ভোর ৫:১১, মঙ্গলবার, ২২শে মে, ২০১৭ ইং

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ১৩ ধাপ এগিয়েছেন টাইগারদের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডেতে ১৮তম স্থানে উঠে এসেছেন বাঁহাতি এ পেসার। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা র‌্যাংকিং।
সোমবার দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ওয়ানডের নতুন র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে। এদিকে, শীর্ষ দশে রয়েছেন টাইগার স্পিনার সাকিব আল হাসান। ১৫ নম্বরে টাইগারদের ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশ বর্তমানে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছে। সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে বল করার সুযোগ হয়নি মোস্তাফিজের। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩৩ রান খরচায় তুলে নেন ২টি উইকেট। আর নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ গুড়িয়ে দেন আইরিশদের ব্যাটিং ইনিংস। তুলে নেন চারটি উইকেট। দুর্দান্ত এই সাফল্য তাকে র‌্যাংকিংয়ে উপরের দিকে তুলে দেয়। ১৩ ধাপ এগিয়ে চলে আসেন শীর্ষ ২০-এ। অবস্থান নেন ১৮-তে। শীর্ষ দশে রয়েছেন যথাক্রমে ইমরান তাহির, মিচেল স্টার্ক, সুনীল নারাইন, ট্রেন্ট বোল্ট, কেগিসো রাবাদা, জস হ্যাজেলউড, ক্রিস ওকস, মোহাম্মদ নবী, ম্যাট হেনরি আর সাকিব।

এক ইনিংসেই দুই হ্যাটট্রিক তার!

ক্রীড়া ডেস্ক :

ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড ভুরি ভুরি থাকলেও এক ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিক কিংবা এক ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিকের রেকর্ড খুব কমই আছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ রেকর্ড খুবই কম। যেটুকু আছে, সেগুলোও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে একই ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিকের কোনো ঘটনা নেই। তবে এক ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জিমি ম্যাথুস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যানচেস্টারে ১৯১২ সালে দুই ইনিংসে দুটি হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান অস্ট্রেলিয়ার এই লেগ স্পিনার।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে রোনাল্ড বেমোন্টের উইকেট নেওয়ার পর সিড স্লেগার ও টমি ওয়ার্ডের উইকেট নেন জিমি। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও জিমির হাত থেকে বাঁচতে পারেনি প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ইনিংসে হেরবি টেলর, রেগিনেল্ড ওস্কার ও টমি ওয়ার্ডের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জিমি। মজার বিষয় হচ্ছে, দুই ইনিংসে ৩টির বেশি উইকেট নিতে পারেননি জিমি ম্যাথুস!

এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একই ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছেন জেনকিন্স, আমিন লাখানি, পার্কার, যোগিন্দর রাও, আলফের্ড শ ও অ্যালবার্ট ট্রট। এদের মধ্যে যোগিন্দর রাও ও অ্যালবার্ট ট্রট এক ইনিংসেই দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছিলেন।

ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম এ রেকর্ডটি গড়েছিলেন ইংলিশ পেসার অ্যালবার্ট ট্রট। ১৯০৭ সালে আজকের এই দিনে (২২ মে) ডানহাতি মিডিয়াম পেসার মিডলসেক্সের হয়ে সমারসেটের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান। প্রথমে তার চার বলে আউট হন লুইস, পয়ন্টস, উডস ও রবসন। প্রথম তিন উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান ট্রট। পরবর্তীতে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান ইনিংসের শেষ দিকে।  সমারসেটের ব্যাটসম্যান মোরডাউন্টকে দিয়ে হ্যাটট্রিকের পথে পা বাড়ান ট্রট। দ্বিতীয় বলে আউট হন উইকহ্যাম। তৃতীয় বলে বেইলি। সব মিলিয়ে দুই হ্যাটট্রিকসহ অ্যালবার্ট ট্রটের ইনিংসে বোলিং ফিগার ছিল এরকম ৮-২-২০-৭!

ইংলিশ এ পেসার ছাড়াও ভারতের যোগিন্দর রাও ১৯৬৩ সালে এক ইনিংসে দুই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশের আশা শেষ, চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড

অনেক সমীকরণই ছিল। আর সেই সমীকরণ কাজে দিত, যদি আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাস্ত হতো নিউজিল্যান্ড। সেটা আর হলো না। তাই আশা ফুরিয়ে গেল বাংলাদেশের। রোববার আইরিশদের ১৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন টম লাথামের নিউজিল্যান্ড।

আগের ম্যাচে আইরিশদের ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আশা জিইয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ পয়েন্ট। উদ্বোধনী ম্যাচে আইরিশদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায় দুই দল ভাগাভাগি করে পয়েন্ট। বাংলাদেশের ভাণ্ডারে জমা পড়ে দুই পয়েন্ট; সমান পয়েন্ট পায় স্বাগতিকরাও।

পরের ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে যায় নিউজিল্যান্ডের কাছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পয়েন্ট হারিয়েছেন টাইগাররা। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আইরিশদের হারিয়ে বাংলাদেশ ঝুলিতে জমা করল মোট ৬ পয়েন্ট (৪+২)। মাশরাফিদের হাতে বাকি আছে একটি ম্যাচ। ২৪ মে অনুষ্ঠিতব্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১০।

এই পয়েন্টও (১০) কোনো কাজে দেবে না। কারণ নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। কিউইরা সংগ্রহ করেছে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট। তাই আর কোনো সমীকরণই বাকি রইল না। বাংলাদেশের আশা শেষ, ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা উঠল নিউজিল্যান্ডের শোকেসে।

এদিকে ডাবলিনের মালাহাইডে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড তোলে ৬ উইকেটে ৩৪৪ রান। জবাবে আইরিশদের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৪ রান করেন অধিনায়ক টম লাথাম। অভিজ্ঞ রস টেলর করেন ৫৭ রান। আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রানের ইনিংসটি অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের। উইলসন করেছেন ৩০ রান। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের লাথাম।

সবচেয়ে বেশি রান লিটনের, সর্বাধিক উইকেট আরাফাত সানির

প্রথম পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। কিন্তু শুনে অবাক হবেন, এই পর্বে রান তোলা আর উইকেট শিকারে শীর্ষ তিনে নেই গাজী গ্রুপের কোনো ক্রিকেটার। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে চার নম্বর জায়গাটি দখল করে আছেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল গাজী গ্রুপের দুই পারফরমার এনামুল হক বিজয় ও আবু হায়দার রনি।

সবার জানা, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল খেলতে যাওয়ার কারণে এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম পর্বের একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি আর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়ার জন্য প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দেশ ছাড়া মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশিস রায়, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সানজামুল ইসলামরাও গড়পড়তা চার ম্যাচের বেশি অংশ নিতে পারেননি।

খুব স্বাভাবিকভাবে জাতীয় ক্রিকেটারদের কেউই প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম পর্বে রান তোলা আর উইকেট শিকারে ওপরের দিকে নেই। প্রথম লিগের টপ স্কোরার লিটন দাস। আবাহনীর এ ওপেনার পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরিতে ১০ খেলায় অংশ নিয়ে সর্বাধিক ৫৭৮ রান তোলায় সবার শীর্ষে।

বর্তমান জাতীয় দলের বাইরে থাকা লিটন দাসের ঠিক পেছনে জায়গা হয়েছে জাতীয় দলের আরেক সাবেক অলরাউন্ডার নাঈম ইসলামের। লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের নাঈম প্রথম লিগে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী। ১০ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৫২৭।

রান তোলায় তিন নম্বরে যিনি, তার নামের আগেও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারের তকমা এঁটে গেছে। তিনি জুনায়েদ সিদ্দিকী। ব্রাদার্স ইউনিয়নের এ বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৯০ রান। রান সংগ্রহে চতুর্থ স্থানটিও আরেক সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের। তার সংগ্রহ ৪৬৪। তবে অনেক প্রতিষ্ঠিত পারফরমারকে পেছনে ফেলে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৪৫৭ রান করে পাঁচ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ্যের তরুণ সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান রবিউল ইসলাম রবি।

ওদিকে উইকেট শিকারে সবার ওপরেও জাতীয় দলের বাইরে থাকা আরাফাত সানি। প্রাইম দোলেশ্বরের এ বাঁহাতি স্পিনারের ঝুলিতে জমা পড়েছে সর্বাধিক ২৮ উইকেট (১১ খেলায়)। উইকেট শিকারে দ্বিতীয় স্থানটিও আরেক বাঁহাতি স্পিনারের। তিনি তাইজুল ইসলাম। মোহামেডানের হয়ে খেলা এ বাঁহাতি স্পিনারের উইকেট সংখ্যা ২৫টি। তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট শিকারিও একজন স্পিনার। তবে বাঁহাতি অর্থোডক্স নয়। অফস্পিনার। নাম নিহাদউজ্জামান। এ তরুণ দখল করেছেন ২৩ উইকেট।

২২ উইকেট পেয়ে উইকেট শিকারে চার নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন গাজী গ্রুপের বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি।
পাঁচ নম্বর জায়গাটি তিন বোলার আব্দুর রাজ্জাক (শেখ জামাল), মোহাম্মদ শরীফ ও মোশাররফ রুবেল (দুজনই লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের) ভাগ করে নিয়েছেন।

শেখ জামাল অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে না পড়লে হয়তো প্রথম পর্বে সর্বাধিক উইকেট শিকারি হতে পারতেন এ অভিজ্ঞ স্পিনার। মাত্র ৭ খেলায় তার সংগ্রহ ২১ উইকেট। প্রতি ম্যাচে গড়ে তিন উইকেট শিকারি রাজ্জাক একই অনুপাতে উইকেট পেলে ১১ ম্যাচে তার শিকার দাঁড়াত ৩৩ টি।

প্রথম লিগে দুই সেঞ্চুরি করলেও রান তোলায় সেরা পাঁচে জায়গা পাননি আবাহনীর বাঁহাতি নাজমুল হোসেন শান্ত (৪২৪)। এছাড়া সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী লিটন দাস, দ্বিতীয় স্থান পাওয়া নাঈম ইসলাম, তৃতীয় জুনায়েদ সিদ্দিকী এবং পঞ্চম স্থান পাওয়া রবিউল ইসলাম রবি- প্রত্যেকে দুুটি করে শতরান করেছেন।

চার নম্বরে জায়গা পাওয়া এনামুল হক বিজয় সেঞ্চুরি করতে না পারলেও সর্বাধিক পাঁচ অর্ধশতকের মালিক। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে ১৯০ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস উপহার দিলেও বাকি খেলাগুলোতে সে তুলনায় রান করতে না পারা মোহামেডান অধিনায়ক রকিবুল হাসান রান (৪৪৪) তোলায় হয়েছেন ছয় নম্বর।

লিটন দাস শুধু রান তোলায় ওপরে নয়, গড়ও বেশ ভাল (৫৭.৮০)। তার স্ট্রাইক রেট প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক ১০৮.০৩। তিন হাফ সেঞ্চুরি ও জোড়া শতক উপহার দেয়া লিটন দাসের সর্বোচ্চ ১৩৬। সমান দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির মালিক নাঈম ইসলামের গড় ৬৫.৮৭। আর স্ট্রাইক রেট ৮৩.৫১।

অন্যদিকে সর্বাধিক উইকেট শিকারি আরাফাত সানি দুইবার পাঁচবার বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। এ বাঁহাতি স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগার ৫৬ রানে ৬ উইকেট। অন্যদিকে একবার পাঁচ বা ততোধিক আর একবার ৪ উইকেট দখল করা তাইজুল ইসলামের সেরা বোলিং ৬/২৪।

জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড যাওয়ার আগে ব্যাট হাতে সফল মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নাসির হোসেন। লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের অধিনায়ক মুশফিকের সংগ্রহ ৪ খেলায় ২৭৯। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি। আবাহনী অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কোনো সেঞ্চুরি করতে না পারলেও তিন ফিফটিতে ২৪৭ করে গেছেন। আর গাজী গ্রুপের ক্যাপ্টেন নাসির হোসেনের সংগ্রহ ২২৬। তার আছে একটি করে শতক ও অর্ধশতক।

এক কথায় অসাধারণ এক ম্যাচ : শচীন

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং খুবটা ভালো ছিল না। টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় অল্প পুঁজিই পেয়েছিল রোহিত শর্মার দল। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ১২৯ রান। এই পুঁজি নিয়ে কি আইপিএলের ফাইনালে জেতা সম্ভব? হ্যাঁ, এমন অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন মুম্বাইয়ের বোলাররা। রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মুম্বাইকে ১ রানের নাটকীয় জয় এনে দিয়েছেন মালিঙ্গা-বুমরাহ-জনসন-হার্দিকরা।

শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমে শতভাগ সফল মুম্বাই। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল রোহিতের দল। এর আগে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে আইপিএল সেরার খেতাব জিতেছিল মুম্বাই।

 

মুম্বাইয়ের সাবেক ক্রিকেটার ও ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার ম্যাচটি উপভোগ করেছেন। এমনকি ফাইনালে দলকে অনুপ্রেরণা জোগানোর কাজটিও করেছেন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটিতে মুম্বাই জয় পাওয়ায় খুশি শচীন। দুর্দান্ত পারফর্ম করায় মুম্বাইয়ের ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় গোটা দলকে জানিয়েছেন অভিনন্দন।

ফাইনাল নিয়ে শচীনের ভাষ্য, ‘সত্যিই দারুণ। এক কথায়, অসাধারণ এক ম্যাচ। বিরতিতে আমরা একত্রিত হয়েছিলাম। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। মাহেলা (জয়াবর্ধনে) আমাদেরকে অনুপ্রেরণদায়ক কথা বলেছে। যা খুবই দরকার ছিল। আমি এখানে তার পুনরাবৃত্তি করতে পারছি না। আমাদের ভাবনাটা ঠিক রাখা দরকার ছিল। তা করেছি। পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। বিশ্বাস ছিল-আমরা পারব, রোহিত বাহিনী তা-ই করে দেখাল।’

২৪ মে থেকে সুপার লিগ

জাতীয় দলের ক্রিকেটারা গড়ে তিন থেকে চার ম্যাচ খেলে চলে গেছেন ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডে। মনে হচ্ছিল, তারকাদের অনুপস্থিতিতে লিগ ফিকে হয়ে যাবে। আকর্ষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও যাবে কমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিগের আকর্ষণ কমেনি। মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।

এ লড়াই শেষে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, আবাহনী লিমিটেড, প্রাইম দোলেশ্বর, প্রাইম ব্যাংক, শেখ জামাল ধানমন্ডি ও মোহামেডান জায়গা করে নিয়েছে সুপার লিগে। এর মধ্যে গাজী গ্রুপ ১১ খেলায় সর্বাধিক নয়টিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে। আর আবাহনী, প্রাইম দোলেশ্বর ও প্রাইম ব্যাংক তিন দলের পয়েন্ট সমান; ১১ খেলায় ১৬ করে।

এরপরে শেখ জামাল ধানমন্ডি। তাদের সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট। আর ছয় নম্বরে মোহামেডান। সাদা-কালোদের ঝুলিতে জমা আছে ১২ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেরা ছয়ে নাম লেখাতে পারেনি লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জ। হেড টু হেডে মোহামেডানের কাছে হারের কারণে সাত নম্বরে স্থান হয়েছে রূপগঞ্জের।

এদিকে সুপার লিগ শেষে তিন দিন বিরতির পর আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হচ্ছে সুপার লিগ। প্রিমিয়ার লিগের কো-অর্ডিনেটর আমিন খান জাগো নিউজকে আজ এ তথ্য দিয়েছেন। আমিন খান জানান, ‘আমরা টেলিফোনে দলগুলোর সাথে কথা বলেছি। তাতে বেশির ভাগ দল ২৪ মে থেকে সুপার লিগ খেলতে রাজি হয়েছে। তাই কোনো প্রাকৃতিক সমস্যার উদ্ভব না ঘটলে আগামী বুধবার থেকেই মাঠে গড়াবে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগ।’

তার মানে, আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি টুর্নামেন্ট ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যে জাতীয় ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন, তাদের এবার আর প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগ খেলা হচ্ছে না। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলতে না পারলে দলগুলো শক্তির ভারসাম্য ঠিক রাখতে একজন বাড়তি বিদেশি ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্তির দাবি তুলতে পারে- এমন সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। সুপার লিগের ছয় দলের কেউই বিদেশি ক্রিকেটারের কোটা এক থেকে বাড়িয়ে দুইজন করতে রাজি হয়নি। যার যা শক্তি আছে, তা নিয়েই সুপার লিগ খেলতে রাজি হয়েছে। তাই আর বিদেশি কোটা বাড়ছে না।

এদিকে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের কো-অর্ডিনেটরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথম লেগের মতোই প্রতিদিন তিন ভেন্যু- ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম আর বিকেএসপি তিন ও চার নম্বর মাঠে তিনটি করে খেলা হবে। আবার এক দিন বিরতি দিয়ে আরেক পর্ব।

খুব স্বাভাবিকভাবেই আগামী পরশু বুধবার প্রথম দিন সবার ওপরে থাকা গাজী ট্যাংকের মোকাবিলা হবে মোহামেডানের সাথে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনী খেলবে পাঁচ নম্বরে জায়গা পাওয়া শেখ জামালের বিপক্ষে। তিন নম্বর প্রাইম দোলেশ্বরের সাথে প্রথম দিন দেখা হবে চার নম্বরে থাকা প্রাইম ব্যাংকের।

এদিকে সুপার লিগই শুধু নয়। এর সাথে আছে রেলিগেশন লিগও। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বাইলজ ও প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী ১২ দলের একদম তলানিতে থাকা দুই দল রেলিগেশনে পড়বে। সেটা যে শুধু প্রথম পর্বের পয়েন্ট টেবিলের ভিত্তিতেই হবে, এমন নয়। সেখানে আছে রেলিগেশন লিগ।

প্রিমিয়ার লিগ কো-অর্ডিনেটর আমিন খান জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘যেহেতু ভেন্যু মাত্র তিনটি। তাই সুপার ও রেলিগেশন লিগ একসঙ্গে চালানো সম্ভব না। তাই আগে সুপার লিগ শুরু করে রেলিগেশন লিগ পরে শুরু করব। যেহেতু তিনটি ম্যাচ। তাই দেরিতে শুরু করলেও সুপার লিগের সাথেই শেষ করা যাবে।’

প্রসঙ্গত, লিগে টেবিলের একদম নিচে থাকা ভিক্টোরিয়া, পারটেক্স আর খেলাঘর সমাজ কল্যাণ খেলবে রেলিগেশন লিগে।
যেহেতু প্রথম পর্বের পয়েন্ট ধরা হবে, তাই তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে খেলাঘর। এ দলটির সংগ্রহ ৬।
অন্যদিকে সমান একটি করে ম্যাচ জেতা ভিক্টোরিয়া ও পারটেক্সের পয়েন্ট সমান ২ করে। এ দল দুটির রেলিগেশন বাঁচানো কঠিন হবে।

প্রথম পর্বের পয়েন্ট টেবিল

অসম্ভব এক জয়ে সুপার সিক্সে শেখ জামাল

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে অসম্ভবকেও সম্ভব করলো এবারের লিগের অন্যতম দাপুটে দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। লিগের প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ছুঁড়ে দেয়া ৩৪০ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্যও শেখ জামাল শেষ পর্যন্ত টপকে যেতে সক্ষম হয় ২ বল আর ১ উইকেট হাতে রেখে। আর এই জয়ে লিগের শেষ ছ’য়ে উঠে গেল মোহাম্মদ সেলিমের শিষ্যরা। জামাল ওপেনার প্রশান্ত চোপরার ৬০ বলে ৮৬, সোহাগ গাজী ৬৪ বলে ৮৯ ও তানবির হায়দারের ৭২ বলে ৭৭ রানের ইনিংস এই অসম্ভবকে সম্ভব করে শেষ ছ’য়ে তোলে দলটিকে। এদিকে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় পাওয়ার সুবাদে শেখ জামালের সাথে সুপার সিক্সে উঠলো মোহামেডানও। তবে বাদ পড়ে গেল মাশরাফি-মুশফিকের লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ। শেষ ছ’য়ে উঠতে অবশ্য শেখ জামালের এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না। কেননা ১২ পয়েন্ট নিয়ে রুপগঞ্জের সাথে টেবিলের সমান অবস্থানে ছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মুখোমুখি লড়াইয়ে রুপগঞ্জ এগিয়ে থাকায় মোহামেডানকে হারানো অবশ্যকর্তব্য ছিল। গতকাল রোববার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস জিতে মোহামেডানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় শেখ জামাল। সুযোগটা অবশ্য বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে রনি তালুকদার ও তার দল। ওপেনার শামসুর রহমান শুভর অপরাজিত ১৪৪ ও রনি তালুকদারের ১১০ রানে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রান সংগ্রহ করে মোহামেডান। শেখ জামালের হয়ে বল হাতে ইলিয়াস সানি ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ২টি করে আর শাহাদাত হোসেন নিয়েছেন ১টি উইকেট।
জবাবে জয়ের জন্য ৩৪০ রানের দুর্গম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রশান্ত চোপরার ৮৬, সোহাগ গাজীর ৮৯ ও তানবির হায়দারের ৭৭ রানে ২ বল বাকি থাকতে ৩৪৩ রান সংগ্রহ করে সুপার সিক্সে উঠার আনন্দে মেতে মাঠ ছাড়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। এদিকে মোহামেডানের হয়ে বল হাতে আজিম ৪টি, তাইজুল ইসলাম ও এনামুল হক জুনিয়র ২টি করে এবং চ্যারিথ আশালঙ্কা নিয়েছেন ১টি উইকেট।

সুপার লিগের লড়াই এবার

ঢাকার ১২টি শীর্ষ ক্লাবের অংশগ্রহণে গত ১২ এপ্রিল মাঠে গড়ায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের এবারের আসরের প্রথম পর্বের খেলা। গতকাল রোববার শেষ হয়েছে প্রথম পর্বের লড়াই। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে দলগুলো একবার করে একে অপরের মুখোমুখি হয়। আর প্রথম পর্বে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ছয় দল নিয়ে আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হবে সুপার লিগের খেলা। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বিদেশে অবস্থান করায় খেলতে পারছেন না সুপার লিগে। বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে সুপার লিগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে দুইজন করে বিদেশি ক্রিকেটার রাখতে চেয়েছিল ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। কিন্তু ক্লাবগুলো বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ না দেখালে একজন করেই বিদেশি খেলোয়াড় সুযোগ পাচ্ছেন সুপার লিগে। এ বিষয়ে রোববার মিরপুর বিসিবির মিডিয়া লাউঞ্জে সিসিডিএমের সমন্বয়ক আমিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, যত দ্রুত লিগটা শেষ করা যায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। হয়তো ২৪ অথবা ২৫ তারিখ সুপার লিগ শুরু করবো। সুপার লিগের ফাঁকেই রেলিগেশন লিগ চলবে। এদিকে ২৪ মে থেকে অনুষ্ঠেয় সুপার লিগ শেষ হবে ঈদুল ফিতরের আগেই। লিগে ছয়টি দল একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মুখোমুখি হবে। টেবিলের শীর্ষে থাকা দল হবে চ্যাম্পিয়ন। দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে বিবেচনা করা হবে হেড টু হেড। আর তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে বিবেচনা করা হবে রান রেট।

কিউইদের বিপক্ষে জয়ই চাইছেন মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। জিতেনি আইরিশরাও। বৃষ্টির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টাইগারদের পয়েন্টে ভাগ বসায় স্বাগতিকরা। দুই দলই ২ পয়েন্ট করে পায়। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজের আরেক প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বসে মাশরাফি বাহিনী। হতাশা বাড়ে টাইগারদের। তবে, তৃতীয় ম্যাচে নেমেই লাল-সবুজরা উড়িয়ে দেয় আইরিশদের। পূর্ণ চার পয়েন্ট তুলে নেয় টাইগাররা। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আবারো নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচেও জয় চাইছেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। ত্রিদেশীয় সিরিজে দ্বিতীয় জয় তুলে নিতে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর প্রত্যয় তার। ২৪ মে আবারো মুখোমুখি টাইগার-কিউইরা। নিউজিল্যান্ডকে হারালেই র‌্যাংকিয়ের ছয়ে উঠবে বাংলাদেশ। ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে জয় ভিন্ন কিছুই ভাবছে না টাইগাররা। বিদেশের মাটিতে এখনও কিউইদের হারাতে পারেননি টাইগাররা। সেই আক্ষেপ তো আছেই। সঙ্গে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হওয়ার সুযোগও। মাশরাফির কথাতেও একই সুর, আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার প্রতীক্ষায় আছি। গত ম্যাচেই (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ) অবশ্য সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা শুরুর দিকে উইকেট ফেলতে পারিনি। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বোলাররা ঠিক সেই কাজটাই সাফল্যের সঙ্গে করেছে। জয়ের জন্যই আমরা শেষ ম্যাচে মাঠে নামবো। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (১ জুন শুরু) সামনে রেখে এবং র‌্যাংকিং বিবেচনায় নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে থাকছে কিউইদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো অ্যাওয়ে ম্যাচ জেতার হাতছানি। জিতলেই শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে র‌্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে শোভা পাবে বাংলাদেশের নাম। যোগ হবে তিন রেটিং পয়েন্ট। লঙ্কানদের সমান ৯৩ রেটিং পয়েন্ট হলেও পয়েন্টের ভগ্নাংশ হিসেবে এগিয়ে থাকবে টাইগাররা। ম্যাচ হারলে কমবে ১ রেটিং পয়েন্ট। তবে অবস্থান থাকবে অপরিবর্তিত। মাশরাফি আরও যোগ করেন, বোলারদের কাছ থেকে সব সময় ভালো কিছু চাই। তামিম-সৌম্যরা ভালো করছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, সামনে এভাবে খেলতে পারলে শেষ ম্যাচটিতেও আমাদের জয়ের সুযোগ রয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের র‌্যাংকিংয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে শীর্ষ আটে থাকা দলগুলো সরাসরি ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা

বিপিএলে আবার ফিরছে সিলেট

দিন ক্ষণের হিসাব গুনতে গেলে বলতে হবে, এবারের বিপিএল শুরু হতে এখনও পাঁচ মাস বাকি। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল); কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে আরও আগে থেকেই।

এরই মধ্যে দুটি দলের মালিকানাও বদল হয়েছে। প্রথমে রংপুর রাইডার্স। পরে চিটাগাং ভাইকিংস। রংপুর রাইডার্সের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আর ডিবিএল গ্রুপের বদলে চিটাগাং ভাইকিংসের নতুন মালিক চট্টগ্রাম মহানগরীর মেয়র আ জ ম নাছির ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান।

এদিকে আজ (২০ মে) ছিল দল নিবন্ধনের শেষ দিন। শনিবার শেষ দিন নতুন করে নিবন্ধিত হয়েছে সিলেট। বিপিএলের শুরু থেকে সিলেটের ফ্রাঞ্চাইজি থাকলেও, আগেরবার মানে বিপিএলের চতুর্থ আসরে ছিল না সিলেট। এবার আবার বিপিএলে ফিরছে সিলেট বিভাগ।

ফ্র্যাঞ্চাইজিও ঠিক হয়ে গেছে। সিলেট স্পোর্টস লিমিটেড নামের এক নতুন কর্পোরেট হাউজ হয়েছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক আজ দুপুরে শেরেবাংলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে সিলেটের আবার বিপিএলে ফেরার খবর নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত সিলেটকে ধরে এবারের বিপিএলে দল সংখ্যা দাঁড়াল আট। ছয় বিভাগীয় শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালের বাইরে কুমিল্লাও আগেরবারের বিপিএল খেলেছে।

বিভাগীয় শহর হিসেবে সিলেট বাদ পড়েছিল। আগের ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বোর্ডের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী পেমেন্ট পরিশোধ না করায় বিপিএলে নাম কাটা পড়ে সিলেটের। এবার আবার নতুন মালিকানায় ফিরেছে সিলেট।

সিলেট স্পোর্টস লিমিটেডের নামে নিবন্ধিত হলেও ভিতরের খবর, দলটির পিছনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রয়েছেন। আর বোর্ড পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নতুন সিলেটের কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকায় থাকবেন।

এদিকে বিপিএলে সিলেটের ফেরা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি সিলেটের কেউ নতুন করে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি হোক। সে লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিলেটের প্রকৃত মানুষই নতুন করে দলটির মালিক হয়েছে।’

মল্লিক আরও জানান, আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। তাতে সাড়া দিয়েছিল তিন-চারটি কর্পোরেট হাউজ; কিন্তু এর মধ্যে সিলেট স্পোর্টস সিলেটের আদি বাসিন্দা। তাই তাদের হাতেই সিলেটের নতুন মালিকানা তুলে দেয়া হয়েছে।

বাবার পথে হাঁটছে ছেলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলে  খেলার সুযোগ পাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারের কথা মনে আছে? মাখায়া এনটিনি।

সদা হাস্যোজ্জ্বল এ ক্রিকেটার দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন। দলকে দিয়েছেন একাধিক সাফল্য। একটা সময় এনটিনিকে বাদ দিয়ে একাদশ চিন্তাও করা যেত না। বরাবরই আস্থাভাজন ছিলেন ডানহাতি এ পেসার। কিন্তু বয়স ও পারফরম্যান্সের কারণে একটা সময় তাকেও বিদায় নিতে হয়। ৩৩ বছর বয়সে ক্রিকেটকে গুডবাই বলেছিলেন এনটিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই বললেও ক্রিকেট থেকে দূরে সরে থাকেননি। নিজ এলাকায় ক্রিকেট একাডেমি গড়েছেন। সেখানেই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ছেলে থান্ডো এনটিনিকে। বাবার মতো ছেলেও ডানহাতি পেসার। বাবার হাত থেকে ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ পাওয়া এ পেসার এবার নাম লিখাতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে।   প্রোটিয়া বয়সভিত্তিক সুযোগ পেয়েছে থান্ডো এনটিনি। যুব ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৫টি ওয়ানডে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ ওয়ানডে সিরিজের জন্য যুব দলে জায়গা পেয়েছেন থান্ডো এনটিনি। এবারই প্রথমবারের মত বয়সভিত্তিক দলে ডাক পেলেন ১৬ বছর বয়সী থান্ডো। ৯ জুলাই থেকে শুরু হবে সিরিজটি।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১০১ টেস্টে ৩৯০ এবং ১৭৩ ওয়ানডেতে ২৬৬ উইকেট নিয়েছেন বাবা মাখায়া এনটিনি।  বাবার বিশ্বাস ছেলে থান্ডো এনটিনিও সার্ভিস দিবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

উইন্ডিজ দলে বিপিএল খেলা বিটন

ক্রীড়া ডেস্ক :

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। কার্লোস ব্রাফেটকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করা হয়।

২৪ বছর বয়সি পেসার রন্সফোর্ড বিটনকে দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে আঞ্চলিক সুপার ৫০ ওভারের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ২৬ ম্যাচে ৪১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন ডানহাতি এ পেসার। গত বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়েও খেলেছিলেন বিটন। ২ ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ২ উইকেট।

দল থেকে বাদ পড়েছেন জনাথন কার্টার, আন্দ্রে ফ্লেচার ও ভিরামাসি পেরামল। ওয়ানডের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ডাক পেয়েছেন কাইরন পোলার্ড ও সুনীল নারিন। খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাদ পড়লেও টি-টোয়েন্টিতে টিকে গেছেন ডানহাতি ওপেনার।

আগামী ৩০ জুন প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সফর শুরু করবে আফগানিস্তান। সেন্ট কিটসে প্রথম ম্যাচ হবে ২ জুন। পরবর্তী দুই ম্যাচ হবে ৩ ও ৫ জুন। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর সেন্ট লুসিয়া যাবে দু্ই দল। সেখানে ৩টি ওয়ানডে খেলবে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দল: কার্লোস ব্রাফেট, স্যামুয়েল বদ্রি, রন্সফোর্ড বিটন, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, সুনীল নারিন, কাইরন পোলার্ড, রোবম্যান পাওয়েল, মারলন স্যামুয়েলস, লেন্ডল সিমন্স, জেরম টেলর, চাঁদউইক ওয়ালটন, কেসরিক উইলিয়ামস।

যুবাদের অনুশীলন ক্যাম্পের দল ঘোষণা

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য যুব দলকে প্রস্তুত করতে এক মাসের একটি অনুশীলন ক্যাম্পের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই ক্যাম্পের জন্য শনিবার ২৪ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়েছে।

মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে ২১ মে থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত চলবে অনুশীলন ক্যাম্প। দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের সেখানে রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ যুব বিশ্বকাপ হয়েছিল ২০১৬ সালে বাংলাদেশেই। পরের আসর বসবে ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডে।

প্রস্তুতি ক্যাম্পের যুব দল:

ব্যাটসম্যান: সাইফ হাসান, সজীব হোসেন, পিনাক ঘোষ, নাঈম শেখ, জালাল উদ্দিন, আফিফ হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রায়ান রাফসান রহমান, শামিম হোসেন পাটোয়ারী, হাবিবুর রহমান মারুফ, মোহাম্মদ রাকিব

উইকেটরকিপার: মাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া অঙ্কন, শাকিল হোসেন

স্পিনার: মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক, নাঈম হাসান, শাখাওয়াত হোসেন,

পেসার: কাজী অনিক ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত, মুকিদুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, হাসান মাহমুদ, রবিউল হক।

২০ বছর আগে সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪

ক্রীড়া ডেস্ক:

২০ বছর আগে আজকের এ দিনে ভারতীয় বোলারদের তুলোধুনো করে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন পাকিস্তানের ওপেনার সাঈদ আনোয়ার।

চেন্নাইয়ে স্বাধীনতা কাপ টুর্নামেন্টে বাঁহাতি ওপেনার ১৯৪ রান করেন মাত্র ১৪৬ বলে। ২২ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় পুরো ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন সাঈদ। অনিল কুম্বলেকে এক ওভারে টানা তিনটি ছক্কাও মেরেছিলেন বাঁহাতি ড্যাশিং ওপেনার। বড় ইনিংস খেলতে সাঈদ আনোয়ারকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন শহীদ আফ্রিদি।ইনিংসের ১৯তম ওভার থেকে সাঈদ আনোয়ারের রানার ছিলেন আফ্রিদি। ফলে একপাশ থেকে সাঈদ আনোয়ার শুধু ব্যাটিং করে যান অন্যপ্রান্তে আফ্রিদি তার হয়ে দৌড়ান।

সাঈদ আনোয়ারের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান ৫ উইকেটে করে ৩২৭ রান। পরবর্তীতে ৩৫ রানে জয় পায় পাকিস্তান। অবাক করা বিষয় ছিল, সাঈদ আনোয়ারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ করে রান করেন ইজাজ আহমেদ ও ইনজামাম উল হক।

ইনিংসের শেষ দিকে শচীন টেন্ডুলকারের বলে সৌরভ গাঙুলির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাঈদ আনোয়ার। একমাত্র ভুল শটটি না খেললে সেদিনই আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেত।

১২ বছর নিজের কাছে রেকর্ডটি রেখেছিলেন সাঈদ আনোয়ার। ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট চার্লস কভেন্ট্রি বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন ১৯৪ রান। পরের বছরের শুরুতেই ভারতের মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার ওয়ানডে ক্রিকেটকে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০ রান করেন টেন্ডুলকার।

এরপর বীরেন্দর শেবাগ ২০১১ সালে ২১৯ রান করেন। ভারতের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ২০১৩ সালে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নেন রোহিত শর্মা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৯ রান করেন রোহিত। এক বছর পর রোহিত ছাড়িয়ে যান সবাইকে। ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর কলকাতায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ রানের ইনিংস উপহার দেন ডানহাতি এ ওপেনার, যা এখনও ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩৭ রান করেছেন মার্টিন গাপটিল। ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়েলিংটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংসটি খেলেন গাপটিল। ওই বিশ্বকাপেই ক্রিস গেইলের ব্যাট থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসে ২১৫ রানের ইনিংস।

আইপিএলের শিরোপা যুদ্ধে পুনে-মুম্বাই

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।  টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন ও সুপার সিক্স।

শিরোপার লড়াইয়ে প্রথম মুখোমুখি রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও স্টিভেন স্মিথের রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। এর আগে ২০১৩ এবং ২০১৫ আসরে আইপিএলের শিরোপা পেয়েছিল মুম্বাই। অন্যদিকে পুনে গতবারই প্রথম টুর্নামেন্টে নাম লেখায়। দ্বিতীয় আসরেই তারা ফাইনালে। ধোনি-স্মিথদের শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

এবারের আসরে দুই দল এখন পর্যন্ত ৩টি ম্যাচ খেলেছে। তিনটিতেই জিতেছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। আসরের শেষ মুখোমুখিতে কাদের মুখে হাসি ফোটে সেটা দেখার অপেক্ষায় এখন কোটি ক্রিকেটপ্রেমি।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল মুম্বাই। ১০ জয় নিয়ে সবার আগে কোয়ালিফাইয়ার নিশ্চিত করে তারা। অন্যদিকে ‍পুনে শুরুর দিকে সাদামাটা পারফরম্যান্স করলেও পরবর্তীতে দারুণ ছন্দে ফিরে।

ব্যাটিংয়ে স্মিথ, রাহানে ও তিওয়ারির সঙ্গে আছেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি ও রাহুল ত্রিপাথি। বোলিংয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন শার্দুল ঠাকুর ও ওয়াশিংটন সুন্দর। অন্যদিকে রোহিত শর্মার দলের সঙ্গে রয়েছেন সিমন্স, পার্থিব প্যাটেল, রাইডু, হার্দিক পান্ডে ও পোলার্ডের মতো তারকা ক্রিকেটার। বোলিংয়ে মালিঙ্গা, জনসন ও বুহরাহ রয়েছেন সেরা ফর্মে।

শক্তির বিচারে মুম্বাই এগিয়ে থাকলেও পুনের রয়েছে আত্মবিশ্বাস। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠে নামছে পুনে। এবার বিগ ফাইনালে মুম্বাই ব্যবধান কমাতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

জয়ের পথে মোহামেডান

ওপেনার শামসুর রহমানের অপরাজিত ১৪৪ এবং রনি তালুকদারের ১১০ রানে ভর করে শেখ জামালকে জয়ের জন্য ৩৪০ রানের টার্গেট দিলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে বিকেএসপি-র ৩নং মাঠে টসে হেরে ব্যাট করে, শামসুর রহমান ও রনি তালুকদারের সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রান তোলে মোহামেডান।
প্রথমে ব্যাট করে দলের ৭৬ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৈকত আলী। ২৮ বলে ৩৯ রান করে তিনি ইলিয়াস সানীর শিকারে পরিণত হন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে শামসুর রহমান ও রনি তালুকদার ১৭৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। দলের ২৪৯ রানে রনি যখন ইলিয়াস সানীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তখন তার সংগ্রহে ৯৯ বলে ১১০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। এরপর অধিনায়ক রকিবুল হাসান (৫), চারিথা আসালঙ্কা (২) এবং নাজমুল মিলন (২১) দ্রুত বিদায় নিলে, ৫ উইকেট হারানো মোহামেডানের ইনিংস থামে ৩৩৯ রানে। শামসুর রহমান ১৫২ বলে ১৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিলো ৭টি চার ও সমান ছক্কার মার। কামরুল উসলাম রাব্বি ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।
জবাবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯ ওভার ২ বলে ৭০ রানে ২ উইকেট হারায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ফজলে রাব্বি ২৮ এবং রাসেল আল মামুন ০ রানে বিদায় নেন। মোহামেডানের পক্ষে ২টি উইকেট নেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

বিশ্ব মাতাচ্ছেন সাতক্ষীরার দুই ক্রিকেটার

স্বল্প সময়ে তারকাখ্যাতি পেয়ে যাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান। জেলার কালিগজ্ঞের তেঁতুলিয়ার অজপাড়া গাঁয়ের গ্রাম্য মাঠ দাপিয়ে উঠে আসা এই পেসার এখন কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন গোটা বিশ্ব ক্রিকেট। ধূমকেতুর মত আর্বিভাব। এরপর নিজের প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করে তুলেছেন ক্রিকেট বিশ্বে। অল্প দিনেই ক্রিকেট দুনিয়ায় কাটার মাস্টার খ্যাতি পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান কাটার জাদুতে আবারও শুক্রবার মাঠ কাঁপিয়েছেন। ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার পর চেনা রুপে প্রথম মাঠে দেখা গেলো এই বিস্ময় বালককে।

অন্যদিকে, ব্যাট হাতে আবারো নিজেকে মেলে ধরেছেন জাতীয় দলের ওপেনার, সাতক্ষীরার আরেক কৃতিসন্তান সৌম্য সরকার। ব্যাট হাতে তার দৃষ্টিনন্দন শট, দূর্দান্ত পারফরন্সে খুব সহজেই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।

সাতক্ষীরার এই দুই তারকা ক্রিকেটারের ওপর ভর করেই শুক্রবার আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে বল হাতে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ৪ উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে আইরিশ বোলারদের শাসন করেছেন সৌম্য সরকার। এই দুই কৃতি ক্রিকেটারকে নিয়ে এখন মেতে উঠেছে সাতক্ষীরাবাসী। তাদের গর্ব ছুঁয়ে যাচ্ছে যেন পুরো দেশকেই।

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক একেএম আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকার যেমন গোটা দেশের গর্ব, তেমনি আমাদের সাতক্ষীরাবাসীর গর্ব। তারা ভালো খেলছে বলে, আমাদের অনুভূতিটাও খুব আনন্দের। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও তারা ভালো খেলবে আশা করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাতক্ষীরায় বয়স ভিত্তিক গ্রুপে কিছু ছেলে রয়েছে, যারা খুব ভালো পারফরমেন্স করছে। আশাকরি পর্যায়ক্রমে তারাও একদিন জাতীয় দলে পৌঁছে যাবে।’

একই অভিমত ব্যক্ত করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি আশরাফুজ্জামান আশুও। মোস্তাফিজকে ভালো খেলতে দেখলে নিজের ভালোলাগার অনুভ‚তিটা প্রকাশহীন জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের মেঝো ভাই মোকলেছুর রহমান পল্টু জাগো নিউজকে বলেন, ‘খুবই ভালো লাগে যখন বল হাতে মোস্তাফিজকে উইকেট নিতে দেখি। বাংলাদেশ জিতে যায়। দলের যে কোন খেলোয়াড়কে ভালো খেলতে দেখলেই ভালো লাগে। গতকালকের ম্যাচটি ভালো খেলেছে সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজ। এই ধারা অব্যাহত থাক, সে দোয়া করি।’

ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সাইফ-আফিফ

ভারতের অনুষ্ঠিত হবে বহুজাতি টুর্নামেন্ট। এই আসরে খেলতে আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত সেই দলে রাখা হয়েছে ২৪ জন ক্রিকেটার।

প্রাথমিক দলটিতে রয়েছে অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটার। তারা হলেন- সাইফ হাসান, পিনাক ঘোষ এবং মোহাম্মদ হালিম। রয়েছেন বিস্ময় বালক আফিফ হোসেনও। এই দলে জায়গা পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে ১২ জন ব্যাটসম্যান, তিনজন উইকেটরক্ষক, চার স্পিনার ও ছয় পেসার।

টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে নিজেদের আগেভাগেই ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ এক মাসের ক্যাম্প করবে প্রাথমিক দলে থাকা ক্রিকেটাররা। আজ রোববার (২১ মে) থেকে ক্যাম্প শুরু, চলবে ২৩ জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল :
সাইফ হাসান, সজিব হাসান, পিনাক ঘোষ, নাঈম শেখ, মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, তৌহিদ হৃদয়, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রায়হান রাফসান, শামিম হোসেন পাটোয়ারী, হাবিবুর রহমান মারুফ, মাহিদুল ইসলাম, শাকিল হোসেন, ভূঁইয়া অঙ্কন, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম, নাঈম হাসান, মোহাম্মদ রাকিব, শাকাওয়াত হোসেন, কাজী অনিক ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত, মুকিদুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, হাসান মাহমুদ ও রবিউল হক।

শেষটা রাঙাতে চান মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে বাংলাদেশ পড়েছিল বৃষ্টির কবলে। ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কাছেই হার মানল ক্রিকেট! শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেনি; আবার হারেনি স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডও। পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে যায়। বাংলাদেশ পেয়েছে দুই পয়েন্ট, আইরিশদের ঝুড়িতেও জমা পড়েছে দুই।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫১ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। পয়েন্ট হারিয়ে হতাশ ছিল টাইগার শিবির। সেই হতাশার কিছুটা হলেও দূর হয়েছে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে। আইরিশদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের সাক্ষাতে বাংলাদেশের জয়টা ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং ও সৌম্য সরকারের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে জয়ে ফেরেন টাইগাররা।

আগামী ২৪ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে এখনও কিউইদের হারাতে পারেননি টাইগাররা। সেই আক্ষেপ তো আছেই। সঙ্গে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হওয়ার সুযোগও।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শেষটা রাঙাতে চান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বলেন, ‘আমরা এটার (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ) জন্য প্রতীক্ষায় রয়েছি। গত ম্যাচেই (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ) অবশ্য সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, সামনে এভাবে খেলতে পারলে শেষ ম্যাচটিতেও আমাদের জয়ের সুযোগ রয়েছে।’

র‌্যাংকিয়ে ছয়ে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ছয়ে ওঠার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজের ফিরতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলেই শ্রীলংকাকে হটিয়ে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে উঠে যাবে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।
ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি ও দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে ওঠার সুযোগ লাভ করবে মাশরাফির নেতৃত্বাধীন টাইগাররা।
ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে আগামী বুধবার (২৪ মে) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে কিউইদের বধ করতে পারলেই শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে নিজেদের সেরা র‍্যাঙ্কিংয়ে ওঠে আসবে বাংলাদেশ।
বর্তমানে ৯০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে রয়েছে। টাইগারদের চেয়ে তিন পয়েন্ট বেশি নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে শ্রীলঙ্কা। আগামী ম্যাচে কিউইদের হারাতে পারলে বাংলাদেশের নামের পাশে যোগ হবে তিন রেটিং পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার সমান ৯৩ রেটিং পয়েন্ট হলেও ভগ্নাংশে এগিয়ে থেকে লঙ্কানদের ছাপিয়ে প্রথমবারের মতো ছয়ে ওঠে আসবে টাইগাররা।
আপাত দৃষ্টিতে সহজ সমীকরণ হলেও, মাশরাফিদের জন্য যে কাজটা মোটেও সহজ হবে না তা মানছেন খোদ ক্রিকেটাররাই। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে জয় তুলে নিতে প্রত্যয়ী ক্রিকেটাররা।
উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আয়ার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয় দুই দলের মধ্যে। পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায় বাংলাদেশ।

সাকিব ছাড়াই আইপিএলের সেরা একাদশ

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের মধ্যকার খেলা দিয়েই আজ শেষ হচ্ছে আইপিএলের দশম আসর। দীর্ঘ ৪২ দিন ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটের পর জুরি বোর্ড বাছাই করে আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ। জানা যায়, ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটে বাংলাদেশ ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এগিয়ে থাকলেও জুরি বোর্ডের হস্তক্ষেপে বাদ পড়েন আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ থেকে।
আইপিএলের নিয়ম মেনে অর্থাৎ, সাতজন স্থানীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি চারজন বিদেশী ক্রিকেটারকে নিয়ে গড়া আইপিএলের দলে ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিকেটার ডোয়েন ব্রাভোর কাছে জায়গা হারিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে প্রতিনিধিত্ব করা সাকিব আল হাসান।
তবে নাটকীয়ভাবে সর্বকালের সেরা একাদশের চার বিদেশী ক্রিকেটারের মধ্যে তিনজনই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার সাথে বাকী তিনজন বিদেশী ক্রিকেটার হলেন, ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইন এবং ডোয়াইন ব্রাভো।
ক্রিকেট অনলাইন ইএসপিএন ক্রিকইনফো ঘোষিত আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ হলো: মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার/ অধিনায়ক), ক্রিস গেইল, বিরেন্দ্র শেবাগ, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা, ডোয়াইন ব্রাভো, সুনীল নারাইন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং ভুবনেশ্বর কুমার।

নিউজিল্যান্ডের পরাজয়ে চোখ বাংলাদেশের

ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচের ফলাফলের দিকে চেয়ে আছে বাংলাদেশ। কারণ এ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড হেরে গেলে আর সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেলেই শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ। ডাবলিনের মালাহিডে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
এ পর্যন্ত ২ ম্যাচে দুই জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। আর ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ২ হার ও ১টি পরিত্যাক্ত হওয়ায় স্বাগতিকদের পয়েন্ট ২।
তাই ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগামীকাল জয় পেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে নিউজিল্যান্ড। আর যদি কিউইরা হেরে যায়, তবে চ্যাম্পিয়ন হবার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের। তখন সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই হবে টাইগারদের। এছাড়া আগামীকালের ম্যাচটি ড্র বা পরিত্যক্ত হলেও, শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি রান রেটে এগিয়ে থাকতে হবে মাশরাফিদের।
নিউজিল্যান্ড হারালেও, চ্যাম্পিয়ন হবার কোন সুযোগ থাকছে না আয়ারল্যান্ডের। তবুও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাইবে স্বাগতিকরা। এদিকে, জয়ের জন্য মরিয়া থাকবে নিউজিল্যান্ড। শুধুমাত্র শিরোপা নিশ্চিতের জন্যই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে জয়ের মধ্যেই থাকতে চায় কিউইরা। প্রথম পর্বে আয়ারল্যান্ডকে ৫১ রানে ও বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিলো কিউইরা।
আয়ারল্যান্ড দল : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), এন্ড্রু ব্যালবিরনি, পিটার চেজ, জর্জ ডকরেল, এড জয়সে, টিম মুরতাগ, সিমি সিং, ব্যারি ম্যাককার্থি, কেভিন ও’ব্রায়ান, নিয়াল ও’ব্রায়ান, পল স্টার্লিং, স্টুয়ার্ট থমসন, গ্যারি উইলসন ও ক্রেইগ ইয়ং।
নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড : টম লাথাম (অধিনায়ক), নিল ব্রুম, কলিন মুনরো, হেনরি নিকোলস, সেথ রেন্স, মিচেল স্যান্টনার, রস টেইলর, জর্জ ওরকার, হামিশ বেনেট, স্কট কুগিলজন, জেমস নিশাম, জিতান প্যাটেল, লুক রঞ্চি (উইকেটরক্ষক), ইশ সোধি ও নিল ওয়াগনার।

আইপিএলের ফাইনাল আগামীকাল

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসরের ফাইনালে আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনাল খেলতে নামবে পুনে। পক্ষান্তরে মুম্বাইয়ের চোখ তৃতীয় শিরোপার দিকে। হায়দারাবাদে এই ফাইনালটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।
গেল আসরে সপ্তম স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করেছিলো পুনে। তাই চলমান মৌসুম শুরুর আগেই অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনে পুনে ফ্র্যাঞ্চাইজি। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয় পুনে। এমনকি দলের শক্তি বাড়াতে নিলামে বেশ পারদর্শীতা দেখায় তারা। ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে রেকর্ড মূল্যে দলে ভেড়ায় তারা। তাকে দলে নেয়ার কারণটা লিগ পর্বে প্রদর্শন করেছেন স্টোকস। ব্যাট-বল দিয়ে সেরা পারফরমেন্সই দেখিয়েছেন তিনি। তবে প্লে-অফে খেলা হয়নি তার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন স্টোকস।
তবে কোয়ালিফাইয়ার-১এর বাঁধা পেরিয়ে যেতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি পুনের। আজিঙ্কা রাহানে-মনোজ তিওয়ারির হাফ-সেঞ্চুরির সাথে সাবেক ধোনির ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রান লড়াই করার পুঁজি দেয় পুনেকে।
এরপর শুরুতেই অফ-স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের ধাক্কায় খেই হারিয়ে ফেলে মুম্বাই। পরবর্তীতে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মুম্বাই। শারদুল ঠাকুরের পেস তোপে ১৬৩ রানের টার্গেটে ১৪২ পর্যন্ত সমর্থ হয় মুম্বাই। ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সুন্দর। তাই স্টোকসের অভাব বুঝতে পারেনি পুনে।
তবে আগামী মৌসুম থেকে আইপিএলে থাকছে না পুনে ও গুজরাট লায়ন্স। কারন স্পট ফিক্সিং-এর দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া দুই দল চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসকে ফিরিয়ে আনার সিদ্বান্ত নিয়েছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। আগামী মৌসুম থেকে পুনে ও গুজরাটের পরিবর্তে আইপিএলে দেখা যাবে চেন্নাই ও রাজস্থানকে।
তাই ভালোভাবে এই মৌসুম শেষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন স্মিথ, ‘টুর্নামেন্টের সঠিক সময়ে সেরাটাই এখন প্রয়োজন। এটি সত্যিই এখন আমাদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়।’
এবারের আসরে ১৪ ম্যাচে ৪২১ রান করেছেন স্মিথ। অধিনায়কত্ব হারালেও, ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় সময় ঠিকই জ্বলে উঠেছেন ধোনি। কোয়ালিফাইয়ার-১এ ধোনি ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রানের কল্যাণে লড়াই করার পুঁজি পায় পুনে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এক কলামে ভারতের সবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার বলেন, ‘স্মিথের নেতৃত্বে পুনে ফাইনালে ওঠে। তবে অবশ্যই ধোনির সাহায্য নিয়ে।’
পুনের বোলিং-কে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন বাঁ-হাতি জয়দেব উনাদকত। তার সাথে সহযোগিতায় থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার ড্যান ক্রিস্টিয়ান-লেগ স্পিনার এডাম জাম্পা ও সুন্দর-ঠাকুর।
কোয়ালিফাইয়ার-১এ পুনের কাছে হারলেও, কোয়ালিফাইয়ার-২এ কলকাতা নাইট রাইডার্সকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট পায় মুম্বাই। এই নিয়ে চতুর্থবারের মত ফাইনাল খেলবে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১১ জয়কে সাথে নিয়ে ফাইনালে খেলতে নামবে মুম্বাই।
কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি। শিরোপা জয় থেকে এখন আমরা এক ধাপ দূরে। পুনের বিপক্ষে আমাদের ভালো রেকর্ড নেই। তবে আর মাত্র একটি বাঁধা।’
এই মৌসুমে পুনের সাথে তিনবারের দেখায় সবগুলোতেই হেরেছে মুম্বাই।
২০১৩ ও ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের হাতে রয়েছে একাই ম্যাচ ঘুড়িয়ে দেয়ার মত বহু খেলোয়াড়। বিদেশীদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড ও নিউজিল্যান্ডের পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান অন্যতম। চলমান মৌসুমে সেটি বেশ কয়েকবারই প্রমান দিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছেন ওপেনার উইকেটরক্ষক পার্থিব প্যাটেল। পরের দিকে রোহিতের সাথে পোলার্ড-দুই পান্ডে ভাই দলের জয়ে প্রধান ভূমিকাও রাখেন। তাই এরা পুনের বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন।
বোলিং-এ মুম্বাইয়ের সেরা অস্ত্র জসপ্রিত বুমরাহ। ডেথ ওভারে দুর্দান্ত সব ইর্য়কারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি দিচ্ছেন বুমরাহ। সাথে আছেন শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা-ম্যাকক্লেনাঘান-করন শর্মার মত বোলার। ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কলকাতাকে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন করন। ফাইনালেও তার স্পিন বিষ দেখতে চাইবে মুম্বাই। এতে তৃতীয়বারের মত আইপিএলের শিরোপা জয় করতে সুবিধাই হবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের।

চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে পাকিস্তানের লক্ষ্য শিরোপা জয়

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যতই এগিয়ে আসছে এর উত্তেজনাও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যেকোন টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে যেখানে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকে এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজিত না হওয়ায় আইসিসি’র টুর্নামেন্টগুলোতেই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকে সমর্থকরা।
এবারও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সব আকর্ষনই থাকবে আগামী ৪ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনের দিকে। এই দিনই ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক জানিয়েছেন তারা শুধুমাত্র ভারতকে পরাজিত করতে নয় বরং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিততেই ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো ইনজামামের বরাত দিয়ে এই কথা জানিয়েছে। ২০০৪ সালে এই এজবাস্টনে ভারতকে হারানোর সুখস্মৃতি আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ইনজামাম। ঐ সময় পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এবারও তার পুনরাবৃত্তির আশা করছেন ইনজামাম। সম্প্রতী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজ জয় করা পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস বেশ তুঙ্গে। ইনজামাম বিশ্বাস করেন এই জয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভাল খেলতে তার দলকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

প্রিমিয়ার ক্রিকেটে আবাহনীর পরাজয়

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রাথমিক পবের্র শেষ রাউন্ডে আবাহনী লিমিটেডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে আবাহনীর দেয়া ২৪৭ রানের টার্গেটে নেমে প্রাইম দোলেশ্বর ১৭ বল হাতে রেখেই জয় পায়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় আবাহনী দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিটন দাসের উইকেট হারিয়ে। লিগের সর্বোচ্চ রান করা এই স্কোরার ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। ব্যর্থ সাদমান, সাইফ ও শান্ত। ৫০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আবাহনী তখন ব্যাকফুটে। ব্যাটিং বিপর্যয় ঠেকান আফিফ হোসেন। পঞ্চম উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৮৯ রানের জুটি গড়েনক। ৩৪ রান করে মিঠুন প্যাভিলিয়নে ফিরলেও আফিফ আউট হন, ৯৪ রান করে। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে থামে আবাহনীর ইনিংস।

জবাবে প্রাইম দোলেশ্বরের শুরুটাও ছিলো না আশা জাগানিয়। দলের রান পঞ্চাশ পেরুতেই হারায় তারা দুই ওপেনারকে। তৃতীয় উইকেটে মার্শাল ও শাহরিয়ার ১০৯ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। ৬৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন শাহরিয়ার নাফীস। ম্যাচ সেরা শেষ মার্শাল আউয়ুব ৯৪ বলে ৮৩ করে রান আউটে কাটা পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে প্রাইম দোলেশ্বর। এই জয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত হয় তাদের।

রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন সৌরভ

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ৮ জুন রাজ্যসভা নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়ার জোর গুজব সৌরভের নামে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন করার কথা শোনা যাচ্ছে ভাইচুং ভুটিয়ারও। ২২ মে মনোনয়ন জমা দেয়া শুরু হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় সৌরভ, ভাইচুং ছাড়াও আছে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কন্য শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের নামও।
তবে নিজের প্রার্থীতা বিষয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি কিছু জানেন না বলে সংবাদ মাধ্যমে খরব বের হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। কিছু বলতেও পারব না।’ পরে সৌরভ জানান, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলাম। আবার যেতে হবে। আমি কিছুই জানি না।’
অবশ্য এর আগে, সৌরভ তৃণমূল কংগ্রেস আবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, এমন খরব বের হয়েছিলো। তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবারও তেমন খবর বের হলো। কিছুদিন পরই সেই খবরের সত্যতা জানা যাবে। আপাতত শুধু অপেক্ষা।

মিসবাহ-আফ্রিদির কাছে আশরাফুলদের হার

বাহরাইনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন ক্রিকেট উৎসবে মিসবাহ-আফ্রিদিদের মিসবাহ ইগলসের কাছে হেরে গেছে স্যামুয়েলস-আশরাফুলদের ইরফান ফ্যালকন্স। মিসবাহর সেঞ্চুরি আর আফ্রিদির হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৪৪ রান সংগ্রহ করেন মিসবাহ ইগলস। জবাবে ১৭৫ রান থামে ইরফান ফ্যালকন্সের ইনিংস।

বাহরাইন জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে বোলারদের উপর ঝড় তোলেন মিসবাহ-আফ্রিদি। ৩৮ বলে ১২১ রান করেন অধিনায়ক মিসবাহ। আর আফ্রিদি  করেন ৪৯ বলে ৭৯ রান। ফলে ২৪৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ পায় দলটি।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ইরফান ফ্যালকন্স ৪ উইকেটে ১৭৫ রান তুলে। ৬৯ রানের বড় পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয় তাদেরকে। স্যামুয়েলস ৩৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৭২ রান। মোহাম্মদ আশরাফুল ৩৬ বলে করেন ৪৪ রান।

উল্লেখ্য, এ ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীশান্ত ও ইউসুফ পাঠানের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা খেলতে পারেননি। তবে ইরফান পাঠান প্রতিযোগিতায় মাঠে ছিলেন।

ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের প্রথম ৪ উইকেট!

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ৪ উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ। কি অবাক হয়ে গেলেন! ভাবছেন, যার ক্যারিয়ার শুরু ৫ উইকেট শিকার দিয়ে। দ্বিতীয় খেলায় যে বোলারের ঝুলিতে জমা পড়েছে ৬ উইকেট, সেই বোলার দুই বছর পার করে ১৭ নম্বর ম্যাচে এসে কিনা প্রথম চার উইকেট পেলেন! মেলাতে গিয়ে ধাঁধায় পড়ে যাচ্ছেন। ঘুরিয়ে বললে গোলমেলে ঠেকছে তাই না। তা পড়ারই কথা।

তবে পরিসংখ্যান জানাচ্ছে সেটাই ঠিক। গতকাল ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কাটার মাষ্টারের বলে আউট হয়েছেন চার আইরিশ। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে এটাই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেট শিকার মোস্তাফিজের। কালকের ম্যাচের আগে ১৬ খেলায় তিনবার পাঁচ বা তার বেশি ( দুবার ৫ উইকেট আর একবার ৬ উইকেট) উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন মোস্তাফিজ। তিনবার তার ঝুলিতে তিনটি করে উইকেট জমা পড়েছে। আর দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ছয়বার। এক উইকেট মাত্র একবার।

ম্যাচে উইকেট না পাবার ঘটনা আছে দুটি ; প্রথমবার ২০১৫ সালের ১০ জুলাই শেরে বাংলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৬ ওভারে ০/১৫। আর পরেরবার ঐ বছরই ৭ নভেম্বর; সেটাও মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। ঐ ম্যাচেও ৬ ওভারে ২৭ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন এ বাঁহাতি পেসার।

তাহলে কারিয়ারের ব্রেক আপ কি দাড়ালো ? মিলিয়ে নিন, ১৭ ম্যাচ। পাঁচ বা তার বেশি উইকেট তিনবার ( দুবার ভারতের বিরুদ্ধে ৫/৫০ ও ৬/৪৩)। আর একবার জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৫/৩৪)। তিন উইকেট তিনবার (৩/৩৮+৩/৩৩+৩/৫৬)। দুই উইকেট ছয়বার। আর এক উইকেট একবার। দুই ম্যাচ উইকেট শূন্য। যোগ করে দাঁড়ালো ১৫ ম্যাচ। আর গত ১২ মে আয়ারল্যান্ডের সাথে ডাবলিনে বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে যাওয়া ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পাননি।

তাই পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ১৭ খেলায় অংশ নিলেও বল করার সুযোগ মিলেছে ১৬ বার। যার ১৫ ম্যাচের ব্রেক আপ ওপরে দেয়া হয়েছে। এবার নিশ্চয়ই পরিষ্কার হয়েছে, ১৭ খেলায় ৪২ উইকেট শিকারি মোস্তাফিজ। গত ১৯ মে শুক্রবার প্রথম ৪ উইকেট শিকার করেছেন।

সৌম্য-মোস্তাফিজে বাংলাদেশের বড় জয়

সবুজ উইকেটে প্রথমে জ্বলে উঠলেন মোস্তাফিজ। দুর্দান্ত বোলিং করে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। আর তার বোলিংয়ে ভর করেই আয়ারল্যান্ডকে বেঁধে রাখল অল্প রানেই। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন সৌম্যও। তুলে নিলেন টানা দ্বিতীয় অর্ধশত। আর সাতীরার দুই টাইগারের উপর ভর করেই আয়ারল্যান্ডের বিপে ৮ উইকেটের বড় জয় পেল বাংলাদেশ।
আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে কিউইদের ধারে কাছেও ছিল না টাইগাররা। সেই বাংলাদেশই পরের ম্যাচে খোলস ছাড়িয়ে বেরিয়েছে। আয়ারল্যান্ডকে এক কথায় ওয়ানডে খেলা শিখিয়েছে মাশরাফির দল। ১৮১ রানে তাদের গুটিয়ে দিয়ে ২৭.১ ওভারে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।
১৮২ রানের ছোট ল্েয খেলতে নেমে নির্ভারই ছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। বোলিংয়ে আইরিশদের গুড়িয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও তাদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন দুজন। দুই ওপেনারের ব্যাটেই ১০ ওভারে ৬৯ রান পার করে টাইগাররা। তবে ১৪তম ওভারে ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেননি ওপেনার তামিম। ৪৭ রানে কেভিন ও’ব্রায়েনের লাফিয়ে ওঠা বলে তাকে তালুবন্দী করেন নিয়েল ও’ব্রায়েন। তার ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার। তামিম কিছুটা সতর্ক ভঙ্গিতে খেললেও তার চেয়ে ঝড়ো গতিতে খেলেন ছন্দে ফেরা সৌম্য। ৪০ বলেই করে ফেলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। ধীরে ধীরে শতকের কাছেই ছিলেন। কিন্তু ৮৭ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। তার সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৬ রানের জুটি গড়েন সাব্বির। ৩৫ রানে তাকে ডকরেলের হাতে তালুবন্দী করান ম্যাককার্থি। যদিও শেষ দিকে মুশফিক এসে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ২ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জয় তুলে নেয় ২৭.১ ওভারে।
এর আগে বাংলাদেশ আইরিশদের গুটিয়ে দেয় ১৮১ রানে। এমন ম্যাচে অভিষেক ওয়ানডেতেই চমক দেখিয়েছেন সানজামুল। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে এড জয়েসকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে লং অনে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন আয়ারল্যান্ডের এ ব্যাটসম্যান। এরপর ৪৪তম ওভারেও ভেলকি দেখান তিনি। ব্যারি ম্যাকার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১২ রানে তাকে সাজঘরের পথ ধরান সানজামুল। বিপর্যস্ত সেই আইরিশদের শেষ দিকে একাই টেনে নিচ্ছিলেন জর্জ ডকরেল।। কিন্তু ৪৭তম ওভারে তাকেও বিদায় করেন অধিনায়ক মাশরাফি। মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৫ রান করেন তিনি। একইওভারের চতুর্থ বলে সেই মুশফিকের হাতেই শেষ ব্যাটসম্যান পিটার চেজকে তালুবন্দী করান মাশরাফি। আয়ারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে।
এর আগে অবশ্য আইরিশদের ভিত্তি নাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন স্টারলিংয়ের উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলেও তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিয়াল ও’ব্রায়েনকে (৩০)। থার্ড ম্যানে তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ হন আইরিশ ব্যাটসম্যান। পরের বলে কেভিন ও’ব্রায়েনের উইকেটটি পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কয়েক ইঞ্চির জন্যে সাব্বির রহমান ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। বাংলাদেশ আউটের আবেদন করলে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল মাটিতে লেগে সাব্বিরের হাতে গেছে। সেই মোস্তাফিজ ৩১.৪ ওভারে আর ব্যর্থ হননি। তার বলে কেভিনকে তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন। কেভিন বিদায় নেন ১০ রানে। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর। বিতর্কিতভাবে দেওয়া এই আউটে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম।
এই সিরিজে বাকিরা সাফল্য পেলেও নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব। কিন্ত এই ম্যাচ দিয়েই ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম উইকেট পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে (১২) বোল্ড করেন। মোসাদ্দেক হোসেন তার আগে নেন আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট। আগের ওভারেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে শর্ট এক্সট্রা কভারে জীবন দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে উইকেটবঞ্চিত করার পর নিজেই সেই আপে কাটান তিনি। ক্রিজে শক্তিশালী হয়ে ওঠা আয়ারল্যান্ড অধিনায়ককে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানে আউট হন পোর্টারফিল্ড।
শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুটা দারুণভাবেই করে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেন করেন মেডেন। আর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তাদের কোনও রান না দিয়েই উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার। সেই মুস্তাফিজই ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি ৬.৩ ওভারে ১৮ রানে দুই্ উইকেট ও ৫ ওভারে ২২ রান খরচে দুই উইকেট নেন সানজামুল। আর একটি করে নেন মোসাদ্দেক ও সাকিব আল হাসান।

আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ

মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয় পেলো বাংলাদেশ। ডাবলিনে স্বাগতিকদের দেয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য ১৩৭ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সৌম্য সরকার ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ডাবলিনে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথম জয় পেলো টাইগাররা। আইরিশদের দেয়া ১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২৩ ওভার বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
জয়ের টার্গেট ছোটে। তাই হয়তো একেবারে নির্ভার হয়ে খেললেন তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৮৩ বলে দলের স্কোরে যোগ করেন ৯৫ রান। তাতেই বড় জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। কেভিন ও’ব্রায়েনের গুড লেংথ বলে উইকেটরক্ষক নায়াল ও’ব্রায়ানের তালুবন্দি হন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার আগে ৫৪ বলে ৬ চারে তুলে নেন ৪৭ রান।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের সপ্তম স্থান আর ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা জরুরী ছিলো বাংলাদেশের জন্য। যার পথটা তৈরি করেছেন টাইগার বোলাররা। পরে জয়ের পথে স্বাচ্ছন্দেই হেঁটেছেন ব্যাটসম্যানরা। ৩৪ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রানের পুঁজিতে প্যাভিলিয়েনে ফেরেন সাব্বির রহমান। তারপর মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন সৌম্য সরকার। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত তিনি। আর মুশফিক ৩ রানে। মুস্তাফিজুর রহমান ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচ সেরা।

১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের যেন পাত্তাই দিলেন না তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ১৩ ওভার ৫ বলে ৯৫ রানের ঝড়ো উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কেভিন ও’ব্রায়েনের স্লোয়ারের ফাঁদে পা দেয়ার আগে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। এরপরও ঝড় থামাতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ১১ ওভারে ৭৬ রানের জুটি গড়ে আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সৌম্য ও সাব্বির রহমান। সাব্বির ৩৫ রানে বিদায় নিলেও অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন সৌম্য। ৬৮ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিলো ১১ বাউন্ডারি আর দুই ছক্কায়। এটি সৌম্যের ষষ্ঠ ওয়ানডে ফিফটি। তাতে ২৭ ওভারে ২ উইকেটে ১৮২ রান তোলে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্যটা আগেই সহজ করে দেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো বাংলাদেশ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণে বেশি সময় নেয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পল স্টারলিংয়ের উইকেট তুলে নেন ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’। ধাক্কাটা সামলে নিতে দেননি সাকিব ও মোসাদ্দেক, দলের ৬১ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে।


এরপর নেইল ও’ব্রায়েন, কেভিন ও’ব্রায়েন এবং গ্যারি উইলসনকে বিদায় করে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেন মুস্তাফিজ। তাঁর সেই ধার আর নেই—এমন সমালোচকদের বল হাতেই যেন জবাব দিলেন ‘ফিজ’। ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হন সাতক্ষীরার সন্তান। আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করা এড জয়েসকে ক্যারিয়ারের প্রথম শিকারে পরিণত করেন স্পিনার সানজামুল ইসলাম। পরে কার্থারকে বিদায় করে অভিষেক ম্যাচটা আরও রঙ্গিন করেন তিনি। ৪৭তম ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জোড়া আঘাতে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: শ্রীলঙ্কা আন্ডারডগ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০০২ সালে নিজেদের সেরা সাফল্য পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেবার দেশের মাটিতে আয়োজিত আসরের ফাইনালে উঠেছিল লঙ্কানরা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচ আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর আর কখনও চ্যাম্পিয়ন্স টফির ফাইনাল খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আগামী এক জুন ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের। তাই ক্রীড়াপ্রেমীদের আলোচনা এখন আসরের ফেভারিটদের নিয়ে। সেই তালিকায় ক্রিকেটপ্রেমীরা শ্রীলঙ্কাকে তো রাখবেই। কিন্তু ফেভারিটদের তালিকায় লঙ্কানদের দেখছেন না দেশটির প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড নিজেই! ‘বি’ গ্রুপে এই দলটিকে লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। একমাত্র পাকিস্তানই আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কার চেয়ে। পাকিস্তান এই মুহূর্তে আট নম্বরে আর শ্রীলঙ্কা ছয় নম্বরে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর এবং ভারত তিন নম্বর দল। গ্রুপের অন্য দলগুলোর তুলানায় তারা যে পিছিয়ে আছেই বলে মত কোচ গ্রাহাম ফোর্ডেরও। তাই নিজেদের আন্ডারডগ মেনে নিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। লঙ্কান কোচ ফোর্ডের ভাষ্য, আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের মেনে নিতে হবে যে এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে যাচ্ছি। যদিও মাঝে মাঝে এটা খুবই ভাল অবস্থান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারার সঙ্গে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার চামারা কাপুগেদেরা ফেরাতে ভাল একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে দলে। আর এই দলটি নিয়ে যে কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা ফোর্ডের, চমৎকার কিছু খেলোয়াড় আছে আমাদের। আমরা শুধু যে ম্যাচটি সামনে আসবে সেটা নিয়েই ভাবব। একটি ছেড়ে পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তার কোন কারণ দেখি না। বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে গেছে অনেক কঠিন। প্রতিটি দলেই কিছু উচ্চ পর্যায়ের ভাল নৈপুণ্য দেখতে পাই আমরা। আমাদের গ্রুপে যে প্রতিপক্ষরা আছে তাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। ভাল কিছু করার জন্য আমাদের অবশ্যই নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে খেলতে হবে গতবারের শিরোপাজয়ী ভারত, ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে শীর্ষ দুটি দল। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে পারে, এমন ধারণাই করছেন অনেকে। তবে এখনই সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ শ্রীলঙ্কার কোচ ফোর্ড। তিনি এগুতে চান একটা একটা করে ম্যাচ, আমাদের এক সময়ে একটা ম্যাচ নিয়েই ভাবতে হবে। আগেই পরের ম্যাচগুলোর কথা ভেবে কোনো লাভ নেই। বর্তমান সময়ে প্রতিটা ম্যাচই হবে খুব কঠিন। আগামী ৩ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন। এর প্রায় ১৫ দিন আগেই ইংল্যান্ডে এসেছে দলটি। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য এটা দারুণ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন ফোর্ড। এছাড়া ২৬ ও ৩০ মে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এটা আরও ফলপ্রসূ হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে। এ টুর্নামেন্ট উপলক্ষে দলের বোলিং বিভাগকে আরও শাণিত করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার এলান ডোনাল্ডকে পেস বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। ইংল্যান্ডের পরিবেশের কথা বিবেচনায় রেখে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ মিটার উঁচু ভূমিতে ক্যান্ডির পাহাড়ী অঞ্চলে বিশেষ অনুশীলন করেছে লঙ্কানরা। অধিনায়ক ম্যাথুসও তাই দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই দিনকে দিন উন্নতি করছি। আমি নিশ্চিত ছেলেরা আসন্ন যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এটা নিয়ে বাড়তি চাপে থাকার কিছু নেই।

খেলার মাঠে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ প্রিয়তি

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ মাঠে বসে দেখবেন মিস আয়ারল্যান্ড খ্যাত বাংলাদেশি তরুণী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় খেলা দেখা হয়নি তার। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই কথা রেখেছেন। বাংলাদেশের জার্সি পরে মাশরাফি-সাকিবদের সমর্থন দিতে মাঠে বসে খেলা দেখছেন বর্তমানে আয়ারল্যান্ডেই স্থায়ীভাবে বসবাস করা প্রিয়তি। নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিওতে প্রিয়তি বলেন, আমার জার্সি দেখেই বোঝা যাচ্ছে আমি বাংলাদেশ দলকে সাপোর্ট করার জন্য মাঠে এসেছি এবং তাদের দাওয়াতেই মাঠে এসেছি। সো আমি বাংলাদেশ দলকেই সাপোর্ট করবো সব সময়। আমার আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিও শুভ কামনা আছে। তবে আজ আমি বাংলাদেশকেই সাপোর্ট করছি। উল্লেখ্য, এর আগে ৭০০ প্রতিযোগীকে হারিয়ে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ নির্বাচিত হন বাংলাদেশের মেয়ে মাকসুদা প্রিয়তি। একই সঙ্গে তিনি পান ‘সুপার মডেল’ ও ‘মিজ ফটোজেনিক’ খেতাব।

আয়োজনে আগ্রহ নেই বাংলাদেশের

২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। এমনটিই জানিয়েছিল আইসিসি। তবে তা আয়োজনে আপত্তি দেখিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।
বাছাইপর্বের নতুন দেশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্টে এই খবরটি প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বর্তমানে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে সাত নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ২০১৯ বিশ্বকাপের মূলপর্ব একরকম নিশ্চিতই করে ফেলেছে বলা যায়। এজন্যই বাছাইপর্বের ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহ হারিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো বাংলাদেশ থেকে সরে যাওয়ায় পরবর্তীতে আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু আবহাওয়া ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি আইসিসি। শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডই হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আয়োজক। ২০১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ইংল্যান্ড। তবে এই আসরে অংশ নেবে মোট ১০টি দল। যেখানে সরাসরি সুযোগ পাবে ৮টি দেশ। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে দলগুলো ওয়ানডে তালিকার সেরা আটে থাকবে তারাই সুযোগ পাবে। বাকি দুটি দলকে বাছাইপর্বের হার্ডল পার হয়ে আসতে হবে।

অভিষেক ওয়ানডেতে সানজামুলের চমক

অভিষেক ওয়ানডেতে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে চমক দেখিয়েছেন সানজামুল। এড জয়েসকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন এ স্পিনার। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে লং অনে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন আয়ারল্যান্ডের এ ব্যাটসম্যান। এরপর ৪৪তম ওভারেও ভেলকি দেখান তিনি। ব্যারি ম্যাককার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১২ রানে তাকে সাজঘরের পথ ধরান সানজামুল। আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৪৪ ওভারে ৮ উইকেটে ১৭৪।
এর আগে অবশ্য আইরিশদের ভিত্তি নাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন স্টারলিংয়ের উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলেও তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিয়াল ও’ব্রায়েনকে (৩০)। থার্ড ম্যানে তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ হন আইরিশ ব্যাটসম্যান। পরের বলে কেভিন ও’ব্রায়েনের উইকেটটি পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কয়েক ইঞ্চির জন্যে সাব্বির রহমান ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। বাংলাদেশ আউটের আবেদন করলে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল মাটিতে লেগে সাব্বিরের হাতে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ৩১.৪ ওভারে আর ব্যর্থ হননি। কেভিনকে তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন। কেভিন বিদায় নেন ১০ রানে। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর। বিতর্কিত ভাবে দেওয়া এই আউটে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। ৪১ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৬৩ রান আয়ারল্যান্ডের।
এই সিরিজে বাকিরা সাফল্য পেলেও নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব। কিন্ত এই ম্যাচ দিয়ে ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম উইকেট পান সাকিব আল হাসান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে (১২) বোল্ড করেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেন তার আগে নেন আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট। আগের ওভারেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে শর্ট এক্সট্রা কভারে জীবন দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে উইকেটবঞ্চিত করার পর নিজেই সেই আক্ষেপ কাটান তিনি। ক্রিজে শক্তিশালী হয়ে ওঠা আয়ারল্যান্ড অধিনায়ককে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানে আউট হন পোর্টারফিল্ড।
শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরু থেকে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেন করেন মেডেন। আর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তাদের কোনও রান না দিয়ে উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার।
আয়ারল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটিতে ক্রিজে নেমেছিলেন পল স্টারলিং ও এড জয়েস। রুবেলের গতির কাছে সতর্ক হয়ে ৬ বল পার করেন জয়েস। দ্বিতীয় ওভারে প্রথম দুটি বল সামাল দিলেও তৃতীয় বলে মোস্তাফিজের স্লোয়ারে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দেন স্টারলিং।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় হেরেছে তারা।
শুক্রবারের এ ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে সানজামুল ইসলামের। মেহেদী হাসান মিরাজের বদলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ দলে আর কোনও পরিবর্তন নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকের পর এ ম্যাচেই প্রথমবার জাতীয় দল থেকে বাদ পড়তে হলো টেস্ট দলে দুরন্ত অভিষেক হওয়া মিরাজকে।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৮২

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটি হয়েছিল পরিত্যক্ত। বৃষ্টির বাধায় সেরকম কিছুই করে দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু পরের ম্যাচে ভালোভাবেই জবাব দিয়েছে টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের কাছে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ আইরিশদের গুটিয়ে দিয়েছে ১৮১ রানে। ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৮২ রান।
এমন ম্যাচে অভিষেক ওয়ানডেতেই চমক দেখিয়েছেন সানজামুল। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে এড জয়েসকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে লং অনে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন আয়ারল্যান্ডের এ ব্যাটসম্যান। এরপর ৪৪তম ওভারেও ভেলকি দেখান তিনি। ব্যারি ম্যাকার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১২ রানে তাকে সাজঘরের পথ ধরান সানজামুল। বিপর্যস্ত সেই আইরিশদের শেষ দিকে একাই টেনে নিচ্ছিলেন জর্জ ডকরেল।। কিন্তু ৪৭তম ওভারে তাকেও বিদায় করেন অধিনায়ক মাশরাফি। মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৫ রান করেন তিনি। একইওভারের চতুর্থ বলে সেই মুশফিকের হাতেই শেষ ব্যাটসম্যান পিটার চেজকে তালুবন্দী করান মাশরাফি। আয়ারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে।
এর আগে অবশ্য আইরিশদের ভিত্তি নাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন স্টারলিংয়ের উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলেও তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নিয়াল ও’ব্রায়েনকে (৩০)। থার্ড ম্যানে তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ হন আইরিশ ব্যাটসম্যান। পরের বলে কেভিন ও’ব্রায়েনের উইকেটটি পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কয়েক ইঞ্চির জন্যে সাব্বির রহমান ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। বাংলাদেশ আউটের আবেদন করলে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল মাটিতে লেগে সাব্বিরের হাতে গেছে। সেই মোস্তাফিজ ৩১.৪ ওভারে আর ব্যর্থ হননি। তার বলে কেভিনকে তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন। কেভিন বিদায় নেন ১০ রানে। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর। বিতর্কিতভাবে দেওয়া এই আউটে ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম।
এই সিরিজে বাকিরা সাফল্য পেলেও নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব। কিন্ত এই ম্যাচ দিয়েই ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম উইকেট পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে (১২) বোল্ড করেন। মোসাদ্দেক হোসেন তার আগে নেন আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট। আগের ওভারেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে শর্ট এক্সট্রা কভারে জীবন দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে মাশরাফি মুর্তজাকে উইকেটবঞ্চিত করার পর নিজেই সেই আক্ষেপ কাটান তিনি। ক্রিজে শক্তিশালী হয়ে ওঠা আয়ারল্যান্ড অধিনায়ককে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন মোসাদ্দেক। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রানে আউট হন পোর্টারফিল্ড।
শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুটা দারুণভাবেই করে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেন করেন মেডেন। আর পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। তাদের কোনও রান না দিয়েই উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি পেসার। সেই মুস্তাফিজই ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। অধিনায়ক মাশরাফি ৬.৩ ওভারে ১৮ রানে দুই্ উইকেট ও ৫ ওভারে ২২ রান খরচে দুই উইকেট নেন সানজামুল। আর একটি করে নেন মোসাদ্দেক ও সাকিব আল হাসান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ১২ আম্পায়ার, ৩ ম্যাচ রেফারি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর্দা উঠবে আগামী ১ জুন । আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। ১ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই।
ম্যাচ পরিচালনার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ সদস্যের এলিট আম্পায়ারিং প্যানেলের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি।এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা হলেন-আলীম দার, কুমার ধর্মাসেনা, মারাইস এরাসমাস, ক্রিস গ্রাফানে, ইয়ান গৌল্ড, রিচার্ড ইলিংয়র্থ, রিচার্ড ক্যাটেলবারোহ, নাইজল লং, ব্রছ অক্সেনফোর্ড, সুন্দারাম রবি, পল রাইফেল ও রড টাকার। আর এতে ম্যাচ রেফারি থাকবেন ৩ জন। তারা হলেন-ক্রিস ব্রড, ডেভিড বুন ও অ্যান্ডি পাইক্রফট। শুধু মূল আসর নয়, ওয়ার্মআপ ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করবেন তারা। পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছেন ২০০৯ ও ২০১১ সালে সেরা আম্পায়ারের পুরস্কার পাওয়া আলীম দার। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যাচ পরিচালনা করবেন। দ্বিতীয়বারের মতো নাম লিখালেন ধর্মাসেনা, ইরাসমাস, কাটেলবারোহ, লং, অক্সেনফোর্ড এবং টাকার। এবারই অভিষেক হতে যাচ্ছে গ্রাফানে, ইলিংয়র্থ, রবি ও রাইফেলের। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ওভালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন সুন্দারাম রবি ও রড টাকার। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অক্সেনফোর্ড ও গ্রাফানে। ম্যাচ রেফারি হিসেবে থাকবেন বুন।
৫ জুন ওভালে খেলবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন নাইজেল লং ও ক্রিস গ্রাফেনি। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয় ও সুন্দারাম রবি চতুর্থ আম্পায়ার থাকবেন। ম্যাচ রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৯ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। কার্ডিফে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন নাইজেল লং ও ইয়ান গৌল্ড। তৃতীয় আম্পায়ার আলীম দার, চতুর্থ আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংয়র্থ। এই ম্যাচেও রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড।
এদিকে আইসিসির মূলমঞ্চে মাঠে নামার আগে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইলিংয়র্থ ও রাইফেল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইরাসমাস ও লং। প্রসঙ্গত, দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের আম্পায়ার নির্বাচন করেনি আইসিসি।

বিসিবির নির্বাচন : বাদ পড়ছেন চারজন, নতুন মুখ তিন!

চার বছর আগে এ সময়ে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। হই চই হয়েছে যথেষ্ট। ক্রিকেট পাড়ায় অনেক গুঞ্জন আর জল্পনা-কল্পনার ফানুসও উড়েছে। ২০১৩ সালের শুরু থেকেই বিসিবি পরিচালক পর্ষদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছিল।

দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম রূপকার সাবের হোসেন চৌধুরী ঘটা করেই বিসিবি প্রধান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। তার সে ইচ্ছার কথা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারও হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আর নির্বাচন করেননি।

দেখতে দেখতে সময় গড়িয়ে আবার বিসিবির নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলো। ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর নির্বাচন হবার দিন থেকে হিসেবে করলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান বিসিবি পরিচালক পর্ষদের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর।

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে হিসেব করলে আর চার মাস বাকি। তার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করেই হোক কিংবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই হোক, একটা পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতেই হবে; কিন্তু এবার আগের মত সে রকম উত্তেজনা নেই। হই চই কিংবা শোরগোল নেই বললেই চলে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তেমন কোন সাড়া শব্দ নেই কেন? খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। উত্তর একটাই- এবার সে অর্থে কেউ বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন না। ২০১৩ সালের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সাবের হোসেন চৌধুরী একাধিকবার মিডিয়ার সামনে এসেছেন এবং অনেক কথার ভিড়ে বোর্ড প্রধান পদে নির্বাচন করার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

কিন্তু এবার তিনি নিশ্চুপ। বিসিবি পরিচালক পর্ষদে নির্বাচন করার কোন সম্ভাবনাই নেই। আর কোন প্রার্থীর কথাও সেভাবে শোনা যাচ্ছে না। এক সময় সরকারি দলের সাংসদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক গাজী গ্রুপের স্বত্বাধিকারী গাজী গোলাম দস্তগীরের কথা শোনা গিয়েছিল। ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন ছিল, তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতেও পারেন।

এমনও শোনা গেছে ঢাকার ৫৮ কাউন্সিলরের প্রায় ১৮ থেকে ২০টি কাউন্সিলর তার পক্ষে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সে উত্তাপ কমেছে। এখন পর্যন্ত গাজী গোলাম দস্তগীরের নির্বাচন করার তেমন তোড়জোড় চোখে পড়ছে না।

ক্রিকেট পাড়ায় কারো মুখে শোনা যাচ্ছে না, ‘দস্তগীর ভাই (গাজী গোলাম দস্তগীর) নির্বাচন করবেন না। বরং শোনা যাচ্ছে বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সমর্থনপুষ্ট প্যানেলেই থাকছেন তার পুত্র গাজী গোলাম মর্তুজা। প্রসঙ্গতঃ গোলাম মর্তুজা এখনো বোর্ড পরিচালক এবং বিসিবির অন্যতম স্ট্যান্ডিং কমিটি সিসিডিএমের প্রধান।

শেষ খবর, বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য এবং নামী ক্রিকেট সংগঠক বোর্ড প্রধান পদে দাঁড়ানোর ইচ্ছে ব্যক্ত করেননি। কারো নামও শোনা যাচ্ছে না। ঢাকার ক্লাব পাড়া, জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, প্লেয়ার্স ও সার্ভিসের কেউ সভাপতি পদে না দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত এবারও হয়ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিসিবি প্রধান নির্বাচিত হয়ে যাবেন নাজমুল হাসান পাপন।

শুধু তাই নয়। এবার অন্য পদগুলোতেও সে অর্থে বিরোধী পক্ষ থেকে কারো দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, কাউন্সিলরদের মূল ও বড় অংশ বর্তমান সভাপতির সমর্থনপুষ্ট প্যানেলের সঙ্গে। তবে এবার বর্তমান পরিচালক পর্ষদে রদবদলের সম্ভাবনা আছে।

বর্তমান পরিচালকদের অন্তত চারজনের না থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি। এর মধ্যে অন্যতম পরিচালক নাজমুল করিম টিংকু সদ্য প্রয়াত। তার জায়গা খালি হয়ে গেছে। এখানে একজনের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত।

এছাড়া আহমেদ ইকবাল হাসানও বোর্ডে প্রায় আসা ছেড়েই দিয়েছেন। জানা গেছে, বেশ অনেক দিন তিনি বোর্ড সভায়ও থাকছেন অনুপস্থিত। তারও পরবর্তী প্যানেলে জায়গা পাবার সম্ভাবনা খুব কম।

এর বাইরে শওকত আজিজ রাসেলের না থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে জোড়েশোরে। প্রসঙ্গতঃ শওকত আজিজ রাসেল পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার  এমএ হাসেমের পুত্র এবং সাবেক বোর্ড কর্মকর্তা আজিজ আল কায়সার টিটোর ছোট ভাই।

সম্ভাব্য বাদ পড়াদের তালিকায় দু’জন নামী ও হাই-প্রোফাইল পরিচালকও ছিলেন। যার একজন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। অভিষেক টেস্টের এই অধিনায়কের সঙ্গে বর্তমান বোর্ড প্রধানের দূরত্ব ছিল ওপেন সিক্রেট। তবে অতি সম্প্রতি সে দূরত্ব কেটে গেছে এবং নাঈমুরের আগামী বোর্ডে থাকা মোটামুটি নিশ্চিত।

এছাড়া না থাকাদের দলে আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির নামও শোনা যাচ্ছে। আবাহনী তথা দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে তিন যুগের বেশি সময় ধরে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির নাম। বিনয়ী, সদালাপী, বিচক্ষণ ও ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড দক্ষ ববির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এ নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে ৯০-এর দশকের প্রথম দিকে বিএনপির সময়ও বোর্ডের যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোদ্ধা মহিউদ্দীন আহমেদের পুত্র ববি পারিবারিকভাবেও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহভাজন।

তারপরও বর্তমান বোর্ডে তেমন কোন উচ্চপদে নেই এ পরীক্ষিত ক্রিকেট সংগঠক। তাই তার এবারের বোর্ডে থাকা নিয়েও আছে সংশয়। তবে অনেকের মত, শেষ পর্যন্ত নিজের মেধা-যোগ্যতা, সততার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে থাকবেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম। তিনজন বাইরে থাকার অর্থ সমান সংখ্যক পরিচালকের অন্তর্ভুক্তি।

এখানে তিনজনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে খুব বেশি। তারা হলেন ওবায়েদ নিজাম, মোকসদুর রহমান বাদল এবং তানভির আহমেদ টিটু। ওবায়েদ নিজাম প্রায় এক যুগ ধরে নানাভাবেই ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

ওল্ডডিওএইচএস ক্লাবের পরিচালনা দিয়ে তার আত্মপ্রকাশ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের বন্ধুস্থানীয় ওবায়েদ নিজাম আগেরবার বিপিএলে ঢাকা ডাইনাইটসের সিইও হিসেবে কাজ করেছেন।

এছাড়া মোকসদুর রহমান বাদল হচ্ছেন ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের ক্রিকেট কমিটির বর্তমান সভাপতি (নাজমুল হাসান পাপনের ফুফাতো ভাইও)। আর তানভির আহমেদ টিটু নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। এ তিনজনের অন্তর্ভুক্তি মোটামুটি নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।

১৭ বছর পর শিরোপার স্বাদ পেল মোনাকো

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের শিরোপা জিতল মোনাকো। বুধবার নিজেদের মাঠে সেন্ত এতিয়েনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিওনার্দো জারদিমের শিষ্যরা। এ জয়ে অবসান হল প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) টানা চার বছরের রাজত্বের।

ম্যাচ ড্র অথবা জিতলেই চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণ নিয়ে ঘরের মাঠে খেলতে নামে মোনাকো। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ শিবিরে একের পর এক আক্রমণ করে খেলতে থাকে দলটি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এমবেপে। ফ্যালকাওয়ের পাস থেকে বল জালে জড়ান ফ্রেঞ্চ এই তারকা।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। অবশেষে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জার্মেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ফলে জয়ের আনন্দ দিয়েই শিরোপা উৎসবে মাতে মোনাকো।

২০ রানের আক্ষেপ মাশরাফির

সুযোগ ছিল দেশের বাইরে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ড হারানো। তবে জুটি গড়েও তা বড় না করার আক্ষেপটাই শেষ পর্যন্ত রয়ে গেল মাশরাফির। আর তাই দেশের বাইরে অধরাই থেকে গেল নিউজিল্যান্ড বধ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের জয়ের আশা নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। সৌম্য, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে প্রথমে ব্যাট করে ২৫৭ রান করে টাইগাররা। জবাবে ১৫ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে হতাশ মাশরাফি বলেন, ‘সৌম্য রান করেছে, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহও রান পেয়েছে। টপ অর্ডারে তামিম ও সৌম্য ভালো জুটি গড়েছে। তবে আমরা জুটিগুলোকে বড় করতে পারিনি। আউট হয়ে গেছি। ব্যাটিংয়ে আমাদের ২০ রানের ঘাটতি ছিল।’

বোলিংয়ে মাশরাফির ছিল বাজে দিন। সহায়ক উইকেটেও বিবর্ণ ছিলেন সাকিব ও মিরাজ। তাই রানের পাশাপাশি বোলিং নিয়েও সন্তুষ্ট নন টাইগার অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে আমার বোলিং আরও ভালো হতে পারত, আমি পারিনি। মোস্তাফিজ ভালো করেছে। রুবেলও দারুণভাবে ফিরেছে। তবে বোলিংয়ে শুরুতে উইকেট নিতে হবে।’

পিসিবিকে এবার হুমকি দিলেন নাসির জামশেদ

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাসির জামশেদের বিরুদ্ধে স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। আপাতত সাময়িক নিষিদ্ধ রয়েছেন। লন্ডনে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছিল, অ্যান্টি-করাপশন কোড ভাঙায় নাসির জামশেদকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে পিসিবি।

পিসিবির অভিযোগের বিরুদ্ধে আগেই চ্যালেঞ্জ জানানোর কথা জানিয়েছিলেন জামশেদ। এবার তো বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিই দিলেন পাকিস্তানি এই ক্রিকেটার। জামশেদের অভিযোগ, পিসিবি তার নামে অপবাদ ছড়াচ্ছে।

গতকাল বুধবার নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে জামশেদ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে পিসিবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। ভিডিওর পাশে লিখেছেন, ‘আমার নীরবতার সুযোগ নিচ্ছে পিসিবি। সময় এসেছে জবাব দেয়ার। সময় এসেছে তাদের আদালতে নেয়ার।’

নাসির জামশেদ নিজেদের অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘পিসিবি আমার সঙ্গে যা করছে, তা অনুচিত। আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এখানেই শেষ নয়, পিসিবি আমার নামে অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমি বিপিবির কাছে অনুরোধ রেখেছি, তারা যেন প্রমাণ হাজির করে। জনসম্মুখে আমি তাদের প্রমাণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই। পেশাদার ক্যারিয়ার বলতে কিছু আছে। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এসব প্রভাব ফেলছে। আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। এর জন্য পিসিবিকে আদালতে নেয়ার ইচ্ছাও রয়েছে।’

জরিমানা গুনলেন উমর-জুনায়েদ

ঘটনাটি গত এপ্রিলের। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান কাপের একটি ম্যাচ নিয়ে বাগযুদ্ধে জড়ান পাঞ্জাবের দুই ক্রিকেটার উমর আকমাল ও জুনায়েদ খান। তাদের এই বাগযুদ্ধ মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করে। নজরে আসে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। ঘটনাটি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষ।

বোর্ড চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় ওই কমিটি। পাশাপাশি দুজনকে সতর্কও করেছিল। অপেক্ষা ছিল সিদ্ধান্তের। সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। উমর আকমল এবং জুনায়েদ খানকে ম্যাচ ফি`র ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে পিসিবি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গত মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান কাপে অসদাচরণের কারণে উমর আকমল এবং জুনায়েদ খানকে ম্যাচ ফি`র ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে পিসিবি। দুজনকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এক মাস তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সময়টা শুরু ১৮ মে থেকে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে এক মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে উমর-জুনায়েদ।’

ঘরোয়া লিগে পাঞ্জাবের অধিনায়ক উমর। পাঞ্জাব-সিন্ধুর ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে একাদশ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় অধিনায়ক উমরকে। উমর জানান, ম্যাচটিতে পেসার জুনায়ের খানের পরিবর্তে খেলবেন অলরাউন্ডার নাসির নজীর।

পাঞ্জাব অধিনায়ক বলেন, ‘মাঠে প্রবেশের সময় আমি জানতে পারি, সে (জুনায়েদ খান) এখানে অনুপস্থিত। আমি খুব অবাক হয়েছি। ম্যানেজার এবং কোচ আমাকে জানান, জুনায়েদ আজ খেলবে না। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য বিস্ময়ের।’

কিছুক্ষণ পর জুনায়েদ এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘উমার আকমল মাত্র বলল আমি ম্যাচ থেকে পালিয়ে এসেছি- এটা শুনে আমি খুবই হতাশ। সত্যি ব্যাপারটি হচ্ছে, আমি খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যায় ভুগছি। আমি বিষয়টা দলকে জানিয়েছি এবং তারা আমাকে বিশ্রাম নিতে বলেছেন।’

জুনায়েদের সেঞ্চুরিতে মোহামেডানকে হারাল ব্রাদার্স

চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে দারুণ ফর্মেই রয়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। আবাহনীর বিপক্ষে পেয়েছিলেন সেঞ্চুরির দেখা। ওই ম্যাচে তার দুর্দান্ত সেই ইনিংসটি (১১৪ রান) গিয়েছিল ভেস্তে। আবাহনীর কাছে হেরে যায় জুনায়েদের দল ব্রাদার্স ইউনিয়ন (৩২ রানে)।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আবাহনীর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন জুনায়েদ। এবার আর আক্ষেপ নয়, স্বস্তিই পেয়েছেন তিনি। জুনায়েদের দল পেয়েছে বড় জয়। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে মোহামেডানকে ১১৯ রানে হারাল ব্রাদার্স।

বিস্তারিত আসছে…

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের হার

ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরেছে বাংলাদেশ দল। কিউইদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরাস্ত হতে হয় ৪ উইকেটে। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের কোনটার্ফ ক্রিকেট কাব গ্রাউন্ডে ২৫৮ রানের ল্য ছুড়ে দিয়ে শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডকে চেপে ধরার চেষ্টা করে মাশরাফিবাহিনী। কিন্তু ১৫ বল বাকি রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ড এক পর্যায়ে ৩০.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান তুলেছিল। এখান থেকে দলকে জয়ের পথ দেখান নেইল ব্রুম ও জিমি নিশাম। তারা পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১২.২ ওভার ব্যাট করে ৮০ রান তুলে নেন। দলীয় ২২৭ রানে রুবেলের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরে যান ব্রুম। তিনি ৬৫ বলে তুলে নেন ৪৮ রান। রুবেল হোসেন দারুণ বল করেছেন। তিনি কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকেও আউট করেন। নিশাম ৪৮ বলে ৫২ রান করে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফির বলে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন মোসাদ্দেক হোসেনকে। ১৪ রানের ব্যবধানে এই দুই সেট ব্যাটসম্যানকে আউট করে ম্যাচে নাটকীয় কিছু করার চেষ্টা করেন রুবেল-মাশরাফিরা। কিন্তু দ্রুতই অবশিষ্ট ১৭ রান তুলে নেন কলিন মুনরো (১৪ বলে ১৬ রান) ও মাইকেল সেন্টনার (৩ বলে ৫ রান)। ফলে হেরেই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ফলে দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট টাইগারদের।
কিউইদের বিরুদ্ধে চেনা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে বল করতে পারেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের বিপে লুক রনকিকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রুটা এনে দেন তিনি। এরপর ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন রস টেলরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে। ৩১তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম দুই বলেই পরাস্ত করেন রস টেলরকে। তৃতীয় বলে দারুণ লেন্থে ডেলিভারি দিলেন মোস্তাফিজ। আবারও পরাস্ত টেলর। এবার জোরালো আবেদন। তাতেই সাড়া দিয়ে দিলেন আম্পায়ার। ৪০ বলে ২৫ রান করে আউট হলেন টেলর।
এর আগে দারুণ এক ডেলিভারিতে রুবেল মনে করালেন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপে করা সেই দুটি ডেলিভারিকে। যে দুটি সবার চোখে ভাসার কথা। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপে দুই ইয়র্কারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড আর জেমস অ্যান্ডারসনের উইকেট। সেভাবে হয়তো স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেননি, তবে তেমনই একটি আনপ্লেবল ডেলিভারি দিলেন রুবেল হোসেন। ডাবলিনের কোনটার্ফ ক্রিকেট কাব গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের বিপে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে অসাধারণ ডেলিভারিতে সাজ ঘরে ফেরালেন বাংলাদেশের এই পেসার। ৬৪ বলে ৫৪ রান করে ফেলেছিলেন টম ল্যাথাম। ইনিংস ওপেন রকতে নেমে এক প্রান্তে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট করে যান তিনি। লুক রনকি আর জর্জ ওয়ার্কার আউট হয়ে গেলেও কিউইদের কাঙ্খিত ল্েয পৌঁছে দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ২১তম ওভারের তৃতীয় বলটিতে এমন ডেলিভারি দিলেন রুবেল, যেটা বুঝতেই পারেননি ল্যাথাম। ব্যাটের ভেতরের কানায় লাগিয়ে দিলেন। ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে গেলো উইকেটরক মুশফিকের হাতে।
এর আগে ডাবলিনের কোনটার্ফ ক্রিকেট কাব গ্রাউন্ডে ২৫৮ রানের ল্য ছুড়ে দিয়ে শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডকে চেপে ধরার অব্যাহত চেষ্টা ছিল বাংলাদেশ দলের বোলারদের। অব্যাহত চাপের মুখে অবশেষে সপ্তম ওভারে এসে দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিউই দলের ওপেনার লুক রনকিকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। বল করতে এসে দুই কিউই ওপেনারকে কাটার, স্লোয়ার দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন মোস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে এসে সফল হন। দারুণ এক স্লোয়ার দিলেন মোস্তাফিজ। বুঝতে না পেরে ব্যাট পেতে দেন লুক রনকি। ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল হাওয়ায় ভেসে ওঠে। মিড অফে দাঁড়িয়ে থেকেই ক্যাচটি তালুবন্দি করে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে মোটামুটি বিধ্বংসী হয়ে উঠছিলেন রনকি। ২৭ বলে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। চারটি বাউন্ডারির সঙ্গে মারেন একটি ছক্কার মার। টম ল্যাথামকে নিয়ে গড়েন ৩৯ রানের জুটি। এরপর সাব্বিরের দুর্দান্ত এক থ্রুতে রান আউটে কাটা পড়েন জর্জ ওয়ার্কার। কিউই এই ব্যাটসম্যান করেন ১৭ রান।

শেরে বাংলায় নতুন মাটির ওপরে নতুন ঘাস

সবার জানা, এবার শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়র লিগ হচ্ছে না। তার বদলে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এবং বিকেএসপির তিন ও চার নম্বর মাঠে নিয়মিত চলছে লিগের ম্যাচগুলো।

কেন মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে লিগ হচ্ছে না? সে কারণও মোটামুুটি জানা- হোম অব ক্রিকেটের আউটফিল্ডের সংস্কার ও পরিচর্যার কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করা হয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ। এখনও চলছে সেই কাজ। স্টেডিয়াম সংস্কার কাজের কী অবস্থা, কিভাবে চলছে আউটফিল্ড প্রস্তুতির

একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিচর্যা ও সংস্কার কাজের প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে চলে আসে পিচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কথা। প্রথমেই জানিয়ে রাখি, ২০০৫ সালে নির্মিত শেওে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যাধুনিক।

এবার যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হলো, সেখানে পিচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কোন কাজ হয়নি। কাজ করার প্রয়োজনও ছিল না। পিচ রয়েছে আগের মতই। পাশাপাশি যে পাঁচ-ছয়টি উইকেট আছে, তা সম্পুর্ণ অক্ষত রেখেই শুরু হয় মাঠের সংস্কার কাজ।

stadium

সেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যাধুনিক ও কার্যকর আছে। তাই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও কাজ হয়নি। মূলতঃ কাজ হয়েছে আউটফিল্ডের ওপরের স্তরের মাটি উপড়ে নতুন মাটি ও বালুর মিশ্রনে ওপরের ছয় ইঞ্চি আবরণ নতুন করে নির্মাণ। আর সাথে পুরনো ঘাস উপড়ে ফেলে দিয়ে নতুন দূর্বা ঘাস লাগানো।

সর্বশেষ খবর, ওপরের ছয় ইঞ্চি স্তরের মাটি অপসারণ এবং নতুন মাটি ও বালুর সংমিশ্রনের কাজ শেষ হয়েছে মাস খানেক আগেই। এরপর ঘাস লাগানোর কাজও শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। সর্বশেষ অবস্থা, মানে আজকের শেরে বাংলার অবস্থা  হলো- ঘাস লাগানো শেষে মাঠের ৩০ গজে নতুন সবুজ মিহি দূর্বা ঘাস গজাতে শুরু করেছে।

প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে (ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়েছিল প্রাথমিক কাজ। ধারনা করা হচ্ছে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে আবার মুখর হয়ে উঠবে শেওে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

এর আগে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হলো, তা নিয়ে  সাথে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটি চেয়ারম্যান হানিফ ভুঁইয়া। আলোচনার শুরুতেই হানিফ ভুঁইয়া জানালেন, আমরা হুট করেই কাজে হাত দেইনি। একটা সুদুরপ্রসারি লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় মাঠের কাজ শুরু করেছি। কাজ শুরুর পর আমরা স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগিয়েছি এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রথম দেশি দূর্বা ঘাসের ব্যবহার করা হয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামে।

কাজের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন হয়েছেন জানিয়ে হানিফ ভুঁইয়া বলেন, ‘মূল কাজে হাত দেবার আগে আমরা ও বিসিবির কিউরেটর কিংবা স্থানীয় বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন হইনি। আমরা লক্ষ্য করেছি, দেশের সব কটি মাঠের মত হোম অব ক্রিকেট শেরে বাংলার আউটফিল্ডের চেহারাও কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে উঠছে। ঘাসের ঔজ্জ্বল্যে মিহি ভাব কমে কেমন যেন খাপছাড়া লাগতো। তাই মাঠে কী ধরনের কাজ প্রয়োজন, তা জানতে বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি সর্বপ্রথম  অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ সিয়াম স্মিথের সরণাপন্ন হই। যাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ল্যাবো স্পোর্টস। এ বছরের শুরুর দিকে, গত ১৫ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ ঢাকা আসেন এবং শেরেবাংলার মাঠ খুঁটিয়ে দেখেন। তারপর কি কি করনীয়, সে সম্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মাঠের সংস্কার কাজে হাত দেয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি এই মাঠের সংস্কার ও পরিচর্যার কাজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে পাঠকরা আগেই জেনে গিয়েছিলেন, শেরে বাংলার অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা একদম ঠিক ও কার্যকর আছে। তাতে হাত দেবার প্রয়োজন নেই।

আজ বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি প্রধানও সেটা জানালেন। পুরো মাঠের নির্মাণ শৈলি ও ড্রেনেজ সিস্টেমে হাত দেয়া হয়নি। শুধু আউট ফিল্ডের ওপরের স্তরের ৬ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি কেটে নতুন মাটি ফেলা হচ্ছে। তাতে করে ওপরের স্তরে চেপে বসা বালু সরে যাবে। মাঠ আরও সজীব সতেজ হয়ে উঠবে।

Stadium

হানিফ ভুঁইয়া আরও জানান, মাঝে কন্ট্রাক্টদের গড়িমসি ও গাফিলতিতে মাঠের ওপরের স্তরের মাটি উপড়ে নতুন মাটি ফেলার কাজে একটু বিলম্ব হয়েছে। সেটা দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তিন মাস লেগেছে। এরপর শুরু হয় ঘাস লাগানোর কাজ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন এবং অস্ট্রেলিয়া সিডনি স্টেডিয়াম থেকে এনে ঘাস লাগানোর কথা শোনা গেলেও হানিফ ভুঁইয়া জানান, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কচি মিহি দূর্বা ঘাসই লাগানো হয়েছে।

গত ১মে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাস লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘাস লাগানো শেষ হবার পর খেলা উপযোগি হতে অন্তত ১০ সপ্তাহ সময় লাগে। এর অর্থ, মে-জুন শেষে জুলাইয়ের মাঝামাঝি শেরে বাংলার ঘাসের ওপর দিয়ে দৌড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিশাল কর্মযজ্ঞর শুরু অসি বিশেষজ্ঞর প্রেসক্রিপশন মেনে; কিন্তু কাজ হয়েছে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তত্ত¡াবধান ও পরামর্শে। হানিফ ভুঁইয়া জানান, প্রকৌশল ও  কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক কাজ করেছেন। তাদের পরামর্শও নেয়া হয়েছে। এরকম একটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কত খরচ হতে পারে?

এ প্রশ্ন করা হলে বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি প্রধান জানালেন, ‘সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার মত খরচ হচ্ছে।’

হানিফ ভুঁইয়া আর কিছু না জানালেও ভিতরের খবর, অসি বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনা জমা দেয়ার আগে স্থানীয় মাঠ পরিচর্যা ও সংস্কার নির্মাতা এক প্রতিষ্ঠান এই কাজে সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্য হাঁকিয়ে বসেছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিন ভাগের এক ভাগ অর্থে এ কাজ সম্পাদিত হচ্ছে।

হানিফ ভুঁইয়া সে জন্য কৃতিত্ব দাবি না করলেও বোর্ডের অভ্যন্তরে তাকে বিশেষ সাধুবাদ জানানো হয়েছে। বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কিছু দিন আগেও কক্সবাজার স্টেডিয়ামে ঘাস লাগানো বাবদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২২ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছে। আর শেরে বাংলার বিশাল আউটফিল্ডে ঘাস লাগাতে কোন বাড়তি অর্থই খরচ হয়নি বলতে গেলে।

হোম অব ক্রিকেটের মাঠ কর্মীরাই সে কাজ করে দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। এই প্রথম বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটি নিজেদের অর্থায়ন ও উদ্যোগে একটি নার্সারিও করতে যাচ্ছে। যা বোর্ডে অনুমোদন পেয়েছে।

হানিফ ভুঁইয়া  জানালেন, ‘সব প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তিরই নিজস্ব নার্সারি আছে। আমাদের ছিল না। আমরা কক্সবাজার স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি নার্সারি গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করছি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ঈদের ছুটির পর ঐ নার্সারি তৈরির কাজে হাত দেয়া হবে। তারপর সেখান থেকে দেশের সব স্টেডিয়ামে ঘাসের চারা সরবরাহ করা হবে। আর ঘাসের জন্য বিদেশে ছোটাছুটি করতে হবে না। বিপুল অর্থও ব্যয় হবে না।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরছেন মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এ ম্যাচে নেতৃত্বে ফিরছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ডাবলিনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটা ৪৫ মিনিটে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টিভি ও মাছরাঙ্গা টিভি।

শ্রীলঙ্কা সফরে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে স্লো ওভার রেটের কারণে অধিনায়ক মাশরাফিকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি ওয়ানডে অধিনায়কের।

এদিকে মাশরাফি দলে ফেরায় একটি পরিবর্তন নিশ্চিত বাংলাদেশ শিবিরে। তিন পেসার নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামলে বাদ পড়বেন আগের ম্যাচে সুযোগ পাওয়া রুবেল হোসেন। আর চার পেসার নিয়ে খেললে সে ক্ষেত্রে একাদশ থেকে বাদ পরতে পারেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

উল্লেখ্য, নিজেদের খেলা একমাত্র ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে পূর্ণ চার পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার প্রথমস্থানে অবস্থান করছে কিউইরা। অপরদিকে, বৃষ্টি বাগড়ায় ভেস্তে যাওয়া ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে অবস্থান মাশরাফি-সাকিবদের।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ/ রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে গড়িয়েছে ম্যাচটি। এই ম্যাচে ফিরেছেন টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশের বাইরে ছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। মাশরাফিকে জায়গা করে দিতে একাদশ থেকে ছিটকে গেছেন তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশ একাদশ :  মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : টম লাথাম (অধিনায়ক), লুক রনকি, নেইল ব্রুম, জর্জ ওয়ার্কার, রস টেলর, কলিন মুনরো, জিমি নিশাম, সেথ রেনস, মিচেল স্যান্টনার, ইস সোধি ও হামিশ বেনেত।

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ আগামীকাল

ত্রিদেশীয় সিরিজের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি। এটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার মিশনও। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ক’টি ম্যাচে পরাজিত হয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হাতুরুসিংহের দল। কারণ ভারতে আইপিএলের ম্যাচ খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিউজিল্যান্ড দলের বেশকিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে ৮ জয়ের বিপরীতে ২০ ম্যাচে হেরেছে টাইগাররা। দেশের বাইরে কিউইদের বিপক্ষে এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে ম্যাচ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। তবে এবার ভালো সুযোগ রয়েছে মাশরাফি বাহিনীর। কারণ টাইগারদের তুলনায় কিউইদের দলে অভিজ্ঞদের সংখ্যা কিছুটা কম। ভারতে আইপিএল খেলতে অনেক কিউই খেলোয়াড় এখন ব্যস্ত আছেন। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেতে বেশ ঘাম ঝড়াতে হয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাছাড়া নিরপেক্ষ ভেন্যূতে খেলা বলেই ম্যাচ জয়ে আত্মœবিশ্বাসী হতেই পারে মাশরাফির দল।

উমর-জুনায়েদকে সতর্ক করল পিসিবি

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটার- উমর আকমল ও জুনায়েদ খান। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য পাকিস্তান দলেও রয়েছেন এই দুই ক্রিকেটার। কিন্তু তাদের আচরণ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

উমর-জুনায়েদকে আচরণে উন্নতি আনতে বলেছে বোর্ড। যদি তারা আচরণ না শোধরান, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে। উমর-জুনায়েদকে এমন সতর্কবার্তাই দিল পিসিবি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, জুনায়েদ এবং আকমলকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তাদের আচরণে উন্নতি দেখা না গেলে বড় ধরনের শাস্তিই পাবেন। আর ভালো আচরণ দেখাতে পারলে শাস্তি এড়াতে সক্ষম হবেন।’

উমর-জুনায়েদকে পিসিবির এমন সতর্কবার্তা কেন? গত মাসে বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন দুজন। পাকিস্তান ঘরোয়া লিগে উমর আকমলের দল পাঞ্জাব প্রভিন্সের বিপক্ষে সিন্ধুর খেলার সময়। দুজনই খেলেছেন একই দলে। পাঞ্জাবের অধিনায়ক উমর। পাঞ্জাব-সিন্ধুর ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে একাদশ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় অধিনায়ক উমরকে। উমর জানান, ম্যাচটিতে পেসার জুনায়ের খানের পরিবর্তে খেলবেন অলরাউন্ডার নাসির নজীর।

পাঞ্জাব অধিনায়ক বলেন, ‘মাঠে প্রবেশের সময় আমি জানতে পারি, সে (জুনায়েদ খান) এখানে অনুপস্থিত। আমি খুব অবাক হয়েছি। ম্যানেজার এবং কোচ আমাকে জানান, জুনায়েদ আজ খেলবে না। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য বিস্ময়ের।’

কিছুক্ষণ পর জুনায়েদ এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘উমার আকমল মাত্র বলল আমি ম্যাচ থেকে পালিয়ে এসেছি- এটা শুনে আমি খুবই হতাশ। সত্যি ব্যাপারটি হচ্ছে, আমি খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যায় ভুগছি। আমি বিষয়টা দলকে জানিয়েছি এবং তারা আমাকে বিশ্রাম নিতে বলেছেন।’

তাদের এই বাগযুদ্ধ মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করে। নজরে আসে পিসিবির। ঘটনাটি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত শেষ। বোর্ড চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে ওই কমিটি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তার আগে কমিটি ইতোমধ্যে দুজনকে সতর্ক করে দিয়েছে। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, বর্তমান আচরণ সন্তোষজনক না হলে শাস্তির কবলে পড়বেন উমর-জুনায়েদ।

অস্ট্রেলিয়া দলকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির প্রধান শন ক্যরোলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশে সফর করলে তাদের নিরাপত্তায় আশ্বস্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তারা মনে করেছে বাংলাদেশ সবসময় সেভ। সেজন্য তারা খেলতে আসছে।

তারা জানতে চায় তাদের আমরা ইংল্যান্ডের মতো নিরাপত্তা দেবো কিনা? তাদের আমরা বলেছি বাংলাদেশ স্পোর্ট লাভিং কান্ট্রি। খেলার জন্য সবকিছুই করে এদেশের মানুষ। শুধু জনগণ নয় খেলাকে প্রমোট করার জন্য প্রধানমন্ত্রীও যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আর উনি ক্রিকেট লাভার এটা সবাই জানে।

তাদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু ইংল্যান্ডের মতো নয়, অস্ট্রেলিয়া যে ধরনের নিরাপত্তা চাইবে সে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার বলে জানান তিনি।

স্টুয়ার্ট লকে জরিমানা

পাকিস্তানের কাছে দিনের খেলা এক ওভার বাকি থাকতে নাটকীয়ভাবে হেরে প্রথমবারের মত নিজেদের মাটিতে সিরিজ হারের স্বাদ পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় জরিমানা করা হয়েছে ক্যারিবীয় কোচ স্টুয়ার্ট লকে।

শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ইয়াসির শাহর বল শেন ডোরিচের ব্যাট-প্যাডে লেগলে বাবর আজম ক্যাচ নেন। আম্পায়ার ব্রুস অক্সেনফোর্ডও আউট দেন। তবে রোস্টন চেজের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিও চান ডোরিচ। রিপ্লেতে পরিষ্কার বোঝা না গেলেও মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন তৃতীয় আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো।

এরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ল তৃতীয় আম্পায়ারের রুমে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ কারণেই আইসিসি তার ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। ল শাস্তি মেনে নেওয়ায় কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

উদ্বোধনী জুটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চারদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দারুণ এক কীর্তি গড়লেন ভারতের দুই ব্যাটসম্যান দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউত। উদ্বোধনী জুটিতে ৩২০ রানের জুটি গড়েন নারী দলের এই দুই তারকা। আর ক্রিকেট বিশ্ব ওয়ানডেতে প্রথম দেখল উদ্বোধনী জুটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি।

উদ্বোধনী জুটিতে মেয়েদের ক্রিকেট তো বটেই, ছেলেদের ওয়ানডে মিলিয়েও উদ্বোধনীতে এটি সবচেয়ে বড় রানের জুটি। ছেলেদের ক্রিকেটে ২০০৬ সালে লিডসে ইংল্যান্ডের ৩২১ রান তাড়া করতে নেমে সনৎ জয়াসুরিয়া ও উপুল থারাঙ্গা মিলে গড়েছিলেন ২৮৬ রানের জুটি। আর মেয়েদের ক্রিকেটে ২০০৮ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৬৮ রানের জুটি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের সারাহ টেলর ও ক্যারোলিন অ্যাটকিন্স।

এদিকে জুটির রেকর্ড গড়লেও ব্যক্তিগত একটি মাইলফলকের খুব কাছে গিয়ে আউট হন দীপ্তি। মাত্র ১২ রানের জন্য করতে পারেননি ডাবল সেঞ্চুরি। ২৭ চার ও ২ ছক্কায় ১৬০ বলে করেন ১৮৮। আর পুনম ১০৯ রান করে অবসর নেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ফিরতে চান স্টেইন

ইনজুরি কাটিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়েই ক্রিকেটে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন প্রোটিয়া তারকা ডেল স্টেইন। তবে সুস্থ হয়ে না ওঠায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট সিরিজ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ডেল স্টেইন। আর বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে চান দক্ষিণ আফ্রিকার এ গতিতারকা।

স্টেইন বলেন, ‘আমার ইনজুরির অগ্রগতি ভালোই হচ্ছে। এ মুহূর্তে দৌঁড়ানো, জিম অনেক কিছুই করতে পারছি। কিন্তু বোলিং করাটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ইংল্যান্ড সিরিজের আগে ফিট হতে পারবো না।’

তবে কখন ফিরবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার লক্ষ্য হচ্ছে অক্টোবরে বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে মাঠে ফেরা। তবে বাংলাদেশ সিরিজের আগে আমাকে খেলার মধ্যে থাকতে হবে। এজন্যই আমি ইংল্যান্ড এ দলের বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম।’

উল্লেখ্য, কাঁধে ইনজুরির কারণে গত নভেম্বর থেকে মাঠের বাইরে রয়েছেন স্টেইন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৩ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার কাঁধে আঘাত পাওয়ায় মাঠ ছাড়েন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেই ঘরোয়া সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে চান স্টেইন-গান।

ভারতের নারী ক্রিকেটারদের বিশ্বরেকর্ড

বিশ্ব রেকর্ডই করে ফেললো ভারতের নারী ক্রিকেট দল। ব্যাট হাতে তারা ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ কওে এই বিশ্ব রেকর্ডেও অধিকারী হন। বিশ্ব ক্রিকেটে এবারই প্রথম কোনো নারী দল তিনশ’ রানের গন্ডি পাড় হলো।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমে চারজাতি ক্রিকেট সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫৮ রানের বিরাট স্কোর গড়ে মিতালী রাজের দল। শুধু তাই নয়, দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের সেঞ্চুরিতে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ভারতের মেয়েরা। দীপ্তি শর্মা ১৮৮ রানের ইনিংস খেললেন। দীপ্তি শর্মার ১৬০ বলে ১৮৮ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ২৭টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারিতে। ভারতের হয়ে এটাই সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান। এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল জয়া শর্মার ১৩৮। এই সিরিজেই এর আগে সর্বোচ্চ উইকেট নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন ঝুলন গোস্বামী। আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পুনম রাউতের ব্যাট থেকে আসে ১০৯ রান। এর পরের আর কাউকে বেশি কিছু করতে হয়নি। ভারতের ওপেনিংয়ের ব্যাটন ছিল দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের হাতে। যার ফলে নিজেদের সর্বোচ্চ রান ২৯৮ পেছনে ফেলে নতুন স্কোর গড়লো ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। এটাই তাদের সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান। বলাই বাহুল্য রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়া এই ম্যাচে ভারতের জয় ২৪৯ রানের।

ডাবলিনে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। ডাবলিনের ম্যারাহাইড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমে জিমনেশিয়ামে অনুশীলনে ঘাম ঝরায় টাইগাররা। পরে বৃষ্টির কারণে ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করতে পারেনি তারা। নেটেই অনুশীলন করেছে কোচ হাতুরুসিংহের দল।
শুক্রবারের ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর একদিনের বিশ্রাম শেষে আবারও অনুশীলনে নামে মাশরাফির দল। ম্যাচটি পরিত্যাক্ত হওয়ায় দু’দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে। এদিকে, ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করেছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার মিশনও। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজে হোওয়ায়াইওয়াশ হয়েছিলো টাইগাররা। তাই এই ম্যাচকে ঘিরে জয়ের আশার করছে বাংলাদেশ। আগামী বুধবার ডাবলিনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় বিকেল পোনে চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়ী টেস্ট জিতল পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক:

ইয়াসির শাহর ফ্লাইটেট ডেলিভারী পেয়ে লোভ সামলাতে পারলেন না শ্যানন গ্যাবরিয়েল। ভিতরে সব ফিল্ডার, চেয়েছিলেন ওভার দ্যা টপে বল বাউন্ডারিতে পাঠাতে।

কিন্তু লেগ স্পিনারের ঘূর্ণিতে বধ গ্যাবরিয়েল। ব্যাটের কানায় লেগে বল আঘাত করল স্ট্যাম্পে। ১১তম বারের মত ইয়াসির শাহ পেলেন পাঁচ উইকেট। ১০১ রানে পাকিস্তান পেল জয়। ৩০৪ রানের জবাবে ২০২ রানে অলআউট ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ পাকিস্তানের। প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজ জিতল পাকিস্তান।


এতো প্রাপ্তির মধ্যেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের চোখে-মুখে হতাশা! বিষাদময় মুখগুলো বলে দিচ্ছিল বড় কিছু হারাতে যাচ্ছে তারা। সত্যিই তাই। বড় প্রাপ্তির ম্যাচে দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে হারিয়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এ ম্যাচ দিয়েই বিদায় নিলেন দলের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ও দলের সবথেকে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ইউনিস খান। সতীর্থরা জয় দিয়ে বিদায় দেন দুই ক্রিকেটারকে। সতীর্থদের কাঁধে চড়ে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়েন ইউনুস-মিসবাহ।

রোববার ডোমিনিকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরোদিন লড়াই করে। কিন্তু শেষ দিকে এলোমেলো হয়ে যায় ক্যারিবীয় শিবির। লড়াইয়ের নেতৃত্বে ছিলেন রোস্টন চেইস। তার বিরোচিত ইনিংসে ম্যাচ প্রায় ড্র করে ফেলেছিল স্বাগতিক দল। কিন্তু শ্যানন গ্যাবরিয়েলের ওই শটে শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ। ইয়াসির শাহর ওই ওভারের পর দিনের খেলার বাকি ছিল মাত্র এক ওভার। শেষ ওভার নিজে খেলবেন বলে পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেননি রেইস। কিন্তু ষষ্ঠ বলেই আউট গ্যাবরিয়েল। দিনের মাত্র এক ওভার বাকি থাকতে এমন আউটে বিস্মিত পুরো ক্যারিবীয় শিবির। অন্যদিকে উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয় পাকিস্তান শিবির।


৭ রানে শেষ দিনের খেলা শুরু করেন ব্রেথওয়েট (৩) ও শিমরণ হেটমায়ের। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ব্রেথওয়েট। ৩ রান যোগ করে আউট হন ইয়াসির শাহর বলে। এরপর মোহাম্মদ আমিরের বলে বোল্ড হন হেটমায়ের। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে হোপের (১৭) উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে রোস্টন চেইস সেই চাপ কিছুটা কমিয়ে দেন। পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে একাই লড়াই করেন তিনি। তবে ভাগ্যটাকেও পাশে পেয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। হাসান আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছেন। আবার মোহাম্মদ আব্বাসের নো বলের কল্যাণেও উইকেটেও টিকে যান। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেও দলের হার এড়াতে পারেননি। ২৩৯ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন চেইস। পাঁচে নেমে উইকেটে টিকে থাকেন ৩৬৬ মিনিট। পড়ন্ত বিকেলে ইয়াসিরের পাঁচ উইকেটে সিরিজ জয়ের সুযোগ হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রোস্টন চেইস। ৩ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা ইয়াসির শাহ।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কে কত পাবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

: প্রাইজমানি বেড়েছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। এবারের টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টুর্নামেন্টের চেয়ে মোট প্রাইজমানি বেড়েছে ৫ লাখ ডলার।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রাইজমানির কথা জানায় আইসিসি। আগামী ১ জুন ইংল্যান্ডে শুরু টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২২ লাখ ডলার। রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে ১১ লাখ ডলার।

সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে সাড়ে ৪ লাখ ডলার করে। প্রতিটি গ্রুপের তৃতীয় দল পাবে ৯০ হাজার ডলার। আর গ্রুপে শেষ স্থানে থাকা দল পাবে ৬০ হাজার ডলার।

আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। প্রতিটা গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সেমিফাইনাল

পাঞ্জাবকে গুঁড়িয়ে দুইয়ে পুনে

ক্রীড়া ডেস্ক :

ম্যাচটা দুই দলের জন্যই বাঁচা-মরার লড়াই। যারা জিতবে, তারা প্লে-অফে উঠবে। যারা হারবে, তারা বিদায় নেবে। আর এমন সমীকরণে আজ রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই ছাড়াই অসহায় আত্মসমর্পণ করল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দলটিকে আইপিএলে তাদের সর্বনিম্ন ৭৩ রানে অলআউট করার পর ৯ উইকেটে জিতে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে পুনে।

এই ম্যাচ শেষ হওয়ার মধ্যে দিয়ে আইপিএলের সেরা চারে (প্লে-অফ) কারা খেলবে, সেটাও চূড়ান্ত হয়ে গেল। আগের দিন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আজ পুনের জয়ে দুই থেকে তিনে নেমে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর চারে কলকাতা।

আগামী ১৬ মে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে মুম্বাই ও পুনে। যারা জিতবে, তারা সরাসরি চলে যাবে ফাইনালে। হেরে যাওয়া দলটি অবশ্য ফাইনালে ওঠার আরেকটি সুযোগ পাবে। এলিমিনেটরে হায়দরাবাদ ও কলকাতা ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দল।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে পাঞ্জাবকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ইনিংসের প্রথম বলেই মার্টিন গাপটিলকে আউট করে অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন পেসার জয়দেব উনাডকট।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো পাঞ্জাব অর্ধশত রানের আগেই অর্ধেক ব্যাটসম্যান খুইয়েছে। জয়দেব, শারদুল ঠাকুর, ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানদের পেস আর অ্যাডাম জামপার স্পিন আক্রমণে দিশেহারা হয়ে ১৫.৫ ওভারেই ৭৩ রানে গুটিয়ে গেছে পাঞ্জাবের ইনিংস। আইপিএলে এটিই পাঞ্জাবের সর্বনিম্ন স্কোর।

পাঞ্জাবের ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল চারজন। সর্বোচ্চ ২২ রান অক্ষর প্যাটেলের। ঋদ্ধিমান সাহা করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ রান। ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পুনের সেরা বোলার শারদুল। উনাডকট, ক্রিস্টিয়ান ও জামপা নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। একটি রানআউট।

জবাবে রাহুল ত্রিপাথির উইকেট হারিয়ে ৪৮ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পুনে। ৩৪ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন অজিঙ্কা রাহানে। ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক স্মিথ। ২৮ রান করে অক্ষর প্যাটেলের বলে বোল্ড হন ত্রিপাথি।

আয়ারল্যান্ডকে ২৯০ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড

ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড। মালাহাইদে টস জিতে প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার জন্য আমন্ত্রণ জানায় আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। ব্যাট করতে নেমে তিন ফিফটিতে স্বাগতিকদের সামনে ২৯০ রানের লক্ষ্য বেধে দেয় কিউইরা।

ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আইরিশদের ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ নেয় নিউজিল্যান্ড। লুক রনকি আর টম ল্যাথাম মিলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। যদিও ২৫ বলে ১৫ রান করে আউট হয়ে যান ল্যাথাম। ২৭ বলে ৩৭ রান করে আউট হন রনকি।

এরপর জর্জ ওয়ার্কার আর রস টেলর মিলে আইরিশ বোলারদের শাসন করতে থাকেন। দু’জন মিলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন। ৬০ বলে ৫২ রান করে আউট হয়ে যান টেলর। ৮৯ বলে ৫০ রান করেন জর্জ ওয়ার্কার। ৬৩ বলে ৭৯ রান করে রানআউট হন নেইল ব্রুম। ২৯ বলে ৩০ রান করেন জিমি নিশাম।

শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। আইরিশদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন টিম মুরতাগ এবং ব্যারি ম্যাকআর্থি। ১টি করে উইকেট নেন পিটার চেজ এবং কেভিন ও’ব্রায়েন।

আইপিএলের প্লে অফে খেলবে যারা

গ্রুপ পর্বের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো শেষ চার নির্ধারণে। আগেই তিনটি নির্ধারিত হয়েছিল। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাকি দলটির জন্য অপেক্ষা করতে হলো আজ (শেষ দিন) পর্যন্ত। শেষ চারে যাওয়ার দাবিদার ছিল দুটি ফ্রাঞ্চাইজি। রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট এবং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

শেষ চারে যাওয়ার লড়াইয়ে পুনে সুপার জায়ান্টের কাছে রীতিমত বিধ্বস্ত হয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭৩ রানে অলআউট হয়েছে তারা। জবাব দিতে নেমে ১২ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পুনে। একই সঙ্গে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে প্লে অফে খেলতে যাচ্ছে ধোনি-স্মিথদের দল।

পুনের জয়ে পয়েন্ট টেবিলে কিছুটা ওলট-পালট হয়ে গেলো। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ নেমে গেলো তিনে এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স থাকলো চার নম্বরে। অর্থ্যাৎ হায়দরাবাদ আর কেকেআরকে ইলিমিনেটর খেলে উঠতে হবে কোয়ালিফায়ারে। এরপর সম্ভব হলে ফাইনাল।

 

সে যাই হোক, আজ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আর দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ম্যাচের আগেই নির্ধারণ হয়ে গেলো আইপিএলের প্লে অফের লাইনআপ। ১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে থাকলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ১৪ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। ১৪ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকলো কলকাতা নাইট রাইডার্স।

১৪ পয়েন্ট পাওয়া কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বিদায় নিয়েছে। একই সঙ্গে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাট লায়ন্স এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুরও।

আইপিএলের পয়েন্ট টেবিল

দল ম্যাচ জয় পরাজয় টাই পয়েন্ট রান রেট
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৪ ১০ ২০ +০.৭৮৪
রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ১৪ ১৮ +০.১৭৬
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৪ ১৭ +০.৫৯৯
কলকাতা নাইট রাইডার্স ১৪ ১৬ +০.৬৪১
কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ১৪ ১৪ -০.০০৯
দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ১৩ ১২ -০.৫১৪

প্লে অফের সূচি

১৬ মে, রাত ৮.৩০টা কোয়ালিফায়ার-১ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স-পুনে সুপার জায়ান্ট মুম্বাই
১৭মে, রাত ৮.৩০টা ইলিমিনেটর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কেকেআর বেঙ্গালুরু
১৯ মে, রাত ৮.৩০টা কোয়ালিফায়ার-২ কোয়ালিফায়ার-১ পরাজিত-ইলিমিনিটর জয়ী বেঙ্গালুরু
২১ মে, রাত ৮.৩০টা ফাইনাল দুই কোয়ালিফায়ার জয়ী হায়দরাবাদ

ও’ব্রায়েনের সেঞ্চুরিতেও হেরে গেলো আয়ারল্যান্ড

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচের মত দ্বিতীয় ম্যাচও পড়েছিল বৃষ্টির কবলে। তবে, প্রথম ম্যাচের মত দ্বিতীয় ম্যাচকে বাতিল ঘোষণা করতে হয়নি। বরং, কিউইদের বিপক্ষে দারুণ লড়াই জমিয়ে তুলেছিল স্বাগতিক আইরিশরা। নেইল ও’ব্রায়েনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পরও শেষ পর্যন্ত ৫১ রানে পরাজয় মানতে বাধ্য হলো আয়ারল্যান্ডকে।

নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেয়া ২৯০ রান তাড়া করতে নামার পরই আয়ার‌ল্যান্ডকে অপেক্ষায় রাখে বৃষ্টি। বেশ কিছুক্ষণ বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু করা হয় খেলা। এক প্রান্তে নেইল ও’ব্রায়েন ধরে রাখলেও বাকিরা ছিল স্রেফ আসা-যাওয়ার মিছিলে।

ও’ব্রায়েনের সঙ্গে ছোট ছোট দুটা জুটি গড়েছিলেন শুধু অ্যান্ডি বালবিরনি এবং গ্যারি উইলসন। বালবিরনির সঙ্গে ৮৬ রানের এবং উইলসনের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়লে বিপক্ষে কিউইদের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৪৫.৩ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান। শেষ পর্যন্ত নেইল ও’ব্রায়েন দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আউট হন ১০৯ রান করে। বালবিরনি করেন ৩৬ এবং উইলসন করেন ৩০ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নেইল ব্রুমের ৭৯, রস টেলরের ৫২ এবং জর্জ ওয়ার্কারের ৫০ রানের ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ২৮৯ রান।

ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান

পাকিস্তান ক্রিকেটের একটা আক্ষেপ দূর হলো। কয়েক যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল; কিন্তু সিরিজ জিততে পারেনি পাকিস্তান। এশিয়ান দলটির সেই অপূর্ণতা এবার রূপ নিল পূর্ণতায়। মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে। বিদায়ী মঞ্চে পাকিস্তানকে সেরাটাই দিয়ে গেলেন এই অধিনায়ক।

ডোমিনিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০১ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট সিরিজ জিতল এশিয়ান এই পরাশক্তি। জেসন হোল্ডারের ক্যারিবীয় দলকে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে মিসবাহ বাহিনী।

এদিকে ১ উইকেটে ৭ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রেইগ ব্রাফোর্ড ৩ রান যোগ করেই আউট হন ইয়াসির শাহর কাছে পরাস্ত হয়ে। হেটমেয়ার ২৫ রান করে মোহাম্মদ আমিরের বলে সরাসরি বোল্ড। শাই হোপের আশা থেমে গেছে ১৭ রানে।

সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করা রস্টন চেজ হার মানেননি পাকিস্তানি বোলারদের কাছে। ২৩৯ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন। বিফলে গেল চেজের বীরোচিত লড়াই। অধিনায়ক জেসন হোল্ডার ২২ রান করে হাসান আলীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের সেরা বোলার ইয়াসির শাহ। ৯২ রানে খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। হাসান আলি পকেটে পুরেছেন ৩টি উইকেট। আর একটি করে উইকেট লাভ করেছেন মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আব্বাস। তবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন চেজ; আর সিরিজ সেরা ইয়াসির শাহ।

গেইল-কোহলি নৈপুণ্যে শেষটা রাঙাল বেঙ্গালুরু

তারকাখচিত দলই গড়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু সে তুলনায় গোটা টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স ছিল বেমানানই। প্লে-অফ থেকে ছিটকে গেছে আগেই। গ্রুপপর্বে ১৪টি ম্যাচ খেলে বিরাট কোহলির দল জয় পেয়েছে মাত্র ৩টিতে। গেইল-কোহলি নৈপুণ্যে জয় দিয়েই শেষটা রাঙাল বেঙ্গালুরু।

নিজেদের শেষ ম্যাচ তথা আইপিএলের দশম আসরের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ১০ রানে হারিয়েছে গত মৌসুমের রানার্স-আপ দলটি। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় প্রথমে ব্যাট করে বেঙ্গালুরু। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে কোহলির দল সংগ্রহ করে ১৬১ রান। জবাবে ২০ ওভার খেললেও ১৫১ রানে থামে দিল্লির ইনিংস।

এবার ৮টি দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। সবার নিচের অবস্থান বেঙ্গালুরুর। ১৪ ম্যাচে একটি টাই হওয়ায় তাদের পুঁজি ৭ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স সংগ্রহ করেছে ২০ পয়েন্ট। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের অর্জন ১৮।

১৬২ রানের লক্ষ্যমাত্রা। তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দিল্লি। দলের স্কোরশিটে কোনো রান যোগ না হতেই সানজু স্যামসনকে হারিয়ে ফেলে। অপর ওপেনার করুন নায়ারও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ২৬ রান করতেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।

দিল্লির পক্ষে মারলন স্যামুয়েলসের ৪৫ রানের ইনিংসটিই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রানের ইনিংসটি খেলেছেন শ্রেয়াস আয়ার। মোহাম্মদ সামি করেছেন ২২ রান। বাকি ব্যাটসম্যানরা ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। বেঙ্গালুরুর পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন হারশল প্যাটেল ও পবন নেগি।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন ক্রিস গেইল। গেইলের ঝড় থেমেছে ৪৮ রানে। বেঙ্গালুরুর এই ওপেনারের ৩৮ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ তিনটি করে চার ও ছক্কায়। বেঙ্গালুরুর ইনিংসে সর্বোচ্চ অবদান কোহলির, ৫৮ রান। জহির খানের শিকার হওয়ার আগে ৪৫ বলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ভারতীয় এই সুপারস্টার।

সমান ১২ করে এসেছে কেদার যাদব ও শচীন বেবির ব্যাট থেকে। ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন পবন নেগি। দিল্লির পক্ষে দুটি উইকেট নেন প্যাট কামিন্স। একটি করে উইকেট গেছে জহির খান ও নাদিমের দখলে।

মনে রাখার মতোই বিদায়ী উপহার পেলেন মিসবাহ-ইউনিস

সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটাই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের শেষ ম্যাচ। ডোমিনিকায় সেটা খেলে ফেলেছেন। পাকিস্তান জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না মিসবাহ-উল-হক ও ইউনিস খানকে।

ইয়াসির শাহর অসাধারণ নৈপুণ্যে ডোমিনিকা টেস্টে ১০১ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতেছে মিসবাহ বাহিনী। আর তাতে ইতিহাসটাও গড়ে ফেলল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জিতল এশিয়ান এই দলটি।

বলার অপেক্ষা রাখে যে, মিসবাহ-ইউনিসকে দারুণ এক বিদায়ী উপহার দিল পাকিস্তান। মনে রাখার মতোই। পাকিস্তান ক্রিকেটের বড়সড় এক আক্ষেপ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতে না পারার। সেই আক্ষেপটা ঘুচল। মিসবাহ-উল-হকের অসাধারণ নেতৃত্বে।

মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়ী টেস্ট বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন ইয়াসির শাহ। প্রথম ইনিংসে ৪০ ওভারে চারটি মেডেনসহ ১২৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন পাকিস্তানি এই স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে আর ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন ইয়াসির। ৩৭ ওভারে মেডেন নিয়েছেন ১৩টি। ৯২ রান খরচায় পকেটে পুরেছেন ৫ উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিততে পারেননি।

ম্যাচ সেরা হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা রস্টন চেজ। দুই ইনিংসে তার রান সংখ্যা; ৬৯ ও ১০১*। তবে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানি স্পিনার ইয়াসিরই।

বিদায়ী টেস্টে ব্যাট হাতে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিসবাহ। প্রথম ইনিংসে করেছেন ৫৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ভালো করতে পারেননি। থেমেছেন মাত্র ২ রানেই। তবে ডোমিনিকায় তার নেতৃত্ব ছিল চোখে পড়ার মতোই। স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের তিনি বধ করেছেন দারুণ বিচক্ষণতায়।

বিদায় বলে দেয়া আরেক পাকিস্তানি ইউনিস ফিফটির দেখা পাননি। তবে তার অবদানও কম নয়। দুই ইনিংস মিলে অবশ্য ‌‘ফিফটি’ হয়েছে। ৫৩ রান করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৮ রান, আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৩৫।

জিততে জিততে হেরে গেলো আয়ারল্যান্ড

জিততে জিততেই হেরে গেলো আয়ারল্যান্ড। নেইল ও’ব্রায়েনের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে জয়ের খুব কাছেই ছিলো আইরিশরা। কিন্তু শেষ দিকে কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার জ্বলে ওঠায় হাতছাড়া হলো আয়ারল্যান্ডের জয়। আর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় দিয়েই শুরু করলো নিউজিল্যান্ড। ম্যালাহাইডে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতলো নিউজিল্যান্ড ৫১ রানে।
টসে হেরে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৮৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন নিল ব্রুম। রস টেলর ৫২ এবং জর্জ ওয়ার্কার ৫০ রান করেন। আইরিশ বোলারদের মধ্যে টিম মুরতাগ ৬২ রানে ২টি। এবং ব্যারি ম্যাকার্থি ৫৯ রানে ২টি উইকেট তুলে নেন।
২৯০ রান তাড়া করতে নামা আয়ারল্যান্ড এগিয়েছে নেইল ও’ব্রায়েনের ব্যাটে চড়েই। একটা সময় আইরিশদের দরকার ছিল ৭৮ বলে ৮৭ রান। হাতে ৫ উইকেট। দলের আশার সলতে হয়ে নেইল তখন অপরাজিত ৯০ রানে। ২৬ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে সমীকরণটা আর মেলাতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। তবে আলো ছড়ানো এক সেঞ্চুরিতে কিউইদের ভালোই পরীক্ষায় নিয়েছেন নেইল ও’ব্রায়েন।
২৯০ রানের টার্গেটে নেমে ২৬ রানেই ২ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। নেইল ও’ব্রায়েন ও ব্যালবিরনি তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের প্রতিরোধে বৃষ্টির সঙ্গে হাত মেলান কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। তবে সবকিছুকে তুচ্ছ করে নেইল ও’ব্রায়েন তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত থামেন তিনি ১০৯ রানে। তাতে ২৩৮ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড। ৫০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আইরিশ শিবির ধ্বংসযজ্ঞ চালান ম্যাচ সেরা স্যান্টনার। নিউজিল্যান্ডকে সহজে জিততে না দেওয়াটাই হতে পারে এই ম্যাচে আইরিশদের বড় প্রাপ্তি।

অনুশীলনে ব্যস্ত মাশরাফিরা

সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তাতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডকে। সেই দুঃখ পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন টার্গেট করেছে আগামী বুধবারের দিকে। সেদিন টাইগারদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার প্রতিশোধ মিশন এবার মাশরাফিদের।
আয়ারল্যান্ডের বেশিরভাগ মাঠের উইকেট সবুজ ঘাসে ঢাকা। তাই পেসারদের নিয়ে একটু বেশিই সময় কাটিয়েছেন পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের শক্তি আর দুর্বলতার জায়গা ‘শিষ্য’দের ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।
ব্যাটসম্যানরাও ঘাম ঝরিয়েছেন অনুশীলনে। সেন্ট্রাল উইকেটের পাশাপাশি ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তারা। গত শুক্রবার প্রথম ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল টাইগারদের। ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে বিপদ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। বুধবার যেন তেমন ভুল না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক ব্যাটসম্যানরা।
তবে কিউইদের মাটিতে কিংবা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টাইগারদের পারফরম্যান্স ভালো নয়। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে সবশেষ সফরে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা।
আইপিএলে ব্যস্ত থাকার কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজে অবশ্য কিউইদের কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার নেই। তবু বুধবারের প্রতিপক্ষ নিয়ে সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে বাড়তি সতর্কতা, ‘আমরা নতুন চেহারার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলব। আইপিএলের কারণে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে তারা পাচ্ছে না। অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তাদের দলে কয়েকজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার আছে। তারা আমাদের কঠিন পরীক্ষাই নেবে।’

স্কুল ৫ বছর, কোচ ১০ বছর নিষিদ্ধ

জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে নিয়ম ভাঙার অভিযোগে প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো ঢাকা মেট্রো চ্যাম্পিয়ন শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজকে।
শুধু স্কুলই নয়, একই অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন স্কুলটির কোচ সাদ্দাম হোসেন অনি। কোচের সাজা অবশ্য স্কুলের চেয়ে আরও পাঁচ বছর বেশি। অর্থাৎ আগামী ১০ বছর তিনি কোচের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর আগে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে আম্পায়ারের পক্ষপাত দুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ করে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গত ২ মে ১০ বছরের জন্য বিসিবি নিষিদ্ধ করে লালমাটিয়া ক্লাবের বোলার মোহাম্মদ সুজন ও ফিয়ার ফাইটার্স ক্লাবের বোলার তাসনিম হাসানকে। তাছাড়া দুই ক্লাবকেও আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়।

টিকে থাকতে হায়দরাবাদের চাই ১৫৫ রান

ক্রীড়া ডেস্ক :

আইপিএলের ৫৩তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও গুজরাট লায়ন্স। এই ম্যাচটি উভয় দলের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচে হায়দরাবাদ জয় পেলে প্লে-অফ নিশ্চিত হবে। আর হেরে গেলে অপেক্ষায় থাকতে হবে যেন শেষ ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব হেরে যায়। আজকের ম্যাচে যদি হায়দরাবাদ হেরে যায় এবং শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব জিতে যায় তাহলে ওয়ার্নারদের পেছনে ফেলে প্লে-অফে নাম লেখাবে। আর আজ হায়দরাবাদ জিতে গেলে শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব জিতলেও লাভ হবে না।

শনিবার কানপুরের গ্রিনপার্ক স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নামে গুজরাট লায়ন্স। উদ্বোধনী জুটিতে ডোয়াইন স্মিথ ও ইশান কিষান ১১১ রান তোলেন। এরপর গুজরাটের ব্যাটিং লাইন-আপে নাটকীয় বিপর্যয় দেখা দেয়। ১১১ থেকে ১৫৪ রান পর্যন্ত যেতে দশ-দশটি উইকেট হারায় গুজরাট। শেষ ৪৩ রানে তারা হয় তাদের দশটি উইকেট।

দলীয় ১১১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৫৪ রানে আউট হন স্মিথ। ১২০ রানে ফিরে যান কিষান (৬১)। ১২০ রানেই আউট হন রায়না (২) ও দিনেশ কার্তিক (০)। ১২৩ রানে অ্যারন ফিঞ্চ (২), ১৪২ রানে জেমস ফকনার (৮), ১৪২ রানে প্রদীপ (০), ১৫৩ রানে অঙ্কিত সনি (০), ১৫৪ রানে প্রাভীন কুমার (১) ও ১৫৪ রানেই আউট হন মুনাফ প্যাটেল (০)। তাতে ১৫৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় গুজরাট লায়ন্স।

বল হাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মোহাম্মদ সিরাজ ৪ ওভার বল করে ৩২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। রশিদ খান ৪ ওভার বল করে ৩৪ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। ৩.২ ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ভুবনেশ্বর কুমার নেন ২টি উইকেট। অপর উইকেটটি নেন সিদ্ধার্ত কুল।

পুনে না পাঞ্জাব কে যাবে প্লে অফে

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের এরই মধ্যে প্লে অফ নিশ্চিত নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর বাদ পড়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাট লায়নস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে। শেষ দিনে দল দুটি মুখোমুখি হবে পরস্পরের। যে জিতবে সেই চলে যাবে প্লে অফে। বাঁচা-মরার লড়াইটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪.৩০ মিনিটে।

পুনে ১৩ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ অবস্থানে। পাঞ্জাবের বিপক্ষে আজ যদি তারা জেতে, তাহলে দ্বিতীয় সেরা দল হয়েই প্লে অফ খেলবে। দুই থেকে নেমে যাবে তিনে হায়দরাবাদ আর কেকেআর চারে। এদিকে পয়েন্ট টেবিলে প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকার সুবিধা হলো, প্লে অফে এই দুটি দল অন্তত দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় ফাইনালে যাওয়ার।

 

আইপিএলের চলতি আসরে প্রথম দিকে খোঁড়াতে থাকা পাঞ্জাব গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যে ছন্দে তারা আছে, এক সময় বাদ পড়ার শঙ্কায় থাকা দলটি এখন অন্যতম ফেবারিট।

কেকেআরকে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত মুম্বাইর

জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। উইকেটে ব্যাট হাতে দুই বোলার। উমেষ যাদব আর ট্রেন্ট বোল্ট। হার্দিক পান্ডিয়ার মত স্লগ ওভারের সেরা বোলারকে পিটিয়ে ১৪ রান তোলা তাদের পক্ষে দুঃস্বাধ্য। হলোও তাই। দু’জন মিলে নিতে পারলেন মাত্র ৪ রান। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরূদ্ধকর লড়াই শেষে কেকেআরকে ৯ রানে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান অর্জন করলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। গ্রুপ পর্বের ১৪ ম্যাচ শেষে মুম্বাইর পয়েন্ট ২০।

আগেই প্লে অফ নিশ্চিত হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। তবুও মুম্বাইর বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল কেকেআরের জন্য ভিন্ন গুরুত্ববহ। কারণ, এই ম্যাচে জিতলেই নিশ্চিত হতো দুই নম্বর স্থান। ফলে, প্লে-অফে একটি ম্যাচ খেলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকতো। কিংবা হেরেও গেলেও ক্ষতি ছিল না। আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতো; কিন্তু মুম্বাইর কাছে ৯ রানে হারের ফলে এখন তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

ফলে প্লে অফে প্রথম ম্যাচ জিতলেও লাভ নেই; কারণ তাদের ক্ষেত্রে প্রথমটা হবে ইলিমিনেটর রাউন্ড। দ্বিতীয়টা কোয়ালিফায়ার। অর্থ্যাৎ দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেই কেবল মিলবে ফাইনালের টিকিট।

কেকেআরের সমান ১৬ পয়েন্ট করে রয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসেরও। পাঞ্জাবের পয়েন্ট ১৪। আজ পাঞ্জাবকে হারাতে পারলেই তারা উঠে যাবে দ্বিতীয় স্থানে। সে ক্ষেত্রে সানরাইজার্স  হায়দরাবাদ নেমে যাবে তিনে এবং কেকেআর নেমে যাবে চারে। আর যদি আজ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বড় ব্যবধানে জিতে যায়, তাহলে রানরেটের ব্যবধানে পুনেকে পেছনে ফেলে প্লে অফ নিশ্চিত করে ফেলবে তারা। একই সঙ্গে রান রেটের ব্যবধানে কেকেআরকেও পেছনে ফেলে তিনে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

ইডেন গার্ডেনে মুম্বাইর দেয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ‘নিয়মিত’ ওপেনার হয়ে ওঠা সুনিল নারিনের উইকেট হারায় কেকেআর। ৪ বল খেলে কোনো রান না করেই আউট হয়ে যান তিনি। এরপর ক্রিস লিন আর গৌতম গম্ভীর চেষ্টা করেন দলের বিপর্যয় সামাল দেয়ার; কিন্তু কেকেআরের বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। বড় ইনিংসও খেলতে পারেনি কেউ।

ক্রিস লিন ১৪ বলে ২৬, গম্ভীর ১৬ বলে ২১, মানিস পান্ডে ৩৩ বলে ৩৩, ইউসুফ পাঠান ৭ বলে ২০, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১৬ বলে ২৯ এবং ১৫ বলে ১৬ রান করেন কুলদিপ যাদব। শেষ পর্যন্ত কেকেআরের ইনিংস থেমে যায় ৮ উইকেটে ১৬৪ রানে। মুম্বাইর হয়ে ২ উইকেট করে নেন টিম সাউদি, বিনয় কুমার এবং হার্দিক পান্ডিয়া ২টি করে উইকেট নেন। মিচেল জনসন ও কর্ন শর্মা নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সৌরভ তিওয়ারির ৫২ এবং আম্বাতি রাইডুর ৩৭ বলে ৬৩ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। যদিও শুরুতে তারা স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই হারায় লেন্ডল সিমন্সের উইকেট। তবুও সৌরভ তিওয়ারি এবং রোহিত শর্মার দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ২১ বলে ২৭ রান করে আউট হয়ে যান রোহিত। ৪৩ বলে ৫২ রান করেন তিওয়ারি।

ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় পাকিস্তান

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এখনো সিরিজ না জেতা পাকিস্তান দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে ম্যাচের শেষ দিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৯ উইকেট। আর স্বাগতিকরা পিছিয়ে আছে ২৯৬ রানে।

এর আগে ৫ উইকেট ২১৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৪৭ রানে থামে  নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটির হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন রোস্টন চেজ। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস।

১২৯ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে পাকিস্তান। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার ৯০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে অষ্টম উইকেটে মোহাম্মদ আমির ও ইয়াসির শাহ ৬১ রানে জুটি গড়লে পর ৮ উইকেটে ১৭৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা। ফলে দলটির লিড দাঁড়ায় ৩০৩ এ।

৩০৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭ রান তুলতেই ১ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। ফলে পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য ২৯৭ রান দরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর ৯ উইকেট চাই পাকিস্তানের।

সাকিব-মুশফিকের মা দিবস উদযাপন

যে কোন মানুষের জীবনে বড় হবার পথে মায়ের ভালবাসা আর প্রেরণার কোন বিকল্প নেই। ব্যতিক্রম নন জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। বিভিন্ন সময় তারা জানিয়েছেন মায়ের প্রতি তাদের ভালবাসার কথা, তাদের জীবনে তাদের মায়ের অবদানের কথা।

মা দিবস উপলক্ষ্যে সাকিব তার ফেসবুক পেইজে নিজের মা ও মেয়ে আলাইনার একটি ছবি দিয়ে লেখেন, মায়েদের কাজ এর কোনো শেষ নেই। মায়েরা কাজ করে, রান্না করে, বাজার করে, সেবা করে এবং আরও অনেক কিছু করে। কিন্তু এতো কিছুর পরও মায়েরা থেমে থাকেনা। তাই তো তারা আসল অল-রাউন্ডার! সকল অল-রাউন্ডার মায়েদের জানাই মা দিবসের শুভেচ্ছা।

Shakib

বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিক লেখেন, আমি যে আজকে এতদূর আসতে পেরেছি এটার পেছনে আমার মায়ের অনেক বিরাট অবদান রয়েছে। আমাদের সম্পর্কটা ভাষায় বোঝানো যাবে না…মায়ের হাসিই আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। অনেক ভালোবাসি তোমাকে মা। সকল মায়েদের জানাই মা দিবসের শুভেচ্ছা।

কার্ট রেসিংয়ে মুশফিক-তাসকিনরা

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে দফায় দফায় বৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় শনিবার কোন অনুশীলন করেনি জাতীয় দল। পুরো দল মিলে চলে যায় ডাবলিনের কার্ট-সিটি রেসওয়েতে। রেসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে ছবি ও পোস্ট করেছেন মুশফিক-সৌম্য-তাসকিনরা।

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে দফায় দফায় বৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় শনিবার কোন অনুশীলন করেনি জাতীয় দল। পুরো দল মিলে চলে যায় ডাবলিনের কার্ট-সিটি রেসওয়েতে। রেসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে ছবি ও পোস্ট করেছেন মুশফিক-সৌম্য-তাসকিনরা।

mushfik

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ছাড়াও তৃতীয় দল হিসেবে আছে নিউজিল্যান্ড। বুধবার এই ডাবলিনেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। আর এ লম্বা সময় ধরেই দেশের বাইরে থাকায় নিজেদের চাঙ্গা রাখতেই ঘোরাঘুরির পাশাপাশি রেসিংয়ের স্বাদও নিলেন সৌম্য-তাসকিনরা।

 

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ছাড়াও তৃতীয় দল হিসেবে আছে নিউজিল্যান্ড। বুধবার এই ডাবলিনেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। আর এ লম্বা সময় ধরেই দেশের বাইরে থাকায় নিজেদের চাঙ্গা রাখতেই ঘোরাঘুরির পাশাপাশি রেসিংয়ের স্বাদও নিলেন সৌম্য-তাসকিনরা।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ১-১৮ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে মোট সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ২০১৩ সালের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার পাঁচ লাখ পাউন্ড বাড়ানো হয়েছে। খেলা হবে তিনটি ভেন্যু কার্ডিফ, এজবাস্টন ও ওভালে। এরমধ্যে শিরোপা জয়ী দল পাবে ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড আর রানার্সআপ দল পাবে ১.১ মিলিয়ন পাউন্ড। দুই সেমিফাইনালিস্ট পাবে সাড়ে চার লাখ পাউন্ড করে। প্রত্যেক গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল পাবে ৯০ হাজার পাউন্ড। আর গ্রুপের শেষ দল পাবে ৬০ হাজার পাউন্ড।

আগামীকাল মুখোমুখি আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড

ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল (রোববার) মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ডাবলিনের মালাহিডে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেতেই মাঠে নামবে আইরিশরা। অন্যদিকে, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় কিউইরা।
এরআগে শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। মালাহিডে টস হেরে ব্যাটিং-এ নেমে ৩১ দশমিক ১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দু’দল।
তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে আইরিশরা। এমনটাই জানান দলের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা জয় চাই। নিউজিল্যান্ড শক্তিশালী ও বড় দল। তাদের হারানো কঠিন। তারপরও তাদেরকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবো আমরা।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে ত্রিদেশীয় সিরিজকেই ভাবছে নিউজিল্যান্ড। তেমনই সুর কিউই দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাদামের। বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এই টুর্নামেন্টটি আমাদের প্রস্তুত করে তুলবে। এই সিরিজ দিয়ে নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নেবো আমরা। তাই ভালো খেলার জন্যই মাঠে নামবে দল। জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে দারুণ হবে।’
আয়ারল্যান্ড দল : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), এন্ড্রু ব্যালবিরনি, পিটার চেজ, জর্জ ডকরেল, এড জয়সে, টিম মুরতাগ, সিমি সিং, ব্যারি ম্যাককার্থি, কেভিন ও’ব্রায়ান, নিয়াল ও’ব্রায়ান, পল স্টার্লিং, স্টুয়ার্ট থমসন, গ্যারি উইলসন ও ক্রেইগ ইয়ং।
নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড : টম ল্যাদাম (অধিনায়ক), নিল ব্রুম, কলিন মুনরো, হেনরি নিকোলস, সেথ রেন্স, মিচেল স্যান্টনার, রস টেইলর, জিওর্জ ওরর্কার, হামিশ বেনেট, স্কট কুগিলজন, জেমস নিশাম, জিতান প্যাটেল, লুক রঞ্চি (উইকেটরক্ষক), ইশ সোধি ও নিল ওয়াগনার।

মাত্র ‘ছাব্বিশেই’ ক্রিকেটকে গুডবাই

ক্রীড়া ডেস্ক :

মাত্র কিছুদিন আগেই পঁচিশ বছর বয়সে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্পিনার জাফর আনসারি। এবার ছাব্বিশ বছর বয়সে ক্রিকেটকে গুডবাই বললেন আরেন ক্রিকেটার।

জাফর আনসারির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও ছব্বিশ বছর বয়সি রায়ান কার্টাসের জাতীয় দলের জার্সি পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান শুক্রবার ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাট-প্যাড উঠিয়ে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন রায়ান কার্টাস। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছে ২৬ বছর বয়সি কার্টাসের। তার পছন্দের সাবজেক্ট দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে কার্টাস বলেন,‘অস্ট্রেলিয়ায় এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে ক্রীড়াক্ষেত্রে বাদেও সম্মানজনক অনেক পেশা রয়েছে। আমি সব সময় আমার খেলা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। সারাজীবন খেলতে পারব তারও নিশ্চয়তা নেই। আমি সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করতে চাই।’

ক্যানবেরায় জন্মগ্রহণ করা এ ক্রিকেটার যুব বয়সে খেলেছেন এসিটি আন্ডারএজ ক্রিকেটে। এরপর ভিক্টোরিয়ায় উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে যোগদান করেন। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান উইকেট রক্ষক ম্যাথু ওয়েডের পরিবর্তে উইকেট কিপিংয়ের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ৪৩ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকা রায়ান কার্টাস ৩৫.৯২ গড়ে রান করেছেন ২৫১৫। ২০১৫-১৬ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের সফরকারী দলের বিপক্ষে ২০৯ রান তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। এছাড়া ২২টি লিস্ট এ ম্যাচ ও ৩৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল কার্টাসের। বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে এক মৌসুম টি-টোয়েন্টিও খেলেছিলেন।

লারা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলবেন ইমরান-রানাতুঙ্গা

ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল শচীন একাদশ বনাম লারা একাদশ। ব্যস্ততার কারণে ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার উপস্থিত থাকতে পারছেন না। যে কারণে দলের নামই পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন লারা একাদশের প্রতিপক্ষ বিশ্ব একাদশ।

টেস্ট কিংবা ওয়ানডে নয়, ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর কথা আজ। কিন্তু ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর আকাশে চোখ রাঙানি রয়েছে বৃষ্টির। তাই ম্যাচটি আজ গড়াবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলবেন দুই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক; পাকিস্তানের ইমরান খান ও শ্রীলঙ্কার অর্জুনা রানাতুঙ্গা। রয়েছেন বিশ্বকাপে ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানো হারশেল গিবসও। কার্টলি অ্যামব্রোসের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারও লড়বেন বিশ্ব একাদশের হয়ে।

লারা একাদশের হয়ে যারা লড়বেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন দিনেশ রামদিন, এভিন লুইস, কেভিন কুপার, জেসন মোহাম্মদ, রিয়াদ এমরিত, ডোয়াইন ব্রাভো। যাদের অধিকাংশই বর্তমানে বিভিন্ন লিগ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন।

লারা একাদশ (সম্ভাব্য) : ব্রায়ান লারা, মারভিন দিলন, দিনেশ রামদিন, এভিন লুইস, কেভিন কুপার, জেসন মোহাম্মদ, রিয়াদ এমরিত, ডোয়াইন ব্রাভো, কারস্টন ক্যালিচারান, টিওন ওয়েবস্টার, দিনানাথ রামনারায়ন।

বিশ্ব একাদশ (সম্ভাব্য) : হারশেল গিবস, ডেভন মালকম, গোল্ডস্টোন স্মল, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার, রামনেশ সারওয়ান, ইমরান খান, কার্টলি অ্যামব্রোস, রিচার্ড পাওয়েল ও কোর্টনি ব্রাউন।

সাকিবের ‘ফিফটি’

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডেতে স্লো ওভার রেটের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হচ্ছে না মাশরাফির।

মাশরাফির পরিবর্তে আজ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান। এ ম্যাচের মধ্যে নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৫০তম ম্যাচে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। সাকিব বাদে অধিনায়কত্বের রেকর্ডে হাফ-সেঞ্চুরি অতিক্রম করেছেন হাবিবুল বাশার সুমন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৬৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুল বাশার। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ২৯:৪০।

এর আগের ৪৯ ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৩ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন সাকিব। সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হেরেছে ২৬ ম্যাচ। অন্যদিকে মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলেছে ৪০ ম্যাচ। জিতেছে ২৪টি, হেরেছে ১৫টি।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতবে ভারত : কপিল দেব

ক্রীড়া ডেস্ক :

ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক কপিল দেব বিশ্বাস করেন, আসন্ন চ্যাম্পিয়নন্স ট্রফি ঘরে তোলার সামর্থ্য রয়েছে ভারতের। তিনি মনে করেন, ভারত ইংল্যান্ড থেকে এবারও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ঘরে নিয়ে আসবে।

আগামী ১ ‍জুন থেকে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলকে নিয়ে ইংল্যান্ডে বসছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। টুর্নামেন্টের উত্তেজনা শুরু থেকে ছড়িয়ে দিতে আইসিসি ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রেখেছে। আইসিসি থেকে রাজস্ব হারানোয় ধারণা করা হচ্ছিল ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিবে না। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ঠিকই দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবশেষ আসরে শিরোপা তুলেছিলে মাহেন্দ্র সিং ধোনীর দল। এবার বিরাট কোহলির নেতৃত্বে খেলবে ভারত। ওই দলের আট ক্রিকেটার এবার ভারতের জার্সিতে মাঠ মাতাবেন। দলের সেরা ক্রিকেটাররা থাকায় কপিল দেবের বিশ্বাস ভারত এবারও শিরোপা ঘরে তুলবে।

শুক্রবার দিল্লিতে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটের এ কিংবদন্তী বলেন,‘ভারত যেভাবে খেলছে…আমি বিশ্বাস করি তাদের শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রয়েছে। শিরোপা না জেতার কোনো কারণ আমি দেখছি না।এখানে প্রতিপক্ষরা বেশ দূর্দান্ত, শক্তিশালী। তবুও আমরা আত্মবিশ্বাসী। সবথেকে ভালো দিক হচ্ছে শেষবার আমরা এখানে খেলেই শিরোপা জিতেছি। এটা আমাদের এগিয়ে রাখছে।’

১৯৮৩ এর বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেব মনে করেন, ভারতকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সবথেকে বেশি চ্যালেঞ্জ জানাবে ইংল্যান্ড। এইউন মরগানের দলকে নিয়েই যত ভয় কপিল দেবের। ইংল্যান্ডকে নিয়ে কপিল দেব বলেন,‘আপনি সবগুলো দলকে হারাতে পারবেন কিন্তু ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারানো কঠিন। তারা দারুণ দল। অন্যান্য দলগুলোর থেকে তারা কন্ডিশন সম্পর্কে বেশি অবগত।’

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ৪ জুন এজবাস্টনে মাঠে নামবে দুই দল। এরপর ৮ জুন ও ১১ জুন শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মাঠে নামার আগে আগামী ৩০ জুন বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ধোনির দল।

পরিত্যক্ত হল বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

আয়ারল্যান্ডে ওয়ালটন ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

৩১.১ ওভার খেলা হওয়ার পর বৃষ্টি এসে হানা দেয়। সেই বৃষ্টি আর না থামলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

বৃষ্টির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩১.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান। ব্যাটিংয়ে ছিলেন তামিম ইকবাল (৬৪) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪৩)। এ জুটি ৮৭ রান  সংগ্রহ করেছিল।

আউট হয়েছেন : ৮/১ সৌম্য সরকার (৫), ৯/২ সাব্বির রহমান (০), ৪৭/৩ মুশফিকুর রহিম (১৩), ৭০/৪ সাকিব আল হাসান (১৪)।

নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ অবশ্য খেলতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার পরিবর্তে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

আয়ারল্যান্ডের একাদশ : পল স্টার্লিং, উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), নীল ও’ব্রায়েন (উইকেটরক্ষক), অ্যান্ড্রু বালবিরনি, স্টুয়ার্ট থম্পসন, গ্যারি উইলসন, কেভিন ও’ব্রায়েন, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাককার্থি, টিম মুরতাগ ও পিটার চেস।

নিউজিল্যান্ডের অপেক্ষায় সাকিব

ডাবলিনের মালাহাইড মাঠে উইকেট আর আউটফিল্ডের কোনো পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না কাল। অনেকে তো মজা করেই বলছিলেন ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড উইকেট বানাতে ভুলে গিয়ে সবুজ মাঠেই স্টাম্প গেড়ে খেলা শুরু করে দিয়েছে। শ্যামল-সবুজ উইকেটে টসে হেরে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিংয়ের নামল, তখনই বুক দুরুদুরু বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। এমন উইকেটে দাঁড়াতে পারবে তো বাংলাদেশ!
এমনিতেই কনকনে ঠান্ডা, তার ওপর উইকেটের এই চেহারা। কাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার আগে ‘কঠিন পরীক্ষা’ই ছিল বাংলাদেশের জন্য। সে পরীক্ষায় শুরুর দিকে বিপর্যয় হলেও পরে তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহর ৮৭ রানের জুটিতে ভালোই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দল। এই দুই ব্যাটসম্যান যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত হলে বাংলাদেশই হয়তো–বা এগিয়ে থাকত আয়ারল্যান্ডের চেয়ে।
বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য আশাবাদীই দলকে নিয়ে। তাঁর আশাবাদ মূলত তামিম-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখেই। আয়ারল্যান্ড-কন্ডিশনে এই সিরিজের সময় যত গড়াবে, বাংলাদেশ ততই ভালো খেলবে বলে বিশ্বাস তাঁর। প্রথম ম্যাচে এমন কন্ডিশনের অনভ্যাসটাই দলকে ভুগিয়েছে বলে অভিমত তাঁর, ‘যে কন্ডিশনে খেলে আমরা অভ্যস্ত, প্রথম দিকের পরিস্থিতি ছিল পুরোপুরিই ভিন্ন। খুব কঠিন ছিল কন্ডিশনটা। তবে সময় যত গড়িয়েছে, বল যত পুরোনো হয়েছে, সেটা তত সহজেই ব্যাটে এসেছে। অভিজ্ঞতা ভালোই হলো। আমরা এখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।’
তামিম-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ সাকিব, ‘তামিম দারুণ খেলেছে। এই উইকেটে সে দারুণভাবে নিজেকে প্রয়োগ করেছে। মাহমুদউল্লাহর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ওদের জুটিটা ম্যাচের চেহারা পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটাও আমরা হাতে তুলে নিয়েছিলাম।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা। যদিও আইপিএলের কারণে ১০ ক্রিকেটার ছাড়া আয়ারল্যান্ডে সিরিজ খেলতে এসেছে নিউজিল্যান্ড। তারপরও সাকিবের শতভাগ সমীহই পাচ্ছে তারা, ‘নতুন চেহারার একটা দল খেলছে নিউজিল্যান্ডের। আইপিএলের কারণে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে তারা পাচ্ছে না। অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থাকলেও দ্বিতীয় বাছাই দল তারা। নিউজিল্যান্ড আমাদের কঠিন পরীক্ষাই নেবে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের সিরিজের কথা উল্লেখ করলেও সাকিব সে স্মৃতি ভুলেই ডাবলিনে কিউদের বিপক্ষে নামতে চান, ‘কয়েক মাস আগে আমরা নিউজিল্যান্ডের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছি। তবে সেই স্মৃতি ভুলে যেতে চাই আমরা, সেখানে খুব একটা ভালো অভিজ্ঞতা হয়নি আমাদের। খুব ভালোও খেলিনি। তবে এবার ভিন্ন কন্ডিশনে, ভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা ভালো করব বলেই বিশ্বাস করি আমি।’

তামিম-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং ও বৃষ্টি

বাংলাদেশ দলের ওয়ালটন ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটা বৃষ্টিতে পরিত্যক্তই হয়ে গেছে! তার আগে শেষ হয়নি ম্যাচের এক ইনিংসও। ৩১.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৭ রান করেছিল বাংলাদেশ দল। দুই দলই পাবে ২ পয়েন্ট করে।
ডাবলিনের এই ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের আশা বাড়িয়ে দিয়েছিল বেলফাস্টের প্রস্তুতি ম্যাচ। সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির রহমানসহ সবার আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৯৯ রানের বিশাল জয় দেখে মনে হয়েছে, বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। আয়ারল্যান্ড আর সাসেক্সের ক্যাম্প মিলে সে কাজটা ভালোই হয়েছে।
কিন্তু কাল টস জিতে বল হাতে নিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত আনল আইরিশরা। সকালের ঝিরিঝিরি বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর। মালাহাইড ক্রিকেট ক্লাব মাঠের সবুজ উইকেটও হয়ে উঠেছিল আরেকটু পেসসহায়ক। আউট হওয়ার দুই বল আগে সৌম্য সরকার ডিপ পয়েন্ট দিয়ে পিটার চেজকে বাউন্ডারিতে পাঠালেও এই মিডিয়াম পেসারের বলই পরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য দুরূহ হয়ে ওঠে। শর্ট বলে সৌম্যকে কট বিহাইন্ড বানানোর পর নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১ রানের ব্যবধানে চেজ ফেরান সাব্বিরকেও। অবশ্য বোলারের যতটা না কৃতিত্ব, ওই আউটে তার চেয়ে বেশি ‘অবদান’ ব্যাটসম্যানেরই ছিল।
প্রস্তুতি ম্যাচে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পর অবসর নিয়েছিলেন। কাল তিন নম্বরে নেমে যেন সেখান থেকেই ব্যাটিং শুরু করতে চাইলেন সাব্বির! আউট হওয়ার আগে খেলা চেজেরই দুটি বলের কোনোটিতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। তবু সাব্বির চেজকেই ‘চেজ’ করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ক্যাচ। কী শট খেলতে গিয়েছিলেন, সেটা তিনি নিজেও জানেন কি না সন্দেহ।
দলের ৯ রানের মধ্যে সৌম্য-সাব্বিরের বিদায় কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। তামিম ইকবালের বদলে যাওয়া ব্যাটিংটা না থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারত আরও। অন্য প্রান্তের নড়বড়ে অবস্থা দেখে বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাট হলো সংযত, ওই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ইনিংস ঠিক এটাই দাবি করছিল তাঁর মতো অভিজ্ঞ আর ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে।
কিন্তু তামিম একা কী করবেন! আরও দুই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসানও যে পারেননি তাঁকে যোগ্য সংগত দিতে। দুজনই আউট হয়েছেন বাজে শট খেলে।
৭০ রানের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেছেন ওপরের দিকের চার ব্যাটসম্যান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা সহজ ছিল না। তবে বৃষ্টিতে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত বাকি খেলায় সেই কঠিন কাজটাই করে দেখাচ্ছিলেন তামিম-মাহমুদউল্লাহ। অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটি হয়ে গেছে ততক্ষণে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাট হাতে তাঁদের আত্মবিশ্বাস দেখে মনেই হচ্ছিল না, ওই জুটিটা শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্তও দারুণ দুঃসময় পার করছিল বাংলাদেশের ইনিংস।
সংযত ব্যাটিংয়েও তামিম আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শুরু থেকে। ৭৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছেন ম্যাকার্থিকে স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরে। ওই ওভারেই এর আগে বাউন্ডারি ছিল আরও একটা। এর আগে চাপের মধ্যে টিম মারটাগকেও মেরেছেন পরপর দুই বাউন্ডারি। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে নামের পাশে ৮৮ বলে অপরাজিত ৬৪। আর মাহমুদউল্লাহর তো প্রথম স্কোরিং শটটাই ম্যাকার্থিকে চার মেরে। ঘরোয়া ক্রিকেটের ফর্ম ধরে রেখে প্রস্তুতি ম্যাচে করেছিলেন ৪৯। কালও তাঁর ব্যাটে ছিল সেই ধারা। ৫৬ বলে অপরাজিত ৪৩ রানে চার বাউন্ডারি। বাঁহাতি স্পিনার ডকরেলকে তাঁরই মাথার ওপর দিয়ে মেরেছেন বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটি।
তামিম-মাহমুদউল্লাহ মিলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংসটা কোথায় নিয়ে যেতে পারতেন, বৃষ্টির বাধায় সেটি আর দেখা যায়নি। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে পরিত্যক্ত হয়ে যায় ম্যাচ। ডাবলিন তখনো ভিজছিল বৃষ্টিতে।

কানাডায় ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে চান আফ্রিদি

ক্রীড়া ডেস্ক :

পাকিস্তানের হয়ে ২০ বছর বেশ দাপটের সঙ্গে ক্রিকেটে খেলেছেন শহীদ আফ্রিদি। এবার উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন পাকিস্তানি প্রাক্তন এ অলরাউন্ডার।

বর্তমানে কানাডা সফরে রয়েছেন আফ্রিদি। কানাডার টরেন্টোর মেয়র জন টরি তার অফিসে আফ্রিদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কানাডায় ক্রিকেটের প্রসার কিভাবে ঘটানো যায় এ ব্যাপারে আফ্রিদির সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সিবিস নিউজকে আফ্রিদি জানান, ‘এটা এখানে আমার জন্য বেশ সম্মানের। টরি এবং শানের সঙ্গে দেখা করার জন্য সিটি হলে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়। টরেন্টোতে এটা আমার চতুর্থ সফর। এটা বেশ চমৎকার শহর। এখানে কিছু মহৎ কাজ এবং ক্রিকেটের জন্য আমি কিছু করতে চাই।’

টরেন্টোতে মেয়র টরি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের তরুণদের এগিয়ে নিতে আমরা তাকে (আফ্রিদি) প্রস্তাব দিতে চাই। ক্রিকেটে যারা আগ্রহী আমরা তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাই। আমি জানি ক্রিকেটে আফ্রিদির বেশ শক্তিশালী একটি প্রভাব রয়েছে। আমরা তার প্রতিভা ও অর্জনকে সম্মান জানাই।’

ধীর ব্যাটিংয়ে ক্যারিবীয়দের জবাব

ক্রীড়া ডেস্ক :

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ডোমিনিকো টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ধীর ব্যাটিংয়ে জবাব দিচ্ছে স্বাগতিক দলটি।

ইউনিস ও মিসবাহর বিদায়ী টেস্টের শেষটা ভালো ভাবেই শুরু করে পাকিস্তান। আজহার আলীর সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। জবাবে  পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে মাটি কামড়ে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছে ক্যারিবীয়রা।

ডোমিনিকো টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৮ রান। শেন ডাওরিচ ২০ ও জেসন হোল্ডার ১১ রানে অপরাজিত রয়েছেন। উইন্ডসর পার্কে শুক্রবার বিনা উইকেটে ১৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুটা ভালোই করেন ওপেনাররা। ৪৩ রান করতে ২৭ ওভার ব্যাটিং করেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েইট ও কাইরন পাওয়েল। ৮২ বলে দুটি চারে ৩১ রান করা পাওয়েল ইয়াসির শাহর বলে ক্যাচ দেন আজহার আলিকে।

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটা এসেছে রোস্টন চেজের কাছ থেকে। ১২৯ বল মোকাবেলা করে ৬০ রান করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এছাড়া ওপেনিংয়ে নেমে ব্রেথওয়েট ২৯ ও সাই হোপ সমান সংখ্যক রান করে সাজঘরে ফেরেন। ১৭ রান করেন হেটমেয়ার।

বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে ইয়াসির শাহ সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান মোহাম্মদ আব্বাস ও আজহার আলী।

মিসবাহ-ইউনিসের প্রতি আফ্রিদির শ্রদ্ধা

ক্রীড়া ডেস্ক:

দীর্ঘ ২০ বছর পাকিস্তানের হয়ে খেলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আফ্রিদির বিদায়টা বর্ণিলভাবে হয়নি। তবে নিজের আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও দীর্ঘদিনের দুই সতীর্থ মিসবাহ-উল-হক ও ইউনিস খানের ক্ষেত্রে এমনটা চাইছেন না আফ্রিদি। কৃতিত্বের কথা স্বীকার করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন এ অলরাউন্ডার।

এক ভিডিও বার্তায় মিসবাহ ও ইউনিসের বিদায় নিয়ে আফ্রিদি জানান, ‘আমি তাদের দুজনকে ধন্যবাদ দিতে চাই। প্রত্যেকেই মিসবাহ ও ইউনিসের সেবার কথা জানে।নিঃস্বার্থভাবে পাকিস্তান ক্রিকেটের সেবা করায় দেশের জনগণ এবং নিজ থেকে আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’

অবসরের পর মিসবাহ ও ইউনিসের অভিজ্ঞতাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজে লাগানোর প্রয়োজন অনুভব করেন আফ্রিদি। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমরা সর্বদাই ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতির কথা বলে আসছি। আমাদের দুই গ্রেট ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেছিলেন। তারা আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সমস্যা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের গঠন প্রণালী পরিবর্তনের জন্য পিসিবির উচিত তাদের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করা।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোমিনিকোতে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলছেন ইউনিস খান ও অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। এই ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের কাতারে যোগ দিবেন এই দুই গ্রেট তারকা।

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ

ম্যাচের শুরু হওয়ার আগেই বাগড়া বসিয়েছিল বৃষ্টি। এতে কিছুটা দেরিতে শুরু হয় খেলা। ম্যাচের মাঝপথে আবারও হানা দিয়েছে বৃষ্টি। ম্যাচের ৩২তম ওভারের প্রথম বলটি করতে পেরেছেন টিম মুরতাগ। এরপরই নামে বৃষ্টি। ক্রিকেটারদের নিয়ে ড্রেসিংরুমে চলেন যান আম্পায়াররা। আপাতত খেলা বন্ধ আছে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৭ রান। তামিম ইকবাল ৬৪ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩ রানে ব্যাট করছেন।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে সাকিব আল হাসানের দল। সূচনাটা ভালো হয়নি টাইগারদের। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। ৭ বল মোকাবেলা করেছেন এই ওপেনার। একটি বাউন্ডারিতে ৫ রান করতেই পিটার চেজের বলে নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য।

প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু মূল লড়াইয়ে এসে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন তিনি। ৩ বল খেলেও দলের স্কোরশিটে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি। পিটার চেজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির ধরা পড়েন টিম মুরতাগের হাতে।

মুশফিকুর রহীমও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। টাইগারদের অন্যতম ভরসা আজ থেমেছেন ১৩ রানে। ব্যারি ম্যাকআর্থির বল থার্ডম্যান অঞ্চলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে গ্যারি উইলসনের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। ১৭ বলে তিনটি চারের মারে ইনিংসটি সাজান মুশফিক।

এরপর আয়ারল্যান্ডের বোলারদের তোপে পড়েছে বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা। সেই বিপর্যয় কাটিতে উঠতে হাল ধরতে পারতেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু পারেননি। ১৬ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৪ রান করতেই পিটার চেজের শিকারে পরিণত হন। দলীয় ৭০ রানের মাথায় আইরিশ উইকেটরক্ষক নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাকিব প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এক রাশ হতাশা উপহার নিয়ে।

এদিকে ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসকে। দলের জন্য শুভকামনা থাকছে মাশরাফির। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব।

এই সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাসেক্সে দুটি। আয়ারল্যান্ডে একটি। তিনটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব রান করেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই হারেননি মুশফিকরা। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ হয়েছে পণ্ড। আর বাকি দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের মুখোমুখি হয় মাশরাফির দল। ম্যাচটিতে ১৯৯ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি (৮৬ বলে ১০০) ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ফিফটিতে (৭৪ বলে ৮৬) ভর করে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে সফরকারীরা। জবাবে ৪১.২ ওভারে ১৯৫ রানে অলআউট হয় উলভস।

ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে ভালো করতে পারলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবেন টাইগাররা। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। তার জন্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফি-সাকিবদের। ৯১ রেটিং নিয়ে বর্তমানে টাইগারদের অবস্থান সপ্তম।

বাংলাদেশ একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আয়ারল্যান্ড একাদশ : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), পল স্টার্লিং, নেইল ও`ব্রেইন, অ্যান্ড্রু বালবিরনি, স্টুয়ার্ট থম্পসন, গ্যারি উইলসন. কেভিন ও`ব্রেইন, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাকআর্থি, টিম মুরতাগ ও পিটার চেজ।

পাকিস্তানকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না ভারত

কয়েকদিন আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের দাবি, ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্বারক অনুযায়ী পারস্পরিক যে সিরিজ বিনিময় হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো খেলতে ভারত রাজী না হওয়ায় বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে পাকিস্তান। পিসিবির লিগ্যাল নোটিশে পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানকে কোন ক্ষতিপূরণ দেবে না ভারত, এমনকি মামলা করেও লাভ নেই।

চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। কিন্তু সীমান্তে দুদেশের সম্পর্ক উষ্ণ হয়ে ওঠায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই সিরিজ না খেলতে আদেশ দেওয়া হয় দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে। আর সিরিজ না হওয়ায় পিসিবি ২০ থেকে ৩০ কোটি ডলারের মতো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভারতের কাছে ছয় কোটি মার্কিন ডলার দাবি করেছে পিসিবি।

তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পিসিবির সঙ্গে শুধু দ্বিপাক্ষিক একটা সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়েছিল, কিন্তু এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তাই কোনো সিরিজ না হলে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয় ভারত।

হায়দ্রাবাদ-কলকাতার প্লে-অফ নিশ্চিত করার লড়াই আজ

আইপিএলে এখন পর্যন্ত প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে শুধু মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। বাকি তিনটি দল কারা হবে তা নিশ্চিত হতে আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে, আজই দুইটি দল তাদের শেষ চারে খেলার ব্যাপারটা নিশ্চিত করে ফেলতে পারে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) আজ দুইটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দিনের প্রথম ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। কানপুরের গ্রীন পার্কে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে চারটায়।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

আজ যদি কলকাতা ও হায়দ্রাবাদ জয়লাভ করতে পারে তাহলে তাদের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যদি দুই দলই হারে তাহলে তাদের আগামীকাল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

যদিও কলকাতার নেট রানরেট ভালো। সুতরাং, হারলেও তাদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাট লায়ন্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বাদ পড়াটা ইতোমধ্যে বাদ পড়েছে। টিকে আছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

ভালোই জবাব দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে গতকাল। শুক্রবার দিন শেষে পাকিস্তানের চেয়ে ১৫৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের হাতে রয়েছে পাঁচ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতকাল দিন শেষে সংগ্রহ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রান। ৬০ রান করে রিটায়ারর্ড হার্ট হয়েছেন রস্টন চেজ। শেন ডাউরিচ ২০ ও জ্যাসন হোল্ডার ১১ রান করে অপরাজিত আছেন। পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আমির ৩টি, মোহাম্মদ আব্বাস ১টি ও আজহার আলী ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

ডোমিনিকায় গত ১০ মে ম্যাচের প্রথমদিন টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে, ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রান করে অলআউট হয়ে যায় তারা। দলটির ওপেনার আজহার আলী সেঞ্চুরি করেন। ১২৭ রান করে আউট হন তিনি। এছাড়া বাবর আজম ৫৫, মিসবাহ-উল-হক ৫৯ ও সরফরাজ আহমেদ ৫১ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আলজারি যোসেফ ১টি, রস্টন চেজ ৪টি, জ্যাসন হোল্ডার ৩টি ও দেবেন্দ্র বিশু ২টি করে উইকেট নেন।

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে কোনও উইকেট না হারিয়ে ১৪ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করে। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৫ ও কাইরান পাওয়েল ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই সিরিজে এখন ১-১ সমতা রয়েছে। এই ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানাবেন পাকিস্তানি অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। অবসরে যাবেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ইউনিস খানও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

তৃতীয় দিন শেষে ১৫৮ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ৩৭৬ (১৪৬.৩ ওভার)

(আজহার আলী ১২৭, শান মাসুদ ৯, বাবর আজম ৫৫, ইউনিস খান ১৮, মিসবাহ-উল-হক ৫৯, আসাদ শফিক ১৭, সরফরাজ আহমেদ ৫১, মোহাম্মদ আমির ৭, ইয়াসির শাহ ০, মোহাম্মদ আব্বাস ৪, হাসান আলী ৮*; শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ০/৬৭, আলজারি যোসেফ ১/৬৪, রস্টন চেজ ৪/১০৩, জ্যাসন হোল্ডার ৩/৭১, দেবেন্দ্র বিশু ২/৬১)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২১৮/৫ (১০০ ওভার)

(ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ২৯, কাইরান পাওয়েল ৩১, শিমরন হেটমায়ার ১৭, শাই হোপ ২৯, রস্টন চেজ ৬০, ভিশাউল সিং ৮, শেন ডাউরিচ ২০*, জ্যাসন হোল্ডার ১১*; মোহাম্মদ আমির ০/২৪, মোহাম্মদ আব্বাস ১/৪৩, ইয়াসির শাহ ৩/১০৮, হাসান আলী ০/২২, আজহার আলী ১/১৫)।

বৃষ্টিতে পন্ড বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ

অবশেষে পন্ডই হলো ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ। ডাবলিনের ম্যালাহাইডের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে, ৩০ ওভার ১ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তোলার পর বৃষ্টিতে আর খেলা হতেই পারেনি। প্রায় আড়াই ঘন্টা প্রবল বর্ষণের পর বৃষ্টি থেমে আসলেও আর খেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
আইরিশদের কাছে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলের ৮ রানে হারায় সৌম্য সরকারের উইকেট। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। ৭০ রানে চার উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলকে খাদের কিনার থেকে টেনে তোলেন তামিম ইকবাল। মারকুটে এই ওপেনার বিপর্যয় সামাল দেন দারুণভাবেই।
দলের বিপর্যয় কাটানোর পাশাপাশি হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। ৭৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটি পূরণ করেন তিনি। খেলা পন্ড হওয়ার আগে পর্যন্ত ৮৭ বলে ৮টি চারে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ৮৭ রানের জুটি গড়ে তোলেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে।
আগামী ১৭ মে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

সৌম্যর পর সাজঘরে সাব্বির

প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু মূল লড়াইয়ে এসে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন তিনি। ৩ বল খেলেও দলের স্কোরশিটে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি। পিটার চেজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির ধরা পড়েন টিম মুরতাগের হাতে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯ রান।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে সাকিব আল হাসানের দল। সূচনাটা ভালো হয়নি টাইগারদের। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। ৭ বল মোকাবেলা করেছেন এই ওপেনার। একটি বাউন্ডারিতে ৫ রান করতেই পিটার চেজের বলে নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য।

এদিকে ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসকে। দলের জন্য শুভকামনা থাকছে মাশরাফির। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব।

এই সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাসেক্সে দুটি। আয়ারল্যান্ডে একটি। তিনটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব রান করেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই হারেননি মুশফিকরা। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ হয়েছে পণ্ড। আর বাকি দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের মুখোমুখি হয় মাশরাফির দল। ম্যাচটিতে ১৯৯ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি (৮৬ বলে ১০০) ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ফিফটিতে (৭৪ বলে ৮৬) ভর করে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে সফরকারীরা। জবাবে ৪১.২ ওভারে ১৯৫ রানে অলআউট হয় উলভস।

ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে ভালো করতে পারলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবেন টাইগাররা। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। তার জন্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফি-সাকিবদের। ৯১ রেটিং নিয়ে বর্তমানে টাইগারদের অবস্থান সপ্তম।

মাহমুদউল্লাহ-তামিমে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

৭০ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে সফরকারীরা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তামিম ইকবালের ব্যাটে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ফিফটি করে ফেলেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ-তামিম মিলে গড়েছেন ৫২* রানের জুটি। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১২২ রান।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে সাকিব আল হাসানের দল। সূচনাটা ভালো হয়নি টাইগারদের। শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। ৭ বল মোকাবেলা করেছেন এই ওপেনার। একটি বাউন্ডারিতে ৫ রান করতেই পিটার চেজের বলে নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য।

প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু মূল লড়াইয়ে এসে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন তিনি। ৩ বল খেলেও দলের স্কোরশিটে কোনো রানই যোগ করতে পারেননি। পিটার চেজের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির ধরা পড়েন টিম মুরতাগের হাতে।

মুশফিকুর রহীমও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। টাইগারদের অন্যতম ভরসা আজ থেমেছেন ১৩ রানে। ব্যারি ম্যাকআর্থির বল থার্ডম্যান অঞ্চলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে গ্যারি উইলসনের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। ১৭ বলে তিনটি চারের মারে ইনিংসটি সাজান মুশফিক।

এরপর আয়ারল্যান্ডের বোলারদের তোপে পড়েছে বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা। সেই বিপর্যয় কাটিতে উঠতে হাল ধরতে পারতেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু পারেননি। ১৬ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৪ রান করতেই পিটার চেজের শিকারে পরিণত হন। দলীয় ৭০ রানের মাথায় আইরিশ উইকেটরক্ষক নেইল ও’ব্রেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাকিব প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এক রাশ হতাশা উপহার নিয়ে।

এদিকে ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসকে। দলের জন্য শুভকামনা থাকছে মাশরাফির। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব।

এই সিরিজের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাসেক্সে দুটি। আয়ারল্যান্ডে একটি। তিনটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব রান করেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই হারেননি মুশফিকরা। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ হয়েছে পণ্ড। আর বাকি দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের মুখোমুখি হয় মাশরাফির দল। ম্যাচটিতে ১৯৯ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি (৮৬ বলে ১০০) ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ফিফটিতে (৭৪ বলে ৮৬) ভর করে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে সফরকারীরা। জবাবে ৪১.২ ওভারে ১৯৫ রানে অলআউট হয় উলভস।

ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজে ভালো করতে পারলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবেন টাইগাররা। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। তার জন্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফি-সাকিবদের। ৯১ রেটিং নিয়ে বর্তমানে টাইগারদের অবস্থান সপ্তম।

বাংলাদেশ একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আয়ারল্যান্ড একাদশ : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), পল স্টার্লিং, নেইল ও`ব্রেইন, অ্যান্ড্রু বালবিরনি, স্টুয়ার্ট থম্পসন, গ্যারি উইলসন. কেভিন ও`ব্রেইন, জর্জ ডকরেল, ব্যারি ম্যাকআর্থি, টিম মুরতাগ ও পিটার চেজ।

বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে হাফ সেঞ্চুরি তামিমের

ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে আজ গড়িয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। টাইগারদের শুরুটা হয়েছে বাজেভাবে। দলীয় ৮ রানের মাথায় সৌম্য সরকারকে (৫) হারায় সফরকারীরা।

এরপর একে একে সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির রহমান রুম্মন, মুশফিকুর রহীম ও সাকিব আল হাসান। ৭০ রানে চার উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলকে খাদের কিনার থেকে টেনে তোলেন তামিম ইকবাল। মারকুটে এই ওপেনার বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন দারুণভাবেই।

দলের বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম। ৭৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম। ব্যারি ম্যাকআর্থির বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পঞ্চাশের কোটা পূরণ করেন বাংলাদেশি এই ড্যাশিং ওপেনার।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮৭ বলে ৮টি চারে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন তামিম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে (৪২*) নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান।

বৃষ্টির বাধায় এখনো বন্ধ খেলা

সব সময়ই তো বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস ছিলো ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে। সেই পূর্বাভাসের জের ধরেই ৩১ ওভার ১ বল খেলা শেষ হওয়ার পরে বৃষ্টিতে থেমে আছে খেলা। থেমে থাকার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৭ রান। তামিম ৬৪ এবং মাহমুদুল্লাহ ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

স্কুল ক্রিকেট সেমিফাইনাল পর্যায়ে

প্রাইম ব্যাংক ইয়ং টাইগার্স ন্যাশনাল ক্রিকেটের জাতীয় পর্যায়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে রংপুর বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল। তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে খুলনা বিভাগের সেরা সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজকে ৬৮ রানে হারায় দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল।
এদিকে শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সিলেট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন মৌলভীবাজারের কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুলকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রো চ্যাম্পিয়ন শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। ৪ উইকেটে জয় পায় শামসুল হক স্কুল।

বৃষ্টির ফাঁদে আয়ারল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ

ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠলেও বৃষ্টির বিপর্যয় এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুক্রবার ডাবলিনের ম্যালাহাইড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বৃষ্টির কারণে প্রথমে খেলা শুরু হং ২৫ মিনিট দেরীতে শুরু হয় খেলা। আবার তামিম-মাহমুদুল্লাহর কল্যাণে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা বাংলাদেশ পড়ে বৃষ্টির ফাঁদে।
তামিম আর মাহমুদুল্লাহর পঞ্চম উইকেটে বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটান। ৩১.১ ওভারে এই জুটিতে রান ৮৬। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৭। তামিম ৬৪ আর মাহমুদুল্লাহ ৪৩ রানে আছে।
তামিমের ফিফটিতে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করছে এখন বাংলাদেশ। তামিম ব্যাট করছেন ৫৪ রান নিয়ে। মুশফিক, সাবিকের বিদায়ের পর মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে দলের বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল। মুশফিক ১৩ ও সাকিব ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরত আসেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ, ১৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান।
প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। পিটার চেইসের বলে ক্যাচ দেন টিম মারটাগের হাতে।
তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৭ বলে এক বাউন্ডারিতে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার।
এরআগে, টস হয়েছে নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে শুক্রবার ডাবলিনের ম্যালাহাইডে ঠিক সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর শুরু হয় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে দলে ফিরেছেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত এপ্রিলে খেলা শেষ ওয়ানডের বাংলাদেশ দল থেকে পরিবর্তন এই একটিই।

বৃষ্টিতে থেমে আছে বাংলাদেশের খেলা

তামিম আর মাহমুদুল্লাহর পঞ্চম উইকেটে বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটান। ৩১.১ ওভারে এই জুটিতে রান ৮৬। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৭। তামিম ৬৪ আর মাহমুদুল্লাহ ৪৩ রানে আছে।
তামিমের ফিফটিতে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করছে এখন বাংলাদেশ। তামিম ব্যাট করছেন ৫৪ রান নিয়ে। মুশফিক, সাবিকের বিদায়ের পর মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে দলের বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল। মুশফিক ১৩ ও সাকিব ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরত আসেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ, ১৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান।
প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। পিটার চেইসের বলে ক্যাচ দেন টিম মারটাগের হাতে।
তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৭ বলে এক বাউন্ডারিতে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার।
এরআগে, টস হয়েছে নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে শুক্রবার ডাবলিনের ম্যালাহাইডে ঠিক সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট পর শুরু হয় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে দলে ফিরেছেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত এপ্রিলে খেলা শেষ ওয়ানডের বাংলাদেশ দল থেকে পরিবর্তন এই একটিই।

আফগানিস্তানের কোচ ইউনিস খান

অবসরের পর আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ হবেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ইউনিস খান। সেদেশের ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আফগান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আতিফ মাশাল জানান, কোচ হওয়ার ব্যাপারে ইউনিস সম্মত হয়েছেন। আর বোর্ডও নিশ্চিত করেছে।
৩৯ বছর বয়সী ইউনিস খান ওয়েস্ট ইন্ডিজে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলছেন। চলতি সিরিজ শেষে অবসর নেওয়ার ঘোষণাটা দিতে আগেই দিয়েছিলেন। এই সিরিজেই প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে ইউনিস খান ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অবশ্য আফগানিস্তান দল কোচ হিসেবে বরাবর পাকিস্তানিদেরকে ঈয়ন্দ করে এসেছে। ইউনিসের আগে এই দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, ইনজামাম উল হক, রশীদ লতিফ এবং কবির খান।

আইপিএলের ফাইনালকে মনোহরের না

আইপিএলের ফাইনালে থাকবেন না আইসিসি-র চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড-বিসিসিআই মনোহর ও তার স্ত্রী বর্ষা মনোহরকে আইপিএলের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য দাওয়াত করলে, তিনি তা প্রত্যাক্ষান করেন। আগামী ২১ মে হায়দ্রাবাদে হবে এবারের আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচটি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত বিসিসিআই-র বর্তামান কমিটি শশাঙ্ক মনোহরকে আমন্ত্রণ জানায়। তিনি হায়দ্রাবাদের ফাইনালে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির কিছু সদস্যের সঙ্গে মনোহর এবং তার সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ থাকার কারণেই তিনি সেখানে যাবেন না। তবে পারিবারিক ব্যস্ততার কারণই বলেছেন তিনি আইপিএলের ফাইনালে উপস্থিত হতে না পারার কারণ হিসেবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে স্বাগতিক দল ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে নিউজিল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এই সিরিজটি বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের জন্য বেশ গুরুত্ব¡পূর্ণ। আইসিসির নিয়মানুযায়ী প্রতিযোগিতার আগে একই গ্রুপের কোনো দল পরস্পর মুখোমুখি হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে না; কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ড যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রয়েছে একই গ্রুপে।
পাঁচ মাস আগেই বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচ সিরিজে পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। আবারও মুখোমুখি তারা। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি আয়ারল্যান্ডের। শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটায় ডাবলিনের দ্য ভিলেজ স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। এবার জেনে নেয়া যাক ত্রিদেশীয় সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি:

তারিখ সময় দল ভেন্যু

১২ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

১৪ মে ৩.৪৫মি. নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

১৭ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্লনটার্ফ, ডাবলিন

১৯ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

২১ মে ৩.৪৫মি. নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড মালাহাইদ, ডাবলিন

২৪ মে ৩.৪৫মি. বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্লনটার্ফ, ডাবলিন

আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি আজ বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ শুক্রবার স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি। নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ম্যাচ খেলতে পারছেন না অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার পরিবর্তে টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ ছাড়া পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামতে পারবে সফরকারীরা। এই সিরিজে কোনো ফাইনাল না থাকায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল চ্যাম্পিয়ন বলে বিবেচিত হবে। তবে সিরিজটিকে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। সিরিজের তৃতীয় দল নিউজিল্যান্ড। তার ওপর এই সিরিজটিই বাংলাদেশকে পাইয়ে দিতে পারে আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপের টিকিট। কারণ আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এ বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। বাংলাদেশ বর্তমানে ৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে। এই সিরিজে চার ম্যাচই জিতলে ৯৭ ও তিনম্যাচ জিতলে ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলংকাকে টপকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে যাবে। দুই ম্যাচ জিতলে ৯০ পয়েন্ট নিয়েও সাতেই থাকবে টাইগাররা। তবে তিন বা চারটি ম্যাচই হারলে রেটিং পয়েন্ট হবে ৮৭ ও ৮৩। েেসেত্র আটে নেমে যাওয়া বাংলাদেশকে অপো করতে হবে শেষ দিন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই পয়েন্ট পেরোতে পারে কি না তা দেখার জন্য।

সেরা একাদশের অধিনায়ক সৌরভ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বকালের সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলিকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা একাদশের নাম ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি-র এই টুর্নামেন্টে সেরা পারফর্মারদের নিয়ে সর্বকালের সেরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একাদশ প্রকাশ করা হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে। আর এই দলটির অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সৌরভ গাঙ্গুলিকে। দলের উইকেটকিপার হিসেবে রাখা হযেছে রাহুল দ্রাবিড়কে। এছাড়া আর কোনো ভারতীয় খেলোয়াড়ের জায়গা হয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সেই দলে। এমনি শচীন টেন্ডুলকারেরও ঠাঁই হয়নি সেখানে।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন- ক্রিস গেইল, হার্শেল গিবস, জাক কালিস, ড্যামিয়েন মার্টিন, শেন ওয়াটসন, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, কাইল মিলস, মুত্তিয়া মুরলীধরন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা।

১১ বছর পর যুবরাজ, ছ’বার শোয়েব খেলবেন

নানা কারণে খেলতে পারেননি অনেকদিন। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করতে হয় জীবনের সঙ্গে। ফিরলেও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা হয়নি যুবরাজ সিংহর। ১১ বছর পর আবার সুযোগ এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার। ভারতের ১৫ জনের দলে জায়গা হয়েছে তার। যুবরাজ বলেন, ভারতের হয়ে ৫০ ওভারের আইসিসি টুর্নামেন্টে ফিরতে পেরে খুশি। মুখিয়ে রয়েছি নিজের সেরাটা দিয়ে ট্রফি ধরে রাখতে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ছ’টি টুর্নামেন্টে খেলার রেকর্ডের সামনে আছেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক। এই তালিকায় আগেই আছেন- রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া), রাহুল দ্রাবিড় (ভারত)। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (নিউজিল্যান্ড), মার্ক বাউচার ও জ্যাক কালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা), সনাত জয়সুরিয়া, মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)। শোয়েব বলেন, এত বড়ো টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দলে সুযোগ পেয়ে খুশি। আমার আগে যারা ছ’বার এই ট্রফি খেলেছে তারা বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা আইকন।

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার হাতছানি মাশরাফিদের

ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথে আরও এগোনোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। তবে প্রাপ্তির সম্ভাবনার সঙ্গে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের সামনে আছে হারানোর শঙ্কাও। ১২ থেকে ২৪ মে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও র‌্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে যেমন পয়েন্ট প্রাপ্তি থাকবে তেমনি আয়ারল্যান্ডে কাছে হারলে দিতে হবে চড়া মূল্য। দেশে থাকতেই মাশরাফি বলে গেছেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের ব্যাপারটি এই সিরিজে তাদের মাথায় থাকবে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি জয়ে ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পিছনে ফেলতে পারে ষষ্ঠ স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কাকে (৯৩)। চারটি ম্যাচই জিতলে মাশরাফিদের পয়েন্ট হবে ৯৭। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি জয়ের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের কাছে দুই হারে বাংলাদেশ হারাবে ১ পয়েন্ট। নিউ জিল্যান্ডের কাছে দুই হারের সঙ্গে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এক পরাজয়ে ৮৭ পয়েন্ট নিয়ে মাশরাফিদের নেমে যেতে হবে পাকিস্তানের নিচে। চার ম্যাচেই হারলে পয়েন্ট হবে ৮৩। গত ১ মে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং বার্ষিক হালনাগাদের পর বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯১। আট নম্বরে থাকা পাকিস্তানের চেয়ে ৩ আর নয় নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছে চন্দিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ হারলেও চার নম্বরেই থাকবে নিউ জিল্যান্ড। ১১৫ পয়েন্ট থেকে কমবে তিন পয়েন্ট। এর সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারলে ইংল্যান্ডের (১০৯) পিছনে পড়তে হবে তাদের। ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে কোন আট দল, সেটি নির্ধারিত হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও র‌্যাঙ্কিংয়ের অন্য শীর্ষ সাত দল পাবে সরাসরি খেলার টিকেট। বাকি দুই দলকে আসতে হবে বাছাইপর্ব খেলে।

সানির ভাবনায় নেই জাতীয় দল

তাসকিন আহমেদের মতো বোলিং অ্যাকশন শুধরে ক্রিকেট মাঠে ফিরেছেন ঠিকই। কিন্তু এখনও জাতীয় দলে ফিরতে পারেন নি আরাফাত সানি। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের স্পষ্ট কথা, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো না খেললে সানির জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই। এই বাঁহাতি স্পিনারের চিন্তা-চেতনায় অবশ্য জাতীয় দল নেই আপাতত।
এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। স্পিনের মায়াজালে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে তিনি ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ২২ উইকেট। এখন নিশ্চয়ই জাতীয় দলে ফেরার কথা ভাবছেন? বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এমন প্রশ্নে সানির জবাব, আমি এক ফোঁটাও হতাশ নই। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে এমন (দল থেকে বাদ পড়া) হতেই পারে। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায় নিয়ে বাদ পড়েছিলাম। অ্যাকশন শোধরানোর পর পারফরর্ম করেই আমাকে দলে জায়গা করে নিতে হবে। লিগে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারলে হয়তো (জাতীয় দলের) দরজা খুলে যাবে আমার জন্য। নতুন অ্যাকশনে বোলিং আরও কার্যকর হয়েছে বলে মনে করেন সানি। তার অভিমত, নতুন অ্যাকশনে বোলিং করা বেশ কঠিন ছিল আমার জন্য। তবে অভ্যস্ত হওয়ার পর বুঝতে পারছি, আগের চেয়ে টার্ন অনেক বেশি পাচ্ছি। গ্রিপও আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে।
এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে ঢাকা মেট্রোর হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন সানি। সাফল্য মোটামুটি, উইকেট নিয়েছিলেন ১০টি। তবে ওই চার ম্যাচে ১১৬ ওভার বল করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। জানান, আমি ভাগ্যবান, অ্যাকশন শুধরে ফেরার পর জাতীয় লিগের চারটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ বলে সেখানে ওভারের কোনও লিমিটেশন ছিল না। একটানা বোলিং আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। প্রাইম দোলেশ্বরকে প্রতিনিধিত্ব করা সানি এখন লিগের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। সামনের ম্যাচগুলোতে সাফল্য ধরে রাখার প্রত্যাশা তার কণ্ঠে, এখন পর্যন্ত আমি লিগের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। লিগ পর্বের তিনটি ম্যাচ বাকি। সুপার লিগে খেলার সুযোগ পেলে আরও পাঁচটা ম্যাচ পাবো। আপাতত শীর্ষে আছি বলে খুব ভালো লাগছে। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বড় জয়

বেলফাস্টে প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসকে ১৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারালো বাংলাদেশ। ৩৯৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করে, ১৯৫ রানে অলআউট হয়, আয়ারল্যান্ড উলভস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও রুবেল ২টি করে এবং সৌম্য সরকার একটি উইকেট তুলে নেন। এরআগে, সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৯৪ রান তোলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। স্টারমন্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ রানে সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বিরকে নিয়ে ১০৩ রানের জুটি গড়ে টাইগারদের বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তামিম ইকবাল। ৭৪ বলে ৮৬ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। সাব্বির রহমান ৮২ বলে ১৬ চার আর এক ছক্কায় সেঞ্চুরি পূরণ করে বিশ্রামে যান। মাহমুদুল¬াহর ৪৯, সাকিবের ৪৪ আর মুশফিকের ৪১ রানে শেষ পর্যন্ত, ৭ উইকেটে ৩৯৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।
শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে টাইগাররা। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে চারটায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের সময় পাওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম ম্যাচে মাশরাফিকে থাকতে হবে একাদশের বাইরে। দলকে নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ডাবল লিগ পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টের তৃতীয় দল নিউজিল্যান্ড।

দুটি টেস্ট খেলতেই বাংলাদেশ আসবে অজিরা

আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার ব্যাপারে আরো এক ধাপ এগিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের বরাত দিয়ে তাদের এ নীতিগত সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাদারল্যান্ড জানান, তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের সবুজ সংকেত পেলে আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সময়সূচি অনুমোদন করলে এই সিরিজের পথে আর কোনো বাঁধা থাকবে না। তবে তিনি এও জানান, ওয়ানডে সিরিজ সংযোজনের গুঞ্জন উঠলেও তা মোটেই সত্য নয়। বরং কোরবানির ঈদের আগে-পরে শুধু দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতেই বাংলাদেশ আসবে অজিরা। ২০১৫ সালের অক্টোবরের এই টেস্ট সিরিজটি নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে সে সময় পিছিয়ে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে টাইগারদের ধারাবাহিক ভালো পারফমেন্সের ফল হিসেবেই অস্ট্রেলিয়া আবারো বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আইসিসিতেই থাকছেন শশাঙ্ক মনোহর

অবশেষে মত পাল্টালেন আইসিসি-র চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ চেয়ারম্যান পদে মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসির চেয়ারম্যান পদে থাকছেন। অবশ্য গত ১৫ মার্চ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আইসিসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও দেড় মাসের ব্যবধানেই নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন মনোহর। এতে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত নিজের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবেই থাকছেন।
এর আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ১৫ মার্চ হঠাৎই আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান শশাঙ্ক মনোহর। পরে আইসিসির গঠনতন্ত্র সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বোর্ড কর্মকর্তাদের অনুরোধেই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন সংস্থাটির প্রথম স্বাধীন চেয়ারম্যান। এবার গঠনতন্ত্র সংশোধন হওয়ার পর নিজের পূর্ণ সময় চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত জানান মনোহর।
ভারতের আইনজীবী শশাঙ্ক মনোহর ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত বিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে এই পদে নির্বাচিত হন। শ্রীনিবাসন অপসারিত হওয়ার পরই আইসিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শশাঙ্ক মনোহর।

টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান মোহাম্মদ আমির

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারকে আরো বাড়াতে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চাইছেন পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির। এমনই এক সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ডেকান ক্রনিকল।
স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত আমির পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালে আবারো ফেরেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। পাকিস্তানের হয়ে ইতোমধ্যে ১৫টি টেস্ট ম্যাচও খেলে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু দলের প্রয়োজনে বলার মতো তেমন কোনো সাফল্যই নেই তার। এই কারণে টেস্ট ক্রিকেটকে গুডবাই জানানোর বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি দলের অন্য খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। তাতে নিজের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার অন্তত: বাড়বে বলেও মনে করেন আমির। তাছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে অনেক বেশি ফিটনেস এবং অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। বার্বাডোজে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজয়ের পরই এই বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টর সঙ্গে আলোচনা করেন মোহাম্মদ আমির।

আইপিএলে এতো রঙ!

টেস্ট ক্রিকেটের পর ওয়ানডের সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বের পরিচয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যেতে থাকে ক্রিকেটের খোল-নলচে। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার পর তো রীতিমতো বিপ্লব ঘটে ক্রিকেটবিশ্বে। তার প্রভাব পড়ে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজিতেও। প্রভাব পড়ে পোশাক-আশাকে, জার্সিতে এবং জীবনাচারেও। ক্রিকেটারদের পরণে এখন রঙিন জার্সি, সেই সঙ্গে রংবেরংয়ের ট্রাউজার। ভক্তদের চোখ টানে প্রিয় ব্যাটসম্যানের গ্লাভস, জুতো, প্যাডও। ক্রিকেটে এতো রঙ ভালো নয় বলে অনেকেই হচ্ছেন সমালোচনামুখর।
এই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বদৌলতে কত কিছুই না ঘটছে মাঠে। মাঠে আপেলের পসরা নিয়ে বসছেন সুন্দরী বিদেশিনী। আম্পায়ারকে বলের পরিবর্তে দিচ্ছেন আপেল। চিয়ারলিডাররা উদ্দাম নাচছেন। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সির রংও চোখ পরার মতো। যুবরাজ সিংহ, ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, রবিন উথাপ্পা, মিচেল মার্শরা রঙিন জুতো পরে খেলছেন আইপিএল-এর আসরে। ব্যাট করতে নামার সময়ে বদলে যায় জুতো-প্যাড এমনকি হেলমেটের রংও।
হায়দরাবাদ-এর তারকা ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিংহ জানান, রংবেরংয়ের জুতো, প্যাড, গ্লাভস পরার কারণ। বলেন, ক্রিকেট কিট প্রস্তুকারী সংস্থাগুলো এখন ক্রিকেটারদের কথা মাথায় রেখেই গ্লাভস, প্যাড, জুতো রঙিন করেই এখন বানাচ্ছে। ক্রিকেটাররা এখন রোল মডেল, নায়ক একেকজন। বিশ্বজুড়ে তাদের ভক্তের সংখ্যাও অসংখ্য। মাঠের ভিতরে তাদের হাটা চলা, জামা কাপড় পরার ধরনধারণ অনুকরণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের চোখে পছন্দের নায়ক যাতে আরও গ্ল্যামারার্স হয়ে ওঠেন, সেই কারণেই কিট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো সবকিছুতেই রং মেশায় আজকাল। হরেকরকমের জার্সি ও ট্রাউজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গ্লাভস-প্যাডও রঙিন বানানো হচ্ছে। ব্যাট করার সময়ে সেগুলো পরে ব্যাটসম্যানদের আরও আকর্ষণীয় দেখায়।

জয়ে ফিরলো প্রাইম ব্যাংক

টানা ছয় জয়ের পর কিছুটা ছন্দপতন হয়েছিলো প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের। প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনীর কাছে পরপর দুই ম্যাচেই পরাজিত হয় তারা। দুই হারের পর আবারও জয়ে ফিরেছে প্রাইম ব্যাংক। ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ-ডিপিএলের অষ্টম রাউন্ডেচ পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মেহেদী মারুফের দল।
মঙ্গলবার ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৪৬.২ ওভারে ১৯২ রানেই গুটিয়ে যায় পারটেক্সের ইনিংস। বৃষ্টিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে প্রাইম ব্যাংকের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ৭৮ রান। কিন্তু ততক্ষণে দুই ওপেনার মেহেদী মারুফ ও জাকির হাসানের ব্যাটে সে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক। মারুফ ও জাকিরের জোড়া ফিফটিতে ২৪ ওভার শেষে প্রাইম ব্যাংকের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৪ রান। এই জুটির কল্যাণে ১০ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। ৬৯ বলে দুই চার ও দুই ছয়ে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক মেহেদী মারুফ। এছাড়া ৭৫ বলে চারটি চার ও এক ছয়ে ৫৫ রান আসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকিরের ব্যাট থেকে।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করে, জনি তালুকদার এবং জাতিন সাক্সেনার ৭৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে থাকে পারটেক্স। জাতিন সাক্সেনা ব্যক্তিগত ৪০ রানে ফিরে গেলেও হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জনি। ৮৬ বলে ছয় চার ও দুই ছয়ে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৯২ রানে গুটিয়ে যায় তারা। প্রাইম ব্যাংকের বোলার নাজমুল ইসলাম ২৩ রানের খরচায় তুলে নেন ৩ উইকেট।
বৃষ্টি আইনে হেরে গেল শেখ জামাল
বৃষ্টি আইনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে নিজেদের ৮ম ম্যাচে ২৪ রানে হেরেছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ২৩৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা গাজী গ্রুপের ব্যাটিং ইনিংসের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে বৃষ্টি হানা দিলে ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। গাজী গ্রুপের দলীয় সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ১১৪ রান। পরে বৃষ্টি আইনে ২৪ রানে গাজী গ্রুপকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

আইরিশদের নতুন তিন অতিথি

জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি তাদের। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এখনও খেলার সুযোগ পাননি মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং মোসাদ্দেক হোসেন। অবশেষে ত্রিদেশীয় সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আইরিশ দর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন এই তিন টাইগার ক্রিকেটার। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের ১২ তারিখে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সে ম্যাচ দিয়েই হয়তো আইরিশ পরীক্ষায় নামবেন, মুস্তাফিজ-মিরাজ-মোসাদ্দেকের।
এদিকে, সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্প সেরে আয়ারল্যান্ডে আছে বাংলাদেশ দল। গত সোমবার বিশ্রাম নেওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে আয়ারল্যান্ডে অনুশীলন শুরু করেন সাকিব-তামিমরা। বুধবার সেখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। এরপর ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ১৭ মে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা। ১৯ মে আবার আয়ারল্যান্ড ও ২৪ মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে ২৫ মে ইংল্যান্ডে ফিরে যাবে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রস্তুতি পর্বে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। ১ জুন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাশরাফিদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। ৫ জুন ইংল্যান্ডের ওভালে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচ ৯ জুন কার্ডিফের সুফিয়া গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাশরাফিবাহিনী।
এর আগে ইংল্যান্ডে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে নরফোক একাদশের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৪৫ রান সংগ্রহ করেছিল সফরকারীরা। অবশ্য বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে সাসেক্স একাদশকে ১৩৪ রানে পরাজিত করে বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ড দল ঘোষণা

ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আয়ারল্যান্ড। মাত্রই শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সফরের স্কোয়াড থেকে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের জায়গায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেলেন ত্রিশ বছর বয়সী অলরাউন্ডার সিমি সিং। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্য পাঞ্জাবে জন্ম নেওয়া সিমি সিং আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমান। গত মাসেই আইরিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে তার স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। কোচ জন ব্রেসওয়েলের চোখে সিমি সিংয়ের অসাধারণ দক্ষতাই তাকে আইরিশ টিমে সুযোগ দিয়েছে। আগামী ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল পোনে চারটা থেকে। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (১ জুন শুরু) সামনে রেখে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের ট্রেনিং ক্যাম্প শেষে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছে টাইগাররা। আয়ারল্যান্ড স্কোয়াড : উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), অ্যান্ড্রু বালবির্নি, পিটার চেজ, জর্জ ডকরেল এড জয়েস, টিম মার্টাগ, ব্যারি ম্যাককার্থি, কেভিন ও’ব্রায়েন, নায়াল ও’ব্রায়েন, সিমি সিং, পল স্টার্লিং, স্টুয়ার্ট থম্পসন ও গ্যারি উইলসন।

নারী ক্রিকেটের নিজস্ব পরিচিতির চেষ্টায় আইসিসি

ক্রিকেট বিশ্বে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের মধ্যে ব্যবধান অনেক। বিশ্বায়নের এই যুগে ছেলেদের ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিটি বোর্ডের কাছে যতটা গুরুত্ব পায় নারীদের ক্রিকেট যেন ততটাই অচ্ছুত ও উপেক্ষিত। এর সুস্পষ্ট একটি প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও। ছেলেদের ক্রিকেটের জন্য যেভাবে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসে নারী ক্রিকেটের প্রতি ঠিক ততটাই বিমুখ।
সমস্যাটি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড ও আইসিসি-র স্থায়ী অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। সঙ্গত কারণেই ‘অস্তিত্ব সংকটের’ মুখে নারী ক্রিকেট। আর নারী ক্রিকেটের এমন সমস্যা সমাধানে নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। ছেলেদের ক্রিকেটের অনুরূপ বিশ্বব্যাপী নারী ক্রিকেটেরও একটি নিজস্ব পরিচিতি এনে দিতে নতুন নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আইসিসি-র দুই দিনের এক কর্মশালা। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ন্যাশনাল গেমস ডেভেলপমেন্টের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম। মঙ্গলবার বিসিবি-তে সেই কর্মশালার কথাই তুলে ধরেন গণমাধ্যমে। ফাহিম জানান, এখনও মনে করা হয় যে নারী ক্রিকেট হলো ছেলেদের ক্রিকেটের বর্ধিতাংশ। ওদের নিজস্ব একটি পরিচিতি দরকার। এটি ছাড়া নারী ক্রিকেটকে বাঁচানো যাবে না। সবার মনে রাখা উচিত নারী ক্রিকেট একটি আলাদা বিষয়। সেটা প্রথমে প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, কীভাবে আমরা তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও উন্নতি করতে পারি, তাদের কোন ফর্মেটকে উৎসাহিত করতে পারি সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মেয়েদের জন্য আলাদা নারী কোচের ব্যবস্থা করা, তাদের আলাদাভাবে কোচিংয়ে নিয়ে আসা, নতুন নতুন সুযোগ তৈরী করা। তাছাড়া তাদের বল কেমন হতে পারে, তাদের জন্য আলাদা ক্রিকেট সামগ্রী তৈরী করা যায় কী না এমন বিষয়ের ওপর গুরুত্বা দেয়া হয়। কর্মশালায় নারী ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনা এসেছে বলে জানন, ন্যাশনাল গেমস ডেভেলপমেন্ট প্রধান।

আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ কাল

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে আগামীকাল বাংলাদেশ দল মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ডর্স উলভসের। স্টরমন্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলাটি শুরু হবে বাংরাদেশ সময় বিকেল পোনে চারটায়। এ উপলক্ষ্যে আজ বেলা সোয়া দুইটা থেকে এক ঘন্টার অনুশলিন করেছে মাশরাফি বাহিনী। ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। প্রস্তুতি ম্যাচেও তার খেলার সম্ভবনা রয়েছে। নেটে বল করেছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমানও।
দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অনুশীলন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম গ্রুপে ছিলেন- ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাঞ্জামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, শুভাশিষ রয়, নূরুল হাসান সোহান ও মুস্তাফিজুর রহমান। আর দ্বিতীয় গ্রুপে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে অনুশীলন করেন- তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
ইংল্যান্ডে ১০ দিনের কন্ডিশন ক্যাম্প শেষে রোববার আয়ারল্যান্ডে পৌছে মুশফিক-রিয়াদরা। আগামী ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা।

আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনুশীলন

ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে প্রথম দিনের অনুশীলনে নেটে ব্যাটিং শুরু করেছেন বাহাতি এই ওপেনার। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে আগামী বুধবার সেখানে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলার সম্ভাবনা আছে তার। ইংল্যান্ডে ১০ দিনের কন্ডিশন ক্যাম্প শেষে রোববার আয়ারল্যান্ডে পৌছেছে মাশরাফি-মুশফিক-সাকিব-রিয়াদরা। একদিন বিশ্রামের পরই অনুশীলন শুরু করে বাংলাদেশ। আগামী ১২ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপে মাঠে নামবে টাইগাররা।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারালো আবাহনী

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির জমজমাট লড়াই আবারো উপভোগ করলো বিকেএসপির দর্শকরা। আবাহনীর পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে সামান্য বিচলিত হয়নি মোহামেডানের ক্রিকেটাররা। তবে অধিনায়ক রকিবুল হাসানের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি সত্ত্বেও শেষ রা হয়নি সাদা-কালো শিবিরের। আবাহনীর ৫ উইকেটে ৩৬৬ রানের জবাবে মোহামেডানের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ৩৩৯ রানে। ২৭ রানে মোহামেডান হারলেও দুই ঐতিহ্যবাহী দলের জমজমাট লড়াইয়ে জয় হয়েছে ক্রিকেটের। মোহামেডানকে ৩৬৭ রানের পাহাড়সম ল্যই ছুঁড়ে দিয়েছিল আবাহনী। এ রান তাড়া করতে নেমে ৩৮ রানেই সাজঘরে ফেরত যান মোহামেডানের প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান। ব্যাটিং বিপর্যয়ে তখন মোহামেডান। আরও একটি একপেশে ম্যাচের অপোয় তখন দর্শকরা।
দলের ত্রাতা হয়ে মাঠে নামেন অধিনায়ক রকিবুল। সঙ্গী হিসেবে পান লঙ্কান ব্যাটসম্যান চরিথ আসালাঙ্কাকে। ১৭৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে উল্টো দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান তারা। ৬০ বলে ৬৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা আসালাঙ্কা ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখছিলেন রকিবুল। ব্যাটিং করেন শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩০ রানের। ছক্কা মারতে গিয়ে দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। তবে এর আগে গড়ে যান নতুন রেকর্ড। লিস্ট এ ক্রিকেটে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ১৯০ রানের অনবদ্য এক ইনিংসটি খেলেন মাত্র ১৩৮ বলে। ইনিংস ১৭টি চার ও ১০টি ছক্কা মারেন রকিবুল। এক ইনিংসে ২৭টি বাউন্ডারিও বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ২৭ রান দূরেই থামে মোহামেডানের ইনিংস। আবাহনীর বোলারদের মধ্যে ৪৭ রানে ৫ উইকেট নেন মানান শর্মা। ২টি উইকেট পান কাজী অনিক।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে আবাহনীর শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও সাদমান ইসলাম দলকে শতরানের জুটি এনে দেন। জুটি ভাঙে ১০৩ রানে। সাদমান ২৮ রান করে তাইজুলের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে তিন নম্বরে নেমে লিটনের সঙ্গে মোহামেডান বোলারদের উপর চড়াও হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১০৩ বলে ১৩৫ রান করেন লিটন। তার ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ২টি ছয়। অন্যদিকে ১০০ বলে ১১০ রান করেন নাজমুল। তাদের বিদায়ের পর শেষ দিকে শুভাগত হোম ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাতেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৬৬ রানের বিশাল স্কোর গড়ে আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা।

অবশেষে ভারতের দল ঘোষণা

বিরাট কোহলিকে অধিনায়ক করে অবশেষে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করলো ভারত। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ওপেনার রোহিত শর্মা ও ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ শামি। এই দুজনকে ঘরোয়া ক্রিকেট আর আইপিএল খেলে নিজেদের ফিটনেসের প্রমাণ দিতে হয়েছে। তবে এর বাইরে এখনও ইনজুরি থেকে পুরোপির সেরে না উঠেই দলে জায়গা নিশ্চিত করেছেন স্পিনার রবিচন্দ্রন আশ্বিন। ২৫ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দল ঘোষণা না করার পর শনিবার সুপ্রীম কোর্ট মনোনীত সদস্যের সভায় আজকের মধ্যে দল গোষণার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। সব মিলে ভারতের দলটি হলো- বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, কেদার জাদভ, মানিষ পান্ডে, মহেন্দ্র সিং ধোনি, যুবরাজ সিং, রবীন্দ্র জাদেজা, হারদিক পান্ডে, ভূবনেশ্বর কুমার, উমেষ যাদব, জাসপ্রিত বুমরাহ, আজিঙ্কা রাহানে, রবিচন্দ্রন আশ্বিন ও মোহাম্মদ শামি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন আয়ারল্যান্ডে

ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে অংশ নিতে লন্ডন থেকে আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে পৌছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে প্লেন ছাড়তে প্রায় দেড় ঘন্টা দেরী হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বেলফাস্টে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও। আগামী ১০ মে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে, ১২ মে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলাটি হবে ডাবলিনে বাংলাদেশ সময় বেলা পোনে চারটায়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে ভারত

অবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দল পাঠাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই। আজ রবিবার দিল্লীতে বোর্ডের বিশেষ সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিরাট কোহালির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সেদেশের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার। আইসিসি লভ্যাংশ থেকে দাবী করা যে টাকাটা পাওয়া যাচ্ছে না, সেটা কীভাবে পাওয়া যেতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয় বোর্ড সভায়।

আসছে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল

বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভেন্যু পর্যবেণ করতে চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল। তবে পাকিস্তানের বাতিল হয়ে যাওয়া সফর নিয়ে নতুন কোন আশার আলো দেখাতে পারেননি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। ২০১৫ সালে নিরাপত্তার ঘাটতি’র অজুহাতে বাংলাদেশে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরটি চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে করার কথা দলটির। এরই মধ্যে বিসিবি সভাপতি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সফরে আসছে স্মিথ-ওয়ার্নাররা। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো ভাবাচ্ছে অজিদের। তাই এ মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পর্যবেক দল আসছে ঢাকায়। যদিও বিসিবি-র প্রধান নির্বাহী নিশ্চিত করেছেন এটি শুধুমাত্র তাদের রুটিন ওয়ার্ক। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ডের মতো বড় দলগুলো প্রতিটি সিরিজের আগেই নিরাপত্তা পর্যবেক পাঠায়। সফর বাতিলের ব্যাপারে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা না দেওয়ায় তাদের সফরসূচী পাঠিয়েছে বিসিবি। তবে পাকিস্তানের কাছ থেকে এখনো কোন জবাব আসেনি বলে জানান, বিসিবি-র প্রধান নির্বাহী।

ডি সিলভা’র পদত্যাগ

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অরবিন্দ ডি সিলভা। শুক্রবার এসএলসির এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডি সিলভার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট থিলান সামাথিপালা। ২০১৬ সালের মার্চে এসএলসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ১৩ মাসের মাথায়ই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সেই গুরুদায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ডি সিলভা এর আগে দুই মেয়াদে শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ছিলেন এসএলসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের একজন। ৫১ বছর বয়সী ডি সিলভা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরাদের একজন। দীর্ঘ ১৯ বছরের (১৯৮৪ থেকে ২০০৩) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৯৩টি টেস্ট ও ৩০৮টি ওয়ানডে। টেস্টে ২০টি সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৬৩৬১ রান। ওয়ানডেতে করেছেন ৯২৮৪ রান, সেঞ্চুরি ১১টি।
সেই ১১ সেঞ্চুরির একটি ছিল ১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ, পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, বিশ্বকাপের ফাইনালে। অস্ট্রেলিয়ার ২৪১ রান তাড়া করতে নেমে ২৩ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। এই অবস্থায় উইকেটে নেমে ডি সিলভা অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে উপহার দেন প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। যে ইনিংসটি তাকে এনে দিয়েছিল ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।

নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি

নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি দ্বিগুণ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। আগামী মাসে ইংল্যান্ডে শুরু মেয়েদের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ২০ লাখ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ টেলিভিশনে সরাসরি দেখা যাবে। প্রথমবারের মতো মেয়েদের ক্রিকেটে থাকছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমও (ডিআরএস)।
২০১৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সবশেষ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার প্রাইজমানি ছিল মাত্র ২ লাখ ডলার।
২০১৫ সালে আইসিসি ঘোষণা দিয়েছিল, ২০১৭ নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি হবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার। কাল সেটি দ্বিগুণ করার কথা নিশ্চিত করেছে আইসিসি। ক্রিকেটের স্বার্থেই নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের জয়

বৃষ্টি প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং অনুশীলনটা হয়নি বাংলাদেশের। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আর আক্ষেপে পোড়া নয়। তাসকিন আহমেদ-মেহেদী হাসান মিরাজদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সাসেক্সের দ্বিতীয় একাদশের বিপক্ষে ১৩৪ রানের বড় জয়ই পেয়েছেন মুশফিকুর রহিমরা। বাংলাদেশের ৮ উইকেটে ৩১৪ রানের জবাবে ১৮০ রানে গুটিয়ে যায় সাসেক্স। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি আর ২টি করে উইকেট তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রায়ের।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে অন্যদের সুযোগ দিতে ইমরুল কায়েস অবসর নেন ৭৮ বলে ৯২ রানে। সাব্বির রহমান ৫২ রানে আউট হলেও মেহেদী হাসান মিরাজ ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডে অনুশীলন শিবিরের দ্বিতীয় এই প্রস্তুতি ম্যাচেও মাশরাফির অনুপস্থিতিতে মুশফিকই অধিনায়ক। বিশ্রামে ছিলেন তামিম ইকবাল। প্রস্তুতি ম্যাচ, তাই সাসেক্সের হয়ে খেলেছেন মাহমুদ উল্লাহ ও শফিউল ইসলাম।
বাংলাদেশ শুরুতে সৌম্য সরকারকে হারালেও ইমরুল ও সাব্বিরের ব্যাটে বড় সংগ্রহেরই আভাস মেলে। ৫২ রানে আউট হন সাব্বির, ইমরুলকেও ফিরিয়ে আনা হয় ৯২ রানে। বাংলাদেশ এখন আয়ারল্যান্ডে যাবে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে।

আবারও টাইগারদের পৃষ্ঠপোষক ‘রবি অজিয়াটা’

গত কয়েক বছরে দারুণ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই টাইগারদের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার জন্য আগ্রহের মাত্রা আরো বেড়েছে দেশের প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কোম্পানির। কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালতেও পিছপা হচ্ছে না তারা। গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ টাকা খরচ করে আবারো জাতীয় দলের পৃষ্ঠপোষক হলো ‘রবি অজিয়াটা’। আজ বিকেল ৪ টায় ছিল নতুন টিম স্পন্সরশিপের টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ সময়। বিকেল সাড়ে চারটায় শেরেবাংলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসে সাংবাদিকদের সামনে বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দল, নারী দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের টিম স্পন্সর হিসেবে রবির নাম ঘোষণা করেন। আগামী দুই বছরের (১ জুলাই ২০১৭ থেকে ১ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত) জন্য টিম স্পন্সর বাবদ রবি কত টাকা দিয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান। তবে বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, রবির প্রদেয় টাকার পরিমাণ ৬০-৬১ কোটির মধ্যে। দেশের চার-পাঁচটি কর্পোরেট হাউজ অংশ নিয়েছিল এই টেন্ডারে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম স্পন্সরশিপ স্বত্ব কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছিল প্রাণ গ্রুপ, রবি, গ্রামীণফোন, মেঘনা গ্রুপের ব্র্যান্ড ফ্রেশ ও বিকাশ। বিসিবির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৬০ কোটি টাকা। তবে আগেই গ্রামীণফোন, মেঘনা গ্রুপের ব্র্যান্ড ফ্রেশ ও বিকাশের আর্থিক শর্ত গ্রহণযোগ্য হয়নি। শেষ পর্যন্ত রবির সঙ্গে লড়াইয়ে ছিল প্রাণ গ্রুপ। প্রাণ গ্রুপকে পেছনে ফেলে জাতীয় দলের টিম স্পন্সর হলো রবি। নতুন টিম স্পন্সরশিপ নিয়ে বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, ‘আগামী দুই বছরের জন্য রবিই বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম স্পন্সর। লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। আমরা খুশি।’

পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বার্বাডোজ টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ এ সমতা ফেরালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের ক্যারয়িার সেরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ৮১ রানে অলআউট করে জেসন হোল্ডারের দল।
ইতিহাস সৃষ্টি করার ম্যাচে ১৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দিতে থাকে পাকিস্তান। দলের ১০ রানে সফরাজের বিদায়ের পর কোন রান না করেই সাজঘরে ফেরেন বাবর আজম। দলীয় ২৭ রানে ব্যক্তিগত ৫ রান করে আউট হন শেষ টেস্ট সিরিজ খেলতে নামা ইউনিস খান। প্রথম ইনিংসে তিন উইকটে তুলে নেওয়া লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু বল হাতে নেওয়ার সুযোগই পাননি। ওয়স্টে ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে লেগ স্পিনার ইয়াসরি শাহ ৯৪ রানে ৭ উইকেট নেওয়ার পর বিশুকেই ভাবা হয়েছিলো মূল হুমকি হিসবে। কিন্তু তিনি আক্রমণে আসার আগেই অলআউট হয়ে যায় পাকস্তিান।
দলের বিপর্যয়ে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন শেষ সিরিজ খেলতে নামা অধিনায়ক মিসবাহও। কোন রান না করেই ফিরে যান তিনি সাজঘরে। এরপর দ্রুত আসাদ শফিক (০), আহমেদ শেহজাদ (১৪) ও শাদাব খান (১) বিদায় নিলে ৩৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। এরপর সরফরাজ আহমেদ এবং মোহাম্মদ আমির ধরে খেলার চেষ্টা করলেও ৮১ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে সরফরাজ আহমেদের ব্যাট থেকে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেন আমির।
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের সামনে এদিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ১১ ওভার বল করে মাত্র ১১ রান দিয়ে পাকিস্তানের পাঁচটি উইকেট তুলে নেন এই তারকা। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন গ্যাব্রিয়েল। এছাড়া জেসন হোল্ডার তিনটি এবং দুটি উইকেট লাভ করেন জোসেফ।
এর আগে ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে ৯ উইকেটে ২৬৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চার রান যোগ করেই নিজেদের শেষ উইকেট হারায় দলটি। বিশুকে আজহারের ক্যাচে পরিণত করে ইনিংসে নিজের সপ্তম উইকেট নেন ইয়াসির শাহ। আগামী বুধবার ডমেনিকার রসুইয়ে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষে টেস্ট। সেই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবনে মিসবাহ-ইউনুস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৩১২ ও ২৬৮, পাকিস্তান : ৩৯৩ ও ৮১।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৬ রানে জয়ী, ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

সন্ধ্যায় ফিরছেন মুস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে অংশ নিতে ভারতে থাকায়, সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে দলের সঙ্গে এখনো যোগ দেননি বাংলাদেশ দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। অথচ আগেই আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে সাসেক্সে অবস্থান করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ইতোমধ্যে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা সাসেক্সের ডিউক অফ নরফোক দলের বিপক্ষে। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়া সেই ম্যাচে, বাংলাদেশের দেয়া ৩৪৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৮ ওভারে ১০১ রান করে ডিউক অফ নরফোক। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ১৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। সে যাই হোক আইপিএলের দল হায়দ্রাবাদ সানরাইজার্সের সঙ্গে ভারতে অবস্থান করায় দলের সঙ্গে যোগ দেননি মুস্তাফিজ। এবার কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দিতে আজ সন্ধ্যায় দেশে ফিরছেন বাঁ-হাতি এই পেসার। দেশে আসরে পরের পরদিনই তিনি ইংল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। আইপিএলের প্রথম দুই ম্যাচ মিস করেছিলেন শ্রীলঙ্কা সিরিজ থাকার কারণে। দেশে ফেরার পর এক সপ্তাহ বিশ্রামে থেকে আইপিএল খেলতে যান মুস্তাফিজ। গিয়েই পরদিন মাঠে নেমেছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে। ২.৪ ওভার বল করে রান দিয়েছিলেন ৩৪টি। তবে কোনো উইকেট পাননি। এরপর থেকেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে খেলার আর সুযোগ মেলেনি তার।

Bangladesh bowler Mustafizur Rahman on Saturday at Eden during a ICC T20 World Cup match between Bangladesh and New Zealand. He scalped five wickets in the match. Express photo by Subham Dutta. 26.03.16

বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডই দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রিকেট দল

বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডই দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রিকেট দল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাত্রই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া সাকিব কথা বলেছেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে। মূলতঃ আইপিএল নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেট আর তাঁর অধিনায়কত্ব নিয়ে। সেখানেই তিনি জানান, যে কোনো চ্যালেঞ্জেই নিজেকে প্রমাণ করতে পছন্দ তাঁর। দ্বিতীয়বারের মতো অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়ায় বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি নিজেকে প্রমাণের তাগিদটাই বেশি অনুভব করছেন সাকিব। এদিকে, ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগাররা কঠিন গ্রুপে থাকলেও নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য টাইগারদের আছে বলেই বিশ্বাস সাকিব আল হাসানের।

ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই হলো মুশফিক-সৌম্যদের

প্রস্তুতি ম্যাচ। ব্যাটে-বলে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়াটাই যেখানে মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে ব্যাটিং অনুশীলনটা বেশ দারুণ হলো বাংলাদেশের। ডিউক অব নরফোক একাদশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৪৫ রান করেছে সফরকারী দল।

দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ব্যাটিং অনুশীলন সেরেছেন মুশফিকুর রহিম। চারে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মাশরাফির অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মুশফিক। ৯৮ বলে ১৪ চার ও এক ছক্কায় ইনিংসটি সাজান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

স্কোরবোর্ড। ছবি: এফএসিসিসি ক্রিকেট টুইটার

সৌম্য সরকার করেছেন ফিফটি। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৩ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে (৪০ বল, ৭ চার) ফেরেন ইমরুল। ৬৪ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় সৌম্য করেছেন ৭৩।

এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৪ বলে ৩১, নাসির হোসেন ৩০ বলে ২৬ রান করে ব্যাটিং অনুশীলন সারেন।  ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে স্বাগতিক দলের সেরা বোলার জেমস কির্টলি।


ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের একাংশ। ছবি: এফএসিসিসি ক্রিকেট টুইটার

বাংলাদেশের বোলাররা বোলিং অনুশীলনটা অবশ্য ঠিকমতো করতে পারেননি। ডিউক অব নরফোক ১৮ ওভারে বিনা উইকেটে ১০১ রান তোলার পরই বৃষ্টি নামে। যে বৃষ্টিতে পরে আর খেলা হয়নি, ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

পশ্চিম সাসেক্সের আরুনডেল ক্যাসল ক্রিকেট ক্লাব মাঠে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেল ৪টায়। সাসেক্সের প্রথা অনুযায়ী সফরকারী দলগুলো সেখানে গেলে ডিউক অব নরফোকের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। আগামী ৫ মে হোভে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সাসেক্স একাদশ।

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের

বার্ষিক হালনাগাদের পর সোমবার নতুন ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ আগের অবস্থানে থাকলেও এক রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে। রেটিং পয়েন্ট হারালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের।

২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে হলে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আটে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের আটে থাকা প্রায় নিশ্চিত। বরং বর্তমানে সাতে থাকা বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতে পারে ছয়ে ওঠার!

বাংলাদেশ চলতি মাসেই আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচ জিতলেই শ্রীলঙ্কাকে টপকে ছয়ে উঠে যাবে বাংলাদেশ। এরপর ১ জুন ইংল্যান্ডে শুরু চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো করলে র‌্যাঙ্কিংয়ে আরো উন্নতি হবে।

অন্যদিকে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পরেই আছে পাকিস্তান। নয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ব্যবধান যথাক্রমে ৩ ও ১২। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পয়েন্ট ব্যবধান বেশি থাকায় বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি পাকিস্তানেরও এই মুহূর্তে ওয়ানডে সিরিজ নেই।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের বিশ্বাস, বাংলাদেশ সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। সোমবার মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে তিনি বলেন, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পরে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবস্থান করছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের ১২ পয়েন্টের ব্যবধান আছে। এজন্য সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে আমরা আশাবাদী।’

পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে নিজামউদ্দিন বলেন, ‘পাকিস্তানকে ২-১ দিনের মধ্যে আমাদের প্রস্তাবিত সূচি পাঠাব। যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ থাকবে। তাদের ফিডব্যাকের জন্য আমরা অপেক্ষা করব।’

বার্ষিক হালনাগাদের পর ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং

র‍্যাঙ্ক দল পয়েন্ট
দক্ষিণ আফ্রিকা ১২৩ (+৪)
অস্ট্রেলিয়া ১১৮ (-)
ভারত ১১৭ (+৫)
নিউজিল্যান্ড ১১৫ (+২)
ইংল্যান্ড ১০৯ (+১)
শ্রীলঙ্কা ৯৩ (-৫)
বাংলাদেশ ৯১ (-১)
পাকিস্তান ৮৮ (-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৯ (-৪)
১০ আফগানিস্তান ৫২ (-)
১১ জিম্বাবুয়ে ৪৬ (-২)
১২ আয়ারল্যান্ড ৪৩ (+১)

 

 

র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কার আরো কাছে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়েছে বাংলাদেশ। বার্ষিক হালনাগাদের পর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান কমে হয়েছে ২ রেটিং পয়েন্ট।

বার্ষিক হালনাগাদের পর সোমবার নতুন র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের ওয়ানডেতে র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে এক রেটিং পয়েন্ট কমেছে মাশরাফির দলের। র‌্যাঙ্কিংয়ে সাতে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৯১। ছয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট ৯৩। ৫ রেটিং পয়েন্ট কমে বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি তারা।

রেটিং পয়েন্ট কমেছে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের। দুই রেটিং পয়েন্ট কমে পাকিস্তানের পয়েন্ট ৮৮। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৭৯। বার্ষিক হালনাগাদের আগে তাদের পয়েন্ট ছিল ৮৩। দুই রেটিং পয়েন্ট কমে জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ৪৬। আয়ার‌ল্যান্ডের এক রেটিং পয়েন্ট বাড়লেও আফগানিস্তানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রোটিয়াদের চার রেটিং পয়েন্ট বাড়লেও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারতের রেটিং পয়েন্ট ১১২ থেকে ১১৭ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের দুই ও ইংল্যান্ডের এক রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে। পাঁচ রেটিং পয়েন্ট বাড়ায় ভারত নিউজিল্যান্ডকে টপকে তিনে উঠেছে। নিউজিল্যান্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে চারে নেমে গেছে।

 

রেটিং পয়েন্ট হালনাগাদ হওয়ায় সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছে পাকিস্তান। র‌্যাঙ্কিংয়ে নয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান বেড়েছে। চলতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের র‌্যাকিংয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে ২০১৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে যাওয়া দলগুলোর তালিকা। বর্তমান র‌্যাকিং অনুযায়ী আটে থাকা পাকিস্তান ও সাতে থাকা বাংলাদেশ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আশা টিকে থাকলো লিভারপুলের

তিনটি ওয়ানডে, দুটি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য আগামী ৯ জুলাই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। দুবাইয়ে আইসিসির সভা শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান বলেন বাংলাদেশ সফরে যাবে না পাকিস্তান দল। তবে এবার আগের মন্তব্য পাল্টে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়নি। দুই বোর্ডের ঐক্যমতের সঙ্গে সফরটি বিলম্বিত হয়েছে।

পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান বলেন, ‘পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়নি। দুই বোর্ডের ঐক্যমতের সঙ্গে সফরটি বিলম্বিত হয়েছে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে কিছুদিনের মধ্যেই চিঠি পাঠানো হবে। চিঠিতে সফর নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান বিস্তারিত জানানো হবে।’

এদিকে তৃতীয় কোন দেশে এ সিরিজ আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়ে শাহরিয়ার খান আরও বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত দুইবার বাংলাদেশ সফর করেছি। এখন আমরা চিন্তা করেছি আমরা টানা তৃতীয়বারের মত সফরে যেতে পারি না। তাই একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আমরা অবশ্য তৃতীয় কোন দেশে খেলতে প্রস্তুত আছি।’

বাংলাদেশ দল ২০০৭-০৮ মৌসুমে শেষবার পাকিস্তান সফর করেছিল। ওই সফরে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। এর পর ২০১১-১২ মৌসুম একবার ও ২০১৫ সালে বিসিবির কাছ থেকে ৩২৫,০০০ মার্কিন ডলার নিয়ে পাকিস্তান দল আবার বাংলাদেশ সফরে আসে।

উল্লেখ্য, এ বছর পিসিবি বাংলাদেশকে তাদের দেশে গিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার আমন্ত্রন জানিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।

দ্বিতীয় দিন শেষে পিছিয়ে পাকিস্তান

শুরুটা দুর্দান্ত ছিল পাকিস্তানের। উদ্বোধনী জুটিতে আজহার আলী ও আহমেদ শেহজাদ মিলে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে ৩ উইকেটে ১৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। আর স্বাগতিকদের চেয়ে এখনও ১৪০ রানে পিছিয়ে আছে সফরকারী পাকিস্তান।

স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩১২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজহার আলী ও আহমেদ শেহজাদ। দুইজনে মিলে গড়েন ১৫৫ রানের জুটি। তবে ৭০ রান করে শেহজাদের বিদায়ের পরই ঘটে ছন্দপতন। কোন রান না করেই দ্রুত বিদায় নেন বাবর আজম ও ইউনিস খান। দিন শেষ মিসবাহ ৭ ও আজাহার আলী ৮০ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে ২৮৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান চেইজ-হোল্ডার। আগের দিনের ৫৮ রানের সঙ্গে কোন রান যোগ না করেই মোহাম্মদ আব্বাসের শিকারে পরিণত হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। আর সেঞ্চুরিয়ান চেইজও কোন রান যোগ করতে দেননি আমির। আগের দিনের করা ১৩১ রানেই সাজঘরে ফিরেন এই তারকা।

শেষ দিকে নবম উইকেটে দেবেন্দ্র বিশু ও আলজারি জোসেফের ২৬ রানের জুটি গড়লে ৩১২ রানের সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের সেরা বোলার মোহাম্মদ আব্বাস। ৫৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। মোহাম্মদ আমির ঝুলিতে জমা করেছেন ৩টি উইকেট।

বিয়ে করছেন জহির খান

‘চ্যাক দে ইন্ডিয়া’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখা সাগরিকা গাটগে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা জহির খান। বলিউডের এই অভিনেত্রীর সঙ্গে সোমবার বাগদান আংটি বদল করেন ভারতীয় এই পেসার।

নিজের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে সাগরিকার সাথে এক ছবি পোষ্ট করেছেন জহির খান। ছবির ক্যাপশনে জহির খান লিখেছেন, ‘কখনোই স্ত্রীর পছন্দ নিয়ে হাসাহাসি করবেন না। আপনি তো তার পছন্দেরই একজন। আর গোটা জীবনের অংশ। বাগদান সাগরিকা গাটগে।’

অপরদিকে সাগরিকা গাটগেও টুইট করে জানিয়েছেন এই খবর। সাগরিকা লিখেছেন, ‘সারা জীবনের সঙ্গী।’ ছবিতে সাগরিকার হাতে বাগদানের আংটি ছিল।

বেশ কিছুদিন যাবত জহির খান ও সাগরিকা গাটগে এক সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিতেন। সবশেষ যুবরাজ সিং ও হ্যাজেল কিচে’র বিয়েতেও দুজনকে এক সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।

এমন মাইলফলক চাই সবাই যেন মনে রাখে : মুশফিক

তার সমসাময়ীক মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল সবারই আগে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে। এর মধ্যে মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্যারিয়ার শুরুর দুই বছর আগেই ( ২০০৭ সালের জুলাইতে) ওয়ানডে খেলতে শুরু করেন। সাকিবেরও টেস্ট অভিষেকের আট মাস আগে ওয়ানডে অভিষেক হয়। আর তামিম টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরুর ১১ মাস আগেই ওয়ানডে অভিষিক্ত হন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মুশফিকুর রহীম। মাত্র ১৮ বছর বয়সে টেস্ট দিয়ে শুরু হয় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। উইকেটরক্ষক হিসেবে নয়। পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হিসেবেই।

২০০৫ সালের ২৬ মে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে অভিষেক হয় মুশফিকের। তারও ১৫ মাস পর শুরু ওয়ানডে ক্যারিয়ার। খালেদ মাসুদ পাইলটের মত সব সময়ের অন্যতম সেরা কিপার উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়ালেও মুশফিক শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে এসেছিলেন। তার মানে ঐ অতটুকু বয়সেই মুশফিকের ব্যাটিং প্রতিভা আকৃষ্ঠ করেছিল সে সময়ের অধিনায়ক, কোচ, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে।

তাদের হিসেব ভুল হয়নি। এক যুগ আগে লর্ডসে ক্যারিয়ার শুরু করা মুশফিক এখন সন্দেহাতীতভাবে টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে মজবুত খুঁটি। ওয়ানডেরও অন্যতম নির্ভরতা। বাংলাদেশ দল যেখানেই টেস্ট-ওয়ানডে খেলুক, মুশফিক অন্যতম নির্ভরতা। টেস্টে তামিম (৩৬৭৭) ও সাকিবের পর (৩৪৭৯) তৃতীয় সর্বাধীক ৫৪ ম্যাচে ৩২৬৫ রান। সাকিবের সঙ্গে দ্বিতীয় সর্বাধীক পাঁচটি করে সেঞ্চুরিরও মালিক। ওয়ানডেতেও তামিম (৫২৫১) আর সাকিবের (৪৭৭৬) পর তৃতীয় সর্বাধীক ৪১১৯।

কিন্তু কেন যেন ইংল্যান্ডের মাটিতে তার রেকর্ড অত ভালো না। ইংল্যান্ডে তিন টেস্টে ছয় ইনিংসে রান মোটে ৬২। সর্বোচ্চ ১৯। ২০১০ সালে এক ম্যাচে ২২। একই ভাবে আয়ারল্যান্ডে তার ব্যাট সেভাবে কথা বলেনি। দুই ম্যাচে রান ২২। সর্বোচ্চ ১৩*।

তার ব্যাট যেখানে ভীষণ অনুজ্জ্বল, সেই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে খেলতে যাবেন। নিজেকে কীভাবে তৈরি করছেন মুশফিক? ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মাটিতে পরিসংখ্যান খারাপ ভেবে চিন্তিত? নাকি আগে ভালো করতে না পারার সব ব্যর্থতা ঝেড়ে মুছে এবার ভালো কিছু করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ? জানতে ইচ্ছে করছে খুব, তাই না। জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে অনেক কিছু নিয়েই খোলাখুলি কথা বলেছেন মুশফিক।

অনেক কথার ভীড়েও একটা বিষয় পরিষ্কার ইংল্যান্ডে আগের অনুজ্জ্বলতা কাটিয়ে এবার ভালো করতে মুখিয়ে মুশফিক। সামর্থ্যের সবটুকু উজার করে দিতেও প্রস্তুত। কথা বার্তায় পরিষ্কার, নিজেকে মেলে ধরতে মুখিয়ে আছেন এ ব্যাটসম্যান কাম উইকেটরক্ষক। সাম্প্রতিক পারফরমেন্সও ভালো। মাঝে টেস্টে কিপিং নিয়ে খানিক মানসিক উৎপীড়নে ছিলেন। পরে তা কেটে গেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, শ্রীলঙ্কায় একদিনের ফরম্যাটে কিপার মুশফিকের পারফরমেন্স ছিল বেশ ভালো। সে দিক থেকে একটা মানসিক প্রশান্তিও আছে।

mushfik

এদিকে প্রিমিয়ার লিগের পারফরমেন্সটাও দারুণ। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে সর্বাধীক রান এসেছে তার ব্যাট থেকেই। সব মিলে মুশফিক আত্ববিশ্বাসী। নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থাও যথেষ্ঠ। তার বিশ্বাস, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে যে প্রায় দুই সপ্তাহর অনুশীলন ক্যাম্প হবে, সেটা খুব কাজে লাগবে। যদিও আমাদের সঙ্গে আবহাওয়া ও উইকেটে ওখানে দুই সপ্তাহ চেষ্টা করবো কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে।

উইকেট কিপিং প্রসঙ্গ উঠতেই সোজা সাপটা উচ্চারণ, ‘কে কিপিং করবে? সেটাতো ম্যানেজমেন্টের ওপর নির্ভর করবে। তারা যেটা ভালো মনে করবে সেটাই হবে। তবে আমি ওয়ানডেতে নিয়মিতই কিপিং করেছি। আর আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কায় আমি ভালোই করেছি। কিপিং পার্ট নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। এই দায়িত্বটা আবার পেলে সাধ্যমত চেষ্টা করবো ভালো করতে এবং দলকে সার্ভিস দিতে।’

টেষ্ট অভিষেকের পাঁচ বছর পর ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়েও নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব হয়নি। সেই মাটিতে আবারে। কোন বাড়তি উদ্যম, অনুপ্রেরণা ও সংকল্প?

মুশফিকের কথা, ‘হ্যা। আমি এখনো আফসোস করি টেস্ট অভিষেকের পর ইংল্যান্ডে আমি প্রত্যাশা মেটাতে পারিনি। নিজে যে টার্গেট সেট করে গেছি, তা পূর্ণ হয়নি। ফিরে এসেছি অসন্তুষ্টি নিয়ে। এবার আর সেই ইংল্যান্ডে খেলা। তাও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত বড় আসরে। খুব স্বাভাবিকভাবেই সবার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে সে আসরের দিকে। আমিও তাকিয়ে। অনেক বড় সুযোগ ও প্লাটফর্ম। আমি অনেক কনফিডেন্ট। এমন কিছু করে দেখাতে চাই যাতে সবাই আমাকে মনে রাখে।’

তার একান্ত বিশ্বাস ও আস্থা, আমি যদি নিজের সেরাটা খেলতে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব। ইংলিশ কন্ডিশনে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তুলনামূলক কঠিন ও শক্ত প্রতিপক্ষ কিনা?

মুশফিকের ধারণা, `কন্ডিশনের কথা চিন্তা চিন্তা করলে তুলনামূলক কঠিন। তবে তা নিয়ে চিন্তার কিছু দেখতে চান না। তার অনুভব, যেমন কন্ডিশনে খেলা হোক আর প্রতিপক্ষ যেই থাকুক না কেন, আমার মনে হয় আমরা আর আগের জায়গায় নেই। আমার বিশ্বাস ওয়ানডেতে এখন আমরা অন্যরকম দল। আমরা শেষ তিন বছর যে ক্রিকেট খেলেছি, তাতে করে এখন আর কাউকে ভয় বা সমীহর কিছু নেই। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, আমরা যদি সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে ৩০০ রান করে এবং তাড়া করেও জিততে পারি।’

ব্যাটসমানদের না হয় ৩০০ করার শক্তি আছে। বোলারদেরও কি যে কোন দলকে আটকানোর পর্যাপ্ত সামর্থ্য ও শক্তি আছে? মুশফিকের দাবি, অবশ্যই আছে। আমাদের এমন বোলিংও আছে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপেও আমাদের পেসাররা অসম্ভব ভালো বোলিং করেছিলেন। মাশরাফি ভাই, তাসকিন আর রুবেল কি দারুণ বোলিং করেছিল। এবার তার সঙ্গে মোস্তাফিজ যোগ হয়েছে। আর শফিউল আছে। আমার মনে হয় আমাদের বোলাররা বিশেষ করে পেসাররা ভালো স্পেল করতে পারে, তাহলে স্কোর বোর্ডে যে রানই করি না না কেন, বিশ্ব মানের ব্যাটসম্যানদেরও চাপে ফেলার সামর্থ রাখেন আমাদের বোলাররা। ’

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে নিজের কোন বিশেষ লক্ষ্য ও পরিকল্পনা?

‘অবশ্যই আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা আছে। আমি জানি এটা খুব বড় আসর। বড় প্লাটফর্ম এবং নিজেকে মেলে ধরার খুব উপযোগী ক্ষেত্র। তাই চেষ্টা করেছি নিজেকে তৈরি করতে। নিজেকে উজাড় করে দেয়ার সব চেষ্টাই থাকবে। যে কয়টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না কেন, চেষ্টা থাকবে এমন কিছু করে দেখানোর, যাতে সবাই মনে রাখে। নিজে এবং দল হিসেবে এমন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

নিজের উপর আস্থা তার প্রবল। নিজের ব্যাটিংয়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মুশফিকের ব্যাখ্যা, এখন আমি অনেক পরিণত ও আত্ববিশ্বাসী। ধারাবাহিকতাও আগের চেয়ে অনেক বেশি। এসব কিছুই আমাকে ভাল খেলতে সাহস জোগাচ্ছে। অনুপ্রাণিত করছে। মনে হচ্ছে আমি পারবো। যদি আমার নিজের সেরাটা খেলতে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো খেলা এবং বড় স্কোর গড়া সম্ভব। শুধু আমার না, আমাদের সবারই বিশ্বের সেরা বোলিংয়ের বিরুদ্ধেও রান করার সামর্থ্য আছে।’

মুশফিকের শেষ সংলাপ বলে দেয়, তার ভেতরের অনুভূতি ‘আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুব এক্সাইটেড। অনেক রোমাঞ্চিত। অনেক উদ্বেলিত। ভালো করতে মুখিয়ে আছি।’ মুশফিকের আশা পূর্ণ হলে টিম বাংলাদেশেরই মঙ্গল। কারণ ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত তিন-চার বছরে বাংলদেশের অনেক অর্জন ও স্মরণীয় সাফল্যে মুশফিকের অবদান প্রচুর। কাজেই তার ব্যাট কথা বলা মানেই টিম বাংলাদেশের জ্বলে ওঠা।

মঙ্গলবার নয়, মোস্তাফিজ দেশে আসছেন ৩ মে

ভারতীয় মিডিয়ায় গত দু’দিন বেশ গুঞ্জন। গুরুত্বসহকারে সংবাদ চাপিয়েছে, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খেলতে দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য মঙ্গলবারই (২৫ এপ্রিল) দেশে ফিরবেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

এবারের আইপিএল খেলতে যাওয়ার পর মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। যদিও মাত্র ২.৪ ওভার বল করে ৩৪ রান দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ম্যাচের পর ম্যাচ যায়, মোস্তাফিজ আর একাদশে সুযোগ পান না। তার চেয়ে বরং, দলের সঙ্গে গিয়ে সাসেক্সে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প করলে সেটাই বরং কাজে দেবে। এ কারণেই তিনি ২৫ তারিখ দেশে ফিরে এসে ২৬ তারিখ দলের সঙ্গে লন্ডন যাওয়ার কথা।

কিন্তু আজ আবার হঠাৎ জানা গেলো, ২৫ এপ্রিল নয়, ৩ মে ঢাকায় আসবেন তিনি। এরপর ৪ মে রাতে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে এ খবর। ৪ মে রাতে মোস্তাফিজ একা নন, তার সঙ্গে লন্ডন রওয়ানা হবেন সাকিব আল হাসানও। ৪ তারিখই সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন তিনি।

জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে এ সংবাদের সত্যতা জানিয়ে বলেন, ‘বোর্ডের কোনো নির্দেশনা নেই। এটা তাদের নিজস্ব অভিমত এবং সিদ্ধান্ত। ৫ মের মধ্যে দলের সঙ্গে যোগ দিতে হবে, লন্ডনে গিয়ে কোচকে রিপোর্ট করবেন তারা দুজন এটাই বলে দেয়া আছে। এর আগে কখন তারা যাবেন, ঢাকা আসবেন নাকি ভারত থেকে লন্ডন যাবেন সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, মোস্তাফিজ ঢাকায় আসবে ৩ মে রাতে এবং সাকিব আসবে ৪ মে সকালে। ওইদিনই রাতে তারা লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বিমানে উঠবে।’

মোস্তাফিজের বড় ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টুও জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ২৫ তারিখ মোস্তাফিজ দেশে ফিরছে না। তবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি ৩ তারিখ দেশে ফিরবেন নাকি সেখান থেকে লন্ডন যাবেন।

২৫ তারিখ (মঙ্গলবার) না এসে ৩ মে আসার সিদ্ধান্ত নিলে, এর মধ্যে আরও চারটি ম্যাচ পাচ্ছেন কাটার মাস্টার। এই চার ম্যাচের কোনটিতে হয়তো বা মাঠে নামার সুযোগও পেতে পারেন তিনি। সাকিব আল হাসান ৩ তারিখ ফিরবেন না, কারণ ওইদিন ইডেনে পুনের বিপক্ষে কেকেআরের ম্যাচ রয়েছে। ওই ম্যাচের পরই ৪ তারিখ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন তিনি। কয়েকঘণ্টার বিশ্রাম নিয়ে আবারও বিমানে উঠবেন সাকিব। সঙ্গী হবেন মোস্তাফিজ।

মিসবাহর ১ রানের আক্ষেপ

পাকিস্তানকে শতরানের লিড এনে দেওয়া মিসবাহ-উল-হক মাঠ ছেড়েছেন মাত্র ১ রানের জন্য শতক না পাওয়ার হতাশা নিয়ে। জ্যামাইকা টেস্টের চতুর্থ দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়েছেন ইয়াসির শাহ।

স্যাবিনা পার্কে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৩ রান। নাইটওয়াচম্যান দেবেন্দ্র বিশু ও অভিষিক্ত ভিশাল সিং এখনও রানের খাতা খোলেননি। স্বাগতিকরা এখনও পিছিয়ে ২৮ রানে।

৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে খেলতে নেমে পাকিস্তান সোমবার সকালেই হারায় আসাদ শফিককে। অধিনায়কের সঙ্গে ৮৮ রানের চমৎকার জুটিতে দলকে লিড এনে দেন সরফরাজ আহমেদ। একবার স্টাম্পিংয়ের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ফিরেন ৫৪ রান করে।

সেখান থেকে টেলএন্ডারদের নিয়ে খেলে দলকে ১২১ রানের লিড এনে দেন নিজের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে নামা মিসবাহ। ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটিতে লিড যায় তিন অঙ্কে। ২১ বল খেলে ১ রান করা অভিষিক্ত আব্বাসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে পাকিস্তানকে ৪০৭ রানে গুটিয়ে দেন রোস্টন চেইস।

পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া মিসবাহ মাত্র ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অপরাজিত থাকেন ৯৯ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার গ্যাব্রিয়েল ও আলজারি জোসেফ নেন তিনটি করে উইকেট।

প্রথম ১০ ওভার নিরাপদেই কাটিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট বোল্ড করেন ইয়াসির। উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া এই লেগ স্পিনার খুব ভুগিয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। এর মধ্যেই ৫০ রানের চমৎকার এক জুটি গড়েন কাইরন পাওয়েল ও অভিষক্ত শিমরন হেটমায়ার।

২৮ বলে ২০ রান করা হেটমায়ারকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ ভাঙেন ইয়াসির। দুই অঙ্কে যাওয়ার আগেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শাই হোপকে।

আস্থার সঙ্গে খেলে চলা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পাওয়েল ইয়াসিরের শেষ শিকার। ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া এই লেগ স্পিনারই পঞ্চম দিনে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বড় হুমকি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৮৬

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৮.৪ ওভারে ৪০৭ (আজহার ১৫, শেহজাদ ৩১, বাবর ৭২, ইউনুস ৫৮, মিসবাহ ৯৯*, শফিক ২২, সরফরাজ ৫৪, আমির ১১, ওয়াহাব ৯, ইয়াসির ৮, আব্বাস ১; গ্যাব্রিয়েল ৩/৯২, জোসেফ ৩/৭২, হোল্ডার ১/৬৫, বিশু ১/১০৬, চেইস ১/৩৭, ব্র্যাথওয়েট ০/২২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ২৮ ওভারে ৯৩/৪ (ব্র্যাথওয়েট ১৪, পাওয়েল ৪৯, হেটমায়ার ২০, হোপ ০, বিশু ০*, ভিশাল ০*; আমির ০/১১, আব্বাস ০/২১, ইয়াসির ৪/৩৩, ওয়াহাব ০/২৪)।

ব্যাটিংয়ে সানরাইজার্স, আজও উপেক্ষিত মোস্তাফিজ

এবারের আইপিএলটা মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য হতাশাতেই কেটে যাচ্ছে। ভারত যাওয়ার পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে সেই যে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলো, এরপর আর একাদশে আসার কোনো নাম-গন্ধই নেই যেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্ট মোস্তাফিজকে খেলানোর কথাই যেন চিন্তা করছে না। যে কারণে আজও রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের বিপক্ষে একাদশে রাখা হলো না কাটার মাস্টারকে।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টের বিপক্ষে টস হেরেছেন সানরাইজার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। জিতেছেন পুনে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে প্রথমে ব্যাট করার জন্য তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারকেই।

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পরিবর্তে পুনে দলে সুযোগ পাওয়া ওয়াশিংটন সুন্দরের যে কোনো পর্যায়ে অভিষেক আজ। বাদ পড়েছেন রাহুল চাহার। সানরাইজার্সের একাদশে অসুস্থতার কারণে আজ নেই যুবরাজ সিং। তার পরিবর্তে দলে ফিরেছেন বিপুল শর্মা। টস হেরে ব্যাট করার সুযোগ পাওয়ার পর সানরাইজার্স অধিনায়ক ওয়ার্নার বলেন, ‘টস জিতলে আমরাও বোলিং নিতাম। কারণ উইকেটে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বোলারদের জন্যই সহায়ক। এবং রান তাড়া করাটা হবে সহজ।’

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ : ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন, মইসেস হেনরিক্স, দিপক হুদা, নোমান ওঝা, বিপুল শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, রশিদ খান, মোহাম্মদ সিরাজ, সিদ্ধার্থ কাউল।

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট : আজিঙ্কা রাহানে, রাহুল ত্রিপাথি, স্টিভেন স্মিথ, মহেন্দ্র সিং ধোনি, বেন স্টোকস, ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান, মনোজ তিওয়ারি, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুর, জয়দেব উনাড়কট, ইমরান তাহির।

‘এটম গাম’এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তাসকিন

চুইংগাম ব্র্যান্ড ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন প্রাণ কনফেকশনারির হেড অব মার্কেটিং সাখাওয়াত আহমেদ।

এ সময় তরুণ এই ফাস্ট বোলার নতুন করে ‘এটম গাম’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তাসকিন আগামী দুই বছর এটম-এর বিভিন্ন প্রমোশনাল কাজে অংশগ্রহণ করবেন।

তাসকিন আহমেদ বলেন, খুব ভালো লাগছে। এটম একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় চুইংগাম ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। খেলার পাশাপাশি ফ্রি টাইমে এটম-এর সঙ্গে থাকব।

অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত আহমেদ বলেন, তাসকিন বাংলাদেশের একজন তারকা ক্রিকেটার। তাকে ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। তরুণ এই পেসার এটম-এর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রাণ কনফেকশনারির ব্র্যান্ড ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আগে এটম-এর পেঅফ লাইন ছিল, ‘চাপার জোর বাড়াও।’এবারের পেঅফ লাইন হচ্ছে ‘আওয়াজ বাড়াও।’ আমরা সমাজের অনেক ভালো দিক দেখেও দেখি না। সবার সামনে তুলে ধরছি না। এগুলো তুলে ধরতেই এটম-এর আওয়াজ। সমাজের খারাপ কাজ যেগুলো আমরা দেখেও দেখছি না, সেগুলোর বিরুদ্ধেও এ আওয়াজ তুলতে হবে।

টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক সাকিব

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক করা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। শনিবার বিসিবি এই সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার জায়গায় এই অলরাউন্ডারের নাম ঘোষণা করে।

সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার ফলে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে তিন জন ভিন্ন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবে। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার কথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আগের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়া চালিয়ে যাবেন এই পেসার। টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

সাব্বির টপ অর্ডারে তাই দলে নাসির

বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে আছেন প্রায় বছর খানেক। এর মাঝে তাকে নিয়ে অনেক কথাই বলছেন অনেকে। বাদ যাননি খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। অনেকে তাকে ‘বাতিল’ এর খাতায়ও ফেলে দিয়েছিলেন। সেই নাসির হোসেন আবার ফিরেছেন টাইগারদের ডেরায়। সাসেক্সে কন্ডিশনিং ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের দলে আছেন মিস্টার ফিনিশার। তাই হঠাৎ করে আবার তাকে দলে নেওয়া নিয়েও শুরু হয় আলোচনা। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর যুক্তি সাব্বির রহমান টপ অর্ডারে ব্যাটিং করায় সাত নম্বরে বিকল্প খেলোয়াড় রাখতেই নাসিরকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

‘একই পজিশনে আগে তিনটা খেলোয়াড় ছিল। সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ এ তিনজন খেলোয়াড়ের পরে কিন্তু নাসির। এখন সাব্বির খেলছে তিন নম্বরে। এখানে একটা জায়গা খালি হয়েছে। সে হিসেবে ও দলে এসেছে। এখন ওদের তিনজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে ছয় ও সাত নম্বরে ব্যাটিং করার জন্য। তাই ওকে প্রস্তুত করতেই আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’ – নাসির হোসেনকে ফিরিয়ে আনার ব্যাখ্যা দিয়ে এমনটাই বলেন প্রধান নির্বাচক।

তবে বেশ কিছুদিন থেকেই ব্যাটও কথা বলছে নাসিরের। ইমার্জিং কাপে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও করেছেন সেঞ্চুরি। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার এটাও একটা কারণ বলে উল্লেখ করেন নান্নু, ‘নাসির হোসেন এক বছর ধরে দলের সঙ্গে সফর করছে না। সেই হিসেবে ওকে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনেছি। ও ইমার্জিং কাপ ও ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো খেলেছে। যেহেতু সাসেক্সে প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে। তা ছাড়া আয়ারল্যান্ড সফরে ওকে অভ্যস্ত করা দরকার। সামনে আমাদের অনেকগুলো অ্যাওয়ে সিরিজও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের বড় সিরিজ আছে সেই হিসেবে ১৮ জন নিয়ে যাচ্ছি।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নন নাসির। তাই দ্রুতই আবার অভ্যস্ত হয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করেন নান্নু, ‘ও অনেকদিন ধরে দলের বাইরে আছে। এখন টিম ম্যানজমেন্টের সঙ্গে কাজ করবে। যেহেতু আমাদের ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প আছে ইংল্যান্ডে। তো এখানে ওকে দেখা হবে। আর যেহেতু ওর অভিজ্ঞতা আছে তাই তাড়াতাড়ি আগের ছন্দে ফিরবে।’

‘আমাদের অধিনায়কইতো পেস অলরাউন্ডার’

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বুধবার দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করে সে দলে চারজন পেস অলরাউন্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ দলেও পেস অলরাউন্ডারের প্রাধান্য থাকবে। সে বিবেচনায় অনেকেই ভেবেছিলেন দলে হয়তো থাকবেন সাইফউদ্দিন। তাকে দলে না রাখায় কে এ অভাব পূরণ করবেন। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানান, আমাদের অধিনায়ক মাশরাফিইতো পেস অলরাউন্ডার।

‘বর্তমানেতো আমাদের অধিনায়কই পেস অলরাউন্ডার। তবে আমরা আরেকজনকে মাত্র শুরু করেছি পেস অলরাউন্ডার হিসেবে, সাইফউদ্দিন। ওকে আমরা ইতোমধ্যেই টি-টোয়েন্টিতে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এখন ওকে আরও উন্নতি করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে একটু সময় লাগে। ওর যথেষ্ট যোগ্যতা আছে, ওকে ওইভাবেই তৈরি করা হবে। আগামীতে ওকে নিয়ে ভাবা হবে।’

এক দশকের বেশি সময় পর আবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে বাংলাদেশ। তাই এ আসর নিয়ে চলছে একটু বাড়তি উম্মাদনা। সবার প্রত্যাশা দারুণ কিছু ফলফল করবে টাইগাররা। তাই কন্ডিশন বিবেচনায় মাশরাফিকে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে পেস অলরাউন্ডারের। আর সে সামর্থ্য আছে টাইগার অধিনায়কের।

প্রাণ ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন তাসকিন

প্রাণ কনফেকশনারির জনপ্রিয় পণ্য ‘এটম গাম’ এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এখন এ পণ্যের প্রচার কার্যক্রমে দেখা যাবে এই ক্রিকেটারকে।

রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে আগামী ২২ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল ৪.৩০ মিনিটে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এ সময় তাসকিন আহমেদসহ প্রাণ কনফেকশনারির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি জনপ্রিয় নাম। আর প্রাণ কনফেকশনারির জনপ্রিয় পণ্য ‘এটম গাম’ এবার টাইগার এই বোলারের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চায়।

ফিটনেস ঠিক থাকায় দলে শফিউল

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ১৫ সদস্য ছাড়াও আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ১৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ত্রিদেশীয় সিরিজ উভয় দলেই ডাক পেয়েছেন পেসার শফিউল ইসলাম।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

এদিকে ঘোষিত দুই দলে শফিউলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, বিপিএলে ইনজুরিতে না পড়লে ও আমাদের সঙ্গে অনেকগুলো সিরিজেই থাকতো। তাছাড়া ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছু নেতিবাচক মনোভাব ছিল যে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই ওকে আমরা শ্রীলঙ্কায় দেইনি। কারণ শ্রীলঙ্কায় অনেক গরম ছিল ওখানে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে। আর যেহেতু ওর ফিটনেস লেভেল এখন ঠিক আছে আর যেহেতু ঠান্ডা কন্ডিশন খলবো সেহেতু ও টানা ম্যাচ খেলতে পারবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

নাসিরকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও প্রস্তুতি ম্যাচে জায়গা হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা হয়নি নাসিরের। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য মাশরাফির নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। এদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ফিরেছেন পেসার শফিউল ইসলাম। আর দুটি থেকেই বাদ পড়েছেন শুভাগত হোম চৌধুরী।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্ট্যান্ড বাই: নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শুভাশীস রায়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ইংল্যান্ডে ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশীস রায়, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত-পাকিস্তান

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে আগামী ১ জুন পর্দা উঠছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। তবে এর আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। আর সেখানে মাশরাফি বাহিনীর প্রতিপক্ষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ও পাকিস্তান। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকরাম খান জানান, `আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে আমরা ইংল্যান্ডে ১০ দিন প্রস্তুতি ক্যাম্প করবো। সেখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিবো। আয়ার‌ল্যান্ডে চারটির মত ম্যাচ খেলার পর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেব। সেখানে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গেও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে আমাদের।`

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ক্যাম্প করার জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে ৭ মে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে খেলতে যাবে মাশরাফিরা। ডাবলিনে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২৪ মে। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম ম্যাচ ১ জুন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণার শেষ তারিখ ২৫ এপ্রিল। তবে আকরাম খান জানলেন, প্রস্তুতি কাম্পে আরও ২-১ জন ক্রিকেটার বেশি নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা

রোববার রাত থেকেই ফেসবুক সয়লাব ছবি আর নানা প্রতিক্রিয়ায়। একটা সময় ছিল যখন বড় প্রাপ্তির পর কারো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতো মিডিয়ায়। এখন আর সে অপেক্ষা নয়, কিছু অর্জন আর প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেরাই জনাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া। সেটা সব ক্ষেত্রেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে একসঙ্গে ৩৩৯ জন ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করেছেন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, শ্যূটিং, সুইমিং, দাবা, ভারোত্তোলন, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, আরচারি, হ্যান্ডবল, রোলার স্কেটিং, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদসহ বিভিন্ন খেলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল গণভবন।

অক্টোবর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলীয় কিংবা ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেয়া ক্রীড়াবিদরাই ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত। স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্রোঞ্জজয়ী নয়- প্রধানমন্ত্রীর চোখে ছিলেন সবাই সমান। ৩৩৯ জনকে দেয়া অর্থ পুরস্কারও তাই সমান। প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ টাকা করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দ ছিল গত এসএ গেমসে স্বর্ণ পাওয়া তিন ক্রীড়াবিদ সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত আর শ্যূটার শাকিল আহমেদের। রাজউকের উত্তরায় নির্মিত ফ্ল্যাটের চাবিও তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এসএ গেমসের পর এ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

Mabia

কেউ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পুরস্কারের অর্থের চেকের ছবি, কেউ পুরস্কার গ্রহনের ছবি, কেউ ফ্ল্যাটের চাবির ছবি, কেউ ডিনারের ছবি, কেউ গল্প করার ছবি পোস্ট করে ভরিয়ে ফেলেছেন ফেসবুকে নিজেদের ওয়াল। ছিল নানা রকম প্রতিক্রিয়াও। সেখানে বেশি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন রাত তো আগে কখনো আসেনি।

শিলা, মাবিয়া ও শাকিল প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্ল্যাটের চাবি গ্রহণকে তাদের জীবনের সেরা মুহুর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাবিয়া বলেছেন, ‘দেশের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। এখন আমাদের দেশকে দেয়ার পালা।’ শাকিল বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে ডেকেছি। আমাদের দায়িত্ব এখন আরো বেড়ে গোলো।’

Rony

দেশের খেলাধুলায় পরিচিত মুখ ‘দাবার রানী’ রানী হামিদ থেকে শুরু করে এ প্রজন্মের খেলোয়াড় শ্যূটার শাকিল আহমেদ, রোলবল খেলোয়াড় আফিস হোসেন হৃদয়, আরচারির হিরামনি, ব্যাডমিন্টনের ইরিনা সবার মুখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা। সবার দৃঢ়বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আরো ভালো পারফরমেন্স করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আমরা তো আন্তর্জাতিকভাবে ভালো রেজাল্ট করলেও কেউ খোঁজ নেয় না। সবাই মেতে থাকে ক্রিকেট নিয়ে- অন্যান্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের এমন অনুযোগ শোনা যেত; কিন্তু রোববার রাতের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩৩৯ জনকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের ধারনাও বদলে গেছে। তারা যে বড় পাওয়াটাই পেয়েছেন-প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়েছেন পুরস্কার।

গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের প্রতিক্রিয়া ছিল এরকম, ‘এটা একটা বিশাল সম্মান। এতটা আশা করার সাহসই পাইনি। এটা ক্রীড়াঙ্গনের নজিরবিহীন ঘটনা এটা। আমি আন্তরিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

Three

রানী হামিদ বলেছেন, ‘অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এত বড় মর্যাদা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এটা বিশাল পাওয়া। তিনি খেলোয়াড়দের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। সবার দায়িত্বও বেড়ে গেল।’

শাটলার মিনহাজের প্রতিক্রিয়া, ‘গনভবনে প্রথম গেলাম। অনেক ভালো লাগছে। ৯ বছর ধরে খেলছি; কিন্তু এমন স্বীকৃতি আগে কখনো পাইনি।’

আর্চারি হীরামনির কথা, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছি। জীবনের প্রথম আর্থিক পুরস্কার। তাও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। এজন্যই বেশি ভালো লাগছে।’ হকি খেলোয়াড় মামুনুর রহমান চয়ন বলেছেন, ‘এ সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রমান হলো প্রধানমন্ত্রী কেবল নির্দিষ্ট কোনো খেলার নন, সবার।’

রোলবল অধিনায়ক দীপ্র  বলেছেন, ‘এ পুরস্কার আমাদের আগামীতে ভালো খেলতে আরো অনুপ্রারিণত করবে।’ ভলিবল খেলোয়াড় সাঈদ আল জাবিরের প্রতিক্রিয়া ‘এটা অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার, কল্পনার বাইরে ছিল আমার।’

মাশরাফিকে টাকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন রাসেল

সময়টা ২০০৭ বিশ্বকাপ। দুর্দান্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। সে আসরে ভারতকে বিদায় করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও জয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে গ্রায়েম স্মিথ ও জ্যাক ক্যালিসকে সাজঘরে ফেরানো বোলারটি ছিলেন সৈয়দ রাসেল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে শুরু থেকে নজর কাড়েন সৈয়দ রাসেল। গতি নির্ভর ছিলেন না রাসেল, তবে ছিল নিখুঁত মাপা লাইন ও লেন্থ আর ছিল উইকেটের দু’দিকে সুইং করানোর ক্ষমতা। কিন্তু সেই রাসেল ইনজুরির কারণে সম্ভাবনাময় ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। পাননি ক্রিকেট বোর্ড থেকেও তেমন কোনো সহায়তা কিংবা সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা।

মাঝে কোমরের কঠিন ইনজুরিতে পড়েন। তবে সেই ইনজুরি থেকে রেহাই পাবার আগেই যুক্ত হয় বাঁ কাঁধের ইনজুরি। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল মোটা অর্থ। সৈয়দ রাসেলের অস্ত্রোপচারের অর্থ সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

২০১০ সালের জুলাই থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন রাসেল। ইনজুরির কারণে ক্লাব-ক্রিকেটেও খেলতে পারছেন না। কাঁধের ইনজুরির অস্ত্রোপচার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে করাতে লাগতো প্রায় ৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে ভারতের মুম্বাইতে করালে প্রায় চার লাখ। কিন্তু এতো পরিমাণ অর্থ রাসেলের কাছে ছিল না।

এক সময়ের বোলিং জুটি, বন্ধু মাশরাফির কাছে ধার চেয়েছিলেন রাসেল, ‘দোস্ত, আমি তো মাঠের বাইরে আছি বেশ কিছু দিন। হাতে টাকা পয়সাও নেই তেমন। আমাকে লাখ চারেক টাকা ধার দিবি? চিকিৎসা করাবো।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে ওঠা মাশরাফির উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ দেবো। তবে ধার নয়, বন্ধুকে ভালোবেসে। এই টাকা শোধ করতে হবে না।’

পরে মাশরাফির কাছে সেই অর্থ নিয়ে ভারতে চিকিৎসা করাতে যান রাসেল। কিন্তু ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, অস্ত্রোপচার লাগবে না। কিছু ঔষুধেই সেরে যাবে। এরপর দেশে ফিরে আবার নতুন করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নেন তিনি। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্লাবে নাম লিখিয়ে সেখান থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে মাশরাফির কাছ থেকে নেয়া অর্থ শোধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন রাসেল। মাশরাফি কিছুতেই সেই অর্থ ফেরত নেননি।

এদিকে রাসেলের আশা, ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে দ্রুতই মাঠে নামতে পারবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হয়ে ৬ টেস্টে ১২টি আর ৫২ ওয়ানডেতে ৬১টি উইকেট শিকার করেছেন রাসেল।

তামিম ঝড়ে মোহামেডানের বড় সংগ্রহ

তামিম ইকবালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) ৩০৭ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে এ সংগ্রহ পায় মোহামেডান।

এদিন ব্যাটিংয়ে নেমে নিজের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি উদযাপন করেন দেশসেরা ওপেনার তামিম। নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি তামিম। প্রথমবারের মতো এবারের আসরে মাঠে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন।

বিকেএসপিএর চার নম্বর গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হয় মোহামেডান ও কলাবাগান। আর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান। ওপেনার শামসুর রহমান ৩৮ রানে বিদায় নিলেও সে সময় ১৫.৪ ওভারে ৭৩ রান তোলে দলটি।

এরপর অবশ্য দ্রুতই রনি তালুকদার, রাকিবুল হাসান ও রহমত শাহ ফিরে যান। কিন্তু উইকেটে অবিচল থাকেন অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা তামিম। অসাধারণ ফর্মে থাকা এ তারকা তুলে নেন সেঞ্চু্রি। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে ১০৩ বলে ১৩ চার দুই ছক্কা হাঁকান তিনি।

সঞ্জিত শাহ’র বলে আউট হওয়ার আগে তামিম খেলেন ১৫৭ রানের ঝড়ো এক ইনিংস। মাত্র ১২৫ বলে ১৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান ড্যাশিং এ ব্যাটসম্যান।

সঞ্জিত ১০ ওভারে ৫২ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান নাবিল সামাদ ও মুক্তার আলী।

‘দেশের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত’

ভিন্ন ধাতুতে গড়া মাশরাফির নেতৃত্বগুণ, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাশের মতো আর কোনো ক্রিকেটার নিজের ইনজুরিকে তোয়াক্কা না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার। পা বাঁচাতে যখন মাশরাফিকে না খেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘পায়ে গুলি খেয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমি কেন সামান্য সার্জারি নিয়ে মাঠে খেলতে পারবো না?’

দৃঢ়চেতা মনোভাব, ব্যক্তিত্ব আর সহজাত ক্রিকেটীয় মেধার সঙ্গে দারুণ নেতৃত্বগুণ অন্য আরো ১০ জন ক্রিকেটার থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। তিনিই দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থাকলে- অনেক কিছুই সম্ভব। ম্যাচ জিতিয়ে গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতে, মাশরাফি তখন হাঁটুর ব্যথায় কাতরান ড্রেসিংরুমে। ক্রিকেটে তার মতো ইনজুরি জয় করা খেলোয়াড় আর একজন আছেন বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি তাই ধ্রুবতারা!

টাইগারদের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি নিজের পরিবার নিয়ে বৈশাখের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন খাগড়াছড়িতে। সেখান থেকে ফিরে মাঠে নেমেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। টানা দুই ম্যাচ জিতেছে তাদের দল। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) মাশরাফি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিশাল স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সৈনিকদের কথা, তাদের বীরত্ব গাঁথা, তাদের আত্মত্যাগ, তাদের দেশাত্মবোধের কথা।

মাশরাফির লেখাটি তুলে ধরা হলো:

‘প্রথমে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন। আমার এবারের খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ভ্রমণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি একজন সৈনিক তাঁর মাতৃভূমির জন্য কি পরিমাণ আত্মত্যাগ করেন। আপনারা হলেন সেই সব মানুষ যারা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে, কিন্তু আপনাদের বীরত্ব গাঁথা হয়ত কখনো কোন জাতীয় দৈনিক বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। আমার সাথে এমন একজন সৈনিক এর দেখা হয়েছে যিনি খুব শিগগিরই বাবা হবেন। অথচ দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ তাঁর পরিবার থেকে বহুদূরের এই সেনা ক্যাম্প এ অবস্থান করছেন। আমি স্বীকার করি অনেকের কাছেই সেপাই পলাশ এর দেশের প্রতি অঙ্গীকার একটি সামান্য পরিসংখ্যান ছাড়া আর কিছুই নয়।’

‘নিজের কাজ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা কিংবা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেয়াকেই আমরা হয়ত দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হিসেবে মনে করি। কিন্তু মনে রাখবেন, এর কোনকিছুই আপনাদের আত্মত্যাগের সমতূল্য নয়। আজ বাংলাদেশ আর্মির এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন। আমার এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে আপনারা এবং আপনাদের আপনজনেরা অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেন যেন আমরা নিরাপদে ঘুম থেকে উঠতে পারি। যেদিন আমাদের দেশের সকল নাগরিক একই ভাবে দেশের জন্য আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হবে সেদিন আমরা পাবো সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’

মাশরাফি আরও লিখেছেন, মনে রাখবেন, “সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে”। সর্বশেষ এই বলতে চাই, “যদি কখনো বাংলাদেশ আর্মির সাথে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” এত সময় ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ।

-আপনাদের মাশরাফি (একজন ব্যক্তি যে শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলে)

হায়দ্রাবাদকে হারালো কলকাতা

আইপিএলের ১৪তম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল সাকিব আল হাসান ছাড়া কলকাতা নাইট রাইডার্স আর মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হায়দ্রাবাদকে ১৭ রানে হারিয়েছে কলকাতা।

হায়দ্রাবাদের দলপতি ডেভিড ওয়ার্নার টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে কলকাতা ১৭২ রান তোলে। জবাবে, ২০ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারানো হায়দ্রাবাদের ইনিংস থামে ১৫৫ রানের মাথায়।

কলকাতার ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে চারটায় ম্যাচটি শুরু হয়। একাদশে সুযোগ পেলে মোস্তাফিজের মুখোমুখি হতেন সাকিব। এবারের আইপিএল আসর এখনো জমাতে পারেননি এই দুই টাইগার। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে শুরুটা ভালো হয়নি ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমানের। এদিকে, টানা চার ম্যাচে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবকে ডাগআউটে বসিয়ে রেখে একাদশ সাজায় শাহরুখ খানের কেকেআর। মোস্তাফিজের নিজের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স সবাইকে রীতিমতো অবাকই করেছে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে (১২ এপ্রিল) তার বোলিং ছিল খরুচে। ২.৪ ওভারে ৩৪ রানের বিনিময়ে একটি উইকেটও পাননি।

ব্যাটিংয়ে কলকাতার ওপেনার গৌতম গম্ভীর করেন ১৫ রান। আরেক ওপেনার সুনীল নারাইন ৬ রানে বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা রবীন উথাপ্পা ৩৯ বলে ৫টি চার আর ৪টি ছক্কায় করেন ৬৮ রান। মনিষ পান্ডের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন ইউসুফ পাঠান।

হায়দ্রাবাদের হয়ে ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় তিনটি উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার। একটি করে উইকেট দখল করেন ৪ ওভারে ৩৫ রান দেওয়া আশিষ নেহারা, ৪ ওভারে ৪১ রান দেওয়া বেন কাটিং এবং ৪ ওভারে ২৯ রান দেওয়া রশিদ খান। ২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন মোস্তাফিজের জায়গায় দলে আসা মইসেস হেনরিকস।

১৭৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে হায়দ্রাবাদের ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ৩০ বলে চারটি বাউন্ডারিতে করেন ২৬ রান। আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। মইসেস হেনরিকস করেন ১৩ রান। ১৬ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৬ রানে সাজঘরে ফেরেন যুবরাজ সিং। দীপক হুদা ১৩ আর বেন কাটিং ১৫ রানে বিদায় নেন।

শেষ দিকে নোমান ওঝা ১১ বলে ১১ আর বিপুল শর্মা ১৪ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকলেও দলকে জেতাতে পারেননি।

কলকাতার হয়ে দুটি উইকেট নেন ক্রিস ওকস। একটি করে উইকেট দখল করেন ট্রেন্ট বোল্ট, নারাইন, কুলদীপ ডাদব আর ইউসুফ পাঠান।

গত মৌসুমে ৩ বার মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব-মোস্তাফিজরা। যেখানে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল সাকিবরা। তবে, প্রথম এলিমিনেটরে সাকিবদের হারিয়ে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেয় মোস্তাফিজের হায়দ্রাবাদ।

পাঞ্জাবের বিপক্ষে একাদশে ফিরছেন সাকিব

দলের সঙ্গে ছিলেন শুরু থেকেই। তবে প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি সাকিব। সব ঠিক থাকলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আইপিএলের চলতি আসরে মাঠে ফিরছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই হারের স্বাদ পায় কলকাতা। তাই এ ম্যাচে সাকিবের একাদশে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরতে পারেন পেসার উমেশ যাদব। তবে ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ান ‘হার্ডহিটার’ ক্রিস লিনকে হারিয়ে বড় এক ধাক্কাই খেয়েছে কেকেআর।

পাঞ্জাব শিবিরে কোনো ইনজুরি উদ্বেগ নেই। মোহিত শর্মার জায়গায় ইশান্ত শর্মা বিবেচনায় আসতে পারেন। কিন্তু, নতুন মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচই জেতায় আগের একাদশ অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কলকাতা একাদশ (সম্ভাব্য): গৌতম গম্ভীর (অধিনায়ক), রবিন উথাপ্পা (উইকেটরক্ষক), মানিশ পান্ডে, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, সুরিয়াকুমার যাদাব, ক্রিস উকস, সুনীল নারিন, কুলদিপ যাদব, উমেশ যাদব / পিয়ুস চাওলা, ট্রেন্ট বোল্ট।

পাঞ্জাব একাদশ (সম্ভাব্য): হাশিম আমলা, মানান ভোহরা, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অধিনায়ক), ডেভিড মিলার, মার্কাস স্টয়নিস, আক্সার প্যাটেল, মোহিত শর্মা, সন্দীপ শর্মা, বরুন অ্যারন, থাঙ্গারাসু নাতারাজন।

‘আইপিএলে মালিঙ্গার মতোই গুরুত্বপূর্ণ মোস্তাফিজ’

ছিলেন দীর্ঘ ইনজুরিতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ফেরেন। ফেরাটা অবশ্য খুব একটা সুখকর হয়নি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হন। শততম টেস্ট ম্যাচে আলো ছড়ান। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও নামের প্রতি সুবিচার করেন। ওই ম্যাচে চারটি উইকেট লাভ করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

লঙ্কা সফর শেষে দলের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন কাটার। অপেক্ষায় ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ছাড়পত্র পাওয়ার। সেটা পেয়েই গতকাল মঙ্গলবার যান ভারতে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের আজকের (বুধবার) ম্যাচ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে মোস্তাফিজকে নিয়ে কথা বলেন ভারতের সাবেক পেসার অজিত আগারকার।

মোস্তাফিজের প্রশংসা করেন আগারকার। গত মৌসুমে যেভাবে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেছেন মোস্তাফিজ, তা তো আর ভোলার নয়। কাটার মাস্টারের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আইপিএলে যেমন লাসিথ মালিঙ্গার গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি হায়দরাবাদের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ। সুনিল নারিনকেও একইভাবে দেখবেন। এরা টি-টোয়েন্টির জন্য পারফেক্ট।’

মোস্তাফিজ হায়দারাবাদে যোগ দেয়ায় চ্যাম্পিয়নরা আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেটাই বললেন আগারকার, ‘বলের বৈচিত্র্য, ধারাবাহিকতা, নতুন বলে ভালো করা, রান কম দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে মোস্তাফিজ। উইকেটও তুলে নিতে পারে। মোস্তাফিজ হায়দরাবাদে যোগ দেয়ায় দল আরও শক্তিশালী হলো। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে আরও ভালো করবে তারা।’

এদিকে হায়দরাবাদে যোগ দেয়ার পর আজই মাঠে নেমেছেন মোস্তাফিজ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে আছেন চ্যাম্পিয়ন দলটির একাদশে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করছে মোস্তাফিজের দল হায়দরাবাদ।

প্রসঙ্গত, প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেন মোস্তাফিজুর রহমান। নবম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। কাটার-স্লোয়ার-ইয়র্কারের সংমিশ্রণে দুর্দান্ত বোলিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন।

১৬ ম্যাচে ২৪.৭৬ গড়ে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। আর তাতেই প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হায়দরাবাদ। গত মৌসুমে নিজেকে প্রমাণ করায় কাটার মাস্টারকে রেখে দিয়েছে হায়দরাবাদ।

দিল্লিতে বাংলাদেশি প্রতিবন্ধীদের প্রথম জয়

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যকার তিন ম্যাচ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলকে ৮১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

IFrame

বুধবার দিল্লির আরডি রাজপাল স্কুল মাঠে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ২৫২ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে শারীরিক প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম ৪৮ বল খেলে ১১টি ছক্কা ও ২০টি চারের সাহায্যে ১৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ১৫ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৭০ রান করতে সক্ষম হয় ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ড্রীম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন ও ভারতের প্যারা স্পোর্টস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সিরিজের আয়োজন করেছে। গত ১০ এপ্রিল ক্রিকেট সিরিজ খেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত যায় বাংলাদেশ এর হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

বার্সাকে হারিয়ে সেমির পথে জুভেন্টাস

শেষ কয়েক বছর ধরেই একক প্রাধান্য বিস্তার করে ইতালিয়ান লিগের শিরোপা নিজেদের করে নিলেও ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল জুভেন্টাস। দুই বছর আগে ফাইনালে উঠলেও বার্সার কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় দলটির। তাই এবার শেষ আটের লড়াইয়ে সুযোগ ছিল প্রতিশোধের। আর সুযোগটা ভালো মতই কাজে লাগাল তুরিনোর দলটি। আর্জেন্টাইন তারকা দিবালার জোড়া গোলে ঘরের মাঠে বার্সাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শেষ চারের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল ইতালির পরাশক্তিরা।

মঙ্গলবার রাতে তুরিনোতে ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সা শিবিরে আক্রমণ করে খেলতে থাকে জুভেন্টাস। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে গোলের সুযোগও পায় ইতালির দলটি। তবে হিগুয়াইনের হেড সোজা যায় বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের কাছে। এর চার মিনিট পর স্বাগতিকদের লিড এনে দেন আর্জেন্টাইন তারকা দিবালা। ডান দিক থেকে হুয়ান কুদ্রাদোর বাড়ানো বলে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান দিবালা।

messi

ম্যাচের ২১ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বার্সা। তবে চার ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে মেসির জাদুকরী পাস থেকে বল পেয়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ইনিয়েস্তার নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ফেরান ৩৯ বছর বয়সী জানলুইজি বুফ্ন। পরের মিনিটে আবার দিবালার যাদু। বাঁ দিক থেকে মারিও মানজুকিচের বাড়ানো বলে বাঁকানো শটে বাঁ পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন এই তারকা।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধানোর লক্ষ্যে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় তুরিনোর দলটি। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে হিগুয়াইনের দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান টের স্টেগেন। পরের মিনিটে আবারো হিগুয়াইনকে হতাশ করেন বার্সার এই গোলরক্ষক। তবে ৫৫ মিনিটে আর পারেননি। কর্নার থেকে উড়ন্ত বলে মাসচেরানোকে ফাঁকি দিয়ে  হেডে বল জালে জড়ান জর্জো কিয়েল্লিনি।

messi

শেষ দিকে অন্তত মূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়ে বার্সেলোনা। তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মাত্র দুটি গোল খাওয়া জুভেন্টাসের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি মেসি, নেইমার, সুয়ারেজরা।

এদিকে এখনো শেষ হয়নি বার্সার শেষ চারের আশা। শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারিসে ৪-০ গোলের হারের পর ঘরের মাঠে ৫-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে ওঠার ইতিহাস গড়া বার্সেলোনা কি পারবে আবার সেই রূপকথার জন্মদিতে, তা সময়ই বলে দিবে।

সাকিব-ইমরুলের নতুন জুটি সাকিব’স ৭৫

দুইজনই বাঁহাতি। মিল বলতে গেলে এটুকুই। একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান, আরেকজন মিডেল অর্ডারে ব্যাট করার পাশাপাশি বল হাতেও দেশ সেরা স্পিনার। তবে মাঠের বাইরে দুইজনই ভালো বন্ধু। ইমরুল কায়েস ও সাকিব আল হাসান এবার দুইজন মিলে বাণিজ্যে নামছেন। রাজধানীর মিরপুরে সাকিব’স ৭৫ নামে নতুন রেস্টুরেন্ট খুলেছেন এ দুই তারকা ক্রিকেটার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাকিব’স ৭৫-এ তারকাদের ঢল নামে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মান, নুরুল হাসান সোহান, তাইজুল ইসলাম, এনামুল হক বিজয়ের মতো খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেক কেটে সাকিব’স ৭৫ এর উদ্বোধন করা হয়।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলার কারণে এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি সাকিব। তবে মুঠোফোনে খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান অংশীদার ইমরুল কায়েস। তবে সাকিবের প্রতিনিধি হিসেবে এ সময় কন্যা আউব্রেকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির।

ইমরুল কায়েস রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নতুন হলেও অনেক আগে থেকেই জড়িত আছেন সাকিব। বনানীতে সাকিব’স ডাইন নামে রেস্টুরেন্ট খুলেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সাকিব’স।

প্রিমিয়ার লিগের অধিনায়ক ও বিদেশিরা

সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে। আর এ বছরে অধিনায়কত্ব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা হচ্ছে না তামিম ইকবালেরও। তাই আগামীকাল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে প্রথম দিনে কোন দলের নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো কোন দলে কে নেতৃত্বে থাকছেন পাশাপাশি কোন বিদেশিরা খেলছেন।

তামিম ইকবাল মোহামেডানে চলে যাওয়ায় অধিনায়ক নিয়ে ভাবতে হয় আবাহনীকে। তার পরিবর্তে দলটি ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফরমার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই বেছে নিয়েছেন। বিদেশি খেলোয়াড় কোটায় গতবার খেলে যাওয়া ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান উদয় কাউলের উপর আস্থা রেখেছে দলটি। আর মোহামেডানে নিয়মিত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তামিম। তবে প্রথম ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তার পরিবর্তে দলটির নেতৃত্ব দেবেন রকিবুল হাসান। মোহামেডানে বিদেশি খেলোয়াড় কোটায় খেলবেন আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার রহমত শাহ।

বাংলাদেশ দলের দুই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মুশফিকুর রহীম একই দলে খেলায় অনেকেই ভেবেছিলেন দলটির নেতৃত্ব দেবেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। তবে শেষ পর্যন্ত দলটির দায়িত্ব পেয়েছেন মুশফিক। মাশরাফির অনুরোধেই অধিনায়ক হয়েছেন মুশফিক।

গতবারের রানার্স আপ প্রাইম দোলেশ্বর আস্থা রেখেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পারফরমার ফরহাদ রেজার উপর। আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান পুনিত সিং। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের নেতৃত্বে আছেন নাসির হোসেন আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে কাশ্মীর থেকে উড়িয়ে এনেছেন পারভেজ রসুলকে।

অভিজ্ঞ তুষার ইমরানকে অধিনায়ক ঘোষণা করেছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে এনেছে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে। প্রাইম ব্যাংকের অধিনায়ক হয়েছেন তরুণ সাব্বির রহমান। আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এবারও খেলবেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান উম্মুখ চাঁদ।

ব্রাদার্স ইউনিয়ন বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দলে নিয়েছেন ভারতীয় অভিষেক নায়ারকে। খেলাঘরের অধিনায়ক নাফিস ইকবাল। পারটেক্সের অধিনায়ক তরুণ তারিক আহমেদ রুবেন। আর বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এসেছেন ভারতীয় জসপাল সিং।

মাত্র ৪ বলে ৯২ রান, তাও আবার ঢাকার ক্রিকেটে!

এ এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। ঢাকার ক্রিকেটে মাত্র ৪ বলেই হলো ৯২ রান। তাও কী চিন্তা করা যায়! বাস্তবেই ঘটেছে এমন ঘটনা এবং আজই। দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ঘটেছে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা। মাত্র ৪ বল খেলেই ৯২ রান তুলে জয় তুলে নেয় এক্সিউম। এই চার বলের মধ্যে অতিরিক্ত থেকেই এসেছে ৮০ রান।

মূলতঃ বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে লালমাটিয়া। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৪ ওভারে ৮৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল লালমাটিয়া।

score

এরপর বোলিং করতে নেমে সুজন মাহমুদ বৈধ বল করেছেন ৪টি। এর মধ্যে ৮০ রান দিয়েছেন অতিরিক্ত থেকে। যার ৬৫টি ওয়াইড বল এবং বাকি ১৫টি নো বল। ক্রিকেটের রেকর্ড বুকে এমন অদ্ভূতুড়ে ঘটনা আর দ্বিতীয়টি নেই। দেশের তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও এমন নজির নেই!

পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক সাকিব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সফরের পর মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসরে পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক হচ্ছেন ‘মিস্টার সেভেনটি ফাইভ’। বর্তমানে তিনি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ দলকে ২৭ টি-২০তে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বাধিক ৯ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন মাশরাফি। তার উত্তরসূরি হিসেবে দলের দায়িত্ব দেওয়ার মতো রয়েছেন, তামিম, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটার।

তবে দ্রুতই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) কলম্বোয় খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান জাতীয় দলের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সংবাদভিত্তিক কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে বিসিবি সভাপতির বরাতে ইতোমধ্যে এ সংবাদ প্রচার হচ্ছে।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, (ফাইল ছবি)সাকিব আল হাসান এর আগে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক থাকাকালে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৪ ম্যাচে। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ওই চার ম্যাচের কোনোটিতেই অবশ্য জিততে পারেনি টাইগাররা।

সাকিব টেস্ট-ওয়ানডের মতো ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ভার্সনেও নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৮ ম্যাচে তার রান ১১৭০, আর উইকেট সংগ্রহ ৬৭।

দিন বদলের অধিনায়ক মাশরাফি

যদি জিজ্ঞেস করা হয় বাংলাদেশকে হঠাৎ এভাবে কে বদলে দিল? কার হাত ধরে লাল-সবুজের ক্রিকেট আজ এমন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে? পরাশক্তি দলগুলোর চোখে চোখ রেখে এ দেশের ক্রিকেটারদের মোকাবেলা করার সাহস কে যুগিয়েছেন? সবাই একবাক্যে বলবেন মাশরাফি।

হ্যাঁ, সত্যিই তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক বীর। যিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আজ শ্রেষ্ঠত্বের তকমা এনে দিয়েছেন। যার অনুপ্রেরণায় উজ্জিবীত হয় গোটা দল। যার সম্মোহনি শক্তিতে জেগে উঠে শুধু দলই নয় গোটা দেশও।

শুরুটা হয়েছিল ২০১৪ সালে। বাংলাদেশের ক্রিকেট যখন হারের দুঃসহ এক একটি যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল। ঠিক তখনই বছরটি শেষের দিকে রঙিন পোশাকে অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় মাশরাফির কাঁধে। এটা অবশ্য নভেম্বরে।

তার আগে আমরা ওই বছরে বাংলাদশের হারের চিত্রটা একটু দেখে নেই। যেহেতু মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনা সেহেতু এটা শুধুই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির কথাই বলছি।

বছরটির শুরুতেই (ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সফরে আসে শ্রীলঙ্কা। সিরিজে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সহ দুই ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। পরের মাসেই ঘরের মাটিতে বসলো টি-২০ বিশ্বকাপের আসর যেখানে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল আয়োজক দেশটি।

একই বছর জুনে ভারত বাংলাদেশ সফরে এসে ২-০ সিরিজ হারায় টাইগারদের। আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েও তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে ৩-০তে হারে সফরকারীরা।

অবস্থা যখন এমন ভঙ্গুর ও নড়বড়ে ঠিক তখন নভেম্বর মাসে মুশফিককে সরিয়ে ওয়ানডে ও টি-২০ ফরম্যাটের অধিনায়কের দায়িত্ব পান ম্যাশ। তার বীরোচিত প্রত্যাবর্তনে শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরেকটি স্বর্নালি অধ্যায়ের, যা শুধুই দাপুটে এক একটি জয়ের চাদরে মোড়া।

মাশরাফি দায়িত্ব নেয়ার মাসেই বাংলাদেশ সফরে এসে ৫-০ হোয়াইটওয়াশ হল সফরকারী জিম্বাবুয়ে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বসলো বিশ্বকাপের আসর। সেখানেও এক গৌরবের অধ্যায় রচনা করলেন ম্যাশ। প্রথমবারের মত দলকে নিয়ে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। সে বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে আবার এলো পাকিস্তান।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর ক্রিকেটের কোন ফরম্যোটে আর একটিও জয়ের দেখা না পাওয়া বাংলাদেশ ওই সিরিজে পাকিস্তানকে ওয়াডেতে দিল ৩-০তে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। একমাত্র টি-২০ও শহীদ আফ্রিদিদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়লো টাইগাররা।

এরপর জুনে শক্তিশালী ভারতকে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ হারিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ।

বাদ যায়নি পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকাও। জুলাইয়ে সফকারীদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ২-১ এ সিরিজে জয়ের অমরগাঁথা রচনা করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর এর সব কিছুই এসেছে ওই মাশরাফির নেতৃত্বে।

পরের বছর বাংলাদেশে বসলো এশিয়া কাপের আসর। যেখানেও তার বলিষ্ট নেতৃত্ব ভক্তদের আপ্লুত করলো। কেননা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। লাল-সবুজের ক্রিকেটের এই গৌরবটিও এলো মাশরাফির যোগ্য নেতৃত্বেই।

সঙ্গত কারণেই তাকে দিন বদলের অধিনায়ক তকমা দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম।‘বাংলাদেশ ক্রিকেট আজকের যে অবস্থানে এসেছে সেখানে মাশরাফির অবদান অনেক। তার সমতুল্য খেলোয়াড় আমি আজ অবদি বাংলাদেশ ক্রিকেটে দেখিনি। তাকে পূরণ করা বাংলাদেশদলের পক্ষে সহজ হবে না। ওর মতো খেলোয়াড় এক যুগে একটার বেশি আসে না। তার থেকে যা চেয়েছি তার থেকে বেশি পেয়েছি। সে যেভাবে জুনিয়র ক্রিকেটারদের ইনকারেজ করছে সেটা অভাবনীয়। অতীতে কিন্তু আমাদের ড্রেসিং রুমে এরকম পরিবেশ ছিলো না। সে যে শারিরীক অবস্থা নিয়ে মাঠে থাকে আমি মনে করি না বিশ্বের অন্য কোনো স্পোর্টসম্যান এটা করত’।

বাংলাদেশের জার্সিতে গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে উইকেট মাশরাফির। টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটেরও মালিক তিনি। বাংলাদেশ টি-২০তে সবচাইতে বেশি (৯ টি) জিতেছে মাশরাফির নেতৃত্বে। আবার সবচেয়ে বেশি (১৭টি) হারও তার হাত ধরেই এসেছে।  টি-২০তে বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে মাশরাফিই সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন (২৮টি)।

বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে টি-২০তে চতুর্থ সর্বোচ্চ ছক্কার অধিকারী কিন্তু তিনিই (২৩টি)। সবচাইতে বেশি ২৯টির মালিক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দ্বিতীয় তামিম (২৮) ও তৃতীয় সাকিব (২৭টি)।

টি-২০তে উইকেট দখলের দিক থেকে তিনে মাশরাফি (৪১টি)। ৪৪টি নিয়ে দুইয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও ৬৭টি উইকেট থলিতে পুড়ে শীর্ষে সাকিব আল হাসান। শুধু বলেই নয়, ব্যাট হাতেও তিনি কতটা বিষ্ফোরক ছিলেন তার প্রমান দিতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। বাংলাদেশে ১০টির বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে সবাচাইতে ভাল স্ট্রাইক রেট ম্যাশরাফির। ৫৩ ম্যাচে তিনি রান তুলেছেন ১৩৬.৫৯ স্ট্রাইকরেটে।

সেই মাশরাফিই টি-২০কে বিদায় জানিয়ে দিলেন! কাজটি কতটা আগে হয়েছে, কতটা ঠিক হয়েছে সেটা অনুধাবন করার সক্ষমতা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ম্যানেজমেন্টের হয়তো নেই। থাকলে এ দেশের ক্রিকেটের বর্তমান উন্নয়নের ধারার কথা বিবেচনা করে তাকেই রাখা হতো। অথবা তাকে বিদায় জানানোর কাজটি আরও সুন্দর হতে পারতো। যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাকে টি-২০ ছাড়া করা হল, সেটা দুঃখজনক।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে মিসবাহ’র অবসর

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে আগেই ছেড়েছেন, এবার পাকিস্তান টেস্ট দল থেকেও অবসরের ঘোষণা দিলেন দলটির অধিনায়ক হিসেবে থাকা মিসবাহ-উল-হক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষেই জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন তিনি।

সম্প্রতি পাকিস্তান দলে মিসবাহ’র খেলা, না খেলা নিয়ে বেশ নাটকীয়তা তৈরি হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন ১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়া অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান।

বুধবারই ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইসডেনে মর্যাদাপূর্ণ পাঁচজন ক্রিকেটারের মধ্যে নিজের নাম লেখান ৪২ বছর বয়সী মিসবাহ। যেখানে সম্প্রতি তার টেস্ট খেলা নিয়ে সুবিবেচনা করা হয়। অথচ ‍তার অধীনেই প্রথমবারের মতো টেস্টে শীর্ষ দল হিসেবে পাকিস্তান পরিচিতি পায়। পরে অবশ্য টানা ছয়টি ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছে।

২০০১ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের মধ্যদিয়ে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল মিসবাহ’র। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে ৪৫.৮৪ গড়ে ৪ হাজার ৯৫১ রান করে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানের তালিকায় সাতে রয়েছেন। তার সেঞ্চুরি আছে ১০টি ও হাফসেঞ্চুরি ৩৬টি।

মিসবাহ পাকিস্তানের সবচেয় সফল টেস্ট অধিনায়কও। তার অধীনে ৫৩ ম্যাচের ২৪টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসর নেন তিনি। আর ২০১২ সালে সর্বশেষ টি-২০ খেলেছিলেন।

জয়ের রঙে রঙিন হবে তো মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর, সিরিজে সমতা আনার। কিন্তু সেই বিষয়টি ছাপিয়ে এখন টিম বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জয় উপহার দেয়া। কেননা এই ম্যাচটির পরে টি-২০তে আর তাকে দেখা যাবে না।

এই ম্যাচটির মধ্য দিয়েই দীর্ঘ্য ১০ বছরের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানবেন লাল-সবুজের দাপুটে অধিনায়ক মাশরাফি।

জয় দিয়ে অধিনায়কের শেষ ম্যাচটিকে রঙিন করে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-২তে লঙ্কানদের মুখামুখি হবে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)স্বাগতিক লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজের শুরু থেকেই যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে, তাতে তাদের দাপুটে বললে এতটুকুও কম বলা হবে না। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা জিতলেও দ্বিতীয় ও শততম টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা এনে মোক্ষম জবাব দিয়েছে মুশফিকুর রহিম ও তার দল।

শততম টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা আনার পর তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে ৯০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিল মাশরাফি বিন মর্তুজা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। অবশ্য ওয়ানডে সিরিজের শেষ পর্যন্ত এই দাপট ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। দ্বিতীয়টি বৃষ্টিতে ভসে যাওয়ার পর তৃতীয়টি হেরে গেল ৭০ রানে। ফলে  ওয়ানডে সিরিজ শেষ করলো ১-১ সমতা নিয়ে।

ওয়ানডে সমতা নিয়ে শেষ করলেও শেষে টি-২০তে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার শক্তিমত্তার সামনে বাংলাদেশ কতটা ভাল করতে পারবে সেটা নিয়ে সংশয় থাকলেও সফরকারীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সেই শঙ্কা অনেকাংশেই দূর করতে সক্ষম হয়েছে।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৫৫ রান করেও টাইগারদের লড়াইটা ছিল কাঁধে কাঁধেই। আর ২০ রান হলে হয়তো জয়ের শেষ হাসিটা মাশরাফিরাই হাসতে পারতেন।

বুধবার (৫ এপ্রিল) ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈতকও তাই বলেছেন। তবে আর পেছনে তাকাতে চাইছেন না তিনি। বরং চাইছেন দ্বিতীয় ম্যাচে জয় নিয়ে সিরিজে সমতা আনতে। ‘প্রথম ম্যাচ হারের পর তো বলতে পারছি না, জিতবো।  ড্র ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। আমাদের সামনে একটাই ম্যাচ সেটায় জিতে সিরিজ ড্র করার চেষ্টা করবো।’

এ কথা ঠিক এই ম্যাচটি জিতলেই সিরিজে সমতা আনতে পারবে টাইগাররা। কিন্তু লঙ্কান শিবেরে চিত্র আবার সম্পূর্ণই উল্টো। কেননা, এই ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশের সাথে চলতি সিরিজে প্রথম কোন সিরিজ জয় করতে পারবে।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)সেই লক্ষ্যে লঙ্কানরা সফল হলে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচটি হয়তো জয়ের রাঙিয়ে রাখতে পারবেন না সতীর্থরা। কিন্তু মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে এদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমীর চোখ যে এদিন তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে সেকথা বলার আর অপেক্ষা থাকছে কই?

ভক্তদের এমন ভালবাসা কি জয়ের রঙের চাইতে কোন অংশে কম?

বাংলাদেশের বিপক্ষে লঙ্কান টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। রোববার রাতে ঘোষিত দলে ফিরেছেন স্পিন অলরাউন্ডার শেহান জয়াসুরিয়া, পেস অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা ও ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা।

চোটের কারণে ওয়ানডে থেকে ছিটকে যাওয়া কুশল পেরেরাকেও দলে রাখা হয়েছে। তবে ফিটনেস টেস্টে ব্যর্থ হলে তার জায়গায় দলে ঢুকবেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অভিষেক হওয়া সানদুন বীরাকোডি।

ওয়ানডে সিরিজের সেঞ্চুরিয়ান কুশল মেন্ডিসের অবশ্য টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হয়নি। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় অনুমিতভাবে টি-টোয়েন্টি দলেও নেই অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তার অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতেও দলকে নেতৃত্ব দেবেন উপুল থারাঙ্গা।

আগামী ৪ এপ্রিল কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। একই মাঠে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি ৬ এপ্রিল।

শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দল: উপুল থারাঙ্গা, দিলশান মুনাবীরা, দানুশকা গুনাথিলাকা, কুশল পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গা, ইসুরু উদানা, নুয়ান কুলাসেকারা, দাসুন শানাকা, বিকুম সঞ্জয়া, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা, আসেলা গুনারত্নে, সিকুগে প্রসন্ন, চামারা কাপুগেদারা, থিসারা পেরেরা, লাকশান সান্দাকান, শেহান জয়াসুরিয়া।

স্ট্যান্ড বাই: সানদুন বীরাকোডি।

শুভ জন্মদিন তাসকিন

তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের অন্যতম পেস বোলার। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী এই বোলার নিয়মিত ১৪০ কি.মি. গতিতে বল করতে পারেন। ওয়ানডেতে দেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের স্বাদ। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনে আত্মীয়-স্বপজন ও ভক্তদের শুভেচ্ছায় উদ্ভাসিত এই তরুণ পেসার।

১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মাদপুরে জন্ম নেন তাসকিন। অক্টোবর ২০১১ সালে ঢাকা মেট্রোপলিসের হয়ে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে তাসকিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সৃষ্টি তিনি। ২০১৪ সালের ১৭ জুন ভারতের বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়। অভিষেকেই ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। একই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় এই তারকার। আর চলতি বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় এই তারকার।

এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েতে হয় বাংলাদেশ দলের এই অন্যতম পেস বোলারকে। তবে পরীক্ষা দিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম ভরসা। আর এখন অনেক দূর এগিয়ে যাবেন তাসকিন আহমেদ জন্মদিনে সেই প্রত্যাশাই সবার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তৃতীয় ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পোর্ট অব স্পেনে কাল চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না ক্যারিবীয়রা। স্বাগতিকদের ৭ উইকেটে হারিয়ে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। আগের ম্যাচে ৪৫ বলে ৯১ রান করা এভিন লুইসকে এদিন ঝড় তোলার আগেই বিদায় করেন ইমাদ ওয়াসিম। ৮ বলে ৭ রান করে বাঁহাতি স্পিনারের বলে হাসান আলীকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্যারিবীয় ওপেনার।

এরপর পাকিস্তানের বোলারদের তোপে পড়ে একটা পর্যায়ে ৮৩ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে একশ’র আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে অষ্টম উইকেটে সুনীল নারিনের সঙ্গে অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেটের ৩৮ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১২৪ রান করতে পারে স্বাগতিকরা। তাদের ইনিংসে ৬৬ বলই ছিল ডট! যার মধ্যে ৮টি উইকেট।

২৪ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রাফেট। সর্বোচ্চ ৪১ রান অবশ্য চাঁদউইক ওয়ালটনের। এ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল মারলন স্যামুয়েলস (২২)।

৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে দুটি মেডেনসহ ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার হাসান আলী। নিজের টানা দুই ওভারে কোনো রান না দিয়ে উইকেট দুটি নেন ২৩ বছর বয়সি এই পেসার। লেগ স্পিনার শাদাব খানও ২ উইকেট নেন ১৬ রানে।

জবাবে আহমেদ শেহজাদের ৫৩ (৪৫ বলে ৬ চার ও এক ছক্কা) ও বাবর আজমের ৩৮ রানের সুবাদে ১২৫ রানের লক্ষ্যটা ৬ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। কামরান আকমল করেন ২০ রান।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান আলী। চার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন শাদাব খান।

৭ এপ্রিল ভারত যাচ্ছেন মুস্তাফিজ!

৫ এপ্রিল মাঠে গড়াবে আইপিএলের দশম আসর। এবারও সানরাইজার্স হায়দরাবাদেই আছেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন কাটার মাস্টার। তার উপর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। ৬ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ খেলার আগে ছাড়পত্র পেলে ৭ এপ্রিল সানরাইজার্স শিবিরে যোগ দিবেন মুস্তাফিজুর রহমান। হিন্দুস্থান টাইমসকে এমনটাই জানিয়েছেন হায়দরাবাদের কোচ টম মুডি।

তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা প্রত্যাশা করছি যে সে আমাদের হয়ে খেলতে আসবে। যদিও এখনো আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাইনি। তবে আশা করছি ৭ এপ্রিলের মধ্যে আমরা তাকে দলে পাব। যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু শুনতে না হয়। তবে আমরা তাকে পাওয়ার আশা ছাড়ছি না।’

আইপিএলের উদ্বোধনী দিনে সানরাইজার্স হায়দরাাবাদ নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। এই ম্যাচে অবশ্য মুস্তাফিজ খেলতে পারছেন না।

শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার কোনো চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুডি বলেন, ‘আমার জন্য এটা আরেকটি নতুন অধ্যয়। আসলে নতুন বই। সুতরাং গেল বছরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই।’ ডেভিড ওয়ার্নারের ইনজুরির বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গুঞ্জন চলছে। ওয়ার্নারের ইনজুরির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে মুডি বলেন, ‘ওয়ার্নার শতভাগ ফিট রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে সে তার পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাচ্ছে। শিগগিরই সে দলে যোগ দিবে।’

সাকিবের ফিফটি

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ৯৮/৪

ধৈর্য হারানোর মাশুল দিলেন সৌম্য: উইকেটে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। দারুণ সব শটও খেলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ধৈর্য হারালেন সৌম্য সরকার। লঙ্কান স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরার অফ স্টাম্পে করা ফ্লাট বল ডাউনে দ্য উইকেটে এসে খেলতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু বলের লাইন মিস করলেন। সহজ স্টাম্পিং করতে কোনো ভুল হয়নি দিনেশ চান্দিমালের। ৪৪ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় সৌম্য করেন ৩৮। সৌম্যর বিদায়ে ভাঙে সাকিবের সঙ্গে তার ৭৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৮৮।

সৌম্য-সাকিব জুটির পঞ্চাশ: ১১ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা সাকিব থিসারা পেরেরার বলে চার মেরে পূর্ণ করেন জুটির পঞ্চাশ। তখন সৌম্যর রান ৩২, সাকিবের ২২। আর বাংলাদেশের ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৪।

মুশফিকের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ: প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই আউট হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান। এমন সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে ভরসা দিতে পারেননি মুশফিকুর রহিমও। সুরঙ্গা লাকমালের বলে মুশফিক হয়েছেন এলবিডব্লিউ, মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। তখন ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ।

জোড়া ধাক্কায় শুরু: নুয়ান কুলাসেকারার আগের ওভারের শেষ বলে ফিরে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। লঙ্কান পেসারের পরের ওভারে ফেরেন সাব্বির রহমানও। জোড়া ধাক্কায় ব্যাটিং শুরু বাংলাদেশের। দিনেশ চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে সাব্বির মেরেছেন ডাক। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০।

শুরুতেই ফিরলেন তামিম: রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই আউট হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল। সে সময় হয়েছিল কিছুটা নাটকও। তামিমের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে উদযাপনের জন্য বল ছুড়তে গিয়ে হাত ফসকান নুয়ান কুলাসেরারা। সিদ্ধান্ত যায় তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কুলাসেকারার হাত ফসকানোর আগে নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তামিম আউট ৪ রান করে।

জিততে বাংলাদেশের চাই ২৮১: শ্রীলঙ্কা যেভাবে শুরু করেছিল তাতে মনে হচ্ছিল, সংগ্রহটা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু মাঝে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে ঝড় তুললেন থিসারা পেরেরা, তাতে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়াল ৯ উইকেটে ২৮০। ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৮১।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন কুশল মেন্ডিস। ৪০ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন পেরেরা। এ ছাড়া দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ৩৫ ও দানুশকা গুনাথিলাকা করেন ৩৪। ৬৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার অধিনায়ক মাশরাফি। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

সৌম্য-সাকিবে প্রতিরোধ

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

 কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১১ ওভারে ৬৭/৩

সৌম্য-সাকিব জুটির পঞ্চাশ: ১১ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা সাকিব থিসারা পেরেরার বলে চার মেরে পূর্ণ করেন জুটির পঞ্চাশ। তখন সৌম্যর রান ৩২, সাকিবের ২২। আর বাংলাদেশের ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৪।

অধিনায়কের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ: প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই আউট হয়ে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান। বিপদের সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে ভরসা দিতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। সুরঙ্গা লাকমালের বলে মুশফিক হয়েছেন এলবিডব্লিউ, মেরেছেন ডাক। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। তখন ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ।

জোড়া ধাক্কায় শুরু: নুয়ান কুলাসেকারার আগের ওভারের শেষ বলে ফিরে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। লঙ্কান পেসারের পরের ওভারে ফেরেন সাব্বির রহমানও। জোড়া ধাক্কায় ব্যাটিং শুরু বাংলাদেশের। দিনেশ চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে সাব্বির মেরেছেন ডাক। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০।

শুরুতেই ফিরলেন তামিম: রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই আউট হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল। সে সময় হয়েছিল কিছুটা নাটকও। তামিমের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে উদযাপনের জন্য বল ছুড়তে গিয়ে হাত ফসকান নুয়ান কুলাসেরারা। সিদ্ধান্ত যায় তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কুলাসেকারার হাত ফসকানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে ছিল। তামিম আউট ৪ রান করে।

জিততে বাংলাদেশের চাই ২৮১: শ্রীলঙ্কা যেভাবে শুরু করেছিল তাতে মনে হচ্ছিল, সংগ্রহটা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু মাঝে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে ঝড় তুললেন থিসারা পেরেরা, তাতে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়াল ৯ উইকেটে ২৮০। ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৮১।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন কুশল মেন্ডিস। ৪০ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন পেরেরা। এ ছাড়া দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ৩৫ ও দানুশকা গুনাথিলাকা করেন ৩৪। ৬৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার অধিনায়ক মাশরাফি। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১১ ওভারে ৬৭/৩

সৌম্য-সাকিব জুটির পঞ্চাশ: ১১ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা সাকিব থিসারা পেরেরার বলে চার মেরে পূর্ণ করেন জুটির পঞ্চাশ। তখন সৌম্যর রান ৩২, সাকিবের ২২। আর বাংলাদেশের ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৪।

অধিনায়কের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ: প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই আউট হয়ে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান। বিপদের সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে ভরসা দিতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। সুরঙ্গা লাকমালের বলে মুশফিক হয়েছেন এলবিডব্লিউ, মেরেছেন ডাক। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। তখন ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ।

জোড়া ধাক্কায় শুরু: নুয়ান কুলাসেকারার আগের ওভারের শেষ বলে ফিরে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। লঙ্কান পেসারের পরের ওভারে ফেরেন সাব্বির রহমানও। জোড়া ধাক্কায় ব্যাটিং শুরু বাংলাদেশের। দিনেশ চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে সাব্বির মেরেছেন ডাক। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০।

শুরুতেই ফিরলেন তামিম: রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই আউট হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল। সে সময় হয়েছিল কিছুটা নাটকও। তামিমের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে উদযাপনের জন্য বল ছুড়তে গিয়ে হাত ফসকান নুয়ান কুলাসেরারা। সিদ্ধান্ত যায় তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কুলাসেকারার হাত ফসকানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে ছিল। তামিম আউট ৪ রান করে।

জিততে বাংলাদেশের চাই ২৮১: শ্রীলঙ্কা যেভাবে শুরু করেছিল তাতে মনে হচ্ছিল, সংগ্রহটা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু মাঝে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে ঝড় তুললেন থিসারা পেরেরা, তাতে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়াল ৯ উইকেটে ২৮০। ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৮১।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন কুশল মেন্ডিস। ৪০ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন পেরেরা। এ ছাড়া দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ৩৫ ও দানুশকা গুনাথিলাকা করেন ৩৪। ৬৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার অধিনায়ক মাশরাফি। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

বাংলাদেশের সামনে ২৮১ রানের লক্ষ্য

এক সময়ে বাংলাদেশের সামনে শঙ্কা ছিল তিনশ ছাড়ানো রানের লক্ষ্য পাওয়ার। বোলারদের চমৎকার বোলিংয়ে তত দূর যেতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। নিয়মিত উইকেট পতনের মধ্যেও শেষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকদের লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন থিসারা পেরেরা।

তৃতীয় ওয়ানডেতে উপুল থারাঙ্গা-দানুশকা গুনাথিলাকার ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পাওয়া শ্রীলঙ্কাকে মাঝের ওভারে টানেন কুসল মেন্ডিস। সিরিজে থিসারার দ্বিতীয় অর্ধশতকে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৮০ রান করে শ্রীলঙ্কা।

সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠ বা এসএসসিতে এরচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে কেবল একটি। ১৯৯৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৮২ রানের লক্ষ্যে ৬ বল হাতে রেখে পৌঁছেছিল স্বাগতিকরা।

উইকেটে বোলারদের জন্য খানিকটা সুবিধা আছে, সেটা নিতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ৩৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৯২ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়ানো স্বাগতিকদের তিনশ রানের আগে থামানো সাফল্যই। থিসারাকে দ্রুত ফেরাতে পারলে হয়তো লক্ষ্যটা আরও ছোটো রাখা সম্ভব ছিল।

এসএসসিতে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারাতে পারতো শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় ওভারে গুনাথিলাকার ফিরতি কঠিন ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

টস জিতে আগে বোলিং করার যে সুবিধা অধিনায়ক নিতে চেয়েছিলেন সেটাও হাতছাড়া হয়ে যায় শুরুর এলোমেলো বোলিংয়ে। ঠিক লাইন-লেংথে বল না করার সুবিধা পুরোপুরি উঠিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। থারাঙ্গা-গুনাথিলাকার ব্যাটে ১০ ওভারে উঠে ৭৬ রান।

দুই বাঁহাতির জমে উঠা উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তরুণ অফ স্পিনারের ফ্লাইটে বিভ্রান্ত হয়ে কাভার মাহমুদউল্লাহকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৫ রানে জীবন পাওয়া গুনাথিলাকা। এরপর বেশিদূর যাননি অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা। তাসকিন আহমেদের দারুণ এক বলে এলোমেলো হয়ে যায় তার স্টাম্পস।

ভালো সূচনা পাওয়ার সুবিধা কাজে লাগান দিনেশ চান্দিমাল ও মেন্ডিস। একদমই তাড়াহুড়া করেননি তারা। অপেক্ষা করেছেন বাজে বলের জন্য, প্রান্ত বদল করে সচল রেখেছেন রানের চাকা। দুই জনের ব্যাটে বড় জুটির আভাস, তখনই অবাক করা এক রান আউটে ফিরেন চান্দিমাল।

তাসকিনের থ্রো পেয়ে মুশফিকুর রহিম স্টাম্প ভাঙার সময় ক্রিজের ভেতরেই ছিলেন চান্দিমাল। কিন্তু বেলস পড়ার সময় পা ও ব্যাট দুটোই ছিল উঁচুতে। আউট হওয়ার পর বিশ্বাসই হচ্ছিল না লঙ্কান ব্যাটসম্যানের।

বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোম চৌধুরীর থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন মিলিন্দা সিরিবর্ধনেও। দুই রান আউটের ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই মেন্ডিসকে হারায় স্বাগতিকরা।

৭ রানেই ফিরতে পারতেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ঠিক মতো থ্রো করতে পারেননি মিরাজ, রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান মেন্ডিস। পরের বলেই সাকিব আল হাসানকে চার হাঁকিয়ে রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন।

মুস্তাফিজের তৃতীয় স্পেলের শেষ বলটি থার্ড ম্যানে খেলতে গিয়ে ঠিক মতো পারেননি মেন্ডিস। ব্যাটের কানা নেওয়া সহজ ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করতে কোনো সমস্যা হয়নি মুশফিকের।

৭৬ বলে ৫৪ রান করার পথে চারটি চার আসে মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। তার বিদায়ের রানের গতিতে খানিকটা ভাটা পড়ে। চাপ কমানোর চেষ্টায় মাশরাফিকে স্লগ করতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেন আসেলা গুনারত্নে।

নুয়ান প্রদিপের জায়গায় দলে আসা সিকুগে প্রসন্ন পারেননি ঝড় তুলতে। মুস্তাফিজের স্লোয়ার উড়াতে গিয়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে।

হঠাৎ দিক হারানো শ্রীলঙ্কার ত্রাতা থিসারা। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ২১ রানে। একটুর জন্য ফিরতি ক্যাচের নাগাল পাননি মুস্তাফিজ। ইনিংসের শেষ ওভারে মাশরাফির বলে ফেরার আগে ৪০ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৫২ রান আসে থিসারার ব্যাট থেকে।

শেষ ওভারে জোড়া উইকেটসহ ৬৫ রানে ৩ উইকেট নেন অধিনায়ক মাশরাফি। প্রথম ৩ ওভারে ২৫ রান দেওয়া মুস্তাফিজ পরে নিজেকে কিছুটা ফিরে পান। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ৫৫ রানে নেন ২ উইকেট।

অফ স্পিনার মিরাজ ১ উইকেট নেন ৪৯ রানে। টানা দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য সাকিব। এই ম্যাচে নিজের প্রথম উইকেটে তাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকার এককভাবে শীর্ষ উঠে আসেন মাশরাফি। ওয়ানডেতে সাকিবের উইকেট ২২১, দেশের হয়ে মাশরাফির উইকেট ২২৪টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৮০/৯ (গুনাথিলাকা ৩৪, থারাঙ্গা ৩৫, মেন্ডিস ৫৪, চান্দিমাল ২১, সিরিবর্ধনা ১২, গুনারত্নে ৩৪, থিসারা ৫২, প্রসন্ন ১, দিলরুয়ান ১৫, কুলাসেকারা ১*, লাকমল ২*; মাশরাফি ৩/৬৫, মুস্তাফিজ ২/৫৫, মিরাজ ১/৪৯, তাসকিন ১/৫০, মাহমুদউল্লাহ ০/৫, সাকিব ০/৪১, মোসাদ্দেক ০/১৩)

‘পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে ভয় পায় ভারত’

অনেক দিনই হয়ে গেল, ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হচ্ছে না। মূলত দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরি সম্পর্কের কারণেই দুদলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ মাঠে গড়াচ্ছে না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চাইলে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ঘটে উল্টোটাও।

সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিসিসিআই। কারও কাছে এটা গুঞ্জন মনে হতে পারে। কিন্তু না। সত্যিই পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি সিরিজ খেলতে চাচ্ছে ভারত।

গতকাল (বুধবার) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস খবর জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্ল্যান (এফটিপি) অনুযায়ী দুবাইতে গিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য ভারতীয় সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে বিসিসিআই। সরকার অনুমতি দিলেই সিরিজ চূড়ান্ত করা হবে।

তার মানে, আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ঠিক তখনই উত্তেজনা বাড়িয়ে দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। জানালেন, হেরে যাওয়ার ভয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে চায় না ভারত।

সামা টিভিকে সরফরাজ বলেন, ‘দেখবেন, পাকিস্তান সব সময়ই ভারতের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহী। আমরা এগিয়ে আসি। তাদের (ভারত) উচিত ইতিবাচক সাড়া দেয়া। ভারত সম্ভবত পাকিস্তানকে ভয় পায়; কারণ হেরে যেতে পারে। এজন্যই আমাদের বিপক্ষে খেলে না।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুই দল মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচে ভারতকে হারানোর হুমকি দিয়ে রাখলেন সরফরাজ। বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ মানেই উত্তেজনা। আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে জিততে চাই। সব দলের বিপক্ষে ভালো খেলা আমাদের লক্ষ্য।’

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর থেকে ক্রিকেট কূটনীতিও আর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে পারেনি। ২০১১ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে দুই দেশের মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে একটা সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল। পাকিস্তান ভারতের মাটিতে এসে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেও গিয়েছিল। তবু নানা কারণে দুই দেশের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার চেয়ে শীতলই হচ্ছে বেশি।

ভালো খেলেই শেষ ম্যাচ জিততে হবে : হাথুরুসিংহে

তিন ম্যাচের সিরিজে এখনো ১-০তে এগিয়ে টাইগাররা। বৃষ্টিতে দ্বিতীয় ম্যাচ ধুয়ে মুছে গেছে। এতে করে অপেক্ষার প্রহর লম্বা হয়েছে। এখন সিরিজ নিজেদের করতে হলে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ভালো খেলেই শেষ ম্যাচ জিততে হবে বাংলাদেশের। এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হাথুরুসিংহে।

তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে বুধবার বিকেলে কলম্বো পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। তাই আজ (বৃহস্পতিবার) ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন। আর অনুশীলন শেষ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাথুরু বলেন, দল হিসেবে সেরাটা খেলেই প্রথম ম্যাচে জিতেছি আমরা। আমাদের ব্যাটিং ছিল দুর্দান্ত। তবে ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কা দুর্দান্ত দল। তাই ভালো খেলেই শেষ ম্যাচ জিততে হবে আমাদের।

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। তাকে সঙ্গ দিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন সাব্বির ও সাকিব। ব্যাটসম্যানদের এমন ধারাবাহিকতার পর ডাম্বুলাতেই দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের আনন্দের মাততে চেয়েছিল টাইগাররা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে থারাঙ্গার হাফ সেঞ্চুরি আর মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩১১ রান তোলে লঙ্কানরা। শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ৩১২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা প্রস্তুত হচ্ছিলেন ব্যাট করতে নামার জন্য। টাইগারদের লক্ষ্য ছিল, সিরিজ জয়; কিন্তু বৃষ্টি সেটা আর হতে দিল না। মাঝে প্রায় ২০-২৫ মিনিট যে মুষলধারে বৃষ্টি পড়েছে, সেটা শেষ পর্যন্ত কমে এলেও পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়ও ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কাছে হার মেনে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

 

এদিকে এ ম্যাচেও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ছিল বলে জানিয়ে টাইগার কোচ বলেন, তিনশোর উপরে চেজ করে ম্যাচ জেতা কঠিন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট ছিল ব্যাটিং বান্ধব। আর আমাদের ব্যাটসম্যানরা ছিল আত্মবিশ্বাসী। তাই ওই ম্যাচও জেতা সম্ভব ছিল।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এটা বলা যায়, বাংলাদেশ আর সিরিজ হারতেছে না। ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতলে সিরিজ হবে ড্র।

 

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৩৪

প্রথম দুই ম্যাচে দুর্দান্ত জয় দিয়ে ঘরের মাঠে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে আগেই। এবার লক্ষ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। আর সেই লক্ষ্যে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে মুমিনুল-নাসিরদের করতে হবে ২৩৪ রান।

কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে বোলিং করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন বাংলাদেশি বোলার সাইফ উদ্দিন ও নাইম হাসান। দলীয় ৪৫ রানেই ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের প্রথম ৪ উইকেট। আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া ইমাম-উল-হক (১৩) ও ইমরান বাটকে (১) ফিরিয়ে জোড়া আঘাত হানেন সাইফ।

এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান (১২) ও জাহিদ আলিকে (০) সাজঘরে ফেরান নাইম হাসান। তবে পঞ্চম উইকেটে হাম্মাদ আজমকে নিয়ে দলের হাল ধরেন হারিস সোহেল। দুইজনে মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে হারিস সোহেলের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। আর শেষ দিকে হুসাইন তালাত ৫৭ রান করলে ২৩৩ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের পক্ষে সাইফ উদ্দিন নেন ৩ উইকেট। এছাড়া নাইম হাসান ও নাসুম আহমেদ নেন ২ টি করে উইকেট।

মোস্তাফিজকে আলাদা ক্লাস হাথুরুর

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঠিক নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মোস্তাফিজ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে দিন গেছে তার। তিন স্পেলে মোট আট ওভার বল করে ৭.৫০ গড়ে দিয়েছেন ৬০ রান। তাই শেষ ওয়ানডেতে নামার আগে কোচ হাথুরুসিংহে ও ওয়ালশের আলাদা ক্লাসে দেখা মিললো কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের।

এর আগে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভার বল করে ৬২ রান দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। ওয়ানডের কোন ম্যাচে মোস্তাফিজের সবচেয়ে বেশি রান দেয়ার রেকর্ডও এতদিন ছিল ওটাই। এছাড়া আগের ১২ ওয়ানডেতে ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান দিয়েছেন মাত্র দুবার। তবে কখনোই সেটি সাতে পৌঁছায়নি। আর এ ম্যাচে সাত ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে শুধু ওভারপ্রতি রানের গড় বেশিই নয়, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারিও যে হজম করতে হয়েছে কাটার মাস্টারকে। সাত বাউন্ডারি আর এক ছক্কা মিলিয়ে মোট আটবার তার বল মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা।

সিরিজের শেষ ম্যাচ জিততে মোস্তাফিজকে ঠিকই জ্বলে উঠতে হবে মোস্তাফিজকে। এটাই সবার চাওয়া। তাই টাইগারদের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে ও বোলিং কোচ ওয়ালশের অধীনে ঐচ্ছিক দিনেও বল করতে দেখা গেল মোস্তাফিজকে। আগের সেই স্লোয়ার, অন কাটার, অফ কাটার ফিরে পেতে নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশের বিস্ময় এই বালক।

 

এদিকে ঐচ্ছিক অনুশীলনে মাশরাফি-সাকিবরা যোগ না দিলেও ঠিক মাঠে গেছেন মুশফিক। মাঠে হাজির হয়েই যথারীতি প্রথমে ব্যাট হাতে অনুশীলনে নেমে পড়েন মুশফিকুর রহীম। বেশ কিছুক্ষণ ব্যাটিং অনুশীলন করার পর উইকেটকিপিং অনুশীলনও করেন টাইগার এই তারকা।

মুশফিক-মোস্তাফিজ ছাড়াও সৌম্যও অনুশীলন করতে এসেছেন। এছাড়া প্রথম দুই ওয়ানডে মাঠে না নামা রুবেল, শুভাশিস, সানজামুল, শুভাগত হোম, নুরুল হাসান সোহান ও ইমরুল কায়েস ঐচ্ছিক অনুশীলনে মাঠে ছিলেন।

ঐচ্ছিক অনুশীলনেও হাজির মুশফিক

মাশরাফি, সাকিব, তামিম ও মাহমুদউল্লাহ- পঞ্চপাণ্ডবের চারজনই আসেননি। আর আসবেনই বা কেন? এটা তো ঐচ্ছিক অনুশীলন। তবে মাঠে ঠিকই হাজির মুশফিক। বরাবরের মতো দারুণ সিরিয়াসও অনুশীলনে।

তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচকে সামনে রেখে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল বাংলাদেশের। আর ঐচ্ছিক অনুশীলন হওয়ায় ছিলেন না সিনিয়র কেউই। তবে যথারীতি সিরিয়াস মুশফিক অনুশীলনে হাজির হয়ে গেলেন ঠিক স্থানীয় সময় ৯.৩০ মিনিটেই।

এদিকে মাঠে হাজির হয়েই যথারীতি প্রথমে ব্যাট হাতে অনুশীলনে নেমে পড়েন মুশফিকুর রহীম। বেশ কিছুক্ষণ ব্যাটিং অনুশীলন করার পর উইকেটকিপিং অনুশীলনও করেন টাইগার এই তারকা।

শেষ ম্যাচের আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিতেই মুশফিকের ঐচ্ছিক অনুশীলনে আসা। মুশফিক ছাড়াও প্রথম দুই ওয়ানডে খেলা মোস্তাফিজ ও সৌম্য অনুশীলন করতে এসেছেন। এছাড়া প্রথম দুই ওয়ানডে মাঠে না নামা রুবেল, শুভাশিস, সানজামুল, শুভাগত হোম, নুরুল হাসান সোহান ও ইমরুল কায়েস ঐচ্ছিক অনুশীলন করতে আসেন।

 

শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় শেষ ম্যাচের দিকে নজর সবার। আর এ ম্যাচে জিতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। আর স্বাগতিক শিবিরের লক্ষয শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতায় ফেরা।

উল্লেখ্য সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। আর ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ১০ টায়।

সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন মাশরাফি

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে কে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী? এই প্রশ্নের উত্তর ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হতে পারে। কখনও মাশরাফি আবার কখনও সাকিব আল হাসান। আসলে কে সেরা?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজ শুরুর আগে সাকিবের উইকেট ছিল ২২০টি। নিঃসন্দেহে সবার ওপরে তিনি। এক উইকেট কম নিয়ে মাশরাফি একেবারে সাকিবের ঘাড়ের ওপরই নিঃশ্বাস ফেলছিলেন।

ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি-সাকিব দুজনই। তবে মাশরাফি দুটি এবং সাকিব পেলেন একটি। ফলালফল দুজনেরই উইকেট হয়ে গেল সমান ২২১টি করে।

একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে আসবেন আরও কিছুক্ষণ পর। টস জিতে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বোলিংয়ে এসে ইনিংসের শুরুটা করলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারটা এমনিই কেটে গেল। দ্বিতীয় ওভারে এসেই তৃতীয় বলে ফিরিয়ে দিলেন ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকাকে। একই সঙ্গে সাকিব আল হাসানকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

তবে এ পরিসংখ্যানই হয়তো মাচের শেষ দিকে উল্টে যেতে পারে। উল্টে দিতে পারেন সাকিব। তিনি যদি দুটি কিংবা তারও অধিক উইকেট নেন এবং মাশরাফি যদি আর উইকেট না পান, তাহলে আবার সাকিবই উঠে যাবেন শীর্ষে।

শুরুতেই গুনাথিলাকে ফেরালেন মাশরাফি

প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বল হাতে বাংলাদেশকে শুভ সূচনা এনে দিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুর্দান্ত এক কাটারে লঙ্কান ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকে সাজঘরে ফেরালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মাশরাফিকে স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মুশফিকুর রহীমের তালুবন্দি হন গুনাথিলা। ১১ বল খেলে ৯ করতেই বিদায় নিতে হলো তাকে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ ওভারে ১ উইকেটে ২১ রান।

প্রসঙ্গত,  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙেনি বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি বলেন, টস জিতলে আমিও ব্যাটিং নিতাম। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছেন টাইগাররা। প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

 

এদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে স্বাগতিক দল তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে। দ্বিতীয় ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দাকান। তাদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ আর অফস্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ : উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), দানুশকা গুনাথিলা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, মিলিন্দা সিরিবর্ধনে, থিসারা পেরেরা, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ।

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

জিতলেই সিরিজ জয় আর হারলে তাকিয়ে থাকতে হবে শেষ ম্যাচের দিকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে ডাম্বুলায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে প্রথমে বোলিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের পর সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি বলেন, টস জিতলে আমিও ব্যাটিং নিতাম।

এদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে স্বাগতিক দল তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে। দ্বিতীয় ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান। আর জায়গা পেয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদীপ আর অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা।

বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।

নাসিরের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৫৭

দীর্ঘ দিন থেকেই জাতীয় দলের বাইরে থাকা নাসির হোসেন ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়েই নিজেকে মেলে ধরেছেন। ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। আর তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক মুমিনুলের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে নেপালের বিপক্ষে ২৫৭ রান করেছে বাংলাদেশ।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল ও নাসির। দুইজনে মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। এরই মধ্যে অধিনায়ক মুমিনুল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৬১ রান করে তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে সেঞ্চুরি তুলে নেন নাসির। আর তার ব্যাটে ভর করে শুরু ব্যর্থতা কাটিয়ে ২৫৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ সফরে ক্ষতিপূরণ চাইবে পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন ট্রফির আগে বাংলাদেশকে লাহোরে গিয়ে খেলার আমন্ত্রণ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় জুলাইতে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পিসিবির চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।

বোর্ড প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার খান জানিয়েছেন, ‘আমরা সম্প্রতি বাংলাদেশে দুইবার সফর করেছ। আবারো সফরের বিষয়টি আমরা ভেবে দেখবো। আর বিসিবি যদি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ সফরে নিতে চায় আমরা হয়তো আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইব।’

ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল লাহোরে সফল ভাবে আয়োজন করার পর বাংলাদেশকে ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ দেয় পাকিস্তান। তবে এ মুহূর্তে পাকিস্তানের যাওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই বলে তাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশের মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, পিএসএলের ফাইনালে আটজন বিদেশি তারকা খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এনামুল হক বিজয়ও খেলেছেন।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ ভারতের

জয়ের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তৃতীয় দিনেই। চতুর্থ দিন তা পূর্ণতা পেল। ধর্মশালায় অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ২-১ এ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ভারতীয় বোলারদের বোলিং তোপে মাত্র ১৩৭ রানেই শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। আর এতে ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০৬ রানের। আগের দিন বিনা উইকেটে ২৬ রান করা ভারত ১০ উইকেট আর মাত্র ৮৭ রানের টার্গেট নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে। দিনের শুরুর দিকে মুরালি বিজয়কে (৮) ফিরিয়েছেন কামিন্স। ম্যাক্সওয়েলের থ্রুতে রান আউটে সাজঘরে রানের খাতা খুলতে না পারা পূজারা। ৪৬ রানে পরপর দুটি উইকেট হারিয়েও নড়বড়ে হয়ে পড়েনি ভারত।

উদ্বোধনী লোকেশ রাহুলকে নিয়ে এই ম্যাচে কোহলির জায়গায় অধিনায়কত্ব করা আজিঙ্কা রাহানে শেষ করেই ফিরেছেন। রাহুল ৯ চারে ৫১ আর রাহানে ৪ চার ও ২ ছয়ে ২৭ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।

চার টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে পুনেতে ৩৩৩ রানের ধামাকা জয়ে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বেঙ্গালোরে ৭৫ রানের জিতে সমতা ফেরায় ভারত। রাঁচিতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়া দুদল ১-১ সমতায় থাকায় শেষ ম্যাচটি অঘোষিত ফাইনাল হয়ে উঠেছিল। নিজেদের প্রথম ইনিংসে স্টিভেন স্মিথের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল ৩০০ রান। জবাবে ভারত করেছিল ৩৩২।

ইমার্জিং কাপে নাসিরের হাফ সেঞ্চুরি

দীর্ঘ দিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আসা যাওয়ার মধ্যে নাসির হোসেন। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ব্যানারে থাকলেও একাদশে জায়গা পাননি ঠিকমত। আর সে ধারায় নিউজিল্যান্ড, ভারতের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজেও জায়গা হয়নি দেশসেরা এই ফিনিশারের।

তবে জাতীয় দলে ফিরতে এই তারকা যে মরিয়া ব্যাট হাতে তা আবারো প্রমাণ দিলেন ঘরের মাঠে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে। নেপালের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল ও নাসির। দুইজনে মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। এরই মধ্যে অধিনায়ক মুমিনুল তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে ব্যক্তিগত ৬১ রান করে তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন নাসির। আর তার ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আইপিএলে নতুন জার্সিতে সাকিব-গম্ভীররা

ভারতের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (আইপিএল) দশম আসর শুরু হচ্ছে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে। আর এ আসরে নতুন জার্সি পড়ে মাঠ মাতাবেন সাকিব-গম্ভীরদের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

সম্প্রতি তাদের খেলোয়াড়দের একটি ফিটনেস ট্রেনিং সেশন শেষে নতুন জার্সি পরিহিত অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ছবি শেয়ার করেছে কেকেআর। সেখানেই চোখে পড়ে আগের বেগুনী-স্বর্ণালী জার্সির পরিবর্তে লাল-কালো রংয়ের জার্সি পড়ে আছে কেকেআরের খেলোয়াড়রা।

এদিকে ৫ এপ্রিল হায়দরাবাদ-রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়ে আইপিএলের দশম আসর শুরু হলেও কেকেআর নিজেদের প্রথম ম্যাচে  মাঠে নামবে ৭ এপ্রিল, গুজরাটের বিপক্ষে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ ডিকভেলার

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ৯০ রানে হেরে এমনিতেই পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। এবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামার আগে বড় এক দুঃসংবাদ শুনলো লঙ্কান শিবির। ইনজুরির কারণে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন লঙ্কান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

শ্রীলঙ্কান ম্যানেজার জানান, ডিকভেলার ইনজুরি খুব বেশি গুরুতর নয়। সুস্থ হতে দুই সপ্তাহের মতো লাগবে। আর এতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজও অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।  তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে।

দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কান একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। লাহিরু কুমারার পরিবর্তে কুলাসেকারার খেলা প্রায় নিশ্চিত। সুরাঙ্গা লাকমালের পরিবর্তে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে নুয়ান প্রদীপের।

আর বাম হাতি স্লো অর্থোডক্স সাচিথ পাথিরানার পরিবর্তে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে, ব্যাটিং অলরাউন্ডার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ  ৪ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান। মুমিনুল ৪৩ আর নাসির ১৪ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের পর অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামে টাইগাররা। তবে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ। অবিনাশ করনের বলে আসিফ শেখের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়া এই পারফরমার।

তৃতীয় ওভারে শরদ ভেসকরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারে অবিনাশের তৃতীয় শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (০)। এরপর দ্রুত শান্ত (৪) বিদায় নিলে চাপে পড়ে মুমিনুল বাহিনী।

অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে : তামিম

তার ব্যাট হাসলে বাংলাদেশের স্কোর হয় সমৃদ্ধ। প্রতিপক্ষের সামনে টাইগাররা ছুড়ে দিতে পারে বিশাল লক্ষ্য। রণগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শনিবার হাসল তামিম ইকবালের ব্যাট। আর তাতে বাংলাদেশও পেল বড় পুঁজি, ৩২৪ রানের। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২৫ রানের।

রণগিরি ডাম্বুলা স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান বলছিল, এই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া বড্ড কঠিনই। হয়েছে ঠিক তা-ই। মাশরাফি বিন মর্তুজা, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসানদের তোপে ২৩৪ রানেই অলআউট শ্রীলঙ্কা। আর তাতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

ম্যাচ সেরা তামিম ইকবাল খেলেছেন ১২৭ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। ১৪২ বল মোকাবেলা করেছেন। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৫টি চার ও একটি ছক্কায়। বলের চেয়ে রান কম; তামিমের নামের সঙ্গে যায় না! ড্যাশিং ওপেনার যে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত।

তবে তামিমের লক্ষ্য ছিল- ধরে খেলবেন। দলকে ভালো একটা পর্যায়ে নিয়ে তারপর খেলবেন হাত খুলে। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিটা পেয়ে গেলেন। তিন অঙ্কের ফিগারে পৌঁছার পর মারমুখী ভঙ্গিতে খেলেছেন।

তামিম আউট হয়েছেন দলীয় ৪৮তম ওভারে। সুরাঙ্গা লাকমালের বল লংঅনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে গুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তামিম জানালেন, এতটা সময় ক্রিজে থাকতে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। লঙ্কান বোলারদের পরীক্ষায় সফল হয়ে খুশি বাংলাদেশের এই ওপেনার।

‘আমার বেশ কিছু সুযোগ হয়েছিল ফিফটি করার; কিন্তু সেগুলোতে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেনি। অতীতকে পেছনে ফেললাম। সুযোগটাকে কাজে লাগালাম। আমি স্কোর করতে চাই। যত দূর সম্ভব দলে অবদান রাখতে চাই। ৪৫ ওভার (মূলত ৪৮ ওভার) পর্যন্ত ব্যাটিং করে যাওয়া সহজ নয়; ঘাম ঝরাতে হয়েছে অনেক। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ব্যাট করেছি; আর স্ট্রাইক ধরে রেখেছি।’

সাকিবের প্রশংসা করে তামিম বলেন, ‘সাকিব যেভাবে খেলেছে, তা ছিল অসাধারণ। আর জানতাম, আমি যদি ১৩৫ বা তার কাছাকাছি করতে পারি, তাহলে দলের স্কোর ৩০০ হতে পারে। সে পথেই এগিয়েছিলাম। মন বলছিল সেটাই।’

জয়ের নায়ক তামিমের প্রশংসায় মাশরাফি

শুরুতেই সৌম্য সরকারের বিদায়। দলীয় ২৯ রানের মাথায় সুরাঙ্গা লাকমালের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সৌম্য। এই বিপদ বাংলাদেশ সামলে ওঠে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। এ যাত্রায় সাব্বির রহমান রুম্মনকে নিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল। যেখানে সাব্বিরের অবদান ৫৪ রান; আর তামিমের ২৮!

অনেকটা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তামিম। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গ তেমন পেলেন না। কারণ ১ রানের মাথায় ফিরে যান মুশফিক। তবে চতুর্থ ইনিংসে বন্ধু সাকিব আল হাসানের সঙ্গে গড়েন ১৪৪ রানের জুটি। যা ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর মধ্যে সাকিবের অবদান ৭২; আর তামিমের ৬৬।

সাকিবের বিদায়ের পর আসলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পঞ্চম উইকেটে মোসাদ্দেকের সঙ্গে ২৫ রানের জুটি গড়লেন তামিম। এখানে তামিম ছিলেন মারমুখী; ১৯ রান অবদান তার। আর মোসাদ্দেকের ৬। তামিম শেষ পর্যন্ত ১২৭ রানে থেমেছেন। তার ১৪২ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ ১৫টি চার ও একটি ছক্কায়। স্ট্রাইক রেট ৮৯.৪৩!

তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৯০ রানে। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটাও জিতেছেন ড্যাশিং এই ওপেনার। তাই জয়ের নায়ক তামিমকে প্রশংসার বানে ভাসলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টাইগার দলপতি বলেন, ‘যদি আপনি লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখবেন- তামিম অনেক অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়। খেলছে গত দশ বছর ধরে। মুশফিকও তা-ই। আমি মনে করি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের ক্ষেত্রে তামিমের ইনিংসটি ছিল কার্যকর।’
এ ছাড়া সাকিব, মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহর প্রশংসা করেন মাশরাফি, ‘সাকিব ভালো খেলেছে। মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ ফিনিংয়ের কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে। অবশ্যই, এই জয়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম ম্যাচে জয় পেলে দলের জন্য ভালো হয়। সব মিলে এটা পারফেক্ট ম্যাচ ছিল।’

 

মিরাজে মুগ্ধ তামিম

ধুমকেতুর মত উদয় যেন মেহেদী হাসান মিরাজের। তবে হারিয়ে যেতে আসেননি যে তিনি, তা ইতোমধ্যেই  প্রমাণ করে ফেলেছেন। টেস্ট সিরিজে অভিষেকে যেভাবে নজর কাড়তে পেরেছিলেন, তেমন ওয়ানডে অভিষেকেও সবার দৃষ্টি কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু অমিত সম্ভাবনায়ই নয়, তার চালচলন এবং সাহস দেখে কে বলবে, এই ছেলেটার মাত্র অভিষেক হলো। মিরাজ যে লম্বা রেসের ঘোড়া সেটা তিনি প্রমাণ করেই ছাড়লেন।

টেস্ট সিরিজের পর দেশে ফিরে এসেছিলেন ওয়ানডে দলে নেই বলে। কিন্তু ভাগ্যে থাকলে ঠেকায় কে? হঠাৎ টিম ম্যানেজমেন্টের ডাকে উড়াল দিলেন কলম্বোয়। সেখান থেকে ডাম্বুলা এবং সিরিজের প্রথম ম্যাচেই অভিষেক। মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে নিলেন ২ উইকেট। অভিষেকে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সই বলা যায়।

মিরাজের বোলিং দারুণ মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম মিরাজের বোলিং নিয়ে বলেন, ‘মিরাজের বোলিং দেখে আমি যারপরনাই খুশি। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, টেস্টেরমত ওয়ানডে অভিষেকেও কী অসাধারণ বোলিং করলো মিরাজ। মাঠে তার চলাফেরা, সাহস, আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দেখে মনেই হয়নি, এটা ছিল তার প্রথম ওয়োনডে ম্যাচ।’

এখন লক্ষ্য একটাই, সিরিজ জয়: তামিম

গত বিশ্বকাপের পর থেকেই ঘরের মাঠে দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকারমত দেশকে সিরিজে হারিয়েছে টিম বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে নিজেদেরকে পরাশক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে পারলেও পরের মাঠে নিজেদের প্রমাণ করার অনেক বাকি ছিল। নিউজিল্যান্ড এবং ভারত সফরে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি টিম বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা সফরে এসে সেই লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে বাংলাদেশের। টেস্ট সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করার পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এগিয়ে বাংলাদেশ। সুতরাং, তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন সিরিজ জয়ের আশা করতেই পারে। সে কথাই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন তামি ইকবাল।

প্রথমে জানালেন বাংলাদেশের নিজেদের প্রমাণ করার বিষয়টি। তামিম বলেন, ‘এতদিন আমরা দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে ভালো দল হিসেবে নাম লিখিয়েছি। এখন লক্ষ্য একটাই, দেশের বাইরে ভালো খেলার চ্যালেঞ্জ নেয়া। নিউজিল্যান্ডে পারিনি। এখানে এরই মধ্যে ১-০ তে এগিয়ে গেলাম।’

সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী তামিম। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তো ১-০ তে এগিয়েই গেলাম। এখন যদি সিরিজ জিততে পারি, সেটা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।’

আজকের ম্যাচ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, প্রথম পাঁচ-ছয় জনের যে কোনো একজন ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেললে, দলের স্কোরলাইন বড় হয়। আজ সেটাই হয়েছে।’

নিজের ব্যাটিং নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি একদিক আগলে রাখার পাশাপাশি স্কোরবোর্ড সচল রাখতে। সেটা পেরেছিলাম। এই পারাটা অনেক কাজে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও যদি এমন দায়িত্ব নিয়ে লম্বা ইনিংস খেলতে পারি, তাহলে আমার এবং দলের জন্য ভালো হবে। আমার নিজের ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হবে। দলও উপকৃত হবে।’

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০ হাজার রানের কৃতিত্ব গড়ায় তামিম নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করছে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করতে পেরে খুবই গর্বিত এবং নিজেকে আনন্দিত মনে হচ্ছে। এরকম আনন্দের দিনে আমার সেঞ্চুরি আর দল জেতার ঘটনা সত্যিই অন্যরকম ভালো লাগার।’

সেঞ্চুরির পেছনের রহস্য জানালেন তামিম

তামিম ইকবালের ব্যাটে গত ১৩ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি নেই্। সবচেয়ে বড় কথা, হাফ সেঞ্চুরি করার পরও তিন অঙ্কের ঘরের দেখা না পাওয়া। গল টেস্টের এক ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি। কলম্বো টেস্টে প্রথমে ৪৯। পরে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তামিম আউট হয়েছেন ৮২ রানে। আক্ষেপে পোড়াছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তামিমের।

নিউজিল্যান্ড সফরেও একটি হাফ সেঞ্চুরি, ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচেও নিষ্প্রভ ছিলেন তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কা সফরে এসে ভালো ব্যাটিং করার পরও কেন যেন হাহাকার তামিমের মনে। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারছিলেন না। অবশেষে পারলেন তামিম। সেঞ্চুরি করার পর সেটাকে নিয়ে গেলেন আর ২৭ রানের উচ্চতায়।

তবে তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি এমনি এমনি আসেনি। ৪০ রানে থাকা অবস্থাতেই তামিমের অস্বস্তি লাগা শুরু হয়। এরপর কোচ এবং অধিনায়কের চেষ্টায় সেই অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তামিম এবং সেঞ্চুরি উপহার দেন।

ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম জানালেন তার সেঞ্চুরির রহস্যের কথা। তিনি বলেন, ‘৪০ এর ঘরে গিয়ে আমি কিছুটা অস্বস্তিবোধ করছিলাম। ওই সময় কোচ মেসেজ পাঠালেন, আর মাশরাফি ভাই ড্রেসিং রুমের বাইরে এসে ঝেড়ে গলায় বললেন, তুই উইকেটে থাক। তখনই আমি চিন্তা করলাম, আমি যতটুকু পারি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো, উইকেটে থাকতে।’

তবে তামিম জানালেন উইকেট ব্যাটসম্যানদের সহায়ক ছিল না। এটা ছিল বোলারদের। তামিম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ৩২০-এর ঘরে পৌঁছে গেছি বলেই ভাবার কারণ নেই, যে উইকেট খুব সহজ ছিল। প্রথমত উইকেট ছিল স্লো। কিছু বল থেমে এসেছে। আবার কোনো কোনো ডেলিভারি টার্নও করেছে। সে করণেই আমার মনে হয়, এই উইকেটে ৩২৪ অনেক রান।’

সাব্বির আর সাকিব দারুণ সহযোগিতা করেছে : তামিম

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারকে নিয়ে সূচনাটা ভালোই ছিল তামিম ইকবালের। তবে সৌম্য অফস্ট্যাম্পের বল অযথা খোঁচা মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে আউট হন। এরপর ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামা সাব্বির রহমান জুটি বাধেন তামিমের সঙ্গে। সর্বশেষ কলম্বো টেস্টে এই দু’জনের জুটির ওপরই তো গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের বিজয়ের সৌধ। সেটাকেই যেন ডাম্বুলায় টেনে আনলেন তারা দু’জন। গড়লেন ৯০ রানের বড় ‍জুটি।

৫৪ রান করে সাব্বির আউট হওয়ার পরপরই মুশফিক বিদায় নেন ১ রান করে। বড় স্কোর গড়ার জন্য আরও একটি বড় জুটি প্রয়োজন ছিল। সেই দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিলেন দুই বন্ধু তামিম-সাকিব। চতুর্থ উইকেট জুটিতে উঠলো ১৪৪ রান। সাকিব আউট হন ৭২ রানে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। সাব্বির আর সাকিবের সঙ্গে তামিমের যে দুটি বড় জুটি গড়ে উঠেছে, সেটাই বাংলাদেশের রান ৩২৪-এর ঘরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশের জয়ের আসল নায়ক তামিম ইকবাল নিজের অনুভুতি জানাতে গিয়ে এক কথায় বলেছেন, ‘ খুবই ভালো লাগছে। প্রচণ্ড গরম ছিল। তবুও চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। দলের জয়ে অবদান রাখতে পারলে সব সময়ই ভালো লাগে।’

সাব্বির আর সাকিব আল হাসানের দুই জুটিতে অবদানের কথা স্বীকার করে তামিম বলেন, ‘সাব্বির আর সাকিব দারুণ সাপোর্ট দিয়েছে। ওই দুটি জুটি, বিশেষ করে সাকিব আর আমার জুটি আমাদের ৩২০ রানের বেশি করার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। আমি আর সাকিব খুব পরিকল্পনা মাফিক আগানোর চেষ্টা করেছি।’

সাকিব-তামিমের জুটির সময় হঠাৎ চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছিল লঙ্কানরা। এ বিষয়টা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা দুইজন যখন ক্রিজে, তখন হঠাৎ লঙ্কানরা ভালো বল করতে শুরু করলো। আমি আর সাকিব ঠিক করলাম, যতক্ষণ পারা যায় ততক্ষণ ধরে উুইকেটে থাকবো এবং রানের চাকাও সচল রাখবো। আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে, সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।’

তিন বিভাগেই আমাদের উন্নতি করতে হবে : থারাঙ্গা

মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকারত্নে দিলশানের বিদায়ের পর লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে আগের ধার নেই। আবার ধার নেই বোলিংয়েও! ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে যার কাছে সাধারণত ব্যাটসম্যানরা ধরাশায়ী হয়, সেই লাসিথ মালিঙ্গাও নেই পুরনো ছন্দে। তার ওপর ইনজুরি তো লেগেই আছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে নেই মালিঙ্গা। অভিজ্ঞ বোলারদের মধ্যে রয়েছেন সুরাঙ্গা লাকমাল। তরুণ পেসার লাহিরু কুমারা ও স্পিনার লক্ষ্মণ সান্দাকান বোলিংয়ে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন লঙ্কান দলে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপের সামনে অসহায় ছিলেন তারাও।

তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান রুম্মন, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তাতে কিছু করারও ছিল না স্বাগতিক বোলারদের। তার চেয়ে বড় কথা, ফিল্ডিংয়েও তাদের দেখা যায়নি চেনারূপে। ২৫ থেকে ৩০ রান অতিরিক্ত দিয়েছেন লঙ্কান ফিল্ডাররা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এটা বাড়তি চাপ হয়ে যায় যে কোনো দলের জন্য। লঙ্কানদের জন্যও হলো তা-ই।

৩২৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা। এই লক্ষ্য তাড়া করতে জিততে হলে কাউকে না কাউকে লম্বা ইনিংস খেলতে হতো। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সেটা করতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। শুরুতেই বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন মাশরাফি। ব্যক্তিগত প্রথম দুই ওভারে তো কোনো রানই দেননি টাইগার দলনেতা। অপরপ্রান্তে লঙ্কানদের ঠেসে ধরেন অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া মোস্তাফিজ-সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের দৌড় থামে ২৩৪ রানে। বাংলাদেশ পায় ৯০ রানের জয়।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা যেমন জানালেন, ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই তাদের উন্নতি করতে হবে। বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের ইনিংসে মাঝামাঝি সময় আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারিনি। বোলাররা ভালো করতে পারেনি। ফিল্ডিংটাও ভালো হয়নি; ২৫-৩০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি। আমাদের তিন বিভাগেই উন্নতি করতে হবে।’

থারাঙ্গার আক্ষেপ, ‘বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমাদের কাউকে লম্বা ইনিংস খেলার দরকার ছিল। দেখুন, প্রথম ১০ ওভারেই আমরা তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। তিনশো রান তাড়া করতে যা করা দরকার ছিল, সেটা আজ (শনিবার) আমরা করতে পারিনি।’

সাকিবকে হটিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মাশরাফি

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় তারা দুজন আছেন। তাদের অবদান ভোলার নয়। মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান। সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে যেমন দলকে দিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের শতভাগ। তেমনি নেতৃত্ব পেলেও শতভাগ উজাড় করে দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে থাকেন মরিয়া।

সাকিব আল হাসান বর্তমানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের সহঅধিনায়ক। অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন আগে। আর বাংলাদেশ দলের সীমিত ওভারের বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি। নড়াইল এক্সপ্রেস দলকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্দান্ত গতিতে।

পরিসংখ্যানই বলছে সে কথাই। জয়ের হিসেবে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সফল অধিনায়ক মাশরাফি। এই তালিকায় ছাড়িয়ে গেছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৯০ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের ২৪তম জয়।

এর আগে ২৩টি জয় নিয়ে সাকিবের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মাশরাফি। ২৩টি জয় পেতে সাকিবের লেগেছে ৪৯টি ওয়ানডে। আর মাশরাফি ২৪তম জয় পেলেন ৩৮টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে। তার মানে, ১১টি ম্যাচ কম খেলেই সাকিবকে টপকে গেলেন বাংলাদেশ দলের বর্তমান অধিনায়ক!

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। তার নেতৃত্বে টাইগাররা ২৯টি ওয়ানডেতে জয় পেয়েছে। আর এই ২৯টি জয় পেতে হাবিবুল বাশারের লেগেছিল ৬৯টি ওয়ানডে। খুব বেশি দেরি নয়, বাশারকে হয়তো ছাড়িয়ে যাবেন মাশরাফি। সে জন্য বর্তমান অধিনায়কের দরকার আর মাত্র ৬টি ওয়ানডে জয়।

কেকেআরের মালিক শাহরুখ-জুহিকে শোকজ নোটিশ ইডির

শুরু থেকেই ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিচারে আইপিএলের অন্যতম ধনী দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। শাহরুখের জনপ্রিয়তা এবং দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারতে কেকেআরের সমর্থক বেশি। বিপুল পরিমাণ সমর্থক রয়েছে দেশের বাইরেও।

এবার কিছুটা বিপাকে পড়েছে কেকেআর। দলটির মালিক শাহরুখ খান, তার স্ত্রী গৌরি খান ও সহ-কর্ণধার জুহি চাওলাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- ভারতে বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করেছেন। ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়, কেআরএসপিএল-এর শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে (ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট) ২০০০-এর ৪(১) নম্বর আইন ভঙ্গ করেছেন শাহরুখ খান, গৌরি খান ও জুহি চাওলা। এ নিয়ে ২০১৫ সালেই শাহরুখকে সমন পাঠিয়েছিল ইডি।

ইডি সূত্র জানিয়েছে, শাহরুখ খানের রেড চিলিজ প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থায় অংশীদারি রয়েছে জুহি চাওলা এবং তার স্বামী জয় মেহতার। প্রথমে রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট গৌরি খানের নামে সমস্ত শেয়ার কিনত। পরে নতুন শেয়ার কেনে  কেআরএসপিএল। যার মধ্যে একটা আর্থিক অংশ শেয়ার মূল্য হিসাবে দেওয়া হয় জুহিকে। অভিযোগ- বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ওইসব শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।

সরি’ বলতে পারেন না কোহলি!

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ক্রিকেটীয় বাকযুদ্ধ যেন থামছেই না। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যম ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির। কোহলিকে নিয়ে একের পর এক বিতর্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে তারা। এবার অজি ক্রিকেট বোর্ড প্রধান জেমস সাদারল্যান্ডও সেই দলে যোগ দিলেন।

কোহলির সমালোচনা করে সাদারল্যান্ড বলেন, ‘কোহলি বোধহয় ‘সরি’ শব্দটাও ঠিক মতো বলতে জানে না!’ বেঙ্গালুরু টেস্টের পর ডিআরএস বিতর্ক থেকে এখনও বের হতে পারেনি ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ কোহলিকে মিথ্যাবাদীও বলেছেন। অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যমে আশা করেছিলো, কোহলি হয়তো দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

তাই কিছুটা হতাশ হয়েই সাদারল্যান্ড এই কথা বলেছেন। স্থানীয় একটি রেডিওতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জানি না কোহলি ঠিকমতো সরি বলতে জানে কি না! এই টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দলের অনেকেই আইপিএলে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। সেটা যেন বিফলে না যায়। অনেকটা সময় তারা এক সাথে থাকবে। সেখানেই হয়তো ভালো কিছু দেখতে পাবো আমরা।’

বিসিবির দিকে ভাসের অভিযোগের তীর

বাংলাদেশের সম্ভাব্য ফাস্ট বোলিং কোচের তালিকায় কোর্টনি ওয়ালশের পাশাপাশি নাম ছিলো শ্রীলঙ্কার সাবেক ফাস্ট বোলার চামিন্দা ভাসেরও। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাথে আলোচনাটা খুব বেশিদূর এগোয়নি। এবার বিসিবির বিরুদ্ধে অভিযোগই করে বসলেন কিংবদন্তি লঙ্কান পেসার। তার দাবি, চুক্তিপত্র পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে। তারপর আর কেউ যোগাযোগ করেনি। 

বুধবার কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড একাদশের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন এই কিংবদন্তি। বর্তমানে নিজ দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করা এই লঙ্কানের অভিযোগ, শুধু আলোচনাই নয়, বিসিবি নাকি তাকে চুক্তিপত্রও দিয়েছিলো। তারপর আর যোগাযোগ করেনি কেউ।

এমন অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাস। বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিককে ভাস বলেন, আপনাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে একটি চুক্তিপত্র পাঠিয়েছিলো। কিন্তু এরপর আর কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।

তবে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সরাসরি অস্বীকার করলেন এমন অভিযোগ। তিনি জানান, ভাসকে চুক্তিপত্র পাঠানোর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না, তার অজ্ঞাতসারে এমন কিছু হওয়ার কথাও নয়।

বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে কোহলিদের

মাঝখানে খারাপ সময় যাচ্ছিলো বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই)। অস্ট্রেলিয়া দলকে আতিথেয়তা দিতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয়েছে। সেই বোর্ডই এবার ক্রিকেটারদের বেতন দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে। শুধু বেতনই নয়, ম্যাচ ফি’র পরিমাণটাও বাড়ছে একই হারে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট সংস্থা বিসিসিআই ঘোষণা দিয়েছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে সব ম্যাচ ফি এবং চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বেতন দ্বিগুণ করা হবে। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয় ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বসর্বা প্রতিষ্ঠানটি।

বলা হচ্ছে, ‘এ’ ক্যাটাগরির যেসব ক্রিকেটাররা গেল মৌসুমে এক কোটি রুপি পেতো, আসছে মৌসুমে তাদের বেতন বেড়ে প্রায় দুই কোটি (৩০৫,০০০ ইউএস ডলার) রুপি হতে যাচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বেতন পান ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। আরো ব্যাখা করলে জো রুট পান (৮৭০,৮০০ ইউএস ডলার) কিংবা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথরা পান (৮৫৮,৮১৬ ইউএস ডলার)।

মূলত তাদের সাথে তাল মেলাতেই এই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে বিসিসিআই। সেক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ক্রিকেটাররা হলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি, সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানে। নতুন চুক্তিতে এই দলে জায়গা হতে যাচ্ছে চেতেশ্বর পূজারা, রবীন্দ্র জাদেজা এবং মুরালি বিজয়ের। এদের সবাই ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার।

‘বি’ ক্যাটাগরির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা হলেন ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা, পেসার মোহাম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা ও উমেশ যাদব। নতুন চুক্তি অনুযায়ী তাদের সবাই পাবেন এক কোটি রুপি। ‘সি’ গ্রেডের ক্রিকেটারদের ভাগ্যে জুটবে ৫০ লাখ রুপি।

দ্বিগুণ হচ্ছে ম্যাচ ফি’র অর্থও। এখন থেকে টেস্ট খেলে প্রত্যেক ভারতীয় ক্রিকেটার পাবেন ১৫ লাখ রুপি। ওয়ানডেতে ৬ লাখ আর টি-টোয়েন্টিতে ৩ লাখ রুপি করে পাবে

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাসেলের আপিল

ডোপ আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। এবার এই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল করলেন রাসেল।

২০১৫ সালে রাসেলকে প্রথমবার পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু তিনি হাজির হননি। এরপর আরও দুইবার তাকে হাজির হতে বললেও তিনি পরীক্ষা দেননি। বাধ্য হয়ে জ্যামাইকা ডোপ বিরোধি কমিশন গেল মার্চে তার বিরুদ্ধে কমিশন গঠিন করে।

এই কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে জানতে চায়, তিনি কেন বারবার ডাকার পরেও উপস্থিত হননি এবং পরীক্ষা দেননি? কিন্তু রাসেল কোন উত্তর দেননি এই প্রশ্নের। এরপরই তাকে এক বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

২০ মার্চ জ্যামাইকা এন্টি-ডোপিং ডিসিপ্লিনারি প্যানেল বরাবর শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রাসেল। তবে তার এই আপিল খারিজ হলে কমিশন তার শাস্তি বাড়িয়ে দুই বছর করতে পারে, এমনটাই জানা গেছে।

ওয়ানডে সিরিজের আগে লঙ্কান শিবিরে দুঃসংবাদ

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ থেকে বাদ পড়েছেন কুশল পেরেরা। কলোম্বোয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়েন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। সেই চোটই মাঠের বাইরে নিয়ে গেলো তাকে।

স্বাগতিক দলের ম্যানেজার আশাঙ্কা গুরুসিংহে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাম উরুর স্ট্রেইনে পাওয়া এই চোট খুব বেশি গুরুতর নয়। সেক্ষেত্রে প্রথম দুই ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বদলি ক্রিকেটারের ব্যাপারটিও শুক্রবারের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গেল বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন কুশল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে সুবিধা করতে পারেননি। জায়গা হয়নি সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও। সেদিক থেকে বাংলাদেশ সিরিজটি ছিল নিজেকে ফিরে পাওয়ার অন্যতম পথ।

কিন্তু দূর্ভাগ্য ৬৮ ওয়ানডেতে তিনটি সেঞ্চুরি আর আটটি হাফ সেঞ্চুরিসহ মোট ১৬৩৫ রান করা কুশল পেরেরার। ‘প্রস্তুত’ হতে গিয়েই চোটে পড়লেন। আগের দিন মাশরাফি-তাসকিনদের বিপক্ষে ৬৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার পর চোটের কারণেই স্বেচ্ছায় অবসরে যান এই ক্রিকেটার।

সাকিব-তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ডাম্বুলায় বাংলাদেশ দল

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে খেলতে ডাম্বুলায় পৌঁছেছে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার দল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় রওয়ানা দেয় সফরকারীরা।

টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করার পর একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও প্রস্তুতিটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। এবারের লক্ষ্য ওয়ানডে ম্যাচ। দলের সবাইকে নিয়েই ডাম্বুলায় গেছে টি ম্যানেজমেন্ট। ছুটিতে থাকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল; দু’জনই যোগ দিয়েছেন।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ও ২৮ মার্চ। শেষ ম্যাচটি খেলতে আবারও কলোম্বোয় ফিরবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ম্যাচটি গড়াবে এক এপ্রিল, প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। ওয়ানডের পর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

শেষ মুহূর্তে ওয়ানডে দলে মিরাজ চমক

টেস্ট খেলার পরপরই দেশে ফিরেছিলেন স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর দুইদিন আগে আবারও উড়লেন শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে। অর্থাৎ, ওয়ানডে দলে থাকছেন তিনি।

চমকটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই দিনে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন মিরাজ। 

যদিও খানিকটা ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মিরাজ। জানিয়েছিলেন সীমিত ওভারে খেলার আকুতি। তবে সেটা যে শ্রীলঙ্কা সফরেও হতে পারে তা হয়তো নিজেও জানতেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘অনেক দিন ওয়ানডে খেলা হয় না। ইমার্জিং কাপ ও প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলে চেষ্টা করব ওয়ানডে দলে আসতে।’

সেক্ষেত্রে ইমার্জিং কাপে থাকা হচ্ছে না এই অলরাউন্ডারের। তার জায়গায় সুযোগ হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অফস্পিনার নাঈম ইসলামের। চিটাগং ডিভিশনের হয়ে খেলেন এই ক্রিকেটার।

গেল বছরে সাদা পোশাকে বাংলাদেশ দলের হয়ে অভিষেক হওয়া মিরাজ শুরু থেকেই বল হাতে তাক লাগিয়ে চলেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। ব্যাট হাতে শুরুর দিকে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মিরাজ। কিন্তু খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। শ্রীলঙ্কার আগে ভারত সফরে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হেসেছে তার ব্যাট। দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তার রান ছিল যথাক্রমে ৪১,২৮,২৪, ২*।

মিরাজের অন্তর্ভুক্তিতে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের স্কোয়াডঃ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান , সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশীষ রায়, সানজামুল ইসলাম, শুভাগত হোম চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল সফলভাবে হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত দেখছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। আগেই বলা হয়েছিলো, সব ঠিকঠাকভাবে হলে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী মে মাসে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় দেশটি।

নিজেদের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ খেলা অনেক বড় একটি সুযোগ বলে মনে করেন পিসিবির কর্মকর্তারা। শিগগিরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠাবে বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানে। এরপর ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ে স্বল্প পরিসরে পাকিস্তান সফরে যায়। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের সাথে সিরিজ থাকলেও সে সময়ে আবারো দেশের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় দেশ দুটি সফর বাতিল করে।

শ্রীলঙ্কায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা হাতে তাসকিনরা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা যখন ঢাকায় এলো, বাংলাদেশ দল তখন শ্রীলঙ্কায় টেস্ট নিয়ে ব্যস্ত। ঢাকায় স্বপ্নের টুর্নামেন্টের শিরোপা দেখে চোখ জুড়িয়েছিল সমর্থকরা। কিন্তু দেখা হয়নি ক্রিকেটারদের। অবশেষে তারাও ছুঁয়ে দেখলেন, শ্রীলঙ্কাতে বসেই।

বাংলাদেশ ঘুরে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। সেখানেই আকাঙ্খিত ট্রফিটির দেখা পেলেন তাসকিন-সাব্বিররা। টুর্নামেন্টের আগে সুযোগ পেতেই উদযাপন করতেও ভুললেন না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে ট্রফির শিরোপার সঙ্গে ছবি প্রকাশ করেছেন তাসকিন। অন্যান্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিলেন টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জুনের এক তারিখ থেকে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বাকি দলগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে সাব্বির-তাসকিনরা

বিশ্বকাপের পরই আইসিসির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। র‌্যাংকিংয়ে থাকা সেরা আটটি দল নিয়ে ১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হবে আইসিসির দ্বিতীয় সেরা এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশকে পেছনে ফেলে এবার বাংলাদেশ খেলবে আইসিসির প্রেস্টিজিয়াস এই টুর্নামেন্টটিতে।

গত ২ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে আইসিসি ট্রফির বিশ্ব ভ্রমণ। অংশগ্রহণকারী ৮টি দেশের মোট ১৯টি শহর প্রদক্ষিণ করবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ট্রফিটি। ২ মার্চ ভারতের মুম্বাই থেকে শুরু হয় ‘নিশান আইসিসি ট্রফি ট্যুর’। এরপর বাংলাদেশ হয়ে এই ট্রফিটি এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। আর বাংলাদেশ দলও আছে লঙ্কা সফরে।

তাই নিজের দেশে এই ট্রফিটি দেখতে না পারলেও শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পর ট্রফিটি হাতে নিয়ে ছবি তুলেছে টাইগার তারকা সাব্বির-তাসকিন-সৌম্যরা। পর নিজের ফেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ ছবি শেয়ার দেন সাব্বির।

আইপিএলকে বাতিল করে দিল বিসিসিআই!

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর আইপিএল। এই আসরে খেলে থাকেন বিশ্বের নামিদামি ক্রিকেটার। বেশ জমে ওঠে এই টুর্নামেন্ট। কিন্তু এই আসর কি থাকছে? এমন প্রশ্নও অবান্তর নয়! কারণ তো আছেই।

বিসিসিআইয়ের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর যেসব নতুন নিয়ম-নীতি চূড়ান্ত করেছে, সেখানে উল্লেখ নেই কোনো ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির কথা। তার মানে, আইপিএলকে বাতিল বাতিল করে দিল বিসিসিআই! ভারতের আরেকটি টুর্নামেন্টও তাহলে বাদ পড়ে যায়, সেটা হলো সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি।

বিসিসিআইয়ের নতুন সংবিধানের অধ্যায় পাঁচ ২৫ (২) বলছে, রঞ্জি, ইরানি, দিলীপ, দেওধর, বিজয় হাজারে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের টুর্নামেন্ট বিজি ট্রফি নিয়ে কাজ করবে বিসিসিআইয়ের পাঁচ সদস্যের সিনিয়র টুর্নামেন্ট কমিটি। সেখানে উল্লেখ করা হয়নি ভারতের কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।

ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির কথা বাদ দেয়া হলো? নাকি ভুল করে এমনটা হলো? ভারতীয় গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রসঙ্গত, বিসিসিআইয়ের অধীনে এখন দুটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়। টুর্নামেন্ট দুটি হলো- আইপিএল ও সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি।

ইস শেষ পর্যন্ত যদি আমি থাকতাম : মাশরাফি

‘শ্রীলঙ্কার সাথে আমাদের ১/২ রানের কুফা (সংস্কারমূলক প্রচলিত শব্দ), (আভিধানিক অর্থ অপয়া) আছে। সেই কুফা কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অল্পের জন্য হলো না। আমার ব্যাটে বলে হচ্ছিল বেশ। ইস শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে হয়ে যেত। রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) মানসিক চাপ নিয়ে খারাপ খেলেনি। আর একটু হাত খুলে খেলতে পারলে ভালো হতো।
তারপরও ৩৫৪ চেজ হয়ে যাচ্ছিল! কি বলেন?’ ড্রেসিং রুম থেকে বাসে উঠতে উঠতে এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললেন মাশরাফি।

না পারার হতাশা নয়। তবে একটা অস্ফুট আক্ষেপ আছে চোখে-মুখে। অধিনায়ক অমন আক্ষেপ করতেই পারেন। তার ইনিংসটি আর একটু বড় হলেই হয়ে যেত। তারপরও এটা চরম সত্য যে, সৌম্য, সাব্বির, মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ ভালো খেললেও মাশরাফির ৩৫ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটির কারণেই অত দূর যাওয়া।

তাই তিন বছর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খুব কাছাকাছি গিয়ে হারার কথাই মনে হয়েছে। প্রথম লাইনেই আছে তার ইঙ্গিত। ইতিহাস জানাচ্ছে, ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সাথে মাশরাফির নেতৃত্বে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পর পর দুই খেলায় শেষ বলে গিয়ে হেরেছে মাশরাফির দল।

সময়টা ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি। খেলা হয়েছিল চট্ট্রগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ঠিক আজকের ব্যবধান মানে ২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। থিসারা পেরেরার ফুলটচ বলে উইনিং শট হাঁকানোর বদলে উল্টো ক্যাচ আউট হন এনামুল হক বিজয়। লঙ্কানদের ১৬৮  রানের জবাবে বাংলাদেশ ইনিংস শেষ করেছিল ১৬৬ রানে। আর শেষ ম্যাচে বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় পায় লঙ্কানরা।

হোক তা প্রস্তুুতি ম্যাচ, আর শ্রীলঙ্কার মাটিতে মাশরাফির মনে সেই স্মৃতি এখনো কাটা হয়ে আছে। আজ লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি একাদশের কাছে ২ রানে হারের পর তাই উপরের মন্তব্য টাইগার ক্যাপ্টেনের। তবে ওই কথোপকথনটাকে নেতিবাচক ভাবারও কোনো কারণ নেই।

কারন শেষ লাইনে আছে, ‘সাড়ে তিনশো রানও চেজ করে ফেলছিলাম। খারাপ খেলিনি। প্রায় জিতেই গিয়েছিলাম।’
অধিনায়কের এ কথা প্রতিধ্বনিত হলো ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কণ্ঠেও। খেলা শেষে স্বদেশি সাংবাদিকদের সাথে ব্যক্তিগত আলাপে খালেদ মাহমুদ বলেই দিলেন, ‘নাহ, কোনো আক্ষেপ বা আফসোস নেই আমাদের। ছেলেরা দারুণ খেলেছে। গ্রেট ফাইটব্যাক। অত বিশাল লক্ষ্যের পিছু ধেয়ে এর চেয়ে ভালো খেলা কঠিন।’

এর আগে হার্ড-হিটার সাব্বিরও বাংলাদেশের মিডিয়ার সাথে আলাপে একই সুরে কথা বলেন। কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে কোনো মন্তব্য না করলেও খেলা শেষে প্রায় অন্ধকার হয়ে আসা কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠেও তার চেহারায় ফুটে উঠল পরিষ্কার সন্তুষ্টির ছাপ।

যদিও ক্রিকেটাররা যখন সবাই ব্যাগ গোছানোয় ব্যস্ত, তখন দুই সহযোগী কোর্টনি ওয়ালশ আর থিলান সামারাবিরাকে সাথে নিয়ে ড্রেসিং রুমের বাইরে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের একটা ছোটখাটো সেশন কাটালেন হাথুরুসিংহে। বোঝাই গেল, প্রস্তুুতি ম্যাচের পারফরম্যান্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ হলো। কে কেমন খেললেন? তার পোস্টমর্টেমও চললো।

তবে তিনজনের কারো চেহারায় এতটুকু হতাশা বা বিষণ্ণতার ছোঁয়া ছিল না। বরং সন্তুষ্টিই প্রকাশ পেল। তা না পাওয়ার কোনোই কারণ নেই। শতভাগ ব্যাটিং কন্ডিশনে প্রথম সেশনে লঙ্কান বোর্ড সভাপতি একাদশের ৩৫৪ রান করা দেখে বোলিং ব্যর্থতার এক প্রতিচ্ছবি মনে হলেও খেলা শেষে আর তা ভাবার কারণ ছিল না।

আসলে উইকেট একদমই ব্যাটিং বান্ধব। সেখানে তামিম-সাকিব নেই। ৩৫৫ রান করার অর্ধ হিমালয়ের চুড়ায় ওঠা। আর সে পথে যাত্রাই শুরু হলো ইমরুলের প্রথম বলে ০ রানে ফেরা দিয়ে। ওই অবস্থার পরও শেষ পর্যন্ত ৩৫২ রানে পৌঁছে যাওয়া  যে কোনো মানদণ্ডে, যে কোনো হিসেবে সন্তষ্টির।

আজ কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে উপস্থিত সবাই টাইগারদের বীরোচিত ব্যাটিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। শুরুতে সৌম্য-সাব্বির আর পড়ন্ত বিকেলে মাশরাফির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় দলের ভক্ত ও সমর্থকরা।

আর সকাল থেকে প্যাভিলিয়রে পাশে খোলা আকাশের নিচে জাতীয় পতাকা হাতে ‘সাবাশ-সাবাশ’, ‘হয়ে যাবে হয়ে যাবে’  বলে গলা ফাটানো ‘টাইগার শোয়েবের কণ্ঠেও কোনো আক্ষেপ নেই। বরং সন্তুষ্টি ‘সাড়ে তিনশো রান কইরা ফালাইছি ভাই। এইডা কি কম?’

প্রতিপক্ষ যেই হোক, একটা প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৫৪ রানের আকাশ ছোঁয়া টার্গেট তাড়া করে ৩৫২ রান করা সন্তুষ্টির বৈকি।
২৫ মার্চ উপুল থারাঙ্গা বাহিনীর সাথে মাঠে নামার আগে অাজকের এ প্রস্তুুতি ম্যাচের উজ্জীবিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স অবশ্যই ভালো খেলার দারুণ কার্যকর দাওয়াই। রসদ।

মহানামা-কালুভিথারানার সাথে জমজমাট আড্ডা হাথুরুর

সূর্য্যরে দিকে তাকানো যায় না। ঝাঁঝালো রোদে চোখ আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে আসে। গরম তো নয়, যেন আগুনের হলকা এসে লাগছে শরীরে। স্থানীয় এক দর্শক রসিকতা করে বলে উঠলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ওয়ানডে সিরিজের আগে আর গা গরমের দরকার হবে না। এমন কাঠফাটা কড়া রোদে খেললে আপনা-আপনি শরীর গরম থাকবে।’

এমন তীব্র-অসহনীয় গরম ও প্রচন্ড আর্দতার মাঝেও কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত‘শো ক্রিকেট অনুরাগী। সবার চোখ স্থির হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দিকে।

মাশরাফি কেমন বল করলো? তাসকিন কত জোরে ডেলিভারি দিচ্ছে, এবারই প্রথম দলে আসা বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুলের বলে টার্ন কেমন? আচ্ছা কিপিং না করুক, মুশফিক ব্যাটিং করবেন তো! সৌম্য সরকারের হাতে কি হয়েছে- ফিল্ডিং করলেন না যে?

কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্যালিয়নের পাশে ছোট্ট একটু জায়গা খানিক গ্যালারির আদলে তৈরি। সেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিক- ফটো সাংবাদিক এবং ঢাকা থেকে সিরিজ দেখতে আসা দুই ক্লাব অফিসিয়াল ফটিক ও রুবেলের কাছে প্রশ্ন স্থানীয় দর্শক-সমর্থকদের।

আবার পরের অংশে সাব্বির রহমান রুম্মনের ব্যাটিং দেখে আরেক লঙ্কান সাপোর্টারের তাতক্ষণি