দুপুর ২:০২, রবিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং

আইপিএলের দশম আসরকে সামনে রেখে কিছুদিন আগেই হয়ে গেছে খেলোয়াড়দের নিলাম। আর এ নিলামে অনেক অখ্যাত খেলোয়াড়রা দল পেলেও ৫০ লাখ ভিত্তি মূল্য থাকা এক সময় ভারতের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান খেলোয়াড় ইরফান পাঠানের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোন দল। আর এতেই হতাশ গত বছর রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্টের হয়ে মাঠে নামা ইরফান পাঠান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজের হতাশা প্রকাশ করে ইরফান লেখেন, ‘২০১০ সালে আমি গুরুতর চোট পেয়েছিলাম। ফিজিও আমাকে জানিয়েছিল, আর হয়তো আমি ক্রিকেট খেলতে পারবো না। ভালো হবে যদি আমি নিজের স্বপ্নকে ভুলে যাই। জবাবে আমি তাকে বলেছিলাম, আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারব কিন্তু দেশের হয়ে এই সুন্দর খেলাটি না খেলতে পারার কষ্ট সহ্য করতে পারব না। ’

এর সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করি। শুধু ক্রিকেট খেলতে পারার জন্য কিন্তু নয়, আবারো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার জন্য। আমি নিজের জীবন ও ক্যারিয়ারে অনেক ওঠা-নামা দেখেছি, কিন্তু হাল ছাড়িনি। এটাই আমার চরিত্র। আর চিরকাল আমি এরকমই থাকবো।`

উল্লেখ্য, দেশের হয়ে তারকা এই অল রাউন্ডার ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওয়ানডে ও ১৭১টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সর্বশেষ ভারতের হয়ে মাঠে নামেন অক্টোবর ২০১২তে।

অধিনায়কত্ব নিয়ে বিচারের সময় আসেনি : কোহলি

২০১৫ সাল থেকে অপরাজেয় অভিযাত্রা শুরু বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোম্পানির। ইতোমধ্যেই তার অধিনায়কত্ব নিয়ে সারা পড়ে গেছে। অনেকেই বলতে শুরু করে দিয়েছেন তিনিই সেরা। কিন্তু এখনই এটা শুনতে রাজি নন বিরাট কোহলি। তার মতে, এখনও সময় আসেনি তার অধিনায়কত্বের বিচার করার। একজন অধিনায়কের অধিনায়কত্বের মান নির্ভর করে তার দলের উপর।

তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজেকে সব সিরিজের পরই বিচার করতে বসি না। আমার লক্ষ্য থাকে সব ম্যাচ জেতার। অধিনায়কত্ব ততটা ভালো হয় যতটা তোমার টিম ভালো হয়। যতটা ধারাবাহিক হয়। যদি আমাদের খেলার ক্ষমতা না থাকে তা হলে অধিনায়ক হয়ে আমিও কিছু করতে পারবো না। দল যত অভিজ্ঞ হবে অধিনায়ককে তত ভালো লাগবে।’’

কোহলি বলেন, ‘‘হয়তো আরও পাঁচ থেকে আট বছর পর আমি নিজের অধিনায়কত্বের বিচার করতে পারবো। যদি আমি ততদিন অধিনায়ক থাকতে পারি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমি ভালো করি আর না করি এখনই আমার অধিনায়কত্ব নিয়ে বিচারের সময় আসেনি।’’

আজই পুণে শহরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে ভারত। চার টেস্টের এই সিরিজটি শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর টানা ১৯টি টেস্ট হারেনি ভারত। এর মধ্যে যদিও একটি মাত্র সিরিজ তারা খেলেছে দেশের বাইরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আগস্টে শ্রীলংকার গলে টেস্ট হেরেছিল। ঘরের মাঠে সর্বশেষ টেস্ট হেরেছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে, ইংল্যান্ডের কাছে, ২০১২ সালে। যখন যুবরাজ সিং ছিলেন টেস্ট খেলোয়াড় এবং এখনকার অজিঙ্কা রাহানে কিংবা রবীন্দ্র জাদেজারা ভারতীয় দলের হয়ে খেলাই শুরু করেননি।

অপর দিকে এশিয়ার মাটিতে সর্বশেষ ৯টি টেস্ট ম্যাচই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর পর্যন্ত এশিয়ার মাটিতে শ্রীলংকায় গিয়ে অনায়াসে জয় পাওয়ার রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার; কিন্তু গত বছর শ্রীলংকার মাটিতে এসে অস্ট্রেলিয়া হেরে গেছে ৩-০ ব্যবধানে। এক রঙ্গনা হেরাথের কাছেই হারতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। অস্ট্রেলিয়ার সেই দলের ৯ জন রয়েছে এখনকার এই দলে।

অস্ট্রেলিয়া কি পারবে ভারতের সাম্রাজ্য ভাঙতে!

কথার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বেশ আগে থেকেই। ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট লড়াই। সিরিজের নাম দেয়া হয়েছে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি। আদতে ধারে ও ভারে অ্যাসেজের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আগুনে সিরিজই শুরু হতে যাচ্ছে ভারতের পুণে শহরে। চার টেস্টের এই সিরিজটি শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়।

কয়েকটি ফ্যাক্ট জড়িয়ে পড়েছে এই সিরিজের সঙ্গে। এই সিরিজেই হয়তো টেস্ট র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে আসতে পারে অস্ট্রেলিয়া। এটা যেমন একটি বিষয়, তেমনি এর বিকল্প হতে পারে- অস্ট্রেলিয়া কোনোমতে একটা পারফরম্যান্স করে ভারত ছাড়তে পারে। তবে এক নম্বরে যেতে হলে এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ কিংবা ৪-০ তে অবশ্যই জিততে হবে।

ক্রিকেটের ন্যুনতমও যারা খোঁজ-খবর রাখেন, তারা মাত্রই বলে উঠবেন, ‘অসম্ভব’। এটা কোনোমতেই সম্ভব নয়। কীভাবে ভারতের মাটি থেকে ভারতকেই ৩-০ বা ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেশে ফিরবে অসিরা? যারা কি-না টানা ১৯ টেস্ট অপরাজিত! ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০ টেস্টের ১৭টিই জিতেছে এবং ড্র করেছে মাত্র ৩টিতে! ঘরের মাঠে পরাজয় কাকে বলে, সেটা দেখতে শেখেনি এখনও বিরাট কোহলির এই দলটি।

২০১৫ সাল থেকে অপরাজেয় অভিযাত্রা শুরু বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোংয়ের। এরপর টানা ১৯টি টেস্ট হারেনি ভারত। এর মধ্যে যদিও একটি মাত্র সিরিজ তারা খেলেছে দেশের বাইরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আগস্টে শ্রীলংকার গলে টেস্ট হেরেছিল। ঘরের মাঠে সর্বশেষ টেস্ট হেরেছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে, ইংল্যান্ডের কাছে, ২০১২ সালে। যখন যুবরাজ সিং ছিলেন টেস্ট খেলোয়াড় এবং এখনকার আজিঙ্কা রাহানে কিংবা রবীন্দ্র জাদেজারা ভারতীয় দলের হয়ে খেলাই শুরু করেননি।

অপর দিকে এশিয়ার মাটিতে সর্বশেষ ৯টি টেস্ট ম্যাচই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর পর্যন্ত এশিয়ার মাটিতে শ্রীলংকায় গিয়ে অনায়াসে জয় পাওয়ার রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার; কিন্তু গত বছর শ্রীলংকার মাটিতে এসে অস্ট্রেলিয়া হেরে গেছে ৩-০ ব্যবধানে। এক রঙ্গনা হেরাথের কাছেই হারতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। অস্ট্রেলিয়ার সেই দলের ৯ জন রয়েছে এখনকার এই দলে।

উপমহাদেশের মাটিতে স্পিনে এমনিতেই দুর্বল অস্ট্রেলিয়া। কিছুদিন আগেই ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন অস্ট্রেলিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিল ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার আগে স্পিন কীভাবে খেলতে হয়, সেটা ভালোভাবে শিখে যেতে। ভারতে এসে রবিচন্দ্র অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজাকে কীভাবে সামলাতে হবে সেটাই সবার আগে ভাবতে হচ্ছে অসিদের। একই সঙ্গে ভারতীয়দের স্পিন দিয়ে কীভাবে টেক্কা দিতে হয়, সেটাও অস্ট্রেলিয়াকে ভাবতে হবে।

২০১৩ সালেই সর্বশেষ নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে স্বাগত জানিয়েছিল ভারত। সেবার অশ্বিন আর জাদেজা মিলে নিয়েছিলেন ৫৩ উইকেট। চার টেস্টের সিরিজে মাত্র একটি সেঞ্চুরি করেছিল অস্ট্রেলিয়ানরা। মাইকেল ক্লার্ক সেই সিরিজের প্রথমদিনই সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপর চরম হতাশা নিয়েই বিদায় নিতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে।

চার বছর পর সম্পূর্ণ নতুন এক অস্ট্রেলিয়া আসলো ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে। পিটার হ্যান্ডসকব, ম্যাট রেনশ এবং শন মার্শরা এই প্রথমবারের মতো খেলবে ভারতের মাটিতে এসে। এরাই হয়তো হতে পারবে ভারতের স্পিনিং ট্র্যাকে অস্ট্রেলিয়ার ট্রাম্পকার্ড। একই সঙ্গে জস হ্যাজলউড এবং স্টিভেন ও’কেফি এই প্রথম টেস্ট বোলিং করবে ভারতের মাটিতে।

২০১৩ সালে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ক্রিকেটাররা। এবার এসব অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নেই। ভারত কি পারবে, তাদের সেই পুরনো রেকর্ড ধরে রাখতে? অস্ট্রেলিয়া কি পারবে, ভারতের মাটি থেকে জয়ী হয়ে ফিরে যেতে!

টেস্ট মর্যাদা নিয়ে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত

টেস্টের সদস্যপদ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আইসিসি। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, টেস্টে পূর্ণ সদস্যপদ কোনো দেশের জন্যই স্থায়ী কিছু নয়। টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দেশগুলোর পূর্ণ সদস্যপদ প্রতি পাঁচ বছর আর সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে প্রতি দুই বছর পরপর মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্প্রতি দুবাইয়ে আইসিসির নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জবাবদিহি সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

টেস্ট ক্রিকেটে এখন সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না জিম্বাবুয়ে। আর সম্প্রতি ভুগতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো সদস্যদের ওপর চাপও সৃষ্টি করা ছাড়াও আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মতো নতুন দেশগুলোকে টেস্ট খেলার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

এ নিয়ে একটি মূল্যায়ন কমিটিও গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি পূর্ণ ও সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে মূল্যায়ন করে নেবে সিদ্ধান্ত। এই কমিটিই আইসিসির সহযোগী সদস্যপদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে নতুন দেশকে সদস্যপদ দেওয়া আর বাজে পারফরম্যান্সের কারণে যে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশকে সহযোগী সদস্য দেশ হিসেবে অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেবে।

বড় লিড নিয়ে দিন শেষ মধ্যাঞ্চলের

মোহাম্মদ শরীফের অলরাউন্ড নৈপণ্যের সঙ্গে মার্শাল আইয়ুবের অর্ধশতের উপর ভর করে শক্তিশালী অবস্থানে আছে মধ্যাঞ্চল। তৃতীয় দিন শেষে পূর্বাঞ্চলের চেয়ে ৩৮৩ রানে এগিয়ে আছে ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল।

মঙ্গলবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে মোহাম্মদ শরীফের তোপে আগের দিনের ১১৪ রানে ৬ উইকেট হারানো পূর্বাঞ্চল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও লোয়ার অর্ডারে আবুল হাসান ও ইয়াসির আলির ব্যাটিংয়ে ২১১ রান তুলতে সক্ষম হয়। মধ্যাঞ্চলের মোহাম্মাদ শরীফ ব্যাট হাতে ঝলক দেখানোর পর বল হাতে চার উইকেট তুলে নেন। এছাড়া শুভাগত ও মোশারফ রুবেল দুইটি করে উইকেট নেন।

এদিকে ১১৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো হয়নি মধ্যাঞ্চলের। শুরুতেই বিদায় নেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়েন আব্দুল মজিদ ও মেহরাব জুনিয়র। এরপর এ দুইজন বিদায় নিলেও মার্শাল আইয়ুবের ৭৩ ও তাইবুরের ৫৫ রানের উপর ভর করে তৃতীয় দিন শেষে পাঁচ উইকেটে ২৬৬ রান করে মধ্যাঞ্চল। তাইবুর রহমান ৫৫ ও নুরুল হাসান সোহান ৩২ রানে অপরাজিত আছেন। ৩৮৩ রানে এগিয়ে থেকে শেষ দিনের লড়াই নামবে মধ্যাঞ্চল।

বিকেএসপিতে শক্তিশালী অবস্থানে দক্ষিণাঞ্চল

তুষারের ডাবল সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি বিসিবি উত্তরাঞ্চল। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়েছে তারা। তৃতীয় দিন শেষে এখনও ১০৫ রানে পিছিয়ে তারা।

এর আগে ৪ উইকেটে ১০৭ রানে দিন শুরু করা নাসির হোসেন ২২ রান করে আল-আমিনের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। নাসিরের বিদায়ের পর আরিফুল হক বেশিক্ষণ টিকেননি। ব্যক্তিগত ১১ রান করে স্পিনার নাহিদুলের বলে আউট হন। একাই লড়ে যান ধীমান ঘোষ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন তিনি। তবে ফলোঅন এড়াতে পারেনি দলটি। দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে নাহিদুল নেন ৫ উইকেট। এছাড়া আব্দুর রাজ্জাক ৩ ও আল-আমিন নেন ২ উইকেট।

ফলোঅনে পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি দলটির। দলীয় ২৫ রানেই সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ফরহাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ৮২ রানের জুটি গড়েন জুনায়েদ সিদ্দিক। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেটে নাঈম ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অর্ধশত তুলে নেন ফরহাদ হোসেন। দিন শেষে ফরহাদ হোসেন ৬২ ও নাঈম ইসলাম ২৪ রানে অপরাজিত আছেন।

মোস্তাফিজকে সাসেক্সের অভিনন্দন

ফিটনেসের ঘাটতির কারণে মোস্তাফিজের খেলা হয়নি ভারতের বিপক্ষে। তবে বিসিএলে খেলে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারই পুরস্কার হিসেবে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। আর টেস্ট দলে ডাক পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব সাসেক্স।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মোস্তাফিজকে অভিনন্দন জানিয়ে সাসেক্স লেখে, আজ আমাদের বাংলাদেশি সমর্থকদের অভিনন্দন জানাই, সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়ায় সাবেক সাসেক্স খেলোয়াড় মোস্তাফিজকেও অভিনন্দন।

sussexএর আগে টানা প্রায় পাঁচ মাস ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছিলেন নিউজিল্যান্ড সিরিজে। তবে হঠাৎ কোমরে ব্যথা অনুভব করায় টেস্ট সিরিজে খেলা হয়নি তার। এমনকি ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদে ঐতিহাসিক টেস্টেও ছিলেন না তিনি। তবে এরই মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন কাটার মাস্টার।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ড গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন মোস্তাফিজ। এরপর সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে প্রায় পাঁচ মাস রিহ্যাব করার পর নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফিরলেও ফিরে পাননি নিজের স্বাভাবিক ছন্দ। তবে চলতি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ছন্দ ফিরে পেয়েছেন তিনি। দুই ম্যাচে ৪টি উইকেট পেলেও স্বাভাবিক বোলিং করতে পারায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্যই দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তাকে।

আবারো অধিনায়ক ধোনি

বছর দুয়েক আগে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় দলের সীমিত ওভারের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন ধোনি। জাতীয় দলের পর আইপিএলেও পুনে সুপারজায়ান্টসের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ভারতের সর্বকালের সেরা এই অধিনায়ককে। তবে আবারো অধিনায়কের রূপে দেখা যাবে ধোনিকে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডের অধিনায়ক হিসেবেই মাঠে নামবেন ধোনি।

এর আগেও ঝাড়খণ্ডের হয়ে মাঠে নেমেছেন ধোনি। তবে কখনো অধিনায়ক হিসেবে খেলেননি। এই প্রথম তিনি ঝাড়খণ্ডকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। গ্রুপ পর্যায়ে ঝাড়খণ্ডের ৬টি ম্যাচই কলকাতায় হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এই ট্রফির জন্য লড়াই। ইতোমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের পুরো দল ঘোষণা করা হয়ে গেছে।

ঝাড়খণ্ড একাদশ :‌ ধোনি (‌অধিনায়ক)‌, ইশান কিষান, ইশাঙ্ক জাগ্গি, বিরাট সিং, সৌরভ তেওয়ারি, কৌশল সিং, প্রত্যুষ সিং, শাহবাজ নাদিম, সোনু কুমার সিং, বরুণ অরুণ, রাহুল শুক্লা, অনুকূল রায়, মনুকুমার সিং, জাস্করন সিং, আনন্দ সিং, কুমার দেওব্রাত, এস রাঠোর, বিকাশ সিং। ‌‌

হঠাৎ কেন বিদায় বললেন আফ্রিদি?

বলা নেই, কওয়া নেই; নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলছেন। ব্যাট হাতে কিংবা বল হাতেও সময়টা ভালোই যাচ্ছিল। রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে ২৮ বলে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। ম্যাচ শেষে হঠাৎ-ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন শহিদ খান আফ্রিদি?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে যা দেয়ার; তা দিয়ে ফেলেছেন আফ্রিদি? আর দেয়ার বাকি নেই? তাছাড়া পাকিস্তান জাতীয় দলও কি তার কাছ থেকে আর নতুন কিছু আশা করছে না? অনেক প্রশ্নই হয়তো চলে আসবে।

দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে দুহাত ভরে দিয়েছেন আফ্রিদি। ব্যাটে-বলে কারিশমা দেখিয়েছেন রীতিমতো। চার-ছক্কা আর উইকেট শিকারে নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি সব ফরম্যাটেই কার ব্যাট চলেছে সপাটে। ক্রিকেট যে বিনোদন; তার-ই নাম আফ্রিদি!

কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই কেন টি-টোয়েন্টি তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেন দিলেন আফ্রিদি? শোনা যাক তার মুখেই, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলাম। এখন আমি আমার ভক্তদের জন্য খেলছি। এই লিগে (পিএসএল) আরও দুই বছর খেলবো। এখন আমার কাছে আমার ফাউন্ডেশন (আফ্রিদি ফাউন্ডেশন) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্য আমি আন্তরিকভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গেই খেলেছি।’

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের হয়ে ৯৮টি টি-টোয়েন্টি খেলে ১৪০৫ রান করেছেন আফ্রিদি; বল হাতে নিয়েছেন ৯৭ উইকেট। ৩৯৮টি ওয়ানডে খেলে নামের পাশে যোগ করেছেন ৮০৬৪ রান। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ১২৪। একদিনের ক্রিকেটে তার  উইকেট সংখ্যা ৩৯৫টি। ২৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন আফ্রিদি। রান করেছেন ১১৭৬। সর্বোচ্চ স্কোর ১৫৬। উইকেট দখলে নিয়েছেন ৪৮টি।

আইপিএলের নিলামে বেন স্টোকসের দাম সাড়ে ১৪ কোটি রুপি

আইপিএলের নিলামে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারের রেকর্ডটা গড়া হলো না বেন স্টোকসের। তবে তার দামটা যে আকাশছোঁয়া; তা বলেছিলেন সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় যুবরাজ সিং-ই। যুবরাজের দাম ছিল ১৬ কোটি রুপি। এবারের নিলামে বেন স্টোকসের দাম সাড়ে ১৪ কোটি রুপি। ইংলিশ এই অলরাউন্ডারকে দলে ভিড়িয়েছে পুনে সুপারজায়ান্টস।

এবারের নিলামে বেন স্টোকসের ভিত্তি মূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। কয়েক দফা দর কষাকষির পর শেষ পর্যন্ত পুনে কিনে নিয়েছে স্টোকসকে। আসন্ন মৌসুমে স্টিভেন স্মিথ, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের সঙ্গে খেলবেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।

টি-টোয়েন্টি তো অলরাউন্ডারদেরই খেলা! ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও অবদান রাখতে পারলে সোনায় সোহাগা, যা গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। সে রকমই একজন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।  ইংলিশ এই তারকা ক্রিকেটার যেমন ভালো মানের একজন ব্যাটসম্যান ও বোলার, তেমনি দুর্দান্ত ফিল্ডারও।

আইপিএলের নিলামে আকাশছোঁয়া দাম টাইমাল মিলসের

টি-টোয়েন্টি একেকটি উইকেট শিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই উইকেট শিকারে গতিময় বোলারের দাপট রয়েছে। টায়মাল মিলস তাদেরই একজন। আইপিএলের নিলামে আকাশছোঁয়া দাম উঠলো টাইমাল মিলসের। একজন জাত বোলারের ক্ষেত্রে যা অবিশ্বাস্যই বটে। মিলসকে ১২ কোটি রুপি দিয়ে কিনেছে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

অথচ ইংলিশ এই বোলার ভিত্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ৫০ লাখ রুপি। তার নাম উঠতেই ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত লাখ ছাড়িয়ে তার কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হলেন মিলস।

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিপিএল) চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে নজরকাড়া পারফর্ম করেন তিনি। গতির ঝড় তুলেছিলেন। এরপর তো জাতীয় দলেই ডাক পেয়ে যান ২৪ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার। ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারদর্শী এই বোলার নিলামে চমকে দিয়েছেন সবাইকে।

আইপিএলের নিলামে বিকোলেন না এনামুল হক বিজয়

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) এবার বাংলাদেশের ছয় জন ক্রিকেটার নিলামে আছেন। এর মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নিলামে তোলা হয় এনামুল হক বিজয়কে। তবে ভারতের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখালে অবিক্রিতই থেকে যান এ ওপেনার।

আইপিএলের নিলামে বিজয়ের ভিত্তি মূল্য ছিল ৩০ লাখ রুপি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের আরও পাঁচ খেলোয়াড় এখনও নিলামে ওঠেননি। বিজয় ছাড়াও নিলামে আছেন – তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।

তবে বিজয় বিক্রি না হলেও ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়েছেন আফগানিস্তানের দুই ক্রিকেটার। প্রথমবারের মত আইপিএলে দল পেয়েছেন মোহাম্মদ নবি ও রশিদ খান। সানরাইজার্স হায়াদারাবাদের হয়ে খেলবেন এ দুই আফগান।

বিসিএলে তুষার ইমরানের ডাবল সেঞ্চুরি

আগের দিন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নয় হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছান তুষার ইমরান। ১২৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সে রানকে নিয়ে যান ডাবল সেঞ্চুরিতে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল তুলে নেন প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের এ মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

সাভারের বিকেএসপিতে বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে শাহরিয়ার নাফীসকে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন তুষার। ব্যক্তিগত ৭৪ রানে নাফীস বিদায় নিলেও দারুণ ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। ৩৮৪ বলে ২১০ রানে অপরাজিত আছেন এ ব্যাটসম্যান। নিজের ইনিংসটি ২২ টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে সাজান ৩৩ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটিও তুষারের। গত ডিসেম্বরেই এ মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। নিজেকে ছাড়িয়ে ইতোমধ্যেই ২২টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে অলক কাপালির সমান সর্বাধিক ১৪৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার রেকর্ডও ছুঁয়েছেন তুষার।

মোস্তাফিজের হায়দরাবাদে আফগান দুই ক্রিকেটার

অনেকেই তাকে বর্তমান সময়ের সেরা লেগ স্পিনার ভাবেন। ক্রিকেটের ছোট দলে (আফগানিস্তান) খেলার কারণে সেটা হয়তো চোখে পড়ে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া লিগগুলোতেও বল হাতে জাদু দেখাচ্ছেন রশিদ খান।

আর তাতে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর নজরে আসেন আফগান এই স্পিনার। অনুমিতভাবে রশিদ খান আইপিএলে দলও পেয়েছেন। তাকে দলে নিয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। রশিদকে কিনতে চ্যাম্পিয়নরা খরচ করেছে চার কোটি রুপি। তার ভিত্তি মূল্য ছিল ৫০ লাখ রুপি।

আফগান ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে নিলামে ডাকা হয় মোহাম্মদ নবীর নাম। তাকেও কিনেছে হায়দরাবাদ। নবীর জন্য মোস্তাফিজ-ওয়ার্নারের দল খরচ করেছে ৩০ লাখ রুপি। তার ভিত্তি মূল্যও ছিল ৩০ লাখ রুপি। প্রথম আফগান ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে নাম লিখিয়ে ইতিহাস গড়েন এই অলরাউন্ডার। মোহাম্মদ শেহজাদ অবিক্রিত রয়ে গেছেন।

ডি ভিলিয়ার্স-ডি কর্কে জয়ে শুরু দক্ষিণ আফ্রিকার

সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে পরাস্ত করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে প্রোটিয়ারা। ডি ভিলিয়ার্স-ডি কর্কের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে ওয়ানডে সিরিজটাও জয় দিয়ে শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে স্বাগতিক কিউইদের চার উইকেটে পরাস্ত করেছে ভিলিয়ার্সের দল।

বিস্তারিত আসছে…

মালিঙ্গা-কুলাসেকারা তোপের পরও অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৭৩

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন লাসিথ মালিঙ্গা ও নুয়ান কুলাসেকারা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুজন মিলে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

তারপরও মাইকেল ক্লিঞ্জার ও ময়েজেস হেনরিকসের ব্যাটে ভর করে ১৭৩ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে ১৭৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিয়েছে   স্বাগতিকরা।

বিস্তারিত আসছে….

আইপিএলেও অধিনায়কত্ব হারালেন ধোনি

বছর দুয়েক আগে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি টেস্ট দল থেকে অবসর নেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত জাতীয় দলের সীমিত ওভারের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন।

এবার আইপিএলেও অধিনায়কত্ব হারালেন ধোনি। আসন্ন আইপিএলের দশম আসরে পুনে সুপারজায়ান্টসের নেতৃত্বে দেখা যাবে না তাকে।

বিস্তারিত আসছে…

বাংলাদেশকে ১৯৮ রানের লক্ষ্য দিল শ্রীলঙ্কা

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপার সিক্সের খেলায় বাংলাদেশকে ১৯৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। কলম্বোতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান তুলেছেন লঙ্কান নারীরা।

প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা প্রথম উইকেট হারায়। সালমা খাতুনের শিকার হয়ে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন হানসিকা। অপর ওপেনার পেরেরার ব্যাট থেকে এসেছে ৩২ রান।

লঙ্কানদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেছেন চামারি আতাপাত্তু। এরপর খুব একটা জুটি গড়তে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন প্রাবিধানী।

বাংলাদেশের সেরা বোলার সালমা খাতুন; ৯ ওভারে ৩টি মেডেনসহ ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট পকেটে পুরেছেন। একটি করে উইকেট দখলে নিয়েছেন সুরাইয়া আজমিন, পান্না ঘোষ, খাদিজাতুল কোবরা, রোমানা আহমেদ ও শায়লা শারমিন।

নিলামে থাকছেন না আইপিএল চেয়ারম্যান

দশম আইপিএলের নিলাম নিয়ে উত্তাপ বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) বেঙ্গালুরুতে বসছে নিলামের আসর। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৩৫১ জন ক্রিকেটার উঠতে চলেছেন নিলামে। তবে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয় এই আসরের নিলামে থাকছেন না আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা।

নিলাম অনুষ্ঠানে না থাকা নিয়ে রাজীব শুক্লা বলেন, `নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দুর্ভাগ্যবশত আমি এবারের নিলাম অনুষ্ঠানে উপস্থি থাকতে পারছি না। তবে আমি সকল ফ্রাঞ্চাইজিদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করছি অনেক ভালো একটি দিন কাটবে সবার।`

চেয়ারম্যান হওয়ার পর এবারই প্রথম নিলামে উপস্থিত থাকতে পারছেন না রাজীব শুক্লা। উত্তর প্রদেশে নিজের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আইপিএল চেয়ারম্যান।

এদিকে এবারের নিলামে প্রতিটি দলের নজর থাকছে ইংলিশ তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের দিকে। ক্যাটাগরি `এ` ২ কোটি ভিত্তি মূল্যে থাকা এই তারকাকে কে দলে ভেড়াতে পারে এখন তাই দেখার বিষয়।

মাশরাফির নামে ফেসবুকে ৯ লাখ আইডি!

ফেসবুকের সার্চ বক্সে গিয়ে একটু মাশরাফি বিন মর্তুজা লিখে সার্চ করে দেখুন তো কতটি আইডির খোঁজ পান আপনি। দেখেছেন? হাতে সময় থাকলে এবার গুনতে বসে যান। সাথে বাদাম-চানাচুর কিছু নিয়ে বসতে পারেন। কারণ, বিরতি দেয়া লাগতে পারে। বিরতির সময় যাতে বাদাম-চানাচুর খেয়ে আবার উদ্যম ফিরে পান, এ জন্যই এ পরামর্শ।

ফেসবুকে কারও নামে আইডি গণনা এভাবে হয়তো কেউ করে না। করার প্রয়োজন হয়ও না। খুব বেশি কমন নাম হলে হয়তো ২০/২৫টা আইডি পাওয়া যেতে পারে একই নামে; কিন্তু মাশরাফির নামে আইডি খুঁজতে গেলে আপনি গুনে শেষ করতে পারবেন না। শেষ করা সম্ভব নয়। কেন নয়? কারণটা একটু পরই বলছি।

মাশরাফির নিজের নামে একটা ভ্যারিফায়েড পেজ আছে। ভ্যারিফায়েড মানে, ফেসবুক এটাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই পেজের নিরাপত্তার দায়িত্বও অনেকটা ফেসবুকের হাতে। এই পেজে মাশরাফির অনুসরণকারী ৮১ লাখ ২০ হাজারের ওপরে। পেজটা ভক্তদের জন্যই তৈরি করা। এটা ব্যক্তির নামে হলেও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

এ কারণে মাশরাফি নিজের ঘনিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য আরেকটা ব্যক্তিগত প্রোফাইল পরিচালনা করেন। ওটাই একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তবে সমস্যা হলো কিছুদিন পর পর তার ওই আইডি হ্যাক হয়ে যায়। খুঁজেই পান না আর সেটাকে। অগত্যা মাশরাফিকে আবার নতুন করে আইডি খুলতে হয়। এটা এক ধরনের অভ্যাসই হয়ে গেছে যেনো তার। গত দু’বছরে পাঁচ-ছয়বার আইডি খুলতে হয়েছে তাকে।

তবে, এবার নতুন বিপদে পড়েছেন মাশরাফি। এবার তো আর আইডি খুলতে পারছিলেন না। তার কোনো নাম দিয়েই আইডি খোলা যাচ্ছিল না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে মেইল করলেন মাশরাফি। এরপর ফেসবুকের পক্ষ থেকে তাকে যে তথ্য জানানো হলো, তা শুনে তো চোখ কপালে নয়, আকাশে উঠে যাওয়ার কথা। ফেসবুক থেকে জানানো হলো মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাশরাফি মর্তুজা নামে ফেসবুকে ৯ লাখ আইডি খোলা হয়েছে।

৯ লাখ মাশরাফি বিচরণ করছে ফেসবুকে। আসল মাশরাফির খবর নেই। তিনি নিজেই ফেসবুক থেকে বলতে গেলে বিতাড়িত। অবশেষে একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আরেকটা আইডি খুলতে সক্ষম হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের রঙিন জার্সির অধিনায়ক। এক ক্রীড়া সাংবাদিকের কাছে মাশরাফি নিজেই এ ঘটনার বর্ণনা করেছেন। সেই ঘটনা ওই সাংবাদিক আবার তুলে ধরেছেন তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে।

শেষ বলে সাকিব-তামিমদের হার

ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারলেন না তামিম। তামিমের পর ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে দর্শকদের হতাশ করলেন সাকিব। আর সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজও টস হেরেছে সাকিব-তামিমের দল পেশোয়ার জালমি। টস জিতে জালমির অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিকে ব্যাট করার আমন্ত্রন জানান ইসলামাবাদের অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক। তবে আজ ব্যাট করতে নেমে আর নিজেকে চেনাতে পারেননি তামিম। শুধু এই ওপেনারই নন, ব্যাট হাতে অনুজ্জল সাকিব আল হাসানও।

দলীয় ১৭ রানের মাথায়ই ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হয়ে যান তামিম। বল খেলেছেন ৮টি। আগের দিন ব্যাট করতে নামতে না পারলেও, আজ ব্যাট করার সুযোগ পেলেন সাকিব। ৭ বল খেলে তিনি আউট হয়েছেন মাত্র ৫ রান করে। সাকিব-তামিমের রান করতে না পারাতেই বোঝা যাচ্ছিল দলটির কী অবস্থা হবে। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৬ রান সংগ্রহ করেছে পেশোয়ার। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে মোহাম্মদ সামি ৩টি, রুম্মান রইস ও শাদাব খান নেন ২টি করে উইকেট। মোহাম্মদ ইরফান ও আমাদ বাট নেন ১টি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে শুরুটা ভালো না হলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের জয় এনে দেন ক্যারিবিয়ান তারকা স্মিথ। ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন এই তারকা। ২৪ রান দিয়ে সাকিব নেন ১ উইকেট।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের আশা টিকিয়ে রাখতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশ নারী দলের। আর এমন সমীকরণকে সামনে রেখে সুপার সিক্সে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে বোলিং করছে রুমানা বাহিনী। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ৯২ রান।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ২০১৭ সালের জুনে ইংল্যান্ড নারী বিশ্বকাপে টাইগ্রেসদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই আজকের ম্যাচে শুধু বড় ব্যবধানে জয় পেলেই হবে না, সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারতেও হবে।

এদিকে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে। আর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চারে থাকায় আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের।

৪৬৯ রানে ইনিংস ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু ২৩ ফেব্রুয়ারি। তার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ। সুযোগ পেয়ে ব্যাটিং প্রাকটিসটা ভালোভাবেই সেরে রাখলেন অসি ব্যাটসম্যানরা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৬৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে সফরকারীরা।

ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন স্টিভেন স্মিথ ও শন মার্শ। ১০৭ রান করেছেন স্মিথ; আর শন মার্শের ব্যাট থেকে এসেছে ১০৪ রানের ইনিংস। দুজনই রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন। অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ ৭৫ রানের ইনিংস দলকে উপহার দেন।

ভারতের পক্ষে দুটি উইকেট নিয়েছেন সাইনি। আর হার্দিক পান্ডিয়া, নাদিম ও হারওয়াদকার নিয়েছেন একটি করে উইকেট। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৪৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৩২৩ রানে পিছিয়ে আসে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের টেস্ট দল ঘোষণা ২০ ফেব্রুয়ারি

ভারত সফর শেষ না হতেই চলে এসেছে টাইগারদের লঙ্কান মিশন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের ২৭ তারিখ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। সিরিজে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। আর এ সিরিজকে সামনে রেখে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের টেস্ট দল ঘোষণা করা হবে। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

টাইগারদেরে পূর্ণাঙ্গ এই সফর শুরু হবে টেস্ট সিরিজের মাধ্যমে। আগামী ৭ মার্চ শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে টাইগাররা। এর আগে ২-৩ মার্চ একটি দুইদিনের অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ কলম্বোতে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টই বাংলাদেশের শততম টেস্ট।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি দল ঘোষণার কথা থাকেলও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কারণে একদিন আগে দল ঘোষণা করা হবে। এমনটি জানিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, `টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখেই আমরা দল ঘোষণা করবো। আর দলটি হবে ১৬ সদস্যের। মূলত নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলা খেলোয়াড়রাই দলে জায়গা পাবেন। তবে বিসিএলে একজনের পারফরমেন্স আমাদের নজরে আসে। শেষ পর্যন্ত সেও দলে জায়গা পেতে পারেন।`

সেই একজন কে? প্রধান নির্বাচক নাম উল্লেখ না করলেও বিসিএলে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা নাঈম ইসলামকে নিয়েই গুঞ্জন রয়েছে। বিএসেলে সর্বশেষ তিন ম্যাচেই দুটি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই তারকা। এছাড়া ইমরুল কায়েস দলে ফিরলে সৌম্যের ব্যাটিং অর্ডার চলে যাবে নিচের দিকে। সে ক্ষেত্রে লোয়ার অর্ডারে ধরে খেলতে পারবে এমন চিন্তা ভাবনা থেকেই দলে নাঈম ইসলামকে দেখা যেতে পারে।

এদিকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর ২২ মার্চ একটি ওয়ানডে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলদেশ। ডাম্বুলায় প্রথম দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ হবে ২৫ ও ২৮ মার্চ। শেষ একদিনের ম্যাচটি হবে ১ এপ্রিল এসএসসিতে। আর দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪ ও ৬ এপ্রিল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরের সূচি প্রকাশ

পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে জানা গেলেও, চূড়ান্ত হচ্ছিল না ম্যাচের সূচি। অবশেষে চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

টাইগারদেরে পূর্ণাজ্ঞ এই সফর শুরু হবে টেস্ট সিরিজের মাধ্যমে। ৭ মার্চ শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে টাইগাররা। এর আগে ২-৩ মার্চ একটি দুইদিনের অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ কলম্বোতে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টই বাংলাদেশের শততম টেস্ট।

এদিকে কলম্বোতেই ২২ মার্চ একটি ওয়ানডে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলদেশ। ডাম্বুলায় প্রথম দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ হবে ২৫ ও ২৮ মার্চ। শেষ একদিনের ম্যাচটি হবে ১ এপ্রিল এসএসসিতে। আর দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪ ও ৬ এপ্রিল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

শ্রীলঙ্কা সফরের সূচি:
প্রস্তুতি ম্যাচ (২-৩ মার্চ) – মোরাতুয়া ক্রিকেট স্টেডিয়াম
প্রথম টেস্ট (৭-১১ মার্চ) – গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
দ্বিতীয় টেস্ট (১৫-১৯ মার্চ) – পি সারা ওভাল

প্রস্তুতি ম্যাচ (২২ মার্চ) – কলম্বো
প্রথম ওয়ানডে (২৫ মার্চ) – রাঙ্গিরি ডাম্বুলা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
দ্বিতীয় ওয়ানডে (২৮ মার্চ) – রাঙ্গিরি ডাম্বুলা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
তৃতীয় ওয়ানডে (১ এপ্রিল) – সিংহলি স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড, কলম্বো

প্রথম টি-টোয়েন্টি (৪ এপ্রিল) – আর প্রেমাদাসা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি (৬ এপ্রিল) – আর প্রেমাদাসা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম

শচীনের সেরা অধিনায়ক নাসির হুসেন

ক্রিকেটের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু ম্যাচ খেলেছেন শচীন। কাছ থেকে দেখেছেন বিপক্ষ দলের অধিনায়কত্ব। আর তার চোখে বিপক্ষ দলের সেরা অধিনায়ক রিকি পন্টিং, স্টিভ ওয়াহ, ব্রায়ান লারা নন, তিনি ইংল্যান্ডের নাসির হুসেন। এই ক্রিকেটারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’তে নিজের দেখা সেরা অধিনায়ক হিসেবে নাসিরের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

নাসির হুসেনের অধিনায়কত্বের প্রশংসা করতে গিয়ে শচীন বলেন, ‘যাদের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে নাসির হুসেন ছিলেন সবচেয়ে ভালো। অধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। ব্যাটসম্যান কোনও বিশেষ শট খেলার পর, নাসির ফিল্ডিং সাজাতো না। বরং  ব্যাটসম্যান বিশেষ শট খেলার আগেই কোথায় কোনও ফিল্ডার রাখতে হবে, ও জানতো। সেই মতোই ফিল্ডিং সাজাতো।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথেরও প্রশংসা করেন শচীন। তিনি বলেন, ‘২২ বছর বয়সে খারাপ সময় পাড় করছে এমন একটা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট র্যাং কিংয়ের শীর্ষস্থানে নিয়ে আসাটা দারুণ ছিল স্মিথের জন্য।’ এ ছাড়া মাইকেল ক্লার্কের অধিনায়কত্বেরও প্রশংসা করেন শচীন।

কোহলির মূল্য ৭৩৭ কোটি টাকা!

ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় পার করছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে গড়ছেন নতুন রেকর্ড। মাঠের এই পারফরম্যান্সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কোহলির ব্র্যান্ড মূল্যও। আর কোহলির এখন বর্তমান মূল্য ৯২ মিলিয়ন ডলার! বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৩৭ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি!

বর্তমানে ২০টির বেশি কোম্পানির সঙ্গে দূতিয়ালি বা কমার্শিয়াল চুক্তি আছে কোহলির। বিভিন্ন সংস্থার অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করেন তিনি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের স্কিল ইন্ডিয়া প্রকল্পেরও শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ভারত অধিনায়ক ব্যক্তিগতভাবেও জড়িয়েছেন একাধিক অংশীদারী ব্যবসায়।

এদিকে সিএএস কেওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী অনির্বান দাসই বলেছেন, ‘আমরা সে দিন থেকে খুব বেশি দূরে নই, যেদিন কোহলি খুব সহজেই ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক দূত বনে যাবেন।’

উল্লেখ্য, ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে ভারতীয় তারকাদের মধ্যে কোহলির অবস্থান রয়েছে দুইয়ে। সবার উপরে আছেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। বলিউড বাদশার ব্রান্ড ভ্যালু বর্তমানে ১৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শেষ ওভারে হারলো মাহমুদউল্লাহর কোয়েটা

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলে দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে স্যাম বিলিংসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কাছে পাঁচ উইকেটে হেরে যায় তার দল কোয়েটা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আসাদ শফিক আর আহমেদ শেহজাদ দারুণ সূচনা করেন। ৪ ওভারে ৩৫ রানের জুটি গড়ার পর তারা বিচ্ছিন্ন হন। যদিও মোহাম্মদ সামির পরের বলেই এলবির শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

রিলে রুশোও ফিরে যান শেন ওয়াটসনের বলে আউট হয়ে। এরপর মাঠে নামেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তিনিও করেন মাত্র ১২ রান। এর একটু পরই ৪২ বলে ৪৫ রান করা আসাদ শফিক আউট হয়ে যান।

এরপর জুটি গড়েন মাহমদউল্লাহ আর থিসারা পেরেরা। দু’জন মিলে গড়েন ৪৬ রানের জুটি। ২০ বলে ২৯ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ২টি বাউন্ডার এবং একটি ছক্কার মারেন তিনি। ১৮ বলে ২৭ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন থিসারা পেরেরা। ফলে ১৪৮ রানের সংগ্রহ পায় দলটি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্যাম বিলিংসের ৭৮ আর শেন ওয়াটসন ৩৬ রানের উপর ভর করে পাঁচ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পায় ইসলামাবাদ। এই জয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়ে শুরু আইপিএল

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আগামী ৫ এপ্রিল শুরু হচ্ছে আইপিএলের দশম আসর। বুধবার আইপিএল কর্তৃপক্ষ দশম আসরের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে। আর এ আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে ১৪মে দিল্লি ডেয়ারডেবিলস ও রয়েল চ্যালেঞ্জারস`র ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। একদিন বিরতির পর ১৬ মে ব্যাঙ্গালুরুর মাঠে শুরু হবে নকঅাউট পর্ব। ২১মে হায়দরাবাদে ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিলিয়ন ডলারের এই আসর।

এদিকে আইপিএলে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই দু’বারই ব্যাট ও বল হাতে আলো ছড়ান সাকিব আল হাসান। আসন্ন আসরের জন্য তাকে রেখে দিয়েছে কেকেআর।

আর প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেছেন মোস্তাফিজ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করেই দেশে ফেরেন। তাই এবারও তাকে ছাড়েনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

আইপিএল ২০১৭ এর চূড়ান্ত সূচি :

#                                              Teams City Date Time Weekday
1 Sunrisers Hyderabad Royal Challengers Bangalore  Hyderabad April 5 8 PM Wed
2 Rising Pune Supergiant Mumbai Indians  Pune April 6 8 PM Thu
3 Gujarat Lions Kolkata Knight Riders  Rajkot April 7 8 PM Fri
4 Kings XI Punjab Rising Pune Supergiant  Indore April 8 4 PM Sat
5 Royal Challengers Bangalore Delhi Daredevils  Bengaluru April 8 8 PM Sat
6 Sunrisers Hyderabad Gujarat Lions  Hyderabad April 9 4 PM Sun
7 Mumbai Indians Kolkata Knight Riders  Mumbai April 9 8 PM Sun
8 Kings XI Punjab Royal Challengers Bangalore  Indore April 10 8 PM Mon
9 Rising Pune Supergiant Delhi Daredevils  Pune April 11 8 PM Tue
10 Mumbai Indians Sunrisers Hyderabad  Mumbai April 12 8 PM Wed
11 Kolkata Knight Riders Kings XI Punjab  Kolkata April 13 8 PM Thu
12 Royal Challengers Bangalore Mumbai Indians  Bengaluru April 14 4 PM Fri
13 Gujarat Lions Rising Pune Supergiant  Rajkot April 14 8 PM Fri
14 Kolkata Knight Riders Sunrisers Hyderabad  Kolkata April 15 4 PM Sat
15 Delhi Daredevils Kings XI Punjab  Delhi April 15 8 PM Sat
16 Mumbai Indians Gujarat Lions  Mumbai April 16 4 PM Sun
17 Royal Challengers Bangalore Rising Pune Supergiant  Bengaluru April 16 8 PM Sun
18 Delhi Daredevils Kolkata Knight Riders  Delhi April 17 4 PM Mon
19 Sunrisers Hyderabad Kings XI Punjab  Hyderabad April 17 8 PM Mon
20 Gujarat Lions Royal Challengers Bangalore  Rajkot April 18 8 PM Tue
21 Sunrisers Hyderabad Delhi Daredevils  Hyderabad April 19 8 PM Wed
22 Kings XI Punjab Mumbai Indians  Indore April 20 8 PM Thu
23 Kolkata Knight Riders Gujarat Lions  Kolkata April 21 8 PM Fri
24 Delhi Daredevils Mumbai Indians  Delhi April 22 4 PM Sat
25 Rising Pune Supergiant Sunrisers Hyderabad  Pune April 22 8 PM Sat
26 Gujarat Lions Kings XI Punjab  Rajkot April 23 4 PM Sun
27 Kolkata Knight Riders Royal Challengers Bangalore  Kolkata April 23 8 PM Sun
28 Mumbai Indians Rising Pune Supergiant  Mumbai April 24 8 PM Mon
29 Royal Challengers Bangalore Sunrisers Hyderabad  Bengaluru April 25 8 PM Tue
30 Rising Pune Supergiant Kolkata Knight Riders  Pune April 26 8 PM Wed
31 Royal Challengers Bangalore Gujarat Lions  Bengaluru April 27 8 PM Thu
32 Kolkata Knight Riders Delhi Daredevils  Kolkata April 28 4 PM Fri
33 Kings XI Punjab Sunrisers Hyderabad  Mohali April 28 8 PM Fri
34 Rising Pune Supergiant Royal Challengers Bangalore  Pune April 29 4 PM Sat
35 Gujarat Lions Mumbai Indians  Rajkot April 29 8 PM Sat
36 Kings XI Punjab Delhi Daredevils  Mohali April 30 4 PM Sun
37 Sunrisers Hyderabad Kolkata Knight Riders  Hyderabad April 30 8 PM Sun
38 Mumbai Indians Royal Challengers Bangalore  Mumbai May 1 4 PM Mon
39 Rising Pune Supergiant Gujarat Lions  Pune May 1 8 PM Mon
40 Delhi Daredevils Sunrisers Hyderabad  Delhi May 2 8 PM Tue
41 Kolkata Knight Riders Rising Pune Supergiant  Kolkata May 3 8 PM Wed
42 Delhi Daredevils Gujarat Lions  Delhi May 4 8 PM Thu
43 Royal Challengers Bangalore Kings XI Punjab  Bengaluru May 5 8 PM Fri
44 Sunrisers Hyderabad Rising Pune Supergiant  Hyderabad May 6 4 PM Sat
45 Mumbai Indians Delhi Daredevils  Mumbai May 6 8 PM Sat
46 Royal Challengers Bangalore Kolkata Knight Riders  Bengaluru May 7 4 PM Sun
47 Kings XI Punjab Gujarat Lions  Mohali May 7 8 PM Sun
48 Sunrisers Hyderabad Mumbai Indians  Hyderabad May 8 8 PM Mon
49 Kings XI Punjab Kolkata Knight Riders  Mohali May 9 8 PM Tue
50 Gujarat Lions Delhi Daredevils  Kanpur May 10 8 PM Wed
51 Mumbai Indians Kings XI Punjab  Mumbai May 11 8 PM Thu
52 Delhi Daredevils Rising Pune Supergiant  Delhi May 12 8 PM Fri
53 Gujarat Lions Sunrisers Hyderabad  Kanpur May 13 4 PM Sat
54 Kolkata Knight Riders Mumbai Indians  Kolkata May 13 8 PM Sat
55 Rising Pune Supergiant Kings XI Punjab  Pune May 14 4 PM Sun
56 Delhi Daredevils Royal Challengers Bangalore  Delhi May 14 8 PM Sun
57 Qualifier 1  TBC May 16 8 PM Tue
58 Eliminator  TBC May 17 8 PM Wed
59 Qualifier 2  TBC May 19 8 PM Fri
60 Final  Hyderabad May 21 8 PM Sun

পূর্বাচলে স্টেডিয়ামের জায়গা পেয়েই কর্মকর্তাদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ!

প্রায় ৩৮ একর জায়গার ওপর পূর্বাচলে তৈরি করা হবে অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য অনেক আগেই দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছে ক্রীড়া প্রশাসন। স্টেডিয়াম নির্মাণের বড় অগ্রগতি- কিছুদিন আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পূর্বাচলের জায়গা বরাদ্দ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে।

রাজউকের বরাদ্দের চিঠি পাওয়ার পরই ক্রীড়া প্রশাসন প্রথম কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিদেশ ভ্রমণ। অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনি ঘুরে এসেছেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ৭ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছে। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উন্নয়ন শাখার এক কর্মকর্তা।

অস্ট্রেলিয়া ঘুরে এসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘এতদিন আমরা রাজউক থেকে জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। বরাদ্দ পেয়ে গেছি। এখন আমাদের সম্ভাব্য ব্যয় বের করতে হবে। ডিজাইন অনুমোদনের পর তৈরি করতে হবে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি)। স্টেডিয়ামটা কী রকম হবে, কী কী সুযোগ সুবিধা রাখা যেতে পারে-এসব কিছু দেখতেই আমাদের এ অস্ট্রেলিয়া যাওয়া।’

সরকারের এ প্রতিনিধি দল কি দেখে এলেন অস্ট্রেলিয়া থেকে? ‘আমরা মেলবোর্ন ও সিডনির ভেন্যু দেখেছি। ওখানে ক্রিকেটের পাশপাশি অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলও হয়। এখানে আমরা সেভাবে করতে পারি কিনা এবং অামাদের দেশের দুই খেলার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গিই বা কি- তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমরা যা দেখে এলাম, যে ধারণা তৈরি হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন জমা দেবো মন্ত্রণালয়ে’-বলেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস।

যদি তা-ই হবে তাহলে এ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কেন ক্রিকেট বা ফুটবলের কোনো সদস্য রাখা হয়নি? এ প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার বিশ্বাস বলেছেন, ‘তারাও যাবেন। আমরা গিয়েছি একটা প্রাথমিক ধারণা নিতে। এটা চূড়ান্ত কিছু নয়।’

আইপিএলের চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজ শেষ ২৯ মার্চ। এর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই গড়াচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দশম আসর। এবারের আসরটি শুরু হবে ৫ এপ্রিল।

আজ বুধবার এমন তথ্যই নিশ্চিত করা হয়েছে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে আইপিএলের দশম আসরের চূড়ান্ত সূচিও।

আসন্ন এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ৫ এপ্রিল হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

২১ মে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিও গড়াবে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। এবারের আসরে অংশ নেবে মোট ৮টি দল।

সাকিব-মোস্তাফিজ আইপিএল খেলতে যাবেন কখন?

আগামী মাসেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হবেন টাইগাররা। সেখানে ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন মুশফিক-তামিম-সাকিবরা।টেস্ট দিয়েই শুরু হবে সিরিজের মূল লড়াই। ৭ মার্চ খেলা শুরু; আর ৮ এপ্রিল শেষ।

এদিকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের চলাকালীন শুরু হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ভারতীয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির জমজমাট আসরটি মাঠে গড়াবে ৫ এপ্রিল। আর ওই দিন (৫ এপ্রিল) সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান খেলবেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

তাই আইপিএলের শুরুর দিকে খেলতে পারছেন না সাকিব-মোস্তাফিজ। শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষ হলেই আইপিএলে নিজ নিজ দলের সঙ্গে তাদের যোগ দেয়ার কথা। অর্থাৎ ৮ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সমাপ্তি ঘটবে। এরপরই আইপিএল খেলতে ভারতে যেতে পারেন সাকিব-মোস্তাফিজ।

আইপিএলে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই দু’বারই ব্যাট ও বল হাতে আলো ছড়ান সাকিব আল হাসান। আসন্ন আসরের জন্য তাকে রেখে দিয়েছে কেকেআর।

আর প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেছেন মোস্তাফিজ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করেই দেশে ফেরেন। তাই এবারও তাকে ছাড়েনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ভোজেস

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা অ্যাডাম ভোজেস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামার আগে এই ঘোষণা দিলেন ৩৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটসম্যান বলেন, `অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলের সঙ্গে আমার দারুণ দুটি বছর কেটেছে। এটা আমার শেষ ম্যাচ। আর এ ম্যাচটিকে আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলার শেষ সুযোগ হিসেবেই দেখছি।`

গত নভেম্বরে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হেলমেটে বল লাগার পর ওই সময়ে চলমান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও আর খেলা হয়নি তার। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টই হয়ে থাকলো তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া ভোজেস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০ টেস্টে ৬১.৮৭ গড়ে এক হাজার ৪৮৫ রান করেন। আর ৩১ ওয়ানডেতে তার মোট রান ৮৭০। ক্যারিয়ারে সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

বেশি করে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার তাগিদ নান্নু-সুজনের

বিরাট কোহলি ব্যতিক্রম। তার মেধা-প্রজ্ঞা অসাধারণ। এক বছরের কম সময়ে চার চারটি টেস্ট ডাবল হান্ড্রেডই বলে দেয় ব্যাটসম্যান বিরাট আসলে কত বড়। এই রান মেশিনকে এখনই শচীন টেন্ডুলকারের সাথে তুলনা করা হয়। কাজেই তার মানের কারো থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

বিরাট কোহলির সঙ্গে তামিম, মুশফিক ও সাকিবের তুলনা হবে বাতুলতার সামিল। আচ্ছা, বিরাটকে বাদ দিয়েই ধরা যাক। হায়দরাবাদে ভারতের হয়ে যে বাকি ১০ ক্রিকেটার খেলেছেন, তাদের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মৌলিক পার্থক্যের জায়গা কোনটি?

তা খুঁজতে বেরিয়ে এসেছে এক কঠিন সত্য। মেধা-প্রজ্ঞা ও সামর্থ্যে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে খুব পিছিয়ে; তা নয়। সাকিব, মুশফিক ও তামিম, মাহমুদউল্লাহ, মিরাজ ও তাসকিনরা আসলে পিছিয়ে অন্য জায়গায়। তাদের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট চর্চা ও অনুশীলনটাই কম।

বছরের বেশি সময় সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলা, অনুশীলনের সিংহভাগ ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কম খেলা তথা দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব প্রবল। আর সে কারণেই বোলাররা কোন লাইন ও লেন্থে বল করবেন? ব্যাটসম্যানরা কোন সেশনে কার বিরুদ্ধে কি অ্যাপ্রোচে ব্যাট করবেন? তা ঠাউরে উঠতে সমস্যা হচ্ছে।

ভারতের সাথে হায়দরাবাদে একমাত্র টেস্টেও বোঝা গেছে, বাংয়লাদেশের ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার টেম্পার্টমেন্ট, ধৈর্য, মনোযোগ-মনোসংযোগ এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী বল ও ব্যাট করার অভিজ্ঞতা কম। দেশের ক্রিকেটের তিন কুশলী ও অভিজ্ঞ যোদ্ধা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, খালেদ মাহমুদ সুজন ও সারোয়ার ইমরান জাগো নিউজের সাথে আলাপে এমন মতামতই ব্যক্ত করেছেন।

জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক মিনাহজুল অবেদিন নান্নু ও খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে সাবেক জাতীয় কোচ সারোয়ার ইমরানও মনে করেন, দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ কম খেলার কারণেই বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিং প্রত্যাশিত মানে পৌছাচ্ছে না। তাদের তিনজনের কথা, ‘টেস্টে এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে।’

তারা কিছু জায়গায় তিনজনই একমত, যেমন দীর্ঘ পরিসরের খেলার নানা সুক্ষ্ম কৌশল আত্মস্থ করা না থাকলে জায়গামতো গিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন; যেহেতু বাংলাদেশের  ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন কম, তাই কোন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে কী করতে হবে? এখনো তা পুরোপুরি জানা নেই।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু একটা কৌশলগত বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘ হায়দরাবাদে ‘এসজি ’ বলে খেলা হয়েছে। ভারতীয়রা সারা বছর ওই এসজি বলে খেলে। এসজিই বলের চরিত্রই হলো ৩০ ওভার পর্যন্ত সাইন বা ঔজ্জ্বল্য বেশি থাকে। তারপরও ঔজ্জ্বল্য কমে যাওয়ার পাশাপাশি বল নরমও হয়ে যায়। এগুলো আমাদের পেসারদের অজানা। সেটা ওই এসজি বলে চার দিনের ম্যাচ খেলে খেলেই জানতে হবে। ওই বল পুরনো ও নরম হওয়ার পর কোন লাইন ও লেন্থে বল করতে হবে, সেটা আদ্যে কতটা সুইং করবে- তা না জানা থাকলে কখনই ভালো বোলিং হবে না।’

দেশের প্রথম টেস্ট কোচ ও অভিজ্ঞ দ্রোণাচার্য সারোয়ার ইমরান মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বেশি বেশি দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলতেই হবে। তার সোজা সাপটা কথা, চার দিনের ম্যাচ না খেলে কারো টেস্টে ভালো খেলার সম্ভব নাই।

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট হচ্ছে দীর্ঘ পরিসরের খেলার সব রকম কৌশল শেখা ও জানার আদর্শ জায়গা। এখানে খেলে খেলেই নিজেকে তৈরি করতে হবে। কখনও ছাড়তে হবে, কখন সমীহ করতে হবে- এসব জানতে এবং আত্মস্থ করতে গেলে বেশি করে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে হবে।

হায়দরাবাদ টেস্টের প্রসঙ্গ টেনে সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে আমাদের পেসাররা অনেক বেশি খাটো লেন্থে বল ফেলেছে। তাই সাফল্য ধরা দেয়নি। দ্বিতীয়  ইনিংসে তাসকিন ওপরে ওপরে বল করে সাফল্য পেয়েছে। একইভাবে বছরের বেশির ভাগ সময় ওয়ানডে এং টি-টোয়েন্টি খেলার কারণে ছাড়ার প্রবণতা খুব কম। অথচ টেস্টে ভালো বলকে সমীহ দেখাতেই হবে। আর যে ডেলিভারি বিপদের কারণ হতে পারে তা দেখে উইকেট কভার করে ছেড়ে দেয়ার মানসিকতা দরকার। বেশি করে চার দিনের ম্যাচ না খেললে সে অভ্যাস জন্মাবে না।’

অন্যদিকে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আরও বেশি করে অন্তত বছরের আট-দশটি দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার তাগিদ দিয়েছেন। তার কথা, ‘কোন শর্ট কার্ট পথ নেই। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলে খেলেই হাত পাকাতে হবে। ভারতের ব্যাটসম্যানরা রঞ্জি, দুলিপ ও ইরানী ট্রফি খেলে খেলে নিজেকে ঘসে মেজে তৈরি করে ফেলেন। আমাদের ক্রিকেটাররা তুলনামূলক অনেক কম চার দিনের ম্যাচ খেলে।’

এ ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার ইচ্ছে কম বলে অভিযোগ থাকলেও খালেদ মাহমুদ সুজন তা মানতে নারাজ। তার কথা, ‘ঠিক তা নয়। আসলে আন্তর্জাতিক সফর সূচির সাথে তাল মেলাতে গিয়েই আমাদের জাতীয় ক্রিকেটারদের জাতীয় লিগ ও বিসিএল খেলা কম হয়।’

খালেদ বলেন, ‘আমাদের আবহাওয়া এমন যে সারা বছর ক্রিকেট চর্চা কঠিন। দেখা যায় এমন এক সময় দীর্ঘ পরিসরের আসর বসছে, যখন জাতীয় দল দেশের বাইরে কোনো সিরিজ বা আসরে ব্যস্ত। তাই জাতীয় ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলার সুযোগও কম হয়। তবে এ ধারা পাল্টাতে হবে। যে করেই হোক জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যাতে অন্তত আট থেকে দশটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে পারে সে ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।’

খালেদ মাহমুদ সুজন একই সাথে দীর্ঘ পরিসরের আসরে উইকেট ভালো করার জোর তাগিদও অনুভব করছেন। তার দাবি, ‘স্পোর্টিং! পিচ তৈরি করতে হবে আরও বেশি করে। চার দিনের ম্যাচগুলো স্পোর্টিং উইকেটে হলে ক্রিকেটারদের লাভ হবে। তারা নিজেদের সব রকম পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে।’

আরাফাত সানির ভাগ্য নির্ধারণ আজ

জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানির ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে আজ। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তার জামিন শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলার জামিন পাওয়া বা না পাওয়ার উপর নির্ভর করছে তার ভাগ্য।

আজ বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুল ইসলামের আদালতে সানির জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সানির আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ জাগো নিউজকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আজ বুধবার সানির জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ শুনানির উপর সানির ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম বলেন, সানির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন শুনানি দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম সামছুল আলমের আদালতে তার আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ এ জামিন আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল জামিন শুনানির জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

২৪ জানুয়ারি একদিনের রিমান্ড শেষে আরাফাত সানিকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদশর্ক (এসআই) ইয়াহিয়া। অপরদিকে তার আইনজীবী মুরাদুজ্জামান মুরাদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২২ জানুয়ারি আরাফাত সানিকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন এস আই ইয়াহিয়া। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন সকালে আমিনবাজার এলাকা থেকে আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। সানির বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা করেন তার স্ত্রী দাবিদার এক তরুণী।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আরাফাত সানির সঙ্গে ওই তরুণীর ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। গত বছরের ১২ জুন আরাফাত সানি দু’জনের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ছবি ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। ছবি পাঠিয়ে আরাফাত সানি ওই তরুণীকে হুমকি দেন। পরে আবার ২৫ নভেম্বর ওই তরুণীকে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে হুমকি দেন আরাফাত সানি।

এ ঘটনায় নাসরিন সুলতানা নামে ওই তরুণী বাদী হয়ে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে প্রথম মামলা করেন। পরদিন যৌতুক আইনে দ্বিতীয় মামলা করেন। আর ১ ফেব্রুয়ারি যৌতুকের জন্য মারধরের ঘটনায় তৃতীয় মামলাটি করেন নাসরিন।

বোলিংয়ের ব্র্যাডম্যান অশ্বিন : স্টিভ ওয়াহ

কী? খাপছাড়া ঠেকছে, তাই না। হ্যা একটু ধাঁদায় পরে যাওয়ারই কথা। কারণ স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ছিলেন ব্যাটসম্যান, আর অশ্বিন একজন বোলার, স্পিনার। তাদের মধ্যে মিলের চেয়ে গড়মিলই বেশি। তবে এবার এই দুই জনের মধ্যেও মিল খুঁজে পেলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।

বলার অপেক্ষা রাখে না ৫২ টেস্টে ২৯ সেঞ্চুরি আর ৯৯.৯৪ গড়ের মালিক ব্র্যাডম্যান। পরিসংখ্যানে শুধু সবার উপরেই নন, কালজয়ী। হয়তো ইতিহাসে সব সময়ের সেরা। অন্যদিকে ভারতের অশ্বিনও আছেন রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন। বোলার হিসেবে তার পরিসংখ্যান আকাশ ছোঁয়া। হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে গড়েছেন দ্রুততম ও কম টেস্ট খেলে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক।

এদিকে চার টেস্টের সিরিজ খেলতে ভারতে এসে পৌঁছেছে স্মিথবাহিনী। এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক স্টিভ ওয়াহ অশ্বিনের প্রশংসা করে বলেন, `এই মুহূর্তে অশ্বিন যেন বোলিংয়ে ডন ব্র্যাডম্যান। ওর রেকর্ড যেন ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং রেকর্ডের সমান। ও যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে মনে হয় অনেক রেকর্ডই ভেঙে ফেলবে।`

নাঈমের ১৯তম সেঞ্চুরি

ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ফর্মেই আছেন নাঈম ইসলাম। সর্বশেষ তিন ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে উত্তরাঞ্চলের হয়ে তুলে নিয়েছেন শতক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ১৯তম শতক। জাতীয় দলে তার একটি সেঞ্চুরি রয়েছে।

পূর্বাঞ্চলের হয়ে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন দুজন ব্যাটসম্যান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরির দেখা পান আফিফ হোসেন (১০৫)। ইয়াসির আলীও তুলে নেন সেঞ্চুরি (১১০*)। আর তাতে প্রথম ইনিংসে পূর্বাঞ্চল সংগ্রহ পায় ৪৯০ রানের।

জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন নাঈম ইসলাম। ২৮৪ বল মোকাবেলা করে ১১টি চারের সাহায্যে ঠিক ১০০ রান করেন তিনি। শিকারে পরিণত হন আবুল হাসানের। নাঈমের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪০৪ রান করে উত্তরাঞ্চল।

এরপর প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ৯২ রান তোলে পূর্বাঞ্চল। কিন্তু সময় যে পড়ে এলো। যে কারণে ড্র হয়েছে পূর্বাঞ্চল-উত্তরাঞ্চলের ম্যাচ।

টেস্ট নয়, ওয়ানডে দল ঘোষণা ২১, অনুশীলন শুরু ২৩ ফেব্রুয়ারি!

সফর অনিশ্চিত নয়। টাইগারদের শ্রীলঙ্কায় সিরিজ খেলতে যাওয়া নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দেয়নি। তবে লঙ্কান বোর্ডের কিছু টালবাহানা আছে। ভেতরের খবর- একদম শেষ দিকে টাইগারদের সফরসূচিতে খানিক পরিবর্তন আসছে। কথা ছিল, ৭ এপ্রিল গলে টেস্ট দিয়ে শুরু হবে টিম বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর। কিন্তু শেষ খবর, সম্ভবত তাতে পরিবর্তন আসছে। টেস্ট নয়, সফর শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। বিসিবি সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম এমন তথ্যই দিয়েছেন।

আজ রাতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনও নিশ্চিত করলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর।’ এখন ফরম্যাট বদলের পাশাপাশি ভেন্যু ও দিনক্ষণ পাল্টাবে কিনা? তা জানাতে পারেননি বিসিবি গেম ডেভোলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ। খালি জানিয়েছেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, তাতে টেস্ট নয়, প্রথম ওয়ানডে হবে।’

এদিকে প্রথমে টেস্ট না হলে খানিক বিপাকে পড়ে যাবেন নির্বাচকরা। তারা প্রথমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ধরেই এগোচ্ছেন। আজ রাতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানান, ‘আমি শুনেছি সফরসূচি রদবদল হতে পারে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাইনি। তাই আমি আগের মতো টেস্ট প্রথমে ধরেই দল নির্বাচনের কথা ভাবছি। প্রধান নির্বাচক জানিয়ে দিয়েছেন, যেহেতু দুই ম্যাচের টেস্ট এবং একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল আগে, তাই আমি প্রথমে টেস্ট দল সাজানোর কাজ শুরু করেছি। আগামীকাল বুধবার আমরা শ্রীলঙ্কা সফরে দল নির্বাচনী বৈঠকে বসবো।’

মিনহাজুল আবেদিন আরও জানান, ‘প্রথমে ২১ ফেব্রুয়ারি টেস্ট দল ঘোষণার কথা ছিল। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুশীলন ক্যাম্প। তিন দিনের প্রস্তুতি শেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি দল যাবে শ্রীলঙ্কায়। তা ধরে আমরা আমরা একবারে ১৬ জনের চূড়ান্ত টেস্ট দল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

প্রধান নির্বাচক নিশ্চিত করেছেন, সফর সূচি পাল্টালেও দল পূর্ব নির্ধারিত সূচি মানে- ২৭ ফেব্রুয়ারিই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে। তার আগে সত্যিই যদি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হয়, তাহলে ওয়ানডে স্কোয়াডই আগে ঘোষণা হবে। এবং সেটাও চূড়ান্ত দল। যেহেতু সময় কম। ক্রিকেটাররাও খেলার মধ্যে অছেন। তাই কোনোরকম প্রাথমিক প্রস্তুতির দল দেয়া হবে না। ওয়ানডের জন্যও একবারে চূড়ান্ত স্কোয়াডও করা হবে।

সেজন্য অন্তত আগামীকাল কিংবা পরশু পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। তার আগে হয়তো লঙ্কান বোর্ড সফর সূচি চূড়ান্ত করে বিসিবিকে পাঠাবে না।

পিএসএল খেলতে আবুধাবিতে সাকিব-তামিম-মাহমুদউল্লাহ

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) পর্দা উঠেছে দুদিন আগেই। তবে হায়দরাবাদ টেস্টের কারণে শুরুতে যোগ দিতে পারেননি বাংলাদেশ দলের তিন তারকা সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে টেস্ট শেষে এ আসরে খেলতে আরব আমিরাত উড়ে গেছেন এ তিন তারকা।

সোমবার টেস্ট ম্যাচ শেষে সন্ধ্যায় আবুধাবির বিমান ধরেছেন তিনজন। বাংলাদেশের এ তিন তারকা যোগ দেওয়ায় পিএসএলের প্রতি আকর্ষণ কাজ করবে বাংলাদেশি দর্শকদের। পাশাপাশি দলের শক্তিও বাড়বে।

এবারের পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলবেন সাকিব ও তামিম। আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলবেন কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সে। সাকিব ও তামিম আগে খেললেও এবারই প্রথম খেলছেন মাহমুদউল্লাহ। তবে গত আসরে খেলেছিলেন মুশফিকুর রহীমও।

সাকিব-তামিম-মাহমুদউল্লাহ পিএসএলে গেলেও মঙ্গলবার সকালে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বাকি ক্রিকেটাররা। কলাকাতা হয়ে দুপুরে ঢাকায় ফিরছে দলটি। তবে কলকাতায় ব্যক্তিগত কাজে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও স্পিনার তাইজুল ইসলাম থেকে যাবেন বলে জানা গেছে।  ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুপুর ২টায় দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল।

মুশফিককে অভয়বাণী শোনাবেন বিসিবি বিগবস?

তামিম ইকবালের সাহসী আর প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করার মানসিকতা তার নেই। যেকোনো ফরম্যাটে নিজের দিনে তামিম যেভাবে প্রতিপক্ষ বোলিং দুমড়ে-মুচড়ে কিংবা তছনছ করে দিতে পারে, তার ব্যাটিং শৈলী ও অ্যাপ্রোচে সেই খুনেভাব অনুপস্থিত।

সাকিব আল হাসানের সাবলীল অথচ বেপরোয়া স্ট্রোক প্লে, যাকে তাকে নিজের মতো করে খেলার সামর্থটাও নেই। তারপরও তিনি মানে মুশফিকুর রহিমই টেস্টে বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যাটসম্যান।

দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে একজন আদর্শ ব্যাটসম্যানের যে কিছু অপরিহার্য উপাদান দরকার, তা পুরোটাই আছে মুশফিকুর রহিমের। পরিপাটি ও পরিশুদ্ধ টেকনিক। ইচ্ছেমত ও মনগড়া শট খেলার বদলে বলের মেধা-গুণ বিচার এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি ঠাউরে ব্যাট চালনায় মুশফিক সবার ওপরে।

টেস্ট আদলের ব্যাটিং কৌশল, টেম্পারমেন্ট, দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার ধৈর্য, মনোযোগ-মনোসংযোগ এবং লাগসই অ্যাপ্রোচ ও অ্যাপ্লিকেশন ও যথার্থ শট নির্বাচন ক্ষমতা- সব মিলে বাংলাদেশের উইলোবাজদের মধ্যে মুশফিক নাম্বার ওয়ান। তার রেকর্ড ও পরিসংখ্যানও তাই বলে। সে কারণেই ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চেয়েও টেস্টে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ মুশফিক। নির্ভরতার প্রতীকও।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো, সেই মুশফিক মাঝে মধ্যে হন প্রশ্নবিদ্ধ। তার ব্যাটিং শৈলী, অর্জন ও কৃতিত্ব ফিকে হয়ে যায় কিপিং ব্যর্থতায়। আগে যেমন তেমন ইদানিং মানে নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময় কিপার মুশফিকের গ্লাভস ফসকে বেশকিছু ক্যাচ বেরিয়ে গেছে। হায়দরবাদে ভারতের সঙ্গে একমাত্র টেস্টে ভারতের উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহাকে স্টাম্পড করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে কিপার মুশফিক রীতিমত ‘ভিলেন’ বনে গেছেন।

এ ম্যাচের পোস্টমর্টেম করতে গেলে মুশফিকের কিপিং ব্যর্থতার কথা উঠে আসবে বারবার। মোটা দাগে বলতে গেলে মুশফিকের কিপিং নিয়ে রাজ্যের সমালোচনা। তীর্যক কথাবার্তা। ব্যাটসম্যান মুশফিক যদি হন আস্থার প্রতীক, উইকেটের পেছনের মুশফিক যেন আড়ষ্ট ও ব্যর্থ কিপারের প্রতিচ্ছবি। এমন নয় দেশে উইকেট কিপারের আকাল।

এ মুহূর্তে দেশে যত উইকেট কিপার আছেন, তার মধ্যে মুশফিকই সেরা। কোনো কারণে তার ফর্ম ভালো যাচ্ছে না। তাই তাকে ছাড়া উপায়ও নেই।
আসলে তা নয়। মুশফিকের চেয়ে ঢের ভালো কিপার নুরুল হাসান সোহান। এমনকি লিটন কুমার দাস-এনামুল হক বিজয়ও খুব কাছাকাছি। তাই ব্যাটসম্যান মুশফিক যেমন অপরিহার্য, অটোমেটিক এবং ফার্স্ট চয়েজ, কিপার মুশফিক কিন্তু তা নন। বিকল্প আছেন কজন। যারা মানের দিক থেকে খারাপ নন।

তাই অতিবড় মুশফিক সমর্থকও মনে করেন, নিজ ব্যাটিংয়ের স্বার্থে এবং টিম বাংলাদেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে মুশফিকেরই উচিৎ কিপিং বাদ দিয়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা। তাতে করে তার শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম এবং প্রশান্তি মিলবে।

যেহেতু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত দলগুলো বেশি সময় ব্যাটিং করে, তাই মুশফিককে ওই দীর্ঘ সময় উইকেটের পেছনে হাঁটুমুরে বসে থাকতে হয়। প্রতি বলেই অঙ্গসঞ্চালনসহ সর্বোচ্চ মনোযোগ-মনোসংযোগ দিতে হয়। এতে করে শারীরিক শক্তির পাশাপাশি, চোখ ও মানসিক শক্তির ওপরও চাপ পড়ে। যা তার ব্যাটিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনাও থাকে।

এখন বয়স কম এবং প্রচুর অনুশীলন করেন, ফিটনেস লেভেল অন্যদের চেয়ে বেশি বলে হয়তো মালুম হয় না। একসময় গিয়ে ঠিক সমস্যা হবে। শরীর আর সায় দেবে না। অনেকেরই মত সে সব বিবেচনায় এখনই কিপিং ছেড়ে পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হয়ে যেতে পারেন মুশফিক। কিপিং ছেড়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে নির্ঘাত তার পারফরমেন্স আর ভালো হবে। ব্যাটিংয়ের প্রতি শতভাগ মনোযোগী হতে পারবেন। মেধা, প্রজ্ঞা ও সামর্থের পুরোটাই ব্যাটিংকে দেয়া সম্ভব হবে।

কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে যে ব্যাটিং কতটা ভালো হয়, নিজের প্রকৃত মেধার কেমন স্ফূরণ ঘটানো যায়- তার জ্বলন্ত নজির হচ্ছেন কুমারা সাঙ্গাকারা। এ লঙ্কান গ্রেটও মুশফিকুর রহিমের মতো স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান কাম কিপার ছিলেন। কিপিংটাও মন্দ করতেন না। কিন্তু একসময় মনে হলো, নাহ কিপিং ছেড়ে ব্যাটিংয়ে মন দেই। তাতে লাভ হবে। ব্যাটিং ক্যারিয়ার হবে আরও সমৃদ্ধ।

পরিসংখ্যানটা দেখুন, তাতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে ব্যাটসম্যান কাম কিপার সাঙ্গাকারা আর শুধু ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারার পরিসংখ্যানের কত বড় ফারাক?
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপার সাঙ্গাকারা খেলেছেন ৪৮ টেস্ট। ৮১ ইনিংসে রান ছিল ৩১১৭। গড় ৪০.৪৮। পঞ্চাশ ১১টি। সেঞ্চুরি ছিল ৭টি। সর্বোচ্চ ছিল ২৩০।

অন্যদিকে কিপিং ছেড়ে পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হবার পর গড়ে ২৬‘র চেয়ে বেশি রান বেড়ে যায় কুমারা সাঙ্গাকারার। শুধু ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারা ৮৬ টেস্টে ১৫২ ইনিংস ব্যাট চালিয়ে রান করেছেন ৯২৮৩। ট্রিপল সেঞ্চুরি হাকানোসহ টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের ইনিংসটিও খেলেন শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে। শুধু স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে সাঙ্গাকারার গড় ৬৬.৭৮। শতরান ৩১টি। আর হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা ৪১।

সবচেয়ে বড় তথ্য হলো, ২০০৮ সালের এপ্রিলে কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হবার পর সাঙ্গাকারার ব্যাটে রানের নহর বয়ে যায়। ওই সময়ের পর থেকে ক্যারিয়ারের ইতিটানার আগে পর্যন্ত তার গড় ছিল ৬৬। যা ক্রিকেটের কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানের পর আর যেকোনো ব্যাটসম্যান শচীন, লারা, পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস, দ্রাবির ও মার্ক ওয়াহর চেয়ে বেশি।

কাজেই মুশফিক কিপিং ছেড়ে পুরোদস্তুর ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হলে তার গড়ও হয়তো পঞ্চাশের ওপরে চলে যাবে। তাতে তার নিজের ক্যারিয়ারই সমৃদ্ধ হবে না, টিম বাংলাদেশও অনেক উপকৃত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো মুশফিক কি কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবেন? তাকে যারা চেনেন, জানেন ও বোঝেন- সবাই এক বাক্যে বলবেন নাহ, মুশফিক সহজে কিপিং ছাড়ার পাত্র নন।

এইতো কদিন আগে হায়দরাবাদ টেস্টে সাকিব জানিয়ে দিলেন মুশফিক ভাই কিপিং উপভোগ করেন। ব্যাটিংয়ের মতো কিপিংটাও তার প্রিয়। তাই সে প্রিয় কিপিং মুশফিক ছাড়বেন কি-না? সেটা বড় প্রশ্ন। তবে কারও কারও মত, শুধু পছন্দ আর উপভোগের কারণেই নয়, মুশফিক একটা অজানা শঙ্কায় ভোগেন। তার ধারণা, কখনও কিপিং ছেড়ে দিলে তার দলে অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে। তিনি একধারে অধিনায়ক, কিপার এবং ব্যাটসম্যান। মুশফিক মনে করেন কিপিং করতে না পারলে তার অধিনায়কত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

একসময় ব্যাটিং ফর্ম খারাপ হলে দল থেকে বাদও পড়তে পারেন। এই ভেবেই আসলে মুশফিক কিপিং ছাড়তে চান না। সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের ধারনা ও মত, বিসিবি প্রধান এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান প্রধান অভিভাবক নাজমুল হাসান পাপন মুশফিককে আশ্বস্ত করলে হয়তো কাজ হতে পারে।

তার কিপিংয়ের পাশাপাশি দল পরিচালনা নিয়েও কথা হচ্ছে বিস্তর। তা ভালোই জানেন মুশফিক। তার হাত থেকে নেতৃত্ব অন্য কারো কাঁধে চলে যেতে পারে- এমন শঙ্কাও কাজ করে ভেতরে। তাই মনে মনে ভাবেন, আমি কিপিং ছাড়লে ভবিষ্যতে দলে আমার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তাই কিপিংটা ধরে রাখি। যেটা আমার রক্ষাকবচ। কখনও ব্যাটিং খারাপ হলেও যা আমার দলে অবস্থান নিশ্চিত রাখবে। এমন ভেবেই নাকি মুশফিক কিপিং ছাড়তে নারাজ।

এখন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান একটু উদ্যোগী হলেই হয়তো মুশফিকের সে ধারণা বদলে যেতে পারে। বিসিবি বিগবস যদি মুশফিককে আশ্বস্ত করেন, ‘তোমার চিন্তা নেই। টেস্টে তুমিই আমাদের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। আমাদের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিক। ব্যাটিংয়ের মূল চালিকশক্তি। তুমি কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে তোমারও মঙ্গল, দলও উপকৃত হবে। তোমার দলে অবস্থান মোটেই নড়বড়ে হবে না। তুমি এখন যেমন অটোমেটিক চয়েজ, কিপিং ছেড়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও থাকবে প্রথম পছন্দ।’

এমন অভয়বাণী শুনলে হয়তো মনের ইচ্ছে বদল ঘটতেও পারে। কাজেই সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের ধারণা, মুশফিককে অভয়বাণী শোনানোর এখনই সময়। শুধু মুশফিকের ক্যারিয়ারের জন্য নয়, দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে এবং প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিনকে সঙ্গে নিয়ে বিসিবি বিগবস ভারত থেকে দেশে ফেরার পর শ্রীলঙ্কা সফরের আগে মুশফিকের সঙ্গে বসে তাকে অভয়বাণী শোনাতে পারেন।

তাহলে হয়তো সাঙ্গাকারার মতো মুশফিকও কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে রাজি হবেন। প্রকৃত সত্য হলো, মুশফিক নিশ্চিতভাবেই একটা নিশ্চয়তা চান। তা দেবার সত্যিকার এখতিয়ার রাখেন বিসিবি প্রধান। তিনি কি তা করবেন?

সাকিবের পারফরম্যান্সে খুশি মুশফিক

নিউজিল্যান্ড সফরেই সাকিব আল হাসান আভাস দিয়েছিলেন, দারুণ ছন্দেই আছেন। ওয়েলিংটন টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছিলেন। তুলে নিয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটাও এখন তারই দখলে, ২১৭ রানের। ৪১৮ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৭৬ বলে ৩১টি চারের সাহায্যে সাজান অনবদ্য ইনিংসটি।

পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা সাকিব অব্যাহত রেখেছেন ভারত সফরেও। প্রথম ইনিংসে ৮২ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেছেন। যদিও ভারতীয় বোলারদের কড়া শাসন করেও শেষটা ভালো হয়নি। অর্থাৎ সেঞ্চুরি তুলে নিতে পারেননি। বিদায় নিয়েছেন প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়া এক শটে। যা তার নামের সঙ্গে যায় না। ভালো খেললেও তাই সমালোচনা শুনতে হয়েছে সাকিবকে।

তার আগে প্রথম ইনিংসে সাকিব বল হাতে ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। ২৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে কোনো উইকেটের দেখা পাননি। খরচ করেছেন ১০৪ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম কিছু উজ্জ্বল ছিলেন সাকিবের চেয়ে। তাইজুল নেন ৩ উইকেট; আর মিরাজের পকেটে ওঠে দুটি।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য সাকিবই বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিংটা করেছেন। ৯ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ঝুড়িতে জমা করেছেন দুই উইকেট। ইকোনোমি রেট ৫.৫৫। আর তাসকিন আহমেদও দুই উইকেট লাভ করেন। তবে ওভার প্রতি বেশি রান দিয়েছেন। বাংলাদেশি পেসার ৭ ওভারে ৪৩ রান খরচ করেছেন। যার ইকোনোমি রেট ৬.১৪।

এদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা সাকিবের কাছে আরো বেশি প্রত্যাশা ছিল; এটা বলা বাহুল্য। সাকিব ক্রিজে থাকায় প্রতিপক্ষ আতঙ্কে ছিল। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজার লাফিয়ে ওঠা এক বলই সাকিবের পথচলা থামিয়ে দেয় ২২ রানে। এরপর হয়তো আশাহত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ!

সব মিলে গোটা টেস্ট ম্যাচেই আলোচনায় সাকিব। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহীমকে সাকিবের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে বললে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জানান, সাকিবের পারফরম্যান্সে তিনি খুশি। বলেন,  ‘আমরা চাই সাকিব এমন বোলিং করবে যাতে করে একটা ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারে। বাকি কাজগুলো দলে অন্যরা যারা আছে তাদের। এটা তিনটা স্পিনার খেলানোর একটা কারণ। সাকিবের পারফরম্যান্সে কাজে আমি খুশি। সেকেন্ড ইনিংসে যখন তার হাতে বল দিয়েছি, তখনো সে ভালো বোলিং করেছে।’

তবে প্রথম ইনিংসে সাকিবকে দিয়ে কেন কম ওভার করানো হলো; তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন। এর জবাবে মুশফিক বলেন, সাকিবের বোলিং নিয়ে আমি বলতে পারি, প্রথম ইনিংসে আমাদের তিনজন স্পিনার সামনে থেকে লিড দিয়েছে। আমার এবং টিম ম্যানেজম্যান্টের মনে হয়েছে তাইজুল ও মিরাজ তাদের কাজটা ঠিকমতো করতে পেরেছে। তাই আমাদের তাদের ওপরই আস্থা রেখেছিলাম। এটা আসলে নির্ভর করে নির্দিষ্ট দিনে কে ভালো করছে তার ওপর। আমার ওই দুইদিন মনে হয়েছে তাইজুল ও মিরাজের জুটিটা ভালো হচ্ছিল। আমরা চাই যে সাকিব যতটুকু বোলিং করতে সেটা যেন দলের কাজে লাগে। সাকিব সেই অবস্থায় নেই তাকে দিয়ে লং স্পেল বোলিং করাতে হবে।’

ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা হতাশা আছে সমর্থকদের মাঝে। মুশফিক বললেন ভিন্ন কথা, ‘যে কন্ডিশনেই খেলেন না কেন, আপনাকে সেভাবে প্রস্তুত হতে হবে। টেস্টে বড় ইনিংস খেলতে হলে একজন ব্যাটসম্যানকে অবশ্যই তার অফস্ট্যাম্প কোথায় সেটা জানতে হবে। এবং আপনার ডিফেন্সটা অনেক শক্তিশালী থাকতে হবে। এই দুইটা জিনিস থাকলে বড় রান করা পসিবল। আমি যত দূর জানি এই দুইটা জিনিস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই দুইটা বিষয়ের ওপর সব সময় মনোযোগ দিয়ে থাকি। আল্লাহর রহমতে সেটা করতে পেরেছি। একটু হলেও ভালো লেগেছে।’

দুপুরে ঢাকায় ফিরছে বাংলাদেশ দল

ভারতে ঐতিহাসিক সফরে ১১ দিন অবস্থান করার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সকাল ৬টায় হায়দরাবাদ থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারা। এরপর সেখান থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে বেলা ২টায় ঢাকায় পা রাখবে মুশফিকবাহিনী।

তবে আজই দলের সকল খেলোয়াড় ঢাকায় ফিরছেন না। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে ভারত থেকে আরব আমিরাতে উড়ে যাবেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া কলকাতায় ব্যক্তিগত কাজে কয়েকদিন ভারতে থাকতে পারেন মুশফিকুর রহীম ও তাইজুল ইসলাম।

আগের দিন হায়দারাবাদ টেস্টে ২০৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে পাঁচদিন পর্যন্ত লড়াই করায় প্রশংসাই পেয়েছে মুশফিকুর রহীমের দল। চলতি মাসের শেষেই শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে দলটি। সেখানে ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগার বাহিনী।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুশীলন ক্যাম্পে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন মুশফিকরা।

কোহলিকে ফেরালেন সাকিব

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পূজারাকে সঙ্গে নিয়ে দলে হাল ধরেছিলেন ভারত অধিনায়ক কোহলি। ওয়ানডে স্ট্যাইলে ব্যাট করে গড়েন অর্ধশত রানের জুটি। তবে এরপর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকেতে পারলেন না আগের ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা কোহলি। সাকিবের বলে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন বর্তমান সময়ের সেরা এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান। টিম ইন্ডিয়া এগিয়ে আছে ৩৯৪ রানে।

বাংলাদেশকে ২৯৯ রান দূরে রেখে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিনের বোলিং তোপে পড়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। চতুর্থ ওভারের প্রথম ইনিংসে শতক করা মুরালি বিজয়কে (৭) দ্রুত ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে থামেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বিজয়। আর ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল (১০)।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তবে, বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এদিকে ফলোঅন এড়াতে ১৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা মুশফিক-মিরাজের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। কিন্তু কোহলির নিজে রীতিমত দুর্দান্ত এক সিদ্ধান্ত। দিনের শুরুতেই বোলিংয়ে আনলেন এ ম্যাচে এখনো উইকেটের দেখা না পাওয়া ভুবনেশ্বকে। তাই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করলেন এই বোলার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দিনের প্রথম ওভারেই মিরাজকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে।

এরপর মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাইজুল। তবে রানের খাতা দুই অঙ্ক নিয়েই খেয় হারিয়ে ফেলেন তাইজুল। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও হাতে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। ফলে ৩৮ বলে ১০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অসাধারণ ব্যাট করা মুশফিক। এরপর ৮ রান করে তাসকিনের বিদায়ের পর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুশফিকের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে। অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলতেই ব্যাটিংয়ে ভারত

টেস্টে যেখানে ২০০ রানে এগিয়ে থাকলেই ফলোঅন হয়, সেখানে ২৯৯ রানের লিড নিয়েও বাংলাদেশকে ফলোঅনে না পাঠিয়ে উল্টো নিজেরা ব্যাটিংয়ে নামলো ভারত। সবার জানা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ট্র্যাক রেকর্ড ভালো না। এইতো গতমাসে ওয়েলিংটনে সাউদি-বোল্টের ধারালো কিউই বোলিংয়ে বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ। সেই দলকে ফলঅনে উল্টো ব্যাটিংয়ে নামা একটু অবাক ঠেকেছে বৈকি।

কেন আবার ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের? নানা প্রশ্ন ও জল্পনা কল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে শেষদিনে উইকেট আরও ভাঙবে এবং তা যাতে নিজেদের বোলারদের পক্ষে যায়। বাংলাদেশ যাতে শেষ দুইদিনের ভাঙা উইকেটে স্পিনারদের চাপের মুখে পরে সেই চিন্তায় হয়তো এ সিদ্ধান্ত বিরাট কোহলির।

তৃতীয় দিন বিকেলে না হলেও চতুর্থ দিন থেকে বোলিং ক্রিজের আশে পাশে বোলারের বুটের স্পাইকে কিছু ক্ষত তৈরি হবে। আর তাতেই স্পিনারদের পোয়াবারো। এতে করে ভারতের অশ্বিন-জাদেজার মত স্পিনারদের মোকাবেলা করা একটু কঠিনই হবে বাংলাদেশের জন্য। আর এ সুবিধাটা আদায় করে নিতে চাইছেন কোহলি।

মূলত জয় নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। চতুর্থ দিন সকালে যখন বাংলাদেশ ব্যাটিং করছিল তখন ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জেকার ও সায়মন ডোল বারবার বলছিলেন এখনও এ উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। তার প্রমাণ পাওয়া গেছে মুশফিকের ব্যাটিংয়ে। সেঞ্চুরি করার পর ডাউন দ্য উইকেট এসে বোলারদের যেভাবে আক্রমণ করেছেন তাতে কোহলির ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের রেকর্ড খারাপ হলেও কখনোও কখনোও যে খোলস থেকে বেরিয়ে আসে না তা কিন্তু না। এর আগে তার প্রমাণও আছে। তদুপরি প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন দুর্ভাগ্যজনকভাবে। এ কথা জানেন কোহলি। দ্বিতীয় ইনিংসে যে তারা জ্বলে উঠবেন না তার নিশ্চয়তাই বা কি?

২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে কোণঠাসা অবস্থা থেকে ম্যাচ ড্র করেছিল বাংলাদেশ। তামিম-ইমরুলের ব্যাটিংয়ে সেবার দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রান করেছিল বাংলাদেশ। তাই নিজেদের দিনে আবার তারা ঝলসে উঠলে ভারত আর এ ম্যাচে জিততে পারবে না। তাই চতুর্থ ইনিংসে চ্যালেঞ্জ ছুরে দিতেই কোহলির এমন সিদ্ধান্ত। এছাড়াও মিরপুরে ২০০৮ এর ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪১৩ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। আর সেটা চতুর্থ ইনিংসে। এছাড়াও ভারতের বিপক্ষেও চতুর্থ ইনিংসে তিন শতাধিক রান করেছিল বাংলাদেশ। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে সেবার ৩০১ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা।

তবে ভারত যত বেশি সময় বেশি ব্যাট করবে ততই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল। বাংলাদেশের জন্যও এটা আশার খবর। এতে মুশফিক-তামিমদের বেশি সময় উইকেট থাকার চাপ কমবে। যদিও বংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের রেকর্ড খুব খারাপ। তারপরও সাকিব-তাইজুল-মিরাজ আর তাসকিন-রাব্বি মিলে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যত বেশি সময় হাত খুলে খেলা থেকে বিরত রাখতে পারবেন ততই মঙ্গল বাংলাদেশের।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটার নিষিদ্ধ

শারজিল খান ও খালিদ লতিফের পর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় আসর থেকে নিষিদ্ধ হলেন পাকিস্তানি আরেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইরফান। পিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট এ বিষয়ে পিসিবিকে জানালে তারা এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

বিস্তারিত আসছে…

আগুন ঝরাচ্ছেন তাসকিন

বাংলাদেশকে ২৯৯ রান দূরে রেখে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিনের বোলিং তোপে পড়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। চতুর্থ ওভারের প্রথম ইনিংসে শতক করা মুরালি বিজয়কে (৭) দ্রুত ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে থামেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বিজয়।

আর ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল (১০)। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ২৮ রান। টিম ইন্ডিয়া এগিয়ে আছে ৩২৭ রানে।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তবে, বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এদিকে ফলোঅন এড়াতে ১৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা মুশফিক-মিরাজের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। কিন্তু কোহলির নিজে রীতিমত দুর্দান্ত এক সিদ্ধান্ত। দিনের শুরুতেই বোলিংয়ে আনলেন এ ম্যাচে এখনো উইকেটের দেখা না পাওয়া ভুবনেশ্বকে। তাই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করলেন এই বোলার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দিনের প্রথম ওভারেই মিরাজকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে।

এরপর মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাইজুল। তবে রানের খাতা দুই অঙ্ক নিয়েই খেয় হারিয়ে ফেলেন তাইজুল। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও হাতে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। ফলে ৩৮ বলে ১০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অসাধারণ ব্যাট করা মুশফিক। এরপর ৮ রান করে তাসকিনের বিদায়ের পর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুশফিকের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে। অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

আরাফাত সানিকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ।

রোববার আরাফাত সানিকে সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্টু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহামম্মদপুর থানার এসআই মাসুদুর রহমান। কিছুক্ষণ পর এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

যৌতুকের জন্য মারধরের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ক্রিকেটার আরাফাত সানির সঙ্গে ৫ লাখ এক টাকা দেনমোহরে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা দুজন ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করেন। সংসার চলাকালীন ছয় মাস পর ক্রিকেটার আরাফাত সানি তার মায়ের পরামর্শে নাসরিনের কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকার জন্য সানি তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং গালিগালাজ করে ভাড়া বাসায় ফেলে যান।

২০১৬ সালের ১২ জুন বাদী নাসরিন সুলতানা ভাড়া বাসাসহ যাবতীয় ভরণ-পোষণ না পেয়ে নিরুপায় হয়ে সংসার করতে স্বামী সানির সঙ্গে দেখা করেন। এসময় আরাফাত সানি যৌতুকের ২০ লাখ টাকা দাবি করে নাসরিনকে বলেন, যৌতুকের টাকা না দিলে আমার মা তোমার সঙ্গে সংসার করতে দেবেন না এবং এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার পরিণতি অনেক খারাপ হবে। কারণ তোমার কিছু অশ্লীল ছবি আমার মোবাইলে রয়েছে।

এরপর বাদীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সানির মা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, তোর সঙ্গে আমার ছেলে সংসার করবে না তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যবস্থা কর। তখন বাদী তার বাসায় চলে যান।

এছাড়া বাসায় অবস্থানকালে আরাফাত সানি দুজনের কিছু আপত্তিকর ছবি ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। ছবি পাঠিয়ে আরাফাত সানি হুমকি দেন যে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তার পরিণতি আরও খারাপ হবে। পরে ২৫ নভেম্বর আবার তার ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে হুমকি দেন আরাফাত সানি। এ ঘটনায় নাসরিন সুনতানা বাদী হয়ে গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে প্রথম মামলাটি করেন।

মুশফিককে আউট করে অশ্বিনের বিশ্বরেকর্ড

বর্তমান ক্রিকেটের বিশ্বে সবচেয়ে বিধ্বংসী অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়েছেন অনেক বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যান। এবার বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের উইকেটও তুলে নিলেন তিনি। আর তাকে শিকার করেই সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে ২৫০তম উইকেট পাওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এ স্পিনার।

মাইলফলক থেকে মাত্র ২ উইকেট দূরে থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন অশ্বিন। তবে এ কীর্তি গড়তে তাকে অপেক্ষা করতে হয় চতুর্থ দিন সকাল পর্যন্ত। আগের দিনে বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। আজ বাংলাদেশের শেষ উইকেট মুশফিককে তুলে গড়েন এ অনন্য কীর্তি।

মাত্র ৪৫তম টেস্টেই ২৫০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান অশ্বিন। এর আগে এ কীর্তিটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী পেসার ডেনিস লিলির। ৪৮টি টেস্ট খেলে তিনি এ রেকর্ড গড়েছিলেন এ কিংবদন্তী। ৩৬ বছরের রেকর্ডটি রোববার নিজের করে নেন অশ্বিন।

ফলোঅন না করিয়ে ব্যাটিংয়ে ভারত

প্রথম ইনিংসে ৬৮৭ রানের বিশাল ইনিংসের নিচে চাপা দেয়ার পর সবাই ভেবেছিল বাংলাদেশ হয়তো বিশাল রান দেখেই ভড়কে যাবে। দ্রুত অলআউট হয়ে প্রথম ইনিংসেই অনেক দূরে থাকবে। তবে, বাংলাদেশকে ২৯৯ রান দূরে রেখে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তাতেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্টের পরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের হোম সিরিজ। সেই সিরিজকে সামনে রেখেই হয়তো ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্টকে নিয়েছে ব্যাটিং প্র্যাকটিস হিসেবে। কিংবা, হতে পারে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৮৮ রান করেছে। ফলোঅন করিয়ে যদি আবার বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়, তাহলে তারা যদি উইকেট কামড়ে থেকে আজকের দিন কিংবা আগামীকালও পার করে দেয়! তাহলে তো টেস্ট ড্র। নিশ্চিত জয়ের সুযোগ হাতছাড়া।

কোহলিরা হয়তো এক সেশন ব্যাট করে আরও ১২০ কিংবা ১৫০ রান যোগ করে দিয়ে ছেড়ে দেবে বাংলাদেশের সামনে, তাতে বিশাল রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত অলআউট হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আবার এমনও হতে পারে, প্রায় চারটা সেশন বল করার পর ভারতীয় বোলারদেরকে আর বেশি চাপে ফেলতে রাজি ছিলেন না বিরাট কোহলি। এ কারণেই তিনি বাংলাদেশকে ফলোঅন না করিয়ে আবার ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন। আবার চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার রিস্ক না নেয়ার চেয়ে তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করাকেই হয়তো স্রেয় মনে করলেন মুশফিক।

যে কারণেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে থাক বিরাট কোহলি, এটা অন্তত নিশ্চিত হলো ইনিংস পরাজয় ঘটছে না বাংলাদেশের। আবার দ্বিতীয় ইনিংসে যদি ভালো ব্যাটিং করতে পারে মুশফিকরা, তাহলে নিশ্চিত ড্র করারও সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের।

২৯৯ রান পেছনে থেকে থেমে গেল বাংলাদেশ

ভারতের করা প্রথম ইনিংসে ৬৮৭ রানের পাহাড়সম রানের বিপরীতে ফলোঅন এড়াতেও বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪৮৮ রানের। সাকিব-মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করলেন মুশফিক। তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। তবে তার এই অসাধারণ সেঞ্চুরির পরও ফলোঅন এড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। ফলোঅন থেকে ১০০ আর ২৯৯ থেকে পিছিয়ে থেকে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ হলো বাংলাদেশের।

এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তবে, বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।

এদিকে ফলোঅন এড়াতে ১৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা মুশফিক-মিরাজের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। কিন্তু কোহলির নিজে রীতিমত দুর্দান্ত এক সিদ্ধান্ত। দিনের শুরুতেই বোলিংয়ে আনলেন এ ম্যাচে এখনো উইকেটের দেখা না পাওয়া ভুবনেশ্বকে। তাই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করলেন এই বোলার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দিনের প্রথম ওভারেই মিরাজকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে।

এরপর মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাইজুল। তবে রানের খাতা দুই অঙ্ক নিয়েই খেয় হারিয়ে ফেলেন তাইজুল। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও হাতে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। ফলে ৩৮ বলে ১০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অসাধারণ ব্যাট করা মুশফিক। এরপর ৮ রান করে তাসকিনের বিদায়ের পর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুশফিকের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে। অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

এর আগে রোববার ১ উইকেটে ৪১ রান নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে দলের রান ৩ যোগ করতেই তামিম ইকবালকে হারায় তারা। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝির মাশুল দিয়ে রানআউটে কাটা পড়েন দেশসেরা এ ওপেনার। এরপর দ্রুত ফিরে যান টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হকও। ব্যক্তিগত ১২ রানে উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে পায়ে লাগলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান।

মুমিনুলের বিদায়ের পর সাকিবের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়ে এলবিডব্লিউর শিকার হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ইশান্ত শর্মার ভেতরে আসা বলে পায়ে লাগলে আউট হন তিনি। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি। তবে তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। এরপর সাকিবকে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসেন মুশফিকুর রহীম। দেশসেরা এ দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ে ওয়েলিংটন টেস্টের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব। ১০৩ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে নিজের এ ইনিংস সাজান তিনি। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আরও একটি চার হাঁকাতে গিয়ে মিডঅনে যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। তবে এর আগে মুশফিকের সঙ্গে গড়েন ১০৭ রানের দারুণ এক জুটি।

সাকিবের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান সাব্বিরও। ব্যক্তিগত ১৬ রানে জাদেজার বলে সুইপ করতে গিয়ে মিস করলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। এরপর মিরাজকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে গড়েন ৮৭ রানের জুটি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিরাজ। ১০৩ বলে ৫১ রানের দারুণ ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন উঠতি এই তারকা। এ ইনিংস গড়তে ১০টি চারের মার মারেন তিনি। তবে এক প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। ২০৬ বলে ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১২টি চারের সাহায্যে নিজের এ ইনিংস সাজান তিনি।

রিভিউতে টিকে গেলেন তাসকিন

রবীন্দ্র জাদেজার বলে তাসকিনের বিপক্ষে আবেদন উঠতেই আম্পায়ার জোয়েল উইলসন কাল বিলম্ব করলেন না। আঙ্গুল তুলে দিলেন। উইকেট নেয়ার আনন্দে একে অন্যকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন বিরাট কোহলিরা। এ সময় হঠাৎই গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় সমর্থককে হতাশ করে দিয়ে রিভিউ চেয়ে বসলেন মুশফিকুর রহীম। তার আগে অবশ্য তাসকিনের সঙ্গে আলোচনা করে নিলেন তিনি।

টিভি আম্পায়ারকে ডিসিশন রিভিউ করার নির্দেশ দিলেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। টিভি আম্পায়ার দেখলেন, তাসকিনের ব্যাটেই বল লাগেনি। ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসে বল গিয়েছে তার প্যাডের কানায় লেগে। তাতেই ভারতীয়রা উইকেট পাওয়ার আনন্দে উল্লসিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিলেন আম্পায়ার।

রিভিউর ক্ষেত্রে এবার ভাগ্য মনে হচ্ছে খুবই সুপ্রসন্ন বাংলাদেশের। এর আগে মুশফিকের বিপক্ষে একবার রিভিউ নিয়ে হেরে গেলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এবার আম্পায়ার আউট দেয়ার পরও রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেন তাসকিন আহমেদ।

এ নিয়ে মোট চারটি রিভিউতে বেঁচে গেলো বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনবারই রিভিউ নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনবারই তার রিভিউ খারিজ করে দিয়েছেন আম্পায়ার। বাকি রিভিউটি নিয়েছে বাংলাদেশ। এই রিভিউটাও আসলো বাংলাদেশের পক্ষে। তবে শেষ পর্যন্ত তাসকিন আউট হয়ে গেলেন সেই জাদেজার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। মুশফিকও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। তিন ওভার পরই রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন মুশফিক।

রিভিউ কাজে আসলো না বিরাট কোহলির

ইশান্ত শর্মার বলে জোরালো আবেদন। বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে ভারতীয় দলের সব ফিল্ডার যোগ দিলেন তাতে। কোনো একটা উইকেটের জন্য এত জোরালো আবেদন সাধারণত কাউকে করতে দেখা যায় না। আম্পায়ার দ্বিধাদ্বন্দে থাকলেও জোরালো আবেদনের কারণে আঙ্গুল তুলে দেন; কিন্তু এবার হলো ভিন্ন। আম্পায়ার জোয়েল উইলসন ক্রমাগত মাথা নেড়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে কোহলি ইশারা করলেন, রিভিউ চান তিনি।

জোয়েল উইলসন টিভি আম্পায়ারকে নির্দেশ দিলেন রিভিউ করে দেখার জন্য। টিভি আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফেনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন। হক আই ভিউতেও চেক করলেন। শেষে দেখা গেলো, ব্যাটে কিংবা গ্লাভসে নয়, মুশফিকুর রহীমের বাহুতে লেগে গিয়েছে উইকেটরকক্ষম ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। বাহুতে বল লাগার যে আওয়াজ হয়েছিল, তাতেই এমন জোরালো আবেদন উঠেছিল কোহলিদের। আম্পায়ার ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন, এটা আউট নয়।

আবারও রিভিউ চেয়ে হেরে গেলেন বিরাট কোহলি। এ নিয়ে তৃতীয়বার। মুশফিকের বিপক্ষে এমন এক সময়ে রিভিউ চাইলেন যে, তখন তিনি একেবারে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে (৯৫ রান) দাঁড়িয়ে। ভারতীয় দলের বোলারদের সামনে বিশাল পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। উমেশ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার, ইশান্ত শর্মা, রবিন্দ্র জাদেজা আর রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সামনে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মুশফিকুর রহীম। তাকে ফেরাতে পারলেই তো কাজটা সহজ হয়ে যায়।

হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিনের ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির আরও দুটি রিভিউ খারিজ করে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। প্রথম রিভিউটা ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জন্য। খালি চোখে দেখেই মনে হচ্ছিল ইশান্ত শর্মার বলটি লেগ স্ট্যাম্প মিস করছে; কিন্তু কোহলি রিভিউ চেয়ে বসলেন। ডিআরএসে দেখা গেল, সত্যিই বল মিস করে যাচ্ছে।

এরপর আরও একবার সাকিব আল হাসানের জন্য রিভিউ নেন বিরাট কোহলি। বোলার ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সাকিবের বল ব্যাটে লেগে মাটিতে ড্রপের পর ফিল্ডারের কাছে পৌঁছালেও অশ্বিনের মনে হয়েছিল সরাসরি ক্যাচ হয়েছে। কাছাকাছি থাকা সব ফিল্ডার একত্র হয়ে নিজেদের একই সন্দেহের কথা জানালে কোহলি রিভিউ নেন; কিন্তু ডিআরএসে তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই অবশ্য কোহলির চেয়ে সংশ্লিষ্ট বোলাররাই আউট নিয়ে বেশি উৎসাহ দেখিয়েছেন; কিন্তু দুটি রিভিউই নষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশ ইনিংসের ৮০ ওভারের আগ পর্যন্ত রিভিউ নেওয়ার সুযোগ হয়নি কোহলির।

চতুর্থ দিন সকালেই দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নেন কোহলির বোলাররা। আরও দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করতে বদ্ধপরিকর বিরাট কোহলি। সে জন্যই হয়তো ইশান্ত শর্মার বলে মুশফিকের আউটের জন্য রিভিউটা চেয়ে বসলেন কোহলি। এবার তিনি সতীর্থদের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজনই মনে করলেন না। কিন্তু এবারও তার আবেদন খারিজ করলেন আম্পায়ার।

এর আগে প্রথম দু`দিনে ঠিক সময়ে রিভিউ চাইতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো বিরাট কোহলির এলবি আউট চেয়ে হাস্যকর এক রিভিউ চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। এ নিয়ে প্রচুর সমালোচনাও হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়কের।

হেরেও সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কায় বাছাই পর্বে খেলছে বাংলাদেশ নারী দল। শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেছে রোমানাবাহিনী। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে সাত উইকেটের বড় হারের স্বাদই পেতে হয়েছে তাদের। তবে চার ম্যাচে দুটি জয় পাওয়ায় সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। দুই ওপেনারই ফিরেছেন খালি হাতে। একমাত্র অধিনায়ক রোমানা ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ফলে মাত্র ১০০ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন রোমানা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে কাটা পড়লে কার্যত শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের বড় স্কোরের আশা। এছাড়া সালমা খাতুন ১৬ ও সানজিদা ইসলাম ১৩ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সুনে লুস ও সাবনিম ইসমাইল ৩টি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের দেওয়া ১০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় দক্ষিণ আফ্রিকার নারীরা। দুই ওপেনার লিজিলি লি ও লরা ওলভার্ডট ৫০ রানের জুটি উপহার দেন। এরপর বাংলাদেশ চারটি উইকেট তুলে নিলেও লক্ষ্য পেরোতে তেমন বেগ পেতে হয়নি প্রোটিয়াদের। ২৪.৪ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন লিজিলি লি। এছাড়া ওলভার্ডট করেন ৩০ রান। বাংলাদশের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন জাহানারা আলম, সুরাইয়া আজমিন, রোমানা আহমেদ ও সালমা খাতুন।

আলাদা টেস্ট স্কোয়াড গঠনের কথা ভাবছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট

স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৭ বছর পর ভারতে এই প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলতে আসলো বাংলাদেশ। রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি। ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই স্টেডিয়ামে বসে সাকিব-মুশফিকদের খেলা উপভোগ করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। তবে তৃতীয় দিন এসে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা পেলেন তার দেখা। মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাস্ত ক্রিকেট সূচি দেখে বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানালেন, আলাদা টেস্ট দল গঠন করার কথা।

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসঙ্গ উঠতেই ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী কোনো সফর নিয়ে আলাপ হয়েছে কি না? বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানালেন, ‘পরবর্তী কোনো সিরিজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলাপ হয়নি। আসলে এখানে বিসিসিআইয়ের কার সঙ্গে কথা বলবো? নতুন একজন এসেছেন তার সঙ্গে দেখা হয়নি। সে জন্য এটা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও হয়নি। এমনতিই ফিউচার ট্যুর প্ল্যানে (এফটিপি) সবকিছুই বুকড। এ বছরে তো আমাদের হাতে কোনো সময়ই নেই।’

ভারতের বিপক্ষে এই টেস্ট ম্যাচটি কেমন দেখছেন? জানতে চাইলে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা সবাই জানে যত বেশি খেলবেন তত ভালো হবে। তিন ফরম্যাটের মধ্যে আমরা ওয়ানডেটা এখন মোটামুটি ভালো খেলি। টি-টোয়েন্টিতে অনেক পেছনে ছিলাম। এখন মোটামুটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। টেস্টে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। স্বাভাবিকভাবেই যত বেশি খেলবো ততো উন্নতি করার সুযোগ থাকবে।’

হায়দরাবাদ টেস্টের পর বছরব্যাপি বাংলাদেশের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভারত টেস্টের এক নম্বর দল। একে তো আমাদের অভিজ্ঞতা কম। তার মধ্যে ভারতে প্রথমবার এসে খেলছি। সব মিলিয়ে বিরাট একটা গ্যাপ আছে। আরেক সমস্যা হচ্ছে, সময়ের গ্যাপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিউজিল্যান্ড থেকে খেলে এসেই আমরা চলে আসলাম ভারতে। এখান থেকে আবার চলে যাবো শ্রীলঙ্কাতে। এরপর আয়ারল্যান্ড হয়ে খেলতে যাবো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। ফিরে এসেন আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবো।’

পাকিস্তান সিরিজের পর বাংলাদেশের রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। এর মধ্যে আবার অস্ট্রেলিয়া সময় চাচ্ছে বিসিবির কাছে। এসব বিষয় জানিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আমাদের সঙ্গে খেলার জন্য টাইম চাচ্ছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ। সারা বছর সময় বলতে কিছুই ফাঁকা নেই। ভিন্ন কিছু চিন্তা করারও সুযোগ নেই।’

একের পর এক সিরিজ, একের পর এক খেলা। এত চাপ ক্রিকেটাররা নিতে পারবে? বিকল্প কী ভাবছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট? তিনি বলেন, ‘একের পর একে খেলা। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম বলে তো একটা কথা আছে। আমাদের তো সেকেন্ড দল নেই যে, তাদের দিয়ে খেলাবো। এজন্য আমাদের যা করতে হবে তা হলো, আমাদের টেস্টের জন্য ৪-৫ জন খেলোয়াড় আলাদা করতেই হবে। এছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। এফটিপিতে এখন অনেক খেলা। এই চাপ সামলে ইনজুরি মুক্ত হয়ে খেলাটা বেশ চাপের। ইচ্ছে করলে যে খেলা বাড়ানো যায় না, খেলোয়াড়দের কথাও তো চিন্তা করতে হয়।’

বিকল্প টেস্ট দল গঠন করার জন্য খেলোয়াড় কোথায়? বিসিবি সভাপতিই বা কী চিন্তা করছেন? ‘আমি মনে করি নতুন নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে হবে। বর্তমান সময়ের কথা চিন্তা করে নয়, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই সেটা করতে হবে। পাইপলাইনে আমাদের যথেষ্ট ভালো ক্রিকেটার রয়েছে। তাদের ভেতর থেকেই খেলোয়াড় বের করে আনতে হবে।’

মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরি

প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান তুলেছে ভারত। রানের পাহাড়ই। জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন টাইগাররা। খাদের কিনার থেকে বাংলাদেশকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে মুশফিকুর রহীমকেই!

পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ১০৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন মুশফিক। সাকিবের বিদায়ের পর আরও বেশি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলছেন টাইগার অধিনায়ক। ইতোমধ্যে তুলে নিয়েছেন ফিফটিও। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ১৬তম ফিফটি।

দলীয় ৮০তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বল স্কোয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। ১৩৬ বলে ৬টি চারের মারে ৫০ রানে অপরাজিত আছেন টাইগার অধিনায়ক। স্ট্রাইক রেট ৩৫.৯৭!

অশ্বিনকে চার মেরেই সাকিবের হাফসেঞ্চুরি

টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হক আউট হওয়ার পর উইকেটে নামেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দল তখন ৬৪ রানেই হারিয়েছে সেরা তিনটি উইকেট। তার কিছুক্ষণ পর আউট মাহমুদউল্লাহও। তবে সাকিব খেলতে থাকলেন সাকিবের মতই। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। ভারতের সেরা বোলার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে চার মেরে তুলে নেন নিজের হাফসেঞ্চুরি।

২৫তম ওভারে উমেশ যাদবের দ্বিতীয় বলে উইকেটে আসেন সাকিব। তবে স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে সূচনা করতে পারেননি তিনি। প্রথম তিনটি বল ঠিকভাবে ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি। চতুর্থ বলে ফুলটস পেয়েই বেষ্টনী পার করেন তিনি। এরপর আরও ৯টি চার মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ২১তম হাফসেঞ্চুরি।

মাত্র ৬৯ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরির কোটায় পা দেন সাকিব। এ রান করতে ১০টি চার মারেন এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭৩ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত আছেন সাকিব। এ সময় বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬৪ রান।

সাকিব-মুশফিকের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

কিছুদিন আগেই নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত এক জুটি গড়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শনিবার ভারতের বিপক্ষে প্রথম চার উইকেট হারিয়ে উইকেটে এখন সেই সাকিব ও মুশফিক। ঘুরে ফিরে আসছে তাই সেই ওয়েলিংটন টেস্ট। আবারও তাদের কাছে এমন কিছুই চাইছে বাংলাদেশ।

হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আজকের দিনের শুরুটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই গিয়েছে। প্রথম সেশনে হারিয়েছে দলের সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে। ভুল বোঝাবুঝির খেসারত দিয়ে রানআউটে কাটা পড়েছেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। এরপর মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহ ফিরেছেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পরে।

তবে পঞ্চম উইকেটে বেশ আস্থার সঙ্গেই খেলছেন সাকিব ও মুশফিক। যদিও শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন সাকিব। ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক খেলায় ফিরে আসছেন তিনি। মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত করেছেন ২৯ রান। ৫৫ বল মোকাবেলা করে ৫টি চার মেরেছেন এ ইনিংসে। সঙ্গী মুশফিক আছেন ৬ রানে। জুটির রান ১৬।

ওয়েলিংটনের সে ম্যাচে ৩৫৯ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব ও মুশফিক। সাকিব করেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২১৭)। যা বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানদের যে কোন সংস্করণে সেরা ইনিংস। সঙ্গী মুশফিক খেলেছিলেন ১৫৯ রানের ইনিংস। তাদের করা জুটিটি বাংলাদেশের যে কোন উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।

এদিন হায়দারাবাদে আরও একটি ওয়েলিংটন টেস্ট চাইছে বাংলাদেশ। যদিও দারুণ ওই ম্যাচের পরিসমাপ্তি হয়েছিল হার দিয়ে। তবুও পাঁচদিনের টেস্ট গড়ানোর সান্ত্বনা ছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতের বিপক্ষেও এমন কিছু চাইছে বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তরা।

‘বাজে ফিল্ডিং, ক্যাচ মিস পার্ট অব গেম’

হায়দরাবাদ টেস্টে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাজে ফিল্ডিং। একের পর এক ক্যাচ মিস, বাজে ফিল্ডিং আর রান আউট মিসের কারণেই মূলত ভারত এত বড় একটি স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে মুশফিকদের সামনে। আগের দিনও সংবাদ সম্মেলনে এসে তাসকিন আহমেদ বলেছিলেন, এগুলো খেলারই অংশ। তবুও তিনি স্বীকার করেছিলেন রান আউট মিস না হলে হয়তো ম্যাচের অবস্থা ভিন্নও হতে পারতো।

আজ দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মেহেদী হাসান মিরাজও প্রায় একই কথা বললেন। মিরাজকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল বাজে ফিল্ডিং, ক্যাচ মিস কিংবা স্ট্যাম্পিং মিস- এসব একজন বোলারের জন্য কতটা ডিমরালাইজিং? জবাবে মিরাজ জানালেন, এগুলো পার্ট অব গেম।

মিরাজ বলেন, ‘আমি বলবো যে এটা পার্ট অব গেম। অবশ্যই আগে খারাপ লাগতো। তবে এখন আর খারাপ লাগে না। কারণ- প্র্যাকটিস ম্যাচ যখন খেলেছি, তখন আমি নিজেও একটি ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছি। ওটা থেকে অনেক কিছু শিখেছি যে, ফিল্ডারের অবস্থা তখন কতটা খারাপ থাকে। বোলাররাও কেমন থাকে। সুতরাং, আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের দলে যারা আছে তাদেরও একই অবস্থা হয়। মানসিকভাবে একটু খারাপ লাগে হয়তো। তবে কখনো খুব বেশি খারাপ লাগে না। কারণ সবাই মনে করে চেষ্টা করেছি, হয়নি।’

অধিনায়ক নিজেও তো স্ট্যাম্পিং মিস করেছেন, এসব ক্ষেত্রে তিনি নিজে কী বলেন?

মিরাজের জবাব, ‘অধিনায়ক তো সব সময়ই আমাদেরকে সাপোর্ট করেন। বিশেষ করে, এতো রান হওয়ার পরও সব সময় আমার কাছে এসে, আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন যে এখন এই সিচুয়েশন আছে, এই সিচুয়েশনে এ ধরনের বোলিং করতে হবে। আমাদের ক্যাপ্টেন এবং সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছেন সবাই সবাইকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। দেখেন রান কিন্তু অনেক হয়েছে। আমি মাঝে মাঝে শট বল করেছি, বাউন্ডারি খেয়েছি। খারাপ বোলিং করেছি। তবুও আমার কাছে এসে তিনি সব সময় উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করেছেন- যে কিভাবে ভালোটা করা যায়। এভাবে সব সময় উৎসাহ দিয়ে এসেছেন।’

আবারও তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সুযোগ মিস করার ব্যাপারে। মিরাজ বলেন, ‘সুযোগ তৈরি করা, কাজে লাগানো কিংবা মিস করা- এটা হচ্ছে পার্ট অব ক্রিকেট। আমরা মাঠে আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু সময় আমরা ভুল করেছি। তবে অধিকাংশ সময়ই আমরা সুযোগ সৃষ্টি করেছি এবং ম্যাচটাকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও কখনও সমস্যা পড়েছি। তবে আশা করি, আমরা পরের ইনিংসে আরও ভালো করতে পারবো।’

রান আউট হয়ে তামিমের বিদায়

হিমালয়সম ৬৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে নিজেদের ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নিলেন তামিম ইকবাল। দুই রান নিতে গিয়ে মুমিনুলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির খেসারতে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে হারিয়ে ৬৪ রান।

আগের দিন সৌম্যের আউটের পর তামিম-মুমিনুলের শুরুর দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। দিনের শুরুটাও দুইজনে করে করেছিলেন অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই। ভাবা হচ্ছিল যতটা সম্ভব ঝুঁকি না নিয়ে দেখে শুনে ব্যাট করবেন। তবে টেস্ট না খেলার অভিজ্ঞতা ঠিকই ফুটে উঠলো তাদের খেলায়। দিনের শুরুতেই দুই রান নিতে গিয়ে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে দিনের তৃতীয় ওভারেই ব্যক্তিগত ২৫ রান নিয়ে তামিমের বিদায়।

আগের দিন ৬৮৭ রানের হিমালয় সমান রান করেই ইনিংস ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। স্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়েই রানের পাহাড়েই চাপা পড়েন টাইগাররা। তবে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দিন শেষে আফসোস হয়ে রইলো সৌম্য সরকারের আউট। উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ঠিকভাবে খেলতে পারেননি। ব্যাট সামান্য ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ আবেদন ভারতের পক্ষেই যায়।

এর আগে শুক্রবার আগের দিনের ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে ভারত। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান আজিঙ্কা রাহানে ও বিরাট কোহলির দারুণ ব্যাটিংই আজও শতরানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ভযঙ্কর হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙেন তাইজুল। তবে তাকে সাজঘরে ফেরানোর বড় অবদানটা ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। শর্ট কভারে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন রাহানে। কোহলির সঙ্গে ২২২ রানের জুটি গড়েন তিনি।

তবে অপর প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে নিজের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে এ কীর্তি গড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। ২০৪ রান করে তাইজুলের বলে থামেন তিনি। মাত্র ২৪৬ বল মোকাবিলা করে ২৪টি চারের সাহায্যে সাজান নিজের এ ইনিংস।

কোহলির বিদায়ের পর রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে নিয়ে জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান সাহা। ৭৪ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ৫৬৯ রানে অশ্বিনকে ফেরান মিরাজ। এরপর রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান। অপরাজিত ১১৮ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তারা।

মুশফিকের বদান্যতায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পান ঋদ্ধিমান। ব্যক্তিগত ৪ রানে তাকে সহজ জীবন দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৫৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। জাদেজা করেন অপরাজিত ৬০ রান। ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন এ অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। মেহেদী হাসান মিরাজ লাভ করেছেন দুটি উইকেট লাভ করেছেন। তাসকিন আহমেদকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এক উইকেট নিয়েই।

তৃতীয় দিনের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়

মাথার উপর হিমালয়সম রানের চাপটা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ে। তৃতীয় দিনের শুরুতেই নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে তামিমের বিদায়ের পর এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিষ্ট খ্যাত ব্যাটসম্যান মুমিনুল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে হারিয়ে ৭২ রান।

আগের দিন সৌম্যের আউটের পর তামিম-মুমিনুলের শুরুর দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। দিনের শুরুটাও দুইজনে করে করেছিলেন অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই। ভাবা হচ্ছিল যতটা সম্ভব ঝুঁকি না নিয়ে দেখে শুনে ব্যাট করবেন। তবে টেস্ট না খেলার অভিজ্ঞতা ঠিকই ফুটে উঠলো তাদের খেলায়। দিনের শুরুতেই দুই রান নিতে গিয়ে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে দিনের তৃতীয় ওভারেই ব্যক্তিগত ২৫ রান নিয়ে তামিমের বিদায়।

তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন মুমিনুলও। ব্যক্তিগত ১২ রানে উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে পায়ে লাগলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান।

আগের দিন ৬৮৭ রানের হিমালয় সমান রান করেই ইনিংস ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। স্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়েই রানের পাহাড়েই চাপা পড়েন টাইগাররা। তবে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দিন শেষে আফসোস হয়ে রইলো সৌম্য সরকারের আউট। উমেশ যাদবের ভেতরে আসা বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ঠিকভাবে খেলতে পারেননি। ব্যাট সামান্য ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ আবেদন ভারতের পক্ষেই যায়।

এর আগে শুক্রবার আগের দিনের ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে ভারত। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান আজিঙ্কা রাহানে ও বিরাট কোহলির দারুণ ব্যাটিংই আজও শতরানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ভযঙ্কর হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙেন তাইজুল। তবে তাকে সাজঘরে ফেরানোর বড় অবদানটা ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। শর্ট কভারে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন রাহানে। কোহলির সঙ্গে ২২২ রানের জুটি গড়েন তিনি।

তবে অপর প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে নিজের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে এ কীর্তি গড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। ২০৪ রান করে তাইজুলের বলে থামেন তিনি। মাত্র ২৪৬ বল মোকাবিলা করে ২৪টি চারের সাহায্যে সাজান নিজের এ ইনিংস। কোহলির বিদায়ের পর রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে নিয়ে জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান সাহা। ৭৪ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ৫৬৯ রানে অশ্বিনকে ফেরান মিরাজ। এরপর রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন ঋদ্ধিমান। অপরাজিত ১১৮ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তারা।

মুশফিকের বদান্যতায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পান ঋদ্ধিমান। ব্যক্তিগত ৪ রানে তাকে সহজ জীবন দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৫৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। জাদেজা করেন অপরাজিত ৬০ রান। ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন এ অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। মেহেদী হাসান মিরাজ লাভ করেছেন দুটি উইকেট লাভ করেছেন। তাসকিন আহমেদকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এক উইকেট নিয়েই।

নতুন চুক্তি করলেন মেসি

বার্সার সঙ্গে নতুন চুক্তি করবেন কি না তা সময়ই বলে দিবে। তবে অনেক দিন ধরেই যুক্ত থাকা স্পন্সর প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন মেসি। শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নতুন চুক্তির জানান দেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এই খেলোয়াড়।

চুক্তি নিয়ে মেসি বলেন, অনেক বছর থেকেই অ্যাডিডাসের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত।

এদিকে ২০১৭ সালের প্রথমেই বড় একটা চুক্তি স্বাক্ষর করলেন মেসি। তাই বার্সা সমর্থকরা আশা করতেই পারে চলতি বছরই হয়তো দলের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবেন মেসি।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ

হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিন প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

প্রথম সেশনে ৩ উইকেট

তৃতীয় দিনের লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১২৫/৪। এখনও ৫৬২ রানে পিছিয়ে অতিথিরা।

উইকেটে বোলারদের জন্য এখনও তেমন কিছু নেই। টিকে থাকার চেষ্টা করলে আউট করা কঠিন। এর মধ্যেও ৩ উইকেট হারিয়ে হায়দরাবাদ টেস্টে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।

ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নিতে গিয়ে তামিম ইকবালের রান আউটের পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ। আশা হয়ে টিকে আছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

চমৎকার বল করা উমেশ যাদব দুই দিন মিলেয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তৃতীয় দিন নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়েছেন আরেক পেসার ইশান্ত শর্মা।

মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লিউ

বোলিংয়ে এসেই বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভাঙেন ইশান্ত শর্মা। ডানহাতি এই পেসারের ইনসুইং ঠিক মতো খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে প্যাডে আঘাত হানে।

এলবিডব্লিউ হওয়ার পর অন্য প্রান্তে থাকা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নেন তিনি। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।

২৮ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০৯/৪।

বাংলাদেশের একশ’

টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশের স্কোর তিন অঙ্কে যায় ৩৪তম ওভারে। তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক ও সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।

৩৪তম ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৭/৩। দলটি এখনও পিছয়ে ৫৮০ রানে।

এলবিডব্লিউ হয়ে মুমিনুলের বিদায়

উমেশ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন মুমিনুল হক। স্টাম্পে থাকা সোজা বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।

১২ রান করে মুমিনুল ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৬৪/৩।

রান আউট হয়ে ফিরলেন তামিম

প্রায় সাতশ’ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাব দিতে নামা বাংলাদেশ রান আউটে হারায় তামিম ইকবালকে। মুমিনুল হকের সঙ্গে একটি দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় ফিরেন তিনি।

দ্বিতীয় রানটি নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিলই না। দুই ব্যাটসম্যানই আউট হতে পারতেন। ননস্ট্রাইকিং প্রান্তে বোলার ভুবনেশ্বর কুমবার থ্রো ধরে স্টাম্প ভাঙার সময় অনেক দূরে ছিলেন বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

২৫ রান করে তামিম ফিরে যাওয়ার সময় দলের স্কোর ৪৪/২।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ

সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, শিখতে নয় ভারতে জিততে এসেছেন। হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দুই দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের জেতার বাস্তবিক কোনো সম্ভবনা নেই। ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে তার শিষ্যদের। তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর সময় বাংলাদেশ পিছিয়ে ৬৪৬ রানে। প্রতিপক্ষকে আরেকবার ব্যাটিংয়ে নামাতে এখনও ৪৪৭ রান চাই তাদের।

দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর:

ভারত ১ম ইনিংস: ১৬৬ ওভারে ৬৮৭/৬ ইনিংস ঘোষণা (রাহুল ২, বিজয় ১০৮, পুজারা ৮৩, কোহলি ২০৪, রাহানে ৮২, ঋদ্ধিমান ১০৬* অশ্বিন ৩৪, জাদেজা ৬০*; তাসকিন ১/১২৭, রাব্বি ০/১০০, সৌম্য ০/৪, মিরাজ ২/১৬৫, সাকিব ০/১০৪, তাইজুল ৩/১৫৬, সাব্বির ০/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/১৬)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪ ওভারে ৪১/১ (তামিম ২৪*, সৌম্য ১৫, মুমিনুল ১*; ভুবনেশ্বর ০/৭, ইশান্ত ০/৩০, অশ্বিন ০/১, যাদব ১/২)

পূজারাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন মিরাজ

অবশেষে উইকেটের দেখা পেলেন মিরাজ। চেতেশ্বর পূজারাকে মুশফিকের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান টাইগারদের উঠতি এই তারকা। আর এতে বিজয় আর পূজারার ১৭৮ রানের জুটি ভাঙলো। আউট হওয়ার আগে ৮৩ রান করেন পূজারা।  এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেটে হারিয়ে ১৯৫ রান।

প্রথমবারের মত ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই উইকেট। এরপর ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় দিনটাকে আর উজ্জ্বল করতে পারেনি টাইগাররা। একের পর এক ক্যাচ মিস আর রানআউট মিসের খেসারৎ দিয়ে উল্টো চাপে পরছে বাংলাদেশই।

১০তম ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে স্লিপে ক্যাচ ওঠে। তবে সে বল ধরার কোন চেষ্টাই করেননি মুশফিক। এরপর ১৫তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সে ওভারে পূজারাকে দুই দুইবার আউট করার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করেন সাকিব আল হাসান। যদিও দু’টো ক্যাচই ছিল দুরূহ। স্লিপে সে ওভারের তৃতীয় ও শেষ বলেও ক্যাচ ছাড়েন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।

তবে সবচেয়ে বড় সুযোগটি তারা মিস করে ১৯তম ওভারে। সে ওভারটিও করেছিলেন মিরাজ। মুরালি বিজয় সে বলটি স্কোয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে দ্রুত রান নিতে গিয়েছিলেন। তবে তার আগে ভুল বোঝাবোঝির কারণে কিপিং প্রান্তে চলে আসেন দুই ব্যাটসম্যান। এ সময় ঝাঁপিয়ে পরে দারুণ ফিল্ডিং দিয়ে বোলিং প্রান্তে বল দেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। তবে সে বল তালুবন্দি করতে না পারায় সহজ সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। এছাড়াও পুরো ম্যাচেই ছিল মিস ফিল্ডিংয়ের ছড়াছড়ি।

গল, চট্টগ্রাম ও খুলনা ফিরে আসবে হায়দরাবাদে?

ভারতের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে কি করবে বাংলাদেশ? বিরাট কোহলি, মুরালি বিজয়, চেতেশ্বর পূজারা ও আজিঙ্কা রাহানের গড়া দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব এবং রবিচন্দন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজার ধারালো বোলিংয়ের বিরুদ্ধে কি করবে মুশফিকের দল? তামিম, সৌম্য, মুমিনুল, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরের ব্যাটে প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলা সম্ভব হবে? তাসকিন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও সাকিব-মিরাজরা ভারতীয়দের রান পাহাড় গড়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন? নানা কৌতুহলি প্রশ্ন সামনে রেখেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক টেস্ট।

হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে এ টেস্টের ভবিষ্যত এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও পরিণতি নিয়ে কথা বলতে যাবার আগে সবার চোখ আপনা আপনি চলে যাচ্ছে পরিসংখ্যানের দিকে। পরিসংখ্যান জানিয়ে দিচ্ছে ভারত পরিষ্কার ফেবারিট। সবার জানা, ওয়ানডের তুলনায় এমনিতেই টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড তত সমৃদ্ধ নয়। সীমিত ওভারের ফরম্যাটে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য জানান দিতে পারলেও দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখনো দূর্বল দল হিসেবেই পরিগণিত।

ওয়ানডে জেতার কৌশলটা রপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু পাঁচ দিনের টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সমানভাবে ভালো খেলার অভ্যাসটা তৈরি হয়নি। এক সেশন বা ইনিংসে ভালো খেলার পরই ঘটছে ছন্দপতন। মনোযোগ- মনঃসংযোগ ধরে রাখা এবং প্রতিটি সেশন অনুযায়ী পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে পারফরম করাটাই হচ্ছে না। সে কারণে পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতাও কম।

গত মাসে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজেও ঠিক একই চিত্র। ওয়েলিংটনে উল্কার বেগে শুরু। সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি, অধিনায়ক মুশফিকের বিগ হান্ড্রেড, ওপেনার তামিম ও বাঁহাতি মুমিনুল হকের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর। কিন্তু ঠিক পরের ইনিংসেই ছন্দপতন। ৬০০ রানের দোরগোড়া থেকে ১৬০`এ নেমে আসা। ক্রাইষ্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টেও প্রায় একই ঘটনা। ২৮৯ রানের পর ১৭৩`এ থেমে যাওয়া। তাই বলে বাংলাদেশ যে কখনই টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারেনি, বা দু`ইনিংসে ভালো খেলেনি, তা নয়। খেলেছে। তবে সেটা সংখ্যায় বেশি নয়, কম।

টেস্টে পাঁচদিন টানা ভালো খেলা এবং পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার রেকর্ডটা দূর্বল ও জীর্ণ হলেও গত তিন বছরে বাংলাদেশ কয়েকবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবং দেশে ও বাইরে বীরের মত লড়েই টেস্ট ড্র করেছে। তার প্রথম নজিরটি ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। গলে লঙ্কানদের প্রথম ইনিংসে করা ৫৭০ রানের বড় সড় স্কোরে ভরকে না গিয়ে মুশফিকুর রহীম ( ২০০), মোহাম্মদ আশরাফুল ( ১৯০) ও নাসির হোসেনের ( ১০০) দৃঢ়তায় উল্টো ৬৩৮ রানের হিমালয় সমান স্কোর গড়ে টেস্ট ড্র করার কৃতিত্ব আছে টাইগারদের।

একই দলের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে আবার কৃতিত্বপূর্ণ ড্র। এবার ঘরের মাঠে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হার এড়ানোর কাজটি ভালো মতই করে দেখায় টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ইমরুল কায়েস ও শামসুর রহমান শুভর জোগা শতক আর পরের ইনিংসে মমিনুল হকের শতরানে ড্র করে ফেলা।

বীরের মত টেস্ট ড্র`র শেষ কৃতিত্বটিও ঘরের মাঠে। সেটা ২০১৫ সালের এপ্রিল-মে`র ঘটনা। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের রেকর্ড ৩১২ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপে বীরের মত লড়াই করে ম্যাচ হার এড়ায় মুশফিকের দল। তামিম ইকবালের ডাবল হান্ড্রেড (২০৬) আর ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে ১৫০ রান।

এ তিন তিনটি বীরোচিত ড্র জানান দিচ্ছে বাংলাদেশও পারে। তবে কালেভদ্রে। হায়দরাবাদে কি সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো সম্ভব হবে? টাইগাররা কি তা পারবেন?

চতুর্থ বলেই তাসকিনের আঘাত

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শেষে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করলো টাইগার বোলার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান এই তারকা। এর আগে ঐতিহাসিক এ ম্যাচে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় হেরে বোলিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ২ রান।

ভারতের মাটিতে খেলা হলেও টিম ইন্ডিয়াকে সহজে ছেড়ে কথা বলবে না বাংলাদেশ; এমন হুমকিই দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হকরা জ্বলে উঠলে হায়দরাবাদ টেস্টই হতে পারে বাংলাদেশের বড় সুযোগ; টেস্ট ক্রিকেটে ‘উত্থান’।

এদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত দল হলেও টেস্টে যদিও নিজেদের পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ; তবে এসব নিয়ে ভাবলে বিপদেই পড়তে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। এ কথা সতীর্থদের সবার আগে স্মরণ করিয়ে দেন সাহা। তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ ও অধিনায়কও।

বাংলাদেশ একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বী।

ভারত একাদশ:
মুরালি বিজয়, লোকেশ রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা, রবীচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, ইশান্ত শর্মা,  ভুবনেশ্বর কুমার উমেশ যাদব।

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শেষে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর ঐতিহাসিক এ ম্যাচে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় হেরে বোলিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে দীপ্ত টিভি, স্টার স্পোর্টস-১, স্টার স্পোর্টস-৩।

ভারতের মাটিতে খেলা হলেও টিম ইন্ডিয়াকে সহজে ছেড়ে কথা বলবে না বাংলাদেশ; এমন হুমকিই দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হকরা জ্বলে উঠলে হায়দরাবাদ টেস্টই হতে পারে বাংলাদেশের বড় সুযোগ; টেস্ট ক্রিকেটে ‘উত্থান’।

এদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত দল হলেও টেস্টে যদিও নিজেদের পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ; তবে এসব নিয়ে ভাবলে বিপদেই পড়তে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। এ কথা সতীর্থদের সবার আগে স্মরণ করিয়ে দেন সাহা। তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ ও অধিনায়কও।

বাংলাদেশ একাদশ :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বী।

ভারত একাদশ:
মুরালি বিজয়, লোকেশ রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা, রবীচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, ইশান্ত শর্মা,  ভুবনেশ্বর কুমার উমেশ যাদব।

টেস্টে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই : রবি শাস্ত্রী

টেস্ট অভিষেকের ১৭ বছর পর প্রথমবারের মত ভারত সফরে গেছে বাংলাদেশ। সফরে হায়দরাবাদে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি একটি মাত্র টেস্ট খেলবে মুশফিক বাহিনী। আর এ টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রবি শাস্ত্রী।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের পার্থক্য থাকলেও হায়দরাবাদে বাংলাদেশের সঙ্গে কোহলিদের সাবধানী ক্রিকেট খেলারই পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক টেকনিক্যাল এই ডিরেক্টর। তিনি বলেন, `ওয়ানডে ক্রিকেটে খুব দ্রুতই উন্নতি করছে বাংলাদেশ। তবে টেস্টে এখনো তাদের শেখার অনেক কিছু থাকলেও বাংলাদেশে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগই নেই।`

ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে বাংলাদেশের কাছেই ওয়ানডে সিরিজ হারের অভিজ্ঞতা আছে রবি শাস্ত্রীর। টেস্টে বাংলাদেশ সেই পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাস্ত্রী বলেন, `হায়দরাবাদ টেস্ট থেকে বাংলাদেশ যা পেতে পারে, তা হলো অভিজ্ঞতা। এই সফর থেকে খুব ভালো অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরবে বাংলাদেশ।`

এদিকে টেস্টে বাংলাদেশের সমস্যাও তুলে ধরেছেন শাস্ত্রী। নিজের যুক্তিতে পরিষ্কারভাবে তিনি বলেন, `টেস্টে বাংলাদেশের সমস্যাটা হলো, একটি-দুটি সেশনে হয়তো ভালো করতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে দুই-তিন দিন ভালো করে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তারের পর ম্যাচ জেতার সামর্থ্যের অভাব আছে তাদের।`

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে : কুম্বলে

আর মাত্র এক দিন পরই মাঠে গড়াচ্ছে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। দুই দলই এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সই উপহার দিতে চাইবে বাংলাদেশ ও ভারত। তার আগে ম্যাচটি নিয়ে কথা বলছেন দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা। ভারত কোচ অনিল কুম্বলে যেমন বললেন, হায়দরাবাদ টেস্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

বাংলাদেশকে সমীহ করে কুম্বলে বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ) অনেক ভালো দল। নিউজিল্যান্ডে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। যদিও ফল তাদের পক্ষে ছিল না। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করি। বাংলাদেশ দলে আছে বেশ কয়েক ভালো মানের খেলোয়াড়; আছে ভালো মানের অলরাউন্ডারও। সুতরাং ম্যাচটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছে ভারত। টিম ইন্ডিয়া এখন আত্মবিশ্বাসী। সেই আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চায় ভারত। কুম্বলের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো একটি সিরিজ পার করেছি। ঘরের মাঠে ভালো খেলেছে ছেলেরা। ওই সিরিজ আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সামনে বেশ কিছু টেস্ট ম্যাচ আছে। এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হলো-বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স আমলে নিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, টেস্টে দুই দলের আটবারের দেখায় ভারত জয় পেয়েছে ৬টিতে। বাংলাদেশের কৃতিত্ব; দুটি ম্যাচে ড্র করেছে। ভারতের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট খেলতে গেছেন টাইগাররা।

সুযোগ পেলে সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করবো : সৈকত

বিসিএলের ম্যাচ খেলার জন্য গিয়েছিলেন সিলেট। মোস্তাফিজ-রুবেলের তোপ, রাজ্জাকের ঘূর্ণির সামনে চারদিনের ম্যাচ তিনদিনেই জিতে গিয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল। যে দলের হয়ে খেলছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। একদিন হাতে রেখে ম্যাচ জেতার কারণে ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিকোররা।

কিন্তু মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কাছে হঠাৎই সোমবার বিকেলে ফোন এলো বিসিবির কাছ থেকে, ‘দ্রুত ঢাকায় আসো। কাল (মঙ্গলবার) সকালেই হায়দরাবাদ যেতে হবে তোমাকে।’ ফোন পেয়েই দ্রুত ঢাকা আসার জন্য বিমান টিকিট খোঁজ করলেন সৈকত। পেলেন না। বাসে করেই সোমবার রাতে এসে পৌঁছালেন ময়মনসিংহ, নিজের বাড়িতে।

মঙ্গলবার কাক ডাকা ভোরে রওনা দিলেন ঢাকায়। বিসিবিতে এসে বিমানের টিকিটটা নিয়েই সোজা বিমানবন্দর। সাড়ে ১১টায় কলকাতাগামী ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে উঠলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইটে করে হায়দরাবাদ পৌঁছালেন ভারত সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়।

চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির চাপ। আগের রাতে ঠিকভাবে ঘুমে যেতে না পারার কারণে প্রভাবটা চেহারায় প্রকাশ পাচ্ছিল; কিন্তু এটা শুধুই একটা পরিস্থিতি। সৈকতের চোখ-মুখে ওই চাপের আড়ালে যে খুশির ঝিলিক দেখা যাচ্ছিল, সেটার ভাষাও ভিন্ন। ইমরুল কায়েসের ইনজুরির কারণে হয়তো, ভারতের বিপক্ষেই সাদা জার্সিতে অভিষেকটা হয়েও যেতে পারে তার। এমন একটা সম্ভাবনা যখন তৈরি হয়েছে, তখন খুশির ঝিলিক তার চেহারায় না খেলে যেতেই পারে না।

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমার। গত বছরই তো এক মৌসুমে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সম্ভাবনাময়ী এক ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটেও নিজের প্রতিভার সাক্ষর রাখতে পেরেছেন; কিন্তু নিজের প্রিয় ফরম্যাট টেস্টেই কেন যেন দরজাটা খুলছে না তার সামনে। সৈকত নিজেও মনে করেন টেস্ট খেলতে পারলেই তার ভালো লাগতো। তবে, সব পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েছেন। ক্যারিয়ার তো মাত্র শুরু হলো! টিম ম্যানেজমেন্ট কিংবা নির্বাচকরা যা ভালো মনে করছেন, সেটাই করবে। এ জন্য তিনি ধৈর্য ধরতে রাজি।

হায়দরাবাদ আসার পথে বিমানেই আলাপকালে সৈকত বলেন, ‘টেস্ট আমার সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট। আশা করেছিলাম টেস্টেই আগে সুযোগ পাবো; কিন্তু পেলাম ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে। তবে এ নিয়ে এখন আমার চিন্তা নেই। নির্বাচকরা দলের জন্য যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই করেছেন।’

আচমকা টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে গেলেন। এ নিয়ে খুব একটা উচ্ছসিত নন সৈকত। তবে, উচ্ছসিত হবেন, যদি একাদশে থাকতে পারেন, যদি অভিষেকটা হয়ে যায় তাহলে। সৈকত বলেন, ‘ভারতের মতো একটা দেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক, এটা তো স্বপ্নের মতো। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে কি-না জানি না। তবে যদি বাস্তবায়ন হয়ই, তাহলে আমি চেষ্টা করবো, নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার জন্য। দলের জন্য সবসময়ই কিছু না কিছু অবদান রাখতে চাই। সুযোগ পেলে এবারও নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করবো।’

তবে একাদশে নিজের জায়গা হবে কি-না তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন সৈকত। কারণ, নিজের কোনো জায়গা দেখছেন না তিনি এই দলে। সেটা টিম কম্বিনেশনের কারণে। তিনি এখনও সাধারণত ব্যাট করেন ছয় কিংবা সাতে। এই দুটি জায়গায় রয়েছেন সাকিব এবং সাব্বির। এরপর মিরাজ। একজন অফ স্পিনার বাড়িয়ে তো মোসাদ্দেককে হয়তো নেয়া হবে না। কারণ, ভারতীয় দলে অধিকাংশই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অফ স্পিনার মিরাজ তো আছেই। অর্থোডক্স সাকিব আছেন। তবুও যদি দলে সুযোগ পান তাহলে নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন সৈকত।

কিন্তু দীর্ঘ এই ভ্রমণক্লান্তি আর হঠাৎ দলে ডাক পাওয়ার পর এভাবে ছুটে এসে পারফর্ম করা কতটা সহজ কিংবা কঠিন হবে? মোসাদ্দেক বললেন, ‘দেখুন আমরা তো এমনিতেই প্রথম শ্রেণির চারদিনের ম্যাচের মধ্যে ছিলাম। বিসিএল খেলছিলাম। সুতরাং, প্র্যাকটিসের মধ্যেই ছিলাম বলতে পারেন। সুতরাং, এটাকে হঠাৎ বলা যাবে না। চারদিনের ম্যাচ থেকে এখন পাঁচদিনের ম্যাচ হবে- এটাই যা পার্থক্য।’

ডু প্লেসির সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াটওয়াশ করলেই অস্ট্রেলিয়াকে টপকে ওয়ানডে র্যাং কিংয়ের শীর্ষে উঠে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই লক্ষ্যে আর একধাপ এগিয়ে গেলো ডি ভিলিয়ার্সের দল। সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে ডু প্লেসির ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন ৪০ রানের দুর্দান্ত জয়।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। শুরুতেই বিদায় নেন আমলা (১)। এরপর ডি কককে নিয়ে দলের হাল ধরেন ডু প্লেসি। দুই জনে মিলে গড়েন শত রানের জুটি। বযক্তিগত ৫৫ রান করে ডি কক বিদায় নিলে অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলেক বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন ডু প্লেসি।

এই দুই জনে মিলে গড়েন ১৩৭ রানের জুটি। ডি ভিলিয়ার্স তুলে নেন নিজের পঞ্চাশতম অর্ধশত। ব্যক্তিগত ৬৪ রানের সাজঘরে ফেরেন এই অধিনায়ক। এরপর ডুমিনি দ্রুত বিদায় নিলেও শেষ দিকে বেহারডিনকে নিয়ে ৭৪ রানের ঝড়ো জুটি গড়লে ৩৬৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা। ডু প্লেসি খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৮৫ রানের ইনিংস। আর বেহারডিন ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

south-afrika
পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে ১৩৯ রানের দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ডিকভেলা ও থারাঙ্গা। ডিকভেলা ৫৮ রান করে বিদায় নিলেও থারাঙ্গা তুলে নেন নিজের ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি।  ৯০ বলে ১১৯ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা থারাঙ্গা।

এদিকে ২৩ রানের মধ্যে মেন্ডিস, থারাঙ্গার সঙ্গে বিদায় নেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাও। ফলে ছোটোখাটো ধসে পড়ে অতিথিরা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডারদের ক্যাচ হাত ছাড়ার সুযোগ নিয়ে ৭৯ রানের দারুণ জুটিতে লঙ্কানদের আশা বাঁচিয়ে রাখেন বিরাক্কডি ও আসেলা গুনারত্নে। কিন্তু শেষটায় ঘুরে দাঁড়িয়ে ১১ বল আগেই লঙ্কানদের গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। মাত্র ২০ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে আরেকটি হারের হতাশায় মাঠ ছাড়ে অতিথিরা।

আইপিএলে খেলোয়াড়দের মূল্য তালিকা প্রকাশ

ফ্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দশম আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে চলতি মাসের ২০ তারিখে ব্যাঙ্গালুরুরে। নিলামের জন্য ৭৯৯ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছেন। এবার এই সব খেলোয়াড়দের ভিত্তি মূল্য প্রকাশ করেছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)।

এদের মধ্যে সাতজন খেলোয়াড়ের ভিত্তি মূল্য সর্বোচ্চ ২ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস ও এউইন মরগ্যান এই তালিকায় সর্বোচ্চ মূল্য নিয়ে নিলাম শুরু করবেন। এছাড়া এই তালিকায় আরও আছেন ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মা, অস্ট্রেলিয়ান সাবেক পেসার মিচেল জনসন, শ্রীলংকান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজ ও অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্স।

এরপরের দেড় কোটি রুপি ভিত্তি মূল্য নিয়ে নিলাম শুরু করবেন ট্রেন্ট বোল্ট, ব্র্যাড হ্যাডিন, ন্যাথান লিও, জনি বেয়ারস্টো, কেইল অ্যাবট ও জেসন হোল্ডার।

এদিকে, বর্তমান খেলোয়াড়দের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চুক্তি এই বছরই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে হবে মেগা নিলাম।

টেস্টে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই : রবি শাস্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে খুব সক্রিয় রবিচন্দ্রন অশ্বিন। নিজের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুই ভক্তদের সামনে তিনি তুলে ধরেন এই মাইক্রো ব্লগিং সাইট দিয়ে। কিন্তু এবার তার একটি টুইট উসকে দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ashwin
গত রোববার এক টুইটে অশ্বিন লেখেন, ‘তামিলনাড়ুর সব তরুণদের বলছি, ২৩৪টি চাকরির সুযোগ খুব দ্রুত তৈরি হচ্ছে।’ আর এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকে লেখেন টুইট করে অশ্বিন নাকি তার রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ছোট করেছে।

তামিলনাড়ু রাজ্য বিধানসভার সদস্য সংখ্যা ২৩৫। কিছুদিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে শোনা যাচ্ছে শশীকলার নাম। শশীকলা কবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন সেই দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে অশ্বিনের টুইট দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন তিনি নাকি শশীকলা বাদে বাকি ২৩৪জন সাংসদের পদ নিয়ে কথা কটাক্ষ করেছেন।

এদিকে সমালোচনার পরেই অশ্বিন অবশ্য এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তার সেই টুইটের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি আজমিরের

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে তো বটেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই এখন পর্যন্ত কোন ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট। হালের তামিম, সাকিব, মুশফিকরা যা পারেননি তাই করে দেখালেন অখ্যাত আজমির আহমেদ। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে উদয়াচল ক্লাবের বিপক্ষে এ কীর্তি গড়েন অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের এ ওপেনার। হার না মানা ২২২ রানের অনবদ্য একটি ইনিংস খেলেন মুন্সিগঞ্জের এ তরুণ।

মঙ্গলবার সাভারের বিকেএসপিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে অগ্রণী ব্যাংক। সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে ওপেনিং করতে নামেন আজমির। প্রতিপক্ষ দলের শুরুতেই বল হাতে আসেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ভাই মোর্সালিন বিন মর্তুজা। প্রথম বলটা সমীহ করে খেললেও পরের দুই বলে টানা দুইটি চারে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সূচনা করেন আজমির।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে করে ২২২ রান করেন আজমির। ১৬৮ বল মোকাবেলা করে এ ইনিংস খেলেন তিনি। সমান সংখ্যক ১৬টি করে চার ও ছক্কায় নিজের এ ইনিংস সাজান ২৪ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। আর তার এ ইনিংসে ভর করে ৩৮৩ রানের বড় সংগ্রহই পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।

উল্লেখ্য, ওয়ানডে ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ডাবল সেঞ্চুরির দেখা মিলেছে মাত্র ছয়বার। প্রথমবার এ কীর্তি গড়েন ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকার। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ২০০ রানের ইনিংস খেলেন এ কিংবদন্তী। বাকি পাঁচটির মধ্যে ভারতের আরেক ক্রিকেটার রোহিত শর্মা করেন দুইটি। একটি করে করেছেন ভারতের শেবাগ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল।

তবে পুরুষদের আগে নারী ক্রিকেটার ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান। ১৯৯৭ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে অস্ত্রেলিয়ার বেলিন্দা ক্লার্ক অপরাজিত ২২৯ রানের ইনিংস খেলেন।

জয়েই বিশ্বকাপ বাছাই শুরু বাংলাদেশের

লক্ষ্য বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে অংশ নেয়া। সেই লক্ষ্যেই শ্রীলঙ্কায় বাছাইপর্বে লড়ছে বাংলাদেশ নারী দল। অসাধারণ এক জয় দিয়েই বিশ্বকাপ বাছাই শুরু করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে উড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১১৮ রানে।

মঙ্গলবার কলম্বো ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ। শারমিন আক্তার ও ফারজানা আক্তারের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১৫ রান তোলে তারা। জবাবে ৩২.১ ওভাল খেলে সবকটি উইকেট খুইয়ে ৯৭ রান করতে সক্ষম হয় পাপুয়া নিউগিনি।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউগিনি। তিনজন ব্যাটসম্যান ছুঁতে পেরেছেন তিন অঙ্ক। সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন সাইকা। ওলার ব্যাট থেকে এসেছে ২৯ রান। জাহানারা আলমের দুর্দান্ত এক থ্রুতে রানআউটে কাটা পড়া রুমা করেছেন ২০ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে রুমানা আহমেদ দুটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন জাহানারা আলম, পান্না ঘোষ ও সালমা খাতুনও। খাদিজাতুল কুবরা লাভ করেছেন একটি উইকেট।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই শারমিন সুলতানাকে হারিয়ে চাপে পড়ে। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সানজিদা ইসলামকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন দলের প্রাথমিক চাপ সামলে নেন শারমিন আক্তার।

তবে দলীয় ৫২ রানে সানজিদার বিদায়ের পর ফারজানাকে নিয়ে ৬৯ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন শারমিন আক্তার। এরপর শেষ দিকে শায়লা শারমিনের সঙ্গে সালমা খাতুনের অপরাজিত ৫৫ রানের জুটিতে ২১৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় রোমানারা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন শারমিন আক্তার। ফারজানা হক খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। এছাড়া সালমা ৩২ ও সানজিদা ২৮ রান করেন। পাপুয়া নিউগিনির পক্ষে রাভিনা ওয়া, মাইরি টম ও সিবনা জিমি ২টি করে উইকেট নেন।

ইনজুরিতে মিশ্র, বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিরলেন ‘চায়নাম্যান’

বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ধাক্কা খেল ভারত। তারকা স্পিনার অমিত মিশ্রকে হারিয়ে ফেলেছে তারা। হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েছেন মিশ্র। তার পরিবর্তে বাংলাদেশের বিপক্ষে স্কোয়াডে ফিরলেন ভারতীয় ক্রিকেটে ‘চায়নাম্যান বোলার’ খ্যাত কুলদীপ যাদব।

এবারই প্রথম ভারত জাতীয় দলে ডাক পেলেন কুলদীপ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২২টি ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ৮১ উইকেট। ব্যাট হাতেও লড়তে জানেন। ২৮.৯২ গড়ে করেছেন ৭২৩ রান। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি ফিফটির সঙ্গে একটি সেঞ্চুরিও।

হায়দারাবাদের জিমখানা গাউন্ডে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন কুলদীপ। ব্যাট ধরার সুযোগ না মিললেও বল হাতে ভালো করেছেন। প্রথম ইনিংসে ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ৩২ রান দিয়ে ঝুড়িতে জমা করেছেন ১ উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে ছিল কুলদীপ ম্যাজিক। মাত্র ২ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ দুই রান দিয়ে লাভ করেছেন মূল্যবান দুটি উইকেট। সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হককে সাজঘরের পথ ধরান ২২ বছর বয়সী এই স্লো লেফট-আর্ম চায়নাম্যান।

বাবার কোলে নিরাপদ সাকিবকন্যা

ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টাইগাররা এখন হায়দরাবাদে। প্রস্তুতি ম্যাচও শেষ। এবার অপেক্ষা টেস্ট সিরিজ শুরুর। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি গড়াবে হায়দরাবাদের রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে।

টেস্ট শুরুর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার কাজটা সারছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা! ভারতের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে টাইগারদের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাইবেন টাইগাররা। স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন ঐতিহাসিক টেস্ট।

এদিকে সস্ত্রীক ভারতে গেছেন সাকিব আল হাসান। সঙ্গে রয়েছেন মেয়ে আলাইনা হাসান অব্রিও। হোটেলে অব্রিকে কোলে তুলে নিচ্ছেন সাকিব, বাবার আদর পেয়ে দারুণ খুশি অব্রি; এমন একটা ভিডিও নিজের অফিশিয়াল ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সাকিব।

বাবা সাকিবের কোলে অনেক বেশি নিরাপদ মেয়ে অব্রি। সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে সে। যে ভালোবাসায় নেই কোনো স্বার্থ, নেই কোনো ভেজাল। বাবা সাকিবও খুশি। ফেসবুক পেজে মেয়েকে নিয়ে সাকিব লিখেছেন, ‘যখন সে (অব্রি) আমাকে বাড়িতে দেখতে পায়, তার কাছে এটা পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত! মাশাল্লাহ!!!’

তাইজুলের জন্মদিনে আইসিসির শুভেচ্ছা

অভিষেক টেস্টেই পাঁচ উইকেট জানান দিয়েছিলেন নিজের আগমন বার্তা। পরবর্তী ম্যাচ জিম্বাবুয়েকে গুড়িয়ে দিয়ে নাম লেখান রেকর্ড বুকে। বলা হচ্ছে টাইগার তারকা তাইজুল ইসলামের কথা। আজ বাংলাদেশি এই তারকার জন্মদিন। জাগো নিউজের পক্ষ থেকে এই তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

 এদিকে বাংলাদেশি এই তারকার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সংস্থাটির নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় তাইজুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলা হয়, `তিনি এমন ক্রিকেটার, যিনি বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে বেস্ট বোলিং ফিগার ধারণ করছেন। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে তিনি আট উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েন। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই ভেন্যুতে ওয়ানডে অভিষেকে প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক গড়েন তিনি। শুভ জন্মদিন তাইজুল ইসলাম।`

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। টেস্ট অভিষেকে ৫ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তাইজুল ছয় নম্বরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ভেলকি দেখান তাইজুল। স্পিন ঘূর্ণিতে একাই তিনি তুলে নেন ৮ উইকেট। ঠাই করে নেন রেকর্ড পাতায়। সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকও গড়েন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট সরাসরি দেখাবে দীপ্ত টিভি

গত কয়েক বছর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলা প্রচার করে আসছে গাজী টিভিতে। পাশাপাশি কয়েকটি সিরিজ মাছরাঙ্গা টিভিতেও প্রচার করা হতো। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজের সকল খেলা প্রচার করা হয়েছিল চ্যানেল নাইনে। তবে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টের খেলা নতুন সম্প্রচার মাধ্যম পেল বাংলাদেশ। এ টেস্ট ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে দীপ্ত টিভি।

মঙ্গলবার মুঠোফোনে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপ কালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দীপ্ত টিভির স্পোর্টস এডিটর অঘোর মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টটি সরাসরি দীপ্ত টিভিতে সম্প্রচার করা হবে। এটা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে আমাদের যাত্রা কেবল শুরু। ভবিষ্যতেও আমরা পাশে থাকবো।’
উল্লেখ্য, টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকের পর ১৭ বছর পর ভারতের অতিথেয়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে হায়দারাবাদে শুরু হবে এ টেস্ট। ইতোমধ্যেই এ টেস্ট আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে ক্রিকেটমোদীদের।

অক্টোবর থেকে ক্রিকেটের সকল সংস্করণে থাকছে ডিআরএস

ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কিছু নয়। আর ক্রিকেটে এর ব্যবহার অনেক আগে থেকেই। আর এ প্রযুক্তির নতুন আবিষ্কার ডিআরএসের জনপ্রিয়তাও দিন দিন বেড়ে চলেছে। তবে ওয়ানডে ও টেস্টে ব্যবহার হলেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখনও ব্যবহার হয়নি। তবে এবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও এর ব্যবহার শুরু হচ্ছে। আগামী অক্টোবর থেকে সকল ক্রিকেটের সংস্করণেই ডিআরএস চালু করছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

দুবাইতে সদ্য শেষ হওয়া আইসিসির বোর্ড সভায় ক্রিকেটের সকল সংস্করণের ডিআরএস রাখার প্রস্তাব রাখা হয়। আর তা অনুমোদন করে আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটি। ফলে প্রথমবারের মত ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০১৮ সালে নারীদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে থাকছে ডিআরএস। পরবর্তী যেকোন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও রাখা হবে এ পদ্ধতিটি, যেখানে প্রত্যেক দল মাত্র একটি করে ডিআরএস ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

এছাড়াও ডিআরএসের খরচ কমানোর আবেদনও করা হয়েছে। আগামী মে’তে আইসিসি ক্রিকেট কমিটির এর পুর্নাঙ্গ তুলে ধরা হবে এবং জুনে লন্ডনে বার্ষিক সভায় এর অনুমোদন দেওয়া হবে।

এছাড়াও ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলোজি (এমআইটি) থেকে ম্যাচ শুরু আগে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের অনুমোদন নিতে হবে। শেষ বছরে ডিআরএসের নতুন বেশ কিছু নিয়ম যোগ হয়েছে –হকআই, হটস্পট, আল্ট্রা এজ, রিয়েল টাইম স্নিকোসহ বেশ কিছু প্রযুক্তি। এ সকল কিছুর পারফরম্যান্স যাচাই করার জন্য এমআইটি থেকে অনুমোদন নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিআরএসের ব্যবহার নিয়ে আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড রিচার্ডসন বলেন, ‘ডিআরএস প্রযুক্তি দিনে দিনে অনেক উন্নত হচ্ছে। গত বছরগুলোতে এর অনেক বেশি সুফল পেয়েছে দলগুলো। ভবিষ্যতে এটা আরো উন্নত হবে। যাতে আরো নিঁখুত সিদ্ধান্তটি পাওয়া যায় সে জন্য এখনই এটা আরও সার্বজনীন করা প্রয়োজন।’

তবে ডিআরএসের সার্বজনীন ব্যবহার নিয়ে এখনও রয়েছে বিতর্ক। শুরু থেকেই এ প্রযুক্তির ঘোরতর বিরোধী ভারত। যদিও সম্প্রতি ইংল্যান্ড সিরিজে টেস্টে প্রথমবারের মত ব্যবহার করেছে তারা।

বাংলাদেশ-ভারত টেস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

টেস্ট অভিষেকের প্রায় ১৭ বছর পর প্রথমবারের মত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গেছে বাংলাদেশ। সিরিজে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হায়দরাবাদে শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারত ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি। আর এ ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। রাচাকন্ডার পুলিশ কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে রাচাকন্ডার পুলিশ কমিশনার মহেশ ভাগত জানান, `নিরাপত্তা উইং, আইন ও নির্দেশ, স্পেশাল ব্রাঞ্ছ, সিসিএস, দমকলবাহিনীসহ ছয় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মাঠে দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া মাঠে প্রবেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫৬ টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। `

এছাড়া ১০ টি বোম্ব ডিসমিসাল ইউনিটও ১২০৪ জন নিরাপত্তা প্রহরী বিভিন্ন সময় মাঠের নিরাপত্তা দিবে। আর খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের সুবিধার্থে মাঠে প্রবেশের আগ পর্যন্ত ওই রাস্তা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে মাঠে প্রবেশকারী সধারণ দর্শকদের ব্যাগ, ক্যামেরা, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সিগারেট, ম্যাচ, লাইট, হেলমেট, সুগন্ধি, পানির বোতল নিতে নিষেধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘বড়’ চ্যালেঞ্জ ভারত সফর

গত দুই বছর ধরেই দারুণ ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ভালো ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে টাইগাররা। এ সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা ছাড়াও ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।

এমনকি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টও জয় করে নেয় টাইগাররা। তবে ভারত সফর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

কদিন আগেই নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আসে বাংলাদেশ। দেশে ফিরে সংক্ষিপ্ত সময় অনুশীলন করার পর ভারতে পা রাখে মুশফিকরা। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন রকমের পরিবেশে খেলাকে বেশ চ্যালেঞ্জিংই মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি অপেক্ষা করছে ভারতের বিপক্ষে একাদশ নির্বাচন নিয়ে। কারণ ভারতের বিপক্ষে স্পিন না পেস নির্ভর দল করবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। একই সঙ্গে দলে একজন বাড়তি বোলার খেলালে ব্যাটসম্যানদের সংখ্যা কমে যায়। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে একজন ব্যাটসম্যান কম নিয়ে খেলা বেশ ঝুঁকিপূর্ণই বটে।

ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলেন বিসিবি সভাপতিও। তিনি বলেন, ‘আমি তিন বছর হলো বাংলাদেশ বোর্ডে এসেছি। এ সময়ের মধ্যে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ভারতের বিপক্ষে ওদের মাটিতে খেললে অন্য দলগুলোর কেমন অবস্থা হয় তা আপনারা জানেন। তার পাশাপাশি এবার দল নির্বাচন নিয়েও পড়তে হচ্ছে বড় ঝামেলায়। তিন জন স্পিনার খেলাবো না পেসার খেলাবো। উইকেট দেখে ওরা সেরাটাই ঠিক করবে আমার বিশ্বাস।’

ভারতের বিপক্ষে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা সবসময়ই ব্যাটিং। তাই ভারতের বিপক্ষে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান অবশ্যই দরকার। তবে সেক্ষেত্রে আবার অন্য সমস্যা। তাহলে একজন বোলার কমে যায়। ব্যাপারটা এমন যে একজন বোলার বেশি খেলালে ব্যাটসম্যান কমে যায়। আবার ব্যাটসম্যান নিলে বোলার কমে। উভয় সঙ্কট।’

বিসিবি সভাপতি পদ ছাড়ছেন পাপন?

নাজমুল হাসান পাপন কি বিসিবি সভাপতি ছাড়ার কথা ভাবছেন? তিন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকরে ধরে তাল মেলাতে পারছেন না। তাই তার মুখে কিছু একটা ছেড়ে দেয়ার আভাষ। তবে সেটা কোন পদ তা অবশ্য খোলসা করেননি বিসিবি প্রধান।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পাশাপাশি দেশের অন্যতম কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদের একজন সদস্যও। একসঙ্গে তিনটি দায়িত্ব পালন করে রীতিমতো যান্ত্রিক জীবনযাপন করছেন তিনি। তাই আভাষ দিলেন এবার হয়তো কিছু একটা ছাড়তে যাচ্ছেন তিনি। হয়তো বা সেটা বিসিবির সভাপতি পদই।

আগের দিন আইসিসির বার্ষিক সভা শেষে বাংলাদেশে ফেরেন পাপন। একদিন না যেতে আজই যেতে হচ্ছে ভারতে। হায়দারাবাদে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টের জন্যই যেতে হচ্ছে তাকে। সেখান থেকে ফিরে পেশাগত কাজে আবার যেতে হবে দেশের বাইরে। তাই টানা কাজের ভারে কিছুটা হলেও ক্লান্ত পাপন।

সোমবার নিজের কর্মস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লান্তির কথা জানিয়ে বললেন, ‘বিসিবি সভাপতির কাজটা উপভোগ করি। তবে চাকরি ও সংসদ সদস্য হিসেবে কাজটা কঠিন হয়ে গেছে। পরিবার থেকেও বলছে তিনটা কাজ করা অসম্ভব। আমার দায়িত্ব আছে আর ছয় মাস। এরপর এর মধ্য থেকে একটা ছাড়তে হবে।’

ভৈরব-কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ-৬) এলাকার সংসদ সদস্য নাজমুল হোসেন। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নিজ এলাকায় তার দায়িত্বও অনেক। তবে বিসিবি সভাপতির দায়িত্বের পাশাপাশি চাকরির কারণে তাতে সময় দিতে পারছেন না পাপন।

‘আমি চাকরি করি আবার একটি এলাকার সংসদ সদস্যও। আমাকে সংসদে যেতে হয়। কিন্তু বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি সংসদে যেতে পারছি না। আর এলাকার কাজে একদমই সময় দিতে পারছি না। চাকরিতে আগে যে পরিমাণ সময় দিতাম, এখন তার অর্ধেকও সময় দিতে পারি না।’

চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক হবে নতুন বোর্ড সভাপতি ও নির্বাহী পর্ষদ। সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি-না জানতে চাইলে নেতিবাচক মনোভাবই দেখান পাপন।

তবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ খবর কিন্তু ভিন্ন। ক্রিকেটপাড়ায় জোর গুঞ্জন এবং ঢাকার ক্লাবপাড়ার খবর নাজমুল হাসান পাপনকে সভাপতি ধরেই বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী কমিটির রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। বলাবাহুল্য এ মুহূর্তে বিসিবির গঠনতন্ত্রে ভোটার তথা কাউন্সিলরদের বড় অংশই ঢাকার ক্লাবপাড়ার। সেখানে পাপনের অবস্থা অত্যন্ত সুসঙ্ঘত এবং বর্তমান বোর্ডেও তার অবস্থান মজবুত। তার শীর্ষ পদে থাকা নিয়ে বর্তমান পরিচালকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

তারচেয়েও বড় কথা ‘হাই প্রোফাইল’ প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী এর আগেরবার নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করে আর দাঁড়াননি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যস্ত সাবের চৌধুরী। নতুন করে প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। সেসব বিবেচনায় নাজমুল হাসান পাপনের বিসিবি ছাড়ার তেমন কোনো কারণই নেই।

তবে তিনি যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তা বিসিবি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর- তা বিশ্বাস করা কঠিন। বর্তমানে তিনিই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বেসর্বা। সে অর্থে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আপাতত নেই বা থাকলেও তা প্রায় নিষ্ক্রিয়। তবে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে যদি তাকে অন্যত্র কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে ভিন্ন কথা।

বাংলাদেশকে সমীহ করছেন চেতশ্বর পুজারা

ভারতের উইকেরক্ষক-ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা আগেই সতীর্থদের সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিও না।’ এবার বাংলাদেশকে সমীহ করছেন ভারতের ব্যাটিং স্তম্ভ চেতশ্বর পুজারাও। তিনিও সাহার সঙ্গে সুর মেলালেন, টাইগারদের হালকাভাবে নেবে না ভারত।

প্রস্তুতি ম্যাচে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে আশাব্যঞ্জক পারফরম্যান্স হয়নি বাংলাদেশের! প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৮ উইকেটে ২২৪ রান। সমসংখ্যক উইকেট হারিয়ে ভারতের তরুণ দলটি করেছে ৪৬১ রান। যার মধ্যে রয়েছে তিন তিনটি সেঞ্চুরি।

পরিসংখ্যানও এগিয়ে রাখছে ভারতকে। টেস্টে দুই দলের আটবারের দেখায় ভারত জয় পেয়েছে ৬টিতে। বাংলাদেশের কৃতিত্ব; দুটি ম্যাচে ড্র করেছে। ভারতের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট খেলতে গেছেন টাইগাররা।

তাতে কী? এসব পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবছে না ভারত! মূল লড়াইয়ের চিত্র ভিন্নও হতে পারে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদের রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে গড়াবে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। তার আগে বাংলাদেশকে নিয়ে সতীর্থদের সতর্ক করেন পুজারা।

ভারতীয় তারকা ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমি মনে করি, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কারণ, যখন বাংলাদেশে যাই; একই অভিজ্ঞতা লাভ করি। বাংলাদেশ সফরে গেলে আমরা একই কন্ডিশন পাই। আমি মনে করি না যে কন্ডিশনের জন্য খুব একটা সমস্যা হবে তাদের। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে এই ম্যাচ জেতার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। অপরদিকে বাংলাদেশকে হারাতে হলে আমাদেরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

গত দুই বছর বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। বড় দলগুলোকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছেন টাইগাররা। তাই পুজারার মুখে এমন সংলাপ, ‘উ্পমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশ অনেক ভালো একটি দল। দেখুন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তারা দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। তাদেরকে হালকাভাবে নেবে না ভারত। একই সময়, আমরাও ২০১৬ সালে ভালো করেছি। নিজেদের নিয়েও আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা টেস্টের এক নম্বর দল। ২০১৬তে যেভাবে খেলেছি; ২০১৭তে তার-ই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাই।’

আয়ারল্যান্ডকে ২৩৬ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

আইসিসি নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডকে ২৩৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান করেছে রোমানা আহমেদের দল।

বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন ‘দুই’ শারমিন। ৩৫ রান আসে তাদের কল্যাণে। শারমিন সুলতানা করেন ৪৭ রান। শারমিন আখতারের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।

লিগার সুলতানা দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন। অলরাউন্ডার সালমা খাতুন নামের পাশে যোগ করেন ৩৮ রান। শায়লা শারমিন ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে কিম গার্থ ৬০ রান খরচায় ৩ উইকেট লাভ করেন। ম্যাটকাফে নিয়েছেন দুই উইকেট। লেউইস পকেটে পুরেছেন একটি উইকেট।

২২৪ রানে ইনিংস ঘোষণা বাংলাদেশের

জিমখানা গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের ব্যাটিং অনুশীলনটা খুব একটা ভালো হলো না। দু’জন মাত্র ব্যাটসম্যান পেলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। সৌম্য সরকার আউট হলেন ৫২ রান করে আর মুশফিকুর রহীম আউট হয়েছেন ৫৮ রান করে। তবে, দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে দলীয় ইনিংসকে খুব বেশি লম্বা করতে চাইলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। ৮ উইকেটে ২২৪ রানেই ইনিংস ঘোষণা করে দিলেন তিনি।

হায়দরাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডে ভারতীয় ‘এ’ দলের বিপক্ষে ২ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই বাজে করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস মিলে উপহার দিলেন মাত্র ১৭ রান। ১৩ রান করে আউট হন তামিম আর ইমরুল আউট হন ৪ রান করে। তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল হক আউট হয়ে যান ৫ রান করে।

টপ অর্ডারে এই সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার। ৭৩ বলে ৫২ রান করেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ করেন ২৩ রান। তবে সাব্বির রহমান আর মুশফিকুর রহীম মিলে ভালো রান যোগ করে দেন। এ দু’জন মিলে ৭১ রান যোগ করেন। ১০৬ বলে ৫৮ রান করেন মুশফিকুর রহীম।

৬৮ বলে ৩৩ রান করেন সাব্বির রহমান। লিটন দাস অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ২৩ রান করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হন শূন্য রানে। শেষ পর্যন্ত ৬৭ ওভার ব্যাট করে ২২৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়াকেও হারালো বাংলাদেশ

ভারতের অনুষ্ঠিত ব্লাইন্ড টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ট ম্যাচেও জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ডের পর এবার অস্ট্রেলিয়াকেও ৯ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল।

প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২১০ রান করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান আসে মোহসিনের ব্যাট থেকে। আর মালেক করেন ৭৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার স্টিফেন পালমারের সেঞ্চুরির পরও জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ উইকেটে তারা করেছে ২০১ রান।

এদিকে টানা পঞ্চম ম্যাচ জয়ে পয়েন্ট তালিকার তিনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ১০ দলের এ টুর্নামেন্টে পয়েন্ট তালিকার সেরা চারটি দল খেলবে সেমিফাইনালে।

সৌম্যের ব্যাটে রান

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামার আগে হায়দরাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডে ভারত `এ` দলের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এ ম্যাচে রানের দেখা পেয়েছেন টাইগারদের তারকা ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। তুলে নিয়েছেন অর্ধশত।

দীর্ঘ দিন ধরেই রানে ছিলেন না সৌম্য। এরপরও তার ওপর আস্থা হারায়নি দল। নিউজিল্যান্ড সফরে সিরিজের শেষ টেস্টে দলে জায়গা পেয়ে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেন বাঁহাতি এই তারকা। দ্বিতীয় টেস্টে হারলেও ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন সৌম্য। প্রথম ইনিংসে খেলেন ৮৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। আর দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।

এদিকে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। শুরুতেই বিদায় নেয় ইমরুল কায়েস (৮)। দলীয় ২২ রানে সিভি মিলিন্দ বলে হার্ডিক পান্ডিয়াকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ইমরুলের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। অঙ্কিত চৌধুরীর বলে ব্যক্তিগত ১৩ রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান দেশসেরা এই ওপেনার।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন সৌম্য। তবে সৌম্যকে খুব বেশি সময় সঙ্গ দিতে পারেননি টাইগারদের টেস্ট স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল। অঙ্কিত চৌধুরীর বলে ব্যক্তিগত ৫ রানে সাজঘরে ফিরে যান এই তারকা। এদিকে প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রাখা হয়েছে। একমাত্র টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামার আগে তাই সবাই নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল :
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শফিউল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, আবু জায়েদ রাহী।

ইমরুলের পর তামিমের বিদায়

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামার আগে হায়দরাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডে ভারত `এ` দলের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এ ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। শুরুতেই বিদায় নিয়েছে দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ৬৯ রান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেয় ইমরুল কায়েস (৮)। দলীয় ২২ রানে সিভি মিলিন্দ বলে হার্ডিক পান্ডিয়াকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ইমরুলের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। অঙ্কিত চৌধুরীর বলে ব্যক্তিগত ১৩ রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান দেশসেরা এই ওপেনার।

ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি খেলার জন্য বৃহস্পতিবারই বিকাল সাড়ে ৫টায় হায়দরাবাদ পৌঁছে যায় মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। এরপর শুক্রবার ও শনিবার হায়দরাবাদে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। এই ম্যাচের জন্য হায়দরাবাদে উড়িয়ে নেয়া হয়েছে পেসার আবু জায়েদ রাহীকে।

এদিকে প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রাখা হয়েছে। একমাত্র টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামার আগে তাই সবাই নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল :
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শফিউল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, আবু জায়েদ রাহী।

মোস্তাফিজকে মিস করছে হায়দরাবাদ

হায়দরাবাদের জার্সি গায়ে প্রথমবারের মত আইপিএল খেলতে গিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন হায়দরাবাদবাসীর মনে। হয়ে উঠেছেন তাদের ঘরের ছেলে। বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা হলেই তাই মোস্তাফিজকে খোঁজেন সবাই।

এদিকে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের ১৭ বছর পর প্রথমবারের মত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গেছে বাংলাদেশ। হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলবে তারা। তবে চোট থেকে সেরে না ওঠায় এ সিরিজের দলে মোস্তাফিজ। আর তাই হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল খেলা মোস্তাফিজকে মিস করছে হায়দরাবাদবাসী।

হায়দরাবাদের জার্সি গায়ে গতবারই প্রথম আইপিএলে খেলেন বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ। সেই থেকে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারকে নিজেদেরই একজন মনে করে এই শহরের মানুষ। আর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে কাছে পেয়ে সবার প্রথম প্রশ্ন, মোস্তাফিজ কোথায়? ও কেন আসেনি?’

রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের কিউরেটর অবশ্য আরও একধাপ এগিয়ে। তিনি বলেন, এটা তো মোস্তাফিজের হোমগ্রাউন্ড। ও কোথায়?’ আর ইনজুরির কথা শুনে কিউরেটরের প্রতিক্রিয়াও ছিল অন্যদের মতোই, ‘সামনে তো আইপিএল। ও হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে পারবে তো?’

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন যারা

টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গেছে বাংলাদেশ দল। সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে ৯ ফেব্রুয়ারি। তবে এর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ভারত `এ` দলের বিপক্ষে আজ (রোববার) থেকে দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। হায়দরাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টায়।

এদিকে প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রাখা হয়েছে। একমাত্র টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামার আগে তাই সবাই নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এ ম্যাচে গতকাল দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া আবু জায়েদ রাহীও থাকছেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল :
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শফিউল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, আবু জায়েদ রাহী।

কুমিল্লায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে ভিক্টোরিয়ান্স

বিপিএলে নাম লিখিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। যদিও নিজেদের দ্বিতীয় আসরে এসে এবার খুব একটা ভালো করতে পারেনি মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। বিদায় নিয়েছিল ৭ দলের মধ্যে ৬ষ্ঠ হয়ে। তবে, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে বিপিএলের এই ফ্রাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিজেদের এলাকা কুমিল্লায় একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের।

এবার (২০১৭ সালে) অনুষ্ঠিতব্য বিপিএলের পঞ্চম আসরে কুমিল্লায় নির্মিতব্য এই স্টেডিয়ামকেই নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। নিজেদের ফেসবুক পেজে এ সম্পর্কে একটি পোস্ট দিয়েছে ফ্রাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ। নিজেদের মাঠে বিপিএলের ম্যাচ খেলার ইচ্ছার পাশাপাশি বিপিএলের মান বাড়ানোর লক্ষ্য থেকেই স্টেডিয়াম নির্মাণের এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে ফ্রাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

কুমিল্লায় স্টেডিয়াম নির্মানের বিষয়ে ইতিমধ্যেই জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে পদক্ষেপ নিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মূলতঃ কুমিল্লা স্টেডিয়ামকেই সংস্কার করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হোম ভেন্যু বানানো হবে।

প্রস্তাবিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই স্টেডিয়ামটি হবে বিশ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। নিজেদের ফেসবুক পেজে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স যে ঘোষণা দিয়েছে সেটা হচ্ছে, ‘আগামি বিপিএল কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ২০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা বিশিষ্ট স্টেডিয়াম করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত- মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে নির্দেশ দিলেন কুমিল্লা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহছান ফারুককে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পক্ষ থেকেও সকল সহযোগিতা থাকবে।’

একই সঙ্গে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তাদের পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে, ভিক্টোরিয়ান্স বোলার হান্ট- ২০১৬, ভিক্টোরিয়ান্স স্কিল ক্যাম্প ২০১৭, কুমিল্লা স্কুল পর্যায়ের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট – ২০১৭, ইন্ডোর অ্যাকডেমি প্রতিষ্ঠা, কুমিল্লা স্টেডিয়াম সংস্কার, এতিম শিশুদের জন্য ভিক্টোরিয়ান্স ফাউন্ডেশন।

শুভ জন্মদিন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

ক্রিকেট যদি হয় ভদ্রলোকের খেলা, তবে তিনি যেন তার যোগ্য বিজ্ঞাপন। ভদ্রলোক বলতে যা বোঝায়, তিনি ঠিক তাই। বলা হচ্ছে সাইলেন্ট কিলার খ্যাত বাংলাদেশের তারকা ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথা। টাইগারদের তারকা এই ব্যাটসম্যানের জন্মদিন আজ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে জাগোনিউজের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

১৯৮৬ সালে এই দিনে ময়মনসিংহের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা মাহমুদউল্লাহর ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত ১৩৪ টি ওয়ানডে খেলা এ অলরাউন্ডার ৩২.৮৫ গড়ে রান করেছেন ২৮৫৮। এর মধ্যে সেঞ্চুরি রয়েছে ২টি আর অর্ধশত ১৬ টি। সর্বোচ্চ রান ১২৮। আর বল হাতে নিয়েছেন ৭০ উইকেট। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬৫ রান করেছিলেন। তা ছাড়া রিয়াদ প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পাশাপাশি টানা ২টি সেঞ্চুরি করেন।

এছাড়া একই বছর ২০০৭ সালে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত চার-জাতি সিরিজ এবং ২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ স্কোয়াডের জন্য দলে নেয়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। এখন পর্যন্ত ৫৬ টি-টোয়েন্টি খেলা এ অলরাউন্ডার ১৯.৮৭ গড়ে রান করেছেন ৭৭৫। এর মধ্যে অর্ধশত ৩ টি। সর্বোচ্চ রান ৬৪। আর বল হাতে নিয়েছেন ২১ উইকেট।

২০০৯ সালের ৯ জুলাই টেস্টে অভিষেক হয় এই তারকার। টিমে আসার পর সেই যে অধিনায়কের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন এখনো তা চলছে। এখন পর্যন্ত ৩১ টেস্ট খেলা এ অলরাউন্ডার ৩০.৫১ গড়ে রান করেছেন ১৭০৯। এর মধ্যে ১টি সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি আছে ১২টি। সর্বোচ্চ রান ১১৫। আর বল হাতে নিয়েছেন ৩৯ উইকেট। বর্তমানে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে হায়দরাবাদে অবস্থান করছেন এই তারকা।

মুশফিকের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা ভারতীয় গণমাধ্যমে

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা ১৭ বছরের হলেও এবারই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গেল বাংলাদেশ দল। আর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম। তারা বোঝানোর চেষ্টা করেছে, মুশফিক তার বক্তব্যের মাধ্যমে ভারতকে অপমান করেছেন!

ভারত সফরে দলের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে মুশফিক বলেন, ` জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামলে যে রকম চাপ থাকে ভারতের বিপক্ষে খেলতে তেমন চাপ থাকবে না। কারণ আমরা যদি জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হারি, তার চেয়ে বড় লজ্জার আর কিছু হবে না। আর জিতলে কোনো কৃতিত্ব থাকবে না। পক্ষান্তরে ভারত এমন এক দল, যাদের বিপক্ষে আমাদের হারানোর কিছু নেই। যদিও তারা এক নম্বর দল, তারপরও আমরা এটা বলছি না যে, সেখানে যাবো আর হেরে যাবো। আমার মনে হয়, পাঁচ বছর আগের চেয়ে এখন আমাদের ভারতে ভালো খেলার সুযোগ বেশি। আমাদের এই দলটা ভারতকে গিয়ে কেমন করতে পারে, সেটা বিশ্ব ক্রিকেটকে জানানোর ইচ্ছা আছে। সে দিক থেকে বলবো যে আমরা ম্যাচটি নিয়ে রোমাঞ্চিত। কিন্তু একটাই টেস্ট, ১৭ বছর পর খেলা; এ ধরনের কোনো চিন্তা আমার মাথায় কখনো আসেনি। এটা সাধারণ একটা টেস্ট ম্যাচ। এখানে আমরা এমন পারফর্ম করতে চাই, যাতে ভারত আমাদের বারবার আমন্ত্রণ জানায়।”

mushfik

কিন্তু বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের এ মন্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়নি ভারতীয় গণমাধ্যম। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’তে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারের পরও ভারতের মাটিতে একমাত্র টেস্টের গুরুত্ব বোঝাতে মুশফিক এ ম্যাচকে ‘ঐতিহাসিক’ বলতে রাজি নন। তার কাছে এ টেস্টের গুরুত্ব অন্যসব টেস্টের মতোই। অথচ টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। দৈনিক ‘ডেকান ক্রনিকল’ খবরের শিরোনাম করে ‘ভারতের বিপক্ষে টেস্টকে ঐতিহাসিক বলে মনে করি না: মুশফিক।’

তবে ভারতীয় মিডিয়ায় এমনটা নতুন নয়। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়লাভ করলে মুশফিকের ক্যারিবিয়ানদের অভিনন্দন জানানো নিয়ে আপত্তিকর অবস্থান নিয়েছিল বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম।

২০ ওভারে ৩৩০ রান করে জিতলো বাংলাদেশ

ভারতের অনুষ্ঠিত ব্লাইন্ড টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩৩০ রান করে বাংলাদেশ দল। আর কিউইদের ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রানে। ফলে ৯০ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল।

বান্দ্রায় এমআইজি ক্রিকেট ক্লাবে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আব্দুল মালেক ঝড় তোলেন। ৭০ বলে ৩৩টি চারের সাহায্যে ১৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ৪৪ বল খেলে আব্দুল্লাহ জবির করেন অপরাজিত ৯০ রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৩০ রান। যা এবারের আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান করে নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে ব্রেট উইলসন সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। ৫ ম্যাচে ৪টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। পয়েন্ট তালিকায় প্রথমে রয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয়তে রয়েছে স্বাগতিক ভারত।

আইপিএলের নিলাম ২০ ফেব্রুয়ারি

ফ্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দশম আসরের নিলামের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। চলতি মাসের ২০ তারিখে ব্যাঙ্গালুরুরে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চলতি আসরের নিলাম ৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজন করার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তা পিছিয়ে গেল।

বিসিসিআইয়ের ঘোষণা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৭৫০ জন ক্রিকেটার আইপিএলের জন্য নিবন্ধন করেছেন। নিলাম থেকে ৯ জন বিদেশিসহ মোট ২৭জন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সুযোগ পাবে ফ্যাঞ্চাইজিগুলো। আর এ খেলোয়াড় নিবন্ধনের জন্য প্রতিটি দল ৬৬ কোটি ভারতীয় রুপি বলেও দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চলতি বছরের শুরুর দিকেই (৩ জানুয়ারি) বিসিসিআইর সভাপতি অনুরাগ ঠাকুর এবং সেক্রেটারি অজয় শিরকে বরখাস্ত হন। শুধু তাই নয়, আদালতের আদেশে অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকেই বিসিসিআইর পদ ছাড়তে হয়েছে। এর ফলেই আইপিএলের নিলাম নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

অবশেষে বিসিসিআই জনপ্রিয় এই আসরের নিলামের নতুন তারিখ ঘোষণা করলো। ক্রিকেট বিশ্বে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা আইপিএলের দশম আসরের খেলা মাঠে গড়াবে ৫ এপ্রিল থেকে আর এ আসরের পর্দা নামবে ২১ মে।

অশ্বিনের কাছে শিখতে চান মিরাজ

প্রথমবারের মত ভারতের মাটিতে লড়াই করতে ইতোমধ্যেই ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে মোকাবেলা করবে টাইগাররা। তবে এ টেস্টে খেলার ফাঁকে ভারতের অন্যতম সেরা অফস্পিনার রবিচন্দন অশ্বিনের কাছ থেকে টিপস নিতে চান বাংলাদেশের উদীয়মান অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়াও ম্যাচে তার বোলিং দেখেও শিখতে চান এ নবীন।

বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা ছাড়ার আগে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘অশ্বিন বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড়। আমার লক্ষ্য থাকবে খেলা শেষে ওর সঙ্গে কথা বলে কিছু টিপস নেওয়ার। আর ও ম্যাচে কিভাবে বোলিং করে তা কাছে থেকেই দেখতে পারবো। সেটা আমাকে অনেক অভিজ্ঞতা এনে দেবে। আর এ অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক কাজে লাগবে।’

বরাবরই স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরি করে থাকে ভারত। এবারও তারা এমন কিছু করবে বলে মনে করেন মিরাজ। কারণ অশ্বিন-মিশ্র-জাদেজাসহ দারুণ স্পিন আক্রমণ রয়েছে তাদের। তবে নিজেদেরকেও পিছিয়ে রাখছেন না তিনি। সাকিব-তাইজুলের সঙ্গে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব বলেই মনে করেন এ অলরাউন্ডার।

‘আমার মনে হয় ভারতে স্পিনাররা সহয়তা পাবে। তাদের দলে ভালো স্পিনার আছে। আমাদের দলেও অনেক ভালো অভিজ্ঞ স্পিনার আছে। তাইজুল ভাই আছেন, সাকিব ভাই আছেন আর আমিও ভালো করছি ইনশাল্লাহ। তবে ওইখানে আমাদের আরও ধারাবাহিক হতে হবে। ওদের অনেক ভালো ব্যাটসম্যান আছে,  তবে আমরা যদি ভালো জায়গায় বল করতে পারি তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব।’

গত অক্টোবরে ঢাকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মত টেস্ট জিতে নেয় বাংলাদেশ। আর সে ঐতিহাসিক জয়টি আসে এ মিরাজের হাত ধরেই। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই কুপোকাত হয়েছিল ইংলিশবাহিনী। তাই এবার ভারতের বিপক্ষেও তার কাছে এমন কিছু পাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে ক্রিকেট ভক্তরা।

মোস্তাফিজকে সব সময়ই আমার দলে চাই : মুশফিক

প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে ঢাকার ওয়ারীতে ৬ বন্ধু মিলে সিচুয়ান গার্ডেন নামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। ক্যারিয়ারটাও তখন ছিল প্রায় তুঙ্গে। খেলার পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটা ভালোই চলছে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ট সেঞ্চুরিয়ানের।

এবার রেস্টুরেন্টের সঙ্গে নতুন আরেকটি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন ট্রাভেল এজেন্সির নতুন ব্যবসা। তবে আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে ‘অ্যাশ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেড’নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির।

মূলতঃ ব্যবসাটি পরিচালনা করবেন আশরাফুলের বড় ভাই মুস্তাক আহমেদ। অফিস নেয়া হয়েছে বনশ্রীতে আশরাফুলের নিজের বাড়িরই একটি ফ্লোরে। বনশ্রীর এইচ ব্লকের (মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন) ৩ নাম্বার রোডে অ্যাশ হাউজের সপ্তম তলায় খোলা হয়েছে ট্রাভেল এজেন্সির অফিসটি।

আশরাফুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি তো মূলতঃ ক্রিকেটার। ক্রিকেট খেলাই আমার কাজ। তবে পাশাপাশি মানুষের অন্য কোনো কল্যাণে নিজেকে কাজে লাগাতে পারলেও ভালো লাগে। দেশ-বিদেশে মানুষের ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে যদি আমাদের নতুন এই প্রতিষ্ঠান আস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারে, তাহলে এটাও হবে আমার অন্যতম একটি পাওয়া। আশা করছি আমরা মান সম্মত সেবাই দিতে পারবো গ্রাহকদের।’

বড় ভাই ব্যবসা পরিচালনা করলেও অ্যাশ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান আশরাফুল নিজেই। যদিও এখন খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন তিনি। খেলা থেকে যখন অবসরে যাবেন, কিংবা যখন খেলা থাকবে না তখন তিনি নিজেও ব্যবসায় মনযোগি হবেন বলে জানালেন আশরাফুল। নতুন ব্যবসা নিয়ে সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন তিনি।

জোড়া সেঞ্চুরিতে প্রোটিয়াদের বড় জয়

ডু প্লেসি ও মিলারের সেঞ্চুরির উপর ভর করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১২১ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল এবি ডি ভিলিয়ার্সের দল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। দলীয় ১৯ রানে লাকমলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন আমলা (১৫)। দ্বিতীয় উইকেটে ডি কককে সঙ্গে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন ডু প্লেসি। তবে ব্যক্তিগত ১৭ রান করে ফিরে যান আরেক ওপেনার ডি কক। এরপর দ্রুত ডি ভিলিয়ার্স (৩) ও ডুমিনি (১১) রান করে বিদায় নিলে ১০৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

পঞ্চম উইকেটে মিলারের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি গড়েন ডু প্লেসি। ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন ডু প্লেসি। ডু প্লেসির বিদায়ের দলকে তিনশ’ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দেন মিলার। ৩ চার ও ৬ ছয়ে ২৭ বছর বয়সী বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ১১৭ রানে। ফলে ৬ উইকেটে ৩০৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

স্বাগতিকদের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে অতিথিরা। প্রথম নয় ব্যাটসম্যানের আটজনই দুই অঙ্কে যান কিন্তু কেউই পারেননি নিজের ইনিংস বড় করতে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন দিনেশ চান্দিমাল। দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির, পার্নেল ও জেপি দুমিনি ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ডু প্লেসি।

ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ মুশফিক-তামিম-সাকিবদের

টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের ১৭ বছর পর ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ঢাকা ত্যাগ করলো মুশফিক-তামিম-সাকিবরা। আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয় বাংলাদেশ দল। কলকাতা বিকেল সাড়ে ৩ টায় ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে হায়দরাবাদের উদ্দেশে যাত্রা করবে টাইগাররা। আর ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট বিমান ভ্রমণ শেষে হায়দরাবাদে পৌঁছানোর কথা মুশফিক বাহিনীর।

এদিকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়ার জন্য সকাল ৯ টায় প্রথমে বিমানবন্দরে পৌঁছান টাইগার তারকা মুমিনুল ও শুভাশিস। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তারা। এরপর আসেন তাইজুল, ইমরুল ও সাব্বির। পরে বিসিবির গাড়িতে এক সঙ্গে বিমানবন্দরে পৌঁছান রাব্বি, মিরাজ, সৌম্য, শফিউল ও লিটন দাস।

এর একটু পর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান মুশফিক ও তাসকিন। এরপর আসেন তামিম ও মাহমুদউল্লাহ। আর সবার শেষে পরিবার নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন সাকিব। ভারত সফরে সাকিবই শুধু পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে হায়দরাবাদে পৌঁছে প্রথম দুই দিন বিশ্রাম নেবেন টাইগাররা। যদিও এ সময়ে ঐচ্ছিক অনুশীলন রয়েছে মুশফিক-তামিমদের। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি সেচুন্দেরাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডে একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে হবে ম্যাচটি।

এরপর ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ ভেন্যু রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। এরপর ৯ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে ভারতের বিপক্ষে সে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ। ম্যাচ শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে মুশফিকদের।

উল্লেখ্য, ভারতের বিপক্ষে এ টেস্ট ম্যাচটি গত আগস্টে কলকাতায় হওয়ার কথা ছিল। নানা কারণে সে সময়ে না হলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হায়দারাবাদে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয় বিসিসিআই। তবে এ নিয়ে চলছিল নানা গুঞ্জন। তবে সব গুঞ্জন উড়িয়ে অবশেষে ভারতের মাঠে খেলছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি গড়াবে হায়দরাবাদেই।

বাংলাদেশ দল : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস ও শুভাশিস রায়।

মোস্তাফিজকে সব সময়ই আমার দলে চাই : মুশফিক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত নাম- মোস্তাফিজুর রহমান। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায়। কাটার-স্লোয়ার-ইয়র্কারের সংমিশ্রণে দুর্দান্ত বোলিং করে থাকেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। প্রতিপক্ষ শিবির তাকে নিয়ে বেশ আতঙ্কে থাকে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যে কোনো অধিনায়কই সেই মোস্তাফিজকে তার দলে চাইবেন। হ্যাঁ, বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও ভারত সফরে যাওয়ার আগে জানালেন, কাটার মাস্টার মোস্তাফিজকে সব সময়ই তার দলে চান। তবে ফিট মোস্তাফিজকে নিয়মিত পাওয়া খুব প্রয়োজন বলে মনে করেন মুশফিক।

বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়কের ভাষায়, ‘মোস্তাফিজকে সব সময়ই আমার দলে চাই। সে যাতে তিন ধরনের ক্রিকেটেই খেলতে পারে, সেটাই আমরা চাই। কিন্তু সে ইনজুরি থেকে ফিরেছে। তার যে সমস্যা, এটা ব্যক্তিগত। আমি টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে আমার দলে তাকে চাই।’

গত বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ইনজুরির কবলে পড়েন মোস্তাফিজ। এমনকি তার কাঁধে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড সিরিজে অবশ্য দলে ফিরেছিলেন। প্রথম টেস্টের স্কোয়াডেও রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু পূর্ণ ফিট না হওয়ায় একাদশে রাখা হয়নি ‘দ্য ফিজ’কে।

পুরোপুরি ফিট হয়েই আবারও জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন মোস্তাফিজ। ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে না থাকলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোস্তাফিজকে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী মুশফিক, ‘ফিট মোস্তাফিজকে নিয়মিত পাওয়াটা বেশি দরকার। সামনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ আছে। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আছে, সেখানে তাকে আমাদের দরকার। এ ছাড়া ইনজুরি থেকে ফিরেই একজন বোলার সরাসরি টানা পাঁচদিন খেলতে পারে না। এটা কঠিন। আল্লাহ না করুক, টেস্ট খেলতে গিয়ে সে যদি দীর্ঘ মেয়াদি ইনজুরিতে পড়ে, সেটা খারাপ হবে।’

মোস্তাফিজ যখন নিজেকে পূর্ণ ফিট মনে করবেন, ঠিক তখনই তাকে খেলানো উচিত বলে মনে করেন মুশফিক। পাশাপাশি আপাতত তাকে বিশ্রামেই রাখা শ্রেয়। মুশির ভাষ্য, ‘সে কবে টানা অনেকগুলো ওভার করেছে, আমার মনে হয় না সে অনুশীলনেও একসঙ্গে ১৫ ওভার করেছে। একটা বোলার যতোই ভালো হোক, সে যদি পুরোপুরি শক্তি দিয়ে বিশ্বের সেরা দলের সঙ্গে বোলিং না করতে পারে, সেটা কঠিন ব্যাপার। আমার মনে হয়, তাকে বিশ্রামে রেখে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এটাই ঠিক সিদ্ধান্ত।’

ভারতে নিজেদের প্রমাণ করতে চান মুশফিক

১৭ বছর হলো বাংলাদেশ টেস্ট খেলছে। এই সময়ের মধ্য একবারের জন্যও ভারত সফর করেনি বাংলাদেশ। কারণ ভারত টেস্ট খেলুড়ে দেশের সবচেয়ে ‘নবীন’ দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি। ৯ ফেব্রুয়ারি সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যে দিন ভারতের মাঠে টেস্ট খেলতে নামবে মুশফিকরা।

বাংলাদেশ অবশ্য ভারতের মাটিতে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যে করেই হোক নিজেদের প্রমাণ করতে চান মুশফিক, যাতে ভারত নিয়মিত তাদের দেশে বাংলাদেশকে খেলতে আমন্ত্রণ জানায়। যদিও মুশফিক এই টেস্টকে ঐতিহাসিক বলতে চাইছেন না। দেশ ছাড়ার আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে মুশফক বলেছেন, ‘আমি একটু অবাকই হই, আমার কাছে এটা ঐতিহাসিক ধরনের কিছু মনে হয় না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেললে বেশি চাপ থাকে। কারণ তাদের কাছে হারলে অনেক ব্যাপার থাকে। ওখানে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। পাঁচ বছর আগের চেয়ে এখন ভারতে যাওয়া মানে আমাদের ভালো কিছু করার আছে। ভারতের মাটিতে আমরা কেমন খেলি, সেটা প্রমাণ করার আছে। এটা স্বাভাবিক একটা টেস্ট ম্যাচ। ওখানে এমন পারফর্ম করতে চাই, যাতে ভারত আমাদের বারবার আমন্ত্রণ জানায়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘নিজেদের মাটিতে ভারত খুব ভালো শক্তিশালী দল। আমরা স্কোয়াড দেখেছি, শক্তিশালী স্কোয়াড। তাদের বিপক্ষে আমরা দুই-তিন দিন নয়, বরং পুরো পাঁচ দিন ভালো খেলতে চাই।’

ভারত সিরিজে ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন মুশফিক, ‘গত দুই বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ ক্রিকেট খেলছি আমরা। কিন্তু টেস্টে অতটা ভালো হচ্ছিল না, তবে গত দুই সিরিজে টেস্টেও আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু দুটি সিরিজে সীমিত ওভারে আমাদের খুব একটা ভালো হয়নি। তারপরও কিছু ব্যক্তিগত ভালো পারফরম্যান্স ছিল। যদিও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দরকার হলো দলগত পারফরম্যান্স।’ সবার কাছে ভালো কিছুর আশা অধিনায়কের, ‘যারা এতদিন ভালো খেলেছে, আশা করি তারা সেটা ধরে রাখবে। আর যারা ভালো খেলতে পারেনি, তারা এখন নিজেদের মেলে ধরবে। দলীয় প্রচেষ্টাটা দরকার, তাহলে ভালো রেজাল্ট হবে।’

নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে এক সপ্তাহ বিশ্রাম পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। দুই দিন অনুশীলন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। ভারতে গিয়ে এক সপ্তাহের মতো অনুশীলন করার সুযোগ পাচ্ছে মুশফিকরা। হঠাৎ করে ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে নামাটা কঠিন কিনা, জানতে চাইলে মুশফিক বলেছেন, ‘যেমন কন্ডিশনই হোক না কেন, আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে নানা রকম বৈচিত্র্য আছে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার আছে, স্পিন বোলার অলরাউন্ডার আছে, ব্যাটিং গভীরতাও অনেক। সুতরাং যে কন্ডিশনই হোক, আমরা সেভাবেই খেলব।’

মুশফিক আরও যোগ করেছেন, ‘আমরা দুদিন ধরে ওই কন্ডিশনের মতো অনুশীলন করেছি। যদিও আমাদের ব্যাটসম্যানের কাজ কঠিন হবে। ভারতের বোলিং এখন অনেক ভালো। আমাদের বোলিংও নিঃসন্দেহে ভালো। আমরা যদি ক্যাচগুলো ঠিকঠাক নিতে পারি, তবে আমাদের বোলিং যে কোনও টেস্ট দলের বিপক্ষেই ভালো করবে।’

ইমরুলের ইনজুরিতে ওপেনিং নিয়ে কোনও দুচিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন মুশফিক, ‘ইমরুল গত বছর অনেক রান করেছে। আর ইমরুল কিন্তু তামিমের পরই আমাদের অটোমেটিক চয়েস। আমার মনে ওর কোনও বিকল্প আমাদের দলে নেই। ইমরুলের ইনজুরির পর সৌম্য দারুণ খেলেছে। এটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের ভালো কিছু ব্যাকআপ খেলোয়াড় আছে।’

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল ঘোষণা

ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে আনা হয়েছে দুটি পরিবর্তন। ভারতের বিপক্ষে দলে ফিরেছেন শফিউল ইসলাম ও লিটন দাস। আর স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও রুবেল হোসেন। বুধবার এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ স্কোয়াড: মুশফিকুর রহীম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস ও শুভাশিস রায়।

বিস্তারিত আসছে…

তৃষ্ণার্ত রাজা মাহমুদউল্লাহর সেটে হঠাৎ উপস্থিত মাশরাফি

রাজা বসে আছেন সভাসদদের নিয়ে। কোনো কিছু নিয়ে সবাই গভীর চিন্তায় মগ্ন। গুরুগম্ভীর পরিবেশ। এ সময় হঠাৎই তৃষ্ণা পেয়ে বসলো রাজার। রাজাবেশে মঞ্চে উপবিষ্ট মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার তৃষ্ণা পেয়েছে দেখে দৌড়ে ছুটে আসলেন রানী। হাতে চিয়ার আপ।

রানীর হাত থেকে চিয়ার আপ নিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করলেন রাজা। মুহূর্তেই কেটে গেলো সেই গুরুগম্ভীর পরিবেশ। সবাই উৎফুল্ল। যে সমস্যা নিয়ে সবাই ছিল চিন্তিত, চিয়ার আপ পানে সেই সমস্যারও সমাধান হয়ে গেলো।

কিন্তু কী আশ্চর্য, হঠাৎই সেখানে প্রবেশ করলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। উল্লাসরত রাজার সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন সেলফি তুলতে। রাজাও খুশি মনে দাঁড়িয়ে মাশরাফির সঙ্গে সেলফি তুললেন।

mashrafee
পাঠক, উপরের অংশটুকু জনপ্রিয় কোমল পানীয় প্রাণ চিয়ার আপের একটি শুটিংয়ের অংশ। তবে শেষের অংশটুকু নয়। শেষের অংশে এমনিতেই মাহমুদউল্লাহর শুটিং সেটে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন মাশরাফি। কিছুক্ষণ মজা করলেন এবং ছবি তুললেন।

প্রাণ চিয়ার আপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আগেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এখন চলছে তাকে নিয়ে প্রাণ চিয়ার আপের বিজ্ঞাপনের শুটিং। তেজগাঁওয়ের কোক স্টুডিওতে চলছে সেই বিজ্ঞাপনের কাজ।

চিয়ার আপ ব্র্যান্ডের সঙ্গে মিল রেখে দারুণ কিছু মুহূর্ত তৈরি করা হচ্ছে ওই বিজ্ঞাপনে। যেখানে কখনও দেখা যাবে মাহমুদউল্লাহ মাঠে খেলছেন, জোরে বল হাঁকালেন ছক্কা হওয়ার সম্ভাবনা। বিজয়ের র‍্যালি নিয়ে তখন রাজপথে নেমে যাবে জনতা। উল্লাস করছে, রঙ ছিটাচ্ছে সবাই। সেখানে সবাই মিলে চিয়ার আপ পান করছে।

mashrafee
কখনও দেখা যাবে ছেলেরা মাঠে খেলছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যাটিং করছেন। ছেলেরা আনন্দে মেতে উঠে চিয়ার আপ পান করছে। তৃষ্ণার্ত রাজার তৃষ্ণা নিবারণও হবে চিয়ার আপ পানে। তবে বিজ্ঞাপনে কিন্তু মাশরাফির অংশ কোনোভাবেই প্রচার হবে না। শুটিংয়ে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে স্রেফ মজা করেছেন মাশরাফি।

পূর্ণশক্তি নিয়েই বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বয়স প্রায় ১৭ বছর। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এতো বছরেও ভারতে ক্রিকেট খেলার আতিথেয়তা পায়নি বাংলাদেশ। অথচ এই ভারতের বিপক্ষেই অভিষেক টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে দেরিতে হলেও ভারতে খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক এ টেস্টের জন্য পূর্ণ শক্তির দলই ঘোষণা করেছে ভারত।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে দল থেকে বাদ পড়েছেন মানিস পাণ্ডে ও মোহাম্মদ সামি। তবে এ দুইজন থাকলেও দারুণ শক্তিশালী ভারত দল। সামির পরিবর্তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টের দলেই জায়গা পেয়েছিলেন ইশান্ত শর্মা। তবে একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে শর্মার উপরই আস্থা রেখেছেন তারা।

যথারীতি স্পিন নির্ভর দলই গড়েছে ভারত। নিয়মিত স্পিনার রবিচন্দন অশ্বিন ও রবিন্দ্র জাদেজার সঙ্গে বাংলাদেশের চিরাচরিত লেগ স্পিন দুর্বলতার কথা ভেবে দলে আছেন অমিত মিশ্র। এছাড়াও জায়ান্ত যাদবও আছেন দলে। বলের পাশাপাশি ব্যাটিংটাও দারুণ করেন তিনি।

আর ব্যাটিংয়ের নেতৃত্বে থাকছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো করুন নায়ারও আছেন দলে। ওপেনিংয়ে মুরালি বিজয় ও লোকেশ রাহুলের সঙ্গে তৃতীয় ওপেনার হিসেবে আছেন অভিনব মুকুন্দ। আর তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

কারণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান পার্থিব প্যাটেলের পরিবর্তে দলে ঢুকেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে ৭১ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেছিলেন প্যাটেল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য না পেলেও গত পাঁচ বছর ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুন সাফল্য পেয়েছেন মুকুন্দ।

রাতে ঢাকায় ফিরছেন হাথুরুসিংহে

ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্টের দল ঘোষণা হবে আগামীকাল বুধবার। তবে এর আগে টানা চার দিনের ছুটি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরে বাংলায় মঙ্গলবার নেটে অনুশীলন করেছে টাইগাররা। যদিও এখনও ঢাকায় ফেরেননি প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে। রাতে ফেরার কথা রয়েছে এ লঙ্কানের। তবে ফিরেছেন অন্যান্য বিদেশি স্টাফরা।

বিসিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশে ফিরছেন হাথুরুসিংহে। নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে অস্ট্রেলিয়া আছেন এ কোচ। তবে আগের দিনই ফিরেছেন ট্রেনার ভিল্লাভারায়েন, ফিজিও ডিন কনওয়ে ও সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল।

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে বাংলাদেশ। এ সফরকে লক্ষ্য রেখে আজ থেকে অনুশীলন শুরু করে টাইগাররা।

অফিশিয়াল অনুশীলন হলেও এদিন আসেননি অনেকেই। তবে অনুশীলনে ছিলেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, নুরুল হাসান সোহান, শুভাশিস রায়, আবু হায়দার রনি ও সৌম্য সরকার।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত দল নির্বাচন নিয়ে ‘নাটক’

ভারতীয় নির্বাচন কমিটির আলোচনায় বড় নাটক; ফিরেছেন অভিনব মুকুন্দ, প্যাটেল বাদ, সাহা ফিরলেন’- ঠিক এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’। এ নাটকের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান পার্থিব প্যাটেলের পরিবর্তে আরেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অভিনব মুকুন্দকে দলে নেয়ায়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে ৭১ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেছিলেন প্যাটেল। অপরদিকে জাতীয় দলে পাঁচটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেও আহামরি কিছুই করতে পারেননি মুকুন্দ। সেই মুকুন্দকে ফেরানো নিয়েই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

ভারত দলে মুকুন্দের অভিষেক হয় ২০১১ সালের জুনে। এরপর মোট পাঁচটি টেস্টে ১০ ইনিংস ব্যাট করে রান করেছেন ২১১, সর্বোচ্চ রান ৬২। আর উইকেটের পেছনে থেকে ক্যাচ ধরেছেন পাঁচটি। তবে তামিলনাড়ুর এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কয়েক বছর ধরেই দারুণ ফর্মে আছেন।

অপরদিকে ২৩ টেস্টে ৩৪ ইনিংস ব্যাট করেছেন প্যাটেল। ৩৩.৭৬ গড়ে ৮৭৮ রান করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ রান ৭১। সদ্য শেষ হওয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ ইনিংসটি খেলেন তিনি। তবে উইকেটের পেছনে দারুণ ফর্মে ছিলেন তিনি। ৫২টি ক্যাচের পাশাপাশি ১০টি স্ট্যাম্পিং করেন প্যাটেল।

এছাড়া নিয়মিত উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা ইনজুরি থেকে ফেরায় তাকেও দলে রেখেছে ভারত। ফলে ১৫ সদস্যের জায়গায় ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করে তারা।

ভারত দল : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), লোকেশ রাহুল, মুরালি বিজয়, চেতশ্বর পূজারা, আজিঙ্কা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা, রবিচন্দন আশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা, জায়ান্ত যাদব, ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, অমিত মিশ্রা, অভিনব মুকুন্দ, ভুবনেশ্বর কুমার, করণ নায়ার ও হার্দিক পান্ডেয়া।

২০১৬-এর বর্ষসেরা ক্রিকেটার তামিম

গত কয়েক মৌসুম ধরেই দারুণ ক্রিকেট খেলছেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা টেস্ট- সকল সংস্করণেই সেরা তামিম। তার ব্যাটেই জয়ের সূচনা পায় বাংলাদেশ। আর তার স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস এওয়ার্ডে। ২০১৬ সালের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন এ ওপেনার।

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেরা ক্রিকেটার ছাড়াও দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্যাটাগোরির সেরা খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, কোচ, সংগঠক, পৃষ্ঠপোষকদের। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার হাতে তুলে দেন তামিমের হাতে।

২০১৬ মৌসুমটা দারুণ কাটিয়েছিলেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়; যিনি বাংলাদেশের পক্ষে এক বছরে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। টি-টোয়েন্টিতে ওমানের, ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের ও টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তিনি। পাশাপাশি বছর জুড়েই সকল সংস্করণে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেন এ দেশসেরা ওপেনার।

ওই বছর দুটি টেস্ট ম্যাচে খেলেন তামিম। তাতে ৪ ইনিংস ব্যাট করে ১টি সেঞ্চুরিসহ ৫৭.৭৫ গড়ে করেন ২৩১ রান। আর ওয়ানডে খেলেন ৯টি। ৪৫.২২ গড়ে ১টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ সেঞ্চুরিসহ করেন ৪০৭ রান। পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ১২টি। তাতে ১টি সেঞ্চুরি ও ১টি হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৭.৯০ গড়ে করেছেন ৩৭৯ রান।

ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা খেলোয়াড় অ্যাডাম লালানা

২০১৬ সালটা কেমন কেটেছে অ্যাডাম লালানার? এক কথায়, দুর্দান্ত। জাতীয় দল- ইংল্যান্ড আর ক্লাব- লিভারপুলের হয়ে দারুণ একটি বছর পার করেছেন ইংলিশ এই ফুটবলার। যার ফল- ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব জিতেছেন ২৮ বছর বয়সী প্লেমেকার।

যদিও গোলের পরিসংখ্যান খুব একটা আহামরি নয়। ২০১৬ সালে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১০ ম্যাচ; নামের পাশে যোগ করেছেন মাত্র ৩টি গোল। আর লিভারপুলের ২৩ ম্যাচ খেলে গোল আদায় করে নিয়েছেন ৭টি।

তবে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন অ্যাডাম লালানা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নাড়িয়ে দিতে পেরেছেন ইংলিশ এই প্লেমেকার। যা প্রভাব ফেলেছে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব জিততে।

এই দৌড়ে লালানার সঙ্গে সেরা তিনে থাকা অপর দুই ফুটবলার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়েন রুনি ও জেমি ভার্ডি। দর্শকের ভোটে শীর্ষস্থান দখলে নেয়া লালানা পেয়েছেন ৩৯ শতাংশ ভোট। আর লেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতা জেমি ভার্ডি ১২ শতাংশ ভোট নিয়ে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। আর তৃতীয় স্থানে থাকা রুনি পেয়েছেন ৮ শতাংশ ভোট।

অনলাইনে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টিকিট

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক প্রায় ১৭ বছর। অথচ এতো বছরে ভারতের মাঠে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ হয়নি টাইগারদের। প্রথমবারের মতো ভারতের মাঠে আগামী ৯ জানুয়ারি একটি টেস্ট খেলবে মুশফিক বাহিনী। আর ঐতিহাসিক এ টেস্টের টিকিট www.eventsnow.com এই ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

হায়দেরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়ালের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানায় ঐতিহাসিক এ টেস্ট ম্যাচের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ১০০০ রুপি আর সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ রুপি।

এদিকে হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও বিসিসিআই প্রতিদিন ৫০০০ ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে স্টেডিয়ামে প্রবেশের টিকিট দেবে বলে ভারতের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’ এমন খবরই প্রকাশ করেছে।

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রি’তে খেলা দেখা নিয়ে মনোজ বলেছেন, `আমরা স্কুলে স্কুলে এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি পাঠাবো। প্রতিদিন একটি স্কুল সর্বোচ্চ ৫০০ ছাত্র-ছাত্রীকে স্টেডিয়ামে পাঠাতে পারবে।`

ভারত সফরেও যাচ্ছেন না ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ!

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যাননি বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। তবে ধারণা করা হচ্ছিল, প্রায় দেড় মাস বিশ্রামের পর হয়তো ম্যানেজার হয়ে দলের সঙ্গে ভারত সফরে যাবেন। কিন্তু শেষ খবর হায়দরাবাদে বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক টেস্টেও দলের সঙ্গী হচ্ছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক ও ম্যানেজার। সোমবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এমনই ইঙ্গিত সুজনের কণ্ঠে।

ভারত সফরে দলের ম্যানেজার হয়ে যাচ্ছেন তো? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়কের ইতস্ত জবাব, `শরীরটা এখনো তেমন চাঙ্গা হয়নি। তাই এ সফরেও যাওয়া হচ্ছে না।`

কণ্ঠে এমন কথা শোনা গেলেও অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠলো খানিক ভিন্নতা। মনে হলো প্রকৃত কারণ পাশ কাটিয়ে গেলেন। তবে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, মাঝে বোর্ডে তার বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের পদে থাকা নিয়ে কিছু কানাঘোষা হয়েছিল। তার রেশেই হয়তো স্বেচ্ছায় সরে যাওয়া।

এদিকে খালেদ মাহমুদ সুজন যে দলের সঙ্গে ভারত সফরে যাচ্ছেন না, তার প্রমাণ মিললো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন সুজনের কণ্ঠেও। সোমবার তার কাছে প্রশ্ন ছিল, ভারত সফরে ম্যানেজার হয়ে যাচ্ছেন কে? বিসিবির প্রধান নির্বাহীর ছোট জবাব, লজিস্টিক ম্যানেজার হিসেবে সাব্বির খানই যাচ্ছেন। আর দেখা যাক দলের ম্যানেজার হিসেবে কাউকে পাঠানো যায় কি না।

বিসিবির প্রধান নির্বাহীর এমন বক্তব্যে বোঝা যায়, খালেদ মাহমুদ সুজন যে ম্যানেজার হিসেবে দলের সঙ্গে ভারত সফরে যাচ্ছেন না, তা আগেই বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই হয়তো বোর্ড এবার ভিন্ন পথে হাঁটছে।

উল্লেখ্য, ডায়বেটিক সমস্যার কারণে জাতীয় দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন খালেদ মাহমুদ।

আশরাফুল-সাকিবের পর রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তাসকিন

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আগে থেকেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসা খুলেছেন। এবার দেখানো পথে হাঁটলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সফল পেস তারকা তাসকিন আহমেদ। ঢাকার মোহাম্মদপুরের রিং রোড এলাকায় খোলা রেস্টুরেস্টটির নাম দিয়েছেন-‘তাসকিন’স টেরিটরি’।

সোমবার বেশ জমকালোভাবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে উদ্বোধন হলো তাসকিন`স টেরিটোরি নামে রেস্টুরেন্ট। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, জাতীয় দলে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। এছাড়াও বিনোদন জগতের তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী তাহসান।

Taskins

এদিকে অন্য যে কোনো রেস্টুরেন্টের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রম থাকছে তাসকিনের রেস্টুরেন্ট। সেখানে বিনোদনের জন্য থাকছে বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থাও।

দর্শকের ভোটেও সেরা মোস্তাফিজ

ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড নাইটে ২০১৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর তা হয়েছেন নির্বাচকদের দৃষ্টিতে। তবে সেরা ক্রীড়াবিদ বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল দর্শকদেরও। আর তাতেও সেরা ক্রীড়াবিদ হলেন মোস্তাফিজই।

কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ডের সেরা তালিকায় মোস্তাফিজ ছাড়াও ছিলেন তার দুই সতীর্থ তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ছিলেন ২০১৬ সালের সেরা ক্রীড়াবিদ সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারত্তোলনের  মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও হকি তারকা আশরাফুল ইসলাম। সবাইকে পেছনে ফেলে দর্শকদের ভোটেও সেরা হলেন মোস্তাফিজই।

বিস্তারিত আসছে…

বর্ষসেরা ক্রিকেটার হলেন মাহমুদউল্লাহ

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পুরস্কার দেয়া হয়েছে। দু’বছর মিলিয়ে ২০টি ক্যাটাগোরিতে পুরস্কার দেয়া হয়। সেখানে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তবে দুই বছরের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের নাম চমক হিসেবে রাখা হয়েছিল। মনোনীত তিন থেকে সেরাকে বেছে নেয়া হয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি পেছনে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও  সৌম্য সরকারকে।

এছাড়া দর্শক ভোটে ছিল পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড। সেখানে ভোটের মাধ্যমে ছয়জন থেকে একজনকে বেছে নেয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা এআইপিএস-এর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ কাশিম।

২০১৫ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন :
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ: মোস্তাফিজুর রহমান, সেরা ক্রিকেটার: মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সেরা দাবাড়ু: মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, সেরা আর্চার : তামিমুল ইসলাম, উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: সারোয়ার জামান নিপু (ফুটবল), সেরা সংগঠক : ইউসুফ আলী, বর্ষসেরা কোচ : সৈয়দ গোলাম জিলানী (ফুটবল), বর্ষসেরা স্পন্সর প্রতিষ্ঠান : ম্যাক্স গ্রুপ, বিশেষ সম্মাননা : আমিনুল হক মনি।

লিটন দাসের ডাবল সেঞ্চুরিতে পূর্বাঞ্চলের বড় জয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে দারুণ জয় পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল। লিটন দাসের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরির পর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এক দিন বাকি থাকতেই ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে দলটি।

মধ্যাঞ্চলের দেওয়া ৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে শুরুতেই আগের দিনের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাসকে হারায় পূর্বাঞ্চল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার মেহেদী মারুফকে নিয়ে দলকে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেন জাকির হাসান। ৩৩ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করেন জাকির। মারুফ করেন ১৪ রান।

এর আগে সোমবার আগের দিনের ১ উইকেটে ৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে মধ্যাঞ্চল। তবে দলীয় রান আর ২ যোগ করতেই রকিবুল হাসানকে হারায় তারা। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন হতে থাকলে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংস।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলেন শামসুর রহমান। ১০৪ বল মোকাবেলা করে ৬টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। এছাড়া মার্শাল আইয়ুব ৩৫, রকিবুল হাসান ৩০ ও তানবির হায়দার ২৭ রান করেন।

পূর্বাঞ্চলের পক্ষে আবুল হাসান ও সাকলাইন সজীব ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া আবু জায়েদ ও এবাদত হোসেন ২টি করে উইকেট নেন।

ঢাকায় ফিরলেন মোস্তাফিজ-মিরাজ

কয়েকদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাঁটানোর পর সোমবার সকালে ঢাকায় ফিরলেন কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান ও টাইগারদের উঠতি তারকা মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬ টায় গ্রামের বাড়ি থেকে কলিগজ্ঞের তেঁতুলিয়া থেকে রওনা দেন মোস্তাফিজ। এ সময় মোস্তাফিজের সঙ্গে ছিলেন বন্ধু হাফিজুর রহমান হাফিজ ও ড্রাইভার রেজাউল ইসলাম।

এদিকে ১০ টায় যশোর বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানে তার সঙ্গে যুক্ত হন অপর ক্রিকেটার খুলনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর সাড়ে ১০টায় বিমান যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন দুই তারকা ক্রিকেটার। মোস্তাফিজের বন্ধু হাফিজুর রহমান হাফিজ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে গত ২৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরার কালিগজ্ঞের তেঁতুলিয়া গ্রামে নিজের বাড়িতে যান মোস্তাফিজ।

ধোনিকে নিয়ে যা বললেন শাহরুখ

ইতোমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে শাহরুখ খানের সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবি রইস। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই ফেসবুক, টুইটারসহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যানদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে কিং খানকে। উত্তর দিতে হচ্ছে তাদের প্রশ্নের। রাখতে হচ্ছে আবদারও। আর ভক্তদের আবদার মেটাতে গিয়ে এবার ভারতের সাবেক অধিনায়ক ধোনিকে নিয়েও কথা বললেন শাহরুখ খান।

dhoniটুইটারে তার ও ভারতীয় ক্রিকেট টিমের এক ভক্তের সঙ্গে কথা বলছিলেন শাহরুখ। হঠাৎ সেই ভক্ত দাবি করে বসেন সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে একটি শব্দে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন তিনি। কাল বিলম্ব না করে বলিউড বাদশা লিখলেন `বিস্ময়কর!`

ভারতের সর্বকালের অন্যতম সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সম্পর্কে এমন সার্টিফিকেটই দেওয়া যায়। তিনি সত্যিই বিস্ময়কর!

তামিম-আশরাফুলকে পেছনে ফেলে ২০১৬-এর বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ শিলা

২০১৬ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশকে দু’টি স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন মাহফুজা খাতুন শিলা। ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে স্বর্ণ দু’টি পান এ সাঁতারু। আর তাতেই ২০১৬ সালের সেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হন শিলা। পেছনে ফেলেছেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও হকি খেলোয়াড় আশরাফুল ইসলামকে।

এসএ গেমসের সে আসরে পদকের আশায়ই ভারতে গিয়েছিলেন শিলা। তবে তা স্বর্ণপদক হয়ে আসবে ভাবেননি শিলা। যশোর জেলার অভয়নগরের দরিদ্র পরিবারের এ তরুণীই দু’টি স্বর্ণ এনে দেন বাংলাদেশকে। আর তাতেই ২০১৬ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার এনে দেয় তাকে।

২০১৬ মৌসুমটা দারুণ কাটিয়েছিলেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বাংলাদেশের পক্ষে এক বছরে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। টি-টোয়েন্টিতে ওমানের, ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের ও টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তিনি। পাশাপাশি বছর জুড়েই সকল সংস্করণে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেন এ দেশসেরা ওপেনার।

হকি এক সময়ে দারুণ সম্ভবনাময় খেলা হলেও বিগত বছরগুলোতে হতাশাই উপহার দিচ্ছিলেন খেলোয়াড়রা। তবে এর মাঝেই ২০১৬ সালে আশরাফুল সিঙ্গাপুরে হয়ে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৬ এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন আশরাফুল। ফাইনালে দল হারলেও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন বিকেএসপির দশম শ্রেণির এ ছাত্র।

তবে সব দিক বিবেচনা করে নির্বাচকরা এগিয়ে রাখেন শিলাকেই। ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস এওয়ার্ড আজ সোমবার তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেরা ক্রীড়াবিদ শিলা ছাড়াও দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্যাটাগোরির সেরা খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, কোচ, সংগঠক, পৃষ্ঠপোষকদের।

দাপুটে জয় পেল ডি ভিলিয়ার্সের দক্ষিণ আফ্রিকা

ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স; ফিরেছেন অধিনায়ক হয়েই। তার নেতৃত্বে জয়ে ফিরলো টি-টোয়েন্টি সিরিজ হাতছাড়া করা দক্ষিণ আফ্রিকাও। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ডি ভিলিয়ার্সের দল।

পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জ পার্কে প্রথমে ব্যাট করে ৪৮.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তোলে লঙ্কানরা। জবাবে ৩৪.২ ওভারে মাত্র ২ উইকেট খুইয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়াদের শুভসূচনা এনে দেন দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা। ৪০ বলে ৪টি চারে ৩৪ রান করা ডি কক শিকারের পরিণত হন সান্দাকারের। গুনারত্নের বলে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দেন আমলা। বিদায়ে আগে ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় আমলা করেন ৫৭ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ফ্যাফ ডু প্লেসিস ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৬৮ বলে পাঁচটি চারের মারে ৫৫ রান করেন ডু প্লেসিস। আর অধিনায়ক ভিলিয়ার্সের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। তার ২৭ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ তিনটি চার ও একটি ছক্কায়।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। দলের স্কোরশিটে ১ রান যোগ হতেই ওপেনার ডিকওয়েলা ফেরেন সাজঘরে। ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায় বিদায় নেন আরেক ওপেনার ওয়েরাকোদিও।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেছেন কুশল মেন্ডিস। ৯৪ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ইনিংসটি সাজান তিনি। ধনঞ্জয় ডি সিলভার ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান। উইকেটরক্ষক দিনেশ চান্দিমাল করেন ২২ রান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের ভূমিকা পালনকারী উপল থারাঙ্গা ৬ রানের বেশি করতে পারেননি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার ইমরান তাহির। ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ওয়াইন পারনেলও নিয়েছেন তিন উইকেট। তবে ১০ ওভারে তিনি খরচ করেছেন ৪৮ রান। ক্রিস মরিস ঝুড়িতে জমা করেছেন ২টি উইকেট। আর একটি উইকেট দখলে নিয়েছেন কাগিসো রাবাদা।

‘ইংল্যান্ডের চেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ’

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক প্রায় ১৭ বছর। অথচ এতো বছরে ভারতের মাঠে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ হয়নি টাইগারদের। প্রথমবারের মতো ভারতের মাঠে আগামী ৯ জানুয়ারি একটি টেস্ট খেলবে মুশফিক বাহিনী।

আসন্ন বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে ঘিরে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা। আর বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের পারফরমেন্স বিবেচনায় ইংল্যান্ডের থেকে ভারতীয় কন্ডিশনে বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানছেন এই তারকা।

ঋদ্ধিমান সাহা বলেন, ` গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ দল বেশ উন্নতি করেছে। বেশ ক’জন ভালো ব্যাটসম্যান আছেন, যারা স্পিনের বিপক্ষে ভালো খেলেন। ওদের দলের দারুণ কিছু ভাল স্পিনার আছে। এর চেয়েও বড় ব্যাপার হল ভারত আর বাংলাদেশের কন্ডিশনের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই বললেই চলে। তাই বাংলাদেশ অন্তত ইংল্যান্ডের চেয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ হবে।`

তবে বাংলাদেশকে শক্ত প্রতিপক্ষ মানলেও নিজেদের সেরাটা দেবার কথা জানিয়ে ঋদ্ধিমান বলেন, ` ম্যাচে একটা কি দুটো ভালো পারফরম্যান্সই অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। দেশের মাটিতে খেলা বলে নিঃসন্দেহে আমরা এগিয়ে থাকবো। তবে আমাদেরকে নিজেদের সেরাটা খেলার কোনো বিকল্প নেই।`

পাকিস্তান সুপার লিগে খেলবেন মাহমুদউল্লাহ

পাকিস্তান সুপার লিগের দ্বিতীয় আসরে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সে নাম লেখালেন টাইগার তারকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাড হজের বদলি হিসেবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বেছে নিয়েছে দলটি। দলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
mahmudullah
নিজেদের টুইটার থেকে এক পোস্টে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স জানায়, `ব্র্যাড হজের বদলি হিসেবে বাংলাদেশের কার্যকরী অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দলে নিতে পেরে আমরা আনন্দিত।`

ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ থেকে শুরু হবে এবারের পিএসএল। একই দিন বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। হায়দেরাবাদে ভারত সফরের একমাত্র টেস্টের জন্য ব্যস্ত থাকবেন রিয়াদ। তাই পিএসেলের শুরুতে কোয়েটা পাবে না তাকে।

এদিকে মাহমুদউল্লাহ বাদে তামিম ইকবাল খেলবেন পেশোয়ার জালমিতে। একই দলে সাকিবের খেলার কথা থাকলেও তিনি থাকছেন না। তার পরিবর্তে খেলবেন শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান।

দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন ভারতীয় ক্রিকেটার

অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার রবিন্দ্র জাদেজা ও তার স্ত্রী রিভা। শুক্রবার রাতে গুজরাটের জামনগরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

ভারত দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজে খেলছেন না জাদেজা। তাই স্ত্রীকে নিয়ে নিজের গাড়িতে ব্যক্তিগত কাজে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জামনগরের বিদ্যাসাগর ইন্সটিটিউটের কাছে এক কিশোরী পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে স্কুটি চালিয়ে যাওয়ার সময় জাদেজার গাড়ির দরজায় ধাক্কা মারলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় জাদেজা বা তার স্ত্রীর কোনো চোট লাগেনি। তবে কলেজ ছাত্রী প্রীতি শর্মা সামান্য আঘাত পান। পরে জাদেজা দ্রুত ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

৬ বলে ৬ উইকেট

ক্রিকেটে বিরল এক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডেন পয়েন্ট ক্রিকেট ক্লাবের সদস্য ২৯ বছর বয়সী অ্যালেড ক্যারে। ৬ বলে তুলে নিলেন প্রতিপক্ষ দলের ৬ উইকেট। আর যা ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম।

বুধবার ভিক্টোরিয়ায় ব্যাল্লারাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে খেলা ছিল ইস্ট ব্যাল্লারাট ক্লাবের। বল হাতে অ্যালেডইস্ট ব্যাল্লাট তখন ৪০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাট করছে। প্রথম ৮ ওভারে উইকেট শূন্য অ্যালেড নিজের নবম ওভারে বল হাতে নিয়েই প্রতিপক্ষের ৬ উইকেট তুলে নেন। আর এতে অ্যালেডইস্ট ব্যাল্লাটের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৪০ রান।

এর আগে একই ওভারে ডাবল হ্যাট্রিকের এমন কৃতিত্ব অ্যালেডের আগে কোনো ক্রিকেটারেরই ছিল না। এমন কী বিশ্ব ক্রিকেটে কেউ আজ পর্যন্ত পরপর ৬ বলে ৬ উইকেট নিতে পারেননি। একই ওভারে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেয়ার নজির আছে লংকান তারকা লাসিথ মালিঙ্গার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দায়িত্বে মাশরাফিদের সাবেক কোচ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের নতুন কোচ হিসেবে যোগ দিলেন মাশরাফি-সাকিবদের সাবেক কোচ স্টুয়ার্ট ল। গত সেপ্টেম্বরে সিমন্সকে বরখাস্তের পর কোচের চেয়ারে কাউকে নিয়োগ দেয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। এবার তার স্থলাভিসিক্ত হলেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সাবেক কোচ এই কোচ।

ক্যারিবীয়দের দায়িত্ব পেয়ে ল বলেন, `এমন একটি সুযোগ পেয়ে আমি বেশ আনন্দিত। আশা করছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সঙ্গে চমৎকার কিছু সময় কাটাতে পারবো।`

২০১১ সালে জেমি সিডন্সের পদত্যাগের পর বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ল। তার অধীনেই বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মত এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। বাংলাদেশের পর অস্ট্রেলিয়া দলের ব্যাটিং কোচ পদেও কাজ করেন তিনি। এছাড়া গত বিপিএলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন তারকা এই কোচ।

এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের দায়িত্ব কাঁধে নিলেন ৪৮ বছর বয়সী অজি কোচ স্টুয়ার্ট ল। দুই বছরের চুক্তিতে ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ থেকে দলের সাথে যোগ দিবেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

হুমকির মুখে পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতলেই বাংলাদেশকে টপকে চলে যেতো র‍্যাংকিংয়ের সাত নম্বরে। তবে উল্টো ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে হুমকির মুখে পড়েছে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ।

দ্বাদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর বসবে ২০১৯ সালের ৩০ মে। তার আগে ক্রিকেট বিশ্বের চোখ থাকবে ৩০ সেপ্টেম্বরের র‌্যাংকিংয়ের দিকে। কারণ এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ সাতটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

এ সিরিজ হেরে আগের মতোই বাংলাদেশ থেকে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে তারা। তাই আট নম্বরে থাকা পাকিস্তান হুমকির মুখেই।

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিং:

১। অস্ট্রেলিয়া ১২০ (-)

২। দক্ষিণ আফ্রিকা ১১৬

৩। ভারত ১১২ (+১)

৪। নিউজিল্যান্ড ১১১

৫। ইংল্যান্ড ১০৭ (-)

৬। শ্রীলংকা ১০১

৭। বাংলাদেশ ৯১

৮। পাকিস্তান ৮৯ (-)

৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮৭

১০। আফগানিস্তান ৫২

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সিরিজ শ্রীলংকার

সাত মাস পর জাতীয় দলে ফেরাটা সুখকর হলো না এবি ডি ভিলিয়ার্সের। সিরিজ নির্ধারণই ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিলো শ্রীলংকা।

টস জিতে প্রথম ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৬ রানে মুটসের উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় উইকেটে হেন্ডরিকস ও ডি ভিলিয়ার্স জুটি যোগ করেন ৭১ রান। প্রায় সাতমাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেই ফিফটির দেখা পেলেন ডি ভিলিয়ার্স। অবশেষে ৪৪ বলে ৬৩ রান করে আউট হন এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।

এদিকে ডি ভিলিয়ার্সের বিদায়ের পর মিলার-বেহারদিয়েনরা দ্রুত ফিরে গেলেও, শেষ দিকে মোশেলার ঝোড়ো গতির ৩২ রানের ইনিংসে, ১৬৯ রানের সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৬ রানে থারাঙ্গার উইকেট হারায় শ্রীলংকা। এরপর চান্ডিমালও দ্রুতই ফিরে যান। তবে ডিকওয়েলার ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে লংকানরা। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নিয়ে তিনি আউট হন ৬৮ রানে। শেষদিকে সেকুগে প্রসন্নার অপরাজিত ৩৭ রানে, ৫ উইকেট হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

`ছুটির সময়েও নজরদারিতে থাকবে ক্রিকেটাররা`

রুবেল হোসেন, শাহাদাত রাজিব এবং সবশেষ আরাফাত সানি। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার দেশ ও দেশের বাইরে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের। আর বরাবরই শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বিসিবি, এবার আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। জানিয়ে দিয়েছেন অনুশীলন ক্যাম্প থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা যখন ছুটিতে থাকবেন তখনও তাদের কড়া নজরদারীতে রাখা হবে।

ক্রিকেটার রুবেল হোসেন গত বিশ্বকাপের আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার দায়ে। মামলা করেছিলেন এক উঠতি নায়িকা। তখনও সারা ক্রিকেট বিশ্বে ছিঃ ছিঃ পড়ে গিয়েছিল। রুবেলের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশি হাতকড়া পরলো ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন রাজীবের হাতে। অবশেষে আরেক নারীর করা মামলায় হাতকড়া পরলো আরাফাত সানির হাতে।

এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, `আমরা বাড়াতে বাড়াতে অনেক টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এতেও কাজ হচ্ছে না, আমাদের আরো কঠোর হতে হবে। অবশ্যই নিষিদ্ধ হবে। এই ধরণের খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ না হওয়ার কোন কারণ নেই, তবে প্রমাণ সাপেক্ষে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, এই ধরণের ক্রিকেটারদের দলে থাকার কোন সুযোগ নাই।`

তিনি আরও বলেন, `এখন থেকে অনুশীলন ক্যাম্প থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা যখন ছুটিতে থাকবেন তখনও তাদের কড়া নজরদারিতে রাখা হবে।`

পেছন থেকে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে : আরাফাত সানির মা

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানি। নাসরিন আক্তার নামের এক নারীকে বিয়ে করে তাকে তুলে না নেয়া, তার নামে ফেসবুক আইডি খুলে ছবি প্রকাশ করার ভয় দেখানো, হুমকি-ধামকি দেখানোর দায়ে সেই নারীই তার নামে মামলা দায়ের করেন মোহাম্মদপুর থানায়। গ্রেফতার হওয়ার পর সানির নামে যৌতুক নেয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা করেছেন ওই নারী। যে ঘটনায় একদিনের রিমান্ড শেষে সানি এখন কারাগারে।

তবে ছেলের বিরুদ্ধে নাসরিন আক্তার নামে ওই নারীর আনা অভিযোগ, বিয়ে- সবগুলোকেই মিথ্যা এবং ভুয়া বলে প্রথম থেকে দাবি করে আসছেন আরাফাত সানির মা নারগিস আক্তার। তিনি মনে করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেফতার করে জেলে নেয়া হয়েছে। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে তার ছেলে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ফিরে আসবে বলেও জানান।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে আরাফাত সানির মা বলেন, ‘যে অভিযোগ সানির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার ছেলের নামে অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে, অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সম্মান হানি করা হয়েছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।’

ওই মেয়ের সঙ্গে সানির পরিচয় ছিল কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তার মা বলেন, ‘আমি এটা বলতে পারবো না। পরিচয় ছিল নাকি ছিল না। পরিবারের কেউই এ সম্পর্কে জানতো না। তবে সে তো একজন খেলোয়াড়। ক্রিকেট তারকা। তার সঙ্গে তো কত মানুষেরই পরিচয় থাকতে পারে, সম্পর্ক থাকতে পারে। অনেক ভক্ত থাকতে পারে তার। বন্ধুত্বও থাকতে পারে। অনেক মেয়েও তার বন্ধু হতে পারে। সে হিসেবে হয়তো ওই মেয়ের সঙ্গেও সে রকম কোনো পরিচয় ছিল। কখনও হয়তো ভক্ত সেজে ছবিও তুলেছিল। এ রকম ছবি তো অনেকেই তোলে। এটাকেই এখন ওই মেয়ে ব্যবহার করছে আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য।’

বিয়ের দাবি করে যে ওই মেয়ে মামলা করলো! আরাফাত সানির মা বলেন, ‘এটা আমার ছেলের বিরুদ্ধে একটা গভীর চক্রান্ত।’

কেন এই চক্রান্ত? ‘কেন চক্রান্ত করা হচ্ছে এটা আমি জানি না। তবে আমার মনে হয় এটার পেছনে বড় কোনো স্বার্থ আছে, সে কারণেই হয়তো ষড়যন্ত্র করতেছে। আমার মনে হয়, ওই মেয়ে একা নয়। বড় কেউ হয়তো এর পেছনে জড়িত আছে।’

কারা জড়িত মনে করেন আপনি? ‘আমি কেমনে বলবো। আমি তো জানি না। তবে আমার ধারণা, মেয়েটার কোনো ঘনিষ্ঠ লোকই হয়তো এ কাজগুলো করাচ্ছে। না হয় মেয়েটা এত সাহস পেতো না, এত এগুতেও পারতো না। এটার পেছনে নিশ্চয় অন্য কেউ জড়িত। অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে।’

আইনি পথেই ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন নারগিস আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের চেয়ে আরও বড় বড় স্টারের নামে কত কিছু হচ্ছে। আমার ছেলে তো তাদের চেয়ে বড় নয়। এ কারণে, এটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। এখন আমাদের একটাই চিন্তা, যেভাবেই হোক ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করে আনা। বিষয়টা যেহেতু থানা-পুলিশে চলে গেছে। আদালতে উঠে গেছে, এখন আদালতে দাঁড়িয়েই আমরা এটা নিয়ে লড়াই করবো। আদালতেই সানিকে নির্দোষ প্রমাণ করবো।’

সানির বিয়ের কাবিননামা প্রকাশ হয়ে গেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি ওই মেয়েকে বিয়ে করেছেন। এসব সম্পর্কে সানির মা বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। তার বিয়ের কাবিননামা, মেয়ে যে অভিযোগ করেছে তার নাম দিয়ে ফেসবুকে আইডি খোলা হয়েছে এবং ছবি দেয়া হয়েছে, এগুলো সবই ভুয়া। এগুলো সব ওই মেয়ের নিজেরই বানানো। সানির নামে ফেসবুকে অনেক আইডি আছে। সবগুলোই কি সানির? তার নাম দিয়ে তো যে কেউ আইডি খুলতে পারে। আমার মনে হয় এই মেয়েই সবকিছু নিজে করেছে। এটা ওর ব্যবসা। এ ধরনের ভালো ভালো ছেলেদের ফাঁদে ফেলে সুবিধা আদায় করে তারা। আমার আশা, আমার ছেলে নির্দোষ হয়েই আবার আমার কাছে ফিরে আসবে।’

ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ দল

প্রায় দেড় মাস দেশের বাইরে থাকার পর ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ। তিনটি ওয়ানডে, তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার পর বুধবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় টাইগারবাহিনী। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ক্রাইস্টচার্চ থেকে অকল্যান্ড হয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন সাকিব-তামিমরা।

নিউজিল্যান্ডের সিরিজ খেলার আগে অস্ট্রেলিয়ায় ১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছিল বাংলাদেশ। তাই সব মিলিয়ে বেশ লম্বা সময় ধরেই দেশের বাইরে ছিলেন টাইগাররা। তবে ঢাকায় ফিরেই ফুরসত মিলছে না তাদের। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ভারত উড়ে যাবে তারা। ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলবে দলটি। একমাত্র টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে হায়দারাবাদে। তাই এর আগে ৩০ জানুয়ারি সব ক্রিকটারকে অনুশীলনে ডাকা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় দলের সঙ্গে কোচিং স্টাফদের বেশির ভাগই ঢাকা ফেরেনি। হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন রওনা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পথে। ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন ঢাকায় ফিরবেন ৩০ জানুয়ারি রাতে। আর কোচ চন্ডিকাও এর কাছাকাছি সময়েই ফিরবেন। দলের সঙ্গে কোচিং স্টাফদের মধ্যে শুধু সফরসঙ্গী হয়ে ঢাকা ফিরছেন পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।

ওয়ের্নারের রেকর্ডে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩৬৯

রীতিমত রান মেশিন হয়ে উঠেছে ওয়ার্নারের ব্যাট। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে গড়লেন নিজের ক্যারিয়ারের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আর তার রেকর্ডের দিনে ট্রেভিস হেডের সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৩৬৯ রানের পাহাড় গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ৩৭০ রান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ আমিরের প্রথম বলেই দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন ওয়ার্নার। তবে তা ফেলে দেন অধিনায়ক আজহার আলী। দিনের শুরুতেই পাওয়া এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি ওয়ার্নার। ১১ চার, দুই ছয়ে ৭৮ বলে সেঞ্চুরি করে যখন ব্যাট ওঠালেন, ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন এই ওপেনার। ব্যক্তিগত দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা নতুন করে লেখালেন।

এ মৌসুমে ওয়ানডেতে এটা তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ছয় সেঞ্চুরিতে এত দিন এককভাবে রেকর্ডটি ছিল কুমার সাঙ্গাকারার। আজকের পরে নিউজিল্যান্ডেও তিনটি ওয়ানডে খেলবেন ওয়ার্নার। রেকর্ডটি শুধুই নিজের করে নিতে পারেন অস্ট্রেলীয় ওপেনার।

সেঞ্চুরির পরও এগিয়ে যাচ্ছেন ওয়ার্নার। ওয়ার্নারের সামনে হাতছানি প্রথম অস্ট্রেলীয় হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করার। তবে ১৭৯ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। সাজঘরে ফেরার আগে  ট্রেভিস হেডকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম উইকেটে জুটিতে করেন ২৮৪ রান। আর মাত্র ২ রান করতে পারলেই নতুন রেকর্ড হতো এই জুটির।

এদিকে ওয়ার্নারের বিদায়ের পর দ্রুত বিদায় নেন অধিনায়ক স্মিথ (৪)। এরপর নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন হেড। হাসান আলির বলে সাজঘরে ফেরাড় আগে তার বাট থেকে আসে ১২৮ রান। আর শেষ দিকে ফকনার ১২ বলে ১৮ করলে ৩৬৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের পক্ষে হাসান আলি ও জুনায়েদ খান নেন দুটি করে উইকেট।

ফিল্ডিং কোচ হিসেবে জন্টি রোডসকে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিবি!

নিউজিল্যান্ডে সফরে স্বাগতিক দল ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইনজুরি। একের এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়া নিয়ে দারুণ চিন্তিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এছাড়া পুরো সফরে টাইগারদের ক্যাচ মিস ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ের ঘাটতি পোষাতে বিশেষজ্ঞ ফিল্ডিং কোচ দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি জন্টি রোডসকে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বিসিবি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার জন্টি রোডসের নিয়োগ সম্পর্কে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমরা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি বিষয়টা। জন্টি রোডসের মতো ফিল্ডিং কোচ নিয়ে আসছি বাংলাদেশে। ফিল্ডিং ও ফিটনেসের ওপর জোর দেয়া লাগবে। কেননা আমাদের অনেক খেলা রয়েছে সামনে। ভালোমানের ফিজিও ট্রেনারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। সবাই আসবে কি না বলতে পারছি না।’

নিউজিল্যান্ড সফরে ফুল চান্স ও হাফ চান্স মিলিয়ে ৮ ম্যাচে ২০টির বেশি ক্যাচ মিস করেছে বাংলাদেশ। তাই এ নিয়ে দারুণ দুর্ভাবনায় রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এছাড়া রান নিয়ে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছেন ক্রিকেটাররা। তাই ফিটনেস ঠিক রেখে ফিল্ডিংয়ের উন্নতি করার জন্যই রোডসের মতো বিশ্বমানের সাবেক এক ক্রিকেটারকে চাইছে বিসিবি।

‘পুরো সফরে ক্যাচ ড্রপ তো নিয়মিত ঘটনাই ছিল। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এতো সহজ সহজ ক্যাচ হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে- এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। টেস্টে রান আউট হওয়া, রান আউট থেকে বাঁচতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়া- এ বিষয়গুলোও খুব দুঃখজনক।’

বাংলাদেশে আসলেও নিয়মিত কোচ হিসেবে জন্টি রোডসকে হয়তো পাবে না টিম বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। স্বল্পকালীন সময়ের জন্য বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে হয়তো রোডস কাজ করবেন বলে জানান পাপন।

আরাফাত সানির নতুন ঠিকানা কেরানীগঞ্জের যমুনা সেল

নতুন ঠিকানায় আছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানি। মঙ্গলবার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর প্রিজনভ্যানে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

কেরানীগঞ্জ কারাগারের সহকারী জেলার সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আদালত থেকে সানিকে কারাগারে আনা হয়েছে। এখন তাকে যমুনা সেলে রাখা হয়েছে।

এর আগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু।

এদিন একদিনের রিমান্ড শেষে আরাফাত সানিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে (সিএমএম) হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদশর্ক ইয়াহিয়া।

রোববার সকালে আমিনবাজার এলাকা থেকে আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। সানির বিরুদ্ধে মোট দুটি মামলা করেছেন নাসরিন সুলতানা নামে এক তরুণী। একটি তথ্য-প্রযুক্তি ও অন্যটি যৌতুক আইনে।

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আরাফাত সানির সঙ্গে ওই তরুণীর ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। গত বছরের ১২ জুন আরাফাত সানি দুজনের ব্যক্তিগত ও ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ছবি ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। ছবি পাঠিয়ে আরাফাত সানি ওই তরুণীকে হুমকি দেন। পরে ২৫ নভেম্বর ওই তরুণীকে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে আবারও হুমকি দেন আরাফাত সানি।

ওই তরুণী বাদী হয়ে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে প্রথম মামলাটি করেন। পরদিন যৌতুক আইনে দ্বিতীয় মামলাটি করেন তিনি।

ভারত ও শ্রীলংকা সফর নিয়ে আশাবাদী মোস্তাফিজ

ক্যারিয়ারটা শুরুই হয়নি বলতে গেলে। উদয়ের লগ্নটা ছিল তার যেন এক বিস্ফোরণ; কিন্তু অতি ব্যবহারের ফলে দ্রুতই ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের কথাই বলা হচ্ছে। যে অমিত সম্ভাবনা নিয়ে উদয় হয়েছিল, তত দ্রুতই যেন হারিয়ে যেতে বসেছেন তিনি। বিস্ময়কর কাটার মাস্টারের ক্যারিয়ারটা এখন চূড়ান্তভাবে হুমকির সম্মুখিন। প্রায় এক বছরের কাছাকাছি, ইনজুরির কারণে ঠিকভাবে মাঠে নামাই হচ্ছে না মোস্তাফিজের।

গত বছর আইপিএল খেলে আসার পর ইনজুরির কারণে রিহ্যাবে থাকা মোস্তাফিজকে এক প্রকার জোর করেই পাঠানো হলো ইংল্যান্ডে সাসেক্সের হয়ে কাউন্টি খেলার জন্য। সেখানেই চূড়ান্ত ইনজুরির শিকার হলেন। এরপর বাম কাঁধে অস্ত্রোপচার করানো হলো। দেশে ফিরে প্রায় পাঁচ মাস বসে থাকলেন। রিহ্যাব করলেন। পুরোপুরি ফিট হওয়ার আগেই আবার তাকে পাঠিয়ে দেয়া হলো নিউজিল্যান্ড সফরে।

সিডনিতে দুটি প্রাক প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে নামানো হলো না ইনজুরির কারণে। এরপরে ফিটনেস পুরোপুরি না থাকার পরও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামিয়ে দেয়া হলো। দ্বিতীয় ওয়ানডে বাদ দিয়ে আবার নামানো হলো তৃতীয় ওয়ানডেতে। এরপর খেললেন আরও দুটি টি-টোয়েন্টি।

শেষ পর্যন্ত ইনজুরিটা আবার মাথাছাড়া দিয়ে উঠলো মোস্তাফিজের। এবার পিঠে ব্যথা। মেরুদণ্ড ছাড়িয়ে গেছে সেই ব্যথা। মোস্তাফিজকে ছিটকে দেয়া হলো ভারতে বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য একমাত্র টেস্ট ম্যাচের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক দল থেকেও।

যদিও নিউজিল্যান্ডে পুরো সফরেই দলের সঙ্গে রাখা হয়েছিল এই কাটার মাস্টারকে। দলের ফিজিও এবং চিকিৎসকরা তাকে রেখেছেন গভীর পর্যবেক্ষণে। ক্রাইস্টচার্চে শেষ টেস্টের পর আজ সকালে যখন টিম হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা হলো, মোস্তাফিজ দাবি করলেন- তিনি প্রাণপন চেষ্টা করছেন নিজেকে ফিট করে তোলার।

মোস্তাফিজ বলেন, ‘আমি প্রাণপন চেষ্টা করছি। নেটে বল করছি। গতকাল প্রথম টানা ছয় ওভার বল করেছি। তাতে খুব বেশি ব্যথা লাগেনি। ব্যথাটা হচ্ছে কোমরের ডান দিক ঘেষে ঠিক পিছনের দিকে।’

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের খুব বেশি বাকি নেই। নিজের ফিটনেস পুরোপুরি না থাকলেও মোস্তাফিজ আশাবাদী ভারত সফর নিয়ে। তিনি বলেন, ‘ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে আমি আশাবাদি মোস্তাফিজ।’

তবে তার কথা-বার্তা শুনে মনে হচ্ছে, নিজেকে শ্রীলঙ্কার সফরে শতভাগ ফিট দেখতেই বেশি আশাবাদী তিনি।

কোহলির প্রশংসায় তিন পাকিস্তানি

বিরাট কোহলিকে নিয়ে একের পর এক বন্দনা সাবেক ক্রিকেট কিংবদন্তিদের। ক’দিন আগেই সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন কোহলিকে ফুটবলের ক্রিশ্চিয়ানো রোনারদোর সঙ্গে তুলনা করেন। আরেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন তো তিন ফরমেটেই কোহলিকে সময়ের সেরা হিসেবে ঘোষণা করেন।

ব্যাট হাতে নিজে যেমন ধারাবাহিক, ম্যাচ উইনার হিসেবেও জুড়ি মেলা ভার কোহলির। সেই কোহলিকে নিয়ে এবার উচ্ছসিত প্রশংসা করলেন পাকিস্তানের তিন ক্রিকেট কিংবদন্তি- ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আখতার ও সাকলায়েন মুশতাক। পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামে কোহলিকে নিয়ে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানালেন ক্রিকেটের এই তিনি তারকা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ইতিমধ্যে ১৭টি সেঞ্চুরির মালিক কোহলি। যার অধিকাংশেই জয়ের আনন্দে ভেসেছে টিম ইন্ডিয়া। পরে ব্যাট করা কোহলি যেন প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি ভয়ংকর। বড় স্কোর তাড়া করে দলকে জয়ের আনন্দে ভাসাতে অনন্য কোহলি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ৩৫১ রান তাড়া করে জয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা ছিল কোহলির। দ্রুত উইকেট হারিয়েও তার ও কেদার যাদবে সেঞ্চুরিতে জয়ের বন্দরে পৌছে ভারত। যেটি ছিল পুরোপুরি ভাবে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর কোহলির প্রথম ম্যাচ।

দুর্দান্ত এই বিরাট কোহলি প্রশংসায় সাকলায়েন মুশতাকের বক্তব্য- ‘কোহলি মোস্ট এনারজিক্যাল পারসন।’ একসময় ইংল্যান্ডের স্পিন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা সাকলায়েনের দৃষ্টিতে কোহলি মাঠ ও মাঠের বাইরে- জিম ও প্র্যাকটিস সব যায়গাতেই খুব পরিশ্রমি। যে তার খাদ্যাভাস ও ঘুমের ব্যপারেও খুব নিয়মনিষ্ট। যে জিনিসগুলোই মূলতঃ তাকে সাফল্য এনে দিচ্ছে।

ওয়াসিম আকরাম মনে করেন, ভারতীয় তরুণ ক্রিকেটাররা তাদের সাবেক গ্রেটদের পরামর্শ খুব মনোযোগের সঙ্গে ফলো করার চেষ্টা করে যা তাদের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে। এসময় সুনীল গাভাস্কারে প্রশংসাও করেন আকরাম।

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডারসের সাবেক বোলিং কোচ আকরাম বলেন, গাভাস্কার সবসময়ই তরুণ ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা মেলে ধরেন, যা ভারতীয় নবীন ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে।

ঠিক এই যায়গাটায় পকিস্তানি ক্রিকটারদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন দেশটির সাবেক এই অধিনায়ক। একই সঙ্গে সাবেক ক্রিকেটারদেরও তরুণদের অনুপ্রাণিত করার ব্যাপারে ভূমিকা নিয়ে নিজের হতাশার কথা জানান। পকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফিটনেস সমস্যার কথা উল্লেখ করে আরকাম তাদের কোহলিকে অনুসরণ করার কথাও বলতে ভুলেননি।

রাতে দেশে ফিরছেন সাকিব-তামিমরা

লম্বা সফর ও পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শেষে আজ (বুধবার) ২৫ জানুয়ারী দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ক্রাইস্টচার্চ থেকে অকল্যান্ড হয়ে রাত ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন সাকিব-তামিমরা।

নিউজিল্যান্ডে লম্বা সময় কাটানোর পর দেশে ফিরেও মোটেই বিশ্রাম মিলবে না ক্রিকেটদের। আগামী ২ ফেব্রুয়ারী ভারত যাত্রা। একই মাসের ৯ তারিখ থেকে হায়দারাবাদে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু। তার আগে ৩০ জানুয়ারী সব ক্রিকটারকে অনুশীলনে ডাকা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় দলের সাথে কোচিং স্টাফদের বেশির ভাগই ঢাকা যাচ্ছেন না। হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন যাবেন অস্ট্রেলিয়া।  ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন ঢাকায় ফিরবেন ৩০ জানুয়ারি রাতে। আর কোচ চন্ডিকাও হয়তো এমন সময়েই রাজধানী ঢাকায় ফিরবেন। দলের সাথে কোচিং স্টাফদের মধ্যে শুধু সফরসঙ্গী হয়ে ঢাকা ফিরছেন পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।

পদ্ম পুরস্কার পাচ্ছেন ধোনি

খেলরত্ন, পদ্মশ্রীর পর এবার পদ্ম পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন সদ্য ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছাড়া ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ধোনি। বৃহস্পতিবার প্রজাতন্ত্র দিবসের ধোনিকে এ সম্মান দেওয়া হবে।

এদিকে ধোনির সঙ্গে পদ্ম পুরস্কার পেতে চলেছেন রিও অলিম্পিকে রুপা জয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা সিন্ধু এবং ব্রোঞ্জ জয়ী কুস্তিগীর সাক্ষী। পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় রয়েছেন রিও অলিম্পিকে অ্যাথলিটিক্সে চতুর্থ হওয়া দীপা কর্মকারও। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন এদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি। ১৯৫৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে অসাধারণ সাফল্যের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

এর আগে ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে খেলরত্ন পুরস্কার পেয়েছিলেন ধোনি। আর ২০০৯ সালে পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী।

‘আমি অনেক শিখতে পারবো’

সিনিয়রদের থেকে শিখেই ভালো কিছু করা সম্ভব! জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের থেকে সেই শিক্ষাটা পেলে খেলাটাকে আরো সুসজ্জিত করা যায়। সেই দীক্ষাই নিতে চান পারভেজ রসূল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেই দলে জায়গা পেয়েছেন রসূল। এবারই অবশ্য ভারত জাতীয় দলে টি-টোয়েন্টিতে ডাক পেলেন ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।

এর আগে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন রসূল। ৬০ রান দিয়ে দুটি উইকেটও লাভ করেছেন তিনি। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে নেয়ার সুযোগ হয়নি তার। ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে।

এবার জাতীয় দলে ফিরে সিনিয়র ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের থেকে শিখতে চান। রসূলের ভাষায়, ‘অশ্বিনকে কেন বিশ্রাম দেয়া হলো; সে বিষয়ে আমার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। যখন আমি প্রথম বিসিসিআইয়ের অফিস থেকে ফোন পেলাম, তখন ভেবেছিলাম যে প্রথমবারের মতো অশ্বিনের সঙ্গে ড্রেসিং রুমে থাকবো। তিনি এই সিরিজে নেই। তবে যারা আছেন, তাদের থেকে অনেক শিখতে পারবো।’

কোহলি বাহিনীকে অভিনন্দন জানালেন কুম্বলে

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নাটকীয়ভাবে হেরে গেছে ভারত। তবে গোটা সিরিজেই ছিল তাদের আধিপত্য। তৃতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৬ রান। কেদার যাদব দুর্দান্তভাবে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আউট হয়ে গেলে ভারত আর পেরে ওঠেনি। টিম ইন্ডিয়া পরাজিত হয় ৫ রানে!

এরপরও অবশ্য ওয়ানডে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ভারত। তিনটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব রান হয়েছে। তাই দুই দলের লড়াইটা হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। সেই লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে বিরাট কোহলি বাহিনী।

শিষ্যদের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি ভারতের কোচ অনিল কুম্বলে। কোহলিদের প্রশংসা করে টাইটারে কুম্বলের অভিনন্দন বার্তা, ‘এটা ভারতের দলগত সাফল্য। আমরা অসাধারণ জয় পেলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ খুশি ছেলেদের পারফরম্যান্সে। সিরিজ জয়ের জন্য দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

গুলশানে হচ্ছে আধুনিক খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম

রাজধানীর গুলশানে আধুনিক খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম নির্মাণ করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এ জন্য পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) তাদের গুলশানের ১০ দশমিক ৩৩ বিঘা জমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করেছে। জমির বিপরীতে বিজেএমসিকে এক হাজার ৮৫ কোটি টাকা দেবে মন্ত্রণালয়।

সোমবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিজেএমসির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদের কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করেন।

এ সময় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু উপস্থিত ছিলেন।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, আমরা বিজেএমসির লোকসান কমানোর চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে পাটক্রয় কেন্দ্র কমিয়েছি। দুর্নীতির বিভিন্ন ছিদ্রগুলো বন্ধ করেছি। গতবারের চেয়ে এবারের লোকসান অর্ধেকে নেমে আসবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিজেএমসিকে ৪৬০ কোটি টাকা দিয়েছি। বাকি অর্থ এ বছরের রিভাইস বাজেট ও আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রেখে আমরা মালিকানা হস্তান্তরে সহায়তা করবো। আশা করি এতে বিজেএমসি আর্থিক অসামর্থ্যতা কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হবে।

বিজেএমসির চেয়ারম্যান বলেন, বিজেএমসির শ্রমিকদের গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ ৭৫৫ কোটি টাকা বকেয়া আছে। এখন আমাদের দেনার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, জমি হস্তান্তর আমাদের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণেরই একটি প্রক্রিয়া। প্রাপ্ত টাকা আমাদের আর্থিক সংকট কাটাতে সহায়ক হবে।

গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুলশানে বিজেএমসির ১০ দশমিক ৩৩ বিঘা (২০৬ দশমিক ৭০৫ কাঠা) ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে সেখানে আধুনিক খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম নির্মাণের নির্দেশ দেন। এর আলোকেই জমি হস্তান্তর করলো বিজেএমসি।

‘স্লিপ ক্যাচিং নিয়ে ভাবতে হবে’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের ভরাডুবির সফরের ময়না তদন্ত করতে বসলে একের পর এক ক্যাচ মিস প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দেবে। একে তো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধ কন্ডিশন। যেখানে প্রতিকূলতার সীমা নেই।

তার ওপর যেভাবে টাইগার ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাত গলে ক্যাচ মাটিতে পড়েছে, তাতে হার না এসে ফল কি-ই বা হবে? কথা তো আছেই- ‘ক্যাচ মিস মানে ম্যাচ মিস।’

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে ‘পরাজয়ের পর পরাজয়ের’ সিরিজে শেষ সংবাদ সম্মেলনে তামিমের কণ্ঠে তাই সেই ক্যাচ মিসের আক্ষেপই ঝড়লো। তামিম বিশেষ করে উল্লেখ করলেন স্লিপ ক্যাচিং পজিশনের কথা। যেখানকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ডিং পজিশনেও ক্যাচ ছেড়েছেন টাইগাররা ফিল্ডাররা, যার প্রতিদান ম্যাচ হেরেই দিতে হয়েছে।

তামিম তাই বলতে বাধ্যই হলেন যেন, ‘বিশেষ করে স্লিপ ক্যাচিং নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের দেশে বল নীচে থাকে। আস্তে আসে। আমাদের বোলারদের সাফল্যের বেশ কিছু ক্ষেত্রও থাকে। কিন্তু এ এসব কন্ডিশনে তো আর অমন না। এখানে উইকেট পেতে অরেক পরিশ্রম করতে হয়। কাঠখড় পোহাতে হয়। সেখানে ক্যাচের পর ক্যাচ মিস হলে মুশকিল।’

তামিমের কণ্ঠে হতাশার সুর

দেশসেরা ওপেনার। দীর্ঘ দিন ধরেই বাংলাদেশের উদ্বোধনে ভরসার প্রতীক তিনি। নিউজিল্যান্ড সফরে তাই তার কাছ থেকে প্রত্যাশাটা অনেক বেশিই ছিল। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে পারফরম্যান্সের তেমন মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি!

নিউজিল্যান্ড সফরে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ৫৯ রানের। ওয়ানডে সিরিজে খেলেছেন সেই ইনিংসটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৬ রানের ইনিংসটি খেলেছেন ওয়েলিংটন টেস্টে। বাকি ম্যাচগুলো তেমন উল্লেখযোগ্য স্কোর করতে পারেননি; যা তার নামের পাশে বেমানানই বটে।

নিজের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নয় তামিম। খেলতে চেয়েছিলেন আরো লম্বা ইনিংস। কিন্তু পারেননি। সেই আক্ষেপ নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে তাকে। তাছাড়া যে ম্যাচটিতে তিনি নেতৃত্ব দিলেন। অর্থাৎ ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে দুই ইনিংসে করেছেন যথাক্রমে ৮ ও ৫ রান।

তাই তামিমের কণ্ঠে হতাশার সুর, ‘এমন একটা ইনিংসও ছিল না যেখানে আমি স্ট্রাগল করেছি। কোনো ইনিংসেই আমার খেলে সমস্যা হয়নি। আমি কোনো রকম দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম না। এক কথায় খেলতে গিয়ে এতটুকু অসাচ্ছন্দবোধও করিনি। কিন্তু কেন যেন তারপরও লম্বা ইনিংস খেলতে পারিনি।’

এখনো ভালো ফলের প্রত্যাশা বাংলাদেশের

বৃষ্টির কারণে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একটি দিন পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন বাকি আছে আর দুই দিনের খেলা। আর এ সময়ে ভালো খেলতে পারলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন টাইগারদের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সোহান বলেন, টেস্টের আরও দুই দিন বাকি আছে; দল হিসেবে ভালো খেলতে পারলে ইনশা আল্লাহ ভালো ফল হবে। দুই দিনে অনেক কিছুই সম্ভব। আমরা অন্তত ইতিবাচকভাবেই চিন্তা করছি।’

সফরেরর শুরুর ম্যাচ- প্রথম ওয়ানডেতে মুশফিক হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়লে নুরুল হাসন হোসানের সামনে ওয়ানডে অভিষেকের দরজা খুলে যায়। টেস্ট দলেও ছিলেন, তবে মুশফিকুর সুস্থ হয়ে ফেরায় প্রথম টেস্টে বিবেচনায় আসেননি। কিন্তু বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক ওয়েলিংটন টেস্টে বাউন্সারের আঘাতে ছিটকে পড়লে টেস্ট দলে অভিষেকের দরজাও খুলে যায় ডানহাতি তরুণ উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের জন্য।

অভিষেকে ১৭৩ মিনিট উইকেটে থেকে ৯৮ বলে ৪৭ রানের ইনিংস জানিয়ে দিয়েছে যথেষ্ট পরিণত হয়েই নুরুল পা রেখেছেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আঙিনায়। প্রথম টেস্ট খেলতে নামা আরেক ক্রিকেটার নাজমুল হোসেনের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে তাঁর ৫৩ রানের জুটিতে মনেই হয়নি হ্যাগলি ওভালে তখন দুই প্রান্তে দুজন অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান। উইকেটের পেছনেও এর মধ্যেই দুটি ক্যাচ নিয়েছেন নুরুল হাসান। দলের অবস্থাও যথেষ্ট ভালো। সব মিলিয়ে অভিষেক টেস্টটা এখন পর্যন্ত ভালোই কেটেছে নুরুল হাসানের।

এ নিয়ে সোহান বলেন, `আমাদের কন্ডিশনের চেয়ে এখানে উইকেট একটু ভিন্ন। স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করেছি। একটু দেখেশুনে খেলার ইচ্ছা ছিল, যেন সময় নিয়ে খেলতে পারি। অভিষেক টেস্টটা আল্লাহর রহমতে ভালোই হচ্ছে।`

ক্রিকেটার সানি একদিনের রিমান্ডে

তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে একদিন পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

আরাফাত সানিকে রোববার ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াহিয়া। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার সকালে তাকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার জানান, গত ৫ জানুয়ারি নাসরিন সুলতানা নামে এক তরুণী সানির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। নাসরিনের দাবি, সানির সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অন্তরঙ্গ কিছু ছবি আরাফাত সানির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব কুমার জানান, ৫ জানুয়ারি মামলার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে সানির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। এরপর রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরাফাত সানির মায়ের দাবি, তার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। এ বিষয়ে বিপ্লব কুমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতেই পারে। বিষয়টি আমলে নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখবো।

মোবাইলে পরিচয়, বিয়ে হয় ২০১৪ সালে

২০১০ সালে বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনের নম্বর আদানপ্রদান। এরপর নাসরিন সুলতানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ক্রিকেটার আরাফাত সানি। দীর্ঘ সময়ে অনেক ঘোরাঘুরির মধ্যে অন্তরঙ্গতাও বাড়ে দুজনের। প্রেমের টানে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর পরিবারের অজ্ঞাতে বিয়েও করেন তারা। কিন্তু মেয়েকে ঘরে তুলে নেননি আরাফাত সানি। বলে-কয়েও ঘরে উঠতে পারেননি নাসরিন।

এখানেই শেষ নয়। অনেকবার নাসরিন দুই পরিবারকে বিয়ের বিষয়টি জানিয়ে ঘরে তোলার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু আরাফাত সানি নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।

চলতি বছরের শুরুতে নাসরিনের পরিবার থেকে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া শুরু করে। কিন্তু আরাফাত সানির সঙ্গে আগেই বিয়ে হওয়ার বিষয়টি জানতো না পরিবার। এরপর নাসরিন সুলতানা আবারো সানিকে পারিবারিকভাবে ঘরে তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান। তাতেও কাজ না হওয়ায় বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করারও প্রস্তাব দেন নাসরিন।

কিন্তু আরাফাত সানি তা না করে উল্টো গত ৬ ডিসেম্বর নাসরিন সুলতানার নামে
ফেসবুকে একটি ফেক আইডি খুলে সেটা থেকে নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন। নানাভাবে হুমকিও দেয়া হয় তাকে। এরপরই পুলিশের আশ্রয় নেন নাসরিন সুলতানা।

মামলার এজাহার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার জানান, গত ৫ জানুয়ারি নাসরিন সুলতানা ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা (মামলা নং ১১) করেন। সানির সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। এর স্বপক্ষে প্রমাণস্বরূপ নাসরিক সুলতানা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও দিয়েছেন। তাছাড়া তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছি।

প্রাথমিক তদন্তে সানির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার পরই রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ডিসি বিপ্লব।

সানিকে এখন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াহিয়া জাগো নিউজকে বলেন, সানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডে চাওয়া হবে।

তবে আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানায় নিয়ে আসার পর মা নার্গিস আক্তার থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশের যোগসাজশে নাসরিন আফারাত সানিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সানির বিরুদ্ধে করা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আগে নাসরিনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।

আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে : সানির মা

তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ার আরাফাত সানিকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার মা নারগিস আক্তার।

আরাফাত সানি গ্রেফতার হওয়ার পর মোহাম্মদপুর থানায় সাংবাদিকদের এ কথা  বলেন তিনি।

সানির মা বলেন, ‘ওই মেয়ে পুলিশকে ঘুষ দিয়েছে। পুলিশ এবং  ওই মেয়ের যোগসাজশে আরাফাত সানিকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার ছেলে নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের আগে পুলিশ ঘুষ খেয়েছে কি না সেটি তদন্ত করা উচিৎ।’

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকারের কাছে সানির মায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতেই পারে। বিষয়টি আমলে নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখবো।

তখন তিনি আরো জানান, গত ৫ জানুয়ারি নাসরিন সুলতানা নামে এক তরুণী সানির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। নাসরিনের দাবি, সানির সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অন্তরঙ্গ কিছু ছবি আরাফাত সানির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব কুমার জানান, ৫ জানুয়ারি মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে সানির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। এরপর রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাব্বির জোড়া আঘাত

কামরুল ইসলাম রাব্বির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ। ক্যাচ মিসের মহড়ায় শনিবার নিজেদের প্রথম ইনিংসের শুরুটা দারুণ করেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছে টাইগাররা।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে আবারও বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৮ রান। ২৯ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন প্রথম টেস্টের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ টম লাথাম। আর নতুন ব্যাটসম্যান রস টেইলর ব্যাটিং করছেন ০ রানে।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে কিউইদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৭০

কামরুল ইসলাম রাব্বির জোড়া আঘাতে দারুণ শুরুর পর চাপে পরেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ কাটিয়ে উঠতে লড়ে যাচ্ছে তারা। টম লাথাম ও রস টেইলরের দৃঢ়তায় মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে ২ উইকেটে ৭০ রান করেছে স্বাগতিকরা।

ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে যাচ্ছেন টম লাথাম। ৭৪ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৩৮ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। তার সঙ্গী রস টেইলর অপরাজিত আছেন ১০ রানে।

এর আগে শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

লাথামকে ফেরালেন তাসকিন

কামরুল ইসলাম রাব্বির করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে নিউজিল্যান্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ সামলে টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছিলেন টম লাথাম ও রস টেইলর। তবে লাথামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের খাটো লেন্থের বল আড়াআড়ি খেলতে চেয়েছিলেন লাথাম। বলে ব্যাটে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে। তবে আউট হওয়ার আগে কার্যকরী ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১১ বলে ১১টি চারের সাহায্যে এ রান করেছেন তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৫৪ রান। ৮১ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন রস টেইলর। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন হেনরি নিকোলস।

এর আগে শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

টেলরকে ফেরালেন মিরাজ

লাথামের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন কিউই ব্যাটসম্যান রস টেলর। মিরাজের বলে ব্যক্তিগত ৭৭ রান করে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন কিউই এই ব্যাটসম্যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৭৭ রান। হেনরি নিকোলস ৯ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন মিশেল সান্টানার।

এর আগে কামরুল ইসলাম রাব্বির করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে নিউজিল্যান্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ সামলে টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছিলেন টম লাথাম ও রস টেলর। তবে লাথামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের খাটো লেন্থের বল আড়াআড়ি খেলতে চেয়েছিলেন লাথাম। বলে ব্যাটে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে। তবে আউট হওয়ার আগে কার্যকরী ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১১ বলে ১১টি চারের সাহায্যে এ রান করেছেন তিনি।

শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

আগের দিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল দুপুরের পর বৃষ্টি হবে। আকাশে মেঘ আর কনকনে ঠাণ্ডায় শরীর জমে গেলেও বৃষ্টি আসেনি। আজও আবহাওয়ার রিপোর্টে দুপুরের পর বৃষ্টি হতে পারে বলা আছে। এবার সত্যি সত্যি বৃষ্টি চলে আসল। স্থানীয় সময় বিকেল ৫ টা ৪০ মিনিটে ঝির ঝিরে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে গেল। আম্পায়াররা বেলস তুলে ফিরে গেলেন নিজের কক্ষে। আর টাইগার ফিল্ডার এবং দুই কিউই ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস ও সাউদি সাজঘরে।

আর মুহূর্তের মধ্যে মাঠ কর্মীরা পিচের আশপাশ কভারে ঢেকেও ফেললেন। তারপরও আকাশের যা অবস্থা তাতে আজ আর খেলা হবে কিনা সন্দেহ ছিল। কারণ আলো কমে গেছে। সে সংশয় সত্য। এই মাত্র ঘোষণা আসল আজকের দিনের খেলা শেষ। আগামীকাল রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট আগে সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে।

এদিকে বোলিংয়ে ফিরেই নিজের ঝলক দেখালেন সাকিব। নয় বলের মধ্যে সাজঘরে ফেরালেন কিউইদের তিন ব্যাটসম্যানকে। তবে এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। আর এতেই দিন শেষে ২৯ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করলো বাংলাদেশ। এর আগে লাথাম ও টেলরের বিদায়ের পর টাইগারদের সামনে সুযোগ ছিল খেলায় ফেরার। তবে সান্টনারকে সঙ্গে নিয়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন নিকোলস। অবশেষে এই দুই জনের ৭৫ রানের সেই জুটি ভাঙেন সাকিব। এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সান্টনারকে (২৯) সাজঘরে ফেরান টাইগার এই অলরাউন্ডার। এরপর দ্রুত ওয়াটলিং (১) ও গ্র্যান্ডহোমকে (০) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান সাকিব। ফলে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬০ রান।

এদিকে কামরুল ইসলাম রাব্বির করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে নিউজিল্যান্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ সামলে টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছিলেন টম লাথাম ও রস টেলর। তবে লাথামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের খাটো লেন্থের বল আড়াআড়ি খেলতে চেয়েছিলেন লাথাম। বলে ব্যাটে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে। তবে আউট হওয়ার আগে কার্যকরী ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১১ বলে ১১টি চারের সাহায্যে এ রান করেছেন তিনি। লাথামের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি কিউই ব্যাটসম্যান রস টেলর। মিরাজের বলে ব্যক্তিগত ৭৭ রান করে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান কিউই এই ব্যাটসম্যান।

শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

সকালটা ছিল ঝলমলে রোদ। দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলা। বিকেলে টুপটাপ বৃষ্টি। শরীর জমিয়ে দেওয়া হিম বাতাস; ‘টিপিক্যাল’ নিউ জিল্যান্ড আবহাওয়া। কিন্তু হ্যাগলি ওভালে তখন শুধুই বাংলাদেশ! ২২ গজে চলছে সাকিব-রাজত্ব। কে বলবে, কন্ডিশন বিরুদ্ধ আর উইকেট সিমিং ও বাউন্সি! যেন বাংলাদেশেরই আপন আঙিনা।

তিন পেসার আগুন ঝরালেন দিনভরই। বিবর্ণ প্রথম স্পেলের পর মেহেদী হাসানও মিরাজও উজ্জল। বোলাদের এমন দিনেই কিনা প্রায় উধাও হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ বিকেলে হয়তো ভাবলেন, এবার কিছু না করলেই নয়!

ক্রাইস্টচার্চের আকাশের কান্না যখন শুরু; সাকিবের হাত ধরেও এল ছোটখাটো উইকেট বৃষ্টি। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে এলোমেলো করে দিলেন কিউই ব্যাটিং। বিকেল পর্যন্ত সমতায় থাকা দিনটি হয়ে গেল শুধুই বাংলাদেশের।

বৃষ্টির বেগ বাড়ায় থামল বাংলাদেশের ছন্দ। নিউ জিল্যান্ড তখন ৭ উইকেটে ২৬০। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে পিছিয়ে ২৯ রান। ১৯ ওভার আগে শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

দিনটি বাংলাদেশের, সাক্ষী স্কোরকার্ড। তবে স্কোর তো আর সবসময়ই বলতে পারে না পুরোটা! এদিনও যেমন স্কোরকার্ডে লেখা নেই, ভালো দিনটি হতে পারতো অসাধারণ, যদি না পড়তো একের পর এক ক্যাচ। যদি না ভুল করতেন আম্পায়ারও। কে জানে, হয়ত বেশ একটা লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশ শুরু করতে পারত দ্বিতীয় ইনিংস।

সাকিব ঝলকের আগে দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। এখানেও বোলিং ফিগার বলছে না পুরোটা। বলছে না বাংলাদেশের তিন পেসারই কতটা ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের।

অসাধারণ প্রথম স্পেলে দিনের সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে পেতে পারতেন গোটা দুই-তিন উইকেট।

আরেকপাশে আবার শুরু মিরাজের স্পিনে এবং যথারীতি ক্যাচ মিস। জিত রাভাল ২ রানে বেঁচে যান স্লিপে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১২ রানে বেঁচে যান আরও দুবার। একবার হতে পারতেন রান আউট। পরে স্লিপে সহজ ক্যাচ হাতছাড়া সাব্বিরের।

তাসকিনের দারুণ বোলিং দেখেও আরেকপাশে মিরাজকে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলা যায়। কামরুল ইসলাম রাব্বি এসেই সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন বটে, আবার প্রশ্নটিও উচ্চকিত করেছেন।

তিন বার বেঁচে গিয়েও রাভাল ফিরেছেন ১৬ রানে। কামরুল আগের ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই নিয়েছিলেন উইকেট। এবার দ্বিতীয় বলে। এক বল বেশি লাগল বলেই কিনা, পুষিয়ে দিলেন জোড়া শিকারে। দ্বিতীয়টি আবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিকার। অফ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়া নিখুঁত আউট সুইঙ্গারে বিদায় কেন উইলিয়ামসন।

১ রানে রস টেইলরকেও ফেরাতে পারতেন কামরুল। ক্যাচ ছেড়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ। রুবেল উইকেট না পেলেও বল করছিলেন দারুণ। ততক্ষণে থিতু হওয়া টম ল্যাথামকে নাড়িয়ে দেন বাউন্সারে বল হেলমেটের গ্রিলে লাগিয়ে।

ল্যাথাম ও টেইলর মিলে তবু কাটিয়ে দেন প্রথম সেশনের বাকিটা। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে একটু যেন কমলো বোলিংয়ের ধার। তাতে আলগা কিউইদের ফাঁস। তৃতীয় উইকেটে ল্যাথাম ও টেইলরের ১০৬ রানে জুটি।

উইকেট নেওয়ার মত অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি করেও না পাওয়া তাসকিন শেষ পর্যন্ত পেলেন আপাত নিরীহ এক বলে। অফ স্টাস্পের বাইরে কাট করতে গিয়ে একটু বাড়তি লাফানো বলে ৬৮ রানে আউট ল্যাথাম।

শুরুতে জীবন পাওয়া টেইলর আবার ৭৫ রানে বেঁচে যান মিরাজের বলে কামরুলকে ক্যাচ দিয়ে। তৃতীয় কিউই ব্যাটসম্যান হিসেবে পূর্ণ করেন ৬ হজার টেস্ট রান। তবে মার্টিন ক্রোর ১৭ সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি এদিনও। সেই মিরাজই ফিরিয়েছেন তাকে ৭৭ রানে।

থিতু দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কাও কিউইরা সামলে উঠেছিল হেনরি নিকোলস ও মিচেল স্যান্টনারের জুটিতে। বেশ কবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে দুজন গড়েন ৭৫ রানের জুটি। মনে হচ্ছিলো ভালোভাবেই লিড নিয়ে নেবে নিউ জিল্যান্ড। তখনই দৃশ্যপটে সাকিব। আর তিনি নায়কের ভূমিকায় মানে রাজত্বও বাংলাদেশের!

প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দিন শেষে ৩২ রানে ৩ উইকেট! চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা বুঝি এমনই। গোটা দিনটা নিজের করে নিতে লাগে মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭১ ওভারে ২৬০/৭ (রাভাল ১৬, লাথাম ৬৮, উইলিয়ামসন ২, টেইলর ৭৭, নিকোলস ৫৬*, স্যান্টনার ২৯, ওয়াটলিং ১, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, সাউদি ৪*; তাসকিন ১/৬৪, মিরাজ ১/৫১, রুবেল ০/৫৪, কামরুল ২/৪৮, সাকিব ৩/৩২, সৌম্য ০/১০)

সাকিবের ব্যাটিং দেখতে পছন্দ করেন রিচার্ড হ্যাডলি

শুধু নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বললে ভুল বলা হবে। বিশ্ব ক্রিকেটেরই এক অমুল্য রতন তিনি। জীবন্ত কিংবদন্তী। স্যার রিচার্ড হ্যাডলি। এক সময়ে বিশ্ব কাঁপানো এই অলরাউন্ডারের মুখে বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের উচ্চসিত প্রশংসা।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের প্যাভিলিয়নে বসে যখন একঝাঁক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সামনে বাংলাদেশেরেই এক ক্রিকেটারের উচ্চসিত প্রশংসা করছিলেন হ্যাডলি, তখন বাংলাদেশি হিসেবেই গর্বে বুক ফুলে উঠছিল আমাদের।

দীর্ঘ সময় র‌্যাংকিংয়ে অলরাউন্ডারের শীর্ষ আসনটা নিজের করে রেখেছিলেন সাকিব। শুধু তাই নয়, সাকিবই বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই এক সঙ্গে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আসনটি দখল করে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব, যিনি বিশ্বের সবগুলো ফ্রাঞ্চাইজি লিগেরই পছন্দের তালিকায় থাকেন এবং প্রায় সবগুলো লিগেই খেলেছেন তিনি।

এক সময়ের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্যার রিচার্ড হ্যাডলি অবশ্যই খোঁজ-খবর রাখেন সাকিব আল হাসানের। খবর রাখলেও সাকিব সম্পর্কে নিজের মনের ভাব হয়তো সেভাবে প্রকাশ করার সুযোগ হয়নি তার কখনও। এবার সুযোগ পেলেন। হ্যাগলি ওভালে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর পরই প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন তিনি। বললেন অনেক কথা।

সব কিছুর মধ্যে আলাদাভাবে উঠে আসলো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের কথা। সাকিব আল হাসান সম্পর্কে বলতে গিয়ে হ্যাডলির মুখে শুধু প্রশংসাই ভেসে উঠেছে। এক কথায় তিনি জানিয়ে দিলেন, ‘সাকিব ইজ অ্যা হিরো। তার ব্যাটিং দেখতে আমি খুব পছন্দ করি।’

ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কতটা কার্যকর সাকিব আল হাসান সে কথা স্পষ্টই উঠে এলো হ্যাডলির মুখ থেকে, ‘সাকিব ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত এখন। আমারও মনে হয় সে অত্যন্ত ভালোমানের খেলোয়াড়। শুধু ভালোমানেরই নয়, সে সত্যিই খুব কার্যকর একজন ক্রিকেটার।’

সাকিবের ব্যাটিং নাকি স্যার রিচার্ড হ্যাডলিকে খুব টানে। তার ব্যাটিং দেখতে তিনি খুব পছন্দ করেন। হ্যাডলি বলেন, ‘সাকিব হলেন সত্যিকার নায়ক। তার ব্যাটিং দেখতে আমি খুব পছন্দ করি। তার হাতের বাহারি মার, দৃষ্টি নন্দন স্ট্রোক প্লে এবং হাত খুলে খেলা আমাকে খুব টানে।’

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের প্যাভিলিয়নে বসে তিনি খুব মনযোগ দিয়ে দেখেছেন সাকিবের ব্যাটিং। সেটা উল্লেখ করতেও ভুললেন না হ্যাডলি। তিনি বলেন, ‘ওয়েলিংটনে সাকিব অসাধারণ খেলেছে এবং তার অভিজ্ঞতাও অনেক। তার রেকর্ড দেখলেই বোঝা যায়, সে কত বড় মাপের ক্রিকেটার।’

শচীনকে ছাড়িয়ে গেলেন যুবরাজ

পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে শেষবার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন প্রায় ছয় বছর আগে। এছাড়া চলতি সিরিজের আগে শেষবার একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিন বছর আগে, ২০১৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

ইংল্যান্ড সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার স্কোয়াডে ৩৫ বছর বয়সী যুবরাজের নাম থাকা নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৫ রানে আউট হওয়ার পর হয়তো সমালোচকরা হয়তো ওত পেতেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই জবাবটা যুবি দিয়ে দিলেন ব্যাট হাতেই।

বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান বৃহস্পতিবার কটকে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে করলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি, খেললেন ১২৭ বলে ২১টি বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কায় ১৫০ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। এই ইনিংস খেলার পথে অনন্য এক রেকর্ডও গড়েছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের হিসেবে শচীন টেন্ডুলকারকে টপকে গেলেন যুবি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭ ইনিংসে ১৪৫৫ রান করেছিলেন শচীন। দুই ইনিংস কম খেলে যুবরাজ নামের পাশে যোগ করলেন ১৪৭৮ রান।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চলছে তারকা পতন

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শুরুতেই এবার চমক আর চমক। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। যেখানে বলতে গেলে একক আধিপত্য সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচের। গত ৯ বছরে ৬টি শিরোপার মুকুট উঠেছে তার মাথায়। সর্বশেষ টানা দুইবার। সেই নোভাক জকোভিচই কি না বিদায় নিয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে।

বিশ্বের দুই নম্বর তারকাকে ৭-৬, ৫-৭, ২-৬, ৭-৬ এবং ৬-৪ সেটে হারিয়ে টেনিস বিশ্বকেই চমকে দিয়েছেন ১১৭ নম্বর তারকা  উজবেকিস্তানের অনামী তারকা, ডেনিস  ইস্তোমিন। অথচ এই টেনিস খেলোয়াড়ই কি না অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সুযোগ পেয়েছিলেন ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে। অথচ তিনিই কি না ঘটিয়ে দিলেন গ্র্যান্ড স্লামের ইতিহাসে অন্যতম বড় চমকটির।

বৃহস্পতিবার নিজের প্রিয় গ্র্যান্ড স্ল্যামে জকোভিচের মুখে যেন অমাবস্যার অন্ধকার। যে রড লেভার এরিনা তাকে অসংখ্য শিরোপার সামনে পৌঁছে দিয়েছে, সেই প্রিয় মঞ্চই হয়ে উঠল তার সামনে দুঃস্বপ্নের। দ্বিতীয় রাউন্ডেই শেষ হল গতবারের চ্যাম্পিয়নের সফর। চার ঘণ্টা আটচল্লিশ মিনিটের রদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে সার্বিয়ান টেনিস মহাতারকার মাথা তখন নিচু। এভাবে এত দ্রুত বিদায় নিতে হবে, কোনোভাবেই ভাবেননি তিনি।

একদিকে যখন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জকোভিচের শোকে কাতর, তখন আরেকটি ইন্দ্রপতন। মহিলা এককে শুধুই গ্ল্যামার নয়, পারফরম্যান্স দিয়েও প্রায় সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন কানাডিয়ান টেনিস তারকা ইউজেনি বুশার্ড। তিনি অবশ্য বিদায় নিয়েছেন তৃতীয় রাউন্ড থেকে। আজ দিনের শুরুতেই আমেরিকান অখ্যাত তারকা কোকো ভ্যান্ডেওয়েগের কাছে ৬-৪, ৩-৬ এবং ৭-৫ সেটে হেরে যান বুশার্ড।

আগেরদিন তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছিলেন বিশ্বের নাম্বার ওয়ান তারকা অ্যান্ডি মারে, স্প্যানিশ তারকা রাফায়েল নাদাল ও মহিলা টেনিসে নাম্বার ওয়ান সেরেনা উইলিয়ামস।

ছেলেদের এককে তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে মারকোস বাগদ্যতিসকে ৬-৩, ৬-১, ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন ২০০৯ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী স্প্যানিশ তারকা নাদাল। সহজেই তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন নাম্বার ওয়ান তারকা অ্যান্ডি মারে। রাশিয়ান অ্যান্ডি রুবেলভকে ৬-৩, ৬-০ এবং ৬-২ সেটে পরাজিত করেন এই বৃটিশ তারকা। যদিও আজ চতুর্থ রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন স্যাম কুয়েরির।

নারী এককে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গেছেন ছয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। লুসি সাফারোভাকে ৬-৩, ৬-৪ গেমে সহজেই হারিয়েছেন মার্কিন এই তারকা।

২৮৯ রানেই থেমে গেলো বাংলাদেশের ইনিংস

মুশফিক নেই। ইমরুল এবং মুমিনুল হকও নেই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে ভাঙা-চোরা একটি দল। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের সবুজ উইকেটে টস হেরে ব্যাট করারই আমন্ত্রণ পেলো বাংলাদেশ। কিউই পেস ব্যাটারির সামনে তবুও বলতে গেলে বুক চিতিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

তবুও কিউই পেসারদের তোপ সামলে প্রথম পুরোটা শেষ করতে পারলো না তামিম অ্যান্ড কোং। যার ফলশ্রুতিতে প্রথম দিন শেষ হওয়ার ৫ ওভার আগ পর্যন্ত ২৮৯ রান তুলতেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। এরপরই দিনের খেলারও সমাপ্তি ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি জাগভাল শ্রীনাথ।

ইমরুলের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকারের ব্যাটই (৮৬) কিছুটা হেসেছিল। এছাড়া প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানের ব্যাটও (৫৯) কথা বলেছে। সঙ্গে মুশফিকুর রহীমের পরিবর্তে টেস্টে অভিষিক্ত নুরুল হাসানের (৪৭) দৃঢ়তা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসটা ছিল মোটামুটি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

ওয়েলিংটন টেস্টেই বাংলাদেশ দল পরিণত হয়েছিল মিনি হাসপাতালে। ইনজুরির শিকার হয়েছেন মুশফিকুর রহীম, ইমরুল কায়েস এবং মুমিনুল হক। তিনজনই দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। মুশফিক প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ১৫৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাথায় বলের আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। ইমরুল ব্যাট হাতে ভালো করতে না পারলেও মুশফিকের পরিবর্তে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেন। তামিমের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে ওপেন করতে নেমে জ্বলে উঠতে পারতেন তিনি।

মুমিনুল তো ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংসে কিউই পেসারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। তার ৬৪ রানের ইনিংসটি ছিল সাহসে ভরপুর। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। ক্রাইস্টচার্চেও ছিলেন ভরসার অন্যতম প্রতীক। কিন্তু পাঁজরের হাঁড়ে বল লেগে তিনিও ইনজুরির শিকার।

এ তিনজনের পরিবর্তে অভিষেক হলো নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহানের। শান্ত দলের সঙ্গে ছিলেন ডেভেলপমেন্ট পারফরমার হিসেবে; কিন্তু কী ভাগ্য- একের পর এক অন্যদের ইনজুরি শান্তর মাথায় টেস্ট ক্যাপই পরিয়ে দিলো। সঙ্গে দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার এবং পেসার শুভাশিস রায়ের পরিবর্তে রুবেল হোসেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেননি তামিম ইকবাল। দলীয় ৭ রানের মাথায় টিম সাউদির বলে উইকেটের পেছনে বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন তিনি। তামিমের আউটের পর সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ মিলে ভালো একটা জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের ৩১ রানের জুটিটা ভেঙে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। উইকেটের পেছনেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন তার নামের পাশে লেখা ২৪ বলে ১৯ রান।

তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দু’জন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। দু’জনই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে দলীয় ১৬৫ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার।

যদিও নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুল লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। খেলেছেন ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। মাত্র ১৭ বলের ব্যবধানে ধ্বস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

ট্রেন্ট বোল্টের পরের ওভারেই দলীয় ১৭৭ রানের মাথায় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির রহমান। ব্যাটিং অর্ডারে দুই ধাপ উন্নতিকে কোনো কাজেই লাগাতে পারেননি তিনি। আউট হলেন মাত্র ৭ রান করে। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ের পর কিউই পেসারদের বেশ কিছুক্ষণ রুখে দাঁড়াতে পেরেছিলেন দুই অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহান। প্রায় ২০ ওভার মোকাবেলা করেছে এ দু’জনের জুটি। রান করেছে ৫৩টি। তবে কিউই পেসারদের একের পর এক বাউন্সার আর শট বলের সামনে এক পর্যায়ে হার মানতে বাধ্য হন সদ্যই কৈশোর শেষ করা শান্ত। ৫৬ বল মোকাবেলায় ১৮ রান করে ফিরে যান তিনি।

শান্তর তুলনায় উইকেটে অনেক বেশি দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হন নুরুল হাসান সোহান। ৯৮ বলে তিনি খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। সোহানের জন্য আফসোস অভিষেকেই হাফ সেঞ্চুরির একেবারে দোরগোড়ায় গিয়ে পেলেন না। ট্রেন্ট বোল্টের ক্রমাগত শট বলেই ধরা খেলেন তিনি। মাথা বরাবর আসা বলকে পুল করতে গিয়েছিলেন সোহান। ফল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে।

তার আগেই অবশ্য মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েগনারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ১০ রান করে।  ২৬ বল খেলে ৮ রান করে আউট হন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পরই আউট হন সোহান। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বি আর রুবেল হোসেন মিলে ইনিংসের সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৬ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রাব্বি আউট হলে ১৬ রানে অপরাজিত থেকে যান রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশের ১০টি উইকেটই নেন কিউই পেসাররা। টিম সাউদি নেন ৫টি। ৪টি নেন ট্রেন্ট বোল্ট। বাকি উইকেটটি নিলেন নিল ওয়েগনার।

২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত শ্রীলংকার অধিনায়ক ম্যাথিউজ

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর শ্রীলংকার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই দাবি জানাতে শুরু করেন, নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হোক ম্যাথিউজকে।

তীব্র সমালোচনার মুখেও টলে যায়নি লংকান ক্রিকেট বোর্ড। দেশটির বোর্ড সভাপতি থিলান সুমাথিপালা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্তই শ্রীলংকার অধিনায়ক থাকছেন ম্যাথিউজ। শুধু বোর্ড সভাপতিই নন, বোর্ডের অন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং জাতীয় নির্বাচক কমিটির সভাপতি সনাথ জয়সুরিয়াও পাশে দাঁড়িয়েছেন ম্যাথিউজের। তারাও বোর্ড সভাপতির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

গত বুধবারেই ম্যাথিউজের ব্যাপারে কথা বলার জন্য মিডিয়ার মুখোমুখি হন সুমাথিপালা। সেখানেই তিনি জানান, তার মতামত আগেই বোর্ডের অন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাচক সনাথ জয়সুরিয়ার সঙ্গে বিনিময় করেছেন। সবাই তার মতকে স্বাগত জানিয়ে ম্যাথিউজকে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্বে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ড এবং নির্বাচক কমিটি টেস্ট সিরিজের পর ইতিমধ্যেই একটি রিভিউ বৈঠকের আয়োজন করেছে অধিনায়ক ম্যাথিউজ, কোচ গ্রাহাম ফোর্ড এবং ম্যানেজার রনজিৎ ফার্নান্দোর সঙ্গে। টেস্ট পরাজয়ের পর ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে কতটা ভালো করা যায়, এ বিষয়ে আলোচনাই ছিল ওই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনেই সুমাথিপালা ম্যাথিউজকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার গুঞ্জনকে উড়িয়ে দেন। জানিয়ে দেন, এসব কেবলই গুঞ্জন। আমরা আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্তই তাকে নেতৃত্বে রেখে দিতে যাচ্ছি।

সৌম্যর প্রথম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি

দ্বিতীয় টেস্টে খেলারই কথা ছিল না তার। বরাতটা খুলে গেল ইমরুল কায়েসের ইনজুরিতে। আর সে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন সৌম্য সরকার। ইতোমধ্যেই তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। তবে শুরুতেই তামিমকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ।

তবে একপ্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে দলকে চাপমুক্ত করেন সৌম্য। দারুণ সব শট খেলে মাত্র ৫৪ বলেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ৭টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫৮ বলে ৫২ রান করেছেন সৌম্য। আর বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১২ রান। সৌম্যর সঙ্গী সাকিব আল হাসান আছেন ৩২ রানে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

শুরুতে তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। এরপর দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১১ রান। উইকেটে আছেন অভিষেক হওয়া দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান।  ৭ রান নিয়ে ব্যাট করছেন শান্ত। আর সোহান আছেন ২৫ রানে।

অথচ তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাকিব ও সৌম্য। দু’ জনেই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

এর আগের ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্লিপে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির। তবে নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুলার লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৮৬ রানের ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

এর আগে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক তামিম ইকবালকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লেগ সাইডে রাখা টিম সাউদির বাউন্সার তামিম ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে তা ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে।

তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও। দলীয় ৩৮ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

কিউইদের শর্ট বল নিয়ে অভিযোগ নেই তামিমের

ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হেরেছে ৭ উইকেটে। অথচ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত বড় স্কোর করার পর হার নেই কোনো দলেরই। ম্যাচের চতুর্থ দিন যখন ৫৩৯ রানে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস, তখনও কেউ ভাবেনি পরাজয়ের পথে মুশফিকুর রহিমের দল।

কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম দিন বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় ইনিংসে গুড়িয়ে দিতে নিউজিল্যান্ড প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল বাউন্সারকে। এমনিতেই উপমহাদেশের ক্রিকেট মানেই স্পিন কিংবা ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের কথা ভাবলে মিরপুর, ফতুল্লা, চট্টগ্রাম কিংবা খুলনা-বগুড়া; বাউন্স বলতে তো এসব জায়গায়  কিছুই নেই। সাকিব-মুশফিকরা যতই ১০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলুক না কেন, এই জায়গাটায় তাই দুর্বলতা থেকেই যায়। যেমন অ্যালিস্টার কুক-জো রুটরা সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান হয়েও বাংলাদেশে গিয়ে স্পিনের সামনে নতজানু হয়ে ফিরে আসেন।

উইকেট কন্ডিশন তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কৌশলগত এক খেলা। বাংলাদেশ টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিশ্বাস করেন সেটাই। আগামীকাল ক্রাইস্টচার্চে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ইনজুরি আক্রান্ত মুশফিকের পরিবর্তে বাংলাদেশেকে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ জানিয়ে দিলেন, কিউই পেসাররা আগের ম্যাচে যে হারে বাউন্সার ছুঁড়েছে; সেটি নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

‘নাহ, তা নিয়ে আমার ও আমাদের কোনোই অভিযোগ নেই। সব দেশ তার নিজের শক্তি-সামর্থ্য ও কন্ডিশনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করে। নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররাও করছে। তারা আমাদের শর্ট ডেলিভারি দিয়ে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এটা তাদের গেম প্ল্যানের অংশ।’- সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন তামিম।

তামিম ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শুধু কিউই ফস্ট বোলারদের কথা বলা কেন, আমরা যদি বুঝি জানি- অমুক ব্যাটসম্যান শর্ট বলে দুর্বল। আমরাও তো তার বিপক্ষে শর্ট বল বেশি করবো। তাকে বিব্রত করতে এবং কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিতে চাইবো। এটা দোষের কিছু নেই। বরং কার্যকর কৌশল। এটা সবাই করে।’

তামিম উদারহণ টেনে বলেন বাংলাদেশের স্পিন-বান্ধব উইকেটের কথা, ‘আমরা ঘরের মাঠে স্পিনিং ট্র্যাকে খেলি। সেখানেও তো বল প্রচুর টার্ন করে। কই কেউই কি তখন বলে; উইকেটে এত টার্ন কেন? কাজেই তারা আমাদের বিপক্ষে শর্ট বল করায় কোনো অভিযোগ নেই। এটা নিছক কৌশলেরই অংশ।’

কী করবে তামিমের ভাঙাচোরা দল?

আসল নাম ‘হ্যাগলি পার্ক নিউ।’ বিশাল এলাকা জুড়ে। তার দক্ষিণাংশে ‘হ্যাগলি পার্ক সাউথ।’ আয়তনে এই পার্ক  ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তিনগুণ হবে। শুধু আকার আয়তনে বড় নয়। গাছপালাও অনেক বেশি। হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ হঠাৎ মনে হবে সবুজ বন।

চারিদিকে গাছপালায় ভরা। খালি সবুজ আর সবুজ। একদম পরিষ্কার। ঝকঝকে। তকতকে। একটু ময়লা-আবর্জনার লেশমাত্র নেই। তারই একটা অংশে ক্রিকেট মাঠ। কোনো গ্যালারি নেই। শুধু প্রমাণ সাইজের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড। সেটাই একমাত্র স্থায়ী অবকাঠামো।

আর সব অস্থায়ী। খেলার আগে তৈরি করা। প্রেসবক্স বহুদূরে, আগের দিন পর্যন্ত মিডিয়ার সবার কোনো জায়গার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে আজ চোখে পড়লো। সাইট স্কিনের পাশে সাদা তাবু খাটানো। জানা গেল- সেটাই প্রেস বক্স।

মাঠের দক্ষিণ দিকে উঁচু মাটির ঢিবি। ফ্লাডলাইট নেই। দর্শক ধারণ ক্ষমতা হাজার দশেক তো হবেই। খুব বেশি দিন হয়নি এ মাঠে টেস্ট হচ্ছে। এইতো তিন বছরেরও কম সময় আগে; ২০১৪ সালের ২৬-২৯ ডিসেম্বর। নিউজিল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে হ্যাগলি পার্ক ওভালের টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু। সর্বশেষ টেস্ট হয়েছে মাত্র দু`মাস আগে; ১৭-২০ নভেম্বর, ২০১৬।

স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের সাথে খেলেছে পাকিস্তান। এছাড়া এই মাঠে প্রথম ওয়ানডে হয়েছে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি; স্কটল্যান্ড-কানাডার মধ্যে। আর শেষ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড; এইতো ২৪ দিন আগে। এই মাঠে এ পর্যন্ত তিনটি টেস্ট হয়েছে; যার দুটিতে জিতেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড আর একটিতে ব্ল্যাক-ক্যাপসদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে অজিরা- সেটা ২০১৬ সালের ২০-২৪ ফেব্রুয়ারি।

এছাড়া ২০১৪ সালের ২৬-২৯ ডিসেম্বর কিউইরা ৮ উইকেটে হারায় লঙ্কানদের। খেলা শেষ হয়ে যায় চার দিনে। আর ২০১৬ সালের ১৭-২০ নভেম্বর পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারায় কিউইরা। এছাড়া এই মাঠে নারীদের তিনটি টেস্ট ও ছয়টি ওয়ানডে হয়েছে।

এই মাঠে প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ হয় ১৮৬৭ সালে। ক্যান্টাবারি ক্রিকেট দলের সাথে ওটাগো একাদশের ম্যাচ হয়েছিল প্রথম। এছাড়া প্লাঙ্কেট শিল্ডের প্রথম ম্যাচ হয় ১৯০৭ সালে। মাত্র দুই মাস আগে এই মাঠে পাকিস্তান পর্যুদস্ত হয় চরমভাবে। মাত্র তিন দিনে শেষ হয়ে যায় ম্যাচটি।

১৭ নভেম্বর বৃষ্টির কারণে কোন খেলাই হয়নি। বাকি তিন দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। তিন দিনে দু`বার অলঅাউট হয় পাকিস্তান। চার কিউই পেসার টিম সাউদি (২+৩ = ৫) , ট্রেন্ট বোল্ট (২+৩ = ৫) , ওয়েগনার (০+ ৩) ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম (৬+ ১ = ৭) ২০ উইকেটের সবগুলো ভাগ করে নেন।

হার মানা পাকিস্তানিরা যে ১২ উইকেটের পতন ঘটায়, তার ১১ টি জমা পড়ে পেসারদের পকেটে। মোহাম্মদ আমির ৩+১ =৪, সোহেল খান (৩+০) , রাহাত আলি (৪+০) ও অকেশনাল লেগস্পিনার আজহার আলি (১) উইকেট ভাগ করে নেন। মোদ্দাকথা, উইকেট একদম পেস-বান্ধব। এক কথায় পেসারদের স্বর্গ।

ইতিহাস জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে হ্যাগলি ওভালকেই ধরা হয় নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে পেস বোলিং সহায় উইকেট। সেখানে বাংলাদেশ খেলবে স্মরণাতীতকালের সবচেয়ে ভাঙ্গাচোরা ও দুর্বল দল নিয়ে। নিয়মিত অধিনায়ক ও মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা মুশফিকুর রহীম, ওপেনার ইমরুল কায়েস এবং টেস্টে দলের সবচেয়ে ভালো ও ধারাহিক পারফরমার মুমিনুল হক নেই। ইনজুরির কারণে তিনজনই খেলতে পারবেন না।

তাদের ছাড়া কাল এই হ্যাগলি ওভালে মাঠে নামবেন টাইগাররা। তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর সাকিব আল হাসান ছাড়া ব্যাটিং লাইন-আপের সবাই নবীন। সাব্বির রহমান অবশ্য প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করে সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন।

সৌম্য সরকার আবার টেস্টে সুযোগ পেয়েছেন। উইকেটকিপার কাম মিডল-অর্ডার নুরুল হাসান সোহান এবং নাজমুল হোসেন শান্ত- দুই তরুণের অভিষেক হচ্ছে। বোলিং লাইন-আপ মোটামুটি অপরিবর্তিতই আছে। দেখা যাক, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এমন ভাঙাচোরা দল কী করে?

অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে পাকিস্তান

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৪ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। পার্থে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬৩ রান করেছে সফরকারীরা।

এ প্রতিবেদন লেখা আগ পর্যন্ত ৩৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ উইকেটে হারিয়ে ১৭১ রান। স্মিথ ৬৭ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব ৫৩ রানে ব্যাট করছেন।

পাকিস্তান দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেছেন বাবর আজম। তার ১০০ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ ৪টি চার ও ১টি ছক্কায়। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ রান করেছেন ওপেনার শারজিল খান। ৪৭ বল মোকাবেলা করে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট লাভ করেন জস হ্যাজেলউড। ট্রাভিস হেড নেন ২টি উইকেট। প্যাট কামিন্স ও বিলি স্টেনলেক দখলে নেন ১টি করে উইকেট।

ধোনি-যুবরাজের জোড়া সেঞ্চুরি

অভিজ্ঞতার ধার একেই বলে। লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ানরা ভালো ব্যাটসম্যান। বিরাট কোহলিও রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে; কিন্তু কোনো এক ম্যাচে এরা খারাপ করতেই পারেন। কারণ এটাই ক্রিকেট, এটাই প্রতিদ্বন্দ্বীতা।

সে ক্ষেত্রে দল তো আর পিছিয়ে পড়তে পারে না। কারণ, দলে যে আরও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন! ভারতীয় দলে এখন সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কে? চোখ বন্ধ করে সবাই উত্তর দেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং যুবরাজ সিংয়ের কথা। এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারই অবশেষে বাজিমাত করলেন।

কটকের বারাবতি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টপ অর্ডারে তিন ব্যাটসম্যানের দ্রুত বিদায়ে যে বিপর্যয়ে পড়েছিল ভারত, সেখান থেকে দলকে শুধু উদ্ধারই করেননি, অসাধারণ দুটি সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন যুবরাজ সিং এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি।

ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকসের বিধ্বংসী তোপের মুখে ২৫ রানের মধ্যেই একে একে উইকেট হারিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান এবং বিরাট কোহলি। এমন বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন যুবরাজ আর ধোনি। দু’জন মিলে গড়লেন ২৫৬ রানের বিশাল এক জুটি।

বুড়ো বয়সে এসেও যে ব্যাটের ঝাঁঝ মোটেও কমেনি সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন যুবরাজ সিং। একই সঙ্গে সমালোচকদেরও একহাত নিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি পূরণ করলেন ৯৮ বলে। এরপর বাকি ২৯ বলে আরও তাণ্ডব বইয়ে দিলেন তিনি ইংলিশ বোলারদের ওপর। শেষ পর্যন্ত ১২৭ বলে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। ২১টি বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কায় এই রান করেন তিনি। এর আগে সর্বোচ্চ ১৩৯ রান করেছিলেন তিনি। আউট হন সেই ক্রিস ওকসের বলেই।

যুবরাজের সঙ্গে ধোনি এতবড় জুটি গড়লেন, কিন্তু সেঞ্চুরি করবেন না তা কী করে হয়। সুতরাং, মহেন্দ্র সিং ধোনিও সেঞ্চুরি করলেন। ক্যারিয়ারে ১০ম সেঞ্চুরি পূরণ করার ক্ষেত্রে ধোনি খেলেন ১০৬ বল। ৯টি বাউন্ডারি এবং ৩টি ছক্কার মার রয়েছে সঙ্গে। এ রিপোর্ট লেখার সময় তিনি অপরাজিত ১২১ রানে। এই দু’জনের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ভারতও রয়েছে বিশাল স্কোরের পথে। ৪৭ ওভারেই তারা তুলে নিয়েছিল ৩৩৭ রান।

‘ফল দেখে মনে হলেও আমরা তত খারাপ খেলিনি’

ভাষা শুনে শ্লেষ মাখা প্রশ্ন মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে ভদ্রলোক শেষ টেস্টের আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছে খুব কায়দা করে বাংলাদেশ শিবিরের নাড়ির খবর জানতে চাইলেন। শেষ টেস্টের অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছে সে কিউই সাংবাদিকদের প্রশ্ন, ‘আচ্ছা পুরো সিরিজে একটি ম্যাচও জিততে পারেননি। নিশ্চয়ই হতাশ। এ হতাশা আপনাকে কতটা পোরাচ্ছে? শেষ টেস্টে নেতৃত্ব দেবার আগে আপনি কি হতাশ?

বাঘা বাঘা ফাস্ট বোলারের শর্ট অফ লেন্থের ডেলিভারি, ইয়র্কার আর অফস্টাস্পের আশপাশে পড়ে আরও বেড়িয়ে যাওয়া ডেলিভারি যাকে সহজে টলাতে পারে না, সেই তামিম কি আর ঐ প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হবেন? তামিমকে যারা চেনেন, জানেন, তারা বলবেন না। কিছুতেই না। তামিম সহজে ভেঙে পরার পাত্র নন। তামিমের মূল কথা হলো, খালি চোখে সব ম্যাচ হারতে দেখলেও ম্যাচের চালচিত্র মন দিয়ে খেয়াল করলে পরিষ্কার ফুটে উঠবে পারফরমেন্স তত খারা হয়নি। বরং বেশ কিছু খেলার কিছু কিছু সময় পারফরমেন্স বেশ ভাল ছিল। সুযোগ ও সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে ।

তাই তো কণ্ঠে এমন জবাব। ‘হ্যা ফলাফলের দিকে তাকালে হয়তো মনে হবে আমরা সব ম্যাচ হেরেছি। পারিনি একবারের জন্যও। কিন্তু একটু মন দিয়ে খেয়াল করলেই দেখবেন আমরা মোটেই খারাপ খেলিনি। এই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে প্রথম ওয়োনডে থেকে শুরু করে পুরো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং সবশেষে প্রথম টেস্ট, আমরা হয়তো এর কোনটাই জিতিনি। কিন্তু প্রায় সব ম্যাচের কোন না কোন সময় বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছি। কখনো কিউদের চেয়ে এগিয়েও ছিলাম। জয়ের সুযোগ ও সম্ভাবনাও তৈরি করেছি। হয়ত ফলটা আমাদের পক্ষে আসেনি এই যা। বলতে পারেন, জয় ছাড়া অনেক কিছুই করে দেখিয়েছি। আমার মনে হয় ৬/৭ বছর পর নিউজিল্যান্ডের অনভ্যস্ত ও প্রতিককূল কন্ডিশনে এসে যতটা ভালো খেলা যায় আমরা চেষ্টা করেছি। আমাদের টিম পারফরমেন্সে আমি সত্যিই খুশি। গর্বিতও।

হ্যা এটা সত্য, আমাদের মাঠে হয়ত কিছ ভুল ত্রুটি হয়েছে। কিন্তু ভালো খেলার ইচ্ছেতে কোনই কমতি ছিল না।  মানসিকতাও ছিল বেশ ইতিবাচক। মোদ্দা কথা আমার মনে হয় হতাশায় আচ্ছন্ন হবার মত কিছু আছে। বরং শেষ টেস্টে মাঠে নামার আগে আমাদের সঙ্গে কিছু ইতিবাচক বিষয়ও আছে। যা ভাল খেলার রসদ হিসেবেই কাজ করবে।

উইকেট নিয়ে মাথাব্যথা নেই তামিমের

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে প্রেসের সামনে আসার ঠিক আগের মুহূর্তে তাকে দেখা গেল কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের সাথে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পিচ দেখছেন। এবং কথা বলতে বলতে সাজঘরে ফেরত আসছেন। সেখান থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রেস মিটে চলে আসা। খুব স্বাভাবিকভাবেই পিচ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই কে একজন শুরুর দিকে জানতে চাইলেন, কিছুক্ষণ আগে দেখা গেলো আপনি আর কোচ পিচ দেখে কথা বলতে বলতে আসছেন। কেমন দেখলেন উইকেট?

এটা কি ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভেল চেয়েও সিমিং কন্ডিশন? এত সিরিয়াস প্রশ্নের ভাবলেশহীন জবাব দিতে গিয়ে তামিম পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, তার ক্রিকেট অভিধান ও অনুভবে পিচ নিয়ে চিন্তা ও ভাবনা খুব কম। উইকেট নিয়ে তার মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। তাই তো সোজা সাপটা কথা তামিমের, `আমি আসলে উইকেট নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতে চাই না। আমার ক্রিকেট অভিধান ও দর্শনে উইকেট নিয়ে চিন্তা কম থাকে। এখন দল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েও বলছি আমার দর্শন হচ্ছে আমি আগে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা স্থির করবো। নিজের সেরাটা কিভাবে উপহার দেয় যায়, তা নিয়ে ভাববো। সবার পরে চিন্তা করি উইকেট নিয়ে। কারণ আমি খুব ভালো করেই জানি উইকেট নিয়ে মাথা ঘামানোর চেয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারাই কথা ভাবাই আসল কাজ। আমরা যদি নিজেদের কাজ গুলো ঠিক মত করতে পারি তাহলে উইকেট ততটা বড় বাঁধা হবে না। আর উইকেট নিয়ে বেশি মাথা ঘামালাম, প্রচুর কথা বাত্যা বলা হোল  কিন্তু কাজের কাজ করতে পারলাম না, তাহলে লাভ কি হলো?`

সবচেয়ে বড় কথা হলো সবাই জানেন বোঝেন নিউজিল্যান্ড কেন, কোন দেশেই ওয়ানডে আর টেস্টে এক ধরনের উইকেট হয় না। আমরা এই মাঠে ওয়ানডে খেলে গেছি। তখন যেমন উইকেট ছিল, এখন টেস্টে হয়ত এমন থাকবে না। এটাই স্বাভাবিক। এসব ভেবেই আমরা মাঠে নামবো। এই পিচে মাত্র তিন মাস আগে পাকিস্তান তিনদিনে হেরে গেছে।

অবচেতন মনে কিংবা সিরিয়াসলি আপনার বা আপনাদের চিন্তায় কি তা কাজ করছে? তামিমের সাহসী জবাব, ‘নাহ ওসব নিয়ে ভাবি না। আমাদের খেলাটা খেলার কথাই ভাবছি। আমরা আগে ভাগেই হারবো না জিতবো তা ভাবতে যাব কেন?  তিন দিনে না চার দিনে খেলা শেষ হবে? এসব সাত পাঁচ নেতিবাচক চিস্তা ভাবনায় না ডুবে আমরা নিজেদের সেরাটা উপহার দেয়ার কথা ভাবছি। হারের চিন্তায় নয় অবশ্যই জয়ের কথা ভেবেই মাঠে নামবো। আমরা বিশ্বাস করি আমরা আমাদের সামর্থ্যগুলো যদি সঠিক ও সময় মত প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে অবশ্যই একটা খুব ভাল সম্ভাবনা থাকবে।

কঠিন সংকটে অধিনায়কত্ব পেয়েও চাপে নেই তামিম

সত্যিই জীবন কত অদ্ভুত! বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবন কাহিনি ও পলাশির করুণ পরিণতি নিয়ে দেশ বরেণ্য চলচ্চিত্রকার প্রয়াত খান আতা যে চলচ্চিত্র নির্মান করেছিলেন, তাতে একটি জীবনধর্মী সঙ্গীত ব্যবহৃত হয়েছে। যার প্রথম দুই চরণ হলো ‘নদীর এ কূল ভাঙে এ কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা, সকালে আমিররে ভাই ফকির সন্ধ্যে বেলা।’

সত্যিই জীবনটা এমন উত্থান-পতনের খোলা মঞ্চ। ক্রিকেটারদের জীবনটাও ঠিক তেমন। আজ হিরো তো কাল খলনায়ক। আজ পাদ প্রদীপের আলোয়। কাল অন্তরালে। মাত্র ২৪ ঘন্টা সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেও এমন ওঠা নামার পালা। বুধবার দুপুরের সঙ্গে আজকের দুপুরের কি বিস্তর ফারাক! আসুন একটু জেনে নেই কি সেই পার্থক্য।

দৃশ্যপট ১. ১৮ জানুয়ারী সকাল। ঘড়ির কাটা দুপুর একটা স্পর্শ করেনি। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের ঠিক মাঝখানে মানে পিচের আশপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন দু`জন মানুষ। দুজনারই পরনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ট্র্যাক স্যুট। একজন কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। আরেকজন মুশফিকুর রহীম। তারা মিনিট পাঁচ সাতেক পিচের আশপাশে দাঁড়িয়ে যে উইকেটে খেলা হবে, তা দেখে (যদিও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে পিচের অর্ধেকেরও বেশি অংশ ঢাকাই ছিল) কথা বলতে বলতে ড্রেসিং রুমে আসলেন।

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের চলতি সিরিজ কভার করতে যে সব সাংবাদিক এখন ক্রাইস্টচার্চে তাদের বড় অংশ, ঐ দৃশ্য অবলোকন করলেন। তখন কানাঘুষা শুরু হয়ে গেলো। মুশফিকুর রহীম তো ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ। হয়তোবা ওয়েলিংটন হাসপাতালের চিকিৎকসদের প্রটোকল পরামর্শ সত্বেও ঠিক টেস্টে মাঠে নেমে পড়বেন। তাই বুঝি উইকেট দেখে কোচের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আসলেন সাজঘরে।

টিম বাংলাদেশে সবচেয়ে সিরিয়াস ক্রিকেটারের নাম মুশফিক। অনুশীলনে তার আগে কেউ আসতে পারে না। আবার সবার প্র্যাকটিস শেষ হয়ে যাবার পরও নিজের গরজে বাড়তি প্র্যাকটিসটাও মুশফিকই করেন বেশি। তাই বলাবলি হল, মুশফিক যেমন সিরিয়াস ক্রিকেটার। ইনজুরি তাকে গ্রাস করতে নাও পারে। হয়তো খেলেও ফেলতে পারেন টাইগার টেস্ট অধিনায়ক। মুশফিক বলেই এ কথাটা কম বেশি সবার মনেই গেঁথে গেল। সবাই বলা বলি করলেন, মুশফিক যেহেতু, তাই খেলেও ফেলতে পারেন।

কিন্তু আজ দুপুর পৌনে একটার দিকে ঠিক তার বিপরিত দৃশ্য দেখেই ভুল ভাঙলো সবার। বাংলাদেশের প্র্যাকটিস ছিল দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে। ঠিক পৌনে একটার কয়েক মিনিট পর হ্যাগলে ওভালে ঢুকলো বাংলাদেশের টিম বাস। বাস থেকে নেমে সিড়ি বেঁয়ে হ্যাগলো ওভালের ড্রেসিং রুমে ওঠার আগে ঠিক কালকের মত দু`জন মানুষ সোজা মাঠের মাঝখানে পিচ যেখানে, ঠিক সেখানে চলে গেলেন। পিচ দেখে পাঁচ থেকে সাত মিানট কথাও বললেন। তারপরও কথা বলতে বলতে সাজঘরের পথে পা বাড়ালেন।

সময়কালের পার্থক্য মোটে ২৪ ঘন্টা। দৃশ্যপট এক। কিন্তু পিচের মাঝখানে কথা বলা দুই চরিত্রের রদ বদল। একজন হাথুরুসিংহে। অন্যজন তামিম ইকবাল। টেস্ট শুরুর ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে যখন কোচ তামিম ইকবালকে নিয়ে পিচ দেখতে গেছেন। এবং তার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে বলতেই সাজঘরে। ঠিক তখনই বোঝা গেল , মুশফিক আর দৃশ্যপটে নেই। ইনজুরি তাকে আবারো গ্রাস করেছে। কাল থেকে যে টেস্ট শুরু, তার অধিনায়ক আর মুশফিক নন। তামিম ইকবাল।

কোচ হাথুরুসিংহে সোজা সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেলেন। আর তামিম আসলেন অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সামনে। মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামকে বললেন, ‘রাবিদ ভাই প্রেস কনফারেন্সের প্রস্তুত নিন। তখনই জানা হয়ে গেলো, বোঝাও হলো, শুক্রবার থেকে যে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে, তাতে বালাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

সেই ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু। প্রায় ম্যাচেই একটা দৃশ্য চোখে পড়ছে। সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সম্ভাবনার দরজাও খুলছে। সে পথে হেঁটে খানিকটা পথ এগিয়েও যাচ্ছে। তারপর একটা পর্যায়ে গিয়ে কেমন যেনসব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কাজের কাজটি হচ্ছে না। এই না হবার পালা চলছেই।

দেখতে দেখতে সফর শেষ হবার সময়ও যে ঘনিয়ে এলো। এইতো ২৪ ঘন্টা পর শুরু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এ ম্যাচের আগে ইনজুরি ঘিরে ধরেছে চারদিক থেকে। নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকু রহীম ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যথার কারণে বাইরে। ওপেনার ইমরুল কায়েসও ঊরুর ব্যথায় সাইড বেঞ্চে।

পড়ন্ত বিকেলের খবর, মুমিনুল হকও একাদশের বাইরে ছিটকে পড়েছেন। এমনিতেই সাফল্য ধরা দিচ্ছেন। ‘সোনার হরিণ’ হয়ে পড়েছে। তার সাথে আবার ইনজুরির ভয়াল থাবা। জয় ধরা না দিলেও ওয়েলিংটন টেস্ট শুরুর আগেও টিমের যে আত্ববিশ্বাস ছিল, ক্রিকেটাররা যতটা চাঙ্গা-উৎফুল্ল ছিলেন, তাতে ভাটা এসেছে। একটা গুমোট ভাব চলে এসেছে। এরকম একটা ভাঙা চোরা দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

তিনজন অপরিহার্য্য পারফরমার নেই। মুশফিক নেই, যিনি একাধারে ‘ থ্রি ইন ওয়ান। ’ কীপার। অধিনায়ক এবং মিডল অর্ডারের অন্যতম স্তম্ভও। তার পাশাপাশি নেই ওপেনার ইমরুল কায়েসও। এমনিতেই সাফল্য ধরা দিচ্ছে না। সম্ভাবনার দরজা খুলছে শুধু। কিন্তু সাফল্যের মঞ্চে আর ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। তার সঙ্গে এক ঝাঁক নিয়মিত ও অপরিহার্য পারফরমার ছাড়া খেলতে হবে।

এ দায়িত্ব প্রাপ্তি কতটা সুখের? নাকি বাড়তি চিন্তা-টেনসন ও চাপের? তামিম কি চাপে? প্রশ্ন উঠলো। প্রেস কনফারেন্সে এ সাংবাদিরকর প্রশ্ন ‘আপনি কি চাপে? মানসিকভাবে ঠিক আছেন? তামিমের চিবুক সোজা করা জবাব, ‘না না মোটেই চাপে নেই। আমাকে যখন সহ অধিনায়ক করা হয়েছে, তখন থেকেই একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে। আমি জানি, বুঝি কোন কারণে এক ছোট সময়ের জন্য হলেও অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই মানসিক প্রস্তুুতি সব সময়ই থাকে। কাজেই বাড়তি চাপ অনুভব বা বোধ করা কিছুই নেই।’

কথা বলার সময় তার মুখ ও শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল, তিনি মনের দিক থেকে খানিকটা প্রস্তুতও ছিলেন। তাইতো চটপট ব্যাখ্যা, ‘আমার দায়িত্ব দুটা। এক ব্যাটিংটা ঠিক মত করা। দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখা। আর এখন মাঠে দল পরিচালনা। কাজেই বাড়তি চাপের কিছু নেই। আমি মনের দিক থেকে তৈরি। জানি কাজটা সহজ হবে না। চ্যালেঞ্জিং হবে। কয়েকজন অতি নির্ভরশীল পারফরমার নেই। কিন্তু কিছু করার নেই। ইনজুরির ওপর কারো হাতও নেই। আমার চেষ্টা থাকবে , দলকে যতটা সম্ভব চাঙ্গা রাখা। এবং মাঠে সামর্থের সেরাটা উপহার দেয়ায় অনুপ্রাণিত করা।’

মুশফিক, কায়েসকে ছাড়াই শেষ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৫৯ রান। দলের ৫৯৫ রানের প্রথম ইনিংসে তা ছিল দারুণ যোগ। সেখানে পরের টেস্ট ম্যাচে?

কিছুই দিতে পারছেন না মুশফিকুর রহিম। কারণ বুড়ো আঙ্গুলের আঘাতের কারণে অধিনায়কই যে নামতে পারছেন না মাঠে।

ক্রাইস্টচার্চে তাকে ছাড়াই শুক্রবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ টেস্ট দল। আর দ্বিতীয় টেস্টে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

২০০৭ সালের পর এই প্রথম মুশফিককে ছাড়াই টেস্টে ব্যাটিং করতে নামবে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে আসা

অন্যদিকে ইমরুল কায়েসের অভাবও ভালই অনুভব করতে হবে বাংলাদেশকে। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইমরুলের জুটি বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি বলে মনে করা হয়। সেখানে ইমরুলে বদলে ওপেনিং-এ প্রথম ব্যাট হাতে দেখা যাবে সৌম্য সরকারকে ।

ওপেনার কাম বদলি উইকেট কিপার ইমরুল কায়েস প্রথম টেস্টে রান নেয়ার সময় উইকেট বাঁচাতে গিয়ে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আর উঠে দাঁড়াতেই পারেন নি। পরে স্ট্রেচারে করে ফেরত যেতে হয় মাঠের বাইরে।

মুশফিক নেই। তার বদলে উইকেট আগলানোর দায়িত্ব পড়ে যার হাতে সেই ইমরুল কায়েসও নেই। তাহলে উইকেটে কে থাকবেন?
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২য় টেস্টে উইকেটকীপার হিসেবে অভিষেক হচ্ছে নুরুল হাসান সোহানের।

ওয়ানডে সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়ে আশা জাগিয়েছিল সফরকারীরা। তবে শেষপর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্টে পরাজয়ই মেনে নিতে হয়। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা দাড়াতে না পারায় ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই সফরে এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। আর শেষ টেস্টে সফরকারীরা মাঠে নামছে ইনজুরি আক্রান্ত একটি দল নিয়ে

ছিটকে গেলেন মুমিনুলও, দলে মুস্তাফিজ

ইনজুরি নামক মড়কের কারণে দলীয় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এবং ওপেনার ইমরুল কায়েসের ছিটকে পড়ার খবরটা জানা গিয়েছিল আগেই।

এবার সেই ইনজুরির মিছিলে যোগ হয়েছেন মুমিনুল হকও।পাঁজরের চোটের কারণে ক্রাইস্টচার্চে খেলার জন্য মুমিনুল প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ফিজিও ডেন কনওয়ে।

ক্রাইস্টচার্চে দলীয় অনুশীলনের আগে মুশফিক এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইমরুলের ইনজুরির কথা জানিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। আর অনুশীলন শেষে দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুমিনুলের ফিটনেসহীনতার কথা জানালেন ফিজিও।

মুমিনুলের ইনজুরি নিয়ে ডেন কনওয়ে জানান, ‘পাঁজরের ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন মুমিনুল।তার এক্সরে রিপোর্ট ভালোই এসেছে।তবে আজ অনুশীলনের সময় সে ঠিকমতো নাড়াচাড়া করতে পারেনি।সে এই টেস্টের জন্য প্রস্তুত নয়।’

মুমিনুলের ইনজুরির জন্য স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। তবে ব্যাটসম্যান মুমিনুলের পরিবর্তে একজন বাড়তি বোলারের কথা না ভেবে হয়তো শান্তকেই একাদশে নিতে পারেন নির্বাচকরা।

 

টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় সোহান

নিউজিল্যান্ড সফরে মুশফিকের ইনজুরিটাই কপাল খুলে দিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের। ফলে সীমিত ওভারের পর টেস্টেও অভিষেক হতে যাচ্ছে উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যানের।

ওয়েলিংটনে প্রথম ওয়ানডেতে হ্যামস্ট্রিংয়েরে চোটে ছিঁটকে পড়েন মুশফিক। ফিটনেস ফিরে পেতে গিয়ে সীমিত ওভারের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারেননি। তার ইনজুরির সুযোগে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়ে যায় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের। শেষ দুই ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ২৪ ও ৪৪ রান করেছিলেন তিনি।

সীমিত ওভারের পর এবার প্রথম টেস্টে বুড়ো আঙুলের চোটের কারণে ৩-৪ সপ্তাহের জন্য ছিঁটকে পড়েছেন মুশফিক। ফলে ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলছেন না টাইগারদের নিয়মিত এই অধিনায়ক। আর তাতেই ভাগ্য সুপ্রসন্ন হল সোহানের।

সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাট করার সময় ওয়েগনারের বলে বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল আর ডান হাতের তর্জনীতে চোট পান মুশফিক। এরপরও খেলেন ১৫৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে বল লাগে হেলমেটে। সেটা সমস্যা করেনি, সেরে উঠেছে তর্জনীও। বাঁধ সাধল বুড়ো আঙুল। দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিককে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৯ ম্যাচে ৫টি সেঞ্চুরি ও ১৩টি হাফ সেঞ্চুরিতে ২ হাজার ৪২৫ রান রয়েছে নুরুল হাসান সোহানের। যেখানে তার গড় ৪১.৮১। জাতীয় লিগে নিজের সবশেষ ম্যাচটিতেও দারুণ এক অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছিলেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। এবার ক্রাইস্টাচার্চ টেস্টের অভিষেকে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের ইনজুরিতে তার ওপর নজর থাকবে টাইগার সমর্থকদের।

 

 

মুশফিকের পরিবর্তে সোহান, ইমরুলের জায়গায় সৌম্য

ইনজুরির কারণে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ও শেষে টেস্টে তার পরিবর্তে খেলবেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।

মুশফিকের মতো ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টে ইনজুরিতে পড়েন ওপেনিং ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে দর্শকের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকেও। মুশফিকের ইনজুরির কারণে কপাল খুলে গেল সোহানের। ফলে টেস্টেও স্বপ্নের অভিষেক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

 

ওয়েলিংটনে হেলমেটে বল লাগলেও মুশফিকের মাথায় বা ঘাড়ে সমস্যা নেই। বুড়ো আঙুলের চোটই ছিটকে দিয়েছে টেস্ট অধিনায়ককে। ফিটনেস ফিরে পেতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে তার।

 

এদিকে, প্রথম টেস্টে মুশফিকের ইনজুরির পর প্রায় দেড়শ ওভার কিপিং করেছিলেন ইমরুল। এরপরই নামেন ব্যাটিংয়ে। কিন্তু একটি দ্রুত রান নেওয়ার চেষ্টায় ডাইভ নিয়ে টান লাগে বাঁ উরুতে। তার সেরে উঠতে দিন দশেক সময় লাগতে পারে। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই আগামীকাল ভোরে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।
নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকের ইনজুরির কারণে ক্রাইস্টচার্চে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে ওপেনিংয়ে ভিত গড়ার পাশাপাশি এবার দলকে ঠিকমতো নেতৃত্বে দেওয়ার ভারও এবার এই সহ-অধিনায়কের কাঁধে।

ইমরুল ও মুশফিক ইনজুরিতে ভুগলেও আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের জন্য প্রস্তুত হবেন; এমনটাই প্রত্যাশা বিসিবি’র নির্বাচকদের। নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করে ভারতে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে মুখোমুখি হবে তামিম-মুশফিক-সাকিবরা।

রুবেলের কথা শুনেই রেগে গেলেন হাথুরু

নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডেই ছিলেন না রুবেল হোসেন। বিপিএলের পারফরম্যান্স দিয়ে অবশেষে জায়গা পেলেন। গেলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ক্যাম্পে। এরপর নিউজিল্যান্ড। পুরো সফরেই দলের সঙ্গে রয়েছেন। খেলতে পেরেছেন মাত্র টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন উপেক্ষিত। টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়ে তিন ম্যাচে নিলেন ৭ উইকেট।

টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স দিয়ে রুবেল নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। সবাই ভেবে নিয়েছিল, টেস্টে অনভিজ্ঞ পেস বোলিং লাইনআপের নেতৃত্ব থাকবে রুবেলের কাঁধেই। দলের মধ্যে যে তিনিই অভিজ্ঞ পেসার!

কিন্তু ওয়েলিংটনে বাংলাদেশের একাদশ দেখে সবাই অবাক। কারণ যে তিনজন পেসারকে নিয়ে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ, তার মধ্যে দু’জনেরই অভিষেক হয়েছে ওই ম্যাচে। বাকি কামরুল ইসলাম রাব্বির অভিজ্ঞতা মাত্র ২ টেস্টের। অথ্যাৎ তিন পেসারের অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে মাত্র ২ টেস্টের।

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে বাকি ঘটনা সব ইতিহাস। বাংলাদেশকে দারুণ সুযোগ তৈরি করেও লজ্জ্বার রেকর্ডের শিকার হয়ে হারতে হলো। তখন আবারও প্রশ্ন উঠলো, রুবেল হোসেন যদি একাদশে থাকতো, তাহলে কী বাংলাদেশ হারতো? নিউজিল্যান্ড সফরকালে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খুব বড় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নেই। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ম্যানেজার সাব্বির খানকে সফরের ম্যানেজার করে পাঠানো হয়েছে। দলের মুখপাত্র হলেন মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম।

একাদশ নিয়ে তাই এদের মন্তব্য করার কিছুই নেই। তারা কোনো মন্তব্য করেনও না। বক্তব্য দেয়ার জন্য যিনি সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল, সেই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকেও পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে পাওয়া গেলো দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে, অথ্যাৎ বুধবার। নানা বিষয়ই নিয়েই কথা বললেন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে।

শুরুতেই ওয়েলিংটনের বোলিং, বিশেষ করে পেস অ্যাটাক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো হাথুরুর কাছে। নিজের মত একটা ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। এরপরের প্রশ্ন ছিল তার কাছে, রুবেলকে কেন নেয়া হলো না?

এ প্রশ্ন শুনেই খানিকটা রেগে গেলেন বাংলাদেশ দলের কোচ। চোখে-মুখে বিরক্তির চাপ ফুটিয়ে তুললেন। অনেকটা খেদের সঙ্গেই জবাব দিলেন, ‘এ ব্যাপারে আপনাকে কোনো যুক্তি দেয়ার প্রয়োজন তো আমার নেই!’ রাগের মাথায় এ কথা বলে ফেলার পর স্বর একটু নরম করে বললেন, ‘দলের জন্য যা ভালো মনে হয়, আমি সেটাই করি।’

তিন অনভিজ্ঞ পেসারকে দলে নেয়ার যুক্তিটা তার আগেই দিয়েছেন তিনি। নিজেই স্বীকার করলেন, অনভিজ্ঞ তিন পেসারকে দলে নিয়েছেন। যাদের কারও কারও গত আড়াই তিন বছরও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। সে সব জেনেও হাথুরুর মন্তব্য, ‘আগের ম্যাচে আমাদের জন্য সবুজ আক্রমণ তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের যে তিন পেসার খেলেছিল, তাদের অভিজ্ঞতা মাত্র দুই টেস্টের। আপনি হয়তো দেখবেন, তাদের অনেকেই দুই, আড়াই বছর প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেনি। একজন তো তিন বছরের বেশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেনি। তবে আমার কাছে এটা কোনো অজুহাত নয়। কারণ, তাদের তিনজকেই টেস্ট খেলার জন্য তৈরি করে নেয়া হয়েছে। আমি মনে করি প্রথম ইনিংসে তিনজনই খুব ভালো বল করেছে। ১৪০টির বেশি ওভার বল করেছে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করতে পারেনি চাপের কারণে। তবে বোলারদের কারণে নয়, আমরা হেরেছি মূলতঃ বাজে ব্যাটিংয়ের কারণে।’

এরপরই এলো রুবেল প্রসঙ্গ। তার কথা শুনেই কোনো উত্তর ঠিকমত দিলেন না। বরং উত্তেজিত হলেন হাথুরু। যদিও এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ার খুব বেশি ভালো নয় রুবেলের। এর আগে মোট ২৩টি টেস্ট খেলেছেন রুবেল। উইকেট নিতে পেরেছেন মোটে ৩২টি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেলের ওপর খুব বেশি আস্থা নেই হাথুরুর। কোচের বিশ্বাস, ৫দিন খেলার মত টেম্পারমেন্ট নেই রুবেলের; কিন্তু প্রশ্ন হলো যদি টেম্পারমেন্টই না থাকে, তাহলে তাকে কেন দলের সঙ্গে রাখা হলো। দলে রাখা হয়েছে যখন তখন তাকে খেলাতে সমস্যা কোথায়?

২৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ

পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকতে চতুর্থ ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। আর এ লক্ষ্যে প্রোটিয়াদের দেওয়া ২৫২ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা আগ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগহ ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান।

এর আগে বুধবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রোটিয়া অধিনায়ক। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৮ রানে স্টেইনের উইকেট হারায় দক্ষিন-আফ্রিকা প্রমিলারা। জাহানার বলে বোল্ড হয়ে ১৪ রান করে ফিরে যেতে হয় তাকে। দলের পক্ষে সর্বচ্চো রান করেন ডুপ্রিজ। ১৫৭ বলে করে ৭৯ রান। তার এই ৭৯ রানের ইনিংসটি থেকে আসে ৬টি চারের মার।

দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বচ্চো রান করে ট্রিয়ন। ৬৪ বলে ৭ চারের সাহায্যে করে ৪৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে খাদিজাতুল কোবরা নেন সর্বচ্চো ৩ উইকেট,রুমানা আহমেদ ২টি ও জাহানারা আলম নেন ১টি  করে উইকেট।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টই বড় অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের

খারাপ সময় নাকি পেছনে ফেলে আসা সোনালি দিনগুলোই হয় অনুপ্রেরণা। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে এখন সেই সব সোনালি অতীত হাতরে বেড়াচ্ছেন টাইগার কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। অনুপ্রেরণার প্রতীক খুঁজতে গিয়ে হাতের কাছেই পেয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে হোম সিরিজ। তিনি ঐ সিরিজ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো গত বছর অক্টোবরে; চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের ঐ সিরিজের প্রথম টেস্টের বেশির ভাগ সময় ইংলিশদের সঙ্গে সমান তালে লড়েও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় পুরো ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মুশফিকের দল হারে ২২ রানে।

আর ঠিক তার পরের টেস্টে টাইগারদের অন্যরূপ। একদম বাঘের গর্জনে ঘুরে দাঁড়ানো। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে টাইগারদের উজ্জিবীত ও অনুপ্রাণিত পারফরমেন্সের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ ইংলিশদের। মাত্র দুইমাস পর এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্টেও প্রায় একই কাহিনী। বরং এবার আরও ভালো অবস্থা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া।

এখন ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের আগে ইংল্যান্ডের সাথে দ্বিতীয় ম্যাচের কথা ভেবে অনুপ্রাণিত হতে পারে টাইগাররা। মনে সাহস সঞ্চার ও ভালো খেলার রসদ পেতে ইংলিশদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের উজ্জীবিত পারফরমেন্স এবং দারুণ জয়ই হতে পারে খুব ভালো দাওয়াই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো টাইগাররা কি তা ভাবছে? কোচ হাথুরুসিংহের কথা শুনে মনে হলো খুব ভালো ভাবেই তা মাথায় আছে তাদের। কথা বার্তায় বোঝা গেল হাথুরুসিংহে ছেলেদের ঐ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে থেকে অনুপ্রেরণা নেবার কথা বলেছেন। তাই তো কণ্ঠে এমন কথা, ‘অবশ্যই আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের কথা ভেবে অনুপ্রাণিত হতে পারি। ভালো খেলেও প্রথম ম্যাচ হারার ঠিক পরের ম্যাচ কিভাবে আরও ভাল খেলে জেতা যায়? ছেলেরা এই সেদিন শেরে বাংলায় করে দেখিয়েছে। মনে রাখতে হবে, সেটা ছিল টার্নিং উইকেট। আর এখন নিউজিল্যান্ডে এসে সামলাতে হচ্ছে সিমিং কন্ডিশন। চ্যালেঞ্জ দুই জায়গায় সমান। আমি মনে করি তখন যেমন ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে ছেলেরা, এখনও পারবে।’

তা যে পারবে, প্রথম ইনিংসের দুর্দান্ত ব্যাটিং শৈলিই তার প্রমাণ। আমার বিশ্বাস, ছেলেরা যেমন নিজ মাটিতে স্পিনিং ট্র্যাকে চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সাথে উৎরে গেছে, একইভাবে এখন নিউজিল্যান্ডে এসে কিভাবে সিমিং কন্ডিশন সামলানো যায়, সেটাও তারা রপ্ত করে ফেলেছে। ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংই তার প্রমাণ।’

নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব দিয়ে হাথুরুসিংহে বলেন, দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা ইংলিশদের সঙ্গে ভালো মতই দেখিয়েছে টার্নিং উইকেটে ভালো ব্যাটিং করার পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে তাদের। আবার নিউজিল্যান্ডে এসে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সিমিং কন্ডিশনেও তারা ভালো খেলতে পারে। আর এটা যে কোন দলের জন্যই একটা বড় গুণ। কাজেই আমার কাছে স্কিল আর কন্ডিশন কোনটাই খুব বড় নয়।  আমি এর কোনটাকেই খুব বড় করে দেখতে চাই না।’

এরপর আর কিছু বলেননি টাইগার কোচ। তবে তার শরীরী অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছিল কথা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। তা হলো, নিজ দলের স্কিল আর কন্ডিশন নিয়ে মোটেই মাথা ব্যথা নেই তার। তিনি বিশ্বাস করেন, তার শিষ্যদের সামর্থ্য আছে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ভালো খেলার। তা যে আছে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংই তার প্রমাণ। দরকার শুধু সেই দ্যুতিমাখা ব্যাটিংয়ের পুনরাবৃত্তি আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

পানেসারকে বোলিং পরামর্শক নিয়োগ দিল অস্ট্রেলিয়া

আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে সাবেক ইংলিশ স্পিনার মন্টে পানেসারকে বোলিং পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই ইংলিশ অফ স্পিনার অজি স্পিনারদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদের স্পিন মোকাবেলার টেকনিক নিয়েও কাজ করবেন।

বোলিং পরামর্শক হিসেবে পানেসারকে বেছে নেওয়ার কারণ- ভারতের মাটিতে পাওয়া তার সাফল্য। ২০১২-১৩ মৌসুমে ভারতের মাটিতে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল ইংলিশরা। ওই সিরিজে পানেসার ১৭ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৫০টি টেস্ট খেলেছেন পানেসার, উইকেট ১৬৭টি। ২৬ ওয়ানডেতে উইকেট ২৪টি আর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে উইকেট ২টি।

বেসিন রিজার্ভের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংটাই চান হাথুরুসিংহে

যে পথে হাঁটলে সাফল্যের নাগাল পাওয়া যাবে, সে পথটা ঠিকই খুঁজে পাচ্ছে তার শিষ্যরা। কিন্তু হয় কিছু দূর, না হয় অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছে। পুরো সফরেই এ অবস্থা। অতি বড় বাংলাদেশ বিরোধীও মানছেন, এ সফরে অন্তত একটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে পারতো মাশরাফির দল। কিন্তু জেতার সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেনি। একই অবস্থা টেস্টেও।

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে জয়ের মত অবস্থা তৈরি না হলেও ড্র করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল মুশফিক বাহিনীর সামনে। প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ার পর দ্বিতীয়বার স্কোরলাইন চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসাই হয়েছে কাল। অথচ একটু ভেবে চিন্তে আর রয়ে-সয়ে ঠান্ডা মাথায় বেশি সময় উইকেটে কাটানোর লক্ষ্যে ব্যাট করলে অনায়াসে প্রথম টেস্ট ড্র করা যেত। কিন্তু তার বদলে লক্ষ্য ও দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী ঘটায় হারই সঙ্গী থেকেছে। শেষটা ভালো না হওয়ায় প্রথম ইনিংসের উজ্জ্বল ব্যাটিং আর আকাশ ছোঁয়া অর্জন অনেকটাই ঢাকা পরে গেছে।

তারপরও অর্জন তো অর্জনই। শেষ পরিনতি যাই হোক না কেন, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঘাসের উইকেটে, প্রচণ্ড বাতাস ও শীতের মধ্যে ৫৯৫ রান করা এবং এক জুটিতে ৩৫৯ রান তোলা ছোটখাট কৃতিত্ব নয়। অনেক বড় অর্জন। তাই দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে ঘুরে ফিরে চলে আসছে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যের কথা।

কোচ হাথুরুসিংহেও মনেও গেঁথে আছে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ- অ্যাপ্লিকেশন। তাইতো ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টের আগে তার একটাই আশা ব্যাটিংটা যেন এমনই হয়। আজ দুপুরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে শেষ টেস্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচের কথা চলে আসে। টাইগার কোচ কায়মনে চাচ্ছেন ওই অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশনটার পুনরাবৃত্তি।

তাই তো মুখে এমন কথা ‘আমরা বেসিন রিজার্ভের ইতিবাচক ও ভালো দিকগুলোর কথা ভাবছি। আমার মনে হয় ঐ ম্যাচের ভালো দিকগুলো আমরা নিতে পারি। ভুলে গেলে চলবে না বেসিন রিজার্ভে আমরা প্রথম চারদিন এগিয়ে ছিলাম। চতুর্থ দিনের শেষ আধঘণ্টা আর শেষ দিনটুকুই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। না হয় বাকি সময় আমাদেরই নিয়ন্ত্রণ ছিল। কাজেই আমি চাই অ্যাপ্রোচটা ঠিক প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসের মত যেন হয়।’

হাথুরুসিংহের ধারণা, ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের পিচও বেসিন রিজার্ভের মতই হবে। তাই তার আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ আমরা ওয়েলিংটনে প্রথম ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করেছিলাম। আমার মনে হয় ক্রাইস্টচার্চের উইকেটও তেমনি হবে। এখানেও ঠিক বেসিন রিজার্ভের অ্যাপ্রোচটাই আশা করবো। যদি আগে ব্যাট করতে পারি তাহলে আমাদের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ঠিক তেমনই থাকবে। তবে একটা কথা, আমরা যদি এমন সুন্দর আর সাজানো শুরু করতে পারি, তাহলে এবার লক্ষ্য থাকবে যে করেই হোক শেষটা ভালো করা। আমাদের লক্ষ্য, পরিকল্পনা কিংবা প্রত্যাশা যাই বলুন না কেন, তাহলো প্রথম টেস্টের চেয়ে ভালো শেষ করা।’

লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। বার বার আশা ভঙ্গের বেদনায় ডুবতে হচ্ছে। তারপরও নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন এ শ্রীলঙ্কান। মুখের স্মিথ হাসিটা ঠিকই আছে। এর ওর সঙ্গে কথা বলছেন হাসিমুখেই। কাল জানিয়ে দিয়েছিলেন বুধবার কথা হবে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে। সেই মতো আজ হ্যাগলি ওভালে নিজ ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে বেশ অনেকটা সময় কথা বললেন।

অনেক কথার ভিড়ে বেসিন রিজার্ভের সেই দুর্দান্ত ব্যাটিংটার কথাই ঘুরে ফিরে উচ্চারণ টাইগার কোচের কথায়। তিনি একা নন, গোটা বাংলাদেশ ক্রাইস্টচার্চেও তামিম, মুমিনুল, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরদের কাছ থেকে ঠিক অমন উজ্জ্বল আর দায়িত্বসচেতন ব্যাটিংয়ের আশায় উন্মুখ। টাইগাররা কি সে আশা পূরন করতে পারবেন?

গিনেজ বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষা রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেটারের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশটির কোনো নাম নেই। আইসিসির সহযোগি দেশের তালিকায় তো নেই’ই। এর পররের সারির দেশগুলোতেও দেশটির নাম খুঁজে পাওয়া দায়। তবে আফ্রিকান দেশ রুয়ান্ডা কিন্তু এক জায়গায় এগিয়ে রয়েছে। দেশটির এক ক্রিকেটার টানা ৫১ ঘণ্টা নেটে ব্যাটিং করে ইতোমধ্যেই গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে নাম তুলে নিয়েছেন। এরিক ডুসিঙ্গিজিমানা নামে ওই পুরুষ ক্রিকেটারের পর এবার দেশটির আরেক নারী ক্রিকেটার গিনেজ বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষায়।

ক্যাথিয়া ওয়ামাহোরো নামে রুয়ান্ডা চ্যারিটি ক্রিকেট ক্লাবের ওই নারী ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক সবচেয়ে বেশি সময় ধরে টানা ব্যাটিং করার রেকর্ড গড়ে নাম তুলতে চান গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে। এ জন্য সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন ওই নারী। দীর্ঘ সময় ধরে টানা ব্যাটিং করে গিনেজ বুকে নাম তোলার জন্য কোনো নারী ক্রিকেটারের এটাই প্রথম প্রয়াস।

আয়োজকদের বরাত দিয়ে অল আফ্রিকা নিউজ জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সী ক্যাথিয়া আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি গিনেজ বুকে নাম তোলার জন্য ব্যাটিং শুরু করবেন। তার প্রাথমিক লক্ষ্য টানা ২৬ ঘণ্টা নেটে ব্যাটিং করে যাওয়া। আমাহোরো ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে ক্যাথিয়ার গিনেজ বুকে নাম লেখানো ব্যাটিংয়ের। যদি তিনি এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্বের জন্য গিনেজ বুকে নাম লিখিয়ে ফেলবেন এই রুয়ান্ডান।

টানা ২৬ ঘণ্টা ক্যাথিয়ার বিপক্ষে বল করার জন্য চ্যারিটি ক্রিকেট ক্লাব অনেকগুলো পুরুষ এবং মহিলা বোলার ঠিক করে রেখেছে। চ্যারিটি ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন রেকর্ড গড়ার জন্য। তিনি নিজে খুব আত্মবিশ্বাসী রেকর্ড গড়ার জন্য।

ক্যাথিয়া ওয়ামাহোরো বলেন, ‘আমি এ জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রতিদিনই ৮ ঘণ্টা করে অনুশীলন করছি। ২৬ ঘণ্টা টানা ব্যাটিং করার জন্য সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছি।’

বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল টাইগারদের অনুশীলন

`ইংলিশ উইমেন আর ইংলিশ ওয়েদার` এ দুটোই নাকি রহস্যময়ী। যখন তখন রূপ ও রং বদলায়। যাদের সম্পর্কে নিশ্চিত করেও নাকি কিছু বলা যায়না। এই ভালো তো এই খারাপ। নিউজিল্যান্ডের নারীদের নিয়ে এমন প্রবচন নেই। তবে আবহাওয়া নিয়ে আছে। পাহাড়-সাগর ঘেরা ও সবুজ গাছপালার এ দ্বীপ দেশের আবাহওয়া ক্ষণে ক্ষণেই বদলায়।

আজ রোদ ঝলমলে দিন। কিন্তু তাই বলে কালও যে মেঘমুক্ত নীল আকাশের দেখা মিলবে এমন না। আবহাওয়ার রূপ প্রতিনিয়ত বদলায়। একটানা দুই বা তিনদিন টানা রোদ ঝলমলে দিনের দেখা মেলেনি এখনো। নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মুঙ্গানিয়া, ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চ সব শহরই এক।

আজ আকাশ পরিষ্কারতো কাল আকাশে মেঘের ঘনঘটা। ক্রাইস্টচার্চে এসে প্রথম দিন দেখা মিললো রোদ ঝলমলে দিনের। রাত শেষ হয়ে বুধবার ভোর থেকেই আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আর বুধবার সকালে বৃষ্টির কবলে বাংলাদেশ টিম।

পূর্ব নির্ধারিরত সময় সকাল ১০ টায় প্র্যাকটিস শুরু ভেবে হোটেল ছেড়ে হ্যাগলে ওভালে চলে যাওয়া। কিন্তু বৃষ্টির খপ্পরে পড়ে হোটেলে ফিরে আসা।  আবার স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটে আবার মাঠে যাওয়া। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। অনুশীলন আর হয়নি। ঝির ঝিরে বৃষ্টির কারণে নেট হয়নি। অল্প ক`জন ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন।

বৃষ্টিতে অনুশীলন করা সম্ভব নয়। কিছু একটা তো করতে হবে। তাই কোচ হাথুরুসিংহে টিম মিটিংটা হ্যাগলে ওভালের ড্রেসিং রুমেই সেড়ে ফেললেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ টিম মিটিং শেষে বাংলাদেশ হেড কোচ এ সিরিজ কভার করতে আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। তারপর সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত ইনডোরে ব্যাটিং করতে যান।

ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকায় ৫ বাংলাদেশি

ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ২০১৬ সালের বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকা প্রকাশ করেছে। আর এতে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচজন খেলোয়াড়। তারা হলেন তামিম ইকবাল, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান। ১২ বিভাগে ২০১৬ সালের সেরা ক্রিকেটারদের পুরষ্কৃত করবে ওয়েবসাইটটি।

সেরা টেস্ট ব্যাটিং পারফরম্যান্সে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল খান। গত বছর মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাকিয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১৪৭ বলে ১০৪ রান করেছিলেন তিনি। তার সঙ্গে এই বিভাগে রয়েছে বেন স্টোকস, টেমবা বাভুমার, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মিসবাহ-উল-হক,ইউনিস খান, কুসল মেন্ডিস, জেপি ডুমিনি, ভিরাট কোহলি ও পিটার হ্যান্ডসকম।

টেস্টের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের তালিকাতে রয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের নাম। টেস্টে সেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি বর্ষসেরা অভিষিক্ত ক্রিকেটারদের পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেরা বোলিংয়ের দিক থেকে মিরপুর টেস্টে মিরাজের ৭৭ রানের ৬ উইকেট মনোনয়ন পেয়েছে এ বিভাগে। তার সাথে এ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে স্টুয়ার্ট ব্রড, ইয়াসির শাহ, রঙ্গনা হেরাথ, পেরেরা, অশ্বিন, ফিলান্ডার, রাবাদা, টিম সাউদি, জাদেজা।

এদিকে টি-টোয়েন্টিতে সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্সেও বাংলাদেশের দুইজন মনোনয়ন পেয়েছে। গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২২ রানের ইনিংস ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাব্বির রহমানের ৮০ রানের ইনিংসটি রয়েছে। এছাড়াও  বাংলাদেশের এই দুই জনের সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইল, জো রুট, লেন্ডল সিমন্স, কার্লোস ব্রাথওয়েট, মারলন স্যামুয়েলস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ে মনোনয়ন পেয়েছে কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে  নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেটের শিকারটি মনোনয়ন পেয়েছেন। তার সাথে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির, কসুন রাজিতা, মিশেল সান্টনার, অশ্বিন, জেমস ফকনার, ক্রিস জর্দান, ডোয়াইন ব্রাভো ও ইমাদ ওয়াসিম মনোনয়নের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

মুশফিক-তামিম-সাকিবরা এখন ক্রাইস্টচার্চে

যেখান থেকে শুরু নিউজিল্যান্ড সফর, ঘুরে আবার সেখানেই ফিরে আসা। গত ২৬ ডিসেম্বর এই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে হয়েছিল প্রথম ওয়ানডে। তারও আগে অস্ট্রেলিয়ায় ৯/১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে সরাসরি এই শহরেই প্রথম এসেছিল মাশরাফির দল।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েয়েন্টি সিরিজ ও প্রথম টেস্ট শেষে খেলতে নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মঙ্গানুই এবং ওয়েলিংটন হয়ে আবার ক্রাইস্টচার্চে ফিরে আসা। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে এই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালেই হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

সে ম্যাচ খেলতে আজ দুপুরেই ক্রাইস্টচার্চ এসে পৌঁছেছে মুশফিক বাহিনী। স্থানীয় সময় বেলা সোয়া একটার দিকে জাতীয় দল ক্রাইস্টচার্চ পৌঁছায়। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বেসিন রিজার্ভের সবুজ ঘাসের উইকেট কতই না হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। এমন সবুজ উইকেটে কী করবেন টাইগাররা?

তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল নানা সংশয়-সন্দেহ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিচে আর তত সবুজ ঘাস ছিল না। বেশির ভাগই ছেটে ফেলা হয়। তারপরও যতটা ছিল, সেটাও কম না। বাংলাদেশের কোনো উইকেটে অত ঘাস থাকে না। এরকম কচি সবুজ ঘাসের উইকেট আর দমকা বাতাস ও কনকনে ঠাণ্ডা- সব মিলে প্রতিকূলতা ছিল যথেষ্ঠ। কিন্তু  তামিম, মুমিনুল, সাকিব, মুশফিক ও সাব্বিররা তা বেশ ভালোই মোকাবিলা করেছিলেন।

সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহীম ওয়েলিংটনে অনেক সম্ভাবনার প্রদীপ জ্বেলেছিলেন। তাদের রেকর্ড ৩৫৯ রানের পার্টনারশিপে ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর গড়ে ওঠে। কিন্তু ঐ রান পাহাড় গড়াই সার। শেষ পর্যন্ত মাথা আর উঁচু থাকেনি।

চতুর্থ দিন শেষ ঘণ্টা আর গতকাল শেষ দিন এক সেশন- এই মোট দুই সেশনের আলগা ও দায়িত্বহীন ব্যাটিং এবং অধিনায়ক মুশফিকের মাথার ইনজুরি আর ইমরুিল কায়েসের উরুতে টান পড়া- সব মিলে পরাজয় পেছন থেকে এসে কালিমা লেপে দেয়।

মোদ্দাকথা, ব্যক্তিগত আর দলগত রেকর্ড গড়ে প্রথম সাড়ে তিন দিন নিউজিল্যান্ডের চেয়ে মজবুত অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া। শুধু হারাই নয়। রেকর্ড গড়ে হার। টেস্ট ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ১৪০ বছরের ইতিহাসে ১২২ বছর পর কোনো দল প্রথম ইনিংসে ৬০০ রানের দোরগোড়ায় (৫৯৫) পৌঁছেও ম্যাচ হারলো।

শুনতে কানে লাগবে। কিন্তু নিষ্ঠুর সত্য এই যে, ওই সম্ভাবনার ম্যাচের করুণ পরিণতি অবশ্যই পুরো দলের গায়ে ঘাঁয়ের মতো লেগে আছে। তার সাথে ইনজুরি সমস্যা তো আছেই। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ব্যথা, ইমরুল কায়েসের উরুর ইনজুরির সাথে মমিনুলের বুকের পাজরে ব্যথাও চিন্তার কারণ।

এই সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ কাজ না। দেখা যাক, ক্রাইস্টচার্চে সে কঠিন কাজটা করতে পারে কিনা মুশফিকের দল?

জাতীয় ব্লাইন্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কক্সবাজার

জাতীয় ব্লাইন্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কক্সবাজার ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল। চট্টগ্রাম এম. এ. আজিজ স্টেডিয়ামে সোমবার অনুষ্ঠিত আসরটির ফাইনালে চট্টগ্রাম ব্লাউন্ড ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে চট্টগ্রাম। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা ১৬২ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান সংগ্রহ করেন আরিফ। ১৬৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল ১৮ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে।

কক্সবাজারের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৬ রান সংগ্রহ করেন আবদুল্লাহ জুবায়ের। ৭ উইকেটে জয় লাভ করে কক্সবাজার দল। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী মো. আরিফ।

চ্যাম্পিয়ন দল কক্সবাজারের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি তুলে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এ সময় অতিথি ছিলেন ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের সিনিয়র সভাপতি চট্টগ্রাম ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের সভাপতি লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্রিকেট কাউন্সিলের পরিচালক ও কক্সবাজার ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের সভাপতি এম.এম সিরাজুল ইসলাম।

আরো উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সমন্বয়কারী মো. হাফিজুর রহমান, ক্রিকেট কাউন্সিল এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দ কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. তাইজুদ্দিন ও কোচ সানোয়ার আহমদ।

মুশফিক অনেকটাই ভালো : ইমরুল-মুমিনুলের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান

মাথার আঘাত বলে কথা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে ওয়েলিংটন সদর হাসপাতাল থেকে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে রিলিজ দিলেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের কথা বলে দেয়া হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্টও অধিনায়কের দিকে বিশেষ নজর রেখেছে।

কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া আছে। কিন্তু আশা করা যাচ্ছে, তার আর দরকার হবে না। মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম দুপুরে ক্রাইস্টচার্চ পৌঁছে জানান, মুশফিক সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ভালোই আছে। দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথে। এখন আর কোনো রকম সমস্যা নেই। সবার সাথে কথা বলছে।

এদিকে অধিনায়ক দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথে হাঁটলেও বাকি দু`জন মানে- ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হকের অসুস্থতা কাটেনি এখনো। টাইগাররা ওয়েলিংটন থেকে ক্রাইস্টচার্চ পৌঁছলেও ইনজুরি তাদের পিছু ছাড়েনি। সাথে সাথেই আছে।
ইমরুলের উরুর সমস্যা কমেনি। আবার মুমিনুলের বুকের পাজরের ব্যথাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

তাদের সত্যিকার সমস্যা খুটিয়ে দেখতে ব্যতিব্যস্ত ফিজিও ডিন কনওয়ে। খালি চোখে সত্যিকার সমস্যা নিরুপণ করা কঠিন। তাই অনেকটা এমআরআইয়ের আদলে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করা হয়েছে দুজনার। ম্যানেজার সাব্বির খান ও ফিজিও ডিন কনওয়ে ওয়েলিংটন থেকে বিমান ভ্রমণের পর টিম হোটেলে ঢুকে চেক ইন করে বিশ্রামের ফুরসত পাননি।

দুপুরের খাবার খেয়ে ইমরুল ও মুমিনুলকে নিয়ে ছুটতে হয়েছে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করতে। জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপে ম্যানেজার সাব্বির খান ইমরুল-মুমিনুলের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করার কথা জানান। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা) ইমরুল ও মুমিনুলের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান শুরু হয়।

ক্রাইস্টচার্চে রোদের কড়া ঝাঁঝ!

ওয়েলিংটন বিমানবন্দরে নামার মিনিট পাঁচেক পরই এক প্রবাসী বাঙালির কাছ থেকে জানা হলো, ক্রাইস্টচার্চের আবহাওয়া এখন খানিক ভিন্ন। ভিন্ন মানে? যতগুলো শহরে খেলা হয়েছে, তার একটার সাথেও বর্তমান ক্রাইস্টচার্চের আবহাওয়ার তেমন মিল নেই।

নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মঙ্গানুই এবং ওয়েলিংটনের তুলনায় তাপমাত্রা বেশি। শুধু তাই নয়। রোদের ঝাঁঝও বেশি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার আগে হ্যাগলি ওভালের আশপাশে হেঁটে টের পাওয়া গেল রোদের ঝাঁঝ। বাংলাদেশে কার্তিক মাসের আবহাওয়ার কথা ভাবুন।

একটু ভেজা ভেজা বাতাস। খানিক শীতল আবহাওয়া। কিন্তু মেঘমুক্ত নীল আকাশ। আর ঝাঁঝাঁলো রোদ। একদম মুখে গিয়ে লাগে। ক্রাইস্ট চার্চেও ঠিক তাই। তাপমাত্রাও নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মঙ্গানুই এবং ওয়েলিংটনের চেয়ে অন্তত ৪/৫ সেলসিয়াস বেশি; ২৫ সেলসিয়াস।

একদম মেঘমুক্ত নীল আকাশ। এক চিলতে মেঘের অস্তিত্ব নেই। ওয়েলিংটনের সেই ‘পাগলা হাওয়াও’ নেই। বাতাস বইছে। ওয়েলিংটনের মতো অত জোরে নয়। আবার বাংলাদেশে যে শীতকালে মৃদু বাতাস বয়, তত আস্তেও না। নিউজিল্যান্ডের মতোই।

তারপরও অন্যান্য শহরের তুলনায় ক্রাইস্টচার্চের বর্তমান আবহাওয়া অনেকটাই বাংলাদেশের মতো। ঠাণ্ডা। বাতাস ও রোদ-সব কিছুই সহনীয়। ক্রাইস্টচার্চেও ঠিক তা-ই। সকাল থেকে বেলা গড়ানোর সাথে সাথে রোদের ঝাঁঝ বাড়তে থাকে।

সূর্য্য মাথার ওপরে আসতেই রোদের কড়া তেজে খোলা আকাশের নীচে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কষ্ট। নিউজিল্যান্ডের অন্য শহরের সাথে এখানেই মূল পার্থক্য ক্রাইস্টচার্চের। ওয়েলিংটন-মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে যখন রোদ উঠে তখন বেশ ভালোভাবেই সূর্য কিরণ পাওয়া যায়। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের মতো কড়া তেজ নেই কোথাও।

ইংল্যান্ড থেকে শিক্ষা নিয়েই কোহলির তাণ্ডব

লক্ষ্য ৩৫১ রান। এই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৬৩ রানে নেই ৪ উইকেট। টপ-অর্ডারে খেলতে নামা শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি দ্রুত প্যাভিলিয়নের পথ ধরলেন টিম ইন্ডিয়াকে বিপদের মুখে রেখেই।

তবে সদ্য অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া বিরাট কোহলি যে সে কাজ করতে পারেন না! আর সেটা করলেনও না। ভারতকে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েই ফিরলেন সাজঘরে। শেষের দিকে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

কোহলি একপ্রান্ত আগলে রাখলেন। বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। এই মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে সামাল দিলেন?  এবং খেলছেন ১২২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস? তার এই ইনিংসে ভর করেই ইংল্যান্ডকে হারাতে সক্ষম হয় ভারত। তাই জয় দিয়ে ওয়ানডেতে স্থায়ী অধিনায়কত্বের শুভসূচনা করলেন কোহালি।

বিপর্যয়ে ভেঙে না পড়ে; বরং বিপর্যয়ে হাল ধলেন কোহলি। পরবর্তীতে জানালেন, ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের থেকে শিক্ষা নিয়েই ব্যাটিংয়ের ধরনটা তাৎক্ষণিক পরিবর্তন করে ফেলেন। যা সাফল্যের নিয়ামক হিসেবে ধরা দিয়েছে কোহলিকে। ভারতও খুঁজে পেয়েছে দিশা।

কোহলির ভাষায়, ‘টেকনিক একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। (ইংল্যান্ডের) অনেক খেলোয়াড়েরই টেকনিক ভালো না থাকলেও রান করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে মাইন্ডসেট বড় একটা বিষয় হিসেবে কাজ করেছে। আমি ভেবেছিলাম, ইনসুইং বেশি আসবে। কোমরটা বারবার ঘুরিয়েছিলাম। ইনসুইং মোকাবেলা করেছি। আউটসুইংগুলো এড়িয়ে গেছি।’

এমন ম্যাচেও হারলো বাংলাদেশ!

প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রান। সাকিবের ২১৭ ও মুশফিকের ১৫৯ রান। কে জানতো এমন রানের সংগ্রহ পেয়েও হারতে হবে বাংলাদেশকে। চিরাচরিত দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতায় এমনটাই হয়েছে ওয়েলিংটন টেস্টে। মাত্র ১৬০ রানেই শেষ হয় তাদের ইনিংস। ফলে প্রথম দল হিসেবে প্রথম ইনিংসে এতো রান করার পর হেরে লজ্জার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা। আর সাত উইকেটের বড় জয় নিয়েই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের দেওয়া ২১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে নিউজিল্যান্ড। ৩২ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাতে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচের দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। জিত রাভালকে নিজের বলে নিজে তালুবন্দি করার পর টম লাথামকে বোল্ড করেন মিরাজ।

এরপর দারুণ এক জুটি গড়েন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান রস টেলর ও অধিনায়ক উইলিয়ামসন। ১৬৩ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন টেস্ট বাঁচানোর স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন এ দুই ব্যাটসম্যান। কিউইদের এ জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত শুভাশিস। দ্বিতীয় স্লিপে মিরাজের তালুবন্দি হয়ে আউট হন টেলর। এরপর বাকি কাজ হেনরি নিকোলসকে নিয়ে শেষ করেন উইলিয়ামসন।

শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামসন। ৯০ বলে মোকাবেলা করে ১৫টি চারের সাহায্যে ১০৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এছাড়া ৭৭ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করেন টেলর। বাংলাদেশের পক্ষে ৬৬ রানে ২টি উইকেট নেন মিরাজ। এছাড়া ১টি উইকেট পান শুভাশিস।

এর আগে সোমবার সকালে আগের দিনের তিন উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। সান্টনারের বলে মিডঅনে উইলিয়ামসনের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে খালি হাতেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। সাকিবের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হকও। দলীয় ৯৪ রানে ওয়াগনারের বলে গ্র্যান্ডহোমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

তবে বাংলাদেশ সবচেয়ে আঘাতটি পায় অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের ইনজুরিতে। দলীয় ১১৪ টিম সাউদির বাউন্সার বসে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন মুশফিক। তবে কোনাকুনি ডেলিভারি গিয়ে আঘাত হানে তার মাথার পিছনের অংশে। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আঘাত গুরুতর না হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ফিরে ড্রেসিং রুমে অবস্থান করছেন তিনি।

একপ্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করেন সাব্বির রহমান। সপ্তম উইকেট হিসেবে কামরুল ইসলাম রাব্বির আউট হওয়ার পর আগের দিন ইনজুরিতে পরা ইমরুল কায়েস আবার ব্যাটিংয়ে ফিরে আসেন। তবে দলীয় ১৫২ রানে সাব্বির বিদায় নিলে কার্যত শেষ হয়ে বাংলাদেশের টেস্ট বাঁচানোর আশা। এরপর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শুভাশিস বিদায় নিলে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন সাব্বির। আর ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন ইমরুল কায়েস। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৫৩ রানে ৩টি উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। ২টি করে উইকেট পান ওয়েগনার ও সেন্টনার। এছাড়া ১টি উইকেট পেয়েছেন সাউদি।

বড় স্কোর গড়েও হারের বিশ্ব রেকর্ড বাংলাদেশের

ওয়ানডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। আজকাল বিজ্ঞাপন, বাণিজ্য ও বিপনের মিশেলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটও পেয়েছে বেশ দর্শকপ্রিয়তা। কিন্তু হারায়নি টেস্ট ক্রিকেটের ঔজ্জ্বল্য। চিরায়ত সৌন্দর্য্য ও ঐতিহ্য নিয়ে ঠিক টিকে আছে টেস্ট ক্রিকেট। পাঁচদিনের খেলা। পরতে পরতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মত উত্তেজনা, আকর্ষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়তো নেই। টেস্টের সৌন্দর্য্য। ভিন্ন। একেক সেশনে একেক রকম চালচিত্র। কখনো শীতল। আবার কখনো উষ্ণ। ওঠা নামার পালাও অনেক বেশি।

মোদ্দা কথা সীমিত ওভারের খেলার তুলনায় পরিধি, আকার ও দীর্ঘ পরিসরের খেলা বলে টেস্টে ঘটনা প্রবাহও অনেক বেশি। তাই পৃথিবীর তাবৎ খেলার তুলনায় টেস্ট ম্যাচের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাটাঘাটি, কথা বার্তা, আলোচনা-পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও হয় অনেক বেশি। সেই আলোকেই বলা টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড নিয়ে যত কথা বার্তা হয় এবং আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়, অন্য কোন খেলার অন্য কোন ফরম্যাট নিয়ে তা হয় না। বলা যায় টেস্ট ক্রিকেটের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য তার রেকর্ডের পাতায়। তার পরিসংখ্যানে।

টেস্টের এই পরিসংখ্যান ঘেটেই বেড়িয়ে আসলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোনরকম ভনিতা না করেই বলে দেয়া ভালো, এ তথ্যটা বাংলাদেশ দলের জন্য মোটেই কৃতিত্বের নয়। বরং চরম ব্যর্থতার। গ্লানিরও।

টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের বিরলতম ঘটনার জন্ম হলো আজ ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে। যে মাঠে মাত্র দু`দিন আগে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়া। পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিমের ৩৫৯ রানের বিশাল রেকর্ড গড়ে শুধু নিজ দেশের টেস্টে সবচেয়ে বড় পার্টনারশিপের রেকর্ড গড়েননি। ঐ জুটিতে ৩০০ পেড়িয়ে যেতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে যে কোন উইকেটে সবচেয়ে বড় জুটিরও মালিক বনে যান সাকিব-মুশফিক।

সেই বেসিন রিজার্ভে অবশেষে ব্যর্থতার এক নতুন ইতিহাসেরও জন্ম হলো। সে ব্যর্থতার স্রষ্টাও টাইগাররা। এ মাঠে বাংলাদেশ শুধু রান পাহাড় গড়ে হারেনি। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র দল হিসেবে ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর গড়ে হারা প্রথম দলও হলো বাংলাদেশ। এ দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোন দলের ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর নিয়েও হারের রেকর্ড ছিল না।

আজ ১৬ জানুয়ারী সে ব্যর্থতার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলো মুশফিকের দল। প্রথম দল হিসেবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬০০ রানের  দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারের তেঁতো স্বাদ নিলো তামিম, ইমরুল, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে টেস্টের প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ৫৮৬ রান করে ম্যাচ হারের রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার। সেটা বহু দিন আগের কথা। সেই ১৮৯৪ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৮৬ রানের পাহাড় সমান স্কোর গড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারে অজিরা। টেস্টে ক্রিকেটে  প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৫৬ রান করে হারের রেকর্ডটাও অস্ট্রেলিয়ার। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে এডিলেডে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ঐ রান করেও ম্যাচ জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। হারের তেঁতো স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে তৃতীয় সর্বাধীক ৫৫১ রান তুলে হারের রেকর্ডটা ইংল্যান্ডের। সেটা ২০০৬ সালের ঘটনা। অ্যাডিলেডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে ৫৫১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণার পর উল্টো হেরে যায় ইংলিশরা। এছাড়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়ে ম্যাচ হারার রেকর্ড আছে আরও কয়েকটি।

এর মধ্যে ১৯৬৮ সালের মার্চে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ হেরেছিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। পোর্ট অফ স্পেনে হওয়া সে ম্যাচে ক্যারিবীয়রা আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৫২৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষনা করেও শেষ অবদি ম্যাচ হেরে যায়। এছাড়া প্রথম ইনিংসে ৫২০ এবং ৫১৯ রান করেও টেস্ট হারের রেকর্ড আছে একজোড়া। প্রথম ইনিংসে ৫২০ রান তুলেও শেষ পর্যন্ত টেস্ট হারের রেকর্ডটি অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৫৩ সালে মেলবোর্নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫২০ রানের বড় স্কোর গড়েও কুলিয়ে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া ৫১৯ রান করে টেস্ট হারের রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের। আজ থেকে অনেক আগে সেই ১৯২৯ সালের মার্চে মেলবোর্নে অজিদের সাথে ঐ বড় স্কোর গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত হার মানে ইংলিশরা।

হাসপাতাল থেকে ফিরে ড্রেসিং রুমে মুশফিক

ম্যাচের ফল ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মুশফিকুর রহীমের ইনজুরির খবর। মাঠ থেকে যেহেতু সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে , তাই নিশ্চয়ই অবস্থা গুরুতর। এমন চিন্তায় সবাই উদগ্রীব।

কিন্তু সাউদিরর বাউন্সারে মাথার পিছনে বল লেগে আহত মুশফিককে দেখতে মাঠের ভিতরে যাওয়া তামিম আগেই জানিয়েছিলেন, চিন্তার কিছু নেই। মুশফিক ভালো আছেন। আশা করি ভালো হয়েই ফিরে আসবে। শুধু সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তামিম প্রায় আড়াই ঘন্টা আগে স্বদেশী সাংবাদিকদের যা জানিয়ে ছিলেন, তাই সত্য।

শেষ খবর, মুশফিকুর রহিম এখন অনেকটাই সুস্থ। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮.০৭ মিনিটে ( স্থানীয় সময় বিকেল ৩ টা ৮ মিনিট) ম্যানেজার সাব্বির খান জানালেন, মুশফিক অনেকটাই সুস্থ । হাসপাতাল থেকে চলে এসেছে। এখন আমাদের ড্রেসিং রুমে বসে আছে। তার সিটি স্ক্যান করতে হয়নি।

ব্যথাটা পিছনের দিকে হেলমেটের ওপর দিয়ে লেগেছিল, তাই হাতপাতালের চিকিৎসকরা তার মাথার পিছনের ও ঘারের এক্স-রে করেছেন। তাতে কোন রকম খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুক্ষণ নিবিঢ় পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এখন মুশফিক আমাদের সঙ্গে ড্রেসিং রুমে । বল যে জায়গায় আঘাত হেনেছিল, সেখানে একটু ব্যথা আছে। তবে সেটা সহ্যের মধ্যে।

সাউদির বলে মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে মুশফিক

ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যথা। দেড়দিন কিপিং না করে আর দুই দিন মাঠের বাইরে থাকার পর দলের প্রয়োজনে অবশেষে দায়িত্ববোধের চরম নিদর্শন হিসেবে মাঠে নামলেন মুশফিকুর রহীম। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ব্যথার জায়গা যতটা সম্ভব আড়ালে রেখে ব্যাট করতে চাইবেন। এ সত্য জেনে বুঝেই তাকে একের পর এক বাউন্সার ছোড়া শুরু কিউই বোলারদের।

সাউদি, বোল্ট আর নেইল ওয়েগানার তিন কিউই পেসার মুশফিক ক্রিজে আসার পর থেকেই খাট লেন্থে বল ফেলে মুশফিককে পিছনের পায়ে নেয়ার প্রাণপন চেষ্টা করলেন। একের পর এক বাউন্সারও ছোড়া হল। যাতে আঘাত পাওয়া জায়গাকে আড়াল করতে গিয়ে মুশফিক পিছনের পায়ে যান এবং উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরত আসেন।

এ লক্ষ্য নিয়েই মুশফিককে একের পর এক বাউন্সার ছুড়ে বিব্রত করার চেষ্টা। মুশফিকও যতটা সম্ভব সতর্ক ও সাবধানে সে বাউন্সারগুলোক পাশ কাটিয়ে, না হয় বসে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন; কিন্তু কতক্ষণ এভাবে পারা যায়? একবার তাকে বলের আঘাতে ব্যথা পেতেই হল।

টিম সাউদির রাউন্ড দ্য উইকেটে করা ১৩৫ কিলোমিটার গতির বাউন্সার বসে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন মুশফিক। তবে রাউন্ড দ্য উইকেটের সে বাউন্সার যে তার দিকেই আসতে পারে, তা হয়ত খেয়াল করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। বলের থেকে চোখ সরিয়ে মুখ ও মাথা ঘুরিয়ে নিয়ে ফেললেন।

কৌনিক ডেলিভারি গিয়ে আঘাত হানল তার মাথার পিছনের অংশে। সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। বাংলাদশ এবং নিউজিল্যান্ড- দুই দলের ফিজিওসহ মাঠে ছুটে গেলেন দু ’দলের অনেকেই।

তাৎক্ষনিকভাবে দেখার পর ত্বরিৎ তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হল হাসপাতালে। মাঠের পাশেই থাকা ওয়েলিংটন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স কয়েক মিনিটের মধ্যে ঢুকে গেল মাঠে। ততক্ষণে মুশফিকের প্যাড, গøাভস, থাই প্যাড ও অ্যালবো গার্ড খুলে তাকে তুলে দেয়া হলো অ্যাম্বুলেন্সে।

বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটের (স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিট) দিকে মুশফিককে নিয়ে ওয়েলিংটন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মাঠ ছাড়ল অ্যাম্বুলেন্স।

মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম ও ম্যানেজার সাব্বির খান গেলেন তার সাথে।

তালগোল পাকিয়ে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য হার

এক সময়ে জয়ের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত হেরেছে বড় ব্যবধানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে তালগোল পাকানোর পর বোলাররাও পারেননি লড়াই করতে। তাই সেই হারের বৃত্তেই মুশফিকুর রহিমের দল। ওয়েলিংটন টেস্ট ৭ উইকেটে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড।

বিব্রতকর রেকর্ড

প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেও হারতে হলো ওয়েলিংটন টেস্ট! টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত রান করে হারেনি কোনো দল।

উইলিয়ামসনের শতক

দলকে সামনে থেকে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া কেন উইলিয়ামসন করেন দারুণ এক শতক। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সুইপ করে নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি। ৮৮ বলে পঞ্চদশ শতক করার পথে ১৫টি চার হাঁকান তিনি। সেই ওভারেই ১ রান নিয়ে দলকে ৭ উইকেটের জয় এনে দেন অধিনায়ক।

ব্যাটিংয়ে তালগোল, বোলিং নির্বিষ

আগের দিন শেষ সময়ে মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজের আউটে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পর দিন উইকেট ছুড়ে আসেন সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক ও সাব্বির রহমান। মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের বীরত্বের পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

২১৬ রানের পুঁজি নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন মিরাজ। দুই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। কিন্তু স্বাগতিকদের সেরা দুই ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলরের দেড়শ’ রানের জুটি দলকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে যায়।

টেইলরকে ফেরালেন শুভাশীষ

শুভাশীষ রায়ের বলে স্লিপে মেহেদী হাসানের চমৎকার এক ক্যাচে ফিরেন রস টেইলর। ভাঙে ১৬৩ রানের জুটি।

৬০ রান করে টেইলর ফিরে যাওয়ার সময় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ২০২/৩। জয়ের জন্য তাদের চাই আর ১৫ রান।

নিউ জিল্যান্ডের দুইশ’

জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ৩৫ ওভারে দুইশ’ রানে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। দেড়শ’ রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটির দেড়শ’

নিউ জিল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখা কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে গড়েন দেড়শ’ রানের জুটি। তাদের ১৫০ রান আসে ১৩৪ বলে।

৩৪ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৯০/২। জয়ের জন্য আরও ২৭ রান চাই তাদের।

টেইলরের অর্ধশতক

তাসকিন আহমেদের বলে ১ রান নিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান রস টেইলর। তার সঙ্গে কেন উইলিয়ামসের শতরানের জুটিতে জয়ের পথে নিউ জিল্যান্ড। ৬১ বলে ৫০ রান করতে ৫টি চার হাঁকান চোখের অস্ত্রোপচারের পর এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা টেইলর।

নিউ জিল্যান্ডের দেড়শ

জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ২৭.২ ওভারে দেড়শ’রানে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। শত রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলরের শতরানের জুটি

তৃতীয় সেশনের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর গড়েন শতরানের জুটি। ৮২ বলে জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান এই দুই জনে।

২৫ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৩৯/২। জয়ের জন্য আরও ৭৮ রান চাই তাদের।

উইলিয়ামসনের অর্ধশতক

শুভাশীষ রায়কে চার হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান কেন উইলিয়ামসন। তার অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে নিউ জিল্যান্ড।

৪৩ বলে ৮টি চারে পঞ্চাশে যান উইলিয়ামসন। তখন দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১২৭ রান। জয়ের জন্য আরও ৯০ রান চাই তাদের।

নিউ জিল্যান্ডের একশ’

জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ২০.৩ ওভারে তিন অঙ্কে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটির অর্ধশতক

দ্বিতীয় সেশনের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে রস টেইলরের সঙ্গে জুটির অর্ধশতক স্পর্শ করেন কেন উইলিয়ামসন। ৪৬ বলে আসে তাদের জুটির অর্ধশতক।

১৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৯১/২। জয়ের জন্য শেষ সেশনে আর ১২৬ রান চাই তাদের।

মিরাজের দ্বিতীয় শিকার ল্যাথাম

টানা দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন প্রথম ইনিংসে শতক করা টম ল্যাথাম।

১৬ রান করে ল্যাথাম ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩৯/২। জয়ের জন্য তাদের চাই আরও ১৭৮ রান।

ম্যাচে মিরাজের প্রথম উইকেট

নবম ওভারে নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ফিরতি ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জিত রাভাল। স্বাগতিকদের স্কোর তখন ৩২/১। জয়ের জন্য চাই আরও ১৮৫।

ম্যাচে মিরাজের এটাই প্রথম উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৩৭ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।

দুই প্রান্তেই স্পিনার

নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে দুই প্রান্তেই স্পিনার ব্যবহার করেন তামিম ইকবাল। তিন ওভার বল করার পর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে সরিয়ে সাকিব আল হাসানকে আক্রমণে আনেন তিনি। অন্য প্রান্তে টানা বল করেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।

বাংলাদেশে দৃশ্যটা নিয়মিত হলেও ওয়েলিংটনে চলতি টেস্টে এই চিত্র এবারই প্রথম দেখা গেল।

৮ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩০/০। জয়ের জন্য আরও ১৮৭ রান চাই তাদের।

এবার কিপিংয়ে সাব্বির

নিয়মিত উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম হাসপাতালে, মাঠে ফিরলেও তার কিপিং করার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রথম ইনিংসে তার বদলে কিপিং করা ইমরুল কায়েস ঠিক মতো হাঁটতেই পারছেন না। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটের পেছনে দাঁড়ান সাব্বির রহমান।

১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ

মুশফিকুর রহিম-ইমরুল কায়েসের বীরত্ব, সাব্বির রহমানের অর্ধশতকের পরও ওয়েলিংটন টেস্টের পঞ্চম দিন দ্বিতীয় সেশনে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

শুভাশীষ রায়কে শূন্য রানে বোল্ড করে বাংলাদেশ ইনিংসের ইতি টানেন ট্রেন্ট বোল্ট। হেলমেটে বল লাগায় মাঠ থেকে হাসপাতালে যাওয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন মুশফিক। খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠে নামা ইমরুল অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।

অলআউট হওয়ার আগে শেষ দিন ৯৪ রান যোগ করে বাংলাদেশ। শেষ দিন বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক ও সাব্বিরের দিকে। তিনজনই ফিরেন বাজে শট খেলে।

জয়ের জন্য ২১৭ রানের লক্ষ্য পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

পাগলাটে শটে সাব্বিরের বিদায়

অন্য প্রান্তে ইমরুল কায়েস আছেন, চোটের জন্য হয়তো দৌড়ে রান নিতে পারবেন না কিন্তু কিছু বল ঠেকিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তো তার আছে। নিউ জিল্যান্ড তখন মনোযোগী বাউন্ডারি বাঁচানোর দিকে। খানিকটা সময় সহজেই কাটিয়ে দিতে পারতেন সাব্বির রহমান। টিকে থাকার চেষ্টা না করে তিনি ফিরেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল অহেতুক তাড়া করতে গিয়ে।

৫০ রান করে বাজে শটে সাব্বির ফেরার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২/৮। দলের লিড তখন ২০৮ রান।

ইমরুলের ফেরা

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস ব্যাটিংয়ে ফিরেন কামরুল ইসলাম রাব্বি ফেরার পর। মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই চার হাঁকান তিনি। খোঁড়াতে খোঁড়াতে ক্রিজে যাওয়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দৌড়ে রান নিতে পারছেন না।

টিকলেন না কামরুলও

টিম সাউদির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। শর্ট বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি। গ্লাভসে লেগে আসা সহজ ক্যাচ তালু বন্দি করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ।

কামরুল ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১৪৮/৭। লিড তখন ২০৪।

সাব্বিরের অর্ধশতক

দলকে এগিয়ে নেওয়ার পথে ম্যাচে দ্বিতীয় অর্ধশতকে পৌঁছান সাব্বির রহমান। ৯৭ বলে পঞ্চাশে যেতে ৯টি চার হাঁকান এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। এর আগে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত অর্ধশতক আসে তার ব্যাট থেকে।

৫৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৪৮/৬। লিড তখন ২০৪ রান।

প্রথম সেশনে ৩ উইকেট আর মুশফিকের বিদায়

পঞ্চম ও শেষ দিনের শুরুতে যতটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং দরকার ছিল তা করতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতে বাজে শটে ফিরেন সাকিব আল হাসান। উইকেট ছুড়ে আসেন মুমিনুল হকও।

আঙুলে চোট নিয়ে লড়াই করা মুশফিকুর রহিম মাঠ ছাড়েন অ্যাম্বুলেন্সে করে। টিম সাউদির শর্ট বল তার মাথার পেছনে হেলমেটে আঘাত হানে। শেষটায় ট্রেন্ট বোল্টের দারুণ এক ইয়র্কারে ফিরেন তাসকিন আহমেদ।

লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১৩৭/৬। লিড ১৯৩ রান। সাব্বির রহমান ৪০ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি শূন্য রানে ব্যাট করছেন।

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস প্রস্তুত ব্যাটিংয়ে নামার জন্য। হেলমেট-প্যাড পরে বসে থাকতে দেখা গেছে এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে।

পরিস্থিতি হতে পারতো আরও খারাপ। প্রথম সেশনে তিনটি ক্যাচ ছেড়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ফিল্ডাররা। লাঞ্চের আগে দ্বিতীয় শেষ বলে ফিরে যেতে পারতেন সাব্বির। অন্য প্রান্তে থাকা কামরুলের পরামর্শে রিভিউ নিয়ে টিকে যান তিনি।

রিভিউ নিয়ে টিকে সাব্বির

টিম সাউদির বলে কট বিহাইন্ড দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে টিকে যান সাব্বির রহমান। ক্যাচ যায় আর্ম গার্ডে লেগে। টিম সাউদির বল ব্যাট বা গ্লাভস স্পর্শ না করায় পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। সে সময় ৪০ রানে ব্যাট করছিলেন সাব্বির।

প্যাড পরে প্রস্তুত ইমরুল

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস প্রস্তুত মাঠে নামার জন্য। তাসকিন আহমেদ আউট হওয়ার পর এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে দেখা যায় হেলমেট, প্যাড পরে বসে থাকতে।

বোল্ড হয়ে ফিরলেন তাসকিন

আগের বলে শর্ট লেগে জীবন পান তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের পরের দারুণ ইয়র্কার ঠেকাতে পারেননি এই তরুণ। বোল্ড হয়ে তিনি ফেরার সময় দলের স্কোর ১৩৭/৬। দলের লিড ১৯৩ রান।

অ্যাম্বুলেন্সে মাঠ ছাড়লেন মুশফিক

আঙুলে চোট নিয়ে ব্যাট করা মুশফিকুর রহিমের হেলমেটের পিছন দিকে লাগে টিম সাউদির বল। ক্রিজেই শুয়ে পড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিউ জিল্যান্ডের ব্যর্থ রিভিউ

মুশফিকুর রহিম ক্রিজে আসার পর এক ঘণ্টায় মাত্র একটি স্কোরিং শট খেলা সাব্বির রহমান টিম সাউদিকে হুক করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। রিভিউ নেয় নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু বল ব্যাট বা গ্লাভস কোথাও স্পর্শ না করায় পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

জীবন পেলেন সাব্বির

ট্রেন্ট বোল্টকে চার হাঁকাতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সাব্বির রহমান। সে সময় ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি।

সেই ২৬তম ওভারে শেষ রান পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ক্রিজে আসার পর ১২ ওভারে যত বল খেলেন সাব্বির তার সবই ডট। বোল্টের সেই ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে আবার রানের দেখা পান তিনি।

জীবন পেলেন মুশফিক

লেগ গালি আর শর্ট লেগ রেখে শর্ট বলে মুশফিকুর রহিমকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা প্রায় সফল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু নিল ওয়েগনারের বলে অধিনায়কের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচ গালিতে হাতে জমাতে পারেননি টিম সাউদি। সে সময় ৬ রানে ব্যাট করছিলেন মুশফিক।

৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৩/৫। লিড ১৫৯।

ওয়েগনারের শর্ট বলে পরীক্ষা মুশফিকের

আঙুলে চোট নিয়ে ব্যাট করা মুশফিকুর রহিমকে অস্বস্তিতে রাখতে শর্ট লেগ আর লেগ গালি রেখে একের পর এর এক শর্ট বল করে যান নিল ওয়েগনার। বেশ কয়েকবার বল লাগে ব্যাটের হাতলে। দুয়েকবার একটুর জন্য আবার চোট পাননি অধিনায়ক।

বাংলাদেশের একশ পার

মুশফিকুর রহিমের চারে দ্বিতীয় ইনিংসে একশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০০/৫। লিড তখন ১৫৬ রান।

দলকে বিপদে ফেলে ফিরলেন মুমিনুল

দলকে বিপদে ফেলে ফিরেন মুমিনুল হক। নিল ওয়েগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

২৩ রান করে মুমিনুল ফেরার সময় দলের সংগ্রহ ৯৬/৫।লিড তখন ১৫২ রান।

দ্বিশতকের পর সাকিবের শূন্য

শেষ দিনের শুরুতেই দলকে বিপদে পেলে আউট হন আগের ইনিংসেই রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান। স্যান্টারের বলে মিড-অনে কেন উইলিয়ামসের হাতে সহজ ক্যাচ দেন প্রথম ইনিংসে ২১৭ রান করা এই অলরাউন্ডার।

পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে সাকিবের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৬/৪। লিড আগের দিনের মতোই ১২২।

হঠাৎ শঙ্কার মেঘ

চতুর্থ দিন শেষ সেশনে নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সাবলীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। হঠাৎ বিপত্তি, দ্রুত রান নিয়ে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। দ্রুত ফিরেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। আঙুলে চোট রয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের।

শেষ দিন ১২২ রানের লিড নিয়ে ১০ রানে অপরাজিত মুমিনুল হকের সঙ্গে নামেন আগের ইনিংসেই ২১৭ রান করা সাকিব আল হাসান। দলকে নিরাপদে নিতে ভূমিকা রাখতে হবে সাব্বির রহমানকেও।

‘আমরা জয়ের জন্যই খেলবো’

‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’-এমন একটা প্রবাদ আছে। ওয়েলিংটন টেস্টের শেষ দিনে যা মাথায় থাকবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড দ ‘দলেরই। বেসিন রিজার্ভে হাই-স্কোরিং ম্যাচেও ড্র নয়, জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি দেখছে তারা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫৯৫ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ড করেছে ৫৩৯ রান।

বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৬৬ রান তুলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে। ইতোমধ্যে পেয়ে গেছে ১২২ রানের লিড। দিন শেষে ১০ রানে অপরাজিত থাকা টাইগার ব্যাটসম্যান মুুমিনুল হক সৌরভ নতুন সঙ্গী নিয়ে আগামীকাল (সোমবার) শেষ দিনের লড়াইয়ে মাঠে নামবেন।

এদিকে পঞ্চম দিনের শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবে নিউজিল্যান্ড। দলটির তারকা ওপেনার টম লাথাম যেমন সেই হুমকিটাই দিয়ে রাখলেন। জানালেন, ওয়েলিংটন টেস্ট জয়ের লক্ষ্যেই শেষ দিন তারা মাঠে নামবেন।

লাথামের ব্যাখ্যা, ‘আগামীকালের (টেস্টের পঞ্চম দিন) শুরু ভালো করতে পারাটাই চ্যালেঞ্জের। আমি মনে করি, উইকেট এখনও ব্যাটিং-বান্ধব। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারলে জয় আসবেই। টার্গেট যত বড়ই হোক; আমরা জয়ের জন্যই খেলবো। আশা করছি, লক্ষ্যটা সহজই থাকবে। সেই লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারবো। শেষ দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে প্রথম ঘণ্টার খেলা।’

সব দায়িত্ব এখন মুমিনুল সাকিব মুশফিকের কাঁধে

আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হবার কিছুক্ষণ পরের কথা। বেসিন রিজার্ভের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের নিচে দেখা হওয়া মাত্র প্রবাসী বাঙালি নিক্সনের প্রশ্ন, ‘আচ্ছা ওয়েলিংটনের দমকা হাওয়ার ঝাপটা কি টাইগারদের গায়েও এসে লাগল?’

এটুকু শুনে মনে হতে পারে ভদ্রলোক বুঝি রসিকতা করেছেন। আসলে মোটেই তা নয়। শুনতে খারাপ লাগলেও বাস্তবতা এমনই। এ টেস্টে টাইগারদের অবস্থা ছিল একদম সাজানো বাগানের মতো। গোলাপ, বকুল, রজনীগন্ধা, বেলি, হাসনাহেনা ফুটেছিল থরে থরে।

হঠাৎ তাসমান সাগর থেকে উঠে আসা ‘পাগলা হাওয়া’ যেন এক ঝাপটায় সেই সাজানো বাগান কিছুটা এলোমেলো করে দিয়ে গেলো। মুশফিকের দল আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে খানিকটা চাপে এবং অস্বস্তিতেও।

ভাববেন না এ চাপ শুধুই দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৩ উইকেট খোয়ানোর কারণে। আসলে এই অস্বস্তি ও মনস্তাতাত্ত্বিক চাপের নাম হলো ‘ইনজুরি’। বলা নেই, কওয়া নেই- হঠাৎ চারদিক থেকে রাজ্যের ইনজুরির চাপ এসে গ্রাস করলো।

এই ইনজুরিই এখন যত চিন্তার খোরাক। একজন, দুজন নয়- তিন তিনজন ইনজুরির শিকার। যার প্রথমজন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। মাঝখানে মুমিনুল হক ও সর্বশেষ ইনজুরির শিকার ওপেনার ইমরুল কায়েস।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ইমরুল আর মুশফিক দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন কিনা- তা নিয়েই জেগেছিল রাজ্যের সংশয়। প্রথম ইনজুরির শিকার হলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। শুক্রবার ১৫৯ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস গড়ার পথে বল লেগে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ব্যথা পেয়েছেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক।

শনিবার সেই ব্যথার কারণে উইকেটকিপিং করতে পারেননি। আজও না। সকালে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম রীতিমতো ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের দুজনার কথা শুনে মনে হচ্ছিল, অধিনায়ক বুঝি এ টেস্টে আর ব্যাটিং করতে পারবেন না।

যাক তবু আজ বিকেলে খেলা শেষে জানা গেল, মুশফিক ব্যাটিং করতে পারবেন। দ্বিতীয় ইনজুরির শিকার মমিনুল হক। এ নির্ভরযোগ্য বাটসম্যানও কাল ক্লোজ-ইন পজিশনে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বুকের পাঁজরে বলের আঘাতে ব্যাথা পেয়েছেন। আজ বেশিরভাগ সময় ফিল্ডিং করেননি। তারপরও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন ঠিক পজিশনেই।

আর সর্বশেষ ইনজুরির শিকার ওপেনার ইমরুল কায়েস। প্রথম ইনিংসে ভালো করতে না পারা এ বাঁ-হাতি উইলোবাজ দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিলেন বেশ আস্থা এবং আতত্মবিশ্বাস নিয়ে। যে শট যেখানে খেলতে চাচ্ছিলেন, সেখানেই যাচ্ছিল। প্রায় সব বল মাঝ ব্যাটেও আসছিল; কিন্তু হঠাৎ রান নিতে গিয়ে উরুতে টান পড়ল। মাটিতে পড়ে ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলেন। কাল বিলম্ব না করে পাঠিয়ে দেয়া হলো হাসপাতালে। অবশেষে রাতে ফিরে এসেছেন হাসপাতাল থেকে।

তবে আগামীকাল শেষ দিন ব্যাট হাতে নামতে পারবেন কি না ইমরুল, যথেষ্ট সন্দেহ রয়ে গেছে। মূলত এই নির্ভরযোগ্য পারফরমারদের ইনজুরিই এখন চিন্তার বড় কারণ। না হয় চতুর্থ দিন শেষে টাইগারদের লিড ১২২ রান। এখনো হাতে আছে আরও ৭ উইকেট। ইমরুল ব্যাটিংয়ে নামতে পারলে তাই। আর ইমরুল ব্যাটিংয়ে নামতে না পারলে এক উইকেট কম। এটাই চিন্তা। এটাই চাপ।

ইমরুল ইনজুরিতে না পড়লেই চিন্তা হয়তো অনেক কমে যেতো। যে আস্থার সাথে খেলছিলেন, তাতে ইমরুল ইনজুরির শিকার না হলে নির্ঘাত মুমিনুলকে নিয়ে দিন শেষ করে আসতে পারতেন। তখন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজকে পাঠানোরও দরকার পড়তো না। তিনি এসে রান আউটও হতেন না।

কাজেই শেখ কথা, এখন টিম বাংলাদেশের শুধু রানের চাপ নেই। সময়ের চাপও আছে। রান করতে হবে। এমন এক স্কোর লিড হিসেবে দাঁড় করাতে হবে, যাতে কিউইরা প্রাণপন চেষ্টা করেও বাংলাদেশের রান আর টপকাতে না পারে।

এ জন্য শেষ দিনের প্রায় ১০০ ওভারের মধ্যে অন্তত ৫০ ওভার খেলে ফেলতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এর কমে ইনিংস শেষ হয়ে গেলে ঝুঁকি থেকে যাবে। উইকেটে আছেন মুমিনুল। এরপর মুশফিক, সাকিব এবং সাব্বির আছেন। এই চারজনের মধ্যে দুটি হান্ড্রেড প্লাস জুটি হলেও সব ল্যাঠা চুকে যায়। আর কিছুই করার প্রয়োজন হবে না।

তখন কিউদের জয়ের জন্য দরকার পড়বে তিনশ’ প্লাস রানের। যা দেখে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় টেস্টটা বেঁচে যাবে।

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ শেষ দিন চা বিরতি পর্যন্ত কাটিয়ে দিতে পারলেই ব্যাস। তখন যে সময় পাওয়া যাবে, তাতে ব্যাক ক্যাপ্সরা ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালালেও কাজ হবে না।

চা বিরতির আগে দুই আর পরে দুই মোট চার ঘণ্টায় ৩০০ রান করা বেশ কঠিন। তাও যদি না হয়, তাহলে লাঞ্চের পর কোন রকমে আর এক ঘণ্টা পার করে দিতে পারলেই চিন্তা থাকবে না। তখন পাঁচ দিন খেলেও ম্যাচ হযে যাবে নিষ্প্রাণ ড্র। যা অবশ্যই হবে নিউজ্যিাল্ডের মাটিতে গৌরবের সঙ্গে প্রথম টেস্ট ড্র।

কিন্তু প্রশ্ন হলো আজ (চতুর্থ দিন) পড়ন্ত বিকেলে ২০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ড্রেসিং রুমের অবস্থা কেমন? টিমের কি সেই মনের জোরটা আছে? পেসার তাসকিন আহমেদের সহজ সরলর স্বীকারোক্তি, ‘ইমরুল ভাইয়ের ইনজুরিতে পড়ার পর একটু হলেও মানসিক ধাক্কা এসে লেগেছে দলের গায়ে।’

এখন প্রশ্ন ও দেখার বিষয় একটাই- মুমিনুল, সাকিব, মুশফিক এবং সাব্বির মিলে অন্তত তিন ঘন্টা ক্রিজে কাটিয়ে দিতে পারেন কি না। প্রথম ইনিংসে সাকিব আর মুশফিক যে লম্বা ইনিংস খেলেছেন, তা ছিল সবার স্বপ্নের বাইরে। এখন প্রয়োজনীয় সময় আর স্বপ্নালোকে বিচরণের প্রয়োজন নেই। বাস্তবে তা করে দেখাতে পারলেই হলো। আর চিন্তা থাকবে না।

আপনারাই দেখেছেন তারা কতটা ভয়ঙ্কর : লাথাম

ওয়েলিংটন টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫৯৫ রানের জবাবে আজ চতুর্থ দিনে নিউজিল্যান্ড ৫৩৯ রানে অলআউট হয়। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৬৬ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আর তাতে টাইগাররা লিড পেয়ে গেছেন ১২২ রানের।

টেস্টের পঞ্চম দিন কিউই বোলাররা যে টাইগারদের স্কোরটা খুব বেশি বড় হতে চাইবেন না, এটা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে কিউই ওপেনার টম লাথাম জানালেন, বাংলাদেশ দল বড় ভয়ঙ্কর। যে কোনো সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

লাথামের ভাষায়, ‘আমি বলতে চাই না, আপনারাই দেখেছেন তারা (বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা) কতটা ভয়ঙ্কর। কিন্তু আমাদের তিনজন বিশ্বমানের সিমার এবং ভালো স্পিনার আছে। আমরা যদি দীর্ঘ সময় ভালো জায়গায় বল ফেলতে পারি, তাহলে আশাকরি- তাদেরকে আমরা বিব্রত করতে পারবো।’

বাংলাদেশকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে জয় তুলে নেয়াই নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য উল্লেখ করে লাথাম বলেন, ‘আমরা যদি দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারি এবং তারা যদি জুটি গড়তে না পারে সেটিই হতে পারে আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

এখনও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তাসকিন

পুরো চারটা দিন শীর্ষে থাকলো বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে এসে তিনটা উইকেট হারিয়েই কি না এখন শঙ্কা সৃষ্টি হয়ে গেছে, এ টেস্টের ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে আসবে তো! ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের সবুজ মাঠ থেকে প্রশ্নটা ছড়িয়ে গেলো বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমেও। ব্যাটসম্যানদের ওপর এখন নির্ভর করছে অনেক কিছু।

কিন্তু দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পাশাপাশি হঠাৎ ইমরুলের ইনজুরিতে পড়ে যাওয়াটাই শঙ্কার সৃষ্টি করছে। উইকেটে টিকে আছেন এখনও মুমিনুল। বাইরে আছেন প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান, সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহীম, হাফ-সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির রহমান। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এখন এরাই বড় ভরসার নাম।

তবুও শঙ্কার কালো মেঘ ঘুরছে ওয়েলিংটনের আকাশে। চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা তাসকিন আহমেদের কাছেও উত্থাপন হলো প্রশ্নটি। পঞ্চম দিন কি করবে বাংলাদেশ? পারবে তো শেষ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচটি বাঁচাতে?

তাসকিনের কথায় স্পষ্ট হলো, ড্রেসিং রুমেও প্রশ্নটার সংক্রমণ ঘটেছে। যার প্রতিধ্বনি হলো তার মুখে। ওয়েলিংটনে অভিষিক্ত এই পেসার প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পরিস্থিতি কি দাঁড়ায় তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে আমরা অবশ্যই জয়ের জন্য খেলব। ব্যাটসম্যানরা সেট হলে রান করা সহজ হবে।’

পেসার তাসকিনও স্বীকৃতি দিলেন বেসিন রিজার্ভের উইকেটটা পুরোপুরি ব্যাটিংবান্ধব। স্কোর কার্ডের দিকে তাকালে সেটা আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। প্রথম ইনিংসে দু’দলেরই রান হলো ৫০০’র ওপর। তাসকিন বললেন, ‘উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। প্রথম ইনিংসে আমরা ৫৯৫ করে ইনিংস ঘোষণা করলাম। নিউজিল্যান্ডেরও রান হলো ৫৩৯। ব্যাটসম্যানদের জন্যই এই উইকেটটা।’

এমন ব্যাটিং উইকেটেই কি না দ্বিতীয় ইনিংসে পুরোপুরি ব্যাকফুটে বাংলাদেশ! ব্যাটসম্যানদের উইকেট হলেও তাসকিনের মতে, ভালো খেলতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তিনি বলেন, ‘তবুও আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভালো খেলতে হবে। কারণ নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ অনেক ভালো।’

শেষ মুহূর্তে তাসকিনের মুখে দৃঢ়তা ফুটে উঠলো। সেই দৃঢ়তা ব্যাটিং নিয়ে। শেষ দিন বাংলাদেশ ভালো ব্যাটিং করবে বলে তার প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ভালো ব্যাটিং করব। দিনের শেষের দিকে দ্রুত কয়েকটা উইকেট খারাপভাবে আউট হয়ে গেল। ইমরুল ভাই ভালো ব্যাটিং করলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটে পড়লেন। আশা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। অন্যরাও দায়িত্ব নিয়ে খেলবেন।

মুশফিকের দিকে তাকিয়ে মিনহাজুল আবেদীন

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তারা। তবে ছন্দপতনের শুরুটা হয় ইমরুলের ইনজুরিতে। ব্যক্তিগত ২৪ রানে দ্রুত রান নিতে গিতে বাঁ পায়ের উরুতে চোট লাগে তার। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।

এরপর দলীয় ৫০ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। বলে লেন্থ ঠিকভাবে বুঝতে না পারায় বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম (২৫)। সান্টনারের বলে লেট কাট করতে গিয়েছিলেন তিনি। তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও (৫)। শর্ট বলে জুজু কাটাতে না পারা এ ব্যাটসম্যান আরও একবার ওয়াগনারের বলে উইকেটরক্ষক ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা পড়েন।

এরপর স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ করতেই ফিরে যান টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ (১)। দুই রান নিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটে কাটা পড়লে দলের বিপদ আরও বেড়ে যায়। এরপরই দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। ফলে ৩ উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ১০ রান অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক।

এ অবস্থায় মুশফিকের দিকে তাকিয়ে আছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। ঠিক শঙ্কিত না হলেও তার চোখে মুখে খানিক চিন্তার রেখে রেখেই মিনহাজুলের ব্যাখ্যা, `দারুণ রমরমা সময় কাটছিল। আমরা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউইদের বিরুদ্ধে ৫৬ রানের লিডও পেয়ে গিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম, শেষ দিনটা আমরা খেলবো একদম চিন্তা ও চাপমুক্ত অবস্থায়। কোনই টেনশন থাকবে না। আমাদের ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় ইনিংসেও একদম টেনশনমুক্ত হয়ে ফ্রি ব্যাটিং করবে। কিন্তু দূর্ভাগ্য। তা আর হলো না। ইমরুল কায়েসের ইনজুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের রান আউট একটু হলেও চাপে ফেলে দিয়েছে দলকে। তবে আমার বিশ্বাস, এ চাপ কাটিয়ে উঠতে পারবো আমরা। একটি বড় জুুটি গড়ে উঠলেই আর কোন চিন্তা থাকবে না। মুশফিক ব্যাট করতে পারলে আশা করি আর কোন চিন্তা থাকবে না।`

ইমরুলের বিশ্ব রেকর্ড

কামরুল ইসলাম রাব্বির বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লাগে বল নেইল ওয়াগনারের। উইকেটের পেছনে সহজেই তা তালুবন্দি করেন উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েস। আর তাতেই নতুন ইতিহাস রচনা করে ফেলেন তিনি। বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে গড়েন বিশ্বরেকর্ড।

তবে শুধু বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে বিশ্বরেকর্ডই গড়েননি ইমরুল। পাশাপাশি ছুয়েছেন বাংলাদেশের পক্ষে কিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডও। এর আগে দুই বার এক ইনিংসে পাঁচটি করে ক্যাচ নিয়েছিলেন নিয়মিত উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীম। প্রথমবার ঘরের মাঠে মিরপুরে ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে,এরপর  ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোয়।

আগের দিন জিত রাভালের ক্যাচ নিয়ে শুরু করেছিলেন ইমরুল। এরপর নিয়েছিলেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ। আর চতুর্থ দিনে গ্লাভবন্দি করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, ব্র্যাডলি ওয়াটলিং ও নেইল ওয়াগনারের ক্যাচ। উইকেটের পেছনে ছিলেন মোট ১৪৮.২ ওভার।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করার সময় আঙ্গুলে চোট লাগে মুশফিকের। তাই বাধ্য হয়েই উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে হয় ইমরুলকে। আর দাঁড়িয়েই যে বিশ্বরেকর্ড গড়বেন হয়তো কল্পনাও করেননি তিনি। তবে রেকর্ড গড়ার দিনটি ভালো যায়নি ইমরুলের। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনজুরিতে পড়েন এ ওপেনার।

তবে এবারই প্রথম লম্বা সময় ধরে উইকেটের পিছনে ছিলেননা ইমরুল। এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ১২০ ওভার কিপিং করেছিলেন ইমরুল। সেবারও মুশফিকের ইনজুরির কারণেই তাকে কিপিং করতে হয়েছিল। তবে সেবার কোনো ডিসমিসাল করার সুযোগ হয়নি তার।

স্বস্তির খবর : ব্যাট করবেন মুশফিক

চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হয়েছে মাত্র। দুই আম্পায়ার বেলস তুলে প্যাভিলিয়নের দিকে পা বাড়িয়েছেন। আর বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান মমিনুল হক ও মিরাজ প্রায় ড্রেসিং রুমের সামনে। তাদের পিছনে পিছনে কিউই ফিল্ডাররাও সাজঘরের খুব কাছাকাছি।

বাংলাদেশের সাংবাদিকরা প্রেস কনফারেন্সে যাবার বিশেষ করে ইমরুল কায়েসের উরুর ইনজুরি আর অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সর্বশেষ আপডেট জানতে তড়িঘড়ি করেই বেসিন রিজার্ভের প্রেস বক্স থেকে বেড়িয়ে বেইসমেন্টে প্রেস কনফারেন্সের নির্ধারিত জায়গায় যেতে ব্যতিব্যস্ত।

এমন সময় ছুটে এলেন নিউজিল্যান্ডের নামী সাংবাদিক। চোখে মুখে রাজ্যের কৌতুহল। কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন , ‘ আচ্ছা তুমি কি আমাকে জানাতে পারো, মাঠের পশ্চিম দিকে কে দৌড়াচ্ছে? কাঁচ ঘেরা প্রেস বক্সের ভিতর থেকে পরিষ্কার বোঝা গেল মুশফিকুর রহীম রানিং করছেন। সঙ্গে ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন।

আজ দুপুরেও তাকে নিয়ে ছিল রাজ্যের সংশয়। তার পক্ষে কিপিং করা সম্ভব নয়। ইমরুল কায়েসকেই গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে কাটাতে হবে। এ তথ্য সকালেই মিলল। তা হয়েছেও। ইমরুলই কীপারের ভূমিকা পালন করেছেন। সেটা মূল কর্তব্য নয়। আসল কথা হলো মুশফিকের দৌড়ানোর তাৎপর্য কি?

ঐ ঝানু কিউই সাংবাদিক বলেই ফেললেন, আজ দিনের খেলা শেষে যখন মুশফিক রানিং করছে, তার মানে আগামীকাল তাকে ব্যাট হাতে নামতে দেখা যাবে। ঠিক সেটাই সত্য। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সন্মেলনে বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম দুটি খবর দিলেন। যার একটি ইতিহবাচক। অন্যটি নেতিবাচক অবশ্যই। তবে সেটাও চূড়ান্ত নয়।

বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার সোজা জানিয়ে দিলেন , মুশফিকুর রহীম সোমবার ব্যাট করতে পারবেন। এবং অধিনায়ক ব্যাট হাতে নামবেন। ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যাথা পাওয়া অধিনায়ক খুব দরকার না পড়লে আর ব্যাটিং ও কিপিং কোনটাই করবেন না, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম।

বোঝাই গেল দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে নামার প্রস্তুুতি নিচ্ছেন মুশফিক। না নিয়ে উপায়ও নেই। তামিম-মাহমুদউল্লাহর মত দুইজন অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ওদিকে উরুতে টান পড়ে আজ পড়ন্ত বিকেলে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস এক রাত্রির মধ্যে ইনজুরি কাটিয়ে কাল ব্যাট হাতে নাতে পারবেন কিনা? সন্দেহ। কাজেই দলের প্রয়োজনেই এখন মুশফিককে প্রয়োজন।

এখন মুশফিকও হাতের ব্যথা নিয়েও দলের প্রয়োজন মেটাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। সন্দেহ নেই সাকিব আল হাসান টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা ব্যাটিং করেই দেশের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ও নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাকিয়েছেন।

কিন্তু অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকেও পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তিনি ছিলেন বড় নির্ভলতা। সাকিব মাঝে মধ্যে অফস্টাম্পের বাইরে কিছু উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে দু তিন বার প্রায় বিপদ ডেকে এনেছিলেন। কিন্তু মুশফিক খেলেছেন একদম প্রথতাগত টেস্ট ইনিংস।

নিজের অতি পছন্দর শট স্লগ সুইপ একদম না খেলে, অফস্টাম্পের বাইরে স্কোয়ার কাট এবং ফ্ল্যাশ করায় সর্বোচ্চ সতর্ক ও সাবধান থেকে মনগড়া শট খেলেননি মুশফিক। যতটা সম্ভব বলের মেধা গুণের বিচার করে ব্যাকরণ মেনে ক্রিকেটীয় শট খেলার চেষ্টাই করেছেন বেশি। তারই ফসল প্রায় নিশ্চিদ্র ইনিংস।

আজ যেখানে শেষ করেছে টাইগাররা, সেখানে ঠিক অমন সাহসী, আত্মবিশ্বাসী আর প্রথাগত টেস্ট ব্যার্টিটাই যে খুব দরকার। সেই কাজে মুশফিকের চেয়ে দক্ষ-পারদর্শী আর কেইবা আছে?

দ্বিতীয় টেস্টে অপরিবর্তিত বাংলাদেশ দল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে দলে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। আস্থা রাখা হয়েছে প্রথম টেস্টের দলের উপরই। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি।

যথারীতি অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড থাকছে মুশফিকুর রহীমের হাতে। যদিও আঙ্গুলের ইনজুরিতে শেষ দুই দিন মাঠে ছিলেন না তিনি। প্রথম টেস্টে তার পরিবর্তে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ইমরুল কায়েস। তবে মুশফিকুরের ব্যাক-আপ হিসেবে স্কোয়াডে আছেন নুরুল হাসান সোহান।

গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফিরতে পারেন বাংলাদেশ দলের বিস্ময় বালক মোস্তাফিজুর রহমান। খেলার জন্য ফিট থাকলেও তাকে নিয়ে কোন ঝুঁকি নেয়নি বিসিবি। তাই পেস বোলিংয়ের দায়িত্ব থাকছে তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও শুভাশিস রায়ের হাতে।

দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াড: মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক),  ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, নুরুল  হাসান সোহান ও শুভাশিষ রায়।

চাপে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ৪৬ রানে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে হঠাৎই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার ইমরুল কায়েস। আর তাতেই উলটপালট হয়ে যায় সব। ইমরুলের ইনজুরির পর ব্যাটসম্যানরা শুরু করেন সাজঘরে আসা যাওয়া। স্কোরবোর্ডে ২০ রান যোগ করতেই ফিরে যান টপ অর্ডারের সেরা তিন ব্যাটসম্যান। ফলে ৩ উইকেটে ৬৬ রানে চতুর্থ দিন শেষ করে টাইগাররা। আর এতে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ১২২ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তারা। তবে ছন্দপতনের শুরুটা হয় ইমরুলের ইনজুরিতে। ব্যক্তিগত ২৪ রানে দ্রুত রান নিতে গিতে বাঁ পায়ের উরুতে চোট লাগে তার। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।

এরপর দলীয় ৫০ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। বলে লেন্থ ঠিকভাবে বুঝতে না পারায় বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম (২৫)। সান্টনারের বলে লেট কাট করতে গিয়েছিলেন তিনি। তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও (৫)। শর্ট বলে জুজু কাটাতে না পারা এ ব্যাটসম্যান আরও একবার ওয়াগনারের বলে উইকেটরক্ষক ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা পড়েন।

এরপর স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ করতেই ফিরে যান টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ (১)। দুই রান নিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটে কাটা পড়লে দলের বিপদ আরও বেড়ে যায়। এরপরই দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। ফলে ৩ উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ১০ রান অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক।

এর আগে রোববার ওয়েলিংটনের বেসিন রিসার্ভ স্টেডিয়ামে আগের দিনের ৩ উইকেটে ২৯২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান নিকোলস আর লাথাম এদিন সকালে দলের পক্ষে আরও ৫৫ রান সংগ্রহ করে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেন। তবে দলীয় ৩৪৭ রানে সাকিবের বলে ফিক করতে গিয়ে লেগ স্লিপে মিরাজের হাতে ধরা পড়েন নিকোলস। তবে আউট হওয়ার আগে দলের জন্য মূল্যবান ৫৩ রান করেছেন তিনি।

নিকোলসের বিদায়ের পর উজ্জিবিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। দ্রুত আরও দু’টি উইকেট তুলে নেয় তারা। কলিন ডি গ্রান্ডহোমকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেট পান শুভাশিস। তবে দলীয় ৩৯৮ রানে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ব্যাটসম্যান লাথাম ফেরাতে সমর্থ হয় টাইগাররা। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব। তবে আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৭৭ রান করেছেন তিনি। ৩২৯ বলে ১৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান এ ওপেনার।

তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠছিলেন ব্র্যাডলি ওয়াটলিং ও মিচেল সান্টনার। ৭৩ রানের রানের গড়ে তোলেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তবে বল হাতে নিয়েই এ জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ। শুধু তাই নয় নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হেনে বাংলাদেশকে দারুণভাবে খেলায় ফিরিয়ে আনেন তিনি। ওয়াটলিংকে উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি করার পর টিম সাউদিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। ব্যক্তিগত ৪৯ রান আউট হন ওয়াটলিং।

এরপর নবম উইকেটে নেইল ওয়াগনারকে নিয়ে ৩১ রানের জুটি গড়ে পাঁচশত রানের কোটা পার করেন সেন্টনার। দলীয় ৫০৪ রানে রাব্বির তৃতীয় শিকার হন ওয়াগনার। এরপর শেষ উইকেটে বোল্টের সঙ্গে ৩৫ রানের আরও একটি দারুণ এক জুটি গড়েন সেন্টনার। ফলে প্রথম ইনিংসে ৫৩৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক দলটি। ১০৫ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৭৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন সেন্টনার।

বাংলাদেশের পক্ষে ৮৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন কারুল ইসলাম রাব্বি। ২টি করে উইকেট পান সাকিব, শুভাশিস ও মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া তাসকিন পেয়েছেন ১টি উইকেট।

আরটি/এমআর/আরআইপি

মাঠ থেকে হাসপাতালে ইমরুল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের সিরিজের প্রথম টেস্টে আবহাওয়ার পাশাপাশি ইনজুরির সঙ্গেও লড়াই করতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় হাতে ব্যথা পেয়ে আর ফিল্ডিং করতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইনজুরিতে পরলেন ইমরুল কায়েস।

দলীয় ৪৬ রানে ওয়াগনারের বাউন্সার পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে দ্রুত রান নিতে গিয়েছিলেন তামিম। এ সময় জোড়ে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে ক্রিজে পৌঁছালেও বাঁ-পায়ের উরুতে ব্যথা পান ইমরুল। এরপর মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় তার। তবে কাজ না হওয়ায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। পরে  মাঠ থেকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে।

ইমরুলের ইনজুরিতে উলটপালট হয়ে যায় বাংলাদেশের। এরপর উইকেট পতনের মিছিলে নামে টাইগাররা। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ২০ যোগ করতেই ফিরে যান প্রথমসারির তিন ব্যাটসম্যান। ফলে ব্যকফুটে থেকেই চতুর্থ দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

রাব্বির চেয়েও অভিজ্ঞ তাসকিন!

দিন তিনেক আগে ওয়েলিংটনের বেসিন রিসার্ভ স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্যাপ পরার সৌভাগ্য হয় পেসার তাসকিন আহমেদের। টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে আজ শনিবারের দিনটিই। কারণ আগের দুই দিন দলে থাকলেও ব্যাট বা বল কোনটাই করার সুযোগ হয়নি তার। আরেক পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির অভিষেক ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সিরিজে। সে সিরিজের দুটি টেস্টেই একাদশে ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও রাব্বির চেয়ে অভিজ্ঞ তাসকিন!

শুধু টেস্ট ম্যাচই নয় বড় দৈর্ঘ্যর ম্যাচেই যোজন যোজন এগিয়ে রাব্বি। ৪৯টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার বিপরীতে তাসকিন খেলেছেন মাত্র ১০টি। সর্বশেষটি খেলেছেন ২০১৩ সালে। কিন্তু তারপরেও তাসকিনকে নিজের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ বললেন রাব্বি।

আসলে ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তাসকিনকে বিবেচনা করেননি রাব্বি। ২০১৪ সালের জুনে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক পেসার তাসকিনের। ইতোমধ্যে খেলেছেন ৩৭টি ম্যাচ। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় নবীন সদস্য রাব্বি। ২টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে আসেন তিনি। আর এ কারণেই তাসকিনকে অভিজ্ঞ বলেছেন এ পেসার।

‘আজকে যারা নতুন খেলছে তাদের সঙ্গে আমরা অনেক দিন ধরে খেলছি। প্রথম শ্রেণী, প্রিমিয়ার লিগ। তাসকিন তো অনেকদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। আমারা কাছে মনে হচ্ছিল তাসকিন তো আমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। সে আমার চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে।’- সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেন রাব্বি।

শনিবার বোলিংটা অবশ্য খারাপ খেলেননি তাসকিন। ১৫ ওভার বল করে ৭৯ রানে পেয়েছেন বর্তমান সময়ের অ