সন্ধ্যা ৬:১৬, শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

ব্যাট তুলে রেখে এবার রিয়ালিটি শো’তে অভিনয় করলেন বিশ্ব টেনিসের রাজা রজার ফেদেরার। ডিসকভারি চ্যানেলের একটি নতুন সিরিজে একসঙ্গে দেখা যাবে বিয়ার গ্রিলস ও রজার ফেদেরারকে। সিরিজের নাম- রানিং ওয়াইল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস। এটি মূলত রিয়ালিটি শো।

অভিনয় করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ফেদেরার বলেন, ‘টেনিস কোর্টে আমাকে অনেকে কঠিন প্লেয়ার হিসেবে দেখেছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই পাহাড় আর ভয়ঙ্কর জঙ্গলের মাঝে আমি প্রচণ্ড ভয়ে রয়েছি।’ আর ফেদেরারের মুখে কথাগুলো শুনে হেসে উঠেছিলেন বিয়ার গ্রিলস। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে এই পাহাড়টাকে দেখলে সুন্দরী বলে মনে হবে। কিন্তু এই পাহাড়ের মাটিতে পা রাখলেই বোঝা যাবে, এখানে একটা রাত কাটানো কতটা ভয়ঙ্কর! রজার ফেদেরার, এবার জীবনের সব থেকে কঠিন ম্যাচটার জন্য রেডি হোন।’

এটি মূলত রিয়ালিটি শো। সিরিজের নাম- রানিং ওয়াইল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস। সুইস আল্পসের একটা অংশে একসঙ্গে থাকবেন দুজনে। বলা ভাল, ‘সারভাইভ’ করবেন। সিরিজের শুটিং হয়ে গেছে। সেখানে একটা সময় বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে পাহাড়ে চলতে চলতে বরফের নিচে থাকা মরা মাছের চোখ খুবলে খেতে হয়েছে টেনিস সম্রাট ফেদেরারকে। ঠিক যেমন বিয়ার গ্রিলস পাহাড়ে-জঙ্গলে থাকাকালীন করে থাকেন আর কী!

ফেদেরারকে কখনও আবার বরফের মতো ঠাণ্ডা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এত ঝক্কি পোহানোর পর ফেদেরার বলছেন, আমি সব সময় টিভি শো-তে বিয়ারকে এসব আজেবাজে জিনিস খেতে দেখেছি। কিন্তু এগুলো কখনও আমাকেও খেতে হবে, সেটা ভাবিনি। বরং মনে মনে ভাবতাম, জীবনে কোনোদিন খেতে না পেলেও এগুলো খাব না।

জায়ান্টদের জয়ের দিনে রোনালদোর লাল কার্ড

লাল কার্ড দেখে ইউভেন্টাসের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শুরু করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার লাল কার্ডের ম্যাচে দশ জন নিয়েও ভ্যালেন্সিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে জুেভন্টাস। অন্যম্যাচে, গেলোবারের সেমিফাইনালিস্ট রোমাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। এদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বড় জয় পেলেও অলিম্পিক লিঁওর কাছে হেরে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

নতুন ক্লাবে যোগ দেয়ার পর প্রথমবার স্পেনে এলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের মিশনে জুভেন্টাসের জার্সিতে এই টুর্নামেন্টে অভিষেক তার। আলো ছড়ানোর ইঙ্গিতও দেন শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি আক্রমণের জন্ম দিয়ে।

কিন্তু বিধি বাম। ম্যাচের বয়স আধঘন্টা না পেরোতেই ভ্যালেন্সিয়া ডিফেন্ডারের সাথে অশোভন আচরণের অজুহাতে লাল কার্ড দেখান জার্মান রেফারি ফেলিক্স ব্রিচ। টিভি রিপ্লেতে অবশ্য অত বড় অপরাধ দেখা যায়নি পাঁচবারের ব্যালন ডি অর জয়ীর। রিয়াল ছাড়ার পর প্রথমবার স্পেনের মাটিতে খেলতে এসে এমন অপমানে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা।

দশ জন নিয়েও একের পর এক আক্রমণ করে গেছে জুভেন্টাস। তাদের আক্রমণবৃষ্টি রুখতে গিয়ে বিরতির আগে-পরে দু’বার পেনাল্টি দিয়ে বসে ভ্যালেন্সিয়া। মিরালেম জ্যানিক দু’বারই সফল হওয়ায় জয় পেতে কোনো সমস্যাই হয়নি ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালিগ্রির দলের।

এদিকে, নয় বছর পর রোনালদোকে ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশনের শুরুটা দুর্দান্ত হলো ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আগের আসরের সেমিফাইনালিস্ট রোমার বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। তাদের মুহুর্মুহু আক্রমণে নাজেহাল হয়ে পড়ে রোমার রক্ষণভাগ। দশ মিনিটের মধ্যেই দু’বার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় লা ব্লাঙ্কোরা। তবে বিরতির আগেই ইসকোর গোলে লিড নেয় রিয়াল।

গোটা ম্যাচে অন্তত ত্রিশবার আক্রমণ করেছে লোপেতেগির দল। কিন্তু ইতালিয়ান ক্লাবটির রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষক রবিন ওলসেনের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় তারা। তবে ৫৮ মিনিটে গ্যারেথ বেলের দারুণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার পর ইনজুরি সময়ে ম্যারিয়ানোর গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

অন্যদিকে, দুই ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর সিটি দেখেছে দু’রকম রাত। পল পগবার জোড়া গোলে প্রতিপক্ষের মাঠে যেখানে তিন গোলের জয় পেয়েছে ম্যান ইউ; সেখানে ঘরের মাঠে অলিম্পিক লিঁওর কাছে হেরে গেছে পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি।

ভারতের কাছে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ

এই ম্যাচের ফল এশিয়া কাপে কোন প্রভাব ফেলবে না। হংকংকে হারিয়ে আগেই সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে দুই দলই। কিন্তু ম্যাচটা যখন ভারত আর পাকিস্তানের তখন অনেক কিছুই এসে যায়। মর্যাদার ম্যাচে কে-ই বা হারতে চায়! দুবাইয়ে ক্রিকেটের সেই ‘ক্ল্যাসিকো’ দাপটের সঙ্গেই জিতে নেয় ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।

টস হিতে ব্যাট করে ৪৩.১ ওভারে মাত্র ১৬২ রানেই গুটিয়ে পাকিস্তান। জবাবে মাত্র ২৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। দ্রুত দুই উইকেট তুলে শুরুতেই পাকিস্তানকে চাপে ফোলে দেন ভুবনেশ্বর কুমার। বাবর আজম ও শোয়েব মালিকের জুটিতে মাঝে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার আভাস এসেছিল। কিন্তু এই জুটি বিচ্ছিন্ন হতেই ধ্বসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন বাবর। শোয়েব মালিক করেন ৪৩ রান।

জবাবে ২৯ ওভারেই জয় পায় রোহিত শর্মার দল। যাতে বড় অবদান অধিনায়কেরই। আরেক ওপেনার ধাওয়ানকে নিয়ে ৮৬ রানের জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয়। হংকং ম্যাচে ম্লান রোহিত (৫২) ফিফটি পেলেও সেদিনের সেঞ্চুরিয়ান ধাওয়ান (৪৬) বঞ্চিত হয়েছেন মাত্র ৪ রানের জন্য। বাকি পথটা রাইডুকে নিয়ে পেরিয়ে যান দীনেশ কার্তিক। দুজনেই অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে।

শারাপোভার ইনজুরি

চলতি বছর আর কোর্টে নামা হচ্ছে না মারিয়া শারাপোভার। ২০১৮ সালের শেষের দিকে তিনটি টুর্নামেন্টে খেলার কথা থাকলেও সেগুলোতে এই রাশিয়ান তারকা অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এতে নতুন বছরের আগে আর কোন টুর্নামেন্টে খেলতে দেখা যাবে না পাঁচবারের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের মালিক শারাপোভাকে।

বিশ্ব টেনিসের সাবেক এক নম্বর খেলোয়াড় শারাপোভা সর্বশেষ ইউএস ওপেনের কোর্টে নেমেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। মৌসুমের শেষ মেজর টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় তাকে। তবে ভক্ত-অনুরাগীদের প্রত্যাশা ছিল আর তিনটি টুর্নামেন্টে খেলবেন তিনি। কিন্তু সোমবার চীনা ওপেন, তিয়ানজিন ওপেন এবং ক্রেমলিন কাপ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন শারাপোভা। মূলত ইনজুরি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার জন্যই বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নেন সাবেক এই নাম্বার ওয়ান।

শারাপোভা বলেন, ‘ডান কাঁধের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়নি আমি। যে কারণেই বেজিং, তিয়ানজিন এবং মস্কোর টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছি। এই টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা আমি সত্যিই মিস করব। কিন্তু ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য নিজেকে বিশ্রাম দেয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

বর্তমান বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ২৪ নম্বরের খেলোয়াড় শারাপোভা। তিয়ানজিন ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তিনি। কিন্তু চোটের কারণে এবার আর শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে পারছেন না সাবেক এই নাম্বার ওয়ান। তাতে চরম হতাশ শারাপোভা। এ বিষয়ে মাশা বলেন, ‘শিরোপা ধরে রাখার জন্য তিয়ানজিন ওপেনে ফিরতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে সেখানে অংশ না নিয়ে নিজেকে বিশ্রামে রাখতে হচ্ছে। তাতে আমি চরম হতাশ যে এবার আমার ভক্ত-অনুরাগীদের সামনে খেলতে পারছি না। তবে আশাকরি ভবিষ্যতে আবার এখানে ফিরব। তবে পঞ্চম বার্ষিকীতে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্যই শুভকামনা রইলো আমার।’

মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ আজ আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের সঙ্গে জিতলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ! এরপর শিরোপার দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এশিয়া কাপের আয়োজক এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল-এসিসির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এখন তা হচ্ছে না। কারণ তারা গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই ঘোষণা করেছে সূচি। যে কারণে আজ ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি আফগানদের বিপক্ষে শুধুই নিয়ম রক্ষার। জিতলে বা হারলে এখন আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ নেই কারো।

এভাবে ম্যাচের গুরুত্ব হারানো নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিতর্ক থাকলেও মাশরাফির একটাই লক্ষ্য, জয়। আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আসলে ম্যাচ নিয়ে আমরা এভাবে চিন্তা করছি না। প্রত্যকটিই আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সুতরাং আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটিরও গুরুত্ব রয়েছে।’

গ্রুপ পর্বে এখন চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোনো লাভ নেই টাইগারদের। তাই এ ম্যাচে দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে বলেই রয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে পাঁজরের ইনজুরি নিয়ে সেঞ্চুরি হাঁকানো মুশফিকুর রহীমকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে বিশ্রাম পেতে পারেন সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। যেহেতু দ্বিতীয় রাউন্ডে ২১শে সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষেই লড়াই তাই মুশফিক ও সাকিবের ফিট থাকা ভীষণ জরুরি।

তামিম না থাকায় ওপেনিংয়ে শান্তর খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। মুশফিক না খেললে সেখানে খেলানো হতে পারে মুমিনুল হক সৌরভকে। এছাড়াও মোসাদ্দেকের পরির্তে আরিফুলকে মাঠে দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে সাকির বিশ্রামে থাকলে নাজমুল ইসলাম অপু আসতে পারেন একাদশে। পেস আক্রমণে বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়তো আসবে না। মাশরাফির সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনই থাকবেন।

সানিয়া মির্জার গুটিয়ে যা‌ওয়া

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কয়েক দিনের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিলেন ভারতীয় টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জা। কারণ অনেক সময় মাঠের উত্তাপ বাইরে‌ও বেশ আলোচনা ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ার কথকথা। ক্রীড়া অনুরাগীদের সেইসব উত্তপ কথা মাথা ঠান্ডা রেখে সামাল দিতে হয় ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের। এই সবের কেন্দ্রে আছেন ভারতের টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মধ্যেই নেটিজেনদের টার্গেটই তিনি। যেকোন ইস্যুতে তাঁকে ট্রোলড করতে পিছপা হন না ফলোয়াররা।

উন্মাদনার পারদ চড়িয়েছে আজ দুবাইয়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচের উত্তাপ যে এসে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। তাই খেলার ফল যাই হোক না কেন, পাকিস্তানের বউ হওয়ায় সানিয়া মির্জাকে নেটিজেনরা ট্রোল বা সমালোচনায় বিদ্ধ করবেনই। ব্যাপারটা বেশ ভালোই জানা, টেনিস সুন্দরীর। আপাতত মাতৃত্বকালীন ছুটিতে কোর্ট থেকে দূরে আছেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটে ভারত-পাক মহারণ এলেই শোয়েব মালিক জায়া অচিরেই সামিল হয়ে যান সেই যুদ্ধে। তবে এবার নেটিজেনদের সেই সুযোগ দিচ্ছেন না টেনিস সুন্দরী।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে কয়েকদিনের জন্য সরিয়ে নিলেন সানিয়া। অতীতে ভারত-পাক ম্যাচের আগে বা পরে এমন অনেক অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষি থাকতে হয়েছে তাঁকে। তাই এবার অনুরাগী বা সমালোচকদের আর সেই সুযোগটাই দিতে চান না এই হায়দরাবাদী। অনুরাগীদের গেম স্পিরিটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজের টুইটারে তিনি লিখলেন, ‘ম্যাচ শুরু হতে ২৪ ঘন্টার চেয়েও কম সময় বাকি। সোশ্যাল মিডিয়ার বোকা লোকজনদের থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। সমালোচনা বা ট্রোল এইসময় একজন সন্তানসম্ভবাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। তাই এই সময় একা থাকাই ভাল। তবে মনে রাখবেন এটা শুধুমাত্র একটা ক্রিকেট ম্যাচ।’

স্বভাবতই সানিয়ার টুইটার ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। এর আগে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল সানিয়াকে।

দেশে ফিরছে কানাডায় স্বর্ণজয়ী তায়কোয়ানডো দল

কানাডা ওপেনে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো দল গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরেছে। বিমানবন্দরে তায়কোয়ানডো দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

সোমবার কানাডার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে দেশে ফেরার বিমান ধরে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে মঙ্গলবার বিকেলে চীনে পৌঁছায়। চীনে যাত্রাবিরতি শেষ মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো দল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভ্যাঙ্কুভারের রিচমন্ডে অনুষ্ঠিত কানাডা ওপেনে অংশ নিতে কানাডা যায় ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল। ১৪ সেপ্টেম্বর পুরুষ সিনিয়র বিভাগে (অনূর্ধ্ব-৩০) পুমসে দলগত ইভেন্টে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশ। এই ইভেন্টে ৩২টি দেশ অংশ নেয়। তার মধ্যে বাংলাদেশ স্বর্ণ জিতে নেয়। বাংলাদেশ দলের হয়ে এই ইভেন্টে লড়াই করেন ইমতিয়াজ ইবনে আলী, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আশিকুর রহমান হৃদয়।

২০২০ অলিম্পিক গেমসে সামনে রেখে তায়কোয়ানডো কানাডায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তিনটি ক্যাটাগোরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সেগুলো হল কায়োরুগি (জি ১), পুমসে (জি ১) ও প্যারা তায়কোয়ানডো। প্যারা তায়কোয়ানডোতে কালার বেল্ট ও ব্ল্যাক বেল্টরা লড়েছেন। আর কায়োরুগি এবং পুমসে ক্যাটাগোরিতে কেবল ব্ল্যাক বেল্টধারীরা লড়েন।

এবারের এই উন্মুক্ত তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ২০০ জন অ্যাথলেট, কোচ ও ম্যানেজারের অংশ নেন।

লেবাননকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাইপর্বে লেবাননকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে, লেবানিজদের ৮-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে লাল-সবুজের দল। এতে টানা দুই ম্যাচে জয় পেলো বাংলাদেশ।

অবশ্য লেবাননের বিপক্ষে ফেভারিট ছিলো বাংলাদেশের মেয়েরাই। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দারুণ ফুটবল শৈলিতে ৫-০ গোলের লিড নেয়, স্বাগতিক দলের মেয়েরা। তাদের আক্রমণে কোনো পাত্তাই পায়নি লেবানন। নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদান করে, সাজেদা ও তহুরা দুটি করে এবং আনাই মোগিনি প্রথমার্ধে আদায় করে নেন এক গোল। তাতে প্রথমার্ধেই জয়ের সুবাস পায়, গোলাম রব্বানীর শিষ্যরা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করা বাংলাদেশের মেয়েরা দ্বিতীয়ার্ধেও অব্যাহত রাখে তাদের গোল ক্ষুধা। শুরুতেই শামসুন্নাহার জুনিয়র আরো দুই গোল করলে ৭-০ গোলের লিড নেয় বাংলাদেশ। এরপর ৭৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় রোজিনা দলের পক্ষে অষ্টম গোলটি করেন।

এই জয়ে পাঁচজাতির এই প্রতিযোগিতায় পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেলো বাংলাদেশের মেয়েরা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সালাহর কাছে নেইমারদের পরাজয়

জয় অব্যাহত লিভারপুলের। ঘরোয়া লিগে ইতিমধ্যেই পাঁচ ম্যাচের পাঁচটাতেই জয়। সেই ধারাকে ধরে রেখে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও জয় পেয়েছে অলরেডরা। মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে শক্তিশালী পিএসজিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।

ফিরমিনোর যোগ করা সময়ের গোলে জয় পায় লিভারপুল। তবে একসময়ে মনে হচ্ছিল প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট নষ্ট করতে চলেছে তারা। যার কারণ ম্যাচে দু’গোলে পিছিয়ে থেকেও সমতা ফিরিয়েছিল ফরাসি লিগ জয়ীরা। তবে শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি।

ঘরের মাঠে প্রথম থেকেই ঝাঁপায় ক্লপের ছাত্ররা। যার ফল, ছয় মিনিটের ব্যবধানে দু’গোল। ম্যাচের ৩০ মিনিটে অনবদ্য হেডে দলের হয়ে প্রথম গোল ব্রিটিশ স্ট্রাইকার স্টুরিজের। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার গোল। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান বর্ষীয়ান ডেভিড মিলনার।

তবে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ লিভারপুলের হাতে। ঠিক তখনই গোল পিএসজির। বিরতিতে যাওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে ব্যবধান কমান বেলজিয়ামের মুনিয়ের।

দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকে চাপ ছিল লিভারপুলের। তবে এই অর্ধে ডিফেন্সকে অটুট রেখে ট্যাকটিকাল ফুটবল খেলে ফ্রান্সের দলটি। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম গোল পেয়ে গিয়েছিলেন লিভারপুল তারকা সালাহ। কিন্তু গোলকিপারকে ফাউল করায় তা বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের শেষদিকে খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এসে আক্রমণ করতে থাকে নেইমার-এমবাপেরা। যার ফল ৮৩ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান এমবাপে। ম্যাচে লিড নিতেই পারতো তারা। তবে সুযোগ হাতছাড়া করেন বদলি খেলোয়াড় জার্মান ড্রাক্সলার। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে নিজের একক দক্ষতায় লিভারপুলের হয়ে জয়সূচক গোল করে হিরো বনে যান ব্রাজিলিয়ান তারকা ফিরমিনো। বারুদে ঠাসা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করে করে স্বাগতিকরাই।

রাতের অন্য ম্যাচে ডিয়েগো কস্তা ও জোসে জিমিনেজের গোলে ফরাসি ক্লাব মোনাকোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজকে ১-০ গোলে হারিয়েছে জার্মান জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। রাশিয়ান লোকোমোটিভ মস্কোর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতেছে তুরস্কের গ্যালাতসারে। এছাড়া সার্বিয়ার এফ কে সি জেড ও ইতালির নেপলির ম্যাচ গোলশূন্য এবং জার্মান শালকে জিরো ফোর ও পর্তুগালের পোর্তোর ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়।

মেসির হ্যাটট্রিকে বড় জয় বার্সেলোনার

টানা ১২ বছর পর ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের তালিকার শীর্ষ তিনে তিনি নেই। সেটা যে অবাস্তব, অসম্ভব তা বুঝিয়ে দিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করলেন লিওনেল মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আটনম্বর হ্যাটট্রিক করে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। যে নজির অন্য কারও নেই। ম্যাচের শেষে রেফারির কাছ থেকে বলটি চেয়ে একেবারে উচ্ছ্বাসহীনভাবে মাঠ ছাড়েন এলএমটেন।

মঙ্গলবার রাতে বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ডাচ ক্লাব আইন্দোভেনকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে মেসি-সুয়ারেজরা। তবে প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ব্যবধানটা দ্বিগুণ হ‌ওয়া‌ও অসম্ভব ছিলো না। বার্সার এই চার গোলের অন্যটি করেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকার উসমান ডেম্বেলে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মেসির প্রথম গোল আসে ফ্রি-কিক থেকে। গত পাঁচ বছরের কাতালানদের হয়ে ফ্রি-কিক থেকে ২৫টি গোল করেন মেসি। ইউরোপের পাঁচ লিগে সবচেয়ে বেশি।

খেলার শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সঙ্গে লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি। পরের ম্যাচে এই ফরাসি তারকাকে পাচ্ছে না বার্সা।

বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি আইন্দোহোভেন। মেসি ৩১ মিনিটে প্রথম গোল করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধ্বের ৭৪ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন ডেম্বেলে। ৭৭ ও ৮৭ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।

নতুন মৌসুমে অধিনায়ক হয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘এবার আমাদের প্রধান লক্ষ্য একটাই। ইউরোপ সেরা হওয়া।’ আর্জেন্টাইন মহাতারকার সৌজন্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উড়ন্ত অভিযান শুরু করলো বার্সা। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ব্যর্থতার পরে ক্লাব ফুটবলে ফিরেই মেসি দেখালেন তিনিই সেরা। একটি অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক থেকে গোল এবং অসাধারণ দু’টি প্লেসিংয়ে নিজের হ্যাটট্রিক। ক্যাম্প ন্যু’তে মেসির সিংহাসন অটুটই থাকলো।

বার্সার রাতে টটেনহামের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতেছে ইন্টার মিলান। ৫৩ মিনিটে এরিকসেনের গোলে এগিয়ে যায় টটেনহাম। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত তারা এই লিড ধরে রেখেছিল। কিন্তু ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মাউরো ইকার্দির গোলে সমতা ফেরায় ইন্টার। আর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয় এনে ভেসিনো।

জয়ে শুরু ম্যারাডোনার

জয় দিয়েই নতুন করে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করলেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। ভিনিসিও অ্যাঙ্গুলোর হ্যাটট্রিকে পথ চলা মসৃণ হল দিয়েগো মারাডোনার৷ জয় দিয়ে মেক্সিকোয় কোচিং কেরিয়ার শুরু করলেন ম্যারাডোনা। গত সোমবার মারাযোনার কোচিংয়ে ডোরাডস ৪-১ গোলে হারায় টাপাচুলাকে৷

ইকুয়েডরের স্ট্রাইকার অ্যাঙ্গুলোর দুরন্ত পারফরম্যান্স সহজ জয় ছিনিয়ে নেয় ডোরাডস। ম্যাচের ৫৯ ও ৬১ মিনিটে জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তার পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় সেবাস্তিয়ান ইব্রার গোলে ব্যবধান কমায় টাপাচুলা। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করেন অ্যাঙ্গুলো। ম্যাচের চতুর্থ তথা শেষ গোলটি আসে অলন্সো এস্কোবোজার পা থেকে। ৮৫ মিনিটে দুরন্ত গোল করে ৪-১ ম্যাচ জিতে নেয় ডোরাডস।

দীর্ঘদিন পর কোচিংয়ে ফিরে দারুণ মুহূর্ত কাটালেন মারাডোনা এপ্রিলে গালফ লিগের ক্লাব আল-ফুজাইরার দায়িত্ব ছাড়ার পর চলতি মাসে মেক্সিকোর ক্লাবে যোগ দেন দিয়েগো। ডোরাডস ক্লাবে কোচিং করাতে কুলিয়াক্যানে পা-রাখেন প্রাক্তন বোকা জুনিয়রস ও নাপোলির স্ট্রাইকার। মেক্সিকোর প্রথম ডিভিশন ক্লাবে জয় দিয়ে কোচিং শুরু করলেন প্রাক্তন আর্জেন্টাইন তারকার।

মেসির হ্যাটট্রিকে বড় জয় বার্সেলোনার

লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে তারা ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ডাচ দল পিএসভি আইন্দোভেনকে।

খেলার ৩১, ৭৭ ও ৮৭ মিনিটে গোল তিনটি করেন মেসি। কাতালানদের হয়ে অন্য গোলটি করেন ওসমান দেম্বেলে।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জন্য ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের এবারের আসরকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। প্রথামিক দল থেকে বাদ পড়েছেন নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মারাত্মক ভুল করা গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল।

অক্টোবরে ‍শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পঞ্চম আসর। ১ থেকে ১২ অক্টোবর সিলেট, কক্সবাজার ও ঢাকায় হবে এবারের আসরের খেলা। যেখানে দুই গ্রুপে ছয়টি দল শিরোপার জন্য লড়াই করবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে নেপাল ফিলিস্তিন ও তাজিকিস্তান। আর ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ লাওস ও ফিলিপাইন।

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক দলে থাকা খেলোয়াড়দের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হবে। ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রুপুর কাছে খেলোয়াড়দের এদিন রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া খেলোয়াড় : আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান, রাসেল মাহমুদ,মাহফুজ হাসান প্রিতম, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, তপু বর্মন, ওয়ালি ফয়সাল, সুশান্ত ত্রিপুরা, রহমত মিয়া, নাসিরউদ্দীন চৌধুরী, ইয়াসিন খান, আরিফুল ইসলাম, মামুনুল ইসলাম, আতিকুর রহমান ফাহাদ, জামাল ভূঁইয়া, মাশুক মিয়া জনি, বিপলু আহমেদ, ইমন মাহমুদ, রবিউল হাসান, জাফর ইকবাল, সাদ উদ্দিন, সোহেল রানা, ফয়সাল মাহমুদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাহবুবুর রহমান সুফিল, শাখওয়াত রনি, নাবীব নেওয়াজ জীবন, তৌহিদুল আলম সবুজ, মতিন মিয়া ও জাবেদ খান।

কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ লেবানন

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১০-০ গোলে হারিয়েছে বাহরাইনকে। আগামীকাল বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লেবাননের মুখোমুখি হবে মারিয়া মান্ডা-শামসুন্নাহাররা। কলমাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আর বিকেল সাড়ে তিনটায় লড়বে ভিয়েতনাম ও বাহরাইন।

লেবানন প্রথম ম্যাচে ৮-০ গোলে হারিয়েছে বাহরাইনকে। আর দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছে ৫-৩ গোলে। এবার স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে তারা। অবশ্য ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা লেবাননের জন্য সহজ হবে না। তার উপর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ বড় জয় পাওয়ায় ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে খেলতে নামবে। এই গ্রুপে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পর তৃতীয় শক্তিশালী দল লেবানন। তাদের বিপক্ষে গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা কত ব্যবধানে জয় পায় দেখার বিষয়।

এই ম্যাচকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও লেবানন উভয় দল কমলাপুরে অনুশীলন করেছে। বাংলাদেশ দলের সবাই সুস্থ্য আছে। কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। লেবাননের পর ২১ সেপ্টেম্বর মারিয়া মান্ডা-শামসুন্নাহারদের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর ২৩ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে ভিয়েতনামের মেয়েদের বিপক্ষে।

১৫ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমলাপুরে হবে এই প্রতিযোগিতা। লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল সুযোগ পাবে পরবর্তী বাছাইপর্ব খেলার। এবারের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া ছয় গ্রুপের শীর্ষ ছয় দল ও সেরা দুই রানার্স-আপ দল নিয়ে হবে আরেক বাছাই। সেখান আটটি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই গ্রুপ থেকে সেরা চারটি দল সুযোগ পাবে চূড়ান্তপর্বে খেলার। আগেই চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করে রেখেছে আয়োজক থাইল্যান্ড, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, রানার্স-আপ দক্ষিণ কোরিয়া ও তৃতীয় হওয়া জাপান।

মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

এশিয়ান ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপে মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার কলম্বোতে, ৩-১ সেটে জয় পায় বাংলাদেশ। আগামীকাল বুধবার দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং।

এই জয়ে, ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল এসোসিয়েশন-ফিভার কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিলো লাল-সবুজের দল। আগের ম্যাচে আরব আমিরাতকে হারিয়ে দারুণ ছন্দ নিয়ে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে হরষিতের দল। গ্রুপের আরেক ম্যাচে আরব আমিরাত ইরাককে হারালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ তৈরী হয় লাল-সবুজ দলের।

প্রথম দুই সেটে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। ২৫-২২, ২৫-২৩ পয়েন্টে দুই সেটে জয় নিয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় সেটে ২৩-২৫ পয়েন্টে হেরে যায় হরষিতরা। চতুর্থ সেটে দাপুটে জয় দিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ব্যবধান ছিল ২৫-১৯।

এই গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক। বুধবারের ম্যাচে হংকংকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ।

বাবার গোলের সাক্ষী মাতেও-ইভা

তিন ম্যাচে গোল নেই! এমন পরিস্থিতিতে বাবাকে সমর্থন না করে পারা যায়৷ তাই মাঠে হাজির রোনালদোর ক্ষুদে দুই সমর্থক। গায়ে জুভেন্টাসের জার্সি। পায়ে জুভেন্টাস লেখা মোজা। রোনালদোর বান্ধবী জর্জিনার কোলে ওরা কারা? প্রথমে দেখে অনেক ভক্তই বুঝে উঠতে পারেনি। পরে বোঝা গেল রোনালদোর সমর্থনে মাঠে এসেছে তার ১৫ মাসের যমজ দুই সন্তান মাতেও ও ইভা মারিয়া। কখনও মায়ের কোলে চেপে বাবার ম্যাচ দেখা, কখনও বা বাকেট সিটের উপর লাফালাফি করতে করতেই ম্যাচ উপভোগ। দুই সন্তান মাঠে আসার দিন সমর্থকদের নিরাশ করলেন না রোনালদো।

মাঠে লেডি লাক, সঙ্গে জুনিয়র রোনালদোকে নিয়ে সব মিলিয়ে গ্যালারিতে তিন সন্তান। এমন মঞ্চে গোল না দিলে চলে। দ্বিতীয়ার্ধে সাসুওলোর বিরুদ্ধে ৫০ মিনিটে কোনও রকমে প্রথম গোল আর দ্বিতীয়টা কোণাকুণি শটে জালে জড়াতেই ট্রেডমার্ক সেলিব্রেশন করে মাঠ মাতিয়ে দিলেন। ৩ ম্যাচ শেষ গোল খরা তো কাটলই সঙ্গে বোনাস আরও একটি গোল।

বাংলাদেশকে নিয়ে সেমিতে আফগানিস্তান

১৪তম এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হলো শ্রীলঙ্কাকে। বাংলাদেশের কাছে হেরে এশিয়া কাপের যাত্রা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। সুপার ফোরের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে আজ জিততেই হতো শ্রীলঙ্কাকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৯১ রানে পরাজিত হয় চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। তাতে টানা দুই পরাজয়ে এবারের এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হলো শ্রীলঙ্কাকে।

শ্রীলঙ্কা বিদায়ে লাভ হয়েছে ভারতের। এশিয়া কাপ শিরোপা এখন পর্যন্ত পাঁচবার করে ভাগাভাগি করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা বাদ পড়ায় ভারতের সম্ভাবনা থাকবে আর‌ও একটি কাপ জিতে এগিয়ে যাওয়ার।

শক্তির বিচারে আবুধাবির এই লড়াইয়ে আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়েই ছিলো শ্রীলঙ্কা। কিন্তু মাঠের খেলায় সব ‌ওলট-পালট হয়ে যায়। প্রথমে ব্যাট করে ২৪৯ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ২৫০ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।

অবশ্য শ্রীলঙ্কার এই পরাজয়ে আপাতত লাভ হয়েছে বাংলাদেশের। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর গ্রুপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন হয়ে উঠেছে নিয়ম রক্ষার। কারণ শ্রীলঙ্কার পরাজয়ে, বাংলাদেশকে নিয়েই যে শেষ চারে পৌঁছে যায় আফগানরা।

বড় জয়ে শুরু স্বাগতিক বাংলাদেশের

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনকে উড়িয়ে দিয়ে এএফসি অনূর্ধ-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপো ১০-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছ স্বাগতিক বাংলাদেশ।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বাহরাইনের জালে আজ রীতিমত গোলউৎসবে মেতে ওঠে মারিয়া মান্ডা-আঁখি খাতুনরা। ম্যাচের শুরু থেকেই বাহরাইনের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। তাতে এই বিশাল জয়।

বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে গোল করেন আনুচিং মোগিনি, শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, ১টি করে গোল করেন আনাই মোগিনি, সাজেদা, শামসুন্নাহার সিনিয়র এবং তহুরা।

ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল পায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আনাই মোগিনির বাঁকানো শট চলে যায় বাহরাইনের জালে।

১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশের কিশোরীরা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে মারিয়া মান্ডার চোখ ধাঁধানো শট জড়িয়ে যায় বাহরা জালে। ১৯ মিনিটে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। বক্সের মধ্যে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ছোট ক্রসে আনুচিং মোগিনি ডান পায়ের আলতো টোকায় বল বাহরাইনের জালে পাঠিয়ে দেন। প্রধমার্ধেই ব্যবধান ৫-০ করে ফেলে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৫বার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির জালে বল জড়ায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ৫৫ মিনিটে ৬-০ ব্যবধান করেন সাজেদা আক্তার। মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের ক্রস খুজে নিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বদলি ফরোয়ার্ড সাজেদা। ঠান্ডা মাথায় বাহরাইনের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এ ফরোয়ার্ড।

দুই মিনিট পর আবারও গোল। এবারও গোলের যোগানদাতা আঁখি। তার জোরালো শর্ট বক্সের মধ্যে পেয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র যে শটটি নিলেন, তা প্রথমে বাহরাইন গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে দারুণ এক শটে জালে জড়িয়ে দেন ছোট শামসুন্নাহার। হয়ে যান ৭-০।

৫৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। ব্যবধান হয়ে যায় ৮-০। এ সময় গোলদাতা শামসুন্নাহারকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেয় বাহরাইনের দানা বাসেম। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু এর প্রতিবাদ করায় তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হয় বাহরাইন। স্পট কিক থেকে গোল করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র।

৭২ মিনিটে আবারও দূর পাল্লার শর্টে দুর্দান্ত এক গোল। এবারও দুর পাল্লার শটে গোল করেন মারিয়া মান্দা। বক্সের বাইরে থেকে বাংলাদেশ অধিনায়কের ডান পায়ের শট পোস্টের কোন দিয়ে চলে যায় জালে। ব্যবধান দাঁড়ালো ৯-০ গোলের। ব্যবধান ১০-০ গোলে উন্নীত করেন তহুরা। ৮১ মিনিটে সাজেদা বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর বল চলে যায় তহুরার কাছে। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড।

অবশেষে রোনালদোর গোল

টানা দুই ব্যর্থতার পর, চতুর্থ ম্যাচে এসে গোল পেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। হলো অপেক্ষার অবসান। জুভেন্টাসের জার্সিতে অবশেষে গোল পেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এই মরসুমেই ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ডে জুভেন্টাসে সই করেন রোনালদো। কিন্তু গোল করে সেরি আ-তে অভিষেকের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর। দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল না করে মাঠ ছাড়েন পাঁচটি ব্যালন ডি’ওরের মালিক। রোনালদো গোলের সরণিতে ফিরলেন তৃতীয় ম্যাচে। আর প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখলেন জোড়া গোল করে।

গতকাল রবিবার ঘরের মাঠে সাসউয়োলোর বিরুদ্ধে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে সি আর সেভেন ভক্তদের। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার সাত মিনিটের মধ্যেই অবশ্য স্বপ্নপূরণ হয় তাদের। গোল করে জুভেন্টাসকে এগিয়ে দেন রোনালদো। গোলের পরেই উৎসবের সেই পরিচিত দৃশ্য— লাফিয়ে উঠে দু’হাত কোণাকুনি নামিয়ে। সি আর সেভেন দ্বিতীয় গোল করলেন ১৩ মিনিটের মধ্যে। এমরি কানের পাস থেকে পাওয়া বল বাঁ পায়ের নিখুঁত প্লেসিংয়ে জালে জড়িয়ে দেন।

রবিবার খেলা দেখতে এসেছিলেন জুভেন্টাসের প্রাক্তন তারকা ও কিংবদন্তি আন্দ্রে পিরলো। তিনিও উচ্ছ্বসিত রোনালদো গোলে ফেরায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে সাসউয়োলোর হয়ে ব্যবধান কমান খুমা বাবাকা। এর এক মিনিটের মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জুভেন্টাসের ডগলাস কোস্তা।

আইএসএল থেকে সরে গেলেন শচীন

আইএসএল শুরুর আগে বড় এক ধাক্কা খেলো কেরালা ব্লাস্টার্স। জানা যায়, দলটির মালিকানা বিক্রি করে দিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার। জল্পনা চলছিলই, শেষ পর্যন্ত পঞ্চম আইএসএল শুরুর আগেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেললেন মাস্টার ব্লাস্টার। যদিও শচীন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানান নি।

গত চার বছর ধরে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে শচীন রীতিমতো একাত্ম ছিলেন কেরল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে। হোম এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে গ্যালারি থেকে দলের সমর্থনে গলাও ফাটাতেও দেখা যেত তাঁকে। ২০১৪ সালে আইএসএলের শুরু থেকেই কেরালা ব্লাস্টার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। শিল্পপতি নিম্মাগাড্ডা প্রসাদ, প্রযোজক-অভিনেতা আল্লু অর্জুন, অভিনেতা নাগার্জুন এবং চিরঞ্জিবীর সঙ্গে কেরালা ব্লাস্টার্সের অন্যতম মালিক ছিলেন শচীন। তবে ভারত-তারকার মালিকানা ঠিক কত শতাংশ, তা পরিষ্কার নয়।

শোনা যাচ্ছে, কেরালা ব্লাস্টার্সে শচীনের মালিকানার অংশ কিনে নিতে পারেন এক শিল্পপতি। তবে এ বিষয়ে শচীন বা ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে এখনও কিছু বলা হয়নি। দল একবারও চ্যাম্পিয়ন না হওয়ায় কি হতাশ শচীন? গত চার বছর ধরে তিনিই ছিলেন দলের মুখ। এবার আইএসএল থেকে শচীন সরে গেলে বাকি দলগুলোকেও কিন্তু হতাশা গ্রাস করবে।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের থিম সং প্রকাশ

আগামী মাসের প্রথম দিনেই পর্দা উঠবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এ আসরের সেমি ফাইনালের দু’টি ম্যাচ কক্সবাজারে এবং ফাইনাল ম্যাচটি ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাগতিক বাংলাদেশসহ প্যালেস্টাইন, ফিলিপাইন, লাওস, নেপাল ও তাজিকিস্তান জাতীয় ফুটবল দল অংশগ্রহণ করবে আন্তর্জাতিক এ টুর্নামেন্টে। সূচী চূড়ান্ত না হলেও আজ অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের থিম সং প্রকাশ করা হয়েছে।

সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) ‘থিম সং’ প্রকাশ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাফুফে’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী-এমপি, সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু, হারুনুর রশীদ, বিজন বড়ুয়া, ইকবাল হোসেন, ফজলুর রহমান বাবুল, আরিফ হোসেন (মুন), জাকির হোসেন চৌধুরী ও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টসের সিইও ফাহাদ করিম, ডাইরেক্টর আশফাক আহমেদ ও সিওও মাহবুবুর রশিদ।

আমিরাতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ

এশিয়ান ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩-০ সেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ে আসরে শিরোপার লড়াইয়ে ভালোভাবে টিকে থাকলো লাল-সবুজের দল।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে দিনের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। নিজেদের আগের খেলায় মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে দারুণ ছন্দে ছিল আমিরাত। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই দাপটের সাথে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম সেটে লড়াই করে ২৫-২২ পয়েন্টে নিজেদের করে নেয় হরষিতরা।

দ্বিতীয় সেটে দারুণ ফর্মে ফিরে বাংলাদেশ, এই সেটে ব্যবধান ছিল ২৫-১৬। ম্যাচ বাঁচানোর সেটে মরিয়া ছিল আরব আমিরাত। কিন্তু নারায়ন, আলীদের পারফরম্যান্সের সামনে কিছুই করতে পারেনি আমিরাত। ফলে টানা তিন সেট জিতে নেয় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে শক্ত অবস্থানে আছে হরষিতরা।

গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল সোমবার মঙ্গোলিয়াকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ দল।

পিএসএলের আটটি ম্যাচ এবার পাকিস্তানে

পাকিস্তান সুপার লিগ=পিএসএলের চতুর্থ আসর শুরু হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। চতুর্ত আসরের আটটি ম্যাচ হবে পাকিস্তানে। আর বাকীগুলো হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। লাহোরে শনিবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-পিসিবির সভাপতি এহসান মানির উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসএল গর্ভনিং কাউন্সিল।

আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পিএসএলের চতুর্থ আসর দুবাইয়ে শুরু হ‌ওয়ার কথা রয়েছে। তার মধ্যে শেষ আটটি ম্যাচ হবে পাকিস্তানে। তৃতীয় আসরের মতো ১৭ ফেব্রুয়ারি করাচিতে হবে পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনাল ম্যাচটি।

তামিমের দুরন্ত সাহস

একটা দল জয়ের জন্য যে কতোটা মরিয়া হতে পারে, এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের ‌ওপেনার তামিমকে দেখলেই বুঝা যায়। সেই সঙ্গে বুঝা যায়, দলের প্রতি খেলোয়াড়দের ভালোবাসা এবং অন্তরের এক অদৃশ্য টান। যা দেখা যায়না-দেখানো‌ও যায়না, শুধু অনুভব করা যায়। দলীয় ২২৯ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান আউট হওয়ার পর ক্রিকেটবোদ্ধারা নেমে পড়েছিলেন ইনিংস কাঁটাছেঁড়ার কাজে। বাঁহাতের কব্জিতে মারাত্মক চোট নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট তামিম ইকবাল মাঠ ছেড়েছিলেন ম্যাচের শুরুতেই। ইনিংস চলাকালেই জানা যায়, ম্যাচে তো বটেই, পুরো আসরেই আর খেলা হবে না বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনারের।

অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে একহাতে ব্যাট ধরে ক্রিজের দিকে এগোতে থাকলেন তামিম। বিস্ময়ে ঘোর লাগা চোখে তাকালেন কেউ কেউ। যে তামিম এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে গেছেন, তিনি কী করে নামছেন ব্যাট করতে! কী সাহস তার!

৪৭তম ওভারের শেষ বলটা মোকাবেলা করতে হল তামিমকেই। সুরাঙ্গা লাকমলের নিখাদ ডেলিভারিকে আটকালেন একহাতে ধরা ব্যাটে। তামিমের এই জাদুকরি গুণ আর অদম্য মানসিকতায় যেন আরও সাহস পেলেন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। পরের ১৫ বল একাই খেলে গেলেন তামিমকে রানারের ভূমিকায় রেখে। সেই ১৫ বলে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রান।

প্লাস্টার করা হাতটাকে কোনোমতে গ্লাভসে আটকে তামিমের মাঠে নামা, কিংবা একজন পেসারের ছোঁড়া বল অন্য হাতে ধরা ব্যাট ঠুকে মোকাবেলা করার মানসিকতা মুগ্ধ করেছে সবাইকে।

শনিবার শুরু হওয়া এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ। দলীয় ৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর লাকমলেরই করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে হাতে চোট পান তামিম। যার ফলে তাৎক্ষনিক মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

ব্যথার পরিমাণ বেশি থাকায় চোটের ধরন জানতে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। যে চোটের কারণে তামিমকে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে, সেই চোট নিয়েই অভিন্ন ইনিংসে ব্যাট করতে নামা মুগ্ধ করেছে তামিমের ভক্ত থেকে নিন্দুক- সবাইকে। তামিম আর মুশফিক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ইনিংসের অন্তিম মুহূর্তে ৩২ রান এনে দেন।

তামিমের আগে এমন ‘ঘটনা ঘটিয়েছিলেন’ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে হারের মুখে থাকা দলকে বাঁচাতে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন স্মিথ। তখনও শেষদিনের খেলার বাকি ছিল ৮.২ ওভার। ভাঙা একটি হাত নিয়ে স্মিথ সেদিন দলকে জেতাতে না পারলেও জয় করে নিয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয়। তবে তামিমের এই খেলোয়াড়ি মানসিকতা ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয় জয় তো করলোই, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশী বোলারদের কল্যাণে জয়ই দিয়েই এবারের এশিয়া কাপ মিশন শুরু করলো লাল-সবুজের দল।

তামিম-মুশফিকের লড়াই

ইনিংসের শুরুতে মাত্র ২ রানেই হাতে আঘাত পেয়ে প্রথমে হাসপাতালে পরে সাজঘরে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল। তার এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে পড়ার খবর তখন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। দলীয় ২২৯ রানে নবম উইকেট পতন। এর মানে তামিম মাঠে না নামতে পারলে শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু এক হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে মাঠে নামলেন দেশ সেরা এই ওপেনার। আগের তিন বলে ২ রান করে মাঠে ছেড়েছিলেন। এবার মাঠে নেমে একটি বল খেললেন, তাও এক হাতে। এর আগে দলের ১৩৪ রানে মিঠুন আউট হওয়ার পর প্রায় একাই লড়াই করছিলেন মুশফিকুর রহিম।

তুলে নিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ও এশিয়া কাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তামিমকে পেয়ে যেন দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তিনি। গড়ে তোলেন ৩২ রানের জুটি। যেখানে তামিমের অবদান মাত্র ১ রানের। তাতে দলের স্কোরে জমা হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬১ রানের পুঁজি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫০ বলে ১৪৪ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। মুশফিকের ইনিংসে ১১টি চারের সঙ্গে আছে ৪টি ছক্কা‌ও। যেখানে তিনটি করে চার ও ছয় হাঁকান তামিমের সঙ্গে জুটিতে।

এর আগে এই এশিয়া কাপের আসরেই ২০১৪ তে ফতুল্লায় তার ১১৭ রানের ইনিংসটি ছিল মুশফিকের সর্বোচ্চ। বলতে গেলে মুশফিকের লড়াকু সেঞ্চুরিতে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে পথ হারানো দল পেয়েছে পথের সন্ধান। অথচ মুশফিকের খেলা নিয়ে দুপুর পর্যন্ত ছিল শঙ্কা।

৭.৬ ওভারের সময় প্রথম বাউন্ডারি মারেন মুশফিকুর রহিম। তখন দলের স্কোর বোর্ডে ৮ ওভার শেষে ২০ রান। এর আগে ছোট একটি ঝড় বয়ে গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ শুরু দুঃস্বপ্ন দিয়ে। প্রথম ওভারের লাথিস মালিঙ্গার শেষ দুই বলে আউট লিটন কুমার দাস ও সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। রানের খাতা না খুলেই ফিরেছেন দু’জন। এরপরের ওভারে লাকমলের শেষ বলে তামিম হাতে আঘাত পান। ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তাতে তার মাঠে ফেরা তো হয়নি। এরপর শেষ হয়ে গেছে তার এশিয়া কাপ। তবে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১৩১ রানের জুটিতে আশা দেখিয়ে ছিলেন মুশফিক। কিন্তু ৬৩ রানে মিঠুন আউট হলে বাকি সময়টা একাই লড়েছেন মুশফিক। সেঞ্চুরির জন্য তাকে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে।

দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে বড় জয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মাশরাফিদের বিপক্ষে ২৬২ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১২৪ রানের গুটিয়ে যায় লংকান ইনিংস।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৬২ রান খুব একটা বড় সংগ্রহ নয়। তবে লড়াই চালিয়ে যা‌ওয়ার মতো। কিন্তু দুবাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক পিচে সেটা মোটেই সম্ভব নয়। আজ শনিবার টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচে নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্যটাকেই পাহাড়সম উচ্চতায় নিয়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা।

টাইগারদের নিখুঁত বোলিংয়ে লঙ্কানদের ইনিংস থেমে যায় ৩৫.২ ওভারে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নিয়ে লংকান শিবিরে ধ্বস নামান। একটি করে উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলরুয়ান পেরেরা সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন। উপুল থারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান।

আগে টস জিতে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে সওয়ার হয়ে আড়াইশ পেরোনো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। মুশফিকের ১৪৪, মোহাম্মদ মিঠুনের ৬৩ ও শেষটায় তামিম ইকবালের স্পোর্টসম্যানশিপের অনন্য নজিরের পর বোলাররা হয়ে ওঠেন আগ্রাসী।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচ আর দশটা ম্যাচের মতো নয়। টানা ম্যাচ খেলায় সম্প্রতি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাঘ-সিংহের লড়াইটি। এবার বড় মঞ্চে লঙ্কানদের বিপক্ষে বড় জয় এশিয়া কাপে নিজেদের অন্যতম ফেভারিটের বার্তাই দিয়ে রাখল মাশরাফীবাহিনী।

তামিম ইকবাল শুরুতে আঙুলে চোট পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফেরেন। আবার ২২ গজে নেমে ব্যাটিং করার অবস্থায় ছিলেন না তিনি। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে নেমে যান সেঞ্চুরি করা মুশফিককে সঙ্গ দিতে। আর তাতে শেষ উইকেটে যোগ হয় ৩২ রান।

মরুর বুকে বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো ছিল না। শুরুতেই লিটন দাস ও সাকিব আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা না খুলেই। তামিম ইকবাল আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বিপদ আরও বাড়ে। বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তাতে মেলে লড়াকু সংগ্রহের ভিত।

২২৯ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে তামিম শেষ জুটিতে না নামলে ওখানেই থামতো ইনিংস। ঝুঁকি নিয়ে এ ওপেনার শেষে নামায় যোগ হয় আরও ৩২ রান। তাতেই বাংলাদেশ পায় ২৬১ রানের লড়াকু পুঁজি।

১৪৪ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে মুশফিক দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হন তখন বাকি ইনিংসের ৩ বল। ৪৯.৩ ওভারে থামে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুনের (৬৩) সঙ্গে মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে ১৩২ রানের জুটি, আর শেষটায় মুশফিকের মারমুখী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পায় লড়াকু সংগ্রহ।

সাফের নতুন রাজা মালদ্বীপ

ফাইনালের একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনেই মালদ্বীপের কোচ পিটার সেগার্ট বলেছিলেন, ‘ফাইনালে একটি সেনসেশন অপেক্ষা করছে।’ সত্যিই তার দল সেনসেশনটা দেখিয়ে দিলো। দক্ষিণ এশিয়ার ফটুবল পরাশক্তি হয়ে উঠা ভারতের দর্পচূর্ণ করে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে মালদ্বীপ। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায়, শিরোপার রঙ্গীন মঞ্চে শেষ হাসি হেসেছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে এক দশক পর সাফের শ্রেষ্ঠত্ব পূনরুদ্ধার করলো তারা। প্রথমবার মালদ্বীপ সাফের শিরোপা জয় করেছিল ২০০৮ সালে। সেবার ফাইনালে এই ভারতকেই পরাজিত করেছিল ১-০ গোলে।

সাফের শুরুতে মালদ্বীপের পথচলা মোটেও মসৃন ছিল না। তাদের পারফরমেন্স দেখে হতাশ ছিলেন খোদ সমর্থকরাই। কেউ বিশ্বাসই করেননি মালদ্বীপ সাফের ফাইনাল খেলবে। কারণ গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করেছিল। এরপর ভারতের কাছেই ২-০ গোলে হারের লজ্জা পেতে হয়। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান সমান হওয়ায় টস ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে শেষ চারে নাম লেখায় তারা। এমন দল নিয়ে কে বাজি ধরতে চায়? অথচ সেই দলটিই শিরোপার মহামঞ্চে অতি আত্মবিশ্বাসী ভারতকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ঠিকই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করেছে। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

বল মাঠে গড়ানো প্রথম ১৫ মিনিটে ভারত কোন আক্রমনই রচনা করতে পারেনি। ১৯ মিনিটে প্রথম আক্রমনে এসেই সফল হয় মালদ্বীপ। ভারতের রক্ষণদূর্গ চূর্ণ করে নিশানা ভেদ করেন মাহুদি হাসান। বাঁপ্রান্ত দিয়ে হাসান নিয়াজের বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে ডি বক্সে গিয়ে ভারতীয় গোল রক্ষক বিশাল কাইতের মাথার উপর ঠান্ডা মাথায় টোকা দিয়ে বল জালে জড়ান এ ফরোয়ার্ড (১-০)। তিন মিনিট পর ফের আক্রমনে যায় মালদ্বীপ। তবে এবার সতর্ক ভারতীয় ডিফেন্ডাররা বেশ দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করেছিল। ভারত গোল পরিশোধের জন্য এ সময় বেশ কয়েকটি কর্নার আদায় করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে আর কোন গোলের দেখা পায়নি দ্বীপ দেশটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছিল ভারত। যে কারণে শুরুতেই আক্রমনে যায় তারা। তবে এসব আক্রমনগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন। পরিকল্পনার কোন ছাপ ছিলনা। ফলে গোলও আসেনি। একপর্যায়ে লড়াইয়ে ফেরার মানষে অল আউট খেলতে শুরু করে ভারত। আর ওই সুযোগে প্রতি আক্রমন থেকে ব্যবধান দ্বিগুনে নিয়ে যায় মালদ্বীপ। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মধ্য মাঠ থেকে হামজাদ মোহাম্মেদের বাড়িয়ে দেয়া বল ফাঁকায় পেয়ে ক্ষীপ্র গতিতে সেটি নিয়ে ভারতীয় গোল বক্সে ঢুকে পড়েন আলি ফাসির। আগুয়ান গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আড়াআড়ি ভাবে চলন্ত বলে মাটি কামড়ানো শটে এগিয়ে দেন তিনি (২-০)। দুই গোল হজম করা ভারত ম্যাচ থেকে ছিঁটকে পড়লেও অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল পরিশোধ করেছিল। নিখিলের পাসে বল পেয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়ান সুমিত পাসি (২-১)। শেষ পর্যন্ত হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।

আর জয়োৎসবে মেতে উঠে মালদ্বীপ। উৎসব ছড়িয়েছিল গ্যালারীতেও। এদিন হাজার সাতেক দর্শক উপস্থিত ছিলেন মাঠে। গলা ফাঁটিয়ে সমর্থন করেছেন মালদ্বীপকে।

‌ওসামা মঈন আলী!

ভারতের বিরুদ্ধে সদ্য টেস্ট সিরিজ জিতেছে ইংল্যাান্ড। পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সরিজ ৪-১ ব্যবধানে জেতে ইংলিশরা। মাঠে স্লেজিং সেভাবে চোখে পড়েনি। অভিযোগও করেননি কোনও ক্রিকেটার। কিন্তু ভারত সিরিজের পর এক সাক্ষাতকারে অজিদের অভদ্র অ্যাখ্যা দিলেন ইংরেজ অলরাউন্ডার মঈন আলী।

কিছুদিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে মঈনের আত্মজীবনী। তার আগে দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তাঁর আত্মজীবনী সম্পর্কে বলতে গিয়ে মঈন জানান, অজি ক্রিকেটাররা অত্যন্ত অভদ্র। ওরা অন্যদের সম্মান করতে জানে না। গত বছর ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে অজি সমর্থকরা তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষ মন্তব্য করেছিলেন। এই রকম বাইশ গজে অনেক ঘটনায় আত্মজীবনীতে লিপিবদ্ধ করেছেন এই ইংরেজ ক্রিকেটার।

অজি ক্রিকেটার আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলো, ‘টেক দ্যাট, ওসামা’(ওসামা বিন লাদেন)। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। যদিও মাঠে আমি এতটা রাগ করিনি। কিন্তু আমি এই ধরনের মন্তব্য ভালোভাবে নিইনি।’ এই ঘটনার কথা আত্মজীবনীতে লিখেছেন ৩১ বছরের ইংরেজ অলরাউন্ডার। ক্যাডিফ টেস্টে মঈনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ১৬৯ রানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ব্যাটে ৭৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৫ উইকেট তুলে দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন আলী।

সিরিজের মাঝেই এই ঘটনার কথা সতীর্থ এবং কোচ ট্রেভর বেলিসকে বলেছিলেন মঈন আলী। পরে বিষয়টি বেলিস, অস্ট্রেলিয়ান কোচ ড্যারেন লেহম্যানকে জানিয়েছিলেন। অজি কোচও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারটিকে জিজ্ঞেস করেছিল, এই ধরণের কোনও কথা বলেছে কিনা। কিন্তু ক্রিকেটারটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল। এছাড়াও অজি ক্রিকেটারদের অভদ্রতার আরও উদাহরণ দেন মঈন। বাঁ-হাতি ইংরেজ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘২০১৫ বিশ্বকাপের ঠিক আগে সিডনিতে আমি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবার খেলতে নেমেছিলাম। সেখানও ওরা আমাকে অ্যাবিউজ করেছিল।’

এশিয়া কাপ দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

ইকরামউজ্জমান : লেখক, কলামিস্ট ও ক্রীড়া বিশ্লেষক

ওয়ানডে বাংলাদেশ ভালো খেলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমীহ জানানো দল। নিজেদের দিনে যেকোনো দলকে পরাজয়ের সামর্থ্য রাখে। কিছুদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে। বিজয় সব সময় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, আরো অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করে।

 আজ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৪তম আসর শুরু হবে বাংলাদেশ-   শ্রীলঙ্কার খেলার মধ্য দিয়ে। এশিয়া কাপ এবার ওয়ানডে ‘ফরম্যাটে’। খেলার ধরনটাও   অন্যভাবে সাজানো হয়েছে। দুটি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি দল করে মোট চারটি দল নিয়ে   সুপার-৪ খেলা। এখানে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। রাউন্ড রবিন লিগ। শেষ পর্যন্ত সেরা   দুটি দল খেলবে ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ফাইনাল ম্যাচ।

 ক্রিকেটীয় দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষ   দলগুলোর দলগত শক্তি, মাঠে খেলোয়াড়দের সফল ভূমিকা—   এশিয়া কাপ বাংলাদেশ দলের   জন্য বড় চ্যালেঞ্জ! বাস্তবতায় এখানে বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ   তখনই হবে যখন গ্রুপ পর্যায়ে   শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ‘মোমেন্টাম’ থেকে   ভালো খেলে উতরাতে পারলে! এর   জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে হবে মাঠে। সুযোগ কাজে   লাগাতে হবে, নতুবা সুপার-৪-এর   সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।

 এশিয়া কাপ আমাদের দলের জন্য একটি বড় সুযোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে   পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশকে তুলে ধরার। তবে এ সব কিছুই নির্ভর   করছে   খেলোয়াড়দের  আত্মবিশ্বাস, সাহস, মানসিক শক্তি, মাইন্ড সেট, ইতিবাচক মনোভাব   ও মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রয়োগের ওপর। সামর্থ্য আছে—বিশ্বাস করতে হবে সবাই মিলে   ভালো খেললে, দায়িত্ব পালন করলে, দলে সাধ্যমতো অবদান রাখলে অবশ্যই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্রমেই তীব্র প্রতিযোগিতামূলক হয়ে যাচ্ছে। এখানে পারফর্ম  এবং বিশ্বাসটাই জরুরি। ক্রিকেটে চাপ থাকবেই, কিভাবে ‘রিঅ্যাক্ট’ করতে হয়, এটা বোঝা ও শেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাসের আলো জ্বালিয়ে মুখ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই বলার দিন শেষ হয়ে গেছে! এশিয়া কাপ নিয়ে এখনই অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কোনো কারণ নেই! আজ থেকে শুরু হওয়া এশিয়া কাপ রূঢ় বাস্তবতায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও শক্ত! এখানে হিসাব নির্ভর করবে মাঠে দলের পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন ও তীব্র ইচ্ছাশক্তির ওপর। আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি জয়ের ক্ষুধা।

এশিয়া কাপে ছয় দেশের মধ্যে (ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান) পাঁচটি দেশ টেস্ট প্লেয়িং কান্ট্রি, একমাত্র হংকং ছাড়া। প্রতিটি দেশ খেলার মধ্য থেকে এবং প্রস্তুতি নিয়েই খেলতে এসেছে। ছন্দে থাকায় লড়াই হবে জমজমাট। এশিয়ার ক্রিকেটে প্রাধান্য প্রদর্শনের মঞ্চে গত ১৩ বারের মধ্যে ভারত শিরোপা জিতেছে ছয়বার, শ্রীলঙ্কা পাঁচবার আর পাকিস্তান দুইবার। বাংলাদেশ দুইবার ২০১২ ও ২০১৬ সালে রানার্স-আপ হয়েছে। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়।

বাস্তবতা হলো, এশিয়া কাপে আমাদের দল থেকে আরো ভালো দল আছে। তবে দলগত শক্তির পাল্লায় ব্যবধান খুব বেশি নয়। এ ক্ষেত্রে ভালো দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলতে পারলে, সিনিয়র-জুনিয়র (এই তরুণরা কেউ কেউ তিন-চার বছর ধরে ক্রিকেট খেলছেন) সবাই মিলে মাঠে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে যথাযথ ‘কন্ট্রিবিউট’ করতে পারলে এই পার্থক্য কমিয়ে আনা অবশ্যই সম্ভব। আর এতে সম্ভব হবে অনেক কিছুই। এশিয়া কাপে যারা খেলবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে তো বাংলাদেশ একাধিকবার ওয়ানডে ক্রিকেটে পরাজিত করেছে দাপটের সঙ্গে। এশিয়া কাপে বড় দলের বিপক্ষে জয় হবে দারুণ অর্জন।

ভারত খুব ভালো দল। বিরাট কোহলি বিশ্রামে গেলেও ওয়ানডে দলের অন্য খেলোয়াড়রা আছেন। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে দলটিকে ‘নিটোল দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেব। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং কোনো ক্ষেত্রেই ঘাটতি নেই। পেস ও স্পিন আক্রমণ খুবই শক্তিশালী। দলের ‘রিস্ট স্পিনার’ খুবই কার্যকরী। পাকিস্তানের পেস আক্রমণ খুবই শক্তিশালী। দলে ‘রিস্ট স্পিনার’ আছেন। আলোচনা হচ্ছে পাকিস্তান দলে ছয়জন পেস বোলার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। তাহলে কি দুবাই ও আবুধাবি উইকেট ‘ফ্ল্যান্টের’ পরিবর্তে এবার স্লোটি উইকেট হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ পরাজয়ের পর ভারতের লক্ষ্য এশিয়া কাপ জয়। পাকিস্তানের ১৬ জনের স্কোয়াডে এবার মোহাম্মদ হাফিজ ও ইমাদ ওয়াসিমের (ফিটনেসের অভাবে) জায়গা হয়নি। পাকিস্তান আগামীর চিন্তা মাথায় রেখে স্কোয়াড তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি। আজ জিততে পারলে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর (আবুধাবিতে) আফগানিস্তানের বিপক্ষে নির্ভার ক্রিকেট খেলা সম্ভব হবে! নতুবা মাঠের ক্রিকেট অনেক শক্ত মনে হবে। মনঃসংযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি খেলা উপভোগ খুবই জরুরি। বিদেশের মাটিতে জিততে হলে ভালো ব্যাটিং ও কার্যকরী পেস বোলিং বড় প্রয়োজন।

অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুসের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হলে পেস ও স্পিনের বৈচিত্র্যপূর্ণ আক্রমণকে সামাল দিয়েই জিততে হবে। দলে অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গাকে নেওয়া হয়েছে। ফিরেছেন দিলরুয়ান পেরেরা। আরো ফিরেছেন দানুস্কা গুলাতিলঙ্কাও। তবে শেষ পর্যন্ত টেস্ট দলের আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিতীয় খেলা ২০ সেপ্টেম্বর আবুধাবিতে। আফগানিস্তানের বড় শক্তি হলো তাদের স্পিনার রশিদ খান, মুজিব ও মোহাম্মদ নবী এবং খেলোয়াড়দের ভয়ডরহীন খেলা। এইতো কয়েক মাস আগেই ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ভীষণ বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ দল। এবার অবশ্য অন্য ফরম্যাটের খেলা। এখানে স্পিনারদের পরখ করে খেলার সুযোগ আছে। ‘রিস্ট স্পিন’ আফগানদের বোলিংকে সমৃদ্ধ করেছে। এশিয়া কাপে সব দেশেই ভালো রিস্ট স্পিনার আছেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। সাকিব ও মেহেদী হলেন ফিঙ্গার স্পিনার। মোট কথা, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এশিয়া কাপে রিস্ট স্পিনারদের বুঝেশুনেই খেলতে হবে। প্রস্তুতি পর্বে বিষয়টি মাথায় নিয়ে কিছু কাজও করা হয়েছে।

দুবাই ও আবুধাবিতে উইকেটের আচরণ কেমন হবে? অতীতের পাল্লায় কিন্তু ফ্ল্যাট উইকেটের ভার বেশি! আর সেটাই যদি হয়, তাহলে কি একটা পর্যায়ে থেকে স্পিনাররা দাপট দেখাবেন! বাংলাদেশের গেম আক্রমণে মাশরাফি এখনো অপরিহার্য এবং সেরা। রুবেল ও মুস্তাফিজ আছেন। মুস্তাফিজ ধীরে ধীরে তাঁর পুরনো ফর্মে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মুস্তাফিজ ছন্দ ফিরে পেলে বাংলাদেশের জন্য মাঠের কাজ সহজ হবে। পেস আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ দলের স্পিন আক্রমণ অনেক বেশি কার্যকরী এবং ফলদায়ক। বিদেশে জেতার জন্য প্রয়োজন ভালো ব্যাটিং। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভালো গেম প্লেয়িং। গেম আক্রমণ বাংলাদেশ দলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুর্বলতা! এ ক্ষেত্রে গত দুই বছরে কী করা হয়েছে সেটা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।

ভালো প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। প্রস্তুতি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নির্ভার হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা সম্ভব হয়। সেরা খেলোয়াড় আর সাধারণ খেলোয়াড় সবার জন্য প্রস্তুতি অনুশীলন জরুরি। এ ক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত নয় কারো ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার কথা চিন্তা করা।

১৬ সদস্যের স্কোয়াডে মমিনুলকে ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদি ইনজুরির কারণে তামিম বা নাজমুল খেলতে না পারেন। ১৬ জনের সেরা স্কোয়াডই নির্বাচকরা দিয়েছেন। এ ছাড়া আর খেলোয়াড় কোথায়? যেকোনো স্কোয়াড নিয়ে কথা হতেই পারে। দলে বেশ কিছু সমস্যা তো এখনো আছে। তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে এখনো একজন জুতসই কাউকে সেট করা সম্ভব হয়নি। তিন নম্বরে আপাতত সাকিব খেলছেন। ভালোই খেলছেন। তিনি বলেছেন এই স্থানে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ছয়ে, সাতে এখনো নড়বড়ে অবস্থা। ‘টেল এন্ডাররা’ ব্যাটিংয়ে যতটুকু অবদান রাখার কথা, সেটা তাঁরা পারছেন না। এটা একটা বড় সমস্যা। নির্বাচকরা যখন স্কোয়াড তৈরি করেন তখন প্রতিপক্ষের অবস্থান এবং অনেক কিছু ভেবেই সিদ্ধান্ত নেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে পারফরম্যান্স আশা করা হয়।

অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণেই বাংলাদেশ জাতীয় দল। ক্রিকেট দলীয় খেলা—সবার অবদান দলের জন্য প্রয়োজনীয়। এটা ভাবা উচিত নয়, অভিজ্ঞ পাঁচজন খেলোয়াড় খেলে পার করে দেবেন। দলের জন্য সবার দায়বদ্ধতা আছে। প্রত্যেককে মাঠে দায়িত্ব নিতে হবে। তা ছাড়া অভিজ্ঞ সিনিয়র খেলোয়াড়রা যে প্রতিটি খেলায় মাঠে জ্বলে উঠবেন এই গ্যারান্টি তো নেই। তাই সবাই মিলে খেলতে হবে, চেষ্টা করতে হবে। দলের কথা ভাবতে হবে। ক্রিকেট আশাবাদী মানুষদের খেলা। আমরা আশাবাদী মন নিয়ে তাকিয়ে থাকব দুবাই ও আবুধাবির মাঠের দিকে।

নেইমারের স্পেনে ফেরা!

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের প্যারিস সেন্ট জার্মেই ছেড়ে স্পেনে ফেরা না ফেরা নিয়ে কম কথা হচ্ছেনা। লা লিগার দল রিয়াল মাদ্রিদে তিনি সই করতে পারেন, এমন কথা শোনা যাচ্ছে সম্প্রতি। ব্রাজিলীয় ফুটবলার নেইমার দ্য সিলভা স্যান্টোস (জুনিয়র) গত মৌসুমে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজি-তে আসার পর থেকেই জারি রয়েছে এই জল্পনা।

পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খিলাইফি

এবার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খিলাইফি। তিনি জানান, নেইমার শীঘ্রই রিয়াল মাদ্রিদে চলে যাচ্ছে, জল্পনা শুনে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। বাধ্য হয়ে তিনি কথা বলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা আমার ভাল লাগেনি। তাই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে কথা বলি। খুবই হতাশাজনক ঘটনা। এটা কখনও কাম্য নয়, যে অন্য কোনও ক্লাব আমাদের ফুটবলার নিয়ে পিএসজি-র অজ্ঞাতসারে কথা বলবে।’ খিলাইফি সঙ্গে যোগ করেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভাল। ওরাও পিএসজি-কে শ্রদ্ধা করে। আশা রাখি, সেই সম্পর্ক ঠিকঠাক রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেসকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমি মনে করি, পর্দার পিছনে কাজ চালানো ঠিক নয়।’

রোনালদোর হোটেল এবার ফ্রান্সে

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি হোটেল চালু করতে যাচ্ছেন। জুভেন্টাসের হয়ে এখন‌ও কোনো গোলের দেখা না পেলে‌ও প্যারিসে ‘পেস্টানা সিআরসেভেন’ -এর আ‌ওতায় একটি ফোর স্টার হোটেল চালু করার ঘোষণা দেন রোনালদো।

এটা হলো পেস্টানা সিআরসেভেন গ্রুপের ষষ্ঠ হোটেল। ৩৩ বছর বয়সী রোনালদোর এই হোটেলে অতিথিদের জন্য কমপক্ষে ২১০টি থাকার রুম থাকবে। ৫৩৪ লাখ পাউন্ড খরচের এই হোটেলটি তৈরি হচ্ছে প্যারিসের গাউচ নদীর পাশের জমিতে। আর হোটেলের নির্মান কাজ শেষ হবে ২০২১ সালে।

২৩ বছর পর দুবাইয়ে খেলবে বাংলাদেশ

২৩ বছরেরও বেশি সময় পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ শনিবার এশিয়া কাপের ১৪তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সবশেষ ম্যাচ খেলেছিল ১৯৯৫ সালের ৮ এপ্রিল। সেবারও সেখানে এশিয়া কাপের ম্যাচ খেলেছিল টাইগাররা। ঐ আসরে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলেছিলেন আতহার আলী খান, আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, খালেদ মাসুদ পাইলট, নাইমুর রহমান দুর্জয়, হাবিবুল বাশার সুমন, জাভেদ ওমর বেলিম, আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা।

ওই আসরে তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিলো বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে নয় উইকেটে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০৭ রানে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।

এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ লড়াই করবে গ্রুপ ‘বি’তে। এই গ্রুপে অন্য দুইটি দল হলো শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। আজ শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ও ২০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের লড়াই আজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৪তম আসর। এশিয়ার সেরা কে, তা প্রমানের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম এটি। নিজেদের উজার করে দিতে এবারের আসরে মাঠে নামছে ছয়টি দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সাথে রয়েছে গত আসরের ফাইনালিষ্ট বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও দশ বছর পর তৃতীয়বারের মত এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পাওয়া হংকং। টুর্নামেন্টের প্রথমদিনই শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলাটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়।

এশিয়ার দলগুলোর কাছে বিশ্বকাপের মতই গুরুত্বপূর্ণ এশিয়া কাপ। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়াই দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ১২বার অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ছয়বার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়েছে ভারত।

গেল আসরটি ছিলো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এশিয়ার কাপের ইতিহাসেই সেবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপা জয় করে ভারত। তাই চ্যাম্পিয়নের তকমা গায়ে মেখে ১৪তম আসরে খেলতে নামবে টিম ইন্ডিয়া।
তবে সম্প্রতি টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতার কালিমা ভারতের সঙ্গী। ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারে বিরাট কোহলির দল। টেস্ট সিরিজের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ভারত। সেখানেও ব্যর্থ কোহলি-ধোনিরা। তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারে।

তবে এশিয়া কাপে ৪৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৩১টি জয় ও ১৬টি হারের স্বাদ নেয় ভারত। তারপরও এবারের আসরে বড় পরীক্ষায় পড়তে হবে তাদেরকে। কারন দলের নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি রয়েছে বিশ্রামে। তার পরিবর্তে দলের নেতৃত্ব দেবেন রোহিত শর্মা। তার সাথে থাকবেন সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি। এছাড়া থাকছেন শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়াদের মত তরুণরা।

অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘মাঠে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে আমরা প্রস্তুত। আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তাই আমাদের উপর চাপ বেশি থাকবে। তবে চাপকে ভুলে ক্রিকেট খেলায় মনোযোগি হতে চাই আমরা এবং ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। শিরোপা ধরে রাখতেই মাঠে নামবে দল।’

এশিয়ার কাপে অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। গেল তিন আসরের পারফরমেন্সে এশিয়া কাপের অন্যতম দাবীদার হয়ে উঠেছে মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা। ২০১০ সাল পর্যন্ত এশিয়া কাপের কোন আসরেই ফাইনালে উঠতে পারেনি টাইগাররা। তবে ২০১২ সালে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। সেবার শিরোপা জয়ের দোড় গোড়ায় পৌঁছে এশিয়া শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়তে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের পরের আসরটিও হয় বাংলাদেশে। সে আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি টাইগাররা। তবে ২০১৬ সালের আসরে আবারো বিশ্বকে চমকে দিয়ে ফাইনালে উঠে লাল-সবুজের দল। দেশের মাটিতে টানা তিনবার এশিয়া কাপ আয়োজনের চ্যালেঞ্জের মত মাঠে লড়াইয়ে বেশ তৎপর ছিলো মাশরাফির নেতৃত্বধীন দলটি। পাকিস্তান-শ্রীলংকার মত দলকে হারিয়ে ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম লেখায় বাংলাদেশ। কিন্তু শক্তিশালী ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে আবারো শিরোপা হাতছাড়া হয়।

দু’বার ফাইনালে উঠে শিরোপা জিততে না পারার স্মৃতি ভুলে নতুনভাবে নিজেদের প্রমানের পক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে মাশরাফি বলেন, ‘আগে দু’বার ফাইনাল খেলেছি আমরা। আমার ধারনা এটি কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ এটি নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন জায়গা। এখানে সবকিছুই নতুনভাবে শুরু করতে হবে। আমার মূল ভাবনা, প্রথম ম্যাচ নিয়ে। আমরা শুরুটা কিভাবে করবো, এটি এখন আসল।’

শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের এশিয়ার কাপ মিশন শুরু করতে হচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ ছেড়ে নিজ দেশ শ্রীলংকার দায়িত্ব নেয়ার পর, এই দু’দলের ভেতর টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেটি আরও বেশি বড় আকার ধারন করে গেল মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে। শ্রীলংকার মাটিতে অনুষ্ঠিত ঐ আসরে স্বাগতিকদের বিধ্বস্ত করে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। ফাইনালে ভারতের কাছে হারলেও, শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়কে অনেক বড় করেই দেখেছিলো বাংলাদেশ। তাই এবারও শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

এশিয়া কাপে ৪২ ম্যাচে অংশ নিয়ে মাত্র ৭ জয় ও ৩৫ হারের স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এগুলো এখন শুধুমাত্র রেকর্ড বইয়েই লিপিবদ্ধ। অতীতের চেয়ে এখন ঢের পরিপক্ব দল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন জার্সি

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নতুন জার্সি পড়বে। বিসিবির সঙ্গে রবির চুক্তি বাতিলের কয়েকদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জার্সিতে লোগো থাকবে ইউনিলিভারের পণ্য ‘লাইফবয়’-এর। আর তাই এশিয়া কাপের জন্য বাংলাদেশ জার্সি উন্মেচন করা হয়েছে। এশিয়া কাপের বাংলাদেশের জার্সি কেমন সেটির একটি ছবি‌ও আপলোড করেছে লাইফবয় তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

গত মাসের ২৬ তারিখ হুট করেই বিসিবির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি। বিসিবির সঙ্গে সমস্যা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। মূলত রবির দেওয়া শর্ত মেনে না নেওয়াতে বিসিবির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তারা। রবির চুক্তির বাতিলের কয়েকদিন পর বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশে এসে দাঁড়ায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ। আগামী দেড় বছরে ইউনিলিভারের বিভিন্ন পণ্যের লোগো থাকবে তামিম-সাকিবদের জার্সিতে।

আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হতে যা‌ওয়া এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জার্সি কেমন হবে সেটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে আগ্রহ কম ছিল। অবশেষে সেটির একটি ডিজাইন প্রকাশ করেছে লাইফবয় বাংলাদেশ। লাইফবয়ের এই জার্সি পরেই আগামীকাল প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে বাংলাদেশ সময় সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

শুধু বাংলাদেশ জাতীয় দলই নয়, বাংলাদেশ নারী দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্পন্সরও ইউনিলিভার। বিসিবির সঙ্গে ইউনিলিভারের চুক্তি শেষ হবে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি।

ভ্যাটার্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেট নভেম্বরে

আগামী নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অস্ট্রলিয়ার সিডনিতে শুরু হবে ভ্যাটার্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। উর্ধ-৫০ বছর বয়সিদের নিয়ে হবে এই ভ্যাটার্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেট।

আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথমবার আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া সহ আটটি দল অংশ নেবে। তবে তাদের মধ্যে নেই বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলো হলো- নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা ‌এবং ‌ওয়েলস।

সিঙ্গল লিগ পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি দল সাতটি করে ম্যাচ খেলবে। আর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারটি দেশ সেমিফাইনাল খেলবে। নিচের সারির চারটি দল প্লেট পর্বে মুখোমুখি হবে। প্রত্যেকটি দলে ১৬জন করে খেলোয়াড় থাকবে।

প্রতিটি ইংনিংস হবে ৪৫ ‌ওভারের। ১২ এ সাইডে হবে খেলা। তবে ব্যাট করবেন ১১ জন। একজন থাকবেন নন ব্যাটার। বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ ‌ওভার বল করতে পারবেন। প্রতিটি ইনিংসের মাঝখানে ৪৫ মিনিট বিরতি থাকবে। কোকাবুরা’র গোলাপী বলে হবে খেলা।

মেসি নয়, মড্রিচই সেরা: ইভান রাকিটিচ

লি‌ওনেল মেসির বার্সেলোনা সতীর্থ ইভান রাকিটিচ বিশ্বাস করেন এ বছর ব্যাক্তিগত পুরষ্কার পা‌ওয়ার ক্ষেত্রে লুকা মড্রিচের সম্ভাবনাই বেশি। ক্রোয়শিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌছে দিয়ে ‘গোল্ডেন বল’ জেতা রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মড্রিচ দারুণ একটা মৌসুম কাটিয়েছেন। উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারেরর পুরস্কার জয়ের পর মড্রিচ ফিফা সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের জন্য‌ও মনোনয়ন পেয়েছেন।

ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের প্রাথমিক তালিকায় লি‌ওনেল মেসির নাম না থাকলে‌ও রিয়ালের তারকা লুকা মড্রিচ আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে ফেভারিটের কাতারে।

রাকিটিচ বিশ্বাস করেন যে এবার ফিফার দ্য বেস্ট পুরষ্কার জিতবেন তা দেশের লুকা মড্রিচই। তাছাড়া এবছর তার ক্লাব সতীর্থ লি‌ওনেল মেসি কোনো পুরষ্কার জিততে পারবেন না। রাকিটিচ বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিগত পুরষ্কারই মেসি এবছর জিততে পারবেননা। কোনো সন্দেহই নেই সব পুরষ্কারই উঠবে এবার মড্রিচের হাতে।’

ক্রোয়েশিয়া ‌ও বার্সেলোনার তারকা খেলোয়াড় রাকিটিচ আরো জানান, ‘মড্রিচ যদি অনেক বেশি ভোটে জেতেন (ফিফা দ্য বেস্ট পুরষ্কার), তাতে‌ও কোনো আশ্চর্য হবো না। এ বছরটা আসলেই তাঁর (মড্রিচের)। তাঁর (দেশের) সতীর্থ হতে পেরে সত্যিই আমি খুব খুশি।’

উসাইন বোল্টে মুগ্ধ গোৎজে

উসাইন বোল্টে মুগ্ধ হয়ে আছেন জার্মানির ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের নায়ক মারিও গোৎজে। চলতি বছরের শুরুতেই বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে এই জ্যামাইকান গতি দানব ফুটবলের ট্রায়াল দেন। তখন উসাইন বোল্টের ফুটবল দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন মারি‌ও গোৎজে।

ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডকে গুডবাই জানানোর পর থেকে বোল্ট ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল কোস্ট ম্যারিনারে আছেন, এ লিগের দল হুন্ডাইয়ের ট্রায়ালে। তবে এবারই তিনি কোনো ক্লাবে ট্রায়াল করছেননা, এরআগে গত মার্চ মাসে জার্মান জায়ান্ট ডর্টমুন্ডের অনুশীলন ক্যাম্পে দুই দিন কাটিয়েছে, গতিদানব উসাইন বোল্ট।

একটি খেলা থেকে অন্য খেলায় রূপান্তর-বিষয়টি আমার কাছে খুব মজার এবং চ্যালেঞ্জিং মনেহচ্ছে। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড থেকে ফুটবলের মাঠে, বেশ মজার এক ঘটনা। উসাইন বোল্টের ফুটবলার হ‌ওয়ার জন্য প্রচেষ্টা দেখে এমনটাই বলেন জার্মানির ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।

অস্ট্রেলিয়ান লিগের ব্যাপারে খুব একটা না জানলে‌ও গোৎজে মনে করেন হুন্দাইয়ের হয়ে উসাইন বোল্টের খেলার সম্ভাবনাটা একেবারে কম নয়; বোল্টের খেলার যে মান তাতে হুন্দাইয়ের হয়ে খেলাটা অসম্ভব কিছু নয়।

নেইমার এখনো বার্সেলোনার গলার কাঁটা!

দল ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যোগ দিয়েছেন তা‌ও এক বছরের বেশি হয়ে গেলো। তবু নেইমার এখন‌ও বার্সেলোনার গলার কাঁটাই হয়ে আছেন। নেইমার দল ছাড়ার পর‌ও ১৬ লাখ ইউরো পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে বার্সেলোনার বিপক্ষে। এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার স্প্যানিশ দলে যোগ দে‌ওয়ার সময় একটা শর্ত ছিলো যে, নেইমারকে প্রতিবার অন্য ক্লাবে বিক্রি করার জন্য ৩% অর্থ তার স্কাউট আন্দ্রে কুইরিকে দিতে হবে। কিন্তু পিএসজির কাছে নেইমারকে বিক্রি করার পর বছর পেরিয়ে গেলে‌ও বার্সেলোনা সেই অর্থ পরিশোধ করেনি।

অবশ্য শুরু থেকেই এই শর্তের বিপক্ষে ছিলো কাতালানরা। কিন্তু এবার নতুন করে বার্সার কাছে সেই টাকা চাইছেন কুইরি। তবে বার্সা এই অর্থ না দে‌ওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, নেইমারকে ক্লাব বিক্রয় করেনি, সে নিজেই প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে চলে গেছে। সুতরাং নীতিগতভাবে সেই শর্ত পুরণে তারা বাধ্য নয়।

তবে শর্ত মতো অর্থ না পেয়ে আন্দ্রে কুইরি আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। কুইরির আইনজীবি জানিয়েছে চুক্তিতে থাকা অর্থ না দিলে বার্সেলোনার বিপক্ষে চুক্তিভঙ্গের মামলা করবেন।

গ্র্যান্ডস্লাম জেতা আমার জন্য দারুণ অর্জন: না‌ওমি ‌ওসাকা

ইউএস ওপেনের চমক নাওমি ওসাকা। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টে এসে জিতলেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম। ফাইনালে টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি আমেরিকান সেরেনা উইলিয়ামসকে পরাজিত করে জাপানের ইতিহাসে প্রথম মেজর কোন টুর্নামেন্ট জয়ের বিরল এক রেকর্ড গড়েন নাওমি ওসাকা। কিন্তু ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন ওসাকার চেয়েও আলোচনায় ফাইনালে হেরে যাওয়া সেরেনা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কোড অব কন্ডাক্ট ভেঙ্গে, চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস রামোসের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম দখল করে নেন উইলিয়ামস পরিবারের ছোট মেয়েটি। তারপরও সেরেনার এমন আচরণে কোন আক্ষেপ কিংবা অনুশোচনা নেই ২০ বছরের এই জাপানী তরুণীর।

বৃহস্পতিবার নিজের দেশ জাপানে ফিরেই সংবাদ মাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা জানান নাওমি ওসাকা। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটা মোটেও দুঃখের কিছু নয়। কেননা সেই মুহূর্তে যে আমার কেমন অনুভব করা উচিত ছিল সেটা জানা ছিল না। এ বিষয়ে সত্যিই আমার কোন অনুশোচনা নেই। কারণ সবমিলিয়েই আমি খুব সুখী। আমার জন্য এটা দারুণ এক অর্জন।’

ইউএস ওপেন জিতে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়েও এগিয়েছেন ওসাকা। ১৯ থেকে এক লাফে সাতে উঠে এসেছেন তিনি। তার লক্ষ্য এখন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচ। শুধু তাই নয়, এ বছরের শেষ টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালসেও খেলতে চান তিনি। ওসাকা বলেন, ‘আমি মনে করি, এ বছরে আমার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সিঙ্গাপুরে যাওয়া। প্যান প্যাসিফিক ওপেনে আমি ভাল করতে চাই। তারপর র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচে থেকে মৌসুম শেষ করতে চাই। তবে এ জন্য মোটেও নিজের ওপর কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে চাই না। এই সময়টা উপভোগ করতে চাই।’ এ সময় তিনি জানান, ‘প্যান প্যাসিফিক টুর্নামেন্ট তো একদম কাছে। তাই আমি ডায়েট শুরু করতে চাই তবে অবশ্যই আইসক্রিমটা চালিয়ে যেতে চাই।’

দুই বছর পরই জাপানে বসবে বিশ্ব ক্রীড়ার মহাযজ্ঞ অলিম্পিক আসর। টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য সেই টুর্নামেন্টের স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ওসাকা। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অলিম্পিকে খেলাটা প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন। তাই আমি অবশ্যই স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন দেখি। আর টোকিওতে অলিম্পিকের আসর হওয়ায় আমি আরও বেশি রোমাঞ্চিত।’

গত দেড় দশক ধরেই টেনিস বিশ্বে আলো ছড়াচ্ছেন সেরেনা। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৩টি গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। আমেরিকান কিংবদন্তির সামনে ছিল ২৪ গ্র্যান্ডস্লাম জিতে মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডে ভাগ বসানোর হাতছানি। কিন্তু সেই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান ওসাকা। সেরেনাকে ২৪তম গ্র্যান্ডস্লাম খেতাব জিততে দেননি তিনি। ফ্লাশিং মিডোয় আলো জ্বেলেছেন নাওমি। ফাইনালে সেরেনাকে হারিয়েছেন ৬-২, ৬-৪ সেটে। সেই সঙ্গে প্রথম জাপানী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে মেজর জিতে ইতিহাস লিখেছেন নাওমি। এক বছরে চারটি ভিন্ন সিঙ্গল জয়ের কৃতিত্ব গড়া নাওমি শেষ দুই মৌসুমে আটটি খেতাব জিতেছেন। ওপেন এরায় ডব্লিউটিএ ট্যুরে এটাই প্রথম। ১৬ অক্টোবর, ১৯৯৭ সালে জাপানের ওসাকাতে জন্মান তিনি। ১৯৯৯ সালে সেরেনা প্রথম খেতাব জিতেছিলেন। তখন নাওমির বয়স ছিল দু’বছর। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে মেজর টুর্নামেন্ট জয়ের রেকর্ড এখন ওসাকার। তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন চিনের লি না।

নাওমির মা জাপানী, বাবা হাইতির। সেরেনাই তার আইডল। ২০১৩ সালে পেশাদার টেনিস শুরু করে নাওমি। তিন বছর বয়সেই নিউইয়র্কে চলে আসেন তিনি। এখন ফ্লোরিডার মিয়ামিতে প্রশিক্ষণ নেন। সাসচা বাজিনের কাছে টেনিসের পাঠ নেন। এই সাসচাই সেরেনাকে আট বছর ট্রেনিং দিয়েছিলেন। নাওমি ২০১৪ সালে অকল্যান্ডের ওয়েস্ট ক্লাসিকে ডব্লিউটিএ ট্যুরের প্রথম মেইন ড্র’তে আসেন।

নাওমি সেবার সামান্থা স্টোসারকে হারিয়ে আন্দ্রে পেটকোভিচের কাছে হেরে যান। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তার প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম অভিষেক হয় কোয়ালিফায়ার হিসেব। টুর্নামেন্টের ১৮তম বাছাই এলিনা সিতোলিনার বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডে জয় পান। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে টুর্নামেন্টের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার কাছে হেরে যান তিনি। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রথমবার কেরিয়ারে প্রথম ১০০তে আসেন। এ বছরের মার্চে ইন্ডিয়ান ওয়েলস জিতে প্রথম ডব্লিউটিএ খেতাব পান তিনি। মারিয়া শারাপোভা, ক্যারোলিনা পিসকোভা ও সিমোনা হ্যালেপের মতো তারকাদের হারিয়েছিলেন সেই টুর্নামেন্টে। ইউএস ওপেন জিতে ছাড়িয়ে গেলেন নিজের অতীতের সব পারফর্মেন্সকেই।

শচীনকে হেঁয় করে আলোচনায় অভিনেত্রী

অভিনয়টা তার হোক চাই না হোক, কিভাবে আলোচনায় থাকতে হবে সেটা তিনি ঠিকই জানেন। আর যেভাবেই হোক, প্রচারের আলোতেই থাকতে ভালবাসেন তিনি। হোক না সেটা যে কোনও উপায়ে। বলা হচ্ছে, দক্ষিণী অভিনেত্রী শ্রী রেড্ডি-র কথা। অভিনয়ের জন্য খুবই কম তবে পর্দার বাইরে কাণ্ড ঘটানোর জন্য বিখ্যাত তিনি। সেই শ্রী রেড্ডি নিজের ফর্ম ধরে রাখার জন্য এবার টার্গেট করেছেন শচীন টেন্ডুলকারকে।

ফেসবুক পোস্টে শ্রী রেড্ডি লিখলেন, শচীন টেন্ডুলকার একজন রোম্যান্টিক মানুষ। যখনই তিনি হায়দরাবাদে আসেন, চার্মিং গার্ল (পরোক্ষভাবে তিনি ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন অভিনেত্রী চার্মিং কউরকে) তাঁর সঙ্গে রোম্যান্স করতে লেগে পড়ে। হাই প্রোফাইল চামুণ্ডেশ্বর এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করেন। গ্রেটেস্ট মানুষরা ভাল খেলে, মানে রোম্যান্সের ক্ষেত্রেও।

স্বাভাবিকভাবেই দেশের ক্রিকেট আইকন-এর ব্যাপারে এমন বেফাঁস মন্তব্য করার পর শ্রী রেড্ডি শচীন-ভক্তদের হাত থেকে রেহাই পাননি। চারপাশ থেকে তাঁর জন্য ধেয়ে আসছে টিটকিরি ও সমালোচনা।

ক্রিকেটসর্বস্ব এই দেশে শচীন টেন্ডুলকার মানে আলাদা একটা আবেগ। তাছাড়া মাস্টার ব্লাস্টারের নামের পাশে কখনও কোনও বিতর্ক জায়গা পায়নি। সেখানে টেন্ডুলকারের ব্যাপারে এমন মন্তব্য করে শ্রী রেড্ডি সস্তার প্রচার পেতে চাইছেন বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

এর আগেও একাধিকবার এমন বেফাঁস মন্তব্য করে শিরোনামে থেকেছেন দক্ষিণী সিনেমা জগতের এই অভিনত্রী। পরিচালক সুরেশ বাবুর ছেলে অভিরাম ডাগ্গুবাটির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তাছাড়াও দক্ষিণের একাধিক পরিচালক ও অভিনেতার বিরুদ্ধেও একধিকবার একই অভিযোগ করেন শ্রী রেড্ডি।

সাফ অ-১৫ ফুটবলে বাংলাদেশর গ্রুপে চার দল

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ ফুটবলের এ-গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের অন্য দলগুলো হলো- নেপাল, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। বি-গ্রুপে রয়েছে ভারত, ভুটান ও শ্রীলংকা। ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্টটি।

গ্রুপ পর্বে উদ্বোধনী দিনে মালদ্বীপ, ২৭ অক্টোবর পাকিস্তান এবং ২৯ অক্টোবর নেপালের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ১ নভেম্বর দু’টি সেমিফাইনাল এবং দু’দিন পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভবনে টুর্নামেন্টের গ্রুপিং নির্ধারনের জন্য ড্র অনুষ্ঠিত হয়। সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলালের পরিচালনায় ড্র অনুষ্ঠটানে উপস্থিত ছিলেন ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিন্দু দর্জি।

বিরাটকে সরিয়ে দয়া হলো!

বিরাট কোহলির ডেপুটির অজিঙ্কা রাহানেকে করা হলো ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। ইংল্যান্ডে ব্যর্থ নিয়মিত অধিনায়ক বিরাটকে সিরয়ে দেয়া হয় দলের দায়িত্ব থেকে। তবে তিনি ঠিকই দলে থাকছেন। তাকে দেখা যাবে টিম ইন্ডিয়ার নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের অধীনে।

আসন্ন বিজয় হাজারে ট্রফির জন্য মুম্বই দলের ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হলেন টেস্ট টিমে বিরাট কোহলির ডেপুটির ভূমিকা পালণ করা অজিঙ্কা রাহানে। এবার জাতীয় ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে রাহানেকে পাওয়া যাবে বলে আদিত্য তারের পরিবর্তে তাঁর হাতেই নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই নির্বাচকরা।

আসন্ন এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি রাহানের। সুতরাং ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলতে অসুবিধা নেই তাঁর। রাহানে দলে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তাকে নেতা হিসাবে বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

রাহানের নেতৃত্বে পনের জনের দলে রয়েছে বেশ কয়েকটা উল্লেখযোগ্য নাম। সদ্য টেস্ট দলে সুযোগ পা‌ওয়া পৃথ্বী শ এবং ভারতীয়-এ দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারকেও খেলতে দেখা যাবে বিজয় হাজারে ট্রফিতে। শ্রেয়স আপাতত রাহানের সহকারীর দায়িত্ব পালণ করবেন। পরে রাহানের থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে পারেন। এছাড়া সূর্য্যকুমার যাদব ও আদিত্য তারের মতো তারকা দলে রয়েছেন।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে মালদ্বীপের প্রতিপক্ষ ভারত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে উঠেছে ভারত। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে জোড়া গোল করেন মানভির সিং। আর একটি গোল আসে ভারতের ফরোয়ার্ড সুমিত পাসির পা থেকে। পাকিস্তানের হয়ে ব্যবধান ঘোঁচানো একমাত্র গোলটি করেন হাসান বাশির। এ নিয়ে এগারোবারের মতো ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেলো ভারত।

শুধুমাত্র ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতীয়দের। এদিকে, দিনের প্রথম সেমি ফাইনালে নেপালকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে মালদ্বীপ। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে দল দু’টি মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়।

মর্যাদার এ লড়াইটি ছিল বেশ ঘটনা বহুল। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দুই আগে দু’দলের ফুটবলাররা জড়িয়ে পড়েছিলেন হাতাহাতিতে। রাফ ট্যাকলকে কেন্দ্র করে ঘটে এ ঘটনা। আর তাতেই রেফারি ভারতের লালিয়ানজুয়ানা চাংতে ও পাকিস্তানের মহসীন আলীকে লাল কার্ড দেখান।

ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই অন্যরকম এক উত্তেজনা। গ্যালারীতে দর্শক থাকবেই। থাকবে কথার লড়াই। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেও দেখা গেছে সেই একই চিত্র। স্বাগতিক বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকে ছিঁটকে পড়ার পরও প্রায় হাজার পাঁচেক দর্শক উপস্থিত ছিলো সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই দেখতে। প্রিয় দলের পতাকা, ভুভুজেলা আর ঢোল-বাদ্য নিয়ে গ্যালারী মাতিয়ে রেখেছেন তারা।

শক্তির বিচারে পাকিস্তানের চেয়ে যোজন-যোজন এগিয়ে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি দলটি গত কয়েকটি আসরেই নিজেদের মূল দলকে না পাঠিয়ে বয়সভিত্তিক দলকে সাফ খেলার জন্য প্রেরণ করে। এবারো এর ব্যতয় হয়নি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে পাঠিয়েছে লড়াইয়ের জন্য। গ্রুপ পর্বে দূর্দান্ত খেলা ভারত আজও ছিল ছন্দে। কর্দমাক্ত মাঠে শুরু থেকেই চেপে ধরে পাকিস্তানকে। একের পর পর আক্রমন করলেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ দেখেনি তারা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গোলের দেখা পেয়ে যায় সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। বাঁপ্রান্ত দিয়ে মিডফিল্ডার আশিকের মাইনাসে দৌড়ে এসে দারুন এক প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে উৎসবে মাতিয়ে তুলেন মানভির সিং (১-০)।

২১ মিনিট পর আবারো গোল করে ব্যবধান ২-০তে নিয়ে যান মানভির। দুই মিনিট আগে বদলী হিসেবে মাঠে নামা লালিয়ানজুয়ানা চাংতের পাসে বল পেয়ে যান ভিনিত রায়। তার মাইনাসে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড (২-০)।

এরপরও যেনো গোলের ক্ষুধা থামছিল না ভারতের। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে বাঁদিক থেকে আশিক কুরুনিয়ার লবে দৌড়ে এসে দারুন এক হেড গোল করেন বদলী হিসেবে মাঠে নামা সুমিত পাসি (৩-০)।

দুই মিনিট পরই ঘটে যায় ন্যাক্কারজনক ঘটনা। রাফ ট্যাকলকে কেন্দ্র করে লালিয়ানজুয়ানা চাংতে পাকিস্তানী এক ফুটবলারকে ঘুষি ছুঁড়েন। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে এসে তাকে পাল্টা আঘাত করেন পাকিস্তানী মহসীন আলী। রেফারি শিভাকর দু’জনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বের করে দেন।

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করে পাকিস্তান। হাসান বশির বাঁ পায়ের শটে গোল করে ব্যবধান ঘুঁচিয়ে আনেন (৩-১)। কিন্তু পরাজয় এড়ানোর জন্য যা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় দিয়েই ফাইনালে পা রাখে ভারত।

পঞ্চমবারেরর মতো সাফের ফাইনালে মালদ্বীপ

গ্রুপ পর্বে নেই জয়। নেই কোন গোল। মাত্র একটি ম্যাচে ড্র করেছিল। এক পয়েন্ট নিয়ে টস ভাগ্যের সহায়তায় সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল মালদ্বীপ। সেই দলটিই আজ বুধবার নেপালকে চমকে দিয়ে ফাইনালের মহারণ নিশ্চিত করে ফেলেছে। শেষ চারের লড়াইয়ে শিরোপা প্রত্যাশী নেপালকে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ৩-০ গোলের বড় পেয়েছে মালদ্বীপ। ইব্রাহিম হাসানের জোড়া গোলে দারুন এ জয় পায় দ্বীপ রাষ্ট্রটি। এছাড়া একটি গোল করেন অধিনায়ক আকরাম আব্দুল ঘানি।

সর্বশেষ ২০০৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল খেলেছিল মালদ্বীপ। তবে সেবার ট্রফি জেতা হয়নি। ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঐ ফাইনালে টাইব্রেকার শুট আউটে ৩-১ গোলে হারে তারা।

ম্যাচ শুরুর ৩০ মিনিট আগে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টির কারনে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে উঠেছিল। ফুটবলাররা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিলেন না। সমস্যাটা যেনো বেশী হচ্ছিল নেপালি ফুটবলারদের। গ্রুপ পর্বে দূর্দান্ত খেলা দলটি আজ যেনো ভুল পাসের মহড়া দিচ্ছিল। অথচ গ্রুপ পর্ব থেকে ভাগ্যের সহায়তায় শেষ চারে আসা মালদ্বীপ এগিয়ে যায় ম্যাচের ৯ মিনিটেই। গোলের নায়ক অধিনায়ক আকরাম আব্দুল ঘানি। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিক নেন। নেপালি ডিফেন্ডার সুমন আরিয়াল বল প্রতিহত করতে গিয়েও পারেননি। তার দু’পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে প্রবেশ করে। গোলরক্ষক কিরন কুমার কিছুই করতে পারেননি।

কিছু সময় পর আবারো অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়। ২৭ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ চলার পর ম্যাচ কমিশনার চেং লিয়ান চেং বজ্রপাত বিরতি ঘোষনা করেন।

৩৩ মিনিট পর বল আবারো মাঠে গড়ায়। ৩৭ মিনিটে দারুণ এক আক্রমন রচনা করেও হতাশ হতে হয় নেপালকে। অধিনায়ক ভারত খাওয়াজের নেয়া শটটি খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। দুই মিনিট পর আরো একটি সহজ সুযোগ পেয়েছিল বাল গোপালের শিষ্যরা। সে যাত্রায়ও ব্যর্থ তারা। বক্সের ভেতর থেকে বিমলের আড়াআড়ি শটটি ছোট বক্সের ভেতর থেকেও ঠিকমতো প্লেস করতে পারেননি অধিনায়ক ভারত খাওয়াজ।

দ্বিথীয়ার্ধে মাঠে নামার মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যেই নেপালের ভিত আরো একবার কাঁপিয়ে দিয়েছিল মালদ্বীপ। ইব্রাহিম হোসেন পাস থেকে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাঁটিয়ে গোলরক্ষক কিরন কুমারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন হাসান নাইজ। কিন্তু তার নেয়া শট আর জালের ঠিকানা পায়নি। গোলরক্ষকের পায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায়। অথচ ঠান্ডা মাথায় শট নিলে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলতে পারতেন এ ফরোয়ার্ড।

নেপাল গোল শোধ করতে না পারলেও ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে গোলের গ্রাফটা ঠিকই উপরে নিয়ে যায় মালদ্বীপ। গোল করেন ইব্রাহিম হাসান। ডানদিক থেকে বদলী হিসেবে মাঠে নামা আসাদুল্লাহর মাইনাস নেপালের ডিফেন্ডার দিনেশ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সে দাঁড়ানো ইব্রাহিমের পায়ের সামনে এসে যায় বল। ঠান্ডা মাথার জোড়ালো শটে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড।

দুই মিনিট পর মালদ্বীপের হয়ে তৃতীয় ও ব্যাক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন ইব্রাহিম (৩-০)।

সবার আগে ঢাকায় বাহরাইন

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেতে সবার আগে ঢাকায় পৌঁছেছে বাহরাইন। আজ বুধবার সকালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির নারী ফুটবলাররা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছান। আগামী শনিবার থেকে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে এএফসির এই নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট।

ঢাকায় হবে প্রথম পর্বের ‘এফ’ গ্রুপের খেলা। বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও লেবানন খেলবে ঢাকার গ্রুপে। মেয়েদের এই টুর্নামেন্টে এবার দল বাড়ায় ফরম্যাটেও পরিবর্তন এনেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।

আগের আসরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা উঠেছিল চূড়ান্ত পর্বে। গতবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্ত পর্বে যায়গা পেয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার চূড়ান্ত পর্বে যেতে দুটি সিঁড়ি ভাঙ্গতে হবে দলগুলোকে। প্রথম রাউন্ডের ৬ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা দুই রানার্সআপ দল উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ৮ দল দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে ২ গ্রুপে। সেখান থেকে চারটি দল উঠবে চূড়ান্ত পর্বে। চূড়ান্ত পর্বের আয়োজক এবারও থাইল্যান্ড। স্বাগতিক থাইল্যান্ড এবং উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সরাসরি খেলবে শিরোপা নির্ধারনী পর্বে।

বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ সেপ্টেম্বর বাহরাইনের বিরুদ্ধে। ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ লেবানন। বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ২১ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচ ২৩ সেপেটম্বর ভিয়েতনামের সঙ্গে।

সবে সাফল্য শুরু-অনেক দূর যেতে হবে : সোহেল

দেশের শীর্ষ গলফারদের অন্যতম সাখাওয়াত হোসেন। কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের জায়গা করার জন্য লড়ছিলেন। অবশেষে মালয়েশিয়ায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুর টুর্নামেন্ট জিতে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। সেই সাফল্য কথাই তিনি ভাগাভাগি করেছেন বাংলাদেশের খেলার ভক্তদের কাছে।

প্রশ্ন : ট্রফি হাতে দেশে ফিরলেন, বিমানবন্দরেই পেলেন সংবর্ধনা—সব কিছু মিলিয়ে ব্যাপারটা কেমন লাগছে?

সাখাওয়াত হোসেন : আন্তর্জাতিক একটা ট্রফি হাতে দেশে ফিরবো এই স্বপ্ন তো আমার অনেক দিনের। এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ট্যুরের শিরোপা হলেও এ স্বপ্ন আমার পূরণ হয়েছে। এ আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। ফেরার পর সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি আপ্লুত। আমি বলতে চাই, এ সাফল্য আমার শুরু; এখান থেকে অনেক দূর যাওয়ার আছে আমার।

প্রশ্ন : প্লে-অফে ইগল মেরে সবাইকে বিস্মিত করেছেন, কিভাবে হলো এমন কিছু?

সাখাওয়াত : গত জুলাইয়েই আরেকটা টুর্নামেন্টে প্লে-অফে আমি হেরে গিয়েছিলাম। সেই শিক্ষাটাই আমি এ টুর্নামেন্টে কাজে লাগিয়েছি বলতে পারেন। আমার কোচ অ্যান্ড্রু আর্গুসের সঙ্গেও এ নিয়ে আমার কথা হয়েছে। উনার পরামর্শ ছিল যখন যে শটটা মারছি, সে শটটা নিয়েই শুধু ভাবতে। আগে-পরের সব কিছু মন থেকে মুছে ফেলার সূত্রেই আমার এ সাফল্য। এ পরিস্থিতিতে ইগল খেলাটা আসলেই অন্য রকম। আমি নিজেও অবাক হয়েছি।

প্রশ্ন : কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দুটি টুর্নামেন্টে শিরোপার জন্য প্লে-অফ খেলা। তার মানে যে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আপনি নিজেও উদ্বিগ্ন ছিলেন, তা কি কেটে গেছে?

সাখাওয়াত : অনেকটাই। গলফে আবেগ নিয়ন্ত্রণটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। টুর্নামেন্ট থেকে টুর্নামেন্টে শুধু নয়, টুর্নামেন্টের মধ্যেও আমি ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেছিলাম সব কিছুতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে। এখন তো শুধু যে শটটা খেলছি তা নিয়েই ভাবার চেষ্টা করছি। যে কারণে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাটা সহজ হচ্ছে। এ জন্য আমার কোচের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সব কিছু সহজভাবে নেওয়ার শিক্ষাটাই তিনি আমাকে দিয়েছেন।

প্রশ্ন : অনেক দিন ধরেই তো অস্ট্রেলিয়ান এই কোচের সঙ্গে আপনি কাজ করছেন।

সাখাওয়াত : হ্যাঁ, সাত-আট বছর হবে। উনি মালয়েশিয়াতেই থাকেন। এ টুর্নামেন্টের সময় আমি তাঁকে পাশে পেয়েছি ভালোভাবেই।

প্রশ্ন : এ টুর্নামেন্ট জিতে তো আপনি আগামী বছর এশিয়ান ট্যুরে সুযোগ পাওয়ারও পথ করে ফেলেছেন?

সাখাওয়াত : হ্যাঁ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুরের অর্ডার অব মেরিটে শীর্ষ সাতে থাকতে পারলে আগামী বছর বাছাই ছাড়াই আমি এশিয়ান ট্যুর খেলতে পারব। আর সত্যি বলতে এটাই আমার লক্ষ্য। যে কারণে ভারতীয় সার্কিট পিজিটিআইয়ের চেয়ে আমি এডিটিতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি।

প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের জয়, ড্র আর্জেন্টিনার

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল বড় জয় পেলে‌ও ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। একই দিনে ভিন্ন স্বাদ পেয়েছে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। নেইমার-কুতিনহোরা ৫-০ গোলে এলসালভাদরকে পরাজিত করলে‌ও, কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে লিওনেল মেসিহীন আর্জেন্টিনা।

ব্রাজিলের হয়ে একটি গোল করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমার। দলের হয়ে জোড়া গোল পেয়েছেন রিসারলিসন এবং একটি করে গোল করেন কুতিনহো ও মারকুইনহোস। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই ম্যাচেই অভিষেক হয় ২৯ বছর বয়সি নেতো’র।

শক্তির বিচারে এল সালভাদরের জন্য অবাক করা কিছুই ঘটেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে টানা দ্বিতীয় পেনাল্টিতে গোল করে ব্রাজিলিয়ানদের গোলের মুখ চেনান নেইমার। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটের সময় রিসারলিসন ডি-বক্সে ফেলে দেন এল সালভাদর ডিফেন্ডার ডমিনেজ। সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিকে সেলেসা‌ওদের এগিয়ে দেন নেইমার।

১২ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রিসারলিসন। গোলবারের কাছে রিসারলিসনের একেবারে পায়ের কাছে বল দেন নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটি করতে ভুল করেনি তিনি। ৩০ মিনিটে নেইমারের পাস থেকেই ব্যবধান ৩-০ করেন ফিলিপে কুতিনহো।

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে থেকেও একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ব্রাজিল। ৫০ মিনিটে রিসারলিসন আর‌ও এক গোল করলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে এতো গোল হজমের পর‌ও মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণ করেছে এল সালভাদর। কিন্তু কাজের কাজ করতে পারেনি তারা। উল্টো ম্যাচের শেষ মিনিটে নেইমারের ক্রস থেকে বল পেয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন মারকুইহোস।

অন্যদিকে, জিততে না পারলেও কলম্বিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা আরো বাড়িয়ে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০০৭ সালের পর আর্জেন্টাইদের বিরুদ্ধে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি কলম্বিয়ানরা।

মেসিকে ছাড়াই যে আর্জেন্টিনা অনেক ভালো দল সেটা গুয়েতেমালা ম্যাচে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ওই ম্যাচে ৩-০তে জিতেছিল মার্টিনেজ-সেলেসোরা। গোল করতে না পারলেও এদিন দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টাইনরা। কলম্বিয়ানরাও অবশ্য কম যায়নি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে। সাত মিনিটের সময় এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু এক্সকুয়েল পালাসিওর জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ান গোলকিপার ডেভিড আসপিয়া। এই ম্যাচের প্রথম একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন মাওরো ইকার্দি। তার প্রচেষ্টা‌ও ব্যর্থ করে দেন আসপিয়া।

পাল্টা আক্রমণে ৩০ মিনিটের সময় এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি রাদামেল ফ্যালকাও। প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও কোনো দল গোর-বন্ধাত্ম ঘোচাতে পারেনি। তাতে গোল শূন্য অবস্থাতেই মাঠ ছাড়ে দুদল।

কুকের টেস্টে ভারতের পরাজয়

ভারতের ম্যাচ ড্রয়ের স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়ে ওভালে ভারতকে ১১৮ রানে হারিয়ে পাঁচ টেস্টের সিরিজ ৪-১ জিতলো ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে অ্যালিস্টার কুককে গ্র্যান্ড ফেয়ারওয়েল দিলো রুটবাহিনী। শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেটকে গুডবাই জানান প্রাক্তন ইংরেজ ওপেনার।

ষষ্ঠ উইকেটে লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পান্ট ২০৪ রান যোগ করে ম্যাাচ ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগালেও ইংল্যান্ড দ্বিতীয় নতুন বল নিতেই ভারতের সব আশা হা‌ওয়ায় মিলায়। তবে ম্যাচ হারলেও রাহুল ও পান্টের লড়াকু ইনিংস প্রশংসা আদায় করে নেয়। ৪৬৪ রান তাড়া করতে নেমে ৩৪৫ রানে থামে ভারতের ইনিংস। ম্যাচ সেরা বিদায়ী টেস্টে শতরানকারী কুক। আর যুগ্মভাবে সিরিজের সেরা হন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং নবাগত ইংরেজ পেসার স্যাম কুরান৷

ইংল্যান্ডের মাটিতে কঠিন পরিস্থিতিতে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ট৷ তার আগে টেস্ট কেরিয়ারে পঞ্চম সেঞ্চুরি করে দলে নিজর জায়গা মজবুত করেন রাহুল৷ চা-বিরতি পর্যন্ত ভারতের স্কোর পাঁচ উইকেটে ২৯৮। রাহুল ও ঋষভ পান্টের ১৭৭ রানের পার্টনারশিপে লড়াইয়ে ফেরে ভারত। লাঞ্চ থেকে চা-বিরতিতে কোনও উইকেট না-হারিয়ে ১৩১ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। শেষ দু’ঘণ্টা লড়াই করতে পারলে ম্যাচ ড্র করে কিছুটা হলেও মুখরক্ষা করতে পারত ভারত৷ কিন্তু শেষ সেশনে ভারতের লড়াই শেষ করে দেন অ্যান্ডারসন-কুরানরা৷ সেই সঙ্গে গ্রেন ম্যাকগ্রাকে টপকে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী পেসার হন জিমি এন্ডারসন৷

সোমবার দ্বিতীয় ইনিংসে আট উইকেটে ৪২৩ রানে ঘোষণা করেছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৪০ রানে এগিয়ে থাকার সুবাদে ভারতের সামনে জয়ের টার্গেট ছিল ৪৬৪ রানের৷ কিন্তু শুরুতেই ভারতীয় ইনিংসের তিন উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে রুটবাহিনী৷ মাত্র দু’ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ভারতের তিন ব্যাটসম্যান (শিখর ধাওয়ান ১, বিরাট কোহলি ০, চেতেশ্বর পূজারা ০)৷ কিন্তু সেখান থেকে ভারতীয় ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান অজিঙ্কা রাহানে এবং লোকেশ রাহুল৷ চতুর্থ উইকেটে ১১৮ রান যোগ করে রাহুল-রাহানে জুটি৷ তারপর দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ফের চাপে ভারত৷

১১৮ বলে ১৪টি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন পান্ট৷ ভারতের প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করে নজির গড়েন দিল্লির এই তরুণ। শুধু তাই নয়, ভারতের চতুর্থ ক্রিকেটার (কপিল দেব, হরভজন সিং, ইরফান পাঠানের পর) হিসেবে ছক্কা মেরে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন পান্ট৷

সিমোনা হালেপই শীর্ষে

মহিলা টেনিস র‌্যাংকিং-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন রোমানিয়ার সিমোনা হালেপ। বছরের চতুর্থ ও শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেনের শিরোপা জয় করা জাপানের নাওমি ওসাকা ১২ ধাপ এগিয়ে র‌্যাংকিং-এর শীর্ষ দশে প্রবেশ করেছেন। ওসাকা এখন অবস্থান করছেন সপ্তম স্থানে। তার রেটিং পয়েন্ট ৪,১১৫।

শীর্ষ নারী টেনিস তারকা সিমোনা হালেপ

ইউএস ওপেন শুরুর আগে ওসাকা ছিলেন ১৯তম স্থানে। ইউএস ওপেনের সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলতে পারবেন, এমন বিশ্বাসও ছিলো না ওসাকার। কিন্তু বিশ্বকে চমকে দিয়ে এবারের আসরের ফাইনালে উঠেন ওসাকা। এখানেই চমক থেমে রাখেননি তিনি। ২৩বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী সেরেনাকে ফাইনালে বিধ্বস্ত করে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে নেন ২০ বছর বয়সী তরুণী ওসাকা। এটিই ছিলো তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য এবং প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়। গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টগুলোতে ওসাকার সেরা সাফল্য ছিলো তৃতীয় রাউন্ড। ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডনের তৃতীয় রাউন্ড পর্যন্ত গিয়েছিলেন ওসাকা।

ইউএস ‌ওপেন জয়ী নাওমি ওসাকা

এবারের ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন হালেপ। এমন লজ্জার বিদায়ের পরও র‌্যাংকিং-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। ৮,০৬১ রেটিং পয়েন্ট হালেপের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে। হালেপের পরই দ্বিতীয়স্থানে রয়েছেন ডেনমার্কের ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। হালেপের মত ইউএস ওপেনে ভালো পারফরমেন্স করতে পারেননি তিনিও। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেন ওজনিয়াকি। সাফল্য না পেলেও, র‌্যাংকিং-এ কোন হেরফের হয়নি তার। ৫,৯৭৫ পয়েন্ট রয়েছে ওজনিয়াকির।

শীর্ষ নারী টেনিস তারকা সিমোনা হালেপ

শীর্ষ দশ খেলোয়াড়ের র‌্যাংকিং (মহিলা) :
১. সিমোনা হালেপ (রোমানিয়া) ৮০৬১
২. ক্যারোলিন ওজনিয়াকি (ডেনমার্ক) ৫৯৭৫
৩. অ্যাঞ্জেলিক কারবার (জার্মানি) ৫৪২৫
৪. ক্যারোলিন গার্সিয়া (ফ্রান্স) ৪৭২৫
৫. পেত্রা কেভিতোভা (চেক প্রজাতন্ত্র) ৪৫৮৫
৬. ইলেনা সভেৎলিনা (ইউক্রেন) ৪৫৫৫
৭. নাওমি ওসাকা (জাপান) ৪১১৫
৮. ক্যারোলিনা প্লিসকোভা (চেক প্রজাতন্ত্র) ৪১০৫
৯. স্লোয়ানি স্টিফেন্স (যুক্তরাষ্ট্র) ৩৯১২
১০. হেলেনা ওস্তাপেঙ্কো (লাতভিয়া) ৩৭৮৭

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াড এখন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। জর্জিয়ার বাটুমি শহরে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সর্বোচ্চ দলগত এ আসরের পর্দা উঠবে। সুইস লিগ পদ্ধতিতে বিশ্বের দেশগুলো ওপেন ও মহিলা বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বরাবরের মতো বাংলাদেশও এ আসরে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন অলিম্পিয়াডের ওপেন ও মহিলা বিভাগে দল পাঠাবে। বর্তমানে দলটিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গ্র্যান্ড মাস্টার ইগর রাওসিস। জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে জাতীয় দল গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে ১৫ সদস্যের লাল-সবুজের দল অলিম্পিয়াডে যাচ্ছে। এ ছাড়া কন্টিনজেন্টের বাইরেও নিজ খরচায় অনেক কর্মকর্তারা জর্জিয়ায় যাচ্ছেন। উল্লেখ্য এ নিয়ে বাংলাদেশ ১৮বারের মত বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট : হেড অব ডেলিগেশন কে এম শহিদউল্যা, ডেলিগেট সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম। আরবিটার হারুন অর রশিদ।

ওপেন বিভাগ : গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, গ্র্যান্ডমাস্টার মোল্লা আবদুল্লাহ আল রাকিব, গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব ও ফিদে মাস্টার খন্দকার আমিনুল ইসলাম ও ফিদে মাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান।

ক্যাপ্টেন : সুপার গ্র্যন্ড মাস্টার ইগর রাওসিস।

জাতীয় মহিলা দল : আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা, মহিলা ফিদে মাস্টার শারমিন সুলতানা শিরিন, মহিলা ফিদে তনিমা পারভীন ও মহিলা ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানা।

ক্যাপ্টেন : মহিলা ক্যান্ডিডেট মাস্টার মাহমুদা হক চৌধুরী মলি।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ফেভারিট: সাকিব আল হাসান

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলেই বিশ্বাস করেন দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে কোন দলকেই ছোট হিসেবে দেখছেন না বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। দুবাইয়ে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শেষে এসব কথা বলেন, সাকিব আল হাসান।

গত ছয় বছরে এশিয়া কাপের তিন আসরের দুটিতেই ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। তাছাড়া ক্রিকেটের তিন সংস্করণের মধ্যে ওয়ানডেতেই সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী টাইগাররা। সিনিয়র ক্রিকেটাররাও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। সেই সাথে দলে আছেন বেশ কিছু তরুণ ও মেধাবী ক্রিকেটার। তাই সহ-অধিনায়ক সাকিব মনে করেন, এশিয়ার সেরা দল হওয়ার সব সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের। সাকিব আল হাসান বলেন, ‘এশিয়ার কাপের শিরোপা জয়ই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যেতে চাই। এখন আমাদের প্রধান কাজটাই হল পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা। সেটা ঠিকমত করতে পারলে আমাদের শিরোপা জয় অসম্ভব নয়।’

গ্র“প ‘বি’তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। তাই সুপার ফোরে ওঠা বাংলাদেশের জন্য খুব কঠিন কিছু নয়। তবে কোন প্রতিপক্ষকেই সহজ হিসেবে নিতে চাননা বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তিনি জানান, ‘টুর্নামেন্টে কোন দলই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। আফগানিস্তানও অনেক উন্নতি করেছে। টি-টোয়েন্টিতে আমরা তাদের কাছে সিরিজও হেরেছি। সংক্ষিপ্ত ফরমেটে ওরা খুবই শক্তিশালী। যদিও আমরা তাদের শক্তি ও দূর্বলতা সম্পর্কে জানি। তবে আমরা সব প্রতিপক্ষকেই আমরা সমীহ করছি।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারত ও পাকিস্তানের সমর্থকই বেশী। তবে গ্যালারিতে টাইগার ভক্তদের কমতি থাকবেনা বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক বাংলাদেশী বসবাস করে। আশা করি তারাও মাঠে আসবেন আর আমাদের উৎসাহিত করবেন। আমার মনে হয় প্রতিযোগিতামূলক একটা টুর্নামেন্টই অনুষ্ঠিত হবে।’

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তার আগেই নিজেদের সেরা প্রস্তুতিটাই নিতে চায় টাইগাররা।

বঙ্গবন্ধুতে কাল ভারত-পাকিস্তান মহারণ

সাফ সুজুকি কাপের গ্রুপ পর্ব শেষ। এবার অপেক্ষা সেমি ফাইনালের। আজ শুরু শেষ চারের লড়ায়ে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে উপমহাদেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারত-পাকিস্তান। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায় শুরু হবে মর্যাদার এই লড়াই। শুধু কি মর্যদার, উপমহাদেশের সবচেয়ে আকর্ষনীয় লড়াই‌ও এটি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম আগামীকাল রোমাঞ্চ ছড়ানো অপেক্ষায়। কতোদিন পর ঢাকার দর্শকরা এমন একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পারবে, সেটা অনেক হিসেব কষে বের করতে হবে। সেমিফাইনালের মহারণে নামার আগে দু’দলই বেশ সাবধানী। কেউ নিজেদের ফেবারিট ভাবছেন না। বরং প্রতিপক্ষ দলকে সমীহ করে কথা বলছেন। তবে দুই দলের এ লড়াইটি যে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হবে- সেটার আভাসটা দিলেন দুই দলের কোচই।

সাফ ফুটবলের শিরোপাটা ভারতের কাছে মুড়ি-মুড়কির মতো। এ পর্যন্ত সাতবার সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে ভারতীয়রা। তারা এখন আর জাতীয় দল পাঠায় না সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টে। অনূর্ধ্ব-২৩ দল দিয়েই লড়াই করে শিরোপা নিয়ে যায় দেশে। তবে পাকিস্তানের কাছে সাফ মানে অারাধ্য একটি টুর্নামেন্ট। এখনো পর্যন্ত ফাইনালই খেলা হয়নি দলটি। আর এক দশক পর শেষ চারে উঠেছে গত তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বসনে থাকা পাকিস্তান। তাই এবার আর ভুল নয়, বরং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিরুদ্ধে দারুণ এক লড়াই দিয়েই প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে নাম লেখাতে মরিয়া পাকিস্তান। তবে অতীত ইতিহাস কিংবা পরিসংখ্যান কিন্তু তাদের পক্ষে নেই। র‌্যাংকিংয়ে ভারতের অবস্থান ৯৬ নম্বরে। আর পাকিস্তান আছে ২০১ নম্বরে। অবশ্য র‌্যাংকিংয়ের এ অবস্থানটা তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারনে। ভারতের বিরুদ্ধে ২৩ বারের লড়াইয়ে মাত্র তিনবার জয় আছে পাকিস্তানের। ১৪ ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছিল ভারত। আর ছয়টি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।

পরিসংখ্যান পক্ষে থাকলেও পাকিস্তানকে বেশ সমীহ করেই মাঠে নামবে ভারত। দলের সহকারী কোচ ভেঙ্কেটশ সঙ্গম তেমনটাই জানালেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার ম্যাচ। আশাকরি আমরা ভালো খেলবো এবং ফাইনাল নিশ্চিত করবো। আমরা ফেবারিট নই। তবে আমরা দল হিসেবে ভালো পারফর্ম করতেই এখানে এসেছি। এ দলটাকে তিন বছর ধরে গড়ে তুলেছি। পাকিস্তানী শক্তিশালী দল। ফিজিক্যালি এগিয়ে আছে তারা। সুতরাং এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে বলেই আশা করছি।’

পাকিস্তানের কোচ জোসে আন্টনিও নোগেইরার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর, ‘যেহেতু প্রতিপক্ষ ভারত তাই আমরা এ ম্যাচ খেলার জন্য বেশ মুখিয়ে আছি। আমরা ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবো। দলকে ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ছেলেরা।’

এক দশক পর সাফের সেমিতে পাকিস্তান। তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে থাকার পর কোন প্রকার চাপ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, ‘আমি পেশাদার কোচ। এরকম পরিস্থিতি আমি আগেও ফেস করেছি। যে কারনে এটাকে চাপ মনে করছি না। আমি নির্ভার হয়ে থাকতে চাই। ভালো খেলা উপহার দিতে চাই। ভারত খুবই গোছানো একটা দল। এ টুর্নামেন্টের জন্য তারা তিন বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করবো ফাইনালে খেলার।’

অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা তিন বছর ধরে আন্তর্জাতিক আসর থেকে নির্বাসিত ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই দল ছিল অগোছালো। কিন্তু কোচ ও কর্মকর্তা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দলটিকে তৈরি করেছেন। এ মুহুর্তে দল খুব ভালো অবস্থায় আছে। প্রতিটি খেলোয়াড়ই তাদের ফিটনেসের মধ্যে রয়েছে। আমরা খুব রোমাঞ্চিত। আশাকরি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবো।’

নেপাল-মালদ্বীপ দুই দলেরই লক্ষ্য ফাইনাল

সাফ ফুটবলের চলতি আসরে যাত্রাটা সুখকর ছিল না নেপালের জন্য। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ২-১ গোলে হারের মধ্য দিয়ে আসর শুরু করে, পরের দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর এখন ফেবারিটের আসনে তারা। বিশেষ করে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের দারুন জয়ের পর বেশ উজ্জীবিত এখন নেপালিরা। শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছে এখন হিমালয়ে কন্যার এই দলটি। আগামীকাল বুধবার শিরোপা জয়ের মিশনের আরো একধাঁপ এগিয়ে যেতে তাদের মুখোমুখি হতে হবে মালদ্বীপের। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল চারটায় শুরু হবে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালকে ঘিরে বেশ উজ্জিবীত নেপাল ফুটবল দল। তবে ফাইনালের স্বপ্ন দেখা হিমালয়ের দেশটিকে প্রচ্ছন্ন একটা হুমকি দিয়ে রাখছে মালদ্বীপ। তাদেরও দৃষ্টি শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচের দিকে। নেপালকে হারিয়ে ফাইনালের মহামঞ্চে পা রাখতে চায় তারা।

গ্রুপ পর্বে ভুটান ও বাংলাদেশকে হারানোর পর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করা নেপালের মূল ভরসা তাদের আক্রমন ও রক্ষণভাগ। আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর দলটির কোচ বাল গোপাল মহার্জনের লক্ষ্য এখন ফাইনাল খেলা, ‘আমরা ভালো অবস্থায় আছি। দলে ইনজুরি সমস্যা নেই। নিজেদের যোগ্যতা প্রমান করেছি গ্রুপ পর্বে। আশাকরি আগামীকালও নিজেদের প্রমান করবে ছেলেরা। সর্বশেষ দুই ম্যাচে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে আমাদের জয় আছে। নেপালি ফুটবলের জন্য একটি নতুন ইতিহাস রচনা করবো কাল। গ্রুপ পর্বে যেভাবে খেলেছে, সেই ধারাটা ধরে রাখতে পারলেই হবে। ছেলেদের উপর আমার বিশ্বাস আছে।’

অধিনায়ক বিরাজ মহার্জনও বেশ আত্মবিশ্বাসী, ‘কাল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আশাকরি দেশের জন্য কিছু একটা করে দেখাতে পারবো। এজন্য আমরা রোমাঞ্চিত এবং আত্মবিশ্বাসী। তবে অতি আত্মবিশ্বাসী নই।’

ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে সেমি ফাইনালে উঠে আসা মালদ্বীপ শিবিরে রয়েছে ইনজুরি সমস্যা। তবে সবকিছু সামলে নিয়ে ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়েই কাল দল মাঠে নামবে বলে জানালেন কোচ পিটার সেগার্ট, ‘শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আমাদের কয়েকজন ফুটবলার ইনজুরিতে পড়েছিল। তবে সেই ইনজুরি নিয়ে চিন্তিত নই। যারা খেলার উপযুক্ত তাদের নিয়ে কাল সেমি ফাইনালে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত আছি। নেপাল অবশ্যই শক্তিশালী দল। তবে আমরাও আগের চেয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করবো। ফাইনালে খেলার লক্ষ্য পূরনের জন্য আমরা সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করবো। আশাকরি সফল হবো। অতীত নিয়ে আমি ভাবছি না। সেটা আমার কাছে মূখ্য বিষয় নয়। আমার কাছে এ মুহূর্তে বড় বিষয় রেজাল্ট। যেহেতু এটা সেমি ফাইনাল, তাই জয়-পরাজয় থাকবেই। আমরা জয়ের জন্যই খেলবো। সে অপেক্ষাতেই আছি। নেপাল ভালো দল।’

ফিপ্রো বিশ্ব সেরার সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ

ফিপ্রো বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় টানা ১৪তম বছরের মতো স্থান করে নিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। জুভেন্টাসের এই অ্যাটাকারের নাম ২০০৫ সালে প্রথম ফিপ্রোতে উঠেছিলো। তবে এবার সেরা হ‌ওয়ার লড়াইয়ে তার সঙ্গে আছেন লি‌ওনেল মেসি এবং নেইমার‌ও।

তবে ২০০৭ সাল থেকেই এই তিন ফরোয়ার্ড নিয়মিত ফিপ্রো’র তালিকায় স্থান পেয়ে আসছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে ফিপ্রো’র বিশ্ব সেরা একাদশের নাম ঘোষণা করা হবে।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্যদের মধ্যে বিশ্বকাপ জয়ী তারকা কিলিয়ান এমবাপে ‌ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রোমেলো লুকাকু‌ও আছেন। আছেন লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ এবং সাদি‌ও মানে। অবশ্য এই দু’জন এবারই প্রথম ফিপ্রো’র সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেলেন। তবে জায়গা হয়নি তাদের সতীর্থ রবার্তো ফিরমিনোর।

আর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার গোল্ডেন বুট জয়ী ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেন’ও আছেন এই তালিকায়। হ্যারি কেন ছাড়া‌ও তিন ইংলিশ খেলোয়াড়ের মধ্যে অন্য দু’জন হলেন কিয়েরন ট্রিপার ‌ও কাইল ‌ওয়াকার।

তবে ১৫ জনের সংক্ষিপ্ত এই তালিকায় জায়গা হয়নি গ্যারেথ বেল, অ্যালেক্সিস সানচেজ, রাহিম স্টার্লিং, সার্জি‌ও অ্যাগুয়েরো এবং গ্যাব্রিয়েল জেসুসের মতো চমৎকার পারফরমারদের। গত বছরের ১৫ জনের দল থেকে এবার বাদ পড়েছেন বেল, সানচেজ ‌ও জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ। গত এগার বছর পর এবারই বাদ পড়লেন ইব্রা।

আর গিয়ানলুইগি বুফনের মতো টানা ১৪ বছর ফিপ্রোর তালিকায় থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো‌ও রেকর্ড করলেন। ২০১৩ সালের পর আবার‌ও তালিকায় ফেরেন মারি‌ও মাঞ্জুকিচ। এই তালিকায় ক্রোয়েশিয়ার অন্য তিন খেলোয়াড় হলেন মিডফিল্ডার ইভান রাকিটিচ, লুকা মড্রিচ ‌ও রাইটব্যাক সিমে ব্রাসালকো।

ফিপ্রো এবার গোলকিপার হিসেবে পাঁচজন, ২০জন ডিফেন্ডার, ১৫ জন মিডফিল্ডার এবং ১৫ জন ফরোয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।

ইউএস ‌ওপেনের রাজা জকোভিচ

পিট সাম্প্রাসের সঙ্গে একা আসনে উঠে এলেন নোভাক জোকভিচ। ইউএস ওপেনের ফাইনালে হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রোকে উড়িয়ে দিয়ে জিতে নিলেন ক্যারিয়ারের ১৪তম গ্রান্ড স্লাম। রাফায়েল নাদালের থেকে আর মাত্র ৩টি গ্রান্ড স্ল্যামে পিছিয়ে সার্ব তারকা জোকার জকোভিচ।

ইউএস ওপেনের ফাইনালে জকোভিচ দেল পোত্রোকে হারিয়ে দেন স্ট্রেট সেটে। জিতে নেন ৬-৩, ৭-৬ ও ৬-৩ গেমে। ২০১১ ও ২০১৫ সালে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন জকোভিচকে অবশ্য কঠিন লড়াইয়ে ফেলে দিয়েছিলেন পোত্রো। দ্বিতীয় সেটে জোকোকে ঘামিয়ে দেন ওয়ার্ল্ড নাম্বার থ্রি পোত্রো। তবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলায় টিকে থাকেন নোভাক।

হাঁটুর অস্ত্রোপচার থেকে ফিরে চারটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে তিনটিতে জিতলেন সার্বিয়ান স্টার। গতকাল রবিবার যে কোর্টে খেলে ইউএস ওপেন খেতাব জোকো তুলে নিলেন সেখানেই জীবনের ১৪তম গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছিলেন পিট সাম্প্রাস। টেনিস বিশ্বে রাজার মতোই ফিরলেন জোকার। মারাত্মক চোট সারিয়েে ফিরে এসে উইম্বলডনের পর এবার ইউএস ওপেনেও চ্যাম্পিয়ন হলেন নোভাক জকোভিচ।

জয়ের পর ফ্ল্যাশিং মিডোতে, ক্যামেরার ফ্লাশগুলো বরণ করে নিচ্ছিলো ইউএস ওপেনের নতুন এই চ্যাম্পিয়নকে। নোভাক জকোভিচ, বছরখানেক আগে এলবোতে সার্জারির পর অনেকেই যখন ধরে নিয়েছিলেন হারিয়ে যাচ্ছেন জোকো। আর্জেন্টাইন তারকাকে উড়িয়ে দিয়ে আবারো জানান দিলেন, ‘ফর্ম সাময়িক, ক্লাশটাই আসল।’

২০১১ আর ২০১৫ এর চ্যাম্পিয়ন প্রথম সেট ৬-৩ গেমে জয়ের পর, দ্বিতীয় সেটে দেল পোত্রো পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেট গড়ায় টাইব্রেকারে।

তবে ৩ ঘন্টা ১৬ মিনিটের লড়াইয়ে, পাওয়ার সার্ভ আর ব্যাকহ্যান্ড-ফোরহ্যান্ডে, র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বর তারকা ঘুরে দাঁড়ালেন দুর্দান্তভাবে। তাতে দ্বিতীয় সেট ৭-৬ আর তৃতীয় সেট ৬-৩ গেমে জিতে নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের ১৪ নম্বর গ্রান্ডস্লাম।

এই জয়ে নোভাক জকোভিচ ছুয়ে ফেললেন ১৪ টি গ্রান্ড স্লাম জয়ী আমেরিকান টেনিস কিংবদন্তী পিট সাম্প্রাসকে। তার সামনে এখন ২০ টি গ্রান্ডস্লাম জয়ী রজার ফেদেরার, আর ১৭ ট্রফি জেতা রাফায়েল নাদাল। জোকোভিচ ফর্মে থাকলে, সেসব রেকর্ডও পড়ে যেতে পারে হুমকিতে।

এই কথাটা বছরের শুরুতে শুনলে কেউ বিশ্বাস করতেন না। সেমিফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা দেলপোত্রো ফাইনালে দাঁড়াতেই পারলেন না। নয় বছর পর তাঁর দ্বিতীয় গ্রান্ডস্লামেের ফাইনালে নেমে জকোভিচের ঝড়ো টেনিসে হেরে গেলেন মেসির দেশের এক নম্বর টেনিস তারকা দেলপোত্রো। আর এই দেলপোত্রো নয় বছর পর আগে, ইউএস ওপেনের ফাইনালে হারিয়েে দিয়েছিলেন রজার ফেদেরারকে। দেলপত্রোকে হারিয়ে জকোভিচ জিতলেন তাঁর তৃতীয় ইউএসওপেন খেতাব। তিন বছর পর তিনি আমেরিকায় গ্র্যান্ডস্লাম জিতলেন।

ম্যারাডোনাতে উৎফুল্ল মেক্সিকো

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে কোচ হিসেবে পেয়ে দারুণ উৎফুল্ল মেক্সিকোর দ্বিতীয় বিভাগের দল দোরাদোস অফ সিনালোয়া’র খেলোয়াড় ‌ও কর্মকর্তারা। এই ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্ব নে‌ওয়ার জন্য শনিবার ম্যারাডোনা মেক্সিকো পৌঁছান।

ম্যারাডোনার ক্লাবে আসা উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশকিছু ছবি দেয়া হয়। মেক্সিকোর উত্তরের Culiacan বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলের অফিসিয়াল জিনিসপত্র দিয়ে ম্যারাডোনাকে বরণ করা হয়। এ সময় তাকে দোরাদোস অফ সিনালোয়া’র বেসবল দলের হ্যাট এবং লোগো সম্বলিত স্কার্ফ পড়া অবস্থায় দেখা যায়। আর তাতে লেখা ‘সব সময়ই তোমার সাথে’।

অবশ্য মেক্সিকানদের সব সময়ই ম্যারাডোনাকে মনে রাখার কথা। কারণ ১৯৮৬ সালে এই মেক্সিকোতেই একক নৈপুন্যে ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন।

বাজে ব্যবহারের জন্য সেরেনাকে জরিমানা

ইউএস ‌ওপেনের ফাইনালে অ্যাম্পায়ারের সঙ্গে বাজে ব্যবহার এবং কটু কথা বলার জন্য সেরেনা উইলিয়ামসকে জরিমানা করা হয়েছে। রবিবারের ফাইনালটি ইউএস ‌ওপেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ম্যাচ হয়ে থাকবে। সেরেনা উইলিয়ামসকে জরিমানা করা হয়েছে ১৭ হাজার ডলার।

২৪টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতে রেকর্ডবুকে স্থান করে নে‌ওয়ার জন্য জাপানের ‌না‌ওমি ওসাকার বিপক্ষে খেলতে নামেন ২৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের মালিক সেরেনা উইলিয়ামস। খেলা চলার কিছুক্ষণের মধ্যেই চেয়ার অ্যাম্পায়ার কার্লোস রামোসের সিদ্ধান্ত আপত্তি জানানোর পাশাপাশি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

সেই সুযোগে সেরেনাকে হারিয়ে প্রথম জাপানি হিসেবে গ্র্যান্ডস্ল্যামের এককের শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েন না‌ওমি ‌ওসাকা। পরে ইউএস ‌ওপেন কর্তপক্ষ সেরেনা উইলিয়ামসকে ১৭ হাজার ডলার অর্থ জরিমানা করে।

চেয়ার অ্যাম্পায়ারের সঙ্গে বিতর্ক করাটাকেই সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে দেখছে ইউএস ‌ওপেন কর্তপক্ষ। তর্কে জড়িয়ে পড়ার জন্য ১০ হাজার, খেলা চলাকালে কোচের পরামর্শ নে‌ওয়ার জন্য ৪ হাজার আর মেজাজ গরম করে র‌্যাকেট ভেঙে ফেলার জন্য সেরেনাকে ৩ হাজার ডলার অর্থ জরিমানা করা হয়।

তবে জরিমানা যা-ই হোক না কেনো, ইউএস ‌ওপেনের ফাইনালে উঠেই সেরেনা উইলিয়ামস আয় করেন সাড়ে ১৮ লাখ ডলার।

ম্যাচ জিতে ভারত আর টস ভাগ্যে সেমিতে মালদ্বীপ

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের ‘বি’ গ্রুপে ছিল তিন দলের লড়াই। ভারত টানা দুই জয়ে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করলেও মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ছিল সমান (এক পয়েন্ট)। এই দুই দলের গোল ব্যবধানও ছিল সমান। তাই গ্রুপের আরেক সেমি ফাইনালিস্ট খুঁজে পেতে টসের সহায়তা নেন রেফারি। ভাগ্যের খেলায় জয় পায় মালদ্বীপ। গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে ঠাঁই করে নেয় তারা শেষ চারে। আগামী বুধবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে এই দ্বৈরথ। একই দিন ফাইনাল উঠার লড়াইয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে টস ভাগ্যে শেষ চারে আসা মালদ্বীপকে। ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল চারটায়।

আজ রবিবার ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের উপর বেশ চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। একের পর এক আক্রমন করলেও সফলতা পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয় ম্যাচের ৩৬ মিনিট পর্যন্ত। নিখিল পুজারির হাত ধরে গোলের দেখা পায় শিরোপা প্রত্যাশীরা। ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে মালদ্বীপের ডি বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে গোল করেন এই মিডফিল্ডার (১-০)।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগেই স্কোর লাইন ২-০তে নিয়ে যান স্ট্রাইকার মানভীর সিং। জেরির বাড়িয়ে দেয়া বল দৌড়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে মালদ্বীপের গোলরক্ষককে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড (২-০)।

স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যাওয়া ভারত দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পেতে মরিয়া ছিল। কিন্তু এ অর্ধে তাদের আক্রমনগুলো বেশ সাবধানের সাথেই প্রতিহত করেন মালদ্বীপের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল পায়নি ভারত। ফলে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান দু’টোই সমান হয়ে যায়। ভারতের কাছে দুই দলই সমান ব্যবধানে (২-০) পরাস্ত হয়। আর দুই দলের লড়াইটি ছিল গোল শূণ্য ড্র। তাই শেষ চারের দল খুঁজে পেতে টসের সহযোগিতা নিতে হয়। সেখানে জয় পায় মালদ্বীপ।

বেশি বেশি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রত্যাশা

ভারত–পাকিস্তান সিরিজ অনেকদিনই বন্ধ। তবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দু’‌দল মুখোমুখি হবে এশিয়া কাপে। শুধু এই একটা ম্যাচ নয়, দু’‌দেশের মধ্যে আরও বেশি খেলা হোক, এমনই দাবি পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকের।

এরআগেও দুই প্রতিবেশী দেশ থেকে একই দাবি উঠছে। পাকিস্তানের এই ক্রিকেটার বলেন, ‘‌ভারত–পাকিস্তান যত বেশি খেলবে, তত দু’‌দেশের অনুরাগীরা উৎসাহিত হবেন। তবে শুধু উপমহাদেশের দু’‌দেশ নয়, এই ম্যাচ হলে গোটা বিশ্বের মানুষ আগ্রহী হবেন। রোমাঞ্চ অনুভব করবেন। যা দু’‌দেশের পক্ষেই ভাল।’‌ এখানেই শেষ নয়। শোয়েব মালিক আরও বলেন, ‘‌ভারত, পাকিস্তান— দু’‌দেশের প্লেয়াররাই পেশাদার। একে–অন্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সবটুকু উজাড় করে দিতে চায়। কিন্তু মাঠের বাইরে দু’‌দেশের ক্রিকেটাররাই কিন্তু বন্ধু। আমরা একসঙ্গে খাবার খাই, গল্পও করি।’‌

পাকিস্তান দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজকে। এই ব্যাপারটা কীভাবে দেখছেন?‌ শোয়েব মালিকের কথায়, ‘‌প্রত্যেক ক্রিকেটারের জীবনে এই ধরনের মোড় আসে। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হল, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলে নিজেকে প্রমাণ করা।’‌

না‌ওমি ‌ওসাকা চ্যাম্পিয়ন

ইউএস ওপেন টেনিসের নারী এককের ফাইনালে ফেবারিট সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে নতুন রাণীর মুকুট পড়েছেন জাপানের নাওমি ওসাকা। অবশ্য অভিজ্ঞতা কিংবা অতীত পরিসংখ্যান, কোনোটাতেই যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা সেরেনার ধারে-কাছেও ছিলেন না প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনাল খেলতে নামা জাপানিজ তারকা নাওমি।

সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে ইউএস ‌ওপেন টেনিসে নতুন চ্যাম্পিয়ন হলেন জাপানের না‌ওমি ‌ওসাকা। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপা জয়ের পথে এক ঘন্টা ১৯ মিনিটের দ্বৈরথে সেরেনাকে ৬-২ ‌ও ৬-৪ গেমে পরাজিত করেন ‌ওসাকা। এতে প্রথম জাপানি হিসেবে কোনো গ্র্যান্ডস্ল্যামের শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়লেন ২০ বছরের ‌ওসাকা।

সেন্টার কোর্টের বিতর্কিত ফাইনালে সেরেনা ৬-২ গেমে প্রথম সেট হেরে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলা সেরেনা এক পর্যায়ে টেনিস র‍্যাকেট ছুড়ে মারেন মাটিতে। বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস রামোসের সাথে। বাধ্য হয়েই নাওমিকে এক গেম পেনাল্টি দেন আম্পায়ার। ফলে ৫-৩ গেমে এগিয়ে যান নাওমি।

শিরোপা নাওমি জিতলেও পুরো ম্যাচে উপস্থিত দর্শকদের সমর্থন ছিল সেরেনার দিকেই। এনিয়ে ম্যাচ শেষে নিজের চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেন নাওমি। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে সবাই তার জন্যই গলা ফাটাচ্ছিলেন। আমি দুঃখিত যে আপনাদের মনের ইচ্ছে মতো ম্যাচটি শেষ হয়নি। আমি শুধু আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যে আপনারা ম্যাচটি দেখতে এসেছেন।’

প্রথম জাপানি হিসেবে গ্র্যান্ডস্ল্যামের এককের শিরোপা জিতে রেকর্ড গড়ার পথে না‌ওমি ‌ওসাকা পা‌ওয়ার আর বুদ্ধির মিশেলে দারুণ টেনিস খেলেন। তিনি জানান, ‘আমি শুধু নিজের খেলাই খেলতে চেয়েছি। জানি, ঠিকমতো খেলতে পারলে আমি পয়েন্ট পাবই।’

হারের পর ৩৬ বছর বয়সী কন্যা সন্তানের জননী সেরেনা বলেন, ‘আমি শুধু পজেটিভ থাকতে চাই। যা হ‌ওয়ার হয়েছে। সেটা নিয়ে আর কোনো অভিযোগ নয়। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’

ভুটানকে ৩-০ গোলে হারাল পাকিস্তান

যতই সময় যাচ্ছে ততই যেন নিস্তেজ হয়ে পড়ছে পাহাড় বেষ্টিত ভুটানের ফুটবলাররা। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দেখা গেছে তারই চুড়ান্ত প্রতিফলন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ সুজুকি কাপে পাকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে ভুটান।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই পাকিস্তানের কাছে দুটি গোল হজম করে নেতিয়ে পড়া ভুটান। অবশ্য প্রাপ্ত সুযোগগুলো সফলভাবে কাজে লাগাতে পারলে আরো বড় ব্যবধানের লীড নিয়েই বিরতিতে যেতে পারতো পাকিস্তান। দ্বিতীয়ার্ধে আরো একটি গোল হজম করে ৩-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় ভুটানকে।

পাকিস্তান প্রথম সফলতা পায় ম্যাচের ২০ মিনিটে। সাদ্দাম হোসেনের পাস থেকে বল পেয়ে ভুটানের একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ে জোড়ালো শটে গোল করেন পাকিস্তানী মিডফিল্ডার মোহাম্মদ রিয়াজ (১-০)। ৯ মিনিট পর দ্বিগুন ব্যবধানে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ডিবক্সের একেবারেই মাঝখানে বল পেয়ে সেটিকে সারাসরি শটে গোল করতে ভুল করেননি হাসান বশির (২-০)।

প্রথমার্ধে নেতিয়ে পড়া ভুটান দ্বিতীয়ার্ধে উজ্জীবিত হয়ে খেলা শুরু করে। অপরদিকে আগের অর্ধে অধিক পরিশ্রমের কারণে পরের অর্ধে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তান। আর এই সুযোগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি আক্রমন পরিচালনা করে ভুটান।

ম্যাচের ৭১, ৭৮, ৮২ এবং ৮৭ মিনিটে রচিত আক্রমন থেকে গোল আদায় করতে পারেনি ভুটান। তবে শেষ মুহুর্তে এসে প্রতি আক্রমন থেকে ঠিকই আরো একটি গোল পেয়ে যায় পাকিস্তান। ইনজুরি টাইমে (৯০+১) মোহাম্মদ আলীর আড়াআড়ি ভাবে দেয়া পাসের বল ফাঁকায় পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন বদলী হিসেবে নামা মিডফিল্ডার ফাহিম আহমেদ (৩-০)। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে অধিক ব্যবধানে ভুটানকে পরাজিত করে পাকিস্তান। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে প্রথম ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারানো পাকিস্তান। এই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল পাহাড় পরিবেষ্টিত দেশ ভুটান।

নেপালের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

নেপালের কাছে হেরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেল বাংলাদেশ। ২০১১, ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পর ২০১৮— টানা চার আসরে গ্রুপেই থামল লাল-সবুজদের দৌড়। তাতে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠলো নেপাল ও পাকিস্তান।

ফুটবলে সবসময় ভালো খেলেও জয় পাওয়া যায় না। ভালো ফুটবল খেলার পর ভাগ্যবিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা‌ও হলো স্বাগতিকদের। টানা দুই ম্যাচ জিতে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে থেকেও ভাগ্যবিড়ম্বনায় বাদ পড়তে হলো বাংলাদেশকে।

গ্রুপে নেপাল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল সমান, ৬ পয়েন্ট করে। তিন দলের পয়েন্ট সমান হওয়ায় প্রথমে বিবেচিত হয়েছে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসেব। এখানে তিন দলই সহাবস্থানে। পরবর্তীতে বিবেচিত হয়েছে গোল-গড়। ওই হিসাবে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনালে গেছে নেপাল, তাদের সঙ্গী হয় পাকিস্তান।

সেমিফাইনালের টিকিট পেতে অন্তত এক পয়েন্টই যথেষ্ট ছিলো বাংলাদেশের— ম্যাচের আগে সমীকরণটি এমনই ছিলো। একের অধিক গোল করে ন্যূনতম ব্যবধানে হারলেও অংকের হিসেবে শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ ছিলো। এমন ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমন্বয়ে কিক-অফের পরই চালকের আসনে ছিল স্বাগতিকরা। গ্যালারিতে অবস্থান নেয়া প্রায় ২৫ হাজার দর্শকও দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল।

গোলের পরিষ্কার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলেও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করেই খেলছিল স্বাগতিকরা। ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও দলের খেলা সমর্থকদের তৃপ্তির রসদ দিতে পারেনি। আজ শনিবার গোলরক্ষক সহিদুল আলমের এক ভুল বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। ৩৩ মিনিটে ডান দিক থেকে বিমল ঘারতি মাগারের সেটপিস গ্রিপে নিতে গিয়ে হাত ফসকে বেরিয়ে যায় ঢাকা আবাহনীর হয়ে খেলা এ গোলরক্ষকের। শ্রীলংকার বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে তার ভুলেই হারে বাংলাদেশ। ১০ দিনের মাথায় আরেকটি শিশুসুলভ ভুল। ওই ভুলটাই সাফ অভিযান শেষ করে দিয়েছে।

২০১১ সালে দিল্লি সাফে এই নেপালের বিপক্ষেই সাগর থাপার সেটপিস থেকে দলকে গোল খাওয়ান সহিদুল। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটের ওই গোল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পথটা চওড়া করে।

অথচ ৪-৩-২-১ ফরমেশনে অনেকদিন পর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে খেলছিল লাল-সবুজরা। কখনো উইং ধরে, কখনোবা দ্রুত পাস খেলে প্রতিপক্ষের দুর্গে হানা দিচ্ছিল স্বাগতিকরা। তবে গোলের পর ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। সুযোগ নিয়ে গুছিয়ে ওঠে নেপাল। প্রথমার্ধের বাকি সময় আক্রমণভাগের দুই দিকেই বিমলের দৌড়ঝাঁপ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আর কোনো বিপদ হয়নি। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেই এ অর্ধ শেষ করে স্বাগতিকরা।

পুরো ম্যাচে নেপালের গোছালো ফুটবল দেখা গেছে গোল হজমের পর প্রথমার্ধের বাকি সময়েই। বিরতির পর বাংলাদেশের গতি আরো বাড়ে। এ সময় ইমন মাহমুদ বাবু মাঠে আসায় মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও বৃদ্ধি পায়। পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খোলসে বন্দি হয়ে যাওয়া নেপালের রক্ষণ ভেদ করে গোলের ভালো সম্ভাবনা অবশ্য তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের দুর্গ আগলে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে গেছে নেপাল। তেমনই এক আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশকে ছিটকে দেয় অতিথিরা। বিশাল রাইয়ের থ্রু-পাস ধরে ডান পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন নবযুগ শ্রেষ্ঠা (২-০)।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সহজ জয়

বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে নিজ নিজ খেলায় জয় পেয়েছে সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল ২-০ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে এবং আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলে গুয়াতেমালাকে হারিয়েছে। অন্য ম্যাচে জিতেছে উরুগুয়ে, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। তবে ঐ স্মৃতি অতীত এখন। দুঃস্মৃতি ভুলে নতুনভাবে মিশন শুরু করেছে আজ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা বেশিরভাগ খেলোয়াড়রাই রয়েছেন প্রীতি ম্যাচের দলে। তবে বদলি হিসেবে নামা আর্থার মেলো ও রিচার্লিসনের এ ম্যাচে অভিষেক হয়েছে। ৪-৩-৩ ফরম্যাটে শুরুর একাদশে ছিলেন তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন তারা। তাতে সফল হয়েছে ব্রাজিল।

১১ মিনিটে গোলের স্বাদ নেয় ব্রাজিল। ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে খেলা ডগলাস কস্তার পাস থেকে দারুন এক ভলিতে গোল করেন স্ট্রাইকার রর্বাতো ফিরমিনো। ফলে ম্যাচের শুরুতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠার রসদ পেয়ে যায় ব্রাজিল। এরপর ম্যাচের পরের ৩০ মিনিট ব্রাজিলের সীমানায় বল নিয়েই ঢুকতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। তাই গোলবারে অলস সময় কাটাতে হয় ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসনকে।

আলিসন ব্যস্ততার মধ্যে না থাকলেও, গোলের জন্য মরিয়া ছিলো ব্রাজিলের মধ্যমাঠ ও আক্রমনভাগের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে পেনাল্টির পায় ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ডি-বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাঁধায় পড়ে যান ব্রাজিলের ফাবিনহো। ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান ম্যাচের রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ব্রাজিলের নিয়মিত অধিনায়ক ও দলের সেরা খেলোয়াড় নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে নিজের ৯১তম ম্যাচে ৫৮তম গোল করলেন নেইমার। অধিনায়কের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। আর এই স্কোরলাইনে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ করে ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে আক্রমন করার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দু’টি আক্রমন থেকে ভালো কোন ফল আসেনি। ব্রাজিলের রক্ষণদূর্গ ভাঙ্গতে পারেনি । এমনকি বল দখলেও পিছিয়ে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষদিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলো ব্রাজিল। সেটি থেকে কোন লাভ হয়নি। প্রথমার্ধে দেয়া দু’গোল থেকেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৯তম ম্যাচে এটি ব্রাজিলের ১৮তম জয় । আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এল সালভাদরের বিপক্ষে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তিতের শিষ্যরা। এরপর আগামী দু’টি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে ব্রাজিলের। একটি সৌদি আরবের বিপক্ষে, অন্যটি চিরপ্রতিন্দ্বন্দি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ১৬ অক্টোবর সৌদি আরবের জেদ্দায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়বে ব্রাজিল।

ব্রাজিলের মত সহজ জয়ের স্বাদ নিয়েছে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা। মেসি না থাকায় দল নিয়ে বেশি পরীক্ষ-নিরিক্ষা করেন দলের নয়া কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাই এ ম্যাচ দিয়েই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রথমবারের মত খেলার সুযোগ পেলেন জিওভান্নি সিমিওনে। আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড় ও স্প্যানিশ লিগে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনের ছেলে জিওভান্নি। নিজের অভিষেকটা রঙ্গিন করেছেন জিওভান্নি। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে গোল করেছেন তিনি। অবশ্য তার গোলটি ছিলো ম্যাচের তৃতীয়।

জিওভান্নির মত নিজের অভিষেকটা আলোকিত করেছেন গঞ্জালো মার্টিনেজ। ম্যাচের ২৭ মিনিটে গোল করেছিলেন। ঐ গোলটি ছিলো ম্যাচের প্রথম। ৩৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার পক্ষে তৃতীয় গোল করেন জিওভানি লো চেলসোর। ভলিতে দুর্দান্ত একটি গোল করেন চেলসো। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করা তিন খেলোয়াড়েরই ছিলো ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে তিন গোল দিলে, দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ব্যবধানে বাড়াতে পারেনি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়া আর্জেন্টিনা। তবে গোলের স্বাদ পায়নি গুয়েতেমালাও। তাই ৩-০ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর কলম্বিয়ার বিপক্ষে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে আর্জেন্টিনার। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ঐ প্রীতি ম্যাচের আগামী মাসে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

দিনের অন্যান্য ম্যাচে উরুগুয়ে ৪-১ গোলে মেক্সিকোকে, ইকুয়েডর ২-০ গোলে জ্যামাইকাকে ও কলম্বিয়া ২-১ গোলে ভেনেজুয়েলাকে হারায়।

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সূচি

এশিয়া কাপের ১৪তম আসর শুরু হবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। আসরে লড়াই করবে ছয়টি দল। কিন্তু ১৫ সেপ্টম্বর, আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান। আর বাছাই পর্ব পেরিয়ে স্বাগতিক আরব আমিরাতকে দুই উইকেটে হারিয়ে ষষ্ঠ দল হিসেবে এশিয়া কাপে জায়গা করে নিয়েছে হংকং। টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া ছয় দল হলো- বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং হংকং।

আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওই ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুইটি করে দল খেলবে সুপার ফোরে। যেখানে চার দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে একটি করে ম্যাচ। সেখানের শীর্ষ দুই দল নিয়ে হবে ফাইনাল।

গ্রুপ পর্ব

 ১৫ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (দুবাই)।

১৬ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তান বনাম হংকং (দুবাই)।

১৭ সেপ্টেম্বর- শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)।

১৮ সেপ্টেম্বর- ভারত বনাম হংকং (দুবাই)।

১৯ সেপ্টেম্বর- ভারত বনাম পাকিস্তান (দুবাই)।

২০ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)।

সুপার ফোর

২১ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-বি রানার্সআপ (দুবাই)।

২১ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ-বি চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-এ রানার্সআপ (আবুধাবি)।

২৩ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম-গ্রুপ-এ রানার্সআপ (দুবাই)।

২৩ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ-বি চ্যাম্পিয়ন বনাম-গ্রুপ-বি রানার্সআপ (আবুধাবি)।

২৫ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-বি চ্যাম্পিয়ন (দুবাই)।

২৬ সেপ্টেম্বর- গ্রুপ-এ রানার্সআপ বনাম গ্রুপ-বি রানার্সআপ (আবুধাবি)।

ফাইনাল

২৮ সেপ্টেম্বর (দুবাই)।

*সবগুলো ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায়।

জিতেই সেমিতে উঠতে চায় বাংলাদেশ

দুই ম্যাচে পুরো ছয় পয়েন্ট স্বাগতিক বাংলাদেশের। তবু সেমিফাইনালের টিকিট পেতে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা লাল-সবুজদের। ৩ পয়েন্ট করে নিয়ে পাকিস্তান ‌এবং নেপালও আছে শেষ চারের পথে।

কাল শনিবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ নির্ধারণ করবে এই তিন দলের ভাগ্য। আর সেমির সম্ভাব্য ভাগ্যবানদের তালিকায় বাংলাদেশ সবার সামনে থেকেই গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে নেপালের বিরুদ্ধে। সন্ধ্যা ৭ টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি।

সেমিফাইনালে উঠতে নেপালের বিরুদ্ধে জিততেই হবে- এ সমীকরণ মেলাতে হবে না বাংলাদেশকে। ড্র হলেই চলবে। আবার হারলেও সমস্যা হবে না। বাংলাদেশ-নেপাল মাঠে নামার আগেই শেষ হয়ে যাবে পাকিস্তান-ভুটানের মধ্যে গ্রুপের অন্য ম্যাচটি। এ ম্যাচের ফল বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে মাঠে নামার আগেই। পাকিস্তান পয়েন্ট খোয়ালেও শেষ চার নিশ্চিত হয়ে যাবে জেমি ডে’র শিষ্যদের।

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে সন্ধ্যায় নেপালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ড্র করতে হবে। তবে নেপাল জিতলে ৩ দলের পয়েন্ট হবে ৬। তখন গোল গড়ের হিসেবে শেষ চারের টিকিট পাবে দুই দল। পাকিস্তান আর নেপাল হারলে অংকের হিসেবের ভাগীদার হবে ভুটানও। তবে তাদের জয়টা এত বড় ব্যবধানে হতে হবে যে, এই ভুটানকে দিয়ে তা আশা করছে না কেউ। পাহাড়ি দেশটি যে দুই ম্যাচে ৬ গোল খেয়ে বসে আছে।

এই যে এত অংকের হিসেবে তা মাথায় আনতে চান না বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। তার সব মনোযোগ নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচে। জয়ের হ্যাটট্রিক করেই বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চান সেমিফাইনালে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ ম্যাচটা ভালো খেলে জিততে হবে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য। জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। আমাদের নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। নেপাল অনেক ভালো দল। ভুটানের বিরুদ্ধে ৪ গোলে জিতে সেটা প্রমাণ করেছে। আমরা জিতেই সেমিফাইনালে উঠতে চাই। আমার প্রত্যাশা, ছেলেরা ভালো খেলা ও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে।’

শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপের ড্র সেমিতে ভারত

আজকে না খেলেই সেমিতে ভারত। খেললো শ্রীলঙ্কা আর মালদ্বীপ, ফল ভোগ করলো ভারত। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে আজ শুক্রবার মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যেকার ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায় সেমিফাইনালে উঠে গেলো ভারত। এরআগে, শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারানো ভারতকে সেমিফাইনালের জন্য শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো না।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, মালদ্বীপকে রুখে শ্রীলঙ্কাও কিঞ্চিত সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলো। এখন তারা তাকিয়ে থাকবে ভারত-মালদ্বীপের ম্যাচের দিকে। ওই ম্যাচে মালদ্বীপ ৩-০ গোলে হারলে শেষ চারে উঠে যাবে শ্রীলঙ্কা।

মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি দুই অর্ধে ছিল দুই রকম। প্রথমার্ধে মালদ্বীপ প্রাধান্য নিয়ে খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় ম্যাচের লাগাম ছিল পাকির আলীর দল শ্রীলঙ্কার হাতে।

শেষের দিকে, শ্রীলঙ্কা নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছাড়ে মালদ্বীপের। কিন্তু গোলপোস্টে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ ফয়সাল। তার চার চারটি দুর্দান্ত সেভ মালদ্বীপকে বাঁচিয়েছে পরাজয় থেকে।

ফাইনালে সেরেনার প্রতিপক্ষ ‌ওসাকা

ইউএস ‌ওপেন টেনিসের ফাইনালে উঠেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। শিরোপা জয়ে তার প্রতিপক্ষ জাপানের ‌ওসাকা। মাত্র ৬৬ মিনিটের এক লড়াইয়ে লাটভিয়ান প্রতিপক্ষ অ্যানাস্তাসিয়া সেভাস্তোভাকে পরাজিত করে ফাইনাল নিশ্চিত করেন সেরেনা। এতে তিনি নবমবারের মতো বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যাম টুর্নামেন্ট ইউএস ‌ওপেনের ফাইনালে উঠলেন। এবং সব মিলিয়ে এটি সেরেনার ৩১তম গ্র্যান্ডস্ল্যামের ফাইনাল। লাটভিয়ার অ্যানাস্তাসিয়া সেভাস্তোভার বিপক্ষে জয় পান সেরেনা ৬-৩ ‌ও ৬-০ গেমে।

ইউএস ‌ওপেনে আর মাত্র একটি জয় পেলেই সেরেনা এই টুর্নামেন্টে সাতবার চ্যাম্পিয়ন হবেন। আর সেই সঙ্গে ২৪টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপা জয়ের মালিক‌ও হবেন তিনি। তাতে মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডে‌ও ভাগ বসাবেন এই মার্কিন কৃষ্ণসুন্দরী। আগামীকাল শিরোপা জয়ে সেরেনা মুখোমুখি হবেন ২০তম বাছাই জাপানের না‌ওমি ‌ওসাকার বিপক্ষে।

এরআগে, ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম টেনিসের ফাইনালে ‌ওঠার পথে জাপানের তরুনী না‌ওমি ‌ওসাকা আগেরবারের রানার্সআপ মেডিসন কী’কে ৬-২ ‌ও ৬-৪ সেটে ধরাশায়ী করেন। ২০০৯ সালের পর, সবচেয়ে কম বয়সী নারী খেলোয়াড় হিসেবে, ২০ বছরের তরুণী ‌না‌ওমি ওসাকা, ইউএস ‌ওপেনের ফাইনালে উঠলেন।

না‌ওমি ‌ওসাকা জাপানে জন্ম নিলে‌ও বড় হয়েছেন নিউইয়র্কে। তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি নিউইয়র্ক চলে আসেন। এখন অবশ্য বসবাস ‌ওসাকার, ফ্লোরিডায়। তাঁর কোচের দায়িত্বে আছেন, সেরেনার সাবেক হিটিং পার্টনার সাসকা বাজিন (Sascha Bajin)।

নেইমারই ব্রাজিলের অধিনায়ক

অধিনায়ক নিয়ে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, স্থায়ীভাবে ব্রাজিলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো নেইমারকে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রীতি ম্যাচের আগে ব্রাজিল কোচ তিতে স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে নেইমারের নাম ঘোষণা করেন। প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) খেলা এই ফুটবল তারকা নতুন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।

সম্প্রতি ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেইমার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় সেলেসা‌ওরা। তাছাড়া মাঠে অযথা গড়াগড়ি ‘অভিনয়’ করে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর নেইমার সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখনও শিখছি, শেখার অনেক কিছু আছে। এই দায়িত্বটা আমার জন্য অবশ্যই ভালো হবে।

গার্দি‌ওয়ালার দলের কোচ হচ্ছেন ম্যারাডোনা

পেপ গার্দি‌ওয়ালার দল দারাদোস দে সিনিলোও’র কোচ হচ্ছেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন গ্রেট দিয়েগো ম্যারাডোনা। মেক্সিকোর দল দারাদোস দে সিনিলোও’র হয়ে নিজের ফুটবলার ক্যারিয়ার শেষ করেন পেপ গার্দি‌ওয়ালা।

অবশ্য গত মে মাসে ম্যারাডোনা বেলারুশের দল ডায়নামো ব্রেস্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন বছরের চুক্তিতে যোগ দেন ম্যারাডোনা। এরআগে তিনি পাঁচটি দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাছাড়া ৫৭ বছর বয়সী এই ফুটবল লিজেন্ড ২০০৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১০ সালের জুলাই পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে‌ও দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তাঁর দল ১৯ টি ম্যাচ খেলেছিল। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে‌ও ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরের বছর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দল আল ‌ওয়াসলের কোচের দায়িত্ব নেন। কিন্তু লিগের ২২ ম্যাচে ম্যারাডোনার কোচে মাত্র ৭টিতে জয় পায় দল। পরে চাকুরি হারান তিনি। এর পাঁচ বছর পর ২০১৭ সালে ম্যারাডোনা আমিরাতের অন্য দল আল ফুজাইরাহ্’র কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এবার তিনি মেক্সিকোর দ্বিতীয় বিভাগের দল দারাদোস দে সিনিলোও’র কোচের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে ধরাশায়ী পাকিস্তান

সাফ ফুটবলে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দারুণ এক জয়ে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজের দল। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া ম্যাচে ১-০ গোলে পাকিস্তানকে হারায় জেমি ডে’র শিষ্যরা। জয়ের নায়ক তপু বর্মন। প্রথম ম্যাচেও ভুটানের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন এই ডিফেন্ডার। এ জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথ অনেকটাই এগিয়ে গেলো জামাল-সুফিলরা।

আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে ড্র করলেই শেষ চার নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলার দামাল ছেলেদের। এদিকে, বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে নেপাল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, এ ম্যাচে হিমালয়ের দেশটির হয়ে একটি করে গোল করেন অনন্তা তামাং, সুনিল, ভারত খাওয়াজ ও নিরাঞ্জন খাড়কা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি গ্যালারীই ভরে উঠে। ফাঁকা ছিল না ভিআইপি গ্যালারিও। দলকে সমর্থন জানাতে মাঠে ছিল দর্শকদের উঁপচে পড়া ভিড়। প্রায় হাজার বিশেক সমর্থক চলে আসেন জাতীয় দলের জার্সি, ভুভুজেলা, লাল-সবুজের পতাকা হাতে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই হয়তো লাল-সুবজের পতাকায় ছেয়ে গিয়েছিল গোটা স্টেডিয়াম। পুরোটা ম্যাচ জুড়েই গলা ফাঁটিয়ে সমর্থন জানান মামুনুল-জামালদের। সমর্থকদের হতাশ করেননি সোনার ছেলেরা। মাঠে আসা সমর্থকরা বাড়ি ফিরেছেন হাসি মুখেই।

তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকলেও পাকিস্তান নিজেদের ফুটবলের উন্নতিটা বেশ ভালোই করেছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমানও দিয়েছিল। শারিরিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকা পাকিস্তানের সাথে তাই ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ সাবধানী ছিল স্বাগতিক শিবির। নিজেদের রক্ষণভাগ সামলে রেখে আক্রমনের চেষ্টা করেছিলেন সুফিল-জামালরা। তবে প্রথমার্ধে বলার মতো কোন আক্রমনই করতে পারেনি জেমি ডে’র শিষ্যরা। উল্টো ৯ মিনিটে গোল হজম করতে বসেছিল স্বাগতিকরা। সে যাত্রায় দলকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক শহিদুল। মেহমুদ খানের হেড অসাধারণ দক্ষতায় কর্ণারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন তিনি।

ফিফা র‌্যাংকিয়ের তলানীর দিকে থাকা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৭ ধাপ। দুই দলের মাঠের লড়াইটা যে কঠিন হবে তা বোঝাই যাচ্ছিলো প্রথমার্ধে। পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুর হালচুক আর্মড পুলিশ ফোর্স স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ ম্যাচে সবশেষ দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেমিতে ওঠার সে লড়াইয়ে বাংলাদেশ হেরেছিল ২-১ গোলে। তবে এবার আর ভুল করেনি বাংলাদেশ। আক্রমন খুব একটা করতে না পারলেও ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে পাওয়া সুযোগটি ঠিকই কাজে লাগিয়েছে। বিশ্বনাথের থ্রো বক্সের ভেতরে থাকা তপু বর্মন দৌড়ে এসে দারুণ এক হেডে নিশানা ভেদ করে পুরো গ্যালারী রাঙ্গিয়ে তোলেন (১-০)। উৎসবে মেতে উঠেন স্বাগতিক সমর্থকরা। টেন্টে থাকা একাদশের বাইরের ফুটবলাররা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করে গোল উৎসবে যোগ দেন। আর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে‌ও।

এমন একটি জয় দেশের ফুটবলের জন্য যে কতোটা প্রয়োজন ছিল, সেটা ফুটবলারদের উৎসব দেখেই অনুমান করা গেছে। ম্যাচ শেষে শিষ্যদের পারফর্ম্যান্সে দারুণ সন্তুষ্ট কোচ জেমি ডে। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ‘ওরা অনেক কষ্ট করছে। আমরা এখন নেপালের বিরুদ্ধে জয়ের এ ধারাটা ধরে রাখতে চাই।’

শ্রীলঙ্কার টিকে থাকার লড়াই

সাফ ফুটবল খেলতে সবার আগে ঢাকা এসেছিল শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল। স্বাগতিক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে তারা। সে ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল দলটি। কিন্তু আসর শুরুর পর সেই লঙ্কানদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রথম ম্যাচে। ভারতের কাছে হারতে হয়েছে ২-০ গোলে। প্রথম ম্যাচ হেরে বেশ চাপে রয়েছে পাকির আলীর শিষ্যরা। আগামীকাল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে মুখোমুখি হতে হবে মালদ্বীপের। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়। টিকে থাকার এ লড়াইয়ে কোন ভুল করতে চাইছে না লঙ্কানরা। অন্যদিকে জয় দিয়ে মিশন শুরু করতে চাইছে ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ।

জয় পেলে সেমি ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখবে শ্রীলঙ্কা। ড্র করলেও থাকেব সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে ভারতের কাছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে হারতে হবে বড় ব্যবধানে। তাতে গোল গড়ে এগিয়ে থেকে শেষ চারে চলে যাবে পাকির আলীর শিষ্যরা। ‘এ’ গ্রুপ থেকে ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানোয় সমীকরণ এখন এমনটা দাঁড়িয়েছে।

তবে সমীকরণ নিয়ে ভাবতে রাজি নন লঙ্কান কোচ পাকির আলী, ‘আমাদের গ্রুপটা (‘বি’ গ্রুপ) অনেক শক্তিশালী। ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচে আমরা হেরেছি। মালদ্বীপের বিপক্ষে আগামীকাল আমাদের জিততেই হবে। দলটি অনেক শক্তিশালী। তবে ওদের বিপক্ষে জয়ের সামর্থ্য আমাদের আছে।’

তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে এবারের সাফে খেলতে এসেছে মালদ্বীপ। দলটির অনেক সাফল্যের নায়ক, অভিজ্ঞ আলী আশফাককেও এবার দলে রাখেননি ক্রোয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত জার্মান কোচ পিটার সেগার্ট।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটিকে সামনে রেখে মালদ্বীপের এ কোচ বলেন, ‘আমার মতে এই টুর্নামেন্টে এগিয়ে ভারত। তবে তাদেরকে আমি ফেভারিট বলব না। আমার কাছে সাত দলই ফেভারিট। আমাদের গ্রুপে শ্রীলঙ্কাও আছে। গত কয়েক মাস ধরে শ্রীলঙ্কার ফুটবল অনেক উন্নতি করেছে। প্রীতি ফুটবল ম্যাচে তারা স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়েছে। তাদের দলটাও তরুণ। লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে।’ ভবিষ্যতের কথা ভেবেই মূলত তরুণদের ঝালিয়ে নিতে সাফে এবার আনকোড়া দল নিয়ে এসেছে মালদ্বীপ। তারপরও এই নিয়ে আশাবাদী কোচ পিটার, ‘মালদ্বীপ তারুণ্যনির্ভর দল। এই দলের ভবিষ্যৎ উজ্জল। আমি এখানে এসেছি সেরাটা মেলে ধরতে। ছেলেরা খুবই উজ্জীবিত। আমাদের প্রস্তুতিটাও ভাল। এখন মাঠে প্রমাণ করতে চাই।’

সাফে সর্বোচ্চ ২০ গোলের মালিক মালদ্বীপের তারকা খেলোয়াড় আলী আশফাক। এই আশফাকই এবার দলে জায়গা পাননি। আশফাকের বাদ পড়া প্রসঙ্গে পিটার সেগার্ট বলেন, ‘আলী আশফাক অসাধারণ ফুটবলার। যে কোনো কোচই তাকে নিতে চাইবেন। কিন্তু আমার ট্যাকটিসে সে পড়েনি। তাই তাকে আমি দলে নেইনি। তবে তার জায়গায় যে খেলবে, সেও দুর্দান্ত।’ সাফে দুদলেরই শিরোপা জয়ের ইতিহাস আছে। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় আসরে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লঙ্কানরা। আর ২০০৮ সালে সাফের সপ্তম আসরে শিরোপা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে মালদ্বীপ। তারাও ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখায়।

দুদল এ পর্যন্ত ১৮ বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। তাতে মালদ্বীপের ৭ জয়ের বিপরীতে; লঙ্কানদের জয় ৩ ম্যাচে। দুদলের বাকি ৮ ম্যাচ ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়। সাফে এ পর্যন্ত ৬ বার খেলেছে তারা। তাতে মালদ্বীপ ৫ বারই জয়ের হাসিতে মাঠ ছেড়েছে। সাফে মালদ্বীপের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রাপ্তি কেবল এক ড্র।

ফুটবলের সেরা তিন পুরষ্কারের কথা

বিশ্ব ফুটবলে বেশকিছু পুরষ্কার প্রচলিত আছে। তবে সম্মান কিংবা আকর্ষণের ক্ষেত্রে মাত্র তিনটি পুরষ্কার সবার দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। বিশ্ব জুড়ে আলোচনা কিংবা মাতামাতি এই তিনটি পুরষ্কার ঘিরেই। বছরব্যাপি একক ব্যক্তির দলীয় এবং দেশীয় পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে এই পুরষ্কারগুলো দেয়া হয়। মোটামুটি পুরষ্কারগুলো প্রায় একই রকম হলে‌ও জয়ের জন্য রীতিমতো ভোটে অন্যকে পরাস্ত করে জিততে এই পুরস্কার। এই তিন পুরষ্কারের প্রথমটির নাম ‘ফিফা দ্য বেস্ট’, ‘ব্যালন ডি’অর’ এবং ‘উয়েফা বেস্ট প্লেয়ার’।

ফিফা ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড মৌসুম শেষে ১০ জনের একটি তালিকা করেন। বিশ্বের কিংবদন্তি ফুটবলাররা আছেন এই জুরি বোর্ডে। তারা হলেন- সামি আল জাবের (সৌদি আরব), ইমানুয়েল এমুনিকি (নাইজেরিয়া), চা বাম-কুম (দক্ষিণ কোরিয়া), ফ্যাবি‌ও কাপেলো (ইটালি), দিদিয়ের ড্রগবা (আইভোরি কোস্ট), কাকা (ব্রাজিল), ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (ইংল্যান্ড), লোথার ম্যাথুস (জার্মানি), আলেসান্দ্রো নেস্টা (ইটালি), কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা (ব্রাজিল), রোনাল্ডো (ব্রাজিল), এন্ডি রক্সবার্গ (স্কটল্যান্ড) এবং উইন্টন রুফার (নিউজিল্যান্ড)।

নাম প্রকাশের পর তিনজনকে ভোট দিতে পারবেন সাধারণ সমর্থক, সাংবাদিক এবং জাতীয় দলের কোচ ‌ও অধিনায়করা। প্রথমে যাকে ভোট দেবেন তার নামে যোগ হবে পাঁচ পয়েন্ট, পছন্দের দ্বিতীয় জন পাবেন তিন এবং শেষের জন পাবেন এক পয়েন্ট করে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী তিনজনকে পুরস্কৃত করে থাকে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা-ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের সেরা তিন পুরষ্কারের সবচে’ প্রাচীনটির নাম ব্যালন ডি’অর। ১৯৬৫ সালে ফ্রান্সের ম্যাগাজিন ‘ফ্রেঞ্চ ফুটবল’ এই পুরস্কারটি চালু করে। এটাই একমাত্র পুরষ্কার যা ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে এই পুরস্কারটি দেয়া হয়েছে। তখন তার নাম ছিলো ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’। এই পুরস্কারটির বিশেষত্ব হলো শুধু এক মৌসুম নয়; পুরো বছরের পারফরমেন্স বিবেচনা করে সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করা হয়। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশনের সাংবাদিকদের ভোটে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। পাঁচজন খেলোয়াড়কে ভোট করা যায়। প্রথম থেকে পঞ্চমের পয়েন্ট হলো- ছয়, চার, তিন, দুই এবং এক।

উয়েফা সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি দিয়ে থাকে উয়েফা। ইউরোপে খেলা ফুটবলারদের এই পুরস্কারটি দেয়া হয়। উয়েফার সঙ্গে ইউরোপিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া এবং ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ ফুটবল পাবলিকেশন্স এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। আগের মৌসুমে ক্লাব দলে খেলা সেরা ফুটবলারকে এই পুরষ্কারটি দেয়া হয়। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নির্ধারিত ৮০ জন কোচ, ৫৫ জন সাংবাদিক এবং ইউরোপের ফুটবল ফেডারেশনগুলোর ভোটে উয়েফা বেস্ট প্লেয়ার অ্যা‌ওয়ার্ড দেয়া হয়ে থাকে।

শ্রীলংকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা ভারতের

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলংকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। এই টুর্নামেন্টে গেল কয়েক আসর ধরে মূল দল পাঠায় না ভারত। অলিম্পিক দল পাঠায়। সেই দল নিয়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা বেশ কয়েকবার। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে তারা শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ২-০ ব্যবধানে।

খেলার শুরু থেকেই প্রধান্য বিস্তার করে খেলেতে থাকে ভারত। তবে গোলের দেখা পেতে কিছুটা সময় লাগে। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে গোল পায় তারা। সুমিত পাসি ডি বক্সের সামনে বল বাড়িয়ে দেন মোহাম্মদ আশিক কুরুনিয়ানকে। আশিক বল নিয়ে ডি বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন। প্লেসিং শটে বাম কর্ণার দিয়ে বল জালে পাঠান।

৩৯ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করেন লালিয়ানজুয়ালা। তার নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। তাতে ১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্টিফেন ফিলিপ কন্সটানটাইনের দল।

বিরতির পর পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভারত। লালিয়ানজুয়ালা চাঙ্গতে বাম প্রান্ত থেকে বল নিয়ে শ্রীলঙ্কার দুজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কাটিয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে ডানপায়ে কোণাকুণি শটে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

৬৬ মিনিটে ব্যবধান আরো বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কর্নার থেকে বল পেয়ে নিখিল পূজারি মিস করেন।

ভারতের মুহুর্মূহ আক্রমণের মুখে শ্রীলঙ্কা আক্রমণ করার সুযোগই পায়নি। চোখে পড়ার মতো আক্রমণ বলতে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। এ সময় শ্রীলঙ্কার মিডফিল্ডার কাভিন্দু ইশানের বাড়িয়ে দেওয়া বল ডান পাশ দিয়ে ঢুকে ডান পায়ে ফরোয়ার্ড আশিকুর রহমান শট নেন। সেটা ধরে ফেলেন ভারতের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।

আগামী শুক্রবার মালদ্বীপের বিপক্ষে গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয ‌ও শেষ ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্ক। আর শেষ ম্যাচে ভারত রোববার খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ‌ওঠার লড়াই কাল

পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ ফুটবলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। আর পাকিস্তানের লক্ষ্য জয়ের ধারা অব্যাহত রাখা। তাতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই দেখা যেতে পারে মাঠে। আগামীকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, খেলাটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়।

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে আগের এগারবারে মাত্র একবার চ্যাম্পিয়ন, দুইবার রানার্সআপ আর একবার তৃতীয় হওয়া ছাড়া বাংলাদেশের অর্জন আহামরি কিছু না। পিছিয়ে পড়া ফুটবলে নবজাগরণ আনতে লাল-সবুজের দল এবার আটঘাট বেধেই নেমেছে। ভুটানের বিপক্ষে প্রতিশোধের জয় দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ, পাকিস্তানকে হারিয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চাইছে। দলের কোচ জানান, কাজটা কঠিণ হলেও অসম্ভব নয়।

এদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা পাকিস্তানও আছে ফুরফুরে মেজাজে। টানা তিনবছর আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে থাকা এই দলটি, স্বাগতিক বাংলাদেশকে সমীহ করলেও জয় আশা করছে। আর তাতে প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে, সাফ ফুটবলে সবশেষ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে হারানোর সুখ স্মৃতি।

আগের ১৭ বারের মোকাবেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ জয়, ৫ ড্র আর ৭ পরাজয় বাংলাদেশের। শেষবার ২০১৩ সালে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি টানা দুই জয়ে ফাইনালও নিশ্চিত করতে চায় জামাল ভূঁইয়ার দল।

নেইমারের বান্ধবী সংবাদ

ব্রুনা মারকুয়েজিন যতোটা না অভিনেত্রী ও মডেল হিসেবে পরিচিত, তারচেয়ে বেশী আলোচিত বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় ব্রাজিল ‌ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের ফরোয়ার্ড নেইমারের বান্ধবী হিসেবে। ফ্রান্সের ভেনিসে ৭৫তম ‘দ্য সিস্টার্স-ব্রাদার্স’ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আলো ঝলমল এক পোশাকে দেখা গেছে তাঁকে। সোনালী রঙের এই পোশাকে সবার নজর কাঁড়েন ব্রুনা।

অনেকদিন ধরেই নেইমার ও মারকুয়েজিনের বিয়ের গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে তদের সম্পর্কটা বেশ জোরালো না হওয়ায় সেটা গুঞ্জনই থেকে যায়। এরই মাঝে তাদের মধ্যে তিনবার ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। আবার‌ও একসাথে আছেন তারা।

আগেই খবর বেরিয়েছিল নেইমার জুনিয়রকে দলে টানার জন্য ৩০০ মিলিয়ন ইউরো নিয়ে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্যারিস সেন্ট জার্মেই-পিএসজি ছেড়ে নেইমারের রিয়ালে যাওয়ার খবরে অনেক আগে থেকেই বাজারে আছে। তবে এই গরম খবরের মাঝে আরও গরম খবর- রিয়ালে নয়, নেইমার যাচ্ছেন ইপিএলের দল চেলসি বা আর্সেনালে।

যদিও কদিন আগে নেইমার নিজেই জানিয়েছিলেন, পেপ গার্দিওলার অধীনে খেলার ইচ্ছে আছে তার। তাতে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা বেশ খুশিই হয়েছিলেন।

তবে ‘এক্সপ্রেস স্পোর্টস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ম্যানসিটি বা ম্যানইউ নয়, পিএসজি ফরোয়ার্ডকে তাই দেখা যেতে পারে চেলসি বা আর্সেনালে। ইংরেজি ভাষাটা খুব বেশি জানেন না নেইমার। তবে তিনি নাকি শেখার চেষ্টায় আছেন।

সেমিফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামস

ইউএস ‌ওপেন টেনিসের সেমিফাইনালে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেরেনা উইলিয়ামস। অথচ আগেরবার তিনি দর্শক হয়েই ছিলেন। কন্যা অ্যালেক্সের জন্ম উপলক্ষে খেলার বাইরে ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার ছয়বারের ইউএস ‌ওপেন জয়ী উঠে গেছেন শেষ চারে। ২৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালিক ৩৬ বছর বয়সী সেরেনা ৬-৪ ‌ও ৬-৩ গেমে পরাজিত করেন অষ্টম বাছাই ক্যারোলিনা প্লিসকোভাকে।

কোর্য়াটার ফাইনাল থেকে বিদায় ক্যারোলিনা প্লিসকোভার

এই জয়ে দ্বাদশবারের মতো ইউএস ‌ওপেন টেনিসের সেমিফাইনালে উঠলেন সেরেনা উইলিয়ামস। আর্থার স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে তিনি জানান, ‘আগের বছর এই সময়ে সন্তান জন্মদানের জন্য খেলতে পারিনি আমি। এবার খেলতে দারুণ লাগছে।’

ফাইনালে ‌ওঠার ম্যাচে সেরেনাকে আগামী শুক্রবার লড়তে হবে লাটভিয়ার অ্যানাস্তাসিয়া সেভাস্তোভার বিপক্ষে। ইউএস ‌ওপেনের রানিং চ্যাম্পিয়ন স্লোয়ান স্টিফেন্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেন অ্যানাস্তাসিয়া।

চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে সেমিতে সেভাস্তোভা

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্লোয়ান স্টিফেন্সকে হারিয়ে বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যাম টেনিস টুর্নামেন্ট ইউএস ‌ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছেন অ্যানাস্তাসিয়া সেভাস্তোভা। মঙ্গলবার রাতে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে, লাটভিয়ান সেভাস্তোভা ৬-২ ‌ও ৬-৩ সেটে স্লোয়ানকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেন।

এক ঘন্টা ২৪ মিনিটের এক লড়াইয়ে সেভাস্তোভা পরাজিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের স্লোয়ানকে। তাতে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মেজর কোনো টেনিস টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠলেন সেভাস্তোভা।

টানা তিনবার ইউএস ‌ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সেভাস্তোভা ম্যাচ জয়ের পর জানান, ‘খুব কষ্ট করতে হয়েছে আজ। স্টেডিয়ামে প্রচুর গরম ছিল। খুব ঘামছিলাম। তবে সেমিতে উঠে বেশ খুশি। পরিকল্পনা মতো খেলা হয়েছে।’

নেপালকে হারিয়েছে পাকিস্তান

নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা করেছে পাকিস্তান। এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসেও নেপাল অনূর্ধ-২৩ দলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল পাকিস্তান। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ গেমেসের উদ্বোধনী ম্যাচেও নেপাল জাতীয় দলকে একই ব্যবধানে পরাজিত করলো পাকিস্তান। এই জয়ে এ’ গ্রুপ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করলো দীর্ঘ দিন ফুটবল থেকে দূরে থাকা পাকিস্তান।

শুরু থেকেই মাঠে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় নেপালের খেলোয়াড়রা। চতুর্থ মিনিটে পাকিস্তান গোলরক্ষকের পরীক্ষাও নিয়ে নেয় তারা। লক্ষহীন ওই আক্রমণ থেকে পাকিস্তান শিবিরের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে দক্ষতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক।

এরই ফাঁকে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে প্রতিআক্রমণ শুরু করে পাকিস্তান। মধ্যমাঠে নেপালীদের দাপট থাকলেও তাদের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ঝটিকা আক্রমণ করে পাকিস্তান। ১৪ মিনিটে নেপালের ডি বক্সে বল নিয়ে অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন ঢুকে পড়লেও শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। ৩৫ মিনিটে ঠিকই সফলতা পায় পাকিস্তান। আগের মিনিটে নেপালের ডি বক্সে উড়ে আসা বল পাকিস্তানী মিডফিল্ডার মোহাম্মদ রিয়াজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সময় তাকে অবৈধভাবে বাঁধা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন নেপালী ডিফেন্ডার অধিনায়ক ভিরাজ মহাজন। পেনাল্টির নির্দেশ দেন জর্ডানের রেফারি। স্পটকিকে পাকিস্তানকে লিড এনে দেন স্ট্রাইকার হাসান নাভিদ বাশির।

৩৯ মিনিটে প্রতি আক্রমণে যায় নেপাল। কর্নার থেকে অঞ্জন বিসতার ক্রসের বলে ডিফেন্ডার সুমন আরিয়াল হেড করলে বলটি পাকিস্তানের গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ৪৫ মিনিটে কর্নার থেকে নেপালীদের ফের গোল পরিশোধের সুযোগ নস্যাৎ করেন পাকিস্তানী গোলরক্ষক ইউসুফ ইজাজ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠে নেপাল। ৪৮ মিনিটে ডিফেন্ডার আদিত্য চৌধুরীর ফ্রিকিক থেকে বিমল গার্তি বল নিয়ন্ত্রনে নিয়ে দুর্বল শট নিলে বল গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়।

আক্রমণ প্রতি আক্রমণের মধ্যে চলতে থাকা ম্যাচের ৬৫ মিনিটে মধ্যমাঠে ফাঁকায় বল পান পাকিস্তান বদলী খেলোয়াড় সাদুল্লাহ। বল নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে নেপালী ডি বক্সের বাইরে থেকে শট নিলে পরাস্ত হন গোলরক্ষক কিরন কুমার। কিন্তু বলটি গোলবারে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান।

৮২ মিনিটে গোল পরিশোধ করে নেপাল। মাঠের ডান দিক থেকে কর্নারের ক্রসের বলে সাইড হেডের মাধ্যমে গোলপোস্টের সামনে পাঠান নেপালের বদলী খেলোয়াড় নিরঞ্জন খাড়কা। পোস্টের সামনে দাঁড়ানো স্ট্রাইকার বিমল ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে জালে জড়িয়ে দেন বল (১-১)।

ম্যাচের ইনজুরি সময়ে অসাধারণ এক গোলে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। মধ্যমাঠ থেকে বদলী খেলোয়াড় মুহাম্মদ আলীর ক্রসের বল ডি বক্সেই সতীর্থ পাকিস্তানী সাদুল্লাহ হেড করে নেপালী গোলবারের সামনে থাকা আরেক সতীর্থ মোহাম্মদ আলীর কাছে পাঠিয়ে দেন। আলীও ওই বল দর্শনীয় হেডে নেপালের জালে জড়িয়ে দিলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের।

ভুটান জয়ের সাথে স্বস্তি‌ও বাংলাদেশের

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথে কিছুটা এগিয়ে‌ও গেলো জামাল ভূঁইয়ার দল।

বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে বিকেল থেকেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামমুখী হয়েছিল দর্শকরা। ম্যাচ শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা আগেই দর্শকে ভরে যায় গ্যালারি। অনেকদিন পর বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে এক সময় টিকিট নিয়েও কাড়াকাড়ি হয়।

শুরুর তিন মিনিটের মাথায়ই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এ সময় কর্নার কিক পায় বাংলাদেশ। কর্নার কিক নেওয়ার সময় ডি বক্সের মধ্যে সাদউদ্দিনকে ফাউল করেন ভুটানের থেরিং ধিরাজ। থাইল্যান্ডের রেফারি সিভাকর্ন পু-উদম পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ধিরাজকে দেন হলুদ কার্ড। পেনাল্টি থেকে তপু বর্মন গোল করে এগিয়ে নেন দলকে ১-০।

৭ মিনিটের মাথায় মাহবুবুর রহমান সুফিলের নেওয়া শট রুখে দেন ভুটানের গোলরক্ষক। ১২ মিনিটে ভুটান একটি আক্রমণ করে। তবে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। ১৪ মিনিটে বাংলাদেশের বিপলু আহমেদ গোলের সুযোগ মিস করেন। এভাবে গোল মিসের মহড়া, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়। বাংলাদেশ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায়।

বিরতির পরপরই ব্যবধান বাড়ায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে ডি বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন মাহবুবুর রহমান সুফিল। ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। এরপর বাকি সময়ে উভয় দল ভালো কিছু সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান ২-১ গোলে নেপালকে হারিয়েছে।

অভিষেকেই গোল রোনালদো জুনিয়রের

অভিষেকেই ম্যাচেই শিরোনামে চলে এলেন রোনালদো জুনিয়র। জুনিয়র জুভেন্টাসের অনূর্ধ্ব-৯ দলের হয়ে প্রথম ম্যাচেই নজরকাড়া পারফরমেন্স দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছেলে। লুসেন্তর বিরুদ্ধে ৫-১ গোলে জয় পায় জুভেন্টাস। তার মধ্যে চারটি গোলই করেন জুনিয়র রোনালদো।

বিশ্বকাপ শেষ হতেই রেকর্ড অঙ্কের টাকায় দলবদল করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্পেনের সব থেকে ধনী ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যোগ দেন জুভেন্টাসে। তবে ঘরোয়া লিগে দল জয় পাচ্ছে অথচ রোনালদো কোনো গোল পাচ্ছেন না। গোল খরায় আছেন তিনি। জুভেন্টাসের সমর্তকদের সেই আক্ষেপটাই মিটিয়ে দিল রোনালদো পুত্র। অভিষেক ম্যাচেই বিপক্ষের জালে বল জড়াল চারবার।

অতীতে, রোনাল্ডো নিজ মুখেই জানিয়েছিলেন তিনি চান বড় হয়ে তাঁর ছেলে পেশাদার ফুটবলার হোক। ৯ বছরের ছেলেকে নিয়ে সিআরসেভেন এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো (জুনিয়র) আমার মতো প্রতিযোগী মনোভাবাপন্ন। আমি ছোট বেলায় যেমন ছিলাম ঠিক তেমন। ও কখনই হারতে চায় না। আমি নিশ্চিত বড় হয়ে ও আমার মতো হবে। ওর মধ্যে প্রতিভা আছে, স্কিল আছে, ওর মধ্যে গতিও আছে। ওকে আরও অনেক কিছু শেখাব। আমি চাই ও বড় হয়ে একজন পেশাদার ফুটবলার হোক।’ ছেলের এই ফর্ম দেখে মনে হচ্ছে জুনিয়র রোনালদো সিনিয়রের স্বপ্ন পুরণের পথেই পা বাড়াচ্ছেন।

ফিফার সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই মেসি

ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই লি‌ওনেল মেসির না। আছেন- ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো লুকা মড্রিক ‌ও মোহাম্মদ সালাহ। আজ সোমবার তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে ফিফা। ১১ মৌসুম পর বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের তালিকা থেকে বাদ পড়লেন আর্জেন্টিনা ‌ও বার্সেলোনার সেরা খেলোয়াড় লি‌ওনেল মেসি। ২০০৬ সাল থেকে মেসি প্রতিবার ছিলেন ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের তালিকায়।

পাঁচবারের বিশ্বসেরা লি‌ওনেল মেসি ২০০৭ ‌ও ২০০৮ সালে বর্ষসেরা পৃরস্কার জেতার দৌড়ে রানার্সআপ হয়েছিলেন। আর ২০০৯ সালে প্রথম বিশ্বসেরার স্বীকৃতি জেতেন ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এক দশকের‌ও বেশি সময় ধরে বিশ্বসেরার খেতাব জেতার লড়াইটা দারুণভাবে জমিয়ে তুলেছিলেন লি‌ওনেল মেসি ‌ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

সাফের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

আর মাত্র এক দিন পরই মাঠে গড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরকে সামনে রেখে আজ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। যুব দলের জাফর ইকবালের জায়গা হয়নি জেমি ডে’র দলে। এছাড়া ২০ সদস্যের এই দলে জায়গা হয়নি মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহ, ফজলে রাব্বি, ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া, ডিফেন্ডার রহমত মিয়া, মনজুর রহমান মানিক, গোলরক্ষক আনিসুর রহমান ও মাহফুজ হাসান প্রিতমেরও।

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর টেলিভিশন সম্প্রচার যাত্রা শুরু করবে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রডাকশনের দায়িত্বে আছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন। টুর্নামেন্টে খেলতে আগেই বাংলাদেশে এসেছে শ্রীলঙ্কা দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। যে ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় লঙ্কানরা। আজ সকালে বাংলাদেশে পা রাখে ভুটান ও নেপাল।

২০ সদস্যের বাংলাদেশ দল: আশরাফুল ইসলাম রানা, শহীদুল ইসলাম সোহেল, তপু বর্মন, টুটুল হোসেন বাদশা, বিশ্বনাথ ঘোষ, সুশান্ত ত্রিপুরা, নাসির চৌধুরী, ওয়ালি ফয়সাল, ফয়সাল মাহমুদ, জামাল ভূঁইয়া, আতিকুর রহমান ফাহাদ, মাশুক মিয়া জনি, মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিপলু আহমেদ, মামুনুল ইসলাম, ইমন মাহমুদ বাবু, সোহেল রানা, রবিউল হাসান, সাদ উদ্দীন ও শাখাওয়াত রনি।

ঢাকায় ভালো করতে চায় নিষেধাজ্ঞামুক্ত পাকিস্তান

তিন বছরের মতো ফুটবল দুনিয়ার বাইরে ছিল পাকিস্থান। ২০১৫ সালের মার্চে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসে পাকিস্থান ফুটবল ফেডারেশনের ‌ওপর। এরপর ১০ অক্টোবর ২০১৭ থেকে ১৩ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের শাসক সংস্থা ফিফার সাসপেনশনে ছিল পাকিস্থান। ২০১৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপও খেলতে পারেনি দলটি।

দীর্ঘ সময় ফুটবলের বাইরে থাকা পাকিস্থান ঢাকা থেকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে চায়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে এসে দলটির ব্রাজিলিয়ান কোচ হোসে আন্তোনিও নোগেইরা বলেন, তারা সেমিফাইনালে চোখ রেখেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবেন। টুর্নামেন্টে পাকিস্থান খেলবে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে। অন্য দুই দল নেপাল ও ভুটান। গ্রুপকে কঠিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাকিস্থানের কোচ। আর গ্রুপে বাংলাদেশকেই টপ ফেবারিট ভাবছেন তিনি। বাংলাদেশ ফেবারিট কারণ, ‘বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলবে। এটা একটা বড় সুবিধা তাদের। এ ছাড়া বাংলাদেশের দলটিও ভালো।’

তিন বছর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক খেলার বাইরে থাকা একটি দল ফুটবলে অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে ব্রাজিলের সাও পাওলোর ৫২ বছর বয়সী এই কোচ বলেছেন, ‘পাকিস্থানের ফুটবল অনেক কিছু হারিয়েছে। আমরা নতুন করেই শুরু করেছি। মে মাসে পাকিস্থান ফুটবলের দায়িত্ব নিয়েছি। সাফের আগে আমরা ৪০ দিনের মতো প্রস্তুতি নিয়েছি। এ টুর্নামেন্টে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে কোয়ালিফাই করা, মানে সেমিফাইনাল।’

পাকিস্থান ফুটবলের বাইরে থাকলেও দেশটির অনেক ফুটবলার খেলেন অন্য দেশের ঘরোয়া ফুটবলে। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলা ফুটবলারদের নাম আছে পাকিস্থানের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলে। কিন্তু দলটির কোচ উল্লেখ করেছেন মাত্র ৩ জনের কথা। কোচের ভাষ্য অনুযায়ী গোলরক্ষক ইউসুফ বাট এবং ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আলি ও হাসান বশির খেলেন ডেনমার্কের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে। তবে পাকিস্থান দলের খেলোয়াড়দের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, ৯ জন খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র, সাইপ্রাস, চীন, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলেন।

নিষেধাজ্ঞামূক্ত হওয়ার পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে পাকিস্থান। যদিও গত এশিয়ান গেমস ফুটবলের মধ্যে দিয়ে অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেছে পাকিস্থান। দলটির ব্রাজিলিয়ান কোচ বলেছেন, ‘আমরা গত চার বছরে মাত্র ৩টি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেছি।’

ভুটানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আগামীকাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই সাফ টুর্নামেন্ট। ১৫ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে উদ্বোধনী দিনে ভুটানের মুখোমুখি হবে জামাল ভুঁইয়ারা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়।

সাত দলের অংশগ্রহণে মাঠে গড়াবে সাফের ১২তম আসর। স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপের অন্য দলগুলো হচ্ছে নেপাল, ভুটান ও পাকিস্থান। এছাড়া, গ্রুপ বি’তে আছে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। সাফের গত তিন আসরে ব্যর্থ হলেও এবার বেশ ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। কাতার ও কোরিয়ায় প্রস্তুতি ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিল তারা। ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান গেমসে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে জেমি ডে’র দল। তাই নিজেদের ইতিহাসে সাফের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ সাফ শুরু কাল

মূল নাম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আদর করে বলা হয় ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’। স্পন্সরপিপের কারণে ২০১৫ সাল থেকে তারই পোশাকি নাম ‘সাফ সুজুকি কাপ’। সাত দল নিয়ে ঢাকায় আগামীকাল শুরু হচ্ছে সেই টুর্নামেন্ট।

গতকাল রবিবার বিকেলে উন্মোচন করা হয়েছে টুর্নামেন্টের ট্রফি। সাধারণত টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অধিনায়কদের উপস্থিতিতে ট্রফি উন্মোচন করা হয়ে থাকে। কিন্তু উপস্থিত ছিলেন শুধু বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক! তাদের সঙ্গে ছিলেন সাফ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং অফিসিয়াল স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তিরা। সাত দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেবে টুর্নামেন্টে। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ভুটান, নেপাল ও পাকিস্থান। ‘বি’ গ্রুপে লড়বে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।

আগামীকাল উদ্বোধনী দিনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে নেপাল ও পাকিস্তান। সন্ধ্যা ৭টায় ভুটানের বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি সাতবার শিরোপা জিতেছে ভারত। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। বাংলাদেশের ঘরে ট্রফি এসেছে মাত্র একবার। ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় দশক, কখনো আর ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি লাল-সবুজের জার্সিধারীদের।

শুধু দেড় দশকের ট্রফিশূন্যতাই নয়, সাফে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থা আরো করুণ। সবশেষ তিন আসরের কোনোবারই গ্রুপপর্ব পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন আসরে মোট ৯ ম্যাচ খেলে জয় মাত্র একটিতে, ড্র দুটি, বাকি ছয়টিই হার। অথৈ সাগরে তলিয়ে যেতে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলে অবশ্য হঠাৎ আলোর ঝলকানি হয়ে এসেছে এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্স। যেখানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রায় একশ’ ধাপ এগিয়ে থাকা কাতারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো খেলেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। সেই সাফল্য সাফে বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে। এখন শুধু ২০০৩ সালের পুনরাবৃত্তি হলেই হয়।

কোয়ার্টার ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামস

এস্তোনিয়ার কাইয়া কানেপিকে ৬-০, ৪-৬ ‌ও ৬-৩ সেটে হারিয়ে বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যাম ইউএস ‌ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। রবিবার রাতে কানেপিকে হারাতে সময় নেন সেরেনা এক ঘন্টা ৩৭ মিনিট।

অবশ্য পাঁচবারের মোকাবেলায় এবারই প্রথম কানেপির বিপক্ষে সেরেনা তৃতীয় সেটে গিয়ে জয় পেলেন, আগের লড়াইগুলোতে সরাসরি দুই সেটেই জিতেছিলেন ২৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী এই মার্কিন কৃষ্ণকলি। এই জয়ে সেরেনা ১৫তম বারের মতো ইউএস ‌ওপেনের শেষ আটে উঠলেন।

এতে সেমিফাইনালের টিকিট পেতে সেরেনাকে লড়তে হবে অষ্টম বাছাই ‌ও ইউএস ‌ওপেনে দুইবারের রানার্স আপ ক্যারোলিনা প্লিসকোভার বিপক্ষে। এই দুজনের লড়াই ১-১ সমতায় আছে। ২০১৪ সালে প্লিসকোভাকে পরাজিত করলে‌ও ২০১৬ সালের সেমিফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রের প্লিসকোভার কাছে ৬-২ ‌ও ৭-৬ গেমে হেরেছিলেন সেরেনা।

এর আগে, প্লিসকোভা ৬-৪ ‌ও ৬-৪ গেমে অস্ট্রিয়ার অ্যাশলে বার্তিকে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করেন।

শেষ আটে রাফায়েল নাদাল

শিরোপা জয়ের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন রাফায়েল নাদাল। জর্জিয়ার বাসিলাসভিলকে ৬-৩, ৬-৩, ৬-৭ ‌ও ৬-৪ গেমে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেন ইউএস ‌ওপেনের শীর্ষ বাছাই রাফায়েল নাদাল।

এবার সেমিফাইনালের টিকিট পেতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাদালকে লড়তে হবে অস্ট্রিয়ার থিয়ামের বিপক্ষে। যিনি এবারই প্রথম ইউএস ‌ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ‌ওঠেন। তিন ঘন্টা ২০ মিনিটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেন নাদাল জর্জিয়ার নিকোলাজ বাসিলাসভিলকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ডমিনিক থিয়াম

গতবারের রানার্সআপ কেভিন অ্যান্ডারসনকে সরাসরি সেটে হারিয়ে ইউএস ‌ওপেন টেনিসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেন ডমিনিক থিয়াম। নবম বাছাই থিয়াম হার্ডকোর্টে এবারই প্রথম হারালেন অ্যান্ডারসনকে। জয় পান তিনি ৭-৫, ৬-২ ‌ও ৭-৬ গেমে। ফ্রেঞ্চ ‌ওপেনের বাইরে এটাই কোনো গ্র্যান্ডস্ল্যাম টুর্নামেন্টের শেষ আটে ‌ওঠা অস্ট্রিয়ান থিয়ামের।

অবশ্য এর আগে, কখনোই ফ্ল্যাসিং মিডোর চতুর্থ রাউন্ডের ব্যারিয়ার পার হতে পারেন নি থিয়াম। গত তিন বছরই তিনি শেষ ১৬ থেকে ঘরে ফিরে যান। কিন্তু এবার তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান কেভিন অ্যান্ডারসনকে ধরাশায়ী করে পৌঁছে যান শেষ আটে।

সফল সমাপ্তি এশিয়ান গেমসের

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

জাকার্তা-পালেম্বাং এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনের মতো সমাপনীতেও আয়োজনের কোন কমতি ছিল না। স্থানীয় আয়োজকরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমান করতে কতো চেষ্টাই না করেছেন। তাদের সে চেষ্টাতে কিছুটা বাগড়া দিয়েছিল প্রকৃতি। কিন্তু কোন বাঁধাই হার মানাতে পারেনি সফল এ সমাপ্তির। রাতের কালো আঁধার ভেদ করে হাজারো লাল-নীল রশ্মির আলোকচ্ছ্বটায় আলোকিত হয়ে উঠে জাকার্তার আকাশ। করুন সুরে বিদায় জানানো হয় গেমসের তিন মাসকটকে (অতুন, বিনবিন, কাকা) বিদায় জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বাগত জানানো হয় ২০২২ সালে চীনের হ্যানসো শহরে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসকে। ওসিএ’র পতাকা ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে চায়নিজ অলিম্পিক কমিটিকে দেয়া হয়। হ্যানসো প্রদেশের মেয়র ওসিএ’র পতাকা গ্রহণ করেন।

বিকেল থেকেই আচমকা কালো হতে শুরু করে জাকার্তার আকাশ। হঠাৎকরেই বিকেল পাঁচটায় শুরু হয় বৃষ্টি। কিন্তু প্রকৃতির কোন বাঁধাই মানেননি দর্শকরা। দল বেঁধে ঠিক সময়েই হাজির হন গেলোরা বুকার্নো ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মূল স্টেডিয়ামে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি বন্ধ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের মঞ্চটা ছিল ভিন্ন রকম। গান ও নাচের জন্য বড় মঞ্চ। মঞ্চের দুই পাশ থেকেই গান হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি, জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য তুলে ধরলেও সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল অনেকটাই সঙ্গীত নির্ভর। গিগি, আইকন, বিসিএলের মতো জনপ্রিয় শিল্পিরা গান গেয়ে জিবিকে মাতিয়ে তোলেন। ইন্দোনেশিয়ান সঙ্গীতের পাশাপাশি আরবি, হিন্দি গানও পরিবেশন করাও হয়। সঙ্গীতের সাথে প্রযুক্তির ছোয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। সঙ্গীতের মাঝেমাঝে মঞ্চে বড় ডিসপ্লে হয়েছে। সাথে আলোর ঝলকানি ও আতশবাজি ছিল।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সংগীত দিয়ে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। একটি সঙ্গীত ডিসপ্লের পর হয় মার্চ পাস্ট। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন সদ্য অবসরে যাওয়া জাতীয় দলের তারকা হকি খেলোয়াড় মামুনুর রহমান চয়ন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগে আনুষ্ঠানিক পর্ব ছিল। আনুষ্ঠানিক পর্বে অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়ার সভাপতি আহমেদ ফাহাদ আল সাবাহ স্থানীয় সময় রাত আটটায় গেমসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ট্রাফিকের শহর হিসেবে খ্যাত জাকার্তা। তার বক্তব্যে জাকার্তার ট্রাফিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন, ‘ট্র্যাফিক অনেক পরিশ্রম করেছে গেমস সুষ্টভাবে আয়োজনের জন্য। তারা বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য।’ উদ্বোধনী অনুষ্টানে থাকলেও সমাপনী অনুষ্টানে ছিলেন না রাষ্ট্রপতি জোকো ইউদো। লম্বক থেকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন অবশ্য। ভিডিও বার্তায় গেমস সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইওসি সভাপতি ড. টমাস বার।

সাফ সুজুকি ফুটবলের ট্রফি উন্মোচন

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই সাফ ফুটবলের ট্রফি উন্মোচন হলো আজ। অনাঢ়ম্বর এক অনুষ্ঠানে সাতজাতির এ টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন সাফ সভাপতি। এ সময় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফলের আশা প্রকাশ করেন।

১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হওয়া সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে হতাশার গল্পই বেশি বাংলাদেশের। শুধু ২০০৩ সালে মালদ্বীপকে হারিয়ে একবার মাত্র শিরোপা জয়, বাকী ১০ আসরেই বাংলাদেশের স্বপ্ন ধুয়ে গেছে চোখের জলে। কখনো আবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে লাল-সবুজের পতাকাধারীদের।

সাফ ফুটবলের ১২তম আসরের স্বাগতিক হয়েছে বাংলাদেশ। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান উত্তর মোটর্সের অফিসে অনাঢ়ম্বর অনুষ্ঠানে হয়ে গেলো তার ট্রফি উন্মোচন।

এসময় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানান, ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা করে খেলবেন তারা। প্রত্যাশা ভালো ফলের।

আর স্পন্সর প্রতিষ্ঠান উত্তরা মোটর্সের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, সুযোগ পেলে আবারও পৃষ্ঠপোষকতা করতে চান তারা।

আগামী বুধবার সাতজাতির এই টুর্নামেন্ট শুরু হবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান।

ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত শারাপোভার

পাঁচবারের গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী রাশিয়ান তারকা মারিয়া শারাপোভা ইউএস ‌ওপেন টেনিসের শেষ ষোলোতে উঠেছেন। তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে শনিবার ৬-৩ ‌ও ৬-২ গেমে হারান শারাপোভা দশম বাছাই লাটভিয়ার জেলেনা ‌ওস্তাপেঙ্কোকে।

এই জয়ে শারাপোভা আবার‌ও ফর্মে ফেরার ইংগিত দিলেন। ২০০৬ সালের ইউএস ‌ওপেন জয়ী শারাপোভাকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেতে লড়তে হবে স্প্যানিশ কার্লা সুয়ারেজ নাভারোর বিপক্ষে।

১৫ মাস নিষিদ্ধ থাকার পর ২০১৭ সালে আবার‌ও টেনিস কোর্টে ফেরার পর থেকে ধীরে ধীরে শারাপোভা নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন। গত বছর‌ও তিনি ইউএস ‌ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে ‌ওঠেন।

২০১৭ সালের ফ্রেঞ্চ ‌ওপেন জয়ী ‌ওস্তাপেঙ্কোকে পরাজিত করতে শারাপোভা সময় নেন, এক ঘন্টা ২২ মিনিট।

শেষ ১৬ তে রজার ফেদেরার

দারুণ নৈপুন্যে ইউএস ‌ওপেন টেনিসের শেষ ১৬-তে উঠে গেলেন সর্বোচ্চ গ্রান্ডস্ল্যাম জয়ী রজার ফেদেরার। চতুর্থ রাউন্ডে ‌ওঠার পথে তিনি ৬-৪, ৬-১ ‌ও ৭-৫ গেমে পরাজিত করেন অস্ট্রেলিয়ান নিক কিরগি‌ওসকে।

নিউইয়র্কের এই প্রতিযোগিতায় সুইস তারকা ফেদেরার ১৮ বার অংশ নিয়ে ১৬ বারই চতুর্থ রাউন্ডে ‌ওঠার কৃতিত্ব দেখান। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১২ বার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলন। তবে এবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে হলে ফেদেরারকে আরেক অস্ট্রেলিয়ান অবাছাই জন মিলম্যানের বিপক্ষে লড়তে হবে।

‘ক্রাই বেবি’ নেইমার

প্যারিস সেন্ট জার্মেই তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল শনিবার রাতে লিগ ‌ওয়ানের ম্যাচে তারা নিমেসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে। এই জয়ে চার খেলায় পুরো ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো নেইমারের দল পিএসজি।

নিমেসের মাঠ স্টেড ডি কস্টিয়ার্সে খেলার ৩৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে দ‌েওয়ার কজটি করেন বিশ্বের স্বচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমারই। তবে ম্যাচের আগেই গ্যালারির একপ্রান্তে একটি ব্যানার ঝুলানো ছিলো। তাতে পর্তুগিজ ভাষায় লেখা ‘ব্রাজিলিয়ান অ্যা ক্রাই বেবি’।

গোল দে‌ওয়ার পর নেইমার সেই ব্যানারের পাশে গিয়ে চোখে আঙ্গুল রগড়ে কান্নার অভিনয়‌ও করেন। পিএসজি’র ৪-২ গোলে জয়ের গোলগুলো করেন অ্যাঞ্গেল ডি মারিয়া, কিলিয়ান এমবাপে এবং এডিসন কাভানি।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জমজমাট ড্র

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে চায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন, বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী। ছয় জাতির এই টুর্নামেন্ট আগামী পয়লা অক্টোবর থেকে শুরু হবে দেশের তিনটি ভেন্যুতে।

প্রায় দুই যুগ আগে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এখন অনিয়মিত। ২২ বছরে হয়েছে মাত্র চারটি আসর। শেষটি হয় ২০১৬ সালে। অবশ্য বাফুফে সভাপতি তিন বছর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতি জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল আয়োজনের। পরপর দুই বছর ২০১৫ ও ২০১৬ সালে আয়োজন করা গেলেও টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা থাকেনি। একবছর বিরতির পর এই টুর্নামেন্ট হচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবরে। ড্র অনুষ্ঠানে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী জানান, স্বাগতিকদের লক্ষ্য শিরোপা জয়।

এদিকে, টুর্নামেন্টের স্পন্সর কে-স্পোর্টসের সিইও ফরহাদ করিম বলেন, টুর্নামেন্টকে সফল করতে বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।

টুর্নামেন্ট উপলক্ষে ঢাকার একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনে ড্র হয়। ‘বি গ্রুপে’ স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ফিলিপাইন ও লাওস। আর ‘এ গ্রুপে’ আছে প্যালেস্টাইন, নেপাল ও তাজিকিস্তান। ছয় জাতির এই টুর্ণামেন্টের ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

হকিকে গুডবাই জানালেন চয়ন

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার। এশিয়ান গেমসই হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ আসর। তবে অনেকেই তখন বিশ্বাস করেননি। ভেবেছিলেন রাগে-ক্ষোভে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু না, সবাইকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ শেষে অবসরটা নিয়েই ফেললেন পেনাল্টি স্পেশালিষ্ট মামুনুর রহমান চয়ন। ভবিষ্যতে ফেডারেশনের অনুরোধেও জাতীয় দলের জার্সি আর গায়ে তুলে নেবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি। তার এ শূণ্যতা অনেক দিন ভোগাবে জাতীয় দলকে। ম্যাচ শেষে দু’দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের ষ্টিক তুলে গার্ড অব অনার জানান প্রায় দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ তারকা হকি খেলোয়াড়কে। এরপর মাঠেই তার হাতে জাতীয় পতাকা আাঁকা ক্রেষ্ট তুলে দেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক আবদুস সাদেক। আগামীকাল এশিয়ান গেমস হকির সমাপনী দিনে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে চয়নের হাতে। তার নেতৃত্বেই মার্চপাষ্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা।

এক যুগ আগে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গড়ানো চয়নের বয়স মাত্র ৩০। এরচেয়েও অধিক বয়সে হকি খেলা সম্ভব। বাংলাদেশ দলেই আছেন তেমন বয়স্ক প্লেয়ার। অথচ ফিটনেস থাকার পরও হঠাৎ করেই কেনো তিনি অবসরের ঘোষণা দিলেন, সেটা কারো বোধগম্য নয়। তবে অন্য কোনো কারনে নয়, নিজ সন্তানকে সময় দেয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় বলে দিয়েছেন বলে জানালেন চয়ন। বিকেএসপি থেকে উঠে আসা এ হকি তারকার জীবনে কোন অতৃপ্তি নেই, ‘হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। চারটি এশিয়ান গেমস খেলার স্বপ্ন ছিল, সেটা পূরণ হয়ে গেছে। আমি তৃপ্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে। আমার আর কোনো ইচ্ছে নেই। হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। হকি খেলেছি বলেই আমি চয়ন আজ সবার কাছে পরিচিত। দেশের সেরা দশজন তারকা খেলোয়াড়ের নাম উঠে আসলে সেখানে আমার নামটিও নেয় মানুষ। আমি হকি না খেললে হয়তো কেউ আমাকে চিনতো না।’

বিদায়ের মুহূর্তটা স্মরণ করে এ তারকা বলেন, ‘আমি আর ন্যাশনাল টিমে খেলতে পারবো না- এটা ভেবেই খুব খারাপ লাগছে। গতকাল রাত থেকেই আমি ঘুমাতে পারিনি। কারন ন্যাশনাল টিমের ফ্ল্যাগটা আর আমার বুকে থাকবে না। কিন্তু আমার সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা আজ যে সম্মান দিয়েছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ।’

অবসর নেয়ার মতো বয়স যে এখনো হয়নি সেটা অকপটেই স্বীকার করে নিলেন চয়ন, ‘আমি হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো কিছু দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু ছেলের কারনেই অবসর নিচ্ছি। তিন বছর বয়সী আমার ছেলেকে যখনি ভিডিও কল দেই তখনি ও মন খারাপ করে থাকে। এখন আমি পুরোটা সময় আমার সন্তানকে দিতে চাই।’

ক্যারিয়ারের স্মরনীয় মুহূর্ত হিসেবে ওয়ার্ল্ড হকি লীগে চীনের বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টাকে আখ্যায়িত করেন চয়ন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে কাতার এশিয়াড দিয়ে শুরু। এরপর ২০১০ সালে গুয়াংজু ও ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়াডে অংশ নিয়েছেন তিনি। চয়নের আগে একমাত্র হকি খেলোয়াড় হিসেবে চারটি এশিয়াডে অংশ নেয়ার কৃতিত্ব ছিল ডিফেন্ডার মুসা মিয়ার। আর তিনটি এশিয়াডে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক খেলোয়াড় জামাল হায়দার, মুসার ভাই ইছা মিয়া ও হাবুলের।

হকিতে ৬ষ্ঠ স্থানই পেলো বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের হকি ইভেন্টে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে ৬ষ্ঠ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের। আজ শনিবার জিবিকে স্পোর্টস এরিনার হকি গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে কোরিয়ানদের সামনে পাত্তাই পায়নি লাল-সবুজরা। এ ম্যাচটি আরো একটি কারনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল শিটুলবাহিনীর কাছে। কারণ দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মামুনুর রহমান চয়ন এ ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলের জার্সী তুলে রাখবেন। লক্ষ্যছিল, অভিজ্ঞ এ ফরোয়ার্ডের বিদায়ী ম্যাচে কম গোলে হেরে তাকে সম্মান জানানোর। কিন্তু সেটিও হয়নি।

কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমনে শুরু থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল গোপিনাথনের শিষ্যরা। বল দখলের লড়াইয়ের হিসেব কষলে আশি শতাংশ সময় বল ছিল কোরিয়ানদের দখলে। বাংলাদেশ মাঝে মধ্যে বল পেয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করাতো দূরে থাক, ডি-বক্সের সামনেও যেতে পারেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাত্র দশ মিনিটেই এগিয়ে যায় এশিয়ার পরাশক্তিরা। সিনইউ’র হিট থেকে পাওয়া বল কানেক্টে গোল করেন কিম জাংহু (১-০)। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুন করেন সিউ ইনউ (২-০)। প্রথম কোয়ার্টারে দুই গোল করা কোরিয়ানরা দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও দেখা পায় আরো দুই গোলের। ম্যাচের ২৬ মিনিটে জিয়ং জুনউ ফিল্ড গোল করে গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান। এক মিনিট পরেই পিসি পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়ে স্কোর লাইন ৪-০ করেন জাং জংইউন।

দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশের সীমানায় আক্রমনের ধারা অব্যাহত রাখে প্রতিপক্ষ দলের ফরোয়ার্ডরা। ৩৩ মিনিটে আরো একটি পেনাল্টি স্ট্রোক পেয়ে যায় কোরিয়া। সেই পিসিটাও কাজে লাগান অধিনায়ক জাং মানজাই (৫-০)। তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে দলের হয়ে ৬ষ্ঠ ও ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের দেখা পান জাং জংইউন (৬-০)। বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুঁকে দেন লি জুংগিয়ান (৭-০)। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে আসে এ গোলটি।

এর আগে, গত এশিয়ান গেমসেও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেবার ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল লাল-সবুজরা।

কঠিণ গ্রুপে বার্সেলোনা

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র হলো বৃহস্পতিবার রাতে। বরাবরের মতো জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দলকে ভাগ করা হয়েছে ৮টি গ্রুপে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের জায়গা হয়েছে গ্রুপ 'জি'তে।

রিয়ালের চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা লড়বে গ্রুপ 'বি'তে। গ্রুপ 'এইচ'তে একসাথে রয়েছে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বর্তমান ক্লাব জুভেন্টাস ও সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

গ্রুপপর্বের ড্রয়ে কঠিণ গ্রুপে পড়েছে বর্তমান সময়ের সেরা দুই খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্লাব। গ্রুপ 'বি'তে বার্সেলোনার অপর তিন সঙ্গী ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পার, ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান ও ডাচ ক্লাব পিএসভি। এর মধ্যে ইন্টার মিলানের রয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সুখস্মৃতি আর টটেনহাম নিজেদের প্রমাণ করে চলেছে বেশ কয়েক মৌসুম ধরেই। এমতাবস্থায় গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যেকোন দুই দলের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়াটা খুব একটা সহজ হবে না।

অন্যদিকে গ্রুপ 'এইচে' রোনালদোর জুভেন্টাসের সাথে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া ও নবাগত ক্লাব ভিক্টোরিয়া প্লাজেন। তবে জুভেন্টাসের মূল চ্যালেঞ্জই হবে ভ্যালেন্সিয়া ও ম্যান ইউকে টপকে পরের পর্বে জায়গা করে নেয়াটা। এছাড়া স্বস্তিতে নেই গত মৌসুমের রানার-আপ ক্লাব লিভারপুলও। 'সি' গ্রুপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের লড়তে হবে ফ্রেন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই ও ইতালিয়ান জায়ান্ট নাপোলির বিপক্ষে। গ্রুপ 'এ'তেও রয়েছে তিনটি শক্তিশালী দল। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের সাথে এই গ্রুপে লড়বে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও মোনাকো।

২০১৮-১৯ মৌসুমের গ্রুপগুলো

গ্রুপ এ: অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, মোনাকো ও ক্লাব ব্রুগ।

গ্রুপ বি: বার্সেলোনা, টটেনহাম, পিএসভি ও ইন্টার মিলান।

গ্রুপ সি: প্যারিস সেন্ট জার্মেই, ন্যাপোলি, লিভারপুল ও ক্রেভেনা ভেজদা।

গ্রুপ ডি: লোকোমোটিভ মস্কো, পোর্তো, শালকে ০৪ ও গ্যালাতাসারাই।

গ্রুপ ই: বায়ার্ন মিউনিখ, বেনফিকা, আয়াক্স ও এইকে।

গ্রুপ এফ: ম্যানচেস্টার সিটি, শাখতার দোনেৎস্ক, অলিম্পিক লিওন ও হফেনহেইম।

গ্রুপ জি: রিয়াল মাদ্রিদ, রোমা, সিএসকেএ মস্কো ও ভিক্টোরিয়া প্লাজেন।

গ্রুপ এইচ: জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ভ্যালেন্সিয়া ও ইয়ং বয়েজ।

বাংলাদেশের এশিয়া কাপ দল

স্কোয়াড একরকম তৈরিই ছিল। অপেক্ষা ছিল কেবল হজ্ব থেকে সাকিব আল হাসানের ফেরার। বুধবার রাতে ফিরেছেন সাকিব। কথা বলে সিদ্ধান্ত হলো তার আঙুলের অস্ত্রোপচার আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার। এই অলরাউন্ডারকে রেখেই তাই ঘোষণা করা হয়েছে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের জন্য ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল।

দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। আর প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন অলরাউন্ডার আরিফুল হক। আর টাইগারদের অধিনায়ক হিসেবে আছেন যথারীতি মাশরাফি বিন মর্তুজাই।

ওয়ানডের বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, লিটন কুমার দাস, আবু হায়দার, নাজমুল ইসলাম অপু, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, আরিফুল হক ‌ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

হকিতে লক্ষ্য এবার পঞ্চম স্থান

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু লক্ষ ঠিকই পূরণ করেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। জায়গা করে নিয়েছে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী শনিবার জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে বিকেল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। শক্তির বিচারে দক্ষিণ কোরিয়া বেশ এগিয়ে। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও তাদের অবস্থান বেশ শক্ত। ১৪তম স্থানে আছে কোরিয়ানরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ নম্বরে। র‌্যাংকিংয়ের এ তফাতটাই দুই দলের শক্তির পার্থক্য নিরুপনের জন্য যথেষ্ট।

বাংলাদেশ দলের কোচ গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তি এবার এশিয়ান গেমস হকির পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থানকে টার্গেট করেই ইন্দোনেশিয়া এসেছিলেন। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ওমানের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর কাজাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধেও পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে শিটুল বাহিনী। তবে মালয়শিয়া ও পাকিস্তানের কাছে হেরে তিন নম্বরে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করে জিমি-চয়নরা।তিন ম্যাচে জিতে প্রথম টার্গেটটা পূর্ণ হয়েছে লাল-সবুজদের।এবার স্থান নির্ধারনী ম্যাচে জয় চাইছেন কোচ গোপিনাথন। পঞ্চম স্থান নিয়েই দেশে ফেরার লক্ষ্য তার।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পরদিন শিষ্যদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ। আজ বৃহস্পতিবার অনুশীলন করেছেন পুরোদমে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে যে ভুলগুলো করেছিল জিমি-চয়নরা, সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা করছেন অনুশীলনে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক ফরহাদ আহম্মেদ শিটুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য পঞ্চম স্থান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো আর করতে চাই না। এখন লক্ষ্য স্থাণ নির্ধারনী ম্যাচে ভালো খেলে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করা।’

এদিকে, স্পিড-ফিটনেস-ট্যাকটিকস, হকিতে ম্যাচ জয়ের তিন প্রধান বিষয়। তবে এগুলো থাকলেই যে জয়ের নিশ্চয়তা থাকবে বিষয়টি তেমনও নয়। সতীর্থদের রসায়নটাও গুরুত্বপূর্ণ। পুরো খেলায় দাপট দেখিয়েও কখনও কখনও ভালো দলের নাম যোগ হতে পারে পরাজিতদের কাতারে। এর অন্যতম কারণ বোঝাপড়ার অভাব। বাংলাদেশ দলের মিডফিল্ডার সরোয়ার হোসেন জানান, এক্ষেত্রে মানসিক ব্যাপারটাও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তা না হলে, দুর্বল দলের বিপক্ষে তারা যে পজিশনে গোল পান বড় দলের বিপক্ষে সেখানে কেনো ব্যর্থ হবে বাংলাদেশ।

ব্যর্থতার দায় একে অন্যের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস থেকে এবার শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে একটি ইভেন্টেও কোন পদকের দেখা পায়নি লাল-সবুজরা। প্রত্যাশার ইভেন্ট মহিলা কাবাডি, শ্যূটিং ও গলফ জুড়ে ছিল শুধুই হতাশা। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এছাড়া ভারোত্তোলন, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্সের মতো ইভেন্টগুলো থেকে হিটে বাদ পড়ে লজ্জায় মুখ লুকিয়েছেন অ্যাথলেটরা। এমন হতাশাজনক পারফর্ম্যান্সের পর অংশগ্রহনকারীরা দোষারোপ করছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিবাবক অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ)। আর অলিম্পিক দোষারোপ করছে অ্যাথলেটদের। উভয় পক্ষের এ দোষারোপের মধ্যেই শেষ হয় বাংলাদেশের এবারের এশিয়ান গেমস মিশন। কিন্তু ব্যর্থতার মূল কারন উদঘাটনে কারোই যেনো কোন ভূমিকা নেই। ভুলটা আসলে কোথায়? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন না কেউ। 

আমাদের পাশের দেশ ভারত যখন একের পর এক স্বর্ণ পদক জিতে উৎসবে মাতছে, তখন আমাদের হিসেবের খাতায় প্রাপ্তি একেবারেই শূণ্য। অতিথি হয়েই থাকতে হয়েছে গেমসে। পদক তালিকায় এবারো শীর্ষে আছে চীন। এরইমধ্যে ১০৬ ডিসিপ্লিনের স্বর্ণ পদক জয় করেছে তারা (আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত)। গত আসরের মতো এবারো তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সিঁড়িতে এক কদম এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের সংগ্রহ ৫৩টি স্বর্ণসহ ১৬৩টি পদক। দক্ষিণ কোরিয়া ৩৭টি ডিসিপ্লিনে সেরা হয়ে তিন নম্বরে রয়েছে। আর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ৩০টি স্বর্ণ পদক নিয়ে তালিকার চার নম্বরে আছে।

আমাদের পাশের দেশ ভারত ১১টি স্বর্ণসহ ৫৪টি পদক জিতে নিয়ে সেরা দশে অবস্থান করছে। ইন্দোনেশিয়ার মতো গরীব একটি রাষ্ট্র যদি একের পর এক স্বর্ণ পদক জিততে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? পিছিয়ে থাকতে হবে কেনো বাংলাদেশের? ভারত যদি দিন দিন উন্নতি করতে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? এমন প্রশ্ন আসলে সবার মনেই। উত্তর নেই কারো কাছে, শুধু প্রশ্নের পাহাড়। আসলেই কি উত্তর নেই? না কি জেনেও আমরা হাঁটছি ভুল পথে?

এবারের আসরে আসার অন্তত সাত মাস আগেই বিওএ অ্যাথলেটদের অনুশীলন শুরু করার কথা জানিয়েছিল। কয়েকটি ইভেন্টে তারা জোড় দিয়ে ক্যাম্প শুরুও করেছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটে মাঝ পথেই ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্প নিয়ে এমন ধোঁয়াশার কারনে মনোকষ্ট ছিল অংশগ্রহনকারীদের মধ্যেও। সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর নিজের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে বলেছিলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আসার মাত্র এক মাস আগে ক্যাম্প শুরু করেছিলাম। যেটা মোটেও পর্যাপ্ত ছিল না আমার জন্য। আরো বেশী করে অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিওএ সেটা করেনি। ভেবেছিলাম এবার সাত-আট মাস সময় পাচ্ছি। ভালো কিছু করতে পারবো। কিন্তু না, বিওএ’র উদাসীনতার কারনে তা আর হয়নি।’

ক্ষোভ ছিল এসএ গেমসের ভারেত্তোলন ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত’র কণ্ঠেও। চলতি এ আসরের মার্চপাষ্টে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী এ অ্যাথলেট জানান, ‘বিওএ আমার অনুশীলনের ব্যবস্থাই করেনি। যতোটুকু করেছি নিজের চেষ্টাতেই করেছি। বিওএ যদি অনুশীলনের ব্যবস্থা করতো, তাহলে আরো ভালো কিছু করতে পারতাম।’ আসলে কতোটুকু ভালো বা উন্নতি করতেন সাঁতারু সাগর কিংবা মাবিয়ারা, সেটা পরের বিষয়। তার আগে বিওএ’র উচিত ছিল আগে থেকেই ক্যাম্প শুরু করা এবং ইভেন্ট ধরে উন্নতির চেষ্টা করা।

তবে অ্যাথলেটদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ডেপুটি সেফ দ্যান মিশন একে সরকার, ‘এখানে এককভাবে বিওএ’র দোষ দিলে চলবে না। অ্যাথলেটরও নিজ উদ্যেগে ভালো করার মানসিকতা থাকতে হবে। তারা শুধু অংশগ্রহন করার জন্যই আসে। দেশকে কিছু দেয়ার চিন্তা তাদের মাথায় কাজ করে না। আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনিভাবে অ্যাথলেটদেরও দায়িত্ব নিয়ে অংশগ্রহন করা উচিত।’

পাকিস্তানের কাছে কাঙ্ক্ষিত পরাজয়

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকিতে পাকিস্তানের অবস্থান খুবই শক্ত। র‌্যাংকিংয়ের দুই স্থানে দেশটি। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আছে ১৩ নম্বরে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এশিয়াতে সাত ও বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে ৩৩ নম্বর স্থানে। শক্তির ফারাকটা যে কতোটা সেটা র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান দিয়েই বুঝা যাচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিবেশী এ দলটির বিরুদ্ধে কখনোই পেরে উঠেনি লাল-সবুজরা। সফলতা বলতে ১-০ গোলে হারা। সেটা ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপে। চলতি এশিয়ান গেমসেও টার্গেট ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কম গোলে হারার। কিন্তু সেটা আর হয়নি। নিজেদের দূর্বল রক্ষণভাগের কারনে ৫-০ গোলের বড় লজ্জার হার নিয়েই গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের ফিরতে হয়েছে ড্রেসিং রুমে।

এ ম্যাচে হারলেও পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ নিশ্চিত করা জিমি-চয়নরা আগামি ১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে জাপান-কোরিয়া ম্যাচে পরাজিত দলের।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন হারের পরও সন্তুষ্ট কোচ গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তি, ‘ওরা (পাকিস্তান) বিশ্বমানের টিম। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় মিস ছিল হতাশাজনক। প্রস্তুতি ম্যাচে এগুলো কাটিয়ে উঠার চেষ্টা ছিল আমাদের।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে বাংলাদেশ। রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে আতিক মোহাম্মদ দারুন এক ফ্লিকে নিশানা ভেদ করেন (১-০)। পিছিয়ে পড়া শিটুলবাহিনী ঘুড়ে দাঁড়ানোর কোন সুযোগই পায়নি। কিছু বুঝে উঠার আগেই আরো এক গোল হজম করতে হয় লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোলটি করেন পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড মোবাশসের আলী (২-০)।

প্রথম কোয়ার্টারে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা পাকিস্তানীরা যেনো গোলের ক্ষুধায় উন্মত্ত্ব ছিল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে মাঠে নামার দশ মিনিটের মধ্যে গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান মোবাশসের আলী (৩-০)। টানা দুই গোল করা এ স্কোরারের সামনে ছিল হ্যাটট্রিকের সুযোগ। কিন্তু সেটা আর কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে পাকিস্তান আরো চেপে ধরেছিল লাল-সবুজদের। এ অর্ধের দুই কোয়ার্টারে আরো দুই গোল আদায় করে নেয় এশিয়ার দুই নম্বর দলটি। তৃতীয় কোয়ার্টারের ৬ মিনিটেই স্কোর লাইন ৪-০তে নিয়ে যান আলী শান। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুঁকে দেন আতিক (৫-০)। তবে শেষ কোয়ার্টারে একটি পিসি পেলেও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যরা।

দলীয় অধিনায়ক ফরহাদ আহম্মেদ শিটুল, ‘আমাদের লক্ষ পঞ্চম স্থান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এরচেয়ে ভালো খেললেও আমরা গ্রুপে তৃতীয়ই থাকতাম। এখন লক্ষ্য স্থাণ নির্ধারনী ম্যাচে ভালো খেলে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করা।’

রাসেল মাহমুদ জিমিও তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি। যেখানে সাত আট গোল খাওয়ার কথা, সেখানে পাঁচ গোল খেয়েছি। প্রথম গোলটা ছিল অপ্রত্যাশীত।’

এই পরাজয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর জাপান ও কোরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে পঞ্চমস্থানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ।

হতাশায় গেমস শেষ বাংলাদেশের

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ন গেমসের গত কয়েকটি আসর থেকে পদক নিয়েই দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে কাবাডিতে পদক ছিল নিশ্চিত। কিন্তু এবার শুধুই হতাশা। একরাশ দু:খ নিয়ে শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয়া লাল-সবুজের পতাকাবাহিরা কোন ইভেন্টেই আশাব্যঞ্জক সাফল্য পায়নি। উল্টো ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে ছিল লজ্জাজনক পারফর্ম্যান্স।

ট্র্যাকে কিংবা কোর্টে, সব জায়গাতেই অ্যাথলেটরা ছিলেন বিবর্ণ। পারফরমেন্স মোটেই ছিল না আশা জাগানিয়া। শুধু লজ্জাতেই ফেলেছে দেশকে। বিশেষ করে সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, শ্যূটিং, ভারোত্তোলন, গলফ, রেসলিং ও রোয়িংয়ের শুরুতেই বাদ পড়েন অ্যাথলেটরা। চূড়ান্ত পর্বে লড়াইয়ে যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেননি। তবে, পদক না পেলেও এবার জাকার্তায় এসে নিজেদের উন্নতির গ্রাফটা ঠিকই প্রমান হয়েছে ফুটবল, হকি আর আরচ্যারিতে। আর সম্ভাবনাময় ইভেন্ট কাবাডিতে (মহিলা) গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়ে নিজেদের জাতীয় খেলার অবস্থা যে কোথায় গিয়ে ঠেঁকেছে, সেটাই প্রমান করেছেন মালেকারা।

চলতি এ আসরের ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয় লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক এবং কর্মকর্তা মিলে বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। বিশাল এ বহর নিয়ে বেশ কয়েক ধাপে জাকার্তায় এসেছিল তারা। অথচ গেমস শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ ক্রীড়াবিদ ফিরেছেন দেশে।

ইন্দোনেশিয়ায় এখন হকি দল ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ নেই। হকি ইভেন্টেও পদকের কোন সম্ভাবনা নেই। জেগে আছে শুধু স্থান নির্ধারনী ম্যাচ জয়ের আশা। সেটাও পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থানের জন্য। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ একটি পদকও দেশে নিয়ে ফিরতে পারেনি। এটা যে কতোটা লজ্জা আর কষ্টের, সেটা হয়তো অনুধাবন করতে পারেননি বিওএ কর্মকর্তারা।

কাবাডি ইভেন্টে প্রতিবারই একটা পদক জেতে বাংলাদেশ। আগের আসরগুলোতে নিদেনপক্ষে একটি ব্রোঞ্জ এলেও এবার একেবারেই শূণ্য হাতে ফিরতে হয়েছে। তিন খেলার সব ক’টিতে হেরে বিদায় নিয়েছে চার বছর আগের ব্রোঞ্জ জয়ীরা। অন্যদিকে পুরুষ কাবাডি দল কিছুটা সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। সাঁতার থেকে পদকের স্বপ্ন না দেখলেও নিজেদের উন্নতিটা প্রমান করবেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু হিটেই বাদ পড়েছেন দেশসেরা এই দুই সাঁতারু। সাগরতো ২০০ মিটারে পুলেই নামেননি অনুশীলন করতে না পারার দোহাই দিয়ে।

শ্যূটিং রেঞ্জেও গ্রাস করেছিল হতাশা। দেশসেরা শ্যূটারররা ইন্দোনেশিয়া এসে পদক জয়তো দূরের কথা, নিজেদের সেরাটাও দিতে ব্যর্থ হন। আবদুল্লাহেল বাকী, রিসালাতুল ইসলাম, উম্মে জাকিয়া সুলতানা, শারমিন আক্তার রত্নারা হতাশ করেছেন পালেম্বাংয়ের কাজাবারিং শ্যূটিং কমপ্লেক্সে।

এবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চপাষ্টে লাল-সবুজের পতাকা ছিল যে অ্যাথলেটের কাঁধে, সেই মাবিয়ার পারফর্ম্যান্স‌ই সবচেয়ে বাজে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতেও পারেননি তিনি। দেশসেরা এ ভারোত্তোলক ব্যর্থ হন স্ন্যাচ আর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ইভেন্টে। বার বার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সামর্থ্যরে অধিক ভার তুলতে ব্যর্থ হন গোহাটি এসএ গেমসে সোনা জেতা এই তারকা ভারোত্তোলক।

বাস্কেটবলের অবস্থা ছিল আরো করুণ। টানা দুই ম্যাচে হেরেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। কুস্তির শুরুতেই শেষ হয়ে যায় লাল-সবুজদের স্বপ্ন। মোহাম্মদ আলী আমজাদ ও শরৎ চন্দ্র রায়ের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন শিরিন সুলতানা। বিচ ভলিবলে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যায় লাল-সবুজরা। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের লড়াইয়ে নামার পর প্রমানিত হয়েছে বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা যে দিনদিন কতোটা পিছিয়ে পড়ছে। আবু তালেব ও সুমি আক্তাররা হিটেই বাদ পড়েছেন অ্যাথলেটিক্স থেকে। তাদের পারফর্ম্যান্স ছিল আরো হতাশার।

তবে এতো হতাশার মধ্যেও আশা জাগিয়েছে ফুটবল, হকি ও আরচ্যারি ইভেন্ট। পদক না আসলেও এ তিন ইভেন্টে যে বাংলাদেশ আগের চেয়ে উন্নতি করেছে সেটা প্রমান হয়েছে।

এশিয়াডে ভারতীয় অ্যাথলেটদের প্রেম!

চলতি জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দুই অ্যাথলেট লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছেন, এমন গুঞ্জনই ছড়িয়েছে। তাঁরা হলেন জ্যাভলিন থ্রোতে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া ‌ও সোনাজয়ী নারী কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাত। তবে তাদের দু’জনই এই অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন৷

সোমবার এশিয়াডের নবম দিনে জ্যাভলিন থ্রোতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন ভারতের নীরজ চোপড়া। তাঁর সোনা জয়ের পরই আবেগঘন টুইট করেন আরেক সোনাজয়ী ভারতীয় অ্যাথলেট ভিনেশ ফোগাত। টুইটে সোনাজয়ী কুস্তিগীর লেখেন, ‘কামাল করেছে নীরজ। ফাইনালে পারফরমেন্স করতে হলে নীরজের মতোই করা উচিত৷’ এর আগের টুইটে নীরজের জাতীয় রেকর্ড ভাঙা নিয়ে ভিনেশ লেখেন, ‘ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে পারফরমেন্স করা আর জাতীয় রেকর্ড ভাঙার কায়দা, তোমার থেকে শেখা উচিত৷’

সমবীর রাথি ও ভিনেশ ফোগাত

এদিকে, তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৮৮.০৬ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন থ্রো করেন নীরজ। জাতীয় রেকর্ড ভেঙে দেশকে সোনা এনে দেন তিনি। তবে অল্পের জন্য এশিয়াড়ের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। মাত্র ১.০৯ মিটার থেকে দূরে থেমে যান ভারতীয় এই অ্যাথলেট৷

নীরজের সোনা জয়ের পরই টুইট করে তাঁকে অভিনন্দন জানান ভিনেশ। এই টুইটের পরই জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে ‌ওঠে। সাথে ‌ওঠে তাদের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জন‌ও। এর আগে কুস্তিতে ভিনেশের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন নীরজ। ঠিক এক সপ্তাহ আগে মেয়েদের কুস্তির ফাইনালে জাপানি খেলোয়াড় যুকি ইরে-কে হারিয়ে সোনা জেতেন ভিনেশ। সেই ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে দেখেছিলেন নীরজ। তাতে তাঁদের প্রেমের গুঞ্জনটি আর‌ও ডালপালা গজায়।

এই সব ঘটনার পরই নিজের এনগেজমেন্টের কথা জানিয়ে দেন ফোগাত। কুস্তির আখড়ায় তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ সমবীর রাথিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন এশিয়াড়ে সোনাজয়ী প্রথম ভারতীয় নারী ফোগাত। এদিকে, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী কুস্তিগীর সমবীর নর্দান রেলওয়ের ট্রেন টিকিট চেকারের চাকরি করেন৷

প্রথম রাউন্ড থেকেই হালেপের বিদায়

ইউএস ‌ওপেন টেনিস শুরুর দিনই অঘটনের শিকার হয়ে বিদায় নিতে হলো শীর্ষ বাছাই সিমোনা হালেপকে। লুইস অার্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে, ‌ওয়ার্ল্ড নাম্বার ‌ওয়ান হালেপকে ৬-২ ‌ও ৬-৪ গেমে হারিয়ে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় করেন কাইয়া কানেপি।

এই জয় পেতে সময় নেন তিনি মাত্র এক ঘন্টা ১৬ মিনিট।

প্রথম সেটে ২৬ বছর বয়সী রোমানিয়ান সিমোনা হালেপের সার্ভিস পাঁচবার ব্রেক করেন স্লোভেনিয়ার কানেপি। তাতেই প্রথম সেট জেতেন ৩৩ বছর বয়সী কানেপি ৬-২ গেমে।

সিমোনা হালেপ, অঘটনের শিকার

অবশ্য দ্বিতীয় সেটে তুমুল প্রতিরোধ করেন হালেপ। কিন্তু ‌ওয়ার্ল্ড নাম্বার ৪৪’র কানেপির কাছে শেষ শেষ রক্ষা হয়নি তার। ৬-৪ গেমে জিতে উঠে যান তিনি পরের রাউন্ডে।

নেইমার আবার‌ও বার্সেলোনায়!

নেইমার আবার‌ও বার্সেলোনায়! তবে এবার আর খেলোয়াড় হিসেবে নয়, তিনি গেলেন অতিথি হিসেবে। নেইমারের সাবেক ক্লাবের সতীর্থরা এখন অনুশীলন করছেন মাদ্রিদের কাছেই ‘সিউদাদ ডেপোর্টিভা ট্রেনিং কমপ্লেক্স’এ।

সেখানে নেইমার যান একটি পোকার টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথি হিসেবে। খবর পান এখানেই আছেন তার সাবেক দলের সতীর্থরা। তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সেখানে যান এই ব্রাজিলিয়ান সুপার স্টার। অবশ্য এই পোকার টুর্নামেন্টে যান জেরার্ড পিকে‌ও। পরে অনুশীলন শিবিরে গিয়ে নেইমার সাবেক ক্লাবের সতীর্থদের সঙ্গে বেশকিছু ছবি তোলেন। এবং তা নিজের টুইটার একাউন্টে আপলোডও করেন।

নীলফামারীতে এখন শ্রীলঙ্কা ফুটবল দল

বাংলাদেশের সাথে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে শ্রীলংকা জাতীয় ফুটবল দল এখন রংপুরে। আজ সোমবার দুপুর পৌনে একটায় নভোএয়ারের একটি বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামে শ্রীলংকা দল। সেখানে নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাদের অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে শিশুরা বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা দলের পতাকা হাতে শুভেচ্ছা জানায় শিশুরা। এরপর পুলিশি প্রহরায় তাদের রংপুরের নর্থ ভিউ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

অনানুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলকে শক্তিশালী উল্লেখ করে শ্রীলংকার কোচ পাকির আলী জানান, হারজিত নয়, উপভোগের লক্ষ্য নিয়েই এসেছে তার দল। আগামী ২৯ আগস্ট বিকেল চারটায় নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাথে প্রীতি ম্যাচটি খেলবে শ্রীলংকা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াই কাল

ইন্দোনেশিয়ার থেকে প্রতিনিধি

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়ে ভাবছেনা বাংলাদেশ। লক্ষ্য ভালো খেলা উপহার দেয়া। এশিয়ান গেমস হকিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামীকাল মঙ্গলবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কাগজে-কলমে এই ম্যাচের ফল গোবিনাথানের শিষ্যদের তুলে নিতে পারে সেমিফাইনালে।

গ্রুপ বি’তে চার ম্যাচ শেষে মালয়েশিয়ার পয়েন্ট ৯, বাংলাদেশেরও তাই। ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে পাকিস্তান। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ওমানের কাছে মালয়েশিয়া হারলে, আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারালে তো কথাই নেই। শেষ চারে জায়গা হবে জিমি-চয়নদের। তবে এর সবই কাগজ-কলমের হিসেব। বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। পাকিস্তানকে হারানোর সামর্থ্য নেই গোবিনাথানের শিষ্যদের।

 

জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবছেন না কোচ। জানান ভালো খেলার কথা, 'ইন্দোনেশিয়ায় ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য পুরণ করেছি। ষষ্ঠ স্থান পেয়েছি। এখন যা হবে সেটা আমাদের দলকে শুধুই এগিয়ে নে‌ওয়া। আসলে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়; কথা হলো আমরা ভালো খেলতে চাই।'

এবারের গেমসে প্রতিটি ম্যাচেই হতাশার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করার ব্যর্থতা। এক আশরাফুল ছাড়া বাকীদের স্টিকে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। অনুশীলনে যদিও কাজ হচ্ছে, তবে ম্যাচে তার প্রভাব পড়ছেনা। সেই আশরাফুল ইসলাম‌ও বললেন ভালো খেলার কথা, 'আমাদের কাছে পাকিস্তানের খেলার ফুটেজ আছে। আমরা সেই ফুটেজ দেখে োদের বিপক্ষে করণীয় কাজ করার চেষ্টা করবো। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা ভালো খেলার চেষ্টাই করবো।'

হতাশার মধ্যেও স্বপ্নজাল বুনছেন সুমী

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে 

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে আবারো হিটেই বাদ পড়লেন বাংলাদেশী স্প্রিন্টার সুমী আক্তার। বির্বণ হয়েছে তার স্বপ্ন। ৮০০ মিটারে আজ সোমবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু দৌড় শেষ করলেন ২ মিনিট ২৬.৫৯ সেকেন্ডে। তাতে এক নম্বর হিটে সাত জনের মধ্যে সবার পেছনেই ছিল তার নাম। দৌড় শেষ করে অন্যান্য প্রতিযোগিরা যখন ট্র্যাকে বসে বাতাস খাচ্ছিলেন, তখনও দৌড়ে যাচ্ছিলেন লাল-সবুজের পতাকাবাহী এই স্প্রিন্টার। যদিও এটা তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং।

ইভেন্টের হিট রাউন্ড শেষে দেখা গেছে ২০ জন প্রতিযোগির মধ্যে ১৮তম হয়েছেন তিনি! আবু তালেবের পর বাংলাদেশী এই অ্যাথলেটকেও হতাশা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে দেশে। হয়তো আগামীকালের মধ্যেই কোচ রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে ঢাকায় ফিরবেন সুমী ও আবু তালেব। জাকার্তা থেকে হতাশা নিয়ে ফিরলেও নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সুমী। তার লক্ষ এখন এসএ গেমস। আগামী বছর নেপালে অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরের ৮০০ মিটারে স্বর্ণ পদক জয় করতে চান তিনি।

নারী অ্যাথলেট হিসেবে সুমী আক্তার যখন জাকার্তায় আসেন, তখন ৮০০ মিটারে তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং ছিল ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড। উন্নতি চোখে পড়েছে প্রায় ৪ সেকেন্ড। বাংলাদেশী এ অ্যাথলেট যখন নিজের ৪ সেকেন্ড উন্নতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, তখন এশিয়ার অন্য দেশের প্রতিযোগিরা হিট শেষ করেন দুই মিনিট ৪ দশমিক ৩৫ সেকেন্ড সময়ে। হিট রাউন্ডে এক নম্বর হওয়া বাহরাইনের মার্তা ইয়োতার সঙ্গে সুমী’র ফারাকটা যে কতোটা বিশাল, সেটা স্ক্রিনেই ভেসে উঠেছে।

তবুও নিজের টাইমিং এবং উন্নতি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত, ‘এখানে আমরা পদক জিততে আসিনি। আমাদের লক্ষই ছিল নিজেদের সেরাটা দিয়ে উন্নতিটা প্রমান করার। আমাদের মূল লক্ষ এসএ গেমস। আজ ট্র্যাকে নিজের সেরা টাইমিংয়ের ৪ সেকেন্ড আগে শেষ করেছি ৮০০ মিটার। এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। এই টাইমিং ধরে রাখতে পারলে আগামী এসএ গেমসে পদক জিতবই।’ তবে অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন নিজেদের দূর্বলতার কথা, ‘এশিয়ার অন্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা স্পষ্ট। ওদের সঙ্গে আমাদের এ দূরত্বটা কমাতে হলে অনুশীলনে আরো উন্নতি করতে হবে।’

৪০০ মিটারে ১৬ বারের সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও সুমীর কোচ রাজিয়া সুলতানা অনু স্বপ্ন দেখছেন তাকে ঘিরে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি ইভেন্টে খেলে চারটিতেই সোনা সুমির। তাঁর ভালোর জন্য যে কোন একটি বেছে নেয়ার পরামর্শ অনুর,‘ আমার মনে হয়, সুমীর একটি ইভেন্টেই জোর দেয়া উচিত। একটি ইভেন্টে খেললে আরও ভালো করতে পারবে। ৪০০ মিটার বেশ দ্রুত গতির, তুলনায় ৮০০ মিটার ধীর আর কঠিন। সমন্বয় করা কঠিন।’

বাংলাদেশের হকি ও একজন তাহির জামান

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ এরই মধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। আগামি ১ সেপ্টেম্বর স্থান নির্ধারনী ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ এখনও অজানা। তবে তার আগে আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামতে হবে লাল-সবুজদের। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের কোন লক্ষ্য নেই গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের। যত কম গোল হজম করা যায় ততই মঙ্গল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সুখকর কোন উদাহরন নেই বাংলাদেশের। ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপেই সবচেয়ে বড় সাফল্য পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেবার মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সাফল্য ঠিক তার দশ বছর পর। ১৯৯৫ সালে সাফ গেমসে পাকিস্তানের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল লাল-সুবজ জার্সীধারীরা। মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান সবগুলি গোলই দিয়েছিল পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে। দেশের হয়ে দুটি গোল করেছিলেন আব্দুস সাদেক ও মুসা মিয়া।

তাহির জামান

বর্তমানে ওমান হকি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তাহির জামান। গতবছর বাংলাদেশে এসে কোচিং করিয়ে গেছেন। তারা চেয়ে ভালো বাংলাদেশকে আর কেউ চেনার কথা নয়। বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের পার্থক্য নিরুপন করতে গিয়ে পাকিস্তানের এ লিজেন্ড বলেন, ‘ক'দিন আগেও তোমাদের দেশে ঘুরে এসেছি। পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মানে রয়েছে পিছিয়ে। তবে হ্যাঁ একটা দিকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সেটি হলো তারা ভয়কে জয় করতে শিখেছে। আগে যেমন সারাক্ষন ডিফেন্সিভ খেলায় মনোনিবেশ করতো এখন তারা আক্রমন করতে শিখেছে। বড় ব্যাবধানে পিছিয়ে থাকার পরও রক্ষনাত্মক না থেকে আক্রমনে যেতে চেষ্টা করে।’

বাংলাদেশের মাটিতে খেলেছেন তাহির জামান। প্রতিবারই মোহামেডানের জার্সী গায়ে ছিল তার। প্রতিবারই মোহামেডানের হয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। জার্সী তুলে রাখার পর ঢাকায় এসেছিলেন উষা ক্রীড়া চক্রের কোচ হয়ে। সেবারও চ্যাম্পিয়ন উষা। ওই সময়ের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের তুলনায় তাহির জামান বলেন, ‘আমাদের সময়ে স্কিল ছিল এখন যেটা গতির কাছে পরাজিত। বর্তমান প্লেয়ারদের গতির সাথে স্কিল থাকা জরুরী। তা না হলে ছিটকে পড়বে। আরো একটি ব্যাপার হলো আর্থিক। আমরা ছুটেছি মাঠের জন্য এখন ওরা ছুটে টাকার জন্য।’

একটা সময় এশিয়া শাষন করতো হকি। বর্তমানে ইউরোপ রাজত্ব করছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইয়েস, এশিয়া পিছিয়ে থাকার একটা টেকনিক্যাল কারনও রয়েছে। নুতন নিয়মগুলি আসার আগে থেকেই তারা এটিকে চর্চা করে। এশিয়ায় যখন নিয়মগুলি পালন করতে শুরু করে তখন ইউরোপের ওরা পুরোপুরিভাবে নিয়মগুলি আয়ত্ব করে নেয়। পিছিয়ে থাকার এটিও একটি কারন। সত্যি কথা বলতে গেলে আমরা একটু অলসও বটে। করি-করছি- করবো ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায়। তবে বর্তমান সময়ে পাকিস্তান একটু নড়ে চড়ে বসবে বলেই ধারণা করছি। ইমরান খান পাকিস্তানের হাল ধরেছেন। খেলার মাঠের মতোই তার নেতৃত্বে সচল হবে পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হকি।’

ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হকিতে

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস হকি ইভেন্টে ষষ্ঠ কিংবা পঞ্চম হওয়ার লক্ষ নিয়েই ইন্দোনেশিয়া এসেছিল বাংলাদেশ দল। আজ রবিবার থাইল্যান্ডকে পরাস্ত করার মধ্য দিয়ে সে টার্গেট পূরণ হয়েছে লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলার দামাল ছেলেরা। আর পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াইয়ে নামবে ১ সেপ্টেম্বর। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ওই ম্যাচে হারলেও ষষ্ঠ স্থানটি নিশ্চিতই থাকবে গোবিনাথনের শিষ্যদের।

এ জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের আগামী আসরের বাছাইপর্ব খেলতে হবে না লাল-সবুজদের। প্রায় বিশ বছর পর আসা সুযোগটি দারুনভাবে কাজে লাগিয়েছেন জিমি-চয়নরা।

জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে ৩-১ গোলের জয় পায় ফরহাদ আহম্মেদ শিটুলবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে আশরাফুল জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি আসে মিলন হোসেনের ষ্টিক থেকে। থাইল্যান্ডের হয়ে হারাপান সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি করেন।

এশিয়ান গেমসে ১৯৭৮ সালে প্রথম অংশ নিয়েই ষষ্ঠ হয়েছিল বাংলাদেশ হকি। এরপর আর উপরের দিকে আসা হয়নি। দিনদিন অবনমনই হয়েছে হকিতে। সবশেষ দু’টি আসরে (২০১০ ও ২০১৪ সালে) অষ্টম হয়েই দেশে ফিরতে হয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ছয়ের দেখা পেল আশরাফুল-জিমি-চয়নরা।

এটি চয়নের শেষ এশিয়ান গেমস বিধায় দিনটিকে স্মৃতির পাতায়ই রাখতে চাইলেন চয়ন, ‘চারটি এশিয়ান গেমসে খেলছি। আগের তিনটিতে কোন সাফল্য নেই। তাই এটিকে আমার জীবনের সেরা গেমস বললে অত্যুক্তি হবে না। এটি আমার একার কৃতিত্ব নয়। দলীয় সাফল্য। আমি দলের একটা অংশ। সকলেরই চেষ্টা ছিল ম্যাচ জয়ের। ২০ বছর পর এমন সুযোগ কেউ নষ্ট করতে চাইনি বলে জান প্রান বাজি রেখে খেলেছি।’

ম্যাচে দু’গোল করা উদীয়মান পিসি মাস্টার আশরাফুল জানান, ‘আমাদের চেয়ে থাইল্যান্ড অনেক বেশি উন্নতি করেছে। যে থাইল্যান্ডকে বলে কয়ে হারাতাম আমরা, সেই দলটির বিপক্ষে প্রথম ত্রিশ মিনিট গোলশুন্য ছিলাম। কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও আমরা মানসিকভাবে জেতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। দলের জয়ে সকলেই খুশি। আগ থেকেই আমাদের বোঝাপড়া ছিল।’

নিজেদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই কোয়ার্টারে কোনো গোলের দেখাই পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে তৃতীয় কোয়ার্টারে আসে সফলতা। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ শিবিরে হাসি ফুঁটিয়ে তুলেন আশরাফুল। প্রথম পিসিটাই কাজে লাগান এ পিসি মাস্টার। জিমি-সারোয়ার কম্বিনেশনে আশরাফুরের দারুণ ড্রাগ অ্যান্ড ফ্লিকে গোলের দেখা পায় লাল-সবুজরা (১-০)।

ঠিক ছয় মিনিট পরেই গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে প্র্রশান্তি নিয়ে আসেন সেই আশরাফুল। একই কম্বিেিনশনে দ্বিতীয় পিসি থেকে গোল করে থাইল্যান্ডকে চাপের মুখে ফেলে দেন তরুন এ ফরোয়ার্ড (২-০)।

শেষ কোয়ার্টারের ৩ মিনিটে একটি গোল শোধ দেন থাইল্যান্ডের হারাপান বুরিরাক (২-১)। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুল- মিমোর আদান প্রদানে বল পেয়ে যান মিলন হোসেন। থাইল্যান্ডের গোলকীপার শুয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে‌ও ব্যর্থ হন (৩-১)। এরপর আর কোন গোল না হলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গোবিনাথনের শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর গেলা কোচ গোবিনাথান বলেন, ‘থাইল্যান্ড যে এত উন্নতী করেছে তা বুঝতে পারিনি। ছেলেরা জয় পেয়েছে তাতে আমি খুশি। কিন্ত মাঠের খেলায় সন্তষ্ট হতে পারিনি। মুলত বাংলাদেশের ’দরকার দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষন। তোমাদের প্রতিভা আছে বিকশিত হতে সময়ের প্রয়োজন।’

আবারো হিটেই বাদ শ্যূটার সাব্বির

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের শ্যূটিং ইভেন্টের বাছাই পর্ব থেকেই আবারো বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আজ রবিবার স্কিট ইভেন্টের হিট রাউন্ড থেকে বাদ পড়েন সাব্বির হাসান। আর আরচ্যারির পুরুষ কম্পাউন্ড ইভেন্টে এলিমিনেশন রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন জাবেদ আলম, অসিম কুমার ও আবুল কাশেম মামুন। শ্যূটার সাব্বির হাসান দ্বিতীয় দিনের মতো রেঞ্জে নেমেছিলেন স্কিট ইভেন্টে।

কিন্তু দ্বিতীয় দিনেও সুবিধা করতে পারেননি। হিট রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয় তার। ৩০জন শ্যূটারের মধ্যে হয়েছেন ২৭তম। ১২৫ পয়েন্টের মধ্যে করেছেন মাত্র ৯৫ পয়েন্ট। শনিবার শুরু হওয়া এ লড়াইয়ের প্রথম দিনেই তিন শট নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলার পথটা রুদ্ধ করে ফেলেন। প্রথম শুটে মাত্র ১৮ পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় শুটে অবশ্য নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। ২৫-এর মধ্যে করেছিলেন ২৩ স্কোর। কিন্তু তিন নম্বর শুটে গিয়ে ১৭ স্কোর তুলে নিয়ে একেবারেই পিছিয়ে পড়েন। প্রথম দিনেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সাব্বির হাসানের বিদায়।

আজ সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো রেঞ্জে নেমেও সুবিধে করতে পারেননি। চতুর্থ শুট নিয়ে তুলেছিলেন ১৯ এবং শেষ শুটে পান ১৮ পয়েন্ট। পাঁচ শুটে নিজের ঝুলিতে জমা করেন মাত্র ৯৫ পয়েন্ট। ফলে হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হয় তাকে।

আরচ্যারি থেকে‌ও বিদায় 

এদিকে, আরচ্যারির পুরুষ কম্পাউন্ড এলিমিনেশন রাউন্ডে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। লাল-সবুজদের হয়ে লড়াই করা জাবেদ আলম, অসিম কুমার ও আবুল কাশেম স্কোর করেছিলেন ২২৮ পয়েন্ট। আর স্বাগতিক আরচ্যাররা তুলে নেন ২২৩০ পয়েন্ট।

 

মাত্র দুই পয়েন্টের জন্য বিদায় নিলেও এ ইভেন্টে বাংলাদেশের আরচ্যারদের উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

আয়ে সেরা সেরেনা

নারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে বিশ্বে সর্বোচ্চ আয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। বিশ্ব বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’এমন কথাই জানিয়েছে। সেরেনা উইলিয়ামসের পরে আছেন, ক্যারোলিনা ‌ওঝনিয়াকি এবং মারিয়া শারাপোভার মতো টেনিস তারকারা।

সেরেনা উইলিয়ামস রয়েছেন তালিকার শীর্ষে। ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী এখন ইউএস ওপেনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর আয় এক কোটি ৮১ লাখ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা।

অর্থ উপার্যনে বিশ্বের দুই নম্বর ক্যারোলিন ওজনিয়াকি আছেন তালিকায়। একসময় মহিলাদের টেনিসে বিশ্বের এক নম্বর ছিলেন তিনি। ইউএস ওপেনে আগামীকাল সোমবার অভিযান শুরু করবেন তিনি।

তারপর এই তালিকায় আছেন স্লোয়ানে স্টিভেন্সও। আমেরিকার ২৫ বছর বয়সি টেনিস খেলোয়াড় এখন বিশ্বের তিন নম্বর। একটি গ্র্যান্ড স্ল্যামও জিতেছেন তিনি।

স্লোয়ানের পরেই আছেন মারিয়া শারাপোভা। রাশান সুইট গার্ল ৩১ বছর বয়সী মারিয়া শারাপোভা মোট ২১ সপ্তাহ তিনি বিশ্বের একনম্বর মহিলা টোনিস খেলোয়াড় ছিলেন।

ফুটবলের পর ক্রিকেটের বিশ্বকাপ ট্রফি আসছে বাংলাদেশে

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর বসবে ক্রিকেটের জন্মস্থান ইংল্যান্ডে। জমজমাট ঐ আসর শুরুর আগেই বিশ্বভ্রমণে বের হচ্ছে আইসিসির বিশ্বকাপ ট্রফিটি। ২৭ আগস্ট থেকে শুরু করে এই ট্রফির প্রথম গন্তব্য ওমানের রাজধানী মাসকাট।

দুবাইয়ে আইসিসির প্রধান কার্যালয় থেকে ট্রফির এই ভ্রমণ শুরু হবে। ২১টি দেশের ৬০ শহরে ঘুরবে স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি। এর মধ্যে রয়েছে ফুটবলের জনপ্রিয় দেশ জার্মানি, বেলজিয়াম আর ফ্রান্সও। তবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আফগানিস্তানে এই ট্রফি যাচ্ছে না।

দুবাই থেকে শুরু হয়ে পরের নয় মাস বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি শহরে ঘুরবে ট্রফিটি। এ সময়ে ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, নাইজেরিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং জার্মানির বড় শহরগুলোতে। ১০০ দিনের লম্বা পথচলা শেষ করে ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এটা পৌঁছবে ইংল্যান্ডে।

স্বপ্নের সোনালী ট্রফিটি বাংলাদেশ থাকবে সাতদিন। ঢাকা, খুলনা, সিলেট এবং চট্টগ্রাম-বাংলাদেশের চারটি শহরে ঘুরবে এই ট্রফি। ঢাকায় এটি থাকবে ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর তিনদিন, খুলনায় থাকবে ২০ অক্টোবর, সিলেটে ২১ এবং ২২ ও ২৩ অক্টোবর এই ট্রফি থাকবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

আগামী বছরের ৩০ মে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১২তম আসর শুরু হবে। ১৪ জুলাই লর্ডসে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে টুর্নামেন্টের।

আরচ্যারি-শ্যূটিংয়েও হতাশা

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসে একের পর এক ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে বাংলাদেশের। আজ শনিবার গেমসের অষ্টম দিনে আরচ্যারির রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে হেরেছে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী দল উভয়ই।

রিকার্ভ দলগত পুরুষ, নারী দুই বিভাগেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে লাল-সবুজরা। ৬-২ সেটে পুরুষরা হেরেছেন মঙ্গোলিয়ার কাছে। পুরুষ দলের হয়ে ইমদাদুল হক মিলন, ইব্রাহিম শেখ ও রোমান সানা।

একই ব্যবধানে নারীদের হার জাপানের বিপক্ষে। নারী দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন নাসরিন আক্তার, ইতি খাতুন ও বিউটি রায়।

আরচ্যারিতে ব্যর্থতার দিনে শ্যূটিং ইভেন্ট থেকে‌ও কোনো আশার খবর পায়নি বাংলাদেশ। সেখানে‌ও ভর করেছে হতাশা। বাকি, আরমিন, আরদিন, শাকিলের পর এবার হতাশ করলেন শ্যূটার সৈয়দ মোহাম্মদ সাব্বির হাসান। স্কিটে টোটাল স্কোর করলেন ৫৮।

কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে প্রথমে করলেন ১৮, এরপর ২৩ এবং তৃতীয় চেষ্টায় ১৭। ত্রিশ জন প্রতিযোগির মধ্যে হলেন ২৮ তম।

থাইল্যান্ডকে হারাতে চায় বাংলাদেশ হকি দল

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির গ্রুপ পর্বে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আগামীকাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। স্থানীয় সময় বিকাল চারটায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হবে দুই দলের দ্বৈরথ। থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলে পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াইয়ের সুযোগ পাবে জিমি-চয়নরা। সেই সাথে আগামী এশিয়া কাপ আর এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বও খেলতে হবেনা গোবিনাথনের শিষ্যদের। আগামী আসরে সরাসরি সুযোগ পাবে চূড়ান্ত পর্বে।

হকি ইভেন্টে টানা দুই ম্যাচ জয়ের পর শক্তিশালী মালয়শিয়ার কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। তবে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের আশা শিটুলবাহিনীর। বিশ্ব হকি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ আর থাইল্যান্ডের ৪৭। শুধু র‌্যাঙ্কিং নয়, হকিতে কখনই থাইদের কাছে হারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায় না টিম বাংলাদেশ। বহু বছর পর এমন সুযোগের সামনে দাড়িয়ে জিমি-চয়ন-শিটুলরা।

ম্যাচকে সামনে রেখে আজ শনিবার সকালে কঠোর পরিশ্রম করেছেন গোবীনাথনের শিষ্যরা। কোচের কথায়, ‘দল সবসময় জয়ের জন্যই মাঠে নামে। মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তানের বিপক্ষে যেভাবে মাঠে নেমেছে সেভাবেই মাঠে নামবো। সবসময় সেরাটা দিতেই প্রস্তত আমার দল। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে টার্গেটে পৌঁছানো সম্ভব। এখানে বাধার কিছু দেখছি না।’

দলের সহকারি কোচ আশিকুজ্জামান জানান, ‘বাংলাদেশের সামনে ২০ বছর আগে এমন একটি সুযোগ এসেছিল। তবে সেটি কাজে লাগানো যায়নি। থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলে আমাদের ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত। পঞ্চম স্থানের জন্য লড়তে হবে কোরিয়া কিংবা অন্য একটি দেশের সঙ্গে।

তাছাড়া আগামী এশিয়ান গেমস ও এশিয়া কাপের বাছাইপর্বও খেলতে হবে না জিততে পারলে। তাই আমরা সকলে ইতিবাচক চিন্তা করছি। দলে কোন ইনজুরি নেই। আশরাফুল গত ম্যাচে ইনজুরির কারনে খেলতে না পারলেও আগামীকাল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে তার কোন অসুবিধে হবে না।’

ট্র্যাকেও হতাশ করলেন অ্যাথলেটরা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

কাবাডি, হকি, ভারোত্তোলন, কুস্তির পর এশিয়ান গেমস অ্যাথলেটিক্সেও হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। হিট থেকেই বাদ পড়তে হয়েছে দুই স্প্রিন্টার আবু তালেব ও সুমি আক্তারকে। এশিয়াড অ্যাথলেটিক্সে কখনোই পদকের আশা থাকে না বাংলাদেশের। নিজেদের সেরাটা দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় মঞ্চ হিসেবেই এ আসরকে বেছে নেয় লাল-সবুজরা। একই সঙ্গে এশিয়ার সেরা এথলেটদের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো খুজে বের করার চেষ্টা থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্সের পুরুষ ও মহিলাদের ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেয়ার জন্য আবু তালেব ও সুমি আক্তার এসেছেন ইন্দোনেশিয়ায়। আজ শনিবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন সেনা বাহিনীর অ্যাথলেট আবু তালেব। কিন্তু ট্র্যাকে নেমেই লজ্জায় ডুবিয়েছেন দেশকে। ২৮ জনের মধ্যে হয়েছেন ২৭তম! সময় নিয়েছেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড! শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় হয়ে ফিরেছেন ট্র্যাক থেকে। আরেক স্প্রিন্টার সুমি আক্তারও সুবিধা করতে পারেননি ট্র্যাকে।

আজ শনিবার জিবিকে মেইন স্টেডিয়ামে সকালে ৪০০ মিটার দৌড়ে ট্র্যাকে নামেন বাংলাদেশী অ্যাথলেট আবু তালেব। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন তিন নম্বর লেনে। হিটে ছিলেন মোট ছয়জন প্রতিযোগী। দৌড়ের শুরুতেই তিনি পিছিয়ে পড়েন। এরপর আর এগিয়ে যেতে পারেননি। শেষ করতে হয়েছে সবার শেষে থেকেই। ফিনিসিং লাইন টাচ করেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। একরাশ হতাশা নিয়ে দৌড় শেষ করে বিশ্রাম নিতে চলে যান দিনাজপুরের এ স্প্রিন্টার। এমন পারফর্ম্যান্স হয়তো আশা করেননি আবু তালেব নিজেও। দেশের হয়ে পদক জয়ের স্বপ্নতো দূরের থাক, চূড়ান্ত পর্বেও অংশ নেয়ার আশা করেননি। তবে প্রত্যাশা ছিল অন্তত নিজের বেষ্ট টাইমিং ছাড়িয়ে যাওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্নটা‌ও পূরন হয়নি। নিজের রেকর্ডকেও ছুঁতে পারেননি জাকার্তায়। বরং আরো বেশী সময় নিয়েছেন। গত বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে একই ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ী এ স্প্রিন্টার সময় নিয়েছিলেন ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড সময়।

দৌড় শেষে আবু তালেব বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম আন্তর্জাতিক আসর। আজ আমি মোটেও ভালো করতে পারিনি। আমি আমার টাইমিং নিয়ে সন্তুষ্ঠ নই। ফিনিসিং আরো ভালো করা উচিত ছিল। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে আমার বেষ্ট টাইমিং ছিল ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড। কিন্তু আজ সেটাও আমি করতে পারিনি।’ নিজের সেরা টাইমিং উৎরে যেতে না পারার কারন হিসেবে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে আসার জন্য আমার প্রস্তুতি বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু আসার কিছু দিন আগে আমি বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য ছিলাম। আসার পরও ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি অসুস্থ্যতার কারনে। আমার বাঁ পায়ের মাসলের দিকে ব্যথা ছিল। সে ব্যথা নিয়েই আজ ট্র্যাকে নেমেছিলাম। সব কিছু মিলিয়ে আমি হতাশ।’

উল্লেখ্য, এবারের আসরে আবু তালেবের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু জহির রায়হানের ইনজুরির কারনেই কপাল খোলে তার। সে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। নিজেকে প্রমানের বড় মঞ্চ থেকে ফিরেছেন হতাশা সঙ্গী করে।

ফুটবল থেকে বিদায় বাংলাদেশের

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাস নতুন করে রচনা করেছিল বাংলাদেশ। সেরা ষোল’তে জায়গা করে নিয়েই আত্মতুষ্টিটা ছিল বেশ। তবে লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার কাছে সম্মানজনকভাবে হারের। সেটাই হয়েছে আজ শুক্রবার। র‌্যাংকিংয়ের ১০৮ নম্বর পজিশনে থাকা দলটির কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের পতাকাধারীরা।

এশিয়াডের চলতি আসরে বাংলাদেশ দল যে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে সেটাই ছিল অপ্রত্যাশিত। ইন্দোনেশিয়া আসার আগে কোচ জেমি ডে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার কোন প্রতিশ্রুতি না দিলেও ভালো ফুটবল উপহার দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেটা তিনি রেখেছেন। মাঠের লড়াইয়ে জামাল-জনি-সুফিলরা নিজেদের শতভাগ দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। প্রথম রাউন্ডে উজবেকিস্তানের কাছে হারলেও থাইল্যান্ডের সাথে ড্র ও শক্তিশালী কাতারকে ১-০ গোলে ধরাশায়ী করে চমকে দেয় সবাইকে। বিশেষ করে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজক দেশটির বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টি ছিল অবিশ্বাস্য।

তবে আজ প্রি-কোয়ার্টারের ম্যাচে ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়া। পেনাল্টি থেকে আসে গোলটি। বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরার হাতে লাগলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে কোরিয়াকে এগিয়ে নেন কিম ইউ সুং (১-০)।

তিন মিনিটবাদেই লাল-সবুজরা বড় বাঁচা বেঁচে যায়। আগুয়ান গোলরক্ষক আশরাফুলকে ফাঁকি কিম ইয়ং দারুন এক শট নিয়েছিলেন। কিন্তু বল সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের প্রথমার্ধে আরো একটি গোল হজম করতে হয় জামাল ভূঁইয়ার দলকে। ৩৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে দারুন গোলটি করেন হ্যান ইয়ং তাই। কিম কুক বুমের পাসে বল পেয়ে দারুন এক প্লেসিং শটে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড (২-০)। তবে এই গোলের পেছনে বাংলাদেশ দলের ডিফেন্ডারদের ব্যর্থতা‌ও কম নয়।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে নিজেদের রক্ষণভাগ সামলানোতেই বেশী ব্যস্ত ছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা। তপু-সুশান্তদের রক্ষণ দেয়াল ভেদ করে ৬৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান কোরিয়ান স্ট্রাইকার কেং কুক চুল (৩-০)।

তবে অতিরিক্ত সময়ে একটি সান্ত্বনার গোল পায় টিম বাংলাদেশ। ডানদিক থেকে রবিউল মোহাম্মদের পাসে বক্সের ভেতরে জটলার মধ্য থেকে ডান পায়ের বুদ্ধিদীপ্ত শটে বল জালে জড়ান সাদ উদ্দিন (৩-১)।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হার দিয়েই এবারের এশিয়াড মিশন শেষ হয় বাংলার দামাল ছেলেদের। এখন টার্গেট সাফ ফুটবল। চলতি মাসেই সাফ ফুটবল শুরু হবে ঘরের মাটিতে।

ঈদের ছুটিতে হতাশাজনক পারফরমেন্স বাংলাদেশের

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমসে ঈদ-উল-আযহার কোন ছুটি ছিল না। ঈদের দিনও বিভিন্ন ইভেন্টে লড়াই করতে হয়েছে অ্যাথলেটদের। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরাও বেশ কয়েকটি ইভেন্টে লড়াই করেছিলেন ঈদের ছুটিতে। কিন্তু ঈদের আনন্দের মতো মাঠে পারফর্ম্যান্স রাঙাতে পারেননি জিমি-শিরিন-রোমান সানা-খাদিজা-সাগররা। হতাশ করেছেন সবাই। কেউ পুলে, কেউ টার্ফে- সব ইভেন্টেই ছিল ব্যর্থতার গল্প। তবে ব্যতিক্রম ছিল আরচ্যারি ইভেন্ট। হাসি-কান্নার মিশ্রন ছিল এ ইভেন্টে। ঈদের ছুটিতে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের বিভিন্ন ইভেন্টের ব্যর্থতা-সাফল্যের খবরগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে

 

হকি : ওমানের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ হকি দল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাজাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল ঈদের দিন সকাল ১০টায়। জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচে লাল-সবুজরা জয় পায় ৬-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে ঈদের দিনটাকে রাঙিয়ে তুলেছিল। উল্লাসে মেতেছিল পুরো দল। তবে শিষ্যদের জয়ের পরও পারফর্ম্যান্স নিয়ে হতাশা ছিল কোজ গোপীনাথন কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে, ‘জয় পাওয়ায় খুশী। কিন্তু ওদের পারফর্ম্যান্সে আমি মোটেও খুশী নই। আরো বেটার খেলার যোগ্যতা আছে আমার দলে।’

সাঁতার : মাহফিজুর রহমান সাগরের প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল। অনুশীলনের ঘাটতির অজুহাত তুলে ২০০ মিটারে পুলে না নামা এ সাঁতারু নিজের প্রিয় ইভেন্টেও ছিলেন ব্যর্থ। হিটে ৪৭ জনের মধ্যে ৩৫তম হন পাবনার এ সাঁতারু। ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলেও ছিল হতাশা। ৫১ জনের মধ্যে হয়েছে ৩৬তম। হতাশ করেছেন আরেক সাঁতারু খাদিজা আক্তার বৃষ্টিও। তিনিও নিজের প্রিয় ইভেন্টে (৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোক) হিটে ৩০ জনের মধ্যে ২৭তম হন খাদিজা আক্তার। ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলের হিট থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। ৩১ জনের মধ্যে ২৮তম স্থান নিয়েই ফিরে আসতে হয়।

আরচ্যারী : মঙ্গলবার দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য আরচ্যারীতে ছিল মিশ্র অনুভুতির। ছেলেদের রিকার্ভ রাউন্ডে তৃতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে ওঠেন রোমান সানা। ৭৯ জনের মধ্যে হন তৃতীয়। যা দেশের জন্য বেশ গর্বের ছিল। প্রত্যাশা ছিল আরো বড়। কিন্তু পারেননি রোমান সানা। বিদায় নিতে হয়েছে বাছাই পর্বের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। তবুও তার এ কৃতিত্বকে বড় করেই দেখছেন আরচ্যারী ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

শ্যুটিং : শুটিংয়ে নারীদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন ইভেন্টে বাংলাদেশের কেউই পরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা দুজনই এ ইভেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন। সুরাইয়া মোট ১১৩০ স্কোর নিয়ে ৩৩ জনের মধ্যে ২৫তম ও শিল্পা ১০৯৭ স্কোর নিয়ে ৩৩ জনের মধ্যে ৩৩তম হয়েছেন। এদিকে আরেক তারকা শ্যুটার শাকিল আহমেদও বিদায় নিয়েছে নিরবে। কমওয়েলথ গেমসে রৌপ্যজয়ী এ শুটার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ৪০ জনের মধ্যে হন ২২তম। ৩৭তম হয়েছেন বাংলাদেশের পিয়াস হোসেন। ৫০ মিটার এয়ার রাইফেল থ্রি পজিশনে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের শোভন আর রবিউল।

কাবাডি: পুরুষ কাবাডিতে ভারতের কাছে হার দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ ঈদের ছুটিতে জয় পায় শ্রীলংকার বিপক্ষে। জয়ের ব্যবধান ২৯-২৫ পয়েন্ট। পুরুষরা জিতলেও টানা তৃতীয় হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। আগেই দুই হারে বিদায় নিশ্চিত করা নারীরা ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে।

এছাড়া, ব্রিজে বাংলাদেশ জয় পায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। আরব দেশটিকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে পরের রাউন্ডে। পুরুষ বিচ ভলিবলের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে বাংলাদেশ হেরে গেছে ইন্দোনেশিয়ার কাছে। কুস্তিতে শিরিন সুলতানাও লজ্জা উপহার দেন।

হকিতে মালয়শিয়ার কাছে হার ৭-০ গোলের

এশিয়ান গেমস হকিতে শক্তিশালী মালয়শিয়ার কাছে ৭-০ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার পালেম্বাংয়ে, প্রথম কোয়ার্টারে মালয়শিয়ান আক্রমণ রুখতে পারলেও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভেঙে পড়ে জিমি-চয়নদের প্রতিরোধ।

খেলার ১৮ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে রাজী রহিম এগিয়ে দেন দলকে। রাজী আর আরশাদের কল্যাণে দ্বিতীয় কোয়ার্টারেই আরও দু’গোল করে মালয়শিয়া। ফয়জাল সারি, জুয়েল স্যামুয়েল ভ্যান হিউজেন আর নূর নাবিল আর ফারহান আশারির গোলের সুবাদে তৃতীয় ও শেষ কোয়ার্টারে আরও চার গোল করে মায়লশিয়া। আর তাতেই ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে।

আগামী রোববার থাইল্যান্ড আর মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ। আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় এখনও পরের রাউন্ডে খেলার আশা আছে জিমি-চয়নদের।

ফুটবলে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া

এশিয়ান গেমসের গত আসরে রানার্সআপ হয়েছিল উত্তর কোরিয়া। তাদের বিপক্ষেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বেকাসির উইবায়া মুক্তি স্টেডিয়ামে শুরু হবে খেলাটি। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পেয়েছে কাঙ্খিত সাফল্য। এখন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ লাল-সবুজের।

তবে আগেরবারের রানার্সআপদের বিপক্ষে লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। মুখোমুখি লড়াইয়ে ফেবারিট তারাই। তবুও আত্মবিশ্বাসী কাতারের বিপক্ষে গোল পাওয়া জামাল ভূঁইয়া। দলের অধিনায়ক অনুশীলন শেষে বলেন,‘এটা আমাদের জন্য আরেকটি ম্যাচ। আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা হয়তো একাধিক সুযোগ পাবো না। চাপে থাকব। কিন্তু যখনই সুযোগ পাবো সেটা কাউন্ট করার চেষ্টা করবো।’

কাতারকে হারানোর পর বাংলাদেশ দল রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। পুরো দলের লক্ষ্য আরও উচুঁতে। উত্তর কোরিয়াকেও হারানো সম্ভব এমন আত্মবিশ্বাসের মূলমন্ত্র ফুটবলারদের কানে তুলে দিয়েছেন কোচ জেমি ডে। কোচ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন,‘আমরা কাতারের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি তার থেকেও ভালো খেলতে হবে। আমরা গোলমুখে যদি আরেকটু গোছানো ফুটবল খেলতে পারি তাহলে আমাদের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব। আমাদেরও সুযোগ থাকবে ভালো কিছু করার।’

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের স্থান ১৯৪ এবং উত্তর কোরিয়ার স্থান ১০৮। মাঠের খেলায় র‌্যাঙ্কিং খুব যে প্রভাব ফেলে না, তা এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে দূর্বার বাংলাদেশ। কাতারকে হারিয়ে যেভাবে বদলে গেল বাংলাদেশ ফুটবল দল, তাতে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ভালো লড়াই করার দাবি রাখে। এর আগে বাংলাদেশ ১৯৮০ সালে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে তিনবার খেলেছিল। দুবার হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ড্র হয়েছে আরেক ম্যাচ।

এশিয়ান গেমসে ফুটবল ও হকি বাদে এখন পর্যন্ত বড় কোনো সাফল্য নেই বাংলাদেশের। কাতারকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল ফুটবলাররা। আজ আরেকটি চমক দেখানোর অপেক্ষা বাংলাদেশের।

ব্রাজিলের সাবেক বস ম্যারিনের জেল

দুর্নীতির দায়ে ব্রাজিল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশেনর সাবেক প্রধান হোসে মারিয়া ম্যারিনকে চার বছরের জেল দেয়া হয়েছে। ফিফার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফিফার যে সাত কর্মকর্তাকে ২০১৫ সালের মে মাসে জুরিখের এক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, ৮৬ বছর বয়সী ম্যারিন তাদের অন্যতম।

ম্যারিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে টিভি স্বত্ত্ব পাইয়ে দে‌ওয়ার জন্য তিনি স্পোর্টস মার্কেটিং কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টের জাজ পামেলা চেন এই শাস্তির রায় দেন। ফিফার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের এটিই প্রথম অফিসিয়াল রায়। অবশ্য ম্যারিন ইতোমধ্যে সুইস ‌ও ব্রুকলিনের জেলে ১৩ মাস আটক আছেন।

হকিতে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

কাজাখস্তানকে ৬-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শ্যূটিংয়ে ৫০ মিটার রাইফেলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছেন সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা। অন্যদিকে, বাস্কেটবল আর কাবাডিতেও হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

পরিবার ছেড়ে দেশের বাইরে ঈদ, কষ্টতো থাকবেই। সেই কষ্ট লাঘবের উপায় জয় ছাড়া আর কি হতে পারতো। জাকার্তার গিলোর বুং কর্নোর হকি ফিল্ডে জিমি, চয়নরা তাই খেলা দিয়েই উদযাপনটা সারলেন। প্রথম কোয়ার্টারে গোল করলেন ফজলে রাব্বি, রাসেল মাহমুদ জিমি।

তৃতীয় কোয়ার্টারে খোরশেদের জোড়া গোল আর চতুর্থ কোয়ার্টারে চয়ন ও কৌশিক স্কোরশীটে নাম লেখালে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তবে ব্যবধানটা দ্বিগূন হতে পারতো যদিনা পেনাল্টি কর্নার, আর সহজ সুযোগগুলো নষ্ট না করতেন খেলোয়াড়রা।

এশিয়ান গেমস শ্যূটিংয়ে টানা চারদিন ব্যর্থতায় কাটলো বাংলাদেশের। বুধবার মেয়েদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনে অংশ নিয়েছেন সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা। দুই জনই বাদ পড়েন প্রথম রাউন্ড থেকে। ৩৩ জন প্রতিযোগির মধ্যে ৩৩তমই হন শারমিন শিল্পা। তার স্কোর ১০৯৭। আর ২৫তম হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করা সুরাইয়া স্কোর করেছেন ১১৩০। 

 

কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারালে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকে থাকতো বাংলাদেশের। তবে ৩৮-১৮ পয়েন্টে হেরে এবারের মতো যাত্রা শেষ সুবিমল চন্দ্র দাসের খেলোয়াড়দের। এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ছিল ‘এ’ গ্রুপে। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৫০-২১ পয়েন্টে হারার পর থাইল্যান্ডকে ৩৪-২২ পয়েন্টে ও শ্রীলংকাকে ২৯-২৫ পয়েন্টে হারায় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে কোরিয়ার কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে মাসুদ-জাকিররা শেষ করে এশিয়ান গেমস মিশন।

ব্যর্থ এক দিনে হকিতে আনন্দ

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

ওমানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে শুভ সূচনা করলো হকি দল। তবে সব মিলিয়ে গেমসের তৃতীয় দিনটি হতাশাতেই কেটেছে বাংলাদেশের। নারী কাবাডিতে ইরানের কাছে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া হতাশ হতে হয় শ্যূটিংয়েও।

ওমানকে হারিয়ে লক্ষ্য পুরন হয়েছে হকি দলের। কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানকে নিয়ে গড়া গ্র“পে এই একটি দলের বিপক্ষেই জয়ের আশা করেছে খেলোয়াড়রা। আর এই জয়ে চার বছর ওমানকে হারাতে না পারার আক্ষেপ ঘোচালো জিমি-চয়নরা।

জাকার্তার জিবিকে এ্যারিনায়, ফার্স্ট কোয়ার্টারে আরশাদের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে সমতায় ফেরে ওমান। এরপর তৃতীয় কোয়ার্টারে আশরাফুলের স্টিক থেকে পাওয়া লিড ধরে রাখে গোবিনাথানের শিষ্যরা।

অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি বলেন, 'আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল ‌ওমানের বিরুদ্ধে জয়। সেই টার্গেট পুরণ করতে পেরেছি। এখন পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থানের জন্য লড়বো আমরা। গ্রুপের অন্যরা বেশ শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে সেটা হবে আমাদের জন্য আর‌ও ভালো ব্যাপার। পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের দলের লক্ষ্য‌ও সেই রকম।'

হকি দল আনন্দে ভাসিয়েছে, তবে সবচে’ হতাশ করেছে নারী কাবাডি দল। আগেরবার ব্রোঞ্জ জেতা মালেকা, রুপালীরা এদিন ইরানের কাছে ৪২-১৯ পয়েন্টে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। যদিও পুরুষ দল থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

একইভাবে প্রত্যাশা পুরন করতে পারেননি শ্যূটিংয়ের আবদুল্লাহ হেল বাকী, শারমিন আক্তার রত্না এবং উম্মে জাকিয়া সুলতানা। দশ মিটার এয়ার রাইফেল ব্যাক্তিগত ইভেন্ট বাকী আর রত্না-জাকিয়ারা বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন।

এদিকে বিচ ভলিবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে ২-০ সেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এতো সব হারের মাঝে দিনের শেষ বেলার হকির জয়টাই শেষ পর্যন্ত তৃপ্তি হয়ে থাকলো।

ভুটান থেকে ফিরলো কিশোরীরা

সাফ অনুর্ধ্ব ১৫ নারী ফুটবলের শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও বাংলাদেশের কিশোরীদের পারর্ফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতের কাছে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষৎতে কাঙ্খিত ফল পাবে বলে মনে করেন তিনি। সাফ ফুটবলের মিশন শেষে ভুটান থেকে সকালে দেশে ফিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসব কথা বলেন ছোটন। অন্যদিকে এই হারের ক্ষত ভুলে সামনের টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতির কথা শোনালেন দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা।


সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে ভুটান গিয়েছিলো বাংলাদেশ দল। ফাইনালে ভারতের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে স্বপ্নভাঙ্গে পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা লাল-সবুজের কিশোরীদের। তবুও দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনায় পেলেন তহুরা, আঁখি, মারিয়ারা। তাদের চাহনিতেই ফুটে উঠলো শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ। প্রথমবারের মতো কোন টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারলো বাংলাদেশের কিশোরীরা।

তবে চ্যাম্পিয়নশিপ হাতছাড়া হলেও ফুটবলাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পারর্ফরম্যান্স করায় সন্তুষ্ট কোচ। গোলাম রাব্বানি ছোটন জানান, 'সবারই একটা খারাপ দিন আছে, টুর্নামেন্টের ফাইনালটাই আমাদের জন্য খারাপ দিন ছিল। ঐদিন কয়েকটি বল বারে লাগে। খেলোয়াড়রা্‌ও ঠিকমতো খেলতে পারেনি। তবে মেয়েরা অনেক উন্নতি করেছে খেলায়। তারা যে উন্নতি করেছে ভুটানে যারা খেলা দেখেছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। সবাই আমাদের মেয়েদের খেলা দেখে খুশি হয়েছে। ‌ওরা ভাল খেলেছে-তাতেই আমি খুশি। তবে শিরোপা হাতছাড়া হ‌ওয়ার আক্ষেপ তো আছেই।'

শিরোপা ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও এই হার দলকে নতুন শিক্ষা দিয়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। অন্যদিকে শিরোপা জয়ে চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না বলে জানান টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা খাতুন। মারিয়া বলেন, 'এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলোতে আমরা ভাল করার চেষ্টা করবো। কারণ সামনে আমাদের আর‌ও অনেক টুর্নামেন্ট আছে-এই শিক্ষাটা বেশ কাজে দেবে সেইসব টুর্নামেন্টে।'

আগামী ২৭ আগস্ট থেকে আবার‌ও নিয়মিত অনুশীলনে ফিরবে দলটি বলে জানান বাফুফের উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।

লা লিগায় জয়ে শুরু রিয়ালের

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দল ছেড়ে যা‌ওয়ার পর, রিয়াল মাদ্রিদকে পথ দেখাচ্ছেন গ্যারেথ বেল। উয়েফা সুপার কাপে হেরে চাপে থাকা রিয়াল, ওয়েলস উইঙ্গারের নৈপুণ্যে জয় দিয়ে লা লিগা শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করলো।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে, রোববার গেটাফের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে হুলেন লোপেতেগির শিষ্যরা। উয়েফা সুপার কাপে আথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হার দিয়ে মৌসুম শুরু করা রিয়াল লোপেতেগির অধীনে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে পেল প্রথম জয়। প্রথমার্ধে দানি কারভাহাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান বেল।

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেনের সফলতম দলটি। ১৬ মিনিটে প্রায় এগিয়ে যাচ্ছিল রিয়াল। মার্সেলোর দারুণ ক্রসে বেলের হেড ক্রসবারে লেগে ব্যর্থ হয়। বেঁচে যায় গেটাফে।

একের পর এক আক্রমণ গড়ে যাওয়া রিয়ালের গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন কারভাহাল। বেলের ক্রস বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় ফিস্ট করেন গেটাফের গোলকিপার। ফাঁকা পেয়ে যান কারভাহাল, তার হেড গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়।

৩৪ মিনিটে ডি বক্সে সের্জিও রামোসকে গেটাফের এক খেলোয়াড় ফাউল করলে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। তবে করিম বেনজেমা অফসাইডে থাকায় সিদ্ধান্ত বাতিল করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। ৫১ মিনিটে মার্কো আসেনসিওর দারুণ ক্রসে বল জালে পাঠান বেল। রিয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লক্ষ্যে থাকা শেষ ১১ শটে এনিয়ে অষ্টমবার জালের দেখা পেলেন ওয়েলস উইঙ্গার বেল।

দিনের অন্য ম্যাচে রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে সেভিয়া।

ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো বাংলাদেশ। শক্তিশালী কাতারের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৯০ মিনিট ছিল গোল শূণ্য ড্র। অতিরিক্ত দু’মিনিটের খেলা চলছিল তখন। দু’দলই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল পয়েন্ট ভাগ করে মাঠ ছাড়ার। ঠিক ঐ মুহুর্তেই সব হিসেব-নিকেষ পাল্টে দেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ডান পায়ের মাটি কামড়ানো দারুণ এক শটে কাতারের জালে বল প্রবেশ করান। উল্লাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ শিবির। এমন একটি জয় যে কতোটা দরকার ছিল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলে আবারো সুদিনের বাতাস লাগবে এ জয়ে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে হলে কাতারের বিরুদ্ধে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না। কারন গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হার ও থাইল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলের ড্র’র কারণে ঝুলিতে ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। এমন সমীকরনের ম্যাচে জালে উঠে বাংলার দামাল ছেলেরা। অতীত রেকর্ড আর ফিফা র‌্যাকিংকে দু’পায়ে মাড়িয়ে বিশাল এক যুদ্ধে জয় ছিঁনিয়ে আনেন জামাল-সুফিলরা। এ জয় অনেক বড় এক ঘটনা দেশের ফুটবলের জন্য।

সন্ধ্যা সাতটায় জাকার্তার প্যাট্রিয়ট স্টেডিয়ামে কাতারের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। আগের চারবারের মুখোমুখিতে তিনবারই হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। একটি মাত্র ম্যাচে ড্র পেয়েছিল। সেটাও ১৯৭৯ সালে। অতীত রেকর্ডের সঙ্গে ফিফা র‌্যাংকিংও ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পক্ষে। র‌্যাংকিংয়ে তাদের ৯৮ নম্বরে। আর বাংলাদেশ রয়েছে ১৯৪ তম স্থানে। দু’দলের শক্তির ফারাকটা এখানেই প্রমানীত। কিন্তু জীবন-মরন লড়াইয়ে যেনো অন্য এক বাংলাদেশকে দেখা যায়।

শুরু থেকেই কাতারের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৮ মিনিটেই প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাঁদিক থেকে নেয়া সুফিলের জোড়ালো শট খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। অল্পের জন্য সাইডবার ঘেঁষে বল বাইরে চলে যায়। আক্রমনাতœক ফুটবলের কৌশল নিয়ে মাঠে নামা লাল-সবুজ শিবির ৯মিনিট বাদেই গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করে। ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে যান সুফিল। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিনকে ওয়ান বাই ওয়ান পজিশনে পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে ডস দিতে পারলেই নিশ্চিত গোল পেয়ে যেতো বাংলাদেশ। কিন্তু সরাসরি বল তুলে দেন গোলরক্ষকের হাতে।

আক্রমন ও রক্ষণবাগের সঙ্গে গতকাল গোলরক্ষক আশরাফুল রানাও ছিলেন উজ্জ্বল। তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গেই কাতারের তিনটি আক্রমন প্রতিহত করে দরকে বিপদমুক্ত করেছেন। ৩৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভিত আরো একবার নাড়িয়ে দিয়েছিলেন জেমি ডে’র শিষ্যরা। জামাল ভূঁইয়ার কর্ণার কিকে বক্সের ভেতর থেকে হেড নেন তপু বর্মন। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিন বুকে জড়িয়ে নিলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে দূর্দান্ত খেলা লাল-সবুজরা দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমনের ধার ধরে রেখেছিল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে কাতারের তিন ফুটবলারকে ডস দিয়ে ডানদিক থেকে বক্সে প্রবেশ করেও নিজের ভুলে গোলের মুখ দেখা হয়নি বিপুলের। তিনি ফাঁকায় দাঁড়ানো সুফিলকে পাস দিলেই নিশ্চিত গোল হয়ে যেতো। কিন্তু নিজে গোলের ট্রাই করতে গিয়ে সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেন এ মিডফিল্ডার।

ম্যাচের মূল সময় শেষে যখন অতিরিক্ত সময়ে খেলা মাঠে গড়ায়। অতিরিক্ত দুই মিনিটের খেলাও শেষের পথে। রেফারি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শেষ বাঁশী বাজানোর। ঠিক ঐ মুহুর্তে গোলরক্ষক আশরাফুল রানার থ্রু থেকে মাশুক মিয়া জনির দেয়া পাসে বল পেয়ে জামাল ভূঁইয়া কাতারের দু’ই ডিফেন্ডার কাটিয়ে প্রবেশ করেন ডি বক্সে। সেখান থেকে ডান পায়ের জোড়ালো এক শটে বল জড়ান জালে (১-০)। উৎসবে মেতে উঠে লাল-সবুজ শিবির। কাতারের বিরুদ্ধে দারুণ এ জয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো টিম বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক হারে যখন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল। দলটি নিয়ে যখন স্বপ্ন দেখতেও ভয় পান সমর্থকরা। ঠিক ঐ সময়টাতে পাওয়া এমন জয় সত্যিই নতুন করে ভাবতে শেখাবে সবাই।

হিটেই বাদ খাদিজা পুলে নামেননি সাগর

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

প্রত্যাশা ছিল হিট উৎরে মূল পর্বে খেলার। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠেনি। বাছাই পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো সাঁতারু খাদিজা আক্তার বৃষ্টিকে। আজ রবিবার জিবিকে একুয়াটিক সেন্টারে, নিজের প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ২৬ জনের মধ্যে ২৪তম হয়েই পুল থেকে উঠে আসতে হলো ১৬ বছর বয়সী এ সাঁতারুকে। তাও আবার নিজের ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংয়ের চেয়েও অনেক বেশি সময় নিয়ে।

আগামী বৃহস্পতিবার ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ও শুক্রবার ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে আবারো পুলে নামবেন বৃষ্টি। আরেক সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর পুলেই নামেননি। ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে লড়াইয়ের কথা ছিল তার। কিন্তু অনুশীলনের পর্যাপ্ততার কারনে পুলে নামতে রাজী হননি পাবনার এ সাঁতারু।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এরআগে লড়াইয়ের কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না বৃষ্টির। প্রথম মঞ্চ হিসেবে পেয়ে গেলেন এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরকে। তাই হয়তো চাপটা সামলাতে পারেননি এ সাঁতারু। জিবিকে একুয়াটিক সেন্টারের পুলে নেমে দুই নম্বর হিটে খাদিজা ছিলেন এক নম্বর লেনে। হিটে ফিনিসিং লাইন টাচ করলেন ১ মিনিট ২৭ দশমিক ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। অথচ তার ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং ছিল ১ মিনিট ২২ দশমিক ৭২ সেকেন্ড। বিকেএসপির এ সাঁতারু যে কতোটা চাপের মধ্যে ছিলেন সেটা ফুঁটে উঠে পুলে।

হিটে বাদ পড়ে হতাশা নিমজ্জিত বৃষ্টি বলেন, ‘পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাব আর সঙ্গে কোচ না আসায় তার পারফরম্যান্স খারাপ হয়েছে। সুযোগ সুবিধার অভাবে ঢাকায় আমি খুব একটা ভালো অনুশীলন করতে পারিনি। সুইমিং পুল প্রস্তুত ছিল না, এমনকি সেখানে পানির সমস্যাও ছিল। তাছাড়া এখানে কোচ সাথে না আসায় ভালো দিকনির্দেশনা পাইনি।’

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ থেকে দুজন সাঁতারু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাহফিজুর রহমান সাগর আর খাদিজা। গতকাল সাগর ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের হিটেই নামেননি অনুশীলনের অভাবের অভিযোগ তুলে।

সাগর বলেন, ‘ঢাকা থেকে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিল। তাই জাকার্তায় এসে অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাইনি। সেজন্যই ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেই।’

নারী কাবাডিতে পদকের স্বপ্ন শেষ!

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

সবশেষ এশিয়ান গেমসেও পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলো বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এবারও একই ইভেন্ট থেকে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন মালেকা-শারমীনরা। কিন্তু টার্ফে নেমে হতাশই করলেন আব্দুল জলিলের শিষ্যরা।চাইনিজ তাইপের কাছে ২৮-৪৩ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরে পদক জয়ের স্বপ্ন অনেকটা ধূসর হয়ে যায় লাল-সবুজদের।

 

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে শক্তিশালী ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। এই দুই দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় পাওয়া অনেকটাই ‘অলিক কল্পনা’। আগামীকাল সোমবার স্থাণীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ইরানের মুখোমুখি হবে মহিলা কাবাডি দল।

জাকার্তার গারুদা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধেই চাইনিজ তাইপে এগিয়ে যায় ম্যাচে। ১৬-২৩ পয়েন্টে লিড নেয়া দলটি দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক বোনাস পয়েন্ট তুলে নিয়ে প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে পরাজিত করে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। দুই দলের লড়াইয়ে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়েছে। বয়স র্পাথক্য, ফিটনেস লেবেল চোখে পড়ার মতো।

লাল-সবুজদের পারফর্ম্যান্স দেখে হতাশ ভারত কাবাডি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর প্রাসাদ রাও। জানান, ‘তোমাদের খেলোয়াড়দের এভারেজ বয়স অনেক বেশী। ফিটনেস লেবেলেও পিছিয়ে। পুরনো নিয়মেই আবদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশ। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় কাবাডি থেকে হারিয়ে যেতে হবে।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে চাইনিজ তাইপে পুরোপুরি অচেনা বাংলাদেশের কাছে। তবুও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মালেকারা। কিন্তু গত এশিয়ান গেমসে ছয় দলের মধ্যে ৬ষ্ঠ হওয়া দলটি যে কি পরিমান উন্নতি করেছে সেটা কল্পনাও করা যায়নি। গত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয় করা বাংলাদেশের উপর আধিপাত্য ধরে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় তাইপে। রেইডিং-ক্যাচিংয়ে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছে তারা।

ম্যাচ শেষে একরাশ হতাশা নিয়েই কোচ আব্দুল জলিন বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে জয়ের আশা নিয়েই এখানে এসেছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে আমরা যতোটা উন্নতি করেছি, তারচেয়ে অনেক বেশী উন্নতি করেছে চাইনিজ তাইপে। আমরা ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলাম। এরপর ৩০ মাস পর আবারো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছে মেয়েরা। এভাবে বিরতি দিয়ে খেলতে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায় না। তাছাড়া চলতি এ আসরকে সামনে মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়া এসেছে দল। তাহলে কিভাবে জয় প্রত্যাশা করতে পারি আমরা।’

প্রথম ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি জয় তুলে নিয়ে দেশে ফেরা।

অন্যদিকে, পুরুষ কাবাডি ইভেন্টে ভারতের কাছে ৫০-২১ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ পুরুষ দল।

বাংলাদেশ হকি দলের ভাবনায় ওমান

ইন্দোনেশিয়া থেকে কবিরুল ইসলাম

এশিয়ান গেমসের হকিতে প্রতিবারই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। তবে এবার আর হতাশা নয়, বরং পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থান অর্জনই মূল লক্ষ্য রাসেল মাহমুদ জিমিদের। আগামীকাল সোমবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ওমানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় দুপুর চারটায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হবে ম্যাচটি।

একটা সময় ওমানকে বলে কয়ে হারাতো লাল-সবুজরা। সেই ওমানই এখন বড় আতংকে পরিনত হয়েছে। কারন সবশেষ লড়াইয়েও ওমানের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেটা ছিল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফাইনালে। ২-০ গোলে হেরেছিল জিমি-চয়নরা। চলতি এ আসরে ‘বি’ গ্রুপে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের প্রতিপক্ষ ওমান, পাকিস্তান, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড ও কাজাগিস্তান। র‌্যাংকিং ও শক্তিতে যোজন-যোজন এগিয়ে থাকায় পাকিস্তান ও মালেশিয়ার সঙ্গে জয়ের কথা ভাবছে না গোবিনাথান কৃষ্ণমূর্তি।

র‌্যাংকিংয়ে মালেশিয়া ১২ আর পাকিস্তান রয়েছে ১৩ নম্বরে। থাইল্যান্ড ও কাজাখস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশই ফেভারিট। অগ্নীপরীক্ষা বলতে ওমান। যদিও র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ৩১ আর ওমান আছে ৩৩-এ। আজ রবিবার অনুশীলন শেষে চয়ন জানালেন, ‘আমাদের ভাবনায় শুধুই ওমান ম্যাচ। কারণ এই ম্যাচে হারলে কঠিন হয়ে যাবে পঞ্চম হওয়া। বিশ্বকাপ খেলা দলগুলো এখানে আছে। এজন্য এখানে পদকের বদলে ৫ বা ৬ নম্বর হওয়া লক্ষ্য আমাদের।’

এশিয়াডে আসার আগে প্রস্তুতির দারুন সুযোগ পেয়েছিল হকি দল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিল। জয় পেয়েছিল স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে। তাই ওমানের বিরুদ্ধে ভালো কিছুর প্রত্যাশা গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ওমানকে হারানোটা হবে আমার জন্য ওদের দেয়া উপহার।’

এটা ঠিক হকিতে গতির সঙ্গে তাল মেলাতে দরকার দূর্দান্ত ফিটনেস। বাংলাদেশের সেখানে ঘাটতি আছে। তারপরও আত্মবিশ্বাস আর গত কিছুদিনের প্রস্তুতি সঙ্গে করে নামছে অগ্নিপরীক্ষায়। জয় ছাড়া দ্বিতীয় ভাবনা নেই জিমি-চয়নদের।

রোনালদোর অভিষেক ম্যাচে জুভেন্টাসের জয়

ইটালিয়ান লিগ ‘সিরি এ’ তে নিজের অভিষেক ম্যাচে কোনো গোল পেলেন না পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবু ৩-২ গোলে শিয়াভোকে হারালো তার দল জুভেন্টাস।

শিয়াভোর মাঠ মার্ক অ্যান্টোনিও ভেন্তেগোদি স্টেডিয়ামে, খেলার ৩ মিনিটেই সামি খেদিরার গোলে এগিয়ে যায় জুভেন্টাস। তবে ৩৪ মিনিটে মারিউস স্টেপিনস্কির গোলে প্রথমার্ধেই ১-১-এ সমতা ফেরায়, শিয়াভো।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে জুভেন্টাস। উল্টো ইমানুয়েল গিয়াচেরিনির স্পটকিকে পিছিয়ে পড়ে ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির দল। তবে ৭৫ মিনিটে ম্যাতিয়া বানির উরন গোলে ২-২ সমতায় ফেরে জুভেন্টাস। অবশেষে খেলা শেষের ইনজুরি টাইমে, বদলি খেলোয়াড় ফেদেরিকো বার্নাদেশ্চি দারুণ এক গোল করে জুভেন্টাসের জয় নিশ্চিত করেন।

তাতে নিজে গোল না পেলেও জয় দিয়েই ইটালিয়ান লিগে অভিষেক হলো পাঁচবারের বিশ্ব সেরা খেলোয়াড় রোনালদোর।

ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশ রানার্সআপ

বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতলো ভারত। দুর্ভাগ্য বাংলার মেয়েদের, ভারতের পোষ্টে ১১ টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে, মাত্র চার শটেই গোল পায় ভারত। তবে ফেয়ার প্লে ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আর সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তহুরা খাতুন।

দুর্ভাগ্য আর বাজে রেফারিংয়ের কাছেই শিরোপা হারালো বাংলাদেশ। তাতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরে রানার আপ ট্রফি নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। অন্যদিকে, প্রথম আসরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়ে শিরোপা জিতলো ভারত।

থিম্পুর চিংলামিথাং স্টেডিয়ামে, খেলার শুরু থেকেই মাঝ মাঠের দখলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশের কিশোরীরা। কিছুটা এলোমেলো খেললেও গোলশুন্য ড্রতেই প্রথমার্ধ শেষ করে মারিয়া-তহুরারা।

তবে বাংলাদেশের মেয়েদের কপাল পোড়ে খেলার ৬৬ মিনিটে। সুনিতা মান্ডার গোলে পিছিয়ে পড়ে ছোটনের শিষ্যরা।

সর্বোচ্চ গোলদাতা, তহুরা খাতুন

এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে মারিয়া-তহুরারা। কিন্তু কোনবারই ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। কখনও গোলবার আবারও কখনও ক্রসবারে লেগে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

এমনকি শেষ মূহুর্তে পাওয়া সুযোগটাও কাজে লাগাতে পারেননি তহুরা খাতুন। তাতে চোখের জলে ভেসে যায় বাংলাদেশের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন।

জার্মানিকে বিদায় করে সেমিফাইনালে জাপান

দ্বিতীয়ার্ধের তিন গোলে জার্মানিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে এশিয়ার প্রতিনিধি জাপান। গতকাল শুক্রবার রাতে ভ্যানিসের স্টেড ডি লা রাবিনে, জার্মানিকে বিদায় করে প্রতিযোগিতার শেষ চারে ওঠে জাপান।

গোল শূন্য প্রথমার্ধের পর, খেলার ৫৯ মিনিটে হিনাতা মিয়াজাওয়ার ক্রসে ম্যাচ সেরা জুন এনডো জাপানকে এগিয়ে দেন। ৭০ মিনিটে এশিয়ার প্রতিনিধিরা ব্যবধান দ্বিগুণ করে। তাকারাদার কাছ থেকে বল পেয়ে জার্মানির সীমানার খুব কাছ থেকে গোল করেন আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা উইকি।

এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৭৩ মিনিটে জাপানকে ৩-০ ব্যবধানে লিড এনে দেন তাকারাদা। বামপ্রান্ত থেকে নানামির কাছ থেকে পাওয়া ক্রসে বল জালে জড়াতে কোনো সমস্যাই হয়নি তার। টুর্নামেন্টে এটি তাকারাদার চতুর্থ গোল।

তিন গোলে পিছিয়ে থেকে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে জার্মানি। কিন্তু ততক্ষণে খেলার ফল প্রায় নির্ধারিত। খেলা শেষের আট মিনিট আগে, জ্যানিনা যে গোলটি করেন তা শুধু ব্যবধানই কমায়।

এই জয়ে টুর্নামেন্টের শেষ চারে উঠে গেলো জাপানের কিশোরীরা। আগামী সোমবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডে। নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ইংলিশ নারীরা।

টাইমিংয়ের উন্নতি চান বাংলাদেশের সাঁতারুরা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমসে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাঁতারুরা যখন স্বর্ণ জয়ের স্বপ্নে বিভোর, বাংলাদেশের সাঁতারুরা তখন স্বপ্ন দেখেন টাইমিংয়ে উন্নতি করার। নিজের সেরাটা দিয়ে অতীতের চেয়ে কিছুটা ভালো করে খালিহাতে দেশে ফেরাই যেনো গৎবাঁধা নিয়মে পরিনত হয়েছে। গেমস থেকে পদক জয়ের কোন লক্ষ্য নেই তাদের। এজন্য অবশ্য সাঁতারুদের দোষারোপ নয়, বরং দেশের ক্রীড়া সংস্থার অভিবাবক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকেই (বিওএ) দায়ী করাটা শ্রেয়। অনুশীলনের ঘাটতি আর সুযোগ-সুবিধার অভাবেই আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে ভালো করতে পারছেন না সাঁতারুরা। আজ সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হ‌ওয়ার কথা এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসরের।

এবারের গেমসে ৪০টি ইভেন্টের মধ্যে লাল-সবুজরা অংশ নিচ্ছে ১৪টি ইভেন্টে। এরমধ্যে সাঁতার ইভেন্টটিও আছে। বিওএ স্বপ্ন দেখছে আরচ্যারি, কাবাডি ও শ্যুটিং থেকে পদক জয়ের। স্বর্ণ নয়, বরং রৌপ্য কিংবা ব্রোঞ্জ পদক পেলেই খুশী তারা। সম্ভাবনাময় ইভেন্ট সাঁতারসহ অন্য কোন ইভেন্ট নিয়ে মাথা ব্যাথ্যা নেই বিওএ’র। তাই ‘নামকাওয়াস্তে’ অংশগ্রহনের জন্য দল প্রেরণ করেই দায়বোধ সারছে সংস্থাটি। একটা সময় সাঁতার ছিল সবচেয়ে সম্ভাবনার ইভেন্ট। যে ইভেন্টের দিকে একটু নজর দিলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সুনাম কুড়ানো সম্ভব ছিল। অথচ নিজেদের পরিকল্পনার অভাবে আজ সাঁতারুদের মান দিন দিন অবনমনের পথে।

এশিয়ান গেমসে এবার বাংলাদেশ দলের হয়ে অংশ নিচ্ছেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। দেশসেরা এ দুই সাঁতারু বিভিন্ন পাঁচটি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবেন। সাগর নিজের পছন্দের ডিসিপ্লিন ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রি ষ্টাইলে লড়াই করবেন। জাকার্তায় গিয়ে অনুশীলনের একটু সুযোগ পেলে ২০০ মিটার ফ্রিষ্টাইলেও দেখা যেতে পারে তাকে। আর বৃষ্টি ১০০ ও ৫০ মিটার ব্রেষ্ট ষ্ট্রোক ছাড়াও পুলে নামবেন ৫০ মিটার ফ্রি ষ্টাইলে। ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হওয়া এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এ আসর নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই দেশসেরা সাঁতারু সাগরের। প্রস্তুতির স্বল্পতা নিয়েই যতো অভিযোগ তার। আক্ষেপের সঙ্গেই বলেন, ‘গত মার্চ-এপ্রিলে এশিয়ান গেমসের জন্য আমাদের দু’জনকে বাছাই করা হলো। তখন বেশ ভালোই লেগেছিল এই ভেবে যে, প্রস্তুতির জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে দেখা গেলো অতীত চিত্র। মাত্র এক মাস আগে শুরু হলো ক্যাম্প। যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষরা বছর জুড়ে অনুশীলন করছেন কোচের তত্বাবধায়নে। আলাদা ফিজিও রাখা হচ্ছে। ফুড সাপ্লিম্যান্ট দেয়া হচ্ছে তাদের। আর আমাদের ক্ষেত্রে ফিজিওতো দূরের কথা, ঠিক মতো ক্যাম্পই শুরু হয় না। মনে হয়, অংশগ্রহনের জন্যই আমাদের মুধু পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে। এতে করে গেমস শেষে কি হয়? সংবাদ পত্রে আমাদের তুলোধূনো করা হয়। মানুষজন ভাবে সব দোষ সাঁতারুদের। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কখনোই পদক জয় করা সম্ভব নয়।’

পাবনার এ সাঁতারুর কণ্ঠে রয়েছে হতাশার সুর, ‘সাঁতারু হয়ে মনে হয় ভুলই করেছি। যদি সাঁতারু না হতাশ তবে পড়ালেখা শেষ করে হয়তো ভালো বেতনে চাকরী করতাম।’

এশিয়ান গেমসে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে সদ্য বিয়ে ঠিক হওয়া এ সাঁতারু বলেন, ‘মাত্র এক মাসের অনুশীলনে কিছুই করা সম্ভব নয়। টাইমিংয়ে উন্নতি করাই মূল টার্গেট।’

মহিলা সাঁতারু হিসেবে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন সেরা সাঁতারু ক্যাম্প থেকে উঠে আসা খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। তারও লক্ষ্য নিজের টাইমিংয়ে উন্নতি করা, ‘আমি খুব এক্সাইটেড প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিতে পারায়। নিজের পছন্দের ইভেন্ট ৫০ মিটার ব্রেষ্ট ষ্ট্রোকে উন্নতি করতে চাই। এখানে আসলে পদকের জন্য আসিনি। অভিজ্ঞতা অর্জনটাই আসল কথা।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এখন ইমরান খান

ক্রিকেটার ইমরান খানই এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ১৭৬ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন সাবেক এই ক্রিকেটার।

পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ জানায়, জাতীয় পরিষদে ভোটাভুটিতে ইমরানের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) শাহবাজ শরিফ ৯৬ ভোট পান। তাকে হারিয়ে ২২ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় সাফল্যের দেখা পান ইমরান। ভোটের ফল ঘোষণা করেন নবনিযুক্ত স্পিকার আসাদ কায়সার। সেই ঘোষণার সময় মুসলিম লীগের অনেকে ‘নামঞ্জুর’ (অগ্রহণযোগ্য) এবং ‘ওয়াজির-ই-আজম নওয়াজ শরিফ’ (প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ) স্লোগান দিতে থাকেন। মুসলিম লীগ নেতারা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ওই সময় দলীয় নেতাকর্মীদের অভিনন্দনে সিক্ত ইমরানকে নিজ আসনে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। ১৮ আগস্ট, শনিবার ইমরান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

পাকিস্তানে ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইমরানের দল পিটিআই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এরপর থেকেই ইমরানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছিল।

আবার‌ও ভারতকে হারাতে চায় বাংলাদেশ

ভারতকে আবার‌ও হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিততে চাইছে বাংলাদেশ। গতবারের মতো শিরোপা লড়াইয়ে এবারও বাংরাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। নিজেদের মাঠে আগেরবার প্রথম আসরের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা।

শ্রীলঙ্কা ও ভুটানকে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের সেরা হওয়া ভারত সেমিফাইনালে নেপালকে হারায় ২-১ গোলে। চলতি প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত গোল না খাওয়া দল বাংলাদেশ। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন নিজেদের স্বাভাবিক খেলা দিয়েই জয়ের আশা করছেন। ‘যেভাবে আমরা সাত মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি, এ প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্ব এবং সেমি-ফাইনাল মিলিয়ে তিন ম্যাচে যেভাবে খেলেছি, ফাইনালে সেভাবেই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চাই। শিরোপা জয়ের জন্য এ ম্যাচে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিব। যখন আমরা এ প্রতিযোগিতায় খেলতে এসেছিলাম, তখন এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল।’

অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার চাওয়া শুরু থেকে তার সতীর্থরা যেন ভারতকে চাপে রেখে গোল আদায় করে নেয়। ‘এটা আমাদের ফাইনাল ম্যাচ; আমরা প্রস্তুত এবং একটা দল হয়ে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতার জন্য সর্বোচ্চটা দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা শুরু থেকে ভারতকে চাপ দিব এবং যত দ্রুত সম্ভব গোল করার চেষ্টা করব। যদিও ভারত ভালো দল এবং তাদের কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল জেতা এবং আরও একবার বাংলাদেশের জন্য ট্রফি জেতা।’

ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল।

নাসির জামশেদের সাজা

পাকিস্তানের সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নাসির জামশেদকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তান সুপার লিগ-পিএসএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। আজ শুক্রবার নাসির জামশেদের বিপক্ষে এই রায় দেয়া হয়।

অবশ্য তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করার অপরাধে এর আগেই নাসির জামশেদকে গত বছর ১২ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-পিসিবি। অন্য আরো পাঁচটি অভিযোগে এবার তাকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তদন্ত কাজে অসহযোগিতা ছাড়া‌ও এই পাঁচ অভিযোগের মধ্যে আছে- বুকিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকা এবং তথ্য পাচার করা।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ফ্রান্স

রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জয়ের কারণে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্রান্স। তাতে শীর্ষ দশ থেকে ছিঁটকে গেছে জার্মানি ও আর্জেন্টিনার মতো ফুটবল পরাশক্তি।

রাশিয়া বিশ্বকাপে দলগুলোর পারফর্মেন্স বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে অবশ্য ইউরোপীয় দেশগুলোরই জয়-জয়কার। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আটটিই ইউরোপের।

বাংলাদেশ অবশ্য আগের ১৯৪তম স্থান ধরে রেখেছে। কোচ দিদিয়ের দেশ্যামের দল ফিফা র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে ওঠার পথে ছয় ধাপ এগিয়েছে। ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে হারা ক্রোয়েশিয়াও বিশ্বকাপ সাফল্যের সুবাদে র‌্যাংকিংয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে পরাস্ত হলেও দক্ষিণ আমেরিকার দল উরুগুয়ে নয় ধাপ উঠে এসে পঞ্চমস্থান দখল করেছে। অপরদিকে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে পরাস্ত হওয়া ইংল্যান্ড ছয় ধাপ উন্নতি করে আছে ষষ্ঠস্থানে। জার্মানি ও আর্জেন্টিনা প্রত্যাশা জাগিয়েও বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি। এরমধ্যে জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় ছিঁটকে গেছে ১৪ ধাপ। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এখন আছে পঞ্চদশ স্থানে। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ছিটকে গেছে ছয় ধাপ। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া লিওনেল মেসির দলের বর্তমান অবস্থান একাদশতম।

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শীর্ষ দশেই আছে। রাশিয়ায় কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা কোচ তিতের দল একধাপ পিছিয়ে ঠাঁই পেয়েছে তৃতীয় স্থানে।

প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে স্পেন

ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। ফ্রান্সের কনর্কামেউ স্টেডিয়ামে, নাইজেরিয়াকে তারা ২-১ গোলে পরাজিত করে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে। এবারই প্রথম স্প্যানিশ তরুণীরা নারী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো।

বৃহস্পতিবার গাই-পিরিউ স্টেডিয়ামে, খেলার শুরুতেই এগিয়ে যায় ‘লা রোজিতা’রা। মাত্র ১৩ মিনিটে অধিনায়ক অ্যাতিনা বোমাতি দারুণ এক গোলে এগিয়ে দেন স্পেনকে। নাইজেরিয়ার ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত এক শটে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তবে এই গোলে নাইজেরিয়ান গোলকিপার চাইমাকা এনডোজির ব্যর্থতা‌ও সমান দায়ী। ১-০ গোলে এগিয়ে যা‌ওয়ার উল্লাসে মাতে স্পেন শিবির।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্প্যানিশরা। মাইতি উরুজের ফ্রিকিক থেকে বল পেয়ে স্পেনকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন পাত্রি গুইয়ারো। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল। তাদের গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।

বিরতি থেকে ফিরে গোল শোধের চেষ্টা করতে থাকে ‘সুপার ঈগল’রা। ৫৭ মিনিটে সেই সুযোগ‌ও পায় তারা। রাশিদাত আইবাবের গোল প্রচেষ্টা স্প্যানিশ গোলকিপার প্রতিহত করলে‌ও ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-১-এ নামিয়ে আনেন পিস এফি।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাকী সময়ে গোল পরিশোধ করতে না পারায় ২-১ ব্যবধানের জয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় স্পেনের নারী দল। এই টুর্নামেন্টে এবারই স্পেন প্রথম শেষ চারের টিকিট পেলো।

এদিকে, বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচে উত্তর কোরিয়াকে পেনাল্টি গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ‌ওঠে ফ্রান্সের নারী ফুটবল দল।

তামিমের এশিয়া কাপ ভাবনা

উপমহাদেশের বিশ্বকাপ খ্যাত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে দুবার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। তবে এখনও ট্রফি জিতাতে পারেনি টাইগাররা। ঘরের মাঠে ২০১২ ও ২০১৬ সালে ফাইনাল হেরেছিল বাংলাদেশ দল। আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর শুরু হবে আগামী মাসে।টুর্নামেন্ট হবে ওয়ানডে ফরম্যাটে।

ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সাফল্য সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ জিতে ফিরেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। এশিয়া কাপেও তাই প্রত্যাশা থাকবে উঁচুতে। যদিও বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল বলেন, এখন ফাইনাল বা চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে চিন্তা না করতে। বরং টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে সুপার ফোরে উন্নীত হওয়ার পরিকল্পনাতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি শুরু হবে ঈদুল আজহার পর। তবে ২৭ আগস্ট দলগত অনুশীলনের অপেক্ষায় বসে নেই তামিম। আজ বৃহস্পতিবার তিনি বিসিবি একাডেমি মাঠে লম্বা সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেন।

এশিয়া কাপে এবার ছয়টি দল দুটি গ্রুপে খেলবে গ্রুপ পর্বে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্ব থেকে দুটি করে দল উঠবে সুপার ফোরে। পরে সেরা দুটি দল খেলবে ফাইনালে। তামিম জানান, গ্রুপ পর্বের দুই প্রতিপক্ষ নিয়েই আগে পরিকল্পনা করা উচিত।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এই ওপেনার বলেছেন, ‘প্রথম দুই ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করতে হবে। প্রস্তুতিটা হচ্ছে সেই জন্যই। আমরা যদি এখন ফাইনাল কিংবা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চিন্তা করি যেটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রথম দুই ম্যাচ জিততে হবে। এখন প্রথম দুই প্রতিপক্ষ নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা করা উচিত।’

গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও আফগানদের বিরুদ্ধে সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। তামিম বলেছেন, ‘জটিল, আপনি এশিয়া কাপ খেলবেন, এটা একটি বড় টুর্নামেন্ট। বেশিরভাগ ভালো দলই খেলবে। অন্য গ্রুপে থাকলে সেটাও কঠিন হতে পারত। ওই গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান আছে। আমাদের কা