দুপুর ২:০২, রবিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং

জাতীয় যুব হকির ২৬তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা ৫-০ গোলে হারিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। বিজয়ী দল প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়েছিল। দুটি করে গোল করেছেন সোহানুর রহমান ও মহসিন। একটি গোল করেছেন দেবাশিস রায়।

২০ মিনিটে সোহানুরের গোলে এগিয়ে যায় বিকেএসপি। ৮ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান দেবাশিস। পরের মিনিটেই ব্যবধান ৩-০ করেন মহসিন। তিনি ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন। ৫৮ মিনিটে সোহানুর গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন পৃষ্ঠপোষক অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার  পংকজ রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শাহদাত হোসেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক  আবদুস সাদেক ও টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক মো. মাহাবুবুল এহসান রানা।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বিকেএসপির শফিউল আলম শিশির। সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন একই দলের সোহানুর রহমান। তিনি ২২ গোল করেছেন। চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি ৩০ হাজার ও রানার্সআপ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ২০ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেয়া হয়েছে।

হকি ওয়ার্ল্ড লিগে আসছে না কানাডা

ফিকশ্চার চূড়ান্ত। ৪ মার্চ উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার কথা ছিল কানাডার। কিন্তু ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য হকি ওয়ার্ল্ড লিগের রাউন্ড-২ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটি। কানাডার না আসার বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ)। নাম প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে কানাডা বলেছে নিরাপত্তার কথা।

আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন জানিয়েছে কানাডার পরিবর্তে অন্য একটি দেশকে এই গ্রুপে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য রাউন্ড-২ এ বাংলাদেশ সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপের অন্য দুই দল হচ্ছে- ফিজি ও ওমান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে মিশর, ঘানা, চীন ও শ্রীলঙ্কা। ৪ থেকে ১২ মার্চ হকি ওয়ার্ল্ড লিগের রাউন্ড-২ এর খেলা অনুষ্ঠিত হবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে।

নিরাপত্তার অজুহাতে কানাডার খেলতে না আসার কোনো কারণ দেখছেন না হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। এ টুর্নামেন্টের জন্য ইতোমধ্যে বার কয়েক আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকও হয়েছে। বিদেশি দলগুলোকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর আগস্টে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ খেলতে আসেনি জাপান। যদিও ওই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বিদেশি দলগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে গেছে।

হকির ফাইনালে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী

মার্সেল বিজয় দিবস হকির ফাইনালে ওঠেছে দুই সার্ভিসেস টিম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ  নৌবাহিনী। শনিবার মওলানা ভাসানী হকি ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম সেমিফাইনালে সেনা বাহিনী ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বিমান বাহিনীকে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নৌ বাহিনী ৫-২ গোলে হারিয়েছে বিকেএসপিকে।

৭-০ স্কোর লাইনটিই বলে দিচ্ছে বিমান বাহিনীর বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনালে সেনাবাহিনীর আধিপত্য। এক তরফা ম্যাচটিতে গোল করেছেন চার জন। খোরশেদুর রহমান একাই ৩ গোল করেন। ২ গোল করেছেন মিলন হোসেন এবং ১টি করে গোল পেয়েছেন হাসান জুবায়ের নিলয় ও আব্দুল মালেক।

বিকেএসপিকে ৫-২ গোলে হারানো ম্যাচে রাসেল মাহমুদ জিমি ২ গোল করেন। ১টি করে গোল পেয়েছেন  রোমান সরকার, মাইনুল ইসলাম ও কৃষ্ণ কুমার দাস। বিকেএসপির পক্ষে গোল দুটি করেন সোহানুর রহমান এবং রাজিব দাস।
২৬ ডিসেম্বর টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

মার্সেল বিজয় দিবস হকির ফাইনালে সেনা ও নৌ বাহিনী

মার্সেল বিজয় দিবস হকির ফাইনালে উঠেছে সেনা ও নৌ বাহিনী। শনিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৭-০ গোলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিা প্রতিষ্ঠানকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী।
আগামী ২৬ শে ডিসেম্বর সোমবার বেলা ২.৪৫টায় মার্সেল বিজয় দিবস হকির শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হবে সেনা ও নৌ বাহিনী। ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা সরাসরি সম্প্রচার করবে।
শনিবার প্রথম সেমিফাইনালে বিমানবাহিনীর বিপে সেনাবাহিনীর খোরশেদুর রহমান ৩টি গোল করেন (১০মি. ৪৭মি. ও ৫১মি.)। তার মধ্যে ২টি পিসি ও ১টি স্ট্রোক থেকে গোল করেন। মো. মিলন হোসেন করেন ২টি ফিল্ড গোল (২৪মি. ও ৫৭মি.)। হাসান যুবায়ের নিলয় (৫০মি. ফিল্ড) ও আব্দুল মালেক (৬৩মি. ফিল্ড) ১টি করে গোল করেন।
এদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর রাসেল মাহমুদ জিমি ২টি ফিল্ড গোল (৩৭মি. ও ৫৪মি.) করেন। এ ছাড়া রোমান সরকার (৪১মি. ফিল্ড), মাইনুল ইসলাম (৪১ মি. ফিল্ড) ও কৃষ্ণ কুমার দাস (৬৭ মি. ফিল্ড) ১টি করে গোল করেন। বিকেএসপির সোহানুর রহমান ২০ মিনিটের সময় একটি পিসি এবং রাজিব দাস ৫০ মিনিটের সময় একটি ফিল্ড গোল করে ব্যবধান কমান।

মার্সেল বিজয় দিবস হকির সেমিফাইনালে চার দল

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মার্সেল বিজয় দিবস হকি প্রতিযোগিতা। আজ প্রতিযোগিতার চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার গ্রুপপর্বের শেষ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
‘এ’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীও। এদিকে ‘বি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও।
শনিবার প্রথম সেমিফাইনালে দুপুর ১২টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিকেল আড়াইটায় মুখোমুখি হবে বিকেএসপি ও নৌ বাহিনী।
বৃহস্পতিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনীর মধ্যকার ম্যাচটি ৪-৪ গোলে ড্র হয়। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে সেনাবাহিনী। রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে নৌ বাহিনীও।
এদিকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বিকেএসপি। আর রানার্স-আপ হয়ে উঠেছে বিমান বাহিনী।
‘এ’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ও ‘বি’ গ্রুপ থেকে চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম বিদায় নিয়েছে।

বিজয় দিবস হকিতে সেনা ও বিমান বাহিনীর জয়

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মার্সেল বিজয় দিবস হকি প্রতিযোগিতা। আজ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ। দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম।
দিনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৪-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশকে। প্রথমার্ধে সেনাবাহিনী ৭-০ গোলে এগিয়ে ছিল। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ১২-১ গোলে হারায় চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব চট্টগ্রাম। প্রথমার্ধে বিমান বাহিনী ৬-০ গোলে এগিয়ে ছিল।
দিনের প্রথম ম্যাচে পুলিশের বিপক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খোরশেদুর রহমান (১৫মি. ৩১মি ও ৪৪মি.), মো. নাঈম উদ্দিন (২৭মি. ৪৭মি. ও ৬০ মি) ও মো. রোকনুজ্জামান (৪মি. ৪৫মি. ও ৫৯ মি.) ৩টি করে গোল করেন। ২টি করে গোল করেন মো. মিলন হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম। আব্দুল মালেক করেন একটি গোল। পুলিশের আবসার উদ্দিন একটি গোল শোধ দেন। সেটা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। ১৪-১ গোলের ব্যবধানের হার থেকে দলকে রেহাই দিতে পারেনি। আগের ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ ১৩-১ গোলে হেরেছিল নৌ বাহিনীর কাছে। টানা দুই ম্যাচে বড় পরাজয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনী সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে রয়েছে। ২২ ডিসেম্বর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সেনা ও নৌ বাহিনী।
এদিকে বিমান বাহিনীর ১৬ নম্বর জার্সিধারী মো. মাহবুব হোসেন একাই ৬টি গোল করেছেন। তিনি ৬, ১১, ২৪, ৪১, ৬১ ও ৬৩ মিনিটে গোল ছয়টি করেন। ৩টি গোল করেন প্রসেনজিৎ রায়। মো. বেলাল হোসেন করেন ২টি গোল। অপর গোলটি করেন আশিক মাহমুদ। ম্যাচের ৪০ মিনিটে চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাবের শহিদুল একটি গোল শোধ দেন। তবে দলকে বড় ব্যবধানে হারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।
প্রথম ম্যাচে চান্দগাঁও ১১-০ গোলের ব্যবধানে হারে বিকেএসপির কাছে। আর আজ ১২-১ গোলে হেরেছে বিমানবাহিনীর কাছে। দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে চান্দগাঁও স্পোর্টিং ক্লাব চট্টগ্রাম। সেমিফাইনালের জন্য টিকে রয়েছে বিমান বাহিনী ও বিকেএসপি। ২২ ডিসেম্বর মুখোমুখি হবে দল দুটি।

হকি দলকে নিয়ে জার্মান কোচের পরিকল্পনা

আগামী মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য হকি ওয়ার্ল্ড লিগ রাউন্ড-২ এর সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই লক্ষ্যের কথা জানান জাতীয় হকি দলের জার্মান হেড কোচ অলিভার কার্টজ। সঙ্গে লক্ষ্য অর্জনে নানা প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কার্টজের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক, সহ-সভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীর। প্রথমেই আব্দুস সাদেক তুলে ধরেন কার্টজের সঙ্গে ফেডারেশনের চুক্তির সর্বশেষ অবস্থা, ‘আমরা দুপক্ষই নৈতিকভাবে সম্মত যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হবে। কার্টজ তার চুক্তির মাঝে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সময় সূচি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। এরপরই সে তার পুরো পরিকল্পনা সাজাবে। আমরা আইনগত বিষয়গুলোও সেই সঙ্গে বিবেচনা করছি।’

কয়েক দিনের মধ্যে নতুন চুক্তি সম্পাদিত হলেও ইতোমধ্যেই এএইচএফ কাপের জন্য তিন মাস আগে করা চুক্তি শেষ হয়েছে। সেই চুক্তি প্রসঙ্গে কার্টজ বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশে কাজ করতে পেরে গর্বিত। আমি আনুষ্ঠানিকভাবেই বলতে চাই যে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন শেষ হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশেই আছি। এর মাঝেই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা দেবো। যার ব্যাপ্তি হবে দুই থেকে তিন বছর।’

হকির জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ আল মুনীর কার্টজকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ‘কার্টজকে আমরা বলে দিয়েছি ভালো ফলাফল চাই। আর এ জন্য আমাদের সীমাবদ্ধতার মাঝে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। তবে এ কথা বলতে চাই যে অন্তত জাতীয় দলের জন্য হকি ফেডারেশনের আর্থিক দৈন্যতা নেই। ’

এরপরই কার্টজ তার প্রস্তুতির পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই ৩৫ থেকে ৪০ জন খেলোয়াড় নিয়ে কাজ শুরু করেছি। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দলকে নিয়ে চলে যাবো বিকেএসপিতে। আমি এজন্য ফেডারেশনের কাছে একজন অ্যাথলেটিক কোচ চেয়েছি। দুই সপ্তাহ সেখানে ফিটনেস প্রোগ্রমের পর শুরু হবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি। এখানে সাত-আটটা ম্যাচ খেলে দল ছোট করবো। ’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘জানুয়ারির শেষ দিক বা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দল যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সেখানে দল খেলবে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ, এরপর ফিরে এসে ইউরোপিয়ান দলের সঙ্গে তিন চারটি ম্যাচ খেলবে দল। যেখানে রাশিয়া আমাদের বিবেচনায় আছে। অস্ট্রিয়া অনূর্ধ্ব-২১ বা পোল্যান্ডও খারাপ নয়। আমরা উঁচু র‌্যাংকিংয়ের দলের বিপক্ষেই খেলবো।’

উল্লেখ্য, কয়েক দিনের মধ্যেই বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে যাচ্ছেন কোচ কার্টজ। জানুয়ারির শুরুতে ফিরে ফের শুরু করবেন ক্যাম্পের কর্মকাণ্ড।

আজ বিকেলে ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

শনিবার সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের ফাইনালে উঠে প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। ওই দিনই অবশ্য সেটা (প্রতিপক্ষ) পেয়ে যেতে পারতো। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টির কারণে সেদিন দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি মাঠে গড়ায়নি।

আজ রোববার সকালে স্বাগতিক হংকংকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। আজ বিকাল ৫টায় টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। জিতলে এটা হবে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা। একই সঙ্গে এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবেন জিমিরা। আর প্রথমবারের মতো ট্রফি ঘরের তোলায় অপেক্ষায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। আর বাকি ম্যাচটির নিষ্পত্তি হয়েছে ড্রয়ে। এ বছর এসএ গেমসে শ্রীলঙ্কাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ব্রঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ।

সিঙ্গাপুরকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে বাংলাদেশ

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের ৪ ম্যাচের সব ক’টিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের সেমিফাইনালে দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশই ছিল ফেবারিট।

টুর্নামেন্টের আগের দুই বারের চ্যাম্পিয়ন লাল সবুজ জার্সিধারীরা ফেবারিটদের মতোই খেলেছে- সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়েছিল। বাংলাদেশ রোববার ফাইনাল খেলবে হংকং ও শ্রীলংকার মধ্যে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিজয়ী দলের সঙ্গে।

সেমিফাইনালে দুটি গোল করেছেন আশরাফুল ইসলাম। বাকি ৬ গোল করেন মিলন হোসেন, রোমান সরকার, জিমি, মিমো, চয়ন ও কৃষ্ণ।

শনিবার হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরকে গোলের বন্যায় ভাসালেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৬ মিনিট পর্যন্ত। মিলন হোসেনের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় জিমি-চয়নরা। এর পর ২৯ মিনিটে রোমান সরকারের ফিল্ড গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ২ মিনিটেই ব্যবধান বাড়িয়ে দেন অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান ৪-০ গোলে করেন মামুনুর রহমান চয়ন। এর ২ মিনিট পর সিঙ্গাপুরের জালে পঞ্চমবারের মতো বল পাঠান পুস্কর খিসা মিমো। ৫৫ মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন কৃষ্ণ কুমার দাস। আশরাফুল ইসলাম পেনাল্টি কর্নার থেকে শেষ দুটি গোল করেন ৬৭ ও ৬৯ মিনিটে।

বাংলাদেশ ১৩ আশরাফুল ৫ ম্যাকাও ০

গ্রুপসেরা হতে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ড্র। প্রতিপক্ষ ম্যাকাও হওয়ায় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। দলের তারকা খেলোয়াড়দের বাইরে রেখেই একাদশ সাজিয়েছিলেন জার্মান কোচ অলিভার কার্টজ। পূর্ণশক্তির দল না নামিয়েও বাংলাদেশ ১৩-০ গোলে হারিয়েছে ম্যাকাওকে।

হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ করেছে ৬ গোল। ডিফেন্ডার আশরাফুল ইসলাম প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরো ২ গোল। দলের ১৩ গোলের ৫টিই তার। সারোয়ার করেছেন ৩টি। ২টি করেছেন রোমান সরকার এবং একটি করে গোল করেছেন হাসান জুবায়ের নিলয়, মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও খোরশেদুর রহমান।

দ্বিতীয় মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে প্রথম গোল করে আশরাফুল। ১০ মিনিটে আবার পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। পরের মিনিটেই পেনাল্টি স্ট্রোক পায় বাংলাদেশ। আশরাফুল গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন।

১৯ মিনিটে রোমান সরকারের ফিল্ড গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে। ২৩ মিনিটে সারওয়ার হোসেনের ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৫-০ করে লাল সবুজ জার্সিধারীরা। বিরতির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে ব্যবধান ৬-০ করেন হাসান জুবায়ের নিলয়।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দুই গোলও আসে আশরাফুলের স্টিক থেকে। তিনি ৪০ ও ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন। ৬১ মিনিটে সারোয়ার পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের নবম গোল করেন। পরের মিনিটে রোমান সরকারের ফিল্ড গোলে ব্যবধান হয় ১০-০।

পেনাল্টি কর্নার থেকে সারোয়ার ব্যবধান ১১-০ করেন, ৬৩ মিনিটে। ৬৯ মিনিটে মাইনুল ইসলাম কৌশিকের ফিল্ড গোলে ব্যবধান হয় ১২-০ এবং শেষ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে করা খোরশেদ আলমের গোলে ১৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবজু জার্সিধারীরা।

ড্র করলেই গ্রুপ সেরা বাংলাদেশ

সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে আগেই। এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ সেরা হয়েই সেমিতে মাঠে নামতে চায়। প্রাথমিক এ লক্ষ্যে পৌঁছতে আগামীকাল (বুধবার) গ্রুপের শেষ ম্যাচে ম্যাকাওয়ের সঙ্গে ড্র করলেই হবে জিমিদের। হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪ টায়। প্রথম দুই ম্যাচে হংকং ও চাইনিজ তাইপেকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের তুলনায় ম্যাকাও আরো দুর্বল।

হংকং থেকে দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি বলেছেন, ‘আমরা এখানে এসেছি সব ম্যাচ জিততে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাকাওয়ের বিরুদ্ধে জয়ের টার্গেট নিয়েই নামবো। মঙ্গলবার কোনো অনুশীলন হয়নি আমাদের। দিনভর আগের দুই ম্যাচের ভিডিও দেখে ভুল-ত্রুটিগুলো বের করে তা কীভাবে দূর করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করেছেন কোচ।’

বাংলাদেশ জিতলে তো কথাই নেই। ড্র করলেও চলবে। তবে ম্যাকাও যদি অঘটন ঘটিয়ে দেয়? যদি বাংলাদেশ হেরে যায় এবং অন্য ম্যাচে হংকং হারায় চাইনিজ তাইপেকে তাহলে দুই দলের পয়েন্টই হবে ৬। সেক্ষেত্রে গোল গড়ে এগিয়ে থাকা দেশটি হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

তাইপেকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

হংকংয়ে চলমান এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিমিরা ৪-২ গোলে হারিয়েছে চাইনিজ তাইপেকে।

প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা একই ব্যবধানে হারিয়েছিল স্বাগতিক হংকংকে। টানা দুই জয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো জিমি-চয়নরা। এ জয়ে নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল।

HOCKEY

১৭ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার রোমান সরকার। ২৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম। ২৯ মিনিটে অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমির ফিল্ড গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে।

এ স্কোরেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ভীতিকর হয়ে উঠে লাল-সবুজদের। ৪১ মিনিটে লু সাং তিং ফিল্ড গোল করে ব্যবধান কমান। ৭ মিনিট পর ব্যবধান ৩-২ করে চাইনিজ তাইপে। পেনাল্টি স্ট্রোকে গোল করেন মিয়েন ইং সেন। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের আরেক পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ মামুনুর রহমান চয়ন দলের চতুর্থ গোল করেন।

বুধবার গ্রুপের শেষ খেলায় ম্যাকাওর বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

দু্র্বল চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি বাংলাদেশ

এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাল হংকংয়ের কিংস পার্ক হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা চারটায় চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

শনিবার অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে জিমি চয়নরা  ৪-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক হংকং চায়নাকে।  এবার সামনে হংকংয়ের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল চাইনিজ তাইপে।  বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ট্র্যাক রেকর্ডও খারাপ। নিকট অতীতে তাইপে বাংলাদেশের সঙ্গে কখনও জিতেনি। ২০১৩ সালে এশিয়া কাপে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ১১-৩  গোলে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন চারটি, পুস্কর ক্ষিসা মিমো তিনটি এবং মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও রাসেল মাহমুদ জিমি দু’টি করে গোল করেছিলেন।

আর  দু’মাস আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টে চাইনিজ তাইপেকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের তরুণরা।

এদিকে তাইপে তাদের প্রথম ম্যাচে গ্রুপের অন্য দল ম্যাকাও চায়নাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে। বাংলাদেশ ২৩ নভেম্বর বুধবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ম্যাকাও চায়নার বিপক্ষে খেলবে।

৯টি মিডিয়া নিয়ে হংকং যাচ্ছে হকি ফেডারেশন!

এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপ হকিতে অংশ নিতে হংকং যাত্রার আগে সংবাদ সম্মেলনে শুধু ১৮জন খেলোয়াড়ের তালিকা সরবরাহ করে হকি ফেডারেশন। খেলোয়াড় ছাড়া দলের সঙ্গে অন্য কারা যাচ্ছেন তা যেন কিছুটা রহস্যঘেরা।

সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সহসভাপতি সফিউল্লাহ আল মুনীর যে জবাব দিয়েছেন তা ছিল অস্পষ্ট। কর্মকর্তাদের নাম জানতে পীড়াপিড়ি করায় তিনি বলেন, ‘তালিকা ফেডারেশন থেকে দেয়া হবে।’

সফিউল্লাহ আল মুনীর অবশ্য একটি তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। হকি ফেডারেশন থেকেই নাকি পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে ৯টি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে। তিনি বলেছেন, ‘কন্টিনজেন্টের বাইরে অনেকে যাচ্ছেন নিজেদের খরচে। তবে আমরা ৯টি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে স্পন্সর করছি। একাত্তর, টোয়েন্টিফোর, এসএ টিভি, মাছরাঙ্গা টিভি, বাংলা ভিশন, ডিবিসি, এনটিভি, সময় টিভির পাশাপাশি নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি নিয়ে যাচ্ছি আমরা। জাতীয় দল যাতে বেশি প্রচার পায় এ জন্য এসব মিডিয়া নিয়ে যাওয়া।’

নির্দিষ্ট কয়েকটি মিডিয়াকে স্পন্সর করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক বলেছেন, ‘আমার শরীরটা খারাপ। ফেডারেশনে যেতে পারিনি। এ টুর্নামেন্টের সব কিছু মুনীর সাহেব (সফিউল্লাহ আল মুনীর) দেখছেন।’

ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা জানান, দলের সাথে কোচ-কাম ম্যানেজার হয়ে যাচ্ছেন মাহবুব হারুন। তবে পরে যে তালিকা দেয়া হয়, সেখানে তাকে দেখানো হয়েছে কোচ হিসেবে। ম্যানেজার হিসেবে নাম আছে আরিফুল হক প্রিন্সের। একটি সূত্র জানিয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় প্রিন্সকে হংকং যাওয়ার আদেশ দিয়েছে পর্যবেক্ষক হিসেবে।

প্রধান কোচ হিসেবে জার্মানির অলিভার কার্টজ যাচ্ছেন। তবে কন্টিনজেন্টে তার নাম নেই। এমনকি নেই উপদেষ্টা কোচ পিটার গেরহার্ডের নামও। ফেডারেশন থেকে ফলাও করে বলা হয়েছিল, এ টুর্নামেন্টের জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি কোচিং স্টাফ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাস্তবে অলিভার আর পিটার ছাড়া আর কেউ দৃশ্যমান নন। তারা নাকি জার্মানি থেকে হংকং গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। প্রশ্ন উঠেছে- অনুশীলনের সময় তাদের পাওয়া গেল না। টুর্নামেন্টে গিয়ে কি করবেন?

‘আমি হংকং যাচ্ছি। ওখানে গেলেই তো দেখবো কয়জন বিদেশি কোচ উপস্থিত। আমাদের প্রধান লক্ষ্য তো ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য হকি ওয়ার্ল্ড লিগ-২। এখানে অনেক ভালো ভালো দল খেলবে। আসলে শক্তিশালী কোচিং স্টাফ তৈরি তো সে জন্যই। ওয়ার্ল্ড হকি লিগের আগে দলকে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর চেষ্টা করছি। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলানো হবে’-বলেছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।

এশিয়ান হকির জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

আগামী ১৯ নভেম্বর হংকংয়ে শুরু হতে যাওয়া আট জাতির এএইচএফ বা এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপের জন্য ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) এ দল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত এ দলটি আগামী ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) হংকংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে বলেও জানানো হয়েছে।

ঘোষিত দলে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন, জাহিদ হোসেন ও অসিম গোপ।

ডিফেন্ডার হিসেবে আছেন, মামুনুর রহমান চয়ন, আশরাফুল, খোরশেদুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ শিটুল, ইমরান হাসান পিন্টু ও তাপস বর্মন।

মিডফিল্ডার হিসেবে আছেন, রেজাউল করিম বাবু, সারোয়ার, রুম্মন হোসেন, কামরুজ্জামান রানা ও মিলন হোসেন।

এছাড়া ফরোয়ার্ড হিসেবে আছেন, কৃষ্ণ কুমার, রাসেল মাহমুদ জিমি, পুস্কর খিসা মিমো, হাসান জুবায়ের নিলয় ও মাইনুল ইসলাম কৌশিক।

আসরে বাংলাদেশ খেলবে গ্রুপ ‘এ’তে। যেখানে তাদের সঙ্গী হিসেবে আছে, চাইনিজ তাইপে, হংকং ও ম্যাকাও। এছাড়া বি-গ্রুপে আছে, শ্রীলঙ্কা, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড ও উজবেকিস্তান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ নভেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে। ২১ নভেম্বর তারা খেলবে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে। ম্যাকাওর বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামবে ২৩ নভেম্বর। এরপর ২৫ নভেম্বর বিরতি দিয়ে ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হবে প্রাক-স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। আর ২৭ নভেম্বর স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলো দিয়ে পর্দা নামবে এই আসরের।

শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

পুরো টুর্নামেন্টে দুর্নিবার। একে একে সব প্রতিপকে গুঁড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ; কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর ভারত বাধা পার হতে পারলো না আশরাফুল-রুমনরা। অনুর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে এগিয়ে গিয়েও ভারতের কাছে ৫-৪ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের হকি যুবাদের। অথচ এই ভারতকেই গ্রুপপর্বে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
একেবারে শেষ মুহূর্তে এসেই স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় মুষড়ে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশের যুবাদের। ৪-৪ গোলে যে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তেমনটি হলে খেলা গড়াতো অন্তত টাইব্রেকারে; কিন্তু সেই ম্যাচটিতে শেষ বাঁশি বাজার মাত্র তিন সেকেন্ড আগে গোল হজম করে হৃদয়ভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ করে ঢাকার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে উৎসবে মেতে উঠলো ভারতীয় যুবারা।
44
তবে শুরু থেকে ম্যাচটি উপহার দিয়েছিল শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা। দু’বার এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে, ভারতের স্ট্রাইকারদের দতার কারণে এগিয়ে গিয়েও গোল ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের যুবারা। তবে, তারাও ধন্যবাদ পেতে পারেন, দু’বার পিছিয়ে গিয়েও ম্যাচে ফিরে আসতে সম হয়েছিল। এছাড়া খেলার শেষ মুহূর্তের আপেটাই কেবল পোড়াচ্ছে বাংলাদেশকে। হকি পাড়ায় শুধু ওই তিন সেকেন্ডেরই আপে।
২০ মিনিটের মাথায়ই গোল আদায় করে নেয় বাংলাদেশের যুবারা। নিজেদের প্রথম পেনাল্টি কর্নারেই গোল করে এগিয়ে যায় আশরাফুললা। রাব্বির পুশ, নাইম স্টপ করেন। আশরাফুলের ফিক ভারতীয় এক ডিফেন্ডারের স্টিকে লেগে ফিরে আসে বল। ফিরতি বল দারুণ হিটে ভারতের পোস্টে পাঠালেন অধিনায়ক রুমন সরকার।
যদিও এই গোলের আনন্দ খুব বেশিণ স্থায়ী হয়নি। কারণ, এক মিনিট পরই বাংলাদেশের বক্সে এককভাবে ঢুকে হাওয়ায় ভাসিয়ে ল্যভেদ করলেন ভারতের শিবম আনন্দ।
বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে আবারও এগিয়ে যেতে পারলো বাংলাদেশ। দ্রুতগতির এক আক্রমণে সজীবের বক্সে ফেলা হিট বক্সে ওৎ পেতে থাকা মহসীনের স্টিকের ছোঁয়া নিয়ে জড়ি যায় ভারতের পোস্টে; কিন্তু ৪৩ মিনিটে এই গোল আর ধরে রাখা যায়নি। নিজেদের তৃতীয় পেনাল্টি কর্নার গোলে পরিণত করল ভারত। হিটে ২-২ করলেন হার্দিক সিং।
এপর আর বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারেনি। ভারতের শক্তিশালি ডিফেন্স বাংলাদেশের আক্রমণগুলো আটকে দেয়। বরং উল্টো আক্রমনে বাংলাদেশের জালেই বল জড়িয়ে দেয় তারা। ৫০ মিনিটে বাংলাদেশের রণের ভুলে গোললাইনের খুব কাছ থেকে কনজেংবামের আলতো টোকায় ৩-২ করে ফেলে ভারত।
ভারতের কঠিন ডিফেন্স ভেদ করে এর ৯ মিনিট পর, অথ্যাৎ খেলার ৫৯ মিনিটে সমতায় ফেরে বাংলাদেশে। নিজেদের করা তৃতীয় পেনাল্টি কর্নার থেকে আশরাফুল গোল করে দিলেন দু’দলকে ৩-৩-এ সমতা। এরপর মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোল খেয়ে বসলো বাংলাদেশ। ৬২তম মিনিটে জটলার মধ্য থেকে কনজিংবামের স্টিকে ভারত করে ফেলে ৪-৩।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে আবারও স্কোরলাইন সমান সমান, ৪-৪। এবার বাংলাদেশকে দারুণ হিটে ম্যাচে ফেরান মাহবুব; কিন্তু শেষ মুহূর্তে শিবম আনন্দের গোল বাংলাদেশের উৎসবের প্রস্তুতি ভন্ডুল করে।

বাংলাদেশকে সমীহ করছেন ভারতীয় হকি কোচ

বাংলাদেশকে শক্তিধর প্রতিপক্ষ মেনেই শনিবার মাওলানা ভাসানি জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে নিজেদের প্রথম খেলায় আয়োজক বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে টুর্নামেন্টের শীর্ষ র‌্যাংকিংয়ের দল ভারত। বিকাল তিনটায় পুল ‘এ’র এই খেলাটি মাঠে গড়াবে।

ভারতের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চলতি বছর এসএ গেমসে ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করা বিজে কারিয়াপ্পা। অনূর্ধ্ব-১৮ দলে আছেন এসএ গেমসে খেলা তিন খেলোয়াড়। এরা হলেন গোলরক্ষক পঙ্কজ রজক, অধিনায়ক নিলম সন্দ্বীপ সেস ও ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ওমর। আজ মাওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে কঠোর অনুশীলন করছে ভারতীয় দল। এই সময় কারিয়াপ্পা প্রকাশ করলেন তার প্রস্ততি ও প্রত্যাশা, ‘সাধারাণত সবাই ভারতকে ফেভারিটই রাখে তবে আমরা এটি ভাবিনা। পাকিস্তান ও আয়োজক বাংলাদেশ আছে, তাদের খেলা আমরা দেখিনি, তা ছাড়া বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে দলগুলোর মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য থাকে না।’

নিজের দলের চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি উল্লেখ করলেন, ‘দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই নিজকে প্রমাণ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এখন কিন্তু ভারতীয় হকির চিত্রপট বদলেছে, রয়েছে ইন্ডিয়ান হকি লিগ। জাতীয় দল নিয়মিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলে, সবকিছু মিলিয়ে আমরা শিরোপা জয়ের জন্যই এখানে এসেছি।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা প্রসঙ্গে কারিয়াপ্পার সোজা সাপ্টা কথা, ‘আমরা নিজেদের সেরা নৈপূণ্য দেখানোর জন্য তৈরি, নিজ মাঠে বাংলাদেশ অবশ্যই কঠিন প্রতিপক্ষ, তাদেরও রয়েছে কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, আমরা একটি কঠিন লড়াই প্রত্যাশা করছি।’

এদিকে বাংলাদেশ কোচ জাহিদ হোনেন রাজু খেলোয়াড়দের বলেছেন বাড়তি কোনও চাপ না নিতে, ‘আমার বিকেএসপি ও প্রিমিয়ার লিগে একসঙ্গে খেলেছি। টিম স্পিরিট ভালো, আমরা কঠোর অনুশীলনও করেছি, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আমরা নির্দিষ্ট ছকেও কাজ করেছি। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামবো তবে এটি অস্বীকার করলে ভুল হবে যে ভারত আমাদের চেয়ে টেকনিক্যালি উন্নত, আমরা এটিকে টিমওয়ার্ক দিয়ে মোকাবিলা করবো।’
দিনের প্রথম খেলায় বেলা ১১ টায় মাঠে নামবে চীন ও হংকং, দ্বিতীয় খেলায় দুপুর ১টায় খেলবে পাকিস্তান ও ওমান।

ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-বেলজিয়াম

রিও অলিম্পিকে হকিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও অন্যতম ফেভারিট নেদারল্যান্ডকে পরাজিত করে  প্রথমবারের মত অলিম্পিক গেমসের পুরুষ হকির ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়াম। আর্জেন্টিনা ২০০৮ ও ২০১২ সালের স্বর্ণজয়ী শক্তিশালী জার্মানিকে ৫-২ গোলে আর ১৯৯৬ ও ২০০০ অলিম্পিকের স্বর্ণজয়ী নেদারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকেট পায় বেলজিয়াম।

বিশ্বের সাত নম্বর র্যােঙ্কধারী আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই তাদের অলিম্পিকের ইতিহাসে সেরা পারফরমেন্স দেখিয়ে ফেলেছে। এর আগে ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে তারা পঞ্চম স্থান লাভ করেছিল যা এতদিন পর্যন্ত সেরা ছিল। চার বছর আগে লন্ডনে তারা ১০ম স্থানে থেকে গেমস শেষ করেছিল।

অন্যদিকে বেলজিয়ামও দীর্ঘদিন পরে অলিম্পিকের হকিতে নিজেদের মেলে ধরেছে। ১৯২০ সালে ঘরের মাটিতে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া দলটি এই প্রথম ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো। চার বছর আগে পঞ্চম স্থানে থেকে তারা গেমস শেষ করতে বাধ্য হয়েছিল। মূলত নিউজিল্যান্ডের কোচ শেন ম্যাকলিয়ডের অধীনে পুরো দলের চেহারাই পাল্টে গেছে। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ম্যাকলিয়ড কিউই দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মেরিনার্সকে শাস্তি পেতেই হলো

প্রথমবারেরমত প্রিমিয়ার হকি লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও শাস্তি পেতে হলো মেরিনার ইয়াংস ক্লাবকে। এ যেন সাদা দেয়ালে এক পোছ কালি লাগার মত। গত ১ জুলাই গ্রিন ডেল্টা হকি লিগের শেষ ম্যাচটি ছিল শিরোপা নির্ধারনি। ওইদিন ঊষা ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ম্যাচের সময়ে হকি ফেডারেশনের ভিআইপি কক্ষ ভাংচুর করেছিল মেরিনার ইয়াংসের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বেশ কিছু উগ্র সমর্থক।

ওই অপরাধেই শাস্তি পেতেই হলো মেরিনার ইয়াংস ক্লাবকে। সোমবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় ওই ঘটনার জন্য মেরিনার্সকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Mariner

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীর সভা শেষে বলেন, ‘ওই ঘটনার জন্য মেরিনার্সকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউল্লাহ খান রানাকে এক মৌসুমের জন্য হকির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে এবং মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের ভিআইপি কক্ষে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ জরিমানার টাকা আগামী এক মাসের মধ্যেই পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে, স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে ভাঙচুরের ঘটনায় গত ২৩জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে দুঃখ প্রকাশ করেছিল মেরিনার।

হকির সাফল্যে উদ্বেলিত মেরিনার্স

প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের শিরোপা জিতে আনন্দে উদ্বেলিত মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সংক্ষেপে ঢাকা মেরিনার্স। ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তৎকালীন হকির শীর্ষ আসর প্রথম বিভাগ হকি লিগে উন্নীত হওয়ার পর কেটে গেছে ২৮ বছর। গতকাল শুক্রবার হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। তৃতীয় বা চতুর্থ শক্তি নয় মেরিনার্স এবার চ্যাম্পিয়ন, এ বার্তাই এখন বয়ে বেড়াচ্ছে আরামবাগের বাতাসে। এতো বড় সাফল্য ক্লাব এর আগে কখনও পায়নি।

১৯৭২ সালে আরামবাগ এলাকার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিত্ব ইসহাক চৌধুরির উদ্যোগে শুরু হয় ক্লাবটির যাত্রা। তার সঙ্গে ছিলেন ফরিদউদ্দিন, মরহুম নিয়াজ আহমেদ চৌধুরি ভোলা, দুলালসহ আরও কয়েকজন। স্টেডিয়ামের কাছের এলাকাটি এমনিতেই ছিল ক্রীড়া চাঞ্চল্যে ভরপুর। আর নিজের একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়ে এলাকার খেলাধুলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মেরিনার্স। ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে পাড়ার ক্লাবটি।

১৯৮৮ সালে এই হকিকে ঘিরেই মেরিনার্সের সাফল্য যাত্রা শুরু। দ্বিতীয় বিভাগ হকি লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম বিভাগে উন্নীত হয় মেরিনার্স। এলাকার এক ঝাঁক নিবেদিত তরুণ হয়ে ওঠে মেরিনার্সের প্রাণশক্তি। ১৯৮৯ সালে মেরিনার্সের প্রথম বিভাগের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক মঈনউদ্দিন ভূইয়া আজও মেরিনার্স হকির এক অবিচ্ছদ্য অঙ্গ। ১২ বছর আগে খেলা ছাড়লেও এখনও মেরিনার্সের প্রতিটি ম্যাচে তার উপস্থিতি নিশ্চিত। ম্যানেজার বদরুল ইসলাম দীপুও সাবেক খেলোয়াড়। যেখানে মেরিনার্স হকি সেখানে অাছেন দীপু। শুধু তারা নন, আরও অনেকেই মেরিনার্স হকি দলের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দীর্ঘদিন।

হকিকে ঘিরে মেরিনার্সের যত আলোচনা হলেও, অনেকেই জানে না মেরিনার্স একসময় ঢাকা বাস্কেটবলের অন্যতম পরাশক্তি ছিল। একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে তারা আলোড়ন তুলেছিল বাস্কেটবল অঙ্গনে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ১৯৯৪/৯৫ মৌসুম পর্যন্ত মেরিনার্স টানা পাঁচবার সিনিয়র ডিভিশন বাস্কটবলের শিরোপা জিতেছিল। জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেই ছিলেন মেরিনার্সের। জুনায়েদ, জহির মবি অনেকেই বাস্কেটবলের কোর্ট কাাঁপিয়েছেন মেরিনার্সের হয়ে। ২০০০ সালে প্রথম মহিলা বাস্কেটবল লিগের শিরোপাও জিতেছিল মেরিনার্স।

এছাড়া দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ২০০৮ ও ২০০৪/৫ মৌসুমের শিরোপা জিতেছে মেরিনার্স। প্রথম বিভাগ মহিলা হ্যান্ডবলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০০ ও ২০১৫ সালে।

তবে হকিকে ঘিরেই মেরিনার্সের আগামীর চিন্তা। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাসানউল্লাহ খান রানা দলের সাবেক গোলরক্ষক। ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সর্বক্ষণ। তিনি বলেন, ‘হকির এ সাফল্যে আরামবাগে একটা নতুন উদ্দীপনা এসেছে। আমরা এ সাফল্য অব্যাহত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। ঈদের পরে বড় করে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রতিশ্রুত দশ হাজার ডলারের অর্থ। আমাদের হকি কমিটির চেয়ারম্যান এলাকার কমিশনার মমিনুল হক সাঈদকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছেন। আর আমরা দ্বিতীয় বিভাগ হকি লিগে ক্লাবের খেলোয়াড় তৈরির একটি পাইপলাইন তৈরির জন্য আরেকেটি দল গঠনের চিন্তা ভাবনা করছি। মেরিনার্সের হকিকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই।’

শুক্রবার হকি স্টেডিয়ামে ক্লাবের সমর্থকদের ভাংচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন রানা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা ফেডারেশনের বিপক্ষেও নয়। এটি দুই ক্লাব কর্মকর্তার বাদানুবাদের ও কথা কাটাকাটির ফসল। খেলার মাঠে এ ঘটনার কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে অনুরোধ করছি।’

`সমর্থকদের ভাঙ্গচুরের ঘটনায় সিদ্ধান্ত ফেডারেশনের সভায়`

খেলার বয়স তখন বড় জোর ২০ মিনিট। মেরিনারের পাকিস্তানি খেলোয়াড় মোহাম্মদ তৌফিক আম্পায়ারের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ালে সবুজ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন ওমানি আম্পায়ার। আম্পায়ার তাকে তিন মিনিটের জন্য সাময়ীকভাবে বহিষ্কার করলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেরিনার খেলোয়াড়রা।

খেলোয়াড়দের রাগ ক্ষোভের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ল ভিআইপি গ্যালারিতে। মেরিনার ইয়াংসের সমর্থকরা মুহূর্তের মধ্যে ভিআইপি গ্যালারিতে ভাঙ্গনের তান্ডব চালালেন। ১০ মিনিটের সেই ধ্বংসযজ্ঞে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের ভিআইপির তিন তলার সব কটা চেয়ার ভেঙ্গে টুকরো, টুকরো। ভিআইপির জানালার কাঁচও ভাঙ্গল কয়েকটি।

হকি ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক মেরিনার সমর্থকদের ভাঙ্গচুরের ঘটনা সম্পর্কে তাৎক্ষনিকভাবে বলেন, ` অবশ্যই এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত আচরণ। এ বিষয়ে হকি ফেডারেশনের সভায় আলোচনার কথা হবে। আর আমার মনে হয় এমন অঘোষিত ফাইনালে মাঠে ১০ জন পুলিশ ছিল অপর্যাপ্ত।`

`ভাঙ্গচুরে খেলা বন্ধই ছিল টার্নিং পয়েন্ট`

খেলার বয়স তখন বড় জোর ২০ মিনিট। ২-০ গোলে এগিয়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র। একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে নিজেদের মাঝে বাকবিতণ্ডার লিপ্ত হলেন উষার নিলয় ও মেরিনারের মোহাম্মদ ইশতিয়াক। আম্পায়ার দুজনকে সবুজ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করতে না করতেই ছুটে এসে আম্পায়ারের সাথে অযথা তর্ক জুড়ে দিলেন মেরিনারের পাকিস্তানি মোহাম্মদ তৌফিক ।

আম্পায়ার তাকে তিন মিনিটের জন্য সাময়ীকভাবে বহিষ্কার করলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেরিনার খেলোয়াড়রা। খেলোয়াড়দের রাগ ক্ষোভের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ল ভিআইপি গ্যালারিতে। মেরিনার ইয়াংসের সমর্থকরা মুহূর্তের মধ্যে ভিআইপি গ্যালারিতে ভাঙ্গনের তান্ডব চালালেন। ১০ মিনিটের সেই ধ্বংসযজ্ঞে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের ভিআইপির তিন তলার সব কটা চেয়ার ভেঙ্গে টুকরো, টুকরো। ভিআইপির জানালার কাঁচও ভাঙ্গল কয়েকটি।

মেরিনার সমর্থকদের ঐ তান্ডবে খালি হয়ে গেল তিন তলার ভিআইপি বক্স। মহিলা দর্শক ও সমর্থকদের একাংশ নিরাপত্তার কথা ভেবে আশ্রয় নিলেন দোতলার প্রেস বক্সে। প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকলো। অঘোষিত ফাইনালে মেরিনার সমর্থকদের এমন উশৃঙ্খল আচরণেরর তীব্র নিন্দা করেছেন উষা ক্রীড়া চক্রের প্রশিক্ষক মামুন উর রশিদ। শুধু নিন্দাই জানানোই নয়। উষা কোচ মনে করেন, ঐ গন্ডগোল ও ভাঙ্গচুরে খেলা বন্ধ হয়ে পড়াটা তার দলের জন্য বড় ক্ষতি হয়েছে।

জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক খেলা শেষে বলেন, খেলা বন্ধ হবার আগে পর্যন্ত আমরা শুধু ২-০ গোলে এগিয়েই ছিলাম না, খেলার পূর্ন নিয়ন্ত্রণ ছিল আমাদের হাতে। ’

মামুন মেরিনার সমর্থকদের ঐ কর্মকান্ডকে রিতিমত সন্ত্রাসী কাজ বলে অভিহিত করেছেন। তার কথা, `কি আর বলবো? দুই গোল খাবার পর গ্যালারি ভাঙ্গচুর।

তাহলে আর এক গোল হলে নিশ্চয়ই আরও বড় ধরণের গন্ডগোল হতো। আমাদের পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা অমন গন্ডগোল দেখে হতচকিৎ। সত্যি কথা বলতে কি ঐ সময় আমাদের পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ভয় পেয়ে গিয়েছিল।`

মেরিনার শিবিরে বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস

ড্র করলেই প্রথম বারের মত শিরোপা। মতিঝিল ও আরামবাগ ক্লাব পাড়ার মেরিনার টেন্টে আগাম উৎসব আমেজ বৃহস্পতিবার থেকেই। কিন্তু অঘোষিত ফাইনালের প্রথম অংশের মাঝারমাঝি না যেতেই ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে অনিশ্চয়তার ঘোর অন্ধকার এসে গ্রাস করেছিল মেরিনার শিবিরে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য সে অনিশ্চয়তার ঘোর কাটে।

খেলার ৫০ মিনিটে তরুন আরশাদের গোলে ২-২ ‘এ সমতা ফেরার পর থেকেই চাঙ্গা হয় কমলা-নীল শিবির। খেলা শেষ হবার ২ মিনিট আগে ইশতিয়াকের সুযোগ সন্ধানী গোলেই শিরোপা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গে জয়োল্লঅসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে মেরিনার সমর্থকরা। সমর্থকদের শুক্রবার পড়ন্ত বিকেলে খেলা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে হকি স্টেডিয়াম তাদের উৎসব আনন্দের ক্ষেত্র হয়ে যায়।

সাধারন সম্পাদক রানা হাসান, হকি কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক সাইদ ও অন্য শীর্ষকর্তা এবং শ`দুয়েক সমর্থক আনন্দের অতিশয্যে ঢুকে পড়লেন মাঠে। জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড, ম্যানেজার দিপু ও অন্যান্য খেলোয়াড়কে নিয়ে শুরু হলো বিজয় আনন্দ উল্লাস। মেরিনার হকি কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ দলের সাফেল্যে উদ্বেলিত হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ১০ হাজার ডলার বোনাস ঘোষনা করলেন।

সাঈদ অমন বোনাস দিতেই পারেন। এটাই যে হকি লিগে মেরিনারের প্রথম শিরোপা। এর আগে দুবার রানার্স অঅপ হয়ে তুষ্ট থাকতে হয়। শিরোপা অধরাই ছিল ক্লাব পাড়ার দলটির। তার চেয়ে অনেক নামী দামি তারকা খেলোয়ারে নেতৃত্বেও মেরিনার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তাইতো অধিনায়ক মইনুল ইসলাম কৌশিক আনন্দে উদ্বেলিত। তার অনুভব, `তার দল আসলে সাফল্যর জন্য মুখিয়ে ছিল। সবার প্রানপন চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল এই শিল শিরোপা।`

তাইতো কৌশিক বলেন, `পুরো দল খুশি। সবাই খুব পরিশ্রম করেছে। আমরা রোজার মধ্যেও নিয়মিত অনুশীলন করেছি। কেউ কেউ রোজা রেখেও নিবিঢ় অনুশীলন করেছে। বলতে পারেন, অনেক কষ্টের ফল এ শিরোপা।`

শুরুতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া প্রসঙ্গে মেরিনার অধিনায়কের ব্যাখ্যা, চ্যাম্পিয়ন হতে আমাদের দরকার ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। তাই আমরা একটু সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম। তাই আত্মবিশ্বাস ছিল। আধুনিক হকিতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া খুব বড় ব্যবধান নয়। আর আমরা এর আগেও পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাড়িয়েছি। তাই সাহস ছিল। উদ্যম হারাইনি।

তার শেষ কথা, `আগের বার আমরা চ্যাম্পিয়ন হবার মত দল ছিলাম না। এবারের দলটি শিরোপা জয়ের দাবিদার ছিল । তাই শেষ হাসিও আমরাই হেসেছি।

ভক্ত ও সমর্থকদের উগ্র আচরণ ও ভাঙ্গচুর সম্পর্কে মেরিনার অধিনায়কের ব্যাখ্যা, ওটা মাঠের বাইরের ঘটনা। আমি মাঠের ভিতরের কথা বলতে পারি। মাঠেতো আর কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। যা হবার গ্যালারিতে হয়েছে।`

প্রথম লিগ শিরোপা মেরিনারের

উষা ক্রীড়া চক্রর সাথে ড্র করতে পারলেই ঢাকা হকি লিগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হবার স্বাদ পেতো মেরিনার ইয়াংস। তবে ড্রয়ের দিকে না গিয়ে ৩-২ গোলের জয় দিয়েই প্রথম লিগ শিরোপার স্বাদ পেলো মতিঝিল আরামবাগ পাড়ার ক্লাবটি। এর আগে ২০০৬ ও ২০১০ সালে দুবার রানার্সআপ হলেও চ্যাম্পিয়নশীপ অধরাই ছিল দলটির।

ড্র করতে পারলেই ঢাকা হকি লিগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণ নিয়ে শনিবার উষা ক্রীড়া চক্রর বিপক্ষে মাঠে নামে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। তবে ম্যাচের ১৬ মিনিটে নিলয়ের গোলের এগিয়ে যায় উষা। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিমো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রেফারির এক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মেরিনারের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় ভিআইপি বক্সের মেরিনারের সমর্থকরা ভাংচুরের তাণ্ডব চালায়। এতে প্রায় বক্সের সবগুলো চেয়ার ও কিছু কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে।

এ ঘটনার ২০ মিনিট পর খেলা আবারো শুরু হয়। খেলা শুরুর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মেরিনার। ম্যাচের ২৬ মিনিটে মেরিনারের পাকিস্তান তারকা ওয়াকাস শরিফ প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান। ফলে ২-১ পিছিয়ে বিরতিতে যায় দলটি।

বিরতি থেকে ফিরে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে মেরিনার। ম্যাচের ৫০ মিনিটে আরশাদ দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করলে সমতায় ফেরে গেরহার্ড শিষ্যরা। আর ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে ৬৯ মিনিটে ইশতিয়াক গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি। আর বাকি সময় গোল না হলে প্রথমবার শিরোপা জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে মতিঝিল আরামবাগ পাড়ার ক্লাবটি।

জিমির কাছে হেরে গেল ঊষা!

রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোলের ওপর ভর করে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে ঊষাকে হারিয়ে দিয়েছে মোহামেডান। আজ বুধবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় মোহামেডান ৫-৩ গোলে হারিয়ে দেয় ঊষাকে।
এ পরাজয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ঊষার পয়েন্ট দাঁড়ালো ৩৮, প্রথমবারের মতো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে অবস্থান নিল মেরিনার্স। মোহামেডানের পয়েন্ট ১৫ ম্যাচে ৩২। শুক্রবার লিগের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেরিনার্স ও ঊষা। ড্র হলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে মেরিনার্স, জিতলে তো কথাই নেই। আর শিরোপা জিততে হলে জয় ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ঊষার।

এদিন খেলার তিন মিনিটে এগিয়ে যায় মোহামেডান। ডান প্রান্তের গোললাইন ধরে সোজা স্টিকের আঁকিবুকিতে ঊষা ডিফেন্স ভেদ করেন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সালমান হোসেন। আড়াআড়ি পাস দেন রাসেল মাহমুদ জিমিকে, কোনাকুনি হিটে বল বোর্ডে আছড়ে ফেলেন জিমি।

আক্রমণ অব্যাহত রেখে আরও দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মোহামেডান। ১০ মিনিটে তাসওয়ার আব্বাস ও পরের মিনিটে সালমান হোসেন বাইরে ও গোলরক্ষক আবু সাইদ নিপ্পনের প্যাডে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।

গুছিয়ে উঠে ঊষা যায় পাল্টা আক্রমণে। হাসান যুবায়ের নিলয়, পুষ্কর খিসা মিমো, কৃষ্ণ কুমার ও মো. ইরফানকে নিয়ে আক্রমণে গিয়েও তারা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ২৯ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় আর এটিতেই আসে সমতা। কৃষ্ণ কুমারের পুশ, সারোয়ার হোসেনেরর স্টপে ড্র্যাগ স্পেশালিস্ট আলিম বেলালের জোরালো ড্র্যাগ কোনও সুযোগ দেয়নি মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেনকে।

৩০ মিনিটে আবারও গোল করেন রাসেল মাহমুদ জিমি। হাফলাইন থেকে জোরালো হিটে বল জিমির কাছে পৌঁছে দেন ওমর ভুট্টো। আর্চের বাম কোনা থেকে জিমি নেন জোরালো রিভার্স হিট। গোলরক্ষক আবু সাইদ নিপ্পনের প্যাডে লেগে দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল অতিক্রম করে গোললাইন।

এর দুই মিনিট পর জিমি পূর্ণ করেন তার হ্যাটট্রিক। সালমান হোসেন বল তৈরি করে দিয়েছিলেন জিমিকে। গোল পোস্টের বাম দিকে লাইন সোজা দাঁড়িয়ে জিমি হিট করেননি, আস্তে করে বল তুলে দেন বাতাসে। নিপ্পন আঁচ করতে পারেননি জিমির কৌশল, বল জালে জড়াবার পর বুঝতে পারেন ভুল হয়ে গেছে। জিমির অভিজ্ঞতার কাছে হার মানেন নিপ্পন।

বিরতির পর যা প্রয়োজন ছিল ঊষার তাই করতে সমর্থ হয় তারা। চতুর্থ অর্থাৎ ৩৯ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে খেলায় ফিরে আসে তারা। আবারও গোলদাতা আলিম বেলাল। সেই একই পেনাল্টি কর্নার কম্বিনেশন।

কিন্তু দিনটি ছিল জিমির, পরের মিনিটেই দ্রুত গতির একটি পাল্টা আক্রমণে তাসওয়ার আব্বাস ডান প্রান্ত থেকে বল ঠেলে দেন জিমিকে, সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আলতো ছোঁয়ায় নিপ্পনকে পরাস্ত করেন জিমি।

ঊষা এরপর অনেক চেষ্টা করেও ব্যবধান কমাতে পারেনি, মাঝে একটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও আলিম বেলালের স্কুপ কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মোহামডোন গোলরক্ষক জাহিদ।

ম্যাচের শেষ দিকে জিমির পঞ্চম গোল আবারও আঘাত হানে ঊষার মনোবলে। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও পেনাল্টি কর্নারে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আলিম বেলাল।

ঊষাকে রুখে দিয়েছে আবাহনী

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তালিকার শীর্ষে থাকা ঊষাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে আবাহনী। এ ড্রয়ের ফলে ১৪ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষেই থাকল উষা। ১৩ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী আছে তৃতীয় অবস্থানে। ১৪ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে মেরিনার্স আছে দ্বিতীয় স্থানে।

ম্যাচে প্রথমে রোম্মান সরকারের চমৎকার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আবাহনী। লড়াকু মনোভাবে খেলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচায় উষা।

খেলার ১৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একাই বল নিয়ে ঊষার ডিফেন্স হানা দেন রোম্মান। সামনে ছিল ঊষার ডিফেন্স, কোনাকুনি এক দৌড়ে তিনি ঢুকে পড়েন ডি-বক্সে। স্টিকের মোচড়ে বিভ্রান্ত করেন গোলরক্ষক ও তার মার্কারকে, আর জোরালো রিভার্স হিটে বল আছড়ে ফেলেন বোর্ডে।

গোল হজম করার পর বেশ কিছুক্ষণ চাপ সৃষ্টি করে ঊষা। কিন্তু কাশিফ আলি, ফরহাদ আহমেদ শিটুল ও মেহেদি হাসানের সমন্বয়ে গড়া রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেনি তারা। উপরন্তু ২৪ মিনিটে শাফাকাত রাসুলের করা পাল্টা-আক্রমণে পোস্টের কয়েক ফুট দূর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আবাহনী মিডফিল্ডার তানজিল আহমেদ।

ঊষাও প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেয়েছিল সমতা আনার সুযোগ। পাল্টা আক্রমণ থেকে ডান প্রান্তে চলে আসেন মিডিফিল্ডার নাইমুদ্দিন। নেন জোরালো একটি কোনাকুনি হিট। ফাঁকায় দাঁড়ানো পুষ্কর খিসা মিমো ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলতে পারেননি। শেষ মিনিটে ঊষা পেয়েছিল একটি পেনাল্টি কর্নার। কিন্তু আলিম বেলালের করা ড্র্যাগটি চমৎকার ভাবে গ্লাভস দিয়ে প্রতিহত করেন আবাহনী গোলরক্ষক অসীম গোপ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও গোলের সুযোগ নষ্ট করে ঊষা। এবার আক্রমণের উৎস ছিলেন কৃষ্ণ কুমার, কোনাকুনি এক দৌড়ে বক্সে ঢুকে তিনি বল পুশ করেন পুষ্কর খিসা মিমোর উদ্দেশে। মিমো অসীম গোপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভারসাম্য হারান। ৫৭ মিনিটে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে গিয়েছিলেন নাইমুদ্দিন, দেখেশুনে তিনি যে স্ল্যাপ হিটটি নেন তা সাইড পোস্টে শিষ দিয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচ শেষের ১০ মিনিট আগে দিনের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন কৃষ্ণ কুমার। পুষ্কর খিসা মিমোর জোরালো হিট পোস্টের খুব কাছ থেকে ভেতরে পুশ করতে ব্যর্থ হন কৃষ্ণ।

অবশেষে ৬৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় ঊষা। কৃষ্ণ কুমার, সারোয়ার ও আলিম বেলালের কম্বিনেশনের ফসল হয় সমতাসূচক গোলটি। নতুন জীবন পায় ঊষা। শেষ মিনিটে একটি পেনাল্টি কর্নার কেন্দ্র করে খেলা পনের মিনিট বন্ধ থাকে। আবাহনী খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছাড়ে। পরে মাঠে ফিরলেও দশ সেকেন্ড পর বাঁজে খেলা শেষের বাঁশি।

মোহামেডানকে বিদায় করে মেরিনার্সের জয়

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে মেরিনার্স। মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে তারা। এ জয়ের মধ্যদিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে এগিয়ে গেল মেরিনার্স আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো মোহামেডানের।

শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের দশম মিনিটে ইশতিয়াকের গোলে লিড নেয় মেরিনার্স। ৪৪ মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন ইশতিয়াক।

খেলার ৫০ মিনিটে মেরিনার্সের গোল ব্যবধান ৩-০তে নিয়ে যান আশরাফুল ইসলাম। আর ৫৯ মিনিটে ওয়াকাস শরিফের গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেরিনার্স।

তবে, ৬৪ মিনিটে মোহামেডানের হয়ে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড তাসওয়ার আব্বাস গোল করলে ব্যবধান কমে। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-২ এ নামিয়ে আনেন আরেক পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড মো: ইমরান।

বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই স্কোরেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেরিনার্স।

১৪ ম্যাচ শেষে মেরিনার্সের অর্জন ৩৭ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঊষা। ১৪ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় মোহামেডান।

মোহামেডানকে হারিয়ে টিকে রইলো আবাহনী

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের সুপার সিক্সের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকলো আবাহনী। আজ মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলায় জিতে মোহামেডানকে শিরোপা লড়াই থেকেও ছিটকে ফেললো আবাহনী।
এ ম্যাচের পর ১২ খেলায় আবাহনীর পয়েন্ট ২৯। শীর্ষে থাকা ঊষার পয়েন্ট ৩৪, মেরিনার্সের পয়েন্ট ৩১। আর মোহামেডানের পয়েন্ট ১২ খেলায় ২৬।
এদিন খেলার পাঁচ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার পায় মোহামেডান। সালমান হোসেনের হিট গোল লাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বাঁচান পাকিস্তানি ডিফেন্ডার কাশিফ আলি। ১০ মিনিটে একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে শাকিল আব্বাসির ফরোয়ার্ড পুশ আয়ত্ত্বে নিয়ে ক্রস করেছিলেন শাফকাত রাসুল। যেখানে মাকসুদ আলম হাবুল ছিলেন তার লক্ষ্য। কিন্তু মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন এগিয়ে এসে বল বিপদমুক্ত করেন।

তবে ১৪ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে মোহামেডান। রাসেল মাহমুদ জিমি তার স্টিওয়ার্কে দুইজন মার্কারকে কাটিয়ে আড়াআড়ি পাসে দেন ওমর ভুট্টোকে। স্টিক ছোঁয়াতে পারলেই গোল এমন অবস্থায় পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড বল স্টিকে লাগাতে পারেননি।

উল্টোদিকে বিশ মিনিটে আবাহনীর প্রথম পেনাল্টি কর্নারেই লক্ষ্যভেদ করেন কাশিফ আলি। শাফকাত রাসুলের পুশ, বিপ্লবের স্টপের পর কাশিফ আলি হালকা স্কুপে মাঝ জালে বল জড়ান।

২৭ মিনিটে আবাহনী করে দ্বিতীয় গোল। শাকিল আব্বাসির হিট ডিফ্লেক্ট করে প্রান্ত পরিবর্তন করে দেন রোম্মান সরকার। বলের গতিপথ আগে থেকেই আঁচ করতে পারা রাজিব দাস সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেলে দেন পোস্টে।

ম্যাচে এদিন প্রচণ্ড তাপের মাঝে দেহের শক্তি সঞ্চয় করে খেলার কৌশল নিয়েছিল দুই দলই। তবে আবাহনী কোচ মাহবুব হারুন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শাকিল আব্বাসিকে ফরোয়ার্ড হিসেবে না খেলিয়ে অনেকটা প্লেমেকার হিসেবে খেলান। ডিফেন্স ও অফেন্সের মাঝে একটা যোগসূত্র স্থাপন করেন তিনি। অধিনায়ক ফরহাদ আহমেদ শিটুল দেখিয়েছেন ‘কুল টেম্পারমেন্ট’ আর মোহামেডানের সেরা পারফরমার ছিলেন জিমি। কিন্তু পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ভালো খেলতে না পারাতে প্রথমার্ধে পিছিয়েই থাকে মোহামেডান।

বিরতির পর চাপ সৃষ্টি করে মোহামেডান এবং ৪২ মিনিটে জিমির গোলে খেলায় ফিরে আসে। সালমান হোসেনের করা থ্রু পাসে জিমি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলতো পুশে গোলরক্ষক ওয়ালিদকে পরাস্ত করেন।

তবে ৪৭ মিনিটে রোম্মান সরকারের দ্রুত গতির একটি আক্রমণে বল গ্যাপ দিয়ে অতিক্রম করে আবাহনী ডিফেন্স লাইন। এরপর আর দেরি করেননি শাফকাত রাসুল। কোনাকুনি হিটে তিনি বল আছড়ে ফেলেন বোর্ডে। ফলে আবারও ম্যাচে চালকের আসনে বসে আবাহনী।

৬২ মিনিটে আবাহনীর ডিফেন্ডার বিপ্লব মোহামেডান মিডফিল্ডার মশিউর রহমান ফিরোজকে বক্সের মাঝে অবৈধভাবে রুখে দিলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় মোহামেডান। স্পট থেকে গোল করতে ভুল করেননি পাকিস্তানি খেলোয়াড় মো. ইমরান।

এরপর আবারও আঘাত হানে আবাহনী। ৬৫ মিনিটে রাজিব দাস ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল করলে খেলায় ফেরার সময়ও শেষ হয়ে যায় মোহামেডানের। জিমি ও ওমর ভুট্টো শেষ দিকে কিছু সুযোগও নষ্ট করেন। কিন্তু আবাহনীর সম্মিলিত নৈপুণ্যে জয়মাল্য তাদের গলাতেই শোভা পেতে থাকে।

হকিতে জয়ে শুরু ঊষার সুপার সিক্স

জয় দিয়ে গ্রিন ডেল্টা প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের সুপার সিক্স রাউন্ড শুরু করলো ঊষা ক্রীড়া চক্র। সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কোচ মামুনুর রশীদের শিষ্যরা। সোমবার মাওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে খেলার শুরু থেকেই ওয়ান্ডারার্সের উপর চড়াও হয় ঊষা।

আলিম বেলাল ১২ মিনিটে পেনাল্টি গোলে দলকে ১-০ তে এগিয়ে দেন। পরের গোলটিও তিনি করেন। ২৩ মিনিটে তিনি দ্বিতীয় গোলটি করেন। বেলালের হ্যাটট্রিক গোলটি আসে প্রথমার্ধ শেষের ৭ মিনিট আগে। পেনাল্টি থেকে ওয়ান্ডারার্স জালে বল জড়িয়ে দলকে ৩-০ তে ব্যবধান এনে দেন তিনি। আর এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় ঊষা।

বিরতি থেকে ফিরে আবারও সেই ঊষা ম্যাজিক। ৫৭ মিনিটে নিলয়ের ফিল্ড গোল থেকে ঊষা ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় ওয়ান্ডারার্স। এরপরের মিনিটে পুষ্কর খিসা মিমোর ফিল্ড গোলে ৫-০ ও ৬৬ মিনিটে কৃষ্ণ কুমারের ফিল্ড গোল ৬-০’র বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র।

দিনের অপর ম্যাচে মেরিনারের কাছে ১১-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।

রিমন কুমার ঘোষ তিনটি গোল করেন। এছাড়া তৌফিক ও ফজলে রাব্বি দুটি করে গোল দেন। ইশতিয়াক আহমেদ, আরশাদ হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও ওয়াকাস শরিফের স্টিক থেকে একটি করে গোল আসে। বাংলাদেশ এসসির একমাত্র গোলদাতা শহিদ।

হকিতে মেরিনার্সের রেকর্ড ২২ গোল!

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে ২২-১ গোলে রেলওয়েকে হারিয়ে দেশের শীর্ষ হকি প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে মেরিনার্স। আজ শনিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলার আরেকটি অভিনব দিক ছিল মেরিনার্স কোনও গোলরক্ষক ছাড়াই মাঠে নামায় তাদের প্রথম একাদশ!
এ জয়ে রেলওয়েরই বিপক্ষে কিছুদিন আগে মোহামেডানের করা ১৯-০ গোলের রেকর্ড ভেঙে গেলো।
অবশ্য হকিতে এ নিয়ম প্রচলিত আছে যে মাঠে ১১ জন খেলোয়াড় থাকবেন তবে একজনকে চিহ্নিত করতে হবে গোলরক্ষক হিসেবে। সেক্ষেত্রে মেরিনার্সের ডিফেন্ডার শিশির পালন করেন গোলরক্ষকের দায়িত্ব। আর এই ম্যাচেই দুর্বল রেলওয়ের ওপর ঝড় তুলে মেরিনার্স। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ ও আরশাদ হোসেন করেছেন পাঁচটি করে গোল। কৌশিক করেছেন চারটি, মহসিন ও মামুনুর রহমান চয়ন করেছেন দুটি করে গোল।

ম্যাচ শেষে মেরিনার্স কোচ গেরহার্ড পিটার রাখ বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম অন্তত ত্রিশ গোল করবো। যাতে গোল গড়ে আমরা ঊষাকে টপকাতে পারি। কিন্তু ২২টির বেশি করতে পারলাম না।’

১১টি ম্যাচের সবকটিতেই হারা রেলওয়ে ১১ ম্যাচে ১২৩ গোল খেয়ে তাদের পথচলা শেষ করলো। অবনমিত হয়ে আগামী মৌসুমে তারা খেলবে প্রথম বিভাগে।

আবাহনীকে হারিয়ে শীর্ষেই রইলো ঊষা

আবাহনীকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার হকির রাউন্ড রবিন লিগ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই রইলো ঊষা ক্রীড়া চক্র। আজ শনিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ঊষার টিমওয়ার্ক, ফরোয়ার্ড পুষ্কর খিসা মিমোর ফর্ম ও অ্যাপ্রোচ গড়ে দেয় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান।
খেলায় চাপ সৃষ্টি করে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় আবাহনী; তবে মো. ইরফানের করা ড্র্যাগটি ঊষার একজন ডিফেন্ডারের স্টিকে লেগে প্রতিহত হয়। এরপর ঊষাও পাল্টা আক্রমণে গিয়ে পেয়েছিল একটি গোলের সুযোগ। ৬ মিনিটে আলিম বেলালের রিভার্স স্টিকের হিট ফিরিয়ে দেন আবাহনী গোলরক্ষক অসিম গোপ।
এরপরেই ১৫ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নারে এগিয়ে যায় ঊষা। কৃষ্ণ কুমারের পুশ, সারোয়ারের স্টপের পর ড্র্যাগ স্পেশালিস্ট পাকিস্তানি ডিফেন্ডার আলিম বেলালের ড্র্যাগ ঠাঁই নেয় পোস্টের ডান কোনার জালে।

আবাহনী থিতু হওয়ার আগেই আবার আঘাত হানে ঊষা। ২০ মিনিটে দ্রুতগতির এই পাল্টা আক্রমণের উৎস ছিলেন রেজাউল করিম বাবু। নিজেদের আর্চ থেকে তিনি বল দেওয়া-নেওয়া করেন কৃষ্ণ কুমারের সঙ্গে। মাঝে গ্যাপে অবস্থান নেন পুস্কর খিসা মিমো, কৃষ্ণর ফরোয়ার্ড পুশ রিভার্স হিটে বোর্ডে বল আছড়ে ফেলেন মিমো। এরমধ্য দিয়ে দুই গোলের অগ্রগামিতা নেয় ঊষা।

তবে হতোদ্যম হয়নি আবাহনী। মাঝমাঠে মো. ইরফান, শাফকাত রাসুল, শাকিল আব্বাসি ও রোম্মান সরকারকে সামনে রেখে পথ খুঁজতে থাকে আবাহনী। এদের সহায়তায় তারা আদায় করে নেয় পাঁচটি পেনাল্টি কর্নার। এর মাঝে ৩২ মিনিটে শেষটিতে শাফকাত রাসুল, বিপ্লব ও কাশিফ আলির কম্বিনেশনে ব্যবধান কমায় আবাহনী। এবার কাশিফ আলি বল উপরে তোলেননি, টার্ফে গড়ানো এক হিটে তিনি পরাস্ত করেন নিপ্পন ও পোস্ট আগলানো আলিম বেলালকে।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই অবলম্বন করে বাড়তি সতর্কতা। সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে হবে এমন ধারায় খেলতে খেলতে তৃতীয় গোলটি করে বসে ঊষা। ২৫ গজের লাইন থেকে বল ঠেলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানি মিডফিল্ডার আলি শান। কৃষ্ণ কুমার বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ব্যাক স্টিকে বল তৈরি করে দেন পুস্কর খিসা মিমোকে। কোনাকুনি হিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন মিমো।

আবাহনীকে আবারও খেলায় ফিরিয়ে আনার পথে আনেন কাশিফ আলি, ৫০ মিনিটে প্রথম গোলের কম্বিনেশনেই আসে আবাহনীর দ্বিতীয় গোলটি। এবারও বল নিচেই রাখেন কাশিফ আলি; বিভ্রান্ত হন নিপ্পন।

৬০ মিনিটের মাথায় দুইবার গোল করতে ব্যর্থ হয় ঊষা। প্রথমে নাইউদ্দিনের পাসে ফ্রিক করতে ব্যর্থ হন হাসান যুবায়েন নিলয় এবং এরপরে মাহবুব হোসেনের পাসে নিলয়ের হিট প্রতিহত করেন অসিম গোপ। খেলার শেষ দিকে শাকিল আব্বাসির হিটে শাকসুদ আলম হাবুলের ফ্লিক ঊষার ক্রস পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এ জয়ের ফলে ১১ ম্যচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স খেলা শুরু করবে ঊষা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মেরিনার্স। ২৬ পয়েন্ট মোহামেডান ও আবাহনী উভয়েরই সংগ্রহ। তবে গোল পার্থক্যে মোহামেডান তৃতীয় ও আবাহনী চতুর্থ। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এসসি পঞ্চম, ওয়ান্ডারার্সের পয়েন্টও ১৬ তবে তারা ষষ্ঠ অবস্থানে। এ ছয়টি দল খেলবে সুপার সিক্স পর্ব।

অ্যাজাক্সের বিপক্ষে জিতলো সোনালী ব্যাংক

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে সোনালী ব্যাংক ও সাধারণ বীমা। অ্যাজাক্স স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে সোনালী ব্যাংক জয় পেয়েছে ৩-৪ গোলে।

দিনের অপর ম্যাচে সাধারণ বীমা ৫-১ গোলে হারিয়েছে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবকে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) মাওলানা ভাষানী স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই অ্যাজাক্সের বিপক্ষে দাপুটে খেলা উপহার দিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

ম্যাচের ১৫ মিনিটেই তৌসিফের ফিল্ড গোলে ১-০ তে লিড পায় সোনালী ব্যাংক। তৌসিফের গোল সোনালী ব্যাংককে এগিয়ে দিলেও সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি অ্যাজাক্স। কেননা, ১৯ মিনিটে রাহাত সারোয়ার ফিল্ড গোল থেকে দলকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান।

সমতায় থাকাটা ঠিক যেন মেনে নিতে পারছিলো না সোনালী ব্যাংক। তাই গোল হজমের পরের মিনিটেই অ্যাজাক্স সীমানায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ‍ফিল্ড গোল্ড থেকে ব্যবধান ২-১ এ নিয়ে যান অজিত কুমার ঘোষ।

এর পাঁচ মিনিট পর ফিল্ড গোল থেকে ব্যবধান ৩-১ এ বাড়ান রাব্বি সালেহিন রকি।

প্রথমার্ধ শেষের মাত্র ১ মিনিট আগে আবার রকি অ্যাজাক্স জালে বল ঠেলে ৪-১ ব্যবধান এনে দিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দেন অ্যাজাক্সকে।

ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় সোনালী ব্যাংক।

তবে বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার বাড়ায় অ্যাজাক্স। তাতে ফলাফলও আসে হাতে নাতে। ৫৬ মিনিটে রাহাত আরেকবার অ্যাজাক্সের হয়ে গোল করলে ব্যবধান কমে আসে ৪-২ এ।

সারোয়ারের পর ম্যাচ শেষর দুই মিনিট আগে শহীদুল ইসলাম সোনালী ব্যাংক জালে বল ঠেলে ব্যবধান কামান ৪-৩এ।

এরপর আম্পায়ারের সমাপ্তিসূচক বাঁশি বাজলে জয়ের আনন্দে ভেষে মাঠ ছাড়ে সোনালী ব্যাংক।

মেরিনার্সের কাছে মোহামেডানের হার

খেলার মাঠে বাজে দিন গেল ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। ক্রিকেটে আবাহনীর কাছে বড় হারের পর গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার হকির গুরুত্বপূর্ণ খেলায় মেরিনার্সের কাছে ১-৩ গোলে হেরে গেছে মোহামেডান। লিগে এটি মোহামেডানের প্রথম পরাজয়।

এ হারে শিরোপা লড়াই থেকেও পিছিয়ে পড়লো মোহামেডান। ১০ খেলায় তাদের পয়েন্ট ২৩, মেরিনার্সের পয়েন্ট ২৫। ১০ খেলায় ২৮ পয়েন্ট নিযে শীর্ষে ঊষা, ২৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আবাহনী।

খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই ভাগ্যদেবীর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয় মেরিনার্স। ম্যচের প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে রাব্বির পুশ, মো. তৌফিকের পুশের পর গড়ানো পুশ করেছিলেন সোহানুন রহমান সবুজ। কিন্তু বল সাইড পোস্টে লেগে ফেরত আসে।

আর পুরোপরি উল্টো দৃশ্য সাত মিনেট। নিজ প্রথম পেনাল্টি কর্নারেই কিস্তিমাত মোহমেডানের। ভ্যারিয়েশন ছিল পেনাল্টি কর্নারটিতে। ওমর ভুট্টোর পুশ, ইমরান হাসান পিন্টুর স্টপের পর বল পান মো. ইমরান। বল হিট না করে তিনি ব্যাক পাস করেন। তাসওয়ার আব্বাস তৈরি ছিলেন। ড্র্যাগ করে তিন বল জড়িয়ে দেন জালে।

মেরিনার্সের শনির দশা অব্যাহত থাকে ১২ মিনিটেও এবার মামুনুর রহমান চয়নের ড্র্যাগ আঘাত হানে ক্রস পোস্টের একদম কোনায়। দুই মিনিট পরই কেটে যায় তাদের হতাশা। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ ২৫ গজের লাইন থেকে জোরের ওপর হিট নিয়েছিলেন। বক্সের মাঝে দাঁড়ানো ওয়াকাস কব্জীর মোচড়ে যে ফ্লিকটি বরেন তা বিদ্যুৎ গতিতে আঘাত হানে বোর্ডে। ওমানি আম্পয়ার প্রথমে গোল ঘোষণা করতে চাননি ভিডিও রেফরালের পর গোল পায় মেরিনার্স।

২৭ মিনিটে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় মেরিনার্স। চয়নের চমৎকার টাচলাইন বরাবর থ্রু আয়ত্বে নিয়ে কোনাকুনি হিট নিয়েছিলেন মঈনুল ইসলাম কৌশিক। মেরিনার্সের তরুণ ফরোয়ার্ড আরশাদ হোসেন সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বল স্টিকে লাগাতে পারেননি। ছোঁয়াতে পারলে হয়তো হতে পারতো গোল।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে মোহামেডান অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি আম্পায়ারের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হলে তাকে সবুজ কার্ড দেখান আম্পয়ার। জিমি এর প্রতিবাদ করলে ১২ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে মেরিনার্সের পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ মোহমেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেনকে একা পেয়েও হিট না দিয়ে পাস দিলে গোলবঞ্চিত হয় মতিঝিল পাড়ার দলটি। পাল্টা আক্রমণে মোহামেডানের পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওমর ভুট্টো মেরিনার্স গোলরক্ষক মেহরাব হোসেন কিরণকে সামনে পেয়েও হিট নিতে দেরি করার কারণে ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে সক্ষম হন।

কিছুক্ষণ পর পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় মেরিনার্স। নিজ অর্ধ থেকে একাই বল নিয়ে এগিয়ে যান মঈনুল ইসলাম কৌশিক। মোহামেডান বক্সের ওপর থেকে তিনি বল পাস দেন ওয়াকাস শরিফকে। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বল ঠেলে দেন পোস্টে।

মোহামেডান সমতা আনার জন্য পাগলপ্রায হযে ওঠে আর খেলা শেষের সাত মিনিটে আগে রানার পাসে সালমান হোসেন ও ওমর ভুট্টো দুজনেই বল মারেন বাইরে। মোহমেডানের খেলোয়াড়রা তাদের মাথা গরম করে ও আম্পয়ারদের সিদ্ধান্ত না মানার প্রবণতা নিয়ে খেলে নিজেদের বিপর্যয় ত্বরান্বিত করে। শেস মিনিটে ওয়াকাস শরিফের পুশ মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ থামালেও তার কিছুক্ষণ পর আরশাদ হোসেনের স্টিক থেকে তৃতীয় গোল আসে। ফলে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেরিনার্স।

ঊষার জয়ের দিনে ওয়ান্ডারার্সের ড্র

আলিম বেলালের হ্যাটট্টিকে গ্রিন ডেল্টা ইন্সুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে সোনালী ব্যাংককে ৫-২ গোলে হরিয়েছে ঊষা ক্রীড়া চক্র। দিনের অপর ম্যাচে ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।

এর আগে মঙ্গলবার মাওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর ৭ মিনিটেই আলিম বেলালের পেনাল্টি কর্নারের গোল ঊষাকে ১-০তে এগিয়ে দেয়। এর ঠিক তিন মিনিট পর আবার আক্রমণে যায় ঊষা। আর সেই আক্রমণ থেকে আলিম বেলাল নিজের দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্ণারের গোল থেকে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

খেলা শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই দ্বিগুন ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে খেলায় ফিরতে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে সোনালী ব্যাংকও। কিন্তু তাদের একটি আক্রমণও সফলতার মুখ না দেখলে পিছিয়ে থেকেই যেতে হয় প্রথমার্ধের বিরতিতে।

তবে বিরতি থেকে ফিরে জ্বলে উঠে দু’দলই। আর এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিল ঊষা। কেননা দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১২ মিনিটেই নিলয়ের ফিল্ড গোল দলটিকে ৩-০ এর ব্যবধান এনে দেয়।

ঊষার পর গোল ধরা দেয় সোনালী ব্যাংক শিবিরে। ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে রকি ঊষা জাল বল ঠেলে ব্যবধান কমান ৩-১ এ।

তবে ব্যবধান কমিয়ে তা বেশিক্ষণ নিজেদের আয়ত্বে রাখতে পারেনি সোনালী ব্যাংক। কেননা ৬২ মিনিটে বেলাল তৃতীয়বার গোল করে নিজের হ্যাট্টিক তুলে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ৪-১এ।

বেলালের পর পুষ্কর খিসা মিমো ফিল্ড গোল থেকে ঊষাকে ৫-১ এর জয় সূচক ব্যবধান এনে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঊষা এই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি।

কেননা খেলা শেষের মাত্র ৩ মিনিট আগে সোনালী ব্যাংকের ইহসান উল্লাহ খান ঊষার জাল বল জড়িয়ে ব্যবধান ৫-২ এ কমিয়ে আনেন।

এরপর রেফারি শেষ বাঁশিতে ম্যাচ শেষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র।

বড় জয়ে শীর্ষে আবাহনী

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগে সোমবার বড় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় থেকে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ৮-২ গোলে হারায় সাধারণ বীমা ক্রীড়া সংঘকে। অপর ম্যাচে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব ৫-৫ গোলে ড্র করে অ্যাজাক্স স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে।

সাধারণ বীমার বিপক্ষে আবাহনীর পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড শাফকাত রাসুল একাই করেন চার গোল। যদিও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। তার গোলগুলোর প্রতিটিই ছিল ফিল্ড গোল (১০, ২১, ৬২ ও ৬৪ মিনিটে)। স্বাধীনতা কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মাকসুদ আলম হাবুল করেন জোড়া ফিল্ড গোল (১২ ও ১৩ মিনিটে)।
এছাড়া ১৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে পাকিস্তানি মোহাম্মদ ইরফান। অপর পাকিস্তানি শাকিল আব্বাসী ৩৩ মিনিটে ১টি ফিল্ড গোল করেন। ফারহান আলী ও ফয়সাল হোসেন বীমার হয়ে দুটি গোল পরিশোধ করেন যথাক্রমে ৫১ ও ৫৬ মিনিটে (দুটিই ফিল্ড গোল)।

নিজেদের দশম খেলায় এটি আবাহনীর অষ্টম জয়। ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তার পেছনে ফেলেছে ঊষা ক্রীড়া চক্রকে। ঊষার পয়েন্ট ২৫ হলেও তারা আবাহনীর চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে। পক্ষান্তরে নিজেদের দশম ম্যাচে এটা বীমার অষ্টম হার। ৬ পয়েন্ট নিয়ে ১২ দলের মধ্যে তারা আছে দশম স্থানে। ‘সুপার সিক্স’-এ যাওয়ার সুযোগ অনেক আগেই হারিয়েছে তার।

আজাদের পরিমল মোর্দি একাই তিন গোল করেছেন বাকি দুই গোল করেন দেবাশিষ কুমার রায়। অ্যাজাক্সের হয়ে রাহাত সারোয়ার তিনটি, আব্দুর রহমান ও ইমতিয়াজ আহমেদ ১টি করে গোল করেন।নিজেদের দশম ম্যাচে এটা অ্যাজাক্সের দ্বিতীয় ড্র। তাদের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে আজাদেরও এটা দ্বিতীয় ড্র, তাদের সংগ্রহ ৫ পয়েন্ট।

জিমির হ্যাটট্রিকে মোহামেডানের বড় জয়

রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে বড় জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ওয়ারী ক্লাবকে ৮-২ গোলে হারিয়েছে সাদা-কালোরা।
রোববার মাওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ফিল্ড গোলে মোহামেডানকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন সালমান। সালমানের দুই মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন তাসভার আব্বাস। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া ওয়ারী ক্লাব আক্রমণভাগকে শান দিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় ঝাঁপিয়ে পড়ে খেলার ষষ্ঠ মিনিটে ওবায়েদ হাসানের পেনাল্টি কর্নারের গোল থেকে ব্যবধান ২-১ এ কমায়। ব্যবধান কমিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি ওয়ারী। ১৩ মিনিটে ওবায়েদ আরেকবার পেনাল্টি থেকে মোহামেডানের জালে বল ঠেলে খেলা ২-২ এ সমতায় ফেরান।
এরপরের গল্প অবশ্য শুধুই মোহামেডানের। ১৭ মিনিটে আবার ফিল্ড গোল থেকে মোহামেডানকে ৩-২ এর ব্যবধান এনে দেন তাসভার আব্বাস। আব্বাসের পর ২৯ মিনিটে ইমরানের ফিল্ড গোল থেকে ৪-২ এ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় মোহামেডান।
বিরতির থেকে ফিরে আবার জ্বলে উঠে মোহামেডান। ৪৩ মিনিটে সালমান দ্বিতীয়বার ওয়ারীর জালে বল জড়িয়ে দলকে ৫-২ গোলে এগিয়ে দিলে জয়ের সুবাস পেতে থাকে মোহামেডান।
এরপর ৪৮, ৬১ ও ৬৫ মিনিটে জিমি টানা তিনটি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি দলকে এনে দেন ৮-২ এর বড় ব্যবধান।
বাকিটা সময় ওয়ারী আর কোনো গোলের দেখা না পেলে ৮-২ এর বড় ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান। দিনের অপর ম্যাচে রেলওয়ের বিপক্ষে ৮-১ এর বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।

হকিতে মেরিনার ও সোনালী ব্যাংকের জয়

গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ও সোনালী ব্যাংক। দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মেরিনার্স। আর দিনের অপর ম্যাচে আজাদ স্পোর্টিয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে সোনালী ব্যাংক।
শনিবার মাওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে খেলতে নেমে প্রথমার্ধের ১০ মিনেটে ওয়াকাস শরীফের ফিল্ড গোলে ১-০ তে লিড পায় মেরিনার।
এর দুই মিনিট পরে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন মামুনুর রহমান। শরীফ, মামুনুলদের দিনে বসে ছিলেন না আশরাফুলও। ২৩ মিনিটে তার ফিল্ড গোল খেলায় ব্যবধান নিয়ে যায় ৩-০তে।

এরপর প্রথমার্ধ শেষের পাঁচ মিনিট আগে শিশিরের পেনাল্টি কর্নারের গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মেরিনার। বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয়ার্ধে আবার জ্বলে উঠে মেরিনার। ৩৮ মিনিটে রাব্বির ফিল্ড গোল মেরিনারদের ৫-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দিলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রহর গুনতে থাকে দলটি। এমন এক মুহূর্তে ৪৫ মিনিটে সীমান্তের ফিল্ড গোল খেলায় ৫-১ এ ব্যবধান কমায়।
সীমান্তের গোলের তিন মিনিট পর খলিলুর রহমানের পেনাল্টি থেকে করা গোল ব্যবধান ৫-২ এ কমালেও ৬৮ মিনিটে মেরিনারের মোহসিন ফিল্ড গোল থেকে ওয়ান্ডারার্স এর জালে বল জড়িয়ে মেরিনারকে ৬-২ এর ব্যবধান এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

হকি লিগে ঊষা-আবাহনীর জয় অব্যাহত

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে দুই বড় দল ঊষা ও আবাহনী তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আজ শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় ঊষা ৭-১ গোলে সাধারণ বীমাকে এবং আবাহনী ৬-০ গোলে অ্যাজাক্সকে পরাজিত করে।
দিনের প্রথম খেলায় আবাহনীর জয়ের নায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড মাকদুস আলম হাবুল। ৬, ২৬ ও ৪৪ মিনিটে ৩টি ফিল্ড গোল করেন জাতীয় দলের সাবেক এই ফরোয়ার্ড।
মিডফিল্ডার রুম্মান সরকার ৩৪ ও ৩৭ মিনিটে দুটি ফিল্ড গোল ও শেখ মো. নান্নু ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে বাকি গোলটি করেন।

নয় খেলায় আবাহনীর পয়েন্ট ২৩। তালিকায় তাদের অবস্থান দ্বিতীয়।

২৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে ঊষা। সাধারণ বীমাকে ৭-১ গোলে হারানোর মূল নায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড হাসান যুবায়ের নিলয়। ২৭, ৪৮, ৪৯ ও ৬০ মিনিটে ৪টি ফিল্ড গোল করেন তিনি। কৃষ্ণ কুমার দাস, আসফাক নেওয়াজ ও আলিম বেলাল বাকি তিনটি গোল করেছেন যথাক্রমে ৫, ৭ ও ৪৮ মিনিটে। প্রথম রাউন্ডে আবাহনী ও ঊষার দুটি করে খেলা বাকি।

হকি লিগে জিমির ১১ গোল!

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগে আজ বৃহস্পতিবার ছিল মোহামেডান ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমির দিন। মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় মোহামেডান ১৯-০ গোলে রেলওয়েকে পরাজিত করেছে। আর এর মাঝে ১টি হ্যাটট্রিকসহ মোট ১১ গোল একাই করেছেন রাসেল মাহমুদ জিমি!
প্রিমিয়ার হকি লিগে এবার এটি সবচেয়ে বড় ব্যবধানে দলীয় জয়ের রেকর্ড। সঙ্গে জিমিও করেছেন এক ম্যাচে সর্বাধিক ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ড। পাকিস্তনি ফরোয়ার্ড তাসভার আব্বাস করেছেন ৬টি ফিল্ড গোল। বাকি দুটি গোল এসেছে লালন ও রুবেল হোসেনের স্টিক থেকে।

আট খেলায় এটি মোহামেডানের ষষ্ঠ জয়, তাদের পয়েন্ট ২০। আর আট ম্যাচে রেলওয়ের এটি টানা অষ্টম পরাজয়। তাদের রেলিগেশন অবধারিত। দ্বিতীয় খেলায় আজাদ এসসি ৩-৩ গোলে বাংলাদেশ এসসির সঙ্গে ড্র করে।

হকিতে ঊষার সহজ জয়

গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার হকিতে সহজ জয় পেয়েছে ঊষা ক্রীড়া চক্র। আজ রবিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে তারা ৬-১ গোলে হারিয়েছে আজাদ এসসিকে।
ঊষার পক্ষে হাসান যুবায়ের নিলয় তিনটি, পুস্কর খিসা মিমো দুটি ও কৃষ্ণ কুমার একটি গোল করেন। আজাদের একমাত্র গোলদাতা তাহমিদ হক।
দিনের অপর ম্যাচে ওয়ান্ডারার্স ৫-০ গোলে হারায় রেলওয়েকে। ওয়ান্ডারার্সের পক্ষে নাহিয়ান শুভ, খলিলুর রহমান, বিশাল, রাকিবুল হাসান ও জগজিত সিং একটি করে গোল করেন।

ঊষা এই জয়ে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। সমান ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী ও মোহামেডান যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে। আর মেরিনার্স ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে। নিচের সারি থেকে ওয়ান্ডারার্স সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্সের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে ৭ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাজাক্সও টিকে থাকতে লড়াই করছে ওয়ান্ডারার্সের সঙ্গে।

হকির উন্নয়নে কোটি টাকা অনুদান দেবে গ্রিন ডেল্টা

বিমান বাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের উপদেষ্টা নাসির এ চৌধুরীসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদরদফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- ফারজানা চৌধুরী এবং শফিক মেনহাজ খান।
সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় ছাড়াও হকি ফেডারেশনের উন্নয়নের জন্য গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে ৩ বছরে ১ কোটি টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

হকি লিগে ওয়ান্ডারার্সকে উড়িয়ে দিলো আবাহনী

মঙ্গলবার গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার হকি লিগে মো. ইরফানের হ্যাটট্রিকের সুবাদে আবাহনী লিমিটেড ৯-৩ গোলে হারিয়েছে মতিঝিলের ক্লাব ওয়ান্ডারার্সকে। ছয় ম্যাচে এটা আবাহনীর চতুর্থ জয়।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে আবাহনীই প্রথম গোলের খাতা খুলে। রোম্মান সরকারের ফিল্ড গোল এগিয়ে দল দলটিকে (১-০)। এর দুই মিনিট পরেই শাফকাত রাসুল আরেকটি ফিল্ড গোল করলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় (২-০)। ১৮ মিনিটে ওয়ান্ডারার্সের খলিলুর রহমানের ফিল্ড গোলে ব্যবধান কমে (১-২)। ২৫ মিনিটে শাকিল আব্বাসি ফিল্ড গোল করলে আবাহনী আবারও এগিয়ে যায় (৩-১)।
বিরতির পরও গোলবন্যা অব্যাহত থাকে আবাহনীর। আগের চেয়ে আরও দুর্ধর্ষ হয়ে উঠে তারা। ৪২ মিনিটে শাকিল আব্বাসি ও ৪৫ মিনিটে তৌশিক আরশাদ পর পর দুটি ফিল্ড গোল করলে আবাহনী এগিয়ে যায় ৫-১ গোলে। ৪৮ মিনিটে যশিন্দর সিং পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে গোল করলে আাবারও ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয় ওয়ান্ডারার্স (২-৫)। পরের মিনিটে মাকসুদ আলম হাবুল ফিল্ড গোল করলে ৬-২ গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী । এরপর ৫২ ও ৫৭ মিনিটে টানা দুটি পিসি থেকে গোল করেন আবাহনীর মোহাম্মদ ইরফান। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৮-২।

৬৩ মিনিটে ওয়ান্ডরার্সের জগজিত সিং ফিল্ড গোল করেন (৩-৮)। ৬৬ মিনিটে পিসি থেকে দলের নবম এবং নিজের হ্যাটট্রিক গোলটি করেন আবাহনীর ইরফান (৯-৩)।

উল্লেখ্য, দু’ম্যাচে ড্র করেছে আবাহনী, সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান দ্বিতীয়। ঊষা ক্রীড়া চক্র পাঁচ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে শীর্ষ অবস্থানে।

অন্যদিকে ছয় ম্যাচে ওয়ান্ডারার্সের এটি দ্বিতীয় হার। তিন জয় ও এক ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ১০। তাদের অবস্থান পঞ্চম।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মেরিনার্সের জয়

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে সাধারণ বীমার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের জয় পেয়েছে ঢাকা মেরিনার্স ক্লাব। সোমবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলায় শেষ দিকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে মেরিনার্স। মেরিনার্সকে খেলার ১৭ ও ২২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুটি গোল করে ভাল সূচনা এনে দিয়েছিলেন সোহানুর রহমান সবুজ।
বীমার পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড জিয়াউর রহমান ২২ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করলে খেলা জমে ওঠে। জাতীয় ফরোয়ার্ড মঈনুল ইসলাম কৌশিক ৩২ মিনিটে একটি ফিল্ড গোল করলে আবারও দুই গোলে এগিয়ে যায় মেরিনার্স। ৫৫ মিনিটে মেরিনার্সের আরেক পিসি বিশেষজ্ঞ আশরাফুল তার প্রিয় ড্র্যাগে করেন চতুর্থ গোলটি। তাতে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় মেরিনার্সের জয়।

কিন্তু ৫৬ মিনিটে জিয়াউর রহমান নিজ দ্বিতীয় গোল করলে মেরিনার্সকে চেপে ধরে বীমা। এর ধারাবাহিকতায় ফয়সাল হোসেন ৬১ মিনিটে বীমার তৃতীয় গোলটি করলে পয়েন্ট হারনোর আশঙ্কায় পড়ে মেরিনার্স। তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষণদূর্গে আর ফাটল ধরাতে দেয়নি তারা। উদযাপন করে পাঁচ খেলায় তৃতীয় জয়।

প্রিমিয়ার লিগ হকিতে ঊষা ও মেরিনার্সের জয়

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে দাপুটে জয় অব্যাহত রেখেছে ঊষা ক্রীড়া চক্র। শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় ঊষা ১১-২ গোলে ওয়ান্ডারার্সকে হারিয়েছে। দিনের অন্য খেলায় মেরিনার্স ৪-১ গোলে বাংলাদেশ স্পোর্টিং কাবকে পরাজিত করে।
শক্তিশালী ঊষার বিপে দুর্বল ওয়ান্ডরার্সের আসলে কিছুই করার ছিল না। তবুও তারা কৃতিত্বের স্বার রেখে দুটি গোল করে। ঊষার জাতীয় ফরোয়ার্ড পুস্কর খিসা মিমো ৬, ১২, ও ৬৫ মিনিটে তিনটি গোল করেন। ঊষার পাকিস্তানি ডিফেন্ডার ও ড্র্যাগ স্পেশালিস্ট আলিম বেলাল গত ম্যাচে করেছিলেন ছয়টি গোল। শুক্রবার ৩১ মিনিটে একটিই গোল করেন তিনি। মো. ইরফান ৪৪, আলি শান ৫৩ ও হাসান যুবাযের নিলয় ৫৯ মিনিটে গোল করে দলকে দেন টানা পঞ্চম জয়। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রযেছে এখন ঊষা।
দিনের অন্য খেলায় মেরিনার্সকে সহজে জিততে দেয়নি বাংলাদেশ স্পোর্টিং কাব। মেরিনার্সকে প্রথম গোলের জন্য অপো করতে হয় ২৮ মিনিট পর্যন্ত। মামুনুর রহমানর চয়ন করেন প্রথম গোলটি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল মেরিনার্স। ৪৩ মিনিটে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড তৌফিক দ্বিতীয় গোলটি করেন। এর দুই মিনিট পরে শফিউল আলম শিশির তৃতীয় গোলটি করলে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ স্পোর্টিংয়ের প্রতিরোধ। ৬৩ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন মঈনুল ইসলাম কৌশিক। খেলা শেষের চার মিনিট আগে বাংলাদেশ স্পোর্টিংয়ের পে একমাত্র গোলটি করেন মাহবাজ আলী। চার খেলায় মেরিনার্সের এটি দ্বিতীয় জয়।

গোল উৎসবে মোহামেডানের টানা চতুর্থ জয়

চলমান প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে জয়ের ধারায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সাদাকালো শিবির টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে। সাধারণ বীমাকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় মোহামেডান।
এদিকে, এবারের লিগে প্রথম জয় পেয়েছে ওয়ারী ক্লাব। আজাদ এসসিকে ৩-০ গোলে হারায় ওয়ারী। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম খেলায় আজাদ এসসিকে ৩-০ গোলে হারায় ওয়ারী। ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে দলটি। বিরতির পর আজাদের জালে আরও দুইবার বল পাঠায় ওয়ারী। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ১১ নং জার্সি নিয়ে খেলা শিহাবের ফিল্ড গোলে লিড নেয় ওয়ারী। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৪৪ মিনিটের মাথায় দলকে দ্বিতীয় গোল পাইয়ে দেন মনসুর। ৫৪ মিনিটের মাথায় দলের তৃতীয় আর নিজের দ্বিতীয় গোল করেন শিহাব। ৩-০ স্কোরলাইনে ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়ে ওয়ারী। চলতি লিগে দুই ম্যাচ হার ও এক ড্রয়ের পর প্রথম জয় পেল ওয়ারী। অন্যদিকে আজাদ এসসি চার ম্যাচে তৃতীয়বার হেরে বসলো।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সাধারণ বীমাকে ৮-০ গোলে হারায় মোহামেডান। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে জয়ের পথে থাকে মোহামেডান। দ্বিতীয়ার্ধে আরও পাঁচবার গোলের আনন্দে ভাসে সাদা-কালোরা। লিগের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলা ওমর ভুট্টা তিনটি গোল করেন। ম্যাচের ৩৬, ৪৯ আর যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে গোলগুলো করেন তিনি।
এছাড়া, ১৪ মিনিটের মাথায় মোহাম্মদ ইমরান, ২৫ মিনিটে রিজওয়ান, ৩৩ মিনিটে মোহামেডান দলপতি রাসেল মাহমুদ জিমি, ৫৪ মিনিটে সালমান হোসেন ও ৫৭ মিনিটে তাসভার আব্বাস গোল করেন।

টানা জয়ে শীর্ষে ঊষা, জয়ের ধারায় মোহামেডান

প্রিমিয়ার ভিডিশন হকি লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ঊষা ক্রীড়া চক্র ও মোহামেডান। এবারের লিগে টানা চতুর্থ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ঊষা। ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। আর টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট মোহামেডানের।
মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (২৪ মে) নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশ এসসিকে ৯-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ঊষা। একই দিন অ্যাজাক্স এসসির বিপক্ষে ৬-১ গোলে জিতেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
Usha
দিনের প্রথম ম্যাচে ঊষার হয়ে আলিম বেলাল হ্যাটট্রিক করেন। ম্যাচের নবম, ২৩তম, ২৬তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন পাকিস্তানের আলিম বেলাল। আর ৩১ মিনিটের মাথায় নিজের ও দলের চতুর্থ গোলটিও করেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কৃষ্ণ কুমার গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেন। এছাড়া ঊষার হয়ে জোড়া গোল করেন পুস্কর ক্ষীসা মিমো।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৫-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টানা তৃতীয় জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে মোহামেডান। দলের হয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তাসভার আব্বাস।
ম্যাচের নবম মিনিটে লিড নেয় অ্যাজাক্স এসসি। সৈয়দ ইবরার আহমেদ ফিল্ড গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। তবে, সেটাই ছিল মোহামেডানের জালে জড়ানো অ্যাজাক্সের প্রথম ও শেষ গোল।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে মোহামেডান। মোহাম্মদ উমর ভুট্টোর ফিল্ড গোলে ম্যাচে ফেরে সাদা-কালোরা। ২২ মিনিটের মাথায় দলের লিড নেওয়া গোলটি করেন তাসভার আব্বাস। ৩১ ও ৬১ মিনিটে তার স্টিক থেকে আরও দুটি গোল আসে।
২৮ মিনিটের মাথায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন মোহাম্মদ উমর ভুট্টো। বাকি গোলটি করেন মোহাম্মদ ইমরান। ম্যাচের ৩৪ মিনিটের মাথায় গোলটি করেন তিনি।

মেরিনার্সকে হারিয়ে ঊষার টানা তৃতীয় জয়

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকির প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে মেরিনার্সকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ঊষা ক্রীড়া চক্র। আজ মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেঢিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় মেরিনার্সকে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেয় ঊষা। অন্যদিকে তিন ম্যাচে প্রথমবারের মতো হারের স্বাদ নেয় মেরিনার্স।
ঊষার পাঁচ পাকিস্তনি খেলোয়াড় আলিম বেলাল, মো. ইরফান, আলি শান, সৈয়দ কাশিফ ও আশফাক নেওয়াজের বিপরীতে মেরিনার্সে খেলেছেন একমাত্র কেনিয়ান ওকিয়ো। শক্তির ভারসাম্যে তাই অনেকটাই পিছিয়ে থেকেই মাঠে নামে মেরিনার্স।
শক্তির পার্থক্যটা ধীরে ধীরে প্রভাবিত করতে থাকে খেলার গতি। স্বাভাবিকভাবেই চালকের আসনে ছিল ঊষা। শুরু থেকেই মাঠ বড় করে নিয়ন্ত্রিত পাসে খেলে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে ঊষা। রক্ষণাত্মক কৌশলে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলায় পাল্টা জবাব দিতে থাকে মেরিনার্স।
খেলার ১১ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার পায় মেরিনার্স। কিন্তু মামুনুন রহমান চয়ন স্কুপ করতে গিয়ে বল তুলে দেন পোস্টের ওপরে। পরের মিনিটেই আবার পিসি আদায় করে নেয় মেরিনার্স। এবার আর ভুল করেননি চয়ন। কিন্তু ঊষা গোলরক্ষক আবু সাইদ নিপ্পন এগিয়ে এসে গ্যাপ কমিয়ে দেন। বল আঘাত করে তার গ্লাভসে।
পেনাল্টি কর্নার ব্যর্থতার মেরিনার্স যখন আক্ষেপ করছে সে সময় প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায় করে নেয় ঊষা। ২০ মিনিটে কৃষ্ণ কুমারের পুশে, সারওয়ারের স্টপে ড্র্যাগ করেন পাকিস্তানি ডিফেন্ডার আলিম বেলাল। মেরিনার্স গোলরক্ষক মেহরাব হোসেন কিরনকে পরাস্ত করে বল ঠাঁই নেয় জালে।
গোল হজম করার পর আক্রমণাত্মক মেজাজে চলে যায় মেরিনার্স। ইমরান হোসেন ইমন ও রিমন কুমার ঘোষের দুটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন নিপ্পন। সমতা আনার চেষ্টায় যখন পুরো মনোনিবেশ করেছে মেরিনার্স তখন দ্রুত গাতির একটি পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোল করে বসে ঊষা। একক নৈপুণ্যে এ গোলটি করেন পুষ্কর খিসা মিমো। বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে তিনি ঢুকে পড়েন মেরিনার্স রক্ষণভাগে, ব্যাকলাইনের ওপর দিয়ে স্টিকের মোচড়ে বল নিয়ে চলে আসেন পোস্টের ফিট কয়েক দূরে। আলতো পুশ করেন, বল কিরনের প্যাডে লেগে অতিক্রম করে গোললাইন। দুই গোলে এগিয়ে যায় ঊষা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ঊষার আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ৫৫ মিনিটে আলি শানের স্কয়ার পাসে ফাঁকা পোস্টে গোল করতে ব্যর্থ হন সারওয়ার। এর কিছুক্ষণ পর নিপ্পনকে একা পেয়েও পুষ্কর খিসা মিমো বল মারেন তার প্যাডে। খেলার শেষ দিকে ব্যবধান কমায় মেরিনার্স। ফজলে হোসেন রাব্বির পুশ, শিশিরের স্টপে নিচু ড্র্যাগ করেন আশরাফুল ইসলাম। জোরের ওপর নেওয়া ড্র্যাগ কোনও সুযোগ দেয়নি নিপ্পন্নকে।
কিন্তু এরপরই আবারও দুই গোলের লিড ফিরিয়ে আনে ঊষা। সারওয়ারের পাওয়ার হিটে ফ্লিক করেন হাসান যুবায়ের নিলয়। বল আছড়ে পড়ে ১৮ ইঞ্চি বোর্ডে। মেরিনার্সের কফিনে শেষ পেরেকেটি ঠুকেন কৃষ্ণ কুমার।

হকিতে আবাহনীর প্রত্যাশিত জয়

প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগ ২০১৬-এর ম্যাচে জয় পেয়েছে শিরোপা প্রত্যাশী আবাহনী লিমিটেড। তবে, দিনের অপর ম্যাচে এ্যাজাক্স এসসি ড্র করেছে ওয়ান্ডারার্স এসসির বিপক্ষে।

শুক্রবার মাওলানা ভাসানী হকি ষ্টেডিয়ামে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম খেলায় আবাহনী লি: ৩-১ গোলে বাংলাদেশ স্পোর্টিংকে পরাজিত করে। আর দ্বিতীয় ম্যাচে এ্যাজাক্স এসসি ২-২ গোলে ড্র করে ওয়ান্ডারার্স এসসির বিপক্ষে।

দিনের প্রথম ম্যাচে আবাহনী লি: এর পক্ষে গোল করেন রাজীব দাস, শেখ মো: নান্নু ও মো: ইরফান। বাংলাদেশ এসসির হয়ে শাহবাজ আলী একটি গোল করে পরাজয়ের ব্যবধান কমান।

ম্যাচের ৩২ মিনিটের মাথায় রাজীব দাসের পেনাল্টি গোলের সুবাদে ১-০তে লিড নেয় আবাহনী। তবে, একই মিনিটে বাংলাদেশ এসসির ১৭নং জার্সিধারী খেলোয়াড় শাহবাজ আলী পেনাল্টি কর্নারের মাধ্যমে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান। ৫৮ মিনিটের মাথায় আবাহনীর হয়ে দ্বিতীয়বার লিড নেন ফিল্ড গোল করা নান্নু। আর ৬১তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নারের মাধ্যমে গোল করে (৩-১) আবাহনীকে জয় পাইয়ে দেন ইরফান।

এদিকে, দ্বিতীয় খেলায় এ্যাজাক্স এসসি ২-২ গোলে ওয়ান্ডারার্স এসসির সাথে ড্র করে। এ্যাজাক্সের পক্ষে গোল করেন রাহাত সারোয়ার ও মো: রুবেল। আর ওয়ান্ডারার্সের পক্ষে গোল করেন সারোয়ার মোর্শেদ ও আল নাহিয়ান শুভ।

ম্যাচের ২২ মিনিটে ওয়ান্ডারার্সের পক্ষে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে লিড পাইয়ে দেন সারোয়ার মোর্শেদ। ৩২ মিনিটের মাথায় দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন শুভ। তার ফিল্ড গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-০তে এগিয়ে যায় ওয়ান্ডারার্স। তবে, ৫৫ মিনিটের মাথায় ফিল্ড গোল করে ব্যবধান কমান এ্যাজাক্স এসসির রাহাত। তিন মিনিট পর সমতাসূচক গোলটি করেন রুবেল। ফলে, ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

প্রিমিয়ার হকিতে জিতেই চলেছে মোহামেডান

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আজ বৃহস্পতিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় ৩-১ গোলে সোনালী ব্যাংককে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো শিবির।
খেলার ১২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোকে দলের প্রথম গোলটি করেন ওমর ভুট্টো। ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দ্বিতীয় গোলটি দলকে উপহার দেন পাকিস্তানি খেলোয়াড় মো. ইরফান। ৫৩ মিনিটে একই ধারায় তিনি করেন তৃতীয় গোলটি। ৫৬ মিনিটে সোনালী ব্যাংকের সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন প্রসেনজিৎ।

দিনের অন্য খেলায় সাধারণ বীমা ৮-০ গোলে রেলওয়েকে হারিয়ে দেয়। জয়ী দলের মোহসিন বিল্লাহ করেছেন দুটি গোল, বাকি ছয়টি এসেছে ছয়জনের স্টিক থেকে।

প্রিমিয়ার হকি লিগে আবাহনীর বড় জয়

গ্রিনডেল্টা হকি লিগের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়ারিকে ১০-৩ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আবাহনী। দিনের অন্য ম্যাচে ওয়ান্ডারার্স ৩-২ গোলে আজাদ এসসিকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়।

আবাহনীর ১০ গোলের মধ্যে সাতটি গোলই করেন চার পাকিস্তানি খেলোয়াড়। দুটি করে গোল করেন মোহাম্মদ ইরফান, শাকিল আব্বাস ও শাফকাত রসূল। কাশিফ আলি একটি গোল করেন। বাকি তিনটি গোল করেন মশিউর রহমান বিপ্লব, খোরশেদুর রহমান, ও শেখ মো. নান্নু।

ক্লাব কাপে প্রতি ম্যাচে গোল পাওয়া মাকসুদ আলম হাবুলের সুযোগ হচ্ছে না পূর্ণ ম্যাচ খেলার। তাকে গত কয়েকটি ম্যাচে নামমাত্র নামানো হচ্ছে। তবে এটি কোচ মাহবুব হারুনের নতুন কোনও কৌশলও হতে পারে।

দিনের অন্য ম্যাচে ওয়ান্ডারার্স ৩-২ গোলে আজাদ এসসিকে হারিয়ে কষ্টার্জিত জয় তুলে নেয়। দুই ভারতীয় নিয়ে ওয়ান্ডারার্স যেখানে চাঙ্গা থাকার কথা সেখানে জয়ের জন্য মানসিক চাপে থাকতে হয়েছে শেষ পর্যন্ত।

রেলওয়ের জালে ঊষার ১৩ গোল

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগে নিজেদের দ্বিতীয় খেলায় ১৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করেছে ঊষা ক্রীড়া চক্র। ছয় গোল করে ঊষার জাতীয় ফরোয়ার্ড হাসান যুবায়ের নিলয় ছিলেন এ বিশাল জয়ের মূখ্য রুপকার।

নিলয় তার প্রথম তিনটি গোল করেন ১৮, ৩১ ও ৫০ মিনিটে। পরের তিনটি করেন ৬২, ৬৮ ও ৬৯ মিনিটে। যা এবারের লিগের প্রথম হ্যাটট্রিক। ঊষার প্রতিভাবান খেলোয়াড় মাহবুব হোসেন করেছেন তিনটি গোল। বাকি চারটি গোল এসেছে রেজাউল করিম বাবু, মিথুন কৃষ্ণ কুমার ও নিজামউদ্দিনের স্টিক থেকে।

দিনের অন্য খেলায় বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব ৪-২ গোলে অ্যাজাক্সকে পরাজিত করে। বাংলাদেশ এসসি’র প্রিন্স, সোহেল, শাহবাজ আলী ও গুরপ্রতাপ সিং করেন একটি করে গোল। অ্যাজাক্সের রাহাত সারোয়ার একা করেছেন ২টি গোল। তবে তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

হকি লিগে জয়ের ধারায় রয়েছে মেরিনার ইয়াংস

রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে মেরিনার ইয়াংস। আজ রবিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ৪-১ গোলে অ্যাজাক্স এসসিকে পরাজিত করে।
মেরিনারের প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় মো. আরশাদ হোসেন ৩৬ ও ৪৬ মিনিটে দুটি গোল করেন।
পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন ও মো. তৌফিক করেন বাকি দুটি গোল। অ্যাজাক্সের রাহাত সারোয়ার করেন দলের সান্ত্বনাসূচক গোলটি।
দিনের অপর খেলায় বাংলাদেশ এসসি ১-০ গোলে সাধারণ বীমাকে পরাজিত করে। বাংলাদেশ এসসির ফরোয়ার্ড প্রিন্স ৬১ মিনিটে করেন জয়সূচক গোলটি।

প্রিমিয়ার লিগ হকিতে আবাহনীর উড়ন্ত সূচনা

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগে উড়ন্ত সূচনা করেছে আবাহনী। লিগের উদ্বোধনী খেলায় আবাহনী ১৪-০ গোলে রেলওয়ে স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে।
আবহনীর মিডফিল্ডার রাজীব দাস ২০, ২৬, ৩২ ও ৩৯ মিনিটে ৪টি ফিল্ড গোল, ডিফেন্ডার ফরহাদ আহমেদ শিটুল ৩, ২৮ ও , ৪৪ মিনিটে ৩টি ফিল্ড গোল করেন। দুটি করে গোল করেছেন মাকসুদ আলম হাবুল ও সাফকাত রসুল। বাকি তিনটি গোল এসেছে মো. ইরফান, শেখ মো. নান্নু ও কাশিফ আলীর স্টিক থেকে।
রেকর্ড করার জন্য ছোট দলগুলিকেই বেছে নেয় বড় ক্লাবগুলো। এদিনও দেখা গেল এমন দৃশ্য। আবাহনী কোচ মাহবুব হারুন বলেন, ‘আমরা তাও একটু সমীহ করেছি। বাকি যারা আছে তারা গোল দেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে। আমরা চাইলে কমপক্ষে ৩০ টি গোল দিতে পারতাম।’
অসহায় রেলওয়ের ম্যানেজার নুরুল ইসলাম ফারুকি ম্যাচ বলেন, ‘আমরা দেশি খেলোয়াড়দেরই প্রাধান্য দিতে চাই। আমার দলে চট্টগ্রামের ৮ জন, রাজশাহীর ৬ জন ও রংপুরের একজন আছেন। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলবে। প্রথম বিভাগে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিমিয়ারে উঠেছি। অন্যান্য ক্লাবের মতো হয়তো আমাদের আর্থিক ক্ষমতা নেই, তারপরও চেষ্টা করবো দেশি খেলোয়াড় দিয়ে মান বজায় রাখতে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির উপদেষ্টা এ এস এম মুইজ এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম তাজিক চৌধুরী। এছাড়াও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক, লীগ কমিটির সম্পাদক কাজী মইনুজ্জামান, সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হকির উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা করবে বিসিবি: পাপন

বাংলাদেশ হকির উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা ও বিদেশি কোচের জন্য হকি ফেডারেশনকে আর্থিক সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ বৃহস্পতিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার হকি লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
নাজমুল হাসান পাপনের মধ্যস্থতায় অচলাবস্থার অবসান হয়ে আবার সবকটি দল নিয়ে প্রিমিয়ার হকি লিগ মাঠে গড়িয়েছে আজ থেকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এ সমস্যা নিরসনে মিডিয়া হিসেবে কাজ করেছি, আমার ওপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল। তার নির্দেশেই সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজেছি।’
পাপন বলেন, ‘ক্রিকেট এখন দেশের জনপ্রিয় খেলা, তবে ফুটবলও জনপ্রিয়। এর পরেই আছে হকি। হকির র‌্যংকিং এখন ২৮/২৯, পাঁচ বছরে একে ১৫-তে যদি নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে হকির অবস্থান উঁচুতে পৌঁছাবে। আমি মনে করি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিলে, এটি অর্জন করা সম্ভব’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি ক্রিকেটের মতো হকিও উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। হকি ফেডারেশন এ ব্যাপারে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন দেশের কোচদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে। হকির কোচের ব্যাপারে আমরাও অস্ট্রেলিয়া ও হল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’
পাপন আরও জানান, শুধু বিদেশি কোচ নয়, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে হকি ফেডারেশন কর্পোরেট হকি লিগ আয়োজন করতে পারে। এছাড়া হকি স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের বিষয়ে হকি ফেডারেশনে চাইলে বিসিবি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে।
হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি হকি কোচের জন্য মাসিক ১৫ হাজার ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করি অচিরেই আমরা বিদেশি কোচের ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগ শুরু বৃহস্পতিবার

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার বিভাগ হকি লিগ। এরমধ্য দিয়ে তিন বছর পর আবার দেশের হকির সব পাওয়ারহাউজগুলো একসঙ্গে খেলতে নামছে।
নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার হকিতে বিগত আসরটিতে অংশ নেয়নি মোহামেডান, মেরিনার্স, ওয়ারী ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং। তাদের দাবি ছিল খাজা রহমতউল্লাহ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক থাকলে তারা কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন না। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের অক্টোবরে রহমতউল্লাহ পদত্যাগ করলে আবারও সরব হয়ে ওঠে হকি অঙ্গন। আবাহনী, মোহামেডান, ঊষা ও মেরিনার্স এবার শক্তিশালী দল গঠন করায় এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি লিগের প্রত্যাশা করছে হকি ভক্তরা।
উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। উদ্বোধনী দিনে একটিই ম্যাচ। শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে নিজেদের যাত্রা শুরু করবে রানার্স-আপ ঊষা। লিগের অন্যান্য দলগুলো হলো- সোনালী ব্যাংক, আজাদ, ওয়ারী, অ্যাজাক্স, সাধারণ বীমা ও ওয়ান্ডারার্স।

মধুর প্রতিশোধে দ্বিগুণ আনন্দ আবাহনীর

ক্লাব কাপ হকির শিরোপা হাতে আবাহনীঘরোয়া হকিতে আবাহনীর শিরোপা অনেক। তবে গতকাল উদযাপনটা যেন একটু বেশিই চোখে পড়লো। কারণ ক্লাব কাপ হকির আগের দুই আসরে আবাহনী ঊষার কাছে হেরে রানার্স আপ হয়েছে।
এবার সেই ঊষাকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল আবাহনী। নিজেদের আট বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর চেয়ে ঊষাকে হ্যাটট্রিক শিরোপা থেকে বঞ্চিত করার আনন্দ ছুঁয়ে গেছে আবাহনী শিবিরকে।
আবাহনীর কোচ মাহবুব হারুন চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যাখ্যা করছেন একটু অন্যভাবেই। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের আগে ও চলাকালীন সময়ে মেরিনার্স, ঊষার চেয়ে আবাহনীকে খাটো করে দেখা হয়েছে। কিন্তু আমরা সেরা, সেটাই মাঠে প্রমাণ হয়েছে।’
1
ফলাফল বিশ্লেষণ করে মাহবুব হারুন বলেন, ‘ঊষা লং পাসে বেশি খেলে। আমাদের লক্ষ্য ছিল কাউন্টার অ্যাটাকে খেলা। সেই কৌশল সফল হয়েছে।’
আবাহনীর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নিয়েও টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রশ্ন ছিল। ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। এই প্রসঙ্গে হারুন বলেন, ‘শাফকাত রসুল ও শাকিল আব্বাসী তাদের সামর্থ্যের মাত্র ৬০ ভাগ খেলেছেন। তাদের প্রতি আত্মবিশ্বাসও ছিল। এর প্রতিদান পাওয়া গেল।’
আট বছর পর ক্লাব কাপের এই শিরোপা আবাহনী উৎসর্গ করেছে প্রয়াত খেলোয়াড় জুম্মন লুসাইকে। হারুন বলেন, ‘আবাহনীর আগে কোচ ছিলেন জুম্মন ভাই। তাকে আমরা সব সময় অনুভব করি। খেলার আগে খেলোয়াড়দের বলেছি জুম্মন ভাইকে শিরোপা উৎসর্গ করব। সেই হিসেবে খেলতে হবে। খেলোয়াড়রা সেটি করতে পেরেছে।’

ক্লাব কাপের পর এখন আবাহনীর লক্ষ্য লিগ। তিনি বলেন, ‘আবাহনী সব সময় শিরোপার জন্যই খেলে। গত লিগের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। এবার আশা করছি পূর্ণাঙ্গ চ্যাম্পিয়নশিপ। ক্লাব কাপের শিরোপা সেই আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন আবাহনী রুম্মন সরকার। তিনিও কোচ মাহবুব হারুনকে প্রশংসায় ভাসালেন। রুম্মন বলেন, ‘আমাদের চ্যাম্পিয়ন এবং আমার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পেছনে হারুন স্যারের অবদান অনেক। তার পরামর্শ ও তথ্য আমাকে ভালো খেলতে সহায়তা করেছে।’

ঊষার কোচ মামুনুর রশীদ হারের ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। বিশেষ করে ডিফেন্সে দুর্বলতা ছিল। যেটার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে আবাহনী।’

ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে ঢাকা আবাহনী

দুরন্ত এক জয়ে মার্সেল ক্লাব কাপ হকির ফাইনালে পৌঁছেছে আবাহনী লিমিটেড ঢাকা। আজ শনিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আবাহনী ৩-২ গোলে মেরিনার্সকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছে।
গতকাল প্রথম সেমিফাইনালেও শেষ মিনিটে সমতা এনে শেষ পর্যন্ত শ্যুট আউটে ম্যাচ জেতে ঊষা। আজও শেষ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শাফকাত রাসুল।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাঠে বসেছিল বিদেশি খেলোয়াড়দের মেলা। মেরিনার্সে খেলেছেন জার্মানির নিকোলা হেইঞ্জ, কেনিয়ার গোলরক্ষক লিনাস কিপকেমবই ও মিডফিল্ডার ওকিও উইলস। এছাড়া মালয়েশিয়ান দুই মিডফিল্ডার জিয়া মোহন ও জীবন মোহন। আবাহনীর হয়ে খেলেছেন চার পাকিস্তানি শাকিল আব্বাসি, তোসিক আরশাদ, শাফকাত রাসুল ও মো. ইরফান। এর মধ্যে আবাহনীর শাফকাত রাসুল করেছেন দুটি গোল। তবে আবাহনী কৃতজ্ঞ থাকবে তাদের তরুণ মিডফিল্ডার রোম্মান সরকারের কাছে। আবাহনীর জয়ের প্রদীপ যখন নিভু নিভু তখন তিনিই ইন্টারসেপ্ট করেন মেরিনার্স অধিনায়ক চয়নের হিটটি। বল বাড়িয়ে দেন তোসিক আরশাদকে; তার পাসেই জয়সূচক গোলটি করেন শাফকাত।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলার সূচনা লগ্ন। মাঠ বড় করে আবার ছোট করে খেলে দুই দলই, তবে আবাহনীর পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা খুব একটা ভালো সেবা দিতে পারেননি দলকে। শাফকাত রাসুলই ছিলেন ব্যতিক্রম।
খেলার চার মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার থেকে এগিয়ে যায় আবাহনী। শাফকাক রাসুলের পুষে স্টপ করেন রোম্মান। তোসিক আশরাফ নিচু শটে গোল করেন। ১২ মিনিটে সমতা আনে মেরিনার্স, এটিও পেনাল্টি কর্নারের গোল। ফজলে হোসেন রাব্বির পুশ, শিশিরের স্টপের পর চয়ন হিট না নিয়ে বল পাঠিয়ে দেন রাব্বিকে, কোনাকুনি হিটে তিনি গোল করেন।
পেনাল্টি কর্নারেই মেরিনার্সের বেশি দ্ক্ষতা আবার প্রমাণে ২৬ মিনিটে দলের পঞ্চম পেনাল্টি কর্নারে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মামুনুর রহমান চয়ন। দ্বিতীয়ার্ধে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে খেলে আবাহনী। মূলত জয়ের নেশাই তাদের ধাবিত করে, আর এটিই গড়ে দেয় ব্যবধান। ৫৫ মিনিটে একক নৈপুণ্যে বক্সের ওপর থেকে প্রচণ্ড রিভার্স হিটে সমতাসূচক গোলটি করেন রোম্মান। আর ৬৯ মিনিটে তিনি মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণে নেন চয়নের একটি ক্লিয়ারেন্স, দ্রুত গতিতে তিনি বল পুশ করেন তোসক আশরাফকে। বক্সের বাম প্রান্ত থেকে তার আড়াআড়ি পাসে পুশ করে গোল করেন শাফকাত রাসুল। ম্যাচ জয় নিশ্চিত হয়ে যায় আবাহনীর।
সোমবার ঊষার বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে আবাহনী।

টাইব্রেকারে মোহামেডানকে হারিয়ে ফাইনালে ঊষা

ক্লাব কাপ হকি প্রতিযোগিতার প্রথম সেমিফাইনালে মোহামেডানকে টাইব্রেকারে ৭-৫ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে ঊষা ক্রীড়া চক্র। ফলে, ক্লাব কাপ হকির মুকুট ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল ঊষা ক্রীড়া চক্র।
শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়েছে মিমো-সারোয়াররা। প্রথম সেমিফাইনালের এ ম্যাচে খেলার নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ গোলে ড্র থাকায় সরাসরি পেনাল্টি শুট আউটের মাধ্যমে ফলাফল নিষ্পত্তি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের খেলায় ঊষার হয়ে সপ্তম মিনিটের মাথায় গোল করেন কৃষ্ণকুমার দাস। ২৮ মিনিটে সমতায় ফেরে মোহামেডান। দলকে ম্যাচে ফেরান তাসাওয়ার আব্বাস। ৩৯ মিনিটের মাথায় লিড নেয় মোহামেডান। গোল করেন ওমর ভাট্টো। তবে, এগিয়ে থাকা মোহামেডানকে খুব বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দেয়নি ঊষা। ম্যাচের ৪১ মিনিটের মাথায় মো: শফিক বিন চোলানের গোলে সমতায় ফেরে ঊষা।
ওমর ভাট্টো মোহামেডানের হয়ে দ্বিতীয় আর দলের তৃতীয় গোলটি করলে আরেকবার লিড নেয় মোহামেডান। তবে, পুস্কর ক্ষিসা মিমোর ৬৯ মিনিটে দেওয়া গোলে আবারো সমতায় ফেরে ঊষা। এরপর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। আর তাতে ঊষার হয়ে মাহাবুব হোসেন প্রথম শটে ব্যর্থ হলেও পরে কৃষ্ণ কুমার দাস, ফাইজাল বিন শারি, নাইম উদ্দিন, পুস্কর ক্ষিসা মিমো গোল করেন। আর মোহামেডানের তাসাওয়ার আব্বাস, রিজওয়ান জুনিয়র গোলের দেখা পেলেও কামরুজ্জামান রানা ও ওমর ভাট্টা ব্যর্থ হন।
শনিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আবাহনীর মুখোমুখি হবে মেরিনার ইয়াংস।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে আবাহনী

মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মার্সেল ক্লাব কাপ হকির সেমিফাইনালে পৌঁছেছে আবাহনী। দীর্ঘ তিন বছর পর হকিতে অনুষ্ঠিত হলো আবাহনী-মোডামেডান দ্বৈরথ। যেখানে শেষ হাসি হাসলো আবাহনী। হকি ফেডারেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোহামেডানের নেতৃত্ব মোট পাঁচটি ক্লাব দুই মৌসুম খেলা থেকে বিরত থাকায় গত তিন বছরে দল দুটো মুখোমুখি হয়নি। শুক্রবার প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে ঊষা ও মোহামেডান। শনিবার দ্বিতীয় সেমিতে লড়বে আবাহনী ও মেরিনার্স।
আজ মওলানা ভাসানি জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘খ’ গ্রুপের শেষ খেলায় চার পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে নিয়ে মাঠে নেমে আবাহনী তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে।মোহামেডানের পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হওয়ায় মাঠে নামতে পারেননি। খেলার চিত্রটা হয়তো ভিন্ন হতে পারতো যদি তিন মিনিটে মিডফিল্ডার কামরুজ্জামান রানার পাওয়ার হিটে কানেক্ট করতে পারতেন মোহামেডানের তারকা ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি। পোস্টেও খুব কাছ থেকে তিনি বলের লাইন মিস করেন।
গোল করতে না পারার খেসারত দিয়ে ষষ্ঠ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে মোহামেডান। ডানপ্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে বল নিয়ে মোহামেডান বক্সের কাছে চলে আসেন মিডফিল্ডার রোম্মান সরকার। নেন জোরের ওপর একটি কোনাকুনি হিট। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মাকসুদ আলম হাবুল অনুসরণ করছিলেন রোম্মানকে। ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে তিনি জায়গা বের করে নেন। স্টিকের মোচড়ে বল পাঠিযে দেন পোস্টে।
দুই মিনিট পর আবারও গোল করে আবাহনী। এবারও উৎস রোম্মান সরকারের পাওয়ার হিট। তবে এবার বল রিসিভ করেন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শাফকাত রাসুল। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে ঠাণ্ডা মাথায় পুশ করে দলকে উপহার দেন দ্বিতীয় গোলটি।
হতবিহ্বল মোহামেডানের ওপর আবারও ঝড় বয়ে যায় ১১ মিনিটে। আবারও গোল করেন মাকসুদ আলম হাবুল। মোহামেডান ডিফেন্সের ভুল ছিল অবশ্য। কারণ তারা মশিউর রহমার বিপ্লবের হিটটি ফেরাতে পারেননি, ফলে বল পেয়ে যান হাবুল। কোনাকুনি পুশে আবাহনীকে এনে দেন তিন গোলের অগ্রগামিতা।
মোহামেডানের আক্রমণের মূল উৎস ছিলেন মিডফিল্ডার কামরুজ্জামান রানা। ২৬ মিনিটে তার তৈরি করা বলে নেওয়া দ্বীন ইসলামের হিট সাইড পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। আরেকবার ডিফেন্ডার চন্দনের করা পেনাল্টি কর্নার ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে বাঁচান আবাহনী গোলরক্ষক অসিম গোপ।
বিরতির পর ব্যবধান কমান মোহামেডানের ফরোয়ার্ড রুবেল হোসেন ৪৫ মিনিটে করা ফিল্ড গোলে ম্যাচে ফিরতে চলেছিল মোহামেডান। কিন্তু ৬১ মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি করেন রোম্মান সরকার। খেলা শেষের এক মিনিট আগে দ্বীন ইসলাম করেন মোহমেডানের দ্বিতীয় গোলটি।

ক্লাব কাপ হকিতে মুখোমুখি আবাহনী-মোহামেডান

ক্লাব কাপ হকিতে গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে বুধবার বিকেল সোয়া চারটায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডান। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে প্রতিটিতেই জয়ী হয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে একধাপ ওপরে মোহামেডান। অপরদিকে আবাহনী তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রতে ৭ পয়েন্ট নিয়ে পরের অবস্থানে। গোলের হিসেবে আবাহনী ১৭ গোল দিয়ে হজম করেছে দুটি। বিপরীতে মোহামেডান ১৫ গোল দিয়ে হজম করেছে চারটি।
আবাহনীর কোচ মাহবুব হারুন বলেন, ‘আবাহনী কখনও হারের জন্য মাঠে নামে না। সেই প্রমাণ আগামীকাল দিতে চাই। গ্রুপ সেরা হয়েই সেমিফাইনালে যেতে চাই।’ মোহামেডান কোচ কোচ জামাল হায়দার জানান, ‘বিদেশি খেলেয়াড়রা আগে আসলে সুবিধা হতো। দলের সাথে কম্বিনেশন করতে পারতাম। রাতে আসলে একটু অসুবিধা হবে বৈকি।’

মার্সেল ক্লাব কাপ হকিতে আবাহনীর বড় জয়

মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টর অষ্টম দিনে আজ সোমবার দুটি ম্যাচ মাঠে গড়ায়। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ওয়ারী ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেড। আর দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।
প্রথম ম্যাচে আবাহনী ১০-০ গোলের ব্যবধানে বড় জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি শেষ হতে পারেনি। আলো স্বল্পতার কারণে সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ এসসির মধ্যকার ম্যাচটি ২৫ মিনিট খেলা হওয়ার পর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ম্যাচ অফিসিয়ালসরা। ম্যাচের বাকি ২৫ মিনিটের খেলা আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে সোনালী ব্যাংক।
১০-০ গোলের বড় ব্যবধানের জয়ে আবাহনীর পক্ষে হ্যাটট্রিক করেন শাফকাত রাসুল। এ ছাড়া মো. ইরফান, শাকিল আব্বাসি, কাসিফ আলী, মাকসুদ আলম হাবুল, খোরশেদুর রহমান, রাজিব দাস ও সোয়েব আলী একটি করে গোল করেন।
এবারের এই মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নিয়েছে। ৯টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুটি গ্রুপের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে। আর সেমিফাইনালের বিজয়ী দুটি দল ৯ মে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে অংশ নিবে।

মার্সেল ক্লাব কাপ হকির সেমিফাইনালে মোহামেডান

দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতাকরী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় ২৫ এপ্রিল থেকে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ‘মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্ট-২০১৬’। এই প্রতিযোগিতা চলবে মে মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত। প্রতিযোগিতার পঞ্চম দিনে আজ শুক্রবার দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও সোনালী ব্যাংক রিক্রেয়েশন ক্লাব। আর দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব ও ওয়ারী ক্লাব। ম্যাচে জয়লাভ করেছে যথাক্রমে মোহামেডান ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব।
প্রথম ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৭-১ গোলে সোনালী ব্যাংক এসআরসিকে পরাজিত করে। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে রুবেল হোসেন ২টি, রাসেল মাহমুদ জিমি ২টি, দ্বিন ইসলাম ইমন ২টি ও কামরুজ্জামান রানা ১টি গোল করেন। সোনালী ব্যাংকের অজিত ৬২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নারের মাধ্যমে একটি গোল শোধ করেন। এই জয়ের ফলে ‘খ’ গ্রুপ থেকে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে সাদাকালো শিবির।
দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশ স্পোর্টিং ক্লাব ৫-০ গোলে ওয়ারী ক্লাবকে হারায়। বাংলাদেশ স্পের্টিং ক্লাবের পক্ষে বেলাল ২টি, হোসনে মোবারক সুমন ১টি ও সোহেল ২টি গোল করেন।
এবারের এই মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নিয়েছে। ৯টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুটি গ্রুপের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে। আর সেমিফাইনালের বিজয়ী দুটি দল ৯ মে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে অংশ নিবে।
মার্সেল ক্লাব কাপ হকির ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে উষা ক্রীড়া চক্র, ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সাধারণ বীমা কেএস ও এ্যাজাক্স এসসি। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে- আবাহনী এসসি লিমিটেড, মোহামেডান এসসি লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক এসআরসি, বাংলাদেশ এসসি ও ওয়ারী ক্লাব। মার্সেল ক্লাব কাপ হকির চ্যাম্পিয়ন দল ৭০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। আর রানারআপ দল পাবে ৩৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়কে মার্সেল এর পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

মার্সেল ক্লাব কাপ হকিতে মেরিনার ও উষার জয়

মার্সেল ক্লাব কাপ হকির চতুর্থ দিনে বৃহস্পতিবার দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ও এ্যাজাক্স এসসি। আর দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় উষা ক্রীড়া চক্র ও সাধারণ বীমা। ম্যাচে জয়লাভ করেছে যথাক্রমে মেরিনার ও উষা।
প্রথম ম্যাচে ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ৪-১ গোলে এ্যাজাক্স এসসিকে পরাজিত করে। ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের পক্ষে মো. আশরাফুল ইসলাম ১টি, রিমন কুমার ঘোষন ২টি ও ফজলে হোসেন রাব্বি ১টি গোল করেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে উষা ক্রীড়া চক্র ৮-০ গোলে সাধারণ বীমা কেএসকে পরাজিত করে। উষা ক্রীড়া চক্রের পক্ষে পুস্কর ক্ষিসা মিমো ১টি, কৃষ্ণ কুমার দাস ৪টি ও হাসান যুবায়ের নিলয় হ্যাটট্রিক করেন।
এবারের এই মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নিয়েছে। ৯টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুটি গ্রুপের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে। আর সেমিফাইনালের বিজয়ী দুটি দল ৯ মে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে অংশ নিবে।
মার্সেল ক্লাব কাপ হকির ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে উষা ক্রীড়া চক্র, ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সাধারণ বীমা কেএস ও এ্যাজাক্স এসসি। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে- আবাহনী এসসি লিমিটেড, মোহামেডান এসসি লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক এসআরসি, বাংলাদেশ এসসি ও ওয়ারী ক্লাব।
মার্সেল ক্লাব কাপ হকির চ্যাম্পিয়ন দল ৭০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। আর রানারআপ দল পাবে ৩৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়কে মার্সেল এর পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

মার্সেল ক্লাব কাপ হকিতে আবাহনী ও মোহামেডানের জয়

মার্সেল ক্লাব কাপ হকির তৃতীয় দিনে বুধবার দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় আবাহনী লিমিটেড ও বাংলাদেশ এসসি। আর দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও ওয়ারী ক্লাব। ম্যাচে জয়লাভ করেছে যথাক্রমে আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান। প্রথম ম্যাচে আবাহনী ৫-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ এসসিকে। আবাহনী লিমিটেডের পক্ষে মাকসুদ আলম হাবুল ৩টি ফিল্ড গোল করেন (৬, ৯ ও ৪৩ মিনিটে)। আর খোরশেদুর রহমান ২টি পিসি গোল করেন যথাক্রমে ৩২ ও ৪৭ মিনিটে।
দ্বিতীয় খেলায় মোহামেডান এসসি ৪-১ গোলে ওয়ারী ক্লাবকে পরাজিত করে। মোহামেডানের পক্ষে দ্বীন ইসলাম, রাসেল মাহমুদ জিমি, মুস্তাফিজুর রহমান লাল ও রানা জুনিয়র ১ টি করে গোল করেন। ওয়ারীর নাজমুল হাসান পেনাল্টি কর্নারের মাধ্যমে ১৮ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করেন।
এবারের এই মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নিয়েছে। ৯টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুটি গ্রুপের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে। আর সেমিফাইনালের বিজয়ী দুটি দল ৯ মে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে অংশ নিবে। মার্সেল ক্লাব কাপ হকির ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে উষা ক্রীড়া চক্র, ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সাধারণ বীমা কেএস ও এ্যাজাক্স এসসি। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে- আবাহনী এসসি লিমিটেড, মোহামেডান এসসি লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক এসআরসি, বাংলাদেশ এসসি ও ওয়ারী ক্লাব।
মার্সেল ক্লাব কাপ হকির চ্যাম্পিয়ন দল ৭০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। আর রানারআপ দল পাবে ৩৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়কে মার্সেল এর পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

ঊষা ও মেরিনার্সের জয়

ক্লাব কাপ হকির প্রথম দিনে আবাহনী ও মোহামেডানের দুইরকম অভিজ্ঞতা হলেও দ্বিতীয় দিন প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে গত আসরের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঊষা ক্রীড়া চক্র ও মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাব। আজ মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে ঊষা ক্রীড়া চক্র ৫-০ গোলে অ্যাজাক্স এসসিকে ও দ্বিতীয় ম্যাচে মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাব ৯-০ গোলে সাধারণ বীমাকে হারায়।

জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড মেরিনার্সের জন্য সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কেনিয়ান গোলকিপার লিনাস কিপকেমরই, জার্মান ডিফেন্ডার ডাম্বোস্কি নিকোলাই হেইঞ্চ ও ফরোয়ার্ড ওকিও উইলসকে। সে কারণেই এদিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল মেরিনার্সের তিন বিদেশি খেলোয়াড়। সাধারণ বীমার দেশি খেলোয়াড়দের বিপক্ষে মেরিনাসের্র তিন বিদেশি খেলায় এমনিতেই পার্থক্য হয়েছে। আর বীমার খেলোয়াড়রা তেমন পারদর্শী নয় বিধায় মেরিনার্সের খেলোয়াড়দের সামর্থ পরখ করা যায়নি।

মেরিনার্সের ডিফেন্স লাইন এমনিতেই শক্তিশালি। মামুনুর রহমান চয়ন ও আশরাফুলের মতো পিসি স্পেশালিস্টকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। তার ওপর যোগ হয়েছেন নিকোলাই। একটি ফিল্ড গোলও করেন তিনি। চয়নের সঙ্গে সকলের বোঝাপড়াটা বেশ ভালোই হয়েছে।

তবে ফরোয়ার্ডে ওকিও উইলসের অ্যাডজাস্টমেন্টে কিছুটা সমস্যা ছিল। রিমন কৌশিক রাব্বিদের সঙ্গে জোগানটা শতভাগ দিতে পারেননি ওকিও। আর কিপার লিনাসের অভিজ্ঞতা বুঝাই যায়নি। কারণ পুরো খেলায় সাধারণ বীমার হাতে গোনা কয়েকটি আক্রমণই করতে পেরেছে। যেগুলো ডিফেন্স ভেদ করে গোলকিপার পর্যন্ত পৌঁছায়নি। দুটি পিসি পেলেও তেমন কোনও আক্রমণ করতে পারেনি বীমার ফরোয়ার্ডরা। প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে ৩ গোল হজম করে বীমা। দ্বিতীয়ার্ধে পুরো ছন্দে থেকে ৯-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেরিনার্স। পিসি থেকে আশরাফুল ইসলাম ও চয়ন দুটি করে গোল করেন। রিমন কুমার দুটি, কৌশিক, রাজু আহমেদ তপু ও নিকোলাই একটি করে ফিল্ড গোল করেন।

প্রথম ম্যাচে ঊষার জয় ছিল একপ্রকার নিশ্চিতই। জাতীয় দলের বেশিরভাগ তারকাকেই দলে ভিড়িয়েছে ঊষা। দেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে টেক্কা দেয়ার মতো অবস্থাও তৈরি করেছেন কোচ মামুনুর রশীদ। যেহেতু তাদের প্রতিপক্ষ অ্যাজাক্স, সেহেতু গতকাল তারা মাঠে একটু পরীক্ষা- নিরীক্ষাও চালিয়েছে। দুর্বল প্রতিপক্ষ বলেই এই সুযোগ নেওয়া। বিশেষ করে পিসি ভ্যারিয়শন কাজ করে স্বার্থকও হয়েছেন তিনি। তবে আরও মনোযোগ দিতে চান কোচ। ৭টি পিসি থেকে গোল এসেছে মাত্র তিনটি। যেটি থেকে গোল করেন হাসান যুবায়ের নিলয় (২) ও মাহবুব হোসেন। এছাড়া দুটি ফিল্ড গোল করেন পুস্কর ক্ষিসা মিমো ও মিঠুন। শেষ পর্যন্ত অ্যাজাক্সের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঊষা ক্রীড়া চক্র।

হকি মাঠে শটগানের মহড়া দিলেন মোহামেডানের কর্তা!

মার্সেল ক্লাব কাপ হকির সূচনা দিনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মোহামেডান ক্লাবের হকি কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শফিউল্লাহ আল মুনীর। এদিন নিজের দুই দেহরক্ষীকে দিয়ে শটগানের মহড়া করে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। শফিউল্লাহ আল মুনীর দিন কয়েক আগেই হকি ফেডারেশেনের নির্বাহী কমিটিতে শূন্য সহ-সভাপতি পদে কো-অপ্ট হন।
সোমবার ছিল মোহামেডান বনাম বাংলাদেশ স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ। আর সেই ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের কৃত্রিম টার্ফের বাম প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন মুনীর। মাথায় ছাতা আর দুইপাশে দুই শটগান হাতে ছিল তার দুই গান ম্যান। মাঠে ও গ্যালারিতে এসময় বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।
পরে দুই গান ম্যানকে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে ডাগ আউটে গিয়ে বসেন মুনীর। এসময় প্রথমার্ধ পর্যন্ত তিনি মাঠে ছিলেন। প্রথমার্ধ শেষ হলে তিনি মাঠ ছেড়ে চলে যান।
এদিকে এমন ঘটনায় হতবাক হয়েছেন হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটি অবশ্যই বিব্রতকর। হকি মাঠে দেশের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী আসেন। তাদের নিরাপত্তা কর্মীরাও মাঠে অস্ত্র উম্মুক্ত করেন না। কারণ খেলার মাঠ পবিত্র জায়গা। এ ঘটনা দুঃখজনক, আমি আশা করবো আর এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’

মোহামেডানের জয়, আবাহনীর ড্র

মার্সেল ক্লাব কাপ হকির সূচনা দিনে ঢাকা মোহামেডান জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ড্র করেছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী।
সোমবার দিনের প্রথম খেলায় মোহামেডান ৪-২ গোলে বাংলাদেশ স্পোর্টিংকে পরাজিত করে। ঐতিহ্যবাহী সাদা কালো শিবিরকে খেলার ছয় মিনিটে এগিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান লালন। মিডফিল্ডার রানার পাওয়ার হিটে ফ্লিক করে গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধে আর কোনও গোল হয়নি।
বিরতির পর বাংলাদেশ স্পোর্টিংয়ের ইকবাল নাদির প্রিন্স সমতা আনলেও ৪১ মিনিটে আবার দলকে এগিয়ে দেন রাসেল মাহমুদ জিমি। একক প্রচেষ্টায় তিনি বল পোস্টে পাঠিয়ে দেন। পরে রুবেল হোসেন ৪৮ ও ৫৬ মিনিটে দুটি গোল করলে নিশ্চিত হয় মোহামেডানের জয়। তবে লক্ষ্যনীয় বিষয় ছিল দুই অর্ধে দশটির কাছাকাছি পেনাল্টি কর্নার পেয়েও কোনও গোল করতে পারেনি মোহামেডান।
পরের ম্যাচে তারকা খচিত আবাহনীকে চমকে দিয়েছিল সোনালী ব্যাংক। ১৪ ও ২৮ মিনিটে তাহের আলী ও বেল্লা দুটি গোল করে আবাহনীকে ফেলে দেন বেকায়দায়। তাহের ফিল্ড ও বেলাল পেনাল্টি কর্নারে ওই গোল দুটি করেন। বিরতির পর ৪৪ মিনিটে ড্র্যাগ অ্যান্ড ফ্লিক স্পেশালিস্ট খোরশেদুর রহমানের পেনাল্টি স্ট্রোক ও অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মাকসুদ আলম হাবুলের ফিল্ড গোলে মুখ রক্ষা হয় আবাহনীর।
কাল মঙ্গলবার মাঠে নামছে হকির অন্য দুই শক্তিশালী দল ঊষা ক্রীড় চক্র ও মেরিনার্স। তাদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে অ্যাজাক্স ও সাধারণ বীমা।

আবাহনী হকি দলের স্পন্সর সেইলর

কাল থেকে শুরু হওয়া নতুন হকি মৌসুমে আবাহনী হকি দলের স্পন্সর হয়েছে ইপিলিয়ন গ্রুপ। আজ ধানমণ্ডি ক্লাব চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয় ক্লাবটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবাহনীর পরিচালক আবদুস সাদেক, ইপিলিয়ন গ্রুপের পরিচালক নাজমুল আহসান, আবাহনী হকি সম্পাদক আহসানুল ইসলাম টিটু ও কোচ মাহবুব হারুন। আবাহনী হকি দলের জার্সিতে শোভা পাবে ইপিলিয়ন গ্রুপের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড সেইলরের নাম।
আবাহনীকে স্পন্সর করার জন্য এগিয়ে আসায় এপিলিয়ন গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান দেশের কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেক। কাল থেকে শুরু হচ্ছে ক্লাব কাপ হকি। প্রথম দিনেই সোনালী ব্যাংকের বিপক্ষে মাঠে নামবে আবাহনী।

মার্সেল ক্লাব কাপ হকি সোমবার শুরু

সোমবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্ট-২০১৬। এই প্রতিযোগিতা চলবে মে মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত। এ বিষয়ে রোববার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ওয়ালটন গ্রুপের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওয়ালটনকে হকির পাশে পাবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এবারের এই মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নিচ্ছে। ৯টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। দুটি গ্রুপের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে। আর সেমিফাইনালের বিজয়ী দুটি দল ৯ মে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে অংশ নিবে।

মার্সেল ক্লাব কাপ হকির চ্যাম্পিয়ন দল ৭০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। আর রানারআপ দল পাবে ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়কে মার্সেল এর পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

মার্সেল ক্লাব কাপ হকির ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে উষা ক্রীড়া চক্র, ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সাধারণ বীমা কেএস ও এ্যাজাক্স এসসি। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে- আবাহনী এসসি লিমিটেড, মোহামেডান এসসি লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক এসআরসি, বাংলাদেশ এসসি ও ওয়ারী ক্লাব।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ এটিএন বাংলা সরাসরি সম্প্রচার করবে। পাশাপাশি ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও সরাসরি সম্প্রচার করবে এটিএন বাংলা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ওয়ালটনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি।’ এবার মার্সেল এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মার্সেল ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্ট-২০১৬’।

ঢাকা মেরিনার ইয়াংসের জার্সি উন্মোচন

সোমবার থেকে মাঠে গড়ানো ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টে শিরোপা জিততে চায় ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব। এমন লক্ষ্য নিয়েই এবার দল গঠন করেছে দেশের ঘরোয়া হকিতে মাঠে ও মাঠের বাইরে বরাবরই আলোচিত এ ক্লাবটি। প্রতি বছরই ভালো দল গড়লেও তাদের সাফল্যের টালিতে রয়েছে একবার লিগে রানার্স আপ এবং ক্লাব কাপ হকিতে দু’বার রানার্স আপ। তবে মতিঝিলের দলটি এবার আর পিছনে ফিরতে চায় না। এবারের হকি মৌসুম শুরুর আগেই তারা দল গোছাতে মাঠে নেমে দেশীয় খেলোয়াড়রে মধ্যে সব পজিশনেই সেরাদের দলে নিয়েছে। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার চয়ন ও আশরাফুল, ফরোয়ার্ড রিমন ও রাব্বি, বিকেএসপির সবুজ, শিশির, আরশাদ, মহসিন ও তপু এবং রাজশাহীর পারভেজ, প্রশান্ত ও রূপকে দলে নিয়েছে মেরিনার। পাশাপাশি যেসব জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা ছিল যেসব স্থানেও এনেছে বিদেশী খেলোয়াড়। তাদের বিদেশী খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছে জার্মানীর ফরোয়ার্ড নিকোলাই হেইঞ্জ এবং কেনিয়ার গোলরক্সক লিনাস কিপকেমবাই ও মিডফিল্ডার ওকিও উইলস। ২৭ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে আসছে মিডফিল্ডার জিওয়া মোহন এবং ফরেয়ার্ড জীবন মোহন। মেরিনারের এ তালিকা আপাতত কাল থেকে মাঠে গড়ানো ক্লাব কাপ হকির জন্য। লিগের জন্য ভারত ও পাকিস্তান থেকে আরো খেলোযাড় আসছে মেরিনারের তাবুতে। তবে ভালো দল গঠনের পাশপাশি কোচ হিসেবেই হাই প্রোফাইল একজনকে নিয়োগ দিয়েছে দলটি। এক সময় বাংলাদেশ জাতীয় দল ও ঢাকা মোহামেডানে দায়িত্ব পালন করা গেরহার্ড পিটারেরর হাতেই দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রোববার বিকেলে মতিঝিলের ক্লাব প্যাভেলিয়নে দলের কোচ ও খেলোয়াড়দের পরিচয়ের পাশাপাশি নতুৃন মৌসুমের জার্সিও উন্মোচন করা হয়। ক্লাবের হকি কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মমিনুল হক সাইদ খেলোয়াড়দের ও কোচকে পরিচয় করান। অনুষ্ঠানে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান উল্লাহ খান রানা, হকি সম্পাদক বদরুল ইসলাম দীপু ও জার্সি স্পন্সর সোয়েটার মেকার্সের সিইও এহসানুল হক উপস্থিত ছিলেন। আপাতত ক্লাব কাপের জন্য জাতীয় দলের পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিষ্ট মানুনুর রহমান চয়নকে দলের অধিনায়ক মনোনীত করা হয়েছে।

সোমবার শুরু হচ্ছে ক্লাব কাপ হকি

আগামী ২৫ এপ্রিল সোমবার থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ক্লাব কাপ হকি। দীর্ঘ দুই মৌসুম পর আবার একসঙ্গে মাঠে নামছে হকির তিন বড় দল আবাহনী, মোহামেডান ও ঊষা। তবে পিছিয়ে নেই মেরিনার্স। ভালো বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে তারাও চমক দেখাতে প্রস্তুত।
১২ দলের মধ্যে আজাদ, রেলওয়ে ও পুলিশ খেলছে না ঢাকা প্রিমিয়ার হকির ওয়ার্ম-আপ টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত প্রতিযোগিতাটি। টুর্নামেন্টের স্পনসর হিসেবে থাকছে মার্সেল।
এদিকে বুধবার রাতে হকি ফেডারেশনের গভর্নিং বডির এক সভায় মৃত্যুর কারণে শূন্য হওয়া দুটি সহ-সভাপতির পূরণ করা হয়েছে। দুই সহ-সভাপতি ইব্রাহিম সাবের ও মির্জা ফরিদ আহমেদ মিলুর মৃত্যুতে নতুন যে দুজনকে নেওয়া হয়েছে তারা হলেন মোহামেডানের হকি কমিটির সভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীর ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান।

‘ভেটারান’ হকি চালু করতে সাবেকদের মিলন মেলা

শুক্রবার সকালে বসেছিল মাঠ ছেড়ে দেওয়া হকি খেলোয়াড়দের মিলন মেলা। একসময় স্টিক হাতে খেলোয়াড়ী জীবনে মাঠ কাঁপিয়েছেন এই তারকারা। বয়সের ভারে প্রতিযোগিতামূলক হকি থেকে দূরে সরে গেলেও মাঠ তো তাদের এখনও টানে। আর সে টানেই মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ছুটে আসা। উদ্দেশ্য ছিল ‘ভেটারান’ হকিটা যদি আবারও চালু করা যায়।
প্রতিবছর হকি ফেডারেশনের কাছে বিদেশে ভেটারান হকিতে খেলার জন্য আমন্ত্রণ আসে। অথচ সংগঠিত কোনও উদ্যোগ না থাকায় সে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। এমনকি ভেটারান হকি প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন থাকা সত্ত্বেও এটি দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়। আর একে পুনরুজ্জ্বীবিত করার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আজকের মিলন মেলায়। সঙ্গে খেলোয়াড়রা নিজেদের মাঝে একটি প্রীতি ম্যাচও খেলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ, আনভির আদিল খান, মামুনুর রশিদ, মাহবুব এহসান রানা, জামাল হায়দার, আবদুল্লাহ পিরু, কামরুল ইসলাম কিসমত, মীর মঞ্জুর আহমেদ, সৈয়দ মনসুরুল হক, হাফিজুর রহমান, ইরতেজা কাদের গুড্ডু, ফয়সাল আহসানউল্লাহ, মোহাম্মদ জাভেদ, রিয়াজ আহমেদ দিপু, মো. এহতেশাম, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সৈয়দ সাইদুল হক, এম রুহুল আমিন, ফজলুল হক ফজলু, শহিদুল্লাহ দোলন, কাদিরি, সেলিম লাকি।

স্বাধীনতা দিবস হকির শিরোপা জিতলো নৌবাহিনী

প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা দিবস হকির শিরোপা জিতেছে জাতীয় দলের তারকা খচিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আজ মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৫-১ গোলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নৌবাহিনী।
শিরোপা হাতে নৌবাহিনীর উল্লাস
বর্তমান জাতীয় দলের নয়জন ও সদ্য বাদ পড়া দুই জন মোট ১১ জন জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়ে খেলেছে নৌবাহিনী। অন্যদিকে বিমানবাহিনীর পক্ষে খেলেছেন বর্তমান জাতীয় দলের পাঁচ জন খেলোয়াড়। অন্যরা অবশ্য জাতীয় যুব দলের। তাই শক্তি, সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতায় নৌবাহিনীই ছিল এগিয়ে। শেষ পর্যন্ত তাদের শ্রেষ্ঠত্বেই শেষ হয়েছে শিরোপার লড়াই।
প্রথমার্ধে কিন্তু লড়াই ছিল কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমান সমান। ২৮ মিনিটে ড্র্যাগ অ্যান্ড ফ্লিক স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন তার প্রিয় ধারায় দলের দ্বিতীয পেনাল্টে কর্নারে দলকে এগিয়ে দেন। কম্বিনেশন ছিল কৃষ্ণার পুশ ও সারওয়ারের স্টপ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৩০ মিনিটে সমতা আনে বিমানবাহিনী। গোলরক্ষক অসিম গোপ বিমানবাহিনীর ফরোয়ার্ড পুস্কর খিসা মিমোকে ডি-বক্সের মধ্যে ফেলে দিলে পেনাল্টি দেন আম্পায়ার শাহবাজ আলি। তাতে গোল করতে ভুল করেননি মিডফিল্ডার মাহবুবুর রহমান।
প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ছিল ভিন্ন চিত্র। এ অর্ধে চারটি গোল হজম করে বিমানবাহিনী। যার মাঝে পেনাল্টি কর্নারে ৪৯ ও ৬২ মিনিটে দুটি গোল করেন চয়ন। ৪২ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন কৃষ্ণা কুমার ও তৃতীয়টি আসে মিডফিল্ডার কামরুজ্জামান রানার স্টিক থেকে।
প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ, স্পনসর অঞ্জনসের হেড অব মার্কেটিং মাহিন মোজাম্মেলসহ অন্যন্য কর্মকর্তারা।বিজয়ী দল পঞ্চাশ ও রানার্স-আপ দল ২৫ হাজার টাকার প্রাইজ মানি লাভ করে। শান এ মোঘল রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে সেরা খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি ও সর্বাধিক গোলদাতা কৃষ্ণ কুমারকে দশ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

স্বাধীনতা কাপ হকির ফাইনালে বিমান বাহিনী-নৌ বাহিনী

গোলরক্ষক সজিবের অনন্য নৈপুণ্যে জয় পায় বিমান বাহিনী। প্রথমবারের মতো কোনও বড় মাপের হকি টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
আজ রবিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অঞ্জনস স্বাধীনতা কাপ হকির প্রথম সেমিফাইনালে বিমান বাহিনী পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৫-৩ গোলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হারিয়ে ফাইনালে নাম লেখায়। অন্য সেমিফাইনালে ফেভারিট বাংলাদেশ নৌ বাহিনী ৬-৩ গোলে বিকেএসপিকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে।
বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর খেলা নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ গোলে ড্র ছিল। বিমান বাহিনীর খোরশেদুর রহমান পিসিতে দুটি ও পুস্কর ক্ষিসা মিমো ১টি ফিল্ড গোল করেন। সেনাবাহিনীর মিলন হোসেন ২টি এবং আব্দুল মালেক একটি গোল করেন। শ্যুটআউটে গোলরক্ষক সজিবের অনন্য নৈপুণ্য সেনাবাহনীর মিলন, মালেক, সাব্বির রানা ও মোহান্তিকে গোল করতে না দেওয়ায় ফাইনালে খেলার আনন্দে মেতে ওঠে বিমান বাহিনী।
জাতীয় দলের ১১ জন খেলোয়াড় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষে কৃষ্ণকুমার দাস ও মাইনুল ইসলাম ২টি করে ফিল্ড গোল এবং মামুনুর রহমান চয়ন ও সারোয়ার হোসেন ১টি করে ফিল্ড গোল করেন।
বিকেএসপির ড্র্যাগ অ্যান্ড ফ্লিক স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলাম পিসিতে দুটি ও তানজিম আহমেদ অন্য গোলটি করেন। সোমবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

স্বাধীনতা দিবস হকির শেষ চারে সেনাবাহিনী-বিমান বাহিনী

অঞ্জন’স স্বাধীনতা দিবস হকির সেমিফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী ও বিকেএসপি। আগামী রবিবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে প্রথম সেমিফাইনালে সেনাবাহিনী খেলবে বিমান বাহিনীর বিপে আর পৌনে ৪টায় নৌ বাহিনী খেলবে বিকেএসপির বিপ।ে
শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় সেনাবাহিনী ৭-৬ গোলে বিকেএসপিকে পরাজিত করে। এ ম্যাচে ঝলসে উঠেছিলেন বিকেএসপির পে খেলা জাতীয় দলের ড্র্যাগ অ্যান্ড ফিক স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলাম। বিকেএসপির ছয়টি গোলের পাঁচটিই তার স্কুপ থেকে করা। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর ছয়টি ছিল ফিল্ড গোল। সেনাবাহিনীর পে মিলন হোসেন ২টি, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, রিপন কুমার মহন্ত, সাব্বির রানা একটি করে ফিল্ড গোল এবং সোহাগ পিসিতে অন্য গোলটি করেন।
দিনের দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশ নৌ বাহিনী ৫-২ গোলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে পরাজিত করে। নৌ বাহিনীর জাতীয় ফরোয়ার্ড কৃষ্ণ কুমার ৩টি ফিল্ড গোল, কৌশিক ও রোম্মান সরকার ১টি করে ফিল্ড গোল করেন। বিমান বাহিনীর পে গোল দুটি করেন হাসান যুবায়ের নিলয় ও মাহবুব হোসেন। সেমিফাইনালের বিজয়ী দুটি দল ফাইনাল খেলবে ১৪ মার্চ।

স্বাধীনতা দিবস হকিতে বিমান বাহিনীর বড় জয়

অঞ্জনস স্বাধীনতা দিবস হকিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৭-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশকে। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আজ দিনের অন্য খেলায় বিকেএসপি ৩-০ গোলে অ্যাজাক্স এসসিকে হারিয়ে দেয়। বিমান বাহিনীর সাতটি গোলের তিনটি করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ও পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট খোরশেদুর রহমান। প্রসেনজিৎ দুটি, মাহবুব ও শামিম মিয়া একটি করে গোল করেন। পুলিশের হয়ে গোল দুটিও ছিল পেনাল্টি কর্নার থেকে আদায় করে নেওয়া। দুটি গোলই করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান চন্দন। বিকেএসপির মো. মহসিন ২টি ও মো. তানজিম আহমেদ একটি গোল করেন। এই তিনটি গোলই ছিল ফিল্ড গোল।

স্বাধীনতা দিবস হকিতে নৌ-বাহিনীর শুভ সূচনা

অঞ্জণ’স স্বাধীনতা দিবস হকিতে ১০-১ গোলে বাংলাদেশ পুলিশকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে তারকা খচিত বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। দিনের অন্য খেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৭-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাজাক্সকে।
বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাতীয় ফরোয়ার্ড কৃষ্ণ কুমার ও মাইনুল ইসলাম কৌশিক উভয়ে তিনটি করে ফিল্ড গোল করেন। আরেক জাতীয় ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি দুটি এবং রোমান সরকার ও দ্বীন ইসলাম একটি করে গোল করলে বড় জয় পায় নৌ বাহিনী। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে লালন করেন একমাত্র গোলটি।
দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলন হোসেন, শুভ কুমার ও আবদুল মালেক প্রত্যেকে দুটি করে গোল করেন। অন্য গোলটি আসে সিরাজুল ইসলামের স্টিক থেকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অঞ্জন’স এর হেড অব মার্কেটিং মাহিন আহমেদ মোজাম্মেল। ফেডারেশনের সহসভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ, টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক আনভীর আদিল খান।

শুরু হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস হকি

মওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস হকি। প্রথম দিনের খেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট সম্পর্কে গণমাধ্যমকে আবহিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাধীনতা দিবস হকির এবারের আসরে ৬টি দল দু’টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। ‘ক’ গ্রুপে বিকেএসপি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনি ও অ্যাজাক্স এসসি। আর ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টটির শেষ আসরে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
৭ দিনের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১৪ই মার্চ। টুর্নামেন্টটির পৃষ্ঠপোষকতায় থাকছে ফ্যাশন হাউজ অঞ্জন’স আর আয়োজন করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারশেন।

ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকির সুপার লিগে নড়াইলের জয়

দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় ২৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ছে ‘ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি-২০১৬।’ এই প্রতিযোগিতা চলবে ৬ মার্চ পর্যন্ত।
ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকি প্রতিযোগিতার পঞ্চম দিন শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে সুপার লিগের খেলা।
সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার বিকেল ৩টায় মুখোমুখি হয় নড়াইল ও রাজশাহী জেলা। ম্যাচে নড়াইল ৩-০ গোলে রাজশাহী জেলাকে পরাজিত করে। নড়াইল জেলার হয়ে কিমি কর্মকার ২২ মিনিটে ১টি, নমিতা কর্মকার ২৪ মিনিটে ১টি ও তাসলিমা তামান্না ৪৪ মিনিটে ১টি গোল করেন।
শনিবার সুপার লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে রাজশাহী মুখোমুখি হবে ঝিনাইদহ জেলার। ম্যাচটি যথারীতি বিকেল ৩টায় মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু হবে।
উল্লেখ্য, এবারের ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নিয়েছে। দলগুলো হল- নড়াইল, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ, ঢাকা, রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁও জেলা। ৯টি দলকে ৩টি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিযোগিতা হয়। তিন গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার লিগে উঠেছে নড়াইল, রাজশাহী ও ঝিনাইদহ জেলা।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি এটিএন বাংলা সরাসরি সম্প্রচার করবে। এবারের ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকিতে থাকছে ১ লাখ টাকা প্রাইজমানি। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি ও ৬০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। আর রানার আপ দল ট্রফি ও ৪০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা পাঁচ খেলোয়াড়কে ওয়ালটনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকিতে ঝিনাইদহ ও কিশোরগঞ্জের জয়

ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার তিনটি ম্যাচ মাঠে গড়ায়। সকাল ১১টায় রাজশাহী জেলা মুখোমুখি হয় ঠাকুরগাও জেলার। ম্যাচটি অবশ্য গোল শুন্য ড্র হয়।
দিনের দ্বিতীয় খেলা মাঠে গড়ায় বেলা আড়াইটায়। এই ম্যাচে ঝিনাইদহ জেলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পটুয়াখালী জেলার বিপক্ষে। ম্যাচে ঝিনাইদাহ জেলা ২-০ গোলে পটুয়াখালী জেলাকে পরাজিত করে। ঝিনাইদাহ জেলার পক্ষে শারমিন খাতুন ২৯ মিনিটে ও ৪৮মিনিটে ২টি ফিল্ড গোল করেন।
আর বিকেল সোয়া চারটায় দিনের তৃতীয় ম্যাচে কিশোরগঞ্জ জেলা মুখোমুখি হয় রংপুর জেলার। এই ম্যাচে অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ জেলা ৯-০ গোলে রংপুর জেলাকে পরাজিত করে।
কিশোরগঞ্জ জেলার পক্ষে তানহা তারান্নুম ২টি, সুমি আক্তার ২টি, বিনা আক্তার ২টি ও গোলফারদিয়া আক্তার ২টি ফিল্ড গোল করেন। এ ছাড়া তারিন আক্তার খুশি ১টি গোল করেন।
ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকির তৃতীয় দিনে বুধবার সকাল ১১টায় মুখোমুখি হবে দিনাজপুর জেলা ও পটুয়াখালী জেলা। দুপুর আড়াইটায় নড়াইল জেলা ও রংপুর জেলা এবং বিকেল সোয়া চারটায় ঢাকা জেলা ও রাজশাহী জেলা মুখোমুখি হবে।

ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি শুরু

দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় সোমবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ছে ‘ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি-২০১৬।’ এই প্রতিযোগিতা চলবে ৬ মার্চ পর্যন্ত।
বিকেলে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন)।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ, ওয়ালটন গ্রুপের এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ, টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক আনভীর আদিল খানসহ ফেডারেশনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়ালটন গ্রুপের কর্মকর্তা এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার এক বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা প্রায় সবগুলো ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। এর আগেও আমরা জাতীয় মহিলা হকির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। আসলে ওয়ালটন গ্রুপ নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণে বিশ্বাসী। সে কারণে নারীদের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে আমরা জোর দেওয়ার চেষ্টা করি। আশা করছি এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ভালো কিছু খেলোয়াড় উঠে আসবে। যারা এক সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘হকি ফেডারেশনের কাছ থেকে আরো বেশ কিছু প্রস্তাব পেয়েছি আমরা। ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় এরপর হকি ফেডারেশনের সর্বোচ্চ আসর ফেডারেশন কাপ ও ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবো। ওয়ালটনের মতো আরো যারা কর্পোরেট হাউস রয়েছে তারা এগিয়ে আসলে অচিরেই আগের মতো হকির সুদিন ফিরে আসবে।’
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের কোনো এক ক্যাটাগরিতে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরস্কার চালু করার বিষয়টি উল্লেখ করে ইকবাল বিন আনোয়ার বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি। আবারও বলছি। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের কোনো একটি ক্যাটাগরিতে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করলে ক্রীড়াঙ্গনে পৃষ্ঠপোষকতায় আরো অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে। বিষয়টি আমাদের মাতৃতুল্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার অনুরোধ থাকল।’
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ বলেন, ‘ওয়ালটন গ্রুপ এর আগেও জাতীয় মহিলা হকিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। আবারও তারা হকির পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসায় ওয়ালটন গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করব ভবিষ্যতেও তারা হকির পাশে থাকবে। হকির উন্নয়নে অবদান রাখবে।’
এবারের ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি টুর্নামেন্টে ৯টি দল অংশ নিয়েছে। ৯টি দলকে ৩টি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দলগুলো হল- নড়াইল জেলা, রংপুর জেলা, কিশোরগঞ্জ জেলা, দিনাজপুর জেলা, পটুয়াখালী জেলা, ঝিনাইদহ জেলা, ঢাকা জেলা, রাজশাহী জেলা ও ঠাকুরগাও জেলা।
উদ্বোধনী ম্যাচে নড়াইল জেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলা মুখোমুখি হয়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করে এটিএন বাংলা। কিমি কর্মকারের একমাত্র গোলে কিশোরগঞ্জকে ১-০ গোলে হারায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নড়াইল। এছাড়া দিনের অন্যান্য ম্যাচের মধ্যে ঢাকা জেলাকে ১-০ গোলে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর-ঝিনাইদাহর মধ্যকার ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।
এবারের ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকিতে ১ লাখ টাকা প্রাইজমানি থাকছে। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি ও ৬০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। আর রানারআপ দল ট্রফি ও ৪০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। এছাড়া টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা পাঁচজন খেলোয়াড়কে ওয়ালটনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

রবিবার শুরু হচ্ছে ওয়ালটন মহিলা হকি লিগ

রবিবার থেকে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ৩য় ওয়ালটন মহিলা হকি লিগ। শনিবার বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ।
এসএ গেমসের জন্য তিন সপ্তাহ দেরিতে শুরু হচ্ছে মহিলা হকির একমাত্র এই টুর্নামেন্ট। আগের আসরে ছয় দল অংশ নিলেও এবার নিচ্ছে নয়টি দল। নয় দল তিন গ্রুপে খেলবে। তিন গ্রুপের সেরা দল পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়নের জন্য খেলবে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্য গ্রুপ তিনটি করে দ্রুত টুর্নামেন্ট শেষ করছে হকি ফেডারেশন।
২৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হবে ৬ মার্চ। এবার হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ নড়াইল জেলা দলের। প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন তারা। প্রথম দুই আসরের রানার্স আপ দিনাজপুরের মিউনিসিপ্যাল স্কুল। এবার অংশগ্রহণকারী জেলাগুলো হলো- নড়াইল, রংপুর, কিশোরাগঞ্জ ( ক-গ্রুপ ), দিনাজপুর, পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ (খ-গ্রুপ ), ঢাকা, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও (গ-গ্রুপ )। প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচ খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করবে পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ।

মাঠে গড়াচ্ছে ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকি

মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ওয়ালটন তৃতীয় জাতীয় মহিলা হকি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সঙ্গে আগেও সম্পৃক্ত হয়েছিল দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। আবারও হকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রীড়া বান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় শিগগিরই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ‘ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকি-২০১৬।’
এবারের ওয়ালটন জাতীয় মহিলা হকিতে ১ লাখ টাকা প্রাইজমানি থাকছে। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি ও ৬০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে। আর রানারআপ দল ট্রফি ও ৪০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পাবে।
এ বিষয়ে ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) জানান, ‘ওয়ালটন গ্রুপ সর্বদাই নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণে বিশ্বাসী। আমরা চাই ক্রীড়াঙ্গনের নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে। তারই ধারাবাহিকতায় ওয়ালটন গ্রুপ তৃতীয়বারের মতো জাতীয় মহিলা হকিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা তাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি করতে পারবে। পাশাপাশি তারা আর্থিকভাবেও কিছুটা লাভবান হবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ জানান, ‘ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় শিগগিরই আমরা জাতীয় মহিলা হকি লিগ আয়োজন করব। এ ছাড়া আরো দুটি টুর্নামেন্ট ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে ওয়ালটন গ্রুপ স্বল্প সময়ে শুধু হকি নয়, সবধরনের খেলাধুলায় যেভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে সেটা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। সংগঠক হিসেবে আমাদের জন্যও সেটা খুশির। কারণ, যেখানে স্পন্সর পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, সেখানে ওয়ালটন তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের আমি স্যালুট জানাই। আশা করব ভবিষ্যতেও ওয়ালটন গ্রুপ হকির পাশে থাকবে।’

বিসিবির পদক্ষেপকে ধন্যবাদ জানালো হকি ফেডারেশন

বিদেশি কোচ নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আর্থিক সহায়তার আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তাদের প্রত্যাশা বিসিবির এই উদ্যোগ হকির উন্নয়নে ফেলবে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব।
হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ বিসিবিকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘আমরা কয়েকমাস আগে বিসিবিকে এই আহবান জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম বিদেশি কোচ আনলে তারা সহায়তা করতে পারবে কিনা। বিসিবি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ উদ্যোগ হকির উন্নয়নে কার্যকরী প্রভাব রাখবে।’
নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে রহমতউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পছন্দ বেলজিয়ামের মাইকেল কিনান। তিনি এর আগেও বাংলাদেশে এসেছেন এবং খেলোয়াড়রাও তার কোচিং স্টাইলে উজ্জীবিত হয়েছিল। তবে তাকে না পেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভালো কোচ আনার ইচ্ছে আছে। আমরা অচিরেই সভা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো এবং বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবো।’
উল্লেখ্য, এর আগে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংক বিদেশি কোচকে বেতন দেওয়ার ব্যাপারে হকি ফেডারেশনকে সহায়তা করেছিল।

হকিতে বাংলাদেশের জয়

আগের দিন ভারতের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হারলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার গোহাটির মওলানা মো. তৈয়ব আহাম্মেদ হকি স্টেডিয়ামে সারোয়াদের জয়টি ছিলো ২-০ গোলের। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোলদু’টি করেছেন রাসেল মাহামুদ জিমি ও খোরশেদুর রহমান।

হকিতে ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙবে?

হকির বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ভারত সপ্তম, পাকিস্তান দশম; বাংলাদেশ ২৯তম। শ্রীলঙ্কা আরও পেছনে। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) তাই ব্রোঞ্জের ছকে বাংলাদেশ। এর বাইরেও হিসাব আছে; তবে সেটা আশার নিরিখে। খেলোয়াড় হিসেবে এসএ গেমসের ব্রোঞ্জ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের বর্তমান কোচ মাহবুব হারুনের। এবারের বাস্তবতাও তার ভালো জানা। কিন্তু স্বপ্নটাকে কোনোভাবেই ছোট রাখতে চান না তিনি।
“ভারত-পাকিস্তানের পরেই আমাদের স্থান। যদি এখানে মিরাকল কিছু হয়ে যায়; আমরা তো ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করবই।”
এসএ গেমসে চার দল নিয়ে খেলা হবে লিগ ভিত্তিক। সেরা দুই দল নামবে সোনার লড়াইয়ে। বাকি দুই দল খেলবে ব্রোঞ্জের জন্য। ব্রোঞ্জের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সালে মাদ্রাজের আসরে এবং এরপর ১৫ বছর বিরতি দিয়ে ২০১০ সালেও ব্রোঞ্জ।
দলবদলের গেরো খোলার পর শুরু হওয়া মাস দুয়েকের প্রস্তুতি নিয়েই ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙার ছক কষছেন হারুন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার ঘাটতি কিভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে দুর্ভাবনা আছে তার।
“ডিফেন্সিভ নয়, আমরা আক্রমণাত্মকই খেলব। প্রস্তুতিও খারাপ না। কিন্তু আমরা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে পারছি না। এ নিয়ে উদ্যোগ ছিল কিন্তু সেটা কাজে লাগানো যায়নি। ফলে আমি কি শেখালাম, ওরা কি শিখল, কোনো ঘাটতি আছে কিনা তা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছি না। সরাসরি আমরা টুর্নামেন্ট শুরু করব।”
৪৪ জন থেকে নেমে আসা ১৮ জনের চূড়ান্ত দলে অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশেল চোখে পড়ার মতো। রাসেল মাহমুদ জিমি, কৃষ্ণ কুমার, পুস্কর খীসা মিমোর কাঁধে আক্রমণভাগের জোয়াল; রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব ফরহাদ আহমেদ সিটুল, রেজাউল বাবুর; গোলপোস্ট আগলের রাখার জন্য অসীম গোপের সঙ্গে জাহিদও রয়েছেন। পেনাল্টি কর্নারের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা মামুনুর রহমান চয়নকে পেছনে ফেলে চূড়ান্ত দলে এবার জায়গা করে নিয়েছেন বিজয় দিবস হকিতে আলো ছড়ানো আশরাফুল ইসলাম। বিকেএসপির এই তরুণের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ খোরশেদুর রহমান।
বিজয় দিবস হকিতে পেনাল্টি কর্নার থেকে ১১ গোল করা আশরাফুলকে নিয়ে কোচ দারুণ উচ্ছ্বসিত। উঠতি এই তারকাও প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে মুখিয়ে আছেন, “এসএ গেমসে দলকে যতগুলো সম্ভব গোল এনে দিতে চাই।”
গত দুই আসরের ব্যর্থতা এখনও তাড়া করে ফেরে জিমিকে। ২০০৬ সালের কলম্বো গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে লাল কার্ড পেয়েছিলেন জিমি; এরপর হেরে খালি হাতে দেশে ফেরা। পরের আসরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
“এবার লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। সেবার (গতবার) আমরা পাকিস্তানের কাছে জেতা ম্যাচ হেরেছি। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হবে; ভালো একটা দলকে হারাতে হবে, তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।”
দল নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক সারোয়ার হোসেনও। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারা নিয়েও খুব একটা দুর্ভাবনা নেই তার, “বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট প্রস্তুতি ম্যাচের অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করেছে।”
“প্রথম ম্যাচের জয়ের ভাবনা সবারই থাকে। তবে আমাদের ভাবতে হবে কাদের বিপক্ষে খেলছি। আমরা বলছি না তাদের (ভারত) বিপক্ষে জিতব, তবে লক্ষ্য থাকবে আগে যেভাবে খেলেছি, তার চেয়ে ভালো খেলার,” ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙতে আপাতত এতটুকুই অধিনায়কের পরিকল্পনা।

মেরিনার্সের হয়েই মাঠে নামবেন আশরাফুল

জাতীয় হকি দলের উঠতি তারকা এবং ড্র্যাগ অ্যান্ড ফ্লিক স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে দড়ি টানাটানি করছিল আবাহনী লিমিটেড ও মেরিনার্স। শেষ পর্যন্ত এতে জয়ী হয়েছে মেরিনার্স। সামনের প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে মেরিনার্সের হয়েই মাঠে নামবেন পেনাল্টি কর্নারে স্কুপ করতে সিদ্ধহস্ত এই ডিফেন্ডার।
আবাহনী দাবি করছিল প্রিমিয়ার হকির সর্বশেষ আসরে আশরাফুল তাদের খেলোয়াড় ছিল বলে ‘বাইন্ডিং’ খেলোয়াড় হিসেবে আশরাফুল আবাহনীতেই খেলবে। হকি ফেডারেশনেও আশরাফুলের কাগজপত্রের হদিস মিলছিল না। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেরিনার্স ২০১২-১৩ মৌসুমে আশরাফুলের সঙ্গে করা চুক্তির ফটোকপি নিয়ে আজ মঙ্গলবার হকি ফেডারেশনে আসে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সেটি দেখায়।
উল্লেখ্য, আশরাফুল সোমবার মেরিনার্সের পক্ষেই সই করেন। আশরাফুল সম্পর্কে মেরিনার্সের শীর্ষ কর্মকর্তা আলমগীর কবীর বলেন, ‘আশা করি আশরাফুলের ব্যাপারে আর কোনও বিতর্ক থাকবে না। সে আমাদেরই খেলোয়াড় ছিল এবং এবারও সে মেরিনার্সের হয়েই খেলবে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হকি ফেডারেশনকে দেখিয়েছি।’
আশলাফুল সাম্প্রতিক সময়ে পেনাল্টি কর্নারে স্কুপ করে গোল করতে ব্যাপক উন্নতি করেছেন এবং আসন্ন এসএ গেমসে আরেক পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট খোরশেদুর রহমানের সঙ্গে দলের প্রত্যাশার ভার বহন করছেন।

৪ জাতীয় হকি তারকাকে নিলো আবাহনী

সমর্থকদের উষ্ণ ভালোবাসায় ও শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয়ে আসন্ন হকি মৌসুমে শক্তিশালী দল গঠন করেছে আবাহনী লিমিটেড। আজ মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী জাতীয় স্টেডিয়ামে তিনদিন ব্যাপী প্রিমিয়ার ডিভিশন হকির দল বদলের শেষ দিনে জাতীয় হকি দলের চার তারকাসহ মোট ১৫ জনকে স্বাক্ষর করিয়েছে আবাহনী।
আবাহনীর জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা হলেন- গোলরক্ষক অসীম গোপ, ডিফেন্ডার ও ড্র্যাগ অ্যান্ড ফ্লিক স্পেশালিস্ট খোরশেদুর রহমান, ডিফেন্ডার ফরহাদ আহমেদ শিটুল এবং মিডফিল্ডার রোম্মান সরকার। সঙ্গে আছেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ডিফেন্ডার মশিউর রহমান বিপ্লব, উইঙ্গার শেখ মো. নান্নু, ফরোয়ার্ড মাকসুদ আলম হাবুল। আবাহনীর দলবদলের বৈশিষ্ট্য হলো তাদের স্বীকৃত কোনও দেশি ফরোয়ার্ড নেই। এ বিভাগে তারা পুরোপুরি বিদেশি নির্ভর থাকবে।
দলের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড আলমগীর আলম। আর ভিন্ন দৃষ্টিতে তিনি দেখছেন এবারের দল বদলকে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সার্ভিসেস দলে খেলা বা চাকুরি করার সুবাদে দেশের শীর্ষ হকি খেলোয়াড়দের এবার সম্মানী অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। সার্বিকভাবে এটি হকির জন্য ইতিবাচক নয়, আশা করি আগামীতে এ চিত্র বদলে যাবে।’
নিজ দল সম্পর্কে আলমগীর বলেন, ‘আবাহনী মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড লাইনে বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করবে। অন্যান্য বিভাগে দেশের সেরা খেলোয়াড়ই নেওয়া হয়েছে। বিদেশিদের সমন্বয়ে আমাদের দলই সেরা হবে এবং আমরা আমাদের শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখার জন্যই মাঠে নামবো’
জাতীয় দলের গোলরক্ষক অসীম গোপের বিশ্বাস আবাহনী শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখবে। তিনি আরও বলেন, ‘আবাহনী খেলেই শিরোপার জন্য, দলে রয়েছে নবীন ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়। শুনেছি ভালো বিদেশি খেলোয়াড় আনা হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হবে।’
আবাহনী হকি দল: অসীম গোপ, খোরশেদুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ শিটুল, রোম্মান সরকার, মশিউর রহমান বিপ্লব, শেখ মো. নান্নু, মাকসুদ আলম হাবুল, শোয়েব, মেহেদী, আজিজ, তানজিল, রাজিব, ওয়ালিদ, মিজু, রুবেল।
উপদেষ্টা কোচ- মাহবুব হারুন, হেড কোচ-আলমগীর আলম।

পাকিস্তানি গোলরক্ষক কোচকে আনছে হকি ফেডারেশন

দুই সপ্তাহের জন্য পাকিস্তানি গোলরক্ষক কোচ মনসুর আহমেদকে ঢাকায় আনার চেস্টা করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হকি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ।
২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ হকি দলের গোলরক্ষক কোচ ছিলেন মনসুর আহমেদ। তারই শেখানো কৌশলে উজ্জীবিত ছিলেন কিপার অসীম গোপ। সে সময়ে দলের কিপিংয়ের চেহারাই পাল্টে দিয়েছিলেন এই অলিম্পিয়ান। যে কারণে এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টিকিট পায় ইনচনের। মনসুরকে বাংলাদেশে আনার ব্যাপারে যথেস্ট সহযোগিতা করেন ওই সময়ে হকি জাতীয় দলের পাকিস্তানি কোচ নাভিদ আলম।
এ প্রসঙ্গে খাজা রহমতউল্লাহ বলেন, ‘ওই সময়ে মনসুর খুব ভালো প্রাকটিস করিয়েছেন। তার কারণেই গোলরক্ষকরা সাহস সঞ্চয় করেছে। তাই আমরা আবারও মনসুরকে আনার চেষ্টা করছি। তাকে ও পাকিস্তান বোর্ডকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক মতো হলে ১৭ জানুয়ারি আসতে পারে সে। যদিও বেশি দিন হাতে নেই। তারপরও মনে করছি, যেহেতু অসীম, নিপ্পন আগেও তার কাছে অনুশীলন করেছে। সেহেতু ১২ দিনেই অনেক কিছু শিখতে পারবে। যা এসএ গেমসে অনেক কাজে দিবে। তার থাকা-খাওয়া যাতায়াতের ব্যবস্থা আমরাই করবো। এছাড়া এই ক‘দিনে এক হাজার ডলার বেতন দেওয়ার কথাও বলেছি। যদিও সে আড়াইহাজার ডলারের কথা বলেছে।’
মনসুরের প্রসঙ্গ উঠতেই অসীম গোপের উচ্ছ্বসিত কণ্ঠ। বলেন, ‘পুরোপুরি না পেয়েও ১০-১২ দিন যদি কোনও কোচকে পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই ভালো হবে। আর সে যদি হয় মনসুরের মতো কোচ। তাহলে তো পোয়াবারো।’
অসীমের কথা শেষ না হতেই তার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান পাকিস্তানের সেরা গোলকিপার ইমরান বাট এই মনসুরের হাতে গড়া। এর আগে সালমান আকবর। তার আগে মালয়েশিয়ার এস কুমার। যারা এশিয়ায় সেরা হিসেবে স্বীকৃত। তাকে যদি হকি ফেডারেশন ৬ মাস হতে একবছর রাখতে পারে। তাহলে এশিয়ায় বাংলাদেশ হতে সেরা কিপার তৈরি হবে।’

চয়নকে ছাড়াই হকির দল ঘোষণা

আগামী ০৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠিত হবে এসএ গেমস। দ্বাদশ আসরকে সামনে রেখে ১৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তবে, ১৮ সদস্যের দলে নাম নেই অভিজ্ঞ মামুনুর রহমান চয়নের। ৯ বছর পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন এই ডিফেন্ডার। দুই বছর পর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেছেন গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন।
কৃষ্ণ দাসকে সরিয়ে নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে সারোয়ার হোসেনকে। বাংলাদেশের কোচ মাহবুব হারুনের অধীনে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে এসএ গেমসের জন্য অনুশীলন করছে হকি দল।
বাংলাদেশ দল:
সারোয়ার হোসেন (অধিনায়ক), অসীম গোপ, জাহিদ হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, ইমরান হাসান পিন্টু, রেজাউল করিম, ফরহাদ আহমেদ, খোরশেদুর রহমান, তাপস বর্মণ, হাসান জুবায়ের নিলয়, রোমান সরকার, ফজলে হোসেন রাব্বি, সাব্বির হোসেন, মইনুল ইসলাম, পুষ্কর খীসা মিমো, রাসেল মাহমুদ জিমি, মিলন হোসেন ও কৃষ্ণ দাস।
স্ট্যান্ডবাই: আবু সাঈদ, বেলাল হোসেন, নাঈম উদ্দিন ও দ্বীন ইসলাম।

মীর্জা ফরিদ আহমেদের দাফন সম্পন্ন

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মীর্জা ফরিদ আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার উত্তরায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এর আগে রোববার সকালে মরহুমদের প্রথম নামাজ এ জানাযা মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। তার নামাযে জানাযায় ফেডারেশনের কর্মকর্তা, প্রিমিয়ার, প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতির পক্ষ থেকে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ দল তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এছাড়াও জানাযায় ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আলমগীর মো: আদেল, জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রথম সচিব কাজী আনিসুর রহমান, সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহা-সচিব বশির আহমেদ, হাবিবুল আলম (বীর প্রতিক) প্রখ্যাত প্রবীন ক্রীড়া সাংবাদিক মো: কামরুজ্জামান, পূর্ব পাকিন্তান দলের হকি খেলোয়াড় মীর আনোয়ার করিম,বুলবান, আব্দুল মজিদ, সাইদ, সাবেক জাতীয় হকি খেলোয়াড় এহতেশাম সুলতান, প্রতাপ শংকর হাজরা, বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতি হাসানউল্লাহ খান রানা, বাহফের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো: আলমগীর কবীর, সাবেক জাতীয় হকি খেলোয়াড় এহসান নাম্মি, হোসেন ইমাম চৌধুরী শান্টা, ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদ এ এ আদেল, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ, আব্দুর রশিদ শিকদার, ক্রীড়া পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তারিকউজ্জামান নান্নু ও ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি আয়োজিত অগ্রজ ক্রীড়া সংগঠক সম্মাননা দেয়া হয় মীর্জা ফরিদ আহমেদ মিলুকে। তিনি এর আগেও ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরার পুরস্কার পান। ক্রীড়াঙ্গণের অতি পরিচিত মুখ মিলুর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। গত ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। তিনি ২ কন্যা ও এক পুত্র সন্তান ও স্ত্রী রেখেসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার তিন সন্তানই আমেরিকা প্রবাসী। তারা রোববার সকালে দেশে ফেরার পর হকি স্টেডিয়ামে মীর্জা ফরিদের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর উত্তরার ৪নং সেক্টর জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় তা দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। এর পর তার লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাদ আসর বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনে এক দোয়ার ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মাহফিলে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

মীর্জা ফরিদ আহমেদ এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

পিতার নাম : মরহুম আজিজ আহমেদ
মাতার নাম : মরহুমা আয়শা খাতুন
জন্ম : ২৮/১১/১৯৪৫ইং
জন্মস্থান : ফরিদপুর
নিজ জেলা : মানিকগঞ্জ
শিক্ষাগত যোগ্যতা : বি. কম, বি,আই,বি,এম
পেশা : ভাইস প্রেসিডেন্ট, (অব:) সিটি ব্যাংক লি:
খেলোয়াড়ী অভিজ্ঞতা :
ক) ১৯৫৮ সালে প্রথম বিভাগ হকি লীগে অংশগ্রহণ করেন।
খ) তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান হকি দলে ১৯৬২ সাল থেকে স্বাধীনতা পূর্ব পর্যন্ত অংশগ্রহন করেন। এ সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের একটি আঞ্চলিক দলের অধিনায়কত্ব করেন।
গ) ঢাকা জেলা হকি দলে নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। এসময়ে বহুবার অধিনায়কত্ব করেছেন এবং বহুবার ঢাকা জেলা দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন।
ঘ) ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হকি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মকর্তা হিসেবে অভিজ্ঞতা
ক) ১৯৭৫-১৯৮১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
খ) ১৯৮৪-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র সদস্য ছিলেন ।
গ) বর্তমানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হকি আম্পায়ার্স বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘ) ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ২৫ বছর হকি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
ঙ) ১৯৭৮ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ৮ম এশিয়ান গেমস এ বাংলাদেশ দলের সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন।
চ) ১৯৮৮ সালে ভারতের দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ যুব হকি দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন।
ছ) ২০০২ সালে কোরিয়ার বুশানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস এ বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন।

আম্পায়ার হিসেবে অভিজ্ঞতা
ক) সাবেক পূর্ব পাকিস্তান থেকে হকি আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের অধিনে আম্পায়ার হিসেবে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত খেলা পরিচালনা করেন।
খ) পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ও আন্তর্জাতিক গ্রেড ১ আম্পায়ার হিসেবে এশিয়ান হকি ফেডারেশন ও আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের অনেক টুর্ণামেন্টের খেলা পরিচালনা করেন।
গ) ৪টি এশিয়ান গেমস, বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা এবং ভারত বনাম পাকিন্তান এর মধ্যকার টেস্ট সিরিজ পরিচালনা করেন।
ঘ) বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র আন্তর্জাতিক গ্রেড ১ আম্পায়ার হিসেবে পদোন্নতি পায়।
ঙ) ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি ও ক্রীড়া সাংবাদিক সমিতি কর্তৃক প্রদত্ব শ্রেষ্ঠ আম্পায়ারের পুরস্কার লাভ করেন।
চ) এশিয়ান হকি ফেডারেশনের ডেভলপমেন্ট কমিটি ও আম্পায়ারিং কমিটির সদস্যর দায়িত্ব পালন করেন।
জ) এশিয়ান গেমস, এশিয়া কাপ, এশিয়ান গেমস কোয়ালিফাইং হকি টুর্ণামেন্ট এ টেকনিক্যাল অফিসার ও জাজের দায়িত্ব পালন করেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় মীর্জা ফরিদ নিহত

হকির নিবেদিত প্রাণ, এক সময়ের খ্যাতিমান হকি খেলোয়াড়-আন্তর্জাতিক হকি আম্পায়ার ও হকি ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হকি আম্পায়ার কমিটির সভাপতি মীর্জা ফরিদ মিলু আর নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন (ইন্না লিল্লাহে…রাজেউন)। তার অকাল মৃত্যু হকির অঙ্গনে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
তার মৃতদেহ রাখা হয়েছে এ্যাপোলো হাসপাতালে। বিদেশ থেকে তার সন্তানরা ফিরে আসার পর শনিবার মীর্জা ফরিদকে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

এক নজরে মীর্জা ফরিদ :

Milu

বিজয় দিবস হকি চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনী

বিজয় দিবস হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা ৩-২ গোলে হারিয়েছে বিকেএসপিকে। চ্যাম্পিয়ন দল নৌবাহিনীর পক্ষে গোল করেছেন মাইনুল ইসলাম কৌশিক, রোমান সরকার ও ফরহাদ আহমেদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মওলানা ভাষানী হকি স্টেডিয়ামে এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের মধ্য দিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে বাংলাদেশ নোবাহিনী। ম্যাচের শুরু থেকেই সমান আক্রমণ চালায় নৌবাহিনী ও বিকেএসপি। তবে, দু’দলের আক্রমণের প্রতিযোগিতায় প্রথমে সফল হয় নৌবাহিনী। প্রথমার্ধের ১৪ Hockey_2মিনিটে ফরহাদ আহমেদ শিটুলের মাঝ মাঠ থেকে নেয়া জোড়ালো শটটি বিকেএসপির ডিফেন্ডার শফিউল আলম ঠিক মত ক্লিয়ার করতে না পারায় আনমার্কড জাতীয় দলের মাইনুল ইসলাম কৌশিক পুশ করে দলকে ১-০ তে এগিয়ে দেন।
কৌশিকের গোলে নৌবাহিনী এগিয়ে গেলেও বিকেএসপির একের পর এক আক্রমণে তাদের এগিয়ে থাকা সম্ভব হয়নি। ২১ মিনিটে রাজু আহমেদের পুশ থেকে আজিজুল ইসলামের স্কুপ আর জাতীয় দলের চয়নের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠা আশরাফুলের পেনাল্টি কর্ণারের গোল বিকেএসপিকে ১-১ এ সমতা এনে দেয়।
খেলায় সমতা আসায় ঠিক যেন ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলনা নৌবাহিনী। তাই গোলের অন্বেষণে ৪৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে তারা দারুণ একটি আক্রমণ রচনা করে। আর সেই আক্রমনের পালে জোর হাওয়া লাগিয়ে নৌবাহিনীকে ২-১ এগিয়ে দেন রোমান সরকার।
রোমানের গোলে এগিয়েও থাকলেও নিজেদের জালকে বেশিক্ষণ অক্ষত রাখতে পারলেননা নৌ গোল রক্ষক। ৫২ মিনিটে বিকেএসপি’র সোহানুর রহমানের পেনাল্টি কর্ণারের গোলটি নৌ জালে আটকে গেলে খেলায় ২-২ এ সমতা আসে।
তবে এই সমতায় থাকা যেন নৌবাহিনীর লড়াকু সৈনিকদের চরিত্রের সঙ্গে খাপ খাচ্ছিলনা। তাই বার বারই আক্রমণ রচনা করে চাইছিলেন বিকেএসপির রক্ষণদূর্গ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে। তেমনই দৃঢ় মনোভাব নিয়ে বিকেএসপি সীমানায় এক জোড়ালো আক্রমণ রচনা করেন নৌবাহিনীর ফরহাদ। ৬১ মিনিটে তাঁর এমন আক্রমণের ধারাবাহিকতায় পাওয়া কর্ণারের গোলে ৩-১ এর জয়সূচক ব্যবধান পায় নৌবাহিনী।
এর পর ম্যাচের বাদ বাকি সময় ছন্দে ফিরতে চেয়েও পারেনি বিকেএসপি। ফলে ম্যাচ শেষে ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত করে শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

হকিতে বিকেএসপির বড় জয়

বিজয় দিবস হকিতে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। একই দিনে জিতেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও। মাওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে শনিবার নারায়ণগঞ্জকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বিকেএসপি। জয়ী দলের আশরাফুল ইসলাম ও আরশাদ হোসেন তিনটি করে গোল করেন। এছাড়া মাহবুব হোসেন ও সোহানুর রহমান দুটি করে এবং ফজলে হোসেন রাব্বি, রকিবুল হাসান একটি করে গোল করেন।
দিনের অপর খেলয় ৬-০ গোলে রক্তিম সংঘের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। জয়ী দলের প্রসেনজিৎ চারটি এবং আকিব ও রুম্মান আলী একটি করে গোল করেন।

বিজয় দিবস হকিতে বিমান বাহিনীর জয়

বিজয় দিবস হকিতে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। একই দিনে জিতেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
মাওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিমান বাহিনী ৮-০ গোলে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে হারায়। প্রসেনজিৎ হ্যাটট্রিকসহ ছয়টি এবং জব্বার মনি ও সাগর একটি করে গোল করেন।
দিনের অপর খেলায় বাংলাদেশ পুলিশকে ৪-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জয়ী দলের চার গোলদাতা সালাম, মেহেদী হাসান, পুস্কর সিা মিমো ও মো. রোকনুজ্জামান।

হকিতে বিকেএসপি-নৌবাহিনীর জয়

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের আয়োজনে বিজয় দিবস হকি প্রতিযোগিতা ২০১৫’র উদ্বোধনী খেলায় বৃহস্পতিবার জয় পেয়েছে বিকেএসপি এবং দিনের দ্বিতীয় খেলায় জয় পেয়েছে নৌবাহিনী।
মওলানা ভাসানী হকি ষ্টেডিয়ামে প্রথম খেলায় বিকেএসপি ৫-২ গোলে রক্তিম সংঘকে পরাজিত করে। বিকেএসপির হয়ে তিনটি গোল করেন আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া একটি করে গোল করেন মো: আরশাদ হোসেন এবং রাজু আহমেদ। রক্তিম সংঘের পক্ষে ৩নং জার্সিধারী খেলোয়াড় ইষান ২টি গোল করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফু-ওয়াং পলিমার ইন্ডান্ট্রিজ লি: এর পরিচালন ইসতিয়াক সাদেক। এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মীর্জা ফরিদ আহমেদ, খাজা রহমতউল্লাহ ও ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
উদ্বোধনী দিনে দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ৮-০ গোলে বাংলাদেশ পুলিশকে পরাজিত করে। নৌবাহিনীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি গোল করেন রাসেল মাহমুদ জিমি। এছাড়া কৃষ্ণ কুমার দাস দুটি গোল করেন। বাকি দুটি গোল করেন মাইনুল ইসলাম এবং রোমান সরকার।