রাত ৪:২৮, মঙ্গলবার, ২৬শে জুন, ২০১৭ ইং

ক্যামেরুনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কনফেডারেশন্স কাপে ‘বি গ্রুপ’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারে উঠলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেমিফাইনালে উঠলো চিলিও। রাশিয়ার সাচিতে, গোল শূন্য প্রথমার্ধের পর খেলার ৪৮ মিনিটে কারিম ডেমিরবা-র কল্যাণে এগিয়ে যায়, জার্মানরা। ৬৬ মিনিটে ফরোয়ার্ড টিমো ওয়ার্নারের গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় জার্মানি। ৭৮ মিনিটে ক্যামেরুণের ভিনসেন্ট আবুবাকার একটি গোল শোধ করে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফেরান। তবে ৮১ মিনিটে টিমো ওয়ার্নার আরো এক গোল করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। এতে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপের সেরা দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করলো জার্মানরা।

অন্য ম্যাচে, জেমস ট্রয়েসির গোলে পিছিয়ে পড়েও বদলি খেলোয়াড় মার্টিন রডরিগেজের গোলে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ সমতা ফেরায় চিলি। তাতেই গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কনফেডারেশন্স কাপের সেমিফাইনালে উঠে যায় চিলি। এতে ফাইনালে টিকিটি পেতে আগামী ২৮ জুন প্রথম সেমিফাইনালে চিলিকে লড়তে হবে ‘এ গ্রুপ’ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের বিপক্ষে। পরের দিন অর্থাৎ ২৯ জুন দ্বিতীয় সেমিতে মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ জার্মানি।

টি-টোয়েন্টি বোলিংয়ে শীর্ষে ইমাদ ছয়ে মুস্তাফিজ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। দুইয়ে আছেন জাসপ্রিত বুহরাহ। শীর্ষে থাকা ইমরান তাহির তিনে নেমে গেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই লেগ স্পিনার। দুই ম্যাচে মাত্র এক উইকেট পেয়েছেন। তাহিরের অবনমনে উন্নতি হয়েছে ইমাদ ওয়াসিম ও জাসপ্রিত বুমরাহ-র।
ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠলেন ইমাদ ওয়াসিম। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের হয়ে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন বাঁহাতি এ স্পিনার। বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম তিনটি পজিশনে পরিবর্তন হলেও পরের স্থানগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। ছয়ে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। নয়ে আছেন সাকিব আল হাসান।
অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সাকিব আল হাসান শীর্ষেই রয়েছেন। ব্যাটিংয়ে বিরাট কোহলি, অ্যারন ফিঞ্চ ও কেন উইলিয়ামসন সবার শীর্ষে রয়েছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বাধিক ১৪৬ রান করে ১২ ধাপ এগিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০ নম্বরে রয়েছেন মারকুটে এ ব্যাটসম্যান। ১০৩ রান করা জেসন রয় ২৬ ধাপ এগিয়ে ২৫তম স্থানে এসেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়েছে ইংল্যান্ড। ১২৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১২১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে পাকিস্তান। ১২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। এদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারায় র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে এক রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। ১১০ রেটিং পয়েন্ট তাদের।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের নতুন রেকর্ড

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের ব্যর্থতার পরে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে ভারত। গতকাল রবিবারের ম্যাচে ইন্ডিজকে উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী হলো বিরাট কোহলির দল। এদিন তিনশো রানের গণ্ডি পেরোতেই একদিনের ম্যাচে সবথেকে বেশি তিনশো প্লাস স্কোর করার কৃতিত্ব দেখালো ভারত। টপকে গেল অস্ট্রেলিয়াকে। এই নিয়ে ৯৬ বার একদিনের ম্যাচে তিনশো করল তারা। অস্ট্রেলিয়া ৯৫ বার তিনশো রান করেছে।
মজার কথা হল, একদিনের ক্রিকেটে ভারতের অভিষেক হয়েছিল ১৯৭৪ সালের ১৩ জুলাই। কিন্তু প্রথম তিনশো রানের ইনিংস খেলতে তাদের লেগে যায় প্রায় ২২ বছর। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শারজায় প্রথমবার তিনশো পেরোয় ভারত। তারপর থেকেই দ্রুত একের পর এক ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে অন্যসব দেশকে এ ব্যাপারে পিছনে ফেলতে থাকে ভারত।
সাড়ে তিনশো থেকে চারশো রানের স্কোরের রেকর্ডে ভারত কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে পিছিয়ে। ভারত ২৩ বার এই স্কোর করেছে, আর প্রোটিয়ারা করেছে ২৪ বার। চারশো প্লাস স্কোরেও প্রোটিয়াদের (৬ বার) থেকে পিছনে (৫ বার) ভারত। হয়তো এই রেকর্ডও দ্রুত অর্জন করে ফেলবে তারা।

রাহানের সেঞ্চুরিতে ভারতের জয়

আজিঙ্কা রাহানের সেঞ্চুরিতে দারুণ এক জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০৫ রানে হারালো ভারত। প্রথম ম্যাচে ব্যাটে দাপট দেখিয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান। আর রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচে অজিঙ্ক রাহানে ও বিরাট কোহালির ব্যাটের দাপট দেখল ক্যারিবিয়রা। তাতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কুইন্স পার্ক ওভালে বৃষ্টি বন্ধ হলেও থামল না ভারতের রান-বৃষ্টি।

দ্বিতীয় ওয়ানডেও পণ্ড হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল বৃষ্টিতে। তাতে দু’ঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হয়। ৪৩ ওভার খেলা হয় প্রতি ইনিংসে। ৪৩ ওভারে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ৩১০ রান। আর এই রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে প্রায় হিমশিম খেয়ে হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৩ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৫ রান তোলে তারা। ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং ও কুলদীপ যাদবের গুগলিতে চাপে চিঁড়ে চ্যাপ্টা হয় ক্যারিবিয়রা। দু’জনই তুলে নেন দু’টি করে উইকেট। ওপেনার ও উইকেটকিপার সাই হোপের ৮১ ছাড়া কোনও বড় রান নেই তাদের।

টস হেরে ভারত প্রথমে ব্যাট করে বিশাল রানের পাহাড় চাপিয়ে দেয় ক্যারিবিয়ানদের ঘাড়ে। শিখর ধাওয়ান ৬৩ করে আউট হওয়ার পর অজিঙ্ক রাহানে তাঁর তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পান। এর পর কোহালি-ম্যাজিক শুরু হয়। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে থাকা অবস্থায় ছয় হাঁকাতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ভাররত-অধিনায়ক। সকাল থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে প্রায় পণ্ড হতে বসেছিল ম্যাচটা। তবে সৌভাগ্যবশত বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা শুরু হয়। কিন্তু সারা দিনই বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল বলে রানের গড়টাও বাড়িয়ে রাখা দরকার ছিল। গোটা দশেক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অ্যাশলে নার্সের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান শিখর। রাহানে দশটা চার ও দুটো ছয় মেরে ১০৪ বলে ১০৩ রান করার পর মিগুয়েল কামিেন্সর বলে সাজঘরে ফেরেন। বিরাট চারটে চার ও সমান সংখ্যক ছয় মেরে ৬৬ বলে ৮৭ রান তোলেন। কিন্তু হার্দিক পান্ডে (৪), যুবরাজ সিং (১৪) বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। শেষে ধোনি (১৩ অপ.) ও কেদার যাদব (১৩ অপ.) দলকে তিনশো পার করিয়ে দেন।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে নড়াইলে মাশরাফি

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনডে সফল অধিনায়ক নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজা মা-বাবাসহ স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জন্মস্থান নড়াইল পৌঁছেছেন। ঈদের দিন মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধ-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও নড়াইলে ভক্তদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। এবারও নড়াইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের ঈদের নামাজ আদায় করবেন মাশরাফি।
রোববার সকাল ৮ টায় তিনি নড়াইলে পৌঁছান। নড়াইলে এসে তার মা বাবার সঙ্গে দেখা করতে প্রথমে শহরের মহিষখোলাতে নিজের বাড়িতে যান। পরে সেখানে বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা করে শহরের আলাদাৎপুরে মামা নাহিদুল ইসলামের বাড়ি অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, মাশরাফি ঈদ উদযাপন শেষে বেশ কয়েকদিন নড়াইলে অবস্থান করবেন। আগামী শনিবার (১ জুলাই) ঢাকায় ফিরবেন।
এদিকে মাশরাফি নড়াইলে এসেছে বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল থেকেই শহরের আলাদাৎপুর মামা বাড়িতে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাশরাফির ভক্তরা আসতে শুরু করেছেন প্রিয় মাশরাফিকে এক নজর দেখার জন্য।

মাশরাফির পিতা গোলাম মর্তুজা স্বপন জানান, মাশরাফি দেশে থাকলে প্রতি বছরই নড়াইলে ঈদ উদযাপন করেন। এবছরও ঈদের আনন্দ নড়াইলের মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে সকালে নড়াইলে পৌঁছেছেন। মাশরাফির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন গোলাম মর্তুজা স্বপন।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শুভ সূচনা ভারতের

মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়েছে ভারত। ২৮২ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে ২৪৬ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক দল। এরআগে, ডার্বিশায়ারে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৮১ রান তোলে ভারত। জবাবে ১৫ বল হাতে থাকতেই ২৪৬ অলআউট হয় ইংলিশ নারী ক্রিকেট দল।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে, উদ্বোধনী জুটিতে পুনম রাউত ও স্মৃতি মদনা ১৪৪ রান তুলে ভারতকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান। ম্যাচ সেরা স্মৃতি ৯০ রান করে হিদার নাইটের শিকারে পরিণত হন। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৭২ বলে ১১ চার আর ২ ছক্কায় তোলেন এই রান। এরপর পুনম রাউতের ৮৬ আর অধিনায়ক মিতালী রাজের ৭১ রানে ৩ উইকেটে ২৮১ রানে থামে ভারতের ইনিংস। এই ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়ে রেকর্ড গড়েন মিতালি রাজ। তিনি টানা সাত ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকানোর বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তার আগে কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেনি।

জবাবে, খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ইংল্যান্ডের নারী ক্রিকেটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে তাদের। দলের পক্ষে ফ্রান উইলসন সর্বোচ্চ ৮১ রান করলেও ২৪৬ রানেই থামে স্বাগতিকরা। তাতে ৩৫ রানের জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো ভারতের মেয়েরা।

জয় দিয়েই শুরু নিউজিল্যান্ডের

জয় দিয়েই বিশ্বকাপ ক্রিকেট মিশন শুরু করলো নিউজিল্যান্ড নারী দল। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা ৯ উইকেটে হারায় শ্রীলংকাকে। লংকানদের ৯ উইকেটে ১৮৮ রানের জবাবে সুজি বেটিসের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ১ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ তুলে ৭৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে কিউইরা।
ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে টসে হেরে ব্যাট করে, উদ্বোধনী জুটিতে ৪৯ রান তুলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় উইকেটে চামারি আতাপাত্তু (৫৩) ও চামারি পোলগামপোলা (৪৯) ৯২ রান তুলে রানের গতিটা ঠিকই রেখেছিলেন। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় মাত্র ১৮৮ রান তোলে ৯ উইকেট হারানো শ্রীলংকা। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে ম্যাচ সেরা হলি হাডলস্টোন ৩৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ধস নামান, লংকান শিবিরে।

জবাবে, অধিনায়ক সুজি বেটিসের অপরাজিত ১০৬ রানে ভর করে ৭৪ বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়, ১ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড। সুজি বেটিস ১০৯ বলে ১১ চার আর এক ছক্কায় তার ইনিংসটি সাজান। অন্য ব্যাটসম্যান অ্যামি সাদেরওয়েট ৭৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলংকা ১৮৮/৯ (চামারি আতাপাত্তু ৫৩, চামারি পোলগামপোলা ৪৯, হলি হাডলস্টোন ৫/৩৫)।
নিউজিল্যান্ড ১৮৯/১ (সুজি বেটিস ১০৬*, অ্যামি সাদেরওয়েট ৭৮)।

শ্রীলঙ্কা দলের কোচের পদ ছাড়লেন গ্রাহাম ফোর্ড

শ্রীলঙ্কার কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন গ্রাহাম ফোর্ড। দ্বীপ দেশটির জাতীয় ক্রিকেট দলে দ্বিতীয় মেয়াদে ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের পর ‘ক্ষোভ থেকে’ পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেটার।
তবে আজ শনিবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি থিলাঙ্গা সুমাথিপালা দাবি করেছেন, দুপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব ছেড়েছেন ফোর্ড। তবে ইসএসপিএন-ক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, কাজে বোর্ডের হস্তক্ষেপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গ্রাহাম ফোর্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে বর্তমানে ছুটিতে আছেন এই কোচ। গত সপ্তাহে শেষ হওয়া আইসিসির এই প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় ১৯৯৬ সালের বিশ্বজয়ীরা।
গত ফেব্রুয়ারিতে আসাঙ্কা গুরুসিনহাকে ‘ক্রিকেট ম্যানেজার’ হিসেবে নিয়োগ দেয় এসএলসি। গুরুসিনহার দায়িত্ব বিস্তৃত হওয়ায় কোচের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হতে থাকে, যা মেনে নিতে পারেননি ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া ফোর্ডের চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

২০১১ থেকে এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলে মোট আট জন কোচ কাজ করলেন, তার মধ্যে ফোর্ড ছিলেন দুই মেয়াদে। প্রথম মেয়াদে ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আর গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত।

নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য গুগলের ডুডলে পরিবতর্ন

কিছুক্ষণ আগেই শুরু হয়ে গেছে নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের লড়াই। ডার্বিশায়ারে, উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
সে যাই হোক, মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে সার্চ ইঞ্জিন গুগল পরিবর্তন এনেছে নিজেদের ডুডলে।

৩ রানের জয়ে সিরিজে সমতায় দক্ষিণ আফ্রিকা

জয়ের জন্য শেষ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪ রানের। পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আশাও বাঁচিয়ে রেখেছিলেন লিয়াম ডসন। তবে ফেলুকওয়ায়োর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে শেষ বলে নিলেন ১ রান। আর এতেই ৩ রানের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংলিশদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলেন আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো। তার দারুণ শেষ ওভারে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ উইকেট হাতে নিয়েও শেষ ৫ ওভারে ৪২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি ইংল্যান্ড।
টনটনের কাউন্টি মাঠের অভিষেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৭৪ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৬ উইকেটে ১৭১ রানে থামে ইংল্যান্ড।
জেজে স্মাটস ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে শুরুটা ভালো ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। দুই জনের চমৎকার ব্যাটিংয়ে ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৬ রানের দৃঢ় ভিত পায় অতিথিরা। ৩৫ বলে ৪৫ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান স্মাটস।

আগের ম্যাচে ‘মন্থর’ ব্যাটিং করা ডি ভিলিয়ার্স এবার ছিলেন স্বরূপে। অধিনায়ক ফিরেছেন ২০ বলে ৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪৬ রান করে। শেষের দিকে দ্রুত উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন ফারহান বেহারডিন। ২১ বলে দুটি করে ছক্কা-চারে করেন ৩২ রান।
মাত্র একটি বলই খেলেন ড্যান প্যাটারসন। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শেষ বলে চার হাঁকান তিনি। নিজেদের শেষ বলে সেই কাজটিই করতে পারেননি ডসন। অভিষেকে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন টম কুরান। ২ উইকেট লিয়াম প্লানকেট।
শুরুতেই স্যাম বিলিংসকে হারানো ইংল্যান্ডকে কক্ষপথে রেখেছিলেন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। দুই জনের ১১০ রানের জুটিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয়ের আশা জাগিয়েছিল স্বাগতিকরা।

৩৭ বলে ৪৭ রান করা বেয়ারস্টোকে আউট করে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন ক্রিস মরিস। তার পরের ওভারে ফিল্ডিংয়ে বাধা দিয়ে আউট হন ছন্দে ফেরা রয়। এই বিস্ফোরক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ৪৫ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় খেলেন ৬৭ রানের চমৎকার এক ইনিংস।
দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে হারানো ইংল্যান্ডের ত্রাতা হতে পারেনন জস বাটলার, ওয়েন মর্গ্যান। অভিষেকে নায়ক হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন লিয়াম লিভিংস্টোন। শেষের দিকে সুযোগ এসেছিল ডসনের সামনেও। তবে তিনিও হতাশ করেছেন দলকে।
মাত্র ১৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার মরিস। ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া বোলিংয়ের জন্য তিনিই জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। প্যাটারসন ৩২ ও ফেলুকওয়ায়ো ৩৪ রানে নেন ‌১ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৭৪/৮ (স্মাটস ৪৫, হেনড্রিকস ৭, মোসেলে ১৫, ডি ভিলিয়ার্স ৪৬, মিলার ৮, বেহারডিন ৩২, মরিস ১২, ফেলুকওয়ায়ো, মরকেল ০*, প্যাটারসন ৪*; উইলি ১/২৯, জর্ডান ১/৩৮, কুরান ৩/৩৩, প্লানকেট ২/৩৬, ডসন ১/৩৮)
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭১/৬ (রয় ৬৭, বিলিংস ৩, ৪৭, লিভিংস্টোন ১৬, বাটলার ১০, মর্গ্যান ৬, ডসন ৭*, প্লানকেট ০*; মরকেল ০/৪৩, মরিস ২/১৮, প্যাটারসন ১/৩২, ফেলুকওয়ায়ো ১/৩৪, স্মাটস ০/১১, শামসি ০/২৪)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ রানে জয়ী, ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ক্রিস মরিস।

উইন্ডিজ-ভারত প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভারতের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডেতে জয় হলো বৃষ্টির। বার বার ফিরে আসা বৃষ্টিই হাসল শেষ হাসি। তার দাপটে পোর্ট অব স্পেনে ভেসে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি। খেলা হয় পরিত্যাক্ত। আমাগীকাল রোববার ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর কুইন্স পার্ক ওভালে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।

স্থানীয় সময় পৌনে চারটার দিকে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার। অথচ তার কিছুক্ষণ আগেই ঠিক হয়েছিল স্বাগতিকদের লক্ষ্য। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ২৬ ওভারে জিততে তাদের দরকার ছিল ১৯৪ রান।
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় বিকাল চারটায়। আবার বৃষ্টি নামলে, তার ১২ মিনিট আগে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচ।
এরআগে, কুইন্স পার্ক ওভালে শুক্রবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩৯.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান করে ভারত। এরপর বৃষ্টি নামলে আর খেলা সম্ভব হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এনিয়ে টানা দুটি ওয়ানডে পরিত্যক্ত হল। এরআগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্বাগতিকদের শেষ ওয়ানডের ফল হয়নি।
অজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে ১৩২ রানের জুটিতে দলকে চমৎকার সূচনা এনে দেন শিখর ধাওয়ান। ক্যারিবিয়ায় এটি ভারতের মাত্র তৃতীয় শতরানের উদ্বোধনী জুটি। ৭৮ বলে ৮টি চারে ৬২ রান করে ফিরেন রাহানে।

লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর বলে লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন শিখর ধাওয়ান। তার আগে খেলেন তিনি ৮৭ রানের ইনিংস। মাত্র ৪ রান করে ফিরেন যুবরাজ সিং। অধিনায়ক বিরাট কোহলি একটি চারে অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে, মহেন্দ্র সিং ধোনি অপরাজিত ৯ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৩৯.২ ওভারে ১৯৯/৩ (রাহানে ৬২, ধাওয়ান ৮৭, কোহলি ৩২*, যুবরাজ ৪, ধোনি ৯*; হোল্ডার ১/৩৪, জোসেফ ১/৫৩, নার্স ০/২২, কামিন্স ০/৪৬, বিশু ১/৩৯, কার্টার ০/৫)।

প্রস্তাবিত টেস্ট লিগে বাংলাদেশের ১২ সিরিজ

আইসিসির টেস্ট ও ওয়ানডে লিগ বাস্তবায়ন হওয়াটা এখন মাত্র সময়ের ব্যাপার। গত সপ্তাহের শেষদিকে আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের কমিটির আলোচনা সভা শেষে ওয়ানডে ও টেস্ট লিগের সম্ভাব্য সূচি তৈরি করা হয় । এ লিগ শুরুর সম্ভাবনা ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে। চার বছরের প্রস্তাবিত এ টেস্ট লিগের সূচিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোন টেস্ট সিরিজ নেই। ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিক-সাকিব-মিরাজরা কোন টেস্ট সিরিজ খেলতে না পারার হতাশা থাকলেও বাংলাদেশ খেলবে মোট ১২টি টেস্ট সিরিজ।
২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৯টি দলই খেলবে ১২টি টেস্ট সিরিজ। সিরিজগুলো হবে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে । জিম্বাবুয়ে এবং দুই নতুন টেস্ট দল আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে এই লিগে বিবেচনায় আনা হয়নি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ অংশ নেবে।

ক্রিকইনফো দলগুলোর প্রস্তাবিত টেস্ট সিরিজের সূচি ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। প্রত্যেক সিরিজ কমপক্ষে ২ ম্যাচের হবে। চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি করে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এছাড়া প্রত্যেকের বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুটি টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, হোম ভেন্যুতে। আর ২০২৩ সালে এ সূচির ভিত্তিতে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে সবকিছু জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে আরো কিছুটা সময়।

শুরুর অপেক্ষায় নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেট

আগামীকাল থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে মহিলা বিশ্বকাপের এগারতম আসর। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত মহিলা বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ইংল্যান্ড। বর্তমানে আইসিসি র‌্যাংকিং-এর শীর্ষ আট দল এবারের বিশ্বকাপে খেলছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন রয়েছে দু’টি ম্যাচ। ডার্বিতে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও ভারত এবং ব্রিস্টলে শ্রীলংকার বিপক্ষে লড়বে নিউজিল্যান্ড। দু’টি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।
১৯৭৩ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হয় মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ইংল্যান্ডে ঐ বিশ্বকাপে সাতটি দল অংশ নিয়েছিলো। লিগ ভিত্তিক সেই আসরে সর্বোচ্চ ২০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। রানার্স-আপ হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া।

এর পাঁচ বছর পর ভারতে দ্বিতীয়বারের মত বসে বিশ্বকাপ আসর। এবার অংশ নিয়েছিলো চারটি দেশ। এবারও লিগ ভিত্তিক আসরে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এই আসরটিতেই শেষবারের মত লিগ পদ্বতিতে শিরোপা নির্ধারন করা হয়। এরপর আটটি আসরেই ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে সেরা দল বেছে নেয়া হয়। সবশেষ ২০১৩ সালের আসরে ভারতের মাটিতে শিরোপা ঘরে তুলেছিলো অস্ট্রেলিয়া। মোট দশটি আসরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে র‌্যাংকিং-এ এক নম্বর দল অসিরা। তাই এবারও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া।

আত্মবিশ্বাসে টগবগে স্বাগতিক ইংল্যান্ডও। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধাটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে চায় র‌্যাংকিং-এর দ্বিতীয়স্থানে থাকা দলটি। শিরোপা অন্যতম দাবীদার নিউজিল্যান্ড ও ভারত। র‌্যাংকিং-এ তৃতীয় ও চতুর্থস্থানে রয়েছে এই দু’দল।
শিরোপা জয়ের প্রত্যাশায় মাঠে নামবে র‌্যাংকিং-এর পরের চারটি দল- ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। কিন্তু ফর্মটা খুব একটা ভালো নয় তাদের। শিরোপার স্বাদ নিতে মাঠের লড়াইয়ে সেরাটাই দিতে হবে এই চারটি দলকে। এদিকে বাছাই পর্ব পেরোতে না পারায় এবারও বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।
টুর্নামেন্টে মূল লড়াইয়ে নামার আগে প্রত্যকটি দলই একে অপরের বিপক্ষে দু’টি করে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলেছে।
এবারের টুর্নামেন্টেও লিগ ভিত্তিক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ প্রত্যকটি দলই লিগ পর্বে সাতটি করে ম্যাচ খেলবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল খেলবে সেমিফাইনাল। এরপর ফাইনাল। আগামী ২৩ জুলাই লর্ডসের ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়ার লড়াই।

টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রিকেট

উইন্ডিজ-ভারত
প্রথম ওয়ানডে
সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা
এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
শ্রীলংকান লায়ন্স-নেপাল স্টোর্মস
সরাসরি, সকাল ১১টা
সনি সিক্স
ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
সরাসরি, রাত ১০টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি ১

পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মাশরাফি

কিছুদিন আগে টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা ১৫০ জন ছাড়িয়ে যায়। আহত ও ঘরবাড়ি হারান আরও অনেক মানুষ। এবার তাদের সাহায্যে পাশে দাঁড়ালেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। নিজের অটোগ্রাফ বিক্রি করা থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।

মাশরাফির একটি অটোগ্রাফ বিক্রি করে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের’ একটি অটোগ্রাফ নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ পাঠানো হচ্ছে রাঙ্গামাটিতে সাহায্যের জন্য। মাশরাফির হাতে লেখা কিছু কথা আর একটি স্বাক্ষর করা এক টুকরো কাগজ নিলামে বিক্রি হয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকায়।

mashrafe

এ তথ্য জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের লেখক ও সমাজকর্মী আরিফ আর হোসেন। তার হাতেই এ অটোগ্রাফটি তুলে দিয়েছিলেন পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসা মিশু। শুরুতে এর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার টাকা। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ভিত্তিমূল্যের চেয়ে দশগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এটি।

ধোনি-যুবরাজকে নিয়ে দ্রাবিড়ের প্রশ্ন

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের ক্ষত না কাটতেই কোহলির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে বিদায় নিয়েছেন অনিল কুম্বলে। এরই মধ্যে দলে ধোনি-যুবরাজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়।

২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখনই দল নিয়ে ভাবা উচিত ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের উল্লেখ করে দ্রাবিড় বলেন, ‘নির্বাচক এবং ম্যানেজমেন্টকে এ বার এ নিয়ে ভাবতে হবে। আগামী দুই বছরে এই দুই ক্রিকেটারের অবস্থা কী থাকবে, সেটা দেখার। দু’জনেই কি টিমে থাকবে? নাকি, একজন থাকবে?’

এদিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই দেশ ছেড়েছে ভারত। এ নিয়ে দ্রাবিড় বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রায় পুরো শক্তির টিম নিয়েই গেছে ভারত। তবে আশা করব, ওখানে টিম নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তরুণদের সুযোগ দেওয়া হবে।’

এদিকে ধোনি-যুবরাজকে নিয়ে দ্রাবিড় আরও বলেন, ‘যদি ধোনি ও যুবরাজ ফিট থাকে, ভালো ফর্মে থাকে, তা হলে ওদের নিয়ে সত্যিই কিছু বলার নেই।’

প্রথমবারের মত মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।  সম্প্রতি ‘উৎসবের বাংলাদেশ’ শিরোনামের মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। মাশরাফি ছাড়াও কণ্ঠশিল্পী বুশরা শাহরিয়ার ও মডেল দেজানও মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ করে মিউজিক ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় উৎসব পালনের দিকে ইঙ্গিত করে ভিডিও তৈরিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সমাজজীবনে মানুষের আনন্দ-উল্লাসকে।

মিউজিক ভিডিওটি প্রথম প্রচারিত হয় গত ২২ জুন বিকেল চারটায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে। এরপর মূল কণ্ঠশিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলেও তা আপলোড করা হয়।এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সাড়া ফেলা।

এই প্রসঙ্গে বুশরা শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের দেশটা আসলে খুবই সুন্দর। তবে শুধু সঠিক প্রচারণার ওভাবে এর সৌন্দর্য বিশ্বের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে। এরকম একটি গান বানাতে এই ব্যাপারটা আমার মাথায় কাজ করছিল।’

‘উৎসবের বাংলাদেশ’ গানটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন বব সেন। আর ভিডিও পরিচালনা করেছেন নোমান রবিন।

কুম্বলেকে নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন কোহলি

ইংল্যান্ড সিরিজের পর থেকেই কুম্বলে আর কোহলির মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে হঠাৎ করে তা প্রকাশ পায়। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর কোহলির এক মন্তব্যে তা আরও জোড়াল হয়। আর মঙ্গলবার কুম্বলের পদত্যাগের মধ্যদিয়ে এ অধ্যায়ের সমাপ্ত হয়।

এদিকে কুম্বলে পদত্যাগ পত্রে  অধিনায়ক কোহলির সঙ্গে সমস্যার কারণ উল্লেখ করার পর থেকেই শুরু হয় কোহলির সমালোচনা। এদিন চুপ থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সংবাদ সম্মেলনে নিজের নীরবতা ভাঙলেন কোহলি।

কুম্বলের খেলোয়াড়ি জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোহলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেষ ৩-৪ বছরে আমাদের সংস্কৃতিটা এমন যে আমরা আমাদের ড্রেসিং রুমের খবর রুমের বাইরে নেই না। এই ব্যাপারে আমরা সবসময় সচেষ্ট ছিলাম। আর পুরো দল এই নিয়মেই বিশ্বাস করে। আমি তো এটা অবশ্যই করি এবং এই ব্যাপারেও করেছি।’

এদিকে কুম্বলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে কোহলি আরও বলেন, ‘আমি তার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। আর ক্রিকেটার হিসেবে আমি তাকে অবশ্যই সম্মান করি। কেননা তিনি আমাদের দেশকে অনেক কিছুই দিয়েছেন। আর আমাদের ড্রেসিং রুমে যা হয়েছিলো তা মোটেও সুখকর ছিল না। এটা আমদের কাছে গোপনীয়। আর এই গোপনীয়তা আমরা জনসম্মুখে প্রকাশ করবো না।’

ভারতের আয় বাড়ায় কমল বাংলাদেশের

আইসিসির প্রস্তাবিত নতুন আর্থিক কাঠামো এপ্রিলে বড় ধাক্কাই দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই)। নতুন আর্থিক সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত আইসিসির কাছ থেকে পাওয়ার কথা ছিল ২৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্বাভাবিকভাবে ভারত এই সংস্কার মানতে চায়নি। তাদের দাবি ছিল ৫৭০ মিলিয়ন ডলার। আইসিসি বিসিসিআইকে তখন ৪০০ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

অবশেষে নানা জলঘোলার পর আইসিসি-বিসিসিআই পৌঁছেছে। অতিরিক্ত ১১২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ভারতকে শান্ত করেছে আইসিসি। তবে ভারতের আয় বাড়াতে গিয়ে কমেছে বাংলাদেশসহ অন্য ছয় ক্রিকেট বোর্ডের।

নতুন আর্থিক সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মতো বাকি ছয়টি দলকেও ১৩২ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। আর সহযোগী দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ ২৮০ মিলিয়ন। এখন ভারতের আয় বাড়ায় ৪ মিলিয়ন ডলার করে কম পাবে বাংলাদেশসহ অন্য ছয় ক্রিকেট বোর্ড।

২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আইসিসির রাজস্ব বণ্টন :

  এপ্রিলে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ (মিলিয়ন ডলার) জুনে পাস হওয়ার পর
ভারত ২৯৩ ৪০৫
ইংল্যান্ড ১৪৩ ১৩৯
অস্ট্রেলিয়া ১৩২ ১২৮
শ্রীলঙ্কা ১৩২ ১২৮
পাকিস্তান ১৩২ ১২৮
দ.আফ্রিকা ১৩২ ১২৮
বাংলাদেশ ১৩২ ১২৮
ও. ইন্ডিজ ১৩২ ১২৮
নিউজিল্যান্ড ১৩২ ১২৮
জিম্বাবুয়ে ৯৪ ৯৪
সহযোগী ২৮০ ২৪০

অধিকার বঞ্চিতদের পাশে আশরাফুল

অধিকার বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। ধানমন্ডির নিউ মডেল হাই স্কুলে অধিকার বঞ্চিত শিশুদের ঈদের জামা উপহার ও ভালো খাবার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এ সময় তিনি বলেন, ‘সবাই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সেটাকে আলোড়িত করতে পারে না বা ধরে রাখতে পারেনা সবাই। স্বপ্নালোড়নের স্বেচ্ছাসেবকদের দেখে খুব ভালো লাগছে যে তারা সেটা পারছে। ভবিষ্যতেও এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নালোড়ন’ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম, খেলাঘরের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব শেখ সালেকিন শাওন, নিউ মডেল হাই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকসহ আরো অনেকে।
বিগত দুবছর যাবত অধিকার বঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করে যাওয়া এই স্বপ্নালোড়ন ঢাকায় ৬টি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিমাসে একটি করে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমও পরিচালনা করে।

অবসরে এবার জিতান প্যাটেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে লুক রনকির পর অবসরের ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ডের অফ স্পিনার জিতান প্যাটেল। রনকির অবসরের পর পরই গতকাল ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৪ টেস্ট, ৪৩ ওয়ানডে এবং ১১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন জিতান প্যাটেল। ২০০৫ সালে কিউই ক্রিকেটে তার আগমন। নিউজিল্যান্ড দলে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকার পর ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ডাক পান তিনি। এরপর ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের টপ বোলারদের তালিকায় থাকায় সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আশার সুযোগ পান ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশর বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেন জিতান প্যাটেল। ইংল্যান্ড অনুষ্ঠিত সবশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। ২০১৫ সালের উইজডেনের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলো জিতান প্যাটেলের নাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে ৭৮ ম্যাচে মোট ১৩০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান এই কিউই স্পিনার।

সরফরাজকে আকরাম-শোয়েবের উপহার

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের শিরোপা জয় করা পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে বিএমডব্লু এক্স-১ গাড়ি উপহার দিলেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও স্পিডস্টার পেসার শোয়েব আখতার।
পাকিস্তানের জিও টিভির রমজান শো ‘জিও খেলো’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরফরাজ। সেই অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আকরাম ও আখতার। আর ঐ অনুষ্ঠানেই সরফরাজের হাতে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার তুলে দেন তারা।
জিও খেলো ও জেএস ব্যাংকের মিলে সরফরাজকে বিএমডব্লিউ গাড়ি ও একটি প্লট উপহার দেয়া হয়।

টেস্ট মর্যাদা পেল আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান

আইসিসি পূর্ণাঙ্গা সদস্য পদ পেয়েছে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আবির্ভূত হল তারা। ১৭ বছর পর টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এখন থেকে টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা ১২টি।
১৯৮১ সাল পর্যন্ত টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা ছিল ৭টি। ১৯৮২ সালে শ্রীলঙ্কা টেস্ট মর্যাদা পেলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় আটে। এরপর ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ে ও ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পেলে সেই সংখ্যাটা হয় ১০। গেল ১৭ বছর ধরে টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা বাড়েনি। আজ সেটা বেড়ে গেল। নতুন করে টেস্ট খেলার মর্যাদা পেয়েছে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান।
২০১১ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায় আফগানিস্তান। তার অনেক আগে থেকেই তারা ভালো ক্রিকেট খেলছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তানের ক্রিকেট যেভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর কথা সেভাবে পারেনি। তারপরও যুদ্ধের প্রভাব ও প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলছে তারা। ২০১৫ সালে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলে। এরপর ২০১৬ সালে খেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও।
আয়ারল্যান্ড আস্তে-ধীরে ক্রিকেটে বেশ উন্নতি করেছে। তারা ২০০৭ সালে প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলে। সেবার তারা পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠে। এরপর সুপার এইটে বাংলাদেশের বিপক্ষেও জয় পায়। এরপর ২০১১ ও ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলে। খেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।

আইসিসি থেকে ৪০৫ মিলিয়ন লভ্যাংশ ভারতের

আগের সভায় নির্ধারিত হয়েছিল যে ভারত লভ্যাংশ হিসেবে ২৯৩ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাবে। ভারত সেটা মানতে রাজি হয়নি। ৫৭০ মিলিয়ন ডলার দাবি ছিলো তাদের। কিন্তু অন্যান্য পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর কারণে সেযাত্রা আর অর্থের পরিমাণ বাড়েনি ভারতের।
তবে লন্ডনে চলমান আইসিসির সভায় ভারত ঠিকই আইসিসির কাছ থেকে তাদের লভ্যাংশ বাড়িয়ে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সভায় ভারতকে আরো ১০০ মিলিয়ন দিতে রাজি হয় আইসিসি। এরপর তার সঙ্গে আগের চুক্তি অনুযায়ী আরো ১২ মিলিয়ন যোগ করা হয় (মোট ১১২ মিলিয়ন)। সব মিলিয়ে ৪০৫ মিলিয়ন ডলার (২৯৩+১১২) আদায় করে নেয় ভারত।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩৯ মিলিয়ন লভ্যাংশ পাচ্ছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। তবে তাদের চেয়ে ২৬৬ মিলিয়ন ডলার বেশি পাচ্ছে ভারত। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা প্রত্যেকে পাচ্ছে ১২৮ মিলিয়ন ডলার করে। জিম্বাবুয়ে পাচ্ছে ৯৪ মিলিয়ন ডলার। শেষ পর্যন্ত সহযোগী দেশগুলোর অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে ভারতকে ৪০৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে।

সুযোগ কাজে লাগাতে চান এনামুল

গত বিশ্বকাপে হনস্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে বাদ পড়ার পর দলে আর জায়গাই পাননি এনামুল হক বিজয়। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবালের সঙ্গী হন, সৌম্য সরকার। গত আড়াই বছরে মাত্র দুটি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেলেও ৫০ ওভারে সুযোগ হয়নি এনামুলের। তবে এই মুহূর্তে হোম সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দলের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তিনি। ভালো খেলেই জাতীয় দলে ফিরতে চান তরুণ এই ওপেনার।
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে আশার আলো খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মিরপুরের একাডেমিতে অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই আমার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। জাতীয় দলে ফিরতে কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে চাই না। তাই প্রতিটি ম্যাচেই রান করা আমার কাছে খুব জরুরি। অস্ট্রেলিয়া সফরটা আমার জন্য বড় মঞ্চ। অস্ট্রেলিয়ার মতো ভালো জায়াগাতে ভালো কিছু করতে পারলে নিশ্চয়ই সুযোগ আসবে। এখন আমার কাজ পারফর্ম করা। প্রিমিয়ার লিগ মোটামুটি ভালো হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমার দায়িত্ব মাঠে পারফরম্যান্স করা। দলে সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচকদের।’

বিজয় জানান, ‘আমি নিজে খুব রোমাঞ্চিত। অনেকদিন পর বিদেশ সফরে যাচ্ছি। এমনিতেই অস্ট্রেলিয়া আমার জন্য সৌভাগ্যপূর্ণ ভেন্যু। যদিও শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে সেটা দুর্ভাগ্যের হয়ে উঠেছিল ইনজুরির কারণে। আমাদের দলে বেশ ভালো কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। সেখানে ভালো কিছু করে আসার সুযোগ পাব।’
প্রায় তিন সপ্তাহের এ সফরের জন্য বিসিবি এখনও ১৬ জনের দল ঘোষণা করেনি। যদিও এইচপি স্কোয়াডের ২৪ জন থেকেই ১৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্বাচন করবে নির্বাচকরা। দল ঘোষণার আগেই এনামুল জানালেন তাদের দলটি কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, ‘জাতীয় দলের পর বাংলাদেশের সেরা পারফরমাররা এই দলে আছে। দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। দলে ব্যাটসম্যান-বোলারদের পাশাপাশি বেশকিছু অলরাউন্ডার আছে। আশা করি অস্ট্রেলিয়া সফরে দল হিসেবে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’
অস্ট্রেলিয়ার সফরে ডারউইনে প্রাদেশিক একটি দলের বিপক্ষে ৫টি ওয়ানডে, দু’টি দুই দিনের ও একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ এইচপি দল।

একাদশে এবার সাকিব

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হলেও রেশটা এখনো রয়েই গেছে। টুর্নামেন্ট শেষে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা-আইসিসিসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও বিশ্লেষকরা পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে সেরা একাদশ তৈরি করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নিজের সেরা একাদশ ঘোষণা করছেেন এবার ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। তার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এর আগে বিভিন্ন সেরা একাদশে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গা হলেও, ভনের একাদশে সাকিবই হলেন বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার।
মাইকেল ভনের একাদশে শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার জায়গা হলেও, জায়গা হয়নি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির। চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় রয়েছেন এই একাদশে। পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজই তার দলের অধিনায়ক। এছাড়া ইংল্যান্ডের তিনজন, ভারতের দুইজন ও বাংলাদেশের একজন আছেন এই একাদশে।
মাইকেল ভনের সেরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি একাদশ:
ফখর জামান, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, জো রুট, সাকিব আল হাসান, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, আদিল রশিদ, মোহাম্মদ আমির, হাসান আলী, জুনাইদ খান।

বিসিবি’র প্রাথমিক দল ঘোষণা

আসন্ন অস্ট্রেলিয়া হোম সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি ২৯ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক এই দলে সুযোগ পেয়েছেন দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এনামুল হক বিজয় ও আল আমিন হোসেন। এছাড়া ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পাওয়া নাসির হোসেনও আছেন ২৯ জনের মধ্যে।
আগস্টের মাঝামাঝিতে অস্ট্রেলিয়া আসবে বাংলাদেশে। ২৭ আগস্ট ও ৪ সেপ্টেম্বর দুটি টেস্ট খেলবে তারা স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে বাংলাদেশ যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, সেখানে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে টাইগাররা প্রোটিয়াদের সঙ্গে।দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প আগামী ১০ জুলাই থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক দলের সদস্যরা হলেন- তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শুভাষিস রায়, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুবেল হোসেন, নূরুল হাসান সোহান, সাঞ্জামুল ইসলাম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাইফ উদ্দিন, এনামুল হক বিজয়, আবুল হাসান রাজু, আল আমিন হোসেন, নাসির হোসেন, মুক্তার আলী, তানভীর হায়দার রনি, সাকলায়েন সজীব ও শফিউল ইসলাম।

ইংলিশদের কাছে পাত্তাই পেলো না দক্ষিণ আফ্রিকা

সিরেজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের কাছে কোনো পাত্তাই পেলো না দক্ষিণ আফ্রিকা। সাউদাম্পটনে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ তে এগিয়ে গেলো ইংলিশরা।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার ক্ষত এখনো দগদগে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ক্ষতে এবার নুনের ছিটা দিল ইংল্যান্ড। রোজ বোলে গতকাল প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশদের কাছে প্রোটিয়ারা পাত্তাই পায়নি।
ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৪৩ রানের। মাঝারি সেই লক্ষ্যটাকে মামুলি বানিয়ে ফেলেন তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান জেসন রয়, অ্যালেক্স হেলস ও জনি বেয়ারস্টো। উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন রয়। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ফেরার আগে ১৪ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ডানহাতি ওপেনার। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ১ উইকেটে ৪৫।

বাকি কাজটা করেন হেলস ও বেয়ারস্টো। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৯৮ রানের জুটিতে ৩৩ বল বাকি থাকতে জয় পায় ইংল্যান্ড। প্রায় এক বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা বেয়ারস্টো ৩৫ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস খেলেন। ৩৮ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন হেলস।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ বলেই দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার জেজে স্মুটস ও রেজা হেনড্রিকস সাজঘরে ফেরেন। ২৫ বলের মধ্যে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহটা যে শেষ পর্যন্ত ১৪২ হয়েছে, সেটা মূলত অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ফারহান বেহারদিয়েনের কল্যাণে। দুজন অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় জুটিতে যোগ করেন ১১০ রান। তবে এ জুটি খেলেছে প্রায় ১৬ ওভার। ডি ভিলিয়ার্স ৬৫ ও বেহারদিয়েন ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ইংল্যান্ডের দুই পেসার ডেভিড উইলি ও মার্ক উড উইকেট নিয়েছেন তাদের প্রথম বলেই। আর মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চেপে ধরে স্পিনাররা। হাম্পশায়ারের দুই স্পিনার লিয়াম ডসন ও ম্যাসন ক্রেন ৮ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৪১ রান। টনটনে পরের ম্যাচ হবে শুক্রবার।

এবার পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সরফররাজ

জয়ের রেশ এখনো শেষ হয়নি। পুরস্কারে ভাসছেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। এমনি সময়ে আরো একটি সুখবর পেলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ওয়ানডের সঙ্গে এবার তাকে টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এক সিনিয়র অফিসিয়াল পিটিআইকে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকী। লন্ডন থেকে আইসিসি মিটিং শেষে দেশে ফিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এ বিষয়ে ঘোষণা দেবেন। সরফরাজ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

পদত্যাগ পত্রে যা লিখলেন কুম্বলে

ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কুম্বলে। গতকাল (মঙ্গলবার) নিজের পদত্যাগপত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে জমা দিয়েছেন কুম্বলে। পদত্যাগ পত্রে ঠিক কী লিখেছেন সদ্য ভারতকে বিদায় জানানো এই কোচ, ভারতীয় গণমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়া তা প্রকাশ করেছে। এবার তা দেখে নেওয়া যাক।

কুম্বলের পদত্যাগ পত্রঃ

“ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি আমার উপরে যেভাবে আস্থা দেখিয়ে কোচ পদে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিল তাতে আমি সম্মানিত। গত একবছরে সাফল্যের শ্রেয় অধিনায়ক, গোটা দল, কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফদের।

গতকালই (১৯ জুন) আমাকে প্রথমবার বিসিসিআইয়ের তরফে বলা হয় যে অধিনায়কের আমার কাজ করার ধরন ও প্রধান কোচ থাকা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। আমি অবাক হয়েছি কারণ কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আমি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। বিসিসিআই আমার ও অধিনায়কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এগিয়ে এসেছিল। সবমিলিয়ে এটা বোঝা যাচ্ছিল যে এই পার্টনারশিপ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে আমার মনে হয়েছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা, সততা, ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা- এগুলি আনার চেষ্টা করেছি আমি। আর এগুলিই পার্টনারশিপ বা সম্পর্ক টিঁকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আমার মতে কোচের ভূমিকা হল দলের সামনে আয়না দেখানোর মতো যাতে দলের স্বার্থে আরও উন্নতির পথে হাঁটা যায়।

ফলে যখন আমার থাকা নিয়ে আপত্তির কথা শুনলাম তখন মনে হয়েছে দায়িত্ব অন্য কারও নেওয়াই ভালো। বিসিসিআই ও ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি যাকে ভালো মনে করবে দায়িত্ব দিতে পারে।

সবশেষে বলি, গত একবছরে প্রধান কোচ হিসাবে কাজ করাটা সম্মানের ছিল। আমি সেজন্য ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি ও বিসিসিআই ও ক্রিকেট প্রশাসক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। ভারতীয় ক্রিকেটকে সমর্থন করার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের ধন্যবাদ জানাই। আমি সারাজীবন দেশের ক্রিকেটের ভালোর জন্য শুভকামনা করে যাব।”

উল্লেখ্য, কুম্বলেকে ছাড়াই মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে কোহলি-ধোনিরা। এরপরই ভারতীয় বোর্ডকে পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন কুম্বলে।

কোহলির সঙ্গে সমস্যাতেই কুম্বলের পদত্যাগ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে হঠাৎ করে গুঞ্জন ওঠে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ অনিল কুম্বলের দ্বন্দ্ব নিয়ে। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর কোহলির এক মন্তব্যে তা আরও জোড়াল হয়। আর কুম্বলেকে ছাড়াই মঙ্গলবার কোহলি-ধোনিরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে তা সত্যে পরিণত হয়।

এরপরই নিজের পদত্যাগপত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে জমা দেন কুম্বলে। আর পদত্যাগ পত্রে বিস্ফোরক মন্তব্য করে কুম্বলে জানান, অধিনায়ক কোহলির সঙ্গে সমস্যার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়া কুম্বেলের পদত্যাগ পত্র প্রকাশ করেছে। আর তাতে কুম্বেলে উল্লেখ করেন, ‘আমার কাজের ধরণ নিয়ে কোহলির আপত্তি ছিল। আমি অবাক হয়েছি কারণ কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আমি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। বিসিসিআই আমার ও অধিনায়কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এগিয়ে এসেছিল। সবমিলিয়ে এটা বোঝা যাচ্ছিল যে এই পার্টনারশিপ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে আমার মনে হয়েছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।’

কুম্বলের পদত্যাগ পত্রঃ

“ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি আমার উপরে যেভাবে আস্থা দেখিয়ে কোচ পদে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিল তাতে আমি সম্মানিত। গত একবছরে সাফল্যের শ্রেয় অধিনায়ক, গোটা দল, কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফদের।

গতকালই (১৯ জুন) আমাকে প্রথমবার বিসিসিআইয়ের তরফে বলা হয় যে অধিনায়কের আমার কাজ করার ধরন ও প্রধান কোচ থাকা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। আমি অবাক হয়েছি কারণ কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আমি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। বিসিসিআই আমার ও অধিনায়কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এগিয়ে এসেছিল। সবমিলিয়ে এটা বোঝা যাচ্ছিল যে এই পার্টনারশিপ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে আমার মনে হয়েছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা, সততা, ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা- এগুলি আনার চেষ্টা করেছি আমি। আর এগুলিই পার্টনারশিপ বা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আমার মতে কোচের ভূমিকা হল দলের সামনে আয়না দেখানোর মতো যাতে দলের স্বার্থে আরও উন্নতির পথে হাঁটা যায়।

ফলে যখন আমার থাকা নিয়ে আপত্তির কথা শুনলাম তখন মনে হয়েছে দায়িত্ব অন্য কারও নেওয়াই ভালো। বিসিসিআই ও ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি যাকে ভালো মনে করবে দায়িত্ব দিতে পারে।

সবশেষে বলি, গত একবছরে প্রধান কোচ হিসাবে কাজ করাটা সম্মানের ছিল। আমি সেজন্য ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি ও বিসিসিআই ও ক্রিকেট প্রশাসক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। ভারতীয় ক্রিকেটকে সমর্থন করার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের ধন্যবাদ জানাই। আমি সারাজীবন দেশের ক্রিকেটের ভালোর জন্য শুভকামনা করে যাব।”

ঢাকাতে রুবেলের অস্ত্রোপচার আজ

ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর শেষ করে দেশে ফিরেই ইনজুরিতে পড়া বাংলাদেশের তারকা বোলার রুবেল হোসেনের অস্ত্রোপচার আজ। ঢাকার একটি হাসপাতালে হওয়ার কথা সেটি। আর অস্ত্রোপচারের পর অন্তত মাস দেড়েক খেলা ও অনুশীলনের বাইরে থাকতে হতে পারে এই পেসারকে।

চোট নিয়ে রুবেল বলেন, ‘ম্যাচ শেষে হোটেলে ফেরার পর রুমের দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিলাম। ওই সময় খুব বেশি ব্যথা অনুভব করিনি। দেশে আসার তাড়াহুড়ার মধ্যে তাই আর ফিজিওকে বিষয়টা বলিনি। কিন্তু ফোলাটা আস্তে আস্তে বাড়ায় ঢাকায় এসে ডাক্তার দেখিয়েছি।’

এদিকে এমআরআই রিপোর্টে চোটের জায়গায় ফাটল ধরা পড়লে বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরে আজ (বুধবার) অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন রুবেল হোসেন।

রাজশাহী কিংসেই থাকছেন স্যামি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হতে এখনো অনেক দিন বাকি। তবে এরই মধ্যে ঘর গুছানো শুরু করে দিয়েছে গত আসরের রানারআপ রাজশাহী কিংস। গত আসরে অধিনায়কত্ব করা দলের ক্যারিবিয়ান তারকা ড্যারেন স্যামিকে এবার ধরে রেখেছে দলটি। দলটি পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে রাজশাহী কিংসের সিইও তাহমীদ আজিজুল হক বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও আমাদের সমর্থকদের উৎসাহ দরকার। আর স্যামির সমর্থনই আমাদের ভালো খেলার প্রেরণা দেয়।’

টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আরও জানানো হয়, স্যামি দলে থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে সেরাটি বের করে আনতে সক্ষম হবেন। গত বছরের মতো এবারও ভালো পারফরমেন্স উপহার দিতে টিম মিটিংয়ে বেশ কিছু চমৎকার প্রস্তাব করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এবার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু চমক থাকছে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী কিংস সর্বশেষ ২০১৬ সালের বিপিএলে ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে রানারআপ হয়। ফাইনালে তারা ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে হেরে যায়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুঃখ ভুলতে…

ইংল্যান্ডের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা সবচেয়ে বেশি হতাশার। কারণ আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে থাকার পরও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বই উৎরাতে পারেনি প্রোটিয়ারা। আগের মতই ‘চোকার্স’ রয়ে গেলো তারা। পাকিস্তান এবং ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।

ইংল্যান্ডের অবস্থাটা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে একটু ভালো। যদিও গ্রুপ পর্বে উড়তে থাকার পর সেমিফাইনালে এসে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়তে হলো পাকিস্তানের সামনে। এত এত ফেবারিটের তকমা নিয়েই কি না নিজেদের দেশে ইংল্যান্ডকে পাকিস্তানের কাছে এভাবে হেরে যেতে হবে!

 

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তাই দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড- দু’দলের জন্যই একটি বিভিষিকার নাম। খুব দ্রুতই তারা টুর্নামেন্টটিকে ভুলতে চায়। সেই ভুলে যাওয়ার লক্ষ্যেই আজ নতুন করে দি-পাক্ষিক সিরিজে মেতে উঠছে দেশ দুটি। বাংলাদেশ সময় আজ রাত সাড়ে ১১টায় সাউদাম্পটনের রোজ বোলে শুরু হবে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি।

এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে দেখা যেতে পারে একেবারে নতুন এক ইংল্যান্ডকে। অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান জানিয়েছেন, তাদের দলে অন্তত পাঁচ জনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ অভিষেক হতে পারে। তরুণ ক্রিকেটারদের দিয়ে ইংল্যান্ড দল গঠন করার যে দাবি সেটা হয়তো এবার বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে লিয়াম লিভিংস্টোন, টম কারেন এবং ম্যাসন ক্রেনের পদচারনা শুরু হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

পাকিস্তানকে সমর্থন করায় ভারতে গ্রেফতার ২০

পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সমর্থন করায় ভারতে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভারতের দুটি ভিন্ন প্রদেশ থেকে এই ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার করা সবাই মুসলিম। গত রোববার ভারতের মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলায় ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর বিকানের জেলা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালাত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন। খবর ইন্ডিয়াটুডের।

রিপোট অনুযায়ী- ইমরান, সঞ্জয় খান, তানভীর, শোয়েব ও ওয়াসিমরা পাকিস্তানের জয়ে উল্লাস করেছেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নেচেছেন। পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় কেউ কেউ ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন। রাস্তায় আতশবাজি পোড়াচ্ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের ‘ডানপন্থী’ সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই ২০ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছে সংগঠনটি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। ভারতীয় হয়েও পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।

খুলনা টাইটান্সে ক্রিস লিন

বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরু হতে এখনও অন্তত ৫ মাস বাকি; কিন্তু এখন থেকেই ঘর ঘোচাতে শুরু করে দিয়েছে বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডাইনামাইটস ইতিমধ্যেই দলে টেনে নিয়েছে দুই পাকিস্তানি সেনসেশন মোহাম্মদ আমির, শহিদ আফ্রিদি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিন এবং অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসনকে। রাজশাহী কিংস ঘোষণা দিয়েছে, ড্যারেন স্যামিই থাকছেন তাদের দলে।

তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন খুলনার দল খুলনা টাইটান্স। ঘর ঘোচাতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ান মারমুখি ওপেনার ক্রিস লিনকে দলে টেনে নিচ্ছে খুলনার দলটি। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেই ঘোষণা দিয়েছে খুলনা টাইটান্স।

নিজেদের ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দিতে গিয়ে খুলনা টাইটান্স জানিয়েছে, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা দিচ্ছি যে, অস্ট্রেলিয়ার হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান ক্রিস লিন এখন খুলনার টাইটান্স। ২০১৭ বিপিএলে খুলনা টাইটান্সে যোগ দেবেন তিনি।’

সর্বশেষ আইপিএলেই মূলতঃ হার্ড হিটার ক্রিস লিনকে সবাই চিনেছিল। গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে কেকেআরের হয়ে ৪১ বলে খেলেছিলেন অপরাজিত ৯৩ রানের ইনিংস। কেকেআরকে এনে দিয়েছিলেন ১০ উইকেটের বিশাল এক জয়। এরপরের ম্যাচগুলোতেও তিনি ছিলেন দারুণ পারফরমার। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

চলতি বছরই জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে খেলেন ক্রিস লিন। এরপর আর খেলা হয়নি তার। তবে ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। রান করেছেন মাত্র ৬৫টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রান ৩৩ অপরাজিত। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৯২টি। ৩৬.৭৯ গড়ে তিনি রান করেছেন ২৬৪৯টি। সেঞ্চুরিও রয়েছে একটি। হাফ সেঞ্চুরি ১৯টি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় স্যামি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট এখন খাদের কিনারে! আফগানিস্তানের মতো দলের সঙ্গে ১৩৫ রান তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্যারিবিয়দের। অথচ যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নিয়ে যেতে পারে শিখরে, তা দাপিয়ে খেলছেন বিশ্বের ঘরোয়া লিগগুলোতে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের (সিডব্লুআই) নিয়ম-কানুনের কারণেই ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভোদের জায়গা হচ্ছে না জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টেস্ট দলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই শঙ্কায় পড়েছেন ড্যারেন স্যামি।

বোর্ডের নিয়ম বলছে, দেশটির ঘরোয়া লিগে না খেললে টেস্ট ও ওয়ানডে দলে জায়গা হবে না। আর বিশ্বের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের বেশ কদর। সঙ্গে কাড়ি কাড়ি অর্থের হাতছানি। সব মিলে ঘরোয়া লিগে খেলছেন না গেইলরা। তাই জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে। আসতে পারছেন না কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও।

৩৩ বছর বয়সী স্যামির আপত্তি বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ নিয়ে। বোর্ড প্রশাসকদের নিয়ম-কানুন স্যামির পছন্দ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে নিয়ে ভয়টা হয়তো সেখান থেকেই। এভাবে চলতে থাকলে ক্যারিবিয়ানরা হারিয়ে ফেলবে তাদের ঐতিহ্য।

সোমবার বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে ড্যারেন স্যামি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনকে দিয়ে কিছু হবে বলে মনে হয় না! আপনি তো একজন খেলোয়াড়কে বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে নিষেধ করতে পারেন না। এর মাধ্যমেই তো তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়। পরিবার পরিচালনা করে থাকে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। ২০১২ ও ২০১৬ সালে। টি-টোয়েন্টিতে ভালো করলেও অন্য ফরম্যাটে (টেস্ট ও ওয়ানডে) বাজে সময় পার করছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট। এর পেছনে বোর্ডের দুর্বল অবকাঠামোকেই দায়ী করছেন স্যামি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুবার বিশ্বকাপজী দলের অধিনায়কের ভয়, ‘আমাদের ক্রিকেট যেভাবে চলছে, তাতে বেশি কিছু আশা করতে পারি না। আমার খুব ভয় হয় যে, একদিন কিনা অবনমিত হয়ে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলতে হয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য খুবই দুঃখজনক।’

বাংলাদেশের আয় চার কোটি টাকা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে শিরোপা জয়ী পাকিস্তান ভাসছে পুরস্কারের বন্যায়। আর কোচ কুম্বলের পদত্যাগে রানার্সআপ ভারত আছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনায়। এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠে প্রমান দিলো নিজেদের সামর্থের। সেই সঙ্গে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে প্রায় চার কোটি টাকাও।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো ভারত। গত ১৯ জুন এবজাস্টনে সেই ম্যাচ ৯ উইকেটে জিতে ভারত পৌঁছে যায় ফাইনালে । তাতে কি পরাজিত হলেও তো বাংলাদেশ পায় তিন কোটি ৬৩ লাখ টাকা (০.৪৫ মিলিয়ন ডলার)। সেমিতে পরাজিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডও পায় একই পরিমাণ অর্থ। চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান পেয়েছে ১৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা (২.২ মিলিয়ন ডলার)। রানার্সআপ ভারতের আয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা (১.১ মিলিয়ন ডলার)। গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে প্রায় ৭২ লাখ টাকা করে। অন্যদিকে, গ্রুপের শেষ দল নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকা পায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা করে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অর্থ পুরস্কার হিসেবে আইসিসি ৩৬ কোটি টাকা (৪.৫ মিলিয়ন ডলার) অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়।

কুম্বলের ছেড়ে যাওয়া সিংহাসনে শেবাগ!

লাঞ্ছনা আর অপমান নিয়ে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে অনিল কুম্বলেকে। তাঁর উপর কোহলির অনাস্থার বিষয়টি জানতে পারেন ভারতীয় দলের ক্রিকেট কোচ। পাশাপাশি, তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বোর্ডের তরফে কোচের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়টিও ভালভাবে নেননি তিনি। তাছাড়া, কোচকে গালিগালাজও নাকি করেছিলেন কোহলি। এমন অবস্থায় সম্মানের সঙ্গেই ভারতীয় কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেছেন কিংবদন্তি লেগস্পিনার অনিল কুম্বলে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত কোচ কুম্বলের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবুও সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
এখন ভারতের কোচ হবেন কে? জানা যায়, শেবাগই বসতে যাচ্ছেন কুম্বলের ছেড়ে যাওয়া সিংহাসনে। এরআগে বিসিসিআই যখন কোচের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন করেছিল। সেসময়েই বোর্ড থেকে শেবাগকে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তিনি সেসময় মাত্র দু’লাইনের সিভি পাঠিয়েছিলেন বলে খবর বের হয়েছিলো। যদিও শেবাগ সেই কথা অস্বীকার করেন। বোর্ড থেকে কোচ নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটিকে (শচীন, সৌরভ এবং লক্ষ্মণ) জানানো হয়েছে, দ্রুত পরবর্তী কোচ নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য। শেবাগ আইপিএল-এ কিংস ইলেভেন পঞ্জাব-এর মেন্টরের দায়িত্বও পালন করেছেন।

শেবাগ ছাড়াও ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে রয়েছে টম মুডি, রিচার্ড পাইবাসের নাম। পাইবাস বাংলাদেশে কোচিং করিয়েছেন। আর শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলে দীর্ঘসময় কোচ ছিলেন মুডি। জন রাইট, গ্রেগ চ্যাপেল, গ্যারি কার্স্টেন এবং ডানকান ফ্লেচারের মতো বিদেশি কোচের পর দেশি কোচেরাই ভারত দলকে কোচিং করাচ্ছেন। বিরাট, ধোনিরাও দেশি কোচের পক্ষে রয়েছেন। সেই হিসেবে শেবাগ কোনও কারণে কোচ হতে ইচ্ছুক না হলে লালচাঁদ রাজপুত ও ডোড্ডা গণেশের নাম বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। অনুর্ধ্ব-১৯ ও জাতীয়-এ দলকে সাফল্যের সঙ্গে কোচিং করিয়েছেন রাজপুত। তাছাড়া রাজপুত কিংবা গণেশ কোচ হলে বোর্ডের অনেকেই মনে করছেন অধিনায়কের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাত ঘটবে না। যা কোহলি-কুম্বলের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

নেপালের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়

প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করলেও এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় ম্যাচে ‘পঁঁচা শামুক পা’ কাটলো বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ টাইগার্স ৩ রানে হারিয়েছিলো আফগানিস্তান বুলসকে। আজ বুধবার, ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে, স্বাগতিক নেপালের কাছে ৭ উইকেটে হারলো, আল আমিনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টাইগার্স।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ বল বাকী থাকতেই মাত্র ১৪৮ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন পাঞ্চল। সংযোগ বিনকর তোলেন ২৭ রান। নেপালের বোলারদের মধ্যে মালিন্দার ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে ধস নামান।
জবাবে, ভূপিন্দর থাপা-র অপরাজিত ৫১ রানে ভর করে ২০ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে ১৫০ রান তুলে জয় পায় নেপাল স্টর্মস। ৩৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন ভূপিন্দর। আর দিশান্ত যাদব ৩৫ বলে ৪৬ রান করেন।

পুরস্কার এক কোটি রুপি

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের কারণে পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে এক কোটি রুপি করে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। লন্ডনের দ্যা ওভালে অলরাউন্ড পারফর্ম করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জেতে পাকিস্তান। ৩৩৯ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১৫৮ রানে অলআউট হয় ভারত।

উচ্ছ্বাসের রঙ সবুজ!‌ হ্যাঁ, গোটা পাকিস্তানই যে ওই রঙে রাঙিয়েছে নিজেকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের পর, দেশে ফিরলেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, বাবর আজম, হাসান আলি, ফাহিম আশরাফ, রুমান রাইসরা। শাবাদ খান, ইমাদ ওয়াসিম আর ফকর জামান পৌঁছন পরে। টিকিটের সমস্যা থাকায় ক্রিকেটাররা একসঙ্গে একই বিমানে ফিরতে পারেননি। লাহোরের আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন সমর্থকরা। গোলাপের মালা আর ফুলের তোড়ায় বরণ করে নেওয়া হয়। সেখানে করাচির মেয়র ওয়াসিম আখতার, রাজ্যপাল সিন্দ মুহম্মদ জুবের স্বাগত জানান। যে ট্রফিটা ছোঁয়ার জন্য এত লড়াই, সেই ট্রফিটা সরফরাজ সবার সামনে তুলে ধরেন। যা দেখা মাত্রই আকাশ–বাতাস কাঁপিয়ে গর্জন তোলেন সমর্থকরা। অধিনায়ক ছিলেন এক্কেবারে ফুরফুরে মেজাজে। কারও কোনও আবদার মেটাতে আপত্তি করেননি। সেলফি তুলতেও দেখা যায় তাঁকে। সরফরাজদের জন্য বিমানবন্দরেই হাজির ছিলেন প্রায় হাজারখানেক সমর্থক। ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ির মধ্যে ছিলেন সাংবাদিকরাও। তাঁদের অনুরোধে সরফরাজ বলেন, ‘‌পাকিস্তানী জনতার জন্য এটা বড় জয়। দলের প্রতিটি সদস্য প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে। প্রথম ম্যাচে হারের পর যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে, অবিশ্বাস্য।’‌

অনীল কুম্বলের পদত্যাগ

ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে তাকে রাখা, না রাখা নিয়ে, জল্পনা চলছিলই। নিজেই বোধহয় টের পাচ্ছিলেন সময়টা তার পক্ষে নেই। তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হতেই ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন অনিল কুম্বলে।
অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরেই শেষ হয়ে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কুম্বলের চুক্তি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত তাঁকে দলের কোচের দায়িত্ব সামলাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরেই দাঁড়ালেন। মঙ্গলবার সকালে লন্ডন থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে উড়ে গিয়েছে ভারতীয় দল। কিন্তু দলের সঙ্গে যাননি অনিল কুম্বলে। জল্পনা শুরু হয়েছিল সোমবার থেকেই। জানা যাচ্ছিল না আদৌ দলের সঙ্গে যাবেন কি না তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টও তা নিয়ে কোনও তথ্য জানাতে পারেনি। ক্রিকেটাররাও ছিলেন পুরো অন্ধকারে। শেষ পর্যন্ত খোলসা করলেন কুম্বলে নিজেই।
কোহালি ও কুম্বলের সম্পর্ক যে তলানিতে এসে ঠেকেছে সেটা এতদিনে জেনে গিয়েছে সকলেই। যে কারণে শুরু হয়েছে নতুন কোচের খোঁজ। বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে আবেদনপত্র চেয়ে। যেটা কুম্বলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাঁর হাত ধরে কম সাফল্য পায়নি ভারতীয় দল। ঘরের মাঠে টানা টেস্ট সিরিজ জয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পৌঁছনো সবই রয়েছে সেই তালিকায়। তার পরও নতুন কোচের খোঁজ শুরু হওয়াটা ভালভাবে নিতে পারেননি তিনি। যে কারণেই এই সরে দাঁড়ানো

এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামবে বাংলাদেশ টাইগার্স

ক্রিকেট

এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ

বাংলাদেশ টাইগার্স-আফগানিস্তান বুলস
সরাসরি, সকাল ১১টা
সনি সিক্স

ইন্ডিয়ান স্টারস-শ্রীলঙ্কান লায়নস
সরাসরি, দুপুর ২-৩০ মিনিট
সনি সিক্স

হকি
হকি ওয়ার্ল্ড লিগ

ভারত-নেদারল্যান্ডস
সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা
স্টার স্পোর্টস টু

ইংল্যান্ড-দক্ষিণ কোরিয়া
সরাসরি, রাত ১টা
স্টার স্পোর্টস টু

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে স্টার স্পোর্টসের সেরা একাদশে মাহমুদউল্লাহ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটের ওয়েবসাইট ও বিশ্লেষকরা পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে সেরা একাদশ তৈরি করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নিজেদের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছেন ভারতীয় জনপ্রিয় স্পোর্টস চ্যানেল স্টার স্পোর্টস। আর এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তিন নম্বর পজিশনে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৩ ম্যাচে ২৪৪ রান করেন এই কিউই অধিনায়ক। উইলিয়ামসনের পরেই জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগ্যান। ব্যাট হাতে বেশ উজ্জ্বল ছিলেন এই ইংলিশ অধিনায়ক। ৪ ম্যাচে ২০৮ রান সংগ্রহ করেন তিনি। মরগ্যানের পরেই মিডল অর্ডারে অল-রাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন আরেক ইংল্যান্ড ক্রিকেটার বেন স্টোকস।

ছয় নম্বর পজিশনের জন্য স্টার স্পোর্টসের সেরা একাদশে জায়গা করে নেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে শতক হাঁকিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন এই মিডল অর্ডার।

কিপার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জয়ী অধিনায়ক হিসেবে একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন পাকিস্তান উইকেটকিপার সরফরাজ আহমেদ আর অধিনায়ক হিসেবেও তাকেই বেছে নেয় স্টার স্পোর্টস।

স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন আদিল রাশিদ। পেস আক্রমণে গোল্ডেন বল জয়ী হাসান আলীর সঙ্গে আছেন আরেক পাকিস্তানি জুনায়েদ খান ও ভারতের জাস্প্রিত বুমরাহ।

স্টার স্পোর্টসের সেরা একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন, ইয়ন মরগ্যান, বেন স্টোকস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সরফরাজ আহমেদ-(অধিনায়ক/উইকেটকিপার), আদিল রশিদ, জুনায়েদ খান, হাসান আলী, জাস্প্রিত বুমরাহ।

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

সময়টা খুব ভালো যাচ্ছে না ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দুইবারের চ্যাম্পিয়ন্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিছুদিন আগেই ঘরে মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে যায় দলটি। এবার নিজের মাঠে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ক্যারিবীয়রা। আর এ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।

২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে র্যা ঙ্কিংয়ে প্রথম আট দলের মধ্যে থাকতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আইসিসির সর্বশেষ ঘোষিত র্যাঙঙ্কিংয়ে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে নয় নম্বরে। আর এক ধাপ উপরে থাকা শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৯৩।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের সবকয়টিতে হারালে ১১ পয়েন্ট পাবে ক্যারিবীয়রা। একই সঙ্গে সব ম্যাচে হারলে দুই পয়েন্ট খোয়াবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

তবে শঙ্কা আছে উইন্ডিজের সামনে। কেননা কয়েকদিন পরেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কা। আর তাই এই সিরিজে ভারতের বিপক্ষে অনেক ভালো করলেও পিছিয়ে পরার শঙ্কায় থাকবে তারা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), দেবেন্দ্র বিশু, জোনাথন কার্টার, রোস্টন চেইস, মিগুয়েল কামিন্স, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, অ্যাশলি নার্স, কাইরন পাওয়েল, রোভম্যান পাওয়েল, কেসরিক উইলিয়ামস।

কোহলি-ধোনিদের হকি খেলার পরামর্শ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর থেকে একের পর এক সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে কোহলি-ধোনিরা। অপর দিকে একই দিনে বিশ্ব হকি লিগে পাকিস্তানকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ভারত। তাই ক্রিকেটের ফাইনালে কোহলিদের হারের পর দেশটিকে হকি খেলার পরামর্শ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন।

শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়েই কোহলির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে গিয়েছিল ভারত। শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানকে বিশাল ব্যবধানে হারানোর পর তৃতীয় ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয় দলটি। সেমিতে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিল দলটি।

 

তবে ফাইনালে ঘটলো ছন্দপতন। পাকিস্তানের করা ৩৩৮ রানের জবাবে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ শেষ হয় মাত্র ১৫৮ রানে। পান্ডিয়া ছাড়া কেউ মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারেনি। ফলে ১৮০ রানের লজ্জাজনক হার সঙ্গী হয় দলটির।

india

এদিকে ওই দিনই বিশ্ব হকি লিগে পাকিস্তানকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ভারত। আর এরপরই এক টুইটে ভারতকে খোঁচা দিয়ে এক টুইট বার্তায় ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন লেখেন, ‘ভারতের এখন হকির দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত।’

১৭ বছর পর গলে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে

২০০০ সালের পর এই মাঠে আর কোনো ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৭ রানে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ২০০০ সালে সেটি ছিল ত্রি-দেশীয় সিরিজের খেলা। ২০০০ সালের ৬ জুলাইর পর কেটে গেছে ১৭টি বছর।

এর মধ্যে সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছে গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম। সেটি আবার সংস্কার করা হয়েছে। নিয়মিত টেস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে; কিন্তু প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেলেও ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

এর একমাত্র কারণ, ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের সৌন্দর্য্য ফ্লাড লাইটে, দিবা-রাত্রিতে; কিন্তু গলের মাঠে কোনো ফ্লাড লাইট নেই। আসন সংখ্যা খুবই কম। তারওপর, ফ্লাড লাইট বসিয়ে দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজন করা খুব ব্যায়বহুল। তবে, জিম্বাবুয়ে লো-প্রোফাইল দল হওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ এই মাঠে ওয়ানডে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অবশেষে গলের সবুজ মাঠে গড়াবে ৫০ ওভারের ম্যাচ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি অনুষ্ঠিত হবে গলে।

জিম্বাবুয়েও প্রায় ১৬ বছর পর যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সফরে। ২০০১ ডিসেম্বর এবং ২০০২ জানুয়ারিতে সর্বশেষ দুই ওয়ানডে এবং তিন টেস্টের সফর করেছিল জিম্বাবুয়ে।

গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মোট সাতটি ওয়ানডে খেলা হয়েছে। তবে, ২০০০ সালের ৬ জুলাইর পর এই মাঠ থেকে যেন ওয়ানডে নির্বাসিত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সফরে প্রথম দুই ওয়ানডের পর সিরিজের বাতি তিন ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে হাম্বানতোতা স্টেডিয়ামে। এখানেও গত দুই বছর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।

সিরিজে এক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। যে ম্যাচটি খেলা হবে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। যেখানে টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয় না বললেই চলে। এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় শুধু ওয়ানডে এবং টেস্ট। এবার হবে টি-টোয়েন্টি।

টেস্ট গ্রহে বাংলাদেশের প্রথম ১১জন

বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিবার বা ক্রিকেট সমাজ তাদের কীভাবে মনে রেখেছে সেটা তর্কযোগ্য। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ যদি কোন দিন ইমারত সদৃশ্য কিছু হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে বলতেই হবে তার প্রথম এগারটা পিলার তাঁরা। তারা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম এগারজন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকায়ও তারা উপরের দিকেই থাকবেন। ইন্টারনেটের যুগে গুগল কিংবা ক্রিকইনফোতে সার্চ দিলেই নামগুলো চলে আসবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ আর বাঘের মুখের চাপ দেয়া সবুজ ক্যাপ পরে টেস্ট আঙিনায় প্রথম পা রেখেছিলেন তারা। অমরত্ব পান বা নাই পান, ইতিহাসে ঢুকে পড়তে আর কী লাগে তাদের!

ইতিহাসে ঢুকে পড়েছেন তারা। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের একেবারে সূচনা অধ্যায়েই আছেন তারা। কিন্তু ইতিহাস মনস্ক বাঙালি ক্রিকেটপ্রেমীরা সেই অধ্যয়টা কতোটা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বাঙালি খুব বেশি ইতিহাস মনস্ক সেই দাবি কী করা যায়?

দাবি-টাবির কথা বাদ দিন। বাস্তবতা হচ্ছে ‘ওরা এগার জন’-র অনেকেই এখন শুধুই সাবেক ক্রিকেটার। অনেকে আবার ক্রিকেটার ইমেজটাকে ডিপোজিট করে ভালই আছেন। সুদে-আসলে যা পাচ্ছেন তাতে দিব্যি চলে যাচ্ছে। টেস্ট গ্রহে প্রথম পা রেখে সেদিন তাদের কেউ কেই বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। কেউ ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে অভিষেক টেস্টে দল হিসেবে স্মরণীয় কিছু করতে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে তাদের কারো কারো নাম রেকর্ড বইয়ে জ্বলজ্বল করছে। আবার কারো কারো নাম চাইলেও ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না।

Test-Eleven

টেস্ট ক্রিকেটে দেশের হয়ে প্রথম বলটা খেলেছিলেন যিনি, রেকর্ড বইয়ে তার নামটা থাকবে। তবে রেকর্ড-ইতিহাস-পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি নিজে কখনো খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। এখনো না। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অনেক আগেই। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেয়ার সুযোগ তারও হয়নি। আর অবসরোত্তর জীবনে ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে তিনি। জড়িয়েছেন পারিবারিক ব্যবসায়।

স্মৃতির ক্যাবল দিয়ে মনের ভেতর ক্রিকেট নামক বাল্বটাকে আর জ্বালাতে খুব আগ্রহী মনে হয় না শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎকে। তাই স্যাটেলাইটের এই জমনায় টেলিভিশনের ক্রিকেট আড্ডায়ও তাকে দেখা যায় না। পাওয়া যায় না। অথচ ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তিনিই খেলেছিলেন দেশের হয়ে প্রথম বল। স্মৃতি রোমান্থনে কত রোমাঞ্চকর অনুভূতির কথাই না বেরিয়ে আসতে পারে তার মুখ থেকে! স্মৃতির সাগরে ডুব দেয়ার চেয়ে ব্যবসায়ে বেশি মনোযোগী বাংলাদেশ দলের এই ওপেনার।

শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের ওপেনিং পার্টনার ছিলেন যিনি, তিনি খুব একটা বদলাননি। শরীরে মননে খুব একটা পরিবর্তন নেই মেহরাব হোসেন অপির। সতের বছর আগে টেস্ট খেলা মেহরাবের শরীর এখনো বলবে, তিনি ক্রিকেটার। কিন্তু প্রায় দেড় দশক আগে টেস্ট ক্রিকেটে সাবেক হয়ে যাওয়া মেহরাবের মন আর মননে এখনও সেই চপলতা। কখনো কোচিং করানোর কথা ভাবেন। চলে যান কিশোরগঞ্জের একটা ক্রিকেট একাডেমিতে।

মাস তিনেক যেতে না যেতে আবার ফিরে আসা। মনে মনে স্বপ্নের জাল বুনেন জাতীয় দলের নির্বাচক হবেন। না হয় বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক। কখনো তার মনে উঁকি দেয় বিসিবির একাডেমি টিমের কোচ হওয়ার স্বপ্ন। আবার কিছুদিন পর বুঝতে পারেন, বাস্তবতা আর স্বপ্নের মাঝখানে বাইশ গজের চেয়ে দূরত্ব অনেক বেশি।

1st-test

তাই স্বপ্নগুলোকে সরিয়ে উঠে দাঁড়াতে চান বাস্তবের রুক্ষ জমিনে। তাই কখনো পারিবারিক ব্যবসায়ে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা। কখনো ব্যবসা ছেড়ে করপোরেট জগতে ঢুকে পড়া। কখনো ফুয়াং ফুডে তার অধিনায়কের ছায়াতলে ন’টা পাঁচটা অফিস করা কর্মকর্তা! জীবনের বাইশ গজে তিনি এখন যাই করুন, ক্রিকেট তার মনে। ক্রিকেটের মায়াটা ছাড়তে পারেন না।

তাই টেলিভিশন টক শো-তে বিশেষজ্ঞ হয়ে সন্তুষ্ট নন। মাইক্রোফোন হাতে তিনি দাঁড়াতে চান বিভিন্ন মাঠে। যেতে চান বিভিন্ন স্টেডিয়ামের কমেন্ট্রিবক্সে। এই কাজটা যে তার জন্য খুব কঠিন ছিল, তাও নয়। কিন্তু তিনি যে মেহরাব হোসেন অপি! কমেন্ট্রিবক্সে ঠিক সময়ে তিনি হাজির হবেন, সেই নিশ্চয়তা কে দেবেন? আর সেই নিশ্চয়তা ছাড়া তার হাত মাইক্রোফোন দেয়ার ঝুঁকি-ই বা নেবেন কোন চ্যানেলের কোন প্রোডিউসার?

কিন্তু অসম্ভব রকম ঝুঁকি আর নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন একজন। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বয়স তখন মাত্র ২৬ মিনিট। সেই সময় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি লাইন টপকে বাইশ গজের দিকে পা বাড়ালেন চোটখাটো চেহারার এক ব্যাটসম্যান।

ভারতীয়দের উল্লাসের মধ্যে শঙ্কা নিয়েই হাঁটা উইকেটের দিকে। আশঙ্কা জহির খানের বলে নয়। যদিও বাঁহাতি জহির খানই টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানকে আউট করে রেকর্ড বইয়ে। ওটা তার ক্যারিয়ারেরও প্রথম টেস্ট উইকেট। মেহরাব হোসেন আউট হয়েছিলেন জহিরের বলে ৪ রান করে। তাই জহির-শ্রীনাথদের নতুন বলের মুখেই পড়তে হলো হাবিবুলকে। কিন্তু তার আগেই তো নির্বাচকদের রিভার্স সুইংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। ‘পা চলে না’! অর্থাৎ ‘ ফুটওয়ার্ক’ নেই। এই দোহাই দিয়ে হাবিবুলকে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের চৌদ্দজনের স্কোয়াডেই রাখেননি প্রয়াত তানভীর হায়দারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি।

মিডিয়ার সমালোচনা আর বোর্ড সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর হস্তক্ষেপে হাবিবুল স্কোয়াডে এলেন। বাংলাদেশের চৌদ্দজনের স্কোয়াড বেড়ে হলো ষোলজনের। হাবিবুলের সঙ্গী হয়ে স্কোয়াডে এলেন বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক মনিও। মনিকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র নির্বাচকদের স্ট্যান্স পরিবর্তনকে মিডিয়ায় জায়েজ করতে। মিডিয়ার প্রবল সমালোচনার মুখে হাবিবুলকে স্কোয়াডে জায়গা দেয়া। আর তিনি স্কোয়াডে থাকা মানে প্রথম একাদশেও থাকবেন।

এটা নির্বাচকদের পাশাপাশি জানতেন সবাই। আর হাবিবুল জানতেন, অভিষেক টেস্টটাই তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের লাইফ লাইন। ব্যর্থ হলেই শেষ। নির্বাচকরা ওঁৎ পেতে বসে আছেন তাকে ছেঁটে ফেলার জন্য। ওখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার। হাবিবুলের মত এতোটা ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের আর কোন ক্রিকেটারের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়নি। তাই শঙ্গা আর ঝুঁকি নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখা তার।

Aminul-Islam

হাবিবুল ব্যাট করার সময় অন্যরকম এক শঙ্কার বাতাবরণ ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে। বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রেসের মধ্যে! কারণ, মিডিয়ার লোকজনও জানতেন, হাবিবুল ব্যর্থ হলে সেই সময়ের নির্বাচক কমিটি গলা সপ্তমে চড়িয়ে বলতেন; ‘দেখলেন তো, এদেশের মিডিয়া ক্রিকেট বোঝে না!’ ধন্যবাদ হাবিবুলকে। তার পা চললো। ব্যাট চললো। টেস্টে প্রথম যার বলের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই জহির খানের বলে আউট হওয়ার আগে ৭১ রানের ইনিংস খেলে বন্ধ করে দিয়েছিলেন নির্বাচকদের মুখ।

সেখান থেকে জন্ম নতুন এক হাবিবুলের। যিনি শুধু অভিষেক টেস্ট খেলেননি। বাংলাদেশের পক্ষে এক সময় সবচেয়ে বেশি টেস্ট আর বেশি রানেরও মালিক হয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন লম্বা সময়। তার অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ তার ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জিতেছে।
সেই হাবিবুল আট বছর পর নিজের ক্যারিয়ার আরো লম্বা করার স্বপ্নকে বির্সজন দিয়ে সাড়া দিলেন আইসিএলের হাতছানিতে। ডলার পেলেন। কিন্তু নিষিদ্ধ হয়ে শেষ হলো তার ক্যারিয়ার! সেই নিষেধাজ্ঞা খুব বেশি লম্বা হয়নি। তাই হাবিবুল ফিরলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। তবে অন্য ভূমিকায়। নির্বাচক হিসেবে। অবসরোত্তর জীবনে ভালই আছেন বাংলাদশ ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান। যাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক এখনো বলেন, ‘ও ছিল গরিবের আজহার উদ্দিন!’

হ্যাঁ, গরিবের আজহার উদ্দিন। বাংলাদেশ তো ক্রিকেট বিশে^ এক সময় গরিব-ই ছিল। ক্রিকেটীয় দীনতাকে সঙ্গী করে টেস্ট ক্রিকেটে এক দশকের বেশি সময় পার করতে হয়েছে তাকে। তবে সেই সময়েও বাংলাদেশ দলে একজন হাবিবুল ছিলেন। আজহারের মত কবজির মোচড়ে মাঠে কিছুটা শিল্পের ছোঁয়া দিতে পারতেন যিনি। আজহারের মতো টানা তিন টেস্টে সেঞ্চুরি দিয়ে হয়তো তার ক্যারিয়ার শুরু হয়নি। কিন্তু এক সময় তিনি ছিলেন বাংলাদেশ দলে ‘মিস্টার ফিফটি’! হাবিবুল মাঠে নামা মানে হচ্ছে, কমপক্ষে একটা হাফ সেঞ্চুরি।

কিন্তু যার মুখে প্রথম শুনেছিলাম, ‘হাবিবুল, ও তো গরিবের আজহার উদ্দিন’ তিনি অবশ্য আজহার উদ্দিনের মতো ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্টেই এলিটদের সরণিতে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে আজহার উদ্দিনও অভিজাত ঐ সরণির বাসিন্দা নন। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে আজহারের সেঞ্চুরি আছে। একটা নয়, পর পর তিন টেস্টেই তিনটা সেঞ্চুরি আজহারের। তবে দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় শুধু আজহার নন। তার দেশেরও কেউ নেই।

ঐ তালিকায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আগে আছেন মাত্র দু’জন। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান। আর জিম্বাবুয়ের ডেভ হটন। একশ চল্লিশ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ঐ তালিকার তৃতীয় নাম- আমিনুল ইসলাম বুলবুল। হাবিবুলের মত না হলেও তার ক্যারিয়ারও ঝুঁকির মুখেই ছিল। ফর্ম নেই। চাপ নিতে পারছেন না। এই আওয়াজ তুলে তার সঙ্গে কোন কথা না বলেই সরিয়ে দেয়া হয়েছিল তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে। কিন্তু সেই বুলবুল অভিষেক টেস্টের চাপ সামলে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪৫ রানের ইনিংস। উইকেটে থাকলেন ৫৩৫ মিনিট। বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে যোগ্যতা দিয়ে।

Aminul-Islam

পৃথিবীশুদ্ধ মানুষকে সেটা বোঝানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই যেন ব্যাট করলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট করার কাজটা খুব কঠিন কাজ না! সেটা নাকি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন নন স্ট্রাইক এন্ডে দাঁড়িয়ে অন্য একজনের ব্যাটিং দেখে। সেই ভদ্রলোকের নাম অবশ্য হাবিবুল বাশার। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চেয়ে মাত্র ৫৭ মিনিট আগে যিনি টেস্ট উইকেটে পা রেখেছিলেন। ‘সুমনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ব্যাটিংটা খুব সহজ।’

মেলবোর্ন প্রবাসী আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঢাকায় এসে ক্রিকেট আড্ডায় বহুবার কথাটা বলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একটা রেকর্ড আগামী প্রজন্মের কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের পক্ষে ভাঙা সম্ভব হবে না। দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি। ঐ একটা ইনিংসের কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে যার অমরত্ব পেয়ে যাওয়ার কথা, অবসরের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট তাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চায়নি। এখনও চাইছে তেমন কথা বলা যাবে না। তাই ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন থেকে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির প্রশ্ন, ‘আমিনুলকে কেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কাজে লাগায় না!’

উত্তরটা যাদের ভাল জানা তারা নিশ্চুপ থাকেন। অথবা বলেন, ‘ও তো আসতে চায় না। আমাদের তো কিছু বলে না।’ আইসিসির ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে এশিয়া অঞ্চল নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন বুলবুল। মেলবোর্নে পরিবার আর কাজ নিয়ে খারাপ আছেন তিনি তা বলা যাবে না। ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার এক সময়ের খুব প্রভাবশালী ক্রিকেট সাংবাদিক এখন যিনি ডেপুটি এডিটর, সেই বন্ধু বিজয় লোকপল্লী দিল্লিতে বসে বছর খানেক আগে এক কফি আড্ডায় বলছিলেন,‘ তোমাদের অভিষেক টেস্টেও কে কেমন আছে জানি না। তবে শুনেছি তাদের অনেকেই ক্রিকেট প্রশাসনে জড়িয়েছেন। এটা এক দিকে ভাল।’ তারপর হাসতে হাসতে বললেন,‘ ক্রিকেট ইতিহাস অবশ্য সবাইকে কী মনে রাখবে?’

ক্রিকেট রিপোর্টার হিসেবে বিজয় কখনো ঠিক আর পাঁচজন ভারতীয় বা ইংলিশ প্রেসের মতো নন। ভারতীয় হিসেবে শুধু ভারতের ক্রিকেটার কিংবা ইংলিশদের মত শুধু ইংলিশ টিমের খোঁজ-খবরে ব্যস্ত থাকতে হবে সেই তত্ত্বেও তিনি বিশ্বাসী নন। তাই গত ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের পর বুলবুলকে নিয়ে ‘দ্য হিন্দু’তে বড় একটা স্টোরি লিখেছিলেন। বিশ্বজুড়ে এতো তারকা থাকতে কেন বুলবুল? এই প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি নিবাসী বিজয়ের উত্তর; ‘ভারতীয় সাংবাদিক হিসেবে অনেক স্টার-সুপার স্টার-মেগা স্টারের সঙ্গে কথা বলেছি।

তাদের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছি। বিশ্বকাপ জয়ী অনেক অধিনায়কের সঙ্গে দিনের পর দিন আড্ডা দিয়েছি। ভারতীয় হিসেবে আমরা অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যান পেয়েছি। কিন্তু এমন কাউকে পাইনি যে ভারতের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন! ঐ কৃতিত্ব তো দেখিয়েছেন মাত্র তিনজন। তাদের দু’জন আবার সেটা করেছেন ভারতের বিপক্ষে। তৃতীয় জন কাজটা করেছিলেন ভারত টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার পঞ্চান্ন বছর আগে। এবং সেটা ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার সত্তর বছর আগে। অস্ট্রেলিয়ান সেই চার্লস ব্যানারম্যানকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ নেই। ডেভ হটন আর আমিনুলকে দেখছি। আমিনুল দিল্লিতে, আর তাঁর সাথে কথা বলবো না! তা হলে আমি সেই গোরা (ইংরেজ) ক্রিকেট সাংবাদিক হয়ে গেলাম! যেটা কোনদিন হতে চাই না।’

কোন ভারতীয় তাদের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। কোন ইংলিশও পারেননি। তাই বুলবুলের সেঞ্চুরি করা ব্যাটটার প্রতি ইংরেজদের হয়তো বাড়তি একটু আগ্রহ ছিল। বুলবুলের সেঞ্চুরি করা সেই ব্যাট ইংলিশরাই সযত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছে। আর যে বলটায় বুলবুল আউট হয়েছিলেন সেটা থাকার কথা এক ভারতীয়র কাছে। দেশের অভিষেক টেস্টে যে তিনজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেছিলেন, তাদের দুজনের আউটের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার ভূমিকা ছিল। জিম্বাবুয়ের ডেভ হটনের ১২১ রানের ইনিংস শেষ হয় শ্রীনাথের বলে। কিরণ মোরের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছিলেন ঐ জিম্বাবুয়ান।

আর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ১৪৫ রানের ইনিংসে দাড়ি টেনে দিতেও সেই শ্রীনাথের হাত। অজিত আগাকারের বলে শ্রীনাথের হাতে ক্যাচ দিলেন বুলবুল। শোকস্তব্ধ গোটা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। সঙ্গে গোটা দেশ। কারণ, চালর্স ব্যানারম্যানের ১৬৫ রানের ইনিংসকে ছাড়িয়ে যাবেন বুলবুল। প্রেসবক্স তখন ব্যস্ত ব্যানারম্যানের ইনিংসের খুঁটিনাটি খুঁজে বের করতে। কিন্তু সিডনির সমাধিতে শান্তিতেই ঘুমিয়ে থাকতে পারলেন ব্যানারম্যান। ১৬৫ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছিলেন চার্লস ব্যানারম্যান। তার সেই রেকর্ড অক্ষতই রইলো। এবং এখনো আছে।

বুলবুলেরও আক্ষেপের তেমন কিছু থাকার কথা নয়। কারণ, অভিষেক টেস্ট মানেই তো ব্যানারম্যান। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বল ফেস করেছিলেন তিনি। টেস্টে প্রথম রান করেছিলেন তিনি। প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। মরণের ওপারে থাকুন না তিনি শান্তিতে। আর শান্তিতে থাকার জন্য-ই কী আমিনুল ইসলাম বুলবুল চলে গেলেন ব্যানারম্যান যেখানে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন সেই মেলবোর্নে!

হ্যাঁ, মেলবোর্ন এখন বুলবুলের স্থায়ী ঠিকানা। আর মেলবোর্নে তার বাড়ির নম্বরও ঠিক ১০০! ক্রিকেট ঈশ্বর আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সুযোগ দেননি চার্লস ব্যানারম্যানের ইনিংসকে ছাপিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ঈশ্বর এক জায়গায় তাদের দু’জনকে আবার মিলিয়ে দিলেন। দু’জনের হাতে ধরিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট!

একজনকে দিয়েছিলেন ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরুর আগে। আরেকজনকে দিলেন ক্যারিয়ার শেষে। হ্যাঁ, চার্লস ব্যানারম্যানের জন্ম তো ইংল্যান্ডে। বাবা-মার সাথে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে। ব্যানারম্যানকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি বুলবুল। কিন্তু যেটা পারলেন সেটাই কম কী! দেশের অভিষেক টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান। দেশের প্রথম বিশ্বকাপে অধিনায়ক। ক্রিকেটীয় অমরত্ব পেতে আর কী-ই বা দরকার পড়ে!

অভিষেক টেস্ট হয়তো অমরত্ব দেয়নি আরেকজনকে। কিন্তু দেশজ ক্রিকেটে তিনি এমন একটা জায়গায় তাকে ঠিক নড়ানো যাবে না। সরানো যাবে না। বিশাল আকৃতির মানুষটা তার চওড়া কাঁধে করেই বাংলাদেশকে পৌঁছে দেন বিশ্বকাপে। তারপরই বাংলাদেশের সামনে খুলে যায় টেস্ট ক্রিকেটের দরোজা। আর বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে তিনিও ছিলেন। শুধু ছিলেন না। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে অন্যতম ভরসা হিসেবেই ছিলেন। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আকরাম খান করেছিলেন ৩৫ রান। স্কোরটা হয়তো খুব বড় নয়।

তবে আকরাম ছিলেন আকরামের মেজাজেই। বুলবুলের সঙ্গে রানের একটা পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। তবে অভিষেক টেস্ট নয়। আকরামকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম ‘পিলার’ হিসেবে। তামিম-মুশফিকদের এখনকার ডাবল সেঞ্চুরিতে আবেগের দমকা হাওয়াও সেটাকে নড়াতে পারবে না। অন্তত ইতিহাস মনস্কদের মন থেকে।

সেই আকরাম অবশ্য মাঠ থেকে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলন করে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। তবে অবসরোত্তর জীবনে ভালভাবেই আছেন ক্রিকেটে। কখনো নির্বাচক। কখনো নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান। কখনো বিসিবি পরিচালক। আবার সেই আকরাম খানও কখনো কখনো অভিমানী! অভিমান করে পদত্যাগও করতে পারেন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে! তারপরও বলতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আকরাম খানের যা ডিপোজিট তাতে অবসরোত্তর জীবনের বাকি দিনগুলো ভালভাবেই পার করতে পারবেন তিনি।

অভিমান! নাকি উন্নত নিরাপদ জীবনের হাতছানি! তা হয়তো শুধু তিনি নিজেই জানেন। তবে আপাতত মনে হয় উন্নত নিরাপদ জীবন আর পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে ক্রিকেট ছেড়ে প্রবাস জীবনকে বেছে নিয়েছেন আল-শাহরিয়ার রোকন। অভিষেক টেস্টের প্রথম একাদশেও তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাঁর প্রতিভা নিয়ে অনেক কথা লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে। তবে স্কোরশিটে সেই প্রতিভার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি তিনি। আর এই না পারাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ট্র্যাজেডি না রহস্য তা নিয়ে গবেষণাও হতে পারে।

গবেষণা যাদের করার তারা হয়তো করবেন। সেটা ভবিষ্যতের কথা। বর্তমানে আল-শাহরিয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রবাসী। আর প্রবাস জীবনে কোচিংকেই বেছে নিয়েছেন ক্যারিয়ার হিসেবে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমাজ যদি অংক আর সৌন্দর্যের দ্বন্দ্বে সৌন্দর্যের পক্ষ নেয়, তাহলে মনে রাখতে হবে আল-শাহরিয়ারকে। বাহারি খেলা-ই ছিল তার দর্শন। ওটাই ছিল তার কাঙ্খিত ক্রিকেট। জন্মটা আর একটু পরে হলে, টি- টোয়েন্টির এই জমানায় আল-শাহরিয়ার হতে পারতেন বাংলাদেশ দলের বড় এক সম্পদ। ওর চেয়ে ভাল স্ট্রোক মেকার শত টেস্ট খেলা বাংলাদেশ কী পেয়েছে?

ক্রিকেটীয় সম্পদশালী বাংলাদেশ নয়। তিনি ছিলেন ক্রিকেটীয়ভাবে দরিদ্র বাংলাদেশের উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এক সৈনিক। উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটের কাউন্টার পার্ট হিসেবে ভারতীয় দলে যার অভিষেক হয়েছিল সেই সাবা করিমের চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিলেন। শুধু সাবা কেন? তার সময়ে অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক উইকেট কিপার ছিলেন পাইলট। অভিষেক টেস্টে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা পাইলটের চেয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে বেশি সময় ব্যাট করেছিলেন শুধু মাত্র একজন। আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

প্রথম ইনিংসে নট আউটও থাকলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে পরবর্তীতে সেঞ্চুরিও করেছেন পাইলট। অধিনায়কত্ব করেছেন। তবে অভিষেক টেস্ট নিয়ে পাইলটের আক্ষেপ থাকতে পারে একটা কারণে। গ্লাভস হাতে তার কোন ডিসমিসাল ছিল না! বরং ভারতীয় উইকেট কিপার সাবা করিমকে স্টাম্পড করেছিলেন পাইলটের জায়গায় গ্লাভস হাতে নেয়া শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ! তবে ক্রিকেট ছেড়েও পাইলট এখন ক্রিকেটেই আছেন। কোচিং করাচ্ছেন। একাডেমি চালাচ্ছেন। টুর্নামেন্ট আয়োজন করছেন। টক শো করছেন। ক্রিকেটের প্রায় সব জায়গাতেই আছেন তিনি। বলা যায় বিখ্যাত ফুটবলার বাবার ক্রিকেটার ছেলের ডিএনএ-তেই ক্রিকেট।

আরেকজন তার বিখ্যাত ফুটবলার মামা-কে দেখে হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। শেষ পর্যন্ত তিনি হলেন ক্রিকেটার। এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটে যার নামটা অমোচনীয় হয়েই থাকলো। কারণ, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক তিনি। নাঈমুর রহমান দুর্জয় বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চাইলেও কী তার নাম মুছে ফেলা যাবে? তিনি তো ইতিহাসের অংশ হয়েই আছেন। দুর্জয় যখন অভিষেক টেস্টে টস করতে নামলেন, তখনই ক্রিকেট গ্রহে প্রথম বার পা রাখলেন দুই বাঙালি টেস্ট অধিনায়ক! দুর্জয়ের প্রথম টেস্ট।

আর ভারতের অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলিরও ছিল ওটা প্রথম টেস্ট। অধিনায়ক হিসেবে দুর্জয় পরাজিত দলেই ছিলেন। কিন্তু ঐ টেস্ট মনে রাখার জন্য তার ব্যক্তিগত অর্জন কম ছিল না। ভারতের প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন এই অফ স্পিনার। ইনিংসে ছয় উইকেট দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল যার তিনি খুব বেশি দিন টেস্ট খেলতে পারেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে রাজনীতির মেরুকরণ আর ফর্মের বিশ্বাস ঘাতকতা একটু আগেভাগে দাড়ি টেনে দেয় দুর্জয়ের টেস্ট ক্যারিয়ারে।

ক্রিকেট মাঠ ছাড়ার পর নিয়তি তাকে ঠেলে দিয়েছে সেই রাজনীতির মাঠে। পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাবার পথ ধরে রাজনীতিতেই ব্যস্ত এখন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক। দুর্জয় পুরোপুরি রাজনীতিবিদ। বাবার উত্তাধিকার আর ক্রিকেটের সৌজন্যে জাতীয় সংসদের সদস্যও তিনি। ক্রিকেট উত্তর জীবনে রাজনীতিতে কতদূর যাবেন নাঈমুর রহমান তা হয়তো সময় বলবে। তবে দেশের ক্রিকেটীয় রাজসিংহাসনে তিনি বসেই আছেন। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ককে চাইলেও কী ইতিহাস থেকে সরিয়ে ফেলা যাবে?

ইতিহাস। এদেশের ক্রিকেট সমাজ। কে কীভাবে তাকে মনে রাখলেন বা না রাখলেন তা নিয়ে মোটেও ভাবিত নন তিনি। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল বাঁহাতি স্পিনার তিনি। শুধু স্পিনার বলছি কেন, তিনি সফল অলরাউন্ডার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে যিনি সেঞ্চুরি করলেন, সেই বাঁ-হাতি স্পিনারকে অলরাউন্ডার বলবেন না কেন! বাঙালির কাছে মোহাম্মদ রফিক অলরাউন্ডার।

অভিষেক টেস্টে নাঈমুরের অফ স্পিনের সাফল্যের পাশে হয়তো ঢাকা পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে গোটা তিনেক উইকেট নিয়ে ছিলেন। আর বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ইকনোমি রেট ছিল তার। বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি বলও করেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। পরবর্তীতে তিনিই হয়ে গেলেন বাংলাদেশ দলের মূল স্ট্রাইক বোলার। বহু ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু মোহাম্মদ রফিক প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে থাকলেন এক ইনিংসের বোলার!

কারণ, বাংলাদেশের নড়বড়ে ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয় ইনিংসে খুব বেশি ব্যাট করতে হয়নি তার সময়। এই আক্ষেপটা মোহাম্মদ রফিককে নিশ্চিত পোড়ায়। কিন্তু তিনি কতোটা দগ্ধ হন তা বোঝা কঠিন। কারণ, বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে উঠে আসা লোকটা ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার পর এখন বুড়িগঙ্গার মত নিস্তরঙ্গ। ক্রিকেটীয় ঢেউ তার মনের তটে খুব বেশি আচড়ে পড়ে কী! বলা কঠিন। আবার ক্রিকেট একেবারে ভুলে আছেন তাও নয়। ব্যবসা আর কেরানীগঞ্জের ক্রিকেট। এই নিয়ে খুব একটা খারাপ নেই বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পারের বাসিন্দা।

খারাপ নেই বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বল করেছিলেন যিনি। ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন। ক্রিকেট ছাড়ার পর এখন বিসিবির বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক। ব্যবসা, বিসিবির বেতন সব মিলিয়ে ভালই আছেন হাসিবুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তার আক্ষেপ- মানুষ নাকি ভুলেই গেছেন তিনি টেস্ট খেলেছেন! শুধু অভিষেক টেস্ট খেলেননি। এরপর আরো গোটা চারেক টেস্ট খেলেছেন শান্ত।

অভিষেক টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসে কোন উইকেট তিনি পাননি; কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের একমাত্র উইকেটটা তিনি-ই নিয়েছিলেন। আর তাতেই অভিষেক টেস্টে দশ উইকেটের হার এড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তবে নিজের আক্ষেপের ওপর আবার শান্ত নিজেই সান্ত্বনার প্রলেপ বুলিয়ে বলতে পারেন; ‘বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে প্রথম বল করেছি আমি। বিশ্বকাপেও প্রথম বল করেছি দেশের পক্ষে। আর বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ^কাপে গিয়েছিল আমার প্যাড থেকে আসা উইনিং রানে।’ আইসিসি ট্রফিতে শান্তর প্যাড থেকে আসা সেই উইনিং রানের ছবিটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মরণীয় এক ফ্রেম।

তবে অভিষেক টেস্টে নতুন বলে হাসিবুল হোসেন শান্তর পার্টনার ছিলেন যিনি সেই বিকাশ রঞ্জন দাস (পরবর্তীতে মাহমুদুল হাসান) এখন আর ক্রিকেটীয় হিসাব-নিকেশের মধ্যে নেই। তিনি এখন পুরোদস্তুর ব্যাংকার। একটা বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার এক সময়ের টিমমেটরা এখন তাকে নিয়ে প্রায়ই বলেন; ‘ও বল করতো বাঁহাতে। কিন্তু ব্যাংক সামলায় দুই হাতে! দারুণ করিতকর্মা। যেমন কাজ করছেন তেমনি মোটা বেতনও পাচ্ছে।’

ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব বেশি বিকশিত করতে না পারলেও ক্রিকেট উত্তর জীবনে তিনি ভাল আছেন। অনেকের চেয়ে ভাল আছেন। টিমমেটদের কাছ থেকে এই সার্টিফিকেট বিকাশের জন্য খুব কম প্রাপ্তি নয়। তবে বড় প্রাপ্তি অবশ্যই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম এগারতে জায়গা করে নেয়া।

স্ট্যাটটিকস নামক স্ক্যান রিপোর্ট দিয়ে অবশ্য অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেটের চেহারা বোঝার চেষ্টা এখন না করাই ভাল। একুশ শতকের প্রথম দশকের শুরুতে টেস্ট খেলতে নেমেছিল যে বাংলাদেশ, তার ক্রিকেটীয় চেহারা মোটেও আজকের মত ঝকঝকে উজ্জ্বল ছিল না। তবে ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর শুরু হওয়া সেই টেস্টের গুরুত্ব ছিল অনেক। সেদিন যারা বাংলাদেশ ক্যাপ পরে টেস্ট গ্রহে প্রথম পা রেখেছিলেন সেই এগার জনের প্রত্যেকেই নিজের মত করেই ভাল আছেন। তবে নিশ্চয়ই সবাই ভাল আছেন, অন্য একটা কথা ভেবে। তারাই তো টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বংশ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। শেষ চারের ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন শেষ হয় মাশরাফিবাহিনীর। তবে এ ম্যাচে কোন অতিরিক্ত রান না দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তামিম ও মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে প্রথমে ২৬৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শিখর ধাওয়ানের উইকেট হারিয়ে ৪০.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। আর এ ম্যাচে বাংলাদেশের আটজন বোলার বোলিং করলেও কোন অতিরিক্ত রান দেয়নি। আর এতেই ওয়ানডে ক্রিকেট নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

ওয়ানডেতে এর আগে এ রেকর্ড ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষে। চলতি বছর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৯ রানের ইনিংসে কোন অতিরিক্ত রান দেয়নি দলটি।

আর টেস্ট এ রেকর্ডটি এখনো ভারতের দখলে। ১৯৫৪-৫৫ সালে লাহোরে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রান করে। আর ওই ইনিংসে কোন অতিরিক্ত রান দেয়নি ভারত।

রোমাঞ্চকর জয়ে শুরু আল-আমিনের বাংলাদেশ টাইগার্সের

এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগের আসর বসেছে নেপালে। আজ মাঠে গড়িয়েছে খেলা। উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তান বুলসের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ টাইগার্স। ম্যাচটিতে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে আল আমিনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টাইগার্স।

প্রথমে ব্যাট করে ১৮ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান তোলে বাংলাদেশ টাইগার্স। জবাবে ১৮ ওভার খেললেও ৭ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান বুলসের ইনিংস থামে ৯৮ রানে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ টাইগার্সের অধিনায়ক আল-আমিন। ৩.৪ ওভার খেলা মাঠে গড়ানোর পরই শুরু হয় বৃষ্টি। তাই নির্ধারিত ২০ ওভার থেকে কর্তন করা হয় ২ ওভার। খেলা হয় ১৮ ওভার করে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান আসে কাজী জিসান আহমেদের ব্যাট থেকে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় আফগানিস্তান বুলস। ৫০ রানেই হারিয়ে ফেলে পাঁচ উইকেট। তবে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেষ ১৮ বলে দরকার ছিল ২৯ রান।

কিন্তু আল-আমিনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেটা আর করতে পারেননি আফগানিস্তান বুলসের ব্যাটসম্যানরা। ৯৮ রানেই থেমে যায় আফগানদের ইনিংস। ফলে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ টাইগার্স।

প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম বসেছে এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি। আয়োজন করেছে ভারতীয় একটি স্পোর্টস কোম্পানি। নাম- আলটিমেট স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট (ইউএসএম)। টুর্নামেন্ট চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। ৬টি দল অংশ নিয়েছে এই টুর্নামেন্টে। দলগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ টাইগার্স, আফগানিস্তান বুলস, দুবাই ওয়ারিয়র্স, ইন্ডিয়ান স্টার্স, নেপাল স্টোর্মস ও শ্রীলঙ্কান লায়ন্স।

প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার পরেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতির বন্যা দেখা যাচ্ছে। ফাইনালের নায়ক ফকর জামানসহ দলের সব ক্রিকেটারকেই আর্থিক পুরস্কার, জমিসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ইউনিস খান বলেন, পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি যেন পূরণ করা হয়। শুধু প্রচারের জন্য যেন পুরস্কারের কথা ঘোষণা না করা হয়।
পাকিস্তানের এক ব্যবসায়ী রিয়াজ মালিক ঘোষণা করেছেন, ফকরকে জমি এবং ১০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা দেবেন। দলের বাকিদের সম পরিমাণ অর্থ এবং ছোটমাপের জমি দেবেন। এই খবর শোনার পর ইউনিস বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে এটা খুব ভাল কথা। কিন্তু রিয়াজ মালিককে মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০৯ সালে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পরও এই ধরণের পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি। তাই অনুরোধ থাকবে, এবার যেন প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়।’

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে একমাত্র তামিম

দারুণ পারফর্ম করে কঠিণ গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠলেও, আইসিসি-র মন গলাতে পারেন নি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তা না হলে, তামিম ইকবাল ছাড়া আর কেউ কেনো জায়গা পাবেন না এবারের আইসিসি একাদশে। অবশ্য একাদশ কেনো, সেটা তো হবে দ্বাদশ। আর দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে, টুর্নামেন্টে ২৪৪ রান করা নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনকে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একাদশে শিরোপা জয়ী দল পাকিস্তানের আছেন চারজন, রানার্সআপ ভারতের ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের তিনজন করে ক্রিকেটার। আর একজন বাংলাদেশের। আর দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-র দল হলো-
শিখর ধাওয়ান (ভারত), ফকর জামান (পাকিস্তান), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), বিরাট কোহলি (ভারত), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান), আদিল রশীদ (ইংল্যান্ড), জুনায়েদ খান (পাকিস্তান), বি. কুমার (ভারত), হাসান আলী (পাকিস্তান) ও কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আর্থারটন, ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, পাকিস্তানের রমিজ রাজা এবং বেশকিছু নামী সাংবাদিক মিলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই দলটি গঠণ করেন।

একধাপ নেমে গেলো বাংলাদেশ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে খেলা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে। তবে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ নিচে নেমে গেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এদিকে, প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে টাইগারদেরকে পেছনে ফেলে ছয় নম্বরে উঠেছে পাকিস্তান।
৯৩ পয়েন্ট নিয়ে ৮ দলের টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে একমাত্র জয়টি পায় মাশরাফির দল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের কাছে হারের পরও ৯৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরেই ছিল তারা। কিন্তু ফাইনালে বিরাট কোহলিদের হারিয়ে ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ছিটকে দেয় পাকিস্তান। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা এখন আছে সপ্তমস্থানে।

৯৩ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে নেমে গেছে শ্রীলঙ্কা। এদিকে, ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কদিন পরেই ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে থাকা ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলবে তারা। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার বাস্তবিক কোনো সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে এই সিরিজে যতটা সম্ভব রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে হবে জেসন হোল্ডারের দলকে। ১১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ১১৭। সেরা পাঁচে আছে ইংল্যান্ড (১১৩) ও নিউজিল্যান্ড (১১১)।
স্বাগতিক ইংল্যান্ড এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা অন্য সাত দল সরাসরি খেলবে ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

পাকিস্তানের সাফল্য: ইমরান-আফ্রিদিদের শুভকামনা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত ও অসাধারণ জয়ে মুগ্ধ সে দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। রবিবার রাতে ওভালে পাকিস্তানের জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট ভেসে উঠতে শুরু করে। ২০০৭-এ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হারা পাক দলের সদস্য ও সম্প্রতি অবসর নেওয়া প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক টুইট করেন, ‘তোমরা আমাদের খুশি ও গর্বিত করেছ। এখান থেকেই ওপরে ওঠা শুরু হোক আমাদের।’

১৯৯২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান খানের প্রতিক্রিয়া, ‘অভিনন্দন পাকিস্তান দল। ফখর জামানের প্রতিভার পরিচয় পেয়ে দারুণ লাগল।’ আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক ও জনপ্রিয় ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদি টুইটারে লেখেন, ‘দুই দেশের সমর্থকদেরই এই ম্যাচটা বহুদিন মনে থাকবে। এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা চিরকাল মনে রাখব।’
ওয়াসিম আকরামের উচ্ছ্বাস অনেকটা এ রকম, ‘ওয়াও…ওয়াও…ওয়াও। সবুজ দলের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জয়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আকাশে উড়ছি।’
অন্যান্য দেশের প্রাক্তনরাও পাকিস্তানের এই জয়ে অভিভূত। কুমার সাঙ্গকারা বলেছেন, ‘পাকিস্তানিদের কলিজার জোরটাই দেখা গেল। নিজেদের উপর আস্থা ও সাহস বুকে নিয়ে খেললে কী হয়, সেটাই দেখা গেল।’ নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথও সরফরাজ আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রাইজমানি

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অর্থ পুরস্কারও বাড়ানো হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর রানার্সআপকে দেয়া হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা- আইসিসি এ কথা জানিয়েছে।
আইসিসি আগেই ঘোষণা করেছিল, এবার মেয়েদের বিশ্বকাপে মোট ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। যা কিনা গত বিশ্বকাপ অর্থাত্, ২০১৩-এর বিশ্বকাপের পুরস্কার অর্থের থেকে ১০ গুন বেশি। যে দুই দল সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেবে, সেই দুই দল প্রত্যেকে পাবে ১,৬৫,০০০ মার্কিন ডলার করে। গ্রুপের প্রত্যেকটি ম্যাচ জেতার জন্য ২০,০০০ মার্কিন ডলার করে আর্থিক পুরস্কার পাবে দলগুলো। আগামীকাল থেকেই বিশ্বকাপের ওয়ার্মআপ ম্যাচ শুরু হয়ে যাচ্ছে। চেস্টারফিল্ডে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, ডার্বিশায়ারে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করার সঙ্গে সঙ্গে এই বিপুল অর্থের জন্যও আগামী ২৪ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে লড়বে বিশ্বের সেরা আটটি দল।

ব্যাটে সেরা শিখর, বলে সেরা হাসান আলি

শিখর ধাওয়ান পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। এমনিতেই সব সময় ব্যাটে ঝড় তোলেন। ঝড় তুলতে পছন্দ করেন। আইপিএল খেলে উঠে আসা ভরতের এই ওপেনার ব্যাট করেন ভয়-ডরহীন। যে কোনো প্রতিপক্ষ, যে কোনো বোলার তার কাছে যেন নস্যি। তার ব্যাটে রান উঠবে এটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে ভারতের আরও ব্যাটসম্যান রয়েছেন, যারা যে কোনো টুর্নামেন্টে সেরা হওয়ার ক্ষমতা রাখে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের মত ব্যাটসম্যানরা যে দলে থাকেন, তাদেরকে ব্যাটিং পাওয়ার হাউজ বললেও অত্যুক্তি হবে না।

এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের তালিকা দেখলে সেটাই প্রতীয়মান হবে। শীর্ষ দুইজন ব্যাটসম্যানই ভারতের। শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা। সেরা পাঁচে রয়েছেন বিরাট কোহলিও। তবুও ফাইনালে ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটেছে ভারতের। পাকিস্তানের কাছে হারতে হলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

 

অন্যদিকে সব সময়ই বোলার জন্মদাত্রী দেশ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান। দেশটিতে রয়েছে যেন পেসারের খনি। অলি-গলি থেকে উঠে আসে পেসার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলটির সেরা পেসার মোহাম্মদ আমির। হাসান আলির নামই জানতো না কেউ। সেই হাসান আলিই এবারের টুর্নামেন্টের সেরা বোলার।

সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী (সেরা ১০)

খেলোয়াড় ম্যাচ রান সর্বোচ্চ গড় ১০০ ৫০
শিখর ধাওয়ান (ভারত) ৩৩৮ ১২৫ ৬৭.৬০
রোহিত শর্মা (ভারত) ৩০৪ ১২৩* ৭৬.০০
তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ) ২৯৩ ১২৮ ৭৩.২৫
জো রুট (ইংল্যান্ড) ২৫৮ ১৩৩* ৮৬.০০
বিরাট কোহলি (ভারত) ২৫৮ ৯৬* ১২৯.০০
ফাখর জামান (পাকিস্তান) ২৫২ ১১৪ ৬৩.০০
কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড) ২৪৪ ১০০ ৮১.৩৩
আজহার আলি (পাকিস্তান) ২২৮ ৭৬ ৪৫.৬০
ইয়ন মরগ্যান (ইংল্যান্ড) ২০৮ ৮৭ ৬৯.৩৩
বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড) ১৮৪ ১০২* ৯২.০০

সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী (সেরা ১০)

খেলোয়াড় ম্যাচ রান উইকেট সেরা গড় ইক.রেট
হাসান আলি (পাকিস্তান) ১৯১ ১৩ ৩/১৯ ১৪.৬৯ ৪.২৯
জস হ্যাজলউড (অস্ট্রেলিয়া) ১৪২ ৬/৫২ ১৫.৭৭ ৫.০৭
জুনায়েদ খান (পাকিস্তান) ১৫৫ ৩/৪০ ১৯.৩৭ ৪.৫৮
লিয়াম প্লাঙ্কেট (ইংল্যান্ড) ১৯৬ ৪/৫৫ ২৪.৫০ ৫.৮৫
আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড) ১৪২ ৪/৪১ ২০.২৮ ৪.৭৩
ভুবনেশ্বর কুমার (ভারত) ১৯৭ ২/২৩ ২৮.১৪ ৪.৬৩
অ্যাডাম মিলনে (নিউজিল্যান্ড) ১৪৬ ৩/৭৯ ২৪.৩৩ ৬.৮৪
নুয়ান প্রদীপ (শ্রীলঙ্কা) ১৮৭ ৩/৬০ ৩১.১৬ ৬.২৩
ইমরান তাহির (দক্ষিণ আফ্রিকা) ৮০ ৪/২৭ ১৬.০০ ৪.৩২
মরনে মর্কেল (দক্ষিণ আফ্রিকা) ৮৭ ৩/১৮ ১৭.৪০ ৪.৩৫

পাকিস্তানকে অভিনন্দন বিরাট কোহলির

বিরাট কোহলির লা জবাব হয়ে যাওয়ারই কথা। যে দলটিকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হেসে-খেলে হারিয়েছে, সেই দলটিই কি না ফাইনালে এসে এভাবে উল্টে গেলো। গ্রেটেস্ট কামব্যাক বুঝি একেই বলে। ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর যে দলটিকে সবাই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল তারাই কি না খেললো ফাইনাল এবং দাপটের সঙ্গেই জিতলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা।

এমন খেলার পর যে কেউ অভিনন্দন জানাবে পাকিস্তান। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বিরাট কোহলিও এর ব্যতিক্রম হবেন কেন! তিনি বরং, প্রতিক্রিয়া জানানো শুরুই করলেন পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানিয়ে।

পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের সময়ই দেখা গিয়েছিল মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা একে অপরের সঙ্গে হাসি-মুখে কথা বলছেন। যুবরাজ-হাফিজরা খুনসুটি করছেন। দেখে কে বলবে, একটু আগে তারা মহারণ শেষ করে এসেছে। পুরস্কার বিতরণের সময় যখন সঞ্চালক নাসের হুসেইন মঞ্চে ডেকে নিলেন বিরাট কোহলিকে, তখন তিনি শুরুতেই অভিনন্দন জানালেন পাকিস্তানকে।

বললেন, ‘দুর্দান্ত একটা টুর্নামেন্ট খেলার জন্য পাকিস্তানকে অভিনন্দন। বাজে একটা শুরুর পর যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে বোঝা যায়, দলটিতে প্রতিভার কমতি নেই। তারা আবারও প্রমাণ করেছে, নিজেদের দিনে তারা যে কাউকে চমকে দিতে পারে।’

নিজেদের হতাশার কথা জানাতে ভুললেন না কোহলি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য অবশ্যই হতাশার। যদিও আমি আমার মুখে হাসি ধরে রাখবো। কারণ, দুর্দান্ত খেলেই আমরা ফাইনালে উঠে এসেছি।’

আবারও পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানালেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। কারণ, তারা আমাদেরকে ম্যাচ থেকে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টেই পুরোপুরি বের করে দিয়েছিল। খেলাধুলায় এমন হতেই পারে। আমরা কাউকেই হালকাভাবে নেই না। এই দিনটিতে তারা ছিল সেরা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসম্ভব সুন্দর খেলা প্রদর্শণ করেছে। বল হাতে আমরা উইকেট নিতে পারিনি। চেষ্টা করেছি নিজেদের সেরাটা খেলতে; কিন্তু বল এবং ব্যাট হাতে তারা ছিল সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী। হার্দিক পান্ডিয়া ছাড়া আমরা কেউই ভালো করতে পারিনি। তার শটগুলো ছিলো দারুণ। বুমরাহর (নো বল) অপরাধটা খুব বড় নয়। এটা ক্রিকেটে ঘটতেই পারে।’

ভারতে এখন গণ-ভিলেন বুমরাহ

ভারতজুড়ে এখন ‘ইস!’ ‘যদি’র আফসোস। ইস! ওই বলটি যদি নো না হতো! ওই একটি বলই তো নো হয়েছে। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে জসপ্রিত বুমরাহ যদি বলটি ওভার স্টেপিংয়ে নো না দিতেন, তাহলে কী ম্যাচের চিত্র এমন হতে পারতো। এতটা একতরফা ম্যাচ কী হয়ে যেতো! ব্যক্তিগত ৩ রানে থাকা ফাখর জামান যদি ওই সময় আউট হয়ে যেতেন, তাহলে ম্যাচটার ভাগ্য কী হতে পারতো?

লন্ডনের কেনিংটন ওভালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল শেষে এখন ভারত জুড়ে গণ আফসোসের মুখে গণ ভিলেনে পরিণত হয়েছে জসপ্রিত বুমরাহ। স্লগ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে থাকেন। প্রতিপক্ষের রান বেধে রাখতে ওস্তাদ। টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠানোর পর কোহলির পরিকল্পনা মতোই কাজ এগুচ্ছিল যেন। কারণ, চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ফাখর জামানকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন বুমরাহ।

উইকেট পাওয়ার আনন্দে মেতে উঠলো পুরো ভারতীয় দল। গ্যালারিতে তখন উল্লাসে ঢেউ। প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছেন ফাখর জামানও। আম্পায়ার ডেকে দাঁড় করালেন। নিয়ম অনুযায়ী আউট হওয়া বল চেক করতে হয়, নো হয়েছে কি না। সেই চেক করতে গিয়েই দেখা গেলো পরিস্কার ওভার স্টেপিং করে ফেললেন বুমরাহ। ফলে নো বল। বেঁচে গেলেন ফাখর জামান।

বাকিটা তো ইতিহাস। আজহার আলির সঙ্গে রেকর্ড ১২৮ রানের জুটি। ১১৪ রানের বিশাল ইনিংস- ফাইনালটাকে শুধুই নিজের বানিয়ে ফেললেন পাকিস্তানের এই নতুন ব্যাটসম্যান।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা তো চেতন শর্মার সঙ্গে তুলনা করে ফেললো বুমরাহর। দু’জনই যে হতাশার ইতিহাসের সঙ্গী। আনন্দবাজার জানাচ্ছে, “শারজায় শেষ বলে ছক্কা খাওয়া চেতন শর্মার জমে থাকা দুঃখ-যন্ত্রণা ভাগ করার জন্য এতদিনে কারও একটা আবির্ভাব ঘটল। ওভালের জসপ্রিত বুমরাহ!

চেতনের বলটা ছিল ফুলটস। পাকিস্তানের জিততে দরকার ছিল ছয় রান। কোমরের উচ্চতায় আসা বল উড়িয়ে দেন মিয়াঁদাদ। আর ওভালে বুমরা এবং ভারতের অভিশপ্ত ডেলিভারি হয়ে থাকল একটি ‘নো বল’।

ওভালে অবশ্য পাকিস্তান রান তাড়া করছিল না, টস জিতে তাদের প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান কোহালি। শুরুতেই সাফল্য এল। বুমরার বলে ধোনির হাতে খোঁচা দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন ফখর জমান।

কিন্তু জায়ান্ট স্ক্রিন দেখাল বুমরা ‘নো বল’ করেছেন। জমান তখন ৭ বলে ৩। পাকিস্তান ৩ ওভারে ৭-১ হয়ে যায়। সেই যে বাঁচলেন বাঁ-হাতি ওপেনার, থামলেন ১০৬ বলে ১১৪ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে। প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। আর সেটা এল কি না ফাইনালে ভারত-পাক ম্যাচে। কী অসাধারণ এক আবির্ভাব!”

ভারতে এখন নো বলের নাম পাল্টে রাখা হচ্ছে ‘বুমরাহ বল’। আনন্দ বাজারই জানাল এমন চাঞ্চল্যকর খবর। পত্রিকাটি লিখেছে, “রোববারের পরে কানে এল ‘নো বলের’ নাম পাল্টে নাকি রাখা হবে ‘বুমরা বল’! ক্লাইভ লয়েড পর্যন্ত লাঞ্চের সময় বলেন, বুমরার ‘নো বল’টাই টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকল।”

তবে ভারতের ম্যাচ হারের পেছনে শুধু বুমরাহর নো বলকেই দুষছেন না বোদ্ধারা। তাদের চোখে পরাজয়ের অন্যতম কারণ টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া। ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ফাইনালেও টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করতে পাঠান সৌরভ গাঙ্গুলি। সেখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। টসের হিসেব ওলটপালট করে দিল বিরাটের ভাগ্যও।

তবু টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে থেকে যাবে বুমরার ‘নো বল’। যেমন ছিল ওয়াংখেড়েতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডল সিমন্সকে সে দিন শুরুতেই আউট করেছিলেন অশ্বিন। এ দিনের মতোই রিপ্লে দেখিয়েছিল, ‘নো বল’ হয়েছে। সে দিন সিমন্স ম্যাচ নিয়ে চলে যান। এ দিন নিয়ে গেলেন জমান।

১৯৮৬’র শারজায় সেই শেষ বলের ছক্কা নিয়ে আজও কথা শুনতে হয় চেতন শর্মাকে। ১৮ জুন, ২০১৭-ও তাড়া করে ফিরবে জসপ্রিত বুমরাহকে।

সেই ইংল্যান্ডেই সাত বছর পর আমিরের ‘শাপমোচন

সেই ইংল্যান্ড, সেই লন্ডন। মোহাম্মদ আমিরের ক্যারিয়ার থেকে সব কেড়ে নিয়েছিল সাত বছর আগে। আমিরের কাছে ইংল্যান্ড এবং লন্ডন তাই অভিশপ্তই। ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পাঁচ বছরের জন্য। সঙ্গে আরও দু’জন সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফ। সেই লন্ডনেই, সাত বছর পর এসে শাপমোচন করলেণ মোহাম্মদ আমির। তার বলের আগুণে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলো পুরো ভারত।

জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ক্রিকেটকেই কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল সালমান বাটরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী পাকিস্তান ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল প্রতিভা মোহাম্মদ আমির। দোষি প্রমাণিত হওয়ার পর পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন। অবশেষে ক্রিকেটে ফিরলেন ২০১৫ সালে।

এক বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রস্তুত করার পর ২০১৬ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে আবারও ক্রিকেটে ফেরেন মোহাম্মদ আমির। ফেরার পর থেকে যেন পুরনো আমিরেরই দেখা মিলছিল। সর্বশেষ রোববার নিজের বলের আগুন ঝরালেন ইংল্যান্ডের মাটিতেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে, ভারতের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে দলকে জিতিয়ে নিজের পাপ মোচন করলেন যেন তিনি।

সাত বছর আগে একদিন যে ইংল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে দল ও দেশের মাথা ছোট করে দিয়েছিলেন, সে দেশ এবং সে শহরে দাঁড়িয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে দলকে বল হাতে নেতৃত্ব দিয়ে জেতালেন পাকিস্তানকে।

ফাইনালে টস জিতে পাকিস্তানকেই ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভারত। ফাখর জামানের সেঞ্চুরিতে ভারতের সামনে ৩৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য বেধে দেয় পাকিস্তান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বলে একে একে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি।

অথচ এই তিন স্তম্ভই গোটা টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের ব্যাটিংকে টেনেছেন। ফাইনালে এসে যেন ইংল্যান্ডের মাঠে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে ফের একবার নিজের ফিরে আসার বার্তা দিলেন আমির।

চিরকালই ভক্ত কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আক্রামের। বল হাতে কিছু করার চেষ্টাও তাকে দেখেই। ছোট থেকেই গলির ক্রিকেটে অভ্যস্ত ছিলেন। পাঞ্জাব প্রদেশের গুজ্জর পরিবারের সন্তান আমির ২০০৭ সালে চোখে পড়ে যান ওয়াসিম আক্রামের। এরপর একে একে ঘরোয়া ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব ১৯ দল হয়ে ২০০৯ সালে পাকিস্তান দলে অভিষেক।

বিশ্ব ক্রিকেট যখন ধীরে ধীরে আমিরকে চিনতে শুরু করেছে, যখন ভাবা হচ্ছে ওয়াসিম আক্রমের পর ফের একজন ভালো বাঁ-হাতি পেসার পেয়ে গেছে পাকিস্তান, সে সময়ই, ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের জড়িয়ে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ বছরের বেশি সময় আমির নষ্ট করে ফেলেন। তবে তাতে তিনি যে দমে যাননি, সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে ছাড়লেন মোহাম্মদ আমির।

ভারতজুড়ে ক্ষোভ আর কান্নার রোল (ভিডিও

পরিস্কার ফেবারিট ভারত। এই ইংল্যান্ড থেকেই তো চার বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে নিয়েছিল ভারত। সেই একই দেশে, একই শহরে এসে আবারও ফাইনালে, ভারতের ১২০ কোটিরও বেশি মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুণতে শুরু করে দিয়েছিল, পাকিস্তান বধ করে আবারও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলে নেবে ভারত।

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারত যেভাবে বৃষ্টি আইনের মাধ্যমে পাকিস্তানবে বিধ্বস্ত করে ছেড়েছিল, তাতে ভারতীয়দের আশায় বসতি করাই স্বাভাবিক। এতবড় ব্যাটিং লাইনআপ। দুর্দর্ষ বোলিং। যে কোনোভাবেই ভারতের হারার কথা নয়। আর আইসিসি ইভেন্ট মানেই তো অন্য কিছু। যেখানে পাকিস্তানের হার অবধারিত।

এমন হিসাব-নিকাশ, পরিসংখ্যান। সব কিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছে দুরমুশ হতে হলো ভারতকে। ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোরের নিচে চাপা পড়ে মাত্র ১৫৮ রানে অলআউট। তাও ৫৪ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হার্দিক পান্ডিয়ার আচমকা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শ’র গন্ডি পার হয় ভারত। শেষ পর্যন্ত পরাজয় মানতে হলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

এমন পরাজয় মেনে নেয়া কঠিন। মেনে নিতে পারছে না ভারতীয়রা। পুরো ভারতজুড়েই জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছিল ক্রিকেট পাগল ভারতীয়রা। সারা দিনের কাজ ফেলে তারা বসেছিল টিভির সামনে। কিন্তু বুমরাহর নো বলের পর ফাখর জামানের সেঞ্চুরি আর পাকিস্তানের ৩৩৮ রান দেখেই আশার গুড়ে অর্ধেক বালি।

বাকি যেটুকু আশা ছিল, সেটাও কেড়ে নিলেন মোহাম্মদ আমির। দুর্দান্ত এক স্পেলে ফিরিয়ে দিলেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি এবং শিখর ধাওয়ানকে। ভারতের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড সেখানেই ভেঙে বাঁকা হয়ে গেছে। যেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি ভারত।

এ অবস্থা দেখে পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ। ক্রিকেট ভক্তরা ক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসে। তাদের সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়ে নীরিত টিভি সেটের ওপর। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষুব্ধ ভক্তরা টিভি সেট ভাঙছেন। কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে কান্না রোল বইয়ে দিতে। পাকিস্তানের কাছে এমন লজ্জাজনক হারে ক্ষোভে পুড়ছে বলতে গেলে পুরো ভারতবর্ষই।

দেখুন ভিডিও

বাংলাদেশে না আসার হুমকি স্মিথ-ওয়ার্নারদের

নানা অজুহাতে বাংলাদেশে সফর পেছানোর ক্ষেত্রে জুড়িমেলা ভার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। তবে, এবার তারা পাকা কথা দিয়েছে, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে দল পাঠাবেই। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে তারা দলও ঘোষণা দিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু এবার বাধ সাধতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। তারা হুমকি দিয়েছে, সময়মত দাবি মেনে না নিলে বাংলাদেশ সফরেই আসবে না তারা। ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হয়ে এই হুমকিটি দিয়েছেন ওপেনার এবং দলের সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

সমস্যাটা মূলতঃ ক্রিকেটারদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের। খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা, রাজস্বের অংশীদারিত্বের বিষয়েই বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ক্রিকেটারদের। নতুন করে যে নীতিমালা প্রনয়ণ করা হয়েছে, তাতে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়া হয়েছে অনেকাংশে। সে কারণেই দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা।

পুরনো চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই। তারও অনেক কম সময়। এরই মধ্যে নতুন চুক্তি করা না হলে বাংলাদেশ সফরে আসবে না বলে হুমকি দিয়ে রাখলেন ওয়ার্নার। নতুন করে চুক্তি না হলে ১ জুলাই থেকে বেকার হয়ে যাবেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। সে ক্ষেত্রে তারা পরবর্তী সফরগুলোতেও না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

নিজেদের দাবি-দাওয়া টেশ করে ডেভিড ওয়ার্নার বলেছেন, ‘আমাদের দাবি বেশ পরিষ্কার, আইসিসির দেওয়া রাজস্বের যে অংশ আগে ক্রিকেটাররা পেত, সেটা আমাদের দিতে হবে। শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য সেই অংশটা ঘরোয়া লীগ খেলা ক্রিকেটার এবং নারী ক্রিকেটারদেরও দিতে হবে। তা না হলে আমরা চুক্তি করব না। আর চুক্তি না করলে বাংলাদেশ সফরে আমরা কেউই যাব না।’

ক্রিকেটার এবং বোর্ডের সঙ্গে এই বিরোধ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরুর আগে থেকেই। এ নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে দেশটির ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) সঙ্গে; কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেই আলোচনা থেকে কোনো ফল বের হয়ে আসেনি।

এ সপ্তাহেই দু’পক্ষের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা, সেখান থেকে ফলপ্রসূ কিছু না এলে আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের কেউ।

মূলতঃ ওয়ার্নার আর স্মিথদের মতো কয়েকজন শীর্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা চুক্তি করতে চেয়েছে বোর্ড। সেখানে তাদের রাজস্বের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ দিতেও চেয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ); কিন্তু ওয়ার্নারা চান এই অংশটা অস্ট্রেলিয়ার সব ক্রিকেটাররাই যেন পায়। এখানেই যত বিরোধ বোর্ডের সঙ্গে। কারণ ওয়ার্নারদের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না তারা।

এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলার সময়ও বোর্ডপ্রধান জেমস সাদারল্যান্ড হুমকি দিয়েছেন চুক্তি না করলে ১ জুলাই থেকে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে সবার। তাতে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ওয়ার্নার। তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে চাই, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য; কিন্তু যদি আমাদের সঙ্গে চুক্তি না হয়, তাহলে এই মৌসুম আমরা কোথাও খেলতে পারব না। শুধু বাংলাদেশ সফরই নয়, অ্যাশেজ সিরিজেও খেলা হবে না আমাদের। চুক্তি না হলে আমরা অনুশীলনও করতে পারব না। সব কিছু থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব। এটা খুব হতাশার খবর হবে যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি না হয়।’

বাংলাদেশ সফরের লক্ষ্যে আগামী ১৮ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা অস্ট্রেলিয়া দলের। ফতুল্লায় তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সফর। ২৭ আগস্ট থেকে মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর।

যে ভুলে হারতে হলো ভারতকে

ভারতই জিতবে। ফাইনাল শুরুর আগে এমনই মনে করছিল সবাই। ভারত জয়ের মঞ্চও যেন তৈরি ছিল। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যেভাবে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল ভারত, তাতে মনে করা হচ্ছিল, ফাইনালে ভারত আসবে, দেখবে, আর জয় করবে। কিন্তু হল ঠিক তার উল্টো।

আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে আট নম্বরে থাকা পাকিস্তান দল ব্যাটে-বলে পুরোপুরি নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোংকে। ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ভারতকে।

ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম থেকেই আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান। কখন কী করে বসবে তারা, কেউ জানে না। এমনকি নিজেরাও জানে না এটা। নিজেদের দিনে যে কোনও পরাশক্তিকে হারিয়ে চমকে দিতে পারে পুরো বিশ্বকে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হলও তাই। ব্যাটে-বলে পরাক্রমশালী ভারতকে হেলায় হারিয়ে প্রথমবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঘরে তুলল পাকিস্তান।

ভারত যেন অসহায় আত্মসমপর্ণ করল পাকিস্তানের সামনে। এমন পরাজয়ের মূল কারণ কি ছিল? কোথায় ভুল ছিল ভারতের? ভারতীয় কয়েকটি মিডিয়া খুঁজে বের করেছে সেই ভুলগুলো। একনজরে দেখে নেওয়া যাক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণ…

ভুল দল নির্বাচন 
ইংল্যান্ডের আবহাওয়ায় বল নড়াচড়া করে। তা সত্ত্বেও প্রথম দুটি ম্যাচের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ থেকে দুই স্পিনারে খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিরাট কোহলির দল। উমেশ যাদবকে বসিয়ে, মোহাম্মদ শামিকে একটিও ম্যাচ না খেলিয়ে ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহকে খেলানো হয়েছে। বেশিরভাগ ম্যাচেই পাটা উইকেট হলেও ফাইনালের পিচে কিছুটা বাউন্স ছিল। আর পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা গোটা টুর্নামেন্টেই শর্ট বলে বেশি আউট হয়েছে জেনেও উমেশ বা শামিকে না খেলিয়ে রবিচন্দ্রণ অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজাকে খেলানো হল। পাকিস্তান স্পিন ভালো খেলে জেনেও কোনো হোমওয়ার্ক করেনি টিম ইন্ডিয়া।

 

টসে জিতে ফিল্ডিং 
পাটা ব্যাটিং উইকেটে টসে জিতেও বিরাট কোহলি ফিন্ডিং নেন। এত বড় ম্যাচে সাধারণত বড় রান করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সবাই ভেবেছিলেনও, কোহলি টসে জিতলে ব্যাটিং নেবেন। কারণ পাকিস্তানের ব্যাটিং দুর্বল। স্কোরবোর্ডে ভালো রান তুলে ফেলতে পারলে ম্যাচ এমনিতেই পকেটে চলে আসত। এই পাকিস্তান দল অনভিজ্ঞ। এত বড় ম্যাচে চাপ এরকম চাপ আগে নেয়নি। তা সত্ত্বেও ভুল করল টিম ম্যানেজমেন্ট। টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ম্যাচটাই তুলে দিল পাকিস্তানের হাতে।

অনেক বড় রানের বোঝা 
ভারতের বাজে বোলিংয়ের সুবাদে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান করে। এতবেশি রান তাড়া করে আইসিসি টুর্নামেন্টে এর আগে কোনও দল জেতেনি। আর ফাইনালে তো নয়ই। আর ভারতও সেই রানের বোঝার নিচে চাপা পড়ল। ১৮০ রানের লজ্জার হার হারতে হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে।

মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা 
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিজুড়ে ভারতের প্রথম তিনজন ব্যাটসম্যানই অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দেখিয়েছেন। শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি ফাইনালের আগ পর্যন্ত ব্যাট হাতে দলকে টেনে নিয়ে তুলেছেন। ব্যাট হাতে কোনও না কোনও ম্যাচে এই তিনজনই জিতিয়েছেন। মিডল অর্ডারকে কখনও চাপের মুখে পড়তে হয়নি। অথচ ফাইনালে যখন এই তিনজন ব্যর্থ হলেন এবং প্রয়োজন পড়ল মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। তখন যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি, কেদার যাদবরা মুখ থুবড়ে পড়লেন। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাই এত বড় লজ্জার হারের মুখোমুখি করল ভারতীয় দলকে।

ওয়ার্নের কাঠগড়ায় কোহলির নেতৃত্ব

২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে একই ভুল করেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। টস জিতে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়াকে। একই সঙ্গে ম্যাচটাও যেন তিনি তুলে দিলেন রিকি পন্টিংয়ের হাতে। শেষ পর্যন্ত ৩৫৯ রানের বিশাল স্কোরের নিচে চাপা পড়ে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছিল ভারতকে।

ঠিক একই ভুল করলেন বিরাট কোহলি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে টস জিতে ব্যাট তুলে দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের হাতে। একই সঙ্গে যেন ম্যাচটাই তুলে দিলেন তিনি। এ কারণে, অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তী শেন ওয়ার্নও বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।

শেন ওয়ার্নের কাঠগড়ায় কোহলির টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার সঙ্গে বোলিং পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুললেন। লন্ডনের ওভালে ফাইনালে ধারাভাষ্য দেয়ার সময় ওয়ার্ন সরাসরি প্রশ্ন করে বসলেন, ‘কোহলির বোলিং চেঞ্জ দেখে আমার মনে হয়েছে ওর কোন পরিকল্পনাই নেই ফাইনালের। পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের থামানোর কোনও পরিকল্পনা দেখতে পেলাম না। কোহলিকে দেখে মনে হচ্ছে ক্যাপ্টেন হিসেবে ও দিশেহারা হয়ে গেছে।’

রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে টানা বোলিং করানোরও কঠোর সমালোচনা করেছেন ওয়ার্ন। তিনি বলেন, ‘আমি অশ্বিনের ভক্ত; কিন্তু ফাইনালে ওর বোলিং দেখে আমি দারুণ হতাশ। কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। কোনও বৈচিত্র নেই বোলিংয়ে। সবচেয়ে বড় কথা অধিনায়ক কোহলি মার খাওয়া অশ্বিনকে কেন টানা বোলিং করাল? অশ্বিনকে বসিয়ে অন্য কোনও পার্টটাইম বোলারকেও দিতে পারত। জানি না কী ঘুরছিল কোহলির মাথায়?’

 

বোলারদের কারণেই মূলতঃ হারতে হয়েছে ভারতকে। এ কারণে ভারতীয় বোলিংকে দিশাহীন বলছেন ধারাভাষ্যকাররা। সৌরভ গাঙ্গুলি বললেন, ‘অতিরিক্ত কিছু করতে গিয়েই ভারতীয় বোলাররা নিজেদের চাপে ফেলে দিয়েছে। বুমরাকে দেখে মনে হল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল এবং প্রতিপক্ষ পাকিস্তান- এই দুটো চাপ সামলাতে পারল না। জঘন্য বোলিং ভারতের। একমাত্র ভুবনেশ্বর কুমার ছাড়া আর কোনও বোলার পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখতে পারল না! জানি না কী হল ভারতীয় বোলারদের? সত্যি এত খারাপ বোলিং পারফরমেন্স ভাবা যায় না।’

সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন বললেন, ‘পাকিস্তান দেখিয়ে দিল, ওদের নিচু চোখে দেখা উচিত হয়নি। এই পাকিস্তান সত্যি চমকে দিল ক্রিকেট বিশ্বকে।’

পাকিস্তান নিয়ে সৌরভের মূল্যায়ন, ‘ভারতের বিপক্ষে এজবাস্টনে প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর প্রতিটা ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্ত উন্নতি করেছে। যার প্রমাণ ফাইনাল। দুরন্ত ব্যাটিং। সঙ্গে দুরন্ত বোলিং। দাঁড়াতেই দিল না ভারতকে। মনে রাখতে হবে নবাগত ফাখরের ব্যাটিং। ওকে দেখে কে বলবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাট করল! ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে ওর ফুটওয়ার্ক দেখলাম। যা একজন পরিণত ব্যাটসম্যানের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল। তেমন বোলিং আমিরের। প্রথম বল থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করে গেল।’

সুনিল গাভাস্কার বললেন, ‘এত পরিকল্পনাহীন ভারতীয় বোলিং বহুদিন দেখিনি। অশ্বিন-জাদেজা জুটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনিং জুটিকে ফাখর একাই শেষ করে দিল। এত বাজে বোলিং হলে তখন দলের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপটা স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে। সেটাই হল। ফাইনালে ৩০০ রানে বোঝা সবসময় বেশ কঠিন হয়ে থাকে। সঙ্গে এই পাকিস্তানি বোলিং। কোনও সন্দেহ নেই পাক বোলিংয়ে যা বৈচিত্র রয়েছে তা পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে দেখতে পাওয়া যায় না।’

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিংও মনে করেন ফাইনালে যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ বাজেভাবে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। দেখার মতো, একটা দল যেভাবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের ছাপিয়ে গেল। না, এমন সচরাচর দেখা যায় না। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তান জিতলে সেটাই হবে যোগ্য দলের জয়। সত্যি, ভারতীয় বোলিং চোখে দেখা যায় না। এত খারাপ বোলিং ভারতের এই প্রতিযোগিতায় আগে দেখা যায়নি। পাকিস্তান তিন বিভাগেই ভারতকে টেক্কা দিল।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের প্রাপ্তি ফাখর জামান-হাসান আলি

বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আসে নতুনের বার্তা এবং পুরাতনকে বিদায় দেয়ার জন্য। বিশেষ করে বিশ্বকাপ। তবে, এর বাইরেও কোনো কোনো টুর্নামেন্ট তারকার জন্ম দিতে পারে। যার প্রমাণ এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। প্রায় এক দশক নিজ দেশে ক্রিকেট নির্বাসিত। তবুও ক্রিকেট প্রতিভা কতটা জন্ম দিতে পারে পাকিস্তান, সেটা আরও একবার দেখিয়ে দিলো তারা।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শিরোপা জয় করাই নয় শুধু বিশ্ব ক্রিকেটকে কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল, উদীয়মান ক্রিকেটার উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। যার মধ্যে অন্যতম ওপেনার ফাখর জামান এবং পেসার হাসান আলি।

নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের সেরা প্রাপ্তি এই দুই ক্রিকেটার। শুধু ফাখর জামান আর হাসান আলিই নয়, পাকিস্তানের প্রাপ্তির খাতায় রয়েছেন আরও দু’জন। যারা হয়তো ফাখর জামান আর হাসান আলির ছায়ায় ঢেকে গিয়েছেন। এ দু’জন হলেন স্পিনার শাদাব খান এবং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ।

ফাখর জামানের বয়য়স কম নয়। ২৭। অথচ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেকটা হলো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দলের কৌশল পরিবর্তন করে ফেলে পাকিস্তান। ওপেনার আহমেদ শেহজাদকে দলের বাইরে ছুড়ে ফেলা হয়। নিয়ে আসা হয় নতুন মুখ ফাখর জামানকে। এছাড়া ওয়াহাব রিয়াজের পরিবর্তে দলে নেয়া হয় জুনায়েদ খানকে।

এই দুটি পরিবর্তনই যেন বদলে দিল পাকিস্তানকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দেখা গেলো ভিন্ন চেহারায়। ফাখর জামান অভিষেক ম্যাচে করলেন ৩১ রান। কিন্তু জিতলো পাকিস্তান। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেলো পাকিস্তান। যে জয়ে ব্যাট হাতে অবদান রাখলেন ফাখর জামান। ৫০ রান করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও হাসলো তার ব্যাট। রান করলেন ৫৭টি। অবশেষে জমানো সব পারফরম্যান্স উগড়ে দিলেন ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে। করলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তার গড়া ১১৪ রানের ইনিংসের ওপরই ৩৩৮ রানের ভিত গড়ে ওঠে পাকিস্তানের। জয়ও এলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

পাকিস্তানের আরেক প্রাপ্তি পেসার হাসান আলি। মোহাম্মদ আমিরের পর সম্ভবত আরেকজন প্রতিভাবান পেসার পেয়ে গেলো পাকিস্তান। অভিষেক হয়েছে গত বছরই ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২১টি ওয়ানডে খেলেও ফেলেছেন ইতিমধ্যে। তবে নিজেকে চেনালেন এই টুর্নামেন্টে এসে। ভারতের বিপক্ষে ১টি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩টি, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড এবং ফাইনালে ভারতের বিপক্ষেও নিলেন ৩টি করে উইকেট। মোট ১৩ উইকেট নিয়ে হলেন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার।

প্রায় ১৯ বছর বয়সী তরুণ লেগ স্পিনার শাদাব খানেরও অভিষেক চলতি বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। হাতের ঘূর্ণিতে দারুণ কাজ রয়েছে। দারুণ সম্ভাবনাময়ী। ফাইনালে তুলে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব ক্রিকেটে দারুণ লেগ স্পিনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি।

ফাহিম আশরাফ একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছেন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে যেভাবে নিজেকে চিনিয়েছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসে খেলবেন আমির

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতকে কাঁপিয়ে দেওয়া পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমিরকে দলে নিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের পঞ্চম আসর। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনও অনেক দেরি, তবে এখনই ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের নেওয়া শুরু করেছে কয়েকটি দল। বিশেষ করে ঢাকা ডায়নামাইটস জোরেশোরে নেমেছে মাঠে। শহীদ আফ্রিদি, শেন ওয়াটসন, সুনীল নারিনের পর আমিরকে দলে টেনেছে তারা।
স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালে ক্রিকেটে ফিরেছিলেন আমির। ওই বছরের শেষ দিকে বিপিএলের তৃতীয় আসরে তিনি খেলেছিলেন চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে। সেবার বিপিএলে ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নেওয়ার পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান দলে জায়গাও পেয়ে যান এই বাঁহাতি পেসার।

ফাইনাল সেরা ফাখর, টুর্নামেন্ট সেরা হাসান আলি

ফাইনালে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। ভারতের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনিই। টিম ইন্ডিয়ার টপ-অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানকেই সাজঘরে ফেরান আমির। রোহিত শর্মা (০) শিখর ধাওয়ান (২১) ও বিরাট কোহলিকে (৫) আউট করেন তিনি। ৬ ওভারেই ২টি মেডেনসহ ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন আমির।
অনেকেরই হয়তো ভাবনা ছিল আমিরই হতে পারেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু না। পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়া ফাখর জামানই বনে গেলেন ফাইনালের নায়ক। খেলেছেন ১১৪ রানের ইনিংস।
১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ফাখর। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন। ততক্ষণে পাকিস্তানের বড় পুঁজির ভিত গড়ে ফেলে।
এই টুর্নামেন্টে বল হাতে ধারাবাহিক ছিলেন হাসান আলি। ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানি এই বোলার। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ফাইনালে ৬.৩ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ফাইনালে ১৮০ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। প্রথমবারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতল পাকিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তোলে সরফরাজ আহমেদের দল। জবাবে ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হয় ভারত।

নৌবাহিনী ছেড়ে ক্রিকেটে ফাখর জামান

ফাখর জামান ক্রিকেটকে খুব ভালোবাসেন। ছোটবেলায় পড়াশুনার ফাঁকে পাড়ার ক্রিকেটে খেলতেন। তবে জীবনের তাগিদে নৌবাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছিল তাকে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ওই চাকরি চালিয়ে যান। এরপর নৌবাহিনী ছেড়ে ক্রিকেটে ফিরে আসেন তিনি।
ওই বছরই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফাখরের অভিষেক। মুলতানের বিপক্ষে করাচি বুলসের হয়ে। কায়েদ-এ আজম ট্রফিতে অভিষেকেই জাত চিনিয়েছিলেন। চারদিনের ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে ১১৪ বলে ৯টি চারে করেন ৭৯ রান। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ বল খেলে ১২টি চারের সাহায্যে করেন ৮৩ রান।
২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় দলে অভিষেক হয় ফাখর জামানের। টি-টোয়েন্টি দিয়ে পথচলা শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চলতি বছরের ৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষিক্ত ম্যাচে মাত্র ৫ রানেই থামেন তিনি। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৩টি। সর্বসাকুল্যে করতে পেরেছেন ২৬ রান।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ফাখরের পথচলা শুরু চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যায়। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন আহমেদ শেহজাদ (১২)। তাতে কপাল খোলে ফাখরের। শেহজাদের পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একাদশে জায়গা পান তিনি।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ফাখরের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। এরপর থেকে পাকিস্তান একাদশে খেলে যাচ্ছেন তিনি। শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করেছেন, রান সংখ্যা যথাক্রমে ৫০ ও ৫৭।
ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তো আরও উজ্জ্বল ফাখর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিটাও পেয়ে গেলেন তিনি। খেলেছেন ১১৪ রানের ইনিংস। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেন তিনিই।
চার ইনিংসে ৬৩ গড়ে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৫২ রান (আজকের ম্যাচসহ)। ফাখর জামান নিজেকে বড় ভাগ্যবানই ভাবতে পারেন। নৌবাহিনীর চাকরিটা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তটা যথার্থই ছিল! নৌবাহিনীতে থাকলে তাকে ক`জনই বা চিনতেন। এখন ফাখরের খেলা দেখছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। যেভাবে খেলছেন, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

ধাওয়ান শীর্ষে, তামিম তিনে

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে রোববার শিরোপার জন্য লড়বে করতে নামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। শিরোপার লড়াইয়ে ব্যক্তিগত একটা লড়াইও ছিল ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের মধ্যে। দুজন ব্যর্থ হলেও সেই লড়াইয়ে জিতেছেন ধাওয়ান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরে ৫ ম্যাচে ৬৭.৬০ গড়ে সর্বোচ্চ ৩৩৮ রান করে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ধাওয়ান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়া ম্যাচে মাত্র ২১ রান করে মোহাম্মদ আমিরের বলে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ভারতীয় ওপেনার।
ধাওয়ানের চেয়ে ১৩ রানে পিছিয়ে থেকে ফাইনাল খেলতে নামেন রোহিত। তবে কোনো রান না করেই আমিরের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন এই ভারতীয় ওপেনার। সবমিলিয়ে ৭৬.০০ গড়ে ৩০৪ রান করেন রোহিত; টুর্নামেন্টে যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হওয়া হলো না তামিম ইকবালের। বাংলাদেশি ওপেনার ৭৩.২৫ গড়ে ৪ ম্যাচে ২৯৩ রান করে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন; সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর দৌড়ে তামিম রয়েছেন তিন নম্বরে।ধাওয়ান শীর্ষে, তামিম তিনে
২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে সর্বোচ্চ ৩৬৩ রান করেছিলেন ধাওয়ান। এবারও সেরা হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করলেন তিনি। তবে আক্ষেপ হলো- গতবার চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার গোহারা হেরে রানার্সআপ হয়েই ধাওয়ানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
জো রুট এবং বিরাট কোহলি সমান সমান ২৫৮ রান নিয়ে যথাক্রমে চার এবং পাঁচ নম্বরে রয়েছেন। শীর্ষ দশে থাকা অপর পাঁচজন হলেন- ফখর জামান (২৫২), কেন উইলিয়ামসন (২৪৪), আজহার আলি (২২৮), এউইন মরগ্যান (২০৮) ও বেন স্টোকস (১৮৪)।

রেকর্ড গড়েই শেষ করলেন হাসান আলি

হাসান আলি যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হতে যাচ্ছেন সেটি অনুমিতই ছিল। এই পাকিস্তানি পেসারকে কেউ টপকাতে পারেনি। রোববার লন্ডনের ওভালে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে শুধু সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিই হননি; সেইসঙ্গে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন হাসান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন এই পাকিস্তানি পেসার।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নেয়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেরোমি টেলরের দখলে ছিল। ২০০৬ সালের আসরে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন এই ক্যারিবিয়ান পেসার। এবারের আসরে ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে টেলরকে ছাড়িয়ে যান হাসান। টেলরের তুলনায় কম ম্যাচে ১৩ উইকেট নেয়ায় এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় চূড়াতেই রয়েছেন ফাইনালে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেয়া হাসান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরে সবচেয়ে ধারাবাহিক বোলারের নাম হাসান আলি। ৫ ম্যাচে ৪৪.৩ ওভার বোলিং করে ১৯১ রান দিয়ে ১০ সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়েছেন এই পাকিস্তানি পেসার। ওভারপ্রতি ৪.২৯ রান দিয়ে ১৪.৬৯ গড়ে উইকেটগুলো নেন হাসান।
জস হ্যাজলউড ৯ এবং লিয়াম প্লাঙ্কেট ও জুনায়েদ খান ৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষ চারে রয়েছেন। আদিল রশিদ ও ভুবনেশ্বর কুমার নেন সমান সাতটি করে উইকেট।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে ১২টি করে উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা ও পারভেজ মাহরুফ। ১১টি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল ম্যাকক্লেনঘান, জেমস অ্যান্ডারসন, লাসিথ মালিঙ্গা ও ওয়াইন পারনেল। রোববার এদেরকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠলেন হাসান।

ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

দুই দলের প্রথম দেখায় ব্যাটে-বলে সুবিধা করতে না পারা পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। ফাইনালে ভারতের বিপে নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। শিরোপাধারীদের বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ফাইনালে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ফখর জামান আর শেষের ঝড়ে মোহাম্মদ হাফিজ দলকে এনে দিয়েছিলেন বিশাল সংগ্রহ। জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ভারতকে, অসাধারণ বোলিং করা মোহাম্মদ আমির, জুনায়েদ খান, হাসান আলিরা তার ধারে কাছে যেতে দেননি বিরাট কোহলির দলকে।
এক পেশে ফাইনালে উজ্জ্বীবিত পাকিস্তান জিতেছে ১৮০ রানে। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের সেরা ছিল ২০০৫ সালে দিল্লিতে ১৫৯ রানের জয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ার পর আলোচনায় চলে আসে ২০০৩ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে আসা ভারতের বিপে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫৯ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরই ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অজিদের সামনে। ১৪ বছর পর আইসিসির ইভেন্টের আরেকটি ফাইনালে একই পরিণতি বরণ করতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। এবার প্রতিপ অস্ট্রেলিয়া নয়; পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারালো তারা।
লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বিরাট কোহলি। ফখর জামান ও আজহার আলির মধ্যকার সেঞ্চুরি জুটির ওপর ভর করে মজবুত ভিত পায় সরফরাজের দল। এরপর অন্যান্যদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের কোমড় ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১২৫ রানে হেরেছিল ভারত। তবে এবার ব্যবধানটা আরো বেশি। বলতে গেলে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে টিম পাকিস্তান।
ভারতের হয়ে যা একটু লড়াই করেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাহায্যে ৭৬ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। শিখর ধাওয়ান ২১ এবং যুবরাজ সিং ২২ রান করে আউট হন। রোহিত শর্মা (০), বিরাট কোহলি (৫), এমএস ধোনি (৪), কেদার যাদবরা (৯) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হন। পাকিস্তানের হয়ে আমির ও হাসান আলি তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া শাদাব খান দুটি ও জুনায়েদ খান নেন একটি উইকেট।
৩৩৯ রানের ল্েয ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত। সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন ভারতীয় ওপেনার।

প্রথম ওভারে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারত তাকিয়ে ছিল রান তাড়ায় মাস্টার কোহলির দিকে। কিন্তু দলকে চরম হতাশ করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। আমিরের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজহার আলির বদান্যতায় বেঁচে যান কোহলি। কিন্তু পরের বলেই পয়েন্টে শাদাব খানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। শুরুতেই ২ উইকেট হারানোর পর ধাওয়ান ও যুবরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেন আমির। এই পাকিস্তানি পেসারের করা নবম ওভারের শেষ বলে ধাওয়ানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বল জমা পড়লে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া। এরপর যুবরাজ ও ধোনি মিলে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়ে উঠেন। তবে শাদাবের করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে যুবরাজ ফিরে গেলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ভারত। আম্পায়ার প্রথমে লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া না দিলে শাদাব সঙ্গে সঙ্গেই সরফরাজকে রিভিউ নেয়ার জন্য তাড়া দেন। রিভিউতে লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত আসলে কোণঠাসা হয়ে টিম ইন্ডিয়া।
ভারতের শেষ আশা-ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন ধোনি। তবে পরের ওভারে তিনিও পথ ধরেন সাজঘরের। হাসান আলির করা ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ইমাদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে দলকে চরম বিপদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরেন ধোনি। আর তাতেই ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। এরপর দলীয় ৭২ রানের মাথায় শাদাবের করা ১৭তম ওভারের শেষ বলে কেদার যাদব আকাশে বল তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে চরম লজ্জার মুখে পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন পান্ডিয়া ও জাদেজা। এই দুজন ৫৭ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানের মাথায় জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে পান্ডিয়া রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। এরপর দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় পরপর জাদেজা ও অশ্বিন আউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের বড় হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। হাসানের করা ৩১তম ওভারের তৃতীয় বলে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠে পাকিস্তান।
এর আগে টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করা ফখর ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। তার ওপেনিংয়ের সঙ্গী আজহার রানআউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। এছাড়া বাবর আজম ৫২ বলে ৪৬ এবং হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫৭ রান। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।
ভারতীয় একাদশ : রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।
পাকিস্তান একাদশ : আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।

মাশরাফিকে ‘দার্শনিক অধিনায়ক’ বললেন ভারতীয় আইনজীবী

গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দল অনেক উন্নতি করেছে। নিজেদের গড়ে তুলেছে ‘টিম বাংলাদেশ’ হিসেবে। মাশরাফি বিন মর্তুজা নামক জিয়নকাঠির ছোঁয়ায়। তার নেতৃত্বে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ।

এবার তারই অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেললেন টাইগাররা। আইসিসির বৈশ্বিক আসরে প্রথমবারের মতো সেমিতে খেলার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। ১৫ বছর ধরে বল হাতে দারুণ সফল মাশরাফি। নড়াইল এক্সপ্রেস সফল নেতৃত্বেও।

এ তো গেল মাঠের মাশরাফি। মাঠের বাইরে ব্যক্তি মাশরাফি সফল। বেশ জনপ্রিয়ও। ভারতীয় আইনজীবী শশী ঠাকুর যেমন বনে গেলেন মাশরাফির ভক্ত। বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। মাশরাফিকে তো দার্শনিক অধিনায়ক’ই বলে ফেললেন ভারতীয় এই আইনজীবী।

নিজের টুইটার পেজে মাশরাফির একটি ছবি পোস্ট করেছেন শশী ঠাকুর। যে ছবির ওপরে লেখা মাশরাফির একটি উক্তি। যেখানে শ্রমিকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক।

ছবির পাশে মাশরাফির প্রশংসায় টুইটার পেজে শশী ঠাকুর লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের দার্শনিক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্রিকেটের ওপর মানসিক দৃঢ়তার প্রতি সম্মান জানাই। (মাশরাফির মতো) আসল তারকাদের (শ্রমিকদের) প্রশংসা করুন।’ ভারত-পাকিস্তানের মধ্য ফাইনাল উপভোগ করার আহ্বান জানান শশী, ‘ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করুন।’

শশী ঠাকুরের শেয়ার করা ছবির ওপরে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে মাশরাফির উক্তিটি ছিল এমন, ‘তারকা হলেন শ্রমিকরা, দেশ গড়ে ফেলছেন। ক্রিকেট দিয়ে আমরা কি বানাতে পারছি? একটা ইটও কি ক্রিকেট দিয়ে বানানো যায়? একটা ইটও কি ক্রিকেট দিয়ে বানানো যায়? একটা ধান জন্মায় ক্রিকেট মাঠে? যারা ইট দিয়ে দালান বানান, কারখানায় এটা-ওটা বানান বা ক্ষেতে ধান জন্মান, রিয়েল তারকা তো তারাই।’

ফাখর জামানের ব্যাটে রেকর্ড

চলতি টুর্নামেন্টেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক বাঁ-হাতি ওপেনার ফাখর জামানের। তাও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নয়। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। খেলেছিলেন ৩১ রানের একটি ইনিংস। পাকিস্তানের জয়ে সামান্যতম হলেও ভুমিকা রাখলেন। এরপর শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুটি হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে তুলে দিলেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।

কিন্তু ২৭ বছর বয়সী এই যুবার ব্যাট কী তবে ফাইনালের জন্য স্পেশাল কিছু তুলে রেখেছিল! কেউ হয়তো তেমন কল্পনায়ও আনেনি। একে তো নতুন, তার ওপর পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল। সব মিলিয়ে এক ধরনের প্যানিক তৈরি হওয়ারই কথা। সেই প্যানিক কি তৈরি হয়েছিল একবার? ব্যাক্তিগত ৩ রানের মাথায় হার্দিক পান্ডিয়ার বলে যখন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি! আম্পায়ারের নো বল সিগন্যালে সে যাত্রায়া বেঁচে যান।

এরপর ব্যাটকে বানালেন তলোয়ার। কাটলে ভারতীয় বোলারদের। তার ধারালো ব্যাটের সামনে রীতিমত কচুকাটা হতে হয়েছে ভারতীয় বোলারদের। তুলে নিলেন নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। ভারত-পাকিস্তানের এমন হাই ভোল্টেজ ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নেয়া কম কথা নয়। সে কাজটাই করলেন ফাখর জামান।

এই এক সেঞ্চুরিতেই ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন পাকিস্তানের নতুন এই ওপেনার। একই সঙ্গে আজহার আলির সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে গড়লেন দারুণ এক রেকর্ড। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের কোনো ওপেনিং জুটিতে তিন অংকের রান ছিল না। ১৯৯৬ সালে সর্বোচ্চ ৮৪ রানের জুটিটি গড়েছিলেন দুই ওপেনার আমির সোহেল এবং সাঈদ আনোয়ার।

২০০৩ রানে সাঈদ আনোয়ার এবং তৌফিক ওমর করেন ৫৮ রানের জুটি। চলতি টুর্নামেন্টেই এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে ৪৭ রানের জুটি গড়েছিলেন আহমেদ শেহজাদ এবং আজহার আলি।

এবার সব রেকর্ড ভেঙে ফাখর জামান আর আজহার আলি গড়লেন ১২৮ রানের জুটি। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে ওপেনিং জুটিতে এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড।

 

একই সঙ্গে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে সেঞ্চুরি করা ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন তিনি। শুধু তাই নয়, যে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সেঞ্চুরি পাওয়া একমাত্র পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান হলেন ফাখর জামান।

আইসিসি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিলিয়ে ফাইনালে সেঞ্চুরি করলেন মোট ১২ জন। চলতি টুর্নামেন্টেই অভিষেক হওয়া ফাখর জামান তাদের একজন। তার আগে আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র দুই পাকিস্তানি- সাঈদ আনোয়ার (২০০৩ বিশ্বকাপ) ও শোয়েব মালিক (২০০৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি)।

শুরুতেই ভয়ঙ্কর রোহিত শর্মাকে ফেরালেন আমির

৯১, ৭৮, ১২ ও ১২৩*; চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চার ইনিংসে রোহিত শর্মার রানের পরিসংখ্যান। ভারতীয় ওপেনার ব্যাট হাতে কতটা ভয়ঙ্কর, তা বলে দিচ্ছে এই পরিসংখ্যানই। ফাইনালেও তার ব্যাট হাসবে, এমন প্রত্যাশাই ছিল ভারতীয় সমর্থকদের।

 

কিন্তু রোহিতকে আগে বাড়তে দিলেন না মোহাম্মদ আমির। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা পাকিস্তানি এই পেসার শুরুতেই সাজঘরে ফেরালেন ভয়ঙ্কর রোহিত শর্মাকে। আমিরের করা দ্বিতীয় বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন রোহিত। ভারতীয় এই ওপেনার খুলতে পারেননি রানের খাতাই।

বিস্তারিত আসছে…

ওয়ালশের আমলে বোলিংয়ে ‘বেহাল’ দশা

কোর্টনি ওয়ালশ, এক সময়ের দুর্দান্ত একজন পেসার। যার সামনে হিমশিম খেত বিশ্বের সব তাবড় ব্যাটসম্যান। ভালো ইনিংস খেলার আগেই ব্যাটসম্যানদের বিদায় করতেন কোর্টনি। সাবেক এই ক্যারিবিয়ান তারকা দেশের হয়ে ১৩২ টেস্টে ৫১৯টি উইকেট নিয়েছেন। ২০০১ সালে অবসর নেন তিনি। টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে অনেক দিন ছিল কোর্টনি ওয়ালশের নাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রঙ্গিন জার্সিতে ২০৫ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ২২৭টি উইকেট। এছাড়া ২২টি টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ওয়ালশ। এক বুক আশা নিয়ে সেই অসাধারণ প্রতিভার মানুষটিকে করা হয় বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ। স্বপ্ন তাসকিন-মোস্তাফিজদের ধার আরও শাণিত করা। কিন্তু কোর্টনি যোগ দেওয়ার প্রায় ১০ মাস কেটে যাচ্ছে, পেস আক্রমণে তেমন কোনো ফল পাচ্ছে না বাংলাদেশ। উল্টো কেনো জানি ভোতা হয়ে পড়েছে টাইগারদের বোলিং বিভাগ। তবে কি জং পড়েছে পেসারদের হাতে? প্রশ্ন ক্রিকেটবোদ্ধাদের।
কোর্টনির হাত ধরে যাত্রাটা কতটা মলিন সেটা পরিসংখ্যানও সাক্ষ্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হওয়ার পর মাশরাফিরা ওয়ানডে জিতেছে ৭টি। খেলেছে ২০টি ম্যাচ। সাত ম্যাচের মধ্যে বোলারদের হাত ধরে জিতেছে মাত্র চারটি। তাও বড় দলের বিপক্ষে দুটি আর খর্বশক্তির দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতিয়েছেন বোলাররা।

তার ঠিক এক কদম পেছনে ফিরলে বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বাহবা দিবেন অনেকই। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হিসেবে দারুণ সফল ছিলেন হিথ স্ট্রিক। তার সময় মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদের মতো পেসারদের উত্থান বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে সাফল্যের পর ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ে স্ট্রিকের হাতে তৈরি বোলিং আক্রমণের বড় ভূমিকাও ছিল। যে সফল যাত্রা শেষ হয় গেল বছরের মে মাসে।
যদিও পেসারদের সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে উইকেট একটা বড় ফ্যাক্টর। তবু এতটা বিবর্ণ দশা আগে হয়েছে কি বাংলাদেশে দলে। যেখানে বাংলাদেশ একটা সময় ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ গড়লেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে টেক্কা দিতো বোলিং দিয়ে। সেই বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ ধীরে ধীরে যেন প্রাণ হারাচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব পালন করলেও বোলাররা পারছেন কি-না, থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন। উত্তরটা কে দেবে? গুরু নাকি ছাত্ররা!

ভারতকে ৩৩৯ রানের টার্গেট দিলো পাকিস্তান: ফাখর জামানের সেঞ্চুরি

ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ৩ রানেই। আর সেই সংখ্যাটা রূপ দিলেন তিন অঙ্কে। ভাগ্যে থাকলে যা হয়! নো বলের কল্যাণে বেঁচে যান ফাখর জামান। জাসপ্রিত বুমরাহর করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে ফাখর জামান আউট হয়েছেন ভেবে হাঁটা শুরু করেন। আম্পায়ার বলটি চেক করতে গিয়ে দেখেন অবৈধ। মানে, নো বল। আর তাতে জীবন পান ফাখর জামান। পাকিস্তানি এই ওপেনার জীবন পেয়ে সুযোগটা কাজে লাগালেন। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি। ৩১তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি করেন ফাখন জামান। ৯২ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে রয়ে-সয়ে ব্যাট করেছেন। ৬১ বলে প্রথম পঞ্চাশ রান করেন। যেখানে ছিল সাতটি বাউন্ডারি। দ্বিতীয় পঞ্চাশ রান ফাখর তুলেছেন ঝড়ো গতিতেই। মাত্র ৩১ বলেই এ রান তোলেন। এতে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ২টি বিশাল ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে থেমেছেন ফাখর। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন পাকিস্তানি এই ওপেনার।
তার সঙ্গে অন্য ওপেনার আজহার আলীর ৫৯, মোহাম্মদ হাফিজের ৩৭ বলে অপরাজিত ৫৭ রান আর বাবর আজমের ৪৬ রানে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তোলে পাকিস্তান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ভূবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কাদের যাদব ১টি করে উইকেট তুলে নেন।

অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে হাই পারফরম্যান্স দল

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলা নেই বহুদিন। আপাতত জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া আর উঠে আসা খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে নেওয়ার মঞ্চ হাই পারফরম্যান্স দল। এনামুল হক, লিটন দাস, আবুল হাসান, মেহেদী মারুফদের উপস্থিতিতে শক্তিশালী একটি হাই পারফরম্যান্স দল অস্ট্রেলিয়া সফর করবে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দল সব ম্যাচ খেলবে ডারউইনে। তিন দিনের ম্যাচের সঙ্গে খেলবে পাঁচটি ওয়ানডে।
আমরা ১৬ জনের একটা দল দিয়েছি, যারা অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে। আমরা দুটি জিনিস নিয়ে এখানে কাজ করছি, একটা ইমিডিয়েট রিপ্লেসমেন্ট, আরেকটা ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াড। ওই হিসেবেই আমরা খেলোয়াড় দিয়েছি। অভিজ্ঞ কিছু খেলোয়াড়কে ডেকেছি। তার মধ্যে এনামুল হক বিজয় আছে, মেহেদী মারুফ, লিটন দাস, আবুল হাসান আছে। কিছু প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারও আছে। ভালো একটা কম্বিনেশন দাঁড় করিয়েছি। আশা করছি এখান থেকে ভালো একটা ফিডব্যাক পাবো। যেটা আমরা জাতীয় দল, ‘এ’ দলে কাজে লাগাতে পারবো।
ভেন্যু হিসেবে কেন ডারউইনকে বেছে নেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল। অস্ট্রেলিয়ায় যখন মৌসুম শেষ হয় তখন ডারউইনে মৌসুম শুরু হয়। তখন ওখানে অনেক খেলোয়াড় এসে খেলে। ওখান থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে একটা দল গড়ে ওরা আমাদের সঙ্গে খেলবে। কদিন পরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর মাশরাফি বিন মুর্তজা-মুশফিকুর রহিম-সাকিব আল হাসানের দল যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সামনে আছে আরও অনেক খেলা। তার আগে কিছু খেলোয়াড়কে দেখে নিতে চান নির্বাচকরা। হোমে টেস্ট ম্যাচ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ফরম্যাটের খেলা আছে। বড় সিরিজ আছে ব্যাক টু ব্যাক। সে হিসেব মাথায় রেখেই কিছু খেলোয়াড়কে দেখবো। ১০ জুলাই জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পের জন্য ২৯ জনের দল দেবেন নির্বাচকরা। অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে স্টিভেন স্মিথদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে মুশফিকের দল।
ইমিডিয়েট রিপ্লেসমেন্ট কিছু দরকার আছে (জাতীয়) দলে। ঐগুলো যেন আমরা পরিপূর্ণ করতে পারি। সঙ্গে আগামী ১-২ বছরের মধ্যে আমরা কিছু খেলোয়াড়কে জাতীয় দল, আর ‘এ’ দলের জন্য চাই। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফিরে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে যাবে হাই পারফরম্যান্স দল। প্রধান নির্বাচক মনে করেন, এরপরই বোঝা যাবে ঠিক খেলোয়াড়দের উন্নতি কি পর্যায়ে আছে।

পিছিয়ে গেলো বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট

আগামী বছর কোনো বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হবে না। ২০১৮ সালে শীর্ষ দলগুলো নিজেদের মধ্যে সিরিজ খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দিয়েছে আইসিসি। হবে ২০২০ সালে। আইসিসি-র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিটিআইকে এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনও স্বাগতিক দলের নাম ঠিক হয়নি।
তিনি জানান, হ্যাঁ, আমরা আগামী বছরের বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি পিছিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কোনো ভেন্যু এখনও ঠিক করা হয়নি। পিছিয়ে দেয়ার প্রাথমিক কারণ হলো, ২০১৮ সালে বিভিন্ন দেশগুলো নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকবে, সেজন্য সেই সময়ে আইসিসি-র টি-টোয়েন্টি আয়োজনে কোনো সূচি বের করতে পারছেনা। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় হতে পারে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর।
এরআগে, দক্ষিণ আফ্রিকা (২০০৭), ইংল্যান্ড (২০০৯), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১০), শ্রীলংকা (২০১২), বাংলাদেশ (২০১৪) এবং ভারত (২০১৪) সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজক হয়েছিলো।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের দর্শক!

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত আর পাকিস্তান, এ তথ্য সবারই জানা। লন্ডনের ওভালে আজকের ম্যাচটি টিভিতে সারা দুনিয়ার কত লোক দেখবে, এটাও একটা জল্পনা-কল্পনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ম্যাচটি ৫০ কোটি লোক টিভিতে দেখবে? নাকি ১০০ কোটি?
ক্রিকিনফো ওয়েবসাইটে টিম উইগমোর লিখছেন, এর আগেও একাধিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে এমন জল্পনা হয়েছিল, তবে পরে দেখা গেছে প্রকৃত টিভি দর্শকসংখ্যা ছিল ধারণার চাইতে অনেক কম। সবচেয়ে বেশি টিভি দর্শক হয়েছিল ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালের দিন।

ঐ ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিলো ভারত। ক্রিকিনফোর দেয়া জরিপ জানায়, সেই খেলা টিভিতে দেখেছিল ৫৫ কোটি ৮০ লাখ লোক। আর সেই বিশ্বকাপেই ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনাল ছিল সর্বোচ্চ টিভি দর্শকের তালিকায় দ্বিতীয়। আইসিসির দেয়া তথ্য উদ্ধৃত করে ক্রিকিনফো বলছে, আজকের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনাল দেখবে ৩২ কোটি ৪০ লাখ লোক, যা হবে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
ক্রিকিনফো আরো জানাচ্ছে, কোন ক্রীড়ানুষ্ঠানের টিভি দর্শক ১০০ কোটি ছুঁয়েছিল একবারই। সেটি হলো, ২০০৮এর বেইজিং অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন। যাই হোক আসলে দর্শক কত হয় তা তো জানা যাবে খেলা হবার পর। কারণ এই ফাইনাল দেখবেন শুধু ভারত আর পাকিস্তানের লোকেরা নয়। সারা পৃথিবীতে যেখানেই ক্রিকেটভক্ত আছে, তারা প্রায় সবাই আজ দেখবেন এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই।

আশার কথা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত বৃষ্টি আজ খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। লন্ডনে সারা দিন রোদ থাকবে, এবং থাকবে গরম। দুপুর নাগাদ তাপমাত্রা হবে ৩০ ডিগ্রির মতো ।

শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি আজ ভারত-পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল খেলছে ভারত ও পাকিস্তান, আর উত্তেজনায় পুরো বিশ্ব। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। এমনিতেই রাজনৈতিক কারণে প্রতিবেশি দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ক্রিকেট খেলার চল নেই বললেই চলে। যেটুকু হয় তাও সেই আইসিসি-এর টুর্নামেন্টেই। আর তারই সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আজ লন্ডনের ওভালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটা থেকে।
২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালকে ঘিরে ইতিমধ্যে উত্তেজনায় ফুটছে গোটা লন্ডন। আর সেই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। চলতি টুর্নামেন্টেই অবশ্য পাকিস্তানকে হারিয়েছে বিরাট কোহলির দল। তবে সেটা ছিলো গ্রুপ পর্বে। কিন্তু ফাইনাল ভিন্ন ম্যাচ, গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সঙ্গে ফাইনাল মেলান ঠিক নয়।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে সরফরাজ-বিরাট।
রবিবারে ফাইনালের প্রসঙ্গে পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন, ‘আমরা নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী খেলব। ব্যাটিংয়ের থেকেও বোলিং লাইনআপ আমাদের শক্তিশালী। গোটা টুর্নামেন্টে আমাদের বোলাররা ভাল বল করেছে। ফাইনালেও সেটা ধরে রাখতে চাই।’
অন্য দিকে, পাকিস্তানকে সম্মান জানিয়ে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি বলেন, ‘পাকিস্তান বড় দল। ওদের দক্ষতা এবং ক্ষমতার প্রসঙ্গে সকলেই জানে। নিজেদের দিনে যে কোনও দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে পাকিস্তান। তবে আমরা আগের ম্যাচগুলোর মতই খেলব। দলের প্রত্যেকে আশাবাদী ফাইনালে ভাল পারফরম্যান্সের বিষয়।’
অন্যদিকে, পাক সমর্থকদের জন্য সুখবর ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন পেসার মোহাম্মদ আমির। আমির এলে দল থেকে বাদ পরতে হবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলা রুমান রাইসকে। এ ছাড়া পাকিস্তানের দলে পরিবর্তনের কোনও সম্ভবনা নেই।
পাকিস্তানের দলে পরিবর্তন এলেও একই দল খেলবে ভারতের। নিজেদের সেট টিমকেই ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামাতে চলেছে ভারতীয় টিম ম্যানেজম্যান্ট। ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পাওয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিন ফাইনালে মাঠে নামছেন, এমনই সুখবর বিরাজ করছে ভারত শিবিরে।

আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তানের পরিসংখ্যান


ফাইনালের ভেন্যু: দ্যা ওভাল
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু ক্রিকেট মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, উত্তাপ ছড়িয়ে পরে দেশ থেকে দেশান্তরেও। আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান দু’দলই বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। তবে, অধিকাংশ সময়ই ভারতের কাছে হারতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে ছয়বার ভারতের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। কিন্তু একবারও হারাতে পারেনি ভারতকে। এমনকি ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী ইমরান খানের পাকিস্তানও হারাতে ব্যর্থ হয় ভারতকে। ১৯৯২-র পর ১৯৯৬ তেও ভারতের কাছে পরাজিত হয়েছিলো পাকিস্তান। এরপর আর কখনই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। ১৯৯৯, ২০০৩, ২০১১ ও ২০১৫ প্রতিটি বিশ্বকাপেই ভারতের মুখোমুখি হলেও পরাজয় দিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চারবার পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। ২০০৭ সালে পাকিস্তানকে হারিয়েই প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এরপর ২০১২ এবং ২০১৪ তেও ভারতের কাছে নতিস্বীকার করে পাকিস্তান।
তবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের কাছে বারবার হারলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। আইসিসির এই ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে চারবার। যার মধ্যে দুইবার করে জিতেছে দুই দল। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। এরই পুনরাবৃত্তি ঘটে ২০০৯-এ সেঞ্চুরিয়নে। পাকিস্তানের ৩০২ রানের জবাবে ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২৪৮ রানে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে পরিসংখ্যানে উন্নতি ঘটায় টিম ইন্ডিয়া। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ডাক-ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে দুই উইকেটে হারিয়ে দেয় ধোনির ভারত। চলতি চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফিতেও পাকিস্তানকে হার স্বীকার করতে হয় ভারতের সামনে। আর আজকের ফাইনালটি শুধু ট্রফি জেতা নয়, জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা থাকছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে।

ফেরেন নি মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আকাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। তবে দারুণ কিছু সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকায় এসে পৌঁছে মাশরাফির নেতৃত্বে দলটি। তবে দেশে ফেরেন নি মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েস। তাঁরা থেকে গেছেন ইংল্যান্ডেই। সেখানেই তাঁরা ছুটি কাটাবেন কিছুদিন। মাশরাফিদের সঙ্গে ফেরেন নি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। অবশ্য আজ বিকেলেই পরিবারের সঙ্গে অন্য ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর। অপাতত জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই ক্রিকেট থেকে দূরে থাকবেন কিছুদিন।
অবশ্য ঈদের পর শুরু হবে ক্রিকেটারদের নতুন ব্যস্ততা। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। দুটি টেস্ট খেলতে আগামী ১৮ আগস্টে বাংলাদেশে আসছে স্টিভেন স্মিথের দল। গতকাল শুক্রবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চার নারী আম্পায়ার

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির নাম ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ২৪ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডে হবে নারীদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসর। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩০ দিনের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতির খেলা শেষে পয়েন্টে এগিয়ে থাকা চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল হবে লর্ডসে।
নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১১তম এই আসর শুরু হয়েছিলো ১৯৭৩ সালে, পুরুষ বিশ্বকাপ ক্রিকেটেরও আগে। টুর্নামেন্টে চারজন নারী আম্পায়ারের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। তারা হলেন- ক্যাথি ক্রস (নিউজিল্যান্ড), সুউ রেডফ্রেন (ইংল্যান্ড), ক্লেয়ার পোলোসাক (অস্ট্রেলিয়া) ও জ্যাকুলিন উইলিয়ামস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। এদের মধ্যে ক্যাথি ক্রস চতুর্থবারের মতো নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করতে নামবেন। তবে অন্য তিনজনের এবারই ডেব্যু হচ্ছে বিশ্বকাপে।
নয়জন পুরুষ আম্পায়ার হলেন- গ্রেগরি ব্রেদওয়েট, ক্রিস ব্রাউন, অনীল চৌধুরী, শন জর্জ, অড্রিয়ান হোল্ডস্টক, আহসান রাজা, ল্যাংটন রুসেরি, এস. সৈকত ও পল উইলসন। এদিকে- রিচি রিচার্ডসন, স্টিভ বার্নার্ড এবং ডেভিড জুকস থাকবেন আট দলের এই টুর্নামেন্টের ম্যাচ রেফারি হিসেবে। ৩১ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টের খেলাগুলো হবে, ব্রিস্টল, ডার্বি, লেস্টার এবং টনটনে। আগেই বলা হয়েছে, নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল হবে লর্ডসে।

ফাইনালের আম্পায়াররা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে আম্পায়ারিং করবেন দক্ষিণ আফ্রিকার মারিয়াস এরাসমাস ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড কেটেলবরো। শুক্রবার আইসিসি এই ঘোষণা দিয়েছে। এরাসমাস ও কেটেলবরো ঠান্ডা মাথার জন্য পরিচিত। সেই কারণেই ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজক ম্যাচে তাদেরই আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার। রিজার্ভ আম্পায়ার শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা।
৫৩ বছর বয়সি এরাসমাস প্রাক্তন পেসার। তিনি সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচেও আম্পায়ারিং করেছেন। রবিবার ৭১-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন এরাসমাস। অন্যদিকে, ৪৪ বছর বয়সি কেটেলবরো ৭২-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকবেন।
ইয়র্কশায়ার ও মিডলসেক্সের প্রাক্তন এই ব্যাটসম্যান সেমি-ফাইনালে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচেও আম্পায়ারিং করেছেন। রবিবার তাঁর ৭২-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

ফাইনালে বাজির দরে এগিয়ে ভারত

ব্রিটেনে জুয়া আইনসিদ্ধ, সঙ্গে আছে প্রযুক্তির আশীর্বাদ। দু’য়ে মিলে রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচের উপর অন্তত ২০০০ কোটি টাকার বাজি ধরেছেন জুয়াড়িরা। এমন খবরই জানা গেছে। শনিবার পর্যন্ত পাওয়া খবরে, বাজিকরদের কাছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিশ্চিতভাবেই ফেভরিট ভারত। তবে তাদের কাঁধেই নিঃশ্বাস ফেলছে পাকিস্তান। ভারতের পক্ষে ১০০ টাকা বাজি ধরা হলে, আর কোহলির দল জিতলে পাওয়া যাবে ১৪৭ টাকা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষে একই অঙ্কের টাকা বাজি ধরে জিতলে পাওয়া যাবে ৩০০ টাকা।
অল ইন্ডিয়া গেমিং ফেডারেশন-এআইজিএফের সিইও রোল্যান্ড ল্যান্ডারস বলেন, “প্রতিবছর ভারত সবমিলিয়ে যতগুলি ম্যাচ খেলে, তার উপর অন্তত ২ লক্ষ কোটি টাকার বাজি ধরা হয়। আর আগামিকাল রবিবারের ম্যাচের দিকে তো জুয়াড়িরা রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছেন। গত ১০ বছর ধরে কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়নি। এতে রবিবারের ম্যাচে আরও টাকা লগ্নি করতে মুখিয়ে আছেন জুয়াড়িরা।”
তবে শুধু যে ফাইনাল ম্যাচের ফলাফলের উপরেই কোটি কোটি টাকার বাজি ধরা হয়েছে এমনটা নয়, বাজি ধরা হবে ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত মোট রান, উইকেটের উপরেও। বা ১০ ওভার শেষে কোন টিম এগিয়ে থাকবে তার উপর। এমনকী, কোন খেলোয়াড় কত নম্বরে ব্যাট করতে নামবেন, তার উপরেও ধরা হবে কোটি টাকার বাজি।
ভারতে ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে জুয়া বেআইনি হলেও একাধিক ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মারফত ভারতীয়রা তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড, ই-ওয়ালেট ব্যবহার করতে বাজি ধরতে পারবেন। এবং ধরছেনও।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: ফাইনাল কাল

রবিবার সকাল থেকে একদা ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা দ্বিখন্ডিত দুটি দেশের মানুষ উত্তেজনার আঁচে ফুটতে ফুটতে জ্বলন্ত উনুনের মতো ফুটবে থাকবে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে এই দুটি দেশের ক্রিকেটারদের এই সম্মুখসমর শুধুমাত্র ব্যাট বলের লড়াই নয়, এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িত ভারত ও পাকিস্তানের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের আবেগ, সম্মান ও আত্মমর্যাদা। আসন্ন সুপার সানডেতে ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের দ্য ওভালে দ্বৈরথে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান।
দু’দেশের মানুষ সকাল থেকে মন্দির-মসজিদে প্রার্থনা করবেন প্রিয় দলের জয় দেখার জন্য। প্রায় সোয়া শ’কোটি ভারতবাসীর প্রকৃত দেশাত্মবোধ জেগে ওঠে ক্রিকেট মাঠে ‘টিম ইন্ডিয়া’ খেললে। গ্রুপে তিনটি ম্যাচে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে জেতা ইংল্যান্ডকে সেমি ফাইনালে পাকিস্তান হারিয়েছিল ১৩ ওভার বাকি থাকতে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। এই রেজাল্ট কোনও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের দূরতম কল্পনাতেও প্রশ্রয় পায়নি। ওপেনার ফকর জামান, হাসান আলি, রুমন রইসদের এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কে চিনত? আবার এই পাকিস্তান দলই গত ৪ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’র প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে কাটা কলাগাছের মতো নেতিয়ে লুটিয়ে পড়ে হেরেছে। সেই পরাজয়কে একপেশে বললে খুব কম বলা হয়।
নিয়মিত প্র্যাকটিসে তেমন ঘাম না ঝরিয়েও কোহলি ব্রিগেড কিন্তু এই টুর্নামেন্টে পিক ফর্মে রয়েছে। টপ ব্যাটিং অর্ডার চাবুক ফর্মে রয়েছে। ভুবনেশ্বর, বুমরাহ, কেদার, অশ্বিনরা মনে হয় না পাক ব্যাটসম্যানদের মাথা তুলতে দেবেন, তবে মোহাম্মদ আমির চোট সারিয়ে দলে ফিরলে পাক পেস আক্রমণকে ইংল্যান্ডের মাঠে এই নির্জীব উইকেটেও সমীহ করতে হবে। যদিও ব্যাটিং শক্তিতে রোহিত, শিখর, বিরাট, যুবি, ধোনিরা পাক ব্যাটসম্যানদের তুলনায় ‘ম্যান এগেইনস্ট ম্যান’ সুপিরিয়র। তাই ফাইনালে ভারত হেরে গেলে সেটা অঘটন রূপেই বিবেচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বীরের বেশে দেশে টাইগাররা

ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান দলটিই আরো ভালো খেলবে বলে মনে করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে দেশে ফিরে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
প্রথমবারের মতো কোন বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেললো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে পেছনে ফেলে গ্র“প অব ডেথ থেকে শেষ চারে খেলাটা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই সেরা সাফল্য। তারপরও সন্তষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বলেন, এই পারফরম্যান্স নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ফিরে আসাটা বেশ স্বস্তির। ভালো লাগছে। তবে সুযোগতো ছিলো ফাইনালে ওঠার। নকআউট পর্বে সবসময়ই সুযোগ থাকে। সুযোগটা নিতে পারিনি। আশা করি সামনে আরো বড় বড় টুর্নামেন্ট আছে, বড় বড় সিরিজ আছে। সেগুলোকে ব্যবহার করা গুরুত্বপূন এখন। ইনশাআল্লাহ সামনে এমন সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে পারবো। আর কঠিণ একটা গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে পিছনে ফেলে সেমিফাইনালে খেলাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ এতো প্রাপ্তির মধ্যেও হতাশা গ্রাস করছে মাশরাফিকে। সেটা হলো পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারার। ‘ভালোতো লাগছেই। তবে কিছুটা খারাপ লাগাও আছে। যেহেতু একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আরেকটা ম্যাচ খেলতে পারতাম। সেটা না হওয়াতে অবশ্যই হতাশ। তবে তার মানে এই নয়, এখানেই থেমে যাচ্ছি আমরা। এখন সামনের টুর্নামেন্ট সুযোগগুলো কাজে লাগানোই ইমপরটেন্ট।’
মাশরাফি জানান, মূলতঃ অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সই এবার টাইগারদের এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। সেখানে মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমানরা পুরোপুরি ব্যর্থ। তবে সমালোচনা নয়, বরং তরুণদের হয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। বললেন, ‘দেখেন তরুনদের জন্য এইসব স্টেজ এতো সহজ না। এট দ্য সেইম টাইম বলবো তাদের ইমপ্র“ভও করতে হবে। সিনিয়রদের ভালো খেলাটা খুবই জরুরী। ইয়াংদেরও ভালো খেলতে হবে। যেটা হয়তোবা আশানুরুপ হয়নি। আশা করি যে দলটা আছে ২০১৯ বিশ্বকাপ যদি বলেন, তখন অনেক বেশী রেসপনসিবিলিটি নিয়ে খেলতে পারবেন। অনেক ম্যাচুরড হবে দুই বছর পরে। তখন অবশ্যই ওদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। এখন আসলে ইমপ্র“ভ করার সময়। যে লেভেলে খেলতে পেরেছে। ওদের উচিত এখান থেকে আরো ইমপ্র“ভের চেষ্টা করা। সো এটা যদি তারা সিরিয়াসলি নিতে পারি। আমি শিউর ওরা আরো ভালো খেলতে পারবে।’
দেশ সেরা এই পেসারের বিশ্বাস, বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান দলটিকে আরো এগিয়ে নেবে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ২০১৫ নাকি ২০১৭ টুর্নামেন্ট কোনটা সেরা। ২০১৫ তে সুযোগ ছিলো ভুল শোধরানোর। তবে সেখানে ৮ দল সুযোগ ছিলোনা। দুটোই সমান গুরুত্বপুর্ণ টুর্নামেন্ট ছিলো আমাদের জন্য।’ মাশরাফি আরো বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার যেটা বললাম, আপনি যদি দেখেন, এখানে দুটা এক্সটা অর্ডিনারি ইনিংস খেলার জন্যই আমরা সেমিতে গেছি। একজন প্লেয়ার হিসেবেই বলছি, এটাই হওয়া উচিত। টিম হিসেবে আরো ভালো খেলা উচিত ছিলো। যেটা আমরা পারিনি। তবে নেক্সট টাইম আমাদের আরো ম্যাচিউরড খেলতে হবে। বোলাররা যারা আছে, তাদের আরো ভালো বল করতে হবে। এ ধরনের ফ্লাট উইকেটে কিভাবে বল করতে হয়, এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। এখন সেদিকেই নজড় দেয়া উচিত। প্রস্তত হওয়া ফিজিক্যালি, মেন্টালি, স্কিলডওয়াইজ।’
দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে দেশে ফিরে আপাতত বিশ্রামে থাকছেন ক্রিকেটাররা। তবে ঈদের পরই শুরু হবে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন।

অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে ১৮ আগস্ট

বছর খানেক আগে নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ওই সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের। এরপর অবশ্য সূচিটি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথাও জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

সব ভাবনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই টেস্ট দুটি খেলতে আগ্রহী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দিনক্ষণও নির্ধারিত হয়েছে। দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে ১৮ আগস্ট। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্যই জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

টেস্ট মাঠে গড়ানোর আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। প্রস্তুতি ম্যাচটা দুই দিনের। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি গড়াবে ২২ আগস্ট। চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত।

টেস্টের লড়াই শুরু হবে ২৭ আগস্ট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গড়াবে প্রথম টেস্ট। ম্যাচটি শেষ হবে ৩১ আগস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

প্রাপ্তির ঝুলি নিয়ে দেশে ফিরল টাইগাররা

ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে আজ দেশে ফিরলেন মাশরাফি-সাকিবরা। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের বহন করা বিমান এক ঘণ্টা দেরিতে অবতরণ করে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের। এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মত র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠে আসে মাশরাফিবাহিনী।

এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে ২৭ এপিল ঢাকা ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প শেষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড যায় টাইগাররা। সেখানে আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও জয় পায় বাংলাদেশ।

এরপর ২৫ মে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে ফিরে বাংলাদেশ। সেখানে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ১ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট অর্জন করে। আর ৯ জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সেমিফাইনালের টিকেট। তবে ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যায় টাইগাররা।

পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের। আর ভারতের বিপক্ষে হেরে ১ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েও র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে রয়েছে মাশরাফিবাহিনী।

তবে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে। এ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান জিতলেই ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে সাতে চলে যাবে পাকিস্তান।

তবে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে এক রেটিং পয়েন্ট কমবে পাকিস্তানের। ৯২ পয়েন্ট নিয়ে আটে নেমে যাবে দলটি। এদিকে ৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাতে উঠে আসবে বর্তমানে অষ্টম অবস্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা। অপরিবর্তিত থাকবে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এবং র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান। তাই ফাইনালে পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ।

উল্লেখ্য, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে র্যা১ঙ্কিংয়ে ওপরে থাকা অন্য সাতটি দল। আর ভারতের কাছে হেরে ১ পয়েন্ট খোয়ালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা থাকছে বাংলাদেশের।

সেমিফাইনাল খেলাই বড় প্রাপ্তি : মাশরাফি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেই স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে নিজেদের গ্রুপকে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। আর কঠিন এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলাকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। শনিবার দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মত দলকে পেছনে ফেলে আমরা সেমিফাইনাল খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

এদিকে এ রকম বড় আসরে প্রথমবারের মত সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে আরও ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাশরাফি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আরও উন্নতি করতে হবে। আমাদের আরও শিখতে হবে। আর এ অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে ভালো করতে সাহায্য করবে।’

দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্সে খুশি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। যদিও দলের জুনিয়র ক্রিকেটাররা খুশি করতে পারেনি তাকে, তবে সিনিয়রদের পারফরমেন্সে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। সৌম্য সরকারের পারফরমেন্স নিয়ে খুবটা চিন্তিত না হলেও, সাব্বির রহমানকে হুশিয়ার করে দিলেন হাথুরুসিংহে। বললেন, টিকে থাকতে ভালো করতে হবে পারফরমেন্স।
এদিকে, সেমিফাইনালে আগে একই হোটেলে ছিলো বাংলাদেশ ও ভারত এই দুই দল। তবে বাংলাদেশ দল দেশের উদ্যেশ্যে রওনা হওয়ার আগেই হোটেল ছেড়েছে ভারত। তবে তারা অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে। দুই দলের গন্তব্যও ভিন্ন। ওভালে ফাইনালের উদ্যেশ্যে ভারত। আর বাংলাদেশ ফিরছে দেশে। টানা ৫০ দিন দেশের বাইরে টাইগাররা। তবে এবারের সফরটা খারাপ খারাপ যায়নি টাইগারদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠাটা বড় সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে পরাজয়টা হতাশার হলেও অস্বাভাবিক নয় কোচের কাছে। তিনি জানান, ছেলেরা বেশ ভালো খেলেছে। কিছু সময় ম্যাচটি নিজেদের মধ্যেও ছিলো। কিন্তু শেষের দিকে সেটা আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। দলের সিনিয়ররাও চমৎকার পারফরমেন্স করেছে। তা না হলে কে-ই বা ভাবতে পেরেছে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলবে।’
দলের পারফরমেন্স ভালো হলেও তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে খুব একটা খুশি নন কোচ। বিশেষ করে সাব্বিরের পারফরমেন্সে হতাশাই ঝড়েছে তার কন্ঠে। ‘হ্যাঁ, কখনো কখনো এমন হয়। ভারতের বিপক্ষে ভালোই খেলছিলো ওয়ান ডাউনে নামা সাব্বির। কিন্তু অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে সে দলের সর্বনাশটাই করে আসলো। দলের প্রয়োজনেই সবাইকে খেলতে হবে। তেমনটা হলে ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।’
বার্মিংহাম থেকে দুবাই হয়ে আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশে ফিরছে বেশিরভাগ ক্রিকেটার। তবে দলের সঙ্গে ফিরছেন না কোচ হাথুরুসিংহে। ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন তিনি। ৫০ দিন দেশের বাইরে কাটিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ফিরেই ঈদের ছুটিসহ চার সপ্তাহের লম্বা ছুটিতে যাবেন তারা।

বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। সিরিজের দুটো টেস্ট খেলতে আগামী ১৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসছে স্টিভেন স্মিথের দল। ২২ থেকে ২৪ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায়, বিসিবি একাদশের সঙ্গে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ১৭ অগস্ট মিরপুরে হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
বাংলাদেশ সফরের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন পেসার মিশেল স্টার্ক। ভারত সফরে দুর্দান্ত পারফর্ম করা স্টিভেন ও’ক্যাফেও।
২০১৬ সালে প্রথম টেস্ট খেলার পর চোটের জন্য ছিটকে যাওয়া পেসার জেমস প্যাটিনসন দলে জায়গা ফিরে পেয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া হিলটন কার্টরাইটকে এ বার দলে রেখেছে অসিরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩৭ রান করেছিলেন কার্টরাইট। তবে শেফিল্ড শিল্ডে রয়েছে ৮৬১ রান তাঁর।
ভারতের সঙ্গে চার টেস্টে ভাল পারফর্ম না করায় বাদ পড়েছেন ব্যাটসম্যান শন মার্শ। আট ইনিংসে মার্শের গড় ছিল ১৮.৮১। এ ছাড়া চোটের কারণে মিচেল সুইপসন, পেসার জ্যাকসন বার্ড, মিচেল মার্শ ও মার্কাস স্তইনিস বাদ পড়েছেন।
বাংলাদেশ সফরে স্পিনার হিসেবে নাথান লিয়ঁওর সঙ্গে হাত ঘোরাবেন অ্যাশটন অ্যাগার। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেন তিনি। ব্যাটসম্যান হিসেবে ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, উসমান খজা, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ব্যাটসম্যান থাকছেন বাংলাদেশ সফরে।

ভারতের বিপক্ষে সফল ব্যাটসম্যানদের তালিকায় তামিম

ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আইসিসি আয়োজিত এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে যে কয়জন সেরা ব্যাটসম্যান রয়েছেন, তাদের মধ্যে তামিম ইকবাল অন্যতম। আরো খোলাসা করে বললে বলা যায় তামিম তৃতীয়। এটি মূলত নির্ধারণ করা হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার উপর ভিত্তি করে।

২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে ও একবার আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিম ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন। রান করেছেন ২১৬টি। ভারতের বিপক্ষে তামিমের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৩টি। ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এরপর ঘরের মাঠে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন ৭০ রানের ইনিংস। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মেলবোর্নে খেলেছিলেন ২৫ রানের একটি ইনিংস। আর আজ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে তিনি খেললেন ৭০ রানের ইনিংস। চার ম্যাচে তামিমের মোট রান ২১৬ (৫১+৭০+২৫+৭০)।

এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তিনি ভারতের বিপক্ষে ৯ ইনিংস খেলে করেছেন ৫১৩ রান। পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৪টি। তার মধ্যে ২টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ১৪০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। তিনি ৪ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৭৭ রান। পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৩টি। কোনো সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ রান ৯৭।

তবে এই তিনজনের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন তামিম। তামিমের স্ট্রাইক রেট ৮৭.৮০। রিকি পন্টিং রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার স্ট্রাইক রেট ৮৭.০৯। আর জ্যাক ক্যালিসের স্ট্রাইক রেট ৭৫.৪৭।

ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান

হট ফেবারিট ইংল্যান্ড বধ করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শিরোপা নির্ধারণীতে পা রাখলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্যটা ৯.৫ ওভার হাতে রেখে অনায়াসেই টপকে যায় টিম ইন্ডিয়া। রোহিত শর্মা ১২৩ ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৯৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

এর মাধ্যমে পুরোদুস্তর দক্ষিণ এশিয়ার ফাইনালে পরিণত হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। পাশাপাশি আরেকবার ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটভক্তরা। রোববার (১৮ জুন) লন্ডনের কেনিংটন ওভালে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে।

ফাইনাল সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী জয়ই পেল ভারত-পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। বার্মিংহামে টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপের চতুর্থ ম্যাচে গত ৪ জুন ম্যাচটি ডিএল পদ্ধতিতে ১২৪ রানের উড়ন্ত জয় পেয়েছিল কোহলির দল। শিরোপা লড়াইয়ে সরফরাজ আহমেদদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

গ্রুপ সেরা ভারতের বিপক্ষে সেমিতে মুখোমুখি হয় অপর গ্রুপের রানারআপ বাংলাদেশ। সহজ জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে অনীল কুম্বলের শিষ্যরা। এর আগে গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ হেরেছে ভারত। সেটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বাকী আরেকটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল কোহলির দল।

অন্যদিকে, একই গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণার আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপ রানার আপ হয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বলতে গেলে অসহায় আত্মসমর্পণই করেছে স্বাগতিকরা। ব্যাটে-বলে সমান দাপট দেখিয়ে পাকিস্তান ম্যাচটি পকেটে পুড়েছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে র্যাংকিংয়ের আট নম্বর দলটি।

ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের আরেকটি দ্বৈরথ দেখতে পাবে দর্শকরা। একদিকে ভারতের ব্যাটিং। অপরদিকে পাকিস্তানের বোলিং। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষ ছয়ে তিন ভারতীয় ব্যাটসম্যান (শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি) অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষ ছয়ে আছেন পাকিস্তানের দুজন (হাসান আলী ও জুনায়েদ খান।)।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ক্রিকেট ছাড়িয়ে যেন জাতীয়বাদের খেলায় পরিণত হচ্ছে। এর আগেও ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল দ্বৈরথ দেখেছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কার কপালে জুটবে সেটা ১৮ তারিখেই নিশ্চিত হবে। তার আগে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পারদ ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।

তামিমকে সরিয়ে এবার শীর্ষে ধাওয়ান

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তাকে সরিয়ে এবার শীর্ষেই জায়গা করে নিলেন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। সেমিফাইনালে ২৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দেখে শুনেই খেলছেন ভারতীয় দুই ওপেনার। ভারতের সংগ্রহ ৮ ওভারে ৫৬ রান। ওপেনার রোহিত শর্মা ব্যাট ২৬ করছেন রানে আর শিখর ধাওয়ান ২০ রানে। ধাওয়ান এখন তালিকার শীর্ষে আছেন ২৯৫ রান নিয়ে।

এর আগে বাংলাদেশ টস হেরে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান তুলে। শুরুর ধাক্কাটা শুরুতে ধাক্কা খেলেও দারুণভাবে কাটিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে স্বরূপে ফেরেন তামিম ইকবাল। সঙ্গে মুশফিকুর রহিমও ছন্দে ফিরলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু ‘একটার সঙ্গে একটা ফ্রি’ যুগ থেকে এখনও যে বেরোতে পারেনি টাইগাররা! তাই তামিম-মুশফিকের ১২৩ রানের জুটির পরও স্কোর বেশিদূর যায় না। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংটা হয়ে ওঠে আরও ধারালো। সেমিফাইনালের উত্তেজনাকর লড়াইয়ে তামিম-মুশফিক বাদে অন্যরা ছিলেন ব্যর্থ। শেষ দিকে মাশরাফি ব্যাটে ঝড় তোলায় ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করতে পেরেছে ২৬৪ রান।

সেমিফাইনালে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

আইসিসির বড় কোনও ইভেন্টে এবারই প্রথম সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে ধীরে ধীরে বড় নাম হয়ে ওঠা বাংলাদেশ টসে হেরে শুরুটাও করেছিল দারুণ। যদিও ধীরে ধীরে আর ব্যাটের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ভারতীয় বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ৭ ‍উইকেটে ২৬৪ রানই তুলতে পারে। সেই ম্যাচই দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটে জিতে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ভারত জয় পেয়েছে ৪০.১ ওভারেই। আর বাংলাদেশও বিদায় নিলো সেমিফাইনাল থেকে।

২৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একপেশেভাবেই ব্যাট হাতে জবাব দিতে থাকে ভারত। দুই ওপেনারের দারুণ শুরুর ভিত্তিতেই আসে ৮৭ রান। যদিও ১৪.৪ ওভারে মাশরাফি আঘাত হেনে ভেঙে দেন হুমকি হয়ে ওঠা এই জুটি। ভারত তাতেও অবশ্য দমে থাকেনি। কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১৭৮ রানের জুটি গড়েন ওপেনার রোহিত শর্মা। এ দুজনের ব্যাটে ভর করেই জয়ের পথে দ্রুত এগিয়ে যায় ভারত। রোহিত হাঁকিয়েছেন ১১তম সেঞ্চুরি। তার ১২৩ রানের ইনিংসটি ছিল ১২৯ বলে সাজানো। যেখানে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। অবশ্য সেঞ্চুরির কাছাকাছি থাকলেও সেটি আর পূরণ হয়নি ভারতীয় অধিনায়কের। ৯৬ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় কোহলিকে। তার ৭৮ বলের ইনিংসে ছিল ১৩টি চার।

এর আগে অবশ্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শীর্ষ রান সংগ্রাহক হয়েই বিদায় নেন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ৩১৭ রান নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে আছেন তিনি। ১৫তম ওভারে মাশরাফির ওভারে মনোযোগ ঠিক রাখতে পারেননি। ৪৬ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ওপেনার তালুবন্দী হন মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে। তার ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা।

এর আগে বাংলাদেশ টস হেরে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান তুলে। শুরুর ধাক্কাটা শুরুতে ধাক্কা খেলেও দারুণভাবে কাটিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে স্বরূপে ফেরেন তামিম ইকবাল। সঙ্গে মুশফিকুর রহিমও ছন্দে ফিরলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু ‘একটার সঙ্গে একটা ফ্রি’ যুগ থেকে এখনও যে বেরোতে পারেনি টাইগাররা! তাই তামিম-মুশফিকের ১২৩ রানের জুটির পরও স্কোর বেশিদূর যায় না। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংটা হয়ে ওঠে আরও ধারালো। সেমিফাইনালের উত্তেজনাকর লড়াইয়ে তামিম-মুশফিক বাদে অন্যরা ছিলেন ব্যর্থ। শেষ দিকে মাশরাফি ব্যাটে ঝড় তোলায় ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করতে পেরেছে ২৬৪ রান।

ভারতকে ২৬৫ রানের টার্গেট দিলো বাংলাদেশ

শুরুর ধাক্কা খুব ভালোভাবে সামাল দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ২ উইকেটে ১৫৯ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন দলকে। সেখান থেকে তিনশ পর্যন্ত যাওয়া খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় থামতে হল তার অনেক আগেই।
শেষ পর্যন্ত যে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৬৪ রানে গেল তাতে বড় অবদান মাশরাফি বিন মুর্তজার। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক।
তামিমের ৭০ আর মুশফিকের ৬১ রানের বাইরে প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের কেউ ত্রিশের ঘরে যেতে পারেননি। নয়তো দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারতকে আরও বড় লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব ছিল।
অনিয়মিত স্পিনার কেদার যাদব মাঝের ওভারে করেছেন সবচেয়ে বড় সর্বনাশ। ৬ ওভারে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন তামিম আর মুশফিকের উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৪/৭ (তামিম ৭০, সৌম্য ০, সাব্বির ১৯, মুশফিক ৬১, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ২১, মোসাদ্দেক ১৫, মাশরাফি ৩০*, তাসকিন ১১*; ভুবনেশ্বর ২/৫৩, বুমরাহ ২/৪০, অশ্বিন ০/৫৪,পান্ডিয়া ০/৩৪, জাদেজা ১/৪৮, যাদব ২/২২)

ফিরে গেলেন সাব্বিরও

বাজে শটে সাব্বিরের বিদায়

আগের ১৩টি বল গেল ডট, সেই চাপেই ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। ভুবনেশ্বর কুমারের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের স্লোয়ার বলে চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে।

২১ বলে চারটি চারে সাব্বিরের রান ১৯।

৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩১/২। ৭ রান করা তামিম ইকবালের সঙ্গে উইকেটে যোগ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

আত্মবিশ্বাসী সাব্বির, সতর্ক তামিম

চার হাঁকিয়ে শুরু করা সাব্বির রহমান খেলছেন সহজতা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। জাসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমারকে হাঁকিয়েছেন দুটি করে চার। তৃতীয় ওভারে ভুবনেশ্বরকে এগিয়ে এসে যে বাউন্ডারি মেরেছেন সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে কতটা আত্মবিশ্বাস ডানহাতি এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান।

শুরুতেই সৌম্য সরকারের বিদায়ে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ৬ ওভারে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোটে একটি চার।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩১/১। তামিমের রান ৭, সাব্বিরের ১৯।

শুরুতেই ফিরলেন সৌম্য

প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভুবনেশ্বর কুমারের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে এনেছেন সৌম্য সরকার। ঠিকঠাক ড্রাইভ করতে না পারার মাশুল দিয়েছেন দুই বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে।

১ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১/১।

খেলা শুরু হতে ১০ মিনিট দেরি

বৃষ্টির বাধায় বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হবে। টসের পর শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমেছে। সরানো হচ্ছে কাভার।

অপরিবর্তিত ভারত দল

বাংলাদেশের মতো পরিবর্তন আসেনি ভারত দলেও। দুই স্পিনার ও হার্দিক পান্ডিয়াসহ তিন পেসার নিয়ে খেলছে শিরোপাধারীরা।

ভারত দল: বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, যুবরাজ সিং, কেদার যাদব, মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রিত বুমরাহ।

বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে টস হেরে ফিল্ডিং নিয়েছে ভারত। আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা। টস জেতার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

টস জিতলে ফিল্ডিং নিতেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও।

সাকিবের সামনে মাইলফলকের হাতছানি

গ্রুপ পর্বে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের দিনে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে গড়েছিলেন রেকর্ড জুটি। এবার সেমি-ফাইনালের মঞ্চে ব্যক্তিগত এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে সাকিব আল হাসান।

মাশরাফিদের উপভোগের মন্ত্র

এতবড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সব মিলিয়ে চাপ অপরিসীম। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে ‘চাপ আবার কী! উপভোগ।’ সতীর্থদের মাঝেও সেই মন্ত্র গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা মাশরাফি ও কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের।

রানে ভরা এজবাস্টনের উইকেট

একদিকে ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন-আপ, আরেকদিকে রান ফোয়ারার আভাস এজবাস্টনের উইকেটে। ব্যাটিং স্বর্গে চার পেসার দিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকানোর পরিকল্পনা মাশরাফি বিন মুর্তজার। জানেন, কঠিন পরীক্ষা, তবে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি হয়তো হতে যাচ্ছে বড় রানের লড়াই।

আইসিসির টুর্নামেন্টে প্রথম ফাইনালের হাতছানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনালে উঠেই একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। হাতছানি এবার নতুন ইতিহাস গড়ার; এজবাস্টনে ভারতকে হারালেই প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরু থেকেই প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই হানা দিয়েছে বৃষ্টি। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ তো শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্তই হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর হল এ ম্যাচে বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই।

ইংল্যান্ডের আবহাওয়াবিদেরা জানান, ‘বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা কম।’

 

এদিকে টুর্নামেন্টের প্লেয়িং কন্ডিশন বলছে, বৃষ্টির কারণে আজকের খেলা পরিত্যক্ত হলে ফাইনালে উঠবে ভারত। নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কারণে এ সুবিধা পাবে তারা।সে হিসেবে বাদ পড়ে যাবে বাংলাদেশ। আর খেলা টাই হলে অবশ্য ম্যাচ নিষ্পত্তি হবে সুপার ওভারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩.৩০ মিনিটে। আর ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, মাছরাঙা টিভি, গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামবে বাংলাদেশ

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫০ জনে পৌঁছেছে। আর নিহত এ সব ব্যক্তিদের স্মরণে আজ এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ দল কালো ব্যাজ পরে খেলতে নামবে। বাংলাদেশ দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, পাহাড় ধসে নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ ও নিহত সেনাবাহিনীর সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মাশরাফি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘পাহাড় কাটা আর অপরিকল্পিত বসত বাড়ির কারণে প্রায় প্রতিবছরই এই সময়টাতে পাহাড় ধসের কারণে হতাহতের খবর শুনতে হয়। ভূমি ধসে নিহত সবার আত্মার শান্তি কামনা করছি। উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সেনাবাহিনীর বীর সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। দেশের জন্য জীবন দিতে সবাই পারে না, কিন্তু আপনারা পেরেছেন।’

 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার থেকে দেশের দক্ষিণ পূর্বের জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে সোমবার রাত থেকে এই তিন জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ধস নামে। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেখা দেয় ভয়াবহ বিপর্যয়।

উল্লেখ্য,অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত।

সতর্ক ভারতের সামনে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

ক্রিকেট বিশ্বের আট শীর্ষ ও অভিজাত দলের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্বপ্নের ফাইনালের খুব কাছাকাছি মাশরাফির দল। আর একটি মাত্র সিঁড়ি, সে ধাপ অতিক্রম করতে পারলেই ফাইনালে পৌঁছে যাবে আগামীর ক্রিকেট সম্ভাবনা ‘বাংলাদেশ’। সিঁড়ি বা ধাপ, যাই বলা হোক না কেন, তা টপকাতে হলে ভারতকে হারাতে হবে। বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩.৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, মাছরাঙা টিভি, গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ মাঠে নামার আগে মাশরাফিবাহিনী আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে ২০০৭ বিশ্বকাপ। যেখানে টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। আবার ভাবনায় আছে ঘরের মাঠে ২০১৫ সালের সিরিজ জয়ও। দুর্দান্ত খেলে দাপটের সঙ্গে দেশের মাটিতে ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে দেয় টাইগাররা।

এছাড়া ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিংয়ে ভারতের কাছে হারের পর ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই প্রায় যুদ্ধাবস্থা। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র ১ রানে ভারতের জয় এ উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও। এবার সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সেই হারের প্রতিশোধের সুযোগ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানে আটকে রাখার পাশাপাশি সাকিব-রিয়াদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেট জয় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে টাইগারদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

bangladesh

 

এদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আসর শুরু করে ভারত। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয়েও দুর্দান্ত প্রতাপে শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারতীয়রা। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিংরা। আর বল হাতে ভুবনেশ্বর, বুমরা, যাদবরাও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। এর মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচে আছে এই মাঠেই বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারানোর স্মৃতি।

 

তবে সব কিছুর পরও বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সতর্ক ভারত অধিনায়ক। এ নিয়ে তিনি বলেন, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ দলকে হালকাভাবে নিতে নারাজ কোহলি, ‘বাংলাদেশ দল এখন আর কারও কাছে বিস্ময় নয়। অনেক উন্নতি করেছে তারা। দেশটির ক্রিকেট ব্যবস্থাপনাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। দলের খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নিয়ে খেলছে। নিজেদের দিনে বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে কারও বিপক্ষে জয় নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত। গত দুই বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছে। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার মানেই নেই।’

এদিকে পরিসংখ্যানের হিসেবে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। এখন পর্যন্ত ৩২টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে এ দুই দল। এর মধ্যে ভারত ২৬টি এবং বাংলাদেশ ৫টিতে জয় পেয়েছে। একটি ম্যাচে কোন ফলাফল আসেনি।

বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।

ভারত সম্ভাব্য একাদশ :
রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, ভুবনেশ্বর কুমার, রবীচন্দ্রন অশ্বিন, জাস্প্রিত বুমরাহ।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনাল খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত। বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩.৩০ মিনিটে। আর ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, মাছরাঙা টিভি, গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিংয়ে ভারতের কাছে হারের পর ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই প্রায় যুদ্ধাবস্থা। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র ১ রানে ভারতের জয় এ উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও। এবার সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সেই হারের প্রতিশোধের সুযোগ।

এদিকে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ঘুরে ফিরে আসছে কেমন হবে বাংলাদেশ দলের একাদশ? চার পেসার না তিন পেসারের সঙ্গে এক বিশেষজ্ঞ স্পিনার। তবে যতদূর জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে কোনো ইনজুরি বা ভাবনার বদল না হলে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের একাদশ নিয়েই খেলবে বাংলাদেশ।

 

বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।

যে ৫ কারণে জয় পেতে পারে বাংলাদেশ

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিংয়ে ভারতের কাছে হারের পর ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই প্রায় যুদ্ধাবস্থা। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র ১ রানে ভারতের জয় এ উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও। এবার সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সেই হারের প্রতিশোধের সুযোগ। বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩.৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, মাছরাঙা টিভি, গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

এদিকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ম্যাচটি নিয়ে নিয়ে চলছে দারুণ উত্তেজনা। দুই দলই জয় পেতে মরিয়া। এরপরও ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে ভারত। তবে এরপরও কোহলির দলকে পাঁচটি কারণে হারিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ দল। কারণগুলো হলঃ

ফর্মে থাকা তামিম
bangladesh

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত বিশ্ব আসরের কোন টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকাটা সব সময়ই যে কোন দলের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের বেলায় একটি নাম হতে পারে তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছে এই তারকা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হওযা ছাড়া অন্য সব ম্যাচেই বড় স্কোর গড়েছেন এই ওপেনার। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন ৯৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। আজ ভারতকে হারাতে এ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আরেকটা বড় ইনিংস আশা করছে বাংলাদেশ।

ব্যাটসম্যানদের চাপ নেয়ার ক্ষমতা
Ban
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অনেক দলই চাপের মধ্যেও ভাল খেলে দলকে জিতিয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে বহুবার তার প্রমাণ দিয়েছেন। টাইগারদের মিডল অর্ডারে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছ থেকে অনেক বড় কিছু পেয়েছে দল। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তারা কেবল খারাপ অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলেননি, একই সঙ্গে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন।

সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ
bangladesh

বাংলাদেশের দলের সাইলেন্ট কিলার ধরা হয় মাহমুদউলাহ রিয়াদকে। ২০১৫ বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দেশের ইতিহাসে অমরত্ব পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে সাকিবের পাশে অন্যতম নায়ক তিনিও। আর নিজের দিনে রিয়াদ কতটা বিপজ্জনক প্রায় সব প্রতিপক্ষেরই জানা। আজকেও ম্যাচে হয়তো তার ব্যাটেই জয় পেতে পারে টাইগাররা।

ডার্ক হর্স : প্রত্যাশা কম থাকবে
bangladesh

টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ে ফেবারিট ভারত এবং লিগ পর্বের ম্যাচগুলোতে তারা সে প্রমাণও দিয়েছে। বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার চাপটা বিরাট কোহলির দলের ওপরই বেশি থাকবে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলবে এবং তাদের ওপর কোন চাপ থাকবে না, তারা আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামবে। সেহেতু এই আন্ডারডগ তকমাটাই তাদের জন্য একটি সুবিধা হিসেবে কাজ করতে পারে। কেননা, কোন চাপ না থাকলে যে কোন দলই নির্ভয়ে খেলতে পারে।

পার্টটাইম বোলার
bangladesh

কখনো কখনো প্রধান বোলারদের চেয়ে পার্টটাইম বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যাটসম্যানরা পার্টটাইমারদের গ্রাহ্য কম করায় তাদেরকেই উইকেট বিলিয়ে দেয়। টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছে ডান হাতি অফ ব্রেক বোলার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কিউইদের মেরুদ- ভেঙে দিয়েছেন এ পার্টটাইমার। মাত্র তিন ওভারে নিউজিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট শিকার করেছেন সৈকত। আজকের ম্যাচেও এমন কিছু করে বাংলাদেশকে এনে দিতে পারে ঐতিহাসিক জয়।

ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে পাকিস্তান

এটাই পাকিস্তান। অঘটন ঘটাতে যাদের সঙ্গে তুলনা নেই কারও। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তার ছাপ ফেলল ‘আন্ডারডগ’ হয়ে নামা দলটি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা যাদের হাতে দেখছিলেন অনেকেই, সেই ইংল্যান্ডকে নিয়ে রীতিমত খেলল সরফরাজ আহমেদরা। কার্ডিফের সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে ফাইনাল। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৯.৫ ওভারে ইংলিশদের অলআউট করে দেয় মাত্র ২১১ রানে। সহজ সেই লক্ষ্যটা ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় তারা ৭৭ বল হাতে রেখে। তাতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ওঠার উৎসবে মাতে পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আগে ইংল্যান্ডের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলেছিলেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এক দল, এর ওপর আবর খেলবে ঘরের মাঠে, তাই ফেভারিটের তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছিল ইংলিশদের গায়ে। বিপরীতে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান ছিল ‘আন্ডারডগ’। সেমিফাইনালে যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল দল দুটি, তখন ইংল্যান্ডকে ফাইনালেও তুলে দিয়েছিলেন অনেকে! হিসাবের সেই খাতা উল্টিয়ে পাকিস্তান দেখিয়ে দিলো সুদিন হারালেও হারিয়ে যায়নি পাকিস্তান।

কাজের কাজটা আগেই করে রেখেছিল পাকিস্তান বল হাতে। হাসান আলী, জুনাইদ খান ও রুম্মান রইসের পেস আগুনে ইংলিশদের অলআউট করে দেয় মাত্র ২১১ রানে। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা হাসান ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। জুনাইদ ও রইস নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

২১১ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইংলিশদের জয়ের স্বপ্ন দেখতে হলে বোলিংয়ে করতে হতো দারুণ শুরু। তা তো করতে পারেইনি, উল্টো পাকিস্তানকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার আজহার আলী ও ফখর জামান। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ১১৮ যোগ করলে জয়ের সুবাস পেতে থাকে পাকিস্তান। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ব্যাটিং করে দুজনই পান হাফসেঞ্চুরির দেখা।

একটু হাত খুলে খেলতে থাকা ফখর জামান ৫৮ বলে ৫৭ রান করে আউট হলেও তাতে কোনও প্রভাব ফেলতে দেননি তিন নম্বরে নামা বাবার আজম। আজহারের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান তিনি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৫৫ রান। আজহারকে বোল্ড করে জেক বল জুটি ভাঙলেও বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল ইংলিশদের। জয় থেকে পাকিস্তান তখন যে খানিকটা দূরে! ১০০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংস খেলা আজহার ততক্ষণে গড়ে দিয়ে গিয়েছেন জয়ের ভিত। যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন বাবর (৩৮*) ও মোহাম্মদ হাফিজ (৩১*)।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে প্রথমবার নাম লেখাল পাকিস্তান। এখন অপেক্ষা শিরোপা জয়ের মঞ্চের প্রতিপক্ষের। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দলের বিপক্ষে রবিবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

সমর্থকদের আরও সংহত হওয়ার আহ্বান মাশরাফির

‘কুকুরের গায়ে ভারতের পতাকা এবং বাঘের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা। সেই বাঘ ধাওয়া করছে কুকুরকে। প্রাণপনে ছোটার চেষ্টা করছে ভারতীয় পতাকা জড়িত কুকুরটি’- ফটোশপের মাধ্যমে এভাবেই ভারতকে অপমান করে ছবিটি তৈরি করেছে বাংলাদেশের কোনো এক গোঁড়া ক্রিকেট সমর্থক। প্রতিযোগিতায় এ ধরনের নোংরা মানসিকতা বরং দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি করে। রেষারেষি সৃষ্টি করে।

ভারতীয় প্রথম সারির প্রায় সবগুলো পত্রিকার অনলাইনেই ছবিটি শোভা পাচ্ছে। সবাই ক্ষুব্ধ, ক্ষিপ্ত। তাদের কথা, সোশ্যাল নেটওয়ার্টে এ কেমন অসভ্য আচরণ বাংলাদেশের সমর্থকের। কুকুরের গায়ে জড়িয়ে দেবে একটি দেশের জাতীয় পতাকা! আজ সারাদিনই ভারতীয় মিডিয়া এ নিয়ে সরগরম।

মিডিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে আজ বার্মিংহ্যামের সংবাদ সম্মেলনেও উঠলো বিষয়টি। কলকাতার বাংলা মিডিয়ামের এক সাংবাদিক মাশরাফির কাছে প্রশ্নটা রাখলেন। বললেন, ‘আপনাকে বাংলাদেশের মানুষ শুধু ক্যাপ্টেন হিসেবে জানে না, একজন লিডার হিসেবে দেখে। সম্মান করে। এই ম্যাচ ঘিরে, ম্যাচের বাইরে নানান কথা-বার্তা হয়, যেগুলো ঠিক ক্রিকেটীয় নয়। অনেকটা হাইপ তোলে। অধিনায়ক হিসেবে সেগুলোকেও কী হ্যান্ডেল করা কঠিন হয়ে যায়? টিমকে তার থেকে দুরে রাখার জন্য?’

মাশরাফি সমর্থকদের সংহত হওয়ারই পরামর্শ দিলেন এতে। তবে তার কথায় কিছুটা অসহায়ত্ব ঝরে পড়লো। তিনি বলেন, ‘প্রথমত হচ্ছে যে, এগুলো আসলে খেলোয়াড়দের কন্ট্রোলের বাইরে থাকে। এ জিনিসগুলো আসলেই কারোরই কাম্য নয়। কারণ, দিন শেষে এটা শুধুই একটি খেলা। এখান বসে আমি কিংবা অন্য দলের অধিনায়ক যেই বলুক না কেন, আসলে কোনো কাজ হয় না। আমি আগেও দেখেছি। আসল কাজ হচ্ছে ওদিকে মন না দেয়া এবং নিজের খেলাটা খেলে যাওয়া। এর বাইরে আসলে কিছু করারও থাকে না।’

সেই মোস্তাফিজের খোঁজে বাংলাদেশ

ক্রিকেটে মোস্তাফিজের আবির্ভাবটা হয়েছিল অনেকটা ধূমকেতুর মতো। ‘এলাম, খেললাম এবং জয় করলাম’- মোস্তাফিজের অবস্থাটা ছিল ঠিক তেমনই। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও মূলত ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক সিরিজেই আত্মপ্রকাশ ঘটে এই বাঁহাতি পেসারের। ক্রিকেট বিশ্ব খুঁজে পায় নতুন এক রত্ন।

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে থাকে বাংলাদেশ। শুরুটা হয় পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশের মধ্য দিয়ে। শুরু হয় বাংলাদেশের নতুন এক স্বপ্ন যাত্রা। ওই সিরিজে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হয় মোস্তাফিজুর রহমানের। অভিষেকেই শহীদ আফ্রিদির মতো ব্যাটসম্যানকে আউট করে আলোচনায় আসেন মোস্তাফিজ।

এরপর বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসে ভারত। ওয়ানডেতে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। আর বল হাতে জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই পেসার। শুরুটা করেন রোহিত শর্মাকে দিয়ে। তার দেয়া কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে ভারতের এই ওপেনার ক্যাচ দেন মাশরাফির হাতে। পরের ওভারেই আরেক স্লোয়ার কাটারে রাহানেকে সাজঘরে ফেরান।

তবে এ দুই উইকেট কিছুটা ম্লান হয়ে যায় রায়নাকে বোল্ড করার পর। মোস্তাফিজের অফ কাটারে রায়না বোল্ড হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকেন মোস্তাফিজের দিকে। আর শেষ দিকে জাদেজা ও অশ্বিনকে ফিরিয়ে অভিষেক ম্যাচেই তুলে নেন পাঁচ উইকেট। নির্বাচিত হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

এরপর দ্বিতীয় ম্যাচেও তার কাটারে বিধ্বস্ত হয় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রোহিত শর্মাকে সাব্বিরের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান। এরপর ধোনিকে স্লোয়ার কাটার দিয়ে বোকা বানিয়ে ফিরিয়ে দেন সাজঘরে। আগের ম্যাচে বোল্ড হয়ে বোকা বনে যাওয়া রায়না এ ম্যাচে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।

এরপর জাদেজাকে দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করেন। শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেল ও অশ্বিনকে আউট করে দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে নেন ৬ উইকেট। আর শেষ ম্যাচে আবারও রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়নাকে আউট করে তিন ম্যাচের সিরিজে তুলে নেন ১৩ উইকেট। গড়েন বিশ্ব রেকর্ড।

এরপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিসহ ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নাম লেখান আইপিএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। বল হাতে জাদু দেখিয়ে অভিষেক আসরেই ১৭ উইকেট নিয়ে হন আইপিএলের সেরা উদীয়মান তারকা।

এরপরই বাধে বিপত্তি। হানা দেয় ইনজুরি। আর এই ইনজুরি নিয়েই সাসেক্সের হয়ে খেলতে যান ইংলিশ কাউন্টিতে। সেখানে গিয়েই কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন তিনি। লন্ডনেই কাঁধের অপারেশন করা হয়। সেই ইনজুরিতে নয় মাসের বিরতি দিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আবার ফেরেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তবে ওই সিরিজে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এই তারকা। এরপর শ্রীংলঙ্কা এবং আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে কিছুটা ছন্দ ফিরে পান কাটার মাস্টার। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ উইকেট পেয়েছেন এই তারকা।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত। সেমিতে প্রতিপক্ষ ভারত হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাকিয়ে আছে মোস্তাফিজের দিকেই।

সেমির ফাইনালের আগে এক সাক্ষাৎকারে মোস্তাফিজ আগের রূপে ফেরার আশা ব্যক্ত করেছেন। ভারতের বিপক্ষে সেমিতে জ্বলে উঠে দেখাবেন তার কাটার ভেলকি। আর তাই তো ভারতের এখন মাথা ব্যথার কারণও মোস্তাফিজ। কারণ শেষ ২০১৫ সালের সিরিজে মোস্তাফিজের কাটারে জ্বলতে হয়েছিল তাদের। তাই আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) যদি মোস্তাফিজ জ্বলে ওঠেন তবে ভারতকে বাঁচাবে কে?

মোস্তাফিজ নিজেই জানালেন জ্বলে ওঠার কথা। তবে স্বীকার করেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি তিনি। ইংল্যান্ডে পা দেওয়ার পর থেকে অফকাটারে ধার যে কমে গিয়েছে। মোস্তাফিজ বলেন, ‘ঘরের মাঠে আমার অফকাটারগুলো বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। কারণ বাংলাদেশের পিচ, সেখানকার পরিবেশ, ওই ধরনের বল করার পক্ষে উপর্যুক্ত; কিন্তু এখানকার পরিবেশে তেমন কাজ করছে না কাটারগুলো। তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে।’

সাকিব-মোস্তাফিজের অন্যরকম প্রতিশোধ ম্যাচ!

প্রথমবারের মতো আইসিসির মেগা টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মিনি বিশ্বকাপ খ্যাত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগারদের প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ম্যাচটি সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য অন্যরকম প্রতিশোধের! আবার নিজেদের প্রমাণেরও। কীভাবে?

শ্রীলঙ্কা সফর শেষে সরাসরি আইপিএলের দশম আসরে অংশ নিতে ভারত চলে যান সাকিব। আর মোস্তাফিজ খেলতে যান দেশ ঘুরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র নিয়ে। আইপিএলকে এত গুরুত্ব দিয়ে ভারত যাওয়ার পর বলতে গেলে হতাশার একটি টুর্নামেন্ট কেটেছে বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারের। ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একটি করে!

ম্যাচের পর ম্যাচ বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে বসিয়ে রেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এবং বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সুযোগ দেয়নি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অথচ এই দুই ক্রিকেটারের অনন্য অবদানে শিরোপা জিতেছিল দল দুটি।

প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলের নবম আসরে হায়দরাবাদের হয়ে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। কাটার-স্লোয়ার-ইয়র্কারের সংমিশ্রণে দুর্দান্ত বোলিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন।

১৬ ম্যাচে ২৪.৭৬ গড়ে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। আর তাতেই প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হায়দরাবাদ। ওই আসরে সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কারও জেতেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ।

আবার কেকেআর দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেই দুবারই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সাকিব আল হাসান। অথচ সেই সাকিবই এবার কেকেআরে ব্রাত্যই থেকে গেলেন।

ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই দিয়েছেন সাকিব-মোস্তাফিজ। এই ভারতের বিপক্ষেই অভিষেক ঘটে মোস্তাফিজের। প্রথম ম্যাচেই নেন ৬ উইকেট। ওই ম্যাচে একাই তো ভারতকে উড়িয়ে দেন কাটার মাস্টার। পরের ম্যাচেও নেন ৫ উইকেট। ভারতের ত্রাস হয়ে এবারও দেখা দেবেন মোস্তাফিজ; এমনটাই প্রত্যাশা টাইগার ভক্তদের।

এছাড়া ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হয়ে বড় সর্বনাশ হয়েছিল ভারতের। ভারতের সর্বনাশ ডেকে আনা চার ক্রিকেটারের একজন সাকিব। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। দারুণ এক ফিফটি করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার।

উপেক্ষিত হওয়ার জবাব দেয়ার মোক্ষম সুযোগ এখন বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারের সামনে। প্রতিশোধের মিশনে নেমে সাকিব ও মোস্তাফিজ নিজেদের সেরাটাই উজাড় করে দিতে চাইবেন। এই দুই ক্রিকেটারের দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলাদেশ। সাকিব-মোস্তাফিজ আপন মহিমায় জ্বলে উঠতে পারলে ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা সহজ হবে টাইগারদের। দেখা যাক, বাংলাদেশের এই দুই সেরা তারকা কী করেন!

আবারও দেখা যাবে রুবেল-কোহলি দ্বৈরথ!

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের চেয়েও কী তবে এখন বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ বেশি উত্তেজনা ছড়ায়! ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট সম্পর্কে যে নমুন মাত্রা যোগ হয়, সেটা চলমান আজ অবধি এবং জ্যামিতিক হারেই বলা যায় বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট বিরোধ বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে স্নায়ুবিক উত্তেজনা। দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত লড়াইয়ের ময়দানে লড়াই হয় ব্যাক্তিগত পর্যায়েও।

ভারত-বাংলাদেশ লড়াই মানেই যেন এখন অবধারিত দুই দেশের দুই ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত লড়াইও। রুবেল হোসেন এবং বিরাট কোহলি। ভারত অধিনায়কের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস বোলারের দ্বৈরথ সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু ২০০৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় থেকে।

কোহলি তখন ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক। সেই বিশ্বকাপের এক ম্যাচে রুবেলের সঙ্গে কোহলির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এরপর দুজন আবার মুখোমুখি হন ২০১১ বিশ্বকাপে। সেবার অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান বিরাট কোহলি। অপরাজিত ১০০ রান করার পথে রুবেলের বিপক্ষে ১৫ বল খেলে ১৭ রান তোলেন তিনি।

২০১৪ সালের এশিয়া কাপে ফতুল্লায় আবারও মুখোমুখি হন কোহলি-রুবেল। এবারও কোহলির প্রাধান্য। ১২২ বলে ১৩৬ রান করে ভারতকে ৬ উইকেটে জেতানো কোহলি আউট হন রুবেলের বলেই। তবে আউট হওয়ার আগে রুবেলের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হওয়া ১৬ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

তিন তিনবারের এগিয়ে থাকা কোহলিকে ২০১৫ সালে ফিরিয়ে দিয়ে দারুণ প্রতিশোধ তোলেন রুবেল হোসেন। শুধু তাই নয়, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রুবেলের সামনে চরমভাবে অপমানিত হতে হয়েছিল তখনকার ভারতীয় ব্যাটসম্যান, বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। সারাজীবনই এই অপমান মনে রাখতে বাধ্য তিনি। নিঃসন্দেহে সময়ের বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। তার ব্যাটের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে যেকোনো বোলার। অথচ বাংলাদেশের রুবেল হোসেন যেন কোহলির যম।

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে থেকেই দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০০৮ সাল থেকে চলে আসা ব্যক্তিগত দ্বৈরথের রেশ পুরোপুরি পড়ে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই লড়াইয়ে রুবেলের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বিরাট কোহলি। মাঠে নামার পর মাত্র ৮ বল খেলতে পেরেছিলেন। অবশেষে রুবেলের অফ স্ট্যাম্পের ওপর রাখা বলটি কোহলির ব্যাটে চুমু দিয়ে গিয়ে জমা পড়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহীমের হাতে।

তিনি আউট হয়ে গেলেন ৩ রানে। কোহলিকে আউট করার পর বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন রুবেল হোসেন। কোহলির দিকে এমন একটা অঙ্গভঙ্গি করলেন, যেটা সত্যিই ভারতীয় এই ব্যাটসম্যানের জন্য অপমানজনক। ভারতীয় একটি মিডিয়া সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেই লিখেছে, এই অপমান কোনোদিন হয়তো ভুলতে পারবেন না বিরাট কোহলি।

২০১৫ বিশ্বকাপের পরও রুবেল-কোহলি মুখোমুখি হয়েছিলেন। ভারতের বাংলাদেশ সফরের সময়। সেবার ২-১ ব্যবধানে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় পায় বাংলাদেশ। তবে তিনবারের মুখোমুখিতে একবারও কোহলিকে আউট করতে পারেননি রুবেল হোসেন। প্রথমদিন তাসকিন, দ্বিতীয়দিন নাসির হোসেন এবং তৃতীয়দিন কোহলির উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। তবে পুরো সিরিজেই নিষ্প্রভ ছিল কোহলির ব্যাট।

এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি বিরাট কোহলি এবং রুবেল হোসেন। এবার সেই কোহলি ভারত জাতীয় দলের অধিনায়ক। রুবেল হোসেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া দ্বৈরথের হাওয়া কী এবারও লাগবে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে? ‘পাগলামি’ করা রুবেল যদি পাগলামি করে এদিনও কোহলিকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তাহলে সেটা বরং বাংলাদেশেরই বিশাল লাভ।

বাংলাদেশ বিপজ্জনক : কোহলি

সেমিফাইনাল নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বাংলাদেশ জিতলে আপনি বিস্মিত হবেন? ভারতের সাবেক অধিনায়ক ‘নাহ’ শব্দটা দুবার উচ্চারণ করেন। বলেন, ‘বাংলাদেশ জিতলে আমি বিস্মিত হব না। ওরা দারুণ ক্রিকেট খেলছে। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেই সেমিফাইনালে উঠেছে।’

সৌরভ গাঙ্গুলির সুর ধরে ভারতের বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলিও বললেন, বাংলাদেশ দল এখন আর কারও কাছে বিস্ময় নয়। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে টাইগাররা এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।

বাংলাদেশ নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে। তাই বাংলাদেশকে হারিয়ে দেবে ভারত; এমন কথা আর বলছেন না কোহলি। বরং সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নামার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা বাহিনীকে সমীহ করছেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। জানালেন, নিজেদের দিনে বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশ দলকে হালকাভাবে নিতে নারাজ কোহলি, ‘বাংলাদেশ দল এখন আর কারও কাছে বিস্ময় নয়। অনেক উন্নতি করেছে তারা। দেশটির ক্রিকেট ব্যবস্থাপনাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। দলের খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নিয়ে খেলছে। নিজেদের দিনে বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে কারও বিপক্ষে জয় নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত। গত দুই বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছে। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার মানেই নেই।’

বাংলাদেশের সুবর্ণ সুযোগ দেখছেন হাথুরু

সেমিফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত। অনেকেই ম্যাচটাকে দেখছেন বাংলাদেশের প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে। কারও কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ম্যাচ! এর আগে আইসিসির কোনো মেগা টুর্নামেন্টের শেষ চারে উঠতে পারেনি; এবারই যে প্রথম! বড় ম্যাচ কিংবা প্রতিশোধ মানেই তো মাশরাফি বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ।

শিষ্যদের ওপর চাপ তৈরি হোক, এমনটা চান না বাংলাদেশ কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। যে কারণে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিকে বাংলাদেশের জন্য সুবর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখছেন লঙ্কান এই কোচ। আর এই সুযোগটাকে মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকরা দু’হাত ভরে আলিঙ্গন করবেন, এমন প্রত্যাশাই তার।

এজাবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মঙ্গলবার প্র্যাকটিস সেশন শেষে হাথুরু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা বড় কোনো ম্যাচ নয়, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে মুখিয়ে থাকে যেকোনো ক্রিকেটার। এ কারণেই খেলোয়াড়রা এই ধরনের ম্যাচ পছন্দ করে। সিনিয়র কিংবা জুনিয়র; সব ক্রিকেটারের উদ্দেশ্যে আমার বার্তা থাকবে এমন- দু’হাত ভরে সুযোগটা লুফে নাও।’

২০১৫ সালে ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ‘হেয়প্রতিপন্ন’ করেন ভারতীয় সমর্থকরা। মাঠের পারফরম্যান্সে ছিল আম্পায়ারদের প্রভাব। আলিম দার ও ইয়ান গোল্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেঞ্চুরির আগেই যে রোহিত শর্মা আউট হয়ে যেতে পারতেন, আম্পায়ারের বদান্যতায় সেই রোহিতই ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ স্কোরার। খেলেন ১৩৭ রানের ইনিংস।

ম্যাচটিতে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ জিততে পারেনি। হেরে যায় ১০৯ রানে। এবার ম্যাচটিকে তাই অনেকে প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। তবে হাথুরু ম্যাচটিকে প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন না। বরং অন্য যেকোনো ম্যাচের মতোই এটাকে গণ্য করছেন তিনি এবং কোচ চান সে চিন্তা ধারণ করেই এবারের লড়াইয়ে নামবেন টাইগাররা।

ভারতের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হাথুরুসিংহে, ‘প্রতিশোধের কোনো ভাবনা নেই। ভারতের ভালো একটি দলের বিপক্ষে আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। ম্যাচটিতে জিততে পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে বহুগুণে। আমরা জয়ের কথাই ভাবছি। নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দেব।’

ভারতের ব্যাটসম্যানরা দারুণ ফর্মে আছেন। তাদের নিয়ে সতর্ক হাথুরুসিংহে। কোহলি-রোহিতদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ কোচের। ভারতকেই ফেবারিট মানছেন লঙ্কান এই কোচ। বাংলাদেশকে খেলবে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে।

টাইগারদের চাপমুক্ত রাখতে চাইছেন হাথুরু। বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ভারত ফেবারিট। আমার কাছে এখনও তারাই ফেবারিট। আমরা সেমিফাইনালে উঠতে পারব, এটা হয়তো অনেকেরই চিন্তার বাইরে ছিল। ভারত অনেক ভালো দল। যদি আমরা তাদের হারাতে পারি, তা আমাদের জন্য হবে বড় অর্জন।’

মাঠের বাইরেও বাংলাদেশ-ভারত যুদ্ধ

একদিকে বিরেন্দর শেবাগ, অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। গরম করে তুলছেন ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া। সময়ে-অসময়ে বাংলাদেশকে খোঁচা মেরে কথা বলাটা যেন অভ্যাসে পরিণত করেছেন শেবাগ। সেই খোঁচাটা ভারত সেমিফাইনালে ওঠার পরপরই তিনি দিয়ে দিলেন। তাতে যেন বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাঁপিয়ে তোলা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

এখন আর ভারত বনাম বাংলাদেশ মানে নীরব ক্রিকেট দ্বৈরথ নয়। বরং দুই দেশের সমর্থকদের তীব্র রেষারেষি আর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা। ভারতীয় পত্রিকাগুলোর মতে, বাংলাদেশের সমর্থকরা নাকি ইচ্ছা করেই ঝগড়ার আবহ তৈরি করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় তেমনই খেলা হলো, ‘সেমিফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে ভারতের বিরুদ্ধে, এটা জানার পর থেকেই ফেসবুকে বাংলাদেশের সমর্থকরা টিপ্পনী কেটে একটা ঝগড়া করার আবহ তৈরি করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন। ভারত তো খেলবে ১৫ জনে। ১১ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে মাঠের দু’জন আম্পায়ার, থার্ড আম্পায়ার এবং রিজার্ভ আম্পায়ারের কথা বোঝাতে চাইছেন তারা।’

ভারতীয়দের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিল যেন একটি ছবি। সোশ্যাল দুনিয়ায় ইতোমধ্যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে গেছে। কম্পিউটারের কারসাজিতে দেখানো হচ্ছে, বাঘের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা। আর ছোট একটি কুকুরের গায়ে ভারতের পতাকা। বিশাল সেই বাঘটি হালুম করে হামলে পড়তে চাইছে ছোট কুকুরটির ওপর।

বাংলাদেশের সমর্থকরা বোঝানোর চেষ্টা করছে, বাংলাদেশই ফেবারিট। কুকুরের গায়ে ভারতের পতাকা জড়িয়ে দিয়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে বাংলাদেশের সমর্থকরা। ভারতীয়রা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। কলকাতার মিডিয়া থেকে শুরু করে পুরো ভারতেরই বিভিন্ন মিডিয়ায় ছবিটি প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের সমর্থকদের এ অপমান গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে যেন ভারতীয়দের। এটাই না আবার বুমেরাং হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য!

নিঃসন্দেহে ছবিটি বেশ অপমানজনক। খেলায় প্রতিযোগিতা থাকবেই। সুস্থ প্রতিযোগিতা বলেই হয়তো খেলাধুলা মানুষের কাছে বিনোদনের অন্যতম একটা মাধ্যম এবং এত জনপ্রিয়। পরস্পর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যেও। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট লড়াইয়ে কেন যেন ভক্তদের মধ্যে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে গেছে। গত দুই বছরে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটে এই লড়াইয়ের সূচনাটা ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়ে। গ্রেগ চ্যাপেল-রাহুল দ্রাবিড়ের ভারতকে হারিয়ে তাদের শুধু গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে দেয়নি বাংলাদেশ, খুঁচিয়ে তুলল এক নতুন তিক্ততার কাহিনিও। যখন মাশরাফি মর্তুজা ম্যাচ জিতে বলে দিলেন, ‘লিফটের মধ্যে অনিল কুম্বলেদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিল, ধরেই নিয়েছে আমাদের হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে চলে গেছে। সেটা দেখেই সতীর্থদের গিয়ে বলি, এই উপেক্ষার জবাব দিতে হবে বন্ধুরা।’

মাশরাফিরা জবাব দিয়েছিলেন। ভারতকে হারিয়ে তারা শোকস্তব্ধ করে দেন শচিন, সৌরভদের। এরপর থেকে আর কখনও পুরনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ফিরে আসেনি। বরং রেষারেষি আর বাগযুদ্ধ বেড়েছে। চট্টগ্রামে টেস্ট খেলতে গিয়ে বিরেন্দর শেবাগ সোজাসাপ্টা ঘোষণা দিলেন, বাংলাদেশ টেস্টটা কিছুতেই জিতবে না। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন, কেন? শেবাগ বললেন, কারণ খুব সহজ। ওদের ২০টা উইকেট নেয়ার ক্ষমতা নেই।

পরদিন টেস্টের প্রথম দিনই দারুণ বল করল বাংলাদেশ। তুলে নিল ভারতের আট উইকেট। পাল্টা হুঙ্কার ছেড়ে গেলেন মুশফিকুর রহীম। তোপের মুখে পড়লেন শেবাগ। সেই থেকে শুরু হয়ে গেল নতুন এক রেষারেষি এবং কথার যুদ্ধ।

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই ‘মওকা’ ‘মওকা’ বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের তাতিয়ে দিয়েছিল ভারতীয়রা। সেউ উত্তেজনার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ে মাঠেও। রোহিত শর্মার বিরুদ্ধে আউটের আবেদন নাকচ হওয়া নিয়েই গ্যালারিতে ফেটে পড়লেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা। সেই উত্তেজনা বেশ কয়েক দিন চলেছিল।

ধোনির ভারত এর পর বাংলাদেশে গিয়ে একদিনের সিরিজ হারল। সে সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মাঠের মধ্যে উচ্ছ্বল উৎসব ভালো লাগেনি ভারতীয়দের। তাদের কারও কারও মনে হয়েছিল, মাশরাফিদের উৎসবের ভঙ্গি শালীনতা ছাড়িয়েছিল। আবার বাংলাদেশের মিডিয়ায় ফানি ম্যাগাজিনে গোটা ভারতীয় দলের গ্রুপ ছবিতে ধোনি-কোহলিদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছিল। ন্যাড়া করেছিলেন নাকি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ।

এর কয়েক দিন পরই এশিয়া কাপে খেলতে গিয়ে ইন্টারনেট স্লেজিংয়ের মুখে পড়লেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তাসকিন আহমেদের ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সেবার। তাসকিনের হাতে ধোনির কাটা মুণ্ডু। ভারতীয় শিবিরেও সেই খবর ছড়িয়ে পড়ল। ধোনি ফাইনালে তার জবাব দিলেন, পরপর দুই ছক্কা মেরে।

এবার আবার মুখোমুখি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে। ভেন্যু বার্মিংহাম। এবং ইতোমধ্যেই দুটো ব্যাপার নিয়ে খোঁটাখুঁটি শুরু হয়ে গেছে। এবার আবারও সামনে এসে গেলেন শেবাগ।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর টুইটারে অভিনন্দন জানিয়ে শেবাগ লিখেন, ‘সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্য শুভেচ্ছা রইল।’ তার টুইট দেখে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তরা ফের ক্ষিপ্ত। তাদের বক্তব্য, শেবাগ কি তাহলে বাংলাদেশকে পাত্তাই দিচ্ছেন না? আগেভাগেই কোহালিদের ফাইনালে তুলে দিয়েছেন? না হলে ফাইনালেরও শুভেচ্ছা কেন?

বাংলাদেশের সমর্থকদের ক্ষেপে ওঠার আরও একটি কারণ আছে। সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুটো সেমিফাইনাল হচ্ছে কার্ডিফে এবং বার্মিংহ্যামে। শুরুতে কে কোনটাতে খেলবে বোঝা যাচ্ছিল না; কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা দুই জায়গারই প্রচুর টিকিট আগে থেকে কেটে রেখেছিল। বাংলাদেশের সমর্থকরা এ পথে হাঁটেননি। কারণ, তাদের সামনে সেমিফাইনালটা ছিল অনিশ্চিত।

এজবাস্টনে এ কারণে টিকিট পাচ্ছে না বাংলাদেশের সমর্থকরা। গ্যালারিতে তাই বাংলাদেশি সমর্থকের চেয়ে ভারতীয়দের সংখ্যাই থাকবে বেশি। ওদিকে বাংলাদেশি ভক্তরাও টিকিটের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। টাইগাররা এই প্রথম আইসিসির কোনো ইভেন্টে সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সমর্থকরা এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান। কিন্তু টিকিট যে নেই। চলছে হাহাকার।

ফর্মে ফেরা সাকিবের চাই ৩২ রান

ফর্মটা ভালো যাচ্ছিল না তার। আগের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ‘ব্যাটসম্যান’ সাকিব ফর্মে ফিরেছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি দিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ২২৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় জয় (৫ উইকেটে) এনে দিয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
ফর্মে ফেরা সাকিব এবার অনন্য এক মাইলফলকের সামনে। ওয়ানডেতে ৫ হাজার রানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আর মাত্র ৩২ রান করতে পারলেই মাইলফলকটি স্পর্শ করবেন সাকিব।
দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন সাকিব। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল। ১৭২ টি ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশি ড্যাশিং ওপেনারের বর্তমান রান সংখ্যা ৫৬৭৩। এতে ৯টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ৩৭টি হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তামিম।
এখন পর্যন্ত সাকিব আল হাসান খেলেছেন ১৭৬টি ওয়ানডে। ৩৪.৯৮ গড়ে নামের পাশে জমা করেছেন ৪৯৬৮ রান। এতে ৭টি সেঞ্চুরির সঙ্গে রয়েছে ৩৪টি হাফ সেঞ্চুরি। সাকিবের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা ১৩৪*। বল হাতে এই অলরাউন্ডার নিয়েছেন ২২৪ উইকেট।

সেমিফাইনালের চাপ নয়, স্বাভাবিক খেলতে চাই : মাশরাফি

আইসিসির কোনো মেগা আসরে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে গড়াবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়।
ম্যাচটি সামনে রেখে আজ (বুধবার) সংবাদ সম্মলনে কথা বলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন তিনি। প্রতিপক্ষ ভারত বলে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ দল নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে চায়। অন্য ম্যাচের মতো স্বাভাবিক খেলাটাই লক্ষ্য। সেমিফাইনালের চাপ নিতে চান না টাইগার অধিনায়ক।
প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলতে পেরে টাইগাররা রোমাঞ্চিত। এখন লক্ষ্য পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার। মাশরাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে ছেলেরা খুব রোমাঞ্চিত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো আসরের সেমিফাইনালে খেলছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছিলাম। এখানে আসার আগে আয়ারল্যান্ড সফর থেকেই। আমরা এখন সেমিতে আছি। আমরা যদি অন্য একটি ম্যাচ হিসেবে খেলতে পারি; অন্যথায় সেমিফাইনাল।’
সেমিফাইনালে লক্ষ্য নিয়ে মাশরাফির ভাষ্য, ‘প্রত্যেকটি ম্যাচই আমরা জয়ের জন্য খেলেছি। এই ম্যাচের উচ্চতা অনেক বড়। এটা খুবই স্বাভাবিক। লক্ষ্য থাকবে ভালো খেলেই ম্যাচটা জেতার। সেমিফাইনালের চাপ নয়, স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চাই।’

পাহাড় ধসে মৃত্যুতে মাশরাফির শোক

ক্রীড়া ডেস্ক:

দেশের পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় দেশবাসীর মতো নাড়া দিয়েছে ইংল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকেও।পাহাড় ধসে ব্যাপক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় সোমবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৩ এ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে চারজন সেনা সদস্য রয়েছেন। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন জায়গায় এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাহাড় ধসে মৃত্যতে শোক প্রকাশ করে মাশরাফি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানান, ‘পাহাড় কাটা আর অপরিকল্পিত বসত বাড়ির কারণে প্রায় প্রতিবছরই এই সময়টাতে পাহাড় ধসের কারণে হতাহতের খবর শুনতে হয়। ভূমি ধসে নিহত সবার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

সেনাবাহিনীর সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মাশরাফি লিখেন, ‘উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সেনাবাহিনীর বীর সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। দেশের জন্য জীবন দিতে সবাই পারে না, কিন্তু আপনারা পেরেছেন।’

প্রসঙ্গত, প্রথম বারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগামীকাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে টিম বাংলাদেশ। এজন্য মাশরাফিরা এখন ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

এদিকে সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন টাইগার সমর্থকরা।

বিকেলে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-পাকিস্তান

ক্রিকেট

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি
প্রথম সেমিফাইনাল
ইংল্যান্ড-পাকিস্তান
সরাসরি, বিকাল ৩.৩০ মি.
মাছরাঙা টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আফগানিস্তান
তৃতীয় ওয়ানডে
সরাসরি, রাত ২.৩০ মি.
টেন ৩

 

বৃষ্টিতে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ না হলে ফলাফল যা হবে

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরু থেকেই প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই হানা দিচ্ছে বৃষ্টি। আর বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ পরিত্যক্তও হয়ে যায়। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে আজ (বুধবার) থেকে শুরু হচ্ছে শেষ চারের লড়াই। যেখানে প্রথম ম্যাচে আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।

 

তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন হিসেব চলছে যদি বৃষ্টিতে সেমিফাইনালের ম্যাচ দুটি পরিত্যক্ত হয়, তাহলে ফলাফল কি হবে? টুর্নামেন্টের প্লেয়িং কন্ডিশন বলছে, বৃষ্টির কারণে সেমিফাইনাল পরিত্যক্ত হলে ফাইনালে উঠবে গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট তালিকায় ওপরে থাকা দলটি। নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যে কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ভারত ও ইংল্যান্ড। সে হিসেবে বাদ পড়ে যাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। আর খেলা টাই হলে অবশ্য ম্যাচ নিষ্পত্তি হবে সুপার ওভারে।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর হলো ইংল্যান্ডের আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা কম।

ইংল্যান্ডের সামনে ‘আনপ্রেডিকটেবল’ পাকিস্তান

গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। আর প্রথম সেমিফাইনালে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ‘আনপ্রেডিকটেবল’ খ্যাত পাকিস্তান। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩.৩০ মিনিটে। আর ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সবার আগেই সেমির টিকিট নিশ্চিত করে ইংলিশরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের দেওয়া ৩০৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৬ বল বাকি রেখেই ৮ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১০ রান করে জয় পায় ৮৭ রানের ব্যবধানে। আর শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও ডি/এল ম্যাথুডে ৪০ রানের জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

 

এদিকে বি গ্রুপে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ডি/এল ম্যাথুডে ১৯ রানে হারিয়ে টিকিয়ে রাখে শেষ চারের স্বপ্ন। আর শেষ ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সেমি নিশ্চিত করেছে সরফরাজের পাকিস্তান।

এদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি কার্ডিফে বলে আরও একটু আশাবাদী পাকিস্তান অধিনায়ক। গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ মাঠেই ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সরফরাজ আহমেদ ৯০ রানের অসাধারণ এক ইনিংসের উপর ভর করে স্বাগতিকদের দেওয়া ৩০৩ রানের বিপক্ষে জয় পায় পাকিস্তান। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ মাঠেই ২৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৩৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। তবে আবারও ছয় নম্বরে নেমে অপরাজিত ৬১ রান করে দলকে ৩ উইকেটে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানের অধিনায়ক। তাই ‘পয়া’ ভেন্যুতে পাকিস্তানের সমর্থকেরা স্বপ্নের জাল বুনতেই পারেন।

ইংল্যান্ড সম্ভাব্য একাদশ
ইয়ন মরগ্যান (অধিনায়ক), মঈন আলী, জনি বেয়ারস্টো, জ্যাক বল, জস বাটলার, অ্যালেক্স হেলস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, আদিল রশিদ, জো রুট, বেন স্টোকস, মার্ক উড।

পাকিস্তান সম্ভাব্য একাদশ
আজহার আলী, ফখার জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান/ ফাহিম আশরাফ, হাসান আলী, জুনাইদ খান।

ডি ভিলিয়ার্সকে টপকে শীর্ষে কোহলি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চলতি আসরে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন কোহলি। পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৮১ রানের পর আফ্রিকার বিপক্ষে করেন অপরাজিত ৭৬ রান। আর এ দুই ইনিংসের উপর ভর করে ডি ভিলিয়ার্স-ওয়ার্নারকে টপকে ওয়ানডে র্যাং কিংয়ের শীর্ষে উঠে গেছেন কোহলি।

ভিলিয়ার্সের চেয়ে ২২ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে এই টুর্নামেন্ট খেলতে নেমেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি। আর অসি তারকা ডেভিড ওয়ার্নার থেকে কোহলির দূরত্ব ছিল ১৯ পয়েন্ট। কিন্তু মাঠের দুর্দান্ত পারফরমেন্স দিয়েই এ দুইজনকে ক্রমাগত খারাপ খেলেন ভিলিয়ার্স এবং ওয়ার্নারকে টপকে গেলেন কোহলি। ৮৬২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে আছেন কোহলি। ৮৬১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানেই আছেন ওয়ার্নার। আর ৮৪৭ পয়েন্টে তিনে নেমে গেছেন ডি ভিলিয়ার্স।

 

এদিকে র্যাং কিংয়ের উন্নতি হয়েছে টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। ১৯ নম্বর অবস্থান থেকে দুই ধাপ এগিয়ে ১৭ নম্বরে অবস্থান করছেন ওপেনার তামিম। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুন সেঞ্চুরির সুবাদে এক ধাপ এগিয়েছেন সাকিবও। ৩০ নম্বর অবস্থানে আছেন তিনি। এছাড়া মুশফিকুর রহীম ২১, সৌম্য সরকার ৪০, সাব্বির রহমান ৬৩ ও ইমরুল কায়েস ৮০ নম্বরে অবস্থান করছেন।

প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না হাথুরু

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত। আর এ ম্যাচকে টাইগার সমর্থকরা প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে দেখলেও টাইগার কোচ হাথুরুসিংহে দেখেছেন খুব বড় সুযোগ হিসেবে।

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিংয়ে ভারতের কাছে হারের পর ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই প্রায় যুদ্ধাবস্থা। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র ১ রানে ভারতের জয় এ উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও। এবার সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সেই হারের প্রতিশোধের সুযোগ।

 

তবে টাইগার কোচ হাথুরুসিংহে এটাকে প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে নয়, দেখছেন খুব বড় সুযোগ হিসেবে। এ নিয়ে হাথুরু বলেন, ‘প্রতিশোধ ধরনের কোনো অনুভুতি আমাদের নেই। এটা একটা বড় সুযোগ। এই ধরনের সুযোগ পাওয়ার জন্য, কাজে লাগানোর জন্যই খেলোয়াড়রা খেলে, অপেক্ষায় থাকে।’

এদিকে আইসিসির কোন ইভেন্টের প্রথমবারের মত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। হাতছানি আছে ফাইনালেরও। এ নিয়ে দলের সবাই নার্ভাস কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে টাইগার কোচ জানান, ‘আমার মনে হয় না আমরা নার্ভাস। প্রথম সেমি-ফাইনাল খেলছি, এই অনুভূতিটা উপভোগ করছি আমরা। ক্রিকেটার, কোচ সবার জন্যই নিজেদের ফুটিয়ে তোলার দারুণ সুযোগ এটি।’

‘বাংলাদেশের পেসাররাই সবার সেরা

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত পরা শক্তিদের হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয় টাইগাররা। আর এর পেছনে বড় অবদান রয়েছে চার পেসারের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেও বড় অবদান ছিল এই চার পেসারের। এবার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেই চার পেসারকেই সবার সেরা বলে উল্লেখ করছেন টাইগার কোচ।

সংবাদ সম্মেলনে হাথুরু বলেন, ‘আমাদের পেস আক্রমণ বৈচিত্রময়। চার পেসারের দিকে তাকালে দেখবেন, সবারই স্কিল আলাদা, শক্তির জায়গা ভিন্ন। আমি সবসময়ই বলি, আমার দলের বোলাররা সবার সেরা।’

 

এদিকে প্রথমবারের মত সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে চার পেসার নিয়েই মাঠে নামবে এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে ভারতের পেস আক্রমণ এখন দারুণ। ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রিত বুমরাহ, উমেশ যাদবরা আছেন দারুণ ফর্মে। তাই ধরেই নেওয়া যায় সেমিফাইনাল হবে দুই পেস আক্রমণের লড়াই।

যদিও দুই দলের বোলারদের তুলনাতে যেতে চান না হাথুরুসিংহে। তবে নিজ দলের পেস আক্রমণ নিয়ে গর্বের শেষ নেই তার। এ নিয়ে টাইগার কোচ বলেন,  ‘আমি এটা বলতে চাচ্ছি না যে আমাদের বোলিং তাদের চেয়ে ভালো। বোলিং আক্রমণও দারুণ। বিশেষ করে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে। তবে যেটা বললাম, আমাদের পেস আক্রমণ বৈচিত্রময়।’

টস জিতে বোলিংয়ে পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড আর পাকিস্তান। আর এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩.৩০ মিনিটে। আর ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সবার আগেই সেমির টিকিট নিশ্চিত করে ইংলিশরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের দেওয়া ৩০৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৬ বল বাকি রেখেই ৮ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১০ রান করে জয় পায় ৮৭ রানের ব্যবধানে। আর শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও ডি/এল ম্যাথুডে ৪০ রানের জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। তবে গ্রুপ পর্বে রান না পাওয়া রয়ের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন বেয়ারস্টো।

এদিকে বি গ্রুপে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ডি/এল ম্যাথুডে ১৯ রানে হারিয়ে টিকিয়ে রাখে শেষ চারের স্বপ্ন। আর শেষ ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সেমি নিশ্চিত করেছে সরফরাজের পাকিস্তান।

তবে সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পাকিস্তান শিবিরে বড় ধাক্কা হল ইনজুরিতে দলে নেন মোহাম্মদ আমির। তার পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন রুম্মন রেইস। আর ফাহিম আশরাফের পরিবর্তে এসেছেন শাদাব খান।

ইংল্যান্ড একাদশ: ইয়ন মরগ্যান (অধিনায়ক), মঈন আলী, জনি বেয়ারস্টো, জ্যাক বল, জস বাটলার, অ্যালেক্স হেলস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, আদিল রশিদ, জো রুট, বেন স্টোকস, মার্ক উড।

পাকিস্তান একাদশ: আজহার আলী, ফখার জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ইমাদ ওয়াসিম, রুম্মন রইস, শাদাব খান, হাসান আলী, জুনাইদ খান।

আমিরকে ছাড়াই সেমির লড়াইয়ে পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান দলকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বোলার অবদান অনেক বেশি। বল হাতে প্রতিপক্ষ শিবিরের রানের চাকা আটকে রাখতে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন পাকিস্তান বোলাররা। আর এ ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। তবে ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ম্যাচে নেই বাঁহাতি এই পেসার।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার এ দিয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন আমির। ৯ ওভার বল করে উইকেট না পেলেও রান দেন মাত্র ৩২।

দ্বিতীয় ম্যাচেও ছিলেন উইকেট শূন্য। দেন ৫০ রান। আর শেষ ম্যাচে নিজেকে ফিরে পান এই তারকা। ৫৩ রান দিয়ে ২ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেন গুরুত্বপূর্ণ ২৮ রান।

 

শেষ কয়েক বছরের পারফরমেন্সে পাকিস্তানের মূল বোলার আমির। এখন দেখার বিষয় সেমিফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমিরকে ছাড়া কি করতে পারে পাকিস্তান?

ইংল্যান্ড একাদশ: 
ইয়ন মরগ্যান (অধিনায়ক), মঈন আলী, জনি বেয়ারস্টো, জ্যাক বল, জস বাটলার, অ্যালেক্স হেলস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, আদিল রশিদ, জো রুট, বেন স্টোকস, মার্ক উড।

পাকিস্তান একাদশ: 
আজহার আলী, ফখার জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ইমাদ ওয়াসিম, রুম্মন রইস, শাদাব খান, হাসান আলী, জুনাইদ খান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অর্থ বেড়েছে বাংলাদেশের

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠেই প্রচুর অর্থ পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অষ্টম আসরকে সামনে রেখে আগেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পুরস্কারের মোট অর্থের পরিমাণ বাড়িয়েছিলো ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। গত আসরের থেকে এবারের আসরে মোট পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার। সেই হিসেবে বাংলাদেশ পাবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পুরস্কার পর্বের জন্য মোট ৩৬ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করেছে আইসিসি। অর্থপ্রাপ্তির সুবিধা বেড়েছে চ্যাম্পিয়ন দল থেকে শুরু করে গ্রুপ পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোরও।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয় করা দল পাবে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। আর রানার-আপ দলের মিলবে তাঁর অর্ধেক অর্থাৎ, প্রায় ৯ কোটি টাকা। তাছাড়া সেমি ফাইনালের বাধায় থেকে যাওয়া দুই সেমিফাইনালিস্ট দলের প্রত্যকে পাবে প্রায় ৩কোটি ৬০ লাখ টাকা($৪৫০,০০০ ডলার)। আর গ্রুপ পর্বের তৃতীয় দলটির ভাগ্যে মিলবে প্রায় ৭২ লাখ টাকা ($৯০,০০০ ডলার) যেখানে গ্রুপ পর্বের তলানিতে থাকা দলটি পাবে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ($৬০,০০০)।

বাজে ফিল্ডিংকেই দুষলেন ম্যাথুস

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৩ উইকেটের এই হারে অনেক কারণই আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে লঙ্কানদের বাজে ফিল্ডিং। এই ফিল্ডিং বাজে না হলে হয়তো ফলটাই ভিন্ন হতে পারতো। হারের পেছনে এই কারণকেই দায়ী করলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ‘আজকের পারফরম্যান্স ছিল বেদনাদায়ক। যেসব ক্যাচ মিস করেছি তা ধরতে পারলে আজকের ম্যাচের গল্পটা ভিন্ন হতো।’

ম্যাচের তিনটি ক্যাচই ধরতে পারতো শ্রীলঙ্কা। মিড অনে সরফরাজ আহমেদের ক্যাচ ড্রপ করেছেন থিসারা। তখন সরফরাজ ব্যাট করছিলেন ৩৮ রানে। আর এই ক্যাচ মিসই ভুগিয়েছে লঙ্কানদের। শেষ পর্যন্ত ৬১ রানে অপরাজিত থেকে মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় পাইয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তাই এমন পারফরম্যান্সে হতাশা ঝরেছে লঙ্কান অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘ছেলেরা কিন্তু অনেক পরিশ্রম করেছে। আজকে আমরা তিনটি ক্যাচ মিস করেছি। তারপরেও আমাদের ফিল্ডিংয়ে অনেক প্রচেষ্টা ছিল। ছেলেরা অনেক শক্তি ঢেলেই শেষ পর্যন্ত পারফর্ম করেছে।’

শ্রীলঙ্কার হয়ে অনেক সুযোগ তৈরি করেছেন পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। কিন্তু ক্যাচ মিসের মহড়ায় সেই সুযোগগুলো লুফে নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আর এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন লঙ্কান অধিনায়ক, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের অনেক বড় একজন সেবক তিনি। আজকে তার অসাধারণ নৈপুণ্য ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমরা আজকে অনেক ক্যাচ মিস করেছি।’

যেই লক্ষ্য ছিল তা থেকে ৩০-৪০ রান কম ছিল বলেই মনে করেন ম্যাথুস, ‘আমরা আসলে ৩০ থেকে ৪০ রান কম করেছি। এছাড়া ফিল্ডিংটা দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ডুবিয়েছে।’

সেমিতে ভারতকে পেয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তানকে ইংল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ভারত। নেট রান রেটে তারা বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ধরা হয়েছিল। অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদেরই ধরা হচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এ লড়াই চূড়ান্ত করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও একদিন। সোমবার পাকিস্তান ৩ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর নিশ্চিত হয় সেমিফাইনাল সূচি।

ভারতের সঙ্গে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। গ্রুপটির চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারত ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ বাংলাদেশকে খেলবে। আগামী ১৫ জুন বৃহস্পতিবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে বিকাল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।

আগের দিন বুধবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সের মাঠে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে মোকাবিলা করবে পাকিস্তান। এক ম্যাচ হাতে রেখেই ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল ইংলিশরা।

প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ চারের টিকিট পেল পাকিস্তান। অর্থাৎ এশিয়া থেকে অন্তত একটি দল ফাইনালে যাচ্ছে। এমনকি হতে পারে অলএশিয়া ফাইনাল। ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচ থেকে তো এক দল যাচ্ছেই। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান জিতে গেলে ফাইনাল হবে এশিয়ানদের। উপমহাদেশের বাইরের কন্ডিশনে এশিয়ার তিন দলের সেমিফাইনাল তাই বড় বিষয়।

সেরা হিসেবেই পাকিস্তান জিতেছে

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার এই দল দুটির দলগত শক্তি ও খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার আলোকে কাউকেই খুব বেশি এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখাটা কঠিন ছিল। তবে আমার কাছে পাকিস্তানের পেস বোলিং বিভাগকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরাদের একটি মনে হয়েছে। তরুণ হাসান আলী যথেষ্ট চমক জাগানিয়া, সাথে বাঁহাতি আমির ও জুনায়েদ খান ছিলেন যথেষ্ট কার্যকর।

কাল শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুতে এবং মাঝপথে পাকিস্তানের পেসারদের ধারালো বোলিংয়ের কাছেই শ্রীলঙ্কার সব স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা দলকে আলোর পথ দেখাতে ব্যর্থ হন।

একমাত্র দিনেশ চান্দিমাল ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস বাদে তাদের দলের ব্যাটিং অভিজ্ঞতার অনেক ঘাটতি আছে। সেখানে অনেক তরুণ ব্যাটসম্যানই তাদের প্রতিভা দেখিয়েছেন ভারতের সঙ্গে। সেই দিনের পিচটি ছিল অসাধারণ ব্যাটিং সহায়ক। তবে কালকের পিচটি ছিল ভিন্ন, ব্যাটে বল সাবলীলভাবে প্রায়শই আসেনি, বিচ্ছিন্ন কিছু বল বাড়তি বাউন্স ও অব দ্য উইকেট যুক্ত করেছে। তা বোলারদের উদ্দীপ্ত করেছে এবং ব্যাটসম্যানরা এমন অবস্থায় পিচে এসেই রান তুলতে বা স্ট্রাইক রোটেড করতে পারে না।

শ্রীলঙ্কার দিকবিলা যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান তবে তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর তার উচিত ছিল ইনিংসের শেষ পর্যন্ত একপ্রান্ত আগলে খেলে যাওয়া। তাহলে দলীয় রান ২৬০-এর আশে পাশে পৌঁছে যেত।

শ্রীলঙ্কার ১০টি উইকেট ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাঝে পাকিস্তানের বোলাররা তাদের বোলিংয়ে ধার দেখিয়েছে। ম্যাচের বিভিন্ন সময় এসে দুই প্রান্ত থেকে ব্রেক থ্রু দিতে পারার সক্ষমতা অর্জন সব সময়ই প্রতিপক্ষকে চাপের মাঝে রাখে। তাদের এই বার্তা ইংল্যান্ড শিবিরও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে আজ পর্যবেক্ষণ করেছে বলে আমার বিশ্বাস।

শ্রীলঙ্কার করা ২৩৬ রান তাড়া করতে গিয়ে আহমেদ শেহজাদের জায়গায় এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ পেয়ে সবার নজর কারলেন ফকর জামান। দারুণ সাহসী, চমৎকার স্ট্রোকস খেলে প্রতিপক্ষ বোলারদের ছন্দকে এবং পাওয়ার প্লে থেকে ফায়দা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সফল ছিলেন তিনি। দারুণ একটা সূচনা করেছেন এই ম্যাচে, পরবর্তীতে মো. হাফিজ ও শোয়েব মালিকদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা তাড়াহুড়ো করে ব্যাট চালাতে গিয়ে সহজ এই ম্যাচটিকে জটিল করে ফেলেন । তাতে বাবর আজম ও আজহার আলীও সামিল হন। কাল আগ্রহ ছিল ফাহিম আশরাফের ব্যাটিং দেখার, যিনি অনুশীলন ম্যাচে শেষে ব্যাট করে আমাদের হারিয়েছিলেন। এই ম্যাচে বোলারের আঙুলে লেগে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে তিনি যেভাবে রান আউট হলেন, ভেবেছিলাম এই ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টিকটূ অংশটুকু বোধহয় দেখা হয়ে গেল। কিন্তু না, পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট জুটিতে দলনায়ক সরফরাজের ক্যাচটি থিসারা পেরেরা যেভাবে ফেলে দিলেন তা দেখে আমার লাসিথ মালিঙ্গার জন্য কষ্ট হচ্ছিল। তিনি একাধিক আউটের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পরেও সতীর্থদের সহযোগিতার অভাবে দলকে জেতাতে পারলেন না।

গত কালকের ম্যাচে সেরা পারফরমার হিসেবেই পাকিস্তান জিতেছে। ম্যাচ শেষে দলনায়ক সরফরাজ ম্যান অব দ্য ম্যাচ বিবেচিত হলেও আমার কাছে মনে হয়েছে মোহাম্মদ আমির তার ব্যাটিংয়ে যথেষ্ট অবিচল ও আস্থাশীল ছিলেন। বল ও ব্যাট হাতে তার নৈপুণ্যই আমার সেরা মনে হয়েছে।

কালকের এই ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমেই সেমিফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হয়ে গেলো। ৪ দলের এই তালিকয় টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ভারত ও ইংল্যান্ডের নাম উচ্চারিত হয়েছে। সম্ভাব্য অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হটিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান জায়গা নেওয়ার মাধ্যমে এশিয়ানদের আইসিসি দরবারে কর্তৃত্ব নিয়ে কথা বলার একটা মঞ্চ তৈরি হলো।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই কারণ দেখিয়ে ইংল্যান্ড আমাদের বহুবছর হয়ে গেল তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানায়নি। সেই দেশের ভেন্যুতে তাদের চোখের সামনে পারফরম করে সেমিতে পৌঁছে তার দারুণ একটা জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের দেশের ধারাভাষ্যকারের মুখে ‘মাইটি’ বাংলাদেশ শুনে অনেক আনন্দ পেয়েছি।

সরফরাজের ব্যাটে সেমিফাইনালে পাকিস্তান

ম্যাচটা গ্রুপ পর্বের শেষ। কিন্তু ছোঁয়া দিয়ে গেল কোয়ার্টার ফাইনালের। টানটান উত্তেজনায় রূপ দিয়ে যে ম্যাচটা জিতে নিল পাকিস্তান। হাস্যকর কিছু মিসফিল্ডিং ও ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার মাশুল গুনতে হলো শ্রীলঙ্কাকে। জয়ের আশা জাগিয়েও তারা হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পাকিস্তান জিতেছে ৩ উইকেটে। জয়ের নায়ক তাদের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, আর পার্শ্ব নায়ক মোহাম্মদ আমির।

আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায়। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগের ম্যাচে হারানো পাকিস্তানের জন্য ২৩৭ রান করা কী এমন কঠিন! আজহার আলী ও ফখর জামান ব্যাট করতে নামার আগেই সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। পাকিস্তান সফল হয়েছে, কিন্তু ভক্তদের উত্তেজনায় রেখে।

লক্ষ্যে নেমে ১১ ওভার শেষে সহজ জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। ফখরের হাফসেঞ্চুরিতে বিনা উইকেটে ৭৪ রান ছিল তাদের স্কোরবোর্ডে। পরের ওভারে নুয়ান প্রদীপের বলে আসেলা গুনারত্নের শিকার হলেন ফখর, ৩৬ বলে থামে তার ৫০ রানের ইনিংস।

এর পর বাবর আজম (১০), মোহাম্মদ হাফিজ (১) ও আজহার আলীর (৩৪) মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেননি। ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় লঙ্কানরা। একে একে ইমাদ ওয়াসিম ও ফাহিম আশরাফের উইকেটটিও তুলে নেয় তারা। ১৬২ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। জয়-পরাজয়ের পেন্ডুলাম দুলতে থাকে দুই দলের দিকেই।

অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ এর পর দাঁড়িয়ে যান। শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে দুইবার জীবন উপহার পাওয়ার উপযুক্ত সদ্ব্যবহার করেন তিনি। ৩৯ রানে একবার সহজ জীবন পান পাকিস্তানের এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।৩৯তম ওভারে লাসিথ মালিঙ্গার বল মিড অনে বুক সমান উঁচুতে এলেও সহজ ক্যাচ ছাড়েন থিসারা পেরেরা। যেন ম্যাচটাও হাতছাড়া হলো। মালিঙ্গার পরের ওভারে আবারও জীবন পান সরফরাজ, এবার ৪০ রানে বল হাত ফসকে যায় সেক্কুগে প্রসন্নর।

দুইবার জীবন পাওয়া সরফরাজকে আর ভাবতে হয়নি। তার হাফসেঞ্চুরিতে ৩১ বল বাকি থাকতে শ্রীলঙ্কাকে হতাশ করে জয় পায় পাকিস্তান। অধিনায়কের সঙ্গে আমিরের অবদান অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। অষ্টম উইকেটে একপ্রান্ত দারুণভাবে আগলে রেখেছিলেন তিনি। অন্য প্রান্তে লঙ্কানদের মিসফিল্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছেন সরফরাজ। আমিরের সঙ্গে তার জুটিটি ৭৫ রানের অপরাজিত। ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে সরফরাজের ব্যাটে আসে জয়সূচক বাউন্ডারি। ৭৯ বলে ৫ চারে ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪৩ বলে ২৮ রানে খেলছিলেন আমির।

এর আগেশুরুতে বড় স্কোরের আভাস জাগানোর পর মাঝপথে গিয়ে নড়বড়ে শ্রীলঙ্কার আত্মবিশ্বাস, ভেঙে যায় ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক ম্যাথুজ ক্রিজ ছাড়া হওয়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ বল বাকি থাকতে ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা।

সোমবার টস জিতে ফিল্ডিং নেয় পাকিস্তান। তাদের শুরুটা ভালো ছিল বলা যায়। ২৬ রানে দানুশকা গুনাতিলাকাকে (১৩) আউট করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জুনাইদ খান। কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে নিরোশান ডিকবেলার প্রতিরোধ খানিকটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় পাকিস্তানি বোলারদের। তবে টানা দুই ওভারে ১ রানের ব্যবধানে দুটি উইকেট নিয়ে আবার ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। ৮৩ রানে ৩ উইকেট হারানো লঙ্কানরা ম্যাথুজ ও ডিকবেলার ব্যাটে দ্বিতীয় দফায় প্রতিরোধ গড়েন।

হাফসেঞ্চুরি থেকে খুব বেশি দূরে ছিলেন না ম্যাথুজ। কিন্তু ৩৯ রানে মোহাম্মদ আমিরের কাছে বোল্ড হন অধিনায়ক। এখানেই বড় ব্রেকথ্রু আনে পাকিস্তান। আমির ও জুনাইদের জোড়া আঘাতে ৬ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ডিকবেলা ইনিংস সেরা ৭৩ রানে আমিরের দ্বিতীয় শিকার।

২ ও ১৭ রানে দুইবার জীবন পাওয়ার সদ্ব্যবহার করতে পারেননি আসেলা গুনারত্নে। ২৭ রানে হাসান আলীর শিকার তিনি।

জুনাইদ ও হাসান সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি করে পান আমির ও নতুন মুখ ফাহিম আশরাফ।

সৌম্য-সাব্বিরের পাশে মাশরাফি

সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান রুম্মন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের পরীক্ষিত দুই ব্যাটসম্যান। তাদের ব্যাট হাসলে বাংলাদেশের জয়ের কাজটা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের ব্যাট কেন যেন হাসছে না কোনোভাবেই।
২৪, ৮ ও ৮। টুর্নামেন্টের গ্রুপর্বের তিন ম্যাচে সাব্বিরের ব্যাটিং পরিসংখ্যান। আর সৌম্য সরকারের তিন ম্যাচের রান সংখ্যা যথাক্রমে ২৮, ৩ ও ৩। এই পরিসংখ্যান নিশ্চিয়ই তাদের নামের পাশে বড্ড বেমানানই।
আগামী ১৫ জুন সেমিফাইনালের লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে তরুণদের ব্যাট হাসবে। এমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা সাব্বির-সৌম্যর পাশে দাঁড়ালেন নড়াইল এক্সপ্রেস।
মাশরাফি জানালেন, ইংল্যান্ডের উইকেটের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে তরুণদের। তবে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে ভালো করবেন সৌম্য-সাব্বিররা। এবার ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে হয়তো পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি তরুণ ক্রিকেটাররা।
সাব্বির-সৌম্যকে নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টটা আসলে তরুণদের জন্য শিক্ষণীয়। তাদের কাছে নতুন কন্ডিশন। আমি চাইব, তারা যেন খেলা উপভোগ করে এবং যতদূর সম্ভব শিখে নেয়। দুই বছর পর বিশ্বকাপের আসরে এই কন্ডিশনেই তারা খেলবে। এবারের আসরটি তাদের প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।’

সেমির টিকিট পাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা!

দলকে উজ্জীবিত করে তুলতে মাঠে সরব উপস্থিতি থাকে সমর্থকদের। ভারতীয়রা এক্ষেত্রে একটু বেশিই এগিয়ে! দল সেমিফাইনালে উঠতে পারবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগেই সেমিফাইনালের সব টিকিট কিনে নিয়েছে ভারতীয় সমর্থকরা!
ভারতীয় সমর্থকরা ঝুঁকি নিতে চাননি! কার বিপক্ষে খেলবেন কোহলি-যুবরাজরা? এটা নিশ্চিত হওয়ার আগেই দুটি সেমিফাইনালের টিকিট দখলে নিয়েছে তারা। ভারতীয়দের দাপটে সেমির টিকিট পাচ্ছেন না বাংলাদেশের সমর্থকরা!
আয়োজক ইংল্যান্ড এখন ভীষণ বিপাকে। ভারতীয় সমর্থকদের কাছে তাদের মিনতি, ক্রয়কৃত টিকিট নতুন করে যেন বিক্রি করে দেন। আর সেই টিকিট কিনতে পারবেন বাকি তিন সেমিফাইনালিস্ট দলের সমর্থকরা!
আইসিসির এক মুখপাত্র মিররকে জানান, ‘সেমিফাইনালের দল নিশ্চিত হওয়ার আগেই শেষ চারের দুটি ম্যাচে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ভারতীয় সমর্থকরা কার্ডিফের ৩৭ শতাংশ ও এজবাস্টনের ৩৮ শতাংশ টিকিট কিনে নিয়েছেন। অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন করে টিকিট বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। যার যে টিকিট প্রয়োজন হবে না, সেটি তারা বিক্রি করে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

পাকিস্তানকে ২৩৭ রানের লক্ষ্য দিল শ্রীলঙ্কা

জিতলে সেমিফাইনালের খেলা নিশ্চিত। আর হারলেই বিদায়। এমনই এক বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ কার্ডিফে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান তুলেছে লঙ্কানরা। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ছুড়ে দিয়েছে ২৩৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। দলীয় ২৬ রানেই ধাক্কা খায় লঙ্কানরা। জুনায়েদ খানের শিকার হয়ে সবার আগে সাজঘরে ফেরেন গুনাথিলাকা (১৩)। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কুশল মেন্ডিসকে (২৭) বোল্ড করেন হাসান আলি।
দিনেশ চান্দিমালকে রানের খাতাই খুলতে দেননি ফাহিম আশরাফ। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজকে থামান মোহাম্মদ আমির। আমিরের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড ম্যাথিউজ। বিদায়ের আগে ৫৪ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৯ রান করেন লঙ্কান অধিনায়ক।
এরপর ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান জুনায়েদ খান। ১ রান করতেই জুনায়েদের বলে সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ধনঞ্জয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান নিরোশান ডিকভেলা। লঙ্কান এই ওপেনারকে ৭৩ রানে থামান আমির। ২৭ রান আসে আসেলা গুনারত্নের ব্যাট থেকে।
পাকিস্তানের সেরা বোলার জুনায়েদ খান। ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। সমসংখ্যক উইকেট নিয়েছেন হাসান আলিও। মোহাম্মদ আমির ও ফাহিম আশরাফ পকেটে পুরেছেন দুটি করে উইকেট।

বাংলাদেশকে পাত্তাই দিলেন না শেবাগ!

বাংলাদেশকে নিয়ে প্রায়ই খোঁচা দিয়ে থাকেন বীরেন্দর শেবাগ। এখন তো অভ্যাসেই পরিণত করে ফেলেছেন! নিজেকে আলোচনায় রাখতেই হয়তো টাইগারদের নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য বাড়িয়ে দিয়েছেন শেবাগ।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে প্রস্ততি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। ৮৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় সাকিব আল হাসানের দল। ওই সময় ভারতীয় চ্যানেল স্টার স্পোর্টসে হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন শেবাগ।
বাংলাদেশকে তখন খোঁচাতে ভুল করেননি শেবাগ। বলেন, ‘ছেলের (পাকিস্তান) বিপক্ষে খেলার আগে নাতির (বাংলাদেশ) বিপক্ষে খেলছে ভারত।’ এরপর ৪ জুন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছিল ভারতের। শেবাগের সেই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঝড় ওঠে।
এবার তো শেবাগের আঘাত আরও মারাত্মক। বাংলাদেশকে পাত্তাই দিলেন না ভারতের পক্ষে দুটি ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক। সেমিফাইনালের ভারতের বিপক্ষে খেলবে মাশরাফির দল। তার আগে টুইটারে ভারতকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানালেন তিনি।
আগামী ১৫ জুন বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচের ফল হলো না। তার আগেই শেবাগ কিনা ফাইনালের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখলেন! বিতর্ক ছড়িয়ে আলোচনায় থাকতেই বড় ভালোবাসেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছে ভারত। বিরাট কোহলিদের এমন জয়ে দারুণ খুশি বীরু। পাশাপাশি বাংলাদেশকে খোঁচা দিয়ে নিজের টুইটার পেজে বীরেন্দর শেবাগের মন্তব্য, ‘কী দারুণ জয় ভারতের। অসাধারণ পারফরম্যান্স। ভারতীয় দলকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য শুভকামনা রইল।’

‘শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ কেন নয়!’

একবার গেটের বাইরে যান, আবার ঢোকেন। ইতি-উতি তাকান। টিম হোটেলে কী যেন খুঁজছিলেন থিলান সামারাবিরা। দেখা হতেই চেনা হাসি। জানতে চাইলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার স্কোর। আশায় আছেন, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে খেলবে তার দেশ।
তার দেশ শ্রীলঙ্কা হলেও তার দল এখন বাংলাদেশ। “সামনে তো আবার ভারত, সেমি-ফাইনাল!” বলতেই একটু সংশোধন করিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ, “আমার জন্য কিন্তু ‘আবার’ নয়! আমার জন্য প্রথম!”
এটা অবশ্য সত্যি। ২০১৫ বিশ্বকাপে মেলবোর্ন, ২০১৬ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে মিরপুর বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরু- ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াইয়ে বারুদ ছড়ানো ম্যাচগুলোর সময় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ছিলেন না সামারাবিরা।
গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দেওয়া হয় সামারাবিরাকে। শুরুতে চুক্তি ছিল শুধু আফগানিস্তান সিরিজ ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য। পরে বাড়ানো হয় চুক্তি।
গত ফেব্রুয়ারিতে হায়দরাবাদ টেস্টে অবশ্য ছিলেন সামারাবিরা। তবে সাদা পোশাকে দুদলের লড়াইয়ে তো সেই উত্তেজনার আগুন নেই। রঙিন পোশাকের আঁচটা তাই এবারই প্রথম পেতে যাচ্ছেন সামারাবিরা।
এই ভারতের বিপক্ষে লড়াই কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে, মানছেন ব্যাটিং কোচ। তবে আশা ছড়ছেন না। নিজ দেশকেই মানছেন উদাহরণ। “কঠিন তো বটেই। তবে শ্রীলঙ্কা যদি ভারতকে হারাতে পারে, আমরা কেন পারব না! সব কিছুই সম্ভব।”
শ্রীলঙ্কা উজ্জ্বল উদাহরণ তো বটেই। আর শ্রীলঙ্কার সামারাবিরাই হতে পারে বাংলাদেশের ‘লাকি চার্ম’, প্রথমবারেই ভারত কুপোকাত! এবার একটু লজ্জা পেয়ে গেলেন সামারাবিরা। যেতে যেতে পেছন ফিরে তাকিয়ে বললেন, “সেটা হলে তো দারুণ হয়!”
এমনিতে তার কাজে খুব সন্তুষ্ট নয় দল। শোনা যাচ্ছে, দলের ব্যাটসম্যানরা খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছেন না ব্যাটিং কোচকে নিয়ে। এই টুর্নামেন্টের পর তাকে রাখা হবে কিনা, এটা নিয়েও আছে সংশয়। তবে সত্যিই প্রথমবারে দলের সৌভাগ্য বয়ে আনলে সেটি খুব খারাপ কিছু হয় না!

এবার ভারতকে হারানোর আশায় হাথুরুসিংহে

আগের দিন বার্মিংহামে এসেছে দল। সোমবার বিশ্রাম। চন্দিকা হাথুরুসিংহে তবু টিম হোটেল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন খেলার পোশাকে। ছুটির দিনেও মাঠে? বাংলাদেশ কোচ হেসে বললেন, “ছেলেদের কয়েকজন আছে তো মাঠে।”
ছুটির দিন হলেও জিম সেশন করতেই হবে। হোটেলের জিমে ব্যাটসম্যানদের কাজ চলে গেলেও পেস বোলারদের জন্য লাগে আরেকটু বিশেষায়িত কিছু। দলের পাঁচ পেসার, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলামের সঙ্গে সৌম্য সরকারও এজবাস্টনে গিয়েছিলেন জিম করতে। কোচ যাচ্ছিলেন তাদের সঙ্গ দিতেই।

ভারতীয় দল মনে হলো তখনো এসে পৌঁছায়নি টিম হোটেলে। তবে কোচ ছক আঁটতে শুরু করেছেন। তৃতীয়বারে নিশ্চয়ই ভারতকে হারানো যাবে!
“তিনবার?” ভ্রু কুঁচকে তাকালেন কোচ, “মানে বলছেন ২০১৫ বিশ্বকাপ, ২০১৬ এশিয়া কাপ ফাইনাল, আর এবার?” কোচের পাল্টা জিজ্ঞাসা।
“২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভুলে গেছেন? বেঙ্গালুরুতে হৃদয় ভাঙা হারা!” মনে করিয়ে দিতেই বুঝতে পারলেন কোচ, “বেঙ্গালুরুর ম্যাচ তো নক আউট ম্যাচ ছিল না…।”
নক আউট না হলেও ওই হারের বেদনাই যেন ছিল সবচেয়ে বেশি। হাতের মুঠোয় পেয়েও ফেলে দেওয়া জয় এখনো পোড়ায় অনেককে।
তবে সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ এবার এসেছে। চ্যাম্পিয়্স ট্রফির সেমি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ সেই ভারতই। গত দুই বছরে আলোচিত তিন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় এবার আরেকটু এগিয়ে যেতে চান কোচ।
“২০১৫ বিশ্বকাপে বড় ব্যবধানে হেরেছি, এশিয়া কাপের ফাইনাল দারুণ জমেছে। বেঙ্গালুরুতে ২ রানে হার। মানে আমরা কাছাকাছি এগোচ্ছি…।”
বেঙ্গালুরু থেকে আরেকটু এগোনো মানে তো জয়ই! এবার কি মিলছে তাহলে জয়ের দেখা? কোচ এবার চোখ নাচান, “আশা তো করছিই, দেখা যাক….!”
দেখার অপেক্ষায় গোটা বাংলাদেশও।

ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে বার্মিংহামে মাশরাফিরা

সেমিফাইনাল জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বার্মিহামে পৌঁছেছে মাশরাফিরা। রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১১টায় বার্মিংহামের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে বিকালের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে বাংলাদেশ দলকে বহন করা বাসটি। বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার পুরো দলই আনন্দ আড্ডায় কাটিয়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার হারের পর সেই আনন্দটা ছড়িয়ে পড়েছে বার্মিংহাম হয়ে কার্ডিফ তথা সমগ্র বাংলাদেশে। রবিবার কার্ডিফ থেকে বার্মিংহামে ভ্রমণ থাকায় ক্রিকেটারদের এক প্রকার ছুটিই ছিল।

সোমবারও বিশ্রাম করে কাটাবে বাংলাদেশ। এরপর দুইদিন অনুশীলন করে বৃহস্পতিবার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।

ওইদিন বার্মিহামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভারত। সোমবার পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা মধ্যকার ম্যাচে কেউ যদি অস্বাভাবিক ভালো খেলে, তবেই ভারতকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে জয়ী দলটি বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলবে।

শুক্রবার কিউইদের হারানোর পর অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল লাল-সবুজদের। শনিবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বের ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৪০ রানে হারায় ইংল্যান্ড। এর সুবাদে মাশরাফিদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়।

সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় মাশরাফি বলেছেন, ‘দলের কেউই সেমিফাইনাল নিয়ে বাড়তি চিন্তা করছে না। আমরা প্রত্যেকটি ম্যাচ যেমন পরিকল্পনা নিয়ে খেলি, সেমিফাইনালও সেই পরিকল্পনা নিয়েই খেলব। জয়ের লক্ষ্যতো থাকবেই, তবে সেটা যেন চাপ তৈরি করতে না পারে সেইদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।’

বুলবুল-আকরামদের মাশরাফির ধন্যবাদ

অস্ট্রেলিয়া হেরে যাওয়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এই প্রথম আইসিসির বড় কোনও টুর্নামেন্টের শেষ চার নিশ্চিতের পর অধিনায়ক মাশরাফি স্মরণ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় এই অর্জনে ক্রিকেটার হিসেবে মাশরাফি গর্বিত। নিজে গর্বিত হওয়ার পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটাররা যারা জাতীয় দলের জন্য অবদান রেখে গেছেন তাদের কথাও স্মরণ করলেন তিনি। আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাঈমুর রহমান, হাবিবুল বাশার, আকরাম খান, মোহাম্মদ রফিকদের কথা বিন্দুমাত্র ভোলেননি মাশরাফি। তাদের অবদান স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ পাবেন যারা অনেক আগে ক্রিকেট খেলেছেন। ছোট ছোট পদক্ষেপ ফেলে আজকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই জায়গায় এসেছে। আজকে হয়তো দলে অনেক তারকা আছে। কিন্তু আমি মনে করি একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট এই পর্যায়ে এসেছে।’

মাশারাফি স্বপ্ন দেখতেন, বাংলাদেশ একদিন সেমিফাইনালে খেলছে। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর নিজের অনুভূতি ভাগাভাগি করেছেন এভাবে, ‘এটা আমাদের জন্য বিশাল এক অর্জন। ক্রিকেটার হিসেবে আমি গর্বিত, অধিনায়ক হিসেবে তো বটেই। আমার অধীনেই দল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠেছে, এর চেয়ে বেশি আর কী-ই বা চাওয়ার ছিল। সবসময় বাংলাদেশ দলকে এ অবস্থায় দেখতে চেয়েছি।’

সঙ্গে যোগ করলেন, ‘আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশের ক্রিকেট একদিন এই জায়গায় আসবে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হলেও কিংবা বিশ্বের এক নম্বর দল হলেও উন্নতির জায়গা থাকে। আমরা সবে মাত্র ভালো খেলা শুরু করেছি। এটার গ্রাফটা ধরে রাখাই আমাদের দায়িত্ব।’

মাশরাফির বিশ্বাস তরুণ ক্রিকেটারদের স্বপ্নটা আরও বড় করতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, ‘এটি নতুনদের ভবিষ্যতে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করবে। সেমিতে প্রতিপক্ষ যেই হোক আমরা প্রস্তুত।’

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারত

সেই দক্ষিণ আফ্রিকারই দেখা মিলল আরেকবার। চাপের মধ্যে ভেঙে পড়ে যারা বারবার। পড়ল ভারতের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়েও। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জিতলে টিকে থাকবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে, এমন সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নামা প্রোটিয়ারা অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১৯১ রানে। ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে ৪৪.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় তারা। এর পর প্রত্যাশামতো খুব সহজেই ম্যাচটি জিতেছে ভারত। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জয়টা ৮ উইকেটের।

লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু মাঝপথে ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। কুইন্টন ডিক কক, হাশিম আমলা ও ফাফ দু প্লেসিস যা একটু প্রতিরোধ গড়েছিলেন। বাকি সবাই ব্যস্ত ছিলেন আসা-যাওয়ায়।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ব্যাটসম্যান ফিরেছেন রান আউট হয়েছে। যার মধ্যে আছে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ডেভিড মিলারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটি। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে ভারতীয় বোলাররাও ছিলেন অসাধারণ। ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিৎ বুমরাহ ২টি করে উইকেট নেন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা ১ উইকেট করে পান।

কেনিংটন ওভালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা মন্দ ছিল না অবশ্য। উদ্বোধনী জুটিতে ডি কক-আমলা যোগ করেন ৭৬ রান। আমলা ৩৫ রান করে ফিরলেও ডি কক তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তিন নম্বরে নেমে ফাফ দু প্লেসিসও করছিলেন সাবলীল ব্যাটিং। তবে ডি কক ৫৩ রান করে আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইন।

ইনিংসে তৃতীয় খেলোয়াড় হয়ে রান আউট ইমরান
ডি ভিলিয়ার্সের দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে যার শুরু। ফর্মহীনতায় ভোগা প্রোটিয়া অধিনায়ক ফেরেন মাত্র ১৬ রান করে। খানিক পর মিলারও (১) প্যাভিলিয়নে ফেরেন রান আউট হয়ে। চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা দু প্লেসিস (৩৬) ফিরে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকার সব আশাই শেষ হয়ে যায়। এক প্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত ২০ রানে অপরাজিত থাকা জেপি দুমিনিকে শুধু দেখতে হয়েছে উইকেট হারানোর দৃশ্য।

লক্ষ্যটা বড় ছিল না। তারপরও ২৩ রানে একমাত্র হোঁচট খায় ভারত। টানা ২ ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি পাওয়া রোহিত শর্মা মাত্র ১২ রানে মরনে মরকেলের শিকার হন। এর পর দ্বিতীয় উইকেটে শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলির হাফসেঞ্চুরিতে সহজে জেতে ভারত। যদিও ধাওয়ান দলের সঙ্গে জয়ের বন্দরে ভিড়তে পারেননি। ৮৩ বলে ১২ চার ও ১ ছয়ে ৭৮ রানে ইমরান তাহিরের শিকার হন এ ওপেনার। ১২৮ রানের জুটি গড়েন তারা।

কোহলির সঙ্গে যুবরাজ সিং ক্রিজে থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ১০১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন কোহলি, আর যুবরাজ টিকে ছিলেন ২৩ রানে। ৩৮ ওভারে ২ উইকেটে ১৯৩ রান করে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।

এ জয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠার দ্বারপ্রান্তে থাকল ভারত।

ভারতকে পেল বাংলাদেশ

চলতি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুৃখি হবে বাংলাদেশ। আগামী ১৫ জুন এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বার্মিংহামের এজবাস্টনে। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায়। রোববার গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারত ৮ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আসর থেকে তাদের বিদায় জানিয়েছে। এরি সাথে সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষও ঠিক হয়েছে বাংলাদেশ। আজ পাকিস্তান ও শ্রীলংকা মুখোমুখি হবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে। এ ম্যাচে জয়ী দলের পয়েন্টও ভারতের সমান ৪ হবে। কিন্তু রান রেটে ভারতীয়রা এগিয়ে রয়েছে অনেক। যা টপকাতে হলে অলৌকিক কিছু হতে হবে। আর তবেই কেবল সেমিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বদল হতে পারে। সে কারণেই গতকাল ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যে থাকা ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী ঘোষণা দিয়ে দেন ভারত সেমিফাইনালে এবং ১৫ জুন তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।
ক্রিকেটবিশ্বে ‘চোকার্স’ অপবাদ কম শুনতে হয়নি দণি আফ্রিকাকে। আইসিসির ইভেন্টে বরাবরই হুঙ্কার দিয়ে অংশ নিতে আসে। কিন্তু বিদায় নিতে হয় ‘খালি’ হাতেই। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর এবি ডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, ডেল স্টেইন ও ইমরান তাহিরদের কান্নার দৃশ্যকল্প এখনো তরতাজা। দুই বছর পর এবার আরেকটি দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে প্রোটিয়াদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত শুরুর পর টানা দুই ম্যাচে হার। গতকাল ‘অলিখিত’ কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বাড়ির বিমান ধরতে হচ্ছে ডি ভিলিয়ার্সের দলকে। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে রোববার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দণি আফ্রিকাকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দেয় ভারত। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে ৪৪.৩ ওভারে মাত্র ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় দণি আফ্রিকা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭২ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই হেসেখেলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। ১৩ ওভার শেষে রোহিত শর্মার উইকেট হারায় ভারত। এরপর দলীয় ১৫২ রানে ব্যক্তিগত ৭৮ রানে আউট হন শেখর ধাওয়ান। পরে বিরাট কোহলির সঙ্গে জুটি বাধেন যুবরাজ সিং। তারা অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌচ্ছে দেন। বিরাট কোহলি ৭৬ রানে ও যুবরাজ সিং ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

লড়াই করে জেতার আনন্দই আলাদা: প্রধানমন্ত্রী

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘লড়াই করে জেতার আনন্দই আলাদা। এমন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের জয় আসবেই।’

মূলত সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহর কাঁধে চড়ে কিউইদের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতল মাশরাফি বাহিনী। পাশাপাশি রেকর্ডের খাতায় নাম লেখালেন সাকিব-রিয়াদ। এর আগে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিল ১৭৮ রান। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম তৃতীয় উইকেটে ওই সংগ্রহ গড়েছিলেন।

আজ কার্ডিফে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা জুটির রেকর্ড উপহার দিলেন সাকিব-রিয়াদ। শুরুর দিকে টপাটপ চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশকে টানছেন এই মানিকজোড়। শেষ পর্যন্ত সাকিব-রিয়াদ জুটি থেকে টাইগারদের স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ২২৪ রান। ১১৪ করে ফিরে যান সাকিব আর ১০২ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রিয়াদ।

ইনিংসের শুরুতে শূন্য রানে ফিরে যান তামিম ইকবাল। প্রথম ম্যাচে শতক, পরের ম্যাচে ৯৫ রান করা তামিম আজ পারলেন না। টিম সাউদির বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি। তাতেও হয়নি শেষ রক্ষা।

৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাব্বিরও। শুরু করেছিলেন পরপর দুই বলে চার হাঁকিয়ে। কিন্তু নিজের দ্বিতীয় ওভারে টপ অর্ডারে ফেরা সাব্বির রহমানকে বিদায় করেন টিম সাউদি। একই পথে হাঁটেন সৌম্য সরকার। আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে করেন ৩ রান।

এর আগে স্লগ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে কিউইদের ২৬৫ রানে আটকে দেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৩ ওভারে ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক। ৪৩ রানে ২ উইকেট তাসকিনের। ৬০ রানে ১ উইকেট শিকার করেন রুবেল। মোস্তাফিজ ৫২ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। মাশরাফি ও সাকিব উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন।

টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়ে খালেদার অভিনন্দন

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের কার্ডিফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৫ উইকেটে নিউজল্যান্ডকে হারানোর পর এ অভিনন্দন জানান তিনি।

শুক্রবার দিনগত রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তারাবি নামাজ শেষে টাইগারদের খেলা টেলিভিশনে উপভোগ করেছেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ দলের অসাধারণ বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

অতীতের মতো বাংলাদেশের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি প্রধান।

অবিশ্বাস্য জয়ের পর যা বললেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ

তাদের দু’জনের প্রশংসার ভাষা এখন আর কারো জানা নেই। কী শব্দে তাদের প্রশংসা করবেন। এ জন্য যে এখনও কোনো শব্দ তৈরি হয়নি! পরাজয়ই তো ধরে নিয়েছিল সবাই। ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর কেউ কেউ হয়তো ভেবেছিলেন, একজন, দু’জন মন ভোলানো একটা, দুটা ইনিংস খেলতে পারেন।

কিন্তু সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যা করে দেখালেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। কিউই বোলিংয়কে কচুকাটা করে ২২৪ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে তুললেন দু’জন। তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার, অথ্যাৎ সেঞ্চুরি করলেন তারা দু’জনই। জোড়া সেঞ্চুরিতে জয় না এসেই পারে না।

অবশেষে মোসাদ্দেক হোসেনের উইনিং বাউন্ডারি। তাতেই যেন গড়া হয়ে গেলো ইতিহাস। চরম অনিশ্চয়তার এক ম্যাচকে এভাবে অসাধারণ ক্যারিশমা দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসলো বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে এর কারিগর তারা দু’জনই, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ডেকে নেয়া হলো সাকিব-মাহমুদউল্লাহ দু’জনকেই। অসাধারণ সেঞ্চুরির পর দু’জনই ম্যাচ সেরার দাবিদার। কাকে সেরা ঘোষণা করা হবে। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানকেই ম্যাচ সেরার জন্য ঘোষণা করা হলো। তবে, এটা হয়তো আনুষ্ঠানিকতা; কিন্তু সেরা যে তারা দু’জনই!

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এমন ব্যাটিংয়ের রহস্য সম্পর্কে বললেন, ‘আমাদের এই জুটির সবচেয়ে বড় রহস্য হচ্ছে, আমরা আসলে একে অপরের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলিনি। আমরা শুধু ব্যাটিংটাই করতেই চেয়েছি। ইতিবাচক থাকতে চেয়েছি। শুরুতে উইকেটে খুব সুইং ছিল। যখনই সুইং বন্ধ হলো, তখন ব্যাট করা সহজ হয়ে গেলো। আমি মনে করি, এই টুর্নামেন্টে তামিম দারুণ ব্যাটিং করেছে। এ কারণে শুরুতেই তাকে হারিয়ে ফেলা আমাদের জন্য ছিল বিশাল ক্ষতির কারণ। সাকিব আর আমি চেয়েছিল শুধু গ্যাপে শট খেলতে এবং বাজে বল পেলেই সেগুলোকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে।’

ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাকিব আল হাসান বললেন, ‘মাহমুদউল্লাহ যেমন বলেছেন, আমরা আসলে ব্যাট করার সময় খুব বেশি কথা বলিনি। আমরা আসলে শুরুতে ভাবিইনি যে, এই রান তাড়া করবো। আমরা শুধু চেয়েছিল ৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে। এরপর দেখতে চাইলাম আমরা কোথায় আছি। আইসিসির কোনো ইভেন্টে একটা ম্যাচ জেতা মানে অনেক বড় কিছু। এখান থেকেই আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ খুঁজে পাবো।’

১২ বলেই বাজিমাত মোসাদ্দেকের

এভাবেও ম্যাচের গতি বদলে দেওয়া যায়! তিন শর দিকে ছুটছিল নিউজিল্যান্ড। হঠাৎ বল হাতে নিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। দৃশ্যত নিরীহ অফ স্পিনেই ধস নামালেন কিউই ইনিংসে। ১২ বলের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বড় স্কোরের স্বপ্ন শেষ করে দিলেন মোসাদ্দেক। এর মধ্যেই নিউজিল্যান্ড হারাল ৩ উইকেট! আজ বাংলাদেশের জয়ের মন্ত্র কিন্তু লেখা হয়েছিল ওই ৩ ওভারেই!

কী আশ্চর্য, জয় নিশ্চিত করা শটটিও এল মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে। মাত্র ৭ রান করেছেন কিন্তু এর মাঝেই নিজের দক্ষতা দেখিয়ে দিয়েছেন। সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পর যদি একটুকুও শঙ্কা জেগে থাকে কারও মনে, সেটা কেটে গেল তাঁর নির্ভার ব্যাটিংয়ে। তবে আজ মোসাদ্দেক সবার স্মৃতিতে থাকবেন ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সেই জাদুকরী স্পেলের কারণেই।
জাদু? হতেও পারে। কিন্তু সেটা কার? মোসাদ্দেকের, নাকি ওই সময়ে অমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার?
মোসাদ্দেকের হাতে বল দেখে একটু হলেও চমকে গেছেন সবাই। জাতীয় দলে নিয়মিত বোলিং করেন এই অলরাউন্ডার। তবু আজ ৪১ ওভার পর্যন্ত যখন বল হাতে পাননি, স্লগ ওভারে যে তাঁকে আনা হবে, ভাবাটা একটু কঠিন ছিল। নিউজিল্যান্ড যখন মারমুখী, সে সময় একজন স্পিনার আনার মধ্যে ঝুঁকিও আছে। কিন্তু মাশরাফি বাজিটা ধরলেন। আর জিতলেন জ্যাকপট!
৪২তম ওভারে খুব চমক দেখাননি মোসাদ্দেক। মাত্র ৫ রান দিয়েছেন, এতেই সবাই সন্তুষ্ট। আসল চমক দেখালেন পরের ওভারে। ৪৪তম ওভারের প্রথম বলে আউট দুর্দান্ত খেলতে থাকা নিল ব্রুম। এক বল পর গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরেছেন কোরি অ্যান্ডারসন। অ্যান্ডারসন এলবিডব্লিউ হতেই খানিক আগেও ৪ উইকেটে ২২৮ থেকে স্কোরকার্ড রূপ নিল ২২৯/৬-এ!
তবু কাঁটা হয়েছিলেন জিমি নিশাম। বলপ্রতি রান নিয়ে শেষের ঝড় তোলার অপেক্ষায় ছিলেন। সে কাঁটাও দূর করার দায়িত্ব নিলেন মোসাদ্দেক। নিজের ৩ ওভারের ছোট স্পেলের শেষ বলে স্টাম্পড করলেন নিশামকে। নিউজিল্যান্ডের বড় স্কোরের স্বপ্নটাও শেষ হয়ে গেল। ১৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেক!
অথচ আজ মনে হচ্ছিল, কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। সাকিব আল হাসান কিংবা মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংও যখন হতাশা ছড়াচ্ছিল, সেদিন মোসাদ্দেকের ৩ ওভারেই সব বদলে গেল। এ কারণেই শেষ দশ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়েও মাত্র ৬২ রান করতে পারল নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারগুলোতে আর তাঁকে না ডাকলেও মোসাদ্দেকের ছায়া থাকলই। মোস্তাফিজ-রুবেলরা করলেন উজ্জীবিত বোলিং। তাতেই নিউজিল্যান্ড থমকে গেল।
মোসাদ্দেক এলেন, মাত্র তিন ওভার বোলিং করে চলেও গেলেন। এর মধ্যেই কি অবিশ্বাস্যভাবে বদলে গেল সব!

বাংলাদেশ সেমিফাইনালে যাবে, যদি…

ইংল্যান্ড উঠে গেছে আগে, আজ বিদায় নিশ্চিত হলো নিউজিল্যান্ডের। ‘এ’ গ্রুপ থেকে স্বাগতিকদের সঙ্গী হবে কে? অস্ট্রেলিয়া, নাকি বাংলাদেশ? আগামীকাল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে এই গ্রুপের শেষ ম্যাচে। বাংলাদেশ এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে সমর্থন দেবে শতভাগ। কাল অস্ট্রেলিয়াকে ইংল্যান্ড হারালেই যে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত! এমনকি বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে গেলেও চলবে।
বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট হবে ৩, বাংলাদেশেরও ৩। দুই দলেরই রান রেট এখন শূন্য। তবে রান রেটের আগে দেখা হবে জয় কে বেশি পেয়েছে। সেই হিসাবেই বাংলাদেশ চলে যাবে সেমিতে।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহর অবিশ্বাস্য জুটির যত রেকর্ড

৩৩ রানে ৪ উইকেট নেই! সেখান থেকে কী এক অবিশ্বাস্য জুটি গড়লেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ২২৪ রানের জুটি শুধু বাংলাদেশকে জয় এনে দেয়নি; রেকর্ডের পাতাতেও ছড়িয়ে দিয়েছে এই দুজনের নাম। এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড, এবং এই যাত্রাপথে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ আরও যেসব রেকর্ড ভেঙেছেন সেগুলো এক পলকে দেখে নিন:

* ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ২০০ রানের জুটি।

* কার্ডিফের এ মাঠে যেকোনো দেশের পক্ষে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি। এই রেকর্ডটা পছন্দ করবেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। তাঁরা যে ভেঙেছেন দ্রাবিড়-কোহলির ২০১১ সালে করা ১৭০ রানের জুটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জুটিটা হয়েছিল তৃতীয় উইকেটে।

* ৩৮.২ ওভারে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ ভেঙেছেন পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। আগে এই রেকর্ডে সাকিবের সঙ্গী ছিলেন মুশফিক। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৮ রান তুলেছিলেন দুজনে।

* চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যেকোনো দলের পক্ষে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি। আগের রেকর্ডটি ছিল ১১ বছর আগে করা ব্রায়ান লারা-রুনাকো মর্টনের ১৩৭ রানের জুটি।

* চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যেকোনো উইকেটে ২০০ রানের জুটি এর আগে হয়েছেই মাত্র দুটি। দুটিই ২০০৯-এর আসরে। দ্বিতীয় উইকেটে পন্টিং-ওয়াটসনের অবিচ্ছিন্ন ২৫২ (প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ভেন্যু সেঞ্চুরিয়ন)। একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের পক্ষে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ ইউসুফ-শোয়েব মালিকের ২০৬ রানের জুটি।

* ইংল্যান্ডের মাঠে যেকোনো দলের হয়ে পঞ্চম উইকেটে এটি সর্বোচ্চ জুটি। ২০০০ সালে জিম্বাবুয়ের গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ও মারে গুডউইন করেছিলেন ১৮৬ রান।

* ওয়ানডেতে রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে যেকোনো দলের হয়ে পঞ্চম উইকেটের জুটির রেকর্ডটা ভাঙেনি ২ রানের জন্য। রবি বোপারা ও এউইন মরগান ২০১৩ সালে ২২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহর রেকর্ড জুটি

ওয়ানডে ক্রিকেটে রেকর্ড জুটি গড়েছেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেট নিজেদের রেকর্ডই ভেঙেছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। এর আগে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৮ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। ওই ম্যাচে ৭০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর তারা ১৪৮ রানের জুটি গড়েছিলেন।

শুক্রবার অবস্থাটা ছিল আরও ভয়াবহ। ৩৩ রানে শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে পথ দেখান সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।

শুধু পঞ্চম উইকেটের সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েননি সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। ২২৪ রানের জুটি যে কোনও উইকেটেই বাংলাদেশের সেরা জুটি। যে কোনও উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৭৮ রান। ২০১৫ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ও মুশফিক মিলে ১৭৮ রানের জুটি গড়েছিলেন তৃতীয় উইকেটে।

কার্ডিফেই স্বরূপে ফিরলেন সাকিব

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনেই দুই বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ইনিংসের হিসেবে যা ৩৫ ইনিংস পর! এর বাইরে আরও চারটি ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ হয়নি তার। সব মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচ পর সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম সেঞ্চুরি হলেও সাকিবের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি।

সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবারের ম্যাচটি জিততেই হতো বাংলাদেশকে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে কিউইদের ২৬৫ রানে অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু ৩৩ রানে শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পড়ে লাল-সবুজরা। সেই ম্যাচ থেকে পঞ্চম উইকেটের রেকর্ড জুটিতে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ।

সাকিব সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০১৪ সালের নভেম্বরে। চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছিল ১০১ রানের ইনিংস। এর পর অনেকগুলো ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেলেও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যেতে পারছিলেন না তিনি।

সেই লক্ষ্যে শুক্রবার শুরু থেকেই ধীরস্থির ছিলেন সাকিব। প্রথম ৫০ রান তুলতে খেলেছেন ৬২ বল। দ্বিতীয় ৫০ রানতো আরও দ্রুত। ৫০ বলে পরের ৫০ রানে পৌঁছান সাকিব। মিলনের বলে শর্ট লেগে বিশাল এক ছক্কায় সাকিব সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান। ১১২ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় সাকিব সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সবমিলিয়ে ১১৫ বলে ১১৪ রান করে বোল্টের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ১১ চার ও ১ ছক্কায় তিনি তার ১১৪ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে ছিল সমালোচনা। নামের সঙ্গে ব্যাট ও বল হাতে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারছিলেন না। সাকিব ভক্তরা আশায় ছিলেন যথাসময়েই জ্বলে উঠবেন তাদের প্রিয় ক্রিকেটার।

অবশেষে গুরুত্বপূ্র্ণ ম্যাচেই জ্বলে উঠলেন সাকিব। বড় ম্যাচের বড় খেলোয়াড় হিসেবে দলকে জেতালেন কঠিন এক পরিস্থিতি থেকে। তাতে অবশ্য মাহমুদউল্লাহর কৃতিত্ব কোনও অংশেই কম নয়।

বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় জয় উপহার দিলেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ

এম এস সাহাব : ৩৩ রানে ৪ উইকেট পতন। এরপর নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ রান টপকে বাংলাদেশ জিতবে- এমন প্রত্যাশা করাটা ছিল আকাশকুসুমই। অবশ্য বাংলাদেশ হারবে-এটা ভেবে যারা কাল ম্যাচ ছেড়ে চলে গেছেন, তারা চরম ভুলই করেছেন। বাংলাদেশ এই ম্যাচ হারেনি, জিতেছে অসাধারণ ও অবিশ্বাসভাবে। আর জয়ের নায়ক বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাদের জোড়া শতকে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছে ১৬ বল বাকি থাকতে। সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ পঞ্চম উইকেট জুটিতে তুলে নেন রেকর্ড ২২৪ রান। যা ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড। সাকিব ১১৫ বলে ১১৪ রান করে দলীয় ২৫৭ রানে বোল্ড হলেও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১০৭ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন। নিউজিল্যান্ডের ৮ উইকেটে সংগৃহিত ২৬৫ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৪৭.২ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬৮ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। এ জয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা টিকে রয়েছে। এ জয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে র‌্যাংকিংও ৬ নম্বর স্থানও ফিরে পেতে পারে। এই কার্ডিফেই ২০০৫ সালের ১৮ জুন ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জন্মদিয়েছিল রূপকথার। গতকাল সেই কার্ডিফেই রচিত হলো আরেকটি রূপকথা। কিউইদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

এমন ব্যাটিং, এমন জয় স্বপ্নেই শুধু কল্পনা করা যায়। বাস্তবে খুব একটা ধরা দেয় না। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানে বেধে রাখার পর জয়ের স্বপ্ন উঁকি দিয়েছিল; কিন্তু ৩৩ রানে তামিম, সৌম্য, সাব্বির এবং মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সমর্থকরা শুধু ভেবেছিল, কত সম্মানজনকভাবে হারা যায়!
কিন্তু টিম বাংলাদেশের পরিত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন দু’জন, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দু’জনের জোড়া সেঞ্চুরি অবিশ্বাস্য স্বপ্নকেই হাতের মুঠোয় পুরে দিলো। দু’জনের ২২৪ রানের অসাধারণ এক জুটি বাংলাদেশকে এনে দিল অবিস্মরণীয় এক জয়।
অসাধারণ একটি জুটি। এমন একটি জুটিই প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। আশা ছিল তামিম ইকবাল দাঁড়াতে পারবেন। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৯৫ রান। তামিমের ওপরই ছিল সমস্ত আশা-ভরসা; কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই যখন তিনি আউট হয়ে গেলেন, তখন সে আশা পরিণত হলো শঙ্কায়।
২৬৫ রানের বেধে রাখার পর কী তাহলে বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে না? অতৃপ্তি নিয়েই ফিরে যেতে হবে? এমনই আশা-আশঙ্কার দোলাচলে দুলতে দুলতে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা যখন সাত-পাঁচ ভাবছিল, ততক্ষণে উইকেট থেকে বিদায় নিয়ে নিলেন সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার এবং মুশফিকুর রহীমও।
৩৩ রানে চার উইকেট নাই। মহা বিপর্যয়ে বলা যায় বাংলাদেশ। এই বিপর্যয় থেকে কে রক্ষা করবে? কে দেখাবে আশা? পয়া ভেন্যু সোফিয়া গার্ডেন কী তবে খালি হাতেই ফেরত পাঠাবে? সমর্থকরা যখন এসব ভাবছিলেন, তখন উইকেটে নেমে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং সাকিব আল হাসান। সেই চেষ্টা থেকেই জুটিটাকে ধীরে ধীরে বড় করতে লাগলেন তারা দু’জন। শেষ পর্যন্ত সেই জুটির রান ১০০ পার হয়ে গেলো। এমনকি বাংলাদেশ যে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল সেখান থেকে আশার আলোও দেখাতে শুরু করে দিয়েছেন তারা দু’জন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (গাপটিল ৩৩, রনকি ১৬, উইলিয়ামসন ৫৭, টেইলর ৬৩, ব্রুম ৩৬, নিশাম ২৩, অ্যান্ডারসন ০, স্যান্টনার, মিল্ন ৭, সাউদি; মাশরাফি ০/৪৫, মুস্তাফিজ ১/৫২, তাসকিন ২/৪৩, রুবেল ১/৬০, সাকিব ০/৫২, মোসাদ্দেক ৩/১৩)
বাংলাদেশ: ৪৭.২ ওভারে ২৬৮/৫ (তামিম ০, সৌম্য ৩, সাব্বির ৮, মুশফিক ১৪, সাকিব ১১৪, মাহমুদউল্লাাহ ১০২*, মোসাদ্দেক ৭*; সাউদি ৩/৪৫, বোল্ট ১/৪৮, মিল্ন ১/৫৮, নিশাম ০/৩০, স্যান্টনার ০/৪৭, অ্যান্ডারসন ০/১৯, উইলিয়ামসন ০/১৯)।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আশা টিকে রইল পাকিস্তানের

একেই বলে পাকিস্তান। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, আহত বাঘের মত গর্জে ওঠে প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে আনে। র‌্যাংকিংয়ে কে কোথায় অবস্থান করছে, সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রয়োজনের সময় ঠিকই জ্বলে ওঠে তারা।

এই যেমন, ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকার। র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর দলের মোকাবেলায় আট নম্বর দল। পাকিস্তানের উড়ে যাওয়ারই কথা; কিন্তু উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকাকেই উড়িয়ে দেয়ার জোগাড় পাকিস্তানের। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আইনে প্রোটিয়াদের ১৯ রানে হারিয়ে সেমির আশা টিকিয়ে রাখলো সরফরাজ আহমেদের দল।

বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনের এই মাঠেই পাকিস্তানি বোলারদের কাছ থেকে ৪৮ ওভারে ৩১৯ রান তুলেছিল ভারত। সেই একই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে মাত্র ২১৯ রান তুলতে সক্ষম হলো।

প্রোটিয়াদের কম রানে বেধে রাখার ক্ষেত্রে মূল কৃতিত্বটা পাকিস্তানি বোলারদেরই।     বিশেষ করে হাসান আলি আর ইমাদ ওয়াসিমই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন আতঙ্ক হিসেবে। হাসান আলি ৮ ওভারে দেন মাত্র ২৪ রান এবং নেন ৩ উইকেট। ইমাদ ওয়াসিমও ৮ ওভারে দেন মাত্র ২০ রান। নেন ২ উইকেট।

জয়ের জন্য ২২০ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আজহার আলি আর ফখর জামান সূচনাটা ভালো করেন। তবে দলীয় ৪০ রানের মাথায় ফখর জামান আউট হয়ে যান ৩১ রান করে। অভিষিক্ত ফখরই মূলতঃ পাকিস্তানের রান এগিয়ে দেন। ১ রান যোগ করে আজহার আলিও আউট হয়ে যান ব্যক্তিগত ৯ রানে।

দলীয় ৯৩ রানে ফিরে যান মোহাম্মদ হাফিজও। তিনি করেন ২৬ রান। বাবর আজম এক পাশ আগলে রেখে ঠিকই পাকিস্তানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সঙ্গে ছিলেন শোয়েব মালিক। বাবর ৩১ এবং শোয়েব মালিক ১৬ রানে থাকতেই নামে বৃষ্টি। এ সময় পাকিস্তানের রান ২৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৯।

বৃষ্টি শেষ পর্যন্ত আর থামেনি। খেলাও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলো না। কারণ, প্রয়োজনীয় ২০ ওভার ব্যাট করে ফেলেছে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিতে যখন খেলা হচ্ছে না, তখন বৃষ্টি আইন ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডি/এল) মেথড প্রয়োগ করা হয়। এতে দেখা গেলো জয়ের জন্য ২৭ ওভারে প্রয়োজন পাকিস্তানের ১০১ রান। তারা ইতোমধ্যেই করে ফেলেছে ১১৯ রান। ফলে পাকিস্তানকে ১৯ রানেই জয়ী ঘোষণা করা হয়।

বিকেলে মাঠে নামবে ভারত-শ্রীলঙ্কা

ক্রিকেট

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি
ভারত-শ্রীলঙ্কা
সরাসরি, বিকাল ৩.৩০ মি.
মাছরাঙা টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১

টেনিস
ফ্রেঞ্চ ওপেন
সরাসরি, বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৭টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি ১

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ ভারত

হারলেই বিদায় নিশ্চিত। আর জিতলে টিকে থাকবে শেষ চারের সম্ভাবনা। বাঁচা-মরার এ লড়াইয়ে আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা। কেনিংটন ওভালে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হেরে শ্রীলঙ্কার সামনে এটি বাঁচা মরার লড়াই। তবে তাদের জন্য স্বস্তির খবর ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরছে নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। আর ম্যাথিউজের ফেরাতে নিঃসন্দেহে শ্রীলঙ্কা দলকে অনেক বেশি উজ্জীবিত করবে।

এদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৪ রানে জিতে অনেকটাই স্বস্তিতে বিরাট কোহলির দল। আর আজ জিতলেই শেষ চারও নিশ্চিত হবে দলটি। তাই এ ম্যাচ জিতে সেমিতে জায়গা করে নিতে মরিয়া কোহলিবাহিনী।

ভারত-শ্রীলঙ্কার পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায়, ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ১৪৯ টি ম্যাচে। এর মধ্যে ৮৩ টি ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত আর শ্রীলঙ্কা জয় পেয়েছে ৫৪টিতে। এই দুই দলের মধ্যে ১ টি ম্যাচ টাই হয়েছে এবং ১১ টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। আর সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় দেখা যায় শ্রীলঙ্কা দল তাদের সর্বশেষ ৫ ম্যাচের মধ্যে জয় পেয়েছে মাত্র ১টি ম্যাচে বিপরিতে ভারত তাদের সর্বশেষ ৫ ম্যাচের মধ্যে ৪ টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা। তাই আজকেও ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে কোহলিরা।

 

ভারতের সম্ভাব্য একাদশ :
বিরাট কোহালি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটরক্ষক), রবীন্দ্র জাদেজা, কেদার যাদব, জাস্প্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া, উমেশ যাদব।

শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য একাদশ :
অ্যাঞ্জেল ম্যাথিউস(অধিনায়ক), দীনেশ চান্দিমাল, নিরোশান ডিকেওয়েলা (উইকেটরক্ষক), কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, সুরঙ্গা লাকমল, চামারা কাপুগেদরা, লাসিথ মালিঙ্গা, থিসারা পেরেরা, নুয়ান প্রদীপ, লক্ষণ সান্দাকান।

ইনজুরিতে অনুশীলনে নেই তামিম

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে জায়গা পেতে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশের। ওই ম্যাচে শুধু জয় পেলেই হবে না তাকিয়ে থাকতে হবে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ফলাফলের দিকে। এত কিছু চিন্তা না করে নিউজিল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে অনুশীলন করে যাচ্ছে টাইগাররা। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বুকে ব্যাথা পাওয়ায় অনুশীলনে ছিলেন না দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তামিম ইকবাল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। তবে নার্ভাস নব্বইয়ের ঘরে সাজঘরে ফেরেন তামিম। এদিকে ইনজুরি নিয়ে তামিম বলেন, চোট খুব গুরুতর নয়। সতর্কতার জন্যই অনুশীলন করছেন না। ম্যাচে অজি ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্সের বলে পেটের কাছের দিকে আঘাত পেয়েছে তিনি।

আধুনিক ব্যাটসম্যানরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েও মাঠে নামে। সেখানে তামিম সাধারণত ম্যাচে চেস্ট গার্ড পরেন না। সেই হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও পরা হয়নি। ভুলের মাশুল দিয়েছেন কামিন্সের আঘাত পেয়ে।

টস হেরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে ভারত

হারলেই বিদায় নিশ্চিত। আর জিতলে টিকে থাকবে শেষ চারের সম্ভাবনা। বাঁচা-মরার এ লড়াইয়ে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। কেনিংটন ওভালে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩ টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হেরে শ্রীলঙ্কার সামনে এটি বাঁচা মরার লড়াই। তবে তাদের জন্য স্বস্তির খবর ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরছে নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। আর ম্যাথিউজের ফেরাতে নিঃসন্দেহে শ্রীলঙ্কা দলকে অনেক বেশি উজ্জীবিত করবে।

এদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৪ রানে জিতে অনেকটাই স্বস্তিতে বিরাট কোহলির দল। আর আজ জিতলেই শেষ চারও নিশ্চিত হবে দলটি। তাই এ ম্যাচ জিতে সেমিতে জায়গা করে নিতে মরিয়া কোহলিবাহিনী।

 

ভারত একাদশ :

বিরাট কোহালি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটরক্ষক), রবীন্দ্র জাদেজা, কেদার যাদব, জাস্প্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া, উমেশ যাদব।

শ্রীলঙ্কা একাদশ :

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (অধিনায়ক), নিরোশান ডিকভেলা, ধানুশকা গুনাথিলাকা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, কুশল পেরেরা, আসেলা গুনারত্নে, থিসারা পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, লাসিথ মালিঙ্গা ও নুয়ান প্রদীপ।

আনন্দ বৃষ্টিভেজা কথামালা মাশরাফির

২০১১ সালে সর্বশেষ খেলেছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া আসলে ভাল খেলেছে। বোলিংটাতো দুর্দান্ত করেছে। তামিম ছাড়া কেউ ভাল খেলেনি। আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমন পুরোই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের অতিরিক্ত পেস আছে। এটাই অস্ট্রেলিয়াকে অন্য দল থেকে আলাদা করে রেখেছে।

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেয়েছি। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি। এবারও সেই রকম সুযোগই মিলেছে। সেইসময় এক পয়েন্ট আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে চাই। একটা ফল চাই। জানি ন্উিজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল খেলতে পারি, তাহলে সেমিফাইনালে জেতেও পারি।

অস্ট্রেলিয়া আমাদের চেয়ে অনেক দূরে ছিল। এগিয়ে ছিল। এটা মানতেই হবে। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে ছিল। আবহাওয়ার ওপর কোন হাত নেই। এখন শেষ ম্যাচে যদি আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারি, তাহলে পরের ধাপে যেতেও পারি।

সত্যি কথা বলতে কী ১৬ ওভার যখন হয়ে যায়, তখন মনে হচ্ছিল আরও এক দুই ওভার হবে কিনা। বা আম্পায়াররা চালিয়ে নিয়ে যাবে কিনা। পানি বিরতি যখন পাই, তখনও জানি না খেলা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারপর যখন খেলা বন্ধ হয়, তখনও জানিনা আবহাওয়া বার্তা কী আছে। তবে আমরা জানতাম সাড়ে ছয়টার দিকে বৃষ্টি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত খেলাই হল না। আমরা এও চিন্তা করছিলাম যে খেলাটা যতদূর চালিয়ে যাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার দুর্ভাগ্য। আমরা ভাগ্যবান। এই ম্যাচ থেকে একটা পয়েন্ট পেয়েছি। আমরা যদি এখন এ পয়েন্টটাকে ব্যবহার করতে পারি, সামনের ম্যাচে জিততে পারি। তবুও জানিনা জিতলে যাব কিনা। তবে এই পয়েন্টটা আমাদের জন্য অনেক লাকি পয়েন্ট। ম্যাচটা পুরোটা অস্ট্রেলিয়ার দিকেই ছিল। হয়তবা আর ৪ ওভার খেলা হলে আর ১ রান না করলেও অস্ট্রেলিয়া জয় পেয়ে যেত।

এরকম অনেক ম্যাচ গিয়েছে, আবহাওয়া বার্তায় আছে বৃষ্টি। একরকম দেখা গেছে। হয়েছে আরেক। ভাল উইকেটে বৃষ্টি আছে কি নেই, এরকম নির্ভর করা যায় না। অস্ট্রেলিয়াও ব্যাটিংই নিত। আগের দুইদিন যদি বৃষ্টি হত তাহলে ভিন্ন বিষয় ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল আগের ম্যাচের মত হয়ত ৩০০ করা লাগবেনা। ২৭০ বা ২৮০ রান করলেই ভাল খেলা হতে পারে। আমরা ওই পথেই ছিলাম। সাকিবের আউটটা না হলে তামিমের সাথে থাকলে হয়তবা ২৫০-২৬০ হত। ব্যাটিং আগে করাটাই ভাল সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।

অস্বীকার করার কোন সুযোগই নেই যে অস্ট্রেলিয়া আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। আর ৪ টা ওভার হলে অস্ট্রেলিয়া ২টা পয়েন্ট নিয়ে যেত। একটা পয়েন্ট পেয়ে আমাদেরও খুব ভাল লাগছে। আমাদের একটা সুযোগ তৈরী হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকে হলে হয়ত কোন দলই চাইত না খেলা না হোক। এ পজিশন থেকে একটা দলই চেয়েছে খেলা হোক। আমরা কোথাও ছিলাম না। আমরা এক পয়েন্ট পেয়ে খুশি।

তামিমের ব্যাটিংটা নিয়ে বলব, বিশ্বের সেরা দুইটা দলের বিপক্ষে ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সে দেখিয়েছে কী ফর্মে আছে। শেষ ৮-৯ টা ইনিংস দেখলেও বোঝা যাবে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছে, শ্রীলঙ্কাও করেছে। আবার এখানে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করার একেবারে সামনেই ছিল। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকলে যেভাবে খেলে, ও ঠিক সেভাবেই খেলছে। ওর অনুভুতিও অন্যান্যা ব্যাটসম্যানের চাইতে আলাদা। তামিম এক্সট্রা অর্ডিনারি ফর্মে আছে। আমাদের দলের সেরা ব্যাটসম্যানও সে।

আমাদের কাছে মনে হয়েছে ঠিক একাদশই ছিল। কোন চয়েজই ছিল না। মিরাজকে খেলাতেই হত। একজন বোলার থাকলে আগের ম্যাচটাতে ভাল হত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হয়ত ২৬০-২৭০ করতাম তাহলে মিরাজ অনেক কাজে দিত। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু মাঝখানে ভাল করতে পারিনি।

প্রথমত হচ্ছে সাব্বির সর্বশেষ আট নয়টা ইনিংস ৩ নম্বরে খেলেছে। ইমরুলের গড়টা অনেক ভাল। এই ধরনের উইকেটে আমরা চাচ্ছিনা যে উইকেট তাড়াতাড়ি পড়–ক। রুম্মন শট খেলতে পারে। উইকেট ধরে রাখার চেষ্টা করছি। পাচজন বোলার নিয়ে খেলতে হবে। ১৬ ওভারের ১৫ ওভারই পেসার দিয়ে করানো হয়েছে। চিন্তাই ছিল, ম্যাচে পেছনে চলে গিয়েছি। কামব্যাক করার চেষ্টা করতে হবে। আমি তাই একটু দুরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা থেকেই পেসারদের দিয়ে বেশি বল করিয়েছি।

ম্যাচ পরিত্যাক্ত তবে টিকে রইলো বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার কাছে নিশ্চিত পরাজয় থেকে বাংলাদেশকে বাঁচালো বৃষ্টি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচটি পরিত্যাক্ত। তাতে মাশরাফিরা পেলো অনাকাক্সিক্ষত এক পয়েন্ট। এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় বিদায় নিতে যাওয়া বাংলাদেশও এখন দেখছে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।
গ্যালারির দর্শকের বেশিরভাগই চলে যান বৃষ্টি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই। একবার থেমেও গিয়েছিলো। খেলা শুরুর প্রক্রিয়াও চলছিলো। কিন্তু পরেরবারের বৃষ্টি আর খেলা হতেই দেয়নি। তাতে টিকে রইল বাংলাদেশ।
ওভালে মেঘ মাথায় নিয়েই শুরু হয় খেলা। কারণ আগেই জানা ছিলো বৃষ্টি হওয়ার কথা। ব্যাটিং নিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ৫ ওভার কাটে অঘটন ছাড়াই। এরপর হেজেলউডের লেজে নাড়া দিতে গিয়ে নিজেই সাজঘরে সৌম্য সরকার। জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাওয়াকে আবারো প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলেন ইমরুল। মুশফিকুর রহিমও লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফিরলেন প্যাভিলিয়নে। তবে রিভিউ নিলে তিনি হয়তো বেঁচেও যেতেন। ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন ব্যাকফুটে।
চতুর্থ উইকেটে সাকিব-তামিমের ৬৯ রানে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা টাইগারদের।২৯ রান করে বিদায় নেন সাকিব। সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহও দলে অবদানরাখতে পারলেন না। তবে একাই অজি বোলারদের শাসন করেন তামিম ইকবাল। শেষ ছয় ম্যাচের মধ্যে চতুর্থ ফিফটি পাওয় তামিমের ইনিংসটি থামে ৯৫ রানে। তার বিদায়েই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। দলের স্কোরে আর মাত্র ১ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নে চার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ অলআউট ১৮২ রানে।
নতুন বলে মাশরাফি ও মুস্তাাফিজ খারাপ করেননি। বেশ কয়েকবারই বিপাকে ফেলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চকে। তবে আউট করা যায়নি তাদের। রুবেল এসেই ফেরান ফিঞ্চকে। তাতে প্রভাব পড়ে সামান্যই। ডেভিড ওয়ার্নার ও স্মিথ দলকে জয়ের পথেই রেখেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি থামিয়ে দেয় অজিদের।
১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ১ উইকেটে ৮৩। বৃষ্টিতে খেলা আর হতেই পারেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৮২ (তামিম ৯৫, সৌম্য ৩, ইমরুল ৬, মুশফিক ৯, সাকিব ২৯, সাব্বির ৮, মাহমুদুল্লাহ ৮, মিরাজ ১৪, মাশরাফি ০, রুবেল ০, মুস্তাফিজ ১*; স্টার্ক ৪/২৯)।
অস্ট্রেলিয়া: ৮৩/১ (ওয়ার্নার ৪০*, ফিঞ্চ ১৯, স্মিথ ২২*; রুবেল ১/২১)।

বাংলাদেশ ১৮২ রানে বুকড : টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হলো না তামিমের

ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, একটি শটেই তিন অঙ্কে যেতে পারেন তামিম ইকবাল। সে সময়ে ৯৪ রানে ছিলেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। পারেননি তিনি, ফিরেন ১ রান যোগ করেই। মিচেল স্টার্কের বল লেগে ঘুরাতে গিয়ে ক্যাচ দেন লং লেগে। এ নিয়ে তিনবার ৯৫ রানে ফিরলেন তামিম। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপে প্রথম নার্ভাস নাইনটিজের দেখা পান। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপে ফিরেন সেই ৯৫ রানে।
লম্বা সময় বাংলাদেশ দলকে এগিয়ে নেয়া তামিম ১১৪ বলের ইনিংসে হাঁকিয়েছেন ৬টি চার ও তিনটি ছক্কা। স্টার্কের সেই ওভারেই আরও এলোমেলো হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে বোল্ড হয়ে যান মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেন। হ্যাটট্রিক হয়েই যেত, একটুর জন্য বোল্ড হননি মুস্তাফিজুর রহমান। অবশ্য পরের ওভারে এসে বোল্ড করেন মিরাজকে। আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ ১৮২ রানে।
শুরু আর শেষটা যেন মিলে গেল। ধাক্কা খেয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। অসি পেসারদের তোপে শেষটা হলো বাজে! ১৮১ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর আর ১ রান তুলতে পারেন টাইগাররা। পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারেনি মাশরাফি বাহিনী। ৪৪.৩ ওভারে অলআউট বাংলাদেশ। কেনিংটন ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন সৌম্য সরকার। জস হ্যাজেলউডের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ম্যাথু ওয়েডের হাতে ধরা পড়লেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। ১১ বল খেলে ৩ রান করতে পেরেছেন সৌম্য।
তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা ইমরুল কায়েসের ওপর আস্থা ছিল সবার। তামিমের সঙ্গে জুটি বেধে যদি বড় কোনো ইনিংস উপহার দেন! কিন্তু যারপরনাই ব্যর্থ হলেন ইমরুল কায়েস। প্যাট কামিন্সের বলে বলতে গেলে নিজের উইকেটটাই বিলিয়ে দিয়ে আসলেন ইমরুল। অফ স্ট্যাম্পের ওপর আসা বলটিকে কভারে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যারোন ফিঞ্চের হাতে ক্যাচ তুলে দিলেন তিনি। দলীয় ৩৭ রানে পড়ল দুই উইকেট।
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসার প্রতীক মুশফিকুর রহীম। আগে ম্যাচেও তার প্রমাণ রেখেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপে সেটা আর পারলেন না মুশফিক। ব্যক্তিগত ৯ রানেই থামলেন তিনি। ময়েজেস হেনরিকসের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন বাংলাদেশি এই উইকেটরক।
আগের ম্যাচে খেলতে নেমে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ডের বিপে ১০ রান করেই সাজঘরে ফিরেছিলেন তিনি। আজ দেখেশুনেই খেলছিলেন এই অলরাউন্ডার। সম্ভাবনা জাগিয়েও ফিরে গেলেন সাকিব। ট্রাভিস হেডের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। বিদায়ের আগে ৪৮ বলে দুটি চারে ২৯ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
অ্যাডাম জাম্পাও বল হাতে ঝড় তুললেন। ব্যক্তিগত প্রথম ওভারেই সাব্বির রহমান রুম্মনকে ফেরান তিনি। ৮ রান করে স্টিভেন স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সাব্বির। তার বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহও বেশিণ ক্রিজে থাকতে পারলেন না। মাহমুদউল্লাহও ফিরেছেন জাম্পার বলে বোল্ড হয়ে। তিনিও করেছেন ৮ রান।
উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। অস্ট্রেলিয়ার বিপওে দারুণ ব্যাটিং করেছেন তিনি। কিন্তু আপে নিয়ে ফিরতে হলো বাংলাদেশের ড্যাশিং এই ওপেনারকে। ৫ রানের জন্য টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হলো না তামিমের। ৯৫ রানেই থামেন তিনি। মিচেল স্টার্কের বলে হ্যাজেলউডের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তামিম। তার ১১৪ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ ৬টি চার ও তিনটি ছক্কায়।
প্রসঙ্গত, নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিততে পারেনি দুদলই। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৫ রান তুলেছিলেন টাইগাররা। এই ল্য মামুলি বানিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। ১৬ বল হাতে রেখেই মাত্র ২ উইকেট খুইয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে স্বাগতিকরা।
অপরদিকে বৃষ্টির কারণে জয় কিংবা পরাজয়- কোনো স্বাদই পায়নি অস্ট্রেলিয়া। দফায় দফায় বৃষ্টি হানা দিলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। এজবাস্টনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২৯১ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৫৩ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর নামে বৃষ্টি। মাঠে আর কোনো ওভারই গড়ায়নি।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া লড়াইয়ে অপেক্ষা

কিছুক্ষণের মধ্যেই লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ওভাল স্টেডিয়ামের বাইরে প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশী ভিড় করছেন গ্যালারিতে প্রবেশের জন্য। আর স্টেডিয়ামের ভেতরে চলছে তখন পিচ রিপোর্ট। আর দলগুলোর নিজেদের শেষ সময়ের প্রস্তুতি। তবে বৃষ্টি কিন্তু ঠিকই চোখ রাঙাচ্ছে ম্যাচটি নিজের করেনেওয়ার জন্য। কিংবা বলা যায়, ম্যাচটি চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে আবহাওয়া।

পাকিস্তানের পরিবর্তিত লক্ষ্য ২৮৯ রান

কী দুর্ভাগ্য পাকিস্তানের। বৃষ্টির কারণে কার্টেল ওভারের ম্যাচ। দু’দল খেলবে ৪৮ ওভার করে। এই ৪৮ ওভারে ভারত সংগ্রহ করেছে ৩১৯ রান। নিয়ম অনুযায়ী জয়ের জন্য পাকিস্তানকে করতে হবে ৩২০ রান; কিন্তু কী আশ্চর্য ক্রিকেটে প্রচলতি বৃষ্টি আইন ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে পাকিস্তানকে করতে হবে ৩২৪ রান। সেই ৪৮ ওভারেই।

তবে ৫ম ওভারের খেলা চলাকালীনই আবার বৃষ্টি নামে। কিছুক্ষণ বৃষ্টি থাকার পর আবারও যখন খেলা শুরু হয়, তখন পাকিস্তানের সামনে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয় ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। এ রিপোর্ট লেখার সময় পাকিস্তানের রান ৯ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৭। ২২ বলে ১২ রান করে আউট হন আহমেদ শেহজাদ। ৩২ রান করে উইকেটে রয়েছেন আজহার আলি।

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে জল ঢেলে দিয়েছিল বামিংহামের আকাশ। ভারতের ইনিংসে বৃষ্টি হানা দেয় দুই দফায়। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত ৫০ ওভার থেকে কাটা হয় দুই ওভার। তার মানে, ৪৮ ওভার ব্যাটিং ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে ভারত। তাতেই রান তুলেছে তিনশোর্ধ্ব।

রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিংয়ের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তুলেছে ভারত। বৃষ্টি আইনে জয়ের জন্য সরফরাজ আহমেদের পাকিস্তানের সামনে ৩২৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়ে যায়।

এজবাস্টনে টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারতের শুরুটা ছিল সাবধানী। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারে তো কোনো রানই নেননি রোহিত শর্মা। ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টাটাই বোধ হয় করেছিলেন। ভারতের দুই ওপেনার রোহিত ও শিখর ধাওয়ান পেয়েছেন ফিফটির দেখা।

দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ভারত। টিম ইন্ডিয়ার ওপেনিং জুটি ভাঙেন শাদাব খান। পাকিস্তানের এই তরুণ ফেরান ৬৮ রান করা শিখর ধাওয়ানকে। ৬৫ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

রোহিত শর্মা শিকার দুর্ভাগ্যের। কাটা পড়েন রান আউটে। ১১৯ বলে ৭টি চার ও দুটি ছক্কায় ৯১ রানের ইনিংস খেলেন রোহিত। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন যুবরাজ সিং। হাসান আলির বলে সরাসরি বোল্ডআউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৫৩ রান।

ভারতের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়া। ৬৮ বলে ৬টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৮১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন কোহলি। হার্দিক পান্ডিয়া ৬ বলে তিনটি ছক্কায় করেন ২৯ রান। স্ট্রাইক রেট ৩৩৩.৩৩! পাকিস্তানের পক্ষে একটি করে উইকেট লাভ করেন হাসান আলি ও শাদাব খান।

পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই দিল না ভারত

যত গর্জাল, তত বর্ষাল না। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনেক উত্তেজনা ছিল। মহারণ বলেই আখ্যা পেয়ে গিয়েছিল ম্যাচটি; কিন্তু মাঠের লড়াই হলো এক পেশে। একতরফাভাবে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই দিল না। রীতিমত বিধ্বস্ত করে বৃষ্টি আইন ডিএল মেথডে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দলকে।

বৃষ্টির কারণে শুরুতে দু’দলের কাছ থেকে ২ ওভার করে কেটে নেয়া হয়। ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে ভারত।

জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান ব্যাট শুরু করার পর দু’বার বৃষ্টি হানা দেয়। যার ফলে পাকিস্তানের সামনে পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ২৮৯ রান।

এ লক্ষ্যে ব্যাট করতে গিয়ে ৩৩.৪ ওভারে ১৬৪ রানেই অলআউট হয়ে গেলো সরফরাজ আহমেদরা। ভারতীয় পেসাররা রীতিমত আগুণ ঝরিয়েছেন। উমেষ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার কিংবা হার্দিক পান্ডিয়ারা নিয়েছেন পাকিস্তানের ৬ উইকেট। ২টি নেন স্পিনার জাদেজা। একজন রানআউট এবং একজন ব্যাটই করতে পারেননি।

পাকিস্তানের ইনিংস যখন দ্বিতীয়বার বৃষ্টির কবলে পড়লো, তখন ৪১ ওভারে ২৮৯ রানের লক্ষ্য বেধে দেয়া হলো তাদের সামনে। বৃষ্টি যদি আবারও এসে যায় এবং খেলা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে রান রেট যেন বাড়িয়ে রাখা যায়, এ চিন্তা থেকে দ্রুত ব্যাট চালাতে শুরু করে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা।

এতে না আসলো রান, না পারলো উইকেট টিকিয়ে রাখতে। আহমেদ শেহজাদ আর বাবর আজম ফিরে যান ৬১ রানের মাথায়। ৯১ রানের মাথায় আউট হন পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক আজহার আলি। ৬৫ বল মোকাবেলা করে তিনি করেন ৫০ রান। মোহাম্মদ হাফিজ করেন ৩৩ রান।

শোয়েব মালিক এবং সরফরাজ আহমেদ করেন ১৫ রান করে। ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন শাদাব খান। উমেষ যাদব নেন ৩ উইকেট। হার্দিক পান্ডিয়া এবং রবীন্দ্র জাদেজা নেন ২টি করে উইকেট এবং ১ উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার।

আর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রোহিত শর্মার ৯১, কোহলির অপরাজিত ৮১, শিখর ধাওয়ান ৬৮ এবং যুবরাজের ৩২ বলে ৫৩ রানের ওপর ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান সংগ্রহ করে ভারত।

আইসিসি ইভেন্টগুলোতে এখনও পর্যন্ত ১৪বার মুখোমুখি হয়ে ১২ বার হেরেছে পাকিস্তান। জিতেছে ২ বার। তাও এই দুটি জয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।

সন্ধ্যায় মুখোমুখি বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেট

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
সরাসরি, সন্ধ্যা ৬.৩০ মি.
মাছরাঙা টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১

উইন্ডিজ-আফগানিস্তান
তৃতীয় টি২০
সরাসরি, ভোর ৫.৩০ মি.
টেন ৩

টেনিস
ফ্রেঞ্চ ওপেন
অষ্টম দিন
সরাসরি, বিকাল ৩টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি ১

সাকিবকে নিয়ে চিন্তিত নন মাশরাফি

সময়টা খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না সাকিবের। আয়াল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই রঙিন পোশাকে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও ছিলেন সাদামাটা। তবে সাকিবের ফর্ম নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি।

সাকিবের ফর্ম নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘বড় প্লেয়ারদের বড় টুর্নামেন্টে ভাগ্যেরও প্রয়োজন হয়। তবে সাকিব সবসময়ই ভাল করে আসছে। ও সেরাটাই চেষ্টা করছে। তবে সেরাটা দিতে পারছে না।’

দলের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করে সাকিবের উপর। সাকিব ভালো না করলে এমনিতেই বিপদে পড়ে যায় দল। আর এই ধরনের উইকেটে ভালো করতে ন পারলে তো দলের বিপদ বাড়ে আরও। এই বাস্তবতা অস্বীকার করছেন না মাশরাফিও।

তিনি আরও বলেন, ‘উইকেটও অনেক সময় বড় প্রভাব ফেলে। সে আগের ম্যাচে শুরুতে বল করেছে। নিজের সেরাটা দিয়েও সে উইকেট পায়নি। ও যদি খারাপ করে, আমাদের জন্য ওই টুর্নামেন্ট হয়ত কঠিন হবে।’

 

এদিকে সাকিব অফ ফর্মে থাকলে অন্যদের জন্য পারফর্ম করার আসল সময় বলেও মনে করেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তিনি চান দলের অন্যরাও পারফর্ম করুক। এ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘টপ ক্রিকেটার সবসময়ই একই ফর্মে খেলে যাবে, এটা আশা করাও কঠিন। সাকিব যদি ওর লেভেলে খেলতে না পারে, তাহলে দলের অন্যদের অবদান বাড়াতে হবে।’

উল্লেখ্য, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কেনিংটন ওভালে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নামাটা যে ভুল ছিল ম্যাচ শেষেই তা প্রমাণ হয়েছে। তাই কেনিংটন ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে ঘুরে ফিরে আসছে টাইগারদের একাদশ নিয়ে। আজকের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে জায়গা পেতে আজকের ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। তাই এ ম্যাচে সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে মাশরাফিবাহিনী। এ ক্ষেত্রে একাদশে জায়গা পেতে পারেন স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী মিরাজ। একই সঙ্গে বাদ পরতে হতে পারে ইমরুল কায়েসকে। এছাড়া এই দিনেও একাদশের বাইরে থাকবেন পেসার শফিউল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ।

 

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশঃ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা

ম্যানচেস্টারে হামলার রেশ না কাটতেই আবারও সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে লন্ডন। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো লন্ডন। তবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে সন্ত্রাসী হামলার চেয়ে বড় বাঁধা হিসেবে দেখা দেওয়ার কথা বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি সম্পন্ন হতে পারবে কি না, এ নিয়েও সংশয় আছে।

বিবিসির আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ওভালে আজ বিকেল থেকেই বৃষ্টি বাগড়া দেবে। বিকেল চারটায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। সন্ধ্যা সাতটায় তা রূপ নিতে পারে ভারী বৃষ্টিতে। রাত দশটায় আবারও হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস। যে বৃষ্টি দিবাগত রাত একটায় ভারী বর্ষণে রূপ নিতে পারে।

bangladesh

এদিকে কমপক্ষে দুই ইনিংসে ২০ ওভার করে খেলা না হলে বাতিল হয়ে যায় ম্যাচ। আপাতত যা পূর্বাভাস, তাতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার শঙ্কাটা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গতকাল (রোববার) ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বারবার হানা দিয়েছে বৃষ্টি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা শেষ হতেই দেয়নি।

 

উল্লেখ্য, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কেনিংটন ওভালে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে।

ভারতের কাছে হার দুঃখজনক : ইমরান খান

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপপর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১২৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে পাকিস্তান। আর ভারতের কাছে পাকিস্তানের পরাজয়ে ইমরান খান দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় ইমরান লিখেছেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি খুব ভালো করেই জানি হার-জিত খেলারই অংশ। তবে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের এমন আত্মসমর্পণ খুবই বেদনাদায়ক।’

যত দিন যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান লড়াই হয়ে পড়ছে একতরফা। সাম্প্রতিক অতীতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হারের পাল্লাই ভারী। অপর এক টুইটে ইমরান লেখেন, ‘যত দিন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেটকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো না হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত তৃণমূলে প্রতিভার প্রাচুর্য থাকলেও ভারতের সঙ্গে শক্তির ব্যবধান বাড়তেই থাকবে। আমরাও এমন হার দেখতেই থাকব।’

এছাড়া আরেক টুইটে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পদে একজন পূর্ণ পেশাদার ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ইমরান খান লেখেন ‘পিসিবির সভাপতির যদি পেশাদারির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া না যায়, তাহলে পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি লন্ডনের ওভালে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে। ম্যাচটি লন্ডনের সময় অনুযায়ী দিবারাত্রি ম্যাচ। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে। তাই এই ম্যাচ বাংলাদেশের সামনে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রান করেও হেরেছে বাংলাদেশ। সেটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচ। বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ৮ উইকেটে হেরেছে। ম্যাচটিতে হেরে এমনিতেই টুর্নামেন্ট থেকে পিছিয়ে পড়েছে। তবে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ও ৯ জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে, সেমিফাইনালে উঠে যাবে মাশরাফিবাহিনী। কিন্তু ্আজ হারলেই বিদায় ঘটবে।
ইংল্যান্ডের কাছে হেরেই পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশসহ স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে জেতায় এই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার সবার উপরে আছে ইংল্যান্ড (২ পয়েন্ট)। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দুই দলই ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে। দুই দলই সমান অবস্থানে আছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ সবার নিচেই আছে। বাংলাদেশের পয়েন্ট তালিকায় কোন পয়েন্ট এখনও যে যোগ হয়নি। আজ যদি বাংলাদেশ জিতে তাহলে পয়েন্ট যোগ হবে। সঙ্গে সেমিফাইনালে ওঠার একটা সুযোগও থাকবে। নয়ত বিদায় ঘটবে।
আজ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচ শেষে সামনে এই গ্রুপে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড খেলা আছে। এরপর নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া খেলা আছে। যদি আজ বাংলাদেশ হেরে যায়, তাহলে বিদায় নেবে; কারণ অস্ট্রেলিয়ার ৩ পয়েন্ট হয়ে যাবে। বাংলাদেশ শেষ ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও তখন কোন লাভ হবে না। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ যে আছে। যে দলই জিতুক তখন বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পয়েন্টই থাকবে।
আজ হেরে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলেও ২ পয়েন্ট হবে। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতলে হবে ৪ পয়েন্ট। আর নিউজিল্যান্ড জিতলে হবে ৩ পয়েন্ট। তার মানে আজ হারলেই বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত। কোনভাবেই বিদায় ঠেকানো যাবে না। তখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি হয়ে যাবে আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আজ জয় ছাড়া কোন বিকল্প পথ খোলা নেই।
অবশ্য দলটি অস্ট্রেলিয়া বলেই বাংলাদেশ জিতবে, এমন আশা করা যাচ্ছে না। দলটি খুবই শক্তিশালী। এরআগে সাতবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়েছে। সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০০৬ ও ২০০৯ সালে টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে দলটি। দুইবার ফাইনালে খেলেছে। দুইবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভারতও দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে একবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এককভাবে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দলটি এখন পর্যন্ত একবারই শুধু গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেবারও অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপে ছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড এবং উপমহাদেশের দল শ্রীলঙ্কা। সেবারও খেলা হয়েছিল ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসেই। এবার শ্রীলঙ্কার জায়গায় বাংলাদেশ যোগ হয়েছে। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে অস্ট্রেলিয়ার খুব ভাল অবস্থান নেই। তবে ২০০৪ সালে যখন ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়, তখন সেমিফাইনালে খেলে অস্ট্রেলিয়া। এবার তৃতীয়বারের মত ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হচ্ছে। এ আসরে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলছে। যদিও প্রথম ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলটি হারের মুখে পড়েও বৃষ্টির জন্য বেচে গেছে। তবে দলটি যে কোন সময় ঘুরে দাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। একটি জয় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের ভেতর অনেক আত্মবিশ্বাস এনে দিতে পারে। সেই আত্মবিশ্বাসেই তারা শিরোপায় ছোয়াও দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ এখন থেকে সব ম্যাচকেই ফাইনাল ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বলেছেন, ‘আমরা টুর্নামেন্ট জিততে চাই। জিততে হলে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের ফাইনাল।’ স্মিথ শিরোপায় দৃষ্টি দিচ্ছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে সেখানে ভাবনাই নেই। ভাবনা একটাই যেভাবেই হোক জিততে চান।
বাংলাদেশ কী করবে? ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর প্রেরণা আছে। তবে সেটি বহু বছর আগে। স্মৃতি এখনও সুমধুর। ্এ একটিবারই যে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো গেছে। কিন্তু সেই স্মৃতি নিয়ে কী আর বসে থাকলে চলবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বসেও নেই। দলের একটিই লক্ষ্য। সুযোগ পেলেই জয় তুলে নেওয়া। সেটি অবশ্য অনেক কঠিন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এরআগে যে চারবার খেলেছে বাংলাদেশ, খুব ভাল কোন ফল পাওয়া যায়নি। ২০০০ সালে প্রথমবার একটিমাত্র ম্যাচ খেলতে পারছে। বাছাইপর্ব খেলেছে। ২০০২ ও ২০০৪ সালে সরাসরি টুর্নামেন্টে খেললেও গ্রুপ পর্বই অতিক্রম করতে পারেনি। ২০০৬ সালেও বাছাইপর্ব খেলা পর্যন্তই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এবার বাংলাদেশ দল আবার সরাসরি খেলছে। র‌্যাংকিংয়ের সেরা আটে থেকে টুর্নামেন্টে খেলছে। যোগ্যতা অর্জন করেই খেলছে। সেই যোগ্যতার প্রমানও দিতে চায় দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই যেমন বলেছিলেন, ‘কিছু করে দেখাতে চাই।’ বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। সবার দৃষ্টি থাকবে টুর্নামেন্টে। এখানে ভাল কিছু করতে পারলে সবার দৃষ্টিতে তা পরবে। তাই বাংলাদেশ দল কিছু করে দেখানোর চেস্টায় আছে। সুযোগ পেলে অস্ট্রেলিয়াকেও যে হারিয়ে দেবেনা, তা কে বলতে পারে। মাশরাফির আশা সামনে ভাল কিছু করার, ‘প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংটা ভাল হয়েছে। দল ভাল করেছে। জয় উপহার দেওয়া যায়নি। তবে সামনে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভাল করতে পারব আশা করি।’
যদিও প্রথম ম্যাচ হেরে গেছে বাংলাদেশ। এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। শেষ ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার আগে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা রয়েছে। এ ম্যাচটি জিততেই হবে বাংলাদেশকে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এর কোন বিকল্প নেই।

সিরিজ জিতল উইন্ডিজ

ক্রীড়া ডেস্ক:

এক ম্যাচ হাতে রেখে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শনিবার রাতে আফগানিস্তানকে বৃষ্টি আইনে ২৯ রানে হারিয়েছে টি-টোয়েন্টির বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

সেন্ট কিটসের আউটফিল্ড ভেজা থাকায় ম্যাচ শুরু করতে বিলম্ব হয়। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ১১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় দীর্ঘক্ষণ ম্যাচ বন্ধ থাকে। বৃষ্টি থামলে ম্যাচ নেমে আসে ১৫ ওভারে। স্বাগতিক দল ১৫ ওভারে করে ১১২ রান। সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন ওয়ালটন। এছাড়া এভিন লুইস ২৫ ও মারলন স্যামুয়েলস করেন ২২ রান।

বৃষ্টি আইনে ১৫ ওভারে ১২৩ রানের লক্ষ্য পায় আফগানিস্তান। ১৩.৩ ওভারে আফগানিস্তান গুটিয়ে যায় ৯৩ রানে। ২৯ রানের হারে সিরিজে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় আসগার স্টানিকজাইয়ের দল। পেসার কেসরিক উইলিয়ামস ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের ইনিংস একাই ধসিয়ে দেন। আরেক পেসার কার্লোস ব্রেথওয়েট নেন ২ উইকেট। আফগানিস্তানের হয়ে গুলবাদিন নাইব ১২ ও করিম জানাত ২০ রান করেন। শেষ দিকে নাজিবুল্লাহ জারদানের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান।

ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন কেসরিক উইলিয়ামস।

ওয়ার্নের সেই ‘বল অব দ্য সেঞ্চুরি

ক্রীড়া ডেস্ক :

মাইক গ্যাটিং যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। শেন ওয়ার্নের বলটা পড়েছিল লেগ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে। সেখান থেকে বাঁক নিয়ে গ্যাটিংয়ের ব্যাট-প্যাড ফাঁকি দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেল অফ স্টাম্পের বেল!

ঘটনাটা ১৯৯৩ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে আজকের এই দিনেই (৪ জুন)। তখন ওয়ার্নের ওই ডেলিভারিকে ‘বল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন অনেকেই। আজ সেই ‘বল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ২৪ বছর পূর্ণ হলো।

মার্ক টেলরের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল ২৮৯ রানে। জবাবে দ্বিতীয় দিনে ১ উইকেটে ৮০ রান তুলে ভালোই জবাব দিচ্ছিল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার বল তুলে দিলেন তখনকার তরুণ লেগ স্পিনার ওয়ার্নের হাতে। আর অ্যাশেজে ওয়ার্নের প্রথম ডেলিভারিটিই হয়ে গেল ইতিহাসের অংশ।

ওয়ার্নের বলটা পড়েছিল লেগ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে। সেখান থেকে বাঁক নিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গেল অফ স্টাম্পের বেল! গ্যাটিংকে লেগ স্পিনের জাদুতে বিভ্রান্ত করার পরপরই ওয়ার্নের ডেলিভারিকে ‘বল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন অনেকে।

অনুশীলনে উজ্জীবিত বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে ৮ উইকেটে পরাজয় বাংলাদেশের। এতে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথটা অনেকটা অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে টাইগারদের। তবে প্রতিপক্ষ এবার অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সে যাই হোক আইসিসি-র মেইলে টাইগারদের অনুশীলন ভেন্যু হিসেবে ঠিকানা দেয়া ছিল লন্ডন স্কুুল অব ইকনোমিক্সের। কিন্তু জায়গায় পৌছে বুঝা গেলো ‘সকলি গরল ভেল’। কারণ সেখানে ছিল শুধুই ক্যাম্পাস। কোনো খেলার মাঠই নেই। তাদের প্লে গ্রাউন্ড হলো উইম্বলডনের কাছে, সারেতে।
অবশেষে নানা ঝক্কি-ঝামেলা শেষে মাঠে পৌছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুশীলন শেষ। শেষ আধঘন্টা অনুশীলনে দেখা গেছে উজ্জ্বীবিত এক টিম বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের পরাজয়ের হতাশা, কিংবা মলিনতা অথবা গ্লানি- কোনো পিছুটান টাইগার-ক্রিকেটারদের পেয়ে বসেনি। যেনো ভুলেই গেছেন তারা তিনশ’র বেশি রান করেও পরাজয়টা। অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে সবাই বেশ মজা করছিলেন। কখনো মেতে উঠেছিলেন হাসাহাসিতে।
অনুশীলণ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার মাঠে আসার পর মোস্তাফিজকে নিয়ে সৌম্য-মোসাদ্দেকরা ঠাট্টায় মেতে ওঠেন। মাঠে শুয়ে থাকা মোসস্তাফিজের উপর সৌম্য-মোসাদ্দেক ঝাঁপিয়ে পড়েন। এমনি করেই অনুশীলন আর দুস্টুমি চলছিলো দলের খেলোয়াড়দের। তাতে ইংল্যান্ডের কাছে ৩০৫ রান করেও সহজেই হার মানাতে কারো মনোবলে চিড় ধরেনি। যেনো সবার মাঝে একটা বাড়তি জেদ কাজ করছে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর। সাব্বিরে কথার মধ্যেও সেই সুর। তিনি জানান, ’ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর আমাদের কারো মনোবলই ভেঙ্গে যায়নি। এখনো সম্ভাবনা আছে সেমিফাইনালে যাওয়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
তিন নাম্বারে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার পরও গত ম্যাচে সেই পজিসন ছেড়ে দেয়াতে সাব্বিরের মাঝে নেই কোন আফসোস কিংবা আক্ষেপ। তার কথায় আছে দলীয় সংহতি। সাব্বিরের কাছে দলের প্রয়োজনটাই আসল। তিনি বলেন, ‘তিন নম্বারে আমি ভালো খেললেও দলের প্রয়োজনটাই আসল। যে কোন পজিশনে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। এতে আমার কোন সমস্যা হয় না।’
সাব্বির নিজের তিন নম্বার আসন হারালেও মেহেদী হাসান মিরাজ হারিয়েছেন সেরা একাদশের জায়গাটা। সাব্বিরে মতো তার মাঝেও নেই কোন আফসোস। তার কাছেও দলের প্রয়োজনটাই সবার আগে। মেহেদী হাসান মিরাজ জানান, ‘দল যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে। আল্লাহ তায়ালা যা করেন ভালোর জন্যই করেন।’ প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করার পর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসল লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুতই ছিলেন তিনি। না খেলার বিষয়টি তিনি ম্যাচের দিন সকালেই জেনেছেন।
অধিনায়ক মাশরাফি এবং কোচ হাথুরুসিংকে অনুশীলন শেষে মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে গভীর মনযোগে শলা-পরামর্শ করতে দেখা যায়। হয়তো আরো একবার অজি-বধের ছক কষছিলেন তখন তারা।

বয়স অনুযায়ী আফ্রিদির মস্তিষ্কের উন্নতি হয়নি!

ক্রীড়া ডেস্ক :

কিছুদিন আগে শহীদ আফ্রিদি বলেছিলেন, ভারতের সব ক্রিকেটার তার বন্ধু হলেও, একমাত্র গৌতম গম্ভীর তার বন্ধু নন। এবার সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন ভারতীয় ওপেনার। তার দাবি, বয়স অনুযায়ী আফ্রিদির মস্তিষ্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়নি!

২০০৭ সালে কানপুরে ভারত-পাকিস্তান একটা ম্যাচে লেগে গিয়েছিল আফ্রিদি ও গম্ভীরের। দুজনের মধ্যে বেশ কথার যুদ্ধ হয়েছিল সেদিন। এরপর থেকেই একজন আরেকজনের ‘চোখের বিষ’।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে রোববার হতে যাওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছে ভারতীয় চ্যানেলগুলো। এই ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে শুক্রবার গম্ভীরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল একটি চ্যানেল। আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার শোয়েব আখতারও।

একটা পর্যায়ে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সম্প্রতি আফ্রিদির করা মন্তব্য নিয়ে গম্ভীরকে তার মত ব্যক্ত করতে বলেন। তখন গম্ভীর বলেন, বয়স অনুযায়ী আফ্রিদির মস্তিষ্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়নি।

গম্ভীর আরো বলেন, তিনি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন, কিন্তু তারা মাঠে একে অন্যের বিপক্ষে লেগে যাওয়ার পর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।

গম্ভীরের মন্তব্য শুনে হাসছিলেন শোয়েব। পরে তিনি বলেন, আফ্রিদি ও গম্ভীরের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে তারা দুজনই ভালো মানুষ। পরবর্তীতে দুজনের দেখা হলে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলেও অবাক হবেন না বলে জানান শোয়েব।

ভারতকে এগিয়ে রাখছেন আফ্রিদি

ক্রীড়া ডেস্ক :

৪ বলে দরকার ৯। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ২ বল বাকি থাকতেই পাকিস্তানকে ১ উইকেটের দারুণ জয় এনে দিলেন শহীদ আফ্রিদি। ম্যাচটা ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে। ভারতের বিপক্ষে তিনি অনেক ম্যাচই খেলছেন। কখনো জিতেছেন, কখনো হেরেছেন। রোববার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যখন মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান, আফ্রিদি থাকবেন দর্শক। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক এই ম্যাচে ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে রাখছেন অবশ্য ভারতকে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি উপলক্ষে আইসিসির ওয়েবসাইটে নিয়মিত কলাম লিখছেন আফ্রিদি। সেখানেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের সমর্থক হওয়ার কারণে আমি অবশ্যই চাইব পাকিস্তান যেন সব ম্যাচ জেতে। বিশেষ করে সেই ম্যাচ যদি ভারতের বিপক্ষে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীত এবং ভারতীয় দলের গভীরতায় আমার মনে হয়, ভারত এই ম্যাচে একটু হলেও এগিয়ে।’

ভারতকে চাপে ফেলতে হলে পাকিস্তানি বোলারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন আফ্রিদি। প্রাক্তন পাক অলরাউন্ডারের দৃষ্টিতে কোহলি পাকিস্তানি বোলারদের বড় চ্যালেঞ্জ, ‘কোহলিকে বল করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। সবাই জানে কোহালি কোন জাতের ব্যাটসম্যান। ভারতীয় ব্যাটিংকে ও-ই নেতৃত্ব দেয়। পাকিস্তানি বোলারদের শুরু থেকেই কোহলিকে আক্রমণ করতে হবে। বিশেষ করে ও যখন ক্রিজে আসবে। কোহলিকে তাড়াতাড়ি ফেরাতে পারলে ভারতকে অল্প রানে আটকে রাখা যেতে পারে।’

র‌্যাংকিংয়ে সাতে নেমে গেল বাংলাদেশ

মাত্র ৯ দিন র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বর অবস্থানটা ধরে রাখতে পারলো বাংলাদেশ। ৯ম দিনের মাথায় এসে আবারও আগের অবস্থান, র‌্যাংকিংয়ে সাত নম্বরে নেমে গেলো মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রান করেও হেরে যাওয়ার কারণে র‌্যাংকিংয়ে এই অবনতি হলো বাংলাদেশের।

ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে গিয়েছিল বাংলাদেশ। রেটিং পয়েন্ট হয়েছিল ৯৩। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমান রেটিং পয়েন্ট হলেও ভগ্নাংশের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ছয় নাম্বারে ওঠে বাংলাদেশ।

 

কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে পরাজয়ের কারণে ১ রেটিং পয়েন্ট কমে গেলো বাংলাদেশের। ৯৩ থেকে নেমে আসলো ৯২-এ। শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট ৯৩-ই থেকে গেলো। এ কারণে ২ জুন প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আবার সপ্তম।

icc-rankings

তবে আবারও ৬ নম্বরে উঠে যাওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। কারণ, আজই দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচে যদি লঙ্কানরা হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তাহলে তাদেরও রেটিং পয়েন্ট কমে যাবে এবং বাংলাদেশ উঠে যাবে ৬ নম্বরে। শ্রীলঙ্কা নেমে আসতে সাত নম্বরে।

অবশেষে রোনালদোকে সরাসরি দেখার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে তামিমের

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দারুণ ভক্ত তিনি। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, সামনে থেকে রোনালদোর খেলা দেখবেন; সময় এবং সুযোগ কোনোটাই করে উঠতে পারছিলেন না। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে বাংলাদেশ দলের এই ওপেনারের। কার্ডিফে আজ সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্তাসের খেলা সরাসরি দেখবেন তামিম ইকবাল।

 কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে ৫ জুন লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবেন মাশরাফি-তামিমরা; কিন্তু অনেক আগেই কার্ডিফ থেকে ঘুরে আসার সুযোগ তৈরি করে নিলেন তামিম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আরও একদিন বিরতি পাচ্ছেন তিনি। সে সুযোগই উড়াল দিলেন কার্ডিফে, স্বপ্নের নায়ককে দেখতে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল দেখার জন্য অনেক আগেই টিকিট ম্যানেজ করে রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। প্রিয় খেলোয়াড়কে খুব কাছে থেকে দেখতে টিকিট কেনার ক্ষেত্রেও মূল্য নিয়ে ভাবেননি তিনি। জোগাড় করেছেন লোয়ার স্ট্যান্ডের একটা টিকিট। যে কারণে তার সিটটা পড়েছে ডাগআউটের ঠিক পেছনে। যেখান থেকে প্রিয় ফুটবলারদের খুব কাছে থেকে দেখতে পাবেন তিনি।

লোয়ার স্ট্যান্ডের টিকিট কিনতে তামিম ব্যায় করেছেন ২৭০০ পাউন্ড (প্রায় আড়াই লাখ টাকা)। স্বপ্নের তারকাকে এক নজর দেখার যে আকাঙ্খা, সেটা নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে রোনালদোকে কাছ থেকে এক নজরে দেখার প্রবল ইচ্ছা আমার। অবশেষে সেই সুযোগটা আমার মিলে গেলো। একেবারে কাছে থেকে তার খেলা দেখার সুবর্ণ সুযোগটা আমি কোনোভাবেই মিস করতে চাই না।’

খেলা দেখার জন্য কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কাছ থেকে একদিনের ছুটিও নিয়েছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমি কোচের কাছে একদিনের ছুটি চেয়েছি এ জন্য। তিনি আমাকে না বলেননি।’

বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছে। ৩০৫ রান করার পরও ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। হারলেও তামিম রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। প্রথম ম্যাচেই তিনি তুলে নিয়েছেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। করেছেন ১২৮ রান।

আফগানদের জয়ের রেকর্ড থামাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টানা ১১টি জয়ের রেকর্ড আফগানিস্তানের। যার বিরুদ্ধেই হোক, ১১টি টানা জয়ের রেকর্ড গড়ে যেন আকাশে উড়ছিল আফগানরা। অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে তাদেরকে থামতে হলো। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আফগানিস্তানের টানা ১১ জয়ের রেকর্ডের পর ৮টি করে জয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড।

সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে মূলতঃ লড়াই হয়েছে দুই স্পিনারের। তবে শুধু বল হাতেই নয়, ব্যাট হাতেও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন আফগান স্পিনার রশিদ খান। কিন্তু সুনিল নারিনের বুদ্ধিদীপ্ত ঘূর্ণি বোলিংয়ের সামনে পড়ে ৬ উইকেটের ব্যবধানে পরাজয়ই মেনে নিতে হলো রশিদ খান-মোহাম্মদ নবিদের।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরু থেকেই স্পিন আক্রমণের মুখে পড়ে তারা। ৮ বলে ১২ রান করা গুলবাদিন নাইব ফিরে যান স্যামুয়েল বদ্রির বলে। এরপর রানআউট হয়ে যান উসমান গণিও। দুই ওপেনারের সঙ্গে দ্রুত ফিরতে শুরু করেন আসগার স্টানিকজাই, করিম জানাত, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি এবং মোহাম্মদ নবিও।

তবে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রশিদ খান। শেষ দিকে তার সঙ্গে দৃঢ়তা দেখান বোলার আমির হামজাও। ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন রশিদ খান এবং আমির হামজা করেন ১৭ বলে ২১ রান। ইনিংসের একেবারে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে মাত্র ১১০ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগানরা।

জবাব দিতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চার উইকেট হারিয়ে ১৬.৩ ওভারেই পৌঁছে যায় জয়ের লক্ষ্যে। ১৫ বলে ২২ রান করেন চাডউইক ওয়ালটন। এভিন লুইস ১৬ বলে করেন ২৬ রান। ৩৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন মারলন স্যামুয়েলস। শেষ দিকে জেসন মোহাম্মদ করেন ২৫ বলে ১৮ রান। ৪ উইকেট হারিয়েই শেষ পর্যন্ত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়রা।

আফগান বোলারদের মধ্যে শাপুর জাদরান নেন ২ উইকেট। ১ উইকেট করে নেন রশিদ খান এবং করিম জানাত।

সিনেমা দেখিয়ে শিষ্যদের তাতালেন জিদান

ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে রিয়াল মাদ্রিদ এবং জুভেন্তাসের কোচরা শিষ্যদের নানাভাবে তাতিয়ে তোলার চেষ্টা ব্যস্ত। একএকজন অবলম্বন করছেন একেক পদ্ধতি। রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার জিনেদিন জিদান কী পদ্ধনিত অবলম্বন করছেন?

হয়তো খুব কম মানুষই জানেন, কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী জিদান। তিনি কথা কম বলেন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তো কথাই বলতে চান না। তবে তিনি দলকে ভিন্ন উপায়ে এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করেন, যেটা খুব কার্যকরী এবং সে কার্যকরিতার ফল এখনও পর্যন্ত পেয়ে আসছে রিয়াল মাদ্রিদ।

‘রিয়ালের ডিএনএ-তেই জয় আছে’- এমন কথা বলার থেকে শুরু করে রোনালদোকে বিশ্বসেরা দাবি করা। জিদান ভালমতোই জানেন কীভাবে, ফুটবলারদের থেকে সেরাটা বের করে আনা যায়।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের আগেও সবার নজর ছিল জিদান কীভাবে তার দলের ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ করেন, সেদিকে। এবারও খুব বেশি কথা বললেন না তিনি। বরং কার্ডিফ ফাইনালের আগে ফুটবলারদের ভিডিও দেখালেন ফরাসি ম্যানেজার। তাও আবার এমন এক ভিডিও যেখানে এক লক্ষ সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইতিহাস গড়বেন মাত্র ৩০০জন।

হ্যাঁ, সেই বিখ্যাত যুদ্ধের সিনেমা (থ্রি হান্ড্রেড) ৩০০- এর কিছু দৃশ্য দেখিয়েই রিয়াল ফুটবলারদের তাতিয়ে তুলতে চাইলেন জিদান। আবার সিনেমাটির প্রধান চরিত্র লিওনিডাসের মুখে নিজের বলা সংলাপও জুড়ে দেন জিদান। যেখানে তিনি বলেন, ‘বাকি বিশ্ব যখন তোমার বিরুদ্ধে তখন কাজটা হবে তাদের ভুল প্রমাণ করা।’

ম্যাচের আগে অবশ্য রিয়াল জুড়ে টেনশনের চোরাস্রোত বয়ে যাচ্ছে। তার আসল কারণ ইস্কো বনাম গ্যারেথ বেল। দুই তারকার মধ্যে প্রথম একাদশে কে থাকবেন এখন সেটাই প্রশ্ন? গোটা মৌসুম যেখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন ইস্কো। চোটের জন্য বেল অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন ডাক্তারের চেম্বারে, সেখানে প্রথম একাদশে কাকে রাখবেন সেটাই জিদানের কাছে সবচেয়ে বড় ধাঁধা।

রিয়ালের ফরাসি ম্যানেজারের আর এক চিন্তা গঞ্জালো হিগুয়াইন। জুভেন্তাস স্ট্রাইকার এক সময় ছিলেন রিয়ালের উঠতি তারকা। রিয়ালকে লা লিগা জিততে সাহায্য করেছিলেন হিগুয়াইন। লস ব্ল্যাঙ্কোজ জার্সিতে হয়ে উঠেছিলেন ফুটলবিশ্বের সেরা প্রতিভাদের মধ্যে একজন।

ন্যাপোলি থেকে জুভেন্তাসে সই করার পরে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন হিগুয়াইন। ইতালিয়ান সিরি আ-য় গোলের পর গোল করছেন। আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালেও মোনাকোর বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন। ফাইনালের চব্বিশ ঘণ্টা আগে হিগুয়াইন জানিয়ে দিলেন ফাইনালে খারাপ রেকর্ড পাল্টাতে তিনি বদ্ধপরিকর। ‘বিশ্বকাপে মারাকানার ফাইনালে খুব খারাপ খেলেছিলাম; কিন্তু আমি জুভেন্তাসের হয়ে ইতিহাস গড়তে তৈরি। আশা করছি ফাইনালে জিতব,’ বলছেন হিগুয়াইন।

এবার আবাহনীর বিপক্ষে গাজীকে জেতালেন নাসির

আয়ারল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফেরেন তিনি। ফিরেই শেখ জামালের বিপক্ষে ১৩৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন নাসির হোসেন। তার শতকে ভর করে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স জিতেছিল ১৭৭ রানে। এরপর নাসিরের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ।

চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে নাসির হোসেন শো চলছেই। আজ শুক্রবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আবাহনীর বিপক্ষে গাজীকে জেতালেন নাসির। ব্যাটিং-বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। আবাহনীর বিপক্ষে গাজীর জয়টা ৬ উইকেটের।

বল হাতে ৮.২ ওভারে ৩৬ রান খরচায় ৩ উইকেট পকেটে পুরেছেন নাসির। ব্যাট হাতে খেলেছেন হার না মানা ৫৬ রানের ইনিংস। তার ৯২ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ চারটি চার ও একটি ছক্কায়। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে নাসিরের হাতে। আয়ারল্যান্ড থেকে ফিরে এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন এই অলরাউন্ডার।

বিস্তারিত আসছে..

‘চ্যাম্পিয়ন সাকিবকে’ মিস করছে বাংলাদেশ

২৫ থেকে ৩০ রান কম হয়েছে, স্কোরটা ৩৩০ হলে আর একজন স্পেশালিস্ট বোলার দলে থাকলে হয়তো চিত্রটা ভিন্ন হলেও হতে পারতো। গতকাল রাতে ওভালে ইংলিশদের কাছে ৩০৫ রান করে হারের পর অনেক কথা। তবে সব কথার সারমর্ম হলো ওপরেরটা।

সেটা হতো কি হতো না? তা নিয়ে ছোটখাটো বিতর্ক হতেই পারে। ক্রিকেট খেলাটাই এমন, যা শেষে অনেক রকম কথা হয়। কোনো খেলাকে এতটুকু ছোট না করে বলা- যা পৃথিবীর আর কোনো খেলা এত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হয় না। কী করে হবে?

আর কোনো খেলা তো আর এত সময় ধরে চলে না। টেস্টের কথা বাদ। ওয়ানডেতে ৩০০ বলের প্রতিটিতে একটি করে ঘটনা ঘটে। একটি ভালো ও দৃষ্টিনন্দন শট দর্শক মন কেড়ে নেয়। আবার কোনো বোলারের অসাধারণ ডেলিভারি ব্যাটসম্যানকে বোকা বানিয়ে উইকেটের পতন ঘটায়। দর্শক মনে আলোড়ন জাগে। একটি নয়নলোভা ক্যাচ, কোনো ডিরেক্ট থ্রো`তে রান আউট- প্রতি বলেই হতে পারে। অধিনায়কের বোলার ব্যবহার, ফিল্ডিং সেটিং- আরও কত ইস্যু থাকে।

তাই ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে নানা রকম হিসাব-নিকাশ। আলোচনা-পর্যালোচনা আর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। প্রিয় দল জিতলে যেমন ভক্তরা আনন্দে মেতে ওঠেন, উল্লাস আর উৎসব আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। জয়ের রূপকার বা স্থপতি বনে যান জয়ের নায়ক। পান বীরোচিত সংবর্ধনা। প্রশংসা। স্তুতি।

আর হারলে ভক্ত-সমর্থকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন আলোচনা-পর্যালোচনায়। সাথে তীর্যক সমালোচনাও থাকে। যার বা যাদের ব্যর্থতায় দল হারে তারা রীতিমকতো খলনায়ক বনে যান। এর কোনোটাই নতুন ঘটনা নয়। এটা চলে আসছে। হয়তো চলবে অনাদীকাল অবধি।

কাল ওভারে ইংলিশদের কাছে হারের ক্ষত এখনো দগদগে। বাজেটের মতো রাষ্ট্রীয়, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও নাগরিক জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কথাবার্তার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হার ও হারের ধরন নিয়ে নানা কথা গোটা দেশে।

তবে হার নিয়ে নানা মুনির নানা মত। বেশির ভাগই শেষ ৫-৬ ওভারে হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকার পরও হাত খুলে খেলতে না পারা আর একজন স্পেশালিস্ট বোলার কম খেলানোকে হারের বড় কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন। তা নিয়ে বিস্তর কথাবার্তাই শুধু নয়, লেখালেখিও হয়েছে প্রচুর।

কিন্তু এর বাইরেও কথা আছে। ওই কারণ ছাড়াও বাংলাদেশের না পারার আরও কারণ আছে। যা সবার অলক্ষ্যে ঢাকা পড়ে আছে। শুনবেন কি সেই কারণ? কারণ হচ্ছে সাকিব আল হাসানের সেরাটা না পাওয়া। সময়ের প্রবাহতায় পারফরমারের সংখ্যা বেড়েছে। ব্যক্তি নির্ভরতা কমেছে বহুগুণে। এখন বেশ কজন ম্যাচ উইনার পেয়েছে বাংলাদেশ। তামিম, মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর চওড়া ব্যাট অন্যতম নির্ভরতা।

অধিনায়ক মাশরাফির দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব, সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া আর মোস্তাফিজের বোলিং নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময় টিম বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করছে। কিন্তু তারপরও সাকিব নির্ভরতা রয়েই গেছে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কার্যকর অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স দলের প্রাণশক্তি।

যিনি একাই টু ইন ওয়ান- ওয়ানডেতে যে ক্রিকেটারের হাত ধরেই সর্বাধিক ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ; সেই সাকিব সেভাবে আলো ছড়াতে পারছেন না। এক কথায় সাকিবকে সাকিবের মতো করে পাচ্ছে না দল। তার ব্যাট সেভাবে কথা বলছে না। বলের ধারও আগের তুলনায় কম। সব মিলে সাকিব যে ভূমিকাটা রাখতেন, দলের সাফল্যে আনুপাতিক হারে তার যে একটা উল্লেখযোগ্য কার্যকর অবদান থাকত, তার অনেকটাই নেই। আর তার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্স।

সাকিব বল হাতে নিয়মিতই প্রায় দুই থেকে তিন উইকেট পেতেন। এবং খুব বেশি রান না দিয়ে; গড় পড়তা ৪০-৪৫ রান দিয়ে। সেটা এখন তেমন হচ্ছে না। হোক ব্যাটিং উইকেট, ব্যাটম্যানদের স্বর্গ- তারপরও সাকিব বলে কথা। তার ৮ ওভারে ইংলিশরা ইচ্ছেমতো খেলে ৬২ রান তুলে নেবেন, আর একজন আউটও হবেন না- এ যে কল্পনারও অতীত!

এরকম পরিস্থিতিতে অনেকবার সাকিব বোলিংয়ে এসে ব্রেক থ্রু দিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন। পরের স্পেলে হয়তো আরও একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়ে গেছেন। সাকিবের ক্যারিয়ার, তার অর্জন-প্রাপ্তি আর বল ও ব্যাট হাতে পাওয়া ক্রমাগত সাফল্যর ফিরিস্তির বর্ণনা দিয়েও শেষ করা যাবে না।

দেশের হয়ে সর্বাধিক ১৫ বার ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হওয়া একমাত্র ক্রিকেটার। সেই ১৫ বার ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে কি শুধু সাকিব শেষ হাসি হেসেছেন? নাহ। দল মানে বাংলাদেশ জিতেছে। এখন প্রশ্ন হলো সেই সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে কি সেরাটা পাওয়া যাচ্ছে?

সাকিব দীর্ঘদিন ধরে দলের সাফল্যে যে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন, তা কি এখন রাখতে পারছেন না? এ নিয়েই আসলে এ প্রতিবেদন। ক্রিকেটার সাকিব অনেক বড়। পারফরমার সাকিব আরও বড়। সন্দেহাতীতভাবেই বাংলাদেশের সেরা পারফরমার।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো, প্রায় বছর খানেক সাকিব সেরা ফর্মে নেই। সেটা অস্বাভাবিক নয়। যে কোনো ক্রিকেটারেরই খারাপ সময় যায়। ফর্ম খারাপ হতেই পারে। শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে ভিভিয়ান রিচার্ডস, ব্রায়ান লারা, জ্যাক ক্যালিস, ইমরান খান, ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, রিচার্ড হ্যাডলি- সবারই খারাপ সময় কাটিয়েছেন।

এখন খুঁটিয়ে দেখতে হবে সাকিবও সেই খারাপ সময় কাটাচ্ছেন কিনা? তার গুরু সালাউদ্দীন কিন্তু মাত্র কদিন আগে জাগো নিউজের সাথে আলাপে বলেছেন, সাকিবের বলে যে অ্যাকিউরিসি ছিল, তা কমেছে। আগে সাকিব কিছু আলগা ডেলিভারি দিয়ে মার খেলেও ঠিক নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে আবার একদম জায়গামতো বল করতে পারতেন। অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যানের পক্ষেও যা মারা কঠিন ছিল।

এছাড়া ফ্লাইটে বৈচিত্র্য আর হঠাৎ হঠাৎ শার্প টার্ন- এ দুুটিও ছিল সাকিবের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। কিন্তু নির্মম সত্য হলো তার কোনোটাই এখন খুব চোখে পড়ছে না। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই সাকিব ফ্লাইটে বৈচিত্র্য এনে বহু ব্যাটসম্যানকে ঘোলা পানি খাইয়ে ছেড়েছেন। আবার কখনো কখনো কিছু ডেলিভারির স্বাভাবিকের অস্বাভাবিক দ্রুত ও বেশি স্পিন করে ব্যাটসম্যানকে ধাঁধাঁয় ফেলে দিয়েছেন।

কিন্তু আজকাল তাও চোখে পড়ছে কম। সেটা যে গতকাল ওভালে বল হাতে কিছু করতে না পারার কারণেই বেশি বলা হচ্ছে, তাও নয়। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, সেই সাকিব নেই এখন। আগে আসুন তার ব্যাটিং পরিসংখ্যান দেখি। গত বিশ্বকাপের পর ৩৩ ইনিংসে কোনো শতরান নেই।

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের সাথে তিন ম্যাচের সিরিজ থেকে গতকাল ওভালে ইংল্যান্ডের সাথে হওয়া খেলাগুলোয় সাকিবের ইনিংসগুলো একনজরে দেখুন: ৩১+৭+ ব্যাট করেননি + ৫২+৫১*+২০+৪৮+০*+ব্যাট করেননি + ১৬+৪৮+১৭+১৭+৫৯+৪+৩+৭৯+৫৪+৭২+১৮+৭+১৪+৬+১৯+১০। শেষ সেঞ্চুরি করেছেন প্রায় তিন বছর আগে; ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে(১০১)।

এতো গেল ব্যাটিংয়ের চিত্র। এবার আসুন বোলার সাকিবকে দেখি। যার ১৭৪ ম্যাচে ২২৪ উইকেট, সেই সাকিব শেষ ৩৩ ম্যাচে ১০ বার উইকেট পাননি! ভাবা যায়? স্বর্ণ সময়ের সাকিবের সাথে এটা মেলানো যায়? গত বছর ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে উইকেট মোটে ৯ টি। এর মধ্যে ৫ খেলায় উইকেটশূন্য। সেরা বোলিং ৬৯ রানে ৩ উইকেট।

সর্বশেষ ৪ উইকেট পেয়েছেন দেড় বছর আগে; ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলায় আফগানিস্তানের সাথে (৪/৪৭)। তারপর ১৫ খেলায় (একটিতে বল করেননি) ১৪ বার বল হাতে নিয়ে একবারের জন্য চার উইকেটের পতন ঘটাতে পারেননি।

শেষ কথা, সাকিব গত প্রায় দশ বছর ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলের সেরা অললাউন্ডার। সেই সঙ্গে বিশ্বেরও এক নম্বর অলরাউন্ডার। কিন্তু এখন কিছু দিন ধরে সেই অনুপাতে পারফরম্যান্স হচ্ছে না। সেটা যে শুধু তার পরিসংখ্যানকে দুর্বল করছে, তা নয়। দলকেও ভোগাচ্ছে। কারণ যতই সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বলা হোক না কেন, বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ সাকিব আল হাসান।

ব্যাট ও বলে দলের টালিকাশক্তিও। সেই পারফরমার যখন অনুজ্জ্বল ও অকার্যকর- তখন তা দলের পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবেই। আসলে সেটাই হয়েছে। মাঝে কিছু ম্যাচ মোস্তাফিজ জিতিয়েছেন। তার বৈচিত্র্যে ভরা বোলিংয়ের কাছে অনেক বড় ব্যাটসম্যানই নাকানি-চুবানি খেয়েছেন। তাতে বাংলাদেশেরই লাভ হয়েছে। সাফল্যের ভাণ্ডার হয়েছে সমৃদ্ধ।

তাই সে অর্থে সাকিবের অনুজ্জ্বলতা ও কম কার্যকারিতা সেভাবে চোখে পড়েনি। কিন্তু এখন মোস্তাফিজের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় সাকিবের দ্যুতি ও ধারহীন বোলিংটা আর বেশি চোখে পড়ছে।

পিএসএলে দল সংখ্যা বাড়ল

ক্রীড়া ডেস্ক:

দ্বিতীয় আসর শেষে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল আয়োজকরা। কথামত দল বাড়াল তারা।

ষষ্ঠ দল হিসেবে পিএসএলে যুক্ত হলো মুলতান। মুলতানের মালিকানা কিনেছে শোন গ্রুপ। পিএসএলের তৃতীয় আসরেই দেখা যাবে মুলতানকে। বৃহস্পতিবার পিএসএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ৫.২ মিলিয়ন ডলারে মুলতানের মালিকানা কিনেছে শোন গ্রুপ।

নতুন দল যুক্ত হওয়ায় পিএসএলের দল সংখ্যা ছয়টি হলো। প্রথম দুই আসরে খেলেছিল লাহোর কালান্দার্স, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচি কিংস, কুয়েত্তা গ্ল্যাডিয়েটরস ও পেশওয়ার জালমি। দল সংখ্যা বাড়ায় ম্যাচ সংখ্যাও বাড়ল। তৃতীয় আসরের পিএসএলে ম্যাচ হবে ৩৪টি। এর ৮টি ম্যাচ হবে পাকিস্তানে।

পিএসএলের গভর্নিং কমিটির চেয়ারম্যান নাজাম শেঠী জানিয়েছে, পিএসএল পাকিস্তানে আয়োজনের জন্য যে ধরণের প্রস্তুতির প্রয়োজন তা এখন থেকেই নেয়া হচ্ছে। গত আসরের ফাইনাল ম্যাচ লাহোরে আয়োজন করেছিল আয়োজকরা। এবারও ফাইনাল হবে লাহোরে।

কোহলিদের কোচ হতে আগ্রহী শেবাগ, মুডি

ক্রীড়া ডেস্ক: 

বিরাট কোহলি, মাহেন্দ্র সিং ধোনিদের জন্য নতুন কোচ খুঁজছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করে বোর্ডের কাছে আবেদন করেছেন ভারতের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ। ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

৩১ মে পর্যন্ত প্রধান কোচের আবেদন গ্রহণ করেছে বিসিসিআই। এ সময়ের মধ্যেই নিজের আবেদন পত্র দেন শেবাগ। শেবাহের আবেদনসহ আর চার কোচ আবেদনপত্র দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার টম মুডি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ রিচার্ড পাইবাস এবং ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার দোদা গনেশ ও লালচাঁদ রাজপুত কোহলিদের কোচ হতে আগ্রহী।

আবেদনকৃতদের মধ্যে টম মুডির প্রোফাইল সবথেকে বেশি ভারী। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন এ ক্রিকেটার আইপএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অধীনে হায়দরাবাদ একবার শিরোপাও জিতেছে। এছাড়া বিগ ব্যাশ লিগের মেলবোর্ন রেনেগেডস ও ইংলিশ কাউন্টি উরচেস্টারশায়ারের হয়েও কাজ করেছেন মুডি। অন্যদিকে শেবাহের কোচিং করানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ২০১৫ সালে অবসর নেয়ার পর ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ম্যানেজম্যান্টের হয়ে কাজ করেছেন। এছাড়া রিচার্ড পাইবাস দুই মেয়াদে পাকিস্তানের কোচ ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেরও দায়িত্বে ছিলেন অস্ট্রেলিয় কোচ। লালচাঁদ রাজপুত বর্তমানে আফগানিস্তানের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দোদা গনেশ কর্ণাটক ক্রিকেট দলের নির্বাচক পদে আছেন।

বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট অ্যাডাভাইসরি কমিটি নতুন কোচ নির্বাচন করবেন। এ কমিটিতে রয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকার ও ভিভিএস লক্ষণ। প্রসঙ্গত, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পরপরই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হবে অনিল কুম্বলকে। বিরাট কোহলি বোর্ডের কাছে কুম্বলের কোচিং কৌশল নিয়ে আপত্তি জানানোয় কুম্বলেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

মনের সিংহই খেয়েছে বাংলাদেশকে

ওয়ানেডেতে ইংলিশরা এখন সত্যিকার অর্থেই সিংহ। ওভালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই যেমন বাংলাদেশের বোলিংকে আয়েশ করে চেটেপুটে খেল ‘থ্রি লায়ন্স’ জার্সিধারীরা। তবে ম্যাচ শেষে বোঝা গেল, বনের সিংহ নয়, বাংলাদেশকে আগেই খেয়ে ফেলেছিল মনের সিংহ!

মনের সিংহের আবির্ভাব বাংলাদেশ দলের টিম মিটিংয়ে। যেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বোলার একজন কম নিয়ে ৮ ব্যাটসম্যান খেলানোর! ভয় থেকেই একজন বাড়তি ব্যাটসম্যানের সিদ্ধান্ত, যেটির বলি মেহেদী হাসান মিরাজ। চার বোলার নিয়ে খেলে দল পেলো না দিশা।

একদিন আগে এই মাঠেই ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন মিরাজ। ভারতের বড় রানেও মিরাজ বল হাতে ছিলেন বেশ কিপটে। পরে ব্যাট হাতে দলের মহাবিপর্যয়ে করেছেন লড়াই। ইংলিশদের মিডল অর্ডারে তিন বাঁহাতি ওয়েন মর্গ্যান, বেন স্টোকস, মইন আলি। অফ স্পিনার মিরাজের খেলাটা তাই নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল।

তবে ওই যে ভয়! ভারতের বিপক্ষে যে ম্যাচে দারুণভাবে লড়লেন মিরাজ, সেই ম্যাচই সম্ভবত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল চন্দিকা হাথুরুসিংহের মনে। ওই ম্যাচের ব্যাটিং বিপর্যয় দেখেই হয়ত ভড়কে গিয়েছিলেন কোচ। টিম ম্যানেজমেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত কোচের চাওয়াতেই ৮ ব্যাটসম্যানের একাদশ।

এমনিতে মাঠে যে একাদশ নামছে, সেটি সবার দল বলেই ধরে নেওয়ার রীতি। হেড কোচ, কোচিং স্টাফের অন্যরা, অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক, ম্যানেজার, দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক, ক্ষেত্র বিশেষে সিনিয়র ক্রিকেটার, সবার ভাবনা ও যুক্তি-তর্ক থাকবে। আলোচনা শেষে যেটি ঠিক হবে, যে একাদশ মাঠে নামবে, ধরে নিতে হবে সেটি সবারই দল। তবে বাস্তবতা হলো, হাথুরুসিংহের চাওয়ার বিরোধিতা করা বা তার সঙ্গে একমত না হওয়ার উপায় এখন বাংলাদেশ দলে খুব একটা নেই।

ম্যাচ শেষে মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলনে ৮ ব্যাটসম্যানের প্রসঙ্গ উঠেছে বারবার। অধিনায়কের সব ব্যাখ্যার সার-সংক্ষেপ, ওপরের ব্যাটসম্যানরা যেন নির্ভার হয়ে খেলতে পারে, সেই ভাবনাতেই এত বেশি ব্যাটসম্যান। আর শুরুতে ধস নামলে পরে খুব দারুণ ব্যাটিং করলেও ২৭০-২৮০ রান হবে। এই রানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পেরে ওঠা যাবে না। তাই যত পারো, ঠেসে দাও ব্যাটসম্যান।

সাম্প্রতিক সময় দারুণ ব্যাট করতে থাকা বাংলাদেশ দলে কোচের এই ধস নামার ভয় পাওয়ার কারণ ভারত ম্যাচ। কিন্তু ৭ ব্যাটসম্যান নিয়ে ধস সামলানো না গেলে অষ্টম ব্যাটসম্যান কিভাবে রানের পাহাড় গড়বেন, সেটা যেমন বোধগম্য নয়, তেমনি ব্যাটিং স্বর্গে ৭ ব্যাটসম্যান দলকে ৩৩০ এনে দিতে না পারলে অষ্টম ব্যাটসম্যান কিভাবে পারবেন, সেটা বোঝাও মুশকিল!
মিরাজ থাকলেই বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে যেত, সেটির নিশ্চয়তা অবশ্যই নেই। বরং ৫-৬ জন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়েও ওভালে ৩০৫ রানের পুঁজিতে ইংল্যান্ডকে আটকানো কঠিন। এই মাঠেই গত জুনে ঠিক ৩০৫ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ড জিতে গিয়েছিল ৪০ ওভারেই। তার আগের জুনে এখানে নিউ জিল্যান্ডের ৩৯৮ রান তাড়া করেও প্রায় জিতে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত হেরেছে মাত্র ১৩ রানে।

বোলার বেশি থাকলেও থাকলেও তাই ইংল্যান্ড জিততে পারত। মিরাজ তো মুত্তিয়া মুরালিধরন বা সাকলায়েন মুশতাক নন যে একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবেন। আসলে মিরাজ এখানে মানসিকতার নিয়ামক মাত্র। তার জায়গায় তাসকিন, সানজামুল বা হতে পারতেন যে কোনো বোলারই। মূল ব্যপারটি হলো, ব্যাটিং বিপর্যয়ের ভয় থেকেই বাংলাদেশ ৮ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছে। ভয়ডরহীন এই ইংল্যান্ডকে যেখানে তাদের চেয়েও বেশি সাহসী ক্রিকেট খেলে চমকে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, উল্টো বাংলাদেশ মাঠেই নেমেছে ভয় নিয়ে, রক্ষণাত্মক ভাবনায়।

এক সময় বাংলাদেশ দলের মানসিকতা অবশ্য এরকমই ছিল। ভাবনাই ছিল পশ্চাৎপদ। প্রতিপক্ষের ভুলের আশায় ম্যাচের পর ম্যাচ কেটে যেত। তবে সেসব দিন বাংলাদেশের ক্রিকেটে অতীত বলেই মনে হচ্ছিলো। মাশরাফির অনুপ্রেরণাদায়ী ও আগ্রাসী নেতৃত্ব তো ছিলই, মানসিকতার বদলে বড় কৃতিত্ব হাথুরুসিংহেরও। সেই কোচকেই কিনা এই ম্যাচের আগে কাবু করে ফেলল মনের সিংহ। হাঁটলেন রক্ষণাত্মক পথে।

টিম কম্বিনেশন নিয়ে নানা প্রসঙ্গ ও প্রশ্নে মাশরাফি বরাবরই বলে আসছেন, অধিনায়ক হিসেবে সবসময়ই অন্তত ৫ জন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন। ঢাকা লিগ বা বিপিএল, যেখানে তার মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মাশরাফি প্রায় সবসময়ই অন্তত ৫ বোলার নিয়েই খেলেন। অথচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এদিন তিনি মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট এনে দেওয়ার বোলার খুঁজে বেড়ালেন।

সাব্বির বোলিং পেয়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন দলকে। মোসাদ্দেক-সৌম্যকে বোলিং করিয়েছেন অধিনায়ক। হয়ত করাতে পারতেন মাহমুদউল্লাহকে। কিন্তু তারা কেউই তো উইকেট শিকারি নন, পার্ট টাইমার। ম্যাচ জেতাতে হতো মূল বোলারদেরই। কিন্তু তাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বোলিংয়ে এনেও লাভ হয়নি। উইকেট নেওয়ার মত আর কেউ ছিলও না অধিনায়কের হাতে।

৮ ব্যাটসম্যানের সিদ্ধান্ত কোচের বলে হারের সব দায় অবশ্যই তার নয়। ক্রিকেটে কোনো সিদ্ধান্ত কাজে লাগবে, কোনোটি লাগবে না। প্রতি ম্যাচেই সেরকম কিছু কিছু হয়। নির্বাচক, কোচ, অধিনায়ক, সবার সিদ্ধান্ত কিংবা পছন্দ কখনো কাজে লাগে, কখনো নয়। এটিই ক্রিকেটের নিয়ম। তবে সিদ্ধান্তের পেছনের কারণটি গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে ৮ ব্যাটসম্যান খেলানোর কারণ যেমন ছিল ধসের ভয়। হঠাৎ এই মাসিকতার প্রত্যাবর্তনই শঙ্কাজনক।

স্রেফ ইংলিশ সিংহের শিকার হলে সমস্যা এমনিতে খুব ছিল না। কিন্তু মনের সিংহের ভয়, মেনে নেওয়ার মত নয়!

ইংল্যান্ডের দুই জুটিতেই শেষ বাংলাদেশ

ম্যাচ তখন শেষের দিকে। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছিলো দর্শকদের একটি ভিডিও, সঙ্গে বাজছিল গান। সেই গানের সঙ্গে কোরাস ধরলেন গ্যালারির ইংলিশ সমর্থকেরাও, যেন তাদের দলের পারফরম্যান্সেরই প্রতীকী। রান তাড়ায় এরকম হেসেখেলে, নির্ভার থেকেই জিতে গেল ইংল্যান্ড!

তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষ প্রথমবার তিনশ ছাড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এই উইকেটে ৩০৫ রান নিয়ে জেতা সহজ হবে না, সেটি অনুমিতই ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পারল না লড়াই করতেও। দারুণ পেশাদারি ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড জিতল ৮ উইকেটে, ১৬ বল বাকি রেখে।

গত জুনে শ্রীলঙ্কার ঠিক ৩০৫ রানই তাড়া করে ৪০ ওভারে জিতে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। এবার এত দ্রুত না জিতলেও একবারও মনে হয়নি, হারতে পারে ইংল্যান্ড।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই প্রথম তিনশ রান তাড়া করে জিতল কোনো দল। নিজেদের যন্ত্রণা ভুলিয়েই এই রেকর্ড গড়ল ইংল্যান্ড। গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই ওভালেই ইংলিশদের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ২৯৩ রান তাড়ায় জয় ছিল আগের রেকর্ড।

তামিম ইকবালের সেঞ্চুরির জবাব হয়ে এলো জো রুটের অসাধারণ সেঞ্চুরি। মুশফিকের ঝড়ের জবাবে অ্যালেক্স হেলসের ঝড়। বাংলাদেশের ছিল না আর কেউ। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মর্গ্যানও খেললেন দারুণ ইনিংস।

হেলস ও মর্গ্যানের সঙ্গে রুটের দুটি জুটিতেই ম্যাচ শেষ। দ্বিতীয় উইকেটে জুটি ১৫৯ রানের, অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ১৪৩!

পায়ে ক্র্যাম্প নিয়েও ১৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে জিতিয়ে ফিরেছেন ইংলিশদের গোল্ডেন বয় রুট।

বাংলাদেশের বোলারদের সবাই ছিলেন বিবর্ণ। সাকিব আবারও বল হাতে নিজের ছায়া। রুবেল খরুচে। খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি মাশরাফি, মুস্তাফিজ। আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে নামা দলের বোলার একজন কম ছিল এমনিতেই।

শুরুর ব্রেক থ্রু প্রত্যাশা মতোই পেয়েছিল বাংলাদেশ। মাশরাফির স্লোয়ারে জেসন রয়ের স্কুপ শর্ট ফাইন লেগে লাফিয়ে দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে হাতে জমান মুস্তাফিজ।

বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে দেশের বাইরে উইকেটের সেঞ্চুরি করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তবে ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক যা বলেছিলেন, চাপ টানা ধরে রাখা, সেটিই পারেনি বাংলাদেশ। এই ইংল্যান্ডের সঙ্গে পেরে উঠতে হলে প্রয়োজন ছিল ইনিংস জুড়ে দারুণ বোলিং-ফিল্ডিং। কিন্তু হেলস ও রুটের ব্যাটিংয়ে ক্রমেই অসহায় বাংলাদেশের বোলিং।
শুরু থেকেই এক-দুই নিয়ে রান এগিয়েছে এই জুটি। সুযোগ মতো বল পাঠিয়েছে বাউন্ডারিতে। খেলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আস্তে আস্তে পিষে ফেলেছে বাংলাদেশের আশা। বারবার বোলার বদলেও হয়নি লাভ।

১৫৩ বলে ১৫৯ রানের জুটিই গড়ে দিয়েছে ম্যচের ভাগ্য। খামতি বলতে মুহূর্তের ভুলে হেলসের সেঞ্চুরি না পাওয়া। পার্ট টাইমার সাব্বিরকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে আবার স্লগ করেছিলেন। মিড উইকেটে ধরা পড়েছেন ৮৬ বলে ৯৫ রানে।

বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল দ্রুত আরও একটি-দুটি উইকেট। উল্টো রান উঠতে থাকল দ্রুত। রুট ও মর্গ্যান ধরে রাখলেন রানের ধারা।

মর্গ্যান তবু আউট হতে পারতেন। মাশরাফির বলে লং অনে সামনে ঝাপিয়ে বল হাতে জমিয়েছিলেন তামিম। তার দাবি ছিল পরিষ্কার ক্যাচ। কিন্ত আম্পায়ার সুন্দরম রবির সফট সিগন্যাল ছিল নট আউট। টিভি রিপ্লে দেখে আম্পায়ারের সফট সিগন্যাল বদল দেওয়ার মত প্রমাণ মিলল না। রিপ্লেতে আরেকটু গভীরভাবে সময় নিয়ে কেন দেখা হলো না, সেই প্রশ্ন অবশ্য তোলা যায়।

এরপর আর পেছনে তাকাননি মর্গ্যান। ৪৫ বলে ছুঁয়েছেন অর্ধশতক। আরেকপাশে রুট তুলে নিয়েছেন নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

সেখানেই না থেমে খেলা শেষ করে ফিরেছেন দুজনই। ১২৯ বলে ১৩৩ রানে অপরাজিত রুট। ৬১ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত মর্গ্যান।

ম্যাচের প্রথম ভাগে মনে হচ্ছিলো, লড়াই করবে বাংলাদেশ। অন্তত ব্যাটিংটায় ছিল সেরকম কিছুর আভাস। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের দারুণ জুটিতে বাংলাদেশ ছাড়িয়েছিল তিনশ।

১২৮ করেছেন তামিম, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ৭২ বলে ৭৯ মুশফিক। দুজনের ১৬৬ রানের জুটি ওভালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।

এই দুজন জুটি বাধার আগেই মোটামুটি একটা ভিত্তি পেয়েছিল বাংলাদেশ। সকাল থেকেই রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। তবু সকালে উইকেটে কিছু আর্দ্রতা থাকতে পারে বলে ব্যাটিং উইকেটেও বোলিং নিলেন মর্গ্যান। মেহেদী হাসান মিরাজকে বাইরে রেখে আট বাটসম্যান নিয়ে নামা বাংলাদেশ পায় ব্যাটিং।
আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২২ রানে ৬ উইকেট হারানোর কারণে হোক বা অন্য কারণে, বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভীষণ সতর্ক। প্রথম ৪ ওভারে ছিল ৬ রান।

পঞ্চম ওভারে প্রথম চার আসে সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে। ১১ রানে সেই সৌম্যরই সহজ ক্যাচ ছাড়েন মইন।

সৌম্য অবশ্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। বেন স্টোকসের বাইরের বল উড়িয়ে মেরে ফিরে গেছেন ২৮ রানে। তবে ততক্ষণে উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশ পেয়ে গেছে ৫৬।

তামিম শুরুতে ছিলেন সাবধানী। ২০ বলে তার রান ছিল ৪। মার্ক উড শরীর তাক করা কিছু বলে বিপাকেও ফেলেছেন তাকে। তবে থিতু হওয়ার পর অবশ্য তাকে থামানোর পথ জানা ছিল না ইংলিশ বোলারদের। চোটের কারণে ২ ওভারের বেশি বল করতে পারেননি ক্রিস ওকস। সেটিও ভুগিয়েছে ইংলিশদের।

তিনে সুযোগ পেয়ে শুরুটা ভালোই করেছিলেন ইমরুল কায়েস। কিন্তু তিনিও উইকেট উপহার দিয়ে ফিরলেন ১৯ রানে।

বাংলাদেশের সেরা সময়ের শুরু এরপরই। মুশফিক যথারীতি শুরুতে থেকেই খেলেছেন থিতু ব্যাটসম্যানের মতো। তামিম জমে গেছেন। রানের চাকা তখন ঘুরছে আর ঘুরছেই।

মাঝে বেন স্টোকসের সঙ্গে কথার লড়াইয়ও নাড়াতে পারেনি তামিমের মনোসংযোগ। ১২৪ বলে তুলে নেন ওয়ানডেতে নবম সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরির পরও থামেননি। মইন আলিকে ছক্কা মেরেছেন, উড়িয়েছেন মার্ক উডকে। ছুটছিলেন মুশফিকও। শেষ পর্যন্ত রান বাড়ানোর তাড়ায় একই ওভারে ফিরেছেন দুজন। ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ১৪২ বলে ১২৮ তামিম। ৮ চারে ৭২ বলে ৭৯ মুশফিক।
শেষ দিকে সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ বলে ২৪। শেষ ১০ ওভারে এসেছে ৮৩ রান। শেষ ৫ ওভারে ৪৩।

শেষ দিকে আরেকটু রান বেশি না হওয়ার আক্ষেপ থাকতে পারে। তবে দিন শেষে বলা যায়, রান কিছু বেশি হলেও লাভ হতো না! উইকেটে বোলারদের জন্য কিছু ছিল না বটে। তবে বোলিং-ফিল্ডিং ভালো হলে অন্তত লড়াইটা জমতে পারত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০৫/৬(তামিম ১২৮, সৌম্য ২৮, ইমরুল ১৯, মুশফিক ৭৯, সাকিব ১০, সাব্বির ২৪, মাহমুদউল্লাহ ৬*, মোসাদ্দেক ২*; ওকস ০/৪, উড ০/৫৮, বল ১/৮২, স্টোকস ১/৪২, প্লাঙ্কেট ৪/৫৯, মইন ০/৪০ রুট ০/১৮)।

ইংল্যান্ড: ৪৭.২ ওভারে ৩০৮/২ (রয় ১, হেলস ৯৫, রুট ১৩৩*, মর্গ্যান ৭৫*; মাশরাফি ১/৫৬, সাকিব ০/৯২, মুস্তাফিজ ০/৫১, সৌম্য ০/১৩, মোসাদ্দেক ০/৪৭, রুবেল ০/৬৪, সাব্বির ১/১৩))

ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: জো রুট

তামিমের শতকে ইংল্যান্ডের সামনে ৩০৬ রানের লক্ষ্য

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৩০৫/৬

বাংলাদেশের তিনশ ছাড়ানো সংগ্রহ

তামিম ইকবালের শতক আর মুশফিকুর রহিমের অর্ধশতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে তিনশ ছাড়ানো লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল করেছে ৬ উইকেটে ৩০৫ রান।

নবম শতক পাওয়া তামিম ফিরেন ১২৮ রান করে। মুশফিক খেলেন ৭৯ রানের আরেকটি দারুণ ইনিংস। ৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১০ ওভারে ৮২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ইনিংস শেষে তামিম বলেছেন, ১৫ রান কম হয়ে গেছে তাদের সংগ্রহ। তবে তিনশ রানের ওপরে যে কোনো লক্ষ্যই কঠিন। বোলিংয়ে তারা নিজেদের সেরাটা দিয়ে ইংল্যান্ডকে থামানোর চেষ্টা করবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০৫/৬ (তামিম ১২৮, সৌম্য ২৮, ইমরুল ১৯, মুশফিক ৭৯, সাকিব ১০, সাব্বির ২৪, মাহমুদউল্লাহ ৬*, মোসাদ্দেক ২*; ওকস ০/৪, উড ০/৫৮, বল ১/৮২, স্টোকস ১/৪২, প্লানকেট ৪/৫৯, মইন ০/৪০, রুট ০/১৮)

ফিরলেন সাব্বিরও

৫০তম ওভারের প্রথম বলে লিয়াম প্লানকেটকে উড়ানোর চেষ্টায় লং অনে জো রুটকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন সাব্বির রহমান। ১৫ বলে তিনটি চারে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরেন ২৪ রান করে।

সাব্বিরের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের স্কোর ৩০০/৬।

টিকলেন না সাকিব

জেইক বলকে উড়ানোর চেষ্টায় ফিরেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান নিজের জোনে বল পেলেও সীমানার বাইরে নিতে পারেননি। দুটি চারে ৮ বলে ১০ রান করে সাকিবের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের স্কোর ২৭৭/৫।  সাব্বির রহমানের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

পরপর দুই বলে তামিম-মুশফিকের বিদায়

১৬৬ রানের চমৎকার এক জুটিতে দলকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দেওয়া তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম ফিরেছেন পরপর দুই বলে।

লিয়াম প্লানকেটের বলে উইকেটরক্ষক জস বাটলারের গ্লাভসবন্দি হন তামিম। ১৪২ বলে খেলা তার ১২৮ রানের ইনিংসটি গড়া ১২টি চার ও তিনটি ছক্কায়।

পরের বলে লং অফে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মুশফিক। ৭২ বলে ৭৯ রান করতে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হাঁকিয়েছেন ৮টি চার।

৪৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৬২/৪। প্লানকেটের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেওয়া সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন সাব্বির রহমান।

তামিম-মুশফিকের দেড়শ রানের জুটি

এশিয়ার বাইরে বাংলাদেশকে প্রথম দেড়শ রানের জুটি উপহার দিয়েছেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর জুটি বাধা দুই ব্যাটসম্যানকে দলকে রেখেছেন বড় সংগ্রহের পথে।

এশিয়ার বাইরে ওয়ানডেতে দেশের আগের সেরা জুটিতেও ছিলেন মুশফিক। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৪১ রানের জুটি গড়েছিলেন  এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।

৪৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৫৯/২। তামিমের রান ১২৭, মুশফিকের ৭৮। দুই জনে জুটি বেধে তুলেছেন ১৬৪ রান।

৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ

শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ গেছে দুই থিতু ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। দলটির হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য আছে সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেনদের।

৪০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২২৩/২। ১২৭ বলে তামিমের রান ১০৬, ৫৯ বলে মুশফিকের ৬৩।

তামিমের দারুণ শতক

শাহরিয়ার নাফীসের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শতক করেছেন তামিম ইকবাল। আইসিসির কোনো ওয়ানডে টুর্নামেন্টে এটাই তার প্রথম তিন অঙ্কের স্কোর।

মইন আলির বলে স্কয়ার লেগে বল পাঠিয়ে ১২৪ বলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও ওয়ানডেতে সব মিলিয়ে নবম শতকে পৌঁছান তামিম।

শটের পসরা সাজিয়ে বসা বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান উপহার দিয়েছেন দারুণ কিছু পুল, কাভার ড্রাইভ, কাট, স্ট্রেইট ড্রাইভ। প্রতিপক্ষের ভালো বোলিং সামলেছেন সতর্কতার সঙ্গে। নিজের জোনে বল পেলে চড়াও হয়েছেন। শতকে পৌঁছানোর পথে হাঁকিয়েছেন ১১টি চার ও লংঅন দিয়ে বিশাল এক ছক্কা।

বাংলাদেশের দুইশ, তিনশতে চোখ

আইসিসির ওয়ানডে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম শতকের পথে থাকা তামিম ইকবালের ওপর থেকে চাপ কমাতে ইংলিশ বোলারদের ওপর চড়াও হন মুশফিকুর রহিম। জেইক বলকে আপার কাটে দারুণ এক চার হাঁকিয়ে ৩৮তম ওভারে দলকে নিয়ে যান দুইশ রানে।

৩৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২০৯/২। তামিমের রান ৯৭, মুশফিকের ৬০।

মুশফিকের অর্ধশতক, জুটির শতক

শুরু থেকে রানের জন্য মনোযোগী মুশফিকুর রহিম ৪৮ বলে পৌঁছেছেন অর্ধশতকে। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান এক-দুই রান নিয়ে সচল রেখেছেন রানের চাকা। কাভার ড্রাইভ, কাট আর পুলে হাঁকিয়েছেন চারটি চার।

জো রুটকে চার মেরে নিজের অর্ধশতকের সঙ্গে তামিম ইকবালের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান মুশফিক। দুই জনের দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনশ রানের পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

তামিম-মুশফিকের অর্ধশত রানের জুটি

বেন স্টোকসকে পুল করে চার হাঁকিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিকে অর্ধশত রানে নিয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান শুরু থেকেই রানের গতি বাড়াতে মনোযোগী। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তার সঙ্গী তামিম ইকবাল খেলছেন নিজের মতো করেই।

২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৫০/২। ৮৮ বলে তামিমের রান ৭১ ও মুশফিক ২৬ বলে ২৯।

২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৮ রান। তামিমের রান ৫০, মুশফিকের ৮।

বাংলাদেশের একশ পার, তামিমের অর্ধশতক

লিয়াম প্লানকেটের বলে মুশফিকুর রহিমের চারে ২২তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর একশ ছাড়ায়। সেই ওভারেই কাট করে চার হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান তামিম ইকবাল।

৭১ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার।

থিতু হয়ে আউট ইমরুলও

সৌম্য সরকারের মতো থিতু হয়ে ফিরেন টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসও। লিয়াম প্লানকেটের অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্লগ করতে গিয়ে ধরা পড়েন মার্ক উডের হাতে। মিড অন থেকে খানিকটা দৌড়ে ঝাঁপিয়ে দুই হাতেবল মুঠোয় নেন তিনি।

২০ বলে তিনটি চারে ১৯ রান করে ইমরুল ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৯৫/২। ৪৫ রানে ব্যাট করা তামিম ইকবালের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

সৌম্যর বিদায়ে ভাঙল অর্ধশত র