রাত ১১:০২, রবিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরো একটি একদিনের সিরিজ জয়ের পথে একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে আজ তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ২৮ রানে জয়ী হয়ে ১-০ তে এগিয়ে মাশরাফির দল। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ইমরুলের সেঞ্চুরি ও সাইফউদ্দিনের হাফ সেঞ্চুরিতে আট উইকেটে ২৭১ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৫০ ওভারে নয় উইকেটে ২৪৩ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। এতে জিম্বাুয়ের বিপেক্ষ টানা ১১ ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে কিছুটা অগোছালো ব্যাটিং হলেও ক্রমেই সফরকারীদের উপর প্রাধান্য রেখে দলের বড় ইনিংস এনে দেন ইমরুল, মিথুন ও সাইফ। অপরদিকে মিরাজ ও অপুর ঘুর্নিবলে ২৪৩ রানের বেশী তুলতে পারেনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। ঢাকার জয় নিয়েই আগামীকাল দুপুরে চট্টগ্রাম যাবে বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ হবে ২৪ ও ২৬ অক্টোবর বন্দরনগরীতে।

জয়ের জন্য ২৭২ রানের টার্গেটে মাঠে নেমে শুরুতে একদিকে মাশরাফি ও অপরদিকে মেহেদী মিরাজের আক্রমনের মুখে শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও ক্রমেই খোলশ ছেড়ে বেরিয়ে জুয়াও চড়াও হন । ফলে ছয় ওভার শেণে রান দাড়ায় ৪১। তবে মাঠের দর্শকদের স্বন্তি দেন মোস্তাফিজ। অস্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই শিকার করেন জুয়াওয়ের উইকেট। ৪৮ রানে প্রথম উইকেটের পতন। দলের ইনিংসে ১১ রান যোগ হওয়ার পর বিদায় টেলরের(১৩ বলে পাচ রান)। অপুর ঘুর্নিতে বোল্ড। অপর ওপেনার অধিনায়ক মাসাকাদজা রান আউটের ফাদে পড়েন ৬৩ রানে। এরপর আর বড় কোন জুটি গড়ে ওঠেনি। অভিজ্ঞ সিকান্দার রাজার (২২ বলে সাত) উইকেট নিয়ে অপু আবারো উপহার দেন নাগিন নৃত্য। দলীয় স্কোর ১০০ এর ঘরে যেতেই নেই পঞ্চম উইকেট, মেহেদীর শিকার আরভীন(৪৮ বলে ২৪ রান)। ১০০ রানে পঞ্চম উইকেটের পতনের পর উইলিয়ামস ও মুর সতর্কতার সঙ্গে দলকে এগিয়ে নেন। রান তোলার চেয়েও উইকেট বাচাতে মনযোগী হয় এ জুটি। ফলে ৩৫ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাড়ায় পাচ উইকেটে ১৪৪ রান। দলীয় ১৪৫ রানে মেহেদীর দ্বিতীয় শিকার পিটার মুর(৪৫ বলে ২৬ রান)। শেষ দিকে সিন উইলিয়ামস (৫৪ বলে ৪৫) কাইল জার্ভিস(৩২ বলে ৩৭) নবম উইকেট জুটিতে ৬৭ রান তুললেও, তা দলের জয় এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভাওে নয় উইকেটে ২৪৩ রানে থামে জিম্বাবুযের ইনিংস।

এরআগে, টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্বান্ত নেয়। দলের ইনিংসের সূচনা করেন ইমরুল ও লিটন। শুরুতে সতর্ক ছিলেন দুই ওপেনার। প্রথম চার ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৯ রান। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে বিচ্ছিন্ন হয় জুটি। ২ রানে জীবন পাওয়া লিটন ৪ রান করে ডান-হাতি পেসার তেন্ডাই চাতারার বলে আউট হন। লিটনের বিদায়ে উইকেটে আসেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ফজলে রাব্বি । চার বল মোকাবেলা ওভারের শেষ ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শুন্য হাতে ফেরেন রাব্বি। ১৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। দলকে চিন্তামুক্ত করেন ইমরুল ও মুশফিকুর রহিম। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে রানের চাকা ঘুড়াতে থাকেন তারা। তবে ১৫তম ওভারের শেষ বলে প্যাভিলিয়নে ফিরেন মুশফিক। জিম্বাবুয়ের লেগ-স্পিনার ব্রেন্ডন মাভুতার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশি। ২০ বলে ১৫ রান করেন। ইমরুলের সাথে ৫৪ বলে ৪৯ রান যোগ করেন মুশফিক।

এরপর দলকে এগিয়ে নেয়ার মিশন শুরু করেন ইমরুল ও পাঁচ নম্বরে নামা মোহাম্মদ মিথুন। শুরুতে রক্ষনাত্মক থাকলেও দ্রুত রান তোলার কাজটা ঠিকই সাড়েন ইমরুল ও মিথুন। বাউন্ডারির চাইতে ওভার বাউন্ডারিতে বেশি স্বাচ্ছেন্দ্যে ছিলেন তারা। তাই এই জুটিতে পাঁচটি ছক্কার বিপরীতে দু’টি চার হাকাঁন ইমরুল ও মিথুন। এরমধ্যে তিনটি ছক্কা ছিলো মিথুনের।

২৬তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে পরপর দু’টি ছক্কা মারেন মিথুন। একই রকম কান্ড ২৩তম ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে করেছিলেন ইমরুল। জিম্বাবুয়ের মাভুতাকে ব্যাক-টু-ব্যাক ছক্কা মারেন ইমরুল। এরমাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন ইমরুল। হাফ-সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন মিথুন। তবে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে আউট হন তিনি। জিম্বাবুয়ের ডান-হাতি পেসার কাইল জার্ভিসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মিথুন। ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৩৭ রান করেন মিথুন। চতুর্থ উইকেটে ইমরুল-মিথুন ৭৪ বলে ৭১ রান এনে দেন দলকে।
মিথুন যখন ফিরেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ২৭ দশমিক ২ ওভারে ১৩৭ রান। এ অবস্থায় চাপ বেড়ে যায় স্বাগতিকদের। মিথুনের বিদায়ের পরপরই ১০ বলের ব্যবধানে ২ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মিথুনকে শিকার করা জার্ভিসই বিদায় দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদি হাসান মিরাজকে। দু’জনই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশের পতন হওয়া ছয় উইকেটের মধ্যে পাঁচটি ক্যাচই নেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্রেন্ডন টেইলর।

১৩৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের হাল ধরেন ইমরুল ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। উইকেটে টিকে থাকার পাশাপাশি সিঙ্গেলসের উপর জোড় দিচ্ছিলেন তারা। এতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান ইমরুল। ২০১৬ সালে ঢাকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরির পর মারমুখী মেজাজ ধারন করেন ইমরুল। সতীর্থকে দেখে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেননি অন্যপ্রান্তে ৪৯ বলে ২৬ রান করা সাইফ উদ্দিন। জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপক্ষে রানের ফুলঝুড়ি ফুটাতে থাকেন তারা। ইনিংসের ৪৭ ও ৪৮তম ওভারে সমান ১৮ রান করে নেন ইমরুল ও সাইফ উদ্দিন। এরমধ্যে ইমরুল দু’টি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন সাইফ।
৪৮তম ওভারেই একটি করে ছক্কা ও চার মেরে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের দেড়শ রান স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখছিলেন ইমরুল। কিন্তু ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে বিদায় নিতে হয় তাকে। ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১৪০ বলে ১৪৪ রান করেন ইমরুল। এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা রান। সপ্তম উইকেটে সাইফ উদ্দিনের সাথে ১১৫ বলে ১২৭ রান যোগ করেন ইমরুল। বাংলাদেশের পক্ষে সপ্তম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি। সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ জুটি ছিলো ১০১ রান। ২০১০ সালে ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম ও নাইম ইসলাম ১০১ রান করেছিলেন।

ইমরুল ফিরে যাবার পরের বলেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাইফউদ্দিন। তবে ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে থেমে যান তিনি। তিন বাউন্ডারী ও এক ছক্কায় ৬৯ বলে ৫০ রান করেন সাইফ উদ্দিন। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার শেষে আট উইকেটে ২৭১ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের জার্ভিস ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৩৭ রানে চার উইকেট নেন।

পাঁচ বছর নিষিদ্ধ জয়াসুরিয়া!

শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক ‌ও বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য সনাথ জয়াসুরিয়া পাঁচ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছেন! আইসিসি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে জয়াসুরিয়ার উপর শাস্তির এই বিধান যেকোনও দিন নেমে আসতে পারে। তাই যদি হয়, তা হলে পাঁচ বছর ক্রিকেট থেকে সরে থাকতে হবে তাঁকে। ক্রিকেট দুনিয়ার কোনও মাঠে ঢুকতে পারবেন না। তাছাড়া ক্রিকেটের সঙ্গে কোনওভাবে নিজেকে জড়িয়েও রাখতে পারবেন না জয়াসুরিয়া।

জয়াসুরিয়াকে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব তাই উত্তাল। সন্দেহের মাত্রা বাড়ছে তাঁর বিষয়ে। অভিযোগ আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার র্কমর্কতাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেননি তিনি। আইসিসি জানিয়েছিল, তাঁর মোবাইল, ল্যাপটপ জমা দিতে। জয়াসুরিয়া সেটা দেননি। আইসিসি তাই কঠোর হতে চলেছে তার ব্যাপারে।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী জয়াসুরিয়া ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ ধারায় পড়েছেন। এই ধারায় তখন-ই ক্রিকেটারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যখন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার আইসিসি-র দুর্নীতিদমন শাখার সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়। কিংবা যাবতীয় নথি দাখিল করার নির্দেশ অমান্য করেন। তখন সেই ক্রিকেটারকে নিয়মে বেঁধে ফেলে শাস্তির ব্যবস্থা করে আইসিসি। জয়াসুরিয়া দু’টো ধারাতেই পড়ছেন। তাই আইসিসি যদি শাস্তি দিতে চায় তাহলে পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে নির্বাসনে যেতে হবে। আইসিসি-র এক কর্তা বলছিলেন, ‘২.৪.৬ ধারায় (প্রমাণ করতে সহযোগিতা না করা) যদি জয়াসুরিয়া পড়েন, তাহলে তাকে কম করে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হবে। না হলে বড় শাস্তি। সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের। আবার ২.৪.৭ ধারায় যদি পড়েন (প্রামাণ্য নথি নষ্ট করা) তাহলে তাঁকে পাঁচ বছর সাসপেন্ড করা হবে। সেই সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও। এখন দেখতে অপেক্ষা কোন ধারায় পড়তে চলেছেন জয়াসুরিয়া।’

অবশ্য মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে জয়াসুরিয়া বলেছেন, ক্রিকেট জীবনে কোনদিন দূর্নীতির সঙ্গে আপস করেননি। এ সব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তাই তাঁর নামে যা রটানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। একদিন না একদিন তা প্রকাশ্যে আসবে। তখন সবাই জানতে পারবেন, তাঁকে নিয়ে বিতর্ক ভিত্তিহীন ছাড়া কিছু নয়।

মেসির সঙ্গে না: লুকা মর্ডিচ

সময়ের সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির সঙ্গে কখনও খেলবেন না বলে জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রোয়েশিয়ার তারকা খেলোয়াড় লুকা মর্ডিচ।

রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বল’ জয়ী ক্রোয়েশিয়ার এই তারকা এক সাক্ষাৎকারে একথা জানান। বন্ধু ক্রিস্টিযানো রোনালদো সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করলেও মেসির সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানান মড্রিচ। চলতি বছর ফিফা ও উয়েফা’র বর্ষসেরার পুরষ্কার জেতেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সতীর্থ রোনালদোকে টপকেই মড্রিচ এই পুরস্কার দুটি জেতেন।

এক সাক্ষাৎকারে মড্রিচ বলেন, আমি ওর (মেসির) বিরুদ্ধে খেলি, ওর সঙ্গে নয়। হ্যাঁ মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে আমি ওর সঙ্গে কোনোদিন খেলবো না।

এসি মিলানে গেলেন প্যাকুয়েতা

বার্সেলোনা কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ নয়, এমনকি স্পেনেও গেলেন না ব্রাজিলিয়ান উঠতি তারকা লুকাস প্যাকুয়েতা। সেলেসাওদের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এসি মিলানে যোগ দেবেন। তবে এখনই নয়, তিনি যোগ দেবেন জানুয়ারিতে। একথা নিশ্চিত করেছে প্যাকুয়েতার দল ফ্লেমিঙ্গো।

জার্মানির দু:সময় কাটছেই না

জার্মানির দু:সময়টাকে আরো বাড়িয়ে দিলেন ফ্রান্সের আঁতোয়ান গ্রিজমান। তার জোড়া গোলেই উয়েফা নেশনস লিগে জোয়াকিম লোর দলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগের সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর গতকাল রাতে নেশনস লিগে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও ফ্রান্সের সঙ্গে জিততে পারেনি জার্মানি।

২০১৮ সালে এ নিয়ে ছয় ম্যাচ হারল জার্মানি। তাতে রেকর্ড বইয়ে লেখা হয়েছে জার্মানির লজ্জার এক অধ্যায়। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যে এক পঞ্জিকাবর্ষে ছয় ম্যাচ হারল জার্মানরা। এমনকি গত ১৮ বছরে এই প্রথম তারা টানা দুই ম্যাচে হার সঙ্গী করল।
স্টাডে ডি ফ্রান্সে, ম্যাচের ১৪ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। লেরয় সানের কাটব্যাক ডি বক্সের ভেতর ফরাসি ডিফেন্ডার প্রেস্নেল কিম্পেম্বের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে হুগো লরিসকে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা টনি ক্রুস। জার্মানি তখন এ বছর দ্বিতীয় জয়ের স্বপ্নই দেখছিল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬২ মিনিটে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান গ্রিজমান। লুকাস হার্নান্দেজের ক্রসে ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড গ্রিজম্যান।

৮০ মিনিটে জয়সূচক গোলটাও পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডিফেন্ডার ম্যাট হামেলস ডি বক্সের ভেতর ফ্রান্সের ব্লেইস মাতুইদিকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটা করেন গ্রিজমান।

এই জয়ে নেশনস লিগে নিজেদের অপরাজেয়র ধারাটা ধরে রাখল দিদিয়ের দেশমের দল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-১ এর শীর্ষে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে নেদারল্যান্ডস। ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে জার্মানি।

ব্রাজিলের কাছে হার আর্জেন্টিনার

লি‌ওনেল মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে মাত্র এক গোলে হেরেছে। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের এই ‘সুপার ক্ল্যাসিকো’টি হয় সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে। নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগিয়ে চলা এই ম্যাচের খেলা শেষের ইনজুরি টাইমে ডিফেন্ডার মিরান্ডার গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ব্রাজিল।

আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি না খেললে‌ও ব্রাজিলের হয়ে ঠিকই এই প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার নেইমার। যোগ করা সময়ে নেইমারের নেয়া কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে ব্রাজিলকে জয় পাইয়ে দেন মিরান্ডা। অবশ্য এর আগে সৌদি আরব সফরে প্রথম ম্যাচে জিতেছে দুই দলই। ইরাকের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আর স্বাগতিক সৌদি আরবকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরাই। দুই দলের মুখোমুখি ১০৮ লড়াইয়ে ৪৪টি জয়ের বিপরীতে ৩৯টিতে হেরেছে তারা।

অমীমাংসিত থেকেছে ২৫টি ম্যাচ। এ জয়ের ফলে ব্রাজিলের ৪৫ জয়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সংখ্যা হলো ৩৯। এদিন ব্রাজিলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন নেইমার।

বিশ্বকাপে রাশিয়ার রেকর্ড আয়

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করে রেকর্ড পরিমান অর্থ আয় করেছে রাশিয়া। এতটা আয় হতে পারে সেটা আয়োজকরা যেমন আন্দাজ করতে পারেননি, তেমনি সেই দেশের কর্তাব্যক্তিরাও ভাবতে পারেননি। একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় হতে পারে! এই বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করে রাশিয়ার এতো পরিমান অর্থ আয় হয়েছে যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কোনও চিন্তাই আর থাকলো না।

২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজন করে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশী অর্থ উপার্জন হয়েছে রাশিয়ার। মঙ্গলবার দোহায় টুর্নামেন্টের আয়োজক সংস্থা রাশিয়ার এই বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জনের কথা জানিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সে দেশের নিজস্ব পণ্য থেকে অর্জিত গড় আয়ের এক শতাংশেরও বেশি। মাত্র একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে এই পরিমাণ লাভের মুখ দেখা সত্যিই অবাক করা কাণ্ড বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী এ্যালেক্সি সরকিন বলছিলেন, ‘রাশিয়ার আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে বিশ্বকাপ। খেলাটা মাঠে হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তার প্রভাব মাঠের বাইরেও দেখা দিয়েছে সমানভাবে। বিশ্বকাপ আয়োজনের ফলে সে দেশের পর্যটন শিল্পেও ব্যাপক মুনাফা হয়েছে।’ ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারে একটি ফুটবল কনফারেন্সে সরকিন আরও বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান ও রিপোর্ট আমাদের কাছেও বিষ্ময়কর। তবে এটা একদিকে ফুটবলের জন্য ভাল বিজ্ঞাপন। ফুটবল মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে। এটাই তার প্রমাণ।’

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই টুর্নামেন্ট রাশিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজারের মতো। যার প্রভাব এখনও সেখানকার অর্থনীতিতে পড়ছে। অন্তত আগামী ৫ বছর পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের আগে ফুটবল দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল রাশিয়ায়। কিন্তু টুর্নামেন্ট চলাকালে তেমন একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জয়াসুরিয়ার দুর্নীতি!

শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান সনৎ জয়াসুরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দমন আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে এনেছে আইসিসি। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর শ্রীলঙ্কার দল নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন জয়াসুরিয়া। নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করেন তিনি।

জয়াসুরিয়ার বিরুদ্ধে আর্টিকল ২.৪.৬ ও আর্টিকল ২.৪.৭ ধারায় অভিয়োগ আনা হয়েছে। আর্টিকল ২.৪.৬ ধারায় অভিয়োগ আনা হয় আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার কোন তদন্তের কাজে যথাযথ কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যার্থ হওয়া বা অস্বীকার করার জন্য়। সাধারণত দুর্নীতি দমন শাখার চাওয়া কোনও তথ্য বা নথি দিতে না পারলেই এই ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আর আর্টিকল ২.৪.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয় তদন্তের কাজে বাধা দিলে বা তদন্তকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করলে। এর আগে দেখা গিয়েছে তদন্তের প্রয়োজনীয় নথি নষ্ট করা, যা প্রমাণ হতে পারত, অথবা কোনও প্রমাণের সন্ধান দিতে পারত, তার জন্য এই ধারায় অভিযোগ আনা হয়। জয়সুরিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ অক্টোবর থেকে দু সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

৩১ বছর পর ইংল্যান্ডের স্পেন জয়

স্পেনের কাছে গত মাসে ঘরের মাঠে হারতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এবার তাদেরই মাঠে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। সেভিয়ায় সোমবার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। গত মাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লুইস এনরিকের দলের কাছে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর তিন ম্যাচের সবকটিতে জেতা স্পেন পঞ্চম মিনিটেই গোল পেতে পারতো। কর্নারে মার্কোস আলোনসোর হেড গোললাইন থেকে জর্ডান পিকফোর্ড কোনোমতে ফেরালে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর পাল্টে যেতে থাকে ম্যাচের চিত্র। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্টরা। দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে খেলার ১৬ মিনিটে এগিয়ে যায় অতিথিরা। আক্রমণ রুখে পিকফোর্ড বল বাড়ান হ্যারি কেইনকে। তার কাছ থেকে বল পেয়ে মার্কাস রাশফোর্ড দ্রুত পাস দেন রাহিম স্টার্লিংকে। ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার রাহিম। ২৭ ম্যাচ পর জাতীয় দলের হয়ে আবারও গোল করলেন স্টার্লিং।

শুরু থেকে লম্বা পাসে খেলা ইংলিশদের ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটিও আসে পাল্টা-আক্রমণে। ২৯ মিনিটে পিকফোর্ডের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে কেইন বাড়ান র‌্যাশফার্ডকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন।

দুই গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই তৃতীয়বার নিজেদের জাল থেকে বল কুড়িয়ে আনতে হয় স্বাগতিকদের। ৩৮ মিনিটের গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাশিয়া বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইনের। ডান দিক থেকে তার গোলমুখে বাড়ানো বল টোকা দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন স্টার্লিং। দেশের পক্ষে এটা তার চতুর্থ গোল।

৫৮ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরার আভাস দেয় স্পেন। রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার মার্কো আসেনসিওর কর্নারে দারুণ হেডে গোলটি করেন আগের মিনিটেই বদলি নামা পাকো আলকাসের।

নাটকীয়তার তখনও ঢের বাকি। সাত মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আসেনসিওর হেড ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে ফেরে। পরের মিনিটে রিয়াল মিডফিল্ডার দানি সেবাইয়োসের ক্রসে হেড করে ব্যবধান আরও কমান সের্হিও রামোস। কিন্তু এরপর আর কোনো সময়ই ছিল না বল মাঠে গড়ানোর।

১৫ বছর পর ঘরের মাঠে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারলো স্পেন। ২০০৩ সালে গ্রিসের কাছে হারের পর ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। আর ৩১ বছর পর স্পেনের মাঠে প্রথম জয়ের দেখা পেল ইংল্যান্ড।

তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের গ্রুপ-৪ এ শীর্ষে আছে স্পেন। আর সমান ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। দুই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার পয়েন্ট ১।

ইটালির কষ্টার্জিত জয়

জয়টা প্রাপ্যই ছিলো ইটালির। বারবার পোল্যান্ডের রক্ষণভাগ তছনছ করে দেয় রাবার্টো ম্যানচিনির শিষ্যরা। কিন্তু গোল পা‌ওয়া হচ্ছিলো না। অবশেষে শেষ বাঁশি বাজার ৩০ সেকেন্ড আগে ক্রিস্টিয়ানো বিরগাহির গোলে জয় নিশ্চিত হয় ইটালিয়ানদের। এই জয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করলো আজ্জুরিরা।

পোল্যান্ডের স্লাস্কি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিলো ইতালির হাতে। ৭০ ভাগ বল দখলে রেখে গোটা ম্যাচে অন্তত ১৮ বার পোলিশদের রক্ষণদূর্গে হানা দেয় তারা। কিন্তু গোলরক্ষক ওইচেহ স্ট্যাজনির দৃঢ়তায় বারবার রক্ষা পেয়েছে স্বাগতিকরা। অবশেষে খেলার ৯২ মিনিটে বিরগাহি জয়সূচক গোলটি করেন।

এরআগে, ইউক্রেনের সঙ্গে ১-১ ড্র করা দলটিকেই মাঠে নামান ইটালির কোচ রবার্টো ম্যানচিনি। তবে পোল্যান্ডের কোচ জার্জি ব্রেজচেক, পর্তুগালের সঙ্গে খেলা ম্যাচের পাঁচটি পরিবর্তন করে দল সাজান।গত সেপ্টেম্বরে শেষ মোকাবেলায় ১-১ গোলে ড্র করেছিল ইটালি ও পোল্যান্ড।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণ আজ

আরো একবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। প্রীতি ম্যাচে সোমবার রাত ১২টায় একে অন্যের বিপক্ষে লড়বে দু’দল। সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ম্যাচের আগে এ তুমুল উত্তেজনা। প্রীতি ম্যাচ নিয়ে এতো আলোচনা, আবেগ, উত্তেজনা খুব কমই হয়। আর এর কারণ হলো দুই দল যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ দুই দলের ম্যাচ যে কখনোই প্রীতি ম্যাচ হয় না তা মনে করিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার মাউরো ইকার্দি।

‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মধ্যে কখনো প্রীতি ম্যাচ হয় না। এই ম্যাচ ঘিরে থাকে অনেক আবেগ। শেষ সফরে আমরা কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলেছি, ওরাও দুর্দান্ত দল। কিন্তু ব্রাজিল অন্য কিছু, তাদের বিপক্ষে খেলা মানে আরও বেশি কিছু। এ কারণে ওদের বিপক্ষে মাঠে কখনোই প্রীতি ম্যাচ হয় না। আর এটা কখনো হবেও না।’ – ব্রাজিলের বিপক্ষের ম্যাচ নিয়ে এমনটাই বলেছেন ইকার্দি।

দুদিন আগেই ইরাকের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আগের দিন সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় প্রতিপক্ষ ব্রাজিলও। নিজেদের শেষ ম্যাচে তুলনামূলক বড় জয় পেলেও এ ম্যাচে আর্জেন্টিনা নিজেদের ফেভারিট ভাবতে পারছে না। তেমন গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি দলটি। তার কারণটা অবশ্য তুলে ধরেছেন ইকার্দি, ‘আমরা অনেক নতুন খেলোয়াড় নিয়ে নতুন একটা প্রকল্প অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। অনেকেই প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি পড়েছে। সবাই মিলে ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করছি, একটা ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছি। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়া বিশ্বকাপে হোর্হে সাম্পাওলির দলে ছিলেন না ইকার্দি। বিশ্বকাপ শেষে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ লিওনেল স্কোলানির দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। খেলছেনও দারুণ। সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে বললেন, ‘আমি খুব ভালো আছি। বর্তমানে ভালো ছন্দে আছি। দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছি। যেটা আগের বার ডাক পাওয়ার সময় হয়নি।’

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এ নিয়ে ১০৪ বার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।তাতে ৪০টি ম্যাচ জিতেছে ব্রাজিল। অপরদিকে আর্জেন্টিনায় জয় ৩৮টি ম্যাচে। তবে সবশেষ মোকাবেলায় অবশ্য জিতেছিল আর্জেন্টিনাই। সাম্পাওলির অভিষেক ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ১-০ গোলের ব্যবধানে।

ফখর জামানের প্রেমে জারিন খান!

পাকিস্তানের ক্রিকেটার ফখর জামানের সঙ্গে প্রেম করছেন জারিন খান! এই কৌতূহলে মাতোয়ারা হয়ে আছে সোশাল মিডিয়া। প্রত্যেকেই জানতে চাইছিলেন, পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী সম্পর্কে জড়ালেন কিনা। অবশেষে সে নিয়ে মুখ খুললেন জারিন। সবকিছু বাতাসে উড়িয়ে দিলেন তিনি।

ক্রিকেট আর বিনোদন-দুনিয়ার তারকাদের প্রেম-সম্পর্ক নতুন ঘটনা হয়। পতৌদি-শর্মিলা ঠাকুর থেকে শুরু করে হালের বিরাট-আনুষ্কা, এসব জুটিই তার প্রমাণ। আবার পাক ক্রিকেটার শোয়েব মালিককে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। এবার কি তবে একই পথে এগোচ্ছেন জারিন খান? একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত খবরের পরই এ নিয়েই শুরু হয়ে যায় চর্চা।

এরপরই জারিনের অনুরাগীরা জানতে চান, সীমান্তের ওপারেই কি নিজের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছেন তিনি? শেষমেশ টুইট করে ভক্তদের কৌতূহল মেটান বীর ছবির নায়িকা। এক ফ্যানের প্রশ্নের উত্তরে লেখেন, এ খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে ফখরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে এই প্রথমবার নয়। এর আগেও পাক ক্রিকেটারের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে জারিনের। গত বছর শোনা গিয়েছিল, প্রাক্তন পাক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদির সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন তার। এমনকী বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছে। দুজনকে একাধিকবার একসঙ্গে দেখাও গিয়েছিল। সেবারও সমস্ত খবরকে গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন জারিন। জানিয়েছিলেন, আফ্রিদি একজন ভদ্রলোক এবং বিবাহিত। তাই এ ধরনের ভুঁয়ো খবর যেন না প্রকাশ করা হয়। এবারও একই কথা বললেন জারিন খান।

নেদারল্যান্ডসে বিধ্বস্ত জার্মানি

জার্মানিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগে প্রথম জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। আর্মস্টারডামের জোহান ক্রুয়েফ স্টেডিয়ামে গোলের শুরুটা করেন অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডিক। তারপর মেমফিস ডিপে আর জর্জিনিয়ো উইজানডাল আরো দুই গোল করলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডাচরা। এতে ১৬ বছর পর জার্মানিদের বিপক্ষে জয় পেলো নেদারল্যান্ডস। আর দুই ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারা ‘ডাই ম্যানশাফট’রা গ্রুপের তলানীতে অবস্থান করছে এখন।

চলতি বছরটা যেনো দুর্গতিই ছাড়ছেনা জার্মানিকে। ২০১৮ সালে ৯ ম্যাচে জিতেছে মাত্র তিনটিতে। আগের আট ম্যাচের চারটিতেই গোলশূন্য ছিলো তারা। তাছাড়া প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস হ‌ওয়ায় জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা জয়ই আশা করছিলেন। কিন্তু উল্টো খেলার ৩০ মিনিটে অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডিক লিড এনে দেন স্বাগতিক ডাচদের। বাবেলে গোল প্রচেষ্টা ক্রসপিসে লেগে ফিরে আসলে, ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন, ভ্যান ডিক।

এরপর দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ‌ওঠে খেলা। হলে কি হবে জার্মানি গোল শোধ করতে পারেনি। অবশেষে ৮৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেদারল্যান্ডস। প্রোমেসের পাসে, জার্মান গোলকিপার ন্যুয়ারকে পরাস্ত করে মেমফিস ডিপে ২-০ গোলের লিড এনে দেন ডাচদের।

এখানেই থেমে থাকেননি রোনাল্ড কোয়েম্যানের শিষ্যরা। খেলার শেষের যোগ করা সময়ে জর্জিনিয়ো উইজানডাল দারুণ এক গোলে নেদারল্যান্ডসের ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন। আর কমলা রঙে রঙিন গ্যালারি আনন্দে আরো বর্ণিল হয়ে ‌ওঠে।

ব্রাজিল আক্রমনে দিবালা-ইকার্দি!

ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আক্রমনভাগের নেতৃত্ব দেবেন জুভেন্টাসের স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা আর ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড মাউরো ইকার্দি। এমনই গুজব ছড়িয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। আগামী মঙ্গলবার সৌদি আরবে লিওনেল স্কালোনির দল আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের। তার আগে সংবাদ মাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচার হয়।

দিবালা আর ইকার্দিকে সহায়তা করবেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। দলের নেতৃত্ব থাকছে গোলকিপার সার্জিও রোমেরোর কাছেই। তবে ইরাকের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় পাওয়া দলে কিছুটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সৌদি আরবকে ২-০ গোলে হারাল ব্রাজিল

আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সৌদি আরবকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে খেলার উভয়ার্ধে একটি করে গোল করে সেলেসাওরা।

খেলায় নেইমার গোল করতে না পারলেও দুটি গোলই এসেছে তার সহায়তায়। খেলার ৪৩ মিনিটে নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে সৌদিরা। ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের একটি আক্রমন ঠেকাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্বাগতিকদের গোলকিপার। তাতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সেই সুযোগে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে অ্যালেক্স সান্দ্রো নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে সেলেসাওদের ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন।

নারী টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং প্রকাশ

নারীদের ওয়ানডে ক্রিকেটে আগেই র‌্যাংকিং চালু ছিলো। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট র‌্যাংকিং ছিল না। তবে নারীদের টি-টোয়েন্টিতেও র‌্যাংকিং চালু করার ব্যাপারে ভাবছিল আইসিসি। অবশেষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেই র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। ৪৬ দলের এই র‌্যাংকিং তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে তিনবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা অস্ট্রেলিয়া। আর বাংলাদেশের অবস্থান নবম স্থানে।

গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ থেকেই আইসিসি সদস্য দেশগুলোর সব টি-টোয়েন্টি ম্যাচই পাচ্ছে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মর্যাদা। আইসিসির বিশ্বাস, নতুন এই র‌্যাংকিং সিস্টেম নারী ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়িয়ে দেবে। এক বিবৃতিতে সংস্থার প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বলেন, ‘নতুন এই র‌্যাংকিং পদ্ধতি নারীদের ক্রিকেটে একটা বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করবে, সেইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাড়বে। এখন সব দলই নিজেদের অবস্থান জেনে যেতে পারবে এবং নিজেদের খেলার উন্নতির দিকে আরও মনোযোগী হবে। এটা ক্রিকেটের প্রসারেও ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। আমি সব দলকে শুভকামনা জানাচ্ছি।’

র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার রেটিং পয়েন্ট ২৮০। ২৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড, তিনে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং পয়েন্ট ২৭০। ১৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে নবম স্থানে। টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়েও বাংলাদেশের অবস্থান নবম, সেখানেও শীর্ষস্থানে আছে অসি নারীরাই।

৬৮২ পয়েন্ট নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটস। বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে সবার উপরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মেগান শাট। বাংলাদেশের রুমানা আহমেদ সপ্তম ও নাহিদা আক্তার নবম স্থানে আছেন। অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়েও আছেন বাংলাদেশের দু’জন- অষ্টম স্থানে রুমানা ও নবমস্থানে সালমা খাতুন। অলরাউন্ডারদের তালিকায় সবার ওপরে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফাইনাল মানেই টান টান উত্তেজনা। রোমাঞ্চ আর ব্যক্তিগত ‌ও দলগত ক্রীড়াশৈলির মনরোম এক প্রদর্শনী। একপেশে খেলা হলে কারই বা ভালো লাগে। উত্তেজনাকর ফাইনালের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে ফিলিস্তিন। ১২০ মিনিট গোল পায়নি কোন দলই। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলের জয় পায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। ম্যাচের নায়ক ফিলিস্তিনির গোলরক্ষক রামি হামাদা। টাইব্রেকারে তাজিকিস্তানের দুই ফুটবলার তাবরেজি ও কমরনের শট প্রতিহত করে দলকে শিরোপা স্বাদ পাইয়ে দেন এই গোলরক্ষক।

দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটা তৃতীয় শিরোপা। এরআগে, এএফসি চ্যালেঞ্জ ও দেশের মাটিতে একটি ট্রফি জয় করেছিল তারা। ফাইনাল শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, বাফুফে’র সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বাদল রায়, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুটবলের উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশীপের প্রাক বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন মহিলা দল ও ভুটানে সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশীপে অপরাজিত চ্যাস্পিয়ন হওয়া তহুরা-মার্জিয়াদের অভিনন্দন জানান।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিরোপা যুদ্ধে ময়দানে নামে উভয় দল। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই এদিন ফাইনালের স্বাক্ষী হতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন হাজার পনের দর্শক। শুরু থেকেই আক্রমন-প্রতি আক্রমনে জমে উঠে ম্যাচ। কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোন দলই। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে তাজিকিস্তানের অধিনায়ক ফাতখুলয়েভ ফাতখুলু লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে জমে উঠে ম্যাচ। ফিলিস্তিনের মিডফিন্ডারের সামিহ মারাবা সঙ্গে বল দখলের সময় পড়ে গিয়ে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন তাজিক অধিনায়ক। এ সময় উভয় দলের ফুটবলাররা হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। তিন মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর রেফারী মিজানুর রহমান লাল কার্ড দেখান তাজিক কাপ্তানকে। দশ জনের দলে পরিনত হলেও ম্যাচের বাকী সময় নিজেদের জালে বল প্রবেশ করতে দেয়নি তারা। ফিলিস্তিনের জালেও বল পাঠাতে পারেনি তারা। তবে এ সময়টাতে প্রতিপক্ষের উপর বেশ চাপ প্রয়োগ করে খেলে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নেমেই দশ জনের তাজিকদের উপর কিছুটা চড়াও হয়েছিল ফিলিস্তিনির ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে তারা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাঁটল ধরাতে পারেনি। ৫৮ মিনিটে তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রুস্তমকে একা পেয়েও গোল আদায়ে ব্যর্থ হন ফিলিস্তিন ফরোয়ার্ড জাহাঙ্গীর। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে গোল হজম করতে বসেছিল র‌্যাংকিংয়ের একশ তম স্থানে থাকা ফিলিস্তিন। কপালটা বেশ সুপ্রসন্ন তাদের। তাজিক ডিফেন্ডার নাজারুভ আখতামের নেয়া শটটি ক্রসবারের কোনায় লেগে ফিরে আসলে বেঁচে যায় তারা। ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তেও গোল খেতে খেতে বেঁচে যায় ফিলিস্তিন। এবার অবশ্য ভুলটি ছিল তাজিকিস্তানের ফরোয়ার্ড বজোরুভের। ডানপ্রান্ত দিয়ে ডিফেন্ডার আব্দুগাফারভের আড়াআড়ি শটে ছোট বক্সের ভেতরে দাঁড়ানো এ ডিফেন্ডার বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। অবশেষে গোল শূণ্যভাবেই শেষ হয় ৯০ মিনিট।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৬ মিনিটেই তাজিকদের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির মিডফিল্ডার পাবলো ব্রাভো। তার নেয়া দূরপাল্লার জোড়ালো শটে তাজিক গোলরক্ষক রুস্তম পরাস্ত হলেও বল সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। দশ জনের দল নিয়ে লড়াই করা তাজিকরা এ সময়টা বেশ রক্ষনাতœক হয়ে খেলতে থাকে। তাদের লক্ষ্যই ছিল পেনাল্টি শুট আউট। তাদের সে লক্ষ্যটা পূরণ হয়েছে। তবে ম্যাচের শেষ মিনিটে তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রুস্তমকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে গোলরক্ষক বেহরুজকে মাঠে নামান কোচ। কিন্তু পেনাল্টি শুট আউটে কোন ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি এ গোলরক্ষক। উল্টো ফিলিস্তিনের গোলরক্ষক রামি হামাদা প্রতিপক্ষের দুই ফুটবলারের শুট ফিরিয়ে দিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতিয়ে তোলেন দলকে।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের ড্র স্পেনের জয়

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়ে রীতিমত হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল আইসল্যান্ড। ইউরোপিয়ান ফুটবলে তাদের উত্থানটা যে হঠাৎ করেই নয় এবার সেটির নমুনা পেল ফ্রান্সও। বৃহস্পতিবার রাতে শেষ সময়ের পেনাল্টি গোলে হার এড়ায় ফ্রান্স। ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছে তারা আইসল্যান্ডের সঙ্গে। অবশ্য ফ্রান্সের হোঁচটের রাতে বড় জয় পেয়েছে পর্তুগাল ও স্পেন।

আইসল্যান্ডের মাঠে ৩০ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। শুরুর দাপট অবশ্য ছিল অতিথিদেরই। কিন্তু বিরকির বিয়ারনাসনের গোলের পরই তাল হারায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

শক্তিশালী প্রতিপক্ষের এলোমেলো খেলার সুযোগে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আইসল্যান্ড। ৫৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল হেডে ফ্রান্সের জালে জড়ান আরনাসন।

দুই গোলের ব্যবধানটা ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ধরে রেখেছিল আইসল্যান্ড। হার যখন চোখ রাঙাচ্ছিল ফ্রান্সকে, তখনই একটি গোল শোধ করে ফ্রেঞ্চদের পথে ফেরান কিলিয়ান এমবাপে।

আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সে সিগরাডসনের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেখান থেকে স্পটকিকে ফ্রান্সকে জয়ের মতো এক ড্র এনে দেন গ্রিজম্যানের বদলি নামা এমবাপে।

ফ্রান্সের হোঁচটের রাতে গ্যারেথ বেলবিহীন ওয়েলসের মাঠ থেকে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে ফিরেছে স্পেন। কার্ডিফ সিটির মাঠে ৮ ও ১৯ মিনিটে জোড়া গোল করেন বার্সা থেকে ব্রাত্য হয়ে দারুণভাবে জ্বলে ওঠা ফরোয়ার্ড পাকো আলকাসার। বাকি দুই গোল অধিনায়ক সার্জিও রামোস ও মার্ক বার্ত্রার। ওয়েলসের হয়ে সান্ত্বনার গোলটি স্যাম ভোকসের।

যৌন কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হয়ে জাতীয় দলে ডাক পাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাকে ছাড়াই পোল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও উয়েফা নেশন্স কাপে ২-৩ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে পর্তুগাল। একটি করে গোল করেছেন আন্দ্রে সিলভা ও বের্নাদো সিলভা। অন্যটি পোলিশদের নিজেদের জালে নিজেরা জড়ানো গোল।

মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার জয়

লিওনেল মেসিকে ছাড়াই প্রীতি ম্যাচে বড় জয় পেলো আর্জেন্টিনা। সৌদী আরবের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে ইরাককে ৪-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কোলনির দল।

ইরাককে কোনো পাত্তাই দেয়নি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। খেলার ১৮ মিনিটে গোলদাতার খাতায় নাম লেখান লাউতারো মার্টিনেজ। মাউরো ইকার্দিকে না খেলিয়ে ইন্টার মিলানের এই তরুণকে খেলানোর বাজিটা স্কোলনির ভালোমতোই কাজে লেগেছে। ক্লাব সতীর্থের অনুপস্থিতিতে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটাও পেয়ে যান মার্টিনেজ।

ইরাক খর্ব শক্তির বলেই হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে‌ আবার‌ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন আর্জেন্টাইন কোচ। ৪৬ মিনিটে মাঠে নামা রবের্তো পেরেইরা, ৫৩ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার হারম্যান পেজ্জেইয়া। আর ৯০ মিনিটের বদলি হিসেবে নামা মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো কারভির গোলে বড় জয়ই নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

টানা তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনার সামনে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে আগামী মঙ্গলবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি। গুয়েতেমালা ও ইরাকের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা।

বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ফিলিস্তিন

কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

স্বাগতিক বাংলাদেশকে বিদায় করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী ফিলিস্তিন। আজ বুধবার সেমি ফাইনালের মহারণে লাল-সবুজদের ২-০ গোলে ধরাশায়ী করেছে ফিলিস্তিনিরা। একটি করে গোল করেন মোহাম্মেদ বালাহ ও সামি মারাবাহ। এ নিয়ে চারবারের লড়াইয়ে তিনবারই হারতে হলো বাংলাদেশকে। আর একটি ম্যাচ ছিল ড্র। আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারনী লড়াইয়ে র‌্যাংকিংয়ের শততম স্থানে থাকা ফিলিস্তিনিরা মুখোমুখি হবে তাজিকিস্তানের। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

 

ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এ লড়াইয়ে একাদশে চারটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জেমি ডে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়ছাল। সঙ্গে জায়গা পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। আর একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেনন তৌহিদুল আলম সবুজ, সুশান্ত ত্রিপুরা, রহমত মিয়া ও রবিউল হাসান। তবে লোকাল কোন ফুটবলারই জায়গা পাননি একাদশে। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ এ ম্যাচে লড়াই করেই হেরেছে। কাউন্টার অ্যাটাকে নয়, বরং পুরো ম্যাচেই আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছে। বারবার আক্রমন করেও গোলের দেখাটা পাওয়া হয়নি তাদের। ফিনিসিংয়ের অভাবটা গতকালও ফুঁটে উঠেছে। ফুটবল গোলের খেলা। দিন শেষে গোলের বিচারেই জয়-পরাজয় নির্ধারন হয়ে থাকে। ইতিহাসও মনে রাখে বিজয়ীদের। তপুু-সুফিল-জীবনরা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও সফরকারীরা ঠিকই সুযোগের সদ্বব্যবহার করেছে। দুই গোল আদায় করে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।

বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের কারনে গত তিন দিন ধরেই কক্সবাজারের আকাশে মেঘ জমে আছে। বৃষ্টি ঝড়ছে প্রতিনিয়ত। লাল-সবুজদের সমর্থন দিতে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই এদিন সমর্থকরা ছুঁটে আসেন মাঠে। গ্যালারী ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। টিকিট না পেয়ে অনেকেই ফিরে গেছেন হতাশা নিয়ে। টানা বৃষ্টির কারনে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্টেডিয়াম হয়ে উঠে কর্দমাক্ত। মাঠের মধ্যে পানি জমে ছিল। বারবার থেমে যাচ্ছিল বল। বলের নিয়ন্ত্রন নিতে উভয় দলের ফুটবলারদেরই গলদঘর্ম পোহাতে হয়েছে। এমন ভারী মাঠে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৮ মিনিটেই গোল হজম করে তারা। ফিলিস্তিনির পরিকল্পিত আক্রমনের সামনে অসহায় ছিলো লাল-সবুজদের রক্ষণভাগ। ডানপ্রান্ত দিয়ে মুসাবের ক্রসে মোহাম্মেদ বালাহর দারুন এক হেডে বল আশ্রয় নেয় জালে (১-০)। গোলরক্ষক আশরাফুল রানা চেষ্টা করেও পারেননি গোল প্রতিহত করতে। পিনপতন নিরবতা নেমে আসে পুরো গ্যালারী জুড়ে।

এরপরই যেনো জেগে উঠেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। আক্রমনে পর আক্রমন করে ভাবিয়ে তুলেছিল সফরকারীদের। ম্যাচের ১৩ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগটা হাতছাড়া হয় গোলরক্ষক রামি হামাদার কারনে। মাহুবুবর রহমান সুফিলের কাটব্যাকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মাসুক মিয়া জনি জোড়ালো শট নিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনির গোলরক্ষক সেই বল গ্রীপে নিয়ে হতাশ করেন লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। আট মিনিট পরেই গোল মিস করেন সুফিল। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটালেও গোলমুখে শট নিতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আবারো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন জীবন। সুফিলের বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল আদায় করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। তার নেয়া শটটি ছিল দিকভ্রষ্ট। ফিনিসিংয়ের যে অভাবটা তা স্পষ্ট হয়ে স্বাগতিক ফরোয়ার্ডদের একের পর এক গোল মিসের মহড়ায়।

পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধেও ছিল আগ্রাসী। গোলের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এ অর্ধে অনেকটাই রক্ষনাত্মক ভূমিকায় খেলতে থাকে ফিলিস্তিনিরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালে ফাঁটল ধরাতে পারেননি জামাল, বিপলু, সবুজরা। বরং কাউন্টার অ্যাটাকে খেলে ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলে চলতি এ আসরের শীর্ষ র‌্যাংকধারী দলটি। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে ইয়াজানের লংবলে দাবাগের হেডে বল পেয়ে যান ফরোয়ার্ড সামেহ। তার সামনে একজন ডিফেন্ডারও ছিলেন না। সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সেকেন্ডবার দিয়ে নিশানা ভেদ করেন তিনি (২-০)।

ব্যালন ডি’অরে মেসি-রোনালদো-নেইমার

ফুটবলের বিখ্যাত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ৩০জনের প্রাথমিক তালিকায় লি‌ওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং নেইমার থেকে শুরু করে প্রায় সব সেরা খেলোয়াড়েরই না রয়েছে। আছেন নতুন সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপে, পল পগবা এবং ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেনের নাম‌ও। তাতে ২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রতিযোগিতাটা বেশ জমজমাট হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আগেরবারের জয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং পর্তুগাল সব মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচে ৩৮ গোল করে আবার‌ও আছেন ফেভারিটের তালিকায়। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ী ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন, ক্লাব ‌ও দেশের হয়ে ৪৩ ম্যাচে করেছেন ৩০ গোল। কিয়েভে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে, লিভারপুলকে ৩-১ ব্যবধানে হারানো ম্যাচে দারুণ এক গোল করা রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল‌ও আছেন তালিকায়। কিন্তু ২৯ বছর বয়সী ‌ওয়ালসের এই স্ট্রাইকার ইনজুরিতে বেশ কিছুদিন ধরে দল এবং দেশের হয়ে খেলার বাইরে রয়েছেন।

ম্যানচেস্টার সিটির রেকর্ড গোলস্কোরার ‌ও আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার সার্জি‌ও অ্যাগুয়েরোর সঙ্গে আছেন পেপ গার্দ‌ওয়ালার আরেক শিষ্য ডি ব্রুইনের নাম। আছেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান তারকা রবার্টো ফিরমিনো।

তবে সাদি‌ও মানে, অ্যান্টোনি‌ও গ্রিজম্যানের নাম তালিকায় থাকলে‌ও বাদ পড়েছেন চলতি মৌসুমে ক্লাব দল চেলসি ও বেলজিয়ামের হয়ে ১০ গোল করা এডেন হ্যাজার্ড।

এবারের ব্যালন ডি’অরে নমিনেশন পেয়েছে স্প্যানিশ লা লিগার সর্বোচ্চ ১৪ জন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ১১ জন, ফ্রান্সের লিগ ‌ওয়ানের ৩জন এবং ইটালিয়ান সিরি এ’র ২ জন খেলোয়াড়। আগামী ৩ ডিসেম্বর জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে চূড়ান্তভাবে বিজয়ীর হাতে তুলে দেয়া হবে এই পুরস্কার।

আবহাওয়াই বড় প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের!

কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

সোমবার রাত থেকেই সৈকত নগরী কক্সবাজারে বইছে দমকা হাওয়া। সাথে থেমে থেমে বৃষ্টিও। এক নম্বর বিপদ সংকেতের কারণে ফুটবলারদের অনুশীলনে ঘটছে ব্যাঘাত। সকালের আবহাওয়ায় বিচে হাঁটার যে পরিকল্পনা ছিল টিম বাংলাদেশের, সেটা বাতিল করতে হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তপ্ত রোদের পর হঠাৎ করেই যেনো অশান্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেছে। এক নম্বর বিপদ সংকেত যতোটা না ভয়ঙ্কর, তারচেয়ে বেশী ভয়ঙ্কর হিসেবে স্বাগতিক বাংলাদেশের সামনে দেখা দিতে পারে প্রতিপক্ষ ফিলিস্তিন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে ফাইনালে যাওয়ার এই দ্বৈরথ। তবে ফিলিস্তিনকে নয়, আবহাওয়াকেই বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে টিম বাংলাদেশ!

ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে জয় পেলে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নাম লেখাবে স্বাগতিকরা। কিন্তু সে কাজটি যে কতোটা কঠিন তা ভালোই জানা আছে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার। তার উপরে টানা বৃষ্টিকেও প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘গরম হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। সুবিধা আদায় করতে পারতাম। কিন্তু বৃষ্টিটা ওদের জন্য সুবিধার হয়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ওরা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিলিস্তিন অনেক কঠিন। তারা আমাদের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে। শারীরিকভাবেও এগিয়ে আছে ওরা। এমন দলের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা কঠিন। তবে আমাদের সামর্থ আছে ম্যাচ জয়ের। হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা আর দর্শক সমর্থনতো আছেই।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিলিস্তিনকে সমীহ করে দলের স্বাগতিক কোচ জেমি ডে বলেন, ‘ছেলেরা মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। জয়ের জন্য আমাদের গোল দরকার। আশা করছি আগামীকাল আমরা সেটি করতে পারব। প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিলিস্তিন বেশ কঠিন। ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন হবে। তবে গ্রুপ পর্বের দু’টি ম্যাচেই আমরা ভাল খেলেছি। সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমাদের আরো ভাল ম্যাচ খেলতে হবে। সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।’ দলের ফর্মেশন প্রসঙ্গে জেমি বলেন, ‘এই ম্যাচে আমাদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ ওদের দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার দীর্ঘ দেহী। তারা বেশ ভালও খেলছে। সুতরাং তাদেরকে সঠিকভাবে মার্ক করে খেলা নিশ্চিত করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমদের আগ্রাসী মেজাজেও খেলতে হবে। সেটি করতে পারলে আমার তরফ থেকে কোন অনুযোগ থাকবে না। সেট পিসে এখনো পর্যন্ত আমরা ভালই খেলেছি। আশা করি সেটি বজায় রাখতে পারব।’

র‌্যাংকিংয়ের ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ম্যাচে অভিজ্ঞদের সঙ্গে থাকবে তরুণদের সমন্বয়। কারণ সিলেটে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেছিল স্বাগতিকরা। ঐ ম্যাচে বেশ কয়েকজন তরুন ফুটবলার ছিল একাদশে। তাই সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে একাদশ গঠন নিয়ে বেশ ভাবনায় মগ্ন কোচ। কাকে রেখে, কাকে রাখবেন- সেটা নিয়ে কঠিন ভাবনায় জেমি ডে। ‘ফিলিপাইনের বিপক্ষে কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বেশ ভাল খেলেছে। যে কারণে আমার জন্য সেরা একাদশ গঠন কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাকে দীর্ঘ সময় ভাবতে হচ্ছে। কারণ সবাই অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছে।’ বৃষ্টির কারনে মাঠে অবস্থা বেশ করুণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাঠের অবস্থা দুই দলের জন্যই সমান। ফলে পরিস্থিতি যেমনই হোক সেখানে ফিলিস্তিনের তুলনায় আমরাই বেশী খাপ খাওয়াতে পারবো। তবে পরিস্থিতি কি হবে আমি জানিনা। আমার চিন্তা হচ্ছে মাঠে গিয়ে যতটুকু সম্ভব নিজেদের খেলাটি ভালভাবে খেলতে হবে।’

পঁচা শামুকে পা কাটার ভয়

জয়ের আনন্দে ভাসার পাশাপাশি ‘পঁচা শামুকে পা কাটার ভয়‌ও’ আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। চলতি মাসেই স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসবে জিম্বাবুয়ে দল। আর এটা কে না জানে যে র‌্যাংকিংয়ে নিচের সারির দলের সঙ্গে খেললে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই হয় বেশি। পদে পদে থাকে পা পিছলে (র‌্যাংকিং পয়েন্ট হারানোর) যা‌ওয়ার ভয়।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সিরিজে‌ও পুরোপুরি সেই ভয়টা আছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ যদি ৩-০ তে ‌ওয়ানডে সিরিজ জেতে তবে এক র‌্যাংকিং পয়েন্ট যোগ হবে। টাইগারদের পয়েন্ট এখন ৯২, তখন হবে ৯৩। আর হেরে গেলেই মহাবিপদ। যদি বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে তবে ২ রেটিং পয়েন্ট কমে হবে ৯০।

আর যদি জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে তবে ৫ রেটিং পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ। ৩-০ তে সিরিজ জিতে বাংলাদেশকে যদি হোয়াইট‌ওয়াশ করে তারা তবে ৭ রেটিং পয়েন্ট হারাবে টাইগাররা। তখন পয়েন্ট হবে ৮৭। তবে র‌্যাংকিংয়ের সপ্তমস্থানে থাকা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পেছনে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টমে আছে শ্রীলংকা।

জিম্বাবুয়ের কাছে হোয়াইট‌ওয়াশ হলে‌ও র‌্যাংকিংয়ে হেরফের হবে না বাংলাদেশের। সপ্তমেই থাকবে। তবে রেটিং পয়েন্ট হারানোয় নিচের দলের সঙ্গে পার্থক্যটা কমে আসবে। তবে র‌্যাংকিংয়ে মারপ্যাচে শ্রীলংকার পেছনে পরার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। টাইগাররা যদি জিম্বাবুয়ের কাছে ৩-০ তে পরাজিত হয় আর শ্রীলঙ্কা যদি ৫-০ তে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়, তবে পেছনে পর যাবে বাংলাদেশ। তখন লংকানদের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে হবে ৮৬, আর বাংলাদেশেরটা কমে হবে ৮৫।

কৌশলে পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ

কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এক ম্যাচ জিতেই ছয় জাতির এই টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। এবার লক্ষ্য ফাইনাল। তবে সে পথ পাড়ি দিতে টপকাতে হবে ‘ফিলিস্তিন’ নামক বিশাল এক হার্ডল। সে দেয়াল ডিঙ্গানোটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই এবার ভিন্ন কৌশলে খেলতে চায় বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে লাওস ও ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক খেলা লাল-সবুজ শিবিরকে শেষ চারের লড়াইয়ে কিছুটা রক্ষনাত্মক ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। র‌্যাংকিং আর শক্তির বিচারে আকাশ-পাতাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির বিরুদ্ধে কাউন্টার অ্যাটাকে খেলে ম্যাচ জিততে চান জেমি ডে’র শিষ্যরা। অন্যদিকে, স্বাগিতকদের বিরুদ্ধে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চায় ফিলিস্তিন।

কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর আড়াইটায় র‌্যাংকিংয়ের ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শিবির। এ ম্যাচটিকে সামনে রেখে আজ সোমবার ম্যাচ ভেন্যুতে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন মামুনুল, ওয়ালী ফয়ছাল, ইব্রাহিমরা। দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এক ঘন্টা কড়া রোদে ঘাম ঝড়িয়েছে টিম বাংলাদেশ। অনুশীলনে দলের সঙ্গে ছিলেন না হেড কোচ জেমি ডে। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা অনুভব করায় স্থানীয় হাসপাতালে চেকআপ করানো হয়েছে তাকে। অসুস্থতা গুরুতর না হলেও চিকিৎসকরা তার ইসিজি করেছেন। হেড কোচ না আসায় সহকারী কোচের অধীনে অনুশীলন করেছে দল। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের উপর আলাদা নজর দেয়া হয়েছে অনুশীলনে। গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে দেখা গেছে বেশ কসরত করতে। এ দু’টি বিভাগে বেশ জোড় দেয়া হয়েছে অনুশীলনে। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষণভাগ আগলে রাখাটাকেই এখন বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে স্বাগতিকরা। প্রতিপক্ষের দীর্ঘ দেহী ফরোয়ার্ডদের আক্রমনগুলো নসাৎ করে দিতে চান তপু বর্মন, টুটুল হোসেন বাদশারা। চলতি এ আসরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল আক্রমনভাগের দু’জন করে ফটুবলার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। বুধবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।

অনুশীলন শেষে দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু বলেন, ‘ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে আমাদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। আজ অনুশীলনে রক্ষণের উপরই বেশী জোর দেয়া হয়েছে। তবে কৌশল কি হবে ম্যাচের দিন, সেটা আগামীকাল অনুশীলন শেষে হেড কোচ জানাবেন।’ ফরমেশন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কোচের বিষয়। কোন ফরমেশনে খেলবে দল সেটা আগামীকালই হয়তো জানতে পারবে সবাই। আর ফিলিস্তিন আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী একটা দল। কিন্তু ফুটবলটা ৯০ মিনিটের খেলা। বুধবার দুপুরে যারা গোল পাবে তারাই জিতবে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিপক্ষ দলকে থামিয়ে রাখা এবং গোল আদায় করে নেয়া।’

বর্তমান জাতীয় দলে রয়েছেন কক্সবাজারের চার ফুটবলার। এরা হলেন ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ, ইব্রাহিম, ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা ও গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু। হোম ভেন্যুতে খেলায় আলাদা কোন চাপ থাকবে কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে সবুজ বলেন, ‘এটি আমার ঘরের মাঠ। এখানে চাপের কোন বিষয় নয়। বরং এটা আমার জন্য আরো ভালো খেলার প্রেরণা। কারণ নিজের পরিবারের সবাই আসবে মাঠে। আমার লক্ষ্য থাকবে গোল করা। কিন্তু দল যদি জয় পায় আর আমি গোল নাও করতে পারি, তবুও কোন আফসোস থাকবে না।’ দলের আরেক ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম জানান, ‘আমি নিজের মাঠে খেলতে উদগ্রীব হয়ে আছি। যদি একাদশে সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই গোলের চেষ্টা থাকবে। আমার লক্ষ্য জয় নিয়ে ঢাকায় ফেরা।’

এদিকে, ফিলিস্তিনের কোচ আইলাদ আলী নুরুদ্দিনী স্বাগতিকদের সমীহ করে বলেন, ‘তারা বেশ শক্তিশালী। স্ট্রেংথও অনেক ভালো। এখানকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যাচের দিন দল সাজাবো। এবং জয়ের জন্যই মাঠে নামবো। সেভাবেই আমরা প্রস্তুত হয়ে এসেছি।’ অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মাঠে নামার পর বাংলাদেশের খেলা দেখে আমাদের রণ কৌশল সাজাবো।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের নারীদের সহজ জয়

সিরিজের একমাত্র ‌ওয়ানডেতে সহজেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১২৬ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় সালমা-রুমানারা। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তানের মেয়েরা। জবাবে, ২৯ ‌ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান তুলে জয় পায় বাংলাদেশ।

অবশ্য টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিন ম্যাচে ব্যাটিং বা বোলিং কোনোটাতেই চেনা রূপে ছিলো না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এ বছরেই নারী এশিয়া কাপ ও বিশ্ব টি-টোয়েন্টির বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে। পেতে হয় হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।

তবে পাকিস্তানের এ সফরের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রুমানা আহমেদের দল। খাদিজা তুল কুবরার স্পিন ঘূর্ণি ও ফারজানা হক-রুমানা আহমেদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটের সহজ জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পক্ষে নারী ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ছয় উইকেট নেন খাদিজা। তার অফস্পিনে ধরাশায়ী হয়ে মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। যা কিনা মাত্র ৪ উইকেট হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো করতে পারেনি নারী দল। ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেলেন আয়েশা রহমান। দলীয় ছয় রানের মাথায় রানআউটে কাটা পড়েন অারেক ওপেনার শারমিন আক্তার।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের এক ম্যাচেও ৯০ রান করতে না পারা বাংলাদেশ দলের জন্য তখন ৯৫ রানের লক্ষ্যটাও যেনো দূরের পথ। তবে সে পথকে সহজ করে দেন তিন নম্বরে নামা ফারজানা হক ও চার নম্বরে নামা অধিনায়ক রুমানা আহমেদ।

দুজনের ৮১ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। অধিনায়ক রুমানা সাজঘরে ফেরেন ৩৪ রান করে। দুই বল পরে ৪৮ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ফারজানা।

হুট করে দুই উইকেট হারালেও কক্ষ্যচ্যুত হয়নি বাংলাদেশের জয়। লতা মন্ডল এবং ফাহিমা খাতুনের ব্যাটে ২৯ ওভারে লক্ষ্য পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এর আগে, টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি পাকিস্তান। মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই ৫০ রান করে ফেলেছিল সফরকারীরা।

১৫তম ওভারে প্রথমবারের মতো আঘাত হানেন খাদিজা। এরপর একে একে পাকিস্তান শিবিরে ত্রাস হয়ে দেখা দেন এই ডানহাতি স্পিনার। পাকিস্তান শেষের ৫ উইকেট হারায় মাত্র ১০ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন অধিনায়ক জাভেরিয়া খান। এছাড়া আয়েশা জাফর ও মুনীবা আলির ১৮ ব্যতীত আর কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেয়া খাদিজা ৯.৫ ওভারে মাত্র ২০ রানে তুলে নেন ৬ উইকেট। এছাড়া রুমানা আহমেদ ২, জাহানারা আলম ১ ও লতা মন্ডল নেন ১টি করে উইকেট।

দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেলো বার্সেলোনা

লা লিগায় সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার। শেষ চার ম্যাচে জয়হীন লি‌ওনেল মেসির দল। আলাভেস, ভ্যালাদোলিদ, হুয়েস্কা ও রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে টানা চারটি ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করলে‌ও লেগানেসের কাছে হারের মুখ দেখতে হয়েছে বার্সাকে। জিরোনা ও অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের বিরুদ্ধে দু’টি হোম ম্যাচে আটকে গিয়েছে ভালবার্দের শিষ্যরা। এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধেও ড্র করল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

রক্ষণের ভুলে ম্যাচের একেবারে শুরুতেই গোল খেলে পিছিয়ে পড়ে কাতালানরা। প্রথমার্ধেই মেসির গোলে কাতালান ক্লাবের মান রক্ষা হয়বটে, তবে পয়েন্ট খুইয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয় তাদের। চলতি লা লিগায় এই প্রথমবার বার্সেলোনা নেমে আসে দু’নম্বরে। তাদের টপকে শীর্ষস্থানে এখন সেভিয়া।

ম্যাচের দু’মিনিটের মাথায় কর্ণার থেকে গোল পেয়ে যায় ভ্যালেন্সিয়া। সেট পিস থেকে পারেজোর ভাসানো বল হেডে ক্লেয়ার করার উদ্দেশ্যে পিকে সামনের দিকে ঝুঁকলে বল তাঁর পিঠে লেগে চলে যায় সেকেন্ড পোস্টের সামনে অরক্ষিত এজেকুয়েল গ্যারাইয়ের কাছে। হালকা টাচে বল বার্সেলোনার জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে (১-০) দেন তিনি। খেলার ৬ মিনিটে আরো একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। তবে এ যাত্রায় রক্ষ পায় বার্সেলোনা। তা নাহলে শুরুতেই ম্যাচে জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়তে পারত মেসিরা। ২৩ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ এক গোলে বার্সেলোনাকে সমতায় (১-১) ফেরান মেসি। আর এই গোলে অ্যাসিস্ট করেন সুয়ারেজ। দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই তেমন একটা সুযোগ তৈরি করতে না পারায় ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর লাইনে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

এই ড্রতে ৮ ম্যাচে মেসিদের পয়েন্ট সংখ্যা হলো ১৫। গোলপার্থক্যে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে পিছনে ফেলে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্সা। শীর্ষে থাকা সেভিয়ার পয়েন্ট ১৬। আর রিয়াল মাদ্রিদ ১৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে আছে চার নম্বরে।

সেঞ্চুরি দিয়ে বিদায় উদযাপন গেইলের

আগেই জানিয়েছিলেন এটাই তার শেষ ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচে যে এভাবে জ্বলে উঠবেন, তা ভাবা যায়নি। জামাইকার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ লিস্ট-এ ম্যাচে অধিনায়ক হিসাবে মাঠে নামেন ক্রিস গেইল। ব্যাট হাতে দুরন্ত সেঞ্চুরিতে দলকে জেতালেন এই ‌ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রেট। বল হাতে নিলেন একটি উইকেট‌ও। মূলত গেইলের দাপটেই বার্বাডোজকে রিজিওনাল সুপার-৫০’এর গ্রুপ ম্যাচে ৩৩ রানে পরাজিত করে জামাইকা।

ঘরোয়া ওয়ান ডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও চারদিনের ম্যাচে মাঠে নামার ইচ্ছে আছে গেইলের। জামাইকার হয়ে সুযোগমতো কোনও একটি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে মাঠে নামতে চান গেইল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই ফেরি‌ওয়ালা ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন বেশ কিছুদিন হল। আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে আগামী বছর ওয়ান ডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াই তাঁর টার্গেট।

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট‌ও চালিয়ে যাবেন। তবে পরিবারকে সময় দিতে আর ঘরোয়া লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলবেন না গেইল। ক্যারিয়ারের শেষ ঘরোয়া লিস্ট-এ ম্যাচে ম্যাচ উইনিং সেঞ্চুরি করে বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ বলে ১২২ রান করেন গেইল। প্রথমে ব্যাট করে জামাইকা ২২৬ রান তোলে। জবাবে বার্বাডোজ অলআউট হয় ১৯৩ রানে।

খেলা শেষে গেইল বলেন, ‘জামাইকার হয়ে শেষ ৫০ ওভারের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দারুণ লাগছে। অধিনায়ক হিসাবে শেষ ম্যাচে দলকে জেতানো অত্যন্ত আনন্দের। আমার মধ্যে এখনও যথেষ্ট রসদ আছে। তবে ক্রিকেটের বাইরেও একটা জীবন আছে। আমার একটা পরিবার রয়েছে। যাদের সময় দেওয়া আমার কর্তব্য। ২৫ বছর ধরে ক্রিকেট খেলতে পারা সাধারণ বিষয় নয়, সময় পেলে সাবাইনা পার্কে একটা চারদিনের ম্যাচ অবশ্যই খেলবো। আগামী বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বিশ্বকাপও খেলতে চাই।’

সাফের সেরা বাংলাদেশের নারীরা

মাত্র দুই মাস আগেই ভুটানের মাটিতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের ফাইনালে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে সাফ মুকুট হারিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। অনুজরা না পারলেও অগ্রজরা ঠিকই ভুটান জয় করেছে। প্রথমবারের মতো অায়োজিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলের শিরোপা জয় করেছে লাল-সবুজের দল।

রবিবার ভুৃটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে, ফাইনালের মহারণে মিসরাত জাহান মৌসুমী, তহুরা খাতুনরা ১-০ গোলে হারিয়েছে নেপালকে। শিরোপা নির্ধারনী গোলটি করেন মাসুরা পারভীন। ম্যাচের ৪৯ মিনিটেই নেপালের বুকে ছুঁরি চালান এই ফরোয়ার্ড। এই গোলটি আর পরিশোধ করতে পারেনি হিমালয় কন্যারা। ম্যাচের শেষার্ধে সমতায় ফিরে আসতে ‘মরণ কামড়’ দেয়ার চেষ্টা করেছিল নেপালীরা। কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণ ব্যুহ যেনো ‘চীনের প্রাচীর’। চির ধরাতে ব্যর্থ হয়েছে নেপালের কিশোরীরা। আঁখি-শামসুন্নাহাররা প্রতিপক্ষে ফরোয়ার্ডদের প্রতিটি আক্রমনই রুখে দিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। এ জয়ে নারীদের যুব সাফের ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে বাঁধাই করে রাখলো বাংলাদেশ।

ফুটবলে এখন বাংলাদেশ নারী দলের চলছে জয়জয়কার। যে আসরেই নামছে, সেখানেই জয় করছে তারা। চলতি বছরই এ নিয়ে চারটি আসরের ট্রফি জয় করলো লাল-সবুজের সেনানীরা। ফাইনালে নামার আগে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল টিম বাংলাদেশ। মাঠের লড়াইয়েও তাদের সে আত্মবিশ্বাস ফুঁটে ‌ওঠে। একের পর এক আক্রমন করে নেপালকে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিল। কিন্তু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। গোল উৎসব করতে অপেক্ষায় থাকতে হয় ৪৯ মিনিট পর্যন্ত। অবশেষে বাংলাদেশ দলকে আনন্দে ভাসিয়ে দেন মাসুরা পারভীন। সতীর্থের ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে হেডে গোল করেন আর তাতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

উৎসবে মেতে উঠা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই মিনিট পরেই ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। কিন্তু তাদের সে আশা পূরন হতে দেয়নি রক্ষণভাগ। এদিন, নেপালিদের বেশ কয়েকটি আক্রমন রুখে দিয়েছেন গোলরক্ষক গোলরক্ষক রূপনা চাকমাও।

লিড নেয়ার পর মাসুরা, শামসুন্নাহাররা অনেকটাই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন। নিজেদের সীমানায় কড়া পাহাড়া বসিয়ে সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষের দূর্গে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে আর গোল ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও গোল হজম করেননি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় দিয়ে নারীদের যুব সাফের প্রথম আসরের শিরোপার স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

দলের এমন জয়ে দারুণ খুশী কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল। ভুটানকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছিল। শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচের আগে আমি মেয়েদের বলেছিলাম চাপ না নেয়ার জন্য এবং স্বাভাবিক খেলাটা ঠান্ডা মাথায় খেলতে। ওরা আমার নির্দেশনা পুরোপুরি মাঠে প্রয়োগ করেছে। তাছাড়া দলের সবাই শুরু থেকেই গোলের তাড়নায় ছিল। সে তাড়না থেকেই এই জয় এসেছে।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে চলতি এ আসরে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ নারী দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলার নারীরা। শেষ চারের লড়াইয়ে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে শিরোপা স্বপ্ন প্রসারিত করেছিল মিসরাত জাহান মৌসুমীর দল।

চার সেমি ফাইনালিষ্ট এখন কক্সবাজারে

স্পোর্টস রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে

বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক ফুটবল টূর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব শেষে সেমি ফাইনাল খেলতে কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ চার সেমি ফাইনালিষ্ট দল। আজ রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে জামাল ভূইয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফুটবল দল এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) কর্মকর্তারা বিমান বন্দরে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এরপর একে একে ফিলিস্তিন, তাজিকিন্তান ও ফিলিপাইন জাতীয় ফুটবল দলও পর্যটন নগরীতে পৌঁছায়। তাদেরকে জানানো হয় উষ্ণ ফুলেল শুভেচ্ছা। বিমান বন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দলগুলোকে টিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে চারটি দলই ছিল বিশ্রামে। আগামীকাল সকালে অনুশীলনে মাঠে নামবে ফাইনালের যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকা চার দল। আগামী ৯ অক্টোবর প্রথম সেমি ফাইনালে তাকিকিস্তান মুখোমুখি হবে ফিলিপাইনের। আর পরের দিন স্বাগতিকরা লড়বে ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে বর্তমানে কক্সবাজারের চারজন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন, তৌহিদুল ইসলাম সবুজ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আনিসুর রহমান জিকু ও সুশান্ত ত্রিপুরা। নিজ ভূমিতে নেমে চকোরিয়ার সন্তান ইব্রাহিম বলেন, ‘আগেও বহুবার কক্সবাজারে এসেছি। তবে এবারের আসার অনুভূতি অন্যরকম। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নিজের মাঠে এসেছি। আমি চেষ্টা করবো নিজের সর্বোচ্চটা দিতে এবং দলকে জেতাতে।’ তৌহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘গ্রুপ পর্বে আমরা ভালো খেলে সেমিফাইনালে উঠে কক্সবাজারে এসেছি। এ মাঠে খেলার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। আশা করছি নিজেদের মাঠে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আমরা জিতবো।’

এদিকে কক্সবাজারে এসে উঞ্চ অভ্যর্থনা পেয়ে মুগ্ধ বিদেশী কোচ ও খেলোয়াড়রা। সমুদ্র নগরীতে পা রেখে ফিলিপাইন দলের সহকারী কোচ মংরি চো বলেন, ‘বাংলাদেশের আমন্ত্রনে খেলতে এসে আমাদের বেশ ভালই লাগছে। এখানকার মানুষ খুব ভালো। আমাদের খুব ভালো লাগছে।’ কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, ‘আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবরের আর্ন্তজাতিক ফুটবল ম্যাচ নিয়ে কক্সবাজারের ক্রীড়ামোদিরা উৎফুল্ল। আমরা প্রতিটি দলের জন্য স্থানীয় লিয়াজো অফিসার নিযুক্ত করেছি। দলকে আনা নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ম্যাচ দুটি আয়োজনের জন্য এখন সম্পুর্ন প্রস্তুত বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম। প্রথমবারের মত আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্ট নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’ ম্যাচ আয়োজনের জন্য স্টেডিয়াম এলাকা সহ গোটা শহরেই বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শচীন পুত্র অর্জুনের কান্ড

আবার‌ও শিরোনাম হলেন শচীন-পুত্র অর্জুন। এবার তিনি বোলিং দিয়ে মাত করলেন।৮.২ ওভার। এর মধ্যেই ৩০ রান খরচায় তুলে নিলেন ৫ উইকেট। এক ওভার মেডেন-ও নিয়েছেন। তাতেই শচীনের পুত্র অর্জুন টেন্ডুলকার শিরোনাম হন। অর্জুনের দাপটেই ভিনু মাঁকড় ট্রফি-তে গুজরাট গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪২ রানে। ৩৮ ওভারে স্বল্প এই টার্গেট তাড়া করতে নেমে মুম্বাই দ্বিতীয় ইনিংসে এই রান তুলে ফেলে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে। আর প্রথম ম্যাচেই মুম্বাইয়ের জয়ের নায়ক বনে যান শচীন-পুত্র অর্জুন। এই বাঁহাতি পেসারের সামনে কার্যত কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি গুজরাট।

দিনের দ্বিতীয় বলেই অর্জুন ওপেনার ওয়ার্দমান দাতেশ শাহের স্ট্যাম্প ছিটকে দিয়ে গুজরাটের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন। এরপরের দুই ব্যাটসম্যানকেও অর্জুন যখন ফিরিয়ে দেন, তখন গুজরাটের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬ রান। অর্জুনের দেখাদেখি বাকি বোলাররাও উইকেট উতসবে নেমে পড়েন।

উমাঙ্গ ও জয়মিত পটেল ৫৮ রানের জুটি গড়তে না পারলে গুজরাটের অবস্থা আরও শোচনীয় হতো। ৭ উইকেটে ৭৭ রানে থাকার সময়ে আবার‌ও ব্রেক থ্রু এনে দেন অর্জুন। ধ্রবঙ্গ পাটেলকে এরপরে আউট করে নিজের পঞ্চম শিকার সম্পন্ন করেন উঠতি তারকা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাইয়ের দুই ওপেনার শুভেদ পার্কার (৬৭), দিব্যাংশ (৪৫) ১০৮ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই রাখেন। প্রগনেশ কানপিলেওয়ার এর পরে ক্রিজে নেমে মুম্বইয়ে টার্গেটে পৌঁছে দেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে এই মৌসুমেই অর্জুনের শেষ। কারণ পরের বছরে ২০-তে পা দিচ্ছেন তিনি। বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণেই পরবর্তী যুব বিশ্বকাপেও খেলতে পারবেন না। চলতি বছরের জুলাইয়েই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যুব দলের হয়ে টেস্টে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল তাঁর। ৩টি উইকেটও দখল করেছিলেন। এখন রাজ্যদলে সিনিয়র লেভেলে খেলার জন্য কবে ডাক পান, সেই অপেক্ষা অর্জুন টেন্ডুলকারের।

ছাটাই হচ্ছেন লোপেতেগি!

লা লিগায় আলাভেসের কাছে ১-০ গোলে রিয়াল মাদ্রিদের পরাজয়ের পর কোচ হুলেন লোপেতেগিকে ছাটাই করার দাবী উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লে‌ও এই মুহূর্তে বরখাস্ত হওয়া নিয়ে মোটেও ভাবছেন না রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। আর দলের রক্ষণভাগের ভরসা স্যার্জি‌ও রামোস‌ও তার পক্ষেই আছেন। তিনি জানান, কোচ পরিবর্তনের চিন্তাটা হবে ‘পাগলামি’র সামিল।

গত শনিবার লা লিগায় আলাভেসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে রিয়াল। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে জয়হীন স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ৬ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট গোল বঞ্চিত তারা। সবশেষ ১৯৮৫ সালে এতো সময় গোলহীন ছিল দলটি। তখনকার কোচ ছিলেন অ্যামেচিও ওর্তেগা। তবে তাকে বরখাস্ত হতে হয়েছিল।

এ ব্যাপারটা স্মরণ করে লোপেতেগি বলেন, ‘কোচরা সব সময় ঝুঁকিতে থাকে। তাই বলে এখনি ছাঁটাই নিয়ে চিন্তা করছি না। অবশ্যই আমরা হতাশ। যেভাবে চাচ্ছি, সেটা হচ্ছে না। আমরা জানি কোচের জীবন কেমন, রিয়াল মাদ্রিদে সেটা আর‌ও বেশি।’

রামোস বলেন, এমন সিদ্ধান্ত হবে ‘সবচেয়ে বড় ভুল’। তিনি জানান, ‘এখন‌ও লম্বা সময় পড়ে আছে। নিশ্চয়ই ছেলেরা ঘুরে দাড়াবে। পরাজয়ের বিষয়টা আমরা ভুলে যেতে চাই।’

স্বপ্নার সাফল্যে শিরোপা চাইছে বাংলাদেশ

সিরাত জাহান স্বপ্না, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্ট্রাইকার। তার অনুপস্থিতি দলকে কতটুকু ভোগাতে পারে তা গত শুক্রবার সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে এবং গ্রুপ পর্বে নেপালের বিপেক্ষ দ্বিতীয়ার্ধেই স্পষ্ট হয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় এলেও শুরুতে লিড নেয়া বাংলাদেশকে এরপর ভুটানিরা চেপে ধরে। কারণ লাল-সবুজদের ফরোয়ার্ড লাইনে এমন কেউ ছিলেন না যিনি প্রতিপক্ষ শিবিরে আতঙ্ক ছড়াতে পারেন।

অবশ্য এই কাজেই দক্ষ স্বপ্না। নেপাল ও পাকিস্তানকে তো একাই কাবু করেছিলেন এই ফুটবলার। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ গোলের জয়ের সাতটিই আসে স্বপ্না’র পা থেকে। নেপালের বিপক্ষে তার গোলেই লিড নেয়া এবং শেষ পর্যন্ত দল পায় ২-১ গোলে জয়। আজ রবিবার বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দ্বিতীয় সাফ শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে, অন্যদের সঙ্গে লাল-সবুজদের এই স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখতে হবে স্বপ্নাকেও।

গোল করলে স্বপ্না যেমন এগিয়ে যাবেন সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডন বুট’ জেতার দৌড়ে, তেমনি বাংলাদেশও চলে যাবে শিরোপার কাছে। তহুরা খাতুন অবশ্য থিম্পুতে আগের বয়সভিত্তিক সাফে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। রানার্স আপেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছিল।

রংপুর জেলার মেয়ে স্বপ্না অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলের মতো সিনিয়র জাতীয় দলেরও গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার। ২০১৬ ভারতের শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সিনিয়র মহিলা সাফে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ৫ গোল করেন তিনি। এর মধ্যে ছিল সেমিফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। গ্রুপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১ গোল করেন। ফাইনালের মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করার অভ্যাস আছে তার। সেই সাফেই ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে সমতা সূচক গোল স্বপ্নার পা থেকে। যদিও বাংলাদেশ হেরেছিল ১-৩ গোলে। সুতরাং আজ নেপালের বিপক্ষে তার মানসিক চাপে থাকার কথাও নয়। শনিবার পুরো বাংলাদেশ দলকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে অনেকটা চাপ মুক্তির জন্যই। টানা তিন ম্যাচ খেলার ক্লান্তি দূর করতে। একই সাথে এই থিম্পুতে আগস্টের অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের শিক্ষাটাও মনে করানো হয়েছে মৌসুমী- মারিয়াদের।

ফাইনালেও যে গোল করতে হবে তা ভালো করেই জানেন স্বপ্না। জানান, ‘একজন স্ট্রাইকার হিসেবে আমার কাজই হবে গোল করা। সুযোগ পেলেই কাজে লাগাতে হবে। কোনোভাবেই সুযোগগুলো মিস করা যাবে না।’ আরো জানান, নেপাল শক্তিশালী দল। ফিজিক্যাল ম্যাচ বেশি খেলে তারা। জিততে হলে আমাদের সর্বশক্তি দিয়েই খেলতে হবে।

বাংলাদেশ দলের হয়ে এ পর্যন্ত ১৫ গোল স্বপ্নার। শুরুটা ২০১৫ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফেস্টিভাল ফুটবলে ভুটানের বিপক্ষে। সে ম্যাচে এক গোল তার। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে ডাক পেলেও খেলা হয়নি এএফসির আসরে। ২০১৬ সালে খেলেছেন, তবে পাননি গোল। এরপর সেই বছর সিনিয়র সাফে স্বরূপে ফেরা এই দ্রুতগতির স্ট্রাইকারের। সেই সাফে ৫ গোল করার পর এবার অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে এ পর্যন্ত ৮ গোল। নেপালের রেখা পাউডেলের গোল ৭টি। দু’জনের মধ্যে শনিবার তাই সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইও থাকবে।

২০১১ সালে রংপুরের পালিচড়া স্কুলের হয়ে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে খেলা স্বপ্না ২০১৩ সালে প্ল্যানের দেশব্যাপী ক্যাম্পে বাফুফের কোচদের নজরে আসেন। স্বপ্নার বিষয়ে কোচ ছোটনের বক্তব্য, ও খুব আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। গতির সাথে গোল করতেও দক্ষ। বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলির মতে, স্বপ্না প্রতিপক্ষের জন্য খুবই বিপজ্জনক ফুটবলার। বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় সে।

বাদ পড়লেন মার্সেলো

রাশিয়া বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের দলে ছিলেন না লেফট ব্যাক মার্সেলো। তবে সৌদি আরবে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দলে রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু ইনজুরির কারণে ব্রাজিল কোচ তিতের ঘোষিত দল থেকে ছিটকে গেছেন রিয়াল তারকা।

ব্রাজিল তারকা মার্সেলো তার হাঁটুর ইনজুরিতে ভুগছেন। রিয়ালেল ঘরের মাঠে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল শূন্য সমতার ম্যাচে দলে ছিলেন না তিনি। এছাড়া রাশিয়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগে সিএসকে মস্কোর বিপক্ষে ১-০ গোলে হারার ম্যাচেও খেলতে পারেনি মার্সেলো। এবার ইনজুরির কারণে খেলা হচ্ছে না জাতীয় দলের হয়েও।

ব্রাজিল আগামী ১২ অক্টোবর সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। এর চারদিন বাদে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে তিতের শিষ্যরা। ওই প্রীতি ম্যাচের দলে ডগলাস কস্তা, থিয়াগো সিলভা, উইলিয়ামের মতো বড় কিছু নাম বাদ পড়েছে। তবে ম্যালকম, আর্থার মেলোরা ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন। বার্সার তরুণ তারকা ম্যালকমের সৌদি সফরে ব্রাজিল দলে অভিষেকও হয়ে যেতে পারে।

আলাভেসের কাছে হার রিয়ালের

জয়ের দেখা তো মিলছেই না, উল্টো পরাজয়ের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে। টানা চার ম্যাচে জয়হীন থাকা হুলেন লোপেতেগির শিষ্যরা এবার আলাভেসের মাঠে হেরে ফিরলেন।

লা লিগায় শনিবারের ম্যাচে অপেক্ষাকৃত অনেক দুর্বল দল আলাভেস ১-০ গোলের হয় পেয়েছে। ২০০০ সালের পর রিয়ালের বিপক্ষে জিতল আলাভেস।

ম্যাচের শেষ মিনিটে জয় সূচক গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় গার্সিয়া। কর্নার থেকে রুবেন সোবরিনোর হেড কোর্তোয়া এক হাতে ফেরানোর চেষ্টা করলে পেয়ে যান গার্সিয়া। দ্বিতীয় দফায় আর ফেরাতে পারেননি কোর্তোয়া। গার্সিয়ার বল রিয়ালের জালে জড়ালেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় আলাভেসের।

সেমিতে ফিলিস্তিনকে পেলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমি ফাইনালে পা রাখলো শিরোপা প্রত্যাশী ফিলিস্তিন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপালকে ১-০ গোলে পরাস্ত করেছে তারা। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন খালেদ সেলিম। গ্রুপ সেরা হওয়ায় সেমি ফাইনালে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে।

আগামী ১০ অক্টোবর কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইটি। আর একদিন আগে প্রথম সেমি ফাইনালে তাজিকদের মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফিলিপাইন।

গ্রুপের এ ম্যাচটি নেপালের জন্যও ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিস্তিনিদের বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল তাদের সামনে। ২-০ ব্যবধানে জিতলেও বেঁচে থাকতো আশা। কিন্তু এমন ম্যাচে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। শুরু থেকে র‌্যাংকিংয়ের ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিন কিছুটা ধীর লয়ে খেলেছে। বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষের দূর্গে আঘাত হেনেছে বারবার। প্রথমার্ধেই একাধিক সুযোগ পেয়েছিল গোলের। কিন্তু এগিয়ে যাওয়া হয়নি ফিনিসিংয়ের অভাবে।

তবে ম্যাচের ৭০ মিনিটে দলকে ঠিকই উৎসবে মাতিয়েছেন খালেদ সেলিম। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আব্দুল্লাহ জাবেরেরে ক্রসে দৌড়ে এসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান এই মিডফিল্ডার (১-০)। এগিয়ে যাওয়ার উৎসবে মেতে উঠা শিরোপা প্রত্যাশীরা শেষ ২০ মিনিটেও একাধিকবার নেপালের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। অবশেষে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। আর বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপালের।

আগামীকাল রবিবার দুপুরের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করা চার দল স্বাগতিক বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন ও তাজিকিস্তান কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সিলেট ছাড়বে।

পাকিস্তানের কাছে ৩-০ তে সিরিজ হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা

কক্সবাজারে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের মেয়েদের হারালো পাকিস্তানের নারীরা। ৭ উইকেটের এই জয়ে চার ম্যাচের সিরিজ ৩-০ তে জিতলো তারা।

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে, ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে সালমা খাতুনের দল। সেই বিপর্যয় আর ঠেকানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭৭ রানে অলআউট হয় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন রুমানা আহমেদ। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে নাতালিয়া ২০ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন।

জবাবে, ৩ উইকেটে ৭৮ রান তুলে ৩১ বল হাতে রেখেই জয় পায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন অধিনায়ক জাভেরিয়া খান। মুনীবা আলী ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

রেকর্ড জয়ে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালো ভারত

ভারতের জয়টা অনুমিতই ছিলো হলো‌ও তাই। কিন্তু মাত্র তিন দিনে এবং রেকর্ড গড়ে যে ক্যারিবিয়ানদের এমন বিপর্যস্ত করবে সেটা ভাবা যায়নি। রাজকোট টেস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ২৭২ রানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেলো ভারত৷ অভিষেকে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা হন পৃথ্বি শ’৷

অভিষেকে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা হন পৃথ্বি শ’

৪৬৮ রানে পিছিয়ে ফলো অন করতে নেমে মাত্র ৯৪ রানে ৬ উইকেট হারানোতে পরাজয়ের মঞ্চটা আগেই তৈরি ছিলো ক্যারিবিয়দের। অপেক্ষা ছিলো সময়ের। কিয়েরন পা‌ওয়েল একটু প্রতিরোধ গড়লে‌ও বড় পরাজয় ঠেকানো যায়নি। ৯৩ বলে ৮৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তাতে ১৯৬ রানে শেষ হয়ে যায় ক্যারিবায়ানদের দ্বিতীয় ইনিংস৷

প্রথম ইনিংসের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের স্পিনের বিরুদ্ধে দু’শোর গণ্ডি টপকাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে চায়নাম্যাচ কুলদীপ যাদবের স্পিনের ভেলকিতে দু’শোর আগেই শেষ হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের লড়াই৷ প্রথম ইনিংসে ৪৮ ওভারে ১৮১ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ানদের লড়াই৷ দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামল ১৯৬ রান৷ অর্থাৎ কোনও ইনিংসেই দু’শো রানের গণ্ডি টপকাতে পারেননি ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যনরা৷

রাজকোটে টস জিতে প্রথম ব্যাটিং নিয়ে স্কোর বোর্ডে ৬৪৯/৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত৷ অভিষেক টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন পৃথ্বি শ’৷ মুম্বাইয়ের বছর আঠারোর এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান, লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ভারতীয় ইনিংস শুরু করে ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেন৷ শুরু থেকেই ক্যারিবিয়ান বোলার বিরুদ্ধে আধিপত্য বজায় রেখে মাত্র ৯৯ বলে শতরানে পৌঁছন পৃথ্বি৷ ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েন তিনি।

পৃথ্বী যেখানে শেষ করেন সেখান থেকে শুরু করেন বিরাট কোহলি৷ পৃথ্বির শতরানের পর সেঞ্চুরি আসে বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে৷ ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেন ভারত অধিনায়ক৷ কেরিয়ারে এটি ২৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি কোহলির৷ সেই সঙ্গে বিরাট টপকে যান শচীন ও সৌরভকে৷ পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ২৪টি শতরান করতে ১২৫ ইনিংস নিয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার৷ কোহলি মাত্র ১২৩ ইনিংসেই ২৪টি সেঞ্চুরি করলেন। টেস্টে দ্রুততম ২৪ সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান৷ মাত্র ৬৬ ইনিংসে ২৪টি শতরান আছে প্রাক্তন অজি অধিনায়কের নামের পাশে। সেই সঙ্গে চলতি বছরে টেস্টে ১০০০ রানের গণ্ডি পার হলেন তিনি৷ এই নিয়ে টানা তিনবছর টেস্ট ক্রিকেটে হাজার রানের গণ্ডি টপকে যান বিরাট৷

পৃথ্বি ও বিরাটের সেঞ্চুরির পর শতরান আসে রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাট থেকে৷ টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম শতরানের স্বাদ পান সৌরাাষ্ট্রের বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার৷ ব্যাটে সেঞ্চুরির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টি উইকেট তুলে নেন জাদেজা৷ দ্বিতীয় ইনিংসেে ভারতের সফলতন বোলার কুলদীপ যাদব৷ ৫৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে কেরিয়ারে প্রথমবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন চায়নাম্যান কুলদীপ৷ সিরিজের দ্বিতীয় ‌ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ১২ অক্টোবর হায়দরাবাদে৷

শেহজাদ নিষিদ্ধ

ডোপ টেস্টে পজেটিভ প্রমানিত হওয়ায় চার মাস নিষিদ্ধ হলেন পাকিস্তানী ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ। অ্যান্টি ডোপিং আইনের ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে এই শাস্তি দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-পিসিবি।

ধরা পড়ার পরে অপরাধ স্বীকার করেছেন শেহজাদ। যদিও জানিয়েছেন, শক্তি বর্ধক কোন ওষুধ সেবন করেননি তিনি। নভেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে তার এই নিষেধাজ্ঞা। এরপর পুর্নবাসন প্রক্রিয়া শেষে দলে ফেরার জন্য বিবেচিত হবেন তিনি। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ চলাকালে গত জুলাইয়ে ডোপ টেস্টে পজিটিভ ধরা পরেন শেহজাদ।

ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার

নারী ফুটবল মানেই জয়। নারী ফুটবল মানেই ফাইনাল। গত কয়েক বছর ধরে কৃষ্ণা-সাবিনাদের ধারাবাহিক সফলতায় এখন এমনটাই ভাবা হয় দেশের নারী ফুটবল দল নিয়ে। সেটা হোক জাতীয় দল কিংবা বয়সভিত্তিক। আন্তর্জাতিক যে কোন আসরেই এখন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রতিপক্ষের জন্য বড় এক হুমকি। গত এক বছরে চারটি টুর্নামেন্টের প্রতিটিতেই ফাইনাল নাম রিখিয়েছে তারা। এরমধ্যে তিনটিতেই চ্যাম্পিয়ন নারী দল। অতীত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালেও জায়গা করে নিয়ে বাংলার নারীরা।

শুক্রবার চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে পরাস্ত মিসরাত জাহান মৌসুমীর দল। ম্যাচে একটি করে গোল করেন সানজিদা আক্তার, মিসরাত জাহান মৌসুমী, কৃষ্ণা রানী সরকার ও শামসুন্নাহার। রবিবার একই ভেন্যুতে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।

এদিকে, দিনের আরেক সেমিফাইনালে নেপাল টাইব্রেকারে ৩-১ (১-১) গোলে ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছে। ম্যাচের মূল ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে ড্র ছিল। অবশেষে টাইব্রেকারে নেপাল ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে। শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে রবিবার চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে এই হিমালয় কন্যাদের ২-০ গোলে ধরাশায়ী করেছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। আর স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভুটান।

ভুটানের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই যেন জয়ের নেশায় মত্ত ছিলো কিশোরিরা। দ্বিতীয় মিনিটেই পেয়ে যায় গোলের দেখাও। সানজিদার গোলে লিড নেয় সফরকারীরা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল ব্যবধান দ্বিগুন করেন অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমী (২-০)। দ্বিতীয়ার্ধেও ভুটানকে চাপে রেখে খেলতে থাকে আঁখি-তহুরারা। ৬০ মিনিটে কৃষ্ণা রাণী সরকার ব্যবধান ৩-০তে নিয়ে যান। আর শেষ গোলটি করেন শামসুন্নাহার। পেনাল্টি থেকে গোল করে ভুটানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকে দেন ফরোয়ার্ড (৪-০)।

রোনালদোর স্পন্সর বিড়ম্বনা

নয় বছর আগের এক ঘটনাতেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্পন্সররা বিড়ম্বনায় পড়ে গেছে। ধীরে ধীরে সেই উত্তাপ আসতে শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার সিআরসেভেনের দিকে‌ও। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ বছর বয়সী সেই নারীর, রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে, পর্তুগিজ মহাতারকার স্পন্সর Nike এবং গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান EA Sports।

এই অভিযোগের পর মুখ খুলেছে নাইকি। ২০০৩ সালে তারা প্রথম চুক্তি করেছিল রোনালদোর সঙ্গে। ২০১৬ সালে এক বিলিয়ন ডলারে চুক্তি নবায়ন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড নাইকি। তারা এপিকে জানিয়েছে, ‘আমরা বিষয়টি অবহিত হয়েছি। অবস্থার গতি-প্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ বলাবাহুল্য রোনালদো নাইকির বুট পড়ে খেলে থাকেন।

এদিকে, গত সপ্তাহে EA Sports প্রকাশ করেছে FIFA বিশ্বকাপের খেলার গেমস। ২০১৯ সালের সংস্করণে বাজারে আসা এই গেমসের কাভার পেইজে আছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি। তারা জানিয়েছে, ‘রোনালদোর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটা আমরা শুনেছি। আমরা গভীরভাবে বিষয়টি মনিটর করছি। আমরা আশা করি, ভালো এবং যোগ্যদেরই কাভারে থাকা উচিত। এটাই EA’র মূল লক্ষ্য।

ঘটনা যাই হোক না কেন, রোনালদোর ক্লাব দল জুভেন্টাস ঠিকই তাঁকে সাপোর্ট করছে। ক্যাথরিন মায়োরগা নামে ৩৪ বছর বয়সী মার্কিন এক নারী সিআরসেভেনর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালে মায়োরগা এক ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হন। অবশ্য এখন তিনি একজন স্কুল শিক্ষিকা। এক সাক্ষাত্কারে রোনালদোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন ক্যাথরিন মায়োরগা। জানান, পর্তুগিজ তারকা তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। সেই সময় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের‌ও করেছিলেন। কিন্তু রোনালদোর পক্ষ থেকে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে চাপ আসে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ট্রান্সফার করা হয়। প্রবল লড়াইয়ের পরও একটা সময় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়োরগা। কিন্তু আবার তিনি সাহস জুগিয়ে ফিরে এসেছেন। জানালেন, সেদিনের ঘটনা‌ও।

রোনাল্ডোর সঙ্গে মায়োরগার পরিচয় হয় এক বিখ্যাত নাইটক্লাবে। তখন মায়োরগা ঐ নাইটক্লাবে চাকরি করতেন। ২০০৯-এ রোনাল্ডো সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছেন। একটা সময়ে সেই নাইটক্লাবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাঁকে নিজের হোটেলের ঘরে আসার আমন্ত্রণ জানান সিআরসেভেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েই মহাবিপদে পড়েন মায়োরগা।

অভিযোগ প্রমানিত হলে রোনালদো বেশ বেকায়দায় পড়ে যাবেন। হারাবেন বিপুল পরিমান স্পন্সর মানি‌ও। গত জুনে Forbes পত্রিকা জানিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রতি বছর ১০৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। তার মধ্যে বেতন আর বোনাস মিলিয়ে ৬১ মিলিয়ন, আর ৪৭ মিলিয়ন বিভিন্ন এনডোর্সম্যান্ট থেকে। অবশ্য খেলোয়াড়দের মধ্য আয়ের তালিকায় রোনালদো আছেন তৃতীয়তে। তাঁর উপরে আছেন, বক্সিং তারকা (বর্মানে অবসরে) ফ্লোয়েড মে‌ওয়েদার এবং বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লি‌ওনেল মেসি।

রশীদকে অনুরোধ এক বিদেশিনীর

আফগানিস্তানের স্পিনার রশীদ খানকে অদ্ভুত এক অনুরোধ করেছেন বিখ্যাত অ্যাঙ্কর এরিন হল্যান্ড। তিনি আবার বেন কাটিংয়ের বান্ধবী‌ও।
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এই সুন্দরী উপস্থাপিকা রশীদ খানকে, তাঁর বয়ফ্রেন্ড বেন কাটিংকে নজরে রাখার অনুরোধ করেন। সামনেই আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ। সেখানেই নানগড়াহার ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলবেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার বেন কাটিং। আইপিএল-এ হায়দরাবাদের জার্সিতে খেলেছেন। উপমহাদেশের কন্ডিশনে বেশ অভিজ্ঞ তিনি। তাই আফগান লিগে খেলার ডাক পেয়েছেন।

বেন কাটিং ‌ও বান্ধবী এরিন হল্যান্ড

সম্প্রতি আইসিসি-র র‌্যাঙ্কিংয়ে তিন ধরনের ক্রিকেটেই প্রথম তিনে রয়েছেন রশীদ খান। সেই জন্য টুইট করে রশীদ জানিয়েছিলেন, ‘আইসিসি-র অলরাউন্ডারের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ পাওয়ায় বেজায় খুশি। ১ নম্বর ওয়ান ডে বোলার, টি টোয়েন্টি-তে ২ নম্বর। আপনাদের প্রত্যেকের প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ। এমন সাফল্যের পরে সাধারণত প্রত্যাশার মাত্রাও বেড়ে যায়। সক্ষমতার উপরে বিশ্বাসও বেড়ে যায়।’

রশিদ খানের এই টুইটের নীচেই কমেন্ট করেন বেন কাটিংয়ের বান্ধবী হল্যান্ড। তিনি লেখেন, ‘রশীদ তোমার জন্য আমি ভীষণ খুশি। কাটিংকে একটু দেখো। ওঁকে খুব বেশিবার আউট কোরো না লিগে।’

হল্যান্ডের মজাদার টুইটের পরে রশীদও লেখেন, ‘হল্যান্ড তোমাকে ধন্যবাদ। অবশ্যই বেনকে ভাল করে যত্নআত্তি করবো। তবে ওঁকে বলো, আমাকে যেন সুইপ না করে।’

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস গেইল, শাহীদ আফ্রিদী, কলিন মুনরো, ব্রেন্ডন ম্যাকুলাম, রায়ান টেন ডোসকাট, আন্দ্রে রাসেল, থিসারা পেরেরাদের মতো তারকারাও অংশ নে‌ওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় দল থেকে বাদ রোনালদো!

মাথার উপর ঝুলছে ধর্ষণের অপবাদ। এর মধ্যেই পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো! দুনিয়াজুড়ে শোরগোল পড়ে গেলো। অক্টোবরে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে উয়েফা নেশন্স লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে নেই সিআর সেভেনের নাম। পর্তুগাল কোচ স্যান্তোস রোনালদোর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে জানিয়েছেন, ‘এটি রোনালদো এবং পর্তুগাল সকার ফেডারেশন প্রধানের সম্মিলিতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত।’ এমনকি নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টটির পরের রাউন্ডেও রোনালদোকে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন পর্তুগাল কোচ। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি স্যান্টোস।

জার্মান ম্যাগাজিন spiegel-এ প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী, ২০০৯ সালে লাস ভেগাসের হোটেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথরিন মায়োর্গা নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন পর্তুগিজ ফুটবলের মহাতারকা রোনালদো। বর্তমানে সেই মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন।

অভিযোগকারিণী মহিলা দাবী করেছেন ধর্ষণের পর মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা হয়েছিল। নয় বছর আগে আউট অফ দ্য কোর্ট সেই বোঝাপড়া নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন মহিলা। রোনাল্ডো অবশ্য পুরো ঘটনাই অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়েছেন। ঘটনায় দুজনের সম্মতি ছিল বলেই রোনাল্ডোর আইনজীবী বিবৃতি দিয়েছেন।

ক্যাথরিন মায়োর্গা

এদিকে জাতীয় দল থেকে রোনালদোর বাদ পড়ার ঘটনায় স্বভাবতই হতাশ তার অনুরাগীরা। এর আগে বিশ্বকাপ পরবর্তী দু’টি ম্যাচের জন্য রোনালদোকে পর্তুগাল স্কোয়াডে রাখেননি স্যান্টোস। মূলত সেক্ষেত্রে দলের জুনিয়র ফুটবলারদের দেখে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।

দেশের হয়ে ১৫৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন রোনালদো। ৮৫ টি গোল করে দেশের সর্বকালের সেরা স্কোরার তিনিই।

তাজিকিস্তানের হার শুভ সূচনা ফিলিস্তিনের

স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে

প্রথম মিনিটে গোলহজম করা তাজিকিস্তান পুরো ম্যাচ জুড়েই চেষ্টা করেছে। সুযোগও পেয়েছিল বেশ কয়েকটি। কিন্তু কাজের কাজ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ শুরু করলো শিরোপা প্রত্যাশি ফিলিস্তিন। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে, এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেলো ফিলিস্তিন।

প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নিচ্ছে ফিলিস্তিন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি রয়েছে অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সবার উপরে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনে ফুটবল আসলে ঝুকিপূণ এক খেলা। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় যখন-তখন গাজা-পশ্চিম তীরে ম্যাচ বাতিল হয়। শহরের ভেতরে চেক পয়েন্টে কিংবা সীমানা পার হওয়ার সময় ইসরায়েলের সেনাদের হাতে হেনস্তা নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ তারা খেলতেই পারেনি। কারণ সীমান্তে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরো দলকে আটকে দিয়েছিল। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আবারও তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেবার বহির্গমন ভিসা না পেয়ে পশ্চিম তীরে আটকে যায় দল। তবু ফুটবলকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ফিলিস্তিনিদের। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ার সেরা ফুটবল টুর্নামেন্ট এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

 

 

আগামী বছর আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলার লক্ষ্য ফিলিস্তিন দলের আলজেরিয়ান কোচ নুরেদ্দিন আলীর, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েল কী করছে তা সবারই জানা। একটি দেশকে চারদিক দিয়ে আটকে রাখলে কী আর করার আছে! আমরা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ভালো করতে চাই। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য এশিয়ান কাপে ভালো করা।’ এরপরেও তাজিকিস্তানকে গ্রুপে প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে ফিলিস্তিন।

ম্যাচ শুরুর ৩২ সেকেন্ড তাজিকদের জালে প্রবেশ করিয়েছেন জনাথন দরলিলরা। গোল পরিশোধে মরিয়া তাজিকস্তান প্রথমার্ধে সুযোগ পেয়েছিল বেশ কয়েকটি। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় তা থেকে গোল পরিশোধ করতে পারেনি তারা। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ফিলিস্তিনের সংঘবদ্ধ আক্রমন প্রতিহত করেন গোলরক্ষক রাজিভব। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০০ নাম্বারে থাকা ফিলিস্তিন। সাধি সাবানের কর্ণারে আব্দুল লতিফ গোলটি করেন (২-০)।

ম্যাচের ৮৭ মিনিটে হেড করে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের আব্দুল লতিফের সঙ্গে সংর্ঘষ হয় বখতিয়ারের। সংর্ঘষটা এতটাই মারাত্মক ছিল যে মাঠ থেকে তাকে যেতে হয় হাসপাতালে। তাজিকিস্তানের শেষ প্রচেষ্ঠা রুখে দেন ফিলিস্তিনের গোলরক্ষক রাজিভব।

সেমিতে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান

সাফ অনুর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে আগামীকাল শুক্রবার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভুটান। ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে, সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হবে দু’দল।

স্বাগতিক ভুটান সেমিফাইনালে উঠেছে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে। আর বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে হারানোর পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ২-১ গোলে। গত আগস্টে এই থিম্পুতেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ।

সাফের নতুন টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। ছোটরা এখানে শিরোপা হারালো এ দলটি ইতিহাস গড়তে চায় প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। তবে নেপালের সঙ্গে কম ব্যবধানে জয়ের পর বাংলাদেশ একটু সতর্ক। ভুটানের ঘরের মাঠে খেলা বলে তাদের সমীহ করেই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে স্বপ্ন-মৌসুমীরা।

বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন জানান, ‘ভুটানকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। তারা ভালো খেলেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে চাই। আমাদের মেয়েরা অনেকদিন ধরেই অনুশীলনে আছে। আশা করি, সেমিফাইনালে উঠতে তারা সর্বোচ্চাটা দেবে।’

অভিষেকে সেঞ্চুরি পৃথ্বী শ’র

স্কুলে পড়াকালেই প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন। দেখতে দেখতে অান্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটাও হয়ে গেল পৃথ্বী শ’র। সেটাও আবার কঠিনতম ফরমেট, টেস্টে। তাতে‌ও থেমে নেই, রাজকোট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকেই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেই জানান দিলেন পৃথ্বী শ’। মুম্বাইয়ের স্কুল ক্রিকেটে একটা সময় রেকর্ড ৫৪৬ রান করেছিলেন পৃথ্বী। পরে হ্যারিস শিল্ডে তাঁর সেই রেকর্ড ভেঙেছিলেন প্রণব ধনওয়াড়ে। তিনি করেছিলেন ১০০৯ রান। তবে স্কুল ক্রিকেটে ঐরকম রেকর্ড করে হৈচৈ ফেলে দেওয়া পৃথ্বীকে বড় মঞ্চে খেলতে দেখার অপেক্ষায় ছিল ভারতীয় ক্রিকেটমহল।

অভিষেক টেস্টে প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে ছুঁয়ে ফেললেন তিনি৷ ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড সফরের প্রথম টেস্টে লর্ডস অভিষেকে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৌরভ৷ এবার রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টে শতরান হাঁকালেন মুম্বইকর পৃথ্বী শ৷ ৯৯ বল খেলে ১৫টি বাউন্ডারির সাহয্যে শতরান পূর্ণ করেন পৃথ্বী৷ ১৫৪ বলে ১৯ চারে ১৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন পৃথ্বী শ’।

সিনিয়র ক্রিকেটে পা রেখে প্রথম দিনই একাধিক রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন তিনি৷

১. ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানোর নজির গড়লেন শ৷ মাত্র ১৮ বছর ৩২৯ দিন বয়সে অভিষেক টেস্টে শতরানের স্বাদ পেলেন পৃথ্বী৷

২. বলের বিচারেও ভারতীয়দের মধ্যে অভিষেক টেস্টে শতরান হাঁকাতে ধাওয়ানের পরেই রয়েছেন পৃথ্বী৷ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৫ বলে শতরান হাঁকিয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান৷ তার খারাপ পারপর্ম্যান্সের কারণে টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে রাজকোটে ৯৯ বলে শতরান করেন পৃথ্বী৷

৩. অন্যদিকে ভারতীয় মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় দু’নম্বরে রয়েছেন নবাগত এই ক্রিকেটার৷ মাত্র ১৭ বছর ১০৭ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট শতরান হাঁকিয়েছিলেন ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার৷ পৃথ্বী সেঞ্চুরি হাঁকালেন ১৮ বছর ৩২৯ দিন বয়সে৷ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের এই তালিকায় সাত নম্বরে উঠে এলেন তিনি৷ পাকিস্তানের শাহিদ আফ্রিদির প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এসেছিল ১৮ বছর ৩৩৩ দিনে৷ তাঁকে টপকে সাত নম্বরে এখন পৃথ্বী৷ টেস্ট অভিষেকে পৃথ্বির চেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন কেবল তিনজন-মোহাম্মদ আশরাফুর, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর সেলিম মালিক।

৪. ভারতীয় হিসেবে পৃথ্বী পনেরোতম ব্যাটসম্যান, যিনি অভিষেকেই সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়ে কিংবদন্তিদের ক্লাবে ঢুকে পড়লেন৷ অভিষেকে সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ আজহারুদ্দিন, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথন, প্রবীণ আমরে, সৌরভ গাঙ্গুলি, বীরেন্দ্র সেওয়াগ, রোহিত শর্মা, সুরেশ রায়না সহ আরও একাধিক ক্রিকেটার৷ সেই তালিকাতেই এবার পৃথ্বী৷

ভারতের ২৯৩ তম খেলোয়াড় হিসেবে এদিন টেস্ট অভিষেক হবে পৃথ্বীর৷ বিরাট কোহলির নেতৃত্বে পাঁচদিনের ফর্ম্যাটে প্রথমবার মাঠে নামেন চলতি বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারত অধিনায়ক৷

বছর আঠারোর মুম্বইয়ের এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ইতিমধ্যে ১৪টি প্রথমশ্রেণির ম্যাচে ১.৪১৮ রান করেছেন৷ সাতটি সেঞ্চুরি এবং পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরিসহ গড় ৫৬.৭২৷ সর্বোচ্চ রান ভারত-এ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১৮৮৷ স্ট্রাইক-রেট ৭৬.৬৯৷

মেসি ও নেইমারের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে জিতল বার্সা-পিএসজি

লিওনেল মেসি ও নেইমারের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা, পিএসজি, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। তবে নাপোলির কাছে হেরে গেছে লিভারপুল। নেইমারের হ্যাটট্রিকের পর জোড়া গোল করেছেন মেসি।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রাতের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি টটেনহ্যাম আর বার্সেলোনা। নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হলে এই পরীক্ষায় হার মানা চলবে না ক্যাটালানদের। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অতিথিদের হাতে। দু’মিনিটেই কুটিনহোর গোলে লিড বার্সার। ম্যাচের বয়স আধ ঘন্টা না যেতেই সেই কুটিনহোর পাস থেকেই ইভান রাকিটিচ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

বিরতির পর দু’বার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে টটেনহ্যাম, লিওনেল মেসির কারণে। তারা ৫২ আর ৬৬ মিনিটে দুটি গোল করেছে। কিন্তু দু’বারই সে গোল শোধ করেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তাতে মেসি ম্যাজিকেই টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় পেলো আর্নেস্তো ভালভার্দের দল।

হ্যাটট্রিক ম্যান নেইমার

এর আগে, দিনের অন্য ম্যাচে ছিলো নেইমারের রাত। ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক নিজে শুধু হ্যাটট্রিকই করেন নি, গোল করিয়েছেনও।

রেডস্টার বেলগ্রেডের বিপক্ষে ম্যাচের আধঘন্টা না যেতেই নেইমারের জোড়া গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি।
এমবাপ্পে-ডি মারিয়াদের কল্যাণে বিরতির আগেই জয় নিশ্চিত করে ফরাসী ক্লাবটি। বিরতির পর নেইমারের আরও দু’গোলে ৬-১ ব্যবধানের বিশাল জয় পায় প্যারিস সেন্ট জার্মেই।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৮ হাজার তম গোল গ্রিজম্যানের

দিনের অন্যান্য ম্যাচে, অ্যান্টোনি গ্রিজম্যানের জোড়া গোলে ক্লাব ব্রাগের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। তবে, নাপোলির কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে গেলোবারের রানার্সআপ লিভারপুল।

লাওসের বিদায়ে সেমিতে বাংলাদেশ-ফিলিপাইন

লা‌ওসের বিপক্ষে ফিলিপাইনের জয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেলো স্বাগতিক বাংলাদেশের। লাওসের টানা দ্বিতীয় হারে শেষ চারে লাল-সবুজরা সঙ্গী হয়েছে ফিলিপাইনের। আর শূণ্য হাতে বিদায় নিতে হলো লাওসকে। দুই ম্যাচে ৪ গোল হজমের বিপরীতে মাত্র এক গোল করেছে তারা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে ১-০ গোলে আর আজ শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৩-১ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে লাওসকে।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল লাওস। ঐ ম্যাচে বিপলুর দেয়া একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচ জিতেই সেমি ফাইনালে একধাপ এগিয়ে যায় জেমি ডে’র শিষ্যরা। তবে এক ম্যাচ হাতে রেখে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের বিষয়টি ঝুলে ছিল লাওস-ফিলিপাইন ম্যাচের উপর। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে লাওসকে জিততেই হতো র‌্যাংকিংয়ের ১১৪ নম্বরে থাকা ফিলিপাইনের সঙ্গে। কিন্তু এমন কঠিন সমীকরনের ম্যাচে জয়তো দূরের কথা, ড্র’ও করতে পারেনি। বড় হারের লজ্জা নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিঁটকে পড়ে লাওস। শুক্রবার একই ভেন্যুতে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে ফিলিপাইন।

বল মাঠে গড়ানোর পর থেকেই ফিলিপাইনিদের সামনে ভিড়তে পারছিল না লাওস। ফিলিপাইন আক্রমনাত্মক ফরর্ম্যাশনে খেলে প্রতিপক্ষ দলকে দিশেহারা করে ফেলেছিল। তবে লাওসের রক্ষণ দেয়াল ভাঙ্গতে অপেক্ষা করতে হয় ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে এন্ড্রুর বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে জোভিন এডিচ বক্সে প্রবেশ করলে তাকে রাফ ট্যাকল করেন কাহার্ন। রেফারিও পেনাল্টির নির্দেশ দিতে দেরী করেননি। স্পট কিকে গোল করে ফিলিপাইনকে উৎসবে মাতিয়ে তোলেন এডিচ নিজেই (১-০)। এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল লাওস। ৪৮ মিনিটে সুযোগও এসেছিল তাদের সামনে। কিন্তু বদলী হিসেবে নামা সুকচিন্দার হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হয় তাদের। এরপর পাঁচ মিনিট পরেই উল্টো আরো এক হজম করতে হয় লাওসকে। এবার স্কোর লাইন আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান জাভিয়ের অগাষ্টিন। বাঁ দিক থেকে হিকারুর ক্রসে দৌড়ে এসে হেডে নিশানা ভেদ করেন এ স্ট্রাইকার (২-০)। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৯ মিনিট আগে লাওসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন অধিনায়ক বাহাদূরান। এ গোলটিও এসেছে পেনাল্টি থেকে। নিজেদের বক্সে ভুল করে বল রিসিভ করতে গিয়ে হাত দিয়ে ঠেকান লাওসের ডিফেন্ডার সকছুন। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে স্পট কিক থেকে গোল আদায় করে নেন ফিলিপাইনের কাপ্তান (৩-০)।

শেষ দিকে এসে কিছুটা চাপ প্রয়োগ করেছিল লাওস। একটি গোলও শোধ করেছিল তারা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন পিথাক (৩-১)। কিন্তু হার এড়ানো সম্ভব হয়নি তাদের।

আমার গোলটাই সেরা : রোনালদো

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপর ধর্ষণের অভিযোগ যখন দুনিয়া জুড়ে আলোড়ন তুলেছে তখনই তিনি নিজেকে সেরা বলে দাবী করেছেন৷ চলতি মাসেই ফিফার বর্ষসেরা গোলের সম্মান জেতেন মিশরীয় মেসি নামে খ্যাত মোহম্মদ সালাহ৷ দর্শনীয় সেই গোলকে ফিফার বিচারে সেরা হলেও রোনালদোর চোখে সেরা নয়৷ নিজের গোলকেই সেরা বলছেন তিনি৷

সময়টা খুব একটা ভাল যাচ্ছে না রোনালদোর৷ স্পেনে কর ফাঁকির মামলা থেকে রেহাই পেয়েছিলেন আগেই। এবার মাথার উপর খাঁড়ার মতো ঝুলছে ধর্ষণের অপবাদ৷ পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হচ্ছে৷ অবশ্য তিনি এই অভিযোগকে মিথ্যে অপবাদ বলেই মনে করেন। সবকিছু পেছনে ফেলে সিআরসেভেন নিজেকেই সেরা দাবী দাবী করেন।

এই গোল প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, ‘সালাহ যোগ্য ফুটবলার হিসেবে সেরা গোলের পুরস্কার জিতেছেন৷ তবু বলবো আমার বাইসাইকেল কিকে করা গোলটাই সেরা৷’ প্রসঙ্গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে বাই সাইকেল কিকে দুর্দান্ত গোল করেছিলেন পর্তুগিজ ফুটবলের এই মহাতারকা৷

হংকংকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

টানা দুই ম্যাচ জিতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে সেমিফাইনালের পথে এখন স্বাগতিক বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার হংকং অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা।

গ্রুপ ‘বি’ তে হংকংয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে নিজেদের কাজটা সেরে রাখল বাংলাদেশ। এবার পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেই শেষ চারে উঠে যাবে বাংলাদেশ। পাকিস্তান জিতলেও দুই দলের পয়েন্ট সমান হবে। এরপর সেমিফাইনালের জন্য হিসেব করা হবে নেট রান রেটের।

টসে হেরে ব্যাট করে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ৪৬.৫ ওভারে মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয় হংকংয়ের তরুণরা। জবাবে মাত্র ১১.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

৯২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা খুব ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১৮ রানে অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয় বিদায় নে‌ওয়ার পরের বলেই সাজঘরে ফেরেন শামীম হোসেন। দলীয় ২২ রানে সাজিদ আউট হলে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। তবে শেষ সময়ে প্রতিরোধ গড়ে দলকে জয় এনে দেন আকবর আলী ও মাহমুদুল হাসান জয়। আকবর আলী ২৫ রানে আউট হলেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল হাসান জয়।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নাম হংকংয়ের হয়ে বড় কোনো ইংনিস আসেনি কারো কাছ থেকেই। দলটির হয়ে কালহান চাল্লু ও অদিত গোরাওয়ারা সমান ১৬ রান করে আউট হন। এছাড়া কবির সৌদি ১৩ ও হারুন আরশাদ ১০ ছাড়া বাকিদের আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া মৃত্যঞ্জয় চৌধুরী ও রাকিবুল হাসান পান দুটি করে উইকেট।

মস্কো পরীক্ষায় ইনজুরি আক্রান্ত রিয়াল মাদ্রিদ

বিশ্বকাপের সময় লুঝনিকিতে খেলা হয়নি গ্যারেথ বেলের। বিশ্বকাপের পরও হচ্ছে না। আর লুঝনিকি তো স্পেনের ফুটবলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন। সেই দুঃস্বপ্ন ক্লাবের হয়ে ঘুচাতেও মাঠে নামা হচ্ছে না রামোস-ইসকোদের। খেলতে পারবেন না মার্সেলোও। সবমিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালকে সিএসকে মস্কো পরীক্ষা দিতে হবে প্রথম একাদশের চার ফুটবলার ছাড়াই।

এমনিতে সময় ভালো যাচ্ছে না রিয়ালের। পর পর দুই ম্যাচে লা লিগায় পয়েন্ট খুইয়েছে। বার্সার হারের দিনে হেরেছে তারা। বার্সার সমতার দিনে তাদেরও সমতা। অথচ এর একটা ম্যাচে জিতলে বার্সেলোনাকে ছাড়িয়ে যেতো রিয়াল। কিন্তু লোপেতেগুইয়ের শিষ্যরা তা পারেনি। সেভিয়ার বিপক্ষে হার এবং অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সমতার পর মাঠে নামতে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগে।

রোনালদো পরবর্তী রিয়ালের ভরসা গ্যারেথ বেল-ইসকোরা। তাদের ছাড়া রিয়াল তাই কেমন করবে সেটা অবশ্য বলা কঠিন। তবে রিয়ালের সাবেক তারকা ডি মারিয়ার কথা মাথায় থাকলে বলা যায় রিয়াল ভালোই করবে। তিনি একবার বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের সুর কানে গেলে অন্যদল হয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

ইনজুরির কারণে চলতি মৌসুমের শুরুতেই ছিটকে গেছেন রিয়ালের লেফট ব্যাক মার্সেলো। অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে দলে ছিলেন না তিনি। অ্যাপেনডিসাইটিস অস্ত্রোপচার করিয়েছেন ইসকো সপ্তাহ খানেক হলো। এই দু’জনকে পাওয়ার ভরসা রিয়াল কোচ আগেই ছেড়ে দিয়েছেন। অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে নেমে তিনি হারিয়েছেন আরও দুই তারকাকে। একজন দলীয় অধিনায়ক সার্জিও রামোস অন্যজন গ্যারেথ বেল। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে তাদেরকে ছাড়াই খেলতে হবে রাশিয়ার ক্লাব সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে।

মেসি বিক্রির জন্য নয় : বার্সা সভাপতি

লিওনেল মেসির মতো গ্রেট প্লেয়ারকে বিক্রি করবেনা বার্সেলোনা, এমনটাই জানিয়েছেন ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেও। তিনি আরো জানান, পেপ গার্দিওয়ালার জন্য সবসময়ই কাতালানদের দুয়ার খোলা আছে।

বার্সেলোনা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেও

তাছাড়া বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমেও আর‌ও ধারণা করেন যে, মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি ন্যু ক্যাম্পেই খেলবেন। এদিকে, গার্দি‌ওয়ালা সম্পর্কে তিনি বলেন, দলকে সাফল্য পাইয়ে দিতে অত্যাধিক চাপের কারণে তিনি কাতালুনিয়া ছেড়ে যান। সম্প্রতি, গার্দি‌ওয়ালা ‘লা মেসিয়া’র দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে বার্তোমে‌ও বলেন, ‘তিনি অনেক প্রতিভার অধিকারী, যখন আসতে চান তখনই আসতে পারেন; তার জন্য বার্সেলোনার দরোজা সবসময়ই খোলা।’

তবে বার্সেলোনা ছেড়ে যা‌ওয়ার সময়ই আমরা তাকে ‘লা মেসিয়ার’র দায়িত্ব নে‌ওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। মেসি সম্পর্কে তিনি জানান, আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড কাতালুনিয়াতেই ক্যারিয়ার শেষ করবেন বলে তার বিশ্বাস। তিনি জানান, নিশ্চয়ই সে আমাদের প্রোজেক্ট ছেড়ে যাবেনা। মেসিকে ঘিরেই বার্সেলোনার প্রজেক্ট চলছে।

জয়ে শুরু স্বাগতিক বাংলাদেশের

জয় দিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ফুটবলে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শক্তিশালী লাওসের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের স্বস্তির এক জয় তুলে নিয়ে সেমি ফাইনালের পথ অনেকটাই এগিয়ে গেলো লাল-সবুজের দল। বিপুল আহম্মেদের দেয়া একমাত্র গোলে প্রথমবারের মতো এশিয়ার এ দেশটির বিরুদ্ধে জয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। এরআগে, দুইবারের লড়াইয়ে এক ম্যাচে হার আর এক ম্যাচে ড্র ছিল লাল-সবুজদের। আগামী ৫ অক্টোবর একই ভেন্যুতে গ্রুপের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। ঐ ম্যাচে ড্র করলেই শেষ চারে নাম লেখানোর সুযোগ থাকবে জেমি ডে’র শিষ্যদের। এ আসর দিয়ে গত মাসে সাফ ফুটবলের দু:খ ঘোঁচাতে মরিয়া এখন টিম বাংলাদেশ।

ম্যাচের আগের রাতে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় মাঠ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে জেলা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হলেও মাঠ ছিল ভীষন স্লো। বল পড়েই থেমে যাচ্ছিল। তাই উভয় দলের ফুটবলারদেরই বলের নিয়ন্ত্রন নিতে বেগ পোহাতে হয়। এমন বিপত্তির পরও শুরুতেই লাওসের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে জামাল-সুফিল-জীবনরা। ১১ মিনিটেই সফরকারীদের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল তারা। ওয়ালি ফয়সালের লম্বা থ্রু পাস ধরে নাবীব নেওয়াজ জীবন লাওসের এক ডিফেন্ডারকে কাঁটিয়ে ডান পায়ের জোড়ালো শট নেন। কিন্তু সাইড বার ঘেঁষে বল বাইরে চলে যাওয়ায় হতাশ হতে হয়।

তিন মিনিট পরেই স্বাগতিকদের রক্ষণ দেয়ালে চির ধরিয়ে পরিকল্পিত আক্রমন থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে লাওস। তবে ভাগ্য সহায় ছিল না তাদের। ডানদিক থেকে মিডফিল্ডার চানথাফুনের ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে সুকচিন্দা হেড নিলেও তা ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

আক্রমনের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ২২ মিনিটে আবারো গোলের চেষ্টা করেছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা। কিন্তু ডানদিক থেকে বিপলু আহম্মেদের দারুন এক ক্রসেও প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিতে পারেননি রবিউল। দুই মিনিট পরেই একক প্রচেষ্টায় গোল করতে গিয়ে ব্যর্থ হন সুফিল। তার পাশেই ফাঁকায় দাঁড়ানো ছিলেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। তাকে বল দিয়েই হয়তো বা গোলের দেখা তখনি পেয়ে যেতো বাংলাদেশ। ৩৬ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে লাওসের মিডফিল্ডার বাউনফাচান বাংলাদেশী ডিফেন্ডারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোলমুখে শট নিলেও গোলরক্ষক আশরাফুলকে ফাঁকি দিতে পারেননি। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বল বুকে জড়িয়ে নেন তিনি।

প্রথমার্ধে গোল না পেলেও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ শিবির। আক্রমনে কোনঠাঁসা করে ফেলে সফরকারীদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন সুফিল। ডানদিক থেকে ওয়ালী ফয়সালের বাড়ানো বল ধরে বক্সের ভেতরে ফাঁকায় দাঁড়ানো সুফিলকে পাস দেন জীবন। দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে সুফিল লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন। দুই মিনিট পরেই লাওসের স্ট্রাইকার সুকচিন্দার শট ক্রসবারের ঠিক উপরে দিয়ে চলে গেলে বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।

অবশেষে ম্যাচের ৬০ মিনিটে ১৬ কোটি বাঙ্গালিকে আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দেন বিপলু আহম্মেদ। জটলার মধ্যে ডান পায়ের আলতো টোকায় নিশানা ভেদ করেন তিনি। নাবীব নেওয়াজ জীবনের হেড লাওসের গোলরক্ষক সায়মানুলিনের হাত স্পর্শ করে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন এক ডিফেন্ডার। ডানদিকে দাঁড়ানো বিপলু জটলার মধ্যে বল পেয়ে আলতো টোকায় গোল আদায় করে নেন (১-০)। সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার পঁচিশেক দর্শক। লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে আর ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে গোল উৎসব করে তারা। সতীর্থদের সঙ্গে গোলের আনন্দ উপভোগ না করে দৌড়ে গিয়ে মাঠের দক্ষিণ পাশে রাখা বঙ্গবন্ধু বিশালাকৃতির প্রতিকৃতিতে স্যালুট প্রদান করেন। শেষ দিকে আরো কয়েকবার লাওসের দূর্গে আঘাত হানলেও ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলার দামাল ছেলেরা।

উল্লেখ্য, এ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় রবিউল ও ইব্রাহিমের। এরআগে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত চলতি আসরের উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠে গেলো বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের মিশন শুরু করলো গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। এমন জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে মৌসুমী-মার্জিয়াদের।

আজ রোববার ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই পাকিস্তানের জালে ৮ গোল দেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে দেয় আরো ৯টি গোল। বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৭ গোল করেছেন সিরাত জাহান স্বপ্না। তিনি ম্যাচের ১০, ৩০, ৪৪, ৬২, ৭৩, ৭৬ ও ৯০ মিনিটে করেন সাতটি গোল।

হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করেন মার্জিয়া। তিনি ম্যাচের ৭, ১৩, ২২, ৭১ মিনিটে চারটি গোল করেন। জোড়া গোল করেছেন শিউলি আজিম। তিনি ৩২ ও ৬৯ মিনিটে গোল দুটি করেন। ১টি করে গোল করেছেন অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমী (৩৭ মি.), আখি খাতুন (৫৮ মি.), কৃষ্ণা রাণী (৭৪ মি.) ও তহুরা খাতুন (৮৭ মি.)।

আগস্টে ভুটানে অনুষ্ঠি সাফ অনূধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের মেয়েদের ১৪-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা। এবার সেটাকে ছাড়িয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দল ১৭-০ গোলে হারাল পাকিস্তানকে।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। যেখানে মৌসুমী-মারিয়াদের প্রতিপক্ষ নেপাল ও পাকিস্তান। ২ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে নেপালের বিপক্ষে। নেপাল তাদের প্রথম ম্যাচে ১২-০ গোলে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশ বড় জয় পাওয়ায় সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে নেপালেরও। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার তারা বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে।

‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, স্বাগতিক ভুটান ও মালদ্বীপ। ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে ভুটানকে হারিয়েছে। আর ভুটান তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে। আগামী মঙ্গলবার ভারত তাদের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে।

দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে যাবে। ৫ অক্টোবর হবে দুটি সেমিফাইনাল। আর ৭ অক্টোবর হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল।

আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে মুশফিক-মুস্তাফিজ-লিটনের উন্নতি

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে সরিয়ে এক নম্বরে উঠে এলেন, আফগানিস্তানের রশীদ খান। তাছাড়া ব্যাটিংয়ে ভালো করায় উন্নতি হয়েছে, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের।

বোলিংয়ে উন্নতি হয়, কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানেরও। এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ভালো করায়, ছয় ধাপ এগিয়ে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠে আসেন রশীদ খান। প্রথম আফগান হিসেবে তিনি শীর্ষে উঠলেন। আর তাতে দ্বিতীয়স্থানে নেমে গেলেন, সাকিব আল হাসান।

এদিকে, বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল দুই ধাপ কমে ১৪তে আসলেও ছয় ধাপ এগিয়ে ১৬ তে উঠে এসেছেন, মুশফিকুর রহিম। আর ফাইনালে সেঞ্চুরি করা লিটন দাস ১০৭ ধাপ এগিযে উঠে এসেছেন ১১৬তম স্থানে। আর বাংলাদেশের বোলার মুস্তাফিজুর রহমান, চার ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন দ্বাদশ স্থানে।

একই দিনে রিয়াল-বার্সার ড্র

স্প্যানিশ লা লিগায় ষষ্ঠ রাউন্ডের মতো একইদিনে সপ্তম রাউন্ডে‌ও ড্র করলো দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। শনিবার মাদ্রিদ ডার্বিতে অ্যাথলেটিকোর সঙ্গে গোলশূন্য ভাবে খেলা শেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্য খেলায় অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের কাছে ১-১ গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা।

মাদ্রিদ ডার্বি দেখল দুই দলের গোলরক্ষকের একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার লড়াই। দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় প্রথমার্ধে। গোলমুখে আঁতোয়ান গ্রিজম্যান ও দিয়েগো কস্তাকে রুখে দিয়ে দিয়ে রিয়ালকে লড়াইয়ে রাখেন অ্যাথলেটিকোর সাবেক গোলকিপার থিবো কর্তোয়া।

বল পজেশনে এগিয়ে থাকা রিয়ালও কয়েকবার হানা দেয় অ্যাথলেটিকো সীমানায়। ম্যাচের ২১ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন গ্যারেথ বেল। টনি ক্রজের ফ্রি-কিক থেকে তার কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যূতে, দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে লোপেতেগুইয়ের শিষ্যরা। ৬৬ মিনিটে মার্কো আসেনসিওকে সফল হতে দেননি অ্যাথলেটিকোর গোলরক্ষক ওবলাক। এছাড়াও দু’পক্ষের একাধিক আক্রমণে দুর্গের শেষ প্রহরী হিসেবে ঢাল হয়ে দাঁড়ান দুই গোলরক্ষক। তাতে নিষ্ফলা ড্রয়েই শেষ হয় মৌসুমের প্রথম মাদ্রিদ ডার্বি। এই ড্রয়ের ফলে সাত ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানেই রইলো রিয়াল মাদ্রিদ।

অন্য ম্যাচে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ করে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের পর বার্সেলোনার কাছ থেকে‌ও পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় তারা। অ্যাওয়ে ম্যাচে এদিন প্রথমার্ধে গোল করে কাতালান ক্লাবকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় বিলবাও। ৪১ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অস্কার ডি মার্কোস।

৮৪ মিনিটে বার্সেলোনাকে গত দু’বছরে ন্যু ক্যাম্পে, প্রথম হারের মুখ থেকে বাঁচান বদলি খেলোয়াড় মুনির এল হাদ্দাদি। এ সময় লিওনেল মেসির ক্রস থেকে বার্সার হয়ে সমতাসূচক গোল করেন তিনি। তবে ড্র করেও লিগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই রইলো গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। সাত ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্টে সমান ১৪ হলে‌ও গোল ব্যবধানে শীর্ষ স্থান ধরে রাখে ভালভের্ডের শিষ্যরা।

এশিয়াকাপের সেরা একাদশে মুশফিক-মুস্তাফিজ

এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে সেরা একাদশ নির্বাচন করা হয়েছে। সেই একাদশে আছেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহিম ও কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

বিরাট কোহলির অবর্তমানে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন রোহিত শর্মা। ভারতীয় এই ওপেনার এশিয়া কাপে সেরা ওপেনার হিসেবে আছেন। তার সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ৩১৭ রান। রোহিত শর্মার পাশাপাশি দাপুটে ব্যাটিং করেছেন শিখর ধাওয়ান। উদ্বোধনীতে এশিয়া কাপে রোহিত-শিখরই সেরা জুটি। শিখর ধাওয়ানে সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ৩৪২ রান।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে জন্য সেরা নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। এশিয়া কাপে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ৫ ম্যাচে ৬০.৪০ গড়ে এক সেঞ্চুরিতে ৩০২ রান তার। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের জন্য পারফেক্ট পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক। এশিয়া কাপে অসাধারণ খেলেছেন ৩৬ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার। এরপর নজর কেড়েছেন আফগানিস্তানের হাশমতউল্লাহ শহীদি। ৫ ম্যাচে ৬৫.৭৫ গড়ে ২৬৩ রান সংগ্রহ করেন আফগান এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। রশিদ খানের নামটা না বললেই নয়। এশিয়া কাপে তিনি ছিলেন ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্কের নাম। ১০ উইকেট নিয়ে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের সেরা বোলার তিনিই। শুধু বোলিংয়ে নয়, ব্যাটিংয়েও অসাধারণ খেলেছেন এই লেগ স্পিনার।

এশিয়া কাপে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ দলের এ বাঁ-হাতি পেসার ইনজুরি থেকে ফিরে অসাধারণ বোলিং করে নজর কেড়েছেন। এশিয়া ১০ উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় অবস্থানে তিনি। অলরাউন্ডার হিসেবে দুর্দান্ত খেলেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার কেদার যাদব। বিশেষ করে বল হাতে অসাধারণ খেলেছেন তিনি। ৬ ম্যাচে তার শিকার ১০ উইকেট।

অলরাউন্ডার হিসেবে ভালোই খেলেছেন মোহাম্মদ নবি। ৩৩ বছর বয়সী আফগান এ অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ৫ ম্যাচে ১৩৪ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ভারতের চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদব ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করে নজর কেড়ছেন। বোলিংয়ে বৈচিত্র ছিল যশপ্রীত বুমরার। এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। ৪ ম্যাচে তার শিকার ৮ উইকেট।

বাংলাদেশের মিশন শুরু কাল

মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ এখন অপ্রতিরোধ্য শক্তি। অনুর্ধ পর্যায়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছে বাংলার মেয়েরা। এমন আরেকটি মিশনে বর্তমানে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৮ মহিলা ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো এই আসরে ‘বি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে লাল-সবুজের দেশ।

শুক্রবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হলেও বাংলাদেশ মিশন শুরু করবে আগামীকাল রবিবার। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ সামনে রেখে থিম্পুতে ঘাম ঝরানো অনুশীলন করছে বাংলাদেেেশর মেয়েরা। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন মৌসুমী, মারিয়া, কৃষ্ণারা। কোচ জানিয়েছেন, পাকিদের বিরুদ্ধে জয় দিয়েই মিশন শুরু করতে চায় তার দল।

এদিকে উদ্বোধনী দিনে বড় জয়ে শুভসূচনা করেছে আসরের অন্যতম ফেবারিট ভারত। শুক্রবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। বিজয়ী দলের হয়ে জোড়া গোল করেন দেবনেতা রয়, একটি করে গোল করেন মনিশা ও আশেম।

পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলা ভারত প্রথমার্ধে মাত্র এক গোল পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল আদায় করে নেয়। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেললেও প্রথম গোলের জন্য ভারতকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় প্রথম গোল করেন দেবনেতা। বিরতির পর ৫০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সম্ভাবনাময় এই ফুটবলার। ৬৪ মিনিটে ভারতের হয়ে তিন নম্বর গোলটি করেন মনিশা। ৬৭ মিনিটে আশেম ভুটানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন। গত আগস্টে হয় সাফ অনুর্ধ-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে এই একই ভেন্যুতে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলার কিশোরীদের। ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল ০-১ গোলে। এবার সেই ক্ষত শুকানোর মিশন অনুর্ধ-১৮ দলের। এই আসরে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করবেন মিশরাত জাহান মৌসুমী। আর সহঅধিনায়ক অনুর্ধ-১৬ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা।

বাংলাদেশের মিশন নিয়ে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, এই আসরে আমরা প্রথমবারের মতো খেলছি। নার্গিস ইনজুরির কারণে দলে নেই। এই দলে ১০ সিনিয়র এবং অনুর্ধ-১৬ দলের ১৩ ফুটবলার আছে। তারা অনেকদিন একসঙ্গে অনুশীলন করায় তাদের মধ্যে ভাল সমন্বয় আছে। তবে অনুর্ধ-১৮ দলের সিনিয়র খেলোয়াড় গত দুই বছর ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। তবে তারা অন্যদের সঙ্গে অনুশীলনের পাশাপাশি সপ্তাহে ৩/৪টি করে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে। আশাকরি সমস্যা হবে না। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা।

পারলো না বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ভারত

বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ওভারে শ্বাসরুদ্ধর জয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত। টাইগারদের বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলো রোহিত শর্মার দল। বাংলাদেশের দেয়া ২২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ম্যাচের শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ভারত। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ফাইনাল সেরা লিটন দাস আর টুর্নামেন্ট সেরা শিখর ধাওয়ান।

বাংলাদেশকে ফাইনালের চোকার বানিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতলো ভারত। এনিয়ে সপ্তমবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট তাদের। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী ছয় ম্যাচের সবগুলোতে হেরে ফাইনালের চোকার বনে গেলো বাংলাদেশ। লিটনের সেঞ্চুরির পরও ব্যাটিং ব্যার্থতায় আক্ষেপের তালিকায় যোগ হলো আরেকটি ফাইনাল। হাতছোঁয়া দূরত্বে এসেও শিরোপা অধরাই থেকে গেলো টাইগারদের।

ভারতকে ২২৩ রানের টার্গেট দিয়ে ৪৬ রানে ২ উইকেট তুলে নেয় মাশরাফী বাহিনী। ৪৮ করা রোহিতের বিদায়ের পরও সহজ জয়ের পথেই ছিলো ভারত। তবে কার্তিককে মাহমুদুল্লাহ ও ধোনিকে বিদায় করে ১৬০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখান মুস্তাফিজ। জাদেজা-ভুবেনেশ্বরের ঠোকাঠুকিতে শেষ দুই ওভারে ভারতের প্রয়োজন ৯ রান। ৪৯ তম ওভারে মাত্র ৩ রানে ভুবেনেশ্বরের উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন কাটার মাস্টার। শেষ ওভারে প্রয়োজন ৬। মাহমুদুল্লার শ্বাসরুদ্ধকর ওভারের শেষ বলে ১ রানের উত্তেজনা। কিন্তু শিরোপায় ভাগ বসাতে পারলোনা টাইগাররা। বাংলাদেশকে হতাশ করে জয়োল্লাস ভারতের।

এরআগে, পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে নিয়মিত ব্যর্থতা কাটাতে লিটনের সাথে মেহেদী-মিরাজকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন টাইগার অধিনায়ক। নেমেই লিটনের বিধ্বংসী আচারণে দিশেহারা ভারত। তাতে ১৬ ইনিংস পর পঞ্চাশ, ২৬ ইনিংস পর টাইগারদের শতরানের উদ্বোধনী জুটি।

ঝলমলে শুরুর পর স্কোর বোর্ডে ১২০-এর সাথে ৩১ যোগ হতে ৫ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গে ৩২ করা মিরাজের বিদায়ে। নামের পাশে সিঙ্গেল ডিজিট নিয়ে ফিরলেন ইমরুল, মুশফিক, মিথুন ও মাহমুল্লাহ। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত খেলাতে থাকা বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ফাইনালেই ব্যর্থ ।

আশার আলো হয়ে জ্বলছিলেন লিটন দাস। ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে বদলে দেন ৮৭ বলে।

দুর্দান্ত ছন্দে খেলতে থাকা লিটনের মনোমুগ্ধকর ইনিংসের বিতর্কিত সমাপ্তিতে ক্ষত-বিক্ষত টাইগার ভক্তরা। স্ট্যাম্পিংয়ে বেনিফিট অব ডাউট ব্যাটসম্যানের দিকে গেলেও, টিভি আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ান রড টাকারের সিদ্ধান্ত দেন, ভারতের পক্ষে। মেলবোর্ন, এজবাস্টনের পর এবার দুবাইয়েও আম্পায়ারের পক্ষপাত্বিতের শিকার হতে হয় বাংলাদেশকে। হৃদয় ভাঙা সিদ্ধান্তে ১১৭ বলে ১২১ রানেই থামে লিটনের অসাধারণ ইনিংস। তাতে তিনশ’ রানের ভিত পাওয়া টাইগারদের ইনিংস থামে ২২২ রানে। এই স্কোরেই লড়াইটা দারুণ জমিয়েছিলো টাইগাররা। তাতে আক্ষেপটা বেড়ে গেলো দারুণ সূচনার পরও ব্যাটিং ব্যার্থতায়।

বাংলাদেশের জয় কামনা

তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। আগের দুইবার স্বপ্নভঙ্গ হলেও এবার নতুন ইতিহাস গড়তে চায় টাইগাররা। আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানালেন শোবিজ তারকারা।

 

আমাদের ভালো সম্ভাবনা আছে / শাফিন আহমেদ,সংগীতশিল্পী

আমি মনে করি, আজকের ফাইনালে আমাদের জেতার ভালো সম্ভাবনা আছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের টিম স্পিরিট দুর্দান্ত! এটাকে ধরে রাখতে পারলে মোমেন্টামটা আমাদের দিকে চলে আসবে। সাকিব-তামিমকে ছাড়াই গত ম্যাচটা আমরা যেভাবে জিতেছি, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ফাইনালেও আমার দৃষ্টি মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহর দিকে। তাঁদের সঙ্গে যদি নতুনরাও জ্বলে উঠতে পারেন, তাহলে ভালো স্কোর হতে পারে। মুস্তাফিজ আবারও তাঁর স্বরূপে ফিরেছেন। গত দুটি ম্যাচে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। আজও তাঁর দিকে চেয়ে থাকবে পুরো জাতি। পাশাপাশি মাশরাফি, মিরাজরাও অবদান রাখতে পারেন। গত দুইবারের দুঃখ ভুলে ট্রফিটা জেতার জন্য টাইগাররা এবার জীবন বাজি রেখে লড়বে বলেই আমার বিশ্বাস।

মন বলছে আমরাই জিতবো / শারমিন সুলতানা সুমি, সংগীতশিল্পী

মন বলছে আজকের ম্যাচটা আমরাই জিতব। সে ক্ষেত্রে খেলাটা ফেয়ার হওয়া জরুরি। সাকিব-তামিমকে ছাড়াই বাংলাদেশ গত ম্যাচটা জিতেছে। টানা জিতেছে দুই ম্যাচ। প্রচণ্ড গরমের কারণে প্লেয়ারদের খেলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই দলের অধিনায়ক মাশরাফির মধ্যে অদ্ভুত একটা শক্তি আছে। সেই শক্তিটা তিনি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। যার ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবাই লড়াই করে যাচ্ছেন। ফলও অনুকূলে আসছে। বিজয়ের হাওয়াটা এবার বাংলাদেশের দিকে বইছে। আগেও দুইবার আমরা এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরেছি। এ নিয়ে তৃতীয়বার। আবার পর পর দুটি ম্যাচ জিতে এবার তৃতীয়টির সামনে। কথায় আছে না পর পর তিন দান। সেটা হয়ে গেলে ট্রফিটা আমাদের ঘরেই আসবে। তবে আগে ব্যাটিং পড়লে রানটা আরো বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আবার‌ও ইউরো ফুটবলের আয়োজক জার্মানি

তুরস্ককে পিছনে ফেলে ২০২৪ ইউরো কাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেল জার্মানি। তৃতীয়বারের জন্য ইউরোপ সেরা লড়াইয়ের আসর বসতে চলেছে বেকেনবাওয়ারের দেশে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের গভর্নিং বডির কার্যকরী সমিতির ভোটে এই সিদ্ধান্ত হয়। ইউরোপিয়ান ফুটবলের সদর দফতর নিয়নে বৃহস্পতিবার একথা জানান, উয়েফা প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিন।

২০২৪ ইউরো আয়োজনের দায়িত্বে জার্মানির সঙ্গে সমানভাবে দৌড়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ সালের পর আবার টুর্নামেন্ট আয়োজনে ব্যর্থ হল তারা। জার্মানির ২০২৪ ইউরো আয়জনের দায়িত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে সেফেরিন জানান, গোটা প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছ ছিল। গণতান্ত্রিক উপায়েই নির্বাচন হয়েছে। সমস্ত সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিকভাবেই গৃহীত হয়েছে।’

বিডে অ্যাম্বাসাডর হিসেবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিশ্বজয়ী জার্মান অধিনায়ক ফিলিপ লাম। জার্মানি ইউরো আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত লাম জানান, ‘দারুণ ফুটবল স্টেডিয়াম, ফুটবল পাগল সমর্থক সবকিছুই রয়েছে আমাদের দেশে। সবচেয়ে বড় কথা ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে জার্মানরা ফুটবল সমানভাবে উপভোগ করতে জানে। বিরাট ফুটবল যজ্ঞের আয়োজনে সামিল হতে চলেছি আমরা।’

প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের হোম ভেন্যুতে তাদের হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠায় বিশ্ব গণমাধ্যম প্রশংসা করছে বাংলাদেশ দলের। পাকিস্তানের মিডিয়ায় যেমন চলছে তাদের খারাপ পারফর্মেন্সের ময়না তদন্ত, তেমনি বিশ্বের নানা প্রান্তের সংবাদ মাধ্যমে চলছে মুশফিক-মুস্তাফিজের বন্দনা।

দলের সেরা দুই তারকাকে ছাড়াই দুর্দান্ত জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। ইনজুরির কারণে সাকিব আর তামিমকে হারানোর পরও অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলরাউন্ড পারফর্মেন্সে জয় পেয়েছে টাইগাররা। আর এই জয়ের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে মাশরাফীর দল।

ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে আস্থাভাজন বিবিসি, সবাই বাংলাদেশের দলগত নৈপুণ্যে মুগ্ধ। ফার্স্ট ক্রিকেট, গালফ নিউজ কিংবা সুপার স্পোর্টসের মত নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটগুলো বিশেষ করে উল্লেখ করেছে মুশফিকের ব্যাটিং আর মুস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্যের কথা। সেই সাথে ভারতের সাথে ফাইনালটাও যে হাড্ডাহাড্ডি হবে তা মনে করিয়ে দিয়েছে পত্রিকাগুলো।

তবে বৈচিত্র্যময় মন্তব্যগুলো এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নামকরা ক্রিকেটার থেকে ধারাভাষ্যকররা জানিয়েছেন তাদের প্রতিক্রিয়া। ভারতের হার্শা ভোগলে, বীরেন্দর শেবাগ কিংবা মোহাম্মদ কাইফরা যেখানে বাংলাদেশের পারফর্মেন্সের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, সেখানে পাকিস্তানের রমিজ রাজা আর শহীদ আফ্রিদী মুন্ডুপাত করেছেন পাকিস্তানের বাজে পারফর্মেন্সের।

নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার স্কট স্টাইরিস অবশ্য মনে করছেন, অধিনায়কত্বই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।
তবে ঝড় বয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের মিডিয়ায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেদের হোম ভেন্যুতেও আসরের ফাইনালে উঠতে না পারার পেছনে টীম ম্যানেজমেন্টকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে তারা।

আবার‌ও এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

আবার‌ও এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতার শিরোপা লড়াইয়ে এখন ভারতের প্রতিপক্ষ লাল-সবুজের দল। তা‌ও আবার সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালদের মতো প্রথিতযশা ক্রিকেটার ছাড়াই। তবে ইনজুরি নিয়ে খেলছেন মুশফিকুর রহিম এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই নিয়ে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। ২০১২ সালে প্রথম, আর ২০১৬ সালের পর ২০১৮ সালে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২৪০ রানের টার্গেটে নেমে, ৯ উইকেট হারানো পাকিস্তান থামে মাত্র ২০২ রানে।

তবে পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল হক একাই লড়াই করলেন। তিনি খেলেছেন ৮৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। তবে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে এই ইনিংস আর খুব একটা কাজে লাগলো না। পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। উইকেটের পেছনে লিটন দুটি ক্যাচ মিস ছাড়া বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। ম্যাচ শেষে আলাদা করে ফিল্ডিংয়েরও প্রশংসা করেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

শুরু থেকেই মিরাজ-মোস্তাফিজদের বোলিং আক্রমণে দিশেহারা অবস্থা হয় পাকিস্তানের। প্রথম ওভারেই মিরাজের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেট হারান ওপেনার ফখর জামান। পরের ওভারেই মুস্তাফিজের আক্রমণ। ৪ ওভারের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে পাকিস্তান। সেখান থেকে ইমাম-উল হক, শোয়েব মালিক, আসিফ আলিদের মাঝারি ধরনের কয়েকটা ইনিংস পাকিস্তানকে লড়াকু পজিশনে নিয়ে আসে।

অবশ্য পিচ রিপোর্টে রামিজ রাজা জানিয়েছিলেন, প্রথমে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে আড়াইশো রান তুলতে পারলে স্পিনারদের দিয়েই প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করা যাবে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি‌ও সেই পথেই হাঁটলেন৷ টসে জিতে ব্যাটিংই বেছে নেন তিনি। কিন্তু আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।

নাজমূল হোসেন শান্তর জায়গায় সুযোগ পেলেও ইনিংসের শুরুতেই সৌম্য সরকার শূন্য রানে আউট। আরেক ওপেনার লিটন ফেরেন ব্যক্তিগত ৬ রানে। সাকিবের ইনজুরিতে দলে ফেরা মমিনূল ৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি। মিঠুন ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ৬০ রান করেন। ইমরুল কায়েস আউট হন ৯ রানে। মেহেদি হাসান ও মাহমুদুল্লাহর সংগ্রহ ১২ ও ২৫। আর মাশরাফি ১৩ রান করে আউট হতেই ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকলেও কোনও বল খেলার সুযোগ পাননি।

এই ম্যাচে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আমিরকে বসিয়ে প্রথম একাদশে সুযোগ দেয়া জুনাইদ খানকে। ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দেন। শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলি নেন দু’টি করে উইকেট।

ট্র্যাজিক হিরো মুশফিকুর রহিম

আক্ষরিক অর্থেই ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থেকে গেলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নার্ভাস নাইটিনাইনে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ব্যাট হাতে যখন ক্রিজে আসেন, বাংলাদেশ ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে। শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়া বাংলাদেশ ইনিংসকে নির্ভরতা দেন মুশফিকই।

মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১৪৪ রান যোগ করেন তিনি। ব্যক্তিগত ফিফটি করে মিঠুন ফেরার পর ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে আরও ৪১ রান যোগ করেন দলের ইনিংসে। যথন শতরান করে ব্যক্তিগত মাইলফলক টপকানোর সুযোগ আসে, ঠিক তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। শাহীন আফ্রিদির বল ব্যাটের কানা লাগিয়ে বসায় ফিরতে হয় সেঞ্চুরির ঠিক এক রান আগে।

নার্ভাস-৯৯’এ আউট হয়ে একরাশ হতাশাকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর রহিম। তবে দলকে হতাশ করেননি৷ খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে বোলারদের জন্য লড়াই করার রসদ জোগাড় করে দেন তিনি। ঠিক যেমনটা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন লিটল মাস্টার মুশফিক। সেবার অবশ্য সেঞ্চুরিই করেন তিনি। আর দল‌ও পেয়েছিলো জয়। এবার দল ফাইনালে উঠতে পারে কিনা, সেটা সময় বলবে, তবে নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া হয় মুশফিকের।

ফাইনাল খেলার লক্ষ্য বাংলাদেশের

শুক্রবার থেকে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে শুরু হচ্ছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আজ বুধবার ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। দুপুরে থিম্পুতে পৌঁছালেও এদিন আর অনুশীলনে নামা হয়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। আগামীকাল সকালে ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুশীলনের কথা রয়েছে লাল-সবুজের দলের।

সাফের বয়স ভিত্তিক এ নারী ফুটবল আসরে বাংলাদেশসহ ৬টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ছোটনের শিষ্যরা রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। তাদের সঙ্গী নেপাল ও পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে মৌসুমী আক্তারের দল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২ অক্টোবর।

অন্যদিকে, ‘এ’ গ্রুপে আছে স্বাগতিক ভুটান, ভারত ও মালদ্বীপ। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল করে চার দল দল খেলবে সেমি ফাইনালে। বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। দেশ ছাড়ার আগে এমন প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেলেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন।

সকালে ঢাকা ত্যাগের আগে বাংলাদেশ মহিলা দলের সফল এ কোচ বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপের প্রাক-বাছাইয়ে আমরা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। সেই দলের ১৩জন ফুটবলারকে আমরা সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ দলে নিয়েছি। তাদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে। সিনিয়রদের সঙ্গে মিলে তারা দারুণ ফুটবল উপহার দিতে পারবে। নবীনদের নিয়ে দল সাজালেও আমি এ টিম নিয়ে বেশ আশাবাদী। কারণ অনেকদিন যাবৎ বয়স ভিত্তিক দলগুলো একসঙ্গে অনুশীলন করছে। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বেশ ভালো।’

নিজের প্রথম লক্ষ্য সম্পর্কে গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। গ্রুপ পর্বে আমাদের প্রতিপক্ষ নেপাল ও পাকিস্তান। এ দু’টি দলের বিরুদ্ধে জয়ের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। কিছুদিন আগেও তাদের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছি। আশাকরি সেইধারা এবারও ধরে রাখতে পারবে মেয়েরা। সেমি ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে যে দলই আসুক না কেনো আমরা ফাইনালে যেতে পারবো। ফাইনালে পৌঁছানোর পর পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারন করবো।’

দলের অধিনায়ক মৌসুমী আক্তার জানান, ‘আমরা ফাইনালকে টার্গেট করেই ভুটান যাচ্ছি। দেশবাসীর দোয়া চাই। আশাকরি ভালো কিছু করতে পারবো সেখানে।’ নিজের দল সম্পর্কে প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব পাওয়া এ ফুটবলার বলেন, ‘সিনিয়র ও জুনিয়রদের নিয়ে দারুন একটি দল গঠন করা হয়েছে। জুনিয়র যারা দলে সুযোগ পেয়েছেন তারা সবাই খেলার মধ্যে ছিল। সদ্য সমাপ্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপের প্রাক বাছাইয়ে তহুরা-শামসুন্নাহার জুনিয়ররা কিন্তু নিজেদের প্রমানও করেছে। আমার বিশ্বাস ভুটানেও তারা গোল পাবে।’

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ

জর্জিয়ার বাতুমি শহরে ৪৩তম বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ দল ২ খেলায় পূর্ণ ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৪০ টি দলের সাথে মিলিতভাবে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ দাবা দল ৪-০ গেমে ইন্টারন্যাশনাল ব্রেইল চেস এসোসিয়েশন (আইবিসিএ)-কে পরাজিত করে।

ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ দলের পক্ষে গ্র্যান্ড মাস্টার মোল্লা আব্দুল্লাহ আল রাকিব, ফিদে মাস্টার বাবারিকিন স্ট্যান্শ্লিাভকে; গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান, আন্তর্জাতিক মাস্টার মিশকভ ইউরিকে; ফিদে মাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, ক্যান্ডিডেট মাস্টার গ্রিগোচুক সের্গেইকে এবং গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব, পালাসিয়ন পেরেজ ম্যানুয়েলকে পরাজিত করেন।

এদিকে, দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় বাংলাদেশ মহিলা দল ১৫ নং সিডেড স্পেনের কাছে ১.৫-২.৫ গেম পয়েন্টে হেরে গেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ মহিলা দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, স্পেনের মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার হারনানদেজ এস্টিভেজ ইউুদয়ানাকে পরাজিত করেন এবং মহিলা ফিদে মাস্টার তনিমা পারভীন, ফিদে মাস্টার গার্সিয়া মার্টিন মার্থার সাথে ড্র করেন। আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা, স্পেনের আন্তর্জাতিক মাস্টার ভেগা গিটারেজ সাবরিনার কাছে ও মহিলা ফিদে মাস্টার শারমীন সুলতানা শিরিন, মহিলা গ্র্যান্ড মাস্টার কেলজেট্টা রুইজ মনিকেথির কাছে হেরে যান।

আজ বুধবার তৃতীয় রাউন্ডের খেলা বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫ টায় শুরু হবে। ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ দল ভিয়েতনামের সাথে এবং মহিলা বিভাগে বাংলাদেশ মহিলা দল পর্তুগালের দলের সাথে খেলবে।

মুস্তাফিজের উপর শতভাগ আত্মবিশ্বাস ছিল : মাশরাফি

অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উড়ন্ত শুরুর পর টানা দুই ম্যাচে হার। আমিরাতের তপ্ত আবহাওয়াই হয়ে পড়েছে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা। যেখানে চারদিনে তিন ম্যাচ খেলতে হয়েছে। রবিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধী জয়ে দলে ফিরেছে আত্মবিশ্বাস। দুবাইয়ের ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের লবিতে বসে এশিয়া কাপের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কথা বলেছেন।

প্রশ্ন: প্রায় ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে শারীরিকভাবে কিংবা কন্ডিশনের দিক দিয়ে এটাই কি আপনার সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্ট?

মাশরাফি: এটাতো সত্যি কথা। শরীর একপর্যায়ে গিয়ে চলছে না। কারণ চারদিনে তিনটা ম্যাচ খেলাটা কঠিন, ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, সেটা আসলে রিকভারি হচ্ছে না। এটা একটু কঠিন। এ ধরনের টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচের আগে অন্তত একদিনের বিশ্রাম থাকে। কোথাও কোথাও দুই দিনের বিশ্রামও থাকে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশেও তো গরমে খেলেন, এখানকার সাথে ভিন্নতা কি?

মাশরাফি: সমস্যা হচ্ছে পেশীতে ক্র্যাম্প হয়ে যাচ্ছে। ক্র্যাম্প হয়ে গেলে স্বাভাবিক খেলাটা খুব কঠিন। আমার যেমন ব্যাক ক্র্যাম্প করছিল, মুস্তাফিজের যেমন পিঠে ক্র্যাম্প করছিল। এইসব জায়গায় ক্র্যাম্প করলে আপনি তো বোলিং করতে পারবেন না। এইসব জায়গায় ক্র্যাম্প করলে দৌড়ে বোলিং করা কঠিন। নির্দিষ্ট যে বলটা প্রয়োজন সেই বলটা হবে না।

প্রশ্ন: টানা দুই ম্যাচ হারের পর আফগানদের বিরুদ্ধে জয়ে কি পুরো দল পুরনো ছন্দে ফিরল?

মাশরাফি: আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা যখন প্রথম ম্যাচ খেলেছি। সত্যি কথা হচ্ছে ওই ম্যাচে আমাদের কারোই প্রস্তুতি ছিল না। আমাদের পরের ম্যাচটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা জানি ভারত এখানে এক নম্বর দল হিসেবেই খেলছে। সেই সঙ্গে একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি, ওখানেও আমরা ছাড়তে পারছি না। আমরা সবাই কিন্তু বিভ্রান্ত ছিলাম। আমরা কি করবো? আমাদের কি করা উচিত। আমরা শতভাগ দিতে পারছিলাম না। শতভাগ দিলে কালকে যদি আবার সমস্যা হয়ে যায়। বিরাট একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই করতে করতে কিন্তু ৪০ ওভার পর্যন্ত ঠিকমতোই ছিলাম আমরা। ওখানে আমার বোলিং করার কথাও ছিল না। আমি রুবেলকে করাতে সাহস পাচ্ছি না। পরের দিন খেলতে হবে। তারপরও চিন্তা করলাম, আচ্ছা আমিই করি। আমরাও ওয়ার্মআপ ঠিকমতো নেই। প্রস্তুতি ঠিক নেই। তারপরও আমিই করেছি। যার কারণে বোলিং বিভাগে একটু এলোমেলো ছিলাম। ভারতের বিপক্ষে হারটা অপ্রত্যাশিত কিছু না। ভারত এখানে নাম্বার ওয়ান দল। আমি মনে করি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা আমরা ভালো খেলতে পারিনি। একেবারেই প্রস্তুতি শতভাগ থাকার পরও আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আফগানিস্তানকে অনেকে দুর্বল দল ভাবছে। ওদের দুইজন বোলার আছে যারা এই বছর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। আমি জানি না কারা বলছে, আফগানিস্তান এখন অন্যতম সেরা দল হয়ে উঠছে। শুধু ওদের বোলিং আক্রমণ দিয়ে। ওদের তিনজন স্পিনার আছে যারা বিশ্বমানের। নবী-মুজিব-রশিদ। আফগানিস্তানের সঙ্গে সহজেই জিতবো এমন কোনো ভাবনাও ছিল না। শতভাগ ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে। কখনো কখনো বড় বড় জয়ের চেয়ে এমন জয় টিমকে অনুপ্রেরণা যোগায়। আমি বলছি না কালকের ম্যাচে কি হবে। জয়তো জয়ই, হারতো হার।

প্রশ্ন: এমন কন্ডিশনে টানা বোলিং করা পেসারদের জন্য বড় পরীক্ষা ছিল নিশ্চয়ই…..

মাশরাফি: ৩৩ ওভারের সময় মুস্তাফিজকে যখন এনেছি তখন কিন্তু ওকে আমার পাঁচটা ওভার করানোর ইচ্ছা ছিল। ওই সময় পাঁচটা ওভার করে দিয়ে যেখানে ২০-২২ রানের পার্থক্য ছিল ওটা ৪০ রানের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্ল্যান ছিল। যেন কয়েকটা উইকেট তুলে নিয়ে চাপটা তৈরি হয়। মুস্তাফিজ দুই ওভার বল করেই আমাকে বললো ভাই আর পারছি না। তখনতো খুব স্বাভাবিক আমার জন্যও শকিং, টিমের জন্য শকিং। কিন্তু আপনিতো একজন খেলোয়াড়কে ইনজুরি করে দিতে পারেন না। তখন আমিই শুরু করলাম। আমার ইনজুরি এখন ম্যাটার করবে না। আসলে অনেক কিছুই মাথায় চলে। কিন্তু এমন গরমে মাথা অনেক সময় কাজ করে না। সবকিছুর সঙ্গে সবকিছুর সম্পর্ক আছে। আপনি যেটা বললেন আমি আসলে ইনজুরি নিয়ে ভাবি না।

প্রশ্ন: শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে বল দেয়ার সময় নিজের ভেতর কি কাজ করছিল?

মাশরাফি: শতভাগ আত্মবিশ্বাস ছিল ওর উপর আমার। কারণ ওরে মারতে গেলে আউট হওয়ার সুযোগ আছে। ও যদি কাটারটা ঠিক জায়গায় ফেলে। ওর সাথে খালি আমার আলাপ এটুকু হয়েছে যে, তুই কাটারটা যে মারবি ঠিক জায়গায় মারিস। যেটা তুই আগে মারতি। আর কিছু ভাবার দরকার নেই। যেহেতু তুই অন্য কোনো বল করবি না, একটা বলই করবি, তাহলে নিশ্চিত করবি বলটা যেন ঠিক জায়গায় পড়ে, যেখানে তুই চাচ্ছিস।

প্রশ্ন: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ২৫০ উইকেট হয়ে গেল আপনার। ঠিক কিভাবে দেখছেন এমন বড় অর্জনকে?

মাশরাফি: (হাসি)…..সত্যি কথা বলতে কি, আমি যতদিন ক্রিকেট খেলছি, আমি প্রত্যেকটা ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলছি। আমি সবসময় সত্ থাকার চেষ্টা করেছি মাঠে। এমনকি আমার শরীর যখন ফিফটি-ফিফটি তখনও শতভাগ দিতে চেষ্টা করেছি। কখনো ইনজুরি হয়েছে, ইনজুরির আগে বা ইনজুরি হতে পারে এসব নিয়ে ভাবিনি। ছোট-খাট জিনিস সামলেই এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। এখনও সমস্যা নিয়ে চলছি। এই টুর্নামেন্টে আমি দুইটা নো বল করছি। আপনি কবে দেখছেন আমাকে নো বল করতে। আসলে ২৫০ উইকেট আমার কাছে ম্যাটার করে না। আমার কাছে বড় যে, আমি সবকিছুর ভেতর দিয়ে চলতে পারছি। যে কোনো ভাবে ম্যানেজ করে চলছি। এটা বড় স্বস্তির। একইভাবে আপনি যদি বলেন ২৫০ উইকেট, অবশ্যই এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। কারণ আমার অনেক স্বপ্ন ছিল যখন ক্রিকেট শুরু করি। সেগুলো যখন অর্জন হয়নি। কিন্তু মিলিয়ে দেখলে আবার মনে হয়, মনে একটা শান্তি আছে। কখনো হাল ছাড়িনি। অনেক কঠিন সময় এসেছে। এতকিছুর পর এমন একটা অর্জন অবশ্যই নিজেকে আনন্দ দেয়।

জাতীয় দলে ছুটি বাড়লো মেসির

জাতীয় দলে খেলা থেকে ছুটি আর‌ও বাড়ালেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লি‌ওনেল মেসি। গত মাস থেকেই তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলা থেকে বিরত রয়েছেন। তাই আগামী মাসে খেলতে যা‌ওয়া প্রীতি ম্যাচে‌ও লি‌ওনেল মেসিকে দলে ডাকার কোনো পরিকল্পনা নেই কোচ লি‌ওনেল স্ক্যালোনির।

তবে আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকরা কিন্তু মেসির খেলা দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন। তবে দলের অন্তরবর্তীকালিন কোচ স্ক্যালোনি জানিয়েছেন, আগামী মাসে ইরাকের সঙ্গে এবং পরে জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যে প্রীতি ম্যাচ খেলবে তাতে‌ও মেসিকে দলে ডাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফক্স স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কোচ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘না, সে (মেসি) খেলতে আসছেনা। আমার সঙ্গে (তার) কথা হয়েছে। আসলে এটা নিয়ে গল্প বানানোর কোনো কিছু নেই সবাই খুব ভালোভাবেই জানে যে তার (মেসির) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। এবং প্রায়ই আমাদের কথা হয়।’

এশিয়া ট্যুরের অংশ হিসেবে ইরাক ‌ও ব্রাজিলের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা আগামী ১১ অক্টোবর ইরাকের সঙ্গে এবং এর পাঁচদিন পর জেদ্দায় সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ আজ

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার সেমিফাইনাল হ‌ওয়া ম্যাচটিতে ফাটিয়ে দে‌ওয়ার আশা করছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সোজাসুজি বলেই দেন তিনি, ‘সেমিফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে ফাটিয়ে দেব।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে গত রবিবার শ্বাসরুদ্ধকর, নাটকীয় ম্যাচে ৩ রানে জিতে বাংলাদেশ। তাতে করে ফাইনালের আশা টিকে থাকে। আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘সুপারফোরের শেষ ম্যাচটি ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল রূপে পরিণত হয়েছে। যে দল জিতবে তারাই ভারতের বিপক্ষে শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াই করবে।

সবাই জানে, পাকিস্তানকে নিয়ে আগাম কিছু অনুমান করা কঠিন। এশিয়া কাপের গ্রুপপর্ব হোক কিংবা এখন পর্যন্ত ‘সুপারফোরে’ ম্যাচগুলোতে হোক; পাকিস্তান নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। গ্রুপপর্বে হংকংকে সহজেই হারিয়েছে। কিন্তু এরপর ভারতের কাছে অনায়াসে হেরেছে। পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ গিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে জয় পেতে বেশ ঘাম ঝড়াতে হয় তাদের। ভারতের বিপক্ষে তো নাস্তানাবুদ হয়েই চলেছে। আবারও ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে। এবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

বাংলাদেশও যে খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে তা নয়। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপরই আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ ভারতের কাছেও একই হাল টাইগারদের। সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল শেষ পর্যন্ত জিতেছে। কিন্তু শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ‘ম্যাজিক’ বোলিং না হলে জয় মিলত না। তবে এমন জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ক্রিকেটারদের। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়াও সম্ভব। পাকিস্তান যে এবার এশিয়া কাপে বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ খেলছে।

অবশ্য যে কোন মুহূর্তে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তা দেখাও গেছে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফেবারিট তালিকায় না থেকেও শিরোপা জিতেছিল তারা। আর এশিয়া কাপে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস তো আছেই। তবে পাকিস্তানই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে ভয় পাচ্ছে। তাদের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার কিন্তু দলকে নিয়ে আছেন চরম ভয়ে। তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্কট চলছে। ব্যর্থতার ভয় কিছুটা হলেও ড্রেসিংরুমে গ্রাস করেছে। ক্রিকেট দল হিসেবে এখন আমরা কি অবস্থায় আছি সেটা খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি আমরা।’

শোয়েব মালিক, ইমাম উল হক, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদকে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন। কিন্তু যাদের দিকে নজর, সেই ব্যাটসম্যান ফখর জামান, বোলার মোহাম্মদ আমির, হাসান আলিরা কিছুই করতে পারছেন না। আত্মবিশ্বাসও পাক ক্রিকেটারদের নড়বড়ে হয়ে গেছে। মিকি আর্থার যেমন জানান, ‘ক্রিকেট আত্মবিশ্বাসের খেলা। অথচ ফখর জামানকে দেখুন। আমরা সবাই জানি ও’ কতটা অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়া খেলোয়াড় সে। আমাদের প্রত্যাশা থাকে ও ভাল শুরু এনে দেবে দলকে। কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের খেলা নিয়ে ও’র মধ্যে যেন দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে।’

পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াবে তাছাড়া কোন গতি নেই; জানিয়েছেন আর্থার, ‘তবে আমাদের তো এখানেই থেমে যাওয়ার উপায় নেই। এগিয়ে যেতে হবে। আশাকরি দ্রুতই আমরা ঘুরে দাঁড়াব এবং আরও ভাল এবং শক্তিশালী দল হিসেবে ফিরে আসব।’

এদিকে, পাকিস্তানকে বিদায় করেই ফাইনালে খেলার আশা করছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের এপ্রিলে দুই দল পরস্পরের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। বাংলাদেশের মাটিতে সেই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই হেরেছিল পাকিস্তান। এবারও পাকিস্তানকে হারাতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস চাপের মধ্যে থেকেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড ১২৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোর দাঁড় করানোয় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর শেষ ওভারে গিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মুস্তাফিজের ম্যাজিক বোলিংয়ে জয় পায় টাইগাররা। আর এমন পারফর্মেন্সকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখতে চান আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘এই খেলাটাকে আমাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।’

সেটা করতে পারলেই আজকের ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল জেতাও হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আবারও এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলাও নিশ্চিত করবে।

শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ভুটান যাচ্ছে বাংলাদেশ

শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে সাফ অনুর্ধ-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আজ বুধবার দুপুরে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। ছয় জাতির এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে।

এই প্রথমবারের মতো অনুর্ধ-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ হচ্ছে। যে কারণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও প্রথম। আসরে ‘এ’ গ্রুপের তিন দল হচ্ছে স্বাগতিক ভুটান, ভারত ও মালদ্বীপ। আগামী শুক্রবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও ভুটান। বাংলাদেশ মিশন শুরু করবে রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দু’টি করে দল সেমিফাইনাল খেলবে। এই আসরে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করবেন মিশরাত জাহান মৌসুমী। আর সহ-অধিনায়ক অনুর্ধ-১৬ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা।

বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, এই আসরে আমরা প্রথমবারের মতো খেলব। নার্গিস ইনজুরির কারণে দলে নেই। এই দলে ১০ সিনিয়র এবং অনুর্ধ-১৬ দলের ১৩ ফুটবলার আছে। তারা অনেকদিন একসঙ্গে অনুশীলন করায় তাদের মধ্যে ভাল সমন্বয় আছে। তবে অনুর্ধ-১৮ দলের সিনিয়র খেলোয়াড় গত দুই বছর ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। তবে তারা অন্যদের সঙ্গে অনুশীলনের পাশাপাশি সপ্তাহে ৩/৪টি করে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে। আশাকরি সমস্যা হবে না। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা।

অধিনায়ক হিসেবে এটাই প্রথম মিশন মিডফিল্ডার মৌসুমীর। তিনি বলেন, অধিনায়কত্ব মানেই বাড়তি চাপ, বাড়তি দায়িত্ব। চেষ্টা করব ভালমতো দায়িত্ব পালন করতে। দলগতভাবে আমরা কঠোর হার্ডওয়ার্ক করেছি। অনুর্ধ-১৬ দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন অনুশীলন করেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন ফাইনাল খেলতে পারি।

ভুটানে সবসময়ই তাক লাগানো সাফল্য পেয়েছে বাংলার মেয়েরা। এর আগে দেশটিতে দুইবার শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অবশ্য দু’বারই পুরুষ দল। একবার ২০০২ সালে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে (বাফুফে একাদশ নামে)। আরেকটি ২০১৪ সালে কিংস কাপে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। কিছুদিন আগে অবশ্য সাফ অনুর্ধ-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলার কিশোরীরা। পুরো আসরে ভালো খেলেও ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল। এবার অনুর্ধ-১৮ দলের সেই ক্ষত শুকানোর মিশন।

পাকিস্তানকে হারানোর প্রতাশা টাইগার কোচের

এশিয়া কাপে সুপার ফোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচটি হয়ে উঠেছে সেমিফাইনাল। আগামীকাল বুধবার পাকিস্তানকে হারিয়েই ভারতের মুখোমুখি হওয়ার প্রত্যাশা মাশরাফিদের কোচ স্টিভ রোডসের।

বাংলাদেশ আগেও দুবার এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে। আগামীকাল বুধবার আবুধাবিতে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপে ফাইনাল মঞ্চের দেখা মিলবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানে জয় দিয়ে শুরু করে পরপর দুই ম্যাচে বাজে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে লাল-সবুজরা। তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের ভালোই সুযোগ দেখছেন রোডস।

তিনি বলেন, ‘আমি তো মনে করি আমাদের ভালো সুযোগ আছে। একটি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আমরা পাকিস্তানকে খুবই শ্রদ্ধা করি। তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যা করেছে সেটা সবারই জানা। এটা খুব বেশিদিনের কথা নয়। তারা ইংল্যান্ডে দারুণ খেলে শিরোপা জিতেছিল। তাদের এবারের আসরটা একটু অদ্ভুতভাবে যাচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যে আত্মবিশ্বাসটা ছিল, সেটা এবার একটু কম দেখা যাচ্ছে।’

‘এরপরও তারা খুবই বিপজ্জনক দল। তবে আমরাও চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। তাদের দিনে তারা খুব ভয়ঙ্কর। আমরাও কিন্তু তাই। এখন তো ম্যাচটা সেমিফাইনাল। খুব ভালো একটা প্রতিযোগিতা হবে মনে হচ্ছে। আমরা চাই পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলতে।’

জিততে হলে ব্যাটিংয়ে শুরুটা হওয়া চাই যুতসই। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার নাম ব্যাটিং। বিশেষত ওপেনার তামিম ইকবালের অভাবটাই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে টাইগারদের। তামিমের বদলি সুযোগ পাওয়া তরুণ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ। এরপরও শান্তর ওপর আস্থা রাখছেন রোডস।

‘টপ অর্ডারে সমস্যা আছে। আমরা চাইবো ভালো শুরু করতে। তবে এটা সবসময় ঘটবে না। বিশেষত তামিমের আঙুল ভাঙ্গায় আমরা একটু পিছিয়ে আছি। তবে আমাদের শান্ত আছে। প্রতিভাবান তরুণ একজন খেলোয়াড়। আরও অনেক তরুণ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আছে দলে। শান্তর অনেককিছু দেয়ার আছে।’

চাপ মুক্ত না হলে বাংলাদেশকে হারানো কঠিন : আকরাম

এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে বলে মনে করেন, দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম।

আগামীকাল বুধবার আবুধাবিতে সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এ ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে ফাইনালে। হেরে যাওয়া দল টুর্নামেন্ট থেকে নেবে বিদায়। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের দল নিয়ে চিন্তিত আকরাম।

পাকিস্তান দলকে কিছুটা ভীতসন্ত্রস্ত মনে হচ্ছে উল্লেখ করে সাবেক এ পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। কারণ, পাকিস্তানের পারফরমেন্সে আমি হতাশ। পাকিস্তানের এই দলটিকে আমার ভীতসন্ত্রস্ত মনে হচ্ছে।’

হংকং-এর বিপক্ষে ৮ উইকেটে জয় দিয়ে এবারের এশিয়া কাপে যাত্রা শুরু করে পাকিস্তান। তবে গ্রুপ পর্বে পরের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তান। ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হারে তারা। এক জয়েই সুপার ফোরে ওঠে পাকিস্তান।

গ্রুপ পর্বের মতো সুপার ফোরেও জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে পাকিস্তান। আফগানিস্তানকে ৩ উইকেটে হারায় তারা। এতে ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পাকিস্তান। কিন্তু দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে আবারো হারায় ভারত। ব্যবধান ৯ উইকেট।

ভারতের কাছে হেরে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে পাকিস্তান। ফাইনালে খেলতে হলে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই তাদের। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য সহজ হবে না বলে মনে করেন দেশটির সাবেক বাঁ-হাতি কিংবদন্তি পেসার আকরাম।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী দল। পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটা সহজ হবে না। ছেলেদের একটা কথাই বলবো। ফলের কথা না ভেবে নির্ভীক ক্রিকেট খেলো। চাপ মুক্ত হয়ে খেলতে হবে। নয়তো বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’

পাকিস্তান দলের চিত্র ভালো লাগছে না আকরামের। দলকে ভীতসন্ত্রস্ত মনে হচ্ছে তার, ‘পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের দেখে মনে হচ্ছে, তারা ভয়ে ভয়ে খেলছে। মাঠে তাদের মুখ দেখে হতাশ মনে হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাট করতে নামছে তাদের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তারা ঘাবড়ে আছে। বর্তমানে যেভাবে খেলছে দল। তা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।’

মডরিচ-মারতা ফিফার সেরা

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর মোহাম্মদ সালাহকে হারিয়ে ফিফা দ্য বেস্ট খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ। জার্মান ফুটবল দলের কোচ জোয়াকিম লো, জমকালো অনুষ্ঠানে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ তারকার নাম ঘোষণা করেন।

তার আগে তিনি বলেন, যারা সেরা তিনে আছেন তারা সবাই ভালো খেলোয়াড়। তবে আমার কাছে মনে হয় মডরিচই বর্তমানের সেরা খেলোয়াড়। অবশ্য এরআগে মডরিচ রোনালদো এবং সালাহকে পেছনে ফেলে উয়েফা বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের পুরষ্কার জিতেছিলেন।

এদিকে, ব্রাজিলের মারতা জেতেন মেয়েদের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার। তিনি খেলেন অরলান্ডো প্রাইডের হয়ে। গত এপ্রিলে মারতা’র অধিনায়কত্বে ব্রাজিল কোপা আমেরিকা ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। আর মারতা নিজে করেন ১৩ গোল। এবং ছয়টি গোলে সহায়তা করেন।

সেরা একাদশ : ডেভিড ডি গিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানি আলভেস (পিএসজি), রাফায়েল ভারানে (রিয়াল মাদ্রিদ), সার্জিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ), র্মাসেলো (রিয়াল মাদ্রিদ), এনগোলো কান্তে (চেলসি) , লুকা মডরিক (রিয়াল মাদ্রিদ), ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (জুভেন্টাস), কিলিয়েন এমবাপে (পিএসজি), লিওনেল মেসি র্বাসেলোনা) ও এডেন হ্যার্জাড (চেলসি)।

১৯৮৭ সাল থেকে চালু করেছে ফেয়ার প্লে অ্যাওর্য়াড। এবার সেই পুরষ্কার জেতেন র্জামানির লের্নাট থিয়া। ভেনেলোর এই খেলোয়াড় একজন লিউকেমিয়া রোগীকে সাহায্য করতে গিয়ে পিএসভি আইন্দোভেনের বিপক্ষে গুরুত্বর্পূণ ম্যাচ মিস করেন।

সেরা কোচের পুরষ্কার জেতেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশাম। ফ্রান্সকে দ্বিতীয়বার বিশ্ব সেরার মুকুট জেতানোর জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সেরা গোলকিপার থিবু র্কতোয়া। পেরু জিতল ফ্যান অ্যাওর্য়াড।

ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড জিতেছেন মিশর ‌ও লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। এভারটনের বিপক্ষে দারুণ একটি গোলের কারণে তিনি এই পুরষ্কারটি জেতেন।

এবার ২৫ ভাগ ভোট দিয়েছেন সমর্থকরা, ২৫ ভাগ জাতীয় দলের কোচরা, ২৫ ভাগ অধিনায়করা এবং বাকী ২৫ ভাগ ভোট দেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

নয়টি ক্যাটাগোরিতে পুরষ্কার দে‌ওয়া হয়। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার পুরুষ, ফিফা বেস্ট কোচ পুরুষ, ফিফা বেস্ট গোলকিপার, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার নারী, ফিফা বেস্ট কোচ নারী, ফিফা ফ্যান অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি ‌ও ফিফা সেরা একাদশ।

কোচদের সেরা দেশাম

সেরা কোচের পুরষ্কার জেতেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশাম। ফ্রান্সকে দ্বিতীয়বার বিশ্ব সেরার মুকুট জেতানোর জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

এর আগে, ফিফা দ্য বেস্ট পুরষ্কার দে‌ওয়ার জমকালো অনুষ্ঠান শুরু হয় লন্ডনে। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড জেতেন মিশর ‌ও লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। এভারটনের বিপক্ষে দারুণ একটি গোলের কারণে তিনি এই পুরষ্কারটি জেতেন।

href=”http://bangladesherkhela.com/wp-content/uploads/2018/09/Salah.jpg”>

এবার ২৫ ভাগ ভোট দিয়েছেন সমর্থকরা, ২৫ ভাগ জাতীয় দলের কোচরা, ২৫ ভাগ অধিনায়করা এবং বাকী ২৫ ভাগ ভোট দেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

নয়টি ক্যাটাগোরিতে পুরষ্কার দে‌ওয়া হয়। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার পুরুষ, ফিফা বেস্ট কোচ পুরুষ, ফিফা বেস্ট গোলকিপার, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার নারী, ফিফা বেস্ট কোচ নারী, ফিফা ফ্যান অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি ‌ও ফিফা সেরা একাদশ।

সালাহ জিতলেন পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড

শুরু হয়ে গেছে ফিফা দ্য বেস্ট পুরষ্কার দে‌ওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড জিতেছেন মিশর ‌ও লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। এভারটনের বিপক্ষে দারুণ একটি গোলের কারণে তিনি এই পুরষ্কারটি জেতেন।

এবার ২৫ ভাগ ভোট দিয়েছেন সমর্থকরা, ২৫ ভাগ জাতীয় দলের কোচরা, ২৫ ভাগ অধিনায়করা এবং বাকী ২৫ ভাগ ভোট দেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

নয়টি ক্যাটাগোরিতে পুরষ্কার দে‌ওয়া হয়। ফিফা পুসকাস অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার পুরুষ, ফিফা বেস্ট কোচ পুরুষ, ফিফা বেস্ট গোলকিপার, ফিফা বেস্ট প্লেয়ার নারী, ফিফা বেস্ট কোচ নারী, ফিফা ফ্যান অ্যা‌ওয়ার্ড, ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি ‌ও ফিফা সেরা একাদশ।

ব্যালন ডি’অরে এবার নারীদের পুরষ্কার

নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরষ্কার ব্যালন ডি’অর। ইতিহাসে এবারই প্রথম পুরুষদের পাশাপাশি নারী ফুটবলারদেরকে‌ও পুরষ্কৃত করার উদ্দ্যোগ নিয়েছে ব্যালন ডি’অর কতৃর্পক্ষ।

সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরষ্কার ১৯৫৬ সালে প্রথম প্রবর্তন করে ফ্রান্স ফুটবল। সেবার সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন স্ট্যানলি ম্যাথুজ।

নারী খেলোয়াড়েদর ১৫ জনের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর পুরুষদের তালিকায় আছে ৩০ জনের নাম। প্যারিসে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিজয়ীদের হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেয়া হবে আগামী ৩ ডিসেম্বর।

ফ্রান্স ফুটবলের প্রধান সম্পাদক প্যাসকল ফেরি এ প্রসঙ্গে বলে, ‘এখন দারুণ খেলেন নারী ফুটবলাররা। পুরুষদের মতোই এখন তারা সম্মান পা‌ওয়ার যোগ্য। সেই সম্মান জানাতেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।’

ফিফা দ্যা বেস্ট পুরষ্কার আজ

ফিফা দ্যা বেস্ট পুরস্কার দেয়া হবে আজ। রাত একটায় লন্ডনের রয়েল ফেস্টিভ্যাল হলে জমকালো এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করবেন পুরস্কার জয়ী অভিনেতা ইদ্রিস এলবা। এবং তার সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন ফ্রেঞ্চ সাংবাদিক অ্যানা-লরা বনেট।

তবে লিওনেল মেসিবিহীন শর্টলিস্ট। সংক্ষিপ্ত তিনে অনুপস্থিতি ব্রাজিলীয় সেনসেশন নেইমারও। বিউটিফুল গেম খ্যাত ফুটবলের ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ বিশ্বকাপের বছরের ফিফার বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড বিতরণীর শীর্ষস্থানীয় পদকের রেসের নিয়ন্ত্রণও রাশান মেগা আসরের শ্রেষ্ঠ পারফরমারদের হাতের মুঠোয়। তবে শেষ পর্যন্ত একজনই বিজয়ী হবেন। কার হতে উঠবে ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘দ্য বেস্ট ফিফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ ২০১৮ সালের ট্রফি? পুরুষদের বিভাগে ফিফার দ্য বেস্ট সিরিজের বর্তমান জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দখলেই থেকে যাবে প্রেস্টিজিয়াস পুরস্কার? না কি লুকা মডরিচ ও মিসরীয় বিস্ময় মোহাম্মদ সালাহর মধ্য থেকেই কেউ একজন জিতবেন জয়ী হবেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার দ্য বেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ভার্সনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘মেন্স ফুটবলার অব দ্য ইয়ার’ পদক?

বাস্তবতা হচ্ছে ফিফার ২০১৮ সালের জমকালো গালা শোর মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা তিনজনেরই সম্ভাবনা থাকবে শ্রেষ্ঠত্বের খেতাব জয়ের। বর্ষসেরা অ্যাওয়ার্ড রেসের শর্টলিস্টের সুপারস্টার ত্রয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুকা মডরিচ ও সালাহর চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্টজনেদের ভোটাভুটির ফলাফলে। একজনই জয়ী হবেন। ফিফার ২০১৮ সালের ‘দ্য বেস্ট মেন্স প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ উন্মাদনায় মেতে ওঠায় ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি পরিণত হয়েছে সময়ের ব্যাপারে।

সব প্রস্তুতি শেষ। আজই অবসান হবে ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস খেতাব ফিফার ২০১৮ সালের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারকে বরণ করে নেয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার। লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হলরুমে ফিফার জমকালো গালা শোর বিশেষ পর্বের একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হবে।

মোট ৯টি ক্যাটাগরির শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্সের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হবে ফিফার বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড বিতরণীর মঞ্চে। তবে পুরুষদের ‘দ্য বেস্ট মেন্স ফুটবলার অব দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত ফলাফলেই সব আগ্রহ ভক্তদের। বিশ্লেষকদের বিচারে দ্য বেস্টের রেসের হট ফেবারিট রাশান বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিস্ময়কর উত্থানের রূপকার লুকা মডরিচ। গত মৌসুমের ক্লাব ফুটবলেও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মধ্যমাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্য উপহার দেন। স্পেনের দলটির হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের বিস্ময়কর কৃতিত্ব রচনায়ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মডরিচ। তার বিরুদ্ধবাদীদের একমাত্র অনুযোগ ব্যক্তিগত গোলের পরিসংখ্যান।

এক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুন্ন রাখায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হয়েছে সংক্ষিপ্ত তিনে মোহাম্মদ সালাহর উপস্থিতিতে। গত মৌসুমে সব ফরম্যাটের ফুটবলে সবমিলিয়ে ৪৪ গোল করার বিরল কৃতিত্ব রচনা করেন অল রেড অ্যাটাকার। রোনালদোও ৪৪ গোলে সমাপ্ত করেন ২০১৭-১৮ মৌসুম। ফিফার দ্য বেস্ট মেন্স অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণে ২৫ শতাংশ ভোটাধিকার সংরক্ষিত ভক্তদের জন্য। অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশের বণ্টন সংবিধান অনুযায়ী করে থাকে ফিফা।

পয়েন্ট হারালো বার্সেলোনা

স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে নিজেদের মাঠেই জিততে পারেনি জায়ান্ট বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে জিরোনার সাথে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খোঁয়ালো কাতালানরা।

ম্যাচের উনিশ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে লিড নেয় বার্সা। তবে খেলার পঁয়ত্রিশ মিনিটের মাথায় দলের ফরাসি সেন্টার ব্যাক ক্লেমেন্ট লেংলেট লাল দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় বার্সা। আর এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান জিরোনার ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ান তুয়ানি। পঁয়তাল্লিশ ও একান্ন মিনিটে বার্সার জালে বল জড়িয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। পরে ৮১ মিনিটে জেরার্ড পিকে গোল করলে ম্যাচে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

আরেক ম্যাচে, রিয়াল বেটিসের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে অ্যাথলেটিক বিলবাও।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দারুণ জয় বাংলাদেশের

মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটে সুপার ফোরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় পেলো বাংলাদেশ। আবুধাবিতে, ৩ রানের এই জয়ে, কাগজে-কলমে ফাইনাল খেলার আশাটাও বেঁচে রইলো টাইগারদের। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে টাইগাররা। জবাবে ৭ উইকেট হারানো আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২৪৬ রান।

উত্তেজনার বারুদে ঠাসা ম্যাচে জয় পেলো বাংলাদেশ। মুস্তাফিজের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে শেষ ছয় বলে ৪ রান দিয়ে আফগানিস্তানকে পরাজিত করলো টাইগাররা। তাই জয়ের আনন্দে এমন উল্লাসমুখর লাল-সবুজের দল।
.
আফগানদের জয়ে শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ছিলো ৮ রানের। হাতে ৪ উইকেট। দ্বিতীয় বলে রশিদ খানকে ফিরতি ক্যাচে পরিণত করে তাদের ব্যাটিংয়ে ভীতি ছড়ান মুস্তাফিজ। ভয়ের সেই মেঘ আর কাটেনি আফগানদের।

অবশ্য আফগান ব্যাটসম্যানদের শাসনে বাংলাদেশ শিবিরে যখন নাভিশ্বাস চরমে তখন দায়িত্বটা নিজেই তুলে নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক আসগর আফগানের উইকেট নিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন। তাতেই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৭১ রান করা হাসমতউল্লাহকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন ম্যাশ। ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশের বোলাদের শাসনে ২৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটফুটেই ছিলো আগফানিস্তান।

এরআগে, দলের ১৮ রানে দুই ওপেনারকে হারানো এবং আফগান বোলিংয়ে লন্ডভন্ড হয়ে বাংলাদেশের মিডলঅর্ডার। মাত্র ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন দিশেহারা বাংলাদেশ দল। প্রতিষ্ঠিত দুই ব্যাটসম্যান সাকিব-মুশফিকের আত্মাহুতিতে আবারও স্বল্পরানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা টাইগার শিবিরে।

বিপর্যয় সামলে, ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদুল্লাহ আর ইমরুল কায়েসের তুমুল প্রতিরোধ। তাদের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে আলোর পথ খুঁজে পায় মাশরাফির দল। ১২৮ রানের রেকর্ড জুটির সঙ্গে নিজেরাও তুলে নেন ফিফটি। ১৯৯৯ সালের আল শাহরিয়ার রোকন ও খালেদ মাসুদ পাইলটের অপরাজিত ১২৩ রানকে পেছনে ফেলে গড়েন নতুন রেকর্ড।

তবে আফগান বোলিংয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়ার পর ৪৭তম ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। তার আগে ৮১ বলে, তিন চার আর দুই ছক্কায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন তিনি।

অবশ্য ইমরুল ক্রিজে থাকায় তখনও লড়াই করার পুঁজি সংগ্রহের আশা ছিলো বাংলাদশের। তাতে, ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশের স্কোর ২৪৯। আর ইমরুল ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত এই রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমান করেন টাইগার বোলাররা। তাতে কাগজে-কলমে ফাইনাল খেলার আশাটাও বেঁচে রইলো লাল-সবুজের দলের।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ

শক্তিশালী ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের বাছাই পর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বাংলার কিশোরীরা। আজ রবিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মহিদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে, প্রতিপক্ষকে কোন পাত্তাই দেননি মারিয়া, আঁখি, তহুরারা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপাত্য ধরে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বাংলার কিশোরীদের। প্রতিপক্ষের জালে ২৭ বার বল পাঠানোর বিপরীতে একটি গোলও হজম করতে হয়নি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। অন্যদিকে, ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ ভিয়েতনাম। আগামী বছর ২৩ ফেব্রুয়ারী থেকে থাইল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় রাউন্ড খেলতে যাবে বাংলাদেশ।

বল মাঠে গড়ানোর পর থেকেই ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক খেলতে শুরু করে টিম বাংলাদেশ। ম্যাচের ৫ মিনিটেই লিড নেয়ার সুযোগও এসেছিল। কিন্তু রিতুর আড়াআড়ি শটটি সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে সে যাত্রা বেচে যায় ভিয়েতনাম। একের পর এক আক্রমন করে ভিয়েতনামকে কোনঠাঁসা করে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু গোলের দেখা পাওয়া হচ্ছিল না। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে অবশ্য প্রতিপক্ষ দলটির শক্ত প্রাচীরে চিড় ধরিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়রের দেয়া সেই গোলটি অফ সাইড কল করে বাতিল করে দেন অস্ট্রেলিয়ান রেফারি ক্যাথরিন।

খানিক সময়ের জন্য হতাশার কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল লাল-সবুজ শিবির। সেই মেঘ দূর করতে বেশী সময় নেননি মারিয়া-আঁখিরা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সবাইকে উৎসবে মাতিয়ে তোলেন তহুরা খাতুন। ভিয়েতনামের গোলরক্ষক থি ওয়ান তহুরা নেওয়া শটটি গ্রীপে নিতে ব্যর্থ হলে সামনে দাঁড়ানো শামসুন্নাহার জুনিয়র সামনের দিকে ঠেলে দেন বল। দৌড়ে এসে তহুরা খাতুন নিঁচু হেডে বল জালে জড়ান। উৎসবে মেতে উঠে মাঠে ছুঁটে আসা হাজার তিনেক সমর্থক (১-০)।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমনের সেই ধারা অব্যাহত রাখে রাখে স্বাগতিকরা। তহুরার হাত ধরে গোলও পেয়ে গিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। কিন্তু এবারো অফসাইড কল করে গোল বাতিল করে দেন রেফারি ক্যাথরিন। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন প্রতিবাদও জানান। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। গোল বাতিলের পর যেনো আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে মারিয়া মান্ডার দল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূরমার করে দিয়ে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে স্কোর লাইন ২-০তে নিয়ে যান আঁখি খাতুন। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বল শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নিলে সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে আঁখি শট নিলে প্রথম গোল গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে আবারো জোড়ালো শটে নিশানা ভেদ করেন বাংলাদেশ দলের এ ডিফেন্ডার (২-০)।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আরো একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছিলেন তহুরা খাতুন। এবারো গোলটিও বাতিল হয়ে যায় অফ সাইডের কারনে।

একে একে তিনটি গোল অফ সাইড কল করে বাতিল করায় হতাশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘একটি গোলও অফ সাইড ছিল না। আর এগুলো নিয়ে কোন অভিযোগ দিলে কাজ হয় না। গত সাত-আট বছরে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। অভিযোগ দিলে এএফসি বলে রেফারিরা সঠিক সিদ্ধান্তই নেন। তাই এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ দিতে চাই না।’

শিষ্যদের পারফর্ম্যান্সে সন্তুষ্ঠ কোচ বলেন, ‘মেয়েরা অনেক কষ্ট করেছে। শুরু থেকেই আজ এটাকিং ছিল। ভিয়েতনামকে এক মুহুর্তের জন্যও সুযোগ দেয়নি আমার দল। আমি দলের পারফর্ম্যান্সে খুব খুশী।’

দু’টি গোল বাতিল করলেও হতাশ নন স্কোরার তহুরা খাতুন, ‘আমার গোল বাতিল করেছে তাতে মোটেও খারাপ লাগছে না। কারন দল জিতেছে।’ দলের আরেক গোলদাতা আঁখি খাতুন বলেন, ‘দলের এমন জয়ে আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। খুব ভালো লাগছে গোল করতে পারায়।’

আচরণবিধি ভাঙায় শাস্তি

এশিয়া কাপে আচরণবিধি ভেঙে শাস্তির মুখে একাধিক ক্রিকেটার৷ সুপার ফোর পর্বে পাকিস্তান ‌ও আফগানিস্তানের থ্রিলার ম্যাচে আইসিসি’র লেভেল ওয়ান নিয়ম ভেঙ্গেছেন পাক পেসার হাসান আলী, আফগান স্পিনার রশিদ খান ও আসগার আফগান৷ তিন ক্রিকেটারেরই ম্যাচ ফি’র ১৫ শতাংশ করে কেটে নেওয়া হয়েছে৷ শুধু তাই নয় তিন ক্রিকেটারের ডিমেরিট পয়েন্টও কাটা হয়েছে৷

হাসান ও আসগার আইসিসি’র ২.১.১ লেভেল নিয়ম ভেঙেছেন৷ অন্যদিকে রশিদের বিরুদ্ধে ২.১.৭ লেভেলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগ৷ আফগানিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের ৩৩ তম ওভারে বোলিং করছিলেন হাসান আলী৷ নিজের বোলিং ওভারেই বল রিসিভ করে আফগান ব্যাটসম্যান হাসমাতুল্লাহ সাহিদি’র দিকে ছুঁড়ে মারেন হাসান৷ এই আচরণেই পোনাল্টি দিতে হচ্ছে তাঁকে৷ পাল্টা পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের সময় হাসান আলীকে আউট করে ‘সেন্ড অফ’ জানান রশিদ৷ তারকা স্পিনারের এই ক্রিকেট আচরণের জন্য শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফি-র ১৫ শতাংশ ও ডিমেরিট পয়েন্ট কাটা হচ্ছে৷

অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের ৩৭ তম ওভারে ব্যাটসম্যান হাসান আলীর রান নেওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা দেন আসগার৷ সেকারণে তাঁকেও দোষী সাবস্ত করা হচ্ছে৷

সুপার ফোর পর্বের আফগান-পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শেষ ওভারে জয় পায় পাকিস্তান৷ ২৫৮ রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১০ রান৷ আফতাব আলমের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা ও তৃতীয় বলে চার মেরে ম্যাচ জিতে নেন শোয়েব মালিক৷ এই ম্যাচকেই চলতি এশিয়া কাপের সেরা ম্যাচ মনে করছে ক্রিকেটবোদ্ধারা৷

ভিয়েতনামের সঙ্গে জয়ই চায় বাংলাদেশ

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের বাছাই পর্বের ‘এফ’ গ্রুপের লড়াইয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে সবার উপরে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২৫ বার বল পাঠিয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। সমান পয়েন্ট নিয়ে একই স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম‌ও। কাকতালীয়ভাবে দু’দলের গোল ব্যবধানও সমান। তাই শেষ ম্যাচটি (বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম) এখন ‘অঘোষিত ফাইনালে’ পরিনত হয়েছে। আগামীকাল কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বিকেলে সাড়ে তিনটায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। একই দিন সকাল সাড়ে ১১ টায় বাহরাইন লড়বে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে।

এবারের আসরের শুরুতেই গ্রুপের একমাত্র শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে ভিয়েতনামকেই মেনে নিয়েছিল স্বাগতিকরা। মাঠের লড়াইয়ে সেটাই প্রতিফলিত। বাংলাদেশ, আরব আমিরাতকে সাত গোল দিলে ভিয়েতনামও অন্য প্রতিপক্ষ লেবাননকে সাত গোল দিচ্ছে। এভাবে এখন দুই দলের গোল ব্যবধান ও পয়েন্ট সমান হয়ে গেছে। শুক্রবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিকরা যদি আরব আমিরাতকে আট গোল দিতে পারতো, তাহলে কিছুটা নির্ভার হয়ে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারতো। কারণ গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে এক পয়েন্ট হলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী বছর থাইল্যান্ডে নাম লেখানোটা নিশ্চিত হয়ে যেতো। কিন্তু মূল পর্বে খেলতে হলে জয়ের বিকল্প কোন পথ নেই মারিয়া-আঁখিদের।

এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে মাঠে নামার আগে কোন প্রকার চাপ নিতে নারাজ কোচ ছোটন। শিষ্যদের নির্ভার থেকে মাঠে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার পরামর্শ দিয়েছেন, ‘ভিয়েতনাম প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশ শক্তিশালী। তারা গত তিনটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমান দিয়েছে। আগামীকাল আমাদের সামনে জয়ের কোন বিকল্প নেই। টপ টু রানার্সআপ হিসেবে মূল পর্বে খেলার যে সুযোগটা আছে আমরা সেদিকে তাকাচ্ছি না। মেয়েদেরকে নির্ভার থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার পরামর্শ দিয়েছি। সুযোগ আসলে সেটা কাজে লাগাবে তারা। আশাকরি আমরা ভালো একটা রেজাল্ট দিতে পারবো।’

হকি বিশ্বকাপে এআর রহমান

আসছে হকি বিশ্বকাপের টাইটেল সং ‘জয় হিন্দ, জয় ইন্ডিয়া’৷ প্রখ্যাত গীতিকার ও কবি গুলজারে লেখা বিশ্বকাপের অফিসিয়ালস সং-এ সুর দেবেন কিংবদন্তি সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমান৷ গতকাল শুক্রবার উড়িশ্যা সরকার এমন কথাই জানায়।

চলতি বছর ২৮ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর, ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে বসছে ১৪তম পুরুষ হকি বিশ্বকাপের আসর৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিখ্যাত সুরকার এআর রহমান৷ দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন গুলজার ও রহমান৷ এছাড়াও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন গুলজার৷ কিংবদন্তি এই গীতিকার ও সুরকারের অংশগ্রহণে উচ্ছ্বসিত উড়িশ্যা সরকার৷

উড়িশ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক টুইটারে জানান, ‘আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, দেশের গর্ব এআর রহমান হকি বিশ্বকাপের টাইটেল সং গাইবেন কিংবদন্তি গীতিকার গুলজারের কথায়৷ এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন রহমান৷’ এটাই হবে উড়িশ্যায় এআর রহমানের প্রথম কোনও লাইভ পারফরম্যান্স৷

ভিডিও সং-এ রহমানকে সঙ্গ দেবেন ভারতীয় দলের হকি খেলোয়াড়রা৷ ২৮ নভেম্বর থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হলেও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে তার আগের দিন অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর ভুবনেশ্বরে৷

ইমরুল সৌম্যের এশিয়া কাপ দর্শন

এশিয়া কাপের দলের সঙ্গে যোগ দিতে আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য সরকার এবং ইমরুল কায়েস। তাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারটি বিসিবি নিশ্চিত করেছে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিপর্যস্ত ব্যাটিংয়ের পর শুক্রবার সুপার ফোরের ম্যাচেও ভারতের বিপক্ষে করুণদশা। লিটন দাস ও অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন। দলের শক্তি বাড়াতে তাই সৌম্য ও ইমরুলকে দুবাই পাঠাচ্ছে বিসিবি।

বিসিবি আয়োজিত লাল ও সবুজ দলের চার দিনের ম্যাচ খেলতে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং ইমরুল কায়েস খুলনায় ছিলেন। শুক্রবার ছিল ম্যাচের তৃতীয় দিন। তৃতীয় দিনে সৌম্য ৪৮ এবং প্রথম দিনে ইমরুল ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের উড়ন্ত জয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায় ওপেনার তামিম ইকবালের। পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৬ রানে হারের ম্যাচে ১১৯ রানে গুটিয়ে যায়। আর সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে অলআউট হয় ১৭৩ রানে।

ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হার বাংলাদেশের

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শুরুতেই বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারালো ভারত। আর এক বছরেরও বেশি সময় পরে একদিনের ক্রিকেটে ফিরে ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাজিমাত করলেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৪৯.১ ওভারে ১৭৩ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মা ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

শুক্রবার এশিয়া কাপে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ইনিংসে শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার ও জাশপ্রিত বুমরা। ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাজমুল হোসেনকে। দুবাইয়ে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

চাপ আরও বাড়ান রবীন্দ্র জাদেজা। কোমরের চোটে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যাওয়া অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার জায়গায় খেলতে নামেন। প্রথম ওভারেই তিনি ফেরান সাকিব আল হাসানকে। ৯.৪ ওভারে ৪২ রানে তিন উইকেট পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তারপর নিয়মিত ব্যবধানে পড়তে থাকে উইকেট। কখনই বাংলাদেশ ইনিংস গতি পায়নি। ১৭৩ রানে থামে মাশরাফিদের ইনিংস।

জবাবে, রোহিত-ধাওয়ান ওপেনিং জুটিতে ৬১ রান যোগ করে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। ১০৪ বলে ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন রোহিত। এর আগে ৪৭ বলে ৪০ রানে শাকিব-আল হাসানের বলে লেগবিফোর হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শিখর ধাওয়ান। এছাড়া ৩৭ বলে ৩৩ রান করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারালো বাংলাদেশ

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের মেয়েদের জয়রথ ছুটে চলেছে। শুক্রবার স্বাগতিক দল ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। ৭ গোলের চারটিই আনুচিং মোগিনীর।

টানা তৃতীয় জয়ের সুবাদে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। দিনের প্রথম ম্যাচে লেবাননকে ৭-০ গোলেই হারানো ভিয়েতনামের পয়েন্টও ৯। বিস্ময়করভাবে, বাংলাদেশ আর ভিয়েতনামের গোল গড়ও সমান, +২৫! আগামী রবিবার দুই দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে ‘এফ’ গ্রুপের শ্রেষ্ঠত্ব।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। নিয়মিত অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের জায়গায় নীলুফার ইয়াসমীন নীলা ও রোজিনা আক্তারকে সুযোগ দিয়েছেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন।

ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর জয় নিয়ে ভাবতে হয়নি বাংলাদেশকে। তহুরা খাতুনকে ফাউলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেছেন শামসুন্নাহার সিনিয়র।

২৫ মিনিটে তহুরার জোরালো শট ক্রস বারে বাধা পাওয়ার পর ৯ মিনিটের ঝড়ে আনুচিংয়ের হ্যাটট্রিকের জন্ম। ২৭ মিনিটে এই ম্যাচের অধিনায়ক আঁখি খাতুনের ক্রস থেকে আনুচিংয়ের হেড পোস্টে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। ৩৪ মিনিটে আনাই মোগিনীর ক্রস থেকে আনুচিংয়ের আরেকটি দুর্দান্ত হেডে স্কোরলাইন হয় ৩-০। দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিক গোলটি এক কথায় অনবদ্য। পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে আনুচিংয়ের দর্শনীয় ব্যাক ভলি চলে যায় আমিরাতের জালে।

বিরতির ঠিক আগে আবার গোল। তবে এবার আত্মঘাতি। মনিকা চাকমার কর্নার হেড করে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দিয়েছেন আলিয়া হুমায়েদ।

বিরতির পর দুটির বেশি গোল পায়নি বাংলাদেশ। ৭১ মিনিটে জোরালো শটে নিজের চতুর্থ গোল করেছেন আনুচিং মোগিনী। আর ইনজুরি সময়ে ম্যাচের শেষ গোলটি বদলি খেলোয়াড় ইলামনির।

রিয়ালিটি শো’তে ফেদেরার

ব্যাট তুলে রেখে এবার রিয়ালিটি শো’তে অভিনয় করলেন বিশ্ব টেনিসের রাজা রজার ফেদেরার। ডিসকভারি চ্যানেলের একটি নতুন সিরিজে একসঙ্গে দেখা যাবে বিয়ার গ্রিলস ও রজার ফেদেরারকে। সিরিজের নাম- রানিং ওয়াইল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস। এটি মূলত রিয়ালিটি শো।

অভিনয় করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ফেদেরার বলেন, ‘টেনিস কোর্টে আমাকে অনেকে কঠিন প্লেয়ার হিসেবে দেখেছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই পাহাড় আর ভয়ঙ্কর জঙ্গলের মাঝে আমি প্রচণ্ড ভয়ে রয়েছি।’ আর ফেদেরারের মুখে কথাগুলো শুনে হেসে উঠেছিলেন বিয়ার গ্রিলস। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে এই পাহাড়টাকে দেখলে সুন্দরী বলে মনে হবে। কিন্তু এই পাহাড়ের মাটিতে পা রাখলেই বোঝা যাবে, এখানে একটা রাত কাটানো কতটা ভয়ঙ্কর! রজার ফেদেরার, এবার জীবনের সব থেকে কঠিন ম্যাচটার জন্য রেডি হোন।’

এটি মূলত রিয়ালিটি শো। সিরিজের নাম- রানিং ওয়াইল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস। সুইস আল্পসের একটা অংশে একসঙ্গে থাকবেন দুজনে। বলা ভাল, ‘সারভাইভ’ করবেন। সিরিজের শুটিং হয়ে গেছে। সেখানে একটা সময় বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে পাহাড়ে চলতে চলতে বরফের নিচে থাকা মরা মাছের চোখ খুবলে খেতে হয়েছে টেনিস সম্রাট ফেদেরারকে। ঠিক যেমন বিয়ার গ্রিলস পাহাড়ে-জঙ্গলে থাকাকালীন করে থাকেন আর কী!

ফেদেরারকে কখনও আবার বরফের মতো ঠাণ্ডা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এত ঝক্কি পোহানোর পর ফেদেরার বলছেন, আমি সব সময় টিভি শো-তে বিয়ারকে এসব আজেবাজে জিনিস খেতে দেখেছি। কিন্তু এগুলো কখনও আমাকেও খেতে হবে, সেটা ভাবিনি। বরং মনে মনে ভাবতাম, জীবনে কোনোদিন খেতে না পেলেও এগুলো খাব না।

জায়ান্টদের জয়ের দিনে রোনালদোর লাল কার্ড

লাল কার্ড দেখে ইউভেন্টাসের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শুরু করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার লাল কার্ডের ম্যাচে দশ জন নিয়েও ভ্যালেন্সিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে জুেভন্টাস। অন্যম্যাচে, গেলোবারের সেমিফাইনালিস্ট রোমাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। এদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বড় জয় পেলেও অলিম্পিক লিঁওর কাছে হেরে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

নতুন ক্লাবে যোগ দেয়ার পর প্রথমবার স্পেনে এলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের মিশনে জুভেন্টাসের জার্সিতে এই টুর্নামেন্টে অভিষেক তার। আলো ছড়ানোর ইঙ্গিতও দেন শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি আক্রমণের জন্ম দিয়ে।

কিন্তু বিধি বাম। ম্যাচের বয়স আধঘন্টা না পেরোতেই ভ্যালেন্সিয়া ডিফেন্ডারের সাথে অশোভন আচরণের অজুহাতে লাল কার্ড দেখান জার্মান রেফারি ফেলিক্স ব্রিচ। টিভি রিপ্লেতে অবশ্য অত বড় অপরাধ দেখা যায়নি পাঁচবারের ব্যালন ডি অর জয়ীর। রিয়াল ছাড়ার পর প্রথমবার স্পেনের মাটিতে খেলতে এসে এমন অপমানে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা।

দশ জন নিয়েও একের পর এক আক্রমণ করে গেছে জুভেন্টাস। তাদের আক্রমণবৃষ্টি রুখতে গিয়ে বিরতির আগে-পরে দু’বার পেনাল্টি দিয়ে বসে ভ্যালেন্সিয়া। মিরালেম জ্যানিক দু’বারই সফল হওয়ায় জয় পেতে কোনো সমস্যাই হয়নি ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালিগ্রির দলের।

এদিকে, নয় বছর পর রোনালদোকে ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশনের শুরুটা দুর্দান্ত হলো ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আগের আসরের সেমিফাইনালিস্ট রোমার বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। তাদের মুহুর্মুহু আক্রমণে নাজেহাল হয়ে পড়ে রোমার রক্ষণভাগ। দশ মিনিটের মধ্যেই দু’বার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় লা ব্লাঙ্কোরা। তবে বিরতির আগেই ইসকোর গোলে লিড নেয় রিয়াল।

গোটা ম্যাচে অন্তত ত্রিশবার আক্রমণ করেছে লোপেতেগির দল। কিন্তু ইতালিয়ান ক্লাবটির রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষক রবিন ওলসেনের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় তারা। তবে ৫৮ মিনিটে গ্যারেথ বেলের দারুণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার পর ইনজুরি সময়ে ম্যারিয়ানোর গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

অন্যদিকে, দুই ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর সিটি দেখেছে দু’রকম রাত। পল পগবার জোড়া গোলে প্রতিপক্ষের মাঠে যেখানে তিন গোলের জয় পেয়েছে ম্যান ইউ; সেখানে ঘরের মাঠে অলিম্পিক লিঁওর কাছে হেরে গেছে পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি।

ভারতের কাছে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ

এই ম্যাচের ফল এশিয়া কাপে কোন প্রভাব ফেলবে না। হংকংকে হারিয়ে আগেই সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে দুই দলই। কিন্তু ম্যাচটা যখন ভারত আর পাকিস্তানের তখন অনেক কিছুই এসে যায়। মর্যাদার ম্যাচে কে-ই বা হারতে চায়! দুবাইয়ে ক্রিকেটের সেই ‘ক্ল্যাসিকো’ দাপটের সঙ্গেই জিতে নেয় ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।

টস হিতে ব্যাট করে ৪৩.১ ওভারে মাত্র ১৬২ রানেই গুটিয়ে পাকিস্তান। জবাবে মাত্র ২৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। দ্রুত দুই উইকেট তুলে শুরুতেই পাকিস্তানকে চাপে ফোলে দেন ভুবনেশ্বর কুমার। বাবর আজম ও শোয়েব মালিকের জুটিতে মাঝে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার আভাস এসেছিল। কিন্তু এই জুটি বিচ্ছিন্ন হতেই ধ্বসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন বাবর। শোয়েব মালিক করেন ৪৩ রান।

জবাবে ২৯ ওভারেই জয় পায় রোহিত শর্মার দল। যাতে বড় অবদান অধিনায়কেরই। আরেক ওপেনার ধাওয়ানকে নিয়ে ৮৬ রানের জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয়। হংকং ম্যাচে ম্লান রোহিত (৫২) ফিফটি পেলেও সেদিনের সেঞ্চুরিয়ান ধাওয়ান (৪৬) বঞ্চিত হয়েছেন মাত্র ৪ রানের জন্য। বাকি পথটা রাইডুকে নিয়ে পেরিয়ে যান দীনেশ কার্তিক। দুজনেই অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে।

শারাপোভার ইনজুরি

চলতি বছর আর কোর্টে নামা হচ্ছে না মারিয়া শারাপোভার। ২০১৮ সালের শেষের দিকে তিনটি টুর্নামেন্টে খেলার কথা থাকলেও সেগুলোতে এই রাশিয়ান তারকা অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এতে নতুন বছরের আগে আর কোন টুর্নামেন্টে খেলতে দেখা যাবে না পাঁচবারের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের মালিক শারাপোভাকে।

বিশ্ব টেনিসের সাবেক এক নম্বর খেলোয়াড় শারাপোভা সর্বশেষ ইউএস ওপেনের কোর্টে নেমেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। মৌসুমের শেষ মেজর টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় তাকে। তবে ভক্ত-অনুরাগীদের প্রত্যাশা ছিল আর তিনটি টুর্নামেন্টে খেলবেন তিনি। কিন্তু সোমবার চীনা ওপেন, তিয়ানজিন ওপেন এবং ক্রেমলিন কাপ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন শারাপোভা। মূলত ইনজুরি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার জন্যই বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নেন সাবেক এই নাম্বার ওয়ান।

শারাপোভা বলেন, ‘ডান কাঁধের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়নি আমি। যে কারণেই বেজিং, তিয়ানজিন এবং মস্কোর টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছি। এই টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা আমি সত্যিই মিস করব। কিন্তু ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য নিজেকে বিশ্রাম দেয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

বর্তমান বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ২৪ নম্বরের খেলোয়াড় শারাপোভা। তিয়ানজিন ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তিনি। কিন্তু চোটের কারণে এবার আর শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে পারছেন না সাবেক এই নাম্বার ওয়ান। তাতে চরম হতাশ শারাপোভা। এ বিষয়ে মাশা বলেন, ‘শিরোপা ধরে রাখার জন্য তিয়ানজিন ওপেনে ফিরতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে সেখানে অংশ না নিয়ে নিজেকে বিশ্রামে রাখতে হচ্ছে। তাতে আমি চরম হতাশ যে এবার আমার ভক্ত-অনুরাগীদের সামনে খেলতে পারছি না। তবে আশাকরি ভবিষ্যতে আবার এখানে ফিরব। তবে পঞ্চম বার্ষিকীতে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের জন্যই শুভকামনা রইলো আমার।’

মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ আজ আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের সঙ্গে জিতলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ! এরপর শিরোপার দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এশিয়া কাপের আয়োজক এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল-এসিসির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এখন তা হচ্ছে না। কারণ তারা গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই ঘোষণা করেছে সূচি। যে কারণে আজ ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি আফগানদের বিপক্ষে শুধুই নিয়ম রক্ষার। জিতলে বা হারলে এখন আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ নেই কারো।

এভাবে ম্যাচের গুরুত্ব হারানো নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিতর্ক থাকলেও মাশরাফির একটাই লক্ষ্য, জয়। আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আসলে ম্যাচ নিয়ে আমরা এভাবে চিন্তা করছি না। প্রত্যকটিই আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সুতরাং আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটিরও গুরুত্ব রয়েছে।’

গ্রুপ পর্বে এখন চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোনো লাভ নেই টাইগারদের। তাই এ ম্যাচে দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে বলেই রয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে পাঁজরের ইনজুরি নিয়ে সেঞ্চুরি হাঁকানো মুশফিকুর রহীমকে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে বিশ্রাম পেতে পারেন সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। যেহেতু দ্বিতীয় রাউন্ডে ২১শে সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষেই লড়াই তাই মুশফিক ও সাকিবের ফিট থাকা ভীষণ জরুরি।

তামিম না থাকায় ওপেনিংয়ে শান্তর খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। মুশফিক না খেললে সেখানে খেলানো হতে পারে মুমিনুল হক সৌরভকে। এছাড়াও মোসাদ্দেকের পরির্তে আরিফুলকে মাঠে দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে সাকির বিশ্রামে থাকলে নাজমুল ইসলাম অপু আসতে পারেন একাদশে। পেস আক্রমণে বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়তো আসবে না। মাশরাফির সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনই থাকবেন।

সানিয়া মির্জার গুটিয়ে যা‌ওয়া

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কয়েক দিনের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিলেন ভারতীয় টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জা। কারণ অনেক সময় মাঠের উত্তাপ বাইরে‌ও বেশ আলোচনা ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ার কথকথা। ক্রীড়া অনুরাগীদের সেইসব উত্তপ কথা মাথা ঠান্ডা রেখে সামাল দিতে হয় ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের। এই সবের কেন্দ্রে আছেন ভারতের টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মধ্যেই নেটিজেনদের টার্গেটই তিনি। যেকোন ইস্যুতে তাঁকে ট্রোলড করতে পিছপা হন না ফলোয়াররা।

উন্মাদনার পারদ চড়িয়েছে আজ দুবাইয়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচের উত্তাপ যে এসে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। তাই খেলার ফল যাই হোক না কেন, পাকিস্তানের বউ হওয়ায় সানিয়া মির্জাকে নেটিজেনরা ট্রোল বা সমালোচনায় বিদ্ধ করবেনই। ব্যাপারটা বেশ ভালোই জানা, টেনিস সুন্দরীর। আপাতত মাতৃত্বকালীন ছুটিতে কোর্ট থেকে দূরে আছেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটে ভারত-পাক মহারণ এলেই শোয়েব মালিক জায়া অচিরেই সামিল হয়ে যান সেই যুদ্ধে। তবে এবার নেটিজেনদের সেই সুযোগ দিচ্ছেন না টেনিস সুন্দরী।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে কয়েকদিনের জন্য সরিয়ে নিলেন সানিয়া। অতীতে ভারত-পাক ম্যাচের আগে বা পরে এমন অনেক অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষি থাকতে হয়েছে তাঁকে। তাই এবার অনুরাগী বা সমালোচকদের আর সেই সুযোগটাই দিতে চান না এই হায়দরাবাদী। অনুরাগীদের গেম স্পিরিটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজের টুইটারে তিনি লিখলেন, ‘ম্যাচ শুরু হতে ২৪ ঘন্টার চেয়েও কম সময় বাকি। সোশ্যাল মিডিয়ার বোকা লোকজনদের থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। সমালোচনা বা ট্রোল এইসময় একজন সন্তানসম্ভবাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। তাই এই সময় একা থাকাই ভাল। তবে মনে রাখবেন এটা শুধুমাত্র একটা ক্রিকেট ম্যাচ।’

স্বভাবতই সানিয়ার টুইটার ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। এর আগে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল সানিয়াকে।

দেশে ফিরছে কানাডায় স্বর্ণজয়ী তায়কোয়ানডো দল

কানাডা ওপেনে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো দল গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরেছে। বিমানবন্দরে তায়কোয়ানডো দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

সোমবার কানাডার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে দেশে ফেরার বিমান ধরে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে মঙ্গলবার বিকেলে চীনে পৌঁছায়। চীনে যাত্রাবিরতি শেষ মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো দল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভ্যাঙ্কুভারের রিচমন্ডে অনুষ্ঠিত কানাডা ওপেনে অংশ নিতে কানাডা যায় ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল। ১৪ সেপ্টেম্বর পুরুষ সিনিয়র বিভাগে (অনূর্ধ্ব-৩০) পুমসে দলগত ইভেন্টে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশ। এই ইভেন্টে ৩২টি দেশ অংশ নেয়। তার মধ্যে বাংলাদেশ স্বর্ণ জিতে নেয়। বাংলাদেশ দলের হয়ে এই ইভেন্টে লড়াই করেন ইমতিয়াজ ইবনে আলী, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আশিকুর রহমান হৃদয়।

২০২০ অলিম্পিক গেমসে সামনে রেখে তায়কোয়ানডো কানাডায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তিনটি ক্যাটাগোরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সেগুলো হল কায়োরুগি (জি ১), পুমসে (জি ১) ও প্যারা তায়কোয়ানডো। প্যারা তায়কোয়ানডোতে কালার বেল্ট ও ব্ল্যাক বেল্টরা লড়েছেন। আর কায়োরুগি এবং পুমসে ক্যাটাগোরিতে কেবল ব্ল্যাক বেল্টধারীরা লড়েন।

এবারের এই উন্মুক্ত তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ২০০ জন অ্যাথলেট, কোচ ও ম্যানেজারের অংশ নেন।

লেবাননকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাইপর্বে লেবাননকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে, লেবানিজদের ৮-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে লাল-সবুজের দল। এতে টানা দুই ম্যাচে জয় পেলো বাংলাদেশ।

অবশ্য লেবাননের বিপক্ষে ফেভারিট ছিলো বাংলাদেশের মেয়েরাই। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দারুণ ফুটবল শৈলিতে ৫-০ গোলের লিড নেয়, স্বাগতিক দলের মেয়েরা। তাদের আক্রমণে কোনো পাত্তাই পায়নি লেবানন। নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদান করে, সাজেদা ও তহুরা দুটি করে এবং আনাই মোগিনি প্রথমার্ধে আদায় করে নেন এক গোল। তাতে প্রথমার্ধেই জয়ের সুবাস পায়, গোলাম রব্বানীর শিষ্যরা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করা বাংলাদেশের মেয়েরা দ্বিতীয়ার্ধেও অব্যাহত রাখে তাদের গোল ক্ষুধা। শুরুতেই শামসুন্নাহার জুনিয়র আরো দুই গোল করলে ৭-০ গোলের লিড নেয় বাংলাদেশ। এরপর ৭৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় রোজিনা দলের পক্ষে অষ্টম গোলটি করেন।

এই জয়ে পাঁচজাতির এই প্রতিযোগিতায় পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেলো বাংলাদেশের মেয়েরা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সালাহর কাছে নেইমারদের পরাজয়

জয় অব্যাহত লিভারপুলের। ঘরোয়া লিগে ইতিমধ্যেই পাঁচ ম্যাচের পাঁচটাতেই জয়। সেই ধারাকে ধরে রেখে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও জয় পেয়েছে অলরেডরা। মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে শক্তিশালী পিএসজিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।

ফিরমিনোর যোগ করা সময়ের গোলে জয় পায় লিভারপুল। তবে একসময়ে মনে হচ্ছিল প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট নষ্ট করতে চলেছে তারা। যার কারণ ম্যাচে দু’গোলে পিছিয়ে থেকেও সমতা ফিরিয়েছিল ফরাসি লিগ জয়ীরা। তবে শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি।

ঘরের মাঠে প্রথম থেকেই ঝাঁপায় ক্লপের ছাত্ররা। যার ফল, ছয় মিনিটের ব্যবধানে দু’গোল। ম্যাচের ৩০ মিনিটে অনবদ্য হেডে দলের হয়ে প্রথম গোল ব্রিটিশ স্ট্রাইকার স্টুরিজের। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার গোল। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান বর্ষীয়ান ডেভিড মিলনার।

তবে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ লিভারপুলের হাতে। ঠিক তখনই গোল পিএসজির। বিরতিতে যাওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে ব্যবধান কমান বেলজিয়ামের মুনিয়ের।

দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকে চাপ ছিল লিভারপুলের। তবে এই অর্ধে ডিফেন্সকে অটুট রেখে ট্যাকটিকাল ফুটবল খেলে ফ্রান্সের দলটি। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম গোল পেয়ে গিয়েছিলেন লিভারপুল তারকা সালাহ। কিন্তু গোলকিপারকে ফাউল করায় তা বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের শেষদিকে খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এসে আক্রমণ করতে থাকে নেইমার-এমবাপেরা। যার ফল ৮৩ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান এমবাপে। ম্যাচে লিড নিতেই পারতো তারা। তবে সুযোগ হাতছাড়া করেন বদলি খেলোয়াড় জার্মান ড্রাক্সলার। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে নিজের একক দক্ষতায় লিভারপুলের হয়ে জয়সূচক গোল করে হিরো বনে যান ব্রাজিলিয়ান তারকা ফিরমিনো। বারুদে ঠাসা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করে করে স্বাগতিকরাই।

রাতের অন্য ম্যাচে ডিয়েগো কস্তা ও জোসে জিমিনেজের গোলে ফরাসি ক্লাব মোনাকোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজকে ১-০ গোলে হারিয়েছে জার্মান জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। রাশিয়ান লোকোমোটিভ মস্কোর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতেছে তুরস্কের গ্যালাতসারে। এছাড়া সার্বিয়ার এফ কে সি জেড ও ইতালির নেপলির ম্যাচ গোলশূন্য এবং জার্মান শালকে জিরো ফোর ও পর্তুগালের পোর্তোর ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়।

মেসির হ্যাটট্রিকে বড় জয় বার্সেলোনার

টানা ১২ বছর পর ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের তালিকার শীর্ষ তিনে তিনি নেই। সেটা যে অবাস্তব, অসম্ভব তা বুঝিয়ে দিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করলেন লিওনেল মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আটনম্বর হ্যাটট্রিক করে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। যে নজির অন্য কারও নেই। ম্যাচের শেষে রেফারির কাছ থেকে বলটি চেয়ে একেবারে উচ্ছ্বাসহীনভাবে মাঠ ছাড়েন এলএমটেন।

মঙ্গলবার রাতে বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ডাচ ক্লাব আইন্দোভেনকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে মেসি-সুয়ারেজরা। তবে প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ব্যবধানটা দ্বিগুণ হ‌ওয়া‌ও অসম্ভব ছিলো না। বার্সার এই চার গোলের অন্যটি করেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকার উসমান ডেম্বেলে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মেসির প্রথম গোল আসে ফ্রি-কিক থেকে। গত পাঁচ বছরের কাতালানদের হয়ে ফ্রি-কিক থেকে ২৫টি গোল করেন মেসি। ইউরোপের পাঁচ লিগে সবচেয়ে বেশি।

খেলার শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সঙ্গে লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি। পরের ম্যাচে এই ফরাসি তারকাকে পাচ্ছে না বার্সা।

বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি আইন্দোহোভেন। মেসি ৩১ মিনিটে প্রথম গোল করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধ্বের ৭৪ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন ডেম্বেলে। ৭৭ ও ৮৭ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।

নতুন মৌসুমে অধিনায়ক হয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘এবার আমাদের প্রধান লক্ষ্য একটাই। ইউরোপ সেরা হওয়া।’ আর্জেন্টাইন মহাতারকার সৌজন্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উড়ন্ত অভিযান শুরু করলো বার্সা। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ব্যর্থতার পরে ক্লাব ফুটবলে ফিরেই মেসি দেখালেন তিনিই সেরা। একটি অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক থেকে গোল এবং অসাধারণ দু’টি প্লেসিংয়ে নিজের হ্যাটট্রিক। ক্যাম্প ন্যু’তে মেসির সিংহাসন অটুটই থাকলো।

বার্সার রাতে টটেনহামের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতেছে ইন্টার মিলান। ৫৩ মিনিটে এরিকসেনের গোলে এগিয়ে যায় টটেনহাম। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত তারা এই লিড ধরে রেখেছিল। কিন্তু ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মাউরো ইকার্দির গোলে সমতা ফেরায় ইন্টার। আর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয় এনে ভেসিনো।

জয়ে শুরু ম্যারাডোনার

জয় দিয়েই নতুন করে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করলেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। ভিনিসিও অ্যাঙ্গুলোর হ্যাটট্রিকে পথ চলা মসৃণ হল দিয়েগো মারাডোনার৷ জয় দিয়ে মেক্সিকোয় কোচিং কেরিয়ার শুরু করলেন ম্যারাডোনা। গত সোমবার মারাযোনার কোচিংয়ে ডোরাডস ৪-১ গোলে হারায় টাপাচুলাকে৷

ইকুয়েডরের স্ট্রাইকার অ্যাঙ্গুলোর দুরন্ত পারফরম্যান্স সহজ জয় ছিনিয়ে নেয় ডোরাডস। ম্যাচের ৫৯ ও ৬১ মিনিটে জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তার পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় সেবাস্তিয়ান ইব্রার গোলে ব্যবধান কমায় টাপাচুলা। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করেন অ্যাঙ্গুলো। ম্যাচের চতুর্থ তথা শেষ গোলটি আসে অলন্সো এস্কোবোজার পা থেকে। ৮৫ মিনিটে দুরন্ত গোল করে ৪-১ ম্যাচ জিতে নেয় ডোরাডস।

দীর্ঘদিন পর কোচিংয়ে ফিরে দারুণ মুহূর্ত কাটালেন মারাডোনা এপ্রিলে গালফ লিগের ক্লাব আল-ফুজাইরার দায়িত্ব ছাড়ার পর চলতি মাসে মেক্সিকোর ক্লাবে যোগ দেন দিয়েগো। ডোরাডস ক্লাবে কোচিং করাতে কুলিয়াক্যানে পা-রাখেন প্রাক্তন বোকা জুনিয়রস ও নাপোলির স্ট্রাইকার। মেক্সিকোর প্রথম ডিভিশন ক্লাবে জয় দিয়ে কোচিং শুরু করলেন প্রাক্তন আর্জেন্টাইন তারকার।

মেসির হ্যাটট্রিকে বড় জয় বার্সেলোনার

লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে তারা ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ডাচ দল পিএসভি আইন্দোভেনকে।

খেলার ৩১, ৭৭ ও ৮৭ মিনিটে গোল তিনটি করেন মেসি। কাতালানদের হয়ে অন্য গোলটি করেন ওসমান দেম্বেলে।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জন্য ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের এবারের আসরকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। প্রথামিক দল থেকে বাদ পড়েছেন নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মারাত্মক ভুল করা গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল।

অক্টোবরে ‍শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পঞ্চম আসর। ১ থেকে ১২ অক্টোবর সিলেট, কক্সবাজার ও ঢাকায় হবে এবারের আসরের খেলা। যেখানে দুই গ্রুপে ছয়টি দল শিরোপার জন্য লড়াই করবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে নেপাল ফিলিস্তিন ও তাজিকিস্তান। আর ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ লাওস ও ফিলিপাইন।

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক দলে থাকা খেলোয়াড়দের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হবে। ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রুপুর কাছে খেলোয়াড়দের এদিন রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া খেলোয়াড় : আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান, রাসেল মাহমুদ,মাহফুজ হাসান প্রিতম, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, তপু বর্মন, ওয়ালি ফয়সাল, সুশান্ত ত্রিপুরা, রহমত মিয়া, নাসিরউদ্দীন চৌধুরী, ইয়াসিন খান, আরিফুল ইসলাম, মামুনুল ইসলাম, আতিকুর রহমান ফাহাদ, জামাল ভূঁইয়া, মাশুক মিয়া জনি, বিপলু আহমেদ, ইমন মাহমুদ, রবিউল হাসান, জাফর ইকবাল, সাদ উদ্দিন, সোহেল রানা, ফয়সাল মাহমুদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাহবুবুর রহমান সুফিল, শাখওয়াত রনি, নাবীব নেওয়াজ জীবন, তৌহিদুল আলম সবুজ, মতিন মিয়া ও জাবেদ খান।

কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ লেবানন

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১০-০ গোলে হারিয়েছে বাহরাইনকে। আগামীকাল বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লেবাননের মুখোমুখি হবে মারিয়া মান্ডা-শামসুন্নাহাররা। কলমাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আর বিকেল সাড়ে তিনটায় লড়বে ভিয়েতনাম ও বাহরাইন।

লেবানন প্রথম ম্যাচে ৮-০ গোলে হারিয়েছে বাহরাইনকে। আর দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছে ৫-৩ গোলে। এবার স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে তারা। অবশ্য ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা লেবাননের জন্য সহজ হবে না। তার উপর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ বড় জয় পাওয়ায় ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে খেলতে নামবে। এই গ্রুপে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পর তৃতীয় শক্তিশালী দল লেবানন। তাদের বিপক্ষে গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা কত ব্যবধানে জয় পায় দেখার বিষয়।

এই ম্যাচকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও লেবানন উভয় দল কমলাপুরে অনুশীলন করেছে। বাংলাদেশ দলের সবাই সুস্থ্য আছে। কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। লেবাননের পর ২১ সেপ্টেম্বর মারিয়া মান্ডা-শামসুন্নাহারদের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর ২৩ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে ভিয়েতনামের মেয়েদের বিপক্ষে।

১৫ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমলাপুরে হবে এই প্রতিযোগিতা। লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল সুযোগ পাবে পরবর্তী বাছাইপর্ব খেলার। এবারের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া ছয় গ্রুপের শীর্ষ ছয় দল ও সেরা দুই রানার্স-আপ দল নিয়ে হবে আরেক বাছাই। সেখান আটটি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই গ্রুপ থেকে সেরা চারটি দল সুযোগ পাবে চূড়ান্তপর্বে খেলার। আগেই চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করে রেখেছে আয়োজক থাইল্যান্ড, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, রানার্স-আপ দক্ষিণ কোরিয়া ও তৃতীয় হওয়া জাপান।

মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

এশিয়ান ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপে মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার কলম্বোতে, ৩-১ সেটে জয় পায় বাংলাদেশ। আগামীকাল বুধবার দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং।

এই জয়ে, ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল এসোসিয়েশন-ফিভার কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিলো লাল-সবুজের দল। আগের ম্যাচে আরব আমিরাতকে হারিয়ে দারুণ ছন্দ নিয়ে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে হরষিতের দল। গ্রুপের আরেক ম্যাচে আরব আমিরাত ইরাককে হারালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ তৈরী হয় লাল-সবুজ দলের।

প্রথম দুই সেটে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। ২৫-২২, ২৫-২৩ পয়েন্টে দুই সেটে জয় নিয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় সেটে ২৩-২৫ পয়েন্টে হেরে যায় হরষিতরা। চতুর্থ সেটে দাপুটে জয় দিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ব্যবধান ছিল ২৫-১৯।

এই গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক। বুধবারের ম্যাচে হংকংকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ।

বাবার গোলের সাক্ষী মাতেও-ইভা

তিন ম্যাচে গোল নেই! এমন পরিস্থিতিতে বাবাকে সমর্থন না করে পারা যায়৷ তাই মাঠে হাজির রোনালদোর ক্ষুদে দুই সমর্থক। গায়ে জুভেন্টাসের জার্সি। পায়ে জুভেন্টাস লেখা মোজা। রোনালদোর বান্ধবী জর্জিনার কোলে ওরা কারা? প্রথমে দেখে অনেক ভক্তই বুঝে উঠতে পারেনি। পরে বোঝা গেল রোনালদোর সমর্থনে মাঠে এসেছে তার ১৫ মাসের যমজ দুই সন্তান মাতেও ও ইভা মারিয়া। কখনও মায়ের কোলে চেপে বাবার ম্যাচ দেখা, কখনও বা বাকেট সিটের উপর লাফালাফি করতে করতেই ম্যাচ উপভোগ। দুই সন্তান মাঠে আসার দিন সমর্থকদের নিরাশ করলেন না রোনালদো।

মাঠে লেডি লাক, সঙ্গে জুনিয়র রোনালদোকে নিয়ে সব মিলিয়ে গ্যালারিতে তিন সন্তান। এমন মঞ্চে গোল না দিলে চলে। দ্বিতীয়ার্ধে সাসুওলোর বিরুদ্ধে ৫০ মিনিটে কোনও রকমে প্রথম গোল আর দ্বিতীয়টা কোণাকুণি শটে জালে জড়াতেই ট্রেডমার্ক সেলিব্রেশন করে মাঠ মাতিয়ে দিলেন। ৩ ম্যাচ শেষ গোল খরা তো কাটলই সঙ্গে বোনাস আরও একটি গোল।

বাংলাদেশকে নিয়ে সেমিতে আফগানিস্তান

১৪তম এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হলো শ্রীলঙ্কাকে। বাংলাদেশের কাছে হেরে এশিয়া কাপের যাত্রা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। সুপার ফোরের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে আজ জিততেই হতো শ্রীলঙ্কাকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৯১ রানে পরাজিত হয় চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। তাতে টানা দুই পরাজয়ে এবারের এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হলো শ্রীলঙ্কাকে।

শ্রীলঙ্কা বিদায়ে লাভ হয়েছে ভারতের। এশিয়া কাপ শিরোপা এখন পর্যন্ত পাঁচবার করে ভাগাভাগি করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা বাদ পড়ায় ভারতের সম্ভাবনা থাকবে আর‌ও একটি কাপ জিতে এগিয়ে যাওয়ার।

শক্তির বিচারে আবুধাবির এই লড়াইয়ে আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়েই ছিলো শ্রীলঙ্কা। কিন্তু মাঠের খেলায় সব ‌ওলট-পালট হয়ে যায়। প্রথমে ব্যাট করে ২৪৯ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ২৫০ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।

অবশ্য শ্রীলঙ্কার এই পরাজয়ে আপাতত লাভ হয়েছে বাংলাদেশের। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর গ্রুপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন হয়ে উঠেছে নিয়ম রক্ষার। কারণ শ্রীলঙ্কার পরাজয়ে, বাংলাদেশকে নিয়েই যে শেষ চারে পৌঁছে যায় আফগানরা।

বড় জয়ে শুরু স্বাগতিক বাংলাদেশের

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনকে উড়িয়ে দিয়ে এএফসি অনূর্ধ-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপো ১০-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছ স্বাগতিক বাংলাদেশ।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বাহরাইনের জালে আজ রীতিমত গোলউৎসবে মেতে ওঠে মারিয়া মান্ডা-আঁখি খাতুনরা। ম্যাচের শুরু থেকেই বাহরাইনের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। তাতে এই বিশাল জয়।

বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে গোল করেন আনুচিং মোগিনি, শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, ১টি করে গোল করেন আনাই মোগিনি, সাজেদা, শামসুন্নাহার সিনিয়র এবং তহুরা।

ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল পায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আনাই মোগিনির বাঁকানো শট চলে যায় বাহরাইনের জালে।

১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশের কিশোরীরা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে মারিয়া মান্ডার চোখ ধাঁধানো শট জড়িয়ে যায় বাহরা জালে। ১৯ মিনিটে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। বক্সের মধ্যে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ছোট ক্রসে আনুচিং মোগিনি ডান পায়ের আলতো টোকায় বল বাহরাইনের জালে পাঠিয়ে দেন। প্রধমার্ধেই ব্যবধান ৫-০ করে ফেলে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৫বার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির জালে বল জড়ায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ৫৫ মিনিটে ৬-০ ব্যবধান করেন সাজেদা আক্তার। মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের ক্রস খুজে নিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বদলি ফরোয়ার্ড সাজেদা। ঠান্ডা মাথায় বাহরাইনের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এ ফরোয়ার্ড।

দুই মিনিট পর আবারও গোল। এবারও গোলের যোগানদাতা আঁখি। তার জোরালো শর্ট বক্সের মধ্যে পেয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র যে শটটি নিলেন, তা প্রথমে বাহরাইন গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে দারুণ এক শটে জালে জড়িয়ে দেন ছোট শামসুন্নাহার। হয়ে যান ৭-০।

৫৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। ব্যবধান হয়ে যায় ৮-০। এ সময় গোলদাতা শামসুন্নাহারকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেয় বাহরাইনের দানা বাসেম। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু এর প্রতিবাদ করায় তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হয় বাহরাইন। স্পট কিক থেকে গোল করেন শামসুন্নাহার সিনিয়র।

৭২ মিনিটে আবারও দূর পাল্লার শর্টে দুর্দান্ত এক গোল। এবারও দুর পাল্লার শটে গোল করেন মারিয়া মান্দা। বক্সের বাইরে থেকে বাংলাদেশ অধিনায়কের ডান পায়ের শট পোস্টের কোন দিয়ে চলে যায় জালে। ব্যবধান দাঁড়ালো ৯-০ গোলের। ব্যবধান ১০-০ গোলে উন্নীত করেন তহুরা। ৮১ মিনিটে সাজেদা বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর বল চলে যায় তহুরার কাছে। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড।

অবশেষে রোনালদোর গোল

টানা দুই ব্যর্থতার পর, চতুর্থ ম্যাচে এসে গোল পেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। হলো অপেক্ষার অবসান। জুভেন্টাসের জার্সিতে অবশেষে গোল পেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এই মরসুমেই ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ডে জুভেন্টাসে সই করেন রোনালদো। কিন্তু গোল করে সেরি আ-তে অভিষেকের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর। দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল না করে মাঠ ছাড়েন পাঁচটি ব্যালন ডি’ওরের মালিক। রোনালদো গোলের সরণিতে ফিরলেন তৃতীয় ম্যাচে। আর প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখলেন জোড়া গোল করে।

গতকাল রবিবার ঘরের মাঠে সাসউয়োলোর বিরুদ্ধে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে সি আর সেভেন ভক্তদের। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার সাত মিনিটের মধ্যেই অবশ্য স্বপ্নপূরণ হয় তাদের। গোল করে জুভেন্টাসকে এগিয়ে দেন রোনালদো। গোলের পরেই উৎসবের সেই পরিচিত দৃশ্য— লাফিয়ে উঠে দু’হাত কোণাকুনি নামিয়ে। সি আর সেভেন দ্বিতীয় গোল করলেন ১৩ মিনিটের মধ্যে। এমরি কানের পাস থেকে পাওয়া বল বাঁ পায়ের নিখুঁত প্লেসিংয়ে জালে জড়িয়ে দেন।

রবিবার খেলা দেখতে এসেছিলেন জুভেন্টাসের প্রাক্তন তারকা ও কিংবদন্তি আন্দ্রে পিরলো। তিনিও উচ্ছ্বসিত রোনালদো গোলে ফেরায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে সাসউয়োলোর হয়ে ব্যবধান কমান খুমা বাবাকা। এর এক মিনিটের মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জুভেন্টাসের ডগলাস কোস্তা।

আইএসএল থেকে সরে গেলেন শচীন

আইএসএল শুরুর আগে বড় এক ধাক্কা খেলো কেরালা ব্লাস্টার্স। জানা যায়, দলটির মালিকানা বিক্রি করে দিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার। জল্পনা চলছিলই, শেষ পর্যন্ত পঞ্চম আইএসএল শুরুর আগেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেললেন মাস্টার ব্লাস্টার। যদিও শচীন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানান নি।

গত চার বছর ধরে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে শচীন রীতিমতো একাত্ম ছিলেন কেরল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে। হোম এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে গ্যালারি থেকে দলের সমর্থনে গলাও ফাটাতেও দেখা যেত তাঁকে। ২০১৪ সালে আইএসএলের শুরু থেকেই কেরালা ব্লাস্টার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। শিল্পপতি নিম্মাগাড্ডা প্রসাদ, প্রযোজক-অভিনেতা আল্লু অর্জুন, অভিনেতা নাগার্জুন এবং চিরঞ্জিবীর সঙ্গে কেরালা ব্লাস্টার্সের অন্যতম মালিক ছিলেন শচীন। তবে ভারত-তারকার মালিকানা ঠিক কত শতাংশ, তা পরিষ্কার নয়।

শোনা যাচ্ছে, কেরালা ব্লাস্টার্সে শচীনের মালিকানার অংশ কিনে নিতে পারেন এক শিল্পপতি। তবে এ বিষয়ে শচীন বা ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে এখনও কিছু বলা হয়নি। দল একবারও চ্যাম্পিয়ন না হওয়ায় কি হতাশ শচীন? গত চার বছর ধরে তিনিই ছিলেন দলের মুখ। এবার আইএসএল থেকে শচীন সরে গেলে বাকি দলগুলোকেও কিন্তু হতাশা গ্রাস করবে।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের থিম সং প্রকাশ

আগামী মাসের প্রথম দিনেই পর্দা উঠবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এ আসরের সেমি ফাইনালের দু’টি ম্যাচ কক্সবাজারে এবং ফাইনাল ম্যাচটি ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাগতিক বাংলাদেশসহ প্যালেস্টাইন, ফিলিপাইন, লাওস, নেপাল ও তাজিকিস্তান জাতীয় ফুটবল দল অংশগ্রহণ করবে আন্তর্জাতিক এ টুর্নামেন্টে। সূচী চূড়ান্ত না হলেও আজ অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের থিম সং প্রকাশ করা হয়েছে।

সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) ‘থিম সং’ প্রকাশ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাফুফে’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী-এমপি, সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু, হারুনুর রশীদ, বিজন বড়ুয়া, ইকবাল হোসেন, ফজলুর রহমান বাবুল, আরিফ হোসেন (মুন), জাকির হোসেন চৌধুরী ও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টসের সিইও ফাহাদ করিম, ডাইরেক্টর আশফাক আহমেদ ও সিওও মাহবুবুর রশিদ।

আমিরাতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ

এশিয়ান ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩-০ সেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ে আসরে শিরোপার লড়াইয়ে ভালোভাবে টিকে থাকলো লাল-সবুজের দল।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে দিনের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। নিজেদের আগের খেলায় মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে দারুণ ছন্দে ছিল আমিরাত। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই দাপটের সাথে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম সেটে লড়াই করে ২৫-২২ পয়েন্টে নিজেদের করে নেয় হরষিতরা।

দ্বিতীয় সেটে দারুণ ফর্মে ফিরে বাংলাদেশ, এই সেটে ব্যবধান ছিল ২৫-১৬। ম্যাচ বাঁচানোর সেটে মরিয়া ছিল আরব আমিরাত। কিন্তু নারায়ন, আলীদের পারফরম্যান্সের সামনে কিছুই করতে পারেনি আমিরাত। ফলে টানা তিন সেট জিতে নেয় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে শক্ত অবস্থানে আছে হরষিতরা।

গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল সোমবার মঙ্গোলিয়াকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ দল।

পিএসএলের আটটি ম্যাচ এবার পাকিস্তানে

পাকিস্তান সুপার লিগ=পিএসএলের চতুর্থ আসর শুরু হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। চতুর্ত আসরের আটটি ম্যাচ হবে পাকিস্তানে। আর বাকীগুলো হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। লাহোরে শনিবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-পিসিবির সভাপতি এহসান মানির উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসএল গর্ভনিং কাউন্সিল।

আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পিএসএলের চতুর্থ আসর দুবাইয়ে শুরু হ‌ওয়ার কথা রয়েছে। তার মধ্যে শেষ আটটি ম্যাচ হবে পাকিস্তানে। তৃতীয় আসরের মতো ১৭ ফেব্রুয়ারি করাচিতে হবে পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনাল ম্যাচটি।

তামিমের দুরন্ত সাহস

একটা দল জয়ের জন্য যে কতোটা মরিয়া হতে পারে, এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের ‌ওপেনার তামিমকে দেখলেই বুঝা যায়। সেই সঙ্গে বুঝা যায়, দলের প্রতি খেলোয়াড়দের ভালোবাসা এবং অন্তরের এক অদৃশ্য টান। যা দেখা যায়না-দেখানো‌ও যায়না, শুধু অনুভব করা যায়। দলীয় ২২৯ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান আউট হওয়ার পর ক্রিকেটবোদ্ধারা নেমে পড়েছিলেন ইনিংস কাঁটাছেঁড়ার কাজে। বাঁহাতের কব্জিতে মারাত্মক চোট নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট তামিম ইকবাল মাঠ ছেড়েছিলেন ম্যাচের শুরুতেই। ইনিংস চলাকালেই জানা যায়, ম্যাচে তো বটেই, পুরো আসরেই আর খেলা হবে না বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনারের।

অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে একহাতে ব্যাট ধরে ক্রিজের দিকে এগোতে থাকলেন তামিম। বিস্ময়ে ঘোর লাগা চোখে তাকালেন কেউ কেউ। যে তামিম এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে গেছেন, তিনি কী করে নামছেন ব্যাট করতে! কী সাহস তার!

৪৭তম ওভারের শেষ বলটা মোকাবেলা করতে হল তামিমকেই। সুরাঙ্গা লাকমলের নিখাদ ডেলিভারিকে আটকালেন একহাতে ধরা ব্যাটে। তামিমের এই জাদুকরি গুণ আর অদম্য মানসিকতায় যেন আরও সাহস পেলেন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। পরের ১৫ বল একাই খেলে গেলেন তামিমকে রানারের ভূমিকায় রেখে। সেই ১৫ বলে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রান।

প্লাস্টার করা হাতটাকে কোনোমতে গ্লাভসে আটকে তামিমের মাঠে নামা, কিংবা একজন পেসারের ছোঁড়া বল অন্য হাতে ধরা ব্যাট ঠুকে মোকাবেলা করার মানসিকতা মুগ্ধ করেছে সবাইকে।

শনিবার শুরু হওয়া এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ। দলীয় ৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর লাকমলেরই করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে হাতে চোট পান তামিম। যার ফলে তাৎক্ষনিক মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

ব্যথার পরিমাণ বেশি থাকায় চোটের ধরন জানতে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। যে চোটের কারণে তামিমকে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে, সেই চোট নিয়েই অভিন্ন ইনিংসে ব্যাট করতে নামা মুগ্ধ করেছে তামিমের ভক্ত থেকে নিন্দুক- সবাইকে। তামিম আর মুশফিক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ইনিংসের অন্তিম মুহূর্তে ৩২ রান এনে দেন।

তামিমের আগে এমন ‘ঘটনা ঘটিয়েছিলেন’ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে হারের মুখে থাকা দলকে বাঁচাতে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন স্মিথ। তখনও শেষদিনের খেলার বাকি ছিল ৮.২ ওভার। ভাঙা একটি হাত নিয়ে স্মিথ সেদিন দলকে জেতাতে না পারলেও জয় করে নিয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয়। তবে তামিমের এই খেলোয়াড়ি মানসিকতা ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয় জয় তো করলোই, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশী বোলারদের কল্যাণে জয়ই দিয়েই এবারের এশিয়া কাপ মিশন শুরু করলো লাল-সবুজের দল।

তামিম-মুশফিকের লড়াই

ইনিংসের শুরুতে মাত্র ২ রানেই হাতে আঘাত পেয়ে প্রথমে হাসপাতালে পরে সাজঘরে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল। তার এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে পড়ার খবর তখন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। দলীয় ২২৯ রানে নবম উইকেট পতন। এর মানে তামিম মাঠে না নামতে পারলে শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু এক হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে মাঠে নামলেন দেশ সেরা এই ওপেনার। আগের তিন বলে ২ রান করে মাঠে ছেড়েছিলেন। এবার মাঠে নেমে একটি বল খেললেন, তাও এক হাতে। এর আগে দলের ১৩৪ রানে মিঠুন আউট হওয়ার পর প্রায় একাই লড়াই করছিলেন মুশফিকুর রহিম।

তুলে নিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ও এশিয়া কাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তামিমকে পেয়ে যেন দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তিনি। গড়ে তোলেন ৩২ রানের জুটি। যেখানে তামিমের অবদান মাত্র ১ রানের। তাতে দলের স্কোরে জমা হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬১ রানের পুঁজি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫০ বলে ১৪৪ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। মুশফিকের ইনিংসে ১১টি চারের সঙ্গে আছে ৪টি ছক্কা‌ও। যেখানে তিনটি করে চার ও ছয় হাঁকান তামিমের সঙ্গে জুটিতে।

এর আগে এই এশিয়া কাপের আসরেই ২০১৪ তে ফতুল্লায় তার ১১৭ রানের ইনিংসটি ছিল মুশফিকের সর্বোচ্চ। বলতে গেলে মুশফিকের লড়াকু সেঞ্চুরিতে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে পথ হারানো দল পেয়েছে পথের সন্ধান। অথচ মুশফিকের খেলা নিয়ে দুপুর পর্যন্ত ছিল শঙ্কা।

৭.৬ ওভারের সময় প্রথম বাউন্ডারি মারেন মুশফিকুর রহিম। তখন দলের স্কোর বোর্ডে ৮ ওভার শেষে ২০ রান। এর আগে ছোট একটি ঝড় বয়ে গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ শুরু দুঃস্বপ্ন দিয়ে। প্রথম ওভারের লাথিস মালিঙ্গার শেষ দুই বলে আউট লিটন কুমার দাস ও সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। রানের খাতা না খুলেই ফিরেছেন দু’জন। এরপরের ওভারে লাকমলের শেষ বলে তামিম হাতে আঘাত পান। ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তাতে তার মাঠে ফেরা তো হয়নি। এরপর শেষ হয়ে গেছে তার এশিয়া কাপ। তবে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১৩১ রানের জুটিতে আশা দেখিয়ে ছিলেন মুশফিক। কিন্তু ৬৩ রানে মিঠুন আউট হলে বাকি সময়টা একাই লড়েছেন মুশফিক। সেঞ্চুরির জন্য তাকে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে।

দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে বড় জয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মাশরাফিদের বিপক্ষে ২৬২ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১২৪ রানের গুটিয়ে যায় লংকান ইনিংস।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৬২ রান খুব একটা বড় সংগ্রহ নয়। তবে লড়াই চালিয়ে যা‌ওয়ার মতো। কিন্তু দুবাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক পিচে সেটা মোটেই সম্ভব নয়। আজ শনিবার টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচে নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্যটাকেই পাহাড়সম উচ্চতায় নিয়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা।

টাইগারদের নিখুঁত বোলিংয়ে লঙ্কানদের ইনিংস থেমে যায় ৩৫.২ ওভারে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নিয়ে লংকান শিবিরে ধ্বস নামান। একটি করে উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলরুয়ান পেরেরা সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন। উপুল থারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান।

আগে টস জিতে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে সওয়ার হয়ে আড়াইশ পেরোনো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। মুশফিকের ১৪৪, মোহাম্মদ মিঠুনের ৬৩ ও শেষটায় তামিম ইকবালের স্পোর্টসম্যানশিপের অনন্য নজিরের পর বোলাররা হয়ে ওঠেন আগ্রাসী।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচ আর দশটা ম্যাচের মতো নয়। টানা ম্যাচ খেলায় সম্প্রতি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাঘ-সিংহের লড়াইটি। এবার বড় মঞ্চে লঙ্কানদের বিপক্ষে বড় জয় এশিয়া কাপে নিজেদের অন্যতম ফেভারিটের বার্তাই দিয়ে রাখল মাশরাফীবাহিনী।

তামিম ইকবাল শুরুতে আঙুলে চোট পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফেরেন। আবার ২২ গজে নেমে ব্যাটিং করার অবস্থায় ছিলেন না তিনি। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে নেমে যান সেঞ্চুরি করা মুশফিককে সঙ্গ দিতে। আর তাতে শেষ উইকেটে যোগ হয় ৩২ রান।

মরুর বুকে বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো ছিল না। শুরুতেই লিটন দাস ও সাকিব আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা না খুলেই। তামিম ইকবাল আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বিপদ আরও বাড়ে। বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তাতে মেলে লড়াকু সংগ্রহের ভিত।

২২৯ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে তামিম শেষ জুটিতে না নামলে ওখানেই থামতো ইনিংস। ঝুঁকি নিয়ে এ ওপেনার শেষে নামায় যোগ হয় আরও ৩২ রান। তাতেই বাংলাদেশ পায় ২৬১ রানের লড়াকু পুঁজি।

১৪৪ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে মুশফিক দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হন তখন বাকি ইনিংসের ৩ বল। ৪৯.৩ ওভারে থামে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুনের (৬৩) সঙ্গে মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে ১৩২ রানের জুটি, আর শেষটায় মুশফিকের মারমুখী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পায় লড়াকু সংগ্রহ।

সাফের নতুন রাজা মালদ্বীপ

ফাইনালের একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনেই মালদ্বীপের কোচ পিটার সেগার্ট বলেছিলেন, ‘ফাইনালে একটি সেনসেশন অপেক্ষা করছে।’ সত্যিই তার দল সেনসেশনটা দেখিয়ে দিলো। দক্ষিণ এশিয়ার ফটুবল পরাশক্তি হয়ে উঠা ভারতের দর্পচূর্ণ করে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে মালদ্বীপ। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায়, শিরোপার রঙ্গীন মঞ্চে শেষ হাসি হেসেছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে এক দশক পর সাফের শ্রেষ্ঠত্ব পূনরুদ্ধার করলো তারা। প্রথমবার মালদ্বীপ সাফের শিরোপা জয় করেছিল ২০০৮ সালে। সেবার ফাইনালে এই ভারতকেই পরাজিত করেছিল ১-০ গোলে।

সাফের শুরুতে মালদ্বীপের পথচলা মোটেও মসৃন ছিল না। তাদের পারফরমেন্স দেখে হতাশ ছিলেন খোদ সমর্থকরাই। কেউ বিশ্বাসই করেননি মালদ্বীপ সাফের ফাইনাল খেলবে। কারণ গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করেছিল। এরপর ভারতের কাছেই ২-০ গোলে হারের লজ্জা পেতে হয়। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান সমান হওয়ায় টস ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে শেষ চারে নাম লেখায় তারা। এমন দল নিয়ে কে বাজি ধরতে চায়? অথচ সেই দলটিই শিরোপার মহামঞ্চে অতি আত্মবিশ্বাসী ভারতকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ঠিকই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করেছে। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

বল মাঠে গড়ানো প্রথম ১৫ মিনিটে ভারত কোন আক্রমনই রচনা করতে পারেনি। ১৯ মিনিটে প্রথম আক্রমনে এসেই সফল হয় মালদ্বীপ। ভারতের রক্ষণদূর্গ চূর্ণ করে নিশানা ভেদ করেন মাহুদি হাসান। বাঁপ্রান্ত দিয়ে হাসান নিয়াজের বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে ডি বক্সে গিয়ে ভারতীয় গোল রক্ষক বিশাল কাইতের মাথার উপর ঠান্ডা মাথায় টোকা দিয়ে বল জালে জড়ান এ ফরোয়ার্ড (১-০)। তিন মিনিট পর ফের আক্রমনে যায় মালদ্বীপ। তবে এবার সতর্ক ভারতীয় ডিফেন্ডাররা বেশ দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করেছিল। ভারত গোল পরিশোধের জন্য এ সময় বেশ কয়েকটি কর্নার আদায় করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে আর কোন গোলের দেখা পায়নি দ্বীপ দেশটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছিল ভারত। যে কারণে শুরুতেই আক্রমনে যায় তারা। তবে এসব আক্রমনগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন। পরিকল্পনার কোন ছাপ ছিলনা। ফলে গোলও আসেনি। একপর্যায়ে লড়াইয়ে ফেরার মানষে অল আউট খেলতে শুরু করে ভারত। আর ওই সুযোগে প্রতি আক্রমন থেকে ব্যবধান দ্বিগুনে নিয়ে যায় মালদ্বীপ। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মধ্য মাঠ থেকে হামজাদ মোহাম্মেদের বাড়িয়ে দেয়া বল ফাঁকায় পেয়ে ক্ষীপ্র গতিতে সেটি নিয়ে ভারতীয় গোল বক্সে ঢুকে পড়েন আলি ফাসির। আগুয়ান গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আড়াআড়ি ভাবে চলন্ত বলে মাটি কামড়ানো শটে এগিয়ে দেন তিনি (২-০)। দুই গোল হজম করা ভারত ম্যাচ থেকে ছিঁটকে পড়লেও অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল পরিশোধ করেছিল। নিখিলের পাসে বল পেয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়ান সুমিত পাসি (২-১)। শেষ পর্যন্ত হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।

আর জয়োৎসবে মেতে উঠে মালদ্বীপ। উৎসব ছড়িয়েছিল গ্যালারীতেও। এদিন হাজার সাতেক দর্শক উপস্থিত ছিলেন মাঠে। গলা ফাঁটিয়ে সমর্থন করেছেন মালদ্বীপকে।

‌ওসামা মঈন আলী!

ভারতের বিরুদ্ধে সদ্য টেস্ট সিরিজ জিতেছে ইংল্যাান্ড। পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সরিজ ৪-১ ব্যবধানে জেতে ইংলিশরা। মাঠে স্লেজিং সেভাবে চোখে পড়েনি। অভিযোগও করেননি কোনও ক্রিকেটার। কিন্তু ভারত সিরিজের পর এক সাক্ষাতকারে অজিদের অভদ্র অ্যাখ্যা দিলেন ইংরেজ অলরাউন্ডার মঈন আলী।

কিছুদিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে মঈনের আত্মজীবনী। তার আগে দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তাঁর আত্মজীবনী সম্পর্কে বলতে গিয়ে মঈন জানান, অজি ক্রিকেটাররা অত্যন্ত অভদ্র। ওরা অন্যদের সম্মান করতে জানে না। গত বছর ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে অজি সমর্থকরা তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষ মন্তব্য করেছিলেন। এই রকম বাইশ গজে অনেক ঘটনায় আত্মজীবনীতে লিপিবদ্ধ করেছেন এই ইংরেজ ক্রিকেটার।

অজি ক্রিকেটার আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলো, ‘টেক দ্যাট, ওসামা’(ওসামা বিন লাদেন)। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। যদিও মাঠে আমি এতটা রাগ করিনি। কিন্তু আমি এই ধরনের মন্তব্য ভালোভাবে নিইনি।’ এই ঘটনার কথা আত্মজীবনীতে লিখেছেন ৩১ বছরের ইংরেজ অলরাউন্ডার। ক্যাডিফ টেস্টে মঈনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ১৬৯ রানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ব্যাটে ৭৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৫ উইকেট তুলে দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন আলী।

সিরিজের মাঝেই এই ঘটনার কথা সতীর্থ এবং কোচ ট্রেভর বেলিসকে বলেছিলেন মঈন আলী। পরে বিষয়টি বেলিস, অস্ট্রেলিয়ান কোচ ড্যারেন লেহম্যানকে জানিয়েছিলেন। অজি কোচও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারটিকে জিজ্ঞেস করেছিল, এই ধরণের কোনও কথা বলেছে কিনা। কিন্তু ক্রিকেটারটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল। এছাড়াও অজি ক্রিকেটারদের অভদ্রতার আরও উদাহরণ দেন মঈন। বাঁ-হাতি ইংরেজ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘২০১৫ বিশ্বকাপের ঠিক আগে সিডনিতে আমি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবার খেলতে নেমেছিলাম। সেখানও ওরা আমাকে অ্যাবিউজ করেছিল।’

এশিয়া কাপ দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

ইকরামউজ্জমান : লেখক, কলামিস্ট ও ক্রীড়া বিশ্লেষক

ওয়ানডে বাংলাদেশ ভালো খেলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমীহ জানানো দল। নিজেদের দিনে যেকোনো দলকে পরাজয়ের সামর্থ্য রাখে। কিছুদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে। বিজয় সব সময় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, আরো অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করে।

 আজ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৪তম আসর শুরু হবে বাংলাদেশ-   শ্রীলঙ্কার খেলার মধ্য দিয়ে। এশিয়া কাপ এবার ওয়ানডে ‘ফরম্যাটে’। খেলার ধরনটাও   অন্যভাবে সাজানো হয়েছে। দুটি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি দল করে মোট চারটি দল নিয়ে   সুপার-৪ খেলা। এখানে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। রাউন্ড রবিন লিগ। শেষ পর্যন্ত সেরা   দুটি দল খেলবে ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ফাইনাল ম্যাচ।

 ক্রিকেটীয় দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষ   দলগুলোর দলগত শক্তি, মাঠে খেলোয়াড়দের সফল ভূমিকা—   এশিয়া কাপ বাংলাদেশ দলের   জন্য বড় চ্যালেঞ্জ! বাস্তবতায় এখানে বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ   তখনই হবে যখন গ্রুপ পর্যায়ে   শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ‘মোমেন্টাম’ থেকে   ভালো খেলে উতরাতে পারলে! এর   জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে হবে মাঠে। সুযোগ কাজে   লাগাতে হবে, নতুবা সুপার-৪-এর   সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।

 এশিয়া কাপ আমাদের দলের জন্য একটি বড় সুযোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে   পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশকে তুলে ধরার। তবে এ সব কিছুই নির্ভর   করছে   খেলোয়াড়দের  আত্মবিশ্বাস, সাহস, মানসিক শক্তি, মাইন্ড সেট, ইতিবাচক মনোভাব   ও মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রয়োগের ওপর। সামর্থ্য আছে—বিশ্বাস করতে হবে সবাই মিলে   ভালো খেললে, দায়িত্ব পালন করলে, দলে সাধ্যমতো অবদান রাখলে অবশ্যই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্রমেই তীব্র প্রতিযোগিতামূলক হয়ে যাচ্ছে। এখানে পারফর্ম  এবং বিশ্বাসটাই জরুরি। ক্রিকেটে চাপ থাকবেই, কিভাবে ‘রিঅ্যাক্ট’ করতে হয়, এটা বোঝা ও শেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাসের আলো জ্বালিয়ে মুখ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই বলার দিন শেষ হয়ে গেছে! এশিয়া কাপ নিয়ে এখনই অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কোনো কারণ নেই! আজ থেকে শুরু হওয়া এশিয়া কাপ রূঢ় বাস্তবতায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও শক্ত! এখানে হিসাব নির্ভর করবে মাঠে দলের পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন ও তীব্র ইচ্ছাশক্তির ওপর। আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি জয়ের ক্ষুধা।

এশিয়া কাপে ছয় দেশের মধ্যে (ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান) পাঁচটি দেশ টেস্ট প্লেয়িং কান্ট্রি, একমাত্র হংকং ছাড়া। প্রতিটি দেশ খেলার মধ্য থেকে এবং প্রস্তুতি নিয়েই খেলতে এসেছে। ছন্দে থাকায় লড়াই হবে জমজমাট। এশিয়ার ক্রিকেটে প্রাধান্য প্রদর্শনের মঞ্চে গত ১৩ বারের মধ্যে ভারত শিরোপা জিতেছে ছয়বার, শ্রীলঙ্কা পাঁচবার আর পাকিস্তান দুইবার। বাংলাদেশ দুইবার ২০১২ ও ২০১৬ সালে রানার্স-আপ হয়েছে। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়।

বাস্তবতা হলো, এশিয়া কাপে আমাদের দল থেকে আরো ভালো দল আছে। তবে দলগত শক্তির পাল্লায় ব্যবধান খুব বেশি নয়। এ ক্ষেত্রে ভালো দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলতে পারলে, সিনিয়র-জুনিয়র (এই তরুণরা কেউ কেউ তিন-চার বছর ধরে ক্রিকেট খেলছেন) সবাই মিলে মাঠে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে যথাযথ ‘কন্ট্রিবিউট’ করতে পারলে এই পার্থক্য কমিয়ে আনা অবশ্যই সম্ভব। আর এতে সম্ভব হবে অনেক কিছুই। এশিয়া কাপে যারা খেলবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে তো বাংলাদেশ একাধিকবার ওয়ানডে ক্রিকেটে পরাজিত করেছে দাপটের সঙ্গে। এশিয়া কাপে বড় দলের বিপক্ষে জয় হবে দারুণ অর্জন।

ভারত খুব ভালো দল। বিরাট কোহলি বিশ্রামে গেলেও ওয়ানডে দলের অন্য খেলোয়াড়রা আছেন। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে দলটিকে ‘নিটোল দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেব। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং কোনো ক্ষেত্রেই ঘাটতি নেই। পেস ও স্পিন আক্রমণ খুবই শক্তিশালী। দলের ‘রিস্ট স্পিনার’ খুবই কার্যকরী। পাকিস্তানের পেস আক্রমণ খুবই শক্তিশালী। দলে ‘রিস্ট স্পিনার’ আছেন। আলোচনা হচ্ছে পাকিস্তান দলে ছয়জন পেস বোলার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। তাহলে কি দুবাই ও আবুধাবি উইকেট ‘ফ্ল্যান্টের’ পরিবর্তে এবার স্লোটি উইকেট হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ পরাজয়ের পর ভারতের লক্ষ্য এশিয়া কাপ জয়। পাকিস্তানের ১৬ জনের স্কোয়াডে এবার মোহাম্মদ হাফিজ ও ইমাদ ওয়াসিমের (ফিটনেসের অভাবে) জায়গা হয়নি। পাকিস্তান আগামীর চিন্তা মাথায় রেখে স্কোয়াড তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি। আজ জিততে পারলে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর (আবুধাবিতে) আফগানিস্তানের বিপক্ষে নির্ভার ক্রিকেট খেলা সম্ভব হবে! নতুবা মাঠের ক্রিকেট অনেক শক্ত মনে হবে। মনঃসংযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি খেলা উপভোগ খুবই জরুরি। বিদেশের মাটিতে জিততে হলে ভালো ব্যাটিং ও কার্যকরী পেস বোলিং বড় প্রয়োজন।

অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুসের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হলে পেস ও স্পিনের বৈচিত্র্যপূর্ণ আক্রমণকে সামাল দিয়েই জিততে হবে। দলে অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গাকে নেওয়া হয়েছে। ফিরেছেন দিলরুয়ান পেরেরা। আরো ফিরেছেন দানুস্কা গুলাতিলঙ্কাও। তবে শেষ পর্যন্ত টেস্ট দলের আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিতীয় খেলা ২০ সেপ্টেম্বর আবুধাবিতে। আফগানিস্তানের বড় শক্তি হলো তাদের স্পিনার রশিদ খান, মুজিব ও মোহাম্মদ নবী এবং খেলোয়াড়দের ভয়ডরহীন খেলা। এইতো কয়েক মাস আগেই ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ভীষণ বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ দল। এবার অবশ্য অন্য ফরম্যাটের খেলা। এখানে স্পিনারদের পরখ করে খেলার সুযোগ আছে। ‘রিস্ট স্পিন’ আফগানদের বোলিংকে সমৃদ্ধ করেছে। এশিয়া কাপে সব দেশেই ভালো রিস্ট স্পিনার আছেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। সাকিব ও মেহেদী হলেন ফিঙ্গার স্পিনার। মোট কথা, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এশিয়া কাপে রিস্ট স্পিনারদের বুঝেশুনেই খেলতে হবে। প্রস্তুতি পর্বে বিষয়টি মাথায় নিয়ে কিছু কাজও করা হয়েছে।

দুবাই ও আবুধাবিতে উইকেটের আচরণ কেমন হবে? অতীতের পাল্লায় কিন্তু ফ্ল্যাট উইকেটের ভার বেশি! আর সেটাই যদি হয়, তাহলে কি একটা পর্যায়ে থেকে স্পিনাররা দাপট দেখাবেন! বাংলাদেশের গেম আক্রমণে মাশরাফি এখনো অপরিহার্য এবং সেরা। রুবেল ও মুস্তাফিজ আছেন। মুস্তাফিজ ধীরে ধীরে তাঁর পুরনো ফর্মে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মুস্তাফিজ ছন্দ ফিরে পেলে বাংলাদেশের জন্য মাঠের কাজ সহজ হবে। পেস আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ দলের স্পিন আক্রমণ অনেক বেশি কার্যকরী এবং ফলদায়ক। বিদেশে জেতার জন্য প্রয়োজন ভালো ব্যাটিং। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভালো গেম প্লেয়িং। গেম আক্রমণ বাংলাদেশ দলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুর্বলতা! এ ক্ষেত্রে গত দুই বছরে কী করা হয়েছে সেটা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।

ভালো প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। প্রস্তুতি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নির্ভার হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা সম্ভব হয়। সেরা খেলোয়াড় আর সাধারণ খেলোয়াড় সবার জন্য প্রস্তুতি অনুশীলন জরুরি। এ ক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত নয় কারো ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার কথা চিন্তা করা।

১৬ সদস্যের স্কোয়াডে মমিনুলকে ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদি ইনজুরির কারণে তামিম বা নাজমুল খেলতে না পারেন। ১৬ জনের সেরা স্কোয়াডই নির্বাচকরা দিয়েছেন। এ ছাড়া আর খেলোয়াড় কোথায়? যেকোনো স্কোয়াড নিয়ে কথা হতেই পারে। দলে বেশ কিছু সমস্যা তো এখনো আছে। তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে এখনো একজন জুতসই কাউকে সেট করা সম্ভব হয়নি। তিন নম্বরে আপাতত সাকিব খেলছেন। ভালোই খেলছেন। তিনি বলেছেন এই স্থানে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ছয়ে, সাতে এখনো নড়বড়ে অবস্থা। ‘টেল এন্ডাররা’ ব্যাটিংয়ে যতটুকু অবদান রাখার কথা, সেটা তাঁরা পারছেন না। এটা একটা বড় সমস্যা। নির্বাচকরা যখন স্কোয়াড তৈরি করেন তখন প্রতিপক্ষের অবস্থান এবং অনেক কিছু ভেবেই সিদ্ধান্ত নেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে পারফরম্যান্স আশা করা হয়।

অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণেই বাংলাদেশ জাতীয় দল। ক্রিকেট দলীয় খেলা—সবার অবদান দলের জন্য প্রয়োজনীয়। এটা ভাবা উচিত নয়, অভিজ্ঞ পাঁচজন খেলোয়াড় খেলে পার করে দেবেন। দলের জন্য সবার দায়বদ্ধতা আছে। প্রত্যেককে মাঠে দায়িত্ব নিতে হবে। তা ছাড়া অভিজ্ঞ সিনিয়র খেলোয়াড়রা যে প্রতিটি খেলায় মাঠে জ্বলে উঠবেন এই গ্যারান্টি তো নেই। তাই সবাই মিলে খেলতে হবে, চেষ্টা করতে হবে। দলের কথা ভাবতে হবে। ক্রিকেট আশাবাদী মানুষদের খেলা। আমরা আশাবাদী মন নিয়ে তাকিয়ে থাকব দুবাই ও আবুধাবির মাঠের দিকে।

নেইমারের স্পেনে ফেরা!

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের প্যারিস সেন্ট জার্মেই ছেড়ে স্পেনে ফেরা না ফেরা নিয়ে কম কথা হচ্ছেনা। লা লিগার দল রিয়াল মাদ্রিদে তিনি সই করতে পারেন, এমন কথা শোনা যাচ্ছে সম্প্রতি। ব্রাজিলীয় ফুটবলার নেইমার দ্য সিলভা স্যান্টোস (জুনিয়র) গত মৌসুমে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজি-তে আসার পর থেকেই জারি রয়েছে এই জল্পনা।

পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খিলাইফি

এবার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খিলাইফি। তিনি জানান, নেইমার শীঘ্রই রিয়াল মাদ্রিদে চলে যাচ্ছে, জল্পনা শুনে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। বাধ্য হয়ে তিনি কথা বলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা আমার ভাল লাগেনি। তাই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে কথা বলি। খুবই হতাশাজনক ঘটনা। এটা কখনও কাম্য নয়, যে অন্য কোনও ক্লাব আমাদের ফুটবলার নিয়ে পিএসজি-র অজ্ঞাতসারে কথা বলবে।’ খিলাইফি সঙ্গে যোগ করেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভাল। ওরাও পিএসজি-কে শ্রদ্ধা করে। আশা রাখি, সেই সম্পর্ক ঠিকঠাক রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেসকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমি মনে করি, পর্দার পিছনে কাজ চালানো ঠিক নয়।’

রোনালদোর হোটেল এবার ফ্রান্সে

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি হোটেল চালু করতে যাচ্ছেন। জুভেন্টাসের হয়ে এখন‌ও কোনো গোলের দেখা না পেলে‌ও প্যারিসে ‘পেস্টানা সিআরসেভেন’ -এর আ‌ওতায় একটি ফোর স্টার হোটেল চালু করার ঘোষণা দেন রোনালদো।

এটা হলো পেস্টানা সিআরসেভেন গ্রুপের ষষ্ঠ হোটেল। ৩৩ বছর বয়সী রোনালদোর এই হোটেলে অতিথিদের জন্য কমপক্ষে ২১০টি থাকার রুম থাকবে। ৫৩৪ লাখ পাউন্ড খরচের এই হোটেলটি তৈরি হচ্ছে প্যারিসের গাউচ নদীর পাশের জমিতে। আর হোটেলের নির্মান কাজ শেষ হবে ২০২১ সালে।

২৩ বছর পর দুবাইয়ে খেলবে বাংলাদেশ

২৩ বছরেরও বেশি সময় পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ শনিবার এশিয়া কাপের ১৪তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সবশেষ ম্যাচ খেলেছিল ১৯৯৫ সালের ৮ এপ্রিল। সেবারও সেখানে এশিয়া কাপের ম্যাচ খেলেছিল টাইগাররা। ঐ আসরে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলেছিলেন আতহার আলী খান, আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, খালেদ মাসুদ পাইলট, নাইমুর রহমান দুর্জয়, হাবিবুল বাশার সুমন, জাভেদ ওমর বেলিম, আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা।

ওই আসরে তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিলো বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে নয় উইকেটে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০৭ রানে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।

এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ লড়াই করবে গ্রুপ ‘বি’তে। এই গ্রুপে অন্য দুইটি দল হলো শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। আজ শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ও ২০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের লড়াই আজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৪তম আসর। এশিয়ার সেরা কে, তা প্রমানের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম এটি। নিজেদের উজার করে দিতে এবারের আসরে মাঠে নামছে ছয়টি দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সাথে রয়েছে গত আসরের ফাইনালিষ্ট বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও দশ বছর পর তৃতীয়বারের মত এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পাওয়া হংকং। টুর্নামেন্টের প্রথমদিনই শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলাটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়।

এশিয়ার দলগুলোর কাছে বিশ্বকাপের মতই গুরুত্বপূর্ণ এশিয়া কাপ। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়াই দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ১২বার অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ছয়বার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়েছে ভারত।

গেল আসরটি ছিলো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এশিয়ার কাপের ইতিহাসেই সেবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপা জয় করে ভারত। তাই চ্যাম্পিয়নের তকমা গায়ে মেখে ১৪তম আসরে খেলতে নামবে টিম ইন্ডিয়া।
তবে সম্প্রতি টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতার কালিমা ভারতের সঙ্গী। ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারে বিরাট কোহলির দল। টেস্ট সিরিজের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ভারত। সেখানেও ব্যর্থ কোহলি-ধোনিরা। তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারে।

তবে এশিয়া কাপে ৪৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৩১টি জয় ও ১৬টি হারের স্বাদ নেয় ভারত। তারপরও এবারের আসরে বড় পরীক্ষায় পড়তে হবে তাদেরকে। কারন দলের নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি রয়েছে বিশ্রামে। তার পরিবর্তে দলের নেতৃত্ব দেবেন রোহিত শর্মা। তার সাথে থাকবেন সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি। এছাড়া থাকছেন শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়াদের মত তরুণরা।

অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘মাঠে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে আমরা প্রস্তুত। আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তাই আমাদের উপর চাপ বেশি থাকবে। তবে চাপকে ভুলে ক্রিকেট খেলায় মনোযোগি হতে চাই আমরা এবং ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। শিরোপা ধরে রাখতেই মাঠে নামবে দল।’

এশিয়ার কাপে অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। গেল তিন আসরের পারফরমেন্সে এশিয়া কাপের অন্যতম দাবীদার হয়ে উঠেছে মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা। ২০১০ সাল পর্যন্ত এশিয়া কাপের কোন আসরেই ফাইনালে উঠতে পারেনি টাইগাররা। তবে ২০১২ সালে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। সেবার শিরোপা জয়ের দোড় গোড়ায় পৌঁছে এশিয়া শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়তে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের পরের আসরটিও হয় বাংলাদেশে। সে আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি টাইগাররা। তবে ২০১৬ সালের আসরে আবারো বিশ্বকে চমকে দিয়ে ফাইনালে উঠে লাল-সবুজের দল। দেশের মাটিতে টানা তিনবার এশিয়া কাপ আয়োজনের চ্যালেঞ্জের মত মাঠে লড়াইয়ে বেশ তৎপর ছিলো মাশরাফির নেতৃত্বধীন দলটি। পাকিস্তান-শ্রীলংকার মত দলকে হারিয়ে ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম লেখায় বাংলাদেশ। কিন্তু শক্তিশালী ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে আবারো শিরোপা হাতছাড়া হয়।

দু’বার ফাইনালে উঠে শিরোপা জিততে না পারার স্মৃতি ভুলে নতুনভাবে নিজেদের প্রমানের পক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে মাশরাফি বলেন, ‘আগে দু’বার ফাইনাল খেলেছি আমরা। আমার ধারনা এটি কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ এটি নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন জায়গা। এখানে সবকিছুই নতুনভাবে শুরু করতে হবে। আমার মূল ভাবনা, প্রথম ম্যাচ নিয়ে। আমরা শুরুটা কিভাবে করবো, এটি এখন আসল।’

শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের এশিয়ার কাপ মিশন শুরু করতে হচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ ছেড়ে নিজ দেশ শ্রীলংকার দায়িত্ব নেয়ার পর, এই দু’দলের ভেতর টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেটি আরও বেশি বড় আকার ধারন করে গেল মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে। শ্রীলংকার মাটিতে অনুষ্ঠিত ঐ আসরে স্বাগতিকদের বিধ্বস্ত করে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। ফাইনালে ভারতের কাছে হারলেও, শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়কে অনেক বড় করেই দেখেছিলো বাংলাদেশ। তাই এবারও শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

এশিয়া কাপে ৪২ ম্যাচে অংশ নিয়ে মাত্র ৭ জয় ও ৩৫ হারের স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এগুলো এখন শুধুমাত্র রেকর্ড বইয়েই লিপিবদ্ধ। অতীতের চেয়ে এখন ঢের পরিপক্ব দল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন জার্সি

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নতুন জার্সি পড়বে। বিসিবির সঙ্গে রবির চুক্তি বাতিলের কয়েকদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জার্সিতে লোগো থাকবে ইউনিলিভারের পণ্য ‘লাইফবয়’-এর। আর তাই এশিয়া কাপের জন্য বাংলাদেশ জার্সি উন্মেচন করা হয়েছে। এশিয়া কাপের বাংলাদেশের জার্সি কেমন সেটির একটি ছবি‌ও আপলোড করেছে লাইফবয় তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

গত মাসের ২৬ তারিখ হুট করেই বিসিবির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি। বিসিবির সঙ্গে সমস্যা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। মূলত রবির দেওয়া শর্ত মেনে না নেওয়াতে বিসিবির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তারা। রবির চুক্তির বাতিলের কয়েকদিন পর বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশে এসে দাঁড়ায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ। আগামী দেড় বছরে ইউনিলিভারের বিভিন্ন পণ্যের লোগো থাকবে তামিম-সাকিবদের জার্সিতে।

আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হতে যা‌ওয়া এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জার্সি কেমন হবে সেটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে আগ্রহ কম ছিল। অবশেষে সেটির একটি ডিজাইন প্রকাশ করেছে লাইফবয় বাংলাদেশ। লাইফবয়ের এই জার্সি পরেই আগামীকাল প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে বাংলাদেশ সময় সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

শুধু বাংলাদেশ জাতীয় দলই নয়, বাংলাদেশ নারী দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্পন্সরও ইউনিলিভার। বিসিবির সঙ্গে ইউনিলিভারের চুক্তি শেষ হবে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি।

ভ্যাটার্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেট নভেম্বরে

আগামী নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অস্ট্রলিয়ার সিডনিতে শুরু হবে ভ্যাটার্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। উর্ধ-৫০ বছর বয়সিদের নিয়ে হবে এই ভ্যাটার্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেট।

আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথমবার আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া সহ আটটি দল অংশ নেবে। তবে তাদের মধ্যে নেই বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলো হলো- নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা ‌এবং ‌ওয়েলস।

সিঙ্গল লিগ পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি দল সাতটি করে ম্যাচ খেলবে। আর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারটি দেশ সেমিফাইনাল খেলবে। নিচের সারির চারটি দল প্লেট পর্বে মুখোমুখি হবে। প্রত্যেকটি দলে ১৬জন করে খেলোয়াড় থাকবে।

প্রতিটি ইংনিংস হবে ৪৫ ‌ওভারের। ১২ এ সাইডে হবে খেলা। তবে ব্যাট করবেন ১১ জন। একজন থাকবেন নন ব্যাটার। বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ ‌ওভার বল করতে পারবেন। প্রতিটি ইনিংসের মাঝখানে ৪৫ মিনিট বিরতি থাকবে। কোকাবুরা’র গোলাপী বলে হবে খেলা।

মেসি নয়, মড্রিচই সেরা: ইভান রাকিটিচ

লি‌ওনেল মেসির বার্সেলোনা সতীর্থ ইভান রাকিটিচ বিশ্বাস করেন এ বছর ব্যাক্তিগত পুরষ্কার পা‌ওয়ার ক্ষেত্রে লুকা মড্রিচের সম্ভাবনাই বেশি। ক্রোয়শিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌছে দিয়ে ‘গোল্ডেন বল’ জেতা রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মড্রিচ দারুণ একটা মৌসুম কাটিয়েছেন। উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারেরর পুরস্কার জয়ের পর মড্রিচ ফিফা সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের জন্য‌ও মনোনয়ন পেয়েছেন।

ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের প্রাথমিক তালিকায় লি‌ওনেল মেসির নাম না থাকলে‌ও রিয়ালের তারকা লুকা মড্রিচ আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে ফেভারিটের কাতারে।

রাকিটিচ বিশ্বাস করেন যে এবার ফিফার দ্য বেস্ট পুরষ্কার জিতবেন তা দেশের লুকা মড্রিচই। তাছাড়া এবছর তার ক্লাব সতীর্থ লি‌ওনেল মেসি কোনো পুরষ্কার জিততে পারবেন না। রাকিটিচ বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিগত পুরষ্কারই মেসি এবছর জিততে পারবেননা। কোনো সন্দেহই নেই সব পুরষ্কারই উঠবে এবার মড্রিচের হাতে।’

ক্রোয়েশিয়া ‌ও বার্সেলোনার তারকা খেলোয়াড় রাকিটিচ আরো জানান, ‘মড্রিচ যদি অনেক বেশি ভোটে জেতেন (ফিফা দ্য বেস্ট পুরষ্কার), তাতে‌ও কোনো আশ্চর্য হবো না। এ বছরটা আসলেই তাঁর (মড্রিচের)। তাঁর (দেশের) সতীর্থ হতে পেরে সত্যিই আমি খুব খুশি।’

উসাইন বোল্টে মুগ্ধ গোৎজে

উসাইন বোল্টে মুগ্ধ হয়ে আছেন জার্মানির ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের নায়ক মারিও গোৎজে। চলতি বছরের শুরুতেই বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে এই জ্যামাইকান গতি দানব ফুটবলের ট্রায়াল দেন। তখন উসাইন বোল্টের ফুটবল দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন মারি‌ও গোৎজে।

ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডকে গুডবাই জানানোর পর থেকে বোল্ট ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল কোস্ট ম্যারিনারে আছেন, এ লিগের দল হুন্ডাইয়ের ট্রায়ালে। তবে এবারই তিনি কোনো ক্লাবে ট্রায়াল করছেননা, এরআগে গত মার্চ মাসে জার্মান জায়ান্ট ডর্টমুন্ডের অনুশীলন ক্যাম্পে দুই দিন কাটিয়েছে, গতিদানব উসাইন বোল্ট।

একটি খেলা থেকে অন্য খেলায় রূপান্তর-বিষয়টি আমার কাছে খুব মজার এবং চ্যালেঞ্জিং মনেহচ্ছে। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড থেকে ফুটবলের মাঠে, বেশ মজার এক ঘটনা। উসাইন বোল্টের ফুটবলার হ‌ওয়ার জন্য প্রচেষ্টা দেখে এমনটাই বলেন জার্মানির ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।

অস্ট্রেলিয়ান লিগের ব্যাপারে খুব একটা না জানলে‌ও গোৎজে মনে করেন হুন্দাইয়ের হয়ে উসাইন বোল্টের খেলার সম্ভাবনাটা একেবারে কম নয়; বোল্টের খেলার যে মান তাতে হুন্দাইয়ের হয়ে খেলাটা অসম্ভব কিছু নয়।

নেইমার এখনো বার্সেলোনার গলার কাঁটা!

দল ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যোগ দিয়েছেন তা‌ও এক বছরের বেশি হয়ে গেলো। তবু নেইমার এখন‌ও বার্সেলোনার গলার কাঁটাই হয়ে আছেন। নেইমার দল ছাড়ার পর‌ও ১৬ লাখ ইউরো পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে বার্সেলোনার বিপক্ষে। এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার স্প্যানিশ দলে যোগ দে‌ওয়ার সময় একটা শর্ত ছিলো যে, নেইমারকে প্রতিবার অন্য ক্লাবে বিক্রি করার জন্য ৩% অর্থ তার স্কাউট আন্দ্রে কুইরিকে দিতে হবে। কিন্তু পিএসজির কাছে নেইমারকে বিক্রি করার পর বছর পেরিয়ে গেলে‌ও বার্সেলোনা সেই অর্থ পরিশোধ করেনি।

অবশ্য শুরু থেকেই এই শর্তের বিপক্ষে ছিলো কাতালানরা। কিন্তু এবার নতুন করে বার্সার কাছে সেই টাকা চাইছেন কুইরি। তবে বার্সা এই অর্থ না দে‌ওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, নেইমারকে ক্লাব বিক্রয় করেনি, সে নিজেই প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে চলে গেছে। সুতরাং নীতিগতভাবে সেই শর্ত পুরণে তারা বাধ্য নয়।

তবে শর্ত মতো অর্থ না পেয়ে আন্দ্রে কুইরি আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। কুইরির আইনজীবি জানিয়েছে চুক্তিতে থাকা অর্থ না দিলে বার্সেলোনার বিপক্ষে চুক্তিভঙ্গের মামলা করবেন।

গ্র্যান্ডস্লাম জেতা আমার জন্য দারুণ অর্জন: না‌ওমি ‌ওসাকা

ইউএস ওপেনের চমক নাওমি ওসাকা। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টে এসে জিতলেন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম। ফাইনালে টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি আমেরিকান সেরেনা উইলিয়ামসকে পরাজিত করে জাপানের ইতিহাসে প্রথম মেজর কোন টুর্নামেন্ট জয়ের বিরল এক রেকর্ড গড়েন নাওমি ওসাকা। কিন্তু ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন ওসাকার চেয়েও আলোচনায় ফাইনালে হেরে যাওয়া সেরেনা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কোড অব কন্ডাক্ট ভেঙ্গে, চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস রামোসের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম দখল করে নেন উইলিয়ামস পরিবারের ছোট মেয়েটি। তারপরও সেরেনার এমন আচরণে কোন আক্ষেপ কিংবা অনুশোচনা নেই ২০ বছরের এই জাপানী তরুণীর।

বৃহস্পতিবার নিজের দেশ জাপানে ফিরেই সংবাদ মাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা জানান নাওমি ওসাকা। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটা মোটেও দুঃখের কিছু নয়। কেননা সেই মুহূর্তে যে আমার কেমন অনুভব করা উচিত ছিল সেটা জানা ছিল না। এ বিষয়ে সত্যিই আমার কোন অনুশোচনা নেই। কারণ সবমিলিয়েই আমি খুব সুখী। আমার জন্য এটা দারুণ এক অর্জন।’

ইউএস ওপেন জিতে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়েও এগিয়েছেন ওসাকা। ১৯ থেকে এক লাফে সাতে উঠে এসেছেন তিনি। তার লক্ষ্য এখন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচ। শুধু তাই নয়, এ বছরের শেষ টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালসেও খেলতে চান তিনি। ওসাকা বলেন, ‘আমি মনে করি, এ বছরে আমার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সিঙ্গাপুরে যাওয়া। প্যান প্যাসিফিক ওপেনে আমি ভাল করতে চাই। তারপর র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচে থেকে মৌসুম শেষ করতে চাই। তবে এ জন্য মোটেও নিজের ওপর কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে চাই না। এই সময়টা উপভোগ করতে চাই।’ এ সময় তিনি জানান, ‘প্যান প্যাসিফিক টুর্নামেন্ট তো একদম কাছে। তাই আমি ডায়েট শুরু করতে চাই তবে অবশ্যই আইসক্রিমটা চালিয়ে যেতে চাই।’

দুই বছর পরই জাপানে বসবে বিশ্ব ক্রীড়ার মহাযজ্ঞ অলিম্পিক আসর। টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য সেই টুর্নামেন্টের স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ওসাকা। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অলিম্পিকে খেলাটা প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন। তাই আমি অবশ্যই স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন দেখি। আর টোকিওতে অলিম্পিকের আসর হওয়ায় আমি আরও বেশি রোমাঞ্চিত।’

গত দেড় দশক ধরেই টেনিস বিশ্বে আলো ছড়াচ্ছেন সেরেনা। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৩টি গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। আমেরিকান কিংবদন্তির সামনে ছিল ২৪ গ্র্যান্ডস্লাম জিতে মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডে ভাগ বসানোর হাতছানি। কিন্তু সেই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান ওসাকা। সেরেনাকে ২৪তম গ্র্যান্ডস্লাম খেতাব জিততে দেননি তিনি। ফ্লাশিং মিডোয় আলো জ্বেলেছেন নাওমি। ফাইনালে সেরেনাকে হারিয়েছেন ৬-২, ৬-৪ সেটে। সেই সঙ্গে প্রথম জাপানী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে মেজর জিতে ইতিহাস লিখেছেন নাওমি। এক বছরে চারটি ভিন্ন সিঙ্গল জয়ের কৃতিত্ব গড়া নাওমি শেষ দুই মৌসুমে আটটি খেতাব জিতেছেন। ওপেন এরায় ডব্লিউটিএ ট্যুরে এটাই প্রথম। ১৬ অক্টোবর, ১৯৯৭ সালে জাপানের ওসাকাতে জন্মান তিনি। ১৯৯৯ সালে সেরেনা প্রথম খেতাব জিতেছিলেন। তখন নাওমির বয়স ছিল দু’বছর। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে মেজর টুর্নামেন্ট জয়ের রেকর্ড এখন ওসাকার। তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন চিনের লি না।

নাওমির মা জাপানী, বাবা হাইতির। সেরেনাই তার আইডল। ২০১৩ সালে পেশাদার টেনিস শুরু করে নাওমি। তিন বছর বয়সেই নিউইয়র্কে চলে আসেন তিনি। এখন ফ্লোরিডার মিয়ামিতে প্রশিক্ষণ নেন। সাসচা বাজিনের কাছে টেনিসের পাঠ নেন। এই সাসচাই সেরেনাকে আট বছর ট্রেনিং দিয়েছিলেন। নাওমি ২০১৪ সালে অকল্যান্ডের ওয়েস্ট ক্লাসিকে ডব্লিউটিএ ট্যুরের প্রথম মেইন ড্র’তে আসেন।

নাওমি সেবার সামান্থা স্টোসারকে হারিয়ে আন্দ্রে পেটকোভিচের কাছে হেরে যান। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তার প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম অভিষেক হয় কোয়ালিফায়ার হিসেব। টুর্নামেন্টের ১৮তম বাছাই এলিনা সিতোলিনার বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডে জয় পান। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে টুর্নামেন্টের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার কাছে হেরে যান তিনি। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রথমবার কেরিয়ারে প্রথম ১০০তে আসেন। এ বছরের মার্চে ইন্ডিয়ান ওয়েলস জিতে প্রথম ডব্লিউটিএ খেতাব পান তিনি। মারিয়া শারাপোভা, ক্যারোলিনা পিসকোভা ও সিমোনা হ্যালেপের মতো তারকাদের হারিয়েছিলেন সেই টুর্নামেন্টে। ইউএস ওপেন জিতে ছাড়িয়ে গেলেন নিজের অতীতের সব পারফর্মেন্সকেই।

শচীনকে হেঁয় করে আলোচনায় অভিনেত্রী

অভিনয়টা তার হোক চাই না হোক, কিভাবে আলোচনায় থাকতে হবে সেটা তিনি ঠিকই জানেন। আর যেভাবেই হোক, প্রচারের আলোতেই থাকতে ভালবাসেন তিনি। হোক না সেটা যে কোনও উপায়ে। বলা হচ্ছে, দক্ষিণী অভিনেত্রী শ্রী রেড্ডি-র কথা। অভিনয়ের জন্য খুবই কম তবে পর্দার বাইরে কাণ্ড ঘটানোর জন্য বিখ্যাত তিনি। সেই শ্রী রেড্ডি নিজের ফর্ম ধরে রাখার জন্য এবার টার্গেট করেছেন শচীন টেন্ডুলকারকে।

ফেসবুক পোস্টে শ্রী রেড্ডি লিখলেন, শচীন টেন্ডুলকার একজন রোম্যান্টিক মানুষ। যখনই তিনি হায়দরাবাদে আসেন, চার্মিং গার্ল (পরোক্ষভাবে তিনি ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন অভিনেত্রী চার্মিং কউরকে) তাঁর সঙ্গে রোম্যান্স করতে লেগে পড়ে। হাই প্রোফাইল চামুণ্ডেশ্বর এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করেন। গ্রেটেস্ট মানুষরা ভাল খেলে, মানে রোম্যান্সের ক্ষেত্রেও।

স্বাভাবিকভাবেই দেশের ক্রিকেট আইকন-এর ব্যাপারে এমন বেফাঁস মন্তব্য করার পর শ্রী রেড্ডি শচীন-ভক্তদের হাত থেকে রেহাই পাননি। চারপাশ থেকে তাঁর জন্য ধেয়ে আসছে টিটকিরি ও সমালোচনা।

ক্রিকেটসর্বস্ব এই দেশে শচীন টেন্ডুলকার মানে আলাদা একটা আবেগ। তাছাড়া মাস্টার ব্লাস্টারের নামের পাশে কখনও কোনও বিতর্ক জায়গা পায়নি। সেখানে টেন্ডুলকারের ব্যাপারে এমন মন্তব্য করে শ্রী রেড্ডি সস্তার প্রচার পেতে চাইছেন বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

এর আগেও একাধিকবার এমন বেফাঁস মন্তব্য করে শিরোনামে থেকেছেন দক্ষিণী সিনেমা জগতের এই অভিনত্রী। পরিচালক সুরেশ বাবুর ছেলে অভিরাম ডাগ্গুবাটির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তাছাড়াও দক্ষিণের একাধিক পরিচালক ও অভিনেতার বিরুদ্ধেও একধিকবার একই অভিযোগ করেন শ্রী রেড্ডি।

সাফ অ-১৫ ফুটবলে বাংলাদেশর গ্রুপে চার দল

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ ফুটবলের এ-গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের অন্য দলগুলো হলো- নেপাল, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। বি-গ্রুপে রয়েছে ভারত, ভুটান ও শ্রীলংকা। ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্টটি।

গ্রুপ পর্বে উদ্বোধনী দিনে মালদ্বীপ, ২৭ অক্টোবর পাকিস্তান এবং ২৯ অক্টোবর নেপালের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ১ নভেম্বর দু’টি সেমিফাইনাল এবং দু’দিন পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভবনে টুর্নামেন্টের গ্রুপিং নির্ধারনের জন্য ড্র অনুষ্ঠিত হয়। সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলালের পরিচালনায় ড্র অনুষ্ঠটানে উপস্থিত ছিলেন ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিন্দু দর্জি।

বিরাটকে সরিয়ে দয়া হলো!

বিরাট কোহলির ডেপুটির অজিঙ্কা রাহানেকে করা হলো ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। ইংল্যান্ডে ব্যর্থ নিয়মিত অধিনায়ক বিরাটকে সিরয়ে দেয়া হয় দলের দায়িত্ব থেকে। তবে তিনি ঠিকই দলে থাকছেন। তাকে দেখা যাবে টিম ইন্ডিয়ার নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের অধীনে।

আসন্ন বিজয় হাজারে ট্রফির জন্য মুম্বই দলের ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হলেন টেস্ট টিমে বিরাট কোহলির ডেপুটির ভূমিকা পালণ করা অজিঙ্কা রাহানে। এবার জাতীয় ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে রাহানেকে পাওয়া যাবে বলে আদিত্য তারের পরিবর্তে তাঁর হাতেই নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই নির্বাচকরা।

আসন্ন এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি রাহানের। সুতরাং ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলতে অসুবিধা নেই তাঁর। রাহানে দলে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তাকে নেতা হিসাবে বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

রাহানের নেতৃত্বে পনের জনের দলে রয়েছে বেশ কয়েকটা উল্লেখযোগ্য নাম। সদ্য টেস্ট দলে সুযোগ পা‌ওয়া পৃথ্বী শ এবং ভারতীয়-এ দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারকেও খেলতে দেখা যাবে বিজয় হাজারে ট্রফিতে। শ্রেয়স আপাতত রাহানের সহকারীর দায়িত্ব পালণ করবেন। পরে রাহানের থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে পারেন। এছাড়া সূর্য্যকুমার যাদব ও আদিত্য তারের মতো তারকা দলে রয়েছেন।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে মালদ্বীপের প্রতিপক্ষ ভারত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে উঠেছে ভারত। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে জোড়া গোল করেন মানভির সিং। আর একটি গোল আসে ভারতের ফরোয়ার্ড সুমিত পাসির পা থেকে। পাকিস্তানের হয়ে ব্যবধান ঘোঁচানো একমাত্র গোলটি করেন হাসান বাশির। এ নিয়ে এগারোবারের মতো ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেলো ভারত।

শুধুমাত্র ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতীয়দের। এদিকে, দিনের প্রথম সেমি ফাইনালে নেপালকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে মালদ্বীপ। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে দল দু’টি মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়।

মর্যাদার এ লড়াইটি ছিল বেশ ঘটনা বহুল। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দুই আগে দু’দলের ফুটবলাররা জড়িয়ে পড়েছিলেন হাতাহাতিতে। রাফ ট্যাকলকে কেন্দ্র করে ঘটে এ ঘটনা। আর তাতেই রেফারি ভারতের লালিয়ানজুয়ানা চাংতে ও পাকিস্তানের মহসীন আলীকে লাল কার্ড দেখান।

ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই অন্যরকম এক উত্তেজনা। গ্যালারীতে দর্শক থাকবেই। থাকবে কথার লড়াই। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেও দেখা গেছে সেই একই চিত্র। স্বাগতিক বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকে ছিঁটকে পড়ার পরও প্রায় হাজার পাঁচেক দর্শক উপস্থিত ছিলো সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই দেখতে। প্রিয় দলের পতাকা, ভুভুজেলা আর ঢোল-বাদ্য নিয়ে গ্যালারী মাতিয়ে রেখেছেন তারা।

শক্তির বিচারে পাকিস্তানের চেয়ে যোজন-যোজন এগিয়ে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি দলটি গত কয়েকটি আসরেই নিজেদের মূল দলকে না পাঠিয়ে বয়সভিত্তিক দলকে সাফ খেলার জন্য প্রেরণ করে। এবারো এর ব্যতয় হয়নি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে পাঠিয়েছে লড়াইয়ের জন্য। গ্রুপ পর্বে দূর্দান্ত খেলা ভারত আজও ছিল ছন্দে। কর্দমাক্ত মাঠে শুরু থেকেই চেপে ধরে পাকিস্তানকে। একের পর পর আক্রমন করলেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ দেখেনি তারা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গোলের দেখা পেয়ে যায় সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। বাঁপ্রান্ত দিয়ে মিডফিল্ডার আশিকের মাইনাসে দৌড়ে এসে দারুন এক প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে উৎসবে মাতিয়ে তুলেন মানভির সিং (১-০)।

২১ মিনিট পর আবারো গোল করে ব্যবধান ২-০তে নিয়ে যান মানভির। দুই মিনিট আগে বদলী হিসেবে মাঠে নামা লালিয়ানজুয়ানা চাংতের পাসে বল পেয়ে যান ভিনিত রায়। তার মাইনাসে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড (২-০)।

এরপরও যেনো গোলের ক্ষুধা থামছিল না ভারতের। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে বাঁদিক থেকে আশিক কুরুনিয়ার লবে দৌড়ে এসে দারুন এক হেড গোল করেন বদলী হিসেবে মাঠে নামা সুমিত পাসি (৩-০)।

দুই মিনিট পরই ঘটে যায় ন্যাক্কারজনক ঘটনা। রাফ ট্যাকলকে কেন্দ্র করে লালিয়ানজুয়ানা চাংতে পাকিস্তানী এক ফুটবলারকে ঘুষি ছুঁড়েন। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে এসে তাকে পাল্টা আঘাত করেন পাকিস্তানী মহসীন আলী। রেফারি শিভাকর দু’জনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বের করে দেন।

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করে পাকিস্তান। হাসান বশির বাঁ পায়ের শটে গোল করে ব্যবধান ঘুঁচিয়ে আনেন (৩-১)। কিন্তু পরাজয় এড়ানোর জন্য যা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় দিয়েই ফাইনালে পা রাখে ভারত।

পঞ্চমবারেরর মতো সাফের ফাইনালে মালদ্বীপ

গ্রুপ পর্বে নেই জয়। নেই কোন গোল। মাত্র একটি ম্যাচে ড্র করেছিল। এক পয়েন্ট নিয়ে টস ভাগ্যের সহায়তায় সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল মালদ্বীপ। সেই দলটিই আজ বুধবার নেপালকে চমকে দিয়ে ফাইনালের মহারণ নিশ্চিত করে ফেলেছে। শেষ চারের লড়াইয়ে শিরোপা প্রত্যাশী নেপালকে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ৩-০ গোলের বড় পেয়েছে মালদ্বীপ। ইব্রাহিম হাসানের জোড়া গোলে দারুন এ জয় পায় দ্বীপ রাষ্ট্রটি। এছাড়া একটি গোল করেন অধিনায়ক আকরাম আব্দুল ঘানি।

সর্বশেষ ২০০৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল খেলেছিল মালদ্বীপ। তবে সেবার ট্রফি জেতা হয়নি। ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঐ ফাইনালে টাইব্রেকার শুট আউটে ৩-১ গোলে হারে তারা।

ম্যাচ শুরুর ৩০ মিনিট আগে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টির কারনে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে উঠেছিল। ফুটবলাররা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিলেন না। সমস্যাটা যেনো বেশী হচ্ছিল নেপালি ফুটবলারদের। গ্রুপ পর্বে দূর্দান্ত খেলা দলটি আজ যেনো ভুল পাসের মহড়া দিচ্ছিল। অথচ গ্রুপ পর্ব থেকে ভাগ্যের সহায়তায় শেষ চারে আসা মালদ্বীপ এগিয়ে যায় ম্যাচের ৯ মিনিটেই। গোলের নায়ক অধিনায়ক আকরাম আব্দুল ঘানি। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিক নেন। নেপালি ডিফেন্ডার সুমন আরিয়াল বল প্রতিহত করতে গিয়েও পারেননি। তার দু’পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে প্রবেশ করে। গোলরক্ষক কিরন কুমার কিছুই করতে পারেননি।

কিছু সময় পর আবারো অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়। ২৭ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ চলার পর ম্যাচ কমিশনার চেং লিয়ান চেং বজ্রপাত বিরতি ঘোষনা করেন।

৩৩ মিনিট পর বল আবারো মাঠে গড়ায়। ৩৭ মিনিটে দারুণ এক আক্রমন রচনা করেও হতাশ হতে হয় নেপালকে। অধিনায়ক ভারত খাওয়াজের নেয়া শটটি খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। দুই মিনিট পর আরো একটি সহজ সুযোগ পেয়েছিল বাল গোপালের শিষ্যরা। সে যাত্রায়ও ব্যর্থ তারা। বক্সের ভেতর থেকে বিমলের আড়াআড়ি শটটি ছোট বক্সের ভেতর থেকেও ঠিকমতো প্লেস করতে পারেননি অধিনায়ক ভারত খাওয়াজ।

দ্বিথীয়ার্ধে মাঠে নামার মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যেই নেপালের ভিত আরো একবার কাঁপিয়ে দিয়েছিল মালদ্বীপ। ইব্রাহিম হোসেন পাস থেকে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাঁটিয়ে গোলরক্ষক কিরন কুমারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন হাসান নাইজ। কিন্তু তার নেয়া শট আর জালের ঠিকানা পায়নি। গোলরক্ষকের পায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায়। অথচ ঠান্ডা মাথায় শট নিলে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলতে পারতেন এ ফরোয়ার্ড।

নেপাল গোল শোধ করতে না পারলেও ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে গোলের গ্রাফটা ঠিকই উপরে নিয়ে যায় মালদ্বীপ। গোল করেন ইব্রাহিম হাসান। ডানদিক থেকে বদলী হিসেবে মাঠে নামা আসাদুল্লাহর মাইনাস নেপালের ডিফেন্ডার দিনেশ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সে দাঁড়ানো ইব্রাহিমের পায়ের সামনে এসে যায় বল। ঠান্ডা মাথার জোড়ালো শটে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড।

দুই মিনিট পর মালদ্বীপের হয়ে তৃতীয় ও ব্যাক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন ইব্রাহিম (৩-০)।

সবার আগে ঢাকায় বাহরাইন

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেতে সবার আগে ঢাকায় পৌঁছেছে বাহরাইন। আজ বুধবার সকালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির নারী ফুটবলাররা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছান। আগামী শনিবার থেকে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে এএফসির এই নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট।

ঢাকায় হবে প্রথম পর্বের ‘এফ’ গ্রুপের খেলা। বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও লেবানন খেলবে ঢাকার গ্রুপে। মেয়েদের এই টুর্নামেন্টে এবার দল বাড়ায় ফরম্যাটেও পরিবর্তন এনেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।

আগের আসরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা উঠেছিল চূড়ান্ত পর্বে। গতবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্ত পর্বে যায়গা পেয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার চূড়ান্ত পর্বে যেতে দুটি সিঁড়ি ভাঙ্গতে হবে দলগুলোকে। প্রথম রাউন্ডের ৬ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা দুই রানার্সআপ দল উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ৮ দল দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে ২ গ্রুপে। সেখান থেকে চারটি দল উঠবে চূড়ান্ত পর্বে। চূড়ান্ত পর্বের আয়োজক এবারও থাইল্যান্ড। স্বাগতিক থাইল্যান্ড এবং উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সরাসরি খেলবে শিরোপা নির্ধারনী পর্বে।

বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ সেপ্টেম্বর বাহরাইনের বিরুদ্ধে। ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ লেবানন। বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ২১ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচ ২৩ সেপেটম্বর ভিয়েতনামের সঙ্গে।

সবে সাফল্য শুরু-অনেক দূর যেতে হবে : সোহেল

দেশের শীর্ষ গলফারদের অন্যতম সাখাওয়াত হোসেন। কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের জায়গা করার জন্য লড়ছিলেন। অবশেষে মালয়েশিয়ায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুর টুর্নামেন্ট জিতে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। সেই সাফল্য কথাই তিনি ভাগাভাগি করেছেন বাংলাদেশের খেলার ভক্তদের কাছে।

প্রশ্ন : ট্রফি হাতে দেশে ফিরলেন, বিমানবন্দরেই পেলেন সংবর্ধনা—সব কিছু মিলিয়ে ব্যাপারটা কেমন লাগছে?

সাখাওয়াত হোসেন : আন্তর্জাতিক একটা ট্রফি হাতে দেশে ফিরবো এই স্বপ্ন তো আমার অনেক দিনের। এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ট্যুরের শিরোপা হলেও এ স্বপ্ন আমার পূরণ হয়েছে। এ আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। ফেরার পর সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি আপ্লুত। আমি বলতে চাই, এ সাফল্য আমার শুরু; এখান থেকে অনেক দূর যাওয়ার আছে আমার।

প্রশ্ন : প্লে-অফে ইগল মেরে সবাইকে বিস্মিত করেছেন, কিভাবে হলো এমন কিছু?

সাখাওয়াত : গত জুলাইয়েই আরেকটা টুর্নামেন্টে প্লে-অফে আমি হেরে গিয়েছিলাম। সেই শিক্ষাটাই আমি এ টুর্নামেন্টে কাজে লাগিয়েছি বলতে পারেন। আমার কোচ অ্যান্ড্রু আর্গুসের সঙ্গেও এ নিয়ে আমার কথা হয়েছে। উনার পরামর্শ ছিল যখন যে শটটা মারছি, সে শটটা নিয়েই শুধু ভাবতে। আগে-পরের সব কিছু মন থেকে মুছে ফেলার সূত্রেই আমার এ সাফল্য। এ পরিস্থিতিতে ইগল খেলাটা আসলেই অন্য রকম। আমি নিজেও অবাক হয়েছি।

প্রশ্ন : কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দুটি টুর্নামেন্টে শিরোপার জন্য প্লে-অফ খেলা। তার মানে যে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে আপনি নিজেও উদ্বিগ্ন ছিলেন, তা কি কেটে গেছে?

সাখাওয়াত : অনেকটাই। গলফে আবেগ নিয়ন্ত্রণটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। টুর্নামেন্ট থেকে টুর্নামেন্টে শুধু নয়, টুর্নামেন্টের মধ্যেও আমি ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেছিলাম সব কিছুতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে। এখন তো শুধু যে শটটা খেলছি তা নিয়েই ভাবার চেষ্টা করছি। যে কারণে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাটা সহজ হচ্ছে। এ জন্য আমার কোচের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সব কিছু সহজভাবে নেওয়ার শিক্ষাটাই তিনি আমাকে দিয়েছেন।

প্রশ্ন : অনেক দিন ধরেই তো অস্ট্রেলিয়ান এই কোচের সঙ্গে আপনি কাজ করছেন।

সাখাওয়াত : হ্যাঁ, সাত-আট বছর হবে। উনি মালয়েশিয়াতেই থাকেন। এ টুর্নামেন্টের সময় আমি তাঁকে পাশে পেয়েছি ভালোভাবেই।

প্রশ্ন : এ টুর্নামেন্ট জিতে তো আপনি আগামী বছর এশিয়ান ট্যুরে সুযোগ পাওয়ারও পথ করে ফেলেছেন?

সাখাওয়াত : হ্যাঁ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুরের অর্ডার অব মেরিটে শীর্ষ সাতে থাকতে পারলে আগামী বছর বাছাই ছাড়াই আমি এশিয়ান ট্যুর খেলতে পারব। আর সত্যি বলতে এটাই আমার লক্ষ্য। যে কারণে ভারতীয় সার্কিট পিজিটিআইয়ের চেয়ে আমি এডিটিতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি।

প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের জয়, ড্র আর্জেন্টিনার

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল বড় জয় পেলে‌ও ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। একই দিনে ভিন্ন স্বাদ পেয়েছে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। নেইমার-কুতিনহোরা ৫-০ গোলে এলসালভাদরকে পরাজিত করলে‌ও, কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে লিওনেল মেসিহীন আর্জেন্টিনা।

ব্রাজিলের হয়ে একটি গোল করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমার। দলের হয়ে জোড়া গোল পেয়েছেন রিসারলিসন এবং একটি করে গোল করেন কুতিনহো ও মারকুইনহোস। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই ম্যাচেই অভিষেক হয় ২৯ বছর বয়সি নেতো’র।

শক্তির বিচারে এল সালভাদরের জন্য অবাক করা কিছুই ঘটেনি। দ্বিতীয় ম্যাচে টানা দ্বিতীয় পেনাল্টিতে গোল করে ব্রাজিলিয়ানদের গোলের মুখ চেনান নেইমার। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটের সময় রিসারলিসন ডি-বক্সে ফেলে দেন এল সালভাদর ডিফেন্ডার ডমিনেজ। সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিকে সেলেসা‌ওদের এগিয়ে দেন নেইমার।

১২ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রিসারলিসন। গোলবারের কাছে রিসারলিসনের একেবারে পায়ের কাছে বল দেন নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটি করতে ভুল করেনি তিনি। ৩০ মিনিটে নেইমারের পাস থেকেই ব্যবধান ৩-০ করেন ফিলিপে কুতিনহো।

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে থেকেও একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ব্রাজিল। ৫০ মিনিটে রিসারলিসন আর‌ও এক গোল করলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে এতো গোল হজমের পর‌ও মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণ করেছে এল সালভাদর। কিন্তু কাজের কাজ করতে পারেনি তারা। উল্টো ম্যাচের শেষ মিনিটে নেইমারের ক্রস থেকে বল পেয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন মারকুইহোস।

অন্যদিকে, জিততে না পারলেও কলম্বিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা আরো বাড়িয়ে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০০৭ সালের পর আর্জেন্টাইদের বিরুদ্ধে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি কলম্বিয়ানরা।

মেসিকে ছাড়াই যে আর্জেন্টিনা অনেক ভালো দল সেটা গুয়েতেমালা ম্যাচে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ওই ম্যাচে ৩-০তে জিতেছিল মার্টিনেজ-সেলেসোরা। গোল করতে না পারলেও এদিন দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টাইনরা। কলম্বিয়ানরাও অবশ্য কম যায়নি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে। সাত মিনিটের সময় এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু এক্সকুয়েল পালাসিওর জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ান গোলকিপার ডেভিড আসপিয়া। এই ম্যাচের প্রথম একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন মাওরো ইকার্দি। তার প্রচেষ্টা‌ও ব্যর্থ করে দেন আসপিয়া।

পাল্টা আক্রমণে ৩০ মিনিটের সময় এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি রাদামেল ফ্যালকাও। প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও কোনো দল গোর-বন্ধাত্ম ঘোচাতে পারেনি। তাতে গোল শূন্য অবস্থাতেই মাঠ ছাড়ে দুদল।

কুকের টেস্টে ভারতের পরাজয়

ভারতের ম্যাচ ড্রয়ের স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়ে ওভালে ভারতকে ১১৮ রানে হারিয়ে পাঁচ টেস্টের সিরিজ ৪-১ জিতলো ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে অ্যালিস্টার কুককে গ্র্যান্ড ফেয়ারওয়েল দিলো রুটবাহিনী। শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেটকে গুডবাই জানান প্রাক্তন ইংরেজ ওপেনার।

ষষ্ঠ উইকেটে লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পান্ট ২০৪ রান যোগ করে ম্যাাচ ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগালেও ইংল্যান্ড দ্বিতীয় নতুন বল নিতেই ভারতের সব আশা হা‌ওয়ায় মিলায়। তবে ম্যাচ হারলেও রাহুল ও পান্টের লড়াকু ইনিংস প্রশংসা আদায় করে নেয়। ৪৬৪ রান তাড়া করতে নেমে ৩৪৫ রানে থামে ভারতের ইনিংস। ম্যাচ সেরা বিদায়ী টেস্টে শতরানকারী কুক। আর যুগ্মভাবে সিরিজের সেরা হন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং নবাগত ইংরেজ পেসার স্যাম কুরান৷

ইংল্যান্ডের মাটিতে কঠিন পরিস্থিতিতে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ট৷ তার আগে টেস্ট কেরিয়ারে পঞ্চম সেঞ্চুরি করে দলে নিজর জায়গা মজবুত করেন রাহুল৷ চা-বিরতি পর্যন্ত ভারতের স্কোর পাঁচ উইকেটে ২৯৮। রাহুল ও ঋষভ পান্টের ১৭৭ রানের পার্টনারশিপে লড়াইয়ে ফেরে ভারত। লাঞ্চ থেকে চা-বিরতিতে কোনও উইকেট না-হারিয়ে ১৩১ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। শেষ দু’ঘণ্টা লড়াই করতে পারলে ম্যাচ ড্র করে কিছুটা হলেও মুখরক্ষা করতে পারত ভারত৷ কিন্তু শেষ সেশনে ভারতের লড়াই শেষ করে দেন অ্যান্ডারসন-কুরানরা৷ সেই সঙ্গে গ্রেন ম্যাকগ্রাকে টপকে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী পেসার হন জিমি এন্ডারসন৷

সোমবার দ্বিতীয় ইনিংসে আট উইকেটে ৪২৩ রানে ঘোষণা করেছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৪০ রানে এগিয়ে থাকার সুবাদে ভারতের সামনে জয়ের টার্গেট ছিল ৪৬৪ রানের৷ কিন্তু শুরুতেই ভারতীয় ইনিংসের তিন উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে রুটবাহিনী৷ মাত্র দু’ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ভারতের তিন ব্যাটসম্যান (শিখর ধাওয়ান ১, বিরাট কোহলি ০, চেতেশ্বর পূজারা ০)৷ কিন্তু সেখান থেকে ভারতীয় ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান অজিঙ্কা রাহানে এবং লোকেশ রাহুল৷ চতুর্থ উইকেটে ১১৮ রান যোগ করে রাহুল-রাহানে জুটি৷ তারপর দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ফের চাপে ভারত৷

১১৮ বলে ১৪টি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন পান্ট৷ ভারতের প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করে নজির গড়েন দিল্লির এই তরুণ। শুধু তাই নয়, ভারতের চতুর্থ ক্রিকেটার (কপিল দেব, হরভজন সিং, ইরফান পাঠানের পর) হিসেবে ছক্কা মেরে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন পান্ট৷

সিমোনা হালেপই শীর্ষে

মহিলা টেনিস র‌্যাংকিং-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন রোমানিয়ার সিমোনা হালেপ। বছরের চতুর্থ ও শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেনের শিরোপা জয় করা জাপানের নাওমি ওসাকা ১২ ধাপ এগিয়ে র‌্যাংকিং-এর শীর্ষ দশে প্রবেশ করেছেন। ওসাকা এখন অবস্থান করছেন সপ্তম স্থানে। তার রেটিং পয়েন্ট ৪,১১৫।

শীর্ষ নারী টেনিস তারকা সিমোনা হালেপ

ইউএস ওপেন শুরুর আগে ওসাকা ছিলেন ১৯তম স্থানে। ইউএস ওপেনের সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলতে পারবেন, এমন বিশ্বাসও ছিলো না ওসাকার। কিন্তু বিশ্বকে চমকে দিয়ে এবারের আসরের ফাইনালে উঠেন ওসাকা। এখানেই চমক থেমে রাখেননি তিনি। ২৩বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী সেরেনাকে ফাইনালে বিধ্বস্ত করে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে নেন ২০ বছর বয়সী তরুণী ওসাকা। এটিই ছিলো তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য এবং প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়। গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টগুলোতে ওসাকার সেরা সাফল্য ছিলো তৃতীয় রাউন্ড। ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডনের তৃতীয় রাউন্ড পর্যন্ত গিয়েছিলেন ওসাকা।

ইউএস ‌ওপেন জয়ী নাওমি ওসাকা

এবারের ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন হালেপ। এমন লজ্জার বিদায়ের পরও র‌্যাংকিং-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। ৮,০৬১ রেটিং পয়েন্ট হালেপের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে। হালেপের পরই দ্বিতীয়স্থানে রয়েছেন ডেনমার্কের ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। হালেপের মত ইউএস ওপেনে ভালো পারফরমেন্স করতে পারেননি তিনিও। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেন ওজনিয়াকি। সাফল্য না পেলেও, র‌্যাংকিং-এ কোন হেরফের হয়নি তার। ৫,৯৭৫ পয়েন্ট রয়েছে ওজনিয়াকির।

শীর্ষ নারী টেনিস তারকা সিমোনা হালেপ

শীর্ষ দশ খেলোয়াড়ের র‌্যাংকিং (মহিলা) :
১. সিমোনা হালেপ (রোমানিয়া) ৮০৬১
২. ক্যারোলিন ওজনিয়াকি (ডেনমার্ক) ৫৯৭৫
৩. অ্যাঞ্জেলিক কারবার (জার্মানি) ৫৪২৫
৪. ক্যারোলিন গার্সিয়া (ফ্রান্স) ৪৭২৫
৫. পেত্রা কেভিতোভা (চেক প্রজাতন্ত্র) ৪৫৮৫
৬. ইলেনা সভেৎলিনা (ইউক্রেন) ৪৫৫৫
৭. নাওমি ওসাকা (জাপান) ৪১১৫
৮. ক্যারোলিনা প্লিসকোভা (চেক প্রজাতন্ত্র) ৪১০৫
৯. স্লোয়ানি স্টিফেন্স (যুক্তরাষ্ট্র) ৩৯১২
১০. হেলেনা ওস্তাপেঙ্কো (লাতভিয়া) ৩৭৮৭

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াড এখন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। জর্জিয়ার বাটুমি শহরে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সর্বোচ্চ দলগত এ আসরের পর্দা উঠবে। সুইস লিগ পদ্ধতিতে বিশ্বের দেশগুলো ওপেন ও মহিলা বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বরাবরের মতো বাংলাদেশও এ আসরে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন অলিম্পিয়াডের ওপেন ও মহিলা বিভাগে দল পাঠাবে। বর্তমানে দলটিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গ্র্যান্ড মাস্টার ইগর রাওসিস। জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে জাতীয় দল গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে ১৫ সদস্যের লাল-সবুজের দল অলিম্পিয়াডে যাচ্ছে। এ ছাড়া কন্টিনজেন্টের বাইরেও নিজ খরচায় অনেক কর্মকর্তারা জর্জিয়ায় যাচ্ছেন। উল্লেখ্য এ নিয়ে বাংলাদেশ ১৮বারের মত বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট : হেড অব ডেলিগেশন কে এম শহিদউল্যা, ডেলিগেট সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম। আরবিটার হারুন অর রশিদ।

ওপেন বিভাগ : গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, গ্র্যান্ডমাস্টার মোল্লা আবদুল্লাহ আল রাকিব, গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব ও ফিদে মাস্টার খন্দকার আমিনুল ইসলাম ও ফিদে মাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান।

ক্যাপ্টেন : সুপার গ্র্যন্ড মাস্টার ইগর রাওসিস।

জাতীয় মহিলা দল : আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা, মহিলা ফিদে মাস্টার শারমিন সুলতানা শিরিন, মহিলা ফিদে তনিমা পারভীন ও মহিলা ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানা।

ক্যাপ্টেন : মহিলা ক্যান্ডিডেট মাস্টার মাহমুদা হক চৌধুরী মলি।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ফেভারিট: সাকিব আল হাসান

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলেই বিশ্বাস করেন দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে কোন দলকেই ছোট হিসেবে দেখছেন না বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। দুবাইয়ে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শেষে এসব কথা বলেন, সাকিব আল হাসান।

গত ছয় বছরে এশিয়া কাপের তিন আসরের দুটিতেই ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। তাছাড়া ক্রিকেটের তিন সংস্করণের মধ্যে ওয়ানডেতেই সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী টাইগাররা। সিনিয়র ক্রিকেটাররাও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। সেই সাথে দলে আছেন বেশ কিছু ত