দুপুর ২:৩১, রবিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

ইতালির সাথে গোলশূণ্য ড্র করে প্রথম দল হিসেবে উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো পর্তুগাল। ইতালির মিলানে এ ম্যাচ দিয়ে শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামেন স্বাগতিক ডিফেন্ডার জর্জিয়ো কিয়েলিনি।

শুরু থেকেই বলের দখল আর আক্রমণে এগিয়ে ছিলো স্বাগতিকরাই। কিন্তু রোনালদোবিহীন পর্তুগালের রক্ষণভাগ বারবারই দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় প্রতিপক্ষের সামনে। তাতে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই।

তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আসরের প্রথম দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করলো পর্তুগাল। আর চার ম্যাচ শেষে ৫ পয়েন্ট নিয়ে সেমির আগেই বিদায় নিতে হলো ইতালিকে।

১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা জয়

ক্যান্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলংকাকে ৫৭ রানে হারিয়ে একম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০-্ তে সিরিজ জিতে নিলো ইংল্যান্ড। এতে ২০০১ সালের পর আবার‌ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল ইংলিশরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রানের দারুণ এক ইনিংসে ম্যাচ সেরা হন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট।

আগের দিনের, ৭ উইকেটে ২২৬ রান নিয়ে শেষ দিন ব্যাট করতে নেমে মঈন আলী ও জ্যাক লিচের স্পিনে এক ঘন্টারও কম সময়ে গুটিয়ে যায় শ্রীলংকার দ্বিতীয় ইনিংস। জ্যাক লিচ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ইনিংসে ৫ উইকট তুলে নিলে ২৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় লংকানরা।

৩০১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আগের দিন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ৮৮ আর করুনারত্নের ৫৭ রানে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলো স্বাগতিকরা। তবে ইংলিশ স্পিনাররা প্রতিপক্ষের ১৯টি উইকেট নিয়ে শ্রীলংকার মাটিতে বিরল সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখান।

প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২৯০ রানের জবাবে ৩৩৬ রান করেছিলো শ্রীলংকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হলে ৩০১ রানের জয়ের লক্ষ্য পায় শ্রীলংকা। আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে কলম্বোয় শুরু হবে এই দুই দলের মধ্যকার তৃতীয় ‌ও শেষ টেস্ট।

পাপন এবার এসিসি’র সভাপতি

আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্ব নিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। লাহোরে এসিসির নির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিতে তাকে এই পদে নির্বাচিত করা হয়।

পরে পাকিস্তানের এহসান মানির কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন পাপন। আগামী দুই বছরের জন্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এর আগে, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আলী আসগর লবী এবং আ হ ম মোস্তফা কামালও এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেষচারে ভারত

লো স্কোরিং ম্যাচে দুরন্ত জয় পেলো ভারত। আয়ারল্যান্ডকে ৫২ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চলে গেল মিতালি-হরমনপ্রীতরা।হ

প্রথমে ব্যাট করে মিতালির ৫১ রানে ভর করে ১৪৫ রান তোলে ভারত। জবাবে রাধা-দীপ্তির দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে আইরিশদের ইনিংস শেষ হয় ৯৩ রানে। মুম্বইয়ের উঠতি প্রতিভা(১৮বছর) রাধা একাই নেন তিন উইকেট(২৫/৩), দীপ্তি শর্মার ঝুলিতে দুই উইকেট(১৫/২)৷ একটি করে উইকেট পেয়েছেন হরমনপ্রীত ও পুনম যাদব। টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেলো ভারত।

হারের বৃত্তে বাংলাদেশের নারীরা

মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও শ্রীলংকার কাছে ২৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। সেন্ট লুসিয়ায় আগে ব্যাট করে জাহানারার বোলিং তোপে শুরু থেকেই চাপে পড়ে লংকানরা।

দলের রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারাতে শুরু করা দলটি শেস পর্যন্ত ৭ উইকেটে তোলে মাত্র ৯৭ রান। সর্বোচ্চ ৩১ রান এসেছে সিরিবর্ধনের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের পক্ষে জাহানারা ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। আট ব্যাটসম্যানই দু’অঙ্কেরা কোঠায় পৌঁছাতে পারেননি। তার মধ্যে রানের খাতা খোলা হয়নি দুজনের। তাতে ৯৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৭২ রানে অলআউট হয়েছে সালমা খাতুনের দল। শ্রীলংকার পক্ষে জয়াঙ্গিনি ৩ এবং ম্যাচসেরা সিরিবর্ধনে ও প্রবন্ধনী ২টি করে উইকেট নেন। এদিকে, দিনের অন্যম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩১ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জিনেদিন জিদান সংবাদ

সামনের বছরে জিনেদিন জিদানের সামনে চাকুরির অনেক পথ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচ সহসাই আবার কোচের দায়িত্বে ফিরছেন, একথা বলাই যায়।

OkDiario-র ভাষ্য মতো, এই ফ্রেঞ্চ লিজেন্ড একাধিকবার ইংলিশ দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হাল ধরার চেষ্টা করেছেন। তাছাড়া প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যাওয়ারও ইচ্ছে ছিল তার। তবে বর্তমানে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের প্রস্তাব এসেছে জিদানের কাছে। কারণ দলের বর্তমান কোচ নিকো কোভাকের উপর আর আস্থা রাখতে পারছেনা বাভারিয়ানরা।

মৌসুমের শুরুতেই বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে পরাজয় কোভাককে বায়ার্নেক কাছে আস্থাহীনতায় নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে জার্মান লিগ চ্যাম্পিয়নরা। এই সকল কারণে জিদানের বায়ার্নে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বার্সায় ড. মোহাম্মদ ইউনুস

দ্বিতীয়বারের মতো লিওনেল মেসিদের দল বার্সেলোনায় গেলেন ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান, ক্লাবটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্ডি মেসট্রে (Jordi Mestre)।

স্টাফদের সঙ্গে দেখা করার পর অনুশীলন শেষে খেলোয়াড়রাও ডক্টর ইউনুসকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি, র্বাসার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার কথা জানান। কাতালানদের হিরো লিওনেল মেসি যে বর্তমান সময়ের সেরা তারকা একথাও তিনি জানান। আর সেমি যে অনেক বাংলাদেশী ফুটবলারের অনুপ্রেরণা সে কথাও জানান ডক্টর ইউনুস।

এ সময় ডক্টর ইউনুসের নাম লেখা বার্সেলোনার জার্সি উপহার দেয়া হয়। এরআগে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে বার্সেলোনায় গিয়েছিলেন উক্টর মোহাম্মদ ইউনুস।

আর ৮ উইকেট দরকার বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৮ উইকেট। অন্যদিকে এই ম্যাচ জিততে হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৩৬৭ রান করতে হবে জিম্বাবুয়েকে। ড্র করতে হলে খেলতে হবে টানা তিন সেশন। ৪৪৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ২ উইকেটে ৭৬ রান তুলেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেইলর (৪) এবং শন উইলিয়ামস (২) অপরাজিত আছেন।

বাংলাদেশের দেওয়া পাহাড়সম টার্গেট মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে জিম্বাবুয়ে। মিরাজের কল্যাণে জীবন পেয়ে উইকেটে টিকে থাকার সংগ্রাম করেন মাসাকাদজা এবং চারি। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৮ রান। দুই ক্যাচ মিস করা সেই মেহেদী হাসান মিরাজই মাসাকাদজাকে (২৫) সাজঘরে পাঠান। ২ রানের ব্যবধানে ৪৩ রান করা অপর ওপেনার ব্রায়ান চারিকে লেগবিফোরের ফাদে ফেলন তাইজুল ইসলাম। এরপর ব্রেন্ডন টেইলর আর শন উইলিয়ামস বাকী দিন কাটিয়ে দেন।

আজ চতুর্থ দিন চা বিরতির সাথে সাথে ৬ উইকেটে ২২৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ৪৪৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২২ বলে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কায় অপরাজিত ১০১* রান করেন বাংলাদেশ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সুযোগ পেয়েও জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করায়নি বাংলাদেশ। ২১৮ রানের বড় লিড পেয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে মাহমুদউল্লাহর দল। কিন্তু মিরপুরে চতুর্থ দিনে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ইমরুল কায়েস। অপর ওপেনার লিটন দাস করেন ৬ রান। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক‌ও (১) ভরসা দিতে পারেননি। ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমও ব্যর্থ। ৭ রান করেন তিনি। ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে তখন বাংলাদেশ।

এরপর অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। প্রচণ্ড চাপের মাঝে ৯১ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন মিঠুন। মিঠুন ৬৭ রান করে বিদায় নে‌ওয়ার পর আরিফুল হক‌ও অল্পতেই সাজঘরে ফেরেন। এরপর মেহেদী মিরাজকে নিয়ে যান ব্যাটিং চালান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘ ৮ বছর পর ১২২ বলে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। ৬ উইকেটে ২২৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ১০১* এবং মেহেদী মিরাজ ২৭* রানে অপরাজিত থাকেন।

সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

নিউজিল্যান্ডকে ৩৩ রানে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যম্যাচে, আয়ারল্যান্ডকে ৩৮ রানে হারিয়ে আসরে টিকে থাকলো পাকিস্তান।

বি গ্রুপের ম্যাচে, আগে ব্যাট করে অ্যালিসা হ্যালির ফিফটিতে ভর করে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। ৫৩ রান করেন হ্যালি। এছাড়া র‌্যাচেল হেইন্স অপরাজিত ২৯ আর বেথ মুনি করেন ২৬ রান। জবাবে সুজি বেটসের ৪৮ রান স্বত্ত্বেও ১২০০এই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। অজিদের পক্ষে মেগান স্কাট ৩ এবং সোফি মলিনাক্স ও ডেলিসা কিমিন্স ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে, দিনের অন্যম্যাচে, জাভেরিয়া খানের ৭৪ রানে ভর করে আসরে টিকে রইলো পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে জাভেরিয়ার ৫২ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ১৩৯ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে ৯ উইকেটে ১০১ রানে থামে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের সামনে বাংলাদেশের রানের পাহাড়

অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুনের ফিফটি আর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে জিম্বাবুয়ের সামনে পাহাড়সম টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রানের ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। তাতে ম্যাচ জিততে জিম্বাবুয়েকে করতে হবে ৪৪৩ রান।

চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশ দল ফলোঅন না করিয়ে আবারও ব্যাট করতে নামার বাংলাদেশের রান কত হবে এমন ভাবনাই ছিল সবার। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই টপঅর্ডাররা ব্যর্থ হলে, সম্ভাবনাটা নেমে আসে ধরা-ছোয়ায়। মাত্র ২৫ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার চাপ সামাল দিয়ে মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহ মিলে গড়েন ১১৮ রানের জুটি। ৬৭ রান করে মিঠুন ফিরে গেলেও একপ্রান্ত ধরে রাখেন মাহমুদউল্লাহ। আরিফুলও ফিরে যান অল্পতেই।

তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের সাথে ১৪৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়া মেহেদি হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটে তারা দলের স্কোরে ৭৩ রান যোগ করেন। ৭০ বলে দুই চার এবং এক ছক্কায় ক্যারিয়ারের ১৬ তম ফিফিট পূরণ করেন মাহমুদউল্লাহ। পরে হাত খুলে খেলে মাত্র ৫২ বলে আরও দুটি চার এবং একটি ছক্কার মারে পরবর্তী পঞ্চাশ রান করে ফেলেন তিনি। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে ২২৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ২৭ রান করে।

ইংল্যান্ডের কাছে বড় হার নারীদের

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। সেন্ট লুসিয়ায় আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৭৬ রান তোলে সালমারা। জবাবে, ৩৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় ইংলিশরা।

এশিয়ার বাইরে বিশ্বমঞ্চে যাদের খেলার সৌভাগ্য হয় কালেভদ্রে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে তারাতো একটু ভড়কাবেই। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর এ ম্যাচেও তাই নড়বড়ে বাংলাদেশ। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই আউট শুন্য রানে।

আয়েশা রহমানের ব্যাট একপ্রান্তে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে। রয়েছে অবাক করা পরিসংখ্যানও। প্রথম ৯ ওভারে তোলা ২৪ রানের ২৩-ই আয়েশার ব্যাটে। অপরপ্রান্তে তখনও কেউ রানের খাতা খোলেননি।

৫২ বলে দুই চার আর তিন ছয়ে ৩৯ রান করে বাংলাদেশের ওপেনার ফেরেন দলীয় ৪২ রানে। এরপর বাকীরা আসা যাওয়ায় ব্যস্ত হলে ৭৬ রানে থামে সালমার দলের ইনিং।

বৃষ্টি আইনে ১৬ ওভারে ৬৪ রানের লক্ষ্য ইংলিশরা ছুয়ে ফেলে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই। দুই উইকেট সালমার, একটি নেন কুবরা।

প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানে লিড বাংলাদেশের

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফলোঅনে পড়েছে জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় দিন শেষ বলে ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায়। তবে চতুর্থ দিন সকালে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত জানাবে আবারো জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠোবে কিনা। ৪৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে ১ উইকেটে ২৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে ৩০৪-এ অলআউট হয় সফরকারীরা। এর আগে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিলো। এদিন তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়ার নজির গড়েছেন তাইজুল।

উড়লেন তাইজুল; সাথে বল হাতে উড়িয়েও দিলেন জিম্বাবুয়েকে। তাতেই তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের নজির। তৃতীয় দিন শেষেও তাই ঢাকা টেস্টের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে।

সকালটা শুরু হয়েছিলো তাইজুলের সাফল্য দিয়েই। দলীয় ৪০ রানে নাইটওয়াচম্যান তিরিপানোকে ফিরিয়ে এই বাঁহাতি দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন স্বাগতিকদের।

উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া ব্রায়ান চারীকে মধ্যাহ্ন বিরিতর আগেই ফিরিয়ে খেলায় নিয়ন্ত্রন ধরে রাখে বাংলাদেশ। মিরাজের এই উইকেটের পেছনে অবশ্য অধিনায়ক মাহমুদুল¬াহর বুদ্ধিদীপ্ত রিভিউ আবেদনের কৃতিত্বই বেশি।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ফলো অনের শঙ্কায় ফেলেন তাইজুল। ১৩১ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পরও যে জিম্বাবুয়ে পুরো দিন লড়ে গেছে তার কৃতিত্ব ব্রেন্ডন টেলরের। পিটার মুরের সাথে তার ১৩৯ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখে সফরকারীরা।

৮০ রান করা পিটার মুরকে ফিরিয়েছেন পার্টটাইম বোলার আরিফুল হক। ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের একমাত্র সাফল্য এটি। বাকি আটটি উইকেট ভাগাভাগি করেছেন তাইজুল আর মিরাজ।

এরপর গলার কাঁটা হয়ে থাকা টেলরকে অবিশ্বাস্য ক্যাচে ফিরিয়েছেন তাইজুল। তাতে আবারো ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। টেন্ডাই চাতারা ইনজুরির কারণে ব্যাট করতে নামতে পারবেন না বলে তাইজুল জিম্বাবুয়ের নবম উইকেট তুলে নেয়ার সাথে সাথেই তাদের গুটিয়ে দেয়ার উল্লাসে মাতে মাহমুদুল্লাহর দল। সাকিব আল হাসান আর এনামুল হক জুনিয়রের পর তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখালেন তাইজুল।

২১৮ রান পেছনে থাকায় ফলোঅনে পড়েছে সফরকারীরা। তবে তাদের ফলোঅন করানো হবে কি-না, তা চতুর্থ দিন সকালে জানাবে বাংলাদেশ টীম ম্যানেজমেন্ট।

নেপালের সঙ্গে ড্র করেছে বাংলাদেশ

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আঁখি খাতুনের গোলের হার এড়ালো বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার ইয়াংগুনের থুয়ান্না স্টেডিয়ামে মহিলা প্রি-অলিম্পিক বাছাই পর্বের ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে সাবিনা খাতুনের দল। ফলে তিন ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ এক পয়েন্ট।

মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে টানা দু’ম্যাচে হার। মিয়ানমারের কাছে ৫-০ এবং ভারতের সঙ্গে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে। কিন্তু তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে এসে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে লাল-সবুজের কিশোরীরা। অসহায় আত্মসমর্পণ করেনি। লড়াই করে নেপালের সঙ্গে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে সাবিনারা। আগের দুই ম্যাচে চোখ রাখলে শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য চরম পাওয়াই। সেই হিসেবে এবার অন্তত প্রতিরোধ গড়ে ম্যাচ ড্র করা গেছে।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় নেপাল। নিরু থাপা একক প্রচেষ্টা গোল করে এগিয়ে দেন হিমালয়কন্যাদের (১-০)। কিন্তু ম্যাচের বাকি সময়টুকু তাদের উপর আক্রমন করেই খেলে লাল-সবুজের মেয়েরা।

গোল শোধে মরিয়া সাবিনা, মৌসুমী, কৃষ্ণারা একের পর এক আক্রমণ করেও সফল হননি।। অবশেষে গোল শোধ হয় ম্যাচের অন্তিম সময়ে। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের গোলে বাংলাদেশ সমতায় ফেরে (১-১)।

আগের দু’ম্যাচে হেরে বাছাই পর্বের এই রাউন্ড থেকে আগেই ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচ সান্ত্বনার ড্র করে তিন খেলায় এক পয়েন্ট পাওয়া সাবিনারা দেশে ফিরবে আগামীকাল বুধবার। অলিম্পিকের প্রাথমিক পর্বের বাছাইয়ে চার গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা দু’রানার্সআপ খেলবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর সেখানে আগে থেকেই রয়েছে উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। তৃতীয় রাউন্ডে যাবে তিন দল। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছে পাঁচটি দল। ফাইনাল পর্ব হবে চার দল নিয়ে। শীর্ষ দুটি দল অংশ নেবে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে।

মুশফিকের বিশ্বরেকর্ড

ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস মুশফিকুরের৷ জিম্বাবেুয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে দুশো রানের ম্যারাথন ইনিংস খেললেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম৷ তাঁর অপরাজিত ২১৯ রানে (৪২১ বলে) ভর করে মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ৫২২/৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ মুশফিকুরের ইনিংস সাজানো ১৮টি চার ও একটি ছয় দিয়ে৷ জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে প্রথম উইকেট খুইয়ে ২৫ রান তুলেছে জিম্বাবেুয়ে।

এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ইনিংসে সর্বাধিক রান ছিল সাকিব আল হাসানের৷ তার ব্যাটে এসেছে ২১৭ রানের ইনিংস৷ সেই রান টপকে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বাধিক রানের মালিক হয়ে গেলেন মুশফিক।

সেই সঙ্গে এদিন আরও একটি রেকর্ডের মালিক হলেন তিনি৷ টেস্টে ক্রিকেটে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিক প্রথম কিপার যিনি ক্যারিয়ারে দুটি দ্বিশতরান হাঁকালেন৷ এর আগে শ্রীলঙ্কার গলে (২০১৩সালে) ব্যাট হাতে ২০০ রান হাঁকিয়েছিলেন তিনি।

উইকেটকিপারদের মধ্যে টেস্টে এক ইনিংস সর্বাধিক রান হাঁকানোর তালিকায় শীর্ষ রয়েছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার৷ জিম্বাবেুয়ের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন ভারতের বিরুদ্ধে নাগপুরে (২০০০সালে) ২৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন৷ ঢাকায় আজ ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা না করলে ফ্লাওয়ারকে টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল মুশফিকের। এই তালিকায় চার নম্বরে এখন তিনি।

একনজরে উইকেটকিপারদের মধ্যে টেস্টে এক ইনিংস সর্বাধিক রান হাঁকানোর তালিকা:

১) অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার- ২৩২*রান
২) কুমার সঙ্গাকারা-২৩০ রান
৩) এম এস ধোনি-২২৪ রান
৪) মুশফিকুর রহিম-২১৯* রান
৫) তাসমিল আরিফ-২১০* রান

পগবাকে ছাড়াই ফ্রান্স দল

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের পল পগবা ‌ও অ্যান্থনি মার্শালকে ছাড়াই দল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। ইনজুরির কারণে তারা জাতীয় দলের হয়ে আপাতত খেলতে পারছেননা।

তাদের পরিবর্তে দলে নেয়া হচ্ছে মুসা সিসোকো এবং আলেসান্দ্রে লাকাজাত্তিকে। উয়েফা নেশন্স কাপে পরের ম্যাচে ফ্রান্স আগামী ১৬ নভেম্বর মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডসের। এর চারদিন পর স্তেদ ডি ফ্রান্সে উরুগুয়ের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে অংম নেবে ‘লা রোজা’রা।

ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে পগবার বা পায়ের গোড়ালিতে সমস্যা আছে। আর মার্শাল পায়ের পেশি সমস্যায় ভুগছেন।

মুশফিকের রেকর্ডে রানের পাহাড়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের একমাত্র উইকেটকিপার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিতে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে ৭ উইকেটে ৫২২ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। মুশফিক বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ২১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। জবাবে, দিনশেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৫ রান। তাতে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৯৭ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা, হাতে আছে ৯ উইকেট।

টানা আটটি টেস্ট ইনিংসে যে দল দুশ’ পেরোতে পারেনি; নবম ইনিংসে সে দলের এক ব্যাটসম্যানের ব্যাটেই কিনা ডাবল সেঞ্চুরি। তা-ও বিশেষ এক বিশ্বরেকর্ডে। অবিশ্বাস্য! উইকেটকিপার হিসেবে খেলতে নেমে আর কেউ যে একের বেশিবার ছুঁতে পারেননি ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাজিক ফিগার! মুশফিকুর রহিমের হার না মানা এই ইনিংসে ভর করেই দ্বিতীয় দিন শেষে এখন স্বস্তিমাখা চেহারা স্বাগতিকদের।

৫ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে সকালটা দারুণ কেটেছে টাইগারদের। প্রথম সেশনে প্রতিপক্ষ বোলারদের কোন সুযোগই দেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিম। তবে ৭৩ রানের জুটি গড়ে লাঞ্চের পরই ছন্দপতন। জুটি ভাঙে ৩৬ রান করা অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর বিদায়ে। দলীয় ৩৭৮ রানে আরিফুল হককে আউট করে ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেন কাইল জার্ভিস। সারাদিনে জিম্বাবুয়ের সাফল্য বলতে ওটুকুই।

ঝকঝকে এক ইনিংস খেলে চা বিরতির পরপরই ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো সেঞ্চুরির ডাবলে পৌছে যান মুশফিক। সেই সাথে নিজেকে নিয়ে গেলেন অন্য এক উচ্চতায়। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার কিংবা সাঙ্গাকারাদের মত কিংবদন্তিদের টপকে উইকেটকিপার হিসেবে খেলতে নেমে একাধিকবার দ্বিশতক গড়ার মালিক কেবল বাংলাদেশের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিক। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সাকিবের সর্বোচ্চ ২১৭ রান টপকে মুশফিক ২১৯-এ পৌঁছাতেই প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন মাহমুদুল্লাহ। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ২৩২ রানের রেকর্ডটি আর ভাঙা হলো না মুশির।

অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা তাউজুলের ঘূর্ণিবলে দলের ২০ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলে‌ও, দিনের বাকী সময়ে কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেননি জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটসম্যান ব্রায়ান চারি ‌ও টিরিপানো।

মেসির ফেরার ম্যাচে বার্সার হার

প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনাকে দ্বিতীয়ার্ধে পথ দেখিয়েছিলেন সুস্থ হয়ে ফেরা লিওনেল মেসি। কিন্তু উদ্দীপ্ত রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে পেরে উঠে নি কাতালানরা। ঘরের মাঠে ৪-৩ গোলে হারল বার্সেলোনা। চলতি লিগে এটি তাদের দ্বিতীয় হার।

ন্যু ক্যাম্পে, ২০ মিনিটে দর্শক-সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় অতিথিরা। গোলটি করেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জুনিয়র ফিরপো।

বেতিসের একের পর এক আক্রমণ রুখতে ব্যতিব্যস্ত বার্সেলোনা ৩৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে। তেইয়োর পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে অরক্ষিত অবস্থায় পেয়ে প্লেসিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্পেনের হোয়াকিন।

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া বার্সেলোনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বারবার আক্রমণ করতে থাকে। ৬৮ মিনিটে মেসি স্পট কিকে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা জর্ডি আলবা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সা।

তবে ৭১ মিনিটে লো সেলসোর জোরালো শট সোজা তার কাছে এলেও বল হাতে লেগে জালে জড়ায়।

দুই বদলি খেলায়াড় মুনির এল হাদ্দাদি ও আর্তুরো ভিদালের নৈপুণ্যে ৭৯ মিনিটে আবারও ব্যবধান কমায় বার্সেলোনা। গোলটির উৎস মেসির দারুণ রক্ষণচেরা পাস।

খানিক বাদে লো সেলসোকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার ইভান রাকিতিচ।
প্রতিপক্ষে এক জন কম থাকার সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় বেতিস। ৮৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ফিরপোর কাছ থেকে বল পেয়ে ব্যবধান বাড়ান বদলি খেলোয়াড় কানালেস।

শেষের নাটকীয়তা তখনও ছিল কিছু বাকি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ভিদালের পাস গোলমুখে পেয়ে জালে পাঠান মেসি। তাতে ব্যবধান কমলেও হার এড়াতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই পরাজয়েও ১২ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।

শেষ বলে জয় ভারতের

চেন্নাইয়ে তৃতীয় তথা সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একেবারে শেষ বলে ৬ উইকেটে নাটকীয় এক জয় পেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে দীর্ঘদিন পর শিখর ধাওয়ানের (৬২ বলে ৯২) ও ঋষভ পান্টের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে (৩৮ বলে ৫৮) রানটা সহজেই তোলার পথে ছিল ভারত। কিন্তু ১১ বলে ৭ রান তুলতে শেষ বল পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরায় ক্যারিবিয়রা। তাতে শেষ বলে হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৮২ রানের টার্গেটে নেমে প্রথম পাওয়ার প্লে-এর মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন রোহিত শর্মা (৬ বলে ৪) ও রাহুল (১০ বলে ১৭)। কিমো পলের একটি স্লোয়ার না বুঝতে পেরে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ভারত অধিনায়ক। আর থমাসের বল রাহুলের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা হয় উইকেটরক্ষকের হাতে।

স্কোরকার্ডে বড় রান তোলার পর শুরুতেই এই সাফল্যে দারুণ উৎসাহ পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। কিন্তু সিরিজের একেবারে শেষ ম্যাচে এসে রানে ফিরলেন শিখর ধাওয়ান। ৮ ইনিংস পর পেলেন ফিফটি। তারপরই তাঁকে সঙ্গ দেন ঋষভ। জুটিতে ১৩০ রান যোগ করে ভারতকে ১৮.১ ওভারে ১৭৫/২ তে নিয়ে যান। সেখান থেকে আর বাকি ১০ বলে ভারতের জেতার জন্য ৭ রান প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু এরপর প্রথমে ১৯ তম ওভারে কিমো পলের বলে পান্ট আউট হন। ক্রিজে এসেছিলেন মনীশ পাণ্ডে। শেষ ওভারে বাকি ছিল ৫ রান। বল করতে আসেন ফাবিয়ান অ্যালেন। শেষ ২ বলে ১ রান দরকার এই অবস্থায় অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বলে ছয় মারতে গিয়ে লঙ অনে পোলার্ডের হাতে ধরা পড়েন ধাওয়ান। তবে মনীশ পাণ্ডে শেষ বল মিড অনে ঠেলে দিয়ে ভারতকে জেতান।

এর আগে, শুরুর দু-এক ওভার দেখে খেলে তারপর হাত খুলতে শুরু করেছিলেন দুই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার। প্রথম পাওয়ার প্লেতে তারা বিনা উইকেটে ৫১ রান তোলেন। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতেই আঘাত হানেন চাহাল।

এদিন চাহালই ভারতের পক্ষে সেরা বোলিং করেন। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। প্রথমে শাই হোপ (২২ বলে ২৪), পরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওটার মুখে হেটমায়ার (২১ বলে ২৬)-কে ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর অভিজ্ঞ ডারেন ব্রাভো (৩৭ বলে ৪৩*) ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান। ১৫ ওভারে তারা পৌঁছেছিল ১১৭/৩-এ। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১৮১ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শীর্ষ তিনে নেই মেসি-রোনালদো

আশ্চর্যজনকভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে শীর্ষ তিনে নেই পাচবারের বর্ষসেরা খেলোয়াড় লি‌ওনেল মেসি ‌ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম। অথচ বিশ্ব সেরা খেলোয়াড় নির্ধারণে ভোট গ্রহণের প্রায় অর্ধেকটা সময় চলে গেছে। তাদের জায়গায় চলতি বছর ব্যালন ডি’অর জয়ে উঠে এসেছে অন্য তিন ফুটবলারের নাম।

গত দশ বছর ধরে ব্যালন ডি’অর জয়ে মেসি-রোনালদোই ফিলেন ফেভারিট। তারা পাচবার করে জিতেছেন এই পুরষ্কার। কিন্তু এই বছর পাল্টে গেছে সবকিছু। আর্জেন্টিনার লি‌ওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হারাতে বসেছেন তাদের এতোদিনের সাম্রাজ্য।

ফক্স স্পোর্টসের রিপোর্টার এরিক মামরথের দাবী অনুযায়ী, বিশ্ব সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলে‌ও মেসি কিংবা রোনালদো সেরা তিন’এর কাতারে আর নেই। পিছিয়ে পড়েছেন তারা। তার মতে, শীর্ষ তিনের শুরুতে আছেন ক্রোয়েশিয়া ‌ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা লুকা মডিরচ, তার পর রিয়ালের আরেক তারকা রাফায়েল ভারানে। এবং তৃতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্স ‌ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের কিলিয়েন এমবাপে।

মডরিচ ইতোমধ্যেই ফিফার বর্ষসেরা দ্য বেস্ট পুরষ্কার জিতেছেন। আর ফ্রান্সের অন্য দুই তারকা রাফায়েল ভারানে এবং কিলিয়েন এমবাপে দারুণ এক মৌসুম কাটিয়েছেন এবং এখন‌ও অব্যাহত রেখেছেন। তবে কি এবার নতুন কেউ ব্যালন ডি’অর জিতবেন, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কারণ সেইদিনই যে ঘোষণা করা হবে বিশ্ব সেরা ফুটবলারের নাম।

মুমিনুল-মুশফিকে স্বস্তিতে বাংলাদেশ

মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে, মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ৫ উইকেটে ৩০৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তাতে অনেকদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে একটা ভালো দিন কাটলো টাইগারদের। ১৬১ রান করে মুমিনুল আউট হলেও, ১১১ রানে উইকেটে আছেন মুশফিকুর। কাইল জার্ভিস নেন তিন উইকেট।

‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে’। সকাল দেখেই নাকি দিনের চিত্র বোঝা যায়। কখনও কখনও এই প্রবাদও যে ভুল হতে পারে মিরপুর টেস্টে তা প্রমান হলো।

আর সেটা প্রমান করলেন ‘কক্সবাজারের রাজপুত্র’। আট ইনিংস পর হাফসেঞ্চুরিকে তিনি রূপ দিলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় আর সব মিলিয়ে মমিনুল পেলেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি।

আরেক প্রান্তে, নয় ইনিংস পর অর্ধশতকের স্বাদ নিলেন মুশফিকুর রহিম। তার উদযাপনটা আরো পুর্ণতা পেলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম, আর সব মিলিয়ে ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে। এ দুজনের জুটিতেই মিরপুর টেস্টে শক্ত অবস্থানে স্বাগতিকরা।

দিনের শেষটা দেখে বোঝার উপায় নেই শুরুতে কি ঝড় বয়ে গেছে। দুই ওপেনার লিটন দাস আর ইমরুল কায়েস প্যাভিলিয়নে ৯ ওভারের মধ্যেই। একজন শুন্য আরেকজনের রান মাত্র ৯। শিকারী কাইল জার্ভিস।

অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও। দলের ২৬ রানে ত্রিপানোকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আরেকবার সিলেট টেস্টের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন তিনি।

তবে দ্বিতীয় আর তৃতীয় সেশনে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন মুমিনুল আর মুশফিক। দুজনের জুটিতে যোগ হয় ২৬৬ রান। যে কোন উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে এটি চতুর্থ সেরা।

এ দুজনের ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে আট ইনিংস পর ২০০ রানের দেখা পেয়েছে টাইগাররা। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো দেড়শো পার হওয়া ইনিংস মুমিনুলের। তার ১৬১ রান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস।

আগামীকাল অধিনায়ক রিয়াদকে নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন মুশফিকুর রহিম।

ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

অলিম্পিক নারী ফুটবলের বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আজ রোববার মিয়ানমারে থুউন্না স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে ৭-১ গোলে হেরেছে সাবিনা খাতুনের দল। নারী ফুটবলে এটি ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের।

গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মিয়ানমারের কাছে ৫-০ গোলে হারের পর ভারতের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ ও অধিনায়ক। তাদের ব্যাখ্যা ছিল ভারতের কাছে আগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে; কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে শোচনীয়ভাবেই পরাজিত হতে হলো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে।

খেলার প্রথমার্ধেই ভারতের কাছে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পড়ে আর পেরে ‌ওঠেনি নারীরা। ভারতের পক্ষে বালা দেবী।হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেন। কমলা দেবী দুটি আর একটি গোল করেছেন সানজু যাদব। বাংলাদেশের কৃষ্ণা রানী সরকার ৮১ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন।

দুই ম্যাচে ১২ গোল খাওয়া বাংলাদেশ আগামী মঙ্গলবার শেষ ম্যাচ খেলবে নেপালের বিরুদ্ধে।

ভারতের সামনে এবার বাংলাদেশ

মিয়ানমারের কাছে ৫-০ গোলের বড় পরাজয়ের পর বাংলাদেশের এবার ভারত পরীক্ষা। অলিম্পিক বাছাই ফুটবলে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে আগামীকাল রোববার ভারতের মুখোমুখি হবে সাবিনা খাতুনের দল। মিয়ানমারের ইয়াংগুনের থুয়ান্না স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বাছাই পর্বের প্রথম পর্বের হার্ডল টপকাতে বাংলাদেশকে অন্তত রানার্সআপ হতে হবে। তৃতীয় হলে সম্ভাবনা থাকবে খুবই ক্ষীন। কারণ, চার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপদের সঙ্গে দুটি সেরা তৃতীয় দল উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। রানার্সআপ হতে হলে বাংলাদেশকে ভারত ও নেপালের বিরুদ্ধে জিততে হবে- আপাতত সমীকরণটা এমনই। দক্ষিণ এশিয়ার এ দুই দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের।

তাছাড়া ভারত ও নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলই আভাস দেবে দক্ষিণ এশিয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতুটুকু। এ ম্যাচটিই হবে সাবিনাদের আসল পরীক্ষা। এরআগে, ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক বাছাইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে খেলেছিল বাংলাদেশ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সে ম্যাচে ভারতের মেয়েদের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল স্বাগতিকরা। দুই দেশের জাতীয় দলের সবশেষ দেখা হয়েছিল গত বছর ৪ জানুয়ারি শিলিগুড়িতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ভারত।

দেয়ােল পিঠ ঠেকা বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা ভারতের বিপক্ষে এবার জয় ছাড়া অন্যকিছু ভাবছেননা। তাই কঠিণ অনুশীলনে ব্যস্ত রেখেছেন তারা নিজেদেরকে। ভারতকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে ‌ওঠার আশা ধরে রাখতে চাইছে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।

পরাজয় দিয়েই শুরু বাংলাদেশের

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৬০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের ১০৬ রানে আটকে দিয়েও মাত্র ৪৬ রানে গুটিয়ে যায় সালমারা। এরচেয়ে বাজে শুরু আর কি হতে পারে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হয়ে লজ্জার রেকর্ড এখন বাংলাদেশের দখলে।

একের পর এক নির্বিষ বোলিংয়ের সামনেও ব্যাটসম্যানরা যখন আউট হচ্ছিলেন, ধারাভাষ্যকাররা সমালোচনায় বিদ্ধ করছিলেন শামীমা-আয়েশাদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের আউটগুলো ছিলো শিক্ষানবীশদের মতো।

২৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সালমার দল ম্যাচ হেরে বসে মুলত নবম ওভারেই। শেষ পর্যন্ত ১৪ দশমিক চার বলে মাত্র ৪৬ রানে অলআউট। দেন্দ্রা দত্তিনের স্টাম্প টু স্টাম্প বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তাতে ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং ফিগার গড়লেন ক্যারিবীয় এই বোলার।

অথচ টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বোলাররা রীতিমতো নাভি:শ্বাস তুলে ফেলেছিলেন ক্যারিবীয়দের। জাহানারা আর রুমানাদের বোলিং তোপে ৫০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১০৬ রানে থামে টেইলরদের ইনিংস। জাহানারা তিনটি আর রুমানা নেন ২ উইকেট।

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় ঢাকার

আমন্ত্রনমূলক প্রীতি হকির দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে ঢাকা মহিলা একাদশ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে আজ তারা ৩-০ গোলে পরাজিত করে কোলকাতা ওয়ারিয়র্সকে।

খেলার শুরুতেই ঢাকা একাদশ দারুণ আক্রমণ করে খেলতে থাকে। তেমনি এক আক্রমনে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় স্বাগতিক দলের মেয়েরা। তাতে ৬ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে এগিয়ে দেন জোয়ারিয়া ফেরদৌস জয়িতা। খেলায় পিছিয়ে থেকে কিছুটা আক্রমণ করে খেলতে থাকে কোলকাতার মেয়েরা। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। উল্টো খেলার ৪৪ মিনিটে নাদিরা গোল করে ঢাকার মেয়েদের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। খেলা শেষের তিন মিনিট আগে, নমিতা কর্মকার যে গোলটি করেন তাতেই ঢাকা একাদশের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। সেই সঙ্গে এক ম্যাচ বাকী থাকতেই তি ম্যাচের সিরিজ ২-০-তে জিতে নেয় ঢাকা একাদশ।

দুই দলের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছিলো ঢাকা একাদশ। শনিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ হবে ফ্লাড লাইটের আলোয় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ‌ও.ইন্ডিজ

আগামীকাল শুক্রবার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। এবারের প্রতিযোগিতাটি বেশকিছু নতুনত্বের দাবীদার। কারণ এবারই প্রথম পুরুষদের বিশ্বকাপের বাইরে গিয়ে আলাদাভাবে আয়োজিত হচ্ছে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাছাড়া এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যবহৃত হবে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম-ডিআরএস। এরআগে, পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ডিআরএস ব্যবহার হয়নি।

এবার সব ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিশ্বের ২০০টি দেশ টিভি পর্দায় সরাসরি এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাবে। আইসিসি তাদের গ্লোবাল ব্রডকাস্টার স্টার স্পোর্টসের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি ক্রিকেটভক্তদের এই টুর্নামেন্টের খেলার দেখার সুযোগ করে দেবে।

খেলাগুলো দেখা যাবে- স্টার স্পোর্টস (ভারত ও ভারতীয় উপমহাদেশ), স্টার স্পোর্টস (যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড), সুপার স্পোর্ট (দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল), ওএসএস (মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা), ফক্স স্পোর্টস (অস্ট্রেলিয়া), উইলো টিভি (যুক্তরাষ্ট্র), স্কাই টিভি (নিউজিল্যান্ড), টেন স্পোর্টস (পাকিস্তান), ইএসপিএন (ক্যারিবিয়ান অঞ্চল), গাজী টিভি (বাংলাদেশ), এসএলআরসি (শ্রীলঙ্কা), ফক্স নেটওয়ার্ক গ্রুপ (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) এবং ডিজিসেল (প্যাসিফিক আইল্যান্ড অঞ্চল)।

ইারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ধারাভাষ্যে থাকবেন- ভারতের সাবেক অধিনায়ক আঞ্জুম চোপড়া, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় লিসা স্থেলেকার, ক্রিকেট ব্রডকাস্টার মেলানি জোন্স, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেন, ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান সঞ্জয় মাঞ্জেরকার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ইয়ান বিশপ।

আগামীকাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। আগামীকাল রাতে গায়ানায়, নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বোল্টের হ্যাটট্রিকে পাকিস্তানকে হারালো নিউজিল্যান্ড

পেসার ট্রেন্ট বোল্টের হ্যাটট্রিকে পাকিস্তানকে ৪৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ‌ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি সিরিজে একতরফা আত্মসমর্পণ করলেও ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল কিউইরা।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে শুরুতেই হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পরে রস টেলর ও টম ল্যাদামের পার্টনারশিপে ভর করে ম্যাচে ফেরে তারা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৬ রান তোলে কিউইরা।

জিতলে‌ও আবুধাবিতে কিউইদের ইনিংসের শুরুটা মোটেও মনে রাখার মতো হয়নি। দলের মাত্র ৭৮ রানে সাজঘরে ফেরেন ওয়ার্কার (১), মুনরো (২৯) ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (২৭)। সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরেন টেলর-ল্যাদাম জুটি। চতুর্থ উইকেটে তারা দলের স্কোরে যোগ করেন ১৩০ রান। দলের ২০৮ রানে শাদব খানের একই ওভারে আউট হন ল্যাদাম (৬৯), নিকোলস (০) ও গ্র্যান্ডহোম (০)। পরের ওভারে ক্রিজ ছাড়েন টেলর (৮০)।

শেষ দিকে টিম সাউদি ২০ ও ইস সোধি ২৪ রান করে শাহীন শাহ আফ্রিদির শিকার হন। ফার্গুসন ৩ ও বোল্ট ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের হয়ে আফ্রিদি ও শাদব ৪টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই আত্মসমর্পণ করে বসে বোল্টের গতি ও নিয়ন্ত্রিত স্যুইংয়ের কাছে। প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে সরফরাজ আহমেদ ও ইমাদ ওয়াসিমের জুটি পাকিস্তানকে দু’শোর গন্ডি পার করান। তবে বাকিরা ব্যর্থ হলে ৪৭.২ ওভারে ২১৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের ইনিংসে মাত্র ৮ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। বোল্ট নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ফখর জামান (১), বাবর (০) ও হাফিজকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিক করেন। তাতেই ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। ইমাম উল হক (৩৪), শোয়েবরা (৩০) পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ। সরফরাজ-ইমাদ জুটি ১০৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েও পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেননি। ইমাদ ৫০ ও সরফরাজ ৬৪ রান করে আউট হন।

ফার্গুসন ও বোল্ট উভয়েই তিনটি করে উইকেট নিলেও পাকিস্তানের মাথা ছেঁটে ফেলার সুবাদে ম্যাচের সেরার পুরস্কার জেতেন বোল্ট। শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ‌ওয়ানডে‌ও হবে আবুধাবিতে।

জুভেন্টাসের হারের দিনে রিয়ালের বড় জয়

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দুর্দান্ত গোলে পিছিয়ে পড়েও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে শেষ সময়ের নাটকে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তাতে এই গ্রুপ থেকে সেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেলো ইতালিয়ান ক্লাবটির। অন্য ম্যাচে করিম বেনজেমার জোড়া গোলে, ভিক্টোরিয়া প্লাজেনকে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে নকআউট পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেলো রিয়াল মাদ্রিদ।

ঘরের মাঠ তুরিনোতে, এ ম্যাচের আগে বরং একটু সুবিধাজজনক অবস্থায় ছিলো জুভেন্টাসই। জিতলে নকআউট পর্ব নিশ্চিত। কিন্তু মাঠের খেলায় তেমন দাপট দেখাতে পারেনি ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। যদিও একের পর এক আক্রমণ করে গেছে তারা।

প্রথমার্ধে কোনো দলই সফল না হওয়ার পর একটি গোলই যখন ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে মনে হচ্ছিলো, তখনই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দুর্দান্ত গোল। ৫০ গজ দূর থেকে পাওয়া বলটি প্রথম প্রচেষ্টায় যেভাবে জালে পাঠিয়েছেন, তাতে এটি আসরে সেরা পাঁচ গোলের তালিকায় জায়গা পেতেই পারে। সেই সাথে জুভেন্টাসের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের খাতাও খুললেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফরোয়ার্ড রোনালদো।

কিন্তু ম্যাচে তখনও অনেক নাটক বাকি। ৮৬ মিনিটে হুয়ান মাতার ফ্রি কিকে ম্যাচে সমতা ফেরায় রেড ডেভিলরা।

ম্যাচে ফিরে যেনো আরো মরিয়া হোসে মরিনহোর দল। শেষ মিনিটে জুভেন্টাসের রক্ষণের ভুল বোঝাবুঝিতে অ্যালেক্স স্যান্দ্রোর ওউন গোলে জয় পেয়ে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চার ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে থাকলেও ম্যান ইউর সামনে গ্রুপের অন্য দু’দল ভ্যালেন্সিয়া আর ইয়ং বয়েজের বিপক্ষে ম্যাচ দুটির পর সেরা হওয়া যেনো সময়ের ব্যাপার।

এদিকে, জি গ্রুপে ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের মাঠে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। কুড়ি মিনিটেই করিম বেনজেমার গোলে এগিয়েও যায় তারা। এই ফরাসির জোড়া গোলের সাথে ক্যাসিমেরো আর গ্যারেথ বেলের কল্যাণে প্রথমার্ধেই বড় জয় নিশ্চিত করে লা ব্লাঙ্কোরা। ৬৬৭ মিনিটে টনি ক্রুসের গোলে বিশাল জয়ে নকআউট পর্বের খুব কাছে পৌঁছে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

দিনের অন্য ম্যাচে, গ্যাব্রিয়েল জেসুসের জোড়া পেনাল্টিতে শাখতার দোনেস্ককে ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যান সিটি।

জয়ে শুরু নারী হকি দলের

আমন্ত্রণমূলক প্রীতি হকির প্রথম ম্যাচেই ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ তথা ঢাকা একাদশের মেয়েরা। মওলান ভাসানী হকি ষ্টেডিয়ামে আজ বুধবার ঢাকা একাদশ ২-০ গোলে পরাজিত করেছে কোলকাতা ওয়ারিয়র্সকে। নারী হকির প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি জয় দিয়েই শুরু করলো বাংলাদেশের দলটি।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কোলকাতা ওয়ারিয়র্স মহিলা হকি দল ‌ও ঢাকা একাদশ মহিলা হকি দল আমন্ত্রণমুলক প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেয়। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম খেলার ৯ মিনিটে সিমু আক্তার সিমার গোলে এগিয়ে যায় ঢাকার দলটি।

খেলার ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নমিতা কর্মকার। বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল গঠণের উদ্দেশ্যে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় এবং ১০ নভেম্বর সিরিজের তৃতীয় ‌ও শেষ ম্যাচটি হবে।

খেলা শুরুর আগে, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আবু ছালেহ মো: ফেরদৌস খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হকি ফেডারেশনের সহসভাপতি সাজেদ এ এ আদেল, প্রতাপ শংকর হাজরা ‌ও ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অবশেষে স্পন্সর পেলেন এলিনা-শাপলা

স্পোর্টস রিপোর্টার

অবশেষে নেপালে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহনের জন্য স্পন্সর পেলেন দেশ সেরা দুই মহিলা শাটলার এলিনা সুলাতানা ও শাপলা আক্তার। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেডারেশনের এক জরুরী সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই দুই শাটলারকে স্পন্সর করছেন অপর এক শাটলারের মা। যিনি আসন্ন এ আসরে দলের ম্যানেজার হিসেবে নেপালে যাচ্ছেন।

আগামী মাসের প্রথম সঙ্গাহে নেপালে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। সেখানে জুনিয়র ও সিনিয়র বিভাগে দল পাঠাবে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতা জাতীয় শাটলারদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল ফেডারেশন। যারা খেলতে ইচ্ছুক, নিজ খরচে যেতে হবে। ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শাটলাররা। এটিই একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যেখানে নিয়মিত দল পাঠাত বাংলাদেশ। এবং এ আসর থেকে মহিলা একক ও মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে পদক পায় লাল-সবুজরা। গত আসরেও নেপাল থেকে মহিলা একক ইভেন্ট থেকে ব্রোঞ্চপদক নিয়ে দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশের শাটলাররা। তার আগের বছর নারী একক ও মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে ব্রোঞ্চ ছিল। এমন সম্ভাবনার একটি আসরে এবার দল পাঠানো নিয়ে ফেডারেশন গড়িমশি শুরু করে। জাতীয় দলের শাটলারদের জন্য আসরটি উন্মুক্ত করে দিয়ে খরচের ভার তুলে দেয়া হয় তাদের কাঁধে।

ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সিনিয়র শাটলাররা। বিশেষ করে দুই শাটলার এলিনা ও শাপলা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেডারেশনের সভাপতি বরাবর একটি চিঠিও প্রেরণ করেন। সেখানে তারা স্পন্সর নিজেরা জোগাড় করে নেপালে খেলতে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এ বিষয়ে র‌্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে থাকা শাটলার শাপলা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিজেরা বছর ব্যাপী ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নিজেদের খরচেই খেলে থাকি। এক একটি টুর্নামেন্টে আমাদের প্রায় সত্তুর থেকে আশি হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। মনের টানেই ব্যাডমিন্টন খেলছি। এখানে প্রাপ্তি বলতে সম্মান। দেশের বাইরের এই একটি টুর্নামেন্টেই আমরা ভালো করে থাকি। অথচ এখানে নাকি আমাদের নিজ খরচে খেলতে যেতে হবে। ফেডারেশন আমাদের কতোটা অসম্মান করলে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারে! তাই আমি ও এলিনা বাধ্য হয়েই ফেডারেশনের সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়েছি।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারনেই এবার ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্পন্সর করা যাচ্ছে না। তাই আমরা শাটলারদের বলেছিলাম নিজ উদ্যেগেই স্পন্সর যোগাড় করতে। তবে শেষ মুহুর্তে এসে আমরা সিনিয়র দুই শাটলারেরও স্পন্সর পেয়েছি।’

মেসি না থাকলেই যাদের লাভ

অনেক মাস পর আবার‌ও বড় ইনজুরিতে পড়েছেন বার্সেলানার আর্জেন্টাইন তালিসমান লি‌ওনেল মেসি। গত ২১ অক্টোবর নিজেদের মাঠে লা লিগার ম্যাচ চলাকালে খেলার ১২ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়েছিল বার্সেলোনা। ২৫ মিনিটে ডানহাতে ব্যথা পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান মহাতারকা মেসি। বদলি হিসেবে নামেন উসমান দেম্বেলে। ডানহাতের ইনজুরি সেরে উঠতে তার তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন, ডাক্তাররা। মেসি অসুস্থ হলে লাভ কার- এমন প্রশ্ন উঠেছে ইতোমধ্যেই।

সের্জি রবের্তো

লি‌ওনেল মেসি খেলতে না পারলে দলের অনেকেরই ভাগ্য খুলে যায়। তাদের অন্যতম হলেন, ‘লা মেসিয়’র প্রডাক্ট সের্জি রবের্তো। এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডর-ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার-ফরোয়ার্ড সবচেয়ে বেশি সুযোগ পান। মেসির অবর্তমানে তাকে কোচ কখনো কখনো ফরোয়াডর্ হিসেবে কাজে লাগান। রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে এসে তিনি মিডফিল্ডার এবং ফরোয়ার্ডদের দিতে পারেন। কখনো আবার নিজেই দলের অফেন্সিভ ভূমিকায় থাকেন। তবে রবের্তো বেশিরভাগ সময় রাইট উইঙ্গার হিসেবেই খেলে থাকেন। এবারের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে দুটি গোলের পেছনে তার অবদান ভোলার নয়।

ইভান রাকিটিচ

পুরো মাঠে পরিশ্রম করে খেলার জুড়ি নেই বার্সার ক্রোয়েশিয়ান তারকা ইভান রাকিটিচের। গত কয়েক বছরে বার্সেলোনায় নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছেন এই মিডফিল্ডার। মেসি না থাকাতে দলের মাঝমাঠের নিপুণ কারিগর হয়ে ‌ওঠেন তিনিই। এই ক্ষমতাকে দারুণভাবে উপভোগ‌ও করেন রাকিটিচ। মেসির অবর্তমানে তাই কাতালানদের কোচ ভালভার্দে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আক্রমণ গড়তে ইভান রাকিটিচের উপর ভরসা রাখছেন।

মেসি খেলতে না পারলে কপাল খুলে যায় রাফিনহা এবং লুইস সুয়ারেজের‌ও। বরাবরই তো তারা চাপা পড়ে থাকেন লি‌ওনেল মেসির আলোক প্রভায়।

সবচেয়ে দামী কিলিয়েন এমবাপে

লিওনেল মেসি ও নেইমারকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলারের তালিকার শীর্ষে উঠে এলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের তরুণ তারকা ফুটবলার কিলিয়েন এমবাপে। সেরা ফরোয়ার্ডদের এই তালিকায় মিশর ও লিভারপুলের তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহর নাম থাকলেও শীর্ষ দশে নেই পর্তুগাল ও জুভেন্টাস তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্পোর্টস স্টাডিজ-সিআইইএস নামের সুইজারল্যান্ডের একটি পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট প্রতি মাসে ইউরোপের বিভিন্ন লিগের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ করে থাকে।

মিশর ও লিভারপুলের তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহ

তালিকার শীর্ষ দশের শুরুতেই আছেন ফ্রান্স ও পিএসজি তারকা কিলিয়েন এমবাপে। তার মূল্য ধরা হয়েছে ২১৬.৫ মিলিয়ন ইউরো। রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও টটেনহ্যাম হর্টসপার তারকা হ্যারি কেন আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার মূল্য ১৯৭.৩ মিলিয়ন ইউরো। পিএসজির ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার ১৯৭ মিলিয়ন উইরো মূল্যে আছেন তালিকার তৃতীয় স্থানে।

আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার মহাতারকা লিওনেল মেসি

আর আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ষষ্ঠ স্থানে ঠেলে দিয়ে, মিশর ও লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ উঠে এসেছেন চতুর্থ স্থানে। তার মূল্য ১৭৩ মিলিয়ন ইউরো। আর পাঁচবারের বিশ্ব সেরা তারকা মেসির দাম ১৭০.৬ মিলিয়ন। পঞ্চমে আছেন মেসির বার্সা-সতীর্থ ব্রাজিলের ফিলিপ্পে কুতিনহো। তার দাম ১৭১.৩ মিলিয়ন ইউরো। তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্য ফুটবলাররা হলেন – ম্যানচেস্টার সিটির রাহিম স্টার্লিং (১৬৪.৬), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রোমেলু লুকাকু (১৬৪.৩), অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের অ্যান্টোনিও গ্রিজম্যান (১৫৭.৭) এবং জুভেন্টাসের পাওলো দিবালা (১৫৫.৬)।

এই তালিকায় বেশকিছু অনাকাঙ্খিত নাম রয়েছে। তবে ফুটবলারদের পারফরমেন্সের ওপর এই তালিকার স্থান পরিবর্তন হতে পারে। আগামী মাসে কেউ ভালো পারফরমেন্স করলে শীর্ষ দলে উঠে আসতে পারেন। আবার খারাপ করলে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বার্সার ড্র লিভারপুলের পরাজয়

রেডস্টার বেলগ্রেডের কাছে ২-০ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে লিভারপুল। তবে ইন্টার মিলানের সাথে ড্র করেও নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। অন্য ম্যাচে নাপোলির সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে নেইমারের পিএসজি।

ইয়র্গেন ক্লপ

কখনও কখনও কোন প্রশ্নের উত্তর খুজে পাওয়া যায়না। যেমন লিভারপুল কোচ ইয়র্গেন ক্লপ বুঝতে পারছেননা অ্যানফিল্ডের বাইরে গেলেই তার খেলোয়াড়দের কোন রোগে পেয়ে বসে। তা না হলে, রেডস্টারের কাছেও কেনো অপ্রত্যাশিতভাবে হারতে হবে অলরেডদের।

সার্বিয়ান ক্লাবটির মাঠে ম্যাচের ২২ থেকে ২৯ মিনিটের মধ্যে দু গোল হজম করে প্রথমার্ধেই ব্যাকফুটে চলে যায় দ্য রেডসরা। তবে মোহাম্মদ সালাহরা পরের ৬০ মিনিটেও সে গোল শোধ করতে পারবেনা তা হয়তো ভাবতে পারেনি লিভারপুল সমর্থকরা। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে অ্যাওয়ে খেলায় হারলো তারা।

তবু ভাগ্য ভালো গ্র“পের অন্য দু দল পিএসজি আর রোমার ম্যাচটি ড্র হওয়ায়, টেবিলে এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে লিভারপুল। তবে বাকী দু ম্যাচে পা হড়কালেই বিদায়ঘন্টা বেজে যাবে।

লিভারপুলের হতাশার দিনে সানসিরোতে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানও রুখে দিয়েছে বার্সেলোনাকে। প্রতিপক্ষের পোষ্টে ২৬ শট নিয়েও মাত্র একটি গোল পেয়েছে কাতালানরা। তাও বার্সার জার্সীতে এ ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক হওয়া ম্যালকমের সৌজন্যে।

৮৩ মিনিটে সে উৎসবের স্থায়ীত্ব ছিলো মাত্র ৪ মিনিট। আর্জেন্টাইন তারকা মাওরো ইকার্দির গোলে ঘরের দর্শকরা খুশী মনেই বাড়ী ফেরার উপলক্ষ্য পেয়ে যায়। এই ড্রতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে বার্সেলোনার। ইন্টারমিলান ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে।

গ্রুপ এর ম্যাচে, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ২-০ গোলে হারিয়েছে বুরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে। নিজেদের মাঠে সওল আর গ্রিজম্যানের গোলে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বর স্থান ধরে রেখেছে সিমিওনের দল।

সোয়াইনস্টেইগারের পারিবারিক উৎসব

ধুমধামের সঙ্গে স্ত্রীর জন্মদিনের উৎসব পালন করলেন বাস্টিয়ান সোয়াইনস্টেইগার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই খেলোয়াড় বিয়ে করেছেন বিশ্ব টেনিসের সাবেক এক নম্বর তারকা আনা ইভানোভিচকে। তিনি আজ ৩১ বছরে পা দিলেন। স্ত্রীর জন্মদিনে বেশ হাসিখুশিতেই দেখা যায় সোয়াইনস্টেইগারকে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল দল শিকাগো’র ৩১ নম্বর জার্সি পড়ে স্বামী-স্ত্রী দুজন ছবির জন্য পোজ দেন। আর এই ছবিটিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন জার্মান ফুটবল লিজেন্ড সোয়াইনস্টেইগার। আর ছবির নিচে তিনি লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন প্রিয়তমা। তুমি দারুণ একজন স্ত্রী এবং মা।’

বর্তমানে মেজর লিগ সকারে শিকাগো ফায়ারে খেলেন বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক তারকা বাস্টিয়ান সোয়াইনস্টেইগার। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর শিকাগো ফায়ারের হয়ে ৫৫ ম্যাচে সাতটি গোল করেছেন সোয়াইনস্টেইগার।

১৭ বছর পর জিম্বাবুয়ের টেস্ট জয়

২০০১ সালের নভেম্বরে শেষবার বিদেশে টেস্ট জিতেছিল জিম্বাবায়ে য়ে। ১৭ বছর পর আবার তা এলে বাংলাদেশে। সিলেটে আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৫১ রানে জিম্বাবুয়ে হারায় বাংলাদেশকে।

৩ নভেম্বর টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জিম্বাবায়ের য়ে অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসাকাদজা। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবায়ে য়ে করে ২৮২ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৪৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবায়ে য়ে তোলে ১৮১ রান। চতুর্থ ইনিংসে জেতার জন্য বাংলাদেশকে করতে হতো ৩২১ রান।

এদিন বিনা উইকেটে ২৬ নিয়ে সকালে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম উইকেটে ওঠে ৫৬ রান। তারপর নিয়মিত পড়তে থাকে উইকেট। মাহমুদুল্লাহর দলের ইনিংসে দাঁড়ি পড়ে ১৬৯ রানে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ঘাতক হয়ে ওঠেন লেগস্পিনার ব্র্যান্ডন মাভুতা। তিনি ২১ রানে নেন চার উইকেট। সিকান্দার রাজা ৪১ রানে নেন তিন উইকেট।

সব মিলিয়ে এটা জিম্বাবায়ে য়ের অ্যাওয়ে টেস্টে তৃতীয় জয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেষবার জিম্বাবায়ে য়ে টেস্ট জিতেছিল। মানে পাঁচ বছর পর ঘরে-বাইরে মিলিয়ে কোনও টেস্ট জিতলো তারা। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ০-৩ হেরেছিল বলেই জিম্বাবোয়ের টেস্ট জয়ের তাৎপর্য আলাদা।

সিলেট জয়ের পথে জিম্বাবুয়ে

ধীরে ধীরে সিলেট টেস্ট জয়ের পথে এগিয়ে হলেছে সফরকারী দল জিম্বাবুয়ে। জয়ের বড় লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ মঙ্গলবার ম্যাচের চতুর্থ দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। নিয়মিত হারাচ্ছে উইকেট। ১১১ রানেই হারিয়েছে ৫ উইকেট। এই ধ্বংসযজ্ঞে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিকান্দার রাজা। এখন পর্যন্ত তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট।

দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সিকান্দার রাজার স্পিনে লেগ ববিফোর হন লিটন দাস (২৩)। ভাঙে ৫৬ রানের ওপেনিং জুটি। তিন নম্বরে নামা মুমিনুল হক দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ। মাত্র ৯ রান করে জার্ভিসের বলে উইকেট হারিয়ে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের এই ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’। একপ্রান্ত ভালো ভালোই আগলে রেখেছিলেন ইমরুল কায়েস। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৩ রানে তিনি সেই সিকান্দার রাজার বলে সুইপ করতে গিয়ে উইকেট হারান। ৮৩ রানে প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়তে থাকে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এই ইনিংসেও ব্যর্থ। ১৬ রান করে সিকান্দার রাজার তৃতীয় শিকার হন তিনি। সুযোগ পেয়েও কিছু করে দেখাতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত (১৩)। মাভুতার শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।

এর আগে গতকাল সোমবার বিনা উইকেটে ২৬ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তাইজুল-মিরাজ-অপুদের ঘূর্ণিতে ১৮১ রানে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের। তাতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ৩২১ রানের।

সিলেট টেস্ট জিততে হলে রেকর্ড করতে হবে বাংলাদেশকে। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকডর্ আছে। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে সেন্ট জর্জে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেয়েছিল ৪ উইকেটের জয়।

আবার‌ও ইংল্যান্ডের জার্সিতে রুনি!

আবার‌ও ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাঠে নামছেন ওয়েন রুনি। প্রায় দু’বছর জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন তিনি। কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের আমলে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে বিবেচিত হয়নি রুনির নাম। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতে নিজেকে দেখতে না পেয়ে রুনি গত বছর আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা দেন। তবে অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরছেন, এমনটা ভাবার কারণ নেই। আসলে থ্রি লায়ন্সদের সর্বোচ্চ গোল স্কোরারকে সসম্মানে বিদায় নেওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় ইংল্যান্ড ফুটবল সংস্থা।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের হয়ে শেষবার মাঠে নামতে চলেছেন রুনি। ওয়েম্বলিতে আমেরিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে রুনিকে ফেয়ারওয়েল দিতে চায় থ্রি লায়ন্সরা। ১৫ নভেম্বরের ম্যাচটি থেকে প্রাপ্ত অর্থ রুনির স্বেচ্ছ্বাসেবী সংগঠনকে দান করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পেশাদার ফুটবল চালিয়ে গেলেও প্রিমিয়র লিগের মূল স্রোত থেকে ছিটকে গেছেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা রুনি ম্যানইউ ছেড়ে পুরনো ক্লাব এভার্টনে ফেরেন। সেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্টে পাড়ি দেন।

৩৩ বছর বয়সী তারকা বর্তমানে আমেরিকার মেজর লিগ সকারে ওয়াশিংটনের ডিসি ইউনাইটেডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দু’একদিনের মধ্যেই রুনির জাতীয় দলে ফেরার খবর ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্থার তরফে ঘোষণা করার কথা।

পদত্যাগ করলেন মার্ক টেলর

চেয়ারম্যান ডেভিড পিভারের পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড অফ ডিরেক্টরস থেকে পদত্যাগ করলেন মার্ক টেলর। গভর্নিং বডির ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে টালমাটাল অবস্থা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ডেভিড পিভারের পদত্যাগের চার দিনের মধ্যে ইস্তফা দিলেন টেলর। তবে চলতি বছর মার্চে কেপটাউন টেস্টে বল-বকৃতির ঘটনার পর সমালোচনার মুখে পরতে হয়েছিল পিভারকে। সেখান থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। একই রাস্তায় হাঁটলেন টেলর। তবে ৫৪ বছরের প্রাক্তন অজি ওপেনার সবচেয়ে বেশিদিন বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের পদে আসীন ছিলেন। ১৮ মাস ধরে এই পদে ছিলেন তিনি।

এক সংবাদ সম্মেলনে টেলর বলেন, ‘গত ১৩ বছরের মধ্যে শেষ ১৮ মাস অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে আমার ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সপ্তাহ দু’য়েক ধরে আমার মনের মধ্যে ধন্ধ চলছিল। আমার এনার্জি কমে গিয়েছে। এবার সরে দাঁড়ানো উচিত। অন্য কাউকে জায়গাটা ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

পিভারের উত্তরসূরি হিসেবে টেলরকে ভাবা হলেও স্থানীয় টেলিভিশন ব্রডকাস্টারের সঙ্গে চুক্তি থাকায় সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। তিনি বলেন, এটা অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। অন্য কোনও প্রাক্তন ক্রিকেটারের এই পদে আসা উচিত। যিনি দারুণভাবে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যালেন্স করতে পারবেন।’

টেলর হলেন তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি ছ’মাসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। পিভারের আগে ডিরেক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়ান বব এভরি। গত মে মাসে পিভারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন। পিভার সরে দাঁড়ানোয় অন্তবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইয়ার্ল এডিংস।

ওয়ালটন ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়ার টেনিস শুরু

ওয়ালটন ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়ার টেনিস প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জানা ওমর এবং তাইপের চেন চেন লিও। প্রথম খেলায় জানা ওমর ২-০ সেটে বাংলাদেশের সুলতানা জলিকে এবং চেন চেং লিও ২-০ একই ব্যবধানে ভারতের সুয়ান্ডা পারাবকে পরাজিত করেন।

এর আগে, আজ রমনা জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি শারিয়ার আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্র“পের সিনিয়র অপরেটিভ ডিরেক্টর ইকবাল বিন আনোয়ার এবং ইসলামী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুব আল আলম। এবারের প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক বাংলাদেশ সহ দশটি দেশের ৭৫ জন ছেলে ও মেয়ে খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন।

কঠিণ টার্গেট বাংলাদেশের সামনে

সিলেটে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট জিততে শেষ দু’দিনে আরো ২৯৫ রান চাই বাংলাদেশের। হাতে আছে ১০ উইকেট। তৃতীয় দিনে বিনা উইকেটে ১ রান নিয়ে খেলতে নেমে তাইজুলের ৫ উইকেট শিকারে ১৮১ রানে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেলে ৩২১ রানের জয়ের টার্গেট পায় স্বাগতিকরা।

নিজেদের খেলা ১০৯ টেস্টে যেখানে সর্বোচ্চ ২১৭ রান পর্যন্ত তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের, সেখানে সিলেট টেস্ট জিততে স্বাগতিকদের সামনে ৩২১ রানের পাহাড় ডিঙানোর লক্ষ্য। তার ওপর তৃতীয় দিনেই উইকেটে টার্ন পাচ্ছেন বোলাররা, তাতে সিকান্দার রাজা আর শন উইলিয়ামসের স্পিন সামলে শেষ দু’দিনে রান করাটাও বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে মুশফিক-ইমরুল-মাহমুদুল্লাহাদের জন্য।

১৪০ রানে এগিয়ে থেকে বিনা উইকেটে ১ রান নিয়ে সকালে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিলো সফরকারী দল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু মিরাজ আর তাইজুলের ঘূর্ণিবিষে প্রথম সেশনেই বিপদে পড়ে তারা। লাঞ্চের আগেই ব্রায়ান চারী আর ব্রেন্ডন টেইলরের উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে চা বিরতির পরপরই গুটিয়ে গেছে তাইজুলের দাপটে। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ম্যাচে দশ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট করে নেয়ার কৃতিত্ব দেখান এই বাঁহাতি স্পিনার।

তবে এরই মাঝে রেজিস চাকাভা আর ওয়েলিংটন মাসাকাদজার জুটিতে ৩০০ রানের ওপরে লিড নিশ্চিত করে সফরকারীরা। সেই সাথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও পুরোটাই চলে যায় তাদের হাতে। কারণ অসম্ভব না হলেও তিনশ’র বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ক্রিকেট ইতিহাসেই হাতে গোনা।

আলোর অভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে স্বাগতিকদের বিনা উইকেটে ২৬ রান তাই খুব বেশি আশা জাগাতে পারছে না দর্শক-সমর্থক মনে।

পাকিস্তানের কাছে কিউইরা হোয়াইট‌ওয়াশ

আরব আমিরাতের মাটিতে এসে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। শুরুতেই ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই শোচনীয়ভাবে সরফরাজ আহমেদের দলের কাছে হেরেছে কেন উইলিয়ামসবাহিনী। শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কিউইদের ৪৭ রানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশই করলো পাকিস্তান।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই লড়াই করতে পারেনি পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। তিনি যখন দলকে একটা পর্যায়ে রেখে এসেছিলেন, তখনও জয়ের আশা ছিল নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ধ্বস নামে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে।

মাত্র ২৯ বল এবং ২৩ রানের ব্যবধানে কিউইদের হারাতে হয় ৮ উইকেট। তাতে চড়া মাশুল দিয়ে পাকিস্তানের কাছে ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে হার।

জয়ের জন্য ১৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কলিন মুনরো (২) এবং কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের (৬) উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ১৩ রানে ২ উইকেট পড়ার পর যে বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিল সেটা কাটিয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপস আর কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে। দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৮৩ রানের অনবদ্য জুটি।

এমন এক জুটির পর মুহূর্তে কে বলতে পারবে, অভাবনীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়বে কোনো দল! ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলেই হয়তো এটা সম্ভব। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ দলটির নাম আবার পাকিস্তান। ১২.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৬ রান থেকে ১৬.৫ ওভারে ১১৯ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড। ৯৬ রানে তৃতীয় উইকেট হিসেবে আউট হন উইলিয়ামসন। ৩৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন তিনি।

পাকিস্তানি স্পিনার শাদাব খানের বলে বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে তার ফিরে যাওয়ার পরই ধ্বস নামে। ৯৭ রানের মাথায় ফেরেন গ্লেন ফিলিপস। ২৪ বলে ২৬ রান করেন তিনি। বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে ইস শোধি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউই আর দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

শাদাব খান ৩০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ওয়াকাস মাকসুদ ২১ রান দিয়ে ২টি, ইমাদ ওয়াসিম ২৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ফাহিম আশরাফ নেন ১ উইকেট।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৬ রান তোলে। হাফসেঞ্চুরি করেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ। পাকিস্তানের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে ফাখর জামান ১১ রান করে আউট হন। এরপর হাফিজের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাবর দ্বিতীয় উইকেটে ৯৪ রান যোগ করেন। শেষে ৭৯ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। ৫৮ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন বাবর।

শোয়েব মালিক চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯ বলে ১৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন। আসিফ আলিকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানকে লড়াই করার রসদ এনে দেন হাফিজ। আসিফ ২ রান করে নটআউট থাকেন। হাফিজ আপরাজিত থেকে যান ব্যক্তিগত ৫৩ রানে। ৩৪ বলের ইনিংসে তিনি ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন।

তাইজুলের দশ উইকেট সাথে হ্যাটট্রিকের আক্ষেপ

ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকেই করেছিলেন হ্যাটট্রিক। অভিষেক ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বোলারও ছিলেন তিনি। হতে পারতেন ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের প্রথম বোলার। কিন্তু দুইবার সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারলেন না বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তবে দুই বল পর ঠিকই তৃতীয় উইকেট নিয়েছেন তিনি।

তবে তাইজুলের স্পিন ঘূর্ণিতে বিপদে পরে গিয়েছে জিম্বাবুয়ে। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার পরে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। সে ধারাবাহিকতায় পরপর দুই বলে প্রথম ইনিংসের দুই হাফসেঞ্চুরিয়ান শন উইলিয়ামস এবং পিটার মুরকে আউট করেছেন তাইজুল।

ফলে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সৃষ্টি হয় তাইজুলের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। কিন্তু সিকান্দার রাজা তার হ্যাটট্রিক বলটি খেলেন আয়েশি ভঙ্গীতে। পরের বলটিও খেলেন নির্ভার হয়ে। কিন্তু এরপরের বলটি আর ঠেকাতে পারেননি রাজা। মাত্র ৫ বলেই ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তাইজুল।

এরইসাথে চলতি ম্যাচে দশ উইকেট শিকার করে ফেলেছেন তিনি। এনামুল হক জুনিয়র (২০০৫), সাকিব আল হাসান (২০১৪ ও ২০১৭) এবং মেহেদি হাসান মিরাজের (২০১৬) পরে চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে ম্যাচে দশ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন তাইজুল। একই সাথে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সরিয়ে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডকে হারালো সালমারা

ওয়েস্ট ইন্ডিজে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রোভিডেন্সে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে, জাহানারা-রুমানার বোলিং তোপে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আয়ারল্যান্ডের মেয়েরা। কিম গার্থ ৩৫ রান করে কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্যদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ৮৭ রান তোলে তারা। রুমানা ১০ রান দিয়ে ৩টি এবং জাহানারা ১১ রানে নেন ২টি উইকেট।

জবাবে আয়েশার ২৫ আর ফারজানার অপরাজিত ২১ রানের সুবাদে ৩২ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান করে জয় তুলে নেয় সালমা খাতুনের দল। সানজিদা ইসলাম ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারলো ভারত

কোলকাতায় সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক ভারত। টস হেরে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই দিনেশ রামদীনকে হারিয়ে চাপে পড়ে। কুলদীপ যাদবের ৩ উইকেট শিকারে মাত্র ১০৯ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। কুলদীপ মাত্র ১৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

জবাবে দীনেশ কার্তিকের অপরাজিত ৩১ রানের সুবাদে ১৩ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ভারত। কার্তিক ৩১ আর পান্ডিয়া ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা। আগামী ৬ নভেম্বর লক্ষণোতে হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।

সিলেটে উইকেট বৃষ্টি

সিলেটে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জিম্বাবুয়ে। দিনশেষে স্বাগিতকদের চেয়ে ১৪০ রানে এগিয়ে আছে তারা। হাতে আছে ১০ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে দিন শুরু করে তাইজুলের ৬ উইকেট শিকারে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ২৮২ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে চাতারা-সিকান্দার রাজার বোলিং দাপটে মাত্র ১৪৩ রানেই থামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনশেষে সফরকারীদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে এক রান।

প্রথম দিন উইকেট নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বোলারদের। অথচ দ্বিতীয় দিনেই উল্টো চিত্র। ৭৯ ওভার তিন বলে পড়েছে ১৫ উইকেট। তাতে সিলেট টেস্ট পঞ্চম দিনের আলো দেখবে কি না, রয়েছে সেই সংশয়।

অবশ্য সকালটা শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশের আনন্দের মধ্য দিয়েই। প্রথম ঘন্টা না পেরোতেই সাজঘরে চাকাভা-মাসাকাদজা। দুজনই তাইজুলের শিকার। এই বাঁহাতি ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মত ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেয়ার কৃতিত্ব দেখান কাইল জার্ভিসকে ফিরিয়ে। তাইজুলের ১০৮ রানে ৬ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে ২৮২ রানে সফরকারীরা গুটিয়ে যায়।

কিন্তু স্বাগতিক সমর্থকদের হাসি মিলিয়ে যায় নিজেদের ব্যাটিং শুরু হতেই। দলের ৮ রানে চাতারার শিকার ইমরুল কায়েস। জার্ভিস লিটন দাসকে ফেরানোর পর, শান্ত আর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও চাতার শিকারে পরিণত হলে ১৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুলকে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মুশফিকুর রহিম। সিকান্দার রাজার ঘুর্ণিবিষে কুপোকাত মুমিনুল-তাইজুল-নাজমুলরা।

তাতে মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে দিনের আলো নেভার আগেই নিভে যায় স্বাগতিক সমর্থকদের সব আনন্দ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে দিনশেষের দু’ওভারে বিনা উইকেটে এক রান তুলে জিম্বাবুয়ে জানিয়েছে, এই উইকেটে টিকে থাকাটা খুব একটা কঠিন নয় মোটেও।

জয়ে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ

কোচ বরখাস্ত করেই জয়ের ধারায় ফিরলো স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার ম্যাচে তারা ২-০ গোলে পরাজিত করেছে রিয়াল ভায়াদোলিদকে। এতে জয় দিয়ে নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করলেন অন্তবর্তীকালীন কোচ সান্তিয়াগো সোলারি।

নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, প্রথমার্ধের খেলা গোল শূন্যভাবেই শেষ হয়। বেশকিছু আক্রমন করেও প্রথমার্ধে গোল পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ভায়াদোলিদের দুটো আক্রমন রিয়ালের বারে লেগে প্রতিহত হলে এগিয়ে যা‌ওয়া হয়নি তাদের। অবশেষে খেলার ৮৩ মিনিটে কিকো অলিভাসের ‌ওউন গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষের দুই মিনিট আগে স্যার্জিও রামোসের পেনাল্টি গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় ‘লা ব্ল্যাঙ্কো‘রা।

এতে ১১ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ষষ্ঠস্থানে উঠে এলো রিয়াল মাদ্রিদ।

দিন শেষে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সমানে সমান

প্রথম দিন শেষে এগিয়ে থাকল কারা? পড়ন্ত বিকেলে প্রশ্নটা ঘুরে বেড়াল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে! ৯১ ওভার খেলে জিম্বাবুয়ে তুলেছে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান। উইকেটে অসমান বাউন্স ছিল না, স্পিনে মেলেনি বাড়তি টার্ন। তারপরও বাংলাদেশের বোলারদের থেকে গেল এদিন আরেকটি উইকেট নিতে না পারার আক্ষেপ।

প্রথম দুই সেশনে দুটি করে উইকেট নিতে পারলেও তৃতীয় সেশনে স্বাগতিকদের সাফল্য মাত্র একটি। ৮০ ওভার পরই নতুন বল হাতে নেয় বাংলাদেশ। দিনের শেষবেলায় আরেকটি উইকেট পেতে মরিয়া ছিলেন রাহি-মিরাজরা। পিটার মুর ও রেগিস চাকাভার দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়েছে সে চেষ্টা। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৩৫ রান যোগ করে জিম্বাবুয়েকে স্বস্তির জায়গায় নিয়ে গেছেন দুজনে।

ওয়ানডে সিরিজের পর সাদা পোশাকেও দারুণ ব্যাটিং করেছেন শেন উইলিয়ামস। ৮৮ রান করে মাহমুদউল্লাহর বলে স্লিপে দাঁড়ানো মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ১৭৩ বলে ৯ চারে ৮৮ রান করা এ বাঁহাতির বিদায়ে ভাঙে শতরানের দিকে ধাবিত হওয়া পঞ্চম উইকেট জুটি।

স্টেডিয়ামের অভিষেকের মঞ্চে ওপেনিং জুটিতে আসে ৩৫ রান। ব্রায়ান চারিকে বোল্ড করে প্রথম সাফল্য পান তাইজুল। দলীয় ফিফটি ছোঁয়ার আগেই এ বাঁহাতি স্পিনারের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর (৬)।

৫২ রান করা মাসাকাদজাকে লাঞ্চের পর এলবিডব্লিউ করেন লোকাল বয় আবু জায়েদ রাহি। দলীয় শতরানে পেরিয়ে যাওয়ার পর সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য পান অভিষিক্ত নাজমুল ইসলাম অপু। ৩৭ রান করা এ ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে সরাসরি বোল্ড করেন এ বাঁহাতি স্পিনার অপু।

সকালে অভিষেক টেস্টের উদযাপন হয়েছে স্মরণীয়। ড্রেসিংরুম থেকে খেলোয়াড়রা মাঠে নামার পথে পেয়েছেন লাল গালিচা সংবর্ধনা। ক্রেস্ট, স্মারক উপহার। বিশেষ কয়েনে হয়েছে টস। সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খান ঘণ্টা বাজিয়ে করেছেন ম্যাচের শুরু।

পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার

কিশোরদের সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা পূনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী পাকিস্তানকে ফাইনালের মহারণে টাইব্রেকারে ৩(১)-২(১) গোলে পরাস্ত করে লাল-সবুজের পতাকার সম্মান বৃদ্ধি করেছে মেহেদী, জুনায়েদ, আদনানরা। এ ম্যাচেও জয়ের নায়ক গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। যশোরের এ কিশোরের বীরত্বে টাইব্রেকারে পাকদের বিরুদ্ধে দারুণ এক জয় পায় মোস্তফা আনোয়ার পারভেজের শিষ্যরা। ম্যাচের মূল সময় ১-১ গোলে ড্র ছিল। আগামীকাল রোববার বিকেল তিনটায় সাফের শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরবে লাল-সবুজের দল। সেমি ফাইনালে গত আসরের রানার্সআপ ভারতকে পরাস্ত করে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচেও টাইব্রেকারে মেহেদী জাদুতে ভারতকে ধরাশায়ী করেছিল বাংলার কিশোররা।

আজ শনিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাদশে ছিলেন না গোলরক্ষক মেহেদী। লাল কার্ডের সমস্যা দূর হওয়ায় এক নম্বর গোলরক্ষক মিতুল মারমা সুযোগ পান। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে তাকে নামানোর জন্য কোচ হয়তো রিজার্ভ বেঞ্চ রেখে দিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদীকে। সে টোটকা বেশ ভালোই কাজে লেগেছে। কারণ ম্যাচ যখন ১-১ গোলের সমতায় শেষ হওয়ার পথে, তখনি কোচ আনোয়ার পারভেজ মিতুল মারমাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান মেহেদীকে। তার হয়তো অঘাত বিশ্বাস ছিল ১৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের উপর। কোচের সে বিশ্বাসের প্রতিদান গুনে গুনে দিয়েছেন মেহেদী।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা উচ্ছ্বাস

১-১ গোলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর শুরু আসল রোমাঞ্চ, টাইব্রেকার। একেতো ফাইনালের স্নায়ুচাপ, তার উপর টাইব্রেকার। দু’য়ে মিলে বাংলাদেশের প্রথম শট নিতে গিয়েই ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে দেন রাজন হাওলাদার। সে চাপটা সামলে প্রতিপক্ষের জুনায়েদ সাহার শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করে লাল-সবুজ শিবিরকে উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন মেহেদী। এরপর বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন তৌহিদুল ইসলাম। পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় শট নিতে আসা আদনান জাষ্টিনের শটটিও দারুন দক্ষতার সঙ্গে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করে শিরোপার পথ প্রসারিত করেন মেহেদী। এরপর লাল-সবুজদের হয়ে টানা দু’টি গোল করেন রাজা আনসারি ও রুস্তম ইসলাম দুখু মিয়া। পাকিস্তানের মহিব উল্লাহ ও ওয়াসীফ নিশানা ভেদ করে ব্যাধান ৩-২ এ নামিয়ে আনেন। বাংলাদেশের হয়ে শেষ শট নিতে আসা রবিউল আলম স্কোর করতে পারলেই ৪-২ ব্যবধানে শিরোপা উল্লাস করতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশী এ কিশোর বোকার মতো শট তুলে দেন পাকিস্তানী গোলরক্ষকের হাতে। জমে উঠে ম্যাচ।

আবারো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হন গোলরক্ষক মেহেদী। তার উপরই নির্ভর করছিল সব। শট ফেরাতে পারলেই শিরোপার স্বাদ। নয়তো আবারো পেনাল্টি শুট আউটের মুখোমুখি। এমন টেনশনের মুখোমুখি হয়েও মেহেদী নিজেকে সংবরন করেছেন সাবলীলভাবেই। ঠান্ডা মাথায় পাকিস্তানের মোদাস্সর নাজারের শটটি রুখে দেন পা দিয়ে। আর সঙ্গে সঙ্গে শিরোপা পূনরুদ্ধারের উল্লাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালেও ফাইনালে ভারতের কিশোরদের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে শিরোপা জয় করেছিল লাল-সবুজরা।

নেপালের এএনএফএ কমপ্লেক্স গ্রাউন্ডে দুপুরে শুরু হওয়া এ ম্যাচে শুরু থেকেই বেশ আক্রমনাত্মক খেলেছিল বাংলার কিশোররা। তিন মিনিটেই গোলের সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রাসেল। গোলরক্ষককে একা পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। ৯ মিনিট পর উচ্ছ্বাসও মিস করেন গোলের সুযোগ। তবে ২৫ মিনিটে আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কর্ণার থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হেড দিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন পাকিস্তানী ডিফেন্ডার হাসিব আহম্মেদ খান (১-০)। এগিয়ে যাওয়ার উৎসবে মেতে উঠে লাল-সবুজরা।

কিন্তু এরপরই যেনো ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের। নিজেদের খুঁজে পাচ্ছিল না আনোয়ার পারভেজের শিষ্যরা। আর এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান। বাংলাদেশী ডিফেন্ডার হেলাল নিজেদের বক্সে প্রতিপক্ষের এক ফরোয়ার্ডকে রাফ ট্যাকল করলে রেফারী সুদীপ কুমার পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে গোল করেন মহিব উল্লাহ (১-১)। শেষ পর্যন্ত সমতায় ম্যাচ শেষ হলে টাইব্রেকারে নিস্পত্তি হয় শিরোপা ভাগ্য।

দুই তরুণের অভিষেক

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অভিষেক হলো বাংলাদেশের দুই তরুণের। তারা হলেন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান আরিফুল হক ও বাম-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম।

বাংলাদেশের টেস্ট দলে চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। একাদশে এই দু’জন ছাড়াও যুক্ত হয়েছেন তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অভিষেকের পর এই টেস্টে খেলবেন তিনি।

এছাড়া দলে রাখা হয়েছে পেসার আবু জায়েদকে। খারাপ ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি ও নুরুল হাসান। এছাড়া ইনজুরির কারণে নেই সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। ব্যাটিংয়ে ওপেনিংয়ে ইমরুল কায়েসের সাথে নামবেন লিটন দাস।

লাঞ্চের আগে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৮৫ রান

সিলেট টেস্টের প্রথম সেশন আপাতত শেষ। ৩১ ওভারে ২.৭৪ রেটে ২ উইকেটে ৮৫ রান তুললো টস জয়ী জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম একাই দুই উইকেট তুলে নেন। হাফ সেঞ্চুরি করে ৫২ রানে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ১৩ রান নিয়ে তার সঙ্গী শন উইলিয়ামস।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা ভালোই ছিল। দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর ব্রায়ান চারি মিলে সত্যিকার টেস্ট খেলার দিকেই মনযোগ দিয়েছিলেন। আবু জায়েদ রাহি এবং তাইজুল ইসলামের বল প্রথম থেকেই টার্ন করা শুরু করেছিল। সে কারণেই শুরু থেকে বিধ্বংসী হয়ে ওঠার চেষ্টা আবু জায়েদ আর তাইজুল ইসলামের। আবু জায়েদের একটি বলে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা পরাস্ত হলে আউটের আবেদন করে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডাররা। পরে রিভিউও নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। যদিও তখন দেখা গেলো বল ব্যাটের প্রান্ত ছুঁয়েছিল। ফলে নট আউট।

তবে মাসাকাদজা আর চারি জুটিকে খুব বেশিদুর এগুতে দিলেন না তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের ১১ ওভারে এসে ৩৫ রানের জুটিটা ভেঙে দিলেন তিনি। সরাসরি বোল্ড করলেন ব্রায়ান চারিকে। খুব বাজেভাবে স্লগ করতে গিয়েছিলেন চারি। বল ব্যাট মিস করে সোজা মিডল স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। বলা যায়, তাইজুলকে উইকেটটা উপহারই দিয়ে আসলেন ব্রায়ান চারি।

ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামলেন জিম্বাবুয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাটনসন ব্রেন্ডন টেলর। ওয়ানডে সিরিজে দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন তিনি। এ কারণে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার সঙ্গে তার জুটিটা ভালোই হবে- এটাই কাম্য ছিল জিম্বাবুইয়ানদের। কিন্তু তাইজুলের ঘূর্ণির কাছে আবারও পরাস্ত হতে হলো জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে।

মাসাকাদজার সঙ্গে মাত্র ১২ রানের জুটি গড়েন টেলর। এরই মধ্যে ইনিংসের ১৭ ওভারের দ্বিতীয় বলটিকে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন টেলর। কিন্তু শট লেগে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্ত মাটি কামড়ানো শটটি তালুবন্দী করে ফেলেন। আম্পায়ার আউট দিলেও কিছুটা সংশয় ছিল টেলরের মনে। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেলো সত্যি সত্যি আউট। দুর্দান্ত বোলিং করলেন তাইজুল। ক্যাচটাও ছিল দুর্দান্ত। ৬ রান করে বিদায় নিলেন ব্রেন্ডন টেলর।

ইতিহাস রচিত হোক সিলেটে

ইকরামউজ্জমান : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক।

সিলেটিদের জন্য আজ বড্ড আবেগ, আনন্দ আর স্মরণীয় দিন। আজ থেকে তিন দিকে চা-বাগান পরিবেষ্টিত, সবুজের সমারোহের মধ্যে স্থাপিত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে সিলেট টেস্ট ভেন্যুর যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এটি দেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যু। ক্রিকেটের ইতিহাসে সিলেট নামটি অন্তর্ভুক্ত হবে।

আমি সিলেটের ভূমিপুত্র। ঢাকায় আমার ছোট্ট ডেরায় অবস্থান করে আবেগতাড়িত এবং স্মৃতিকাতর। ষাটের দশকের দিনগুলোতে প্রতিবছরই সিলেটে যাওয়া হতো। তখন সিলেটের চৌহাট্টায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে শীতের মিঠে রোদে লীগ ও টুর্নামেন্টের খেলা দেখা সেই সকাল থেকে দুপুর, অপরাহ্ন গড়িয়ে বিকেল উপভোগ করার সেই মধুময় দিনগুলো এখনো ভীষণ টানে! কৃত্রিমতামুক্ত, সেই সরল ক্রিকেট মাঠে বারবার ফিরে যাই! এ ছাড়া শহর থেকে অনেক দূরের চা-বাগানের মাঠে ‘টি-প্লান্টার’দের রবিবাসরীয় সেই ক্রিকেট, ম্যাচ শুরু থেকে অঢেল সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি আরাম কেদারায় গা এলিয়ে দিয়ে নারী-পুরুষ একসঙ্গে খেলা উপভোগের সেই অভিজ্ঞতা তো কখনো ভোলার নয়!

আজ বিশেষ স্মারক মুদ্রার মাধ্যমে উভয় দলের অধিনায়ক টসে অংশ নেবেন, ঘণ্টা বাজিয়ে শুরু করা হবে টেস্ট ম্যাচ—এই স্মরণীয় সময়ে তো মাঠে উপস্থিত থাকতে পারব না! যেসব সিলেটি খেলোয়াড় টেস্ট খেলেছেন তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ থাকবেন না। সিলেটের ক্রিকেট উন্নয়নে বছরের পর বছর যাঁরা কাজ করেছেন, এখন অনেক সংগঠকও এই আলো-ছায়ার পৃথিবীতে আর নেই! জীবন এমনই। সব আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয় না।

সিলেটে ক্রিকেট এসেছে দেড় শ বছরের অনেক আগে টি-গার্ডেনের বিদেশি প্লান্টার আর ব্রিটিশ আর্মি অফিসারদের মাধ্যমে। স্পোর্টিং ইন্টেলিজেন্স পত্রিকায় ছবিসহ খেলার খবরে দেখা যায়, ১৮৪৫ সালের মার্চ মাসে সিলেট শহরে ব্রিটিশ আর্মি অফিসারদের সঙ্গে সিপাইদের খেলা হয়েছে।

বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে ২০০০ সালে। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর। দেশের প্রথম টেস্ট একাদশে ছিলেন সিলেটের হাসিবুল হোসেন শান্ত। পরবর্তী সময়ে রাজেন সালেহ, অলক কাপালি, এনামুল হক জুনিয়র, তাপস বৈশ্য, আবুল হোসেন রাজু, নাজমুল হোসেন, আবু জায়েদ রাহি টেস্ট খেলেছেন। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট স্কোয়াডে আছেন সিলেটের আবু জায়েদ রাহি ও সৈয়দ খালেদ আহমদ (এখনো টেস্ট ক্যাপ মাথায় পরেননি)। দুজনই পেস বোলার। এই দুজনের কি জন্মভূমির মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলার ইচ্ছা পূরণ হবে?

বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতেছে (৩৫তম টেস্টে) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের আব্দুল আজিজ স্টেডিয়ামে ২২৬ রানে। তখন জিম্বাবুয়ে দলটি ছিল শক্তিশালী। এর আগে অনুষ্ঠিত ছয়টি টেস্টের মধ্যে জিম্বাবুয়ে জিতেছিল চারটিতে আর দুটি টেস্ট ড্র হয়েছিল। চট্টগ্রাম টেস্ট বিজয়ের নায়ক সিলেটের স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। ৭২ ওভার বল করে ১৭টি মেডেনসহ ২০০ রান দিয়ে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর ঢাকা টেস্ট ড্র হওয়ায় বাংলাদেশ প্রথম সিরিজও জেতে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছে ১৪টি টেস্ট। এর মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছে জিম্বাবুয়ে, ছয়টিতে বাংলাদেশ এবং তিনটি টেস্ট ড্র হয়েছে। সিলেটে খেলতে নামার আগ পর্যন্ত ১০৮টি টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১০টি টেস্ট। ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিলের পর থেকে জিম্বাবুয়ে নিজ দেশে এবং বাংলাদেশে খেলতে এসে কোনো টেস্টে জিততে পারেনি টাইগারদের বিপক্ষে।

তাই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের অনুকূলে। জিম্বাবুয়ে দলটি এখন পুনর্গঠনে আছে। চলতি সফরে ওয়ানডেতে ‘হোয়াইটওয়াশ’ হয়েছে। আজ থেকে টেস্ট ক্রিকেট। এই খেলার প্রয়োগ, মেজাজ, মানসিকতা একদম ভিন্ন। টেস্টকে বলা হয় আসল ক্রিকেট। আর এই দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট লড়াই শক্ত ও রোমাঞ্চকর। একগুচ্ছ স্পিন, টেকনিক, ট্যাকটিকস ও পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা দিতে হয় মনঃসংযোগ, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস, দায়িত্বশীলতা, সামর্থ্য ও শৃঙ্খলার। বাংলাদেশ টেস্ট কম খেলার সুযোগ পায়। গত ১৮ বছরে খেলেছে ১০৮টি টেস্ট। দীর্ঘ সংস্করণের খেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভ্যস্ত হওয়া এবং রপ্ত করার বিষয়। খেলোয়াড়রা দলগতভাবে ওয়ানডেতে ভালো খেলছেন বলেই তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও সাহস বেড়েছে। তাঁরা ভাবতে পারছেন টেস্ট ক্রিকেটেও ভালো করার সামর্থ্য তাঁদের আছে। সাদা পোশাকের খেলায় তাঁরা রং চড়াতে চান।

দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে তিন স্তম্ভ নেই টেস্ট ক্রিকেটে! মাশরাফি আগেই বিদায় নিয়েছেন, সাকিব ও তামিম চোটে থাকায় দলে নেই। সাকিব ও তামিম এই দুজনকে বাদ দিয়ে তো টেস্ট স্কোয়াড গঠন করা হয়নি আগে কখনো! স্কোয়াড গঠনের ক্ষেত্রে তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়েছে নির্বাচকদের। এর প্রতিফলন মাহমুদ উল্লার নেতৃত্বে টেস্ট স্কোয়াডে লক্ষণীয় হচ্ছে। যেটি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো ব্যাটিং, বোলিংয়ে (পেস ও স্পিন আক্রমণে) কাউকে কাউকে বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। এটা চাপ নয়, নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ। সিলেটে রোমাঞ্চকর টেস্টের পরিসমাপ্তি ঘটবে জয়ের স্বাদ দিয়ে—এ প্রত্যাশা নিয়েই খেলা দেখবেন।

শিরোপায় টার্গেট অনুর্ধ্ব-১৫ দলের

নেপালে সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল আগাড়ীয়াল শনিবার। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২.৪৫ মিনিটে আনফা কমপ্লেক্সে পাকিস্তানের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

২০১৫ সালে নিজেদের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপা জিতেছিলো বাংলাদেশের কিশোররা। সেবার অবশ্য সাফের এই আসরটি হয়েছিলো অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সীদের নিয়ে। ২০১৭ সালে থেকে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের সঙ্গে সঙ্গতি রাখার জন্য অনূর্ধ্ব-১৫ বয়সীদের নিয়ে টুর্নামেন্টটি হচ্ছে। পরের আসরেই শিরোপাটা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।

২০১৭ সালে নেপালের কাছে ৪-২ গোলের হারে সেমিফাইনাল উৎরে আর ফাইনালে পৌছা হয়নি বাংলাদেশের। ভুটানের সঙ্গে তৃতীয় স্থানের জন্য লড়াই করে তারা। তবে ঐ ম্যাচে ভুটানকে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিলো লাল-সবুজরা। এবার সেই হারানো শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন বাংলাদেশ দলের। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতকে সেমিফাইনালেই বিদায় করে দিয়েছে বাংলার অদম্য কিশোররা। এখন শুধু ফাইনালে পাকিস্তান বধের পালা। সেই লক্ষ্যেই আজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল।

সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে দিয়েও জয় উৎজাপন করেনি বাংলাদেশ দল। কারণ একটাই দলের সবার লক্ষ্য ফাইনাল জেতা। সেমিফাইনালে জয়ের নায়ক বলা যায় গোলরক্ষক মেহদীকে। কারণ সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে অতন্ত্র প্রহরীর দায়িত্বপালন করে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন তিনি।

অধিনায়কের দায়িত্বও তার কাধে। ফাইনাল জিতে বাংলাদেশের পতাকা নেপালের মাটিতে উড়ানোর লক্ষ্য এই কিশোরের, ফাইনাল ম্যাচটার দিকেই আমাদের সব মনযোগ। এই ম্যাচটা জিততেই হবে আমাদের। ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশের পতাকা বিদেশের মাটিতে উড়াতে পারবো। পাকিস্তান শক্ত প্রতিপক্ষ। সেটি আমাদের মাথায় আছে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে ফাইনাল জিততে চাই। এতোদিন স্যাররা আমাদের যা শিখিয়েছেন সেটি যদি মাঠে প্রয়োগ করতে পারি ইনশাল্লাহ ম্যাচটা আমরা জিতবো।

বাংলাদেশ দলের কোচ মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ বলেছেন, ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে ছেলেরা ফাইনালে এসেছে। সম্পূর্ণ কৃতিত্বই তাদের।আমরা তাদের যেভাবে বলেছি, যে কৌশল অবলম্বন করতে বলেছি তারা সেটিই করেছে। ফাইনালে শক্ত প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ফাইনালটাকে আমরা ফাইনালের মতো করেই খেলবো।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল এ পর্যন্ত একটি ম্যাচও হারেনি। কোচ পারভেজ এই কৃতিত্বও দিয়েছেন ফুটবলারদের উপরই। ফাইনালের জন্য তার দল প্রস্তুত বলেও জানান বাংলাদেশ দলের কোচ,‘বিষয়টা খুবই আনন্দের যে আমরা এই পর্যন্ত একটি ম্যাচও হারিনি। ফুটবলাররা উজ্জীবিত আছে। ফাইনালে ফুটবলাররা তাদের শতভাগ দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। এখন শুধু প্রয়োজন দেশবাসীর দোয়া।

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার

সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। নেপালের আনফা কমপ্লেক্সে আজ বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র ছিল ম্যাচ।

বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় শুরু ম্যাচের ১৭ মিনিটে পাত্রে হার্শ শৈলাসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। সেই গোলে জয়ের পথেই ছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯৩ মিনিট) পেনাল্টি থেকে গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান আশিকুর রহমান।

পরে টাইব্রেকারে দুটি স্পট-কিক ঠেকিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হয়েছে পাকিস্তান। শনিবার শিরোপা লড়াইয়ে নামবে দু’দল।

এর আগে গ্রুপপর্বে মালদ্বীপকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নাম লেখায় সেমিফাইনালে। শিরোপা থেকে এখন আর এক ম্যাচ দূরে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

আবার‌ও ৪৮ দলের পক্ষে ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে খেলা ৩২ থেকে দলের সংখ্যা বাড়ানো হবে ৪৮-এ। এতে আয়োজকদের জন্য চাপ বাড়বে বটে। তবে ফুটবলের প্রসার হবে হু হু করে। একে একে বিশ্বের প্রতিটা কোনায় গড়িয়ে যাবে ফুটবল। ঠিক এমন আশা থেকেই ফিফা ভাবনা-চিন্তা করতে শুরু করেছিল। তা হলে কি কাতার বিশ্বকাপ থেকে ৪৮ দল খেলবে! ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হলে লাভ হবে? নাকি আয়োজকদের জন্য কেবলই চাপ বাড়বে? ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কিন্তু ইঙ্গিত দিলেন, তাঁরা ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করেছেন। আর সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই বিশ্বকাপে ৪৮ দল দেখা যেতে পারে।

ইনফান্তিনো এখন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কুয়ালালামপুর আছেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি নিজের ভাবনা-চিন্তার কথা জানিয়েছেন। ইনফান্তিনো ইঙ্গিত দিয়েছেন তাতে এশিয়ার দেশগুলোর সংখ্যা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের দল ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা নিয়ে আমরা অনেক আগে থেকেই চিন্তা ভাবনা করছিলাম। ২০২৬ বিশ্বকাপে আমাদের এই চেষ্টা বাস্তবে সফল হতে পারে। এক্ষেত্রে বিশ্বকাপে যদি অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ে তা হলে এশিয়ার সম্ভাবনাও ৪.৫ থেকে বেড়ে ৮.৫ শতাংশ হবে।’

একসঙ্গে ১৬টি দেশ এককালীন যোগ হলে আয়োজকদের উপর চাপ তো বাড়বেই। সঙ্গে নতুন করে অনেক কিছুই ভাবতে হবে ফিফাকে। নতুন অংশগ্রহণকারী দলের ফুটবলারদের থাকা, তাদের অনুশীলনের জন্য বরাদ্দ মাঠ, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অনেক কিছু নিয়েই ফিফাকে নতুন করে ভাবতে হবে। ফেডারেশন তথা স্থানীয় প্রশাসনকে আরও বেশি কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। তবে কাতার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানো এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কারণ নতুন করে সব কিছু আয়োজন করার মতো পর্যাপ্ত সময় কাতারের হাতে নেই। অবশ্য ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থার প্রধান-কর্তা হাসান আল-থাওয়াডি বলেন, ‘৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্ব শুরুর আগে নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় পাওয়া যাবে না।’

আগামী বছরই ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ইনফান্তিনোর বিশ্বাস ২১১টি ফেডারেশনের মধ্যে ১৮০টি ভোট তাঁর পক্ষে থাকবে।

বরোদার বিস্ময়বালক

গুজরাটের বরোদায় ক্রিকেটার তৈরির কারখানা গড়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ মহিন্দর অমরনাথ। তাও বেশ কয়েক বছর আগে। সেখানে যে ক্রিকেটার গড়ে তোলার কাজটা ঠিকঠাকই হচ্ছে তা প্রমাণ পা‌ওয়া গেল। মহিন্দর অমরনাথ অ্যাকাডেমির খুদে ক্রিকেটার প্রিয়াংশু মলিয়া ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ঝলক দেখিয়ে গেলেন। গায়কোয়াড় অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে অমরনাথের ছাত্র প্রিয়াংশু মলিয়া খেললেন অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। যোগী ক্রিকেট অ্যাকাডেমির বিরুদ্ধে মহিন্দর লালা অমরনাথ অ্যাকাডেমির হয়ে দুই দিনের ম্যাচে এই ১৪ বছর বয়সী ক্ষুদে ব্যাটসম্যান করলেন ৫৫৬ রান।

শুধু ব্যাট নয়, বল হাতেও যেন অতিমানব হয়ে উঠেছিল প্রিয়াংশু। তাঁর স্পিন খেলতে রীতিমতো নাকানি-চোবানি খেতে হয় বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের। প্রথম দিনেই যোগী অ্যাকাডেমি ৫২ রানে গুটিয়ে যায়। তাও প্রিয়াংশুর দাপটে। ৪ উইকেট তুলে নেন এই ক্ষুদে অফ স্পিনার। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যক্তিগত ৪০৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন প্রিয়াংশু। দ্বিতীয় দিন আরও ১৪৮ রান যোগ করে ১৪ বছরের ব্যাটসম্যান। ৪ উইকেটে ৮২৬ রান তোলে অমরনাথ অ্যাকাডেমি। প্রিয়াংশু একাই অপরাজিত ৫৫৬ রান করেন। ৩১৯ বলে ৯৮টি চার আর ১ ছক্কায় সাজানো তাঁর এই অবিশ্বাস্য ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪ রানে শেষ হয়ে যায় যোগী অ্যাকাডেমি। এক ইনিংস ও ৬৮৯ রানে অমরনাথ অ্যাকাডেমি বড় জয় তুলে নেয়। গত বছর এই একই টুর্নামেন্টেও দারুণ পারফরম্যান্স করেছিল প্রিয়াংশু। গতবারও ডাবল সেঞ্চুরি ছিল তাঁর। তাই এবার নিজের জন্য আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিলেন তিনি। এতো ভাল ইনিংস খেলে উঠে প্রিয়াংশু বললেন, ‘প্রথমে যখন সেঞ্চুরি করলাম তখন মনে মনে দুশো করব বলে টার্গেট নিলাম। তার পর দুশো করার পর তিনশো করার জন্য লক্ষ্যমাত্রা রাখলাম। এভাবে একশো করার টার্গেট নিয়ে এগোতে থাকলাম। তাতে চাপও কমল, আবার মনোযোগও বহাল ছিল।’

প্রিয়াংশুর ধৈর্য প্রচুর। আর এটাই এই ক্ষুদে ব্যাটসম্যানকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন অমরনাথ। শিষ্যের এমন ইনিংসের সাক্ষী থাকার পর তিনি বলেন, ‘ওর স্টান্ট, ব্যাটিং স্টাইল দেখে প্রথমদিন থেকেই আশার আলো দেখেছিলাম। ক্রিকেটের প্রতি ওর প্যাশন রয়েছে। যত বড় হবে তত পরিণত হবে।’

প্রিয়াংশুর বাড়ি রাজকোটে। কিন্তু অমরনাথের অ্যাকাডেমিতে প্র্যাকটিসের জন্য সে আপাতত বরোদায় চলে এসেছে।

বাংলাদেশের ফাইনালে ‌ওঠার লড়াই কাল

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠে প্রথম লক্ষ্য পুরণ হয়েছে বাংলাদেশের কিশোরদের। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নেপালের কাঠমান্ডুতে, ফাইনালের টিকিট পেতে ভারতের মুখোমুখি হবে পারভেজ বাবুর দল।

এই ম্যাচটি জিতে শিরোপা লড়াইয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। সেজন্য কাঠমান্ডুর ললিতপুর আনফা কমপ্লেক্সে কঠোর অনুশীলন করে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা।

এরআগে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে লাল-সবুজের দল। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ চারে ওঠে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল।

কোচ পারভেজ বাবু ভারতকে সমীহ করলেও তাদেরকে হারিয়েই ফাইনাল খেলতে আশাবাদী।

লোপেতেগিকে বরখাস্ত করলো রিয়াল মাদ্রিদ

মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় হুলেন লোপেতেগিকে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করলো রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের সাবেক খেলোয়াড় সান্তিয়াগো সোলারিকে অন্তবর্তী কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পরই দলের খারপ পারফরম্যান্সের কারণে এই শাস্তি মেনে নিতে হলো লোপেতেগিকে। তার অধীনে সব প্রতিযোগিতা মিলে শেষ সাত ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরেছে লা ব্লাঙ্কোরা। এ নিয়ে গত পাঁচ মাসে দু’বার বরখাস্ত হলেন তিনি। সবশেষ স্পেন জাতীয় দল থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছিলো লোপেতেগিকে।

এদিকে, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, মৌসুম শুরুর পর সর্বোচ্চ চার ম্যাচ আর ১৫ দিনের বেশি অন্তবর্তী কোচের অধীনে খেলতে পারবে না কোনো দল। সেক্ষেত্রে, দু’সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কোচ চূড়ান্ত করতে হবে রিয়ালকে।

তাদের প্রথম পছন্দ অ্যান্টোনিও কন্টে হলেও এই ইতালিয়ানের সাবেক ক্লাব চেলসির সাথে কিছু চুক্তির কারণে এখনও বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে আছে দোটানায়।

কোন্তেই রিয়ালের নতুন কোচ!

মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে বার্সেলোনার কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হ‌ওয়ার পর মাদ্রিদে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, আজই ক্লাব ডিরেক্টরদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। দলের বর্তমান অবস্থা জানাবেন তিনি। আর হুলেন লোপেতেগির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়াই হচ্ছে এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য। বরখাস্ত করতে পারেন তাকে। আর আগামী সপ্তাহে প্রধান কোচের পদে দেখা যেতে পারে অ্যান্তোনি‌ও কোন্তেকে। চেলসির সাবেক কোচ অ্যান্তোনিও কোন্তেই হতে পারেন রিয়ালের পরবর্তী কোচ। আগামী সপ্তাহেই রিয়ালের দায়িত্ব নিতে পারেন কন্তে।

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান কোচ হুলেন লোপেতেগি

রিয়াল মাদ্রিদের দুর্দশা শুরু হয়েছিল মৌসুমের শুরু থেকেই। কোচ হুলেন লোপেতেগির হাত ধরে পথ চলা শুরুর পরপরই হোঁচট খেয়ে পড়েছিল ‘লা ব্লাঙ্কো’রা। আর কোমর সোজা করে আর দাঁড়াতেই পারেনি। মৌসুম শুরুর পর প্রায় দুই মাস পার হতে চললো। এখনই যেন লা লিগার দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে অনেক দুরে। শুধু তাই নয়, আগামী বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে পারবে কি না টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা, সেটাই পড়ে গেছে শঙ্কায়।

তবে কোন্তে দায়িত্ব নে‌ওয়ার আগে পর্যন্ত সান্তিয়াগো সোলারি অর্ন্তবর্তী কোচের পদে আসীন হতে পারেন। তাতে আগামী বুধবার কোপা ডেল রে’তে মেলিল্লার বিপক্ষে পরাজয়ে বিধ্বস্ত প্রায় রিয়াল মাদ্রিদকে সামলাতে দেখা যেতে পারে সোলারিকে।

সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকে রিয়ালকে হারাল বার্সা

লুইস সুয়ারেজের হ্যাটট্রিকে মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করলো বার্সেলোনা। কাতালারদের পক্ষে অন্য দুটি গোল করেন কুতিনহো এবং ভিদাল। আর রিয়ালের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মার্সেলো।

টান টান উত্তেজনা বারুদে ঠাসা এল ক্ল্যাসিকোকে একপেশে পরিণত করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে বিধস্ত করা দারুণ এক জয় পেলো বার্সেলোনা। সাথে উঠে এলা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও। আনন্দে তাই এমন বাঁধনহারা কাতালানরা।

ডান হাতের ইনজুরি মাঠেই নামতে দেয়নি আর্জেন্টাইন মহাতরকা লিওনেল মেসিকে। ছিলেন গ্যালারিতে। কিন্তু ন্যু ক্যাম্পে, কুতিনহো-সুয়ারেজরা যেনো হয়ে উঠলেন একএকজন মেসি। তাতে বার্সেলোনার মাঠে শেষ তিন ম্যাচে অপরাজেয় রিয়াল মাদ্রিদকে একেবারে উড়িয়েই দেয় তারা। গোলের শুরুটা খেলার ১১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান তারকা কুতিনহোর কল্যাণে।

এগিয়ে গিয়েও থামেনি বার্সেলোনার গোলক্ষুধা। সুয়ারেজকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের বিপদ সীমায় ভারানে ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৩০ মিনিটে স্পটকিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুয়ারেজ। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

বিরতি থেকে ফিরে গোল শোধের চেষ্টা করে হুলেন লোপেতেগির দল। ৫০ মিনিটে মার্সেলো ব্যবধান ২-১-এ নামিয়ে আনেন। গোলের দেখা পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে ওঠা রিয়াল বারবার হানা দেয় বার্সেলোনার সীমানায়। কিন্তু ৫৬ মিনিটে লুকা মর্ডিচের প্রচেষ্টা পোস্টে লাগায় আর সমতায় ফেরা হয়নি হুলেন লোপেতোগির দলের।

উল্টো ৭৫ ও ৮৩ মিনিটে আরো দুই গোল করে সুয়ারেজ হ্যাটট্রিক পুরণ করেন।

খেলার ৮৭ মিনিটে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ভিদাল। দারুণ এই জয়ে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো বার্সেলোনা।

সান্তনার জয় বাংলাদেশের মেয়েদের

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের বাছাই পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সান্তনার জয় পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ রোববার তাজিকিস্তানের মাঠে স্বাগতিকদের ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। এই জয়ে তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফেরার সান্তনা খুঁজে পাবে তহুরা-আঁখি-কৃষ্ণারা। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এরপর চাইনিজ চাইপের সঙ্গে ভালো খেলেও জয় পায়নি মিসরাত জাহান মৌসুমীর দল। ২-০ গোলে হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল তারা। স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি ছিল সান্তনা খুঁজে পাওয়ার লড়াই। সেই ম্যাচে ঠিকই জয় পেয়েছে তারা। দুশানবেতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের উপর আক্রমণ করে তাজিকদের লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল মৌসুমী-কৃষ্ণা-তহুরারা। ৬মিনিটেই লিড পায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে আরো দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা। ২৫ ও ৪১ মিনিটে আসে গোল দু’টি।

তবে প্রথমার্ধে একটি গোল পরিশোধ করেছিল তাজিকিস্তান। ম্যাচের ৬০ ও ৭৪ মিনিটে আরো দুই গোলের দেখা পায় লাল-সবুজরা। ৫-১ গোলে পিছিয়ে পড়া স্বাগতিক শিবির এরপর আর ম্যাচে ফেরার জন্য নয়। লড়াই করেছে নিজেদের জালে যেনো আর বল না প্রবেশ করে। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের বড় জয়ের সুখ স্মৃতি নিয়েই দেশে ফিরছে বাংলার মেয়েরা।

জিতেই চলেছে সালাহর লিভারপুল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জিতেই চলেছে লিভারপুল। আবার‌ও গোল মহম্মদ সালাহর। জোড়া গোল করলেন সাদিও মানে। অন্যটি জার্দান শাকিরি। ক্রিস্টাল প্যালেসের একমাত্র গোল করলেন ক্যালাম প্যাটারসন। শেষে লিভারপুল জয় পেলো ৪-১ ব্যবধােন। এই জয়ে তারা ইপিএল টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো। ১০ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২৬ পয়েন্ট।

অ্যানফিল্ডে শনিবার বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল লিভারপুলেরই। দশ মিনিটেই সালাহর সুযোগসন্ধানী গোলে ১-০ এগিয়ে যায়। ৬৬ মিনিটে ২-০ করেন মানে। কার্ডিফের বেশ কয়েকজনকে কাটিয়ে। খেলা শেষের ১৩ মিনিট আগে বিপক্ষ গোলে প্রথম বার ঠিকঠাক শট নেন কার্ডিফের প্যাটারসন। গোলও হয়। দশ মিনিটেই বল গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে তুলে ৩-১ করেন মানে। ৮৪ মিনিটে লিভারপুলের চতুর্থ গোলটি করেন জার্দান শাকিরি

বাংলাদেশে বিধ্বস্ত মালদ্বীপ

নিশাত জামান উচ্ছ্বাস ও রাসেল আহমেদের জোড়া হ্যাটট্রিকে মালদ্বীপকে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপ গ্রুপের দুই ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালও শেষ চারে উঠে গেলো।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে, খেলার শুরু থেকেই একচেটিয়ে প্রাধান্য ছিল বাংলাদেশের কিশোরদের। একের পর এক আক্রমণ করে খেলার প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পুরণ করেন উচ্ছ্বাস। তাতে প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। অন্য গোলটি করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান। দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করেন রাসেল আহমেদ। অন্য গোল দুটি করেন আশিকুর রহমান ও তৌহিদুল আলম হৃদয়।

আগামী সোমবার গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল। এ ম্যাচ ড্র করলেই ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে সেমিতে উঠবে বাংলাদেশ।

মৌসুমের প্রথম ‘এল ক্ল্যাসিকো’ কাল

প্রায় এক যুগ পর লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই আগামীকাল মাঠে গড়চ্ছে মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকো। বার্সেলোনার মাঠ ন্যু ক্যাম্পে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত সোয়া নয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। দুই মহাতারকার অনুপস্থিতিতেও জয়ের ব্যাপারে অবিচল দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট।

গত ১১ বছরে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচগুলো জমজমাট হয়েছে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথে। এতোদিন তাদের ছাড়া এল ক্ল্যাসিকো ভাবাই যায়নি। এবার হচ্ছে। ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না, বার্সার আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আর ক্লাব বদল করে জুভেন্টাসে চলে গেছেন রিয়ালের পর্তুগিজ তালিসমান রোনালদো। এই দুই মহাতারকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের প্রতিযোগিতা না থাকায় বছরের প্রথম এল ক্ল্যাসিকো হয়ে পড়েছে অনেকটাই ম্যাড়মেড়ে।

এদিকে, চাকরি বাঁচানোর লড়াইয় হয়ে উঠেছে রিয়াল কোচ হুলেন লোপেতোগির। রিয়ালের ম্যানেজার হিসেবে ছয়টিতে জয়, পাঁচটিতে পরাজয় আর দুই ম্যাচ ড্র করতে পেরেছেন লোপেতোগি। তাই চিরশক্র বার্সেলোনার বিরুদ্ধে খারাপ ফল তাকে সরিয়ে দেওয়ার চাপ আরো বাড়াবে।

আরো দুঃসংবাদ অপেক্ষা করেছে রিয়ালের জন্য, খেলতে পারছেন না, কাভাহাল। ইনজুরিতে আছেন লুকা মডরিচও।
এদিকে, লিওনেল মেসি ছাড়া ভালভার্দের দলের সবাই সুস্থই আছেন। রাকিটিচ, কুটিনহো আর সুয়ারেজের সঙ্গে আক্রমনে থাকছেন রাফিনহা। তাছাড়া লিগ টেবিলে নিজেদের শীর্ষস্থান সুসংহত করতে এই ম্যাচে জয়টা জরুরী কাতালানদের জন্য।

পাকিস্তানের সিরিজ জয়

দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১১ রানে হারিয়ে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ তে টি- টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করলো পাকিস্তান। দুবাইয়ে প্রথমে ব্যাট করে, বাবর আজমের ৪৫ আর মোহাম্মদ হাফিজের ৪০ রানে ভর করে ৬ উইকেট ১৪৭ রান তোলে পাকিস্তান।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে দুই অধিনায়ক

জবাবে, ৮ উইকেটে ১৩৬ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ম্যাক্সওয়েল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন। ৪ ওভারে ৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম। রোববার দুবাইয়ে, সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল।

প্রীতি ম্যাচের জন্য ব্রাজিল দল ঘোষণা

নভেম্বরে উরুগুয়ে ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেন ব্রাজিলের কোচ তিতে।ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন ন্যাপোলির মিডফিল্ডার অ্যালান। আর রাশিয়া বিশ্বকাপের পর দলে ফিরলেন পাওলিনহো। ২০১১ সালে ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন অ্যালান। পরের বছর ভাস্কো ডা গামা ছেড়ে যোগ দেন ইতালির ক্লাব উদিনেসে। ২০১৫ সালে এই মিডফিল্ডার নাম যোগ দেন ন্যাপোলিতে।

ব্রাজিলের কোচ তিতে

আর গত জুলাইয়ে ধারে বার্সেলোনা ছেড়ে চাইনিজ সুপার লিগের ক্লাব গুয়াংজু এভারগ্রান্দেতে ফিরে গিয়ে লিগে ১৫ ম্যাচে ১১ গোল করে জাতীয় দলে ডাক পেলেন পাওলিনহো। দলে ফিরেছেন ডিফেন্ডার মার্সেলো এবং দুই ফরোয়ার্ড উইলিয়ান ও ডগলাস কস্টা‌ও। সৌদি আরব ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সবশেষ দুই ম্যাচের দলে ছিলেন না তারা।

২৩ সদস্যের ব্রাজিল দল

গোলরক্ষক: অ্যালিসন (লিভারপুল), গাব্রিয়েল ব্রাজাও (ক্রুজেইরো), অ্যাডারসন (ম্যানচেস্টার সিটি)।

ডিফেন্ডার: দানিলো (ম্যানচেস্টার সিটি), দেদে (ক্রুজেইরো), ফ্যাবিনিয়ো (লিভারপুল), ফিলিপে লুইস (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মার্সেলো (রিয়াল মাদ্রিদ), মার্কিনিয়োস (পিএসজি), মিরান্দা (ইন্টার মিলান), পাবলো (বোর্দো)।

মিডফিল্ডার: অ্যালান (ন্যাপোলি), আর্থার (বার্সেলোনা), কাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ), পাওলিনহো (গুয়াংজু এভারগ্রান্দে), ফিলিপে কুতিনহো (বার্সেলোনা), ওয়ালেস (হানোভার)।

ফরোয়ার্ড: দগলাস কস্টা(জুভেন্টাস), গাব্রিয়েল জেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি), রবার্তো ফিরমিনো (লিভারপুল), নেইমার (পিএসজি), রিশার্লিসন (এভারটন), উইলিয়ান (চেলসি)।

অস্ট্রেলিয়াকে হারাল পাকিস্তান

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো পাকিস্তান। ১৫৬ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে পাকিস্তানের বোলিং তান্ডবে মাত্র ৮৯ রানে অলআউট হয় অসিরা।

বুধবার রাতে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফখর জামানকে হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটিতে দলের বিপর্যয় ঠেকান বাবর আজম। তার ৫৫ বলে অপরাজিত ৬৮ রানের দারুণ এক ইনিংসে, ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান।

জবাবে, ইমাদ ওয়াসিমের স্পিন আর আশরাফের পেস আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ২২ রানে ৬ উইকেট হারানো অজিরা ৮৯ রানে অলআউট হয়। ম্যাচ সেরা ইমাদ ওয়াসিম ২০ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট। শুক্রবার দুবাইয়ে হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

মেসি ছাড়াই বার্সার জয় পিএসজি’র ড্র

লিওনেল মেসিকে ছাড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয় পেয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ২-০ গোলে হারায় তারা ইন্টার মিলানকে। আর মোহাম্মদ সালাহর জোড়া গোলে রেডস্টার বেলগ্রেডকে ৪-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ইংলিশ দল লিভারপুল। এদিকে, নেইমার-এমবাপেও জেতাতে পারেননি প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে।

লিওনেল মেসি খেলছেন না, সেটা জানাই ছিল। তাতে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি কাতালানদের। নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে, বার্সেলোনার কাছে হেরেছে ইন্টার মিলান। তবে গোল পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে ৩২ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় সুয়ারেজের ক্রসে বার্সাকে এগিয়ে দেন, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা।

দ্বিতীয়ার্ধে ইটালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান গোল শোধের চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। উল্টো ৮৩ মিনিটে জর্ডি আলবার কল্যাণে ২-০ গোলের জয় পায় কাতালানরা। এতে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখলো বার্সেলোনা।

নিজেদের মাঠ এনফিল্ডে ইংলিশ দল লিভারপুল কোনো পাত্তাই দেয়নি, সার্বিয়ার রেডস্টার বেলগ্রেডকে। মোহাম্মদ সালাহর জোড়া গোলের সঙ্গে রাবার্টো ফিরমিনো এবং সাদিও মানে গোল উৎসবে যোগ দিলে রেডস্টারকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়, ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। এতে তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে এখন লিভারপুল।

অন্য মাচে, নেইমার, এডিনসন কাভানি, কিলিয়েন এমবাপে কিংবা ডি মারিয়াদের নিয়েও জিততে পারেনি প্যারিস সেন্ট জার্মেই। নিজেদের মাঠ ফিলিপস স্টেডিয়ামে তারা ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ইটালির ন্যাপোলির সঙ্গে।
তাতে, ‘সি’ গ্রুপে তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ন্যাপোলি দ্বিতীয় এবং সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পিএসজি আছে তৃতীয় স্থানে।

‘এ’ গ্রুপের, জার্মান জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ৪-০ ব্যবধানে স্পেনের অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে।

রোনালদো-পগবা প্রতিপক্ষ পরস্পরের

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রাতে মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং জুভেন্টাস। আরেক ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ খেলবে ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের বিপক্ষে। দুটি খেলাই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত একটায়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সব চোখ থাকছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হওয়ার পথে রোনালদোর বেড়ে উঠা এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই।

পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ঠিক তেমনভাবেই তৈরি হচ্ছেন পল পগবা তার পুরনো ক্লাবের সঙ্গে দ্বৈরথে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম জুভেন্টাস। আজ রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ। এক দিকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সিআর সেভেনের প্রত্যাবর্তন। অন্যদিকে জুভদের বিপক্ষে ম্যানইউ’র হয়ে পগবা।

নয় বছর আগে ম্যানইউ ছেড়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু এখনও তাকে নিয়ে একই রকম আবেগপ্রবণ রেড ডেভিল সমর্থকরা। সোমবার ম্যানচেস্টারে পৌঁছানোর পরে কেউ তার সঙ্গে ছবি তোল, কেউ অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। রোনালদো নিজেও ভাসেন আবেগে। তবে দায়িত্বের কথাও ভোলেননি পতুগিজ মহাতারকা, `ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তাদেরই ঘরের মাঠে খেলব আমরা। লড়াই কঠিন হলেও আমাদের অস্ত্র তৈরি। কারণ, আমরা জুভ…।’

আর নিজের পুরনো ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে আছেন রেড ডেভিল তারকা পল পগবা‌ও। তবে শেষ ছয় ম্যাচে হোসে মরিনহোর দলের জয় মাত্র একটিতে। আরেক ম্যাচে চেক ক্লাব ভিক্টোরিয়ার প্লাজেনের প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ স্বস্তিতে নেই। সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন হুলেন লোপেতেগির দল। ম্যাচের আগে তাই চাকরি হারানোর শঙ্কায় রিয়াল কোচ।

নতুন জীবনের অপেক্ষায় সানিয়া মির্জা

সময় খুবই কাছে চলে এসেছে-নতুন জীবনের অপেক্ষায় আছেন ভারতীয় টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জা। খুব শীগগিরই সানিয়া মির্জা-শোয়েব মালিক দম্পতির ঘর আলো করে নতুন অতিথি আসবেন। এখন চলছে তারই প্রস্তুতি।

সম্প্রতি সানিয়ার বেবি শাওয়ার বা সাধের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ৷ এই মুহূর্তে হায়দরাবাদে বাপের বাড়িতেই আছেন তিনি ৷ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেখানে হাজির ছিলেন পাকিস্তানী ক্রিকেটার শোয়েব মালিকও ৷

রাজস্থানি থালির আয়োজন করা হয়েছিল এই খেলোয়ার দম্পতির জন্য ৷ সানিয়া-শোয়েবের বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে ৷ এই অনুষ্ঠানেই একটি হলুদ রংয়ের লং ড্রেস পরেছিলেন সানিয়া ৷ টেনিস সুন্দরীর এই ড্রেস নিয়েই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা ৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়রা বেশিরভাগই তাঁর এই পোশাকটি পছন্দ করেননি ৷

কেউ বলেছেন, সনিয়ার ড্রেসিং সেন্স জঘন্য ৷ কেউ বলেছেন, তাঁকে অত্যন্ত মোটা লাগছে ৷ কেউ বলেছেন, এই স্থূল শরীরে এই পোশাক মানাচ্ছে না ৷ তবে সানিয়া এখন তাঁর প্রেগন্যান্সির একেবারে শেষ পর্যায়ে ৷ তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই অনেকটাই ওজন বেড়ে গিয়েছে তাঁর ৷ পাশাপাশি পোশাক পরার রুচিও প্রতিটা মানুষেরই আলাদা আলাদা ৷ তবে বেশিভাগ সময়েই সোস্যাল মিডিয়ার বেশিরভাগকে দেখা যায় নিজেদের রুচি ও পছন্দ দিয়ে অন্যকে বিচার করতে।

পাঁচ বছর নিষিদ্ধ জয়াসুরিয়া!

শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক ‌ও বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য সনাথ জয়াসুরিয়া পাঁচ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছেন! আইসিসি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে জয়াসুরিয়ার উপর শাস্তির এই বিধান যেকোনও দিন নেমে আসতে পারে। তাই যদি হয়, তা হলে পাঁচ বছর ক্রিকেট থেকে সরে থাকতে হবে তাঁকে। ক্রিকেট দুনিয়ার কোনও মাঠে ঢুকতে পারবেন না। তাছাড়া ক্রিকেটের সঙ্গে কোনওভাবে নিজেকে জড়িয়েও রাখতে পারবেন না জয়াসুরিয়া।

জয়াসুরিয়াকে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব তাই উত্তাল। সন্দেহের মাত্রা বাড়ছে তাঁর বিষয়ে। অভিযোগ আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার র্কমর্কতাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেননি তিনি। আইসিসি জানিয়েছিল, তাঁর মোবাইল, ল্যাপটপ জমা দিতে। জয়াসুরিয়া সেটা দেননি। আইসিসি তাই কঠোর হতে চলেছে তার ব্যাপারে।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী জয়াসুরিয়া ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ ধারায় পড়েছেন। এই ধারায় তখন-ই ক্রিকেটারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যখন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার আইসিসি-র দুর্নীতিদমন শাখার সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়। কিংবা যাবতীয় নথি দাখিল করার নির্দেশ অমান্য করেন। তখন সেই ক্রিকেটারকে নিয়মে বেঁধে ফেলে শাস্তির ব্যবস্থা করে আইসিসি। জয়াসুরিয়া দু’টো ধারাতেই পড়ছেন। তাই আইসিসি যদি শাস্তি দিতে চায় তাহলে পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে নির্বাসনে যেতে হবে। আইসিসি-র এক কর্তা বলছিলেন, ‘২.৪.৬ ধারায় (প্রমাণ করতে সহযোগিতা না করা) যদি জয়াসুরিয়া পড়েন, তাহলে তাকে কম করে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হবে। না হলে বড় শাস্তি। সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের। আবার ২.৪.৭ ধারায় যদি পড়েন (প্রামাণ্য নথি নষ্ট করা) তাহলে তাঁকে পাঁচ বছর সাসপেন্ড করা হবে। সেই সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও। এখন দেখতে অপেক্ষা কোন ধারায় পড়তে চলেছেন জয়াসুরিয়া।’

অবশ্য মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে জয়াসুরিয়া বলেছেন, ক্রিকেট জীবনে কোনদিন দূর্নীতির সঙ্গে আপস করেননি। এ সব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তাই তাঁর নামে যা রটানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। একদিন না একদিন তা প্রকাশ্যে আসবে। তখন সবাই জানতে পারবেন, তাঁকে নিয়ে বিতর্ক ভিত্তিহীন ছাড়া কিছু নয়।

মেসির সঙ্গে না: লুকা মর্ডিচ

সময়ের সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির সঙ্গে কখনও খেলবেন না বলে জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রোয়েশিয়ার তারকা খেলোয়াড় লুকা মর্ডিচ।

রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বল’ জয়ী ক্রোয়েশিয়ার এই তারকা এক সাক্ষাৎকারে একথা জানান। বন্ধু ক্রিস্টিযানো রোনালদো সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করলেও মেসির সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানান মড্রিচ। চলতি বছর ফিফা ও উয়েফা’র বর্ষসেরার পুরষ্কার জেতেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সতীর্থ রোনালদোকে টপকেই মড্রিচ এই পুরস্কার দুটি জেতেন।

এক সাক্ষাৎকারে মড্রিচ বলেন, আমি ওর (মেসির) বিরুদ্ধে খেলি, ওর সঙ্গে নয়। হ্যাঁ মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে আমি ওর সঙ্গে কোনোদিন খেলবো না।

এসি মিলানে গেলেন প্যাকুয়েতা

বার্সেলোনা কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ নয়, এমনকি স্পেনেও গেলেন না ব্রাজিলিয়ান উঠতি তারকা লুকাস প্যাকুয়েতা। সেলেসাওদের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এসি মিলানে যোগ দেবেন। তবে এখনই নয়, তিনি যোগ দেবেন জানুয়ারিতে। একথা নিশ্চিত করেছে প্যাকুয়েতার দল ফ্লেমিঙ্গো।

জার্মানির দু:সময় কাটছেই না

জার্মানির দু:সময়টাকে আরো বাড়িয়ে দিলেন ফ্রান্সের আঁতোয়ান গ্রিজমান। তার জোড়া গোলেই উয়েফা নেশনস লিগে জোয়াকিম লোর দলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগের সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর গতকাল রাতে নেশনস লিগে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও ফ্রান্সের সঙ্গে জিততে পারেনি জার্মানি।

২০১৮ সালে এ নিয়ে ছয় ম্যাচ হারল জার্মানি। তাতে রেকর্ড বইয়ে লেখা হয়েছে জার্মানির লজ্জার এক অধ্যায়। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যে এক পঞ্জিকাবর্ষে ছয় ম্যাচ হারল জার্মানরা। এমনকি গত ১৮ বছরে এই প্রথম তারা টানা দুই ম্যাচে হার সঙ্গী করল।
স্টাডে ডি ফ্রান্সে, ম্যাচের ১৪ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। লেরয় সানের কাটব্যাক ডি বক্সের ভেতর ফরাসি ডিফেন্ডার প্রেস্নেল কিম্পেম্বের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে হুগো লরিসকে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা টনি ক্রুস। জার্মানি তখন এ বছর দ্বিতীয় জয়ের স্বপ্নই দেখছিল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬২ মিনিটে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান গ্রিজমান। লুকাস হার্নান্দেজের ক্রসে ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড গ্রিজম্যান।

৮০ মিনিটে জয়সূচক গোলটাও পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডিফেন্ডার ম্যাট হামেলস ডি বক্সের ভেতর ফ্রান্সের ব্লেইস মাতুইদিকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটা করেন গ্রিজমান।

এই জয়ে নেশনস লিগে নিজেদের অপরাজেয়র ধারাটা ধরে রাখল দিদিয়ের দেশমের দল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-১ এর শীর্ষে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে নেদারল্যান্ডস। ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে জার্মানি।

ব্রাজিলের কাছে হার আর্জেন্টিনার

লি‌ওনেল মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে মাত্র এক গোলে হেরেছে। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের এই ‘সুপার ক্ল্যাসিকো’টি হয় সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে। নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগিয়ে চলা এই ম্যাচের খেলা শেষের ইনজুরি টাইমে ডিফেন্ডার মিরান্ডার গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ব্রাজিল।

আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি না খেললে‌ও ব্রাজিলের হয়ে ঠিকই এই প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার নেইমার। যোগ করা সময়ে নেইমারের নেয়া কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে ব্রাজিলকে জয় পাইয়ে দেন মিরান্ডা। অবশ্য এর আগে সৌদি আরব সফরে প্রথম ম্যাচে জিতেছে দুই দলই। ইরাকের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আর স্বাগতিক সৌদি আরবকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরাই। দুই দলের মুখোমুখি ১০৮ লড়াইয়ে ৪৪টি জয়ের বিপরীতে ৩৯টিতে হেরেছে তারা।

অমীমাংসিত থেকেছে ২৫টি ম্যাচ। এ জয়ের ফলে ব্রাজিলের ৪৫ জয়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সংখ্যা হলো ৩৯। এদিন ব্রাজিলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন নেইমার।

বিশ্বকাপে রাশিয়ার রেকর্ড আয়

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করে রেকর্ড পরিমান অর্থ আয় করেছে রাশিয়া। এতটা আয় হতে পারে সেটা আয়োজকরা যেমন আন্দাজ করতে পারেননি, তেমনি সেই দেশের কর্তাব্যক্তিরাও ভাবতে পারেননি। একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় হতে পারে! এই বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করে রাশিয়ার এতো পরিমান অর্থ আয় হয়েছে যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কোনও চিন্তাই আর থাকলো না।

২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজন করে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশী অর্থ উপার্জন হয়েছে রাশিয়ার। মঙ্গলবার দোহায় টুর্নামেন্টের আয়োজক সংস্থা রাশিয়ার এই বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জনের কথা জানিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সে দেশের নিজস্ব পণ্য থেকে অর্জিত গড় আয়ের এক শতাংশেরও বেশি। মাত্র একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে এই পরিমাণ লাভের মুখ দেখা সত্যিই অবাক করা কাণ্ড বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী এ্যালেক্সি সরকিন বলছিলেন, ‘রাশিয়ার আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে বিশ্বকাপ। খেলাটা মাঠে হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তার প্রভাব মাঠের বাইরেও দেখা দিয়েছে সমানভাবে। বিশ্বকাপ আয়োজনের ফলে সে দেশের পর্যটন শিল্পেও ব্যাপক মুনাফা হয়েছে।’ ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারে একটি ফুটবল কনফারেন্সে সরকিন আরও বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান ও রিপোর্ট আমাদের কাছেও বিষ্ময়কর। তবে এটা একদিকে ফুটবলের জন্য ভাল বিজ্ঞাপন। ফুটবল মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে। এটাই তার প্রমাণ।’

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই টুর্নামেন্ট রাশিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজারের মতো। যার প্রভাব এখনও সেখানকার অর্থনীতিতে পড়ছে। অন্তত আগামী ৫ বছর পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের আগে ফুটবল দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল রাশিয়ায়। কিন্তু টুর্নামেন্ট চলাকালে তেমন একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জয়াসুরিয়ার দুর্নীতি!

শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান সনৎ জয়াসুরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দমন আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে এনেছে আইসিসি। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর শ্রীলঙ্কার দল নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন জয়াসুরিয়া। নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করেন তিনি।

জয়াসুরিয়ার বিরুদ্ধে আর্টিকল ২.৪.৬ ও আর্টিকল ২.৪.৭ ধারায় অভিয়োগ আনা হয়েছে। আর্টিকল ২.৪.৬ ধারায় অভিয়োগ আনা হয় আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার কোন তদন্তের কাজে যথাযথ কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যার্থ হওয়া বা অস্বীকার করার জন্য়। সাধারণত দুর্নীতি দমন শাখার চাওয়া কোনও তথ্য বা নথি দিতে না পারলেই এই ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আর আর্টিকল ২.৪.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয় তদন্তের কাজে বাধা দিলে বা তদন্তকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করলে। এর আগে দেখা গিয়েছে তদন্তের প্রয়োজনীয় নথি নষ্ট করা, যা প্রমাণ হতে পারত, অথবা কোনও প্রমাণের সন্ধান দিতে পারত, তার জন্য এই ধারায় অভিযোগ আনা হয়। জয়সুরিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ অক্টোবর থেকে দু সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

৩১ বছর পর ইংল্যান্ডের স্পেন জয়

স্পেনের কাছে গত মাসে ঘরের মাঠে হারতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এবার তাদেরই মাঠে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। সেভিয়ায় সোমবার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। গত মাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লুইস এনরিকের দলের কাছে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর তিন ম্যাচের সবকটিতে জেতা স্পেন পঞ্চম মিনিটেই গোল পেতে পারতো। কর্নারে মার্কোস আলোনসোর হেড গোললাইন থেকে জর্ডান পিকফোর্ড কোনোমতে ফেরালে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর পাল্টে যেতে থাকে ম্যাচের চিত্র। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্টরা। দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে খেলার ১৬ মিনিটে এগিয়ে যায় অতিথিরা। আক্রমণ রুখে পিকফোর্ড বল বাড়ান হ্যারি কেইনকে। তার কাছ থেকে বল পেয়ে মার্কাস রাশফোর্ড দ্রুত পাস দেন রাহিম স্টার্লিংকে। ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার রাহিম। ২৭ ম্যাচ পর জাতীয় দলের হয়ে আবারও গোল করলেন স্টার্লিং।

শুরু থেকে লম্বা পাসে খেলা ইংলিশদের ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটিও আসে পাল্টা-আক্রমণে। ২৯ মিনিটে পিকফোর্ডের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে কেইন বাড়ান র‌্যাশফার্ডকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন।

দুই গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই তৃতীয়বার নিজেদের জাল থেকে বল কুড়িয়ে আনতে হয় স্বাগতিকদের। ৩৮ মিনিটের গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাশিয়া বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইনের। ডান দিক থেকে তার গোলমুখে বাড়ানো বল টোকা দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন স্টার্লিং। দেশের পক্ষে এটা তার চতুর্থ গোল।

৫৮ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরার আভাস দেয় স্পেন। রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার মার্কো আসেনসিওর কর্নারে দারুণ হেডে গোলটি করেন আগের মিনিটেই বদলি নামা পাকো আলকাসের।

নাটকীয়তার তখনও ঢের বাকি। সাত মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আসেনসিওর হেড ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে ফেরে। পরের মিনিটে রিয়াল মিডফিল্ডার দানি সেবাইয়োসের ক্রসে হেড করে ব্যবধান আরও কমান সের্হিও রামোস। কিন্তু এরপর আর কোনো সময়ই ছিল না বল মাঠে গড়ানোর।

১৫ বছর পর ঘরের মাঠে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারলো স্পেন। ২০০৩ সালে গ্রিসের কাছে হারের পর ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। আর ৩১ বছর পর স্পেনের মাঠে প্রথম জয়ের দেখা পেল ইংল্যান্ড।

তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের গ্রুপ-৪ এ শীর্ষে আছে স্পেন। আর সমান ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। দুই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার পয়েন্ট ১।

ইটালির কষ্টার্জিত জয়

জয়টা প্রাপ্যই ছিলো ইটালির। বারবার পোল্যান্ডের রক্ষণভাগ তছনছ করে দেয় রাবার্টো ম্যানচিনির শিষ্যরা। কিন্তু গোল পা‌ওয়া হচ্ছিলো না। অবশেষে শেষ বাঁশি বাজার ৩০ সেকেন্ড আগে ক্রিস্টিয়ানো বিরগাহির গোলে জয় নিশ্চিত হয় ইটালিয়ানদের। এই জয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করলো আজ্জুরিরা।

পোল্যান্ডের স্লাস্কি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিলো ইতালির হাতে। ৭০ ভাগ বল দখলে রেখে গোটা ম্যাচে অন্তত ১৮ বার পোলিশদের রক্ষণদূর্গে হানা দেয় তারা। কিন্তু গোলরক্ষক ওইচেহ স্ট্যাজনির দৃঢ়তায় বারবার রক্ষা পেয়েছে স্বাগতিকরা। অবশেষে খেলার ৯২ মিনিটে বিরগাহি জয়সূচক গোলটি করেন।

এরআগে, ইউক্রেনের সঙ্গে ১-১ ড্র করা দলটিকেই মাঠে নামান ইটালির কোচ রবার্টো ম্যানচিনি। তবে পোল্যান্ডের কোচ জার্জি ব্রেজচেক, পর্তুগালের সঙ্গে খেলা ম্যাচের পাঁচটি পরিবর্তন করে দল সাজান।গত সেপ্টেম্বরে শেষ মোকাবেলায় ১-১ গোলে ড্র করেছিল ইটালি ও পোল্যান্ড।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণ আজ

আরো একবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। প্রীতি ম্যাচে সোমবার রাত ১২টায় একে অন্যের বিপক্ষে লড়বে দু’দল। সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ম্যাচের আগে এ তুমুল উত্তেজনা। প্রীতি ম্যাচ নিয়ে এতো আলোচনা, আবেগ, উত্তেজনা খুব কমই হয়। আর এর কারণ হলো দুই দল যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ দুই দলের ম্যাচ যে কখনোই প্রীতি ম্যাচ হয় না তা মনে করিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার মাউরো ইকার্দি।

‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মধ্যে কখনো প্রীতি ম্যাচ হয় না। এই ম্যাচ ঘিরে থাকে অনেক আবেগ। শেষ সফরে আমরা কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলেছি, ওরাও দুর্দান্ত দল। কিন্তু ব্রাজিল অন্য কিছু, তাদের বিপক্ষে খেলা মানে আরও বেশি কিছু। এ কারণে ওদের বিপক্ষে মাঠে কখনোই প্রীতি ম্যাচ হয় না। আর এটা কখনো হবেও না।’ – ব্রাজিলের বিপক্ষের ম্যাচ নিয়ে এমনটাই বলেছেন ইকার্দি।

দুদিন আগেই ইরাকের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আগের দিন সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় প্রতিপক্ষ ব্রাজিলও। নিজেদের শেষ ম্যাচে তুলনামূলক বড় জয় পেলেও এ ম্যাচে আর্জেন্টিনা নিজেদের ফেভারিট ভাবতে পারছে না। তেমন গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি দলটি। তার কারণটা অবশ্য তুলে ধরেছেন ইকার্দি, ‘আমরা অনেক নতুন খেলোয়াড় নিয়ে নতুন একটা প্রকল্প অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। অনেকেই প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি পড়েছে। সবাই মিলে ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করছি, একটা ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছি। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়া বিশ্বকাপে হোর্হে সাম্পাওলির দলে ছিলেন না ইকার্দি। বিশ্বকাপ শেষে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ লিওনেল স্কোলানির দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। খেলছেনও দারুণ। সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে বললেন, ‘আমি খুব ভালো আছি। বর্তমানে ভালো ছন্দে আছি। দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছি। যেটা আগের বার ডাক পাওয়ার সময় হয়নি।’

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এ নিয়ে ১০৪ বার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।তাতে ৪০টি ম্যাচ জিতেছে ব্রাজিল। অপরদিকে আর্জেন্টিনায় জয় ৩৮টি ম্যাচে। তবে সবশেষ মোকাবেলায় অবশ্য জিতেছিল আর্জেন্টিনাই। সাম্পাওলির অভিষেক ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ১-০ গোলের ব্যবধানে।

ফখর জামানের প্রেমে জারিন খান!

পাকিস্তানের ক্রিকেটার ফখর জামানের সঙ্গে প্রেম করছেন জারিন খান! এই কৌতূহলে মাতোয়ারা হয়ে আছে সোশাল মিডিয়া। প্রত্যেকেই জানতে চাইছিলেন, পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী সম্পর্কে জড়ালেন কিনা। অবশেষে সে নিয়ে মুখ খুললেন জারিন। সবকিছু বাতাসে উড়িয়ে দিলেন তিনি।

ক্রিকেট আর বিনোদন-দুনিয়ার তারকাদের প্রেম-সম্পর্ক নতুন ঘটনা হয়। পতৌদি-শর্মিলা ঠাকুর থেকে শুরু করে হালের বিরাট-আনুষ্কা, এসব জুটিই তার প্রমাণ। আবার পাক ক্রিকেটার শোয়েব মালিককে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। এবার কি তবে একই পথে এগোচ্ছেন জারিন খান? একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত খবরের পরই এ নিয়েই শুরু হয়ে যায় চর্চা।

এরপরই জারিনের অনুরাগীরা জানতে চান, সীমান্তের ওপারেই কি নিজের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছেন তিনি? শেষমেশ টুইট করে ভক্তদের কৌতূহল মেটান বীর ছবির নায়িকা। এক ফ্যানের প্রশ্নের উত্তরে লেখেন, এ খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে ফখরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে এই প্রথমবার নয়। এর আগেও পাক ক্রিকেটারের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে জারিনের। গত বছর শোনা গিয়েছিল, প্রাক্তন পাক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদির সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন তার। এমনকী বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছে। দুজনকে একাধিকবার একসঙ্গে দেখাও গিয়েছিল। সেবারও সমস্ত খবরকে গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন জারিন। জানিয়েছিলেন, আফ্রিদি একজন ভদ্রলোক এবং বিবাহিত। তাই এ ধরনের ভুঁয়ো খবর যেন না প্রকাশ করা হয়। এবারও একই কথা বললেন জারিন খান।

নেদারল্যান্ডসে বিধ্বস্ত জার্মানি

জার্মানিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগে প্রথম জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। আর্মস্টারডামের জোহান ক্রুয়েফ স্টেডিয়ামে গোলের শুরুটা করেন অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডিক। তারপর মেমফিস ডিপে আর জর্জিনিয়ো উইজানডাল আরো দুই গোল করলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডাচরা। এতে ১৬ বছর পর জার্মানিদের বিপক্ষে জয় পেলো নেদারল্যান্ডস। আর দুই ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারা ‘ডাই ম্যানশাফট’রা গ্রুপের তলানীতে অবস্থান করছে এখন।

চলতি বছরটা যেনো দুর্গতিই ছাড়ছেনা জার্মানিকে। ২০১৮ সালে ৯ ম্যাচে জিতেছে মাত্র তিনটিতে। আগের আট ম্যাচের চারটিতেই গোলশূন্য ছিলো তারা। তাছাড়া প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস হ‌ওয়ায় জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা জয়ই আশা করছিলেন। কিন্তু উল্টো খেলার ৩০ মিনিটে অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডিক লিড এনে দেন স্বাগতিক ডাচদের। বাবেলে গোল প্রচেষ্টা ক্রসপিসে লেগে ফিরে আসলে, ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন, ভ্যান ডিক।

এরপর দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ‌ওঠে খেলা। হলে কি হবে জার্মানি গোল শোধ করতে পারেনি। অবশেষে ৮৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেদারল্যান্ডস। প্রোমেসের পাসে, জার্মান গোলকিপার ন্যুয়ারকে পরাস্ত করে মেমফিস ডিপে ২-০ গোলের লিড এনে দেন ডাচদের।

এখানেই থেমে থাকেননি রোনাল্ড কোয়েম্যানের শিষ্যরা। খেলার শেষের যোগ করা সময়ে জর্জিনিয়ো উইজানডাল দারুণ এক গোলে নেদারল্যান্ডসের ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন। আর কমলা রঙে রঙিন গ্যালারি আনন্দে আরো বর্ণিল হয়ে ‌ওঠে।

ব্রাজিল আক্রমনে দিবালা-ইকার্দি!

ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আক্রমনভাগের নেতৃত্ব দেবেন জুভেন্টাসের স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা আর ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড মাউরো ইকার্দি। এমনই গুজব ছড়িয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। আগামী মঙ্গলবার সৌদি আরবে লিওনেল স্কালোনির দল আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের। তার আগে সংবাদ মাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচার হয়।

দিবালা আর ইকার্দিকে সহায়তা করবেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। দলের নেতৃত্ব থাকছে গোলকিপার সার্জিও রোমেরোর কাছেই। তবে ইরাকের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় পাওয়া দলে কিছুটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সৌদি আরবকে ২-০ গোলে হারাল ব্রাজিল

আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সৌদি আরবকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে খেলার উভয়ার্ধে একটি করে গোল করে সেলেসাওরা।

খেলায় নেইমার গোল করতে না পারলেও দুটি গোলই এসেছে তার সহায়তায়। খেলার ৪৩ মিনিটে নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে সৌদিরা। ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের একটি আক্রমন ঠেকাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্বাগতিকদের গোলকিপার। তাতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সেই সুযোগে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে অ্যালেক্স সান্দ্রো নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে সেলেসাওদের ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন।

নারী টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং প্রকাশ

নারীদের ওয়ানডে ক্রিকেটে আগেই র‌্যাংকিং চালু ছিলো। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট র‌্যাংকিং ছিল না। তবে নারীদের টি-টোয়েন্টিতেও র‌্যাংকিং চালু করার ব্যাপারে ভাবছিল আইসিসি। অবশেষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেই র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। ৪৬ দলের এই র‌্যাংকিং তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে তিনবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা অস্ট্রেলিয়া। আর বাংলাদেশের অবস্থান নবম স্থানে।

গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ থেকেই আইসিসি সদস্য দেশগুলোর সব টি-টোয়েন্টি ম্যাচই পাচ্ছে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মর্যাদা। আইসিসির বিশ্বাস, নতুন এই র‌্যাংকিং সিস্টেম নারী ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়িয়ে দেবে। এক বিবৃতিতে সংস্থার প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বলেন, ‘নতুন এই র‌্যাংকিং পদ্ধতি নারীদের ক্রিকেটে একটা বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করবে, সেইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাড়বে। এখন সব দলই নিজেদের অবস্থান জেনে যেতে পারবে এবং নিজেদের খেলার উন্নতির দিকে আরও মনোযোগী হবে। এটা ক্রিকেটের প্রসারেও ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। আমি সব দলকে শুভকামনা জানাচ্ছি।’

র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার রেটিং পয়েন্ট ২৮০। ২৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড, তিনে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং পয়েন্ট ২৭০। ১৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে নবম স্থানে। টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়েও বাংলাদেশের অবস্থান নবম, সেখানেও শীর্ষস্থানে আছে অসি নারীরাই।

৬৮২ পয়েন্ট নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটস। বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে সবার উপরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মেগান শাট। বাংলাদেশের রুমানা আহমেদ সপ্তম ও নাহিদা আক্তার নবম স্থানে আছেন। অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়েও আছেন বাংলাদেশের দু’জন- অষ্টম স্থানে রুমানা ও নবমস্থানে সালমা খাতুন। অলরাউন্ডারদের তালিকায় সবার ওপরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফাইনাল মানেই টান টান উত্তেজনা। রোমাঞ্চ আর ব্যক্তিগত ‌ও দলগত ক্রীড়াশৈলির মনরোম এক প্রদর্শনী। একপেশে খেলা হলে কারই বা ভালো লাগে। উত্তেজনাকর ফাইনালের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ফিলিস্তিন। ১২০ মিনিট গোল পায়নি কোন দলই। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলের জয় পায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। ম্যাচের নায়ক ফিলিস্তিনির গোলরক্ষক রামি হামাদা। টাইব্রেকারে তাজিকিস্তানের দুই ফুটবলার তাবরেজি ও কমরনের শট প্রতিহত করে দলকে শিরোপা স্বাদ পাইয়ে দেন এই গোলরক্ষক।

দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটা তৃতীয় শিরোপা। এরআগে, এএফসি চ্যালেঞ্জ ও দেশের মাটিতে একটি ট্রফি জয় করেছিল তারা। ফাইনাল শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, বাফুফে’র সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বাদল রায়, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুটবলের উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশীপের প্রাক বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন মহিলা দল ও ভুটানে সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশীপে অপরাজিত চ্যাস্পিয়ন হওয়া তহুরা-মার্জিয়াদের অভিনন্দন জানান।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিরোপা যুদ্ধে ময়দানে নামে উভয় দল। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই এদিন ফাইনালের স্বাক্ষী হতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন হাজার পনের দর্শক। শুরু থেকেই আক্রমন-প্রতি আক্রমনে জমে উঠে ম্যাচ। কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোন দলই। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে তাজিকিস্তানের অধিনায়ক ফাতখুলয়েভ ফাতখুলু লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে জমে উঠে ম্যাচ। ফিলিস্তিনের মিডফিন্ডারের সামিহ মারাবা সঙ্গে বল দখলের সময় পড়ে গিয়ে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন তাজিক অধিনায়ক। এ সময় উভয় দলের ফুটবলাররা হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। তিন মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর রেফারী মিজানুর রহমান লাল কার্ড দেখান তাজিক কাপ্তানকে। দশ জনের দলে পরিনত হলেও ম্যাচের বাকী সময় নিজেদের জালে বল প্রবেশ করতে দেয়নি তারা। ফিলিস্তিনের জালেও বল পাঠাতে পারেনি তারা। তবে এ সময়টাতে প্রতিপক্ষের উপর বেশ চাপ প্রয়োগ করে খেলে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নেমেই দশ জনের তাজিকদের উপর কিছুটা চড়াও হয়েছিল ফিলিস্তিনির ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে তারা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাঁটল ধরাতে পারেনি। ৫৮ মিনিটে তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রুস্তমকে একা পেয়েও গোল আদায়ে ব্যর্থ হন ফিলিস্তিন ফরোয়ার্ড জাহাঙ্গীর। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে গোল হজম করতে বসেছিল র‌্যাংকিংয়ের একশ তম স্থানে থাকা ফিলিস্তিন। কপালটা বেশ সুপ্রসন্ন তাদের। তাজিক ডিফেন্ডার নাজারুভ আখতামের নেয়া শটটি ক্রসবারের কোনায় লেগে ফিরে আসলে বেঁচে যায় তারা। ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তেও গোল খেতে খেতে বেঁচে যায় ফিলিস্তিন। এবার অবশ্য ভুলটি ছিল তাজিকিস্তানের ফরোয়ার্ড বজোরুভের। ডানপ্রান্ত দিয়ে ডিফেন্ডার আব্দুগাফারভের আড়াআড়ি শটে ছোট বক্সের ভেতরে দাঁড়ানো এ ডিফেন্ডার বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। অবশেষে গোল শূণ্যভাবেই শেষ হয় ৯০ মিনিট।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৬ মিনিটেই তাজিকদের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির মিডফিল্ডার পাবলো ব্রাভো। তার নেয়া দূরপাল্লার জোড়ালো শটে তাজিক গোলরক্ষক রুস্তম পরাস্ত হলেও বল সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। দশ জনের দল নিয়ে লড়াই করা তাজিকরা এ সময়টা বেশ রক্ষনাতœক হয়ে খেলতে থাকে। তাদের লক্ষ্যই ছিল পেনাল্টি শুট আউট। তাদের সে লক্ষ্যটা পূরণ হয়েছে। তবে ম্যাচের শেষ মিনিটে তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রুস্তমকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে গোলরক্ষক বেহরুজকে মাঠে নামান কোচ। কিন্তু পেনাল্টি শুট আউটে কোন ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি এ গোলরক্ষক। উল্টো ফিলিস্তিনের গোলরক্ষক রামি হামাদা প্রতিপক্ষের দুই ফুটবলারের শুট ফিরিয়ে দিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতিয়ে তোলেন দলকে।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের ড্র স্পেনের জয়

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়ে রীতিমত হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল আইসল্যান্ড। ইউরোপিয়ান ফুটবলে তাদের উত্থানটা যে হঠাৎ করেই নয় এবার সেটির নমুনা পেল ফ্রান্সও। বৃহস্পতিবার রাতে শেষ সময়ের পেনাল্টি গোলে হার এড়ায় ফ্রান্স। ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছে তারা আইসল্যান্ডের সঙ্গে। অবশ্য ফ্রান্সের হোঁচটের রাতে বড় জয় পেয়েছে পর্তুগাল ও স্পেন।

আইসল্যান্ডের মাঠে ৩০ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। শুরুর দাপট অবশ্য ছিল অতিথিদেরই। কিন্তু বিরকির বিয়ারনাসনের গোলের পরই তাল হারায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

শক্তিশালী প্রতিপক্ষের এলোমেলো খেলার সুযোগে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আইসল্যান্ড। ৫৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল হেডে ফ্রান্সের জালে জড়ান আরনাসন।

দুই গোলের ব্যবধানটা ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ধরে রেখেছিল আইসল্যান্ড। হার যখন চোখ রাঙাচ্ছিল ফ্রান্সকে, তখনই একটি গোল শোধ করে ফ্রেঞ্চদের পথে ফেরান কিলিয়ান এমবাপে।

আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সে সিগরাডসনের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেখান থেকে স্পটকিকে ফ্রান্সকে জয়ের মতো এক ড্র এনে দেন গ্রিজম্যানের বদলি নামা এমবাপে।

ফ্রান্সের হোঁচটের রাতে গ্যারেথ বেলবিহীন ওয়েলসের মাঠ থেকে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে ফিরেছে স্পেন। কার্ডিফ সিটির মাঠে ৮ ও ১৯ মিনিটে জোড়া গোল করেন বার্সা থেকে ব্রাত্য হয়ে দারুণভাবে জ্বলে ওঠা ফরোয়ার্ড পাকো আলকাসার। বাকি দুই গোল অধিনায়ক সার্জিও রামোস ও মার্ক বার্ত্রার। ওয়েলসের হয়ে সান্ত্বনার গোলটি স্যাম ভোকসের।

যৌন কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হয়ে জাতীয় দলে ডাক পাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাকে ছাড়াই পোল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও উয়েফা নেশন্স কাপে ২-৩ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে পর্তুগাল। একটি করে গোল করেছেন আন্দ্রে সিলভা ও বের্নাদো সিলভা। অন্যটি পোলিশদের নিজেদের জালে নিজেরা জড়ানো গোল।

মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার জয়

লিওনেল মেসিকে ছাড়াই প্রীতি ম্যাচে বড় জয় পেলো আর্জেন্টিনা। সৌদী আরবের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে ইরাককে ৪-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কোলনির দল।

ইরাককে কোনো পাত্তাই দেয়নি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। খেলার ১৮ মিনিটে গোলদাতার খাতায় নাম লেখান লাউতারো মার্টিনেজ। মাউরো ইকার্দিকে না খেলিয়ে ইন্টার মিলানের এই তরুণকে খেলানোর বাজিটা স্কোলনির ভালোমতোই কাজে লেগেছে। ক্লাব সতীর্থের অনুপস্থিতিতে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটাও পেয়ে যান মার্টিনেজ।

ইরাক খর্ব শক্তির বলেই হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে‌ আবার‌ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন আর্জেন্টাইন কোচ। ৪৬ মিনিটে মাঠে নামা রবের্তো পেরেইরা, ৫৩ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার হারম্যান পেজ্জেইয়া। আর ৯০ মিনিটের বদলি হিসেবে নামা মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো কারভির গোলে বড় জয়ই নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

টানা তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনার সামনে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে আগামী মঙ্গলবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি। গুয়েতেমালা ও ইরাকের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা।

বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ফিলিস্তিন

কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

স্বাগতিক বাংলাদেশকে বিদায় করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী ফিলিস্তিন। আজ বুধবার সেমি ফাইনালের মহারণে লাল-সবুজদের ২-০ গোলে ধরাশায়ী করেছে ফিলিস্তিনিরা। একটি করে গোল করেন মোহাম্মেদ বালাহ ও সামি মারাবাহ। এ নিয়ে চারবারের লড়াইয়ে তিনবারই হারতে হলো বাংলাদেশকে। আর একটি ম্যাচ ছিল ড্র। আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারনী লড়াইয়ে র‌্যাংকিংয়ের শততম স্থানে থাকা ফিলিস্তিনিরা মুখোমুখি হবে তাজিকিস্তানের। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

 

ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এ লড়াইয়ে একাদশে চারটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জেমি ডে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়ছাল। সঙ্গে জায়গা পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। আর একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেনন তৌহিদুল আলম সবুজ, সুশান্ত ত্রিপুরা, রহমত মিয়া ও রবিউল হাসান। তবে লোকাল কোন ফুটবলারই জায়গা পাননি একাদশে। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ এ ম্যাচে লড়াই করেই হেরেছে। কাউন্টার অ্যাটাকে নয়, বরং পুরো ম্যাচেই আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছে। বারবার আক্রমন করেও গোলের দেখাটা পাওয়া হয়নি তাদের। ফিনিসিংয়ের অভাবটা গতকালও ফুঁটে উঠেছে। ফুটবল গোলের খেলা। দিন শেষে গোলের বিচারেই জয়-পরাজয় নির্ধারন হয়ে থাকে। ইতিহাসও মনে রাখে বিজয়ীদের। তপুু-সুফিল-জীবনরা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও সফরকারীরা ঠিকই সুযোগের সদ্বব্যবহার করেছে। দুই গোল আদায় করে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।

বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের কারনে গত তিন দিন ধরেই কক্সবাজারের আকাশে মেঘ জমে আছে। বৃষ্টি ঝড়ছে প্রতিনিয়ত। লাল-সবুজদের সমর্থন দিতে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই এদিন সমর্থকরা ছুঁটে আসেন মাঠে। গ্যালারী ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। টিকিট না পেয়ে অনেকেই ফিরে গেছেন হতাশা নিয়ে। টানা বৃষ্টির কারনে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্টেডিয়াম হয়ে উঠে কর্দমাক্ত। মাঠের মধ্যে পানি জমে ছিল। বারবার থেমে যাচ্ছিল বল। বলের নিয়ন্ত্রন নিতে উভয় দলের ফুটবলারদেরই গলদঘর্ম পোহাতে হয়েছে। এমন ভারী মাঠে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৮ মিনিটেই গোল হজম করে তারা। ফিলিস্তিনির পরিকল্পিত আক্রমনের সামনে অসহায় ছিলো লাল-সবুজদের রক্ষণভাগ। ডানপ্রান্ত দিয়ে মুসাবের ক্রসে মোহাম্মেদ বালাহর দারুন এক হেডে বল আশ্রয় নেয় জালে (১-০)। গোলরক্ষক আশরাফুল রানা চেষ্টা করেও পারেননি গোল প্রতিহত করতে। পিনপতন নিরবতা নেমে আসে পুরো গ্যালারী জুড়ে।

এরপরই যেনো জেগে উঠেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। আক্রমনে পর আক্রমন করে ভাবিয়ে তুলেছিল সফরকারীদের। ম্যাচের ১৩ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগটা হাতছাড়া হয় গোলরক্ষক রামি হামাদার কারনে। মাহুবুবর রহমান সুফিলের কাটব্যাকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মাসুক মিয়া জনি জোড়ালো শট নিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনির গোলরক্ষক সেই বল গ্রীপে নিয়ে হতাশ করেন লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। আট মিনিট পরেই গোল মিস করেন সুফিল। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটালেও গোলমুখে শট নিতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আবারো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন জীবন। সুফিলের বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল আদায় করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। তার নেয়া শটটি ছিল দিকভ্রষ্ট। ফিনিসিংয়ের যে অভাবটা তা স্পষ্ট হয়ে স্বাগতিক ফরোয়ার্ডদের একের পর এক গোল মিসের মহড়ায়।

পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধেও ছিল আগ্রাসী। গোলের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এ অর্ধে অনেকটাই রক্ষনাত্মক ভূমিকায় খেলতে থাকে ফিলিস্তিনিরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালে ফাঁটল ধরাতে পারেননি জামাল, বিপলু, সবুজরা। বরং কাউন্টার অ্যাটাকে খেলে ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলে চলতি এ আসরের শীর্ষ র‌্যাংকধারী দলটি। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে ইয়াজানের লংবলে দাবাগের হেডে বল পেয়ে যান ফরোয়ার্ড সামেহ। তার সামনে একজন ডিফেন্ডারও ছিলেন না। সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সেকেন্ডবার দিয়ে নিশানা ভেদ করেন তিনি (২-০)।

ব্যালন ডি’অরে মেসি-রোনালদো-নেইমার

ফুটবলের বিখ্যাত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ৩০জনের প্রাথমিক তালিকায় লি‌ওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং নেইমার থেকে শুরু করে প্রায় সব সেরা খেলোয়াড়েরই না রয়েছে। আছেন নতুন সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপে, পল পগবা এবং ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেনের নাম‌ও। তাতে ২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রতিযোগিতাটা বেশ জমজমাট হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আগেরবারের জয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং পর্তুগাল সব মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচে ৩৮ গোল করে আবার‌ও আছেন ফেভারিটের তালিকায়। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ী ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন, ক্লাব ‌ও দেশের হয়ে ৪৩ ম্যাচে করেছেন ৩০ গোল। কিয়েভে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে, লিভারপুলকে ৩-১ ব্যবধানে হারানো ম্যাচে দারুণ এক গোল করা রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল‌ও আছেন তালিকায়। কিন্তু ২৯ বছর বয়সী ‌ওয়ালসের এই স্ট্রাইকার ইনজুরিতে বেশ কিছুদিন ধরে দল এবং দেশের হয়ে খেলার বাইরে রয়েছেন।

ম্যানচেস্টার সিটির রেকর্ড গোলস্কোরার ‌ও আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার সার্জি‌ও অ্যাগুয়েরোর সঙ্গে আছেন পেপ গার্দ‌ওয়ালার আরেক শিষ্য ডি ব্রুইনের নাম। আছেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান তারকা রবার্টো ফিরমিনো।

তবে সাদি‌ও মানে, অ্যান্টোনি‌ও গ্রিজম্যানের নাম তালিকায় থাকলে‌ও বাদ পড়েছেন চলতি মৌসুমে ক্লাব দল চেলসি ও বেলজিয়ামের হয়ে ১০ গোল করা এডেন হ্যাজার্ড।

এবারের ব্যালন ডি’অরে নমিনেশন পেয়েছে স্প্যানিশ লা লিগার সর্বোচ্চ ১৪ জন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ১১ জন, ফ্রান্সের লিগ ‌ওয়ানের ৩জন এবং ইটালিয়ান সিরি এ’র ২ জন খেলোয়াড়। আগামী ৩ ডিসেম্বর জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে চূড়ান্তভাবে বিজয়ীর হাতে তুলে দেয়া হবে এই পুরস্কার।

আবহাওয়াই বড় প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের!

কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

সোমবার রাত থেকেই সৈকত নগরী কক্সবাজারে বইছে দমকা হাওয়া। সাথে থেমে থেমে বৃষ্টিও। এক নম্বর বিপদ সংকেতের কারণে ফুটবলারদের অনুশীলনে ঘটছে ব্যাঘাত। সকালের আবহাওয়ায় বিচে হাঁটার যে পরিকল্পনা ছিল টিম বাংলাদেশের, সেটা বাতিল করতে হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তপ্ত রোদের পর হঠাৎ করেই যেনো অশান্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেছে। এক নম্বর বিপদ সংকেত যতোটা না ভয়ঙ্কর, তারচেয়ে বেশী ভয়ঙ্কর হিসেবে স্বাগতিক বাংলাদেশের সামনে দেখা দিতে পারে প্রতিপক্ষ ফিলিস্তিন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে ফাইনালে যাওয়ার এই দ্বৈরথ। তবে ফিলিস্তিনকে নয়, আবহাওয়াকেই বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে টিম বাংলাদেশ!

ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে জয় পেলে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নাম লেখাবে স্বাগতিকরা। কিন্তু সে কাজটি যে কতোটা কঠিন তা ভালোই জানা আছে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার। তার উপরে টানা বৃষ্টিকেও প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘গরম হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। সুবিধা আদায় করতে পারতাম। কিন্তু বৃষ্টিটা ওদের জন্য সুবিধার হয়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ওরা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিলিস্তিন অনেক কঠিন। তারা আমাদের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে। শারীরিকভাবেও এগিয়ে আছে ওরা। এমন দলের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা কঠিন। তবে আমাদের সামর্থ আছে ম্যাচ জয়ের। হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা আর দর্শক সমর্থনতো আছেই।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিলিস্তিনকে সমীহ করে দলের স্বাগতিক কোচ জেমি ডে বলেন, ‘ছেলেরা মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। জয়ের জন্য আমাদের গোল দরকার। আশা করছি আগামীকাল আমরা সেটি করতে পারব। প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিলিস্তিন বেশ কঠিন। ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন হবে। তবে গ্রুপ পর্বের দু’টি ম্যাচেই আমরা ভাল খেলেছি। সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমাদের আরো ভাল ম্যাচ খেলতে হবে। সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।’ দলের ফর্মেশন প্রসঙ্গে জেমি বলেন, ‘এই ম্যাচে আমাদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ ওদের দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার দীর্ঘ দেহী। তারা বেশ ভালও খেলছে। সুতরাং তাদেরকে সঠিকভাবে মার্ক করে খেলা নিশ্চিত করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমদের আগ্রাসী মেজাজেও খেলতে হবে। সেটি করতে পারলে আমার তরফ থেকে কোন অনুযোগ থাকবে না। সেট পিসে এখনো পর্যন্ত আমরা ভালই খেলেছি। আশা করি সেটি বজায় রাখতে পারব।’

র‌্যাংকিংয়ের ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ম্যাচে অভিজ্ঞদের সঙ্গে থাকবে তরুণদের সমন্বয়। কারণ সিলেটে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেছিল স্বাগতিকরা। ঐ ম্যাচে বেশ কয়েকজন তরুন ফুটবলার ছিল একাদশে। তাই সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে একাদশ গঠন নিয়ে বেশ ভাবনায় মগ্ন কোচ। কাকে রেখে, কাকে রাখবেন- সেটা নিয়ে কঠিন ভাবনায় জেমি ডে। ‘ফিলিপাইনের বিপক্ষে কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বেশ ভাল খেলেছে। যে কারণে আমার জন্য সেরা একাদশ গঠন কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাকে দীর্ঘ সময় ভাবতে হচ্ছে। কারণ সবাই অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছে।’ বৃষ্টির কারনে মাঠে অবস্থা বেশ করুণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাঠের অবস্থা দুই দলের জন্যই সমান। ফলে পরিস্থিতি যেমনই হোক সেখানে ফিলিস্তিনের তুলনায় আমরাই বেশী খাপ খাওয়াতে পারবো। তবে পরিস্থিতি কি হবে আমি জানিনা। আমার চিন্তা হচ্ছে মাঠে গিয়ে যতটুকু সম্ভব নিজেদের খেলাটি ভালভাবে খেলতে হবে।’

পঁচা শামুকে পা কাটার ভয়

জয়ের আনন্দে ভাসার পাশাপাশি ‘পঁচা শামুকে পা কাটার ভয়‌ও’ আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। চলতি মাসেই স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসবে জিম্বাবুয়ে দল। আর এটা কে না জানে যে র‌্যাংকিংয়ে নিচের সারির দলের সঙ্গে খেললে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই হয় বেশি। পদে পদে থাকে পা পিছলে (র‌্যাংকিং পয়েন্ট হারানোর) যা‌ওয়ার ভয়।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সিরিজে‌ও পুরোপুরি সেই ভয়টা আছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ যদি ৩-০ তে ‌ওয়ানডে সিরিজ জেতে তবে এক র‌্যাংকিং পয়েন্ট যোগ হবে। টাইগারদের পয়েন্ট এখন ৯২, তখন হবে ৯৩। আর হেরে গেলেই মহাবিপদ। যদি বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে তবে ২ রেটিং পয়েন্ট কমে হবে ৯০।

আর যদি জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে তবে ৫ রেটিং পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ। ৩-০ তে সিরিজ জিতে বাংলাদেশকে যদি হোয়াইট‌ওয়াশ করে তারা তবে ৭ রেটিং পয়েন্ট হারাবে টাইগাররা। তখন পয়েন্ট হবে ৮৭। তবে র‌্যাংকিংয়ের সপ্তমস্থানে থাকা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পেছনে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টমে আছে শ্রীলংকা।

জিম্বাবুয়ের কাছে হোয়াইট‌ওয়াশ হলে‌ও র‌্যাংকিংয়ে হেরফের হবে না বাংলাদেশের। সপ্তমেই থাকবে। তবে রেটিং পয়েন্ট হারানোয় নিচের দলের সঙ্গে পার্থক্যটা কমে আসবে। তবে র‌্যাংকিংয়ে মারপ্যাচে শ্রীলংকার পেছনে পরার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। টাইগাররা যদি জিম্বাবুয়ের কাছে ৩-০ তে পরাজিত হয় আর শ্রীলঙ্কা যদি ৫-০ তে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়, তবে পেছনে পর যাবে বাংলাদেশ। তখন লংকানদের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে হবে ৮৬, আর বাংলাদেশেরটা কমে হবে ৮৫।

কৌশলে পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ

কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এক ম্যাচ জিতেই ছয় জাতির এই টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। এবার লক্ষ্য ফাইনাল। তবে সে পথ পাড়ি দিতে টপকাতে হবে ‘ফিলিস্তিন’ নামক বিশাল এক হার্ডল। সে দেয়াল ডিঙ্গানোটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই এবার ভিন্ন কৌশলে খেলতে চায় বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে লাওস ও ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক খেলা লাল-সবুজ শিবিরকে শেষ চারের লড়াইয়ে কিছুটা রক্ষনাত্মক ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। র‌্যাংকিং আর শক্তির বিচারে আকাশ-পাতাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির বিরুদ্ধে কাউন্টার অ্যাটাকে খেলে ম্যাচ জিততে চান জেমি ডে’র শিষ্যরা। অন্যদিকে, স্বাগিতকদের বিরুদ্ধে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চায় ফিলিস্তিন।

কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর আড়াইটায় র‌্যাংকিংয়ের ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শিবির। এ ম্যাচটিকে সামনে রেখে আজ সোমবার ম্যাচ ভেন্যুতে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন মামুনুল, ওয়ালী ফয়ছাল, ইব্রাহিমরা। দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এক ঘন্টা কড়া রোদে ঘাম ঝড়িয়েছে টিম বাংলাদেশ। অনুশীলনে দলের সঙ্গে ছিলেন না হেড কোচ জেমি ডে। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা অনুভব করায় স্থানীয় হাসপাতালে চেকআপ করানো হয়েছে তাকে। অসুস্থতা গুরুতর না হলেও চিকিৎসকরা তার ইসিজি করেছেন। হেড কোচ না আসায় সহকারী কোচের অধীনে অনুশীলন করেছে দল। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের উপর আলাদা নজর দেয়া হয়েছে অনুশীলনে। গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে দেখা গেছে বেশ কসরত করতে। এ দু’টি বিভাগে বেশ জোড় দেয়া হয়েছে অনুশীলনে। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষণভাগ আগলে রাখাটাকেই এখন বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে স্বাগতিকরা। প্রতিপক্ষের দীর্ঘ দেহী ফরোয়ার্ডদের আক্রমনগুলো নসাৎ করে দিতে চান তপু বর্মন, টুটুল হোসেন বাদশারা। চলতি এ আসরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল আক্রমনভাগের দু’জন করে ফটুবলার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। বুধবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।

অনুশীলন শেষে দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু বলেন, ‘ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে আমাদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। আজ অনুশীলনে রক্ষণের উপরই বেশী জোর দেয়া হয়েছে। তবে কৌশল কি হবে ম্যাচের দিন, সেটা আগামীকাল অনুশীলন শেষে হেড কোচ জানাবেন।’ ফরমেশন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কোচের বিষয়। কোন ফরমেশনে খেলবে দল সেটা আগামীকালই হয়তো জানতে পারবে সবাই। আর ফিলিস্তিন আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী একটা দল। কিন্তু ফুটবলটা ৯০ মিনিটের খেলা। বুধবার দুপুরে যারা গোল পাবে তারাই জিতবে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিপক্ষ দলকে থামিয়ে রাখা এবং গোল আদায় করে নেয়া।’

বর্তমান জাতীয় দলে রয়েছেন কক্সবাজারের চার ফুটবলার। এরা হলেন ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ, ইব্রাহিম, ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা ও গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু। হোম ভেন্যুতে খেলায় আলাদা কোন চাপ থাকবে কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে সবুজ বলেন, ‘এটি আমার ঘরের মাঠ। এখানে চাপের কোন বিষয় নয়। বরং এটা আমার জন্য আরো ভালো খেলার প্রেরণা। কারণ নিজের পরিবারের সবাই আসবে মাঠে। আমার লক্ষ্য থাকবে গোল করা। কিন্তু দল যদি জয় পায় আর আমি গোল নাও করতে পারি, তবুও কোন আফসোস থাকবে না।’ দলের আরেক ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম জানান, ‘আমি নিজের মাঠে খেলতে উদগ্রীব হয়ে আছি। যদি একাদশে সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই গোলের চেষ্টা থাকবে। আমার লক্ষ্য জয় নিয়ে ঢাকায় ফেরা।’

এদিকে, ফিলিস্তিনের কোচ আইলাদ আলী নুরুদ্দিনী স্বাগতিকদের সমীহ করে বলেন, ‘তারা বেশ শক্তিশালী। স্ট্রেংথও অনেক ভালো। এখানকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যাচের দিন দল সাজাবো। এবং জয়ের জন্যই মাঠে নামবো। সেভাবেই আমরা প্রস্তুত হয়ে এসেছি।’ অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মাঠে নামার পর বাংলাদেশের খেলা দেখে আমাদের রণ কৌশল সাজাবো।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের নারীদের সহজ জয়

সিরিজের একমাত্র ‌ওয়ানডেতে সহজেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১২৬ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় সালমা-রুমানারা। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তানের মেয়েরা। জবাবে, ২৯ ‌ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান তুলে জয় পায় বাংলাদেশ।

অবশ্য টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিন ম্যাচে ব্যাটিং বা বোলিং কোনোটাতেই চেনা রূপে ছিলো না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এ বছরেই নারী এশিয়া কাপ ও বিশ্ব টি-টোয়েন্টির বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে। পেতে হয় হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।

তবে পাকিস্তানের এ সফরের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রুমানা আহমেদের দল। খাদিজা তুল কুবরার স্পিন ঘূর্ণি ও ফারজানা হক-রুমানা আহমেদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটের সহজ জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পক্ষে নারী ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ছয় উইকেট নেন খাদিজা। তার অফস্পিনে ধরাশায়ী হয়ে মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। যা কিনা মাত্র ৪ উইকেট হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো করতে পারেনি নারী দল। ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেলেন আয়েশা রহমান। দলীয় ছয় রানের মাথায় রানআউটে কাটা পড়েন অারেক ওপেনার শারমিন আক্তার।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের এক ম্যাচেও ৯০ রান করতে না পারা বাংলাদেশ দলের জন্য তখন ৯৫ রানের লক্ষ্যটাও যেনো দূরের পথ। তবে সে পথকে সহজ করে দেন তিন নম্বরে নামা ফারজানা হক ও চার নম্বরে নামা অধিনায়ক রুমানা আহমেদ।

দুজনের ৮১ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। অধিনায়ক রুমানা সাজঘরে ফেরেন ৩৪ রান করে। দুই বল পরে ৪৮ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ফারজানা।

হুট করে দুই উইকেট হারালেও কক্ষ্যচ্যুত হয়নি বাংলাদেশের জয়। লতা মন্ডল এবং ফাহিমা খাতুনের ব্যাটে ২৯ ওভারে লক্ষ্য পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এর আগে, টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি পাকিস্তান। মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই ৫০ রান করে ফেলেছিল সফরকারীরা।

১৫তম ওভারে প্রথমবারের মতো আঘাত হানেন খাদিজা। এরপর একে একে পাকিস্তান শিবিরে ত্রাস হয়ে দেখা দেন এই ডানহাতি স্পিনার। পাকিস্তান শেষের ৫ উইকেট হারায় মাত্র ১০ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন অধিনায়ক জাভেরিয়া খান। এছাড়া আয়েশা জাফর ও মুনীবা আলির ১৮ ব্যতীত আর কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেয়া খাদিজা ৯.৫ ওভারে মাত্র ২০ রানে তুলে নেন ৬ উইকেট। এছাড়া রুমানা আহমেদ ২, জাহানারা আলম ১ ও লতা মন্ডল নেন ১টি করে উইকেট।

দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেলো বার্সেলোনা

লা লিগায় সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার। শেষ চার ম্যাচে জয়হীন লি‌ওনেল মেসির দল। আলাভেস, ভ্যালাদোলিদ, হুয়েস্কা ও রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে টানা চারটি ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করলে‌ও লেগানেসের কাছে হারের মুখ দেখতে হয়েছে বার্সাকে। জিরোনা ও অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের বিরুদ্ধে দু’টি হোম ম্যাচে আটকে গিয়েছে ভালবার্দের শিষ্যরা। এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধেও ড্র করল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

রক্ষণের ভুলে ম্যাচের একেবারে শুরুতেই গোল খেলে পিছিয়ে পড়ে কাতালানরা। প্রথমার্ধেই মেসির গোলে কাতালান ক্লাবের মান রক্ষা হয়বটে, তবে পয়েন্ট খুইয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয় তাদের। চলতি লা লিগায় এই প্রথমবার বার্সেলোনা নেমে আসে দু’নম্বরে। তাদের টপকে শীর্ষস্থানে এখন সেভিয়া।

ম্যাচের দু’মিনিটের মাথায় কর্ণার থেকে গোল পেয়ে যায় ভ্যালেন্সিয়া। সেট পিস থেকে পারেজোর ভাসানো বল হেডে ক্লেয়ার করার উদ্দেশ্যে পিকে সামনের দিকে ঝুঁকলে বল তাঁর পিঠে লেগে চলে যায় সেকেন্ড পোস্টের সামনে অরক্ষিত এজেকুয়েল গ্যারাইয়ের কাছে। হালকা টাচে বল বার্সেলোনার জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে (১-০) দেন তিনি। খেলার ৬ মিনিটে আরো একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। তবে এ যাত্রায় রক্ষ পায় বার্সেলোনা। তা নাহলে শুরুতেই ম্যাচে জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়তে পারত মেসিরা। ২৩ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ এক গোলে বার্সেলোনাকে সমতায় (১-১) ফেরান মেসি। আর এই গোলে অ্যাসিস্ট করেন সুয়ারেজ। দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই তেমন একটা সুযোগ তৈরি করতে না পারায় ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর লাইনে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

এই ড্রতে ৮ ম্যাচে মেসিদের পয়েন্ট সংখ্যা হলো ১৫। গোলপার্থক্যে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে পিছনে ফেলে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্সা। শীর্ষে থাকা সেভিয়ার পয়েন্ট ১৬। আর রিয়াল মাদ্রিদ ১৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে আছে চার নম্বরে।

সেঞ্চুরি দিয়ে বিদায় উদযাপন গেইলের

আগেই জানিয়েছিলেন এটাই তার শেষ ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচে যে এভাবে জ্বলে উঠবেন, তা ভাবা যায়নি। জামাইকার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ লিস্ট-এ ম্যাচে অধিনায়ক হিসাবে মাঠে নামেন ক্রিস গেইল। ব্যাট হাতে দুরন্ত সেঞ্চুরিতে দলকে জেতালেন এই ‌ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রেট। বল হাতে নিলেন একটি উইকেট‌ও। মূলত গেইলের দাপটেই বার্বাডোজকে রিজিওনাল সুপার-৫০’এর গ্রুপ ম্যাচে ৩৩ রানে পরাজিত করে জামাইকা।

ঘরোয়া ওয়ান ডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও চারদিনের ম্যাচে মাঠে নামার ইচ্ছে আছে গেইলের। জামাইকার হয়ে সুযোগমতো কোনও একটি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে মাঠে নামতে চান গেইল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই ফেরি‌ওয়ালা ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন বেশ কিছুদিন হল। আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে আগামী বছর ওয়ান ডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াই তাঁর টার্গেট।

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট‌ও চালিয়ে যাবেন। তবে পরিবারকে সময় দিতে আর ঘরোয়া লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলবেন না গেইল। ক্যারিয়ারের শেষ ঘরোয়া লিস্ট-এ ম্যাচে ম্যাচ উইনিং সেঞ্চুরি করে বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ বলে ১২২ রান করেন গেইল। প্রথমে ব্যাট করে জামাইকা ২২৬ রান তোলে। জবাবে বার্বাডোজ অলআউট হয় ১৯৩ রানে।

খেলা শেষে গেইল বলেন, ‘জামাইকার হয়ে শেষ ৫০ ওভারের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দারুণ লাগছে। অধিনায়ক হিসাবে শেষ ম্যাচে দলকে জেতানো অত্যন্ত আনন্দের। আমার মধ্যে এখনও যথেষ্ট রসদ আছে। তবে ক্রিকেটের বাইরেও একটা জীবন আছে। আমার একটা পরিবার রয়েছে। যাদের সময় দেওয়া আমার কর্তব্য। ২৫ বছর ধরে ক্রিকেট খেলতে পারা সাধারণ বিষয় নয়, সময় পেলে সাবাইনা পার্কে একটা চারদিনের ম্যাচ অবশ্যই খেলবো। আগামী বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বিশ্বকাপও খেলতে চাই।’

সাফের সেরা বাংলাদেশের নারীরা

মাত্র দুই মাস আগেই ভুটানের মাটিতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের ফাইনালে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে সাফ মুকুট হারিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। অনুজরা না পারলেও অগ্রজরা ঠিকই ভুটান জয় করেছে। প্রথমবারের মতো অায়োজিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলের শিরোপা জয় করেছে লাল-সবুজের দল।

রবিবার ভুৃটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে, ফাইনালের মহারণে মিসরাত জাহান মৌসুমী, তহুরা খাতুনরা ১-০ গোলে হারিয়েছে নেপালকে। শিরোপা নির্ধারনী গোলটি করেন মাসুরা পারভীন। ম্যাচের ৪৯ মিনিটেই নেপালের বুকে ছুঁরি চালান এই ফরোয়ার্ড। এই গোলটি আর পরিশোধ করতে পারেনি হিমালয় কন্যারা। ম্যাচের শেষার্ধে সমতায় ফিরে আসতে ‘মরণ কামড়’ দেয়ার চেষ্টা করেছিল নেপালীরা। কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণ ব্যুহ যেনো ‘চীনের প্রাচীর’। চির ধরাতে ব্যর্থ হয়েছে নেপালের কিশোরীরা। আঁখি-শামসুন্নাহাররা প্রতিপক্ষে ফরোয়ার্ডদের প্রতিটি আক্রমনই রুখে দিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। এ জয়ে নারীদের যুব সাফের ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে বাঁধাই করে রাখলো বাংলাদেশ।

ফুটবলে এখন বাংলাদেশ নারী দলের চলছে জয়জয়কার। যে আসরেই নামছে, সেখানেই জয় করছে তারা। চলতি বছরই এ নিয়ে চারটি আসরের ট্রফি জয় করলো লাল-সবুজের সেনানীরা। ফাইনালে নামার আগে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল টিম বাংলাদেশ। মাঠের লড়াইয়েও তাদের সে আত্মবিশ্বাস ফুঁটে ‌ওঠে। একের পর এক আক্রমন করে নেপালকে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিল। কিন্তু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। গোল উৎসব করতে অপেক্ষায় থাকতে হয় ৪৯ মিনিট পর্যন্ত। অবশেষে বাংলাদেশ দলকে আনন্দে ভাসিয়ে দেন মাসুরা পারভীন। সতীর্থের ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে হেডে গোল করেন আর তাতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

উৎসবে মেতে উঠা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই মিনিট পরেই ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। কিন্তু তাদের সে আশা পূরন হতে দেয়নি রক্ষণভাগ। এদিন, নেপালিদের বেশ কয়েকটি আক্রমন রুখে দিয়েছেন গোলরক্ষক গোলরক্ষক রূপনা চাকমাও।

লিড নেয়ার পর মাসুরা, শামসুন্নাহাররা অনেকটাই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন। নিজেদের সীমানায় কড়া পাহাড়া বসিয়ে সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষের দূর্গে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে আর গোল ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও গোল হজম করেননি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় দিয়ে নারীদের যুব সাফের প্রথম আসরের শিরোপার স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

দলের এমন জয়ে দারুণ খুশী কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল। ভুটানকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছিল। শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচের আগে আমি মেয়েদের বলেছিলাম চাপ না নেয়ার জন্য এবং স্বাভাবিক খেলাটা ঠান্ডা মাথায় খেলতে। ওরা আমার নির্দেশনা পুরোপুরি মাঠে প্রয়োগ করেছে। তাছাড়া দলের সবাই শুরু থেকেই গোলের তাড়নায় ছিল। সে তাড়না থেকেই এই জয় এসেছে।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে চলতি এ আসরে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ নারী দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলার নারীরা। শেষ চারের লড়াইয়ে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে শিরোপা স্বপ্ন প্রসারিত করেছিল মিসরাত জাহান মৌসুমীর দল।

চার সেমি ফাইনালিষ্ট এখন কক্সবাজারে

স্পোর্টস রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে

বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক ফুটবল টূর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব শেষে সেমি ফাইনাল খেলতে কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ চার সেমি ফাইনালিষ্ট দল। আজ রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে জামাল ভূইয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফুটবল দল এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) কর্মকর্তারা বিমান বন্দরে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এরপর একে একে ফিলিস্তিন, তাজিকিন্তান ও ফিলিপাইন জাতীয় ফুটবল দলও পর্যটন নগরীতে পৌঁছায়। তাদেরকে জানানো হয় উষ্ণ ফুলেল শুভেচ্ছা। বিমান বন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দলগুলোকে টিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে চারটি দলই ছিল বিশ্রামে। আগামীকাল সকালে অনুশীলনে মাঠে নামবে ফাইনালের যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকা চার দল। আগামী ৯ অক্টোবর প্রথম সেমি ফাইনালে তাকিকিস্তান মুখোমুখি হবে ফিলিপাইনের। আর পরের দিন স্বাগতিকরা লড়বে ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে বর্তমানে কক্সবাজারের চারজন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন, তৌহিদুল ইসলাম সবুজ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আনিসুর রহমান জিকু ও সুশান্ত ত্রিপুরা। নিজ ভূমিতে নেমে চকোরিয়ার সন্তান ইব্রাহিম বলেন, ‘আগেও বহুবার কক্সবাজারে এসেছি। তবে এবারের আসার অনুভূতি অন্যরকম। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নিজের মাঠে এসেছি। আমি চেষ্টা করবো নিজের সর্বোচ্চটা দিতে এবং দলকে জেতাতে।’ তৌহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘গ্রুপ পর্বে আমরা ভালো খেলে সেমিফাইনালে উঠে কক্সবাজারে এসেছি। এ মাঠে খেলার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। আশা করছি নিজেদের মাঠে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আমরা জিতবো।’

এদিকে কক্সবাজারে এসে উঞ্চ অভ্যর্থনা পেয়ে মুগ্ধ বিদেশী কোচ ও খেলোয়াড়রা। সমুদ্র নগরীতে পা রেখে ফিলিপাইন দলের সহকারী কোচ মংরি চো বলেন, ‘বাংলাদেশের আমন্ত্রনে খেলতে এসে আমাদের বেশ ভালই লাগছে। এখানকার মানুষ খুব ভালো। আমাদের খুব ভালো লাগছে।’ কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, ‘আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবরের আর্ন্তজাতিক ফুটবল ম্যাচ নিয়ে কক্সবাজারের ক্রীড়ামোদিরা উৎফুল্ল। আমরা প্রতিটি দলের জন্য স্থানীয় লিয়াজো অফিসার নিযুক্ত করেছি। দলকে আনা নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ম্যাচ দুটি আয়োজনের জন্য এখন সম্পুর্ন প্রস্তুত বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম। প্রথমবারের মত আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্ট নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’ ম্যাচ আয়োজনের জন্য স্টেডিয়াম এলাকা সহ গোটা শহরেই বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শচীন পুত্র অর্জুনের কান্ড

আবার‌ও শিরোনাম হলেন শচীন-পুত্র অর্জুন। এবার তিনি বোলিং দিয়ে মাত করলেন।৮.২ ওভার। এর মধ্যেই ৩০ রান খরচায় তুলে নিলেন ৫ উইকেট। এক ওভার মেডেন-ও নিয়েছেন। তাতেই শচীনের পুত্র অর্জুন টেন্ডুলকার শিরোনাম হন। অর্জুনের দাপটেই ভিনু মাঁকড় ট্রফি-তে গুজরাট গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪২ রানে। ৩৮ ওভারে স্বল্প এই টার্গেট তাড়া করতে নেমে মুম্বাই দ্বিতীয় ইনিংসে এই রান তুলে ফেলে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে। আর প্রথম ম্যাচেই মুম্বাইয়ের জয়ের নায়ক বনে যান শচীন-পুত্র অর্জুন। এই বাঁহাতি পেসারের সামনে কার্যত কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি গুজরাট।

দিনের দ্বিতীয় বলেই অর্জুন ওপেনার ওয়ার্দমান দাতেশ শাহের স্ট্যাম্প ছিটকে দিয়ে গুজরাটের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন। এরপরের দুই ব্যাটসম্যানকেও অর্জুন যখন ফিরিয়ে দেন, তখন গুজরাটের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬ রান। অর্জুনের দেখাদেখি বাকি বোলাররাও উইকেট উতসবে নেমে পড়েন।

উমাঙ্গ ও জয়মিত পটেল ৫৮ রানের জুটি গড়তে না পারলে গুজরাটের অবস্থা আরও শোচনীয় হতো। ৭ উইকেটে ৭৭ রানে থাকার সময়ে আবার‌ও ব্রেক থ্রু এনে দেন অর্জুন। ধ্রবঙ্গ পাটেলকে এরপরে আউট করে নিজের পঞ্চম শিকার সম্পন্ন করেন উঠতি তারকা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাইয়ের দুই ওপেনার শুভেদ পার্কার (৬৭), দিব্যাংশ (৪৫) ১০৮ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই রাখেন। প্রগনেশ কানপিলেওয়ার এর পরে ক্রিজে নেমে মুম্বইয়ে টার্গেটে পৌঁছে দেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে এই মৌসুমেই অর্জুনের শেষ। কারণ পরের বছরে ২০-তে পা দিচ্ছেন তিনি। বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণেই পরবর্তী যুব বিশ্বকাপেও খেলতে পারবেন না। চলতি বছরের জুলাইয়েই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যুব দলের হয়ে টেস্টে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল তাঁর। ৩টি উইকেটও দখল করেছিলেন। এখন রাজ্যদলে সিনিয়র লেভেলে খেলার জন্য কবে ডাক পান, সেই অপেক্ষা অর্জুন টেন্ডুলকারের।

ছাটাই হচ্ছেন লোপেতেগি!

লা লিগায় আলাভেসের কাছে ১-০ গোলে রিয়াল মাদ্রিদের পরাজয়ের পর কোচ হুলেন লোপেতেগিকে ছাটাই করার দাবী উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লে‌ও এই মুহূর্তে বরখাস্ত হওয়া নিয়ে মোটেও ভাবছেন না রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। আর দলের রক্ষণভাগের ভরসা স্যার্জি‌ও রামোস‌ও তার পক্ষেই আছেন। তিনি জানান, কোচ পরিবর্তনের চিন্তাটা হবে ‘পাগলামি’র সামিল।

গত শনিবার লা লিগায় আলাভেসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে রিয়াল। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে জয়হীন স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ৬ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট গোল বঞ্চিত তারা। সবশেষ ১৯৮৫ সালে এতো সময় গোলহীন ছিল দলটি। তখনকার কোচ ছিলেন অ্যামেচিও ওর্তেগা। তবে তাকে বরখাস্ত হতে হয়েছিল।

এ ব্যাপারটা স্মরণ করে লোপেতেগি বলেন, ‘কোচরা সব সময় ঝুঁকিতে থাকে। তাই বলে এখনি ছাঁটাই নিয়ে চিন্তা করছি না। অবশ্যই আমরা হতাশ। যেভাবে চাচ্ছি, সেটা হচ্ছে না। আমরা জানি কোচের জীবন কেমন, রিয়াল মাদ্রিদে সেটা আর‌ও বেশি।’

রামোস বলেন, এমন সিদ্ধান্ত হবে ‘সবচেয়ে বড় ভুল’। তিনি জানান, ‘এখন‌ও লম্বা সময় পড়ে আছে। নিশ্চয়ই ছেলেরা ঘুরে দাড়াবে। পরাজয়ের বিষয়টা আমরা ভুলে যেতে চাই।’

স্বপ্নার সাফল্যে শিরোপা চাইছে বাংলাদেশ

সিরাত জাহান স্বপ্না, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্ট্রাইকার। তার অনুপস্থিতি দলকে কতটুকু ভোগাতে পারে তা গত শুক্রবার সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে এবং গ্রুপ পর্বে নেপালের বিপেক্ষ দ্বিতীয়ার্ধেই স্পষ্ট হয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় এলেও শুরুতে লিড নেয়া বাংলাদেশকে এরপর ভুটানিরা চেপে ধরে। কারণ লাল-সবুজদের ফরোয়ার্ড লাইনে এমন কেউ ছিলেন না যিনি প্রতিপক্ষ শিবিরে আতঙ্ক ছড়াতে পারেন।

অবশ্য এই কাজেই দক্ষ স্বপ্না। নেপাল ও পাকিস্তানকে তো একাই কাবু করেছিলেন এই ফুটবলার। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ গোলের জয়ের সাতটিই আসে স্বপ্না’র পা থেকে। নেপালের বিপক্ষে তার গোলেই লিড নেয়া এবং শেষ পর্যন্ত দল পায় ২-১ গোলে জয়। আজ রবিবার বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দ্বিতীয় সাফ শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে, অন্যদের সঙ্গে লাল-সবুজদের এই স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখতে হবে স্বপ্নাকেও।

গোল করলে স্বপ্না যেমন এগিয়ে যাবেন সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডন বুট’ জেতার দৌড়ে, তেমনি বাংলাদেশও চলে যাবে শিরোপার কাছে। তহুরা খাতুন অবশ্য থিম্পুতে আগের বয়সভিত্তিক সাফে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। রানার্স আপেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছিল।

রংপুর জেলার মেয়ে স্বপ্না অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলের মতো সিনিয়র জাতীয় দলেরও গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার। ২০১৬ ভারতের শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সিনিয়র মহিলা সাফে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ৫ গোল করেন তিনি। এর মধ্যে ছিল সেমিফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। গ্রুপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১ গোল করেন। ফাইনালের মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করার অভ্যাস আছে তার। সেই সাফেই ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে সমতা সূচক গোল স্বপ্নার পা থেকে। যদিও বাংলাদেশ হেরেছিল ১-৩ গোলে। সুতরাং আজ নেপালের বিপক্ষে তার মানসিক চাপে থাকার কথাও নয়। শনিবার পুরো বাংলাদেশ দলকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে অনেকটা চাপ মুক্তির জন্যই। টানা তিন ম্যাচ খেলার ক্লান্তি দূর করতে। একই সাথে এই থিম্পুতে আগস্টের অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের শিক্ষাটাও মনে করানো হয়েছে মৌসুমী- মারিয়াদের।

ফাইনালেও যে গোল করতে হবে তা ভালো করেই জানেন স্বপ্না। জানান, ‘একজন স্ট্রাইকার হিসেবে আমার কাজই হবে গোল করা। সুযোগ পেলেই কাজে লাগাতে হবে। কোনোভাবেই সুযোগগুলো মিস করা যাবে না।’ আরো জানান, নেপাল শক্তিশালী দল। ফিজিক্যাল ম্যাচ বেশি খেলে তারা। জিততে হলে আমাদের সর্বশক্তি দিয়েই খেলতে হবে।

বাংলাদেশ দলের হয়ে এ পর্যন্ত ১৫ গোল স্বপ্নার। শুরুটা ২০১৫ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফেস্টিভাল ফুটবলে ভুটানের বিপক্ষে। সে ম্যাচে এক গোল তার। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে ডাক পেলেও খেলা হয়নি এএফসির আসরে। ২০১৬ সালে খেলেছেন, তবে পাননি গোল। এরপর সেই বছর সিনিয়র সাফে স্বরূপে ফেরা এই দ্রুতগতির স্ট্রাইকারের। সেই সাফে ৫ গোল করার পর এবার অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে এ পর্যন্ত ৮ গোল। নেপালের রেখা পাউডেলের গোল ৭টি। দু’জনের মধ্যে শনিবার তাই সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইও থাকবে।

২০১১ সালে রংপুরের পালিচড়া স্কুলের হয়ে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে খেলা স্বপ্না ২০১৩ সালে প্ল্যানের দেশব্যাপী ক্যাম্পে বাফুফের কোচদের নজরে আসেন। স্বপ্নার বিষয়ে কোচ ছোটনের বক্তব্য, ও খুব আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। গতির সাথে গোল করতেও দক্ষ। বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলির মতে, স্বপ্না প্রতিপক্ষের জন্য খুবই বিপজ্জনক ফুটবলার। বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় সে।

বাদ পড়লেন মার্সেলো

রাশিয়া বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের দলে ছিলেন না লেফট ব্যাক মার্সেলো। তবে সৌদি আরবে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দলে রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু ইনজুরির কারণে ব্রাজিল কোচ তিতের ঘোষিত দল থেকে ছিটকে গেছেন রিয়াল তারকা।

ব্রাজিল তারকা মার্সেলো তার হাঁটুর ইনজুরিতে ভুগছেন। রিয়ালেল ঘরের মাঠে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল শূন্য সমতার ম্যাচে দলে ছিলেন না তিনি। এছাড়া রাশিয়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগে সিএসকে মস্কোর বিপক্ষে ১-০ গোলে হারার ম্যাচেও খেলতে পারেনি মার্সেলো। এবার ইনজুরির কারণে খেলা হচ্ছে না জাতীয় দলের হয়েও।

ব্রাজিল আগামী ১২ অক্টোবর সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। এর চারদিন বাদে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে তিতের শিষ্যরা। ওই প্রীতি ম্যাচের দলে ডগলাস কস্তা, থিয়াগো সিলভা, উইলিয়ামের মতো বড় কিছু নাম বাদ পড়েছে। তবে ম্যালকম, আর্থার মেলোরা ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন। বার্সার তরুণ তারকা ম্যালকমের সৌদি সফরে ব্রাজিল দলে অভিষেকও হয়ে যেতে পারে।

আলাভেসের কাছে হার রিয়ালের

জয়ের দেখা তো মিলছেই না, উল্টো পরাজয়ের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে। টানা চার ম্যাচে জয়হীন থাকা হুলেন লোপেতেগির শিষ্যরা এবার আলাভেসের মাঠে হেরে ফিরলেন।

লা লিগায় শনিবারের ম্যাচে অপেক্ষাকৃত অনেক দুর্বল দল আলাভেস ১-০ গোলের হয় পেয়েছে। ২০০০ সালের পর রিয়ালের বিপক্ষে জিতল আলাভেস।

ম্যাচের শেষ মিনিটে জয় সূচক গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় গার্সিয়া। কর্নার থেকে রুবেন সোবরিনোর হেড কোর্তোয়া এক হাতে ফেরানোর চেষ্টা করলে পেয়ে যান গার্সিয়া। দ্বিতীয় দফায় আর ফেরাতে পারেননি কোর্তোয়া। গার্সিয়ার বল রিয়ালের জালে জড়ালেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় আলাভেসের।

সেমিতে ফিলিস্তিনকে পেলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমি ফাইনালে পা রাখলো শিরোপা প্রত্যাশী ফিলিস্তিন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপালকে ১-০ গোলে পরাস্ত করেছে তারা। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন খালেদ সেলিম। গ্রুপ সেরা হওয়ায় সেমি ফাইনালে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে।

আগামী ১০ অক্টোবর কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইটি। আর একদিন আগে প্রথম সেমি ফাইনালে তাজিকদের মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফিলিপাইন।

গ্রুপের এ ম্যাচটি নেপালের জন্যও ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিস্তিনিদের বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল তাদের সামনে। ২-০ ব্যবধানে জিতলেও বেঁচে থাকতো আশা। কিন্তু এমন ম্যাচে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। শুরু থেকে র‌্যাংকিংয়ের ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিন কিছুটা ধীর লয়ে খেলেছে। বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষের দূর্গে আঘাত হেনেছে বারবার। প্রথমার্ধেই একাধিক সুযোগ পেয়েছিল গোলের। কিন্তু এগিয়ে যাওয়া হয়নি ফিনিসিংয়ের অভাবে।

তবে ম্যাচের ৭০ মিনিটে দলকে ঠিকই উৎসবে মাতিয়েছেন খালেদ সেলিম। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আব্দুল্লাহ জাবেরেরে ক্রসে দৌড়ে এসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান এই মিডফিল্ডার (১-০)। এগিয়ে যাওয়ার উৎসবে মেতে উঠা শিরোপা প্রত্যাশীরা শেষ ২০ মিনিটেও একাধিকবার নেপালের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। অবশেষে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। আর বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপালের।

আগামীকাল রবিবার দুপুরের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করা চার দল স্বাগতিক বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন ও তাজিকিস্তান কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সিলেট ছাড়বে।

পাকিস্তানের কাছে ৩-০ তে সিরিজ হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা

কক্সবাজারে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের মেয়েদের হারালো পাকিস্তানের নারীরা। ৭ উইকেটের এই জয়ে চার ম্যাচের সিরিজ ৩-০ তে জিতলো তারা।

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে, ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে সালমা খাতুনের দল। সেই বিপর্যয় আর ঠেকানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭৭ রানে অলআউট হয় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন রুমানা আহমেদ। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে নাতালিয়া ২০ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন।

জবাবে, ৩ উইকেটে ৭৮ রান তুলে ৩১ বল হাতে রেখেই জয় পায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন অধিনায়ক জাভেরিয়া খান। মুনীবা আলী ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

রেকর্ড জয়ে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালো ভারত

ভারতের জয়টা অনুমিতই ছিলো হলো‌ও তাই। কিন্তু মাত্র তিন দিনে এবং রেকর্ড গড়ে যে ক্যারিবিয়ানদের এমন বিপর্যস্ত করবে সেটা ভাবা যায়নি। রাজকোট টেস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ২৭২ রানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেলো ভারত৷ অভিষেকে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা হন পৃথ্বি শ’৷

অভিষেকে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা হন পৃথ্বি শ’

৪৬৮ রানে পিছিয়ে ফলো অন করতে নেমে মাত্র ৯৪ রানে ৬ উইকেট হারানোতে পরাজয়ের মঞ্চটা আগেই তৈরি ছিলো ক্যারিবিয়দের। অপেক্ষা ছিলো সময়ের। কিয়েরন পা‌ওয়েল একটু প্রতিরোধ গড়লে‌ও বড় পরাজয় ঠেকানো যায়নি। ৯৩ বলে ৮৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তাতে ১৯৬ রানে শেষ হয়ে যায় ক্যারিবায়ানদের দ্বিতীয় ইনিংস৷

প্রথম ইনিংসের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের স্পিনের বিরুদ্ধে দু’শোর গণ্ডি টপকাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে চায়নাম্যাচ কুলদীপ যাদবের স্পিনের ভেলকিতে দু’শোর আগেই শেষ হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের লড়াই৷ প্রথম ইনিংসে ৪৮ ওভারে ১৮১ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ানদের লড়াই৷ দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামল ১৯৬ রান৷ অর্থাৎ কোনও ইনিংসেই দু’শো রানের গণ্ডি টপকাতে পারেননি ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যনরা৷

রাজকোটে টস জিতে প্রথম ব্যাটিং নিয়ে স্কোর বোর্ডে ৬৪৯/৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত৷ অভিষেক টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন পৃথ্বি শ’৷ মুম্বাইয়ের বছর আঠারোর এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান, লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ভারতীয় ইনিংস শুরু করে ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেন৷ শুরু থেকেই ক্যারিবিয়ান বোলার বিরুদ্ধে আধিপত্য বজায় রেখে মাত্র ৯৯ বলে শতরানে পৌঁছন পৃথ্বি৷ ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েন তিনি।

পৃথ্বী যেখানে শেষ করেন সেখান থেকে শুরু করেন বিরাট কোহলি৷ পৃথ্বির শতরানের পর সেঞ্চুরি আসে বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে৷ ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেন ভারত অধিনায়ক৷ কেরিয়ারে এটি ২৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি কোহলির৷ সেই সঙ্গে বিরাট টপকে যান শচীন ও সৌরভকে৷ পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ২৪টি শতরান করতে ১২৫ ইনিংস নিয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার৷ কোহলি মাত্র ১২৩ ইনিংসেই ২৪টি সেঞ্চুরি করলেন। টেস্টে দ্রুততম ২৪ সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান৷ মাত্র ৬৬ ইনিংসে ২৪টি শতরান আছে প্রাক্তন অজি অধিনায়কের নামের পাশে। সেই সঙ্গে চলতি বছরে টেস্টে ১০০০ রানের গণ্ডি পার হলেন তিনি৷ এই নিয়ে টানা তিনবছর টেস্ট ক্রিকেটে হাজার রানের গণ্ডি টপকে যান বিরাট৷

পৃথ্বি ও বিরাটের সেঞ্চুরির পর শতরান আসে রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাট থেকে৷ টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম শতরানের স্বাদ পান সৌরাাষ্ট্রের বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার৷ ব্যাটে সেঞ্চুরির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টি উইকেট তুলে নেন জাদেজা৷ দ্বিতীয় ইনিংসেে ভারতের সফলতন বোলার কুলদীপ যাদব৷ ৫৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে কেরিয়ারে প্রথমবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন চায়নাম্যান কুলদীপ৷ সিরিজের দ্বিতীয় ‌ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ১২ অক্টোবর হায়দরাবাদে৷

শেহজাদ নিষিদ্ধ

ডোপ টেস্টে পজেটিভ প্রমানিত হওয়ায় চার মাস নিষিদ্ধ হলেন পাকিস্তানী ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ। অ্যান্টি ডোপিং আইনের ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে এই শাস্তি দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-পিসিবি।

ধরা পড়ার পরে অপরাধ স্বীকার করেছেন শেহজাদ। যদিও জানিয়েছেন, শক্তি বর্ধক কোন ওষুধ সেবন করেননি তিনি। নভেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে তার এই নিষেধাজ্ঞা। এরপর পুর্নবাসন প্রক্রিয়া শেষে দলে ফেরার জন্য বিবেচিত হবেন তিনি। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ চলাকালে গত জুলাইয়ে ডোপ টেস্টে পজিটিভ ধরা পরেন শেহজাদ।

ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার

নারী ফুটবল মানেই জয়। নারী ফুটবল মানেই ফাইনাল। গত কয়েক বছর ধরে কৃষ্ণা-সাবিনাদের ধারাবাহিক সফলতায় এখন এমনটাই ভাবা হয় দেশের নারী ফুটবল দল নিয়ে। সেটা হোক জাতীয় দল কিংবা বয়সভিত্তিক। আন্তর্জাতিক যে কোন আসরেই এখন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রতিপক্ষের জন্য বড় এক হুমকি। গত এক বছরে চারটি টুর্নামেন্টের প্রতিটিতেই ফাইনাল নাম রিখিয়েছে তারা। এরমধ্যে তিনটিতেই চ্যাম্পিয়ন নারী দল। অতীত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালেও জায়গা করে নিয়ে বাংলার নারীরা।

শুক্রবার চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে পরাস্ত মিসরাত জাহান মৌসুমীর দল। ম্যাচে একটি করে গোল করেন সানজিদা আক্তার, মিসরাত জাহান মৌসুমী, কৃষ্ণা রানী সরকার ও শামসুন্নাহার। রবিবার একই ভেন্যুতে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।

এদিকে, দিনের আরেক সেমিফাইনালে নেপাল টাইব্রেকারে ৩-১ (১-১) গোলে ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছে। ম্যাচের মূল ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে ড্র ছিল। অবশেষে টাইব্রেকারে নেপাল ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে। শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে রবিবার চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে এই হিমালয় কন্যাদের ২-০ গোলে ধরাশায়ী করেছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। আর স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভুটান।

ভুটানের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই যেন জয়ের নেশায় মত্ত ছিলো কিশোরিরা। দ্বিতীয় মিনিটেই পেয়ে যায় গোলের দেখাও। সানজিদার গোলে লিড নেয় সফরকারীরা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল ব্যবধান দ্বিগুন করেন অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমী (২-০)। দ্বিতীয়ার্ধেও ভুটানকে চাপে রেখে খেলতে থাকে আঁখি-তহুরারা। ৬০ মিনিটে কৃষ্ণা রাণী সরকার ব্যবধান ৩-০তে নিয়ে যান। আর শেষ গোলটি করেন শামসুন্নাহার। পেনাল্টি থেকে গোল করে ভুটানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকে দেন ফরোয়ার্ড (৪-০)।

রোনালদোর স্পন্সর বিড়ম্বনা

নয় বছর আগের এক ঘটনাতেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্পন্সররা বিড়ম্বনায় পড়ে গেছে। ধীরে ধীরে সেই উত্তাপ আসতে শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার সিআরসেভেনের দিকে‌ও। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ বছর বয়সী সেই নারীর, রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে, পর্তুগিজ মহাতারকার স্পন্সর Nike এবং গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান EA Sports।

এই অভিযোগের পর মুখ খুলেছে নাইকি। ২০০৩ সালে তারা প্রথম চুক্তি করেছিল রোনালদোর সঙ্গে। ২০১৬ সালে এক বিলিয়ন ডলারে চুক্তি নবায়ন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড নাইকি। তারা এপিকে জানিয়েছে, ‘আমরা বিষয়টি অবহিত হয়েছি। অবস্থার গতি-প্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ বলাবাহুল্য রোনালদো নাইকির বুট পড়ে খেলে থাকেন।

এদিকে, গত সপ্তাহে EA Sports প্রকাশ করেছে FIFA বিশ্বকাপের খেলার গেমস। ২০১৯ সালের সংস্করণে বাজারে আসা এই গেমসের কাভার পেইজে আছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি। তারা জানিয়েছে, ‘রোনালদোর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটা আমরা শুনেছি। আমরা গভীরভাবে বিষয়টি মনিটর করছি। আমরা আশা করি, ভালো এবং যোগ্যদেরই কাভারে থাকা উচিত। এটাই EA’র মূল লক্ষ্য।

ঘটনা যাই হোক না কেন, রোনালদোর ক্লাব দল জুভেন্টাস ঠিকই তাঁকে সাপোর্ট করছে। ক্যাথরিন মায়োরগা নামে ৩৪ বছর বয়সী মার্কিন এক নারী সিআরসেভেনর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালে মায়োরগা এক ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হন। অবশ্য এখন তিনি একজন স্কুল শিক্ষিকা। এক সাক্ষাত্কারে রোনালদোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন ক্যাথরিন মায়োরগা। জানান, পর্তুগিজ তারকা তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। সেই সময় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের‌ও করেছিলেন। কিন্তু রোনালদোর পক্ষ থেকে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে চাপ আসে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ট্রান্সফার করা হয়। প্রবল লড়াইয়ের পরও একটা সময় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়োরগা। কিন্তু আবার তিনি সাহস জুগিয়ে ফিরে এসেছেন। জানালেন, সেদিনের ঘটনা‌ও।

রোনাল্ডোর সঙ্গে মায়োরগার পরিচয় হয় এক বিখ্যাত নাইটক্লাবে। তখন মায়োরগা ঐ নাইটক্লাবে চাকরি করতেন। ২০০৯-এ রোনাল্ডো সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছেন। একটা সময়ে সেই নাইটক্লাবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাঁকে নিজের হোটেলের ঘরে আসার আমন্ত্রণ জানান সিআরসেভেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েই মহাবিপদে পড়েন মায়োরগা।

অভিযোগ প্রমানিত হলে রোনালদো বেশ বেকায়দায় পড়ে যাবেন। হারাবেন বিপুল পরিমান স্পন্সর মানি‌ও। গত জুনে Forbes পত্রিকা জানিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রতি বছর ১০৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। তার মধ্যে বেতন আর বোনাস মিলিয়ে ৬১ মিলিয়ন, আর ৪৭ মিলিয়ন বিভিন্ন এনডোর্সম্যান্ট থেকে। অবশ্য খেলোয়াড়দের মধ্য আয়ের তালিকায় রোনালদো আছেন তৃতীয়তে। তাঁর উপরে আছেন, বক্সিং তারকা (বর্মানে অবসরে) ফ্লোয়েড মে‌ওয়েদার এবং বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লি‌ওনেল মেসি।

রশীদকে অনুরোধ এক বিদেশিনীর

আফগানিস্তানের স্পিনার রশীদ খানকে অদ্ভুত এক অনুরোধ করেছেন বিখ্যাত অ্যাঙ্কর এরিন হল্যান্ড। তিনি আবার বেন কাটিংয়ের বান্ধবী‌ও।
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এই সুন্দরী উপস্থাপিকা রশীদ খানকে, তাঁর বয়ফ্রেন্ড বেন কাটিংকে নজরে রাখার অনুরোধ করেন। সামনেই আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ। সেখানেই নানগড়াহার ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলবেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার বেন কাটিং। আইপিএল-এ হায়দরাবাদের জার্সিতে খেলেছেন। উপমহাদেশের কন্ডিশনে বেশ অভিজ্ঞ তিনি। তাই আফগান লিগে খেলার ডাক পেয়েছেন।

বেন কাটিং ‌ও বান্ধবী এরিন হল্যান্ড

সম্প্রতি আইসিসি-র র‌্যাঙ্কিংয়ে তিন ধরনের ক্রিকেটেই প্রথম তিনে রয়েছেন রশীদ খান। সেই জন্য টুইট করে রশীদ জানিয়েছিলেন, ‘আইসিসি-র অলরাউন্ডারের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ পাওয়ায় বেজায় খুশি। ১ নম্বর ওয়ান ডে বোলার, টি টোয়েন্টি-তে ২ নম্বর। আপনাদের প্রত্যেকের প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ। এমন সাফল্যের পরে সাধারণত প্রত্যাশার মাত্রাও বেড়ে যায়। সক্ষমতার উপরে বিশ্বাসও বেড়ে যায়।’

রশিদ খানের এই টুইটের নীচেই কমেন্ট করেন বেন কাটিংয়ের বান্ধবী হল্যান্ড। তিনি লেখেন, ‘রশীদ তোমার জন্য আমি ভীষণ খুশি। কাটিংকে একটু দেখো। ওঁকে খুব বেশিবার আউট কোরো না লিগে।’

হল্যান্ডের মজাদার টুইটের পরে রশীদও লেখেন, ‘হল্যান্ড তোমাকে ধন্যবাদ। অবশ্যই বেনকে ভাল করে যত্নআত্তি করবো। তবে ওঁকে বলো, আমাকে যেন সুইপ না করে।’

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস গেইল, শাহীদ আফ্রিদী, কলিন মুনরো, ব্রেন্ডন ম্যাকুলাম, রায়ান টেন ডোসকাট, আন্দ্রে রাসেল, থিসারা পেরেরাদের মতো তারকারাও অংশ নে‌ওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় দল থেকে বাদ রোনালদো!

মাথার উপর ঝুলছে ধর্ষণের অপবাদ। এর মধ্যেই পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো! দুনিয়াজুড়ে শোরগোল পড়ে গেলো। অক্টোবরে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে উয়েফা নেশন্স লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে নেই সিআর সেভেনের নাম। পর্তুগাল কোচ স্যান্তোস রোনালদোর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে জানিয়েছেন, ‘এটি রোনালদো এবং পর্তুগাল সকার ফেডারেশন প্রধানের সম্মিলিতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত।’ এমনকি নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টটির পরের রাউন্ডেও রোনালদোকে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন পর্তুগাল কোচ। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি স্যান্টোস।

জার্মান ম্যাগাজিন spiegel-এ প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী, ২০০৯ সালে লাস ভেগাসের হোটেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথরিন মায়োর্গা নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন পর্তুগিজ ফুটবলের মহাতারকা রোনালদো। বর্তমানে সেই মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন।

অভিযোগকারিণী মহিলা দাবী করেছেন ধর্ষণের পর মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা হয়েছিল। নয় বছর আগে আউট অফ দ্য কোর্ট সেই বোঝাপড়া নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন মহিলা। রোনাল্ডো অবশ্য পুরো ঘটনাই অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়েছেন। ঘটনায় দুজনের সম্মতি ছিল বলেই রোনাল্ডোর আইনজীবী বিবৃতি দিয়েছেন।

ক্যাথরিন মায়োর্গা

এদিকে জাতীয় দল থেকে রোনালদোর বাদ পড়ার ঘটনায় স্বভাবতই হতাশ তার অনুরাগীরা। এর আগে বিশ্বকাপ পরবর্তী দু’টি ম্যাচের জন্য রোনালদোকে পর্তুগাল স্কোয়াডে রাখেননি স্যান্টোস। মূলত সেক্ষেত্রে দলের জুনিয়র ফুটবলারদের দেখে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।

দেশের হয়ে ১৫৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন রোনালদো। ৮৫ টি গোল করে দেশের সর্বকালের সেরা স্কোরার তিনিই।

তাজিকিস্তানের হার শুভ সূচনা ফিলিস্তিনের

স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে

প্রথম মিনিটে গোলহজম করা তাজিকিস্তান পুরো ম্যাচ জুড়েই চেষ্টা করেছে। সুযোগও পেয়েছিল বেশ কয়েকটি। কিন্তু কাজের কাজ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ শুরু করলো শিরোপা প্রত্যাশি ফিলিস্তিন। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে, এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেলো ফিলিস্তিন।

প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নিচ্ছে ফিলিস্তিন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি রয়েছে অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সবার উপরে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনে ফুটবল আসলে ঝুকিপূণ এক খেলা। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় যখন-তখন গাজা-পশ্চিম তীরে ম্যাচ বাতিল হয়। শহরের ভেতরে চেক পয়েন্টে কিংবা সীমানা পার হওয়ার সময় ইসরায়েলের সেনাদের হাতে হেনস্তা নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ তারা খেলতেই পারেনি। কারণ সীমান্তে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরো দলকে আটকে দিয়েছিল। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আবারও তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেবার বহির্গমন ভিসা না পেয়ে পশ্চিম তীরে আটকে যায় দল। তবু ফুটবলকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ফিলিস্তিনিদের। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ার সেরা ফুটবল টুর্নামেন্ট এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

 

 

আগামী বছর আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলার লক্ষ্য ফিলিস্তিন দলের আলজেরিয়ান কোচ নুরেদ্দিন আলীর, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েল কী করছে তা সবারই জানা। একটি দেশকে চারদিক দিয়ে আটকে রাখলে কী আর করার আছে! আমরা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ভালো করতে চাই। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য এশিয়ান কাপে ভালো করা।’ এরপরেও তাজিকিস্তানকে গ্রুপে প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে ফিলিস্তিন।

ম্যাচ শুরুর ৩২ সেকেন্ড তাজিকদের জালে প্রবেশ করিয়েছেন জনাথন দরলিলরা। গোল পরিশোধে মরিয়া তাজিকস্তান প্রথমার্ধে সুযোগ পেয়েছিল বেশ কয়েকটি। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় তা থেকে গোল পরিশোধ করতে পারেনি তারা। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ফিলিস্তিনের সংঘবদ্ধ আক্রমন প্রতিহত করেন গোলরক্ষক রাজিভব। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০০ নাম্বারে থাকা ফিলিস্তিন। সাধি সাবানের কর্ণারে আব্দুল লতিফ গোলটি করেন (২-০)।

ম্যাচের ৮৭ মিনিটে হেড করে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের আব্দুল লতিফের সঙ্গে সংর্ঘষ হয় বখতিয়ারের। সংর্ঘষটা এতটাই মারাত্মক ছিল যে মাঠ থেকে তাকে যেতে হয় হাসপাতালে। তাজিকিস্তানের শেষ প্রচেষ্ঠা রুখে দেন ফিলিস্তিনের গোলরক্ষক রাজিভব।

সেমিতে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান

সাফ অনুর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আগামীকাল শুক্রবার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভুটান। ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে, সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হবে দু’দল।

স্বাগতিক ভুটান সেমিফাইনালে উঠেছে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে। আর বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে হারানোর পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ২-১ গোলে। গত আগস্টে এই থিম্পুতেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ।

সাফের নতুন টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। ছোটরা এখানে শিরোপা হারালো এ দলটি ইতিহাস গড়তে চায় প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। তবে নেপালের সঙ্গে কম ব্যবধানে জয়ের পর বাংলাদেশ একটু সতর্ক। ভুটানের ঘরের মাঠে খেলা বলে তাদের সমীহ করেই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে স্বপ্ন-মৌসুমীরা।

বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন জানান, ‘ভুটানকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। তারা ভালো খেলেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে চাই। আমাদের মেয়েরা অনেকদিন ধরেই অনুশীলনে আছে। আশা করি, সেমিফাইনালে উঠতে তারা সর্বোচ্চাটা দেবে।’

অভিষেকে সেঞ্চুরি পৃথ্বী শ’র

স্কুলে পড়াকালেই প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন। দেখতে দেখতে অান্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটাও হয়ে গেল পৃথ্বী শ’র। সেটাও আবার কঠিনতম ফরমেট, টেস্টে। তাতে‌ও থেমে নেই, রাজকোট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকেই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেই জানান দিলেন পৃথ্বী শ’। মুম্বাইয়ের স্কুল ক্রিকেটে একটা সময় রেকর্ড ৫৪৬ রান করেছিলেন পৃথ্বী। পরে হ্যারিস শিল্ডে তাঁর সেই রেকর্ড ভেঙেছিলেন প্রণব ধনওয়াড়ে। তিনি করেছিলেন ১০০৯ রান। তবে স্কুল ক্রিকেটে ঐরকম রেকর্ড করে হৈচৈ ফেলে দেওয়া পৃথ্বীকে বড় মঞ্চে খেলতে দেখার অপেক্ষায় ছিল ভারতীয় ক্রিকেটমহল।

অভিষেক টেস্টে প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে ছুঁয়ে ফেললেন তিনি৷ ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড সফরের প্রথম টেস্টে লর্ডস অভিষেকে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৌরভ৷ এবার রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টে শতরান হাঁকালেন মুম্বইকর পৃথ্বী শ৷ ৯৯ বল খেলে ১৫টি বাউন্ডারির সাহয্যে শতরান পূর্ণ করেন পৃথ্বী৷ ১৫৪ বলে ১৯ চারে ১৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন পৃথ্বী শ’।

সিনিয়র ক্রিকেটে পা রেখে প্রথম দিনই একাধিক রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন তিনি৷

১. ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানোর নজির গড়লেন শ৷ মাত্র ১৮ বছর ৩২৯ দিন বয়সে অভিষেক টেস্টে শতরানের স্বাদ পেলেন পৃথ্বী৷

২. বলের বিচারেও ভারতীয়দের মধ্যে অভিষেক টেস্টে শতরান হাঁকাতে ধাওয়ানের পরেই রয়েছেন পৃথ্বী৷ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৫ বলে শতরান হাঁকিয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান৷ তার খারাপ পারপর্ম্যান্সের কারণে টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে রাজকোটে ৯৯ বলে শতরান করেন পৃথ্বী৷

৩. অন্যদিকে ভারতীয় মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় দু’নম্বরে রয়েছেন নবাগত এই ক্রিকেটার৷ মাত্র ১৭ বছর ১০৭ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট শতরান হাঁকিয়েছিলেন ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার৷ পৃথ্বী সেঞ্চুরি হাঁকালেন ১৮ বছর ৩২৯ দিন বয়সে৷ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের এই তালিকায় সাত নম্বরে উঠে এলেন তিনি৷ পাকিস্তানের শাহিদ আফ্রিদির প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এসেছিল ১৮ বছর ৩৩৩ দিনে৷ তাঁকে টপকে সাত নম্বরে এখন পৃথ্বী৷ টেস্ট অভিষেকে পৃথ্বির চেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন কেবল তিনজন-মোহাম্মদ আশরাফুর, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর সেলিম মালিক।

৪. ভারতীয় হিসেবে পৃথ্বী পনেরোতম ব্যাটসম্যান, যিনি অভিষেকেই সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়ে কিংবদন্তিদের ক্লাবে ঢুকে পড়লেন৷ অভিষেকে সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ আজহারুদ্দিন, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথন, প্রবীণ আমরে, সৌরভ গাঙ্গুলি, বীরেন্দ্র সেওয়াগ, রোহিত শর্মা, সুরেশ রায়না সহ আরও একাধিক ক্রিকেটার৷ সেই তালিকাতেই এবার পৃথ্বী৷

ভারতের ২৯৩ তম খেলোয়াড় হিসেবে এদিন টেস্ট অভিষেক হবে পৃথ্বীর৷ বিরাট কোহলির নেতৃত্বে পাঁচদিনের ফর্ম্যাটে প্রথমবার মাঠে নামেন চলতি বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারত অধিনায়ক৷

বছর আঠারোর মুম্বইয়ের এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ইতিমধ্যে ১৪টি প্রথমশ্রেণির ম্যাচে ১.৪১৮ রান করেছেন৷ সাতটি সেঞ্চুরি এবং পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরিসহ গড় ৫৬.৭২৷ সর্বোচ্চ রান ভারত-এ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১৮৮৷ স্ট্রাইক-রেট ৭৬.৬৯৷

মেসি ও নেইমারের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে জিতল বার্সা-পিএসজি

লিওনেল মেসি ও নেইমারের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা, পিএসজি, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। তবে নাপোলির কাছে হেরে গেছে লিভারপুল। নেইমারের হ্যাটট্রিকের পর জোড়া গোল করেছেন মেসি।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রাতের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি টটেনহ্যাম আর বার্সেলোনা। নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে এই পরীক্ষায় হার মানা চলবে না ক্যাটালানদের। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অতিথিদের হাতে। দু’মিনিটেই কুটিনহোর গোলে লিড বার্সার। ম্যাচের বয়স আধ ঘন্টা না যেতেই সেই কুটিনহোর পাস থেকেই ইভান রাকিটিচ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

বিরতির পর দু’বার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে টটেনহ্যাম, লিওনেল মেসির কারণে। তারা ৫২ আর ৬৬ মিনিটে দুটি গোল করেছে। কিন্তু দু’বারই সে গোল শোধ করেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তাতে মেসি ম্যাজিকেই টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় পেলো আর্নেস্তো ভালভার্দের দল।

হ্যাটট্রিক ম্যান নেইমার

এর আগে, দিনের অন্য ম্যাচে ছিলো নেইমারের রাত। ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক নিজে শুধু হ্যাটট্রিকই করেন নি, গোল করিয়েছেনও।

রেডস্টার বেলগ্রেডের বিপক্ষে ম্যাচের আধঘন্টা না যেতেই নেইমারের জোড়া গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি।
এমবাপ্পে-ডি মারিয়াদের কল্যাণে বিরতির আগেই জয় নিশ্চিত করে ফরাসী ক্লাবটি। বিরতির পর নেইমারের আরও দু’গোলে ৬-১ ব্যবধানের বিশাল জয় পায় প্যারিস সেন্ট জার্মেই।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৮ হাজার তম গোল গ্রিজম্যানের

দিনের অন্যান্য ম্যাচে, অ্যান্টোনি গ্রিজম্যানের জোড়া গোলে ক্লাব ব্রাগের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। তবে, নাপোলির কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে গেলোবারের রানার্সআপ লিভারপুল।

লাওসের বিদায়ে সেমিতে বাংলাদেশ-ফিলিপাইন

লা‌ওসের বিপক্ষে ফিলিপাইনের জয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেলো স্বাগতিক বাংলাদেশের। লাওসের টানা দ্বিতীয় হারে শেষ চারে লাল-সবুজরা সঙ্গী হয়েছে ফিলিপাইনের। আর শূণ্য হাতে বিদায় নিতে হলো লাওসকে। দুই ম্যাচে ৪ গোল হজমের বিপরীতে মাত্র এক গোল করেছে তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে ১-০ গোলে আর আজ শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৩-১ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে লাওসকে।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল লাওস। ঐ ম্যাচে বিপলুর দেয়া একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচ জিতেই সেমি ফাইনালে একধাপ এগিয়ে যায় জেমি ডে’র শিষ্যরা। তবে এক ম্যাচ হাতে রেখে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের বিষয়টি ঝুলে ছিল লাওস-ফিলিপাইন ম্যাচের উপর। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে লাওসকে জিততেই হতো র‌্যাংকিংয়ের ১১৪ নম্বরে থাকা ফিলিপাইনের সঙ্গে। কিন্তু এমন কঠিন সমীকরনের ম্যাচে জয়তো দূরের কথা, ড্র’ও করতে পারেনি। বড় হারের লজ্জা নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিঁটকে পড়ে লাওস। শুক্রবার একই ভেন্যুতে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে ফিলিপাইন।

বল মাঠে গড়ানোর পর থেকেই ফিলিপাইনিদের সামনে ভিড়তে পারছিল না লাওস। ফিলিপাইন আক্রমনাত্মক ফরর্ম্যাশনে খেলে প্রতিপক্ষ দলকে দিশেহারা করে ফেলেছিল। তবে লাওসের রক্ষণ দেয়াল ভাঙ্গতে অপেক্ষা করতে হয় ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে এন্ড্রুর বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে জোভিন এডিচ বক্সে প্রবেশ করলে তাকে রাফ ট্যাকল করেন কাহার্ন। রেফারিও পেনাল্টির নির্দেশ দিতে দেরী করেননি। স্পট কিকে গোল করে ফিলিপাইনকে উৎসবে মাতিয়ে তোলেন এডিচ নিজেই (১-০)। এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল লাওস। ৪৮ মিনিটে সুযোগও এসেছিল তাদের সামনে। কিন্তু বদলী হিসেবে নামা সুকচিন্দার হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হয় তাদের। এরপর পাঁচ মিনিট পরেই উল্টো আরো এক হজম করতে হয় লাওসকে। এবার স্কোর লাইন আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান জাভিয়ের অগাষ্টিন। বাঁ দিক থেকে হিকারুর ক্রসে দৌড়ে এসে হেডে নিশানা ভেদ করেন এ স্ট্রাইকার (২-০)। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৯ মিনিট আগে লাওসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন অধিনায়ক বাহাদূরান। এ গোলটিও এসেছে পেনাল্টি থেকে। নিজেদের বক্সে ভুল করে বল রিসিভ করতে গিয়ে হাত দিয়ে ঠেকান লাওসের ডিফেন্ডার সকছুন। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে স্পট কিক থেকে গোল আদায় করে নেন ফিলিপাইনের কাপ্তান (৩-০)।

শেষ দিকে এসে কিছুটা চাপ প্রয়োগ করেছিল লাওস। একটি গোলও শোধ করেছিল তারা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন পিথাক (৩-১)। কিন্তু হার এড়ানো সম্ভব হয়নি তাদের।

আমার গোলটাই সেরা : রোনালদো

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপর ধর্ষণের অভিযোগ যখন দুনিয়া জুড়ে আলোড়ন তুলেছে তখনই তিনি নিজেকে সেরা বলে দাবী করেছেন৷ চলতি মাসেই ফিফার বর্ষসেরা গোলের সম্মান জেতেন মিশরীয় মেসি নামে খ্যাত মোহম্মদ সালাহ৷ দর্শনীয় সেই গোলকে ফিফার বিচারে সেরা হলেও রোনালদোর চোখে সেরা নয়৷ নিজের গোলকেই সেরা বলছেন তিনি৷

সময়টা খুব একটা ভাল যাচ্ছে না রোনালদোর৷ স্পেনে কর ফাঁকির মামলা থেকে রেহাই পেয়েছিলেন আগেই। এবার মাথার উপর খাঁড়ার মতো ঝুলছে ধর্ষণের অপবাদ৷ পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হচ্ছে৷ অবশ্য তিনি এই অভিযোগকে মিথ্যে অপবাদ বলেই মনে করেন। সবকিছু পেছনে ফেলে সিআরসেভেন নিজেকেই সেরা দাবী দাবী করেন।

এই গোল প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, ‘সালাহ যোগ্য ফুটবলার হিসেবে সেরা গোলের পুরস্কার জিতেছেন৷ তবু বলবো আমার বাইসাইকেল কিকে করা গোলটাই সেরা৷’ প্রসঙ্গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে বাই সাইকেল কিকে দুর্দান্ত গোল করেছিলেন পর্তুগিজ ফুটবলের এই মহাতারকা৷

হংকংকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

টানা দুই ম্যাচ জিতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে সেমিফাইনালের পথে এখন স্বাগতিক বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার হংকং অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা।

গ্রুপ ‘বি’ তে হংকংয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রাখল বাংলাদেশ। এবার পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেই শেষ চারে উঠে যাবে বাংলাদেশ। পাকিস্তান জিতলেও দুই দলের পয়েন্ট সমান হবে। এরপর সেমিফাইনালের জন্য হিসেব করা হবে নেট রান রেটের।

টসে হেরে ব্যাট করে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ৪৬.৫ ওভারে মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয় হংকংয়ের তরুণরা। জবাবে মাত্র ১১.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

৯২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা খুব ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১৮ রানে অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয় বিদায় নে‌ওয়ার পরের বলেই সাজঘরে ফেরেন শামীম হোসেন। দলীয় ২২ রানে সাজিদ আউট হলে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। তবে শেষ সময়ে প্রতিরোধ গড়ে দলকে জয় এনে দেন আকবর আলী ও মাহমুদুল হাসান জয়। আকবর আলী ২৫ রানে আউট হলেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল হাসান জয়।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নাম হংকংয়ের হয়ে বড় কোনো ইংনিস আসেনি কারো কাছ থেকেই। দলটির হয়ে কালহান চাল্লু ও অদিত গোরাওয়ারা সমান ১৬ রান করে আউট হন। এছাড়া কবির সৌদি ১৩ ও হারুন আরশাদ ১০ ছাড়া বাকিদের আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া মৃত্যঞ্জয় চৌধুরী ও রাকিবুল হাসান পান দুটি করে উইকেট।

মস্কো পরীক্ষায় ইনজুরি আক্রান্ত রিয়াল মাদ্রিদ

বিশ্বকাপের সময় লুঝনিকিতে খেলা হয়নি গ্যারেথ বেলের। বিশ্বকাপের পরও হচ্ছে না। আর লুঝনিকি তো স্পেনের ফুটবলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন। সেই দুঃস্বপ্ন ক্লাবের হয়ে ঘুচাতেও মাঠে নামা হচ্ছে না রামোস-ইসকোদের। খেলতে পারবেন না মার্সেলোও। সবমিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালকে সিএসকে মস্কো পরীক্ষা দিতে হবে প্রথম একাদশের চার ফুটবলার ছাড়াই।

এমনিতে সময় ভালো যাচ্ছে না রিয়ালের। পর পর দুই ম্যাচে লা লিগায় পয়েন্ট খুইয়েছে। বার্সার হারের দিনে হেরেছে তারা। বার্সার সমতার দিনে তাদেরও সমতা। অথচ এর একটা ম্যাচে জিতলে বার্সেলোনাকে ছাড়িয়ে যেতো রিয়াল। কিন্তু লোপেতেগুইয়ের শিষ্যরা তা পারেনি। সেভিয়ার বিপক্ষে হার এবং অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সমতার পর মাঠে নামতে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগে।

রোনালদো পরবর্তী রিয়ালের ভরসা গ্যারেথ বেল-ইসকোরা। তাদের ছাড়া রিয়াল তাই কেমন করবে সেটা অবশ্য বলা কঠিন। তবে রিয়ালের সাবেক তারকা ডি মারিয়ার কথা মাথায় থাকলে বলা যায় রিয়াল ভালোই করবে। তিনি একবার বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের সুর কানে গেলে অন্যদল হয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

ইনজুরির কারণে চলতি মৌসুমের শুরুতেই ছিটকে গেছেন রিয়ালের লেফট ব্যাক মার্সেলো। অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে দলে ছিলেন না তিনি। অ্যাপেনডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করিয়েছেন ইসকো সপ্তাহ খানেক হলো। এই দু’জনকে পাওয়ার ভরসা রিয়াল কোচ আগেই ছেড়ে দিয়েছেন। অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে নেমে তিনি হারিয়েছেন আরও দুই তারকাকে। একজন দলীয় অধিনায়ক সার্জিও রামোস অন্যজন গ্যারেথ বেল। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে তাদেরকে ছাড়াই খেলতে হবে রাশিয়ার ক্লাব সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে।

মেসি বিক্রির জন্য নয় : বার্সা সভাপতি

লিওনেল মেসির মতো গ্রেট প্লেয়ারকে বিক্রি করবেনা বার্সেলোনা, এমনটাই জানিয়েছেন ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেও। তিনি আরো জানান, পেপ গার্দিওয়ালার জন্য সবসময়ই কাতালানদের দুয়ার খোলা আছে।

বার্সেলোনা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেও

তাছাড়া বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমেও আর‌ও ধারণা করেন যে, মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি ন্যু ক্যাম্পেই খেলবেন। এদিকে, গার্দি‌ওয়ালা সম্পর্কে তিনি বলেন, দলকে সাফল্য পাইয়ে দিতে অত্যাধিক চাপের কারণে তিনি কাতালুনিয়া ছেড়ে যান। সম্প্রতি, গার্দি‌ওয়ালা ‘লা মেসিয়া’র দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে বার্তোমে‌ও বলেন, ‘তিনি অনেক প্রতিভার অধিকারী, যখন আসতে চান তখনই আসতে পারেন; তার জন্য বার্সেলোনার দরোজা সবসময়ই খোলা।’

তবে বার্সেলোনা ছেড়ে যা‌ওয়ার সময়ই আমরা তাকে ‘লা মেসিয়ার’র দায়িত্ব নে‌ওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। মেসি সম্পর্কে তিনি জানান, আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড কাতালুনিয়াতেই ক্যারিয়ার শেষ করবেন বলে তার বিশ্বাস। তিনি জানান, নিশ্চয়ই সে আমাদের প্রোজেক্ট ছেড়ে যাবেনা। মেসিকে ঘিরেই বার্সেলোনার প্রজেক্ট চলছে।

জয়ে শুরু স্বাগতিক বাংলাদেশের

জয় দিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ফুটবলে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শক্তিশালী লাওসের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের স্বস্তির এক জয় তুলে নিয়ে সেমি ফাইনালের পথ অনেকটাই এগিয়ে গেলো লাল-সবুজের দল। বিপুল আহম্মেদের দেয়া একমাত্র গোলে প্রথমবারের মতো এশিয়ার এ দেশটির বিরুদ্ধে জয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। এরআগে, দুইবারের লড়াইয়ে এক ম্যাচে হার আর এক ম্যাচে ড্র ছিল লাল-সবুজদের। আগামী ৫ অক্টোবর একই ভেন্যুতে গ্রুপের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। ঐ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ চারে নাম লেখানোর সুযোগ থাকবে জেমি ডে’র শিষ্যদের। এ আসর দিয়ে গত মাসে সাফ ফুটবলের দু:খ ঘোঁচাতে মরিয়া এখন টিম বাংলাদেশ।

ম্যাচের আগের রাতে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় মাঠ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে জেলা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হলেও মাঠ ছিল ভীষন স্লো। বল পড়েই থেমে যাচ্ছিল। তাই উভয় দলের ফুটবলারদেরই বলের নিয়ন্ত্রন নিতে বেগ পোহাতে হয়। এমন বিপত্তির পরও শুরুতেই লাওসের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে জামাল-সুফিল-জীবনরা। ১১ মিনিটেই সফরকারীদের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল তারা। ওয়ালি ফয়সালের লম্বা থ্রু পাস ধরে নাবীব নেওয়াজ জীবন লাওসের এক ডিফেন্ডারকে কাঁটিয়ে ডান পায়ের জোড়ালো শট নেন। কিন্তু সাইড বার ঘেঁষে বল বাইরে চলে যাওয়ায় হতাশ হতে হয়।

তিন মিনিট পরেই স্বাগতিকদের রক্ষণ দেয়ালে চির ধরিয়ে পরিকল্পিত আক্রমন থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে লাওস। তবে ভাগ্য সহায় ছিল না তাদের। ডানদিক থেকে মিডফিল্ডার চানথাফুনের ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে সুকচিন্দা হেড নিলেও তা ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

আক্রমনের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ২২ মিনিটে আবারো গোলের চেষ্টা করেছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা। কিন্তু ডানদিক থেকে বিপলু আহম্মেদের দারুন এক ক্রসেও প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিতে পারেননি রবিউল। দুই মিনিট পরেই একক প্রচেষ্টায় গোল করতে গিয়ে ব্যর্থ হন সুফিল। তার পাশেই ফাঁকায় দাঁড়ানো ছিলেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। তাকে বল দিয়েই হয়তো বা গোলের দেখা তখনি পেয়ে যেতো বাংলাদেশ। ৩৬ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে লাওসের মিডফিল্ডার বাউনফাচান বাংলাদেশী ডিফেন্ডারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোলমুখে শট নিলেও গোলরক্ষক আশরাফুলকে ফাঁকি দিতে পারেননি। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বল বুকে জড়িয়ে নেন তিনি।

প্রথমার্ধে গোল না পেলেও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ শিবির। আক্রমনে কোনঠাঁসা করে ফেলে সফরকারীদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন সুফিল। ডানদিক থেকে ওয়ালী ফয়সালের বাড়ানো বল ধরে বক্সের ভেতরে ফাঁকায় দাঁড়ানো সুফিলকে পাস দেন জীবন। দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে সুফিল লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন। দুই মিনিট পরেই লাওসের স্ট্রাইকার সুকচিন্দার শট ক্রসবারের ঠিক উপরে দিয়ে চলে গেলে বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।

অবশেষে ম্যাচের ৬০ মিনিটে ১৬ কোটি বাঙ্গালিকে আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দেন বিপলু আহম্মেদ। জটলার মধ্যে ডান পায়ের আলতো টোকায় নিশানা ভেদ করেন তিনি। নাবীব নেওয়াজ জীবনের হেড লাওসের গোলরক্ষক সায়মানুলিনের হাত স্পর্শ করে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন এক ডিফেন্ডার। ডানদিকে দাঁড়ানো বিপলু জটলার মধ্যে বল পেয়ে আলতো টোকায় গোল আদায় করে নেন (১-০)। সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার পঁচিশেক দর্শক। লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে আর ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে গোল উৎসব করে তারা। সতীর্থদের সঙ্গে গোলের আনন্দ উপভোগ না করে দৌড়ে গিয়ে মাঠের দক্ষিণ পাশে রাখা বঙ্গবন্ধু বিশালাকৃতির প্রতিকৃতিতে স্যালুট প্রদান করেন। শেষ দিকে আরো কয়েকবার লাওসের দূর্গে আঘাত হানলেও ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলার দামাল ছেলেরা।

উল্লেখ্য, এ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় রবিউল ও ইব্রাহিমের। এরআগে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত চলতি আসরের উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠে গেলো বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের মিশন শুরু করলো গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। এমন জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে মৌসুমী-মার্জিয়াদের।

আজ রোববার ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই পাকিস্তানের জালে ৮ গোল দেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে দেয় আরো ৯টি গোল। বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৭ গোল করেছেন সিরাত জাহান স্বপ্না। তিনি ম্যাচের ১০, ৩০, ৪৪, ৬২, ৭৩, ৭৬ ও ৯০ মিনিটে করেন সাতটি গোল।

হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করেন মার্জিয়া। তিনি ম্যাচের ৭, ১৩, ২২, ৭১ মিনিটে চারটি গোল করেন। জোড়া গোল করেছেন শিউলি আজিম। তিনি ৩২ ও ৬৯ মিনিটে গোল দুটি করেন। ১টি করে গোল করেছেন অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমী (৩৭ মি.), আখি খাতুন (৫৮ মি.), কৃষ্ণা রাণী (৭৪ মি.) ও তহুরা খাতুন (৮৭ মি.)।

আগস্টে ভুটানে অনুষ্ঠি সাফ অনূধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের মেয়েদের ১৪-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা। এবার সেটাকে ছাড়িয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দল ১৭-০ গোলে হারাল পাকিস্তানকে।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। যেখানে মৌসুমী-মারিয়াদের প্রতিপক্ষ নেপাল ও পাকিস্তান। ২ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে নেপালের বিপক্ষে। নেপাল তাদের প্রথম ম্যাচে ১২-০ গোলে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশ বড় জয় পাওয়ায় সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে নেপালেরও। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার তারা বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে।

‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, স্বাগতিক ভুটান ও মালদ্বীপ। ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে ভুটানকে হারিয়েছে। আর ভুটান তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে। আগামী মঙ্গলবার ভারত তাদের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে।

দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে যাবে। ৫ অক্টোবর হবে দুটি সেমিফাইনাল। আর ৭ অক্টোবর হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল।

আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে মুশফিক-মুস্তাফিজ-লিটনের উন্নতি

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে সরিয়ে এক নম্বরে উঠে এলেন, আফগানিস্তানের রশীদ খান। তাছাড়া ব্যাটিংয়ে ভালো করায় উন্নতি হয়েছে, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের।

বোলিংয়ে উন্নতি হয়, কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানেরও। এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ভালো করায়, ছয় ধাপ এগিয়ে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠে আসেন রশীদ খান। প্রথম আফগান হিসেবে তিনি শীর্ষে উঠলেন। আর তাতে দ্বিতীয়স্থানে নেমে গেলেন, সাকিব আল হাসান।

এদিকে, বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল দুই ধাপ কমে ১৪তে আসলেও ছয় ধাপ এগিয়ে ১৬ তে উঠে এসেছেন, মুশফিকুর রহিম। আর ফাইনালে সেঞ্চুরি করা লিটন দাস ১০৭ ধাপ এগিযে উঠে এসেছেন ১১৬তম স্থানে। আর বাংলাদেশের বোলার মুস্তাফিজুর রহমান, চার ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন দ্বাদশ স্থানে।

একই দিনে রিয়াল-বার্সার ড্র

স্প্যানিশ লা লিগায় ষষ্ঠ রাউন্ডের মতো একইদিনে সপ্তম রাউন্ডে‌ও ড্র করলো দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। শনিবার মাদ্রিদ ডার্বিতে অ্যাথলেটিকোর সঙ্গে গোলশূন্য ভাবে খেলা শেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্য খেলায় অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের কাছে ১-১ গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা।

মাদ্রিদ ডার্বি দেখল দুই দলের গোলরক্ষকের একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার লড়াই। দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় প্রথমার্ধে। গোলমুখে আঁতোয়ান গ্রিজম্যান ও দিয়েগো কস্তাকে রুখে দিয়ে দিয়ে রিয়ালকে লড়াইয়ে রাখেন অ্যাথলেটিকোর সাবেক গোলকিপার থিবো কর্তোয়া।

বল পজেশনে এগিয়ে থাকা রিয়ালও কয়েকবার হানা দেয় অ্যাথলেটিকো সীমানায়। ম্যাচের ২১ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন গ্যারেথ বেল। টনি ক্রজের ফ্রি-কিক থেকে তার কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যূতে, দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে লোপেতেগুইয়ের শিষ্যরা। ৬৬ মিনিটে মার্কো আসেনসিওকে সফল হতে দেননি অ্যাথলেটিকোর গোলরক্ষক ওবলাক। এছাড়াও দু’পক্ষের একাধিক আক্রমণে দুর্গের শেষ প্রহরী হিসেবে ঢাল হয়ে দাঁড়ান দুই গোলরক্ষক। তাতে নিষ্ফলা ড্রয়েই শেষ হয় মৌসুমের প্রথম মাদ্রিদ ডার্বি। এই ড্রয়ের ফলে সাত ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানেই রইলো রিয়াল মাদ্রিদ।

অন্য ম্যাচে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ করে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের পর বার্সেলোনার কাছ থেকে‌ও পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় তারা। অ্যাওয়ে ম্যাচে এদিন প্রথমার্ধে গোল করে কাতালান ক্লাবকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় বিলবাও। ৪১ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অস্কার ডি মার্কোস।

৮৪ মিনিটে বার্সেলোনাকে গত দু’বছরে ন্যু ক্যাম্পে, প্রথম হারের মুখ থেকে বাঁচান বদলি খেলোয়াড় মুনির এল হাদ্দাদি। এ সময় লিওনেল মেসির ক্রস থেকে বার্সার হয়ে সমতাসূচক গোল করেন তিনি। তবে ড্র করেও লিগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই রইলো গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। সাত ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্টে সমান ১৪ হলে‌ও গোল ব্যবধানে শীর্ষ স্থান ধরে রাখে ভালভের্ডের শিষ্যরা।

এশিয়াকাপের সেরা একাদশে মুশফিক-মুস্তাফিজ

এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে সেরা একাদশ নির্বাচন করা হয়েছে। সেই একাদশে আছেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহিম ও কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

বিরাট কোহলির অবর্তমানে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন রোহিত শর্মা। ভারতীয় এই ওপেনার এশিয়া কাপে সেরা ওপেনার হিসেবে আছেন। তার সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ৩১৭ রান। রোহিত শর্মার পাশাপাশি দাপুটে ব্যাটিং করেছেন শিখর ধাওয়ান। উদ্বোধনীতে এশিয়া কাপে রোহিত-শিখরই সেরা জুটি। শিখর ধাওয়ানে সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ৩৪২ রান।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে জন্য সেরা নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। এশিয়া কাপে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ৫ ম্যাচে ৬০.৪০ গড়ে এক সেঞ্চুরিতে ৩০২ রান তার। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের জন্য পারফেক্ট পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক। এশিয়া কাপে অসাধারণ খেলেছেন ৩৬ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার। এরপর নজর কেড়েছেন আফগানিস্তানের হাশমতউল্লাহ শহীদি। ৫ ম্যাচে ৬৫.৭৫ গড়ে ২৬৩ রান সংগ্রহ করেন আফগান এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। রশিদ খানের নামটা না বললেই নয়। এশিয়া কাপে তিনি ছিলেন ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্কের নাম। ১০ উইকেট নিয়ে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের সেরা বোলার তিনিই। শুধু বোলিংয়ে নয়, ব্যাটিংয়েও অসাধারণ খেলেছেন এই লেগ স্পিনার।

এশিয়া কাপে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ দলের এ বাঁ-হাতি পেসার ইনজুরি থেকে ফিরে অসাধারণ বোলিং করে নজর কেড়েছেন। এশিয়া ১০ উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় অবস্থানে তিনি। অলরাউন্ডার হিসেবে দুর্দান্ত খেলেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার কেদার যাদব। বিশেষ করে বল হাতে অসাধারণ খেলেছেন তিনি। ৬ ম্যাচে তার শিকার ১০ উইকেট।

অলরাউন্ডার হিসেবে ভালোই খেলেছেন মোহাম্মদ নবি। ৩৩ বছর বয়সী আফগান এ অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ৫ ম্যাচে ১৩৪ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ভারতের চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদব ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করে নজর কেড়ছেন। বোলিংয়ে বৈচিত্র ছিল যশপ্রীত বুমরার। এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। ৪ ম্যাচে তার শিকার ৮ উইকেট।

বাংলাদেশের মিশন শুরু কাল

মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ এখন অপ্রতিরোধ্য শক্তি। অনুর্ধ পর্যায়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছে বাংলার মেয়েরা। এমন আরেকটি মিশনে বর্তমানে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৮ মহিলা ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো এই আসরে ‘বি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে লাল-সবুজের দেশ।

শুক্রবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হলেও বাংলাদেশ মিশন শুরু করবে আগামীকাল রবিবার। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ সামনে রেখে থিম্পুতে ঘাম ঝরানো অনুশীলন করছে বাংলাদেেেশর মেয়েরা। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন মৌসুমী, মারিয়া, কৃষ্ণারা। কোচ জানিয়েছেন, পাকিদের বিরুদ্ধে জয় দিয়েই মিশন শুরু করতে চায় তার দল।

এদিকে উদ্বোধনী দিনে বড় জয়ে শুভসূচনা করেছে আসরের অন্যতম ফেবারিট ভারত। শুক্রবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। বিজয়ী দলের হয়ে জোড়া গোল করেন দেবনেতা রয়, একটি করে গোল করেন মনিশা ও আশেম।

পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলা ভারত প্রথমার্ধে মাত্র এক গোল পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল আদায় করে নেয়। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেললেও প্রথম গোলের জন্য ভারতকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় প্রথম গোল করেন দেবনেতা। বিরতির পর ৫০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সম্ভাবনাময় এই ফুটবলার। ৬৪ মিনিটে ভারতের হয়ে তিন নম্বর গোলটি করেন মনিশা। ৬৭ মিনিটে আশেম ভুটানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন। গত আগস্টে হয় সাফ অনুর্ধ-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে এই একই ভেন্যুতে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলার কিশোরীদের। ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল ০-১ গোলে। এবার সেই ক্ষত শুকানোর মিশন অনুর্ধ-১৮ দলের। এই আসরে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করবেন মিশরাত জাহান মৌসুমী। আর সহঅধিনায়ক অনুর্ধ-১৬ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা।

বাংলাদেশের মিশন নিয়ে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, এই আসরে আমরা প্রথমবারের মতো খেলছি। নার্গিস ইনজুরির কারণে দলে নেই। এই দলে ১০ সিনিয়র এবং অনুর্ধ-১৬ দলের ১৩ ফুটবলার আছে। তারা অনেকদিন একসঙ্গে অনুশীলন করায় তাদের মধ্যে ভাল সমন্বয় আছে। তবে অনুর্ধ-১৮ দলের সিনিয়র খেলোয়াড় গত দুই বছর ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। তবে তারা অন্যদের সঙ্গে অনুশীলনের পাশাপাশি সপ্তাহে ৩/৪টি করে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে। আশাকরি সমস্যা হবে না। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা।

পারলো না বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ভারত

বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ওভারে শ্বাসরুদ্ধর জয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত। টাইগারদের বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলো রোহিত শর্মার দল। বাংলাদেশের দেয়া ২২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ম্যাচের শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ভারত। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ফাইনাল সেরা লিটন দাস আর টুর্নামেন্ট সেরা শিখর ধাওয়ান।

বাংলাদেশকে ফাইনালের চোকার বানিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতলো ভারত। এনিয়ে সপ্তমবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট তাদের। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী ছয় ম্যাচের সবগুলোতে হেরে ফাইনালের চোকার বনে গেলো বাংলাদেশ। লিটনের সেঞ্চুরির পরও ব্যাটিং ব্যার্থতায় আক্ষেপের তালিকায় যোগ হলো আরেকটি ফাইনাল। হাতছোঁয়া দূরত্বে এসেও শিরোপা অধরাই থেকে গেলো টাইগারদের।

ভারতকে ২২৩ রানের টার্গেট দিয়ে ৪৬ রানে ২ উইকেট তুলে নেয় মাশরাফী বাহিনী। ৪৮ করা রোহিতের বিদায়ের পরও সহজ জয়ের পথেই ছিলো ভারত। তবে কার্তিককে মাহমুদুল্লাহ ও ধোনিকে বিদায় করে ১৬০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখান মুস্তাফিজ। জাদেজা-ভুবেনেশ্বরের ঠোকাঠুকিতে শেষ দুই ওভারে ভারতের প্রয়োজন ৯ রান। ৪৯ তম ওভারে মাত্র ৩ রানে ভুবেনেশ্বরের উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন কাটার মাস্টার। শেষ ওভারে প্রয়োজন ৬। মাহমুদুল্লার শ্বাসরুদ্ধকর ওভারের শেষ বলে ১ রানের উত্তেজনা। কিন্তু শিরোপায় ভাগ বসাতে পারলোনা টাইগাররা। বাংলাদেশকে হতাশ করে জয়োল্লাস ভারতের।

এরআগে, পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে নিয়মিত ব্যর্থতা কাটাতে লিটনের সাথে মেহেদী-মিরাজকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন টাইগার অধিনায়ক। নেমেই লিটনের বিধ্বংসী আচারণে দিশেহারা ভারত। তাতে ১৬ ইনিংস পর পঞ্চাশ, ২৬ ইনিংস পর টাইগারদের শতরানের উদ্বোধনী জুটি।

ঝলমলে শুরুর পর স্কোর বোর্ডে ১২০-এর সাথে ৩১ যোগ হতে ৫ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গে ৩২ করা মিরাজের বিদায়ে। নামের পাশে সিঙ্গেল ডিজিট নিয়ে ফিরলেন ইমরুল, মুশফিক, মিথুন ও মাহমুল্লাহ। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত খেলাতে থাকা বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ফাইনালেই ব্যর্থ ।

আশার আলো হয়ে জ্বলছিলেন লিটন দাস। ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে বদলে দেন ৮৭ বলে।

দুর্দান্ত ছন্দে খেলতে থাকা লিটনের মনোমুগ্ধকর ইনিংসের বিতর্কিত সমাপ্তিতে ক্ষত-বিক্ষত টাইগার ভক্তরা। স্ট্যাম্পিংয়ে বেনিফিট অব ডাউট ব্যাটসম্যানের দিকে গেলেও, টিভি আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ান রড টাকারের সিদ্ধান্ত দেন, ভারতের পক্ষে। মেলবোর্ন, এজবাস্টনের পর এবার দুবাইয়েও আম্পায়ারের পক্ষপাত্বিতের শিকার হতে হয় বাংলাদেশকে। হৃদয় ভাঙা সিদ্ধান্তে ১১৭ বলে ১২১ রানেই থামে লিটনের অসাধারণ ইনিংস। তাতে তিনশ’ রানের ভিত পাওয়া টাইগারদের ইনিংস থামে ২২২ রানে। এই স্কোরেই লড়াইটা দারুণ জমিয়েছিলো টাইগাররা। তাতে আক্ষেপটা বেড়ে গেলো দারুণ সূচনার পরও ব্যাটিং ব্যার্থতায়।

বাংলাদেশের জয় কামনা

তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। আগের দুইবার স্বপ্নভঙ্গ হলেও এবার নতুন ইতিহাস গড়তে চায় টাইগাররা। আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানালেন শোবিজ তারকারা।

 

আমাদের ভালো সম্ভাবনা আছে / শাফিন আহমেদ,সংগীতশিল্পী

আমি মনে করি, আজকের ফাইনালে আমাদের জেতার ভালো সম্ভাবনা আছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের টিম স্পিরিট দুর্দান্ত! এটাকে ধরে রাখতে পারলে মোমেন্টামটা আমাদের দিকে চলে আসবে। সাকিব-তামিমকে ছাড়াই গত ম্যাচটা আমরা যেভাবে জিতেছি, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ফাইনালেও আমার দৃষ্টি মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহর দিকে। তাঁদের সঙ্গে যদি নতুনরাও জ্বলে উঠতে পারেন, তাহলে ভালো স্কোর হতে পারে। মুস্তাফিজ আবারও তাঁর স্বরূপে ফিরেছেন। গত দুটি ম্যাচে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। আজও তাঁর দিকে চেয়ে থাকবে পুরো জাতি। পাশাপাশি মাশরাফি, মিরাজরাও অবদান রাখতে পারেন। গত দুইবারের দুঃখ ভুলে ট্রফিটা জেতার জন্য টাইগাররা এবার জীবন বাজি রেখে লড়বে বলেই আমার বিশ্বাস।

মন বলছে আমরাই জিতবো / শারমিন সুলতানা সুমি, সংগীতশিল্পী

মন বলছে আজকের ম্যাচটা আমরাই জিতব। সে ক্ষেত্রে খেলাটা ফেয়ার হওয়া জরুরি। সাকিব-তামিমকে ছাড়াই বাংলাদেশ গত ম্যাচটা জিতেছে। টানা জিতেছে দুই ম্যাচ। প্রচণ্ড গরমের কারণে প্লেয়ারদের খেলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই দলের অধিনায়ক মাশরাফির মধ্যে অদ্ভুত একটা শক্তি আছে। সেই শক্তিটা তিনি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। যার ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবাই লড়াই করে যাচ্ছেন। ফলও অনুকূলে আসছে। বিজয়ের হাওয়াটা এবার বাংলাদেশের দিকে বইছে। আগেও দুইবার আমরা এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরেছি। এ নিয়ে তৃতীয়বার। আবার পর পর দুটি ম্যাচ জিতে এবার তৃতীয়টির সামনে। কথায় আছে না পর পর তিন দান। সেটা হয়ে গেলে ট্রফিটা আমাদের ঘরেই আসবে। তবে আগে ব্যাটিং পড়লে রানটা আরো বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আবার‌ও ইউরো ফুটবলের আয়োজক জার্মানি

তুরস্ককে পিছনে ফেলে ২০২৪ ইউরো কাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল জার্মানি। তৃতীয়বারের জন্য ইউরোপ সেরা লড়াইয়ের আসর বসতে চলেছে বেকেনবাওয়ারের দেশে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের গভর্নিং বডির কার্যকরী সমিতির ভোটে এই সিদ্ধান্ত হয়। ইউরোপিয়ান ফুটবলের সদর দফতর নিয়নে বৃহস্পতিবার একথা জানান, উয়েফা প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিন।

২০২৪ ইউরো আয়োজনের দায়িত্বে জার্মানির সঙ্গে সমানভাবে দৌড়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ সালের পর আবার টুর্নামেন্ট আয়োজনে ব্যর্থ হল তারা। জার্মানির ২০২৪ ইউরো আয়জনের দায়িত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে সেফেরিন জানান, গোটা প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছ ছিল। গণতান্ত্রিক উপায়েই নির্বাচন হয়েছে। সমস্ত সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিকভাবেই গৃহীত হয়েছে।’

বিডে অ্যাম্বাসাডর হিসেবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিশ্বজয়ী জার্মান অধিনায়ক ফিলিপ লাম। জার্মানি ইউরো আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত লাম জানান, ‘দারুণ ফুটবল স্টেডিয়াম, ফুটবল পাগল সমর্থক সবকিছুই রয়েছে আমাদের দেশে। সবচেয়ে বড় কথা ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে জার্মানরা ফুটবল সমানভাবে উপভোগ করতে জানে। বিরাট ফুটবল যজ্ঞের আয়োজনে সামিল হতে চলেছি আমরা।’

প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের হোম ভেন্যুতে তাদের হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠায় বিশ্ব গণমাধ্যম প্রশংসা করছে বাংলাদেশ দলের। পাকিস্তানের মিডিয়ায় যেমন চলছে তাদের খারাপ পারফর্মেন্সের ময়না তদন্ত, তেমনি বিশ্বের নানা প্রান্তের সংবাদ মাধ্যমে চলছে মুশফিক-মুস্তাফিজের বন্দনা।

দলের সেরা দুই তারকাকে ছাড়াই দুর্দান্ত জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। ইনজুরির কারণে সাকিব আর তামিমকে হারানোর পরও অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলরাউন্ড পারফর্মেন্সে জয় পেয়েছে টাইগাররা। আর এই জয়ের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে মাশরাফীর দল।

ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে আস্থাভাজন বিবিসি, সবাই বাংলাদেশের দলগত নৈপুণ্যে মুগ্ধ। ফার্স্ট ক্রিকেট, গালফ নিউজ কিংবা সুপার স্পোর্টসের মত নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটগুলো বিশেষ করে উল্লেখ করেছে মুশফিকের ব্যাটিং আর মুস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্যের কথা। সেই সাথে ভারতের সাথে ফাইনালটাও যে হাড্ডাহাড্ডি হবে তা মনে করিয়ে দিয়েছে পত্রিকাগুলো।

তবে বৈচিত্র্যময় মন্তব্যগুলো এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নামকরা ক্রিকেটার থেকে ধারাভাষ্যকররা জানিয়েছেন তাদের প্রতিক্রিয়া। ভারতের হার্শা ভোগলে, বীরেন্দর শেবাগ কিংবা মোহাম্মদ কাইফরা যেখানে বাংলাদেশের পারফর্মেন্সের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, সেখানে পাকিস্তানের রমিজ রাজা আর শহীদ আফ্রিদী মুন্ডুপাত করেছেন পাকিস্তানের বাজে পারফর্মেন্সের।

নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার স্কট স্টাইরিস অবশ্য মনে করছেন, অধিনায়কত্বই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।
তবে ঝড় বয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের মিডিয়ায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেদের হোম ভেন্যুতেও আসরের ফাইনালে উঠতে না পারার পেছনে টীম ম্যানেজমেন্টকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে তারা।

আবার‌ও এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

আবার‌ও এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতার শিরোপা লড়াইয়ে এখন ভারতের প্রতিপক্ষ লাল-সবুজের দল। তা‌ও আবার সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালদের মতো প্রথিতযশা ক্রিকেটার ছাড়াই। তবে ইনজুরি নিয়ে খেলছেন মুশফিকুর রহিম এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই নিয়ে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। ২০১২ সালে প্রথম, আর ২০১৬ সালের পর ২০১৮ সালে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২৪০ রানের টার্গেটে নেমে, ৯ উইকেট হারানো পাকিস্তান থামে মাত্র ২০২ রানে।

তবে পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল হক একাই লড়াই করলেন। তিনি খেলেছেন ৮৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। তবে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে এই ইনিংস আর খুব একটা কাজে লাগলো না। পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। উইকেটের পেছনে লিটন দুটি ক্যাচ মিস ছাড়া বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। ম্যাচ শেষে আলাদা করে ফিল্ডিংয়েরও প্রশংসা করেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

শুরু থেকেই মিরাজ-মোস্তাফিজদের বোলিং আক্রমণে দিশেহারা অবস্থা হয় পাকিস্তানের। প্রথম ওভারেই মিরাজের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেট হারান ওপেনার ফখর জামান। পরের ওভারেই মুস্তাফিজের আক্রমণ। ৪ ওভারের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে পাকিস্তান। সেখান থেকে ইমাম-উল হক, শোয়েব মালিক, আসিফ আলিদের মাঝারি ধরনের কয়েকটা ইনিংস পাকিস্তানকে লড়াকু পজিশনে নিয়ে আসে।

অবশ্য পিচ রিপোর্টে রামিজ রাজা জানিয়েছিলেন, প্রথমে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে আড়াইশো রান তুলতে পারলে স্পিনারদের দিয়েই প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করা যাবে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি‌ও সেই পথেই হাঁটলেন৷ টসে জিতে ব্যাটিংই বেছে নেন তিনি। কিন্তু আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।

নাজমূল হোসেন শান্তর জায়গায় সুযোগ পেলেও ইনিংসের শুরুতেই সৌম্য সরকার শূন্য রানে আউট। আরেক ওপেনার লিটন ফেরেন ব্যক্তিগত ৬ রানে। সাকিবের ইনজুরিতে দলে ফেরা মমিনূল ৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি। মিঠুন ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ৬০ রান করেন। ইমরুল কায়েস আউট হন ৯ রানে। মেহেদি হাসান ও মাহমুদুল্লাহর সংগ্রহ ১২ ও ২৫। আর মাশরাফি ১৩ রান করে আউট হতেই ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকলেও কোনও বল খেলার সুযোগ পাননি।

এই ম্যাচে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আমিরকে বসিয়ে প্রথম একাদশে সুযোগ দেয়া জুনাইদ খানকে। ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দেন। শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলি নেন দু’টি করে উইকেট।

ট্র্যাজিক হিরো মুশফিকুর রহিম

আক্ষরিক অর্থেই ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থেকে গেলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নার্ভাস নাইটিনাইনে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ব্যাট হাতে যখন ক্রিজে আসেন, বাংলাদেশ ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে। শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়া বাংলাদেশ ইনিংসকে নির্ভরতা দেন মুশফিকই।

মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১৪৪ রান যোগ করেন তিনি। ব্যক্তিগত ফিফটি করে মিঠুন ফেরার পর ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে আরও ৪১ রান যোগ করেন দলের ইনিংসে। যথন শতরান করে ব্যক্তিগত মাইলফলক টপকানোর সুযোগ আসে, ঠিক তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। শাহীন আফ্রিদির বল ব্যাটের কানা লাগিয়ে বসায় ফিরতে হয় সেঞ্চুরির ঠিক এক রান আগে।

নার্ভাস-৯৯’এ আউট হয়ে একরাশ হতাশাকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর রহিম। তবে দলকে হতাশ করেননি৷ খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে বোলারদের জন্য লড়াই করার রসদ জোগাড় করে দেন তিনি। ঠিক যেমনটা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন লিটল মাস্টার মুশফিক। সেবার অবশ্য সেঞ্চুরিই করেন তিনি। আর দল‌ও পেয়েছিলো জয়। এবার দল ফাইনালে উঠতে পারে কিনা, সেটা সময় বলবে, তবে নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া হয় মুশফিকের।

ফাইনাল খেলার লক্ষ্য বাংলাদেশের

শুক্রবার থেকে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে শুরু হচ্ছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আজ বুধবার ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। দুপুরে থিম্পুতে পৌঁছালেও এদিন আর অনুশীলনে নামা হয়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। আগামীকাল সকালে ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুশীলনের কথা রয়েছে লাল-সবুজের দলের।

সাফের বয়স ভিত্তিক এ নারী ফুটবল আসরে বাংলাদেশসহ ৬টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ছোটনের শিষ্যরা রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। তাদের সঙ্গী নেপাল ও পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে মৌসুমী আক্তারের দল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২ অক্টোবর।

অন্যদিকে, ‘এ’ গ্রুপে আছে স্বাগতিক ভুটান, ভারত ও মালদ্বীপ। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল করে চার দল দল খেলবে সেমি ফাইনালে। বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। দেশ ছাড়ার আগে এমন প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেলেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন।

সকালে ঢাকা ত্যাগের আগে বাংলাদেশ মহিলা দলের সফল এ কোচ বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপের প্রাক-বাছাইয়ে আমরা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। সেই দলের ১৩জন ফুটবলারকে আমরা সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ দলে নিয়েছি। তাদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে। সিনিয়রদের সঙ্গে মিলে তারা দারুণ ফুটবল উপহার দিতে পারবে। নবীনদের নিয়ে দল সাজালেও আমি এ টিম নিয়ে বেশ আশাবাদী। কারণ অনেকদিন যাবৎ বয়স ভিত্তিক দলগুলো একসঙ্গে অনুশীলন করছে। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বেশ ভালো।’

নিজের প্রথম লক্ষ্য সম্পর্কে গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। গ্রুপ পর্বে আমাদের প্রতিপক্ষ নেপাল ও পাকিস্তান। এ দু’টি দলের বিরুদ্ধে জয়ের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। কিছুদিন আগেও তাদের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছি। আশাকরি সেইধারা এবারও ধরে রাখতে পারবে মেয়েরা। সেমি ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে যে দলই আসুক না কেনো আমরা ফাইনালে যেতে পারবো। ফাইনালে পৌঁছানোর পর পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারন করবো।’

দলের অধিনায়ক মৌসুমী আক্তার জানান, ‘আমরা ফাইনালকে টার্গেট করেই ভুটান যাচ্ছি। দেশবাসীর দোয়া চাই। আশাকরি ভালো কিছু করতে পারবো সেখানে।’ নিজের দল সম্পর্কে প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব পাওয়া এ ফুটবলার বলেন, ‘সিনিয়র ও জুনিয়রদের নিয়ে দারুন একটি দল গঠন করা হয়েছে। জুনিয়র যারা দলে সুযোগ পেয়েছেন তারা সবাই খেলার মধ্যে ছিল। সদ্য সমাপ্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপের প্রাক বাছাইয়ে তহুরা-শামসুন্নাহার জুনিয়ররা কিন্তু নিজেদের প্রমানও করেছে। আমার বিশ্বাস ভুটানেও তারা গোল পাবে।’

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ

জর্জিয়ার বাতুমি শহরে ৪৩তম বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ দল ২ খেলায় পূর্ণ ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৪০ টি দলের সাথে মিলিতভাবে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ দাবা দল ৪-০ গেমে ইন্টারন্যাশনাল ব্রেইল চেস এসোসিয়েশন (আইবিসিএ)-কে পরাজিত করে।

ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ দলের পক্ষে গ্র্যান্ড মাস্টার মোল্লা আব্দুল্লাহ আল রাকিব, ফিদে মাস্টার বাবারিকিন স্ট্যান্শ্লিাভকে; গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান, আন্তর্জাতিক মাস্টার মিশকভ ইউরিকে; ফিদে মাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, ক্যান্ডিডেট মাস্টার গ্রিগোচুক সের্গেইকে এবং গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব, পালাসিয়ন পেরেজ ম্যানুয়েলকে পরাজিত করেন।

এদিকে, দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় বাংলাদেশ মহিলা দল ১৫ নং সিডেড স্পেনের কাছে ১.৫-২.৫ গেম পয়েন্টে হেরে গেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ মহিলা দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, স্পেনের মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার হারনানদেজ এস্টিভেজ ইউুদয়ানাকে পরাজিত করেন এবং মহিলা ফিদে মাস্টার তনিমা পারভীন, ফিদে মাস্টার গার্সিয়া মার্টিন মার্থার সাথে ড্র করেন। আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা, স্পেনের আন্তর্জাতিক মাস্টার ভেগা গিটারেজ সাবরিনার কাছে ও মহিলা ফিদে মাস্টার শারমীন সুলতানা শিরিন, মহিলা গ্র্যান্ড মাস্টার কেলজেট্টা রুইজ মনিকেথির কাছে হেরে যান।

আজ বুধবার তৃতীয় রাউন্ডের খেলা বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫ টায় শুরু হবে। ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ দল ভিয়েতনামের সাথে এবং মহিলা বিভাগে বাংলাদেশ মহিলা দল পর্তুগালের দলের সাথে খেলবে।

মুস্তাফিজের উপর শতভাগ আত্মবিশ্বাস ছিল : মাশরাফি

অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উড়ন্ত শুরুর পর টানা দুই ম্যাচে হার। আমিরাতের তপ্ত আবহাওয়াই হয়ে পড়েছে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা। যেখানে চারদিনে তিন ম্যাচ খেলতে হয়েছে। রবিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধী জয়ে দলে ফিরেছে আত্মবিশ্বাস। দুবাইয়ের ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের লবিতে বসে এশিয়া কাপের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কথা বলেছেন।

প্রশ্ন: প্রায় ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে শারীরিকভাবে কিংবা কন্ডিশনের দিক দিয়ে এটাই কি আপনার সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্ট?

মাশরাফি: এটাতো সত্যি কথা। শরীর একপর্যায়ে গিয়ে চলছে না। কারণ চারদিনে তিনটা ম্যাচ খেলাটা কঠিন, ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, সেটা আসলে রিকভারি হচ্ছে না। এটা একটু কঠিন। এ ধরনের টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচের আগে অন্তত একদিনের বিশ্রাম থাকে। কোথাও কোথাও দুই দিনের বিশ্রামও থাকে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশেও তো গরমে খেলেন, এখানকার সাথে ভিন্নতা কি?

মাশরাফি: সমস্যা হচ্ছে পেশীতে ক্র্যাম্প হয়ে যাচ্ছে। ক্র্যাম্প হয়ে গেলে স্বাভাবিক খেলাটা খুব কঠিন। আমার যেমন ব্যাক ক্র্যাম্প করছিল, মুস্তাফিজের যেমন পিঠে ক্র্যাম্প করছিল। এইসব জায়গায় ক্র্যাম্প করলে আপনি তো বোলিং করতে পারবেন না। এইসব জায়গায় ক্র্যাম্প করলে দৌড়ে বোলিং করা কঠিন। নির্দিষ্ট যে বলটা প্রয়োজন সেই বলটা হবে না।

প্রশ্ন: টানা দুই ম্যাচ হারের পর আফগানদের বিরুদ্ধে জয়ে কি পুরো দল পুরনো ছন্দে ফিরল?

মাশরাফি: আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা যখন প্রথম ম্যাচ খেলেছি। সত্যি কথা হচ্ছে ওই ম্যাচে আমাদের কারোই প্রস্তুতি ছিল না। আমাদের পরের ম্যাচটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা জানি ভারত এখানে এক নম্বর দল হিসেবেই খেলছে। সেই সঙ্গে একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি, ওখানেও আমরা ছাড়তে পারছি না। আমরা সবাই কিন্তু বিভ্রান্ত ছিলাম। আমরা কি করবো? আমাদের কি করা উচিত। আমরা শতভাগ দিতে পারছিলাম না। শতভাগ দিলে কালকে যদি আবার সমস্যা হয়ে যায়। বিরাট একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই করতে করতে কিন্তু ৪০ ওভার পর্যন্ত ঠিকমতোই ছিলাম আমরা। ওখানে আমার বোলিং করার কথাও ছিল না। আমি রুবেলকে করাতে সাহস পাচ্ছি না। পরের দিন খেলতে হবে। তারপরও চিন্তা করলাম, আচ্ছা আমিই করি। আমরাও ওয়ার্মআপ ঠিকমতো নেই। প্রস্তুতি ঠিক নেই। তারপরও আমিই করেছি। যার কারণে বোলিং বিভাগে একটু এলোমেলো ছিলাম। ভারতের বিপক্ষে হারটা অপ্রত্যাশিত কিছু না। ভারত এখানে নাম্বার ওয়ান দল। আমি মনে করি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা আমরা ভালো খেলতে পারিনি। একেবারেই প্রস্তুতি শতভাগ থাকার পরও আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আফগানিস্তানকে অনেকে দুর্বল দল ভাবছে। ওদের দুইজন বোলার আছে যারা এই বছর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। আমি জানি না কারা বলছে, আফগানিস্তান এখন অন্যতম সেরা দল হয়ে উঠছে। শুধু ওদের বোলিং আক্রমণ দিয়ে। ওদের তিনজন স্পিনার আছে যারা বিশ্বমানের। নবী-মুজিব-রশিদ। আফগানিস্তানের সঙ্গে সহজেই জিতবো এমন কোনো ভাবনাও ছিল না। শতভাগ ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে। কখনো কখনো বড় বড় জয়ের চেয়ে এমন জয় টিমকে অনুপ্রেরণা যোগায়। আমি বলছি না কালকের ম্যাচে কি হবে। জয়তো জয়ই, হারতো হার।

প্রশ্ন: এমন কন্ডিশনে টানা বোলিং করা পেসারদের জন্য বড় পরীক্ষা ছিল নিশ্চয়ই…..

মাশরাফি: ৩৩ ওভারের সময় মুস্তাফিজকে যখন এনেছি তখন কিন্তু ওকে আমার পাঁচটা ওভার করানোর ইচ্ছা ছিল। ওই সময় পাঁচটা ওভার করে দিয়ে যেখানে ২০-২২ রানের পার্থক্য ছিল ওটা ৪০ রানের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্ল্যান ছিল। যেন কয়েকটা উইকেট তুলে নিয়ে চাপটা তৈরি হয়। মুস্তাফিজ দুই ওভার বল করেই আমাকে বললো ভাই আর পারছি না। তখনতো খুব স্বাভাবিক আমার জন্যও শকিং, টিমের জন্য শকিং। কিন্তু আপনিতো একজন খেলোয়াড়কে ইনজুরি করে দিতে পারেন না। তখন আমিই শুরু করলাম। আমার ইনজুরি এখন ম্যাটার করবে না। আসলে অনেক কিছুই মাথায় চলে। কিন্তু এমন গরমে মাথা অনেক সময় কাজ করে না। সবকিছুর সঙ্গে সবকিছুর সম্পর্ক আছে। আপনি যেটা বললেন আমি আসলে ইনজুরি নিয়ে ভাবি না।

প্রশ্ন: শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে বল দেয়ার সময় নিজের ভেতর কি কাজ করছিল?

মাশরাফি: শতভাগ আত্মবিশ্বাস ছিল ওর উপর আমার। কারণ ওরে মারতে গেলে আউট হওয়ার সুযোগ আছে। ও যদি কাটারটা ঠিক জায়গায় ফেলে। ওর সাথে খালি আমার আলাপ এটুকু হয়েছে যে, তুই কাটারটা যে মারবি ঠিক জায়গায় মারিস। যেটা তুই আগে মারতি। আর কিছু ভাবার দরকার নেই। যেহেতু তুই অন্য কোনো বল করবি না, একটা বলই করবি, তাহলে নিশ্চিত করবি বলটা যেন ঠিক জায়গায় পড়ে, যেখানে তুই চাচ্ছিস।

প্রশ্ন: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ২৫০ উইকেট হয়ে গেল আপনার। ঠিক কিভাবে দেখছেন এমন বড় অর্জনকে?

মাশরাফি: (হাসি)…..সত্যি কথা বলতে কি, আমি যতদিন ক্রিকেট খেলছি, আমি প্রত্যেকটা ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলছি। আমি সবসময় সত্ থাকার চেষ্টা করেছি মাঠে। এমনকি আমার শরীর যখন ফিফটি-ফিফটি তখনও শতভাগ দিতে চেষ্টা করেছি। কখনো ইনজুরি হয়েছে, ইনজুরির আগে বা ইনজুরি হতে পারে এসব নিয়ে ভাবিনি। ছোট-খাট জিনিস সামলেই এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। এখনও সমস্যা নিয়ে চলছি। এই টুর্নামেন্টে আমি দুইটা নো বল করছি। আপনি কবে দেখছেন আমাকে নো বল করতে। আসলে ২৫০ উইকেট আমার কাছে ম্যাটার করে না। আমার কাছে বড় যে, আমি সবকিছুর ভেতর দিয়ে চলতে পারছি। যে কোনো ভাবে ম্যানেজ করে চলছি। এটা বড় স্বস্তির। একইভাবে আপনি যদি বলেন ২৫০ উইকেট, অবশ্যই এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। কারণ আমার অনেক স্বপ্ন ছিল যখন ক্রিকেট শুরু করি। সেগুলো যখন অর্জন হয়নি। কিন্তু মিলিয়ে দেখলে আবার মনে হয়, মনে একটা শান্তি আছে। কখনো হাল ছাড়িনি। অনেক কঠিন সময় এসেছে। এতকিছুর পর এমন একটা অর্জন অবশ্যই নিজেকে আনন্দ দেয়।

জাতীয় দলে ছুটি বাড়লো মেসির

জাতীয় দলে খেলা থেকে ছুটি আর‌ও বাড়ালেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লি‌ওনেল মেসি। গত মাস থেকেই তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলা থেকে বিরত রয়েছেন। তাই আগামী মাসে খেলতে যা‌ওয়া প্রীতি ম্যাচে‌ও লি‌ওনেল মেসিকে দলে ডাকার কোনো পরিকল্পনা নেই কোচ লি‌ওনেল স্ক্যালোনির।

তবে আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকরা কিন্তু মেসির খেলা দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন। তবে দলের অন্তরবর্তীকালিন কোচ স্ক্যালোনি জানিয়েছেন, আগামী মাসে ইরাকের সঙ্গে এবং পরে জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যে প্রীতি ম্যাচ খেলবে তাতে‌ও মেসিকে দলে ডাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফক্স স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কোচ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘না, সে (মেসি) খেলতে আসছেনা। আমার সঙ্গে (তার) কথা হয়েছে। আসলে এটা নিয়ে গল্প বানানোর কোনো কিছু নেই সবাই খুব ভালোভাবেই জানে যে তার (মেসির) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। এবং প্রায়ই আমাদের কথা হয়।’

এশিয়া ট্যুরের অংশ হিসেবে ইরাক ‌ও ব্রাজিলের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা আগামী ১১ অক্টোবর ইরাকের সঙ্গে এবং এর পাঁচদিন পর জেদ্দায় সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ আজ

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার সেমিফাইনাল হ‌ওয়া ম্যাচটিতে ফাটিয়ে দে‌ওয়ার আশা করছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সোজাসুজি বলেই দেন তিনি, ‘সেমিফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে ফাটিয়ে দেব।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে গত রবিবার শ্বাসরুদ্ধকর, নাটকীয় ম্যাচে ৩ রানে জিতে বাংলাদেশ। তাতে করে ফাইনালের আশা টিকে থাকে। আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘সুপারফোরের শেষ ম্যাচটি ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল রূপে পরিণত হয়েছে। যে দল জিতবে তারাই ভারতের বিপক্ষে শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াই করবে।

সবাই জানে, পাকিস্তানকে নিয়ে আগাম কিছু অনুমান করা কঠিন। এশিয়া কাপের গ্রুপপর্ব হোক কিংবা এখন পর্যন্ত ‘সুপারফোরে’ ম্যাচগুলোতে হোক; পাকিস্তান নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। গ্রুপপর্বে হংকংকে সহজেই হারিয়েছে। কিন্তু এরপর ভারতের কাছে অনায়াসে হেরেছে। পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ গিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে জয় পেতে বেশ ঘাম ঝড়াতে হয় তাদের। ভারতের বিপক্ষে তো নাস্তানাবুদ হয়েই চলেছে। আবারও ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে। এবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

বাংলাদেশও যে খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে তা নয়। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপরই আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ ভারতের কাছেও একই হাল টাইগারদের। সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল শেষ পর্যন্ত জিতেছে। কিন্তু শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ‘ম্যাজিক’ বোলিং না হলে জয় মিলত না। তবে এমন জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ক্রিকেটারদের। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়াও সম্ভব। পাকিস্তান যে এবার এশিয়া কাপে বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ খেলছে।

অবশ্য যে কোন মুহূর্তে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তা দেখাও গেছে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফেবারিট তালিকায় না থেকেও শিরোপা জিতেছিল তারা। আর এশিয়া কাপে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস তো আছেই। তবে পাকিস্তানই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে ভয় পাচ্ছে। তাদের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার কিন্তু দলকে নিয়ে আছেন চরম ভয়ে। তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্কট চলছে। ব্যর্থতার ভয় কিছুটা হলেও ড্রেসিংরুমে গ্রাস করেছে। ক্রিকেট দল হিসেবে এখন আমরা কি অবস্থায় আছি সেটা খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি আমরা।’

শোয়েব মালিক, ইমাম উল হক, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদকে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন। কিন্তু যাদের দিকে নজর, সেই ব্যাটসম্যান ফখর জামান, বোলার মোহাম্মদ আমির, হাসান আলিরা কিছুই করতে পারছেন না। আত্মবিশ্বাসও পাক ক্রিকেটারদের নড়বড়ে হয়ে গেছে। মিকি আর্থার যেমন জানান, ‘ক্রিকেট আত্মবিশ্বাসের খেলা। অথচ ফখর জামানকে দেখুন। আমরা সবাই জানি ও’ কতটা অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়া খেলোয়াড় সে। আমাদের প্রত্যাশা থাকে ও ভাল শুরু এনে দেবে দলকে। কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের খেলা নিয়ে ও’র মধ্যে যেন দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে।’

পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াবে তাছাড়া কোন গতি নেই; জানিয়েছেন আর্থার, ‘তবে আমাদের তো এখানেই থেমে যাওয়ার উপায় নেই। এগিয়ে যেতে হবে। আশাকরি দ্রুতই আমরা ঘুরে দাঁড়াব এবং আরও ভাল এবং শক্তিশালী দল হিসেবে ফিরে আসব।’

এদিকে, পাকিস্তানকে বিদায় করেই ফাইনালে খেলার আশা করছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের এপ্রিলে দুই দল পরস্পরের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। বাংলাদেশের মাটিতে সেই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই হেরেছিল পাকিস্তান। এবারও পাকিস্তানকে হারাতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস চাপের মধ্যে থেকেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড ১২৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোর দাঁড় করানোয় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর শেষ ওভারে গিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মুস্তাফিজের ম্যাজিক বোলিংয়ে জয় পায় টাইগাররা। আর এমন পারফর্মেন্সকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখতে চান আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘এই খেলাটাকে আমাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।’

সেটা করতে পারলেই আজকের ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল জেতাও হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আবারও এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলাও নিশ্চিত করবে।

শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ভুটান যাচ্ছে বাংলাদেশ

শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে সাফ অনুর্ধ-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আজ বুধবার দুপুরে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। ছয় জাতির এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে।

এই প্রথমবারের মতো অনুর্ধ-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ হচ্ছে। যে কারণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও প্রথম। আসরে ‘এ’ গ্রুপের তিন দল হচ্ছে স্বাগতিক ভুটান, ভারত ও মালদ্বীপ। আগামী শুক্রবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও ভুটান। বাংলাদেশ মিশন শুরু করবে রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দু’টি করে দল সেমিফাইনাল খেলবে। এই আসরে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করবেন মিশরাত জাহান মৌসুমী। আর সহ-অধিনায়ক অনুর্ধ-১৬ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা।

বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, এই আসরে আমরা প্রথমবারের মতো খেলব। নার্গিস ইনজুরির কারণে দলে নেই। এই দলে ১০ সিনিয়র এবং অনুর্ধ-১৬ দলের ১৩ ফুটবলার আছে। তারা অনেকদিন একসঙ্গে অনুশীলন করায় তাদের মধ্যে ভাল সমন্বয় আছে। তবে অনুর্ধ-১৮ দলের সিনিয়র খেলোয়াড় গত দুই বছর ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। তবে তারা অন্যদের সঙ্গে অনুশীলনের পাশাপাশি সপ্তাহে ৩/৪টি করে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে। আশাকরি সমস্যা হবে না। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা।

অধিনায়ক হিসেবে এটাই প্রথম মিশন মিডফিল্ডার মৌসুমীর। তিনি বলেন, অধিনায়কত্ব মানেই বাড়তি চাপ, বাড়তি দায়িত্ব। চেষ্টা করব ভালমতো দায়িত্ব পালন করতে। দলগতভাবে আমরা কঠোর হার্ডওয়ার্ক করেছি। অনুর্ধ-১৬ দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন অনুশীলন করেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন ফাইনাল খেলতে পারি।

ভুটানে সবসময়ই তাক লাগানো সাফল্য পেয়েছে বাংলার মেয়েরা। এর আগে দেশটিতে দুইবার শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অবশ্য দু’বারই পুরুষ দল। একবার ২০০২ সালে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে (বাফুফে একাদশ নামে)। আরেকটি ২০১৪ সালে কিংস কাপে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। কিছুদিন আগে অবশ্য সাফ অনুর্ধ-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলার কিশোরীরা। পুরো আসরে ভালো খেলেও ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল। এবার অনুর্ধ-১৮ দলের সেই ক্ষত শুকানোর মিশন।

পাকিস্তানকে হারানোর প্রতাশা টাইগার কোচের

এশিয়া কাপে সুপার ফোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচটি হয়ে উঠেছে সেমিফাইনাল। আগামীকাল বুধবার পাকিস্তানকে হারিয়েই ভারতের মুখোমুখি হওয়ার প্রত্যাশা মাশরাফিদের কোচ স্টিভ রোডসের।

বাংলাদেশ আগেও দুবার এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে। আগামীকাল বুধবার আবুধাবিতে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপে ফাইনাল মঞ্চের দেখা মিলবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানে জয় দিয়ে শুরু করে পরপর দুই ম্যাচে বাজে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে লাল-সবুজরা। তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের ভালোই সুযোগ দেখছেন রোডস।

তিনি বলেন, ‘আমি তো মনে করি আমাদের ভালো সুযোগ আছে। একটি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আমরা পাকিস্তানকে খুবই শ্রদ্ধা করি। তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যা করেছে সেটা সবারই জানা। এটা খুব বেশিদিনের কথা নয়। তারা ইংল্যান্ডে দারুণ খেলে শিরোপা জিতেছিল। তাদের এবারের আসরটা একটু অদ্ভুতভাবে যাচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যে আত্মবিশ্বাসটা ছিল, সেটা এবার একটু কম দেখা যাচ্ছে।’

‘এরপরও তারা খুবই বিপজ্জনক দল। তবে আমরাও চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। তাদের দিনে তারা খুব ভয়ঙ্কর। আমরাও কিন্তু তাই। এখন তো ম্যাচটা সেমিফাইনাল। খুব ভালো একটা প্রতিযোগিতা হবে মনে হচ্ছে। আমরা চাই পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলতে।’

জিততে হলে ব্যাটিংয়ে শুরুটা হওয়া চাই যুতসই। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার নাম ব্যাটিং। বিশেষত ওপেনার তামিম ইকবালের অভাবটাই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে টাইগারদের। তামিমের বদলি সুযোগ পাওয়া তরুণ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ। এরপরও শান্তর ওপর আস্থা রাখছেন রোডস।

‘টপ অর্ডারে সমস্যা আছে। আমরা চাইবো ভালো শুরু করতে। তবে এটা সবসময় ঘটবে না। বিশেষত তামিমের আঙুল ভাঙ্গায় আমরা একটু পিছিয়ে আছি। তবে আমাদের শান্ত আছে। প্রতিভাবান তরুণ একজন খেলোয়াড়। আরও অনেক তরুণ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আছে দলে। শান্তর অনেককিছু দেয়ার আছে।’

চাপ মুক্ত না হলে বাংলাদেশকে হারানো কঠিন : আকরাম

এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে বলে মনে করেন, দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম।

আগামীকাল বুধবার আবুধাবিতে সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এ ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে ফাইনালে। হেরে যাওয়া দল টুর্নামেন্ট থেকে নেবে বিদায়। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের দল নিয়ে চিন্তিত আকরাম।

পাকিস্তান দলকে কিছুটা ভীতসন্ত্রস্ত মনে হচ্ছে উল্লেখ করে সাবেক এ পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। কারণ, পাকিস্তানের পারফরমেন্সে আমি হতাশ। পাকিস্তানের এই দলটিকে আমার ভীতসন্ত্রস্ত মনে হচ্ছে।’

হংকং-এর বিপক্ষে ৮ উইকেটে জয় দিয়ে এবারের এশিয়া কাপে যাত্রা শুরু করে পাকিস্তান। তবে গ্রুপ পর্বে পরের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তান। ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হারে তারা। এক জয়েই সুপার ফোরে ওঠে পাকিস্তান।

গ্রুপ পর্বের মতো সুপার ফোরেও জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে পাকিস্তান। আফগানিস্তানকে ৩ উইকেটে হারায় তারা। এতে ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পাকিস্তান। কিন্তু দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে আবারো হারায় ভারত। ব্যবধান ৯ উইকেট।

ভারতের কাছে হেরে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে পাকিস্তান। ফাইনালে খেলতে হলে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই তাদের। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য সহজ হবে না বলে মনে করেন দেশটির সাবেক বাঁ-হাতি কিংবদন্তি পেসার আকরাম।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী দল। পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটা সহজ হবে না। ছেলেদের একটা কথাই বলবো। ফলের কথা না ভেবে নির্ভীক ক্রিকেট খেলো। চাপ মুক্ত হয়ে খেলতে হবে। নয়তো বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’

পাকিস্তান দলের চিত্র ভালো লাগছে না আকরামের। দলকে ভীতসন্ত্রস্ত মনে হচ্ছে তার, ‘পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের দেখে মনে হচ্ছে, তারা ভয়ে ভয়ে খেলছে। মাঠে তাদের মুখ দেখে হতাশ মনে হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাট করতে নামছে তাদের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তারা ঘাবড়ে আছে। বর্তমানে যেভাবে খেলছে দল। তা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।’

মডরিচ-মারতা ফিফার সেরা

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর মোহাম্মদ সালাহকে হারিয়ে ফিফা দ্য বেস্ট খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ। জার্মান ফুটবল দলের কোচ জোয়াকিম লো, জমকালো অনুষ্ঠানে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ তারকার নাম ঘোষণা করেন।

তার আগে তিনি বলেন, যারা সেরা তিনে আছেন তারা সবাই ভালো খেলোয়াড়। তবে আমার কাছে মনে হয় মডরিচই বর্তমানের সেরা খেলোয়াড়। অবশ্য এরআগে মডরিচ রোনালদো এবং সালাহকে পেছনে ফেলে উয়েফা বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের পুরষ্কার জিতেছিলেন।

এদিকে, ব্রাজিলের মারতা জেতেন মেয়েদের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার। তিনি খেলেন অরলান্ডো প্রাইডের হয়ে। গত এপ্রিলে মারতা’র অধিনায়কত্বে ব্রাজিল কোপা আমেরিকা ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। আর মারতা নিজে করেন ১৩ গোল। এবং ছয়টি গোলে সহায়তা করেন।

সেরা একাদশ : ডেভিড ডি গিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানি আলভেস (পিএসজি), রাফায়েল ভারানে (রিয়াল মাদ্রিদ), সার্জিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ), র্মাসেলো (রিয়াল মাদ্রিদ), এনগোলো কান্তে (চেলসি) , লুকা মডরিক (রিয়াল মাদ্রিদ), ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (জুভেন্টাস), কিলিয়েন এমবাপে (পিএসজি), লিওনেল মেসি র্বাসেলোনা) ও এডেন হ্যার্জাড (চেলসি)।

১৯৮৭ সাল থেকে চালু করেছে ফেয়ার প্লে অ্যাওর্য়াড। এবার সেই পুরষ্কার জেতেন র্জামানির লের্নাট থিয়া। ভেনেলোর এই খেলোয়াড় একজন লিউকেমিয়া রোগীকে সাহায্য করতে গিয়ে পিএসভি আইন্দোভেনের বিপক্ষে গুরুত্বর্পূণ ম্যাচ মিস করেন।

সেরা কোচের পুরষ্কার জেতেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশাম। ফ্রান্সকে দ্বিতীয়বার বিশ্ব সেরার মুকুট জেতানোর জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সেরা গোলকিপার থিবু র্কতোয়া। পেরু জিতল ফ্যান অ্যাওর্য়াড।

ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড জিতেছেন মিশর ‌ও লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। এভারটনের বিপক্ষে দারুণ একটি গোলের কারণে তিনি এই পুরষ্কারটি জেতেন।

এবার ২৫ ভাগ ভোট দিয়েছেন সমর্থকরা, ২৫ ভাগ জাতীয় দলের কোচরা, ২৫ ভাগ অধিনায়করা এবং বাকী ২৫ ভাগ ভোট দেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

নয়টি ক্যাটাগোরিতে পুরষ্কার দে‌ওয়া হয়। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার পুরুষ, ফিফা বেস্ট কোচ পুরুষ, ফিফা বেস্ট গোলকিপার, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার নারী, ফিফা বেস্ট কোচ নারী, ফিফা ফ্যান অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি ‌ও ফিফা সেরা একাদশ।

কোচদের সেরা দেশাম

সেরা কোচের পুরষ্কার জেতেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশাম। ফ্রান্সকে দ্বিতীয়বার বিশ্ব সেরার মুকুট জেতানোর জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

এর আগে, ফিফা দ্য বেস্ট পুরষ্কার দে‌ওয়ার জমকালো অনুষ্ঠান শুরু হয় লন্ডনে। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড জেতেন মিশর ‌ও লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। এভারটনের বিপক্ষে দারুণ একটি গোলের কারণে তিনি এই পুরষ্কারটি জেতেন।

href=”http://bangladesherkhela.com/wp-content/uploads/2018/09/Salah.jpg”>

এবার ২৫ ভাগ ভোট দিয়েছেন সমর্থকরা, ২৫ ভাগ জাতীয় দলের কোচরা, ২৫ ভাগ অধিনায়করা এবং বাকী ২৫ ভাগ ভোট দেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

নয়টি ক্যাটাগোরিতে পুরষ্কার দে‌ওয়া হয়। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার পুরুষ, ফিফা বেস্ট কোচ পুরুষ, ফিফা বেস্ট গোলকিপার, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার নারী, ফিফা বেস্ট কোচ নারী, ফিফা ফ্যান অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি ‌ও ফিফা সেরা একাদশ।

সালাহ জিতলেন পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড

শুরু হয়ে গেছে ফিফা দ্য বেস্ট পুরষ্কার দে‌ওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড জিতেছেন মিশর ‌ও লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। এভারটনের বিপক্ষে দারুণ একটি গোলের কারণে তিনি এই পুরষ্কারটি জেতেন।

এবার ২৫ ভাগ ভোট দিয়েছেন সমর্থকরা, ২৫ ভাগ জাতীয় দলের কোচরা, ২৫ ভাগ অধিনায়করা এবং বাকী ২৫ ভাগ ভোট দেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

নয়টি ক্যাটাগোরিতে পুরষ্কার দে‌ওয়া হয়। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার পুরুষ, ফিফা বেস্ট কোচ পুরুষ, ফিফা বেস্ট গোলকিপার, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার নারী, ফিফা বেস্ট কোচ নারী, ফিফা ফ্যান অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি ‌ও ফিফা সেরা একাদশ।

ব্যালন ডি’অরে এবার নারীদের পুরষ্কার

নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরষ্কার ব্যালন ডি’অর। ইতিহাসে এবারই প্রথম পুরুষদের পাশাপাশি নারী ফুটবলারদেরকে‌ও পুরষ্কৃত করার উদ্দ্যোগ নিয়েছে ব্যালন ডি’অর কতৃর্পক্ষ।

সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরষ্কার ১৯৫৬ সালে প্রথম প্রবর্তন করে ফ্রান্স ফুটবল। সেবার সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন স্ট্যানলি ম্যাথুজ।

নারী খেলোয়াড়েদর ১৫ জনের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর পুরুষদের তালিকায় আছে ৩০ জনের নাম। প্যারিসে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিজয়ীদের হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেয়া হবে আগামী ৩ ডিসেম্বর।

ফ্রান্স ফুটবলের প্রধান সম্পাদক প্যাসকল ফেরি এ প্রসঙ্গে বলে, ‘এখন দারুণ খেলেন নারী ফুটবলাররা। পুরুষদের মতোই এখন তারা সম্মান পা‌ওয়ার যোগ্য। সেই সম্মান জানাতেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।’

ফিফা দ্যা বেস্ট পুরষ্কার আজ

ফিফা দ্যা বেস্ট পুরস্কার দেয়া হবে আজ। রাত একটায় লন্ডনের রয়েল ফেস্টিভ্যাল হলে জমকালো এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করবেন পুরস্কার জয়ী অভিনেতা ইদ্রিস এলবা। এবং তার সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন ফ্রেঞ্চ সাংবাদিক অ্যানা-লরা বনেট।

তবে লিওনেল মেসিবিহীন শর্টলিস্ট। সংক্ষিপ্ত তিনে অনুপস্থিতি ব্রাজিলীয় সেনসেশন নেইমারও। বিউটিফুল গেম খ্যাত ফুটবলের ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বিশ্বকাপের বছরের ফিফার বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড বিতরণীর শীর্ষস্থানীয় পদকের রেসের নিয়ন্ত্রণও রাশান মেগা আসরের শ্রেষ্ঠ পারফরমারদের হাতের মুঠোয়। তবে শেষ পর্যন্ত একজনই বিজয়ী হবেন। কার হতে উঠবে ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘দ্য বেস্ট ফিফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ ২০১৮ সালের ট্রফি? পুরুষদের বিভাগে ফিফার দ্য বেস্ট সিরিজের বর্তমান জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দখলেই থেকে যাবে প্রেস্টিজিয়াস পুরস্কার? না কি লুকা মডরিচ ও মিসরীয় বিস্ময় মোহাম্মদ সালাহর মধ্য থেকেই কেউ একজন জিতবেন জয়ী হবেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার দ্য বেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ভার্সনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘মেন্স ফুটবলার অব দ্য ইয়ার’ পদক?

বাস্তবতা হচ্ছে ফিফার ২০১৮ সালের জমকালো গালা শোর মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা তিনজনেরই সম্ভাবনা থাকবে শ্রেষ্ঠত্বের খেতাব জয়ের। বর্ষসেরা অ্যাওয়ার্ড রেসের শর্টলিস্টের সুপারস্টার ত্রয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুকা মডরিচ ও সালাহর চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্টজনেদের ভোটাভুটির ফলাফলে। একজনই জয়ী হবেন। ফিফার ২০১৮ সালের ‘দ্য বেস্ট মেন্স প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ উন্মাদনায় মেতে ওঠায় ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি পরিণত হয়েছে সময়ের ব্যাপারে।

সব প্রস্তুতি শেষ। আজই অবসান হবে ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস খেতাব ফিফার ২০১৮ সালের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারকে বরণ করে নেয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার। লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হলরুমে ফিফার জমকালো গালা শোর বিশেষ পর্বের একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হবে।

মোট ৯টি ক্যাটাগরির শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্সের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হবে ফিফার বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড বিতরণীর মঞ্চে। তবে পুরুষদের ‘দ্য বেস্ট মেন্স ফুটবলার অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত ফলাফলেই সব আগ্রহ ভক্তদের। বিশ্লেষকদের বিচারে দ্য বেস্টের রেসের হট ফেবারিট রাশান বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিস্ময়কর উত্থানের রূপকার লুকা মডরিচ। গত মৌসুমের ক্লাব ফুটবলেও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মধ্যমাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্য উপহার দেন। স্পেনের দলটির হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের বিস্ময়কর কৃতিত্ব রচনায়ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মডরিচ। তার বিরুদ্ধবাদীদের একমাত্র অনুযোগ ব্যক্তিগত গোলের পরিসংখ্যান।

এক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুন্ন রাখায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হয়েছে সংক্ষিপ্ত তিনে মোহাম্মদ সালাহর উপস্থিতিতে। গত মৌসুমে সব ফরম্যাটের ফুটবলে সবমিলিয়ে ৪৪ গোল করার বিরল কৃতিত্ব রচনা করেন অল রেড অ্যাটাকার। রোনালদোও ৪৪ গোলে সমাপ্ত করেন ২০১৭-১৮ মৌসুম। ফিফার দ্য বেস্ট মেন্স অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণে ২৫ শতাংশ ভোটাধিকার সংরক্ষিত ভক্তদের জন্য। অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশের বণ্টন সংবিধান অনুযায়ী করে থাকে ফিফা।

পয়েন্ট হারালো বার্সেলোনা

স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে নিজেদের মাঠেই জিততে পারেনি জায়ান্ট বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে জিরোনার সাথে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খোঁয়ালো কাতালানরা।

ম্যাচের উনিশ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে লিড নেয় বার্সা। তবে খেলার পঁয়ত্রিশ মিনিটের মাথায় দলের ফরাসি সেন্টার ব্যাক ক্লেমেন্ট লেংলেট লাল দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় বার্সা। আর এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান জিরোনার ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ান তুয়ানি। পঁয়তাল্লিশ ও একান্ন মিনিটে বার্সার জালে বল জড়িয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। পরে ৮১ মিনিটে জেরার্ড পিকে গোল করলে ম্যাচে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

আরেক ম্যাচে, রিয়াল বেটিসের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে অ্যাথলেটিক বিলবাও।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দারুণ জয় বাংলাদেশের

মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটে সুপার ফোরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় পেলো বাংলাদেশ। আবুধাবিতে, ৩ রানের এই জয়ে, কাগজে-কলমে ফাইনাল খেলার আশাটাও বেঁচে রইলো টাইগারদের। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে টাইগাররা। জবাবে ৭ উইকেট হারানো আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২৪৬ রান।

উত্তেজনার বারুদে ঠাসা ম্যাচে জয় পেলো বাংলাদেশ। মুস্তাফিজের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে শেষ ছয় বলে ৪ রান দিয়ে আফগানিস্তানকে পরাজিত করলো টাইগাররা। তাই জয়ের আনন্দে এমন উল্লাসমুখর লাল-সবুজের দল।
.
আফগানদের জয়ে শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ছিলো ৮ রানের। হাতে ৪ উইকেট। দ্বিতীয় বলে রশিদ খানকে ফিরতি ক্যাচে পরিণত করে তাদের ব্যাটিংয়ে ভীতি ছড়ান মুস্তাফিজ। ভয়ের সেই মেঘ আর কাটেনি আফগানদের।

অবশ্য আফগান ব্যাটসম্যানদের শাসনে বাংলাদেশ শিবিরে যখন নাভিশ্বাস চরমে তখন দায়িত্বটা নিজেই তুলে নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক আসগর আফগানের উইকেট নিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন। তাতেই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৭১ রান করা হাসমতউল্লাহকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন ম্যাশ। ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশের বোলাদের শাসনে ২৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটফুটেই ছিলো আগফানিস্তান।

এরআগে, দলের ১৮ রানে দুই ওপেনারকে হারানো এবং আফগান বোলিংয়ে লন্ডভন্ড হয়ে বাংলাদেশের মিডলঅর্ডার। মাত্র ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন দিশেহারা বাংলাদেশ দল। প্রতিষ্ঠিত দুই ব্যাটসম্যান সাকিব-মুশফিকের আত্মাহুতিতে আবারও স্বল্পরানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা টাইগার শিবিরে।

বিপর্যয় সামলে, ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদুল্লাহ আর ইমরুল কায়েসের তুমুল প্রতিরোধ। তাদের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে আলোর পথ খুঁজে পায় মাশরাফির দল। ১২৮ রানের রেকর্ড জুটির সঙ্গে নিজেরাও তুলে নেন ফিফটি। ১৯৯৯ সালের আল শাহরিয়ার রোকন ও খালেদ মাসুদ পাইলটের অপরাজিত ১২৩ রানকে পেছনে ফেলে গড়েন নতুন রেকর্ড।

তবে আফগান বোলিংয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়ার পর ৪৭তম ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। তার আগে ৮১ বলে, তিন চার আর দুই ছক্কায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন তিনি।

অবশ্য ইমরুল ক্রিজে থাকায় তখনও লড়াই করার পুঁজি সংগ্রহের আশা ছিলো বাংলাদশের। তাতে, ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশের স্কোর ২৪৯। আর ইমরুল ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত এই রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমান করেন টাইগার বোলাররা। তাতে কাগজে-কলমে ফাইনাল খেলার আশাটাও বেঁচে রইলো লাল-সবুজের দলের।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ

শক্তিশালী ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের বাছাই পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বাংলার কিশোরীরা। আজ রবিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মহিদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে, প্রতিপক্ষকে কোন পাত্তাই দেননি মারিয়া, আঁখি, তহুরারা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপাত্য ধরে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বাংলার কিশোরীদের। প্রতিপক্ষের জালে ২৭ বার বল পাঠানোর বিপরীতে একটি গোলও হজম করতে হয়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। অন্যদিকে, ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ ভিয়েতনাম। আগামী বছর ২৩ ফেব্রুয়ারী থেকে থাইল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় রাউন্ড খেলতে যাবে বাংলাদেশ।

বল মাঠে গড়ানোর পর থেকেই ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক খেলতে শুরু করে টিম বাংলাদেশ। ম্যাচের ৫ মিনিটেই লিড নেয়ার সুযোগও এসেছিল। কিন্তু রিতুর আড়াআড়ি শটটি সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে সে যাত্রা বেচে যায় ভিয়েতনাম। একের পর এক আক্রমন করে ভিয়েতনামকে কোনঠাঁসা করে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু গোলের দেখা পাওয়া হচ্ছিল না। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে অবশ্য প্রতিপক্ষ দলটির শক্ত প্রাচীরে চিড় ধরিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়রের দেয়া সেই গোলটি অফ সাইড কল করে বাতিল করে দেন অস্ট্রেলিয়ান রেফারি ক্যাথরিন।

খানিক সময়ের জন্য হতাশার কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল লাল-সবুজ শিবির। সেই মেঘ দূর করতে বেশী সময় নেননি মারিয়া-আঁখিরা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সবাইকে উৎসবে মাতিয়ে তোলেন তহুরা খাতুন। ভিয়েতনামের গোলরক্ষক থি ওয়ান তহুরা নেওয়া শটটি গ্রীপে নিতে ব্যর্থ হলে সামনে দাঁড়ানো শামসুন্নাহার জুনিয়র সামনের দিকে ঠেলে দেন বল। দৌড়ে এসে তহুরা খাতুন নিঁচু হেডে বল জালে জড়ান। উৎসবে মেতে উঠে মাঠে ছুঁটে আসা হাজার তিনেক সমর্থক (১-০)।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমনের সেই ধারা অব্যাহত রাখে রাখে স্বাগতিকরা। তহুরার হাত ধরে গোলও পেয়ে গিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। কিন্তু এবারো অফসাইড কল করে গোল বাতিল করে দেন রেফারি ক্যাথরিন। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন প্রতিবাদও জানান। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। গোল বাতিলের পর যেনো আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে মারিয়া মান্ডার দল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূরমার করে দিয়ে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে স্কোর লাইন ২-০তে নিয়ে যান আঁখি খাতুন। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বল শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নিলে সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে আঁখি শট নিলে প্রথম গোল গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে আবারো জোড়ালো শটে নিশানা ভেদ করেন বাংলাদেশ দলের এ ডিফেন্ডার (২-০)।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আরো একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছিলেন তহুরা খাতুন। এবারো গোলটিও বাতিল হয়ে যায় অফ সাইডের কারনে।

একে একে তিনটি গোল অফ সাইড কল করে বাতিল করায় হতাশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘একটি গোলও অফ সাইড ছিল না। আর এগুলো নিয়ে কোন অভিযোগ দিলে কাজ হয় না। গত সাত-আট বছরে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। অভিযোগ দিলে এএফসি বলে রেফারিরা সঠিক সিদ্ধান্তই নেন। তাই এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ দিতে চাই না।’

শিষ্যদের পারফর্ম্যান্সে সন্তুষ্ঠ কোচ বলেন, ‘মেয়েরা অনেক কষ্ট করেছে। শুরু থেকেই আজ এটাকিং ছিল। ভিয়েতনামকে এক মুহুর্তের জন্যও সুযোগ দেয়নি আমার দল। আমি দলের পারফর্ম্যান্সে খুব খুশী।’

দু’টি গোল বাতিল করলেও হতাশ নন স্কোরার তহুরা খাতুন, ‘আমার গোল বাতিল করেছে তাতে মোটেও খারাপ লাগছে না। কারন দল জিতেছে।’ দলের আরেক গোলদাতা আঁখি খাতুন বলেন, ‘দলের এমন জয়ে আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। খুব ভালো লাগছে গোল করতে পারায়।’

আচরণবিধি ভাঙায় শাস্তি

এশিয়া কাপে আচরণবিধি ভেঙে শাস্তির মুখে একাধিক ক্রিকেটার৷ সুপার ফোর পর্বে পাকিস্তান ‌ও আফগানিস্তানের থ্রিলার ম্যাচে আইসিসি’র লেভেল ওয়ান নিয়ম ভেঙ্গেছেন পাক পেসার হাসান আলী, আফগান স্পিনার রশিদ খান ও আসগার আফগান৷ তিন ক্রিকেটারেরই ম্যাচ ফি’র ১৫ শতাংশ করে কেটে নেওয়া হয়েছে৷ শুধু তাই নয় তিন ক্রিকেটারের ডিমেরিট পয়েন্টও কাটা হয়েছে৷

হাসান ও আসগার আইসিসি’র ২.১.১ লেভেল নিয়ম ভেঙেছেন৷ অন্যদিকে রশিদের বিরুদ্ধে ২.১.৭ লেভেলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগ৷ আফগানিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের ৩৩ তম ওভারে বোলিং করছিলেন হাসান আলী৷ নিজের বোলিং ওভারেই বল রিসিভ করে আফগান ব্যাটসম্যান হাসমাতুল্লাহ সাহিদি’র দিকে ছুঁড়ে মারেন হাসান৷ এই আচরণেই পোনাল্টি দিতে হচ্ছে তাঁকে৷ পাল্টা পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের সময় হাসান আলীকে আউট করে ‘সেন্ড অফ’ জানান রশিদ৷ তারকা স্পিনারের এই ক্রিকেট আচরণের জন্য শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফি-র ১৫ শতাংশ ও ডিমেরিট পয়েন্ট কাটা হচ্ছে৷

অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের ৩৭ তম ওভারে ব্যাটসম্যান হাসান আলীর রান নেওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা দেন আসগার৷ সেকারণে তাঁকেও দোষী সাবস্ত করা হচ্ছে৷

সুপার ফোর পর্বের আফগান-পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শেষ ওভারে জয় পায় পাকিস্তান৷ ২৫৮ রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১০ রান৷ আফতাব আলমের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা ও তৃতীয় বলে চার মেরে ম্যাচ জিতে নেন শোয়েব মালিক৷ এই ম্যাচকেই চলতি এশিয়া কাপের সেরা ম্যাচ মনে করছে ক্রিকেটবোদ্ধারা৷

ভিয়েতনামের সঙ্গে জয়ই চায় বাংলাদেশ

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের বাছাই পর্বের ‘এফ’ গ্রুপের লড়াইয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে সবার উপরে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২৫ বার বল পাঠিয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। সমান পয়েন্ট নিয়ে একই স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম‌ও। কাকতালীয়ভাবে দু’দলের গোল ব্যবধানও সমান। তাই শেষ ম্যাচটি (বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম) এখন ‘অঘোষিত ফাইনালে’ পরিনত হয়েছে। আগামীকাল কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বিকেলে সাড়ে তিনটায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। একই দিন সকাল সাড়ে ১১ টায় বাহরাইন লড়বে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে।