রাত ১২:০৫, মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

ওমানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে শুভ সূচনা করলো হকি দল। তবে সব মিলিয়ে গেমসের তৃতীয় দিনটি হতাশাতেই কেটেছে বাংলাদেশের। নারী কাবাডিতে ইরানের কাছে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া হতাশ হতে হয় শ্যূটিংয়েও।

ওমানকে হারিয়ে লক্ষ্য পুরন হয়েছে হকি দলের। কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানকে নিয়ে গড়া গ্র“পে এই একটি দলের বিপক্ষেই জয়ের আশা করেছে খেলোয়াড়রা। আর এই জয়ে চার বছর ওমানকে হারাতে না পারার আক্ষেপ ঘোচালো জিমি-চয়নরা।

জাকার্তার জিবিকে এ্যারিনায়, ফার্স্ট কোয়ার্টারে আরশাদের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে সমতায় ফেরে ওমান। এরপর তৃতীয় কোয়ার্টারে আশরাফুলের স্টিক থেকে পাওয়া লিড ধরে রাখে গোবিনাথানের শিষ্যরা।

অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি বলেন, 'আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল ‌ওমানের বিরুদ্ধে জয়। সেই টার্গেট পুরণ করতে পেরেছি। এখন পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থানের জন্য লড়বো আমরা। গ্রুপের অন্যরা বেশ শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে সেটা হবে আমাদের জন্য আর‌ও ভালো ব্যাপার। পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের দলের লক্ষ্য‌ও সেই রকম।'

হকি দল আনন্দে ভাসিয়েছে, তবে সবচে’ হতাশ করেছে নারী কাবাডি দল। আগেরবার ব্রোঞ্জ জেতা মালেকা, রুপালীরা এদিন ইরানের কাছে ৪২-১৯ পয়েন্টে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। যদিও পুরুষ দল থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

একইভাবে প্রত্যাশা পুরন করতে পারেননি শ্যূটিংয়ের আবদুল্লাহ হেল বাকী, শারমিন আক্তার রত্না এবং উম্মে জাকিয়া সুলতানা। দশ মিটার এয়ার রাইফেল ব্যাক্তিগত ইভেন্ট বাকী আর রত্না-জাকিয়ারা বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন।

এদিকে বিচ ভলিবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে ২-০ সেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এতো সব হারের মাঝে দিনের শেষ বেলার হকির জয়টাই শেষ পর্যন্ত তৃপ্তি হয়ে থাকলো।

নারী কাবাডি দলের বিদায় টিকে রইলো পুরুষরা

ইন্দোনেশিয়া থেকে, প্রতিনিধি

টানা দুই হারে এশিয়ান গেমসের মহিলা কাবাডি ডিসিপ্লিন থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। পদকের সম্ভাবনাময় ইভেন্টটিতে এবার ফিরতে হচ্ছে শূণ্য হাতেই।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপের কাছে হারের পর আজ সোমবার ইরানের সাথেও পারেনি আব্দুল জলিলের শিষ্যরা। গারুদা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায়, শুরু হওয়া ম্যাচে ২১-৪৭ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে লাল-সবুজের মেয়েদের। আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

তবে নারী দলের বিদায়ের দিন নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে পুরুষ কাবাডি দল। আজ তারা ৩৪-২২ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছে থাইল্যান্ডের সঙ্গে। যদিও কাবাডিতে একেবারেই নবীন দেশ থাইল্যান্ড। তবুও এ জয়টিকে বড় করেই দেখছে বাংলাদেশ। আগামীকাল মঙ্গলবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকা এবং বুধবার শেষ ম্যাচে মাসুদ করিমদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া।

আজ সকালে, ইরানের বিরুদ্ধে মাঠে নামে বাংলাদেশ মহিলা দল। পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রন ছিল ইরানিদের। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি ম্যাচটিতে জয় পাবে বাংলাদেশ। লিড নেয়াতো দূরের কথা, নিজেদের দূর্বলতার চিত্র ফুঁটে উঠেছে ম্যাচে।

শ্যূটিং, সাঁতার, কাবাডি, কুস্তি-সবখানেই দুঃসংবাদ। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা এশিয়াডে বাংলাদেশ দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে হতাশা ব্যক্ত করেন, ‘দেখুন, আমরা কি চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছি? আসলে এখন পর্যাপ্ত অনুশীলন, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। তবে হ্যাঁ, এখানে যারা অংশগ্রহণ করল তারা সামনের সাফ গেমসে ভালো করবে বলে আমি আশাকরি। উন্নতি করার জন্য নিজ নিজ ফেডারেশনকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’

নারীদের হতাশার দিন ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পুরুষ কাবাডি দল। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই পেয়েছে জয়ের দেখা। ভারতের কাছে হারের ক্ষত ভুলেছে মাসুদ করিমরা ৩৪-২২ পয়েন্টের ব্যবধানে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে। এ জয় কিছুটা হলেও আশার আলো জ¦ালাবে টিম বাংলাদেশে। পরের দুই ম্যাচ জিততে পারলে টিকে থাকবে পদকের আশা। ২ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ভারত, যারা আজ ৪৪-২৮ পয়েন্টে হারায় শ্রীলংকাকে। বাংলাদেশ ও কোরিয়ার ঝুলিতে সমান ২ পয়েন্ট, যদিও বাংলাদেশ এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।

ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো বাংলাদেশ। শক্তিশালী কাতারের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৯০ মিনিট ছিল গোল শূণ্য ড্র। অতিরিক্ত দু’মিনিটের খেলা চলছিল তখন। দু’দলই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল পয়েন্ট ভাগ করে মাঠ ছাড়ার। ঠিক ঐ মুহুর্তেই সব হিসেব-নিকেষ পাল্টে দেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ডান পায়ের মাটি কামড়ানো দারুণ এক শটে কাতারের জালে বল প্রবেশ করান। উল্লাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ শিবির। এমন একটি জয় যে কতোটা দরকার ছিল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলে আবারো সুদিনের বাতাস লাগবে এ জয়ে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে হলে কাতারের বিরুদ্ধে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না। কারন গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হার ও থাইল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলের ড্র’র কারণে ঝুলিতে ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। এমন সমীকরনের ম্যাচে জালে উঠে বাংলার দামাল ছেলেরা। অতীত রেকর্ড আর ফিফা র‌্যাকিংকে দু’পায়ে মাড়িয়ে বিশাল এক যুদ্ধে জয় ছিঁনিয়ে আনেন জামাল-সুফিলরা। এ জয় অনেক বড় এক ঘটনা দেশের ফুটবলের জন্য।

সন্ধ্যা সাতটায় জাকার্তার প্যাট্রিয়ট স্টেডিয়ামে কাতারের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। আগের চারবারের মুখোমুখিতে তিনবারই হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। একটি মাত্র ম্যাচে ড্র পেয়েছিল। সেটাও ১৯৭৯ সালে। অতীত রেকর্ডের সঙ্গে ফিফা র‌্যাংকিংও ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পক্ষে। র‌্যাংকিংয়ে তাদের ৯৮ নম্বরে। আর বাংলাদেশ রয়েছে ১৯৪ তম স্থানে। দু’দলের শক্তির ফারাকটা এখানেই প্রমানীত। কিন্তু জীবন-মরন লড়াইয়ে যেনো অন্য এক বাংলাদেশকে দেখা যায়।

শুরু থেকেই কাতারের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৮ মিনিটেই প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাঁদিক থেকে নেয়া সুফিলের জোড়ালো শট খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। অল্পের জন্য সাইডবার ঘেঁষে বল বাইরে চলে যায়। আক্রমনাতœক ফুটবলের কৌশল নিয়ে মাঠে নামা লাল-সবুজ শিবির ৯মিনিট বাদেই গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করে। ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে যান সুফিল। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিনকে ওয়ান বাই ওয়ান পজিশনে পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে ডস দিতে পারলেই নিশ্চিত গোল পেয়ে যেতো বাংলাদেশ। কিন্তু সরাসরি বল তুলে দেন গোলরক্ষকের হাতে।

আক্রমন ও রক্ষণবাগের সঙ্গে গতকাল গোলরক্ষক আশরাফুল রানাও ছিলেন উজ্জ্বল। তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গেই কাতারের তিনটি আক্রমন প্রতিহত করে দরকে বিপদমুক্ত করেছেন। ৩৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভিত আরো একবার নাড়িয়ে দিয়েছিলেন জেমি ডে’র শিষ্যরা। জামাল ভূঁইয়ার কর্ণার কিকে বক্সের ভেতর থেকে হেড নেন তপু বর্মন। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিন বুকে জড়িয়ে নিলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে দূর্দান্ত খেলা লাল-সবুজরা দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমনের ধার ধরে রেখেছিল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে কাতারের তিন ফুটবলারকে ডস দিয়ে ডানদিক থেকে বক্সে প্রবেশ করেও নিজের ভুলে গোলের মুখ দেখা হয়নি বিপুলের। তিনি ফাঁকায় দাঁড়ানো সুফিলকে পাস দিলেই নিশ্চিত গোল হয়ে যেতো। কিন্তু নিজে গোলের ট্রাই করতে গিয়ে সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেন এ মিডফিল্ডার।

ম্যাচের মূল সময় শেষে যখন অতিরিক্ত সময়ে খেলা মাঠে গড়ায়। অতিরিক্ত দুই মিনিটের খেলাও শেষের পথে। রেফারি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শেষ বাঁশী বাজানোর। ঠিক ঐ মুহুর্তে গোলরক্ষক আশরাফুল রানার থ্রু থেকে মাশুক মিয়া জনির দেয়া পাসে বল পেয়ে জামাল ভূঁইয়া কাতারের দু’ই ডিফেন্ডার কাটিয়ে প্রবেশ করেন ডি বক্সে। সেখান থেকে ডান পায়ের জোড়ালো এক শটে বল জড়ান জালে (১-০)। উৎসবে মেতে উঠে লাল-সবুজ শিবির। কাতারের বিরুদ্ধে দারুণ এ জয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো টিম বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক হারে যখন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল। দলটি নিয়ে যখন স্বপ্ন দেখতেও ভয় পান সমর্থকরা। ঠিক ঐ সময়টাতে পাওয়া এমন জয় সত্যিই নতুন করে ভাবতে শেখাবে সবাই।

এশিয়ান গেমসে সাঁতার-শুটিংয়ে বাংলাদেশের হতাশার দিন

এশিয়ান গেমসের সাঁতার ও শুটিংয়ের বাছাইপর্বে হতাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা। মেয়েদের কাবাডিতেও বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে হার দিয়ে। জাকার্তা-পালেমবাংয়ের প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে রোববার জেবিকে অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের হিটে খাদিজা আক্তার সময় নেন ১ মিনিট ২৭ দশমিক ২০ সেকেন্ড। দুই নম্বর হিটে সাত প্রতিযোগীর মধ্যে সপ্তম এবং সব মিলিয়ে ২৬ প্রতিযোগীর মধ্যে ২৪তম হয়ে ছিটকে যান তিনি।

জেএসসি শুটিং রেঞ্জে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের মিশ্র দলীয় ইভেন্টে হতাশ করেছেন সৈয়দা আতকিয়া হাসান ও অর্ণব সারার জুটি। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে দুজন মোট ৮১৪ দশমিক ৯ স্কোর গড়েন। বাংলাদেশ ২২ দলের মধ্যে হয় ত্রয়োদশ। পদকের লড়াইয়ে ওঠা পাঁচ দলের মধ্যে সর্বনিম্ন ৮২৯ দশমিক ৮ স্কোর চাইনিজ তাইপের।

১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিশ্র দলীয় ইভেন্টেও কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড পেরুতে পারেনি বাংলাদেশ। আরদিনা ফেরদৌস ও নুর হাসান আলিফ মিলে ৭৩৪ স্কোর গড়ায় বাংলাদেশ ২১ দলের মধ্যে ১৯তম হয়। পদকের লড়াইয়ে ওঠা পাঁচ দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭৫৯ স্কোর করেছে কাজাখস্তান।

কাবাডিতে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপের কাছে ৪৩-২৮ ব্যবধানে হেরে যান শাহানাজ-রুপালিরা।

 

হিটেই বাদ খাদিজা পুলে নামেননি সাগর

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

প্রত্যাশা ছিল হিট উৎরে মূল পর্বে খেলার। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠেনি। বাছাই পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো সাঁতারু খাদিজা আক্তার বৃষ্টিকে। আজ রবিবার জিবিকে একুয়াটিক সেন্টারে, নিজের প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ২৬ জনের মধ্যে ২৪তম হয়েই পুল থেকে উঠে আসতে হলো ১৬ বছর বয়সী এ সাঁতারুকে। তাও আবার নিজের ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংয়ের চেয়েও অনেক বেশি সময় নিয়ে।

আগামী বৃহস্পতিবার ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ও শুক্রবার ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে আবারো পুলে নামবেন বৃষ্টি। আরেক সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর পুলেই নামেননি। ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে লড়াইয়ের কথা ছিল তার। কিন্তু অনুশীলনের পর্যাপ্ততার কারনে পুলে নামতে রাজী হননি পাবনার এ সাঁতারু।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এরআগে লড়াইয়ের কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না বৃষ্টির। প্রথম মঞ্চ হিসেবে পেয়ে গেলেন এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরকে। তাই হয়তো চাপটা সামলাতে পারেননি এ সাঁতারু। জিবিকে একুয়াটিক সেন্টারের পুলে নেমে দুই নম্বর হিটে খাদিজা ছিলেন এক নম্বর লেনে। হিটে ফিনিসিং লাইন টাচ করলেন ১ মিনিট ২৭ দশমিক ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। অথচ তার ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং ছিল ১ মিনিট ২২ দশমিক ৭২ সেকেন্ড। বিকেএসপির এ সাঁতারু যে কতোটা চাপের মধ্যে ছিলেন সেটা ফুঁটে উঠে পুলে।

হিটে বাদ পড়ে হতাশা নিমজ্জিত বৃষ্টি বলেন, ‘পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাব আর সঙ্গে কোচ না আসায় তার পারফরম্যান্স খারাপ হয়েছে। সুযোগ সুবিধার অভাবে ঢাকায় আমি খুব একটা ভালো অনুশীলন করতে পারিনি। সুইমিং পুল প্রস্তুত ছিল না, এমনকি সেখানে পানির সমস্যাও ছিল। তাছাড়া এখানে কোচ সাথে না আসায় ভালো দিকনির্দেশনা পাইনি।’

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ থেকে দুজন সাঁতারু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাহফিজুর রহমান সাগর আর খাদিজা। গতকাল সাগর ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের হিটেই নামেননি অনুশীলনের অভাবের অভিযোগ তুলে।

সাগর বলেন, ‘ঢাকা থেকে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিল। তাই জাকার্তায় এসে অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাইনি। সেজন্যই ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেই।’

নারী কাবাডিতে পদকের স্বপ্ন শেষ!

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

সবশেষ এশিয়ান গেমসেও পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলো বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এবারও একই ইভেন্ট থেকে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন মালেকা-শারমীনরা। কিন্তু টার্ফে নেমে হতাশই করলেন আব্দুল জলিলের শিষ্যরা।চাইনিজ তাইপের কাছে ২৮-৪৩ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরে পদক জয়ের স্বপ্ন অনেকটা ধূসর হয়ে যায় লাল-সবুজদের।

 

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে শক্তিশালী ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। এই দুই দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় পাওয়া অনেকটাই ‘অলিক কল্পনা’। আগামীকাল সোমবার স্থাণীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ইরানের মুখোমুখি হবে মহিলা কাবাডি দল।

জাকার্তার গারুদা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধেই চাইনিজ তাইপে এগিয়ে যায় ম্যাচে। ১৬-২৩ পয়েন্টে লিড নেয়া দলটি দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক বোনাস পয়েন্ট তুলে নিয়ে প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে পরাজিত করে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। দুই দলের লড়াইয়ে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়েছে। বয়স র্পাথক্য, ফিটনেস লেবেল চোখে পড়ার মতো।

লাল-সবুজদের পারফর্ম্যান্স দেখে হতাশ ভারত কাবাডি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর প্রাসাদ রাও। জানান, ‘তোমাদের খেলোয়াড়দের এভারেজ বয়স অনেক বেশী। ফিটনেস লেবেলেও পিছিয়ে। পুরনো নিয়মেই আবদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশ। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় কাবাডি থেকে হারিয়ে যেতে হবে।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে চাইনিজ তাইপে পুরোপুরি অচেনা বাংলাদেশের কাছে। তবুও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মালেকারা। কিন্তু গত এশিয়ান গেমসে ছয় দলের মধ্যে ৬ষ্ঠ হওয়া দলটি যে কি পরিমান উন্নতি করেছে সেটা কল্পনাও করা যায়নি। গত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয় করা বাংলাদেশের উপর আধিপাত্য ধরে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় তাইপে। রেইডিং-ক্যাচিংয়ে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছে তারা।

ম্যাচ শেষে একরাশ হতাশা নিয়েই কোচ আব্দুল জলিন বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে জয়ের আশা নিয়েই এখানে এসেছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে আমরা যতোটা উন্নতি করেছি, তারচেয়ে অনেক বেশী উন্নতি করেছে চাইনিজ তাইপে। আমরা ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলাম। এরপর ৩০ মাস পর আবারো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছে মেয়েরা। এভাবে বিরতি দিয়ে খেলতে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায় না। তাছাড়া চলতি এ আসরকে সামনে মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়া এসেছে দল। তাহলে কিভাবে জয় প্রত্যাশা করতে পারি আমরা।’

প্রথম ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি জয় তুলে নিয়ে দেশে ফেরা।

অন্যদিকে, পুরুষ কাবাডি ইভেন্টে ভারতের কাছে ৫০-২১ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ পুরুষ দল।

বাংলাদেশ হকি দলের ভাবনায় ওমান

ইন্দোনেশিয়া থেকে কবিরুল ইসলাম

এশিয়ান গেমসের হকিতে প্রতিবারই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। তবে এবার আর হতাশা নয়, বরং পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থান অর্জনই মূল লক্ষ্য রাসেল মাহমুদ জিমিদের। আগামীকাল সোমবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ওমানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় দুপুর চারটায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হবে ম্যাচটি।

একটা সময় ওমানকে বলে কয়ে হারাতো লাল-সবুজরা। সেই ওমানই এখন বড় আতংকে পরিনত হয়েছে। কারন সবশেষ লড়াইয়েও ওমানের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেটা ছিল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফাইনালে। ২-০ গোলে হেরেছিল জিমি-চয়নরা। চলতি এ আসরে ‘বি’ গ্রুপে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের প্রতিপক্ষ ওমান, পাকিস্তান, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড ও কাজাগিস্তান। র‌্যাংকিং ও শক্তিতে যোজন-যোজন এগিয়ে থাকায় পাকিস্তান ও মালেশিয়ার সঙ্গে জয়ের কথা ভাবছে না গোবিনাথান কৃষ্ণমূর্তি।

র‌্যাংকিংয়ে মালেশিয়া ১২ আর পাকিস্তান রয়েছে ১৩ নম্বরে। থাইল্যান্ড ও কাজাখস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশই ফেভারিট। অগ্নীপরীক্ষা বলতে ওমান। যদিও র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ৩১ আর ওমান আছে ৩৩-এ। আজ রবিবার অনুশীলন শেষে চয়ন জানালেন, ‘আমাদের ভাবনায় শুধুই ওমান ম্যাচ। কারণ এই ম্যাচে হারলে কঠিন হয়ে যাবে পঞ্চম হওয়া। বিশ্বকাপ খেলা দলগুলো এখানে আছে। এজন্য এখানে পদকের বদলে ৫ বা ৬ নম্বর হওয়া লক্ষ্য আমাদের।’

এশিয়াডে আসার আগে প্রস্তুতির দারুন সুযোগ পেয়েছিল হকি দল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিল। জয় পেয়েছিল স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে। তাই ওমানের বিরুদ্ধে ভালো কিছুর প্রত্যাশা গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ওমানকে হারানোটা হবে আমার জন্য ওদের দেয়া উপহার।’

এটা ঠিক হকিতে গতির সঙ্গে তাল মেলাতে দরকার দূর্দান্ত ফিটনেস। বাংলাদেশের সেখানে ঘাটতি আছে। তারপরও আত্মবিশ্বাস আর গত কিছুদিনের প্রস্তুতি সঙ্গে করে নামছে অগ্নিপরীক্ষায়। জয় ছাড়া দ্বিতীয় ভাবনা নেই জিমি-চয়নদের।

এশিয়ান গেমসের পর্দা উঠছে আজ

 আজ পর্দা উঠছে এশিয়ান গেমসের। বাংলাদেশসহ অংশগ্রহণকারী সব   দেশের অ্যাথলেটরা এরিমধ্যে পৌঁছেছেন আয়োজক ইন্দোনেশিয়ায়।   জমকালো উদ্বোধনীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হবে এবারের এশিয়ান গেমসের। আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে ইন্দোনেশিয়া। এ উপলক্ষে পুরো দেশকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দুই ভেন্যু শহর জাকার্তা ও প্ল্যামব্যাংগে শোভা পাচ্ছে রঙিন ব্যানার, পোস্টার ও বিলবোর্ড। বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে নানা ধরণের ম্যুরাল। দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হয়েছে রঙিন কার্টুন। বিদেশি অতিথিদের উষ্ণ আতিথ্য দিতে উন্মুখ আয়োজকরা। এবারের আসরে ৪৫টি দেশের প্রায় ১২ হাজার অ্যাথলিটের মিলনমেলা বসবে ইন্দোনেশিয়ায়। আর ১৪টি ইভেন্টে এবার বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন ১৪৪জন অ্যাথলিট।

এদিকে, গতকাল গেমস ভিলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ বহরকে বরণ করে নিয়েছে এশিয়ান গেমসের আয়োজকরা। বাংলাদেশ মহিলা কাবাডি দলের সদস্যরা জাকার্তার গেমস ভিলেজে পৌঁছালে, তাদের ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। আয়োজকদের কাছ থেকে স্মারক গ্রহণ করেন বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন আবুল। গেমস কর্তৃপক্ষকেও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেন তিনি। ১৯ আগস্ট শুরু হবে পুরুষ ও মহিলা কাবাডি। ফুটবল, হকি, সাঁতার, বিচ ভলিবল ও কুস্তি দলও এখন অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়ায়।

শুটিংয়ের প্রাথমিক স্কোয়াডে ২২ জন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা নেমে আসে ২১ এ। বাবার অসুস্থতার জন্য শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেন ট্র্যাপ ইভেন্টের একমাত্র প্রতিনিধি ও বৃটিশ বংশদ্ভূত বাংলাদেশি শুটার কোয়ায়সুর মিয়া। ১০ ও ৫০ মিটার রাইফেল ও পিস্তলে অংশ নেবেন ১৫ শুটার। এদিকে স্কিট ইভেন্টে খেলবেন সাব্বির হাসান, এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত কোনো পদক না পেলেও এবার পদকখরা ঘোচাতে চান শ্যুটাররা। এদিকে, প্রথমবারের মত এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ রোয়িং দল। তবে কোন লক্ষ্য নয় যথারীতি অংশ নেয়ায় তুষ্ট ফেডারেশন। কেননা দেশে কোন সুযোগ সুবিধা ছাড়াই পালেমবাং-এর উদ্দেশে ঢাকা যাচ্ছেন একমাত্র রোয়ার আমিনুল ইসলাম।

বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশনের জন্ম তারও ৫ বছর আগে। স্বাধীনতার পর যে ১২ ফেডারেশনের আত্মপ্রকাশ হয়েছিলো তার একটি রোয়িং। এরপর শুধু বছর গড়িয়েছে, কিন্তু কোনো সাফল্য জেতা হয়নি। ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক গেমসে অংশ নিচ্ছে রোয়িং দল। অনুশীলনের জন্য নেই বোট, লেক, কোচ। তাইতো কলকাতা রোয়িং ক্লাবের সহযোগিতায় দেড় মাসের অনুশীলন করেছেন একমাত্র রোয়ার আমিনুল ইসলাম। যিনি কিনা আবার রোয়িং ফেডারেশনের সদস্যও। সিঙ্গেল স্কালস ইভেন্টে অংশ নেবেন আমিনুল। অধিকাংশ ডিসিপ্লিনের মত শুধুই অংশগ্রহনে সীমাবদ্ধ রোয়িং। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিদেশের আসরে অংশ নিতে পারাতেই তৃপ্ত ফেডারেশন। রোয়িং ফেডারেশনের সারা বছরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ শুধুমাত্র নৌকাবাইচে।

 

টাইমিংয়ের উন্নতি চান বাংলাদেশের সাঁতারুরা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমসে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাঁতারুরা যখন স্বর্ণ জয়ের স্বপ্নে বিভোর, বাংলাদেশের সাঁতারুরা তখন স্বপ্ন দেখেন টাইমিংয়ে উন্নতি করার। নিজের সেরাটা দিয়ে অতীতের চেয়ে কিছুটা ভালো করে খালিহাতে দেশে ফেরাই যেনো গৎবাঁধা নিয়মে পরিনত হয়েছে। গেমস থেকে পদক জয়ের কোন লক্ষ্য নেই তাদের। এজন্য অবশ্য সাঁতারুদের দোষারোপ নয়, বরং দেশের ক্রীড়া সংস্থার অভিবাবক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকেই (বিওএ) দায়ী করাটা শ্রেয়। অনুশীলনের ঘাটতি আর সুযোগ-সুবিধার অভাবেই আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে ভালো করতে পারছেন না সাঁতারুরা। আজ সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হ‌ওয়ার কথা এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসরের।

এবারের গেমসে ৪০টি ইভেন্টের মধ্যে লাল-সবুজরা অংশ নিচ্ছে ১৪টি ইভেন্টে। এরমধ্যে সাঁতার ইভেন্টটিও আছে। বিওএ স্বপ্ন দেখছে আরচ্যারি, কাবাডি ও শ্যুটিং থেকে পদক জয়ের। স্বর্ণ নয়, বরং রৌপ্য কিংবা ব্রোঞ্জ পদক পেলেই খুশী তারা। সম্ভাবনাময় ইভেন্ট সাঁতারসহ অন্য কোন ইভেন্ট নিয়ে মাথা ব্যাথ্যা নেই বিওএ’র। তাই ‘নামকাওয়াস্তে’ অংশগ্রহনের জন্য দল প্রেরণ করেই দায়বোধ সারছে সংস্থাটি। একটা সময় সাঁতার ছিল সবচেয়ে সম্ভাবনার ইভেন্ট। যে ইভেন্টের দিকে একটু নজর দিলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সুনাম কুড়ানো সম্ভব ছিল। অথচ নিজেদের পরিকল্পনার অভাবে আজ সাঁতারুদের মান দিন দিন অবনমনের পথে।

এশিয়ান গেমসে এবার বাংলাদেশ দলের হয়ে অংশ নিচ্ছেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। দেশসেরা এ দুই সাঁতারু বিভিন্ন পাঁচটি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবেন। সাগর নিজের পছন্দের ডিসিপ্লিন ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রি ষ্টাইলে লড়াই করবেন। জাকার্তায় গিয়ে অনুশীলনের একটু সুযোগ পেলে ২০০ মিটার ফ্রিষ্টাইলেও দেখা যেতে পারে তাকে। আর বৃষ্টি ১০০ ও ৫০ মিটার ব্রেষ্ট ষ্ট্রোক ছাড়াও পুলে নামবেন ৫০ মিটার ফ্রি ষ্টাইলে। ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হওয়া এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এ আসর নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই দেশসেরা সাঁতারু সাগরের। প্রস্তুতির স্বল্পতা নিয়েই যতো অভিযোগ তার। আক্ষেপের সঙ্গেই বলেন, ‘গত মার্চ-এপ্রিলে এশিয়ান গেমসের জন্য আমাদের দু’জনকে বাছাই করা হলো। তখন বেশ ভালোই লেগেছিল এই ভেবে যে, প্রস্তুতির জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে দেখা গেলো অতীত চিত্র। মাত্র এক মাস আগে শুরু হলো ক্যাম্প। যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষরা বছর জুড়ে অনুশীলন করছেন কোচের তত্বাবধায়নে। আলাদা ফিজিও রাখা হচ্ছে। ফুড সাপ্লিম্যান্ট দেয়া হচ্ছে তাদের। আর আমাদের ক্ষেত্রে ফিজিওতো দূরের কথা, ঠিক মতো ক্যাম্পই শুরু হয় না। মনে হয়, অংশগ্রহনের জন্যই আমাদের মুধু পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে। এতে করে গেমস শেষে কি হয়? সংবাদ পত্রে আমাদের তুলোধূনো করা হয়। মানুষজন ভাবে সব দোষ সাঁতারুদের। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কখনোই পদক জয় করা সম্ভব নয়।’

পাবনার এ সাঁতারুর কণ্ঠে রয়েছে হতাশার সুর, ‘সাঁতারু হয়ে মনে হয় ভুলই করেছি। যদি সাঁতারু না হতাশ তবে পড়ালেখা শেষ করে হয়তো ভালো বেতনে চাকরী করতাম।’

এশিয়ান গেমসে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে সদ্য বিয়ে ঠিক হওয়া এ সাঁতারু বলেন, ‘মাত্র এক মাসের অনুশীলনে কিছুই করা সম্ভব নয়। টাইমিংয়ে উন্নতি করাই মূল টার্গেট।’

মহিলা সাঁতারু হিসেবে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন সেরা সাঁতারু ক্যাম্প থেকে উঠে আসা খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। তারও লক্ষ্য নিজের টাইমিংয়ে উন্নতি করা, ‘আমি খুব এক্সাইটেড প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিতে পারায়। নিজের পছন্দের ইভেন্ট ৫০ মিটার ব্রেষ্ট ষ্ট্রোকে উন্নতি করতে চাই। এখানে আসলে পদকের জন্য আসিনি। অভিজ্ঞতা অর্জনটাই আসল কথা।’

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের ড্র

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারলো না বাংলাদেশ। তবে এশিয়ান গেমস ফুটবলে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে তারা।

জাকার্তার পাকান সারি স্টেডিয়ামে, প্রথমে এগিয়ে থেকেও থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে লাল-সবুজের দল। গোল শূন্য প্রথমার্ধের পর খেলার ৫২ মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

পরে গোল পরিশোধের চেষ্টায় বাংলাদেশের সীমানায় বারবার আক্রমণ করে থাইল্যান্ড। ৮০ মিনিটে বদলী খেলোয়াড় সুপাচাই চাইডেডের সমতায় ফেরান থাইল্যান্ডকে। এ ম্যাচ জিতলে পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা ছিলো বাংলাদেশের।

এশিয়ান গেমসে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী ১৯ আগস্ট কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

উজবেকিস্তানের কাছে হারল বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস ফুটবলে বি গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে উজবেকিস্তান। তবে বাংলাদেশের গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানার দৃঢ়তায় বেশি গোলের জয় পাওয়া হয়নি তাদের।

ইন্দোনেশিয়ার পাকান সারি স্টেডিয়ামে, খেলার শুরু থেকেই বাংলাদেশের সীমানায় আক্রমণ করে খেলতে থাকে উজবেকিস্তান। ২৩ মিনিটে ইউরিনবোয়েভের গোলে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল পায়নি উজবেকিস্তান।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। ৫৭ মিনিটে খামদামভ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৬৬ মিনিটে ‘হোয়াইট উলভ’দের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আলীবায়েভ। বাকী সময়ে আর কোনো গোল না হলে, ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে উজবেকিস্তান।

আগামী ১৬ আগস্ট নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জামাল ভূঁইয়ার দলের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড।

ভাল খেলতে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই : রোমান সান

বাংলাদেশ আর্চারির সম্ভাবনাময় তরুণ রোমান সানা। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ব্যক্তিগত রিকার্ভে পৌঁছেছিলেন তৃতীয় রাউন্ডে। টোকিও অলিম্পিক পর্যন্ত বৃত্তি পেয়ে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন সুইজারল্যান্ডে। এশিয়ান গেমসে নিজের সেরা স্কোর করে ছাড়িয়ে যেতে চান রোমান সানা নিজেকেই।

প্রশ্ন : এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে?

রোমান সানা : খুবই ভালো। সিটি গ্রুপের তীর স্পন্সর হওয়ার পর টানা অনুশীলনে আছি আমরা। বাংলাদেশের আর্চারিতে এটা ভাবা যেত না একটা সময়। জার্মান কোচ ফ্রেডরিখ আসার পর সবার স্কোরে উন্নতি হয়েছে অনেক। আমরা প্রথমবার সুযোগ পেয়েছি আর্চারি বিশ্বকাপে। এ সাফল্যটা ছোট করে দেখা যাবে না। আর্চারি বিশ্বকাপ অনেক মর্যাদার টুর্নামেন্ট। সেখানে প্রথমবার অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলেছিল বাংলাদেশ।

প্রশ্ন : ব্যক্তিগত ইভেন্টে আপনি পৌঁছেছিলেন তৃতীয় রাউন্ডে। সব মিলিয়ে হয়েছেন ১৭তম। এটা কি সন্তুষ্টির?

রোমান সানা : প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৭তম হওয়া অবশ্যই সন্তুষ্টির। আমরা চাইনিজ তাইপের চেয়ে আর্চারিতে অনেক পিছিয়ে। সেখানে সেই দেশের আর্চারকে হেড টু হেডে হারিয়েছি আমি। আসলে আমাদের খেলাটাই হেড টু হেডের। ঠিক সময়ে ভালো কয়েকটা নিশানা দরকার।

প্রশ্ন : সেই প্রস্তুতি নিশ্চয়ই আছে আপনার?

রোমান সানা : তা তো বটেই। অজুহাত শোনাতে পারে, এর পরও বলে রাখি—জাকার্তায় বাতাস সমস্যা করতে পারে কিছুটা। জার্মানি বিশ্বকাপে সেই সমস্যায় পড়েছিলাম। আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত প্রচণ্ড বাতাস থাকে না। অনুকূল পরিবেশে অনুশীলন করতে পারি। কিন্তু বাইরের দেশে ব্যাপারটা আলাদা। জার্মানি বা ইন্দোনেশিয়ায় বাতাসের গতি প্রচণ্ড। তাতে সমস্যা হতে পারে কিছুটা। ব্যাপারটা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও এক। আমি চেষ্টা করব নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

প্রশ্ন : রিকার্ভের ব্যক্তিগত ইভেন্টে আপনার সেরা স্কোর কত?

রোমান সানা : খুব খারাপ বলব না। ৭২০-এর মধ্যে ৬৭৯। এ স্কোরটা করতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালে পৌঁছানো অসম্ভব নয়। এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, চাইনিজ তাইপে, জাপানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্কোর জানি। ৬৭৫ থেকে ৬৯০-এর ঘরে ঘোরাফেরা করে স্কোরটা। আমি নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারলে, দেখা যাক কী হয়?

প্রশ্ন : কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ বাংলাদেশের সেরা আর্চার মনে করেন আপনাকে।

রোমান সানা : আমার সৌভাগ্য তিনি এতটা পছন্দ করেন। সুইজারল্যান্ডে আমার বৃত্তি পাওয়ায় ভীষণ খুশি তিনি। কোচ হয়ে এসে আপন করে নিয়েছেন পুরো দেশটাকে। আমরা যেমন দেশের জন্য ভালো করতে সব উজাড় করে খেলতে চাই, তেমনি ফ্রেডরিখও নিজের জানা সব কৌশল শেখাচ্ছেন আমাদের।

পদক জয়ে ভালো কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলন দরকার: মাবিয়া

এসএ গেমসে ভারোত্তোলনে সোনা জয়ের পর অর্নাস বোর্ডে দাঁড়ানো মাবিয়া আক্তার সীমান্তের কান্না হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল গোটা বাংলাদেশকে। গত কমনওয়েলথ গেমসে হয়েছিলেন ষষ্ঠ। জাকার্তায় হতে যাওয়া ১৮তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী দিনের মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা থাকছে সেই মাবিয়ার হাতেই। দেশের পতাকা বহণ করা নিয়ে জানালেন নিজের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও হতাশার কথা।


 

প্রশ্ন : গেমসের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের পতাকা থাকছে আপনার হাতে।

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত : খবরটা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমাকে জানানো হয় ৭ আগস্ট। সেদিন ছিল আমার জন্মদিন। জন্মদিনে এর চেয়ে ভালো উপহার আর কীই বা হতে পারে?

প্রশ্ন : দায়িত্বও তো বেড়ে গেল অনেক?

মাবিয়া : তা তো বটেই। পুরো দেশের ভার আমার কাঁধে। আমি গর্বিত এ জন্য। সম্মানের সঙ্গে পালন করতে চাই দায়িত্বটা। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে কৃতজ্ঞতা জানাই এত বড় একটা দায়িত্ব আমাকে দেওয়ার জন্য।

প্রশ্ন : এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি কেমন হলো আপনার?

মাবিয়া : এসএ গেমসের পর ভেবেছিলাম টানা অনুশীলনের মধ্যে থাকবো। ফেডারেশন বিদেশি কোচ নিয়োগ দেবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। কমনওয়েলথ গেমসের পর বসে ছিলাম। জাকার্তায় যাচ্ছি মাত্র একমাস অনুশীলন করে। এত কম অনুশীলনে ভালো করা খুবই কঠিন। এরপরও দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমি।

প্রশ্ন : এসএ গেমসে আপনার সঙ্গে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ফিরোজা পারভীন। তাঁকেই তো কোচ নিয়োগ করা হয়েছে আপনার?

মাবিয়া : এ নিয়ে আমার কী করার আছে। পারভীন আপা আমার চেয়ে বয়সে বড়। এ জন্য হয়তো ফেডারেশন তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে। আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চমৎকার। নিজের যতটা অভিজ্ঞতা আছে সেটা ভাগাভাগি করছেন পারভীন আপা। কিন্তু আমাদের আসলে আরো একটু ভালো কোচ দরকার। যেমন অবিনাশ পান্ডে এসেছিলেন ২০১৪ সালে। করিয়েছিলেন ১৫ দিনের একটি কোচেস কোর্স। পরে তিনি কোচ হন ইন্দোনেশিয়ার। তাঁর হাত ধরে অলিম্পিকে রুপা জিতেছে ইন্দোনেশিয়া। আমাদেরও এ ধরনের অভিজ্ঞ কোচ দরকার।

প্রশ্ন : গোল্ড কোস্টে সব মিলিয়ে ১৮০ কেজি ওজন তুলেছিলেন আপনি। জাকার্তায় আপনার লক্ষ্য কী?

মাবিয়া : আপাতত লক্ষ্য ১৮০ কেজি ওজনটাই ধরে রাখা। এত কম ওজন তুলে পদক জেতা যাবে না। কিন্তু প্রস্ততি হবে এসএ গেমসের। একটা সময় শ্রীলঙ্কা, নেপালের মতো খেলোয়াড়রা হারতো আমাদের সঙ্গে। সেই তারাও এখন পদক জিতছে কমনওয়েলথ গেমসে। আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। ব্যবধানটা কমানোর সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের ভারোত্তোলকদের। আমারও সামর্থ্য আছে ১৮০ কেজির বেশি উত্তোলনের। এ জন্য শুধু ভালো একজন কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলন করা দরকার। আশা করছি ফেডারেশন সেই সুযোগটা করে দেবে।

বাংলাদেশ দলের ফটোসেশস

আসন্ন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ হতে ১৪টি ডিসিপ্লিনে ১১৭ জন খেলোয়াড় এবং প্রশিক্ষক, টীম ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ ১৬৩ সদস্যের একটি দল অংশগ্রহণ করবে। আগামী ১৮ আগষ্ট হতে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং পালেম্বাং শহরে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম এশিয়ান গেমস।

এতে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ উপলক্ষে আজ বুধবার দুপুরে অলিম্পিক ভবনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, গেমসের ডেপুটি সেফ দ্য মিশন এবং বিওএ’র সদস্য এ,কে সরকার, বিওএ’র উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু, উপ-মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর এবং বিওএ’র কোষাধ্যক্ষ কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।

সংবাদ সম্মেলনে বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা গেমসের বিস্তারিত তথ্যাদি উপস্থাপন করেন। গেমসের ডেপুটি সেফ দ্য মিশন এ,কে সরকার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে গেমসে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়।

কাবাডিতে পদক পুনরুদ্ধার ও ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্তির পর থেকে কাবাডিতে নিয়মিতই পদক আসতো বাংলাদেশের। ১৯৯০ বেইজিং ও ১৯৯৪ হিরোশিমা এশিয়াডে কাবাডিতে রৌপ্যপদক জিতেছিল। ১৯৯৮’র এশিয়াডে ব্যাংককে রৌপ্য হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরের আসরে বুসান থেকে আবার লাল-সবুজ জার্সিধারীরা পুনরুদ্ধার করে হারানো রৌপ্য।

কিন্তু সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১০ সালে চীনের গুয়াংজু ও ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন এশিয়ান গেমস থেকে শূন্য হাতে ফেরে পুরুষ কাবাডি দল। যদিও ২০১০ সালে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মেয়েদের কাবাডিতে আসরে দু’বারই ব্রোঞ্জ জিতে বাংলাদেশ নাম লিখেছিল পদক তালিকায়। এশিয়ান গেমসে হারানো গৌরব ফেরাতে মরিয়া কাবাডি ফেডারেশন। এই আসরকে সামনে রেখে গত ৫ ডিসেম্বর থেকে প্রস্তুতি চলছে পুরুষ কাবাডি দলের। পরপর দু’টি এশিয়ান গেমসে পদকশূন্য থাকার হতাশা কাটাতে কোচ সুবিমল চন্দ্র দাসের অধীনে চলছে অনুশীলন। মেয়েদের পদক ধরে রাখতে দলকে প্রস্তুত করছেন কোচ আবদুল জলিল। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতি, দীর্ঘদিন কোনো প্রতিযোগিতামূলক কোনো টুর্নামেন্ট না খেলা এবং এশিয়াডে অংশ নেয়া দলগুলোর মান বৃদ্ধিতে পদক ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়েছে নারী দলের।

৪৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে অনাবাসিক ক্যাম্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল কাবাডির এশিয়ান গেমস প্রস্তুতি। পরে ৩০ জন নিয়ে শুরু হয়ে আবাসিক ক্যাম্প। এখন ১৫ জন নিয়ে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এশিয়ান গেমসের দল হবে ১২ জনের।
দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও কাবাডি দলকে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার আক্ষেপ নিয়েই যেতে হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়।

পুরুষ দল একটা জায়গায় থাকলেও নারী দলের অবস্থা খুব একটা ভালো না। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ এশিয়ান গেমসের পর নারী দলের কোনো খেলা নেই। ফেডারেশনও আয়োজন করেনি কোনো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা। দল গঠনের জন্য বিজয় দিবস কাবাডি অনুষ্ঠিত হলেও এতে সন্তুষ্ট ছিল না খেলোয়াড়রা। এই টুর্নামেন্ট থেকে ৩০ জনকে বাছাই করে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় প্রস্তুতি। ফেডারেশনের নিজস্ব অর্থায়নে চলা এই ক্যাম্পের পরও এশিয়ান গেমসে পদক ধরে রাখার কথা বলতে পারছেন না দলটির কোচ আবদুল জলিল।

আরচারিতে সাফল্যের আশা

গেল কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে আরচারি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আসরও বসেছে ঢাকায়। এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ের পর সবচেয়ে বড় বহর এবারেরর গেমসে আরচারির। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত ট্রেনিংয়ের পরও সেই আরচারিও এশিয়ান গেমস নিয়ে আশার কথা শোনাতে পারছে না। অন্য ডিসিপ্লিনের মতো তাদের প্রত্যাশা অতীতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। লক্ষ্য বড় জোর কোয়ার্টার ফাইনাল।

মাত্র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে এসেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। এসেই ব্যস্ত এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে। আগামী ১৮ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়ান গেমসে তীর-ধনুকের লড়াইয়ে নামবেন প্রতিযোগীরা। দীর্ঘ প্রস্তুতির আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছে বাংলাদেশের আরচাররা। তাছাড়া ঢাকায় ইসলামিক সলিডারিটি ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পদক তালিকার শীর্ষে থেকে আলোড়ন তোলেন রোমান সানা-সজীবরা। তাতে আত্মবিশ্বাসী হয়েই এশিয়ান গেমসে খেলবেন আরচাররা। আরচারদের মানোন্নয়নে বিখ্যাত কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল পদক জয়ের আশ্বাস না দিলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের কথা উল্লেখ করেন। সাফ চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের অভিজ্ঞতা যেখানে আছে সেখানে পদক জয় সম্ভব নয় কেন? চপল বলেন, ‘অলিম্পিকের পর এশিয়ান গেমসই বড় গেমস। সুতরাং এখানে পদক জিতব সেই আশা করাটা এখনই ঠিক হবে না। তবে জার্কাতা গেমসে বাংলাদেশের আর্চাররা কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ১৩ জন আরচার অংশ নেবেন। রিকার্ভ বিভাগে চারজন পুরুষ, তিনজন মহিলা, কম্পাউন্ডে তিনজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা অংশ নেবেন। দুই কোচ হিসেবে যাচ্ছেন মার্টিন ফ্রেডরিখ ও জিয়াউল হক।

টাইমিংয়ের উন্নতি চাইছে অ্যাথলেটিক্স

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর র্পযন্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পালেমবাংয়ে হবে ১৮তম এশিয়ান গেমসের আসর। এই আসরে ১৪ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। অ্যাথলেটিক্স দল‌ও প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ান গেমসের। গত এশিয়ান গেমসে সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্স না রাখায় বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন-বিওএ। পারফরমেন্সের উন্নতি না ঘটলেও সমালোচনার মুখে ডিসিপ্লিন দুটিকে এবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাঁতারের মতো অ্যাথলেটিক্সে দুজন অ্যাথলেটকে জাকার্তা পাঠাচ্ছে ফেডারেশন।

দুজনই ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত বছর জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করেই আবু তালেব ও সুমী আক্তার নামে এ দুজনকে চূড়ান্ত করা হয়। পদকের প্রত্যাশা না দেখালে টাইমিংয়ে উন্নতির কথাই জানান এই দুই প্রতিযোগী।

অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিলো। অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের নিয়মিত পদক আসতো এসএ গেমস থেকে। ১৯৮৫ ও ১৯৯৩ সালে দ্রুততম মানব হন বাংলাদেশের দুই অ্যাথলেট শাহ্‌ আলম ও বিমল তরফদার। দক্ষিণ এশিয়া ছাড়িয়ে স্বপ্নের এশিয়ান গেমসে আলো ছড়াবে এই প্রত্যাশাও জেগেছিল। এখন এশিয়ান গেমসে তো দূরের কথা এসএ গেমসে অ্যাথলেটিক্সে পদক জেতাটা স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন ব্যর্থতায় শুধু অ্যাথলেটদের সমালোচনা করেও লাভ নেই। উপযুক্ত ট্রেনিং ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণে দিনকে দিন পিছিয়ে পড়ছে অ্যাথলেটরা। এক্ষেত্রে ফেডারেশন ও অলিম্পিক এসোসিয়েশনের দায় এড়ানো যায় না। এশিয়ান গেমসে ৪০০ স্প্রিন্টে অংশ নেবেন আবু তালেব। সুমি আক্তার অংশ নিবেন ৪০০ ও ৮০০ মিটার স্প্রিন্টে। দুজনায় গতবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে র্স্বন পদক জিতেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে অ্যাথলেটিক্সের প্রধান আকর্ষণ ১০০ মিটার স্প্রিন্টে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দ্রুততম মানব-মানবীর খেতাব পাওয়া মেজবাহ ও শিরিনকে গুরুত্বপূর্ণ গেমসে না পাঠানোয়।

এই দুই অ্যাথলেটকে দিয়ে এশিয়াডে ফেডারেশেনর প্রত্যাশা হলো টাইমিংয়ের উন্নতি করা। জাতীয় প্রতিযোগিতায় সুমি শুধু ৪০০ মিটার নয় আরও দুটি ইভেন্টে প্রথম হয়ে সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কার জিতেছেন। ৪০০ মিটারে সুমির টাইমিং ৫৭.৬০ সেকেন্ড আর তালেবের ৪৮.৯০ সেকেন্ড। সামার অ্যাথলেটিক্সেও সুমি শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলেও ৪০০ মিটারে পদক হারিয়েছে আবু তালেব। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই স্প্রিন্টার। সুমি এবারের সামার মিটে চারটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবকটিতে স্বর্ণ জিতে সেরা অ্যাথলেট নির্বাচিত হন। গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে এই অ্যাথলেটরা বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ গুয়াংজু

এশিয়ান গেমসে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামীকাল বেলা দেড়টায় দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু ফুটবল দলের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ফুটবল দল।

এ উপলক্ষে সেখানকার মকপো ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ বিকেলে অনুশীলন করেছে অস্ট্রেলিয়ান কোচ এন্ড্রু অর্ডের শিষ্যরা। কোচ জানান, দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেসের উন্নতি হয়েছে। তবে ম্যাচ শেষেই বুঝা যাবে আসলে কতটা উন্নতি হলো।

তিনি মনে করেন, ম্যাচটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাছাড়া এ ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলবে তার দল।

টাইমিংয়ের উন্নতিই লক্ষ্য সাঁতারের

এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসরকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন দুই সাঁতারু সাগর আর বৃষ্টি। তবে স্বল্প দিনের প্রস্তুতিতে ক্ষুব্ধ দু’জনেই। জানান কোন পদক নয়, তাদের লক্ষ্যটা টাইমিংয়ের উন্নতি। সঙ্গে হিট পেরিয়ে খেলতে চান মূল লড়াইয়ে। আর এশিয়াডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পদক জিততে চান এসএ গেমসে।

এবার বাংলাদেশ থেকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে যাচ্ছেন দুই সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর আর খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। এতবড় একটা আসর অথচ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তিন সপ্তাহও হয়নি। তাইতো এই ইভেন্টে পদকের স্বপ্নকে দূরে ঠেলে সাগরের লক্ষ্যটা আপাতত হিটের বাধা পেরুনো।

অন্যদিকে খাদিজা আক্তার মাত্র দেড় বছর আগে ‘সেরা সাঁতারু’ থেকে এ পর্যন্ত উঠে এসেছেন। প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশের। তবে সে রোমাঞ্চকে পাশ কাটিয়ে লক্ষ্যটা নিজের টাইমিংয়ের উন্নতি।

অনুশীলনে শিষ্যদের বিভিন্ন পরামর্শ দিলেও দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না কোচ তে গুন পার্ক। তার মতে, দীঘমেয়াদী ক্যাম্প না হলে এই ইভেন্টেই পদকের আশা করাটা বোকামি।

আসরে ৫০, ১০০ ও ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে লড়বেন সাগর। আর ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলের সঙ্গে ৫০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে পুলে নামবেন বৃষ্টি। এশিয়াডে অংশ নিতে ১৬ আগস্ট দেশ ছাড়ার কথা এই দুই সাঁতারুর।