সকাল ৯:২৪, সোমবার, ২১শে মে, ২০১৮ ইং

বৃষ্টি এসে দুইবার খেলা থামাতে পারলো ঠিকই কিন্তু রাফায়েল নাদালের বিজয় ঠেকাতে পারলো না। রোম ‌ওপেনের ফাইনালে জার্মানির আলেক্সজান্ডার জেভেরেভকে ৬-১, ১-৬ ‌ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে শিরোপা জিতলেন নাদাল। সেই সঙ্গে এটিপি টেনিসে আবার‌ও শীর্ষস্থান ফিরে পেলেন এই স্প্যানিশ তারকা।

ক্লে কোর্টের রাজা নাদাল আর জেভেরভের মধ্যকার ম্যাচে প্রথম সেট নির্বিঘ্নেই হয়। দ্বিতীয় সেট চলাকালে প্রথমে ১৫ মিনিট এবং পরে আর‌ও ২৫ মিনিট খেলা বৃষ্টিতে থেমে থাকে। পরে নাদাল ঠিকই জিতে নেন তার ক্যারিয়ারে রোম মাস্টার্সের অষ্টম শিরোপা।

ব্যর্থ সুরাইয়া ব্যর্থতা কুস্তিতেও

গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের নারীদের শ্যূটিংয়ে ৫০ মিটার রাইফেল প্রোন ইভেন্টে পারলেন না সুরাইয়া আক্তার। এই প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও শাকিল আহমেদ বাংলাদেশকে রূপার পদক এনে দিলেও অন্য শ্যূটাররা ব্যর্থ হন। গতকাল বুধবার পুরুষদের ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে শাকিল সাফল্য পেলেও আজ বৃহস্পতিবার মহিলাদের ৫০ মিটার রাইফেল প্রোন ইভেন্টে জ্বলে উঠতে পারলেন না সুরাইয়া আক্তার। তিনি ২০ প্রতিযোগীর মধ্যে ১৪তম হন। এই ইভেন্টে লাল-সবুজদের পক্ষে খেলা আরেক শ্যূটার শারমিন শিল্পার জায়গা হয় ১৭তম স্থানে।

গত ৮ এপ্রিল আব্দুল্লাহ হেল বাকি ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে খেলতে নেমে স্বর্ণ জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরে আসলেও কমনওয়েলথ গেমসে এ ইভেন্টে টানা দ্বিতীয় রৌপ্যপদক জিতে দেশের মান বাড়ান। গেমসের আগের আসরে গ্লাসগোতেও বাকি তার প্রিয় এই ইভেন্টে রূপা জিতেছিলেন। গোল্ড কোস্টে বাকির সাফল্যে উজ্জীবিত ছিলেন বাংলাদেশ দলের শ্যূটাররা। তার রূপা জয়ের চারদিনের মাথায় আরেকটি রৌপ্যপদক বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা পড়ে। আর এটা ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্ট থেকে এনে দিলেন তরুণ শ্যূটার শাকিল। পরপর দু’টি সাফল্য পেয়ে আকাশে উড়তে থাকা বাংলাদেশ শ্যূটিং দলের সবারই ধারনা জন্মে মেয়েদের ৫০ মিটার রাইফেল প্রোনেও কিছু একটা করে দেখাবেন সুরাইয়া। কিন্তু না পারলেন না তিনি, ব্যর্থ হন শারমিনও। আজ ব্রিসবেনের বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারের রেঞ্জে নিজ ইভেন্টে খেলতে নেমে সুরাইয়া স্কোর করেন ৬০৪.৩ পয়েন্ট। আর শারমিন ৫৯৯.২। ফলে দু’জনকেই ছিটকে পরতে হয় গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস থেকে। ৬২১.০ পয়েন্ট করে এ ইভেন্টে স্বর্ণ জেতেন সিঙ্গাপুরের মার্টিনা লিন্ডসে। তিনি গেমস রেকর্ড গড়েন। ৬১৮.৯ পয়েন্ট নিয়ে রূপা জিতেন ভারতের তেজস্বনী শ্রাবন্ত। এবং ৬১৪.১ পয়েন্ট পেয়ে ব্রোঞ্জপদক পান স্কটল্যান্ডের শ্যুটার সিয়োনাইড মেসিনটো।

এদিকে শ্যূটিং ডিসিপ্লিনে আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশের সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা ফের রেঞ্জে নামবেন। তারা ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনে খেলবেন।

অন্যদিকে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের কুস্তি খেলা আজই শুরু হয়েছে। দেশ সেরা পুরুষ কুস্তিগীর আলী আমজাদ ফ্রি-স্টাইল ৭৪ কেজি ওজনশ্রেণীর প্রথম রাউন্ড টপকালেও দ্বিতীয় রাউন্ডে এসে ধরাশায়ি হন। কারারা স্পোর্টস এরিনায় আলী আমজাদ খেলেন কিরিবাতি’র লোয়াবো টিটু’র বিপক্ষে। রিংয়ে নেমে আমজাদ সরাসরি কোন পয়েন্ট না পেলেও ১০ টেকনিক্যাল পয়েন্ট তুলে নেন। লোয়াবো কোন টেকনিক্যাল পয়েন্টই পাননি। ফলে জয় পেয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পান আমজাদ। দ্বিতীয় রাউন্ডে এসে সেই হতাশাই দেখতে হয় বাংলাদেশ দলকে। খেলতে নেমে আমজাদ দাঁড়াতেই পারেননি নাইজেরিয়ান কুস্তিগীর এবিমিয়েন ফাগে আসিজিকার্ডের সামনে। লড়াইয়ে সরাসরি ধরাশায়ি হয়ে গেমস থেকে ছিটকে পড়েন আমজাদ। আগামীকাল শুক্রবার কারারা স্পোর্টস এরিনায় বাংলাদেশের সেরা নারী কুস্তিগীর শিরিন সুলতানা খেলবেন মহিলাদের ফ্রি-স্টাইল ৬৮ কেজি ওজনশ্রেণীতে।

লক্ষ্য ছিল সেরা স্কোর করা: শাকিল

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

শাকিলের রৌপ্যজয়ী নৈপুণ্যে আজ বুধবার গেমস ভিলেজে যেন উৎসবের ঢেউ বয়ে যায়। সতীর্থরা আলিঙ্গনে ও শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন তাকে। জাতীয় পতাকা নিয়ে উল্লাসের মুহূর্তে তাদের সঙ্গে যোগ দেন কর্মকর্তারাও। দীর্ঘ ২৮ বছর পর কমনওয়েলথ গেমসের শ্যূটিংয়ে পিস্তলের ইভেন্ট থেকে কোনো পদক জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

এটি বাংলাদেশের নবম কমন‌ওয়েলথ আসর। ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে এয়ার পিস্তল পেয়ারসে স্বর্ণপদক জিতে দেশকে আনন্দের বন্যায় ভাসান আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। সেটি ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম অংশ গ্রহণ। সেবার ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তলে ব্রোঞ্জপদকও জয় করেন এই জুটি। এক যুগ বাদে ২০০২ সালে ম্যাঞ্চেস্টারে কমনওয়েলথ গেমস থেকে দেশকে আবার সোনালী সাফল্য এনে দেন আসিফ হোসেন খান। তবে এক গেমস থেকে দুটি পদক জয়ের ঘটনা অকল্যান্ডেই প্রথম এবং এবার গোল্ড কোস্টে এখন পর্যন্ত হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ঘটলো। বাকি তিন দিনে রেঞ্জ থেকে আরও পদকের আশা ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। সেক্ষেত্রে পদক সংখ্যাই এগিয়ে যাবে গোল্ড কোস্ট। সেই প্রত্যাশা পূরণে বাকী-শাকিলের সাফল্য বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে বাংলাদেশ শিবিরে।

পদক জিতে শাকিল আহমেদ বলেন, অবশ্যই ভাল লাগছে। বাংলাদেশ থেকে ভাল প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছিলাম। আমার লক্ষ্য ছিল মেডেল না হোক, আমার যে স্কোরটা ছিল, সেটা করবো। আমাদের টিমের প্রত্যেকেই তাদের বেস্ট স্কোর করেছে। কারণ এবার আমাদের প্রস্তুতি খুব ভাল ছিল। আমার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলেও ভাল পারফরমেন্স ছিল। কিন্তু ফাইনালের কথা আগে ভাগে কিছুই বলা যায় না। তারপরও আমি চেষ্টা করেছিলাম। ৫০ মিটার পিস্তল আমার মেইন ইভেন্ট, আশা ছিল এখানে ভাল কিছু করবো। যেটা চেয়েছি সেটাই করতে পেরেছি বাছাইপর্বেও, ফাইনালেও। প্র্যাকটিসে সবসময় যেটা মারি সেটাই মেরেছি।

তিনি আরও বলেন, অনেক দিনই আমাদের এসএ গেমসেও মেডেল ছিল না। আমি ২০১৬ সালে প্রথম স্বর্ণপদক জিতি। তখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম কমনওয়েলথ গেমসকে। সেভাবেই প্রস্তুতি শুরু করি ভাল কিছু করার জন্য। ফেডারেশন থেকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। যা চেয়েছি তাই দিয়েছে। বাংলাদেশ আর্মিও আমাকে সহায়তা দিয়েছে। তবে বিশেষভাবে বলবো অপু (শ্যূটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক) ভাইয়ের কথা। সব সময় তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। কম্পিটিশনের সময় আমার অন্য সতীর্থরাও আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।

এবার রৌপ্য জিতলেন শাকিল

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে আরেকটি সাফল্য পেল বাংলাদেশ। সেটিও শ্যূটিংয়ের কল্যাণে। এবার দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী শাকিল আহমেদ। তিনি অবশ্য স্বর্ণ জিতেননি, ৫০ মিটার পিস্তলে জিতেছেন রৌপ্য। চলতি কমন‌ওয়েলথ গেমসে এ নিয়ে দুটি পদক জমা পড়লো বাংলাদেশের ঝুলিতে। আবদুল্লাহ হেল বাকীর পর এবার সাফল্য দেখান বাংলাদেশের ২২ বছরের তরুণ শ্যূটার শাকিল। গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ঠিক এরকম একটি মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলো পুরো বাংলাদেশ। এর আগে ১০ মিটার এয়ার রাইকেলে বাকী অল্পের জন্য স্বর্ণ জিততে পারেননি। তবে তার জেতা রৌপ্য পদকের পর আরেকটি সাফল্য আশা করেছিল বাংলাদেশ। সেই প্রত্যাশা পুরণ করলেন শাকিল। তার পিস্তলের গুলিতে এসেছে রৌপ্য। এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী শাকিলের কমনওয়েলথ গেমসে এটাই প্রথম পদক জেতা। আর তাই তিনি দারুণ আনন্দিত ও গর্বিত বলে জানালেন রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে।

আজ বুধবার বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গে পিস্তল হাতে বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারের রেঞ্জে ঢোকেন শাকিল। একের পর এক বাধার দেওয়াল টপকে যান নিখুঁত নিশানায়। ২২০.৫ পয়েন্ট স্কোর করে জিতে নেন রূপার পদক। অস্ট্রেলিয়ার আকাশে আবার ওড়ান দেশের পতাকা। ২২৭.২ পয়েন্টে নতুন গেমস রেকর্ড গড়ে এই ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন স্বাগতিক দলের ড্যানিয়েল রেপাচোলি। অনেকটাই পিছিয়ে থেকে মাত্র ২০১.১ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন ভারতের ওম মিথারভাল। বাংলাদেশের আরেক শ্যূটার আনোয়ার হোসেন দশম হয়ে ইভেন্ট শেষ করেন।

কমন‌ওয়েলথে দ্বিতীয় রূপা বাংলাদেশের

কমনওয়েলথ গেমসে এবারের আসরে দ্বিতীয় পদক জিতলো বাংলাদেশ। ৫০ মিটার পিস্তলে শাকিল আহমেদ ২২০.৫০ স্কোর গড়ে জেতেন রৌপ্য পদক। যদিও প্রথম চার শটে অস্ট্রেলিয়ার ডেনিয়েল রিপাচলির সাথে স্বর্নপদকের লড়াইয়ে সমান তালেই এগুচ্ছিলেন বাংলাদেশের শুটার। তবে এর পরেই পিছিয়ে পড়েন তিনি।

২২৭.২ স্কোর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান শ্যূটার স্বর্নপদক জিতে নেন। আর ২০১.১ স্কোর নিয়ে ভারতের ওম মিথারভাল জিতে নেন ব্রোঞ্জ পদক। এর আগে দশ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য পদক জিতেছিলেন আবদুল্লাহ হেল বাকি।

পদকে স্বাগতিকদের দাপট

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। গেমস শেষ হতে এখনো ৩দিন বাকি। এরি মধ্যে তারা ধরাছোয়ার বাইরে চলে গেছে। এখন পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ১১৭ টি পদক। তার মধ্যে ৪৫টি স্বর্ণ, ৩৫টি রৌপ্য ও ৩৭টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। দিন যতই এগুচ্ছে তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। তাদের পিছনে রয়েছে গতবারের শীর্ষ দেশ ইংল্যান্ড। তারা ২৪টি স্বর্ণ, ২৮টি রৌপ্য ও ২১টি ব্রোঞ্জ পদক এখ নপর্যন্ত ঝুলিতে তুলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার হয়ে একাই ঝান্ডা উড়িয়ে চলেছে ভারত। তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তাদের পুঁজি ১১টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৫টি ব্রোঞ্জ পদক। ৮টি করে স্বর্ণ নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

বাংলাদেশ কোনো মত পদকের খাতা খুলেছে। শ্যূটার আব্দুল্লাহ হেল বাকীর সুবাদে একমাত্র রৌপ্য পদক পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকী ৮ এপ্রিল ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য জিতেছিলেন। বাকী ছাড়া একমাত্র জাকিয়া সুলতানা শ্যূটিংয়ে পদকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। তিনি অল্পের জন্য ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে চতুর্থ হন। শ্যূটিং ছাড়াও বাংলাদেশ সাঁতার, এ্যাথলেটিকস, ভারোত্তোলনে অংশ নিয়েছে। বলাবাহুল্য, হতাশাই করেছেন এই সব ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রা।

বাংলাদেশ তার ডিসিপ্লিনগুলোর শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শ্যূটিংয়ের কয়েকটি ইভেন্ট ছাড়া বাকি রয়েছে রেসলিং।

পদক তালিকা

দল               স্বর্ণ      রৌপ্য      ব্রোঞ্জ      মোট

অস্ট্রেয়িলা        ৪৫      ৩৫           ৩৭         ১১৭

ইংল্যান্ড          ২৪        ২৮           ২১        ৭৩

ভারত           ১১           ৪             ৫        ২০

নিউজিল্যান্ড    ৮         ১০            ৭         ২৫

দ. আফ্রিকা     ৮          ৬             ৫         ১৯

কানাডা         ৭           ১৮          ১৪         ৩৯

ওয়ালস         ৭             ৭             ৫          ১৯

স্কটল্যান্ড      ৬            ১০            ১২         ২৮

স্ইাপ্রাস         ৪             ০              ২           ৬

নাইজেরিয়া    ৩             ৪              ০          ৭

বাংলাদেশ       ০            ১               ০          ১

সবার শেষে শিরিন

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

বাংলাদেশের সেরা এ্যাথলেট। দৌড়ে তার জুড়ি নাই। কিন্তু সেই শিরিন আক্তার পাত্তাই পেলেন না গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে। আগেই ১০০ মিটার স্প্রিন্টে হিট থেকে বিদায় নেন দেশের দ্রুততম মানবী। আর আজ মঙ্গলবার তো রীতিমত লজ্জাই পেলেন। নিজের সেরা দৌড় দিয়েও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে হিটে ৮ জনের মধ্যে অস্টম হন। আর ৩৬ জনের মধ্যে হয়েছেন ৩৬তম।

এই ইভেন্টে মোট ৩৮ জনের অংশ নেয়ার কথা ছিল। দুইজন দৌড়াননি। ফলে ৩৬ জনের মধ্যে কয়েকটি হিটে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সব হিট মিলে ৩৬ জনের মধ্যে শিরিন হয়েছে ৩৬তম। এর আগে গত রোববার শেষ হওয়া মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটে অংশ নিয়ে সাতজনের মধ্যে ষষ্ঠ হলেও আজ আরো খারাপ করলেন তিনি। কারারা স্টেডিয়ামে ২০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম রাউন্ডে এক নম্বর হিটে শিরিন ২৬.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন। এটি এই গেমসে তার সেরা। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের চেয়ে এবার গোল্ড কোস্টে কিছুটা ভালো করলেন শিরিন। গেমসের আগের আসরে গ্লাসগোতে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে তার টাইমিং ছিল ২৬.৪১ সেকেন্ড।

এই ইভেন্টের হিটে কানাডার অ্যাথলেট ক্রিস্টালি অ্যামুুয়েল প্রথম, জ্যামাইকার শাশালি ফোর্বেস দ্বিতীয়, ত্রিনিদাদা এন্ড টোবাগোর সেমে হাকেট তৃতীয় ও নাইজেরিয়ার প্রাইস ইডামাডুডু চতুর্থ স্থান পান। এই হিট থেকে এ চারজন পরের রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করন। আগামীকাল ২০০ মিটারের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এ ইভেন্টে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ছয়বারের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারের এবারের কমনওয়েলথ গেমস মিশন শেষ হলো। এর আগে পুরুষ ১০০ মিটারের প্রথম রাউন্ডে ছয় নম্বর হিটে খেলে দেশের সাতবারের দ্রুততম মানব মেজাবাহ আহমেদও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিনি ১০.৯৬ সেকেন্ড সময়ে দৌড়ে সাতজনের মধ্যে পঞ্চমস্থান পেয়ে গেমস থেকে ছিটকে পড়েন।

এদিকে শ্যূটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য আর কোন সুখবর আনতে পারেননি শ্যূটাররা। একমাত্র আবদুল্লাহ হেল বাকির রৌপ্য জয়েই থেমে আছে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে লাল-সবুজের সাফল্য। আজ ব্রিসবেনের বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে টানা তৃতীয় দিনের মতো এই ডিসিপ্লিনে খেলতে নামে বাংলাদেশ। ৫০ মিটার রাইফেল প্রোন ইভেন্টে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শোভন চৌধুরী ৩০ জনের মধ্যে ২০তম স্থান পান। তিনি অর্জন করেন ৬০৪.৫ পয়েন্ট। এ ইভেন্টের স্বর্ণ যায় ওয়ালসের ঘরে। দেশটির ডেভিড ফিলিপস ২৪৮.৮ পয়েন্ট করে নতুন গেমস রেকর্ড গড়ে সোনা জিতে নেন। গতকাল তার জন্মদিন ছিল। জন্মদিনের উদযাপনটা ডেভিডের স্বর্ণপদক দিয়েই হলো। ২৪৭.৩ পয়েন্ট পেয়ে স্কটল্যান্ডের নেইল স্টিরটন পান রৌপ্য এবং ২২৬.৬ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের কেনেথ পার জিতে নেন ব্রোঞ্জ পদক। আগামী ১৪ এপ্রিল ৫০ মিটার রাইফেল পজিশন ইভেন্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশের শোভন চৌধুরী।

৭৯ বছরে অভিষেক্ত!

কমনওয়েলথ গেমসের সবচেয়ে বয়সী প্রতিযোগী হিসেবে অভিষিক্ত হলেন কানাডার শ্যূটার রবার্ট পিটক্যারিন। গত সোমবার কুইন্স প্রাইজ পেয়ার্স শ্যূটিংয়ের চুড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে বেলমন্ড শ্যূটিং রেঞ্জে পার্টনার নিকোলে রোজিগনলকে নিয়ে হাজির হন ৭৯ বছর ৯ মাস বয়সী রবার্ট। ফলে তিনি বয়সের দিক থেকে টপকে যান এর আগে সবচেয়ে বয়সী প্রতিযোগী হিসেবে গেমসে অংশ গ্রহনকারী ডোরেন ফ্লান্ডার্সকে।

২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে গেমসে লন বল ইভেন্টে অংশ নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছিলেন ৭৯ বছরে পা রাখা ডোরেন। তবে বিমান বাহিনীর সাবেক ক্যাডেট পিটক্যারিন গোল্ডকোস্টে অংশ নিয়ে বয়সের দিক থেকে তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

নতুন রেকর্ড গড়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় পিটক্যারিন বলেন, ‘বয়সের নতুন এই রেকর্ড গড়তে পেরে আমি আমার স্বাস্থ্য ও ক্রীড়ামোদী মানসিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যেটি আমাকে গোল্ডকোস্টের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিয়েছে।’

পিটক্যারিন একজন বানিজ্যিক বৈমানিক ছিলেন। তার একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭৪ সালে বিমান চালনার সময় তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন। এ সময় তার ৭৩৭ বিমানে ১২০জন যাত্রী ছিলেন।

১৯৬০ সালে তিনি শ্যূটিং শুরু করেছিলেন। এ সময় তার লক্ষ্যভেদ দূর্দান্ত থাকলেও কখনো কমনওযেলথগেমসে অংশ গ্রহনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেননি। ১৯৯৮ সালে অবসর গ্রহনের পর তিনি এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ২০০২ সালে অল্পের জন্য তিনি ম্যানচেস্টার গেমসে সুযোগ লাভে ব্যর্থ হন। এরপর ডান হাতি এই শ্যূটার আরো বেশী দৃঢ়চেতা হয়ে উঠেন এবং ২০১৮ গেমসকে সামনে রেখে প্রশিক্ষনে মনোনিবেশ করেন।

সবশেষ গেমসের জাতীয় ট্রায়ালে এই শ্যূটার দারুনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে দুই স্থানের একটিতে জায়গা করে নেন। এটি উদযাপনের অংশ হিসেবে তিনি নিজের ২২ বছরের পুরনো শ্যূটিং জ্যাকেট পাল্টে লাল-সাদার নতুন জ্যাকেট গায়ে চড়ান।

পেয়ার্স ইভেন্টে ৫৭৯-৪৯ স্কোর করে অস্টম স্থান লাভ করেছে পিটক্যারিন জুটি। এতে ৫৮৪-৬১ স্কোর করে স্বর্ণ পদক জয় করেছে ইংল্যান্ডের পরাগ প্যাটেল ও ডেভিড লুকম্যান জুটি।

দ্রুততম মানব সিমবেনি মানবী মিশেল

গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে এম এস সাহাব 

কমনওয়লথ গেমসে ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে নতুন রাজা-রানী নির্ধারণ হয়ে গেছে। গোল্ড কোস্ট কমনওয়লথ গেমসে দ্রুততম মানব হন দক্ষিণ আফ্রিকান স্প্রিন্টার সিমবেনি আকানি এবং দ্রুততম মানবীর খেতাব জেতেন ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর মিশেল লি আইছে।

 

আজ সোমবার কারারা স্টেডিয়ামে গেমসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট পুরুষ ও মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট অনুষ্ঠিত হয়। গতিদানব জ্যামাকার উসাইন বোল্ট এবার না থাকায় সবার আগ্রহ ছিল এ ইভৈন্টে নতুন রাজা কে হন তা দেখার। গোল্ড কোস্টবাসী সহ গোটা বিশ্ব দেখলো কমনওয়েলথ গেমসের দ্রুততম মানবকে। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের নতুন রাজা দক্ষিণ আফ্রিকার সিমবেনি আকানি। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নেমে ১০.০৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে জয় করেন স্বর্ণপদক। তার স্বদেশী ব্রুন টিয়েস হ্যারিস ১০.১৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে পান রৌপ্য। জ্যামাইকান স্প্রিন্টার ইয়োহ্যান ব্লাক ১০.১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন। এই ইভেন্টে সবচেয়ে ফেবারিট ছিলেন ব্লেক। মনে হচ্ছিল তিনি হবেন বোল্টের উত্তরসুরি। কিন্তু বাজিমাত করলেন আকানি।

 

 

একই ভেন্যুতে মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হন ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর মিশেল লি আইছে। তিনি ১১.১৪ সেকেন্ড সময়ে দৌড়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক। জ্যামাইকার ক্রিস্টিনা উইলিয়ামস ১১.২১ সেকেন্ড সময় নিয়ে পান রৌপ্য এবং তার স্বদেশী গায়োন ইভান্স ১১.২২ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে লাভ করেন ব্রোঞ্জ পদক।

শেষ হয়ে আসছে বাংলাদেশের মিশন

গোল্ড কোস্ট, অষ্ট্রেলিয়া থেকে এম এস সাহাব

গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের মিশন শেষ হয়ে আসছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সাঁতার ও ভারোত্তোলন দল ইভেন্টগুলো শেষ করেছে। এই দুই ডিসিপ্লিন থেকে কোনো সাফল্য পায়নি। আগেভাগে খেলা শেষ হওয়ায় সাঁতার ও ভারোত্তোলন দল আগামীকাল মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া ছাড়ছে। সিঙ্গাপুর বিমানে করে ১০ সদস্যের দল রাতে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

 

এদিকে আগামীকাল ট্র্যাকে নামছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। কারারা স্টেডিয়ামে অংশ নেবেন ২০০ মিটার দৌড়ে। তিনি ও দ্রুততম মানব মেসবাহ আহমেদ ১০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়ে ইতিমধ্যে হিট থেকেই বিদায় নিয়েছেন। ২০০ মিটার দৌড়ের ফাইনাল হবে ১২ এপ্রিল। আর তাই অ্যাথলেট দল দেশের পথে ছুটবে পরের দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল।

দলগুলো বিদায়ের মধ্যেও আগামীকাল গোল্ড কোস্ট এসে পৌঁছবে বাংলাদেশের আরেকটি দল। ৩ সদস্যের রেসলিং দল আজই ঢাকা ছেড়েছে। বাংলাদশের দুই রেসলার শিরিন সুলতানা মেয়েদের ৬৮ কেজি ফ্রি স্টাইলে অংশ নেবেন। তার লড়াই হবে ১৩ এপ্রিল। আগের দিন অর্থাৎ ১২ এপ্রিল আমজাদ আলী ৭৪ কেজি ফ্রি স্টাইলে লড়বেন। তাদের সাথে আসছেন কোচ কাম ম্যানেজার তবিউর রহমান।

উল্লেখ্য, গোল্ড কোস্টে বাংলাদেশের দুই বক্সার রবিন মিয়া ও আল আমিনের ৫ এপ্রিল অংশ নেয়ার কথা ছিল নিজ নিজ ইভেন্টে। কিন্তু কোচ কাম ম্যানেজার কাজী আব্দুল মান্নানের ভুলে গেমসে অংশ না নিয়ে বক্সিং দলকে দেশের ফিরতে হয় আগেভাগেই।

এদিকে, বাংলাদেশ শ্যূটিং ও রেসলিং দল গেমস শেষে ১৬ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া ছাড়বে। আগামীকাল ৫০ মিটার রাইফেল প্রোনে অংশ নেবেন শ্যূটার শোভন চৌধুরী।

অল্পের জন্য পদক বঞ্চিত জাকিয়া

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অষ্ট্রেলিয়া থেকে

অল্পের জন্য হলো না। অনেক কাছে গিয়েও পদক পেলেন না বাংলাদেশের আরেক শ্যূটার উম্মে জাকিয়া সুলতানা। তিনি ৪১০.৫ পয়েন্ট নিয়ে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের ফাইনাল রাউন্ডে ‌ওঠেন। এবং ফাইনালে মাত্র ৩.৩ পয়েন্টের জন্য চর্তুথ হন। তিনি ২০২.০ পয়েন্ট পান। ভারতের অপূর্ভি চানদেলা মাত্র ২২৫.৩ পয়েন্ট নিয়ে এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ অর্জন করেন। ভারতের আরেক শ্যূটার মেহুলি ঘোষ ২৪.৭ পয়েন্ট নিয়ে রূপা ও সমান পয়েন্ট নিয়ে সিঙ্গাপুরের মার্টিন লিন্ডসে স্বর্ণ পদক জয় করেন। মেহুলি ও মার্টিন এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসের নতুন রের্কড গড়েন।

আগের দিন পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে বাংলাদেশের আব্দুল্লাহ হেল বাকী রৌপ্য জিতেছিলেন। তার এই সাফল্যে বাংলাদেশ শ্যূটিং দল বেশ উজ্জীবিত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবারও ব্রিসবেনের বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে লক্ষ্যেভেদ করতে নামেন বাংলাদেশের চার শ্যূটার। তার মধ্যে পদকের খুব কাছে গিয়েছিলেন জাকিয়া সুলতানা। বাছাই পর্বে ১৮ জনের মধ্যে ষষ্ঠ হয়ে উঠে যান ফাইনাল রাউন্ডে। অবশ্য বাংলাদেশের আরেক শ্যূটার সৈয়দা আতকিয়া হাসান তেমন ভালো করতে পারেননি। ৪০৭.৪ পয়েন্ট পেয়ে ১৮ জনের মধ্যে হন দশম হন তিনি। এত কাছে গিয়েও পদক না পাওয়ার হতাশা ছিল জাকিয়া সুলতানার মধ্যে। তাই তিনি প্রতিযোগিতা শেষে উস্মা প্রকাশ করে বলেন, আরো একটু ভালো করতে পারলে পদক আসত। তবে নিজের অর্জনে তিনি সন্তুষ্ট। বলেছেন, এত বড় আসরে এবারই প্রথম অংশ নিয়ে পদকের এত কাছে আসতে পারায় আমি খুশি।

 

 

পদকের জন্য অবশ্য সবাই তাকিয়ে ছিল শাকিল আহমেদের ইভেন্টের দিকে। এসএ গেমসের স্বর্ণ জয়ী শাকিল আহমেদ আজ কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে অংশ নেন। তার সাথে ছিলেন সর্তীথ আনোয়ার হোসেন। আনোয়ার ফাইনাল রাউন্ডে উঠতে পারেননি। ৫৫৫-১১এক্স পয়েন্ট নিয়ে তিনি ২৪ জন শ্যূটারের মধ্যে ১৩তম স্থান পান। আর শাকিল ৫৬৩-১৪এক্স পয়েন্ট অর্জন করে চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ হন। তবে পদক এনে দিতে পারেননি। ফাইনালে ১৫০.১ পয়েন্ট পেয়ে ৬ষ্ঠ স্থান নিয়ে তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এই ইভেন্টে ভারতের জিতু রায় ২৩৫.১ পয়েন্ট নিয়ে কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ পদক জিতে নেন। তারই সর্তীথ আরেক ভারতীয় শ্যূটার ওম মিথারভেল ২১৪.৩ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করেন। রৌপ্য গেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কেরি বেলের গলায়। তিনি ২৩৩.৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন।

বাংলাদেশের শ্যূটার শাকিল আগামীকাল ৫০ মিটার পিস্তলে আবারো ভাগ্য পরীক্ষায় নামবেন। এটিই তার মূল ইভেন্ট।

কমন‌ওয়েলথে ব্যর্থ এক দিন

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে আরো একটি ব্যর্থ দিন কাটলো বাংলাদেশের। পদক জয়ের আশা জাগিয়ে‌ও সাফল্য পেলেন না উম্মে সুলতানা। আর তার না পারাতেই ব্যর্থ এক দিন পাড় করলো বাংলাদেশ।

মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশ করেন উম্মে সুলতানা। ইভেন্টের ফাইনালে ২০২ স্কোর গড়ে চতুর্থ হন তিনি। এই ইভেন্টে স্বর্ণ জেতে সিঙ্গাপুর। আর রূপা ও ব্রোঞ্জ পান ভারতের প্রতিযোগী। অবশ্য বাছাইপর্বে ষষ্ঠ হয়েছিলেন উম্মে সুলতানা। এই ইভেন্টে আরেক প্রতিযোগী সাঈদা হাসান দশম হয়ে বাছাইপর্ব থেকেই বাদ পড়েন।

এদিকে, পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ১৫০ দশমিক এক স্কোর করে ষষ্ঠ হন বাংলাদেশের শাকিল আহমেদ। এই ইভেন্টে গেমস রেকর্ড গড়ে সোনার পদক জেতেন ভারতের জিতু রাই। বাংলাদেশের আরেক শ্যূটার আনোয়ার হোসেন ত্রয়োদশ হন।

বাকীর জন্য অর্থ পুরস্কার

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে শ্যূটিংয়ের প্রথম দিনেই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশিতভাবে আজ রোববার ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রূপার পদক জয় করেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। ব্রিজবেনের বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে লক্ষ্য ভেদের লড়াইয়ে অল্পের জন্য স্বর্ণপদক জয়ে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের এই কৃতি শ্যূটার। চার বছর আগে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো নগরীতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলেও রৌপ্য পদক বিজয় করেছিলেী বাকী। তবে এবারের আসরে এই ইভেন্টে তালিকায় ছিলেন না। ছিলেন রিসালাতুল ইসলাম। কিন্তু লড়াইয়ে নামার আগের দিন (শনিবার) রিসালাতকে বাদ দিয়ে বাকীকে এই ইভেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

যেটিকে ‘গ্যাম্বলিং’ হিসেবেই মন্তব্য করেছেন দুই বছর ধরে বাংলাদেশ শ্যূটিং দলের ড্যানিস কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ‘বাকীর অভিজ্ঞতার কথাটি মাথায় রেখেই তাকে শেষ মুহূর্তে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এটিকে আবার এক ধরেন গেম পলিসিও বলা যেতে পারে। বাজীতে আমরা মাত করেছি।’ ক্লাভস বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দুই বছরের ক্যারিয়ারে এটি আমার জন্য সেরা সফলতা। গেমস থেকে একটি পদকের জন্য গোটা দল মুখিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পুরণ হয়েছে।’

বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু বলেন, ‘এ পদক জয়ের মাধ্যমে আমাদের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এই জয়টি পরবর্তী লড়াইয়ের বাংলাদেশের অন্য শ্যূটারদের মনোবলকে সুদৃঢ় করবে।’ এ সময় পদক জয়ের বিপরীতে শ্যূটিং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দে‌ওয়ার বিষয়টি আবার‌ও জানান, অপু। বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বাকী ফেডারেশনের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার পাবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) পক্ষ থেকে আরো ৫ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার পাবে।’ সব মিলিয়ে ১২ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার পাচ্ছেন বাকী।

বাকী’র রূপা অক্ষুন্ন

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

হতাশা করেননি আব্দুল্লাহ হেল বাকী। গতবার গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে রুপা জিতেছিলেন বাংলাদেশের এই শ্যূটার। তাকে ঘিরেই এবারও ছিল পদক জয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পুরন করেছেন তিনি। এবারও জিতে নেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রূপার পদক। হতে পারত এই অর্জন আরও বড়। মাত্র ০.৪ পয়েন্ট বেশি করতে পারলে স্বর্ণই হাতে শোভা পেত বাকী'র। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ডেনি স্যাম্পসন ২৪৫.০ স্কোর করে স্বর্ণ জয় করেন। আর বাকীর স্বোর ২৪৪.৭। এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ফেবারিট ভারতের রবি কুমার। তার স্কোর ২২৪.১।

মজার বিষয় হচ্ছে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে দ্বিতীয় ছিলেন রবি। আর শীর্ষে তার স্বদেশী দীপক কুমার। স্যাম্পসন ছিলেন তৃতীয়। আর বাংলাদেশের বাকী ছিলেন ৬ষ্ঠ স্থানে। ফাইনাল রাউন্ডে ঘুরে দাঁড়ান স্বপ্ন জয়ের নায়ক বাকী। আরেকটুকু মনোযোগী হলে হয়ত শীর্ষ স্থানটি দখলে নিতে পারতেন। অবশ্য এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ তার তো এই ইভেন্টে অংশ নেয়ারই কথা ছিল না।

দেশে জাতীয় শ্যূটিংয়ে নিজের প্রিয় ইভেন্ট ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে তিনি ভালো করতে পারেননি। ফলে তার অংশ নেয়ার কথা ছিল ৫০ মিটার রাইফেলে। কিন্তু ড্যানিস কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেন-এর মাথায় ছিল অন্য পরিকল্পনা। বাজির ঘোড়া বাকী-সেটা তিনি ভালোই জানতেন। গত দুবছর ধরে বাকীর কোচ। তিনি অন্য কাউকে নয়, চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য বেছে নেন বাকীকেই। বড় আসরে বাকীর অভিজ্ঞতা আর দৃঢ়তায় আস্থা ছিল কোচের। ঢাকায় থাকা অবস্থায় বাকীকে জানানো হয়, পরিবর্তন হতে পারে তার ইভেন্টের। কিন্তু সেটি চূড়ান্ত হয় মাত্র ১দিন আগে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে বাকী নিজে‌ও স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন। ফলে নিজের ইভেন্ট ফিরে পেয়ে মনের জোর আরও বাড়িয়ে নেন। জানতেন কোচের মত সারাদেশ তার দিকে তাকিয়ে, পদকের আশায়। আর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, নিজের সেরাটা দিতে পারলে পদক আসবেই। হলও তাই।

চার দিকে থেকে যখন একের পর এক (বাংলাদেশের অন্য ডিসিপ্লিন থেকে) ক্রীড়াবিদের হতাশাজনক পারফরমেন্সের খবর আসছে, তখন সব চাপ যেন বাকী’র ওপর। বাকী ছিলেন স্বভাব অনুযায়ী খুবই শান্ত। কখনো লক্ষ্যচূত্য হননি। শুরুতেই চূড়ান্ত ৮ জনের টিকে থাকার লড়াই। হলেন ৬ ষষ্ঠ। তখন যেন বাংলাদেশ শ্যূটিং দলের আকাশে হতাশার কালো মেঘ। কারণ তার সাথে এই ইভেন্টে অংশ নেয়া বাংলাদেশের আরেক শ্যূটার রাব্বি হাসান মুন্না ১৮ জনের মধ্যে হন ১৪। এদিকে নিজ ইভেন্ট থেকে আরও দুই শ্যূটারের ছিটকে পড়ার খবর আসে বাকীর ইভেন্ট শুরু আগেই। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্টলে বাংলাদেশের আরদিনা ফেরদৌস অল্পের জন্য ফাইনালে (৮ জনে) কোয়ালিফাইং করতে পারেননি। তিনি ২৫ জনে ৯ম হন। আর ১৭তম হয়েছেন বাংলাদেশের আরেক শ্যূটার আরমিন আশা।

পদক জেতার শেষ ভরসা আব্দুল্লাহ হেল বাকীই বাংলাদেশের আশার সলতেটা জ্বালিয়ে রাখিছেলন। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে সবার চোখ আটকেছিল। ৬০ শটের বাছাই পর্বে ষষ্ঠ হলেও পদক লড়াইয়ে শুরুটা করেন দৃঢ়তায় সঙ্গেই। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন অস্ট্রেলিয়ান ও ভারতীয় প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে। ৫০.৫, ১০১.৪, ১১২.৪, ১৪৩.০, ১৬৩.৪, ১৮৩.৫, ২০৪.৮ ও ২২৪.৬ স্কোর করে অর্জন করেন রূপার পদক। এর কোনোটাতে মাত্র ০.৪ পয়েন্ট বেশি স্কোর করতে পারলে বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠত।

দেশকে পদক এনে দিতে পেরেই খুশি বাকী। রূপার গলায় ঝুলিয়ে বললেন, 'আমি জানতাম সবাই আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি স্বর্ণের দিকে নজর দেইনি। আমার টার্গেট ছিল পদক। সেটা পেয়েছি বলে ভালোই লাগছে। স্বীকার করলেন আরেকটুকু মনোযোগী হলে হয়ত স্বর্ণও পেতে পারতাম।' হুট করে আগের দিন ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নেয়ার কথা জানেন বাকী। তাতে তিনি বিচলিত হন। তিনি বলেন, ‘আমাকে ঢাকাতেই ধারণা দেয়া হয়েছিল এমন কিছু হতে পারে। তাই আমি মানষিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। যদিও আমার ফোকাস ছিল ৫০ মিটার রাইফেলে। যখন জানলাম আমি ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নেবো। তখন কিছু সময় এ জন্য অনুশীলন করি। শেষ পর্যন্ত সাফল্য এসেছে-এটাই বড় কথা।’

এদিকে, শ্যূটিং ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু জানান, কোচ বাকীকে নিয়ে বাজি খেলেছিলেন। তার সেই গেম প্লান সফল হয়েছে। তিনি আরও জানান, শ্যূটিং থেকে বাংলাদেশ আরও সাফল্য আশা করছি। তার এবারের বাজির ঘোড়া শাকিল আহমেদ। তিনি আগামীকাল সোমবার ১০ মিটার পিস্তলে অংশ নেবেন। আর ৫০ মিটার পিস্তলে অংশ নেবেন ১১ এপ্রিল।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম পদক জিতলেন বাকী

কমনওয়েলথ গেমসের এবারের আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম পদক জিতলেন আব্দুল্লাহ হেল বাকী। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ২৪৪ দশমিক ৭ স্কোর করে রূপা জিতলেন বাংলাদেশের এই শ্যুটার। অস্ট্রেলিয়ার ড্যান স্যামসন ২৪৫ স্কোর করে জিতেছেন সোনার পদক।

এবারও সোনার পদকটা গলায় পরা হলো না আব্দুল্লাহ হেল বাকীর। গেলো আসরেও ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের রূপা জিতেছিলেন বাকী। এবার ১৫তম রাউন্ড পর্যন্ত ছিলেন শীর্ষে।

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে তার সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছিলো আগের আসরের স্বর্ণজয়ী ভারতের রবি কুমার ও স্বাগতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ড্যান স্যামসনের মধ্যে।

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। শেষ শটটির আগে টেলিভিশন ক্যামেরায় বার বার দেখাচ্ছিল আবদুল্লাহ হেল বাকীর মুখ। স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে যতটা সম্ভব রাইফেলের ট্রিগারে আঙুল ধরে রেখেছিলেন। শেষ শটে স্যাম্পসন ৯.৩ পয়েন্ট স্কোর করায় বাকীর সোনা জেতার সম্ভাবনা ভীষণ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বাকী ১০.১ ছুঁতে পারলেই ১৬ বছর পর আবারও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজতো কমনওয়েলথ গেমসে।

কিন্তু পারলেন না বাকী। পেলেন ৯.৭ পয়েন্ট। তাতে সব মিলিয়ে বাকীর স্কোর ২৪৪.৭। কমনওয়েলথ গেমসের রেকর্ড পয়েন্ট ২৪৫.০ স্কোর পেয়ে সোনা জিতলেন অস্ট্রেলিয়ার স্যাম্পসন। আর ২২৪.১ পয়েন্ট পেয়ে এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ ভারতের রবি কুমারের।

এদিকে, বাংলাদেশের অন্য শ্যূটার রাব্বি হাসান মুন্না সেরা আটে জায়গা করে নিতে পারেননি।

তুলনামূলক ভালো করলেন মাবিয়া

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

গত এসএ গেমসের কথা মনে আছে? স্বর্ণ জিতে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। তার আনন্দাশ্রু কাঁদিয়েছিল গোটা দেশকে। টিভি স্ক্রিনে চোখ রাখা সবাই সেদিন কেঁদেছিলেন ‘আনন্দ’-এ। সেই মাবিয়াকে নিয়ে এবারও কমনওয়েলথ গেমসে ক্ষুদ্র স্বপ্ন বুনেছিল বাংলাদেশ। পথ ছিল কঠিন। ভারোত্তোলনে তিনি কোনো পদক পাবেন- এমন জোরালো নিশ্চিয়তা ছিল না। তবে মনে মনে বাসনা ছিল, যদি আরেকবার মাবিয়া দেশবাসীকে কাঁদাতে পারেন!

বাংলাদেশের বিভিন্ন এ্যাথলেটদের টানা কয়েকদিনের হতাশাজনক ফলাফলের পর আজ শনিবার মাবিয়া ঠিকই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেন ক্রীড়ামোদীদের। লক্ষ্যের অনেকটাই কাছে গিয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল এবার বোধহয় হয়ে যাবে! সীমান্ত’র (মাবিয়া আক্তার) সীমাহীন চেষ্টা, কিন্তু শেষ হাসি আর হাসা হয়নি। ষষ্ট হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো তাকে। আর বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের জন্য এতটুকু সান্ত্বনা- এবারের গেমসে বাংলাদেশের কোনো ক্রীড়াবিদের এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।

গোল্ড কোস্টের কারারা স্পোর্টস এন্ড লেজার সেন্টারে আজ ৬৩ কেজি বিভাগে অংশ নেন মাবিয়া। প্রাণপণ চেষ্টা করেন। স্ন্যাচে প্রথম ও তৃতীয়বারে তুলে নেন ৭৩ ও ৭৮ কেজি। দ্বিতীয়টিতে ব্যর্থ হন ৭৭ কেজি তুলতে। ক্লিন ও জার্কেও দু’বার সফল হন। আর একবার ব্যর্থ। প্রথম দুই দফায় তুলে নেন ৯৮ ও ১০২ কেজি। কিন্তু শেষটায় ১০৩ তুলতে ব্যর্থ হন। ফলে তিনি ১৩ প্রতিযোগীর মধ্যে ষষ্ঠ হন।

এই ইভেন্টে কানাডার মাউডি ক্যারন (৯৮+১২২) মোট ২২০ কেজি ওজন তুলে স্বর্ণ পদক জয় করেন। ইংল্যান্ডের জো স্মিথ (৯২+১১৫) রৌপ্য ও রাশিয়ার মনা প্রেটরিয়াস (৯১+১১৫) ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। মাবিয়ার এর আগে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশীপে ২০১৩ সালে ৫৮ ওজন বিভাগে ১৫১ কেজি ও ২০১৫ সালে ৬৩ কেজি বিভাগে ১৭৬ কেজি ওজন তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। এবারই প্রথম তিনি মোট ১৮০ কেজি ওজন তোলেন।

এর আগের দিন বাংলাদেশের তিন ভারোত্তোলক পুরুষ ভারোত্তোলনের ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণীর ইভেন্টে লাল-সবুজ দলের শিমুল কান্তি সিনহা অংশ নিয়ে চরম ব্যর্থ হন। এই ইভেন্টে ১৪ জনের মধ্যে ১৩তম হন তিনি। প্রতিযোগিতায় নেমে শিমুল স্ন্যাচে প্রথমবার ১১৫ কেজি তুললেও পরের দুইবার ১২০ কেজি তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তিনি ক্লিন এন্ড জার্কেও ১৪০ কেজি তুলতে গিয়ে টানা তিনবার ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের শিমুল কান্তি সিনহা ও নিউজিল্যান্ডের ভিসতার ভিলানো- এ দু’জন প্রতিযোগী মাত্র একবার করে ভার তুলতে সক্ষম হন।

আর মহিলাদের ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে বাংলাদেশের ফুলপতি চাকমাও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিনি ১৪ জনের মধ্যে ১২তম স্থান পান। ফুলপতি স্ন্যাচে তুলেন যথাক্রমে ৬২, ৬৬ ও ৬৮ কেজি ভার। ক্লিন এন্ড জার্কে ৮০ ও ৮৫ কেজি তুললেও ৮৬ কেজি তুললে গিয়ে ব্যর্থ হন। মেয়েদের ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণীতে বাংলাদেশের ফাহিমা আক্তার শুরুর ভালো করেও যথারীতি ব্যর্থ পরিচয় দেন। তিনি স্ন্যাচে ৬৩ ও ৬৬ কেজি ভার তুললেও অল্পের জন্য ব্যর্থ হন ৬৯ কেজি তুলতে। ক্লিন এন্ড জার্কে তুলেন ৮০, ৮৫ ও ৮৮ কেজি ভার। ফলে ১৫ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তার জায়গা হয় ১৩তম স্থানে।

ভারোত্তোলনে বাংলাদেশের শেষ প্রতিযোগী জহুরা খাতুন নিশা আগামীকাল রোববার পরীক্ষায় নামছেন। তিনি অংশ নেবেন ৭৫ কেজি ওজন বিভাগে। সর্বশেষ কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশীপে তিনি সর্বোচ্চ (৬৩+৮০) ১৪৩ কেজি ওজন তুলেছিলেন।

আবারও ব্যর্থ নাজমা

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

গেমেসের সাঁতারে আরেকটি ব্যর্থ দিন কাটিয়েছে বাংলাদেশ। নাজমা খাতুন ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি হিটে ৫ জনের মধ্যে চতুর্থ হন। আর ২৯ জনের মধ্যে হয়েছেন ২৮ তম। তিনি ৩২.৯৬ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করেন। আর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন টোঙ্গার সাঁতারু চারিসা প্যনুভে। তিনি সময় নেন ৩৩.০৯। আর এই ইভেন্টে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছেন স্বাগতিক অস্ট্রেয়িলার মেডেলাইন গ্রোভেস, মাত্র ২৫.৮১ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে।

এর আগের দিন নাজমা খাতুন তার দুই নম্বর হিটে ৬ জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫ম হন। মহিলাদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাল ইভেন্টে তিনি ৩১.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করেন। এ সময় নাজমা শুধুমাত্র পিছনে ফেলেন এন্টিগুয়ার আলিয়া ম্যাগিনলেকে।

সাঁতারে বাংলাদেশের শেষ দিন আগামীকাল। গোল্ড কোস্টের অপটাস অ্যাকুয়েটিক সেন্টারের পুলে নামবেন মাহমুদুন্নবী নাহিদ ও আরিফুল ইসলাম। নাহিদ ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ৪ নম্বর হিটে অংশ নেবেন। আর বাংলাদেশ যুব গেমসের চমক আরিফ ৫০ মিটার ব্রেষ্টস্ট্রোকে সাঁতরাবেন। তিনি নামবেন ৫ নম্বর হিটে।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে তিন নম্বর হিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ৭ জনের মধ্যে সবশেষ অবস্থানে ছিলেন আরিফুল ইসলাম। ১ মিনিট ৭.৫১ সেকেন্ড সময় নেন কিশোরগঞ্জের এই সাঁতারু। অবশ্য ৩০ জনের মধ্যে হন তিনি ২০তম। আর নাহিদ তার প্রথম সাঁতারে অংশ নেন ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে। তিনি ২৬.৫৬ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে হন ৩৮তম। মোট ৫৪ জন এই ইভেন্টে অংশ নেন।

ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে মেজবাহ-শিরিনের পরীক্ষা

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

‘মাদার অব গেমস’ খ্যাত ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের যুদ্ধ শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার থেকে। গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে আকষনীয় এই ডিসিপ্লিন চলবে শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। গেমসের উদ্বোধনী ভেন্যু কারারা স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক্সের প্রথমদিনই ট্র্যাকে নামবেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব-মানবী মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার।

দুপুরে শিরিন মহিলা ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম রাউন্ডে ১ নং হিটে দৌঁড়াবেন। হিট শেষে যোগ্যতা অর্জনকারীরা বিকালে অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনালে অংশ নেবেন। এই ইভেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে সোমবার। ফাইনাল শেষে পাওয়া যাবে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের দ্রুততম মানবীকে। ১০০ মিটার শেষে ১০ এপ্রিল শিরিন খেলবেন ২০০ মিটার স্প্রিন্টেও। এই ইভেন্টের হিট শেষে ১১ এপ্রিল সেমিফাইনাল এবং পরের দিন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

শিরিন কমনওয়েলথ গেমসের আগের আসরেও এ দুই ইভেন্টে খেলেছিলেন। ২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটে শিরিনের টাইমিং ছিল ১২.৮৭ সেকেন্ড। ওই আসরে ২৬.৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০০ মিটার স্প্রিন্টের দৌড় শেষ করেছিলেন বাংলাদেশের দ্রুততম এই মানবী। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভালো করতে বেশ আশাবাদী শিরিন। ট্র্যাকে নামার আগে তিনি জানান, দেশে প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। তবে কমনওয়েলথ গেমসে পদক আশা করছেন না। তার আশা এবারের আসরে তিনি আগের চেয়ে ভালো করবেন।

শিরিনের ইভেন্টের দিনই মেজবাহ ট্র্যাকে নামবেন নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে। আগামীকাল বিকেলে একই ভেন্যুতে তিনি পুুরুষ ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম রাউন্ডে ছয় নম্বর হিটে অংশ নেবেন। এদিনই অনুষ্ঠিত হবে এই ইভেন্টের সেমিফাইনাল। আর সোমবার হবে ফাইনাল।

মেজবাহ আগের আসর গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে খেলার দু’বছর পর ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিক গেমসেও ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেন। যদিও দেশের দ্রুততম এই মানব ওই দু’আসর থেকে সাফল্য তুলে আনতে পারেননি। তবে গোল্ড কোস্টে ভালো করতে আশাবাদী মেজবাহ। তিনি বলেন, ‘এবারের কমনওয়েলথ গেমসকে সামনে রেখে কঠোর অনুশীলন করেছি। প্রস্তুতিতে আমি সন্তুষ্ট। তাই আমার আশা গোল্ড কোস্টে নিজের সেরা টাইমিংটা করতে পারবো।’
দুই এ্যাথলেট শিরিন ও মেসবাহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বাংলাদেশের স্বপ্নের শ্যূটিং শুরু আগামীকাল

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

যে কোনো গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরতার ডিসিপ্লিন হচ্ছে শ্যূটিং। বড় আসরগুলোতে শূটাররাই কোনো না কোনো পদক দেশকে উপহার দেন। এবারও ২১তম কমনওয়েলথ গেমসে শ্যূটিংই বাংলাদেশের শেষ ভরসা। ঢাকা থেকে অনেক বড় গোলা নিয়ে বাংলাদেশ শ্যূটিং দল এসেছে সূদুর অস্ট্রেলিয়ায়। আব্দুল্লাহ হেল বাকিই হচ্ছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা। বাজির ঘোড়া তিনিই। কারণ গত কমনওয়েলথ গেমসে রূপা জিতেছিলেন বাংলাদেশের এই শ্যূটার। তাকে ঘিরেই সবচেয়ে বড় প্রত্যশা। ২৬ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে বাংলাদেশ এসেছে গোল্ড কোস্টে। এর মধ্যে ১২জনই শ্যূটার। এতে আর বুঝতে বাকি নেই বাংলাদেশ নির্ভর করছে শ্যূটিং দলের উপর। আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ‘স্বপ্ন পুরণ’ এর এই শ্যূটিংয়ের।

সাঁতার আর ভারোত্তোলন থেকে কোন সুখবরই পায়নি বাংলাদেশ। লাল-সুবজের জার্সিতে ওই দুটি ডিসিপ্লিনে মোটেও ভাল করেনি। আজ মহিলাদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেনীতে মাবিয়া আকতার সীমান্ত ১৩ জনের মধ্যে হন ষষ্ঠ। কমওয়েলথ গেমসের জন্য বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় আসে কিছুদিন আগেই। লক্ষ্য এখানকার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে হবে লড়াই। আগামীকাল লক্ষ্যভেদের লড়াইয়ে নামবেন বাংলাদেশের শ্যূটার রাব্বি হাসান মুন্না, আবদুল্লাহ হেল বাকী, আরদিনা ফেরদৌস ও আরমিন আশা। এদের মধ্যে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মুন্না ও বাকী। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে লড়বেন আরদিনা ও আশা।

বাংলাদেশ শ্যূটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু বলেন, ‘শ্যূটাররা মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে। প্রস্তুতিও ভাল হয়েছে। তবে ইংল্যান্ড, ভারত ও সিঙ্গাপুরের মত দেশগুলোও জোড়ালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। সুতরাং আমাদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হবে।’ শ্যূটিংয়ে ভারতকেই প্রধান প্রতিপক্ষ ভাবছে বাংলাদেশ। অপু বলেন, ‘ভারত ইতোমধ্যে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তাদের অলিম্পিক শ্যূটাররাই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এসেছে। আমরা যেখানে ওয়াইল্ডকার্ড নিয়ে অলিম্পিকে যাই, সেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোয়ালিফাই হয়। গত আসরেও তাদের আটজন শ্যূটার কোয়ালিফাই হয়ে অলিম্পিকে লড়েছে। যদিও পদক আনতে পারেনি। যেহেতু তারা যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে অলিম্পিকে খেলে, তাই তাদের সঙ্গে টেক্কা দেয়া কঠিন হবে।’ তবে অপু আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, ‘তারপরও আমরা প্রস্তুত। ভালভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন সঠিক দিনে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করতে পারলে পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।’

১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে এয়ার পিস্তল থেকে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছিলেন আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। এয়ার পিস্তল থেকে স্বর্ণ পদক জিতেছিলেন তারা। এটিই এই গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পদক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার গেমসে এয়ার রাইফেল ইভেন্ট থেকে লাল-সবুজদের শিবিরে স্বর্ণপদক এনে দেন আসিফ হোসেন। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত গেমসে বাংলাদেশ দলগতভাবে রৌপ্য এবং ২০১০ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গেমসে দলগত ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। সবশেষ ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমসে এই শ্যূটিং থেকেই বাংলাদেশকে রৌপ্য পদক এনে দেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। যাকে ঘিরেই এবারো পদক জয়ের স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ। যে কারণে শ্যূটারদের পদক প্রাপ্তির বিপরীতে আগাম অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে ফেডারেশন ও বিওএ।

নারীদের ৪৮ কেজিতে ভারতের সোনা জয়

কর্মকর্তাদের অদক্ষতা কিংবা অজ্ঞতার কারণে গোল্ড কোস্ট কমন‌ওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের বক্সিং দল অংশ নিতে না পারলে‌ও প্রতিযোগিতার ভারোত্তোলন থেকে ভারতকে ঠিকই স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছেন অ্যাথলেটরা। নারীদের ৪৮ কেজি ‌ওজন শ্রেণীতে গেমস রেকর্ড গড়ে ভারতকে সোনা জয়ের আনন্দে ভাসান চানু সাইকম মিরাবাই।

আর এই রেকর্ড গড়ার পথে তিনি ১৯৬ কেজি ‌ওজন তোলেন। রূপা জেতেন মৌরিতাসের মারি হানিত্রা রানাইভাসোয়া। আর শ্রীলঙ্কার দিনুশা গোমেজ জেতেন ব্রোঞ্জ।

স্বর্ণ জয়ের পর মীরাবাই জানান, ‘আমি নিজের রেকর্ড ভাঙার ইচ্ছে নিয়ে এই গেমসে এসেছিলাম। সেটা করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ২০১৬ সালে রি‌ও অলিম্পিকে কোনো পদক জিততে না পেরে হতাশা ভর করেছিল আমাকে। তবে ভালো কিছু করার চেষ্টা‌ও ছিল।’

২৩ বছর বয়সী ভারতীয় এই লিফটার ২০১৪ সালে গ্লাসগো কমন‌ওয়েলথ গেমসে রূপা জিতেছিলেন।

কমন‌ওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন

সুন্দর আয়োজন, খেলার আগেই পদক জয়, গেমস শুরুর আগে নাম প্রত্যাহার এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সত্ত্বে‌ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গোল্ডকোস্টে শুরু হয়েছে ২১তম কমন‌ওয়েলথ গেমস। গোল্ডকোস্টের কারারা স্টেডিয়ামে ১২ দিনের এ আসরের উদ্বোধন করেন প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স চার্লস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন ২০১৪ সালের কমনওয়েথ গেমসে বোঞ্জ জয়ী শ্যূটার আবদুল্লাহ হেল বাকী।

দ্বিতীয় রাণী এলিজাবেথের উদ্বোধনী বার্তাবাহী কুইন্স বেটন নিয়ে উপস্থিত হন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অ্যাথলেট শুমি ও’নিল। সেই বার্তা পড়ে শোনানোর পর কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স চার্লস।

এরআগে পরিচিতি পর্বে অংশ নেন ৭১টি দেশের খেলোয়াড়রা। দু’শ ৭৫টি স্বর্ণ পদকের লড়াইয়ে সাড়ে চার হাজার অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন এবারের গেমসে।
অ্যাথলেটিকস, ভারোত্তলন, সাঁতার, শুটিং এবং কুস্তিসহ মোট ছয়টি ইভেন্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশের ২৬ জন অ্যাথলেট। ১৯৯০ সাল থেকে নিয়মিতই কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিচ্ছে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। এতোকিছুর মাঝে‌ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মৌরিতাস অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশেনর উপ-মহাসচিবকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেদেশের নারী জ্যাভলিন থ্রোয়ারকে নিপীড়নের অভিযোগ ‌ওঠে তার বিরুদ্ধে।

স্বাগতিক দেশ অস্ট্রেলিয়া দলের আগমনে আতশবাজী আর দর্শকদের করতালিতে মূখর হয়ে ওঠে কারারা স্টেডিয়াম। কমনওয়েথ গেমসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দেশ অস্ট্রেলিয়া। ঐতিহ্যবাহী স্মোকিং অনুষ্ঠানটি ছিলো বেশ মনমুগ্ধকর। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় উদ্বোধনী আয়োজনে।
এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গোল্ড কোস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পিটার বিয়েট্টি।

এরপর কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা উড়িয়ে শেষ হয় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। রাতের অন্ধকারে কুইন্সল্যান্ডের আকাশ তখন রঙ্গিন হয়ে ওঠে অসাধারণ লেজার শো এবং আতশবাজীর প্রদর্শনীতে।

গেমস শুরুর আগে নাম প্রত্যাহার

ডাক্তারের পরামর্শে কমন‌ওয়েলথ গেমস শুরুর কিছুক্ষণ আগে নাম প্রত্যাহার করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান নারী ডাইভার তানেকা কোভচেঙ্কো। আগে থেকেই ক্রমাগত মাথার ব্যথায় ভুগছিলেন তানেকা। সেই সঙ্গে গলা ব্যথা‌ও ছিলো তার।

১৯ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান কিশোরী ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা‌ও করেন। স্ক্যান করানো হয়। পরে সেই নিরোলজিস্ট তাকে জানান, ডাইভিংয়ে ভুল কিছু হলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। এমনকি “ventilated quadriplegic” ‌ও হয়ে যেতে পারে।

সেই জন্য তানেকা কোভচেঙ্কো গেমস থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তানেকা কোভচেঙ্কো জানান, ‘ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিণ সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়ে গেল।’

আগামী সপ্তাহে এই টিনেজারের ১০ মিটার ইন্ডিভিজুয়াল এবং ১০ মিটার সিঙ্ক্রোনাইজড প্ল্যাটফর্ম ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল।

খেলার আগেই পদক অসি নারী বক্সারের

গেমস শুরুর আগেই পদক জয় নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিশোরী বক্সার তাইলাহ রবার্টসন। ১৯ বছর বয়সী এই কিশোরী এবারের কমন‌ওয়েলথ গেমসে ৫১ কেজি ‌ওজন শ্রেণীতে লড়ছেন। এটি রবার্টসনের ক্যারিয়ারে প্রথম পদক জয়।

নারীদের ৫১ কেজিতে মাত্র নয় জন বক্সার নাম লেখায়। আর প্রথম ম্যাচেই ‌ওয়াক‌ওভার পান তাইলাহ। এদিকে, গেমসের রীতি অনুযায়ী সেমিফাইনালিস্টরা বোঞ্জ পদক পাবে। সেই হিসেবে বক্সিং করা তো দূরে থাক। বাতাসে একটা পাঞ্চ করার আগেই বোঞ্জ পদক জিতে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই কিশোরী। তবে তার বাউটটি হ‌ওয়ার কথা ছিলো আগামীকাল বৃহস্পতিবার। কিন্তু লড়াই শুরুর আগেই ‌ওয়াক‌ওভার পান তিনি।

আজ বুধবার থেকে কুইন্সল্যান্ডের গোল্ডকোস্টে শুরু হবে এবারের কমন‌ওয়েলথ গেমস। শেষ হবে আগামী ১৫ এপ্রিল। এদিকে, তাইলাহ রবার্টসনের ট্রেইনার মার্ক ইভান্স বলেছেন, এখন আমাদের লক্ষ্য হলো বোঞ্জ পদকটাকে স্বর্নে পরিণত করা। তবে ধারণা করছি, এই কাজটা মোটেই সহজ হবে না।

অবশ্য গেমসে এখন‌ও অংশ নেয়া না হলে‌ও তাইলাহ রবার্টসন ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন। গেমসে থাকা অবস্থায সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সকল ছবি তিনি আপলোড দিয়েছেন তা সবারই মনোযোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।