রাত ৯:৪৮, মঙ্গলবার, ২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে কে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী? এই প্রশ্নের উত্তর ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হতে পারে। কখনও মাশরাফি আবার কখনও সাকিব আল হাসান। আসলে কে সেরা?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজ শুরুর আগে সাকিবের উইকেট ছিল ২২০টি। নিঃসন্দেহে সবার ওপরে তিনি। এক উইকেট কম নিয়ে মাশরাফি একেবারে সাকিবের ঘাড়ের ওপরই নিঃশ্বাস ফেলছিলেন।

ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি-সাকিব দুজনই। তবে মাশরাফি দুটি এবং সাকিব পেলেন একটি। ফলালফল দুজনেরই উইকেট হয়ে গেল সমান ২২১টি করে।

একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে আসবেন আরও কিছুক্ষণ পর। টস জিতে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বোলিংয়ে এসে ইনিংসের শুরুটা করলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারটা এমনিই কেটে গেল। দ্বিতীয় ওভারে এসেই তৃতীয় বলে ফিরিয়ে দিলেন ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকাকে। একই সঙ্গে সাকিব আল হাসানকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

তবে এ পরিসংখ্যানই হয়তো মাচের শেষ দিকে উল্টে যেতে পারে। উল্টে দিতে পারেন সাকিব। তিনি যদি দুটি কিংবা তারও অধিক উইকেট নেন এবং মাশরাফি যদি আর উইকেট না পান, তাহলে আবার সাকিবই উঠে যাবেন শীর্ষে।

শুরুতেই গুনাথিলাকে ফেরালেন মাশরাফি

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বল হাতে বাংলাদেশকে শুভ সূচনা এনে দিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুর্দান্ত এক কাটারে লঙ্কান ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকে সাজঘরে ফেরালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মাশরাফিকে স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মুশফিকুর রহীমের তালুবন্দি হন গুনাথিলা। ১১ বল খেলে ৯ করতেই বিদায় নিতে হলো তাকে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ ওভারে ১ উইকেটে ২১ রান।

প্রসঙ্গত,  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙেনি বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি বলেন, টস জিতলে আমিও ব্যাটিং নিতাম। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছেন টাইগাররা। প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

 

এদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে স্বাগতিক দল তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে। দ্বিতীয় ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দাকান। তাদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ আর অফস্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ : উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), দানুশকা গুনাথিলা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, মিলিন্দা সিরিবর্ধনে, থিসারা পেরেরা, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ।

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

জিতলেই সিরিজ জয় আর হারলে তাকিয়ে থাকতে হবে শেষ ম্যাচের দিকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে ডাম্বুলায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে প্রথমে বোলিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের পর সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি বলেন, টস জিতলে আমিও ব্যাটিং নিতাম।

এদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে স্বাগতিক দল তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে। দ্বিতীয় ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান। আর জায়গা পেয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ আর অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা।

বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।

নাসিরের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৫৭

দীর্ঘ দিন থেকেই জাতীয় দলের বাইরে থাকা নাসির হোসেন ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়েই নিজেকে মেলে ধরেছেন। ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। আর তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক মুমিনুলের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে নেপালের বিপক্ষে ২৫৭ রান করেছে বাংলাদেশ।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল ও নাসির। দুইজনে মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। এরই মধ্যে অধিনায়ক মুমিনুল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৬১ রান করে তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে সেঞ্চুরি তুলে নেন নাসির। আর তার ব্যাটে ভর করে শুরু ব্যর্থতা কাটিয়ে ২৫৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ সফরে ক্ষতিপূরণ চাইবে পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন ট্রফির আগে বাংলাদেশকে লাহোরে গিয়ে খেলার আমন্ত্রণ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় জুলাইতে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পিসিবির চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।

বোর্ড প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার খান জানিয়েছেন, ‘আমরা সম্প্রতি বাংলাদেশে দুইবার সফর করেছ। আবারো সফরের বিষয়টি আমরা ভেবে দেখবো। আর বিসিবি যদি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ সফরে নিতে চায় আমরা হয়তো আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইব।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল লাহোরে সফল ভাবে আয়োজন করার পর বাংলাদেশকে ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ দেয় পাকিস্তান। তবে এ মুহূর্তে পাকিস্তানের যাওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই বলে তাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশের মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, পিএসএলের ফাইনালে আটজন বিদেশি তারকা খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এনামুল হক বিজয়ও খেলেছেন।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ ভারতের

জয়ের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তৃতীয় দিনেই। চতুর্থ দিন তা পূর্ণতা পেল। ধর্মশালায় অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ২-১ এ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ভারতীয় বোলারদের বোলিং তোপে মাত্র ১৩৭ রানেই শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। আর এতে ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০৬ রানের। আগের দিন বিনা উইকেটে ২৬ রান করা ভারত ১০ উইকেট আর মাত্র ৮৭ রানের টার্গেট নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে। দিনের শুরুর দিকে মুরালি বিজয়কে (৮) ফিরিয়েছেন কামিন্স। ম্যাক্সওয়েলের থ্রুতে রান আউটে সাজঘরে রানের খাতা খুলতে না পারা পূজারা। ৪৬ রানে পরপর দুটি উইকেট হারিয়েও নড়বড়ে হয়ে পড়েনি ভারত।

উদ্বোধনী লোকেশ রাহুলকে নিয়ে এই ম্যাচে কোহলির জায়গায় অধিনায়কত্ব করা আজিঙ্কা রাহানে শেষ করেই ফিরেছেন। রাহুল ৯ চারে ৫১ আর রাহানে ৪ চার ও ২ ছয়ে ২৭ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।

চার টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে পুনেতে ৩৩৩ রানের ধামাকা জয়ে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বেঙ্গালোরে ৭৫ রানের জিতে সমতা ফেরায় ভারত। রাঁচিতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়া দুদল ১-১ সমতায় থাকায় শেষ ম্যাচটি অঘোষিত ফাইনাল হয়ে উঠেছিল। নিজেদের প্রথম ইনিংসে স্টিভেন স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল ৩০০ রান। জবাবে ভারত করেছিল ৩৩২।

ইমার্জিং কাপে নাসিরের হাফ সেঞ্চুরি

দীর্ঘ দিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আসা যাওয়ার মধ্যে নাসির হোসেন। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ব্যানারে থাকলেও একাদশে জায়গা পাননি ঠিকমত। আর সে ধারায় নিউজিল্যান্ড, ভারতের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজেও জায়গা হয়নি দেশসেরা এই ফিনিশারের।

তবে জাতীয় দলে ফিরতে এই তারকা যে মরিয়া ব্যাট হাতে তা আবারো প্রমাণ দিলেন ঘরের মাঠে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে। নেপালের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল ও নাসির। দুইজনে মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। এরই মধ্যে অধিনায়ক মুমিনুল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৬১ রান করে তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন নাসির। আর তার ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আইপিএলে নতুন জার্সিতে সাকিব-গম্ভীররা

ভারতের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (আইপিএল) দশম আসর শুরু হচ্ছে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে। আর এ আসরে নতুন জার্সি পড়ে মাঠ মাতাবেন সাকিব-গম্ভীরদের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

সম্প্রতি তাদের খেলোয়াড়দের একটি ফিটনেস ট্রেনিং সেশন শেষে নতুন জার্সি পরিহিত অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ছবি শেয়ার করেছে কেকেআর। সেখানেই চোখে পড়ে আগের বেগুনী-স্বর্ণালী জার্সির পরিবর্তে লাল-কালো রংয়ের জার্সি পড়ে আছে কেকেআরের খেলোয়াড়রা।

এদিকে ৫ এপ্রিল হায়দরাবাদ-রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়ে আইপিএলের দশম আসর শুরু হলেও কেকেআর নিজেদের প্রথম ম্যাচে  মাঠে নামবে ৭ এপ্রিল, গুজরাটের বিপক্ষে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ ডিকভেলার

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ৯০ রানে হেরে এমনিতেই পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। এবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামার আগে বড় এক দুঃসংবাদ শুনলো লঙ্কান শিবির। ইনজুরির কারণে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন লঙ্কান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

শ্রীলঙ্কান ম্যানেজার জানান, ডিকভেলার ইনজুরি খুব বেশি গুরুতর নয়। সুস্থ হতে দুই সপ্তাহের মতো লাগবে। আর এতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজও অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।  তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে।

দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কান একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। লাহিরু কুমারার পরিবর্তে কুলাসেকারার খেলা প্রায় নিশ্চিত। সুরাঙ্গা লাকমালের পরিবর্তে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে নুয়ান প্রদীপের।

আর বাম হাতি স্লো অর্থোডক্স সাচিথ পাথিরানার পরিবর্তে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে, ব্যাটিং অলরাউন্ডার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ  ৪ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান। মুমিনুল ৪৩ আর নাসির ১৪ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের পর অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামে টাইগাররা। তবে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে : তামিম

তার ব্যাট হাসলে বাংলাদেশের স্কোর হয় সমৃদ্ধ। প্রতিপক্ষের সামনে টাইগাররা ছুড়ে দিতে পারে বিশাল লক্ষ্য। রণগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শনিবার হাসল তামিম ইকবালের ব্যাট। আর তাতে বাংলাদেশও পেল বড় পুঁজি, ৩২৪ রানের। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২৫ রানের।

রণগিরি ডাম্বুলা স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান বলছিল, এই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া বড্ড কঠিনই। হয়েছে ঠিক তা-ই। মাশরাফি বিন মর্তুজা, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসানদের তোপে ২৩৪ রানেই অলআউট শ্রীলঙ্কা। আর তাতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

ম্যাচ সেরা তামিম ইকবাল খেলেছেন ১২৭ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। ১৪২ বল মোকাবেলা করেছেন। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৫টি চার ও একটি ছক্কায়। বলের চেয়ে রান কম; তামিমের নামের সঙ্গে যায় না! ড্যাশিং ওপেনার যে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত।

তবে তামিমের লক্ষ্য ছিল- ধরে খেলবেন। দলকে ভালো একটা পর্যায়ে নিয়ে তারপর খেলবেন হাত খুলে। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিটা পেয়ে গেলেন। তিন অঙ্কের ফিগারে পৌঁছার পর মারমুখী ভঙ্গিতে খেলেছেন।

তামিম আউট হয়েছেন দলীয় ৪৮তম ওভারে। সুরাঙ্গা লাকমালের বল লংঅনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে গুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তামিম জানালেন, এতটা সময় ক্রিজে থাকতে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। লঙ্কান বোলারদের পরীক্ষায় সফল হয়ে খুশি বাংলাদেশের এই ওপেনার।

‘আমার বেশ কিছু সুযোগ হয়েছিল ফিফটি করার; কিন্তু সেগুলোতে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেনি। অতীতকে পেছনে ফেললাম। সুযোগটাকে কাজে লাগালাম। আমি স্কোর করতে চাই। যত দূর সম্ভব দলে অবদান রাখতে চাই। ৪৫ ওভার (মূলত ৪৮ ওভার) পর্যন্ত ব্যাটিং করে যাওয়া সহজ নয়; ঘাম ঝরাতে হয়েছে অনেক। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ব্যাট করেছি; আর স্ট্রাইক ধরে রেখেছি।’

সাকিবের প্রশংসা করে তামিম বলেন, ‘সাকিব যেভাবে খেলেছে, তা ছিল অসাধারণ। আর জানতাম, আমি যদি ১৩৫ বা তার কাছাকাছি করতে পারি, তাহলে দলের স্কোর ৩০০ হতে পারে। সে পথেই এগিয়েছিলাম। মন বলছিল সেটাই।’

জয়ের নায়ক তামিমের প্রশংসায় মাশরাফি

শুরুতেই সৌম্য সরকারের বিদায়। দলীয় ২৯ রানের মাথায় সুরাঙ্গা লাকমালের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সৌম্য। এই বিপদ বাংলাদেশ সামলে ওঠে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। এ যাত্রায় সাব্বির রহমান রুম্মনকে নিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল। যেখানে সাব্বিরের অবদান ৫৪ রান; আর তামিমের ২৮!

অনেকটা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তামিম। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গ তেমন পেলেন না। কারণ ১ রানের মাথায় ফিরে যান মুশফিক। তবে চতুর্থ ইনিংসে বন্ধু সাকিব আল হাসানের সঙ্গে গড়েন ১৪৪ রানের জুটি। যা ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর মধ্যে সাকিবের অবদান ৭২; আর তামিমের ৬৬।

সাকিবের বিদায়ের পর আসলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পঞ্চম উইকেটে মোসাদ্দেকের সঙ্গে ২৫ রানের জুটি গড়লেন তামিম। এখানে তামিম ছিলেন মারমুখী; ১৯ রান অবদান তার। আর মোসাদ্দেকের ৬। তামিম শেষ পর্যন্ত ১২৭ রানে থেমেছেন। তার ১৪২ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ ১৫টি চার ও একটি ছক্কায়। স্ট্রাইক রেট ৮৯.৪৩!

তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৯০ রানে। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটাও জিতেছেন ড্যাশিং এই ওপেনার। তাই জয়ের নায়ক তামিমকে প্রশংসার বানে ভাসলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টাইগার দলপতি বলেন, ‘যদি আপনি লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখবেন- তামিম অনেক অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়। খেলছে গত দশ বছর ধরে। মুশফিকও তা-ই। আমি মনে করি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের ক্ষেত্রে তামিমের ইনিংসটি ছিল কার্যকর।’
এ ছাড়া সাকিব, মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহর প্রশংসা করেন মাশরাফি, ‘সাকিব ভালো খেলেছে। মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ ফিনিংয়ের কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে। অবশ্যই, এই জয়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম ম্যাচে জয় পেলে দলের জন্য ভালো হয়। সব মিলে এটা পারফেক্ট ম্যাচ ছিল।’

 

মিরাজে মুগ্ধ তামিম

ধুমকেতুর মত উদয় যেন মেহেদী হাসান মিরাজের। তবে হারিয়ে যেতে আসেননি যে তিনি, তা ইতোমধ্যেই  প্রমাণ করে ফেলেছেন। টেস্ট সিরিজে অভিষেকে যেভাবে নজর কাড়তে পেরেছিলেন, তেমন ওয়ানডে অভিষেকেও সবার দৃষ্টি কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু অমিত সম্ভাবনায়ই নয়, তার চালচলন এবং সাহস দেখে কে বলবে, এই ছেলেটার মাত্র অভিষেক হলো। মিরাজ যে লম্বা রেসের ঘোড়া সেটা তিনি প্রমাণ করেই ছাড়লেন।

টেস্ট সিরিজের পর দেশে ফিরে এসেছিলেন ওয়ানডে দলে নেই বলে। কিন্তু ভাগ্যে থাকলে ঠেকায় কে? হঠাৎ টিম ম্যানেজমেন্টের ডাকে উড়াল দিলেন কলম্বোয়। সেখান থেকে ডাম্বুলা এবং সিরিজের প্রথম ম্যাচেই অভিষেক। মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে নিলেন ২ উইকেট। অভিষেকে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সই বলা যায়।

মিরাজের বোলিং দারুণ মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম মিরাজের বোলিং নিয়ে বলেন, ‘মিরাজের বোলিং দেখে আমি যারপরনাই খুশি। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, টেস্টেরমত ওয়ানডে অভিষেকেও কী অসাধারণ বোলিং করলো মিরাজ। মাঠে তার চলাফেরা, সাহস, আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দেখে মনেই হয়নি, এটা ছিল তার প্রথম ওয়োনডে ম্যাচ।’

এখন লক্ষ্য একটাই, সিরিজ জয়: তামিম

গত বিশ্বকাপের পর থেকেই ঘরের মাঠে দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকারমত দেশকে সিরিজে হারিয়েছে টিম বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে নিজেদেরকে পরাশক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে পারলেও পরের মাঠে নিজেদের প্রমাণ করার অনেক বাকি ছিল। নিউজিল্যান্ড এবং ভারত সফরে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি টিম বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা সফরে এসে সেই লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে বাংলাদেশের। টেস্ট সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করার পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এগিয়ে বাংলাদেশ। সুতরাং, তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন সিরিজ জয়ের আশা করতেই পারে। সে কথাই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন তামি ইকবাল।

প্রথমে জানালেন বাংলাদেশের নিজেদের প্রমাণ করার বিষয়টি। তামিম বলেন, ‘এতদিন আমরা দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে ভালো দল হিসেবে নাম লিখিয়েছি। এখন লক্ষ্য একটাই, দেশের বাইরে ভালো খেলার চ্যালেঞ্জ নেয়া। নিউজিল্যান্ডে পারিনি। এখানে এরই মধ্যে ১-০ তে এগিয়ে গেলাম।’

সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী তামিম। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তো ১-০ তে এগিয়েই গেলাম। এখন যদি সিরিজ জিততে পারি, সেটা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।’

আজকের ম্যাচ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, প্রথম পাঁচ-ছয় জনের যে কোনো একজন ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেললে, দলের স্কোরলাইন বড় হয়। আজ সেটাই হয়েছে।’

নিজের ব্যাটিং নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি একদিক আগলে রাখার পাশাপাশি স্কোরবোর্ড সচল রাখতে। সেটা পেরেছিলাম। এই পারাটা অনেক কাজে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও যদি এমন দায়িত্ব নিয়ে লম্বা ইনিংস খেলতে পারি, তাহলে আমার এবং দলের জন্য ভালো হবে। আমার নিজের ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হবে। দলও উপকৃত হবে।’

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০ হাজার রানের কৃতিত্ব গড়ায় তামিম নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করছে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করতে পেরে খুবই গর্বিত এবং নিজেকে আনন্দিত মনে হচ্ছে। এরকম আনন্দের দিনে আমার সেঞ্চুরি আর দল জেতার ঘটনা সত্যিই অন্যরকম ভালো লাগার।’

সেঞ্চুরির পেছনের রহস্য জানালেন তামিম

তামিম ইকবালের ব্যাটে গত ১৩ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি নেই্। সবচেয়ে বড় কথা, হাফ সেঞ্চুরি করার পরও তিন অঙ্কের ঘরের দেখা না পাওয়া। গল টেস্টের এক ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি। কলম্বো টেস্টে প্রথমে ৪৯। পরে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তামিম আউট হয়েছেন ৮২ রানে। আক্ষেপে পোড়াছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তামিমের।

নিউজিল্যান্ড সফরেও একটি হাফ সেঞ্চুরি, ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচেও নিষ্প্রভ ছিলেন তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কা সফরে এসে ভালো ব্যাটিং করার পরও কেন যেন হাহাকার তামিমের মনে। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারছিলেন না। অবশেষে পারলেন তামিম। সেঞ্চুরি করার পর সেটাকে নিয়ে গেলেন আর ২৭ রানের উচ্চতায়।

তবে তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি এমনি এমনি আসেনি। ৪০ রানে থাকা অবস্থাতেই তামিমের অস্বস্তি লাগা শুরু হয়। এরপর কোচ এবং অধিনায়কের চেষ্টায় সেই অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তামিম এবং সেঞ্চুরি উপহার দেন।

ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম জানালেন তার সেঞ্চুরির রহস্যের কথা। তিনি বলেন, ‘৪০ এর ঘরে গিয়ে আমি কিছুটা অস্বস্তিবোধ করছিলাম। ওই সময় কোচ মেসেজ পাঠালেন, আর মাশরাফি ভাই ড্রেসিং রুমের বাইরে এসে ঝেড়ে গলায় বললেন, তুই উইকেটে থাক। তখনই আমি চিন্তা করলাম, আমি যতটুকু পারি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো, উইকেটে থাকতে।’

তবে তামিম জানালেন উইকেট ব্যাটসম্যানদের সহায়ক ছিল না। এটা ছিল বোলারদের। তামিম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ৩২০-এর ঘরে পৌঁছে গেছি বলেই ভাবার কারণ নেই, যে উইকেট খুব সহজ ছিল। প্রথমত উইকেট ছিল স্লো। কিছু বল থেমে এসেছে। আবার কোনো কোনো ডেলিভারি টার্নও করেছে। সে করণেই আমার মনে হয়, এই উইকেটে ৩২৪ অনেক রান।’

সাব্বির আর সাকিব দারুণ সহযোগিতা করেছে : তামিম

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারকে নিয়ে সূচনাটা ভালোই ছিল তামিম ইকবালের। তবে সৌম্য অফস্ট্যাম্পের বল অযথা খোঁচা মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে আউট হন। এরপর ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামা সাব্বির রহমান জুটি বাধেন তামিমের সঙ্গে। সর্বশেষ কলম্বো টেস্টে এই দু’জনের জুটির ওপরই তো গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের বিজয়ের সৌধ। সেটাকেই যেন ডাম্বুলায় টেনে আনলেন তারা দু’জন। গড়লেন ৯০ রানের বড় ‍জুটি।

৫৪ রান করে সাব্বির আউট হওয়ার পরপরই মুশফিক বিদায় নেন ১ রান করে। বড় স্কোর গড়ার জন্য আরও একটি বড় জুটি প্রয়োজন ছিল। সেই দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিলেন দুই বন্ধু তামিম-সাকিব। চতুর্থ উইকেট জুটিতে উঠলো ১৪৪ রান। সাকিব আউট হন ৭২ রানে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। সাব্বির আর সাকিবের সঙ্গে তামিমের যে দুটি বড় জুটি গড়ে উঠেছে, সেটাই বাংলাদেশের রান ৩২৪-এর ঘরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশের জয়ের আসল নায়ক তামিম ইকবাল নিজের অনুভুতি জানাতে গিয়ে এক কথায় বলেছেন, ‘ খুবই ভালো লাগছে। প্রচণ্ড গরম ছিল। তবুও চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। দলের জয়ে অবদান রাখতে পারলে সব সময়ই ভালো লাগে।’

সাব্বির আর সাকিব আল হাসানের দুই জুটিতে অবদানের কথা স্বীকার করে তামিম বলেন, ‘সাব্বির আর সাকিব দারুণ সাপোর্ট দিয়েছে। ওই দুটি জুটি, বিশেষ করে সাকিব আর আমার জুটি আমাদের ৩২০ রানের বেশি করার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। আমি আর সাকিব খুব পরিকল্পনা মাফিক আগানোর চেষ্টা করেছি।’

সাকিব-তামিমের জুটির সময় হঠাৎ চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছিল লঙ্কানরা। এ বিষয়টা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা দুইজন যখন ক্রিজে, তখন হঠাৎ লঙ্কানরা ভালো বল করতে শুরু করলো। আমি আর সাকিব ঠিক করলাম, যতক্ষণ পারা যায় ততক্ষণ ধরে উুইকেটে থাকবো এবং রানের চাকাও সচল রাখবো। আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে, সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।’

তিন বিভাগেই আমাদের উন্নতি করতে হবে : থারাঙ্গা

মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকারত্নে দিলশানের বিদায়ের পর লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে আগের ধার নেই। আবার ধার নেই বোলিংয়েও! ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে যার কাছে সাধারণত ব্যাটসম্যানরা ধরাশায়ী হয়, সেই লাসিথ মালিঙ্গাও নেই পুরনো ছন্দে। তার ওপর ইনজুরি তো লেগেই আছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে নেই মালিঙ্গা। অভিজ্ঞ বোলারদের মধ্যে রয়েছেন সুরাঙ্গা লাকমাল। তরুণ পেসার লাহিরু কুমারা ও স্পিনার লক্ষ্মণ সান্দাকান বোলিংয়ে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন লঙ্কান দলে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপের সামনে অসহায় ছিলেন তারাও।

তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান রুম্মন, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তাতে কিছু করারও ছিল না স্বাগতিক বোলারদের। তার চেয়ে বড় কথা, ফিল্ডিংয়েও তাদের দেখা যায়নি চেনারূপে। ২৫ থেকে ৩০ রান অতিরিক্ত দিয়েছেন লঙ্কান ফিল্ডাররা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এটা বাড়তি চাপ হয়ে যায় যে কোনো দলের জন্য। লঙ্কানদের জন্যও হলো তা-ই।

৩২৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা। এই লক্ষ্য তাড়া করতে জিততে হলে কাউকে না কাউকে লম্বা ইনিংস খেলতে হতো। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সেটা করতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। শুরুতেই বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন মাশরাফি। ব্যক্তিগত প্রথম দুই ওভারে তো কোনো রানই দেননি টাইগার দলনেতা। অপরপ্রান্তে লঙ্কানদের ঠেসে ধরেন অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া মোস্তাফিজ-সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের দৌড় থামে ২৩৪ রানে। বাংলাদেশ পায় ৯০ রানের জয়।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা যেমন জানালেন, ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই তাদের উন্নতি করতে হবে। বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের ইনিংসে মাঝামাঝি সময় আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারিনি। বোলাররা ভালো করতে পারেনি। ফিল্ডিংটাও ভালো হয়নি; ২৫-৩০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি। আমাদের তিন বিভাগেই উন্নতি করতে হবে।’

থারাঙ্গার আক্ষেপ, ‘বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমাদের কাউকে লম্বা ইনিংস খেলার দরকার ছিল। দেখুন, প্রথম ১০ ওভারেই আমরা তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। তিনশো রান তাড়া করতে যা করা দরকার ছিল, সেটা আজ (শনিবার) আমরা করতে পারিনি।’

সাকিবকে হটিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মাশরাফি

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় তারা দুজন আছেন। তাদের অবদান ভোলার নয়। মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান। সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে যেমন দলকে দিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের শতভাগ। তেমনি নেতৃত্ব পেলেও শতভাগ উজাড় করে দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে থাকেন মরিয়া।

সাকিব আল হাসান বর্তমানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের সহঅধিনায়ক। অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন আগে। আর বাংলাদেশ দলের সীমিত ওভারের বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি। নড়াইল এক্সপ্রেস দলকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্দান্ত গতিতে।

পরিসংখ্যানই বলছে সে কথাই। জয়ের হিসেবে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সফল অধিনায়ক মাশরাফি। এই তালিকায় ছাড়িয়ে গেছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের ২৪তম জয়।

এর আগে ২৩টি জয় নিয়ে সাকিবের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মাশরাফি। ২৩টি জয় পেতে সাকিবের লেগেছে ৪৯টি ওয়ানডে। আর মাশরাফি ২৪তম জয় পেলেন ৩৮টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে। তার মানে, ১১টি ম্যাচ কম খেলেই সাকিবকে টপকে গেলেন বাংলাদেশ দলের বর্তমান অধিনায়ক!

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। তার নেতৃত্বে টাইগাররা ২৯টি ওয়ানডেতে জয় পেয়েছে। আর এই ২৯টি জয় পেতে হাবিবুল বাশারের লেগেছিল ৬৯টি ওয়ানডে। খুব বেশি দেরি নয়, বাশারকে হয়তো ছাড়িয়ে যাবেন মাশরাফি। সে জন্য বর্তমান অধিনায়কের দরকার আর মাত্র ৬টি ওয়ানডে জয়।

কেকেআরের মালিক শাহরুখ-জুহিকে শোকজ নোটিশ ইডির

শুরু থেকেই ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিচারে আইপিএলের অন্যতম ধনী দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। শাহরুখের জনপ্রিয়তা এবং দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারতে কেকেআরের সমর্থক বেশি। বিপুল পরিমাণ সমর্থক রয়েছে দেশের বাইরেও।

এবার কিছুটা বিপাকে পড়েছে কেকেআর। দলটির মালিক শাহরুখ খান, তার স্ত্রী গৌরি খান ও সহ-কর্ণধার জুহি চাওলাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- ভারতে বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করেছেন। ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়, কেআরএসপিএল-এর শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে (ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট) ২০০০-এর ৪(১) নম্বর আইন ভঙ্গ করেছেন শাহরুখ খান, গৌরি খান ও জুহি চাওলা। এ নিয়ে ২০১৫ সালেই শাহরুখকে সমন পাঠিয়েছিল ইডি।

ইডি সূত্র জানিয়েছে, শাহরুখ খানের রেড চিলিজ প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থায় অংশীদারি রয়েছে জুহি চাওলা এবং তার স্বামী জয় মেহতার। প্রথমে রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট গৌরি খানের নামে সমস্ত শেয়ার কিনত। পরে নতুন শেয়ার কেনে  কেআরএসপিএল। যার মধ্যে একটা আর্থিক অংশ শেয়ার মূল্য হিসাবে দেওয়া হয় জুহিকে। অভিযোগ- বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ওইসব শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।

সরি’ বলতে পারেন না কোহলি!

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ক্রিকেটীয় বাকযুদ্ধ যেন থামছেই না। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যম ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির। কোহলিকে নিয়ে একের পর এক বিতর্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে তারা। এবার অজি ক্রিকেট বোর্ড প্রধান জেমস সাদারল্যান্ডও সেই দলে যোগ দিলেন।

কোহলির সমালোচনা করে সাদারল্যান্ড বলেন, ‘কোহলি বোধহয় ‘সরি’ শব্দটাও ঠিক মতো বলতে জানে না!’ বেঙ্গালুরু টেস্টের পর ডিআরএস বিতর্ক থেকে এখনও বের হতে পারেনি ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ কোহলিকে মিথ্যাবাদীও বলেছেন। অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যমে আশা করেছিলো, কোহলি হয়তো দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

তাই কিছুটা হতাশ হয়েই সাদারল্যান্ড এই কথা বলেছেন। স্থানীয় একটি রেডিওতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জানি না কোহলি ঠিকমতো সরি বলতে জানে কি না! এই টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দলের অনেকেই আইপিএলে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। সেটা যেন বিফলে না যায়। অনেকটা সময় তারা এক সাথে থাকবে। সেখানেই হয়তো ভালো কিছু দেখতে পাবো আমরা।’

বিসিবির দিকে ভাসের অভিযোগের তীর

বাংলাদেশের সম্ভাব্য ফাস্ট বোলিং কোচের তালিকায় কোর্টনি ওয়ালশের পাশাপাশি নাম ছিলো শ্রীলঙ্কার সাবেক ফাস্ট বোলার চামিন্দা ভাসেরও। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাথে আলোচনাটা খুব বেশিদূর এগোয়নি। এবার বিসিবির বিরুদ্ধে অভিযোগই করে বসলেন কিংবদন্তি লঙ্কান পেসার। তার দাবি, চুক্তিপত্র পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে। তারপর আর কেউ যোগাযোগ করেনি। 

বুধবার কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড একাদশের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন এই কিংবদন্তি। বর্তমানে নিজ দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করা এই লঙ্কানের অভিযোগ, শুধু আলোচনাই নয়, বিসিবি নাকি তাকে চুক্তিপত্রও দিয়েছিলো। তারপর আর যোগাযোগ করেনি কেউ।

এমন অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাস। বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিককে ভাস বলেন, আপনাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে একটি চুক্তিপত্র পাঠিয়েছিলো। কিন্তু এরপর আর কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।

তবে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সরাসরি অস্বীকার করলেন এমন অভিযোগ। তিনি জানান, ভাসকে চুক্তিপত্র পাঠানোর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না, তার অজ্ঞাতসারে এমন কিছু হওয়ার কথাও নয়।

বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে কোহলিদের

মাঝখানে খারাপ সময় যাচ্ছিলো বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই)। অস্ট্রেলিয়া দলকে আতিথেয়তা দিতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয়েছে। সেই বোর্ডই এবার ক্রিকেটারদের বেতন দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে। শুধু বেতনই নয়, ম্যাচ ফি’র পরিমাণটাও বাড়ছে একই হারে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট সংস্থা বিসিসিআই ঘোষণা দিয়েছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে সব ম্যাচ ফি এবং চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বেতন দ্বিগুণ করা হবে। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয় ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বসর্বা প্রতিষ্ঠানটি।

বলা হচ্ছে, ‘এ’ ক্যাটাগরির যেসব ক্রিকেটাররা গেল মৌসুমে এক কোটি রুপি পেতো, আসছে মৌসুমে তাদের বেতন বেড়ে প্রায় দুই কোটি (৩০৫,০০০ ইউএস ডলার) রুপি হতে যাচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বেতন পান ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। আরো ব্যাখা করলে জো রুট পান (৮৭০,৮০০ ইউএস ডলার) কিংবা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথরা পান (৮৫৮,৮১৬ ইউএস ডলার)।

মূলত তাদের সাথে তাল মেলাতেই এই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে বিসিসিআই। সেক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ক্রিকেটাররা হলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি, সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানে। নতুন চুক্তিতে এই দলে জায়গা হতে যাচ্ছে চেতেশ্বর পূজারা, রবীন্দ্র জাদেজা এবং মুরালি বিজয়ের। এদের সবাই ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার।

‘বি’ ক্যাটাগরির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা হলেন ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা, পেসার মোহাম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা ও উমেশ যাদব। নতুন চুক্তি অনুযায়ী তাদের সবাই পাবেন এক কোটি রুপি। ‘সি’ গ্রেডের ক্রিকেটারদের ভাগ্যে জুটবে ৫০ লাখ রুপি।

দ্বিগুণ হচ্ছে ম্যাচ ফি’র অর্থও। এখন থেকে টেস্ট খেলে প্রত্যেক ভারতীয় ক্রিকেটার পাবেন ১৫ লাখ রুপি। ওয়ানডেতে ৬ লাখ আর টি-টোয়েন্টিতে ৩ লাখ রুপি করে পাবে

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাসেলের আপিল

ডোপ আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। এবার এই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল করলেন রাসেল।

২০১৫ সালে রাসেলকে প্রথমবার পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু তিনি হাজির হননি। এরপর আরও দুইবার তাকে হাজির হতে বললেও তিনি পরীক্ষা দেননি। বাধ্য হয়ে জ্যামাইকা ডোপ বিরোধি কমিশন গেল মার্চে তার বিরুদ্ধে কমিশন গঠিন করে।

এই কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে জানতে চায়, তিনি কেন বারবার ডাকার পরেও উপস্থিত হননি এবং পরীক্ষা দেননি? কিন্তু রাসেল কোন উত্তর দেননি এই প্রশ্নের। এরপরই তাকে এক বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

২০ মার্চ জ্যামাইকা এন্টি-ডোপিং ডিসিপ্লিনারি প্যানেল বরাবর শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রাসেল। তবে তার এই আপিল খারিজ হলে কমিশন তার শাস্তি বাড়িয়ে দুই বছর করতে পারে, এমনটাই জানা গেছে।

ওয়ানডে সিরিজের আগে লঙ্কান শিবিরে দুঃসংবাদ

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ থেকে বাদ পড়েছেন কুশল পেরেরা। কলোম্বোয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়েন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। সেই চোটই মাঠের বাইরে নিয়ে গেলো তাকে।

স্বাগতিক দলের ম্যানেজার আশাঙ্কা গুরুসিংহে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাম উরুর স্ট্রেইনে পাওয়া এই চোট খুব বেশি গুরুতর নয়। সেক্ষেত্রে প্রথম দুই ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বদলি ক্রিকেটারের ব্যাপারটিও শুক্রবারের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গেল বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন কুশল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে সুবিধা করতে পারেননি। জায়গা হয়নি সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও। সেদিক থেকে বাংলাদেশ সিরিজটি ছিল নিজেকে ফিরে পাওয়ার অন্যতম পথ।

কিন্তু দূর্ভাগ্য ৬৮ ওয়ানডেতে তিনটি সেঞ্চুরি আর আটটি হাফ সেঞ্চুরিসহ মোট ১৬৩৫ রান করা কুশল পেরেরার। ‘প্রস্তুত’ হতে গিয়েই চোটে পড়লেন। আগের দিন মাশরাফি-তাসকিনদের বিপক্ষে ৬৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার পর চোটের কারণেই স্বেচ্ছায় অবসরে যান এই ক্রিকেটার।

সাকিব-তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ডাম্বুলায় বাংলাদেশ দল

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে খেলতে ডাম্বুলায় পৌঁছেছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার দল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় রওয়ানা দেয় সফরকারীরা।

টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করার পর একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও প্রস্তুতিটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। এবারের লক্ষ্য ওয়ানডে ম্যাচ। দলের সবাইকে নিয়েই ডাম্বুলায় গেছে টি ম্যানেজমেন্ট। ছুটিতে থাকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল; দু’জনই যোগ দিয়েছেন।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ও ২৮ মার্চ। শেষ ম্যাচটি খেলতে আবারও কলোম্বোয় ফিরবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ম্যাচটি গড়াবে এক এপ্রিল, প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। ওয়ানডের পর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

শেষ মুহূর্তে ওয়ানডে দলে মিরাজ চমক

টেস্ট খেলার পরপরই দেশে ফিরেছিলেন স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর দুইদিন আগে আবারও উড়লেন শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে। অর্থাৎ, ওয়ানডে দলে থাকছেন তিনি।

চমকটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই দিনে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন মিরাজ। 

যদিও খানিকটা ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মিরাজ। জানিয়েছিলেন সীমিত ওভারে খেলার আকুতি। তবে সেটা যে শ্রীলঙ্কা সফরেও হতে পারে তা হয়তো নিজেও জানতেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘অনেক দিন ওয়ানডে খেলা হয় না। ইমার্জিং কাপ ও প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলে চেষ্টা করব ওয়ানডে দলে আসতে।’

সেক্ষেত্রে ইমার্জিং কাপে থাকা হচ্ছে না এই অলরাউন্ডারের। তার জায়গায় সুযোগ হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অফস্পিনার নাঈম ইসলামের। চিটাগং ডিভিশনের হয়ে খেলেন এই ক্রিকেটার।

গেল বছরে সাদা পোশাকে বাংলাদেশ দলের হয়ে অভিষেক হওয়া মিরাজ শুরু থেকেই বল হাতে তাক লাগিয়ে চলেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। ব্যাট হাতে শুরুর দিকে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মিরাজ। কিন্তু খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। শ্রীলঙ্কার আগে ভারত সফরে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হেসেছে তার ব্যাট। দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তার রান ছিল যথাক্রমে ৪১,২৮,২৪, ২*।

মিরাজের অন্তর্ভুক্তিতে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের স্কোয়াডঃ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান , সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশীষ রায়, সানজামুল ইসলাম, শুভাগত হোম চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল সফলভাবে হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত দেখছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। আগেই বলা হয়েছিলো, সব ঠিকঠাকভাবে হলে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী মে মাসে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় দেশটি।

নিজেদের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ খেলা অনেক বড় একটি সুযোগ বলে মনে করেন পিসিবির কর্মকর্তারা। শিগগিরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠাবে বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানে। এরপর ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে স্বল্প পরিসরে পাকিস্তান সফরে যায়। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের সাথে সিরিজ থাকলেও সে সময়ে আবারো দেশের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় দেশ দুটি সফর বাতিল করে।

শ্রীলঙ্কায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা হাতে তাসকিনরা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা যখন ঢাকায় এলো, বাংলাদেশ দল তখন শ্রীলঙ্কায় টেস্ট নিয়ে ব্যস্ত। ঢাকায় স্বপ্নের টুর্নামেন্টের শিরোপা দেখে চোখ জুড়িয়েছিল সমর্থকরা। কিন্তু দেখা হয়নি ক্রিকেটারদের। অবশেষে তারাও ছুঁয়ে দেখলেন, শ্রীলঙ্কাতে বসেই।

বাংলাদেশ ঘুরে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। সেখানেই আকাঙ্খিত ট্রফিটির দেখা পেলেন তাসকিন-সাব্বিররা। টুর্নামেন্টের আগে সুযোগ পেতেই উদযাপন করতেও ভুললেন না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে ট্রফির শিরোপার সঙ্গে ছবি প্রকাশ করেছেন তাসকিন। অন্যান্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিলেন টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জুনের এক তারিখ থেকে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বাকি দলগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে সাব্বির-তাসকিনরা

বিশ্বকাপের পরই আইসিসির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। র‌্যাংকিংয়ে থাকা সেরা আটটি দল নিয়ে ১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হবে আইসিসির দ্বিতীয় সেরা এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশকে পেছনে ফেলে এবার বাংলাদেশ খেলবে আইসিসির প্রেস্টিজিয়াস এই টুর্নামেন্টটিতে।

গত ২ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে আইসিসি ট্রফির বিশ্ব ভ্রমণ। অংশগ্রহণকারী ৮টি দেশের মোট ১৯টি শহর প্রদক্ষিণ করবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ট্রফিটি। ২ মার্চ ভারতের মুম্বাই থেকে শুরু হয় ‘নিশান আইসিসি ট্রফি ট্যুর’। এরপর বাংলাদেশ হয়ে এই ট্রফিটি এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। আর বাংলাদেশ দলও আছে লঙ্কা সফরে।

তাই নিজের দেশে এই ট্রফিটি দেখতে না পারলেও শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পর ট্রফিটি হাতে নিয়ে ছবি তুলেছে টাইগার তারকা সাব্বির-তাসকিন-সৌম্যরা। পর নিজের ফেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ ছবি শেয়ার দেন সাব্বির।

আইপিএলকে বাতিল করে দিল বিসিসিআই!

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর আইপিএল। এই আসরে খেলে থাকেন বিশ্বের নামিদামি ক্রিকেটার। বেশ জমে ওঠে এই টুর্নামেন্ট। কিন্তু এই আসর কি থাকছে? এমন প্রশ্নও অবান্তর নয়! কারণ তো আছেই।

বিসিসিআইয়ের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর যেসব নতুন নিয়ম-নীতি চূড়ান্ত করেছে, সেখানে উল্লেখ নেই কোনো ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির কথা। তার মানে, আইপিএলকে বাতিল বাতিল করে দিল বিসিসিআই! ভারতের আরেকটি টুর্নামেন্টও তাহলে বাদ পড়ে যায়, সেটা হলো সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি।

বিসিসিআইয়ের নতুন সংবিধানের অধ্যায় পাঁচ ২৫ (২) বলছে, রঞ্জি, ইরানি, দিলীপ, দেওধর, বিজয় হাজারে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের টুর্নামেন্ট বিজি ট্রফি নিয়ে কাজ করবে বিসিসিআইয়ের পাঁচ সদস্যের সিনিয়র টুর্নামেন্ট কমিটি। সেখানে উল্লেখ করা হয়নি ভারতের কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।

ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির কথা বাদ দেয়া হলো? নাকি ভুল করে এমনটা হলো? ভারতীয় গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রসঙ্গত, বিসিসিআইয়ের অধীনে এখন দুটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়। টুর্নামেন্ট দুটি হলো- আইপিএল ও সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি।

ইস শেষ পর্যন্ত যদি আমি থাকতাম : মাশরাফি

‘শ্রীলঙ্কার সাথে আমাদের ১/২ রানের কুফা (সংস্কারমূলক প্রচলিত শব্দ), (আভিধানিক অর্থ অপয়া) আছে। সেই কুফা কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অল্পের জন্য হলো না। আমার ব্যাটে বলে হচ্ছিল বেশ। ইস শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে হয়ে যেত। রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) মানসিক চাপ নিয়ে খারাপ খেলেনি। আর একটু হাত খুলে খেলতে পারলে ভালো হতো।
তারপরও ৩৫৪ চেজ হয়ে যাচ্ছিল! কি বলেন?’ ড্রেসিং রুম থেকে বাসে উঠতে উঠতে এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললেন মাশরাফি।

না পারার হতাশা নয়। তবে একটা অস্ফুট আক্ষেপ আছে চোখে-মুখে। অধিনায়ক অমন আক্ষেপ করতেই পারেন। তার ইনিংসটি আর একটু বড় হলেই হয়ে যেত। তারপরও এটা চরম সত্য যে, সৌম্য, সাব্বির, মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ ভালো খেললেও মাশরাফির ৩৫ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটির কারণেই অত দূর যাওয়া।

তাই তিন বছর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খুব কাছাকাছি গিয়ে হারার কথাই মনে হয়েছে। প্রথম লাইনেই আছে তার ইঙ্গিত। ইতিহাস জানাচ্ছে, ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সাথে মাশরাফির নেতৃত্বে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পর পর দুই খেলায় শেষ বলে গিয়ে হেরেছে মাশরাফির দল।

সময়টা ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি। খেলা হয়েছিল চট্ট্রগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ঠিক আজকের ব্যবধান মানে ২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। থিসারা পেরেরার ফুলটচ বলে উইনিং শট হাঁকানোর বদলে উল্টো ক্যাচ আউট হন এনামুল হক বিজয়। লঙ্কানদের ১৬৮  রানের জবাবে বাংলাদেশ ইনিংস শেষ করেছিল ১৬৬ রানে। আর শেষ ম্যাচে বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় পায় লঙ্কানরা।

হোক তা প্রস্তুুতি ম্যাচ, আর শ্রীলঙ্কার মাটিতে মাশরাফির মনে সেই স্মৃতি এখনো কাটা হয়ে আছে। আজ লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি একাদশের কাছে ২ রানে হারের পর তাই উপরের মন্তব্য টাইগার ক্যাপ্টেনের। তবে ওই কথোপকথনটাকে নেতিবাচক ভাবারও কোনো কারণ নেই।

কারন শেষ লাইনে আছে, ‘সাড়ে তিনশো রানও চেজ করে ফেলছিলাম। খারাপ খেলিনি। প্রায় জিতেই গিয়েছিলাম।’
অধিনায়কের এ কথা প্রতিধ্বনিত হলো ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কণ্ঠেও। খেলা শেষে স্বদেশি সাংবাদিকদের সাথে ব্যক্তিগত আলাপে খালেদ মাহমুদ বলেই দিলেন, ‘নাহ, কোনো আক্ষেপ বা আফসোস নেই আমাদের। ছেলেরা দারুণ খেলেছে। গ্রেট ফাইটব্যাক। অত বিশাল লক্ষ্যের পিছু ধেয়ে এর চেয়ে ভালো খেলা কঠিন।’

এর আগে হার্ড-হিটার সাব্বিরও বাংলাদেশের মিডিয়ার সাথে আলাপে একই সুরে কথা বলেন। কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে কোনো মন্তব্য না করলেও খেলা শেষে প্রায় অন্ধকার হয়ে আসা কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠেও তার চেহারায় ফুটে উঠল পরিষ্কার সন্তুষ্টির ছাপ।

যদিও ক্রিকেটাররা যখন সবাই ব্যাগ গোছানোয় ব্যস্ত, তখন দুই সহযোগী কোর্টনি ওয়ালশ আর থিলান সামারাবিরাকে সাথে নিয়ে ড্রেসিং রুমের বাইরে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের একটা ছোটখাটো সেশন কাটালেন হাথুরুসিংহে। বোঝাই গেল, প্রস্তুুতি ম্যাচের পারফরম্যান্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ হলো। কে কেমন খেললেন? তার পোস্টমর্টেমও চললো।

তবে তিনজনের কারো চেহারায় এতটুকু হতাশা বা বিষণ্ণতার ছোঁয়া ছিল না। বরং সন্তুষ্টিই প্রকাশ পেল। তা না পাওয়ার কোনোই কারণ নেই। শতভাগ ব্যাটিং কন্ডিশনে প্রথম সেশনে লঙ্কান বোর্ড সভাপতি একাদশের ৩৫৪ রান করা দেখে বোলিং ব্যর্থতার এক প্রতিচ্ছবি মনে হলেও খেলা শেষে আর তা ভাবার কারণ ছিল না।

আসলে উইকেট একদমই ব্যাটিং বান্ধব। সেখানে তামিম-সাকিব নেই। ৩৫৫ রান করার অর্ধ হিমালয়ের চুড়ায় ওঠা। আর সে পথে যাত্রাই শুরু হলো ইমরুলের প্রথম বলে ০ রানে ফেরা দিয়ে। ওই অবস্থার পরও শেষ পর্যন্ত ৩৫২ রানে পৌঁছে যাওয়া  যে কোনো মানদণ্ডে, যে কোনো হিসেবে সন্তষ্টির।

আজ কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে উপস্থিত সবাই টাইগারদের বীরোচিত ব্যাটিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। শুরুতে সৌম্য-সাব্বির আর পড়ন্ত বিকেলে মাশরাফির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় দলের ভক্ত ও সমর্থকরা।

আর সকাল থেকে প্যাভিলিয়রে পাশে খোলা আকাশের নিচে জাতীয় পতাকা হাতে ‘সাবাশ-সাবাশ’, ‘হয়ে যাবে হয়ে যাবে’  বলে গলা ফাটানো ‘টাইগার শোয়েবের কণ্ঠেও কোনো আক্ষেপ নেই। বরং সন্তুষ্টি ‘সাড়ে তিনশো রান কইরা ফালাইছি ভাই। এইডা কি কম?’

প্রতিপক্ষ যেই হোক, একটা প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৫৪ রানের আকাশ ছোঁয়া টার্গেট তাড়া করে ৩৫২ রান করা সন্তুষ্টির বৈকি।
২৫ মার্চ উপুল থারাঙ্গা বাহিনীর সাথে মাঠে নামার আগে অাজকের এ প্রস্তুুতি ম্যাচের উজ্জীবিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স অবশ্যই ভালো খেলার দারুণ কার্যকর দাওয়াই। রসদ।

মহানামা-কালুভিথারানার সাথে জমজমাট আড্ডা হাথুরুর

সূর্য্যরে দিকে তাকানো যায় না। ঝাঁঝালো রোদে চোখ আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে আসে। গরম তো নয়, যেন আগুনের হলকা এসে লাগছে শরীরে। স্থানীয় এক দর্শক রসিকতা করে বলে উঠলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ওয়ানডে সিরিজের আগে আর গা গরমের দরকার হবে না। এমন কাঠফাটা কড়া রোদে খেললে আপনা-আপনি শরীর গরম থাকবে।’

এমন তীব্র-অসহনীয় গরম ও প্রচন্ড আর্দতার মাঝেও কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত‘শো ক্রিকেট অনুরাগী। সবার চোখ স্থির হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দিকে।

মাশরাফি কেমন বল করলো? তাসকিন কত জোরে ডেলিভারি দিচ্ছে, এবারই প্রথম দলে আসা বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুলের বলে টার্ন কেমন? আচ্ছা কিপিং না করুক, মুশফিক ব্যাটিং করবেন তো! সৌম্য সরকারের হাতে কি হয়েছে- ফিল্ডিং করলেন না যে?

কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্যালিয়নের পাশে ছোট্ট একটু জায়গা খানিক গ্যালারির আদলে তৈরি। সেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিক- ফটো সাংবাদিক এবং ঢাকা থেকে সিরিজ দেখতে আসা দুই ক্লাব অফিসিয়াল ফটিক ও রুবেলের কাছে প্রশ্ন স্থানীয় দর্শক-সমর্থকদের।

আবার পরের অংশে সাব্বির রহমান রুম্মনের ব্যাটিং দেখে আরেক লঙ্কান সাপোর্টারের তাতক্ষণিক মন্তব্য- এই তরুণ তো দারুণ স্ট্রোক খেলে! এ তো গেল স্থানীয় দর্শক ও সমর্থকদের ভাষ্য। এর বাইরে আরও চোখ মাশরাফি বাহিনীকে পাখির চোখে পরখ করতে থাকলো। তবে নিরবে-নিভৃতে।

লঙ্কান প্রধান নির্বাচক সনাথ জয়সুরিয়া আর তার সাবেক ওপেনিং পার্টনার ও শ্রীলঙ্কার বর্তমান নির্বাচক কমিটির অন্যতম সদস্য রমেশ কালুভিথারানা। তাদের সাথে এ ম্যাচ মন দিয়ে দেখলেন বর্তমান লঙ্কান ম্যানেজার ১৯৯৬‘র বিশ্বকাপ বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য অশাঙ্ক গুরুসিংহে।

তারা সবাই ম্যাচের বড় অংশ দেখলেন প্যাভিলিয়নে বসে। এ বহরের সাথে সকালে ঘণ্টা খানেকের বেশি সময় মাঠে কাটালেন সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক রোশন মহানামাও। সকালে বাংলাদেশের ফিল্ডিং সেশনে বাংলাদেশের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে আর ব্যাটিং উপদেষ্টা সাবেক লঙ্কান ক্রিকেটার থিলান সামারাবিরাও এসে যোগ দিলেন ওই তিন সাবেক লঙ্কান ক্রিকেটারের সাথে।

এক সময় প্যাভিলিয়নের বাঁ-দিকে গাছের নিচে এক প্রাণবন্তু আড্ড জমে উঠলো। মহানামা, কালুভিথারানার সাথে এসে যোগ দিলেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে আর ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবিরাও। প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে চললো ওই আডডা।

একসঙ্গে শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্মৃতি, এই কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠের স্মতিচারণসহ অনেক কথাই বলাবলি করলেন তারা। পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা শুনে গেলাম শুধু; কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। কারণ, তাদের কথোপকথন স্থানীয় ‘সিংহলিজ’ ভাষায়।

মহানামা আর কালুভিথারানার মত ক্রিকেটার চোখের সামনে, ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ বিজয়ে যাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের আছে বড় ভূমিকা। এমন দুই ক্রিকেটারের সাথে কথা বলতে উন্মুখ বাংলাদেশের সাংবাদিকরা।

কিন্তু মহানামা আর কালুভিথারানার কেউ কথা বলতে চাইলেন না। আজকাল যিনি আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি, সেই মহানামা একদম বিনয়ের সাথে হাতজোড় করে না করে দিলেন। ‘সরি ডিয়ার। নেভার মাইন্ড।’ আমি কথা বলবো না। তোমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছো, খুব ভাল কথা। আমার দেশ উপভোগ করো। দেশটা ঘুরে দেখো। চমৎকার দেশ। মানুষও খুব মিশুক। আশা করি তোমাদের ভাল লাগবে। তবে আমি তোমাদের সাথে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলবো না।’

মহানামার মত পাশ কাটিয়ে গেলেন নির্বাচক কালুভিথারানাও। বলা হলো তার বর্তমান নির্বাচক জীবন নিয়ে একটি কথাও জিজ্ঞেস করা হবে না। তার ক্যারিয়ার আর ঢাকায় খেলার স্মৃতিচারণ- এসবই হবে।

প্রথমে জানালেন আচ্ছা একটু পর বলি। এই বলে স্থানীয় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় জড়িয়ে পড়লেন। ঘণ্টাখানেক পর যখন বলা হলো, ভাই আপনি কি তৈরি? তখনই অনুনয়, ‘প্লিজ, মাইন্ড করো না। কেউ ব্যক্তিগতভাবেও নিয়েন না। আসলে আমি লঙ্কান ক্রিকেটের সাথে চুক্তিবদ্ধ। আর আমার ক্যারিয়ার ও ঢাকা লিগ খেলার স্মৃতি নিয়ে নতুন করে কি বলবো?’ এভাবেই বাংলাদেশ প্রচার মাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে গেলেন তিনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়

ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত বধিরদের নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৫ রানে হারায় টাইগাররা।

মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠে  দিনের একমাত্র ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের হয়ে ইমন ৫০ ও আকিব মাহমুদ করেন ৩৭ রান।

জয়ের জন্য ২০০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রানেই শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস। ফলে ২৫ রানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

 

প্রযুক্তিতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ক্রিস গেইল ব্যাট হাতে যখন মাঠে নামেন তখন বোলাররা যত না দুশ্চিন্তায় থাকেন তার চেয়ে অনেক বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন অধিনায়ক। ভাবনায় থাকে এ দানবকে ঠেকাতে কোন বোলারকে ব্যবহার করবেন। কারণ ব্যাট হাতে গেইল একাই পারেন প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দিতে। শুধু গেইল নয় হালের ডি ভিলিয়ার্স, বিরাট কোহলি, মার্টিন গাপ্টিলরাও যেকোনো দলকে গুড়িয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত। তখন অধিনায়করা মাঠে নামার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তার দলের কোন বোলারটা গেইলের মতো দানবদের সামনে আনবেন। আর অধিনায়কের এ সিদ্ধান্তটা নিতে সহয়তা করেন আলোচনার বাইরে থাকা কম্পিউটার অ্যানালিস্টরা। তারা ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং ক্ষমতা কাঁটাছেড়া করে জানান কোন বোলারটা তার সামনে কার্যকর হবে।

২০১২/১৩ মৌসুমে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্রাভো-পোলার্ড-রাসেলদের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানদের নেতৃত্বে যথারীতি ক্রিস গেইল। সিরিজ শুরুর আগে তাই মহাভাবনা কে থামাবেন গেইলকে? অনেকেই ফোঁড়ন কেটেছেন গেইলকে থামানোর বোলারই তোমাদের নেই, বাকিদের সামলাবে কী করে? তবে মাঠের খেলায় দেখা গিয়েছিল ভিন্নচিত্র। ম্যাচের আগের দিন রাতে তখনকার বাংলাদেশ দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট নাসির আহমেদ নাসু গেইলের পুরনো ম্যাচের ভিডিও দেখে বুঝলেন অফস্পিনে কিছুটা দুর্বল এ ক্যারিবিয়ান। টিম ম্যানেজমেন্টকে জানান গেইলের সামনে শুরুতে অফস্পিন আনলে কার্যকর হতে পারে।

যা ভাবা তাই কাজ। সেবার নবীন অফস্পিনার সোহাগ গাজীকে দিয়ে ওপেন করান অধিনায়ক। ফলাফলটা হাতেনাতেই পায় বাংলাদেশ। সে সিরিজে গেইলকে বাক্সবন্দী করে রাখতে পেরেছিলেন টাইগাররা। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে করেছিলেন মাত্র ৬২ রান। আর দুই টেস্টে চার ইনিংসে করেন ৮৮ রান। তার প্রিয় সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতেও ব্যর্থ ছিলেন তিনি। মাত্র ৬ রান করেছিলেন এ ক্যারিবিয়ান।

গেইলের এ ঘটনা শুধুই একটি উদাহরণ। এমন অনেক সাফল্যের গল্প রচিত হয়েছে এ কম্পিউটার অ্যানালিস্টদের হাত ধরে। যদিও কাজের কাজটা মাঠে টাইগারদেরই করতে হয়েছে। তবুও তাদের কৃতিত্বও কম নয়। বাংলাদেশ দলে টানা ১৫ বছর অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করা নাসির আহমেদ নাসু এখন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ম্যানেজার।

পুরনো স্মৃতি মন্থন করে তিনি বলেন, ‘ক্রিস গেইলের বিরুদ্ধে কখনও অফ স্পিনার দিয়ে শুরু করা হয়নি। আমি অনেক ভিডিও অ্যানালাইসিস করে দেখছি যে, এই একটা বিষয় করা যেতে পারে। তখন এক সাংবাদিক বলেছিলেন, গেইলও দারুণ ফর্মে। আপনারা তো গেইলকেই আউট করতে পারবেন না। আমি বলেছিলাম, একটা নতুন জিনিস চেষ্টা করবো আমরা। আমরা তখন অফস্পিনার দিয়ে শুরু করেছি এবং সফলতা পেয়েছি। এভাবেই দল লাভবান হয়েছে।’
vv
টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হবার প্রায় দেড় যুগ পর বাংলাদেশ এখন সমীহ করার মতোই দল। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে আরও দু’বছর আগেই। এখন কোনো দল বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার সাহস পায় না। যেমন বদলে গেছে বাংলাদেশ দল তেমনি বদলে গেছে অ্যানালাইসিস সিস্টেমও। এখন ছয়টি উন্নতমানের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় ক্রিকেটের উন্নতির জন্য। পাশাপাশি এখন নিজেদের জন্য সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ডও করা হচ্ছে আর্কাইভ। যা বিসিবির নিজস্ব সার্ভারে জমা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখন কোনো রেকর্ডের জন্য বাইরের দেশে হাত পাততে হয় না। আর কম্পিউটার অ্যানালিস্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বিদেশি।

বিসিবিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাসু বলেন, ‘বিসিবিতে এখন আমরা ছয় ধরনের সফটওয়্যার ইউজ করি। জাতীয় দলে ব্যাকহ্যান্ড সার্ভিস বলে সার্ভিস আছে, যার সার্ভার এখানেই। এটার কাজ হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যত ক্রিকেট ম্যাচ এটা অনূর্ধ্ব-১৯, মেয়েদের কিংবা জাতীয় দলের সব ম্যাচ যা টিভিতে সম্প্রচার হয় তার সব রেকর্ড বল টু বল ক্যাপচার করে এ সার্ভারে আপলোড করা হয় এই ৭২ ঘণ্টার ভেতরে। এছাড়াও আমাদের কোচিং সফটওয়্যারের জন্য আছে সিলিকন সফটওয়্যার, এইচপির জন্য অ্যাথলেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার, বোলিং রিভিউ কমিটির জন্য পিচ ভিশন সফটওয়্যারসহ আরও বেশ কয়েকটি সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে।’

বর্তমান বিশ্বে খেলাধুলা অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ক্রিকেটেই ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি। মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে প্রযুক্তি। কোনো ম্যাচে নামার আগেই কোচরা খুঁজে ফেরেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের দুর্বলতা। আর এর জন্য সবার আগে খোঁজা হয় অ্যানালিস্টদের। কোন ব্যাটসম্যান কোন সময়ে কেমন খেলেন। কোন ধরনের বোলারের বিপক্ষে কত রান করেন। কিংবা কোন বোলারের কোন ধরনের বল বেশি বিপজ্জনক। আর এ ধরনের বল ওভারের কোন সময়ে করেন এ নিয়ে নানা অ্যানালাইসিস। তাই আধুনিক কোচরা তাই অনেকটাই নির্ভরশীল অ্যানালিস্টদের ওপর।

নাসুর ভাষায়, ‘সার্বিকভাবে খেলাধুলা এখন প্রযুক্তি ছাড়া নড়তেই পারবে না। এখন কোনো অ্যানালিস্ট ছাড়া কোনো কোচ কিন্তু টিকতেই পারবে না। আপনি যদি বলেন, এই সিরিজে তোমার সঙ্গে কোনো অ্যানালিস্ট নেই। তাহলে ওই কোচ ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং এটা যত আরও দিন যাবে তত আরও বাড়তে থাকবে। আগে যেমন আমরা শুধু জাতীয় দলের জন্য একটা জিনিস নিয়ে কাজ করতাম। এখন দেখেন কত কত জিনিস চলে আসছে। এখন আরও বেশি গবেষণা হচ্ছে। এটা এখন পুরোপুরি গবেষণার কাজ হয়ে গেছে। ভারতে এমনও কোম্পানি আছে যারা ৪০-৫০ জন মিলে সারাদিন শুধু গবেষণা করছে।’

প্রস্তুতি ম্যাচে কিপিং করবেন সোহান

শততম টেস্টের আগে হঠাৎ ইনজুরিতে লিটন কুমার দাস। বাধ্য হয়েই আবার গ্লাভস হাতে নিতে হলো অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে মুশফিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন, তিনি টেস্টে আর উইকেট কিপিং করবেন না। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে ভাগ্যই আবার মুশফিকের হাতে গ্লাভস পরিয়ে দিলো। আবার শততম টেস্টেই ১০০ ডিসমিসালের মাইলফলকে পৌঁছে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

মুশফিক ঘোষণা দিয়েছিলেন শুধু টেস্টে আর কিপিং করবেন না। তবে ওয়ানডেতেও কিপি করবেন কী করবেন না সেটা জানাননি। এর অর্থ, ওয়ানডেতে হয়তো উইকেটের পেছনে তিনিই দাঁড়াবেন; কিন্তু আজ জানা গেলো প্রস্তুতি ম্যাচে উইকেটের পেছনটা সামলাবেন নুরুল হাসান সোহান। দলীয় ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন এ তথ্য।

টেস্ট সিরিজের ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য এমনিতেই ছুটি দেয়া হয়েছে তামিম-সাকিবকে। সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে মোস্তাফিজ আর শুভাশিস রায়কে। এই ম্যাচে মুশফিক না খেললেও হয়তো পারতেন। তবে নিজেকে ঝালিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সুযোগটা তিনি মিস করতে চান না। যদিও বাড়তি ধকল যেন সইতে না হয়, সে কারণেই হয়তো তিনি প্রস্তুতি ম্যাচে গ্লাভস ছেড়ে দিচ্ছেন মুশফিকের হাতে।

সাকিবসহ মাগুরাবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়লাভ করায় সাকিব আল হাসানসহ মাগুরাবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই অভিনন্দন জানান।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফলতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ বছর পর মাগুরায় যান তিনি। দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মাগুরা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে।

জনসভার আগে আসাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে ফলক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী ১৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনা ও সরাসরি দেখার জন্য মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের গ্রাম-গঞ্জের হাজার হাজার মানুষের স্রোত মাগুরা শহর যেন আছড়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে হাজার হাজার নারী-পুরুষের স্রোত গিয়ে মিশেছে মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে।

আবারও তিন সংস্করণের শীর্ষে সাকিব

সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আগেই র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। তবে মাঝে ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কাছে হারিয়েছিলেন টেস্টের মুকুট। তবে সে মুকুট পুনরুদ্ধার করেছেন বাংলাদেশের এ অলরাউন্ডার। ফলে আবারও তিন সংস্করণে শীর্ষে উঠলেন দেশসেরা এ ক্রিকেটার।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকলেও প্রথম টেস্টের পর শীর্ষস্থান হারান সাকিব। তবে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেন সাকিব। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে ১৩১ রানের পাশাপাশি বল হাতে নেন ৬ উইকেট।

টেস্ট ক্রিকেটে সাকিবের বর্তমান রেটিং ৪৩১ পয়েন্ট। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অশ্বিনের পয়েন্ট ৪০৮। সাকিব ও অশ্বিনের পর তিন, চার ও পাঁচে আগের মতোই আছেন রবীন্দ্র জাদেজা, বেন স্টোকস ও মিচেল স্টার্ক।

কক্সবাজারে ইমার্জিং টিম বাংলাদেশ

উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে আগামী ২৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপ। তবে এর আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার ২টি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবে ক্রিকেটাররা। তাই একটু আগেই টুর্নামেন্ট ভেন্যু কক্সবাজার পৌঁছায় তারা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা ছাড়েন ২৪ ক্রিকেটার। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার জন্য ১৫ সদস্যের বাইরে আরও ৯ জন খেলোয়াড় সঙ্গে নেওয়া হয়। এছাড়াও সঙ্গে গেছেন কোচ ও ম্যানেজারসহ ছয়জন।

ইমার্জিং এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হক। তার সহকারী হিসেবে আছেন নাসির হোসেন। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো চারজন করে জাতীয় দলের তেইশোর্ধ্ব ক্রিকেটার খেলাতে পারবে এই টুর্নামেন্টে। এ নিয়মে মুমিনুল-নাসিরের সঙ্গে সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন ও আবুল হাসান রাজুও।

তবে ১৫ সদস্যের এ দলে আগে থেকেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে ৭ ক্রিকেটারের। তেইশোর্ধ্ব চারজন ছাড়াও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে মেহেদী হাসান মিরাজ, আবু হায়দার রনি ও নাজমুল হোসেন শান্তরও।

টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলো বাংলাদেশে পা রাখা শুরু করবে ২৫ মার্চ থেকে। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে ‘বি’ গ্রুপের খেলা। এ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে পাকিস্তান ও নেপাল। আর ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালয়েশিয়া। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে হবে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচগুলো।

আবাহনী ছেড়ে মোহামেডানে তামিম!

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগের দলবদল শুরুর আগেই জানা গিয়েছিল দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল থেকে যাচ্ছেন আবাহনীতে। তবে শততম টেস্টে জয়ের পরই পাল্টে গেল প্রেক্ষাপট। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেল চলতি মৌসুমে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ছেড়ে মোহামেডানের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন দেশসেরা এই ওপেনার।

গত মৌসুমে প্লেয়ার বাই চয়েস পদ্ধতিতে তামিমকে দলে টেনেছিল আবাহনী।  সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আবাহনীকে এনে দেয় শিরোপার স্বাদ। তাই চলতি মৌসুম শুরুর আগেও গুঞ্জন ছিল আগের দলেই থাকছেন তামিম। সঙ্গে রেকর্ড পারিশ্রমিক ৬০ লাখ টাকায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও দলে নিচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

তবে বাংলাদেশের শততম টেস্ট ম্যাচে জয়ের পরই পাল্টে গেল সব গুঞ্জন। শ্রীলঙ্কায় টাইগারদের শততম ম্যাচ দেখতে গিয়ে মোহামেডান ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তামিমের সঙ্গে কথা বলে দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পর্তুগালের বর্ষসেরা রোনালদো

২০১৬ সালটা সত্যিই দুর্দান্ত কেটেছে পর্তুগাল ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। উয়েফা চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে ইতিহাসে প্রথমবারেরমত নিজের দেশ পর্তুগালকে উপহার দিয়েছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ পর্তুগালের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ‘প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার’ ২০১৬ জিতলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

‘প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার’ জেতার পর রোনালদো বলেন, ‘গত মৌসুমটা আমার জন্য ছিল বিশেষ একটা বছর। কারণ দেশের হয়ে ইউরোর শিরোপা জেতা সত্যি বিশেষ কিছু। আর এর জন্য আমি পর্তুগালের জনগনকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ শিরোপাটি জিততে তারাই আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

এদিকে বায়ার্ন মিউনিখের পর্তুগিজ ফুটবলার রেনাতো সানচেজ বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের খেতাব জিতেছেন। আর জাতীয় দলের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার পেয়েছেন।

মুমিনুলকে অধিনায়ক করে ইমার্জিং কাপের দল ঘোষণা

বহুল আলোচিত ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপ মাঠে গড়াচ্ছে আগামী ২৭ মার্চ। ঘরের মাঠে আলোচিত এই কাপের শিরোপা জিততে মরিয়া বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে মুমিনুল হককে অধিনায়ক ও নাসির হোসেনকে সহ-অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  মুমিনুল-নাসির ছাড়াও এ দলে জায়গা পেয়েছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা মোহাম্মদ মিঠুন ও আবুল হাসান রাজু।

এদিকে ইমার্জিং কাপের প্রথম দিনেই মাঠে নামছে অংশগ্রহণ করা আটটি দল। কক্সবাজারে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ৩ এপ্রিল ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এ টুর্নামেন্ট। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে সকাল নয়টায়। আর ফাইনাল ম্যাচটি হবে দুপুর দুইটায়, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

এর আগে প্রথমে জানানো হয়েছিল ১৫ মার্চ থেকে শুরু হবে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপ। এরপর দ্বিতীয় দফায় জানানো হয় ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে এ টুর্নামেন্ট। তবে শেষ পর্যন্ত ২৭ মার্চ নির্ধারণ করা হয় আট দলের এ টুর্নামেন্ট।

এশিয়ার চারটি টেস্ট খেলুড়ে দলের সঙ্গে খেলবে আরও চারটি দল। আফগানিস্তান, হংকং, নেপাল ও মালয়েশিয়া। শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এ টুর্নামেন্টে খেলার কথা থাকলেও ব্যস্ত সূচির কারণে নাম প্রত্যাহার করে তারা।

১৫ সদস্যের বাংলাদেশ স্কোয়াড: মুমিনুল হক (অধিনায়ক), নাসির হোসেন (সহ-অধিনায়ক), মোহাম্মদ সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ মিঠুন, ইয়াসির আলি চৌধুরি, মেহেদি হাসান মিরাজ, সাইফউদ্দিন, আবুল হাসান রাজু, আবু হায়দার রনি, আজমির আহমেদ, রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, সালমান হোসেন, নাসুম আহমেদ।

জন্মদিন উদযাপনে মুম্বাইয়ে তামিম

জন্মদিনে এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কি হতে পারে তামিমের জন্য। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে বাংলাদেশের শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন। এবার জন্মদিনের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ছুটি নিয়ে মুম্বাই উড়ে গেছেন তামিম। তামিমের ছুটির বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

এদিকে তামিম মুম্বাই পৌঁছানোর আগে থেকে সেখানে ছিলেন তার স্ত্রী ও ছেলে। পরিবাবের সঙ্গে নিজের জন্মদিনের আনন্দ ভাগাভগি করে প্রস্তুতি ম্যাচের আগেই দলের সঙ্গে যোগ দিবেন দেশসেরা এই ওপেনার। এদিকে তামিমের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের সতীর্থরা।

১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এ ড্যাশিং ব্যাটসম্যান আজ ২৮ বছরে পা রাখলেন। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডানেডিনে অভিষেকের পর থেকে ৪৯ টেস্টে খেলে ৩,৬৭৭ রান এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে। যেখানে রয়েছে সেঞ্চুরি ৮টি এবং হাফ সেঞ্চুরি ২২টি। ১৬২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৭টি সেঞ্চুরি ও ৩৪টি হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে ৫১২০ রান সংগ্রহ করেছেন।

 

২০১০ সালে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে ১০৩ ও ১০৮ রানের ইনিংস খেলে হইচই ফেলে দেন তামিম। ২০১৫ সালে ২০৬ রান করে মুশফিকের আগের করা ২০০ রানের রেকর্ডটি ভেঙে দেন তিনি। এছাড়া ২০১১ সালে তামিম উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাক ম্যাগাজিন কর্তৃক বছরের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম সোয়ান ও ভারতের বিরেন্দর শেওয়াগকে পেছনে ফেলে তামিম এ খেতাব জিতেছিলেন।

সাকিব-তামিমকে পেশোয়ার জালমির অভিনন্দন

সাকিব-তামিমের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের উপর ভর করে নিজেদের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর শততম টেস্টে জয়ের পর প্রশংসায় ভাসছে পুরো বাংলাদেশ দল। এবার পাকিস্তান সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল পেশোয়ার জালমি নিজ দলের দুই খেলোয়াড় সাকিব-তামিমের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের প্রশংসা করে এক টুইট করেছে।

সাকিব-তামিমকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট বার্তায় লেখেন, `শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের ম্যাচে সাকিব-তামিমের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য অভিনন্দন।`

saবাংলাদেশের শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের দুই সেরা পারফরমার তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। টেস্টের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তো বলতে গেলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তামিম একাই জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। এরই পুরস্কার স্বরূপ হিরো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা উঠেছে তামিম ইকবালের হাতেই।

তবে তামিমের চেয়েও বড় স্বীকৃতি পেয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। দুই টেস্ট মিলিয়ে সাকিব করেছেন ১৬২ রান। উইকেট নিয়েছেন ৯টি। সুতরাং, বিচারকদের দৃষ্টিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবকে পুরস্কার উৎসর্গ করলেন তামিম

শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে তো বলতে গেলে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তামিম একাই জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ হিরো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা উঠেছে দেশসেরা এই ওপেনারের হাতেই। তবে নিজের এ স্বীকৃতি সাকিব আল হাসানকে উৎসর্গ করেছেন তামিম।

বাংলাদেশের শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের দুই সেরা পারফরমার তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। কলম্বো টেস্টের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তামিম। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে সৌম্য- ইমরুলের দ্রুত বিদায়ের পর ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।

তবে ম্যাচসেরা হওয়ার ক্ষেত্রেও মোটেও পিছিয়ে ছিলেন না সাকিবও। প্রথম ইনিংসে তার ১১৬ রানের সুবাদে বড় লিড পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরমেন্সের পাশাপাশি বল হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পান ৪টি।

তবে, তামিমকে ম্যাচ সেরা হিসেবে বেছে নেয়ার মূল কারণ হলো দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং। তার খেলা ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটিই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন অবিস্মরণীয় জয়টি।

এদিকে তামিম ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হলেও হতাশ হতে হয়নি সাকিবকে। দুই টেস্ট মিলিয়ে ব্যাট হাতে ১৬২ রান। ৯ উইকেট নিয়ে বিচারকদের দৃষ্টিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সেরা হয়েছেন সাকিবই।

জয়ের নায়ক তামিমের জন্মদিন

বাংলাদেশের শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তো বলতে গেলে তামিম একাই জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরমেন্সের স্বীকৃতিস্বরূপ হিরো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা পাওয়া দেশসেরা এই ওপেনারের জন্মদিন আজ। ১৯৮৯ সালের আজকের এই দিনে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আজ ২৮ বছর পূর্ণ করলেন তিনি। তার এই শুভ জন্মদিনে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

বাংলাদেশ দলের ইনফর্ম ব্যাটসম্যান এবং হার্ডহিটার ওপেনার তামিম ইকবাল। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে নিজেকে বেশ ভালোই প্রমাণ করেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের খেলায়ও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন বাংলাদেশ দলের এই বাঁহাতি ওপেনার। এবারের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ও নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরি করেছেন তামিম।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তার ৫৩ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংসটি সেদিন ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে টাইগারদের জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। ২০০৯ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনি প্রথম টেস্ট শতক করেন। একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম শতক করেন আয়ারল্যান্ড দলের বিপক্ষে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরি করেন এই টাইগার ওপেনার।

২০১১ সালে তামিম উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাক ম্যাগাজিন কর্তৃক বছরের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম সোয়ান ও ভারতের বিরেন্দর শেওয়াগকে পেছনে ফেলে তামিম এ খেতাব জিতেছিলেন।

ঐতিহাসিক ম্যাচে জয়ের পর ছুটিতে সাকিব

সাকিব-তামিমের হাত ধরে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ শেষে এবার টাইগারদের লক্ষ্য ওয়ানডে সিরিজ। এরই মধ্যে যোগ দিয়েছে ওয়ানডে দলের অধিনায়কসহ সব খেলোয়াড়।

২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে ২২ তারিখ নিজেদের ঝালিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তবে এ সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছে সাকিব। সাকিবের স্ত্রী শিশির আগে থেকেই শ্রীলঙ্কাতেই আছেন। দুইজন মিলে শ্রীলঙ্কাতে ঘুরে বেড়াতেই মূলত ছুটি নেওয়া সাকিবের।

এদিকে শততম টেস্ট ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে সাকিব। প্রথম ইনিংসে তার ১১৬ রানের সুবাদে বড় লিড পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরমেন্সের পাশাপাশি বল হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পান ৪টি। আর দুই টেস্ট মিলিয়ে ব্যাট হাতে ১৬২ রানের সঙ্গে ৯ উইকেট নিয়ে বিচারকদের দৃষ্টিতে সিরিজ সেরাও নির্বাচিত হয়েছেন সাকিব।

এদিকে পরিবারের সঙ্গে নিজের ২৮তম জন্মদিন উদযাপন করতে ছুটি নিয়ে মুম্বাই উড়ে গেছেন তামিম। প্রস্তুতি ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিবেন এই দুই তারকা।

সিরিজ সেরা সাকিব, ম্যাচ সেরা তামিম

বাংলাদেশের শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের দুই সেরা পারফরমার তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। টেস্টের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তো বলতে গেলে তামিম একাই জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি।

সুতরাং, ম্যাচ সেরার পুরস্কারের জন্য সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানকে বেছে নিলেন না বিচারকরা। হিরো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা তাই উঠলো তামিম ইকবালের হাতেই।

তবে তামিমের চেয়েও বড় স্বীকৃতি পেয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। দুই টেস্ট মিলিয়ে সাকিব করেছেন ১৬২ রান। উইকেট নিয়েছেন ৯টি। সুতরাং, বিচারকদের দৃষ্টিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সেরা হলেন সাকিব আল হাসানই।

শততম টেস্টে স্বপ্নের জয়

স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল শেষ দিনের সকাল। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, আশা আর শঙ্কার দোলাচল শেষে বিকেলে ধরা ছিল সেই স্বপ্ন। শততম টেস্টের মাহেন্দ্রক্ষণে অসাধারণ এক জয়! সিরিজে পিছিয়ে থাকা, ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের হাজারো বিতর্ক, তুমুল আলোচনা-সমালোচনা, সব পেছনে ফেলে ৪ উইকেটের জয়। বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের বিরল স্বাদ।

চা-বিরতির পর সাকিব-ধাক্কা

চা-বিরতির পর নিস্তরঙ্গ দুটি ওভার। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই পেরেরাকে কাট করতে গিয়ে সাকিব বল টেনে আনলেন স্টাম্পে।

শুরুতে বুঝতে পারেননি কেউই। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় অফ স্টাম্পে হালকা চুমু দিয়ে বল ফেলে দিয়েছে বল। সাকিব ফিরলেন ১৫ রানে। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৬২। জিততে তখন চাই ২৯ রান।

স্বপ্নের আবির মেখে শেষ সেশনে

দ্বিতীয় সেশনে হারাতে হয়েছে দুটি উইকেট। তবে এই সেশনই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে জয়ের লক্ষ্যে। আউট হওয়ার আগে তামিম ও সাব্বিরের ১০৯ রানের জুটি দেখিয়েছে পথ। চা-বিরতির আগের সময়টুকু কাটিয়ে দিয়েছেন সাকিব ও মুশফিক।

চা-বিরতিতে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে রান ১৫৬। শেষ সেশনে চাই আর মাত্র ৩৫ রান।

দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান উইকেটে। চতুর্থ ইনিংসে দুজনের রেকর্ডও বেশ ভালো। জয়টা নাগালে ভাবতেই পারে বাংলাদেশ!

ফিরলেন সাব্বির, জমল রোমাঞ্চ

তামিমের বিদায়ের পর বেশি সময় টিকতে পারলেন না বড় জুটিতে তার সঙ্গী সাব্বির রহমানও। এলবিডব্লিউ দিলরুয়ান পেরেরার বলে।

সুইপ শটটা ইনিংস জুড়েই ভালো খেলেছেন সাব্বির। আউট হলেন সুইপ খেলেই। এলিবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার এস রবি সাড়া দেননি। শ্রীলঙ্কা জিতেছে রিভিউ নিয়ে।

৪১ রানে ফিরলেন সাব্বির। বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ১৪৩। জিততে চাই ৪৮ রান।

শেষ করতে পারলেন না তামিম

দলকে জয়ের পথে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু পারলেন না পথের শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ৮২ রানে ফিরলেন পেরেরাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।

লাঞ্চের পর দারুণ গতিতে এগিয়ে চলছিল বাংলাদেশ। তামিম ও সাব্বির খেলছিলেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। সেটিই হয়ত বাড়িয়ে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। তামিম চাইলেন ছক্কা মারতে। লং অফের ফিল্ডার ছিল সীমানা থেকে একটু ভেতরে। বলের দিকে চোখ রেখে পেছনে সরে দারুণ ক্যাচ নিলেন চান্দিমাল।

বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৩১। বাংলাদেশের চাই আর ৬০ রান।

শতরানের অমূল্য জুটি

ঠিক আগের দিনের মতোই। লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বদলে যাওয়া! আগের দিন বল হাতে খেলার মোড় বদলে দিযেছিল বাংলাদেশ। এবার ব্যাট হাতে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে চলেছেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান।

লাঞ্চের পর দুজনই খেলেছেন অসাধারণ। বিশেষ করে তামিমের পায়ের কাজ ছিল দেখার মত। থিতু হতে দেননি লঙ্কান স্পিনারদের। চায়নাম্যান সান্দকানকে টানা দুই বলে মেরেছেন চার-ছক্কা। আরেক পাশে সাব্বির খেলে গেছেন নিজের মতো। সামান্য সুযোগেও বল পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে।

জুটি রান ১০১। চতুর্থ ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় শতরানের জুটি। আগেরটিতেও ছিলেন তামিম। মুমিনুল হকের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ১১০ রানের জুটি। বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১২৩। জিততে প্রয়োজন আর ৬৮ রান। ৭৬ রানে খেলছেন তামিম, ৩৬ সাব্বির।

চতুর্থ ইনিংসে তামিমের চতুর্থ

চতুর্থ ইনিংসে তামিমের ব্যাটিং গড় অন্য তিন ইনিংসের তুলনায় কম। তবে এবার দলের ভীষণ প্রযোজনের সময় খেলছেন দারুণ এক ইনিংস। ছুঁয়ে ফেললেন পঞ্চাশ।

চতুর্থ ইনিংসে তামিমের এটি চতুর্থ অর্ধশতক। ৮৭ বলে স্পর্শ করলেন পঞ্চাশ।

২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৮৮। জিততে চাই আর ১০৩। তামিমের রান ৫৫, সাব্বির ২৩।

লক্ষ্যের পথে জুটির পঞ্চাশ

জোড়া উইকেটের ধাক্কা অনেকটা সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দেখা গেছে অনেক বেশি নির্ভরতা। দুজনই খেলছেন ইতিবাচক। জুটির রান পেরিয়েছে অর্ধশতক।

দুজনই চার মেরেছেন রিভার্স সুইপে। দুজনই খেলেছেন দারুখ কয়েকটি ড্রাইভ। হেরাথকে সাব্বিরের দারুণ এক অন ড্রাইভে বাউন্ডারিতেই জুটি ছুঁয়েছে পঞ্চাশ। ডিফেন্সও করছেন তারা আত্মবিশ্বাসে।

বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৭৪। জিততে চাই আর ১১৭ রান। জুটির রান ৫২। তামিম খেলছেন ৪১ রান নিয়ে, ২৩ রানে সাব্বির।

শঙ্কা আর আশা নিয়ে লাঞ্চে

সকালে শ্রীলঙ্কার শেষ দুটি উইকেট তুলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে তার আগেই যোগ হয়েছে আরও ৫১ রান।

প্রতিপক্ষের দুই উইকেট নিতে দেরি, নিজেদের দুই উইকেট হারাতে দেরি নয়। ১৯১ রান তাড়ায় পরপর দুই বলে বাংলাদেশ হারিয়েছে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে। ৩৯তম জন্মদিনে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছেন রঙ্গনা হেরাথ।

সব মিলিয়ে বলা যায় শেষ দিনের প্রথম সেশনটি শ্রীলঙ্কারই।

জোড়া ধাক্কার পর লাঞ্চের আগে আর বিপদ হয়নি। তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান পার করে দিয়েছেন সময়টুকু।

লাঞ্চের সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৩৮। জিততে চাই আরও ১৫৩। দিনের ওভার বাকি ৫৯। ২২ রানে উইকেটে তামিম, ৬ রানে সাব্বির।

উড়িয়ে আউট সৌম্য, ব্যাট বাড়িয়ে ইমরুল

বল স্পিন-টার্ন করছে। স্পিনাররা পেয়ে বসছে। এটিই হয়ত খেলা করলো সৌম্য সরকারের মাথায়। বেরিয়ে এসে খেলতে চাইলেন। লং অফে ফিল্ডার ছিল সীমানায়। তার পরও উড়িয়ে মারলেন। টাইমিংয়ে গড়বড়। লং অফেই উপুল থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ।

আউটের পথ তৈরি করেছিল আগের বলটিই। ফ্লাইট দিয়ে রাফে ফেলে বড় টার্ন করিয়েছিলেন হেরাথ। সেটিই হয়ত ভয় ধরিয়েছিল সৌম্যর মনে। ফিরলেন ১০ রানে।

পরের বলেই আরেকটি উইকেট। সেই টার্নের ভয়। প্রথম বলটিতেই ব্যাট বাইরে বাড়িয়ে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ভেবেছিলেন টার্ন করবে। কিন্তু টার্ন করল না। ব্যাটের কানা নিয়ে স্লিপের হাতে।

৩৯তম জন্মদিনে দারুণ দুটি ব্রেক থ্রু এনে দিলেন হেরাথ। বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২২, লক্ষ্য ১৯১।

অবশেষে শেষ শ্রীলঙ্কা

একটি বড় জুটির ভাঙন অনেক সময়ই ডেকে আনে আরেকটি। সুরঙ্গা লাকমল রান আউট হওয়ার পর চালিয়ে খেলতে চেযেছিলেন লাকমল। উড়িয়ে মেরেছিলেন সাকিব আর হাসানকে। সীমানায় ক্যাচ নিয়েছেন মোসাদ্দেক।

ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪২ করে ফিরলেন লাকমল। শ্রীলঙ্কা অলআউট ৩১৯ রানে।

চারটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজ ৩টি।

শততম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চাই ১৯১ রান।

এর চেয়ে কম রানের পুঁজি নিয়ে দুটি টেস্ট জয়ের কীর্তি আছে শ্রীলঙ্কার। দুটিই গলে, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।

রান আউটে ভাঙল জুটি

‘নেভার রান আ মিসফিল্ড”, ক্রিকেটের অনেক পুরোনো একটি কথা। সেটিই নতুন করে উপলব্ধি করলেন দিলরুয়ান পেরেরা। মিসফিল্ডে রান নিতে গিয়ে রান আউট।

চোট পেয়ে বেশ কিছুটা সময় ধরেই রানিং বিটুইন দা উইকেটে ভুগছিলেন পেরেরা। এবার মিসফিল্ডে দ্রুত রান নিতে গিয়ে রান আউট। ভাঙল বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা হয়ে ওঠা নবম জুটি। মিসফিল্ডের পর শুভাশীষ রায়ের থ্রো খুব ভালো ছিল না। মিরাজ ধরেছেন খুব ভালো, সেরেছেন বাকি কাজ।

আউট হওয়ার আগে শ্র্রীলঙ্কার আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে এসেছেন পেরেরা। নিজে করেছেন ৫০ রান।

নবম জুটিতে সুরঙ্গা লাকমলের সঙ্গে গড়েছেন ৮০ রানের জুটি। ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় যেটি হতে পারে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রীলঙ্কার রান ৯ উইকেটে ৩১৯। এগিয়ে ১৮৯ রানে।

নবম জুটিতে লঙ্কার আশার ভেলা

মুস্তাফিজের কাটারে আবারও বিভ্রান্ত লাকমল। আগের বার বল পড়েছিল তার খুব কাছেই। এবার মিস টাইমিং হলেও বল উড়ে গেল কাভার ফিল্ডারের ওপর দিয়ে। মুস্তাফিজের চোখে-মুখে হতাশা!

ওই ওভারেই দিলরুয়ান পেরেরার বাউন্ডারিতে নবম জুটি ছাড়িয়েছে পঞ্চাশ। রান উঠেছে এর পরও। প্রতি ওভারেই এগিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ হারিয়েছে দুটি রিভিউও।

দিনের শুরুতে ১৭৫ রানের লিডের আশা করেছিলেন সান্দাকান। দুই উইকেট অক্ষত রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়েছে শ্রীলঙ্কা।

১০৭ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ৮ উইকেটে ৩০৬। এগিয়ে তারা ১৭৭ রানে।
৪৫ রানে খেলছেন পেরেরা, ৩৪ রানে লাকমল।

প্রথম ইনিংসেও লাকমল করেছিলেন মহামূল্য ৩৫। ১০ বা ১১ নম্বরে নেমে দুই ইনিংসেই ৩০ ছোঁয়া ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান লাকমল।

দেড়শ ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার লিড

মুস্তাফিজের কাটারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন লাকমল। ব্যাটে লেগে বল উঠল ওপরে। কিন্তু আশেপাশে নেই ফিল্ডার। বোলার ছুটে গিয়ে চেষ্টা করলেন, আসার চেষ্টা করলেন স্লিপ ফিল্ডার। কিন্তু অতটা দ্রুত বলের কাছে যেতে পারলেন না কেউ।

বেঁচে গিয়ে তাৎক্ষনিক ভোগালেন লাকমল। পরের বলে স্লিপের ওপর দিয়ে চার। তার পরের বলে দারুণ কাভার ড্রাইভে চার। শ্রীলঙ্কার লিড ছাড়িয়ে গেল দেড়শ! রান ৮ উইকেটে ২৮২। এগিয়ে ১৫৩ রানে।

লাকমলকে ‘ওয়ার্নিং’

পিচের বিপজ্জনক জায়গায় বুট দিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন লাকমল। সাকিবের বল খেলেই রান ছুটেছিলেন পিচের মাঝ বরাবর! আম্পায়ার আলিম দারের চোখ এড়ায়নি। ‘অফিসিয়াল ওয়ার্নিং’ দেওয়া হয়েছে লাকমল ও শ্রীলঙ্কাকে। এরপর শুধু লাকমল নয়, শ্রীলঙ্কার যে কেউই এটির পুনরাবৃত্তি করলে ৫ রান কাটা যাবে দলের রান থেকে।

জয়ের আশায় দিনের শুরু

শততম টেস্টে জয়। দেশের বাইরে বিরল জয়। সিরিজ ড্র। বাংলাদেশের হাতছানি দারুণ কিছুর। স্বপ্নের আবির মেখে শুরু হচ্ছে পি সারা ওভালে কলম্বো টেস্টের শেষ দিন।

২ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৯ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের চাওয়া থাকবে দ্রুত শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। আগের দিনের খেলা শেষে মোসাদ্দেক হোসেন বলেছেন, লক্ষ্যটা ১৬০ রানের মধ্যে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এর চেয়ে বেশি হলে আসলেই হয়ে উঠতে পারে কঠিন।

দিনের খেলা শুরুর আগে তামিম ইকবাল টেন ক্রিকেটকে জানালেন, এখনই জয়ের কথা ভাবছে না দল। আগে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। তার পর রান তাড়ার ভাবনা। রান তাড়ায় গুটিয়ে না গিয়ে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কান চায়নাম্যান বোলার লাকশান সান্দাকানের চাওয়া, ১৭৫ রানের মত লিড। তাহলেই থাকবে জয়ের সুযোগ।

শেষ দিনের উইকেটে রঙ্গনা হেরাথ, আরও দুই লঙ্কান স্পিনারকে সামলে দেড়শ রান করাও সহজ হওয়ার করা নয়। তবে টেস্ট জিততে হলে তো এইটুকু চ্যালেঞ্জ জিততে হবেই!

দেশের মাটিতে টানা ছয় টেস্ট জিতেছে শ্রীলঙ্কা। দেশের বাইরে সবশেষ ৬ টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ দিনে শেষ হতে পারে দুটি ধারাই!

বাঁহাতি স্পিনে সেরা পাঁচে সাকিব

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নিজের নামের সঙ্গে আরেকটি মাইলফল যোগ করলেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিন বোলারদের মধ্যে উইকেটের তালিকায় সর্বকালের সেরা পাঁচে জায়গা করে নিলেন টাইগার এই অলরাউন্ডার।

৪৮ টেস্টে ১৭০ উইকেট নিয়ে কলম্বো টেস্ট খেলা শুরু করেন সাকিব। প্রথম ইনিংসে নেন দুই উইকেট। আর দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের টনি লককে টপকে শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেন। বর্তমানে সাকিবের টেস্ট উইকেট এখন ১৭৬টি। আর ৪৯ টেস্টে ১৭৪ উইকেট নিয়ে এত দিন পাঁচে ছিলেন ইংলিশ তারকা লক।

এ তালিকায় ৩৭২ উইকেট নিয়ে সবার উপরে আছেন লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। ৩৬২ উইকেট নেওয়া ড্যানিয়েল ভেট্টরি আছেন দুইয়ে। আর ২৯৭ উইকেট নিয়ে তিনে ইংল্যান্ডের ডেরেক আন্ডারউড। ২৬৬ উইকেট নিয়ে চারে ভারতের বিষেণ সিং বেদি।

ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৯১

শততম টেস্টে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান পেরেরা-লাকমাল। দুইজনে মিলে নবম উইকেটে গড়েন ৮০ রানের জুটি। আর এ জুটির দিকে তাকিয়ে স্বপ্নও দেখতে থাকে স্বাগতিকরা। অবশেষে রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান পেরেরা। আর পরের ওভারেই সাকিবের বলে ছয় মারতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন লাকমল। এতেই শেষ হয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। আর শততম টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১ রানের।

পঞ্চম দিনের শুরুটা দুর্দান্ত করেন আগের দিন থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ভোগাতে থাকা দুই ব্যাটসম্যান পেরেরা-লাকমাল। এরই মধ্যে আশা জাগিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। কাটারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করলেন লাকমলকে। ব্যাটে লেগে বল উঠলেও আশেপাশে কোন ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান এই ব্যাটসম্যান।

এরপর আবার বোলারদের উপর চড়াও হয়ে নবম উইকেট ৮০ রানের জুটি গড়েন পেরেরা ও লাকমল। পেরেরা তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশত। তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন। মিরাজের বলে শুভাশিসের মিস ফিল্ডিংয়ে দ্রুত রান নিয়ে গিয়ে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান পেরেরা (৫০)। আর পরের ওভারে সাকিবের বলে ছয় মারতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়ে শেষ লাকমলের (৪২) লড়াকু ইনিংস।

এর আগে করুনারত্নে আর কুশল মেন্ডিস মিলে ৮৬ রানের জুটি গড়ার সময় মনে হচ্ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে বুঝি বড় কোনো স্কোর গড়ে ফেলবে শ্রীলঙ্কা। তাহলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য হয়তো বড় লক্ষ্য স্থির হবে কিংবা ম্যাচ চলে যাবে নিষ্প্রাণ ড্রয়ের দিকে। কিন্তু ভাগ্য অতি ভালো লঙ্কানদের। বার বার রিভিউতেও বেঁচে যাওয়ার ফলে অলআউট হলো না স্বাগতিকরা। কিংবা রিভিউ বাকি না থাকায় নিশ্চিত আউট হওয়ার বলেও বেঁচে গেছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা।

কুশল মেন্ডিসকে মুশফিকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে মোস্তাফিজ যে আঘাত হেনেছিলেন, সেটা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি নিজে এবং সাকিব আল হাসান। ফলে, নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।

জয়ের স্বপ্ন নিয়ে শেষ দিনে মাঠে বাংলাদেশ

সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর টাইগার অধিনায়ক মুশফিক জানিয়েছিলেন শততম টেস্টে জয়ের জন্যই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে খুব ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে টাইগাররা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে জয় দিয়ে শততম টেস্ট রাঙিয়ে দিতে শেষ দিনে মাঠে নেমেছে মুশফিকবাহিনী। চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৬৮ রান করেছে শ্রীলংকা। ফলে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৯ রানে এগিয়ে লঙ্কানরা।

এদিকে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমে এখন বইছে জয়ের বাতাস। জয়ের সুঘ্রাণ এসে লাগছে মুশফিক-সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজদের নাকে। টিম বাংলাদেশের এখন একটাই লক্ষ্য, শেষ দিন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্রীলংকাকে অলআউট করা এবং লক্ষ্যটা ১৬০ এর মধ্যে রাখা। চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত যে সুরে কথা বললেন, তাতে জয়ের আত্মবিশ্বাসই ফুটে উঠলো। টেস্ট বাঁচানো কিংবা ড্র করার কোনো চিন্তাই এখন মাথায় নেই মুশফিকদের। জয়ের দারুণ সুযোগ এখন তাদের সামনে।

এর আগে করুনারত্নে আর কুশল মেন্ডিস মিলে ৮৬ রানের জুটি গড়ার সময় মনে হচ্ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে বুঝি বড় কোনো স্কোর গড়ে ফেলবে শ্রীলঙ্কা। তাহলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য হয়তো বড় লক্ষ্য স্থির হবে কিংবা ম্যাচ চলে যাবে নিষ্প্রাণ ড্রয়ের দিকে। কিন্তু ভাগ্য অতি ভালো লঙ্কানদের। বার বার রিভিউতেও বেঁচে যাওয়ার ফলে অলআউট হলো না স্বাগতিকরা। কিংবা রিভিউ বাকি না থাকায় নিশ্চিত আউট হওয়ার বলেও বেঁচে গেছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা।

কুশল মেন্ডিসকে মুশফিকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে মোস্তাফিজ যে আঘাত হেনেছিলেন, সেটা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি নিজে এবং সাকিব আল হাসান। ফলে, নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। কিন্তু দিনের শেষ ভাগে এসে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে অটল পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে যান দিলরুয়ান পেরেরা। টেলএন্ডে ব্যাট করতে এসে তিনি যেন রীতিমত আদর্শ টেস্ট ব্যাটসম্যান। ১২৬ বল খেলে মাত্র ২৬ রান করে এখনও অপরাজিত রয়েছেন তিনি। সুরঙ্গা লাকমাল উইকেটে রয়েছেন ১৬ রান নিয়ে।

বাজে আম্পায়ারিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ

পাকিস্তানী আলিম দার আর ভারতীয় আম্পায়ার এস রবির খেলা পরিচালনা নিয়ে যারপরনাই হতাশ ও ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ শিবির। সুরঙ্গা লাকমালের আউট নিয়ে প্রেস কনফারেন্স কিংবা এর বাইরে স্বদেশি সাংবাদিকদের সাথে আলাপে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বা অন্য কেউ ক্ষোভ বা অভিমানে কোনরকম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখালেও আম্পায়ারদের খেলা পরিচালনার মান নিয়ে ভীষন অসন্তোষ বাংলাদেশ শিবিরে।

ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন সন্ধ্যায় পি সারা ওভাল স্টেডিয়াম থেকে হোটেলের উদ্দেশ্যে বাসে ওঠার আগে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা সামগ্রিক খেলা পরিচালনার মান নিয়ে যারপরনাই অসন্তুষ্ট। খেলার ফল যাই হোক, কলম্বো টেস্ট শেষে আমরা আম্পায়ারিংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত প্রতিবাদ জানাবো।’

সেটা কিভাবে? ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের ব্যাখ্যা, সাধারনতঃ টেস্ট শেষে দু’দলের অধিনায়কের রিপোর্ট জমা দেয়ার নিয়ম ও রীতি আছে। সেই রিপোর্টেই আম্পায়ার ও রিভিউ সিস্টেম নিয়ে আমাদের চিন্তা এবং উপলব্দির কথা জানাবো। যেখানে পরিষ্কার আমাদের অসন্তোষ ও প্রতিবাদের কথা উল্লেখ থাকবে।’

এটুকু বলার পর খালেদ মাহমুদ আরও একটা আক্ষেপের কথাও শোনালেন, ‘ভাগ্যটাও পক্ষে আসেনি। আমাদের রিভিউ অবেদন করার সুযোগ শেষ হবার পর দিলরুয়ান পেরেরার নিশ্চিত লেগ বিফোর উইকেটের আবেদন এড়িয়ে গেছেন আম্পায়ার। আমরা রিভিউ করতেই পারিনি। তার আগেই রিভিউয়ের কোটা ফুরিয়ে গিয়েছিল।’

বলে রাখার ভাল, সেটা ছিল দিনের ৭৮ নম্বর ওভারের ঘটনা। তার দুই ওভার পর নতুন বল নেয়া মাত্র কিন্তু আবার রিভিউ করার সুযোগ চলে আসে। খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘ইস! দিলরুয়ান পেরেরার ওই ঘটনাটি যদি  আর দুই বা তিন ওভার পর ঘটতো! তাহলে নির্ঘাত রিভিউ নিয়ে তাকে সাজঘরে ফেরাতে পারতাম আমরা।’

সেই আক্ষেপও খালেদ মাহমুদের কন্ঠে, ‘তাই বলে আবার ভাববেন না, বাংলাদেশ বুঝি আম্পায়ারিং নিয়ে অতিমাত্রায় অসন্তুষ্ট আর লঙ্কানদের নবম উইকেট ফেলতে না পেরে যারপরনাই হতাশ। ওপরে যা বলা হলো, সেটা আসলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষের কথোপকোথন।’

বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আরও বলেন, ‘দিনের খেলা শেষে যেমন ভক্ত, দর্শক, বিশেষজ্ঞরা নানারকম মত দেন- ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হয়। বাংলাদেশ শিবিরেও আজকের খেলা নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। যেখানে ঘুরে-ফিরে আম্পায়ারিং প্রসঙ্গ এসেছে মুলতঃ একটা মাত্র কারণে। সারা দিনে আম্পায়ারদের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত প্রশ্ন জাগিয়েছে। সাত সাতটি রিভিউ হয়েছে। এর মধ্যে আস্পায়াররা আউটের সিদ্ধান্ত না দেয়ায় বাংলাদেশ রিভিউয়ের আবেদন করতে বাধ্য হয়েছে চারবার। যার মধ্যে একবার মাত্র সে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ওই চারবারের অন্তত একবার আম্পায়াররা আউটের সিদ্ধান্ত দিলেই হয়ত শ্রীলঙ্কা আজ চতুর্থ দিন পড়ন্ত বিকেলে অলআউট হয়ে যেত।’

লাকমাল আউট না নটআউট!

কলম্বোয় তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। দুই আম্পায়ার আলিম দার ও এস রবি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে জানিয়ে দিলেন, এটাই দিনের শেষ ওভার। আগের ওভারে প্রেস বক্স প্রান্ত থেকে বল করছিলেন তাইজুল ইসলাম।

প্রথমে তার হাতেই বল। তাইজুল বোলিংয়ের প্রস্তুতি প্রায় নিয়েও ফেললেন; কিন্তু হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল। সাকিবের সাথে কথা বলে বাঁ-হাতি তাইজুলকে বাদ দিয়ে অধিনায়ক মুশফিক বল তুলে দিলেন অফব্রেক বোলার মোসাদ্দেকের হাতে।

ঢাকা লিগ তথা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত বল করলেও জাতীয় দলে অনিয়মিত বোলার হিসেবেই গণ্য এ অফস্পিনার। হয়তো একটু বৈচিত্র্য আনার জন্যই তার হাতে বল তুলে দেয়া। কে জানতো, মোসাদ্দেকের করা দিনের শেষ ওভারের ছয় নম্বর বলটিই আলোচনার খোরাক হবে।

মোসাদ্দেকের করা দিনের শেষ ডেলিভারিটি ঠিকমত খেলতে পারলেন না লাকমাল। এ লঙ্কান পেসারের ব্যাটের ওপরের অংশ, গ্লাভস ও প্যাড ছুঁয়ে বল চলে গেল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ওঁত পেতে থাকা সাব্বির রহমান রুম্মনের হাতে।

‘হাউ ওয়াজ দ্যাট’- সবাই মিলে সমস্বরে ক্যাচ আউটের আবেদন। আম্পায়ার আলিমদার আঙ্গুল না তুলে মাথা নাড়লেন। মাথা নাড়া মানে কিন্তু ‘না’ বোধক নয়। সম্মতিসূচক মাথা ঝাঁকানো যাকে বলে। লাকমালও সাজঘরের দিকে ঘুরে এক দুই পা হাঁটা দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরক্ষণে কী ভেবে আবার চুপ হয়ে গেলেন। আম্পায়ার একবার আউটের সম্মতি জানালেন। আরেকবার ব্যাটসম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানালেন, নট আউট। এরপর রিভিউ নিলো বাংলাদেশ। রিভিউতে দেখা গেলো, লাকমাল নটআউট।

আম্পায়ার আলিম দারের ওই প্রথমে মাথা ঝাকিয়ে হ্যাঁ সূচক চিহ্ন দেখানো এবং এরপর লাকমালের সঙ্গে ইঙ্গিতে কথা বলে সেই ‘হ্যাঁ’কে না‘তে রূপান্তরিত করা- সব মিলে একটা অন্যরকম পরিবেশ। মুশফিক, সাকিব, তামিম, মোস্তাফিজ, মিরাজ, সাব্বির, সৌম্য, মোসাদ্দেক, তাইজুল সবার চোখে মুখে হতাশা।

টিভি রিপ্লেতেও আসলে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না, বল লাকমালের গ্লাভস কিংবা ব্যাটের ওপরের অংশ ছুঁয়ে ফিল্ডার সাব্বিরের হাতে গেছে কি না? দেশে বসে টিভিতে দেখে নিশ্চয়ই কোটি কোটি বাংলাদেশ ভক্তেরও মন খারাপ, এ কি করলেন আলিমদার? কেনইবা প্রথমে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন? কেনইবা পর মুহুর্তে আবার নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া?

সব মিলে একটা গুমোট আবহাওয়া। তবে ভাবার কোন কারণ নেই, লাকমাল আউট না হওয়ায় রাজ্যের হতাশা এসে ভর করেছে বাংলাদেশ শিবিরে। তবে হ্যাঁ, ওটা আউট ছিল কি না? তা নিয়ে রাজ্যের কথা হয়েছে। বারবার টিভি রিপ্লে দেখা হয়েছে। খেলা শেষে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ৪০ মিনিটের টিম মিটিংয়ে অর্ধেক সময় কেটেছে ওই আউট নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনায়।

তাহলে কি লাকমাল আউট ছিলেন? টিভি আম্পায়ারও ভুল করলেন? তাদের ভুলে নয় উইকেটে ২৬৮ রানের বদলে আট উইকেটে দি শেষ করলো হেরাথের দল? নিশ্চয়ই দেশে তোলপাড় চলছে। আলিমদারের গোষ্টি উদ্ধার হচ্ছে ঘরে ঘরে।

তার সমালোচনা হতেই পারে। এদিন অন্তত সাতটি রিভিউ হয়েছে। বেশিরভাগ গেছে লঙ্কানদেও পক্ষে। বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত আবার আম্পায়ার কল ছিল না। সে কারণেই আলিম দারের খেলা পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন। আর তাই দিন শেষে বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকদের কাছে ‘ভিলেন’ আলিম দার।

সবার একটাই কথা, ‘ইস! নবম উইকেটে ৩০ রানের জুটি হয়ে গেছে। আজ শেষ বলে লাকমাল আউট হওয়া মানে কাল সকাল সকাল লঙ্কান দ্বিতীয় ইনিংসের যবনিকা। তখন বড়জোর দেড়শো রানের টার্গেট দাঁড়াবে। সারাদিনে ওই রান, ঠান্ডা মাথায় খেলেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যেত। এমন ভাবনায় দিনের শেষ বলের ঘটনাটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সবার কাছে।

যার বলে লাকমালের ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা নাটক, সেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত খেলা শেষে অফিসিয়াল মিডিয়া সেশনে বললেন, ‘শেষ বলে আম্পায়ারকে দেখেই আমরা রিভিউটা নিই। আম্পায়ারের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এজন্য আমরা রিভিউটা নিয়েছি। উনি প্রথমে মাথা ঝাঁকানোতে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ওই সময় ভাবছি, রিভিউটা নিলে হয়তো আউটের চান্স আছে। ব্যাটসম্যান বেরিয়ে যাচ্ছিলো কি না, সেটা খেয়াল করিনি। আম্পায়ারের প্রতিক্রিয়ার দিকেই লক্ষ্য করেছিলাম।’

তবে ভক্ত ও সমর্থকদের জন্য আছে স্বান্তনার বাণী। প্রেস কনফারেন্সের পর হোটেলে ফেরার আগে কম্পিউটার অ্যানালিস্ট বারবার ওই ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছেন সবাইকে। স্টেডিয়াম থেকে হোটেলের পথে বাসে ওঠার আগে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সুযোগ ও অবকাশ নেই।

এর মধ্যেও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজের সাথে খানিক্ষণ কথা বললেন। স্মিত হেসে খালেদ মাহমুদ জানিয়ে দিলেন, ‘নারে ভাই আমরা ড্রেসিং রুমে বেশ কবার ভিডিও দেখলাম। আউট হয়নি। বল ব্যাট বা গ্লাভসে লাগেনি লাকমালের।’

সহ অধিনায়ক তামিম ইকবালও মাথা নাড়িয়ে জানিয়ে মাঠ ছাড়লেন, ‘না ওটা আউট হয়নি।’

ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ

৩৩৮  রানে থেমেছে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। লঙ্কানদের এ পুঁজিটা আরও ছোট হতে পারত। বল হাতে যখন হয়নি এখন এটাকে ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ করে লঙ্কান ইনিংসকে ছোট করতে হবে টাইগারদের। সে লক্ষ্যে নিজেরদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমেছে বাংলাদেশ।

শততম এ টেস্টে ফিরেছেন বাংলাদেশ দলের নিয়মিত ওপেনার ইমরুল কায়েস। তবে এদিন তিনি ওপেনিং করতে নামেননি। আগের টেস্টে দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়ায় সৌম্য সরকারের ওপরই আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২ রান। তামিম ২ ও সৌম্য ০ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে আগের দিনের ৭ উইকেটে ২৩৮ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে শ্রীলঙ্কা। তবে দলের পক্ষে ১২ রান যোগ করতেই অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথকে হারায় তারা। দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকারের তালুবন্দি করান সাকিব আল হাসান। ৯১ বলে ২৫ রান করেন হেরাথ।

তবে একপ্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান দলের একমাত্র অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমাল। তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ। ২৪৪ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৬টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই লঙ্কান।

শেষ পর্যন্ত ৩০০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে মিরাজের বলে আউট হন তিনি। মিরাজের করা ১০৬তম ওভারে শেষ বলটি মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন চান্দিমাল। অনেকটা লাফিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সবচেয়ে বড় কথা- নবম উইকেটে সুরাঙ্গা লাকমলের সঙ্গে গড়েন ৫৫ রানের জুটি।

চান্দিমাল আউট হলেও বাংলাদেশের হতাশা বাড়িয়ে তোলেন লাকমল। সান্দাকানকে নিয়ে শেষ উইকেটে গড়েন ৩৩ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙেন শুভাশিস রায়। থার্ডম্যানে তার ক্যাচ সৌম্য সরকার তালুবন্দি করার আগে দল পৌঁছে যায় ৩৩৮ রানে। ৪৫ বলে ৩৫ রান করেন লাকমল।

বাংলাদেশের পক্ষে ৯০ রানে ৩টি উইকেট নেন মিরাজ। এছাড়া মোস্তাফিজ, শুভাশিস ও সাকিব পান ২টি করে উইকেট। ১টি উইকেট নিয়েছেন তাইজুল।

৩৩৮ রানে থামল শ্রীলঙ্কা

লক্ষণ সান্দাকানকে নিয়ে শেষ উইকেটে সুরাঙ্গা লাকমল যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন তাতে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন টাইগারদের। মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন- ২০০৪-এ ঢাকা টেস্টে জহির খান ও শচিন টেন্ডুলকারের ১৩৩ রানের জুটির কথা। তবে শতরান কম হয়ে এদিন ৩৩ রানের মাথায় জুটি গড়েই থামলেন তারা। তবে দলের জন্য কাজের কাজটি করে গেছেন লঙ্কানরা। দ্বিতীয় দিন সকালে আরও ১০০ রান যোগ করে ৩৩৮ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করে স্বাগতিকরা।

বৃহস্পতিবার কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে আগের দিনের ৭ উইকেটে ২৩৮ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে শ্রীলঙ্কা। তবে দলের পক্ষে ১২ রান যোগ করতেই অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথকে হারায় তারা। দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকারের তালুবন্দি করান সাকিব আল হাসান। ৯১ বলে ২৫ রান করেন হেরাথ।

তবে একপ্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান দলের একমাত্র অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমাল। তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ। ২৪৪ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৬টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই লঙ্কান।

শেষপর্যন্ত ৩০০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে মিরাজের বলে আউট হন তিনি। মিরাজের করা ১০৬তম ওভারে শেষ বলটি মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন চান্দিমাল। অনেকটা লাফিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সবচেয়ে বড় কথা- নবম উইকেটে সুরাঙ্গা লাকমলের সঙ্গে গড়েন ৫৫ রানের জুটি।

চান্দিমাল আউট হলেও বাংলাদেশের হতাশা বাড়িয়ে তোলেন লাকমল। সান্দাকানকে নিয়ে শেষ উইকেটে গড়েন ৩৩ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙেন শুভাশিস রায়। থার্ডম্যানে তার ক্যাচ সৌম্য সরকার তালুবন্দি করার আগে দল পৌঁছে যায় ৩৩৮ রানে। ৪৫ বলে ৩৫ রান করেন লাকমল।

বাংলাদেশের পক্ষে ৯০ রানে ৩টি উইকেট নেন মিরাজ। এছাড়া মোস্তাফিজ, শুভাশিস ও সাকিব পান ২টি করে উইকেট। ১টি উইকেট নিয়েছেন তাইজুল।

সেঞ্চুরিয়ান চান্দিমালের বিদায় মিরাজের ঘূর্ণিতে

তাকে মোটে ফেরানোই যাচ্ছিল না! আগের দিন যখন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা একে একে সাজঘরে ফিরছিলেন, দিনেশ চান্দিমাল তখনও ছিলেন অবিচল। প্রথম দিন শেষে অপরাজিত ছিলেন ৮৬ রানে।

দ্বিতীয় দিনে রঙ্গনা হেরাথ দ্রুতই ফেরেন সাজঘরে। সাকিবের শিকারে পরিণত হন লঙ্কান অধিনায়ক। তখনও একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করছিলেন চান্দিমাল। ঠাণ্ডা মাথায়। ফলও পেয়েছেন হাতে-নাতে। টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিটাও পেয়ে গেছেন।

টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাইজুল ইসলামের করা ৯৫তম ওভারের চতুথ বল পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন চান্দিমাল। কতটা সাবধানী ব্যাটিং করেছেন তা বোঝা যায়, তার চার-ছক্কার হিসাব কষেই। ২৪৪ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৬টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই লঙ্কান।

অবশেষে সেঞ্চুরিয়ান চান্দিমাল বিদায় নিশ্চিত হয় মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত এক ঘূর্ণিতে। মেহেদী হাসান মিরাজের করা ১০৬তম ওভারে শেষ বলটি মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন। অনেকটা লাফিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বিদায়ের আগে ৩০০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন চান্দিমাল।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩১০ রান। ব্যাট করছেন লাকসান সান্দাকান (১*) ও সুরাঙ্গা লাকমল (১১*)।

এর আগে প্রথম দিন ৮১.১ ওভার খেলেছে লঙ্কানরা। ওভার প্রতি রান তুলেছে ২.৮৬। শ্রীলঙ্কা শিবিরে প্রথম আঘাত হেরে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুর্দান্ত এক ডেলিভারি দিমুথ করুনারত্নেকে মেহেদী হাসান মিরাজের তালুবন্দি করান কাটার মাস্টার।

শুরুর দিকে ধাক্কা খাওয়ায় দিনেশ চান্দিমাল, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, নিরোশান ডিকভেলারা সাবধানেই পা ফেলছিলেন। তবে পা ফসকে যায় সিলভা-ডিকভেলার। সমান ৩৪ রান করে করে আউট হন সিলভা ও ডিকভেলা। পথের কাটা হয়ে ছিলেন চান্দিমাল।

দিনেশ চান্দিমালের লড়াকু সেঞ্চুরি

বাংলাদেশকে পেলে কী যেন হয় দিনেশ চান্দিমালের! বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। কলম্বো টেস্টেও টাইগারদের বিপক্ষে আবারও হাসল তার ব্যাট। বিপর্যয়ে পড়া শ্রীলঙ্কাকে খাদের কিনারে থেকে টেনে তুললেন। আদায় করে নিলেন লড়াকু এক সেঞ্চুরি। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক।

টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাইজুল ইসলামের করা ৯৫তম ওভারের চতুথ বল পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন চান্দিমাল। কতটা সাবধানী ব্যাটিং করেছেন তা বোঝা যায়, তার চার-ছক্কার হিসাব কষেই। ২৪৪ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৬টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই লঙ্কান।

এ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬টি টেস্ট খেলছেন চান্দিমাল। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সময় টাইগারদের বিপক্ষে ৬ টেস্টে ৫৪০* রান নামের পাশে যোগ করেন। গড়টাও চোখে পড়ার মতোই; ১৩৫.০০!

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০৭ রানে অপরাজিত আছেন চান্দিমাল। আর স্বাগতিক লঙ্কানদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৬৮ রান।

হেরাথকে ফেরালেন সাকিব

৭ উইকেটে ২৩৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিক শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথকে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে হেরাথকে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকারের তালুবন্দি করান সাকিব।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৭৬ রান। ব্যাট করছেন দিনেশ চান্দিমাল (১১২*) ও সুরাঙ্গা লাকমল (১৩*)।

এর আগে প্রথম দিন ৮১.১ ওভার খেলেছে লঙ্কানরা। ওভার প্রতি রান তুলেছে ২.৮৬। শ্রীলঙ্কা শিবিরে প্রথম আঘাত হেরে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুর্দান্ত এক ডেলিভারি দিমুথ করুনারত্নেকে মেহেদী হাসান মিরাজের তালুবন্দি করান কাটার মাস্টার।

শুরুর দিকে ধাক্কা খাওয়ায় দিনেশ চান্দিমাল, ধনঞ্জয় ডি সিলভা, নিরোশান ডিকভেলারা সাবধানেই পা ফেলছিলেন। তবে পা ফসকে যায় সিলভা-ডিকভেলার। সমান ৩৪ রান করে করে আউট হন সিলভা ও ডিকভেলা। পথের কাটা হয়ে ছিলেন চান্দিমাল। আজ তিনি সেঞ্চুরিই আদায় করে নিলেন।

টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাইজুল ইসলামের করা ৯৫তম ওভারের চতুথ বল পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন চান্দিমাল। ২৪৪ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৬টি চারের সাহায্যে টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই লঙ্কান।

মাইলফলকের এ ম্যাচে ভাগ্য বদলাবে বাংলাদেশের?

ব্যক্তিগত জীবনে অতি আধুনিক ও প্রগতিশীল হলেও ক্রিকেটারদের বড় অংশ সংস্কারবাদী। সুনীল গাভাস্কারের মত আধুনিক মনস্ক ক্রিকেটারও খেলোয়াড়ি জীবনে সংস্কার মানতেন। তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, জানেন, সবার ভালো জানা, খেলোয়াড়ি জীবনে এক অদ্ভুত সংস্কার মানতেন গাভাস্কার। প্রতি ম্যাচেই তার কোন না কোন নতুন কিছু ব্যবহার করে মাঠে নামার অভ্যাস ছিল। সেটা প্যাড, গ্লাভস, রিস্ট ব্যান্ড, টুপি, মোজা যাই হোক  না কেন, একটা নতুন কিছু কিনে তা ব্যবহার করেই মাঠে নামতেন গাভাস্কার।

শুধু গাভস্কারের কথা বলা কেন, ক্রিকেটারদের সিংহভাগ কোন না কোন সংস্কারে বিশ্বাস করেন। ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ ভক্ত ও সমর্থকদের বিরাট অংশও তাই। তারাও সংস্কারে বিশ্বাস করেন। মানেনও। বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকদের যে অংশ সংস্কারবাদী তারা একটা কথা চিন্তা করে শততম টেস্টে সাফল্যের আশা করতেই পারেন।

ইতিহাস জানাচ্ছে প্রথম ও পঞ্চাশ টেস্ট দুটোতেই আগে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। অভিষেক টেস্টে প্রথম ব্যাটিংয়ে নেমে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অনবদ্য শতক ও হাবিবুল বাশারের হাফ সেঞ্চুরিতে (৭২) প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করেও শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে হেরে যাওয়া। একইভাবে নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনে ব্লাক ক্যাপ্সদের সঙ্গে পঞ্চাশতম টেস্টে আগে ব্যাট করে প্রথমবার ১৩৭ রানে অলআউট হয়ে আবার ৯ উইকেটে পরাজয় সঙ্গী।

অবশেষে শততম টেস্টে এসে প্রথম আগে বোলিংয়ে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে প্রথম মুদ্রা ভাগ্যের লড়াই জিতেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন প্রথম অধিনায়ক নাঈমুর রহমান। এরপর ২০০৮ সালের ৪ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনে কিউই অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথম ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। আর আজ কলম্বোর পি সারায় টস জিতে প্রথম ব্যাট বেঁছে নিলেন লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। প্রথম ও পঞ্চাশতম টেস্টে আগে ব্যাট করে জয়ের দেখা মেলেনি। কে জানে এবার প্রথম বোলিংয়ে ভাগ্য বদলাতেও পারে।

শততম টেস্ট শুরু অন্যরকম এক ইতিহাসে

মাত্র তিনটা ওভার- এতেই কিছু বলে দেয়া যায় না। হয়তো যায়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে কিছুতেই নয়। আর তিনটা ওভার যদি হয় একদম ম্যাচের প্রথম তিন ওভার; তাহলে নিশ্চয় এই তিন ওভার দিয়ে ম্যাচের কোনো কিছু বিশ্লেষণ করাও হয়তো সম্ভব নয়। তারপরও বাংলাদেশের শততম টেস্টের প্রথম তিন ওভার নিয়ে একটা বিশ্লেষণ করাই যায়। কারণ ইতিহাস যে হয়ে গেছে।

গত ১৭ বছরে খেলা ৯৯ টেস্টের ৪১টি ম্যাচে আগে বোলিং করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু কোনোটিতেই প্রথম তিন ওভারে টানা রান আটকে রাখতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। অর্থাৎ টেস্টের প্রথম তিন ওভারে টানা তিন মেডেন নেয়ার ইতিহাস ছিলো না বাংলাদেশের। শততম টেস্টে এসে হয়ে গেলো।

সুতরাং এ কথা বলাই যায় যে, শততম টেস্টের শুরুটা হলো ‘ইতিহাস’ গড়েই। যদিও এটা খুবই সামান্য ব্যাপার। তারপরও বলার মতো কিছু তো ঠিকই হয়ে গেছে।

এই ‘ঐতিহাসিক’ তিন ওভারের দুটি করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর অন্যটি শুভাশিষ রায়। মোস্তাফিজকে দিয়েই এ দিন বোলিং শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নেন শুভাশিষ। তিন নম্বর ওভারটা আবার করেন মোস্তাফিজ। ব্যাটিংয়ে দুই লঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ও দিমুথ করুনারত্নে।

বাংলাদেশ তাদের শততম টেস্ট খেলছে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে, স্বাগতিকদেরই বিপক্ষে। পি সারা স্টেডিয়ামে আজই শুরু হলো ম্যাচটি। এই মাঠে আগে যে টেস্টগুলো খেলেছে বাংলাদেশ, তা মনে করতে গেলে কেবল মর্মযাতনাই বাড়বে। তারপরও শততম টেস্টে ভালো কিছুর আশাই করছেন মুশফিকরা।

প্রথম তিন ওভার মেডেন- ১৭ বছরে পাওয়া ছোট্ট এই কীর্তি থেকেও মুশফিকরা চাইলে কিছুটা অনুপ্রেরণা নিতেই পারেন!

উল্লেখ্য, কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে আজ বুধবার শততম টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। টস হেরে বোলিং করছে মুশফিকবাহিনী।

মুশফিকদের শততম টেস্টের স্মারক পদক পড়িয়ে দিলেন সোমাথিপালা

যে গরম পড়েছিল, তাতে বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়। তারপরও কাল রাতে (মঙ্গলবার) হঠাৎ ঝড়ো বাতাস, সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো আর ভারী বর্ষণ। বেশ এক পশলা ভারী বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে গেল কলম্বোর রাস্তা-ঘাট ও মাঠ।

রাতেই আকাশ পরিষ্কার। কিন্তু ভোরে আকাশে আবার মেঘের ঘনঘটা। তবে কি শততম টেস্টের সকালটা বৃষ্টিতে পণ্ড হবে? এমন প্রশ্নই জাগলো। কিন্তু ঘড়ির কাটা সকাল সাতটা ছোয়ার পর থেকেই দ্রুত মেঘ কাটতে থাকলো। তারপরও রোদ আর মেঘের খেলা চললো ঘণ্টাখানেক। সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার।

বাংলাদেশের শততম টেস্টের সকালটা প্রকৃতি মাটি করে দেবে, তা কি হয়? হয় না। প্রকৃতিও সদয় হলো। আকাশ পরিষ্কার। আগের রাতের বৃষ্টির প্রভাবে খানিক তাপমাত্রা ও আর্দতাও কম। অসহনীয় গরম ও ঘামের যন্ত্রণা একটু কমই।  মোদ্দা কথা, সুন্দর সকাল।

তারপরও বুধবার, পুরোপুরি কর্ম দিবস। সকাল আটটার পর থেকে অফিসগামী মানুষের রাস্তায় নেমে আসা। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঘর ছেড়ে রাস্তায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম। তবে ঢাকার মত অসহনীয় নয়। সিগন্যালের জ্যাম। সিগন্যাল থেমে যেতেই আবার সরব কলম্বোর বড় বড় সড়ক ও রাজপথ।

এরই মধ্যে ‘বোরেল্লা’ নামক জায়গায় একটু বেশি প্রাণ চাঞ্চল্য। এখানেই ‘পি সারা ওভাল।’ লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম সভাপতির নামে এ স্টেডিয়াম। তবে আগেরই জানা মাঠের মালিক তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব।

সকাল আটটার কিছু পরে এসে থামলো বাংলাদেশের টিম বাস। তাজ সমুদ্র থেকে সোজা পি সারা রমুল গেট দিয়ে ড্রেসিং রুমে ঢুকেই পোশাক পাল্টে ব্লেজার পরে নেয়া। শততম টেস্ট উপলক্ষে কলম্বোর অভিজাত এক টেইলারে বানাতে দেয়া হয়েছিল শততম টেস্ট উপলক্ষে বিশেষ নীল ব্লেজার। সে ব্লেজার চাপিয়ে ঠিক নয়টার পর মাঠে ঢুকলেন মুশফিক, তামিম, সাকিব ও মোস্তাফিজ-মিরাজরা।

mushfik
ততক্ষণে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড প্রধান চলে এসেছেন মাঠে। টসের আগে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ঠিক সামনে সারিবদ্ধভাবে এসে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় হয়ে গেল টস। টস করে টিভিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেই দুই অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও রঙ্গনা হেরাথ চলে গেলেন নির্দিষ্ট জায়গায়।

গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে হয়ে গেল ছোট অথচ সুন্দর সাজানো গোছানো এক অনাম্বর কিন্তু প্রাণ ছুয়ে যাওয়া আনুষ্ঠানিকতা। শততম টেস্টের স্মারক ব্লেজার গায়ে চাপিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বাংলাদেশ দল। পাশে স্বাগতিক লঙ্কানরা। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে দু`দলের জাতীয় পতাকা উড়ল। তারপর লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড প্রধান সোমাথিপালা ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন একে একে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের গলায় পড়িয়ে দিলেন স্মারক মেডেল। এ যেন শততম টেস্টে অতিথি বোর্ডের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বরণ করে নেয়া।

সে পর্ব শেষে বাজল দু`দেশের জাতীয় সঙ্গীত। আকাশে উড়লো নান রংয়ের বেলুন। ছোট আনুষ্ঠানিকতা শেষে দু`দল চলে গেল ড্রেসিং রুমে। বাংলাদেশের মাটিতে এমন আনুষ্ঠানিক কোন পর্ব মানেই খেলা শুরুতে অন্তত দশ পনের মিনিট দেরি হয়ে যাওয়া। কিন্তু পি সারায় আজ কিছুই হলো না।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঠিক সকাল ১০টায় শুরু হয়ে গেল খেলা।

প্রথম, পঞ্চাশতম, শততম টেস্টের তিন সকালে মুদ্রা ভাগ্যের তিনরকম চিত্র। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর টস জিতে ব্যাটিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রথম অধিনায়ক নাঈমুর রহমান। ২০০৮ সালের ৪ জানুয়ারি ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে পঞ্চাশ নম্বর টেস্টেও টসে কিউই অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরির কাছে হারেন তখনকার অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। আর আজ ১০০ নম্বর টেস্টের সকালে মুদ্রা ভাগ্যে আবার হারলেন মুশফিকুর রহীম। পার্থক্য একটাই। প্রথম ও পঞ্চাশ নম্বর টেস্টে আগে ব্যাট করা। আর শততম টেস্টে এসে প্রথম ফিল্ডিং। দেখা যাক ১ ও ৫০ নম্বর ম্যাচে অতি কাকতালীয়ভাবে ৯ উইকেটে হারের পর এবার পরে ব্যাট করায় ভাগ্য বদলায় কিনা?

মোস্তাফিজের পর মিরাজের সাফল্য

মোস্তাফিজের পর উইকেটের দেখা পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গলে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা কুশল মেন্ডিসকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান ডানহাতি এই স্পিনার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ৩১ রান।

এর আগে শততম টেস্ট ম্যাচ জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ, এমন ঘোষণা দিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আর টস হেরে বোলিং করতে নেমে সূচনাটাও দুর্দান্ত করেন মুস্তাফিজ। দিনের শুরুতেই করুনারত্নেকে মিরাজের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের বিস্ময় এই বালক।

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ২৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় সিরিজে সমতায় ফিরতে এ ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। এদিকে এ ম্যাচে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল।

মাহমুদউল্লাহর বাইরে থাকার ঘোষণাও এসেছিল আগে। আর অনুশীলনে চোট পাওয়া লিটন দাস ছিটকে গিয়েছিলেন মঙ্গলবার। তবে এই দুটির সঙ্গে পরিবর্তন আরও দুটি। বাদ পড়েছেন মুমিনুল হক ও তাসকিন আহমেদ। আর দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম। অভিষেক হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেনের।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান।

শুরুতেই করুনারত্নেকে ফেরালেন মোস্তাফিজ

শততম টেস্ট ম্যাচ জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ, এমন ঘোষণা দিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আর টস হেরে বোলিং করতে নেমে  সূচনাটাও দুর্দান্ত করলো মুস্তাফিজ। দিনের শুরুতেই করুনারত্নেকে মিরাজের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের বিস্ময় এই বালক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ১৩ রান।

মাহমুদউল্লাহর বাইরে থাকার ঘোষণাও এসেছিল আগে। আর অনুশীলনে চোট পাওয়া লিটন দাস ছিটকে গিয়েছিলেন মঙ্গলবার। তবে এই দুটির সঙ্গে পরিবর্তন আরও দুটি। বাদ পড়েছেন মুমিনুল হক ও তাসকিন আহমেদ। আর দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম। অভিষেক হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেনের।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান।

চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করছে টাইগাররা। আর এ ম্যাচে টস হেরে দলে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল।

মাহমুদউল্লাহর বাইরে থাকার ঘোষণাও এসেছিল আগে। আর অনুশীলনে চোট পাওয়া লিটন দাস ছিটকে গিয়েছিলেন মঙ্গলবার। তবে এই দুটির সঙ্গে পরিবর্তন আরও দুটি। বাদ পড়েছেন মুমিনুল হক ও তাসকিন আহমেদ। আর দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম। অভিষেক হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেনের।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান।

শততম টেস্টে মোসাদ্দেকের অভিষেক

২০০০ সালে এ রাজকীয় ক্লাবে ঢোকার পর ইতোমধ্যে বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে ৯৯টি টেস্ট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবে টাইগাররা। আর এমন স্মরণীয় ম্যাচ দিয়েই টাইগারদের নতুন সদস্য হিসেবে টেস্ট অভিষেক হল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের।

গলে খেলা তিন পেসারের মধ্য থেকে একজনকে ছেঁটে ফেলে বাড়তি স্পিনার হিসেবে তাইজুলের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে কি না- মঙ্গলবার সারাদিন কলম্বোয় আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মাঝে গুঞ্জন। অবশ্য বিকেল গড়ানোর আগে পি সারায় নেট শুরুর পর একটা বিষয় মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গেলো, মনে হলো মমিনুল থাকছেন না।

কারণ ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী প্রথম চারজনের মধ্যে নেটে যাবার কথা মমিনুলের; কিন্তু তার বদলে শেষ মুহুর্তে দলে আসা ইমরুল কায়েস, অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে শুরুতেই প্যাড পরে তৈরি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

আর মুমিনুলের পড়নে প্যাড ও হাতে ব্যাটিং গ্লাভসের বদলে দেখা গেল বল। প্রথমে সেন্টার উইকেটে তামিমকে নক করানোর সময় আর পরে নেটেও মুমিনুল বোলারের ভুমিকায়। নেটে ব্যাটিং করার সিরিয়াল দেখে মনে হয় মাহমুদউল্লাহর জায়গায়, মানে ছয় নম্বরে খেলানো হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। অথ্যাৎ, শততম টেস্টে অভিষেক হতে যাচ্ছে একজনের!

বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান।

কেক কেটে শততম টেস্ট উদযাপন টাইগারদের

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা প্রায় ১৭ বছর। ২০০০ সালে এ রাজকীয় ক্লাবে ঢোকার পর ইতোমধ্যে বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে ৯৯টি টেস্ট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবে টাইগাররা। আর এ ম্যাচে মাঠে নামার আগে নিজের হোটেলে কেক কেটে শততম টেস্ট স্মরণীয় করে রাখলেন মুশফিক-সাকিবরা।

cricketশততম টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কলম্বো পৌঁছেছে বিসিবি সভাপতিসহ একাধিক বোর্ড পরিচালক। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে কেক কাটেন মুশফিক। এ সময় দলের সকল খেলোয়াড়রা ছাড়াও সকল কোচিং স্টাফরাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে সমতায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শততম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এ নিয়ে মুশফিক বলেন, `আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ এখন এমন একটা জায়গায় এসেছে যে, টেস্ট বা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি যাই হোক, সবাই আশা করে যে বাংলাদেশ যে কোনো ম্যাচ জিততে পারে। তো এটাই একটা বড় অর্জন। সেই প্রত্যাশা থেকেই খেলোয়াড়রা অনুপ্রাণিত হয় এবং মাঠে গিয়ে পারফর্ম করতে মুখিয়ে থাকে। হয়তো গলে শেষ টেস্টে ফল ভালো হয়নি। তবে অবশ্যই আমাদের চেষ্টা থাকবে ভাল কিছু করার। আমরা যেন পাঁচদিন ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারি, শততম টেস্টে যাতে জয় নিয়ে ফিরতে পারি। সেটাই থাকবে প্রধান লক্ষ্য।`

cricket

তবে কি অভিষেক হচ্ছে মোসাদ্দেক সৈকতের!

লিটন দাস ছিটকে পড়ায় একাদশ তৈরির কাজ আরও কঠিন হয়ে গেল টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য। মুশফিক মনে মনে খুশি হলেও একটা বড় ধরনের ঝামেলা কিন্তু পাকালো। এমনিতেই একাদশ সাজাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন কোচ ও ক্যাপ্টেন। মাহমুদউল্লাহর জায়গায় কাকে খেলানো হবে? মুমিনুল থাকবেন কি থাকবেন না?

গলে খেলা তিন পেসারের মধ্য থেকে একজনকে ছেঁটে ফেলে বাড়তি স্পিনার হিসেবে তাইজুলের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে কি না- মঙ্গলবার সারাদিন কলম্বোয় আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মাঝে গুঞ্জন। অবশ্য বিকেল গড়ানোর আগে পি সারায় নেট শুরুর পর একটা বিষয় মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গেলো, মনে হলো মমিনুল থাকছেন না।

কারণ ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী প্রথম চারজনের মধ্যে নেটে যাবার কথা মমিনুলের; কিন্তু তার বদলে শেষ মুহুর্তে দলে আসা ইমরুল কায়েস, অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে শুরুতেই প্যাড পরে তৈরি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

আর মুমিনুলের পড়নে প্যাড ও হাতে ব্যাটিং গ্লাভসের বদলে দেখা গেল বল। প্রথমে সেন্টার উইকেটে তামিমকে নক করানোর সময় আর পরে নেটেও মুমিনুল বোলারের ভুমিকায়। নেটে ব্যাটিং করার সিরিয়াল দেখে মনে হয় মাহমুদউল্লাহর জায়গায়, মানে ছয় নম্বরে খেলানো হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। অথ্যাৎ, শততম টেস্টে অভিষেক হতে যাচ্ছে একজনের!

যদিও লিটন দাস আহত হয়ে বাইরে চলে যাওয়ায় টিম কম্বিনেশ তৈরিতে বড় বাধা সৃষ্টি হলো। প্রশ্ন হলো, ‘একাদশ কী চূড়ান্ত?’ লিটন দাস ইনজুরিরর কারণে খেলতে পারবেন না। মুশফিক কিপিং করবেন। তাহলে একাদশের রুপরেখা কেমন হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কথা, ‘আসলে কাল সকালে উইকেট দেখে একাদশ চূড়ান্ত হবে। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’

তবে ম্যানেজারের কথায় একটা ইঙ্গিত মিলেছে, মুমিনুলের খেলার সম্ভাবনা কম; কিন্তু লিটন দাস বাদ পড়ায় এখন সে সম্ভাবনা আবার নতুন করে জেগেছে। কারণ, নেটে ব্যাটিংয়ের সিরিয়াল পরিষ্কার জানান দিচ্ছে, তামিম ইকবালের সাথে ওপেন করবেন ইমরুল কায়েস।

 

সে ক্ষেত্রে মুুমিনুলকে বাইরে রেখে সৌম্য সরকারকে তিন নম্বরে খেলানোর চিন্তা হয়ত হচ্ছিল। কিংবা তামিম-সৌম্য জুটি ঠিক রেখে মুমিনুলের জায়গায় ইমরুলকে সেট করার কথাও ভাবা হতে পারে।

তারপরের ব্যাটিং পজিশনগুলো মুশফিক, সাকিব, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর লিটন দাসকে দিয়ে পুরণের চিন্তাও নিশ্চয়ই ছিল; কিন্তু লিটন বুকের ইনজুরিতে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়ায় একজন ব্যাটসম্যান কমে গেল। এখন মুমিনুলকে বাদ দিলে ব্যাটসম্যান আরও কমবে। সে ক্ষেত্রে মুমিনুলের ভাগ্য খুলে যেতে পারে।

শেষ মুহুর্তে তার দলভুক্তির সম্ভাবনা আছে। কারণ মুুমিনুল খেললেই সাত ব্যাটসম্যান হয়। লিটন দাস নেই। তারওপর মুমিনুলকে বাদ দিলে ব্যাটিং লাইনআপ দাঁড়ায় এমন- তামিম, ইমরুল, কিংবা সৌম্য। এদের তিনজনকে নিয়ে তিন টপ অর্ডার। এরপর চারে মুশফিক। পাঁচে সাকিব। ছয় নম্বরে মোসাদ্দেক।

এখন সাতে যদি মিরাজকে খেলানো হয়, তাহলে বাকি চারজন শুধুই বোলার হয়ে যায়। তখন সাকিব ও মিরাজকে ধরে ২+৪ = ৬ বোলার হয়ে যাবে। সেটা নিশ্চয়ই হবে না। এখন একটাই সমাধান হতে পারে। হয় মুুমিনুলকে রেখে দেয়া। না হয় সাব্বির রহমান রুম্মনকে নেয়া।

তবে টেস্টের অভিজ্ঞতা ও কার্যকরিতা চিন্তা করলে মুমিনুলের কথার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে তিন না দুই পেসার? তা নিয়েও আছে দ্বিধা-দ্ব›দ্ব। আজ মাঠের মাঝখানে পেসারদের স্পট বোলিং প্র্যাকটিসের সময় ম্যানেজার ও সাবেক মিডিয়াম পেসার খালেদ মাহমুদ সুজনও ছিলেন।

এখন গলের মত কলম্বোয়ও তাসকিন, মোস্তাাফিজ আর শুভাশিসকেই খেলানো হবে? না একজন  বাড়তি স্পিনারের কোটায় তাইজুলের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে? নাকি তিন পেসারের একজনকে বাদ দিয়ে রুবেল-কামরুল ইসলাম রাব্বির কেউ ঢুকবেন?

সব সম্ভাবনাই আছে। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য খুলবে, সেটাই দেখার বিষয়!

ভাগ্যই শততম টেস্টে গ্লাভস তুলে দিচ্ছে মুশফিকের হাতে

কী আশ্চর্য্য! শততম টেস্টের আগেও ঠিক অভিষেক টেস্টের আগের রাতের মত অবস্থা। ২০০০ সালের ৯ নভেম্বর প্র্যাকটিস সেশনেও যে সম্ভাব্য লাইনআপ ছিল, তা বদলে গিয়েছিল ম্যাচের আগের রাতের টিম মিটিংয়ে।

ইতিহাস যাকে সব সময় বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে জানে এবং জানবেও সেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে খেলাতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। খেলা নিয়ে সংশয় ছিল হাবিবুল বাশারেরও।

পরে টিম মিটিংয়ে অধিনায়ক নাঈমুর রহমানের নেয়া কঠোর অবস্থানের কারণে ভাগ্য খোলে আমিনুল ও বাশারের। প্রথম জন সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যকে মেলে ধরেন। আর বাশার হাফ সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে অধিনায়কের মুখ রক্ষা করেন।

এবার কলম্বোয় শততম টেস্টের আগের রাতেও দল সাজানো নিয়ে নানা গুঞ্জন। টিম ম্যানেজমেন্ট তথা কোচ হাথুরুসিংহে খানিক দ্বিধায়। এ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বাড়লো রাতে লিটন দাসের ইনজুরিতে একাদশ থেকে ছিটকে পড়ার খবরে।

গলেও গরম ছিল। তবে তুলনামুলক ঘাম কম হয় বলে অত অসহনীয় মনে হয় না; কিন্তু কলম্বোয় একেবারে কম্মকাবার হবার জোগাড়। যেমন গরম। তেমন আদ্রতা। ঘাম হয় প্রচণ্ড। দুপুরে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে; কিন্তু তাতে উত্তাপ কমেনি। বরং গরম বেড়েছে আরও।

সে অসহনীয় গরম আর ঘেমে নেয়ে ওঠা কমলো অল্প কিছুক্ষণ আগে; বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ (কলম্বোয় তখন রাত আটটা)। বেশ তর্জন-গর্জন করে বিদ্যুৎ চমকে এক পশলা ভারী বৃষ্টি হলো। তাতে শীতল কলম্বো।

কলম্বোবাসী ভ্যাপসা গরম থেকে খানিক নিস্তার পেলেও বাংলাদেশ শিবিরে আজ রাত আটটা নাগাদই নেমে এসেছে এক অস্বস্তির পরশ। শততম টেস্টের ১২ ঘন্টা আগে ইনজুরিতে ছিটকে পড়েছেন লিটন দাস।

আজ সন্ধ্যার পরই কপাল পোড়া খবর পেয়েছেন এ কিপার কাম মিডল অর্ডার। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে জানালেন, গতকাল সোমবার নেটে বুকে বল লেগেছিল লিটনের। বুকের পাঁজরে বলের আঘাতটা শুরুতে তেমন গুরুতর মনে না হলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে ব্যাথা বাড়তে থাকায় এমআরআই করে দেখা গেছে, সমস্যা আছে। চিকিৎসকরা তিন সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই লিটনের পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না।’

এখানেই শেষ নয়। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের শেষ কথা, ‘এখন তো আর কোন বিকল্প নেই। তাই মুশফিকুর রহীমই কিপিং করবে।’

মুশফিক কিপিং করবে- এখন এটাই নিশ্চিত খবর। এটুকু শুনে মনে হতেই পারে, ভাগ্য পুড়লো লিটন দাসের। আর ইচ্ছে পূরণ মুশফিকুর রহীমের। অনেক আশা নিয়ে শ্রীলঙ্কা আসা লিটনের। কে জানতো শততম টেস্টের আগে গিয়ে বুকে বল লাগবে? তাই আশাহতের বেদনায় দগ্ধ লিটন।

মুশফিক মনে মনে নিশ্চয়ই খুশি! দেশ ছাড়ার আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও কিপিং চালিয়ে যাবার দৃঢ় সংকল্প ছিল কন্ঠে। শ্রীলঙ্কা আসার পর টিম ম্যানেজমেন্টের চাপেই হোক, কিংবা তাদের পরামর্শেই হোক- কিপিং ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বসলেন ক্যাপ্টেন।

অবশেষে শততম টেস্টের আগের রাতে অতি নাটকীয়ভাবে আবার কিপিংয়ের দায়িত্ব তার কাঁধেই চলে আসলো আবার।

নতুন কোচ পাচ্ছেন কোহলি-ধোনিরা!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের চলমান টেস্ট সিরিজ শেষে জুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবে ভারত। আর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়ই নতুন কোচ পেতে যাচ্ছেন কোহলি-ধোনিরা। ভারতীয় গণমাধ্যমে এমন খবরই প্রকাশিত হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে অনিল কুম্বলের জায়গায় দেখা যেতে পারে দেশটির সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়কে।

গত বছরের জুনে ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেন সাবেন স্পিনার অনিল কুম্বলে। তার সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে সিরিজ জেতে ভারত। এরপর দেশের মাঠে নিউজিল্যান্ড (৩-০), ইংল্যান্ড (৪-০) এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতেছে কোহলিরা। আর আইসিসির টেস্ট দলের ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে ভারত।

তবে ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি আনন্দের খবর, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের পর কুম্বলে আর কোচের পদে নাও থাকতে পারেন। কারণ, বিসিসিআই কুম্বলেকে টিম ডিরেক্টর হওয়ার প্রস্তাব দিতে চলেছে। আর কুম্বলে টিম ডিরেক্টর নিযুক্ত হলে জাতীয় ও কর্নাটক দলে তার প্রাক্তন সহ খেলোয়াড় রাহুল দ্রাবিড় কোহলিরদের কোচ হতে পারেন। বর্তমানে ভারত ‘এ’ দলের কোচ দ্রাবিড়।

কোহলির সমালোচনায় স্টিভ ওয়াহ

আউস্ত্রালিয়া-ভারতের মধ্যকার তৃতীয় টেস্টের আগে কথার লড়াই যেন শেষই হচ্ছে না। খেলোয়ার, বোর্ড কর্মকর্তাদের পর এবার  কোহলির অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কথার লড়াইয়ে যোগ দিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ অভিযোগ করেন, বোলার যখন ডেলিভারি করতে উদ্যত হন, তখন অধিনায়ক কোহালি ইচ্ছাকৃত ভাবে উত্তপ্ত করতে থাকেন দর্শকদের। ব্যাটসম্যানদের মনঃসংযোগ নষ্ট করার ক্ষেত্রে বিরাটের এমন আচরণের সমালোচনা করেন তিনি।

দিল্লির একটি বিজ্ঞাপনী অনুষ্ঠানে এসে স্টিভ ওয়াহ জানান, খেলা চলাকালীন সময়ে দু’দলের মধ্যে খারাপ আচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। দুই অধিনায়ক একসঙ্গে বসে এই সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া উচিত।

এর আগেই ডিআরএস কাণ্ড নিয়ে স্মিথ-কোহলিকে ক্লিনশিট দিয়ে দেয় আইসিসি। এ বার কোহলিকে নিয়ে স্টিভ ওয়াহর এই অভিযোগ নতুন বিতর্ক আরও উস্কে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্টার্কের পরিবর্তে দলে কামিন্স

ইনজুরির কারণে ভারতের বিপক্ষে আর মাঠে নামা হচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া দলের তারকা পেসার মিশেল স্টার্কের। এবার তার পরিবর্তে দলে ডাক পেলেন প্যাট কামিন্স। দীর্ঘ ছয় বছর পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ডাক পেলেন তরুণ এই পেসার।

এ সম্পর্কে নির্বাচক প্রধান ট্রেভর হনস বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে স্টার্ককে হারানো বেশ দু:খজনক। তার পরিবর্তে দলে একজন আক্রমনাত্মক বোলার চেয়েছিলাম, সে কারণেই প্যাটকে ডাকা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও বিগ ব্যাশেও ধারাবাহিক পারফরমেন্স দিয়ে প্যাট নিজেকে প্রমাণ করেছে। এছাড়া ছয় বছর পরে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে শেফিল্ড শিল্ডেও তিনি দারুণভাবে ফিরে এসেছেন।

উল্লেখ্য, ইনজুরির কারণে ১-১ সমতায় থাকা সিরিজে স্টার্ককে না পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় এক ধাক্কা।  প্রথম দুটি টেস্টেই ব্যাট ও বল হাতে অল-রাউন্ড পারফরমেন্স দেখিয়েছেন স্টার্ক। পাঁচ উইকেট দখল করার পাশাপাশি পুনেতে গুরুত্বপর্ণূ হাফ সেঞ্চুরি করেন।

বড় জয়ে সেমিতে আর্সেনাল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিকের কাছে হারের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর্সেনাল। শনিবার পঞ্চম সারির দল লিঙ্কন সিটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এফএ কাপের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ওয়েঙ্গারের শিষ্যরা।

নিজেদের মাঠে ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদে করে খেলতে থাকে আর্সেনাল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করে দলকে লিড এনে দেন থিও ওয়ালকট। গিবসের বাড়ানো বলে ডি-বক্সের মধ্যে ডান পায়ের নিচু শটে দলকে এগিয়ে ইংলিশ এই তারকা।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিরুদ। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে ওয়াটারফল নিজেদের জালেই বল জড়ালে বড় জয়ের দিকে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। ৭২ মিনিটে ওজিলের পাস থেকে গোল করে লিড ৪-০ করেন চিলির ফরোয়ার্ড সানচেজ। ৭৫ মিনিটে লিঙ্কনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ওয়েলস তারকা অ্যারন রামসি।

দ্বিতীয় টেস্টের দলে নেই রাব্বি

গল টেস্টে দারুণ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ২৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেলো বাংলাদেশ। কলম্বোর পি সারা ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আবার বাংলাদেশের জন্য খুব স্পেশাল। শততম টেস্ট খেলার জন্য মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ শুরু হবে টেস্ট ম্যাচটি।

শততম টেস্টের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দল ঘোষণা করা হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। এই দলে প্রবেশ করেছেন ইমরুল কায়েস। ইনজুরির কারণে হায়দরাবাদ টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই দেশে ফিরেছিলেন তিনি। মাঝে বিসিএল খেলে নিজের ফিটনেস ফিরিয়েছেন এবং দারুণ পারফরম্যান্স করে আবার ফিরেছেন দলে।

তবে শততম টেস্টের দল থেকে ছিটকে পড়েছেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। হায়দরাবাদ এবং তার আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে দারুণ বোলিং করার পাশাপাশি টেলএন্ডে ব্যাট হাতে দারুণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। সেই রাব্বি ছিলেন গল টেস্টের জন্য ঘোষিত ১৬ জনের দলে। তবে তাকে বাদ দিয়েই গল টেস্টের একাদশ গঠন করা হয়েছিল। এবার কলম্বো টেস্টের জন্য তাকে ১৬ জনের দল থেকেই বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাব্বির জায়গাতেই মূলতঃ দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস। বাকি জায়গাগুলো রয়েছে আগের মতই। আগের ১৫জন ঠিকই আছেন। শুধু কলম্বোয় আজ রাতে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ইমরুল কায়েস। রাব্বি থাকবেন নাকি ফিরে আসবেন, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দল

মুশফিকুর রহীম, (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শুভাশিস রায়, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

নিজের আউটের অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করালেন মুশফিক!

গল টেস্টের দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানরা লেগস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হয়েছেন। প্রথমবার তামিম ও সাকিব আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহীম।

তামিম-সাকিব না হয় একটু বেশি শটস খেলতে পছন্দ করেন, উচ্চাভিলাষী শট খেলার প্রবণতা বেশি। তারা না হয় স্বভাবজাত কারণেই খেলে ফেলছেন। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিক তো অমন নন। তিনি তো অনেক ধীর-স্থির। তার মাঝে লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করার প্রবণতা আসলো কীভাবে? এটা কি সংক্রমিত হলো?

মুশফিক বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলেন, ওই শট খেলা ঠিকই ছিল। শুধু শটটা পারফেক্ট হয়নি। তাই মুখে এমন কথা, ‘সেদিন লেগ স্লিপ ও শর্ট লেগ কিছুই ছিল না। ফিল্ডার ছাড়া খালি জায়গায় বল পাঠাতে গিয়েই সাকিব ব্যাট চালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল ব্যাটের জায়গামতো লাগেনি।’

এটুকু বলে শেষ করলে মানা যেত। কিন্তু তা না করে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক যা বলেছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। আজ দলের চরম বিপর্যয়ে তিনি নিজেও লক্ষ্মণ সান্দাকানের লেগস্ট্যাম্পের অন্তত এক ফুট বাইরের বলকে তাড়া করে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়েছেন।

টেস্টে লেগস্ট্যাম্পের অত বাইরে পিচ করা ডেলিভারির পিছু তাড়া করেন না কেউ। মুশফিক সেটাকে ভুল না বলে উল্টো নিজের সাফাই গাইলেন, ‘ওটা তো বাইরের বল। মারতে হলে বাইরের বলকেই মারতে হবে। উইকেটের বল তো আর মারা যাবে না। তাতে আউটের সম্ভাবনা থাকবে। তাই বাইরের বলে ব্যাট চালানো। খেলার উদ্দেশ্য ও শট ঠিকই ছিল। বলতে পারেন, শটটা পারফেক্ট হয়নি। ব্যাটের জায়গা মতো লাগেনি। সাকিবেরও না, আমারও নয়। শর্ট লেগ ও লেগ স্লিপ ছিল না। লাগলে রান পেতাম।’

ওপরের এ কথাটিই জন্ম দিয়েছে অনেক বড় প্রশ্নের। এ কি বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক? এটা কি ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলা যে বাইরের বল পেলেই মারতে হবে? এটা টেস্ট। পাঁচ দিনের ম্যাচ। এখানে রান করার তাড়া অনেক কম। মারার চেয়ে ঠেকানোর অভ্যাস বেশি দরকার।

তারপরের কাজ হলো বল ছাড়া। অফস্ট্যাম্প ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরে পিচ পড়া ডেলিভারি, যেগুলোতে বোল্ড বা এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, সেগুলো ছেড়ে দেয়াই উত্তম। টেস্ট ক্রিকেটে যারা বড় ও সফল ব্যাটসম্যান বলে পরিগণিত তারা সবাই তা-ই করেন। বরং ব্যাট পেতে দিলে উইকেটের পেছনে ক্যাচে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

সেখানে মুশফিক বলছেন, ওই সব বল থেকেই রান করতে হবে। তার ভাষায়, উইকেট সোজা বল মারা যাবে না। ক্রিকেটের কোন মহাগ্রন্থে আছে উইকেট সোজা ডেলিভারি মারা যাবে না? টেস্টে মারার বল হলো ওভার পিচ, হাফ ভলি। সেটা উইকেট সোজাই হোক কিংবা একটু বাইরে।

একবার ভাবুন তো, বিরাট কোহলি যদি উইকেটে এসেই মিডল স্ট্যাম্প সোজা হাফ ভলি পান, তিনি কি ছেড়ে দেবেন? প্রশ্নই ওঠে না। বাঁ পা বাড়িয়ে হয় মিড অফ, মিড অন না হয় কভার দিয়ে কিংবা সোজা বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ খেলে সীমানার ওপারে পাঠাবেন।

সেই হাফ ভলি- ওভার পিচের অপেক্ষায় থাকেন বিশ্বের তাবত সফল ব্যাটসম্যানরা। আর বাংলাদেশের অধিনায়কের কথা শুনে মনে হলো, তারা অপেক্ষায় থাকেন- কখন অফ ও লেগস্ট্যাম্পের বাইরের বল পাবেন। সেগুলোকে মারতে যান। আর তাতেই নির্বিবাদে উইকেট দিয়ে আসা!

আশার দিনে দুঃস্বপ্নের হার

সম্ভাবনা যা ছিল, অপমৃত্যু দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই। ৫ উইকেট হারানোর পর মুশফিক ও লিটনের একটু লড়াই। শেষটাও আবার চটজলদি। ড্রয়ের আশা নিয়ে শুরু হয়েছিল যে দিন, সেটি অর্ধেক না যেতেই দুঃস্বপ্নের হার।

হ্যাটট্রিক জয়ে অধিনায়ক হেরাথের রেকর্ড

শেষের আগে যা একটু খেলছিলেন মিরাজ। তাকে ফিরিয়েই বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিল শ্রীলঙ্কা। হেরাথ নিলেন ইনিংসে ষষ্ঠ উইকেট।

২৮ রানে ফিরলেন মিরাজ। বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে শুরু করা দিনে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৯৭ রানে। শ্রীলঙ্কার জয় ২৫৯ রানে।

প্রথম ৫ উইকেট পড়েছিল ৩৭ রানের মধ্যে। শেষ পাঁচটি পড়ল ৩৯ রানে। মাঝে মুশফিক ও লিটনের ৫৩ রানের জুটি।

৫৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ করলেন হেরাথ। ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার হওয়ার দিনটি স্মরণীয় করে রখলেন দলের জয় আর নিজের আরেকটি অর্জনে। প্রথম শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক হিসেবে জিতলেন নেতৃত্বের প্রথম তিন টেস্টই। আগের দুটি জয় ছিল জিম্বাবুয়েতে।

বাংলাদেশের জন্য আরও একটি হতাশার টেস্ট। পরের ম্যাচটিই বাংলাদেশে শততম টেস্ট। তবে উপলক্ষ উদযাপনের চেয়ে দুর্ভাবনাই অনেক বেশি!

বুধবার থেকে সেই টেস্ট কলম্বোর পি সারা ওভালে।

হেরাথের পঞ্চমে বাংলাদেশের নবম

তাসকিনের বিদায়ের পর দিলরুয়ান পেরেরার এক ওভারেই দুটি চার ও একটি ছক্কা মারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু হেরাথকে থামাবে কে?
মুস্তাফিজকে বোল্ড করে লঙ্কান অধিনায়ক পূর্ণ করলেন পঞ্চম উইকেট। বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৯৪।

চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড ১০ বার ৫ উইকেট হলো হেরাথের। ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ২৯ বার। ছুঁলেন গ্লেন ম্যাকগ্রাকে। অস্ট্রেলিয়ান পেস কিংবদন্তিও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ২৯ বার।

শেষের ক্ষণ গণনা

মুশফিক-লিটন দুজনই বিদায়ের পর এখন কেবল ম্যাচ শেষের ক্ষণ গণনা। দুই থিতু ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদকে ফেরালেন রঙ্গনা হেরাথ।

বল সোজা আসবে ভেবেই হয়ত ডিফেন্স করেছিলেন তাসকিন। একটু টার্ন করে বল ব্যাটের কানায় লেগে প্যাড ছুঁয়ে শর্ট লেগের হাতে। তাসকিন ফিরলেন ৫ রানে। বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ১৮০।

লিটনকে ফিরিয়ে চূড়ায় হেরাথ

লড়াইয়ের সঙ্গীকে হারিয়ে যেন লড়াই ভুলে গেলেন লিটন দাস। ফ্লাইটেড বলটিকে উড়িয়ে মারতে গেলেন। বল জমা পড়ল কাভারের ফিল্ডারে হাতে। উল্লাসে মাতলেন রঙ্গনা হেরাথ। বাংলাদেশ এগোলো শেষের কাছে। হেরাথ উঠলেন চূড়ায়। বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে বেশি উইকেটের দারুণ রেকর্ড!

লিটনকে আউট করেই হেরাথ ছাড়িয়ে গেলেন ড্যানিয়েল ভেটোরিকে। ৩৬৩ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন হেরাথ!

৩৫ রানে ফিরলেন লিটনের ফেরার সময় বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৬৬।

আবারও বিরতির পর উইকেট

প্রথম সেশনের পুনরাবৃত্তি দ্বিতীয় সেশনে। সাকিবের আউটের আবার দৃশ্যায়ন মুশফিকের আউটে!

লাঞ্চের আগের ঘণ্টায় সামান্য আশা জাগিয়েছিল যে জুটি, সেটি শেষ লাঞ্চের পরই। ঠিক প্রথম সেশনের মতোই দ্বিতীয় বলেই উইকেট। লাকশান সান্দাকানের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল বেরিয়ে যাচ্ছিল আরও বাইরে। মুশফিক খেলতে গেলেন সেটিই। ব্যাটের কানায় সামান্য লেগে বল কিপারের গ্লাভসে। দারুণ ক্যাচ নিলেন ডিকভেলা। প্রথম ইনিংসে সান্দাকানের বলে ঠিক এভাবেই আউট হয়েছিলেন সাকিব।

৩৪ রানে ফিরলেন মুশফিক। বাংলাদেশ ডুবল আরেকটু। রান তখন ৬ উইকেটে ১৫৮।

বিভীষিকার পর একটু স্বস্তি

বেলস তুলে লাঞ্চের ঘোষণা দিলেন আম্পায়ার আলিম দার। টিভি পর্দায় ভেসে উঠল স্কোরকার্ড। ধারাভাষ্য কক্ষে রাসেল আর্নল্ড বললেন, “মুশফিকুর রহিম দা রক।”

এক ঘণ্টা আগেই স্কোরকার্ডের চেহারা ছিল ভয়াবহ। সেটি একটু ভদ্রস্থ ওই মুশফিকের সৌজন্যে। শেষ দিনের প্রথম ঘণ্টা ছিল দু:স্বপ্নের মত। দ্বিতীয় ঘণ্টায় একটু স্বস্তির সুবাতাস। টালমাটাল ইনিংসটা একটু থিতু হয়েছে মুশফিক ও লিটন দাসের ব্যাটে।

প্রথম ইনিংসের মতই চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় লড়াই করছেন মুশফিক। অধিনায়ক পাশে পেয়েছেন লিটন দাসকে। দিনের প্রথম ১৩ ওভারেই বাংলাদেশ হারিয়েছিল ৫ উইকেট। লাঞ্চের আগের ১৯ ওভারে আর উইকেট পড়েনি এই দুজনের দৃঢ়তায়।

লাঞ্চের সময় মুশফিকের রান ৩৪, লিটনের ৩২। দুজনের জুটিতে এসেছে ৫৩ রান। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৫৭।

লাঞ্চের পর দিনের খেলা বাকি ৬৭ ওভার। উইকেটে আগে চেয়ে টার্ন একটু বেশি মিলছে বটে; তবে খুব ভয়ঙ্কর নয়। চাইলেই টিকে থাকা যায়। দিনটা পার করে দেওয়া সেই দিক থেকে অসম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের সর্বনাশ তো সকালেই হয়ে গেছে!

এবার জোড়া ধাক্কা

সাকিব ও মুশফিকে ব্যাটে কেবলই একটি জুটি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা। কিন্তু সেটিও শেষ জমে ওঠার আগেই। রঙ্গনা হেরাথ ফেরালেন সাকিবকে। সেটি যদি যথেষ্ট না হয়, এক বল পরই নেই মাহমুদউল্লাহও!

এবার অবশ্য বাজে শটে ফেরেননি সাকিব। হেরাথের বল তাকে টেনে এনেছিল বাইরে। লম্বা পায়ে ডিফেন্স করেছিলেন। বল তার গ্লাভসে চুমু দিয়ে লেগ স্লিপে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন করুনারত্নে। সাকিব করেছেন ৮।

জায়গা বাঁচাতে লড়তে থাকা মাহমুদউল্লাহ এলেন আর গেলেন। হেরাথের আর্ম বলে এলবিডব্লিউ শূন্য রানে। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১০৪।

মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে হেরাথ ছুঁলেন ড্যানিয়েল ভেটোরিকে। বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন যৌথভাবে এই দুজনের, ৩৬২টি।

বাজে থেকে আরও বাজে

দ্বিতীয় বলেই সৌম্যকে হারানো যদি বাজে শুরু হয়, সময়ের সঙ্গে সেটি হয়েছে বাজে থেকে আরও বাজে। ফিরেছেন মুমিনুল। সেটির রেশ না কাটতেই নেই তামিম ইকবালও!

বোলার আবারও দিলরুয়ান পেরেরা। অফ স্টাম্পে পিচ করা বল একটু লাফিয়ে টার্ন করেছিল। বলটি অবশ্য ভালো ছিল, তবে এমন নয় যে সামলানোই যাবে না। তামিম পারলেন না। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল স্লিপে। ৫৫ বলে ১৯ করে ফিরলেন তামিম।

বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৮৩। ৪৫৭ রানে লক্ষ্য বা পুরো দিন টিকে থাকা, দুটিই এখন দূর আকাশের তারা!

মুমিনুলের ‘দেজাভু’

দেখলে যে কেউ ধন্দে পড়ে যেতে পারেন। এটা কি প্রথম ইনিংসেরই আউট নয়? ঠিক একই রকম। প্রথম ইনিংসের মতোই একইভাবে আউট হলেন মুমিনুল হক। একই বোলার, প্রায় একই বল, একই আউট!

দিলরুয়ান পেরেরার ফ্লাইটেড বল। সামনে খেলার বল মুমিনুল খেললেন পেছনে। আবারও ফ্লাইটে বিভ্রান্ত এবং বলের লাইন মিস। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছে আউট। আম্পায়ারও আঙুল তুললেন। তামিমে সঙ্গে কথা বলে মুমিনুল চাইলেন রিভিউ। কিন্ত রিভিউ চেয়েও আবার হাঁটা দিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে। মনে হয় নিজেই বিভ্রান্ত!

তবে আগেই রিভিউ চাওয়ায় সেটা থাকলই। মুমিনুল ফিরলেন ৫ রানে। রিভিউও একটা শেষ হলো। বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়ল। রান ২ উইকেটে ৮১।

শুরুতেই নেই সৌম্য

দিনটা বুঝি এর চেয়ে বাজেভাবে শুরু হতে পারত না বাংলাদেশের জন্য। দিনের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড সৌম্য সরকার!

আউট হতে পারতেন প্রথম বলেই। আসেলা গুনারত্নে স্লো মিডিয়াম বোলার হলেও ছুটে এসে করলেন অফ স্পিনের মতো। পুরোপুরি বিভ্রান্ত সৌম্য, সুইপ করতে গিয়ে আবার ঠেকাতে চাইলেন। ক্যাচ উঠল, শর্ট লেগ ফিল্ডার পারল না ধরতে।

পরের বলে ফিল্ডার লাগল না। এবার বেশ ফ্লাইট দেয়া বল। সৌম্য ডিফেন্স করেছিলেন, বল একটু বেরিয়ে তার ব্যাটের পাশ দিয়ে চুমু দিল স্টাম্পে। এত ‘সফট ডিসমিসাল’ যে বোলার আবেদন করেছিলেন, সৌম্যও রিভিউ চেয়ে বসেছিলেন। কেউই শুরুতে বুঝতে পারেননি কি হয়েছে।

আগের দিনের ৫৩ রানেই সৌম্যর বিদায়। বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৬৭। লক্ষ্য ৪৫৭ রান বা ৯৮ ওভার টিকে থাকা।

প্রচণ্ড গরমে তিন পেসার খেলানোয় কী লাভ হলো?

সেই গতকাল টসের পর যখন একাদশ ঘোষণা হলো, ঠিক তখন থেকেই সবার মনে প্রশ্ন- আচ্ছা, গলে তিন পেসার খেলানো কেন? গলের আবহাওয়া শুষ্ক ও আর্দ্র- সবার জানা। রোদের তেজ প্রচণ্ড। সকাল ১০টার পর থেকে এত গরম যে খোলা আকাশের নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন। প্রচণ্ড গরম। তাপমাত্রা যে অস্বভাবিক; তা নয়।

গতকাল আর আজকের গড় তাপমাত্রা ৩২ সেলসিয়াস। আর্দ্রতাও খুব বেশি নয়; ৬৬ %। কিন্তু গরমের প্রচণ্ডতা খুব বেশি। ভৌগোলিক কারণে এ অঞ্চলে সূর্য লম্বাভাবে কিরণ দেয়। যে কারণে সূর্যের উত্তাপটা সরাসরি বেশি লাগে।
অন্য যেকোনো মাঠের চেয়ে গলে পেসারদের বল করাও কঠিন কাজ। কারণ পেসাররা লম্বা রান-আপে বল করেন, তাই তাদের বাড়তি শক্তি ক্ষয় হয়। ঘেমে নেয়ে ওঠেন।

শরীরও দুর্বল হয়ে যায়। পুরো গতি ও সর্বোচ্চ উদ্যমে বল করা হয়ে ওঠে না। তাই পেসারদের এই মাঠে লম্বা স্পেলে বল করার রেকর্ডও কম। এসব জেনেও তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামা। কিন্তু প্রথম ইনিংসে তিন পেসার খেলানোর কি কার্যকারিতা মিললো? পরিসংখ্যানই তার জবাব দেবে।

পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে, তিন পেসারের চেয়ে দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান তুলনামূলক সফল। তারা দুজন মিলে পেয়েছেন ৫ উইকেট। যে পাঁচ স্পেশালিস্ট বোলার বল করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে সফল মেহেদী হাসান মিরাজ। এ অফস্পিনারের ঝুলিতে জমা পড়েছে চারটি। আর সাকিব পেয়েছেন একটি।

অন্যদিকে তিন পেসার মোস্তাফিজ (২৫ ওভারে ২/৬৫), তাসকিন (২১ ওভারে ১/৭৭) ও  শুভাশিস (২৪ ওভারে ১/১০৩) মিলে ভাগ করেছেন চার উইকেট। আগেই জানা- গলের উইকেট প্রথম দুই দিন ব্যাটিং-বান্ধব। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে গল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ প্রথম দিকে সব সময়ই ব্যাটসম্যানদের পক্ষে থাকে।

মানে প্রথম ইনিংসে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ব্যাটসম্যানরে পাল্লাই ভারি থাকে। চার বছর আগে এই মাঠে বাংলাদেশ যেবার সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল, সেবারও ওই একই চিত্র ছিল। প্রথম ইনিংসে দু’দলের স্কোর ছিল সাড়ে পাঁচশো‘র ওপরে। কুমার সাঙ্গাকারা (১৪২), লাহিরু থিরিমান্নে (১৫৫) ও দিনেশ চান্দিমালের (১১৬*) শতরানে ভর করে প্রথমবার লঙ্কানদের স্কোর দাঁড়ায় ৫৭০/৪ (ডি.)।

জবাবে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি (২০০), মোহাম্মদ আশরাফুল (১৯০), মুমিনুল (৫৫) ও নাসির (১০০) উইলোর দৃঢ়তায় বাংলাদেশ খুঁজে পায় ৬৩৮ রানের বিশাল স্কোর। এই মাঠে আগে হওয়া ২৮ টেস্টের ২২ টিতে ফল নিষ্পত্তি হয়েছে। ১৬ টিতে জিতেছে লঙ্কানরা। ৬ বার জিতেছে অতিথি দল। আর ৬ টেস্ট ড্র হয়েছে।

এই মাঠের সবচেয়ে বড় স্কোর বাংলাদেশের (৬৩৮), সেটা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৩ সালের মার্চে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে বড় রানের ইনিংসটি ক্যারিবীয় উইলোবাজ ক্রিস গেইলের ৩৩৩ (২০১০-২০১১ মৌসুমে)।

এরপরের পরিসংখ্যানটিই একটু ভালো করে লক্ষ্য করবেন, গল স্টেডিয়ামে সেরা বোলিং ও ম্যাচসেরা বোলিং-দুটাই এক স্পিনারের। সেটা আর কেউ নন, লঙ্কান ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা তথা বিশ্ব ক্রিকেটের সব সময়ের সফলতম অফস্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের। এই মাঠে এক ইনিংসে সেরা বোলিং (৭/৪৬, ২০০৩-২০০৪ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। আর এক টেস্টে দুই ইনিংস মিলে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ডটিও মুরালিধরনের। সেটা ২০০০-২০০১ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

যে মাঠের উইকেট শুরুতে ব্যাটিং-বান্ধব, যে উইকেটে পরিষ্কার স্পিনারদের রেকর্ড সমৃদ্ধ- সেখানে জেনে-বুঝে তিন পেসার খেলানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। তা-ও মানা যেত পেসাররা তেমন কিছু করে দেখাতে পারলে।
প্রথম দুদিন উইকেট শতভাগ ব্যাটিং সহায়ক। পরের দিনগুলোতে কি পেসাররা বাড়তি সাহায্য পাবেন?

ইতিহাস তা বলে না। টেস্টের তৃতীয় দিন কিংবা চতুর্থ দিন যদি কোনো উইকেট বোলারদের দিকে ঝুঁকে, তাহলে সেটা হয় স্পিনারদের পক্ষে। এখন এই পিচে দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিংটাও খুব ভাইটাল। সেখানে একজন বাড়তি স্পিনার মানে তাইজুল ইসলাম থাকলে কি আরও ভাল হত না? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হয়তো শেষ সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ

১৯৪ রানে থামলেন কুশল মেন্ডিস। আর শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থামল ৪৯৪ রানে। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। সাবধানী শুরু করেছে সফরকারীরা।

তবে তামিমের ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোরাপত্তন করতে নেমে নড়বড়ে ছিলেন সৌম্য সরকার। রানের খাতাই খুলতে পারতেন না সৌম্য। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এই ওপেনার। তৃতীয় ওভারে সুরাঙ্গা লাকমলের বলে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য। দিলরুয়ান পেরেরা ক্যাচটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন। জীবন পেয়ে ব্যাট করছেন সৌম্য।

এই রিপোট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৬ রান। সৌম্য সরকার ৩২ ও তামিম ইকবাল ৪৩ রানে ব্যাট করছেন।

এর আগে ৪ উইকেটে ৩২১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে। দিনের শুরুটাও দারুণ করে তারা। এদিন আরও ৭৭ রান যোগ করে মোট ১১০ রানের জুটি গড়েন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মেন্ডিস ও ডিকভেলা।

দলীয় ৩৯৮ রানে এ জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে এ আউটে তামিম ইকবালের অবদানই বেশি। লং অনে দারুণ ক্যাচ ধরেন তামিম। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে লাইনের বাইরে চলে যান তিনি। তবে তার আগে শূন্যে বল ছুড়ে দিয়ে আবার ভিতরে এসে লুফে নেন সে ক্যাচ। ফলে ডাবল সেঞ্চুরি করার ৬ রান আগেই বিদায় নিতে হয় মেন্ডিসকে। তবে কাজের কাজটি করে দিয়েছেন এ তরুণ। ২৮৫ বলে খেলেছেন ১৯৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। ১৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস।

মেন্ডিস আউট হলেও এক প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন ডিকভেলা। মিরাজের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে ৭৬ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। তার আউটের পর দলের হাল ধরেন দিলরুয়ান পেরেরা। এক প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪৯৪ রানে থামে লঙ্কানরা।

বাংলাদেশের পক্ষে ১১৩ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট নেন মিরাজ। ৬৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন মোস্তাফিজ। এছাড়া সাকিব, শুভাশিস ও তাসকিনের দখলে যায় ১টি করে উইকেট।

আবারও তিন সংস্করণের শীর্ষে সাকিব

সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আগেই র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। তবে মাঝে ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কাছে হারিয়েছিলেন টেস্টের মুকুট। তবে সে মুকুট পুনরুদ্ধার করেছেন বাংলাদেশের এ অলরাউন্ডার। ফলে সেরা অলরাউন্ডারের র‌্যাংকিংয়ের তালিকায় আবারও তিন সংস্করণে শীর্ষে উঠলেন দেশসেরা এ ক্রিকেটার।

তবে শীর্ষে উঠলেও সাকিবের রেটিং পয়েন্ট আগের মতই আছে। তার রেটিং পয়েন্ট ৪৪১। ইংল্যান্ড সিরিজ শেষে ৪৯৩ রেটিং পয়েন্টে থাকা অশ্বিনের নেমে এখন হয়েছে ৪৩৪ পয়েন্ট। আর এ কারণেই শীর্ষস্থান হারান অশ্বিন।

মূলত বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে ব্যাটিংটা ভালো না হওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়েছেন অশ্বিন। বেঙ্গালুরু টেস্টের শেষ ইনিংসে ৬ উইকেট নিলেও ব্যাট হাতে রান নেই অশ্বিনের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ ইনিংসে করেছেন মাত্র ২০ রান।

এদিকে সাকিব ও অশ্বিনের পর তিন, চার ও পাঁচে আগের মতোই আছেন রবীন্দ্র জাদেজা, মিচেল স্টার্ক ও বেন স্টোকস।

এলগারের সেঞ্চুরিতে দ. আফ্রিকার স্বস্তি

দিনের শুরুটা দারুণ ভাবেই করেছিল নিউজিল্যান্ড। মাত্র ২২ রানেই ফিরিয়েছেন প্রোটিয়াদের প্রথম সারির তিন উইকেট। তবে এরপরই ডিন এলগার ও ফাফ ডু প্লেসি বীরত্ব। ১২৬ রানের স্বস্তির এক জুটি। এরপর অধিনায়ককে হারালেও একপ্রান্তে বহাল তবীয়তে আছেন এলগার। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। আর তাতেই প্রথম দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে ২২৯ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

বুধবার ডুনেডিনে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডু প্লেসি। কিউইদের দুই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট ও নেইল ওয়াগনারের বোলিং তোপে ২২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে দারুণ চাপে পরে সফরকারীরা। দলীয় ১০ রানে চাপের শুরু হয় স্টিফেন কুককে আউট করে। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে তাকে বিদায় করেন বোল্ট।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খায় দলীয় ২০ রানে। দলের সেরা ব্যাটসম্যান হাসিম আমলাকে বোল্ড করে দেন ওয়াগনার। তার ইনসুইং বলটি ঠিকভাবে খেলতে না পারায় ব্যাট প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে উইকেটে। চার বল আবার ওয়াগনার। এবার কুপোকাত জেপি ডুমিনি। ওয়াগনারের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন টেইলরের হাতে।

তবে তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক ডু প্লেসিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন এলগার। গড়ে তোলেন ১২৬ রানের জুটি। কিউইদের জন্য ভয়ংকর হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙ্গেন জেমস নিশাম। তার শর্ট বল টপ এজে লেগে চলে যায় স্কোয়ার লেগে। আর সে ক্যাচ তালুবন্দি করতে কোন ভুল করেননি বোল্ট। তবে আউট হওয়ার আগে খেলেন ৫২ রানের ইনিংস।

অধিনায়কের বিদায়ের পর টেম্বা বাভুমাকে নিয়ে দলের হাল ধরেন এলগার। ৬৭ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত আছেন দুই ব্যাটসম্যানই। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২৮ রানের ইনিংস খেলেন এলগার। ২৬২ বলে ২২টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। বাভুমা অপরাজিত আছেন ৩৮ রানে।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৫৯ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন ওয়াগনার। এছাড়া বোল্ট ও নিশাম পান ১টি করে উইকেট।

লাঞ্চের পর মোস্তাফিজের আঘাত

মিরাজের জোড়া আঘাতের পর লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানলেন দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করতে থাকা মোস্তাফিজ। লাঞ্চের পর হেরাথকে সৌম্যের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান কাটার মাস্টার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৪৬০ রান।

দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই উইকেটের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ শিবির। তবে টাইগার বোলারদের দেখাশুনে খেলেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান মেন্ডিস ও ডিকভেলা। তবে ইনিংসের ৯৫তম ওভারে মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মোস্তাফিজ। শুভাশিষের শর্ট বলে হুক করলেন মেন্ডিস। ফাইন লেগ সীমানায় দাঁড়িয়ে ক্যাচও ধরলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু মুস্তাফিজ বল ধরে চলে গেলেন সিমানার বাইরে। ফলে যেটি হতে পারত আউট, সেটিতেই ছয়।

অবশেষে ইনিংসের ১০৪তম ওভারে এসে উইকেটের দেখা পেলো বাংলাদেশ শিবির। মিরাজের বলে ১৯৪ রান নিয়ে ক্রিজে থাকা মেন্ডিস ছয় মেরে ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করতে গিয়ে লং অন সীমানায় দুবারের চেষ্টায় দারুণ ক্যাচ নিলেন তামিম ইকবাল। আর এর সঙ্গে শেষ হল মেন্ডিসের দুর্দান্ত এক ইনিংস। মেন্ডিসের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারলেন না আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান ডিকভেলা। ব্যক্তিগত ৭৫ রান করে মিরাজের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন এই তারকা।

প্রথম দিনের শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। তবে আস্তে আস্তে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। নো বলের কল্যাণে বেঁচে যাওয়া কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভর করে স্বাগতিকরা শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের। প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ১৫ রানের মাথায় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা (৪) বোল্ডআউট শুভাশিস রায়ের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে। ৬০ রানে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন; মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরান করুনারত্নেকে (৩০)।

দলীয় ৯২ রানে দিনেশ চান্দিমালকে (৫) হারায় স্বাগতিকরা। এ যাত্রায় উইকেট শিকারি মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর আর কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ! উইকেটের দেখা নেই। চতুর্থ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস ও গুনারত্নে শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের।

এই জুটিতে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। পড়ন্ত বেলায় নতুন বলে সফল হন তাসকিন। ৮৫ রান করা গুনারত্নে বোল্ড হন। আর তাতে বাংলাদেশ শিবিরে নেমে আসে স্বস্তি। আর প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার।

মেন্ডিসের পর ডিকভেলাকেও ফেরালেন মিরাজ

মেন্ডিসের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারলেন না আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান ডিকভেলা। ব্যক্তিগত ৭৫ রান করে মিরাজের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন এই তারকা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৪০ রান।

এর আগে নো বলের কল্যাণে আগের দিন বেঁচে যাওয়া কুশল মেন্ডিসের সামনে সুযোগ ছিল ডাবল সেঞ্চুরির। দ্বিতীয় দিনে সে পথে এগিয়েও যাচ্ছিলেন। তবে কাছাকাছি এসে আর ধৈর্য্য হারিয়ে ফেললেন। মিরাজের বলে ছয় মেরে কাঙ্ক্ষিত সেই ডাবল সেঞ্চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন তামিমের হাতে। দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে অবশেষে সাজঘরে ফেরালেন ১৯৪ রান করা কুশল মেন্ডিসকে।

দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই উইকেটের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ শিবির। তবে টাইগার বোলারদের দেখাশুনে খেলেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান মেন্ডিস ও ডিকভেলা। তবে ইনিংসের ৯৫তম ওভারে মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মোস্তাফিজ। শুভাশিষের শর্ট বলে হুক করলেন মেন্ডিস। ফাইন লেগ সীমানায় দাঁড়িয়ে ক্যাচও ধরলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু মুস্তাফিজ বল ধরে চলে গেলেন সিমানার বাইরে। ফলে যেটি হতে পারত আউট, সেটিতেই ছয়।

অবশেষে ইনিংসের ১০৪তম ওভারে এসে উইকেটের দেখা পেলো বাংলাদেশ শিবির। মিরাজের বলে ১৯৪ রান নিয়ে ক্রিজে থাকা মেন্ডিস ছয় মেরে ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করতে গিয়ে লং অন সীমানায় দুবারের চেষ্টায় দারুণ ক্যাচ নিলেন তামিম ইকবাল। আর এর সঙ্গে শেষ হল মেন্ডিসের দুর্দান্ত এক ইনিংস।

প্রথম দিনের শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। তবে আস্তে আস্তে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। নো বলের কল্যাণে বেঁচে যাওয়া কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভর করে স্বাগতিকরা শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের। প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ১৫ রানের মাথায় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা (৪) বোল্ডআউট শুভাশিস রায়ের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে। ৬০ রানে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন; মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরান করুনারত্নেকে (৩০)।

দলীয় ৯২ রানে দিনেশ চান্দিমালকে (৫) হারায় স্বাগতিকরা। এ যাত্রায় উইকেট শিকারি মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর আর কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ! উইকেটের দেখা নেই। চতুর্থ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস ও গুনারত্নে শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের।

এই জুটিতে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। পড়ন্ত বেলায় নতুন বলে সফল হন তাসকিন। ৮৫ রান করা গুনারত্নে বোল্ড হন। আর তাতে বাংলাদেশ শিবিরে নেমে আসে স্বস্তি। আর প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার।

তামিমের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে মেন্ডিস

নো বলের কল্যাণে আগের দিন বেঁচে যাওয়া কুশল মেন্ডিসের সামনে সুযোগ ছিল ডাবল সেঞ্চুরির। দ্বিতীয় দিনে সে পথে এগিয়েও যাচ্ছিলেন। তবে কাছাকাছি এসে আর ধৈর্য্য হারিয়ে ফেললেন। মিরাজের বলে ছয় মেরে কাঙ্ক্ষিত সেই ডাবল সেঞ্চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন তামিমের হাতে। দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে অবশেষে সাজঘরে ফেরালেন ১৯৪ রান করা কুশল মেন্ডিসকে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৪০৭ রান।

দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই উইকেটের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ শিবির। আর টাইগার বোলারদের দেখাশুনে খেলেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান মেন্ডিস ও ডিকভেলা। তবে ইনিংসের ৯৫তম ওভারে মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মোস্তাফিজ। শুভাশিষের শর্ট বলে হুক করলেন মেন্ডিস। ফাইন লেগ সীমানায় দাঁড়িয়ে ক্যাচও ধরলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু মুস্তাফিজ বল ধরে চলে গেলেন সিমানার বাইরে। ফলে যেটি হতে পারত আউট, সেটিতেই ছয়।

অবশেষে ইনিংসের ১০৪তম ওভারে এসে উইকেটের দেখা পেলো বাংলাদেশ শিবির। মিরাজের বলে ১৯৪ রান নিয়ে ক্রিজে থাকা মেন্ডিস ছয় মেরে ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করতে গিয়ে লং অন সীমানায় দুবারের চেষ্টায় দারুণ ক্যাচ নিলেন তামিম ইকবাল। আর এর সঙ্গে শেষ হল মেন্ডিসের দুর্দান্ত এক ইনিংস।

প্রথম দিনের শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। তবে আস্তে আস্তে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। নো বলের কল্যাণে বেঁচে যাওয়া কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভর করে স্বাগতিকরা শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের। প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ১৫ রানের মাথায় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা (৪) বোল্ডআউট শুভাশিস রায়ের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে। ৬০ রানে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন; মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরান করুনারত্নেকে (৩০)।

দলীয় ৯২ রানে দিনেশ চান্দিমালকে (৫) হারায় স্বাগতিকরা। এ যাত্রায় উইকেট শিকারি মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর আর কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ! উইকেটের দেখা নেই। চতুর্থ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস ও গুনারত্নে শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের।

এই জুটিতে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। পড়ন্ত বেলায় নতুন বলে সফল হন তাসকিন। ৮৫ রান করা গুনারত্নে বোল্ড হন। আর তাতে বাংলাদেশ শিবিরে নেমে আসে স্বস্তি। আর প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার।

দ্রুত উইকেটের আশায় বাংলাদেশ

প্রথম দিনের শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। তবে আস্তে আস্তে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। নো বলের কল্যাণে বেঁচে যাওয়া কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভর করে স্বাগতিকরা শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের। তবে দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ শিবির। আর সেই লক্ষ্যে যথাসময়ে শুরু হওয়া ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে উইকেটের আশায় বল করছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৬৬ রান।

এর আগে প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ১৫ রানের মাথায় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা (৪) বোল্ডআউট শুভাশিস রায়ের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে। ৬০ রানে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন; মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরান করুনারত্নেকে (৩০)।

দলীয় ৯২ রানে দিনেশ চান্দিমালকে (৫) হারায় স্বাগতিকরা। এ যাত্রায় উইকেট শিকারি মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর আর কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ! উইকেটের দেখা নেই। চতুর্থ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস ও গুনারত্নে শাসন করেছেন বাংলাদেশি বোলারদের।

এই জুটিতে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। পড়ন্ত বেলায় নতুন বলে সফল হন তাসকিন। ৮৫ রান করা গুনারত্নে বোল্ড হন। আর তাতে বাংলাদেশ শিবিরে নেমে আসে স্বস্তি। আর প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার।

‘নো’ বলের হতাশা, মেন্ডিসের সেঞ্চুরি

প্রভাতের সূর্যই নাকি বলে দেয় দিনের পূর্বাভাস। কিন্তু এবার তো উল্টো হলো! পূর্বের সূর্য তখন গল স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচাকে রূপালি রূপে রাঙিয়ে তুলছিল। বাংলাদেশের জন্য রূপালি সকালের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু দিন শেষে চোখে মুখে বিষাদের ছায়া, কন্ঠে হতাশার সুর! কে জানত, পশ্চিমের কোলে যখন সূর্য ডুববে, তখন ব্যাকফুটে থাকবে বাংলাদেশ।

গলে টস জিতে বংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কা প্রথম দিন শেষে তুলেছে ৪ উইকেটে ৩২১ রান। কুশল মেন্ডিস বাংলাদেশকে একাই ভুগিয়েছেন। তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ১৬৬ রান। কিন্তু দিন শেষে তার ‘আউট’ নিয়েই আফসোস বাংলাদেশের!

পেসার শুভাশীষ রায়ের বাড়তি পেস ও সুইংয়ে উইকেট হারানো থারাঙ্গার ফিরে যাবার পর ক্রিজে আসেন মেন্ডিস। নতুন ব্যাটসম্যান মেন্ডিসকেও দারুণ এক ইনসুইংয়ে আমন্ত্রণ শুভাশীষের। শরীর কাছের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মেন্ডিস। আউট হয়েছেন বুঝতে পেরে নিজেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। পাকিস্তানের আম্পায়ার আলীম দারও মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মেন্ডিসকে পেছন থেকে ডেকে আলীম দার বললেন, ‘একটু অপেক্ষা কর। নো বল চেক করছি’। মহাবিপদ! টিভি রিপ্লেতে চেক করে আম্পায়ার জানালেন, ‘গেট ব্যাক। ইটস নো বল’! অসাধারণ বল ও দুর্দান্ত ক্যাচের অপমৃত্যু! আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম রাগ ঝেরেছেন শুভাশীষের ওপর!

যার নামের পাশে থাকত না কোনো রান, সেই ব্যাটসম্যান ১৬৬ রানে অপরাজিত! তার সঙ্গে ১৪ রানে অপরাজিত আছেন নিরেশান ডিকভেলা। সাজঘরে ফিরেছেন উপুল থারাঙ্গা (৪), দিমুথ করুনারত্নে (৩০),  দিনেশ চান্দিমাল (৫), আসেলা গুনারত্নে (৮৫)। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে সাফল্য এনে দিয়েছেন শুভাশীষ রায়, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

সাফল্য-ব্যর্থতায় কোনোভাবে প্রথম দিন শেষ হলেও বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে কিছুটা হলেও প্রশ্ন উঠছে। গলে প্রথম তিন দিন ব্যাটসম্যানের, শেষ দুদিন বোলারদের- এখানকার গ্রাউন্সম্যানদেরও এ পরিসংখ্যান মুখস্ত। সেখানে বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার নিয়ে, স্বাগতিকেরা তিন স্পিনার নিয়ে। তৃতীয় ও চতুর্থ ইনিংসে স্পিনাররা  ফল বের করতে বড় ভূমিকা রাখবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাসকিন ও মুস্তাফিজ অটোমেটিক চয়েজ হিসেবে একাদশে ঢুকেছেন। সেখানে কামরুল ইসলাম রাব্বিকে টপকে একাদশে শুভাশীষ। তবে তার প্রথম স্পেলের বোলিং সবার মন জয় করেছে ঠিকই। ইনজুরি থেকে ফিরে এসে মুস্তাফিজ দারুণ বল করেছেন। উইকেট টু উইকেটে একাধারে বল করে গেছেন। তাসকিনও ভালো হাত ঘুরিয়েছেন।

থারাঙ্গাকে দিনের শুরুতে হারানোর পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। ৪৫ রানের জুটি গড়েন মেন্ডিস ও করুনারত্নে। মধ্যাহ্ন বিরতির ৯ বল আগে এ জুটি ভাঙেন স্পিনার মিরাজ। ডানহাতি এ স্পিনারের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেট হারান ৩০ রান করা করুনারত্নে। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দিনেশ চান্দিমালকে সাজঘরে পাঠান মুস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় স্পেলে এসে প্রথম সাফল্য পান ‘কাটার মাস্টার’। মুস্তাফিজের ফুলার লেংথ বল ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন ৫৪ বলে ৫ রান করা চান্দিমাল। এরপর বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন মেন্ডিস ও গুনারত্নে। ১৯৬ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। চা-বিরতির আগে ৮০ রানে অপরাজিত থাকা মেন্ডিস বিরতির ঠিক পরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। এরপর খুব অল্প সময়ে পৌঁছে যান দেড়শতে। অন্যদিকে গুনারত্নেও হাঁটছিলেন সঙ্গীর দেখানো পথে। কিন্তু নতুন বলে তাসকিন আটকে দেন তাকে। নতুন বল নিয়ে তাসকিন ৮৩তম ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড করেন গুনারত্নকে। তাসকিনের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে উইকেট হারান ১৩৪ বলে ৮০ রান করা গুনারত্নে।

হাসি-মুখে দিন শুরু করা বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ‘নো’ বলের হতাশা নিয়ে। ইশ, শুভাশীষ রানআপটা ঠিক রাখলে গলের প্রথম দিনটি হতে পারত শুধু বাংলাদেশের!

দুর্দান্ত জয়ে সমতা ফেরাল ভারত

এরই নাম টেস্ট ক্রিকেট! বেঙ্গালুরু টেস্টের প্রথম দুই দিনের পর তৃতীয় দিনের দুই সেশন পর্যন্তও ভারতকে আর গোনায় ধরা হচ্ছিল না। অস্ট্রেলিয়াকেই সম্ভাব্য জয়ী ভেবে নেওয়া হচ্ছিল। সেই টেস্ট ম্যাচই চতুর্থ দিনে এসে কী দুর্দান্তভাবেই না জিতে নিল ভারতীয় দল।

১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে ১১ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১১২ রানেই অলআউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ৭৫ রানে ম্যাচ জিতে চার ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে বিরাট কোহলির দল।

বেঙ্গালুরুর উইকেটের যা অবস্থা তাতে ১৮৮ রানই ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলের ২২ রানে ম্যাট রেনশর উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ইশান্ত শর্মার বলে ঋদ্ধিমান সাহার হাতে ক্যাচ দেন রেনশ।

এরপর ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ দলকে ৪২ পর্যন্ত টেনে নিয়েছিলেন। অশ্বিনের আগের ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ওয়ার্নার। কিন্তু ভারতীয় স্পিনারের পরের ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার (১৭)।

তৃতীয় উইকেটে ২৫ রানের জুটি গড়েছিলেন স্মিথ ও শন মার্শ। কিন্তু ৭ রানের মধ্যে দুজনকেই এলবিডব্লিউ করেন উমেশ যাদব। স্মিথ করেন ২৮ রান, মার্শ ৯। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৭৪।

আর চা বিরতির আগে নিজের পরপর দুই ওভারে অশ্বিন ফিরিয়ে দেন মিচেল মার্শ ও ম্যাথু ওয়েডকে। তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ভারতের হাতে।

শর্ট লেগে মিচেলের ক্যাচ নেন করুন নায়ার। আর ওয়েডকে দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফেরান ঋদ্ধিমান। তখনই অস্ট্রেলিয়া চা বিরতিতে যায় ৬ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে। তখনো জয়ের জন্য সফরকারীদের প্রয়োজন ৮৭ রান।

কিন্তু চা বিরতির পর ৯ ওভারও টেকেনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস! সেখানেও অসিদের ঘাতক সেই অশ্বিনই। শেষ ৪ উইকেটের ৩টিই নিয়েছেন তিনি। নাথান লায়নকে নিজের ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ইতিও টানেন ভারতীয় অফ স্পিনার।

অশ্বিন ৪১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ৩০ বছর বয়সি স্পিনার ক্যারিয়ারে ২৫তম বারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন।

এর আগে তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল ভারত। সেখান থেকে চেতেশ্বর পূজারা ও অজিঙ্কা রাহানের বড় জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক দল।

আজ চতুর্থ দিনে ১১৮ রানের এ জুটি ভাঙার পরই আবার দৃশ্যপটে পরিবর্তন। ৪ উইকেটে ২৩৮ থেকে দ্রুতই ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৪৬! ৯ বল আর ৮ রানের মধ্যেই পড়ে ৪ উইকেট! একে একে ফেরেন রাহানে (৫২), নায়ার (০), পূজারা (৯২), অশ্বিন (৪)।

দ্রুত নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান উমেশ যাদবও। তবে শেষ উইকেটে ঋদ্ধিমান সাহা ও ইশান্ত শর্মার মূল্যবান ১৬ রানের জুটিতে স্বাগতিকরা অলআউট হওয়ার আগে তোলে ২৭৪ রান।

২০ রানে অপরাজিত ছিলেন ঋদ্ধিমান। ৬৭ রানে ৬ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার জশ হ্যাজেলউড। তখনও কে ভেবেছিল, ১৮৮ রানের পুঁজি নিয়েও এই ম্যাচ জিতে যাবে ভারত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত প্রথম ইনিংস: ৭১.২ ওভারে ১৮৯

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১২২.৪ ওভারে ২৭৬

ভারত দ্বিতীয় ইনিংস: ৯৭.১ ওভারে ২৭৪ (পূজারা ৯২, রাহানে ৫২, রাহুল ৫১; হ্যাজেলউড ৬/৬৭, ও’কিফ ২/৩৬, স্টার্ক ২/৭৪)

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৮৮) ৩৫.৪ ওভারে ১১২ (স্মিথ ২৮, হ্যান্ডসকম ২৪, ওয়ার্নার ১৭; অশ্বিন ৬/৪১, উমেশ ২/৩০, জাদেজা ১/৩)

ফল: ভারত ৭৫ রানে জয়ী

সিরিজ: চার ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: লোকেশ রাহুল।

এবার মোস্তাফিজের শিকার চান্দিমাল

বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে চার ম্যাচের তিনটিতেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দীনেশ চান্দিমাল। এমনকি প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলেছেন অপরাজিত ১৯০ রানের ইনিংস। তাই তাকে নিয়ে দুর্ভাবনায়ই ছিল টাইগাররা। তবে স্বস্তির খবর তাকে ফেরাতে পেরেছে মুশফিকবাহিনী। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের বলে আউট হন এ লঙ্কান।

সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের অবসরের পর শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার চান্দিমাল। তাই তার ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে ছিল লঙ্কানরা। তবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন এ লঙ্কান। মোস্তাফিজের ১২৭ কিমি গতির অফ কাটার ঠিক মত খেলতে পারেননি তিনি। গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন চান্দিমাল। ৫৪ বল মোকাবেলা করে করেছেন মাত্র ৫ রান।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১১১ রান। ৫২ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন কুসল মেন্ডিস। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে নেমেছেন গুনারত্নে।

এর আগে সকালে টস জিতে প্রথম ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। দলীয় ষষ্ঠ ওভারে বল হাতে নিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই বোল্ড করেন উপুল থারাঙ্গাকে। পরের বলেও পেয়েছিলেন উইকেট। দারুণ এক ইনসুইংয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দি করেছিলেন মেন্ডিসকে। তবে নো-বল করায় সে যাত্রা বেঁচে যান মেন্ডিস।

জীবন পেয়ে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকেন মেন্ডিস। আরেক ওপেনার কারুনারাত্নের সঙ্গে গড়েন ৪৫ রানের জুটি। তবে দলীয় ৬০ রানে কারুনারাত্নে ফেরান বাংলাদেশের আরেক বিস্ময় বালক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার গুড লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পারলে ব্যাটে লেগে বোল্ড আউট হয়ে যান কারুনারাত্নে (৩০)।

অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বিড়ম্বনা!

দীনেশ রত্নাসিঙ্গম, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া ম্যানেজার। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সিরিজ কাভার করতে যে সব বাংলাদেশি সাংবাদিক এখন শ্রীলঙ্কায়, কিংবা আরও যারা আসবেন, তাদের সবার মনে গেঁথে যাওয়া এক নাম। এতটুকু শুনে ভাববেন না, এ লঙ্কান ভদ্রলোক খুব ভদ্র-বিনয়ী এবং কর্মপটু। ভদ্রতাবোধে ঘাটতি না থাকলেও কর্ম তৎপরতায় রাজ্যের ঘাটতি। তা টের পাওয়া গেছে ঢাকা থেকেই।

অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য আবেদন করার প্রায় ১০/১২ দিন পর জবাব এসেছে সবার কাছে। যা রীতিমত অস্বাভাবিক দেরি। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঐ অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিশ্চিতের ওপর নির্ভর করছিল সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের ভিসার আবেদন। কারণ লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সুপারিশ পত্রই ভিসা আবেদনের অন্যতম বড় দলিল।

অথচ লঙ্কান মিডিয়া ম্যানেজার দীনেশ তা পাঠিয়েছেন সিরিজ শুরুর তিন-চারদিন আগে। যে কারণে ঢাকায় লঙ্কান হাইকমিশনে ভিসার আবেদন না করে বাংলাদেশি সাংবাদিক বহরে বড় অংশ সোজা কলম্বো বন্দনায়েকে বিমান বন্দরে এসে আগমনী ভিসা ( অন আরাইভাল ভিসা বা পোর্ট এন্ট্রি) করেছেন।

এদিকে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যাদের অ্যাক্রিডিটেশন দিয়েছে, তাদের অনেকেই আজ সকাল পর্যন্ত ভিসা পাননি। কাল (সোমবার) পর্যন্ত ভিসা না পাওয়া বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আজ সকালে খেলা শুরুর এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে গল স্টেডিয়ামে পৌঁছেও ঠিকমত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাননি।

পাবেন কি করে? লঙ্কান মিডিয়া ম্যানেজার দীনেশের দেখা মেলাই যে দায়! তিনি নাকি ব্যস্ত। কি নিয়ে? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, খেলা শুরুর আগে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজবে, তার তত্ত্বাবধানে থাকবেন দীনেশ।

এদিকে টসের সময় ঘনিয়ে এলো। সাংবাদিকরা অধীর অপেক্ষায়। কিন্তু হায়! দীনেশ আর আসেন না। অবেশেষে একজন কিছু কার্ড হাতে ঢুকলেন অফিস কক্ষে। তাও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নয়। অস্থায়ী কার্ড। সেটাও এমন সময় এলো, তার আগেই টস শেষ। তাই বেশ ক`জন বাংলাদেশি সাংবাদিকের আর প্রেস বক্সে বসে টস দেখা হলো না।

নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘন্টা আগে অ্যাক্রিডিটেশনের আবেদন করে টেস্ট শুরুর দিন সকালে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না পাওয়া! রীতিমত বিস্ময়কর ঘটনা! রীতিমত নিয়ম ও রীতির ব্যতিক্রমের রেকর্ড।

টেস্ট শুরুর ঘণ্টা দেড়েক আগে এসে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পেতে এমন ঝক্কি পোহানোয় কার মন ভালো থাকে? মেজাজটা বিগড়ে গেল। তবে মেজাজ ভালো হয়ে গেল গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে ঢুকে। বলে রাখা ভালো, প্রেস বক্সের আকার, স্থাপনা ও নকশা সবই বাংলাদেশের মতই। তবে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। এখানে প্রেস বক্স দুটি। একটি স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য। অন্যটি বিদেশি বা বহিরাগত সাংবাদিকদের জন্য। অর্থাৎ সিরিজ চলাকালীন বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য একটি প্রেস বক্স বরাদ্দ।

তার মানে গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে চলতি সিরিজের যে প্রথম টেস্ট শুরু হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে প্রিন্ট, ইলেক্টনিক্স ও অনলাইনের যে ২২ জন মিডিয়া কর্মী আছেন তারা সবাই এক প্রেস বক্সে। এ যেন বিদেশের মাটিতে এসেও নিজ ঘরের মত। চমৎকার সাজানো গোছানো প্রেস বক্স আকারে বাংলাদেশের টেস্ট ভেন্যু শেরেবাংলা, জহুর আহমেদ চৌধুরী, খান সাহেব ওসমান আলী, শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের চেয়ে বেশ ছোট তবে সুন্দর। আনুসাঙ্গিক সুযোগ সুবিধাও বেশ ভালো। হায়দরাবাদে ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ছিল রাজ্যের ত্রুটি। এখানে অবশ্য সে ঝামেলা নেই। ওয়েফাই সিস্টেম শুরু থেকেই কাজ করছে।

নাফীসের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি

ঘরোয়া ক্রিকেটে শেষ তিন বছরে ধারাবাহিক পারফরমার শাহরিয়ার নাফীস। জাতীয় লিগ ও বিসিএল বড় দীর্ঘের ক্রিকেটে নিজেকে অনন্য করে তুলেছেন এ ব্যাটসম্যান। তারপরও নির্বাচকদের দৃষ্টি কারতে সমর্থ হননি নাফীস। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) শেষ রাউন্ডের ম্যাচে দারুণ এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জাতীয় দলে ঢোকার দাবী আরও জোরালো করলেন বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

আগের দিনই ৭০১ রানের বিশাল সংগ্রহ করেছিল প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। তারপরও ইনিংস ঘোষণা করেনি শুধু শাহরিয়ার নাফীসের ডাবল সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায়। আর তৃতীয় দিন সকালে তা করে দেখালেন নাফীস। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

মঙ্গলবার সাভারের বিকেএসপিতে ১৭০ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামেন নাফীস। নিজেদের ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে এদিন বল খেলেন আরও ৪৮টি। সাদমান ইসলামকে চার মেরে দুশ স্পর্শ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত করেছেন অপরাজিত ২০৭ রান। ২৯৮ বল মোকাবেলা করে ১৮টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন তিনি।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এর আগেও ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন নাফীস। এই বিকেএসপিতেই ২০১৫ সালে জাতীয় লিগে বরিশালের হয়ে খুলনার বিপক্ষে ২১৯ করেছিলেন বাঁহাতি এই তারকা।

শুভাশিষের পর মিরাজের সাফল্য

শুভাশিষের পর বল হাতে সাফল্য পেলেন টাইগার বোলার মেহেদী মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল করুনারত্নে কাট করতে গেলে ব্যাটে লেগে বোল্ড হন লঙ্কান এই ওপেনার। প্রথম সেশন শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ৬১ রান।

টস হেরে বল করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে বাংলাদেশ। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে লঙ্কান দলের ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান শুভাশিষ। পরের বলেই আবার এসেছিল উইকেট। স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন কুসল মেন্ডিস। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি ছিল নো বল।

প্রথম বলে ক্যাচ দিয়েও জীবন পাওয়া কুসল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত হারানোর ধাক্বা সামাল দেন করুনারত্নে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গড়েন ৪৫ রানের জুটি। ইনিংসের ১৯তম ওভারে প্রথম স্পিন আক্রমণে আনে বাংলাদেশ। আর বল হাতে নিজের ঝলক দেখান মিরাজ। করুনারত্নেকে বোল্ড করে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন ডানহাতি এই অপ স্পিনার।

বাংলাদেশের একাদশ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশিষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ
দিমুথ করুনারাত্নে, উপুল থারাঙ্গা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, অসিলা গুনারত্ন, নিরোশান ডিকওয়েলা (উইকেটরক্ষক), লাকশান সানদাকান, দিলরুয়ান পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথ (অধিনায়ক), সুরাঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারা।

তিন পেসার নিয়ে মাঠে বাংলাদেশ দল

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক দলের অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। গলে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ১০.৩০ মিনিটে। আর তিন পেসার ও সাকিব আল হাসানসহ দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ।

মুশফিকুর রহীমের উইকেটকিপি ছাড়ার ফলে যে কপালপুড়ছে সাব্বির রহমানের, এ খবর জাগো নিউজের পাঠকরা জেনে গিয়েছেন বেশ আগে। একই সঙ্গে যে কপাল খুলে গেছে লিটন কুমার দাসের, এ খবরও জানা হয়ে গেছে পাঠকদের। গল টেস্টে বাংলাদেশের একাদশ কেমন হবে, তা নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশ্ন ছিল সাকিব-মিরাজের সঙ্গে আলাদাভাবে স্পিনার হিসেবে তাইজুলকে নেয়া হবে নাকি আরেকজন পেসার বেশি খেলানো হবে! তবে সে যাত্রায় স্পিন স্পেশালিস্ট হিসেবে তাইজুল ইসলামকে মাঠে না নামিয়ে বাড়তি পেসার হিসেবে শুভাশিষ রায়কে দলে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের টেস্ট দলের নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে জেনুইন সাতজন ব্যাটসম্যান। সাকিব আল হাসান অলরাউন্ডার হওয়ার কারণে, একজন ব্যাটসম্যান বেশি খেলানোর সুবিধাটা বেশ ভালোই পাওয়া যাচ্ছে। মেহেদী হাসান মিরাজ যদি নিজের ব্যাটিং প্রতিভাটা দেখাতে পারতেন, তাহলে ব্যাটসম্যাদের সংখ্যা আটজন ধরে নেয়া যেতো; কিন্তু ব্যাটসম্যান মিরাজের ওপর আশা করা যায় না। স্পিন স্পেশালিস্ট হিসেবেই এখন দলে নিয়মিত হয়ে গেছেন তিনি।

ওপেনিংয়ে ইমরুল না থাকায় তামিমের সঙ্গী সৌম্য। এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিকল্পও হাতে নেই। তিন নম্বরে মুমিনুল অটো চয়েজ। এরপর চারে উঠে আসার কথা রয়েছে মুশফিকুর রহীমের। আগে থেকেই চার নম্বরে ব্যাট করতেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মুশফিক উঠে এলে পাঁচে নেমে যাবেন রিয়াদ। আবার পাঁচ নম্বরে সাকিবও নেমে যেতে পারেন। তাহলে ছয় নম্বরে চলে যাবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চার-পাঁচ-ছয়, এ তিনটি জায়গায় মুশফিক-রিয়াদ-সাকিবই ব্যাট করবেন।

মুশফিক যেহেতু কিপিং করবেন না, সেহেতু সাত নম্বরে লিটন কুমার দাস নিশ্চিত। এখানে বিকল্প আর কেউ নেই। লিটন কুমার দাসের কারণে সাত নম্বর থেকে, এমনকি দল থেকেই বিদায় নিতে হচ্ছে সাব্বির রহমানকে। অভিষেকের পর সাত নম্বর স্থানটিতে একটা ভারসাম্য তৈরি করতে পেরেছিলেন সাব্বির; কিন্তু টিম কম্বিনেশনের কারণে সাইডলাইনেই বসে থাকতে হচ্ছে তাকে।

বাংলাদেশ একাদশ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশিষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক দলের অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। গলে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ১০.৩০ মিনিটে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের পরিসংখ্যানটা হতাশার। দুই দল এখন পর্যন্ত ১৬ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে মাত্র দুটি ড্র-ই বাংলাদেশের অর্জন। তবে সর্বশেষ দুই বছরে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ফলাফলও যথেষ্ট ভালো। জয় না পেলেও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের মাঠে দারুণ লড়াই করছে তারা। আর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের অতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়। সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে লঙ্কানরা। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়।

তাই সব দিক মিলিয়ে এবারই লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট জিতে নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগটা এবারই পাচ্ছে বাংলাদেশ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে এ ভাবনা অবান্তরও নয়। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কান ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম দল। আর সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ পারফরম্যান্স করা দলটি এখন পরিণত। তাই টেস্টে শ্রীলঙ্কা বধ এখন সময়ের দাবি টাইগারদের।

বাংলাদেশের একাদশ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশিষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ
দিমুথ করুনারাত্নে, উপুল থারাঙ্গা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, অসিলা গুনারত্ন, নিরোশান ডিকওয়েলা (উইকেটরক্ষক), লাকশান সানদাকান, দিলরুয়ান পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথ (অধিনায়ক), সুরাঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারা।

রিভিউ নিয়ে আবারো ব্যর্থ কোহলি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেকে ঠিক মেলে ধরতে পারছে না বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। বেঙ্গালুরুতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১২ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ রান। আর দুইবারই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি এই তারকা।

ইনিংসের ৩৫ তম ওভারে হ্যাজেলউডের বল কোহলির পায়ে লাগলে আউট দেন আম্পায়ার। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মেনে রিভিউ নেন কোহলি। আর এতে দেখা যায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ফলে ১৫ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান কোহলি।

এর আগে প্রথম ইনিংসেও ভুল রিভিউ নিয়ে হাসির পাত্র হওয়ার পাশাপাশি তীব্র সমালোচনার মুখে ভারত অধিনায়ক। দিনের ৩৪ তম ওভারের পঞ্চম বল করতে আসছেন স্পিনার নাথান লিওন। তার বলটির গতিবিধিই যেন ধরতে পারলেন না বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যান। ফলে বল এসে তার প্যাডে লাগল। এলবিডাব্লিউয়ের জোড়ালো আবেদন হলো। আম্পায়ার একটু দেখেই আঙুল তুলে দিলেন। কিন্তু কোহলি মোটেও মানতে পারছিলেন না সিদ্ধান্তটি। আম্পায়ারের আউট দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি রিভিউ চেয়ে বসেন।

তবে উইকেটের অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেশ রাহুল রিভিউ নিতে নিষেধ করেন কোহলিকে। কিন্তু এতে তার সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হয়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তেরও।

৮৭ রানে পিছিয়ে ব্যাট করছে ভারত

তৃতীয় দিনে লিডটা খুব বেশি বাড়াতে পারলো না অস্ট্রেলিয়া। আগের দিনের ৩৯ রানের সঙ্গে মাত্র ৪৮ রান যোগ করতেই বাকি চার উইকেট হারায় সফরকারীরা। ফলে প্রথম ইনিংসে ভারতের চেয়ে ৮৭ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করলো স্মিথ বাহিনী।

আগের দিনের ১৪ রানের সঙ্গে ১২ রান যোগ করা স্টার্ককে জাদেজার ক্যাচে পরিণত করে শুরুটা করেন অশ্বিন। এরপর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে অজি উইকেটরক্ষ-ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েডকে ৪০ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জাদেজা। আর লায়ন (০) ও হ্যাজেলউড (১) রানে জাদেজার বলে বিদায় নিলে ২৭৬ রানেই শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ভারতের পক্ষে জাদেজা ৬ ও অশ্বিন নেন ২ উইকেট।

এদিকে ৮৭ রানে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত সূচনা করেছে দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও অভিনব মুকুন্দ। এখন পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৩৫ রান। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রান করে স্বাগতিক ভারত।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজ দেখাবে যে সব চ্যানেল

গলে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর। আগামী ৭ মার্চ (মঙ্গলবার) সিরিজের প্রথম টেস্টের ১৫ মার্চ কলম্বোর পি সারা ওভালে দ্বিতীয় টেস্টে লঙ্কানদের মোকাবেলা করবে সফরকারী বাংলাদেশ। আর এ ম্যাচ দুটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে চ্যানেল নাইন এবং টেন ক্রিকেট। টেস্ট সিরিজ না দেখালেও ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

এদিকে টেস্ট সিরিজ শেষে ২২ মার্চ কলম্বোতে সীমিত ওভারের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আর ২৫ মার্চ ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২৮ মার্চ।  প্রথম দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায়।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি অনুষ্ঠিত হবে ১ এপ্রিল কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে দশটায়। ওয়ানডে সিরিজ শেষে আগামী ৪ এবং ৬ এপ্রিল কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচগুলো।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়

রুট ও ওকসের ব্যাটে ভর করে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে সফরকারী ইংল্যান্ড। আর এ জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজ এক ম্যাচ হাতে ২-০ তে জিতে নিয়েছে মরগানের দল।

অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  দলীয় ৪৬ রানেই ফিরে যান লুইস (৮), পাওয়েল (৯) ও হোপ (১৬)। তবে, একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের রানের চাকা সচল রাখেন ব্রাথওয়েট। ব্যক্তিগত ৪২ রান করা ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের বিদায়ের পর জেসন মোহাম্মদের ৫০ ও কালোর্স ব্রাথওয়েটের ২৩ রানের উপর ভর করে ২২৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিলিংসয়ের উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর রয়কে নিয়ে দলের হাল ধরেন রুট। রয় ৫২ রান করে বিদায় নিলে দ্রুত মরগান (৭), স্টোকস (১) ও বাটলারের (০) বিদায়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে শেষ দিকে ওকসকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয় এনে দেন রুট। রুট ৯০ আর ওকস ৬৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

টেস্ট নয় বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে খেলতে চায় অস্ট্রেলিয়া

দীর্ঘ ৯ বছর পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। তবে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের পর জানা যায় ১৮ আগস্ট দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকাতে পা রাখবে স্মিথ বাহিনী। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সফরে টেস্টের পরিবর্তে ওয়ানডেতে খেলতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট শুরু ২৭ আগস্ট থেকে। এরপর ঈদুল আজহার বিরতির পর মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর। তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৩ অক্টোবর পাঁচ ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে ভারতে আসবে অস্ট্রেলিয়া দল। আর ভারতে যেহেতু তখন শুধুই ওয়ানডে খেলবে, তাই বাংলাদেশকে দিয়েই প্রস্তুতিটা সেরে ফেলতে চাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে টেস্টের পরিবর্তে ওয়ানডে খেলার প্রস্তাব ক্রিকেট অস্টেলিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে না দিলেও আকারে-ইঙ্গিতে তাদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে বিসিবিকে। তবে প্রতিশ্রুত টেস্ট সিরিজটি বাদ দিয়ে অন্য কিছু খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে খেললেও সিরিজের টেস্ট দুটি পরে কোনো একসময় খেলতে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া দলের। দুই বোর্ডের আলোচনায় ঠিক হয়েছিল, দুই টেস্টের সিরিজটি হবে ২০১৫-এর অক্টোবরে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশে আসার ঠিক আগের দিন সিরিজ স্থগিত করে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

কোয়েটাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি

লাহোরে পিএসএলের আলোচিত ফাইনাল খুব একটা জমলো না। এক তরফাভাবে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়ের্সকে ৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিলো পেশোয়ার জালমি।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে পেশোয়ার জালমি। জবাব দিতে নেমে ১৬.৩ ওভারে ৯০ রান তুলতেই অলআউট কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ফলে ৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হলো এনামুল হক বিজয়ের দল।

পিএসএলের ফাইনালের মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়ে গেলো কোয়েটার ‍মূল শক্তিই ছিলো বিদেশিরা। টুর্নামেন্টজুড়ে পারফর্ম করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নেই। জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টে যোগ দিতে তিনি চলে এলেন কোয়ালিফায়ারের আগেই।

পুরো টুর্নামেন্টে কোয়েটাকে দারুণভাবে টেনেছেন কেভিন পিটারসেন। প্রথম কোয়ালিফায়ারেও তিনি ছিলেন দলটির অন্যতম পারফরমার; কিন্তু লাহোরে চরম অনিশ্চয়তাকর পরিস্থিতিতে তিনি খেলতে আসলেন না।

বিদেশিদের না পেয়ে কোয়েটাকে শেষ পর্যন্ত বিকল্প বেছে নিতে হলো। বাংলাদেশের এনামুল বিজয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রায়াদ এমরিত, দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে ফন উইক এবং জিম্বাবুয়ের শিন আরভিন।

এদের মধ্যে আরভিনই শুধুমাত্র সর্বোচ্চ ২৪ রান করতে সক্ষম হলেন। এছাড়া মরনে ফন উইক ১ রান, এনামুল হক বিজয় ৩, রায়াদ এমরিত করেন ৬ রান। বিদেশিদের সহযোগিতাছাড়া কোয়েটা যে পুরোপুরি অচল, প্রমাণ হয়ে গেলো ফাইনালের মধ্য দিয়েই।

কোয়েটার হয়ে ২২ রান করেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, ২০ রান করেন আনোয়ার আলি। বাকিরা দাঁড়াতেই পারেনি। পেশোয়ার জালমির হয়ে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ আসগর। ২টি করে উইকেট নেন হাসান আলি ও ওয়াহাব রিয়াজ। ১টি করে নেন মোহাম্মদ হাফিজ ও ক্রিস জর্ডান। বাকিজন রানআউট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামার সময় পেশোয়ার অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি বলেছিলেন, আগের ম্যাচেও টস হেরে আমরা ১৮০’র বেশি রান করেছিলাম এবং জিতেছি। আজও হয়তো ভালো কিছু হবে। ব্যাট করতে নেমে কামরান আকমলের ৪০, ড্যারেন স্যামির ১১ বলে অপরাজিত ২৮, মারলন স্যামুয়েলস ১৯, ডেভিড মালান করেন ১৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে পেশোয়ার জালমি।

তবে পিএসএলের ফাইনালে জয় যারই হোক, দিন শেষে ম্যাচটা তো শেষ হতে পেরেছে। যে চরম অনিশ্চয়তা ছিল, সে সব কাটিয়ে পিএসএলের ফাইনালের কল্যাণে ক্রিকেটেরই জয় হয়েছে।

লাহোরে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন না বিজয়

ইতিমধ্যেই বহুল আলোচিত পিএসএলের ফাইনাল শুরু হয়ে গেছে। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকান ক্রিকেটারদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর সেই যে ক্রিকটে নির্বাসিত হলো, এরপর এই প্রথম এমন কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাকিস্তানের মাটিতে। একের পর এক বোমা হামলার পরও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে গড়ালো পিএসএলের ফাইনাল।

ফাইনাল খেলার জন্য একদিন আগেই লাহোরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। লাহোর পৌঁছার পর শনিবারই কোয়েটা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন বিজয়। সেই ভিডিও আবার পোস্ট করা হয়েছে কোয়েটার টুইটার পেজে।

ওই ভিডিও বার্তাতেই বিজয় জানিয়েছেন, লাহোরের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সবই ঠিক আছে। ভিডিও বার্তায় বিজয় বলেন, ‘আমি এনামুল হক বিজয়। পিএসএল ফাইনালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের অংশ হতে পেরে আমি খুবই খুশি। ফাইনালের দিকেই তাকিয়ে আমি। আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য দোয়া করবেন। নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এখানে অনেক ভালো। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। ধন্যবাদ সবাইকে।’

কোয়েটার একাদশে এনামুল হক বিজয়

পিএসএলের প্রথম থেকেই দুর্দান্ত খেলে আসছিল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। এই দলটির হয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলেছিলেন এবং ছিলেন অন্যতম সেরা পারফরমার। ব্যাট এবং বল হাতে দারুণ খেলে দলকে শীর্ষে রেখেই প্লে-অফে তুলেছিলেন তিনি। যদিও, জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টের কারণে শ্রীলংকাগামী টিম বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ দিতে চলে আসেন।

তবে লাহোরে অনুষ্ঠিত পিএসএলের ফাইনালকে সামনে রেখে কোয়েটার আমন্ত্রণে সাড়া দেন বাংলাদেশ দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। বিসিবির অনুমতি নিয়ে শনিবার দুপুরেই লাহোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন বিজয়। শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, কোয়েটার একাদশেও জায়গা পেয়ে গেলেন তিনি।

লাহোরের আলোচিত এই ফাইনালে অবশ্য কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স ভালোমানে তেমন কোনো বিদেশি ক্রিকেটারকে পায়নি। সে কারণে এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে এই দলে খেলছেন জিম্বাবুয়ের শিন আরভিন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রায়াদ এমরিত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে ফন উইক।

এনামুল হক বিজয়ের তিন নম্বরে ব্যাট করার সম্ভাবনা রয়েছে। আহমেদ শেহজাদের সঙ্গে কোয়েটার ইনিংস ওপেন করার সম্ভাবনা রয়েছে মরনে ফন উইকের।

কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স : আহমেদ শেহজাদ, মরনে ফন উইক, এনামুল হক বিজয়, শিন আরভিন, সাদ নাসিম, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), আনোয়ার আলি, জুলফিকার বাবর, রায়াদ এমরিত, মোহাম্মদ নওয়াজ, হাসান খান।

পেশোয়ার জালমি : ডেভিড মালান, কামরান আকমল, মারলন স্যামুয়েলস, মোহাম্মদ হাফিজ, ইফতিখার আহমেদ, খুশদিল শাহ, ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), ক্রিস জর্ডান, ওয়াহাব রিয়াজ, হাসান আলি, মোহাম্মদ আসগর।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় স্কোর গড়তে চান সৌম্য

বেশ কিছু দিন ধরেই ছন্দে ছিলেন না সৌম্য সরকার। তার ব্যাট মোটে হাসছিল না। নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তার ব্যাটে রান আসতে শুরু করেছে। ছন্দে থাকলে সৌম্য ব্যাট যে হাসতেই থাকে; সে প্রমাণ আগেই মিলেছে।

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও তা হাতছাড়া করেছেন সৌম্য। খেলেছিলেন ৮৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। টেস্টে যা তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। টেস্ট ক্রিকেট বলে কথা। এই ইনিংসটাকে আরও লম্বা করতে পারলে দলের জন্যও ভালো হয়।

এসব বুঝতে কি আর বাকি আছে সৌম্যর? নিজেকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরতে চান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় স্কোর গড়তে মুখিয়ে বাংলাদেশি এই ওপেনার। বলেন, ‘ভারত সফরে যে ভুলগুলো করেছি। তা শুধরে নিতে হবে। লঙ্কানদের ব্পিক্ষে বড় স্কোর গড়াই এখন আমার লক্ষ্য। ইনিংসটাকে বড় করতে পারলে দল ভালো অবস্থানে যেতে পারে।

কোয়েটায় বিজয়ের সঙ্গে লাহোরে গেছেন যেসব বিদেশি ক্রিকেটার

নিরাপত্তা অজুহাতে লাহোরে যেতে রাজি হননি বিদেশি ক্রিকেটাররা। তাদের মধ্যে রয়েছেন কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের কেভিন পিটারসেন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, টাইমাল মিলস, লুক রাইট ও রিলে রুশো। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই তারকাদের অনুপস্থিতিতে পিএসএলের ফাইনালে কিছুটা হলেও আমেজ হারাবে।

তবে বসে নেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। যে করেই হোক, লাহোরের ফাইনালে বিদেশি ক্রিকেটারদের টানতে মরিয়া। সফলও হয়েছে! কোয়েটার হয়ে যেসব বিদেশি খেলোয়াড় খেলতে রাজি হননি; তাদের বিকল্প হিসেবে ক্রিকেটার হাজির করেছে লাহোরে।

anamul

ফাইনালের জন্য কোয়েটা দলে নিয়েছে পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড়। তারা হলেন- বাংলাদেশের এনামুল হক বিজয়, দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে ভন উইক, জিম্বাবুয়ের এলটন চিগুম্বুরা ও শন আরভিন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিয়াদ এমরিট।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনাল আজ। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় মাঠে গড়াবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি। দ্বিতীয় আসরের ট্রফির লড়াইটা হবে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স ও পেশোয়ার জালমির মধ্যে।

পেশোয়ার জালমির যেসব বিদেশি ক্রিকেটার লাহোরে পৌঁছেছেন

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও লাহোরেই হবে পাকিস্তান ক্রিকেট লিগের (পিএসএল) ফাইনাল। নিরাপত্তা অজুহাতে বেশ কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় সেখানে খেলতে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

তবে পিএসএলের ফাইনাল খেলতে লাহোরে যাচ্ছেন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি; এমনটাই আশাবাদী ছিলেন দলটির সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। তৃতীয় কোয়ালিফার ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি ভালো সুসংবাদ দিতে পারবো; যদি পেশোয়ার জালমি ফাইনালে ওঠে। আর সেই সুসংবাদই হলো- ড্যারেন স্যামির লাহোরে যাওয়া।’

অবশেষে আফ্রিদির আশা পূরণ হয়েছে। পেশোয়ার জালমি ফাইনালে উঠেছে। আর পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিও লাহোরে পৌঁছেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন স্বদেশি মারলন স্যামুয়েলস আর ইংল্যান্ডের দুই ক্রিকেটার; ডেভিড মালান ও ক্রিস জর্ডান।

কঠোর নিরাপত্তায় বিদেশি খেলোয়াড়দের স্বাগত জানায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। স্থানীয় সময় ১টা ৩০ মিনিটে আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন স্যামি-স্যামুয়েলসরা। দুবাই থেকে তারা রওনা হন ইকে-৬২২ ফ্লাইটে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনাল আজ। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় মাঠে গড়াবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি। দ্বিতীয় আসরের ট্রফির লড়াইটা হবে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স ও পেশোয়ার জালমির মধ্যে। ফাইনালে তাই বিদেশি খেলোয়াড় পাচ্ছে পিএসএল।

বিএসজেএ’র সহ-সভাপতি হলেন জাগো নিউজের আরিফুর রহমান বাবু

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাগোনিউজ২৪.কমের বিশেষ সংবাদদাতা আরিফুর রহমান বাবু।

সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন চারজন। তারা হলেন- জাগো নিউজের আরিফুর রহমান বাবু, বাংলা ট্রিবিউনের রায়হান আল মুঘনি, এশিয়ান টিভির মাহাবুবুল আলম খান ও ডেইলি স্টারের আনিসুর রহমান পল্টু। এদের মধ্যে পরাজিত হয়েছেন এশিয়া টিভির মাহাবুবুল আলম খান। বাকি তিনজন সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

babuএদিকে বাসসের সৈয়দ মো. মামুনকে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল আইয়ের সাইদুর রহমান শামীম। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একুশে টিভির জোনায়েদ হোসেন। এনটিভির বর্ষণ কবিরকে হারিয়ে যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন বৈশাখী টিভির এসএম সুমন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মাছরাঙা টিভির আবু সাদাত। সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাইয়িদ পিতু, অঘোর মন্ডল, সুব্রত সাহা, মাজহার উদ্দিন অমি, আরাফাত জোবায়ের, মিনহাজ উদ্দিন।

শততম টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছেন ইমরুল!

হায়দরাবাদ টেস্ট খেলতে ভারতও গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ফের ইনজুরিতে পড়েন। মূলত তার উরুর পুরনো ব্যথাই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটই করতে পারেননি ইমরুল। কী আর করার! দেশের বিমান ধরতে হয়েছিল তাকে। এর আগে ওয়েলিংটন টেস্টে চোট পেয়েছিলেন ইমরুল।

টানা দুই টেস্টে ইনজুরি। সেজন্যই হয়তো ইমরুলকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি বাংলাদেশ দলের নির্বাচকরা। তাদের যুক্তি- ইমরুল এখনও পুরোপুরি ফিট নন। ২১ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘোষিত ১৬ সদস্যের বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন। তবে প্রধান নির্বাচক জানিয়েছিলেন, ঘরোয়া লিগে নিজেকে ফিট প্রমাণ করতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টে ফিরতে পারেন ইমরুল।

গত রোববার বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে ফিটনেসের সেই প্রমাণটাই বোধ হয় দেয়ার চেষ্টা করেছেন ইমরুল। পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে ১৩৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন। ২১০ বলে যা সমৃদ্ধ ১৮টি চার ও ২টি ছক্কায়। ক্রিজে ছিলেন ২৯৪ মিনিট (৪ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট)।

বিসিএলে সাবলীলভাবেই দুই ম্যাচ খেলেছেন ইমরুল কায়েস। তার ফিটনেস দেখে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচকরা। টাইগার এই ওপেনারেকে কলম্বোর পি সারা ওভালে অনুষ্ঠিতব্য শততম টেস্টের জন্য শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ইমরুল শ্রীলঙ্কায় রওনা দেবেন ১১ মার্চ। আর সিরিজের দ্বিতীয় (শততম টেস্ট) মাঠে গড়াবে ১৫ মার্চ।

পিএসএলের ফাইনাল খেলতে লাহোর রওয়ানা হলেন বিজয়

শেষ পর্যন্ত পিএসএলের ফাইনাল খেলতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। যদিও অফফর্ম এবং ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন তিনি জাতীয় দলের বাইরে। তবুও ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে পিএসএলের পক্ষ থেকে ব্যাক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় লাহোরে ফাইনাল খেলার জন্য।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে আজ সকালের মধ্যেই ভিসার কাজ শেষ করেন বিজয় এবং দুপুর দেড়টায় পাকিস্তান এয়ারলাইন্সে করে ঢাকা ছেড়েছেন এই ওপেনার।

পিএসএলের ফাইনালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলার কথা রয়েছে এনামুল হক বিজয়ের। যে দলের হয়ে খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে আরব আমিরাতেই তিনি লিগ পর্ব শেষ করে এরপর যোগ দিয়েছেন শ্রীলংকায় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে।

চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে একের পর এক বিদেশি ক্রিকেটাররা যখন পাকিস্তান যেতে অস্বীকার জানাচ্ছে এবং নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছিল, তখনেই পিসিবির আমন্ত্রণে সাড়া দিলেন এনামুল হক বিজয়। শুধু তাই নয়, বিসিবিও তাকে অনুমতি দিয়েছে লাহোর গিয়ে পিএসএলের ফাইনাল খেলার জন্য। যদিও বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জানিয়েছেন, ‘নিজ দায়িত্বেই লাহোর গিয়ে খেলতে হবে বিজয়কে।’

পিএসএলের ফাইনাল খেলতে পারবেন না আফ্রিদি

দুর্দান্ত এক জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে পেশোয়ার জালমি। তবে দলটির ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ। লাহোরে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটিতে খেলতে পারছেন না ড্যাশিং অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি।

তৃতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে করাচি কিংসের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ডান হাতে ব্যাথা পান আফ্রিদি। এই ব্যাথাই তাকে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল থেকেই ছিটকে দিলো। এক ভিডিও বার্তায় আফ্রিদি নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে ১০ দিনের বিশ্রাম দিয়েছে। ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, ৫ মার্চ পিএসএলের ফাইনাল খেলতে পারবো না বলে।’

খুব করে ফাইনাল ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলেন আফ্রিদি। হয়তো তার ক্রিকেটিং ক্যারিয়ারে এটাই হয়ে থাকতো শেষ কোনো ফাইনাল; কিন্তু সর্বণাশা ইনজুরি আর ফাইনাল খেলতে দিলো না আফ্রিদিকে। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব করে চেয়েছিলাম ফাইনালটি খেলতে। বিশেষ করে লাহোরে আমার দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের সামনে। কিন্তু এখানে এমন একটি বিষয় ঘটে গিয়েছে যেটা আমার নিজের হাতে কিংবা অন্য কারো হাতে নেই।’

শ্রীলংকায় এখন তুমুল আলোচনায় হাথুরুসিংহে

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলংকার সাবেক এই ক্রিকেটার নিজ দেশের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৮ সালে। তবে ওই সময় শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার কারণে চাকরি ছাড়তে হয় তাকে এবং অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি খুঁজে নেন বাংলাদেশের বর্তমান কোচ। এরপর এক সময় তো চলেই এলেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ হয়ে। বাকিটা ইতিহাস।

সেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহেই এখন শ্রীলংকার মাটিতে, স্বদেশের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য নিয়ে গেলেন বাংলাদেশের টাইগারদের। তার সঙ্গী আরও দুই লংকান। শ্রীলংকার এক সময়ের পেস বোলার মারিও ভিল্লাভারায়ন, যিনি এখন বাংলাদেশ দলের ট্রেনার এবং জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান থিলান সামারাবিরা, যিনি ব্যাটিং কোচ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে এখন এই তিন লংকানকেই যত ভয় স্বাগতিক শ্রীলংকার খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং দর্শকদের। কারণ, শ্রীলংকা দলের অন্দর মহলের খবর তো এই তিনজন খুব ভালোকরেই জানেন। তাদের দুর্বলতা, শক্তি- সবকিছুই। এ কারণেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে শ্রীলংকাজুড়ে তুমুল আলোচনায় চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এবং তার দুই সতীর্থ ভিল্লাভারায়ন ও থিলান সামারাবিরা।

শ্রীলংকার পত্রিকাগুলোতেও তুমুল আলোচনা। কলম্বো থেকে প্রকাশিত ‘ন্যাশন’ পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধই চাপানো হয়েছে আজ। ‘হাথুরুসিংহে ইনভেডস শ্রীলংকা’ শিরোনামে প্রকাশিত এই নিবন্ধটিতে বাংলাদেশ কোচের উত্থান, তার সঙ্গে শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ডের অতীত আচরণ এবং তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হাথুরুসিংহের অধীনে মাত্র কিছুদিন আগেই ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ।

নিজ দেশে প্রতিপক্ষ হলেও ৪৮ বছর বয়সী হাথুরুসিংহে এখানে পুরোপুরি পেশাদার। যদিও শ্রীলংকা থেকে একবার তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। সেই প্রতিহিংসা থেকেই মনেপ্রাণ চান, শ্রীলংকাকে হারতে। জানিয়ে দিয়েছেন, তার অধীনে বাংলাদেশ যদি শ্রীলংকাকে হারাতে পারে, তাহলে এটা হবে অনেক বড় একটি অর্জন। যদিও নিজ দেশের হয়ে ক্রিকেটে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারার আক্ষেপও পোড়ায় তাকে।

ন্যাশন পত্রিকাকে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘হ্যাঁ আমাকে এখান থেকে (শ্রীলংকান ক্রিকেট) সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। এবং সত্যিই আমি দেশের হয়ে ক্রিকেটে ভূমিকা রাখতে পারিনি বলে খুব হতাশ। তবে আমি এখন যা করছি এটা নিয়ে খুবই খুশি।’

সাবেক লংকান এই ওপেনার আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এখনই সময়, আমার অধীনে বাংলাদেশ কতটুকু উন্নতি করেছে সেটা দেখিয়ে দেয়ার।’

শ্রীলংকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ ইতিমধ্যেই নিজেদের চিন্তার কথা জানিয়ে দিয়েছে এই তিন লংকানকে নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘থিলান সামারাভিরা, চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানে আমাদের কোথায় দুর্বলতা। কিংবা কোথায় আমাদের শক্তি। আমি নিশ্চিত তারা এগুলো নিয়ে কাজ করবে। সুতরাং আমাদেরকে নতুন কোনো পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।’

কোচের প্রশংসা ঝরেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীদের কণ্ঠ থেকেও। তিনি বলেন, ‘গত দুই-আড়াই বছরের রেকর্ডই জানিয়ে দিচ্ছে তিনি (হাথুরুসিংহে) দলের জন্য কতটা নিবেদিতপ্রাণ। তার অধীনে অনেক উন্নতি করেছে আমাদের দল। এবং অনেক সাফল্যও এসেছে। আশা করছি এই সফরে সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করতে পারবো।’

কোহলিকে হারিয়ে চাপে ভারত

পুনে টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন মাত্র ১৩ রান। দল হেরেছিল তিন দিনেই। বেঙ্গালুরুতে আজ শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ব্যর্থ হয়েছেন বিরাট কোহলি। ১২ রান করে অধিনায়কের বিদায়ের সময় ভারতের স্কোর যে ৩ উইকেটে ৮৮।

সকালে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন কোহলি। দলে পরিবর্তন এসেছে দুটি। ২০১১ সালের পর টেস্ট দলে ফিরেছেন অভিনব মুকুন্দ। ওপেনিংয়ে তাকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন মুরালি বিজয়। অলরাউন্ডার জয়ন্ত যাদবের জায়গায় দলে ঢুকেছেন ইংল্যান্ড সিরিজের শেষ টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা করুন নায়ার।

দীর্ঘদিন পর দলে ফেরার প্রথম সুযোগটা অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি মুকুন্দ। ২৭ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে মেরেছেন ডাক। তৃতীয় ওভারে অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিচেল স্টার্কের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি।

শুরুর ধাক্কাটা সামলে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন লোকেশ রাহুল ও চেতেশ্বর পূজারা। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন গড়েন ৬১ রানের জুটি। কিন্তু লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আউট হয়ে ফেরেন পূজারা। স্পিনার নাথান লায়নের বলে পিটার হ্যান্ডসকমকে ক্যাচ দেওয়া পূজারার ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান।

লাঞ্চের পর রাহুলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কোহলি। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ক ১৭ বলের বেশি টিকতে পারেননি। লায়নের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান মাত্র ১২ রান করে। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। তখন ৮৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ভারত। এই প্রতিবেদন লেখার সময় ভারতের স্কোর ছিল ৩৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৯।

এইবারের বিপক্ষে নেই রোনালদো

একে তো নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে নেই গ্যারেথ বেল ও আলভারো মোরাতা, চোটের কারণে এইবারের বিপক্ষে ম্যাচে থাকছেন না রিয়াল মাদ্রিদের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও।

শুক্রবার দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অনুশীলনে দেখা যায়নি রোনালদোকে। সংবাদ সম্মেলনে কোচ জিনেদিন জিদান বলেছিলেন, রোনালদো কিছুটা পেশির সমস্যায় ভুগছেন। তাই তিনি অনুশীলন করেননি।

তবে পরে এইবারের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য রিয়াল যে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, সেখানে নেই রোনালদোর নাম। এইবারের মাঠে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত সোয়া ৯টায়।

বর্তমানে ২৪ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৫ ম্যাচে ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।

সাঙ্গাকারার না থাকা কতোটুকু স্বস্তির

অতীত পরিসংখ্যান বলছে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ‘ভুগিয়েছেন’ শ্রীলঙ্কান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা। তার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠা মানেই শ্রীলঙ্কার রানের পাহাড়। আর সেই পাহাড়ের চাপে বাংলাদেশ; বোলাররা ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’।

২০০২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মোট ১৬টি টেস্ট খেলেছে দুই দল। এর মধ্যে কুমার সাঙ্গাকারা খেলেছেন ১৫টি ম্যাচ। ১৫ টেস্টে ২১ ইনিংসে কুমার সাঙ্গাকারার রান ১৮১৬। ৭টি সেঞ্চুরির সঙ্গে রয়েছে ৭টি হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংস। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৪ ইনিংসে শ্রীলঙ্কার রান ৯৫৮৬। গড় রান ৩৯৯.৪১।  সেখানে সাঙ্গাকারার একার রান ১৮১৬ ও গড় রান ৯৫.৫৭। অর্থ্যাৎ মোট রানের তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ করেছেন সাঙ্গাকারা। বাকি ১০ লঙ্কান ক্রিকেটারের অবদান মাত্র দুই ভাগ!

বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি ট্রিপলসহ তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি সাঙ্গাকারার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫৪ রান দিয়ে রানের খাতা খুলেছিলেন সাঙ্গাকারা। অবসরের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ইনিংসে রান ১০৫। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রানের ইনিংস খেলার আগে প্রথম ইনিংসে খেলেছিলেন ক্যারিয়ার সেরা ৩১৯ রানের ইনিংস। প্রথম থেকে শেষ মুখোমুখি পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে সব সময়ই নতুন করে চিনিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। নিজের মাইলফলক নিজে ভেঙেছেন, নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

আবারও টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ১২ বছরের পরিচিত সেই মুখটি এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই! কুমার সাঙ্গাকারার না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির বিষয়। বাংলাদেশের বোলাররা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলতেই পারেন,‘যাক এবার অন্তত সাঙ্গাকারা নেই!’

সাঙ্গাকারাকে নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন না হলেও শ্রীলঙ্কান তরুণদের নিয়ে ভাবতেই হবে তাসকিন, রাব্বী, রুবেলদের। রঙিন পোশাকে আলো ছড়ানো দুই ওপেনার আসিলা গুনারত্নে ও নিরোশান ডিকভেলা সাদা পোশাকে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবেন। তাদের সঙ্গে আছেন দিমুথ করুনারত্নে ও কুসল মেন্ডিস। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের রয়েছেন দিনেশ চান্দিমাল ও উপল থারাঙ্গা। এদের নিয়ে পৃথক রণ কৌশল সাজাতেই হবে মুশফিক, তামিমদের।

তামিম-মুমিনুল-লিটনের ব্যাটে বাংলাদেশ ৩৯১

৭ মার্চ প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে আজ থেকে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৯১ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। লিটন কুমার দাস ৫৭ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত আছেন। তারা দুজন দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নামবেন।

বাংলাদেশের ৩৯১ রানের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদানটি রেখেছেন তামিম ইকবাল। তিনি ১৮২ বলে ৯ চার ও ৭ ছক্কায় ১৩৬ রান করে রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন। এরপর মুমিনুল হক ১০৩ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৭৩ রান করে রিটায়ার্ড আউট হন। এরপর সাকিব আল হাসান ৩০ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩ রান করে আউট হন। লিটন কুমার দাস ৫৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়াও আউট হয়েছেন সৌম্য সরকার (৯), মুশফিকুর রহিম (২১), মেহেদী হাসান মিরাজ (১)।

প্রস্তুতি ম্যাচে তামিমের সেঞ্চুরি

সবশেষ ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই নিজেকে জানান দিচ্ছেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান।

দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্টস একাদশের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। মোরাতুয়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে স্বাগতিকদের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যক্তিগত ৯ রানে সৌম্য সরকার ফিরলেও ধীরভাবেই এগোতে থাকেন আরেক ওপেনার তামিম। মুমিনুল হাকের সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যাটিংয়ের শুরুতে তেমন আগ্রাসী দেখা যায়নি তামিমকে।

ফিফটি তুলে নিতে ১০৮  বল মোকাবেলা করেন তামিম। ফিফটির পর আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। এরপর সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে মাত্র ৩৬ বল খেলেন তামিম। তবে ইনিংসের ৪৬তম ওভারটিতেই চমক দেখান তামিম। প্রবিন জয়াউইকরামার এক ওভারেই ২৪ রান নিয়ে টি-টোয়েন্টি স্টাইলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। এ সময় তামিমের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ৭৮ রান। আর ওই ওভারে ৩টি ছক্কা, ১ চার এবং একটি ডাবলস নিয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তামিম। সেঞ্চুরির গড়ার পথে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকান তামিম।

নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলে প্যাটেল ও নিসাম

ওয়ানডের পর টেস্টে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। আর ঘরের মাঠে প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।

প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ড দলে ডাক পেয়েছেন অফ-স্পিনার জিতান প্যাটেল। তার সঙ্গে দলে জায়গা হয়েছে জিমি নিসামেরও।

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড টেস্ট দলে ছিলেন ম্যাট হেনরি ও ডিন ব্রাউনলি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট স্কোয়াড জায়গা পাননি তারা। অন্যদিকে চার বছরের দীর্ঘ বিরতির পর গতবার ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলে ডাক পান প্যাটেল। দারুণ ফর্মে থাকায় এবার প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ডাক পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও প্রথম টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন নেইল ওয়াগনার।

জিতান প্যাটেলের স্কোয়াডে ফেরা নিয়ে কিউই নির্বাচক গাভিন লার্সেন এক বিবৃতিতে জানান, ‘বাহাতে বল স্পিন করার সামার্থ্য রয়েছে জিতানের। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মিচেল স্যান্টনারের মতো স্পিনারদের প্রেরণা দেবে।’

আগামী ৮ মার্চ ডানেডিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ড টেস্ট স্কোয়াড : কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ট্রেন্ট বোল্ট, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, টম লাথাম, জিমি নিসাম, হেনরি নিকোলাস, জিতান প্যাটেল, জিৎ রাভাল, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি, রস টেইলর, নেইল ওয়াগনার, বিজে ওয়াটলিং।

তামিম-মুমিনুলের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে মুশফিকরা। শুরুতে সৌম্যকে হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-মুমিনুলের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন সৌম্য। ব্যক্তিগত ৯ রানে সামারাকুনের বলে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই তারকা। এরপর মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন তামিম। দুইজনে মিলে লাঞ্চ বিরতির আগ পর্যন্ত ৮১ রানের জুটি গড়েন। তামিম ৩৮ আর মুমিনুল ৪৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৭ মার্চ। আর বাংলাদেশের শততম টেস্ট খেলতে ১৫ মার্চ মাঠে নামবে মুশফিক বাহিনী। টেস্ট ছাড়াও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

বাংলাদেশ স্কোয়াড:
লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদ, মেহেদি হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান , সৌম্য সরকার, শুভাশীষ রায়, তামিম ইকবাল এবং তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট একাদশ:
রুমেশ বুড্ডিকা, দীনেশ চান্দিমাল (উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক) , রন চন্দ্রগুপ্ত, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা, আভিস্কা ফার্নান্দো, লিও ফ্র্যান্সিসকো, প্রভিন জয়বিক্রম, চামিকা করুনারত্নে, কাভিন্দু কুলাসেকারা, কামিন্দু মেন্ডিস, লাহিরু সামারাকুন এবং রোশেন সিলভা।

মুশফিক কিপিং ছাড়লেন যে কারণে

সিদ্ধান্তটা কতটুকু সঠিক? তা বলে দেবে সময়। যদিও সময়টা একদম যথার্থ। নিজের উইকেট কিপিং ক্যরিয়ার সম্পর্কে একটা সিদ্ধান্ত নেবার এটাই সেরা সময় ছিল মুশফিকুর রহীমের। কিপিংটা একটু-আধটু খারাপ হচ্ছিল কিছুদিন ধরেই। তবে সে খারাপের মাত্রাটা একটু বেশি চোখে পড়ে হায়দরাবাদে ভারতে বিপক্ষে টেস্টে।

পপিং ক্রিজ থেকে দু’পা সামনে বেরিয়ে যাওয়া ভারত কিপার ঋদ্ধিমান সাহাকে স্ট্যাম্প করতে না পারাটা অনেক বড় ব্যর্থতার দলিল হয়ে থাকলো। এমন নয় যে, তেমন মিস আগে হয়নি। হয়েছে; কিন্তু ৪ রানে বেঁচে যাওয়া ঋদ্ধিমান সেঞ্চরি (১০৬) করে ফেলায় ব্যর্থতাটা আরও বড় হয়ে দেখা দেয়।

এরপর থেকেই আসলে টেস্ট অধিনায়কের কিপিং ক্যরিয়ার হয় প্রশ্নবিদ্ধ। শুরু হয় সমালোচনা, তীর্যক কথা বার্তা। অধিনায়কত্ব, ব্যাটিং আর কিপিং- তিন চাপ সহ্য করা কঠিন হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ কিপিং করে তারপর ব্যাটিংয়ে নামা এবং দলের সমুদয় দায় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিজের সেরাটা উপহার দেয়ার কাজ ঠিকমত করা যাচ্ছে না। সে সঙ্গে আবার দল পরিচালনার মত গুরু দায়িত্ব কাঁধে।

সব মিলিয়ে নানামুখি চাপ। ১০০ থেকে ১৫০ ওভার কিপিং করে ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়া। তাতে করে মূল কাজ মানে ব্যাটিংটা ক্ষতিগ্রস্ত। এমন কথা-বার্তা শোনা গেছে অনেকের মুখেই। সে কথোপকোথনের ঢেউ যে মুশফিকের গায়েও লাগেনি, তা নয়। লেগেছে।

তবে মুশফিক তা সেভাবে আমলে আনেননি। শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে সংবাদ সন্মেলনেও ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপিং চালিয়ে যাবার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন তিনি। বলেছেন, কিপিং করবো কি করবো না, তা নির্ভর করছে টিম ম্যানেজমেন্টের ইচ্ছের ওপর। টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে করবো। না চাইলে কিপিং করবো না। তবে আমাকে যদি বলতে বলা হয়, তবে বলবো আমি ব্যাটিং আর কিপিং দুই’ই এক সঙ্গে চালিয়ে যেতে চাই। আমার মনে হয় ব্যাটিংয়র সঙ্গে কিপার হিসেবেও দলের সাফল্যে অবদান রাখার সামর্থ্য আছে আমার।’

এমন কথা বলার পর  মনে হচ্ছিল মুশফিক বিপিং চালিয়ে যেতে পারেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ভুল প্রমাণ হয়েছে। বুববার রাতে কলম্বোয় টিম মিটিংয়ে অবশেষে বরফ গলেছে। অবশেষে মুশফিক কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটিংয়ে মনোযোগি হবার মত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হঠাৎ কি এমন আলোচনা হলো যে মুশফিক তার অতি পছন্দের কিপিং ছাড়তে রাজি হলেন? ক্রিকেট দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বুধবার রাতে জাগো নিউজের সাথে টেলিফোন আলাপে সে কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি জানান, অনেক আলোচনা ও কথা-বার্তার পর মুশফিক কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খালেদ মাহমুদ সুজনের কথায় পরিষ্কার,  হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও তিনি নিজে মুশফিকের সাথে কথা বলেন।

খালেদ মাহমুদ জানান, ‘আমরা অনেক যুক্তি তুলে ধরি। প্রথমতঃ  তাকে বোঝানো হয় কিপিং তার জন্য একটা বাড়তি বোঝা। টেস্টে গড়পড়তা ১০০ থেকে ১৫০ ওভার কিপিং করতে হয়। প্রতিটি বলে বাড়তি মনোযোগ-মনোসংযোগ লাগে। হাটুমুড়ে বসে থাকতে হয়। এতে বাড়তি শক্তির অপচয় হয়। এত লম্বা সময় কিপিং করার পর শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। অবসাদ চলে আসে। যার প্রভাবে ব্যাটিং ও অধিনায়কত্ব দুই’ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এরপর তাকে কুমারা সাঙ্গাকারা ও ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের কথা বলা হয়। যাদের দু’জনই একটা সময় ব্যাটিং আর কিপিং করতেন। আবার কোন এক সময় গিয়ে তা ছেড়েও দেন। কিপিং ছাড়ার পর দু’জনারই ব্যাটিংয়ে উন্নতি হয়।

সাঙ্গাকারা কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে শুরু করার পর আরও বড় ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেন। তার ব্যাটের ধার বেড়ে যায় বহুগুণে। রানের নহর বইতে থাকে। ২৬ গড় বেড়ে যায়। ম্যাককালামেরও ব্যাটিংয়ে উন্নতি হয়। আমরা মুশফিককে বোঝাতে সক্ষম হই যে, কিপিং ছাড়লে তার শারীরিক, মানসিক ও ক্রিকেটীয় মনোযোগ-মনোসংযোগের পুরোটাই দল পরিচালনা ও ব্যাটিংয়ে দেয়া সম্ভব হবে। তাতে করে তার নিজের লাভ হবে। ব্যাটিং ক্যারিয়ার আরও উজ্জ্বল হবে। পরিসংখ্যানও সমৃদ্ধ হবে। আর অধিনায়ক হিসেবে ভাল করার পর্যাপ্ত সময় ও অবকাশও মিলবে।

তাতে তার পাশাপাশি দলেরও উপকার হবে। এসব উদ্দীপক ও ক্রিকেটীয় যুক্তি সম্বলিত কথোপকোথনের এক পর্যায়ে মুশফিক মেনে নিয়ে বলেন, ঠিক আছে আমি কিপিং করবো না। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলবো।’

ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো সাঙ্গাকারা-গেইলরা

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বড় স্কোর না গড়েও বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এলিমিনেটর ম্যাচে ৪৪ রানের বড় জয় পেয়েছে করাচি কিংস। আর এ জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার আশাও বাঁচিয়ে রাখলো সাঙ্গাকারার দল। ফাইনালে যাওয়ার পথে সাঙ্গাকারা-গেইলদের সামনে বড় বাধা এখন সাকিব-তামিমের দল পেশোয়ার জালমি।

বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে এদিন প্রথমে করাচি কিংসকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক। ব্যাট করতে নেমে ব্যক্তিগত ১৭ রানেই সাজঘরে ফেরেন গেইল। এরপর আর কেউ বড় কোন স্কোর না করতে পারলে ১২৬ রানে থেমে যায় করাচি কিংসের ইনিংস। করাচির পক্ষে বাবর আজম (২৫), কুমার সাঙ্গাকারা (১৭) এবং শোয়েব মালিক (২৫) রান করেন। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের রুমান রইস চারটি এবং মোহাম্মদ সামি ও শেন ওয়াটসন দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

১২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে করাচির বোলারদের তোপের মুখে বিপাকে পড়ে ইসলামাবাদ। আসিফ ৩৯ ও অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের ১৩ রান ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই এদিন দুই অংকের কোটাই স্পর্শ করতে পারেনি। ১৫.২ ওভারে মাত্র ৮২ রানেই গুটিয়ে যায় ইসলামাবাদের ইনিংস। করাচি কিংসের মোহাম্মদ আমির, ইমাদ ওয়াসিম এবং উসমান মীর প্রত্যেকেই তিনটি করে উইকেট লাভ করেন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামী ৭ মার্চ থেকে প্রথম টেস্টে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ দল। তবে এর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে মুশফিকরা। আর এ ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করছে মুশফিক বাহিনী। মোরাতোয়ার তিরন্নে ফার্নান্দো স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ব্যক্তিগত ৯ রানে সামারাকুনের বলে সাজঘরে ফিরে গেছেন বাঁহাতি তারকা সৌম্য সরকার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান।

পুরো সফরজুড়ে দুটি টেস্ট ছাড়াও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

বাংলাদেশ স্কোয়াড:
লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদ, মেহেদি হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান , সৌম্য সরকার, শুভাশীষ রায়, তামিম ইকবাল এবং তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্টস একাদশ:
রুমেশ বুড্ডিকা, দীনেশ চান্দিমাল (উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক) , রন চন্দ্রগুপ্ত, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা, আভিস্কা ফার্নান্দো, লিও ফ্র্যান্সিসকো, প্রভিন জয়বিক্রম, চামিকা করুনারত্নে, কাভিন্দু কুলাসেকারা, কামিন্দু মেন্ডিস, লাহিরু সামারাকুন এবং রোশেন সিলভা।

লাহোরে ফাইনাল আয়োজনকে পাগলামি বললেন ইমরান

একের পর এক বোমা হামলায় জর্জরিত সন্ত্রাসের জনপদ লাহোরে পাকিস্তান সুপার লিগের দ্বিতীয় আসরের ফাইনালের আয়োজন করবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে এ পরিকল্পনাকে পাগলামি মনে করছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান।

দেশটির এক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, `ফাইনালের সময় লাহোরে যদি কোন বোমা হামলা হয় না তাহলে পাকিস্তানে আরো ১০ বছর কোন ক্রিকেট খেলা হবে না। আর এমন পরিস্থিতিতে এখন এই সিদ্ধান্ত স্রেফ পাগলামি।`

এদিকে লাহোরে বোমা হামলা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা আরও বলেন, আমার মতে এটি একটি ভয়ঙ্কর চিন্তা। আমারা হয়তো এ ম্যাচ উপলক্ষ্যে আর্মি নামিয়ে খেলা আয়োজন করবো। তবে এটা ভালো কোন শুভবার্তা দিবে না। আর এটা তো কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না।

এদিকে ফাইনাল লাহোরে হলে বেশিরভাগ বিদেশি খেলোয়াড়ের না খেলার সম্ভাবনা আছে। বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া ফাইনাল লাহোরে হলে সেটি পাকিস্তানের ক্রিকেটে কোনো কাজে আসবে না বলেও মনে করেন ইমরান খান।

সবার দৃষ্টি চট্টগ্রাম আবাহনীর দিকে

টুর্নামেন্টে পাঁচ বিদেশি ক্লাবের সঙ্গে ছিল স্থানীয় তিন দল ঢাকা মোহামেডান, ঢাকা আবাহনী ও চট্টগ্রাম আবাহনী। কিন্তু দেশের দুই জনপ্রিয় দল আবাহনী ও মোহামেডান পারেনি গ্রুপ পর্বের বাধা পাড় হতে। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় আসরে তারা এখন দর্শক। প্রথম আসরেও তারা পারেনি দর্শকের মন জয় করতে-মোহামেডান উঠেছিল শেষ চারে ও আবাহনী বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে।

দেশের প্রধান দুই দলের ব্যর্থতা অবশ্য ঢেকে গিয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়। এবারও চট্টলার দলটির দিকে তাকিয়ে সবাই-দেশের ফুটবলের পতাকা এখন আয়োজক দলটির হাতে। সেমিফাইনালে বেশ শক্ত দলের বিপক্ষেই খেলবে চট্টগ্রাম আবাহনী। দক্ষিণ কোরিয়ার পোচেয়ন সিটিজেন ক্লাবের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মঙ্গলবার মাঠে নামবে সাইফুল বারী টিটুর দল। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৬ টায়।

প্রথম আসরে চট্টগ্রাম আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সফিকুল ইসলাম মানিকের কোচিংয়ে। এবার চট্টগ্রাম আবাহনীর শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জটা সাইফুল বারী টিটুর। কোরিয়ার দলটির বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে সাইফুল বারী টিটু বলেছেন,‘আমি দলটিকে কোরিয়ার ক্লাবটির বিপক্ষে একটা সত্যিকার একটা ইউনিট হিসেবে দেখতে চাই। ম্যাচ জিততে তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী খেলবে বলেই আমার বিশ্বাস। নিঃসন্দেহে কোরিয়ান ক্লাবটি অনেক শক্তিশালী। তারা আধুনিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত। তবে আমরা এ টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন, আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামবো। একটি ভালো ম্যাচ দেখবে দর্শকরা।’

আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনে বিশেষ নিয়ম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আগের আসরগুলোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মতো এবার দেখা যাবে নাচে-গানে ভরপুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে আগামী ৫ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের দশম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনে থাকবে বিশেষ নিয়ম।

আগে যেমন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করতে কয়েকটি কোম্পানিকে নিবন্ধন দিতো বিসিসিআই। এবার আর তা থাকছে না। কেননা গত শনিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কোম্পানিগুলো সংঘবদ্ধভাবে আইপিএলের দশম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবে না। যে কোনো একটি কোম্পানিকে লিখিতভাবে নিবন্ধন দেয়া হবে। ওই কোম্পানি-ই দায়ী থাকবে বোর্ডের কাছে।

বিসিসিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে কোনো প্রস্তাব পেশ করতে পারবে না। বিসিসিআই থেকে একটি কোম্পানিকেই লিখিতভাবে নিবন্ধন দেয়া হবে। ওই কোম্পানি অন্যান্যদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। কিন্তু আগ্রহী কোম্পানি প্রাথমিকভাবে দায়ী থাকবে।’

এর জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন আইডিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিকরম লিমাই, ক্রিকেটবিদ রামাচন্দ্র গুহা, ভারত নারী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ডায়না উদুলজি ও বোর্ডের সাবেক অডিটর বিনোদ রায়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ব্যাটিংয়ে অবদান রাখতে চান রাব্বি

টেস্টের রানের প্রয়োজন আছে। তার চেয়েও বড় কথা; ক্রিজে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া। সেট হয়ে ইনিংসটাকে লম্বা করা। দেখে-শুনে প্রতিপক্ষ বোলারদের মোকাবেলা করা। মারার বল পেলে মারা। কঠিন বলগুলো ছেড়ে দেয়া। যা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয়।

নিউজিল্যান্ড সফরে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে যখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা উইকেট পতনের মিছিলে যোগ দিচ্ছিলেন, তখন ব্যাট হাতে চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ২ রান করে রাব্বি হার মেনেছেন সাউদির এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে।

এরপর হায়দরাবাদ টেস্টেও দেখা গেল সেই ধৈর্যশীল রাব্বিকে। চতুর্থ দিনের শেষ সেশন থেকে ম্যাচের পরিস্থিতি যখন দাবি করছিল উইকেটে টিকে থাকা; তখন সেই বিষয়ে মনোযোগ দিতে দেখা যায়নি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। তারকা সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা অযথা শট খেলতে গিয়ে আউট হন।

ঠিক তখনই সময়ের দাবি অনুযায়ী অসাধারণ টেস্ট ব্যাটিং দেখান রাব্বি। মোট ৭০ বল খেলে সংগ্রহ করেন মাত্র ৩* রান! তাকে আউট করতে গিয়ে ঘাম ছুটে যাচ্ছিল ভারতীয় বোলারদের। এক কথায়, টেস্ট ব্যাটসম্যান বলতে যা বুঝায়!

ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট খেলে ফেলেছেন রাব্বি। শ্রীলঙ্কা সফরেও বাংলাদেশ দলে আছেন। সুযোগ পেলে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও অবদান রাখতে চান এই পেসার। আজ শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে উড়াল দেয়ার আগে রাব্বি জানান এমনটাই।

সাংবাদিকদের রাব্বি বলেন, ‘ব্যাটিংটা ভালো হচ্ছে। নিজের সাধ্যমতো খেলার চেষ্টা করছি। কিন্তু বোলিংই আমার প্রধান কাজ। দলের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করে দেয়ার চেষ্টা করি। আমার পরিকল্পনা থাকবে; (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) ব্যাটিংয়ে আমি অবদান রাখা। এবার বোলিংটা আরও ভালো করার চেষ্টা করবো।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি মাত্র শুরু করেছি। মাত্র পাঁচটি টেস্ট খেলেছি। আমি আরও টেস্ট খেলতে চাই। বেশি ম্যাচ খেললে অনেক শেখা যায়। আগের ম্যাচগুলো থেকে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।’

‘অনভিজ্ঞ হলেও বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটই শক্তিশালী’

গত দুই বছর ধরেই দারুণ ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটেও এগিয়েছে টাইগাররা। তবে সীমিত ওভারের ম্যাচে বোলিং যেমন শক্তিশালী তেমনটা নয় টেস্ট ক্রিকেটে। এখনও কোন বিশেষজ্ঞ টেস্ট বোলার খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। তারপরও মোস্তাফিজ, মিরাজ ও সাকিবের কম্বিনেশনে নিজেদের বোলিং ইউনিটকেই শক্তিশালী বললেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম।

শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার আগে রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শেষ দিনের মত অনুশীলন করে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, ‘টেস্টে ব্যাটিং ইউনিটে আমরা যতোটা উন্নতি করেছি, ততোটা কিন্তু বোলিংয়ে হয়নি। এটার একটা কারণ হলো, তারা বেশ অনভিজ্ঞ। আমি মনে করি, মোস্তাফিজ-তাসকিন-রুবেল-শুভাশিস-মিরাজ-সাকিব; এরা সবাই যদি পারফর্ম করে তাবে ওদের ২০টি উইকেট নেয়া অবশ্যই সম্ভব। আমরা এবার বেশ শক্তিশালী বোলিং ইউনিট নিয়েই শ্রীলঙ্কা যাচ্ছি।’

তবে আগের টেস্টগুলোতে বোলিং ইউনিট কার্যকরী না হওয়ার পেছনে ফিল্ডারের দায় রয়েছে বলে মনে করেন মুশফিক। নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরে একের পর এক ক্যাচ, স্ট্যাম্পিং ও রানআউট মিসের খেসারত দিয়ে হারতে হয়েছে টাইগারদের। মুশফিকের ভাষায়, ‘আমাদের বোলাররা এখন যতো খেলবে, ততোই পরিণত হয়ে উঠবে। তবে তাদের প্রত্যাশিত সফলতা না পাওয়ার পিছনে আমাদের ফিল্ডারদেরও দায় আছে।’

আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য দলে রয়েছেন দুই জন বিশেষজ্ঞ স্পিনার ও পাঁচ জন পেসার। এদের মধ্যে বলার মত অভিজ্ঞ বলতে গেলে ২৪ টেস্ট খেলা রুবেল হোসেনই। আর তাইজুল ইসলাম খেলেছেন ১২ টেস্ট। এর বাইরে ৪৭ টেস্টে খেলা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান রয়েছেন। আর বাকি সবার অভিজ্ঞতা ৩/-৪ টেস্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

যদিও মোস্তাফিজ দলে ফেরায় দারুণ খুশি মুশফিক। সাকিব-মিরাজের সঙ্গে মোস্তাফিজের জুটি প্রতিপক্ষের জন্য চাপের কারণ হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘একটা কথা বলবো যে, সাকিব-মোস্তাফিজ-মিরাজ; এ রকম তিনজন আলাদা আলাদাভাবে স্কিলফুল বোলার যখন একটা দলের হয়ে বোলিং করবে, তখন প্রতিপক্ষের জন্য সেটা চাপেরই হবে। এটা আমাদের দলের জন্য দারুণ একটি ব্যাপার।’

গল টেস্টের স্মৃতিই অনুপ্রেরণা, তবে…

মুশফিক-আশরাফুলের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে ২০১৩ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে গল টেস্টে ড্র করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত লঙ্কানদের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। সেই সুখস্মৃতির কথা ভুলে যাননি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। ওই টেস্টে ফ্ল্যাট উইকেট বানিয়েছিল লঙ্কানরা। তবে এবার সেখানে ভিন্ন উইকেট হতে পারে ধারণা করছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

গল টেস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুশফিক বলেন, ‘সেটা অবশ্যই দারুণ স্মৃতি ছিল। তবে আমাদের কিন্তু সব কিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। অন্য দলের বিপক্ষে সাধারণত গলের উইকেট স্পিনিং ট্র্যাক হয়। সর্বশেষ আমরা যখন সেখানে খেলেছি, তখন ব্যাটিং উইকেট ছিলো। এ কারণে ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে আমাদের অনেক কষ্ট করে খেলতে হয়েছে। কারণ তারাও স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলেছিলো।’

তবে এবার শ্রীলঙ্কার উইকেট ভিন্ন ধরণের হতে পারে বলেই ধারণা মুশফিকের। কারণ গত কয়েক বছরে দারুণ বদলে গেছে বাংলাদেশ দল। কদিন আগেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের মত শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে টাইগাররা। এরপর নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরেও দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুশফিকবাহিনী।

‘উইকেট তো অবশ্যই প্রভাব ফেলে। এটা একটা বড় ব্যাপার। তবে যে কোনো উইকেটে আমরা খেলার জন্য প্রস্তুত। উইকেট থেকে আমরা যেমন সুবিধা পাবো, সেটা তারাও পাবে। আমার মনে হয়, যে উইকেটেই খেলা হোক না কেনো, আমাদের দলে ভারসাম্য আছে। বৈচিত্র আছে। আমরা চেষ্টা করবো ফলাফল আমাদের পক্ষে আনার।’

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পুর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে আগামী সোমবার রওনা হবে বাংলাদেশ। সেখানে তিনটি ওয়ানডে, দুটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

শততম টেস্ট নিয়ে রোমাঞ্চিত মুশফিক

সেই ২০০০ সাল থেকে শুরু। এরপর গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে ৯৮টি টেস্ট খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ। সামনে শ্রীলঙ্কা সফরে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবেন মুশফিকরা। পি সারায় দ্বিতীয় টেস্টটি হবে টাইগারদের শততম টেস্ট। আর এ টেস্ট ম্যাচ নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত বাংলাদশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। দারুণ কিছু করেই এ মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে চান এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

সোমবার শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল। এর আগে রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে আসেন টাইগাররা। অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মুশফিক। সেখানে ঐতিহাসিক শততম টেস্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা তো অবশ্যই রোমাঞ্চিত হওয়ার ব্যাপার। এটা একটা মাইলফলক। এই উপলক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা এমন কিছু যেন করতে পারি, যা আমাদের দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। আমরা সেটার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

শ্রীলঙ্কায় শুধু টেস্ট নয়, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিততে চান মুশফিক। তবে শততম টেস্টকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তবে এটা শুধু নিজের জন্য নয়, গোটা জাতির জন্য সম্মানের বলে উল্লেখ করেন মুশফিক।

‘আমরা যদি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জিততে পারি, তাহলে আমাদের রেটিং পয়েন্ট বাড়বে। আর যেটা বলা হচ্ছে- শততম টেস্ট; এটা শুধু আমার জন্য নয় বরং অবশ্যই পুরো বাংলাদেশের জন্য এটা একটা বড় মাইলফলক, আমাদের জাতির জন্যই একটা বড় উপলক্ষ্য।’

উল্লেখ্য, বেশ কিছু দিন থেকেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পাশাপাশি টেস্টেও ভালো ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে জয় পেয়েছেন টাইগাররা। এরপর নিউজিল্যান্ড ও ভারতে হারলেও দারুণ লড়াই করায় প্রশংসাই কুড়িয়েছে মুশফিকবাহিনী।

মরগানের সর্বকালের সেরা একাদশে নেই শচীন

টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে সবোচ্চ রানের মালিক। দুই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিও তার দখলে। ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর বলা হয় তাকে। তিনি আর কেউ নন; শচীন টেন্ডুলকার। অবাক করার মতোই। ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক ইয়ন মরগানের সর্বকালের সেরা একাদশে নেই ভারতীয় এই কিংবদন্তী।

মরগান যাদের রাখলেন, সেই একাদশের অধিনায়ক তারই সতীর্থ অ্যালিস্টার কুক। আছেন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৪০০ রানের ইনিংস খেলা ব্রায়েন লারা ও অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার রিকি পন্টিং। দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস ও হার্টহিটার ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সও জায়গা পেয়েছেন মরগানের একাদশে।

ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন দুজন; উইকেরক্ষক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও টেস্টের এক ইনিংসে দশ উইকেট শিকারি অনিল কুম্বলে। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় রয়েছেন লঙ্কান কিংবদন্তী কুমার সাঙ্গাকারা। পেস ত্রয়ী হিসেবে রাখা হয়েছে জেমস অ্যান্ডারসন, ডেল স্টেইন ও মিচেল জনসনকে।

মরগানের সর্বকালের সেরা একাদশ :
অ্যালিস্টার কুক (অধিনায়ক), ব্রায়েন লারা, রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস, এবি ডি ভিলিয়ার্স, কুমার সাঙ্গাকারা, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেরক্ষক), অনিল কুম্বলে, জেমস অ্যান্ডারসন, ডেল স্টেইন ও মিচেল জনসন।

দলের প্রয়োজনে বোলিং করতেও প্রস্তুত মুশফিক

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে সেঞ্চুরি করে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন; তেমনি উইকেটের পেছনে সহজ মিস করে নিন্দাও কুড়িয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তাই শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-এবারও কি কিপিং করছেন মুশফিক?

রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন মুশফিক। উইকেটকিপিং কি এবারও করবেন? উইকেটকিপিং না ব্যাটিং কোনটা বেশি উপভোগ করেন? দুটা একত্রে করলে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে কিনা?

প্রশ্নটা শুনে একটু হেসেই ফেলেন মুশফিক। হাসতে হাসতে নিছক মজা করেই বলেন, ‘আমার তো বোলিংও করতে ইচ্ছা করে। এতে যদি দলের উপকার হয়!’

তবে এর পরই যথারীতি সিরিয়াস মুশফিক। বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করলেই তো সব কিছু হবে না। মেইন ব্যাপার হলো, আমার যে দায়িত্ব আছে তা পালন করার। কোচ আছেন, ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ড আছে, তারা ডিসিশন নেবেন আমি কী করবো।’

গত এশিয়া কাপে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলেছেন মুশফিক। সে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘গত বছর যে এশিয়া কাপ হয়েছে, সেখানে আমি কিপিং করিনি, শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে দু-তিনটা ম্যাচ খেলেছি। এটা কিন্তু ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল। এখনও ম্যানেজমেন্টই সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি ব্যক্তিগতভাবে বলতে বলা হয়, ‘আমি ব্যাটিং ও কিপিং দুটিই উপভোগ করি। আমার ইচ্ছাও করে।’

উইকেটের পেছনে মিস করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবেও মুশফিক ছিলেন স্বাভাবিক। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো কিপার নেই, যাদের ভুল হয় না। আমার দেখা সেরা কিপার হলো সাহা (ঋদ্ধিমান)। আমি ওকে অনেক কিছুতে ফলো করার চেষ্টা করি। কারণ তার সব কিছুই অনেক পরিষ্কার। সেও কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যাচ মিস করেছে। আমাদের বিপক্ষেও কিন্তু সে রিয়াদ ভাইয়ের ক্যাচ মিস করেছে। এখন রিয়াদ ভাই যদি টেস্টটা ড্র করে ফিরতো, তখন কিন্তু সিনারিও অন্য রকম হতো।’

তবে নিজের কাজটা শতভাগ সততা দিয়েই করেন মুশফিক। মাঠে এবং মাঠের বাইরে তার সততা এবং নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না চরম শত্রুও। উইকেটের পেছনে ভুলের কথা মানছেন মুশফিকও। তবে সেটা স্বাভাবিক ভুল হিসেবেই মেনে নিচ্ছেন দেশের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান।

‘আমরা সব সময়ই সজাগ থাকি। তারপরও অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। যদিও আমাদের চেষ্টাটা একই রকম থাকে। সেজন্যই জাতীয় দলে আসা। ক্রিকেট আমাদের রুটি-রুজির উপায়। এখানে বেঈমানি করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সব সময় সব কিছু ঠিক রাখার চেষ্টা করি। তারপরও আমরা মানুষ, ভুল হয়ে যায়। হতেই পারে।’

ভারত তো আর সিরিজ হারেনি : শচীন

৩৩৩ রানের হার। ভারতজুড়েই বইছে সমালোচনার ঝড়। সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রায় আড়াই দিনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার মানলো ভারত। এমন শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়েও কোহলি-রাহানেরা দুই ইনিংসে করতে পেরেছে যথাক্রমে ১০৭ ও ১০৮ রান। স্বাগতিক দলটির পাশে যা সত্যিই বেমানান।

এমন দুঃসময়ে ভারত পাশে পেল দেশটির কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে। লিটল মাস্টার মনে করেন, এখনই সব শেষ হয়ে যায়নি। সমালোচকদের একটা বার্তাও দিলেন এভাবে, ভারত তো আর সিরিজ হারেনি। এখনও হাতে আছে তিনটি টেস্ট। ঘুরে দাঁড়াবে কোহলির দল।

কোহলির ক্রিকেটাদর্শ শচীন টেন্ডুলকারের ভাষায়, ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ মানেই আমাদের জন্য কঠিন! এটা (পরাজয়) আসলে খেলারই অংশ। কোহলিরা একটি টেস্ট ম্যাচে হেরেছে মাত্র। ভারত তো আর সিরিজ হারেনি। এখনও সিরিজের অনেক কিছুই বাকি।’

টিম ইন্ডিয়া ঘুরে দাঁড়াবে। বিশ্বাস শচীনের, ‘ভারতের শক্তিমত্তা সবারই জানা। আমি জানি, কোহলিরা ঘুরে দাঁড়াবে। অস্ট্রেলিয়াও এটা জানে; যখন আমরা তাদের হারাই। আমরাও জানতাম, অসিদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটা মোটেই সহজ হবে না। ভারত যে সিরিজে ফিরবে; এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

ব্যাটিং-কিপিং একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চান মুশফিক

শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নর মুখোমুখি মুশফিক… সাম্প্রতিক সময়ে গ্লাভস হাতে খারাপ সময় কাটানোর পরও আপনি কি কিপিং আর ব্যাটিং এক সঙ্গে চালিয়ে যেতে চান? মুশফিকের চিবুক সোজা উত্তর, `আমি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপিংও সমান উপভোগ করি, তবে গল ও কলম্বোয়ে আমি কিপিং করবো কি না এখনই বলা যাচ্ছে না। সেটা অনেকটা নির্ভর করছে টিম ম্যানেজমেন্টের ইচ্ছার উপর। ম্যানেজমেন্ট যা চাইবে তাই হবে।

তবে যদি আমাকে বলতে বলেন অথবা আমার পছন্দের কথা জানতে চান, তাহলে বলবো আমি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপিংও সমান উপভোগ করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ব্যাটিংয়ের সঙ্গে উইকেট কিপিংয়েও দলকে দেওয়ার পর্যাপ্ত সামর্থ্য আমার আছে।`

আর মুশফিকের শেষ কথা, কিপার এবং ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি দলের জন্য সবচেয়ে ভালো অবদান রাখাতে পারি।

বিস্তারিত আসছে…

আইপিএলে দল না পেয়ে হতাশ পাঠান

আইপিএলের দশম আসরকে সামনে রেখে কিছুদিন আগেই হয়ে গেছে খেলোয়াড়দের নিলাম। আর এ নিলামে অনেক অখ্যাত খেলোয়াড়রা দল পেলেও ৫০ লাখ ভিত্তি মূল্য থাকা এক সময় ভারতের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান খেলোয়াড় ইরফান পাঠানের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোন দল। আর এতেই হতাশ গত বছর রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্টের হয়ে মাঠে নামা ইরফান পাঠান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজের হতাশা প্রকাশ করে ইরফান লেখেন, ‘২০১০ সালে আমি গুরুতর চোট পেয়েছিলাম। ফিজিও আমাকে জানিয়েছিল, আর হয়তো আমি ক্রিকেট খেলতে পারবো না। ভালো হবে যদি আমি নিজের স্বপ্নকে ভুলে যাই। জবাবে আমি তাকে বলেছিলাম, আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারব কিন্তু দেশের হয়ে এই সুন্দর খেলাটি না খেলতে পারার কষ্ট সহ্য করতে পারব না। ’

এর সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করি। শুধু ক্রিকেট খেলতে পারার জন্য কিন্তু নয়, আবারো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার জন্য। আমি নিজের জীবন ও ক্যারিয়ারে অনেক ওঠা-নামা দেখেছি, কিন্তু হাল ছাড়িনি। এটাই আমার চরিত্র। আর চিরকাল আমি এরকমই থাকবো।`

উল্লেখ্য, দেশের হয়ে তারকা এই অল রাউন্ডার ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওয়ানডে ও ১৭১টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সর্বশেষ ভারতের হয়ে মাঠে নামেন অক্টোবর ২০১২তে।

অধিনায়কত্ব নিয়ে বিচারের সময় আসেনি : কোহলি

২০১৫ সাল থেকে অপরাজেয় অভিযাত্রা শুরু বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোম্পানির। ইতোমধ্যেই তার অধিনায়কত্ব নিয়ে সারা পড়ে গেছে। অনেকেই বলতে শুরু করে দিয়েছেন তিনিই সেরা। কিন্তু এখনই এটা শুনতে রাজি নন বিরাট কোহলি। তার মতে, এখনও সময় আসেনি তার অধিনায়কত্বের বিচার করার। একজন অধিনায়কের অধিনায়কত্বের মান নির্ভর করে তার দলের উপর।

তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজেকে সব সিরিজের পরই বিচার করতে বসি না। আমার লক্ষ্য থাকে সব ম্যাচ জেতার। অধিনায়কত্ব ততটা ভালো হয় যতটা তোমার টিম ভালো হয়। যতটা ধারাবাহিক হয়। যদি আমাদের খেলার ক্ষমতা না থাকে তা হলে অধিনায়ক হয়ে আমিও কিছু করতে পারবো না। দল যত অভিজ্ঞ হবে অধিনায়ককে তত ভালো লাগবে।’’

কোহলি বলেন, ‘‘হয়তো আরও পাঁচ থেকে আট বছর পর আমি নিজের অধিনায়কত্বের বিচার করতে পারবো। যদি আমি ততদিন অধিনায়ক থাকতে পারি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমি ভালো করি আর না করি এখনই আমার অধিনায়কত্ব নিয়ে বিচারের সময় আসেনি।’’

আজই পুণে শহরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে ভারত। চার টেস্টের এই সিরিজটি শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর টানা ১৯টি টেস্ট হারেনি ভারত। এর মধ্যে যদিও একটি মাত্র সিরিজ তারা খেলেছে দেশের বাইরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আগস্টে শ্রীলংকার গলে টেস্ট হেরেছিল। ঘরের মাঠে সর্বশেষ টেস্ট হেরেছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে, ইংল্যান্ডের কাছে, ২০১২ সালে। যখন যুবরাজ সিং ছিলেন টেস্ট খেলোয়াড় এবং এখনকার অজিঙ্কা রাহানে কিংবা রবীন্দ্র জাদেজারা ভারতীয় দলের হয়ে খেলাই শুরু করেননি।

অপর দিকে এশিয়ার মাটিতে সর্বশেষ ৯টি টেস্ট ম্যাচই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর পর্যন্ত এশিয়ার মাটিতে শ্রীলংকায় গিয়ে অনায়াসে জয় পাওয়ার রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার; কিন্তু গত বছর শ্রীলংকার মাটিতে এসে অস্ট্রেলিয়া হেরে গেছে ৩-০ ব্যবধানে। এক রঙ্গনা হেরাথের কাছেই হারতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। অস্ট্রেলিয়ার সেই দলের ৯ জন রয়েছে এখনকার এই দলে।

অস্ট্রেলিয়া কি পারবে ভারতের সাম্রাজ্য ভাঙতে!

কথার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বেশ আগে থেকেই। ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট লড়াই। সিরিজের নাম দেয়া হয়েছে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি। আদতে ধারে ও ভারে অ্যাসেজের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আগুনে সিরিজই শুরু হতে যাচ্ছে ভারতের পুণে শহরে। চার টেস্টের এই সিরিজটি শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়।

কয়েকটি ফ্যাক্ট জড়িয়ে পড়েছে এই সিরিজের সঙ্গে। এই সিরিজেই হয়তো টেস্ট র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে আসতে পারে অস্ট্রেলিয়া। এটা যেমন একটি বিষয়, তেমনি এর বিকল্প হতে পারে- অস্ট্রেলিয়া কোনোমতে একটা পারফরম্যান্স করে ভারত ছাড়তে পারে। তবে এক নম্বরে যেতে হলে এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ কিংবা ৪-০ তে অবশ্যই জিততে হবে।

ক্রিকেটের ন্যুনতমও যারা খোঁজ-খবর রাখেন, তারা মাত্রই বলে উঠবেন, ‘অসম্ভব’। এটা কোনোমতেই সম্ভব নয়। কীভাবে ভারতের মাটি থেকে ভারতকেই ৩-০ বা ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেশে ফিরবে অসিরা? যারা কি-না টানা ১৯ টেস্ট অপরাজিত! ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০ টেস্টের ১৭টিই জিতেছে এবং ড্র করেছে মাত্র ৩টিতে! ঘরের মাঠে পরাজয় কাকে বলে, সেটা দেখতে শেখেনি এখনও বিরাট কোহলির এই দলটি।

২০১৫ সাল থেকে অপরাজেয় অভিযাত্রা শুরু বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোংয়ের। এরপর টানা ১৯টি টেস্ট হারেনি ভারত। এর মধ্যে যদিও একটি মাত্র সিরিজ তারা খেলেছে দেশের বাইরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আগস্টে শ্রীলংকার গলে টেস্ট হেরেছিল। ঘরের মাঠে সর্বশেষ টেস্ট হেরেছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে, ইংল্যান্ডের কাছে, ২০১২ সালে। যখন যুবরাজ সিং ছিলেন টেস্ট খেলোয়াড় এবং এখনকার আজিঙ্কা রাহানে কিংবা রবীন্দ্র জাদেজারা ভারতীয় দলের হয়ে খেলাই শুরু করেননি।

অপর দিকে এশিয়ার মাটিতে সর্বশেষ ৯টি টেস্ট ম্যাচই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর পর্যন্ত এশিয়ার মাটিতে শ্রীলংকায় গিয়ে অনায়াসে জয় পাওয়ার রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার; কিন্তু গত বছর শ্রীলংকার মাটিতে এসে অস্ট্রেলিয়া হেরে গেছে ৩-০ ব্যবধানে। এক রঙ্গনা হেরাথের কাছেই হারতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। অস্ট্রেলিয়ার সেই দলের ৯ জন রয়েছে এখনকার এই দলে।

উপমহাদেশের মাটিতে স্পিনে এমনিতেই দুর্বল অস্ট্রেলিয়া। কিছুদিন আগেই ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন অস্ট্রেলিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিল ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার আগে স্পিন কীভাবে খেলতে হয়, সেটা ভালোভাবে শিখে যেতে। ভারতে এসে রবিচন্দ্র অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজাকে কীভাবে সামলাতে হবে সেটাই সবার আগে ভাবতে হচ্ছে অসিদের। একই সঙ্গে ভারতীয়দের স্পিন দিয়ে কীভাবে টেক্কা দিতে হয়, সেটাও অস্ট্রেলিয়াকে ভাবতে হবে।

২০১৩ সালেই সর্বশেষ নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে স্বাগত জানিয়েছিল ভারত। সেবার অশ্বিন আর জাদেজা মিলে নিয়েছিলেন ৫৩ উইকেট। চার টেস্টের সিরিজে মাত্র একটি সেঞ্চুরি করেছিল অস্ট্রেলিয়ানরা। মাইকেল ক্লার্ক সেই সিরিজের প্রথমদিনই সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপর চরম হতাশা নিয়েই বিদায় নিতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে।

চার বছর পর সম্পূর্ণ নতুন এক অস্ট্রেলিয়া আসলো ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে। পিটার হ্যান্ডসকব, ম্যাট রেনশ এবং শন মার্শরা এই প্রথমবারের মতো খেলবে ভারতের মাটিতে এসে। এরাই হয়তো হতে পারবে ভারতের স্পিনিং ট্র্যাকে অস্ট্রেলিয়ার ট্রাম্পকার্ড। একই সঙ্গে জস হ্যাজলউড এবং স্টিভেন ও’কেফি এই প্রথম টেস্ট বোলিং করবে ভারতের মাটিতে।

২০১৩ সালে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ক্রিকেটাররা। এবার এসব অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নেই। ভারত কি পারবে, তাদের সেই পুরনো রেকর্ড ধরে রাখতে? অস্ট্রেলিয়া কি পারবে, ভারতের মাটি থেকে জয়ী হয়ে ফিরে যেতে!

টেস্ট মর্যাদা নিয়ে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত

টেস্টের সদস্যপদ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আইসিসি। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, টেস্টে পূর্ণ সদস্যপদ কোনো দেশের জন্যই স্থায়ী কিছু নয়। টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দেশগুলোর পূর্ণ সদস্যপদ প্রতি পাঁচ বছর আর সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে প্রতি দুই বছর পরপর মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্প্রতি দুবাইয়ে আইসিসির নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জবাবদিহি সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

টেস্ট ক্রিকেটে এখন সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না জিম্বাবুয়ে। আর সম্প্রতি ভুগতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো সদস্যদের ওপর চাপও সৃষ্টি করা ছাড়াও আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মতো নতুন দেশগুলোকে টেস্ট খেলার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

এ নিয়ে একটি মূল্যায়ন কমিটিও গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি পূর্ণ ও সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে মূল্যায়ন করে নেবে সিদ্ধান্ত। এই কমিটিই আইসিসির সহযোগী সদস্যপদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে নতুন দেশকে সদস্যপদ দেওয়া আর বাজে পারফরম্যান্সের কারণে যে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশকে সহযোগী সদস্য দেশ হিসেবে অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেবে।

বড় লিড নিয়ে দিন শেষ মধ্যাঞ্চলের

মোহাম্মদ শরীফের অলরাউন্ড নৈপণ্যের সঙ্গে মার্শাল আইয়ুবের অর্ধশতের উপর ভর করে শক্তিশালী অবস্থানে আছে মধ্যাঞ্চল। তৃতীয় দিন শেষে পূর্বাঞ্চলের চেয়ে ৩৮৩ রানে এগিয়ে আছে ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল।

মঙ্গলবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে মোহাম্মদ শরীফের তোপে আগের দিনের ১১৪ রানে ৬ উইকেট হারানো পূর্বাঞ্চল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও লোয়ার অর্ডারে আবুল হাসান ও ইয়াসির আলির ব্যাটিংয়ে ২১১ রান তুলতে সক্ষম হয়। মধ্যাঞ্চলের মোহাম্মাদ শরীফ ব্যাট হাতে ঝলক দেখানোর পর বল হাতে চার উইকেট তুলে নেন। এছাড়া শুভাগত ও মোশারফ রুবেল দুইটি করে উইকেট নেন।

এদিকে ১১৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো হয়নি মধ্যাঞ্চলের। শুরুতেই বিদায় নেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়েন আব্দুল মজিদ ও মেহরাব জুনিয়র। এরপর এ দুইজন বিদায় নিলেও মার্শাল আইয়ুবের ৭৩ ও তাইবুরের ৫৫ রানের উপর ভর করে তৃতীয় দিন শেষে পাঁচ উইকেটে ২৬৬ রান করে মধ্যাঞ্চল। তাইবুর রহমান ৫৫ ও নুরুল হাসান সোহান ৩২ রানে অপরাজিত আছেন। ৩৮৩ রানে এগিয়ে থেকে শেষ দিনের লড়াই নামবে মধ্যাঞ্চল।

বিকেএসপিতে শক্তিশালী অবস্থানে দক্ষিণাঞ্চল

তুষারের ডাবল সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি বিসিবি উত্তরাঞ্চল। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়েছে তারা। তৃতীয় দিন শেষে এখনও ১০৫ রানে পিছিয়ে তারা।

এর আগে ৪ উইকেটে ১০৭ রানে দিন শুরু করা নাসির হোসেন ২২ রান করে আল-আমিনের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। নাসিরের বিদায়ের পর আরিফুল হক বেশিক্ষণ টিকেননি। ব্যক্তিগত ১১ রান করে স্পিনার নাহিদুলের বলে আউট হন। একাই লড়ে যান ধীমান ঘোষ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন তিনি। তবে ফলোঅন এড়াতে পারেনি দলটি। দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে নাহিদুল নেন ৫ উইকেট। এছাড়া আব্দুর রাজ্জাক ৩ ও আল-আমিন নেন ২ উইকেট।

ফলোঅনে পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি দলটির। দলীয় ২৫ রানেই সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ফরহাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ৮২ রানের জুটি গড়েন জুনায়েদ সিদ্দিক। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেটে নাঈম ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অর্ধশত তুলে নেন ফরহাদ হোসেন। দিন শেষে ফরহাদ হোসেন ৬২ ও নাঈম ইসলাম ২৪ রানে অপরাজিত আছেন।

মোস্তাফিজকে সাসেক্সের অভিনন্দন

ফিটনেসের ঘাটতির কারণে মোস্তাফিজের খেলা হয়নি ভারতের বিপক্ষে। তবে বিসিএলে খেলে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারই পুরস্কার হিসেবে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। আর টেস্ট দলে ডাক পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব সাসেক্স।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মোস্তাফিজকে অভিনন্দন জানিয়ে সাসেক্স লেখে, আজ আমাদের বাংলাদেশি সমর্থকদের অভিনন্দন জানাই, সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়ায় সাবেক সাসেক্স খেলোয়াড় মোস্তাফিজকেও অভিনন্দন।

sussexএর আগে টানা প্রায় পাঁচ মাস ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছিলেন নিউজিল্যান্ড সিরিজে। তবে হঠাৎ কোমরে ব্যথা অনুভব করায় টেস্ট সিরিজে খেলা হয়নি তার। এমনকি ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদে ঐতিহাসিক টেস্টেও ছিলেন না তিনি। তবে এরই মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন কাটার মাস্টার।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ড গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন মোস্তাফিজ। এরপর সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে প্রায় পাঁচ মাস রিহ্যাব করার পর নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফিরলেও ফিরে পাননি নিজের স্বাভাবিক ছন্দ। তবে চলতি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ছন্দ ফিরে পেয়েছেন তিনি। দুই ম্যাচে ৪টি উইকেট পেলেও স্বাভাবিক বোলিং করতে পারায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্যই দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তাকে।

আবারো অধিনায়ক ধোনি

বছর দুয়েক আগে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় দলের সীমিত ওভারের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন ধোনি। জাতীয় দলের পর আইপিএলেও পুনে সুপারজায়ান্টসের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ভারতের সর্বকালের সেরা এই অধিনায়ককে। তবে আবারো অধিনায়কের রূপে দেখা যাবে ধোনিকে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডের অধিনায়ক হিসেবেই মাঠে নামবেন ধোনি।

এর আগেও ঝাড়খণ্ডের হয়ে মাঠে নেমেছেন ধোনি। তবে কখনো অধিনায়ক হিসেবে খেলেননি। এই প্রথম তিনি ঝাড়খণ্ডকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। গ্রুপ পর্যায়ে ঝাড়খণ্ডের ৬টি ম্যাচই কলকাতায় হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এই ট্রফির জন্য লড়াই। ইতোমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের পুরো দল ঘোষণা করা হয়ে গেছে।

ঝাড়খণ্ড একাদশ :‌ ধোনি (‌অধিনায়ক)‌, ইশান কিষান, ইশাঙ্ক জাগ্গি, বিরাট সিং, সৌরভ তেওয়ারি, কৌশল সিং, প্রত্যুষ সিং, শাহবাজ নাদিম, সোনু কুমার সিং, বরুণ অরুণ, রাহুল শুক্লা, অনুকূল রায়, মনুকুমার সিং, জাস্করন সিং, আনন্দ সিং, কুমার দেওব্রাত, এস রাঠোর, বিকাশ সিং। ‌‌

হঠাৎ কেন বিদায় বললেন আফ্রিদি?

বলা নেই, কওয়া নেই; নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলছেন। ব্যাট হাতে কিংবা বল হাতেও সময়টা ভালোই যাচ্ছিল। রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে ২৮ বলে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। ম্যাচ শেষে হঠাৎ-ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শহিদ খান আফ্রিদি?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে যা দেয়ার; তা দিয়ে ফেলেছেন আফ্রিদি? আর দেয়ার বাকি নেই? তাছাড়া পাকিস্তান জাতীয় দলও কি তার কাছ থেকে আর নতুন কিছু আশা করছে না? অনেক প্রশ্নই হয়তো চলে আসবে।

দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে দুহাত ভরে দিয়েছেন আফ্রিদি। ব্যাটে-বলে কারিশমা দেখিয়েছেন রীতিমতো। চার-ছক্কা আর উইকেট শিকারে নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি সব ফরম্যাটেই কার ব্যাট চলেছে সপাটে। ক্রিকেট যে বিনোদন; তার-ই নাম আফ্রিদি!

কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই কেন টি-টোয়েন্টি তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেন দিলেন আফ্রিদি? শোনা যাক তার মুখেই, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলাম। এখন আমি আমার ভক্তদের জন্য খেলছি। এই লিগে (পিএসএল) আরও দুই বছর খেলবো। এখন আমার কাছে আমার ফাউন্ডেশন (আফ্রিদি ফাউন্ডেশন) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্য আমি আন্তরিকভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গেই খেলেছি।’

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের হয়ে ৯৮টি টি-টোয়েন্টি খেলে ১৪০৫ রান করেছেন আফ্রিদি; বল হাতে নিয়েছেন ৯৭ উইকেট। ৩৯৮টি ওয়ানডে খেলে নামের পাশে যোগ করেছেন ৮০৬৪ রান। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ১২৪। একদিনের ক্রিকেটে তার  উইকেট সংখ্যা ৩৯৫টি। ২৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন আফ্রিদি। রান করেছেন ১১৭৬। সর্বোচ্চ স্কোর ১৫৬। উইকেট দখলে নিয়েছেন ৪৮টি।

আইপিএলের নিলামে বেন স্টোকসের দাম সাড়ে ১৪ কোটি রুপি

আইপিএলের নিলামে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারের রেকর্ডটা গড়া হলো না বেন স্টোকসের। তবে তার দামটা যে আকাশছোঁয়া; তা বলেছিলেন সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় যুবরাজ সিং-ই। যুবরাজের দাম ছিল ১৬ কোটি রুপি। এবারের নিলামে বেন স্টোকসের দাম সাড়ে ১৪ কোটি রুপি। ইংলিশ এই অলরাউন্ডারকে দলে ভিড়িয়েছে পুনে সুপারজায়ান্টস।

এবারের নিলামে বেন স্টোকসের ভিত্তি মূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। কয়েক দফা দর কষাকষির পর শেষ পর্যন্ত পুনে কিনে নিয়েছে স্টোকসকে। আসন্ন মৌসুমে স্টিভেন স্মিথ, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের সঙ্গে খেলবেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।

টি-টোয়েন্টি তো অলরাউন্ডারদেরই খেলা! ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও অবদান রাখতে পারলে সোনায় সোহাগা, যা গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। সে রকমই একজন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।  ইংলিশ এই তারকা ক্রিকেটার যেমন ভালো মানের একজন ব্যাটসম্যান ও বোলার, তেমনি দুর্দান্ত ফিল্ডারও।

আইপিএলের নিলামে আকাশছোঁয়া দাম টাইমাল মিলসের

টি-টোয়েন্টি একেকটি উইকেট শিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই উইকেট শিকারে গতিময় বোলারের দাপট রয়েছে। টায়মাল মিলস তাদেরই একজন। আইপিএলের নিলামে আকাশছোঁয়া দাম উঠলো টাইমাল মিলসের। একজন জাত বোলারের ক্ষেত্রে যা অবিশ্বাস্যই বটে। মিলসকে ১২ কোটি রুপি দিয়ে কিনেছে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

অথচ ইংলিশ এই বোলার ভিত্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ৫০ লাখ রুপি। তার নাম উঠতেই ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত লাখ ছাড়িয়ে তার কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হলেন মিলস।

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিপিএল) চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে নজরকাড়া পারফর্ম করেন তিনি। গতির ঝড় তুলেছিলেন। এরপর তো জাতীয় দলেই ডাক পেয়ে যান ২৪ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার। ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারদর্শী এই বোলার নিলামে চমকে দিয়েছেন সবাইকে।

আইপিএলের নিলামে বিকোলেন না এনামুল হক বিজয়

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) এবার বাংলাদেশের ছয় জন ক্রিকেটার নিলামে আছেন। এর মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নিলামে তোলা হয় এনামুল হক বিজয়কে। তবে ভারতের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখালে অবিক্রিতই থেকে যান এ ওপেনার।

আইপিএলের নিলামে বিজয়ের ভিত্তি মূল্য ছিল ৩০ লাখ রুপি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের আরও পাঁচ খেলোয়াড় এখনও নিলামে ওঠেননি। বিজয় ছাড়াও নিলামে আছেন – তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।

তবে বিজয় বিক্রি না হলেও ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়েছেন আফগানিস্তানের দুই ক্রিকেটার। প্রথমবারের মত আইপিএলে দল পেয়েছেন মোহাম্মদ নবি ও রশিদ খান। সানরাইজার্স হায়াদারাবাদের হয়ে খেলবেন এ দুই আফগান।

বিসিএলে তুষার ইমরানের ডাবল সেঞ্চুরি

আগের দিন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নয় হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছান তুষার ইমরান। ১২৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সে রানকে নিয়ে যান ডাবল সেঞ্চুরিতে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল তুলে নেন প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের এ মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

সাভারের বিকেএসপিতে বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে শাহরিয়ার নাফীসকে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন তুষার। ব্যক্তিগত ৭৪ রানে নাফীস বিদায় নিলেও দারুণ ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। ৩৮৪ বলে ২১০ রানে অপরাজিত আছেন এ ব্যাটসম্যান। নিজের ইনিংসটি ২২ টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে সাজান ৩৩ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটিও তুষারের। গত ডিসেম্বরেই এ মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। নিজেকে ছাড়িয়ে ইতোমধ্যেই ২২টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে অলক কাপালির সমান সর্বাধিক ১৪৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার রেকর্ডও ছুঁয়েছেন তুষার।

মোস্তাফিজের হায়দরাবাদে আফগান দুই ক্রিকেটার

অনেকেই তাকে বর্তমান সময়ের সেরা লেগ স্পিনার ভাবেন। ক্রিকেটের ছোট দলে (আফগানিস্তান) খেলার কারণে সেটা হয়তো চোখে পড়ে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া লিগগুলোতেও বল হাতে জাদু দেখাচ্ছেন রশিদ খান।

আর তাতে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর নজরে আসেন আফগান এই স্পিনার। অনুমিতভাবে রশিদ খান আইপিএলে দলও পেয়েছেন। তাকে দলে নিয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। রশিদকে কিনতে চ্যাম্পিয়নরা খরচ করেছে চার কোটি রুপি। তার ভিত্তি মূল্য ছিল ৫০ লাখ রুপি।

আফগান ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে নিলামে ডাকা হয় মোহাম্মদ নবীর নাম। তাকেও কিনেছে হায়দরাবাদ। নবীর জন্য মোস্তাফিজ-ওয়ার্নারের দল খরচ করেছে ৩০ লাখ রুপি। তার ভিত্তি মূল্যও ছিল ৩০ লাখ রুপি। প্রথম আফগান ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে নাম লিখিয়ে ইতিহাস গড়েন এই অলরাউন্ডার। মোহাম্মদ শেহজাদ অবিক্রিত রয়ে গেছেন।

ডি ভিলিয়ার্স-ডি কর্কে জয়ে শুরু দক্ষিণ আফ্রিকার

সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে পরাস্ত করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে প্রোটিয়ারা। ডি ভিলিয়ার্স-ডি কর্কের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে ওয়ানডে সিরিজটাও জয় দিয়ে শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে স্বাগতিক কিউইদের চার উইকেটে পরাস্ত করেছে ভিলিয়ার্সের দল।

বিস্তারিত আসছে…

মালিঙ্গা-কুলাসেকারা তোপের পরও অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৭৩

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন লাসিথ মালিঙ্গা ও নুয়ান কুলাসেকারা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুজন মিলে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

তারপরও মাইকেল ক্লিঞ্জার ও ময়েজেস হেনরিকসের ব্যাটে ভর করে ১৭৩ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে ১৭৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিয়েছে   স্বাগতিকরা।

বিস্তারিত আসছে….

আইপিএলেও অধিনায়কত্ব হারালেন ধোনি

বছর দুয়েক আগে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি টেস্ট দল থেকে অবসর নেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত জাতীয় দলের সীমিত ওভারের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন।

এবার আইপিএলেও অধিনায়কত্ব হারালেন ধোনি। আসন্ন আইপিএলের দশম আসরে পুনে সুপারজায়ান্টসের নেতৃত্বে দেখা যাবে না তাকে।

বিস্তারিত আসছে…

বাংলাদেশকে ১৯৮ রানের লক্ষ্য দিল শ্রীলঙ্কা

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপার সিক্সের খেলায় বাংলাদেশকে ১৯৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। কলম্বোতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান তুলেছেন লঙ্কান নারীরা।

প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা প্রথম উইকেট হারায়। সালমা খাতুনের শিকার হয়ে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন হানসিকা। অপর ওপেনার পেরেরার ব্যাট থেকে এসেছে ৩২ রান।

লঙ্কানদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেছেন চামারি আতাপাত্তু। এরপর খুব একটা জুটি গড়তে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন প্রাবিধানী।

বাংলাদেশের সেরা বোলার সালমা খাতুন; ৯ ওভারে ৩টি মেডেনসহ ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট পকেটে পুরেছেন। একটি করে উইকেট দখলে নিয়েছেন সুরাইয়া আজমিন, পান্না ঘোষ, খাদিজাতুল কোবরা, রোমানা আহমেদ ও শায়লা শারমিন।

নিলামে থাকছেন না আইপিএল চেয়ারম্যান

দশম আইপিএলের নিলাম নিয়ে উত্তাপ বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) বেঙ্গালুরুতে বসছে নিলামের আসর। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৩৫১ জন ক্রিকেটার উঠতে চলেছেন নিলামে। তবে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয় এই আসরের নিলামে থাকছেন না আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা।

নিলাম অনুষ্ঠানে না থাকা নিয়ে রাজীব শুক্লা বলেন, `নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দুর্ভাগ্যবশত আমি এবারের নিলাম অনুষ্ঠানে উপস্থি থাকতে পারছি না। তবে আমি সকল ফ্রাঞ্চাইজিদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করছি অনেক ভালো একটি দিন কাটবে সবার।`

চেয়ারম্যান হওয়ার পর এবারই প্রথম নিলামে উপস্থিত থাকতে পারছেন না রাজীব শুক্লা। উত্তর প্রদেশে নিজের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আইপিএল চেয়ারম্যান।

এদিকে এবারের নিলামে প্রতিটি দলের নজর থাকছে ইংলিশ তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের দিকে। ক্যাটাগরি `এ` ২ কোটি ভিত্তি মূল্যে থাকা এই তারকাকে কে দলে ভেড়াতে পারে এখন তাই দেখার বিষয়।

মাশরাফির নামে ফেসবুকে ৯ লাখ আইডি!

ফেসবুকের সার্চ বক্সে গিয়ে একটু মাশরাফি বিন মর্তুজা লিখে সার্চ করে দেখুন তো কতটি আইডির খোঁজ পান আপনি। দেখেছেন? হাতে সময় থাকলে এবার গুনতে বসে যান। সাথে বাদাম-চানাচুর কিছু নিয়ে বসতে পারেন। কারণ, বিরতি দেয়া লাগতে পারে। বিরতির সময় যাতে বাদাম-চানাচুর খেয়ে আবার উদ্যম ফিরে পান, এ জন্যই এ পরামর্শ।

ফেসবুকে কারও নামে আইডি গণনা এভাবে হয়তো কেউ করে না। করার প্রয়োজন হয়ও না। খুব বেশি কমন নাম হলে হয়তো ২০/২৫টা আইডি পাওয়া যেতে পারে একই নামে; কিন্তু মাশরাফির নামে আইডি খুঁজতে গেলে আপনি গুনে শেষ করতে পারবেন না। শেষ করা সম্ভব নয়। কেন নয়? কারণটা একটু পরই বলছি।

মাশরাফির নিজের নামে একটা ভ্যারিফায়েড পেজ আছে। ভ্যারিফায়েড মানে, ফেসবুক এটাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই পেজের নিরাপত্তার দায়িত্বও অনেকটা ফেসবুকের হাতে। এই পেজে মাশরাফির অনুসরণকারী ৮১ লাখ ২০ হাজারের ওপরে। পেজটা ভক্তদের জন্যই তৈরি করা। এটা ব্যক্তির নামে হলেও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

এ কারণে মাশরাফি নিজের ঘনিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য আরেকটা ব্যক্তিগত প্রোফাইল পরিচালনা করেন। ওটাই একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তবে সমস্যা হলো কিছুদিন পর পর তার ওই আইডি হ্যাক হয়ে যায়। খুঁজেই পান না আর সেটাকে। অগত্যা মাশরাফিকে আবার নতুন করে আইডি খুলতে হয়। এটা এক ধরনের অভ্যাসই হয়ে গেছে যেনো তার। গত দু’বছরে পাঁচ-ছয়বার আইডি খুলতে হয়েছে তাকে।

তবে, এবার নতুন বিপদে পড়েছেন মাশরাফি। এবার তো আর আইডি খুলতে পারছিলেন না। তার কোনো নাম দিয়েই আইডি খোলা যাচ্ছিল না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে মেইল করলেন মাশরাফি। এরপর ফেসবুকের পক্ষ থেকে তাকে যে তথ্য জানানো হলো, তা শুনে তো চোখ কপালে নয়, আকাশে উঠে যাওয়ার কথা। ফেসবুক থেকে জানানো হলো মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাশরাফি মর্তুজা নামে ফেসবুকে ৯ লাখ আইডি খোলা হয়েছে।

৯ লাখ মাশরাফি বিচরণ করছে ফেসবুকে। আসল মাশরাফির খবর নেই। তিনি নিজেই ফেসবুক থেকে বলতে গেলে বিতাড়িত। অবশেষে একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আরেকটা আইডি খুলতে সক্ষম হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের রঙিন জার্সির অধিনায়ক। এক ক্রীড়া সাংবাদিকের কাছে মাশরাফি নিজেই এ ঘটনার বর্ণনা করেছেন। সেই ঘটনা ওই সাংবাদিক আবার তুলে ধরেছেন তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে।

শেষ বলে সাকিব-তামিমদের হার

ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারলেন না তামিম। তামিমের পর ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে দর্শকদের হতাশ করলেন সাকিব। আর সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজও টস হেরেছে সাকিব-তামিমের দল পেশোয়ার জালমি। টস জিতে জালমির অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিকে ব্যাট করার আমন্ত্রন জানান ইসলামাবাদের অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক। তবে আজ ব্যাট করতে নেমে আর নিজেকে চেনাতে পারেননি তামিম। শুধু এই ওপেনারই নন, ব্যাট হাতে অনুজ্জল সাকিব আল হাসানও।

দলীয় ১৭ রানের মাথায়ই ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হয়ে যান তামিম। বল খেলেছেন ৮টি। আগের দিন ব্যাট করতে নামতে না পারলেও, আজ ব্যাট করার সুযোগ পেলেন সাকিব। ৭ বল খেলে তিনি আউট হয়েছেন মাত্র ৫ রান করে। সাকিব-তামিমের রান করতে না পারাতেই বোঝা যাচ্ছিল দলটির কী অবস্থা হবে। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৬ রান সংগ্রহ করেছে পেশোয়ার। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে মোহাম্মদ সামি ৩টি, রুম্মান রইস ও শাদাব খান নেন ২টি করে উইকেট। মোহাম্মদ ইরফান ও আমাদ বাট নেন ১টি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে শুরুটা ভালো না হলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের জয় এনে দেন ক্যারিবিয়ান তারকা স্মিথ। ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন এই তারকা। ২৪ রান দিয়ে সাকিব নেন ১ উইকেট।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের আশা টিকিয়ে রাখতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশ নারী দলের। আর এমন সমীকরণকে সামনে রেখে সুপার সিক্সে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে বোলিং করছে রুমানা বাহিনী। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ৯২ রান।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ২০১৭ সালের জুনে ইংল্যান্ড নারী বিশ্বকাপে টাইগ্রেসদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই আজকের ম্যাচে শুধু বড় ব্যবধানে জয় পেলেই হবে না, সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারতেও হবে।

এদিকে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে। আর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চারে থাকায় আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের।

৪৬৯ রানে ইনিংস ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু ২৩ ফেব্রুয়ারি। তার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ। সুযোগ পেয়ে ব্যাটিং প্রাকটিসটা ভালোভাবেই সেরে রাখলেন অসি ব্যাটসম্যানরা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৬৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে সফরকারীরা।

ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন স্টিভেন স্মিথ ও শন মার্শ। ১০৭ রান করেছেন স্মিথ; আর শন মার্শের ব্যাট থেকে এসেছে ১০৪ রানের ইনিংস। দুজনই রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন। অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ ৭৫ রানের ইনিংস দলকে উপহার দেন।

ভারতের পক্ষে দুটি উইকেট নিয়েছেন সাইনি। আর হার্দিক পান্ডিয়া, নাদিম ও হারওয়াদকার নিয়েছেন একটি করে উইকেট। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৪৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৩২৩ রানে পিছিয়ে আসে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের টেস্ট দল ঘোষণা ২০ ফেব্রুয়ারি

ভারত সফর শেষ না হতেই চলে এসেছে টাইগারদের লঙ্কান মিশন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের ২৭ তারিখ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। সিরিজে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। আর এ সিরিজকে সামনে রেখে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের টেস্ট দল ঘোষণা করা হবে। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

টাইগারদেরে পূর্ণাঙ্গ এই সফর শুরু হবে টেস্ট সিরিজের মাধ্যমে। আগামী ৭ মার্চ শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে টাইগাররা। এর আগে ২-৩ মার্চ একটি দুইদিনের অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ কলম্বোতে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টই বাংলাদেশের শততম টেস্ট।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি দল ঘোষণার কথা থাকেলও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কারণে একদিন আগে দল ঘোষণা করা হবে। এমনটি জানিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, `টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখেই আমরা দল ঘোষণা করবো। আর দলটি হবে ১৬ সদস্যের। মূলত নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলা খেলোয়াড়রাই দলে জায়গা পাবেন। তবে বিসিএলে একজনের পারফরমেন্স আমাদের নজরে আসে। শেষ পর্যন্ত সেও দলে জায়গা পেতে পারেন।`

সেই একজন কে? প্রধান নির্বাচক নাম উল্লেখ না করলেও বিসিএলে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা নাঈম ইসলামকে নিয়েই গুঞ্জন রয়েছে। বিএসেলে সর্বশেষ তিন ম্যাচেই দুটি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই তারকা। এছাড়া ইমরুল কায়েস দলে ফিরলে সৌম্যের ব্যাটিং অর্ডার চলে যাবে নিচের দিকে। সে ক্ষেত্রে লোয়ার অর্ডারে ধরে খেলতে পারবে এমন চিন্তা ভাবনা থেকেই দলে নাঈম ইসলামকে দেখা যেতে পারে।

এদিকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর ২২ মার্চ একটি ওয়ানডে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলদেশ। ডাম্বুলায় প্রথম দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ হবে ২৫ ও ২৮ মার্চ। শেষ একদিনের ম্যাচটি হবে ১ এপ্রিল এসএসসিতে। আর দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪ ও ৬ এপ্রিল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরের সূচি প্রকাশ

পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে জানা গেলেও, চূড়ান্ত হচ্ছিল না ম্যাচের সূচি। অবশেষে চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

টাইগারদেরে পূর্ণাজ্ঞ এই সফর শুরু হবে টেস্ট সিরিজের মাধ্যমে। ৭ মার্চ শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে টাইগাররা। এর আগে ২-৩ মার্চ একটি দুইদিনের অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ কলম্বোতে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টই বাংলাদেশের শততম টেস্ট।

এদিকে কলম্বোতেই ২২ মার্চ একটি ওয়ানডে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলদেশ। ডাম্বুলায় প্রথম দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ হবে ২৫ ও ২৮ মার্চ। শেষ একদিনের ম্যাচটি হবে ১ এপ্রিল এসএসসিতে। আর দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪ ও ৬ এপ্রিল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

শ্রীলঙ্কা সফরের সূচি:
প্রস্তুতি ম্যাচ (২-৩ মার্চ) – মোরাতুয়া ক্রিকেট স্টেডিয়াম
প্রথম টেস্ট (৭-১১ মার্চ) – গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
দ্বিতীয় টেস্ট (১৫-১৯ মার্চ) – পি সারা ওভাল

প্রস্তুতি ম্যাচ (২২ মার্চ) – কলম্বো
প্রথম ওয়ানডে (২৫ মার্চ) – রাঙ্গিরি ডাম্বুলা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
দ্বিতীয় ওয়ানডে (২৮ মার্চ) – রাঙ্গিরি ডাম্বুলা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
তৃতীয় ওয়ানডে (১ এপ্রিল) – সিংহলি স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড, কলম্বো

প্রথম টি-টোয়েন্টি (৪ এপ্রিল) – আর প্রেমাদাসা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি (৬ এপ্রিল) – আর প্রেমাদাসা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম

শচীনের সেরা অধিনায়ক নাসির হুসেন

ক্রিকেটের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু ম্যাচ খেলেছেন শচীন। কাছ থেকে দেখেছেন বিপক্ষ দলের অধিনায়কত্ব। আর তার চোখে বিপক্ষ দলের সেরা অধিনায়ক রিকি পন্টিং, স্টিভ ওয়াহ, ব্রায়ান লারা নন, তিনি ইংল্যান্ডের নাসির হুসেন। এই ক্রিকেটারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’তে নিজের দেখা সেরা অধিনায়ক হিসেবে নাসিরের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

নাসির হুসেনের অধিনায়কত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে শচীন বলেন, ‘যাদের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে নাসির হুসেন ছিলেন সবচেয়ে ভালো। অধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। ব্যাটসম্যান কোনও বিশেষ শট খেলার পর, নাসির ফিল্ডিং সাজাতো না। বরং  ব্যাটসম্যান বিশেষ শট খেলার আগেই কোথায় কোনও ফিল্ডার রাখতে হবে, ও জানতো। সেই মতোই ফিল্ডিং সাজাতো।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথেরও প্রশংসা করেন শচীন। তিনি বলেন, ‘২২ বছর বয়সে খারাপ সময় পাড় করছে এমন একটা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট র্যাং কিংয়ের শীর্ষস্থানে নিয়ে আসাটা দারুণ ছিল স্মিথের জন্য।’ এ ছাড়া মাইকেল ক্লার্কের অধিনায়কত্বেরও প্রশংসা করেন শচীন।

কোহলির মূল্য ৭৩৭ কোটি টাকা!

ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় পার করছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে গড়ছেন নতুন রেকর্ড। মাঠের এই পারফরম্যান্সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কোহলির ব্র্যান্ড মূল্যও। আর কোহলির এখন বর্তমান মূল্য ৯২ মিলিয়ন ডলার! বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৩৭ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি!

বর্তমানে ২০টির বেশি কোম্পানির সঙ্গে দূতিয়ালি বা কমার্শিয়াল চুক্তি আছে কোহলির। বিভিন্ন সংস্থার অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করেন তিনি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের স্কিল ইন্ডিয়া প্রকল্পেরও শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ভারত অধিনায়ক ব্যক্তিগতভাবেও জড়িয়েছেন একাধিক অংশীদারী ব্যবসায়।

এদিকে সিএএস কেওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী অনির্বান দাসই বলেছেন, ‘আমরা সে দিন থেকে খুব বেশি দূরে নই, যেদিন কোহলি খুব সহজেই ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক দূত বনে যাবেন।’

উল্লেখ্য, ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে ভারতীয় তারকাদের মধ্যে কোহলির অবস্থান রয়েছে দুইয়ে। সবার উপরে আছেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। বলিউড বাদশার ব্রান্ড ভ্যালু বর্তমানে ১৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শেষ ওভারে হারলো মাহমুদউল্লাহর কোয়েটা

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলে দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে স্যাম বিলিংসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কাছে পাঁচ উইকেটে হেরে যায় তার দল কোয়েটা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আসাদ শফিক আর আহমেদ শেহজাদ দারুণ সূচনা করেন। ৪ ওভারে ৩৫ রানের জুটি গড়ার পর তারা বিচ্ছিন্ন হন। যদিও মোহাম্মদ সামির পরের বলেই এলবির শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

রিলে রুশোও ফিরে যান শেন ওয়াটসনের বলে আউট হয়ে। এরপর মাঠে নামেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তিনিও করেন মাত্র ১২ রান। এর একটু পরই ৪২ বলে ৪৫ রান করা আসাদ শফিক আউট হয়ে যান।

এরপর জুটি গড়েন মাহমদউল্লাহ আর থিসারা পেরেরা। দু’জন মিলে গড়েন ৪৬ রানের জুটি। ২০ বলে ২৯ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ২টি বাউন্ডার এবং একটি ছক্কার মারেন তিনি। ১৮ বলে ২৭ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন থিসারা পেরেরা। ফলে ১৪৮ রানের সংগ্রহ পায় দলটি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্যাম বিলিংসের ৭৮ আর শেন ওয়াটসন ৩৬ রানের উপর ভর করে পাঁচ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পায় ইসলামাবাদ। এই জয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়ে শুরু আইপিএল

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আগামী ৫ এপ্রিল শুরু হচ্ছে আইপিএলের দশম আসর। বুধবার আইপিএল কর্তৃপক্ষ দশম আসরের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে। আর এ আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে ১৪মে দিল্লি ডেয়ারডেবিলস ও রয়েল চ্যালেঞ্জারস`র ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। একদিন বিরতির পর ১৬ মে ব্যাঙ্গালুরুর মাঠে শুরু হবে নকঅাউট পর্ব। ২১মে হায়দরাবাদে ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিলিয়ন ডলারের এই আসর।

এদিকে আইপিএলে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই দু’বারই ব্যাট ও বল হাতে আলো ছড়ান সাকিব আল হাসান। আসন্ন আসরের জন্য তাকে রেখে দিয়েছে কেকেআর।

আর প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেছেন মোস্তাফিজ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করেই দেশে ফেরেন। তাই এবারও তাকে ছাড়েনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

আইপিএল ২০১৭ এর চূড়ান্ত সূচি :

#                                              Teams City Date Time Weekday
1 Sunrisers Hyderabad Royal Challengers Bangalore  Hyderabad April 5 8 PM Wed
2 Rising Pune Supergiant Mumbai Indians  Pune April 6 8 PM Thu
3 Gujarat Lions Kolkata Knight Riders  Rajkot April 7 8 PM Fri
4 Kings XI Punjab Rising Pune Supergiant  Indore April 8 4 PM Sat
5 Royal Challengers Bangalore Delhi Daredevils  Bengaluru April 8 8 PM Sat
6 Sunrisers Hyderabad Gujarat Lions  Hyderabad April 9 4 PM Sun
7 Mumbai Indians Kolkata Knight Riders  Mumbai April 9 8 PM Sun
8 Kings XI Punjab Royal Challengers Bangalore  Indore April 10 8 PM Mon
9 Rising Pune Supergiant Delhi Daredevils  Pune April 11 8 PM Tue
10 Mumbai Indians Sunrisers Hyderabad  Mumbai April 12 8 PM Wed
11 Kolkata Knight Riders Kings XI Punjab  Kolkata April 13 8 PM Thu
12 Royal Challengers Bangalore Mumbai Indians  Bengaluru April 14 4 PM Fri
13 Gujarat Lions Rising Pune Supergiant  Rajkot April 14 8 PM Fri
14 Kolkata Knight Riders Sunrisers Hyderabad  Kolkata April 15 4 PM Sat
15 Delhi Daredevils Kings XI Punjab  Delhi April 15 8 PM Sat
16 Mumbai Indians Gujarat Lions  Mumbai April 16 4 PM Sun
17 Royal Challengers Bangalore Rising Pune Supergiant  Bengaluru April 16 8 PM Sun
18 Delhi Daredevils Kolkata Knight Riders  Delhi April 17 4 PM Mon
19 Sunrisers Hyderabad Kings XI Punjab  Hyderabad April 17 8 PM Mon
20 Gujarat Lions Royal Challengers Bangalore  Rajkot April 18 8 PM Tue
21 Sunrisers Hyderabad Delhi Daredevils  Hyderabad April 19 8 PM Wed
22 Kings XI Punjab Mumbai Indians  Indore April 20 8 PM Thu
23 Kolkata Knight Riders Gujarat Lions  Kolkata April 21 8 PM Fri
24 Delhi Daredevils Mumbai Indians  Delhi April 22 4 PM Sat
25 Rising Pune Supergiant Sunrisers Hyderabad  Pune April 22 8 PM Sat
26 Gujarat Lions Kings XI Punjab  Rajkot April 23 4 PM Sun
27 Kolkata Knight Riders Royal Challengers Bangalore  Kolkata April 23 8 PM Sun
28 Mumbai Indians Rising Pune Supergiant  Mumbai April 24 8 PM Mon
29 Royal Challengers Bangalore Sunrisers Hyderabad  Bengaluru April 25 8 PM Tue
30 Rising Pune Supergiant Kolkata Knight Riders  Pune April 26 8 PM Wed
31 Royal Challengers Bangalore Gujarat Lions  Bengaluru April 27 8 PM Thu
32 Kolkata Knight Riders Delhi Daredevils  Kolkata April 28 4 PM Fri
33 Kings XI Punjab Sunrisers Hyderabad  Mohali April 28 8 PM Fri
34 Rising Pune Supergiant Royal Challengers Bangalore  Pune April 29 4 PM Sat
35 Gujarat Lions Mumbai Indians  Rajkot April 29 8 PM Sat
36 Kings XI Punjab Delhi Daredevils  Mohali April 30 4 PM Sun
37 Sunrisers Hyderabad Kolkata Knight Riders  Hyderabad April 30 8 PM Sun
38 Mumbai Indians Royal Challengers Bangalore  Mumbai May 1 4 PM Mon
39 Rising Pune Supergiant Gujarat Lions  Pune May 1 8 PM Mon
40 Delhi Daredevils Sunrisers Hyderabad  Delhi May 2 8 PM Tue
41 Kolkata Knight Riders Rising Pune Supergiant  Kolkata May 3 8 PM Wed
42 Delhi Daredevils Gujarat Lions  Delhi May 4 8 PM Thu
43 Royal Challengers Bangalore Kings XI Punjab  Bengaluru May 5 8 PM Fri
44 Sunrisers Hyderabad Rising Pune Supergiant  Hyderabad May 6 4 PM Sat
45 Mumbai Indians Delhi Daredevils  Mumbai May 6 8 PM Sat
46 Royal Challengers Bangalore Kolkata Knight Riders  Bengaluru May 7 4 PM Sun
47 Kings XI Punjab Gujarat Lions  Mohali May 7 8 PM Sun
48 Sunrisers Hyderabad Mumbai Indians  Hyderabad May 8 8 PM Mon
49 Kings XI Punjab Kolkata Knight Riders  Mohali May 9 8 PM Tue
50 Gujarat Lions Delhi Daredevils  Kanpur May 10 8 PM Wed
51 Mumbai Indians Kings XI Punjab  Mumbai May 11 8 PM Thu
52 Delhi Daredevils Rising Pune Supergiant  Delhi May 12 8 PM Fri
53 Gujarat Lions Sunrisers Hyderabad  Kanpur May 13 4 PM Sat
54 Kolkata Knight Riders Mumbai Indians  Kolkata May 13 8 PM Sat
55 Rising Pune Supergiant Kings XI Punjab  Pune May 14 4 PM Sun
56 Delhi Daredevils Royal Challengers Bangalore  Delhi May 14 8 PM Sun
57 Qualifier 1  TBC May 16 8 PM Tue
58 Eliminator  TBC May 17 8 PM Wed
59 Qualifier 2  TBC May 19 8 PM Fri
60 Final  Hyderabad May 21 8 PM Sun

পূর্বাচলে স্টেডিয়ামের জায়গা পেয়েই কর্মকর্তাদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ!

প্রায় ৩৮ একর জায়গার ওপর পূর্বাচলে তৈরি করা হবে অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য অনেক আগেই দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছে ক্রীড়া প্রশাসন। স্টেডিয়াম নির্মাণের বড় অগ্রগতি- কিছুদিন আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পূর্বাচলের জায়গা বরাদ্দ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে।

রাজউকের বরাদ্দের চিঠি পাওয়ার পরই ক্রীড়া প্রশাসন প্রথম কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিদেশ ভ্রমণ। অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনি ঘুরে এসেছেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ৭ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছে। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উন্নয়ন শাখার এক কর্মকর্তা।

অস্ট্রেলিয়া ঘুরে এসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘এতদিন আমরা রাজউক থেকে জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। বরাদ্দ পেয়ে গেছি। এখন আমাদের সম্ভাব্য ব্যয় বের করতে হবে। ডিজাইন অনুমোদনের পর তৈরি করতে হবে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি)। স্টেডিয়ামটা কী রকম হবে, কী কী সুযোগ সুবিধা রাখা যেতে পারে-এসব কিছু দেখতেই আমাদের এ অস্ট্রেলিয়া যাওয়া।’

সরকারের এ প্রতিনিধি দল কি দেখে এলেন অস্ট্রেলিয়া থেকে? ‘আমরা মেলবোর্ন ও সিডনির ভেন্যু দেখেছি। ওখানে ক্রিকেটের পাশপাশি অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলও হয়। এখানে আমরা সেভাবে করতে পারি কিনা এবং অামাদের দেশের দুই খেলার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গিই বা কি- তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমরা যা দেখে এলাম, যে ধারণা তৈরি হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন জমা দেবো মন্ত্রণালয়ে’-বলেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস।

যদি তা-ই হবে তাহলে এ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন ক্রিকেট বা ফুটবলের কোনো সদস্য রাখা হয়নি? এ প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার বিশ্বাস বলেছেন, ‘তারাও যাবেন। আমরা গিয়েছি একটা প্রাথমিক ধারণা নিতে। এটা চূড়ান্ত কিছু নয়।’

আইপিএলের চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজ শেষ ২৯ মার্চ। এর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই গড়াচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দশম আসর। এবারের আসরটি শুরু হবে ৫ এপ্রিল।

আজ বুধবার এমন তথ্যই নিশ্চিত করা হয়েছে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে আইপিএলের দশম আসরের চূড়ান্ত সূচিও।

আসন্ন এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ৫ এপ্রিল হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

২১ মে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিও গড়াবে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। এবারের আসরে অংশ নেবে মোট ৮টি দল।

সাকিব-মোস্তাফিজ আইপিএল খেলতে যাবেন কখন?

আগামী মাসেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হবেন টাইগাররা। সেখানে ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন মুশফিক-তামিম-সাকিবরা।টেস্ট দিয়েই শুরু হবে সিরিজের মূল লড়াই। ৭ মার্চ খেলা শুরু; আর ৮ এপ্রিল শেষ।

এদিকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের চলাকালীন শুরু হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ভারতীয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির জমজমাট আসরটি মাঠে গড়াবে ৫ এপ্রিল। আর ওই দিন (৫ এপ্রিল) সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান খেলবেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

তাই আইপিএলের শুরুর দিকে খেলতে পারছেন না সাকিব-মোস্তাফিজ। শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষ হলেই আইপিএলে নিজ নিজ দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেয়ার কথা। অর্থাৎ ৮ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সমাপ্তি ঘটবে। এরপরই আইপিএল খেলতে ভারতে যেতে পারেন সাকিব-মোস্তাফিজ।

আইপিএলে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই দু’বারই ব্যাট ও বল হাতে আলো ছড়ান সাকিব আল হাসান। আসন্ন আসরের জন্য তাকে রেখে দিয়েছে কেকেআর।

আর প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেছেন মোস্তাফিজ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করেই দেশে ফেরেন। তাই এবারও তাকে ছাড়েনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ভোজেস

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা অ্যাডাম ভোজেস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামার আগে এই ঘোষণা দিলেন ৩৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটসম্যান বলেন, `অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলের সঙ্গে আমার দারুণ দুটি বছর কেটেছে। এটা আমার শেষ ম্যাচ। আর এ ম্যাচটিকে আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলার শেষ সুযোগ হিসেবেই দেখছি।`

গত নভেম্বরে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হেলমেটে বল লাগার পর ওই সময়ে চলমান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও আর খেলা হয়নি তার। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টই হয়ে থাকলো তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া ভোজেস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০ টেস্টে ৬১.৮৭ গড়ে এক হাজার ৪৮৫ রান করেন। আর ৩১ ওয়ানডেতে তার মোট রান ৮৭০। ক্যারিয়ারে সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

বেশি করে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার তাগিদ নান্নু-সুজনের

বিরাট কোহলি ব্যতিক্রম। তার মেধা-প্রজ্ঞা অসাধারণ। এক বছরের কম সময়ে চার চারটি টেস্ট ডাবল হান্ড্রেডই বলে দেয় ব্যাটসম্যান বিরাট আসলে কত বড়। এই রান মেশিনকে এখনই শচীন টেন্ডুলকারের সাথে তুলনা করা হয়। কাজেই তার মানের কারো থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

বিরাট কোহলির সঙ্গে তামিম, মুশফিক ও সাকিবের তুলনা হবে বাতুলতার সামিল। আচ্ছা, বিরাটকে বাদ দিয়েই ধরা যাক। হায়দরাবাদে ভারতের হয়ে যে বাকি ১০ ক্রিকেটার খেলেছেন, তাদের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মৌলিক পার্থক্যের জায়গা কোনটি?

তা খুঁজতে বেরিয়ে এসেছে এক কঠিন সত্য। মেধা-প্রজ্ঞা ও সামর্থ্যে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে খুব পিছিয়ে; তা নয়। সাকিব, মুশফিক ও তামিম, মাহমুদউল্লাহ, মিরাজ ও তাসকিনরা আসলে পিছিয়ে অন্য জায়গায়। তাদের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট চর্চা ও অনুশীলনটাই কম।

বছরের বেশি সময় সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলা, অনুশীলনের সিংহভাগ ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কম খেলা তথা দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব প্রবল। আর সে কারণেই বোলাররা কোন লাইন ও লেন্থে বল করবেন? ব্যাটসম্যানরা কোন সেশনে কার বিরুদ্ধে কি অ্যাপ্রোচে ব্যাট করবেন? তা ঠাউরে উঠতে সমস্যা হচ্ছে।

ভারতের সাথে হায়দরাবাদে একমাত্র টেস্টেও বোঝা গেছে, বাংয়লাদেশের ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার টেম্পার্টমেন্ট, ধৈর্য, মনোযোগ-মনোসংযোগ এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী বল ও ব্যাট করার অভিজ্ঞতা কম। দেশের ক্রিকেটের তিন কুশলী ও অভিজ্ঞ যোদ্ধা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, খালেদ মাহমুদ সুজন ও সারোয়ার ইমরান জাগো নিউজের সাথে আলাপে এমন মতামতই ব্যক্ত করেছেন।

জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক মিনাহজুল অবেদিন নান্নু ও খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে সাবেক জাতীয় কোচ সারোয়ার ইমরানও মনে করেন, দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ কম খেলার কারণেই বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিং প্রত্যাশিত মানে পৌছাচ্ছে না। তাদের তিনজনের কথা, ‘টেস্টে এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে।’

তারা কিছু জায়গায় তিনজনই একমত, যেমন দীর্ঘ পরিসরের খেলার নানা সুক্ষ্ম কৌশল আত্মস্থ করা না থাকলে জায়গামতো গিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন; যেহেতু বাংলাদেশের  ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন কম, তাই কোন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে কী করতে হবে? এখনো তা পুরোপুরি জানা নেই।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু একটা কৌশলগত বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘ হায়দরাবাদে ‘এসজি ’ বলে খেলা হয়েছে। ভারতীয়রা সারা বছর ওই এসজি বলে খেলে। এসজিই বলের চরিত্রই হলো ৩০ ওভার পর্যন্ত সাইন বা ঔজ্জ্বল্য বেশি থাকে। তারপরও ঔজ্জ্বল্য কমে যাওয়ার পাশাপাশি বল নরমও হয়ে যায়। এগুলো আমাদের পেসারদের অজানা। সেটা ওই এসজি বলে চার দিনের ম্যাচ খেলে খেলেই জানতে হবে। ওই বল পুরনো ও নরম হওয়ার পর কোন লাইন ও লেন্থে বল করতে হবে, সেটা আদ্যে কতটা সুইং করবে- তা না জানা থাকলে কখনই ভালো বোলিং হবে না।’

দেশের প্রথম টেস্ট কোচ ও অভিজ্ঞ দ্রোণাচার্য সারোয়ার ইমরান মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বেশি বেশি দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলতেই হবে। তার সোজা সাপটা কথা, চার দিনের ম্যাচ না খেলে কারো টেস্টে ভালো খেলার সম্ভব নাই।

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট হচ্ছে দীর্ঘ পরিসরের খেলার সব রকম কৌশল শেখা ও জানার আদর্শ জায়গা। এখানে খেলে খেলেই নিজেকে তৈরি করতে হবে। কখনও ছাড়তে হবে, কখন সমীহ করতে হবে- এসব জানতে এবং আত্মস্থ করতে গেলে বেশি করে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে হবে।

হায়দরাবাদ টেস্টের প্রসঙ্গ টেনে সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে আমাদের পেসাররা অনেক বেশি খাটো লেন্থে বল ফেলেছে। তাই সাফল্য ধরা দেয়নি। দ্বিতীয়  ইনিংসে তাসকিন ওপরে ওপরে বল করে সাফল্য পেয়েছে। একইভাবে বছরের বেশির ভাগ সময় ওয়ানডে এং টি-টোয়েন্টি খেলার কারণে ছাড়ার প্রবণতা খুব কম। অথচ টেস্টে ভালো বলকে সমীহ দেখাতেই হবে। আর যে ডেলিভারি বিপদের কারণ হতে পারে তা দেখে উইকেট কভার করে ছেড়ে দেয়ার মানসিকতা দরকার। বেশি করে চার দিনের ম্যাচ না খেললে সে অভ্যাস জন্মাবে না।’

অন্যদিকে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আরও বেশি করে অন্তত বছরের আট-দশটি দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার তাগিদ দিয়েছেন। তার কথা, ‘কোন শর্ট কার্ট পথ নেই। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলে খেলেই হাত পাকাতে হবে। ভারতের ব্যাটসম্যানরা রঞ্জি, দুলিপ ও ইরানী ট্রফি খেলে খেলে নিজেকে ঘসে মেজে তৈরি করে ফেলেন। আমাদের ক্রিকেটাররা তুলনামূলক অনেক কম চার দিনের ম্যাচ খেলে।’

এ ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার ইচ্ছে কম বলে অভিযোগ থাকলেও খালেদ মাহমুদ সুজন তা মানতে নারাজ। তার কথা, ‘ঠিক তা নয়। আসলে আন্তর্জাতিক সফর সূচির সাথে তাল মেলাতে গিয়েই আমাদের জাতীয় ক্রিকেটারদের জাতীয় লিগ ও বিসিএল খেলা কম হয়।’

খালেদ বলেন, ‘আমাদের আবহাওয়া এমন যে সারা বছর ক্রিকেট চর্চা কঠিন। দেখা যায় এমন এক সময় দীর্ঘ পরিসরের আসর বসছে, যখন জাতীয় দল দেশের বাইরে কোনো সিরিজ বা আসরে ব্যস্ত। তাই জাতীয় ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার সুযোগও কম হয়। তবে এ ধারা পাল্টাতে হবে। যে করেই হোক জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যাতে অন্তত আট থেকে দশটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে পারে সে ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।’

খালেদ মাহমুদ সুজন একই সাথে দীর্ঘ পরিসরের আসরে উইকেট ভালো করার জোর তাগিদও অনুভব করছেন। তার দাবি, ‘স্পোর্টিং! পিচ তৈরি করতে হবে আরও বেশি করে। চার দিনের ম্যাচগুলো স্পোর্টিং উইকেটে হলে ক্রিকেটারদের লাভ হবে। তারা নিজেদের সব রকম পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে।’

আরাফাত সানির ভাগ্য নির্ধারণ আজ

জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানির ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে আজ। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তার জামিন শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলার জামিন পাওয়া বা না পাওয়ার উপর নির্ভর করছে তার ভাগ্য।

আজ বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুল ইসলামের আদালতে সানির জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সানির আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ জাগো নিউজকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আজ বুধবার সানির জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ শুনানির উপর সানির ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম বলেন, সানির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন শুনানি দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম সামছুল আলমের আদালতে তার আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ এ জামিন আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল জামিন শুনানির জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

২৪ জানুয়ারি একদিনের রিমান্ড শেষে আরাফাত সানিকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদশর্ক (এসআই) ইয়াহিয়া। অপরদিকে তার আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২২ জানুয়ারি আরাফাত সানিকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন এস আই ইয়াহিয়া। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন সকালে আমিনবাজার এলাকা থেকে আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। সানির বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা করেন তার স্ত্রী দাবিদার এক তরুণী।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আরাফাত সানির সঙ্গে ওই তরুণীর ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। গত বছরের ১২ জুন আরাফাত সানি দু’জনের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ছবি ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। ছবি পাঠিয়ে আরাফাত সানি ওই তরুণীকে হুমকি দেন। পরে আবার ২৫ নভেম্বর ওই তরুণীকে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে হুমকি দেন আরাফাত সানি।

এ ঘটনায় নাসরিন সুলতানা নামে ওই তরুণী বাদী হয়ে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে প্রথম মামলা করেন। পরদিন যৌতুক আইনে দ্বিতীয় মামলা করেন। আর ১ ফেব্রুয়ারি যৌতুকের জন্য মারধরের ঘটনায় তৃতীয় মামলাটি করেন নাসরিন।

বোলিংয়ের ব্র্যাডম্যান অশ্বিন : স্টিভ ওয়াহ

কী? খাপছাড়া ঠেকছে, তাই না। হ্যা একটু ধাঁদায় পরে যাওয়ারই কথা। কারণ স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ছিলেন ব্যাটসম্যান, আর অশ্বিন একজন বোলার, স্পিনার। তাদের মধ্যে মিলের চেয়ে গড়মিলই বেশি। তবে এবার এই দুই জনের মধ্যেও মিল খুঁজে পেলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।

বলার অপেক্ষা রাখে না ৫২ টেস্টে ২৯ সেঞ্চুরি আর ৯৯.৯৪ গড়ের মালিক ব্র্যাডম্যান। পরিসংখ্যানে শুধু সবার উপরেই নন, কালজয়ী। হয়তো ইতিহাসে সব সময়ের সেরা। অন্যদিকে ভারতের অশ্বিনও আছেন রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন। বোলার হিসেবে তার পরিসংখ্যান আকাশ ছোঁয়া। হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে গড়েছেন দ্রুততম ও কম টেস্ট খেলে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক।

এদিকে চার টেস্টের সিরিজ খেলতে ভারতে এসে পৌঁছেছে স্মিথবাহিনী। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক স্টিভ ওয়াহ অশ্বিনের প্রশংসা করে বলেন, `এই মুহূর্তে অশ্বিন যেন বোলিংয়ে ডন ব্র্যাডম্যান। ওর রেকর্ড যেন ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং রেকর্ডের সমান। ও যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে মনে হয় অনেক রেকর্ডই ভেঙে ফেলবে।`

নাঈমের ১৯তম সেঞ্চুরি

ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ফর্মেই আছেন নাঈম ইসলাম। সর্বশেষ তিন ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে উত্তরাঞ্চলের হয়ে তুলে নিয়েছেন শতক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ১৯তম শতক। জাতীয় দলে তার একটি সেঞ্চুরি রয়েছে।

পূর্বাঞ্চলের হয়ে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন দুজন ব্যাটসম্যান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরির দেখা পান আফিফ হোসেন (১০৫)। ইয়াসির আলীও তুলে নেন সেঞ্চুরি (১১০*)। আর তাতে প্রথম ইনিংসে পূর্বাঞ্চল সংগ্রহ পায় ৪৯০ রানের।

জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন নাঈম ইসলাম। ২৮৪ বল মোকাবেলা করে ১১টি চারের সাহায্যে ঠিক ১০০ রান করেন তিনি। শিকারে পরিণত হন আবুল হাসানের। নাঈমের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪০৪ রান করে উত্তরাঞ্চল।

এরপর প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ৯২ রান তোলে পূর্বাঞ্চল। কিন্তু সময় যে পড়ে এলো। যে কারণে ড্র হয়েছে পূর্বাঞ্চল-উত্তরাঞ্চলের ম্যাচ।

টেস্ট নয়, ওয়ানডে দল ঘোষণা ২১, অনুশীলন শুরু ২৩ ফেব্রুয়ারি!

সফর অনিশ্চিত নয়। টাইগারদের শ্রীলঙ্কায় সিরিজ খেলতে যাওয়া নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দেয়নি। তবে লঙ্কান বোর্ডের কিছু টালবাহানা আছে। ভেতরের খবর- একদম শেষ দিকে টাইগারদের সফরসূচিতে খানিক পরিবর্তন আসছে। কথা ছিল, ৭ এপ্রিল গলে টেস্ট দিয়ে শুরু হবে টিম বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর। কিন্তু শেষ খবর, সম্ভবত তাতে পরিবর্তন আসছে। টেস্ট নয়, সফর শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। বিসিবি সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম এমন তথ্যই দিয়েছেন।

আজ রাতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনও নিশ্চিত করলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর।’ এখন ফরম্যাট বদলের পাশাপাশি ভেন্যু ও দিনক্ষণ পাল্টাবে কিনা? তা জানাতে পারেননি বিসিবি গেম ডেভোলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ। খালি জানিয়েছেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, তাতে টেস্ট নয়, প্রথম ওয়ানডে হবে।’

এদিকে প্রথমে টেস্ট না হলে খানিক বিপাকে পড়ে যাবেন নির্বাচকরা। তারা প্রথমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ধরেই এগোচ্ছেন। আজ রাতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানান, ‘আমি শুনেছি সফরসূচি রদবদল হতে পারে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাইনি। তাই আমি আগের মতো টেস্ট প্রথমে ধরেই দল নির্বাচনের কথা ভাবছি। প্রধান নির্বাচক জানিয়ে দিয়েছেন, যেহেতু দুই ম্যাচের টেস্ট এবং একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল আগে, তাই আমি প্রথমে টেস্ট দল সাজানোর কাজ শুরু করেছি। আগামীকাল বুধবার আমরা শ্রীলঙ্কা সফরে দল নির্বাচনী বৈঠকে বসবো।’

মিনহাজুল আবেদিন আরও জানান, ‘প্রথমে ২১ ফেব্রুয়ারি টেস্ট দল ঘোষণার কথা ছিল। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুশীলন ক্যাম্প। তিন দিনের প্রস্তুতি শেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি দল যাবে শ্রীলঙ্কায়। তা ধরে আমরা আমরা একবারে ১৬ জনের চূড়ান্ত টেস্ট দল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

প্রধান নির্বাচক নিশ্চিত করেছেন, সফর সূচি পাল্টালেও দল পূর্ব নির্ধারিত সূচি মানে- ২৭ ফেব্রুয়ারিই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে। তার আগে সত্যিই যদি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হয়, তাহলে ওয়ানডে স্কোয়াডই আগে ঘোষণা হবে। এবং সেটাও চূড়ান্ত দল। যেহেতু সময় কম। ক্রিকেটাররাও খেলার মধ্যে অছেন। তাই কোনোরকম প্রাথমিক প্রস্তুতির দল দেয়া হবে না। ওয়ানডের জন্যও একবারে চূড়ান্ত স্কোয়াডও করা হবে।

সেজন্য অন্তত আগামীকাল কিংবা পরশু পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। তার আগে হয়তো লঙ্কান বোর্ড সফর সূচি চূড়ান্ত করে বিসিবিকে পাঠাবে না।

পিএসএল খেলতে আবুধাবিতে সাকিব-তামিম-মাহমুদউল্লাহ

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) পর্দা উঠেছে দুদিন আগেই। তবে হায়দরাবাদ টেস্টের কারণে শুরুতে যোগ দিতে পারেননি বাংলাদেশ দলের তিন তারকা সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে টেস্ট শেষে এ আসরে খেলতে আরব আমিরাত উড়ে গেছেন এ তিন তারকা।

সোমবার টেস্ট ম্যাচ শেষে সন্ধ্যায় আবুধাবির বিমান ধরেছেন তিনজন। বাংলাদেশের এ তিন তারকা যোগ দেওয়ায় পিএসএলের প্রতি আকর্ষণ কাজ করবে বাংলাদেশি দর্শকদের। পাশাপাশি দলের শক্তিও বাড়বে।

এবারের পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলবেন সাকিব ও তামিম। আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলবেন কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সে। সাকিব ও তামিম আগে খেললেও এবারই প্রথম খেলছেন মাহমুদউল্লাহ। তবে গত আসরে খেলেছিলেন মুশফিকুর রহীমও।

সাকিব-তামিম-মাহমুদউল্লাহ পিএসএলে গেলেও মঙ্গলবার সকালে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বাকি ক্রিকেটাররা। কলাকাতা হয়ে দুপুরে ঢাকায় ফিরছে দলটি। তবে কলকাতায় ব্যক্তিগত কাজে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও স্পিনার তাইজুল ইসলাম থেকে যাবেন বলে জানা গেছে।  ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুপুর ২টায় দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল।

মুশফিককে অভয়বাণী শোনাবেন বিসিবি বিগবস?

তামিম ইকবালের সাহসী আর প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করার মানসিকতা তার নেই। যেকোনো ফরম্যাটে নিজের দিনে তামিম যেভাবে প্রতিপক্ষ বোলিং দুমড়ে-মুচড়ে কিংবা তছনছ করে দিতে পারে, তার ব্যাটিং শৈলী ও অ্যাপ্রোচে সেই খুনেভাব অনুপস্থিত।

সাকিব আল হাসানের সাবলীল অথচ বেপরোয়া স্ট্রোক প্লে, যাকে তাকে নিজের মতো করে খেলার সামর্থটাও নেই। তারপরও তিনি মানে মুশফিকুর রহিমই টেস্টে বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যাটসম্যান।

দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে একজন আদর্শ ব্যাটসম্যানের যে কিছু অপরিহার্য উপাদান দরকার, তা পুরোটাই আছে মুশফিকুর রহিমের। পরিপাটি ও পরিশুদ্ধ টেকনিক। ইচ্ছেমত ও মনগড়া শট খেলার বদলে বলের মেধা-গুণ বিচার এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি ঠাউরে ব্যাট চালনায় মুশফিক সবার ওপরে।

টেস্ট আদলের ব্যাটিং কৌশল, টেম্পারমেন্ট, দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার ধৈর্য, মনোযোগ-মনোসংযোগ এবং লাগসই অ্যাপ্রোচ ও অ্যাপ্লিকেশন ও যথার্থ শট নির্বাচন ক্ষমতা- সব মিলে বাংলাদেশের উইলোবাজদের মধ্যে মুশফিক নাম্বার ওয়ান। তার রেকর্ড ও পরিসংখ্যানও তাই বলে। সে কারণেই ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চেয়েও টেস্টে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ মুশফিক। নির্ভরতার প্রতীকও।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো, সেই মুশফিক মাঝে মধ্যে হন প্রশ্নবিদ্ধ। তার ব্যাটিং শৈলী, অর্জন ও কৃতিত্ব ফিকে হয়ে যায় কিপিং ব্যর্থতায়। আগে যেমন তেমন ইদানিং মানে নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময় কিপার মুশফিকের গ্লাভস ফসকে বেশকিছু ক্যাচ বেরিয়ে গেছে। হায়দরবাদে ভারতের সঙ্গে একমাত্র টেস্টে ভারতের উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহাকে স্টাম্পড করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে কিপার মুশফিক রীতিমত ‘ভিলেন’ বনে গেছেন।

এ ম্যাচের পোস্টমর্টেম করতে গেলে মুশফিকের কিপিং ব্যর্থতার কথা উঠে আসবে বারবার। মোটা দাগে বলতে গেলে মুশফিকের কিপিং নিয়ে রাজ্যের সমালোচনা। তীর্যক কথাবার্তা। ব্যাটসম্যান মুশফিক যদি হন আস্থার প্রতীক, উইকেটের পেছনের মুশফিক যেন আড়ষ্ট ও ব্যর্থ কিপারের প্রতিচ্ছবি। এমন নয় দেশে উইকেট কিপারের আকাল।

এ মুহূর্তে দেশে যত উইকেট কিপার আছেন, তার মধ্যে মুশফিকই সেরা। কোনো কারণে তার ফর্ম ভালো যাচ্ছে না। তাই তাকে ছাড়া উপায়ও নেই।
আসলে তা নয়। মুশফিকের চেয়ে ঢের ভালো কিপার নুরুল হাসান সোহান। এমনকি লিটন কুমার দাস-এনামুল হক বিজয়ও খুব কাছাকাছি। তাই ব্যাটসম্যান মুশফিক যেমন অপরিহার্য, অটোমেটিক এবং ফার্স্ট চয়েজ, কিপার মুশফিক কিন্তু তা নন। বিকল্প আছেন কজন। যারা মানের দিক থেকে খারাপ নন।

তাই অতিবড় মুশফিক সমর্থকও মনে করেন, নিজ ব্যাটিংয়ের স্বার্থে এবং টিম বাংলাদেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে মুশফিকেরই উচিৎ কিপিং বাদ দিয়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা। তাতে করে তার শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম এবং প্রশান্তি মিলবে।

যেহেতু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত দলগুলো বেশি সময় ব্যাটিং করে, তাই মুশফিককে ওই দীর্ঘ সময় উইকেটের পেছনে হাঁটুমুরে বসে থাকতে হয়। প্রতি বলেই অঙ্গসঞ্চালনসহ সর্বোচ্চ মনোযোগ-মনোসংযোগ দিতে হয়। এতে করে শারীরিক শক্তির পাশাপাশি, চোখ ও মানসিক শক্তির ওপরও চাপ পড়ে। যা তার ব্যাটিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনাও থাকে।

এখন বয়স কম এবং প্রচুর অনুশীলন করেন, ফিটনেস লেভেল অন্যদের চেয়ে বেশি বলে হয়তো মালুম হয় না। একসময় গিয়ে ঠিক সমস্যা হবে। শরীর আর সায় দেবে না। অনেকেরই মত সে সব বিবেচনায় এখনই কিপিং ছেড়ে পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হয়ে যেতে পারেন মুশফিক। কিপিং ছেড়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে নির্ঘাত তার পারফরমেন্স আর ভালো হবে। ব্যাটিংয়ের প্রতি শতভাগ মনোযোগী হতে পারবেন। মেধা, প্রজ্ঞা ও সামর্থের পুরোটাই ব্যাটিংকে দেয়া সম্ভব হবে।

কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে যে ব্যাটিং কতটা ভালো হয়, নিজের প্রকৃত মেধার কেমন স্ফূরণ ঘটানো যায়- তার জ্বলন্ত নজির হচ্ছেন কুমারা সাঙ্গাকারা। এ লঙ্কান গ্রেটও মুশফিকুর রহিমের মতো স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান কাম কিপার ছিলেন। কিপিংটাও মন্দ করতেন না। কিন্তু একসময় মনে হলো, নাহ কিপিং ছেড়ে ব্যাটিংয়ে মন দেই। তাতে লাভ হবে। ব্যাটিং ক্যারিয়ার হবে আরও সমৃদ্ধ।

পরিসংখ্যানটা দেখুন, তাতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে ব্যাটসম্যান কাম কিপার সাঙ্গাকারা আর শুধু ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারার পরিসংখ্যানের কত বড় ফারাক?
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপার সাঙ্গাকারা খেলেছেন ৪৮ টেস্ট। ৮১ ইনিংসে রান ছিল ৩১১৭। গড় ৪০.৪৮। পঞ্চাশ ১১টি। সেঞ্চুরি ছিল ৭টি। সর্বোচ্চ ছিল ২৩০।

অন্যদিকে কিপিং ছেড়ে পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হবার পর গড়ে ২৬‘র চেয়ে বেশি রান বেড়ে যায় কুমারা সাঙ্গাকারার। শুধু ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারা ৮৬ টেস্টে ১৫২ ইনিংস ব্যাট চালিয়ে রান করেছেন ৯২৮৩। ট্রিপল সেঞ্চুরি হাকানোসহ টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের ইনিংসটিও খেলেন শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে। শুধু স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে সাঙ্গাকারার গড় ৬৬.৭৮। শতরান ৩১টি। আর হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা ৪১।

সবচেয়ে বড় তথ্য হলো, ২০০৮ সালের এপ্রিলে কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হবার পর সাঙ্গাকারার ব্যাটে রানের নহর বয়ে যায়। ওই সময়ের পর থেকে ক্যারিয়ারের ইতিটানার আগে পর্যন্ত তার গড় ছিল ৬৬। যা ক্রিকেটের কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানের পর আর যেকোনো ব্যাটসম্যান শচীন, লারা, পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস, দ্রাবির ও মার্ক ওয়াহর চেয়ে বেশি।

কাজেই মুশফিক কিপিং ছেড়ে পুরোদস্তুর ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হলে তার গড়ও হয়তো পঞ্চাশের ওপরে চলে যাবে। তাতে তার নিজের ক্যারিয়ারই সমৃদ্ধ হবে না, টিম বাংলাদেশও অনেক উপকৃত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো মুশফিক কি কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবেন? তাকে যারা চেনেন, জানেন ও বোঝেন- সবাই এক বাক্যে বলবেন নাহ, মুশফিক সহজে কিপিং ছাড়ার পাত্র নন।

এইতো কদিন আগে হায়দরাবাদ টেস্টে সাকিব জানিয়ে দিলেন মুশফিক ভাই কিপিং উপভোগ করেন। ব্যাটিংয়ের মতো কিপিংটাও তার প্রিয়। তাই সে প্রিয় কিপিং মুশফিক ছাড়বেন কি-না? সেটা বড় প্রশ্ন। তবে কারও কারও মত, শুধু পছন্দ আর উপভোগের কারণেই নয়, মুশফিক একটা অজানা শঙ্কায় ভোগেন। তার ধারণা, কখনও কিপিং ছেড়ে দিলে তার দলে অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে। তিনি একধারে অধিনায়ক, কিপার এবং ব্যাটসম্যান। মুশফিক মনে করেন কিপিং করতে না পারলে তার অধিনায়কত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

একসময় ব্যাটিং ফর্ম খারাপ হলে দল থেকে বাদও পড়তে পারেন। এই ভেবেই আসলে মুশফিক কিপিং ছাড়তে চান না। সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের ধারনা ও মত, বিসিবি প্রধান এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান প্রধান অভিভাবক নাজমুল হাসান পাপন মুশফিককে আশ্বস্ত করলে হয়তো কাজ হতে পারে।

তার কিপিংয়ের পাশাপাশি দল পরিচালনা নিয়েও কথা হচ্ছে বিস্তর। তা ভালোই জানেন মুশফিক। তার হাত থেকে নেতৃত্ব অন্য কারো কাঁধে চলে যেতে পারে- এমন শঙ্কাও কাজ করে ভেতরে। তাই মনে মনে ভাবেন, আমি কিপিং ছাড়লে ভবিষ্যতে দলে আমার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তাই কিপিংটা ধরে রাখি। যেটা আমার রক্ষাকবচ। কখনও ব্যাটিং খারাপ হলেও যা আমার দলে অবস্থান নিশ্চিত রাখবে। এমন ভেবেই নাকি মুশফিক কিপিং ছাড়তে নারাজ।

এখন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান একটু উদ্যোগী হলেই হয়তো মুশফিকের সে ধারণা বদলে যেতে পারে। বিসিবি বিগবস যদি মুশফিককে আশ্বস্ত করেন, ‘তোমার চিন্তা নেই। টেস্টে তুমিই আমাদের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। আমাদের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিক। ব্যাটিংয়ের মূল চালিকশক্তি। তুমি কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে তোমারও মঙ্গল, দলও উপকৃত হবে। তোমার দলে অবস্থান মোটেই নড়বড়ে হবে না। তুমি এখন যেমন অটোমেটিক চয়েজ, কিপিং ছেড়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও থাকবে প্রথম পছন্দ।’

এমন অভয়বাণী শুনলে হয়তো মনের ইচ্ছে বদল ঘটতেও পারে। কাজেই সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের ধারণা, মুশফিককে অভয়বাণী শোনানোর এখনই সময়। শুধু মুশফিকের ক্যারিয়ারের জন্য নয়, দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে এবং প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিনকে সঙ্গে নিয়ে বিসিবি বিগবস ভারত থেকে দেশে ফেরার পর শ্রীলঙ্কা সফরের আগে মুশফিকের সঙ্গে বসে তাকে অভয়বাণী শোনাতে পারেন।

তাহলে হয়তো সাঙ্গাকারার মতো মুশফিকও কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে রাজি হবেন। প্রকৃত সত্য হলো, মুশফিক নিশ্চিতভাবেই একটা নিশ্চয়তা চান। তা দেবার সত্যিকার এখতিয়ার রাখেন বিসিবি প্রধান। তিনি কি তা করবেন?

সাকিবের পারফরম্যান্সে খুশি মুশফিক

নিউজিল্যান্ড সফরেই সাকিব আল হাসান আভাস দিয়েছিলেন, দারুণ ছন্দেই আছেন। ওয়েলিংটন টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছিলেন। তুলে নিয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটাও এখন তারই দখলে, ২১৭ রানের। ৪১৮ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৭৬ বলে ৩১টি চারের সাহায্যে সাজান অনবদ্য ইনিংসটি।

পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা সাকিব অব্যাহত রেখেছেন ভারত সফরেও। প্রথম ইনিংসে ৮২ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেছেন। যদিও ভারতীয় বোলারদের কড়া শাসন করেও শেষটা ভালো হয়নি। অর্থাৎ সেঞ্চুরি তুলে নিতে পারেননি। বিদায় নিয়েছেন প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়া এক শটে। যা তার নামের সঙ্গে যায় না। ভালো খেললেও তাই সমালোচনা শুনতে হয়েছে সাকিবকে।

তার আগে প্রথম ইনিংসে সাকিব বল হাতে ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। ২৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে কোনো উইকেটের দেখা পাননি। খরচ করেছেন ১০৪ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম কিছু উজ্জ্বল ছিলেন সাকিবের চেয়ে। তাইজুল নেন ৩ উইকেট; আর মিরাজের পকেটে ওঠে দুটি।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য সাকিবই বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিংটা করেছেন। ৯ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ঝুড়িতে জমা করেছেন দুই উইকেট। ইকোনোমি রেট ৫.৫৫। আর তাসকিন আহমেদও দুই উইকেট লাভ করেন। তবে ওভার প্রতি বেশি রান দিয়েছেন। বাংলাদেশি পেসার ৭ ওভারে ৪৩ রান খরচ করেছেন। যার ইকোনোমি রেট ৬.১৪।

এদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা সাকিবের কাছে আরো বেশি প্রত্যাশা ছিল; এটা বলা বাহুল্য। সাকিব ক্রিজে থাকায় প্রতিপক্ষ আতঙ্কে ছিল। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজার লাফিয়ে ওঠা এক বলই সাকিবের পথচলা থামিয়ে দেয় ২২ রানে। এরপর হয়তো আশাহত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ!

সব মিলে গোটা টেস্ট ম্যাচেই আলোচনায় সাকিব। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহীমকে সাকিবের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে বললে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জানান, সাকিবের পারফরম্যান্সে তিনি খুশি। বলেন,  ‘আমরা চাই সাকিব এমন বোলিং করবে যাতে করে একটা ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারে। বাকি কাজগুলো দলে অন্যরা যারা আছে তাদের। এটা তিনটা স্পিনার খেলানোর একটা কারণ। সাকিবের পারফরম্যান্সে কাজে আমি খুশি। সেকেন্ড ইনিংসে যখন তার হাতে বল দিয়েছি, তখনো সে ভালো বোলিং করেছে।’

তবে প্রথম ইনিংসে সাকিবকে দিয়ে কেন কম ওভার করানো হলো; তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন। এর জবাবে মুশফিক বলেন, সাকিবের বোলিং নিয়ে আমি বলতে পারি, প্রথম ইনিংসে আমাদের তিনজন স্পিনার সামনে থেকে লিড দিয়েছে। আমার এবং টিম ম্যানেজম্যান্টের মনে হয়েছে তাইজুল ও মিরাজ তাদের কাজটা ঠিকমতো করতে পেরেছে। তাই আমাদের তাদের ওপরই আস্থা রেখেছিলাম। এটা আসলে নির্ভর করে নির্দিষ্ট দিনে কে ভালো করছে তার ওপর। আমার ওই দুইদিন মনে হয়েছে তাইজুল ও মিরাজের জুটিটা ভালো হচ্ছিল। আমরা চাই যে সাকিব যতটুকু বোলিং করতে সেটা যেন দলের কাজে লাগে। সাকিব সেই অবস্থায় নেই তাকে দিয়ে লং স্পেল বোলিং করাতে হবে।’

ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা হতাশা আছে সমর্থকদের মাঝে। মুশফিক বললেন ভিন্ন কথা, ‘যে কন্ডিশনেই খেলেন না কেন, আপনাকে সেভাবে প্রস্তুত হতে হবে। টেস্টে বড় ইনিংস খেলতে হলে একজন ব্যাটসম্যানকে অবশ্যই তার অফস্ট্যাম্প কোথায় সেটা জানতে হবে। এবং আপনার ডিফেন্সটা অনেক শক্তিশালী থাকতে হবে। এই দুইটা জিনিস থাকলে বড় রান করা পসিবল। আমি যত দূর জানি এই দুইটা জিনিস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই দুইটা বিষয়ের ওপর সব সময় মনোযোগ দিয়ে থাকি। আল্লাহর রহমতে সেটা করতে পেরেছি। একটু হলেও ভালো লেগেছে।’

দুপুরে ঢাকায় ফিরছে বাংলাদেশ দল

ভারতে ঐতিহাসিক সফরে ১১ দিন অবস্থান করার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সকাল ৬টায় হায়দরাবাদ থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারা। এরপর সেখান থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে বেলা ২টায় ঢাকায় পা রাখবে মুশফিকবাহিনী।

তবে আজই দলের সকল খেলোয়াড় ঢাকায় ফিরছেন না। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে ভারত থেকে আরব আমিরাতে উড়ে যাবেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া কলকাতায় ব্যক্তিগত কাজে কয়েকদিন ভারতে থাকতে পারেন মুশফিকুর রহীম ও তাইজুল ইসলাম।

আগের দিন হায়দারাবাদ টেস্টে ২০৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে পাঁচদিন পর্যন্ত লড়াই করায় প্রশংসাই পেয়েছে মুশফিকুর রহীমের দল। চলতি মাসের শেষেই শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে দলটি। সেখানে ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগার বাহিনী।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুশীলন ক্যাম্পে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন মুশফিকরা।

কোহলিকে ফেরালেন সাকিব

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পূজারাকে সঙ্গে নিয়ে দলে হাল ধরেছিলেন ভারত অধিনায়ক কোহলি। ওয়ানডে স্ট্যাইলে ব্যাট করে গড়েন অর্ধশত রানের জুটি। তবে এরপর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকেতে পারলেন না আগের ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা কোহলি। সাকিবের বলে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন বর্তমান সময়ের সেরা এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান। টিম ইন্ডিয়া এগিয়ে আছে ৩৯৪ রানে।

বাংলাদেশকে ২৯৯ রান দূরে রেখে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিনের বোলিং তোপে পড়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। চতুর্থ ওভারের প্রথম ইনিংসে শতক করা মুরালি বিজয়কে (৭) দ্রুত ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে থামেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বিজয়। আর ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল (১০)।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তবে, বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এদিকে ফলোঅন এড়াতে ১৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা মুশফিক-মিরাজের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। কিন্তু কোহলির নিজে রীতিমত দুর্দান্ত এক সিদ্ধান্ত। দিনের শুরুতেই বোলিংয়ে আনলেন এ ম্যাচে এখনো উইকেটের দেখা না পাওয়া ভুবনেশ্বকে। তাই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করলেন এই বোলার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দিনের প্রথম ওভারেই মিরাজকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে।

এরপর মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাইজুল। তবে রানের খাতা দুই অঙ্ক নিয়েই খেয় হারিয়ে ফেলেন তাইজুল। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও হাতে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। ফলে ৩৮ বলে ১০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অসাধারণ ব্যাট করা মুশফিক। এরপর ৮ রান করে তাসকিনের বিদায়ের পর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুশফিকের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে। অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলতেই ব্যাটিংয়ে ভারত

টেস্টে যেখানে ২০০ রানে এগিয়ে থাকলেই ফলোঅন হয়, সেখানে ২৯৯ রানের লিড নিয়েও বাংলাদেশকে ফলোঅনে না পাঠিয়ে উল্টো নিজেরা ব্যাটিংয়ে নামলো ভারত। সবার জানা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ট্র্যাক রেকর্ড ভালো না। এইতো গতমাসে ওয়েলিংটনে সাউদি-বোল্টের ধারালো কিউই বোলিংয়ে বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ। সেই দলকে ফলঅনে উল্টো ব্যাটিংয়ে নামা একটু অবাক ঠেকেছে বৈকি।

কেন আবার ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের? নানা প্রশ্ন ও জল্পনা কল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে শেষদিনে উইকেট আরও ভাঙবে এবং তা যাতে নিজেদের বোলারদের পক্ষে যায়। বাংলাদেশ যাতে শেষ দুইদিনের ভাঙা উইকেটে স্পিনারদের চাপের মুখে পরে সেই চিন্তায় হয়তো এ সিদ্ধান্ত বিরাট কোহলির।

তৃতীয় দিন বিকেলে না হলেও চতুর্থ দিন থেকে বোলিং ক্রিজের আশে পাশে বোলারের বুটের স্পাইকে কিছু ক্ষত তৈরি হবে। আর তাতেই স্পিনারদের পোয়াবারো। এতে করে ভারতের অশ্বিন-জাদেজার মত স্পিনারদের মোকাবেলা করা একটু কঠিনই হবে বাংলাদেশের জন্য। আর এ সুবিধাটা আদায় করে নিতে চাইছেন কোহলি।

মূলত জয় নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। চতুর্থ দিন সকালে যখন বাংলাদেশ ব্যাটিং করছিল তখন ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জেকার ও সায়মন ডোল বারবার বলছিলেন এখনও এ উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। তার প্রমাণ পাওয়া গেছে মুশফিকের ব্যাটিংয়ে। সেঞ্চুরি করার পর ডাউন দ্য উইকেট এসে বোলারদের যেভাবে আক্রমণ করেছেন তাতে কোহলির ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের রেকর্ড খারাপ হলেও কখনোও কখনোও যে খোলস থেকে বেরিয়ে আসে না তা কিন্তু না। এর আগে তার প্রমাণও আছে। তদুপরি প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন দুর্ভাগ্যজনকভাবে। এ কথা জানেন কোহলি। দ্বিতীয় ইনিংসে যে তারা জ্বলে উঠবেন না তার নিশ্চয়তাই বা কি?

২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে কোণঠাসা অবস্থা থেকে ম্যাচ ড্র করেছিল বাংলাদেশ। তামিম-ইমরুলের ব্যাটিংয়ে সেবার দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রান করেছিল বাংলাদেশ। তাই নিজেদের দিনে আবার তারা ঝলসে উঠলে ভারত আর এ ম্যাচে জিততে পারবে না। তাই চতুর্থ ইনিংসে চ্যালেঞ্জ ছুরে দিতেই কোহলির এমন সিদ্ধান্ত। এছাড়াও মিরপুরে ২০০৮ এর ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪১৩ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। আর সেটা চতুর্থ ইনিংসে। এছাড়াও ভারতের বিপক্ষেও চতুর্থ ইনিংসে তিন শতাধিক রান করেছিল বাংলাদেশ। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে সেবার ৩০১ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

তবে ভারত যত বেশি সময় বেশি ব্যাট করবে ততই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল। বাংলাদেশের জন্যও এটা আশার খবর। এতে মুশফিক-তামিমদের বেশি সময় উইকেট থাকার চাপ কমবে। যদিও বংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের রেকর্ড খুব খারাপ। তারপরও সাকিব-তাইজুল-মিরাজ আর তাসকিন-রাব্বি মিলে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যত বেশি সময় হাত খুলে খেলা থেকে বিরত রাখতে পারবেন ততই মঙ্গল বাংলাদেশের।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটার নিষিদ্ধ

শারজিল খান ও খালিদ লতিফের পর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় আসর থেকে নিষিদ্ধ হলেন পাকিস্তানি আরেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইরফান। পিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট এ বিষয়ে পিসিবিকে জানালে তারা এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

বিস্তারিত আসছে…

আগুন ঝরাচ্ছেন তাসকিন

বাংলাদেশকে ২৯৯ রান দূরে রেখে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিনের বোলিং তোপে পড়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। চতুর্থ ওভারের প্রথম ইনিংসে শতক করা মুরালি বিজয়কে (৭) দ্রুত ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে থামেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বিজয়।

আর ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল (১০)। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ২৮ রান। টিম ইন্ডিয়া এগিয়ে আছে ৩২৭ রানে।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তবে, বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এদিকে ফলোঅন এড়াতে ১৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা মুশফিক-মিরাজের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। কিন্তু কোহলির নিজে রীতিমত দুর্দান্ত এক সিদ্ধান্ত। দিনের শুরুতেই বোলিংয়ে আনলেন এ ম্যাচে এখনো উইকেটের দেখা না পাওয়া ভুবনেশ্বকে। তাই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করলেন এই বোলার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দিনের প্রথম ওভারেই মিরাজকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে।

এরপর মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাইজুল। তবে রানের খাতা দুই অঙ্ক নিয়েই খেয় হারিয়ে ফেলেন তাইজুল। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও হাতে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। ফলে ৩৮ বলে ১০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অসাধারণ ব্যাট করা মুশফিক। এরপর ৮ রান করে তাসকিনের বিদায়ের পর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুশফিকের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে। অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

আরাফাত সানিকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ।

রোববার আরাফাত সানিকে সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্টু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহামম্মদপুর থানার এসআই মাসুদুর রহমান। কিছুক্ষণ পর এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

যৌতুকের জন্য মারধরের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ক্রিকেটার আরাফাত সানির সঙ্গে ৫ লাখ এক টাকা দেনমোহরে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা দুজন ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করেন। সংসার চলাকালীন ছয় মাস পর ক্রিকেটার আরাফাত সানি তার মায়ের পরামর্শে নাসরিনের কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকার জন্য সানি তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং গালিগালাজ করে ভাড়া বাসায় ফেলে যান।

২০১৬ সালের ১২ জুন বাদী নাসরিন সুলতানা ভাড়া বাসাসহ যাবতীয় ভরণ-পোষণ না পেয়ে নিরুপায় হয়ে সংসার করতে স্বামী সানির সঙ্গে দেখা করেন। এসময় আরাফাত সানি যৌতুকের ২০ লাখ টাকা দাবি করে নাসরিনকে বলেন, যৌতুকের টাকা না দিলে আমার মা তোমার সঙ্গে সংসার করতে দেবেন না এবং এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার পরিণতি অনেক খারাপ হবে। কারণ তোমার কিছু অশ্লীল ছবি আমার মোবাইলে রয়েছে।

এরপর বাদীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সানির মা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, তোর সঙ্গে আমার ছেলে সংসার করবে না তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যবস্থা কর। তখন বাদী তার বাসায় চলে যান।

এছাড়া বাসায় অবস্থানকালে আরাফাত সানি দুজনের কিছু আপত্তিকর ছবি ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। ছবি পাঠিয়ে আরাফাত সানি হুমকি দেন যে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তার পরিণতি আরও খারাপ হবে। পরে ২৫ নভেম্বর আবার তার ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে হুমকি দেন আরাফাত সানি। এ ঘটনায় নাসরিন সুনতানা বাদী হয়ে গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে প্রথম মামলাটি করেন।

মুশফিককে আউট করে অশ্বিনের বিশ্বরেকর্ড

বর্তমান ক্রিকেটের বিশ্বে সবচেয়ে বিধ্বংসী অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়েছেন অনেক বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যান। এবার বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের উইকেটও তুলে নিলেন তিনি। আর তাকে শিকার করেই সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে ২৫০তম উইকেট পাওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এ স্পিনার।

মাইলফলক থেকে মাত্র ২ উইকেট দূরে থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন অশ্বিন। তবে এ কীর্তি গড়তে তাকে অপেক্ষা করতে হয় চতুর্থ দিন সকাল পর্যন্ত। আগের দিনে বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। আজ বাংলাদেশের শেষ উইকেট মুশফিককে তুলে গড়েন এ অনন্য কীর্তি।

মাত্র ৪৫তম টেস্টেই ২৫০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান অশ্বিন। এর আগে এ কীর্তিটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী পেসার ডেনিস লিলির। ৪৮টি টেস্ট খেলে তিনি এ রেকর্ড গড়েছিলেন এ কিংবদন্তী। ৩৬ বছরের রেকর্ডটি রোববার নিজের করে নেন অশ্বিন।

ফলোঅন না করিয়ে ব্যাটিংয়ে ভারত

প্রথম ইনিংসে ৬৮৭ রানের বিশাল ইনিংসের নিচে চাপা দেয়ার পর সবাই ভেবেছিল বাংলাদেশ হয়তো বিশাল রান দেখেই ভড়কে যাবে। দ্রুত অলআউট হয়ে প্রথম ইনিংসেই অনেক দূরে থাকবে। তবে, বাংলাদেশকে ২৯৯ রান দূরে রেখে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তাতেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্টের পরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের হোম সিরিজ। সেই সিরিজকে সামনে রেখেই হয়তো ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্টকে নিয়েছে ব্যাটিং প্র্যাকটিস হিসেবে। কিংবা, হতে পারে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৮৮ রান করেছে। ফলোঅন করিয়ে যদি আবার বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়, তাহলে তারা যদি উইকেট কামড়ে থেকে আজকের দিন কিংবা আগামীকালও পার করে দেয়! তাহলে তো টেস্ট ড্র। নিশ্চিত জয়ের সুযোগ হাতছাড়া।

কোহলিরা হয়তো এক সেশন ব্যাট করে আরও ১২০ কিংবা ১৫০ রান যোগ করে দিয়ে ছেড়ে দেবে বাংলাদেশের সামনে, তাতে বিশাল রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত অলআউট হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আবার এমনও হতে পারে, প্রায় চারটা সেশন বল করার পর ভারতীয় বোলারদেরকে আর বেশি চাপে ফেলতে রাজি ছিলেন না বিরাট কোহলি। এ কারণেই তিনি বাংলাদেশকে ফলোঅন না করিয়ে আবার ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন। আবার চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার রিস্ক না নেয়ার চেয়ে তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করাকেই হয়তো স্রেয় মনে করলেন মুশফিক।

যে কারণেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে থাক বিরাট কোহলি, এটা অন্তত নিশ্চিত হলো ইনিংস পরাজয় ঘটছে না বাংলাদেশের। আবার দ্বিতীয় ইনিংসে যদি ভালো ব্যাটিং করতে পারে মুশফিকরা, তাহলে নিশ্চিত ড্র করারও সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের।

২৯৯ রান পেছনে থেকে থেমে গেল বাংলাদেশ

ভারতের করা প্রথম ইনিংসে ৬৮৭ রানের পাহাড়সম রানের বিপরীতে ফলোঅন এড়াতেও বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪৮৮ রানের। সাকিব-মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করলেন মুশফিক। তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। তবে তার এই অসাধারণ সেঞ্চুরির পরও ফলোঅন এড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। ফলোঅন থেকে ১০০ আর ২৯৯ থেকে পিছিয়ে থেকে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ হলো বাংলাদেশের।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তবে, বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এদিকে ফলোঅন এড়াতে ১৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা মুশফিক-মিরাজের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। কিন্তু কোহলির নিজে রীতিমত দুর্দান্ত এক সিদ্ধান্ত। দিনের শুরুতেই বোলিংয়ে আনলেন এ ম্যাচে এখনো উইকেটের দেখা না পাওয়া ভুবনেশ্বকে। তাই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করলেন এই বোলার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দিনের প্রথম ওভারেই মিরাজকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে।

এরপর মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাইজুল। তবে রানের খাতা দুই অঙ্ক নিয়েই খেয় হারিয়ে ফেলেন তাইজুল। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও হাতে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। ফলে ৩৮ বলে ১০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অসাধারণ ব্যাট করা মুশফিক। এরপর ৮ রান করে তাসকিনের বিদায়ের পর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুশফিকের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে। অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

এর আগে রোববার ১ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে দলের রান ৩ যোগ করতেই তামিম ইকবালকে হারায় তারা। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝির মাশুল দিয়ে রানআউটে কাটা পড়েন দেশসেরা এ ওপেনার। এরপর দ্রুত ফিরে যান টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হকও। ব্যক্তিগত ১২ রানে উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে পায়ে লাগলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান।

মুমিনুলের বিদায়ের পর সাকিবের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়ে এলবিডব্লিউর শিকার হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ইশান্ত শর্মার ভেতরে আসা বলে পায়ে লাগলে আউট হন তিনি। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি। তবে তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। এরপর সাকিবকে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসেন মুশফিকুর রহীম। দেশসেরা এ দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ে ওয়েলিংটন টেস্টের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব। ১০৩ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে নিজের এ ইনিংস সাজান তিনি। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আরও একটি চার হাঁকাতে গিয়ে মিডঅনে যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। তবে এর আগে মুশফিকের সঙ্গে গড়েন ১০৭ রানের দারুণ এক জুটি।

সাকিবের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান সাব্বিরও। ব্যক্তিগত ১৬ রানে জাদেজার বলে সুইপ করতে গিয়ে মিস করলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। এরপর মিরাজকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে গড়েন ৮৭ রানের জুটি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিরাজ। ১০৩ বলে ৫১ রানের দারুণ ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন উঠতি এই তারকা। এ ইনিংস গড়তে ১০টি চারের মার মারেন তিনি। তবে এক প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। ২০৬ বলে ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১২টি চারের সাহায্যে নিজের এ ইনিংস সাজান তিনি।

রিভিউতে টিকে গেলেন তাসকিন

রবীন্দ্র জাদেজার বলে তাসকিনের বিপক্ষে আবেদন উঠতেই আম্পায়ার জোয়েল উইলসন কাল বিলম্ব করলেন না। আঙ্গুল তুলে দিলেন। উইকেট নেয়ার আনন্দে একে অন্যকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন বিরাট কোহলিরা। এ সময় হঠাৎই গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় সমর্থককে হতাশ করে দিয়ে রিভিউ চেয়ে বসলেন মুশফিকুর রহীম। তার আগে অবশ্য তাসকিনের সঙ্গে আলোচনা করে নিলেন তিনি।

টিভি আম্পায়ারকে ডিসিশন রিভিউ করার নির্দেশ দিলেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। টিভি আম্পায়ার দেখলেন, তাসকিনের ব্যাটেই বল লাগেনি। ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসে বল গিয়েছে তার প্যাডের কানায় লেগে। তাতেই ভারতীয়রা উইকেট পাওয়ার আনন্দে উল্লসিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিলেন আম্পায়ার।

রিভিউর ক্ষেত্রে এবার ভাগ্য মনে হচ্ছে খুবই সুপ্রসন্ন বাংলাদেশের। এর আগে মুশফিকের বিপক্ষে একবার রিভিউ নিয়ে হেরে গেলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এবার আম্পায়ার আউট দেয়ার পরও রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেন তাসকিন আহমেদ।

এ নিয়ে মোট চারটি রিভিউতে বেঁচে গেলো বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনবারই রিভিউ নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনবারই তার রিভিউ খারিজ করে দিয়েছেন আম্পায়ার। বাকি রিভিউটি নিয়েছে বাংলাদেশ। এই রিভিউটাও আসলো বাংলাদেশের পক্ষে। তবে শেষ পর্যন্ত তাসকিন আউট হয়ে গেলেন সেই জাদেজার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। মুশফিকও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। তিন ওভার পরই রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন মুশফিক।

রিভিউ কাজে আসলো না বিরাট কোহলির

ইশান্ত শর্মার বলে জোরালো আবেদন। বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে ভারতীয় দলের সব ফিল্ডার যোগ দিলেন তাতে। কোনো একটা উইকেটের জন্য এত জোরালো আবেদন সাধারণত কাউকে করতে দেখা যায় না। আম্পায়ার দ্বিধাদ্বন্দে থাকলেও জোরালো আবেদনের কারণে আঙ্গুল তুলে দেন; কিন্তু এবার হলো ভিন্ন। আম্পায়ার জোয়েল উইলসন ক্রমাগত মাথা নেড়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে কোহলি ইশারা করলেন, রিভিউ চান তিনি।

জোয়েল উইলসন টিভি আম্পায়ারকে নির্দেশ দিলেন রিভিউ করে দেখার জন্য। টিভি আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফেনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন। হক আই ভিউতেও চেক করলেন। শেষে দেখা গেলো, ব্যাটে কিংবা গ্লাভসে নয়, মুশফিকুর রহীমের বাহুতে লেগে গিয়েছে উইকেটরকক্ষম ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। বাহুতে বল লাগার যে আওয়াজ হয়েছিল, তাতেই এমন জোরালো আবেদন উঠেছিল কোহলিদের। আম্পায়ার ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন, এটা আউট নয়।

আবারও রিভিউ চেয়ে হেরে গেলেন বিরাট কোহলি। এ নিয়ে তৃতীয়বার। মুশফিকের বিপক্ষে এমন এক সময়ে রিভিউ চাইলেন যে, তখন তিনি একেবারে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে (৯৫ রান) দাঁড়িয়ে। ভারতীয় দলের বোলারদের সামনে বিশাল পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। উমেশ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার, ইশান্ত শর্মা, রবিন্দ্র জাদেজা আর রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সামনে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মুশফিকুর রহীম। তাকে ফেরাতে পারলেই তো কাজটা সহজ হয়ে যায়।

হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনের ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির আরও দুটি রিভিউ খারিজ করে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। প্রথম রিভিউটা ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জন্য। খালি চোখে দেখেই মনে হচ্ছিল ইশান্ত শর্মার বলটি লেগ স্ট্যাম্প মিস করছে; কিন্তু কোহলি রিভিউ চেয়ে বসলেন। ডিআরএসে দেখা গেল, সত্যিই বল মিস করে যাচ্ছে।

এরপর আরও একবার সাকিব আল হাসানের জন্য রিভিউ নেন বিরাট কোহলি। বোলার ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সাকিবের বল ব্যাটে লেগে মাটিতে ড্রপের পর ফিল্ডারের কাছে পৌঁছালেও অশ্বিনের মনে হয়েছিল সরাসরি ক্যাচ হয়েছে। কাছাকাছি থাকা সব ফিল্ডার একত্র হয়ে নিজেদের একই সন্দেহের কথা জানালে কোহলি রিভিউ নেন; কিন্তু ডিআরএসে তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই অবশ্য কোহলির চেয়ে সংশ্লিষ্ট বোলাররাই আউট নিয়ে বেশি উৎসাহ দেখিয়েছেন; কিন্তু দুটি রিভিউই নষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশ ইনিংসের ৮০ ওভারের আগ পর্যন্ত রিভিউ নেওয়ার সুযোগ হয়নি কোহলির।

চতুর্থ দিন সকালেই দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নেন কোহলির বোলাররা। আরও দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করতে বদ্ধপরিকর বিরাট কোহলি। সে জন্যই হয়তো ইশান্ত শর্মার বলে মুশফিকের আউটের জন্য রিভিউটা চেয়ে বসলেন কোহলি। এবার তিনি সতীর্থদের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজনই মনে করলেন না। কিন্তু এবারও তার আবেদন খারিজ করলেন আম্পায়ার।

এর আগে প্রথম দু`দিনে ঠিক সময়ে রিভিউ চাইতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো বিরাট কোহলির এলবি আউট চেয়ে হাস্যকর এক রিভিউ চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। এ নিয়ে প্রচুর সমালোচনাও হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়কের।

হেরেও সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কায় বাছাই পর্বে খেলছে বাংলাদেশ নারী দল। শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেছে রোমানাবাহিনী। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে সাত উইকেটের বড় হারের স্বাদই পেতে হয়েছে তাদের। তবে চার ম্যাচে দুটি জয় পাওয়ায় সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। দুই ওপেনারই ফিরেছেন খালি হাতে। একমাত্র অধিনায়ক রোমানা ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ফলে মাত্র ১০০ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন রোমানা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে কাটা পড়লে কার্যত শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের বড় স্কোরের আশা। এছাড়া সালমা খাতুন ১৬ ও সানজিদা ইসলাম ১৩ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সুনে লুস ও সাবনিম ইসমাইল ৩টি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের দেওয়া ১০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় দক্ষিণ আফ্রিকার নারীরা। দুই ওপেনার লিজিলি লি ও লরা ওলভার্ডট ৫০ রানের জুটি উপহার দেন। এরপর বাংলাদেশ চারটি উইকেট তুলে নিলেও লক্ষ্য পেরোতে তেমন বেগ পেতে হয়নি প্রোটিয়াদের। ২৪.৪ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন লিজিলি লি। এছাড়া ওলভার্ডট করেন ৩০ রান। বাংলাদশের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন জাহানারা আলম, সুরাইয়া আজমিন, রোমানা আহমেদ ও সালমা খাতুন।

আলাদা টেস্ট স্কোয়াড গঠনের কথা ভাবছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট

স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৭ বছর পর ভারতে এই প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলতে আসলো বাংলাদেশ। রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি। ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই স্টেডিয়ামে বসে সাকিব-মুশফিকদের খেলা উপভোগ করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। তবে তৃতীয় দিন এসে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা পেলেন তার দেখা। মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাস্ত ক্রিকেট সূচি দেখে বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানালেন, আলাদা টেস্ট দল গঠন করার কথা।

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসঙ্গ উঠতেই ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী কোনো সফর নিয়ে আলাপ হয়েছে কি না? বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানালেন, ‘পরবর্তী কোনো সিরিজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলাপ হয়নি। আসলে এখানে বিসিসিআইয়ের কার সঙ্গে কথা বলবো? নতুন একজন এসেছেন তার সঙ্গে দেখা হয়নি। সে জন্য এটা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও হয়নি। এমনতিই ফিউচার ট্যুর প্ল্যানে (এফটিপি) সবকিছুই বুকড। এ বছরে তো আমাদের হাতে কোনো সময়ই নেই।’

ভারতের বিপক্ষে এই টেস্ট ম্যাচটি কেমন দেখছেন? জানতে চাইলে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা সবাই জানে যত বেশি খেলবেন তত ভালো হবে। তিন ফরম্যাটের মধ্যে আমরা ওয়ানডেটা এখন মোটামুটি ভালো খেলি। টি-টোয়েন্টিতে অনেক পেছনে ছিলাম। এখন মোটামুটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। টেস্টে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। স্বাভাবিকভাবেই যত বেশি খেলবো ততো উন্নতি করার সুযোগ থাকবে।’

হায়দরাবাদ টেস্টের পর বছরব্যাপি বাংলাদেশের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভারত টেস্টের এক নম্বর দল। একে তো আমাদের অভিজ্ঞতা কম। তার মধ্যে ভারতে প্রথমবার এসে খেলছি। সব মিলিয়ে বিরাট একটা গ্যাপ আছে। আরেক সমস্যা হচ্ছে, সময়ের গ্যাপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিউজিল্যান্ড থেকে খেলে এসেই আমরা চলে আসলাম ভারতে। এখান থেকে আবার চলে যাবো শ্রীলঙ্কাতে। এরপর আয়ারল্যান্ড হয়ে খেলতে যাবো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। ফিরে এসেন আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবো।’

পাকিস্তান সিরিজের পর বাংলাদেশের রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। এর মধ্যে আবার অস্ট্রেলিয়া সময় চাচ্ছে বিসিবির কাছে। এসব বিষয় জানিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আমাদের সঙ্গে খেলার জন্য টাইম চাচ্ছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ। সারা বছর সময় বলতে কিছুই ফাঁকা নেই। ভিন্ন কিছু চিন্তা করারও সুযোগ নেই।’

একের পর এক সিরিজ, একের পর এক খেলা। এত চাপ ক্রিকেটাররা নিতে পারবে? বিকল্প কী ভাবছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট? তিনি বলেন, ‘একের পর একে খেলা। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম বলে তো একটা কথা আছে। আমাদের তো সেকেন্ড দল নেই যে, তাদের দিয়ে খেলাবো। এজন্য আমাদের যা করতে হবে তা হলো, আমাদের টেস্টের জন্য ৪-৫ জন খেলোয়াড় আলাদা করতেই হবে। এছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। এফটিপিতে এখন অনেক খেলা। এই চাপ সামলে ইনজুরি মুক্ত হয়ে খেলাটা বেশ চাপের। ইচ্ছে করলে যে খেলা বাড়ানো যায় না, খেলোয়াড়দের কথাও তো চিন্তা করতে হয়।’

বিকল্প টেস্ট দল গঠন করার জন্য খেলোয়াড় কোথায়? বিসিবি সভাপতিই বা কী চিন্তা করছেন? ‘আমি মনে করি নতুন নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে হবে। বর্তমান সময়ের কথা চিন্তা করে নয়, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই সেটা করতে হবে। পাইপলাইনে আমাদের যথেষ্ট ভালো ক্রিকেটার রয়েছে। তাদের ভেতর থেকেই খেলোয়াড় বের করে আনতে হবে।’

মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরি

প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান তুলেছে ভারত। রানের পাহাড়ই। জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন টাইগাররা। খাদের কিনার থেকে বাংলাদেশকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে মুশফিকুর রহীমকেই!

পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ১০৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন মুশফিক। সাকিবের বিদায়ের পর আরও বেশি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলছেন টাইগার অধিনায়ক। ইতোমধ্যে তুলে নিয়েছেন ফিফটিও। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ১৬তম ফিফটি।

দলীয় ৮০তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বল স্কোয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। ১৩৬ বলে ৬টি চারের মারে ৫০ রানে অপরাজিত আছেন টাইগার অধিনায়ক। স্ট্রাইক রেট ৩৫.৯৭!

অশ্বিনকে চার মেরেই সাকিবের হাফসেঞ্চুরি

টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হক আউট হওয়ার পর উইকেটে নামেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দল তখন ৬৪ রানেই হারিয়েছে সেরা তিনটি উইকেট। তার কিছুক্ষণ পর আউট মাহমুদউল্লাহও। তবে সাকিব খেলতে থাকলেন সাকিবের মতই। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। ভারতের সেরা বোলার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে চার মেরে তুলে নেন নিজের হাফসেঞ্চুরি।

২৫তম ওভারে উমেশ যাদবের দ্বিতীয় বলে উইকেটে আসেন সাকিব। তবে স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে সূচনা করতে পারেননি তিনি। প্রথম তিনটি বল ঠিকভাবে ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি। চতুর্থ বলে ফুলটস পেয়েই বেষ্টনী পার করেন তিনি। এরপর আরও ৯টি চার মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ২১তম হাফসেঞ্চুরি।

মাত্র ৬৯ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরির কোটায় পা দেন সাকিব। এ রান করতে ১০টি চার মারেন এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭৩ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত আছেন সাকিব। এ সময় বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬৪ রান।

সাকিব-মুশফিকের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

কিছুদিন আগেই নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত এক জুটি গড়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শনিবার ভারতের বিপক্ষে প্রথম চার উইকেট হারিয়ে উইকেটে এখন সেই সাকিব ও মুশফিক। ঘুরে ফিরে আসছে তাই সেই ওয়েলিংটন টেস্ট। আবারও তাদের কাছে এমন কিছুই চাইছে বাংলাদেশ।

হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আজকের দিনের শুরুটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই গিয়েছে। প্রথম সেশনে হারিয়েছে দলের সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে। ভুল বোঝাবুঝির খেসারত দিয়ে রানআউটে কাটা পড়েছেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। এরপর মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহ ফিরেছেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পরে।

তবে পঞ্চম উইকেটে বেশ আস্থার সঙ্গেই খেলছেন সাকিব ও মুশফিক। যদিও শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন সাকিব। ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক খেলায় ফিরে আসছেন তিনি। মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত করেছেন ২৯ রান। ৫৫ বল মোকাবেলা করে ৫টি চার মেরেছেন এ ইনিংসে। সঙ্গী মুশফিক আছেন ৬ রানে। জুটির রান ১৬।

ওয়েলিংটনের সে ম্যাচে ৩৫৯ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব ও মুশফিক। সাকিব করেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২১৭)। যা বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানদের যে কোন সংস্করণে সেরা ইনিংস। সঙ্গী মুশফিক খেলেছিলেন ১৫৯ রানের ইনিংস। তাদের করা জুটিটি বাংলাদেশের যে কোন উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।

এদিন হায়দারাবাদে আরও একটি ওয়েলিংটন টেস্ট চাইছে বাংলাদেশ। যদিও দারুণ ওই ম্যাচের পরিসমাপ্তি হয়েছিল হার দিয়ে। তবুও পাঁচদিনের টেস্ট গড়ানোর সান্ত্বনা ছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতের বিপক্ষেও এমন কিছু চাইছে বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তরা।

‘বাজে ফিল্ডিং, ক্যাচ মিস পার্ট অব গেম’

হায়দরাবাদ টেস্টে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাজে ফিল্ডিং। একের পর এক ক্যাচ মিস, বাজে ফিল্ডিং আর রান আউট মিসের কারণেই মূলত ভারত এত বড় একটি স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে মুশফিকদের সামনে। আগের দিনও সংবাদ সম্মেলনে এসে তাসকিন আহমেদ বলেছিলেন, এগুলো খেলারই অংশ। তবুও তিনি স্বীকার করেছিলেন রান আউট মিস না হলে হয়তো ম্যাচের অবস্থা ভিন্নও হতে পারতো।

আজ দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মেহেদী হাসান মিরাজও প্রায় একই কথা বললেন। মিরাজকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল বাজে ফিল্ডিং, ক্যাচ মিস কিংবা স্ট্যাম্পিং মিস- এসব একজন বোলারের জন্য কতটা ডিমরালাইজিং? জবাবে মিরাজ জানালেন, এগুলো পার্ট অব গেম।

মিরাজ বলেন, ‘আমি বলবো যে এটা পার্ট অব গেম। অবশ্যই আগে খারাপ লাগতো। তবে এখন আর খারাপ লাগে না। কারণ- প্র্যাকটিস ম্যাচ যখন খেলেছি, তখন আমি নিজেও একটি ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছি। ওটা থেকে অনেক কিছু শিখেছি যে, ফিল্ডারের অবস্থা তখন কতটা খারাপ থাকে। বোলাররাও কেমন থাকে। সুতরাং, আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের দলে যারা আছে তাদেরও একই অবস্থা হয়। মানসিকভাবে একটু খারাপ লাগে হয়তো। তবে কখনো খুব বেশি খারাপ লাগে না। কারণ সবাই মনে করে চেষ্টা করেছি, হয়নি।’

অধিনায়ক নিজেও তো স্ট্যাম্পিং মিস করেছেন, এসব ক্ষেত্রে তিনি নিজে কী বলেন?

মিরাজের জবাব, ‘অধিনায়ক তো সব সময়ই আমাদেরকে সাপোর্ট করেন। বিশেষ করে, এতো রান হওয়ার পরও সব সময় আমার কাছে এসে, আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন যে এখন এই সিচুয়েশন আছে, এই সিচুয়েশনে এ ধরনের বোলিং করতে হবে। আমাদের ক্যাপ্টেন এবং সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছেন সবাই সবাইকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। দেখেন রান কিন্তু অনেক হয়েছে। আমি মাঝে মাঝে শট বল করেছি, বাউন্ডারি খেয়েছি। খারাপ বোলিং করেছি। তবুও আমার কাছে এসে তিনি সব সময় উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করেছেন- যে কিভাবে ভালোটা করা যায়। এভাবে সব সময় উৎসাহ দিয়ে এসেছেন।’

আবারও তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সুযোগ মিস করার ব্যাপারে। মিরাজ বলেন, ‘সুযোগ তৈরি করা, কাজে লাগানো কিংবা মিস করা- এটা হচ্ছে পার্ট অব ক্রিকেট। আমরা মাঠে আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু সময় আমরা ভুল করেছি। তবে অধিকাংশ সময়ই আমরা সুযোগ সৃষ্টি করেছি এবং ম্যাচটাকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও কখনও সমস্যা পড়েছি। তবে আশা করি, আমরা পরের ইনিংসে আরও ভালো করতে পারবো।’

রান আউট হয়ে তামিমের বিদায়

হিমালয়সম ৬৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে নিজেদের ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নিলেন তামিম ইকবাল। দুই রান নিতে গিয়ে মুমিনুলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির খেসারতে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে হারিয়ে ৬৪ রান।

আগের দিন সৌম্যের আউটের পর তামিম-মুমিনুলের শুরুর দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। দিনের শুরুটাও দুইজনে করে করেছিলেন অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই। ভাবা হচ্ছিল যতটা সম্ভব ঝুঁকি না নিয়ে দেখে শুনে ব্যাট করবেন। তবে টেস্ট না খেলার অভিজ্ঞতা ঠিকই ফুটে উঠলো তাদের খেলায়। দিনের শুরুতেই দুই রান নিতে গিয়ে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে দিনের তৃতীয় ওভারেই ব্যক্তিগত ২৫ রান নিয়ে তামিমের বিদায়।

আগের দিন ৬৮৭ রানের হিমালয় সমান রান করেই ইনিংস ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। স্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়েই রানের পাহাড়েই চাপা পড়েন টাইগাররা। তবে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দিন শেষে আফসোস হয়ে রইলো সৌম্য সরকারের আউট। উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ঠিকভাবে খেলতে পারেননি। ব্যাট সামান্য ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ আবেদন ভারতের পক্ষেই যায়।

এর আগে শুক্রবার আগের দিনের ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে ভারত। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান আজিঙ্কা রাহানে ও বিরাট কোহলির দারুণ ব্যাটিংই আজও শতরানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ভযঙ্কর হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙেন তাইজুল। তবে তাকে সাজঘরে ফেরানোর বড় অবদানটা ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। শর্ট কভারে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন রাহানে। কোহলির সঙ্গে ২২২ রানের জুটি গড়েন তিনি।

তবে অপর প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে নিজের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে এ কীর্তি গড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। ২০৪ রান করে তাইজুলের বলে থামেন তিনি। মাত্র ২৪৬ বল মোকাবিলা করে ২৪টি চারের সাহায্যে সাজান নিজের এ ইনিংস।

কোহলির বিদায়ের পর রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে নিয়ে জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান সাহা। ৭৪ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ৫৬৯ রানে অশ্বিনকে ফেরান মিরাজ। এরপর রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান। অপরাজিত ১১৮ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তারা।

মুশফিকের বদান্যতায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পান ঋদ্ধিমান। ব্যক্তিগত ৪ রানে তাকে সহজ জীবন দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৫৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। জাদেজা করেন অপরাজিত ৬০ রান। ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন এ অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। মেহেদী হাসান মিরাজ লাভ করেছেন দুটি উইকেট লাভ করেছেন। তাসকিন আহমেদকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এক উইকেট নিয়েই।

তৃতীয় দিনের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়

মাথার উপর হিমালয়সম রানের চাপটা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ে। তৃতীয় দিনের শুরুতেই নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে তামিমের বিদায়ের পর এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিষ্ট খ্যাত ব্যাটসম্যান মুমিনুল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে হারিয়ে ৭২ রান।

আগের দিন সৌম্যের আউটের পর তামিম-মুমিনুলের শুরুর দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। দিনের শুরুটাও দুইজনে করে করেছিলেন অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই। ভাবা হচ্ছিল যতটা সম্ভব ঝুঁকি না নিয়ে দেখে শুনে ব্যাট করবেন। তবে টেস্ট না খেলার অভিজ্ঞতা ঠিকই ফুটে উঠলো তাদের খেলায়। দিনের শুরুতেই দুই রান নিতে গিয়ে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে দিনের তৃতীয় ওভারেই ব্যক্তিগত ২৫ রান নিয়ে তামিমের বিদায়।

তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন মুমিনুলও। ব্যক্তিগত ১২ রানে উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে পায়ে লাগলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান।

আগের দিন ৬৮৭ রানের হিমালয় সমান রান করেই ইনিংস ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। স্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়েই রানের পাহাড়েই চাপা পড়েন টাইগাররা। তবে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দিন শেষে আফসোস হয়ে রইলো সৌম্য সরকারের আউট। উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ঠিকভাবে খেলতে পারেননি। ব্যাট সামান্য ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ আবেদন ভারতের পক্ষেই যায়।

এর আগে শুক্রবার আগের দিনের ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে ভারত। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান আজিঙ্কা রাহানে ও বিরাট কোহলির দারুণ ব্যাটিংই আজও শতরানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ভযঙ্কর হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙেন তাইজুল। তবে তাকে সাজঘরে ফেরানোর বড় অবদানটা ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। শর্ট কভারে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন রাহানে। কোহলির সঙ্গে ২২২ রানের জুটি গড়েন তিনি।

তবে অপর প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে নিজের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে এ কীর্তি গড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। ২০৪ রান করে তাইজুলের বলে থামেন তিনি। মাত্র ২৪৬ বল মোকাবিলা করে ২৪টি চারের সাহায্যে সাজান নিজের এ ইনিংস। কোহলির বিদায়ের পর রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে নিয়ে জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান সাহা। ৭৪ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ৫৬৯ রানে অশ্বিনকে ফেরান মিরাজ। এরপর রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান। অপরাজিত ১১৮ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তারা।

মুশফিকের বদান্যতায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পান ঋদ্ধিমান। ব্যক্তিগত ৪ রানে তাকে সহজ জীবন দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৫৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। জাদেজা করেন অপরাজিত ৬০ রান। ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন এ অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। মেহেদী হাসান মিরাজ লাভ করেছেন দুটি উইকেট লাভ করেছেন। তাসকিন আহমেদকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এক উইকেট নিয়েই।

নতুন চুক্তি করলেন মেসি

বার্সার সঙ্গে নতুন চুক্তি করবেন কি না তা সময়ই বলে দিবে। তবে অনেক দিন ধরেই যুক্ত থাকা স্পন্সর প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন মেসি। শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নতুন চুক্তির জানান দেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এই খেলোয়াড়।

চুক্তি নিয়ে মেসি বলেন, অনেক বছর থেকেই অ্যাডিডাসের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত।

এদিকে ২০১৭ সালের প্রথমেই বড় একটা চুক্তি স্বাক্ষর করলেন মেসি। তাই বার্সা সমর্থকরা আশা করতেই পারে চলতি বছরই হয়তো দলের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবেন মেসি।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ

হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিন প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

প্রথম সেশনে ৩ উইকেট

তৃতীয় দিনের লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১২৫/৪। এখনও ৫৬২ রানে পিছিয়ে অতিথিরা।

উইকেটে বোলারদের জন্য এখনও তেমন কিছু নেই। টিকে থাকার চেষ্টা করলে আউট করা কঠিন। এর মধ্যেও ৩ উইকেট হারিয়ে হায়দরাবাদ টেস্টে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।

ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নিতে গিয়ে তামিম ইকবালের রান আউটের পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ। আশা হয়ে টিকে আছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

চমৎকার বল করা উমেশ যাদব দুই দিন মিলেয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তৃতীয় দিন নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়েছেন আরেক পেসার ইশান্ত শর্মা।

মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লিউ

বোলিংয়ে এসেই বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভাঙেন ইশান্ত শর্মা। ডানহাতি এই পেসারের ইনসুইং ঠিক মতো খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে প্যাডে আঘাত হানে।

এলবিডব্লিউ হওয়ার পর অন্য প্রান্তে থাকা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নেন তিনি। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।

২৮ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০৯/৪।

বাংলাদেশের একশ’

টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশের স্কোর তিন অঙ্কে যায় ৩৪তম ওভারে। তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক ও সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।

৩৪তম ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৭/৩। দলটি এখনও পিছয়ে ৫৮০ রানে।

এলবিডব্লিউ হয়ে মুমিনুলের বিদায়

উমেশ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন মুমিনুল হক। স্টাম্পে থাকা সোজা বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।

১২ রান করে মুমিনুল ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৬৪/৩।

রান আউট হয়ে ফিরলেন তামিম

প্রায় সাতশ’ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাব দিতে নামা বাংলাদেশ রান আউটে হারায় তামিম ইকবালকে। মুমিনুল হকের সঙ্গে একটি দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় ফিরেন তিনি।

দ্বিতীয় রানটি নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিলই না। দুই ব্যাটসম্যানই আউট হতে পারতেন। ননস্ট্রাইকিং প্রান্তে বোলার ভুবনেশ্বর কুমবার থ্রো ধরে স্টাম্প ভাঙার সময় অনেক দূরে ছিলেন বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

২৫ রান করে তামিম ফিরে যাওয়ার সময় দলের স্কোর ৪৪/২।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ

সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, শিখতে নয় ভারতে জিততে এসেছেন। হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দুই দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের জেতার বাস্তবিক কোনো সম্ভবনা নেই। ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে তার শিষ্যদের। তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর সময় বাংলাদেশ পিছিয়ে ৬৪৬ রানে। প্রতিপক্ষকে আরেকবার ব্যাটিংয়ে নামাতে এখনও ৪৪৭ রান চাই তাদের।

দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর:

ভারত ১ম ইনিংস: ১৬৬ ওভারে ৬৮৭/৬ ইনিংস ঘোষণা (রাহুল ২, বিজয় ১০৮, পুজারা ৮৩, কোহলি ২০৪, রাহানে ৮২, ঋদ্ধিমান ১০৬* অশ্বিন ৩৪, জাদেজা ৬০*; তাসকিন ১/১২৭, রাব্বি ০/১০০, সৌম্য ০/৪, মিরাজ ২/১৬৫, সাকিব ০/১০৪, তাইজুল ৩/১৫৬, সাব্বির ০/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/১৬)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪ ওভারে ৪১/১ (তামিম ২৪*, সৌম্য ১৫, মুমিনুল ১*; ভুবনেশ্বর ০/৭, ইশান্ত ০/৩০, অশ্বিন ০/১, যাদব ১/২)

পূজারাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন মিরাজ

অবশেষে উইকেটের দেখা পেলেন মিরাজ। চেতেশ্বর পূজারাকে মুশফিকের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান টাইগারদের উঠতি এই তারকা। আর এতে বিজয় আর পূজারার ১৭৮ রানের জুটি ভাঙলো। আউট হওয়ার আগে ৮৩ রান করেন পূজারা।  এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেটে হারিয়ে ১৯৫ রান।

প্রথমবারের মত ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই উইকেট। এরপর ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় দিনটাকে আর উজ্জ্বল করতে পারেনি টাইগাররা। একের পর এক ক্যাচ মিস আর রানআউট মিসের খেসারৎ দিয়ে উল্টো চাপে পরছে বাংলাদেশই।

১০তম ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে স্লিপে ক্যাচ ওঠে। তবে সে বল ধরার কোন চেষ্টাই করেননি মুশফিক। এরপর ১৫তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সে ওভারে পূজারাকে দুই দুইবার আউট করার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করেন সাকিব আল হাসান। যদিও দু’টো ক্যাচই ছিল দুরূহ। স্লিপে সে ওভারের তৃতীয় ও শেষ বলেও ক্যাচ ছাড়েন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।

তবে সবচেয়ে বড় সুযোগটি তারা মিস করে ১৯তম ওভারে। সে ওভারটিও করেছিলেন মিরাজ। মুরালি বিজয় সে বলটি স্কোয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে দ্রুত রান নিতে গিয়েছিলেন। তবে তার আগে ভুল বোঝাবোঝির কারণে কিপিং প্রান্তে চলে আসেন দুই ব্যাটসম্যান। এ সময় ঝাঁপিয়ে পরে দারুণ ফিল্ডিং দিয়ে বোলিং প্রান্তে বল দেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। তবে সে বল তালুবন্দি করতে না পারায় সহজ সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। এছাড়াও পুরো ম্যাচেই ছিল মিস ফিল্ডিংয়ের ছড়াছড়ি।

গল, চট্টগ্রাম ও খুলনা ফিরে আসবে হায়দরাবাদে?

ভারতের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে কি করবে বাংলাদেশ? বিরাট কোহলি, মুরালি বিজয়, চেতেশ্বর পূজারা ও আজিঙ্কা রাহানের গড়া দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব এবং রবিচন্দন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজার ধারালো বোলিংয়ের বিরুদ্ধে কি করবে মুশফিকের দল? তামিম, সৌম্য, মুমিনুল, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরের ব্যাটে প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলা সম্ভব হবে? তাসকিন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও সাকিব-মিরাজরা ভারতীয়দের রান পাহাড় গড়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন? নানা কৌতুহলি প্রশ্ন সামনে রেখেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক টেস্ট।

হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে এ টেস্টের ভবিষ্যত এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও পরিণতি নিয়ে কথা বলতে যাবার আগে সবার চোখ আপনা আপনি চলে যাচ্ছে পরিসংখ্যানের দিকে। পরিসংখ্যান জানিয়ে দিচ্ছে ভারত পরিষ্কার ফেবারিট। সবার জানা, ওয়ানডের তুলনায় এমনিতেই টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড তত সমৃদ্ধ নয়। সীমিত ওভারের ফরম্যাটে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য জানান দিতে পারলেও দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখনো দূর্বল দল হিসেবেই পরিগণিত।

ওয়ানডে জেতার কৌশলটা রপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু পাঁচ দিনের টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সমানভাবে ভালো খেলার অভ্যাসটা তৈরি হয়নি। এক সেশন বা ইনিংসে ভালো খেলার পরই ঘটছে ছন্দপতন। মনোযোগ- মনঃসংযোগ ধরে রাখা এবং প্রতিটি সেশন অনুযায়ী পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে পারফরম করাটাই হচ্ছে না। সে কারণে পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতাও কম।

গত মাসে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজেও ঠিক একই চিত্র। ওয়েলিংটনে উল্কার বেগে শুরু। সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি, অধিনায়ক মুশফিকের বিগ হান্ড্রেড, ওপেনার তামিম ও বাঁহাতি মুমিনুল হকের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর। কিন্তু ঠিক পরের ইনিংসেই ছন্দপতন। ৬০০ রানের দোরগোড়া থেকে ১৬০`এ নেমে আসা। ক্রাইষ্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টেও প্রায় একই ঘটনা। ২৮৯ রানের পর ১৭৩`এ থেমে যাওয়া। তাই বলে বাংলাদেশ যে কখনই টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারেনি, বা দু`ইনিংসে ভালো খেলেনি, তা নয়। খেলেছে। তবে সেটা সংখ্যায় বেশি নয়, কম।

টেস্টে পাঁচদিন টানা ভালো খেলা এবং পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার রেকর্ডটা দূর্বল ও জীর্ণ হলেও গত তিন বছরে বাংলাদেশ কয়েকবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবং দেশে ও বাইরে বীরের মত লড়েই টেস্ট ড্র করেছে। তার প্রথম নজিরটি ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। গলে লঙ্কানদের প্রথম ইনিংসে করা ৫৭০ রানের বড় সড় স্কোরে ভরকে না গিয়ে মুশফিকুর রহীম ( ২০০), মোহাম্মদ আশরাফুল ( ১৯০) ও নাসির হোসেনের ( ১০০) দৃঢ়তায় উল্টো ৬৩৮ রানের হিমালয় সমান স্কোর গড়ে টেস্ট ড্র করার কৃতিত্ব আছে টাইগারদের।

একই দলের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে আবার কৃতিত্বপূর্ণ ড্র। এবার ঘরের মাঠে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হার এড়ানোর কাজটি ভালো মতই করে দেখায় টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ইমরুল কায়েস ও শামসুর রহমান শুভর জোগা শতক আর পরের ইনিংসে মমিনুল হকের শতরানে ড্র করে ফেলা।

বীরের মত টেস্ট ড্র`র শেষ কৃতিত্বটিও ঘরের মাঠে। সেটা ২০১৫ সালের এপ্রিল-মে`র ঘটনা। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের রেকর্ড ৩১২ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপে বীরের মত লড়াই করে ম্যাচ হার এড়ায় মুশফিকের দল। তামিম ইকবালের ডাবল হান্ড্রেড (২০৬) আর ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে ১৫০ রান।

এ তিন তিনটি বীরোচিত ড্র জানান দিচ্ছে বাংলাদেশও পারে। তবে কালেভদ্রে। হায়দরাবাদে কি সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো সম্ভব হবে? টাইগাররা কি তা পারবেন?

চতুর্থ বলেই তাসকিনের আঘাত

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শেষে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করলো টাইগার বোলার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান এই তারকা। এর আগে ঐতিহাসিক এ ম্যাচে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় হেরে বোলিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ২ রান।

ভারতের মাটিতে খেলা হলেও টিম ইন্ডিয়াকে সহজে ছেড়ে কথা বলবে না বাংলাদেশ; এমন হুমকিই দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হকরা জ্বলে উঠলে হায়দরাবাদ টেস্টই হতে পারে বাংলাদেশের বড় সুযোগ; টেস্ট ক্রিকেটে ‘উত্থান’।

এদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত দল হলেও টেস্টে যদিও নিজেদের পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ; তবে এসব নিয়ে ভাবলে বিপদেই পড়তে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। এ কথা সতীর্থদের সবার আগে স্মরণ করিয়ে দেন সাহা। তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ ও অধিনায়কও।

বাংলাদেশ একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বী।

ভারত একাদশ:
মুরালি বিজয়, লোকেশ রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা, রবীচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, ইশান্ত শর্মা,  ভুবনেশ্বর কুমার উমেশ যাদব।

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শেষে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর ঐতিহাসিক এ ম্যাচে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় হেরে বোলিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে দীপ্ত টিভি, স্টার স্পোর্টস-১, স্টার স্পোর্টস-৩।

ভারতের মাটিতে খেলা হলেও টিম ইন্ডিয়াকে সহজে ছেড়ে কথা বলবে না বাংলাদেশ; এমন হুমকিই দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হকরা জ্বলে উঠলে হায়দরাবাদ টেস্টই হতে পারে বাংলাদেশের বড় সুযোগ; টেস্ট ক্রিকেটে ‘উত্থান’।

এদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত দল হলেও টেস্টে যদিও নিজেদের পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ; তবে এসব নিয়ে ভাবলে বিপদেই পড়তে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। এ কথা সতীর্থদের সবার আগে স্মরণ করিয়ে দেন সাহা। তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ ও অধিনায়কও।

বাংলাদেশ একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বী।

ভারত একাদশ:
মুরালি বিজয়, লোকেশ রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা, রবীচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, ইশান্ত শর্মা,  ভুবনেশ্বর কুমার উমেশ যাদব।

টেস্টে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই : রবি শাস্ত্রী

টেস্ট অভিষেকের ১৭ বছর পর প্রথমবারের মত ভারত সফরে গেছে বাংলাদেশ। সফরে হায়দরাবাদে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি একটি মাত্র টেস্ট খেলবে মুশফিক বাহিনী। আর এ টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রবি শাস্ত্রী।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের পার্থক্য থাকলেও হায়দরাবাদে বাংলাদেশের সঙ্গে কোহলিদের সাবধানী ক্রিকেট খেলারই পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক টেকনিক্যাল এই ডিরেক্টর। তিনি বলেন, `ওয়ানডে ক্রিকেটে খুব দ্রুতই উন্নতি করছে বাংলাদেশ। তবে টেস্টে এখনো তাদের শেখার অনেক কিছু থাকলেও বাংলাদেশে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগই নেই।`

ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে বাংলাদেশের কাছেই ওয়ানডে সিরিজ হারের অভিজ্ঞতা আছে রবি শাস্ত্রীর। টেস্টে বাংলাদেশ সেই পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাস্ত্রী বলেন, `হায়দরাবাদ টেস্ট থেকে বাংলাদেশ যা পেতে পারে, তা হলো অভিজ্ঞতা। এই সফর থেকে খুব ভালো অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরবে বাংলাদেশ।`

এদিকে টেস্টে বাংলাদেশের সমস্যাও তুলে ধরেছেন শাস্ত্রী। নিজের যুক্তিতে পরিষ্কারভাবে তিনি বলেন, `টেস্টে বাংলাদেশের সমস্যাটা হলো, একটি-দুটি সেশনে হয়তো ভালো করতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে দুই-তিন দিন ভালো করে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তারের পর ম্যাচ জেতার সামর্থ্যের অভাব আছে তাদের।`

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে : কুম্বলে

আর মাত্র এক দিন পরই মাঠে গড়াচ্ছে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। দুই দলই এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সই উপহার দিতে চাইবে বাংলাদেশ ও ভারত। তার আগে ম্যাচটি নিয়ে কথা বলছেন দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা। ভারত কোচ অনিল কুম্বলে যেমন বললেন, হায়দরাবাদ টেস্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

বাংলাদেশকে সমীহ করে কুম্বলে বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) অনেক ভালো দল। নিউজিল্যান্ডে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। যদিও ফল তাদের পক্ষে ছিল না। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করি। বাংলাদেশ দলে আছে বেশ কয়েক ভালো মানের খেলোয়াড়; আছে ভালো মানের অলরাউন্ডারও। সুতরাং ম্যাচটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছে ভারত। টিম ইন্ডিয়া এখন আত্মবিশ্বাসী। সেই আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চায় ভারত। কুম্বলের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো একটি সিরিজ পার করেছি। ঘরের মাঠে ভালো খেলেছে ছেলেরা। ওই সিরিজ আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সামনে বেশ কিছু টেস্ট ম্যাচ আছে। এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হলো-বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স আমলে নিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, টেস্টে দুই দলের আটবারের দেখায় ভারত জয় পেয়েছে ৬টিতে। বাংলাদেশের কৃতিত্ব; দুটি ম্যাচে ড্র করেছে। ভারতের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট খেলতে গেছেন টাইগাররা।

সুযোগ পেলে সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করবো : সৈকত

বিসিএলের ম্যাচ খেলার জন্য গিয়েছিলেন সিলেট। মোস্তাফিজ-রুবেলের তোপ, রাজ্জাকের ঘূর্ণির সামনে চারদিনের ম্যাচ তিনদিনেই জিতে গিয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল। যে দলের হয়ে খেলছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। একদিন হাতে রেখে ম্যাচ জেতার কারণে ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিকোররা।

কিন্তু মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কাছে হঠাৎই সোমবার বিকেলে ফোন এলো বিসিবির কাছ থেকে, ‘দ্রুত ঢাকায় আসো। কাল (মঙ্গলবার) সকালেই হায়দরাবাদ যেতে হবে তোমাকে।’ ফোন পেয়েই দ্রুত ঢাকা আসার জন্য বিমান টিকিট খোঁজ করলেন সৈকত। পেলেন না। বাসে করেই সোমবার রাতে এসে পৌঁছালেন ময়মনসিংহ, নিজের বাড়িতে।

মঙ্গলবার কাক ডাকা ভোরে রওনা দিলেন ঢাকায়। বিসিবিতে এসে বিমানের টিকিটটা নিয়েই সোজা বিমানবন্দর। সাড়ে ১১টায় কলকাতাগামী ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে উঠলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইটে করে হায়দরাবাদ পৌঁছালেন ভারত সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়।

চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির চাপ। আগের রাতে ঠিকভাবে ঘুমে যেতে না পারার কারণে প্রভাবটা চেহারায় প্রকাশ পাচ্ছিল; কিন্তু এটা শুধুই একটা পরিস্থিতি। সৈকতের চোখ-মুখে ওই চাপের আড়ালে যে খুশির ঝিলিক দেখা যাচ্ছিল, সেটার ভাষাও ভিন্ন। ইমরুল কায়েসের ইনজুরির কারণে হয়তো, ভারতের বিপক্ষেই সাদা জার্সিতে অভিষেকটা হয়েও যেতে পারে তার। এমন একটা সম্ভাবনা যখন তৈরি হয়েছে, তখন খুশির ঝিলিক তার চেহারায় না খেলে যেতেই পারে না।

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমার। গত বছরই তো এক মৌসুমে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সম্ভাবনাময়ী এক ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটেও নিজের প্রতিভার সাক্ষর রাখতে পেরেছেন; কিন্তু নিজের প্রিয় ফরম্যাট টেস্টেই কেন যেন দরজাটা খুলছে না তার সামনে। সৈকত নিজেও মনে করেন টেস্ট খেলতে পারলেই তার ভালো লাগতো। তবে, সব পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েছেন। ক্যারিয়ার তো মাত্র শুরু হলো! টিম ম্যানেজমেন্ট কিংবা নির্বাচকরা যা ভালো মনে করছেন, সেটাই করবে। এ জন্য তিনি ধৈর্য ধরতে রাজি।

হায়দরাবাদ আসার পথে বিমানেই আলাপকালে সৈকত বলেন, ‘টেস্ট আমার সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট। আশা করেছিলাম টেস্টেই আগে সুযোগ পাবো; কিন্তু পেলাম ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে। তবে এ নিয়ে এখন আমার চিন্তা নেই। নির্বাচকরা দলের জন্য যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই করেছেন।’

আচমকা টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে গেলেন। এ নিয়ে খুব একটা উচ্ছসিত নন সৈকত। তবে, উচ্ছসিত হবেন, যদি একাদশে থাকতে পারেন, যদি অভিষেকটা হয়ে যায় তাহলে। সৈকত বলেন, ‘ভারতের মতো একটা দেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক, এটা তো স্বপ্নের মতো। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে কি-না জানি না। তবে যদি বাস্তবায়ন হয়ই, তাহলে আমি চেষ্টা করবো, নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার জন্য। দলের জন্য সবসময়ই কিছু না কিছু অবদান রাখতে চাই। সুযোগ পেলে এবারও নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করবো।’

তবে একাদশে নিজের জায়গা হবে কি-না তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন সৈকত। কারণ, নিজের কোনো জায়গা দেখছেন না তিনি এই দলে। সেটা টিম কম্বিনেশনের কারণে। তিনি এখনও সাধারণত ব্যাট করেন ছয় কিংবা সাতে। এই দুটি জায়গায় রয়েছেন সাকিব এবং সাব্বির। এরপর মিরাজ। একজন অফ স্পিনার বাড়িয়ে তো মোসাদ্দেককে হয়তো নেয়া হবে না। কারণ, ভারতীয় দলে অধিকাংশই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অফ স্পিনার মিরাজ তো আছেই। অর্থোডক্স সাকিব আছেন। তবুও যদি দলে সুযোগ পান তাহলে নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন সৈকত।

কিন্তু দীর্ঘ এই ভ্রমণক্লান্তি আর হঠাৎ দলে ডাক পাওয়ার পর এভাবে ছুটে এসে পারফর্ম করা কতটা সহজ কিংবা কঠিন হবে? মোসাদ্দেক বললেন, ‘দেখুন আমরা তো এমনিতেই প্রথম শ্রেণির চারদিনের ম্যাচের মধ্যে ছিলাম। বিসিএল খেলছিলাম। সুতরাং, প্র্যাকটিসের মধ্যেই ছিলাম বলতে পারেন। সুতরাং, এটাকে হঠাৎ বলা যাবে না। চারদিনের ম্যাচ থেকে এখন পাঁচদিনের ম্যাচ হবে- এটাই যা পার্থক্য।’

ডু প্লেসির সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াটওয়াশ করলেই অস্ট্রেলিয়াকে টপকে ওয়ানডে র্যাং কিংয়ের শীর্ষে উঠে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই লক্ষ্যে আর একধাপ এগিয়ে গেলো ডি ভিলিয়ার্সের দল। সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে ডু প্লেসির ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন ৪০ রানের দুর্দান্ত জয়।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। শুরুতেই বিদায় নেন আমলা (১)। এরপর ডি কককে নিয়ে দলের হাল ধরেন ডু প্লেসি। দুই জনে মিলে গড়েন শত রানের জুটি। বযক্তিগত ৫৫ রান করে ডি কক বিদায় নিলে অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলেক বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন ডু প্লেসি।

এই দুই জনে মিলে গড়েন ১৩৭ রানের জুটি। ডি ভিলিয়ার্স তুলে নেন নিজের পঞ্চাশতম অর্ধশত। ব্যক্তিগত ৬৪ রানের সাজঘরে ফেরেন এই অধিনায়ক। এরপর ডুমিনি দ্রুত বিদায় নিলেও শেষ দিকে বেহারডিনকে নিয়ে ৭৪ রানের ঝড়ো জুটি গড়লে ৩৬৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা। ডু প্লেসি খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৮৫ রানের ইনিংস। আর বেহারডিন ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

south-afrika
পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে ১৩৯ রানের দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ডিকভেলা ও থারাঙ্গা। ডিকভেলা ৫৮ রান করে বিদায় নিলেও থারাঙ্গা তুলে নেন নিজের ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি।  ৯০ বলে ১১৯ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা থারাঙ্গা।

এদিকে ২৩ রানের মধ্যে মেন্ডিস, থারাঙ্গার সঙ্গে বিদায় নেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাও। ফলে ছোটোখাটো ধসে পড়ে অতিথিরা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডারদের ক্যাচ হাত ছাড়ার সুযোগ নিয়ে ৭৯ রানের দারুণ জুটিতে লঙ্কানদের আশা বাঁচিয়ে রাখেন বিরাক্কডি ও আসেলা গুনারত্নে। কিন্তু শেষটায় ঘুরে দাঁড়িয়ে ১১ বল আগেই লঙ্কানদের গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। মাত্র ২০ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে আরেকটি হারের হতাশায় মাঠ ছাড়ে অতিথিরা।

আইপিএলে খেলোয়াড়দের মূল্য তালিকা প্রকাশ

ফ্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দশম আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে চলতি মাসের ২০ তারিখে ব্যাঙ্গালুরুরে। নিলামের জন্য ৭৯৯ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছেন। এবার এই সব খেলোয়াড়দের ভিত্তি মূল্য প্রকাশ করেছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)।

এদের মধ্যে সাতজন খেলোয়াড়ের ভিত্তি মূল্য সর্বোচ্চ ২ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস ও এউইন মরগ্যান এই তালিকায় সর্বোচ্চ মূল্য নিয়ে নিলাম শুরু করবেন। এছাড়া এই তালিকায় আরও আছেন ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মা, অস্ট্রেলিয়ান সাবেক পেসার মিচেল জনসন, শ্রীলংকান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজ ও অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্স।

এরপরের দেড় কোটি রুপি ভিত্তি মূল্য নিয়ে নিলাম শুরু করবেন ট্রেন্ট বোল্ট, ব্র্যাড হ্যাডিন, ন্যাথান লিও, জনি বেয়ারস্টো, কেইল অ্যাবট ও জেসন হোল্ডার।

এদিকে, বর্তমান খেলোয়াড়দের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চুক্তি এই বছরই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে হবে মেগা নিলাম।

টেস্টে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই : রবি শাস্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে খুব সক্রিয় রবিচন্দ্রন অশ্বিন। নিজের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুই ভক্তদের সামনে তিনি তুলে ধরেন এই মাইক্রো ব্লগিং সাইট দিয়ে। কিন্তু এবার তার একটি টুইট উসকে দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ashwin
গত রোববার এক টুইটে অশ্বিন লেখেন, ‘তামিলনাড়ুর সব তরুণদের বলছি, ২৩৪টি চাকরির সুযোগ খুব দ্রুত তৈরি হচ্ছে।’ আর এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকে লেখেন টুইট করে অশ্বিন নাকি তার রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ছোট করেছে।

তামিলনাড়ু রাজ্য বিধানসভার সদস্য সংখ্যা ২৩৫। কিছুদিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে শোনা যাচ্ছে শশীকলার নাম। শশীকলা কবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন সেই দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে অশ্বিনের টুইট দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন তিনি নাকি শশীকলা বাদে বাকি ২৩৪জন সাংসদের পদ নিয়ে কথা কটাক্ষ করেছেন।

এদিকে সমালোচনার পরেই অশ্বিন অবশ্য এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তার সেই টুইটের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি আজমিরের

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে তো বটেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই এখন পর্যন্ত কোন ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট। হালের তামিম, সাকিব, মুশফিকরা যা পারেননি তাই করে দেখালেন অখ্যাত আজমির আহমেদ। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে উদয়াচল ক্লাবের বিপক্ষে এ কীর্তি গড়েন অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের এ ওপেনার। হার না মানা ২২২ রানের অনবদ্য একটি ইনিংস খেলেন মুন্সিগঞ্জের এ তরুণ।

মঙ্গলবার সাভারের বিকেএসপিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে অগ্রণী ব্যাংক। সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে ওপেনিং করতে নামেন আজমির। প্রতিপক্ষ দলের শুরুতেই বল হাতে আসেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ভাই মোর্সালিন বিন মর্তুজা। প্রথম বলটা সমীহ করে খেললেও পরের দুই বলে টানা দুইটি চারে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সূচনা করেন আজমির।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে করে ২২২ রান করেন আজমির। ১৬৮ বল মোকাবেলা করে এ ইনিংস খেলেন তিনি। সমান সংখ্যক ১৬টি করে চার ও ছক্কায় নিজের এ ইনিংস সাজান ২৪ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। আর তার এ ইনিংসে ভর করে ৩৮৩ রানের বড় সংগ্রহই পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।

উল্লেখ্য, ওয়ানডে ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ডাবল সেঞ্চুরির দেখা মিলেছে মাত্র ছয়বার। প্রথমবার এ কীর্তি গড়েন ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকার। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ২০০ রানের ইনিংস খেলেন এ কিংবদন্তী। বাকি পাঁচটির মধ্যে ভারতের আরেক ক্রিকেটার রোহিত শর্মা করেন দুইটি। একটি করে করেছেন ভারতের শেবাগ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল।

তবে পুরুষদের আগে নারী ক্রিকেটার ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান। ১৯৯৭ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে অস্ত্রেলিয়ার বেলিন্দা ক্লার্ক অপরাজিত ২২৯ রানের ইনিংস খেলেন।

জয়েই বিশ্বকাপ বাছাই শুরু বাংলাদেশের

লক্ষ্য বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে অংশ নেয়া। সেই লক্ষ্যেই শ্রীলঙ্কায় বাছাইপর্বে লড়ছে বাংলাদেশ নারী দল। অসাধারণ এক জয় দিয়েই বিশ্বকাপ বাছাই শুরু করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে উড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১১৮ রানে।

মঙ্গলবার কলম্বো ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ। শারমিন আক্তার ও ফারজানা আক্তারের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১৫ রান তোলে তারা। জবাবে ৩২.১ ওভাল খেলে সবকটি উইকেট খুইয়ে ৯৭ রান করতে সক্ষম হয় পাপুয়া নিউগিনি।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউগিনি। তিনজন ব্যাটসম্যান ছুঁতে পেরেছেন তিন অঙ্ক। সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন সাইকা। ওলার ব্যাট থেকে এসেছে ২৯ রান। জাহানারা আলমের দুর্দান্ত এক থ্রুতে রানআউটে কাটা পড়া রুমা করেছেন ২০ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে রুমানা আহমেদ দুটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন জাহানারা আলম, পান্না ঘোষ ও সালমা খাতুনও। খাদিজাতুল কুবরা লাভ করেছেন একটি উইকেট।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই শারমিন সুলতানাকে হারিয়ে চাপে পড়ে। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সানজিদা ইসলামকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন দলের প্রাথমিক চাপ সামলে নেন শারমিন আক্তার।

তবে দলীয় ৫২ রানে সানজিদার বিদায়ের পর ফারজানাকে নিয়ে ৬৯ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন শারমিন আক্তার। এরপর শেষ দিকে শায়লা শারমিনের সঙ্গে সালমা খাতুনের অপরাজিত ৫৫ রানের জুটিতে ২১৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় রোমানারা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন শারমিন আক্তার। ফারজানা হক খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। এছাড়া সালমা ৩২ ও সানজিদা ২৮ রান করেন। পাপুয়া নিউগিনির পক্ষে রাভিনা ওয়া, মাইরি টম ও সিবনা জিমি ২টি করে উইকেট নেন।

ইনজুরিতে মিশ্র, বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিরলেন ‘চায়নাম্যান’

বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ধাক্কা খেল ভারত। তারকা স্পিনার অমিত মিশ্রকে হারিয়ে ফেলেছে তারা। হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েছেন মিশ্র। তার পরিবর্তে বাংলাদেশের বিপক্ষে স্কোয়াডে ফিরলেন ভারতীয় ক্রিকেটে ‘চায়নাম্যান বোলার’ খ্যাত কুলদীপ যাদব।

এবারই প্রথম ভারত জাতীয় দলে ডাক পেলেন কুলদীপ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২২টি ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ৮১ উইকেট। ব্যাট হাতেও লড়তে জানেন। ২৮.৯২ গড়ে করেছেন ৭২৩ রান। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি ফিফটির সঙ্গে একটি সেঞ্চুরিও।

হায়দারাবাদের জিমখানা গাউন্ডে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন কুলদীপ। ব্যাট ধরার সুযোগ না মিললেও বল হাতে ভালো করেছেন। প্রথম ইনিংসে ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ৩২ রান দিয়ে ঝুড়িতে জমা করেছেন ১ উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে ছিল কুলদীপ ম্যাজিক। মাত্র ২ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ দুই রান দিয়ে লাভ করেছেন মূল্যবান দুটি উইকেট। সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হককে সাজঘরের পথ ধরান ২২ বছর বয়সী এই স্লো লেফট-আর্ম চায়নাম্যান।

বাবার কোলে নিরাপদ সাকিবকন্যা

ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টাইগাররা এখন হায়দরাবাদে। প্রস্তুতি ম্যাচও শেষ। এবার অপেক্ষা টেস্ট সিরিজ শুরুর। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি গড়াবে হায়দরাবাদের রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে।

টেস্ট শুরুর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার কাজটা সারছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা! ভারতের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে টাইগারদের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাইবেন টাইগাররা। স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন ঐতিহাসিক টেস্ট।

এদিকে সস্ত্রীক ভারতে গেছেন সাকিব আল হাসান। সঙ্গে রয়েছেন মেয়ে আলাইনা হাসান অব্রিও। হোটেলে অব্রিকে কোলে তুলে নিচ্ছেন সাকিব, বাবার আদর পেয়ে দারুণ খুশি অব্রি; এমন একটা ভিডিও নিজের অফিশিয়াল ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সাকিব।

বাবা সাকিবের কোলে অনেক বেশি নিরাপদ মেয়ে অব্রি। সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে সে। যে ভালোবাসায় নেই কোনো স্বার্থ, নেই কোনো ভেজাল। বাবা সাকিবও খুশি। ফেসবুক পেজে মেয়েকে নিয়ে সাকিব লিখেছেন, ‘যখন সে (অব্রি) আমাকে বাড়িতে দেখতে পায়, তার কাছে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত! মাশাল্লাহ!!!’

তাইজুলের জন্মদিনে আইসিসির শুভেচ্ছা

অভিষেক টেস্টেই পাঁচ উইকেট জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমন বার্তা। পরবর্তী ম্যাচ জিম্বাবুয়েকে গুড়িয়ে দিয়ে নাম লেখান রেকর্ড বুকে। বলা হচ্ছে টাইগার তারকা তাইজুল ইসলামের কথা। আজ বাংলাদেশি এই তারকার জন্মদিন। জাগো নিউজের পক্ষ থেকে এই তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

 এদিকে বাংলাদেশি এই তারকার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সংস্থাটির নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় তাইজুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলা হয়, `তিনি এমন ক্রিকেটার, যিনি বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে বেস্ট বোলিং ফিগার ধারণ করছেন। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে তিনি আট উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েন। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই ভেন্যুতে ওয়ানডে অভিষেকে প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক গড়েন তিনি। শুভ জন্মদিন তাইজুল ইসলাম।`

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। টেস্ট অভিষেকে ৫ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তাইজুল ছয় নম্বরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ভেলকি দেখান তাইজুল। স্পিন ঘূর্ণিতে একাই তিনি তুলে নেন ৮ উইকেট। ঠাই করে নেন রেকর্ড পাতায়। সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকও গড়েন তিনি।