সন্ধ্যা ৭:০৬, শনিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৮ ইং

প্রথম যুব টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ইনিংস ‌ও ২১ রানে হারিয়েছে অনুজ রাওয়াতের নেতৃত্বাধীন অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দল। অবশ্য ভারতের সাফল্যের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এই টেস্টে ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুনের পারফরমেন্স নিয়ে।

ম্যাচের প্রথম উইকেটটি নিয়েছিলেন অর্জুন টেন্ডুলকার। ম্যাচের শেষ উইকেটটিও তাঁরই দখলে আসে। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ টানেন তিনি। অর্জুনের আগের বলই বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার নিপন মালিঙ্গা (২৩)। কিন্তু পরের বলেই আউট হয়ে যান তিনি। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন নিপন। কিন্তু দশম ব্যাটসম্যান দুলিথ ওয়েল্লালাগে ব্যাট করতে না আসায় শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইনিংস। ভারতের মোহিত জাংরা ৭২ রানে তুলে নেন ৫ উইকেট।

বোলিংয়ে সাফল্য পেলে‌ও অভিষেক ম্যাচে ব্যাটিংয়ে হতাশ করেন অর্জুন। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অর্জুন। তখন দলের স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ৫২৫ রান। ব্যাটিং করতে নেমে ১১ টি বল খেলেন। কিন্তু কোনো রান পাননি। স্পিনার দিলশানের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে শূন্য রানে ক্যাচ তুলে আউট হন অর্জুন। ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে তাঁর ক্যাচ ধরেন শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ফিল্ডার।

টাইগারদের রেটিং পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা

টেস্ট সিরিজে হেরে এমনিতেই ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাকফুটে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে স্বাগতিক দলের সঙ্গে মাশরাফি বাহিনীর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনমনের পর সীমিত ওভারের এই লড়াইয়েও কঠিন সমীকরণের সামনে এখন টাইগাররা। সাদা পোশাকে লড়াইয়ের মতো ওয়ানডে সিরিজে র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনমনের শঙ্কা না থাকলেও, টাইগারদের রেটিং পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে এই সিরিজে।

বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৯৩। তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারলে শুধু রেটিং পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা দূরই হবে না। বরং যোগ হবে আরো দুই পয়েন্ট। তবে দলের পারফরমেন্সের যে অবস্থা, তাতে করে সেই ভরসা‌ও করা যাচ্ছেনা। ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৯৫ পয়েন্টে। সেক্ষেত্রে তাদের উপরের অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সাথে পয়েন্ট ব্যবধান কমে যাবে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ যদি স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে তাহলে বর্তমান রেটিং থেকে ১ পয়েন্ট কমে হবে ৯২ পয়েন্ট। আর স্বাগতিক ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং বেড়ে হবে ৬৯ পয়েন্ট। তবে আসন্ন এই সিরিজকে ঘিরে স্বাগতিকদের সামনে থাকছে র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের রেটিং বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ। বাংলাদেশ থেকে নিচের অবস্থানে থাকায় এই সিরিজ ২-১ ব্যবধানে গেইল-হোল্ডাররা নিজেদের করে নিতে পারলে দলের রেটিং বেড়ে দাঁড়াবে ৭২ পয়েন্টে। আর সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে টপকে যা‌ওয়ার কাছে চলে আসবে ক্যারিবিয়রা।

ওয়ানডে সিরিজে র‍েটিং পয়েন্টের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে;        বাংলাদেশ ৯৫ রেটিং, ‌ও.ইন্ডিজ ৬৬ রেটিং

বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে;         বাংলাদেশ ৯২, ‌ ও.ইন্ডিজ ৬৯ ‌

ও.ইন্ডিজ ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে;         বাংলাদেশ ৮৫, ‌ ও.ইন্ডিজ ৭৫

ও.ইন্ডিজ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে;          বাংলাদেশ ৮৮, ‌ও.ইন্ডিজ ৭২

বিশ্বকাপ পদক নিতে নারাজ কালিনিচ

রাশিয়া বিশ্বকাপে রানার আপ ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার নিকোলা কালিনিচ তার পদক নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অবশ্য তার কারণ‌ও আছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কোচ জ্লাটকো দালিচের সঙ্গে মত বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এই ক্রোয়াট ফুটবলার। পরে কোচ তাকে দেশেই ফেরত পাঠান।

ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশেনর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, কালিনিচকে রানার আপ পদক দিতে গেলে তিনি নিতে অস্বীকৃতি জানান। অথচ ক্রোয়িশয়ার ২৩ জনের দলে ছিলেন তিনি। এবারেরর রাশিয়া বিশ্বকাপে `ডি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় খেলার শেষ দিকে, কালিনিচকে বদলি হিসেবে মাঠে নামতে বলেন কোচ। কিন্তু কোচ দালিচের নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি মাঠে নামেননি। পরে এসি মিলানের এই ফরোয়ার্ডকে দেশেই ফেরত পাঠানো হয়।

পদক না নিতে চাওয়া বিষয়ে কালিনিচ বলেন, ‘পদকের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু আমি তো রাশিয়ায় খেলিই নি (তাই পদক নিতে পারি না)’। এদিকে, দলবদলের এই ডামাডোলে, বেশ কয়েকটি ক্লাব কালিনিচকে পা‌ওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালে‌ও তিনি এসি মিলান ছেড়ে স্প্যানিশ দল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে যেতে আগ্রহী।

রিয়ালে ব্রাজিলিয়ান কিশোর ভিনিয়াস

মাত্র ১৮ বছরের এক উঠতি তারকাকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ব্রাজিল ক্লাব ফ্লামেঙ্গো থেকে ৩৪২ কোটি টাকায় নাম লেখায় স্প্যানিশরা। তাকে তুলনা করা হচ্ছে নেইমারের সাথে।

গতকাল শুক্রবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে, দর্শকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিনিসিয়াসকে উপস্থাপন করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যদিও এখই তাকে মুল দলে খেলানো হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্প্যানিশ গণমাধ্যম বলছে, ক্লাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুদিন বি’ দলের সঙ্গে রাখা হতে পারে তাকে। ফ্লামেঙ্গোর হয়ে ৭০ ম্যাচে ১৪ গোল করেন ভিনিসিয়াস।

অ্যালিসনের রেকর্ড

লিভারপুলে যোগ দিয়েই রেকর্ড বইয়ে নাম তুলে ফেলেছেন ব্রাজিলের গোলকিপার অ্যালিসন বেকার। তাতে ১৭ বছর পর সিংহাসন চ্যুত করেছেন ইটালির কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইগি বুফনকে।

২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে নাম লিখিয়ে আরেক ব্রাজিলিয়ান নেইমার পৃথিবীর সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার তার স্বদেশী অ্যালিসন বেকার গড়ছেন গোলরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড। তাকে দলে নিতে ৭০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হয় ইংলিশ দল লিভারপুলকে।

ইটালিয়ান ক্লাব এএস রোমায় গত দুই বছর দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। আর রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে আরেক দফা দারুণ পারফরমেন্স দেখানোয় চাহিদা বেড়ে যায় তার। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদেরও টার্গেট ছিলেন। তবে চেলসির গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার সঙ্গে রিয়ালের আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় অ্যালিসনের চিন্তা বাদ দেয় দলটি।

এর আগে ২০০১ সালে পার্মা থেকে জিয়ানলুইগি বুফনকে রেকর্ড ৫৩ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে দলে ভিড়িয়েছিল জুভেন্টাস। ৪০ বছর বয়সী বুফন এখন খেলেন নেইমারের দল পিএসজিতে।

২০১৭ সালে ব্রাজিলের আরেক গোলরক্ষক এডারসন মোয়ারেসকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে বেনফিকা থেকে কিনে নেয় ইংলিশ দল ম্যানচেস্টার সিটি। এতোদিন এটাই ঠিল ইংলিশ লিগ গোলকিপারদের সর্বোচ্চ ট্র্যান্সফারের রেকর্ড।

গোলকিপারদের মধ্য চতুর্থ সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পান ইংলিশ কিপার জর্ডন পিকফোর্ড। গত মৌসুমে তাকে ৩৪ মিলিয়ন ইউরোতে সান্ডারল্যান্ড থেকে কিনে নেয় এভারটন। আর লিগে ভালো পারফরর্ম করার পাশাপাশি রাশিয়া বিশ্বকাপে‌ও দারুণ নৈপুন্য দেখিয়ে সবার নজর কাড়েন পিকফোর্ড।

পিএসজিতেই থাকছেন নেইমার

পিএসজিতেই থাকছেন নেইমার। ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই ছাড়ার ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার সাও পাওলোতে এক দাতব্য সংস্থার নিলামে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। নেইমার বলেন, ‘আমি থাকছি। প্যারিসেই থাকছি। আমার একটা চুক্তি রয়েছে।’

গত বছর বার্সেলোনা ছেড়ে ২৬ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার চুক্তিতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যোগ দেন নেইমার। এই চুক্তি তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার করে তোলে। কিন্তু, চলতি বছরে তাঁর রিয়ালে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে জল্পনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল ছেড়ে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ায় এই আলোচনা আরও বাড়ে। কারণ, রোনালদোর মাপের তারকার অনুপস্থিতিতে একটা শূন্যতা তৈরি হয় রিয়ালে।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল অবশ্য নেইমারকে নেওয়ার কোনও ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে। গত সপ্তাহেই এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়েছিল, ‘পিএসজি থেকে রিয়ালে নেইমারকে আনার রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে ক্রমাগত। তেমন কোনও আগ্রহ আমাদের নেই বলেই জানাচ্ছি। এই দুই ক্লাবের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক। তাই রিয়াল মাদ্রিদের যদি নেইমারকে নেওয়ার কোনও ভাবনা থাকে, তবে সরাসরি পিএসজির সঙ্গেই হবে।’

এসবের পরও জল্পনা থামছে না। ব্রিটিশ মিডিয়া জানায়, নেইমারকে বিক্রি করার ব্যাপারে প্যারিসের ক্লাবের তেমন কোনও আপত্তি নেই। আর রিয়ালের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্টিনো পেরেজ গত সপ্তাহেই রোনালদোর জায়গায় দলে নতুন কাউকে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। চেলসি থেকে এডেন হ্যাজার্ডের অবশ্য রিয়ালে আসার খবর শোনা যাচ্ছে। তিনি নিজেও চেলসি ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্বকাপে বিদ্রোহ ছিল আর্জেন্টিনা দলে

কোচ সাম্পা‌ওলির পদত্যাগের পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ব্যর্থতা নিয়ে নানা তথ্য বের হয়ে আসছে। গত ২১ জুন ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা দলে যে বিদ্রোহের কথা শোনা গিয়েছিল সেটা পুরোপুরি সত্যি বলে জানান, সেদেশের টি‌ওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক ‌ও ‌ওলে’র কলামিস্ট অ্যারিয়েল সেনোসিয়াইন এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি তার নতুন বই ‘মুন্ডিয়াল আস হিস্ট্রোরিয়াস’এ লিখেছেন লি‌ওনেল মেসি আর হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর নেতৃত্বে হ‌ওয়া সেই বিদ্রোহের কথা।

এই বিদ্রোহের পর দলের ভার চলে যায় মেসি-মাশ্চেরানোর হাতে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করতেন দল। এমনকি খেলোয়াড় পরিবর্তনে‌ও মেসির মতামত চাইতেন কোচ হোর্হে সাম্পা‌ওলি। আর খেলোয়াড়দের এই বিদ্রোহ দেখেছন,আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্লাউডি‌ও তাপিয়া। এই ঘটনার পর সাম্পা‌ওলির দুই সহযোগীর একজন সেবাস্টিয়ান বেক্কাসিসে ‌পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাম্পা‌ওলি তাকে তেমন কাজ করতে মানা করেন।

কাতারে ড্র করেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল

প্রীতি ম্যাচে কাতারের মিসাইমীর ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে’ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাতারে ট্রেনিং ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।

খেলার ২৬ মিনিটে আল হাবিবের গোলে এগিয়ে যায় কাতারের দলটি। ৮১ মিনিটে শাখাওয়াত রনি ম্যাচে সমতা ফেরান। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল প্রথমার্ধে ৩টি এবং দ্বিতীয়ার্ধে ৪টি গোলের সুযোগ পায়।

বাংলাদেশ দল ভাল খেলা উপহার দেয় বলে জানায়, বাফুফে।

জুভেন্টাসে আবার‌ও পগবা!

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে পারেন পল পগবা। ইটালীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ফ্রান্স বিশ্বকাপ দলের এই তারকা ফিরে যেতেন পারেন তাঁর পুরনো ক্লাব জুভেন্টাসে। ব্যাপারটা সত্যি হলে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে খেলতে দেখা যেতে পারে পগবাকে। তবে ম্যানচেস্টারের কোচ হোসে মরিনহো বলেছেন, পগবা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে কেনো সে বিশ্বকাপে ভালো খেলেছে। অর্থাৎ পগবা যে রেড ডেভিলদের ছেড়ে যাচ্ছেন না, আকারে-ইংগিতে তিনি সেটাই বলে দেন।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত ম‌ওসুমের দ্বিতীয় পর্বে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কোচ হোসে মোরিনহোর সঙ্গে পগবার সম্পর্ক বেশ খারাপ হয়ে যায়। আর সম্পর্ক খারাপ হওয়ার জন্যই তাঁকে নিয়মিত দলে সুযোগ দেননি মোরিনহো। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক যা নিয়ে নিজের বিরক্তিও গোপন করেননি। পগবার এই মুহূর্তে ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার এটাই প্রধান কারণ বলে দাবি করা হচ্ছে। রাশিয়ায় বিশ্বকাপ হাতে নিয়েও তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কিন্তু কাপটা নিয়ে ইংল্যান্ডে যাচ্ছি না।’ তাঁর এই বক্তব্যের নানা রকম মানে করা হয়েছিল। অনেকে বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের ক্লাবে ফিরবেন না বলেই পগবা এ রকম কথা বলেছেন।

২৫ বছরের পগবাকে ম্যানইউ নতুন করে সই করায় ২০১৬ সালের অাগস্ট মাসে। তখন ফ্রান্সের এই ফুটবলার চুক্তিমূল্য হিসেবে পেয়েছিলেন রেকর্ড ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে ইটালীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি, এবার পোগবাকে ফেরাতেও বিপুল খরচ হবে জুভেন্টাসের।

এমনিতে ইউরোপে দলবদল নিয়ে নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছে। যেমন গঞ্জালো হিগুয়াইনকে নিয়ে আলভারো মোরাতাকে ছেড়ে দেবে চেলসি। বেলজিয়ামের থিবো কুর্তোয়ার রিয়াল মাদ্রিদে সই করার সম্ভাবনাও নাকি উজ্জ্বল। আর লিভারপুল নিয়েছে ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে।

ম্যারাডোনার লজ্জা

ম্যারাডোনা এখন বেলারুশের দল ডায়নামো ব্রেস্টের চেয়ারম্যানের ভূমিকায়। দায়িত্ব নে‌ওয়ার প্রথম ম্যাচেই তার দল ৩-১ ব্যবধানে হেরেছে শাখতারের কাছে। কিন্তু নতুন দায়িত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা করার মাঝেও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ব্যর্থতা। তাতে তিনি লজ্জিত হয়েছেন।

মেসিদের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নে‌ওয়া নিয়ে আবার মুখ খুললেন দিয়েগো মারাডোনা। বললেন, আর্জেন্টিনার খেলা দেখে তিনি লজ্জিত। সাম্পাওলির দলের পারফরমেন্স নিয়ে প্রশ্ন করতেই বলেন, ‘‌লজ্জা। হ্যাঁ, এই একটা শব্দই মাথায় আসছে। আর্জেন্টিনা দল উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে মাঠে ছুটেছে। এটা দেখতে অত্যন্ত খারাপ লেগেছে। কষ্ট হয়েছে।’‌

দলের পারফরমেন্স নিয়ে হতাশ ফুটবল রাজপুত্র। তবে মেসিকে দোষ দিচ্ছেন না। মারাডোনা, ‘‌হৃদয় দিয়ে ফুটবল খেলা বলতে যা বোঝায়, মেসি একাই সেটা খেলেছে। লড়েছে। কিন্তু কাউকে যে পাস বাড়াবে, সেটাই পায়নি। তাই ওকে আমি দোষ দেব না।’‌

তবে রাশিয়া বিশ্বকাপ মারাডোনার খুব একটা ভাল লাগেনি। তাঁর কথায়, ‘‌এবার বিশ্বকাপে কোনও দলকে দেখেই চমকে উঠিনি। কৌশলগত দিক বলতে যা বোঝায়, তারও তেমন প্রতিফলন দেখিনি। প্রায় রবিবারই তো এমন খেলা দেখা যায়, ক্লাব পর্যায়ে। আহামরি কিছুই ছিল না।’

‌ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রস্তুতি ম্যাচ আজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে রাতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।

জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে, বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাইস চ্যান্সেলর একাদশ নামে স্থানীয় এক দলের মুখোমুখি হবে তারা।

অবশ্য বেশ শক্তিশালী স্থানীয় এই দলটি। কারণ শ্যাডউইক ওয়ালটনের অধিনায়কত্বে এই দলে ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, জার্মেই লেভির মত তারকারা আছেন। আগের দিনই জ্যামাইকা পৌঁছালেও প্রস্তুতি ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফীর খেলা বা না খেলার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি টীম ম্যানেজমেন্ট।

ফিফা ফ্যান একাদশে আর্জেন্টিনার নেই কেউ

এবারের বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগেই ভক্তদের ভোটে সেরা দল প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ১ লাথ ৩০ হাজার ভক্তদের ভোটে বেছে নেয়া হয় সেরা একাদশ।

এই দলে ব্রাজিলের তিনজন খেলোয়াড় সুযোগ পেলেও নেই কোনো আর্জেন্টাইনের নাম। অবশ্য সিমে ভরসালিয়াকো কিংবা লুকাস হার্নান্দেজকে টপকে রক্ষণে জায়গা মিলেছে মার্সেলোর। লভরেন কিংবা উমতিতিকে টপকে রক্ষণে থিয়াগো সিলভা কিংবা কান্তে, পগবাদের পরিবর্তে মধ্যমাঠেও কুতিনহো-ডি ব্র“ইনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। ভক্তদের দল বলেই এ নিয়ে তেমন মাথা ঘামানো হচ্ছে না।

অবশ্য সবচেয়ে মজার ঘটনা আছে আক্রমণভাগে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরা ফুটবলার হয়েছেন হ্যাজার্ড ও গ্রিজমান। এ দুজনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও হ্যারি কেইন।

ব্যালন ডি’অর: মেসি-রোনালদোর রাজত্বে ধ্বস

ফারদিন আল সাজু

বিশ্বকাপ ফুটবল শেষেই আলোচনা শুরু হয়েছে বর্ষসেরা খেলোয়াড় কে হবেন সেটা নিয়ে। তবে গত এক দশক বিশ্ব সেরা ফুটবলারের এই পুরস্কার ভাগাভাগি করেছেন, দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০০৭ সালে ব্রাজিলের কাকা ব্যালন ডি’অর জেতার পর থেকে বিশ্ব সেরার লড়াইটা মূলত: মেসি ও রোনালদোর মধ্যে ব্রাকেটবন্দি হয়ে পড়েছে।

এডেন হ্যাজার্ড

তবে চলতি বছর তাদের সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়। মেসি-রোনালদো ছাড়া অন্য কারো বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার খুবই সম্ভাবনা রয়েছে। আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির জন্য সময়টা বেশ কঠিণই গেছে। স্প্যানিশ লিগ শিরোপা জিতলেও তার দল বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয়। আর রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজের পারফরমেন্সও তুলে ধরতে পারেন নি লিওনেল মেসি। করেছেন মাত্র এক গোল। তার দলও বেশিদূর যেতে পারেনি। শেষ ষোল থেকেই দেশে ফিরতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

অ্যান্টোনিও গ্রিজম্যান

এদিকে, রোনালদো কিছুটা এগিয়ে লিগ শিরোপা না জিতলেও তার দল রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতেছে। যদিও সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে কোনো গোল করতে পারেননি রোনালদো। আর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিানার মতোই রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলতেই থেমেছে পর্তুগালের পথচলা। তবে গ্রুপ পর্বে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক তাকে কিছুটা এগিয়েই রাখে। বিশ্বকাপের চার ম্যাচে রোনালদো করেন চার গোল।

লুকা মড্রিচ

তবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া সবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে দারুণ নৈপুন্য দেখায়। তাদের খেলোয়াড়রা ক্লাব-দেশ এমনকি পৃথিবীর ফুটবলভক্তদের হৃদয় কেড়ে নেয়, চমৎকার পারফরমেন্স দেখিয়ে। ফিফা বর্ষ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার-ব্যালন ডি’অর জয়ে নিশ্চয়ই তাদের এই পারফরমেন্স বিবেচনায় আনা হবে।

কিলিয়েন এমবাপে

ইতোমধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে রোনালদো যোগ দিয়েছেন ইটালির জায়ান্ট জুভেন্টাসে। কিছুদিনের মধ্যেই ফুটবল শৈলিতে নিশ্চয়ই তিনি মুগ্ধ করবেন ইটালিসহ বিশ্বের ফুটবল ভক্তদেরকে। ফিলিপ্পে কুটিনহো, এডেন হ্যাজার্ড, অ্যান্টোনিও গ্রিজম্যান, কেভিন ডি ব্রুইন, হ্যারি কেন, লুকা মড্রিচ, কিলিয়েন এমবাপে’রা এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের দাবীদার।

জিদান‌ও গেলেন জুভেন্টাসে

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর এবার জুভেন্টাসে যোগ দিতে যাচ্ছেন জিনেদিন জিদানও। স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইতালিয়ান ক্লাবটির ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতে সম্মতি জানিয়েছেন সাবেক ফ্রেঞ্চ কিংবদন্তী এবং রিয়াল বস।

চলতি বছরের অক্টোবর থেকে জিদানকে নতুন দায়িত্বে দেখা যাবে বলে সংবাদ প্রকাশ করে ‘লিবারতেদ ডিজিটাল’ নামের অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি। রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগের তিনটি শিরোপা জেতানোর পর এ বছরের মে’তে ম্যানেজারের দায়িত্ব ছেড়ে দেন ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য।

এরপর কাতারের ম্যানেজারের দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে খবর প্রকাশ হলেও পরবর্তীতে সে খবরের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পর্তুগীজ সুপারস্টার রোনালদোর জুভেন্টাসে যোগ দেয়াটাই উদ্বুদ্ধ করেছে জিদানকে তুরিনে যেতে। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জুভেন্টাসে খেলেছিলেন জিদান।

দায়িত্ব নে‌ওয়ার প্রথম ম্যাচেই ম্যারাডোনার দলের হার

বেলারুশের ক্লাব ডায়নামো ব্রেস্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিযে রাজার বেশেই মাঠে আসেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি ডিয়াগো ম্যারাডোনা। ছাদ খোলা বিলাসবহুল এক গাড়িতে করে তিনি মাঠে আসেন। গ্যালারির দর্শকরা তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়। কিন্তু কিংবদন্তি এই ফুটবলারের উপস্থিতি‌ও দলকে উজ্জ্বীবিত করতে পারেনি।

শাখতারের কাছে তার দল ডায়নামো ব্রেস্ট ৩-১ গোলে পরাজিত হয়। দলের খেলা দেখে তিনি রীতিমতো বিরক্ত। আর সেটা প্রকাশ করতে‌ও সময় নেননি ম্যারাডোনা।

তিন বছরের চুক্তিতে ক্লাবটির দায়িত্ব নেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার। দু’বছর আগে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলো ক্লাবটি। এই ক্লাবের দায়িত্ব নিতে সম্মত হওয়ার পরই বেলারুশে রীতিমত নায়কের আসনে বসে যান ম্যারাডোনা।

স্যার্জিও রামোসের বিয়ে

বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার স্যার্জিও রামোস। স্প্যানিশ টিভি রিপোর্টার ও টিভি উপস্থাপিকা ৪০ বছর বয়সী পিলার রুবিও ফার্নান্দেজকে বিয়ে করছেন, ৩২ বছর বয়সী রিয়ালের এই ডিফেন্ডার।

অবশ্য বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা একসাথে আছেন। তাদের তিনটি সন্তানও রয়েছে। ১৬ জুলাই র‌্যামোস, নিজেদের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্ট্যাগ্রামে পোস্ট করে লেখেন ‘সে হ্যাঁ বলেছে’। পরে সেই ছবি পিলার রুবিও’ও তার একাউন্টে পোস্ট করেন। তাতে লেখেন, ‘আমি হ্যাঁ বলে দিয়েছি’।

খুব শিগগিরই এই বিয়ের কাজ শেষ হবে বলেও জানা যায়। তাদের তিন সন্তানের বড়জনের নাম সের্জিও, পরের জনের নাম মার্কো আর ছোট সন্তানের বয়স মাত্র চার মাস।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ‌ও.ইন্ডিজ ‌ওয়ানডে দল

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলে সবচেয়ে বড় চমক আন্দ্রে রাসেলের অন্তর্ভুক্তি।

২০১৫ সালের নভেম্বরে সবশেষ দেশের জার্সি গায়ে ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলা কার্লোস ব্রেথওয়েট, মারলন স্যামুয়েলস, নিকিতা মিলারদের মতো তারকাদের বাদ দিয়েছে ক্যারিবীয়রা। ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরা হলেন: জ্যাসন হোল্ডার (অধিনায়ক), ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, দেবেন্দ্র বিশু, শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, অ্যাশলি নার্স, কিমো পল, কাইরন পাওয়েল ‌ও রভমান পাওয়েল।

আগামী ২২ জুলাই গায়ানায় প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রোনালদো এখন জুভেন্টাসের

জুভেন্টাসে আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুষ্ঠানে পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেছেন, বয়স কোনো সমস্যা নয়। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালিয়ান ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

গত সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিয়াল জানায়, একশ ১৭ মিলিয়ন ডলারে জুভেন্টাসের কাছে রোনালদোকে বিক্রি করে দেয়ার কথা। স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর রিয়ালের হয়ে ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব প্রাপ্তি থাকলেও আরো নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে নিজের ক্ষুধার কথা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন রোনালদো। তিনি জানান, যদিও তাঁর বয়স ৩৩; আর এ সময় সাধারণত খেলোয়াড়রা একটু নিরাপদ জীবনের আশায় কাতার বা চীনের দিকে ঝুঁকছেন।

কিন্তু আরামের জীবনের প্রতি অনীহা আর চ্যালেঞ্জের নেশা তাঁকে ওল্ড লেডিদের হয়ে আরো বেশি কিছু করার তাড়না দিয়েছে। চার বছরের চুক্তিতে জুভেন্টাসে যোগ দেয়া পাঁচবারের এই বিশ্বসেরা ফুটবলার আগামী ৩০ জুলাই প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করবেন।

আবার‌ও কোচিংয়ে ম্যারাডোনা

বেলারুশের ক্লাব ডায়নামো ব্রেস্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন ডিয়াগো ম্যারাডোনা। বিশ্বকাপে ফিফার দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সোমবার বেলারুশে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি।

তিন বছরের চুক্তিতে ক্লাবটির দায়িত্ব নেয়ার পরই আশাবাদ জানিয়েছেন, বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো দ্রুতই এই ক্লাবের ভক্ত হয়ে পড়বেন। দু’বছর আগেই দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলো ক্লাবটি। এই ক্লাবের দায়িত্ব নিতে সম্মত হওয়ার পরই বেলারুশে রীতিমত নায়কের আসনে বসে যান ম্যারাডোনা।

সোমবার দেশটিতে পৌঁছে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেয়ার পর ডায়নামো শহরজুড়ে স্থানীয় জনগণের শুভেচ্ছার জবাব দেন তিনি। ম্যারাডোনা যোগ দেয়ায় ক্লাবের জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে বলে মনে করেন ক্লাবের উন্নয়ন পরিচালন ভিক্টর রাডকভ।

কোলিন্দা গ্র্যাবার: ফুটবল-পাগল রাষ্ট্রপতি

বিশ্বকাপ শুরুর আগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্র্যাবার কিতারোভিচের নাম কেউ শুনেছেন বলে জানা নেই। তবে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিও জিতে নিয়েছেন বিশ্ববাসীর হৃদয়। নক আউটে ক্রোয়াটদের লড়াই মানেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বল কোলিন্দা। তবে ন্যাটো-বৈঠকের জন্য থাকতে পারেননি সেমিফাইনালে‚ ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে। সেই অনুপস্থিতি সুদে-আসলে উশুল করেছেন ফাইনালে‚ ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া মহারণে।

ফুটবল মাঠে গেছেন আপাদমস্তক ফুটবলপ্রেমী হয়ে। তার জন্য প্রোটোকল ভাঙতে দ্বিধা করেননি। ভিআইপি বক্সে‚ যেখানে বসে কোলিন্দা খেলা দেখেন‚ মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য সেখানকার পোশাকবিধি হল লম্বা গাউন জাতীয় ফর্ম্যাল পোশাক। কিন্তু কোলিন্দা সবসময় ঝলমল করছেন লাল-সাদায়। অর্থাৎ দেশের জাতীয় পতাকার বা জাতীয় প্রতীকের পোশাকে। বাকি ক্রোয়াট সমর্থকরা যেভাবে একাত্ম হয়েছেন‚ সেভাবেই মাঠের আবহের সঙ্গে মিলেমিশে যেতে চেয়েছেন এবং পেরেওছেন তিনি।

৫০ বছর বয়সী কোলিন্দার জন্ম সাবেক যুগোস্লাভিয়ায়। ১৯৬৮-র ২৯ এপ্রিল। জাগরেব‚ ভিয়েনা‚ ওয়াশিংটন এবং হার্ভার্ড- বিভিন্ন শহরের নামী প্রতিষ্ঠানে শেষ করেছেন উচ্চশিক্ষা। জানেন একাধিক ভাষা। ক্রোয়েশিয়ান ছাড়াও সাবলীলভাবে বলতে পারেন ইংরেজি‚ স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ।

১৯৯৩ সালে রাজনীতিতে যোগদান‚ Croatian Democratic Union-এ। দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন দলের বিভিন্ন দায়িত্ব। অবশেষে ২০১৫ সালে র্নিবাচিত হন দেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি দেশের চতুর্থ তথা প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট। এক সময় আমেরিকায় ক্রোয়েশিয়ান রাষ্ট্রদূত হয়ে কর্মরত ছিলেন। ছিলেন ন্যাটো-র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিও। এরপর ইভো জোসিপোভিককে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হারিয়ে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি হন তিনি। এত গুরুগম্ভীর কূটনৈতিক দায়িত্বে থেকেও ১৯৯৬ সাল সংসারী জীবন শুরু করেন। বিয়ে করেছেন জ্যাকব কিতারোভিচকে। ১৭ বছরের মেয়ে ক্যাটারিনা এবং ১৫ বছর বয়সী ছেলে লুকা-র স্নেহময়ী মায়ের ভূমিকাতেও সমান উজ্জ্বল রাষ্ট্রপতি কোলিন্দা।

২০১৬ সালে একবার বিতর্কও উঁকি দিয়ে গিয়েছিল কোলিন্দার জীবনে। হঠাৎ করে মার্কিন মডেল কোকো অস্টিনের সঙ্গে তাঁর চেহারাগত সাদৃশ্য নিয়ে আলোড়িত হয় ইন্টারনেট। অস্টিনের বিকিনি পরা ছবি ঘুরতে থাকে কোলিন্দার ছবি বলে। সেসব বিতর্ক এখন ম্লান। কোলিন্দা গ্র্যাবার কিতারোভিচ এখন জাতীয় পতাকায় শোভিত এক ফুটবল-পাগল রাষ্ট্রপতি। যিনি দেশের লড়াইয়ের সাক্ষী থাকবেন বলে রাশিয়া উড়ে যেতেও দ্বিধা করেন না।

এত সবকিছুর পরেও বৃষ্টিভেজা মাঠে তাঁর উষ্ণ আলিঙ্গন নিয়ে কটাক্ষ চলতেই থাকবে। আলোচিত হবে তাঁর গালে ফরাশি প্রসিডেন্ট মাক্রনের চুম্বন। নিন্দুক চোখ দেখবে না ঐ আলিঙ্গনে কতটা সৌহার্দ্য ছিল। দেখবে না বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় লুকা মড্রিচকে জড়িয়ে ধরার সময় কোলিন্দার চোখেও জল ছিল। হাত ছোয়া দূরত্ব থেকে কাপ হারানোর বেদনাও ছিলো।

এখন ইউরোপার জয়জয়কার

ভারতীয় নারী বডিবিল্ডার ইউরোপা ভৌমিক আলো ছড়াচ্ছেন এখন। কোলকাতার এই মেয়ে যেনো এক নারী বাহুবলী। তার পেশিবহুল শরীরে নজর কাড়েছে সবার। জাতীয় স্তর পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

মাত্র ১৯ বছরের এই বাঙালি তরুণী ইউরোপা ভৌমিক ২০১৫ সালে কর্ণাটকে প্রথম বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে সেই প্রতিযোগিতায় হেরে যান। হার দিয়ে শুরু হলে‌ও এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বডিবিল্ডিং-এর আসরে।

৪ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার ইউরোপা ভৌমিক লম্বা না হওয়ার জন্য অল্প বয়সে সহপাঠীদের মধ্যে বিদ্রুপের শিকার হতেন ইউরোপা। ১৯ বছর বয়সে ইউরোপা ভারত সহ এশিয়ার বিভিন্ন বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য ‌ও প্রশংসা দু’ই পান। নিউ টাউনের এই ইউরোপা ভোমিক প্রথম বাঙ্গালি আন্তর্জাতিক নারী বডিবিল্ডার।

তার বাবা পিরমল ভ‌ৌমিক, জাহাজের ক্যাপ্টেন। আর মা, সুপর্ণা ভৌমিক একজন গৃহবধু। ‘লাইফ অফ পাই’ সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মেয়ের নাম রাখা হয় ইউরোপা। মেয়ের জন্মের সময় দু’জন যে জাহাজে ছিলেন তার নাম ছিল ‘স্যামপোল ইউরোপা’। তখনই জাহাজের নাবিকরা ঠিক করেছিলেন, ছেলে হলে নাম হবে স্যাম। আর মেয়ে হলে নাম হবে ইউরোপা।

অবশেষে সাম্পা‌ওলি বরখাস্ত

অবশেষে হোর্হে সাম্পা‌ওলিকে বরখাস্তই করলো আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। অবশ্য বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে দলের বিদায়ের পরই তার ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসিদের হেড কোচের পদ থেকে সরিয়েই দেয়া হলো সাম্পাওলিকে।

বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির দলের ভরাডুবির কারণেই সরিয়ে দেওয়া হল কোপা আমেরিকা জয়ী এই কোচকে। যদিও এএফএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সাম্পাওলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি, আর্জেন্তাইন ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে আলোচণা করে তিনি নিজেই সরে দাঁড়িয়েছেন।

২০১৯ কোপা আমেরিকা পর্যন্ত সাম্পাওলিকে রাখার বিষয়ে প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, পরে এএফএ-এর সিনিয়ার কিছু সদস্যের নির্দেশেই সরানো হলো সাম্পাওলিকে। ২০২২ পর্যন্ত এএফএ-এর সঙ্গে চুক্তি ছিল তার। সাম্পাওলিকে চুক্তির আগেই ছেঁটে ফেলার জন্য ১৪ মিলিয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আর্জেন্টিনাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে। ২০১৭ সালের মে মাসে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন চিলিকে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন করা কোচ সাম্পাওলি। দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে ১৪টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন সাম্পাওলি। এর মধ্যে মাত্র সাতটি জয় পেয়েছে তারা।

তবে সাম্পাওলির পরিবর্তে উঠে আসছে তিনটি নাম। রাশিয়া বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার দায়িত্বে থাকা হোসে পোকারম্যান এবং পেরুর দায়িত্বে থাকা রিকার্ডো গেরেকার নাম, বেশি শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও কোচ হ‌ওয়ার দৌড়ে আছেন হর্হে আলমিরোন এবং মাতিয়াস আলমিদার নাম।

জুভেন্টাসের আজ রোনালদো বরণ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বরণ করে নিতে আজ সোমবার বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জুভেন্টাস। তাদের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে, স্বাগত জানাবে পর্তুগিজ মহাতারকাকে।

টানা নয় বছর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলে ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫১টি গোল করে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে পাড়ি দেন রোনালদো। আজ কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়াম। তুরিনের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় রোনালদো আসবেন স্টেডিয়ামে। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা নে‌ওয়া হয়েছে।

৭০ জন বিশেষ প্রশিক্ষিত কমান্ডো থাকবে মঞ্চ ও রোনালদোর নিরাপত্তার দায়িত্বে। থাকবে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এমনকী ইতালিয়ান আর্মির একটি ইউনিটও স্টেডিয়ামের বাইরে থাকবে। মোট সাড়ে তিনশো সাংবাদিক এই অনুষ্ঠান কভার করার জন্য দা‌ওয়াত পেয়েছেন। থাকবে ৪০টি টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধিরাও। রোনালদো আগামী চার বছরের জন্য জুভেন্টাসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।

পেলের পরই এমবাপে

ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন, কিলিয়েন এমবাপে। সাল ১৯৫৮, ১৭ বছরের কিশোর পেলে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর জোড়া গোলেই ব্রাজিল বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। ৬০ বছর পর সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে। ফাইনালে, খেলার ৬৫ মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ এমবাপের এই বিরল কৃতিত্ব দেখান।

এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন এমবাপে। নিজে ৪ গোল করার পাশাপাশি আটটিরও বেশি গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে। ফাইনালে ২৫ গজ দূর থেকে ধারুণ এক শটে দলের চতুর্থ গোল করেন। নিজের এই কীর্তির পুরস্কারও পেয়েছেন পিএসজি’র এমবাপে। তার গোলের পরেই প্রশংসা করে টুইট করেছেন পেলে। লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার ক্লাবে তোমাকে স্বাগত এমবাপে। তোমাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আমি খুশি।’

তবে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার তালিকায় তৃতীয়স্থানে আছেন এমবাপে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে, ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইটালির গুইসেপ্পে বার্গোমি আর এবার এমবাপে। এই তিন কনিষ্ঠ ফুটবলার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেও গোল পাননি একমাত্র বার্গোমি।

পেলের করা দুই গোলে ১৯৫৮ সালে সুইডেনকে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। পেলের পরে এমবাপে সেই কৃতিত্ব স্পর্শ করলেন। গ্রিজম্যান, পগবা-র পাশাপাশি নিজে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০ বছর পর বিশ্বকাপ জিতলো ফরাশিরা। আর ২০১৮ বিশ্বকাপের ‘সেরা উদীয়মান’ ফুটবলারের পুরস্কার‌ও জিতলেন তিনি।

দিদিয়ের দেশামের রেকর্ড

১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন দিদিয়ের দেশাম। ২০ বছর পর ফরাসিদের সেই শিরোপা পুনরুদ্ধার করালেন দেশাম। তবে এবার কোচ হিসেবে। তাতে অনন্য এক রেকর্ডের পাতায় নাম খেলালেন ফ্রান্সের কোচ। তৃতীয় অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ^কাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন দিদিয়ের দেশাম।

কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলেন, জিতেছিলেন অধিনায়ক হিসেবেও। অসাধারণ এই অর্জনে ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে নাম লেখানে দিদিয়ের দেশাম। ফরাসিদের কাছে তিনি এখন জাতীয় বীর, চিরস্মরণীয় এক নাম।

সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিলেন দেশাম। চতুর্থ খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। সামনে ছিলো মারিও জাগালো এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ের অনন্য রেকর্ড। অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে সেই স্বপ্নটা হাতের মুঠোয় পেয়ে যান দিদিয়ের দেশাম। জাগালো ও বেকেনবাওয়ারের পরা অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার অভিজাত তালিকায় এবার জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশাম।

তারকা বহুল একটা দলকে এক সুতোয় গাথা সহজ নয়। খেলোয়াড়দের নিয়মের মধ্যে রাখা, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলানোর মত কঠিন কাজ গুছিয়েছেন দক্ষ হাতে। কোচ হিসেবে সবসময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্ভিক সৈনিকের মত।

তার নিয়মের মধ্যে ছিলো পুরো দলের একসাথে খাওয়া-দাওয়া করা। মোবাইল ব্যবহারও ছিলো অনেক সীমাদ্ধতা। অবশ্য এসবে মোটেই আপত্তি ছিলোনা খেলোয়াড়দের। কারণ খেলোয়াড়দের কাছে সেই আস্থা অনেক আগেই অর্জন করেছেন দেশাম। হয়ত বাস্তবতাও ছাড়িয়ে গেছে তার কল্পনাকে।

রাশিয়া বিশ্বকাপের পুরস্কার কথা

মমিনুর রিপন

শিরোপা জিততে না পারার হতাশা থাকলেও, বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মড্রিচ। দুর্দান্ত খেলা উপহার দিয়ে সেরা উদীয়মান ফুটবলার হন ফ্রান্সের কিশোর স্ট্রাইকার কিলিয়েন এমবাপে। ৬ গোল করে এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনের। আর সেরা গোলরক্ষক হন বেলজিয়ামের থিবু কর্তোয়া।

 

শ্রেষ্ঠ ফুটবলারের স্বীকৃতির দৌড়ে ছিলেন গ্রিজম্যান, এডেন হ্যাজার্ডরা। তবে পুরো টুর্নামেন্টে মাঝমাঠ চষে বেড়ানো ক্রোয়েশিয়ার লুকা মড্রিচের অবদানের স্বীকৃতি দিতে এতটুকু ভাবতে হয়নি ফিফার টেকনিক্যাল কমিটিকে। প্রথম ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় পুরষ্কার গোল্ডেন বল জিতলেন মড্রিচ।

গত চার বিশ্বকাপের নায়ক রোনালদো, অলিভার কান, জিদান, ফোরলান ও মেসির পর গোল্ডেন বলের তালিকায় নাম লেখালেন মড্রিচ। ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় বেছে নেয় ফিফা। প্রথমবার এই পুরষ্কার জিতেছিলেন পল পগবা। এবার সেই পুরস্কার পেলেন পগবারই সতীর্থ কিলিয়য়েন এমবাপে।

 

সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন যে গোল্ডেন বুট জিতবেন তা অনুমেয়ই ছিলো। ১৯৮৬ সালের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরষ্কার জিতলেন হ্যারি কেন।

 

সেরা গোলরক্ষক কে হবেন তা নিয়ে বেশ ভালই আলোচনা হয়েছে ফুটবলভক্তদের। তবে ফিফার টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুয়াযী গোল্ডেন গ্লোভের পুরষ্কার জিতেছেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবু কর্তোয়া।

গত আসরে কলম্বিয়ার পর এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেয়ার প্লে আওয়ার্ড জিতেছে দ্বিতীয় পর্বে রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ছিটকে পড়া স্পেন।

ফ্রান্স আবার‌ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

ইতিহাসের পাতায় আবারো ফরাশিরা। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ^কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামের ফাইনালে তারা ৪-২ ব্যবধানে হারায়, ক্রোয়েশিয়াকে। এই জয়ে তৃতীয় খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লেন, ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশাম।

বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইটা যেনো গ্রিজম্যান-এমবাপের সঙ্গে মড্রিচ-মাঞ্জুকিচের নয়, ছিল ফরাশি বিটোভেনের সঙ্গে ‘বলকান মোজার্টের’। মাঠে নেমে শৈল্পিক মূর্চ্ছনায় ক্রোয়েশিয়ার জয়রথ থামিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ফ্রান্স। এতে ২০ বছর পর পর বিশ^কাপে নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রীতিটাও মিথ্যে করে দিলো ‘লা ব্লুজ’রা। জানিয়ে দিলো, পারফরমেন্স আর পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে যেকোনো সময় শিরোপা জেতো সম্ভব।

অবশ্য দিনটি যে ক্রোয়েশিয়ার নয়, খেলার ১৮ মিনিটেই বুঝা গিয়েছিল। মাঞ্জুকিচের আত্মঘাতি গোলে লিড পায় ফ্রান্স।

তবে নাটকীয়তার শুরু এর পরই। শিরোপা জয়ের অদম্য ইচ্ছায় ২৮ মিনিটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া, পেরিসিচের দারুণ গোলে। আনন্দ উপলক্ষ খুঁজে পায় ক্রোয়াট সমর্থকরা।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ফাইনাল। ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে পেরিসিচ নিজেদের বিপদসীমায় হাতে বল ঠেকালে, ভিএআর’এর কল্যাণে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। স্পটকিকে দলকে ২-১ এ এগিয়ে দেন, গ্রিজম্যান।

এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফরাসিরা। ১৯৭৪ সালের পর, এবারই বিশ^কাপের কোনো ফাইনালের প্রথমার্ধে তিন গোল হলো।

প্রথমার্ধে লিড পাওয়া বিশ^কাপে কোনো ম্যাচ হারেনি ফ্রান্স। এমন ইতিহাস নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে পল পগবার গোলে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে নেয়, লা ব্লুজ’রা।

রুদ্ধশ^াস থ্রিলারের মত ম্যাচকে একপেশে করে তুলে এমবাপে ম্যাজিকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
পরে আর ক্রোয়াট শিবিরে খুব একটা আক্রমণে যায়নি ফ্রান্স। সে সুযোগে, ফ্রান্স গোলকিপার লরিসের ভুলে ব্যবধান ৪-২-এ নামিয়ে আনেন, মারিও মাঞ্জুকিচ।

গোল শোধের চেষ্টা করেও সফল হয়নি ক্রোয়েটরা। আর তাতে নতুন ইতিহাস লেখা হলোনা ক্রোয়েটদের। রানারআপ হয়েই বাড়ি ফিরতে হলো। অন্যদিকে, দুই যুগ পর আবারও বিশ^ সেরা ফ্রান্স।

বিশ্বকাপে তৃতীয়স্থান পেলো বেলজিয়াম

রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পেল বেলজিয়াম। আজ শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রেড ডেভিলরা ২-০ পরাজিত করে ইংল্যান্ডকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়েছিল তারা।

শুধু তৃতীয় স্থানই নয়, ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে অন্য আকর্ষণও ছিল। হ্যারি কেন বনাম রোমেলু লুকাকু, সোনার বুটের লড়াই। কিন্তু, দু’জনের কেউই গোল করতে পারেননি। লুকাকুকে তো ৬১ মিনিটে তুলেই নেওয়া হয়। ছয় গোল করে হ্যারি কেনই পাচ্ছেন সোনার বুট। আর লুকাকু থেকে গেলেন চার গোলেই।

বেলজিয়াম চার মিনিটেই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল। নাসের শাদলির ক্রস থেকে টোকায় গোল করেন সেমিফাইনাল মিস করা টমাস মুনিয়ের। প্রথম ২০ মিনিটে রেড ডেভিলরা দাপট দেখায়। ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে লড়াইয়ে ফেরে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।

ক্রমশ পাল্টা আক্রমণে তাদেরকে ধরাশায়ী করে বেলজিয়াম। তৈরি করতে থাকে গোলের সুযোগ। ৮২ মিনিটে ‘লাল শয়তান’দের অধিনায়ক এডেন হ্যাজার্ড ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। কেভিন ডি ব্রুইনের পাস থেকে দুরন্ত শটে গোল করেন তিনি।

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। নেদারল্যান্ডসের আর্টরিচে, প্রতিযোগিতার ফাইনালে আইরিশদের ২৫ রানে পরাজিত করে সালমা-রুমানাদের দল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৩ রানের টার্গেটে নেমে, রুমানা আহমেদ ও পান্না ঘোষের বোলিংয়ে, ৫৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে আইরিশরা। পান্না ঘোষ ১৬ রানে ৫ উইকেট তুলে নিলে, ৯৭ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড।

এর আগে, টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আয়েশা রহমানের ৪৬ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১২২ রানের বড় পুঁজি পায় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। ৪২ বলে পাঁচ- চার আর দুই- ছক্কায় এই রান করেন তিনি। ফারজানা হক ১৭ এবং শামিমা সুলতানা ১৬ রান করেন।

এই জয়ে বাছাইপর্বের সেরা দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে অংশ নেবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

বাংলাদেশে আসছেন মেসি

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির পরিদর্শনের জন্য চলতি মাসের ২২ জুলাই বাংলাদেশে আশার কথা রয়েছে ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির। বাংলাদেশ সফরে আর্জেন্টিনা সুপারস্টার সুবিধাবঞ্চিত শিশু, নাকি রোহিঙ্গা শিশুদের নিয়ে কাজ করবেন তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

এর আগে, প্রীতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিলেন এই সুপারস্টার। ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সাক্ষী হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। ঘরের মাঠে বসে এলএম টেনের ফুটবল শৈলী উপভোগ করেছিলো এদেশের ফুটবলপ্রেমিরা।

তবে এবার কোন প্রীতি ম্যাচ নয়, আসছেন ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত পরিচয়ে। সংস্থাটির কর্মকান্ড দেখবেন তিনি। মেসি এলে স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হওয়ার কথা শিশুদের সাথে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা একটি বড় ইস্যু। তাই রোহিঙ্গা শিশুদের কাছে লিওনেল মেসিকে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে ইউনিসেফের।

এ উপলক্ষে মিয়ানমার-বাংলাদেশকে নিয়ে হতে পারে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচও। মেসির সাথে আসতে পারেন আরও কয়েকজন ফুটবলার। তবে তা ঢাকায় নাকি কক্সবাজারে হবে তা নিয়েও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ক’দিন আগেই ইউনিসেফের দূত হিসেবে কক্সবাজার ঘুরে গেছেন বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লিওনেল মেসির জন্য চাওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যদিও মেসির সফর নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ ইউনিসেফের কর্মকর্তারা।

বাংলাদশের মাটিতে শুধু খেলে যাওয়া নয়, বিশ্বকাপ নিয়েও লাল-সবুজের দেশটির সাথে পরিচিত এই তারকা। মেসির ফেসবুক পেজে কিছুদিন আগেই শেয়ার করা হয়েছিলো আর্জেন্টিনা নিয়ে এদেশের দর্শকদের উন্মাদনার কথা। আগামী ২২ জুলাই বাংলাদেশ সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে পাচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার লি‌ওনেল মেসির।

বিশ্বকাপ শিরোপা ক্রোয়েশিয়ার টাপির ক্ল‌িওপেট্রার ভবিষ্যত বাণী

রাশিয়ার নিঝনি নভোগ্রোদের চিড়িয়াখানার টাপির ক্লিওপেট্রা জানিয়েছে, এবার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে ক্রোয়েশিয়া।

বিশ্বকাপের ফাইনাল শুরুর আগেরদিন, ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার পতাকা আঁকা দুটো পাত্রে করে টাপিরকে খাবার দেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। কিছু সময় ইতস্তত করে ক্লিওপেট্রা ক্রোয়েশিয়ার পতাকা আঁকা পাত্রের খাবার খাওয়া শুরু করে।

পরে চিড়িয়াখানার প্রেস সেক্রেটারি আনা বেলাকোভা জানান, টাপিরের ভবিষ্যত বাণী হচ্ছে, রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতবে ক্রোয়েশিয়া। অবশ্য এর আগে, বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে এই টাপিরের ভবিষ্যত বাণীর মধ্যে ৭৫ ভাগ সফল হয়েছে বলে দাবী চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের।

বিশ্বকাপে ২০ বছরের ধাধা

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী দল নিয়ে ভবিষ্যত বাণীর কমতি থাকেনা। এবার‌ও সেই ধারা অব্যাহত আছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নানান রকমের সংস্কার আর বিভিন্ন রকমের সংখ্যাতত্ত্ব আর বিভিন্ন রকমের যুক্তি নিয়ে হাজির হন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসেও খামতি নেই তার। ফাইনালে কোন দুটি দল খেলবে তা নির্ধারিত হওয়ার পরই ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ দাবি করছে এবারে চ্যাম্পিয়ন হবে ক্রোয়েশিয়া। আবার কারো দাবী দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতবে ফ্রান্স।

তবে বিশ্বকাপে গত ৬০ বছরের ইতিহাস কিন্তু বলছে নতুন চ্যাম্পিয়নই পাবে ফুটবলবিশ্ব। কারণ ১৯৫৮ সাল থেকে প্রতি ২০ বছর পর পর নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পেয়ে আসছে ফুটবল। ১৯৫৮ সালে প্রথমবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। সেবারের ফাইনালে শৈল্পিক ফুটবলের এই দেশটি হারিয়েছিল সুইডেনকে। তার ২০ বছর পর, ১৯৭৮ সালে- চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালে তারা পরাজিত করে নেদারল্যান্ডকে। আরো ২০ বছর পরে ১৯৯৮ সালে। জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স ৩-০ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে ‘লা ব্লু’দের প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পাইয়ে দেন। তার ঠিক ২০ বছর পর সেই ফ্রান্সেরই মুখোমুখি হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। এবারই প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ক্রোয়াটরা। গত ৬০ বছরের ধারা বজার রাখতে পারলে বিশ্বকাপ শিরোপা যাবে ক্রোয়েশিয়ার ঘরেই। আর ২০ বছর পর ফুটবল বিশ্ব আবার‌ও পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন।

কিন্তু শিরোপা জয়ের এতে কাছে এসে খালিহাতে ফিরবে কেনো ফ্রান্স! নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ বা ছাড়বে কেন তারা। ১৯৯৮ সালে এই ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জিতেই ফাইনাল খেলেছিল ফ্রান্স। এবার তাদেরকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পালা এমবাপে-পগবা-জিরুদদের। সাথে দলের কোচ দিদিয়ের দেশামের অনন্য রেকর্ড গড়ার সুযোগ কেনো হেলায় হারাবেন তার শিষ্যরা। মারিও জাগালো এবং বেকেনবাওয়ারের পর খেলোয়াড় ‌ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার হাতছানি যে এখন দেশামের সামনে। সব ধরণের ইতিহাস কিংবা ভবিষ্যদ বাণী পেছনে ফেলবার জন্য মগজের সবটাই যে কাজে লাগাবেন দেশাম সে ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহই থাকার কথা নয়।

হট ‌ওমেন নিষিদ্ধ বিশ্বকাপে

বিশ্বকাপের খেলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এবার আর টিভি পর্দায় খুব একটা দেখা যায়নি উত্তেজক পোশাক পড়া নারীদেরকে। কারণ যৌন উত্তেজনা ছড়ায় এমন কিছু ফিফার ব্রডকাস্টারদের প্রচারে মানা করা হয়েছে অনেক আগে থেকেই। তা খেলা চলাকালে টিভি পর্দায় গ্যালারিতে দেখা যায়নি সেইসব 'হট ওমেন'দেরকে।

এ ব্যাপারে ফিফার ডাইভারসিটি বিষয়ক কর্তা ফেদেররিকো অ্যাডেইচি জানান, ফুটবলের শীর্ষপদ থেকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া ছিল যে বিশ্বকাপ থেকে 'যৌনতা' দূরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক রাখার জন্য আমরা আলাদাভাবে ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে এবং হোস্ট ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি আরও জানান, যেকোনো খারাপ বিষয়ের বিপক্ষে সবসময়ই ফিফার অবস্থান।

জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাতার বিশ্বকাপ

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে এই তারিখ ঘোষণা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। এই তারিখ ঘোষণায় বহুদিনের ঐতিহ্য বাদ দেয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম গ্রীষ্মের পরিবর্তে শীতে আয়োজন করা হবে বিশ্বকাপ ফুটবল।

বেশিরভাগ বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়েছিল জুন-জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধন হবে ২১ নভেম্বর। ফাইনাল খেলা হবে ১৮ ডিসেম্বর। অর্থাৎ ক্রিসমাসের ঠিক এক সপ্তাহ আগে।

তবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগ থাকায় সেই সময় কিভাবে বিশ্বকাপ হবে সেটা‌ও ঠিক পরিষ্কার নয়। ৩২ দল নিয়ে আয়োজিত শেষ বিশ্বকাপই হবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে ৪৮ টি দল অংশ নেবে এই ফুটবলযজ্ঞে।

সেরা গোলকিপার হ‌ওয়ার লড়াই

মমিনুর রিপন

রাশিয়া বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষক হওয়ার লড়াইটাও দারুণ জমে উঠেছে। এবারের আসরে গোল বন্যার মধ্যেও প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ফুটবলভক্তদের মন জয় করেছেন অনেকেই। তবে ‘গোল্ডেন গ্লোভ’ পুরস্কার জয়ে এগিয়ে আছেন ম্যাক্সিকান গুইলার্মো ওচোয়া, বেলজিয়ামের থিবাউ কর্তোইস, ক্রোয়েশিয়ান ড্যানিয়েল সুবাসিচ ও ডেনমার্কের গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল।

এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয়, ক্রোয়েশিয়া-ডেনমার্কের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইটা ছিলো অসাধারণ। ফরোয়ার্ডদের হতাশায় ডুবিয়ে বীরত্ব দেখান দুই দলের গোলরক্ষক। ডেনমার্ক বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, প্রতিপক্ষের ২১ টি প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে গোল্ডেন গ্লোভসের দাবিটা টিকিয়ে রাখেন ক্যাসপার স্মাইকেল। আর দল ফাইনালে ওঠায় সেরা গোলরক্ষক হওয়ার দাবীটা জোরালো করেন ক্রোয়েশিয়ান ড্যানিয়েল সুবাসিচ।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো বাদ পড়লেও, সেরাদের তালিকায় রাখতেই হচ্ছে গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়াকে। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৩ টি শট রুখে দিয়ে ইতোমধ্যেই নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের তারকা খচিত আক্রমণভাগের সামনে রীতিমতো ঢাল হয়ে দাঁড়ানো বেলজিয়ামের থিবাউ কর্তোইস। এখনও পর্যন্ত ২২ টি দুর্দান্ত সেভ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি থাকায় শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক হওয়ার ভাল সুযোগ আছে কর্তোইসের।

পারফরমেন্সের মূল্যায়নে, ফিফার টেকনিক্যাল স্ট্যাডি গ্র“পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয় বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক। ২০০২ সালে অলিভার কান, ২০০৬-এ বুফন, ২০১০ বিশ্বকাপে ক্যাসিয়াস ও ২০১৪-তে ম্যানুয়েল নয়্যারের পর কার হাতে উঠবে ‘গোল্ডেন গ্লোভস’ তা জানতে খুব বেশী অপেক্ষায় থাকতে হবে না ফুটবলভক্তদের।

ফাইনালের সম্ভাব্য লাইনআপ

বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে রবিবার নামবে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া। দিদিয়ের দেশামের দল ফ্রান্স ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে এলে‌ও ক্রোয়েশিয়া ছিল হিসেবের বাইরে। সব ধারণাকে মিথ্যে করে দিয়ে এখন তারাই শিরোপা জয়ে দাবীদার।

ক্রোয়াট দলে বেশ কয়েকজন বিশ্ব মানের খেলোয়াড় রয়েছে। তবে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে পরাজিত হ‌ওয়া ফ্রান্স‌ও ফেভারিট হিসেবে উঠে আসে ফাইনালে।

এই দুই দল ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথম মুখোমুখি হয়। সেবার ডেভর সুকেরের গোলে লিড নিলে‌ও লিলিয়ান থুরামের দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ‌ওঠে ফ্রান্স। আর শিরোপা লড়াইয়ে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। সে যাই হোক, প্রথম তিনবারের মোকাবেলায়ই ফ্রান্স জিতেছিল ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে। পরের দুই লড়াই ড্র হয়। দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ।

ফ্রান্স (সম্ভাব্য) একাদশ: হুগো লরিস, পাভার্ড, ভারানে, উমতিতি, পগবা, কান্তে, এমবাপে, গ্রিজম্যান, মাতাউদি ‌ও জিরুদ।

ক্রোয়েশিয়া (সম্ভাব্য) একাদশ: সুবাসিচ, ভার্সালকো, লভরেন, ভিদা, স্টারিনিক, রাকিটিচ, ব্রজোভিক, রেবিক, মড্রিচ, পেরিসচ ‌ও মাঞ্জুকিচ।

ফাইনালের সম্ভাব্য ফল: ফ্রান্স ২-১ ক্রোয়েশিয়া।

বিশ্বকাপ ট্রফি বহণ করবেন ফিলিপ লাম

ফাইনালের দিন বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মঞ্চে আসবেন জার্মানির সাবেক তারকা ফুটবলার ফিলিপ লাম। সঙ্গে থাকবেন রাশিয়ান সুপার মডেল নাতালিয়া ভোদিয়ানোভা। বিশ্বকাপের আসল ট্রফিটি বয়ে আনার জন্য ট্রাভেল কেসটা তৈরি করেন ফ্রেঞ্চ ডিজাইনার লুইস উইটন। রবিবারের ফাইনালে জয়ী দলের অধিনায়কের হাতে তুলে দেয়া হবে এই আসল ট্রফি।

৩৬ সেন্টিমিটার উচ্চতার ৬.১৭৫ কেজি ‌ওজনের বিশ্বকাপের আসল এই ট্রফিটি ১৮ ক্যারটের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। বিশ্বকাপের ট্রফিটি বহণের জন্য লুইস উইটন টাইটানিয়াম দিয়ে একটি চমৎকার ট্রফি কেস বানিয়ে দেন।

ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার শিরোপা লড়াই

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে রবিবার রাতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ‌ও ক্রোয়েশিয়া। তবে বিশ্বকাপের শুরুতে এমন সম্ভাবনা কেউই দেখেন নি। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে তবু প্রত্যাশা ছিল। অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই ভাবা হচ্ছিলো গ্রিজম্যান-এমবাপে-পগবাদের। সেই তুলনায় ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে ওঠাটা অবাক করা বিষয়। কেউই ভাবতে পারেননি মড্রিচ-রাকিটিচরা যে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবেন। সেই অভাবিত ঘটনা ঘটিয়েই এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবে ক্রোয়েশিয়া।

ফ্রান্সের অবশ্য বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস রয়েছে। আজ থেকে বিশ বছর আগে ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। এবার জিতলে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতবে ফরাসিরা। এদিকে, শিরোপা লড়াইয়ের আগেই রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। তাদের ফুটবল ইতিহাসে এবারের প্রথম ফাইনালে ওঠা। নতুন ইতিহাস লিখেই ফেলেছে তারা। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে তা রূপকথার মতোই লাগবে।

দুই দলেই রয়েছেন একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার। ফ্রান্সে যেমন পল পগবা-এন’গোলো কান্তে-মাতুইদিরা রয়েছেন মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে। ক্রোয়েশিয়ার তেমনই আছেন লুকা মড্রিচ-ইভান রাকিতিচরা। ফ্রান্স সামনে রাখছে জিরুদ, ক্রোয়েশিয়া মাঞ্জুকিচকে। ফ্রান্স অবশ্য গোলের জন্য কোনও একজনের ওপর নির্ভর করছে না। রক্ষণের ফুটবলাররাও গোল করে যাচ্ছেন সমানে। দুই দলের গোলরক্ষকই নির্ভরযোগ্য। ফ্রান্সের লরিস, ক্রোয়েশিয়ার সুবাসিচ।

ফ্রান্স শুরুতে তেমন নজর কাড়েনি। ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরিয়েছে তারা। ক্রমশ ছন্দোবদ্ধ ফুটবল খেলছে তারা। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া গ্রুপের সব ম্যাচ জিতেছিল। কিন্তু, তারপর এগিয়েছে হোঁচট খেতে খেতে। দু’বার ম্যাচ জিতেছে তারা পেনাল্টি শ্যুটআউটে। আর তাদের সেমিফাইনালে জয় এসেছে অতিরিক্ত সময়ে।

পরিসংখ্যান জানায়, এই দুই দলের মোট পাঁচ দেখায় তিনবার জিতেছে ফ্রান্স; দু’বার ক্রোয়েশিয়া। অবশ্য বিশ্বকাপে একবারের দেখায় জয়ী ফ্রান্সই। তবে ক্রোয়েশিয়ার সুযোগ থাকছে এই পরিসংখ্যানে সমতা ফেরানোর। অপেক্ষা শুধু রবিবার রাতের।

উইম্বলডনের ফাইনালে সেরেনা

উইম্বলডন ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সরাসরি সেটে জার্মানির ইউলিয়া গর্গেসকে হারান। জেতেন ৬-২ ও ৬-৪ গেমে। অন্য দিকে, ইয়েলিনা ওস্তাপেঙ্কোকে ৬-৩ ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে সেরেনার প্রতিপক্ষ হন আরেক জার্মান অ্যাঞ্জেলিক কেরবার।

আগামীকাল শনিবার উইম্বলডনের শিরোপা লড়াইয়ে নামবেন তারা। অবশ্য এই ফাইনালকে ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে, ২০১৬ সালের উইম্বলডন ফাইনালের রিপ্লে। সেবার করেবারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সেরেনা।

এবার মা হওয়ার পরে আবারও কেরবারের মুখোমুখি সেরেনা। ক্যারিয়ারে এটি ৩০তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল সেরেনার। এদিন জয়ের ফলে টেনিসের ওপেন যুগে সেরিনা হলেন তৃতীয় খেলোয়াড়, যিনি সবচেয়ে বেশি বয়সে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠলেন। এখন তার বয়স ৩৬ বছর ২৯১ দিন।

গত সেপ্টেম্বরে কন্যা অলিম্পিয়ার জন্ম হওয়ার পরে এটি সেরেনার চতুর্থ টুর্নামেন্ট।

বিশ্বকাপের ফাইনালে আছে জার্মানি ‌ও ইটালি!

ফারদিন আল সাজু

না থেকে‌ও বিশ্বকাপের ফাইনালে আছে জার্মানি ‌ও ইটালি। ইটালি এবারের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেই আটকে যায়। চূড়ান্ত পর্বে উঠতেই পারেনি তারা। আর জার্মানি কবেই তারা বিদায় নিয়েছে, প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে পড়েছে জার্মান পা‌ওয়ার হাউজ। তবে আর ফাইনালে থাকার উপায় কি? আছে।

এই ঘটনা ঘটে আসছে ১৯৮২ সাল থেকে। সেটি হলো, জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ আর ইটালির ইন্টার মিলানের খেলোয়াড় ছাড়া যেনো বিশ্বকাপের ফাইনালই হয়না। এটা যেনো প্রায় আইনে পরিণত হয়েছে। এবার যেমন আছেন ফ্রান্সে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার কোরেন্তিন তোলিসো। আর ক্রোয়েশিয়ায় আছেন ইন্টার মিলানের ইভান পেরিসিচ ‌ও মার্শেলো ব্রজোভিক।

অবশ্য চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে জার্মান দলে সাতজন বায়ার্ন মিউনিখের ফুটবলার ছিলেন। সে যাই হোক, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০০২ ‌ও ২০১৪ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল। সে সময়ে অন্তত: তিনজন বায়ার্নের খেলোয়াড় ছিলেন জার্মান দলে।

দুই দলের খেলোয়াড় তালিকা

১৯৮২ সাল (ইটালি-জার্মানি): ব্রেইনটার, ড্রিমলার, রুমানিগে (বায়ার্ন); বের্ডন, বার্গুমি, ম্যারিনি, ‌ওরিয়ালি, আলতোবেলি (ইন্টার)।

১৯৮৬ সাল (আর্জেন্টিনা-জার্মানি): আজেন্থালার, এডার, হোয়েনেস, ম্যাথুজ (বায়ার্ন); রুমানিগে (ইন্টার)।

১৯৯০ সাল (জার্মানি-আর্জেন্টিনা): আউমান, রেউটার, কোলার, আজেন্থালার, ফাগলার, থন (বায়ার্ন); ব্রেমা, ম্যাথুজ, ক্লিন্সম্যান (ইন্টার)।

১৯৯৪ সাল (ব্রাজিল-ইটালি): জোয়ারহিনহো (বায়ার্ন); বের্তি (ইন্টার)।

১৯৯৮ সাল (ফ্রান্স-ব্রাজিল): লিজারাজু (বায়ার্ন); জুরকায়েফ, রোনাল্ডো (ইন্টার)।

২০০২ সাল (ব্রাজিল-জার্মানি): কান, লিঙ্ক, জার্মেই, জ্যাঙ্কার (বায়ার্ন); রোনাল্ডো (ইন্টার)।

২০০৬ সাল (ইটালি-ফ্রান্স): স্যাগনল (বায়ার্ন); মাতারাজ্জি (ইন্টার)।

২০১০ সাল (স্পেন-নেদারল্যান্ডস): ভ্যান বুমেল, রুবেন (বায়ার্ন); স্নাইডর (ইন্টার)।

২০১৪ সাল (জার্মানি-আর্জেন্টিনা): ন্যুয়ার, লাম, বোয়েটাং, শোয়ানস্টেইগার, মুলার, ক্রস, গোত্জে (বায়ার্ন); ক্যাম্পাগনারো, আলভারেজ, প্যালাসি‌ও (ইন্টার)।

২০১৮ সাল (ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া): তোলিসো (বায়ার্ন); পেরিসিচ, ব্রজোভিক (ইন্টার)।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নারীরা

নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনে বৃহস্পতিবার টস হেরে ব্যাট করে দারুণ সূচনা করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান। জুটিতে ৫১ রান তোলার পর, ১৬ বলে ২২ রান করে শামিমা রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

এরপরই ঘটে ছন্দপতন। বিদায় নেন ২০ রান করা আয়েশা। ফারজানা হক ও রুমানা আহমেদ ফেরেন অল্পতেই। ৬২ রান তুলতেই হারায় তারা ৪ উইকেট।

গতি হারানো ইনিংসটাকে সেখান থেকে টেনে নিয়ে যান, নিগার সুলতানা। ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয় ১২৫ রান।

জবাবে স্কটল্যান্ডের শুরুটাও ছিল সাবধানী। ১০ ওভারে ৪০ রান তুললওে হারায় তারা মাত্র ১ উইকেট।

দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়েন দুই বোন সারা ও ক্যাথরিন ব্রাইস। দ্রুত রান তোলার তাড়ায় এরপর উইকেট পড়ে নিয়মিত বিরতিতে। ১৪ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে স্কটিশরা।

লেগ স্পিনার রুমানা আহমেদ ১০ রানে তুলে নেন ২ উইকেট। ১৬ রানে ২ উইকেট তুলে নেন নাহিদা আক্তার। শেষ র্পযন্ত ৭৬ রানে থামে ৭ উইকেট হারানো স্কটিশদের ইনিংস।

এদিকে, সেমিফাইনাল জিতে আগেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে আয়ারল্যান্ড। শনিবার ফাইনালে আইরিশদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

দেশের মাটিতে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলেছিল স্বাগতিক হিসেবে। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছিল বাছাইপর্বের বাধা টপকে। সেই ধারাবাহিকতা মেয়েরা অব্যাহত রাখলো আবারও।

রাশিয়া বিশ্বকাপ: শেষ বাঁশির অপেক্ষা

ফারদিন আল সাজু

রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায়। ইত্যেমধ্যেই ৬৪ ম্যাচে মধ্যে ৬২ টিই শেষ হয়েছে। বাকী মাত্র দু'টি ম্যাচ। ১৪ জুলাই তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমখি হবে বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ড। অার ১৫ জুলাই ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া।

চরম নাটকীয়তায় ভরা রাশিয়া বিশ্বকাপে চারবারে চ্যাম্পিয়ন ইটালী খেলার সুযোগই পায়নি। অপয়া ভেন্যু কাজানের শেষ তিন ম্যাচে জায়ান্ট জার্মানি, আর্জেন্টিনা ‌ও ব্রাজিলের বিদায়। স্পেন-পর্তুগালও বেশী দূর যেতে পারানি। এ যেনো একরাশ হতশা আর বেদনায় মোড়ানো। মেসি, রোনালদো, নেইমাররা বিশ্বের সেরা সেরা ফুটবলার হলেও এবারে বিশ্বকাপে নামের সুবিচার করতে পারেনি, দলের প্রয়োজনে সুযোগ্য সারথি‌ও হ‌ওয়া হয়নি তাদের।

এমন এক ঘটন-অঘটনের বিশ্বকাপে এবার বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার বুঝিয়ে দিয়েছে নামে নয়, গুনে পরিচয়। ভালো খেললে বড় বড় দলগুলোকে‌ও টপকে যা‌ওয়া যায়।

সর্বোচ্চ গোলদাতা

রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা আছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি ৫ ম্যাচে গোল করেছেন ৬ টি। যার মধ্যে আছে একটি হ্যাটট্রিক‌ও। অপরদিকে তার থেকে দুই গোল পিছিয়ে আছেন বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু ও পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাদের গোলের সংখ্যা ৪ টি করে। তবে দল হিসাবে সর্বোচ্চ প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়েছে বেলজিয়াম। তাদের গোল সংখ্যা ছিলো ১৪টি।

পেনাল্টি গোল

এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড সর্বোচ্চ তিনটি পেনাল্টি গোল করেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ‌ও সুইডেন পেনাল্টি থেকে গোল করেছে দু'টি।

হলুদ কার্ড

এবারে আসরে মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা ছিলো ১৯৬ টি। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ টি পেয়েছে ক্রোয়েশিয়ান খেলায়াড়রা। অপরদিকে আর্জেন্টিনা ও পানামা দলের খেলোয়াড়রা পেয়েছে মোট ১১টি করে হলুদ কার্ড।

লাল কার্ড

এবারে আসরে লাল কার্ড পেয়েছে মোট চার জন। জার্মানির (জেরোম বোয়েটেং), কলম্বিয়ার (কার্লোস সানচেজ), রাশিয়ার (ইগর স্মোলনিকভ) ‌ও সুইজারল্যান্ডের (মাইকেল ল্যাং)।

গোল সেভ

এবারে বিশ্বকাপে মোট গোল সেভ হয়েছে ৩২০ টি। তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে মেক্সিকোর গোলরক্ষক মাইকেল ‌ওচোয়া। তিনি মোট গোল থামিয়েছেন ২৫টি। এর পরেই আছেন বেলজিয়ামের গোলরাক্ষক থিবাউ কোয়ার্তেইস। তিনি গোল থামিয়েছেন ২২টি।

ফাউল

এবারে আসরে মোট ফাউল হয়েছে ৭১৯ টি।সবেচেয় বেশি ফাউল করেছন ক্রোয়েশিয়ার অ্যান রেবিচ। তার ফাউলের সংখ্যা ছিলো ১৯টি।

সবচেয় বেশি সময় মাঠে

বল পায়ে সবচেয় বেশি সময় মাঠে ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় লুকা মাড্রিচ। তিনি বল পায়ে মাঠে থেকেছেন ৬০৪ মিনিট। এরপরেই ৬০০ মিনিট মাঠে ছিলো ইল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড।

রেকর্ডের সামনে দিদিয়ের দেশাম

বেলজিয়ামকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশাম এক রেকর্ডের অংশীদার হয়ে যান। চতুর্থ খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েন এই ফরাসি কোচ। তবে ফাইনাল ম্যাচটি জিতলে আরেকটি বিরল রেকর্ড হয়ে যাবে তার। তা হলো, তৃতীয় অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব।

১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ছিলেন দিদিয়ের দেশাম। সেবার ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফরাসিরা। এবার ফ্রান্স একমাত্র গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠায়, চতুর্থ খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার বিরল রেকর্ড গড়েন দিদিয়ের দেশাম। তার আগে, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও রুডি ফলার এবং ব্রাজিলের মারিও জাগালো খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠেন।

খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দুইবার ফাইনাল খেলে শিরোপা জয়ের প্রথম স্বাদ নেন, ব্রাজিলের মারিও জাগালো। ১৯৫৮ সালে খেলোয়াড় এবং ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি। এরপর ১৯৭৪ আসরে খেলোয়াড় ও ১৯৯০ সালে কোচ হিসেবে বেকেনবাওয়ার বিশ্বকাপের ফাইনালে ছিলেন। এবং দুইবারই চ্যাম্পিয়ন হয় তার দল।

অবশ্য বেকেনবাওয়ারের মতো ভাগ্য সঙ্গী হয়নি রুডি ফোলারের। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯০ সালে শিরোপা জিতলেও কোচ হিসেবে ২০০২ সালে জার্মানিকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি তিনি। ব্রাজিলের কাছে হেরে রানার আপ হয় ফোলারের জার্মানি।

ফ্রান্সকে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেই- মারিও জাগালো, বেকেনবাওয়ার এবং রুডি ফোলারের রেকর্ডে ভাগ বসানো হয়ে যায়, দিদিয়ের দেশামের। এবার জাগালো কিংবা বেকেনবাওয়ারের মতো শিরোপা জয়ের পালা তার। ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়েছিলেন দেশাম। রবিবারের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে পারলেই জাগালো আর বেকেনবাওয়ারের মতো রেকর্ড বইয়ে ঠাঁই হবে দিদিয়ের দেশামের। হবে কি হবে না, সময়ই করবে সেই ফয়সালা।

সোমবার থেকেই জুভেন্টাসে রোনালদো

অবিশ্বস্য হলে‌ও রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসেই যোগ দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গত ৯ বছরে রিয়ালের সঙ্গে যে আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি হয়ছিল সেটা ভেঙ্গে গেছে। কোচের পদ থেকে জিনেদিন জিদানের সরে যাওয়ার ঠিক ৪০ দিন পরই ক্লাব হারাল পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদোকে।

এর মধ্যেই আরও একটা খবর পৌঁছেছে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের কাছে। প্রি–সিজন টুর্নামেন্ট ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে খেলবে রিয়েল মাদ্রিদ, আগামী ৫ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ফেডেক্স ফিল্ডে, এবং জুভেন্টাসের বিপক্ষ। ঐ ম্যাচে রোনালদো খেলবেন কিনা, তা নিশ্চিত নয়। এখন গ্রিসে ছুটি কাটাচ্ছেন রোনালদো। তার আগে আগামী ১৬ জুলাই, সোমবার রোনালদো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবেন জুভেন্টাসে। ঐদিনই তাঁর মেডিক্যাল টেস্ট হওয়ার কথা। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনালের পরেরদিনই বিশ্ব ফুটবল সাক্ষী থাকবে এক মহাতারকার দলবদল অনুষ্ঠানের। ‌

বাংলাদেশের নারীদের আজ ফাইনালে ‌ওঠার লড়াই

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাত আটটায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

নেদারল্যান্ডসে, এই ম্যাচ জিতলেই ২০১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বাকপের চূড়ান্ত পর্বে উঠে যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা। টানা তিন দাপুটে জয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়েই মাঠে নামবে সালমা খাতুনের দল। সেই সাথে নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রত্যয়ী এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা। তবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হলেও স্কটল্যান্ডকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবেই মানছেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের অসাধারণ এক গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। খেলার ১০৯ মিনিটে অসাধারণ গোলটি করেন মারিও মানজুকিচ। তাই তো চলতি বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ ম্যাচে প্রথমে এক গোল হজম করেও, পরে গোল দিয়ে ম্যাচে ফেরার নজির স্থাপন করল তারা। চলতি বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করেও, ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়লো ক্রোয়েশিয়া। আর তাতেই ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় ক্রোয়াটরা। এতে বিশ্বকাপ জয়ে ইংলিশদের প্রতীক্ষাটা আরো বাড়লো।

ইংল্যান্ডের বক্সের মধ্য থেকেই বলটা প্রথমে ফিরে আসে। লাফ দিয়ে আলতো করে হেডে আবারও ইংল্যান্ডের জালের সামনে বলটা ঠেলে দেন ইভান পেরিসিচ। জন স্টোন্সকে পেছনে ফেলে বলটির নিয়ন্ত্রণ নেন মারিও মানজুকিচ। গোলরক্ষক পিকফোর্ডও বলের কাছে আর পৌঁছাতে পারলেন না। তার আগেই মানজুকিচ বাম পায়ের অসাধারণ এক গোল।

অবশ্য তার আগে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, ৫২ বছর পর আবার‌ও বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে এসে ম্যাচের কেইরান ট্রিপারের গোলে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। খেলার ৫ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ান অধিনায়ক লুকা মড্রিচ ডি বক্সের বাইরে ডালে আলিকে ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড। সরাসরি শটে গোল করে নিজ দলকে এগিয়ে দেন ট্রিপার। ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল পায় ইংল্যান্ড। এছাড়া চলতি বিশ্বকাপে সেট পিসে করা তাদের নবম গোল এটি।

অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার সুখস্মৃতিকে আরো বাড়িয়ে নেয়ার লক্ষ্যে খেলতে নামা ক্রোয়েশিয়া, পিছিয়ে পড়ে হয়ে পড়ে ছন্নছাড়া। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলা ক্রোয়েশিয়াকে তখন‌ও খুঁজে পাওয়া যায় নি। খেলার ধারার বিপরীতে ৬৮ মিনিটে পেরেসিচের লম্বা পায়ের ছোঁয়া থেকে বাচতে পারেনি ‘৬৬র বিশ্বকাপ জয়ীরা। ডি বক্সের বেশ বাইরে থেকে সিমে ভ্রাসালকোর ক্রসে ইংলিশ ডিফেন্ডার ওয়াকারের মাথার উপর পা তুলে দিয়ে বল জালে জড়ান পেরেসিচ। ম্যাচে ফেরে ১-১ গোলের সমতা। গোল দিয়ে যেন নিজেদের ফিরে পায় ক্রোয়েশিয়া। তবে নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরুর পর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে ইংলান্ড। ৯৯ মিনিটে প্রায় গোল দিয়েই বসেছিল তারা। কিন্তু নিশ্চিত এক গোল থেকে দলকে বাচান সিমো ভ্রাসালকো। কেইরান ট্রিপারের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ হেড নিয়েছিলেন জন স্টোনস। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়েছিল বলটি। জালে প্রবেশের মুহূর্তে দাঁড়িয়েছিলেন ভ্রাসালকো। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় হেড করে সেই বলটি ঠেকিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল থেকে তিনি বাঁচিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়াকে। সে সঙ্গে বেঁচে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন‌ও।

ঘটন-অঘটনের বিশ্বকাপ

ফারদিন আল সাজু

অঘটনের মধ্য দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’, রাশিয়া বিশ্বকাপের আসর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছে পূর্ব ইউরোপ। প্রথম আসরেই গোটা ফুটবল দুনিয়াকে অবাক করে দিয়েছে রাশিয়া। ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে জার্মানি, তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৮০ বছর পর প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়ার ঘটনা এটা।

শেষ ষোলোতেও একের পর এক অঘটনের জন্ম দিয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। স্পেনের পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। নাটকীয়তা ছিলো শেষ আটও। ফ্রান্স-বেলজিয়ামের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ডুবেছে উরুগুয়ে ও ব্রাজিল। শুধু তাই নয়, ল্যাটিন আমেরিকার সব দল বিদায় নেয়ায় বিশ্বকাপ পরিণত হয় এক অন্যরকম ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে।

এরই মধ্যে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হার মানে বেলজিয়াম। তাতেই ফাইনাল নিশ্চিত হয় ফরাসীদের। ফুটবল বিশেষঞ্জদের মতে, ১৯৯৮ সালের পর আবারোও একটি সোনালী প্রজম্ম পেয়েছে ফ্রান্স। এবার তারা খেলছে বীর দাপটে। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলা বেলজিয়ামের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেন স্যামুয়েল উমতিতি। এতেই ডাক হর্সদের স্বপ্নযাত্রা থমকে যায়। আর এতে তৃতীয়বারে মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ‘লা ব্লু’রা।

আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, স্পেন ‌ও উরুগুয়ের পর রাশিয়া বিশ্বকাপে অঘটনের শিকার হয় ব্রাজিলও। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর, টানা তিন ম্যাচ জিতলে‌ও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই ঘরে ফিরতে হয় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। বিশ্বকাপের অপয়া ভেন্যু কাজানে, বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ আট থেকেই বিদায় নিয় তিতের দল। সেই সঙ্গে টানা চতুর্থবারের মতো ইউরোপের কোন দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রা থামলো সেলেসাওদের। ২০০২ সালে সবশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। সেবার জার্মানিকে কাঁদিয়ে স্বপ্নের শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় সেলেসাওরা। এরপর থেকেই যেন ব্রাজিলের দুঃখ হয়ে দাঁড়ায় ইউরোপের দলগুলো। ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস, এবং ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে লজ্জাজনকভাবে হেরে থেমে যায় ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবলের বিশ্বকাপ অভিযাত্রা।

এছাড়া অঘটনের জন্ম দেওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপ ৮৮ বছরের রেকর্ডটিও ভেঙ্গে দিয়েছে। এবারই প্রথম সেমিফাইনালে খেলা হয়নি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা জার্মানির। অঘটনের জন্ম দেওয়া এবারের বিশ্বকাপে হয়তো রয়েছে আর‌ও নতুন কোনো চমক। তার উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত।

বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স

বেলজিয়ামের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখলো ১৯৯৮’র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। স্যামুয়েল উমতিতির দেয়া একমাত্র গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিদিয়ের দেশমের দল। যদিও বল পজেশনে এগিয়ে ছিলো রেড ডেভিলসরা তবে ফ্রান্স দুর্গ ভেদ করতে পারেননি হ্যাজার্ড-লুকাকুরা। এতে প্রথম ফাইনালিস্ট‌ও পেয়ে গেল রাশিয়া বিশ্বকাপ। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ‘লা ব্লু’রা। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে সবশেষ ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল ফরাসিরা।

বড় মঞ্চে একটা সুযোগকে কাজে লাগিয়েই উল্টে দেয়া যায় সব হিসেব-নিকেষ। এতো এতো স্ট্রাইকারের ভীড়ে সেই কাজটিই করলেন বার্সেলোনার ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি। ম্যাচের বয়স তখন ৫১ মিনিট। চলতি বিশ্বকাপে ১৫৮ টি গোলের ৬৯ টি হলো সেটপিস থেকে। আর শুধুমাত্র হেডের মাধ্যমে করা চলতি বিশ্বকাপে ৩২ তম গোলটি করেন ম্যাচ সেরা উমতিতি।

তবে এই গোল দিয়ে বিচার করা যাবেনা সেন্ট পিটার্সবার্গে দুই দলের ফাইনালে উঠার মহাযুদ্ধের চিত্র। প্রথম ৩০ মিনিটই ফ্রান্সের রক্ষণ কাঁপিয়েছে ‘রেড ডেভিল’রা। আরো নির্দিষ্ট করে বললে বা প্রান্ত থেকে এডেন হ্যাজার্ড।

২২ মিনিটে আল্ডারওয়ার্ল্ডের নেয়া পরীক্ষাতেও উতরে যান ফ্রান্স গোলরক্ষক হুগো লরিস। প্রথমার্ধে এরপরের সময়টা আবার আক্রমনে এগিয়ে ফ্রান্স। দুবার অলিভার জিরুদ পোস্টে বল পাঠাতে ব্যর্থ হন। পাভার্ডের দুরপাল্লার শট কর্তোয়া রুখে না দিলে তখনই এগিয়ে যেতে পারতো দিদিয়ের দেশামের দল।

মাঠের বাইরে থেকে দুই কোচও কৌশলের খেলায় জিততে চেয়েছেন। ফ্রান্সকে আক্রমনে উঠিয়ে এনে রক্ষণ খালি করার রবার্তো মার্টিনেজের ফাঁদে পা বাড়াননি দিদিয়ের দেশম। তার পাল্টা আক্রমনের কৌশলেই বরং বারে বারে খেই হারায় বেলজিয়ামের ‘সোনালী প্রজন্মের তারকারা।

পুরো ম্যাচে ডি ব্রুইনদের পায়ে বল ছিলো ৬০ শতাংশ। তবে পোস্টে ফ্রান্স যেখানে শট নিয়েছে পাঁচটি। লুকাকু-হ্যাজার্ডরা তা পেরেছেন তিনবার। আর সেই শটে গোল আসেনি লরিসের বিশ্বস্ত হাত দুর্ভেদ্য হওয়ায়।

আর তাতে থেমে যায় বেলজিয়ামের স্বর্নালী ফুটবলারদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। অন্যদিকে, তৃতীয় ব্যাক্তি হিসেবে ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চ পেয়ে যান দিদিয়ের দেশম। ১৫ জুলাই ফাইনালের সেই মঞ্চেই নির্ধারন হবে বিশ্ব ফুটবলের রাজার আসন।

সেমিতে বাংলাদেশের মেয়েরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট বাছাই পর্বে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ।

নেদারল্যান্ডসে, এশিয়ার চ্যাম্পিয়নদের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররাই। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ফাহিমা খাতুনের হ্যাটট্রিকে মাত্র ৩৯ রানেই গুটিয়ে যায় আরব আমিরাতের। মাত্র ৮ রানেই ৪ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার। আরব আমিরাতের পক্ষে ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন এশা রোহিত ‌ওঝা। আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌছাতে পারেন নি। দুটি করে উইকেট নেন নাহিদা আক্তার ‌ও রুমানা আহমেদ।

সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিগার সুলতানার ২১-এ ভর করে ৪১ বল খেলেই জয় পায় বাংলাদেশ। ৭৯ বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটে ৪০ রান করে এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা। সানজিদা ইসলাম করেন ৯ বলে ১৫ রান।

ফ্রান্সের সমর্থনে রাশিয়ায় পামেলা এন্ডারসন

কানাডিয়ান-আমেরিকান মডেল ‌ও অভিনেত্রী পামেলা এন্ডারসন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে সমর্থন করার জন্য এখন রাশিয়ায় আছেন। আজ রাত ১২টায় সেন্ট পিটার্সবার্গে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ১৯৯৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আর পামেলা এন্ডারসন সেই দলকে সমর্থন দিতেই এসেছেন রাশিয়ায়। পামেলা তার অফিসিয়াল ইনস্ট্রাগ্রাম একাউন্টে লিখেছেন, ‘শুভ সকাল সেন্ট পিটার্সবার্গ। ফ্রান্সকে সমর্থন করতে আমি এখানে এসেছি। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমার ভালোবাসা এখানে নিয়ে এসেছে। এখানে এসে আমি রীতিমতো ছোট্ট বালিকা হয়ে গেছি।’

বিখ্যাত ড্রামা সিরিয়াল বে‌ওয়াচের ৫১ বছর বয়সী এই তারকা অভিনেত্রী গত ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্স জাতীয় দলের ডিফেন্ডার আদিল রামি’র সঙ্গে ডেট করছেন। অবশ্য এই সেমিফাইনালটি দেখতে মাঠে উপস্থিত থাকবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিদিয়ের রেইন্ডার্স, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ ‌ও রানী ম্যাথিলডি।

হেরে‌ও জিতেছে আর্জেন্টিনা

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের দ্বিতীয় পর্ব থেকে বিদায় নিলে‌ও শেষ হয়ে যায়নি আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ। না থেকে‌ও আছে আর্জেন্টিনা। তাদের রেফারি নেস্টর পিটানা চলতি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা পরিচালনা করবেন। আগামী রবিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি। এভাবেই রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ দিন পর্যন্ত থাকছে আর্জেন্টিনা।

এরআগে, এই লুঝনিকিতেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে স্বাগতিক রাশিয়া ‌ও সৌদি আরবের মধ্যকার খেলাটি পরিচালনা করেন পিটানা। তার আগে, আর্জেন্টিনার আরেক রেফারি হোরাসি‌ও এলিজোনডো ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। ফ্রান্সের তারকা খেলোয়াড় জিনেদিন জিদানের ‘হেড বাটের’ জন্য সেই ফাইনালটি বিখ্যাত হয়ে আছে (ইটালির মাতারাজ্জিকে মাথা আঘাত করার জন্য)।

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারলে‌ও নেস্টর পিটানার রেফারিং বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাতে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা পিরচালনার দায়িত্ব পান তিনি। তাই বলা যায়, আর্জেন্টিনাকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ হচ্ছে না এবার। টুর্নামেন্ট থেকে হেরে গেলে‌ও ফাইনালে ঠিকই আছে আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনাতেই সাম্পা‌ওলি

আর্জেন্টিনার সাথেই থাকছেন জর্জ সাম্পাওলি, কিন্তু তার ভবিষ্যত নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে আজেন্টাইন ফুটবল এসোসিয়েশন (এএফএ)। বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে বিদায়ের পর বুয়েন্স আইরিসের ইজেইজাতে এএফএ’র সভাপতি ক্লডিও টাপিয়া ও সহ-সভাপতি ড্যানিয়েল আনজেলকি সাম্পাওলির সাথে সাক্ষাত করেন। সেখানেই নিশ্চিত করা হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পরও সাম্পাওলিকেই কোচ হিসেবে বহাল রাখা হবে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে নক আউট পর্বে পরাজয়ের পরে চিলি ও সেভিয়ার সাবেক বস সাম্পাওলি আর্জেন্টানদের কোচের পদ থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছেন, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু কটিফ এল’আলকুডিয়া টুর্নামেন্টে অনুর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব পাবার পরে সাম্পাওলিকে নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। এই টুর্ণামেন্টে সাম্পাওলির সহকারী সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও অন্য একটি দলের দায়িত্ব গ্রহণের কারনে তিনি অনুর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সড়ে দাঁড়ান। আগামী ২৮ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

যদিও এক বিবৃবিতে এএফএ জানিয়েছে জুলাইয়ের শেষে অনুষ্ঠিতব্য আগামী কার্যনির্বাহী সভায় সাম্পাওলির ভবিষ্যত পর্যালোচনা করা হবে।

শেষ হাসি কার ইংল্যান্ড নাকি ক্রোয়েশিয়ার

ফারদিন আল সাজু

বিশ্বকাপ শুরুর আগে টপ ফেভারিটদের তালিকায় থাকা দলগুলো বাদ পড়েছে একের পর এক। স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে। বিশ্ব ফুটবল আসর শুরুর আগে যে চার তারকাদের নিয়ে আলোচনা ছিলো- মেসি-নেইমার-রোনালদো-সালাহ্ রা এখন শুধুই দর্শক। তাতে কিন্তু বিশ্বকাপের উম্মাদনা মোটেই কমেনি। এবারে আসরের প্রতিটি ম্যাচই জমজমট। কারন এই আসরে প্রত্যেকটি দলই একে অন্যকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। তাইতো দর্শকরা অধীর আগ্রহ নিয়ে মস্কোর লুজানিকি স্টেডিয়াম অপেক্ষা করছে সেই রকম এক উত্তেজানপর্ন্য ম্যাচ দেখার জন্য। যেখানে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আগামীকাল বুধবার রাত ১২টায় মুখোমুুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া।

 

সাম্প্রতিক পারফ্যামেন্স ১৯৯৮ সালে স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই দুনিয়াকে চমকে দিয়েছেলো ক্রোয়েশিয়া। আবির্ভাবেই সেমিফাইনালে উঠে সবাইকে হতবাক করে দেয় তারা। জার্মানির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিলো। তবে সেই ভুল আর করেনি ক্রোয়াটরা। স্বাগতিক রাশিয়াকে পেনান্টি শুট আউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারে মতো সেমিফাইনালে উঠে ক্রোয়েশিয়া। তাদের প্রতিপক্ষ ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। জলাতকো দালিচের এই দল ইতোমধ্যে প্রমান করেছে, এবারে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল তারা। দারুন মিডফিল্ড, আক্রামণভাগ ও জমাট ডিফেন্স নিয়ে এই দলটি যে বড় বড় নামে ভয় পায়না, তার প্রমান রেখেছে তারা। প্রথম পর্বে আর্জেন্টিনাকে দিয়েছে সাপের ছোঁবোল। তবে দ্বিতীয় পর্বে তারা আবার ডেনমার্ককে গুটিয়ে দেয়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক দেশ রাশিয়ার। সেই উত্তেজনাপূর্ন্য ম্যাচে স্বাগতিকদের মাঠে স্বাগতিকদের হারিয়ে সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়ানরা।

তবে কোয়র্টার-ফাইনালে রাশিয়া বিপক্ষে জয়ের জন্য তাদের পেনান্টি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্রোয়েশিয়া দলটির খেলোয়াড়রা মনে করছেন, তারা প্রমান করেছন, তারা আরো বড় কিছুর যোগ্য। সেই বড় কিছুর পথেই তারা ছুটতে চান বলেছিলেন ডিফেন্ডার দোমাগোজ ভিদা। তিনি বলেন 'আমরা এই বিশ্বকাপে বড় কিছু আশা দেখছি, আমাদের আরও বড় কিছু স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। আমরা আসলেই ভালো খেলছি। আমাদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যাদের কল্যাণে আমরা অবশ্যই শেষ পর্যন্ত যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি।'

এ তো গেলো ক্রোয়েশিয়নদের কথা আসি ইংল্যান্ড প্রসঙ্গে, এবার আসরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল গড়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে তারা টিকে আছে তারা বীর-দাপটে। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তারা যেভাবে খেলে এসেছে তাতেই অনেকের ধারণা এবারে আসরে সোনালী ট্রাফিটি তাদেরই প্রাপ্য। গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছিলো তারা। প্রথম রাউন্ডে ৬ পয়েন্ট নিযে ‘জি' গ্রুপের রানার্সআপ হিসাবে নকআউট পর্বে পা রাখে ইংল্যান্ড। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত আর অতিরিক্ত সময়ে খেলা ১-১ গোলে অমিমাংসিত থাকায় টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পায় ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপীয় জায়েন্ট সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমি ফাইনালের টিকেট পায় ইংল্যান্ড।

মূল তারকা:

মধ্য মাঠে বর্তমান সময়ের সেরা তারকা লুকা মড্রিচ ক্রোয়েশিয়ার প্রাণ ভোমরা। তবে ইভান রকিটিচও কম যান না। দারুন ছন্দে আছে তিনি। এছাড়া মারিও মানজুকিচও ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। গোলরক্ষক সুবাসিচও শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনটি পেনান্টি ফিরিয়ে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলের প্রাণের ভোমরা হ্যারিকেন। এখন পর্যন্ত ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। করেছেন হ্যাটট্রিক। এছাড়াও ইংল্যান্ড দলের মূল শক্তি তাদের টিম কম্বিনেশন।

হেড টু হেড:

এর আগে ৭ বার মুখোমুখি হয়েছিলো এই দুই দল। ইংল্যান্ড জিতেছিলো ৪ টিতে ড্র হয়েছিলো ১টি ম্যাচে এবং ক্রোয়েশিয়া জয় পেয়েছিলো ২ টিতে। ইংল্যান্ডের বড় জয়: ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিলো। অন্যাদিকে ক্রোয়েশিয়ার বড় সাফল্য: ২০০৭ সালে ৩-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলো।

ইতিহাস বিবেচনায় এগিয়ে থাকবে ইংল্যান্ড, কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্ম অনুযায়ী ক্রোয়েশিয়াও ছেড়ে কথা বলবেনা। প্রতিটি ম্যাচেই একের পর এক চমক দেখিয়েই যচ্ছে তারা।

নেপাল যাচ্ছে তায়কোয়ানদো দল

ষষ্ঠ সাউথ এশিয়ান তায়কোয়নদো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগামী বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। তিন দিনের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে স্বাগতিক নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এ উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ তায়কোয়নদো দল সিনিয়র ওজন শ্রেণিতে অংশ নেবে। নেপালগামী ৭ সদস্যের বাংলাদেশ দলে ৫ জন খেলোয়াড়, ১ কোচ কোচ ও ১ জন ম্যানেজার আছেন।

বাংলাদেশ তায়কোয়ানদো দলকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ওয়ালটন গ্রুপ। সাউথ এশিয়ান তায়কোয়নদো প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশ দল ছয়টি স্বর্ণ পদক পেয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) ও আন্তর্জাতিক তায়কোয়নদো অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান শিকদার।

এনরিকে এখন স্পেনের কোচ

বার্সেলোনার প্রাক্তন কোচ লুইস এনরিকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে স্পেন জাতীয় দলের দায়িত্ব। এনরিকেকে ২ বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে স্পেন ফুটবল ফেডারেশন। অর্থাৎ ২০১৮–র ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের ভালো ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে এনরিকের ভবিষ্যৎ।

বিশ্বকাপ শুরুর তিনদিন আগেই রিয়েল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলায় জুলেন লোপেতেগুইকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল স্পেন ফুটবল ফেডারেশন। তারপর স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফার্নান্দো হিয়েরোকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই অল্প সময়ের মধ্যে হিয়েরো দলটাকে গুছিয়ে তুলতে পারেননি। স্পেন দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়।

একদিন আগেই কোচের পদ থেকে সরে যান হিয়েরো। পুরনো পদেও ফিরতে চাননি। তারপরই এনরিকেকে দায়িত্ব দেয় স্পেন ফুটবল সংস্থা। স্পোর্টিং ডিরেক্টর করা হয়েছে জোস ফ্রান্সিসকো মোলিনাকে।

প্রতিপক্ষ শিবিরে আক্রমণই চান দুই কোচ

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আজ মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্স ‌ও বেলজিয়াম ম্যাচে যে দলের কোচই জয় পান না কেনো, তিনি ইতিহাসে চলে যেতে পারেন। অথবা ইতিহাসের সামনে এসে দাঁড়াতে পারেন তিনি। বেলজিয়াম জিতলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে উঠবেন রোমেলু লোকাকুরা। আর ফ্রান্স জিতলে দিদিয়ের দেশামের সামনে খুলে যাবে ইতিহাস ছোঁয়ার সুবর্ণ সুযোগ। ফাইনালে দলকে জেতাতে পারলে ফ্রাঞ্জ বেকেনবা‌ওয়ার এবং মারিয়ো জাগালোর সঙ্গে একই সিংহাসনে বসতে পারবেন তিনি। ফুটবলার ও কোচ হিসেবে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য।

ইউরোপীয় ফুটবলের শক্তিধর দুই দেশের ম্যাচ। উত্তেজনায় ফুটছে ফুটবল-বিশ্ব। ফ্রান্সের কোচ দেশাম আর বেলজিয়ামের মার্টিনেস— দু’জনেই আক্রমনাত্মক ফুটবল পছন্দ করেন। একে অন্যের কৌশল সম্পর্কে‌ও যথেষ্ট ধারণা রাখেন। ‘আমি মার্টিনেসকে চিনি। ও আমার সঙ্গে ট্যাকটিক্যাল গেম খেলতে চাইবে। সেই সুযোগ আমরা দেবো না। ব্রাজিল যে ভুলটা করেছে, আমার ছেলেরা তা করবে না। আমরা সব রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি’, এমনটাই জানান ফ্রান্সের িবশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক দেশাম।

তবে এই সেমিফাইনালেই দেখা যাবে স্যামুয়েল উমতিতি বনাম লুকাকুর শক্তির লড়াই। বিশাল শরীরের লুকাকুকে রুখতে উমতিতিই আসল ওষুধ ফ্রান্সের। বার্সেলোনা স্টপারের অবশ্য সামান্য চোট আছে। তবে খেলবেন। এমবাপের সঙ্গে এডেন হ্যাজার্ডের গতির যুদ্ধও তো দেখবে ফুটবল দুনিয়া।

আঁতোয়া গ্রিজম্যান এবং কেভিন দ্য ব্রুইনকে নিয়ে দু’ই দেশের কোচের ফলস নাইন খেলানোর ভাবনা আদৌ সফল হয় কি না, সেটাও দেখার অপেক্ষায় থাকবেন সবাই। দু’দলের দুই গোলকিপার হুগো লরিস এবং থিবো কুর্তোয়া রয়েছেন দুরন্ত ফর্মে। তাঁদের মধ্যে কে অতিমানব হয়ে উঠবেন, কে আছড়ে পড়বেন, তা দেখতে চায় তো সবাই।

দুই কোচের ভাবনাতেই স্পষ্ট, আক্রমনই হাতিয়ার করতে চাইছেন তাঁরা। কিন্তু দু’দলের রক্ষণ কি সেই ঝড় সামলাতে পারবে? কারণ দু’দলের আক্রমণই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী। ফ্রান্সে এমবাপের সঙ্গে পগবা, জিরুদরা যেমন আছেন, তেমনই লুকাকুর সঙ্গী হয়ে হ্যাজার্ড, ডি ব্রুইনরা আক্রমণে ঝড় তোলার জন্য নিজেদের অস্ত্রে শান দিচ্ছেন।

নেদারল্যান্ডসকে হারাল বাংলাদেশের নারীরা

নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে তারা ৭ উইকেটে।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের বোলিং তান্ডবে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয় নেদারল্যান্ডস। তাদের ছয় ব্যাটসম্যান শুন্য রানেই সাজঘরে ফেরেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন স্টেরি ক্যালিস। আর ডেনিসে হানেমা করেন ১৪ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন রুমানা আহমেদ আর ফাহিমা খাতুন। পান্না ঘোষ ২টি এবং সালমা খাতুন আর নাহিদা আক্তার নেন ১টি করে উইকেট।

জবাবে, জয় তুলে নিতে কোনো কষ্টই করতে হয়নি বাংলাদেশের মেয়েদের। ৩২ রানে ৩টি উইকেট হারালেও শামিমা সুলতানার ১৪ আর ফারজানা হকের অপরাজিত ১১ রানে ভর করে ৭৩ বল হাতে রেখেই জয় পায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

বিশ্বকাপে অল-ইউরোপিয়ান সেমিফাইনাল

বিশ্বকাপের ২১ আসরে মাত্র পঞ্চমবারের মতো হতে যাচ্ছে অল-ইউরোপিয়ান সেমিফাইনাল। নান্দনিক ল্যাটিন ফুটবলকে বিদায় করে দিয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের ‘পাওয়ার হাউজগুলো’। আগামী ১০ জুলাই রাত ১২টায় প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়বে বেলজিয়াম। ১১ জুলাই একই সময় দ্বিতীয় সেমিতে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।

রাশিয়া বিশ্বকাপে পাওয়ার ফুটবলের জয়-জয়কার। ল্যাটিন ফুটবল শৈলিকে পরাস্থ করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এবার ইউরোপের সব দল।

ইউরোপের ফুটবল মানেই শক্তি, আর ক্ষিপ্রগতির মেলবন্ধন। ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলে শিল্প, স্কিলের ফুলঝুরি আর দুর্দান্ত ড্রিবলিং। এসবকে বিদায় করে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে এখন ইউরোপিয়ানরা।

যদিও রাশিয়াতে ইউরোপিয়ান পাওয়ার ফুটবলের সঙ্গে দেখা গেছে ড্রিবলিং দক্ষতাও। এডেন হ্যাজার্ড, লুকাকু, এমবাপ্পে এবং হ্যারি কেন’রা দূরন্ত গতির সঙ্গে ড্রিবলিং ও শক্তির মিশেলে অবলীলায় পরাস্ত করেছেন প্রতিপক্ষকে।

এর আগে চারবার অল-ইউরোপ সেমিফাইনাল দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। ১৯৩৪ সালে সেমিফাইনাল খেলেছিল ইটালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও চোকোস্লোভাকিয়া। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সেবার সেমিতে খেলেছিল ইটালি, জার্মানি, পর্তুগাল ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৮২ সালেও হয় অল-ইউরোপ সেমিফাইনাল। সেবার শেষচারের লড়াইয়ে ছিল ইটালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড। রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে অল-ইউরোপিয়ান সেমিফাইনাল হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেবারে শেষ চারে খেলেছে ইটালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগাল। মজার ব্যাপার হলো প্রতিবারই জার্মানি এবং ইটালি ছিল সেমিফাইনালের এই ম্যাচগুলোতে। কিন্তু এই বিশ্বকাপে এই দুই দলের কোনটিই নেই শেষ চারে। ইটালি তো বাছাইবর্বের বাধাই পেরুতে পারে নি। আর জার্মানি থেমে যায় বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেই।

বড় দলের প্রাধান্য খর্ব করে উঠে আসছে ছোট দলগুলো। অর্থাৎ পরিশ্রম আর পারফরমেন্স দিয়ে তারা তথাকথিত বড় দলগুলোর সঙ্গে কমিয়ে আনছে নিজেদের ব্যবধান।

গোল্ডেন বুটের লড়াই

তওসিয়া ইসলাম

নিশ্চিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপের সেরা চারের লড়াই। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের ফল। প্রতিবারের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ধারাকে ভেঙে এবার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনের ‘সোনার বুট’ জয়ের পথ। অবশ্য বেলজিয়াম সেমিফাইনালে ওঠায় এখনও লড়াইয়ে টিকে আছেন রোমেলো লুকাকু।

 

 

দুজনই বিশ্বকাপে খেলেছেন জি গ্রুপে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ পাওয়ায় দুজনই একই দিনে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছেন জোড়া গোল দিয়ে।

তিউনিশিয়ার বিপক্ষে হেড থেকে নিজের খাতা খুলেছিলেন ইংলিশ হারিকেন, হ্যারি কেন। এরপর থেকেই যেনো পেনাল্টি স্পেশালিস্ট তিনি। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে করেছেন ছয় গোল। অবশ্য এর চারটিই পেনাল্টি থেকে। পেনাল্টি ছাড়া যেনো গোল করতেই ভুলে যাচ্ছেন, ইংল্যান্ড-অধিনায়ক। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে কোনো পেনাল্টি পায়নি ইংল্যান্ড। গোলও পাননি হ্যারি কেন। তবে আগের চার ম্যাচেই ছয় গোল হয়ে যাওয়ায় সোনালী জুতায় যেনো এক পা দিয়ে রেখেছেন তিনি।

 

 

তার চেয়ে দু’ গোল পেছনে রেমেলো লুকাকু। বেলজিয়ামের এই গোল মেশিন সাফল্যের দেখা পাননি নকআউট পর্বে। তবে গ্র“প পর্বেই দারুণ চার গোল তাকে বিবেচনায় রেখেছে সম্ভাব্য বিজয়ীর খাতায়। সেই সাথে তার আছে গোল করানোর অভিজ্ঞতা। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে হলে দারুণ কিছু করতেই হবে লুকাকুকে। কে জানে, হয়তো সেখানেই লুকিয়ে আছে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের নিষ্পত্তি।

রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

পেনাল্টি শ্যূট আউটে রাশিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। আগামী বুধবার শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। সোচিতে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। ভাগ্য নির্ধারণে স্বাগতিকদের হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া।

রোমাঞ্চকর জয়ে, রাশিয়ান বিস্ময় থামিয়ে আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। টানা দ্বিতীয় পেনাল্টি শ্যুট আউট জয়ে ১৯৯৮ সালের পর আবারও সেমিফাইনালে স্বাদ পেলো তারা। স্বাধীন দেশ হওয়ার পর পাঁচবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে দুইবারই শেষচারে উঠে নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দিলো ক্রোয়েশিয়া।

সোচিতে খেলার শুরু থেকেই রুশদের ওপর চড়াও হয় ক্রোয়াটরা। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম সাফল্য পায় স্বাগতিকরা। ৩১ মিনিটে ডেনিশ চেরিশেভের দুর্দান্ত গোলে ১-০ তে লিড নেয় রাশিয়া। সমতায় ফিরতে‌ও বেশি দেরি করেনি ক্রোয়েশিয়া। ৩৯ মিনিটে আন্দ্রেস ক্রামারিচের গোলে সমতায় ফেরে তারা।

৬০ মিনিটে পেরিসিচের শট গোলবারে লেগে ফিরে আসলে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। ১০০ মিনিটে দোমাগোজ ভিদার গোলে লিড নিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ক্রোয়েশিয়া।
কিন্তু কে জানত আরেকটি রাশিয়ান চমক যে অপেক্ষা করছে। ১১৫ মিনিটে মারিও ফারনান্দেজের গোলে নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

টাইব্রেকারেও নাটকের পর নাটক। রাশিয়ার পক্ষে স্মলভের প্রথম শটটাই ঠেকিয়েদেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক সুবাসিচ। ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে কোভাসিচ পেনাল্টি মিস করলেও ভুল করেননি ব্রোজোভিচ, লুকা মডরিচ, ভিদা ও রাকিটিচ।

আর অতিরিক্ত সময়ে রাশিয়াকে সমতায় ফেরানোর নায়ক ফার্নান্দিনহো টাই মিস করে হয়ে গেলেন খলনায়ক। আর ঐ মিসেই কপাল পোড়ে রাশিয়ার। কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যায় তাদের চমক।

জয়ে শুরু বাংলাদেশের নারীদের

পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ শনিবার হল্যান্ডের আমস্টারডামে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে ৮ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে পাপুয়া নিউগিনি। বাংলাদেশের মেয়েদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৬ উইকেটে মাত্র ৮৪ রান তোলে পাপুয়া নিউগিনি। বেরু ফ্রাঙ্ক সর্বোচ্চ ২৭ ও তানিয়া রুমা ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৫ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন পান্না ঘোষ। এছাড়া সালমা, জাহানারা, ফাহিমা ও রুমানা নেন একটি করে উইকেট।

৮৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার শামীমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দলের সংগ্রহে ৪১ রান যোগ করেন। ১৫ রান করে আয়েশা রহমান সাজঘরে ফেরেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন শামীমা। ফারজানা হক ১৭ ও নিগার সুলতানা ১১ রানে অপরাজিত থাকেন।

গ্রুপ ‘এ’-তে রবিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক হল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। এই জয়ে ২৮ বছর পর আবারো শেষ চারে উঠলো ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। হ্যারি মাগুয়েরা এবং ডালে আলি ইংলিশদের হয়ে গোল দু’টি করেন। এ নিয়ে তৃতীয়বার সেমিতে উঠলো ইংল্যান্ড।

ম্যাড়মেড়ে আর রক্ষণাত্মক কৌশলের ইংল্যান্ড-সুইডেনের খেলার ৩০ মিনিটে হ্যারি ম্যাগুয়েরা দারুণ হেডে লিড এনে দেন, তাতেই যে ইংলিশদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে তখনই বুঝা গিয়েছিল। এতে চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ১১ গোলের আটটিই এলো সেটপিস থেকে।

অবশ্য সামারায় রক্ষণাত্মক কৌশলের এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে ইংলিশদের কাছে কখনো হারেনি সুইডিশরা। আগের দুটি ম্যাচই ড্র হয়েছিল। এবার সুইডিশদের রক্ষণপ্রাচীর ভাঙতে পারবে কিনা সাউদগেটের দল সে বিষয়েও ছিল সংশয়। তাছাড়া ২০১২’র ইউরোতে সুইডেনের কাছে পরাজয়ের ভীতি তো ছিলই।

গোল সংখ্যা বাড়াতে হ্যারি কেনের দল হানা দেয় সুইডিশ সীমানায়। রাহিম স্ট্রার্লিয়ের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় গোল পাওয়া হয়নি ‘থ্রি লায়ন’দের।

বিরতি থেকে ফিরে গোল শোধের চেষ্টা করে সুইডেন। মার্কাস বার্গের হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দলকে বাঁচান, পিকফোর্ড। পরিসংখ্যান জানায়, প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে সুইডিশরা বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ জেতেনি। মার্কাস বার্গের ব্যর্থতা যেনো সেই কথাই জানিয়ে দেয়।

উল্টো ৫৮ মিনিটে লিংগার্ডের চিপে মাথা ছুঁইয়ে ডালে আলী ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। নির্ভার-নিশ্চিন্ত ইংলিশ শিবিরে তখন সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দ।

তবে এখানেই খেলার শেষটা দেখে ফেলে নি সুইডেন। ভিক্টর ক্লাইসন ও মার্কাস বার্গ-রা ব্যর্থ না হলে, ম্যাচের ফলাফলটা অন্যরকমও হতে পারতো। হয় নি ইংল্যান্ডের গোলকিপার পিকফোর্ডের তিনটি দারুণ সেভের কারণে।

এই জয়ে ইংল্যান্ড ১৯৯০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে। আর ১৯৯৪ সালের পর আবারও সেমির আগেই বিদায় নিতে হলো সুইডেনকে।

কমছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ উম্মাদনা

ফারদিন আল সাজু

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই ফুটবল ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে। আন্ডরডগ দলগুলোর অনবদ্য পারফরম্যান্স আর বড় দল গুলোর ভড়াডুবি, শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা সব মিলিয়ে বিশ্বকাপেরে এই আসরটি ভক্তদের মনে গেথেঁ থাকবে অনেক দিন। নাটকীয়তার জের ধরে বাদ পড়তে শুরু করেছে বড় বড় দলগুলো।

টুর্নামেন্টে হট ফেবারাট দল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল ‌ও উরুগুয়ে বাদ পড়ে গেছে এই আসরে। এমনি কি শেষ রক্ষ হয়নি মহাপরাক্রমশালী জার্মানীরও। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে। তাই তো এবারে বিশ্বকাপের উত্তাপ কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমিকরা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল বলতেই পাগল। তাদের এই হারে ফুটবলের অনেকটাই আকর্ষন কমে গেছে।

নক আউট পর্বের প্রথম দিনেই বিদায় নিয়েছে হট ফেবারেট আর্জেন্টিনা ও শক্তিশালী পর্তুগাল। দুুইবারে বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা ফ্রান্সের কাছে হার মানে। মন ভেঙে গেছে আর্জেন্টিনা-ভক্তদের। স্পেনও বিদায় নেয় রাশিয়ার কাছে হেরে। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে বিশ্বকাপে আকাশ থেকে খসে পড়েছেন দুই মহা-তারকা লিওনেল মেসি ও রোনালদো। সারা বিশ্বের এ দুই তারকার কোটি কোটি ফ্যান শোকস্তব্ধ।

বাকি ছিলো ব্রাজিল তারাও কোয়র্টার ফাইনালে এসে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে। এতেই শেষ হয়ে যায় সেলেকাওদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের মিশন। তারই সাথে শেষ হয়ে যায় কোটি কোটি ব্রাজিল ফুটবল সমর্থকদের আশাও। একের পর এক পতাকা নামতে শুরু করছে নীল আকাশের বুক থেকে। তার সাথে ফুটবল উম্মাদনাও কমতে শুরু করেছে। আগে যেমন তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতো। সেইটি হয়তো আর দেখা যাবেনা।

বয়সভিত্তিক নারীদের সাফ ফুটবলের ড্র

লটারির মাধ্যমে নির্ধারন হলো মেয়েদের সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ এবং অনুর্ধ্ব-১৮ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের গ্রুপিং। অনুর্ধ্ব-১৫ তে নেপাল এবং পাকিস্তানের সাথে খেলবে বাংলাদেশ। আর অনুর্ধ্ব-১৮ তে লাল সবুজ দলের প্রতিপক্ষ নেপাল, ভুটান এবং পাকিস্তান।

দুপুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে প্রতিযোগিতার গ্রুপ নির্ধারনে অংশ নেন সাফের সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল ‌ও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। আগষ্টের ৯ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত ভুটানে অনুষ্ঠিত হবে অনুর্ধ্ব-১৫ এর লড়াই। আর সেপ্টেম্বরে অনুর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশীপের সম্ভাব্য ভেন্যু ভারত।

বাংলাদেশের নারীদের বিশ্বকাপ মিশন

পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব মিশন শুরু করছে বাংলাদেশের নারীরা। নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টেলভিলে রাত আটটায় মাঠে নামছে সালমা খাতুনরা।

আট দলের মধ্যে সেরা দুটি জায়গা করে নেবে নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মুল পর্বে। সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় এবার বাংলাদেশকে ধরা হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।

গত মাসে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি জয় আর সবশেষ আয়ারল্যান্ডে সিরিজ জেতায় আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ মাঠে নামছে সালমা-ফারজানারা।

ব্রাজিলকে বিদায় করে সেমিতে বেলজিয়াম

ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালেই ছিটকে দিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়াম। কাজান এরেনায় সেলেসাওদের কাঁদিয়ে ২-১ গোলের জয়ে শেষ চারে রেড ডেভিলরা। তাতে ১৯৮৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো বেলজিয়াম। সেখানে তাদের অপেক্ষায় দারুণ ছন্দে থাকা ফ্রান্স। অন্যদিকে, রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় এবার কোয়ার্টার ফাইনালেই আটকে গেলো ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন।

বাস্তবতাও যে কখনও কখনও কল্পনার চেয়ে বেশী সুন্দর। ব্রাজিলকে হারিয়ে এবার সেই অনুভূতিটাই পেল সোনালি প্রজন্মের দল বেলজিয়াম। অন্যদিকে টানা চারবার ইউরোপিয়ান কোনো দলের কাছে হেরেই হেক্সা জয়ের মিশন থমকে গেলো ব্রাজিলের।

অথচ খেলার শুরুতেই বেলজিয়ামের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে সেলেসাওরা। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা যে ব্রাজিলের সঙ্গে নেই তা বোঝা গেলো খেলার আট মিনিটেই। থিয়াগো সিলভার প্রচেষ্টা রুখে দেয় গোলবার। আর অপয়া সময়েই গোল খেয়ে বসে ব্রাজিল। ১৩ মিনিটে ফার্নান্দিহোর আত্মঘাতি গোলে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। চলতি বিশ্বকাপে এটি ১১তম আত্মঘাতি গোল।

গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে নেইমার-কুতিনহোরা। কিন্তু পাল্টা আক্রমনে ব্যবাধন দ্বিগুণ করে বেলজিয়াম। ৩১ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের দুর্দন্ত শটে সেমিফাইনালের স্বপ্নটা যেন হাতের মুঠোয় পেয়ে যায় বেলজিয়ামের। আর ২-০ গোলে পিছিয়ে চাপে পড়ে তিতের দল।

৭৬ মিনিটে কুতিনহোর দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান আগুস্তো। পরের সময়টুকু একের পর এক আক্রমন চালিয়েও বেলজিয়ামের রক্ষণপ্রাচীর ভাঙ্গতে পারেনি নেইমার-কুতিনহোরা।

তাতে পুরো ম্যাচে ভালো খেলেও বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। আর একের পর এক বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘন্টা বাজে ফেভারিটদের। এই জয়ে টানা ২৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকা ‘সোনলি প্রজন্মের দল বেলজিয়াম’ ২০০২ সালে ব্রাজিলের কাছে পরজয়ের প্রতিশোধ নিলো।

সেমিফাইনালে ফ্রান্স

খেলার দুই অর্ধে দুই গোল করে উরুগুয়েকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০০৬ সালের পর আবার‌ও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্স। তাদের হয়ে গোল দুটি করেন করেছেন মাদ্রিদের দুই খেলোয়াড়। ৪০ মিনিটে রিয়ালের রাফায়েল ভারানে এবং ৬১ মিনিটে অ্যাটলেটিকোর আঁতোয়ান গ্রিজমান।

৪০ মিনিটে করা রাফায়েল ভারানের এই গোলটিই যে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের সেমিফাইনালে ওঠার চাবিকাঠি হবে তখনও সেটা ভাবা যায়নি। গ্রিজম্যানের সেটপিসে দারুণ হেড ভারানের। বল খুঁজে পায় জালের ঠিকানা।

নিঝনি নভগ্রোদে, খেলার শুরুতে পরিচ্ছন্ন আক্রমণের চেয়ে ফাউল করাতেই বেশি মনোযোগী ছিল উরুগুয়ে। আর ফ্রান্স নিজেদেরকে গুছিয়ে নিতেই পারেনি।

ভারানের গোলের পর হুশ ফেরে উরুগুয়ের। চলে গোল শোধের চেষ্টা। ৪৪ মিনিটে দিয়েগো গোদিনের দারুণ ফ্রিকিক অসামান্য দৃঢ়তায় ঠেকান ফ্রান্সের গোলকিপার হুগো লরিস। ফিরতি বল বাইরে পাঠিয়ে যেনো ফ্রান্সকে বিপদমুক্ত করেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার মার্টিন সিজার্স।

এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দিদিয়ের দেশামের দল।

প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা ফ্রান্স বিশ্বকাপে কখনো হারেনি। সেই রেকর্ডটা আরো বড় হবে কি হবে না তখনও ছিল সংশয়। তবে ইনজুরির কারণে কাভানি খেলতে না পারায় রীতিমতো নখদন্তহীন হয়ে যায় ‘লা সেলেস্তে’দের আক্রমণভাগ। ফ্রান্সের সীমানায় বেশ কয়েকবার আক্রমণ চালিয়েও সুয়ারেজরা কোন সুবিধা করতে পারেন নি।

উল্টো ৬২ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গ্রিজম্যান ‘লা ব্লু’দের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তবে এতে বিশ্বকাপে তৃতীয় গোল করা গ্রিজম্যানের যতটা না কৃতিত্ব, তারচেয়ে বেশি ব্যর্থতা উরুগুয়ের গোলকিপার ফার্নান্ডে মুসলেরার। তার হাত ফসকেই বল জালে জড়ায়।

বাকী সময়ে আর কোন গোল না হলে, ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। এতে তারা ২০০৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো। জার্মানি, ব্রাজিল ও ইটালির পর চতুর্থ দল হিসেবে বিশ্বকাপে ষষ্ঠবার শেষ চারের টিকিট পেলো ফ্রান্স। আর প্রথমে গোল হজম করে আগের ১৬ ম্যাচে জয় না পাওয়া উরুগুয়ে। এবারও না পারার আক্ষেপ নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল।

নেইমার-কুতিনহোকে নিয়ে শঙ্কা

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শুরু হয়ে যাবে আজ শুক্রবার রাত থেকেই। কেউ কেউ এই কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমিফাইনালে উঠে যাবে। আবার কারো বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালেই। তবে দলগুলো সেরা তারকাদের অভাবে ভুগতে পারে শেষ চারের লড়াইয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে একটি হলুদকার্ড পেলেই তারা ছিটকে যেতে পারেন দল থেকে। তাতে সেমিফাইনালে তারকা তারকা খেলোয়াড় বিহীন মাঠে নামতে হতে পারে সেইসব দলকে।

ব্রাজিল-বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচটির দিকে নজর দিন। হট ফেভারিট ব্রাজিলের তিনজন খেলোয়াড় একটি করে হলুদকার্ড পেয়েছেন। এই কার্ডের খাড়ায় আছেন, নেইমার ‌ও কুতিনহো‌ও। তাছাড়া বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইন, থমাস মুনিয়ের এবং জ্যা ভের্তোগেন সহ চারজন একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন। এই ম্যাচ চলাকালে এদের কেউ একজন কার্ড পেলে সেমিফাইনাল খেলা হবেনা জয়ী দলের পক্ষে।

আর ফ্রান্সের কথাই ধরা যাক, পল পগবা, রাইট ব্যাক বেঞ্জামিন পাভার্ড ‌ও স্ট্রাইকার অলিভার জিরুদ একটি করে হলুদ কার্ড পেয়ে বসে আছেন।আর উরুগুয়ের রডরিগো বেনটাকার পেয়েছেন একটি কার্ড। সুতরাং কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের মধ্যকার ম্যাচে এদের কেউ একটি হলুদকার্ড পেলে সেমিফাইনালটাই খেলা হবে না।

ইতোমধ্যে দুই হলুদকার্ডের কারণে ব্রাজিলের হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারছেন না দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় কাসিমেরো।

আর্জেন্টিনায় গার্দিওয়ালা!

গুঞ্জনের সুত্রপাত আগুয়েরো। ম্যানসিটিতে গার্দিওলাই আগুয়েরোকে বলেছিলেন, আর্জেন্টিনার কোচ হলে খুশীই হবেন তিনি। লিওনেল মেসির সাথে এই লিজেন্ড বসের সুসম্পর্কটাও এখানে আলোচনায় আসছে।

তাদের জাতীয় গণমাধ্যম বলছে, ২০২২ পর্যন্ত বছরে ১২ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির পরিকল্পনা। তবে সবার জানা এতো টাকা নেই এএফএর। সেই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে সেদেশের টেলিভিশন চ্যানেল টরনিওস। বছরে অর্ধেক দেবে তারা।

প্রশ্ন হলো ম্যানসিটি ছেড়ে জাতীয় দলে কেনো ? গণমাধ্যম বলছে এবার ক্যারিশমাটা ক্লাব পর্যায় ছেড়ে জাতীয় দলে দেখাতে চান।

খবরটা সত্যি হলে, আর্জেন্টাইন ভক্তরা নিশ্চয়ই খুশী হবেন।

বাংলাদেশের টেস্ট লজ্জা

ব্যাটিংয়ের স্থায়ীত্ব মাত্র ১৮ ‌ওভার ৪ বল। ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাতেই গুটিয়ে গেলো বাংলাদেশ। আর টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ন রানের দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ডে ভাগ বসালো তামিম-সাকিবরা। সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ডের প্রোটিয়াদের সঙ্গে যৌথভাবে দশম অবস্থানে এখন বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বুধবার বাংলাদেশ ৪৩ রানে অল আউট হওয়ার আগে ১৯৮৯ সালের ২৫ মার্চ কেপটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৩ রানে সবকটি উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওইটা ছিল ৩২তম টেস্ট। বাংলাদেশ এই লজ্জার রেকর্ড করলো ২ হাজার ৩১০ তম টেস্ট ম্যাচে।

লজ্জার রানের রেকর্ডে নবম, অস্টম এবং সপ্তম অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের নাম। এই তিন দেশের সর্বনিম্ন রান ৪২ করে। ষষ্ঠ অবস্থানে আছে ১৯০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার করা ৩৬ রান। ৭০তম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। এছাড়া পঞ্চম থেকে দ্বিতীয় পর্যন্ত লজ্জার রেকর্ডের রানগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার। দলটি বিভিন্ন সময়ে আউট হয়েছে ৩৬, ৩৫ এবং ৩০ ‌ও ৩০ করে। তবে এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম রানের রেকর্ড নিউজিল্যান্ডের। ১৯৫৫ সালের ২৫ মার্চ অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৪০২তম টেস্টে তারা রান করেছিল মাত্র ২৬। এই রেকর্ডেও প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড।

বাংলাদেশ টেস্টে সর্বনিম্ন ৪৩ রানের স্কোর করেছে ওযেস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের এক ইনিংসে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড ছিল ৬২ রানের। ১২ বছর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেতে হয়েছিল সেই লজ্জা।

বল হাতে একাই ক্যারিবিয়ান ঝড় তুলেছেন কেমার রোচ। ১০ রানের মাথায় তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে শুরু করেছেন তিনি। ১৩ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন তামিম। এরপর লিটন দাস ছাড়া আর সবাই নিজেদের নামের পাশে টেলিফোনের ডিজিট বসান। লিটন প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে করেন ২৫ রান।
‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে কেমার রোচ ৮ রানে ৫টি এবং কামিন্স ৩টি ‌ও জেসন হোল্ডার ২টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে ধ্বস নামান।

ভাগ্য গড়া ইনজুরি টাইমের গোল

ত‌ওসিয়া ইসলাম

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের ইনজুরি সময়ের গোল। রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ পর্যন্ত মোট আঠারোটি গোল হয়েছে ইনজুরি সময়ে; যা বেশির ভাগ সময়ই পাল্টে দিয়েছে ম্যাচের ফল।

৯৩ মিনিটে ইয়েরে মিনার গোল। তাতে ম্যাচে ফিরলো কলম্বিয়া। ১-১ সমতায় ম্যাচটি টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়েছে লাতিন দলটি। কেবল এই ম্যাচেই নয়, এবারের বিশ্বকাপে যেনো এটি নিয়মিত দৃশ্য হয়ে গেছে। আপাত ৯০ মিনিটে বজায় থাকা ফল বদলে যাচ্ছে একেবারে শেষ মুহূর্তে, ম্যাচের ইনজুরি সময়ে।

নতুন করে ভি.এ.আর. চালুর কারণে এবারের আসরের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আগের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগছে ইনজুরি সময়ে। আর তাতেই একের পর এক পাল্টে যাচ্ছে ম্যাচের ফল। তবে প্রথম দুই রাউন্ডে মোট ৫৬ টি ম্যাচের মধ্যে ১৬ ম্যাচে ১৮টি গোল হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। যার বেশির ভাগই বিশেষ গুরুত্ব রেখেছে ম্যাচের ফলের ওপর।

সবচেয়ে নাটকীয় ছিলো জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে ৯৩ মিনিটে কিম-ইয়ং গোন আর ৯৬ মিনিটে সান হিউং মিনের দু’ গোল। তাতেই নিশ্চিত হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে আগের আসরের চ্যাম্পিয়নদের বিদায়। অবশ্য এর আগের ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ৯৫ মিনিটে টনি ক্রুসের অবিশ্বাস্য এক গোলেই আসরে টিকে ছিলো জার্মানরা।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মরক্কোর কাছে হেরে আসর থেকে বিদায়ের শঙ্কায় থাকা স্পেনকে ৯১ মিনিটে রক্ষা করে ইয়াগো আসপাসের গোল। একই সময়ে অন্যম্যাচে, পর্তুগালের বিপক্ষে ৯৩ মিনিটে করিম আনসারিফার্ডের পেনাল্টি গোলে ড্র নিয়ে আসরে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখে ইরান।

শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইনজুরি সময়ে সার্জিও অ্যাগুয়েরোর গোল ম্যাচের ফলে কোনো পরিবর্তন আনতে না পারলেও জাপানের বিপক্ষে বেলজিয়াম বাজিমাত করেছে ৯৩ মিনিটে নাসের চান্দলির গোলেই। তবে সব ছাপিয়ে বেশি করে ফুটবলভক্তদের মনে দাগ কেটেছে বিদায়ের শঙ্কায় থাকা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কোস্টারিকার বিপক্ষে ইনজুরি সময়ে জয় এনে দেয়া ফিলিপ্পে কুটিনহো আর নেইমারের দু’গোল।

এই দুই গোলের মাহাত্ব্য যেনো পরিষ্কার হয় ম্যাচ শেষে সেলেসাওদের প্রতিক্রিয়ায়। বাকি আট ম্যাচেও হয়তো এমনই বিশেষ কিছু মুহূর্ত দেখবে ফুটবল বিশ্ব।

পেনাল্টি ভাগ্যে শেষ আটে ইংল্যান্ড

পেনাল্টি শুট আউটে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা। এর আগে টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নিজেকে অনেকটাই এগিয়ে রাখেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। শেষ আটে সুইডেনের মুখোমুখি হবে তারা।

রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় লিখেছিলেন শেষ হয়েও হইলোনা শেষ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৩ মিনিটে গোল করে সে কথাটিই যেন মনে করিয়ে দিলেন ইয়েরি মিনা।

সিনেমার ভাষায় বলা যায়। রাশিয়া বিশ্বকাপে সুপার ডুপার হিট ম্যাচের মাঝে দুই দল যে ফ্লপ খেলা উপহার দিচ্ছিলো এই গোলেই শেষ পর্যন্ত বক্স অফিস তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখলো।

মস্কোতে প্রথমার্ধে কোন দলই পরিস্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচে ৫৭ মিনিটে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় পেনাল্টি থেকে। হ্যারি কেন টুর্নামেন্টে তৃতীয় পেনাল্টি থেকে পেয়ে যান নিজের ষষ্ঠ গোল

তবে অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় নাটকের উপসংহার টানতে এই বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো ফলাফল নির্ধারনে নেয়া হয় পেনাল্টি শুটআউটে সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপে ১৯৯০, ১৯৯৮ আর ২০০৬ এ স্নায়ুর পরীক্ষায় পাশ না করার ইতিহাস তখন ভয় ধরাচ্ছিলো ইংলিশদের।

প্রথম তিন শটেই কলম্বিয়ার হয়ে রাদামেল ফ্যালকাও, কুয়াদ্রাদো আর লুইস মুরিয়েলের গোল। তবে হ্যান্ডারসনের শট অসপিনা ঠেকালে আবারো বাদ পড়ার শঙ্কায় পেয়ে বসে সাউদগেটের দলকে।

যদিও ভাগ্যদেবী এবার হ্যারিকেনদের নিরাশ করেননি। ম্যাতিউস উরিবের চতুর্থ শট পোষ্টে লাগলে আর কার্লোস বাক্কার পঞ্চম শট ঠেকিয়ে ১৯৬৬ এর চ্যাম্পিয়নদের জয়ের পথ তৈরি করে দেন জর্ডান পিকফোর্ড।

শ্বাসরুদ্ধকর মুহুর্তের সফল সমাপ্তি টানেন এরিক দায়ার। বল দখলে এগিয়ে থাকা গ্যারেথ সাউথগেট বলতেই পারেন জয়টা তাদের প্রাপ্যই ছিলো। আর হামেশ রদ্রিগেজবিহীন কলম্বিয়া নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারে। টাইব্রেকার নামের ভাগ্য পরীক্ষায় হেরে।

এর আগে,শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচের দারুণ সমাপ্তি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র। অতিরিক্ত সময়েও ফল ১-১। হ্যারি কেনের গোলটি ইংল্যান্ডকে রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারত। অন্তিম মুহূর্তে সেটা হতে দেননি কলম্বিয়ার ইয়ারি মিনা। গোল করেন হেড থেকে যোগ করা সময়ে (৯০+৩)। ১-১ সমতায় চলে আসে ম্যাচ। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

২৪ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেন

সুইজারল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো সুইডেন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দলের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন এমিল ফোর্সবাগ। এতে ১৯৯৪ সালের পর আবারও তারা জায়গা করে নিলো বিশ্বকাপের শেষ আটে।

২৪ বছরের অপেক্ষার পালা ঘুচলো সুইডিশদের। শেষ ষোলর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে একমাত্র গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়ার আনন্দে তাই এমন উদযাপন সুইডিশদের। আর তাতেই গ্র“প পর্বে ব্রাজিলকে রুখে দেয়া শাকা-শাকিরিদের স্বপ্ন যাত্রা থামলো শেষ ষোলতেই।

বল পজিশনে সুইজারল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ ছিলো দু’দলেরই। সুইজারল্যান্ডের সাকা-শাকিরিরা সুইডেনের ডি বক্সে গিয়েই খেঁই হারান। আর মার্কাস বার্গ কিংবা ফোর্সবার্গরা ক্রসবারের উপর দিয়ে বল পাঠিয়ে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। তাতে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধে তারা ফেরে নতুন উদ্যমে। শুরুতেই আক্রমণে আসে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু শাকিরিকে সফল হতে দেননি সুইডিশ ডিফেন্ডাররা।

তবে খেলার ৬৬ মিনিটে টিভোনেনের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ এক গোলে সুইডেনকে এগিয়ে দেন ফোর্সবার্গ। গোলকিপার সমারের দিকে বল যাচ্ছিল। কিন্তু রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আকিনজির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল জালে জড়ায়। জয়ের আনন্দ নামে সুইডিশ শিবিরে।

বাকী সময়টা কেটেছে সুইডিশদের রক্ষণ আর সুইজারল্যান্ডের আক্রমণে। তবে শাকা-শাকিরিদের সেই আক্রমণগুলো বিফল হয় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে এসে।

নেইমার যাবেন রিয়ালে!

নেইমারকে কিনতে পিএসজিকে ৩১০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেয়ার কথা নাকচ করে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গতকাল সোমবার স্প্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল টি.ভি.ই. জানায় আগামী মৌসুমে এই ব্রাজিলিয়ানকে রিয়ালের জার্সিতে দেখতে এই অবিশ্বাস্য অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েছে ক্লাবটি।

তবে রিয়াল এ খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বরং একটি জাতীয় গণমাধ্যম সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করায় বিষ্ময়ও প্রকাশ করে। মেক্সিকোর বিপক্ষে নেইমারের কৃতিত্বে ব্রাজিলের জয়ের ঘন্টাখানেক পরই রিয়ালের বিবৃতিটি প্রকাশ পায়।

তবে এ বিষয়ে এটিই প্রথম সংবাদ নয়। গত প্রায় দশ বছর যাবত নেইমারকে রিয়ালে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্টিনো পেরেজ। এ কারণে বহুবার নেইমারের রিয়ালে যোগ দেয়া নিয়ে খবরও এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

রোমাঞ্চকর জয়ে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

ফারদিন আল সাজু

অবিস্মরণীয় এক ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে 'সোনালী প্রজন্মের দল' বেলজিয়াম। তাতে দুই গোলে এগিয়ে থেকে‌ও বিদায় জাপানের। নকআউট পর্বে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে‌ও ১৯৭০ সালের পর কোনো দল হিসেবে জিতলো বেলজিয়াম। তাদের ৩-২ গোলের জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলার স্বপ্নটা অধরাই রইলো এশিয়ার প্রতিনিধি জাপানের।

ইনজুরি টাইমে নাসির শাদলির গোলে বেলজিয়ামের অবিশ্বরণীয় জয়। ২-০ তে পিছিয়ে পড়ার ২২ মিনিটের মধ্যে সমতায় ফেরা আর ইনজুরি টাইমের গোলে নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনালে ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালিস্টরা। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালের আশা জাগিয়েও, শেষ পর্যন্ত হতাশ করেছে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ৬০ নম্বরে থাকা জাপান। তবে র‌্যাংকিংয়ের তিন নম্বর দলকে ঘাম ঝড়িয়ে ছেড়েছে তারা। এমনকি ব্লু-সামুরাইদের দাপটে ছিটকে পড়া ফেভারিটদের তালিকায় বেলজিয়ামকে দেখছিলো অনেকেই।

যার শুরুটা খেলার ৪৮ মিনিটে। হারাগুচির গোলে লিড নেয় জাপান। এর পাঁচ মিনিট পরেই বিশ্বকে আরো একবার অবাক করে দিয়ে দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তাকাশি ইনুই। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে জাপান।

পিছিয়ে পড়েও আশা ছাড়েননি লুকাকু-হ্যাজার্ডরা। ৬৯ মিনিটে ভাগ্য সহায়তায় ভার্তোনের গোলে ব্যবধান কমায় বেলজিয়াম। আর ৭৪ মিনিটে গোল করে রেড ডেভিলদের সমতায় ফেরার স্বস্তি এনে দেন মারুয়ানে ফেলাইনি।

নির্ধারিত সময় শেষে, ইনজুরি টাইমও শেষের পথে, অতিরিক্ত সময়ে খেলার গড়ানো হিসেব কষছিলো ফুটবল ভক্তরা। তবে নাটকীয়তার অনেকটাই বাকী ছিলো তখনও। শেষ মুহূর্তে প্লাটা আক্রমনে বেলজিয়ামকে জয়সূচক গোল এনে দেন শাদলি। পিছিয়ে পড়েও শিহরণ জাগানো এই জয় ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের নিশ্চই আত্মবিশ্বাস যোগাবে সোনলী প্রজন্মের বেলজিয়ামকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল

নেইমারের নান্দনিক ফুটবলে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মিশনে আসা ব্রাজিল। ৫১ মিনিটে সেলেসাওদের লিড এনে দেয়ার পর ৮৮ মিনিটে ফিরমিনোকে দিয়ে গোল করিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার নেইমার। আর এই পরাজয়ে টানা সাত বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিলো মেক্সিকো।

বিশ^বাসী আরো একবার দেখলো ল্যাটিন ফুটবলের মায়াবী সম্মেহন। মুগ্ধ হলো নেইমার-কুতিনহো-ফিরমিনোর পায়ের জাদুতে। মাঠ উন্মাতাল সাম্বার তাল-লয়-ছন্দে। তাতে কুপোকাত মেক্সিকো। আর অঘটনের সব আশঙ্কায় জল ঢেলে এখন শেষ আটে ব্রাজিল।

তবে খেলার প্রথম ২৫ মিনিট সামারায় খুঁজেই পাওয়া যায়নি ব্রাজিলকে। মেক্সিকান ওয়েভে বারবার দুলে ওঠে সেলেসাওদের রক্ষণপ্রাচীর।

এরপরই চেনা ছন্দে ফেরে ব্রাজিল। পায়ের জাদু দেখান বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমার। হেরেরা, মার্কুয়েজ ও ভেলাকে সম্মোহনে মুগ্ধ করতে পারলেও ওচোয়া থাকেন অজেয়। কুতিনহোকেও সফল হতে দেননি ওচোয়া। (৩৩) তার দৃঢ়তায় গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দু’দল।

বিরতি থেকে ফিরেই মেক্সিকান শিবিরে সেলেসাওদের আক্রমণ। উইলিয়ানের পাসে দারুণ এক গোল করে দল এবং বিশ্বের সব ব্রাজিল সমর্থককে নির্ভার করেন নেইমার। উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে সামারা থেকে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।

৬৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ ছিলো ব্রাজিলের, উইলিয়ানের চেষ্টায় বাধ সাধেন মেক্সিকোর গোলকিপার ওচোয়া।

তবে পিছিয়ে থাকা মেক্সিকো কাউন্টার অ্যাটাকে ভরসা করে গোল শোধের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদেরকে সফল হতে দেননি সেলেসাও ডিফেন্ডাররা।

সমতায় তো ফিরতে পারেইনি, উল্টো নেইমারের পাসে বদলি খেলোয়াড় ফিরমিনো আরো এক গোল করলে ব্রাজিল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কম গোলের এই জয়েও কোনো আক্ষেপ থাকার কথা নয় তিতের দলের। প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর টানা তিন জয় নিশ্চয়ই আত্মবিশ^াস বাড়িয়েছে ব্রাজিলের। বিশ^কাপ শিরোপা যে এখন সেলেসাওদের হাতছোঁয়া দূরত্বে।

রাতভর রাশিয়ার বিজয় উদযাপন

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনকে পেনাল্টি শ্যূট আউটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাওয়ার পর উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক রাশিয়ার সমর্থকরা। নেচে-গেয়ে তারা রাতভর উল্লাস করেন মস্কো থেকে শুরু করে পুরো দেশ জুড়ে।

আত্মঘাতি গোলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধেই গোল শোধ করে স্বাগতিকরা। পরের পুরোটা সময়ই তারা রক্ষণে ব্যস্ত থাকে। মিলিটারিদের মতো নিজেদের রক্ষণ সীমানা পাহারা দেয় রাশান ফুটবলাররা। তাতে শত চেষ্টায়ও গোলের দেখা পায়নি স্প্যানিশরা।

ঐতিহাসিক এই জয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় রাশিয়া জুড়ে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম রেংকিংয়ের এই দলটি যে শেষ আটে উঠতে পারবে কারো ধারণাই ছিল না। সবাই ভেবেছিল স্বাগতিকতার সুবিধা নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আসা রাশিয়া প্রথম পর্বেই ঝরে পড়বে। কিন্তু সবার ধারণাকে মিথ্যে করে দিয়ে তারা এখন প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে।

রবিবার রাতের ম্যাচে রাশান অধিনায়ক ইগর আকিনফেভ যেনো একাই ঠেকিয়ে দেন স্পেনের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে। পেনাল্টি শ্যূট আউটে তিনি কোকে আর আসপাসের শট ঠেকিয়ে দলকে শেষ আটে পৌছে দেন। আর তাতেই সেরা আনন্দের উপলক্ষ পেয়ে যায় রাশানরা। এক ম্যাচেই হিরো হয়ে যান আকিনফেভ।
খেলা শেষে গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে নেচে-গেয়ে মত্ত হয়ে ওঠে স্বাগতিক দলের সমর্থকরা। দেশের পতাকা নিয়েও তারা গভীর রাত পর্যন্ত দেশের এই জয়কে উদযাপন করতে থাকেন।

তাদের উদযাপনের আনন্দ এতোটাই বাধনহারা হয়ে ওঠে যে গায়ে জামা-কাপড়ের দিকে নজর রাখতেও ভুলে যান তরুণরা। নেচে-গেয়ে-বাদ্য বাজিয়ে রাশিয়ার সমথর্করা দেশের এই বিজয় উদযাপন করেন।

সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রাশিয়া মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।

সাম্পা‌ওলির পদত্যাগ!

আর্জেন্টিনার হেড কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোর্হে সাম্পাওলি। সেদেশের জাতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লডিও তাপিয়ার সাথে দেখা করেছেন সাম্পাওলি। তবে কিভাবে দু’পক্ষের সম্মতিতে সাম্পা‌ওলির পদত্যাগের বিষয়টি সম্মানজনকভাবে শেষ করা যায় সেই পথই খুজছে এখন আর্জেন্টাইন ফুটবলের বড় কর্তা।

ফ্রান্সের কাছে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে হারের পর নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সাম্পাওলি। মঙ্গলবারের মধ্যে কোনো এক সময়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লডিও টাপিয়ার সাথে দেখা করে সমঝোতার ভিত্তিকে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা। মাত্র এক বছর আগেই জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৫৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন।

এর আগে চিলি জাতীয় দল ও স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের সামর্থ্যরে জানান দিয়েছিলেন সাম্পাওলি। তবে নিজ দেশের কোচ হিসেবে সফল হতে পারলেন না।

মেসি, রোনালাদোর পর ইনিয়েস্তার বিদায়

ফারদিন আল সাজু

২০১৮ বিশ্বকাপটা কেমন যেন অগোছালো মনে হচ্ছে। একের পর এক অঘটনের শিকার হয়ে আগেভাগেই ঘরে ফিরছে বড় দলগুলো। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়। এরপর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। তাদের দেখানো পথেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় স্পেন। স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ষোল থেকেই দেশে ফেরে তারা। সেই সঙ্গে তাদের তারকা খেলোয়াড় মাঝমাঠের শিল্পী আন্দ্রস ইনিয়েস্তা‌ও অবসরে চলে যান। তবে ক্লাব ফুটবল তিনি ঠিকই চালিয়ে যাবেন।

অবশ্য সব বিশ্বকাপের মতো এবারো ফেভারেটের তকমা গায়ে লাগিয়েই রাশিয়া এসেছিলো ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আগেই বিষয়টি অনুমিত ছিল, তবু রাশিয়ার কাছে হেরে দল থেকে অবসরের চলে যান স্পেনের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।

এমন ঘোষণা যে আসবে এটা মোটামুটি সবাই অনুমান করতে পেরেছিলো। অপেক্ষা শুধু ঘোষণার। রাশিয়া বিপক্ষে হারের পর সেটাই জানিয়ে দিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তাকে আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেখা যাবে না। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়া বিপক্ষে হারের পর জাতীয় দলের জার্সি খুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন দেশের জার্সিতে ১৩১ ম্যাচ খেলা কিংবদন্তি ইনিয়েস্তা। ম্যাচ শেষে সাংবাদিদের বলেন 'স্পেনের জার্সি গায়ে এটিই আমার শেষ ম্যাচ ছিলো। আসাধারন এক অধ্যায়র সমাপ্তি হলো।'

২০০৬ সালে অভিষেকর পর স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূন্য গোলটি আসে তার পা থেকে। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে এই ইনিয়েস্তাই জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। শেষ মিনিটে তার পায়ে থেকে আসা অসাধারণ গোলটির জন্য স্পেন প্রথমবারে মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।

এছাড়া স্পেনের জার্সি গায়ে সকল গুরুত্বপূর্ন্য খেলায় তার ভুমিক ছিলো অসাধারণ। তাই তো এই মানুষটির বিদায় বেলায় একটি কথা না বলেই নয়, ফুটবল ইতিহাসে তোমার অবদান কখনো ভোলার মতো নয়। হয়তো তোমার বিদায়টা এইভাবে কাম্য ছিলোনা। স্পেন হেরেছে কিন্তু এই মানুষটির প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা বিন্দুমাত্র কমেনি মানুষের।

ইনজুরির কারণে খেলছেন না মার্সেলো

ইনজুরির কারণে মেক্সিকোর বিপক্ষে আজ সোমবার খেলা হচ্ছে না ব্রাজিলের লেফট উইং ব্যাক মার্সেলোর। কোচ তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যদিও আগের দিন অনুশীলনে যোগ দিয়ে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মার্সেলো। তবে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না টীম ম্যানেজমেন্ট। হোটেলের তোষকের কারণে রিয়াল মাদ্রিদ এই তারকা পিঠে ব্যথা পান।

অবশ্য মার্সেলো টুইট করে জানিয়েছিলেন, সব ঠিক আছে। তবে বাঁচা-মরার এ ম্যাচে ৪০-৪৫ মিনিট খেলতে পারার উপযোগী কাউকে মাঠে নামাতে চান না কোচ। সেই সাথে এই তারকার বিষয়ে ঝুঁকিও নেয়ার ইচ্ছে নেই তার। মার্সেলোর পরিবর্তে আজ প্রথম একাদশে খেলবেন ফিলিপে লুইস।

ব্রাজিলের সামনে আজ মেক্সিকো

ফারদিন আল সাজু

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের খেলা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। জমজমাট এই লড়াইয়ে ৩২ টি দল থেকে নকআউট পর্বে উঠেছে ১৬ টি। এর মধ্যে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারেট দল আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল এবং স্পেন নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিয়ে রাশিয়া মিশন শেষ করেছে। এমনকি সবাইকে অবাক করে গ্রুপ পর্ব থেকে আগেই বিদায় নিতে হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকেও।

তাই বলা যায় এবারে রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউটের প্রতিটি ম্যাচই হবে উত্তেজনাপূর্ণ। কারণ নকআউট পর্বে কোন দল কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না, বলছে‌ও না। রাশিয়া বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট পর্বের পঞ্চম ম্যাচে হট ফেভারিট ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়।

এই দুই দলের কোনটিই গ্রুপে আশানুরুপ সূচনা করতে পারে নি। তারকা সমৃদ্ধ ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেও নিজেদের সেরা খেলাটা খেলাতে পারেনি। ৩ ম্যাচে দুটি জয় ও একটি ড্র করে “ই” গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় হলুদ জার্সিধারিরা। অন্যদিকে মেক্সিকোও ২ টি জয় এবং একটি হার নিয়ে “এফ” গ্রুপের রানার্স আপ হয়ে শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেয়। তবে দুই দলেরই আরো ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। তাই নকআউটের এই ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা দিয়ে জ্বলে উঠতে পারলেই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা একটি ম্যাচ দেখতে পারবে ফুটবল বিশ্ব।

সাম্প্রতিক ফর্ম

দুই দলই কিছুটা ফর্মহীনতায় ভুগছে। দলের সেরা তারকারা নামের সুবিচার করতে পারছেন না। এমনকি ব্রাজিলে সাম্প্রতিক ফর্ম‌ও তেমন একটা ভালো বলা যাবেনা। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্র, পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ায় নেইমারা। কোস্টারিকা ও সার্বিয়াকে ২-০ গোল ব্যাবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হয় ব্রাজিল। অন্যদিকে মেক্সিকোর ফর্ম ব্রাজিলের চেয়ে তুলনামূলক খারাপই বলা যায়। শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ৩-০ গোলে হেরে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে তারা। জার্মানিকে দাপটের সাথে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করা। ৩ ম্যাচে ২ জয় এবং ১ হার নিয়ে গ্রুপ পর্ব ম্যাচ শেষ করে মেক্সিকো।

দলের মূল তারকা

ব্রাজিলের হয়ে ম্যাচের মোড় যেকোন সময় ঘুড়িয়ে দেতে পরেন বার্সালোনার তারকা কুতিনহো। ৩ ম্যাচে তার গোল ২টি। যদি নেইমার আলো ছড়ান তবে মেক্সিকোর মাথা ব্যথার কারণই হবেন তারা। এছাড়াও কাউন্টার এ্যাটাকে সিদ্ধহস্ত উইলিয়ানের সাথে আছেন জেসুস। তাই মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জয় পেতে হলে পুরো দলকে জেগে উঠতে হবে। অন্যদিকে মেক্সিকো দলের জয়ের ভিত গড়ে দিতে পারেন ম্যানচেস্টার ইউনাটেডের হয়ে খেলা ২৯ বছর বয়সি স্ট্রাইকার হার্নান্দেজ। তার সাথে আক্রমনে থাকছেন হ্যাভিয়ের অ্যাকুইনো, হিসুস, জিমেনেজ।

হেড টু হেড

দুই দল মোট ৪০ বার মুখোমুখি হয়েছে। ব্রাজিল জিতেছে ২৩ টি ম্যাচে। মেক্সিকো জিতেছে ১০ টি ম্যাচে। আর ৭ টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। শেষ বারে দেখায় ২-০ গোলে হেরেছিলো মেক্সিকোনরা। বিশ্বকাপে দুই দল শুখোমুখি হয় ৪ বার। ব্রাজিল জিতেছে তিনবার এবং ড্র হয়েছে একটি ম্যাচ। ব্রাজিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৫ বার। আর মেক্সিকোর সর্বোচ্চ সাফল্য দুইবার (১৯৭০ ‌ও ১৯৮৬) কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সেরা দুই দলের লড়াইয়ে ফলাফল যা-ই হোক, উপভোগ্য একটি ম্যাচের অপেক্ষায় থাকবে ফুটবল বিশ্ব।

কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়া

অধিনায়ক আকিনফেভের দৃঢ়তায় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ঘটনাবহুল ম্যাচে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো স্বাগতিক রাশিয়া। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে স্পেনকে হারায় স্বাগতিকরা।

রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথমবার অতিরিক্ত সময়ে খেলা, প্রথমবার পেনাল্টি শ্যূটআউট। অধিনায়ক ইগর আকিনফেভের কৃতিত্বে ইতিহাস গড়ে ১৯৮২ সালের পর আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিকরা। তাতে গোল মিস আর টাই মিসের মহড়ায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় আরেক ফেভারিট স্পেন।

অথচ লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, খেলার শুরুতে স্পেনের আক্রমণ ঠেকাতেই হিমশিম খেতে হয় রাশিয়াকে। তেমনি এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ১২ মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন, রাশান ডিফেন্ডার সের্গেই ইগনাসেভিচ। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে আত্মঘাতী গোল করার রেকর্ডও হয়ে যায় ৩৯ বছর বয়সী ইগনাসেভিচের।

এরপর নিজেদের মধ্যেই বল আদান-প্রদানে সময় কাটায় ‘লা রোজা’রা। সেই সুযোগে ৪১ মিনিটে স্পট কিকে ম্যাচে ১-১-এ সমতা ফেরান আরতেম ডিজুবা। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে প্রথম রুশ খেলোয়াড় হিসেবে গোল করলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি স্প্যানিশরা। ইনিয়েস্তা কিংবা আসপাস মাঠে নেমে ম্যাজিক দেখালেও সাফল্য আসেনি।
রীতিমতো মিলিটারিদের মতো নিজেদের রণসীমানা পাহাড়া দেন রাশান ফুটবলার। অতিরিক্ত সময়েও কাবু করা যায়নি রাশান রণপ্রাচীরকে। স্পেনের প্রচেষ্টাগুলো একাই সামাল দেন, ম্যাচ সেরা আকিনফেভ।

আর পেনাল্টি শ্যূটআউট হয়ে রইলো ফার্নান্ডো হিয়েরোর দলের কপাল পোড়ার গল্প।

মাসচেরানো ‌ও বিগলিয়ার অবসর

বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা বিদায় নে‌ওয়ার পর পরই অবসরের ঘোষণা দেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হ্যাভিয়ার মাসচেরানো ‌ও লুকাস বিগলিয়া। ম্যাচের পরে মাসচেরানো বলেন, এখন থেকে তিনি শুধু আর্জেন্টিনার এক ভক্ত।

ম্যাচের পরে মাসচেরানো বলেন, ‘এবার বিদায় জানানোর সময় হল। শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়েছি। এখন আমি নিছকই আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের এক ভক্ত। আশা করব, আমাদের পরের প্রজন্ম সেই কাজটা করে দেখাতে পারবে, যেটা করতে আমরা ব্যর্থ হলাম।’ ৩৪ বছর বয়সী মাসচেরানো দেশের হয়ে ১৪৭টি ম্যাচ খেলেন।

এদিকে, আর্জেন্টিনার আরেক মিডফিল্ডার লুকাস বিগলিয়া‌ও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। তিনি বলেন, ‘সরে যা‌ওয়ার এখনই সঠিক সময়। অনেক নতুন খেলোয়াড় আছে। তাদেরকে জায়গা করে দিতে হবে।’

আর্জেন্টিনা দলে ২০১১ সালে অভিষেক হয় লুকাস বিগলিয়ার। ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার ৫৮ ম্যাচে এক গোল করেন।

উরুগুয়ে কোয়ার্টারে, মেসির পর রোনালদোর বিদায়

পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে উরুগুয়ে। তাতে নকআউট পর্বের প্রথম দিনেই বিদায় নিলেন দুই মহাতরকা লি‌ওনেল মেসি ‌ও রোনালদো। জোড়া গোল করেন উরুগুয়ে স্ট্রাইকার এডিনসন কাভানি।

https://www.youtube.com/watch?v=zxn930F9vh4

আগের ম্যাচে বিদায় নিয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সমর্থকদের মনে তাই ভীতিটা ছিল। একই রাতে পর্তুগালকেও বিদায় নেতে না তো। শেষ পর্যন্ত এই ভীতিটাই সত্য হলো। এডিনসন কাভানির জোড়া গোলে মেসির পথেই হাঁটতে হলো রোনালদোকে। পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে উরুগুয়েও উঠে গেলো কোয়ার্টার ফাইনালে। আগামী শুক্রবার সেমিফাইনালে ‌ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে।

প্রথমার্ধে উরুগুয়ের বক্সে রোনালদোকে বল ছুঁতে উরুগুয়ের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। এই অর্ধেই সুয়ারেজ-কাভানি জুটিকে থামাতে ব্যর্থ পেপে-ফন্তেরা।

খেলার ৭ মিনিটেই সুয়ারেজের কাজ থেকে বল পেয়ে পর্তুগিজ রক্ষণকে বোকা বানিয়ে কাভানি দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ‘লা সেলেস্তে’রা।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচে ফেরার জন্য প্রতিপক্ষের সীমানায় দারুণ আক্রমণ করে রোনালদোর পর্তুগাল। তাতে ৫৫ মিনিটে পেপে’র কল্যাণে ম্যাচে ১-১ এ সমতা ফেরে।

কিন্তু জয়ের নেশায় থাকা উরুগুয়েকে আর থামানো যায়নি। ৬২ মিনিটে আবারও পর্তুগালের এক ডিফেন্ডারের ভুলে বেনতাঙ্কুরের ডিফেন্স চেরা পাসকে কাভানি যেভাবে গোলে পরিণত করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

ইনজুরি টাইমে‌ও বেশ কয়েকবার গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কোনো কাজে আসেনি।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় কাভানি-সুয়ারেজের দল। আগামী শুক্রবার সেমিফাইনালে ‌ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের।

আর্জেন্টিনার বিদায় কোয়ার্টারে ফ্রান্স

সাত গোলের ক্ল্যাসিক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলো ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ‘লা ব্লু’দের জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচ সেরা এমবাপে করেন দুই গোল। আর এতে ২০০২ সালের পর আবারও কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

অগোছালো মাঝমাঠ আর ভঙ্গুর রক্ষণের কারণে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হলো আর্জেন্টিনাকে। আর সেই সুযোগে রাশিয়ার কাজানে ফরাশি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিলেন, এমবাপে। তাতে বিশ্বকাপ শিরোপা অধরা মাধুরীই হয়ে রইলো পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির কাছে।

অবশ্য আর্জেন্টিনার পরাজয়ের চিত্রটা আরো করুণ, আরো অপমানের। তাদের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগে ঝড়ের গতিতে একের পর এক করে ফ্রান্স। তাতে ১৩ মিনিটে স্পটকিকে ‘লা ব্লু’দের এগিয়ে দেন আতোয়ান গ্রিজম্যান।

গ্রিজম্যানের গোল করা ম্যাচে ফ্রান্স কখনও হারেনি, এই রেকর্ড যে মিথে পরিণত হবে সেটা তখনও বুঝা যায়নি। তবে ফ্রান্সের লং পাস এবং এমবাপের গতির কাছে পিছিয়ে পড়তে থাকে আর্জেন্টিনা। তবে ২৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ফেরাতে উমিতি হাত দিয়ে বল ঠেকালেও এড়িয়ে যান, ইরানের রেফারি।
অবশেষে ৪১ মিনিটে ডি বক্সের উপর থেকে ডি মারিয়া বাম পায়ের দূরন্ত এক শটে ম্যাচে ১-১ গোলে সমতা ফেরান।

বিরতি থেকে ফিরেই ব্যবধান বাড়ায় আর্জেন্টিনা। বানেগার ফ্রিকিকে মেসির প্রচেষ্টা মার্কাদোর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ২-১-এ লিড পায় আলবিসেলেস্তেরা।

তবে এই লিডও বেশিক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি আর্জেন্টিনার। রক্ষণের ভুলে ম্যাচে সমতা ফেরান বেঞ্জামিন পাভার্ড।

পরে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন এমবাপে। ৬৪ থেকে ৬৮ চার মিনিটে দুই গোল করে, কিশোর খেলোয়াড় হিসেবে বিশ^কাপের এক ম্যাচে ১৯৫৮ সালে গড়া ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডে ভাগ বসান কিলিয়ান এমবাপে।

ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া মেসির দল কয়েকবার ফ্রান্সের সীমানায় আক্রমণও চালায়। শেষে ইনজুরি টাইমে মেসির ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে দারুণ এক গোলও করেন বদলি খেলোয়াড় অ্যাগুয়েরো। কিন্তু ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাতে ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধও নিলো ফ্রান্স।

আর বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে আসা পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় মেসি ট্র্যাজিক হিরো হিসেবেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেন।

শুরু ‌ও শেষের পালা আর্জেন্টিনা-ফ্রান্সের

আজ শনিবার থেকেই বিশ্বকাপ ফুটবলের মহামঞ্চে শুরু হচ্ছে একটি দলের শুরু ‌ও অন্য দলের শেষের পালা। নকআউট পর্বের এই রাউন্ডে পরাজিত দলকে ফিরে যেতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে। তাই লড়াইয়ের ব্যাপারে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স বেশ সতর্ক। দুটি দলেরই যে একই মিশন শিরোপা জয়।

পরিসংখ্যান বলছে, এই লড়াইয়ে জয়ের ক্ষেত্র এগিয়ে আছে লি‌ওনেল মেসির আর্জেন্টিনাই। বিশ্বকাপে দুই দেশের দেখা হয়েছিল দু’বার। ১৯৩০ এবং ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে। আর দু’টি বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলেছিল। বলাই বাহুল্য যে, সেই দেখায় ফ্রান্সকেও হারিয়েছিল নীল-সাদা জার্সিধারীরা।

দু’বারের বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ১-০ হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ হারতে হয় ফ্রান্সকে। এবারই প্রথম নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ।

প্রীতি ম্যাচেও আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে ফ্রান্সের থেকে। নয়টি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছে মাত্র দু’বার। চারটি ম্যাচে জিতেছে দিয়েগো মারাডোনার। তিনটি ম্যাচ ড্র হয়।

আজ শনিবার মাঠে নামার আগে আরও একটি তথ্য আর্জেন্টিনার হয়ে কথা বলছে। তাতে আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন লিওনেল মেসিরা। তা হলো, ১৯৮৬ সালের পর ফ্রান্সের কাছে আর্জেন্টিনা আর হারেনি। এর পরে অবশ্য দু’দেশের সাক্ষাৎ হয়েছে মাত্র দু’বার। ২০০৯ সালে শেষ বার দেখা। তার পর নয় বছর কেটে গেছে। ফ্রান্স আর আর্জেন্টিনার মধ্যে কোনও ম্যাচ হয়নি।

তবে পরিসংখ্যান তো আর কখনো ম্যাচ হয় না। শুধু গাণিতিক হিসেব মাত্র। শনিবার নতুন দিন। নতুন ম্যাচ। পরিসংখ্যান বদলেও যেতে পারে। কিন্তু অতীতের পরিসংখ্যান জেনে লিওনেল মেসির দল আত্মবিশ্বাসী হতেই পারে। এই পরিসংখ্যানের কথা দিয়েই হয়তো জয়ের ব্যাপারে দলকে উজ্জ্বীবিত করতে পারেন কোচ হোর্হে সাম্পা‌ওলি। তাছাড়া কাজান এরেনায় ফ্রান্সের মুখোমুখি হ‌ওয়ার আগে অন্তত পরিসংখ্যানের দিক থেকে এগিয়ে থাকছে আর্জেন্টিনা।

ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি ফাইনাল: মেসি

হিসেবের অঙ্ক কষে প্রার্থিত এবং কাঙ্ক্ষিত জয়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখন নকআউট পর্বে। কোয়ার্টার ফাইনালে ‌ওঠার লড়াইয়ে আজ শনিবার রাতে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। যে দল হারবে তাদেরকেই বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে। নকআউট পর্বের খেলা। তাই ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ফাইনাল বলে ঘোষণা দেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফ্রান্সকে হারাতে হলে মেসিদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।

গ্রুপ পর্বের খেলায় আর্জেন্টিনা অনেক ভুগেছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেছে খাদের কিনারায়। নাইজেরিয়াকে হারিয়ে খাদের কিনারা হতে পাড়ে উঠলেও আর্জেন্টাইন ফুটবলবিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। রাশিয়ায় আসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঈশ্বর যদি চ্যাম্পিয়ন করেও সেটা আর্জেন্টিনার প্রাপ্য না।

সিরিজ জিতল বাংলাদেশের নারীরা

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে‌ও স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ তে তিন ম্যাচের সিরিজ জিতল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটররা। ডাবলিনে, ৪ উইকেটে ১২৪ রানের জবাবে ৬ উইকেটে ১২৫ রান করে জয় পায় সালমারা। আগের দিন প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষ বলে জয় পায় বাংলাদেশের নারীরা।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল টাইগ্রেসরা। তাও আবার বিদেশের মাটিতে। ২০১৬ সালে এই আয়ারল্যান্ডের কাছেই সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।

ডাবলিনে শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের মেয়েরা প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ২০তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সানজিদা ইসলাম। তাতে ৪ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশের মেয়েরা।

১২৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২১ রানে আয়শার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে ফারজানাকে নিয়ে দলের স্কোরে ৭৫ রান যোগ করেন শামীমা সুলতানা। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি তুলে ৪৯ বলে ৫১ রান করে শামীমা সুলতানা সাজঘরে ফেরেন।

এরপর দ্রুত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পরের ২১ রান তুলতেই হারায় ৫টি উইকেট। ৯৬ রানে শামীমা, ১০৪ রানে ফারজানা (৩৫), ১০৮ রানে রুমানা আহমেদ (২), ১১০ রানে নিগার সুলতানা (৫) ও ১১৭ রানে ফাহিমা খাতুন বিদায় নেন।

তাতে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন হয় ৬ রান। সানজিদা ইসলাম আয়ারল্যান্ডের রিচার্ডসনের করা ২০তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন। সানজিদা ১১ ও জাহানারা আলম ১ রানে অপরাজিত থাকেন। আইরিশ বোলারদের মধ্যে ডিলানি ও মেটকাফে ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে, আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে ব্যাট হাতে একাই লড়ে যান সিসিলিয়া জয়সি। তিনি ৪৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৬০ রান করেন। অধিনায়ক লুরা ডেলানির ব্যাট থেকে ২০ ও কাভানাফ করেন ১৫ রান। বল হাতে বাংলাদেশের জাহানারা আলম ও নাহিদা আক্তার ২টি করে উইকেট নেন।

ফিফার নিষেধাজ্ঞায় ম্যারাডোনা!

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর গ্যালারিতে ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা যে অঙ্গভঙ্গি করেছেন তাতে সমালোচনার ঝড় ‌ওঠে বিশ্বব্যাপী। আর এই কারণেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ম্যারাডোনাকে। অথচ শনিবারই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে নামছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপে আর্জেন্টিনার তিনটি ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজির ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার।

এতদিন ফিফার অ্যাম্বাসাডর হিসেবে ছিলেন ম্যারাডোনা। নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা জিততেই আর নিজের মধ্যে থাকতে পারেন নি তিনি। বিশ্রী অঙ্গভঙ্গি করতে শুরু করেন। আর এই কারণেই হয়তো মারাডোনাকে আর পুরনো ভূমিকায় দেখা যাবে না। ফিফা শাস্তি দিচ্ছে তাকে।

নাইজেরিয়াকে হারাতেই মারাডোনা মধ্যমা দেখাতে শুরু করেন। সেই অশ্লীল ভঙ্গির ছবি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের সমস্ত সংবাদমাধ্যমে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যানগার্ড’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি, ফিফা মারাডোনাকে আর টাকা দেবে না। অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও আর নাকি দেখা যাবে না তাকে। ফিফা এখন‌ও তেমন কিছুই জানায় নি।

গ্রুপ পর্বের কথা

শেষ হলো ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা। আসর থেকে ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে ১৬টি দল। অপেক্ষা এবার বাকী ১৬টি দল নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট পর্বের লড়াইয়ের। বিশ্বকাপে আজ শুক্রবার কোনো খেলা নেই। আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হবে শেষ ষোলোর লড়াই। রাশিয়ায় সবচেয়ে বড় অঘটনের শিকার হয়েছে শিরোপাধারী জার্মানি। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার লজ্জা নিয়ে দেশে ফেরে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ৮ গ্রুপের শীর্ষ দুই দল দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট কাটে। শেষ ষোলোতে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপদের মুখোমুখি হবে। আবার ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলকে মোকাবিলা করবে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থানধারী। গ্রুপ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এভাবেই বাকি ম্যাচগুলো সাজানো হয়েছে।

নকআউট পর্বের সূচি ও লাইনআপ

নকআউট পর্বের সূচি

৩০ জুন                ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনা (রাত ৮টা)                  কাজান অ্যারেনা

৩০ জুন               উরুগুয়ে বনাম পর্তুগাল (রাত ১২টা)               ফিস্ট অলিম্পিক স্টেডিয়াম

০১ জুলাই            স্পেন বনাম রাশিয়া (রাত ৮টা)                       লুঝনিকি স্টেডিয়াম

০১ জুলাই         ক্রোয়েশিয়া বনাম ডেনমার্ক (রাত ১২টা)           নিঝনি নভগোরোদ স্টেডিয়াম

০২ জুলাই        ব্রাজিল বনাম মেক্সিকো (রাত ৮টা)                      সামারা অ্যারেনা

০২ জুলাই       বেলজিয়াম বনাম জাপান (রাত ১২টা)            রোস্তভ অ্যারেনা

০৩ জুলাই         সুইডেন বনাম সুইজারল্যান্ড (রাত ৮টা)              সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়াম

০৩ জুলাই         কলম্বিয়া বনাম ইংল্যান্ড (রাত ১২টা)               স্পার্তাক স্টেডিয়াম

গ্রুপ পর্বের পরিসংখ্যান

সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড) ৫,

রমেলু লুকাকু (বেলজিয়াম) ৪,

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) ৪

গ্রুপ পর্বে মোট গোল: ১২২টি

হলুদ কার্ড: ১৫৮টি

লাল কার্ড: ৩টি

মোট পাস: ৩৬,৩৪৯

ম্যাচ প্রতি গোল: ২.৫

ম্যাচ প্রতি হলুদ কার্ড: ৩.৪

ম্যাচ প্রতি লাল কার্ড: ০.০৬

ম্যাচ প্রতি পাস: ৭৫৭.৩

সর্বাধিক গোল: ৯ (বেলজিয়াম)

সর্বাধিক অ্যাটাক: ২৫২ (জার্মানি)

সর্বাধিক পাস : ২০৮৯ (স্পেন)

সর্বাধিক ট্যাকল: ১৪৯ (ইরান)

গোলপোস্টে সর্বাধিক শট: ১৭ (নেইমার, ব্রাজিল)

সর্বাধিক সফল পাস: ৩১০, টনি ক্রুস (জার্মানি)

সর্বাধিক সেভ: ১৭, গুইলার্মো ওচোয়া (মেক্সিকো)

ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল: বেলজিয়াম ৫-২ তিউনিশিয়া

ম্যাচে সর্বোচ্চ শট: ৩১, বেলজিয়াম-তিউনিশিয়া

ম্যাচে সর্বাধিক কার্ড: ৮ হলুদ কার্ড, বেলজিয়াম-পানামা ম্যাচে

সর্বাধিক পাস: ৯৯৭, পর্তুগাল-স্পেন।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে বেলজিয়াম

আদনান জানুযাইয়ের দেয়া একমাত্র গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্র“পের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নট আউট পর্বে বেলজিয়ান। শেষ ষোলতে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান। আর কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, নিয়মরার ম্যাচে পানামাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তিউনিসিয়া।

গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে দাপটের সাথেই নক আউট পর্বে উঠলো সোনালি প্রজন্মের দল বেলজিময়াম। সেই সাথে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মত জয়ের স্বাদ পেলো তারা।

আগেই দুই দলের শেষ ষোল নিশ্চিত হওয়ায় কালিনিনগ্রাদের এই ম্যাচটি ছিলো যেন ডাগ আউটে বসে থাকাদের পরীক্ষার সুযোগ। দুই দল মিলিয়ে পরিবর্তন মোট ১৭ টি। । তাই গা-বাচানোর ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল শূন্য ড্র-য়ে।

তবে ৫১ মিনিটে বেলজিয়ামের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন আদনান জানুযাই। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আদনান নিজের প্রথম গোলটি করেন দৃষ্টি নন্দন এক শটে।
বাকি সময়ে গোল করার ভাল সুযোগ পেয়েছিলো দুদলই। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় স্কোরে কোন পরিবর্তন আসেনি। তাতের হট ফেভারিটের মতই নক-আউট পর্বে উঠলো বেলজিয়াম।

এদিকে, নিয়মরক্ষার ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও পানামাকে ২-১ গোলে হারিয়ে সান্তনার জয় পেয়েছে তিউনিসিয়া। সারানস্কে, খেলা শুরু থেকে পানামার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে তিউনিসিয়া। তবে ৩৩ মিনিটে তিউনিশিয়ার ইয়াসিন মেরিয়ার ওউন গোল এগিয়ে যায় পানাম। তবে ৫১ মিনিটে ফখরেদ্দিন বিন ইউসেফের গোলে সমতায় ফেরে কার্থেজের ঈগলরা। আর ৬৬ মিনিটে ওহাবি খাজরির গোলে ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে জয় পায় তিউনিসিয়া।

জাহানারার রেকর্ডে বাংলাদেশের জয়

বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে ৫ উইকটে নিয়ে জাহানারার রেকর্ড গড়ার দিনে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে। ডাবলিনে আইরিশদের ৮ উইকেটে ১৩৪ রানের জবাবে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা ১৩৫ রান করে শেষ বলে জয় পায়।

শেষ ২ ওভারে ১৮ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। ১৯তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১৪ রান। একটি করে চার মারেন ফাহিমা খাতুন ও সানজিদা ইসলাম। শেষ ওভারে দরকার মাত্র ৪ রান। প্রথম চার বলে ৩ রান আসার পর পঞ্চম বলে রান আউট হন সানজিদা। শেষ বলে দরকার ১ রান। স্নায়ুচাপ সামলে ফাহিমা খাতুন ১ রান নিয়ে দলকে জয় এনে দেন। ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের স্বাদ পায় টাইগ্রেসরা।

শেষ বলে জয় পেলেও বাংলাদেশ দাপটের সঙ্গে খেলেছে পুরো ম্যাচে। জাহানারা আলম ২৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন সালমা খাতুন ও খাদিজা তুল কুবরা। বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে আগের সেরা বোলিং সালমা খাতুনের, ৬ রানে ৪ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে বল হাতে ৫ উইকেট নেন জাহানারা।

আইরিশদের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন ইসাবেল জয়েস। ২৮ রান করেন গ্যাবি লুইস।

ডাবলিনে ১৩৫ রানের জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ৪ রানে আউট হন শামীমা সুলতানা। ২৪ রান করেন আয়েশা রহমান। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ৪৯। শেষ ১০ ওভারে ৮৬ রান তুলে বাংলাদেশ জয় পায়। মিডল অর্ডারে নিগার সুলতানা ৩৮ বলে ৪৬ রান করেন। এছাড়া ১৮ বলে ২৬ রান করেন ফাহিমা খাতুন।

৪ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশ তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল। আগামীকাল শুক্রবার একই মাঠে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।

নকআউটে কলম্বিয়ার সঙ্গে জাপান

সেনেগালকে একমাত্র গোলে হারিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে গেলো কলম্বিয়া। অন্য ম্যাচে, পোল্যান্ডের কাছে হেরে ১-০ গোলে হেরেও ফেয়ার প্লে পয়েন্টের সুবিধা নিয়ে শেষ ষোলতে জাপান। তাতে ২০০২ সালেরর পর আবারও বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলো এশিয়ার এই দল।

ড্র করলেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত এমন সমীকরনের ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল জাপানের কিন্তু ইউশিনি মুতার চেষ্টা বিফল করে দেন পোল্যান্ডের গোলকিপার।

অবশ্য পোলিশদের বিপক্ষে আগের দুই মোকাবেলায় জিতেছিল জাপানই। তবে ভলগোগ্রাদে, বল পজিশনে পোলিশরা এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে গোলে শট নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে ‘সামুরাই ব্লু’রা। কোনো দল গোলের মুখ খুলতে না পারায় গোলশূণ্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমনের ধার বাড়ায় জাপান। তবে তাদের প্রচেষ্টাগুলো সফল হয়নি। উল্টো খেলার ৫৯ মিনিটে রাফাল কুরজাওয়ার দারুণ ফ্রিকিক থেকে আনমার্কড জাঁ বেডনারেক এগিয়ে দেন পোল্যান্ডকে। তাতে ২০০২ সালের পর আবারও নকআউট পর্বে ওঠার আশা ক্ষীণ হতে থাকে জাপানের।

শেষ পর্যন্ত এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পোল্যান্ড। তাতে বিশ্বকাপে গ্রুপে টানা তিন ম্যাচে না হারার রেকর্ডটা অক্ষন্ন রইলো রবার্ট লিওনডস্কির দলের। আর সমান গোল গড় হওয়ায় ‘ফেয়ার প্লে’ রেকর্ডে সেনেগালকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌছে যায় এশিয়ান প্রতিনিধি জাপান।

সামারায় অন্য ম্যাচে, সেনেগালকে শেষ ষোলতে জায়গা করে নিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করলেই চলতো। খেলার গতি-প্রকৃতি তেমনই ছিল। গোল শূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই গোলের চেষ্টা করতে থাকে।

খেলার ৭৪ মিনিটে ইয়েরে মিনা যে গোলেটি করেন তাতেই গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। আর তাতেই গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ষোলয় জায়গা পাকা করে হামেস রড্রিগেজের দল। আর পয়েন্ট এবং গোল ব্যবধান সমান হলেও জাপানের চার হলুদ কার্ডের বিপরীতে ছয় হলুদ কার্ড পা‌ওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়, সাদিও মানের দল সেনেগাল।

প্রথম রাউন্ডেই বিদায় জার্মানি

জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ^কাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় করে দিলো দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৮০ বছর পর গ্র“প পর্ব থেকে বিদায় নিল জার্মানি। এর আগে, ১৯৩৮ সালে পেনাল্টি শ্যূট আউটে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে এই লজ্জায় পড়েছিল তারা। ইনজুরি টাইমে দেয়া দুই গোলে বিশ^কাপে প্রথমবারের মতো জার্মানিকে পরাজিত করে কোরিয়ানরা।

অবিস্মরনীয় জয়ে একদিকে খুশির আমেজ, অন্যদিকে পরাজয়ের বেদনা। একপাশে আনন্দাশ্রু, অন্য পাশে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কান্না।

জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত এমন সমীকরণের ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে জার্মানি। বরাবরের মতো বল দখলে এগিয়েই ছিল। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় বারবার হতাশ হতে হয়েছে। উল্টো ১৯ মিনিটে কিম ইয়ংয়ের ফ্রিকিক দ্বিতীয় দফায় থামিয়ে দলকে রক্ষা করেন ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। ২৪ মিনিটেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কোরিয়ার। এবার ব্যর্থ সুন।

৭১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখলেও টিমো ওয়ার্নার, হ্যামেলস ও গোরেশকার ব্যর্থতায় প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া হয়নি, চারবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়নদের। জোয়াকিম লোর সব পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে কখনো কোরিয়ার রক্ষন আবার গোলরক্ষক চোর দৃঢ়তায়। শূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় জার্মানি।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোল মিসের মহড়ায় নাম লেখান টিমো ওয়ার্নার, মারিও গোমেজ ও কিমিচ। সময়ের সাথে সাথে ফিকে হতে থাকে নকআউট পর্বের আশা। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে কিম ইয়ং গোল করলে সব আশাই শেষ হয়ে যায় বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলের।

এরপর জার্মানির ব্যর্থতার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সন। এই জয়ে বিশ^কাপ থেকে বিদায় করার পাশাপাশি ২০০৪ সালের পর আবারও জার্মানির বিপক্ষে জয় পায়, এশিয়ার প্রতিনিধি দক্ষিণ কোরিয়া। এতে গত পাঁচ বিশ^কাপের মধ্যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা চারবারই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের লজ্জায় ডুবলো।

শুধু নেইমারের জন্য

মস্কোর স্পার্টাক স্টেডিয়ামে, আজ বুধবার রাতে হট ফেভারিট ব্রাজিল `ই গ্রুপে’ তাদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে সার্বিয়ার বিপক্ষে। ইতোমধ্যে তারা খেলে ফেলেছে দুটো ম্যাচ। তেমন আলো ছড়াতে পারেন নি ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার। ভক্তরা তাঁর কাছ থেকে ‘বিউটিফুল গেম’ দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেইমারকে দশবার ফাউল করা হয়েছে। তা নিয়ে কম কথা হয়নি।
কোস্টারিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে অহেতুক ডাইভ দে‌ওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। এই নাটুকেপনার জন্য সমালোচিত হন নেইমার। কোস্টারিকা ম্যাচের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভার সঙ্গে দুর্বব্যহার করার জন্যও সমালোচিত হন তিনি।

এদিকে নেইমারের পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে রিও ডি জেনিরোর ম্যালকম পাব। সার্বিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ বাকি ব্রাজিলের। ম্যালকম পাব তাদের গ্রাহকদের জন্য অভিনব অফার দিয়েছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, নেইমার যতবার মাঠে পড়ে যাবেন, ততবার বিনামূল্যে বিয়ার দেওয়া হবে।

রোনালদোকে ফিরিয়েই হিরো

পর্তুগালের বিরুদ্ধে প্রবল লড়েও ম্যাচটা জিততে পারেনি ইরান। ভাগ্য সহায় থাকলে পরের রাউন্ডে পৌঁছতেও পারতো তারা। তবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও রাশিয়া থেকে মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরছেন আলি রেজারা। ইরানের মানুষজন বলতে শুরু করেছেন, পর্তুগাল, স্পেনের গ্রুপে না থাকলে অনেক দূর যেতেও পারত তাঁদের দল।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পেনাল্টি বাঁচিয়ে এখন নায়ক ইরানের গোলকিপার আলি রেজা। লিওনেল মেসির পেনাল্টি থামিয়ে একইভাবে প্রচারের স্পটলাইট ছিলো আইসল্যান্ডের গোলকিপার হ্যানস হ্যাল্ডারসনের উপর। রোনালদোর পেনাল্টি নষ্টের রাতে বুক ভেঙেছে ইরানের।

তেহরান অবশ্য মাতোয়ারা গোলকিপার আলি রেজাকে নিয়ে। এই রাজধানী শহর থেকেই তো একদিন শুরু হয়েছিল আলি রেজার উত্থান। গরিব পরিবারে জন্ম তাঁর। পেট চালানোর জন্য একসময়ে গাড়ি ধোয়ামোছাও করতে হয়েছিল রেজাকে। রাস্তার ফুটপাথে ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি। একদিন স্থির করলেন তেহরানে পালিয়ে যাবেন। স্বপ্ন দেখতেন একদিন বড় ফুটবলার হবেন।

দেশের হয়ে খেলবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য আলি রেজা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তেহরানে। সেখানেই শুরু হয় তাঁর অনুশীলন। স্বপ্ন সত্যি করার জন্য নিজেকে ডুবিয়ে দিতেন অনুশীলনে। অনেকেই রেজাকে ফুটবল ক্লাবের সামনে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। ভুল করে তাঁকে ভিক্ষাও দিয়েছেন অনেকে। গলি থেকে রাজপথে আজ উঠে এসেছেন ইরানের গোলকিপার। বিশ্বকাপ তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে। রোনাল্ডোর পেনাল্টি বাঁচিয়ে আলি রেজা এখন সুপারস্টার।

ঈশ্বর ছিলেন আর্জেন্টিনার সঙ্গেই: মেসি

নাইজেরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলতে আর্জেন্টিনা। সঙ্গে বিশ্বকাপে থাকলেন লি‌ওনেল মেসি‌ও। ফুটবলশিল্পও বেঁচে রইল রাশিয়া বিশ্বকাপে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সেন্ট পিটার্সবার্গে ম্যাচের ১৪ মিনিটে ফুটবলবিশ্ব আবারও দেখল তাঁর শিল্প। বানেগার বাড়ানো প্রায় ১৫ গজের পাস তাঁর কাছে আসার পর লিওনেল মেসি সেটা দেখলেন। বাঁ পায়ের ঊরুতেই সেই বল যেন আটকে গেল। বল নামালেন, এবং ডানপায়ের একটা টোকা। সেন্ট পিটার্সবার্গে ৬৪ হাজার দর্শকের আবেগের এক বিস্ফোরণ। ভিআইপি বক্সে বসে থাকা দিয়েগো ম্যারাডোনার চোখের জলে যেন তারই প্রতিফলন।

খেলা শেষে লি‌ওনেল মেসি জানান, ‘ জানতাম,ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন। আর উনি আমাদের বিশ্বকাপ থেকে বিতাড়িত করে দেবেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। জেতার আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। আশা করবো, সমস্ত আর্জেন্টিনা আমাদের পাশে ছিল এবং বিশ্বকাপ জুড়ে থাকবে। প্রত্যেক সমর্থককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত জয়ের গোলদাতা মার্কোস রোহো। তিনি জানান, ‘বিরতিতে লিও আমাদের বলেছিল লড়াই না ছাড়তে। প্রয়োজনে ও-ও গোল করবে।’

এই ম্যাচ জেতার জন্য মেসির একাগ্রতা দেখে মুগ্ধ ফুটবলবিশ্বও। প্রাক্তন তারকা রিও ফার্ডিনান্ড বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে মেসি ম্যাজিক দেখে মনে হয়েছিল আজ জেতার জন্য ওরা বদ্ধপরিকর। দ্বিতীয়ার্ধে সেই গতিটা ছিল না। কিন্তু এই জয় আর্জেন্টিনার দলীয় সংহতি বাড়িয়ে দেবে।’

আগামী শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ‌ওঠার ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। এদিকে, গ্রুপে শেষ ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকেই নকআউট পর্বে ‌ওঠে ক্রোয়েশিয়া। আগামী রবিবার ডেনমার্কের বিরুদ্ধে নামবেন লুকা মদ্রিচ’রা।

ড্র করলেই নকআউটে ব্রাজিল

ড্র করলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত, এটা জেনেই মস্কোর স্পাটার্ক স্টেডিয়ামে আজ বুধবার রাতে সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। তবে সেলেসা‌ওরা কখনই ড্রয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামে না। তারা চায় বড় ব্যবধানে জয়। যাতে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে মাঠে নামতে পারবে।

কোচ তিতেও চান তাঁর দল দ্বিতীয় রাউন্ডের আগে অন্তত একটা ম্যাচ বেশি গোলের ব্যবধানে জিতুক। আগের দু’টি ম্যাচে বড় জয় পায়নি। ফুটবল নিয়ে ব্রাজিলিয়ানদের বাঁধন ছেঁড়া আবেগ অনেক ক্ষেত্রেই অতীতে সাম্বা ব্রিগেডকে কাঁদিয়েছে। ১৯৮২’র বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির নন্দিত স্ট্রাইকার পাওলো রসির হ্যাটট্রিকে ‘ছুটি’ হয়ে গিয়েছিল জিকো-সক্রেটিস-ফালকাওদের। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর কোস্টারিকাকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করার ম্যাচে ব্রাজিলের দু’টো গোলই আসে খেলা শেষের ইনজুরি টাইমে।

ব্রাজিলের স্বপ্ন এখন আবর্তিত হচ্ছে ফিলিপে কুটিনহো ও নেইমারকে কেন্দ্র করে। কুটিনহো প্রথম দু’টো ম্যাচেই ব্রাজিলের হয়ে গোলের খাতা খুলে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন। সুইসদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম গোলটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। আর কোস্টারিকার বিরুদ্ধে রোমারিওর স্টাইলে বুটের ডগা দিয়ে করা গোলটি প্রখর উপস্থিত বুদ্ধির ফসল। নেইমার ও কুটিনহো দু’জনেই গোল পেয়ে এখন চাপমুক্ত। ডগলাস কস্টার আঘাত রয়েছে। কোচ তিতে তাই রবার্তো ফিরমিনোকে প্রথম একাদশে রাখতে পারেন। পাওলিনহোর জায়গায় ফার্নান্দিনহো এবং রেনাতো অগাস্টোর কথাও মাথায় আছে কোচের। মাঝমাঠে উইলিয়ান মন্দের ভালো। রাইট ব্যাকে চোট পাওয়া ড্যানিলোর জায়গায় অনভিজ্ঞ ফাগনার কিংবা মার্কুইনহোস খেলবেন। বাকি তিন ডিফেন্ডার যথারীতি মার্সেলো, থিয়াগো সিলভা ও মিরান্দা। গোলে অবশ্যই অ্যালিসন।

এদিকে, সার্বিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী দল। দুই উইং ব্যাকে কোলারভ ও ইভানোভিচ অনেক ম্যাচ খেলায় অভিজ্ঞ। এছাড়া দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার অ্যালেকজান্ডার মিত্রোভিচ শূন্যে ও জমিতে ফাঁকায় বল ফেলে নেট ছিঁড়ে দিতে পারেন। তিন বছর আগে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্যাব্রিয়েল হেসাস সহ ব্রাজিল দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে সার্বিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই দলের পাঁচজন বুধবার খেলবেন। এই জয়ই সার্বিয়ার অনুপ্রেরণা।

শেষ ষোলতে আর্জেন্টিনা

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ-ডি’র দ্বিতীয় দল হিসেবে নক-আউট পর্বে উঠেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। সমান ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে পরবর্তী পর্বে পৌঁছাল ক্রোয়েশিয়া।

আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি এদিন প্রথম একাদশে ছয়টি পরিবর্তন করে দল মাঠে নামান। সবার সামনে মেসির পাশে গঞ্জালো হিগুয়েন। মাঝমাঠে জেভিয়ার মাসচেরানো, এভার বানেগা, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও এনজো পেরেজ। ম্যাচের শুরু থেকেই ‘প্রেসিং অ্যান্ড পজেশনাল’ ফুটবল উপহার দিয়ে প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়াকে কোণঠাসা করে আর্জেন্টিনা। ১৪ মিনিটে দলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন মেসি। মাঝমাঠ থেকে এভার বানেগার বাঁ পায়ের উরুর পেলব স্পর্শে নামিয়ে, বাঁ পায়ের নিয়ন্ত্রণে নেন। দুরন্ত রিসিভেই তিনি পিছনে ফেলেন মার্কারকে। এরপর ডান পায়ের কোনাকুনি শটে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে কাঁপিয়ে বল জড়িয়ে দেন জাল (১-০)। লক্ষ্যভেদের পরেই কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে দৌড়ে গিয়ে হাঁটু মুড়ে দু’হাত আকাশের দিকে তুলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান মেসি। সেই মুহূর্তে বিশেষ বক্সে থাকা দিয়েগো ম্যারডোনাকেও দেখা যায় দু’হাত কোনাকুনি করে কাঁধে রেখে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করতে। আসলে উত্তরসূরির দুরন্ত গোলে স্বস্তি পেয়েছেন ১৯৮৬’র অবিসংবাদিত নায়ক।

শুরু থেকেই মেসি ছিলেন প্রাণবন্ত, চনমনে। এছাড়া বাকিদের মধ্যেও হার না মানা মনোভাব দেখা গিয়েছে। ২৮ মিনিটে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত থ্রু খুঁজে নিয়েছিল গঞ্জালো হিগুয়েনকে। কিন্তু তাঁর দুর্বল পুশ রুখে দেন নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক। এর মিনিট সাতেক পরে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে বক্সের সামান্য বাইরে ফাউল করা হলে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসির বাঁ পায়ের অনবদ্য শট বিপক্ষ গোলরক্ষকের প্রসারিত হাতের নাগাল এড়িয়ে দ্বিতীয় পোস্টে প্রতিহত হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরে আফ্রিকার দেশটি। কর্নার নেওয়ার সময় বক্সের মধ্যে বালোগানকে টেনে ফেলে দেন মাসচেরানো। তুরস্কের রেফারির তা চোখ এড়ায়নি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাসচেরানোকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপর ভার প্রযুক্তির সহযোগিতায় পেনাল্টির নির্দেশ বহাল রাখেন। স্পটকিক থেকে জাতীয় দলে অভিষিক্ত আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আরমানিকে হার মানাতে অসুবিধা হয়নি মোজেসের (১-১)।

এই গোলের পর হঠাৎই ছন্দপতন সাম্পাওলির দলের। একাধিক ভুল পাস খেলে তারা প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়াকে ম্যাচের রাশ ধরার সুযোগ করে দেয়। ৭৬ মিনিটে দুরন্ত প্রতি-আক্রমণে আর্জেন্টিনার গোলমুখ প্রায় খুলে ফেলেছিল নাইজেরিয়া। বাঁ দিক ভেসে আসা বল হেডে ক্লিয়ার করার সময় তা হাতে লাগে মার্কোস রোহোর। তবে এবার ভার প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে রেফারি হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টির নির্দেশ দেননি।

দ্বিতীয় গোলের জন্য আবার‌ও দলে পরিবর্তন আনেন সাম্পাওলি। ৮১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে রোহোর মাইনাস সুবিধাজনক অবস্থায় পেয়েও তা ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন হিগুয়েন। তবে ৮৬ মিনিটে অতি মূল্যবান জয়সূচক গোল তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ডানদিক থেকে মার্কাদোর সেন্টার বক্সের মধ্যে পেয়ে রোহোর ডান পায়ের শট কাঁপিয়ে দেয় জাল (২-১)। এই গোলই নক-আউট পর্বে তুলে দেয় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশি বাজতেই মেসিকে জড়িয়ে ধরেন সহ-ফুটবলাররা। নিজের সঙ্গে বিশ্বের শত কোটি আর্জেন্টিনা ভক্তকে‌ও নির্ভার করার আনন্দ তখন তাদের।

শীর্ষদল হিসেবে নকআউটে ফ্রান্স

ডেনমার্কের সাথে গোলশূন্য ড্র করে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে উঠেছে ফ্রান্স। আর সমান খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ডেনমার্ক। আরেক খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে তিন পয়েন্ট নিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে পেরু।

জয় নয়, ড্র করলেই শীর্ষে; এমন সমীকরণের ম্যাচে, দলে ছ’টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। তবু খেলার শুরুতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, ফরাসীদের এ চেষ্টা সফল হলে ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো তারা। তাদের সফল হতে দেননি ডেনিস গোলকিপার স্মাইকেল।

উল্টো ৩০ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনাও জাগে তাদের। কিন্তু গোলকিপার মান্দান্দার কল্যাণে সে যাত্রায় বেঁচে যায়, ‘লা ব্লুু’রা।

প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণ করেও ডেনমার্কের কঠিণ রক্ষণে গোলের দেখা পায়নি ১৯৯৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ফেভারিট ফ্রান্সের আক্রমণগুলো খেঁই হারায় ডেনমার্কের সীমানায়। কখনো আবার এলোমেলো শটে গোলের সুযোগ হারায় ফ্রান্স।

অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ডেনমার্ক। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ প্রাচীর ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা।

৮২ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেকিরের দারুণ প্রচেষ্টাও রুখে দেন ডেনমার্কের গোলকিপার। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দু’দল। তাতে চলতি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ গোল শূন্য অবস্থায় শেষ হয়।

এদিকে গ্রুপের অন্য ম্যাচে, প্রথমার্ধে ক্যারিল্লো এবং দ্বিতীয়ার্ধে গুয়েরোর দেয়া দুই গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয়ের আনন্দ নিয়েই ঘরে ফেরে, ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে আসা পেরু।

স্পেন `বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন

নাটকীয় ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে মরক্কোর সাথে ২-২ সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়লো স্পেন। আর তাতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিলো তারা। আর অন্য ম্যাচে পর্তুগালের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো ইরান। আর এতে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলোতে উঠলো পর্তুগিজরা।

ইনজুরি সময়ের দুই মিনিট। কালিনিনগ্রাদে স্পেনের ভাগ্য তখন ভিভি‌ও অ্যাসিসটেন্ট রেফারির হাতে। সবুজ সংকেতে হারতে বসা ম্যাচে তারা বাঁচলো ড্র করে।

ইনজুরি সময়ের দুই মিনিট সারানস্কেও। এখানেও আলোচনায় ভিডিও অ্যাসিসটেন্ট রেফারি। এবার করিম আনসারির গোল ইরানকে ক্ষনিকের জন্যও আশা দেখালো।

নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে এই গ্রুপে তিন দলেরই সমান সুযোগ ছিলো। সেখানে স্পেনের বিপক্ষে ১৪ মিনিটেই লিড মরক্কোর।

রক্ষণের ভুলের মাশুল বেশীক্ষন গুনতে দেননি ইসকো। পাঁচ মিনিটের মাথায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সমতায় ফেরে তার গোলে।

পাসিং ফুটবল, বল পজিশন লা রোজারা খেলেছে তাদের নিজস্ব স্টাইলেই। আর মরক্কো চেয়েছে পাল্টা আক্রমনে কাঁপিয়ে দিতে। ৮১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় নেসাইরি সেই কাজটিই করলেন।

৭৫ ভাগ বল দখল। প্রতিপক্ষের জালে ১৮ শট। তারপরও ২-১ এ পিছিয়ে পড়া স্পেন তখন বাদ পড়ার শঙ্কায়। কারণ অন্য ম্যাচে ইরানের জয়ই পাল্টে দিতে পারে সব সমীকরণ।

তখনই মঞ্চে আসপাস। যদিও অফসাইডে শুরুতে বাতিল হয়ে যায় এই গোল। শেষ পর্যন্ত ভিএআরে রক্ষা স্পেনের।

তবে নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি এশিয়ার প্রতিনিধি ইরান। ৯৪ মিনিটে মেহেদী তারেমি শেষ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারতো তারা। কিন্তু তা হয়নি।

তবে মরদোভিয়া এরেনার এই ম্যাচের ৪৫ মিনিটে পর্তুগাল এগিয়ে যায় ডি বক্সের বাইরে থেকে রিকার্ডো ক্যারিজমার অবিশ্বাস্য এক শটে। এরপর আবার‌ও এগিয়ে যা‌ওয়ার সুযোগ ছিল পর্তুগিজদের। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও তাকে কাজে লাগাতে পারেননি দলের প্রাণভোমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাকে ফিরিয়ে দিয়ে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক বিশ্বকাপে পেনাল্টি ঠেকানোর রেকর্ড গড়েন ইরানের গোলকিপার ইশাম আল হাদারি।

আনসারির গোল শেষ পর্যন্ত ম্যাচে সমতায় ফেরালেও চার পয়েন্ট নিয়ে বাদ পড়ে ইরান। গ্যালারিতে তখন বিষাদের ছায়া। এত কাছে এসেও নকআউট পর্ব মিসের হতাশা। তবে এবারের আসরে দর্শকদের মন ভরিয়েই বিদায় নিলো তারা।

পেনাল্টির রেকর্ড রাশিয়া বিশ্বকাপে

রাশিয়া বিশ্বকাপ পেনাল্টির রেকর্ড করলো। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের মোট পেনাল্টি হয়েছে ১৯ টি। কিন্তু এর আগে বিশ্বকাপের এক আসরে এতো পেনাল্টি কখনো হয়নি। মাত্র ৩৬ ম্যাচে এতো পেনাল্টি! আরো তো খেলা আছে অনেক। কে জানে এই বিশ্বকাপে পেনাল্টির সংখ্যা কোথায় গিয়ে থামে!

মঙ্গলবার রাতে ইরানের বিপক্ষে পর্তুগাল যে পেনাল্টি পায় সেটিই এবারের বিশ্বকাপের ১৯ তম। অবশ্য সেই পেনাল্টি কোনো কাজে আসেনি পর্তুগিজদের। তাদের মহাতারকা রোনালদোকে হতাশ করেন ইরানের গোলকিপার। অবশ্য গোল হলে পর্তুগালের লিড আরো বাড়তো। কিন্তু পেনাল্টি তার হিসেব মতো ঠিকই থাকতো।

সোমবার রাতে মিশরের বিপক্ষে দুটো পেনাল্টি পায় সৌদি আরব। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি রেকর্ড স্পর্শ করে এবারের বিশ্বকাপ। এর আগে ১৯৯০, ১৯৯৮ ‌ও ২০০২ বিশ্বকাপে পেনাল্টি হয়েছিল মোট ১৮ টি।

বিশ্বকাপ ট্রফিতে কোকেন

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ভাগ্য ঝুলে রয়েছে অঙ্কের হিসেবে। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বকাপ জয় তো দূরের কথা প্রথম রাউন্ড থেকেই ঘরে ফেরার শঙ্কায় এখন আর্জেন্টিনা। তাতে কি, আর্জেন্টানার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনার কোনও খামতি নেই। আর সেই উত্তেজনা কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নেমেছে মুনাফার খোজে। বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকার মধ্যে কোকেন ভর্তি করে পাচার করা হচ্ছে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬ জনকে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ‘নার্কোস ডে লা কোপা’ নামের একটি পাচার চক্র কাজ করছিল আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে। এদের কোকেন পাচারের ধরনও ছিল অভিনব। পুলিশের নজর এড়াতে এরা পাচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকাকে। নকল ট্রফি বানিয়ে তাঁর ভিতরে ভরতি করা হত কোকেন ‌ও মারিজুয়ানার মতো নিষিদ্ধ মাদক। যেহেতু বিশ্বকাপের মৌসুম, তাই ট্রফি হাতে ফাকা রাস্তা দিয়ে গেলেও পড়তে হত না পুলিশের সন্দেহের আওতায়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না পাচারকারীদের। গত শুক্রবার রাতে একইভাবে মাদক পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে চক্রটির বেশ কয়েকজন সদস্য। চক্রটির কাছ থেকে ২০ কেজি মারিজুয়ানা, ১০ কেজি কোকেন উদ্ধার হয়েছে। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জনকে। এদের মধ্যে আবার দু’জন জন মহিলা।

লুকাকু: ফুটবলের চির পুরাতন গল্প

বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে হ্যারি কেন ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে সমানে পাল্লা দিচ্ছেন তিনি। এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনের পাশাপাশি তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্মের’ আশার স্বপ্ন।
কিন্তু, রোমেলু লুকাকুর এই উত্থান মোটেই স্বপ্নের সরণী বেয়ে নয়। ছেলেবেলায় মারাত্মক আর্থিক অনটনই ছিল তাঁর সঙ্গী।

বিশ্বকাপের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুকাকুর স্মৃতিচারণা, ‘প্রতিদিনই লাঞ্চের মেন্যুতে থাকত শুধু রুটি আর দুধ। তবে সেই দুধ খাঁটি নয়। জল মেশানো। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে খেতে চেয়েছিলাম। সামান্য দেরি হচ্ছে দেখে রান্নাঘরে ঢুকে দেখি, দুধের গ্লাসে জল মেশাচ্ছেন মা। আমি ঢুকতেই কেঁদে ফেললেন। তারপর আমায় বুকে জড়িয়ে ধরে বেড়ে গেল কান্নার তীব্রতা। মায়ের সেই ছবি এখনও স্পষ্ট মনে আছে। বাড়িতে ছিল না কারেন্টও। কারণ, সেই সময় বেলজিয়ামে বিদ্যুতের দাম ছিল প্রচণ্ড। তাই বিল কমানোর জন্য রাতের বেলায় অন্ধকারে থাকারই অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। তারই মধ্যে আমরা দুই ভাই মিলে মাকে সান্ত্বনা দিতাম, এই অভাবের দিন তাড়াতাড়ি কাটবে।’

প্রথম দু’টি ম্যাচে চার গোল করে অনেকের কাছেই নায়কের মর্যাদা পেয়ে গেছেন রোমেলু লুকাকু। কিন্তু, বেলজিয়াম সমর্থকদের একাংশ এখনও তাঁকে দেখে অন্য চোখে। এলিট ক্লাসের ফুটবলার হিসেবে মানতে চান না। কারণ একটাই। ইউরোপের এই দেশে গরীব হয়ে জন্মালে অবহেলা নিত্যসঙ্গী। সমাজের তথাকথিত ধনীরা দরিদ্রকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। দেখে অবহেলার চোখে। তাই বেলজিয়ামের হয়ে গোলের পর গোল করলেও কেভিন ডি ব্রুইন-এডেন হ্যাজার্ডদের মতো ভালোবাসা এখনও লুকাকুর অধরা। বর্তমানে ফুটবল খেলে যথেষ্ট রোজগার করলেও ধূসর অতীতের মধ্যে দিয়েই তাঁকে চেনেন অনেকে। সুযোগ পেলেই ভরিয়ে দেন সমালোচনায়।

প্রচণ্ড আর্থিক অনটনের মধ্যে বড় হলেও ফুটবলের প্রতি প্রেমই বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে লুকাকুর। প্রতিটি ম্যাচেই গোল করতে চাইতেন তিনি। ভাবতেন, এই চামড়ার বলই তাঁর হাতে তুলে দেবে সাফল্যের পেয়ালা। গত শনিবার তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার ২৪ ঘণ্টা আগে আক্ষেপের সুরে লুকাকুকে বলতে শোনা যায়, ‘বেলজিয়ামের অনেকেই চান আমি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হই। এ এক নিদারুণ যন্ত্রণা… যা আমাকে আরও গোল করতে প্রতি মুহূর্তে উৎসাহিত করে।’

রোমেলু লুকাকুর বাবা-মা, দু’জনেই কঙ্গোর অভিবাসী। আর্থিক অনটনকে জয় করার লক্ষ্যেই তাঁরা বেলজিয়ামে আসেন। বাবা রজার লুকাকু পেশাদার ফুটবলার হলেও সৌভাগ্যের খোঁজে দেশ ছাড়ায় সেই স্বপ্নের অকালমৃত্যু ঘটে। তাই তিনি চাইতেন, দুই ছেলেই যেন নামী খেলোয়াড় হতে পারেন। তবে চাইলেই তো আর সবকিছু পাওয়া যায় না! রোমেলু ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড জোরে বলে শট নিতে পারেন। সেই সময় অবশ্য কোনও ট্রেনিং সেন্টারে ছেলেকে ভরতি করানোর মতো সামর্থ ছিল না রজারের। ১৬ বছর বয়সে এক বন্ধুর সহযোগিতায় রোমেলু যোগ দেন অ্যান্ডারলেখটে। তারপর চেলসি, এভারটন ঘুরে তিনি এখন হোসে মরিনহোর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে।

তবে ক্লাব ফুটবল নয়, এই মুহূর্তে লুকাকুর মনে একটাই স্বপ্ন। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। পানামা ও তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি করে গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে। মনের কোণে রয়েছে স্বপ্ন, দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারলে হয়তো ধূসর অতীত ভুলে গিয়ে তাঁকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দেবেন বেলজিয়ামবাসীরা।

সালাহর অবসরের হুমকি

মিশরের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন মোহাম্মদ সালাহ। চেচনিয়ার নেতাদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখাটাকে ভালভাবে নেননি লিভারপুলের ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপের পরই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সালাহ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চেচনিয়ান প্রজাতন্ত্রের নেতা রামজান কাদিরভের সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে সালাহকে, তাকে সম্মানসূচক নাগরিত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন কাদিরভ। মিশরের বিশ্বকাপ ঘাঁটিতে এসেছিলেন তিনি, সেখানেই এমন কথা জানান।

২০০৪ সাল থেকে চেচনিয়ার নেতৃত্বে কাদিরভ, তবে বিশ্বে তিনি বেশ বিতর্কিত। তার কঠোর শাসন ও বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে আছে বেশ সমালোচনা। সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতিও তার দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আছে বিতর্ক।

সংবাদ সংস্থা এপি জানায়, এই ছবি তোলর পর যে সমালোচনা এবং রাজনৈতিক যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা নিয়ে স্বস্তিতে নেই সালাহ। জাতীয় দলের হয়ে সালাহর এটাই প্রথম বিবাদ নয়, এর আগে মিশরের ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ছবির সত্ত্ব নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছিলেন তিনি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চোট পেয়ে বাইরে চলে যাওয়া সালাহর বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে এর আগে চলেছে বেশ জল্পনা-কল্পনা। শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটা সালাহ খেলতে পারেননি। মিশর এরই মাঝে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে, সোমবার সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের শেষ ম্যাচ।

লড়াইয়ে টিকে রইল কলম্বিয়া

পোল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এইচ গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখলো কলম্বিয়া। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট এখন তিন। আর এক ম্যাচ বাকী থাকতেই এই গ্রুপ থেকে বিদায় ঘন্টা বেজে গেল লেভানডস্কির দল পোল্যান্ডের।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সব ভবিষ্যতবাণী যে এভাবে ভুল মিথ্যে হবে কে ভেবেছিল? ৭৫ মিনিটে কুয়াদ্রাদোর গোলের পরেই নিশ্চিত হয়ে যায় এবারের মতো শেষ হচ্ছে পোলিশদের বিশ্বকাপ যাত্রা।

অথছ লড়াইটা ছিলো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। কাজানে, সেই ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট ল্যাতিনদের। ৪০ মিনিটে ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনার হেডে ভাঙ্গে পোলিশ রক্ষণ।

কলম্বিয়ার পাসিং, আর গতির কাছে অসহায়ই হয়ে পড়ে পোল্যান্ড। দুর্দান্ত হোসে প্যাকারম্যানের শিষ্যরা ব্যবধান ২-০ করে রাদামেল ফ্যালকাওয়ের গোলে। শেষ পর্যন্ত জয়টা ৩-০ তে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার পথে কলম্বিয়ার শেষ বাধা সেনেগাল।

আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ রেফারি

রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার মধ্যকার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি পরিচালনা করবেন তুরস্কের রেফারি কানিয়েত কারিক। তাকে সহায়তা করবেন স্বদেশী বাহাত্তিন দুরান ‌এবং তারিক অনগাম।

আর চতুর্থ রেফারি হিসেবে থাকবেন নেদারল্যান্ডসের বোর্ন কিউপিরেস।

সেনেগালের সঙ্গে ড্র জাপানের

গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্বার ছিল সেনেগাল। ইউরোপের দলটিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে বড় চমক দেখিয়েছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচে সেনেগালের সেই চমক আর থাকেনি। উল্টো তাদের কাছ থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে চমকে দিয়েছে জাপান। এই দুই দলের জমজমাট লড়াইটি শেষ হয় ২-২ গোলের সমতায়।

রোববার রাতে একাতেরিনবার্গে অবশ্য শুরুতেই এগিয়ে যায় সেনেগাল। ১১ মিনিটে ম্যাচ সেরা সাদিও মানে আফ্রিকার দেশটিকে লিড এনে দেন। কিন্তু এশিয়ার দল জাপান প্রথম ম্যাচের জয়ে আরো উজ্জীবিত তারা ছেড়ে কথা বলবে কেন। ৩৪ মিনিটেই গোল পরিশোধ করেন মিডফিন্ডার তাকাশি ইনুই।

বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে খেলাটি আরো জমিয়ে তোলে দু’দল। খেলার ৭১ মিনিটে সাফল্য পায় সেনেগাল। পরিকল্পিত এক আক্রমণে মুসা উয়েগুর কল্যাণে আবার‌ও লিড পায় সেনেগাল।

তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায়নি। ৭ মিনিট পর জাপানের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কেইসুকি হোন্ডা ম্যাচে ২-২ গোলে সমতা ফেরান। বাকী সময়ে কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দু’দল।

এতে দুই ম্যাচে একটি জয় আর একটি ড্রতে ৪ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করল দু’দল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আগামী ২৮ জুন সেনেগাল মুখোমুখি হবে কলম্বিয়ার এবং জাপান লড়বে পোল্যান্ডের বিপক্ষে।

অনুশীলনেই জন্মদিন পালন মেসির

জন্মদিন পালন নিয়ে আলোচনার কমতি ছিলনা মিডিয়ায়। বিশ্বকাপের আয়োজন দেশ রাশিয়া‌ও লি‌ওনেল মেসির জন্মদিনে দারুণ উপহার পাঠিয়েছিল। কিন্তু কোনো আড়ম্বর ছিলনা শুধু মেসিরই। দলের অনুশীলনেই উদযাপন করলেন ৩১ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহা তারকা নিজের জন্মদিন।

মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে থাকলেন সারাক্ষণ। সার্জি‌ও অ্যাগুয়েরোর সঙ্গে কিছুক্ষণ খুনসুটি‌ও করলেন। কোচ হোর্হে সাম্পা‌ওলি এসে জানিয়ে যান জন্মদিনের শুভেচ্ছা‌ও।

দলের সকল সদস্যরা ঘিরে ছিলেন তাকেই। তবে আনন্দ-উল্লাসের মাঝে‌ও সবাই অনুশীলনে ছিলেন দারুণ সিরিয়াস। কারণ আগামী ২৬ জুন যে তাদের বাচা-মরার লড়াই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাইজেরিয়ার সঙ্গে। এই ম্যাচ জিততে না পারলেই যে নকআউট পর্ব থেকেই গুডবাই জানাতে হবে বিশ্বকাপকে। অবশ্য জিতলেই যে নকআউটে যাবে আর্জেন্টিনা তেমনটা নয়। জয়ের সঙ্গে মেলাতে হবে অনেক সমীকরণ‌ও।

অনুশীলন থেকে ফিরে এসে সন্ধ্যায় কেক কেটে নিজের ৩১ তম জন্মদিনকে উদযাপন করলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লা‌ওনেল মেসি।

বিশ্বকাপের দুই ম্যাচের নিষিদ্ধ শাকিরি ও শাকা

বিশ্বকাপের ম্যাচে দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন সুইজারল্যান্ডের দুই খেলোয়াড় জারদান শাকিরি ও গ্র্যান্ট শাকা। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাদের গোল উদযাপনের ভঙ্গিকে রাজনৈতিক উষ্কানিমূলক বলে উল্লেখ করে দুজনকেই দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা।

আলবেনিয় বংশোদ্ভূত শাকা ও জন্মসূত্রে কসোভোর নাগরিক শাকিরি তাদের দেশের সাধারণ মানুষের ওপর সার্বিয় সেনাবাহিনীর গনহত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোল উদযাপন করেছিলেন। নব্বইয়ের বলকান যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে দেশ ছাড়া এই দুই ফুটবলার তাই গোল উদযাপনে দেখিয়েছেন নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক প্রতীক।

এই দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাতেই কেবল ঝামেলা মিটছে না। তাদের বিরুদ্ধে আরো গভীর তদন্তের কথাও জানিয়েছে ফিফা।

হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিকে নকআউটে ইংল্যান্ড

অধিনায়ক হ্যারি কেনের দারুণ হ্যাটট্রিকে নবাগত পানামাকে ৬-১ গোলে হারিয়ে ‘জি’ গ্রুপ থেকে বেলজিয়ামের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠলো ইংল্যান্ড। দুটি গোল করেন জন স্টোনস। বিশ্বকাপে এইটিই ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় জয়। বড় ব্যবধানে হারলেও পানামার ফিলিপে ব্যালয় বিশ্বকাপে চতুর্থ বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করে নিজেকে অমরত্ব দেন।

সবচেয়ে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার আনন্দ ইংলিশ শিবিরে। তবে অধিনায়ক হ্যারি কেনের উল্লাসটা একটু বেশিই। পানামার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি যে এখন ইংলিশ লিজেন্ড জিওফ হাস্ট ও গ্যারি লিনেকারের কাতারে।

নিঝনি নভোগ্রোদ স্টেডিয়ামে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই গতি-স্কিল আর টার্গেটে বল পাঠানোর পাল্লায় ইংলিশদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে পানামা। তাতে ৮ মিনিটেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলে ইংলিশদের এগিয়ে নেন জন স্টোনস। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটি তার প্রথম গোল।

এরপর অ্যাকশনে নামেন ইংল্যান্ডের হ্যাটট্রিক হিরো অধিনায়ক হ্যারি কেন। প্রথম গোল ২২ মিনিটে স্পটকিকে। তাতে দলের লিড ২-০। এরপর প্রথমার্ধের শেষ নয় মিনিটে আরো তিন গোল করে ৫-০ তে এগিয়ে বিরতিতে যায় সাউদগেটের দল। যেখানে টটেনহাম তারকার অবদান আরো এক গোল।

ম্যাচের ৬২ মিনিটেই এবারের আসরে রোনালদোর পর হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়ে যান কেন। বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংলিশ হিসেবে এই গৌরবের ভাগীদার হলেন তিনি। তাতে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে রোনালদো আর লুকাকুর সঙ্গে গোল্ডেন বুট জয়ের দাবীও জানিয়ে রাখলেন।

বিধ্বস্ত পানামার সান্তনা এক গোল শোধ দেয়া। ৭৮ মিনিটে বিশ্বকাপে চতুর্থ বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ফিলিপে ব্যালয় নাম লেখান স্কোরারের তালিকায়।

বিশ্বকাপে টিকে থাকলো জার্মানি

সুইডেনের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপে টিকো রইলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। সোচিতে পিছিয়ে পড়েও সুইডিশদের ২-১ গোলে হারিয়েছে জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা। ৮২ মিনিটে জেরোমি বোয়েটেংয়ের লালকার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তখনও খেলা ১-১ সমতায়। তবে ইনজুরি টাইমে টনি ক্রুসের দুর্দান্ত কিকে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

উত্তেজনার বারুদে ঠাসা আর শিহরণ জাগানো ম্যাচে জার্মানির রোমাঞ্চকর এক জয়। সুইডেনের বিপক্ষে এই জয় বিশ্বকাপে টিকে থাকার, জার্মানির আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ এক উদাহরণ।

অথচ কঠিন এক সমীকরণ সামনে রেখে সুইসুদের বিপক্ষে মাঠে নামে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। হারলেই বিদায় আর ড্র করলে বিশ্বকাপের ভাগ্যটা ঝুঁলে থাকবে সুতোয়। নিজেদের সামর্থ্যে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিলোনা জার্মানদের। তাই খেলার শুরু থেকেই সুইডেনের ওপর চড়াও হয় তারা।

পাল্টা আক্রমণে সুইডিশরাও দাঁত ভাঙা জবাব দেয় জার্মানদের। বর্তম্যান চ্যাম্পিয়নরা খেলায় আধিপত্য বিস্তার করলেও, প্রথমার্ধে চোখ রাঙিয়েছে সুইডেনই। ৩২ মিনিটে জার্মানদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয়ার শঙ্কায় ফেলে দেন সুইডিশ স্ট্রাইকার ওলা তাইভোনেন।
বিরতি থেকে ফিরে পিছিয়ে থাকা জার্মানিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরান মারকো রয়েস।

এরপর যতই সময় গড়িয়েছে জার্মানদের জয়ের স্বপ্ন ততই ফিঁকে হয়ে আসে। বারবার আক্রমনে সুইডেনকে কোনঠাসা করলেও লিড নিতে পারছিলনা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর ৮২ মিনিটে বোয়েটেংয়ের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে ১০ জনের দলে পরিনত হয় তারা। তবে আক্রমনের ধার একটুও কমেনি। ফরোয়ার্ডের ব্যর্থতার সাথে সুইডিশ গোলরক্ষক ওলসেনের অপরাজেয় মানসিকতা, ক্রমেই হতাশ করে জার্মান ভক্তদের।

তবে শেষ নাটকীয়তা হয়ত টনি ক্রুসের কাছেই জমা ছিলো। ইনজুরি সময়ে পাওয়া ফ্রি কিকটার অসাধারণ ব্যবহার দেখালেন ক্রুস। তাতে বিশ্বকাপে বেঁচে থাকার রসদ পাওয়ার উল্লাসে মাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

নান্দনিক আর কুশলী ফুটবল দিয়ে পাহাড় সমান চাপকে কিভাবে জয় করতে হয় তারই যেন অনন্য একটা উদাহরণ তৈরী করলো জার্মানি।

মেসির জন্মদিন আজ

ফুটবলের ক্ষুদে জাদুকর লি‌ওনেল মেসির জন্মদিন আজ। ভিন গ্রহের এই ফুটবলার আজ ৩১ পেরিয়ে ৩২ বছরে পা দিলেন। শুভ জন্মদিন ফুটবলের জাদুকর লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

মেসির জন্ম ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে। ২০০০ সালে চলে আসেন বার্সেলোনায়। যুব দল পেরিয়ে ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নাম লেখান বার্সেলোনার সিনিয়র দলে। তারপর টানা ১৪টি বছর ধরে পুরো ফুটবল বিশ্বকেই মাতিয়ে রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চারবার জিতেছেন ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। ২০১৫ সালে এই পুরস্কারটা জিতেছেন পঞ্চমবারের মতো। একের পর এক রেকর্ড গড়ে আর মাইলফলক পাড়ি দিয়ে হয়ে উঠেছেন এসময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

তার হাত ধরে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকায় মোট তিনবার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ভাগ্য তার সঙ্গে ছিল না। একবারও শিরোপা জেতায় হয়নি ভিনগ্রহের এই ফুটবলারের। বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের মিশন নিয়ে আর্জেন্টিনা রাশিয়ায় এসেছে। অবশ্য তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ভালো ব্যবধানে জিততে পারলে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারবে তারা। জন্মদিনে সেটাই হয়তো হবে লিওনেল মেসির জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

শুধু দ্বিতীয় রাউন্ড নয়, কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলুক মেসির আর্জেন্টিনা। তার হাত ধরেই ৩২ বছরের শিরোপার আক্ষেপ ঘোচাক আলবিসিলেস্তারা। বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁয়ে কিংবদন্তি হয়ে উঠুক লিওনেল মেসি। বিশ্বে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীদের এমনটাই চাওয়া।

নকআউটে সোনালী প্রজন্মের বেলজিয়াম

অধিনায়ক এডেন হ্যাজার্ড ও রোমেলু লুকাকু জোড়া গোলে তিউনিসিয়াকে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে ‘জি’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে উঠে গেলো ‘সুপারস্টারদের দল’ বেলজিয়াম। সেই সঙ্গে দুই ম্যাচে চার গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জেতার দাবীটাও জানিয়ে রাখলেন লুকাকু।

গতিময় খেলা দিয়ে তিউনিসিয়াকে গোল বন্যায় ভাসিয়েছে ‘সোনালী প্রজন্মের দল’ বেলজিয়াম। তাতে বড় জয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে, জি গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠলো তারা। মস্কোর স্পার্টাক স্টেডিয়ামে, খেলার ছয় মিনিটে এডেন হ্যাজার্ডের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায়, বেলজিয়াম।

এরপর গোলের নেশায় থাকা বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা তিউনিসিয়ার জালে গোল উৎসবে মেতে ওঠে। দুটি গোল হজম করলেও হ্যাজার্ড আর লুকাকুর কল্যাণে, টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচে বড় জয় পায় রবার্টো মার্টিনেজের দল। আর টুর্নামেন্টে চার গোল করে পর্তুগিজ তারকা রোনালদোকে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েও দেন ‘রেড ডেভিল’ তারকা রোমেলু লুকাকু।

এই জয়ে ষষ্ঠবারের মত বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে উঠল বেলজিয়াম। অন্যদিকে এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘন্টা বাজল তিউনিশিয়ার। এই নিয়ে টানা ২১ ম্যাচে অপরাজিত রইলো `ডাই রটেন’রা। ২২ ম্যাচে অপরাজিত থেকে তাদের চেয়ে এগিয়ে আছে ইউরোপের আরেক দল স্পেন।

জয়ে আত্মহারা ব্রাজিল সমর্থকরা

কোস্টারিকার ২-০ গোলে ব্রাজিলের জয়ের আনন্দ রাশিয়ার থেকে আছড়ে পড়েছে রি‌ও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা বিচে‌ও। যারা ব্রাজিল ছেড়ে রাশিয়ায় এসেছেন তারা তো কুতিনহো এবং নেইমারের গোলের পর উল্লাস করেছেনই। সেই সঙ্গে যারা দেশে আছেন, তারা বড় পর্দায় হিরোদের খেলা উপভোগ করেন।

ইংল্যান্ড ফুটবলারদের একদিন

আগামীকাল রবিবার পানামার সঙ্গে ইংল্যান্ডের খেলা। হাতে লম্বা সময় থাকায় ছুটি পেয়েছিলেন ইংলিশ ফুটবলাররা। আর তা পুরোপুরিই কাজে লাগিয়েছেন তারা। স্ত্রী-সন্তান-পরিজন নিয়ে রাশিয়ায় আসা ইংলিশ দলের সদস্যরা অনুশীলন ছাড়া পরিবার-পরিজনকে নিয়ে উদযাপন করলেন দিনটি।

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন জেমি ভার্দি, আর রাশিয়ায় সন্ন্যাসীদের আশ্রম ঘুরে ঘুরে দেখলেন তারা।

সবকিছুর পর খেলা। মন চাঙা করা একদিন কাটানোর পর পানামার বিপক্ষে প্রস্তুতি শুরু করবে এবার সাউদগেটের দল।

পিছিয়ে থেকে‌ও জিতল সুইজারল্যান্ড

পিছিয়ে থেকে‌ও জিতল সুইজারল্যান্ড। তাতে রাশিয়া বিশ্বকাপের ই গ্রুপ থেকে ব্রাজিলের সঙ্গে সুইসদেরই শেষ ১৬ তে যা‌ওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো। মিত্রোভিচের গোলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়লে‌ও গ্রানিত জাকা ও জারদান সাকিরির কল্যাণে।

খেলার ৫ মিনিটেই মিত্রোভিচের দারুণ এক গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিলকে চমকে দিয়ে ড্র করা সুইজারল্যান্ড। শুধু গোল করাই নয়, প্রথমার্ধে খুবই আক্রমণাত্মক ছিল সার্বিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সার্বদের সেই লড়াকু মানসিকতা আর থাকে নি। মাঠের দখল নিয়ে নেয় সুইসরা। সার্বিয়াকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। উল্টো বারবার হানা দিয়েছে প্রতিপক্ষ শিবিরে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে চমৎকার এক গোলে সমতা ফেরান জাকা। ৫৪ মিনিটে সাকিরির শট এক ডিফেন্ডারের মুখে লেগে ফেরে, ফিরতি বল বুলেট গতিতে জালে পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।

খেলার ৯০ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন জারদান সাকিরি। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান স্টোক সিটির এই মিডফিল্ডার।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকাকে পরাজিত করায় এই ম্যাচে জিতলেই নকআউট পর্বে উঠে যেতো সার্বিয়া। কিন্তু প্রথমে এগিয়ে গিয়ে‌ও তা ধরে রাখতে না পারায় অপেক্ষা এবং আক্ষেপটা আরো বাড়লো তাদের। কারণ আগামী বুধবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে হবে সার্বিয়াকে। আর একই সময়ে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষে কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।

নাইজেরিয়ার জয়ে বাঁচল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার আশা বাঁচিয়ে রাখল নাইজেরিয়া। স্ট্রাইকার আহমেদ মুসার জোড়া গোলে প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে চমক দেখানো আইসল্যান্ডকে হারায় নাইজেরিয়া। এতে ‘সুপার ঈগল’দের‌ও সুযোগ থাকছে শেষ ১৬ তে ‌ওঠার।

আজ শুক্রবার খেলার দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে লিস্টার সিটির স্ট্রাইকার আহমেদ মুসা বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ চারটি গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন।

তাছাড়া আহমেদ মুসাই হলেন প্রথম কোনো নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় যিনি আলাদা দুটো বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখান। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে মুসা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুটো গোল করেছিলেন। দলের হয়ে ৪৯ ‌ও ৭৫ মিনিটে গোল দুটি করেন ম্যাচ সেরা আহমেদ মুসা।

আর্জেন্টিনায় শোক

গ্রুপরের দ্বিতীয ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন শোকে-দু:খে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। তাদের সব কার্যক্রম মিউট করে দেয় এক মিনিটের জন্য।

গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বেশ বেকায়দায় আছে হোর্হে সাম্পা‌ওলির দল। পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়। তাতে ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় লি‌ওনেল মেসির দলের। এই কারণে সেদেশের টেলিভিশন TyC-তে বিশ্বকাপ নিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অবশ্য আজ শুক্রবারের ম্যাচে আইসল্যান্ড যদি নাইজেরিয়ার কাছে ২-০ গোলে না হেরে জিতে যেতো তবে মেসির দল এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যেতো। নাইজেরিয়া জেতায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফ্রিকান দলটিকে হারানোর পাশাপাশি অনেক সমীকরণ‌ও মেলাতে হবে সাম্পা‌ওলির দলের।

জয়ের পর‌ও নেইমারের কান্না

কোস্টারিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ম্যাচ জিতল ব্রাজিল। গোল‌ও করলেন দলের মহাতারকা নেইমার। কিন্তু আনন্দের পরিবর্তে চোখ ভেঙে নামল জল। তা আড়াল করতেই মুখ ঢেকে বসে পড়লেন মাঠেই। কিন্তু পিছু ছাড়ল না সাংবাদিকের ক্যামেরা।

এই কান্না কেন নেইমারের। দীর্ঘদিন পর ইনজুরি থেকে ফিরে বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে তেমন ভালো খেলতে পারেননি। নেইমার। তাতে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন তিনি। তাছাড়া কোস্টারিকান এক ডিফেন্ডার নিজেদের বিপদসীমায় নেইমারকে ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টির বাশি বাজান। নেইমার পেনাল্টি নিতে তৌরি হন। পরে ভার (ভিএআর) প্রযুক্তি সেই পেনাল্টি বাতিল করে। তাতে‌ও বিদ্রুপের শিকার হন নেইমার।

পরে কুতিনহোর পাশাপাশি নিজে‌ও এক গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে জয় পাইয়ে দেন। সব মিলিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন নেইমার। তাই দল জিতলে‌ও কান্না থামেনি তার।

জিতেছে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মিশনে আসা ব্রাজিল গ্রুপে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইনজুরি টাইমে দেয়া কুতিনহো এবং নেইমারের দেয়া গােলে জয় নিশ্চিত করে সেলেসা‌ওরা। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে‌ও ব্রাজিলের কাছ থেকে কোনো পয়েন্ট নিতে পারল না কোস্টারিকা। এর আগে ই গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল কোচ তিতের দল।

খেলার ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার খুব সহজ সুযোগ নষ্ট হয় কোস্টারিকার। ডান দিক থেকে ক্রিস্তিয়ান গামবোয়ার কাছ থেকে পা‌ওয়া বল বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন ফাঁকায় থাকা সেলসো বোর্হেস। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তারকা খচিত দল নিয়ে রাশিয়ায় আসা ব্রাজিল ২৭ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করে। ডি-বক্সে বল পেয়ে পিএসজির ফরোয়ার্ড নেইমার গোলবারে শট নে‌ওয়ার আগেই তাকে থামান কোস্টারিকার গোলকিপার কেইলর নাভাস।

দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের অর্ধে আরও গুটিয়ে যায় কোস্টারিকা। তাদের রক্ষণ কৌশরে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ‌ওঠে ব্রাজিল। ফাগনারের ক্রসে গাব্রিয়েল জেসুসের হেডে বল ক্রসবারে লাগলে গোল পায়নি সেলেসা‌ওরা। পরক্ষণেই কুতিনহোর জোরালো শট গোলের মুখে থেকে ফেরে ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে।

৫৬ মিনিটে নেইমারের খুব কাছ থেকে নেওয়া শটে গ্লাভস লাগিয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠান নাভাস। এরপর কুতিনহো, নেইমার কিংবা ব্রাজিলয়ানদের সব আক্রমণ এসে খেই হারায় কোস্টারিকার রক্ষণে। অভিনয় করে পেনাল্টি প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। রেফারি প্রথমে স্পটকিকের নির্দেশ দিয়েও পরে কোস্টারিকার খেলোয়াড়দের আপত্তির মুখে ভিডিও রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান।

অবশেষে যোগ করা সময়ে আসে গোল দুটি। প্রথম মিনিটে ফিরমিনোর হেড ডি-বক্সে পা দিয়ে নামিয়েছিলেন জেসুস। এগিয়ে এসে নিচু শটে নাভাসকে ফাঁকি দেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার কুতিনহো।

আর সপ্তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পান নেইমার। কাউন্টার অ্যাটাকে ডাগলাস কস্টার কাছ থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমার। খেলা শেষ মুখ ঢাকেন তিনি গোল পাওয়ার কান্নায়।

বিশ্বকাপের নকআউটে ফ্রান্স

কিলিয়ান এমবাপের একমাত্র গোলে পেরুকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব নিশ্চিত করলো ফ্রান্স। আর এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পেরু।

টানা দুই ম্যাচ জিতে রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্র“প ‘ডি’ থেকে একম্যাচ বাকি থাকতে শেষ ষোলে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আর ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়লো পেরু।

একতারিনবার্গে খেলার শুরু থেকেই পেরুর ওপর চড়াও হয় ফরাসিদের তারকা খচিত আক্রমনভাগ। সফলতা আসে ৩৪ মিনিটে।

পিএসজি তারকা এমবাপের গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। তাতে ফরাসিদের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা বনে যান, ১৯ বছর বয়সী এমবাপে।

https://www.youtube.com/watch?v=7BFenLEofm8

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে চেষ্টা চালায় পেরু। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তাদের। এই জয়ে ১৯৭৮ সাল থেকে ল্যাটিন আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা ধরে রাখলো ফ্রান্স।

ডেনমার্কের সাথে ড্র বিশ্বকাপে টিকে রইল অস্ট্রেলিয়া

গ্রুপ ‘সি’র খেলায় ডেনমার্কের সাথে ড্র করে বিশ্বকাপে টিকে থাকলো অস্ট্রেলিয়া। সামরায় খেলার মাত্র ৭ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান এরিকসনের গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।

খেলায় ডেনমার্কের বিপক্ষে কিছুটা চাপ নিয়েই ম্যাচ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে অন্তত পরাজয় এড়াতে হতো সকারুদের। এমন সমীকরেণর ম্যাচে, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সামরায়, খেলার মাত্র ৭ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক।

বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নেই ডেনমার্কের। দুর্ভাগ্য, এবারও টানা দুই ম্যাচে জয় না পা‌ওয়ার পুরণো সেই রেকর্ড অক্ষত থাকলো তাদের।

ভিএআর প্রযুক্তির সহযোগিতায় রেফারি নিশ্চিত করেন ডি-বক্সে হ্যান্ডবল হয়েছে ডেনমার্কের ইউসুফ পুলসেনের। ৩৭ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরাতে ভুল করেননি অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার মিলে জেডিনাক।

দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের জন্য আপ্রাণ লড়াই করে অস্ট্রেলিয়া। তবে ডেনমার্কের রক্ষণভাগকে কোনঠাসা করে দিয়েও আর কোন সাফল্য পায়নি সকারুরা। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুদল।

স্টেডিয়ামে রোনালদোর বান্ধবী

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর খেলা চলাকালে প্রায়ই গ্যালারিতে থাকেন বান্ধবী জর্জিনা রড্রিগেজ। রাশিয়া বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে খেলা চলাকালে‌ও তার অন্যথা ছিলো না। বুধবার রাতে তিনি ঠিকই স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন রোনালদোর খেলা দেখার জন্য।

সেই ম্যাচে সিআরসেভেনের দেয়া একমাত্র গোলেই মরক্কোকে বিদায় করে শেষ ১৬ তে যা‌ওয়ার অপেক্ষায় আছে পর্তুগাল। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে খেলার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় জয়সূচক এই গোলটি করেন পর্তুগিজ তালিসমান। খেলা শুরু হতে না হতেই গোল, অন্যদের মতো রড্রিগেজ‌ও হতবাক।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আর্জেন্টিনায় জন্ম নেয়া রড্রিগেজ পর্তুগালের জার্সি পড়েই গ্যালারিতে বসেছিলেন। রোনালদোর দ্রুত গোল করার পর বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলে‌ও তিনি পড়ে আনন্দে ফেটে পড়েন।

আর তখন তার অনামিকায় ছিল রোনালদোরই দেয়া ডায়মন্ডের আংটি। কারণ রোনালদোর সঙ্গে অ্যাঙ্গেজমেন্ট করার গুজব ইতোমধ্যেই ছড়িয়েছে।

ভাগ্যের জোরে নকআউটের পথে স্পেন

বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে জিততেই হবে স্পেনকে। এমন কঠিন সমীকরণকে সামনে রেখে এশিয়ার পরাশক্তি ইরানের মুখোমুখি হয় স্পেন। ২০১৪ সালের পর যে দলটি কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হারেনি তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি যে সহজ হবে না সেটা ভালো করেই জানতো ইনিয়েস্তারা।

ইরানের শক্ত রক্ষণভাগের মোকাবেলায় ডিয়েগো কস্তার ভাগ্যপ্রসূত এক গোলে ইরানকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

বল পজেশন আর গোলে শট নেওয়ার হিসেব স্পেনের কথাই বলবে কিন্তু দুর্দান্ত খেলেও ভাগ্য আর প্রযুক্তির কাছে হেরেছে ইরান। দিয়েগো কস্তার একমাত্র গোলে নক-আউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলো ‘লা রোজা‘রা।

বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে ইরানকে হারানোর বিকল্প ছিল না ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু ২০১৪ থেকে প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকা ইরানের বিপক্ষে জয় যে সহজ নয়, প্রথমার্ধেই হারে হারে টের পায় স্পেন। তবে ৫৪ মিনিটে রক্ষণভাগের অপ্রত্যাশিত ভুলে স্পেনকে এগিয়ে দেন দিয়েগো কস্তা।

৬৪ মিনিটে স্পেনের জালে বল পাঠিয়ে‌ও ছিলো ইরান। কিন্তু ভিএআরের সহযোগিতায় সেটিকে বাতিল করেন রেফারি। আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে খেলা দারুণ জমে ওঠলেও শেষপর্যন্ত স্কোর লাইন অপরিবর্তিতই থাকে।

সৌদিকে বিদায় করে নকআউটে উরুগুয়ে

১০০ তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজের। আর এই বিরল রেকর্ডের গোলেই বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে উঠে গেলো দু’বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল সৌদি আরব।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ গোল খাওয়ার পর অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও প্রচুর গোল হজম করতে হবে সৌদিকে। কিন্তু বুধবার সুয়ারেজ-কাভানিদের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলে সৌদি আরব। বল-দখলের লড়াইয়ে প্রথমার্ধে উরুগুয়েকে টেক্কা দিয়েছিল তারা। তবে সেই প্রথমার্ধেই দু’দলের পার্থক্য গড়ে দেন সুয়ারেজ।

২৩ মিনিটে কর্নার থেকে কার্লোস সানচেজের ক্রসে সুয়ারেজের সুযোগসন্ধানী শট এগিয়ে দেয় উরুগুয়েকে। শততম ম্যাচে তাঁর গোলের স্মৃতি হিসেবে ম্যাচ বলটি নিজেরে কাছে রেখে দিলেন উরুগুয়ের মহাতারকা। সেই সঙ্গে তাঁর দখলে গেল একমাত্র উরুগুয়ে ফুটবলার হিসেবে তিনটি আলাদা আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার বিরল রেকর্ড।

একগোলে পিছিয়ে গিয়ে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করলেও জালের ঠিকানা খুজে পাননি আরবের ফরোয়ার্ডরা। দ্বিতীয়ার্ধে‌ও খেলার ছবিটা ছিল একই রকম। দু’দলই বেশ কিছু ‘হাফ চান্স’ তৈরি করলে‌ও, তাতে অবশ্য খুব একটা সুবিধা হয়নি। ১৯৫৪-র পর এই প্রথম গ্রুপ পর্বে পরপর দুটি গোল করল উরুগুয়ে।

এই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল সৌদি আরব। সেই সঙ্গে মোহম্মদ সালাহ-র মিশর‌ও। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সঙ্গে নক আউটে চলে গেল উরুগুয়ে। আগামী ২৫ জুন রাশিয়া-উরুগুয়ে ম্যাচেই ঠিক হবে গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করছে কোন দল।

নকআউটের পথে পর্তুগাল

বিশ্বকাপে গ্রুপ বি’র ম্যাচে মরক্কোকে একমাত্র গোলে হারিয়ে নকআউটের পথে পর্তুগাল। আর এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্টে থেকে বিদায় নিলো ২০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে আসা মরক্কো।

লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, খেলার চার মিনিটেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোলে লিড নেয় পর্তুগীজরা। এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে চতুর্থ গোল পেলেন সিআরসেভেন। একই সাথে বিশ্বের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোল স্কোরারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসলেন রোনালদো। ১০৯ গোল নিয়ে তালিকায় সবার উপরে অবস্থান ইরানের আলী দাইয়ি’র।

আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের এই খেলায় গোল শোধের চেষ্টা করেও সফল হয়নি মরক্কো। তাতে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।

নেইমারের ইনজুরি নিয়ে আবার‌ও দু:শ্চিন্তা

এমনিতেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ড্র করে চাপে ব্রাজিল। মঙ্গলবার বিকেলে তাই কোস্টারিকা ম্যাচের প্রস্তুতি চলছিল জোরেশোরে। সেলেসাওদের প্র‌্যাকটিসে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু সুইজারল্যান্ড ম্যাচের মতোই ব্রাজিল অনুশীলনের সেই তাল কাটতে বেশি সময় লাগল না। সামান্য একটা বল এসে লাগল নেমারের ডান পায়ে। মাসকয়েক আগেই অস্ত্রোপচার করা সেই ডান পায়ে! আর তারপরই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যান তিনি। তাতে নেইমারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যা‌ওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর বেরিয়েই যান ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমার। সাথে ছিলেন দলের ফিজিও। ডাক্তার রডরিগো লাসমার জানান, দু’দিন আগে প্রথম ম্যাচে নেইমারের ডান পায়ের এই জায়গাতেই দশবার মেরেছে সুইসরা। তারপর এদিন প্র‌্যাকটিসে ঠিক ওখানেই বল লাগায় যত বিপত্তি! তবে আসল কথাটা বললেন ব্রাজিল দলের ফিজিওথেরাপিস্ট ব্রুনো মাজ্জিওত্তি। জানান, এই নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। বুধবার সকালের প্র‌্যাকটিসে তাঁকে বাকি দলের সঙ্গে যেমন দেখতে পাওয়ার কথা তেমনই দেখা যাবে।

সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে রাশিয়া

প্রথমার্ধে রাশিয়াকে ঠেকিয়ে রাখতে পারল মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে উড়ে গেল সব প্রতিরোধ। দেনিস চেরিশেভ আর আর্তেম জুবার গোলে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েছে স্বাগতিকরা।

সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে গেলো স্বাগতিক রাশিয়া। সেন্ট পিটার্সবার্গে, ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে তারা মোহাম্মদ সালাহর মিশরকে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করার পর এই জয়ে শেষ ১৬-র পথেই রইলো রাশিয়া। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে তাদের বাদ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া ১৯৮২ আসরের পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিতল রাশিয়া।

আর টানা দুই পরাজয়ে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে খেলতে এসে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়ের আশঙ্কা ফারা‌ওদের। যদি‌ও অংকের মারপ্যাচে এখনও সম্ভাবনা টিকে আছে তাদের।

রাশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত মিশর একাদশে ইনজুরি কাঁটিয়ে ফেরেন মোহামেদ সালাহ। কিন্তু তার উপস্থিতি শক্তি বাড়ালে‌ও প্রথমার্ধে গোল শূন্য থাকে খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রোমান জুভনিনের শট ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মিশরের আহমেদ ফাতি। সেই আত্মঘাতী গোলেই পিছিয়ে পড়ে ফারা‌ওরা।

খেলায় আর ফিরতে পারেনি মিশর। ৫৯ মিনিটে ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত ক্রসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চেরিশভ। টুর্নামেন্ট ৩ গোল করে যুগ্নভাবে রোনালদোর সঙ্গে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসলেন তিনি।

এই গোলের রেশ না কাটতেই ৬২ মিনিটে রাশিয়াকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন জিউবা। প্রথম ম্যাচেও গোল করেছিলেন এই স্ট্রাইকার।

তিন গোলে পিছিয়ে থাকলে খেলায় আর কিছু করার থাকে না। মোহাম্মদ সালাহর মিশরের‌ও করার কিছুই ছিল না। তবে ৭৩ মিনিটে স্পট কিকে বিশ্বকাপে মিশরের হয়ে প্রথম গোলটি করেন মোহামেদ সালাহ। তৃতীয় মিশরীয় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখান তিনি।

‌ওয়ানডেতে রানের রেকর্ড ইংল্যান্ডের

ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৮১ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে ৪৮১ রান করে তারা। জনি বেয়ারেষ্ট্রো ও অ্যালেক্স হেলসের সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে ইংলিশরা।

ওয়ানডেতে দলীয় সর্বোচ্চ রানের ইতিহাসটা আরও সমৃদ্ধ করলো ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ান বোলাদের হতাশায় ডুবিয়ে দলীয় সর্বোচ্চ স্কোরটা এভারেস্টের চূড়ায় নিয়ে গেলো ইয়ন মরগানের দল।

জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর ১৫৯ রানের উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা পায় স্বাগতিকরা। ৬১ বলে ৮৩ রানে রয় বিদায় নিলেও, বেয়ারেস্টো থামেন ৯২ বলে ১৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে। ৩৪ ওভারে ঐ দুই উইকেটেই ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৩১০।

এরপর অস্ট্রেলিয়ান বোলাদের তুলোধোনো করেন অ্যালেক্স হেলস ও অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ইংল্যান্ডের হয়ে ২১ বলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন মরগান।

২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের গড়া ৪৪৪ রানের রেকর্ডটা তারা ভাঙেন দাপটের সাথেই, ৪৬তম ওভারে। তবে ৪৮ তম ওভারে ৯২ বলে ১৪৭ করা হেলস ও ৩০ বলে ৬৭ করা মরগান বিদায় না নিলে, হয়ত ওয়ানডেতে প্রথমবারের মত ৫০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলত ইংল্যান্ড।

তবে বিদায়ের আগে আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন মরগান। ইয়ান বেলকে পেছনে ফেলে ওয়ানডেতে ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যান তিনি। ওয়ানডের ইতিহাস গড়া ইংলিশদের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ৪৮১ রানে।

সেনেগালের চমক লাগানো জয়

‘এইচ’ গ্রুপের খেলায় ২-১ গোলে জিতেছে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা সেনেগাল। এবারের আসরে এটাই আফ্রিকার কোনো দলের প্রথম জয়। ২০০২ আসরে শিরোপাধারী ফ্রান্সকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসরে দলটি খেলেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। এবারের আসর শুরু করল র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বর দলকে হারিয়ে। স্পার্তাক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার প্রথমার্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি কোনো দলই। লেভানদোভস্কি কিংবা সাদিও মানে ভীতি ছড়াতে পারেননি প্রতিপক্ষের রক্ষণে।

৩৭তম মিনিটে এগিয়ে যায় সেনেগাল। ইদ্রিসা গেইয়ের শট ডিফেন্ডার তিয়াগো চনেকের পায়ে লেগে দিক পাল্ট জালে জড়ায়। বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের এটাই প্রথম আত্মঘাতী গোল।

পোল্যান্ডের দুর্বলতা তার রক্ষণ। সেই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ৬০ মিনিটে এমবে নিয়াংয়ের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সেনেগাল। জেগোস ক্রিখোভিয়াকের লক্ষ্যহীন ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে গোল পোস্ট ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে আসেন ভয়চেখ স্ত্রেন্সনে। বল ক্লিয়ার করতে পারেননি পোলিশ গোলরক্ষক। ফাঁকা জালে বল পাঠান কয়েক সেকেন্ড আগে বদলি নামা নিয়াং। দেশের হয়ে এটাই তরুণ এই ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।

এই গোলের দায় যেন ৮৬তম মিনিটে শোধ করেন ক্রিখোভিয়াক। ফ্রি কিকে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠান এই মিডফিল্ডার। আগামী রোববার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে খেলবে সেনেগাল। পর দিন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে পোল্যান্ড।

জাপানের ইতিহাস গড়া জয়

রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম লালকার্ডের দিনে কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড করলো এশিয়ার প্রতিনিধি জাপান। এতে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের বিপক্ষে এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে জয়ের ইতিহাস গড়লো ‘সামুরাই ব্লু’রা। তাতে রাশিয়া বিশ্বকাপে, ছোট দলগুলোর চমক দেখানোর তালিকায় যোগ হলো জাপানের নামও।

খেলার বয়স তখন মাত্র তিন মিনিট। সারানস্ক এরেনার দর্শকদের সবাই তখনও মাঠে ঢুকতে পারেনি। সিনঝি কাগাওয়ার শট জাল ছোঁয়ার মুখে গতি রোধ করেন, কলম্বিয়ার কার্লোস সানচেজ। সাথে সাথেই রেফারির লালকার্ড। ১০ জনের দলে পরিণত হয় কলম্বিয়া। আর কাগাওয়ার পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যাওয়া জাপানের।

১০ জন নিয়ে ১১ জনের বিপক্ষে সমতায় ফেরার লড়াই চালায়, প্যাকারম্যানের দল কলম্বিয়া। এক খেলোয়াড় বেশি থাকার সুবিধাও ধরে রাখতে পারেনি জাপানিরা। ৩৯ মিনিটে কুইনটেরো বিচক্ষণ ফ্রিকিকে ম্যাচে সমতা ফেরান। জাপানিরা আবেদন জানালেও ভিএআর প্রযুক্তি বহাল রাখে সেই গোল। ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ২০১৪ সালে গোল্ডেন বুট জয়ী হামেস রড্রিগেজ মাঠে নামলে আক্রমণের ধার আরও বাড়ে কলম্বিয়ার। জাপানও আক্রমণে একেবারে পিছিয়ে ছিলোনা। জয়ের রঙ তখন তাদের চোখে-মুখে। হোন্ডার দারুণ কর্নারে ৭৩ মিনিটে এফসি কোলনের ফরোয়ার্ড ওসাকা মাথা ছুঁইয়ে যে গোলটি করেন তাতেই এবারের বিশ^কাপে প্রথম জয় পায় জাপান।

বাকী সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি কলম্বিয়া। এই জয়ে এইচ গ্রুপে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জাপান ব্রাজিল বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার কাছে ৪-১ গোলে পরাজয়ের প্রতিশোধও নিল। সেই সঙ্গে ফেভারিট আর নন-ফেভারিটের অচলায়তনও ভেঙে দিলো সামুরাই ব্লু’রা।

মাঠে জেমি ভার্দির স্ত্রী-সন্তান

মাঠে তখন তিউনিশিয়ার বিপক্ষে লড়ছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড জেমি ভার্দি। আর গ্যালারি থেকে তাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন স্ত্রী রেবকা এবং ছোট্ট দুই সন্তান। শেষ পর্যস্ত তিউনিসিয়াকে ২-১ গোলে পরাস্ত করে ইংল্যান্ড।

এই সময় রেবেরকা ভার্দির সঙ্গে ছিলেন তার চার সন্তানের দুই জন। ১৩ বছরের কন্যা মেগান এবং ৬ বছরের টেলর বাবার খেলা দেখেন গ্যালারিতে মায়ের সঙ্গে বসে। বিশ্বকাপ খেলা উপলক্ষে রেবেকা ভার্দি স্বামীর সঙ্গে রাশিয়া আসেন।

লিস্টার ও ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার জেমি ভার্দির স্ত্রী ও সন্তানরা

রেবেকা ইংল্যান্ডের হোম জার্সি (সাদা রঙের) এবং সন্তানরা অ্যা‌ওয়ে জার্সি (লাল রঙের) পরে স্টেডিয়ামে আসেন। এদিকে, ইংলিশ দৈনিক মেইল অনলাইন জানিয়েছে, দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় স্বামীর খেলা দেখতে আসার সময় রেবেকা ১৭ টি ভারী স্যুটকেশ নিয়ে আসেন।

মিশর নয়, রাশিয়ার প্রতিপক্ষ সালাহ

মিশর নয়, নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ সালাহ। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইনজুরি আক্রান্ত সালাহকে বিশ্রামে রাখলে‌ও রাশিয়ার বিপক্ষ তাকে খুব করে চাইছেন কোচ হেক্টর কুপার। তবে সালাহ নিজেই তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানান, “Ready for tomorrow. 100 million strong.”

এদিকে মিশর দলের ডাক্তার জানিয়েছেন, দলের সেরা অস্ত্র এখন মাঠে নেমে ৯০ মিনিট খেলার মতো সুস্থ। কিন্তু তাঁর কথা কেউ বিশ্বাস করছেন না। কারণ মিশরের প্রথম ম্যাচের আগেও বলা হয়েছিল সালাহ খেলবেন। অবশ্য এবার অবিশ্বাস করার উপায়‌ও নেই এবার। কারণ স্পোর্টস অ্যায়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এডিডাস‌ও সালাহ একটি ভিডি‌ও পোস্ট করে টুইট বার্তায় জানায় “Tomorrow. 100 million strong.”

এই টুইট দেখার পরই মিশরের সমর্থকরা অ্যাডিডাসকে অভিনন্দিত করছেন বিভিন্নভাবে। আজ মঙ্গলবার রাত ১২টায় খেলাটি শুরু হবে সেন্ট পিটার্সবার্গে।

এদিকে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ হারিয়ে রাশিয়ায় নকআউটের পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। আর সালাহ বিহীন মিশর হেরেছে উরুগুয়ের কাছে।

কেন বাঁচালেন ইংল্যান্ডকে

ভোলগোগ্রাদে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন হোচট খাওয়া ফেভারিটদের তালিকায় নাম জমা পড়ছে ইংল্যান্ডেরও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের গোলে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে পূর্ন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।

অথচ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ আট ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিলো বেশ দাপুটে। খেলার ১১ মিনিটেই হ্যারি কেইনেই গোলে লিড ব্রিটিশদের।

তবে সমতায় ফিরতেও বেশি সময় নেয়নি, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে একমাত্র জয় পাওয়া তিউনিসিয়া। ৩৫ মিনিটে স্পট কিক থেকে দলকে সমতায় ফেরান ফেরজানি সাসি। শেষ পর্যন্ত এই উল্লাস ধরে রাখতে পারেনি রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা তিউনিসিয়া।

১৯৯৮ সালের পর আবারও ইংলিশদের কাছে পরাজয়ের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

নামের সুবিচার করল বেলজিয়াম

নামের প্রতি সুবিচার করেই রাশিয়া বিশ্বকাপে বড় জয় দিয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচ উদযাপন করলো `সোনালি প্রজন্মের দল’ বেলজিয়াম। সোচির অলিম্পিক ফিস্ট স্টেডিয়ামে, ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচ রোমেলু লুকাকুর জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে আসা পানামাকে।

টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে পানামার মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামা পানামা প্রথমার্ধে বেলজিয়ামকে আটকেই দিয়েছিল। গোলকিপার জেমি পেনেদোর দৃঢ়তা বারবার বিপদ থেকে বাচিয়েছে পানামাকে। গোলে পেতে দেয়ননি তিনি সোনালি প্রজন্মের সেনানীদেরকে। তবে মুর্হূমূর্হু আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থেকেছে পানামা।

৪৭ মিনিটে চমৎকার এক ভলিতে ম্যার্টেন্স বেলজিয়ামকে এগিয়ে দ‌েওয়ার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি এডেন হ্যাজার্ডের দলকে। দারুণ ছন্দে থাকা লুকাকু ৬৯ মিনিটে ডি ব্রুইনের ক্রসে মাথা ছুইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

বাছাই পর্বে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১১ গোল করা লুকাকু ৭৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন। বাকি সময়ে আর গোল পায়নি বেলজিয়াম। আর পানামা‌ও গোল শোধ করতে পারেনি।

আগামী শনিবার তিউনিশিয়ার বিপক্ষে খেলবে বেলজিয়ামা। পরেরদিন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পানামা।

পেনাল্টিতে সুইডেনের জয়

১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই জয় পেয়েছে সুইডেন। নিঝনি নভোগ্রোদে এফ গ্রুপের একপেশে ম্যাচে তারা পেনাল্টি গোলে হারিয়েছে এশিয়ার প্রতিনিধি দক্ষিণ কোরিয়াকে।

এরআগে দুই দলের চারবারের মোকাবেলায় সুইডিশরা হারেনি কখনো, আর কোরিয়ানদের জয়ের রেকর্ড‌ও নেই। দু’টি জয় আর সমান ড্রতে এগিয়েছিল সুইডেনই। তবে আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা সুইডিশদের প্রথমার্দে গোল বঞ্চিত রাখেন কোরিয়ার গোলকিপার চো হিয়ুন-উ একাই।

একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা সুইডেন ৬৫ মিনিটে গ্রানক্রিস্তের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায়। ডি বক্সে সুইডেনের ভিক্টর ক্লাসেন পড়ে যান কিম মিন-য়ুর স্লাইডিং ট্যাকলে। শুরুতে পেনাল্টি দেননি রেফারি, পরে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

সেই এক গোলের জয়েরই এবারের বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করলো সুইডেন। আগামী শনিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মানি। একই দিন মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া।

মেসির সমর্থনে ম্যারাডোনা

লি‌ওনেল মেসিকে সমর্থন দিলেন আর্জেন্টিনার জীবন্ত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। শনিবার রাতে আইসল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করায় বেশ সমালোচনা হচ্ছে মেসির পেনাল্টি মিসের। তাই ম্যারাডোনা বলেন, সমালোচনা নয়, সবারই এখন মেসির পাশে থাকার সময়।

স্যার্জি‌ও অ্যাগুয়েরোর কল্যাণে খেলার ১৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে ম্যাচে সমতা ফেরান আইসল্যান্ডের অালফ্রেড ফিনবোগাসন। এগিয়ে যা‌ওয়ার সুযোগ পেয়ে‌ও, অধিনায়ক মেসি পেনাল্টিতে গোল করতে না পারার কারণে জয় বঞ্চিত থাকে আর্জেন্টিনা।

৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনা ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি টানা পাচটি পেনাল্টি মিস করেছিলাম। তবু আমি দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।’ তিনি আরো জানান, ‘ম্যাচ জিততে না পারা আর দুই পয়েন্ট খোয়ানোর জন্য মেসির পেনাল্টি মিস দায়ী নয়, দায়ী পুরো দল।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনার দলের অধিনায়ক বলেন, ‘সে (মেসি) দলকে জেতানোর জন্য সবকিছু করেছে। তার মুখের দিকে চেয়ে দেখো।’

মেক্সিকোর জয়ে বিয়ের প্রস্তাব

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক জয়ের পর বান্ধবীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এক সমর্থক। এই প্রস্তাব পেয়ে তার বান্ধবী‌ও সাড়া দিলেন সানন্দে। রাশিয়ার মস্কোতে হিরভিং লোজানোর দেয়া একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে গৌরবদীপ্ত এক জয় পায় ‘এল ট্রাইকালার’রা।

মেক্সিকোর সেই সমর্থক একটি আংটির বাক্স খুলে তার বান্ধবীকে কাপা কাপা স্বরে বিয়ের প্রস্তাব করেন। সেই বান্ধবী প্রস্তাবে রাজী বলে দু’জনই আনন্দে মেতে ‌ওঠেন। এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবলে ১১ বারের মধ্যে কখনো জার্মানিকে হারাতে পারেনি মেক্সিকো।

এবার হলো নতুন এক রেকর্ড। আর মেক্সিকান এই সমর্থকরা নিজেদের সম্পর্ককে স্মরণীয় করার জন্য ঐতিহাসিক এই দিনটিকেই বেছে নেন।

পৃথিবী চমকে দেয়া লোজানো

রাশিয়া বিশ্বকাপে এক গোল করেই পৃথিবীকে চমকে দিয়েছেন মেক্সিকোর হিরভিং লোজানো। এই আর্টিফিসিয়াল ভূমিকম্পে কেপে উঠেছে পৃথিবী। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি তো পরাজয়ের বেদনায় নীল হয়ে মাঠ ছাড়ে। চুকিক (Chucky-অদম্য) ডাকনামের পিএসভি আন্দোভেনের এই প্রতিভাবান উইঙ্গারকে দলে নিতে বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইংলিশ দল আর্সেনাল এবং লিভারপুল যোগাযোগ করছিল।

১৯৯৫ সালের ৩০ জুলাই মেক্সিকো সিটিতে জন্ম নেয়া লোজানো ২০০৯ সালে পাচুকা’র যুব দলে যোগ দেন। ২০১৭ সালে এই দলের সিনিয়রদের হয়ে খেলে তিনি কনকাক্যাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতেন। আর ব্যক্তিগতভাবে তিনি পান, গোল্ডন বুট এবং সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

তবে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পা‌ওয়াটা লোজানোর জন্য কোনো চমক হিসেবে আসিন। গত গ্রীষ্মে পিএসভিতে যোগ দেয়ার পর প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করেন। এবং আগস্ট মাসে লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। তাছা ২৯ ম্যাচে ১৭ গোল করে লোজানো পিএসভিকে ডাচ লিগ শিরোপা জয়ে‌ও ভূমিকা রাখেন।

উইংয়ের বামদিক দিয়ে খেলা শুরু করলে‌ও ডানদিক দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষ শিবিরে হানা দেন। আর অতি দ্রুততার সঙ্গে বল জালে পাঠান। গতকাল রবিবার জার্মানিো পুড়েছে লোজানোর দ্রুততার সঙ্গে অ্যাকুরেসির কাছে। তার খেলার স্টাইল অনেকটা বেলজিয়ামের তারকা স্ট্রাইকার এডেন হ্যাজার্ডের মতো।

ব্রাজিলের দৈন্য দশা সুইজারল্যান্ডে

আগেরদিন আর্জেন্টিনাকে থমকে দিয়েছিল অজানা-অচেনা আইসল্যান্ড। আজ সোমবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিয়েছে মেক্সিকো। স্বাভাবিকভাবেই আরেক ফেবারিট ব্রাজিলের ওপর ভিষন চাপ তৈরি হয়েছিল। ঠিক তেমনি করে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে বিশ্বকাপের হট ফেবারিট ব্রাজিল। ১-১ গোলে ড্র করে নেইমার-কুতিনহোদের জিততে দিল না সুইসরা। তাতে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার মিশনে আসা ব্রাজিলের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে পেতকোভিচের দল।

রোস্তভ এরেনায়, খেলার ২০ মিটেই অসাধারণ এক গোলে পাচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন বার্সেলোনার তারকা খেলোয়াড় কুতিনহো। গ্যালারিতে তোলেন হলুদের আলোড়ন।

প্রথমে লেফট উইং থেকে বল নিয়ে ওয়ান টু ওয়ান এগিয়ে এলেন নেইমার এবং মার্সেলো। বক্সের ভেতর থেকে মার্সেলোকে পাস দেন নেইমার। বক্সের বাম পাশ থেকে শট নেন মার্সেলো। বলটি গোলের সামনে থেকে ফিরে আসে। পেয়ে যান কুতিনহো। ডান পায়ের বুলেট গতির শট সুইজারল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর গোল শোধ করতে মরিয়া সুইজারল্যান্ড। পাল্টা আক্রমণে তারা। ৫০ মিনিটে অসাধারণ এক হেডে সুইসদের সমতায় ফেরান স্টিভেন জুবের।

তবে সুইসদের প্রায় সব অত্যাচারই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমারকে ঘিরে। বল পায়ে গেলেই পিএসজি তারকাকে আহত করার চেষ্টা। শারীরিক আঘাত করে করে হলুদ কার্ড দেখেন দুইজন।

শেষ দিকে ফার্নান্দিনহো, রেনাতো আগুস্তো এবং রবার্তো ফিরমিনোকে নামিয়েও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। ৮৮ মিনিটে দারুণ এক হেড করেও গোলের দেখা পাননি নেইমার। সুইস গোলরক্ষক সোমের ঠেকিয়ে দেন। ৯০ মিনিটে নেইমারের ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে ফিরমিনো দারুণ হেড করলেও গোলরক্ষক সোমারকে পরাস্ত করা যায়নি।

আগামী শুক্রবার ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে কোস্টারিকার। আর সুইজারল্যান্ড লড়বে সার্বিয়ার বিপক্ষে।

জার্মানি ধরাশায়ী মেক্সিকোতে

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে পুরো বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে মেক্সিকো। ৩৫ মিনিটে লোজানোর গোলে জার্মানিকে পরাজিত করে অঘটনের জন্ম দিলো ‘এল ট্রাইকালার’রা। এতে ২০১৪ সালে স্পেনের পর আবারও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের বেদনায় পুড়লো। অন্য ম্যাচে, কোস্টারিকাকে একই ব্যবধানে হারিয়েছে সার্বিয়া।

মেক্সিকানদের এই আনন্দাশ্রু বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারানোর, সেই সঙ্গে প্রতিশোধেরও। ১৯৯৮-র বিশ্বকাপে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও যে, জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হারতে হয়েছিল তাদের।

আগের শেষ ছয় বিশ্বকাপে নক আউট পর্বে উঠলেও জার্মানির বিপক্ষে ‘আন্ডার ডগ’ হিসেবেই রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে খেলতে নামে মেক্সিকো। তবে শুরুতেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল তারা জার্মান শিবির। বেশ কয়েকবার পরীক্ষাও নেয় দীর্ঘ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা জার্মান অধিনায়ক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের।

তবে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানরাও আক্রমণে পিছিয়ে থাকেনি। ওয়ার্নার-টনি ক্রুসদের প্রচেষ্টাগুলো সফল হতে দেননি, মেক্সিকান গোলকিপার ওচোয়া।

এমনি লড়াইয়ের খেলায় গতি ও কাউন্টার অ্যাটাকে মেক্সিকানরা বারবার পেছনে ফেলে জার্মানদের।
৩৫ মিনিটে হার্নান্দেজের কাছ থেকে বল পেয়ে বোয়েটেং ও হ্যামেলসের দুর্বলতার সুযোগে দারুণ এক গোলে মেক্সিকোকে লিড এনে দেন, লোজানো। আনন্দে মেতে ওঠে এল ট্রাইকালার শিবির। .. .
এরপর খেলায় চলে পিছিয়ে থাকা জার্মানদের রাজত্ব। ড্রাক্সলারের ব্যর্থতার পর টনি ক্রুজকেও সফল হতে দেননি, ওচোয়া। …
দ্বিতীয়ার্ধেও রক্ষণাত্মক কৌশল ধরে রেখে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর হয়ে যায়, মেক্সিকো। অন্য দিকে, আক্রমণের কোনো কমতি রাখেনি জার্মানি। কিমিচের অ্যাক্রোবেটিক শট, কিংবা টনি ক্রুজের প্রচেষ্টা সবই ব্যর্থ। ইউলিয়ান ব্রান্টও শুধু জার্মানির আক্ষেপই বাড়ান। তবে ১৯৮২ সালে আলজেরিয়ার কাছে পরাজয়ের পর বিশ^কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আবারও হারের বেদনায় নীল হয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি।

এর আগে, চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে খেলতে এসে জার্মানি কখন‌ও হারেনি। ১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছিল তারা। ১৯৭৮ সালে পোল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল। আর ১৯৯৪ সালে বলিভিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল। এবারই প্রথম হারলো তারা।

সার্বিয়ার জয়

অধিনায়ক অ্যালেক্সজান্ডার কোলারভের ফ্রিকিক গোলে কোস্টারিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেলো সার্বিয়া।

‘ই’ গ্র“পের ম্যাচে, এই দুই দলের খেলার প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কেউ। প্রায় সম-শক্তির দুই দলের লড়াইয়ে খেলার ৫৬ মিনিটে ম্যাচ সেরা অ্যালেক্সজান্ডার কোলারভ দারুণ এক ফ্রিকিকে এগিয়ে দেন, সার্বিয়াকে।

পরে গোল পরিশোধের চেষ্টা করেও সফল হয়নি কোস্টারিকা। শেষ পর্যন্ত এক গোলের জয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সার্ব’রা। আগামী ২২ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সার্বিয়ার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

ব্রাজিলের অধিনায়ক মার্সেলো!

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলকে নেতৃত্ব দেবেন মার্সেলো! এমনটাই জানিয়েছে ফ্রান্সের ক্রীড়া দৈনিক `লা ইকুইপ’।

তিতে, দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নে‌ওয়ার পর ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। ৩-০ গোলে জয়ের সেই ম্যাচে সেলেসা‌ওদের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মিরান্দা। সেই থেকে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে‌ও অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে নতুন অধিনায়ক চাইছেন তিতে। শুধু তাই নয়, গত ২১ ম্যাচে ১৬ জনকে অধিনায়ক হিসেবে খেলিয়েছেন তিতে। বিশ্বকাপ দলের ২৩ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশেরই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই হিসেবে আজ রাতে রিয়াল মাদ্রিদের লেফট ব্যাক মার্সেলোর হাতে ব্রাজিলের অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড থাকাটা তাই অস্বাভাবিক কিছুই নয়। read more, discover our special offer

ক্রোয়েশিয়া হারাল নাইজেরিয়াকে

নাইজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে ক্রোয়েশিয়া। কালিনিনগ্রাদে সুপার ঈগলদের ওউন গোল ও পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় পায় ক্রোয়েশিয়া।

গ্রুপের অন্য দল আইসল্যান্ডের সাথে আর্জেন্টিনার ড্র করার সুযোগটা ভালবাবেই কাজে লাগিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। নাইজেরিয়াকে হারিয়ে গ্র“প ‘ডি’র শীর্ষে এখন তারা।

তারকা বহুল ক্রোয়েশিয়া ফেভারিট থাকলেও, ম্যাচের শুরুতে এলোমেলো আর বাজে ট্যাকলিংয়ের ফুটবল খেলে তারা। তবে সময়ের সাথে নিজেদের গুছিয়ে নেয় ক্রোয়টরা। ক্রোয়েশিয়ার এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন সুপার ঈগলদের মিডফিল্ডার পিটার ইতোবে।

আর ৭১ মিনিটে নাইজেরিয়ার ম্যাচে ফেরার আশাটা গুড়িয়ে দেন লুকা মডরিচ। ট্রোস্টের ফাউলে পেনাল্টি পায় ক্রোয়েশিয়া। সুযোগটা ভালমতই কাজে লাগান ক্রোয়েশিয়ান তারকা মডরিচ। এই জয়ে দারুণ সূচনা করেছে ক্রোয়েশিয়া। সেই সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নও দেখতে পারে তারা।

সব দায় আমার: মেসি

আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার সব নিজের কাধে তুলে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লি‌ওনেল মেসি। তবে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মেসি গোল করতে পারলে ম্যাচের ফলটা অন্যরকমই হতো। জয় নিয়ে তখন মাঠ ছাড়তে পারত আর্জেন্টিনা।

এভাবে দলকে জেতানোর সুযোগ হাতছাড়া করার পর মেসির সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে চারদিকে। মেসি নিজেও দায় স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘আমি ঠান্ডা মাথায় কিন্তু রাগ ও দুঃখ নিয়ে আজ মাঠ ছাড়ছি। কারণ আমি তিন পয়েন্ট নিতে না পারার জন্য দায়ী। আমি জানি ওই পেনাল্টিই সবকিছু বদলে দিয়েছে। ওই মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে না দেওয়ার জন্য আমি অবশ্যই দায় স্বীকার করছি।’

নিজের নেয়া শেষ সাত পেনাল্টির চারটিই মিস করলেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। কেন এমন হলো, মেসি চেষ্টা করেছেন সে ব্যাখ্যা দিতে, ‘যদি গোল করতে পারতাম, খেলাটা বদলে যেত। আমরা স্বস্তি ফিরে পেতাম, ওদের ঝামেলায় ফেলে দিতাম। গোল করার জন্য আমি একটু বেশি অস্থিরতা দেখিয়েছি, এটাই ভুল হয়েছে। অবশ্যই পেনাল্টি হাতছাড়া করা খুব কষ্টের।’

জয়ের চেয়ে যে ড্র বড়

লিওনেল মেসির পায়ের জাদুতে বিশ্বকাপ জয় করতে রাশিয়া এসে প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেলো দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ‘গ্রুপ ডি’র প্রথম ম্যাচে তারা ১-১ গোলে ড্র করে। সেরা তারকা লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস আর ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় জয় পাওয়া হয়নি হোর্হে সাম্পাওলির দলের। আর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লড়াকু ড্রতে সবার সমীহ আদায় করে নেয় আইসল্যান্ড।

সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিলো। আইসল্যান্ড শিবিরে আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ৬৪ মিনিটে পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির এই পেনাল্টি মিসেই কপাল পোড়ে আর্জেন্টিনার। মেসিকে গোল বঞ্চিত করে হিরো বনে যান আইসল্যান্ডের গোলকিপার হ্যালডারসন। আর মেসির শেষ সাত পেনাল্টির চারটিতেই ব্যর্থ হওয়ার বেদনা নিয়ে, ১৯৯০ সালের পর বিশ^কাপের প্রথম ম্যাচে আবারও জয় বঞ্চিত থাকে আর্জেন্টিনা।

অথচ মস্কোর স্পার্টাক স্টেডিয়ামে খেলার শুরুতে ছিল মেসিদের রাজত্ব। মেসিময় ম্যাচে ইউরোপের প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ডকে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগই দেয়নি হোর্হে সাম্পাওলির শিষ্যরা।

১৯ মিনিটে আইসল্যান্ডের জমাট দুর্গ ভাঙেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো। মার্কো রোহোর পাসে বুলেট গতির শটে আর্জেন্টাইন শিবিরে আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন, তিনি। বিশ্বকাপের নয় ম্যাচে এটি অ্যাগুয়েরোর প্রথম গোল।

বল পজেশনের খেলায় পেরে না ওঠায়, কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ খোঁজে আইসল্যান্ড। আর্জেন্টিনার দূর্বল রক্ষণের সুযোগে ম্যাচে সমতা ফেরায় ‘থান্ডারক্ল্যাপ’রা। বিশ্বকাপে প্রথম হলেও জাতীয় হয়ে ১৪তম গোলে সমতা আনেন ফিনবোগাসন।

তবে ৪১ মিনিটে মেজা’র শট র‌্যাগার্ড সিগার্ডসনের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায়, আর্জেন্টিনা। কিন্তু ভিএআর না চাওয়ায় বিস্ময় জাগে সবার। এদিকে বল পায়ে পাঁচবারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় মেসিও ঝলক দেখাতে পারেননি। প্রতিপক্ষের কঠিণ প্রহরায়। তাতে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরো সময়ই আর্জেন্টিনা আক্রমণ শানায় আইসল্যান্ড শিবিরে। হিগুয়েন ও ক্রিস্টিয়ান পাভুনকে নামিয়েও গোলের মুখ খোলা যায়নি, আইসল্যান্ডের গোলকিপার ম্যাচ সেরা হ্যালডারসনের দৃঢ়তায়। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দু’দল। এতে স্পার্টাক স্টেডিয়ামে রচিত হয় বিশ্বকাপ খেলতে আসা নতুন এক দলের হার না মানার উপকথা।

আত্মঘাতি গোলে ইরানের জয়

আত্মঘাতি গোলে ইরান হারিয়েছে মরক্কোকে। রাশিয়া বিশ্বকাপে বি গ্রুপের ম্যাচে খেলা শেষের ইনজুির টাইমে মরক্কোর ফরোয়ার্ডের খেলোয়াড় আজিজ বৌহাদ্দুজের আত্মঘাতি গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ার দল ইরান। এতে বিশ্বকাপ ফুটবলে দ্বিতীয় বারের মতো জয় পেলো এশিয়ার এই দেশটি।

২০১০ সালে জাপানের কাছে ১-০ গোলে ক্যামেরুন হারার থেকে এশিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ৫ ম্যাচে অপরাজিত আছে আফ্রিকানরা। ৩টি জয় আর ২টি ড্র করেছে তারা। হারলে‌ও খেলায় শ্রেষ্ঠত্ব ছিলো মরক্কোরই। খেলার ৮ মিনিটেই আমারাবতের কাছ থেকে বল পেয়ে এল কাভি’র হাফ ভলি সাইডবার ঘেষে বাইরে চলে যায়। ১৮ মিনিটে তিনবার ইরানের ডিফেন্সে আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি মরক্কো। ফরোয়ার্ডরা জালে বল জড়াতে পারেন নি। তাতে গোল পায়নি মরক্কো।

এদিকে, আক্রমণে পিছিয়ে থাকে নি ইরান‌ও। তারা কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেয়, প্রতিপক্ষেক পরাস্ত করার জন্য। ৪৩ মিনিটে ইরানের সরদার আজমাউন মরক্কোর গোলকিপার মুনির মোহাম্মদির কারণে গোল বঞ্চিত হন। সেই সময় মুনির দুইবার ব্যর্থ করে দেন ইরানের আক্রমণ।

িদ্বতীয়ার্ধে‌ও কাউন্টার অ্যাটাক ভরসা করে হুটহাট করে আক্রমণে যায় ইরান। গোলের সম্ভাবনাও তৈরি করে ইরান কিন্তু গোলমুখে গিয়েই খেই হারিয়ে ফেলে তাদের ফরোয়ার্ডরা। এদিকে, মরক্কোও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল কিন্তু তারা এলেবেলে শটে পাওয়া সুযোগগুলো নষ্ট করে।

শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে ফয়সালা হয় জয়-পরাজয়ের। এতে ১৯৬৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা ইরার ২০ বছর পর আবারো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

সালাহ বিহীন মিশেরর সঙ্গে উরুগুয়ের জয়

হোসে গিমেনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে উরুগুয়ে। একাতিরেনবার্গে গ্র“প ‘এ’র খেলায় উরুগুয়ে প্রায় আটকেই দিয়েছিলো মোহাম্মদ সালাহ বিহীন মিসর। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের।

মিসরের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ মাঠে না থাকলেও, ঘাম ঝড়ানো জয় পেয়েছে উরুগুয়ে। তাতে ১৯৭০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, গোল মুখে এসে বারবার মোহাম্মদ সালাহর অভাব বোধ করেছে মিসর।

প্রথমার্ধের খেলায় সমানতালে লড়েছিলো দুদলই। তবে তুলনামূলকভাবে বেশী হতাশ করেছেন উরুগুয়েন স্ট্রাইকার লুইস সুয়াজে। ১৩ ও ২৩ মিনিটে সহজ দুটি সুযোগ নষ্ট করেন বার্সেলোনার এই তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমনের গতি বাড়ায় উরুগুয়ে। কিন্তু আবারও সুয়ারেজের ব্যর্থতায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি তাদের। ৪৭ ও ৭৩ মিনিটে ভাল দুটি সুযোগ নষ্ট করেন সুয়ারেজ।

৮৩ মিনিটে কাভানির দুর্দান্ত ভলি রুখে দিয়ে উরুগুয়েকে হতাশার আগুনে পোড়ান মিসরের গোলরক্ষক শেনইউ। এর চার মিনিট পর আবারও কাভানির জোড়ালো শটের বাধা হয়ে দাড়ায় গোলবার।
তবে শেষ পর্যন্ত দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে পরিণত করে উরুগুয়ের। ৯০ মিনিটে কার্লোস সানচেজের ফ্রি-কিকে মাথা ছুইয়ে গোল বন্ধ্যাত্ব ঘোচান হোসে গিমেনেজ।

স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে কোচ অস্কার তাবারেজের শিষ্যরা। অন্যদিকে, ভাল লড়াই করেও মোহাম্মদ সালাহ না থাকায় পরাজয়ের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মিসরকে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের রেফারি

আর্জেন্টাইন রেফারি নেস্টর পিটানা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পরিচালনা করবেন। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা-ফিফা তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ আসর শুরু হচ্ছে। এই আসরেই প্রথমবারের মত ভিডিও এসিসটেন্ট রেফারি পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে। আর সেই প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রথম ম্যাচে চারজন ভিএআর (ভিডি‌ও এসিসটেন্ট রেফারি) অফিসিয়ালের নেতৃত্বে থাকবেন ইতালির বিশেষজ্ঞ মাসিমিলিয়ানো ইরাতি। মাঠে পিটানার দলের কোন ভুল সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করতেই ইরাতির নেতৃত্বাধীন দল কাজ করবে।

৪২ বছর বয়সী পিটানার এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। চার বছর আগে ব্রাজিলে তিনি চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন।

কাজটা চ্যালেঞ্জিং: হিয়েরো

হুলেন লোপেতেগুইর পরিবর্তে রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেন কোচের আসনে বসিয়েছে ফার্নান্ডো হিয়েরোকে। বরখাস্ত হওয়া লোপেতেগুইর জায়গায় দেশটির সাবেক এই ডিফেন্ডারকে দায়িত্ব দিয়েছে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন।

কোচের দায়িত্ব পা‌ওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে `লা রোজা’দের নতুন কোচ জানান, তার নজর এখন শুক্রবারের পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে। নতুন এই দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, `এটা আমার জন্য দারুণ এক রোমাঞ্চকর এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ।’ হিয়েরো দলের খেলোয়াড়েদর কাছ থেকে আর‌ও দায়িত্বশীল কাজ আশা করছেন। তিনি বলেন, `আমাদের দল গত দুই বছর যাবত একসাথে আছে। ফুটবল খেলছে। আর তারা বিশ্বকাপের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে। স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে আমি দলটিকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। দলে অন্য স্টাফদের নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদরন খেলা ছাড়া অন্যকিছু নিয়ে ভাবছি না।’

গত মঙ্গলবার ৫১ বছর বয়সী লোপেতেগুইর সঙ্গে তিন বছরের চুক্তির কথা জানায়, রিয়াল মাদ্রিদ। এর পরদিনই তাকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত জানায় স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন। কারণ হিসেবে ফেডারেশনকে কিছু না জানিয়েই তার রিয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলে সংস্থাটি। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সহাকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা হিয়েরো গত ২৭ নভেম্বর থেকে স্পেন জাতীয় দলের স্পোর্টিং ডিরেক্টরের পদে ছিলেন।

আগামী শুক্রবার পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

রিয়ালের কোচ লোপেতোগি

স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ তাদের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জাতীয় দলের কোচ জুলেন লোপেতোগিকে। রিয়াল মাদ্রিদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বকাপের খেলা শেষে লোপেতোগি রিয়ালে যোগ দেবেন। গত মে মাসের শেষের দিকে, ইউক্রেনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফির ফাইনালে ইংলিশ দল লিভারপুলকে হারিয়ে টানা তিনবার শিরোপা জয়ের পরের দিনই জিনেদিন জিদান পদত্যাগ করেন। লেপেতোগির সঙ্গে আগামী তিন বছরের জন্য চুক্তি করার কথাও জানায়, স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টার সিটিই সেরা

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর বেশি দেরী নাই। প্রায় সব ক’টি দলই এখন পৌছেছে রাশিয়ায়। তাদের বেস ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ‌ও শুরু করে দিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় পাঠিয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। তারা বিশ্বকাপে পাঠিয়েছে ১৬ জন খেলোয়াড়। আর স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের ১৫ জন খেলোয়াড় খেলছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে। স্প্যানিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার ১৪ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন এবারের বিশ্বকাপে।

ম্যানচেস্টার সিটি (১৬ জন)

সার্জি‌ও অ্যাগুয়েরো, নিকোলাস ‌ওতামেন্দি – আর্জেন্টিনা
কেভিন ডি ব্রুইন, ভিনসেন্ট কোম্পানি – বেলজিয়াম
ড্যানিলো, এডেরসন, ফার্নান্দিনহো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস – ব্রাজিল
ফ্যাবিয়ান ডেলফ, রাহিম স্টার্লিং, জন স্টোনস, কাইল ‌ওয়াকার – ইংল্যান্ড
বেঞ্জামিন ম্যান্ডি – ফ্রান্স
ইলকে গানডুগান -জার্মানি
বার্নার্ডো সিলভা – পর্তুগাল
ডেভিড সিলভা – স্পেন।

রিয়াল মাদ্রিদ (১৫ জন)

দানি কার্ভাহাল, নাচো, লুকাস ভ্যাসকুয়েজ, স্যার্জি‌ও রামোস, মার্কো আসেনসি‌ও, ইসকো – স্পেন
কাসিমেরো, মার্সেলো – ব্রাজিল
কেইলর নাভাস – কোস্টারিকা
লুকা মড্রিক, মাতে‌ও কোভাসিচ – ক্রোয়েশিয়া
রাফায়েল ভারানে – ফ্রান্স
টনি ক্রুস – জার্মানি
আচরাফ হাকিমি – মরক্কো
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো – পর্তুগাল।

বার্সেলোনা (১৪ জন)

লি‌ওনেল মেসি -আর্জেন্টিনা
থমাস ভার্মালেন – বেলজিয়াম
ফিলিপ্পে কুটিনহো, পা‌উলিনহো -ব্রাজিল
ইর্রি মিনা – কলম্বিয়া
ইভান রাকিটিচ- ক্রোয়েশিয়া
উসমান দেম্বেলে, স্যামুয়েল উমিতি – ফ্রান্স
মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগান – জার্মানি
জেরার্ড পিকে, জর্ডি আলবা, স্যার্জি‌ও বুসকেটস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা – স্পেন
লুইস সুয়ারেজ – উরুগুয়ে।

এছাড়া প্যারিস সেন্ট জার্মেই ‌ও টটেনহ্যাম হর্টসপারের ১২ জন করে খেলোয়াড় এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের দ্যুতি ছড়াবেন।

রেকর্ড গড়েই নাদাল চ্যাম্পিয়ন

রেকর্ড গড়েই ফ্রেঞ্চ ‌ওপেনের শিরোপা জিতলেন রাফায়েল নাদাল। রোলা গ্যারোতে অস্ট্রিয়ার ডোমেনিক থিয়ামকে ৩-০ সেটে পরাজিত করে ফেঞ্চ ‌ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।

এতে ১৪ বার রোলা গ্যারোর ফাইনালে উঠে ১১তম শিরোপা জিতলেন স্প্যানিশ তারকা খেলোয়াড় নাদাল। ‘ক্লে কোর্টের রাজা’ নাদাল জয় পান ৬-৪, ৬-৩ ‌ও ৬-২ গেমে।

ফ্রেঞ্চ ‌ওপেন জয়ের মধ্য দিয়ে আবার‌ও নিজের দারুণ ফর্মের জানান দিলেন বিশ্বের এক নম্বর তারকা রাফায়েল নাদাল। এই শিরোপা জয়ে আগামী মাসে উইম্বলডন ‌ওপেনে‌ও সেরা পারফরমেন্স নিয়ে খেলতে যাবেন তিনি। তাছাড়া রোলা গ্যারোতে জয়ে মার্গারেট কোর্টের ১১টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডে‌ও ভাগ বসান রাফা।

ফ্রেঞ্চ ‌ওপেন শিরোপা জেতায় নাদালের সংগ্রহে এখন ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি হলো। এতে তিনি ২০টি ট্রফির মালিক রজার ফেদেরারকে চ্যালেঞ্জ জানানো দূরত্বে এসে পৌছলেন।

ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

মালয়েশিয়ায় নারী এশিয়া কাপে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে, ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টির শিরোপা জিতেছে লাল সবুজের দল। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১১২ রান তোলে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। জবাবে, শেষ বলে ম্যাচ জিতে নেয় সালমা খাতুনের দল। ম্যাচ সেরা রুমানা আহমেদ। আর সিরিজ সেরা হন ভারতের হারমানপ্রীত।

জয় তখন মাত্র দু’রানের দূরত্বে। বিশ্বজুড়ে জাহানারা আর সালমাদের জন্য প্রার্থনা ছিলো কোটি বাঙ্গালীর। শেষ বলে তারা যখন রানের পেছনে ছুটছিলেন, উইকেটের টাচলাইন স্পর্শ করার আকুলতা ছুঁয়ে গেছে টেলিভিশন সেটের সামনে থাকা প্রতিটি ভক্তের হৃদয়। বাদ যাননি তামিম, মাশরাফিরাও।

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটাই সেরা সাফল্য। যে মালয়েশিয়ায় ১৯৯৭-এ আইসিসি ট্রফি জিতে ক্রিকেটের নতুন অধ্যায় লিখেছিলো ছেলেরা। সেখানেই এশিয়ার পরাশক্তি ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব গুড়িয়ে নতুন পথচলা শুরু হলো নারীদের।

যার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররা। টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মাত্র ৩২ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ জানান দিয়ে রাখে জিততে নেমেছে, শুধু লড়াই করতে নয়।

এশিয়া কাপের প্রতিটি আসরেই চ্যাম্পিয়ন ভারতের প্রমান করার ছিলো গ্র“প পর্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে হারটি শুধুই দুর্ঘটনা। তবে স্নায়ুর পরীক্ষায় ব্যর্থ ভারতীয়রা ৭৪ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে। তবু মান রক্ষা হারমানপ্রীতের ৫৬ রানের ইনিংসে। রুমানা, খাদিজা নেন দুটি করে উইকেট।

জবাবে, উদ্বোধনী জুটিতে শামীমা আর আয়েশা তুললেন ৩৫ রান। সপ্তম ওভারেই এদুজন ফিরে গেলে কিছুটা বিপদে বাংলাদেশ।

তবে বলের সাথে রানের ব্যবধানটা বাড়তে দেননি কোন ব্যাটসম্যানই। নিগার সুলতানা ২৪ বলে ২৭ রান করে দলের জয়ের ভিত্তিটা মজবুত করে দেন। ২২ বলে ২৩ রান করে রুমানা যখন আউট হন দল তখন মাত্র দু রানের দুরত্বে।

হাতের নাগালে থাকা শিরোপাটা ফসকে যেতে দেননি জাহানারা এবং সালমা। আর তাতেই দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শিরোপা ঘরে আসে বাংলাদেশের।

ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: রুমানা আহমেদ

সিরিজ সেরা: হারমানপ্রিত কাউর

অবশেষে সিমোনা হালেপ

অবশেষে সিমোনা হালেপ প্রথম গ্র্যান্ড স্র্যাম টেনিস টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলেন। শনিবার রাতে রোলা গ্যারোতে, প্রথম সেটে স্লোয়ান স্টেফানের কাছে ৩-৬ গেমে হারেন হালেপ। পরের সেটগুলোতে ‌ওয়ার্ল্ড নাম্বার ‌ওয়ানের মতোই খেলতে থাকেন তিনি। জয় পান ৬-৪ ‌ও ৬-১ গেমে। এরআগে, তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পরাজয়ের পর এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হল রোমানিয়ার সিমোনা হালেপ।

২০১৪ সালে এই ফ্রেঞ্চ ‌ওপেনেই ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইনালে উঠেছিলেন সিমোনা হালেপ। সেবার তিনি মারিয়া শারাপোভার কাছে। এই রোমানিয়ানকে ৬-৪, ৬-৭ ‌ও ৬-৪ গেমে পরাজিত করেন রুশ সুন্দরী। ২০১৭ সালে‌ও ফ্রেঞ্চ ‌ওপেনের ফাইনাল খেলেছিলেন হালেপ। সেবার তাকে ৪-৬, ৬-৪ ‌ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন, জেলেনা ‌ওস্টাপেঙ্কো। চলতি বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ‌ওপেনের ফাইনালে উঠে‌ও ব্যর্থ হন সিমোনা হালেপ। এবার তাকে ৭-৬, ৩-৬ ‌ও ৬-৪ গেমে ধরাশায়ী করেন ক্যারোলিনা ‌ওঝনিয়াকি।

জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট জিতে সিমোনা হালেপ বলেন, এটি এক অসাধারণ মুহূর্ত। যখন থেকে আমি খেলা শুরু করেছি তখন থেকেই রোলা গ্যারোতে জয়ের স্বপ্ন দেখে আসছি। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে টেনিসই খেলব। যদি‌ও ২০০৮ সালে আমি জুনিয়র লেবেলে রোলা গ্যারোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, তবু স্বপ্ন দেখতাম সিনিয়রদের বিভাগে এখানে শিরোপা জয়ের। এটা আমার খুব পছন্দের একটা টুর্নামেন্ট। যদি সারাজীবন একটাই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার সুযোগ পেতাম তবে রোলা গ্যারোতেই জিততে চাইতাম। এই এক টুর্নামেন্ট জিতেই আমি আগেই তিন ফাইনালে পরাজয়ের বেদনা ভুলেছি।

রাশিয়া বিশ্বকাপ: যে দলগুলো মিস করবেন

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকী মাত্র ৪ দিন। এরপরই বহুদিনের অপেক্ষা ফুরাবে ফুটবলপ্রেমীদের। কেননা তখন যে রাশিয়ার মাটিতে শুরু হয়ে যাবে ২১ তম বিশ্বকাপ আসর। এই আসরকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে কিছু দল। আবার কিছু দল স্বপ্ন ভাঙার বেদনায় মূহ্যমান। আসলে সবকিছুই ঐ সোনালী ট্রফির জন্যে। ১৬ বছর পর আবার‌ও সৌদি আরব, সেনেগাল খেলছে ২০০২ বিশ্বকাপের পর। কিন্তু খেলা হচ্ছে না ২০১০-এর ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসের। বাছাইপর্বেই হার্ডল পেরুতে না পারায় বাদ পড়েছে তারা এবার। টানা দুইবারে কোপা চ্যাম্পিয়ন চিলিরও একই অবস্থা। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি চারবারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালীর।

বিশ্বকাপের পরীক্ষিত দল ইতালী- শিরোপা জিতেছে চারবার। ইতালীর অংশগ্রহন ছাড়া শেষবার বিশ্বকাপ হয়েছিলো ১৯৫৮ সালে, সুইডেনের মাটিতে। এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে সুইডেনের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ গোলে হারে জিয়ানলুইগি বুফনের নেতৃত্বাধীন ইটালী। এই হারের পর অবসর নেন ইতালির অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বুফন।

টোটাল ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডও এবারের আসরে খেলছেনা। হতাশ হলেও সত্যি যে, ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট, ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টদের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিলোনা। গত ইউরোতেও খেলতে পারেনি ডাচরা। বাছাইপর্বেও বাঁধা টপকাতে ঘাম ছুটে যায়। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও ব্যর্থ অরেঞ্জরা। ইউরোপ অঞ্চলে বাছাই পর্বে তিন নাম্বারে থেকেই বিদায় নিতে হয় নেদারল্যান্ডকে। ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন ৩২ বছর বয়সি স্ট্রাইকার আরইয়েন রোবেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া পানামায় চলছে উৎসব। বিশ্বকাপে খেলার প্রথমদিনটি তারা বাধাই করে রাখবে স্বর্নাক্ষরে। বিশ্বের অন্যতম সম্ভবনাময় খেলোয়াড় ধরা হত গ্যারেথ বেলকে। কিন্তু ইনজুরি তার পুরোপুরি ক্যারিয়ারের বিকাশ ঘটাতে দেয়নি। ঘন ঘন ইনজুরির কারণে নিজের দল ওয়েলসকেও বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারেননি। ইউরোপ অঞ্চলে গ্রুপ ডি তে মাত্র ১ হারের পরও সুযোগ মিলল না ওয়েলসের।

টানা দুই বছর, দুইবার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হওয়া চিলিও এবার থাকছেনা বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে শেষ রাউন্ডে পয়েন্ট টেবিলের হিসাবে বাদ পড়েছে চিলি। ব্রাজিলে কাছে ০-৩ গোলে হেরেছে তারা। অন্যদিকে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গিয়েছে তিনে আর ব্রজিলের কাছে হারের কারণে ছয়ে নেমে বিশ্বকাপ যাত্রা থামে আলেক্সিস সানচেজের দলের।

এদিকে, পেরুর কাছে নিউজিল্যান্ড হেরে যাওয়াতে, রাশিয়া বিশ্বকাপে ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে কোন দলই খেলবেনা। প্লে-অফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে এবার পেরু।

এবারে মেসি, রোনালদো, নেইমার যেমন রাশিয়া মাতাবেন তেমনি রাশিয়া মিস করবে রোবেন, সানচেজ ‌ও গ্যারেথ বেলদেরকে।

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক মালয়েশিয়াকে ৭০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আজ শনিবার কুয়ালালামপুরে, টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৩০ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৬০ রানে থামে ৯ উইকেট হারানো মালয়েশিয়া।

টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা দারুণ ছিল বাংলাদেশের। উদ্বোধনী জুটিতে শামিমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান ৯.৫ ওভারে তোলেন ৫৯ রান। দশম ওভারের পঞ্চম বলে এ জুটি ভাঙেন সাহসা আজমি। ২৭ বলে ৩১ রান করে আয়েশা আউট হন।

এরপর শামিমা সুলতানা একাই দলের রান সচল রাখেন। ১৬তম ওভারে বাংলাদেশ শিবিরে জোড়া আঘাত করেন দুরাইসিঙ্গাম। ৭ রান করা ফারজানা হক এবং সর্বোচ্চ ৪৩ রান করা শামিমা সুলতানা আউট হন ওই ওভারে। শেষ দিকে সানজিদা ইসলাম ১২ বলে ১৫ এবং ফাহিমা খাতুন ১২ বলে ২৬ রান তুলে বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন।

জবাবে, ইনিংসে ৫০ রান যোগ করতে না করতেই মালয়েশিয়ার ৫ ব্যাটসম্যান ফেরেন সাজঘরে। ধীর গতিতে রান তোলায় বাড়তে থাকে চাপ। সেই চাপ আর পরবর্তীতে জয় করতে পারেননি মালয়েশিয়ার নারীরা। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ৬০ রানের বেশি করতে পারেননি। বল হাতে ৪ ওভারে ৮ রানে ৩ উইকেট নেন রুমানা আহমেদ। ১টি করে উইকেট নেন জাহানারা আলম, সালমা খাতুন, নাহিদা আক্তার ও খাদিজা তুল কুবরা।

এদিকে, অন্য ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ভারত। আগামী রবিবার শিরোপা লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

জিতলেই বোনাস

বিশ্বকাপ জিতলেই বোনাস পাবে খেলোয়াড়রা, রাশিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ‌ওঠা ৩২টি দলের অনেকেই বোনাস ঘোষণা করেছে। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি জানিয়েছে, এবার বিশ্বকাপ ফুটবল শিরোপা জিতলেই দলের প্রত্যাক খেলোয়াড় পাবেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ (৪,১১,২৬৭ ইউরো) পাউন্ড করে।

আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির খেলোয়াড়রা তিল লাখ পাউন্ড করে বোনাস পেয়েছিল। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বোনাস ঘোষণার কারণ হিসেবে ম্যানেজার অলিভার বিয়েরহফ জানান, এই বোনাস ঘোষণায় খালো খেলতে দলের খেলোয়াড়দেরকে সহায়তা করবে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ‌ওঠার আগ পর্যন্ত কোনো বোনাস পাবে না জার্মান দল। কোয়র্টার ফাইনাল থেকেই শুরু হচ্ছে জার্মান দলের বোনাস। শেষ আটে উঠলে তাদের প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবে ৬৭ হাজার পাউন্ড। সেমিফাইনালে উঠলে ১,১০,০০০ বোনাস এবং ১,৭৮,০০০ পাউন্ড পাবে ফাইনালে উঠলে।

এদিকে, দলকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে তুলে আনায় মিশর দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৮৫,০০০ করে ডলার বোনাস দিয়েছে সেদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল-সিসি। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পায় মিশর।

নাইজেরিয়া দলকে ২.৮ মিলিয়ন ডলার প্রাইজমানি দিয়েছে সেদেশের সরকার।

স্পেনের দৈনিক মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ ট্রফি জিতলে ৭ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড বোনাস পাবেন। তবে তাদের এই বোনাসের পরিমান হলো জার্মানির খেলোয়াড়দের চেয়ে দ্বিগুণের‌ চেয়েও বেশি। এদিকে ফেভারিট ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা পাবে ৮ লাখ ইউরো করে।

স্পেনের ফটোশ্যূট

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন আনুষ্ঠানিক ফটো সেশন করেছে। ফুটবল মাঠের মতো ক্যামেরার সামনে‌ও বেশ সাবলীল ছিলেন `লা রোজা’রা।

সার্জি‌ও রামোস ঠোটে আঙ্গুল দিয়ে সবাইকে চুপ থাকার ইঙিত দিয়ে ছবির জন্য পোজ দেন। এই ফটো শ্যূটে দলের অন্যান্য ফুটবলাররা‌ও তাদের পছন্দ মতো পোজ দেন। এমনকি কেউ কেউ ক্যামেরার সামনে লাফ‌ও দিয়েছেন। রাশিয়ার কার্সুন্দার এফসি তে বেস ক্যাম্প করেছে স্পেন। অনুশীলনের এক ফাকে সেখানেই ফটোশ্যূট করে স্প্যানিশরা।

তবে কিয়েভে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাকে ইনজুরিতে ফেলে দে‌ওয়ার জন্য এখন‌ও সমানভাবে সমালোচিত হচ্ছেন রামোস।

কষ্টের জয় জার্মানির

কষ্টের এক জয় দিয়ে বিশ্বকাপের নিজেদের প্রস্তুতি শেষ করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। লেভারকুজেনে শুক্রবার রাতে তারা ২-১ গোলে পরাজিত করে সৌদি আরবকে। গত শনিবার অস্ট্রিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ইওয়াখিম লুভের দল।

নিজেদের মাঠে‌ও স্বরূপে দেখা যায়নি জার্মানিকে। বল পজেশন, আক্রমণ কিংবা পাসিং সবকিছুতে এগিয়ে থাকলে‌ও জার্মানি ঠিক নিজেদের মধ্যই ছিলনা। ঠিক কোথায় যেনো ছন্দহীন জোয়াকিম লো’র দল। তবে খেলার ৮ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়। ডান দিক থেকে সতীর্থের লম্বা উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে মার্কো রয়েস বক্সের মুখে বাড়ান টিমো ভেরনারকে। প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান লাইপজিগের এই ফরোয়ার্ড।

ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠা সৌদি আরব মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠতে শুরু করে। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় সাফল্য অধরাই থাকে। উল্টো ৪৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করতে হয় অতিথিদের। ভেরনারের নীচু ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে ঠেলে দেন সৌদির ডিফেন্ডার ওমার।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথমভাগে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই বেশ জমে ওঠে। গোলের সুযোগ মিস করেন মাটস হুমেলস ও ড্রাক্সলার। এবং সৌদি মিডফিল্ডার সালেম আল-দাওসারি।

৮৪ মিনিটে ঠিকই ব্যবধান কমিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে সৌদি আরব। তাদের মিডফিল্ডার আল-জসিমকে ডিফেন্ডার সামি খেদিরা ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। মোহাম্মদ আল-সাহলাইয়ের শট ডান দিয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মানুয়েল নয়ার। ফিরতি বল ধরে গোলটি করেন মিডফিল্ডার আল জসিম। বিশ্বকাপ শুরুর আগের প্রস্তুতিপর্বটা খুব একটা ভালো কাটলো না জার্মানির।

আগামী ১৭ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে জার্মানি। ‘এফ’ গ্রুপে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ সুইডে