রাত ১১:০২, রবিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরো একটি একদিনের সিরিজ জয়ের পথে একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে আজ তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ২৮ রানে জয়ী হয়ে ১-০ তে এগিয়ে মাশরাফির দল। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ইমরুলের সেঞ্চুরি ও সাইফউদ্দিনের হাফ সেঞ্চুরিতে আট উইকেটে ২৭১ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৫০ ওভারে নয় উইকেটে ২৪৩ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। এতে জিম্বাুয়ের বিপেক্ষ টানা ১১ ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে কিছুটা অগোছালো ব্যাটিং হলেও ক্রমেই সফরকারীদের উপর প্রাধান্য রেখে দলের বড় ইনিংস এনে দেন ইমরুল, মিথুন ও সাইফ। অপরদিকে মিরাজ ও অপুর ঘুর্নিবলে ২৪৩ রানের বেশী তুলতে পারেনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। ঢাকার জয় নিয়েই আগামীকাল দুপুরে চট্টগ্রাম যাবে বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ হবে ২৪ ও ২৬ অক্টোবর বন্দরনগরীতে।

জয়ের জন্য ২৭২ রানের টার্গেটে মাঠে নেমে শুরুতে একদিকে মাশরাফি ও অপরদিকে মেহেদী মিরাজের আক্রমনের মুখে শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও ক্রমেই খোলশ ছেড়ে বেরিয়ে জুয়াও চড়াও হন । ফলে ছয় ওভার শেণে রান দাড়ায় ৪১। তবে মাঠের দর্শকদের স্বন্তি দেন মোস্তাফিজ। অস্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই শিকার করেন জুয়াওয়ের উইকেট। ৪৮ রানে প্রথম উইকেটের পতন। দলের ইনিংসে ১১ রান যোগ হওয়ার পর বিদায় টেলরের(১৩ বলে পাচ রান)। অপুর ঘুর্নিতে বোল্ড। অপর ওপেনার অধিনায়ক মাসাকাদজা রান আউটের ফাদে পড়েন ৬৩ রানে। এরপর আর বড় কোন জুটি গড়ে ওঠেনি। অভিজ্ঞ সিকান্দার রাজার (২২ বলে সাত) উইকেট নিয়ে অপু আবারো উপহার দেন নাগিন নৃত্য। দলীয় স্কোর ১০০ এর ঘরে যেতেই নেই পঞ্চম উইকেট, মেহেদীর শিকার আরভীন(৪৮ বলে ২৪ রান)। ১০০ রানে পঞ্চম উইকেটের পতনের পর উইলিয়ামস ও মুর সতর্কতার সঙ্গে দলকে এগিয়ে নেন। রান তোলার চেয়েও উইকেট বাচাতে মনযোগী হয় এ জুটি। ফলে ৩৫ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাড়ায় পাচ উইকেটে ১৪৪ রান। দলীয় ১৪৫ রানে মেহেদীর দ্বিতীয় শিকার পিটার মুর(৪৫ বলে ২৬ রান)। শেষ দিকে সিন উইলিয়ামস (৫৪ বলে ৪৫) কাইল জার্ভিস(৩২ বলে ৩৭) নবম উইকেট জুটিতে ৬৭ রান তুললেও, তা দলের জয় এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভাওে নয় উইকেটে ২৪৩ রানে থামে জিম্বাবুযের ইনিংস।

এরআগে, টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্বান্ত নেয়। দলের ইনিংসের সূচনা করেন ইমরুল ও লিটন। শুরুতে সতর্ক ছিলেন দুই ওপেনার। প্রথম চার ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৯ রান। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে বিচ্ছিন্ন হয় জুটি। ২ রানে জীবন পাওয়া লিটন ৪ রান করে ডান-হাতি পেসার তেন্ডাই চাতারার বলে আউট হন। লিটনের বিদায়ে উইকেটে আসেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ফজলে রাব্বি । চার বল মোকাবেলা ওভারের শেষ ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শুন্য হাতে ফেরেন রাব্বি। ১৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। দলকে চিন্তামুক্ত করেন ইমরুল ও মুশফিকুর রহিম। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে রানের চাকা ঘুড়াতে থাকেন তারা। তবে ১৫তম ওভারের শেষ বলে প্যাভিলিয়নে ফিরেন মুশফিক। জিম্বাবুয়ের লেগ-স্পিনার ব্রেন্ডন মাভুতার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশি। ২০ বলে ১৫ রান করেন। ইমরুলের সাথে ৫৪ বলে ৪৯ রান যোগ করেন মুশফিক।

এরপর দলকে এগিয়ে নেয়ার মিশন শুরু করেন ইমরুল ও পাঁচ নম্বরে নামা মোহাম্মদ মিথুন। শুরুতে রক্ষনাত্মক থাকলেও দ্রুত রান তোলার কাজটা ঠিকই সাড়েন ইমরুল ও মিথুন। বাউন্ডারির চাইতে ওভার বাউন্ডারিতে বেশি স্বাচ্ছেন্দ্যে ছিলেন তারা। তাই এই জুটিতে পাঁচটি ছক্কার বিপরীতে দু’টি চার হাকাঁন ইমরুল ও মিথুন। এরমধ্যে তিনটি ছক্কা ছিলো মিথুনের।

২৬তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে পরপর দু’টি ছক্কা মারেন মিথুন। একই রকম কান্ড ২৩তম ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে করেছিলেন ইমরুল। জিম্বাবুয়ের মাভুতাকে ব্যাক-টু-ব্যাক ছক্কা মারেন ইমরুল। এরমাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন ইমরুল। হাফ-সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন মিথুন। তবে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে আউট হন তিনি। জিম্বাবুয়ের ডান-হাতি পেসার কাইল জার্ভিসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মিথুন। ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৩৭ রান করেন মিথুন। চতুর্থ উইকেটে ইমরুল-মিথুন ৭৪ বলে ৭১ রান এনে দেন দলকে।
মিথুন যখন ফিরেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ২৭ দশমিক ২ ওভারে ১৩৭ রান। এ অবস্থায় চাপ বেড়ে যায় স্বাগতিকদের। মিথুনের বিদায়ের পরপরই ১০ বলের ব্যবধানে ২ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মিথুনকে শিকার করা জার্ভিসই বিদায় দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদি হাসান মিরাজকে। দু’জনই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশের পতন হওয়া ছয় উইকেটের মধ্যে পাঁচটি ক্যাচই নেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্রেন্ডন টেইলর।

১৩৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের হাল ধরেন ইমরুল ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। উইকেটে টিকে থাকার পাশাপাশি সিঙ্গেলসের উপর জোড় দিচ্ছিলেন তারা। এতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান ইমরুল। ২০১৬ সালে ঢাকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরির পর মারমুখী মেজাজ ধারন করেন ইমরুল। সতীর্থকে দেখে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেননি অন্যপ্রান্তে ৪৯ বলে ২৬ রান করা সাইফ উদ্দিন। জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপক্ষে রানের ফুলঝুড়ি ফুটাতে থাকেন তারা। ইনিংসের ৪৭ ও ৪৮তম ওভারে সমান ১৮ রান করে নেন ইমরুল ও সাইফ উদ্দিন। এরমধ্যে ইমরুল দু’টি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন সাইফ।
৪৮তম ওভারেই একটি করে ছক্কা ও চার মেরে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের দেড়শ রান স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখছিলেন ইমরুল। কিন্তু ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে বিদায় নিতে হয় তাকে। ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১৪০ বলে ১৪৪ রান করেন ইমরুল। এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা রান। সপ্তম উইকেটে সাইফ উদ্দিনের সাথে ১১৫ বলে ১২৭ রান যোগ করেন ইমরুল। বাংলাদেশের পক্ষে সপ্তম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি। সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ জুটি ছিলো ১০১ রান। ২০১০ সালে ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম ও নাইম ইসলাম ১০১ রান করেছিলেন।

ইমরুল ফিরে যাবার পরের বলেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাইফউদ্দিন। তবে ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে থেমে যান তিনি। তিন বাউন্ডারী ও এক ছক্কায় ৬৯ বলে ৫০ রান করেন সাইফ উদ্দিন। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার শেষে আট উইকেটে ২৭১ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের জার্ভিস ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৩৭ রানে চার উইকেট নেন।