দুপুর ২:১৫, মঙ্গলবার, ২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের আয়োজনে বৃস্পতিবার পল্টন ময়দানস্থ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ক্রিডেন্স কাপ প্রাইজমানি র‌্যাংকিং টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা।

পুরুষ ও মহিলা একক ইভেন্টে নকআউট পদ্ধতিতে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। টুর্নামেন্টে ৬০ জন পুরুষ ও ২০ মহিলা টিটি খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দিনে ৮০টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্টের জন্য স্পন্সর ক্রিডেন্স দিচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা বিজয়ীদেরকে প্রাইজমানি হিসেবে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসান মুনীর।

পর্দা নামলো শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার

সমাপনী বক্তব্য ও বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস প্রতেযোগিতা ২০১৬ এর। বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সহযোগিতায় ‘সকল শিশুর জন্য খেলাধুলা’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে গেল ১৮ অক্টোবর দেশের ৪১ টি স্কুলের মোট ২৬০ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছিল প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের।
শুক্রবার বিকেলে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়াম সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ডঃ শ্রী বীরেন শিকদার এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ সাজ্জাদ হায়দার, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ডিরেক্টর-ইন-চার্জ ইসমত জামিল আখন্দ এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারি মাকসুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীরেন শিকদার বলেন, ‘বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও গৌরব অর্জনে ক্রীড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে একটি জাতি তার নিজস্ব ভাবমূর্তিও তৈরি করতে পারে যা আমরা ইতোমধ্যেই পেরেছি। ক্রীড়ায় বাংলাদেশ আজ অনন্য এক উচ্চতায় অবস্থান করছে। শেখ রাসেল টেবিল টেনিস আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা আরও গতিশীল হলো। এই টুর্নামেন্ট থেকে যারা সেরা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে সামর্থ্য হবে তারাই ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
ডঃ সাজ্জাদ হায়দার বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন সরকার প্রধান খুব কমই দেখা যায় যিনি মাঠে গিয়ে খেলা দেখে নিজ দেশের ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রাণিত করে থাকেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তেমনই একজন। জাতীয় উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়ার উন্নয়নে তার সুনজরের জন্যই আজ আমাদের ক্রীড়াঙ্গন বিশ্ব দরবারে দাপট দেখিয়ে চলেছে। ক্রীড়ায় প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রয়াসে উদ্বুদ্ধ হয়ে আর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও দাপুটে করে তুলতে বসুন্ধরা গ্রুপ শেখ রাসেলের ৫৩তম জন্মদিনে ‘শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। খেলাধুলার মধ্য দিয়েই আমরা শেখ রাসেলকে এদেশের মানুষের কাছে অমর করে রাখতে চাই।’
আমন্ত্রিত অতিথিদের সমাপনী বক্তব্য শেষে টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

জুলাইতে আসছে সানিয়ার আত্মজীবনী

এখনও বাজারে আসেনি। ঘোষণা দেয়া হয়েছে আগামী জুলাইতে বাজারে ছাড়া হবে ভারতীয় টেনিসের গ্ল্যামার গার্ল সানিয়া মির্জার আত্মজীবনী। তাতেই শোরগোল পড়ে গেছে। এখনও আলোচনার তুঙ্গে চলে এসেছে সানিয়ার আত্মজীবনী। প্রকাশক হার্পার কলিন্স জানিয়েছেন, জুলাইতে ‘এইস এগেইনস্ট অডস’ নামে আত্মজীবনীটি বাজারে ছাড়া হবে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সানিয়ার আত্মজীবনী লিখেছেন তার বাবা ইমরান মির্জা। সানিয়া মির্জার পেশাদার জীবনের প্রথম এক ডজন বছরের কাহিনি নিয়েই রচিত হয়েছে এই বইটি। তাতে উঠে আসছে কিভাবে টেনিসের ডাবলসে তিনি বিশ্বর্যাংকিংয়ে এক নম্বরে উঠে আসলেন সেই কাহিনি।

সানিয়ার আত্মজীবনীর প্রকাশক হার্পার কলিন্স-এর প্রধান সম্পাদক জানিয়েছেন, ‘টেনিসবিশ্বে সানিয়ার অসাধারণ কৃতীত্ব সবার কাছে প্রেরণামূলক। আশাকরি, এই বইটা পরবর্তী প্রজন্মের টেনিস খেলোয়াড়দের কাছে একটা সার্থক রোডম্যাপ হবে। সানিয়ার আত্মজীবনী নিয়ে আমরা কাজ করতে পেরে গর্বিত।’

সানিয়া নিজে জানিয়েছেন, ‘আশা করি, এই বইটি আগামী প্রজন্মকে রাস্তা দেখাবে। আমার গল্প যদি একজন তরুণ বা তরুণীকেও অনুপ্রাণিত করে, ভবিষ্যতে সে যদি গ্র্যান্ডস্লাম জিততে পারে, সেটা হবে আমার সেরা পাওয়া। শুধু টেনিস কোর্টে নয়, চলার পথে, এগোনোর পথে সানিয়াকে যারা সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবার কথা আছে এই বইয়ে।’

টিটি ক্যাম্পে দুই ভারতীয় পার্টনার

১২তম এসএ গেমসের বিভিন্ন ইভেন্টের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের অনুশীলন ক্যাম্পে ভারতের দুই খেলোয়াড় সৌভিক ব্যানার্জী (পশ্চিম বাংলা দলের খেলোয়াড়) ও স্যায়নতন দে (পশ্চিম বাংলার ইয়ুথ ফাইনালিস্ট) যোগ দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের অধিকতর মান উন্নয়নে ভারতের দুই খেলোয়াড় বাংলাদেশ দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্র্যাকটিস পার্টনার হিসেবে গত ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখ যোগদান করেছেন। ইতোপূর্বে স্নেহময় মল্লিক ও শুভেন্দু শাও গত ২৭ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখ টিটি দলের সাথে যোগ দিয়েছিলেন।

ঘরে ঘরে টেবিল টেনিস

গিনেস বুক রেকর্ডধারী বাংলাদেশের টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু এখন নাট্যকার। সৈয়দ কামরুল হুদা, এনায়েত হোসেন মারুফরা ব্যবসায়ী। ক্যাপ্টেন মাসুদ, সাইদুল হক সাদীরা বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত। খুলনা বিকেএসপির কোচ মোস্তফা বিল্লাহ। নাসিমুল হাসান কচি, মোসাদ্দেকুল হক রচি, বখতিয়ার মাহমুদ সোহেল, নোমান সুফিয়ান, আবেদ হোসেন ফারুক- সবাই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু একজায়গায় সবাই এক। সবাই টেবিল টেনিসের সাবেক তারকা খেলোয়াড়। যাদের রক্তে টিটি। তাই তো নিজেদের পেশা সামলানোর পাশাপাশি টিটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তারা। ‘ঘরে ঘরে টেবিল টেনিস’ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন এই সাবেকরা। আজ বিশ্ব টেবিল টেনিস দিবস। এ দিবসেই নিজেদের প্রকল্পকে ক্রীড়াপাগল মানুষের সামনে আনতে চাইছেন তারা

টেবিল টেনিসেরই আরেক নাম পিংপং। ‘টেবিল টেনিস সবার জন্য, সর্বত্র’- এ স্লোগানকে ধারণ করে ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশন (আইটিটিএফ)। দীর্ঘ ৯০ বছর পর এবারই প্রথম ৬ এপ্রিলকে বিশ্ব টিটি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে এই সংস্থা। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রতিদিনই টেবিল টেনিসের’। আইটিটিএফের অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের প্রায় ২২০টি দেশ পালন করবে এ দিবস। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস ও রাগবির পরই বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা টেবিল টেনিস। পিংপং খেলাকে ঘিরে ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দলকে তাদের দেশে টিটি খেলার আমন্ত্রণ জানায় চীন। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটে।

চীনের মতো না হলেও বাংলাদেশেও অনেকটা জনপ্রিয় টেবিল টেনিস। জানা গেছে, প্রতি বছর প্রায় এক হাজার টিটি টেবিল বিক্রি হয়। কিন্তু হতাশার খবর হল, এই সময়ে ১০ জন ভালোমানের খেলোয়াড়ও তৈরি হয় না। মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরির জন্যই একটি প্যাকেজ হাতে নিয়েছেন দেশের সাবেক তারকা টিটি খেলোয়াড়রা। এ বিষয়ে সাইদুল হক সাদী বলেন, ‘আমাদের প্যাকেজে রয়েছে উন্নতমানের একটি টেবিল, চারটি উন্নতমানের ব্যাট, ৬০ পিস বল, নেট স্ট্যান্ড ও টেকনিশিয়ান। ছোট জায়গায় টিটি খেলা যায়। বাড়ির কার পার্কিং, ডাইনিং স্পেস, ড্রয়িং রুম, কমিউনিটি রুম এবং পাড়ার ক্লাবও হতে পারে টিটি খেলার আদর্শ স্থান। এই প্যাকেজের আওতায় আগ্রহীদের আমরা ১৫ দিনের জন্য একজন কোচও দেব। খেলার আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি পৌঁছে দেয়া হবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে। আমরা মূলত ৬ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের খেলা শেখাতে আগ্রহী। মহিলাদের জন্য থাকবেন মহিলা কোচ।’ তিনি যোগ করেন, ‘প্রযুক্তির এই যুগে টিটি খেলাটা যাতে সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, ছোট ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটের পাশাপাশি যাতে টিটি খেলার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে- সে কারণেই আমাদের এমন উদ্যোগ।’ বিশ্ব টিটি দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন কোনো উদ্যোগ না নিলেও সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়

সানিয়া মির্জা অনেক দামি!

মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকার সানিয়া মির্জাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল একটি অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণের জন্য। আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণও করেছিলেন কিন্তু এর বিনিময়ে চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত আর ৭৫ হাজার রুপির সাজগোজের সরঞ্জাম চেয়ে বসাতেই শোরগোল উঠেছে ভারত জুড়ে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ডাবলস তারকা সানিয়াকে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানই দেখিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ সরকার। হায়দরাবাদ থেকে ভূপালে যাতায়াতের জন্য তাঁরা সানিয়াকে দিতে চেয়েছিল ইকোনমি ক্লাসের বিমান টিকিট। ভূপালে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হতো রাজকীয়ই—পাঁচ তারকা হোটেলে। অনুষ্ঠানের সময় সার্বক্ষণিক গাড়িই শুধু নয় বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থাও ছিল তাঁর জন্য। কিন্তু চার্টার্ড বিমান আর ৭৫ হাজার রুপির সাজগোজের সরঞ্জাম দাবি করে বসায় এই টেনিস তারকার ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ তারা।
ক্ষুব্ধ মধ্যপ্রদেশ সরকার সানিয়ার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে এই অনুষ্ঠানের অতিথি করার আর কোনো কারণই অনুভব করেনি। তাঁর বদলে ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন তারকা পুলেল্লা গোপিচাঁদকে দিয়েই কাজ সেরেছে তারা। গোপিচাঁদ নাকি একেবারে সানন্দেই গ্রহণ করেছেন মধ্যপ্রদেশ সরকারের আমন্ত্রণ। অতীতে ব্যাডমিন্টন তারকা সানিয়া নেহওয়ালও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে মধ্যপ্রদেশ সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী যশোধারা রাজ বলের, ‘সানিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা। আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। কিন্তু তাঁর চার্টার্ড বিমান ও দামি সাজ সরঞ্জামের দাবি অযৌক্তিক, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য।’ সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

হাত ছাড়াই টেবিল টেনিস খেলেন মানুষটি!

মানুষের কাছে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই—বহুবার প্রমাণ হয়েছে। বহু অসাধ্য সাধন হয়েছে যুগে যুগে। ক্রীড়াক্ষেত্রেও এমন অলৌকিক বিষয়ের দেখা মেলে, যা দেখে কেবল চোখ কপালেই ওঠে না, এই প্রশ্ন জাগে—কী করে সম্ভব? পরমুহূর্তেই ওই আপ্তবাক্যটিই বুদবুদ দিয়ে ওঠে মনে—আসলেই মানুষের কাছে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই! কথাটি আবার প্রমাণ করলেন মিসরের ইব্রাহিম হামাদতু।

মাত্র ১০ বছর বয়সে ট্রেন দুর্ঘটনায় হাত দুটো হারান। একজন মানুষের যদি দুটো হাত ‘নেই’ হয়ে যায় শরীর থেকে, তখন জীবনে আশা-স্বপ্ন বলতে আর কী-ইবা থাকে? কিন্তু ইব্রাহিম সেই ধাঁচের, যারা মচকায় ভাঙে না! সত্যি ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং জীবনটাকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে সেই ইব্রাহিম কিনা এখন টেবিল টেনিসে সিদ্ধহস্ত!

কীভাবে সম্ভব? টেবিল টেনিস তো সম্পূর্ণ হাতের খেলা। ইব্রাহিমের তো হাত নেই! তো কী হয়েছে? এ অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কাজে লাগিয়ে। তিনি সার্ভ করেন পা দিয়ে বল তুলে আর ভলি করেন মুখ দিয়ে। তবে এটি করতে তাঁকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরুর দিকে বগলের নিচে র্যাকেট রেখে খেলেছিলেন। সেই চেষ্টা ব্যর্থ। ইব্রাহিম বললেন, ‘১০ বছর বয়সে দুর্ঘটনার শিকার হই।
তবে টেবিল টেনিস খুব ভালোবাসতাম। দুর্ঘটনার তিন বছর পর আবারও টেবিল টেনিস খেলার চেষ্টা করি। তখন বগলের নিচে র্যাকেট রেখে খেলতাম। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। তখন ভিন্ন পথ খুঁজতে গিয়ে মুখ দিয়ে খেলার উপায় খুঁজে পাই।’

এরই মধ্যে আফ্রিকান প্যারা চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় হয়েছেন। খেলেছেন জাপানের এক নম্বর টিটি খেলোয়াড় জুন মিজুতানি (জাপান), সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চীনের ওয়াং হাওসহ বিখ্যাত অনেক টিটি খেলোয়াড়ের বিপক্ষে। যে মানুষটি জীবনযুদ্ধে লড়াই করে এত দূর এসেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম হলেন কি দ্বিতীয়—তার প্রয়োজন আছে? ওয়েবসাইট।