রাত ১২:০০, শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

সুইডেনে আজ রোববারই শুরু হয়ে গেছে ওয়ার্ল্ড টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ। আসরে অংশ নেয়ার কথা ছিল সোনম সুলতানা সোমা, রহিমা আক্তার ও মৌমিতা আলম রুমির। কিন্তু ভিসা জটিলতায় সেখানে অংশ নেয়া হয়নি তাদের।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার হাসান মুনীর। তিনি জানান, সুইডেনে যাওযার জন্য আমরা ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশস্থ সুইডিশ দূতাবাসে যোগাযোগ করি। পরদিন ইমেইল করে দূতাবাস ও ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের অফিসে মেইল বার্তা পাঠাই। ২২ এপ্রিল ফের যোগাযোগ করি। সুইডেন থেকে নোট ভারবাল করতে বলে। সেটাও করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে ভিসা দেয়নি তারা। ভিসা জটিলতায় বিশ্ব টেবিল টেনিসে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

তিনি আরো জানান, মূলত ২০ ও ২১ এপ্রিল যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার ছিল। এদিক দিয়ে দু’দিন পিছিয়ে গিয়েছিলাম আমরা। তবে আমাদের দিক থেকে কোন প্রকার ক্রুটি ছিল না। কিন্তু তাদের সদিচ্ছ্বা ছিল না বলেই আমরা যেতে পারিনি।

টেবিল টেনিসে কোন পথে?

এস এম আশরাফ

‘ব্রোঞ্জতো পাক্কাই, আমাদের লক্ষ্য রৌপ্য জেতা’। সদ্য শেষ হওয়া দক্ষিণ এশীয় ক্লাব কাপ টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নেপাল কোচ সঞ্জয় আরিয়াল। ‘রৌপ্যতো নিশ্চিতই তবে স্বর্নের আশা করতে পারছিনা’। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ এশীয় ক্লাব কাপ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশীপে নেপালের লক্ষ্যটাই পুরন হয়। রৌপ্য জিতে নেয় সেদেশের ক্লাব হুয়াই টিটি। আর তাদের কাছে হেরেই ব্রোঞ্চের হতাশায় পুড়তে হয় স্বাগতিকদের পাললিক ক্লাবকে। আসরের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ভারতের ক্লাব ওয়েস্ট বেঙ্গল।

এবার দু দলের দু রকম ফলাফলের কারনটা বের করা যাক। আগষ্টে এশিয়ান গেমসে টেবিল টেনিস ইভেন্টকে সামনে রেখে নেপালের প্রস্ততিটা শুরু হয়েছে দেড় বছর আগে থেকেই। বয়স ভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১০,১২,১৪,১৬ এই চারটি গ্রুপে ভাগ করে চলছে তাদের ক্যাম্প। অথচ বাংলাদেশে বয়সভিত্তিক কোন দলই নেই। আর এবার যারা বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন তারা টুর্নামেন্ট শুরুর খবরটাই জানতে পারেন কিছুদিন আগে। তাই সেভাবে প্রস্ততিও নিতে পারেননি। আরো বিস্ময় হলো এই পেশাদারিত্বের যুগেও বাংলাদেশ জাতীয় দলে নেই কোন কোচ। স্বাগতিকদের পাললিক ক্লাবও খেলেছে কোচ ছাড়াই। তাই রৌপ্য জয়ের মিশনে নেপালের সাফল্য আর বাংলাদেশের ব্যর্থতা মোটেও ঝড়ে বক পড়া নয়।

প্রতিযোগীতার পেছনের গল্পটা

পুরো আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে চট্টগ্রামের ‘অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’। প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী মেজবান করে যার নামে ট্রাস্ট তার মৃত্যুবার্ষীকি পালন করতো পরিবারের সদস্যরা। তবে এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে করার অভিপ্র্রায় থেকেই এই আয়োজনের সূত্রপাত। মোস্তফা সাহেবের ছেলে আজম চৌধুরী একজন টেনিস খেলোয়াড়। সেই সুত্রেই যোগাযোগ বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাথে। তারাই প্রস্তাবটি দেয় দক্ষিণ এশীয়ার সেরা ক্লাবগুলো নিয়ে এমন আয়োজনের। সেই লক্ষ্যে পাঠানো আমন্ত্রন পত্র স্বাদরে গ্রহন করে ভারতের টেবিল টেনিস লিগ চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গল ক্লাব, ভুটানের থিম্পু টিটি ক্লাব, নেপালের হুয়াই ক্লাব, মালদ্বীপের মলদোভিয়ান ক্লাব, শ্রীলঙ্কার সাউদার্ন ক্লাব এবং বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন পাললিক ক্লাব। পাকিস্তানের জিমখানা আসতে পারেনি তাদের খেলোয়াড়রা কমনওয়েলথ গেমসে চলে যাওয়ায়।

ভারত কেনো এগিয়ে?

টেবিল টেনিসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ফলাফলে চোখ বুলালে দেখা যাবে বিশ^মঞ্চে একমাত্র ভারতীয়রাই প্রতিদন্ধীতা গড়ে তুলছে। ভারতের যে প্লেয়াররা এবার বাংলাদেশে খেলতে আসেন তারা বি’ দলের সদস্য। মুল দল তখন অস্ট্রেলিয়ায় কমনওয়েলথ গেমসে। অথচ এই দলটির কাছেই পাত্তা পায়নি বাকি ৫ দল। অবশ্য এর ব্যাতিক্রম হলে সেটাই হতো অঘটন। কমনওয়েলথ গেমসে দুবারের স্বর্ণ আার একবারের ব্রোঞ্জজয়ী শুভজিত সাহাকে নিয়ে ভারতের যে দলটি এই টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে তারা সারা বছর খেলার মধ্যেই থাকে।বাকিদের থেকে ভারতের এগিয়ে থাকার কারনটা জানতে চেয়েছিলাম শুভজিতের কাছে। উত্তরটা শুনুন তার মুখেই, ‘দেখুন একটা প্লেয়ার সব ভুলে তখনই খেলায় মন দিতে পারবে, যখন দেখবে তার ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চিয়তা নেই। ভারতে খেলোয়াড়দের এগিয়ে থাকার অন্যতম কারন এটাই। আমাদের খেলা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে আর ভাবতে হয়না। আমাদের ওখানে খেলোয়াড়দের চাকরি দিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন সংস্থায়। সে জন্য খেলতে পারি নিশ্চিন্তে’। যে দেশে ক্রিকেটেই ধ্যানজ্ঞান সকলের। সেখানে টেবিল টেনিসের মতো খেলাতে প্লেয়ার সংকটের ধারনা হতে পারে যে কারো। তবে বেঙ্গল ক্লাবের কোচ সুব্রত রায়ের বক্তব্যে পরিস্কার হয়ে যায় এই খেলাতেও তরুনদের আগ্রহের কথা। তিনি বলেন,‘যে কোন খেলায় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য একটা ভুমিকা পালন করে, এই যেমন শিলিগুড়িতে ২৫ থেকে ৩০ টা ক্লাব আছে টেবিল টেনিসের। ক্রিকেট ক্লাব হয়তো এর চেয়ে চার পাঁচটা বেশী হবে। এখানকার খেলোয়াড় সহজে চাকরি পেয়ে যায় বলে খেলতে পারে মন খুলে। সকালে হাজিরা খাতায় একটা স্বাক্ষর দেওয়া ছাড়া সময় দিতে হয়না চাকরিতে। তাই ওরা সকালে এবং বিকেলে টানা তিন ঘন্টা অনুশীলন করতে পারে। বিদেশে অনেক লিগও খেলতে যায়। গত বছর থেকে চালু হয়েছে ফ্রাঞ্চাইজি লিগ যা আরো সাহায্য করছে খেলার উন্নতিতে। অবশ্য শুধু চাকরির নিশ্চয়তাই নয়, যে কোন খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সরকার এবং ফেডারেশনের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের টেবিল টেনিস ফেডারেশন সেই কাজটি যথার্থ ভাবেই করে চলেছে। খেলোয়াড় বাছাইয়ের কাজটা জাতীয় দলের কোচরা করে থাকেন অনুর্ধ্ব-১০ থেকেই। সেখান থেকে অনুর্ধ্ব-১২, অনুর্ধ্ব-১৪, অনুর্ধ্ব-১৬ এবং বি দল ঘুড়ে জাতীয় দলে সুযোগ করে নেয় খেলোয়াড়রা।

বাংলাদেশীদের আফসোস

বয়স ৩৫ ছাড়িয়েছে দুজনেরই। এখনও তারা র‌্যাকেট হাতে বাংলাদেশের কান্ডারী। বলছি মানস চৌধুরী এবং মাহবুব বিল্লার কথা। কথা প্রসঙ্গে মানস চৌধুরীকে একবার প্রশ্ন করেছিলাম, এখনো কেনো খেলে যাচ্ছেন, আর কি কেউ নেই।‘উত্তরে তিনি বললেন, আমাকে আগে কেউতো হারাক, আমিতো তার কাছেই জায়গা ছেড়ে দেবো। সে অপেক্ষাতেইতো এখনো সময় গুনছি।’ আসলে এটাই বাস্তবতা। খেলোয়াড় নেই আমাদের। তাই গত এক দশকে খন্দকার মাহবুব বিল্লাহ ছয়বার আর মানস চৌধুরী জাতীয় চ্যাম্পিয়ণ হয়েছেন পাচবার। যদিও গত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে দুজনের রাজ্য দখল করে নিয়েছিলেন জাভেদ আহমেদ। সে কথা স্মরন করাতে দুজনই স্বস্তির নিশ^া:স ফেললেন। কেউ আসছে বলে। তবে খুব বেশী আশা দেখছেননা তারা। দায়টা ফেডারেশনের ঘাড়েই চাপালেন মানস। ‘কর্মকর্তারা ভালো ফল চান। আরে ভাই আগেতো গাছ লাগান তারপর না ফল খাবেন। একই সুর মাহবুবের কন্ঠেও, ‘দেশের অন্য জেলাগুলোতে টেবিল েেটিসর চর্চা নেই। নড়াইলে একসময় খেলাটা হতো এখন ওরাও বিবর্ন। কর্মকর্তারা একু আন্তরিক হলে কিন্ত ভালো করতে পারি আমরা।

অসহায় ফেডারেশন

টেবিল টেনিস নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরলেন ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক খন্দকার হাসান মুনীর। সব সমস্যার মুলে অর্থকেই সামনে নিয়ে আসলেন, ‘দেখুন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বছরে আমরা বারো ল টাকা পাই মাত্র। মানে প্রতিমাসে এক লাখ টাকা। সেখানে কর্মচারীদের বেতন আর রনাবেনেই চলে যায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তারপর আর কি করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়। স্পন্সরদের এখানে আনতেও বেশ বেগ পেতে হয়।’ তাই ক্রীড়া মন্ত্রনালয়কে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহবান জানালেন। তার মতে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে অর্থ বেশী খরচ করা হয়, তা না করে বরং, টেবিল টেনিসে বরাদ্দ বাড়ালে সাফল্য পাওয়াার সম্বাবনাও বেড়ে যাবে।’ পাশাপাশি নতুন আশার কথাও শোনালেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে একজন বিদেশী কোচ নিয়োগ দিতে চান তারা। ফেডারেশনের কথার সঙ্গে কাজের মিল হলে আসলে লাভবান হবে বাংলাদেশই। সে দিকটাতেই তাকিয়ে টেনিস খেলোয়াড়রাও।

সাউথ এশিয়ান টিটি ক্লাব চ্যাম্পিয়নশীপ

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত বাদে অন্য কোন দেশে টেবিল টেনিসের প্রচল অনেকটাই সীমিত। এস এ গেমস কিংবা সাউথ এশিয়ান আসরই এ অঞ্চলের বড় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা। তবে ইউরোপ ও আফ্রিকায় ক্লাবভিত্তিক একাধিক টুর্নামেন্ট হয় প্রতি বছর। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে বসছে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশীপের আসর। আগামী ৭ থেকে ৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে, এডভোকেট গোলম মোস্তফা মেমোরিয়াল সাউথ এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশীপে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবে সাউথ এশিযার ছয় দেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন ক্লাব।

ভারতের বেঙ্গল ক্লাব, ভুটানের থিম্পু টিটি ক্লাব, নেপালের হুয়াই টিটি ক্লাব, মালদ্বীপের মলদোভিয়ান ক্লাব, শ্রীলংকার সাউদারন ক্লাব ও বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন পাললিক গ্রুপ টিটি ক্লাব প্রথমবারের মত আয়োজিত আসরে অংশ নেবে। আগামীকালের মধ্যেই দলগুলো চট্টগ্রামে পৌছবে। ভিসা জটিলতা এবং শীর্ষ খেলোয়াড়রা কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেয়ার পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন দল আসছেনা।

আজ বুধবার শহীদ তাজউদ্দিন ইনডোর স্টেডিয়ামে প্রতিযোাগিতা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন টিটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসান মুনীর। অন্যানের মধ্যে উপস্থিাত ছিলেন ফেডারেশনের সহ সভাপতি জাহাংগীর আলম ও মুনীরা মোর্শেদ হেলেন, পৃষ্ঠপোষক এডভোকেট গোলাম মোস্তফা মোমোরিয়াল ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা রহমান ও সচিব আজম চৌধুরী।

খেলা হবে রবিন লিগ পদ্ধতিতে। আগামী শনিবার চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্ধোধন করবেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আজম নাসির উদ্দিন। সোমবার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।

ডিআরইউ টিটিতে জাফর চ্যাম্পিয়ন রুমেল রানার্স-আপ

প্রাইম ব্যাংক-ডিআরইউ বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টিটি ফেডারেশনের সহযোগিতায় ও ডিআরইউ আয়োজিত টেবিল টেনিস টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সংগ্রামের জাফর ইকবাল।আজ বুধবার ফাইনালে জাফর ইকবাল ২-০ সেটে হারিয়েছেন জনকন্ঠের রুমেল খানকে।

এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে জাফর ইকবাল (সংগ্রাম) ২-০ সেটে তারিকুল ইসলাম মাসুমকে (চ্যানেল আই) এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রুমেল খান ২-০ সেটে মাকসুদ-উন-নবীকে (চ্যানেল ২৪) হারান। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় তারিকুল ইসলাম মাসুম (চ্যানেল আই) মাকসুদ-উন-নবীকে (চ্যানেল ২৪) পরাজিত করেন।

জাতীয় টেবিল টেনিসে মহিলা দলগত বিভাগের ফাইনালে আনসার

৩৭তম জাতীয় সিনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশীপে মহিলা দলগত বিভাগের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ আনসার। পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর টেবিল টেনিস জিমনেসিয়ামে (উডেন ফ্লোর) সেমিফাইনালে তারা ঢাকা জেলাকে হারিয়ে ফাইনালে ‌ওঠে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সোমা ৩-০ সেটে ঢাকা জেলার মোনামিকে এবং আনসারের মৌ ৩-০ সেটে ঢাকা জেলার সিমাকে হারিয়ে ফাইনালে উন্নীত হন। এদিকে, মহিলা দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সোমা ‌ও মৌ ৩-০ সেটে ঢাকা জেলার তানিয়া ‌ও সিমাকে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে।

এবার জেলা, বিভাগ, সংস্থা (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহনে মোট ৪৫টি দল নিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দশ লাখ টাকার প্রতিযোগিতা নেই প্রাইজমানি

আগামী মঙ্গলবার থেকে মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় সিনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশীপ। ৩৭তম এ আসরে দেশের বিভিন্ন জেলা, বিভাগীয় ও ক্রীড়া সংস্থার ৪৫টি দল অংশ নিচ্ছে। প্রায় দশ লাখ টাকা বাজেটের চ্যাম্পিয়নশীপ হলেও প্রতিযোগিদের জন্য নেই কোনো প্রাইজমানি। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলগুলোকে ক্রেস্ট নিয়েই সন্তুষ্ট রাখতে চাইছে ফেডারেশন। আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিগ বাজেটের এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ। আজ দুপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এ সকল তথ্য তুলে ধরেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাসান মুনীর।

এবারের আসরে প্রতিযোগিরা সাতটি বিভাগে পদকের জন্য লড়াই করবে। এবারই সর্বোচ্চ ৩৮টি জেলা দল অংশ নিচ্ছে জাতীয় এ চ্যাম্পিয়নশীপে। এছাড়াও বাংলাদেশ সেনা বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিকেএসপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আনসার ও ভিডিপি দল অংশ নেবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাসান মুনীর জানান, ‘এর আগে অনেক জেলাই নিজস্ব খেলোয়াড় ছাড়া অন্য জেলার খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতো। কিন্তু এবার আমরা সেটা বন্ধ করেছি। অন্তত একজন প্লেয়ার হলেও নিজ জেলার হতে হবে। তা না হলে কোনো জেলা অংশ নিতে পারবে না। এ নিয়ম চালু করায় এবার অনেক প্লেয়ার তৈরি হয়েছে।’ প্রাইজমানি না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে প্রাইজমানি ব্যবস্থা কখনোই ছিল না। চ্যাম্পিয়ন হওয়াই গর্বের বিষয় প্লেয়ারদের জন্য। তবে ভবিষ্যতে প্রাইজমানির ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না- সেটা নিয়ে আলোচনা করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাইদুল হক সাদী ও পিআরও আহসান আহম্মেদ অমীত।

জোকোভিচকে হারিয়ে ফাইনালে নাদাল

ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে নিজের প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই সেরে নিচ্ছেন স্প্যানিশ তারকা রাফায়েল নাদাল। বার্সেলোনা ওপেনের শিরোপা জয়ের পর এবার মাদ্রিদ ওপেনের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন স্প্যানিশ এই তারকা। সেমিফাইনালে সাবেক নম্বর ওয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচকে ৬-২ এবং ৬-৪ সেটে পরাজিত করেন নাদাল।

২০১৪ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে সর্বশেষ নোভাক জোকোভিচকে হারিয়েছিলেন রাফায়েল নাদাল। এরপর নাদালের বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচে জয় পান সার্বিয়ার এই টেনিস তারকা। অবশেষে তিন বছর পর জোকোভিচের জয়রথ থামালেন নাদাল।

nadal

ম্যাচ জয়ের পর নাদাল বলেন, ‘দারুণ একটা জয়। জোকোর বিপক্ষে জিততে হলে আপনাকে নিশ্চিত সেরাটাই খেলতে হবে। অন্যথায় তা মোটেই সম্ভব না।’

মাদ্রিদ ওপেনের সেমিফাইনালের এই ম্যাচটি ছিল নাদাল-জোকোভিচের ৫০তম দ্বৈরথ। আর এ দ্বৈরথ দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত হয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এছাড়া রিয়ালের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার রাউল গঞ্জালেজও উপভোগ করেছেন নাদাল-জোকোভিচের লড়াই।

ক্রিডেন্স কাপ প্রাইজমানি র‌্যাংকিং টেবিল টেনিস শুরু

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের আয়োজনে বৃস্পতিবার পল্টন ময়দানস্থ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ক্রিডেন্স কাপ প্রাইজমানি র‌্যাংকিং টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা।

পুরুষ ও মহিলা একক ইভেন্টে নকআউট পদ্ধতিতে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। টুর্নামেন্টে ৬০ জন পুরুষ ও ২০ মহিলা টিটি খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দিনে ৮০টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্টের জন্য স্পন্সর ক্রিডেন্স দিচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা বিজয়ীদেরকে প্রাইজমানি হিসেবে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসান মুনীর।

পর্দা নামলো শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার

সমাপনী বক্তব্য ও বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস প্রতেযোগিতা ২০১৬ এর। বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সহযোগিতায় ‘সকল শিশুর জন্য খেলাধুলা’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে গেল ১৮ অক্টোবর দেশের ৪১ টি স্কুলের মোট ২৬০ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছিল প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের।
শুক্রবার বিকেলে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়াম সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ডঃ শ্রী বীরেন শিকদার এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ সাজ্জাদ হায়দার, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ডিরেক্টর-ইন-চার্জ ইসমত জামিল আখন্দ এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারি মাকসুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীরেন শিকদার বলেন, ‘বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও গৌরব অর্জনে ক্রীড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে একটি জাতি তার নিজস্ব ভাবমূর্তিও তৈরি করতে পারে যা আমরা ইতোমধ্যেই পেরেছি। ক্রীড়ায় বাংলাদেশ আজ অনন্য এক উচ্চতায় অবস্থান করছে। শেখ রাসেল টেবিল টেনিস আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা আরও গতিশীল হলো। এই টুর্নামেন্ট থেকে যারা সেরা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে সামর্থ্য হবে তারাই ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
ডঃ সাজ্জাদ হায়দার বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন সরকার প্রধান খুব কমই দেখা যায় যিনি মাঠে গিয়ে খেলা দেখে নিজ দেশের ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রাণিত করে থাকেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তেমনই একজন। জাতীয় উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়ার উন্নয়নে তার সুনজরের জন্যই আজ আমাদের ক্রীড়াঙ্গন বিশ্ব দরবারে দাপট দেখিয়ে চলেছে। ক্রীড়ায় প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রয়াসে উদ্বুদ্ধ হয়ে আর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও দাপুটে করে তুলতে বসুন্ধরা গ্রুপ শেখ রাসেলের ৫৩তম জন্মদিনে ‘শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। খেলাধুলার মধ্য দিয়েই আমরা শেখ রাসেলকে এদেশের মানুষের কাছে অমর করে রাখতে চাই।’
আমন্ত্রিত অতিথিদের সমাপনী বক্তব্য শেষে টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

জুলাইতে আসছে সানিয়ার আত্মজীবনী

এখনও বাজারে আসেনি। ঘোষণা দেয়া হয়েছে আগামী জুলাইতে বাজারে ছাড়া হবে ভারতীয় টেনিসের গ্ল্যামার গার্ল সানিয়া মির্জার আত্মজীবনী। তাতেই শোরগোল পড়ে গেছে। এখনও আলোচনার তুঙ্গে চলে এসেছে সানিয়ার আত্মজীবনী। প্রকাশক হার্পার কলিন্স জানিয়েছেন, জুলাইতে ‘এইস এগেইনস্ট অডস’ নামে আত্মজীবনীটি বাজারে ছাড়া হবে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সানিয়ার আত্মজীবনী লিখেছেন তার বাবা ইমরান মির্জা। সানিয়া মির্জার পেশাদার জীবনের প্রথম এক ডজন বছরের কাহিনি নিয়েই রচিত হয়েছে এই বইটি। তাতে উঠে আসছে কিভাবে টেনিসের ডাবলসে তিনি বিশ্বর্যাংকিংয়ে এক নম্বরে উঠে আসলেন সেই কাহিনি।

সানিয়ার আত্মজীবনীর প্রকাশক হার্পার কলিন্স-এর প্রধান সম্পাদক জানিয়েছেন, ‘টেনিসবিশ্বে সানিয়ার অসাধারণ কৃতীত্ব সবার কাছে প্রেরণামূলক। আশাকরি, এই বইটা পরবর্তী প্রজন্মের টেনিস খেলোয়াড়দের কাছে একটা সার্থক রোডম্যাপ হবে। সানিয়ার আত্মজীবনী নিয়ে আমরা কাজ করতে পেরে গর্বিত।’

সানিয়া নিজে জানিয়েছেন, ‘আশা করি, এই বইটি আগামী প্রজন্মকে রাস্তা দেখাবে। আমার গল্প যদি একজন তরুণ বা তরুণীকেও অনুপ্রাণিত করে, ভবিষ্যতে সে যদি গ্র্যান্ডস্লাম জিততে পারে, সেটা হবে আমার সেরা পাওয়া। শুধু টেনিস কোর্টে নয়, চলার পথে, এগোনোর পথে সানিয়াকে যারা সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবার কথা আছে এই বইয়ে।’

টিটি ক্যাম্পে দুই ভারতীয় পার্টনার

১২তম এসএ গেমসের বিভিন্ন ইভেন্টের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের অনুশীলন ক্যাম্পে ভারতের দুই খেলোয়াড় সৌভিক ব্যানার্জী (পশ্চিম বাংলা দলের খেলোয়াড়) ও স্যায়নতন দে (পশ্চিম বাংলার ইয়ুথ ফাইনালিস্ট) যোগ দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের অধিকতর মান উন্নয়নে ভারতের দুই খেলোয়াড় বাংলাদেশ দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্র্যাকটিস পার্টনার হিসেবে গত ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখ যোগদান করেছেন। ইতোপূর্বে স্নেহময় মল্লিক ও শুভেন্দু শাও গত ২৭ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখ টিটি দলের সাথে যোগ দিয়েছিলেন।

ঘরে ঘরে টেবিল টেনিস

গিনেস বুক রেকর্ডধারী বাংলাদেশের টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু এখন নাট্যকার। সৈয়দ কামরুল হুদা, এনায়েত হোসেন মারুফরা ব্যবসায়ী। ক্যাপ্টেন মাসুদ, সাইদুল হক সাদীরা বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত। খুলনা বিকেএসপির কোচ মোস্তফা বিল্লাহ। নাসিমুল হাসান কচি, মোসাদ্দেকুল হক রচি, বখতিয়ার মাহমুদ সোহেল, নোমান সুফিয়ান, আবেদ হোসেন ফারুক- সবাই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু একজায়গায় সবাই এক। সবাই টেবিল টেনিসের সাবেক তারকা খেলোয়াড়। যাদের রক্তে টিটি। তাই তো নিজেদের পেশা সামলানোর পাশাপাশি টিটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তারা। ‘ঘরে ঘরে টেবিল টেনিস’ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন এই সাবেকরা। আজ বিশ্ব টেবিল টেনিস দিবস। এ দিবসেই নিজেদের প্রকল্পকে ক্রীড়াপাগল মানুষের সামনে আনতে চাইছেন তারা

টেবিল টেনিসেরই আরেক নাম পিংপং। ‘টেবিল টেনিস সবার জন্য, সর্বত্র’- এ স্লোগানকে ধারণ করে ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশন (আইটিটিএফ)। দীর্ঘ ৯০ বছর পর এবারই প্রথম ৬ এপ্রিলকে বিশ্ব টিটি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে এই সংস্থা। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রতিদিনই টেবিল টেনিসের’। আইটিটিএফের অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের প্রায় ২২০টি দেশ পালন করবে এ দিবস। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস ও রাগবির পরই বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা টেবিল টেনিস। পিংপং খেলাকে ঘিরে ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দলকে তাদের দেশে টিটি খেলার আমন্ত্রণ জানায় চীন। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটে।

চীনের মতো না হলেও বাংলাদেশেও অনেকটা জনপ্রিয় টেবিল টেনিস। জানা গেছে, প্রতি বছর প্রায় এক হাজার টিটি টেবিল বিক্রি হয়। কিন্তু হতাশার খবর হল, এই সময়ে ১০ জন ভালোমানের খেলোয়াড়ও তৈরি হয় না। মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরির জন্যই একটি প্যাকেজ হাতে নিয়েছেন দেশের সাবেক তারকা টিটি খেলোয়াড়রা। এ বিষয়ে সাইদুল হক সাদী বলেন, ‘আমাদের প্যাকেজে রয়েছে উন্নতমানের একটি টেবিল, চারটি উন্নতমানের ব্যাট, ৬০ পিস বল, নেট স্ট্যান্ড ও টেকনিশিয়ান। ছোট জায়গায় টিটি খেলা যায়। বাড়ির কার পার্কিং, ডাইনিং স্পেস, ড্রয়িং রুম, কমিউনিটি রুম এবং পাড়ার ক্লাবও হতে পারে টিটি খেলার আদর্শ স্থান। এই প্যাকেজের আওতায় আগ্রহীদের আমরা ১৫ দিনের জন্য একজন কোচও দেব। খেলার আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি পৌঁছে দেয়া হবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে। আমরা মূলত ৬ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের খেলা শেখাতে আগ্রহী। মহিলাদের জন্য থাকবেন মহিলা কোচ।’ তিনি যোগ করেন, ‘প্রযুক্তির এই যুগে টিটি খেলাটা যাতে সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, ছোট ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটের পাশাপাশি যাতে টিটি খেলার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে- সে কারণেই আমাদের এমন উদ্যোগ।’ বিশ্ব টিটি দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন কোনো উদ্যোগ না নিলেও সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়

সানিয়া মির্জা অনেক দামি!

মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকার সানিয়া মির্জাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল একটি অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণের জন্য। আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণও করেছিলেন কিন্তু এর বিনিময়ে চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত আর ৭৫ হাজার রুপির সাজগোজের সরঞ্জাম চেয়ে বসাতেই শোরগোল উঠেছে ভারত জুড়ে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ডাবলস তারকা সানিয়াকে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানই দেখিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ সরকার। হায়দরাবাদ থেকে ভূপালে যাতায়াতের জন্য তাঁরা সানিয়াকে দিতে চেয়েছিল ইকোনমি ক্লাসের বিমান টিকিট। ভূপালে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হতো রাজকীয়ই—পাঁচ তারকা হোটেলে। অনুষ্ঠানের সময় সার্বক্ষণিক গাড়িই শুধু নয় বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থাও ছিল তাঁর জন্য। কিন্তু চার্টার্ড বিমান আর ৭৫ হাজার রুপির সাজগোজের সরঞ্জাম দাবি করে বসায় এই টেনিস তারকার ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ তারা।
ক্ষুব্ধ মধ্যপ্রদেশ সরকার সানিয়ার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে এই অনুষ্ঠানের অতিথি করার আর কোনো কারণই অনুভব করেনি। তাঁর বদলে ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন তারকা পুলেল্লা গোপিচাঁদকে দিয়েই কাজ সেরেছে তারা। গোপিচাঁদ নাকি একেবারে সানন্দেই গ্রহণ করেছেন মধ্যপ্রদেশ সরকারের আমন্ত্রণ। অতীতে ব্যাডমিন্টন তারকা সানিয়া নেহওয়ালও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে মধ্যপ্রদেশ সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী যশোধারা রাজ বলের, ‘সানিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা। আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। কিন্তু তাঁর চার্টার্ড বিমান ও দামি সাজ সরঞ্জামের দাবি অযৌক্তিক, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য।’ সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

হাত ছাড়াই টেবিল টেনিস খেলেন মানুষটি!

মানুষের কাছে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই—বহুবার প্রমাণ হয়েছে। বহু অসাধ্য সাধন হয়েছে যুগে যুগে। ক্রীড়াক্ষেত্রেও এমন অলৌকিক বিষয়ের দেখা মেলে, যা দেখে কেবল চোখ কপালেই ওঠে না, এই প্রশ্ন জাগে—কী করে সম্ভব? পরমুহূর্তেই ওই আপ্তবাক্যটিই বুদবুদ দিয়ে ওঠে মনে—আসলেই মানুষের কাছে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই! কথাটি আবার প্রমাণ করলেন মিসরের ইব্রাহিম হামাদতু।

মাত্র ১০ বছর বয়সে ট্রেন দুর্ঘটনায় হাত দুটো হারান। একজন মানুষের যদি দুটো হাত ‘নেই’ হয়ে যায় শরীর থেকে, তখন জীবনে আশা-স্বপ্ন বলতে আর কী-ইবা থাকে? কিন্তু ইব্রাহিম সেই ধাঁচের, যারা মচকায় ভাঙে না! সত্যি ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং জীবনটাকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে সেই ইব্রাহিম কিনা এখন টেবিল টেনিসে সিদ্ধহস্ত!

কীভাবে সম্ভব? টেবিল টেনিস তো সম্পূর্ণ হাতের খেলা। ইব্রাহিমের তো হাত নেই! তো কী হয়েছে? এ অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কাজে লাগিয়ে। তিনি সার্ভ করেন পা দিয়ে বল তুলে আর ভলি করেন মুখ দিয়ে। তবে এটি করতে তাঁকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরুর দিকে বগলের নিচে র্যাকেট রেখে খেলেছিলেন। সেই চেষ্টা ব্যর্থ। ইব্রাহিম বললেন, ‘১০ বছর বয়সে দুর্ঘটনার শিকার হই।
তবে টেবিল টেনিস খুব ভালোবাসতাম। দুর্ঘটনার তিন বছর পর আবারও টেবিল টেনিস খেলার চেষ্টা করি। তখন বগলের নিচে র্যাকেট রেখে খেলতাম। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। তখন ভিন্ন পথ খুঁজতে গিয়ে মুখ দিয়ে খেলার উপায় খুঁজে পাই।’

এরই মধ্যে আফ্রিকান প্যারা চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় হয়েছেন। খেলেছেন জাপানের এক নম্বর টিটি খেলোয়াড় জুন মিজুতানি (জাপান), সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চীনের ওয়াং হাওসহ বিখ্যাত অনেক টিটি খেলোয়াড়ের বিপক্ষে। যে মানুষটি জীবনযুদ্ধে লড়াই করে এত দূর এসেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম হলেন কি দ্বিতীয়—তার প্রয়োজন আছে? ওয়েবসাইট।