বিকাল ৩:৫৬, সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

অবশেষে আমন্ত্রণমূলক নারী হকি সিরিজে ঢাকা একাদশকে হারাতে পেরেছে কোলকাতা ওয়ারিয়র্স। আজ শনিবার সিরিজের শেষ ম্যাচে তারা ঢাকা একাদশকে হারিয়েছে একমাত্র গোলে।

ম‌ওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে, সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে কোলকাতা ওয়ারিয়র্স ক্লাব ১-০ গোলে পরাজিত করে ঢাকা একাদশ মহিলা হকি দলকে। কোলকাতার পক্ষে খেলার ২২ মিনিটে শামা বানো ২২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে।

এতে, সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঢাকা মহিলা একাদশ ২-০ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে কোলকাতা ‌ওয়ারিয়র্সকে পরাজিত করায় তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১-এ জিতে নেয়।

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় ঢাকার

আমন্ত্রনমূলক প্রীতি হকির দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে ঢাকা মহিলা একাদশ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে আজ তারা ৩-০ গোলে পরাজিত করে কোলকাতা ওয়ারিয়র্সকে।

খেলার শুরুতেই ঢাকা একাদশ দারুণ আক্রমণ করে খেলতে থাকে। তেমনি এক আক্রমনে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় স্বাগতিক দলের মেয়েরা। তাতে ৬ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে এগিয়ে দেন জোয়ারিয়া ফেরদৌস জয়িতা। খেলায় পিছিয়ে থেকে কিছুটা আক্রমণ করে খেলতে থাকে কোলকাতার মেয়েরা। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। উল্টো খেলার ৪৪ মিনিটে নাদিরা গোল করে ঢাকার মেয়েদের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। খেলা শেষের তিন মিনিট আগে, নমিতা কর্মকার যে গোলটি করেন তাতেই ঢাকা একাদশের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। সেই সঙ্গে এক ম্যাচ বাকী থাকতেই তি ম্যাচের সিরিজ ২-০-তে জিতে নেয় ঢাকা একাদশ।

দুই দলের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছিলো ঢাকা একাদশ। শনিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ হবে ফ্লাড লাইটের আলোয় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।

জয়ে শুরু নারী হকি দলের

আমন্ত্রণমূলক প্রীতি হকির প্রথম ম্যাচেই ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ তথা ঢাকা একাদশের মেয়েরা। মওলান ভাসানী হকি ষ্টেডিয়ামে আজ বুধবার ঢাকা একাদশ ২-০ গোলে পরাজিত করেছে কোলকাতা ওয়ারিয়র্সকে। নারী হকির প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি জয় দিয়েই শুরু করলো বাংলাদেশের দলটি।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কোলকাতা ওয়ারিয়র্স মহিলা হকি দল ‌ও ঢাকা একাদশ মহিলা হকি দল আমন্ত্রণমুলক প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেয়। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম খেলার ৯ মিনিটে সিমু আক্তার সিমার গোলে এগিয়ে যায় ঢাকার দলটি।

খেলার ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নমিতা কর্মকার। বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল গঠণের উদ্দেশ্যে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় এবং ১০ নভেম্বর সিরিজের তৃতীয় ‌ও শেষ ম্যাচটি হবে।

খেলা শুরুর আগে, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আবু ছালেহ মো: ফেরদৌস খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হকি ফেডারেশনের সহসভাপতি সাজেদ এ এ আদেল, প্রতাপ শংকর হাজরা ‌ও ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ইতিহাসের সামনে নারী হকি দল

আবার‌ও বাংলাদেশের নারী হকিতে ফিরছে আনন্দ-কোলাহল। কারণ স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম হকি টুর্নামেন্ট খেলতে আসছে বিদেশী কোনো নারী দল। কোলকাতা ওয়ারিয়র্স নামের এই দলটি বাংলাদেশের ঢাকা একাদশ নারী হকি দলের সঙ্গে তিনটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে।

এ উপলক্ষে হকি ফেডারেশনের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নব গঠিত নারী হকি দলের শক্তিমত্তা ঝালাই করে নেওয়ার এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন। ৭, ৮ ও ১০ নভেম্বর ম্যাচ তিনটি হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ইউসুফ আলী, ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পরিচালক তারিকুজ্জামান নান্নু ও কোচ হেদায়েতুল ইসলাম খান।

১৯৭৬ সালে নারী হকি দল প্রথম গঠণ করা হয়েছিলো। তাদের কার্যক্রম চলেছিলো ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। তারপর অজ্ঞাত কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। সম্প্রতি নারী হকি দলের দিকে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজনো করে তারা। সেখান থেকে বাছাই করা খেলোয়াড়রাই খেলবে ঢাকা একাদশ নামে। দলের কোচ হেদায়েতুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, মাত্র ১৩ দিনের অনুশীলনে তৈরি করা হয়েছে দলটিকে। আগে তারা খেলার অনেক কিছুই জানতো না। এখন শিখেছে। খেলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে তাদের। আশা করছি, ভালো খেলবে মেয়েরা।

আর দলের অধিনায়ক রিতু খানম বলেন, অল্প দিনের প্রশিক্ষণ হলে‌ও কোচরা অনেক কিছু শিখিয়েছেন। আশা করছি ম্যাচে আমরা সেগুলো প্রয়োগ করতে পারবো। আর সেগুলো করতে পারলেই ভালো ফল পা‌ওয়া সম্ভব।

এদিকে, দলের সহকারী ম্যানেজার ‌ও সাবেক নারী হকি খেলোয়াড় পারভীন পুতুল, নতুন প্রজন্মের এইসব খেলোয়াড়দেরকে প্রতিপক্ষের কিপক্ষে ভালো খেলতে শুভকামনা জানান।

মেরিনার্সের কর্মকর্তাদের পদত্যাগ!

স্পোর্টস রিপোর্টার

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের মধ্যকার প্রিমিয়ার হকি লিগের ম্যাচের ঘটনা গড়াচ্ছে পদত্যাগ পর্যায়ে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ৭ জুনের অমিমাংসিত ম্যাচের ফলাফল ১-১ গোলে ঘোষণা দিলে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। আবাহনী হয় রানার্সআপ এবং মেরিনার্স তৃতীয়। ফেডারেশনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের কর্মকর্তারা হকি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহাসানুল্লাহ খান রানা জানিয়েছেন এ তথ্য।

তিনি বলেন, ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটিতে আমাদের তিন জন কর্মকর্তা আছেন-সহ সভাপতি মোমিনুল হক সাঈদ, যুগ্ম সম্পাদক বদরুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম মৃধা। এর মধ্যে বিকেল দিপু ও নজরুলের পদত্যাগ পত্র জমা দে‌ওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে সহ সভাপতি পদও ছাড়বেন সাঈদ।

গত ৭ জুন প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচের আগে মোহামেডান ও আবাহনীর পয়েন্ট ছিল ৩৯ করে। মেরিনার্সের ছিল ৩৬ পয়েন্ট। ম্যাচের ৪৪ মিনিটের সময় একটি গোলকে কেন্দ্র করে গোলযোগ সৃষ্টি হলে খেলা আর মাঠে গড়ায়নি। তখন স্কোর ছিল ১-১। ফেডারেশন ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারণ করে ১-১ গোলে ড্র। ফলে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। মেরিনার্সের দাবি ছিল মোহামেডান খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের পূর্ণ পয়েন্ট দেয়ার। মোহামেডানও দাবি করে আসছিল পূর্ণ পয়েন্ট। অবশেষ গত ৩০ অক্টোবর ফেডারেশনের সভায় ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেডারেশন। যেখানে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় মোহামেডানকে।

অবশেষে মোহামেডান হকি লিগ চ্যাম্পিয়ন

অবশেষে জট খুলেছে ঘরোয়া হকির সবচেয়ে মর্যদাপূর্ন আসর প্রিমিয়ার হকি লিগের। অচলাবস্থার মধ্যে দিয়ে লিগ শেষ হওয়ার চারমাস পর চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেড। অসমাপ্তভাবে শেষ হওয়া লিগের শেষ ম্যাচে মোহামেডানের প্রতিপক্ষ মেরিনার্স ইয়াং হয়েছে তৃতীয়।

আজ মঙ্গলবার বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে হকি ফেডারেশনের গভর্নিং বডির (জিবি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক। সভা শেষৈ তিনি জানান, মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন ও পয়েন্ট টেবিল অনুসারে আবাহনীকে রানার্সআপ ঘোষণা করা হয়েছে। আবদুস সাদেক বলেন, সব হিসেব-নিকেষ করেই জিবি সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মকর্তারা। সবাই এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। আমার মনে হয় সবার উচিত এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া।

গত ৭ জুন ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়েছিল মোহামেডান। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে গন্ডগোলের কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে গোল শোধ দিয়ে ম্যাচে সমতা (১-১) এনেছিল মেরিনার্স। ওই গোল নিয়েই শুরু হয় গন্ডগোল। এনিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি হকি অঙ্গণে। লিগ কমিটির সভাও হয়েছিল। সভায় কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পদত্যাগও করেন। এর পরেই শিরোপা বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছিল মেরিনার্স ইয়াং। গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে ক্লাবের পক্ষে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন চ্যাম্পিয়নশপি নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তবে লিগ কমিটির সভায় শিরোপা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তটি জিবি মিটিংয়ে ঠেলে দেয়া হয়।

প্রিমিয়ার হকির শেষ ম্যাচের আগ পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলে ৩৯ পয়েন্ট করে নিয়ে শীর্ষে ছিল ১৪ ম্যাচ খেলা মোহামেডান ও এক ম্যাচ বেশি খেলা আবাহনী লিমিটেড। আর ১৪ ম্যাচ খেলা মেরিনার্সের পয়েন্ট ছিল ৩৬। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাইনাল ম্যাচটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র ছিল। তাই মোহামেডান ও মেরিনার্সকে এক পয়েন্ট করে দেয়া হয়। ফলে আগের ৩৯ পয়েন্টের সঙ্গে এক পয়েন্ট যোগ করে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। আর ৩৯ পয়েন্টে থাকা আবাহনী রানার্সআপ এবং ৩৭ পয়েন্ট পাওয়া মেরিনার্স তৃতীয় হয়।

মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার মধ্যে দিয়ে অবসান হলো প্রিমিয়ার হকি লিগের জটিলতা। গত ৭ জুন মোহামেডান ও মেরিনার্সের অসমাপ্ত ম্যাচের ফল ছিল ১-১। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে গোলোযোগ হলে ৪৪ মিনিট পর আর খেলা হয়নি। অনেক জটিলতার পর বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ঘোষণা করলে মোহামেডান ৪০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

ওই ম্যাচের আগে মোহামেডান ও আবাহনী ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের যৌথভাবে শীর্ষে ছিল। মেরিনার্সের পয়েন্ট ছিল ৩৬। ম্যাচে মেরিনার্স জিতলে তিন ক্লাবের পয়েন্ট সমান হতো। তখন প্লে-অফের মাধ্যমে হতো শিরোপা নির্ধারণ। ম্যাচ ড্র ঘোষণা করায় মোহামেডানের পয়েন্ট ১ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০। আবাহনী ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে রানার্সআপ। মেরিনার্সের এক পয়েন্ট বেড়ে এখন হয়েছে ৩৭। গতবারের চ্যাম্পিয়ন লটির অবস্থান তৃতীয়। প্রায় ৫ মাস আগের অসমাপ্ত ম্যাচের সিদ্ধান্ত দিতে না পেরে হকি লিগ কমিটি বিষয়টি পাঠায় নির্বাহী কমিটিতে। মঙ্গলবার বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দুই দলের গোলোযোগে খেলা শেষ না হওয়ার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে সভায়। বিষয়টি নিয়ে ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে একটি প্রতিবেন দিতে বলেছে নির্বাহী কমিটি। ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশন।

হকি সভাপতির কাছে মেরিনারের আবেদন

স্পোর্টস রিপোর্টার

গত বছর প্রিমিয়ার হকির অঘোষিত ফাইনালে ঢাকা মোহামেডানের মুখোমুখি হয়েছিল মেরিনার ইয়াংস। দু’দলের পয়েন্ট ছিল সমান (৩৬ পয়েন্ট)। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মোহামেডান ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হতো। কিন্তু ৪৪ মিনিটে করা মেরিনারের গোল বাতিলের দাবীতে নিয়মের বাইরে গিয়ে ফিল্ড আম্পায়ারের কাছে রিভিউ’র আবেদন করেন সাদা-কালো শিবিরের খেলোয়াড়রা। আর তাতেই ম্যাচ বন্ধ ছিল প্রায় ২২ মিনিট। অবশেষে রিভিউ আবেদনে সাড়া দিয়ে টিভি আম্পায়ার গোলটি বাতিল করেন। পরে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। অবশেষে লিগ কমিটি কালক্ষেপণ করে দীর্গ কয়েক মাস পর দু’দলের শাস্তি দাবী করে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে (বাহফে) চিঠি দেয়। তবে মেরিনার এ দাবী মানতে নারাজ।

ক্লাবটি বাহফে’র নতুন সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের কাছে লিগ কমিটির ঐ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের করে হকির স্বার্থে গঠনতন্ত্র মেনে দোষী ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করবেন। আজ বৃহস্পতিবার ক্লাব প্রাঙ্গনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান, সহসভাপতি আলমগীর কবির।

মেরিনার ক্লাবের এ কর্মকর্তা জানান, ‘মাঠে দু’দল নয়, দোষ করলে এক দল করে। কিন্তু আমরা এখন শুনতে পাচ্ছি দু’দলকেই শাস্তি দিয়ে শীর্ষ দু’টি ক্লাবকে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। এটা খুবই লজ্জাজনক। এমন সিদ্ধান্ত হকিকে আরো পিছিয়ে দেবে। আমরা সেদিন মাঠে নিয়ম মেনেই খেলতে রাজী ছিলাম। কিন্তু বিদেশী আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মোহামেডান খেলা বন্ধ রেখেছিল। আর লিগে কোন রিভিউ সিষ্টেম ছিল না। তারপরও মোহামেডানের প্লেয়াররা রিভিউর আবেদন করে যা ফিল্ড আম্পায়ার বাতিল করে দেন। কিন্তু তারা প্রেসার দিয়ে টিভি আম্পায়ারকে রিভিউ দেখতে বাধ্য করেন। রিভিউ’র সময় হকির এক শীর্ষ কর্তকর্তা টিভি আম্পায়ারকে গোল বাতিলে প্ররোচিত করেছিলেন। যা পরে প্রমান হয়। হকির ইতিহাসে এমন ঘটনা ন্যাক্কারজনক। এখন নতুন করে জানতে পারলাম অসমাপ্ত সেই ম্যাচটির কোন সূরাহা না করে দু’দলকেই শাস্তি প্রদান করে মোহামেডান ও আবাহনীকে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করবে ফেডারেশন। আমরা এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং হকি অঙ্গন থেকে কিছু দুষ্ট চক্রকে প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ঢাকাকে হারিয়ে খুলনা চ্যাম্পিয়ন

শক্তিশালী জাতীয় দল গঠণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকির শিরোপা জয় করেছে খুলনা বিভাগ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে, প্রতিযোগিতার ফাইনালে তারা ১-০ গোলে পরাজিত করে ঢাকা বিভাগকে। স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রাজশাহীকে পরাজিত করে তৃতীয় হয়, রংপুর বিভাগ।

আগের তিনবারই জাতীয় মহিলা হকি চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছিলো জেলা ভিত্তিক। এবারই প্রথম বিভাগীয় পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা হয়। উদ্দেশ্য ছিলো একটি শক্তিশালি জাতীয় দল গঠণের। টার্ফের মাঠের সঙ্গে এর আগে কোনো পরিচয় না থাকলেও, সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে খেলোয়াড়রা ভালো খেলার। তাতে খেলার ২৪ মিনিটে জেসি যে গোলটি করেন তাতেই নিশ্চিত হয় খুলনার শিরোপা জয়।

ফাইনাল ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা জেসি

শিরোপা জয়ের পর খুলনা বিভাগের অধিনায়ক কিমি কর্মকার বলেন, ‘টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো সেটা ভাবতে পারি নি। তবে আমাদের চেষ্টা ছিলো ভালো খেলার। তার ফল পেয়েছি আমরা।’ আর ফাইনালের গোলদাতা জেসি জানান, ফাইনালে পৌছার পর আমাদের মনে হয়েছে, জেতার সম্ভাবনা তো আমাদের‌ও আছে। আমিই গোল করবো কিংবা আমার গোলেই দল চ্যাম্পিয়ন হবে এমনটা নয়, পরিকল্পনা ছিলো সবাই ভালো খেলবো। তাতে যে-ই গোল করুক কিনা’

এদিকে, হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত জানান, ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে প্রতিবছর এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।

আর স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এবং মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলার কর্মকর্তারা হকি খেলার উন্নয়নে নিজেদের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান।

ট্রফির পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন দল খুলনা বিভাগকে ষাট হাজার টাকা এবং রানার আপ দল ঢাকা বিভাগকে চল্লিশ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়।

জাতীয় নারী হকির ফাইনাল সোমবার

ওয়ালটন ৪র্থ জাতীয় মহিলা হকির ফাইনালে উঠেছে খুলনা ও ঢাকা বিভাগ। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, প্রথম প্রথম সেমিফাইনালে খুলনা বিভাগ ২-০ গোলে রংপুর বিভাগকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে। খুলনার, রানী এবং কিমি গোল দুটি করেন।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ঢাকা বিভাগ ২-১ গোলে রাজশাহী বিভাগকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ঢাকার পক্ষে তারিন আক্তার ও সুমি আক্তার গোল করেন। এবং রাজশাহীর সবিতা কুজুর একটি গোল শোধ করেন।

আগামীকাল সোমবার বেলা তিনটা থেকে জাতীয় মহিলা হকির ফাইনাল খেলাটি, মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা সরাসরি সম্প্রচার করবে।

জাতীয় মহিলা হকিতে ঢাকা ও খুলনার জয়

ওয়ালটন ৪র্থ জাতীয় মহিলা হকিতে জয় পেয়েছে ঢাকা ও খুলনা বিভাগ। অন্য ম্যাচে, রাজশাহীর সঙ্গে ড্র করেছে ময়মনসিংহ বিভাগ।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আজ, ঢাকা বিভাগ ১-০ গোলে রংপুর বিভাগকে পরাজিত করে। ঢাকার ফারদিয়া আক্তার ৩৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন।

এদিকে, খুলনা বিভাগ ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে বরিশাল বিভাগকে। খুলনার, কিমি দুটি এবং নাদিরা একটি গোল করেন। অন্য ম্যাচে, রাজশাহী বিভাগ গোল শূন্যভাবে ড্র করে ময়মনসিংহ বিভাগের সাথে। আগামীকাল জাতীয় নারী হকির একমাত্র ম্যাচে ঢাকা বিভাগের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম বিভাগ। খেলাটি শুরু হবে বেলা সাড়ে তিনটায়।

তিনবছর পর জাতীয় মহিলা হকি

তিনবছর পর কাল থেকে আবার শুরু হচ্ছে জাতীয় মহিলা হকি টুর্নামেন্ট। সাতটি বিভাগীয় দলের এই প্রতিযোগিতার স্পন্সর ওয়ালটন। এ উপলক্ষে হকি ফেডারেশনে এ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় দল গঠণের উদ্দেশ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতির এই প্রতিযোগিতায় সাতটি দল দুটি গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনাল এবং স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অংশ নেবে। ট্রফি ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন দলকে ৬০ হাজার এবং রানারআপ দলকে ৪০ হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। তাছাড়া সেরা খেলোয়াড় ‌ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে‌ও পুরস্কৃত করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক বদরুল আলম দিপু, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর ইকবাল বিন আনোয়ার এবং মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মীর মোতাহার হাসান।

হকি বিশ্বকাপে এআর রহমান

আসছে হকি বিশ্বকাপের টাইটেল সং ‘জয় হিন্দ, জয় ইন্ডিয়া’৷ প্রখ্যাত গীতিকার ও কবি গুলজারে লেখা বিশ্বকাপের অফিসিয়ালস সং-এ সুর দেবেন কিংবদন্তি সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমান৷ গতকাল শুক্রবার উড়িশ্যা সরকার এমন কথাই জানায়।

চলতি বছর ২৮ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর, ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে বসছে ১৪তম পুরুষ হকি বিশ্বকাপের আসর৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিখ্যাত সুরকার এআর রহমান৷ দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন গুলজার ও রহমান৷ এছাড়াও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন গুলজার৷ কিংবদন্তি এই গীতিকার ও সুরকারের অংশগ্রহণে উচ্ছ্বসিত উড়িশ্যা সরকার৷

উড়িশ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক টুইটারে জানান, ‘আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, দেশের গর্ব এআর রহমান হকি বিশ্বকাপের টাইটেল সং গাইবেন কিংবদন্তি গীতিকার গুলজারের কথায়৷ এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন রহমান৷’ এটাই হবে উড়িশ্যায় এআর রহমানের প্রথম কোনও লাইভ পারফরম্যান্স৷

ভিডিও সং-এ রহমানকে সঙ্গ দেবেন ভারতীয় দলের হকি খেলোয়াড়রা৷ ২৮ নভেম্বর থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হলেও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে তার আগের দিন অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর ভুবনেশ্বরে৷

হকিকে গুডবাই জানালেন চয়ন

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার। এশিয়ান গেমসই হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ আসর। তবে অনেকেই তখন বিশ্বাস করেননি। ভেবেছিলেন রাগে-ক্ষোভে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু না, সবাইকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ শেষে অবসরটা নিয়েই ফেললেন পেনাল্টি স্পেশালিষ্ট মামুনুর রহমান চয়ন। ভবিষ্যতে ফেডারেশনের অনুরোধেও জাতীয় দলের জার্সি আর গায়ে তুলে নেবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি। তার এ শূণ্যতা অনেক দিন ভোগাবে জাতীয় দলকে। ম্যাচ শেষে দু’দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের ষ্টিক তুলে গার্ড অব অনার জানান প্রায় দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ তারকা হকি খেলোয়াড়কে। এরপর মাঠেই তার হাতে জাতীয় পতাকা আাঁকা ক্রেষ্ট তুলে দেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক আবদুস সাদেক। আগামীকাল এশিয়ান গেমস হকির সমাপনী দিনে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে চয়নের হাতে। তার নেতৃত্বেই মার্চপাষ্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা।

এক যুগ আগে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গড়ানো চয়নের বয়স মাত্র ৩০। এরচেয়েও অধিক বয়সে হকি খেলা সম্ভব। বাংলাদেশ দলেই আছেন তেমন বয়স্ক প্লেয়ার। অথচ ফিটনেস থাকার পরও হঠাৎ করেই কেনো তিনি অবসরের ঘোষণা দিলেন, সেটা কারো বোধগম্য নয়। তবে অন্য কোনো কারনে নয়, নিজ সন্তানকে সময় দেয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় বলে দিয়েছেন বলে জানালেন চয়ন। বিকেএসপি থেকে উঠে আসা এ হকি তারকার জীবনে কোন অতৃপ্তি নেই, ‘হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। চারটি এশিয়ান গেমস খেলার স্বপ্ন ছিল, সেটা পূরণ হয়ে গেছে। আমি তৃপ্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে। আমার আর কোনো ইচ্ছে নেই। হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। হকি খেলেছি বলেই আমি চয়ন আজ সবার কাছে পরিচিত। দেশের সেরা দশজন তারকা খেলোয়াড়ের নাম উঠে আসলে সেখানে আমার নামটিও নেয় মানুষ। আমি হকি না খেললে হয়তো কেউ আমাকে চিনতো না।’

বিদায়ের মুহূর্তটা স্মরণ করে এ তারকা বলেন, ‘আমি আর ন্যাশনাল টিমে খেলতে পারবো না- এটা ভেবেই খুব খারাপ লাগছে। গতকাল রাত থেকেই আমি ঘুমাতে পারিনি। কারন ন্যাশনাল টিমের ফ্ল্যাগটা আর আমার বুকে থাকবে না। কিন্তু আমার সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা আজ যে সম্মান দিয়েছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ।’

অবসর নেয়ার মতো বয়স যে এখনো হয়নি সেটা অকপটেই স্বীকার করে নিলেন চয়ন, ‘আমি হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো কিছু দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু ছেলের কারনেই অবসর নিচ্ছি। তিন বছর বয়সী আমার ছেলেকে যখনি ভিডিও কল দেই তখনি ও মন খারাপ করে থাকে। এখন আমি পুরোটা সময় আমার সন্তানকে দিতে চাই।’

ক্যারিয়ারের স্মরনীয় মুহূর্ত হিসেবে ওয়ার্ল্ড হকি লীগে চীনের বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টাকে আখ্যায়িত করেন চয়ন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে কাতার এশিয়াড দিয়ে শুরু। এরপর ২০১০ সালে গুয়াংজু ও ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়াডে অংশ নিয়েছেন তিনি। চয়নের আগে একমাত্র হকি খেলোয়াড় হিসেবে চারটি এশিয়াডে অংশ নেয়ার কৃতিত্ব ছিল ডিফেন্ডার মুসা মিয়ার। আর তিনটি এশিয়াডে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক খেলোয়াড় জামাল হায়দার, মুসার ভাই ইছা মিয়া ও হাবুলের।

হকিতে ৬ষ্ঠ স্থানই পেলো বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের হকি ইভেন্টে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে ৬ষ্ঠ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের। আজ শনিবার জিবিকে স্পোর্টস এরিনার হকি গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে কোরিয়ানদের সামনে পাত্তাই পায়নি লাল-সবুজরা। এ ম্যাচটি আরো একটি কারনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল শিটুলবাহিনীর কাছে। কারণ দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মামুনুর রহমান চয়ন এ ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলের জার্সী তুলে রাখবেন। লক্ষ্যছিল, অভিজ্ঞ এ ফরোয়ার্ডের বিদায়ী ম্যাচে কম গোলে হেরে তাকে সম্মান জানানোর। কিন্তু সেটিও হয়নি।

কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমনে শুরু থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল গোপিনাথনের শিষ্যরা। বল দখলের লড়াইয়ের হিসেব কষলে আশি শতাংশ সময় বল ছিল কোরিয়ানদের দখলে। বাংলাদেশ মাঝে মধ্যে বল পেয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করাতো দূরে থাক, ডি-বক্সের সামনেও যেতে পারেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাত্র দশ মিনিটেই এগিয়ে যায় এশিয়ার পরাশক্তিরা। সিনইউ’র হিট থেকে পাওয়া বল কানেক্টে গোল করেন কিম জাংহু (১-০)। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুন করেন সিউ ইনউ (২-০)। প্রথম কোয়ার্টারে দুই গোল করা কোরিয়ানরা দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও দেখা পায় আরো দুই গোলের। ম্যাচের ২৬ মিনিটে জিয়ং জুনউ ফিল্ড গোল করে গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান। এক মিনিট পরেই পিসি পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়ে স্কোর লাইন ৪-০ করেন জাং জংইউন।

দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশের সীমানায় আক্রমনের ধারা অব্যাহত রাখে প্রতিপক্ষ দলের ফরোয়ার্ডরা। ৩৩ মিনিটে আরো একটি পেনাল্টি স্ট্রোক পেয়ে যায় কোরিয়া। সেই পিসিটাও কাজে লাগান অধিনায়ক জাং মানজাই (৫-০)। তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে দলের হয়ে ৬ষ্ঠ ও ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের দেখা পান জাং জংইউন (৬-০)। বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুঁকে দেন লি জুংগিয়ান (৭-০)। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে আসে এ গোলটি।

এর আগে, গত এশিয়ান গেমসেও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেবার ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল লাল-সবুজরা।

হকিতে লক্ষ্য এবার পঞ্চম স্থান

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু লক্ষ ঠিকই পূরণ করেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। জায়গা করে নিয়েছে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী শনিবার জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে বিকেল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। শক্তির বিচারে দক্ষিণ কোরিয়া বেশ এগিয়ে। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও তাদের অবস্থান বেশ শক্ত। ১৪তম স্থানে আছে কোরিয়ানরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ নম্বরে। র‌্যাংকিংয়ের এ তফাতটাই দুই দলের শক্তির পার্থক্য নিরুপনের জন্য যথেষ্ট।

বাংলাদেশ দলের কোচ গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তি এবার এশিয়ান গেমস হকির পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থানকে টার্গেট করেই ইন্দোনেশিয়া এসেছিলেন। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ওমানের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর কাজাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধেও পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে শিটুল বাহিনী। তবে মালয়শিয়া ও পাকিস্তানের কাছে হেরে তিন নম্বরে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করে জিমি-চয়নরা।তিন ম্যাচে জিতে প্রথম টার্গেটটা পূর্ণ হয়েছে লাল-সবুজদের।এবার স্থান নির্ধারনী ম্যাচে জয় চাইছেন কোচ গোপিনাথন। পঞ্চম স্থান নিয়েই দেশে ফেরার লক্ষ্য তার।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পরদিন শিষ্যদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ। আজ বৃহস্পতিবার অনুশীলন করেছেন পুরোদমে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে যে ভুলগুলো করেছিল জিমি-চয়নরা, সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা করছেন অনুশীলনে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক ফরহাদ আহম্মেদ শিটুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য পঞ্চম স্থান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো আর করতে চাই না। এখন লক্ষ্য স্থাণ নির্ধারনী ম্যাচে ভালো খেলে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করা।’

এদিকে, স্পিড-ফিটনেস-ট্যাকটিকস, হকিতে ম্যাচ জয়ের তিন প্রধান বিষয়। তবে এগুলো থাকলেই যে জয়ের নিশ্চয়তা থাকবে বিষয়টি তেমনও নয়। সতীর্থদের রসায়নটাও গুরুত্বপূর্ণ। পুরো খেলায় দাপট দেখিয়েও কখনও কখনও ভালো দলের নাম যোগ হতে পারে পরাজিতদের কাতারে। এর অন্যতম কারণ বোঝাপড়ার অভাব। বাংলাদেশ দলের মিডফিল্ডার সরোয়ার হোসেন জানান, এক্ষেত্রে মানসিক ব্যাপারটাও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তা না হলে, দুর্বল দলের বিপক্ষে তারা যে পজিশনে গোল পান বড় দলের বিপক্ষে সেখানে কেনো ব্যর্থ হবে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের কাছে কাঙ্ক্ষিত পরাজয়

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকিতে পাকিস্তানের অবস্থান খুবই শক্ত। র‌্যাংকিংয়ের দুই স্থানে দেশটি। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আছে ১৩ নম্বরে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এশিয়াতে সাত ও বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে ৩৩ নম্বর স্থানে। শক্তির ফারাকটা যে কতোটা সেটা র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান দিয়েই বুঝা যাচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিবেশী এ দলটির বিরুদ্ধে কখনোই পেরে উঠেনি লাল-সবুজরা। সফলতা বলতে ১-০ গোলে হারা। সেটা ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপে। চলতি এশিয়ান গেমসেও টার্গেট ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কম গোলে হারার। কিন্তু সেটা আর হয়নি। নিজেদের দূর্বল রক্ষণভাগের কারনে ৫-০ গোলের বড় লজ্জার হার নিয়েই গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের ফিরতে হয়েছে ড্রেসিং রুমে।

এ ম্যাচে হারলেও পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ নিশ্চিত করা জিমি-চয়নরা আগামি ১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে জাপান-কোরিয়া ম্যাচে পরাজিত দলের।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন হারের পরও সন্তুষ্ট কোচ গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তি, ‘ওরা (পাকিস্তান) বিশ্বমানের টিম। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় মিস ছিল হতাশাজনক। প্রস্তুতি ম্যাচে এগুলো কাটিয়ে উঠার চেষ্টা ছিল আমাদের।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে বাংলাদেশ। রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে আতিক মোহাম্মদ দারুন এক ফ্লিকে নিশানা ভেদ করেন (১-০)। পিছিয়ে পড়া শিটুলবাহিনী ঘুড়ে দাঁড়ানোর কোন সুযোগই পায়নি। কিছু বুঝে উঠার আগেই আরো এক গোল হজম করতে হয় লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোলটি করেন পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড মোবাশসের আলী (২-০)।

প্রথম কোয়ার্টারে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা পাকিস্তানীরা যেনো গোলের ক্ষুধায় উন্মত্ত্ব ছিল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে মাঠে নামার দশ মিনিটের মধ্যে গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান মোবাশসের আলী (৩-০)। টানা দুই গোল করা এ স্কোরারের সামনে ছিল হ্যাটট্রিকের সুযোগ। কিন্তু সেটা আর কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে পাকিস্তান আরো চেপে ধরেছিল লাল-সবুজদের। এ অর্ধের দুই কোয়ার্টারে আরো দুই গোল আদায় করে নেয় এশিয়ার দুই নম্বর দলটি। তৃতীয় কোয়ার্টারের ৬ মিনিটেই স্কোর লাইন ৪-০তে নিয়ে যান আলী শান। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুঁকে দেন আতিক (৫-০)। তবে শেষ কোয়ার্টারে একটি পিসি পেলেও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যরা।

দলীয় অধিনায়ক ফরহাদ আহম্মেদ শিটুল, ‘আমাদের লক্ষ পঞ্চম স্থান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এরচেয়ে ভালো খেললেও আমরা গ্রুপে তৃতীয়ই থাকতাম। এখন লক্ষ্য স্থাণ নির্ধারনী ম্যাচে ভালো খেলে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করা।’

রাসেল মাহমুদ জিমিও তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি। যেখানে সাত আট গোল খাওয়ার কথা, সেখানে পাঁচ গোল খেয়েছি। প্রথম গোলটা ছিল অপ্রত্যাশীত।’

এই পরাজয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর জাপান ও কোরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে পঞ্চমস্থানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াই কাল

ইন্দোনেশিয়ার থেকে প্রতিনিধি

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়ে ভাবছেনা বাংলাদেশ। লক্ষ্য ভালো খেলা উপহার দেয়া। এশিয়ান গেমস হকিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামীকাল মঙ্গলবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কাগজে-কলমে এই ম্যাচের ফল গোবিনাথানের শিষ্যদের তুলে নিতে পারে সেমিফাইনালে।

গ্রুপ বি’তে চার ম্যাচ শেষে মালয়েশিয়ার পয়েন্ট ৯, বাংলাদেশেরও তাই। ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে পাকিস্তান। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ওমানের কাছে মালয়েশিয়া হারলে, আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারালে তো কথাই নেই। শেষ চারে জায়গা হবে জিমি-চয়নদের। তবে এর সবই কাগজ-কলমের হিসেব। বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। পাকিস্তানকে হারানোর সামর্থ্য নেই গোবিনাথানের শিষ্যদের।

 

জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবছেন না কোচ। জানান ভালো খেলার কথা, 'ইন্দোনেশিয়ায় ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য পুরণ করেছি। ষষ্ঠ স্থান পেয়েছি। এখন যা হবে সেটা আমাদের দলকে শুধুই এগিয়ে নে‌ওয়া। আসলে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়; কথা হলো আমরা ভালো খেলতে চাই।'

এবারের গেমসে প্রতিটি ম্যাচেই হতাশার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করার ব্যর্থতা। এক আশরাফুল ছাড়া বাকীদের স্টিকে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। অনুশীলনে যদিও কাজ হচ্ছে, তবে ম্যাচে তার প্রভাব পড়ছেনা। সেই আশরাফুল ইসলাম‌ও বললেন ভালো খেলার কথা, 'আমাদের কাছে পাকিস্তানের খেলার ফুটেজ আছে। আমরা সেই ফুটেজ দেখে োদের বিপক্ষে করণীয় কাজ করার চেষ্টা করবো। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা ভালো খেলার চেষ্টাই করবো।'

বাংলাদেশের হকি ও একজন তাহির জামান

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ এরই মধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। আগামি ১ সেপ্টেম্বর স্থান নির্ধারনী ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ এখনও অজানা। তবে তার আগে আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামতে হবে লাল-সবুজদের। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের কোন লক্ষ্য নেই গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের। যত কম গোল হজম করা যায় ততই মঙ্গল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সুখকর কোন উদাহরন নেই বাংলাদেশের। ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপেই সবচেয়ে বড় সাফল্য পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেবার মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সাফল্য ঠিক তার দশ বছর পর। ১৯৯৫ সালে সাফ গেমসে পাকিস্তানের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল লাল-সুবজ জার্সীধারীরা। মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান সবগুলি গোলই দিয়েছিল পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে। দেশের হয়ে দুটি গোল করেছিলেন আব্দুস সাদেক ও মুসা মিয়া।

তাহির জামান

বর্তমানে ওমান হকি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তাহির জামান। গতবছর বাংলাদেশে এসে কোচিং করিয়ে গেছেন। তারা চেয়ে ভালো বাংলাদেশকে আর কেউ চেনার কথা নয়। বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের পার্থক্য নিরুপন করতে গিয়ে পাকিস্তানের এ লিজেন্ড বলেন, ‘ক'দিন আগেও তোমাদের দেশে ঘুরে এসেছি। পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মানে রয়েছে পিছিয়ে। তবে হ্যাঁ একটা দিকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সেটি হলো তারা ভয়কে জয় করতে শিখেছে। আগে যেমন সারাক্ষন ডিফেন্সিভ খেলায় মনোনিবেশ করতো এখন তারা আক্রমন করতে শিখেছে। বড় ব্যাবধানে পিছিয়ে থাকার পরও রক্ষনাত্মক না থেকে আক্রমনে যেতে চেষ্টা করে।’

বাংলাদেশের মাটিতে খেলেছেন তাহির জামান। প্রতিবারই মোহামেডানের জার্সী গায়ে ছিল তার। প্রতিবারই মোহামেডানের হয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। জার্সী তুলে রাখার পর ঢাকায় এসেছিলেন উষা ক্রীড়া চক্রের কোচ হয়ে। সেবারও চ্যাম্পিয়ন উষা। ওই সময়ের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের তুলনায় তাহির জামান বলেন, ‘আমাদের সময়ে স্কিল ছিল এখন যেটা গতির কাছে পরাজিত। বর্তমান প্লেয়ারদের গতির সাথে স্কিল থাকা জরুরী। তা না হলে ছিটকে পড়বে। আরো একটি ব্যাপার হলো আর্থিক। আমরা ছুটেছি মাঠের জন্য এখন ওরা ছুটে টাকার জন্য।’

একটা সময় এশিয়া শাষন করতো হকি। বর্তমানে ইউরোপ রাজত্ব করছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইয়েস, এশিয়া পিছিয়ে থাকার একটা টেকনিক্যাল কারনও রয়েছে। নুতন নিয়মগুলি আসার আগে থেকেই তারা এটিকে চর্চা করে। এশিয়ায় যখন নিয়মগুলি পালন করতে শুরু করে তখন ইউরোপের ওরা পুরোপুরিভাবে নিয়মগুলি আয়ত্ব করে নেয়। পিছিয়ে থাকার এটিও একটি কারন। সত্যি কথা বলতে গেলে আমরা একটু অলসও বটে। করি-করছি- করবো ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায়। তবে বর্তমান সময়ে পাকিস্তান একটু নড়ে চড়ে বসবে বলেই ধারণা করছি। ইমরান খান পাকিস্তানের হাল ধরেছেন। খেলার মাঠের মতোই তার নেতৃত্বে সচল হবে পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হকি।’

ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হকিতে

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস হকি ইভেন্টে ষষ্ঠ কিংবা পঞ্চম হওয়ার লক্ষ নিয়েই ইন্দোনেশিয়া এসেছিল বাংলাদেশ দল। আজ রবিবার থাইল্যান্ডকে পরাস্ত করার মধ্য দিয়ে সে টার্গেট পূরণ হয়েছে লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলার দামাল ছেলেরা। আর পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াইয়ে নামবে ১ সেপ্টেম্বর। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ওই ম্যাচে হারলেও ষষ্ঠ স্থানটি নিশ্চিতই থাকবে গোবিনাথনের শিষ্যদের।

এ জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের আগামী আসরের বাছাইপর্ব খেলতে হবে না লাল-সবুজদের। প্রায় বিশ বছর পর আসা সুযোগটি দারুনভাবে কাজে লাগিয়েছেন জিমি-চয়নরা।

জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে ৩-১ গোলের জয় পায় ফরহাদ আহম্মেদ শিটুলবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে আশরাফুল জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি আসে মিলন হোসেনের ষ্টিক থেকে। থাইল্যান্ডের হয়ে হারাপান সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি করেন।

এশিয়ান গেমসে ১৯৭৮ সালে প্রথম অংশ নিয়েই ষষ্ঠ হয়েছিল বাংলাদেশ হকি। এরপর আর উপরের দিকে আসা হয়নি। দিনদিন অবনমনই হয়েছে হকিতে। সবশেষ দু’টি আসরে (২০১০ ও ২০১৪ সালে) অষ্টম হয়েই দেশে ফিরতে হয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ছয়ের দেখা পেল আশরাফুল-জিমি-চয়নরা।

এটি চয়নের শেষ এশিয়ান গেমস বিধায় দিনটিকে স্মৃতির পাতায়ই রাখতে চাইলেন চয়ন, ‘চারটি এশিয়ান গেমসে খেলছি। আগের তিনটিতে কোন সাফল্য নেই। তাই এটিকে আমার জীবনের সেরা গেমস বললে অত্যুক্তি হবে না। এটি আমার একার কৃতিত্ব নয়। দলীয় সাফল্য। আমি দলের একটা অংশ। সকলেরই চেষ্টা ছিল ম্যাচ জয়ের। ২০ বছর পর এমন সুযোগ কেউ নষ্ট করতে চাইনি বলে জান প্রান বাজি রেখে খেলেছি।’

ম্যাচে দু’গোল করা উদীয়মান পিসি মাস্টার আশরাফুল জানান, ‘আমাদের চেয়ে থাইল্যান্ড অনেক বেশি উন্নতি করেছে। যে থাইল্যান্ডকে বলে কয়ে হারাতাম আমরা, সেই দলটির বিপক্ষে প্রথম ত্রিশ মিনিট গোলশুন্য ছিলাম। কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও আমরা মানসিকভাবে জেতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। দলের জয়ে সকলেই খুশি। আগ থেকেই আমাদের বোঝাপড়া ছিল।’

নিজেদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই কোয়ার্টারে কোনো গোলের দেখাই পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে তৃতীয় কোয়ার্টারে আসে সফলতা। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ শিবিরে হাসি ফুঁটিয়ে তুলেন আশরাফুল। প্রথম পিসিটাই কাজে লাগান এ পিসি মাস্টার। জিমি-সারোয়ার কম্বিনেশনে আশরাফুরের দারুণ ড্রাগ অ্যান্ড ফ্লিকে গোলের দেখা পায় লাল-সবুজরা (১-০)।

ঠিক ছয় মিনিট পরেই গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে প্র্রশান্তি নিয়ে আসেন সেই আশরাফুল। একই কম্বিেিনশনে দ্বিতীয় পিসি থেকে গোল করে থাইল্যান্ডকে চাপের মুখে ফেলে দেন তরুন এ ফরোয়ার্ড (২-০)।

শেষ কোয়ার্টারের ৩ মিনিটে একটি গোল শোধ দেন থাইল্যান্ডের হারাপান বুরিরাক (২-১)। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুল- মিমোর আদান প্রদানে বল পেয়ে যান মিলন হোসেন। থাইল্যান্ডের গোলকীপার শুয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে‌ও ব্যর্থ হন (৩-১)। এরপর আর কোন গোল না হলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গোবিনাথনের শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর গেলা কোচ গোবিনাথান বলেন, ‘থাইল্যান্ড যে এত উন্নতী করেছে তা বুঝতে পারিনি। ছেলেরা জয় পেয়েছে তাতে আমি খুশি। কিন্ত মাঠের খেলায় সন্তষ্ট হতে পারিনি। মুলত বাংলাদেশের ’দরকার দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষন। তোমাদের প্রতিভা আছে বিকশিত হতে সময়ের প্রয়োজন।’

থাইল্যান্ডকে হারাতে চায় বাংলাদেশ হকি দল

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির গ্রুপ পর্বে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আগামীকাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। স্থানীয় সময় বিকাল চারটায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হবে দুই দলের দ্বৈরথ। থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলে পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াইয়ের সুযোগ পাবে জিমি-চয়নরা। সেই সাথে আগামী এশিয়া কাপ আর এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বও খেলতে হবেনা গোবিনাথনের শিষ্যদের। আগামী আসরে সরাসরি সুযোগ পাবে চূড়ান্ত পর্বে।

হকি ইভেন্টে টানা দুই ম্যাচ জয়ের পর শক্তিশালী মালয়শিয়ার কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। তবে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের আশা শিটুলবাহিনীর। বিশ্ব হকি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ আর থাইল্যান্ডের ৪৭। শুধু র‌্যাঙ্কিং নয়, হকিতে কখনই থাইদের কাছে হারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায় না টিম বাংলাদেশ। বহু বছর পর এমন সুযোগের সামনে দাড়িয়ে জিমি-চয়ন-শিটুলরা।

ম্যাচকে সামনে রেখে আজ শনিবার সকালে কঠোর পরিশ্রম করেছেন গোবীনাথনের শিষ্যরা। কোচের কথায়, ‘দল সবসময় জয়ের জন্যই মাঠে নামে। মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তানের বিপক্ষে যেভাবে মাঠে নেমেছে সেভাবেই মাঠে নামবো। সবসময় সেরাটা দিতেই প্রস্তত আমার দল। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে টার্গেটে পৌঁছানো সম্ভব। এখানে বাধার কিছু দেখছি না।’

দলের সহকারি কোচ আশিকুজ্জামান জানান, ‘বাংলাদেশের সামনে ২০ বছর আগে এমন একটি সুযোগ এসেছিল। তবে সেটি কাজে লাগানো যায়নি। থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলে আমাদের ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত। পঞ্চম স্থানের জন্য লড়তে হবে কোরিয়া কিংবা অন্য একটি দেশের সঙ্গে।

তাছাড়া আগামী এশিয়ান গেমস ও এশিয়া কাপের বাছাইপর্বও খেলতে হবে না জিততে পারলে। তাই আমরা সকলে ইতিবাচক চিন্তা করছি। দলে কোন ইনজুরি নেই। আশরাফুল গত ম্যাচে ইনজুরির কারনে খেলতে না পারলেও আগামীকাল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে তার কোন অসুবিধে হবে না।’

ঈদের ছুটিতে হতাশাজনক পারফরমেন্স বাংলাদেশের

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমসে ঈদ-উল-আযহার কোন ছুটি ছিল না। ঈদের দিনও বিভিন্ন ইভেন্টে লড়াই করতে হয়েছে অ্যাথলেটদের। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরাও বেশ কয়েকটি ইভেন্টে লড়াই করেছিলেন ঈদের ছুটিতে। কিন্তু ঈদের আনন্দের মতো মাঠে পারফর্ম্যান্স রাঙাতে পারেননি জিমি-শিরিন-রোমান সানা-খাদিজা-সাগররা। হতাশ করেছেন সবাই। কেউ পুলে, কেউ টার্ফে- সব ইভেন্টেই ছিল ব্যর্থতার গল্প। তবে ব্যতিক্রম ছিল আরচ্যারি ইভেন্ট। হাসি-কান্নার মিশ্রন ছিল এ ইভেন্টে। ঈদের ছুটিতে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের বিভিন্ন ইভেন্টের ব্যর্থতা-সাফল্যের খবরগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে

 

হকি : ওমানের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ হকি দল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাজাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল ঈদের দিন সকাল ১০টায়। জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচে লাল-সবুজরা জয় পায় ৬-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে ঈদের দিনটাকে রাঙিয়ে তুলেছিল। উল্লাসে মেতেছিল পুরো দল। তবে শিষ্যদের জয়ের পরও পারফর্ম্যান্স নিয়ে হতাশা ছিল কোজ গোপীনাথন কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে, ‘জয় পাওয়ায় খুশী। কিন্তু ওদের পারফর্ম্যান্সে আমি মোটেও খুশী নই। আরো বেটার খেলার যোগ্যতা আছে আমার দলে।’

সাঁতার : মাহফিজুর রহমান সাগরের প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল। অনুশীলনের ঘাটতির অজুহাত তুলে ২০০ মিটারে পুলে না নামা এ সাঁতারু নিজের প্রিয় ইভেন্টেও ছিলেন ব্যর্থ। হিটে ৪৭ জনের মধ্যে ৩৫তম হন পাবনার এ সাঁতারু। ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলেও ছিল হতাশা। ৫১ জনের মধ্যে হয়েছে ৩৬তম। হতাশ করেছেন আরেক সাঁতারু খাদিজা আক্তার বৃষ্টিও। তিনিও নিজের প্রিয় ইভেন্টে (৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোক) হিটে ৩০ জনের মধ্যে ২৭তম হন খাদিজা আক্তার। ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলের হিট থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। ৩১ জনের মধ্যে ২৮তম স্থান নিয়েই ফিরে আসতে হয়।

আরচ্যারী : মঙ্গলবার দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য আরচ্যারীতে ছিল মিশ্র অনুভুতির। ছেলেদের রিকার্ভ রাউন্ডে তৃতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে ওঠেন রোমান সানা। ৭৯ জনের মধ্যে হন তৃতীয়। যা দেশের জন্য বেশ গর্বের ছিল। প্রত্যাশা ছিল আরো বড়। কিন্তু পারেননি রোমান সানা। বিদায় নিতে হয়েছে বাছাই পর্বের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। তবুও তার এ কৃতিত্বকে বড় করেই দেখছেন আরচ্যারী ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

শ্যুটিং : শুটিংয়ে নারীদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন ইভেন্টে বাংলাদেশের কেউই পরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা দুজনই এ ইভেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন। সুরাইয়া মোট ১১৩০ স্কোর নিয়ে ৩৩ জনের মধ্যে ২৫তম ও শিল্পা ১০৯৭ স্কোর নিয়ে ৩৩ জনের মধ্যে ৩৩তম হয়েছেন। এদিকে আরেক তারকা শ্যুটার শাকিল আহমেদও বিদায় নিয়েছে নিরবে। কমওয়েলথ গেমসে রৌপ্যজয়ী এ শুটার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ৪০ জনের মধ্যে হন ২২তম। ৩৭তম হয়েছেন বাংলাদেশের পিয়াস হোসেন। ৫০ মিটার এয়ার রাইফেল থ্রি পজিশনে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের শোভন আর রবিউল।

কাবাডি: পুরুষ কাবাডিতে ভারতের কাছে হার দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ ঈদের ছুটিতে জয় পায় শ্রীলংকার বিপক্ষে। জয়ের ব্যবধান ২৯-২৫ পয়েন্ট। পুরুষরা জিতলেও টানা তৃতীয় হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। আগেই দুই হারে বিদায় নিশ্চিত করা নারীরা ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে।

এছাড়া, ব্রিজে বাংলাদেশ জয় পায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। আরব দেশটিকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে পরের রাউন্ডে। পুরুষ বিচ ভলিবলের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে বাংলাদেশ হেরে গেছে ইন্দোনেশিয়ার কাছে। কুস্তিতে শিরিন সুলতানাও লজ্জা উপহার দেন।

হকিতে মালয়শিয়ার কাছে হার ৭-০ গোলের

এশিয়ান গেমস হকিতে শক্তিশালী মালয়শিয়ার কাছে ৭-০ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার পালেম্বাংয়ে, প্রথম কোয়ার্টারে মালয়শিয়ান আক্রমণ রুখতে পারলেও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভেঙে পড়ে জিমি-চয়নদের প্রতিরোধ।

খেলার ১৮ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে রাজী রহিম এগিয়ে দেন দলকে। রাজী আর আরশাদের কল্যাণে দ্বিতীয় কোয়ার্টারেই আরও দু’গোল করে মালয়শিয়া। ফয়জাল সারি, জুয়েল স্যামুয়েল ভ্যান হিউজেন আর নূর নাবিল আর ফারহান আশারির গোলের সুবাদে তৃতীয় ও শেষ কোয়ার্টারে আরও চার গোল করে মায়লশিয়া। আর তাতেই ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে।

আগামী রোববার থাইল্যান্ড আর মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ। আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় এখনও পরের রাউন্ডে খেলার আশা আছে জিমি-চয়নদের।

হকিতে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

কাজাখস্তানকে ৬-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শ্যূটিংয়ে ৫০ মিটার রাইফেলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছেন সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা। অন্যদিকে, বাস্কেটবল আর কাবাডিতেও হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

পরিবার ছেড়ে দেশের বাইরে ঈদ, কষ্টতো থাকবেই। সেই কষ্ট লাঘবের উপায় জয় ছাড়া আর কি হতে পারতো। জাকার্তার গিলোর বুং কর্নোর হকি ফিল্ডে জিমি, চয়নরা তাই খেলা দিয়েই উদযাপনটা সারলেন। প্রথম কোয়ার্টারে গোল করলেন ফজলে রাব্বি, রাসেল মাহমুদ জিমি।

তৃতীয় কোয়ার্টারে খোরশেদের জোড়া গোল আর চতুর্থ কোয়ার্টারে চয়ন ও কৌশিক স্কোরশীটে নাম লেখালে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তবে ব্যবধানটা দ্বিগূন হতে পারতো যদিনা পেনাল্টি কর্নার, আর সহজ সুযোগগুলো নষ্ট না করতেন খেলোয়াড়রা।

এশিয়ান গেমস শ্যূটিংয়ে টানা চারদিন ব্যর্থতায় কাটলো বাংলাদেশের। বুধবার মেয়েদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনে অংশ নিয়েছেন সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা। দুই জনই বাদ পড়েন প্রথম রাউন্ড থেকে। ৩৩ জন প্রতিযোগির মধ্যে ৩৩তমই হন শারমিন শিল্পা। তার স্কোর ১০৯৭। আর ২৫তম হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করা সুরাইয়া স্কোর করেছেন ১১৩০। 

 

কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারালে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকে থাকতো বাংলাদেশের। তবে ৩৮-১৮ পয়েন্টে হেরে এবারের মতো যাত্রা শেষ সুবিমল চন্দ্র দাসের খেলোয়াড়দের। এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ছিল ‘এ’ গ্রুপে। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৫০-২১ পয়েন্টে হারার পর থাইল্যান্ডকে ৩৪-২২ পয়েন্টে ও শ্রীলংকাকে ২৯-২৫ পয়েন্টে হারায় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে কোরিয়ার কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে মাসুদ-জাকিররা শেষ করে এশিয়ান গেমস মিশন।

ব্যর্থ এক দিনে হকিতে আনন্দ

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

ওমানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে শুভ সূচনা করলো হকি দল। তবে সব মিলিয়ে গেমসের তৃতীয় দিনটি হতাশাতেই কেটেছে বাংলাদেশের। নারী কাবাডিতে ইরানের কাছে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া হতাশ হতে হয় শ্যূটিংয়েও।

ওমানকে হারিয়ে লক্ষ্য পুরন হয়েছে হকি দলের। কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানকে নিয়ে গড়া গ্র“পে এই একটি দলের বিপক্ষেই জয়ের আশা করেছে খেলোয়াড়রা। আর এই জয়ে চার বছর ওমানকে হারাতে না পারার আক্ষেপ ঘোচালো জিমি-চয়নরা।

জাকার্তার জিবিকে এ্যারিনায়, ফার্স্ট কোয়ার্টারে আরশাদের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে সমতায় ফেরে ওমান। এরপর তৃতীয় কোয়ার্টারে আশরাফুলের স্টিক থেকে পাওয়া লিড ধরে রাখে গোবিনাথানের শিষ্যরা।

অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি বলেন, 'আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল ‌ওমানের বিরুদ্ধে জয়। সেই টার্গেট পুরণ করতে পেরেছি। এখন পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থানের জন্য লড়বো আমরা। গ্রুপের অন্যরা বেশ শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে সেটা হবে আমাদের জন্য আর‌ও ভালো ব্যাপার। পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের দলের লক্ষ্য‌ও সেই রকম।'

হকি দল আনন্দে ভাসিয়েছে, তবে সবচে’ হতাশ করেছে নারী কাবাডি দল। আগেরবার ব্রোঞ্জ জেতা মালেকা, রুপালীরা এদিন ইরানের কাছে ৪২-১৯ পয়েন্টে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। যদিও পুরুষ দল থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

একইভাবে প্রত্যাশা পুরন করতে পারেননি শ্যূটিংয়ের আবদুল্লাহ হেল বাকী, শারমিন আক্তার রত্না এবং উম্মে জাকিয়া সুলতানা। দশ মিটার এয়ার রাইফেল ব্যাক্তিগত ইভেন্ট বাকী আর রত্না-জাকিয়ারা বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন।

এদিকে বিচ ভলিবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে ২-০ সেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এতো সব হারের মাঝে দিনের শেষ বেলার হকির জয়টাই শেষ পর্যন্ত তৃপ্তি হয়ে থাকলো।

বাংলাদেশ হকি দলের ভাবনায় ওমান

ইন্দোনেশিয়া থেকে কবিরুল ইসলাম

এশিয়ান গেমসের হকিতে প্রতিবারই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। তবে এবার আর হতাশা নয়, বরং পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থান অর্জনই মূল লক্ষ্য রাসেল মাহমুদ জিমিদের। আগামীকাল সোমবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ওমানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় দুপুর চারটায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হবে ম্যাচটি।

একটা সময় ওমানকে বলে কয়ে হারাতো লাল-সবুজরা। সেই ওমানই এখন বড় আতংকে পরিনত হয়েছে। কারন সবশেষ লড়াইয়েও ওমানের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেটা ছিল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফাইনালে। ২-০ গোলে হেরেছিল জিমি-চয়নরা। চলতি এ আসরে ‘বি’ গ্রুপে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের প্রতিপক্ষ ওমান, পাকিস্তান, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড ও কাজাগিস্তান। র‌্যাংকিং ও শক্তিতে যোজন-যোজন এগিয়ে থাকায় পাকিস্তান ও মালেশিয়ার সঙ্গে জয়ের কথা ভাবছে না গোবিনাথান কৃষ্ণমূর্তি।

র‌্যাংকিংয়ে মালেশিয়া ১২ আর পাকিস্তান রয়েছে ১৩ নম্বরে। থাইল্যান্ড ও কাজাখস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশই ফেভারিট। অগ্নীপরীক্ষা বলতে ওমান। যদিও র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ৩১ আর ওমান আছে ৩৩-এ। আজ রবিবার অনুশীলন শেষে চয়ন জানালেন, ‘আমাদের ভাবনায় শুধুই ওমান ম্যাচ। কারণ এই ম্যাচে হারলে কঠিন হয়ে যাবে পঞ্চম হওয়া। বিশ্বকাপ খেলা দলগুলো এখানে আছে। এজন্য এখানে পদকের বদলে ৫ বা ৬ নম্বর হওয়া লক্ষ্য আমাদের।’

এশিয়াডে আসার আগে প্রস্তুতির দারুন সুযোগ পেয়েছিল হকি দল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিল। জয় পেয়েছিল স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে। তাই ওমানের বিরুদ্ধে ভালো কিছুর প্রত্যাশা গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ওমানকে হারানোটা হবে আমার জন্য ওদের দেয়া উপহার।’

এটা ঠিক হকিতে গতির সঙ্গে তাল মেলাতে দরকার দূর্দান্ত ফিটনেস। বাংলাদেশের সেখানে ঘাটতি আছে। তারপরও আত্মবিশ্বাস আর গত কিছুদিনের প্রস্তুতি সঙ্গে করে নামছে অগ্নিপরীক্ষায়। জয় ছাড়া দ্বিতীয় ভাবনা নেই জিমি-চয়নদের।

নারী বিশ্বকাপ হকির শিরোপা নেদারল্যান্ডসের

আয়ারল্যান্ডকে ৬-০ গোলে হারিয়ে নারী বিশ্বকাপ হকির শিরোপা জিতেছে নেদারল্যান্ডস। তবে দারুণ নৈপুন্য দেখিয়েই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে আসে আইরিশরা। এর আগে তারা, স্পেন ও ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা তারা ধরে রাখতে পারেনি।
এতে সবচেয়ে বেশি ৮ বার নারীদের হকির বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো নেদারল্যান্ডস। ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হওয়া নারীদের বিশ্বকাপ হকিতে দুইবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোনিম্ন র‌্যাংকিংয়ের দলটি দারুণ কৃতিত্ব দেখিয়ে ফাইনালে উঠলেও নেদারল্যান্ডসের মেয়েদের আক্রমণে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। পারেনি লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ অলিম্পিক পার্কে নতুন কোনো আইরিশ উপকথাও রচনা করতে।

তাতে খেলার প্রথম কোয়ার্টারে লিডজেক ওয়েলটেনের গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধ শেষে আরো আক্রমণাত্মক নেদারল্যান্ডসকে পাওয়া যায়। চার গোলে লিড নেয় তারা। শেষ পর্যন্ত ৬-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা অক্ষুন্ন রাখলো নেদারল্যান্সের নারীরা।

হকি ফেডারেশনের জিভি মিটিং

প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, তাতে আসন্ন এশিয়ান গেমসে ভালো ফলাফলের আশা করছেন বাংলাদেশ হকি দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। এদিকে, হকি লিগের চ্যাম্পিয়নশীপ নির্ধারণ এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি কার্যনির্বাহী কমিটির এই সভায়।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নতুন সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে পরিচিত পর্ব দিয়েই শুরু হয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা। এ সময় তিনি হকিকে নিয়ে আগামীদিনে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তবে গত আগস্টে স্থগিত হয়ে যাওয়া নির্বাচন নতুন করে আয়োজনের কোনো তারিখ ঘোষণা কিংবা প্রথম বিভাগ হকি লিগের চ্যাম্পিয়নশীপ নির্ধারণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি ফেডারেশন।

তবে মিটিং শেষে ফেডারেশনের সহসভাপতি মমিনুল হক সাঈদ জানান, লিগ শিরোপা র্নিধারণের ব্যাপারে লিগ কমিটির মিটিংযে সিদ্ধান্ত হবে। তারা যদি না পারে তবে নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে। এদিকে, গত আগস্টে নির্বাচন করার কথা থাকলেও স্থগিত হয়ে যাওয়া এই নির্বাচনের বিষয়ে সভাপতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন আয়োজনের নতুন তারিখ ঘোষণা করবেন বলে জানান।

আসন্ন এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন দলের সঙ্গে পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ হকি দল। গত এশিয়ান গেমসে অষ্টম হওয়া বাংলাদেশ এবার ইন্দোনেশিয়ায় আরো ভালো ফলের আশা করছে। দলের ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ষষ্ঠস্থানে থাকা। তবে আমরা চেষ্টা করছি ফলাফলটা যেনো আরো ভালো হয়। ভারত কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া সফর এশিয়ান গেমসে ভালো ফলাফলের জন্য কাজে আসবে। এদিকে, দলের হেড কোচ ইমান গোবিনাথান কৃষ্ণমূর্তি বলেন, ছেলেরা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। তবে তাদেরকে আরো সময় দিতে হবে। একটু সময় পেলে তারা দেশের জন্য আরো ভালো কিছু এনে দিতে পারবে।

কোরিয়া সফরের স্পন্সর অগ্রণী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো: শামস-উল ইসলাম বলেন, প্রস্তাব পেলে, দীর্ঘ মেয়াদে ফেডারেশনকে স্পন্সর করার বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারটায় বাংলাদেশ হকি দল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

মোহামেডানকে হারিয়ে আবাহনীর প্রতিশোধ

প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগের সুপার ফাইভে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রথম পর্বে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিল আবাহনী।

অবশ্য মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, খেলার ৯ মিনিটে গুরজিন্দর সিংয়ের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মোহামেডান। পরে রোমান সরকার দুটি এবং তাজউদ্দিন আহমেদ একটি গোল করে আবাহনীর জয় নিশ্চিত করেন। মোহামেডানের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটিও করেন গুরজিন্দর সিং।

এদিকে অন্য ম্যাচে, মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ৯-১ গোলে পরাজিত করে এ্যাজাক্সকে।

হকিতে জিতেছে আবাহনী ও মেরিনার

গ্রীন ডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লিগে জয় পেয়েছে আবাহনী ও মেরিনার ইয়াংস। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, দিনের প্রথম খেলায় ৭-২ গোলের বড় ব্যবধানে এ্যাজাক্সকে হারায় আবাহনী।

অন্য ম্যাচে, হাসান যুবায়ের নিলয়ের হ্যাটট্রিকে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ৬-১ গোলে হারায় সোনালী ব্যাংককে। বিজয়ী দলের পক্ষে অন্য গোলগুলো করেন মোহাম্মদ জুলহাইরি, ফরহাদ আহমেদ সিটুল ও আশরাফ সাইদ। সোনালী ব্যাংকের দ্বীন ইসলাম ইমন একটি গোল শোধ করেন। এটিএন বাংলা প্রতিযোগিতার মিডিয়া পার্টনার।

গুরজিন্দর সিংয়ের হ্যাটট্রিকে মোহামেডানের জয়

এককভাবে শীর্ষে থেকে প্রিমিয়ার হকির প্রথম পর্ব শেষ করা মোহামেডান জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। আজ শুক্রবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে সুপার ফাইভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মোহামেডান ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে অ্যাজাক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে। মোহামেডান প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এ জয়ে ১২ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে সাদা-কালোরা।

৬ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে আবাহনীকে এগিয়ে দেন ভারতীয় ফরোয়ার্ড অরবিন্দর সিং। ৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরেক ভারতীয় গুরজিন্দর সিং। ২৪ মিনিটে নাসির হোসেন গোল করলে ব্যবধান ৩-০ হয় মোহামেডানের। এরপর গুরজিন্দর সিং ৩৩ ও ৪৩ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। ৬৫ মিনিটে অ্যাজাক্সের লক্ষিন্দর সিং গোল করে ব্যবধান ১-৫ করেন।

আবাহনী‌ হারিয়েছে সোনালী ব্যাংককে

লিগে দুই বড় ম্যাচে মোহামেডান ও মেরিনার্সের কাছে হেরে শিরোপার দৌঁড় থেকে ছিটকে পড়া আবাহনী সুপার ফাইভ শুরু করেছে সহজ জয় দিয়ে। আজ শুক্রবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে আকাশী-হলুদরা ৪-০ গোলে হারিয়েছে সোনালী ব্যাংককে। প্রথমার্ধে আবাহনী ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এতে ১২ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৩০।

খেলার ১৯ মিনিটে সোহানুর রহমান সবুজের গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। ৫ মিনিট পর সবুজই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেনাল্টি কর্নারের গোলে। ৩০ মিনিটে মোহাম্মদ মহসিন গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নরা। বিরতির পর আবাহনী অবশ্য গোলের সুযোগ নষ্ট করায় ব্যবধান বড় করতে পারেনি। ৩৭ মিনিটে মালয়েশিয়ান তাজউদ্দিনের গোলের পর আর সোনালী ব্যাংকের জাল খুঁজে পায়নি আবাহনী।

মেরিনারে ধরাশায়ী আবাহনী

গ্রীন ডেল্টা প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় আবাহনীকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেরিনার ইয়াংস ক্লাব।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, শিরোপা প্রত্যাশি আবাহনীকে কোনো পাত্তাই দেয়নি মেরিনার। বিজয়ী দলের পক্ষে মইনুল ইসলাম কৌশিক দুটি এবং জুলহাইরি, পুস্কর খীসা মিমো ও নাইম উদ্দিন একটি করে গোল করেন। আবাহনীর পক্ষে গোল বালজিৎ সিং একটি গোল শোধ করেন।

এই জয়ে ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রইলো মেরিনার। আবাহনীর আছে তৃতীয় স্থানে। আর সমান ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। অন্য ম্যাচে, বাংলাদেশ এসসি ৯-১ গোলে হারায় পুলিশ হকি ক্লাবকে।

হকিতে এ্যাজাক্স ও পুলিশের জয়

গ্রীনডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লিগে জয় পেয়েছে এ্যাজাক্স স্পোর্টিং ও পুলিশ ক্লাব। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, এ্যাজাক্স ৬-৩ গোলে পরাজিত করে ভিক্টোরিয়াকে। খেলার প্রথমার্ধে বিজয়ী দল ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিলো।

এ্যাজাক্সের গুরপ্রিত সিং দুটি এবং হ্যানসরাজ, লক্ষিন্দর সিং, হারমানদিপ সিং ও বাপ্পী একটি করে গোল করেন। ভিক্টোরিয়ার রাকিব দুটি ও শাহিবাজ শেখ একটি গোল শোধ করেন। এদিকে, পুলিশ ক্লাব ৪-২ গোলে হারিয়েছে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবকে।

জিমির হ্যাটট্রিকে মোহামেডানের জয়

গ্রীন ডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লীগে জয় পেয়েছে মোহামেডান ও এ্যাজাক্স স্পোর্টিং ক্লাব। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশ এসসিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দশম জয় পেয়েছে মোহামেডান।

খেলার ১০, ১৬ ও ১৮ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পুরণ করেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড জিমি। এদিকে দিনের প্রথম খেলায়, এ্যাজাক্স স্পোর্টিং ক্লাব ৫-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে সাধারণ বীমাকে।

এবার মোহামেডান হারাল মেরিনারকে

আরো এক বড় দল মেরিনার ইয়াংস ক্লাবকে ধরাশায়ী করেছে মোহামেডান। এতে ১০ ম্যাচের সব কয়টিতে জিতে সবার শীর্ষে উঠে গেলো মওদুদুর রহমান শুভর দল। মেরিনারকে ৩-১ গোলে হারায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

গ্রীন ডেল্টা প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় ম‌ওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, হাসান যুবায়ের নিলয়ের ফিল্ড গোলে খেলার ৩৪ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে মোহামেডান। ৪৪ মিনিটে গুরজিন্দর সিং পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ম্যাচে ১-১ এ সমতা ফেরান।

এরপর অরবিন্দর সিং খেলার ৬৪ ও ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুটো গোল করে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে, প্রথম খেলায় সাধারণ বীমা ও পুলিশ ক্লাব ৩-৩ ড্র করে।

আগামীকাল মোহামেডানের প্রতিপক্ষ মেরিনার

হকির মাঠে গত ছয় বছরে আবাহনীকে হারাতে পারেনি মোহামেডান। গতকাল সোমবার চির-প্রতিদ্বন্ধির বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ী হয়ে কিছুটা হলেও প্রান ফিরে পেয়েছে মতিঝিল পাড়ার দলটির সমর্থকরা। আগামীকাল তাদের প্রতিপক্ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা মেনিারন ইয়াংস ক্লাব। দু’দলই টানা নয় ম্যাচ জিতেছে। ফলে এই ম্যাচে জয়ী দলই এগিয়ে খাকবে পয়েন্ট টেবিলে। প্রিমিয়ার হকির নবম রাউন্ডে এসে বড় ম্যাচগুলো শুরু হয়েছে। বুধবার মোহামেডানের প্রতিপক্ষ গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা মেরিনার ইয়াংস। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।

অনেক নাটকীয়তার দলবদলে মোহামেডান খুব ভালো দল করতে পারেনি। অনেকেই দল ছেড়েছেন, তাদের বিদেশী সংগ্রহের তালিকাও সমৃদ্ধ নয়। জিমি ছাড়া জাতীয় দলের উল্লেখযোগ্য কোন খেলোয়াড়ই নেই দলে। ফলে মেরিনার ও আবাহনীর চেয়ে কাগজে-কলমে খানিকটা পিছিয়ে মোহামেডান। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে হারিয়ে এখন অনেকটা আলোচনায়। সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় মওদুদুর রহমান শুভ এবার মোহামেডানের কোচের দায়িত্বে। প্রিমিয়ার লীগে কোচিংয়ে এইবারই প্রথম শুভ। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে কোচ হিসেবে গতকাল অভিষেক ছিল মওদুদুর রহমান শুভর। অভিষেকেই আবাহনীকে হারিয়ে অনেকটা তৃপ্ত শুভ। তিনি জানান. ‘আবাহনীকে হারিয়ে আমরা এখন অনেকটা মানসিকভাবে এগিয়ে। খেলোয়াড়দের বলেছি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।’ তবে আবাহনীর বিপক্ষে তারা বল দখলের লঢ়াইযে এগিয়ে খাকলেও, পেনাল্টি কর্নারে তাদের দুর্বলতা চোখে পড়েছে। কেননা ও বিদেশীদের মধ্যে স্বীকৃত কোন পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিষ্ট নেই মোহামেডানের তাবুতে। ফলে আবাহনীর বিপক্ষে প্রাপ্ত পেনাল্টি কর্নার গুলো কাজে আসেনি।

মেরিনার যথেষ্ট ভালো দল। তাদের বিরুদ্ধে খুব সতর্ক হয়ে খেলতে হবে মোহামেডানকে। মেরিনারের জার্মান কোচ অলিভার কার্টজ। অলিভার কার্টজ প্রেসবক্স থেকে মোহামেডান আবাহনী ম্যাচ দেখেছেন। প্রতিপক্ষ মোহামেডান নিয়ে তার মন্তব্য, মোহামেডানে জিমির মতো খেলোয়াড় রয়েছে। বক্সের মধ্যে জিমি খুবই বিপদজনক খেলোয়াড়। মোহামেডানের বিদেশি খেলোয়াড়রাও ভালো। মোহামেডানের সাবেক খেলোয়াড় আশিকুজ্জামান এবার মেরিনারের সহকারী কোচ। আশিকের পরিবারের সাথে মোহামেডানের আত্মিক সম্পর্ক। ম্যাচটি আশিকের জন্য একটু ভিন্ন রকম, পেশাদারিত্ব অবশ্যই আগে। মেরিনার জয় ধারা অব্যাহত রাখবে সেটাই কাম্য।

মোহামেডানের কাছে আবাহনীর হার

প্রিমিয়ার হকিতে টানা জয়ের পথে থাকা আবাহনীকে প্রথম হারের স্বাদ দিয়েছে চির-প্রতিদ্বন্ধি ঢাকা মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব লিমিটেড। ঘরোয়া হকির দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে জিতেছে মোহামেডান। প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে মাহবুব হারুনের দলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। খেলোয়াড়ের মানে আবাহনী এগিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরা প্রমান করেছে মতিঝিলের দলটি। টানা আট জয়ের পর চলতি লিগে এই প্রথম হারের স্বাদ পেলো আবাহনী। অপরদিকে টানা নয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল মোহামেডান। লিগে এখন পর্যন্ত মোহামেডান ছাড়া মেরিনার ইয়াংসও টানা নয় জয় পেয়েছে।

মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচের ২৬তম মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার পায় মোহামেডান। শামসের সিংয়ের পুশ কামরুজ্জামান রানা স্টপ করার পর জিমি তালগোল পাকিয়ে ঠিকঠাক শটই নিতে পারেননি। ২৪তম মিনিটে দ্বিতীয় পিসিতেও তালগোল পাকিয়েছিল মোহামেডান কিন্তু পরে ইমরান হোসেন পিন্টুর জোরালো হিট ঠিকানা খুঁজে পেলে এগিয়ে যায় দলটি (১-০)। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেনি আবাহনী। তাজউদ্দিন আহমেদের পুশ সারোয়ার হোসেন স্টপ করার পর আশরাফুল ইসলামের হিট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে মোহামেডান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে শামসের পুশ রানা স্টপ করার পর অরবিন্দর সিংয়ের হিট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। গোলমুখ থেকে সারোয়ার ও কৃষ্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৫৫ মিনিটে সমতার স্বস্তি ফেরে আবাহনী সমর্থকদের মুখে। জটলার মধ্যে থেকে আরশাদ হোসেন সুযোগ সন্ধানী হিটে লক্ষ্যভেদ করেন(১-১)। শেষ দিকে দুটি পিসি পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি মোহামেডান। প্রথমবার জিমি এবং পরেরবার রানার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সুযোগ নষ্ট হয়। জিমি আরেকটি সুযোগ নষ্ট করার পর ৬৯তম মিনিটে জয়সূচক গোল পায় মোহামেডান। শামসের পুশ রানা স্টপ অরবিন্দর সিং লক্ষ্যভেদ করেন (২-১)। ফলে জয় নিয়েই মাঠে ছাড়ে মোহামেডান। এদিকে অন্য ম্যাচে, ভিক্টোরিয়া এসসি ৭-১ গোলে সাধারণ বীমাকে হারিয়েছে।

মেরিনারের বড় জয়

গ্রীণ ডেল্টা প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে মামুনুর রহমান চয়নের তিন গোলের কল্যাণে বড় জয় পেয়েছে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। ম‌ওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, দিনের প্রথম খেলায় মেরিনার ইয়াংস ৯-০ গোলে হারিয়েছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে।

মেরিনারের পক্ষে মামুনুর রহমান চয়ন ৩টি(৪৪, ৬০ ও ৬৩মিনিট) এবং মইনুল ইসলাম কৌশিক, মহসিন আহমেদ, হাসিন আরমান অরুপ, মাহবুব হোসেন, পুস্কর খীসা মিমো ‌ও হাসান যুবায়ের নিলয় একটি করে গোল করেন।

এদিকে, দ্বিতীয় খেলায় ওয়ারী ক্লাবের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে এ্যাজাক্স এসসি। এ্যাজাক্সের পক্ষে গোল দুটি করেন হারমানদিপ সিং ‌ও রাহাত সারোয়ার। এবং ওয়ারীর পক্ষে মুকিতুল ইসলাম ‌ও সমীর রায় গোল করেন।

অ্যাজাক্স ও ভিক্টোরিয়ার জয়

গ্রীন ডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লিগে জয় পেয়েছে অ্যাজাক্স ও ভিক্টোরিয়া। মওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে, দিনের প্রথম খেলায় পুলিশকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়া এসি। বিজয়ী দলের যোগরাজ সিং দুটি এবং একটি করে গোল করেন পুস্পিন্দার সিং ও শেখ সাহিবাজ।

দ্বিতীয় ম্যাচে, অ্যাজাক্স ৮-২ গোলে ধরাশায়ী করে আজাদ এসসিকে। বিজয়ী দলের রাহাত সারোয়ার ও লক্ষীন্দর সিং দুটি করে গোল করেন। একটি করে গোল করেন, গুরপ্রিত সিং, হৃদয় আনাস, শিহাব হোসেন ও নাজমুল হাসান। প্রতিযোগিতার মিডিয়া পার্টানার এটিএন বাংলা।

মোহামেডান ‌ও মেরিনারের জয়

মামুনুর রহমান চয়ন ও মইনুল ইসলাম কৌশিকের হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশ এসসিকে ৮-১ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার হকিতে টানা অষ্টম জয় পেয়েছে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। অন্য ম্যাচে সোনালী ব্যাংককে ৮-২ গোলে ধরাশায়ী করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, আজ শুক্রবার ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে মেরিনার্সকে এগিয়ে নেন চয়ন। মোহাম্মদ জুলহাইরির পুশ স্টপ করার পর সার্কেলে ঢুকে জোরালো হিটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ডিফেন্ডার। নবম মিনিটে কৌশিক কোনাকুনি হিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান আরও বাড়ান কৌশিক। জুলহাইরির পুশ এক সতীর্থ স্টপ করার পর এই মিডফিল্ডারের হিটে ফের পরাস্ত গোলরক্ষক।

তিন মিনিট পর পেনাল্টি কর্নারে হাসান যুবায়ের নিলয়ের পুশ নাইম উদ্দিন স্টপ করার পর জোরালো হিটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন চয়ন। ৪৪ মিনিটে নাইমের গোলমুখ থেকে বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বাংলাদেশ এসসির রবিন্দর সিং।

৫৮ মিনিট আজিজুল ইসলামের ফিল্ড গোলের তিন মিনিট পর পেনাল্টি কর্নার থেকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন চয়ন। নিলয়ের পুশ আজিজ স্টপ করার পর জোরালো হিটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ডিফেন্ডার। ৬৫ মিনিটে জুলহাইরির পুশ পরমপ্রিত সিং স্টপের পর নিখুঁত হিটে স্কোরলাইন ৮-১ করার সঙ্গে নিজের চতুর্থ গোলটিও করেন চয়ন।

এদিকে, গুরজিন্দর সিং ও নাসির হোসেনের হ্যাটট্রিকে সোনালী ব্যাংককে ৮-২ ব্যবধানে হারিয়ে টানা অষ্টম জয় পেয়েছে মোহামেডান।

‌ওয়ান্ডারার্সের জালে আবাহনীর গোল উৎসব

প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে আরেকটি বড় জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। কৃষ্ণ কুমারের হ্যাটট্রিকে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ১৩-০ গোলে হারিয়েছে মাহবুব হারুনের দল। চলতি লিগে এটাই সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়ের রেকর্ড। এতে ৮ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে আবাহনী।

মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার ম্যাচের ১২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন সোহানুর রহমান সবুজ। পরের মিনিটে তাজউদ্দিন আহমেদ ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ১৬ মিনিটে আরশাদ হোসেনের ফিল্ড গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।

২৩ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন মুসা মিয়া। পরের মিনিটে কৃষ্ণ কুমার ফিল্ড গোলে স্কোরলাইন ৫-০ করেন। সেটাই তার হ্যাটট্রিকের শুরু।

দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ান্ডারার্সকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে বড় জয় পায় আবাহনী। দলের পক্ষে কৃষ্ণ কুমার ৩টি, তাজউদ্দিন আহমেদ, আরশাদ হোসেন, গুনাসেকার মালায়ালান ও মোহাম্মদ মহসিন ২টি করে এবং সোহানুর রহমান সবুজ ‌ও মুুসা মিয়া একটি করে গোল করেন।

অন্য ম্যাচে, অ্যাজাক্স এসসি ৫-৩ গোলে পুলিশ হকি ক্লাবকে পরাজিত করেছে।

আবাহনীর জয়ে আশরাফুলের হ্যাটট্রিক

আশরাফুল ইসলামের হ্যাটট্রিকে গ্রীণ ডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লিগে বড় জয় পেয়েছে আবাহনী। প্রথমার্ধে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া আবাহনী লিমিটেড দ্বিতীয়ার্ধে করল আরও চার গোল। তাতে সাধারণ বীমাকে ৬-০ ব্যবধানে পরাজিত করে প্রিমিয়ার হকিতে টানা ষষ্ঠ জয় পায় মাহবুব হারুনের দল।

মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে, আজ রোববার আশরাফুলের তিন গোলের পাশাপাশি খোরশেদুর রহমান, তাজউদ্দিন আহমেদ ‌ও কৃষ্ণ কুমার গোল করেন।

এদিকে অন্য ম্যাচে, সোনালী ব্যাংক ৫-৪ গোলে অ্যাজাক্স এসসিকে এবং মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ৮-০ গোলে পরাজিত করে ‌ওয়ারী ক্লাবকে।

মেরিনারের জয়ে চয়নের হ্যাটট্রিক

গ্রীণ ডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লিগে জয় পেয়েছে সাধারণ বীমা, সোনালী ব্যাংক এবং মেরিনার ইয়ংস ক্লাব। ম‌ওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, প্রথম খেলায় সাধারণ বীমা ৬-২ গোলে ওয়ান্ডরার্সকে হারায়।

বীমার ফয়সাল হোসেন দুটি, রেজোয়ান আহমেদ, যোগা সিং ‌ও বিশাল একটি করে গোল করেন। ওয়ান্ডারার্সের পক্ষে অমরিত পাল সিং ‌ও জাহিদ হোসেন দুটি গোল শোধ করেন।

দ্বিতীয় খেলায় সোনালী ব্যাংক ৬-১ গোলে বাংলাদেশ পুলিশকে হারায়। সোনালী ব্যাংকের পক্ষে দেওয়ান ইসলাম ইমন দুটি, তানজিম আহমেদ, রাজীব দাস, প্রসেনজিৎ রায় ‌ও ইরফানুল হক একটি করে গোল করেন। পুুলিশের হয়ে একমাত্র গোলটি শোধ করেন জামিল বিন তালিব।

এদিকে, মেরিনার ইয়াংস ৬-০ গোলে অ্যাজাক্স এসসিকে পরাজিত করে। মেরিনার্সের পক্ষে অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন হ্যাটট্রিকসহ ৪টি গোল করেন। হাসিন আরমান ‌ও হাসান যুবায়ের নিলয় একটি করে গোল করেন।

জিমির হ্যাটট্রিকে মোহামেডানের বড় জয়

গ্রীণ ডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লিগে বড় জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আজ মঙ্গলবার ম‌ওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইটের খেলায় তারা ৮-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় ‌ওয়ারী ক্লাবকে।

মোহামেডানের পক্ষে গোল অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি তিনটি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পুরণ করেন। দুটি গোল করেন নাসির হোসেন। আর একটি করে গোল করেন গুরজিন্দর সিং, শামসের সিং ‌ও অরবিন্দর সিং।

জিমির হ্যাটট্রিকে মোহামেডানের জয়

গ্রীন ডেল্টা প্রিমিয়ার হকি লিগে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকে এজাক্সকে পরাজিত করে তারা। আর অন্য ম্যাচে, ‌ওয়ান্ডারার্সের সঙ্গে ড্র করেছে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব।

ম‌ওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে, জাতীয় দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৪-০ গোলে পরাজিত করে এজাক্স এসসিকে। জিমি ২০, ২৪ ‌ও ৪৪ মিনিটে তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পুরণ করেন। বিজয়ী দলের পক্ষে অন্য গোলটি করেন মাকসুদ আলম হাবুল।

এদিকে, দিনের প্রথম ম্যাচে ‌ওয়ান্ডারার্সের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দু’দল।

তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ

যুব অলিম্পিক গেমস হকির বাছাই পর্বের খেলায় শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে, খেলার ৪ মিনিটেই মোহাম্মদ উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৯ মিনিটে সারোয়ার ও মেহেদী আরো দুই গোল করে বাংলাদেশের তরুণদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। অধিনায়ক সোহানুর সবুজ দুটি গোল করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন।

জয়ে শুরু মেরিনারের

প্রিমিয়ার হকি লিগের উদ্বোধনী ম্যাচেই জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ারে সুযোগ পাওয়া ভিক্টোরিয়া এসসিকে ৪-০ গোলে পরাস্ত করে ক্লাবকাপ হকির রানার্স আপ দলটি।

আজ শনিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে বিকেলে অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন, মাইনুল ইসলাম কৌশিক, হাসিন আরমান রুপ ও হাসান যুবায়ের নিলয় মেরিনারের পক্ষে গোলগুলো করেন। এরআগে, বিকলে সাড়ে চারটায় লিগের উদ্বোধণ করেন যুব ও ক্রীড়া সচিব শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহ সভাপতি একেএম মুমিনুল হক সাঈদ।

বল মাঠে গড়ানোর পর প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় মেরিনার। তৃতীয় মিনিটেই ফিল্ড গোলে চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে নেন হাসিন আরমান রুপ (১-০)। স্ট্রাইকিং সার্কেলের বাইরে থেকে পুস্কর খিসা মিমো’র জোড়ালো স্ট্রোক কবজির মোচড়ে ফ্লিক করে বল জালে জড়ান তরুণ এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে ফেভারিটরা মোট ৯টি পিসি আদায় করে নিয়েছিল। কিন্তু এরমধ্যে মাত্র দু’টিকে গোলে পরিণত করতে পারে মেরিনার। প্রথম ৫টি পিসি ব্যর্থ হওয়ার পর এই পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট ২০ মিনিটে পেয়ে যান জালের দেখা। উৎসবে মেতে উঠে মেরিনার শিবির (২-০)। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান মাইনুল ইসলাম কৌশিক। এবারের গোলটিও আসে পেনাল্টি কর্নার থেকে (৩-০)। এ অর্ধে ভিক্টোরিয়া এসসি কোন আক্রমনই রচনা করতে পারেনি। বরং নিজেদের রক্ষণভাগ সামলানোই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে তাদের।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমনধারা অব্যাহত রাখে শিরোপা প্রত্যাশীরা। ক্লাবকাপের গ্রুপ পর্বে ভিক্টোরিয়াকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করলেও শনিবার আর বড় ব্যবধানে জয় পায়নি মেরিনার। কারন ফরোয়ার্ডদের ফিনিসিংয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট। এছাড়া পেনাল্টি কর্নারের দুর্বলতা‌ও ফুটে উঠেছে নবাগত ভিক্টোরিয়ার নড়বড়ে ডিফেন্সের বিপক্ষে। দ্বিতীয়ার্ধেও মেরিনার আদায় করে নিয়েছিল ৬টি পেনাল্টি কর্নার। কিন্তু এর একটিকেও গোলে পরিনত করতে পারেননি অলিভার কার্টজের শিষ্যরা। ভিক্টোরিয়ার গোলরক্ষক যেনো চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মেরিনারের খেলোয়াড়দের সামনে। চারটি পেনাল্টি কর্নার দক্ষতার সঙ্গেই ফিরিয়ে দেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দুই আগে হাসান যুবায়ের নিলয় ফিল্ড গোল করে ব্যাবধান ৪-০ তে নিয়ে যান।

তৃতীয় স্থানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ

য়ূব অলিম্পিক গেমস হকির বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে, শিবম আনান্দের হ্যাট্রিকসহ চার গোলে বড় জয় পায় ভারতীয়রা।

বাংলাদেশের পক্ষে খেলার ২৩ ও ২৯ মিনিটে দুটি গোল শোধ করেন অধিনায়ক সোহানুর সবুজ। এই পরাজয়ে যুব অলিম্পিক গেমসের চূড়ান্ত পর্বে খেলা হলো না বাংলাদেশের। কারণ দুটি দল খেলবে আগামী বছর খেলবে আর্জেন্টিনায় চূড়ান্ত পর্বে। আগামীকাল রোববার তৃতীয় স্থানের জন্য বাংলাদেশকে এখন লড়তে হবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত

যুব অলিম্পিক গেমসের হকির এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বের সেমিফািইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশের তরুণরা। শনিবার প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।

বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ১০-৪ গোলে হারিয়েছিল সিঙ্গাপুরকে। পরের ম্যাচে কম্বোডিয়াকে উড়িয়ে দেয় ২০-০ গোলে। তৃতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৭-৪ গোলে হার মানে। চতুর্থ ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে হারায় ১২-২ গোলের ব্যবধানে। আর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী পাকিস্তানের সঙ্গে ৩-৩ গোলে রুখে দিয়ে যুব অলিম্পিক হকির এশিয়া অঞ্চলের বাছাই পর্বের সেমিফাইনালে উঠে যায় লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

৫ ম্যাচের ৩টিতে জয়, একটি ড্র এবং একটিতে হেরে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ চারে ‌ওঠে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া ৫ ম্যাচের ৫টিতেই জিতে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। ২৮ এপ্রিল বিকেল ৫টায় সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের যুবারা।

শনিবার থেকে শুরু প্রিমিয়ার হকি

আগামী শনিবার থেকে ১৩টি দলের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগ। উদ্বোধনী ম্যাচে বিকেল সাড়ে চারটায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেরিনার ইয়াংসের মুখোমুখি হেব ভিক্টোরিয়া এসসি। আর পরের ম্যাচে ঊষা ক্রীড়া চক্রের প্রতিপক্ষ পুলিশ এসসি।

হকি ফেডারেশনে আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে, কোষাধক্ষ্য কাজী মঈনুজ্জামান পিলা জানান, আগেরবারের রানার্সআপ ঊষা ক্রীড়া চক্রের খেলা অনিশ্চিত হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য অপেক্ষা করা হবে। এদিকে, মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা’র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মীর মোতাহার হাসান বলেন, লিগের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্টের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরুজ্জামান খান ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মিশু বিশ্বাস।

টুর্নামেন্টের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স তিন বছরের জন্য ফেডারেশনকে দিচ্ছে এক কোটি টাকা। এবারের টুর্নামেন্টের বাজেট ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। তবে চ্যাম্পিয়ন দলকে এক লাখ এবং রানার্সআপ দলকে ৫০ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার দেবে হকি ফেডারেশন।

আবাহনীই চ্যাম্পিয়ন

‘খাজা রহমতউল্ল্যাহ ক্লাব কাপ’ হকির শিরোপা অক্ষুন্ন রেখেছে ঢাকা আবাহনী। রোববার ঘটনাবহুল ফাইনালে লিগ চ্যাম্পিয়ন মেরিনার ইয়াংসকে ১-০ গোলে পরাস্ত করেছে আকাশী-হলুদ শিবির। এ নিয়ে সর্বোচ্চ চতুর্থবারের মতো ক্লাব কাপ হকির শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলে ধানমন্ডির এই দলটি। তাতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ‌ও ঊষা ক্রীড়া চক্রের সমান চারবার ট্রফি জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসালো মাহবুব হারুনের দল। আবাহনীর হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন সোহানুর রহমান সবুজ।

খেলা শুরুর কথা ছিল সন্ধ্যা ছ’টায়। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে মাঠে পানি জমে যায়। ফলে একঘন্টা পর খেলা শুরু হয়। মৌসুমের প্রথম ক্লাব কাপ শিরোপাসহ লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এবার বেশ জাকজমকভাবে দল গঠন করেছিল মেরিনার ইয়াংস। জাতীয় দলের দশজন তারকা খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়ে ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল আরামবাগ ক্লাবপাড়ার দলটি। ক্লাব কাপের শুরুটাও করেছিল তারা দারুণভাবে। অপরাজিত থেকেই ফাইনালে উঠে আসে মামুনুর রহমান চয়নের দল। কিন্তু শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে শুরুর সেই মেরিনারকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। আবাহনীর আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচের শুরুতেই একটি আক্রমন রচনা করেছিল মেরিনার। বাকী সময়টা আর আবাহনীর সীমানায় হানা দিতে পারেনি। বরং পুরো ম্যাচেই আধিপাত্য ছিল মাহবুব হারুনের শিষ্যদের।

ম্যাচের ১৭ মিনিটেই আবাহনী কৃষ্ণ কুমারের ষ্টিক থেকে গোলের মুখ দেখেছিল। আম্পায়ার সেলিম লাকি গোলের সিগন্যালও দিয়েছিলেন। কিন্তু মেরিনারের দাবীর মুখে সেই গোল বাতিল করতে হয় আম্পায়ারকে। কারণ বলটি মেরিনারের এক খেলোয়াড়ের ষ্টিকে লেগে জাল স্পর্শ করেছিল। তখন খেলা বন্ধ ছিল দুই মিনিট। ম্যাচের ২৪ মিনিটে আবারো আকাশী-হলুদ শিবিরের একটি গোল বাতিলকে কেন্দ্র করে খেলা চার মিনিট বন্ধ থাকে। আবাহনীর গোলরক্ষক আবু সাঈদ নিপ্পন একবার তেড়েও গিয়েছিলেন আম্পায়ার শাহবাজের দিকে। তবে অধিনায়ক রোমান সরকারের হস্তক্ষেপে ঘটনা বেশী দূর গড়ায়নি।

প্রথমার্ধে গোল খরায় থাকা আবাহনী দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গোলের দেখা পায়। ম্যাচের ৪০ মিনিটে গোলটি আসে সোহানুর রহমান সবুজের ষ্টিক থেকে। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড (১-০)। সঙ্গে সঙ্গেই আবাহনী শিবিরে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। গ্যালারীতে থাকা শ’পাঁচেক সমর্থক মেতে উঠে উৎসবে।

এরপর আবাহনী আরো তিনটি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েছিল। কিন্তু সবুজ-মেহেদীরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট মেরিনার বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। একটি পেনাল্টি কর্ণার পেলেও আবাহনীর রক্ষণভাগে ফাঁটল ধরাতে পারেনি তারা।

ক্লাব কাপ হকির ফাইনাল আজ

খাজা রহমতউল্লাহ স্মৃতি ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে আজ রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা আবাহনীর মুখোমুখি হচ্ছে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। ম‌ওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬ টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

দেশী এবং বিদেশী খেলোয়াড় মিলিয়ে কাগজে কলমে শক্তিশালী ধরা হচ্ছে আবাহনীকেই। যদিও মেরিনার ইয়াংসকে সাহস যোগাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয় হকি দলের সাবেক কোচ অলিভার কার্টজ। অতি আক্রমণাত্মক না খেলে বরং কি করে গোল আদায় করা যায় সেই কৌশলেই দল চালাচ্ছেন তিনি।

এরআগে, প্রতিযোগিতার প্রথম সেমি ফাইনালে আবাহনী ১১-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবকে। এদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মেরিনার ৩-০ গোলে পরাজিত করে সোনালী ব্যাংককে।

কামাল এবার মুক্ত

পাওনা ৭৪ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের দেয়া নিষেধাজ্ঞামুক্ত হলেন জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক রফিকুল ইসলাম কামাল। গতকাল বুধবার ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি কামালকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল।

ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত ছিল টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবেন কামাল। নিষিদ্ধ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই টাকা পরিশোধ করেন জাতীয় দলের সাবেক এই স্ট্রাইকার। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক জানান, ‘কামাল টাকা পরিশোধ করেছেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে তার।’

এদিকে, চার বছর আগে হওয়া জাতীয় স্কুল হকির টাকা-পয়সার হিসেব না দেয়ার কারণে কামালকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। ওই সময় কামাল ছিলেন টুর্নামেন্টের ভেন্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে। ফেডারেশনের দেয়া বাজেটের মধ্যে ৭৪ হাজার টাকার হিসেবে না দেয়ায় জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলো ফেডারেশন।

খাজা রহমতউল্লাহ স্মৃতি ক্লাব কাপ হকি

খাজা রহমতউল্লাহ স্মৃতি ক্লাব কাপ হকি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে উঠেছে আবাহনী লিমিটেড, মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সোনালী ব্যাংক ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। শনিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আবাহনী লিমিটেড ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ও মেরিনার ইয়াংস ক্লাব।

তার আগে আজ বৃহস্পতিবার, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ৪-০ গোলে এ্যাজাক্সকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। মেরিনারের পক্ষে ফরহাদ আহমেদ সিটুল দুটি গোল করেন। আর একটি করে গোল করেন হাসান যুবায়ের নিলন ও ফজল।

এদিকে, আবাহনী ৭-১ গোলে সোনালী ব্যাংককে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। এদিকে আবাহনীর পক্ষে কৃষ্ণ কুমার দাস দুটি এবং একটি করে গোল করেন মহসিন, রুম্মান সরকার, আশরাফুল ইসলাম, আফসার উদ্দিন ও মুসা মিয়া। সোনালী ব্যংকের পক্ষে প্রসেনজিৎ রায় একটি গোল শোধ করেন।

প্রিমিয়ার লিগ খেলার আগ্রহ ঊষা ও আজাদের

ক্লাব কাপ হকিতে অংশ না নিলেও প্রিমিয়ার লিগে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, জায়ান্ট ঊষা ক্রীড়া চক্র ও আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। এদিকে, পাকিস্তানে খেলতে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে, হকি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে এমনটা জানান, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক।

দলবদল শেষে ক্লাব কাপের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে হকি মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট। কিন্তু ঊষা ক্রীড়া চক্র ও আজাদ স্পোর্টিং দলবদলে অংশ নেয়নি। তাতে বাইলজ অনুযায়ী লিগে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের।

নির্বাহী কমিটির সভায় এই দুই ক্লাবের কর্মকর্তারা, লিগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক জানান, সবকিছু নির্ভর করছে লিগ কমিটির সিদ্ধান্তের উপর। তিনি বলেন, ঊষা আর আজাদের কিছু সমস্যা আছে। তারা সময় মতো দলবদলে অংশ নেয়নি। সেজন্য খেলোয়াড়‌ও নিতে পারেনি। এদিকে, বাইলজ অনুযায়ী কোনো দল চারজনের বেশি বিকেএসপির খেলোয়াড় নিতে পারবে না। সেই হিসেবে তারা চারজনের বেশি খেলোয়াড় পাবেনা। তবে অনেক ক্লাব বিকেএসপির খেলোয়াড় দলভূক্ত করেনি। তারা অর্থাৎ ক্লাব দুটি বেশি খেলোয়াড় নিতে পারবে কিনা সেটা লিগ কমিটির সিদ্ধান্ত। তারা যদি মনে করে খেলার স্বার্থে এই দুই ক্লাবকে চারের অধিক খেলোয়াড় নিতে দে‌ওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় তবে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবেনা। কারণ আমরা চাই সব দলই খেলায় অংশ নিক। খেলাটা সবার।’

একটি র‌্যাংকিং টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ এসেছে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি থেকে। সেই টুর্নামেন্টে অংশ না নিলে র‌্যাংকিং পয়েন্ট কমে যাবে বাংলাদেশের। অংশ নেয়া না নেয়ার বিষয়ে জানতে মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত চেয়েছেন তারা। এ প্রসঙ্গে আবদুস সাদেক জানান, ‘আমরা ফেডারেশন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যাবো না। যদি‌ও এই টুর্নামেন্টে অংশ না নিলে আমাদের র‌্যাংকিং পয়েন্ট কমে যা‌ওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নে‌ওয়ার জন্য আমরা ফেডারেশন থেকে চিঠি দিয়েছি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং ক্রীড়া মন্ত্রনালয়কে। কারণ তারাই ভালো বলতে পারবেন, এখন পাকিস্তানে যা‌ওয়াটা ঠিক হবে কিনা।’

এদিকে, যুব অলিম্পিকের বাছাইপর্বে অংশ নিতে আগামী ২৪ এপ্রিল ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ হকি দল। সে উপলক্ষে বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে ফটোসেশনের আয়োজন করে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

বড় জয় সোনালী ব্যাংকের

দ্বীন ইসলাম ইমনের হ্যাটট্রিকে ক্লাব কাপ হকিতে বড় জয় পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে তারা ১০-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশকে। অন্য ম্যাচে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ২-০ গোলে পরাজিত করেছে অ্যাজাক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে।

সোনালী ব্যাংকের ইমন ৪২, ৪৬ ও ৪৯ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পুরণ করেন। দুটি করে গোল করেছেন তানজিম আহমেদ ও ফজলে হোসেন। বাকি গোলগুলো ইরফানুল হক, রাজিব দাস ও প্রসেনজিতের। পুলিশের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন, সাদ্দাম হোসেন। এই জয়ে সোনালী ব্যাংকের সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়। সঙ্গে শেষ চার নিশ্চিত হয়েছে আবাহনীরও। এদিকে, দুই পরাজয়ে পুলিশ বিদায় নিলো ক্লাব কাপ থেকে।

এদিকে, ভিক্টোরিয়া জিতেছে রিমন কুমার ঘোষ ও রাকিবের গোলে। ৫৯ মিনিটে রিমন পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে দেন ভিক্টোরিয়াকে। ৬৬ মিনিটে আবার‌ও পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান রাকিব।

বাংলাদেশ হকি: সাফল্যের পথটা বন্ধুর

এস এম আশরাফ

‘জিততে চাও, তো পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগাও’। হকির কোচিং দর্শনে কোচদের এই পরামর্শকে ধরা হয় মুল নীতি। অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা কিংবা নেদারল্যান্ডসের মতো উপরের র‌্যাঙ্কধারী দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, তাদের পেনাল্টি কর্নারকে গোলে পরিনত করার সাফল্য শতকরা ৬০ ভাগ। সোজা হিসেব ১০ টি পিসি পেলে তার ৬ টি থেকেই তারা গোল আদায় করে নেন। এবার তুলনায় আসা যাক বাংলাদেশ নিয়ে। মাস্কাটে, মার্চে শেষ হওয়া এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের ফাইনালে স্বাগতিক ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছে ৯ টি পিসি। অথচ তার একটিকেও গোলের নিশানায় পাঠাতে পারেনি তারা। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল এই পাঁচ ম্যাচে মাহবুব হারুনের দল পিসি পেয়েছে ৪০ টি। আর তা থেকে গোল সর্বসাকুল্যে ১৩ টি।

টুর্নামেন্ট শেষে কোচ, খেলোয়াড়রা তাই নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নেন ব্যর্থতার কারন পেনাল্টি কর্নারই। যদি এই একটি বিষয়কে আমলে নেয়া হয়, তাহলেতো আর কোন কথাই থাকলোনা। কেউ ভাবতেই পারে, এবার এটা নিয়ে কাজ করলেই আগষ্টে এশিয়ান গেমসের মুল পর্ব থেকে সাফল্য নিয়ে আসা যাবে।

তবে সাফল্যের চাবি পাওয়া কি এত সহজ? ঐ টুর্নামেন্ট বিশ্লেষন করলে আরো কিছু সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হবে। যেমন খেলোয়াড়দের ম্যাচ টেম্পারমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। শুরুর কয়েক মিনিটে গোল না পেলেই তারা অস্থির হয়ে পড়েন। সবকিছুতেই অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো। এ সময় যেনো কোচের দেয়া সব পরামর্শই গুলিয়ে ফেলেন। ওমানে ফাইনাল ম্যাচ শেষে কোচ মাহবুব হারুন তার শিষ্যদের প্রশ্ন করেছিলেন, কি ব্যাপার যা বললাম তার কিছুইতো করলেনা। ঐ সময় খেলোয়াড়দেও উত্তর ছিলো, ‘তারা সব ভুলে গেছেন। এই লেভেলের খেলায় এমন অযুহাত কি মানায়’? যে কারনে অনেকের উপরই বিরক্তি ঝড়েছে তার কন্ঠে।

প্রকাশ্যে না বললেও, অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি মন ভরাতে পারেননি তার। যার স্টিক সামর্থ্য রাখে ম্যাচ ঘুড়িয়ে দেবার, তিনিই যেনো কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন, বল পজেশন সেন্স, আর কখনও কখনও সতীর্থদের সাথে বোঝাপড়ার অভাবটা ছিলো দৃষ্টিকটু। অন্যদিকে, পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিষ্ট মামুনুর রহমান চয়নের স্টিকও জ¦লে উঠতে পারেনি প্রয়োজনের মুহুর্তে।

তবে ওমান সফরের পুরোটাই হতাশার নয়, ছিলো আশারা আলোও। তরুন স্ট্রাইকার মিলন হোসেন অনেকের চোখেই ছিলেন দলের সেরা পারফরমার। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই অভিষিক্ত দ্বীন ইসলাম ইমন তার উপর আস্থা রাখতে ভরসা যুগিয়েছেন। ব্যক্তিগতের পাশাপাশি দলীয় পারফরম্যান্স বিশ্লেষন করলে, সব দলের চেয়েই এগিয়ে রাখতে হবে বাংলাদেশকে। পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচে যদিও গোল দেয়ার সংখ্যায় এগিয়ে যায় হংকং। তবে সেরা চার দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার উপরে। প্রতিপক্ষের জালে তারা বল পাঠিয়েছে ৩৮ বার। যেখানে চ্যাম্পিয়ন ওমানের গোল সংখ্যা ২২ টি।

জিপিআরএস সিস্টেম থাকলে নিশ্চিতভাবেই দেখা যেতো পুরো ম্যাচে খেলোয়াড়দের রানিংয়ের দুরত্বে সব দলের চেয়েই এগিয়ে বাংলাদেশ। ওমানের একজন সাবেক খেলোয়াড় বলছিলেন তোমাদের মাঝমাঠের প্লেয়াররা কমপক্ষে ৭ কি: মি: দৌড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় দলগুলোর খেলোয়াড়রা যেখানে গড়ে ৮ কি: মি: দৌড়ান।

তাই জিমি, চয়ন আশরাফুলদের কমিটমেন্ট নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। টেকনিক আর ম্যাচ টেম্পারমেন্টের বিষয়টা মাথায় নিয়ে এগুলেও হয়তো অনেকদুর যাওয়া সম্ভব।

সে লক্ষ্যে অবশ্য হাত বাড়াতে হবে হকি ফেডারেশনকেও। এই আধুনিক যুগেও ঢাল তলোয়াড় ছাড়া এক নিধিরাম সর্দার দিয়ে দল চালানোর তত্ত্বে এগুচ্ছে ফেডারেশন। নেই একজন ফিজিও, নেই ভিডিও এনালিস্ট, এমনকি ট্রেইনারও। আছে আধুনিক জিমের অভাবও। অথচ বিশ্বকাপ খেলার স্বপেই কিনা বিভোর হকি ফেডারেশন। কোচিংয়ে টেকনিক্যাল সাপোর্ট ছাড়া কখনই কি একটা দলের পক্ষে দুর পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব?

যোগ্য খেলোয়াড় বাছাই করা হবে প্রধান কাজ: গোবিনাথান কৃষ্ণমুর্তি

জাতীয় দলের জন্য যোগ্য খেলোয়াড় বাছাই করাই হবে প্রধান কাজ। বাংলাদেশ হকি দলের কোচের দায়িত্ব নিতে এসে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন ইমান গোবিনাথান কৃষ্ণমুর্তি। এ সময় হকি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক বলেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই ফলাফল আশানুরূপ হচ্ছে না।

সবশেষ টুর্নামেন্ট এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে বাংলাদেশের অর্জন রানার্সআপ। ফাইনালে উঠলেও সে আসরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছিলো কোচ মাহবুব হারুনের গলায়। ফেডারেশন চাইছে পারফরম্যান্সের গ্রাফটা সামনে যেনো উর্ধ্বমুখী হয়। আর সে কারনেই হয়তো চেনা মানুষকেই দায়িত্ব দিতে চলেছে তারা। মালয়েশিয়ার গোবিনাথান এর আগেও ২০১৫-তে বাংলাদেশের হয়ে কাজ করেছেন। দলের দায়িত্ব নিতে এসে তিনি বলেন, আমি আরো খেলোয়াড় চাই। এখন হয়তো ২০-৩০ জন আছে। সেখান থেকে আরো চাই। কারন তখন প্রতিযোগিতা বাড়বে খেলোয়াড়দের মধ্যে। বেশী খেলোয়াড় থেকে কোয়ালিটি প্লেয়ার পাওয়া যাবে বেশী।

গোবিনাথান কৃষ্ণমুর্তি আরো জানান, আমার মনে হয় এখানে খেলোয়াড়দের ক্যাপাবিলিটি আছে, স্কিল, ফিটনেসও আছে। তবে ম্যাচ টেম্পেরামেন্ট নাই। যে কারনে প্রচুর ম্যাচ খেলতে হবে। সেখান থেকে এমন খেলোয়াড় বাছাই করতে পারবো যারা চাপের মধ্যেও ভালো খেলতে পারে।

মালয়েশিয়ান কোচের বায়োডাটা বেশ সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ১৯০টি। সদস্য ছিলেন বিশ্বকাপ, অলিম্পিক দলেরও। মালয়েশিয়ার যুব দল থেকে জাতীয় পুরুষ ও নারী সব দলকেই তিনি কোচিং করিয়েছেন। এমন একজনের উপর ভরসা রাখতে চাইছে ফেডারেশন। যদিও ফিজিও, ভিডিও এনালিস্টের মতো বিষয়গুলো নিয়ে এখনও তারা ভাবেননি।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক বলেন, আমাদের কাঠামোগত অবস্থা অনেক দুর্বল। একটা ফেডারেশন অথচ আমাদের কোন সিইও নেই। আমরা এমন একজন দায়িত্ববান লোক চাচ্ছি। তা প্রয়োজনও। এর আগে ভিডিও এনালিস্ট পেতে আমরা কাজ করেছি। একজনকে তৈরি করা হচ্ছিলো, কিন্ত পরবর্তীতে সে আর দলের সঙ্গে থাকেনি। সে থাকলে বাংলাদেশ উপকৃত হতো। তবে কোচের সহযোগিতার জন্য ফিজিও, ভিডিও এনালিষ্ট পেতে আমরা কাজ করবো।

এপ্রিলে থাইল্যান্ডে যুব দল নিয়ে অলিম্পিকের বাছাই টুর্নামেন্ট দিয়েই কাজ শুরু করতে চাইছেন হকির নতুন কোচ গোবিনাথান। সেখান থেকেই এশিয়ান গেমসের পরিকল্পনাটাও করে ফেলতে চান তিনি।

পারল না বাংলাদেশ ‌ওমান চ্যাম্পিয়ন

ওমান থেকে এস এম আশরাফ

বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হলো ওমান। ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখলেও পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায়ের ব্যর্থতায় ভুগতে হয়েছে মাহবুব হারুনের দলকে। তবে রানার্সআপ হলেও আগষ্টে ইন্দোনেশিয়ায় মুল পর্ব নিশ্চিত করেছে জিমি-চয়নরা।

ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধ, স্নায়ুর পরীক্ষা, দমের পরীক্ষাল গতকাল শনিবার, ফাইনালে সব কিছুই উপহার দিলেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। সেখানে প্রথম কোয়ার্টারের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের। অল অ্যাটাকে অতিথিরা পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে নেয় পাঁচটি। তবে তা থেকে গোল আসেনি একটি‌ও।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বল নিয়ন্ত্রণের কৌশলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এবার টানা পাঁচটি পিসি আদায় করে নেয় স্বাগতিক ওমান। আর তা থেকে ২৭ মিনিটে আসাদের গোলে লিড পায় স্বাগতিকরা। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ‌ওমান।

শুধু ওমান নয়, খেলা দেখে মনে হয়েছে, এ ম্যাচে বাশি হাতে খেলেছেন চীনা আম্পায়ারও। তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই ‌ওমানের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। বাসিম খাতার পেনাল্টি স্ট্রোকে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে এগিয়ে দেন।

তবে দশ মিনিট পর বাংলাদেশ পোস্টে বল পাঠালেও তা নাকচ করে দেন চীনা রেফারি সু লং।

নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলেও অ্যাটাকিং থার্ডে ওমানিদের দৃঢ় রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। আর নয় পিসি-র একটিকেও গোলে পরিণত করতে না পারায় পরাজয় নিয়েই টার্ফ ছাড়তে হয় জিমি-চয়নদের। তাতে বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়েই এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত পর্বে উঠলো মাহবুব হারুনের দল।

বাংলাদেশ দলের শিরোপা লড়াই আজ

ওমান থেকে এস এম আশরাফ

ওমানের বিপক্ষে ম্যাচকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের ফাইনালকে সামনে রেখে এমনটাই বললেন দলের খেলোয়াড়রা। আজ শনিবার মাসকাটের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া দশটায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, ঠিক কি করলে থামানো যাবে ওমানকে, কি করলে ধরে রাখা যাবে বাছাইপর্বে এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব- টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। তবে ওমান খেলছে ঘরের মাঠে। যাদের বিপক্ষে ঢাকায় ওয়ার্ল্ড হকি লিগের শেষ সাক্ষাতে ২০১৭ সালে হারতে হয়েছিলো জিমি-চয়নদের। এক অর্থে ম্যাচটি তাই প্রতিশোধেরও।

অধিনাযক রাসেল মাহমুদ জিমি অবশ্য বিষয়টাকে প্রতিশোধের মিশন হিসেবে দেখছেন না। বললেন, আমরা আমাদের মতোই খেলতে চাই। এবং জিততে চাই। এটাকে কোনোভাবেই আমরা প্রতিশোধের মিশন হিসেবে দেখছিনা। ‌ওরা‌ও খুব ভালো দল। তাছাড়া নিজেদের মাঠ-সমর্থকদের সামনে তো সুবিধা পাবেই। তবে আমরা স্বাভাবিক নৈপুন্য দেখিয়েই জয চাই। আমাদের চ্যাম্পিয়নশীপ ধরে রাখতে চাই।

এই টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এগিয়ে রাখা যায় মাহবুব হারুনের দলকে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩৮ গোল বাংলাদেশের স্ট্রাইকারদের। রোমান সরকার ৮ গোল নিয়ে আছেন টপ স্কোরারের তালিকায় সবার উপরে। সেখানে দলীয় আর ব্যাক্তিগত কোন বিভাগেই সেরা চারে নেই ওমান। দলের স্ট্রাইকার জুবায়ের হাসান নিলয় জানান, নিজ দেশে ‌ওমানকে কখনোই ছোট করে ভাবার কিছু নেই। তবে আমাদের দল‌ও আছে দারুণ ছন্দে। ফাইনাল জয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচটি আমাদের জন্য ানুপ্রেরণা হতে পারে। পিছিয়ে থেকে যেভাবে আমরা জিতেছি- সে রকম খেলা দিযেই ফাইনাল জিততে চাইছি আমরা।

তবু ভয়টা নিজেদের সেরাটা দিতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্ণারে গোল না পাওয়া। ফাইনালের আগে তাই আলাদাভাবে কাজ হলো পিসি থেকে কি করে গোল আদায় করা যায়।

রুদ্ধশ্বাস জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ওমান থেকে এস এম আশরাফ

টানা দুইবার পিছিয়ে থেকে‌ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। ‌ওমানের মাসকাটে সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের ৩-২ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ। এই নিয়ে টানা সাত সাক্ষাতে লঙ্কানদের বিপক্ষে অপরাজিত রইলো রাসেল মাহমুদ জিমির দল। আগামী ১৭ মার্চ টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিক ওমানের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

 

 

অবশ্য কষ্টার্জিত জয়ের আনন্দটা মিলন হোসেন গ্যালারিতে থাকা শত ভক্তের উল্লাসধ্বনি আর চিৎকার-চেচামেচিতে ভাগাভাগি করে নিলেন। ২-২ গোলে টাই থাকা ম্যাচকে খেলা শেষের ঠিক দুই মিনিট আগে ভাসালেন জয়ের আনন্দে। পাশে থাকা লঙ্কান দর্শকরা ততক্ষণে মেনে নেন শেষ হাসি আসলেই হাসার মালিক বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাই। তাই গ্যালারি ছাড়ার আগে পরাজয়ের বেদনায় তারা মূহ্যমান। হারে কাতর।

 

 

তবে খেলার শুরুতে বোঝার কোনো উপায় ছিলো না যে, আগের ৬ ম্যাচেই বাংলাদেশের কাছে হারা লঙ্কানরা এতোটা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বল দখলে রাখা আর খেলার নিয়ন্ত্রনও কথা বলছিলো জিমিদের পক্ষে। কিন্ত ৩৪ মিনিটে সাধুসিংহের গোলে উল্টো লিড শ্রীলঙ্কার। ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এরপরের সময়টা হ্নদস্পন্দনের পরীক্ষা শুধুই বাংলাদেশীদের। সেই স্নায়ুর কাপন থামে ৩৮ মিনিটে রোমান সরকারের গোলে। ম্যাচে ১-১ এ সমতা ফেরায় বাংলাদেশ।

 

 

একদিকে শ্রীলঙ্কার জমাট রক্ষণ। অন্যদিকে দুর্বল রেফারিং। কাপন ধরাচ্ছিলো মাহবুব হারুন শিবিরে। সেই কাপন বেড়ে যায় ৫১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বান্দারা হেরাথের দল লিড ২-১ করলে। নাগিন ড্যান্সে বাংলাদেশ শিবিরে আগুন ধরিয়ে লঙ্কানরা ভেবেই নিয়েছিলো জিততে চলেছে তারা। কিন্ত সেই আগুন যে রোমানের স্টিক থামিয়ে দেবে কিংবা একেবারেই ঠান্ডা করে দেবে তা হয়তো জানা ছিলোনা লঙ্কানদের। ম্যাচে ২-২ গোলে সমতা আনেন রোমান।

 

 

এরপর ঘড়ির কাটা এগুচ্ছিলো আর শ্বাস যেনো বন্ধ হচ্ছিলো গ্যালারিতে বাংলাদেশের খেলা দেখতে আসা প্রবাসী সমর্থকদের। এমন দোদুল্যমান থাকা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের কেতন উড়লো লাল সবুজ পতাকার। খেলা শেষের দুই মিনিট আগে মিলন হোসেন গোল করে বাংলাদেশকে নিয়ে যান ফাইনালে।

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

দুই দুইবার পিছিয়ে থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় রোমান সরকারের জোড়া গোলে শ্রীলঙ্কাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ।

ওমানের কাসকাটের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে, প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে খেললেও প্রথম দুই কোয়ার্টারে গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। উল্টো খেলার ৩৪ মিনিটে সানদারওয়ান সুদুুসিংহের গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে ম্যাচে ফিরতেও বেশি দেরী করেনি মাহবুব হারুনের দল।

৪৯ মিনিটে রোমান সরকার ম্যাচে ১-১-এ সমতা ফেরান। ৫১ মিনিটে ধাম্মিকা রানাসিংহে আবারও এগিয়ে দেন লঙ্কানদের। পরের মিনিটেই রোমান সরকার পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ২-২-এ সমতা আনেন।

এরপর খেলা শেষের দুই মিনিট আগে মিলন হোসেন যে গোলটি করেন তাতেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে যায়, লাল-সবুজ পতাকাধারীরা।

আগামী ১৭ মার্চ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওমান ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার জয়ী দলের সঙ্গে ফাইনাল খেলবে জিমি-চয়নরা।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানকে ২৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এশিয়ান গেমস বাছাই পর্বের সেমিফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। আগামী ১৫ মার্চ ফাইনালের টিকিট পেতে তারা মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার।

ওমানের মাসকাটের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে, আফগানিস্তানের জালে রীতিমতো গোল উৎসবে মাতে জিমি-চয়নরা। খেলার প্রথম কোয়ার্টারে আফগানদের জালে বাংলাদেশ তিন দিলেও, দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ১০ গোল করে।

এরপরও আফগানদের বিপক্ষে গোল বন্যা থামায় নি, মাহবুব হারুনের দল। তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ আরো ছয়টি করে গোল দেয়।

বাংলাদেশের পক্ষে দ্বীন মোহাম্মদ ইমন ও রোমান সরকার ৪টি করে, মামুনুর রহমান চয়ন, রাসেল মাহমুদ জিমি, আশরাফুল ইসলাম ও আরশাদ হোসেন ৩টি করে এবং ফরহাদ সেতুল ও জুবায়ের হাসান দুটি করে গোল করেন। একটি গোল করেন নাঈম উদ্দিন।

দলের এই বিজযকে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে বাংলাদেশ হকি দল।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস বাছাই পর্বে পিছিয়ে থেকেও হংকংকে ৫-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ হকি দল। ওমানের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে, খেলার ১৫ মিনিটে ফেলিক্স চি হিম-য়ের পেনাল্টি র্কনার গোলে পিছিয়ে পড়ে মাহবুব হারুনের দল।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে তারা। তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই গোল পরিশোধের চেষ্টা করতে থাকে বাংলাদেশ। ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ম্যাচে সমতা ফেরান, আশরাফুল ইসলাম। এই গোলের রেশ না কাটতেই, ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন, আশরাফুল।

চতুর্থ কোয়ার্টারে আবারও ব্যবধান বাড়ায় লাল-সবুজ পতাকাধারীরা। এবার পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে ৩-১ ব্যবধানে লিড এনে দেন, রোমান সরকার। খেলা শেষের দুই মিনিট আগে অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি এবং শেষ মিনিটে মিলন হোসেন গোল করলে ৫-১ ব্যবধানে বড় জয় পায় বাংলাদেশ।

এতে টানা দুই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে গেলো বাংলাদেশ। আগামী ১৩ মার্চ গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে জিমি-চয়নরা।

আগামীকাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং

‌ওমান থেকে এস এম আশরাফ

হংকংয়ের বিপক্ষে ভুল শোধরানোটাই হবে মুল লক্ষ্য। এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়ে বললেন কর্মকর্তা এবং হকি খেলোয়াড়রা। এ ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত জিমিদের। মাস্কটের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে, আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

তার আগে, ভর দুপুরেই ওমানের তপ্ত পিচ ঢালা পথে খেলোয়াড়দের নিয়ে জগিং আর স্ট্রেচিংয়ে নেমে পড়লেন কোচ মাহবুব হারুন। স্টিক বল না নিয়ে মিনিট বিশেকের এই সেশনটাতেই দলকে সীমাবদ্ধ রাখলেন তিনি। উদ্দেশ্য শিষ্যদের খুব বেশী চাপে না রাখা, পাশাপাশি তাদের পেশীগুলোকেও ঝিমিয়ে পড়তে না দেয়া। থাইল্যান্ড ম্যাচে অতৃপ্তিতে ভোগা খেলোয়াড়রা বলছেন, হংকংয়ের বিপক্ষে তাদের আরো নিঁখুত হতে হবে। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আফগানদের ১৯-০ ব্যবধানে হারানো প্রতিপক্ষকে আটকানোর উপায় খুজতে বিকেলেই টিম হোটেলে ভিডিও বিশ্লেষনে বসে যায় পুরো দল।

দলনেতা ‌ও ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মুমিনুল হক সাঈদ জানান, আমাদের দলের আত্মবিশ্বস আছে এ ম্যাচ জয়ের। তাছাড়া আগের মোকাবেলায়‌ও আমাদের দল জিতেছে। সেই ধারাটা ধরে রাখতে পারলেই হংকংকে হারানো যাবে। সবশেষ ২০১৬ তে এশিয়ান গেমসে মুখোমুখি হয়েছিলো দু দল। সেখানে বাংলাদেশের জয় ৪-২ ব্যবধানে।

এই দ্ইু বছরে কোন দল কতটা এগিয়েছে থাকছে সেই পরীক্ষাও।

থাইল্যান্ডকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

ওমান থেকে এস এম আশরাফ

ওমানে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে থাইল্যান্ডকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলো মাহবুব হারুনের দল।

যতই ফেবারিটের তকমা থাকুক না কেনো। প্রথম ম্যাচে স্নায়ুর পরীক্ষা থেকেই যায়। সেই পরীক্ষায় ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেলো দুর্বার গতিতে। ১৪ মিনিটে সরোয়ারের স্টিকে প্রথম আর ২৭ মিনিটে নিলয় দিলেন দ্বিতীয় গোল।

একদিকে আক্রমন অন্যদিকে প্লেসিং এই দুইয়ের মিশেলে দিশেহারা থাইল্যান্ডের রক্ষলভাগ। মিলন আর রোমানের স্টিক কথা বললে ৪৭ মিনিটে চার গোলে এগিয়ে যায় লাল সবুজের দল।

প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ইমন  প্রতিপক্ষকে কাপিয়েছেন। গোল পাননি তবে যোগান দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিমি। কথা বলেছে অভিজ্ঞ চয়নের স্টিকও। গোল হতে পারতো আরো গোটা চারেক। শেষ পর্যন্ত চয়নের স্টিকে বাংলাদেশ সন্তষ্ট ৫-০ ব্যবধান নিয়েই।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি

তবু প্রথম ম্যাচ জয়ে সন্তষ্ট ম্যাচ সেরা জিমি। বললেন, আমরা একটি দল হিসেবে খেলতে চেয়েছি। মাঠে সেটা করে দেখাতে পেরেছি বলেই সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছে। আমরা আসলে এমনটাই চেযেছিলাম। আর প্রথম ম্যাচ বলেই হয়তো সবার কাছে একটু অন্যরকম লাগছিল। তবে আমরা আরো ভাল খেলার আশা রাখি।

আগামীকাল রোববার দ্বিতীয় ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বড় জয়

ফেভারিটের মতোই এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব শুরু করেছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত সূচনায় শুক্রবার রাতে ওমানের রাজধানী মাসকটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৫-০ গোল হারিয়েছে বাংলাদেশ। একটি করে গোল করেছেন সারোয়ার হোসেন, জোবায়ের হাসান, মিলন হোসেন, রোমান সরকার ও মামুনুর রহমান চয়ন।

মাসকাটের কাবুজ স্টেডিয়ামে, খেলার শুরু থেকেই থাইল্যান্ডের ‌ওপর আক্রমন করতে থাকে বাংলাদেশ। তবে খেলার প্রথম কোয়ার্টারে ফিল্ড গোলে গোলের খাতা খোলেন সারোয়ার। দ্বিতীয় কোয়াটারে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোবায়ের। তৃতীয় কোয়াটারে লাল-সবুজের প্রাধাণ্য আরো বাড়েয় দেন মিলন হোসেন গোল করে। শেষ কোয়াটারে গোলের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনযোগ ধরে রেখে আদায় করে নিয়েছে আরও দুটি গোল। রোমান ও মামুনুর রহমানের স্টিক থেকে এসেছে দুই গোল।

বাংলাদেশ গ্রুপের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ১১ মার্চ মাঠে নামবে হংকং এর বিপক্ষে। আগামী ১৩ মার্চ আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি। বাছাইপর্ব থেকে সেরা পাঁচ দল আগামী আগস্টে ইন্দোনেশিয়াতে হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পাবে।

জিততেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

ওমান থেকে এস এম আশরাফ

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতেই থাইল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে চায় বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচের আগে এমনটাই আশা প্রকাশ করলেন, কোচ মাহবুব হারুন এবং ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়ন। ওমানের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে, আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এই একটা জায়গায় এখনো তৃপ্ত হতে পারছেনা বাংলাদেশ। পেনাল্টি কর্ণারকে গোলে রুপ দেয়ার হিসেবে গোলমাল হয়ে যাচ্ছে প্রায়ই। অনুশীলনের সেশনের অনেকটা জুড়ে তাই থাকলো পিসি থেকে বাংলাদেশের গোল আদায়ের কৌশল।

একমাত্র প্রস্ততি ম্যাচে কাজাখিস্তানকে ৫-০ গোলে হারানোয় খেলোয়াড়দের নিজেদের উপর বিশ্বাসটা এখন তুঙ্গে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ৩০ এর সাথে ৪৭ এর পার্থক্যটা এবার মাঠে দেখানোর পালা।

মাহবুব হারুন বলেন, প্রস্তুতি ম্যাচের বড় জয়টা খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া মাঠ কন্ডিশন ঢাকার মতোই। খেলা নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে প্রথম ম্যাচ বলে একটু উত্তেজনা রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে সতর্কতা‌ও। আশা করছি জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারবো আমরা।

কোচ থাকেন বাইরে তাই মাঠের নেতৃত্বটাও ম্যাচে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। সেই দায়িত্বটি এই দলে পালন করতে দেখা যাচ্ছে অভিজ্ঞ সেনানি চয়নকে। তার মতে বড় ব্যবধানে জিততে হলে, ভুল করা চলবেনা।

মামুনুর রহমান চয়ন জানান, আমাদের ভুলগুলো কোচ ধরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মাঠে তো আর তিনি থাকেননা। থাকতে হয় আমাদের। আর সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের‌ও তো দায়িত্ব আছে। মাঠে সেগুলো ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের। আশা করছি, আগের ভুলগুলো আর হবে না। না হলেই ভালো। তবেই আমরা ভালো ফল করতে পারবো। তবে প্রতিপক্ষ‌ও খারাপ না। তারা যাতে আমাদের ‌ওপর চড়া‌ও হতে না সেই চেষ্টাই থাকবে সবার।

দলের একমাত্র ইনজুরি সমস্যা রেজাউল করিম বাবুকে নিয়ে। তবে ম্যাচের আগেই তিনি পুরোপুরি ফিট হবেন বলেই আশ্বস্ত করলেন কোচ।

প্রস্তুতি ম্যাচে কাজাখস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

ওমান থেকে এস এম আশরাফ

নিলয়ের জোড়া গোলে ওমানে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ফেভারিট বাংলাদেশ। কাজাখস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচের আধিপত্য ছিলো মাহবুব হারুনের শিষ্যদের। এই ম্যাচ মুল পর্বে নামার আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করেন অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি।


তবে বাছাইপর্বে আসলেই ফেবারিট কিনা, প্রমানের বিষয় ছিলো জিমিদের, ছিলো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নিজেদের প্রস্ততি ভালোভাবে সেরে নেবারও। বলা যায় এক ঢিলে দুই পাখিই মেরেছে মাহবুব হারুনের দল।

মাসকাটের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামের হকির টার্ফে ম্যাচের ১০ মিনিটেই লিড পেয়ে যায় বাংলাদেশ। দলকে দারুণ এক গোলে এগিয়ে দেন, রাব্বি। তবে ভালো খেললে‌ও শুরুতে কিছুটা জড়তা ছিলো বাংলাদেশ দলে। হতে পারে সেটা ভ্রমণজনিত ক্লান্তি। কিংবা অজানা-অচেনা টার্ফের কারণে।

কিন্তু শুরুর সেই জড়তা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমতো ত্রাস ছড়ান কৈশিক, আরশাদরা। ৪০ মিনিটের সময় নিলয়ের স্টিক থেকে আসে দ্বিতীয় গোল। এরপর তিন মিনিটের ব্যবধানে জিমি আর খোরশেদ আরো দুই গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয়ে যায় টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিটদের। কাজাখস্তানের জালে শেষ গোলটি আসে নিলয়ের স্টিকে।

আক্রমনাত্মক কৌশলে খেলার ছকটা এ ম্যাচ দিয়ে শতভাগ সেরে নিলেন কোচ মাহবুব হারুন। অধিনায়কও তৃপ্ত দলের পারফরম্যান্সে। তবে আরো ভালো খেলার ইচ্ছে এবং সামর্থের কথা‌ও জানান, রাসেল মাহমুদ জিমি। তিনি বলেন, 'আরো ভালো খেলার সামর্থ আছে আমাদের। দল কিছুটা ক্লান্ত। তবে ঠিকই সময় মতো নিজেদের সেরা খেলা দেখাবে দল। প্রথম ম্যাচ বলেই হয়তো সবাই তাদের মতো খেলতে পারেনি। আশা করছি পরের ম্যাচ থেকে আরো ভালো খেলা উপহার দেবো আমরা। প্রস্তুতি ম্যাচের এই জয়টি আমাদের আত্মবিশ্বাস‌ও অনেক বাড়িয়ে দেবে।'

আগামীকাল শুক্রবার এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কাজাখকিস্তান

‌ওমান থেকে এস এম আশরাফ

এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্ব খেলার আগে একমাত্র প্রস্ততি ম্যাচে আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টায় কাজাখস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মুল লড়াইয়ের আগে এই ম্যাচ দিয়ে খেলোয়াড় এবং মাঠ সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যাবে বলে জানালেন কোচ মাহবুব হারুন।

টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে। মাস্কটের সুলতান কাবুজ স্টেডিয়ামে ৯ মার্চ আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার একমাত্র সুযোগ কাজাখস্তিনারে বিপক্ষে প্রস্ততি ম্যাচ। রাতের ভ্রমনের ধকল কাটিয়ে না উঠতেই তাই প্লেয়ারদের নিয়ে টিম হোটেলের সামনে রাজপথে ওয়ার্মআপ সেরে নিলেন কোচ মাহবুব হারুন।

সেই সঙ্গে জানান, প্রস্তুতি ম্যাচটিকে‌ও আমরা হালকাভাবে নিচ্ছিনা। তাছাড়া ‌ওয়ার্মআপ তো প্রতিদিনের কাজ। সেটা সেরে নিচ্ছি। এই ম্যাচটি আমাদের কাজে লাগবে। দেশে খব একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলা হয়নি। নিজেদের সম্পর্কে ধারণা পা‌ওয়া‌ও হবে এই ম্যাচ থেকে।

দেশের নাম লেখা জার্সী দেখতেই এ সময় সামনে চলে আসলেন কয়েকজন বাঙ্গালী। দলের জন্য শুভকামনা জানালেন তারাও। তবে তাদের মুখেই আক্ষেপ ঝড়লো, যখন শুনতে পেলেন বাংলাদেশে ওমানের হাই কমিশন থেকে খেলোয়াড়দের কোন রকম অভ্যর্থনা দুরে থাক, খোজ-খবরও নেয়া হয়নি।

চ্যাম্পিয়ন হ‌ওয়ার লক্ষ্য কোচ হারুনের

নয় দলের মধ্যে থেকে কোয়ালিফাই করবে ছয়টি। তাই এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্ব টপকানো ওয়ান-টু’র মতো ব্যাপার বাংলাদেশের। কিন্তু জাতীয় দলের কোচ মাহবুব হারুন তো শুধু বাছাই পর্ব পাড় হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ওমান যাবেন না। তার চোখ যে এ পর্বের শিরোপায়! ওমানে যে ১১ দল লড়বে ইন্দোনেশিয়ার টিকিট পেতে সেখানে বাংলাদেশের গোনায় থাকবে শুধু স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ কোচ ওমান জয় করেই যেতে চান ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশ, ওমান, চাইনিজ তাইপে, থাইল্যান্ড, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, শ্রীলংকা ও কাজাখস্তান- এই নয় দলের এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্ব শুরু হবে ৮ মার্চ ওমানের রাজধানী মাসকাটে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তান। বাকি চার দল ‘বি’ গ্রুপে।

৬ মার্চ বাংলাদেশ হকি দল দেশ ছাড়বে ওমানের উদ্দেশ্যে। ৯ মার্চ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে জাতীয় হকি দলের মিশন ওমান। মওলানা ভাসানি স্টেডিয়ামে ২৮ খেলোয়াড় নিয়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাই পর্ব শুরু করেছিলেন মাহবুব হারুন। ইতোমধ্যে দলও চূড়ান্ত করে ফেলেছেন দেশের অভিজ্ঞ এই কোচ। এখন চলছে প্রস্তুতির শেষ ধাপ।

তিনি জানান, ‘আমরা এখন টুর্নামেন্ট খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বলতে পারেন এখন আমি প্রস্তুতিতে ফিনিংশিং টাচ দিচ্ছি’। প্রতিপক্ষ সহজ তা মানতে রাজি নন বাংলাদেশ কোচ, ‘আসলে আমি কখনোই কোনো প্রতিপক্ষকে সহজভাবে দেখি না। ওমানে যে নয়টি দল খেলবে সবাই চাইবে কোয়ালিফাই করতে। সব দলই আমার ভালো প্রতিপক্ষ। তবে এটা বলবো গ্রুপে যে দলগুলো আছে তাদের হারাতে কোনো কষ্ট হবে না আমাদের।’

গ্রুপে ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তান বাংলাদেশের জন্য একেবারে নতুন প্রতিপক্ষ। এ দুই দল সম্পর্কে কোচ মাহবুব হারুন বলেন, ‘এ দুটি দলের কোনো খেলা আগে দেখিনি। বাংলাদেশ কখনো এ দল দুটির বিপক্ষে খেলেওনি। তবে মাঠে নামার আগে নতুন দল দুটির খেলা দেখার সুযোগ পাবো। আট মার্চ আফগানিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার খেলা আছে। এ ম্যাচ দুটি দেখেই তাদের সম্পর্কে ধারণা নেবো।’

ইন্দোনেশিয়াসহ ছয় দল বাছাই পর্ব থেকে পাবে এশিয়ান গেমসের টিকিট। ‘কয়টা দল উঠবে সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমাদের চোখ শিরোপায়। আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েই এশিয়ান গেমস খেলতে ইন্দোনেশিয়া যেতে চাই। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসের বাছাই পর্ব থেকে আমার টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন। ইনশাল্লাহ ওমান থেকেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরবো। খেলোয়াড়রাও ট্রফি নিয়ে ফিরতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

এশিয়াডের হকি দলে পরিবর্তন

এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বাংলাদেশ হকি দলের ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড। যেখানে থাকবে একাধিক চমক। এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় দলের কোচ।

আর মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে কাজাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ। এদিকে দলের ফিটনেসে দারুণ খুশি ট্রেইনার। আর খেলোয়াড়’রা টুর্নামেন্টকে নিচ্ছেন মূল আসরের প্রস্তুতি হিসেবে। অনুশীলন ক্যাম্পে গা গরমের প্রস্তুতি, প্রায় মাস ছাড়ালো। ৩৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডের সংখ্যাটা এখন ২৮ জনে। জানা গেছে প্রতিপক্ষও। আগামী শুক্রবার ঘোষণা করা হবে মূল দল। তাইতো অনুশীলনেই নিজেদের প্রমাণে সর্বোচ্চ চেষ্টায় খেলোয়াড়রা।

গত বছর ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে ষষ্ঠ হওয়ায়, এবার স্বপ্নটা হয়েছে অনেক বড়, সঙ্গে বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। তাই পেশাদারিত্বকে পাশ কাটিয়ে বাছাই পর্ব ছাপিয়ে মূল পর্বের দলগুলোতেই মনযোগী বাংলাদেশ। পিন্টু বলেন, শুরুটা আমাদের ভালই মনে হচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আসায় আমরা আগাচ্ছি। ক্যাম্প শুরুর আগে ফিটনেসকে গুরুত্ব দিয়েই দল গড়তে চেয়েছিলেন কোচ। এজন্য ক্যাম্পে রাখা হয়েছিলো একজন বিশেষজ্ঞ ট্রেইনারও। একমাসে কেমন হলো উন্নতি? ওমানের বৈরী কন্ডিশনেই-বা কেমন করবে দল? ফিটনেস ট্রেইনার আশিকুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে চারটার সময় যে টেম্পারেচার থাকে ওখানেই এরকমই থাকে। অভিন্ন সুর কোচের কন্ঠেও। তবে তরুণদের বাজিয়ে দেখতে স্কোয়াডে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

কোচ মাহবুব হারুন বলেন, এশিয়ান টিমে আমরা কিছু পরিবর্তন আনতে চাইছি। কিছু তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠন করবো। ওমানের বাছাই পর্বে পাওয়া পাঁচ দলের সঙ্গে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া সহ ১৮ দল নিয়ে আগামী ১৮ই আগস্ট থেকে ২রা সেপ্টেম্বর, পালেমবাং ও জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস হকির মূল পর্ব।

হকির পাশে গ্রীন ডেল্টা

ফাল্গুনের দ্বিতীয় দিনে আজ বিশ্বজুড়ে ভালবাসা দিবসে ছোয়া ছিল দেশের প্রায় সর্বত্র। তবে ক্রীড়াঙ্গনে হকির জন্য দিনটি নিয়ে এসেছে ভিন্নমাত্রা। হকির সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধনকে আরও এগিয়ে নিল গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী।

আজ বিওএ ভবনে হকি ফেডারেশনের আরও তিন বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছে তারা। এক কোটি টাকার পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দূর্ঘটনা বীমাও দেবে। ফেডারেশনের পক্ষে সভাপতি আবু এসরার এবং গ্রীন ডেল্টার পক্ষে সিইও ফারজানা চৌধুরী চুক্তিতে সই করেন।

একই অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার হকিতে চ্যাম্পিয়ন মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ও রানার্সআপ ঊষা ক্রীড়া চক্রের হাতে ট্রফি তুলে দেন ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল আবু এসরার। এ সময় সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির এ চৌধুরী এবং সিইও ফারজানা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে হকি ফেডারেশনের সভাপতি আবু এসরার বলেন, কেবল ৩৩ বছরেই নয়, সামনে আরও এমন তিন বছর করে চুক্তি আমরা সই করতে চাই গ্রীন ডেল্টার সঙ্গে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তাই আমাদের পথ চলায় সব সময় তাদের পাশে পেতে চাই। আশাকরি এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রিমিয়ার লীগ, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিভাগ লীগের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক এ প্রতিষ্ঠানটি। এবার নতুন একটি লীগের কথাও জানালেন সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক। তার কথায়, আগামীতে পাইওনিয়ার লীগ করার ইচ্ছে রয়েছে আমাদের। গ্রীন ডেল্টা চাইলে সেটার পৃষ্ঠপোষকতাও তারা করতে পারে। তাছাড়া আমরা জাতীয় দল নিয়ে বেশ আশাবাদী। এশিয়ায় ছয় থেকে চার নম্বরে ওঠে আসতে চেষ্টা করছি। নাসির আহমেদ চৌধুরীর কথা, স্বাধীনতার আগে আমি ফুটবল পাগল ছিলাম। মোহামেডান, ইষ্ট বেঙ্গল এবং মোহন বাগানের খবর রাখতাম। কলকাতা থেকে পত্রিকা আসতো একদিন পরে। সেই খবর পড়তাম। কিন্তু স্বাধীনতার পর হকির সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম। এখন পর্যন্ত আছি। ভবিষ্যতে আমার মেয়ে ফারজানাও থাকবে আশাকরি। শুধু পুরুষ দলই নয় মহিলা হকি দল গঠিত হলে তার পাশেও থাকবে তাদের প্রতিষ্ঠান।

২০১৪ সালে জাতীয় দলের ২৫ জন খেলোয়াড়কে দূর্ঘটনা বীমা দিয়েছিল গ্রীন ডেল্টা। এবারও সেই বীমা দিচ্ছে খেলোয়াড়দের। দলের ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়নের হাতে বীমার কাগজ তুলে দেয়া হয়। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তিন লাখ টাকা দূর্ঘটনা বীমা দেয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রিমিয়ার লীগে সর্বোচ্চ গোলদাতা রাসেল মাহমুদ জিমিকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হয়। জিমির অনুপস্থিতিতে টাকার চেক গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই রাকিন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতি আবু এসরারের হাতে হকির উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ও কাউন্সিলর আলহাজ্ব একেএম মুমিনুল হক সাঈদ।

২৭-২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে আসন্ন প্রিমিয়ার লীগের দলবদল। এপ্রিলে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের। আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক এড়াতে লিগে ভিডিও রেফারেল পদ্ধতি রাখার কথা জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তবে এ প্রক্রিয়া যথেষ্ট ব্যয়বহুল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হকি লিগের দলবদল মার্চে

মার্চ মাসের শেষ দিকে হবে প্রিমিয়ার লিগের দলবদল। তবে কোটা প্রথা থাকছেই। জাতীয় দলের অধিকাংশ সদস্য বিভিন্ন সার্ভিসেস দলে খেলেন। তার বাইরে হকির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খেলোয়াড় আসে বিকেএসপি থেকে। দুটি সংস্থা থেকে প্রতি ক্লাব সর্বোচ্চ চারজন করে আট খেলোয়াড় নিতে পারবে— এমন খসড়া নিয়ম ধরেই দলবদল কার্যক্রমে এগোচ্ছে ফেডারেশন।

‘ক্লাবগুলো সার্ভিসেস দল থেকে সর্বোচ্চ চারজন ও বিকেএসপি থেকে চারজন করে নিতে পারবে— এমন খসড়া পরিকল্পনা করেই আমরা এগোচ্ছি। লিগ কমিটির সভায় ক্লাবগুলো কী প্রস্তাব দেয় দেখব। তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তু নেয়া হবে। ওই সিদ্ধান্তু পরবর্তীতে নির্বাহী কমিটিতে পাঠানো হবে’ আসন্ন দলবদল সম্পর্কে জানান লিগ কমিটির সম্পাদক কাজী মঈনুজ্জামান পিলা।

একে তো ঘরোয়া হকি কার্যক্রম নিয়মিত নয়। সবশেষ লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬ সালে। যে কারণে খেলোয়াড়দের আয়ের উৎসও বন্ধ। তার ওপর কোটা পদ্ধতির কারণে কাংক্ষিত পারিশ্রমিকের পথও সংকুচিত হচ্ছে। ‘কোটা নিয়ে আর কী বলব? ক্লাব ও ফেডারেশন যে সিদ্ধান্তু নেবে, সেটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। লিগ প্রতি বছর হলে একটা কথা ছিল। দু-তিন বছর পর হয় লিগ। এখানে যদি কোটা বেঁধে দলবদল বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তবে আমরা আর্থিকভাবে তো ক্ষতিগ্রস্ত হবই।’ বলেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড হাসান যুবায়ের নিলয়।

আবাহনী ম্যানেজার জাকি আহমেদ রিপন জানান, কোটা পদ্ধতি খেলোয়াড়দের আর্থিক দিকটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। ‘কোটা পদ্ধতি নতুন নয়, এটা আগেও ছিল। আমি মনে করি, এবারের কোটা পদ্ধতির কারণে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ অতীতে ক্লাবগুলোর মাঝে অলিখিত চূক্তি হতো যে, তিন লাখ টাকার বেশি কেউ পেমেন্ট দেবে না। এবার কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। অন্যান্য মৌসুমে আবাহনী, মোহামেডান, ঊষা ও মেরিনার্সের মাঝে চতুর্মুখী লড়াই হলেও এবারের দলবদল বাজারে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেরিনার্স ক্লাব সবার আগে দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ সম্পর্কে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান উল্লাহ খান রানা বলেছেন, দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আগেই। অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে চূড়ান্তু কথাও হয়েছে।’

কোটা থাকছে ধরে নিয়েই দলবদল কার্যক্রমে নামছে আবাহনী। মেরিনার্স ও আবাহনী দল গোছাতে ব্যস্ত হলেও দলবদলে এখনো সেভাবে নামেনি ঊষা ও মোহামেডান।

ঊষার দলবদল পরিকল্পনা সম্পর্কে দলটির ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম কামাল বলেছেন, এখনো দল গঠনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তু হয়নি। আগামীকাল সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তু হতে পারে। কোটা পদ্ধতির সঙ্গে সাত বিদেশী নিবন্ধন। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে অনেক শীর্ষ খেলোয়াড়কেই হয়তো নামমাত্র পারিশ্রমিকে খেলতে হতে পারে।

সাবেক জাতীয় হকি খেলোয়াড় ‌ও কোচ সোনা মিয়া’র মৃত্যু

সাবেক জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় এবং জাতীয় হকি দলের কোচ আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া (৬৯) আজ রবিবার আনুমানিক সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর লালবাগের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে, ৩ মেয়ে সহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব রেখে গেছেন। সোনা মিয়ার বড় ছেলে রাসেল মাহমুদ জিমি বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক এবং ছোট ছেলে রাকিন জাতীয় অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের খেলোয়াড়।

আজ বাদ জোহর মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে। সেখানে ক্রীড়াঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ মরহুমের মরদেহে পুস্পস্তাবক অর্পন করেন। এরপর মরহুমকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরনো ঢাকার বেগমগঞ্জে। সেখানে চকবাজার শাহী মসজিদে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সোনা মিয়ার মৃত্যুতে বিএসপিএ সহ ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর শোক প্রকাশ করছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক বহন করার শক্তি দেয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

দায়িত্ব ছাড়লেন পাকিস্তান হকি দলের কোচ

পাকিস্তান হকি দলের প্রধান কোচ ফারহাত খান পদত্যাগ করেছেন। এশিয়া কাপ এবং অস্ট্রেলিয়ায় চার জাতি হকি টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর, দায়িত্ব নে‌ওয়ার ছয় মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন সাবেক অলিম্পিয়ান ফারহাত খান। অবশ্য দায়িত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি `ব্যক্তিগত কারণ’ হিসেবই দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তান কাস্টমসে সম্প্রতি আমার প্রমোশন হয়েছে। দায়িত্ব‌ও বেড়েছে। কিন্তু দলকে এবং চাকুরিতে সমানভাবে সময় দে‌ওয়ার মতো সময় আমার কাছে নেই। যদি‌ও আমি মনেকরি দু’টোই খুব গুরুত্বপুর্ন কাজ। তাই একটিকে বেছে নিয়েছি।

অবশ্য ফারহাত খানের পদত্যাগের মাত্র ঘন্টাখানেক আগেই খবর বের হয়েছিলো যে, পাকিস্তান হকি ফেডারেশন একজন বিদেশী কোচ খুজছে। আর এই পদে জার্মানের সাবেক অধিনায়ক ‌ও অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী ক্রিস্টিয়ান ব্ল্যাঙ্ক এগিয়ে আছেন।

হকি বিশ্বকাপের মাসকট উন্মোচন

প্রতিযোগিতা শুরুর এক বছর আগে বিশ্বকাপ হকির মাসকট উন্মোচন করলো আয়োজক ভারত। বুধবার ভারতের উড়িষ্যার রাজ্য সরকার ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ হকির মাসকট উন্মোচন এবং কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মাসকটের নাম রাখা হয়েছে ‌ওলি।

বিশ্বকাপের ১৪তম আসরটি হবে ভূবনেশ্বরে, আগামী বছরের ২৮ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বসেরা ১৬টি দল মাঠে নামবে শিরোপা লড়াইয়ে। স্বাগতিক ভারত ছাড়া‌ও অন্য দলগুলো হলো- ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কানাডা, পাকিস্তান, চীন, বেলজিয়াম, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া ‌ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

চট্রগাম হকি লিগে চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স

সিজেকেএস হারবার প্রথম বিভাগ হকি লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে, তারা ৩-০ গোলে হারায় মুক্ত বিহঙ্গকে।

খেলার প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটে শহীদুল্লাহর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাদার্স। এরপর ৫৫ মিনিটে বাপ্পী এবং ৭১ মিনিটে শিমুলের গোলে সহজ জয় পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ‌ও সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন। লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ব্রাদার্স ইউনিয়নের শিমুল এবং উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের পারভেজ।

হকি র‌্যাংকিংয়ে চার ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

বিশ্ব হকি র‌্যাংকিংয়ে চার ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ৩২ বছর পর ঘরের মাঠে বসে এশিয়া কাপ হকির দশম আসর। এই আসরে ষষ্ঠ হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়ে হকির বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়েও। আন্তর্জাতিক হকি র‌্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ৩৪তম স্থান থেকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ৩০তম স্থানে। বাংলাদেশের পয়েন্ট ২৯৮।

এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারত রয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠস্থানে। তাদের পয়েন্ট ১৪৬১। রানার্স-আপ মালয়েশিয়া উঠে এসেছে ১২তম স্থানে। তাদের পয়েন্ট ৯৭৫। ৮৯৫ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান রয়েছে ১৩তম স্থানে। কোরিয়া রয়েছে ১৪তম অবস্থানে। তাদের পয়েন্ট ৮৫৩। চীন রয়েছে ১৭তম স্থানে। আর ওমান রয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৩২-এ।

১৮৪৫ পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৮২৫ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়ামের পয়েন্ট ১৭৯০। ১৬৮৩ পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডস চতুর্থ আর ১৬০০ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি রয়েছে পঞ্চম স্থানে।

চলে গেলেন খাজা রহমতউল্লাহ

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বিদায় জানানো হলো জাতীয় হকি দলের সাবেক কৃতি খেলোয়াড় ও হকি ফেডারেশনের সাবেক সাধারন সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহকে। আজ বুধবার সকালে আবাহনী ক্লাবে তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে হাজির হন সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট সবাই। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৬ বছর। তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রিয় ক্লাব আঙ্গিনায় খাজা রহমতউল্লাহ আবারো এলেন। তবে এবার পায়ে হেটে নন, অন্যের কাঁধে চেপে, নিথর দেহে। ক্রীড়াঙ্গনের যে মানুষগুলোর সাথে চোখে চোখ রেখে দিন ভর কথা হতো খেলা নিয়ে, আজ তারা আবারো আসলেন তবে খাজা রহমতউল্লাহ তখন অনন্ত ঘুমে। চলে গেছেন তখন না ফেরার দেশে।

বিদায় বেলায় সিক্ত হয়েছেন এক সময়ের সতীর্থ আর শিষ্যদের ভালোবাসায়। শোক জানিয়েছেন ফুটবলার, ক্রিকেটার সহ জাতীয় সংসদের সদস্যরাও।

খাজা রহমতউল্লাহ আবাহনী ক্লাবের হকি কমিটির সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। ২০১১ সালে দায়িত্ব নিয়েছিলেন হকি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদকেরও। তবে খাজা রহমতউল্লাহর বড় পরিচয় তিনি ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার।

কিছুদিন আগেই চলে গিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য এবং আবাহনীর কোচ অমলেস সেন। এবার খাজা রহমতউল্লাহর মৃত্যু ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি করলো শুন্যতা।

পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ভারত

মর্যাদার লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ৪-০ গোলে ধরাশায়ী করে এশিয়া কাপ হকির ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। আজ শনিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ে প্রায় দেড় ঘন্টা পর শুরু হওয়া এ ম্যাচে একটি করে গোল করেন সাতবির সিং, হারমান প্রীত, ললিত উপাধ্যায় ও গুরজান্ত সিং। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়েও পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে পরাস্ত করেছিল ভারত। আগামীকাল রোববার একই ভেন্যুতে বিকেল সাড়ে ৫টায় দক্ষিণ কোরিয়া-মালয়শিয়া ম্যাচের ফাইনালিষ্টের বিরুদ্ধে শিরোপা জন্য লড়াই করতে নামবে র‌্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে থাকা দল ভারতকে।

এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো ফাইনাল খেলার টিকিট পেলো ভারতীয়রা। তারমধ্যে দুইবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে তারা। ফাইনালে জিততে পারলে শিরোপা পূণরুদ্ধার হবে তাদের। ২০০৭ সালে সর্বশেষ শিরোপার দেখা পেয়েছিল ভারত। এরপর বেশ কয়েকটি আসরের ফাইনাল খেললেও শিরোপা অধরাই থেকে যায়।
পাকিস্তান-ভারত লড়াই মানেই অন্যরকম এক উত্তেজনা। সেটা হোক ক্রিকেট কিংবা হকি। এ দুই দলের দ্বৈরথ মানেই মর্যাদা ও স্নায়ু চাপের লড়াই। উপমহাদেশের সবচেয়ে আকর্ষনীয় এ হকি ম্যাচ দেখতে মাঠে ছুঁটে এসেছিলেন হাজার পাঁচেক দর্শক। দুই দলের লড়াইটাও ছিল উত্তেজনার পারদে ঠাঁসা। আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে দারুন জমে উঠেছিল ম্যাচটি। তবে ভারতের চেয়ে প্রথমার্ধে আক্রমনে অনেকটাই এগিয়ে ছিল পাকিস্তান।

‘সুপার ফোর’ রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে হারতে হারতে ড্র করে শিরোপা প্রত্যামী ভারত। পরের ম্যাচে মালয়শিয়াকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালের পথ অনেকটাই পরিচ্ছন্ন করেছিল তারা। ‘সুপার ফোর’ রাউন্ডের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তারা।

প্রথমার্ধেই দু’দল গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করে। এ অর্ধে চারটি পিসি পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু একটিও কাজে লাগাতে পারেনি। ভারতীয় গোলরক্ষক আকাশ চিকতে দু’টি আক্রমন নসাৎ করে দেন। আর ১০ মিনিটে আবু মামুদের নেয়া শট পোষ্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় পাকিস্তানকে। ভারত যে দু’টি পেনাল্টি কর্নার পেয়েছিল, সেগুলোও কাজে লাগাতে ব্যর্থ য়েছে। ম্যাচের ২৯ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি। কিন্তু হারমান প্রীত সিংয়ের নেয়া জোড়ালো শট ক্রসপিচে লেগে ফিরে আসলে গোলের মুখ দেখা হয়নি তাদের।

তবে তৃতীয় কোয়ার্টারেই পাল্টে যায় ভারতের খেলার ধরন। আক্রমনে কোনঠাসা করে ফেলে পাক শিবিরকে। সেই আক্রমনের ফল পেয়ে যায় ৩৯ মিনিটে। ফিল্ড থেকে দারুন এক শটে গোল আদায় করে দলকে আনন্দে ভাসান সাতবির সিং (১-০)। পাঁচ মিনিট পর আবারো পেনাল্টি পেয়ে যায় র‌্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে থাকা দলটি। কিন্তু পাকিস্তানী গোলরক্ষক আমজাদ আলী দক্ষতার সাথে পেনাল্টি প্রতিহত করেন। তবে ৫১ মিনিটে ভারতের পেনাল্টি কর্নার আর রুখতে পারেননি আমজাদ আলী। হারমান প্রীতের শট সরাসরি আশ্রয় নেয় জালে (২-০)। এক মিনিটের ব্যবধানে গোলের গ্রাফটটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান ললিত উপাধ্যায় (৩-০)। ছন্নছাড়া য়ে যায় পাকিস্তানের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে ৫৭ মিনিটে ভারতের উৎসবটা আরো রাঙ্গিয়ে দেন গুরজান্ত সিং (৪-০)।

জাপানের কাছে হেরে ষষ্ঠ বাংলাদেশ

আগেই ঘোষণা ছিলো এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ষষ্ঠ স্থান পাওয়া। চীনকে পেনাল্টি শ্যূট আউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে আগের ম্যাচেই সেই স্বপ্নপুরণ বাংলাদেশের। পঞ্চম স্থান র্নিধারণী ম্যাচে লক্ষ্য ছিলো জাপানকে হারিয়ে গ্রুপ র্পবে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া। কিন্তু হলো না। মওলানা ভাাসানী হকি স্টেডিয়ামে ৪-০ গোলে হেরে ষষ্ঠ স্থান নিয়েই তুষ্ট থাকে জিমি-রা।

গতকাল বৈরী আবহাওয়ার কারনে ম্যাচটি নির্ধারীত সময়ের ৪০ মিনিট পর মাঠে গড়ায়। ম্যাচের আগে মাঠ পরিদর্শন করেন অম্পায়ার, টুর্নামেন্ট ডাইরেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৃষ্টি থামলেও টার্ফের কিছু জায়গায় অতিরিক্ত পানি জমে ছিল। সেই পানি নি:স্কাশন করে অবশেষে ৪০ মিনিট বল মাঠে গড়ায়।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে শুরু থেকে স্বাগতিকদের চেপে ধরে জাপান। কিন্তু প্রথম কোয়ার্টারে তারা গোল আদায় করতে পারেনি। বাংলাদেশ তাদের রক্ষণভাগ অঁটুট রেখেছিল। দ্বিতীয় কোয়ার্টার শুরুর দুই মিনিটের মধ্যেই জিমিদের জালে বল পাঠিয়ে জাপানকে আনন্দে ভাসান সুটা ইয়ামাদা (১-০)। প্রথমার্ধে ম্যাচে ফিরে আসতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিল লাল-সবুজরা। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় সেটা আর সম্ভব হয়নি।

তৃতীয় কোয়ার্টারেও দারুনভাবে নিজেদের খেলাটা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। তখনো স্কোর লাইন ছিল ১-০ তেই ছিল। কিন্তু শেষ কোয়ার্টারে আর জাপানের গতির সামনে দাঁড়াতে পারেনি মাহবুব হারুনের শিষ্যরা। নিজেদের অসহায়ত্বই কেবল প্রমান দিয়েছে লাল-সবুজরা। প্রথম ৮ মিনিটেই তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকেই ছিঁটকে পড়ে বাংলাদেশ। সেই সাথে পঞ্চম স্থানে থাকার স্বপ্নটাও ধুলিসাৎ হয়ে যায়। এ তিনটি গোল এসেছে কেঞ্জি, কাজুমা ও তানাকার ষ্টিক থেকে। শেষ পর্যন্ত ৬ষ্ঠ স্থানেই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছে জিমি-চয়ন-ফরহাদদের।

ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি

এশিয়া কাপ হকির ‘সুপার ফোর’ রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ড্র করলো ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায়, আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে বেশ জমে উঠেছিল ম্যাচটি। ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোল শূণ্য ড্র। তৃতীয় কোয়ার্টারে গিয়ে অবশেষে গোলের দেখা পায় কোরিয়ানরা। ম্যাচের ৪১ মিনিটে ভারতীয় গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে ফিল্ড গোল করেন লি জুংজুন (১-০)। উল্লাসে মেতে উঠে দক্ষিণ কোরিয়া শিবির।

শেষ কোয়ার্টারে ম্যাচে ফিরতে দক্ষিণ কোরিয়ার উপর বেশ চাপ প্রয়োগ করেছিল গত আসরের রানার্সআপরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ফাঁটল ধরাতে পারছিল না।অবশেষে খেলার শেষ মিনিটে গুরুজান্ত সিং জটলা থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

‘সুপার ফোর’ রাউন্ডে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া।

সুপার ফোরে পাকিস্তানকে হারিয়ে চমকে দিলো মালয়শিয়া

এশিয়া কাপ হকির ‘সুপার ফোর’ রাউন্ডের প্রথম ম্যাচেই চমক দেখিয়েছে মালয়শিয়া। গত আসরের তৃতীয় স্থান পা‌ওয়া পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে পরাস্ত করে ‘সুপার ফোর’ রাউন্ডে জয় তুলে নিয়েছে তারা। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মালয়শিয়া।

আজ বুধবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বিকেলের ম্যাচে রহিম রাজি, সাবাহ সাহরিল ও সারি ফিতরি একটি করে গোল করেন। আর পাকিস্তানের হয়ে গোল করেন মোহাম্মদ ওমর ভুট্টো ও মোহাম্মদ ইয়াকুব।

ম্যাচ শুরুর পরই মালয়শিয়াকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন দল পাকিস্তান। প্রথম মিনিটেই ফিল্ড গোল করে পাক শিবিরকে উচ্ছ্বাসে মাতিয়ে তুলেছিলেন মোহাম্মদ ওমর ভুট্টো (১-০)। কিন্তু তাদের সে হাসি খুব বেশী সময় স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১০ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে মালয়শিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন রহিম রাজি (১-১)।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও সমান তালেই লড়াই হচ্ছিল। আবরো মালয়শিয়াকে পেছনে ফেলে দেয় পাকিস্তান। এবার গোলের নায়ক মোহাম্মদ ইয়াকুব (২-১)। পিছিয়ে পড়ার ৬ মিনিটের মধ্যে ম্যাচে আবারো উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে মালয়শিয়া। সমতাসূচক গোলটি আসে সাবাহ সাহরিলের ষ্টিক থেকে (২-২)।

প্রথমার্ধে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়া মালয়শিয়া দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাকিস্তানকে চমক দেখায়। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে পেনাল্টি স্টোক আদায় করে নেয় গত আসরের চতুর্থ হওয়া দলটি। আর সেই স্টোক থেকে গোল করে দলকে জয়ের মুখ দেখান সারি ফিতরি (৩-২)।

শুক্রবার একই ভেন্যুতে মালয়শিয়া মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ভারতের। আর পাকিস্তান লড়বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে।

স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিমিদের প্রতিপক্ষ চীন

গ্রুপ ম্যাচের তিনটিতে পরাজিত হলে‌ও এশিয়া কাপ হকিতে স্বাগতিক বাংলাদেশর সম্ভাবনা আছে পঞ্চম হওয়ার। তবে সেটা করতে হলে রীতিমতো অসাধ্যই সাধান করতে হবে ষষ্ঠস্থানের লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশের। এই লড়াইয়ে স্থান নির্ধারণী প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্য গ্রুপে তৃতীয় হওয়া চীনকে পেয়েছে স্বাগতিক দল।

গতকাল সোমবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৪-২ গোলে হারা চীন ৩ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে তৃতীয়। দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় দক্ষিণ কোরিয়া উঠেছে সেরা চারে।

‘বি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ওমানকে ৭-১ গোলে হারায় মালয়েশিয়া। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে দলটি। কোনো পয়েন্ট না পাওয়া ওমান হয়েছে চতুর্থ।

বাংলাদেশ আগামী বৃহস্পতিবার চীনের মুখোমুখি হবে। এ ম্যাচে জিতলে জিমিরা পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে ওমান-জাপান ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে।

হারলে খেলতে হবে সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও ভারতের কাছে ৭-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে জাপানের কাছে মাহবুব হারুনের দলের হার ৩-১ গোলে। ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেরা চারে উঠেছে ভারত ও পাকিস্তান।

শেষ দল হিসেবে সুপার ফোরে দক্ষিণ কোরিয়া

সর্বশেষ দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার দশম এশিয়া কাপ হকি শুরু হয়েছিল ওমানকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। তবে চ্যাম্পিয়নের মতো শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই কোরিয়ানরা হেরে বসে মালয়েশিয়ার কাছে। যে হারটি চ্যাম্পিয়নদের সুপার ফোর নিশ্চিত করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে গ্রুপ পর্বের শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

সোমবার সন্ধ্যায় মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চারবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়া ৪-১ গোলে চীনকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে নাম লেখায় সুপার ফোরে।

গ্রুপ পর্ব শেষ। একদিন বিরতি দিয়ে বুধবার শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় পর্ব। যেখানে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ৪ দল খেলবে সুপার ফোরে এবং শেষ ৪ দল খেলবে পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ।

সুপার ফোরের খেলা শুরু হবে মালয়েশিয়া-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে বুধবার বিকেল ৩ টায়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ভারত খেলবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে। রাত ৮টায় স্থাননির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে জাপান-ওমান।

চোখ বুলানো যাক শেষ হওয়া গ্রুপ পর্বে। ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত ও ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মালয়েশিয়া আছে অপরাজিত। সব ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ ও ওমান। তিন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১৭ গোল খেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের জালে সবচেয়ে কম গোলও (১টি) দিয়েছে স্বাগতিকরা। সবচেয়ে বেশি ১৬ গোল মালয়েশিয়ার, তারপর ভারত ১৫ গোল।

পাকিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি ভারত

ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই এক অন্যরকম উত্তেজনা। সেটা হোক ক্রিকেট কিংবা হকি। এ দুই দলের দ্বৈরথ মানেই মর্যাদা ও স্নায়ু চাপের লড়াই। তেমনি এক স্নায়ু যুদ্ধে আজ রোববার এশিয়া কাপ হকিতে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই পরাশক্তি। উপমহাদেশের সবচেয়ে আকর্ষনীয় এ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে পরাস্ত করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করলো ভারত।

টানা তিন জয়ে তাদের অর্জন ৯ পয়েন্ট। অন্যদিকে, পাকিস্তান এক জয়, এক ড্র ও সমান পরাজয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে জাপানকে পেছনে ফেলে ‘সুপার ফোর’ নিশ্চিত করেছে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলতে যেমন উত্তেজনার পারদের ঠাঁসা থাকার কথা, তার ছিঁটেফোঁটাও ছিলো না মাঠের লড়াইয়ে। দু’দলই ব্যর্থ হয়েছে গতি আর কৌশলী খেলা উপহার দিতে।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে ভারতের সাথে লড়াইটা বেশ জমিয়ে তুলেছিল পাকিস্তান। আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে বেশ জমে উঠেছিল ম্যাচ। কোনো দলই গোল আদায় করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে নিজেদের শক্তির প্রমান দিয়ে চিড়প্রতিদ্বন্দ্বিদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় ভারত।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে চিংলেনসানার ফিল্ড গোলে উৎসবে মেতে উঠে মানপ্রীত সিংবাহিনী। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে ভারত দ্বিতীয়ার্ধর প্রথম কোয়ার্টারে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করে ফেলে ভারত। ঐ কোয়ার্টারের শেষ দুই মিনিটে টানা দুই গোল করে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিঁটকে ফেলে দেয় তারা। ৪৪ মিনিটে রামানদীপ সিং ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ২-০তে নিয়ে যান। আর এক মিনিট পরেই পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত সিং (৩-০)।

শেষ কোয়ার্টার শুরুর চতুর্থ মিনিটে পাকিস্তানের সান আলী ফিল্ড গোল আদায় করে ব্যবধান একটু কমিয়ে আনেন মাত্র (৩-১)। আগামী বুধবার ভারত ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের বিরুদ্ধে লড়াই করবে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে।

জাপানের কাছেও বাংলাদেশের পরাজয়

এশিয়া কাপ হকিতে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে জাপানের কাছে হারলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার শেষ দুই মিনিটে দুই গোল খেয়ে ড্র করা হলো না জাপােনর সঙ্গে। ৩-১ গোলে পরাজিত হয় স্বাগতিকরা।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার প্রথম কোয়ার্টারে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। খেলার ২২ মিনিটে কেনজি কিতাজাতোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। ২৮ মিনিটে ম্যাচে ১-১-এ সমতা ফেরান, মামুনুর রহমান চয়ন। তৃতীয় কোয়ার্টারেও চলে সমানে সমানে লড়াই। ড্রয়ের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল খেলা।

খেলার শেষ দুই মিনিটে জাপানের কেনতা তানাকা দুটি গোল করে জাপানের ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। এতে তিন ম্যাচেই হেরে গ্র“প পর্ব শেষ করলো বাংলাদেশ। আর এতে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেলেও সেমিফাইনাল খেলতে হলে জাপানকে তাকিয়ে থাকতে হবে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের দিকে।

দক্ষিণ কোরিয়াকে চমকে দিলো মালয়শিয়া

এশিয়া কাপ হকির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়া। আর মালয়শিয়া চতুর্থ। সেই চ্যাম্পিয়ন দলকেই আজ সন্ধ্যায় ২-১ গোলে পরাস্ত করে চমক দেখিয়েছে র‌্যাংকিংয়ের ১৩ নম্বর স্থানে থাকা মালয়শিয়া। অথচ টুর্নামেন্টের শুরুতে ওমানকে কি ঘোল পানিটাই না খাইয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাস্ত করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল এশিয়া কাপের চারবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি।

টানা দুই জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সবার আগে ‘সুপার ফোর’ নিশ্চিত করলো মালয়শিয়া। তাদের ঝুলিতে আছে ৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের পয়েন্ট সমান (৩ পয়েন্ট) হলেও গোল গড়ে এগিয়ে আছে কোরিয়ানরা। সোমবার একই ভেন্যুতে ‘সুপার ফোর’ নিশ্চিতের কঠিন লড়াইয়ে চীনের মুখোমুখি হতে হবে দক্ষিণ কোরিয়াকে।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চীনকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল মালয়শিয়া। গতকালও শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া শিবিরে একের পর এক আক্রমন করে ম্যাচ নিজেদের পক্ষেই রাখে দলটি। তবে গোলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় দ্বিতীয় কোয়ার্টার পর্যন্ত। এই কোয়ার্টারের শুরুতেই অগ্নিমূর্ত ধারন করেন মালয়শিয়ান প্লেয়াররা। সংঘবদ্ধ আক্রমনে ম্যাচের ১৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ফিল্ড গোল থেকে দলকে এগিয়ে নেন ফাইজাল সারি (১-০)। দুই মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান ২-০তে নিয়ে যান আজরি হাসান। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করেন তিনি (২-০)।

টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচের ২৭ মিনিটে এসে গোলের দেখা পায়। সুংহন লি ফিল্ড গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনেন (২-১)। প্রথমার্ধে (দুই কোয়ার্টার) আর কোনো গোলের দেখা পায়নি কোন দলই।

দ্বিতীয়ার্ধে মালয়শিয়া নিজেদের রক্ষণভাগ অক্ষুন্ন রেখে খেলতে থাকে। আর দক্ষিণ কোরিয়া গোল পেতে মরিয়া হয়ে উঠলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ দূর্গে ফাঁটল ধরাতে পারেনি। ফলে পরাজয়ের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ওমানের বিরুদ্ধে চীনের জয়

এশিয়া কাপ হকিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়শিয়ার কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুঁরে দাঁড়িয়েছে চীন। আজ শনিবার বিকেলে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে তারা ২-১ গোলে ওমানকে পরাস্ত করে। এ জয়ে শেষ চারের আশা অনেকটাই টিঁকিয়ে রাখলো চীন। দুই ম্যাচ শেষে তাদের ঝুলিতে জমা আছে ৩ পয়েন্ট। সোমবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে এশিয়া কাপের চারবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার।

ম্যাচের শুরু থেকেই ওমানকে চেপে ধরেছিল চীন। ম্যাচের ৭ মিনিটে এগিয়েও যায় দলটি। পেনাল্টি স্টোক থেকে দলকে এগিয়ে নেন টালাকি ডু (১-০)। উতসবে মেতে উঠা চীনের কপালে সে সুখটা খুব বেশী স্থায়ী হতে দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৭-২ গোলে হারা ওমান। পরের মিনিটেই ম্যাচে ফিরে আসে পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল আদায় করে। গোল এসেছে রাশেদ ফাজারির ষ্টিক থেকে (১-১)।

প্রথম কোয়ার্টারে আর কোনো গোল হয়নি। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও চীনকে আর গোল দিতে দেয়নি ওমানের রক্ষণভাগ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম কোয়ার্টারের শেষ মুহুর্তে আবারো এগিয়ে যায় চীন। কুয়াং গুনের ফিল্ড গোলে ওমানকে পেছনে ফেলে দেয় দলটি (২-১)। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চীন।

জাপানকে হারাতে চায় বাংলাদেশ

এশিয়া কাপ হকিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামীকাল জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রস্ততি ম্যাচে তাদের বিপক্ষে জয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করেন, কোচ মাহবুব হারুন। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, কাল বিকেল তিনটায় টার্ফে নামবে দু দল। এদিকে হাইভোল্টেজ ম্যাচে একইদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় লড়াইয়ে নামবে চিরপ্রতিদ্ব্ন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান।

গ্রুপ পর্বের দু ম্যাচে ১৪ গোল হজম করে মানসিকভাবে এখন অনেকটাই পিছিয়ে স্বাগতিকরা। কোচ মাহবুব হারুন যে কৌশলই শেখান না কেনো রাসেল মাহমুদ জিমিরা ম্যাচে নেমেই তা গুলিয়ে ফেলছেন। আর তাই রক্ষণ থেকে আক্রমন সব বিভাগেই একেবারেই নিস্প্রভ খেলোয়াড়রা। কোচ আশা করছেন শিষ্যরা দু ম্যাচের ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষাটা এবার কাজে লাগাবেন। কোচ মাহবুব হারুন জানান, জাপানকে হারানোই তার লক্ষ্য। ‘আগের দুই ম্যাচের মতো যদি আমরা মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকি, তাহলে তো সম্ভব না। তারপরও আমি আশাবাদী। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলব, আর যে কয়েক ঘণ্টা হাতে আছে, তাদের সঙ্গে আলাপ করব। ভিডিও দেখব। এ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। আমরা ৩ পয়েন্টের জন্যই নামব-বাকিটা যা হয়, দেখা যাবে।’

অবশ্য চোট সমস্যায় সেরা একাদশ সাজানো নিয়ে দুর্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। হারুন জানালেন, ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন। মাঝমাঠের সমস্যাও দল কাটিয়ে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি। ‘পিন্টু-খোরশেদ-জিমির চোট আছে। আজ তিনজন অনুশীলন করেনি। দেখি ফিজিও তাদের নিয়ে কি বলে। পিন্টু অ্যাঙ্কেলে ব্যাথা পেয়েছে। জিমিরও একই সমস্যা। খোরশেদের ওপর কালকের ম্যাচে চাপ গেছে, তবে সে খেলতে পারবে।’

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্ততি ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিলো ২-১ ব্যবধানে। তবে পাকিস্তানকে ২-২ গোলে রুখে দিয়ে জাপান নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিয়েছে।

আবার‌ও বড় পরাজয় বাংলাদেশের

হিরো দশম এশিয়া কাপে আবার‌ও বড় পরাজয় স্বাগতিক বাংলাদেশের। আগের ম্যাচের ভুলগুলো ভারতের সঙ্গে শুধরে নেওয়ার প্রত্যয় ছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির কোনো মিল পা‌ওয়া গেলো না। তাই পাকিস্তানের মতো ভারতের কাছেও ৭-০ গোলের বড় পরাজয়।

মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম কোয়ার্টারেই তিন গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। খেলার সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ডান দিক থেকে সতীর্থের পুশে গুরজান্ত সিংয়ের ফ্লিকে পরাস্ত গোলরক্ষক (১-০)।

দশম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আকাশদীপ(২-০)। কিছুটা সময় পরই ললিত উপাধ্যায় স্কোরলাইন ৩-০ করেন।

খেলার ২০ মিনিটে আরও কোণঠাসা হয়ে যায় বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে গুরজান্তের রিভার্স হিটে অমিত রোহিদাসের প্লেসিং ঠিকানা খুঁজে পায় (৪-০)। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের আগ মুহূর্তে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ব্যবধান আরও বাড়ান হারমনপ্রিত সিং (৫-০)।

তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারতকে আটকে রাখতে সক্ষম হয় জিমিরা। এ অংশে কোনো গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে পেনাল্টি কর্নার থেকে রামানদিপ সিং (৬-০) ও হারমানপ্রিত সিং (৭-০) ব্যবধান আরও বাড়ান।

জাপানকে ৫-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা ভারত টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে। একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় পাকিস্তান। ১ পয়েন্ট নিয়ে জাপান তৃতীয়। আর কোনো পয়েন্ট না পাওয়া বাংলাদেশ আছে তলানিতে।

এদিকে, শুক্রবার প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছে জাপান। আগামী রোববার গ্রুপের শেষ ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

মালয়েশিয়ায় বিধ্বস্ত চীন

এশিয়া কাপ হকিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দূর্দান্ত জয় পেয়েছে মালয়শিয়া। চীনকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা। আজ ম‌ওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এ ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি গোল করেন সারি ফয়জল। তাজুদ্দিন করেন দুই গোল। চীনের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন ওয়েনহুই।

চীন দলের এমন হতশ্রী অবস্থা দেখতে হবে, সেটা হয়তো ম্যাচের আগে কল্পনা করেন নি দলটির কোচ ডংউই লিও। কিন্তু মালয়শিয়া ময়দানী লড়াইয়ে চীনকে পাত্তাই দেয়নি। একের পর এক আক্রমন করে কোনঠাসা করে ফেলে তারা প্রতিপক্ষকে। প্রথম কোয়ার্টারে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা মালয়শিয়া দ্বিতীয় কোয়ার্টারেই নিজেদের জাত চেনায়। এ কোয়ার্টারে (প্রতি কোয়ার্টারে ১৫ মিনিট খেলা) আরো দুইবার চীনের জালে বল পাঠায় মালয়শিয়ানরা। আর তৃতীয় কোয়ার্টারে গুনে গুনে তিন গোল আদায় করে নেয় বিজয়ীরা।

গোল উৎসবটা শুরু করেছিলেন তাইজুদ্দিন। ১২ মিনিটেই ফিল্ড গোল করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় কোয়ার্টার শুরুর চার মিনিটের মধ্যে আরো দুই গোল করে মালয়শিয়া। ১৭ মিনিটে সারি ফয়জল ও দুই মিনিট পর আবারো গোল করেন তাইজুদ্দিন (৩-০)। তৃতীয় কোয়ার্টারে চীনকে নিয়ে ছেলে খেলায় মেতে উঠেছিল তারা। এ কোয়ার্টারে তিন গোল আদায় করে সাহরিল-সারিরা। ৩১ মিনিটে গোলের ব্যবধান ৪-০ তে নিয়ে যান সারি ফয়জল। চার মিনিট পর সাবাহ সাহরিল দলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন। ৪১ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল আদায় করে নেন সারি ফয়জল (৬-০)।

ম্যাচ থেকে ছিঁটকে পড়া চীন ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ব্যবধান ঘোঁচানো একমাত্র গোলটি করেন ওয়েনহুই (৬-১)। আর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে রুশলি রামাদান চীনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকে দেন (৭-১)।

পাকিস্তানের সামনে এ কোন বাংলাদেশ!

তিনি নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তবু তার কথা উঠলো ঘুরেফিরে। ১৯৮৫ সালের এশিয়া কাপ হকি যারা মাঠে গিয়ে দেখেছেন, যে সব ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ মানুষের মনে এখনো ৩২ বছর আগে হওয়া সেই হকি আসরের স্মৃতি ভাস্বর- তাদের সবার মুখেই জুম্মন লুসাইয়ের কথা।

ভাবছেন প্রায় তিন যুগ পর দেশে আবার মহাদেশীয় হকির সেরা আসর বসেছে, আর বাংলাদেশের হকি ইতিহাসের সব সময়ের অন্যতম সেরা ও সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার জুম্মন লুসাই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপাড়ে চলে গেছেন বলেই তার কথা মনে হচ্ছে!

হ্যাঁ, তা হচ্ছে অবশ্যই। তবে সেটা জুম্মন লুসাই একা নন, ১৯৮৫ সালের এশিয়া কাপ স্কোয়াডের বাকি দুই প্রয়াত সদস্য আব্দুল মালেক চুন্নু ও জসিমউদ্দীন কাঞ্চনের কথাও উচ্চারিত হচ্ছে। কিন্তু আজ এশিয়া কাপের প্রথম দিন জুম্মন লুসাইয়ের প্রসঙ্গ একটু বেশি করে উঠে আসছে ভিন্ন কারণে।

ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ৩২ বছর আগে দেশের মাটিতে প্রথম এশিয়া কাপে জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের যাত্রা। তখনকার ঢাকা স্টেডিয়াম আজকের বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। রক্ষণদূর্গের অতন্দ্র প্রহরি ও পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট জুম্মন লুসাই একাই সবগুলো গোল করেছিলেন। মোদ্দা কথা জুম্মন লুসাইয়ের অনবদ্য হ্যাটট্রিকে সূচিত হয়েছিল বাংলাদেশের জয়যাত্রা।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হচ্ছে, ইরানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবগুলো গোলই এসেছিল পেনাল্টি কর্নার থেকে। যার সবগুলোই করেছিলেন জুম্মন। আজ পাকিস্তানের সাথে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু দুরের কথা, ড্র‘ও করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারে শুরু হয়েছে জিমি-চয়নদের এবারের এশিয়া কাপ যাত্রা।

৩২ বছর আগে যার হ্যাটট্রিকে শুরু হয়েছিল এশিয়া কাপ, সেই জুম্মন লুসাই আজ বাংলাদেশ দলের খেলা দেখলে নিশ্চয়ই হতাশায় মুষড়ে পড়তেন। ৮৫‘র এশিয়া কাপ স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য কামরুল ইসলাম কিসমতের মন খারাপ। খেলা শেষে এ সাবেক সেন্টার ফরোয়ার্ডের কন্ঠে হতাশা- ‘ভাই খুশি হতে পারলাম না। আরও বেটার পারফরমেন্সের আশায় ছিলাম। আমরা পাকিস্তানের যে দলের সাথে সমান তালে লড়ে মাত্র ১ গোলে হেরেছিলাম, সেই পাকিস্তানের সাথে এই পাকিস্তানের তুলনাই চলে না। সেই দল ছিল বিশ্বসেরা। ১৯৮৪ সালের অলিম্পিক স্বর্ণ বিজয়ী দল। সেই দল ছিল বিশ্বসেরা। হানিফ খান, হাসান সর্দার, কলিমউল্লাহ ও কাশিম জিয়ার মত বিশ্বমানের প্লেয়ার ছিলেন ঐ দলে। কিন্তু আজ যে পাকিস্তান খেললো সেই দলে একজনও বিশ্ব মানের খেলোয়াড় নেই। এই দলের কাছে এত গোলে হার মেনে নেয়া কঠিন।’

৮৫‘র এশিয়া কাপ স্কোয়াডের সদস্য কিসমত একা নন, তার পরের প্রজন্মের অন্যতম কুশলী সেন্টার হাফ এহসান রানার কন্ঠেও হতাশা- ভাই পাকিস্তানের এই দলটি আহামরি কোন দল নয়। আমরা ২ থেকে ৩ গোলে হার পর্যন্ত ঠিক ছিল; কিন্তু এত বড় ব্যবধানে হারা উচিৎ হয়নি।

শুধু কিসমত আর রানাই নন, বুধবার জিমি বাহিনীর সামগ্রিক পারফরমেন্সে সত্যিই হতাশ সবাই। হতাশ হবার অনেক যৌক্তিক কারণ আছে। প্রথম কারণ, পাকিস্তানের যে দলটির সাথে ৩২ বছর আগে বাংলদেশ বুক চিতিয়ে ৭০ মিনিট প্রাণপন লড়ে মাত্র এক গোলে হেরেছিল- সেটা ছিল সে সময়ের বিশ্ব হকির অন্যতম সেরা দল।

যারা এক বছরেরও কম সময় আগে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির মত পরাশক্তিকে হারিয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক জিতেছিল। সে সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমাও গায়ে ছিল পাকিস্তানের। সেখানে এখন বিশ্ব হকিতে পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে পড়া দল। বর্তমান র্যাঙ্কিং ১৪।

সেই দলের কাছে ১৫ মিনিটের প্রথম কোয়ার্টারে প্রায় সমান তালে লড়ার পর ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে পরের ৪৫ মিনিটে ছয় গোল হজম করা একটু চোখে লাগে বৈকি। এমন নয়, আগে কখনোই পাকিস্তানের কাছে সাত গোল খায়নি বাংলাদেশ। খেয়েছে। এর চেয়ে অনেক বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড আছে।

১৯৭৮ সালে ব্যাংকক এশিয়াডে পাকিস্তানের কাছে ১৭-০ গোলের বিরাট ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে ১৯৮৫ সালের এশিয়া কাপেই পাকিস্তানীদের ভীত কাপিয়ে মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিলেন ওসমান, জুম্মন লুসাই, জসিমউদ্দীন কাঞ্চন, আব্দুল্লাহ পিরু, শাহাবউদ্দীন চাকলাদার, সালাউদ্দীন তিসারা।

এশিয়া কাপে আগের ছয় সাক্ষাতে সেটাই সবচেয়ে কম গোলে হার বাংলাদেশের। বাকি পাঁচবার যথাক্রমে- ১৯৮২ সালে ৯-০, ১৯৯০ সালে ৭-২, ১৯৯৯ সালে ৬-০ , ২০০৩ সালে ৮-০ আর ২০০৭ সালে সর্বশেষ এশিয়া কাপের মোকাবিলায় পাকিস্তানের কাছে ১০-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। আর এমনিতে গত দক্ষিণ এশীয় গেমসে শেষবারের সাক্ষাতে পাকিস্তানীরা ৬-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে।

তিন যুগ পর আবার ঘরের মাঠে এশীয় হকির আসরের উদ্বোধনী দিনে ৭-০ গোলের হারটাই কাটার মত বিঁধছে। জাগো নিউজের সাথে ব্যক্তিগত আলাপে ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম কামালের কন্ঠেও খানিক আক্ষেপের সুর- ‘আসলে দেশের মাটিতে মহাদেশীয় হকির উদ্বোধনী দিন পাকিস্তানের মত বড় দলের সাথে খেলার জন্য যে মানসিক দৃঢ়তা, লড়াকু মনোবল ও ভাল খেলার দৃঢ় সংকল্প দরকার, আমাদের খেলোয়াড়দের মাঝে তার কমতি ছিল। প্রথম ১৫ মিনিটের কোয়ার্টারে দারুণ খেলেছে তারা। পরের কোয়ার্টারেও লড়াইয়ে ছিল; কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে জিমির একক প্রচেষ্টা পাকিস্তান গোকিপারকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে প্রতিহত হবার পর থেকেই ছন্দপতন। তারপর থেকে ক্রমেই ব্যাকফুটে চলে গেছে দল।’

কি আশ্চর্য্য! ৩২ বছর আগেও পাকিস্তানের সাথে সাইডপোস্ট বাংলাদেশের সামনে চীনের প্রাচির হয়ে দাড়িয়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশ হেরেছিল এক মাত্র গোলে। পাকিস্তান অধিনায়ক ও প্লে মেকার হানিফ খানের বাঁ-দিক থেকে বাড়ানো বল স্টিকে জমিয়ে ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানার অনুপম প্রদর্শনীতে দারুণ এক গোলে বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে পাকিস্তানকে স্বস্তির এক জয় উপহার দিয়েছিলেন, সে সময়ের বিশ্বের এক নম্বর সেন্টার ফরোয়ার্ড হাসান সর্দার।

কাল জাগো নিউজের সাথে আলাপে সে গোলের বর্ননা দিয়েছেন ৮৫‘র এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল তথা ওই আসরের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় আব্দুল্লাহ পিরু।

পিরু জানান, ‘বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে বাঁ-দিক ঘেঁসে বল ধরে তা হাসান সর্দারকে দেন হানিফ খান। দীর্ঘদেহী হাসান সর্দার অসামান্য দক্ষতায় সেই বল স্টিকে নিয়ে শরীরের ঝাঁকুনি ও স্টিকের কারুকাজে আমাদের ডি বক্সের বাইরে কাঞ্চন ভাই ( প্রয়াত জসিমউদ্দীন কাঞ্চন ) আর নাসিম ভাইকে ( সেন্টার হাফ ওয়ালিউল ইসলাম, বর্তানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী) শরীরের ঝাটকায় ও ডজ দিয়ে পিছনে ফেলে ভিতরে ঢুকে পড়েন।

তার নিপুন স্টিকওয়ার্ক আর ড্রিবলিংয়ের কাছে জুম্মন ভাইয়ের (প্রয়াত জুম্মন লুসাই) মত তুখোড় ডিফেন্ডারও পরাস্ত হন। তার প্রতিরোধ ছিন্ন করে হাসান সর্দারকে থামাতে আমিও প্রাণপন চেষ্টা করেছিলাম। দ্রুত গতি সম্পন্ন হাসান সর্দারকে রুখতে ছুটে গিয়ে ফ্লাইং ডাইভ দিয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। আমাদের চারজনের গড়া রক্ষণ ফাঁদ ভেদ করে অসামান্য দক্ষতায় বলকে আমাদের গোলে পাঠিয়ে দেন হাসান সর্দার।’

বুধবার ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায়ও সেই সাইড পোস্ট বাংলাদেশের সমতার পথে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি বক্সে ঢুকে একটু ডান দিক থেকে দুরের পোস্টে যে মাঝারি প্লেসিং করেন, তা পাকিস্তান গোলকিপারের গ্লাভসে লেগে দুরের পোস্টে আঘাত হানে। গোল শোধের সেই চেষ্টায় ভাগ্য বাধা হয়ে দাড়ানোর পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা খানিক হদোদ্যম হয়ে পড়ে একের পর এক গোল হজম করতে থাকেন।

কিন্তু আজ যে পাকিস্তান দল খেললো, সে দলে হাসান সর্দার, হানিফ খান, কালিমউল্লাহ, নাসির আলী বহুদুরে, তাহির জামান, কামরান আশরাফ, কামার ইব্রাহিম এমনকি মাঝে পাকিস্তানের মাঝ মাঠ আগলানো সাকলাইন ও ইমরানদের মানেরও কেউ নেই।

কিন্তু সেই দলের সাথেও বাংলাদেশ হারলো ৭ গোলে। ৩২ বছর আগে পাকিস্তানের বিশ্ব সেরা দলের সাথে প্রিয় জাতীয় দলের প্রানপন লড়াই ও কঠিন সংগ্রাম দেখা অনেকেই আজ জিমি , চয়নদের অসহায় আত্মসমর্পন দেখে হতাশ।

৩২ বছর পর ঢাকায় হকি উৎসব

দীর্ঘ ৩২ বছর পর আবার এশিয়া কাপ হকি ফিরেছে ঢাকায়। এশিয়ার সেরা ৮ দলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন হকিপ্রেমীরা। কেবল হকিপ্রেমীদেরই নয়, এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মানুষের নজর থাকবে লাল-সবুজ জার্সিধারী এক ঝাঁক তরুণের দিকে। আয়োজনের সাফল্যে তারাই আনতে পারবে পূর্ণতা। যেমন হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এশিয়া কাপে।

এশিয়া কাপ হকি ফেডারেশন যেদিন ঢাকাকে দশম আসরের ভেন্যু করার সবুজ সঙ্কেত দিয়ে কিছু শর্ত জুড়ে দেয় সেদিন থেকেই আয়োজনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের। ফ্লাডলাইট স্থাপন করতে হবে, ডিজিটাল স্কোর বোর্ড বসাতে হবে, প্রেসবক্স, ড্রেসিং রুম, সম্প্রচার কক্ষ, আম্পায়ার্স কক্ষসহ আরও কত কিছু আধুনিক করার তাগিদ।

এসব করতে গিয়ে আয়োজক বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের অবস্থা লেজে-গোবরে হলেও সময়মতো এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সামনে আধুনিক এক হকি স্টেডিয়াম উপস্থাপন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। অপেক্ষার পালা শেষ। আজই (বুধবার) মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ে নামবে ৮ দেশ দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, জাপান, চীন, ওমান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ।

৩২ বছর আগের এবং এবার এশিয়া কাপের পার্থক্য অনেক। ১৯৮৫ সালের টুর্নামেন্ট হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ঘাসের মাঠে। এবার হবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে। বিশ্বের অনেক দেশ অনেক আগেই টার্ফের সঙ্গে পরিচিত হলেও বাংলাদেশের হকিপ্রেমীদের কাছে তা ছিল কল্পনার বাইরে। তবে বাংলাদেশের হকিও টার্ফের সঙ্গে পরিচয় নতুন নয়। এই তো মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামই দেখেছে দুটি টার্ফ। সবুজ টার্ফটিকে বিদায় দিয়ে দেশের একমাত্র হকি স্টেডিয়াম বুকে ধারণ করেছে নীল টার্ফ।

হকির নিয়ম-কানুনেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। টার্ফের ভুবনে প্রবেশ করার পর থেকে হকির আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিনিয়তই গবেষণা করছে নিয়মে আধুনিকতা আনতে। অফসাইড উঠিয়ে দেয়া, পেনাল্টি শুট আউটের প্রবর্তনসহ অসংখ্য পরিবর্তন এসেছে এ খেলাটির নিয়ম-কানুনে। সময়ের পরিবর্তনে স্টিকের জাদুও হয়েছে আরও মনোরম ও আকর্ষণীয়।

প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ আয়োজন বাংলাদেশের হকির ওপর পড়েছিল বিশাল প্রভাব। ওই টুর্নামেন্টের পর হকির বিপ্লব ঘটেছিল লাল-সবুজের দেশে। গাছের ডাল কেটে স্টিক বানিয়ে যেখানে সেখানে খেলতে নেমে যেত কিশোর-তরুণরা। ঠিক যেমন এখন দেখা যায় ক্রিকেটে। হকির সে জাগরণটা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এক সময় হকিকে ধরা হতো ফুটবলের পরই দেশের জনপ্রিয় খেলা। ধীরে ধীরে বিশ্বে হকির জনপ্রিয়তা বাড়লেও বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলেছে স্বকীয়তা।

ঘরের মাঠের এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ শক্তি আর সম্ভাবনায় পিছিয়ে সবার চেয়ে। র‌্যাংকিং বিবেচনায় আন্ডারডগ হয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কিন্তু কখনও কখনও র‌্যাংকিং আসল শক্তি মেলে ধরে না। মাঠের পারফরম্যান্স অনেক সময় র‌্যাংকিংকে উড়িয়ে দেয় তুরি মেরে। জিমিদের কাছে দেশের মানুষ সেটাই প্রত্যাশা করে।

হকি যতদিন শুধু ঘাসের মাঠের খেলা ছিল ততদিন দাপট ছিল ভারত-পাকিস্তানের। টার্ফের জগতে ঢোকায় এ দুই দেশের কাছ থেকে হকির শ্রেষ্ঠত্ব চলে যায় ইউরোপে। তবে এশিয়ায় এখনও পরাশক্তি হিসেবে টিকে আছে দক্ষিণ এশিয়ার এ দুই দেশ। যদি এশিয়ার সর্বশেষ দুই লড়াইয়ে বিজয়ের ঘোড়া ছুটিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ঢাকার এশিয়া কাপে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুরু করবে টপ ফেবারিট হিসেবে। তবে আবহাওয়া আর ভৌগোলিক দিকটা সমর্থন দেবে ভারত-পাকিস্তানকেও। বাংলাদেশের শক্তি ঘরের মাঠ আর পরিচিত দর্শক।

অতিথি সাত দেশের মধ্যে শক্তিতে বাংলাদেশের কাছাকাছি ছিল ওমান আর চীন। কিন্তু দুর্ভাগ্য স্বাগতিকদের এই দুই দেশ পড়েছে অন্য গ্রুপে। বাংলাদেশ পেয়েছে ভারত, পাকিস্তান আর জাপানকে। এ দেশ তিনটি শক্তিতে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। গ্রুপ পর্বে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো খেলা আর জাপানকে হারানোার টার্গেট নিয়েই বাংলাদেশ সব রণকৌশল সাজাচ্ছে।

হকি যারা বোঝেন এবং খেলাটির খোঁজখবর রাখেন তাদের কেউই জিমিদের কাছে বেশি চাইবেন না। তারা মনে করবেন না এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ হতে না পারলেও যেন তিন হয়। আসলে ৮ দেশের শক্তি বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেদের ৮ নম্বর থেকে উপরে ওঠা। বাংলাদেশের প্রধান কোচ মাহবুব হারুন সে লক্ষ্যই নির্ধারণ করেছেন। ছয়ে চোখ রেখেই তিনি প্রস্তুত করেছেন জিমি-চয়নদের।

হকির টুর্নামেন্টের ফরম্যাট একটু আলাদা। গ্রুপ পর্বের ফলাফলই সব নয়। পরের স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ পর্বে ভালো না করেও কোনো দল স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোয় ভালো করে অবস্থানের উন্নতি ঘটাতে পারে। যে কারণে টুর্নামেন্টের ৬টি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রুপ ঠিক হওয়ার পর থেকেই কোচ ওই ছয়ে রেখেছেন। তো ৬ নম্বরে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারলে কী হবে? এশিয়া কাপ সরাসরি খেলে এশিয়ার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ছয় দেশ। বাকি দুই দেশ আসে বাছাই পর্ব খেলে। বাংলাদেশ ওই বাছাই পর্বটাই এড়াতে চাচ্ছে ৬ নম্বর হয়ে। ‘পরের এশিয়া কাপের বাছাই পর্ব এড়ানোর জন্য ৬ নম্বরে থাকার চেষ্টা করব আমরা’-প্রধান কোচ মাহবুব হারুন এক কথায় তার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন।

গ্রুপ প্রসঙ্গে জিমিদের কোচ বলেছেন,‘গ্রুপটা অনেক কঠিন হয়েছে আমাদের। অন্য গ্রুপে পড়লে ভালো হতো। যদিও আমাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলো। গ্রুপে তৃতীয় হতে পারলে স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি পড়বে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের সঙ্গে। ‘বি’ গ্রুপে পড়লে ৩ নম্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। এমন গ্রুপে পড়ায় লক্ষ্যটা একটু কঠিনই হয়েছে।’

বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট শুরু করতে হচ্ছে একটা বড় পরীক্ষা দিয়েই। সে পরীক্ষার নাম পাকিস্তান। এশিয়া কাপের সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলটির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচে বাংলাদেশ কেমন খেলে তার ওপরই নির্ভর করছে দলের পরের ম্যাচগুলো দর্শক কতটা টানতে পারবে। হকি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যদি লড়াই করতে পারে তাহলে এবারও দর্শকের ঢল নামবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে।

৮৫’র এশিয়া কাপ হকি দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট

৩২ বছর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্ট ছিল নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৮৫ সালের আগে বাংলাদেশে অনেক টুর্নামেন্টের আয়োজন হলেও ওই এশিয়া কাপ হকি স্বাধীন বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল নিয়ে কোনো প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। এর আগে আগা খান গোল্ড কাপ ফুটবল, ২০তম এশিয়ান যুব ফুটবল, প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ ফুটবল ইত্যাদি আয়োজিত হলেও তার কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল নিয়ে ছিল না। এমনকি আয়োজিত হয়েছিল এশিয়ান সাঁতার প্রতিযোগিতাও। সেটিও দলগত কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না।

এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দেশের হকিতে তৈরি হয়েছিল আলোড়ন। ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম) টইটম্বুর গ্যালারির সামনে ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের স্মৃতি এখনও অনেকের মনে গেঁথে আছে। হকি স্টিকেও যে জাদু আছে, সেটা তখন অনেক বেশি অনুধাবন করতে পেরেছিলাম ওই এশিয়া কাপের মধ্যে দিয়ে। পান করেছিলাম হকির অমীয় সুধা।

ওই বছর ২০ থেকে ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকি। ১০ জাতির ওই টুর্নামেন্টে খেলেছিল ওই সময়ের বিশ্বকাপ, অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান, বিশ্ব হকির অন্যতম পরাশক্তি সাবেক অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইরান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও শেষ মুহুর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেয় ম্যাকাও ও ওমান।

তখন পর্যন্ত হকিতে জয়জয়কার ছিল পাকিস্তান এবং ভারতের। উপমহাদেশের এই দুই দেশের উপস্থিতিতে গড়িয়ে পড়ে উত্তেজনার লাভা। আর বাংলাদেশে এই দুই দেশের খেলার কথা জানার পর টগবগিয়ে ফুটতে থাকেন ক্রীড়ানুরাগীরা। শৈল্পিক হকির এই দুই প্রতিনিধি ফাইনালে খেলবে, এমন স্বপ্নে বিভোর হন হকির সমঝদাররা। এ কারণে এই টুর্নামেন্ট নিয়ে দারুণভাবে সাড়া পড়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক হকি টুর্নামেন্ট আয়োজনের মতো কোনো ভেন্যু বাংলাদেশে ছিল না। আর হকির দুনিয়া অ্যাস্ট্রো টার্ফের জগতে প্রবেশ করলেও বাংলাদেশের কাছে তখন সেটা সুদূরের স্বপ্ন। ঢাকা স্টেডিয়ামের ঘাষের মাঠই ছিল সব খেলার বিচরণ ক্ষেত্র।

নবীন ক্রীড়ালেখক হিসেবে ওই টুর্নামেন্টটি আমাকেও ব্যাপক আলোড়িত করে। প্রেসবক্সে বসে এমন একটি টুর্নামেন্ট কভার করার আনন্দে দারুণভাবে রোমাঞ্চিত হই। তখনও ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে হাতেখড়ি হয়নি। ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করি। সে সময় ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া লেখকের সংখ্যাও ছিল অপ্রতুল। তাছাড়া স্টেডিয়াম এলাকায় যাদের বিচরণ ছিল, তাদের পরস্পরের সঙ্গে পরস্পরের কম-বেশি চেনা-জানা ছিল। এ কারণে প্রেস কার্ড পেতেও কাঠখড় পোড়াতে হয়নি।

ওই এশিয়া কাপের আগে হকিতে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো না থাকা সত্ত্বেও লাল-সবুজ দল নিয়ে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কোচ প্রতাপ শঙ্কর হাজরা আর এহতেশাম সুলতানের অধীনে দলটি অনেক দিন নিবিড় প্রশিক্ষণ নেয়। যদিও দলের বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় আহত ছিলেন। সিনিয়র একাধিক খেলোয়াড় খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

জাতীয় দলে শাহবুদ্দিন চাকলাদারকে দলভুক্ত করা নিয়ে প্রতিবাদ জানান দুই কোচ; কিন্তু তাদের প্রতিবাদকে গুরুত্ব না দিয়ে সিলেকশন কমিটি তাকে দলভুক্ত করে। এ কারণে তারা কোচিং করানো বন্ধও করে দেন। এ ঘটনায় প্রতাপ শঙ্কর হাজরাকে ১০ বছর এবং এহতেশাম সুলতানকে ৫ বছর সাসপেন্ড করা হয়। শেষ মুহুর্তে তাদের পরিবর্তে কোচের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী ম্যানেজার মো. মহসীন।

নবীন ও প্রতিভাবানদের নিয়ে গড়া দলটির অধিনায়ক করা হয় ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন চাকলাদারকে। দলের অন্য খেলোয়াড়রা হলেন সালাহউদ্দিন চৌধুরী টিসা (সহ-অধিনায়ক), নায়েক ওসমান, ইসলাম নাসিম, জুম্মন লুসাই, খাজা আরজু রিজওয়ান, জসিমউদ্দীন আহমেদ কাঞ্চন, জামিল পারভেজ লুলু, মো. আলমগীর চুন্নু, আবদুল মালেক চুন্নু, খাজা মো. ড্যানিয়েল, মো. বরকতউল্লাহ চপল, নায়ক জাহাঙ্গীর আলম, কামরুল ইসলাম কিসমত, আবদুল্লাহ পিরু ও মো. সহিদুল্লাহ। ম্যানেজার ছিলেন সাব্বির ইউসুফ।

দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকিকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ঢাকা। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে ইরানকে হারিয়ে দেয়। আর এ জয়ের মূল নায়ক ছিলেন জুম্মন লুসাই। ফুলব্যাকের এই খেলোয়াড় হ্যাটট্টিক করেন। কোনো বিদেশি দলের পক্ষে এটি ছিল বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম হ্যাটট্টিক। পেনাল্টি কর্নার থেকে দুটি এবং পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে একটি গোল করেছিলেন জুম্মন লুসাই। তবে গোল সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগানো যায়নি। নতুবা অনেক বড় ব্যবধানে জিততে পারত বাংলাদেশ।

শক্তিশালী জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ সমানতালে লড়াই করে। এক গোলে পিছিয়ে পড়েও অদম্য মনোবল আর লড়াকু মনোভাব দিয়ে সমতা নিয়ে আসে। খেলার শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করেন জাপানের তাকামোরি। পেনাল্টি স্ট্রোকের প্রতিবাদে উত্তেজিত দর্শকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে খেলা ১৬ মিনিট বন্ধ থাকে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অনুরোধে দর্শকরা শান্ত হয়। এক মিনিটের ব্যবধানে দর্শনীয় গোলে সমতা আনেন সালাহউদ্দিন টিসা। ইরানের বিপক্ষে জয়ের পর জাপানের সঙ্গে ড্র করায় হকি অনুরাগীরা উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। 

চীনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করাটাও ছিল বাংলাদেশের বড় সাফল্য। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতা আনাটা ছিল অসাধারণ। দুই গোল হজমের পর জ্বলে ওঠে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় গোল খাওয়ার ৪ মিনিটের মধ্যে নাসিম গোল করে ব্যবধান কমান। দ্বিতীয়ার্ধের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোকে সমতা আনেন মালেক চুন্নু।

ইরানকে হারানোর পর জাপান এবং চীনের সঙ্গে ড্র করার পর উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে পুরো দেশ। বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে থাকেন দেশের মানুষ। পাকিস্তানের সঙ্গে খেলাকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামে দর্শকের বাধভাঙা জোয়ার নামে। কানায় কানায় ভর্তি হয়ে যায় স্টেডিয়াম। দুর্ধর্ষ পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যে ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন, তাতে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন ক্রীড়ানুরাগীরা।

শুরু থেকে দেখা যায় সাহসী এক বাংলাদেশকে। এই বাংলাদেশকে আগে কখনও দেখা যায়নি। চাপের মুখে ভেঙে না পড়ে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে। লড়াই করে সমানতালে। সালাহউদ্দিন টিসা সহজ দুটি গোল হাতছাড়া করার পর স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকের দীর্ঘশ্বাস ছিল মর্মবিদারী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। খেলা শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে গোল করেন পাকিস্তানের হাসান সরদার।

স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে ষষ্ঠ হয় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত খেলার পর এ ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায়নি লড়াকু বাংলাদেশকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের নিংড়ে দেয়ার পর খেলোয়াড়রা যেন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন।

প্রথম সেমিফাইনালে ভারত ৯-১ গোলে জাপানকে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তান ৭-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায়। দর্শকদের স্বপ্নকে সত্য করে দিয়ে ফাইনালে যথারীতি মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এবং ভারত। সেদিন পুরো স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। টিকিট কেটেও বিপুলসংখ্যক দর্শক মাঠে ঢুকতে পারেননি। ফাইনাল ম্যাচটিও হয় দেখার মতো। ঘাষের মাঠে হকিস্টিকের আঁচড়ে ফুটে ওঠে চোখজুড়ানো সব চিত্রকলা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও মনোমুগ্ধকর ফাইনালে পাকিস্তান ৩-২ গোলে হারায় ভারতকে।

হকির দুই পরাশক্তির ফাইনাল লড়াই দর্শকদের বিমোহিত করে। ঢাকার মাঠে এমন একটি ম্যাচ দেখা ছিল স্বপ্নের মতো। পাকিস্তানের হকির ইতিহাসে অন্যতম সেরা তিন ফরোয়ার্ড ও অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী খেলোয়াড় হাসান সরদার, হানিফ খান ও কলিমুল্লাহ’র ক্রীড়াশৈলী দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কাটতে সক্ষম হয়। তবে জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন হাসান সরদার। এই সেন্টার ফরোয়ার্ডের অনুপম ডজ, চলন্ত বলে ত্বরিতগতিতে গোল করার কৌশল দর্শকদের মুগ্ধ করে।

টুর্নামেন্টে ১০টি গোল করেন হাসান। দলের অন্যতম সিনিয়র খেলোয়াড় কলিমুল্লাহও সবার নজর কাড়তে সক্ষম হন। আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড় দলের বিপদের সময় নিজেকে উজাড় করে দেন। পাকিস্তান শিরোপা জয় করে হানিফ খানের নেতৃত্বে। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও গোল করার ক্ষেত্রে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন।

দেখতে ছোটখাটো হলেও দুরন্ত ছিলেন ভারতের মো. নঈম। প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেন। সুযোগসন্ধানী এই খেলোয়াড় এ টুর্নামেন্টে প্রথম জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ১২টি গোল তার। অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী ভারতের মো. শহীদ ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন। তিনি ছিলেন ড্রিবলিংয়ে মাস্টার। তবে গোল করার চেয়ে গোল করাতে পছন্দ করতেন তিনি। তবে সে সময় ভারতের সেরা খেলোয়াড় জাতীয় দলের অধিনায়ক জাফর ইকবাল এ টুর্নামেন্টে অংশ নেননি।

এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের ঘুমিয়ে থাকা হকিকে যেন জাগিয়ে দিয়ে যায়। সারাদেশে সৃষ্টি হয় জাগরণের। হকিস্টিক পেলে তো কথাই ছিল না। না পেলে গাছের ডাল, লাঠি কিংবা এ জাতীয় যা পাওয়া গেছে, তা নিয়ে শহর তো বটেই, গ্রামে-গঞ্জেও হকি খেলার ক্রেজ লক্ষ্য করা যায়। তখন মনে হয়েছিল, হকিকে আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস, সেই উম্মাদনা স্তিমিত হয়ে যেতে বেশি দিন লাগেনি।

পাকিস্তানকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে চায় বাংলাদেশ

৩২ বছর পর আবারো ঢাকায় শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ হকির আসর। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে চায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ হকিতে আগামীকাল বুধবার নিজেদের প্রথম ম্যাচ নিয়ে এমটাই বললেন কোচ মাহবুব হারুন। পুস্কর ক্ষীসা মিমো এবং মামুনুর রহমান চয়নও জানালেন, প্রতিপক্ষ ফেভারিট হলেও জয়ের সামর্থ্য আছে তাদের। পল্টনের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মুখোমুখি হবে দু’দল।

র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৪ নম্বরের সাথে ৩৪ এর লড়াই। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে তাই ফেভারিট মানছে বাংলাদেশ দল। তবে পাকিস্তানকে হারানো কঠিন হলেও তা অসাধ্য নয়। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে সেই লক্ষ্যেই কোচ মাহবুব হারুন শেষ মুহূর্তের কৌশলগত অনুশীলন করালেন দলের খেলোয়াড়দের। শিষ্যদের প্রতি একটাই বার্তা দিলেন, ম্যাচের আগেই যেনো তারা হেরে না যায়। তিনি বলেন, পাকিস্তানের র‌্যাঙ্কিং আর আমাদের র‌্যাঙ্কিং নিয়েতো আপনারা ভালোই জানেন। তবে আমরা সেটা নিয়ে না ভেবে নিজেদের খেলাটা খেলতে চাই। কোচ তো মাঠে গিয়ে খেলে দিতে পারবেনা। সবাইকে মাঠেই নিজেদের প্রমান করতে হবে। ভালো খেলে খেলোয়াড়দের দেখাতে হবে তারা যে জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা রাখে। আমরা খেলার আগেই হেরে যেতে চাইনা। ফাইট করতে চাই।

স্কোরিংয়ের অন্যতম সুযোগ পেনাল্টি কর্ণার। এর আগেও যেখানে ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে এবার সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার আশ্বাস দিলেন মামুনুর রহমান চয়নরা। তিনি বলেন, এর আগে পেনাল্টি কর্নার শুধু আমিই নিতাম, তখন সমস্যা হতো। তবে এখন দলে অনেকেই আছে যেমন খোরশেদ, আশরাফুল তারাও পিসি নিতে পারে। কোচ যেভাবে বলবেন মাঠে সেভাবেই খেলবো আমরা। আমি বিশ্বাস করি চার পাচটা পিসি পেলে সেখান থেকে গোল আদায় করে নিতে পারবো। আর তা করতে পারলে পাকিস্তানকে হারানো সম্ভব। আমাদের দলে সেই মানের খেলোয়াড় রয়েছে।

এদিকে দলের মিডফিল্ডার পুস্কর ক্ষিসা মিমো বলেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের কথা বললে আমরা অবশ্যই সবগুলো দল থেকেই পিছিয়ে। তবে এখানে যে কটা দল খেলছে তারা প্রত্যেকেই যোগ্যতা অর্জন করে এসেছে। আমরা যদি আমাদের সেরা খেলাটা দিতে পারি তা যে কোন কিছুই সম্ভব।

তবে নিজেদের ফেবারিট মানছে না পাকিস্তান, বরং ঘরের মাঠে খেলা বলে বাংলাদেশকে সমীহই করছে তারা। একটা মিশন নিয়ে এবার ঢাকায় এসেছে মোহাম্মদ ইরফানের দল। হকিতে তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার।

২০১৮ এর বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নিশ্চিত করতে অন্তত দুটি ম্যাচে জিততে হবে বাংলাদেশকে। সেই মিশনে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় রাসেল মাহমুদ জিমির দল।

এশিয়া কাপ হকি শুরুর অপেক্ষা

দেশের হকি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘এশিয়া কাপ হকি’ মাঠে গড়াচ্ছে বুধবার। ১৯৮৫ সালের পর এই প্রথম আবারো এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ।

৩২ বছর পর ২০১৭ এর এশিয়া কাপ আক্ষরিক অর্থেই রঙ্গিন এক এশিয়া কাপ হতে যাচ্ছে। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হয়েছিল ঘাসের মাঠে। হকিতে ঘাসের যুগ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এখন অ্যাস্ট্রো টার্ফের যুগ। আর এশিয়া কাপ উপলক্ষে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বসেছে ফ্লাড লাইট‌ও। সব মিলিয়ে আলোয় ভাস্বর হওয়ার অপেক্ষায় দেশের হকি অঙ্গন।

এশিয়া কাপে অংশ নিচ্ছে আটটি দেশ। এর মধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বাংলাদেশে চলে এসেছে। সবার আগে জাপান বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। পরে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া দলও ঢাকায় আসে। চীন দলকে বহনকারী বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আকাশ থেকে ফিরে গেলেও গতকাল তারা ঢাকা পৌঁছেছে। রাতেই ঢাকায় এসে পৌঁছাছে আরেক অংশগ্রহণকারী দল মালয়েশিয়া। সকালে পৌঁছে ওমান।

বুধবার ‘এ’ গ্রুপের দুটি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাঠের লড়াই। প্রথম ম্যাচে বেলা তিনটায় মুখোমুখি হবে ভারত-জাপান ম্যাচ। বিকেল সাড়ে পাঁচটা স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপের চার দল মালেয়শিয়া, কোরিয়া, চীন ও ওমান।

এশিয়া কাপ হকির ট্রফি উম্মোচন

আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়া কাপ হকির ট্রফি উন্মোচিত হলো আজ। রাজধানীর একটি হোটেলে, আট দলের অধিনায়ক আর এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রদর্শন করা হয় ট্রফিটি। এসময় টুর্নমেন্টে নিজেদের লক্ষের কথা তুলে ধরেন অংশগ্রহনকারী দলের অধিনায়করা।

১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় এশিয়া কাপের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৩২ বছর পর আবার দশম এশিয়া কাপের আয়োজক হলো বাংলাদেশ। হকির কিংবদন্তী আব্দুস সাদেক সে সময়ও ছিলেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সদস্য হিসেব এবার এশিয়া কাপের সময় বাহফে সাধারন সম্পাদক তিনি।

স্বাভাবিক কারণেই একটু উল্লসিত তিনি। জানান, ‘৪৮ ঘন্টা পরই শুরু হতে যাচ্ছে বহু কাঙ্খিত এশিয়া কাপের দশম আসর। দলগুলিও চলে এসেছে। ঘরের মাঠে দুটি এশিয়া কাপের স্বাক্ষি। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় সফলভাবেই এই আসর আমরা শেষ করতে পারবো। এর প্রমান আমরা রেখেছি অনুর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে ও ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টু আয়োজন করে।’

এশিয়া হকি ফেডারেশনের (এএইচএফ) সিইও তৈয়ব ইকরাম তো প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশকে। ক‘দিন আগেও হকির যে অবকাঠামো ছিল সেটির চেয়ে অনেক উন্নতি দেখতে পেয়েছেন এশিয়া হকির এই কর্তা। তিনিও আশ্বস্থ করলেন বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক ভেনুও হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। ‘বাহফে কর্তারাদের চাহিদার ফসল এই এশিয়া কাপ। তারা তাদের কথা রেখেছে। এএইচএফের প্রধান শর্ত ছিল ফ্লাড লাইট। সেটি তারা করতে পেরেছে। অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ একসময় তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাবে বলে আমার বিশ্বাস। এসকল উন্নতির জন্য ক্রীড়ামন্ত্রণালয়সহ সকল সহযোগী মন্ত্রণালয়ের প্রতি শুভেচ্ছা রইল।’

আরো উপস্থিত ছিলেন এএইচএফের সদস্য বাংলাদেশের আব্দুর রশিদ সিকদার, হিরো মটরর্সের অজয় সিনহা, এএইচএফ এর স্পোর্টস ডিরেক্টর এলিজাবেথ জোন্স।

মঞ্চের একপাশে চারটি আসনে বসানো হয়েছিল ‘এ’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি, পাকিস্তানের অধিনায়ক ইরফান, ভারতের মনপ্রীত, জাপানের ইয়ামাশিতা মানাবু। অপরপাশে ছিলেন ‘বি’ গ্রুপে থাকা কোরিয়ার অধিনায়ক জাং মানজাই এবং মালয়েশিয়া, চীন ও ওমানের অধিনায়ক।
পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়কেরা শিরোপা জয় করার কথা বললেও বাংলাদেশের অধিনায়ক জিমি ভালো খেলার এবং একটা অঘটন ঘটানোর প্রত্যাশায় আছেন।

প্রস্তুত হচ্ছে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে

৩২ বছর পর এশিয়া কাপ হকির আসর বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। অক্টোবরে হতে যাওয়া আসরটি নিয়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে হচ্ছে সংস্কার। খেলোয়াড়রা ব্যস্ত নিজেদের প্রস্তুত করতে। কোচ মাহবুব হারুনের অধীনে অনুশীলন করছেন রাসেল মাহমুদ জিমি, মামুনুর রহমান চয়নরা। ঘরের মাঠে নিজেদের উজাড় করা পারফরম্যান্সে আসরটিকে স্মরণীয় করে রাখার পণ বাংলাদেশ হকি দলের। লক্ষ্য অন্তত ষষ্ঠ স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করা। কঠিন গ্রুপে পড়ার টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ হওয়াটা কঠিন বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের কোচ মাহবুব হারুন।

১৯৮৫ সালে প্রথম ও শেষবার বাংলাদেশে হকির এশিয়া কাপ হলো তখনও ঢাকায় পাড়ি জমাননি হারুন। তবে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরাদের একজন তিনি। সেই হারুন এবার এশিয়া কাপে জিমিদের কোচ। নিজেদের মাঠে বড় এই আসরে দলগত লক্ষ্যের জানিয়ে দেশ সেরা এই কোচ বলেন, ‘আমরা টুর্নামেন্টে এখনো রেংকিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে। আমাদের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য আরেকটু উপরে থেকে শেষ করা। যেন আগামীতে এশিয়া কাপ কোয়ালিফাইং রাউন্ড খেলতে না হয়। তবে সেটা খুবই কঠিন। তারপরও আমাদের চেষ্টা তো করতে হবে।’

বেশ ক’আসর থেকেই বাংলাদেশকে এশিয়া কাপে খেলতে হচ্ছে কোয়ালিফাইং রাউন্ড খেলে। এএইচএফ কাপ নামের সেই বাছাইয়ে অবশ্য বাংলাদেশ আধিপত্য দেখিয়েই জেতে। কিন্তু এক সময় যে বাংলাদেশ সরাসরি খেলতো এশিয়া কাপে, সেই বাংলাদেশই এখন খেলে কিনা বাছাই পেরিয়ে! এশিয়া কাপে ষষ্ঠ হতে পারলে তা থেকে অন্তত মুক্তি মিলবে। এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে চীন সফর করে এসেছে হারুনের দল। ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচের তিনটিতে হার, দুটিতে ড্র ও একটিতে জয় ছিল বাংলাদেশের। সেই সফর থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে দলের। হারুন জানান, ‘চীনে রক্ষণভাগে দুর্বলতা ছিল। সেটা নিয়েই এখন কাজ করছি।’

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিকেএসপিতে শুরু হবে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি। ১১ থেকে ২২শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে ভারত, জাপান ও পাকিস্তানের সঙ্গে। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে মালয়েশিয়া, কোরিয়া, চীন ও ওমান।

বাংলাদেশ হকির উন্নয়নে এএইচএফের সাহায্য

বাংলাদেশের হকিকে এগিয়ে নিতে আগামী চার বছরের জন্য ‘হাই পারফরমেন্স’ সহায়তা দেবে এশিয়ান হকি ফেডারেশন। ১০ম এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন, এএইচএফ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তায়েব ইকরাম।

এদিকে, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার জানান, ৩২ বছর পর এদেশে এশিয়া কাপের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই জন্য, স্টেডিয়ামের ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে।

আগামী ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকার মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হবে এশিয়া কাপ হকির দশম আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় আটটি দল দুই গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান ও জাপান।

‘বি’ গ্রুপে আছে মালয়েশিয়া, কোরিয়া, চীন এবং ওমান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘হিরো’ মটোকর্পের সিইও জে. নারায়ন, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও এএইচএফের সদস্য আব্দুর রশীদ শিকদার। এটিএন বাংলা হকি ফেডারেশনের মিডিয়া পার্টনার।

হকির নির্বাচন স্থগিত

দেশে ভয়াবহ বন্যার কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন এনএসসির পরিচালক শুকুর আলী। তিনি জানান, বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরদের আবেদনের পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেন। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তীতে আবারো নির্বাচন হবে বলেও জানান তিনি। যদি‌ও ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।
অবশ্য ইতোমধ্যে নির্বাচনের বেশ কয়েকটি ধাপও পার করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। মনোনয়নপত্রও বিক্রি সম্পন্ন হয়। আজ বুধবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দে‌ওয়ার শেষ দিন।
তবে গতকাল দুপুরের পরই ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন ‌ওঠে দেশের ভয়াবহ বন্যার কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হচ্ছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচন। আগামী মাসে ঢাকায় বসবে এশিয়া কাপের আসর। ফলে এশিয়া কাপের আগে নির্বাচিত কমিটি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে এমন সময় নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেননা নির্বাচন হবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে, সেখানে বন্যার কারণে কোন ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি। হয়ত আবারো এডহক কমিটিও করতে পারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
আগামী ২৭ আগষ্ট হওয়ার কথা ছিলো হকি ফেডারেশনের নির্বাচন।

হকি নির্বাচনে বিষের বাঁশির অপেক্ষা

হকি ফেডারেশনের নির্বাচনে আবারও বিষের বাশি বেজে ওঠার অপেক্ষায়। সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আব্দুর রশীদ শিকদার এবং খাজা রহমতউল্লাহ-র বিরোধ বাষ্প এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত নির্বাচনের আগেও খাজা রহমতউল্লাহর বিরোধিতা করে একাট্টা হয়েছিলো প্রিমিয়ার লীগের পাঁচ ক্লাব। প্রথম বিভাগ দ্বিতীয় বিভাগের বেশ কয়েকটি ক্লাবও তাদের সঙ্গে ছিলো। ক্লাবগুলোর বিদ্রোহের কারণে ঠিকমতো মাঠে গড়ায়নি লীগ। এই সংকট উত্তরণে একপর্যায়ে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে যান খাজা রহমতউল্লাহ। এবারও তিনি একই পদে প্রার্থী হয়েছেন। আবারও বিদ্রোহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে চারদিকে। ইতিমধ্যে খাজা রহমতউল্লাহকে বাইরে রেখে সমঝোতার কমিটি করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ২২টি ক্লাব। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঊষার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশীদ শিকদার। তিনি আবার এ পদে প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে এনএসসি। ২৭ আগস্ট দেশের হকি ফেডারেশনের নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে কাউন্সিলর সংখ্যা ৮৬ জন। নির্বাচনে পাঁচজন সহ-সভাপতি, এক সাধারণ সম্পাদক, দুই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং এক কোষাধ্যক্ষ ও ১৯ সদস্যসহ মোট ২৮ পদের জন্য লড়বেন প্রার্থীরা।
এবারের নির্বাচনে মূল আকর্ষণ সাধারণ সম্পাদক পদ। সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সবশেষ কমিটির দুই সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ ও আবদুর রশীদ শিকদার। সবার প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে উন্নতির ছোঁয়া লাগবে দেশের হকিতে। খাজা রহমতউল্লাহ এবং আব্দুর রশীদ শিকদার নিজেদের অবস্থানে থেকে নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কেউ কাউকে ছাড় দিবেন না। ইতিমধ্যে রশীদ শিকদার তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রচারণা শুরু করলেও রহমতউল্লাহ এগুচ্ছেন ভিন্ন পথে। তিনি ওপর মহল এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ-ফোরামের উপর ভরসা করছেন। আর তাই যদি হয় তবে নির্ঘাত অশনি সংকেত দেখা দিচ্ছে হকিতে, এটা বলাই বাহুল্য। কারণ এই খাজা রহমতউল্লাহর দায়িত্বকালেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ হকির।
২০১৩ সালের জুলাই মাসের শেষ দিকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলো হকি ফেডারেশনের সবশেষ নির্বাচিত কমিটি। তখন নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন খাজা রহমতউল্লাহ। এরপর নির্বাচনী জটিলতায় বিদ্রোহী হয়ে ওঠে প্রিমিয়ার লীগের পাঁচ দল যথাক্রমে- ঢাকা মোহামেডান, মেরিনার ইয়াংস, বাংলাদেশ স্পোর্টিং, ওয়ারী ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। তাদের সিদ্ধান্ত ছিলো রহমতউল্লাহর অধীনে ফেডারেশনের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিবেন না তারা। যে কারণে দুই বছর গভীর সংকটে ছিলো দেশের হকি। এই সময় বিদ্রোহীরা (ওয়ান্ডারার্স বাদে) প্রিমিয়ার লীগসহ ঘরোয়া সব টুর্নামেন্টই বর্জন করে। এই সংকট উত্তরণে অনেকটা বাধ্য হয়েই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান রহমতউল্লাহ। ২০১৫ সালের ২৩শে অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করলে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হন আবদুস সাদেক। খাজা রহমতউল্লাহ বসেন সহ-সভাপতির চেয়ারে। এরপরেই বিদ্রোহীরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে। বেগবান হয় হকির কার্যক্রম।
তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের হকিবোদ্ধাদের মনে নানা প্রশ্ন জেগেছে। হাইকমান্ড ও ফোরামের মদদ নিয়ে রহমতউল্লাহ আবারও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন তাহলে কী সেই চার বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না?

দেড় কোটিতে এশিয়া কাপের স্পন্সর এফএসআইবিএল

দেড় কোটি টাকায় আসন্ন এশিয়া কাপের স্পন্সর হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। এ উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার এক সমঝোতা চুক্তি হয়।
এ সময় সবার সহযোগিতা পেলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ হকি খেলা সম্ভব বলে মনে করেন ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ডক্টর মাহফুজুর রহমান। অক্টোবরে এশিয়া কাপ হকি উপলক্ষে, আজ দুপুরে বিওএ ভবনে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও হকি ফেডারেশনের মধ্যে স্পন্সর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এসময় দেড় কোটি টাকা দিয়ে হকি ফেডারেশনের পাশে দাঁড়ায় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে দেশে হকি খেলার প্রসারে এটিএন বাংলার প্রশংসা করেন ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার।
৩২ বছর পর আবারো ঢাকার মাঠে বসছে এশিয়া কাপ হকির আসর। সবশেষ ১৯৮৫-তে এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হয়েছিলো লাল-সবুজ পতাকাধারীরা। সময় পেড়িয়েছে, এতোদিনে উত্থান পতনও ঘটেছে এদেশের হকির। তাই এবার আয়োজক হিসেবে ফেডারেশনের সামনে সুযোগ নিজেদের প্রমান করার। হকি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, পারফরম্যান্স দিয়েই কেবল বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারেন খেলোয়াড়রা। তিনি জানান, ‘৩২ বছর পর এদেশে আবারও বসছে এশিয়া কাপের আসর এটি খুবই আনন্দের ব্যাপার। তবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আরো পরিচিত করতে হলে নিজেদের ভালো খেলার পারফরমেন্স দিয়েই প্রমান করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আগের তুলনায় গত চার বছরে এদেশের হকি অনেক এগিয়েছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও খেলতে পারবে বাংলাদেশ।’ এ জন্য তিনি সবার সাহায্য-সহযোগিতাও চান।
পেছোতে থাকা হকিকে সামনে এগিয়ে নিতে কোন না কোন প্রতিষ্ঠান হাত বাড়িয়ে দেয়। প্রচারের কাজে বরাবরই এগিয়ে থাকায় এটিন বাংলার চেয়ারম্যানকে তাই ধন্যবাদ জানালেন ফেডারেশন সভাপতি, এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার। তিনি বলেন, আমাদের হকিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে এটিএন বাংলার ভূমিকা বেশ প্রসংশনীয়। মাঠে দর্শক না থাকলেও এটিএন ঠিকই খেলা সরাসরি সম্প্রচার করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। এতে হকি খেলায় উৎসাহীর সংখ্যাও বাড়ছে।’
অন্যদিকে দুই বছর পর স্পন্সর হিসেবে আবারো হকি ফেডারেশনের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, তৃণমুলেও তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তত।
আট দল নিয়ে এশিয়া কাপের দশম আসরকে সফল করতে চুক্তি অনুযায়ী হকি ফেডারেশনকে দেড় কোটি টাকার চেক তুলে দেয় স্পন্সর প্রতিষ্ঠান।

এশিয়া কাপের আগে চীনের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ?

এশিয়া কাপ হকি সামনে রেখে চীনের গানসু প্রদেশে ৮টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গেছে বাংলাদেশ দল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চীন জাতীয় দলের সঙ্গে অন্তত তিনটি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। মঙ্গলবার জাগো নিউজকে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক।

চীন ঢাকায় অনুষ্টিতব্য এশিয়া কাপে খেলবে। দলটিকে কয়েকদিন আগে ঢাকায় এনে ম্যাচ খেলাতে চায় ফেডারেশন। এ পরিকল্পনার পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্য আছে ফেডারেশনের। গত ওয়াল্ড হকি লিগে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন ফরোয়ার্ড সারোয়ার হোসেন। চীনের সঙ্গে ৩টি ম্যাচ খেলতে পারলে সাসপেনশন উঠে যাবে সারোয়ারের।

আগামী ১১ অক্টোবর ঢাকায় শুরু হবে দশম এশিয়া কাপ হকি। ৮ জাতির এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ খেলবে ভারত, পাকিস্থান ও জাপানের সঙ্গে, ‘এ’ গ্রুপে।

আগামীকাল ঢাকা ছাড়ছে হকি দল

আগামীকাল বেলা ২.৩৫ মিনিটে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স যোগে চীনের কুনমিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে ২৪ সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। সেখান থেকে আগামিকাল সকাল ১০.৩৫ মিনিটে রওয়ানা হয়ে স্থানীয় সময় ১২.৫৫ মিনিটে লানঝু পৌছানোর কথা রয়েছে। গন্তব্য গানসু অ্যাথলেটিকস এ্যান্ড হকি ক্লাব। চীন রওয়ানা হওয়ার আগে শাহীন হলে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের সাথে সাক্ষাত ও ফটোসেশনে অংশ নেবে জাতীয় হকি দলের সদস্যরা।
বাংলাদেশের গ্রুপে আছে পাকিস্তান, ভারত ও জাপান। কোচ মাহবুব হারুন মানসিক চাঙ্গা থাকার উপরই জোর দিলেন বেশি। ‘আমরা তলানীতে। গ্রæপ পর্বটা একটু কঠিনই হয়ে গেল। ষষ্ঠ স্থানের জন্য লড়তে হলে আমাদেরকে দুটি দলকে হারাতে হবে। গ্রæপ পর্বে একটি এরপর কোয়ালিফাইং পর্বে আরো একটি। সকলের প্রতি চাওয়া থাকবে সকলেই যাতে মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকে। আমরা যাতে হারার আগে না হারি। চীন থেকে আমরা আরো অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরবো বলে আশা করছি।’
রাসেল মাহমুদ জিমি বললেন আরো একটু ভালো করে, ‘ভয় পাওয়ার দিন শেষ। জয় পরাজয় তো থাকবেই। আমরা জিতবো কি হারবো সেটি পরের কথা। আমরা আমাদের পারফরমেন্স কতটুকু উন্নতি করতে পারছি বা পারবো সেটিই হবে মুখ্য বিষয়। তবে ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টুয়ে গোল মিসের যে মহড়া চলেছিল সে ভুলগুলি যাতে না হয়।’

হকির নির্বাচন ২৭ আগস্ট

একটি পক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচন এশিয়া কাপের পরে নিয়ে যেতে। আরেক পক্ষ চাইছিল মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই যেন নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। দুই পক্ষের দুই রকম চাওয়াতে ক্রীড়া প্রশাসনও পড়েছিল দোটানায়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত থাকলেও তফসিল ঘোষণা করতে পারেননি উপর মহলের সবুজ সংকেত না পাওয়ায়।
উপর মহল মানে- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। অবশেষে সেই সবুজ সংকেত পেয়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ২৭ আগস্ট ভোটের দিন ধার্য করে রবিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে হকির নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী সোমবার প্রকাশ করা হবে খসড়া ভোটার তালিকা। মনোনয়নপত্র বিতরণ ১০ ও ১৩ আগস্ট, দাখিল ১৭ আগস্ট এবং বাছাই ২০ আগস্ট। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ২৩ আগস্ট। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনের নিচ তলার সভা কক্ষে ২৭ আগস্ট সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে।
২৯ সদস্যের হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির ভোট হবে ২৮ টি পদে (৫টি সহসভাপতি, ১টি সাধারণ সম্পাদক, ২টি যুগ্ম সম্পাদক, ১টি কোষাধ্যক্ষ এবং ১৯ টি সদস্য)। সভাপতি মনোনয়ন দেবে সরকার।

এশিয়া কাপের প্রস্তুতি নিতে চীন যাচ্ছে বাংলাদেশ হকি দল

এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের পরিকল্পনা ছিল জিমি-আশরাফুলদের ভারত ও মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে ম্যাচ খেলানোর। সে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে হকি দলকে প্রথমে পাঠানো হচ্ছে চীন। সেখান থেকে ফিরে জিমিরা সফর করবে ভারত। বিদেশ সফরের তালিকা থেকে আপাতত বাদ দেয়া হয়েছে মালয়েশিয়া।
১২ থেকে ২২ অক্টোবর ঢাকায় বসবে এশিয়া কাপ হকির আসর। ৮ দলের এ টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের বাইরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার অংশ হিসেবে জাতীয় দল ৩ আগস্ট যাচ্ছে চীন। দেশটির বিভিন্ন প্রাদেশিক দলের বিরুদ্ধে ৮ টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ হকি দল।
ক্যাম্পে থাকা ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে ইতোমধ্যে বাদ পড়েছেন আটজন খেলোয়াড়। ২২ খেলোয়াড় নিয়ে কোচ মাহবুব হারুন যাবেন চীন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হবে ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল। চীনে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে ১৯ আগস্ট দেশে ফিরবে দল। ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে সেপ্টেম্বরে।

চীন সফরের জন্য বাংলাদেশ দল :
মামুনুর রহমান চয়ন, অসীম গোপ, মইনুল ইসলাম কৌশিক, সারোয়ার হোসেন, জাহিদ হোসেন, রাসেল মাহমুদ জিমি, দীন ইসলাম ইমন, আবু সাইদ নিপ্পন, রেজাউল করিম বাবু, ফরহাদ হোসেন সিতুল, রুম্মন সরকার, মোহাম্মদ নাইমুদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, মিলন হোসেন, খোরশেদ উর রহমান , মোহাম্মদ আরশাদ, ইমরান হোসেন পিন্টু, হাসান যুবায়ের নিলয়, সোহানুর রহমান সবুজ, মাহবুব হোসেন, ফজলে হোসেন রাব্বি ও মোহাম্মদ মহসীন।

ভারত ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ হকির প্রস্তুতি

আসন্ন এশিয়া কাপের আগে ভারত ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ। সে হিসেবে ভারতের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কথাও বলেছে হকি ফেডারেশন। এদিকে, গভর্নিং বডির সভায় অনুমোদন পেলে দলের বাইরে থাকা রাসেল মাহমুদ জিমি ফিরতে পারেন স্কোয়াডে।
আর বিদেশী কোচের পরিবর্তে কোচ মাহবুব হারুনকেই ফেডারেশন স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে চায় বলে জানান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক।
এশিয়া কাপে অংশ নেয়া সবকটি দলই বাংলাদেশের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে বেশ এগিয়ে। সেই হিসেবে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে হকি দল। ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে অনুশীলনে গভীর মনোযোগী স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়রা, আর টার্ফের বাইরে বেশ মনোযোগ দিয়ে সেসব পর্যবেক্ষণ করছেন ফেডারেশন কর্তারা।
আসন্ন এশিয়া কাপ দেশের মাঠে হলেও, তার আগে দেশের বাইরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ। সে হিসেবে প্রতিবেশী ভারতের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে আসরের আরেক অংশগ্রহণকারী দল মালয়েশিয়াও আছে বাংলাদেশের টার্গেটে।
এদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত দেশসেরা স্ট্রাইকার রাসেল মাহমুদ জিমির বিষয়ে নমনীয় হতে যাচ্ছে ফেডারেশন। গভর্নিং বডির বৈঠকে এ বিষয়ে সবাই ঐক্যমতে পৌঁছুলেই তাকে ফেরানো হতে পারে এশিয়া কাপের দলে। এর আগে ফেডারেশন কর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বেফাঁস মন্তব্যের অভিযোগে দলে নিষিদ্ধ করা হয় জিমিকে।
আর জার্মান কোচ অলিভার কার্টজের বিদায়ের পর দেশী কোচ মাহবুব হারুনকে এশিয়া কাপ পর্যন্ত কোচের দায়িত্ব দেয় ফেডারেশন। বিদেশী কোচের পরিবর্তে দেশীয় এই কোচকেই স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন।

ছুটি শেষ অনুশিলনে হকি দল

ঈদের বিরতি শেষে আবার শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ হকির প্রস্তুতি। বুধবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে ক্যাম্পের খেলোয়াড়রা রিপোর্ট করেন প্রধান কোচ মাহবুব হারুনের কাছে। জার্মানির অলিভার কার্টজ বরখাস্ত হওয়ার পর মাহবুব হারুনকে জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়।
এর আগে হারুন একদিন ক্যাম্পে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হলেও তার অধীনে প্রস্তুতি শুরু হলো বুধবারই। কোনো প্র্যাকটিস করাননি দেশের সবচেয়ে সফল এ কোচ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শিষ্যদের নিয়ে নামবেন অনুশিলনে। অক্টোবরে ঢাকায় হবে এশিয়া কাপ হকি। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ৪০ জনকে ক্যাম্পে ডেকেছে ফেডারেশন। তবে রাসেল মাহমুদ জিমিকে ডাকা হয়নি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে। পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েছেন কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়ও।
টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনো তিন মাসের বেশি বাকি। কোচ মাহবুব তিন মাসকে যথেষ্ট সময়ই মনে করছেন। তবে তার লক্ষ্য অনুশীলনের পাশপাশি বিদেশি দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা। তিনি বলেন, ‘ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এক মাস পর আমরা ভারতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যাব। সেখানে ৪/৫ টি ম্যাচ খেলার পর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মালয়েশিয়া গিয়ে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলেই চলবে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকায় ফেরা’।
এশিয়া কাপে খেলবে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, জাপান, ওমান ও বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ নম্বরে। প্রধান কোচ মাহবুব হারুন নিজেদেরকে যতটা উপরে তোলা যায় সে চেষ্টার কথাই বলেন। তবে ৬ দলের মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারলে পরবর্তী এশিয়া কাপের বাছাই পর্ব খেলতে হবে না বাংলাদেশকে।

আবারও হকির দায়িত্বে হারুন

এবারও মাহবুব হারুনেই আস্থা রাখল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন-বাহফে। গত বৃহস্পতিবার এক ই-মেইল বার্তায় এশিয়া কাপ পর্যন্ত হারুনকে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ জানায় বাহফে। ঈদুল ফিতরের পর দায়িত্ব নিবেন বলে জানান তিনি। তবে কাজ শুরুর আগে দল পুন:গঠনের উপরই জোর দিবেন বলে জানান মাহবুব হারুন।
গত বছর এএইচএফ কাপের ক্যাম্প হতেই চলছে জাতীয় দল গঠন নিয়ে তেলেসমাতি। বাহফে একরকম সাজায় তো বিদেশী কোচ আরেক রকম। সিলেকশন কমিটির মাঝেও আছে মতবিরোধ। পৃষ্ঠপোষকের চাটুকারিতা করেও সাজানো হয়েছে জাতীয় দল। যা অনেকেই মানতে না পারায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন সিলেকশন কমিটির বাকি সদস্যরা। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এএইচএফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হলেও দল সেভাবে খেলতে পারেনি। আর ঘরের মাঠে ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টুয়ের ফলাফল তো কালের স্বাক্ষী। এবার ঘরের মাঠেই বসবে এশিয়া কাপের আসর। ইতোমধ্যে বাহফে প্রাথমিক পর্বের ক্যাম্প করছে। পছন্দ হয়নি অলিভার কার্টজের। তিনি বাহফে সভাপতির কাছে নিজের মতো করে অন্য একটি তালিকাও জমা দেন। বলা বাহুল্য- এখানে সিলেকশন কমিটির কোন ভূমিকাই নাকি ছিল না। দ্বিতীয় পর্বের ক্যাম্প শুরু হবে ঈদুল ফিতরের পর। তখন থেকে দায়িত্ব নিবেন পুন:নিয়োগ পাওয়া মাহবুব হারুন। দলকে তখন ঢেলে সাজাতে চান তিনি।
তিনি জানান, ‘অক্টোবরে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ। এত বছর পর এমন একটি বৃহৎ আসরে যেভাবে দেশের জন্য ভালো হয় সেভাবেই দলকে ঢেলে সাজাতে হবে। স্বজনপ্রীতি, কারো চাপে, কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছার দিকে তাকিয়ে দল গঠণ হবে না। যে যেই পজিশনের জন্য উপযুক্ত, তাকেই মনোনীত করা হবে। আর আমি এই কাজটি করবো সহকারি দুই কোচ আলমগীর আলম, গোলকীপার কোচ জাহাঙ্গীর, সিলেকশন কমিটি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে। কারো পছন্দের খেলোয়াড়ের নাম এই তালিকায় অর্ন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তেমনি কারো চক্ষুশুল খেলোয়াড়ও বাদ থাকবে না। অর্থাৎ যে যেই পজিশনের জন্য উপযুক্ত তাকে সেই জায়গায়ই সেট করা হবে। এ ব্যাপারে বাহফের শতভাগ দৃষ্টি আকর্ষন করবো। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, এশিয়া কাপে কারা অংশ নিচ্ছে। নিজের পজিশনে থেকে দেশকে যারা উজাড় করে দিতে পারবে তাদেরই স্থান হবে জাতীয় দলের তালিকায়।’
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ঢাকায় বসবে এশিয়া কাপ হকির দশম আসর। টুর্নামেন্টের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে মোকাবেলা করতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। বাছাই করা ২৩ খেলোয়াড় নিয়ে প্রধান প্রশিক্ষক ছাড়াই মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে চলছে ক্যাম্প। দায়িত্বহীনতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য জার্মান কোচ অলিভার কার্টজকে বরখাস্ত করেছে বাহফে ওয়ার্কি কমিটি। এমতাবস্থায় স্থানীয় কোচের উপরই ভরসা করেছে বাহফে। তালিকায় ছিলেন মাহবুব হারুন ও মামুন উর রশিদ। সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করেনি কর্তারা। মাহবুব হারুনকেই ফের জাতীয় হকি দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

হকি কোচ অলিভার কার্টজ বরখাস্ত

জাতীয় দলের প্রধান কোচ জার্মানির অলিভার কার্টজকে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। সোমবার ফেডারেশনের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। না জানিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেশন। আসন্ন এশিয়া কাপের যখন ক্যাম্প চলছে তখন প্রধান কোচের না বলে চলে যাওয়া চুক্তি ভঙ্গের সামিল মনে করছে ফেডারেশন।
৫ মাস আগে অলিভারের সাথে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল। ফেডারেশন, কোচ ও পৃষ্ঠপোষক ইনডেক্স গ্রুপের সঙ্গে হয়েছিল এ জার্মান কোচের চুক্তি। এর আগে সেপ্টেম্বরে এ জার্মানের সঙ্গে চুক্তি হলেও তাতে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না ফেডারেশনের। কোচের সঙ্গে তখন চুক্তি করেছিল ইনডেক্স গ্রুপ। এ নিয়ে অনেক বিতর্ক তৈরি হলে কোচ নতুন করে চুক্তি করেন গত ১৮ জানুয়ারি। নতুন চুক্তির ৫ মাসের মাথায় কোচকে অব্যাহতি দিল ফেডারেশন।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক বলেছেন, ‘ফেডারেশনের কাউকে কিছু না জানিয়ে অলিভার চলে গেছেন। কবে গেছেন, কোথায় গেছেন এবং কবে ফিরবেন তা কেউ জানেন না। এভাবে চলে গিয়ে তিনি চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। তাই তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জানা গেছে ৫ জুন অলিভার কেনিয়া গেছেন ব্যক্তিগত কাজে।
এশিয়া কাপের প্রস্তুতি চলছে। এ অবস্থায় প্রধান কোচ বিদায় করলে অনুশীলনের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘তিনি তো অনুশীলন করাচ্ছেনই না, স্থানীয় কোচরা কাজ করছেন। এশিয়া কাপে আমাদের স্থানীয় কোনো কোচ দায়িত্ব পালন করবেন। অলিভারের অতীত আরচরণও ভালো ছিল না। তিনি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেছেন। এমন কী পুনরায় নিয়োগ দেয়ার পরও।’
স্থানীয় কোচ প্রসঙ্গে আবদুস সাদেক বলেছেন, ‘এখন আলমগীর আলম আছেন। তার সঙ্গে আছেন গোলরক্ষক কোচ মো. জাহাঙ্গীর। দেশে আরো সিনিয়র কোচ আছেন। তাদের একজন ঈদের পর দায়িত্ব নেবেন। আমরা স্থানীয় কোচের উপরই আস্থা রাখবো। অতীতে স্থানীয় কোচের অধীনেও আমরা ভালো ফলাফল পেয়েছি।’

হকির নির্বাচনে মুখোমুখি রহমতউল্লাহ-রশিদ

এখনো শিডিউল ঘোষণা হয়নি। তার আগেই জমে উঠেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচন। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়ায় এ মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচনায় হকির নির্বাচন। ৩০ জুলাই শেষ হবে বর্তমান নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ।
বর্তমান কমিটির দুই সহসভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ ও আবদুর রশিদ শিকদার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। এর মধ্যে খাজা রহমতউল্লাহ সর্বশেষ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। যদিও মোহামেডান-মেরিনার্সসহ কয়েকটি ক্লাবের আন্দোলনের মুখে রহতমউল্লাহকে ওই পদ থেকে সরিয়ে সহসভাপতি করা হয়। আর নির্বাচিত সহসভাপতি আবদুস সাদেককে দেয়া হয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।
সাধারণ সম্পাদক পদে আরেক প্রার্থী সাজেদ এ এ আদেল। সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক ইতিমধ্যেই ক্রীড়াঙ্গনে পোস্টার লাগিয়ে জানান দিয়েছেন নির্বাচন তিনিও আছেন প্রার্থী। তবে হকি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা না হলে সাধারণ সম্পাদকের লড়াইটা জমে উঠবে খাজা রহমতউল্লাহ ও আবদুর রশিদ শিকদারের মধ্যে।
২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে জট লেগেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত ৫ কাউন্সিলর নিয়ে। যেখানে একটি ক্লাবেরই প্রাধান্য ছিল। এবার অবশ্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তাদের কাউন্সিলর মনোনয়নে ভারসাম্য রেখেছে। দেশের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান ও আবাহনীর একজন করে এবং বাকি ৩ জন পৃষ্ঠপোষকের কোটায় মনোনয়ন দিয়েছে দেশের খেলাধুলার অভিভাবক সংস্থাটি।
নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যে কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত করে তা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠিয়েছে ফেডারেশন। এখন নির্বাচেনর তফসিল ঘোষণা করবে এনএসসি। সেটা হতে পারে ঈদের আগেও। হকি ফেডারেশন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন আগামী এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে এনএসসি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে পারে।
হকি ফেডারেশনের সাধারণ পরিষদের মোট কাউন্সিলর ৮৬। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১ জন জেলা ও বিভাগের। প্রিমিয়ার, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ৩১ টি, সার্ভিসেস ৪ টি, এনএসসি ৫ টি, বিকেএসপি, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আম্পায়ার্স বোর্ড, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন করে। এ ছাড়া আছেন সর্বশেষ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।
এবারো এনএসসির কোটার কাউন্সিলর নিয়ে শুরুতে বিতর্ক ছিল। অভিযোগ আছে, বর্তমান কমিটির নীতিনির্ধারকরা তাদের পছন্দের ৫ জনকে এনএসসির কোটায় কাউন্সিলর বানাতে চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট রেখে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আবাহনীর আবদুস সাদেক ও মোহামেডানের শফিকুল ইসলাম লিটুকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। পৃষ্ঠপোষক কোটায় হয়েছেন গ্রিনডেল্টা ইন্সুরেন্সের কর্মকর্তা এমএ মুইস, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ও ইনডেক্স গ্রুপের পরিচালক এমএম এহসান নিজামী।
নির্বাচনের আগে অনেকের ভোটের লড়াইয়ে দাঁড়ানোর কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত থাকেন না। নানা চাপের মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান কেউ কেউ। তবে এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন হবে-এমন জোর আলোচনাই আছে। বিশেষ করে আগ্রহী তিন জনের দুই জন আবদুর রশিদ শিকদার ও খাজা রহমতউল্লাহ সরকার দলীয় মনোভাবের থাকায় পরিস্থিতি ভিন্নখাতে মোড় নিতে পারে। কেউ কাউকে ছাড় না দিলে জমে উঠতে পারে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন।

জিমিকে বাইরে রেখেই এশিয়া কাপের ক্যাম্প

কি ওয়ার্ল্ড লিগ রাউন্ড-২ শেষে ফেডারেশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে ফেঁসে গেছেন রাসেল মাহমুদ জিমি। ওয়ার্কিং কমিটি জিমিকে আন্তর্জাতিক হকি থেকে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে ফেডারেশনকে। হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি জিমির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন এশিয়া কাপের ক্যাম্পের জন্য ৪০ জনের নাম ঘোষণা করেছে। যেহেতু জিমির বিষয়টি ঝুলে আছে নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর তাই তাকে বাদ দিয়েই ঘোষণা করা হয়েছে প্রাথমিক দল। ২ জুন খেলোয়াড়দের রিপোর্টিং এবং পরের দিন থেকে অনুশীলন।

জাতীয় দল সমন্বয় কমিটির প্রধান মাহবুব এহসান রানা জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘নির্বাহী কমিটি যদি জিমিকে কোনো শাস্তি না দেয় তাহলে সে হয়তো ক্যাম্পে ডাক পাবেন। তবে অন্যরা পারফরমেন্সের কারণে বাদ পড়েছে।’

হকি ওয়ার্ল্ড লিগের দলে ছিলেন কিন্তু ক্যাম্পে ডাক পাননি কৃষ্ণ কুমার, ইমরান হাসান পিন্টু ও কামরুজ্জামান রানা। আর ওই সময় চূড়ান্ত দলে ডাক না পাওয়া পুস্কর খিসা মিমো ও হাসান জুবায়ের নিলয় ফিরেছেন এশিয়া কাপের ক্যাম্পে।

ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৭ খেলোয়াড় আছেন দেশের বাইরে। তারা জার্মানির বিভিন্ন শহর দলের হয়ে সেখানে খেলছেন। ঈদের পরই তাদের ক্যাম্পে যোগ দেয়ার কথা। জার্মানিতে খেলতে জিমিও যাচ্ছেন বুধবার।

অনুশীলন শুরু হবে জার্মান কোচ অলিভার কার্টজের অধীনে। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন আলমগীর আলম ও তারিকুজ্জামান নান্নু। গত ওয়ার্ল্ড লিগে অলিভার কার্টজের সঙ্গে কাজ করেছেন দেশের সবচেয়ে সফল কোচ মাহবুব হারুন; কিন্তু তাকে এবার রাখা হয়নি। হারুন কেন নেই সে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাতীয় দল সমন্বয় কমিটির প্রধান মাহবুব এহসান রানা বলেছেন, ‘এখন ক্যাম্প শুরু হচ্ছে ১৫ দিনের জন্য। এর পর আবার যখন শুরু হবে তখন কোচ পরিবর্তনও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।’

ক্যাম্পে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়রা হলেন

জাহিদ হোসেন, অসীম গোপ, আবু সৈয়দ নিপ্পন, বিল্পব কুজুর, মেহেরাব হোসেন কিরন, রেজাউল করীম বাবু, ফরহাদ আহাম্মেদ সিটুল, মামুনুর রহমান চয়ন. আশরাফুল ইসলাম, খোরশেদুর রহমান, সারোয়ার হোসেন, রুম্মন সরকার, নাইম উদ্দিন, মাইনুল ইসলাম, পুস্কর খিসা মিমো, আরশাদ হোসেন, মিলন হোসেন, দীন ইসলাম ইমন, হাসান জোবায়ের নিলয়, ফজলে হোসেন রাব্বি, মাহাবুব হোসেন, সবুজ, সাইফুল আলম শিশির, রাকিন, রোকোনুজ্জামন সোহাগ, সাব্বির রানা, রাব্বি সালেহিন রকি, সোয়েব আলী, রাজু আহাম্মেদ, আল নাহিয়ান শুভ, রাজিব দাস, মো. মহসিন, ইয়াসিন আরাফাত, রাতুল আহামেদ অনিক, আলাউদ্দিন, রাব্বি হোসেন, তাহমিদ হক, ইরফানুল হক, সাইফুল ইসলাম, মেহেদি হাসান।

সেনাবাহিনী আবারো চ্যাম্পিয়ন

এটিএন বাংলা জাতীয় হকি গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মাত্র এক আসর পরই জাতীয় হকির শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো তারা। বৃহস্পতিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ৩১তম জাতীয় হকি গোল্ডকাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ৮-৭ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনাবাহিনী। এরআগে, ২০১৩ সালে শিরোপা জিতেছিল তারা। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনীকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফরিদপুর জেলা। এবার তারা সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নেয়।
জাতীয় দলের তারকা সমৃদ্ধ নৈবাহিনী তিনবার ম্যাচে পিছিযে পড়েও সমতা আনে। তবে ব্যর্থ হয় তারা পেনাল্টি শ্যূট আউটে। ফাইনালের আট মিনিটেই এগিয়ে যায় সেনাবাহিনী। গোল করেন হাসান যুবায়ের নিলয় (১-০)। ১৭ মিনিটের মাথায় ম্যাচে সমতা ফেরায় নৌবাহিনীর রোমান সরকার (১-১)। ২০ মিনিটে সেনাবাহিনীর মনোজ বাবু পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে দেন দলকে (২-১)। ২৯ মিনিটে নৌবাহিনীর আশরাফুল পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে আবারো সমতা ফেরান (২-২)। ৩৭ মিনিটে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় সেনাবাহিনী। এবার হাসান যুবায়ের নিলয় গোল করেন (৩-২)। দুই মিনিট পরেই নৌবাহিনীর রাসেল মাহমুদ জিমি গোল করে আবারো সমতা ফেরান (৩-৩)। সমতা নিয়েই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নৌবাহিনীর ফরহাদ আহমেদ শিটুল, দ্বীন ইসলাম ইমন, ফজলে হোসেন রাব্বি, ও রাসেল মাহমুদ জিমি গোল করলেও মিস করেন রোমান সরকার। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর সাব্বির রানা, রোকনুজ্জামান, শফিকুল ইসলাম, পুরস্কর খিসা মিমো ও আহসান হাবিবকে ফাউল করলে সাব্বির রানা স্ট্রোক থেকে গোল করেন। ফলে টাইব্রেকারে জয় পায় সেনাবাহিনী।
১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এ আসরে সবচেয়ে সফল দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ নিয়ে তারা সর্বাধিক ১৪ বার শিরোপা জিতেছে। ১৯৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫, ৮৬ ও ৮৮ সালে (১৯৮৭ সালে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি) টানা সাতবার (ডাবল হ্যাটট্রিক) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দ্বিতীয় সফল দল ঢাকা জেলা। তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নয় বার। এর মধ্যে টানা চারবার জেতে তারা ১৯৯৭, ৯৮, ৯৯ ও ২০০২ (২০০১ সালে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি)।
ফাইনাল শেষে পুরস্কার প্রদান করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী ভারপ্রাপ্ত প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মশিউজ্জামান সেরনিয়াবত, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান এটিএন বাংলার উপদেষ্টা অনুষ্ঠান নওয়াজেশ আলী খান, হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ ও টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক মাহবুব এহসান রানা।
চ্যাম্পিয়ন দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক লাখ টাকা ও ট্রফি পায়। রানার্স আপ বাংলাদেশ নৌবাহিনী পঞ্চাশ হাজার টাকা ও ট্রফি পায়। টুর্নামেন্ট সেরা শফিকুল ইসলাম (সেনাবাহিনী) দশ হাজার টাকা ও ট্রফি পান। সর্বোচ্চ গোলদাতা সেনাবাহিনীর মিলন হোসেন (৩৫ গোল) দশ হাজার টাকা ও ট্রফি পান। টুর্নামেন্টে তৃতীয় হয়েছে ঢাকা জেলা এবং চতুর্থ হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তৃতীয় স্থানের দল ঢাকা জেলা বিশ হাজার টাকা প্রাইজমানি ও ট্রফি পায়।

শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি সেনা ও নৌবাহিনী

এটিএন বাংলা হকি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, প্রথম সেমিফাইনালে ঢাকা জেলাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে সেনাবাহিনী। খেলার ১৩ মিনিটে পুস্কর ক্ষিসা মিমোর গোলে এগিয়ে যায় সেনাবাহিনী। ২৩ মিনিটে শফিুকল ইসলামের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারা। ৪৫ মিনিটে মনোজ বাবু ও ৬৪ মিনিটে শফিকুল ইসলাম নিজের দ্বিতীয় গোল করলে বড় জয় নিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় নৌবাহিনী। খেলার ২২ মিনিটে প্রমোদ দেওয়ান ও শাওন শেখের কল্যাণে জাতীয় দলের খেলোয়াড় সমৃদ্ধ নৌবাহিনীর বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এরপর ম্যাচে ফেরে রাসেল মাহমুদ জিমিরি দল। ৬০ মিনিটে তারা লিড নেয় ৪-২ গোলে। নৌবাহিনীর হয়ে গোলগুলো করেন জিমি দুটি, কৌশিক ও রিমন একটি।
খেলা শেষের ৩ মিনিট আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রিন্স একটি গোল করে ব্যবধান ৪-৩ এ নামিয়ে আনেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শিরোপা বিকেল সোয়া তিনটায় শিরোপা লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। তার আগে বেলা এগারটায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ঢাকা জেলার মুখোমুখি হবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

সেমিফাইনালে মুখোমুখি নৌবাহিনী ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং সেনাবাহিনী ও ঢাকা জেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার: গ্রুপ পর্বে নৌবাহিনী মেহেরপুর, নড়াইল ও গাজীপুরের বিপক্ষে জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টারে উঠে। এরপর বিমান বাহিনীকে ৫-১ গোলে হারানোর পর সেমিফাইনাল লাইন আপ ম্যাচে সেনাবাহিনীকে ৩-০ গোলে হারিয়ে খ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়। সেমিতে নৌবাহিনীর বিপক্ষে খেলবে ক গ্রুপ রানার্স আপ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
গ্রপ পর্বে সেনাবাহিনী রংপুর, ঝিনাইদাহ ও সিলেটকে হারিয়ে ৯ পয়েনট নিয়ে কোয়ার্টারে উঠে। সেখানে বিকেএসপিকে সাডেন ডেথে ৭-৬ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল লাইন আপ ম্যাচে নৌবাহিনীর কাছে ০-৩ গোলে হেরে খ গ্রুপ থেকে রানার্স আপ হয়। আগামীকাল বুধবার তারা মোকাবেলা করবে ক গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা জেলাকে।
গ্রুপ পর্বে ঢাকা জেলা দিনাজপুর, রাজশাহী ও বরিশালকে হারিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টারে উঠে। এরপর কোয়ার্টারে ময়মনসিংহ জেলাকে ১৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনাল ল্ইান আপ ম্যাচে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে সাডেন ডেথে ৫-৪ গোলে হারিয়ে ক গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়। আগামিকাল তারা মোকাবেলা করবে খ গ্রুপ রানার্স আপ সেনাবাহিনীকে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রথমেই চমক দেখায় ডিফেন্ডিং চ্যামিপয়ন ফরিদপুরকে হারিয়ে। এরপর চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জকে হারিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টারে উঠে। সেখানেও চমক দেখায় ৫-১ গোলে বাংলাদেশ পুলিশকে হারিয়ে। সেমিফাইনাল লাাইন আপ ম্যাচে ঢাকা জেলার কাছে সাডেন ডেথে ৪-৫ গোলে হেরে ক গ্রুপ রানার্স আপ হয়। আগামিকাল সেমিতে তারা মোকাবেলা করবে খ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনীকে।

১৭ মে বুধবার সেমিফাইনাল

৫৫ ১৭/০৫/২০১৭ ঢাকা জেলা সেনাবাহিনী ২.০০
৫৬ ১৭/০৫/২০১৭ নৌবাহিনী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ৪.০০

ঠিক হয়ে গেলো সেমিফাইনালের লাইন আপ

আগের দিনই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিলো নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, ঢাকা জেলা ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এটিএন বাংলা গোল্ডকাপ জাতীয় হকি টুর্নামেন্টে আজ সোমবার তারা খেললো সেমিফাইনাল লাইন আপ ঠিক করার জন্য। অর্থাৎ সেমিতে কে কার বিপক্ষে খেলবে। তাতে নৌবাহিনী ৩-০ গোলে সেনাবাহিনীকে হারিয়ে ‘খ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। অপরদিকে ঢাকা জেলা সাডেন ডেথে ৫-৪ গোলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে হারিয়ে ‘ক’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়। এই দুই দলের নির্ধারিত সময়ে খেলা ২-২ গোলে ড্র ছিল। ১৭ মে প্রথম সেমিতে খেলবে খ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনী ও ক গ্রুপ রানার্স আপ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং দ্বিতীয় সেমিতে খেলবে ক গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা জেলা ও খ গ্রুপ রানার্স আপ সেনাবাহিনী। তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ও ফাইনাল হবে ১৮ মে।

টাইব্রেকারে বিকেএসপিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে সেনাবাহিনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

এটিএন বাংলা ৩১তম হকি গোল্ডকাপের বাকি দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল আজ রোববার অনুষ্ঠিত হয়। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ময়মনসিংহ জেলাকে ১৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ঢাকা জেলা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে সাডেন ডেথে বিকেএসপিকে ৭-৬ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আগামিকাল সোমবার দুপুর ২টায় প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আর বিকেল ৪টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা জেলা।

রোববার দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ঢাকা জেলার বড় জয়ে ৪টি গোল করেছেন মাকসুদ আলম হাবুল। ৩টি গোল করেছেন মাহবুব হোসেন। আর ২টি গোল করেছেন রায়হান উদ্দিন। এ ছাড়া রুবেল, সিহাব, ইকবাল, আফসার, রাব্বি সালেহীন, ইমতিয়াজ ও রাকিন একটি করে গোল করেন।

দিনের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বিকেএসপি দুইবার লিড নিয়েও সেটা ধরে রাখতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। সমতা ভাঙতে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানেও সমতা থাকায় সানেড ডেথে নির্ধারিত হয় ম্যাচের ফল।

রোববার ম্যাচের ২১ মিনিটে বিকেএসপির আরশাদ হোসেন গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। ২১ মিনিটে খলিলুর রহমানের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। তবে একই মিনিটে সেনাবাহিনীর হাসান যুবায়ের নিলয় গোল করে ব্যবধান কমান (২-১)। ৩৬ মিনিটে বিকেএসপির রকিবুল হাসান গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন। এরপরের গল্পটুকু সেনাবাহিনীর। ৫৮ মিনিটে সেনাবাহিনীর মিলন হোসেন গোল করে ব্যবধান আরো কমান (৩-২)। আর ৬২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে হাসান যুবায়ের নিলয় ফিরতি শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান। এই সমতা আর ভাঙেনি।

ফলে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানেও সমতা ভাঙে না (৬-৬)। এরপর সাডেন ডেথে সেনাবাহিনী গোল করে এগিয়ে যায়। সাডেন ডেথে বিকেএসপি মিস করে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী গোল আদায় করে নেয়। তাতে ৭-৬ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

প্রথম ৫টি শ্যুআউটে সেনাবাহিনীর সাব্বির, রোকনুজ্জামান ও পুষ্কর ক্ষিসা মিমো গোল করেন। মিস করেন শফিকুল ইসলাম ও মিলন হোসেন। শ্যুটআউটে বিকেএসপির হয়ে গোল করেন আরশাদ, রাজু আহমেদ তপু ও সোহানুর রহমান। মিস করেন নাহিয়ান শুভ ও শফিউল শিশির। আর সাডেন ডেথে সেনাবাহিনীর সাব্বির রানা গোল করেন। বিকেএসপির রাজু আহমেদ মিস করেন। 

জাতীয় হকির সেমিতে ঢাকা জেলা ও সেনাবাহিনী

জাতীয় হকির সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ঢাকা জেলা ও সেনাবাহিনী। রোববার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনলে ঢাকা জেলা ১৬-০ গোলে হারায় ময়মনসিংহ জেলাকে। জয়ী দলের মাকসুদ আলম হাবুল চারটি, মাহবুব হোসেন তিনটি, রায়হান উদ্দিন দু’টি এবং রুবেল, সিহাব, ইকবাল, আফসার, রাব্বি সালেহীন, ইমতিয়াজ ও রাকিন একটি করে গোল করেন। দিনের অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে সেনাবাহিনী সাডেন ডেথে ৭-৬ গোলে হারায় বিকেএসপিকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ৩-৩ গোলে ড্র ছিল। পাঁচটি শ্যূট আউটের মধ্যে দু’দলই তিনটি করে গোল করে। পরে সাডেন ডেথে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেনাবাহিনী।

জাতীয় হকির সেমিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও নৌবাহিনী

জাতীয় হকির সেমিফাইনালে উঠেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী। শনিবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে, প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ৫-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশকে। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ নৌবাহনী ৫-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে। ৪ মিনিটে বাংলাদেশ পুলিশের মাহফুজুর রহমান গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পিছিয়ে পড়ার ৭ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ম্যাচে ফেরান প্রমোদ দেওয়ান। ২২ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন শাওন শেখ। ৩১ ও ৩২ মিনিটে দেবাশীর্ষ গোল করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ৪-১ গোলে এগিয়ে দেন। ৩৯ মিনিটে পরিমলের গোলে সহজ জয় নিয়েই ঘরে ফেরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
এদিকে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রথমার্ধে এগিয়েছিল ৩-০ গোলে। কৃষ্ণ কুমার ২ ও ৬ মিনিটে গোল করেন। ১২ মিনিটে রাসেল মাহমুদ জিমির গোলে ব্যবধান ৩-০ করে নৌবাহিনী। ৪৩ মিনিটে দীন ইসলাম ইমন গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। ৫৬ মিনিটে আশিক মাহমুদের গোলে ব্যবধান কমিয়েছিল বিমান বাহিনী। শেষ মিনিটে রোমান সরকারের দেয়া গোলে নৌবাহিনীর জয়টা সহজ হয়-৫-১ গোলে জিতে শেষ চারে উঠে যায় টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট নৌবাহিনী।

হকিতে হ্যাটট্রিকময় এক দিন

দিনভর গোল বন্যার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে ৩১তম এটিএন বাংলা জাতীয় হকি গোল্ডকাপের গ্রুপ পর্যায়ের খেলা। বাংলাদেশ পুলিশ, কুমিল্লা ও বিকেএসপি পেয়েছে বড় জয়। বুধবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, প্রথম ম্যাচে শরিয়তপুর জেলাকে গোল বন্যায় ভাসিয়েছে কুমিল্লা। ১৪-১ ব্যবধানের জয়ের এই ম্যাচে আসিফুল আলম করেছেন ডাবল হ্যাটট্রিক। কুমিল্লার হয়ে জাবেদ ৩ গোল, সাহেদ, রোকন দুটি করে ও তোফায়েল করেন একটি গোল। দ্বিতীয় ম্যাচেও গোলবন্যা দেখেছে হকি। নাটোরের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়েছে বিকেএসপি। ১৩-০ গোলে জিতেছে তারা। দিনের তৃতীয় ম্যাচে সবচেয়ে বড় জয়টি পেয়েছে পুলিশ। ফেনীকে ১৮-০ গোলের বন্যায় ভাসিয়েছে তারা। জিয়াউর রহমানের হ্যাটট্রিকের এই ম্যাচে মাহফুজ ও সোহেল ৫ টি করে গোল করেন। সবশেষ ও চতুর্থ ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে জয়পুরহাট। ৫-০ গোলের ব্যবধানে জিতেছে তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালে ঢাকা শিা বোর্ড ও ময়মনসিংহ জেলা

এবারই প্রথম জাতীয় হকিতে প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়লো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জেলা। অতীতে বাদ পড়লেও নুন্যতম কোয়ার্টার ফাইনাল অথবা সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিলো তারা। জাতীয় হকিতে কয়েকবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছে দলটি। তবে কোয়ার্টার নিশ্চিত করেছে ঢাকা শিা বোর্ড ও ময়মনসিংহ জেলা। উভয় দলই তিনটি করে ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে প্র“প চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ আটে নাম লেখায়। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, ১ নং গ্র“প থেকে ঢাকা শিা বোর্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। গ্র“পে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা ৬-১ গোলে পরাজিত করে নারায়নগঞ্জ জেলাকে। ৫ নং গ্র“প থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ময়মনসিংহ জেলা। গ্র“পে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা কুড়িগ্রামকে ৬-২ গোলে পরাজিত করে

জাতীয় হকি প্রতিযোগিতা

এটিএন বাংলা জাতীয় হকি প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছে কড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা শিা বোর্ড। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে, কুড়িগ্রাম জেলা ৪-২ গোলে পরাজিত করে ঠাকুরগাঁও জেলাকে। কুড়িগ্রামের শহিদ দুটি এবং হাসিবুজ্জামান ও কামরুল একটি করে গোল করেন। আর ঠাকুরগাঁওয়ের এক্কা ও সুকেশ দুটি গোল পরিশোধ করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ময়মনসিংহ জেলা ৮-২ গোলে হারায় সাতীরা জেলাকে। ময়মনসিংহের রাহাত, তানভীর ও ইসমাঈল ২টি করে এবং হিমেল ও মাশুক একটি করে গোল করেন। আর সাতীরার সাইফুল ও ফয়সাল দুটি গোল শোধ করেন। তৃতীয় ম্যাচে ফরিদপুর জেলা ৩-১ গোলে পরাজিত করে নারায়নগঞ্জকে। ফরিদপুরের মুসা মিয়া দুটি এবং আরাফাত একটি করে গোল করেন। নারায়নগঞ্জের আপন একটি গোল শোধ করেন। দিনের শেষ ম্যাচে, ঢাকা শিা বোর্ড ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করে চট্টগ্রাম জেলাকে। বিজয়ী দলের আবেদ উদ্দিন, সামন্ত লাল প্রিন্স, শাওন শেখ, রোহান সাব্বির এবং দেবাশিষ গোলগুলো করেন।

নারী হকির জাতীয় দল গঠন করতে চায় বাহফে

হালের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট বা ফুটবলে আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা। কিন্তু হকিতে নেই নারী জাতীয় দল। অবহেলায় পড়ে আছে নারীরা। তবে, নারীদের দল গঠনে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে হকি ফেডারেশন (বাহফে)।

আগামী মে মাসে নারীদের হকি চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করতে যাচ্ছে ফেডারেশন। এ বিষয়ে বাহফের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক জানান, ‘নারীরা উপেক্ষিত। তাদের নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করা হয়েছে। আগামী মাসেই একটা চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করতে চাই।’

এই চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে সেরাদের নিয়েই শুরু হবে ক্যাম্পেইন। সেখান থেকে গঠন করা হবে জাতীয় নারী হকি দল।

পুরুষ হকির বিভিন্ন আসর মোটামুটি নিয়মিতই হয় বাংলাদেশে। তবে সে তুলনায় মহিলা হকির আসর অনুষ্ঠিত হয় না বললেই চলে। যাকে বলে বিন্দুতে সিন্ধু। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, দীর্ঘ ৩০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো মহিলা হকি মাঠে গড়িয়েছিল ১৯৭৭ সালে। গঠিত হয়েছিল ওম্যান্স উইং হকি দল। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের প্রথম কোনো হকি দল। সে দলে ছিলেন লাভলী, পুতুল, খুকী, হামিদা, মিউরেল, নাসিমা, কস্তরী, শাকিলা, ডলি ক্রুজসহ আরও অনেকে।

তাদের সময়ে অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ঢাকায় মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে ঘাসের মাঠে গড়িয়েছিল হকি প্রতিযোগিতা। চলেছিল ১৯৮২ পর্যন্ত। সেই শেষ। তারপর কালের গর্ভে হারিয়ে যায় ৩০টি বছর। মহিলা হকিও হারিয়ে যায় দৃশ্যপটের অন্তরালে। না, একেবারেই হারায়নি। ২০১২ সালের মে মাসে আবারও মাঠে গড়ায় জাতীয় মহিলা হকির তৃতীয় আসর। অংশ নিয়েছিল ৯টি দল। এরপর আরও ২/১টি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারপর আর কোনো খবর নেই।

জাতীয় নারী হকি চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে আগামী মাসে। ১৬ জেলা অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। দলগুলোকে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি খেলার সরঞ্জাম দেবে টুর্নামেন্ট কমিটি। এদিকে টুর্নামেন্ট কমিটি ৪৯ সদস্য থেকে কমিয়ে ১৫ সদস্য করা হয়েছে। মহিলা হকি নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আজ পর্যন্ত আমাদের জাতীয় মহিলা হকি দল গঠন করা হয়নি। ব্যাপারটা অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য।

মাঝে মধ্যে ফেডারেশন নামমাত্র কয়েকটা জেলা নিয়ে শুধু টুর্নামেন্ট করেই দেশের মহিলা হকি নিয়ে তাদের সব দায়িত্ব পালন করে! বাহফে র্যাঙ্কিংয়ে এগুতে চায়। মহিলা হকি নিয়ে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (এফআইএইচ) অনেক লোভনীয় প্রস্তাব আছে। একটি দেশের পুরুষ জাতীয় দলের পাশাপাশি যদি মহিলা হকি দল থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক হকি র্যাঙ্কিংয়ে রেটিংয়ে অতিরিক্ত কিছু বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া মহিলা হকি দল গঠন করতে পারলে এফআইএইচ থেকে বাহফে অনেক বিশেষ অনুদানও পেতে পারে।

দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার সঙ্গে ড্র জিমিদের

আসল পরীক্ষায় নামার আগের ৭ দিনে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ-বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের এমন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অনেক সাবেক খেলোয়াড়। তাদের যুক্তি খেলোয়াড়দের এখন রিকভারির সময়। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ৪ মার্চ। তার তিন দিন আগে ঘানার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। জিমিরা মাঝে সময় পাচ্ছেন মাত্র ২ দিন। ক্লান্তিভরা শরীর নিয়েই যে তাদের শুরু করতে হবে হকি ওয়ার্ল্ড লিগ রাউন্ড-২ এর খেলা।

টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের বিকল্প নেই। কিন্তু সে প্রস্তুতি ম্যাচ কেন এতটা শেষ দিকে, তা নিয়ে দুই রকম ব্ক্তব্য আছে হকি ফেডারেশনেই। প্রথম ম্যাচে ঘানার কাছে হারের পর সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে কোনোমতে ড্র। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন পোস্টে দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে এ ম্যাচও হারতে হতো তাকে। গোটা পাঁচেক দুর্দান্ত সেভ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের খেলায় না ছিল ছন্দ, না ছিল গতি। যা ছিল তা সবই ভুল পাস। খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল ক্লান্তির ছাপ। অনেক দিন ধরে অনুশীলনে জিমিরা। তাদের উপর দিয়ে ট্রেনিংয়ের যে ধকল গেছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি এখন। যে কারণে ঠিকমতো বল রিসিভ করতে পারছিলেন না তারা। পাসটাও হচ্ছিল না সঠিকভাবে।

বাংলাদেশের এমন ছন্নছাড়া খেলার জন্য অবশ্য মিডিয়াকে দায়ী করেছেন দলের জার্মান কোচ অলিভার কার্টজ। ম্যাচের পর তিনি সোজা-সাপ্টা বলে দিলেন মিডিয়ার নেতিবাচক খবরের জন্যই খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙ্গে গেছে। প্রথম ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের পর মিডিয়ার প্রতিবেদনগুলো নাকি ঠিক হয়নি। এটা প্রস্তুতি ম্যাচ, এখনই খেলোয়াড়দের দোষ দেয়া ঠিক না-ম্যাচের পর এমনই বলেছেন তিনি।

তবে প্রথম ম্যাচে ২ গোলে হারা দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করায় তিনি সেটাকে পজিটিভ হিসেবেই দেখছেন। কাগজে-কলমে ঘানা বাংলাদেশের পেছনে থাকলে তারা শারীরিকভাবে অনেক এগিয়ে। মাঠেও সেটা দেখিয়েছেন আফ্রিকার দলটি। মিলনের দেয়া গোলে বাংলাদেশই প্রথম লিড নিয়েছিল। কিন্তু পর পর ২ গোল করে সফরকারী দলটি এক পর্যায়ে এগিয়ে যায়। পেনাল্টি কর্নার থেকে চয়নের গোলে অবশ্য হার এড়িয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ১ মার্চ দুই দলের তৃতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় যুব হকিতে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন

জাতীয় যুব হকির ২৬তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা ৫-০ গোলে হারিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। বিজয়ী দল প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়েছিল। দুটি করে গোল করেছেন সোহানুর রহমান ও মহসিন। একটি গোল করেছেন দেবাশিস রায়।

২০ মিনিটে সোহানুরের গোলে এগিয়ে যায় বিকেএসপি। ৮ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান দেবাশিস। পরের মিনিটেই ব্যবধান ৩-০ করেন মহসিন। তিনি ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন। ৫৮ মিনিটে সোহানুর গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন পৃষ্ঠপোষক অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার  পংকজ রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শাহদাত হোসেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক  আবদুস সাদেক ও টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক মো. মাহাবুবুল এহসান রানা।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বিকেএসপির শফিউল আলম শিশির। সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন একই দলের সোহানুর রহমান। তিনি ২২ গোল করেছেন। চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি ৩০ হাজার ও রানার্সআপ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ২০ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেয়া হয়েছে।

হকি ওয়ার্ল্ড লিগে আসছে না কানাডা

ফিকশ্চার চূড়ান্ত। ৪ মার্চ উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার কথা ছিল কানাডার। কিন্তু ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য হকি ওয়ার্ল্ড লিগের রাউন্ড-২ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটি। কানাডার না আসার বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ)। নাম প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে কানাডা বলেছে নিরাপত্তার কথা।

আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন জানিয়েছে কানাডার পরিবর্তে অন্য একটি দেশকে এই গ্রুপে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য রাউন্ড-২ এ বাংলাদেশ সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপের অন্য দুই দল হচ্ছে- ফিজি ও ওমান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে মিশর, ঘানা, চীন ও শ্রীলঙ্কা। ৪ থেকে ১২ মার্চ হকি ওয়ার্ল্ড লিগের রাউন্ড-২ এর খেলা অনুষ্ঠিত হবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে।

নিরাপত্তার অজুহাতে কানাডার খেলতে না আসার কোনো কারণ দেখছেন না হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। এ টুর্নামেন্টের জন্য ইতোমধ্যে বার কয়েক আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকও হয়েছে। বিদেশি দলগুলোকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর আগস্টে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ খেলতে আসেনি জাপান। যদিও ওই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বিদেশি দলগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে গেছে।

হকির ফাইনালে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী

মার্সেল বিজয় দিবস হকির ফাইনালে ওঠেছে দুই সার্ভিসেস টিম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ  নৌবাহিনী। শনিবার মওলানা ভাসানী হকি ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম সেমিফাইনালে সেনা বাহিনী ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বিমান বাহিনীকে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নৌ বাহিনী ৫-২ গোলে হারিয়েছে বিকেএসপিকে।

৭-০ স্কোর লাইনটিই বলে দিচ্ছে বিমান বাহিনীর বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনালে সেনাবাহিনীর আধিপত্য। এক তরফা ম্যাচটিতে গোল করেছেন চার জন। খোরশেদুর রহমান একাই ৩ গোল করেন। ২ গোল করেছেন মিলন হোসেন এবং ১টি করে গোল পেয়েছেন হাসান জুবায়ের নিলয় ও আব্দুল মালেক।

বিকেএসপিকে ৫-২ গোলে হারানো ম্যাচে রাসেল মাহমুদ জিমি ২ গোল করেন। ১টি করে গোল পেয়েছেন  রোমান সরকার, মাইনুল ইসলাম ও কৃষ্ণ কুমার দাস। বিকেএসপির পক্ষে গোল দুটি করেন সোহানুর রহমান এবং রাজিব দাস।
২৬ ডিসেম্বর টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

মার্সেল বিজয় দিবস হকির ফাইনালে সেনা ও নৌ বাহিনী

মার্সেল বিজয় দিবস হকির ফাইনালে উঠেছে সেনা ও নৌ বাহিনী। শনিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৭-০ গোলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিা প্রতিষ্ঠানকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী।
আগামী ২৬ শে ডিসেম্বর সোমবার বেলা ২.৪৫টায় মার্সেল বিজয় দিবস হকির শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হবে সেনা ও নৌ বাহিনী। ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা সরাসরি সম্প্রচার করবে।
শনিবার প্রথম সেমিফাইনালে বিমানবাহিনীর বিপে সেনাবাহিনীর খোরশেদুর রহমান ৩টি গোল করেন (১০মি. ৪৭মি. ও ৫১মি.)। তার মধ্যে ২টি পিসি ও ১টি স্ট্রোক থেকে গোল করেন। মো. মিলন হোসেন করেন ২টি ফিল্ড গোল (২৪মি. ও ৫৭মি.)। হাসান যুবায়ের নিলয় (৫০মি. ফিল্ড) ও আব্দুল মালেক (৬৩মি. ফিল্ড) ১টি করে গোল করেন।
এদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর রাসেল মাহমুদ জিমি ২টি ফিল্ড গোল (৩৭মি. ও ৫৪মি.) করেন। এ ছাড়া রোমান সরকার (৪১মি. ফিল্ড), মাইনুল ইসলাম (৪১ মি. ফিল্ড) ও কৃষ্ণ কুমার দাস (৬৭ মি. ফিল্ড) ১টি করে গোল করেন। বিকেএসপির সোহানুর রহমান ২০ মিনিটের সময় একটি পিসি এবং রাজিব দাস ৫০ মিনিটের সময় একটি ফিল্ড গোল করে ব্যবধান কমান।

মার্সেল বিজয় দিবস হকির সেমিফাইনালে চার দল

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মার্সেল বিজয় দিবস হকি প্রতিযোগিতা। আজ প্রতিযোগিতার চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার গ্রুপপর্বের শেষ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
‘এ’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীও। এদিকে ‘বি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও।
শনিবার প্রথম সেমিফাইনালে দুপুর ১২টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিকেল আড়াইটায় মুখোমুখি হবে বিকেএসপি ও নৌ বাহিনী।
বৃহস্পতিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনীর মধ্যকার ম্যাচটি ৪-৪ গোলে ড্র হয়। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে সেনাবাহিনী। রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে নৌ বাহিনীও।
এদিকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বিকেএসপি। আর রানার্স-আপ হয়ে উঠেছে বিমান বাহিনী।
‘এ’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ও ‘বি’ গ্রুপ থেকে চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম বিদায় নিয়েছে।

বিজয় দিবস হকিতে সেনা ও বিমান বাহিনীর জয়

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মার্সেল বিজয় দিবস হকি প্রতিযোগিতা। আজ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ। দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম।
দিনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৪-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশকে। প্রথমার্ধে সেনাবাহিনী ৭-০ গোলে এগিয়ে ছিল। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ১২-১ গোলে হারায় চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব চট্টগ্রাম। প্রথমার্ধে বিমান বাহিনী ৬-০ গোলে এগিয়ে ছিল।
দিনের প্রথম ম্যাচে পুলিশের বিপক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খোরশেদুর রহমান (১৫মি. ৩১মি ও ৪৪মি.), মো. নাঈম উদ্দিন (২৭মি. ৪৭মি. ও ৬০ মি) ও মো. রোকনুজ্জামান (৪মি. ৪৫মি. ও ৫৯ মি.) ৩টি করে গোল করেন। ২টি করে গোল করেন মো. মিলন হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম। আব্দুল মালেক করেন একটি গোল। পুলিশের আবসার উদ্দিন একটি গোল শোধ দেন। সেটা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। ১৪-১ গোলের ব্যবধানের হার থেকে দলকে রেহাই দিতে পারেনি। আগের ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ ১৩-১ গোলে হেরেছিল নৌ বাহিনীর কাছে। টানা দুই ম্যাচে বড় পরাজয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনী সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে রয়েছে। ২২ ডিসেম্বর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সেনা ও নৌ বাহিনী।
এদিকে বিমান বাহিনীর ১৬ নম্বর জার্সিধারী মো. মাহবুব হোসেন একাই ৬টি গোল করেছেন। তিনি ৬, ১১, ২৪, ৪১, ৬১ ও ৬৩ মিনিটে গোল ছয়টি করেন। ৩টি গোল করেন প্রসেনজিৎ রায়। মো. বেলাল হোসেন করেন ২টি গোল। অপর গোলটি করেন আশিক মাহমুদ। ম্যাচের ৪০ মিনিটে চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাবের শহিদুল একটি গোল শোধ দেন। তবে দলকে বড় ব্যবধানে হারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।
প্রথম ম্যাচে চান্দগাঁও ১১-০ গোলের ব্যবধানে হারে বিকেএসপির কাছে। আর আজ ১২-১ গোলে হেরেছে বিমানবাহিনীর কাছে। দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব চট্টগ্রাম। সেমিফাইনালের জন্য টিকে রয়েছে বিমান বাহিনী ও বিকেএসপি। ২২ ডিসেম্বর মুখোমুখি হবে দল দুটি।

হকি দলকে নিয়ে জার্মান কোচের পরিকল্পনা

আগামী মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য হকি ওয়ার্ল্ড লিগ রাউন্ড-২ এর সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই লক্ষ্যের কথা জানান জাতীয় হকি দলের জার্মান হেড কোচ অলিভার কার্টজ। সঙ্গে লক্ষ্য অর্জনে নানা প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কার্টজের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক, সহ-সভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীর। প্রথমেই আব্দুস সাদেক তুলে ধরেন কার্টজের সঙ্গে ফেডারেশনের চুক্তির সর্বশেষ অবস্থা, ‘আমরা দুপক্ষই নৈতিকভাবে সম্মত যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হবে। কার্টজ তার চুক্তির মাঝে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সময় সূচি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। এরপরই সে তার পুরো পরিকল্পনা সাজাবে। আমরা আইনগত বিষয়গুলোও সেই সঙ্গে বিবেচনা করছি।’

কয়েক দিনের মধ্যে নতুন চুক্তি সম্পাদিত হলেও ইতোমধ্যেই এএইচএফ কাপের জন্য তিন মাস আগে করা চুক্তি শেষ হয়েছে। সেই চুক্তি প্রসঙ্গে কার্টজ বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশে কাজ করতে পেরে গর্বিত। আমি আনুষ্ঠানিকভাবেই বলতে চাই যে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন শেষ হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশেই আছি। এর মাঝেই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা দেবো। যার ব্যাপ্তি হবে দুই থেকে তিন বছর।’

হকির জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ আল মুনীর কার্টজকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ‘কার্টজকে আমরা বলে দিয়েছি ভালো ফলাফল চাই। আর এ জন্য আমাদের সীমাবদ্ধতার মাঝে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। তবে এ কথা বলতে চাই যে অন্তত জাতীয় দলের জন্য হকি ফেডারেশনের আর্থিক দৈন্যতা নেই। ’

এরপরই কার্টজ তার প্রস্তুতির পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই ৩৫ থেকে ৪০ জন খেলোয়াড় নিয়ে কাজ শুরু করেছি। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দলকে নিয়ে চলে যাবো বিকেএসপিতে। আমি এজন্য ফেডারেশনের কাছে একজন অ্যাথলেটিক কোচ চেয়েছি। দুই সপ্তাহ সেখানে ফিটনেস প্রোগ্রমের পর শুরু হবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি। এখানে সাত-আটটা ম্যাচ খেলে দল ছোট করবো। ’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘জানুয়ারির শেষ দিক বা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দল যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সেখানে দল খেলবে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ, এরপর ফিরে এসে ইউরোপিয়ান দলের সঙ্গে তিন চারটি ম্যাচ খেলবে দল। যেখানে রাশিয়া আমাদের বিবেচনায় আছে। অস্ট্রিয়া অনূর্ধ্ব-২১ বা পোল্যান্ডও খারাপ নয়। আমরা উঁচু র‌্যাংকিংয়ের দলের বিপক্ষেই খেলবো।’

উল্লেখ্য, কয়েক দিনের মধ্যেই বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে যাচ্ছেন কোচ কার্টজ। জানুয়ারির শুরুতে ফিরে ফের শুরু করবেন ক্যাম্পের কর্মকাণ্ড।

আজ বিকেলে ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

শনিবার সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের ফাইনালে উঠে প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। ওই দিনই অবশ্য সেটা (প্রতিপক্ষ) পেয়ে যেতে পারতো। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টির কারণে সেদিন দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি মাঠে গড়ায়নি।

আজ রোববার সকালে স্বাগতিক হংকংকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। আজ বিকাল ৫টায় টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। জিতলে এটা হবে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা। একই সঙ্গে এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবেন জিমিরা। আর প্রথমবারের মতো ট্রফি ঘরের তোলায় অপেক্ষায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। আর বাকি ম্যাচটির নিষ্পত্তি হয়েছে ড্রয়ে। এ বছর এসএ গেমসে শ্রীলঙ্কাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ব্রঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ।

সিঙ্গাপুরকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে বাংলাদেশ

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের ৪ ম্যাচের সব ক’টিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের সেমিফাইনালে দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশই ছিল ফেবারিট।

টুর্নামেন্টের আগের দুই বারের চ্যাম্পিয়ন লাল সবুজ জার্সিধারীরা ফেবারিটদের মতোই খেলেছে- সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়েছিল। বাংলাদেশ রোববার ফাইনাল খেলবে হংকং ও শ্রীলংকার মধ্যে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিজয়ী দলের সঙ্গে।

সেমিফাইনালে দুটি গোল করেছেন আশরাফুল ইসলাম। বাকি ৬ গোল করেন মিলন হোসেন, রোমান সরকার, জিমি, মিমো, চয়ন ও কৃষ্ণ।

শনিবার হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরকে গোলের বন্যায় ভাসালেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৬ মিনিট পর্যন্ত। মিলন হোসেনের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় জিমি-চয়নরা। এর পর ২৯ মিনিটে রোমান সরকারের ফিল্ড গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ২ মিনিটেই ব্যবধান বাড়িয়ে দেন অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান ৪-০ গোলে করেন মামুনুর রহমান চয়ন। এর ২ মিনিট পর সিঙ্গাপুরের জালে পঞ্চমবারের মতো বল পাঠান পুস্কর খিসা মিমো। ৫৫ মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন কৃষ্ণ কুমার দাস। আশরাফুল ইসলাম পেনাল্টি কর্নার থেকে শেষ দুটি গোল করেন ৬৭ ও ৬৯ মিনিটে।

বাংলাদেশ ১৩ আশরাফুল ৫ ম্যাকাও ০

গ্রুপসেরা হতে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ড্র। প্রতিপক্ষ ম্যাকাও হওয়ায় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। দলের তারকা খেলোয়াড়দের বাইরে রেখেই একাদশ সাজিয়েছিলেন জার্মান কোচ অলিভার কার্টজ। পূর্ণশক্তির দল না নামিয়েও বাংলাদেশ ১৩-০ গোলে হারিয়েছে ম্যাকাওকে।

হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ করেছে ৬ গোল। ডিফেন্ডার আশরাফুল ইসলাম প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরো ২ গোল। দলের ১৩ গোলের ৫টিই তার। সারোয়ার করেছেন ৩টি। ২টি করেছেন রোমান সরকার এবং একটি করে গোল করেছেন হাসান জুবায়ের নিলয়, মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও খোরশেদুর রহমান।

দ্বিতীয় মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে প্রথম গোল করে আশরাফুল। ১০ মিনিটে আবার পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। পরের মিনিটেই পেনাল্টি স্ট্রোক পায় বাংলাদেশ। আশরাফুল গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন।

১৯ মিনিটে রোমান সরকারের ফিল্ড গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে। ২৩ মিনিটে সারওয়ার হোসেনের ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৫-০ করে লাল সবুজ জার্সিধারীরা। বিরতির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে ব্যবধান ৬-০ করেন হাসান জুবায়ের নিলয়।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দুই গোলও আসে আশরাফুলের স্টিক থেকে। তিনি ৪০ ও ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন। ৬১ মিনিটে সারোয়ার পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের নবম গোল করেন। পরের মিনিটে রোমান সরকারের ফিল্ড গোলে ব্যবধান হয় ১০-০।

পেনাল্টি কর্নার থেকে সারোয়ার ব্যবধান ১১-০ করেন, ৬৩ মিনিটে। ৬৯ মিনিটে মাইনুল ইসলাম কৌশিকের ফিল্ড গোলে ব্যবধান হয় ১২-০ এবং শেষ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে করা খোরশেদ আলমের গোলে ১৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবজু জার্সিধারীরা।

ড্র করলেই গ্রুপ সেরা বাংলাদেশ

সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে আগেই। এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ সেরা হয়েই সেমিতে মাঠে নামতে চায়। প্রাথমিক এ লক্ষ্যে পৌঁছতে আগামীকাল (বুধবার) গ্রুপের শেষ ম্যাচে ম্যাকাওয়ের সঙ্গে ড্র করলেই হবে জিমিদের। হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪ টায়। প্রথম দুই ম্যাচে হংকং ও চাইনিজ তাইপেকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের তুলনায় ম্যাকাও আরো দুর্বল।

হংকং থেকে দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি বলেছেন, ‘আমরা এখানে এসেছি সব ম্যাচ জিততে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাকাওয়ের বিরুদ্ধে জয়ের টার্গেট নিয়েই নামবো। মঙ্গলবার কোনো অনুশীলন হয়নি আমাদের। দিনভর আগের দুই ম্যাচের ভিডিও দেখে ভুল-ত্রুটিগুলো বের করে তা কীভাবে দূর করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করেছেন কোচ।’

বাংলাদেশ জিতলে তো কথাই নেই। ড্র করলেও চলবে। তবে ম্যাকাও যদি অঘটন ঘটিয়ে দেয়? যদি বাংলাদেশ হেরে যায় এবং অন্য ম্যাচে হংকং হারায় চাইনিজ তাইপেকে তাহলে দুই দলের পয়েন্টই হবে ৬। সেক্ষেত্রে গোল গড়ে এগিয়ে থাকা দেশটি হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

তাইপেকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

হংকংয়ে চলমান এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিমিরা ৪-২ গোলে হারিয়েছে চাইনিজ তাইপেকে।

প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা একই ব্যবধানে হারিয়েছিল স্বাগতিক হংকংকে। টানা দুই জয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো জিমি-চয়নরা। এ জয়ে নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল।

HOCKEY

১৭ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার রোমান সরকার। ২৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম। ২৯ মিনিটে অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমির ফিল্ড গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে।

এ স্কোরেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ভীতিকর হয়ে উঠে লাল-সবুজদের। ৪১ মিনিটে লু সাং তিং ফিল্ড গোল করে ব্যবধান কমান। ৭ মিনিট পর ব্যবধান ৩-২ করে চাইনিজ তাইপে। পেনাল্টি স্ট্রোকে গোল করেন মিয়েন ইং সেন। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের আরেক পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ মামুনুর রহমান চয়ন দলের চতুর্থ গোল করেন।

বুধবার গ্রুপের শেষ খেলায় ম্যাকাওর বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

দু্র্বল চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি বাংলাদেশ

এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাল হংকংয়ের কিংস পার্ক হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা চারটায় চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

শনিবার অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে জিমি চয়নরা  ৪-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক হংকং চায়নাকে।  এবার সামনে হংকংয়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল চাইনিজ তাইপে।  বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ট্র্যাক রেকর্ডও খারাপ। নিকট অতীতে তাইপে বাংলাদেশের সঙ্গে কখনও জিতেনি। ২০১৩ সালে এশিয়া কাপে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ১১-৩  গোলে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন চারটি, পুস্কর ক্ষিসা মিমো তিনটি এবং মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও রাসেল মাহমুদ জিমি দু’টি করে গোল করেছিলেন।

আর  দু’মাস আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টে চাইনিজ তাইপেকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের তরুণরা।

এদিকে তাইপে তাদের প্রথম ম্যাচে গ্রুপের অন্য দল ম্যাকাও চায়নাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে। বাংলাদেশ ২৩ নভেম্বর বুধবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ম্যাকাও চায়নার বিপক্ষে খেলবে।

৯টি মিডিয়া নিয়ে হংকং যাচ্ছে হকি ফেডারেশন!

এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপ হকিতে অংশ নিতে হংকং যাত্রার আগে সংবাদ সম্মেলনে শুধু ১৮জন খেলোয়াড়ের তালিকা সরবরাহ করে হকি ফেডারেশন। খেলোয়াড় ছাড়া দলের সঙ্গে অন্য কারা যাচ্ছেন তা যেন কিছুটা রহস্যঘেরা।

সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সহসভাপতি সফিউল্লাহ আল মুনীর যে জবাব দিয়েছেন তা ছিল অস্পষ্ট। কর্মকর্তাদের নাম জানতে পীড়াপিড়ি করায় তিনি বলেন, ‘তালিকা ফেডারেশন থেকে দেয়া হবে।’

সফিউল্লাহ আল মুনীর অবশ্য একটি তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। হকি ফেডারেশন থেকেই নাকি পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে ৯টি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে। তিনি বলেছেন, ‘কন্টিনজেন্টের বাইরে অনেকে যাচ্ছেন নিজেদের খরচে। তবে আমরা ৯টি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে স্পন্সর করছি। একাত্তর, টোয়েন্টিফোর, এসএ টিভি, মাছরাঙ্গা টিভি, বাংলা ভিশন, ডিবিসি, এনটিভি, সময় টিভির পাশাপাশি নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি নিয়ে যাচ্ছি আমরা। জাতীয় দল যাতে বেশি প্রচার পায় এ জন্য এসব মিডিয়া নিয়ে যাওয়া।’

নির্দিষ্ট কয়েকটি মিডিয়াকে স্পন্সর করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক বলেছেন, ‘আমার শরীরটা খারাপ। ফেডারেশনে যেতে পারিনি। এ টুর্নামেন্টের সব কিছু মুনীর সাহেব (সফিউল্লাহ আল মুনীর) দেখছেন।’

ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা জানান, দলের সাথে কোচ-কাম ম্যানেজার হয়ে যাচ্ছেন মাহবুব হারুন। তবে পরে যে তালিকা দেয়া হয়, সেখানে তাকে দেখানো হয়েছে কোচ হিসেবে। ম্যানেজার হিসেবে নাম আছে আরিফুল হক প্রিন্সের। একটি সূত্র জানিয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় প্রিন্সকে হংকং যাওয়ার আদেশ দিয়েছে পর্যবেক্ষক হিসেবে।

প্রধান কোচ হিসেবে জার্মানির অলিভার কার্টজ যাচ্ছেন। তবে কন্টিনজেন্টে তার নাম নেই। এমনকি নেই উপদেষ্টা কোচ পিটার গেরহার্ডের নামও। ফেডারেশন থেকে ফলাও করে বলা হয়েছিল, এ টুর্নামেন্টের জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি কোচিং স্টাফ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাস্তবে অলিভার আর পিটার ছাড়া আর কেউ দৃশ্যমান নন। তারা নাকি জার্মানি থেকে হংকং গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। প্রশ্ন উঠেছে- অনুশীলনের সময় তাদের পাওয়া গেল না। টুর্নামেন্টে গিয়ে কি করবেন?

‘আমি হংকং যাচ্ছি। ওখানে গেলেই তো দেখবো কয়জন বিদেশি কোচ উপস্থিত। আমাদের প্রধান লক্ষ্য তো ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য হকি ওয়ার্ল্ড লিগ-২। এখানে অনেক ভালো ভালো দল খেলবে। আসলে শক্তিশালী কোচিং স্টাফ তৈরি তো সে জন্যই। ওয়ার্ল্ড হকি লিগের আগে দলকে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর চেষ্টা করছি। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলানো হবে’-বলেছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।

এশিয়ান হকির জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

আগামী ১৯ নভেম্বর হংকংয়ে শুরু হতে যাওয়া আট জাতির এএইচএফ বা এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপের জন্য ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) এ দল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত এ দলটি আগামী ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) হংকংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে বলেও জানানো হয়েছে।

ঘোষিত দলে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন, জাহিদ হোসেন ও অসিম গোপ।

ডিফেন্ডার হিসেবে আছেন, মামুনুর রহমান চয়ন, আশরাফুল, খোরশেদুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ শিটুল, ইমরান হাসান পিন্টু ও তাপস বর্মন।

মিডফিল্ডার হিসেবে আছেন, রেজাউল করিম বাবু, সারোয়ার, রুম্মন হোসেন, কামরুজ্জামান রানা ও মিলন হোসেন।

এছাড়া ফরোয়ার্ড হিসেবে আছেন, কৃষ্ণ কুমার, রাসেল মাহমুদ জিমি, পুস্কর খিসা মিমো, হাসান জুবায়ের নিলয় ও মাইনুল ইসলাম কৌশিক।

আসরে বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ ‘এ’তে। যেখানে তাদের সঙ্গী হিসেবে আছে, চাইনিজ তাইপে, হংকং ও ম্যাকাও। এছাড়া বি-গ্রুপে আছে, শ্রীলঙ্কা, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড ও উজবেকিস্তান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ নভেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে। ২১ নভেম্বর তারা খেলবে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে। ম্যাকাওর বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামবে ২৩ নভেম্বর। এরপর ২৫ নভেম্বর বিরতি দিয়ে ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হবে প্রাক-স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। আর ২৭ নভেম্বর স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলো দিয়ে পর্দা নামবে এই আসরের।

শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

পুরো টুর্নামেন্টে দুর্নিবার। একে একে সব প্রতিপকে গুঁড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ; কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর ভারত বাধা পার হতে পারলো না আশরাফুল-রুমনরা। অনুর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে এগিয়ে গিয়েও ভারতের কাছে ৫-৪ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের হকি যুবাদের। অথচ এই ভারতকেই গ্রুপপর্বে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
একেবারে শেষ মুহূর্তে এসেই স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় মুষড়ে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশের যুবাদের। ৪-৪ গোলে যে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তেমনটি হলে খেলা গড়াতো অন্তত টাইব্রেকারে; কিন্তু সেই ম্যাচটিতে শেষ বাঁশি বাজার মাত্র তিন সেকেন্ড আগে গোল হজম করে হৃদয়ভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ করে ঢাকার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে উৎসবে মেতে উঠলো ভারতীয় যুবারা।
44
তবে শুরু থেকে ম্যাচটি উপহার দিয়েছিল শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা। দু’বার এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে, ভারতের স্ট্রাইকারদের দতার কারণে এগিয়ে গিয়েও গোল ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের যুবারা। তবে, তারাও ধন্যবাদ পেতে পারেন, দু’বার পিছিয়ে গিয়েও ম্যাচে ফিরে আসতে সম হয়েছিল। এছাড়া খেলার শেষ মুহূর্তের আপেটাই কেবল পোড়াচ্ছে বাংলাদেশকে। হকি পাড়ায় শুধু ওই তিন সেকেন্ডেরই আপে।
২০ মিনিটের মাথায়ই গোল আদায় করে নেয় বাংলাদেশের যুবারা। নিজেদের প্রথম পেনাল্টি কর্নারেই গোল করে এগিয়ে যায় আশরাফুললা। রাব্বির পুশ, নাইম স্টপ করেন। আশরাফুলের ফিক ভারতীয় এক ডিফেন্ডারের স্টিকে লেগে ফিরে আসে বল। ফিরতি বল দারুণ হিটে ভারতের পোস্টে পাঠালেন অধিনায়ক রুমন সরকার।
যদিও এই গোলের আনন্দ খুব বেশিণ স্থায়ী হয়নি। কারণ, এক মিনিট পরই বাংলাদেশের বক্সে এককভাবে ঢুকে হাওয়ায় ভাসিয়ে ল্যভেদ করলেন ভারতের শিবম আনন্দ।
বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে আবারও এগিয়ে যেতে পারলো বাংলাদেশ। দ্রুতগতির এক আক্রমণে সজীবের বক্সে ফেলা হিট বক্সে ওৎ পেতে থাকা মহসীনের স্টিকের ছোঁয়া নিয়ে জড়ি যায় ভারতের পোস্টে; কিন্তু ৪৩ মিনিটে এই গোল আর ধরে রাখা যায়নি। নিজেদের তৃতীয় পেনাল্টি কর্নার গোলে পরিণত করল ভারত। হিটে ২-২ করলেন হার্দিক সিং।
এপর আর বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারেনি। ভারতের শক্তিশালি ডিফেন্স বাংলাদেশের আক্রমণগুলো আটকে দেয়। বরং উল্টো আক্রমনে বাংলাদেশের জালেই বল জড়িয়ে দেয় তারা। ৫০ মিনিটে বাংলাদেশের রণের ভুলে গোললাইনের খুব কাছ থেকে কনজেংবামের আলতো টোকায় ৩-২ করে ফেলে ভারত।
ভারতের কঠিন ডিফেন্স ভেদ করে এর ৯ মিনিট পর, অথ্যাৎ খেলার ৫৯ মিনিটে সমতায় ফেরে বাংলাদেশে। নিজেদের করা তৃতীয় পেনাল্টি কর্নার থেকে আশরাফুল গোল করে দিলেন দু’দলকে ৩-৩-এ সমতা। এরপর মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোল খেয়ে বসলো বাংলাদেশ। ৬২তম মিনিটে জটলার মধ্য থেকে কনজিংবামের স্টিকে ভারত করে ফেলে ৪-৩।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে আবারও স্কোরলাইন সমান সমান, ৪-৪। এবার বাংলাদেশকে দারুণ হিটে ম্যাচে ফেরান মাহবুব; কিন্তু শেষ মুহূর্তে শিবম আনন্দের গোল বাংলাদেশের উৎসবের প্রস্তুতি ভন্ডুল করে।

বাংলাদেশকে সমীহ করছেন ভারতীয় হকি কোচ

বাংলাদেশকে শক্তিধর প্রতিপক্ষ মেনেই শনিবার মাওলানা ভাসানি জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে নিজেদের প্রথম খেলায় আয়োজক বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে টুর্নামেন্টের শীর্ষ র‌্যাংকিংয়ের দল ভারত। বিকাল তিনটায় পুল ‘এ’র এই খেলাটি মাঠে গড়াবে।

ভারতের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চলতি বছর এসএ গেমসে ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করা বিজে কারিয়াপ্পা। অনূর্ধ্ব-১৮ দলে আছেন এসএ গেমসে খেলা তিন খেলোয়াড়। এরা হলেন গোলরক্ষক পঙ্কজ রজক, অধিনায়ক নিলম সন্দ্বীপ সেস ও ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ওমর। আজ মাওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে কঠোর অনুশীলন করছে ভারতীয় দল। এই সময় কারিয়াপ্পা প্রকাশ করলেন তার প্রস্ততি ও প্রত্যাশা, ‘সাধারাণত সবাই ভারতকে ফেভারিটই রাখে তবে আমরা এটি ভাবিনা। পাকিস্তান ও আয়োজক বাংলাদেশ আছে, তাদের খেলা আমরা দেখিনি, তা ছাড়া বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে দলগুলোর মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য থাকে না।’

নিজের দলের চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি উল্লেখ করলেন, ‘দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই নিজকে প্রমাণ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এখন কিন্তু ভারতীয় হকির চিত্রপট বদলেছে, রয়েছে ইন্ডিয়ান হকি লিগ। জাতীয় দল নিয়মিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলে, সবকিছু মিলিয়ে আমরা শিরোপা জয়ের জন্যই এখানে এসেছি।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা প্রসঙ্গে কারিয়াপ্পার সোজা সাপ্টা কথা, ‘আমরা নিজেদের সেরা নৈপূণ্য দেখানোর জন্য তৈরি, নিজ মাঠে বাংলাদেশ অবশ্যই কঠিন প্রতিপক্ষ, তাদেরও রয়েছে কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, আমরা একটি কঠিন লড়াই প্রত্যাশা করছি।’

এদিকে বাংলাদেশ কোচ জাহিদ হোনেন রাজু খেলোয়াড়দের বলেছেন বাড়তি কোনও চাপ না নিতে, ‘আমার বিকেএসপি ও প্রিমিয়ার লিগে একসঙ্গে খেলেছি। টিম স্পিরিট ভালো, আমরা কঠোর অনুশীলনও করেছি, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আমরা নির্দিষ্ট ছকেও কাজ করেছি। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামবো তবে এটি অস্বীকার করলে ভুল হবে যে ভারত আমাদের চেয়ে টেকনিক্যালি উন্নত, আমরা এটিকে টিমওয়ার্ক দিয়ে মোকাবিলা করবো।’
দিনের প্রথম খেলায় বেলা ১১ টায় মাঠে নামবে চীন ও হংকং, দ্বিতীয় খেলায় দুপুর ১টায় খেলবে পাকিস্তান ও ওমান।

ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-বেলজিয়াম

রিও অলিম্পিকে হকিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও অন্যতম ফেভারিট নেদারল্যান্ডকে পরাজিত করে  প্রথমবারের মত অলিম্পিক গেমসের পুরুষ হকির ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়াম। আর্জেন্টিনা ২০০৮ ও ২০১২ সালের স্বর্ণজয়ী শক্তিশালী জার্মানিকে ৫-২ গোলে আর ১৯৯৬ ও ২০০০ অলিম্পিকের স্বর্ণজয়ী নেদারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকেট পায় বেলজিয়াম।

বিশ্বের সাত নম্বর র্যােঙ্কধারী আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই তাদের অলিম্পিকের ইতিহাসে সেরা পারফরমেন্স দেখিয়ে ফেলেছে। এর আগে ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে তারা পঞ্চম স্থান লাভ করেছিল যা এতদিন পর্যন্ত সেরা ছিল। চার বছর আগে লন্ডনে তারা ১০ম স্থানে থেকে গেমস শেষ করেছিল।

অন্যদিকে বেলজিয়ামও দীর্ঘদিন পরে অলিম্পিকের হকিতে নিজেদের মেলে ধরেছে। ১৯২০ সালে ঘরের মাটিতে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া দলটি এই প্রথম ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো। চার বছর আগে পঞ্চম স্থানে থেকে তারা গেমস শেষ করতে বাধ্য হয়েছিল। মূলত নিউজিল্যান্ডের কোচ শেন ম্যাকলিয়ডের অধীনে পুরো দলের চেহারাই পাল্টে গেছে। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ম্যাকলিয়ড কিউই দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মেরিনার্সকে শাস্তি পেতেই হলো

প্রথমবারেরমত প্রিমিয়ার হকি লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও শাস্তি পেতে হলো মেরিনার ইয়াংস ক্লাবকে। এ যেন সাদা দেয়ালে এক পোছ কালি লাগার মত। গত ১ জুলাই গ্রিন ডেল্টা হকি লিগের শেষ ম্যাচটি ছিল শিরোপা নির্ধারনি। ওইদিন ঊষা ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ম্যাচের সময়ে হকি ফেডারেশনের ভিআইপি কক্ষ ভাংচুর করেছিল মেরিনার ইয়াংসের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বেশ কিছু উগ্র সমর্থক।

ওই অপরাধেই শাস্তি পেতেই হলো মেরিনার ইয়াংস ক্লাবকে। সোমবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় ওই ঘটনার জন্য মেরিনার্সকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Mariner

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীর সভা শেষে বলেন, ‘ওই ঘটনার জন্য মেরিনার্সকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউল্লাহ খান রানাকে এক মৌসুমের জন্য হকির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে এবং মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের ভিআইপি কক্ষে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ জরিমানার টাকা আগামী এক মাসের মধ্যেই পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে, স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে ভাঙচুরের ঘটনায় গত ২৩জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে দুঃখ প্রকাশ করেছিল মেরিনার।

হকির সাফল্যে উদ্বেলিত মেরিনার্স

প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের শিরোপা জিতে আনন্দে উদ্বেলিত মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সংক্ষেপে ঢাকা মেরিনার্স। ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তৎকালীন হকির শীর্ষ আসর প্রথম বিভাগ হকি লিগে উন্নীত হওয়ার পর কেটে গেছে ২৮ বছর। গতকাল শুক্রবার হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। তৃতীয় বা চতুর্থ শক্তি নয় মেরিনার্স এবার চ্যাম্পিয়ন, এ বার্তাই এখন বয়ে বেড়াচ্ছে আরামবাগের বাতাসে। এতো বড় সাফল্য ক্লাব এর আগে কখনও পায়নি।

১৯৭২ সালে আরামবাগ এলাকার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিত্ব ইসহাক চৌধুরির উদ্যোগে শুরু হয় ক্লাবটির যাত্রা। তার সঙ্গে ছিলেন ফরিদউদ্দিন, মরহুম নিয়াজ আহমেদ চৌধুরি ভোলা, দুলালসহ আরও কয়েকজন। স্টেডিয়ামের কাছের এলাকাটি এমনিতেই ছিল ক্রীড়া চাঞ্চল্যে ভরপুর। আর নিজের একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়ে এলাকার খেলাধুলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মেরিনার্স। ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে পাড়ার ক্লাবটি।

১৯৮৮ সালে এই হকিকে ঘিরেই মেরিনার্সের সাফল্য যাত্রা শুরু। দ্বিতীয় বিভাগ হকি লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম বিভাগে উন্নীত হয় মেরিনার্স। এলাকার এক ঝাঁক নিবেদিত তরুণ হয়ে ওঠে মেরিনার্সের প্রাণশক্তি। ১৯৮৯ সালে মেরিনার্সের প্রথম বিভাগের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক মঈনউদ্দিন ভূইয়া আজও মেরিনার্স হকির এক অবিচ্ছদ্য অঙ্গ। ১২ বছর আগে খেলা ছাড়লেও এখনও মেরিনার্সের প্রতিটি ম্যাচে তার উপস্থিতি নিশ্চিত। ম্যানেজার বদরুল ইসলাম দীপুও সাবেক খেলোয়াড়। যেখানে মেরিনার্স হকি সেখানে অাছেন দীপু। শুধু তারা নন, আরও অনেকেই মেরিনার্স হকি দলের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দীর্ঘদিন।

হকিকে ঘিরে মেরিনার্সের যত আলোচনা হলেও, অনেকেই জানে না মেরিনার্স একসময় ঢাকা বাস্কেটবলের অন্যতম পরাশক্তি ছিল। একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে তারা আলোড়ন তুলেছিল বাস্কেটবল অঙ্গনে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ১৯৯৪/৯৫ মৌসুম পর্যন্ত মেরিনার্স টানা পাঁচবার সিনিয়র ডিভিশন বাস্কটবলের শিরোপা জিতেছিল। জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেই ছিলেন মেরিনার্সের। জুনায়েদ, জহির মবি অনেকেই বাস্কেটবলের কোর্ট কাাঁপিয়েছেন মেরিনার্সের হয়ে। ২০০০ সালে প্রথম মহিলা বাস্কেটবল লিগের শিরোপাও জিতেছিল মেরিনার্স।

এছাড়া দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ২০০৮ ও ২০০৪/৫ মৌসুমের শিরোপা জিতেছে মেরিনার্স। প্রথম বিভাগ মহিলা হ্যান্ডবলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০০ ও ২০১৫ সালে।

তবে হকিকে ঘিরেই মেরিনার্সের আগামীর চিন্তা। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাসানউল্লাহ খান রানা দলের সাবেক গোলরক্ষক। ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সর্বক্ষণ। তিনি বলেন, ‘হকির এ সাফল্যে আরামবাগে একটা নতুন উদ্দীপনা এসেছে। আমরা এ সাফল্য অব্যাহত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। ঈদের পরে বড় করে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রতিশ্রুত দশ হাজার ডলারের অর্থ। আমাদের হকি কমিটির চেয়ারম্যান এলাকার কমিশনার মমিনুল হক সাঈদকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছেন। আর আমরা দ্বিতীয় বিভাগ হকি লিগে ক্লাবের খেলোয়াড় তৈরির একটি পাইপলাইন তৈরির জন্য আরেকেটি দল গঠনের চিন্তা ভাবনা করছি। মেরিনার্সের হকিকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই।’

শুক্রবার হকি স্টেডিয়ামে ক্লাবের সমর্থকদের ভাংচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন রানা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা ফেডারেশনের বিপক্ষেও নয়। এটি দুই ক্লাব কর্মকর্তার বাদানুবাদের ও কথা কাটাকাটির ফসল। খেলার মাঠে এ ঘটনার কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে অনুরোধ করছি।’

`সমর্থকদের ভাঙ্গচুরের ঘটনায় সিদ্ধান্ত ফেডারেশনের সভায়`

খেলার বয়স তখন বড় জোর ২০ মিনিট। মেরিনারের পাকিস্তানি খেলোয়াড় মোহাম্মদ তৌফিক আম্পায়ারের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ালে সবুজ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন ওমানি আম্পায়ার। আম্পায়ার তাকে তিন মিনিটের জন্য সাময়ীকভাবে বহিষ্কার করলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেরিনার খেলোয়াড়রা।

খেলোয়াড়দের রাগ ক্ষোভের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ল ভিআইপি গ্যালারিতে। মেরিনার ইয়াংসের সমর্থকরা মুহূর্তের মধ্যে ভিআইপি গ্যালারিতে ভাঙ্গনের তান্ডব চালালেন। ১০ মিনিটের সেই ধ্বংসযজ্ঞে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের ভিআইপির তিন তলার সব কটা চেয়ার ভেঙ্গে টুকরো, টুকরো। ভিআইপির জানালার কাঁচও ভাঙ্গল কয়েকটি।

হকি ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক মেরিনার সমর্থকদের ভাঙ্গচুরের ঘটনা সম্পর্কে তাৎক্ষনিকভাবে বলেন, ` অবশ্যই এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত আচরণ। এ বিষয়ে হকি ফেডারেশনের সভায় আলোচনার কথা হবে। আর আমার মনে হয় এমন অঘোষিত ফাইনালে মাঠে ১০ জন পুলিশ ছিল অপর্যাপ্ত।`

`ভাঙ্গচুরে খেলা বন্ধই ছিল টার্নিং পয়েন্ট`

খেলার বয়স তখন বড় জোর ২০ মিনিট। ২-০ গোলে এগিয়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র। একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে নিজেদের মাঝে বাকবিতণ্ডার লিপ্ত হলেন উষার নিলয় ও মেরিনারের মোহাম্মদ ইশতিয়াক। আম্পায়ার দুজনকে সবুজ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করতে না করতেই ছুটে এসে আম্পায়ারের সাথে অযথা তর্ক জুড়ে দিলেন মেরিনারের পাকিস্তানি মোহাম্মদ তৌফিক ।

আম্পায়ার তাকে তিন মিনিটের জন্য সাময়ীকভাবে বহিষ্কার করলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেরিনার খেলোয়াড়রা। খেলোয়াড়দের রাগ ক্ষোভের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ল ভিআইপি গ্যালারিতে। মেরিনার ইয়াংসের সমর্থকরা মুহূর্তের মধ্যে ভিআইপি গ্যালারিতে ভাঙ্গনের তান্ডব চালালেন। ১০ মিনিটের সেই ধ্বংসযজ্ঞে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের ভিআইপির তিন তলার সব কটা চেয়ার ভেঙ্গে টুকরো, টুকরো। ভিআইপির জানালার কাঁচও ভাঙ্গল কয়েকটি।

মেরিনার সমর্থকদের ঐ তান্ডবে খালি হয়ে গেল তিন তলার ভিআইপি বক্স। মহিলা দর্শক ও সমর্থকদের একাংশ নিরাপত্তার কথা ভেবে আশ্রয় নিলেন দোতলার প্রেস বক্সে। প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকলো। অঘোষিত ফাইনালে মেরিনার সমর্থকদের এমন উশৃঙ্খল আচরণেরর তীব্র নিন্দা করেছেন উষা ক্রীড়া চক্রের প্রশিক্ষক মামুন উর রশিদ। শুধু নিন্দাই জানানোই নয়। উষা কোচ মনে করেন, ঐ গন্ডগোল ও ভাঙ্গচুরে খেলা বন্ধ হয়ে পড়াটা তার দলের জন্য বড় ক্ষতি হয়েছে।

জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক খেলা শেষে বলেন, খেলা বন্ধ হবার আগে পর্যন্ত আমরা শুধু ২-০ গোলে এগিয়েই ছিলাম না, খেলার পূর্ন নিয়ন্ত্রণ ছিল আমাদের হাতে। ’

মামুন মেরিনার সমর্থকদের ঐ কর্মকান্ডকে রিতিমত সন্ত্রাসী কাজ বলে অভিহিত করেছেন। তার কথা, `কি আর বলবো? দুই গোল খাবার পর গ্যালারি ভাঙ্গচুর।

তাহলে আর এক গোল হলে নিশ্চয়ই আরও বড় ধরণের গন্ডগোল হতো। আমাদের পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা অমন গন্ডগোল দেখে হতচকিৎ। সত্যি কথা বলতে কি ঐ সময় আমাদের পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ভয় পেয়ে গিয়েছিল।`

মেরিনার শিবিরে বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস

ড্র করলেই প্রথম বারের মত শিরোপা। মতিঝিল ও আরামবাগ ক্লাব পাড়ার মেরিনার টেন্টে আগাম উৎসব আমেজ বৃহস্পতিবার থেকেই। কিন্তু অঘোষিত ফাইনালের প্রথম অংশের মাঝারমাঝি না যেতেই ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে অনিশ্চয়তার ঘোর অন্ধকার এসে গ্রাস করেছিল মেরিনার শিবিরে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য সে অনিশ্চয়তার ঘোর কাটে।

খেলার ৫০ মিনিটে তরুন আরশাদের গোলে ২-২ ‘এ সমতা ফেরার পর থেকেই চাঙ্গা হয় কমলা-নীল শিবির। খেলা শেষ হবার ২ মিনিট আগে ইশতিয়াকের সুযোগ সন্ধানী গোলেই শিরোপা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গে জয়োল্লঅসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে মেরিনার সমর্থকরা। সমর্থকদের শুক্রবার পড়ন্ত বিকেলে খেলা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে হকি স্টেডিয়াম তাদের উৎসব আনন্দের ক্ষেত্র হয়ে যায়।

সাধারন সম্পাদক রানা হাসান, হকি কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক সাইদ ও অন্য শীর্ষকর্তা এবং শ`দুয়েক সমর্থক আনন্দের অতিশয্যে ঢুকে পড়লেন মাঠে। জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড, ম্যানেজার দিপু ও অন্যান্য খেলোয়াড়কে নিয়ে শুরু হলো বিজয় আনন্দ উল্লাস। মেরিনার হকি কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ দলের সাফেল্যে উদ্বেলিত হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ১০ হাজার ডলার বোনাস ঘোষনা করলেন।

সাঈদ অমন বোনাস দিতেই পারেন। এটাই যে হকি লিগে মেরিনারের প্রথম শিরোপা। এর আগে দুবার রানার্স অঅপ হয়ে তুষ্ট থাকতে হয়। শিরোপা অধরাই ছিল ক্লাব পাড়ার দলটির। তার চেয়ে অনেক নামী দামি তারকা খেলোয়ারে নেতৃত্বেও মেরিনার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তাইতো অধিনায়ক মইনুল ইসলাম কৌশিক আনন্দে উদ্বেলিত। তার অনুভব, `তার দল আসলে সাফল্যর জন্য মুখিয়ে ছিল। সবার প্রানপন চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল এই শিল শিরোপা।`

তাইতো কৌশিক বলেন, `পুরো দল খুশি। সবাই খুব পরিশ্রম করেছে। আমরা রোজার মধ্যেও নিয়মিত অনুশীলন করেছি। কেউ কেউ রোজা রেখেও নিবিঢ় অনুশীলন করেছে। বলতে পারেন, অনেক কষ্টের ফল এ শিরোপা।`

শুরুতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া প্রসঙ্গে মেরিনার অধিনায়কের ব্যাখ্যা, চ্যাম্পিয়ন হতে আমাদের দরকার ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। তাই আমরা একটু সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম। তাই আত্মবিশ্বাস ছিল। আধুনিক হকিতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া খুব বড় ব্যবধান নয়। আর আমরা এর আগেও পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাড়িয়েছি। তাই সাহস ছিল। উদ্যম হারাইনি।

তার শেষ কথা, `আগের বার আমরা চ্যাম্পিয়ন হবার মত দল ছিলাম না। এবারের দলটি শিরোপা জয়ের দাবিদার ছিল । তাই শেষ হাসিও আমরাই হেসেছি।

ভক্ত ও সমর্থকদের উগ্র আচরণ ও ভাঙ্গচুর সম্পর্কে মেরিনার অধিনায়কের ব্যাখ্যা, ওটা মাঠের বাইরের ঘটনা। আমি মাঠের ভিতরের কথা বলতে পারি। মাঠেতো আর কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। যা হবার গ্যালারিতে হয়েছে।`

প্রথম লিগ শিরোপা মেরিনারের

উষা ক্রীড়া চক্রর সাথে ড্র করতে পারলেই ঢাকা হকি লিগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হবার স্বাদ পেতো মেরিনার ইয়াংস। তবে ড্রয়ের দিকে না গিয়ে ৩-২ গোলের জয় দিয়েই প্রথম লিগ শিরোপার স্বাদ পেলো মতিঝিল আরামবাগ পাড়ার ক্লাবটি। এর আগে ২০০৬ ও ২০১০ সালে দুবার রানার্সআপ হলেও চ্যাম্পিয়নশীপ অধরাই ছিল দলটির।

ড্র করতে পারলেই ঢাকা হকি লিগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণ নিয়ে শনিবার উষা ক্রীড়া চক্রর বিপক্ষে মাঠে নামে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। তবে ম্যাচের ১৬ মিনিটে নিলয়ের গোলের এগিয়ে যায় উষা। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিমো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রেফারির এক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মেরিনারের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় ভিআইপি বক্সের মেরিনারের সমর্থকরা ভাংচুরের তাণ্ডব চালায়। এতে প্রায় বক্সের সবগুলো চেয়ার ও কিছু কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে।

এ ঘটনার ২০ মিনিট পর খেলা আবারো শুরু হয়। খেলা শুরুর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মেরিনার। ম্যাচের ২৬ মিনিটে মেরিনারের পাকিস্তান তারকা ওয়াকাস শরিফ প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান। ফলে ২-১ পিছিয়ে বিরতিতে যায় দলটি।

বিরতি থেকে ফিরে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে মেরিনার। ম্যাচের ৫০ মিনিটে আরশাদ দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করলে সমতায় ফেরে গেরহার্ড শিষ্যরা। আর ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে ৬৯ মিনিটে ইশতিয়াক গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি। আর বাকি সময় গোল না হলে প্রথমবার শিরোপা জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে মতিঝিল আরামবাগ পাড়ার ক্লাবটি।

জিমির কাছে হেরে গেল ঊষা!

রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোলের ওপর ভর করে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে ঊষাকে হারিয়ে দিয়েছে মোহামেডান। আজ বুধবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় মোহামেডান ৫-৩ গোলে হারিয়ে দেয় ঊষাকে।
এ পরাজয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ঊষার পয়েন্ট দাঁড়ালো ৩৮, প্রথমবারের মতো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে অবস্থান নিল মেরিনার্স। মোহামেডানের পয়েন্ট ১৫ ম্যাচে ৩২। শুক্রবার লিগের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেরিনার্স ও ঊষা। ড্র হলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে মেরিনার্স, জিতলে তো কথাই নেই। আর শিরোপা জিততে হলে জয় ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ঊষার।

এদিন খেলার তিন মিনিটে এগিয়ে যায় মোহামেডান। ডান প্রান্তের গোললাইন ধরে সোজা স্টিকের আঁকিবুকিতে ঊষা ডিফেন্স ভেদ করেন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সালমান হোসেন। আড়াআড়ি পাস দেন রাসেল মাহমুদ জিমিকে, কোনাকুনি হিটে বল বোর্ডে আছড়ে ফেলেন জিমি।

আক্রমণ অব্যাহত রেখে আরও দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মোহামেডান। ১০ মিনিটে তাসওয়ার আব্বাস ও পরের মিনিটে সালমান হোসেন বাইরে ও গোলরক্ষক আবু সাইদ নিপ্পনের প্যাডে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।

গুছিয়ে উঠে ঊষা যায় পাল্টা আক্রমণে। হাসান যুবায়ের নিলয়, পুষ্কর খিসা মিমো, কৃষ্ণ কুমার ও মো. ইরফানকে নিয়ে আক্রমণে গিয়েও তারা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ২৯ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় আর এটিতেই আসে সমতা। কৃষ্ণ কুমারের পুশ, সারোয়ার হোসেনেরর স্টপে ড্র্যাগ স্পেশালিস্ট আলিম বেলালের জোরালো ড্র্যাগ কোনও সুযোগ দেয়নি মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেনকে।

৩০ মিনিটে আবারও গোল করেন রাসেল মাহমুদ জিমি। হাফলাইন থেকে জোরালো হিটে বল জিমির কাছে পৌঁছে দেন ওমর ভুট্টো। আর্চের বাম কোনা থেকে জিমি নেন জোরালো রিভার্স হিট। গোলরক্ষক আবু সাইদ নিপ্পনের প্যাডে লেগে দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল অতিক্রম করে গোললাইন।

এর দুই মিনিট পর জিমি পূর্ণ করেন তার হ্যাটট্রিক। সালমান হোসেন বল তৈরি করে দিয়েছিলেন জিমিকে। গোল পোস্টের বাম দিকে লাইন সোজা দাঁড়িয়ে জিমি হিট করেননি, আস্তে করে বল তুলে দেন বাতাসে। নিপ্পন আঁচ করতে পারেননি জিমির কৌশল, বল জালে জড়াবার পর বুঝতে পারেন ভুল হয়ে গেছে। জিমির অভিজ্ঞতার কাছে হার মানেন নিপ্পন।

বিরতির পর যা প্রয়োজন ছিল ঊষার তাই করতে সমর্থ হয় তারা। চতুর্থ অর্থাৎ ৩৯ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে খেলায় ফিরে আসে তারা। আবারও গোলদাতা আলিম বেলাল। সেই একই পেনাল্টি কর্নার কম্বিনেশন।

কিন্তু দিনটি ছিল জিমির, পরের মিনিটেই দ্রুত গতির একটি পাল্টা আক্রমণে তাসওয়ার আব্বাস ডান প্রান্ত থেকে বল ঠেলে দেন জিমিকে, সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আলতো ছোঁয়ায় নিপ্পনকে পরাস্ত করেন জিমি।

ঊষা এরপর অনেক চেষ্টা করেও ব্যবধান কমাতে পারেনি, মাঝে একটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও আলিম বেলালের স্কুপ কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মোহামডোন গোলরক্ষক জাহিদ।

ম্যাচের শেষ দিকে জিমির পঞ্চম গোল আবারও আঘাত হানে ঊষার মনোবলে। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও পেনাল্টি কর্নারে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আলিম বেলাল।

ঊষাকে রুখে দিয়েছে আবাহনী

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তালিকার শীর্ষে থাকা ঊষাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে আবাহনী। এ ড্রয়ের ফলে ১৪ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষেই থাকল উষা। ১৩ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী আছে তৃতীয় অবস্থানে। ১৪ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে মেরিনার্স আছে দ্বিতীয় স্থানে।

ম্যাচে প্রথমে রোম্মান সরকারের চমৎকার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আবাহনী। লড়াকু মনোভাবে খেলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচায় উষা।

খেলার ১৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একাই বল নিয়ে ঊষার ডিফেন্স হানা দেন রোম্মান। সামনে ছিল ঊষার ডিফেন্স, কোনাকুনি এক দৌড়ে তিনি ঢুকে পড়েন ডি-বক্সে। স্টিকের মোচড়ে বিভ্রান্ত করেন গোলরক্ষক ও তার মার্কারকে, আর জোরালো রিভার্স হিটে বল আছড়ে ফেলেন বোর্ডে।

গোল হজম করার পর বেশ কিছুক্ষণ চাপ সৃষ্টি করে ঊষা। কিন্তু কাশিফ আলি, ফরহাদ আহমেদ শিটুল ও মেহেদি হাসানের সমন্বয়ে গড়া রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেনি তারা। উপরন্তু ২৪ মিনিটে শাফাকাত রাসুলের করা পাল্টা-আক্রমণে পোস্টের কয়েক ফুট দূর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আবাহনী মিডফিল্ডার তানজিল আহমেদ।

ঊষাও প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেয়েছিল সমতা আনার সুযোগ। পাল্টা আক্রমণ থেকে ডান প্রান্তে চলে আসেন মিডিফিল্ডার নাইমুদ্দিন। নেন জোরালো একটি কোনাকুনি হিট। ফাঁকায় দাঁড়ানো পুষ্কর খিসা মিমো ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলতে পারেননি। শেষ মিনিটে ঊষা পেয়েছিল একটি পেনাল্টি কর্নার। কিন্তু আলিম বেলালের করা ড্র্যাগটি চমৎকার ভাবে গ্লাভস দিয়ে প্রতিহত করেন আবাহনী গোলরক্ষক অসীম গোপ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও গোলের সুযোগ নষ্ট করে ঊষা। এবার আক্রমণের উৎস ছিলেন কৃষ্ণ কুমার, কোনাকুনি এক দৌড়ে বক্সে ঢুকে তিনি বল পুশ করেন পুষ্কর খিসা মিমোর উদ্দেশে। মিমো অসীম গোপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভারসাম্য হারান। ৫৭ মিনিটে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে গিয়েছিলেন নাইমুদ্দিন, দেখেশুনে তিনি যে স্ল্যাপ হিটটি নেন তা সাইড পোস্টে শিষ দিয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচ শেষের ১০ মিনিট আগে দিনের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন কৃষ্ণ কুমার। পুষ্কর খিসা মিমোর জোরালো হিট পোস্টের খুব কাছ থেকে ভেতরে পুশ করতে ব্যর্থ হন কৃষ্ণ।

অবশেষে ৬৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় ঊষা। কৃষ্ণ কুমার, সারোয়ার ও আলিম বেলালের কম্বিনেশনের ফসল হয় সমতাসূচক গোলটি। নতুন জীবন পায় ঊষা। শেষ মিনিটে একটি পেনাল্টি কর্নার কেন্দ্র করে খেলা পনের মিনিট বন্ধ থাকে। আবাহনী খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছাড়ে। পরে মাঠে ফিরলেও দশ সেকেন্ড পর বাঁজে খেলা শেষের বাঁশি।

মোহামেডানকে বিদায় করে মেরিনার্সের জয়

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে মেরিনার্স। মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে তারা। এ জয়ের মধ্যদিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে এগিয়ে গেল মেরিনার্স আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো মোহামেডানের।

শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের দশম মিনিটে ইশতিয়াকের গোলে লিড নেয় মেরিনার্স। ৪৪ মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন ইশতিয়াক।

খেলার ৫০ মিনিটে মেরিনার্সের গোল ব্যবধান ৩-০তে নিয়ে যান আশরাফুল ইসলাম। আর ৫৯ মিনিটে ওয়াকাস শরিফের গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেরিনার্স।

তবে, ৬৪ মিনিটে মোহামেডানের হয়ে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড তাসওয়ার আব্বাস গোল করলে ব্যবধান কমে। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-২ এ নামিয়ে আনেন আরেক পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড মো: ইমরান।

বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই স্কোরেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেরিনার্স।

১৪ ম্যাচ শেষে মেরিনার্সের অর্জন ৩৭ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঊষা। ১৪ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় মোহামেডান।

মোহামেডানকে হারিয়ে টিকে রইলো আবাহনী

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের সুপার সিক্সের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকলো আবাহনী। আজ মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলায় জিতে মোহামেডানকে শিরোপা লড়াই থেকেও ছিটকে ফেললো আবাহনী।
এ ম্যাচের পর ১২ খেলায় আবাহনীর পয়েন্ট ২৯। শীর্ষে থাকা ঊষার পয়েন্ট ৩৪, মেরিনার্সের পয়েন্ট ৩১। আর মোহামেডানের পয়েন্ট ১২ খেলায় ২৬।
এদিন খেলার পাঁচ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার পায় মোহামেডান। সালমান হোসেনের হিট গোল লাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বাঁচান পাকিস্তানি ডিফেন্ডার কাশিফ আলি। ১০ মিনিটে একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে শাকিল আব্বাসির ফরোয়ার্ড পুশ আয়ত্ত্বে নিয়ে ক্রস করেছিলেন শাফকাত রাসুল। যেখানে মাকসুদ আলম হাবুল ছিলেন তার লক্ষ্য। কিন্তু মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন এগিয়ে এসে বল বিপদমুক্ত করেন।

তবে ১৪ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে মোহামেডান। রাসেল মাহমুদ জিমি তার স্টিওয়ার্কে দুইজন মার্কারকে কাটিয়ে আড়াআড়ি পাসে দেন ওমর ভুট্টোকে। স্টিক ছোঁয়াতে পারলেই গোল এমন অবস্থায় পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড বল স্টিকে লাগাতে পারেননি।

উল্টোদিকে বিশ মিনিটে আবাহনীর প্রথম পেনাল্টি কর্নারেই লক্ষ্যভেদ করেন কাশিফ আলি। শাফকাত রাসুলের পুশ, বিপ্লবের স্টপের পর কাশিফ আলি হালকা স্কুপে মাঝ জালে বল জড়ান।

২৭ মিনিটে আবাহনী করে দ্বিতীয় গোল। শাকিল আব্বাসির হিট ডিফ্লেক্ট করে প্রান্ত পরিবর্তন করে দেন রোম্মান সরকার। বলের গতিপথ আগে থেকেই আঁচ করতে পারা রাজিব দাস সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেলে দেন পোস্টে।

ম্যাচে এদিন প্রচণ্ড তাপের মাঝে দেহের শক্তি সঞ্চয় করে খেলার কৌশল নিয়েছিল দুই দলই। তবে আবাহনী কোচ মাহবুব হারুন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শাকিল আব্বাসিকে ফরোয়ার্ড হিসেবে না খেলিয়ে অনেকটা প্লেমেকার হিসেবে খেলান। ডিফেন্স ও অফেন্সের মাঝে একটা যোগসূত্র স্থাপন করেন তিনি। অধিনায়ক ফরহাদ আহমেদ শিটুল দেখিয়েছেন ‘কুল টেম্পারমেন্ট’ আর মোহামেডানের সেরা পারফরমার ছিলেন জিমি। কিন্তু পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ভালো খেলতে না পারাতে প্রথমার্ধে পিছিয়েই থাকে মোহামেডান।

বিরতির পর চাপ সৃষ্টি করে মোহামেডান এবং ৪২ মিনিটে জিমির গোলে খেলায় ফিরে আসে। সালমান হোসেনের করা থ্রু পাসে জিমি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলতো পুশে গোলরক্ষক ওয়ালিদকে পরাস্ত করেন।

তবে ৪৭ মিনিটে রোম্মান সরকারের দ্রুত গতির একটি আক্রমণে বল গ্যাপ দিয়ে অতিক্রম করে আবাহনী ডিফেন্স লাইন। এরপর আর দেরি করেননি শাফকাত রাসুল। কোনাকুনি হিটে তিনি বল আছড়ে ফেলেন বোর্ডে। ফলে আবারও ম্যাচে চালকের আসনে বসে আবাহনী।

৬২ মিনিটে আবাহনীর ডিফেন্ডার বিপ্লব মোহামেডান মিডফিল্ডার মশিউর রহমান ফিরোজকে বক্সের মাঝে অবৈধভাবে রুখে দিলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় মোহামেডান। স্পট থেকে গোল করতে ভুল করেননি পাকিস্তানি খেলোয়াড় মো. ইমরান।

এরপর আবারও আঘাত হানে আবাহনী। ৬৫ মিনিটে রাজিব দাস ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল করলে খেলায় ফেরার সময়ও শেষ হয়ে যায় মোহামেডানের। জিমি ও ওমর ভুট্টো শেষ দিকে কিছু সুযোগও নষ্ট করেন। কিন্তু আবাহনীর সম্মিলিত নৈপুণ্যে জয়মাল্য তাদের গলাতেই শোভা পেতে থাকে।

হকিতে জয়ে শুরু ঊষার সুপার সিক্স

জয় দিয়ে গ্রিন ডেল্টা প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের সুপার সিক্স রাউন্ড শুরু করলো ঊষা ক্রীড়া চক্র। সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কোচ মামুনুর রশীদের শিষ্যরা। সোমবার মাওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে খেলার শুরু থেকেই ওয়ান্ডারার্সের উপর চড়াও হয় ঊষা।

আলিম বেলাল ১২ মিনিটে পেনাল্টি গোলে দলকে ১-০ তে এগিয়ে দেন। পরের গোলটিও তিনি করেন। ২৩ মিনিটে তিনি দ্বিতীয় গোলটি করেন। বেলালের হ্যাটট্রিক গোলটি আসে প্রথমার্ধ শেষের ৭ মিনিট আগে। পেনাল্টি থেকে ওয়ান্ডারার্স জালে বল জড়িয়ে দলকে ৩-০ তে ব্যবধান এনে দেন তিনি। আর এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় ঊষা।

বিরতি থেকে ফিরে আবারও সেই ঊষা ম্যাজিক। ৫৭ মিনিটে নিলয়ের ফিল্ড গোল থেকে ঊষা ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় ওয়ান্ডারার্স। এরপরের মিনিটে পুষ্কর খিসা মিমোর ফিল্ড গোলে ৫-০ ও ৬৬ মিনিটে কৃষ্ণ কুমারের ফিল্ড গোল ৬-০’র বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র।

দিনের অপর ম্যাচে মেরিনারের কাছে ১১-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।

রিমন কুমার ঘোষ তিনটি গোল করেন। এছাড়া তৌফিক ও ফজলে রাব্বি দুটি করে গোল দেন। ইশতিয়াক আহমেদ, আরশাদ হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও ওয়াকাস শরিফের স্টিক থেকে একটি করে গোল আসে। বাংলাদেশ এসসির একমাত্র গোলদাতা শহিদ।

হকিতে মেরিনার্সের রেকর্ড ২২ গোল!

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে ২২-১ গোলে রেলওয়েকে হারিয়ে দেশের শীর্ষ হকি প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে মেরিনার্স। আজ শনিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলার আরেকটি অভিনব দিক ছিল মেরিনার্স কোনও গোলরক্ষক ছাড়াই মাঠে নামায় তাদের প্রথম একাদশ!
এ জয়ে রেলওয়েরই বিপক্ষে কিছুদিন আগে মোহামেডানের করা ১৯-০ গোলের রেকর্ড ভেঙে গেলো।
অবশ্য হকিতে এ নিয়ম প্রচলিত আছে যে মাঠে ১১ জন খেলোয়াড় থাকবেন তবে একজনকে চিহ্নিত করতে হবে গোলরক্ষক হিসেবে। সেক্ষেত্রে মেরিনার্সের ডিফেন্ডার শিশির পালন করেন গোলরক্ষকের দায়িত্ব। আর এই ম্যাচেই দুর্বল রেলওয়ের ওপর ঝড় তুলে মেরিনার্স। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ ও আরশাদ হোসেন করেছেন পাঁচটি করে গোল। কৌশিক করেছেন চারটি, মহসিন ও মামুনুর রহমান চয়ন করেছেন দুটি করে গোল।

ম্যাচ শেষে মেরিনার্স কোচ গেরহার্ড পিটার রাখ বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম অন্তত ত্রিশ গোল করবো। যাতে গোল গড়ে আমরা ঊষাকে টপকাতে পারি। কিন্তু ২২টির বেশি করতে পারলাম না।’

১১টি ম্যাচের সবকটিতেই হারা রেলওয়ে ১১ ম্যাচে ১২৩ গোল খেয়ে তাদের পথচলা শেষ করলো। অবনমিত হয়ে আগামী মৌসুমে তারা খেলবে প্রথম বিভাগে।

আবাহনীকে হারিয়ে শীর্ষেই রইলো ঊষা

আবাহনীকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার হকির রাউন্ড রবিন লিগ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই রইলো ঊষা ক্রীড়া চক্র। আজ শনিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ঊষার টিমওয়ার্ক, ফরোয়ার্ড পুষ্কর খিসা মিমোর ফর্ম ও অ্যাপ্রোচ গড়ে দেয় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান।
খেলায় চাপ সৃষ্টি করে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় আবাহনী; তবে মো. ইরফানের করা ড্র্যাগটি ঊষার একজন ডিফেন্ডারের স্টিকে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর ঊষাও পাল্টা আক্রমণে গিয়ে পেয়েছিল একটি গোলের সুযোগ। ৬ মিনিটে আলিম বেলালের রিভার্স স্টিকের হিট ফিরিয়ে দেন আবাহনী গোলরক্ষক অসিম গোপ।
এরপরেই ১৫ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নারে এগিয়ে যায় ঊষা। কৃষ্ণ কুমারের পুশ, সারোয়ারের স্টপের পর ড্র্যাগ স্পেশালিস্ট পাকিস্তানি ডিফেন্ডার আলিম বেলালের ড্র্যাগ ঠাঁই নেয় পোস্টের ডান কোনার জালে।

আবাহনী থিতু হওয়ার আগেই আবার আঘাত হানে ঊষা। ২০ মিনিটে দ্রুতগতির এই পাল্টা আক্রমণের উৎস ছিলেন রেজাউল করিম বাবু। নিজেদের আর্চ থেকে তিনি বল দেওয়া-নেওয়া করেন কৃষ্ণ কুমারের সঙ্গে। মাঝে গ্যাপে অবস্থান নেন পুস্কর খিসা মিমো, কৃষ্ণর ফরোয়ার্ড পুশ রিভার্স হিটে বোর্ডে বল আছড়ে ফেলেন মিমো। এরমধ্য দিয়ে দুই গোলের অগ্রগামিতা নেয় ঊষা।

তবে হতোদ্যম হয়নি আবাহনী। মাঝমাঠে মো. ইরফান, শাফকাত রাসুল, শাকিল আব্বাসি ও রোম্মান সরকারকে সামনে রেখে পথ খুঁজতে থাকে আবাহনী। এদের সহায়তায় তারা আদায় করে নেয় পাঁচটি পেনাল্টি কর্নার। এর মাঝে ৩২ মিনিটে শেষটিতে শাফকাত রাসুল, বিপ্লব ও কাশিফ আলির কম্বিনেশনে ব্যবধান কমায় আবাহনী। এবার কাশিফ আলি বল উপরে তোলেননি, টার্ফে গড়ানো এক হিটে তিনি পরাস্ত করেন নিপ্পন ও পোস্ট আগলানো আলিম বেলালকে।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই অবলম্বন করে বাড়তি সতর্কতা। সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে হবে এমন ধারায় খেলতে খেলতে তৃতীয় গোলটি করে বসে ঊষা। ২৫ গজের লাইন থেকে বল ঠেলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানি মিডফিল্ডার আলি শান। কৃষ্ণ কুমার বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ব্যাক স্টিকে বল তৈরি করে দেন পুস্কর খিসা মিমোকে। কোনাকুনি হিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন মিমো।

আবাহনীকে আবারও খেলায় ফিরিয়ে আনার পথে আনেন কাশিফ আলি, ৫০ মিনিটে প্রথম গোলের কম্বিনেশনেই আসে আবাহনীর দ্বিতীয় গোলটি। এবারও বল নিচেই রাখেন কাশিফ আলি; বিভ্রান্ত হন নিপ্পন।

৬০ মিনিটের মাথায় দুইবার গোল করতে ব্যর্থ হয় ঊষা। প্রথমে নাইউদ্দিনের পাসে ফ্রিক করতে ব্যর্থ হন হাসান যুবায়েন নিলয় এবং এরপরে মাহবুব হোসেনের পাসে নিলয়ের হিট প্রতিহত করেন অসিম গোপ। খেলার শেষ দিকে শাকিল আব্বাসির হিটে শাকসুদ আলম হাবুলের ফ্লিক ঊষার ক্রস পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এ জয়ের ফলে ১১ ম্যচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স খেলা শুরু করবে ঊষা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মেরিনার্স। ২৬ পয়েন্ট মোহামেডান ও আবাহনী উভয়েরই সংগ্রহ। তবে গোল পার্থক্যে মোহামেডান তৃতীয় ও আবাহনী চতুর্থ। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এসসি পঞ্চম, ওয়ান্ডারার্সের পয়েন্টও ১৬ তবে তারা ষষ্ঠ অবস্থানে। এ ছয়টি দল খেলবে সুপার সিক্স পর্ব।

অ্যাজাক্সের বিপক্ষে জিতলো সোনালী ব্যাংক

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে সোনালী ব্যাংক ও সাধারণ বীমা। অ্যাজাক্স স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে সোনালী ব্যাংক জয় পেয়েছে ৩-৪ গোলে।

দিনের অপর ম্যাচে সাধারণ বীমা ৫-১ গোলে হারিয়েছে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবকে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) মাওলানা ভাষানী স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই অ্যাজাক্সের বিপক্ষে দাপুটে খেলা উপহার দিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

ম্যাচের ১৫ মিনিটেই তৌসিফের ফিল্ড গোলে ১-০ তে লিড পায় সোনালী ব্যাংক। তৌসিফের গোল সোনালী ব্যাংককে এগিয়ে দিলেও সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি অ্যাজাক্স। কেননা, ১৯ মিনিটে রাহাত সারোয়ার ফিল্ড গোল থেকে দলকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান।

সমতায় থাকাটা ঠিক যেন মেনে নিতে পারছিলো না সোনালী ব্যাংক। তাই গোল হজমের পরের মিনিটেই অ্যাজাক্স সীমানায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ‍ফিল্ড গোল্ড থেকে ব্যবধান ২-১ এ নিয়ে যান অজিত কুমার ঘোষ।

এর পাঁচ মিনিট পর ফিল্ড গোল থেকে ব্যবধান ৩-১ এ বাড়ান রাব্বি সালেহিন রকি।

প্রথমার্ধ শেষের মাত্র ১ মিনিট আগে আবার রকি অ্যাজাক্স জালে বল ঠেলে ৪-১ ব্যবধান এনে দিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দেন অ্যাজাক্সকে।

ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় সোনালী ব্যাংক।

তবে বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার বাড়ায় অ্যাজাক্স। তাতে ফলাফলও আসে হাতে নাতে। ৫৬ মিনিটে রাহাত আরেকবার অ্যাজাক্সের হয়ে গোল করলে ব্যবধান কমে আসে ৪-২ এ।

সারোয়ারের পর ম্যাচ শেষর দুই মিনিট আগে শহীদুল ইসলাম সোনালী ব্যাংক জালে বল ঠেলে ব্যবধান কামান ৪-৩এ।

এরপর আম্পায়ারের সমাপ্তিসূচক বাঁশি বাজলে জয়ের আনন্দে ভেষে মাঠ ছাড়ে সোনালী ব্যাংক।

মেরিনার্সের কাছে মোহামেডানের হার

খেলার মাঠে বাজে দিন গেল ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। ক্রিকেটে আবাহনীর কাছে বড় হারের পর গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার হকির গুরুত্বপূর্ণ খেলায় মেরিনার্সের কাছে ১-৩ গোলে হেরে গেছে মোহামেডান। লিগে এটি মোহামেডানের প্রথম পরাজয়।

এ হারে শিরোপা লড়াই থেকেও পিছিয়ে পড়লো মোহামেডান। ১০ খেলায় তাদের পয়েন্ট ২৩, মেরিনার্সের পয়েন্ট ২৫। ১০ খেলায় ২৮ পয়েন্ট নিযে শীর্ষে ঊষা, ২৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আবাহনী।

খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই ভাগ্যদেবীর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয় মেরিনার্স। ম্যচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে রাব্বির পুশ, মো. তৌফিকের পুশের পর গড়ানো পুশ করেছিলেন সোহানুন রহমান সবুজ। কিন্তু বল সাইড পোস্টে লেগে ফেরত আসে।

আর পুরোপরি উল্টো দৃশ্য সাত মিনেট। নিজ প্রথম পেনাল্টি কর্নারেই কিস্তিমাত মোহমেডানের। ভ্যারিয়েশন ছিল পেনাল্টি কর্নারটিতে। ওমর ভুট্টোর পুশ, ইমরান হাসান পিন্টুর স্টপের পর বল পান মো. ইমরান। বল হিট না করে তিনি ব্যাক পাস করেন। তাসওয়ার আব্বাস তৈরি ছিলেন। ড্র্যাগ করে তিন বল জড়িয়ে দেন জালে।

মেরিনার্সের শনির দশা অব্যাহত থাকে ১২ মিনিটেও এবার মামুনুর রহমান চয়নের ড্র্যাগ আঘাত হানে ক্রস পোস্টের একদম কোনায়। দুই মিনিট পরই কেটে যায় তাদের হতাশা। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ ২৫ গজের লাইন থেকে জোরের ওপর হিট নিয়েছিলেন। বক্সের মাঝে দাঁড়ানো ওয়াকাস কব্জীর মোচড়ে যে ফ্লিকটি বরেন তা বিদ্যুৎ গতিতে আঘাত হানে বোর্ডে। ওমানি আম্পয়ার প্রথমে গোল ঘোষণা করতে চাননি ভিডিও রেফরালের পর গোল পায় মেরিনার্স।

২৭ মিনিটে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় মেরিনার্স। চয়নের চমৎকার টাচলাইন বরাবর থ্রু আয়ত্বে নিয়ে কোনাকুনি হিট নিয়েছিলেন মঈনুল ইসলাম কৌশিক। মেরিনার্সের তরুণ ফরোয়ার্ড আরশাদ হোসেন সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বল স্টিকে লাগাতে পারেননি। ছোঁয়াতে পারলে হয়তো হতে পারতো গোল।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে মোহামেডান অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি আম্পায়ারের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হলে তাকে সবুজ কার্ড দেখান আম্পয়ার। জিমি এর প্রতিবাদ করলে ১২ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে মেরিনার্সের পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ মোহমেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেনকে একা পেয়েও হিট না দিয়ে পাস দিলে গোলবঞ্চিত হয় মতিঝিল পাড়ার দলটি। পাল্টা আক্রমণে মোহামেডানের পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওমর ভুট্টো মেরিনার্স গোলরক্ষক মেহরাব হোসেন কিরণকে সামনে পেয়েও হিট নিতে দেরি করার কারণে ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে সক্ষম হন।

কিছুক্ষণ পর পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় মেরিনার্স। নিজ অর্ধ থেকে একাই বল নিয়ে এগিয়ে যান মঈনুল ইসলাম কৌশিক। মোহামেডান বক্সের ওপর থেকে তিনি বল পাস দেন ওয়াকাস শরিফকে। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বল ঠেলে দেন পোস্টে।

মোহামেডান সমতা আনার জন্য পাগলপ্রায হযে ওঠে আর খেলা শেষের সাত মিনিটে আগে রানার পাসে সালমান হোসেন ও ওমর ভুট্টো দুজনেই বল মারেন বাইরে। মোহমেডানের খেলোয়াড়রা তাদের মাথা গরম করে ও আম্পয়ারদের সিদ্ধান্ত না মানার প্রবণতা নিয়ে খেলে নিজেদের বিপর্যয় ত্বরান্বিত করে। শেস মিনিটে ওয়াকাস শরিফের পুশ মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ থামালেও তার কিছুক্ষণ পর আরশাদ হোসেনের স্টিক থেকে তৃতীয় গোল আসে। ফলে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেরিনার্স।

ঊষার জয়ের দিনে ওয়ান্ডারার্সের ড্র

আলিম বেলালের হ্যাটট্টিকে গ্রিন ডেল্টা ইন্সুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে সোনালী ব্যাংককে ৫-২ গোলে হরিয়েছে ঊষা ক্রীড়া চক্র। দিনের অপর ম্যাচে ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।

এর আগে মঙ্গলবার মাওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর ৭ মিনিটেই আলিম বেলালের পেনাল্টি কর্নারের গোল ঊষাকে ১-০তে এগিয়ে দেয়। এর ঠিক তিন মিনিট পর আবার আক্রমণে যায় ঊষা। আর সেই আক্রমণ থেকে আলিম বেলাল নিজের দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্ণারের গোল থেকে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

খেলা শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই দ্বিগুন ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে খেলায় ফিরতে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে সোনালী ব্যাংকও। কিন্তু তাদের একটি আক্রমণও সফলতার মুখ না দেখলে পিছিয়ে থেকেই যেতে হয় প্রথমার্ধের বিরতিতে।

তবে বিরতি থেকে ফিরে জ্বলে উঠে দু’দলই। আর এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিল ঊষা। কেননা দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১২ মিনিটেই নিলয়ের ফিল্ড গোল দলটিকে ৩-০ এর ব্যবধান এনে দেয়।

ঊষার পর গোল ধরা দেয় সোনালী ব্যাংক শিবিরে। ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে রকি ঊষা জাল বল ঠেলে ব্যবধান কমান ৩-১ এ।

তবে ব্যবধান কমিয়ে তা বেশিক্ষণ নিজেদের আয়ত্বে রাখতে পারেনি সোনালী ব্যাংক। কেননা ৬২ মিনিটে বেলাল তৃতীয়বার গোল করে নিজের হ্যাট্টিক তুলে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ৪-১এ।

বেলালের পর পুষ্কর খিসা মিমো ফিল্ড গোল থেকে ঊষাকে ৫-১ এর জয় সূচক ব্যবধান এনে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঊষা এই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি।

কেননা খেলা শেষের মাত্র ৩ মিনিট আগে সোনালী ব্যাংকের ইহসান উল্লাহ খান ঊষার জাল বল জড়িয়ে ব্যবধান ৫-২ এ কমিয়ে আনেন।

এরপর রেফারি শেষ বাঁশিতে ম্যাচ শেষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র।

বড় জয়ে শীর্ষে আবাহনী

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগে সোমবার বড় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় থেকে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ৮-২ গোলে হারায় সাধারণ বীমা ক্রীড়া সংঘকে। অপর ম্যাচে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব ৫-৫ গোলে ড্র করে অ্যাজাক্স স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে।

সাধারণ বীমার বিপক্ষে আবাহনীর পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড শাফকাত রাসুল একাই করেন চার গোল। যদিও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। তার গোলগুলোর প্রতিটিই ছিল ফিল্ড গোল (১০, ২১, ৬২ ও ৬৪ মিনিটে)। স্বাধীনতা কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মাকসুদ আলম হাবুল করেন জোড়া ফিল্ড গোল (১২ ও ১৩ মিনিটে)।
এছাড়া ১৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে পাকিস্তানি মোহাম্মদ ইরফান। অপর পাকিস্তানি শাকিল আব্বাসী ৩৩ মিনিটে ১টি ফিল্ড গোল করেন। ফারহান আলী ও ফয়সাল হোসেন বীমার হয়ে দুটি গোল পরিশোধ করেন যথাক্রমে ৫১ ও ৫৬ মিনিটে (দুটিই ফিল্ড গোল)।

নিজেদের দশম খেলায় এটি আবাহনীর অষ্টম জয়। ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তার পেছনে ফেলেছে ঊষা ক্রীড়া চক্রকে। ঊষার পয়েন্ট ২৫ হলেও তারা আবাহনীর চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে। পক্ষান্তরে নিজেদের দশম ম্যাচে এটা বীমার অষ্টম হার। ৬ পয়েন্ট নিয়ে ১২ দলের মধ্যে তারা আছে দশম স্থানে। ‘সুপার সিক্স’-এ যাওয়ার সুযোগ অনেক আগেই হারিয়েছে তার।

আজাদের পরিমল মোর্দি একাই তিন গোল করেছেন বাকি দুই গোল করেন দেবাশিষ কুমার রায়। অ্যাজাক্সের হয়ে রাহাত সারোয়ার তিনটি, আব্দুর রহমান ও ইমতিয়াজ আহমেদ ১টি করে গোল করেন।নিজেদের দশম ম্যাচে এটা অ্যাজাক্সের দ্বিতীয় ড্র। তাদের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে আজাদেরও এটা দ্বিতীয় ড্র, তাদের সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট।

জিমির হ্যাটট্রিকে মোহামেডানের বড় জয়

রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে বড় জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ওয়ারী ক্লাবকে ৮-২ গোলে হারিয়েছে সাদা-কালোরা।
রোববার মাওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ফিল্ড গোলে মোহামেডানকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন সালমান। সালমানের দুই মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন তাসভার আব্বাস। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া ওয়ারী ক্লাব আক্রমণভাগকে শান দিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় ঝাঁপিয়ে পড়ে খেলার ষষ্ঠ মিনিটে ওবায়েদ হাসানের পেনাল্টি কর্নারের গোল থেকে ব্যবধান ২-১ এ কমায়। ব্যবধান কমিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি ওয়ারী। ১৩ মিনিটে ওবায়েদ আরেকবার পেনাল্টি থেকে মোহামেডানের জালে বল ঠেলে খেলা ২-২ এ সমতায় ফেরান।
এরপরের গল্প অবশ্য শুধুই মোহামেডানের। ১৭ মিনিটে আবার ফিল্ড গোল থেকে মোহামেডানকে ৩-২ এর ব্যবধান এনে দেন তাসভার আব্বাস। আব্বাসের পর ২৯ মিনিটে ইমরানের ফিল্ড গোল থেকে ৪-২ এ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় মোহামেডান।
বিরতির থেকে ফিরে আবার জ্বলে উঠে মোহামেডান। ৪৩ মিনিটে সালমান দ্বিতীয়বার ওয়ারীর জালে বল জড়িয়ে দলকে ৫-২ গোলে এগিয়ে দিলে জয়ের সুবাস পেতে থাকে মোহামেডান।
এরপর ৪৮, ৬১ ও ৬৫ মিনিটে জিমি টানা তিনটি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি দলকে এনে দেন ৮-২ এর বড় ব্যবধান।
বাকিটা সময় ওয়ারী আর কোনো গোলের দেখা না পেলে ৮-২ এর বড় ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান। দিনের অপর ম্যাচে রেলওয়ের বিপক্ষে ৮-১ এর বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।