রথম ১০ ওভার নিরাপদেই কাটিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট বোল্ড করেন ইয়াসির। উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া এই লেগ স্পিনার খুব ভুগিয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। এর মধ্যেই ৫০ রানের চমৎকার এক জুটি গড়েন কাইরন পাওয়েল ও অভিষক্ত শিমরন হেটমায়ার।

২৮ বলে ২০ রান করা হেটমায়ারকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ ভাঙেন ইয়াসির। দুই অঙ্কে যাওয়ার আগেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শাই হোপকে।

আস্থার সঙ্গে খেলে চলা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পাওয়েল ইয়াসিরের শেষ শিকার। ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া এই লেগ স্পিনারই পঞ্চম দিনে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বড় হুমকি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৮৬

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৮.৪ ওভারে ৪০৭ (আজহার ১৫, শেহজাদ ৩১, বাবর ৭২, ইউনুস ৫৮, মিসবাহ ৯৯*, শফিক ২২, সরফরাজ ৫৪, আমির ১১, ওয়াহাব ৯, ইয়াসির ৮, আব্বাস ১; গ্যাব্রিয়েল ৩/৯২, জোসেফ ৩/৭২, হোল্ডার ১/৬৫, বিশু ১/১০৬, চেইস ১/৩৭, ব্র্যাথওয়েট ০/২২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ২৮ ওভারে ৯৩/৪ (ব্র্যাথওয়েট ১৪, পাওয়েল ৪৯, হেটমায়ার ২০, হোপ ০, বিশু ০*, ভিশাল ০*; আমির ০/১১, আব্বাস ০/২১, ইয়াসির ৪/৩৩, ওয়াহাব ০/২৪)।

ব্যাটিংয়ে সানরাইজার্স, আজও উপেক্ষিত মোস্তাফিজ

এবারের আইপিএলটা মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য হতাশাতেই কেটে যাচ্ছে। ভারত যাওয়ার পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে সেই যে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলো, এরপর আর একাদশে আসার কোনো নাম-গন্ধই নেই যেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্ট মোস্তাফিজকে খেলানোর কথাই যেন চিন্তা করছে না। যে কারণে আজও রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে একাদশে রাখা হলো না কাটার মাস্টারকে।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টের বিপক্ষে টস হেরেছেন সানরাইজার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। জিতেছেন পুনে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে প্রথমে ব্যাট করার জন্য তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারকেই।

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পরিবর্তে পুনে দলে সুযোগ পাওয়া ওয়াশিংটন সুন্দরের যে কোনো পর্যায়ে অভিষেক আজ। বাদ পড়েছেন রাহুল চাহার। সানরাইজার্সের একাদশে অসুস্থতার কারণে আজ নেই যুবরাজ সিং। তার পরিবর্তে দলে ফিরেছেন বিপুল শর্মা। টস হেরে ব্যাট করার সুযোগ পাওয়ার পর সানরাইজার্স অধিনায়ক ওয়ার্নার বলেন, ‘টস জিতলে আমরাও বোলিং নিতাম। কারণ উইকেটে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বোলারদের জন্যই সহায়ক। এবং রান তাড়া করাটা হবে সহজ।’

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ : ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন, মইসেস হেনরিক্স, দিপক হুদা, নোমান ওঝা, বিপুল শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, রশিদ খান, মোহাম্মদ সিরাজ, সিদ্ধার্থ কাউল।

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট : আজিঙ্কা রাহানে, রাহুল ত্রিপাথি, স্টিভেন স্মিথ, মহেন্দ্র সিং ধোনি, বেন স্টোকস, ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান, মনোজ তিওয়ারি, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুর, জয়দেব উনাড়কট, ইমরান তাহির।

‘এটম গাম’এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তাসকিন

চুইংগাম ব্র্যান্ড ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন প্রাণ কনফেকশনারির হেড অব মার্কেটিং সাখাওয়াত আহমেদ।

এ সময় তরুণ এই ফাস্ট বোলার নতুন করে ‘এটম গাম’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তাসকিন আগামী দুই বছর এটম-এর বিভিন্ন প্রমোশনাল কাজে অংশগ্রহণ করবেন।

তাসকিন আহমেদ বলেন, খুব ভালো লাগছে। এটম একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় চুইংগাম ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। খেলার পাশাপাশি ফ্রি টাইমে এটম-এর সঙ্গে থাকব।

অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত আহমেদ বলেন, তাসকিন বাংলাদেশের একজন তারকা ক্রিকেটার। তাকে ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। তরুণ এই পেসার এটম-এর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রাণ কনফেকশনারির ব্র্যান্ড ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আগে এটম-এর পেঅফ লাইন ছিল, ‘চাপার জোর বাড়াও।’এবারের পেঅফ লাইন হচ্ছে ‘আওয়াজ বাড়াও।’ আমরা সমাজের অনেক ভালো দিক দেখেও দেখি না। সবার সামনে তুলে ধরছি না। এগুলো তুলে ধরতেই এটম-এর আওয়াজ। সমাজের খারাপ কাজ যেগুলো আমরা দেখেও দেখছি না, সেগুলোর বিরুদ্ধেও এ আওয়াজ তুলতে হবে।

টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক সাকিব

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক করা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। শনিবার বিসিবি এই সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার জায়গায় এই অলরাউন্ডারের নাম ঘোষণা করে।

সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার ফলে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে তিন জন ভিন্ন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবে। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার কথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আগের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়া চালিয়ে যাবেন এই পেসার। টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

সাব্বির টপ অর্ডারে তাই দলে নাসির

বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে আছেন প্রায় বছর খানেক। এর মাঝে তাকে নিয়ে অনেক কথাই বলছেন অনেকে। বাদ যাননি খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। অনেকে তাকে ‘বাতিল’ এর খাতায়ও ফেলে দিয়েছিলেন। সেই নাসির হোসেন আবার ফিরেছেন টাইগারদের ডেরায়। সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের দলে আছেন মিস্টার ফিনিশার। তাই হঠাৎ করে আবার তাকে দলে নেওয়া নিয়েও শুরু হয় আলোচনা। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর যুক্তি সাব্বির রহমান টপ অর্ডারে ব্যাটিং করায় সাত নম্বরে বিকল্প খেলোয়াড় রাখতেই নাসিরকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

‘একই পজিশনে আগে তিনটা খেলোয়াড় ছিল। সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ এ তিনজন খেলোয়াড়ের পরে কিন্তু নাসির। এখন সাব্বির খেলছে তিন নম্বরে। এখানে একটা জায়গা খালি হয়েছে। সে হিসেবে ও দলে এসেছে। এখন ওদের তিনজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে ছয় ও সাত নম্বরে ব্যাটিং করার জন্য। তাই ওকে প্রস্তুত করতেই আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’ – নাসির হোসেনকে ফিরিয়ে আনার ব্যাখ্যা দিয়ে এমনটাই বলেন প্রধান নির্বাচক।

তবে বেশ কিছুদিন থেকেই ব্যাটও কথা বলছে নাসিরের। ইমার্জিং কাপে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও করেছেন সেঞ্চুরি। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার এটাও একটা কারণ বলে উল্লেখ করেন নান্নু, ‘নাসির হোসেন এক বছর ধরে দলের সঙ্গে সফর করছে না। সেই হিসেবে ওকে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনেছি। ও ইমার্জিং কাপ ও ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো খেলেছে। যেহেতু সাসেক্সে প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে। তা ছাড়া আয়ারল্যান্ড সফরে ওকে অভ্যস্ত করা দরকার। সামনে আমাদের অনেকগুলো অ্যাওয়ে সিরিজও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের বড় সিরিজ আছে সেই হিসেবে ১৮ জন নিয়ে যাচ্ছি।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নন নাসির। তাই দ্রুতই আবার অভ্যস্ত হয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করেন নান্নু, ‘ও অনেকদিন ধরে দলের বাইরে আছে। এখন টিম ম্যানজমেন্টের সঙ্গে কাজ করবে। যেহেতু আমাদের ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে ইংল্যান্ডে। তো এখানে ওকে দেখা হবে। আর যেহেতু ওর অভিজ্ঞতা আছে তাই তাড়াতাড়ি আগের ছন্দে ফিরবে।’

‘আমাদের অধিনায়কইতো পেস অলরাউন্ডার’

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বুধবার দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করে সে দলে চারজন পেস অলরাউন্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ দলেও পেস অলরাউন্ডারের প্রাধান্য থাকবে। সে বিবেচনায় অনেকেই ভেবেছিলেন দলে হয়তো থাকবেন সাইফউদ্দিন। তাকে দলে না রাখায় কে এ অভাব পূরণ করবেন। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানান, আমাদের অধিনায়ক মাশরাফিইতো পেস অলরাউন্ডার।

‘বর্তমানেতো আমাদের অধিনায়কই পেস অলরাউন্ডার। তবে আমরা আরেকজনকে মাত্র শুরু করেছি পেস অলরাউন্ডার হিসেবে, সাইফউদ্দিন। ওকে আমরা ইতোমধ্যেই টি-টোয়েন্টিতে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এখন ওকে আরও উন্নতি করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে একটু সময় লাগে। ওর যথেষ্ট যোগ্যতা আছে, ওকে ওইভাবেই তৈরি করা হবে। আগামীতে ওকে নিয়ে ভাবা হবে।’

এক দশকের বেশি সময় পর আবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে বাংলাদেশ। তাই এ আসর নিয়ে চলছে একটু বাড়তি উম্মাদনা। সবার প্রত্যাশা দারুণ কিছু ফলফল করবে টাইগাররা। তাই কন্ডিশন বিবেচনায় মাশরাফিকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে পেস অলরাউন্ডারের। আর সে সামর্থ্য আছে টাইগার অধিনায়কের।

প্রাণ ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন তাসকিন

প্রাণ কনফেকশনারির জনপ্রিয় পণ্য ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এখন এ পণ্যের প্রচার কার্যক্রমে দেখা যাবে এই ক্রিকেটারকে।

রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে আগামী ২২ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল ৪.৩০ মিনিটে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এ সময় তাসকিন আহমেদসহ প্রাণ কনফেকশনারির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি জনপ্রিয় নাম। আর প্রাণ কনফেকশনারির জনপ্রিয় পণ্য ‘এটম গাম’ এবার টাইগার এই বোলারের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চায়।

ফিটনেস ঠিক থাকায় দলে শফিউল

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ১৫ সদস্য ছাড়াও আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ১৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ত্রিদেশীয় সিরিজ উভয় দলেই ডাক পেয়েছেন পেসার শফিউল ইসলাম।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

এদিকে ঘোষিত দুই দলে শফিউলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, বিপিএলে ইনজুরিতে না পড়লে ও আমাদের সঙ্গে অনেকগুলো সিরিজেই থাকতো। তাছাড়া ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছু নেতিবাচক মনোভাব ছিল যে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই ওকে আমরা শ্রীলঙ্কায় দেইনি। কারণ শ্রীলঙ্কায় অনেক গরম ছিল ওখানে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে। আর যেহেতু ওর ফিটনেস লেভেল এখন ঠিক আছে আর যেহেতু ঠান্ডা কন্ডিশন খলবো সেহেতু ও টানা ম্যাচ খেলতে পারবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

নাসিরকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও প্রস্তুতি ম্যাচে জায়গা হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা হয়নি নাসিরের। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য মাশরাফির নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। এদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ফিরেছেন পেসার শফিউল ইসলাম। আর দুটি থেকেই বাদ পড়েছেন শুভাগত হোম চৌধুরী।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্ট্যান্ড বাই: নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শুভাশীস রায়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ইংল্যান্ডে ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশীস রায়, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত-পাকিস্তান

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে আগামী ১ জুন পর্দা উঠছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। তবে এর আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। আর সেখানে মাশরাফি বাহিনীর প্রতিপক্ষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ও পাকিস্তান। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকরাম খান জানান, `আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে আমরা ইংল্যান্ডে ১০ দিন প্রস্তুতি ক্যাম্প করবো। সেখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিবো। আয়ার‌ল্যান্ডে চারটির মত ম্যাচ খেলার পর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেব। সেখানে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গেও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে আমাদের।`

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ক্যাম্প করার জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে ৭ মে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে খেলতে যাবে মাশরাফিরা। ডাবলিনে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২৪ মে। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম ম্যাচ ১ জুন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণার শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল। তবে আকরাম খান জানলেন, প্রস্তুতি কাম্পে আরও ২-১ জন ক্রিকেটার বেশি নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা

রোববার রাত থেকেই ফেসবুক সয়লাব ছবি আর নানা প্রতিক্রিয়ায়। একটা সময় ছিল যখন বড় প্রাপ্তির পর কারো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতো মিডিয়ায়। এখন আর সে অপেক্ষা নয়, কিছু অর্জন আর প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেরাই জনাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া। সেটা সব ক্ষেত্রেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে একসঙ্গে ৩৩৯ জন ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করেছেন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, শ্যূটিং, সুইমিং, দাবা, ভারোত্তোলন, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, আরচারি, হ্যান্ডবল, রোলার স্কেটিং, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন খেলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল গণভবন।

অক্টোবর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলীয় কিংবা ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেয়া ক্রীড়াবিদরাই ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত। স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্রোঞ্জজয়ী নয়- প্রধানমন্ত্রীর চোখে ছিলেন সবাই সমান। ৩৩৯ জনকে দেয়া অর্থ পুরস্কারও তাই সমান। প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ টাকা করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দ ছিল গত এসএ গেমসে স্বর্ণ পাওয়া তিন ক্রীড়াবিদ সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত আর শ্যূটার শাকিল আহমেদের। রাজউকের উত্তরায় নির্মিত ফ্ল্যাটের চাবিও তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এসএ গেমসের পর এ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

Mabia

কেউ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পুরস্কারের অর্থের চেকের ছবি, কেউ পুরস্কার গ্রহনের ছবি, কেউ ফ্ল্যাটের চাবির ছবি, কেউ ডিনারের ছবি, কেউ গল্প করার ছবি পোস্ট করে ভরিয়ে ফেলেছেন ফেসবুকে নিজেদের ওয়াল। ছিল নানা রকম প্রতিক্রিয়াও। সেখানে বেশি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন রাত তো আগে কখনো আসেনি।

শিলা, মাবিয়া ও শাকিল প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্ল্যাটের চাবি গ্রহণকে তাদের জীবনের সেরা মুহুর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাবিয়া বলেছেন, ‘দেশের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। এখন আমাদের দেশকে দেয়ার পালা।’ শাকিল বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে ডেকেছি। আমাদের দায়িত্ব এখন আরো বেড়ে গোলো।’

Rony

দেশের খেলাধুলায় পরিচিত মুখ ‘দাবার রানী’ রানী হামিদ থেকে শুরু করে এ প্রজন্মের খেলোয়াড় শ্যূটার শাকিল আহমেদ, রোলবল খেলোয়াড় আফিস হোসেন হৃদয়, আরচারির হিরামনি, ব্যাডমিন্টনের ইরিনা সবার মুখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা। সবার দৃঢ়বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আরো ভালো পারফরমেন্স করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আমরা তো আন্তর্জাতিকভাবে ভালো রেজাল্ট করলেও কেউ খোঁজ নেয় না। সবাই মেতে থাকে ক্রিকেট নিয়ে- অন্যান্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এমন অনুযোগ শোনা যেত; কিন্তু রোববার রাতের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩৩৯ জনকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের ধারনাও বদলে গেছে। তারা যে বড় পাওয়াটাই পেয়েছেন-প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়েছেন পুরস্কার।

গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের প্রতিক্রিয়া ছিল এরকম, ‘এটা একটা বিশাল সম্মান। এতটা আশা করার সাহসই পাইনি। এটা ক্রীড়াঙ্গনের নজিরবিহীন ঘটনা এটা। আমি আন্তরিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

Three

রানী হামিদ বলেছেন, ‘অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এত বড় মর্যাদা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।