রাত ১:১০, শনিবার, ২২শে জুন, ২০১৮ ইং

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার আশা বাঁচিয়ে রাখল নাইজেরিয়া। স্ট্রাইকার আহমেদ মুসার জোড়া গোলে প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে চমক দেখানো আইসল্যান্ডকে হারায় নাইজেরিয়া। এতে ‘সুপার ঈগল’দের‌ও সুযোগ থাকছে শেষ ১৬ তে ‌ওঠার।

আজ শুক্রবার খেলার দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে লিস্টার সিটির স্ট্রাইকার আহমেদ মুসা বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ চারটি গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন।

তাছাড়া আহমেদ মুসাই হলেন প্রথম কোনো নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় যিনি আলাদা দুটো বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখান। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে মুসা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুটো গোল করেছিলেন। দলের হয়ে ৪৯ ‌ও ৭৫ মিনিটে গোল দুটি করেন ম্যাচ সেরা আহমেদ মুসা।

আর্জেন্টিনায় শোক

গ্রুপরের দ্বিতীয ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন শোকে-দু:খে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। তাদের সব কার্যক্রম মিউট করে দেয় এক মিনিটের জন্য।

গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বেশ বেকায়দায় আছে হোর্হে সাম্পা‌ওলির দল। পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়। তাতে ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় লি‌ওনেল মেসির দলের। এই কারণে সেদেশের টেলিভিশন TyC-তে বিশ্বকাপ নিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অবশ্য আজ শুক্রবারের ম্যাচে আইসল্যান্ড যদি নাইজেরিয়ার কাছে ২-০ গোলে না হেরে জিতে যেতো তবে মেসির দল এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যেতো। নাইজেরিয়া জেতায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফ্রিকান দলটিকে হারানোর পাশাপাশি অনেক সমীকরণ‌ও মেলাতে হবে সাম্পা‌ওলির দলের।

জয়ের পর‌ও নেইমারের কান্না

কোস্টারিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ম্যাচ জিতল ব্রাজিল। গোল‌ও করলেন দলের মহাতারকা নেইমার। কিন্তু আনন্দের পরিবর্তে চোখ ভেঙে নামল জল। তা আড়াল করতেই মুখ ঢেকে বসে পড়লেন মাঠেই। কিন্তু পিছু ছাড়ল না সাংবাদিকের ক্যামেরা।

এই কান্না কেন নেইমারের। দীর্ঘদিন পর ইনজুরি থেকে ফিরে বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে তেমন ভালো খেলতে পারেননি। নেইমার। তাতে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন তিনি। তাছাড়া কোস্টারিকান এক ডিফেন্ডার নিজেদের বিপদসীমায় নেইমারকে ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টির বাশি বাজান। নেইমার পেনাল্টি নিতে তৌরি হন। পরে ভার (ভিএআর) প্রযুক্তি সেই পেনাল্টি বাতিল করে। তাতে‌ও বিদ্রুপের শিকার হন নেইমার।

পরে কুতিনহোর পাশাপাশি নিজে‌ও এক গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে জয় পাইয়ে দেন। সব মিলিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন নেইমার। তাই দল জিতলে‌ও কান্না থামেনি তার।

জিতেছে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মিশনে আসা ব্রাজিল গ্রুপে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইনজুরি টাইমে দেয়া কুতিনহো এবং নেইমারের দেয়া গােলে জয় নিশ্চিত করে সেলেসা‌ওরা। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে‌ও ব্রাজিলের কাছ থেকে কোনো পয়েন্ট নিতে পারল না কোস্টারিকা। এর আগে ই গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল কোচ তিতের দল।

খেলার ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার খুব সহজ সুযোগ নষ্ট হয় কোস্টারিকার। ডান দিক থেকে ক্রিস্তিয়ান গামবোয়ার কাছ থেকে পা‌ওয়া বল বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন ফাঁকায় থাকা সেলসো বোর্হেস। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তারকা খচিত দল নিয়ে রাশিয়ায় আসা ব্রাজিল ২৭ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করে। ডি-বক্সে বল পেয়ে পিএসজির ফরোয়ার্ড নেইমার গোলবারে শট নে‌ওয়ার আগেই তাকে থামান কোস্টারিকার গোলকিপার কেইলর নাভাস।

দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের অর্ধে আরও গুটিয়ে যায় কোস্টারিকা। তাদের রক্ষণ কৌশরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ‌ওঠে ব্রাজিল। ফাগনারের ক্রসে গাব্রিয়েল জেসুসের হেডে বল ক্রসবারে লাগলে গোল পায়নি সেলেসা‌ওরা। পরক্ষণেই কুতিনহোর জোরালো শট গোলের মুখে থেকে ফেরে ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে।

৫৬ মিনিটে নেইমারের খুব কাছ থেকে নেওয়া শটে গ্লাভস লাগিয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠান নাভাস। এরপর কুতিনহো, নেইমার কিংবা ব্রাজিলয়ানদের সব আক্রমণ এসে খেই হারায় কোস্টারিকার রক্ষণে। অভিনয় করে পেনাল্টি প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। রেফারি প্রথমে স্পটকিকের নির্দেশ দিয়েও পরে কোস্টারিকার খেলোয়াড়দের আপত্তির মুখে ভিডিও রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান।

অবশেষে যোগ করা সময়ে আসে গোল দুটি। প্রথম মিনিটে ফিরমিনোর হেড ডি-বক্সে পা দিয়ে নামিয়েছিলেন জেসুস। এগিয়ে এসে নিচু শটে নাভাসকে ফাঁকি দেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার কুতিনহো।

আর সপ্তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পান নেইমার। কাউন্টার অ্যাটাকে ডাগলাস কস্টার কাছ থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমার। খেলা শেষ মুখ ঢাকেন তিনি গোল পাওয়ার কান্নায়।

আর্জেন্টিনার পরাজয় নকআউটে ক্রোয়েশিয়া

আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি নকআউট পর্বেও উঠে গেলে ক্রোয়েশিয়া। এতে দক্ষিণ আমেরিকানদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ও পেলো ক্রোয়েশিয়া। এই পরাজয়ে উল্টো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা এখন আর্জেন্টিনা শিবিরে। নকআউটের টিকিট পেতে, গ্রুপের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার সঙ্গে জেতার পাশাপাশি অনেক সমীকরণও মেলাতে হবে এখন মেসিদের।

অভাবনীয় আর অসামান্য এক কাজই করে দেখাল ক্রোয়েশিয়া। সুযোগ সদ্ব্যবহার করার ফসল ঘরে তুললো লুকা মড্রিচরা। আর গোল মিসের মাশুল দিয়ে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লো আর্জেন্টিনা।

এরআগে, নিঝনি নভোগ্রোদ স্টেডিয়ামে, ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে বারবার হানা দেয় দুইবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু কখনো ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা আবার কখনো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক সুবাসিচের হার না মানার মানসিকতা দৃঢ়তায় গোল বঞ্চিত হয় মেসিরা।

তাছাড়া সবার ব্যর্থতা একার পক্ষে কাটানো সম্ভব নয় মেসির পক্ষে। পারলেন না। মাঝমাঠ দখলে রেখে প্রথমার্ধে মেসি কিংবা অ্যাগুয়েরোকে বল দেয়া বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টায় সফল ক্রোয়েশিয়া। তাই প্রথমার্ধে আক্রমণ আর বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোল শূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দু’দল।

বোকামীর মাশুল যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা আর্জেন্টাইন গোলকিপার উইলি কাবায়েরো বুঝতে না পারলেও ভুগেছে পুরো দল। সারা বিশে^র আজেন্টাইন সমর্থকরা মরেছে হতাশায়। তাতে রেবিকের গোলে লিড পায় ক্রোয়েটরা।

তবে ক্রোয়েটদের নিশ্চিদ্র প্রহরা ভেঙে ম্যাচে ফেরার সুযোগও ছিল আলবিসেলেস্তেদের। দারুণ দক্ষতায় মেসি এবং মেজাকে ব্যর্থ করে দেন সুবাসিচ। সমতায় ফিরতে ব্যর্থ সাম্পাওলির দল।

আর্জেন্টিনার এই ব্যর্থতা আরো বাড়িয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মড্রিচ, খেলার ৮০ মিনিটে দলকে ২-০ তে লিড এনে দিয়ে। ম্যাচ জয়ের আনন্দ তাদের।

হিগুয়েইন-দিবালাকে নামিয়েও ম্যাচে ফেরা হলো না আর্জেন্টিনার। উল্টো খেলা শেষের ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে ইভান রাকিটিচের গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে, বাঁধভাঙা আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া। আর পরাজয়ে ম্লান-নতমুখী আর্জেন্টিনা। এতে ১৯৫৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৬-১ গোলে পরাজয়ের পর বিশ^কাপের গ্রুপ পর্বে এটাই সবচেয়ে বড় হার আর্জেন্টিনার।

বিশ্বকাপের নকআউটে ফ্রান্স

কিলিয়ান এমবাপের একমাত্র গোলে পেরুকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব নিশ্চিত করলো ফ্রান্স। আর এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পেরু।

টানা দুই ম্যাচ জিতে রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্র“প ‘ডি’ থেকে একম্যাচ বাকি থাকতে শেষ ষোলে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আর ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়লো পেরু।

একতারিনবার্গে খেলার শুরু থেকেই পেরুর ওপর চড়াও হয় ফরাসিদের তারকা খচিত আক্রমনভাগ। সফলতা আসে ৩৪ মিনিটে।

পিএসজি তারকা এমবাপের গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। তাতে ফরাসিদের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা বনে যান, ১৯ বছর বয়সী এমবাপে।

https://www.youtube.com/watch?v=7BFenLEofm8

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে চেষ্টা চালায় পেরু। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তাদের। এই জয়ে ১৯৭৮ সাল থেকে ল্যাটিন আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা ধরে রাখলো ফ্রান্স।

ডেনমার্কের সাথে ড্র বিশ্বকাপে টিকে রইল অস্ট্রেলিয়া

গ্রুপ ‘সি’র খেলায় ডেনমার্কের সাথে ড্র করে বিশ্বকাপে টিকে থাকলো অস্ট্রেলিয়া। সামরায় খেলার মাত্র ৭ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান এরিকসনের গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।

খেলায় ডেনমার্কের বিপক্ষে কিছুটা চাপ নিয়েই ম্যাচ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে অন্তত পরাজয় এড়াতে হতো সকারুদের। এমন সমীকরেণর ম্যাচে, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সামরায়, খেলার মাত্র ৭ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক।

বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নেই ডেনমার্কের। দুর্ভাগ্য, এবারও টানা দুই ম্যাচে জয় না পা‌ওয়ার পুরণো সেই রেকর্ড অক্ষত থাকলো তাদের।

ভিএআর প্রযুক্তির সহযোগিতায় রেফারি নিশ্চিত করেন ডি-বক্সে হ্যান্ডবল হয়েছে ডেনমার্কের ইউসুফ পুলসেনের। ৩৭ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরাতে ভুল করেননি অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার মিলে জেডিনাক।

দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের জন্য আপ্রাণ লড়াই করে অস্ট্রেলিয়া। তবে ডেনমার্কের রক্ষণভাগকে কোনঠাসা করে দিয়েও আর কোন সাফল্য পায়নি সকারুরা। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুদল।

স্টেডিয়ামে রোনালদোর বান্ধবী

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর খেলা চলাকালে প্রায়ই গ্যালারিতে থাকেন বান্ধবী জর্জিনা রড্রিগেজ। রাশিয়া বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে খেলা চলাকালে‌ও তার অন্যথা ছিলো না। বুধবার রাতে তিনি ঠিকই স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন রোনালদোর খেলা দেখার জন্য।

সেই ম্যাচে সিআরসেভেনের দেয়া একমাত্র গোলেই মরক্কোকে বিদায় করে শেষ ১৬ তে যা‌ওয়ার অপেক্ষায় আছে পর্তুগাল। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে খেলার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় জয়সূচক এই গোলটি করেন পর্তুগিজ তালিসমান। খেলা শুরু হতে না হতেই গোল, অন্যদের মতো রড্রিগেজ‌ও হতবাক।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আর্জেন্টিনায় জন্ম নেয়া রড্রিগেজ পর্তুগালের জার্সি পড়েই গ্যালারিতে বসেছিলেন। রোনালদোর দ্রুত গোল করার পর বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলে‌ও তিনি পড়ে আনন্দে ফেটে পড়েন।

আর তখন তার অনামিকায় ছিল রোনালদোরই দেয়া ডায়মন্ডের আংটি। কারণ রোনালদোর সঙ্গে অ্যাঙ্গেজমেন্ট করার গুজব ইতোমধ্যেই ছড়িয়েছে।

ভাগ্যের জোরে নকআউটের পথে স্পেন

বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে জিততেই হবে স্পেনকে। এমন কঠিন সমীকরণকে সামনে রেখে এশিয়ার পরাশক্তি ইরানের মুখোমুখি হয় স্পেন। ২০১৪ সালের পর যে দলটি কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হারেনি তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি যে সহজ হবে না সেটা ভালো করেই জানতো ইনিয়েস্তারা।

ইরানের শক্ত রক্ষণভাগের মোকাবেলায় ডিয়েগো কস্তার ভাগ্যপ্রসূত এক গোলে ইরানকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

বল পজেশন আর গোলে শট নেওয়ার হিসেব স্পেনের কথাই বলবে কিন্তু দুর্দান্ত খেলেও ভাগ্য আর প্রযুক্তির কাছে হেরেছে ইরান। দিয়েগো কস্তার একমাত্র গোলে নক-আউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলো ‘লা রোজা‘রা।

বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে ইরানকে হারানোর বিকল্প ছিল না ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু ২০১৪ থেকে প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকা ইরানের বিপক্ষে জয় যে সহজ নয়, প্রথমার্ধেই হারে হারে টের পায় স্পেন। তবে ৫৪ মিনিটে রক্ষণভাগের অপ্রত্যাশিত ভুলে স্পেনকে এগিয়ে দেন দিয়েগো কস্তা।

৬৪ মিনিটে স্পেনের জালে বল পাঠিয়ে‌ও ছিলো ইরান। কিন্তু ভিএআরের সহযোগিতায় সেটিকে বাতিল করেন রেফারি। আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে খেলা দারুণ জমে ওঠলেও শেষপর্যন্ত স্কোর লাইন অপরিবর্তিতই থাকে।

সৌদিকে বিদায় করে নকআউটে উরুগুয়ে

১০০ তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজের। আর এই বিরল রেকর্ডের গোলেই বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে উঠে গেলো দু’বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল সৌদি আরব।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ গোল খাওয়ার পর অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও প্রচুর গোল হজম করতে হবে সৌদিকে। কিন্তু বুধবার সুয়ারেজ-কাভানিদের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলে সৌদি আরব। বল-দখলের লড়াইয়ে প্রথমার্ধে উরুগুয়েকে টেক্কা দিয়েছিল তারা। তবে সেই প্রথমার্ধেই দু’দলের পার্থক্য গড়ে দেন সুয়ারেজ।

২৩ মিনিটে কর্নার থেকে কার্লোস সানচেজের ক্রসে সুয়ারেজের সুযোগসন্ধানী শট এগিয়ে দেয় উরুগুয়েকে। শততম ম্যাচে তাঁর গোলের স্মৃতি হিসেবে ম্যাচ বলটি নিজেরে কাছে রেখে দিলেন উরুগুয়ের মহাতারকা। সেই সঙ্গে তাঁর দখলে গেল একমাত্র উরুগুয়ে ফুটবলার হিসেবে তিনটি আলাদা আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার বিরল রেকর্ড।

একগোলে পিছিয়ে গিয়ে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করলেও জালের ঠিকানা খুজে পাননি আরবের ফরোয়ার্ডরা। দ্বিতীয়ার্ধে‌ও খেলার ছবিটা ছিল একই রকম। দু’দলই বেশ কিছু ‘হাফ চান্স’ তৈরি করলে‌ও, তাতে অবশ্য খুব একটা সুবিধা হয়নি। ১৯৫৪-র পর এই প্রথম গ্রুপ পর্বে পরপর দুটি গোল করল উরুগুয়ে।

এই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল সৌদি আরব। সেই সঙ্গে মোহম্মদ সালাহ-র মিশর‌ও। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সঙ্গে নক আউটে চলে গেল উরুগুয়ে। আগামী ২৫ জুন রাশিয়া-উরুগুয়ে ম্যাচেই ঠিক হবে গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করছে কোন দল।

নকআউটের পথে পর্তুগাল

বিশ্বকাপে গ্রুপ বি’র ম্যাচে মরক্কোকে একমাত্র গোলে হারিয়ে নকআউটের পথে পর্তুগাল। আর এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্টে থেকে বিদায় নিলো ২০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে আসা মরক্কো।

লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, খেলার চার মিনিটেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোলে লিড নেয় পর্তুগীজরা। এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে চতুর্থ গোল পেলেন সিআরসেভেন। একই সাথে বিশ্বের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোল স্কোরারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসলেন রোনালদো। ১০৯ গোল নিয়ে তালিকায় সবার উপরে অবস্থান ইরানের আলী দাইয়ি’র।

আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের এই খেলায় গোল শোধের চেষ্টা করেও সফল হয়নি মরক্কো। তাতে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।

নেইমারের ইনজুরি নিয়ে আবার‌ও দু:শ্চিন্তা

এমনিতেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ড্র করে চাপে ব্রাজিল। মঙ্গলবার বিকেলে তাই কোস্টারিকা ম্যাচের প্রস্তুতি চলছিল জোরেশোরে। সেলেসাওদের প্র‌্যাকটিসে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু সুইজারল্যান্ড ম্যাচের মতোই ব্রাজিল অনুশীলনের সেই তাল কাটতে বেশি সময় লাগল না। সামান্য একটা বল এসে লাগল নেমারের ডান পায়ে। মাসকয়েক আগেই অস্ত্রোপচার করা সেই ডান পায়ে! আর তারপরই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যান তিনি। তাতে নেইমারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যা‌ওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর বেরিয়েই যান ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমার। সাথে ছিলেন দলের ফিজিও। ডাক্তার রডরিগো লাসমার জানান, দু’দিন আগে প্রথম ম্যাচে নেইমারের ডান পায়ের এই জায়গাতেই দশবার মেরেছে সুইসরা। তারপর এদিন প্র‌্যাকটিসে ঠিক ওখানেই বল লাগায় যত বিপত্তি! তবে আসল কথাটা বললেন ব্রাজিল দলের ফিজিওথেরাপিস্ট ব্রুনো মাজ্জিওত্তি। জানান, এই নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। বুধবার সকালের প্র‌্যাকটিসে তাঁকে বাকি দলের সঙ্গে যেমন দেখতে পাওয়ার কথা তেমনই দেখা যাবে।

সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে রাশিয়া

প্রথমার্ধে রাশিয়াকে ঠেকিয়ে রাখতে পারল মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে উড়ে গেল সব প্রতিরোধ। দেনিস চেরিশেভ আর আর্তেম জুবার গোলে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েছে স্বাগতিকরা।

সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে গেলো স্বাগতিক রাশিয়া। সেন্ট পিটার্সবার্গে, ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে তারা মোহাম্মদ সালাহর মিশরকে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করার পর এই জয়ে শেষ ১৬-র পথেই রইলো রাশিয়া। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে তাদের বাদ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া ১৯৮২ আসরের পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিতল রাশিয়া।

আর টানা দুই পরাজয়ে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে খেলতে এসে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়ের আশঙ্কা ফারা‌ওদের। যদি‌ও অংকের মারপ্যাচে এখনও সম্ভাবনা টিকে আছে তাদের।

রাশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত মিশর একাদশে ইনজুরি কাঁটিয়ে ফেরেন মোহামেদ সালাহ। কিন্তু তার উপস্থিতি শক্তি বাড়ালে‌ও প্রথমার্ধে গোল শূন্য থাকে খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রোমান জুভনিনের শট ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মিশরের আহমেদ ফাতি। সেই আত্মঘাতী গোলেই পিছিয়ে পড়ে ফারা‌ওরা।

খেলায় আর ফিরতে পারেনি মিশর। ৫৯ মিনিটে ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত ক্রসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চেরিশভ। টুর্নামেন্ট ৩ গোল করে যুগ্নভাবে রোনালদোর সঙ্গে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসলেন তিনি।

এই গোলের রেশ না কাটতেই ৬২ মিনিটে রাশিয়াকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন জিউবা। প্রথম ম্যাচেও গোল করেছিলেন এই স্ট্রাইকার।

তিন গোলে পিছিয়ে থাকলে খেলায় আর কিছু করার থাকে না। মোহাম্মদ সালাহর মিশরের‌ও করার কিছুই ছিল না। তবে ৭৩ মিনিটে স্পট কিকে বিশ্বকাপে মিশরের হয়ে প্রথম গোলটি করেন মোহামেদ সালাহ। তৃতীয় মিশরীয় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখান তিনি।

সেনেগালের চমক লাগানো জয়

‘এইচ’ গ্রুপের খেলায় ২-১ গোলে জিতেছে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা সেনেগাল। এবারের আসরে এটাই আফ্রিকার কোনো দলের প্রথম জয়। ২০০২ আসরে শিরোপাধারী ফ্রান্সকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসরে দলটি খেলেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। এবারের আসর শুরু করল র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বর দলকে হারিয়ে। স্পার্তাক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার প্রথমার্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি কোনো দলই। লেভানদোভস্কি কিংবা সাদিও মানে ভীতি ছড়াতে পারেননি প্রতিপক্ষের রক্ষণে।

৩৭তম মিনিটে এগিয়ে যায় সেনেগাল। ইদ্রিসা গেইয়ের শট ডিফেন্ডার তিয়াগো চনেকের পায়ে লেগে দিক পাল্ট জালে জড়ায়। বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের এটাই প্রথম আত্মঘাতী গোল।

পোল্যান্ডের দুর্বলতা তার রক্ষণ। সেই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ৬০ মিনিটে এমবে নিয়াংয়ের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সেনেগাল। জেগোস ক্রিখোভিয়াকের লক্ষ্যহীন ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে গোল পোস্ট ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে আসেন ভয়চেখ স্ত্রেন্সনে। বল ক্লিয়ার করতে পারেননি পোলিশ গোলরক্ষক। ফাঁকা জালে বল পাঠান কয়েক সেকেন্ড আগে বদলি নামা নিয়াং। দেশের হয়ে এটাই তরুণ এই ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।

এই গোলের দায় যেন ৮৬তম মিনিটে শোধ করেন ক্রিখোভিয়াক। ফ্রি কিকে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠান এই মিডফিল্ডার। আগামী রোববার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে খেলবে সেনেগাল। পর দিন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে পোল্যান্ড।

জাপানের ইতিহাস গড়া জয়

রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম লালকার্ডের দিনে কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড করলো এশিয়ার প্রতিনিধি জাপান। এতে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের বিপক্ষে এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে জয়ের ইতিহাস গড়লো ‘সামুরাই ব্লু’রা। তাতে রাশিয়া বিশ্বকাপে, ছোট দলগুলোর চমক দেখানোর তালিকায় যোগ হলো জাপানের নামও।

খেলার বয়স তখন মাত্র তিন মিনিট। সারানস্ক এরেনার দর্শকদের সবাই তখনও মাঠে ঢুকতে পারেনি। সিনঝি কাগাওয়ার শট জাল ছোঁয়ার মুখে গতি রোধ করেন, কলম্বিয়ার কার্লোস সানচেজ। সাথে সাথেই রেফারির লালকার্ড। ১০ জনের দলে পরিণত হয় কলম্বিয়া। আর কাগাওয়ার পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যাওয়া জাপানের।

১০ জন নিয়ে ১১ জনের বিপক্ষে সমতায় ফেরার লড়াই চালায়, প্যাকারম্যানের দল কলম্বিয়া। এক খেলোয়াড় বেশি থাকার সুবিধাও ধরে রাখতে পারেনি জাপানিরা। ৩৯ মিনিটে কুইনটেরো বিচক্ষণ ফ্রিকিকে ম্যাচে সমতা ফেরান। জাপানিরা আবেদন জানালেও ভিএআর প্রযুক্তি বহাল রাখে সেই গোল। ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ২০১৪ সালে গোল্ডেন বুট জয়ী হামেস রড্রিগেজ মাঠে নামলে আক্রমণের ধার আরও বাড়ে কলম্বিয়ার। জাপানও আক্রমণে একেবারে পিছিয়ে ছিলোনা। জয়ের রঙ তখন তাদের চোখে-মুখে। হোন্ডার দারুণ কর্নারে ৭৩ মিনিটে এফসি কোলনের ফরোয়ার্ড ওসাকা মাথা ছুঁইয়ে যে গোলটি করেন তাতেই এবারের বিশ^কাপে প্রথম জয় পায় জাপান।

বাকী সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি কলম্বিয়া। এই জয়ে এইচ গ্রুপে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জাপান ব্রাজিল বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার কাছে ৪-১ গোলে পরাজয়ের প্রতিশোধও নিল। সেই সঙ্গে ফেভারিট আর নন-ফেভারিটের অচলায়তনও ভেঙে দিলো সামুরাই ব্লু’রা।

মিশর নয়, রাশিয়ার প্রতিপক্ষ সালাহ

মিশর নয়, নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ সালাহ। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইনজুরি আক্রান্ত সালাহকে বিশ্রামে রাখলে‌ও রাশিয়ার বিপক্ষ তাকে খুব করে চাইছেন কোচ হেক্টর কুপার। তবে সালাহ নিজেই তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানান, “Ready for tomorrow. 100 million strong.”

এদিকে মিশর দলের ডাক্তার জানিয়েছেন, দলের সেরা অস্ত্র এখন মাঠে নেমে ৯০ মিনিট খেলার মতো সুস্থ। কিন্তু তাঁর কথা কেউ বিশ্বাস করছেন না। কারণ মিশরের প্রথম ম্যাচের আগেও বলা হয়েছিল সালাহ খেলবেন। অবশ্য এবার অবিশ্বাস করার উপায়‌ও নেই এবার। কারণ স্পোর্টস অ্যায়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এডিডাস‌ও সালাহ একটি ভিডি‌ও পোস্ট করে টুইট বার্তায় জানায় “Tomorrow. 100 million strong.”

এই টুইট দেখার পরই মিশরের সমর্থকরা অ্যাডিডাসকে অভিনন্দিত করছেন বিভিন্নভাবে। আজ মঙ্গলবার রাত ১২টায় খেলাটি শুরু হবে সেন্ট পিটার্সবার্গে।

এদিকে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ হারিয়ে রাশিয়ায় নকআউটের পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। আর সালাহ বিহীন মিশর হেরেছে উরুগুয়ের কাছে।

কেন বাঁচালেন ইংল্যান্ডকে

ভোলগোগ্রাদে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন হোচট খাওয়া ফেভারিটদের তালিকায় নাম জমা পড়ছে ইংল্যান্ডেরও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের গোলে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে পূর্ন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।

অথচ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ আট ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিলো বেশ দাপুটে। খেলার ১১ মিনিটেই হ্যারি কেইনেই গোলে লিড ব্রিটিশদের।

তবে সমতায় ফিরতেও বেশি সময় নেয়নি, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে একমাত্র জয় পাওয়া তিউনিসিয়া। ৩৫ মিনিটে স্পট কিক থেকে দলকে সমতায় ফেরান ফেরজানি সাসি। শেষ পর্যন্ত এই উল্লাস ধরে রাখতে পারেনি রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা তিউনিসিয়া।

১৯৯৮ সালের পর আবারও ইংলিশদের কাছে পরাজয়ের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

নামের সুবিচার করল বেলজিয়াম

নামের প্রতি সুবিচার করেই রাশিয়া বিশ্বকাপে বড় জয় দিয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচ উদযাপন করলো `সোনালি প্রজন্মের দল’ বেলজিয়াম। সোচির অলিম্পিক ফিস্ট স্টেডিয়ামে, ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচ রোমেলু লুকাকুর জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে আসা পানামাকে।

টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে পানামার মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামা পানামা প্রথমার্ধে বেলজিয়ামকে আটকেই দিয়েছিল। গোলকিপার জেমি পেনেদোর দৃঢ়তা বারবার বিপদ থেকে বাচিয়েছে পানামাকে। গোলে পেতে দেয়ননি তিনি সোনালি প্রজন্মের সেনানীদেরকে। তবে মুর্হূমূর্হু আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থেকেছে পানামা।

৪৭ মিনিটে চমৎকার এক ভলিতে ম্যার্টেন্স বেলজিয়ামকে এগিয়ে দ‌েওয়ার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি এডেন হ্যাজার্ডের দলকে। দারুণ ছন্দে থাকা লুকাকু ৬৯ মিনিটে ডি ব্রুইনের ক্রসে মাথা ছুইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

বাছাই পর্বে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১১ গোল করা লুকাকু ৭৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন। বাকি সময়ে আর গোল পায়নি বেলজিয়াম। আর পানামা‌ও গোল শোধ করতে পারেনি।

আগামী শনিবার তিউনিশিয়ার বিপক্ষে খেলবে বেলজিয়ামা। পরেরদিন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পানামা।

পেনাল্টিতে সুইডেনের জয়

১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই জয় পেয়েছে সুইডেন। নিঝনি নভোগ্রোদে এফ গ্রুপের একপেশে ম্যাচে তারা পেনাল্টি গোলে হারিয়েছে এশিয়ার প্রতিনিধি দক্ষিণ কোরিয়াকে।

এরআগে দুই দলের চারবারের মোকাবেলায় সুইডিশরা হারেনি কখনো, আর কোরিয়ানদের জয়ের রেকর্ড‌ও নেই। দু’টি জয় আর সমান ড্রতে এগিয়েছিল সুইডেনই। তবে আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা সুইডিশদের প্রথমার্দে গোল বঞ্চিত রাখেন কোরিয়ার গোলকিপার চো হিয়ুন-উ একাই।

একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা সুইডেন ৬৫ মিনিটে গ্রানক্রিস্তের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায়। ডি বক্সে সুইডেনের ভিক্টর ক্লাসেন পড়ে যান কিম মিন-য়ুর স্লাইডিং ট্যাকলে। শুরুতে পেনাল্টি দেননি রেফারি, পরে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

সেই এক গোলের জয়েরই এবারের বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করলো সুইডেন। আগামী শনিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মানি। একই দিন মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া।

মেসির সমর্থনে ম্যারাডোনা

লি‌ওনেল মেসিকে সমর্থন দিলেন আর্জেন্টিনার জীবন্ত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। শনিবার রাতে আইসল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করায় বেশ সমালোচনা হচ্ছে মেসির পেনাল্টি মিসের। তাই ম্যারাডোনা বলেন, সমালোচনা নয়, সবারই এখন মেসির পাশে থাকার সময়।

স্যার্জি‌ও অ্যাগুয়েরোর কল্যাণে খেলার ১৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে ম্যাচে সমতা ফেরান আইসল্যান্ডের অালফ্রেড ফিনবোগাসন। এগিয়ে যা‌ওয়ার সুযোগ পেয়ে‌ও, অধিনায়ক মেসি পেনাল্টিতে গোল করতে না পারার কারণে জয় বঞ্চিত থাকে আর্জেন্টিনা।

৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনা ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি টানা পাচটি পেনাল্টি মিস করেছিলাম। তবু আমি দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।’ তিনি আরো জানান, ‘ম্যাচ জিততে না পারা আর দুই পয়েন্ট খোয়ানোর জন্য মেসির পেনাল্টি মিস দায়ী নয়, দায়ী পুরো দল।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনার দলের অধিনায়ক বলেন, ‘সে (মেসি) দলকে জেতানোর জন্য সবকিছু করেছে। তার মুখের দিকে চেয়ে দেখো।’

মেক্সিকোর জয়ে বিয়ের প্রস্তাব

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক জয়ের পর বান্ধবীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এক সমর্থক। এই প্রস্তাব পেয়ে তার বান্ধবী‌ও সাড়া দিলেন সানন্দে। রাশিয়ার মস্কোতে হিরভিং লোজানোর দেয়া একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে গৌরবদীপ্ত এক জয় পায় ‘এল ট্রাইকালার’রা।

মেক্সিকোর সেই সমর্থক একটি আংটির বাক্স খুলে তার বান্ধবীকে কাপা কাপা স্বরে বিয়ের প্রস্তাব করেন। সেই বান্ধবী প্রস্তাবে রাজী বলে দু’জনই আনন্দে মেতে ‌ওঠেন। এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবলে ১১ বারের মধ্যে কখনো জার্মানিকে হারাতে পারেনি মেক্সিকো।

এবার হলো নতুন এক রেকর্ড। আর মেক্সিকান এই সমর্থকরা নিজেদের সম্পর্ককে স্মরণীয় করার জন্য ঐতিহাসিক এই দিনটিকেই বেছে নেন।

পৃথিবী চমকে দেয়া লোজানো

রাশিয়া বিশ্বকাপে এক গোল করেই পৃথিবীকে চমকে দিয়েছেন মেক্সিকোর হিরভিং লোজানো। এই আর্টিফিসিয়াল ভূমিকম্পে কেপে উঠেছে পৃথিবী। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি তো পরাজয়ের বেদনায় নীল হয়ে মাঠ ছাড়ে। চুকিক (Chucky-অদম্য) ডাকনামের পিএসভি আন্দোভেনের এই প্রতিভাবান উইঙ্গারকে দলে নিতে বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইংলিশ দল আর্সেনাল এবং লিভারপুল যোগাযোগ করছিল।

১৯৯৫ সালের ৩০ জুলাই মেক্সিকো সিটিতে জন্ম নেয়া লোজানো ২০০৯ সালে পাচুকা’র যুব দলে যোগ দেন। ২০১৭ সালে এই দলের সিনিয়রদের হয়ে খেলে তিনি কনকাক্যাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতেন। আর ব্যক্তিগতভাবে তিনি পান, গোল্ডন বুট এবং সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

তবে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পা‌ওয়াটা লোজানোর জন্য কোনো চমক হিসেবে আসিন। গত গ্রীষ্মে পিএসভিতে যোগ দেয়ার পর প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করেন। এবং আগস্ট মাসে লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। তাছা ২৯ ম্যাচে ১৭ গোল করে লোজানো পিএসভিকে ডাচ লিগ শিরোপা জয়ে‌ও ভূমিকা রাখেন।

উইংয়ের বামদিক দিয়ে খেলা শুরু করলে‌ও ডানদিক দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষ শিবিরে হানা দেন। আর অতি দ্রুততার সঙ্গে বল জালে পাঠান। গতকাল রবিবার জার্মানিো পুড়েছে লোজানোর দ্রুততার সঙ্গে অ্যাকুরেসির কাছে। তার খেলার স্টাইল অনেকটা বেলজিয়ামের তারকা স্ট্রাইকার এডেন হ্যাজার্ডের মতো।

ব্রাজিলের দৈন্য দশা সুইজারল্যান্ডে

আগেরদিন আর্জেন্টিনাকে থমকে দিয়েছিল অজানা-অচেনা আইসল্যান্ড। আজ সোমবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছে মেক্সিকো। স্বাভাবিকভাবেই আরেক ফেবারিট ব্রাজিলের ওপর ভিষন চাপ তৈরি হয়েছিল। ঠিক তেমনি করে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে বিশ্বকাপের হট ফেবারিট ব্রাজিল। ১-১ গোলে ড্র করে নেইমার-কুতিনহোদের জিততে দিল না সুইসরা। তাতে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার মিশনে আসা ব্রাজিলের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে পেতকোভিচের দল।

রোস্তভ এরেনায়, খেলার ২০ মিটেই অসাধারণ এক গোলে পাচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন বার্সেলোনার তারকা খেলোয়াড় কুতিনহো। গ্যালারিতে তোলেন হলুদের আলোড়ন।

প্রথমে লেফট উইং থেকে বল নিয়ে ওয়ান টু ওয়ান এগিয়ে এলেন নেইমার এবং মার্সেলো। বক্সের ভেতর থেকে মার্সেলোকে পাস দেন নেইমার। বক্সের বাম পাশ থেকে শট নেন মার্সেলো। বলটি গোলের সামনে থেকে ফিরে আসে। পেয়ে যান কুতিনহো। ডান পায়ের বুলেট গতির শট সুইজারল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর গোল শোধ করতে মরিয়া সুইজারল্যান্ড। পাল্টা আক্রমণে তারা। ৫০ মিনিটে অসাধারণ এক হেডে সুইসদের সমতায় ফেরান স্টিভেন জুবের।

তবে সুইসদের প্রায় সব অত্যাচারই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমারকে ঘিরে। বল পায়ে গেলেই পিএসজি তারকাকে আহত করার চেষ্টা। শারীরিক আঘাত করে করে হলুদ কার্ড দেখেন দুইজন।

শেষ দিকে ফার্নান্দিনহো, রেনাতো আগুস্তো এবং রবার্তো ফিরমিনোকে নামিয়েও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। ৮৮ মিনিটে দারুণ এক হেড করেও গোলের দেখা পাননি নেইমার। সুইস গোলরক্ষক সোমের ঠেকিয়ে দেন। ৯০ মিনিটে নেইমারের ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে ফিরমিনো দারুণ হেড করলেও গোলরক্ষক সোমারকে পরাস্ত করা যায়নি।

আগামী শুক্রবার ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে কোস্টারিকার। আর সুইজারল্যান্ড লড়বে সার্বিয়ার বিপক্ষে।

জার্মানি ধরাশায়ী মেক্সিকোতে

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে পুরো বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে মেক্সিকো। ৩৫ মিনিটে লোজানোর গোলে জার্মানিকে পরাজিত করে অঘটনের জন্ম দিলো ‘এল ট্রাইকালার’রা। এতে ২০১৪ সালে স্পেনের পর আবারও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের বেদনায় পুড়লো। অন্য ম্যাচে, কোস্টারিকাকে একই ব্যবধানে হারিয়েছে সার্বিয়া।

মেক্সিকানদের এই আনন্দাশ্রু বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারানোর, সেই সঙ্গে প্রতিশোধেরও। ১৯৯৮-র বিশ্বকাপে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও যে, জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হারতে হয়েছিল তাদের।

আগের শেষ ছয় বিশ্বকাপে নক আউট পর্বে উঠলেও জার্মানির বিপক্ষে ‘আন্ডার ডগ’ হিসেবেই রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে খেলতে নামে মেক্সিকো। তবে শুরুতেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল তারা জার্মান শিবির। বেশ কয়েকবার পরীক্ষাও নেয় দীর্ঘ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা জার্মান অধিনায়ক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের।

তবে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানরাও আক্রমণে পিছিয়ে থাকেনি। ওয়ার্নার-টনি ক্রুসদের প্রচেষ্টাগুলো সফল হতে দেননি, মেক্সিকান গোলকিপার ওচোয়া।

এমনি লড়াইয়ের খেলায় গতি ও কাউন্টার অ্যাটাকে মেক্সিকানরা বারবার পেছনে ফেলে জার্মানদের।
৩৫ মিনিটে হার্নান্দেজের কাছ থেকে বল পেয়ে বোয়েটেং ও হ্যামেলসের দুর্বলতার সুযোগে দারুণ এক গোলে মেক্সিকোকে লিড এনে দেন, লোজানো। আনন্দে মেতে ওঠে এল ট্রাইকালার শিবির। .. .
এরপর খেলায় চলে পিছিয়ে থাকা জার্মানদের রাজত্ব। ড্রাক্সলারের ব্যর্থতার পর টনি ক্রুজকেও সফল হতে দেননি, ওচোয়া। …
দ্বিতীয়ার্ধেও রক্ষণাত্মক কৌশল ধরে রেখে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর হয়ে যায়, মেক্সিকো। অন্য দিকে, আক্রমণের কোনো কমতি রাখেনি জার্মানি। কিমিচের অ্যাক্রোবেটিক শট, কিংবা টনি ক্রুজের প্রচেষ্টা সবই ব্যর্থ। ইউলিয়ান ব্রান্টও শুধু জার্মানির আক্ষেপই বাড়ান। তবে ১৯৮২ সালে আলজেরিয়ার কাছে পরাজয়ের পর বিশ^কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আবারও হারের বেদনায় নীল হয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি।

এর আগে, চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে খেলতে এসে জার্মানি কখন‌ও হারেনি। ১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছিল তারা। ১৯৭৮ সালে পোল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল। আর ১৯৯৪ সালে বলিভিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল। এবারই প্রথম হারলো তারা।

সার্বিয়ার জয়

অধিনায়ক অ্যালেক্সজান্ডার কোলারভের ফ্রিকিক গোলে কোস্টারিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেলো সার্বিয়া।

‘ই’ গ্র“পের ম্যাচে, এই দুই দলের খেলার প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কেউ। প্রায় সম-শক্তির দুই দলের লড়াইয়ে খেলার ৫৬ মিনিটে ম্যাচ সেরা অ্যালেক্সজান্ডার কোলারভ দারুণ এক ফ্রিকিকে এগিয়ে দেন, সার্বিয়াকে।

পরে গোল পরিশোধের চেষ্টা করেও সফল হয়নি কোস্টারিকা। শেষ পর্যন্ত এক গোলের জয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সার্ব’রা। আগামী ২২ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সার্বিয়ার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

ব্রাজিলের অধিনায়ক মার্সেলো!

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলকে নেতৃত্ব দেবেন মার্সেলো! এমনটাই জানিয়েছে ফ্রান্সের ক্রীড়া দৈনিক `লা ইকুইপ’।

তিতে, দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নে‌ওয়ার পর ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। ৩-০ গোলে জয়ের সেই ম্যাচে সেলেসা‌ওদের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মিরান্দা। সেই থেকে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে‌ও অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে নতুন অধিনায়ক চাইছেন তিতে। শুধু তাই নয়, গত ২১ ম্যাচে ১৬ জনকে অধিনায়ক হিসেবে খেলিয়েছেন তিতে। বিশ্বকাপ দলের ২৩ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশেরই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই হিসেবে আজ রাতে রিয়াল মাদ্রিদের লেফট ব্যাক মার্সেলোর হাতে ব্রাজিলের অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড থাকাটা তাই অস্বাভাবিক কিছুই নয়। read more, discover our special offer

নেইমারকে নিয়ে সংশয়

পায়ের চোট কাটিয়ে ওঠার পর বিশ্বকাপে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে না থাকলেও গোল পেয়েছিলেন তিনি দুটিতেই। সবাই ভেবেছিলেন, নেইমার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আজ রাতে বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার পুরো সময় খেলবেন—এমন প্রত্যাশাই ব্রাজিল–সমর্থকদের। কিন্তু সেলেসা‌ওদের কোচ তিতে জানিয়েছেন, নেইমার এখনো শতভাগ সুস্থ হয়ে ওঠেননি।

কোচ তিতের কথাতে আশাহত হতেই পারেন ব্রাজিল–সমর্থকেরা। তবে কি নেইমারকে খেলানো নিয়ে তিতে নিশ্চিত করে কিছুই বলেননি। সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের এই কোচ শুধু এটুকু বলেছেন, ‘নেইমার ম্যাচ খেলার মতো শতভাগ ফিটনেস ফিরে পায়নি, তবে সে শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী। দৌড়ের সময় সে যে গতি পাচ্ছে, সেটা বেশ ভালো কিন্তু এখনো পূর্ণ বেগে দৌড়াতে পারছে না।’

এদিকে নেইমারকে খেলানোর একটা ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিতে। চোটের কারণে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মিডফিল্ডার ফ্রেডকে পাচ্ছেন না তিনি। এই খবর জানাতে গিয়ে তিতের ভাষ্য, ‘ফ্রেড বাদে বাকি সবাইকেই পাওয়া যাবে।’ অর্থাৎ শতভাগ ফিট না হয়ে ওঠা নেইমারকেও পাচ্ছেন তিতে। নিজের এই শিষ্যকে নিয়ে তিতে এ কথাও বলেছেন, আমরা ‘যতটুকু ভেবেছিলাম, নেইমার তার চেয়েও অবস্থায় আছে এবং দারুণ একটি বিশ্বকাপের জন্য সে প্রস্তুত’।

রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডন স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

ক্রোয়েশিয়া হারাল নাইজেরিয়াকে

নাইজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে ক্রোয়েশিয়া। কালিনিনগ্রাদে সুপার ঈগলদের ওউন গোল ও পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় পায় ক্রোয়েশিয়া।

গ্রুপের অন্য দল আইসল্যান্ডের সাথে আর্জেন্টিনার ড্র করার সুযোগটা ভালবাবেই কাজে লাগিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। নাইজেরিয়াকে হারিয়ে গ্র“প ‘ডি’র শীর্ষে এখন তারা।

তারকা বহুল ক্রোয়েশিয়া ফেভারিট থাকলেও, ম্যাচের শুরুতে এলোমেলো আর বাজে ট্যাকলিংয়ের ফুটবল খেলে তারা। তবে সময়ের সাথে নিজেদের গুছিয়ে নেয় ক্রোয়টরা। ক্রোয়েশিয়ার এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন সুপার ঈগলদের মিডফিল্ডার পিটার ইতোবে।

আর ৭১ মিনিটে নাইজেরিয়ার ম্যাচে ফেরার আশাটা গুড়িয়ে দেন লুকা মডরিচ। ট্রোস্টের ফাউলে পেনাল্টি পায় ক্রোয়েশিয়া। সুযোগটা ভালমতই কাজে লাগান ক্রোয়েশিয়ান তারকা মডরিচ। এই জয়ে দারুণ সূচনা করেছে ক্রোয়েশিয়া। সেই সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নও দেখতে পারে তারা।

সব দায় আমার: মেসি

আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার সব নিজের কাধে তুলে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লি‌ওনেল মেসি। তবে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মেসি গোল করতে পারলে ম্যাচের ফলটা অন্যরকমই হতো। জয় নিয়ে তখন মাঠ ছাড়তে পারত আর্জেন্টিনা।

এভাবে দলকে জেতানোর সুযোগ হাতছাড়া করার পর মেসির সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে চারদিকে। মেসি নিজেও দায় স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘আমি ঠান্ডা মাথায় কিন্তু রাগ ও দুঃখ নিয়ে আজ মাঠ ছাড়ছি। কারণ আমি তিন পয়েন্ট নিতে না পারার জন্য দায়ী। আমি জানি ওই পেনাল্টিই সবকিছু বদলে দিয়েছে। ওই মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে না দেওয়ার জন্য আমি অবশ্যই দায় স্বীকার করছি।’

নিজের নেয়া শেষ সাত পেনাল্টির চারটিই মিস করলেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। কেন এমন হলো, মেসি চেষ্টা করেছেন সে ব্যাখ্যা দিতে, ‘যদি গোল করতে পারতাম, খেলাটা বদলে যেত। আমরা স্বস্তি ফিরে পেতাম, ওদের ঝামেলায় ফেলে দিতাম। গোল করার জন্য আমি একটু বেশি অস্থিরতা দেখিয়েছি, এটাই ভুল হয়েছে। অবশ্যই পেনাল্টি হাতছাড়া করা খুব কষ্টের।’

ডেনিশদের কাছে পেরুর পরাজয়

দারুণ লড়াই করেও ডেনমার্কের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে পেরু। তাতে বিশ্বকাপে নিজেদের পাচ উদ্বোধনী ম্যাচের চারটিতেই জিতলো ডেনিশরা। ২০১০ সালে নাইজেরিয়ার কাছে হেরেছিল তারা।

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে আসা পেরু আর একটি বিশ্বকাপে বিরতি দিয়ে আসা ডেনমার্কের লড়াইটি ছিল খুব উপভোগ্য। প্রথমার্ধে প্রায় সমানে-সমান লড়াই করে তারা। পেরুর কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি নষ্ট হয়। সেই মাশুল গুণতে হয় তাদের পরাজয়ে।

৪৫ মিনিটের সময় বক্সের ভেতর কুয়েভাকে ফাউল করেন ডেনমার্কের ইউরেরি। রেফারি শুরুতে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর প্রযুক্তিতে রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন। নিজের অর্জিত পেনাল্টি নিজেই নষ্ট করেন কুয়েভা। বল চলে যায় ক্রসপিসের অনেক উপর দিয়ে।

গোলশূন্যভাবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে ইউসুফ ইউরেরি পোলসেন ডেনমার্ককে এগিয়ে দেন। এরিকসনের পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন। পেরুর রক্ষণ তখন এলোমেলো। পোলসেন গোলরক্ষককে সামনে এগিয়ে আসতে তার হাতের উপর দিয়ে বল জালে জড়ান।

৭৮তম মিনিটে পেরু অধিনায়কের দারুণ একটি ব্যাকহিল অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের।

জয়ের চেয়ে যে ড্র বড়

লিওনেল মেসির পায়ের জাদুতে বিশ্বকাপ জয় করতে রাশিয়া এসে প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেলো দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ‘গ্রুপ ডি’র প্রথম ম্যাচে তারা ১-১ গোলে ড্র করে। সেরা তারকা লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস আর ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় জয় পাওয়া হয়নি হোর্হে সাম্পাওলির দলের। আর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লড়াকু ড্রতে সবার সমীহ আদায় করে নেয় আইসল্যান্ড।

সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিলো। আইসল্যান্ড শিবিরে আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ৬৪ মিনিটে পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির এই পেনাল্টি মিসেই কপাল পোড়ে আর্জেন্টিনার। মেসিকে গোল বঞ্চিত করে হিরো বনে যান আইসল্যান্ডের গোলকিপার হ্যালডারসন। আর মেসির শেষ সাত পেনাল্টির চারটিতেই ব্যর্থ হওয়ার বেদনা নিয়ে, ১৯৯০ সালের পর বিশ^কাপের প্রথম ম্যাচে আবারও জয় বঞ্চিত থাকে আর্জেন্টিনা।

অথচ মস্কোর স্পার্টাক স্টেডিয়ামে খেলার শুরুতে ছিল মেসিদের রাজত্ব। মেসিময় ম্যাচে ইউরোপের প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ডকে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগই দেয়নি হোর্হে সাম্পাওলির শিষ্যরা।

১৯ মিনিটে আইসল্যান্ডের জমাট দুর্গ ভাঙেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো। মার্কো রোহোর পাসে বুলেট গতির শটে আর্জেন্টাইন শিবিরে আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন, তিনি। বিশ্বকাপের নয় ম্যাচে এটি অ্যাগুয়েরোর প্রথম গোল।

বল পজেশনের খেলায় পেরে না ওঠায়, কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ খোঁজে আইসল্যান্ড। আর্জেন্টিনার দূর্বল রক্ষণের সুযোগে ম্যাচে সমতা ফেরায় ‘থান্ডারক্ল্যাপ’রা। বিশ্বকাপে প্রথম হলেও জাতীয় হয়ে ১৪তম গোলে সমতা আনেন ফিনবোগাসন।

তবে ৪১ মিনিটে মেজা’র শট র‌্যাগার্ড সিগার্ডসনের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায়, আর্জেন্টিনা। কিন্তু ভিএআর না চাওয়ায় বিস্ময় জাগে সবার। এদিকে বল পায়ে পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় মেসিও ঝলক দেখাতে পারেননি। প্রতিপক্ষের কঠিণ প্রহরায়। তাতে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরো সময়ই আর্জেন্টিনা আক্রমণ শানায় আইসল্যান্ড শিবিরে। হিগুয়েন ও ক্রিস্টিয়ান পাভুনকে নামিয়েও গোলের মুখ খোলা যায়নি, আইসল্যান্ডের গোলকিপার ম্যাচ সেরা হ্যালডারসনের দৃঢ়তায়। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দু’দল। এতে স্পার্টাক স্টেডিয়ামে রচিত হয় বিশ্বকাপ খেলতে আসা নতুন এক দলের হার না মানার উপকথা।

আত্মঘাতি গোলে ইরানের জয়

আত্মঘাতি গোলে ইরান হারিয়েছে মরক্কোকে। রাশিয়া বিশ্বকাপে বি গ্রুপের ম্যাচে খেলা শেষের ইনজুির টাইমে মরক্কোর ফরোয়ার্ডের খেলোয়াড় আজিজ বৌহাদ্দুজের আত্মঘাতি গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ার দল ইরান। এতে বিশ্বকাপ ফুটবলে দ্বিতীয় বারের মতো জয় পেলো এশিয়ার এই দেশটি।

২০১০ সালে জাপানের কাছে ১-০ গোলে ক্যামেরুন হারার থেকে এশিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ৫ ম্যাচে অপরাজিত আছে আফ্রিকানরা। ৩টি জয় আর ২টি ড্র করেছে তারা। হারলে‌ও খেলায় শ্রেষ্ঠত্ব ছিলো মরক্কোরই। খেলার ৮ মিনিটেই আমারাবতের কাছ থেকে বল পেয়ে এল কাভি’র হাফ ভলি সাইডবার ঘেষে বাইরে চলে যায়। ১৮ মিনিটে তিনবার ইরানের ডিফেন্সে আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি মরক্কো। ফরোয়ার্ডরা জালে বল জড়াতে পারেন নি। তাতে গোল পায়নি মরক্কো।

এদিকে, আক্রমণে পিছিয়ে থাকে নি ইরান‌ও। তারা কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেয়, প্রতিপক্ষেক পরাস্ত করার জন্য। ৪৩ মিনিটে ইরানের সরদার আজমাউন মরক্কোর গোলকিপার মুনির মোহাম্মদির কারণে গোল বঞ্চিত হন। সেই সময় মুনির দুইবার ব্যর্থ করে দেন ইরানের আক্রমণ।

িদ্বতীয়ার্ধে‌ও কাউন্টার অ্যাটাক ভরসা করে হুটহাট করে আক্রমণে যায় ইরান। গোলের সম্ভাবনাও তৈরি করে ইরান কিন্তু গোলমুখে গিয়েই খেই হারিয়ে ফেলে তাদের ফরোয়ার্ডরা। এদিকে, মরক্কোও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল কিন্তু তারা এলেবেলে শটে পাওয়া সুযোগগুলো নষ্ট করে।

শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে ফয়সালা হয় জয়-পরাজয়ের। এতে ১৯৬৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা ইরার ২০ বছর পর আবারো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

সালাহ বিহীন মিশেরর সঙ্গে উরুগুয়ের জয়

হোসে গিমেনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে উরুগুয়ে। একাতিরেনবার্গে গ্র“প ‘এ’র খেলায় উরুগুয়ে প্রায় আটকেই দিয়েছিলো মোহাম্মদ সালাহ বিহীন মিসর। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের।

মিসরের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ মাঠে না থাকলেও, ঘাম ঝড়ানো জয় পেয়েছে উরুগুয়ে। তাতে ১৯৭০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, গোল মুখে এসে বারবার মোহাম্মদ সালাহর অভাব বোধ করেছে মিসর।

প্রথমার্ধের খেলায় সমানতালে লড়েছিলো দুদলই। তবে তুলনামূলকভাবে বেশী হতাশ করেছেন উরুগুয়েন স্ট্রাইকার লুইস সুয়াজে। ১৩ ও ২৩ মিনিটে সহজ দুটি সুযোগ নষ্ট করেন বার্সেলোনার এই তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমনের গতি বাড়ায় উরুগুয়ে। কিন্তু আবারও সুয়ারেজের ব্যর্থতায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি তাদের। ৪৭ ও ৭৩ মিনিটে ভাল দুটি সুযোগ নষ্ট করেন সুয়ারেজ।

৮৩ মিনিটে কাভানির দুর্দান্ত ভলি রুখে দিয়ে উরুগুয়েকে হতাশার আগুনে পোড়ান মিসরের গোলরক্ষক শেনইউ। এর চার মিনিট পর আবারও কাভানির জোড়ালো শটের বাধা হয়ে দাড়ায় গোলবার।
তবে শেষ পর্যন্ত দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে পরিণত করে উরুগুয়ের। ৯০ মিনিটে কার্লোস সানচেজের ফ্রি-কিকে মাথা ছুইয়ে গোল বন্ধ্যাত্ব ঘোচান হোসে গিমেনেজ।

স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে কোচ অস্কার তাবারেজের শিষ্যরা। অন্যদিকে, ভাল লড়াই করেও মোহাম্মদ সালাহ না থাকায় পরাজয়ের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মিসরকে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের রেফারি

আর্জেন্টাইন রেফারি নেস্টর পিটানা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনা করবেন। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা-ফিফা তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ আসর শুরু হচ্ছে। এই আসরেই প্রথমবারের মত ভিডিও এসিসটেন্ট রেফারি পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে। আর সেই প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রথম ম্যাচে চারজন ভিএআর (ভিডি‌ও এসিসটেন্ট রেফারি) অফিসিয়ালের নেতৃত্বে থাকবেন ইতালির বিশেষজ্ঞ মাসিমিলিয়ানো ইরাতি। মাঠে পিটানার দলের কোন ভুল সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করতেই ইরাতির নেতৃত্বাধীন দল কাজ করবে।

৪২ বছর বয়সী পিটানার এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। চার বছর আগে ব্রাজিলে তিনি চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন।

কাজটা চ্যালেঞ্জিং: হিয়েরো

হুলেন লোপেতেগুইর পরিবর্তে রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেন কোচের আসনে বসিয়েছে ফার্নান্ডো হিয়েরোকে। বরখাস্ত হওয়া লোপেতেগুইর জায়গায় দেশটির সাবেক এই ডিফেন্ডারকে দায়িত্ব দিয়েছে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন।

কোচের দায়িত্ব পা‌ওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে `লা রোজা’দের নতুন কোচ জানান, তার নজর এখন শুক্রবারের পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে। নতুন এই দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, `এটা আমার জন্য দারুণ এক রোমাঞ্চকর এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ।’ হিয়েরো দলের খেলোয়াড়েদর কাছ থেকে আর‌ও দায়িত্বশীল কাজ আশা করছেন। তিনি বলেন, `আমাদের দল গত দুই বছর যাবত একসাথে আছে। ফুটবল খেলছে। আর তারা বিশ্বকাপের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে। স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে আমি দলটিকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। দলে অন্য স্টাফদের নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদরন খেলা ছাড়া অন্যকিছু নিয়ে ভাবছি না।’

গত মঙ্গলবার ৫১ বছর বয়সী লোপেতেগুইর সঙ্গে তিন বছরের চুক্তির কথা জানায়, রিয়াল মাদ্রিদ। এর পরদিনই তাকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত জানায় স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন। কারণ হিসেবে ফেডারেশনকে কিছু না জানিয়েই তার রিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলে সংস্থাটি। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সহাকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা হিয়েরো গত ২৭ নভেম্বর থেকে স্পেন জাতীয় দলের স্পোর্টিং ডিরেক্টরের পদে ছিলেন।

আগামী শুক্রবার পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টার সিটিই সেরা

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর বেশি দেরী নাই। প্রায় সব ক’টি দলই এখন পৌছেছে রাশিয়ায়। তাদের বেস ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ‌ও শুরু করে দিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় পাঠিয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। তারা বিশ্বকাপে পাঠিয়েছে ১৬ জন খেলোয়াড়। আর স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের ১৫ জন খেলোয়াড় খেলছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে। স্প্যানিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার ১৪ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন এবারের বিশ্বকাপে।

ম্যানচেস্টার সিটি (১৬ জন)

সার্জি‌ও অ্যাগুয়েরো, নিকোলাস ‌ওতামেন্দি – আর্জেন্টিনা
কেভিন ডি ব্রুইন, ভিনসেন্ট কোম্পানি – বেলজিয়াম
ড্যানিলো, এডেরসন, ফার্নান্দিনহো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস – ব্রাজিল
ফ্যাবিয়ান ডেলফ, রাহিম স্টার্লিং, জন স্টোনস, কাইল ‌ওয়াকার – ইংল্যান্ড
বেঞ্জামিন ম্যান্ডি – ফ্রান্স
ইলকে গানডুগান -জার্মানি
বার্নার্ডো সিলভা – পর্তুগাল
ডেভিড সিলভা – স্পেন।

রিয়াল মাদ্রিদ (১৫ জন)

দানি কার্ভাহাল, নাচো, লুকাস ভ্যাসকুয়েজ, স্যার্জি‌ও রামোস, মার্কো আসেনসি‌ও, ইসকো – স্পেন
কাসিমেরো, মার্সেলো – ব্রাজিল
কেইলর নাভাস – কোস্টারিকা
লুকা মড্রিক, মাতে‌ও কোভাসিচ – ক্রোয়েশিয়া
রাফায়েল ভারানে – ফ্রান্স
টনি ক্রুস – জার্মানি
আচরাফ হাকিমি – মরক্কো
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো – পর্তুগাল।

বার্সেলোনা (১৪ জন)

লি‌ওনেল মেসি -আর্জেন্টিনা
থমাস ভার্মালেন – বেলজিয়াম
ফিলিপ্পে কুটিনহো, পা‌উলিনহো -ব্রাজিল
ইর্রি মিনা – কলম্বিয়া
ইভান রাকিটিচ- ক্রোয়েশিয়া
উসমান দেম্বেলে, স্যামুয়েল উমিতি – ফ্রান্স
মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগান – জার্মানি
জেরার্ড পিকে, জর্ডি আলবা, স্যার্জি‌ও বুসকেটস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা – স্পেন
লুইস সুয়ারেজ – উরুগুয়ে।

এছাড়া প্যারিস সেন্ট জার্মেই ‌ও টটেনহ্যাম হর্টসপারের ১২ জন করে খেলোয়াড় এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের দ্যুতি ছড়াবেন।

রাশিয়া বিশ্বকাপ: যে দলগুলো মিস করবেন

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকী মাত্র ৪ দিন। এরপরই বহুদিনের অপেক্ষা ফুরাবে ফুটবলপ্রেমীদের। কেননা তখন যে রাশিয়ার মাটিতে শুরু হয়ে যাবে ২১ তম বিশ্বকাপ আসর। এই আসরকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে কিছু দল। আবার কিছু দল স্বপ্ন ভাঙার বেদনায় মূহ্যমান। আসলে সবকিছুই ঐ সোনালী ট্রফির জন্যে। ১৬ বছর পর আবার‌ও সৌদি আরব, সেনেগাল খেলছে ২০০২ বিশ্বকাপের পর। কিন্তু খেলা হচ্ছে না ২০১০-এর ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসের। বাছাইপর্বেই হার্ডল পেরুতে না পারায় বাদ পড়েছে তারা এবার। টানা দুইবারে কোপা চ্যাম্পিয়ন চিলিরও একই অবস্থা। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি চারবারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালীর।

বিশ্বকাপের পরীক্ষিত দল ইতালী- শিরোপা জিতেছে চারবার। ইতালীর অংশগ্রহন ছাড়া শেষবার বিশ্বকাপ হয়েছিলো ১৯৫৮ সালে, সুইডেনের মাটিতে। এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে সুইডেনের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ গোলে হারে জিয়ানলুইগি বুফনের নেতৃত্বাধীন ইটালী। এই হারের পর অবসর নেন ইতালির অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বুফন।

টোটাল ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডও এবারের আসরে খেলছেনা। হতাশ হলেও সত্যি যে, ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট, ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টদের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিলোনা। গত ইউরোতেও খেলতে পারেনি ডাচরা। বাছাইপর্বেও বাঁধা টপকাতে ঘাম ছুটে যায়। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও ব্যর্থ অরেঞ্জরা। ইউরোপ অঞ্চলে বাছাই পর্বে তিন নাম্বারে থেকেই বিদায় নিতে হয় নেদারল্যান্ডকে। ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন ৩২ বছর বয়সি স্ট্রাইকার আরইয়েন রোবেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া পানামায় চলছে উৎসব। বিশ্বকাপে খেলার প্রথমদিনটি তারা বাধাই করে রাখবে স্বর্নাক্ষরে। বিশ্বের অন্যতম সম্ভবনাময় খেলোয়াড় ধরা হত গ্যারেথ বেলকে। কিন্তু ইনজুরি তার পুরোপুরি ক্যারিয়ারের বিকাশ ঘটাতে দেয়নি। ঘন ঘন ইনজুরির কারণে নিজের দল ওয়েলসকেও বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারেননি। ইউরোপ অঞ্চলে গ্রুপ ডি তে মাত্র ১ হারের পরও সুযোগ মিলল না ওয়েলসের।

টানা দুই বছর, দুইবার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হওয়া চিলিও এবার থাকছেনা বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে শেষ রাউন্ডে পয়েন্ট টেবিলের হিসাবে বাদ পড়েছে চিলি। ব্রাজিলে কাছে ০-৩ গোলে হেরেছে তারা। অন্যদিকে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গিয়েছে তিনে আর ব্রজিলের কাছে হারের কারণে ছয়ে নেমে বিশ্বকাপ যাত্রা থামে আলেক্সিস সানচেজের দলের।

এদিকে, পেরুর কাছে নিউজিল্যান্ড হেরে যাওয়াতে, রাশিয়া বিশ্বকাপে ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে কোন দলই খেলবেনা। প্লে-অফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে এবার পেরু।

এবারে মেসি, রোনালদো, নেইমার যেমন রাশিয়া মাতাবেন তেমনি রাশিয়া মিস করবে রোবেন, সানচেজ ‌ও গ্যারেথ বেলদেরকে।

স্পেনের ফটোশ্যূট

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন আনুষ্ঠানিক ফটো সেশন করেছে। ফুটবল মাঠের মতো ক্যামেরার সামনে‌ও বেশ সাবলীল ছিলেন `লা রোজা’রা।

সার্জি‌ও রামোস ঠোটে আঙ্গুল দিয়ে সবাইকে চুপ থাকার ইঙিত দিয়ে ছবির জন্য পোজ দেন। এই ফটো শ্যূটে দলের অন্যান্য ফুটবলাররা‌ও তাদের পছন্দ মতো পোজ দেন। এমনকি কেউ কেউ ক্যামেরার সামনে লাফ‌ও দিয়েছেন। রাশিয়ার কার্সুন্দার এফসি তে বেস ক্যাম্প করেছে স্পেন। অনুশীলনের এক ফাকে সেখানেই ফটোশ্যূট করে স্প্যানিশরা।

তবে কিয়েভে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাকে ইনজুরিতে ফেলে দে‌ওয়ার জন্য এখন‌ও সমানভাবে সমালোচিত হচ্ছেন রামোস।

কষ্টের জয় জার্মানির

কষ্টের এক জয় দিয়ে বিশ্বকাপের নিজেদের প্রস্তুতি শেষ করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। লেভারকুজেনে শুক্রবার রাতে তারা ২-১ গোলে পরাজিত করে সৌদি আরবকে। গত শনিবার অস্ট্রিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ইওয়াখিম লুভের দল।

নিজেদের মাঠে‌ও স্বরূপে দেখা যায়নি জার্মানিকে। বল পজেশন, আক্রমণ কিংবা পাসিং সবকিছুতে এগিয়ে থাকলে‌ও জার্মানি ঠিক নিজেদের মধ্যই ছিলনা। ঠিক কোথায় যেনো ছন্দহীন জোয়াকিম লো’র দল। তবে খেলার ৮ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। ডান দিক থেকে সতীর্থের লম্বা উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে মার্কো রয়েস বক্সের মুখে বাড়ান টিমো ভেরনারকে। প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান লাইপজিগের এই ফরোয়ার্ড।

ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠা সৌদি আরব মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠতে শুরু করে। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় সাফল্য অধরাই থাকে। উল্টো ৪৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করতে হয় অতিথিদের। ভেরনারের নীচু ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে ঠেলে দেন সৌদির ডিফেন্ডার ওমার।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথমভাগে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই বেশ জমে ওঠে। গোলের সুযোগ মিস করেন মাটস হুমেলস ও ড্রাক্সলার। এবং সৌদি মিডফিল্ডার সালেম আল-দাওসারি।

৮৪ মিনিটে ঠিকই ব্যবধান কমিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে সৌদি আরব। তাদের মিডফিল্ডার আল-জসিমকে ডিফেন্ডার সামি খেদিরা ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। মোহাম্মদ আল-সাহলাইয়ের শট ডান দিয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মানুয়েল নয়ার। ফিরতি বল ধরে গোলটি করেন মিডফিল্ডার আল জসিম। বিশ্বকাপ শুরুর আগের প্রস্তুতিপর্বটা খুব একটা ভালো কাটলো না জার্মানির।

আগামী ১৭ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে জার্মানি। ‘এফ’ গ্রুপে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া।

এদিকে, সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে জাপান। আরেক প্রস্তুতি ম্যাচে সেনেগালকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

রাশিয়া বিশ্বকাপ: শেষ সময়ের অপেক্ষা

রাশিয়া বিশ্বকাপ যতোই এগিয়ে আসছে, উত্তেজনার পারদ ততই চড়ছে। আগামী ১৪ জুন স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে রাশিয়া বিশ্বকাপের আসর। কিন্তু তার আগেই বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে পুরো পৃথিবী। বাংলাদেশেও লেগেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। এরই মধ্যে দেশের বড় শহরগুলোতে উড়তে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকা। চায়ের কাপে ঝড় উঠাও শুরু হয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই। চলছে নানারকম জরিপ আর বিশ্লেষণ – উদ্দেশ্য একটাই শুরুর আগেই ধারণা পাওয়া, কার হাতে উঠছে বিশ্বকাপ ট্রফি? রাশিয়ার মাঠে ফেভারিট তকমা নিয়ে খেলতে যাওয়া শীর্ষ পাঁচ দলের কথা জানাচ্ছেন, ফারদিন আল সাজু

ব্রাজিল: বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই ফেভারিট তালিকায় থাকা দলটির নাম ব্রাজিল। রাশিয়া বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বলা হচ্ছে হট ফেভারিট। বাছাই পর্বে ধারাবাহিক নৈপুণ্যে সবার আগে টিকেট নিশ্চিত করেছিল দলটি। বর্তমান কোচ তিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত পাল্টে গেছে ব্রাজিল। সব দল যেখানে রাশিয়ার টিকেট পাওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিল, সেখানে অনায়াসেই বাছাইপর্ব টপকে সবার আগে রাশিয়া টিকেট অর্জনের কৃতিত্ব দেখায় পেলের উত্তরসূরিরা। বিভিন্ন ইউরোপীয় ক্লাবে খেলা তারকা ফুটবলারদের নিয়ে দলটি পরিপূর্ণ এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট ব্রাজিল। কারণ দলটির প্রতিটি পজিশনেই উপস্থিতি রয়েছে পরীক্ষিত সব পারফরমার। ২০১৪ বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠে ব্যর্থতার পরে অধিনায়কত্ব হারানোর পাশাপাশি দল থেকেও বাদ পড়েন থিয়াগো সিলভা। কিন্তু তিতে আবার তার আত্মবিশ্বাসের জায়গায় ফিরিয়ে এনেছেন। সিলভার পিএসজি সতীর্থ মারকুইনোস এবং ইন্টার মিলানের মিরান্দাকে নিয়ে বিশ্বসেরা এক ডিফেন্স দাঁড় করিয়েছেন তিতে। তার সঙ্গে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে কাসেমিরো এবং পাউলিনহো দলকে যেমন ভারসাম্য দিয়েছেন তেমনি করেছেন নিরাপদ। বর্তমান ফুটবলের সেরা তিন ফরোয়ার্ডের একজন নেইমার। এবার ব্রাজিলকে কেবল নেইমার নির্ভর দল বলা যাবে না। দলে আছে কৌটিনহো, উইলিয়াম, ডগলাস কস্তার মতো খেলোয়াড়। তাদের যে কেউ ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। গ্যাবিয়েল জেসুসেও হতে পারে সেলকাওদের ট্রাম্প কার্ড । অলিম্পিক জেতাতে দারুণ অবদান রাখা জেসুস ১৫ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৯ গোল করে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। ব্রাজিল দলে আছে আলিসনের মতো বিশ্বের প্রথম সারির একজন গোলরক্ষক। এই গোলরক্ষক এরইমধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছেন। সব মিলিয়ে যে ব্যালেন্সড স্কোয়াড নিয়ে ব্রাজিল এবারে বিশ্বকাপের মাঠে নামছে, তাদের রুখতে বেগ পেতে হবে যে কোনো দলেরই।

জার্মানি: রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। চার বার করে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ হওয়া দলটি এবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল গঠন করেছে। যদিও কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, বর্তমান দলটিতে কিছুটা হলেও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী জার্মান তারুণ্যনির্ভর দল নিয়েই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাঠে নামবে। বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ জোয়াকিম লো বিশ্বাস করেন, তরুণরা ছক অনুযায়ী খেলতে পারলে এবারের বিশ্বকাপও জার্মানিতেই আসবে। দলে ইনজুরির ধাক্কা সামলে রিজার্ভ বেঞ্চের ১০ জয় নিয়ে অনায়াসেই ২০১৮ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে জার্মানি। টিমো ওয়ার্নার ও সান্দ্রো ওয়াগনার মতো তরুণ প্লে-মেকার আছেন দলে। পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ধারাবাহিক নৈপুন্য দেখানো জোসুয়া কিমিচ রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। যে কোনো মুহূর্তে জ্বলে ওঠতে পারেন মেসুত ওজিল আর ম্যাটস হুমেলস। তাছাড়া দলের অধিনায়ক এবং গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরায় জার্মান শিবিরে ফিরেছে স্বস্তি। তবু ফরোয়ার্ডে খানিকটা দুর্বলতা রয়ে গেছে জার্মানির। ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের মতো খাঁটি কোনো স্ট্রাইকার নেই। তবুও স্পেনের সঙ্গে ১-১ ড্র এবং ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হার বিশ্বকাপের আগে জার্মানিকে নিয়ে ভক্তদের কপালে চিন্তার রেখা ফুটিয়ে তুলছে। তবুও, ফেবারিটের তালিকায় ব্রাজিলের পরেই রয়েছে জার্মানি।

স্পেন: ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন ফুটবলের ধারক-বাহক স্পেন আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপের তৃতীয় ফেভারিট। অনেক তরুণ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্প্যানিশ দলটির টার্গেট গত বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন ভুলে শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করা। সার্জিও রামোসের নেতৃত্বাধীন দলটিতে অসাধারণ অভিজ্ঞতা এবং টেকনিক্যাল উৎকর্ষতার মিশেল ঘটেছে খুব নিখুঁতভাবে। নতুন কোচ হুলে লোপেতেগির অধীনে দুর্দান্ত সময় পার করছে স্পেন। তার কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচের একটিতেও হারেনি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার আগেই ফেভারিটের তকমা পেয়েছে দলটি। তাদের মুল লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে হারানো শিরোপা পুনরুদ্ধার।রাশিয়া বিশ্বকাপে এবার হুলে লোপেতেগি ভরসা রাখছেন বেশিরভাগ তরুণ ফুটবলারের উপর। সে হিসেবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গোলপোস্ট সামলাবেন ডেভিড ডি গিয়া। তার সামনে সার্জিও রামোস ও জেরার্ড পিকে, জর্দি আলবা, মার্কো বার্তারা, ন্যাচো, দানি কার্ভাজালরা থাকবেন। তাদেরকে টপকে বিশ্বের যে কোন দলের ফরোয়ার্ডদের গোল করতে পেতে হবে বেগ। সেটা নিশ্চিত করেই বলা য়ায়। এদিকে দলটির মাঝে মাঠে ডেভিড সিলভা, ইসকো এবং তাদের সঙ্গে ইনিয়েস্তার ঝড় সামলানোটা কঠিনই হবে প্রতিপক্ষের জন্য। আর ফরোয়ার্ডে গোল এনে দেওয়ার দায়িত্বে থাকবেন সুসু, পের্দ্রো, আলভারা মরাতো, ডিয়েগো কস্তার মতো তারকারা।

ফ্রান্স: রাশিয়া বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট দলের তকমা নিয়ে মাঠে নামবে ফ্রান্স। দলের কোচ দিদিয়ের দেশঁর গর্ব করেই বলছেন, আমার হাতে এমন একটা দল রয়েছে, যাদের ‌শক্তিশালী, লড়তে জানে এবং যাদের দুর্দান্ত প্রতিভা রয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকরার তার কথার সঙ্গে একমত, ১৯৯৮ সালের বিশ্বজয়ী দলের পর ফ্রান্সের হাতে এত প্রতিভাবান দল আর আসেনি। সেবার জিনেদিন জিদানের নাম মুখে মুখে উচ্চারিত হত। এবার তেমনই আঁতোয়া গ্রিজম্যান, কিলিয়ান এমবাপের নাম দুনিয়ার লোক জানে। জিদান নিজের সুনাম রাখতে পেরেছিলেন বিশ্বকাপ জিতে। গ্রিজম্যান, এমবাপেরা সেটা পারবেন কি না সময়ই বলে দেবে। কিন্তু তাঁরা যে এবার অন্যতম ফেবারিট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত বিশ্বকাপটা খুব খারাপ কেটেছিল ফ্রান্সের। গ্রুপে শীর্ষে থেকে শেষ করে এবং প্রি–কোয়ার্টার ফাইনালে নাইজেরিয়াকে হারানো সত্ত্বেও কোয়ার্টার ফাইনালের গাঁট টপকাতে পারেনি তারা। পরাজিত হয় জার্মানির কাছে। প্রতিবারই ফেবারিটের তকমা নিয়ে বড় টুর্নামেন্টে খেলতে যায় ফ্রান্স। কিন্তু ১৯৯৮ বিশ্বকাপ এবং ২০০০ ইউরো বাদে প্রতিবারই ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। কোনওবারই নিজের প্রতিভার প্রতি সুনাম রাখতে পারেননি ফুটবলাররা। ২০০৬–এ দুর্দান্ত খেলেও ইতালিকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়ে দেয় তারা। এবার ফ্রান্সের সাফল্য নিভর্র করবে দলের দুই সেরা তারকা নিঃসন্দেহে পল পগবা এবং অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানের ওপর।এছাড়াও দলে আছে সেরা এবং মেধাবি তরুণ স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে। সেই সঙ্গে মিডফিল্ডে এনগোলা কান্তের দারুণ পরিশ্রম এবং সেন্টার ব্যাকে রাফায়েল ভারানে ও স্যামুয়েল উমতিতি দলটির শক্তি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

আর্জেন্টিনা: বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে চরম হতাশার পর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের টিকেট পাবে কি না, সেটা নিয়েই সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা। ইকুয়েডরের সঙ্গে নাটকীয় জয়ে রাশিয়ার টিকেট নিশ্চিত হলেও অনেকেই আর্জেন্টিনার বর্তমান দলকে রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেভারিট মানতে নারাজ। তবে যখন কোনো দলে একটি নাম ‘লিওনেল মেসি’ থাকে, সে দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স করুণ হলেও ফেভারিট লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হয় না। খুব কষ্টে মূলপর্বে জায়গা করে নিতে হলেও কোচ সাম্পাওলির দল ‘মেসি-দিবালা-এগুয়েরো’ দের নিয়ে বড় আসরে এগিয়ে শিরোপা প্রত্যাশাই এগিয়ে – এ কথা বললেও বলা যায়। আর্জেন্টিনা দলে অনেক তারকা ফুটবলার আছেন, কিন্তু জাতীয় দলে তাঁরা নিজেদের সেরাটা দেখাতে ব্যর্থ হন। যার ফলে পুরো চাপটা এসে পড়ে মেসির কাঁধে। ইকুয়েডরের সঙ্গে ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক না হলে রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের দর্শক হয়েই হয়তো কাটিয়ে দিতে হতো। ১৯৭০ সালের পর এই প্রথম এতটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা মূল পর্ব নিশ্চিত করে।গত তিন বছরে টানা তিনটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে প্রতিবারই আর্জেন্টিনাকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। এবারের বিশ্বকাপটাই মেসির জন্য শেষ সুযোগ। মেসির পাশাপাশি আছেন সার্জিও আগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুইন, পাওলো দিবালা ও মাউরো ইকার্দি যদি জ্বলে ওঠতে পারেন, তাহলে শিরোপার দৌড়ে আর্জেন্টিনা বহুদূরে এগিয়ে যাবে।

ম্যাচ বাতিলে প্যালেস্টাইনের দোষ বলছে ইজরায়েল

আর্জেন্টিনার ফুটবল দল তাদের প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করায় প্যালেস্টাইনকে দোষী করছে এখন ইজরায়েল। রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি আগামী ১০ জুন জেরুজালেমে খেলার কথা ছিলো লি‌ওনেল মেসির দলের। কিন্তু আজ তা বাতিল ঘোষণা করে আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্মকর্তারা।

চোট সরিয়ে দলে ফেরা

ফারদিন আল সাজু

বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠের লড়াই শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৮ দিন। এরই মাঝে ফুটবল জ্বরে কাঁপছে সমর্থকরা। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে এরই মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে গেছে গেটা বিশ্বে। “দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” নামটি তো আর এমনি এমনি দেওয়া হয়নি। ফুটবল বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা থেকে এই নাম দেওয়া। দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার পর আগামী ১৪ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২১ তম আসর। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয় বড় এই আসরের আয়োজন দেখতে পৃথিবীর কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকবে রাশিয়াতে।

তবে বিশ্ব ফুটবলে সেরা হওয়া পথে ইনজুরিকে বড়বাধা মনে করা হয়। ইনজুরি কারনে হয়তো মূলতারকাগুলো দল থেকে ছিটকে যাবার সম্ভবানা থাকেই যায়। ইনজুরিকে পাশ কাটিয়ে বিশ্বকাপের আসরে খেলাটা অনেকের কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতো মনে হয়ে থাকে। তেমনি বিশ্বফুটবলে সেরা হওয়ার পথে যদি ইনজুরি বাধা হিসাব করা হয়, তাহলে এর মধ্যে হয়তো জার্মান উইঙ্গার মার্কো রেউসের নামটাই বার বার উচ্চারিত হবে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে দলে জায়গা পেয়েও খেলা হয়নি তার। ক্লাব পর্যায়েও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে হয় হাসপাতালে আর মাঠে। তবুও হার না মন-মানসিকতা নিয়ে ইনজুরি সাথে লড়াই করে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছেন রেউস।

অন্যদিকে পায়ের পাতার চোটে তিনমাসের জন্য ছিটকে গিয়েছিলেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড নেইমার। কঠোর পরিশ্রম এবং অধম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে ক্রোয়শিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরেছেন পিএসজি এই স্ট্রাইকার। আর যখন ফিরলেন, ফেরার মতোই ফিরলেন। এতো দিনেও পায়ের ছন্দে একটুও মরিচা ধরেনি, প্রথম ম্যাচেই তিন ডিফেন্ডারের বোকা বানিয়ে চোখ জুড়ানো এক গোল।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো মিশরীয় স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালাহর ইনজুরি। বিশ্বকাপে সালাহ খেলতে পারবেন কি পারবেনা এ নিয়ে তার ভক্তদের মনে একটু সন্দেহ ছিলো। তবে আশার আলো জানালেন মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তিন সপ্তাহ পর মাঠে নামতে পারবেন লিভারপুলের এই স্ট্রাইকার।

এদিকে গত সোমবার জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো ইনজুরি আক্রন্ত ম্যানুয়েল নয়্যারকে নিয়ে জার্মানির ২৩ সদস্যার চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন। গত ১২ মাসে তিনবার পায়ের পাতার হাড় ভেঙেছেন জার্মান এই গোলকিপার। বছররে বেশিভাগ সময় তিনি মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন। তাবে কঠোর পরিশ্রম করে আবার দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি মূল চূড়ান্ত দলে।

অন্যদিকে চোট আক্রান্ত আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোকে নিয়ে ২৩ সদস্যর চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। গত মার্চ থেকে বাম হাঁটুর চোটে পড়ায় মাঠের বাইরে থাকেন আগুয়েরো। তবে আর্জেন্টিনার কোচ জর্জে সাম্পাওলি আশা করেন ১৬ জুন মস্কোতে উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই দলে ফিরবেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার।

বিশ্ব মাতবে বিশ্বকাপে

পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মতো বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত পুরো দেশ। চার বছর পর পর আবারও বইছে বিশ্বকাপের হাওয়া। রাশিয়া বিশ্বকাপের ফুটবল শৈলিতে মেতে উঠতে, পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড়দের পায়ের জাদু মুগ্ধ হয়ে দেখতে রাশিয়ার সাথে প্রস্তুত গোটা বাংলাদেশ। সময়ের পরিক্রমায় পেরিয়ে গেছে চারটি বছর। দরজায় কড়া নাড়ছে আর একটি বিশ্বকাপ আসর। ইতোমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল সমর্থকদের মনে। প্রস্তুতি চলছে বাড়ির ছাদে নিজ সমর্থক দলের পতাকা ‌ওড়ানো। এ যেন এক প্রতিযোগিতা। এলাকার চায়ের দোকানগুলো কিছু দিনের জন্য রাজনৈতিক আলোচনাকে পাশ কাটিয়ে ফুটবল তর্কে মেতে উঠেবে। এ যেন এক অন্যরকম উন্মাদনা। আর মাএ ৯ দিন পর জুনের ১৪ তারিখে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামের মাঠে গড়াচ্ছে বহু কাক্ষিত ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘দ্যা গ্রটেস্ট শো অন আর্থ’ -বিশ্বকাপ ফুটবলের ২১ তম আসর। দুরু দুরু বুকে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিশ্বকাপের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। যেখানে অনুষ্ঠিত হবে ৬৪ টি ম্যাচ। অংশ নিচ্ছে ৩২ টি দেশ। এরপর ১৫ জুলাই পুরো রাশিয়া ঘুরে সেই লুঝনিকিতেই বসবে সমাপনী আসর, বিশ্বকাপের ফাইনাল।

বিশ্বকাপের ২১ তম আসর আয়োজন করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আয়োজক দেশে রাশিয়া। ১১ টি শহরকে তারা প্রস্তুত করেছে ১২ টি স্টেডিয়াম। ইতোমধ্যেই প্রত্যেক দলগুলো তাদের নিজেদের ২৩ সদস্যর চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। সবগুলো দল তাদের সেরা খেলোয়াদের নিয়ে একাদশ সাজাবেন। দলগুলো তাদের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করার জন্য ইতোমধ্যে অংশ গ্রহন করছে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে বেশ বড়সড় ধাক্কা খেলো গতবারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ান জার্মানি। অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দলটি। অন্যদিকে হাইতির বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের দলগুলোর জন্য হুশিয়ারী বার্তা দিয়ে রাখলো দুইবারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি এবার ফেভারেট দলগুলোর জন্য মাথা ব্যাথার কারণ।

অন্যদিকে জয় দিয়ে মাঠে ফিরলেন ব্রাজিলের সুপার স্টার নেইমার। লিভারপুলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পায় ব্রাজিল। এই জয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশনের আগে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তার চেয়ে বড় ব্যাপার, এই জয়ে ভেতর দিয়ে নেইমারের পূর্ন ছন্দে বিশ্বকাপ খেলাটা নিশ্চিত হলো। অন্য দিকে আরেক ম্যাচে বিশ্বকাপের আগে স্পেনকে সতর্ক করে দিল সুইজারল্যান্ড। গোলরক্ষকের ভুলের মাশুল দিয়ে ঘরের মাঠে সুইজারল্যান্ডর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেই সস্তুষ্ট থাকতে হয় ২০১০ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। আরেক ম্যাচে সুপার ঈগল নাজিরিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে পরাজিত করে ইংল্যান্ড। তাই ১৪ জুন হাজারো অনুভূতি জম্ম দিতে বিশ্বকাপকে গ্রহণ করতে রাশিয়া সাথে প্রস্তুত বিশ্বের সকল ফুটবল সমর্থকরা।