ভোর ৫:১৩, মঙ্গলবার, ২২শে মে, ২০১৭ ইং

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার ব্যক্তিগত ১৪৫ রানে ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে বাংলাদেশ। টেস্ট মর্যাদার যথার্থতা প্রমাণে আমিনুল ইসলামের ওই ইনিংসটি আজও স্মরণ করেন ক্রিকেটপ্রেমিরা।
অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন ঢাকায়। আইসিসি’র এশিয়ান ডেভলপম্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ‍বুলবুল থিতু হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। ছুটি কাটাতে দুই সপ্তাহের জন্য ঢাকায় এসেছেন তিনি। সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন সাবেক এ ক্রিকেটার।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের প্রস্তুতি, সম্ভাবনা ও কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে কথোপকথনের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনার দৃষ্টিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের সম্ভবনাটা কেমন?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল: আসলে প্রস্তুতিটা ভালো ছিল না আমাদের। প্রস্তুতি ভালো ছিল না এজন্য বলব যে, আমরা ওখানে (নিউজিল্যান্ডে) যে কন্ডিশনে খেলতে যাচ্ছি সেই কন্ডিশনের সঙ্গে এই (অস্ট্রেলিয়ার) কন্ডিশনের কোনো মিল নেই। তবে ভালো উদ্যোগ ছিল আমরা অস্ট্রেলিয়াতে একটা সংক্ষিপ্ত ক্যাম্প করেছি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে আমরা টি-টোয়েন্টি খেলেছি। আমাদের খেলোয়াড়দের টেস্টে অপরিণত পারফরম্যান্সের কারণ এটা। মাথায় যে মানসিকতা রয়েছে সেটা অনেক বেশি টি-টোয়েন্টি নির্ভর। টি-টোয়েন্টিতে আমরা সাধারণত প্রত্যেকটা বল মেরে খেলি। টেস্ট আমরা বল ছাড়ি, দেখে খেলি আবার মেরে খেলি-তিনটা কাজ করি। সুবিধা দুটো আছে। আমাদের অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা এক’শ থেকে দুই’শ ওয়ানডে খেলেছেন এবং ৫০-৬০টি টেস্ট ম্যাচও খেলেছেন। তাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে। গত দেড় বছরে আমরা যে ক্রিকেট খেলেছি, সেই আত্মবিশ্বাসটা তাদের মাঝে আছে। আরেকটা সুবিধা হলো, আমরা সিরিজটা শুরু করছি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আমাদের একটা ভালো প্রস্তুতি হয়ে যাবে। তবে নিউজিল্যান্ড কিন্তু টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের পিচের সঙ্গে কোন সামঞ্জস্য রাখবে না। আমার মনে হয়, ওই জায়গাটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রশ্ন: প্রথম টেস্ট ওয়েলিংটনে। ওখানকার কন্ডিশন কেমন?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল: ওয়েলিংটনের আরেকটা নাম আছে ‘উইন্ডি সিটি’। আমরা ওখানে একটা টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলাম। তবে ওয়েলিংটন বলুন আর যা-ই, কেবল নেপিয়ার বাদে সব জায়গায় বল অনেক মুভ করে। আরেকটা জিনিস দেখবেন ওখানকার উইকেটের যে চরিত্র, তাতে সব সফল দলই ব্যর্থ হয়ে আসে। এর কারণ হলো ওদের উইকেটগুলো অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সম্মিলিত একটা উইকেট দেয়া হয়। ইংল্যান্ডের উইকেটে ঘাস থাকে এবং সুইং করে। আর অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে বাউন্স করে। নিউজিল্যান্ডে সুইয়ের সঙ্গে বাউন্সও থাকে। আর আবহাওয়া যদি খারাপ থাকে, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে হোম কন্ডিশনে স্বাগতিকরা যে সুবিধাটা নিয়ে থাকে, নিউজিল্যান্ড আরো বেশি সুবিধা নেবে। কারণ, ওই কন্ডিশনে তারা অনেক বেশি ম্যাচ খেলে। ওই কন্ডিশনে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে টেস্ট খেলার জন্য। ম্যাচে কতটা বল ছাড়ছি আমরা সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, টেস্টে বল ছাড়াটাও একটা বড় কৌশল হবে আমাদের জন্য।

…প্রশ্ন: ওয়ানডে সিরিজে দুই-একটা ম্যাচ জেতার সম্ভবনা দেখছেন কিনা?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল: অবশ্যই জেতার আশা রয়েছে। গত বিশ্বকাপে আমরা কিন্তু ওদের মাটিতে ওদের প্রায় হারিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের ওয়ানডে দলটা খুবই ভারসাম্যপূর্ন। মোস্তাফিজ যদি ফিট হয়ে যায়, আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো ফর্মে আছে।
আমাদের আরেকটা সুবিধা রয়েছে, তা হলো অন্যান্য দলগুলো পাঁচটা ব্যাটসম্যান, একটা অলরাউন্ডার ও চারটা বোলার নিয়ে খেলে। আর আমাদের সুবিধা হলো সাতজন ব্যাটিং করতে পারে। এই অতিরিক্ত দুইজন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পনা করতে পারে না। সেই জায়গাটায় আমাদের একটা বড় সুযোগ থাকবে।

প্রশ্ন: তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়ন্টি, দুটি টেস্ট-এ তিন ফরম্যাটের খেলা পাঁচটা ভেন্যুতে। ভেন্যুর বৈচিত্র্য কি আরেক চ্যালেঞ্জ কিনা?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল: এটা বেশ কিছু আচরণের ওপর নির্ভর করে। ওয়েলিংটন উচুঁ জায়গা, ক্রাইস্টচার্চ নিচু। নেপিয়ার আবার সমুদ্রের পাশে। তাই কোন দিক থেকে বাতাস আসছে এটা বড় ব্যাপার। তবে উইকেটের আচরণ বদলাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। আশা করছি, অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস ওদের ভালো করতে সাহায্য করবে।

প্রশ্ন: কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ তো থাকছেই। ভিন্ন কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কিনা?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল: কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া বলতে শুধু উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটা বড় বিষয় নয়। একটা হচ্ছে, উইকেটে সঙ্গে মানিয়ে নেয়া। আরেকটা হচ্ছে, দলের পারফরম্যান্সের কন্ডিশন। দল একটা ম্যাচ জিতলে কন্ডিশন একরকম থাকবে। আবার হারলে আরেক রকম। কেবল অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রাই এসব কন্ডিশন সামাল দিতে পারে। আমি আশা করবো, আমাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের এসব পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো হবে।

ফেবারিট ইভেন্ট দিয়েই পুলে নামছেন শিলা

আজারবাইজানের বাকুতে আর কয়েক ঘণ্টা পরই উদ্বোধন হচ্ছে চতুর্থ ইসলামি সলিডারিটি গেমস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের অগ্রভাগে জাতীয় পতাকা হাতে থাকার কথা ছিল সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলার। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ছিল তেমন সিদ্ধান্তই।

কিন্তু শিলার কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুন আজারবাইজান যাওয়ার আগেই বিওএ কর্মকর্তাদের বলেছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেন শিলাকে রাখা না হয়। কারণ, পরের দিন সকালেই তার ফেবারিট ইভেন্ট ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক। যে ইভেন্টে গত এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতেছেন যশোরের এ কন্যা। পার্কের অনুরোধে জাতীয় পতাকা শিলার পরিবর্তে শাকিল আহামেদের হাতে। গত এসএ গেমসে এ শ্যুটারও স্বর্ণ জিতেছেন ৫০ মিটার এয়ার পিস্তলে।

যে কোনো গেমস বা খেলাতেই জাতীয় পতাকা বহন যে কারো জন্যই গর্বের। পুলে ভালো ফলাফলের জন্য শিলা সে ত্যাগটুকুও করছেন। কোচ পার্ক তে গুন শিলাকে নিয়ে আশাবাদী। ঢাকা ত্যাগের আগে জাগো নিউজকে পার্ক বলেছিলেন তার বিশ্বাস শিলা পদক জিতবে। তবে পদকের রং কি হবে তা বলতে পারছে না। শিলাও একটি পদক জয়ের খবর শোনাতে পারবেন বলে আশারবানী শুনিয়ে গিয়েছেন।

এসএ গেমসে শিলা স্বর্ণ জিতেছেন ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে। তবে বাকুতে তার বেশি প্রত্যাশা ৫০ মিটারে। অনুশীলনে তিনি এ ইভেন্টে ৩৩.১৫ সেকেন্ড। গত এসএ গেমসে এ ইভেন্টে শিলা স্বর্ণ জিতেছেন ৩৪.৮৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে। তবে শিলার আশাটা বাড়িয়েছে গত ইসলামী সলিডারিটি গেমসে স্বর্ণ জেতা মালয়েশিয়ান কন্যা ক্রিস্টিনা লো’র সাম্প্রতিক টাইমিং।

ক্রিস্টিনা স্বর্ণ জিতেছিলেন ৩৩.২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে। সাম্প্রতি ক্রিস্টিনা মালয়েশিয়ান জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এ ইভেন্টে সময় নিয়েছেন ৩৩.৭০ সেকেন্ড। বাকুকে সম্ভাব্য এ মালয়েশিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীর খোঁজ-খবর রেখেছেন বাংলাদেশের জলকন্যা। শিলা ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের হিটে বাকুতে পুলে নামছেন বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুর ১২ টায়। তার আরেক ইভেন্ট ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের হিট ১৫ মে।

শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠনের পরদিন থেকেই শুরু হবে ৫৪ দেশের ৩০০০ অ্যাথলেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। প্রথম দিনে মাহফুজা খাতুন শিলা ছাড়াও আরো চার ইভেন্ট আছে বাংলাদেশের। শ্যুটিংয়ে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সৈয়দা আতকিয়া হাসান, মাহফুজা জান্নাত জুঁই এবং ছেলেদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে আবদুল্লাহ হেল বাকি ও রাব্বি হাসান রেঞ্জে নামবেন শনিবার।

সাঁতারে মেয়েদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে নাঈমা আক্তার, ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নাজমা খাতুন, ছেলেদর ৫০ মিটার ব্রেস্ট্রস্ট্রোক আরিফুল ইসলাম পুলে নামবেন। ভারোত্তোলনে ফুলপতি চাকমা ৫৩ কেজিতে ওজন শ্রেনীতে খেলবেন। কারাতেতে মাউনজেরা বর্ণা ৫০ কেজি ওজন শ্রেণীতে ও আল আমিন ইসলাম ৬০ কেজিতে অংশ নেবেন। জিমন্যাস্টিকসে সাদ্দাম হোসেন ফ্লোর এক্সারসাইজ, প্যারালাল বার ও রিংসে অংশ নেবেন।

সুইমিংপুলে বসছে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড

শেষ পর্যন্ত জাতীয় সুইমিংপুলে নতুন ও অত্যাধুনিক একটি ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড বসানো হচ্ছে। এ কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা বদরুল সাইফ। মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সের পুলে ১৯৯৩ সালে একটি ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড বসানো হয়েছিলো, ঢাকা এসএ গেমসকে সামনে রেখে। গেমসের পর পরই স্কোরবোর্ডটি অকেজো হয়ে পড়ে। আর কখনো সেটিকে ব্যবহার করা যায়নি। তাতে সাঁতার প্রতিযোগিতাগুলোতে হ্যান্ড টাইমিংয়েই প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হতো।
২০১০ সালে এসএ গেমস উপলক্ষ্যে একবার স্কোরবোর্ডটি সচল করা হয়েছিলো। তারপর থেকে আবারও অকেজো হয়ে পড়ে সেটি। সুইমিং পুলে আবারও ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড স্থাপনে উদ্যোগী হন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। অবশেষে শিলা-সাগরদের জন্য সুখবর- অচিরেই পুলে বসতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড। শুধু স্কোরবোর্ড নয়, আরো উন্নয়নমূলক কাজ এবং সংস্কারও করা হবে সুইমিং পুলে। হোস্টেলের ফ্লোর বাড়ানো, লিফট স্থাপন, ভিভিআইপি বক্স তৈরিও করা হবে। ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণের জন্য ডাইভিং পুলটিও অকার্যকর রয়েছে। কার্যকর করতে সেটিকেও সংস্কার করা হবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি টাকা।

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে কেমন করলেন তিন সাঁতারু

এশিয়া পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ই পাত্তা থাকে না বাংলাদেশের কোনো সাঁতারুর। আর যদি হয় অলিম্পিক কিংবা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আসর তাহলে তো কথাই নেই। তারপরও বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয় নিয়ম রক্ষার জন্য। প্রত্যাশার কোনো চাপ থাকে না, সাঁতারুদের একটাই লক্ষ্য থাকে, নিজের টাইমিংটা যেন ভালো হয়। সবাই চান এ ধরনের প্রতিযোগিতায় নিজের বেস্ট টাইমিং করা। কখনো লক্ষ্য পূরণ হয়, কখনো হয় না।

সদ্য শেষ হওয়া কানাডার উইন্ডসনে অনুষ্ঠিত ১৩তম ফিনা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যাওয়ার আগে তিন সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর, মাহফুজা খাতুন শিলা আর জুয়েল আহমেদ টাইমিংয়ের উন্নতির লক্ষ্যের কথাই বলে গিয়েছিলেন। তা পেরেছেন শুধু জুয়েল আহমেদ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ সাঁতারু ৫০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে অংশ নিয়ে দুই ইভেন্টেই করেছেন ক্যারিয়ারসেরা টাইমিং।

মাহফিজুর রহমান সাগর ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে অংশ নিয়ে আগের সেরা টাইমিং ছাড়িয়ে যেতে না পারলেও ছিলেন কাছাকাছি। মাহফুজা খাতুন শিলা ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে অংশ নিয়ে একটিতে পূর্বের সেরা টাইমিংয়ের কাছাকাছি থাকলেও আরেকটিতে খারাপ করেছেন।

জুয়েল আহমেদ ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ২৭.২৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৭৩ জনের মধ্যে হয়েছেন ৫৮তম। এর আগে এই ইভেন্টে তার সেরা টাইমিং ছিল ২৮.৭৯ সেকেন্ডে। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে তিনি ১:০০.৯৮ মিনিট সময় নিয়ে ৭২ জনের মধ্যে হয়েছেন ৬১তম। এই ইভেন্টে তার আগের সেরা টাইমিং ছিল ১:০২.৯৭ মিনিট।

মাহফিজুর রহমান সাগর ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ১৩৮ জনের মধ্যে হয়েছেন ৯২তম। তিনি সময় নেন ২৪.০৫ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে সাগরের সেরা টাইমিং ২৩.৯২ সেকেন্ড। ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সাগর ৫২.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১৪৫ জনের মধ্যে হয়েছেন ১০১ তম। এ ইভেন্টে তার সেরা টাইমিং ৫২.১২ সেকেন্ড।

টাইমিংয়ের বেশি অবনতি হয়েছে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলার। ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ৩৫.৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৬০ জনের মধ্যে হয়েছেন ৪৯তম। এই ইভেন্টে শিলার সেরা টাইমিং ৩৪.৬৬ সেকেন্ড। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে শিলা ১:১৮.৭৬ মিনিট সময় নিয়ে ৫৯ জনের মধ্যে হয়েছে ৫০ তম। এ ইভেন্টে তার সেরা টাইমিং ১:১৭.০০ মিনিট।

বাংলাদেশ সাঁতার দল ফিরবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর।

জাতীয় সাঁতার শুরু রোববার

সর্বশেষ জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছিল ২০১৪ সালে গোপালগঞ্জে। এসএ গেমসের অজুহাতে গত বছর প্রতিযোগিতা আয়োজন করেনি বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন। এক বছর বাদে আবার বসছে দেশের সাঁতারের সবচেয়ে বড় এ প্রতিযোগিতা।  মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সে রোববার শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষ হবে ২৯ নভেম্বর।

সাঁতার ছাড়াও চ্যাম্পিয়নশিপে থাকছে ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো ইভেন্ট।  মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সে স্প্রিং বোর্ড ডাইভিং না থাকায় এ ইভেন্টটি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ডাইভিং পুলে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় জেলা, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, বিকেএসপি, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, সার্ভিসেস দল এবং সুইমিং ক্লাবসহ ৫৯ দলের ৩৩৪ জন ছেলে, ৮৬ জন মেয়ে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রতিযোগিতার বাজেট ২০ লাখ টাকা। স্থানীয় দল, সার্ভিসেস এবং বিকেএসপি বাদে অন্য দলগুলোর সাঁতারু ও অফিসিয়ালদের যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার খরচ বহন করবে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন।

জাতীয় সাঁতার উপলক্ষে শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিজ উদ্দিন রফিজ গত বছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ না হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন,‘বিওএ থেকেই আমাদের বলা হয়েছিল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের চেয়ে এসএ গেমসের প্রস্তুতিতে জোর দিতে। যে কারণে আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ করিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক এমভি সাইফ ও ট্রেজারার রেজাউল হক বাদশা।

স্পন্সর ছাড়াই হচ্ছে ২৮তম জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রতিযোগিতার ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।  প্রাতিযোগিতায় যারা নতুন রেকর্ড গড়বেন তাদের জন্য আর্থিক পুরস্কারও থাকবে। তবে পুরস্কারের পরিমান এখনো ঠিক হয়নি।

রোববার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। ২৯ নভেম্বর বিকালে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ।

মুন্সিগঞ্জে ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সুইমিং ফেডারেশন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা ক্রীড়াসংস্থার সহযোগিতায় আজ মঙ্গলবার শহরের সুইমিংপুলে শেষ হয়েছে ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ মুন্সিগঞ্জ পর্ব।
দিনভর ক্ষুদে সাঁতারুদের পদচারণায় মুখরিত ছিল ইংলিশ চ্যানেল জয়ী ব্রজেন দাসের বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ। তৃণমূলপর্যায়ের ১১০জন ক্ষুদে সাঁতারু এতে অংশ নেন। নির্বাচিত হয়েছেন ৩০ জন। বাছাইয়ে আটটি গ্রুপে ৩২টি ইভেন্টে তারা অংশ নেন।
প্রতিভাবান সাঁতারু খোঁজার-এ কার্যক্রম হবে ৬৪ জেলায়। এখান থেকে ৮২০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। দ্বিতীয় বাছাইয়ে ১৬০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। তাদের দেওয়া হবে তিন মাসের প্রশিক্ষণ । পরে এখান থেকে বাছাই করা হবে ৬০ জনকে। এখানেও দেওয়া হবে উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ।

আয়োজনটি উদ্বোধন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন সাবেক সাংসদ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক বিশিষ্ট সাঁতারু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। শওকত আলম মজুদারের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী কমান্ডার মাহমুদুর রহমান ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জোনায়েদ হোসেন।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সাঁতারু সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. মতিউল ইসলাম হিরু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন ও বাহারুল আলম, জেলা ক্রীড়া অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান পান্নু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মহসিন মাখন।

শুরু হচ্ছে সুইমিং ট্যালেন্ট হান্ট

দেশসেরা সাঁতারু খুঁজছে বাংলাদেশ। আর সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের আয়োজনে ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহযোগিতায় ১৯ মে থেকে রাজধানীর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম সাঁতারু ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’।

শনিবার এই প্রতিযোগিতাটিকে সামনে রেখে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান সাঁতারু যারা সুযোগের অভাবে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছে না, তাদেরকে তুলে আনাই আমাদের এই ট্যালেন্ট হান্টের প্রধান উদ্দেশ্য।’

এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সারাদেশের ৬৪টি জেলার ৪৮৯টি উপজেলা হতে বাছাইকৃত সেরা সাঁতারুদের ঢাকায় এনে দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সারা দেশের প্রায় ২৫ হাজার সাঁতারু এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।

প্রতিযোগিতায় ১১-১২, ১৩-১৫, ১৫-১৭ এবং ১৮ থেকে তার বেশি বয়সী নারী-পুরুষ সাঁতারু অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বের বাছাই চলবে ১৯ মে থেকে ০২ অক্টোবর পর্যন্ত। এই পর্বে প্রতিটি উপজেলা থেকে ৪৮ জন সাঁতারু বাছাই করা হবে।

পরবর্তী ধাপের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি জেলা থেকে ১০-২০ জন সাঁতারু নির্বাচন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের ৬৪টি জেলা থেকে মোট ১ হাজার জন প্রতিভাসম্পন্ন সাঁতারু বাছাই করে ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। প্রথম পর্বে জেলা প্রতি ২০ জন সাঁতারুকে মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ দেয়া হবে।

প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে এই ১ হাজার সাঁতারুর মধ্যথেকে পুনরায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১৬০ জনকে নির্বাচন করে বিদেশি প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ৩ মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের জন্যও থাকছে মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ।

শেষ ধাপে এই ১৬০ জন থেকে সেরা ৬০ সাঁতারু নির্বাচন করা হবে। দেশসেরা ৬০ সাঁতারুকেও দেয়া হবে মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ। এছাড়াও এদের মধ্যথেকে ৪টি ইভেন্টের সেরা ৮ জন নারী ও পুরুষ সাঁতারুকে নগদ ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। এভাবে তিনটি পর্যায়ে সর্বমোট ৬৫ লাখ টাকার পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ডিআরইউ’র উদ্যোগে সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উপকমিটির উদ্যোগে সংগঠনের সদস্য ও তাদের সন্তানদের সাঁতার প্রশিক্ষণ আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন আইভি রহমান সুইমিং কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু প্রশিক্ষন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাঁতার ফেডারেশনের প্রশিক্ষক ধনরঞ্জন দাসের তত্ত্বাবধানে চলবে। ডিআরইউ’র ১৫ জন সদস্য এবং সদস্যদের ৩৭ জন সন্তান এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, কল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিলানী মিলটন, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, ক্রীড়া উপ কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হক মল্লিক এবং সদস্য কাজী শহীদুল আলম, রায়হান আল মুঘনি ও এম এস সাহাব উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধুকেই জীবনসঙ্গী করলেন জলকন্যা শিলা

সাউথ এশিয়ান গেমসে সাঁতারে দুটি স্বর্ণ পদকজয়ী জলকন্যা মাহফুজা খাতুন শিলা বিয়ে করেছেন। শুক্রবার বিকাল ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহজাহান আলী রনির সঙ্গে বিয়ে হয় তার। রনি শিলার পূর্বপরিচিত। বন্ধু। তিনিও সাঁতারু। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন।
রনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রেহাইচর গ্রামের মৃত আফসার আলী ও মোসা. সাজেনুর বেগমের সন্তান। তিনি ২০০৮ সাল থেকে সেনাবাহিনীকে কর্মরত। রোববার চাঁপাইনববাবগঞ্জে বউভাত অনুষ্ঠিত হবে। যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার পাঁচকবর এলাকায় বাবার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় শিলার। শিলা সাঁতারে এখন পর্যন্ত স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ মোট ৫২টি পদক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরিরত আছেন।

টার্গেট এবার ২০০ মিটারে স্বর্ণপদক : মাহফুজা

ঢাকা নিজের পরিধিটা এবার আরেকটু বাড়াতে চান জলকন্যা। দেশের জন্য আরও ঘাম মেশাবেন জলে। ৫০ ও ১০০ মিটার বুক সাঁতারে স্বর্ণজয়ী মাহফুজা খাতুন শীলার টার্গেট এবার ২০০ মিটারের স্বর্ণপদকটিও। আসন্ন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতাকে ঘিরে এ স্বপ্ন তার।

তাই নিজেকে আরও কঠোর অনুশীলনে ঢেলে সাজাতে চান, দেশের হয়ে এবার তিনটি স্বর্ণপদক গলায় পাওয়ার স্বপ্ন তার চোখে।

দ্বাদশ সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে বাংলাদেশকে স্বর্ণ-সম্মান এনে দেওয়া মাহফুজা আলাপে জানান নিজের এসব স্বপ্ন-পরিকল্পনার কথা।

মাহফুজা বলেন, আগামী এসএ গেমস পর্যন্ত নিজের এ পারফর্মেন্স ধরে রাখতে চাই। তিনটি বছর নৌ-বাহিনীর প্রশিক্ষণে নিজেকে আরও ঝালাই করার সুযোগ পেয়েছি। প্রশিক্ষকদের উৎসাহে নিজের গণ্ডিটা তাই বাড়াতে চাই। আরেকটি ইভেন্টে নিজেকে পাকা করতে চাই, ২০০ মিটারের বুক সাঁতারেরও অনুশীলন করবো এবার।

সামনে আসছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতা। অপেক্ষায় আছেন মাহফুজা। ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে টেক্কা দেবেন সেই আসরেও।

দেশের মানুষের কাছে নতুন করে পরিচয় করাতে আর হয় না তাকে। বাংলাদেশের স্বর্ণকন্যা তিনি। শুধু যশোরের মেয়ে নন, তিনি এখন সমগ্র বাংলাদেশের, আমজনতার আপন। কাবাডি খেলোয়াড় বাবার মেয়ে, মায়ের উৎসাহে নিজেকে সাজান তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী মাহফুজা নৌ-বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করছিলেন। সেটি স্থায়ী করার প্রক্রিয়া চলছে। নৌ-প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

শুধু মাহফুজা নন, প্রত্যেক খেলোয়াড়কে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিজেদের আরও মেলে ধরার সুযোগ দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে মাহফুজার সাফল্যের বিষয়ে আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলেন বলে জানান তার প্রশিক্ষকরা। সাঁতারের প্রশিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান (চুক্তিভিত্তিক) ও সিপিও(এস) এম জুয়েল আহমেদ জানতেন, ৫০ মিটারে স্বর্ণপদকটি পাবেন মাহফুজা।

কিন্তু তাদের আনন্দের সীমা রইলো না, যখন ১০০ মিটারের স্বর্ণপদকও গলায় ঝোলে জলকন্যার। পরে ৫০ মিটারের স্বর্ণপদকটি যেহেতু প্রত্যাশিতই ছিলো, তাতে কেউ আর অবাক হননি।

মাহবুব বলেন, এবার তিনি ২০০ মিটারের জন্যও চেষ্টা করবেন। মাহফুজাকে নিয়ে আমরা আশাবাদী। তার যা বয়স, তাতে এখনো সময় আছে এমন টার্গেট জয়ের।

তিনি বলেন, ভারতে যাওয়ার আগে গোপালগঞ্জে তিনি এতোটাই ভালো টাইমিং দেখিয়েছিলেন যে, আমরা তাকে নিয়ে আশা বাড়াই। তিনি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করছিলেন। যে বয়স তার, আরেকটা এসএ গেমস পাবেন, সেখানে নিশ্চয়ই আরও ভালো করবেন।

কোরিয়ার কোচ পার্ক তে গুণ আরও ২ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলেও জানান তারা।

মাহবুব ও মাহফুজা আশা করছেন, আগের চেয়েও বেশি সহযোগিতা করতে পারবেন পার্ক তে গুণ। কারণ, টিম মেম্বারদের কে কেমন ও কীসে ভালো- সেটি এখন আরও ভালো বুঝবেন পার্ক তে গুণ। তিনি তদারকি করবেন মাহফুজার নৈপুণ্যের।

সেনাবাহিনী ও নৌ-বাহিনী একসঙ্গে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে বলেও সিদ্ধান্ত রয়েছে, যাতে কয়েকটি স্বর্ণপদক পাওয়া যায় সামনের আসরগুলোতে।

মাহবুব বলেন, মাহফুজা যেমন নতুন করে ২০০ মিটারের জন্য প্রস্তুতি নেবেন, তেমনি আগের নৈপুণ্যও ধরে রাখতে অনুশীলন করবেন। অন্যদের ক্ষেত্রেও তাই। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশে নিজেদের ও বিদেশি প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান শুধু নয়, প্রয়োজনে তাদের দেশের বাইরেও পাঠানো হতে পারে।

এ প্রশিক্ষক বলছেন, সামনে আরও কয়েকটি স্বর্ণপদক আনার মতো খেলোয়াড় রয়েছে বাহিনীতে। আসিফ ও মাহমুদ সামনে ভালো করবেন। মাহফুজুর রহমান এখনো ভালো। সামনেও তার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেএসপি’র আরিফুর রহমান আগামী এসএ গেমসে খেলবেন। এবার এসএসসি পরীক্ষা থাকায় তিনি এসএ গেমসে অংশ নিতে পারেননি।

মাহফুজা সবার দোয়া চেয়ে বলেন, ‘সেই ছোট্টবেলা থেকে নিজের আগ্রহের ভিত্তিতেই শুধু নয়, অন্যদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় আজকের আমি। তাই বাকি পথটুকুতেও সবার এ সহযোগিতা ও আশীর্বাদ চাইবো। আসলে দেশের জন্য কিছু করতে পারার সুযোগ খুব সৌভাগ্যবানরা পান। নিজেকে তেমনই একজন ভাবি আমি। দেশ ও মানুষ অামাকে এতো দিয়েছে, আমিও নিজের সবটুকু তাই দিতে চাই’।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বাংলা চ্যানেল সাঁতার

ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত ১৬.১ কিলোমিটার বিস্তৃত ১১তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার। বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফ থেকে সাঁতারুরা বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবেন। বাংলা চ্যানেলের আবিষ্কারক কীর্তিমান ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার মরহুম কাজী হামিদুল হকের (১৯৪৯-২০১৩) স্মরণে এভারেস্ট অ্যাকাডেমি এ আয়োজন করেছে।
আয়োজিত এই ম্যারাথন সাঁতারে এবার ছয়জনের একটি দল অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন ভারতের সাঁতারু রিতু কেদিয়া। অন্য ছয়জন হলেন লিটন সরকার, মনিরুজ্জামান, মুসা ইব্রাহীম, পারভেজ রশীদ, শামসুজ্জামান আরাফাত ও শাহাদাত হোসেন।
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিখ্যাত সাঁতারু ব্রজেন দাশ ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের গৌরব অর্জন করেছিলেন। তিনি ছয়-ছয়বার অতিক্রম করেছিলেন ইংলিশ চ্যানেল। ব্রজেন দাশের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই প্রজন্মের অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্বপ্ন দেখছেন একদিন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার। সেটিরই প্রথমিক ধাপ বাংলা চ্যানেল সাঁতার।
আজ সোমবার বাংলা চ্যানেল সাঁতার নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ, এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহীম ও এভারেস্ট অ্যাকাডেমির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ওয়ালটন ১১তম বাংলা চ্যানেল ম্যারাথন সাঁতার-২০১৬

ব্রজেন দাশের কথা মনে আছে? ভুবন বিখ্যাত সাঁতারু। যিনি ইংলিশ চ্যানেল সাঁতারের গৌরব অর্জন করেছিলেন। তা শুধু এক-দুইবার নয়। ছয়-ছয়বার। ব্রজেন দাশের মতো আরো অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ইংলিশ চ্যানেল নেই। কিন্তু বাংলা চ্যানেল আছে। সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই চ্যানেলের আয়তন ১৬.১ কিলোমিটার। এখানেই গেল ১০ বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে ম্যারাথন সাঁতার।
গেল বছর ২৫ ডিসেম্বর দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয় ‘ওয়ালটন প্রেজেন্টস বাংলা চ্যানেল ম্যারাথন সাঁতার-২০১৫’। আবারও ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ওয়ালটন ১১তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার-২০১৬’। এই আয়োজন মূলত বিখ্যাত ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার প্রস্তুতি।
এভারেস্ট একাডেমির আয়োজনে, বাংলা চ্যানেলের আবিস্কারক কীর্তিমান ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার মরহুম কাজী হামিদুল হকের (১৯৪৯-২০১৩) স্মরণে আয়োজিত এই ম্যারাথন সাঁতারে এবার ছয়জনের একটি দল বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন ভারতের সাঁতারু মিস রিতু কেদিয়া।
এ বিষয়ে এক বক্তব্যে ওয়ালটন গ্রুপের স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘আমরা আসলে দেশকে প্রোমোট করতে চাই। যে ধরণের প্রতিযোগিতায় দেশকে প্রমোট করার সুযোগ রয়েছে সেগুলো সঙ্গে সবসময়ই সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। এর আগেও গেল বছর ডিসেম্বরে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আর এবারের এই সাঁতারটা মূলত ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার প্রস্তুতি পর্ব। তাই এই আয়োজন আমাদের কাছে ভিন্নরকম মর্যাদা পাচ্ছে।’

বিদ্যুৎ এলো ‘সোনার মেয়ের’ বাড়িতে

গ্রামের বাড়িতে ফিরে সবার ভালোবাসায় আপ্লুত এসএ গেমসে সাঁতারে বাংলাদেশকে সোনা এনে দেওয়া মাহফুজা আক্তার শীলা। তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আমার দায়িত্ব নিয়েছেন, এর থেকে বড় কিছু হয় না। যে সম্মান আমি বাংলাদেশের জন্য দিয়েছি,তার চেয়ে বড় সম্মান আমাকে দিয়েছে দেশ।”
এবারের এসএ গেমসে মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক আর ৫০ মিটারে দুটো সোনা জিতেছেন বাংলাদেশের এই সাঁতারু। তবে তার জীবনের পথ ছিল আরও কঠিন। সোনা জয়ের খবরের সঙ্গে সঙ্গে মাহফুজার পরিবারের দারিদ্র্য আর সংগ্রামী জীবনের কথাও গণমাধ্যমে এসেছে। সেই খবরে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়েছেন এই কৃতি সাঁতারু।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বুধবারই মাহফুজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। আর্থিক সঙ্কটে তার মা যে সোনার পদকটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, শুক্রবার নাগরিক সংবর্ধনায় সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহফুজা ঢাকা থেকে বাসে করে যশোর উপশহর বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছালে তার মা করিমন্নেসা, বাবা আলী আহমেদ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানান।
জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এরপর যশোরের এই কৃতি সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয় সার্কিট হাউসে। সেখানে মাহফুজাকে মিষ্টিমুখ করান জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি রুনা লায়লা।
মাহফুজা বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যশোরবাসী আমাকে এত ভালবাসা দেবে। আমি যে এতোকিছু পাব, এমন সারপ্রাইজড হব ভাবতে পারিনি। “ইতোমধ্যে খবর পেয়েছি আমার বাড়ির যে সমস্যা ছিল তার সমাধান হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
সার্কিট হাউজ থেকে দুপুরেই গ্রামের বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মাহফুজা। জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির বলেন, অভয়নগরে এই সাঁতারুকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। আর শুক্রবার নওয়াপাড়ায় হবে নাগরিক সংবর্ধনা।
তিনি বলেন, “মাহফুজা এখন শুধু যশোরের মেয়ে নন, তিনি সারাদেশের মেয়ে। তার সুবিধার জন্য তাদের গ্রামের বাড়িতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন একটি বাড়িও করে দেওয়া হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বাসস্থানটি ঢাকাতেই চান মাহফুজা

এসএ গেমসের সাঁতারে দুটি স্বর্ণপদক জয় করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা মাহফুজা খাতুন শিলার পরিবারের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা ও তাদের জীবন-যাপন যাতে আরও উন্নত হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গতকাল সোমবারই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ভালো বাসস্থানটি রাজধানীতে চেয়েছেন মাহফুজা খাতুন শিলা। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি জার্নালিজম অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আবেদন করেন এই স্বর্ণকন্যা।
মাহফুজা খাতুন শিলা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি আমার ও মাবিয়ার জন্য উন্নত বাসস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন, এতদিন দেখেছি ক্রিকেটাররা নানা ধরনের সরকারি সাহায্য পেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এবার আমাদের দিকে তাকিয়েছেন, তাকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি অনুরোধ করবো সেটি ঢাকায় হলে ভাল হয়। নিবিষ্ট চিত্তে আমি অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারবো।’
স্বর্ণকন্যা মাবিয়া ও শিলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা আসে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে। বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় মাবিয়া-শিলার বিষয়টি উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওদের জন্য ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিলার পরিবারের বিক্রি করে দেওয়া স্বর্ণ পদকটি তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিতে হবে।
নিজ সাফল্য সম্পর্কে মাহফুজা বলেন, ‘মনে জেদ ছিল, ছিল লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় সঙ্কল্প। ‘সাাঁতার ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তার বাজে আচরণের কারণে আমি নিজেকে সাঁতার থেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু মনে ঠিকই জেদ ছিল, সুয়োগ পেলে যোগ্যতা প্রমাণ করে দেখাব। ২১০৪ সালে যখন ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে দক্ষিণ এশিয়ান রেকর্ড সময়ের সমকক্ষতা অর্জন করি তখন ভাবতে শুরু করি যে এসএ গেমসের স্বর্ণ জয় কেন নয়? আমি কঠোর অনুশীলন করে অবশেষে সফল হয়েছি।’
কোরিয়ান পার্ক টি গুনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাহফুজা বলেন, ‘তিনি আমাকে সবচেয়ে আধুনিক কলা-কৌশলে অনুশীলন করিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। কোচ আমাকে সাহস দিয়েছেন, শিখিয়েছেন নিজের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে, তারও অবদান রয়েছে আমার সাফল্যে।’
কঠোর নিয়মানুবর্তীতার অনন্য উদাহরণ হতে পারেন মাহফুজা। ২০০৬ সালে এসএ গেমসে ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে তিনি জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ, ২০১০ সালে এ দুটি ইভেন্টে তিনি জিতে নেন রৌপ্য পদক, আর ২০১৬ সালে তিনি জিতলেন স্বর্ণপদক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় সম্মানসহ স্নাতকোত্তর পাস করেছেন শিলা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে মাহফুজার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সভাপতি জসিমউদ্দিন খান। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক তন্ময় মজুমদার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। অতিথি বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইলিয়াস খান ও মোজাম্মেল হক চঞ্চল।

দুধ বিক্রি করে সংসার চলে স্বর্ণজয়ী মাহফুজাদের

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের সাঁতার ইভেন্টে দুটি স্বর্ণপদক জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার মেয়ে মাহফুজা আক্তার শিলা। শিলার এ কৃতিত্বে আনন্দের জোয়ার বইছে অভয়নগর উপজেলার পাঁচকবর গ্রামে। মেয়ের সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা বাবা মা ও প্রতিবেশিরা। তাদের প্রত্যাশা মাহফুজার এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। আর বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে।
এদিকে, দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনলেও অভাব অনটনের মধ্যে রয়েছে তার পরিবার। শিলা সাঁতার প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত চারটি স্বর্ণ পদক পেয়েছেন। যার মধ্যে দুটি স্বর্ণ পদক বিক্রি করে অসুস্থ পিতার চিকিৎসা সেবা এবং অভাবের সংসারের খরচ যুগিয়েছেন।
mahfuza-lrg
তার পিতা আলী আহম্মেদ গাজী জানান, আমি পরের জমি বর্গা চাষ করি এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাভী পালন করে দুধ বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করি। অর্থাভাবে রোগের চিকিৎসা সেবা করতে পারি না। ছয় শতক জমির উপর একটি টিনশেডের বাড়ি তৈরি করে পরিববার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। বাড়িতে নেই কোনো বিদ্যুৎ ও প্রবেশের জন্য ‘নেই’ রাস্তা। দুধ বিক্রি করে মাহফুজার খেলাধুলা ও লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছি কোনো রকম। ধার-দেনা আছে অনেক। একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি জমে যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না।
শিলার মা করিমন নেছা আক্ষেপ করে বলেন, আমার মেয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনলেও কেউ আমাদের দুঃখ কষ্টের খবর রাখে না। যখন সে স্বর্ণপদক জয় লাভ করে তখন সাংবাদিকসহ জনপ্রতিনিধিরা ছবি তুলতে বাড়িতে আসে। তারপর আর কেউ খবর রাখে না।
mahfuza-lrg2
বড় ভাই হাসান আলী গাজী জানান, এ পর্যন্ত সে সাঁতার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ বায়ান্নটি পদক পেয়েছে। ক্রেস্টও পেয়েছে অনেক। আছে সার্টিফিকেট। সে এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতার উপর গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেছে এবং বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে অস্থায়ীভিত্তিতে চাকরি করছে। এ বছর তার চাকরি শেষ।
বড় বোন আফরোজা বেগম জানান, আমরা পাঁচ ভাই বোন। মাহফুজা ভাই বোনের মধ্যে চতুর্থ। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়। তারপর যশোরে আব্দুল মান্নান স্যারের সহযোগিতায় সাঁতারে প্রশিক্ষণ নেয়। অর্থাভাবে বিকেএসপিতে অংশগ্রহণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে।
সরেজমিনে মাহফুজার বাড়িতে দেখা যায়, মাহফুজার মা করিমন নেছা গোয়াল ঘর পরিষ্কার করছেন। মাহফুজার বাবার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি বাজারে দুধ বিক্রি করতে গেছেন। ছোট মেয়েটা স্কুলে আছে।
বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটি ভাঙাচোরা এবং তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় আক্ষেপ করেন মা করিমন নেছা। আমার মেয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনলেও আমাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাংবাদিকদের আগমনের কথা জানতে পেরে পাড়া প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। তারা শিলার পরিবারে অভাব অনটন ও দুঃখ-দুর্দশার কথা পত্রিকায় লেখার জন্য অনুরোধ করেন।

জলকন্যা মাহফুজার কড়া জবাব

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : চলতি এসএ গেমসে যে তিনটি স্বর্ণ জয় করেছে বাংলাদেশ, তার দু’টিই এসেছে সাঁতারু মাহফুজা আক্তার শিলার হাত ধরে। অথচ ২৫ বছর বয়সী এ সাঁতারুর সঙ্গেই বিমাতা সূলভ আচরন করেছিলেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। নানা কারণেই তাকে অসহযোগিতা করতেন। এসএ গেমসের আগে ঠিক মতো অনুশীলনেরও সুযোগ দেয়া হয়নি যশোর এ জলকন্যাকে। তাকে দিয়ে কিছুই হবে না বলে ভৎর্সনা করতেও ছাড়েননি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সেই সব কর্মকর্তাদের মুখে চুন-কালি লেপ্টে দিয়ে সোমবার আরও একটি স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছেন দেশকে। করেছেন রেকর্ড। ৫০ মিটার বেস্ট স্ট্রোকে নতুন এ রেকর্ডের মালিক হয়েছেন শিলা। তিনি সময় নিয়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৮৮ সেকেন্ড। এর আগে এ রেকর্ডের মালিক ছিলেন শ্রীলঙ্কার রাহিম মায়ুমি। ২০০৬ সালে কলম্বো এসএ গেমসে ৩৪ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৫০ মিটার বেস্ট স্ট্রোকের রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন লঙ্কান এ সাঁতারু। এক দশক পর তাকে পেছনে ফেলেন শিলা। গোহাটির ড. জাকির হুসেইন সুইমিং কমপ্লেক্সে দুই স্বর্ণ জয়ের মাধ্যমে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কঠিন জবাব দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন ২৫ বছর বয়সী এ সাঁতারু। তিনি নিজের ক্যারিয়ার আরও সামনের দিকে নিয়ে যেতে চান।
ফেডারেশনের কর্মকর্তা এসএ গেমসের আগে অনেক অবজ্ঞা করেছেন। তাদের অবহেলার কারণেই একটা সময় সাঁতারই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন যশোরের এ জলকন্যা। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুন যখন সাঁতারের কোচ হয়ে আসলেন। তিনি শিলাকে অনুপ্রেরণা দিতে থাকেন। তার অনুপ্রেরণাতেই আবারো জলের সঙ্গে সখ্যতা শুরু করেন টানা দুই স্বর্ণ জয়ী মাহফুজা। তাই রেকর্ডের পর ফেডারেশনের সেই সমস্ত কর্মকর্তাদের সমালোচনা করতে ছাড়েননি এ সাঁতারু,- ‘পার্কের অনুপ্রেনাতেই আমি আবারো জলে নেমেছি। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের আচরনে একটা সময় আমি সব ছেড়ে-ছুড়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পার্ক আমাকে বারবার বলেছেন, তুমি ফেডারেশনের কথা না ভেবে দেশের কথা ভাবো। তোমার পক্ষে সম্ভব দেশকে কিছু দেয়া। তাছাড়া আমার টিম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে সবাই আমাকে অনেক সাহস যুগিয়েছেন। আমার বাজে সময়টাতেও তারা আমাকে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন।’
স্বর্ণ জয়ের পর ফেডারেশনের উপর ক্ষোভটা ঝাড়লেন প্রকাশ্যেই, ‘আমি আজ যা করেছি, তা শুধুই আমার দেশের জন্য। ফেডারেশনের জন্য আমি কিছুই করিনি। ফেডারেশন আমাকে কোন সহযোগিতাই করেনি। তারা আমাকে অবহেলার চোখেই দেখেছে। আমার বয়স হয়ে গেছে, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না ইত্যাদি নানা কথা বলেছেন ফেডারেশনের আসনগুলোতে থাকা কর্তা ব্যক্তিরা। তারা আমাকে বিদেশে খেলতেও নিয়ে যায়নি। আমি মনে হয় নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ফেডারেশনকে একটা জবাব দিতে পেরেছি। আমার মতো এমন অনেক এ্যাথলেটকে পেছনে ঠেলে দেয়া হয়। আমি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো মেয়েদের পেছনে ঠেলে না দিয়ে এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিন।’ স্বর্ণ জয়ের পরই কথা বলেছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে। তারাও মেয়ের এমন সাফল্যে আনন্দে উদ্বেলিত। অনেকেই মাহফুজার জন্মস্থান যশোরের অভনগর থানার নওয়াপাড়ার বাসা ছুটে আসছেন অভিনন্দন জানাতে। সেটা বাবা-মাই তাকে ফোনে বলেছেন।

ছয়জন পাড়ি দেবেন বাংলা চ্যানেল

ব্রজেন দাশের কথা মনে আছে? ভুবন বিখ্যাত সাঁতারু। যিনি ইংলিশ চ্যানেল সাঁতারের গৌরব অর্জন করেছিলেন। তা শুধু এক-দুইবার নয়, ছয়-ছয়বার। ব্রজেন দাশের মতো আরো অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ইংলিশ চ্যানেল নেই। কিন্তু বাংলা চ্যানেল আছে। সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই চ্যানেলের আয়তন ১৬.১ কিলোমিটার। এখানেই গেল ১০ বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে ম্যারাথন সাঁতার।
এবার দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী ২৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ওয়ালটন প্রেজেন্টস বাংলা চ্যানেল ম্যারাথন সাঁতার-২০১৫’।
এভারেস্ট একাডেমির আয়োজনে, বাংলা চ্যানেলের আবিস্কারক কীর্তিমান ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার মরহুম কাজী হামিদুল হকের (১৯৪৯-২০১৩) স্মরণে আয়োজিত এই ম্যারাথন সাঁতারে এবার ছয়জন সাঁতারু বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবেন।
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের ফার্স্ট সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহীম, এভারেস্ট একাডেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাফাহ উদ্দিন সিরাজীসহ অন্যান্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘আমরা আসলে দেশকে প্রোমোট করতে চাই। যে ধরনের প্রতিযোগিতায় দেশকে প্রমোট করার সুযোগ রয়েছে সেগুলোর সঙ্গে সবসময়ই সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। ম্যারাথন এই সাঁতারের মাধ্যমে আমি মনে করি দেশকে প্রমোট করা সম্ভব। কারণ, বাংলা চ্যানেল পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের মধ্যে। এ ধরনের ম্যারাথন সাঁতারে বিদেশিদের সম্পৃক্ত করা গেলে অনেক ভালো হয়। দেশকে আরো ভালোভাবে প্রমোট করা যায়। আমি এই আয়োজনের সাফল্য কামনা করছি।’
ওয়ালটনের প্রশংসা করে মুসা ইব্রাহীম বলেন, ‘এমন আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করায় ওয়ালটন গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি ভবিষ্যতেও আমরা ওয়ালটনকে পাশে পাব।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ২৫ ডিসেম্বর সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১৬.১ কিলোমিটার সাঁতরাবেন সামসুজ্জামান আরাফাত (প্রথমবার), মনিরুজ্জামান (চতুর্থবার), পারভেজ রশিদ, লিটন সরকার (দশমবার), ফজলুল কবির (দশমবার) ও শাহাদাত পাশা (প্রথমবার)। ৫ ঘণ্টার মধ্যে বাংলা চ্যানেল সাঁতরানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।