বিকাল ৪:১৮, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং

শেষ হয়ে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠতম আসর। ফাইনালে শিরোপা উৎসবে মাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরুষ ও নারী উভয় দলই। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত এবারের আসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ দারুণ সাড়া দিয়েছিলেন সমর্থকরা। ৪৬ মিলিয়নের বেশি ভক্ত এবারের বিশ্বমঞ্চে আইসিসি’র ফেসবুক পেজে ছিলেন।
ফেসবুকে সর্বোচ্চ সাড়া পাওয়া ম্যাচ ছিলো ১৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতা ভারত বনাম পাকিন্তানের ম্যাচে। এ সময় ৮.২ মিলিয়ন সমর্থক সক্রিয় ছিলেন। আর ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালের দিন ৬.১ মিলিয়ন ভক্ত আইসিসি’র ফেসবুকে সাড়া দিয়েছিলেন। এছাড়া ৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ভিডিও সর্বমোট ১৮০ মিলিয়নবার দেখা হয়েছে।
এদিকে আসরটি চলাকালীন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ওপেনার তামিম ইকবালকে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়েছে। কেনই বা হবে না? বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক যে ছিলেন ড্যাশিং এ ব্যাটসম্যান। ছয় ম্যাচে ১৪২.৫১ স্ট্রাইক রেটে একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি সহ ২৯৫ রান করেছিলেন তিনি।
ক্রিকেটারদের খোঁজার তালিকায় তামিমের ওপরে অবশ্য ছিলেন যথাক্রমে বিরাট কোহলি, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, শহীদ আফ্রিদি, ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মা। আর তামিমের পরে ছিলেন জো রুট।

স্যামির সমালোচনায় টনক নড়লো বোর্ডের

বোর্ডের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের বিরোধটা বেশ আগে থেকেই। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টিতেও সেটাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডকে ধুয়ে দিয়েছিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। তবে সেই সমালোচনার পর টনক নড়েছে বোর্ডের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সকল ক্রিকেটারদের সাথে দেখা করার কথা জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ডেভিড ক্যামেরন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে পুরস্কার গ্রহণ করতে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডকে এক হাত নিয়ে স্যামি বলেন, ‘বোর্ড শুধু অবহেলা করে গেছে আমাদের। আমরা গ্রানাডার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ইমেইলে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছিলাম; কিন্তু আমাদের বোর্ডের কাছ থেকে তেমন কিছুই পাইনি। আমাদের কেউ খোঁজ রাখে না। এমনকি জানিও না পরবর্তীতে আর দেশের হয়ে খেলতে পারবো কি না। পরনে জার্সিটা পর্যন্ত নিজেদের জোগাড় করে খেলতে হয়েছে আমাদের।’
স্যামির এমন কথা বলার পরেই বোর্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সভাপতি ক্যামেরন জানান আগামী মাসেই ক্রিকেটারদের সাথে বসবে বোর্ড। তবে স্যামির কথাকেও হালকাভাবে নেননি তিনি। ক্যামেরন বলেন, ‘মে মাসেই আমরা বোর্ড থেকে ক্রিকেটারদের সাথে দেখা করবো। তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে আলোচনা করবো। নির্বাচক, কর্মকর্তা ও ম্যানজমেন্ট ক্রিকেটারএর সব ধরনের সুযোগ সুবিধার নিশ্চয়তা দিতে চাই।’
আইপিএল খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিকাংশ ক্রিকেটারই এখন ভারতে অবস্থান করছে। আইপিএল শেষেই দেশে যাবে তারা।

গেইলদের খোঁজও নেয়নি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বোর্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করলেন ব্রাভো-গেইলরা। দ্বিতীয়বারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে প্রমাণ করলেন কেন তাদেরকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলা হয়। চ্যাম্পিয়ন হয়েই ক্ষ্যান্ত থাকেননি তারা। উঠে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের নানা রকম অনৈতিক কার্যকালাপের চিত্র। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ড্যারেন স্যামি বোর্ডের মুন্ডুপাত করেন। পিছিয়ে থাকেননি আরেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভোও।
অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভো সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘আপনারাই দেখুন আমরা কি পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি এখানে। এমনকি বিসিসিআই আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছে যা আমাদের বোর্ড করেনি; কিন্তু এটা খুব ভালো লাগার যে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে অনেকে এসেছে আমাদের খেলা দেখতে। ক্রিকেট সবসময় ক্যারিবিয়ান মানুষদের একত্রিত করেছে।’
ব্র্যাভোর কথা অনেকটা আফ্রিদির মত হলেও এখানে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বোর্ড তাদের খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। এ কারণে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে ব্রাভো বলেন, ‘দেশের ক্রিকেট আমাদের হাতে নেই। আমরা দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কোন কর্মকর্তার কাছ থেকে একটা ফোন কল পর্যন্ত পাইনি। এটা আসলেই খারাপ দিক।’
টি-টোয়েন্টি সুযোগ পেলেও দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারকে ওয়ানডে এবং টেস্টে নেয়া হয় না। এটাতেও ক্ষোভ জানান ব্রাভো। ‘এ বছর আমাদের আর কোন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নেই। গেইল-রাসেলসহ আমাদের অনেককেই ওয়ানডেতে নেয়া হয় না। এর কারণ আসলে জানা নেই আমাদের।

বিশ্বকাপের সেরা দলে মুস্তাফিজ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা দলে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে সেরা একাদশে তার জায়গা হয়নি। দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা দলে রয়েছেন ‘বিস্ময়কর’ পেসার।
রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরের পর্দা নেমেছে। ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরুষদের বিশ্বকাপের সেরা দলের অধিনায়ক করা হয়েছে বিরাট কোহলিকে। দারুণ পারফরম্যান্স করে বিরাট কোহলি টানা দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন। ১২ জনের তালিকা সোমবার দুপুরে আইসিসি প্রকাশ করেছে। কোহলিকে অধিনায়ক করে যে দল দেওয়া হয়েছে তাতে সবচেয়ে বেশি চার খেলোয়াড় রয়েছে ইংল্যান্ডের। দুজন করে খেলোয়াড় আছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। একজন করে খেলোয়াড় আছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার।
বিশ্বকাপের সেরা দলটিকে বেছে নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটারর ও ধারাভাষ্যকার। কন্ডিশন ও পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে টুর্নামেন্টের সেরা দল নির্বাচন করেছেন নির্বাচকরা।
বিশ্বকাপের সেরা দল : জেসন রয় (ইংল্যান্ড), কুইন্টন ডি কক (দক্ষিণ আফ্রিকা, উইকেট রক্ষক), বিরাট কোহলি (ভারত, অধিনায়ক), জো রুট (ইংল্যান্ড), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), শেন ওয়াটসন (অস্ট্রেলিয়া), আন্দ্রে রাসেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মিচেল স্টানার (নিউজিল্যান্ড), ডেভিড উইলি (ইংল্যান্ড), স্যামুয়েল বাদ্রি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), আশিষ নেহরা (ভারত), ‍মুস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ, দ্বাদশ)।

বিশ্বকাপে আরও দল চান আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী

সফলভাবে শেষ হলো ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আর আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন বিশ্বাস করেন বর্তমানে এই ফরম্যাটটি বিশ্ব ক্রিকেটে দারুণ সফলতা পেয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আসরটির প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় আরও দুটি করে দল নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার নারী ও পুরুষ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে আনুসাঙ্গিক আলোচনা করেন রিচার্ডসন। সেই সঙ্গে আইসিসি’র ইভেন্টকে কিভাবে অলিম্পিকে অর্ন্তভূক্ত করা যায় সেটির ব্যাপারেও আলোচনা করেন তিনি।
এদিকে টুর্নামেন্টে প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর সমালোচনা হয়েছিলো এটি বিশ্বকাপে অংশ ছিলো না। বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক প্রেস্টন মোমেনসন ও নেদারল্যান্ডসের পিটার বোরেন ব্যাপারটির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তবে এমন সমালোচনাকে উড়িয়ে দিলেন রিচার্ডসন। তিনি জানা প্রথম পর্বটি বিশ্বকাপেরই অংশ ছিলো।

ফাইনালে কি করতে হয় জানতেন স্যামুয়েলস

ফাইনালে কিভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হয় তা খুব ভালো করে জানা আছে মার্লন স্যামুয়েলসের। প্রায় চার বছর আগে কলম্বোয় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তিনিই ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক। কলকাতায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই স্মৃতিই ফিরিয়ে এনেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। রোববার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান স্যামুয়েলসের। ৬৬ বলে অপরাজিত ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার নেওয়ার সময় স্যামুয়েলস বলেন, “ফাইনাল সম্পর্কে আমি জানি। যখন আমি ফাইনালে খেলি, আমি দলের জন্য এগিয়ে আসি।… এই জয় আমাদের জন্য অনেক কিছু।”
ইডেন গার্ডেন্সে ক্রিস গেইল, লেন্ডল সিমন্স দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেক খানি নির্ভর করেছিল স্যামুয়েলসের ওপর। খুব প্রয়োজনের সময় দলকে হতাশ করেননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
এর আগে একবারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ আসরের সেই ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলের ৩৬ রানের জয়ে ৭৮ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন স্যামুয়েলস।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ১১ রানে তিন উইকেট হারানো দলটি প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে স্যামুয়েলস ও ডোয়াইন ব্রাভোর ব্যাটে।
স্যামুয়েলস জানান, ভালো সূচনা পেলে তিনি সেটাকে ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু শুরুতে উইকেট হারানোয় তাকে অন্য পথ ধরতে হয়।
দলকে জয় এনে দেওয়ার পথে ব্রাভো ও কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে দুটি কার্যকর জুটি গড়েন স্যামুয়েলস। তাকে সহায়তা দিয়ে যাওয়ায় দুই সতীর্থরও প্রশংসা করেন দুইবার ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া এই ব্যাটসম্যান।

অবিশ্বাস্য ব্র্যাথওয়েটের প্রশংসায় স্যামি

অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিরোপা জয়ে দারুণ অবদান কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের। ফাইনালে চমৎকার বোলিংয়ের পর দলের খুব প্রয়োজনের সময় ব্যাট হাতেও ত্রাতা এই অলরাউন্ডার। টানা চার ছ্ক্কায় ম্যাচ জেতানো এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি প্রশংসা পেয়েছেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির।
রোববার কলকাতা ইডেন গার্ডেন্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। ক্রিস জর্ডানের করা আগের ওভারের শেষ বলে এক রান নিতে চেয়েছিলেন মার্লন স্যামুয়েলস। পারেননি, শেষ ওভারের স্ট্রাইকে থাকেন ২৭ বছর বয়সী ব্র্যাথওয়েট। আগের ছয় বল থেকে ১০ রান নেওয়া এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান সম্ভাব্য সবচেয়ে কম বলে দলকে জয় এনে দেবেন ভাবতে পারেননি কেউই।
টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ব্র্যাথওয়েট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপা এনে দেওয়ার সময় স্টেডিয়াম জুড়ে অবিশ্বাস। শেষ ওভারে টানা চার ছক্কা হাঁকিয়ে এমন জয় এনে দেওয়ায় সম্ভব! ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্যামি জানান, এমন কিছুর জন্যই পুরো ম্যাচে তারা শুধুই প্রার্থণা করে গেছেন।
“সত্যিই এই জয়ে আমরা খুব খুশি। এটা এমন কিছু যার জন্য আমরা দীর্ঘ দিন সযত্নে আগলে রাখব।”
অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেটে ম্যাচ সেরা স্যামুয়েলসের সঙ্গে ৪.১ ওভারে ৫৪ রানের জুটি গড়েন ব্র্যাথওয়েট। তাতে এই অলরাউন্ডারের অবদান ১০ বলে ৩৪ রান। স্যামি জানান, তিনি জানতেন কেউ না কেউ ঠিকই এগিয়ে আসবে।
“আমাদের দলে ১৫ জন ম্যাচ উইনার আছে। প্রতি ম্যাচে কেউ না কেউ এগিয়ে এসেছে। আজ যা করেছে কার্লোস, সে ক্যারিবিয়ানদের টি-টোয়েন্টি গভীরতা দেখিয়েছে।”
শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রাতা হয়ে আসার আগে বোলিংয়েও নিজের সামর্থ্যটা দেখান ব্র্যাথওয়েট। ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা আরও বড় হতে দেননি তিনি।
২৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড প্রতিরোধ গড়ে জো রুট ও জস বাটলারের ব্যাটে। দুই ব্যাটসম্যানকেই ফেরানোর কৃতিত্ব ব্র্যাথওয়েটের। শেষে দ্রুত রান সংগ্রহ করা ডেভিড উইলিও তার শিকার।
ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ তিন রান সংগ্রাহককে ফেরানো ব্র্যাথওয়েট ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেননি। কিন্তু সতীর্থদের প্রশংসায় ঠিকই ভেসেছেন তিনি।

স্টোকসকে দুষছেন না মর্গ্যান

শেষ ওভারে ১৯ রান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ডিফেন্ড করার জন্য খুব কম নয়। বেন স্টোকস সেই রান দিয়ে ফেলেন প্রথম চার বলে। তবুও এই অলরাউন্ডারকে দুষছেন না ওয়েন মর্গ্যান। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের জন্য দায় দিয়েছেন নিজেদের কম রান করাকে।
রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৪ উইকেট হারে ইংল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মর্গ্যান জানান, ফাইনালে তার দলের পারফরম্যান্সে অনেক উঠা-নামা ছিল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ ওভারে ১৫৫ করার পর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ভাবেননি খেলা শেষ ওভার পর্যন্ত গড়াবে।

“এটা খুব ভালো ব্যাটিং উইকেট ছিল। আমরা স্কোর বোর্ডে যথেষ্ট রান করতে পারিনি। এখানে ১৮০/১৯০ রান সম্ভব ছিল।”

শেষ ওভারে মারলন স্যামুয়েলসকে স্ট্রাইকে চায়নি ইংল্যান্ড। ক্রিস জর্ডানের করা আগের ওভারের শেষ বলে স্যামুয়েলস রান নিতে ব্যর্থ হলে উজ্জীবিত হয়ে উঠেন মর্গ্যানরা। মাত্র ছয় বল খেলা কার্লোস ব্র্যাথওয়েট স্ট্রাইকে থাকায় সম্ভাবনায় এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ডই।

বেন স্টোকসের সেই ওভারে দলকে দারুণ জয় এনে দেন ব্র্যাথওয়েটই। টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি হতাশায় ডোবান ইংল্যান্ডকে।

মর্গ্যান মনে করেন, এই হারের দায় তাদের সবার, “এটা তার দোষ নয়, আমরা সবাই মিলে ভুল করেছি। আমরা নিজেদের জয় উপভোগ করেছি। আজ রাতে আমরা ব্যথাও ভাগ করে নেব।”

আমার চেহারা আসল, ওয়ার্নের নয়: স্যামুয়েলস

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর মারলন স্যামুয়েলস এক হাত নিয়েছেন শেন ওয়ার্নকে। কিংবদন্তি লেগ স্পিনার ও এখন ধারাভাষ্যকার ওয়ার্নের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ফাইনালের ম্যাচ সেরা এই ব্যাটসম্যান। রোববার ইডেন গার্ডেন্সের ফাইনালে ১৫৬ রান তাড়ায় ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে বলতে গেলে একাই দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান স্যামুয়েলস। শেষ ওভারে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কায় ট্রফি জিতে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংসে ম্যান অব দা ম্যাচ স্যামুয়েলসই।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনু্ষ্ঠানে নাসের হুসেইনের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় সবাইকে চমকে দিয়ে হুট করেই ওয়ার্নকে টেনে আনেন স্যামুয়েলস।
“আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একটি ব্যাপারই আমার মাথায় ছিল। শেন ওয়ার্ন আমাকে নিয়ে খুব বেশিই কথা বলে আসছে। আমি বলতে চাই, এটি (হাতে ধরা ম্যাচ-সেরা ট্রফি দেখিয়ে) শেন ওয়ার্নের জন্য। আমি ব্যাট হাতে জবাব দেই, মাইক্রোফোনে নয়।”
গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ দু:স্বপ্নের মত কেটেছে স্যামুয়েলসের। ৫ ইনিংসে করেছিলেন মোট ৩৫ রান, একবার ছুঁতে পেরেছিলেন দু অঙ্ক। স্যামুয়েলসের ব্যাটিং ও সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে শরীরী ভাষা নিয়ে তখন সমালোচনা করেছিলেন ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা ওয়ার্ন।
এবার বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গত ১৩ মার্চ সেই ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হয়েছিলেন স্যামুয়েলস। সেই প্রস্তুতি ম্যাচের কথাও ভাবনায় ছিল স্যামুয়েলসের।
“অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুশীলনে (ম্যাচে) আমি ডাগ আউটে যে চেয়ারে বসে প্রথম বলেই আউট হয়েছিলাম, ঠিক করেছিলাম আজ সেই চেয়ারে বসব এবং স্পেশাল কিছু করব।”
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওয়ার্নকে অমন আক্রমণ করার পর সংবাদ সম্মেলনও যথেষ্ট রসালো হওয়ার কথা; সেটা হয়েছেও। বলেছেন, ম্যাচটি ছিল তার কাছে ওয়ার্নকে জবাব দেওয়ার ম্যাচ।
“গত ৫ বছরে আমার অনেক ঝড়-ঝাপটার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। এখন আমি প্রতিটি দিন উৎসর্গ করি আমার বাচ্চাদের। মাঠে গিয়ে প্রতিদিন ক্রিকেট খেলি আমার সন্তানদের জন্য। তবে সত্যি বলতে, এই ম্যাচটি আমি খেলেছি শুধু শেন ওয়ার্নের জন্য। কয়েকজন সতীর্থকে বলেও ছিলাম সেটি।”
“অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিলাম, শেন ওয়ার্ন আমাকে নিয়ে অনেক কিছু বলেছে। আমি তাকে কখনোই অশ্রদ্ধা করিনি। কিন্তু মনে হয়, তার ভেতরে অনেক কিছু জমা হয়ে আছে যেগুলো বের হয়ে আসা উচিত।”
ওয়ার্নের প্লাস্টিক সার্জারি করা নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি জ্যামাইকান এই ব্যাটসম্যান। “আমাকে নিয়ে তার ক্রমাগত কথা বলে যাওয়া এবং যা করে আসছে, সেসব করে যাওয়া আমি সমর্থন করি না। জানি না সে কেন করছে। হয়ত কারণ আমার চেহারাটা আসল, তারটি নয়!”
শুধু ওয়ার্ন নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দলকে নিয়ে নানা সময়ে নানা সমালোচনা করা সবার উদ্দেশ্যেই বার্তা আছে স্যামুয়েলসের। “অনেক লোকেরই আজ নিজেদের প্রতি সৎ থেকে আমাদের প্রাপ্য কৃতিত্বটা দেওয়া উচিত। আমরা দারুণ একটি দল। খেলাটার প্রতি আবেগ, ভালোবাসা থেকেই আমরা খেলি, নিজেদের জন্য নয়। ক্যারিবিয়ার মানুষদের জন্য খেলি। ক্রিকেট যেমন ভারতের ধর্মের মত, ক্যারিবিয়াতেও ক্রিকেট মানেই সব কিছু।”

ফাইনালের সেরা স্যামুয়েলসের শাস্তি

অসাধারণ এক ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপা জেতানোর ম্যাচে শাস্তি পেতে হয়েছে মারলন স্যামুয়েলসকে। খেলোয়াড়দের জন্য আইসিসির আচরণবিধি ভাঙায় অভিযুক্ত করা হয়েছে জ্যামাইকান ব্যাটসম্যানকে। জরিমানা হয়েছে ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, রোববার ফাইনালে রান তাড়ার শেষ ওভারে বোলার বেন স্টোকসকে আপত্তিকর কথা বলেছিলেন স্যামুয়েলস। পরে ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালের আনা অভিযোগ ও শাস্তি মেনে নেন স্যামুয়েলস; তাই আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
স্যামুয়েলসের অপরাজিত ৮৫ রান ও কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কায় ৪ উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে রেকর্ড দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আবেগময় প্রতিক্রিয়ায় স্যামির আলোড়ন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পর স্মরণীয় ও আবেগময় প্রতিক্রিয়ায় ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন ড্যারেন স্যামি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক পাল্টা জবাব দিয়েছেন সমালোচকদের, এক হাত নিয়েছেন নিজেদের বোর্ডকে, ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাপোর্ট স্টাফদের আর জয় উৎসর্গ করেছেন ক্যারিবিয়ার মানুষদের।
রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে শেষ ওভারের টানা চার ছক্কায় ইংল্যান্ডকে হারিয়ে রেকর্ড দ্বিতীয়বার শিরোপা জয় করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ শেষ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নাসের হুসেইনের কাছে স্যামি জানালেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রতিক্রিয়া; প্রশংসায় ভাসালেন চার ছক্কার নায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে।
হুসেইনের তৃতীয় প্রশ্নটি ছিল ২০১২ সালের শিরোপা জয়ের স্বাদের সঙ্গে এবারের জয়ের তুলনা। মুচকি হাসিতে স্যামি বললেন, ‘আপনি চান আমি এটা নিয়ে কথা বলি?’ মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন হুসেইন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ভাসালেন আবেগের তরী।
“লোকে বলাবলি করছিল আমরা এই টুর্নামেন্ট খেলব কিনা। অনেক অনেক সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছে আমাদের। নিজেদের বোর্ড আমাদের অসম্মানিত করেছে। মার্ক নিকোলাস (সাবেক ক্রিকেটার ও এখন ধারাভাষ্যকার) আমাদের খেলোয়াড়দের বলেছেন ‘শর্ট অব ব্রেইন’। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই সব ব্যাপার আমাদের দলকে আরও একাট্টা করেছে, সবাইকে কাছে এনেছে।”
“সমস্যার পাহাড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য দেখানো এবং এই আবেগময় দর্শকের সামনে এই ধরনের ক্রিকেট খেলার জন্য আমি এই ১৫ জন ছেলেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। অসাধারণ এক জয় এটি।”
দল নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করে বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলায় কয়েক মাস আগেই সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন কোচ ফিল সিমন্স। দায়িত্বে ফিরেই দলকে জেতালেন বিশ্বকাপ। অধিনায়ক আলাদা করেই বললেন কোচের কথা।
“কোচিং স্টাফের সবাইকে আমি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কোচ ফিল, অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সেখান থেকে এসে দলকে এভাবে কোচিং করানো, সে দুর্দান্ত। কোচিং স্টাফের সবাই নিজেদের কাজটা করেছেন।”
স্যামি জানালেন, টুর্নামেন্টের আগে মাঠে নামার পোশাকও ছিল না তাদের। “নতুন একজন ম্যানেজারকে নিয়ে এই টুর্নামেন্টে এসেছি আমরা, লুইস। এর আগে কখনোই কোনো দলের ম্যানেজার হওয়ার অভিজ্ঞতা তার ছিল না। দুবাইয়ে আমরা ক্যাম্প করতে গেলাম, আমাদের প্রিন্টেড কোনো ইউনিফর্ম ছিল না। সে দুবাই থেকে কলকাতায় এলো, যেখানে আমরা শুরু করেছিলাম। আমাদের এই পোশাক জোগাড় করতে যে ঝামেলা ওকে পোহাতে হয়েছে…”
“পুরো দলকেই আসলে কৃতিত্ব দিতে হবে। আমাদের ছোট্ট পৃথিবীতে শুধু আমরাই ছিলাম। এই জয় আমরা উৎসর্গ করছি ক্যারিবিয়ানে আমাদের সব ভক্ত-সমর্থকদের।” অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য স্যামির ধন্যবাদ পেলেন ক্যারিবিয়ান কমিউনিটির (ক্যারিকম) নেতৃত্বস্থানীয়রা। হতাশা নিজেদের বোর্ডের প্রতি!
“ক্যারিকমের প্রধানদের আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। টুর্নামেন্ট জুড়ে তারা দলকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। আমরা ফোন পেয়েছি, ই-মেইল পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী মিচেল (গ্রেনাডার প্রধানমন্ত্রী কিথ মিচেল) আজ সকালে দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ী একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন আমাদের। তবে এখনও নিজেদের বোর্ডের কাছ থেকে কিছু শুনতে পাইনি আমরা। খুবই হতাশাজনক।”
এই দলের অনেকেরই নিশ্চিতভাবে এটি শেষ বিশ্বকাপ। তবে আগামী বিশ্বকাপ তো বটেই, আর কখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলতে পারবেন কিনা, স্যামি নিশ্চিত নন সেটি নিয়েই। দলের সবাইকেই একতাবদ্ধ করেছে সেই অনুভূতিই।
“আজ আমি এই ১৫ জন ছেলে আর কোচিং স্টাফের সঙ্গে সময় উপভোগ করব। জানি না, আর কখনও এই ছেলেদের সঙ্গে আমি খেলতে পারব কিনা। কারণ আমাদের অনেককেই ওয়ানডেতে নেওয়া হয় না। আমরা জানি না, আবার কখন আমরা টি-টোয়েন্টি খেলব। এই জয়ের জন্য তাই ধন্যবাদ জানাচ্ছি দলকে, কোচিং স্টাফকে…এখন সবাই জানে, ওয়েস্ট ইন্ডিজই চ্যাম্পিয়ন!”

গেইলদের জয়ে বোল্টের নেচে গেয়ে অভিবাদন (ভিডিও)

চার বলে টানা চারটি ছক্কা। নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচটি একাই শেষ ওভারে বের করে নিয়ে আসলেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এবং অসাধারণ এক জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৪ উইকেটে ইংলিশদের হারিয়ে দ্বিতীয়বারেরমত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল ক্যারিবিয়ানরা।
আর গেইল-ব্রাভোদের জয়ের রাতে আনন্দে নাচলেন ট্র্যাকের রাজা বোল্টও। তাও আবার সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভোর গানের সাথে। সামাজিক যোগাযোগ টুইটারে একটি ভিডিও পোষ্ট করা হয়েছে।
সে ভিডিওতে দেখা গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পরে বোল্ট খালি গায়ে নাচছেন। দৌড়ের এই রাজা শুধু নেচেই ক্ষান্ত হলেন না, নাচের সাথে ছিল তার চির পরিচিত সেই আকাশের দিকে হাত উঠান ভঙ্গী।

মাদার তেরেসা মিশনারিজে অর্থ দান করলো গেইলরা

ম্যাচ জয়ের সাথে মন জয় করতে বেশ পারদর্শী ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। সেখানে বিশ্বকাপ হলে তো কথাই নেই। দ্বিতীয়বারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে বেশ ফুরফুরে মেজাযে রয়েছেন গেইলরা। নাচে গানে মেতে উঠেছে পুরো ক্যারিবিয়ান অঞ্চল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারী দলের পাশাপাশি পুরুষদলও একই দিনে চ্যাম্পিয়ন হওয়াতে আনন্দের পাল্লাটা একটু বেশিই ভারি। এ বছরটাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বছর বললে ভুল হবে না। দুটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপার পাশাপাশি অনুর্দ্ধ-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফিও জিতেছে জুনিয়র গেইলরা।
শেষ ওভারে চার বলে চার ছক্কা মেরে বিনোদনের ষোলকলা পূর্ণ করা ড্যারেন স্যামিরা তাদের বিশ্বকাপ জয় থেকে অর্জিত অর্থ থেকে কিয়দংশ দান করলেন কলকাতায় অবস্থিত মাদার তেরেসা মিশনারিজে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যানেজার রল লুইস এই অর্থ তুলে দেন মিশনারিজের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
এই দলটাই বিশ্বকাপের আগে নিজেদের একটা জার্সি বানাতে হিমশিম খেয়েছিল। এমনকি বিশ্বকাপ খেলতে কলকাতায় আসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থও পায়নি। আর তারাই বিশ্বকাপ শেষে অর্থ দান করে দিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের এই উদারতা মনে রাখবার মত।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের শুভেচ্ছায় বিশ্বসেরা স্প্রিন্টার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম কোনো দল হিসেবে এ ফরমেটে দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলে ক্যারিবীয়রা।
ইডেন গার্ডেনসের ফাইনালে বেন স্টোকসের করা শেষ ওভারের প্রথম চার বলে চারটি ছক্কা মেরে জয়ের নায়ক হন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। আর ক্যারিবীয়ানদের এমন দুর্দান্ত জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্বসেরা স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট।
অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ড গড়া বোল্ট নিজেও একজন ক্যারিবীয়ান। জ্যামাইকান এ তারকারও এক সময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। নিজ দেশের এমন জয়ে বসে থাকেননি বোল্ট। নিজের ঘরে ডোয়েন ব্রাভোর গাওয়া ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানের তালে তিনিও নেচেছেন।
পরে এক টুইট বার্তায় বোল্ট জানান, ‘শেষ ওভারটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছিলাম না। শুভেচ্ছা দলকে, ক্যারিবীয়ানদের দ্বারাই এমনটি সম্ভব।’

শীর্ষেই থাকলেন তামিম ও মুস্তাফিজ

সদ্য পর্দা নামা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপারটেনে একটি ম্যাচেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ফলে সেমিফাইনালের মঞ্চে উঠতে পারেনি টাইগাররা। তবে  সেমির আগেই থেমে গেলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন টাইগার ক্রিকেটাররা। এদের মধ্যে ব্যাট হাতে তামিম ইকবাল এবং বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমানের অর্জনগুলো অনন্য।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসের তালিকায় সবার ওপরেই আছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এ ছাড়াও ইনিংস সেরা বোলার হিসেবে সবার ওপরেই কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ।

 

টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে ২৯৫ রান করে এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। পাঁচ ম্যাচ খেলে ২৭৩ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি।

 

 

টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১০৩ রানেই ইনিংসটিও তামিমের দখলে। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ছক্কা এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে। ১৪টি ছয় হাঁকিয়ে তিনি এ তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছেন।

 

এদিকে চোটের জন্য টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে খেলা হয়নি বাংলাদেশের অন্যতম পেসার মুস্তাফিজুরের। অস্ট্রেলিয়া-ভারতের বিপক্ষেও নিজেকে জানান দিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০ বছর বয়সী মুস্তাফিজের সেরাটা আসে শেষ ম্যাচে।

 

বিশ্বকাপে মাত্র ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান উইকেট শিকারির তালিকা অষ্টম স্থানে রয়েছেন। ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। তবে বিশ্বকাপে সেরা বোলিং ফিগারটি মুস্তফিজেরই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে  ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই তরুণ পেসার।  যার মধ্যে চারটি ছিল বোল্ড আউট। এটাই ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা বোলিং ফিগার। ২৭ রানের খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জেমস ফকনার।

 

 

জয়তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ

এম এস সহাব : ক্যারিবীয়রা এমনিতই ফুর্তিবাজ। নাচে-গানে উৎসবে মেতে থাকাই যেন তাদের ধর্ম। এই মেতে থাকার মাত্রা কতটা বেপরোয়া হবে তা জানতে ক্যাবিরীয় দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যারা রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে চোখ রেখেছেন, তারা নিশ্চয় অনুমান করতে পারবেন কি রকম উৎসব হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। উৎসব হওয়াই বাঞ্জনীয়। মেয়েদের পর একই দিনে ছেলেরাও জিতেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা। ইতিহাস গড়া দিনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টানা চার ছক্কা মেরে মাঠেই নেচে উঠেন স্যামি-গেইল-স্যামুয়েলরা। সাথে ছিল তাদের প্রমীলা দলও। যারা দিনের প্রথম ম্যাচে ফাইনালে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে জিতে নেয় ট্রফি। ইডেন গার্ডেন্সেই হয়েছে ছেলেদেরও ফাইনাল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। শেষ ওভারে জেতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। প্রথম চার বলেই বেন স্ট্রোকসের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফাইওভার দুঘর্টনায় ‘শোকের শহর’ পরিণত হওয়া কলকাতাকেও নাচিয়ে তুললেন কার্লোস ব্রাথওয়েইট। একদিকে ইতিহাস গড়ার আনন্দ অন্যদিকে ইংলিশদের শোক। হাতে আসা ট্রফিটা সত্যিই কেড়ে নিলেন স্যামি-মারলন স্যামুয়েলসরা।
1
এই প্রথম কোনো পুরুষ ও মেয়ে দল টি-টোয়েন্টিতে এক সাথে শিরোপা জিতেছে, একই দিনে। এছাড়াও ২০ ওভারেরই এই বিশ্বকাপ আসরের দুইবার শিরোপা (পুরুষ দল) জিতল স্যামির দল। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ড্যারেন স্যামি দ্বিতীয়বারের মতো হাতে নিলেন শিরোপা। এর আগে ২০১২ সালে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্যামিদের এমন ইতিহাসের দিনে মেয়েরাও জিতেছে শিরোপা। তাই ডাবল ডিলাইট! নিশ্চিত থাকুন, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এই বিজয় উদযাপন চলবে ‘ননস্টপ’। এমন আনন্দে ভেসে যাওয়া তো এদেরই মানায়। অসাধারণ পারফরম্যান্স। অভিনন্দন ওয়েস্ট ইন্ডিজ! শিরোপাটা এই দলের চেয়ে আর কারও বেশি প্রাপ্য ছিল না। কী দুর্দান্ত ম্যাচ, দুর্দান্ত ফিনিশিং! অসাধারণ খেলেছে ইংল্যান্ডও, কিন্তু অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে তাদের হারিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ওভারেই লড়াইটাই ধরুন, নিয়মিত উইকেট হারানো ক্যারিবীয়দের ম্যাচে ধরে রেখেছিলেন মারলন স্যামুয়েলস (৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি)। কিন্তু বাজিমাত করলেন কার্লোস ব্রাথওয়েইট। ৬ বল খেলে ১০ করে স্ট্রাইকে ছিলেন তিনি। টানা চার বলে চার ছক্কা মেরে ওয়েস্ট ইণ্ডিজকে জিতিয়ে দিলেন ক্যারিবীয় স্টাইল!
শেষের তান্ডবে নায়ক ব্র্যাথওয়েট। তবে সেই মঞ্চটা গড়ে দেওয়ার নায়ক আরেকজন। যার হাত ধরে ফিরে এল ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল, সেদিনের প্রেমাদাসা ফিরে এলো এদিনের ইডেনে। সেবার ফাইনালে ৭৮ রানের দারুণ ইনিংসে দলকে এনে দিয়েছিলেন শিরোপা। আবারও অসাধারণ এক ইনিংসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ভাগ্য গড়ে দিলেন মারলন স্যামুয়েলস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিল স্যামুয়েলসের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস আর ব্র্যাথওয়েটের অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কায় ক্যারিবিয়ানরা জিতে যায় ২ বল আগে।
একাধিকবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পূর্বসূরিদের সেই কীর্তি স্পর্শ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই দল। ছোট সংস্করণের বিশ্বকাপেও দুবার শিরোপা জয়ী প্রথম দল তারাই। দুটি বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়ে একটা জায়গায় কাইভ লয়েডের পাশে বসলেন ড্যারেন স্যামি।
নতুন বলে স্যামুয়ের বদ্রি নাড়িয়ে দিয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটিং। তবে জো রুটের ব্যাটে লড়াইয়ে ফিরে ইংল্যান্ড। ব্র্যাথওয়েট-ব্রাভোদের উইকেট শিকার আবার থমকে দেয় ইনিংস। তবে শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারদের ব্যাটে ইংল্যান্ড পেল লড়ার মত রান। কিন্তু শেষ রা হয়নি।
নতুন বলে স্যামুয়েল বদ্রি নাড়িয়ে দিয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটিং। তবে জো রুটের ব্যাটে লড়াইয়ে ফিরে ইংল্যান্ড। ব্র্যাথওয়েট-ব্রাভোদের উইকেট শিকার আবার থমকে দেয় ইনিংস। তবে শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারদের ব্যাটে ইংল্যান্ড পায় লড়ার মত রান। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপে আগের ৫ ম্যাচের মতো ফাইনালেও টসে জিতে ড্যারেন স্যামি বেছে নেন পছন্দের রান তাড়া। টানা ১০টি-টোয়েন্টিতে তিনি জিতলেন টস! টুর্নামেন্টে আগের সব ম্যচের মতো এদিনও নতুন বল হাতে বদ্রি শুরুতেই ইংল্যান্ডকে দেন বড় ধাক্কা। ইংলিশদের সেমিফাইনালের নায়ক জেসন রয় ফাইনালে দেখছেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। ম্যাচের প্রথম বলেই বেঁচে গিয়েছিলেন জোড়ালো এলবিডব্লিউ আবেদন থেকে। তবে পরের বলেই বদ্রির দারুণ এক স্লাইডারে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড। পরের ওভারে আবারও দৃশ্যপটে বদ্রি। আন্দ্রে রাসেলের লেগ স্টাম্পে থাকা বাজে বলে টাইমিং দারুণ করেছিলেন অ্যালেক্স হেলস। কিন্তু শট ফাইন লেগে বদ্রিকে ফাঁকি দিতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েই রিফেক্স ক্যাচ নেন বদ্রি। তৃতীয় উইকেটেও যথারীতি ছিলেন বদ্রি। এবার দারুণ এক গুগলিতে বিভ্রান্ত ইংলিশ অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন নড়বড়ে ইংল্যান্ড।
ইনিংসটা কিছুটা থিতু করে পাল্টা আক্রমণ চালান রুট আর জস বাটলার। টার্গেট করেন তারা সুলিমান বেনকে। দীর্ঘদেহী বাঁহাতি স্পিনারকে টানা দু বলে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন বাটলার। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ৫১ রানের এই জুটি ভাঙেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। চতুর্থ ছক্কার চেষ্টায় আউট হন বাটলার (২২ বলে ৩৬)।
আরেক পাশে দারুণ খেলে ৩৩ বলে অর্ধশতক তুলে নেন ইংল্যান্ডের রান মেশিন রুট। স্টোকস এসেও সঙ্গ দিচ্ছিলেন ভালোই। তবে হঠাৎই আবার এলোমেলো ইংল্যান্ড। এক ওভারেই ডোয়াইন ব্রাভো ফেরান স্টোকস ও মইন আলিকে। ব্র্যাথওয়েটকে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেট উপহার দিয়ে আসেন রুট (৩৬ বলে ৫৪)। ৪ বলের মধ্যে ১ রানে ইংল্যান্ড হারায় ৩ উইকেট!
ব্রাভোকেই পরে এক ওভারে দুটি ছক্কা মারেন ডেভিড উইলি। তার ১৩ বলে ২১ রান প্রাণ ফেরায় ইংলিশ ইনিংসে। ব্রাভোর বলেই আবার দারুণ এক ক্যাচে বদ্রি ফেরান লিয়াম প্লাঙ্কেটকে। হাতে ব্যথা নিয়ে মাঠও ছাড়তে হয় তাকে। শেষ ওভারে ক্রিস জর্ডান দলের রানকে নিয়ে যান দেড়শর ওপারে।

নারী বিশ্বকাপের সেরা স্টেফানি টেলর

নারীদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক স্টেফানি টেলর। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করে এ পুরস্কার জেতেন তিনি। তবে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ফাইনাল সেরার পুরস্কার জেতেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউজ। ২ ওভার বল করে ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ৪৫ বলে ৬৬ রানও করেন তিনি। ৬টি বাউন্ডারির সঙ্গে মেরেছ্নে ৩টি ছক্কার মার।
এবারের আসরে সর্বাধিক ২৪৬ রান করেন টেলর। বিশ্বকাপের ছয় ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ৪০, ৪০, ৩৫, ৪৭, ২৫ এবং ৫৯। ফাইনালেই তার ব্যাট থেকে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৫৯ রান। শুধু ব্যাট নয় বল হাতেও দারুণ সফল ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। ৮ উইকেট নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তার উপরে ৯ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন তিনজন।
ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট পুরস্কার জেতার পর টেলর বলেন, ‘আমি অনেক দিন থেকেই এর জন্য অপেক্ষা করছি এবং অবশেষে এতা এসেছে আমার হাতে। শুরুটা আমরা জেভাবে করতে চেয়েছিলাম তা পারিনি, তবে ব্যাটিং আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে। আর ভালো লাগছে ছেলেদের দলও আমাদের সঙ্গে আনন্দ করেছে। সকালে স্যামি আমাকে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়েছে, আমরা জিততে যাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েই শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমবারের মত ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করলো টেলরের দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ১৫৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে ইংল্যান্ড। রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড।
ক্যারিবীয় স্পিনার স্যামুয়েল বদ্রির করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে যান জেসন রয় (০)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে এই প্রথম এত দ্রুত প্রথম উইকেট পড়ল। এর আগে ২০০৯ ও ২০১২ ফাইনালে পঞ্চম বলে প্রথম উইকেটের পতন ঘটেছিল।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আন্দ্রে রাসেলের বলে বদ্রিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অ্যালেক্স হেলস (১)। অর্থাৎ দুই ওপেনার মিলে করেন মাত্র ১ রান। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে একবারই ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার মিলে মাত্র ১ রান করেছিলেন, ২০০৯ সালে ম্যানচেস্টারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলে উঠতে না-উঠতেই আরেকটি ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। বদ্রির স্পিন বিষে নীল এবার অধিনায়ক ইয়ান মরগান। ক্রিস গেইলকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ইংলিশ অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান।
শুরুতেই ৩ উইকেটে হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে জো রুট ও জস বাটলার মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এগারোতম ওভারে স্পিনার সুলেমান বেনকে পরপর দুই বলে সীমানার ওপারে আছড়ে ফেলেন বাটলার।
অবশ্য পরের ওভারেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা বাটলারকে ফিরিয়ে ৬১ রানের জুটি ভাঙেন কার্লোস ব্রাফেট। মাত্র ২২ বলে ৩ ছক্কা ও এক চারে ৩৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন বাটলার।
এরপর বেন স্টোকসকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর ১০০ পার করেন রুট। তিনি নিজে তুলে নেন ফিফটি। কিন্তু এর পরই মাত্র ১ রান তুলতেই দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে আবার বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড।
১৪তম ওভারের চতুর্থ ও শেষ বলে যথাক্রমে স্টোকস (১৩) ও মঈন আলীকে (০) সাজঘরের পথ দেখান ডোয়াইন ব্রাভো। পরের ওভারে ব্রাফেটের বলে ফিরে যান একপ্রান্ত আগলে রাখা রুট (৫৪)। ৩৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৫৪ রানের ইনিংসটি সাজান এই ডানহাতি।
শেষ দিকে ডেভিড উইলির ১৪ বলে ২১ ও ক্রিস জর্ডানের অপরাজিত ১২ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৫ রানের লড়াইয়ের পুঁজি পায় ইংল্যান্ড।
দুই দলের সামনেই রয়েছে দ্বিতীয় বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের হাতছানি। এর আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ড ও ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরোপা জিতেছিল।

অজিদের উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন ক্যারিবীয় নারীরা

এ বছরটা কী ওয়েস্ট ইন্ডিজের-ই হতে যাচ্ছে! আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর নারীদের টি-২০ বিশ্বা‍কাপের শিরোপাও জিতে নিল ক্যারিবীয়রা। তাও আবার হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া নারী দলকে আট উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে। ঘণ্টাখানেক বাদেই ছেলেদের ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন গেইল-স্যামিরা।
রোববার নারী টি-২০ বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরের ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে অজিরা। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নির্ধারিত ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান জমা করে গত তিনটি আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
অনেকটা হেসে-খেলেই সংক্ষিপ্ত ফরমেটে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন তকমা গায়ে লাগালো ক্যারিবীয় নারীরা। ওপেনিং জুটিতেই ১২০ রান (১৫.৪ ওভার) তোলেন হেইলি ম্যাথিউস ও স্টেফানি টেইলর। ক্রিস্টেন বিমসের বলে অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েলের তালুবন্দি হন ম্যাথিউস (৪৫ বলে ৬৬)। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও ৩টি ছক্কার মার।
১৯তম ওভারে জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক স্টেফানি। ৫৭ বল মোকাবেলায় ৫৯ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন এ ডানহাতি ব্যাটার। ডিন্দ্র ডোটিন ১২ বলে ১৮ ও ব্রিটনি কুপার ১ রানে অপরাজিত থেকে তিন বল বাকি থাকতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। স্টেফানিকে ফিরিয়ে ক্রিস্টেন বিমসের পাশাপাশি একটি উইকেট লাভ করেন রেনে ফ্যারেল।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার আলিশা হিলির (৪) উইকেট হারায় অজিরা। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন এলিস ভিলানি (৩৭ বলে ৫২) ও অধিনায়ক মেগ ল্যানিং (৪৯ বলে ৫২)। এলিস পেরির ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ২৮। ক্যারিবীয়দের হয়ে মধ্যে ডিন্দ্র ডোটিন দু’টি উইকেট লাভ করেন। একটি করে উইকেট নেন হেইলি ম্যাথিউস, আনিসা মোহাম্মদ।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন হেইলি ম্যাথিউস। টুর্নামেন্ট সেরা হন স্টেফানি টেইলর।

দুই ফাইনালের ফাঁকে নাচলো ইডেন

পরনে হলুদ, বেগুনী ও লাল রঙের শাড়ি। মাথায় ফুলেল খোঁপা আর হাতে চকচকে তরবারি। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এমন স্বর্গদেবীর সাজে নেমেছিল একদল তরুণী। তাদের সঙ্গে পরনে ধুতি আর হাতে ঢোল নিয়ে নামলো একদল তরুণ। প্রতিমা সেজে নামলো কয়েকটি শিশু। ঢাকঢোলের তালে তালে নাচতে থাকলো তরুণ-তরুণী আর শিশুর দলটি। তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক নৃত্যের তালে তালে যেন নেচে উঠলো ৬৭ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার ইডেন গার্ডেন্সও।
রোববার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের মেয়েদের ফাইনাল শেষে ও ছেলেদের ফাইনাল শুরুর আগে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ নৃত্য পরিবেশন করা হয়। ক্রিস গেইল ও জো রুটদের খেলা দেখার উত্তেজনায় এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হজারো দর্শককে যেন উন্মাদনায় ভাসিয়ে দিলো কিছু সময়ের জন্য।

রুটের ফিফটিতে ১০০ পেরিয়ে ইংল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৩ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০৩ রান। জো রুট ৫০ ও বেন স্টোক ১১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

 

ফিরে গেছেন জস বাটলার (৩৬), ইয়ান মরগান (৫), জেসন রয় (০) ও অ্যালেক্স হেলস (১)।

 

রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড।

 

ক্যারিবীয় স্পিনার স্যামুয়েল বদ্রির করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে যান জেসন রয় (০)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে এই প্রথম এত দ্রুত প্রথম উইকেট পড়ল। এর আগে ২০০৯ ও ২০১২ ফাইনালে পঞ্চম বলে প্রথম উইকেটের পতন ঘটেছিল।

 

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আন্দ্রে রাসেলের বলে বদ্রিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অ্যালেক্স হেলস (১)। অর্থাৎ দুই ওপেনার মিলে করেন মাত্র ১ রান। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে একবারই ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার মিলে মাত্র ১ রান করেছিলেন, ২০০৯ সালে ম্যানচেস্টারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

 

দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলে উঠতে না-উঠতেই আরেকটি ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। বদ্রির স্পিন বিষে নীল এবার অধিনায়ক ইয়ান মরগান। ক্রিস গেইলকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ইংলিশ অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫ রান।

 

শুরুতেই ৩ উইকেটে হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে জো রুট ও জস বাটলার মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এগারোতম ওভারে স্পিনার সুলেমান বেনকে পরপর দুই বলে সীমানার ওপারে আছড়ে ফেলেন বাটলার।

 

অবশ্য পরের ওভারেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা বাটলারকে ফিরিয়ে ৬১ রানের জুটি ভাঙেন কার্লোস ব্রাফেট। মাত্র ২২ বলে ৩ ছক্কা ও এক চারে ৩৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন বাটলার।

 

সেমিফাইনালের একাদশ নিয়েই ফাইনালে খেলতে নেমেছে দুই দল।

 

দুই দলের সামনেই রয়েছে দ্বিতীয় বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের হাতছানি। এর আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ড ও ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরোপা জিতেছিল।

 

 

 

শুরুতেই মহা বিপর্যয়ে ইংল্যান্ড

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ব্যাটিং উইকেটই প্রত্যাশা করেছিল সবাই। কিন্তু, একি ব্যাটিং উইকেট যে দেখা যাচ্ছে ব্যাটসম্যানদের মৃত্যুকুপ! টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। আমন্ত্রণ পেয়ে ব্যাট করতে নেমেছে ইংল্যান্ড।

কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে প্রথম বল থেকেই মারমুখি হয়ে ওঠা ইংলিশদের একি দশা। ইনিংসের দ্বিতীয় বল থেকেই চরম বিপর্যয়ে পড়েছে ইয়ন মরগ্যানের দল। স্যামুয়েল বদ্রিকে দিয়ে বোলিং ওপেন করার ড্যারেন স্যামি। ওভারের দ্বিতীয় বলেই বদ্রির সুইং বুঝতেই পারেননি জ্যসন রয়। ইংল্যান্ডকে স্বপ্নের শুরু এনে দেয়ার মূল কারিগরই বোল্ড হয়ে গেলেন কোন রান না করে।

রানের খাতা খোলার আগেই এক উইকেট নাই ইংলিশদের। এই ওভারে স্যামুয়েল বদ্রির কাছ থেকে ৭ রান নিলেন জো রুট। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে আসেন আন্দ্রে রাসেল। এবার ইনিংসের পঞ্চম বলেই আলেক্স হেলসকে ফিরিয়ে দিলেন রাসেল। স্রেফ বোকা বানালেন হেলসকে। শর্ট ফাইন লেগে খেলতে দিলেন। তাতেই ক্যাচ তুলে দিলেন হেলস। জায়গায় দাঁড়িয়ে ক্যাচটি তালুবন্দী করলেন স্যামুয়েল বদ্রি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৩.৩ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১৪ রান। জো রুট ১৩ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। তার সঙ্গী অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান ব্যাট করছ্নে ৫ রান নিয়ে।

ক্যারিবীয় মেয়েদের সঙ্গে নাচলেন স্যামিরাও

বিশ্বকাপ এলেই দুর্দান্তভাবে মুহূর্তকে উদযাপন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। কিছুদিন আগেই ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জিতে ব্র্যাভোর গাওয়া ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানের তালে তালে টিম হোটেলে নেচেছিলেন স্যামি-ব্রাভোরা। এবার সেই ঢংয়েই নাচলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরাও।
রবিবার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ক্যারিবীয়রা। সেই ম্যাচে জয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে এসে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে একবার সামনে এনে, তারপর আবার বুকের কাছে এনে উদ্‌যাপন করেছেন ক্যারিবীয় শিরোপা জয়ীরা। যেখানে ইডেনের মাঠেই যোগ দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছেলেদের দলের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি ও অন্যান্য সদস্যরা।
এমন উদযাপন ভঙ্গি ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দেখিয়েছিলেন ক্রিস গেইল। সেই থেকেই এমন ভঙ্গিতে নিজেদের জয়ের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মূলত গানটি গেয়েছিলেন ড্যারেন ব্র্যাভোই।

নারী ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ

হেইলি ম্যাথিউজের ঝড়ো ব্যাটিং এবং অধিনায়ক স্টেফানি টেলরের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব ভেঙে দিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে অসিদের আট উইকেটের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েই শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠে তারা। ফলে টানা চারবার শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়া হলো না অস্ট্রেলিয়ার। প্রথমবারের মত ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করলো টেইলরের দল।
অস্ট্রেলিয়া নারীদের দেওয়া ১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে শুরুতে দারুন সাবধানি ব্যাটিং করেছিল ক্যারিবীয়রা। প্রথম দুই ওভারে রান তুলেছিল মাত্র ৩। পাওয়ার প্লে শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪৫ রান। তবে এরপরই ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন হেইলি ম্যাথিউজ। দুই ওপেনারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৩.৩ ওভারে শতরানের কোঠা পার করে তারা।
ম্যাথিউজ ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশত তুলে নিতে বল খেলেন মাত্র ৩৫টি। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৬৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ক্রিস্টেন বিমসের বলে আউট হন তিনি। এ রান করতে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। শর্ট মিডউইকেটে তার ক্যাচটি লুফে নেন ব্ল্যাকওয়েল।
ম্যাথিউজের বিদায়ের পর দিয়েন্দ্রা ডট্টিনকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক স্টেফানি টেলর। দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে রিনি ফেরেলের বলে আউট হওয়ার আগে ৫৭ বলে ৫৯ রান করেন টেলর। তার ইনিংসটি ৬টি চার দিয়ে সাজানো। এরপর বাকি কাজ ব্রিটনি কুপারকে নিয়ে শেষ করেন ডট্টিন। শেষ পর্যন্ত ৩ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় তারা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১টি করে উইকেট পান ফেরেল ও বিমস।
এর আগে রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় বড় সংগ্রহই পায় তারা। দলীয় ১৫ রানে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে প্রথম আঘাত হানেন হেইলি ম্যাথিউজ। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে সাজঘরে ফেরান আলিশা হেইলিকে (৪)।
এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এলিস ভিল্লানিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ম্যাগ ল্যানিং। ৭৭ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন এ দুই ব্যাটসম্যান। দলীয় ৯২ রানে দিয়েন্দ্রা ডট্টিনের স্লোয়ার বলে টেইলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ভিল্লানি। তবে আউট হবার আগে ক্যারিয়ারের অষ্টম অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।
এরপর এলিশ পেরিকে নিয়ে ৪২ রানের আরও এক্তি দারুন জুটি গড়েন ল্যানিং। আনিশা মোহাম্মদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পরার আগে ক্যারিয়ারের নবম অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।
ভিল্লানি এবং ল্যানিং উভয়ই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করে করেন। তবে ল্যানিংয়ে চেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিলেন ভিল্লানি। মাত্র ৩৭ বলে ৯টি চারের সাহায্যে এ রান করেন ভিল্লানি। আর ৪৯ বল মোকাবেলা করে ৮টি চারের সাহায্যে এ রান করেন ল্যানিং।
শেষ দিকে পেরির ২৮ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ডট্টিন ৩৩ রানে ২টি উইকেট পান। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন ম্যাথিউজ ও আনিশা।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শিরোপার লড়াইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাগ ল্যানিং। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এ নিয়ে টানা চতুর্থবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটাররা। আগের তিন আসরের চ্যাম্পিয়নও তারা। অপরদিকে প্রথমবারের মত এ সংস্করণের ফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারীরা।

অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড :

ম্যাগ ল্যানিং (অধিনায়ক), অ্যালিসা হিলি (উইকেটরক্ষক), এলিসি ভিল্লানি, এলিসি পেরি, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল, জেস জোনাসেন, বেথ মুনি, ইরিন ওসবোর্ন, ক্রিস্টেন বিমস, রিনি ফারেল ও মেগান সোচুট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড :

স্ট্যাফেনি টেইলর (অধিনায়ক), হেইলি ম্যাথুজ, ব্রিটলি কুপার, দিনদ্রা দোতিন, মেরিসা অ্যাগুইলিরা (উইকেটরক্ষক),স্টাচি আন কিং, সিমেইন ক্যাম্পেবিলি, সাকুয়া কুইন্টনি, আনিসা মোহাম্মদ, সামিলিয়া কোনেল ও আফি ফ্লেচার।

বৃষ্টিতে ফাইনাল না হলে কী হবে?

কলকাতার ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে আজ (রোববার) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় স্বপ্নের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এ লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবে হাজির হয়েছে বৃষ্টি। আজ ইডেনে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস যদি সত্যিই হয় তাহলে কি হবে ফাইনালের ভাগ্যে?

কলকাতার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরের পর বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনেরবেলায় কমপক্ষে এক ঘণ্টা বৃষ্টি হতে পারে। রাতের বেলায় অবশ্য বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। দিনেরবেলায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। আর রাতেরবেলায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ। দিনে দুই মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে।

অবশ্য ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। আজ বৃষ্টিতে খেলা পরিত্যাক্ত হয়ে গেলেও আগামীকাল ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। আর এদিনও যদি বৃষ্টি বা কোনো কারণে খেলা না হয়, সেক্ষেত্রে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ইংল্যান্ডকে।

মরগানের হাত থেকে ট্রফি কেড়ে নিলেন স্যামি!

রোববার ইডেনে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। এদিনই ফয়সালা হবে কার হাতে উঠছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ইডেনে ট্রফি কে উচিয়ে ধরবেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি নাকি ইংলিশ ক্যাপ্টেন ইউয়ান মরগান তা জানা যাবেন রোববার। কিন্তু তার আগেই মরগানের হাত থেকে বিশ্বকাপের ট্রফি কেড়ে নিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক স্যামি! বিশ্বকাপের আগে ট্রফি হাতে ফটোসেশনে এক হয়েছিলেন ড্যারেন স্যামি এবং মরগান। সেখানেই দুষ্টুমির ছলে মরগ্যানের হাত থেকে ট্রফি কেড়ে নেন স্যামি। তবে কিছুণ পরেই সেই ট্রফি ফিরিয়ে দেন মরগানের হাতে। এরপর হাসিমুখে দুজনে ট্রফি হাতে ছবি তোলেন। রোববার নিশ্চয়ই ইডেনে এভাবেই ট্রফিটি কেড়ে নিতে চাইবেন গেইল-ব্রাভোরা।

ফাইনালে কালো আর্মব্যান্ড পড়বেন খেলোয়াড়রা

কলকাতায় ফাইওভার দূর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে পুরুষ ও মহিলা ফাইনালের চারটি দলের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পড়ে রোববার মাঠে নামবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট এসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছেন তাদের অনুরোধেই দলগুলো কালো আর্মব্যান্ড পড়তে সম্মতি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলের জোড়াসাঁকো এলাকায় নির্মাণাধীন ফাইওভার ধ্বসে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের আগে বিসিসিআই’র প্রয়াত সভাপতি জাগমোহন ডালমিয়ার স্মরণে পাঁচ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে। দুটি ফাইনালেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে মাঠে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরুষ বিভাগে গেইল-স্যামিদের প্রতিপ ইংল্যান্ড ও মহিলাদের বিভাগে ক্যারিবীয়দের বিপে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া।

ছক্কার সেঞ্চুরির পথে গেইল

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বড় বিজ্ঞাপন ক্রিস গেইল। মাঠে নামলেই চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন তিনি। সে কারণেই ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশি জনপ্রিয় তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ক্রিস গেইলের বর্তমান ছয় সংখ্যা ৯৮টি। আর দুইটি ছয় হলেই টি-টোয়েন্টিতে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছক্কার সেঞ্চুরি গড়বেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটিং দানব। টি-টোয়েন্টিতে ছয় মারার দিক থেকে গেইলের পর আছেন নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককলাম। তার ছয় সংখ্যা ৯১টি। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১১টি ছয় মেরেছেন ক্রিস গেইল। বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ছয় মেরেছেন ১৪টি। আর আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শাহজাদ ছয় মেরেছেন ১২টি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাকি ইংল্যান্ড : ফয়সালা রোববার

শিরোপা জয় ও ফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়েই টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ষষ্ঠ আসরে যাত্রা শুরু করেছিলো ১৬টি দল। কিন্তু ফাইনাল খেলার স্বপ্ন শেষ অবধি পূরণ হলো দু’টি দলের। দল দু’টি হলো-ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় স্বপ্নের ফাইনালে লড়বে এই দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে খেলার স্বপ্নকে আরও রঙ্গিন করতে শিরোপা জয়ের স্বাদ নিতে চায় ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই জমজমাট এক ফাইনালের প্রত্যাশায় ক্রিকেটভক্তরা। ২০১০ আসরের শিরোপা জিতেছিলো ইংল্যান্ড। আর পরের আসরের শিরোপা ঘরে তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঐ আত্মবিশ্বাস থেকেই শিরোপা জয়ের সংখ্যা দ্বিগুন করার ল্য ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এমন ইঙ্গিত দিয়েই রেখেছিলো দু’দল। অবশেষে স্বপ্ন পূরনের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে মঞ্চে সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারলেই ২০১৬ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা হাতে উঠবে। তবে শিরোপাটি কার হাতে উঠবে তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারন শক্তি ও পারফরমেন্সের বিচারে দু’দলই সমানে-সমান। সুপার টেনে নিজেদের শক্তি ও পারফরমেন্স ভালোভাবেই প্রদর্শন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। সুপার টেনে একই গ্রুপে ছিলো তারা। তাই সেখানে একবার দেখাও হয়েছে তাদের। তাতে অসহায় আত্মসমর্পনই করেছিলো ইংল্যান্ড। অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটির কাছে নয়, ক্রিস গেইলের কাছে। ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচ জয়ের জন্য ১৮৩ রানের টার্গেট দিয়েছিলো ইংল্যান্ড। সেই রান নিজের ব্যাটের ঝলক দিয়েই পার করে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যাশিং ওপেনার ক্রিস গেইল। ১১টি ছক্কা ও ৫টি চারে ৪৮ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাতে ১১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ক্যারিবীয়রা। এরপর আরও দু’টি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের লাইন-আপে প্রথম নাম লেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অবশ্য সুপার টেনে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগাস্তিানের কাছে হেরে বসে ক্যারিবীয়রা। অবশ্য সেই হারের তটা খুবই বেশি গভীর হয়নি স্যামির দলের। তার উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেল সেমিফাইনাল ম্যাচে।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অসাধারন পারফরমেন্স দেখিয়ে আরেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে উঠে তারা। ঐ ম্যাচের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে মনে হয়েছে, শিরোপা জয় করা হয়ে গেছে তাদের। ম্যাচ শেষ হবার পর থেকে এখনও ক্যালিপসো নাচে ডুব দিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মুম্বাই থেকে কলকাতা আসার বিমানেও নাচ-গানে মেতে উঠেছিলেন ব্রাভো-স্যামিরা। এই আনন্দ থেকেই নিজেদের চাঙ্গা রাখতে চাইছেন ব্রাভোরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনটা জানালেন ব্রাভো নিজেই, কি অসাধারন এক ম্যাচই আমরা জিতেছি। বিশ্বের সবাই আমাদের সাদুবাদ জানাচ্ছে। সামনে বড় ম্যাচ। ফাইনাল। কলকাতার ম্যাচ নিয়ে চিন্তা আমরা শুরু করে দিয়েছি। এরমাঝেও নিজেদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা আমরা করি। যা ফাইনালে ভালো কাজে দিবে। ফাইনাল জয়ের ব্যাপারে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা ইংল্যান্ড, পরের ম্যাচগুলোতে ছিলো
দুর্দান্ত। দণি আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও শ্রীলংকাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে তারা। সেখানে গ্রুপ-২এর চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে হতাশার সাগরে ভাসিয়ে দেয় ইংলিশরা। শেষ চারে ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পায়নি সুপার টেনে সব ম্যাচ জয় করা একমাত্র দল নিউজিল্যান্ড। ৮ উইকেটে ১৫৩ রান করেও ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ওপেনার জেসন রয় ও উইকেটরক জশ বাটলারের ব্যাটিং ঝড়ে ১৭ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় ইংলিশরা। সেই সাথে দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে নাম লেখায় মরগানের দল। তাই দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নও দেখছে ইংল্যান্ড এমন কথা অকপটে জানালেন দলের সেরা খেলোয়াড় জো রুট, দুর্দান্ত ক্রিকেটই খেলছি আমরা। জয়ের ধারাতেই আছি। সেমিফাইনাল ম্যাচটি আমাদের সাহস অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বলা যায়-শিরোপা জয়ের ইচ্ছা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফাইনালে কি হবে, তা নিয়ে ভাবছি না। খেলার দিকেই আমরা সবচেয়ে বেশি মনযোগী। শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ খেলাটাই প্রদর্শন করবো আমরা। টি-২০ ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপে রেকর্ড মোটেও ভালো নয় ইংল্যান্ডের। আগের ১৩ লড়াইয়ের মধ্যে মাত্র ৪টিতে জিতেছে তারা। আর ৯টি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড : ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), স্যামুয়েল বদ্রি, সুলেমান বেন, কালোর্স বার্থওয়েথ, ডোয়াইন ব্রাভো, জনসন চালর্স, ক্রিস গেইল, জেসন হোল্ডার, এভিন লুইস, অ্যাশলে নার্স, দিনেশ রামদিন, আন্দ্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, লেন্ডল সিমন্স ও জেরম টেইলর।
ইংল্যান্ড স্কোয়াড : ইয়োইন মরগান (অধিনায়ক), মঈন আলী, স্যাম বিলিংস, জশ বাটলার (উইকেটরক), লিয়াম ডৌসন, অ্যালেক্স হেইলস, ক্রিস জর্ডান, লিয়াম প্লাংকেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, রিসি ট্রপলি, জেমস ভিন্সি ও ডেভিড উইলি।

অস্ট্রেলিয়ার টানা চার না-কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম

নারীদের ইভেন্টে পঞ্চম টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরের ফাইনালে রোববার মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই নিয়ে টানা চারবারের মত ফাইনাল খেলছে অসিরা। তাই টানা চতুর্থ শিরোপার স্বাদ নিতে মুখিয়ে আছে ল্যানিং-এর দল। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই প্রথমবারের মত ফাইনালে নাম লিখিয়েছে। তাই শিরোপা জয়ের প্রথম সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটটা মাথায় পড়াই প্রধান ল্য টেইলরের দলের। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটায় শুরু হবে ফাইনাল ম্যাচটি। নিজ নিজ গ্রুপের রানার্স-আপ হয়েই টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারীরা। গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৪ খেলায় ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে আসে অসিরা। তাদের মতোই একই রেকর্ড নিয়ে সেমিতে উঠে ক্যারিবীয়রা। তারা ছিলো ‘বি’ গ্রুপে। তবে সেমিফাইনালে কঠিন পরীাই দিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেখানে অসিদের প্রতিপ ছিলো ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। অভিজ্ঞতা ও শক্তির বিচারে ইংলিশদের চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিলো অসিরা। কিন্তু ব্যাট হাতে নিজেদের ভালোভাবে মেলে ধরতে পারেনি অসিরা। তবে বোলারদের কল্যানে শেষ পর্যন্ত ৫ রানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার মতই সেমিফাইনালে সেরা পারফরমেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজও। তাদের জয়ের স্বাদটাও ছিলো ছোট ব্যবধানে। মাত্র ৬ রানে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে হারায় ক্যারিবীয়রা। তবে এমন জয়ে তৃপ্ত হয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক স্ট্যাফেনি টেইলর। কারন জয় পাওয়াতে আত্মবিশ্বাসটা টগবগে আছে দলের বলে জানালেন তিনি, কিভাবে বা কত রানে জয় এসেছে এখন এটা মূখ্য নয়। আমরা জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছি, এটাই বড় কথা। এখন আমাদের সামনে অনেক বড় দায়িত্ব। প্রথমবারের মত টি-২০ ক্রিকেটে সেরা হবার সুর্বন সুযোগ। বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে হবে। সতীর্থরাও শিরোপা হাতে তুলে নিতে মুখিয়ে আছে। অস্ট্রেলিয়া অনেক শক্তিশালী ও ব্যালেন্সড দল। তাদের বিপে ভালো পারফরমেন্স করতে হবে। নয়তো সব স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। তবে আশা করি, সাফল্য নিয়েই আমরা এবারের বিশ্বকাপ শেষ করবো। নারীদের মত পুরুষদের ফাইনালেও উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে টেইলর বলেন, আমরা ও স্যামিরা ফাইনালে উঠেছি। আশা করবো দিনটি শুধুই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হবে। শিরোপা জয়ের জন্য মুখিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মেগ ল্যানিং-ও। এবারও শিরোপা জিততে পারলে টি-২০ ফরম্যাটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব নিজেদের কব্জাতেই রাখবে অসিরা। তাই শিরোপা নিজেদের কাছে রেখে দিতে সব কিছু করার জন্য প্রস্তুত তার দল বলে জানালেন ল্যানিং, প্রথমটি বাদে পরের তিন আসরেই শিরোপা জিতেছি আমরা। দল হিসেবে আমরা টি-২০ ক্রিকেটে কতটা শক্তিশালী ও পরিপক্ব তা বলার অপো রাখে না। এবারও ফাইনালে উঠেছি। এবারও আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে চাই। শিরোপা জয়ের জন্য মাঠে সবকিছু করতে তৈরি আমরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো দল। ভালো দল বলেই ফাইনালে উঠেছে তারা। তাদের বিপে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে শিরোপা আমাদেরই থাকবে।
অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড : মেগ ল্যানিং (অধিনায়ক), অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল (সহ-অধিনায়ক), ক্রিস্টেন বিমস, নিকোলা কারি, লৌরেন চিতলি, সারা কোতি, রিনি ফারেল, হলি ফার্লিং, অ্যালিসা হিলি (উইকেটরক), জেস জোনাসেন, বেথ মুনি, ইরিন ওসবোর্ন, এলিসি পেরি, মেগান সোচুট ও এলিসি ভিল্লানি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড : স্ট্যাফেনি টেইলর (অধিনায়ক), সাকিরা সেলম্যান (সহ-অধিনায়ক), মেরিসা অ্যাগুইলিরা (উইকেটরক), সিমেইন ক্যাম্পেবিলি, সামিলিয়া কোনেল, ব্রিটলি কুপার, দিনদ্রা দোতিন, আফি ফেচার, স্টাচি আন কিং, কেসোনা নাইট, কেসিয়া নাইট, হেইলি ম্যাথুজ, আনিসা মোহাম্মদ, সাকুয়া কুইন্টনি ও ত্রিমাইনি স্মার্ট।

পরবর্তী বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ায়

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখনও চলমান। রোববার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনালের মধ্যে দিয়ে এবারের আসরের সমাপ্তি ঘটবে। তবে এর আগেই জানিয়ে দেওয়া হলো পরবর্তী টি-২০ বিশ্বকাপের সময়সূচি।
২০২০ সালে পরবর্তী টি-২০ বিশ্বকাপের আসর বসবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। এখন থেকে প্রতি চার বছর পর পর টি-২০ বিশ্বকাপ হবে বলে ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এর আগেও অজিদের মাটিতে বিশ্বকাপের আসর বসেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২০ সালেই প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপ হবে সেখানে।
এদিকে পরবর্তী বিশ্বকাপে ১৬টি দেশ অংশ নেবে বলে ঠিক হয়েছে । গ্রুপ পর্বের পরেই কোয়ার্টার ফাইনাল হবে। অনেকটা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের মতো।
যে ১৬টি দেশ পরবর্তী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে: অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, জিম্বাবুয়ে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান, হংকং ও আয়ারল্যান্ড।

নারীদের আইপিএল চান অজি দলনেতা ল্যানিং

পুরুষদের দাপটে প্রায়ই ছায়ার মধ্যে থাকতে হয় নারী ক্রিকেটকে। তবে দিন দিন বিশ্ব ক্রিকেটে নারীদের অবস্থানও উন্নতির দিকে যাচ্ছে। যেমন এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোমাঞ্চকর কয়েকটি ম্যাচ উপভোগ করেছে সমর্থকরা। আর নারী ক্রিকেটকে আরও ওপরের দিকে নিতে এই ফরম্যাটে আইপিএল করার ইঙ্গিত দিলেন অস্ট্রেলিয়া নারী দলের অধিনায়ক মেগ ল্যানিং।
সেই সঙ্গে ল্যানিংয়ের মতামতকে ইতিবাচক দেখে একই সুরে কথা বলছেন ইংল্যান্ড ও ভারতীয় নারী দলের অধিনায়ক শার্লট এডওয়ার্ডস ও মিথালি রাজ।
অগামী রোববার (০৩ এপ্রিল) কলকাতায় নারী টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে ভারত। রেকর্ড চতুর্থবার শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে ল্যানিং বলেন, ‘এটা এখন একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার। সমর্থকরা এখন নারীদের খেলা দেখতে চায়। গত কয়েকটি বছর ধরে এটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ায় নারীদের বিগ ব্যাশ টুর্নামেন্ট সফল হতে দেখেছি। ইংল্যান্ডেও নারীদের প্রচুর খেলা হচ্ছে। আর ভবিষ্যতে যদি আইপিএলেও নারীদের অংশগ্রহন থাকে, তবে খেলাটি আরও এগিয়ে যাবে। আর ক্রিকেটাররাও আরও উৎসাহ পাবে।’

ফাইনালে সতর্ক ইংল্যান্ড

এবারের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার (০৩ এপ্রিল) ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষের বিষয়ে একটু বেশিই সতর্ক ইংলিশ শিবির। কেননা, বিশ্বকাপের এই আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে অদম্য পারফরমেন্স দেখিয়েছে তাতে তাদের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি জেতা সহজ হবে না।
শনিবার দুপুরে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন ইংলিশ অধিনায়ক ইউয়েন মরগ্যান।
তিনি বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবারের আসরে তাদের সেরা খেলাটি খেলে নিজেদের যোগ্যতার শতভাগ প্রমাণ করে তবেই ফাইনালে এসেছে। তাই আমার মনে হয়, ম্যাচটি একেবারে সহজ হবে না। তাই দলের সবাই একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি।
‘তবে এ কথাও ঠিক, আমরাও আমাদের সেরা খেলাটি খেলেই সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মতো দাপুটে দলকে হারিয়ে এ জায়গায় (ফাইনালে) এসেছি। এবার আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল জয়। আর এ লড়াইয়ে আমরা শিরোপা জয়ের জন্যই লড়বো,’ বেশ প্রত্যয় নিয়েই বললেন ইউয়েন মরগ্যান।
ফাইনালের লড়াইয়ের জন্য মাঠে নামতে দলের প্রতিটি সদস্যই শতভাগ ফিট আছেন বলেও জানান তিনি। বললেন, ‘আমাদের সবার ফিটনেস লেভেল এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। দলে ইনজুরির সমস্যা একেবারেই নেই। আশা করছি সবাই নিজের সর্বোচ্চ খেল‍াটাই খেলবে।’
এদিকে শিরাপা নির্ধারণী রোববারের ম্যাচে ইংলিশদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে আছেন বিশ্ব ক্রিকেটের সব চাইতে বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল। তাকে নিয়ে প্রতিটি দলই সব সময় আলাদা পরিকল্পনা করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এই ম্যাচেও তেমনটি থাকবে এটাই যুক্তিযুক্ত। তাইতো সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ অধিনায়ককে জিজ্ঞস করা হলো, ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫ রান করে গেইল আউট হলেও ক্যারিবীয় বাকি ব্যাটসম্যানেরা ম্যাচ জিতিয়েছেন। এই ম্যাচে গেইলকে নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
উত্তরে সহাস্যে মরগ্যান জানালেন, ‘আমি মনে করিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো এমন হেভি ওয়েট একটি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুধুই গেইল নির্ভর হয়ে খেলবে। দলটির অন্যান্য ব্যাটসম্যানেরাও বিশ্বমানের। আর সেই প্রমাণ তারা দিয়েছে গেল ৩১ মার্চে ওয়াংখেড়েতে।
‘স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ১৯২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ তারা ঠিকই টপকে গেছে। গেইল ওই ম্যাচে মাত্র ৫ রান করেছিলেন। এরপরও কিন্তু তাদের জয় আটকে রাখা যায়নি।’
রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ইংল্যান্ডকে মোকাবেলা করবে গেইল-সিমন্সের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে একই মাঠে বিকেল সাড়ে ৩টায় মেয়েদের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এসময় অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দল।

স্বপ্নের ফাইনালের আগে উড়ছে ইংল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে ইংল্যান্ড। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান জো রুট জানিয়েছেন, স্বপ্নের ফাইনালে খেলার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন তারা।
আগামী রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। তার আগের দিন ফাইনাল নিয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাসের কথা জানান রুট।
“ছোট বেলায় আপনি কেবল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখতে পারেন। … গত দুই দিন ধরে আমি ড্রেসিং রুম, বাসে সতীর্থদের দেখছি, তারা সবাই শুধু হাসছে।”
গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জেতা নিউ জিল্যান্ডকে সেমি-ফাইনালে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে পৌঁছানোর পর হাসতেই পারেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পর ওয়েন মর্গ্যানের দল যেভাবে এগিয়েছে তাতে সময়টা তাদের জন্য আরও উপভোগ্য হয়ে উঠারই কথা।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েও ক্রিস গেইল ঝড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৬ উইকেটে হারে ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি।
ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেওয়া সেই জয়ের পর আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছায় ইংল্যান্ড। তারপর নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ছয় বছর পর আবার ফাইনালে পৌঁছায় ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের এগিয়ে চলায় বড় অবদান ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের। কেবল আফগানিস্তান ম্যাচ ব্যতিক্রম, এছাড়া সব ম্যাচেই দেখা গেছে তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী।
সুপার টেন থেকে ইংল্যান্ডই একমাত্র দল যারা ওভার প্রতি নয়ের বেশি রান সংগ্রহ করে। ৯.১২ করে রান নেওয়া দলটি বেশ এগিয়ে আছে ফাইনালের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের (৭.৭৮) চেয়ে।
ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা শুধু যে চার-ছয়ের দিকেই মনোযোগী ছিলেন এমন না। ডট বল কম দেওয়ার দিকেও মনোযোগী ছিলেন তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার (৩৩.৪৮) পর টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম বল ডট দেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা (৩৩.৮৫)।
অন্যদিকে ডট বল দেওয়ার ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা (৪৫.৪৪)। তবে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে অন্য দলের সঙ্গে এই ব্যবধান পুষিয়ে নেয় ড্যারেন স্যামির দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটা খুব একটা সম্ভব নাও হতে পারে।
ছক্কা হাঁকানোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। সুপার টেনে সবচেয়ে বেশি ৩৬টি ছক্কা হাঁকিয়ে সবার ওপরে আছেন গেইল-লেন্ডল সিমন্সরা। ৩৪টি ছক্কায় তাদের ঠিক পরেই আছেন জেসন রয়-জস বাটলাররা।
দুই দলেই আছে বিস্ফোরক সব ব্যাটসম্যান। কলকাতায় তাই রয়েছে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আভাস। ক্রিকেট বিশ্বের মতো তার অপেক্ষায় আছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও, “আমার মনে হয়, ফাইনাল নিয়ে সবাই রোমাঞ্চিত। রোববারের ম্যাচের জন্য কারোর তর সইছে না।”

‘শর্ট অব ব্রেইন’ তকমাই স্যামিদের চালিকাশক্তি!

বুকে পুষে রাখা ভিসুভিয়াস জ্বলছে দাউ দাউ করে। সেই ক্ষোভের আগুনে পুড়েছে প্রতিপক্ষ। ড্যারেন স্যামি শোনালেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নেপথ্য গল্প। একজনের একটি মন্তব্যই তাতিয়ে দিয়েছে ক্যারিবিয়ানদের!
সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার ও এখন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার মার্ক নিকোলাস বিশ্বকাপের আগে ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে তার কলামে লিখেছিলেন, “শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দলে ক্লাসের অভাব, তবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে ঠিকঠাক। ক্যারিবিয়ানদের অভাব বোধ-বুদ্ধির (শর্ট অব ব্রেইন), তবে আইপিএলের ইতিহাস পক্ষে আছে তাদের।”
নিকোলাসের এই লেখা আহত করেছিল ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের। এই দলের ক্রিকেটাররা অর্থলিপ্সু বলে আরও অনেকের মন্তব্যও স্যামিদের মনে জাগিয়েছে ক্ষোভের বারুদ। সেটারই বিস্ফোরণ ঘটেছে মাঠে, ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে জানালেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।
“ব্রেইন ছাড়া মানুষ আপনি কিভাবে বলতে পারেন? এমনকি পশুদেরও ব্রেইন আছে। আমরা কোনো বস্তু বা পদার্থ নই। আমার মতে, এই মন্তব্যই আমাদের তাতিয়ে দিয়েছে। এমন একজন, যাকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি, সম্পর্কও এমনিতে খুব ভালো, তার কাছ থেকে আমাদের দল ব্রেইন ছাড়া -এমন মন্তব্য শোনা খুবই কষ্টের ব্যাপার। এটা সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত।”
“এই আবেগ, এই অনুভূতি, এই ক্ষোভ-এই সব লোকেরা যা বলে আসছে-টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই এসব চলছে। ঈশ্বর কুৎসিত কিছু পছন্দ করেন না, আমরা বিস্ময়কর ও সুন্দরভাবে সৃষ্ট। এজন্যই আমরা রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলি। এজন্যই টুর্নামেন্টের আগে এসব যা কিছু হয়েছে, সেই আবেগ, সেই প্রতিজ্ঞা আমরা মাঠে বয়ে নিয়েছি। ট্রফি উঁচিয়ে ধরা থেকে আমরা মাত্র একটি পদক্ষেপ দূরে এবং আমাদের বিশ্বাস, আমরা পারব।”

উইন্ডিজকে হারাতে পারে কেবল গেইল-স্যামিরাই!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে টগবগে আত্মবিশ্বাসে ফুটছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির বিশ্বাস, নিজেদের মতো খেলতে পারলে কেউ হারাতে পারবে না তাদের।
সেমি-ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে স্তব্ধ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোববারের ফাইনালের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেই হারের পর অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংলিশরা। দক্ষিণ আফ্রিকার ২২৯ রান তাড়া করে জিতেছে। টানা চার ম্যাচ জিতে উঠে এসেছে ফাইনালে। ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্যামি জানালেন, উন্নতি করা এই ইংল্যান্ডকে সমীহ করছেন তারা।
“ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। ওদের ক্রিকেটারদের দেখেছি। অনেক ম্যাচ উইনার আছে ওদের।”
তবে এই শ্রদ্ধাটুকুর বাইরে প্রতিপক্ষ নিয়ে স্যামির ভাবনা আছে সামান্যই। ক্যারিবিয়ানদের বিশ্বাস, সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে তারা অপ্রতিরোধ্য।
“টিম মিটিংয়ে একবার একজন সিনিয়র ক্রিকেটার বলেছিল, সম্ভবত ডোয়াইন ব্রাভো, আমাদেরকে হারাতে পারি একমাত্র আমরাই। আমরা এটাই বিশ্বাস করি। আমরাই কেবল নিজেদের হারাতে পারি। আমরা যেটা ভালো পারি বলে জানি, সেটা যদি আমরা করতে পারি, আমরা জিতবই। ফাইনালে এই মানসিকতা নিয়েই নামছি আমরা।”

গেইলদের সেই উদ্‌যাপন হোটেলেও

এবারের বিশ্বকাপে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলোয়াড়দের আনন্দের মুহূর্তগুলো উদ্‌যাপনের দৃশ্যটা। দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে একবার সামনে আনা, তারপর আবার বুকের কাছে এনে উদ্‌যাপন ইংল্যান্ড ম্যাচে প্রথম দেখিয়েছেন ক্রিস গেইল। সেই থেকে টুর্নামেন্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি সব ম্যাচেই দেখা গেছে এমন দৃশ্য। তবে এত দিন তা ছিল শুধুই মাঠে। স্যামি-ব্রাভোরা এবার সেটি ছড়িয়ে দিলেন টিম-হোটেলেও। সেটিরই ভিডিও এখন ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
ভিডিওটি আপলোড করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তাতে দেখা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাস হোটেলে পৌঁছানোর পর প্রথমেই নেমে আসেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি ও ডোয়াইন ব্রাভো। স্যামির হাতে একটি বহনযোগ্য লাউডস্পিকার। সেটিতে বাজছে ব্র্যাভোর গাওয়া ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটি। সে গানের তালে তালে নাচছেন দুজন। নাচতে নাচতেই তাঁরা ঢুকলেন হোটেলে। লবিতে ওই এই নাচ সংক্রমিত হলো অন্যদের মধ্যেও। সতীর্থরা এসে যোগ দেন। বাদ যাননি গেইলও। সেমিফাইনালে রান পাননি তো কি? আফগানিস্তানের কাছে হেরেও আফগানদের জয় উদ্‌যাপনে যোগ দিয়েছিলেন গেইল। আর এই রাতে তো তিনি জয়ী দলেরই সদস্য। আনন্দ তো আলাদা হবেই।
এভাবে নেচে-গেয়ে ভক্তদের সঙ্গে সেলফিও তুললেন অনেক খেলোয়াড়। নাচতে নাচতেই উঠে পড়লেন তাঁরা লিফটে। মাঠে জয় উদ্‌যাপন প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে ক্যারিবিয়ান এই দলটি। সেমিফাইনাল জিতেই যখন এমন উদ্‌যাপন, ফাইনাল জিতলে কি করবেন গেইলরা? কৌতূহল থাকছেই।

https://www.youtube.com/watch?v=4dYxG2et–s

বাতিল হচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনালের অনুষ্ঠান!

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ড আর ভারতকে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জায়গা করে নিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। আগামী ৩ এপ্রিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। আর এ ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে হওয়ার কথা ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে কলকাতার উড়ালসেতু ট্রাজেডির জেরে বাতিল হয়ে যেতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আইসিসি সূচি অনুযায়ী ১ এপ্রিল মিডিয়া রিসেপশন এবং ২ এপ্রিল ফাইনালিস্ট টিম-সহ বাকিদের নিয়ে একটি ককটেল ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে মিডিয়া রিসেপশনের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আর ২ এপ্রিলের ককটেল ডিনারও বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে।
এদিকে ফাইনালের মাঝামাঝি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তবে কলকাতার আকস্মিক দুর্ঘটনার জেরে উক্ত অনুষ্ঠান নিয়ে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন সিএবি। এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, কিন্তু অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মুশফিকের স্ট্যাটাসে ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভ

ভারতের হারে উত্তাল হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার। ব্যতিক্রম ছিলেন না বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে পরে তা মুছে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে টুইট করেছেন তিনি। তবে বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না ভারতীয় সমর্থকরা।
ম্যাচে শেষে মুশফিক তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে লিখেছিলেন, ‘Happiness is this….Now i can sleep much better. Windies u beauty!!!!’
এছাড়াও টুইটারে লেখেন, ‘Happiness is this…. #ha ha ha. india lost the semifainal..’
4
তবে পরে ফেসবুক কমেন্ট এবং টুইট দুটোই মুছে দেন মুশফিক এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় ভক্ত হওয়ায় এমনটা করেছেন বলে জানান তিনি।
দুঃখ প্রকাশ করে তিনি টুইট করেন: ‘Sorry to all of you guys…as i am a big West Indies supporter but anyway sorry again for some harsh words…!!!!’
2
তবে মুশফিকের বক্তব্যে ভীষণ খেপেছে ভারতীয় মিডিয়া ও সমর্থকরা। ফলাও করে তারা মুশফিকের টুইট এবং স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশটের সঙ্গে ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষোভ মেশানো টুইট দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
1

সংবাদ সম্মেলনে নাটকের জন্ম দিলেন ধোনি

প্রশ্নটা গত বেশ কিছুদিন ধরে শুনে আসছেন। একই প্রশ্ন শোনা এবং এর উত্তর দেওয়া বিরক্তিকর। কিন্তু নামটা মহেন্দ্র সিং ধোনি বলেই প্রত্যেকবারই এর উত্তরে ধোনি চমকপ্রদ কিছু করছেন। কিন্তু কাল যা করলেন, সেটা চমককেও হার মানাল। কোনো দিন শুনেছেন, ক্রিকেটের কোনো সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নকর্তা সাংবাদিককেই তুলে নিয়ে আসা হয় মঞ্চে, উল্টো তাঁকেই করা হয় প্রশ্ন! গতকাল ধোনি ক্ষ​ণিকের সাংবাদিক হয়ে গেলেন ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে।
অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক স্যামুয়েল ফেরিস সেই পুরোনো প্রশ্নটাই করেছিলেন, ‘আপনি কি অবসর…।’ এর পর ধোনি যা করলেন, সেটা কারও সুদূরতম কল্পনায়ও বোধ হয় ছিল না! কে ভেবেছিল, প্রশ্নকর্তা ফেরিসকে দিয়েই ধোনি সেটির উত্তর দেওয়াবেন!
ফেরিস ওই প্রশ্ন করার পরেই ধোনি এক গাল হেসে বললেন, ‘আরে, চলে আসুন এখানে, কিছু মজা করি।’ ফেরিসও কিছুটা অপ্রস্তুত। আসবেন কি না বুঝতে পারছেন না। ধোনি আশ্বস্ত করলেন, ‘আরে আসুন আসুন, আমি সিরিয়াস, আসুন না।’ লাজুক চেহারা নিয়ে বেচারা সাংবাদিক গিয়ে বসলেন অধিনায়কের পাশে রাখা চেয়ারে।
তাঁর ঘাড়ে এক হাত রেখে ভারত অধিনায়ক হাসতে হাসতে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি কি চান, আমি অবসরে যাই?’ ফেরিসের জবাবটা স্বাভাবিকভাবেই ছিল ‘না, মানে আমি শুধু জানতে চাইছিলাম।’। এরপর ধোনি দুষ্টুমি করে বললেন, ‘আমি তো ভারতীয় কোনো সাংবাদিকের কাছ থেকে এটা আশা করেছিলাম। আর তাহলে জিজ্ঞেস করতে পারতাম তার কোনো বন্ধু বা ভাই আছে কি না যে উইকেটকিপার আর ভারতের হয়ে খেলতে চায়।’
ধোনির আসল মজাটা শুরু এর পরেই। ফেরিসের কাছে জানতে চান, ‘আপনার কি মনে হয়, আমি আনফিট, আমার দৌড় দেখে তা-ই মনে হয়?’ ফেরিস সজোরে মাথা নেড়ে বললেন ‘না’। ধোনি এবার জানতে চাইলেন, ‘আপনার কি মনে হয়, আমি ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলে যেত পারব এই ফিটনেস নিয়ে?’ ফেরিস কিছুটা ভেবে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই!’ ধোনি বললেন, ‘এইবার আপ​নি নিজেই আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলেন। যান বসুন।’
বেচারা সাংবাদিকের ঘোর তখনো কাটেনি। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ফিরছেন, ধোনি ডেকে বললেন, ‘আপনি কিছু ফেলে যাচ্ছেন।’ তুলে দিলেন মাইক্রোফোন। ধোনি তখন কপট গম্ভীর সুরে বললেন, ‘আমি কোনো ভারতীয় সাংবাদিকের কাছ থেকে প্রশ্নটা আশা করেছিলাম। তাহলে তাকে বলতে পারতাম, কেন ভাই, তোমার ছেলে কি উইকেটকিপার, ভারতের হয়ে খেলতে চায়? উনি বলতেন, না। তখন বলতাম, তোমার ভাই কোনো ভাই আছে এমন, যে খেলতে প্রস্তুত?’
ফেরিসকে উদ্দেশ করে ভারতীয় অধিনায়ক এরপর বললেন, ‘আপনি ভুল সময়ে ভুল গুলি ছুড়েছেন!’

মাশরাফিতে মুগ্ধ মুস্তাফিজের বাবা

রুপকথার গল্পকেও যেন হার মানিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম বছরটা অর্জনে ভরা। গত বছরের ২৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অভিষেকে (টি-টোয়েন্টি) পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ ও শহীদ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে আগমণী বার্তা দিয়েছিলেন সাতক্ষীরার এ তরুণ। এর পর বিস্ময় মাখানো কাটারে অল্প সময়েই ডালপালা মেলেছে তার শৈল্পিক প্রতিভা।
হোম সিরিজগুলোর পর বিশ্বকাপেও তার স্লোয়ার-কাটারে কেপেঁছে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানরা। অল্প সময়েই ভেঙ্গেছেন সব বৃত্ত। এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে ৫ এপ্রিল ভারত যাবেন মুস্তাফিজ। সেখান থেকে ইংলিশ ক্লাব সাসেক্সে যোগ দেবেন কাউন্টি খেলতে।
পৃথিবী জুড়ে নাম-ডাক তেঁতুলিয়া গ্রামের এই ছেলেটির। এমন সব অর্জনে মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাসেম গাজী খুব আবেগী, ‘মুস্তাফিজ এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যে, সে এখন কেবল আমার সন্তান নয়; ১৬ কোটি মানুষেরই সন্তান। তাকে ঘিরে সবাই এখন স্বপ্ন দেখে। আমি চাই মুস্তাফিজ আইপিএলে ভালো খেলে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে আসুক। এই আমার কামনা। সবাই দোয়া করলে ইনশাআল্লাহ ও ভালো করবে।’
প্রসঙ্গটা কেবল মুস্তাফিজকে ঘিরেই থাকেনি। মুস্তাফিজ প্রসঙ্গে কথা বলার ফাঁকেই আবুল কাসেম গাজী নিজ থেকেই তুললেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রসঙ্গ। খুলনায় যখন জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছিল বাংলাদেশ তখন খেলা দেখতে এসেছিলেন মুস্তাফিজের বাবা। তখনই প্রথমবার মাশরাফির সঙ্গে সাক্ষাৎ।
দেড় ঘন্টা কথা হয়েছিল পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। মাশরাফি কত বড় মাপের মানুষ সেটি মুস্তাফিজের বাবা ওই সাক্ষাতেই বুঝে গিয়েছিলেন। মাশরাফি সম্পর্কে নিজ থেকেই বললেন, ‘আমি সমস্ত প্লেয়ারদের সাথেই সাক্ষাৎ করেছি। সবাই খুব ভালো। আর মাশরাফি তো অমায়িক মানুষ। তার তো কোনো তুলনাই হয় না, অসাধারণ মানুষ। খুলনায় টি-২০ খেলতে আসার পর দেখা হয়েছিল। ইনশাআল্লাহ সামনে আমার বাড়িতে আসবে। মাশরাফি কেবল বাংলাদেশের অধিনায়ক না সে বাংলাদেশের অনন্য একজন মানুষ। তার আচার-আচরণ, ব্যবহার অসাধারণ। যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেড়ঘন্টার কথাবার্তার মাঝে তার যে আচরণ দেখলাম…অসাধারণ একটা ছেলে।’
মাশরাফি যাতে সুস্থ থেকে আরও কয়েকবছর বাংলাদেশকে সেবা দিতে পারেন এ প্রত্যাশা মুস্তাফিজের বাবার, ‘মাশরাফি অনেকদিন খেলুক বাংলাদেশ দলে সেই কামনা করি। মাশরাফিসহ দলের সব ক্রিকেটার আমার কাছে সন্তানের মতো। সবার জন্য আমার দোয়া থাকে।’

ভারতের হারে মুশফিকের বিদ্রুপাত্মক টুইট, দুঃখ প্রকাশ!

ভারতের কাছে ১ রানের ‘অবিশ্বাস্য’ হারের কষ্টটা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন মুশফিকুর রহিম! সেই ভারতই এবার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাত উইকেটে হেরে ফাইনালের দর্শক বনে গেছেন ধোনি-কোহলিরা।
স্বাগতিকদের হতাশার ম্যাচ শেষে টিম ইন্ডিয়াকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপাত্মক টুইট করে বসেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিক। যা নিয়ে গোটা ভারতীয় গণমাধ্যমে তোলপাড়।
নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে মুশফিকের টুইটটি ছিল এরকম, ‘‘হ্যাপিনেস ইজ দিস…!!! #হা হা হা…!!! ইন্ডিয়া লস্ট ইন দ্য সেমিফাইনাল’’। ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণীতে মহেন্দ্র সিং ধোনির সাক্ষাৎকারের একটি মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে এমন কমেন্ট করেন মুশফিক।
এর কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য টুইটটি অপসারণ করে দুঃখ প্রকাশ করেন মুশফিক। অবশ্য এর কারণ হিসেবে নিজেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থক দাবি করেন তিনি।
রিটুইটে মুশফিক লেখেন, ‘স্যরি টু অল অফ ইউ গাইস…এজ আই এম এ বিগ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাপোর্টার বাট এনিওয়ে স্যরি এগেইন ফর সাম হার্ডস ওয়ার্ডস…!!!’

নিশ্চুপ ওয়াংখেড়ে

জনসন চার্লস ও লিন্ডল সিমন্সের ব্যাটে নিশ্চুপ হয়ে গেছে গোটা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি। কোনো চিৎকার নেই, নেই কোনো প্রেরণাসূচক স্লোগানও। যেন দলের ক্রান্তিকালে ভারতীয় সমর্থকদের হৃদয়াকাশে নেমে এসেছে হেরে যাবার হতাশার অন্ধকার!
অথচ বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের শুরুটা মোটেও এরকম ছিল না। মাঠ ছিল ইন্ডিয়া জিতেগা ইন্ডিয়া জিতেগা ও বিরাট-বিরাট ধ্বনিতে মুখরিত। ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিং বলতে গেলে নাচিয়ে তুলেছিল পুরো ওয়াংখেড়ের সমর্থকদের।
22
শুধু ভারতের ব্যাটিং ইনিংসের সময়ই নয়, বল হাতে জাসপ্রিত বুমরাহ যখন ব্যক্তিগত ৫ রানে ক্রিস গেইলকে ও আশিষ নেহরা ব্যক্তিগত ৮ রানে মারলেন স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তখনও বার বার দর্শকদের বিজয় উল্লাসে হেসে উঠছিলো ওয়াংখেড়ে।
কিন্তু তৃতীয় উইকেটে জনসন চার্লস ও লিন্ডল সিমন্সের ঝড়ো ব্যাটিং তাদের সেই হর্ষধ্বণি যেন থামিয়ে দেয়। ৩৬ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বিরাট কোহলির বলে জনসন ফিরে গেলে আবার সেই উল্লাস দেখা গেলেও চতুর্থ উইকেটে আন্দ্রে রাসেল ও লিন্ডল সিমন্সের ব্যাট যেন কাঁদিয়ে ছাড়ছে পুরো ওয়াংখেড়ের স্বাগতিক দর্শকদের।

জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম: লিন্ডল সিমন্স

‘অন্য কিছু নয়, শুধু নিজের ওপর আত্নবিশ্বাস ছিল বলেই ৫১ বলে ৮২ রানের ইনিংসটি আমি খেলতে পেরছি, যা দিন শেষে ভারতের বিপক্ষে আমাদের এই জয়টা এসেছে। শুধু আমিই নয় আমাদের পুরো দলেরই এই আত্নবিশ্বাসটি ছিল। ফলে আমরা স্বাগতিকদের হারিয়ে ফাইনালে উঠেছি।’
বৃহস্পতিবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে জয়ের মূলমন্ত্র জানতে চাওয়া হলে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ও দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হওয়া প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ লিন্ডল সিমন্স।
বৃহস্পতিবার মুম্বাই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই সময় সিমন্স আরও বলেন, ‘কাজটি অতটা সহজ ছিলো না। কেননা ভারত যখন ১৯২ রান সংগ্রহ করে আমাদের ১৯৩ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিলো, তখন আমরা বেশ চাপের মধ্যে ছিলাম। সেই চাপটি আরও বেড়ে যায় যখন ব্যক্তিগত ৫ রানে গেইল ও ৮ রানে মারলেন স্যামুয়েলস ড্রেসিং প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। তবে চার্লসের ঝড়ো গতির ব্যাটিং ও আমার ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা চাপ কাটিয়ে উঠে জয় নিশ্চিত করেছি।’
গেইল আউট হয়ে যাবার পর তোমরা একবারও ভেবেছিলে যে জিতবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সিমন্স বললেন, ‘দেখুন টি-টোয়েন্টি কখনওই ওয়ান ম্যান শো গেম নয়। এখানে জিততে হলে দলের সবারই অংশগ্রহণ থাকতে হয়। হ্যাঁ, একথা ঠিক যে ও আমাদের দলের সব চাইতে বিধ্বংষী ব্যাটসম্যান। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ও আউট হয়ে গেলে আমরা কেউই দলের হাল ধরতে পারবো না।’
মূল কথা হলো, সিমন্স তার মনে বিশ্বাসটি রেখেছিলেন যে তারা জিতবেন। তাই তিনি বললেন ‘দিনটি আমার ছিল।’

কন্ডিশনকে দুষলেন ধোনি

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে স্বাগতিক ভারত। আর এই হারের কারণ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারত কাপ্তান মহেন্দ্র সিং ধোনি জানান, কন্ডিশন ভাল ছিলো না জন্যই আমরা ম্যাচটি জিততে পারিনি।
আসলে বিষয়টি ছিল পুরোটাই যোগ্যতার এবং দক্ষতার। তা না হলে ওয়াংখেড়ের এই উইকেটে ১৯২ রানের মতো সমৃদ্ধ সংগ্রহ পেয়েও কেন ভারতকে হারতে হলো? ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ভারত এদিন বল হাতে সেই আগের ছবিই দেখিয়ে গেল। কেননা, উপমহাদেশতো বটেই ওয়াংখেড়ের মাটিতে একেবারেই সফল ছিল না দলটির স্পিন আক্রমণ।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো হেভিওয়েট ম্যাচেও সফল ছিল কেবল দলটির পেস আক্রমণ। রবীচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার মতো স্পিন ত্রাসরা এদিন থেকেছেন শূণ্য হাতে। সংঙ্গত কারণেই ক্যারিবীয়দর উইকেটও ছিল অক্ষত। ১৯৩ রানের টার্গেটে হারাতে হয়েছে মাত্র তিনটি উইকেট।
তাইতো ধোনি অনেকটা বিরক্তির সুরেই বললেন, ‘প্রথম ইনিংস ও দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটের অবস্থা এক রকম ছিল না। প্রখম ইনিংসে স্পিন টার্ন নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা কোন টার্নিংই পাননি, ফলে ওদের আমরা আটকাতে পারিনি।’
ভাগ্য আপনাদের সহায় ছিল না তাই কী আপনারা ম্যাচটি জিততে পারেন নি? গণমাধ্যম কর্মীদের করা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাগ্য আপনাকে প্রতিদিনই ফেভার করবে না। আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাললের মতো ম্যাচ জিততে হলে আপনাকে সেরা খেলাটিই খেলতে হবে।’

এক ম্যাচে ব্যাট করলেন ‘চার ইনিংস’!

টেস্টে দুই ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ আছে। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে সেই সুযোগ এক বার করে। কিন্তু লেন্ডল সিমন্স এক ম্যাচেই ‘চারটি ইনিংস’ খেলে ফেললেন! ভাবছেন, এটা আবার হয় নাকি ? কাল সেমিফাইনালে কিন্তু সেটাই হয়েছে। ম্যাচে তিন বার ‘আউট’ হয়ে গিয়েও যে ব্যাটসম্যান ব্যাট করে যেতে পারেন, তাঁর তো আসলে এক ম্যাচে চারটি ইনিংসই হয়!
প্রথম ইনিংসের কথাই ধরা যাক। সপ্তম ওভারে সিমন্স ব্যাট করছিলেন ১২ বলে ১৮ রান নিয়ে। অশ্বিনের বলে ক্যাচ তুলে দিলেন শর্ট থার্ড থার্ডম্যানে। সেটি দারুণভাবে ধরেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন জসপ্রিত বুমরা। সিমন্স হাঁটা শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু আম্পায়াররা তাঁকে থামালেন। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল, ওটা নো বল ছিল। সিমন্স বেঁচে গেলেন।
৫০ রানে আবার হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ক্যাচ তুলে দিলেন সিমন্স। সেটি কোমর উচ্চতায় হলেও আম্পায়াররা নো ডাকলেন না। কভারে অশ্বিন ক্যাচটা ধরতেই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল উল্লাসে। কিন্তু আম্পায়ার দেখলেন, ওভারস্টেপ করেছেন পান্ডিয়া। এবং সেটি পরিষ্কার ব্যবধানেই। ফিরে যেতে যেতে আরও একবার গেলেন না সিমন্স। মুখে তাঁর এক গাল হাসি। এবারের ইনিংসটা ২৩ বলে ৩২ রানের।
৬৮ রানের মাথায় অবশ্য আর নো বল নয়, তবে এবার বেঁচে গেলেন অন্যভাবে। ৩ ওভারে তখন ৩২ রান চাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অফ স্টাম্পের বাইরে বুমরাহর প্রথম তিনটি বল ব্যাটই লাগাতে পারেননি। চতুর্থ বলে বল তুলে দিলেন ওয়াইডিশ লং অফে। জাদেজা বলটা ধরে আর তাল সামলাতে পারলেন না। ছুঁড়ে দিলেন কোহলির দিকে, সেটা কোহলি লুফেও নিলেন। আউট! বেরিয়ে যাওয়ার পথে আবারও দাঁড়ালেন সিমন্স। আবারও টিভি আম্পায়ার জানালেন, এখানেই সিমন্সের শেষ নয়। বলটা ধরার সময় জাদেজার পা সীমানা ছুঁয়েছে। সিমন্স এবার করলেন ১১ বলে ১৮।
এর পর আর পেছনে ফিরে তাকানো নয়। শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন। ‘শেষ’ ইনিংসে হলো ৫ বলে ১৪ রান!

ভারতকে কাঁদিয়ে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়লো স্বাগতিক ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৭ উইকেটে হেরে গেছে ধোনিবাহিনী। ভারতের দেয়া ১৯৩ রানের ল্েয ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই গেইলের উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২ বল বাকি থাকতেই তারা তুলে নেয় ৩ উইকেটে ১৯৬ রান। ছয় মেরে দলের জয় রাসেল নিশ্চিত করলেও ক্যারিবীয়দের জয়ের নায়ক সিমন্স। ৫১ বলে ৮৩ রান করা লেন্ডল সিমন্স ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। ৫টি ছয় ও ৭টি চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস।
এর আগে গত বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী ক্রিকেট দলও ফাইনালের টিকিট পেয়েছে।
অপ্রতিরোধ্য বিরাট কোহলির ব্যাটে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু লেন্ডল সিমন্স ও আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটে হৃদয় ভাঙল স্বাগতিকদের। সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটের জয় এনে দিতে দারুণ এক ইনিংস খেলেন ‘নো’ বলের কল্যাণে দুইবার বেঁচে যাওয়া সিমন্স। ৫১ বলে ৮৩ রানের ইনিংসে ৫টি ছক্কা ও ৭টি চার মেরেছেন সিমন্স। ২০ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলতে ৪টি ছক্কা ও ৩টি চার মেরেছেন আন্দ্রে রাসেল। ১৯২ রানের বিশাল স্কোরের নীচে চাপা পড়ে যেন ম্যাচের মাঝ পথেই হেরে বসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ওভারেই যখন জসপ্রিত বুমরাহের বলে ক্রিস গেইল বোল্ড হয়ে যাওয়ার পর সম্ভাবনাটা প্রায় শেষই হয়ে যাচ্ছিল ক্যারিবীয়দের। কিন্তু জনসন চার্লস আর লেন্ডল সিমন্সের বলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয়রা। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান গেইল। ১৯ রানের মাথায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। গেইল না পারলেও স্যামুয়েলসের ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন পূর্ণ হয় ক্যারিবীয়দের। সিমন্স আর জনসনের দুর্দান্ত ৯৭ রানের জুটি খেলায় ফেরায় সামিদের। ১৪তম ওভারে এসে বিরাট কোহলিকে আক্রমনে নিয়ে আসেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এসেই ব্রেক থ্রু এনে দেন ভারতকে। ৫২ রান করা চার্লস জনসন লং অনে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান। ৩৬ বলে খেলা এই ইনিংসে ৭টি বাউন্ডারি এবং ২টি ছক্কার মার ছিল। এরপর লেন্ডল সিমন্স ও আন্দ্রে রাসেলের অধ্যায়। তারা ৭৬ রানের অবিচ্ছিন্ন থাকেন।
এর আগে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটে ১৯২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ভারত। অসাধারণ ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংসে আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো কোহলি এদিনও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দুর্দান্ত সব শট। যথারীতি ইনিংস জুড়ে ছিল নিখুঁত টাইমং আর প্লেসমেন্টের অপূর্ব নিদর্শন। তিনি ৮৯ রানের অপরাজিত থাকেন। যদিও পর পর দুই বলে তিনবার সহজ রানআউটের সুযোগ মিস করে তিনবারই বিরাট কোহলিকে জীবন দিয়ে তার খেসারত গুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করেন দুই ওপেনার আজিঙ্কা রাহানে ও রোহিত শর্মা। ইনিংসের অষ্টম ওভারে বিদায় নেন ব্যাটে ঝড় তোলা রোহিত শর্মা। স্যামুয়েল বদ্রির বলে এলবির ফাঁদে পড়েন ৩১ বলে ৪৩ রান করা রোহিত। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর তিনটি ছক্কার মার। প্রথম ৩৫ বলে দলীয় অর্ধশতক আসে ভারতের। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে টিম ইন্ডিয়া কোনো উইকেট না হারিয়ে তোলে ৫৫ রান। আর এক উইকেট হারিয়ে ৭৬ বলে আসে তাদের দলীয় শতক। দলীয় ৬২ রানের মাথায় ওপেনার রোহিত শর্মা ফিরে গেলে উইকেটে জুটি বাঁধেন আজিঙ্কা রাহানে আর বিরাট কোহলি। স্কোরবোর্ডে এই দুই ব্যাটসম্যান আরও ৬৬ রান যোগ করেন। ইনিংসের ১৬তম ওভারে রাহানে বিদায় নেন। ৩৫ বলে দুটি চারের সাহায্যে ৪০ রান করেন তিনি। আন্দ্রে রাসেলের বলে বাউন্ডারি সীমানায় ব্রাভোর হাতে ধরা পড়েন রাহানে। কোহলি ৩৩ বলে নিজের অর্ধশতকের দেখা পান। ১৬তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ হাফসেঞ্চুরির মালিক হন তিনি। এর আগে ১৫টি করে অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং ক্রিস গেইল। ইনফর্ম কোহলি ৪৭ বলে ১১টি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৮৯ রান। ধোনি ৯ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ২৭ বলে কোহলি আর ধোনি ৬৪ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকেন।
ভারতের ছুঁড়ে দেয়া ১৯৩ রানের চ্যালেঞ্জিং ল্য তাড়া করতে দলের হয়ে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলে নেয় ৪৪ রান। আর ৪১ বলে দলীয় অর্ধশতকের দেখা পায় তারা। ৬৯ বলে দলীয় শতকের ঘরে পৌঁছে ক্যারিবীয়রা। জুটি বেধে লেন্ডল সিমন্স এবং জনসন চার্লস সফল হন। ৩০ বলে অর্ধশতকের দেখা পান জনসন চার্লস। ৬৭ বলে ৯৭ রান যোগ করেন সিমন্স এবং জনসন চার্লস। ইনিংসের ১৪তম ওভারে কোহলির হাতে বল তুলে দেন ধোনি। প্রথম বলেই কোহলি ফিরিয়ে দেন সেট ব্যাটসম্যান জনসন চার্লসকে। রোহিত শর্মার তালুবন্দি হওয়ার আগে ক্যারিবীয় এই ওপেনার করেন ৩৬ বলে ৫২ রান। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার আর দুটি ছক্কা। ৩৫ বলে অর্ধশতকের দেখা পান সিমন্স। ৫১ বলে ৭টি চার আর ৫টি ছক্কায় ৮৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ২০ বলে ব্যাটে ঝড় তুলে তিনটি চার আর ৪টি ছক্কায় ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন আন্দ্রে রাসেল।

হাথুরুসিংহের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের আভাস

চন্দিকা হাথুরুসিংহের অধীনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রমশ এক সমীহ জাগানো দলে পরিণত হচ্ছে। দলের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা এই কোচের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস।
২০১৪ সালের ১৯ মে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার হাথুরুসিংহেকে কোচ করার ঘোষণা দেন। সেই বছরের ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পান হাথুরুসিংহে।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন হাথুরুসিংহে। সেই বছর জুনে বাংলাদেশে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নতুন শিষ্যদের সঙ্গে ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে জালাল ইউনুস জানান, জাতীয় দলের কোচের ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
“তবে সবারই একটা মত আছে। অবশ্যই তাদের পারফরম্যান্স খুবই ভালো ছিলো দুই বছর ধরে। তো অনুমান করা যাচ্ছে, তাদের সাথে চুক্তি নবায়ন করা হবে।”
২০১৪ সালের জুনে হাথুরুসিংহে দলের সঙ্গে কাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৬১ ম্যাচ খেলে ৩০টিতে জিতে বাংলাদেশ। ২৪টিতে হারেন মাশরাফি বিন মুর্তজা-মুশফিকুর রহিমরা। চারটি মাচ ড্র হয়, পরিত্যক্ত হয় তিনটি ম্যাচ।
হাথুরুসিংহের অধীনে ১০টি টেস্ট খেলে তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের দল হারে তিনটিতে এবং ড্র করে চারটিতে।
তার সময়েই টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো পৌঁছায় ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে। ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে এই সময়ে ওয়ানডে সিরিজে হারান মাশরাফিরা।
২৯টি ওয়ানডে খেলে ১৮টিতে জিতে বাংলাদেশ। হারে ১০টিতে, পরিত্যক্ত হয় একটি ম্যাচ।
হাথরুসিংহের অধীনেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ভাষা বুঝতে শিখছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছায় দলটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়া, ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে হারে তার শিষ্যরা।
এই সংস্করণে ২২ ম্যাচ খেলে ৯টিতে জিতে বাংলাদেশ। হারে ১১টিতে, পরিত্যক্ত হয় দুটি ম্যাচ।
জালাল ইউনুস আভাস দেন হাথুরুসিংহের সঙ্গে পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করা হবে।
২০১৪ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের সাবেক অলরাউন্ডার স্ট্রিককে দুই বছরের জন্য মাশরাফি-রুবেল হোসেনদের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিবি।

আরেকটি অসাধারণ ইনিংস খেললেন বিরাট কোহলি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরেকটি অসাধারণ ইনিংস খেললেন বিরাট কোহলি। আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ৮২ রান করে ভারতকে জেতানো কোহলি দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছেন অপরাজিত ৮৯ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটা কোহলির ১৬তম পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস। ভারতের এই ব্যাটসম্যান ছাড়িয়ে গেছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ক্রিস গেইলকে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাককালাম ও গেইলের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস আছে ১৫টি করে। ম্যাককালাম-গেইলের দুটি করে সেঞ্চুরি থাকলেও কোহলি অবশ্য এখনো তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কোহলির অপরাজিত ৮৯ রানের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯৩ রানের বড় লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে ভারত। মাত্র ৪৭ বলে ১১ চার ও এক ছক্কায় ৮৯ রানের অসাধারণ ইনিংসটি সাজান কোহলি।

অপ্রতিরোধ্য কোহলির ব্যাটে ভারতের বিশাল পুঁজি

পাওয়ার প্লেতে এক ওভারের ঝড়েই ইনিংস গতিময় করলেন রোহিত শর্মা। চোখধাঁধানো সব শটে আবারও মুগ্ধতা জাগানিয়া ইনিংস বিরাট কোহলির ব্যাটে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারত পেয়েছে বড় পুঁজি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০ ওভারে ১৯২ রান করেছে ভারত। ৪৭ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কোহলি।

অসাধারণ ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংসে আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো কোহলি এদিনও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দুর্দান্ত সব শট। যথারীতি ইনিংস জুড়ে ছিল নিখুঁত টাইমং আর প্লেসমেন্টের অপূর্ব নিদর্শন।
3333333333333333
এই বিশ্বকাপেই পাকিস্তানের বিপক্ষে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলে জিতিয়েছেন কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রান তাড়ায় দলকে জিতিয়েছেন দারুণ দক্ষতায়। এবার দেখালেন ওপেনারদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিত্তি কিভাবে কাজে লাগাতে হয়।

শিখর ধাওয়ানকে বাদ দিয়ে ভারত একাদশে আনে অজিঙ্গা রাহানেকে। বদলে যাওয়া উদ্বোধনী জুটি ভারতকে এনে দেয় টুর্নামেন্টে তাদের সেরা শুরু।

রোহিত ও রাহানের শুরুটা ছিল সাবধানী। পরিকল্পনা মতোই প্রথম ৫ ওভারে উইকেট ধরে রাখে ভারত। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আন্দ্রে রাসেলকে তুলোধুনো করেন রোহিত। দুই ছক্কা, এক চারে নেন ওভারে ২০ রান।

থিতু হওয়া রোহিতকে দারুণ এক স্লাইডারে এলবিডব্লিউ করেন বদ্রি (৩১ বলে ৪৩)। তবে স্বস্তি খুব একটা পায়নি ক্যারিবিয়ানরা। আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ইনিংসটায় যেখানে শেষ করেছিলেন কোহলি, সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন এই ম্যাচে।

শুরুতেই অবশ্য রান আউটে কোহলিতে ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু দুই দফায় খুব কাছ থেকে আন্ডার আর্ম থ্রো স্টাম্পে লাগাতে পারেননি দিনেশ রামদিন ও ডোয়াইন ব্রাভো। সুযোগ হাতছাড়ার মাশুল ভীষণভাবেই দিতে হয়েছে ক্যারিবিয়ানদের।

দ্বিতীয় উইকেটে কোহলি ও রাহানে যোগ করেন ৬৬ রান। রাহানের বিদায়ের পর বাকি সময়টুকু ছিল ‘কোহলি-শো’। একপ্রান্ত থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনি সঙ্গ দিয়েছেন, আরেক প্রান্তে কোহলি খেলেছেন জাদুকরি সব শট। মাত্র ২৭ বলে ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন দুজন, যাতে ধোনির অবদান মাত্র ১৫!

৩৩ বলে টুর্নামেন্টে তৃতীয় অর্ধশতক স্পর্শ করেন কোহলি। পরের ১৪ বলে করেছেন ৩৯ রান! শেষ পর্যন্ত ১১ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৮৯। ভারতের রান ছাড়িয়ে যায় ১৯০।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এই রান তাড়া অসম্ভব নয়। ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং লাইন আপে গভীরতাও অনেক। তবে তাদের সামনে চ্যালেঞ্জটাও ভীষণ কঠিন!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে (রোহিত ৪৩, রাহানে ৪০, কোহলি ৮৯*, ধোনি ১৫*; বদ্রি ১/২৬, রাসেল ১/৪৭)

বিশ্বকাপে আবারো ট্রফি দেয়া নিয়ে ভারতের নাটক!

ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ট্রফি দেয়া নিয়ে কম নাটক হয়নি। আইসিসির নিউম ভেঙে প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ার হাতে কাপ তুলে দেন তৎকালীন আইসিসি চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসন। এবার সেই শ্রীনিবাসনের পথেই হাটা শুরু করলেন তারই স্বদেশী শশাঙ্ক মনোহর। দূর্নীতির দায়ে শ্রীনিবাসনকে সরিয়ে চেয়ারম্যানের পদে আসীন হয়েছিলেন এই শশাঙ্ক মনোহর।
ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিবিএ) সূত্রে পাওয়া ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এটুকু নিশ্চিত বর্তমান আইসিসির প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাসকে দিতে দেয়া হবে না বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি। সেক্ষেত্রে কাপ তুলে দেবেন শশাঙ্ক মনোহর। আগামী কয়েকদিনের ভেতরেই এ ব্যপারে নিশ্চিত খবর আসবে। ইতোমধ্যে কলকাতার ভেন্যু ইডেন গার্ডেন্সে এসে পৌছেছেন শশাঙ্ক।
গত বিশ্বকাপে আইসিসির প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন মুস্তাফা কামাল। নিয়ম অনুযায়ী তার ট্রফি দেয়ার কথা থাকলেও তাকে উপেক্ষা করে ট্রফি তুলে দেন শ্রীনিবাসন। এই অপমানের জের ধরে পরে পদত্যাগও করেন মুস্তফা কামাল। পদত্যাগের পর তার জায়গায় সভাপতির পদে বসেন পাকিস্তানের জহির আব্বাস।

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ব্রিটনি কুপারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও স্টেফানি টেলরের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারী ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কিউইদের ৬ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে ক্যারিবীয়রা। ফলে ফাইনালে টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়কে র্যাচেল প্রিস্টকে হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে তিন নম্বরে নেমে ইনফর্ম সুজি ব্যাটসকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সোফি ডিভাইন। যদিও দলীয় ৪৩ ও ৪৯ রানে এ দুই ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে কিউইদের দারুণভাবে চেপে ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর এমি সেট্টার্থওয়াইটকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাড়া ম্যাকগ্লাসেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এ দুই ব্যাটসম্যান দলের পক্ষে ৫৯ রান যোগ করেন। তবে ১৭তম ওভারে পরপর দুই বলে এ দুই সেট ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়ে আবার খেলায় ফিরে আসে ক্যারিবীয়রা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৩৭ রানে থামে তাদের ইনিংস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে স্টেফানি টেইলর ২৬ রানে ৩টি উইকেট পান। এছাড়া কন্নেল, ফ্লেচার ও কুইন্টাইন ১টি করে উইকেট নেন।

বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে ক্যারিবীয় নারী ক্রিকেটাররা। শুরুটা ভালো না হলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে স্টেফানি টেলরকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান ব্রিটনি কুপার। এ দুই ব্যাটসম্যান দলের পক্ষে ৬০ রান যোগ করেন। এরপর দিয়েন্দ্রা ডট্টিনকে নিয়ে আরও একটি ৪৪ রানের জুটি গড়লে বড় সংগ্রহই পায় তারা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন কুপার। ৪৮ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। এছাড়া টেলর ২৫, ডট্টিন ২০ ও হেইলি ম্যাথিউজ ১৬ রান করেন। শেষ দিকে মেরিসা আগুলিয়েরা ১৫ রানে অপরাজিত থাকলে, নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৩ রানের সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সোফি ডিভাইন ২২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট পান। এছাড়া মোরনা নিলসেন ১টি উইকেট নেন।

বড় সংগ্রহের পথে ভারত

পর পর দুই বলে তিনবার সহজ রানআউটের সুযোগ মিস করে তিনবারই বিরাট কোহলিকে জীবন দিয়ে তার খেসারত গুনছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ঝড় তুলে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে ভারতীয় দল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ১৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান। রাহানে ৩৬ ও কোহলি ২৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।
তবে ভারতের উড়ন্ত সূচনাটা এনে দিয়েছিলেন ওপেনার রোহিত শর্মা। স্যামুয়েল বদ্রির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে মাত্র ৩১ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪৩ রান করেন তিনি। এছাড়া নিয়মিত ওপেনার শিখর ধাওয়ানের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া আজিঙ্কা রাহানেও দারুণ খেলছেন।
ব্রাভোর করা নবম ওভারের তৃতীয় বলে বিরাট কোহলিকে সহজ রানআউট মিস করেন উইকেট রক্ষক দীনেশ রামদিন। একই বলে দ্বিতীয়বার আউট করার সুযোগ পান ব্রাভো নিজেই; কিন্তু তিনিও উইকেট ভাঙতে না পারলে জীবন পেয়ে যান কোহলি। পরের বলেই স্কয়ার লেগ থেকে দারুণ থ্রো হলেও তা ধরতে ব্যর্থ হন রামদিন। ফলে ব্যাট করতে নামার পরই দুই বলে তিনবার জীবন পান ইনফর্ম ব্যাটসম্যান কোহলি।

দলের সবাইকে অবদান রাখতে হবে-গাঙ্গুলী

সকলের মুখেই এখন ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেমিফাইনাল নিয়ে আলোচনা। কোন দল জিতবে, বিজয়ীর হাসি হেসে কে যাবে ফাইনালে? এসব নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি ক্রিকেট কিংবদন্তিরাও এতে যোগ দিয়েছেন। সবার কন্ঠেই এই ম্যাচের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কার পারফরম্যান্স কেমন হওয়া উচিত তা নিয়েও অনেকেই মতামত ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এই ম্যাচটি শুরু হবে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও এই ম্যাচ নিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে যে চার দল সেমিতে উঠেছে তারা সবাই এর যোগ্য ছিল। আর এই উপমহাদেশীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এতদূর এগিয়ে আসতে পারা অন্য দলগুলোর জন্য সত্যিই বাহবার। এই পরিবেশের জন্য তিনি স্পিনটাকেই মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন। আর সেমিতে ভারতের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে জাত স্পিনার রয়েছে বলেই তার মত। আর যে ভেন্যুতে খেলাটি হবে এখানে দুই দলই প্রচুর রান তুলতে পারবেন বলেও মনে করেন তিনি।

তবে ভারতের বিরাট ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটসম্যান তেমন একটা ফর্মে নেই। বিরাট একাই দলের বোঝা কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন। জিততে হলে দলে সবাইকেই অবদান রাখতে হবে। তাই তিনি রাহানেকে এই ম্যাচে নিজের জাত চেনানোর কথাই বলেছেন। আর গেইল বনাম বিরাট, এটা নিয়েও প্রচুর হইচই হচ্ছে। এতে মোটেও খুশি নন গাঙ্গুলী। এছাড়া ফেবারিট তকমা নিয়েও ঘোর আপত্তি তার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও খাটো করে দেখেননি এই কিংবদন্তি। তিনি মনে করেন ক্যারিবীয়দেরও জয়ের সম্ভাবনা আছে। কেননা নিজেদের গ্রুপের বড় বড় দলগুলোকে হারিয়েই তারা সেমি নিশ্চিত করেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের সম্ভাব্য একাদশ

অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে আসা নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

৩ এপ্রিল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে হবে সেটার ফয়সালা হবে আজ।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি, মাছরাঙা, বিটিভি ও স্টার স্পোর্টস।

এই ম্যাচে লড়াইটা শুধু ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের নয়। লড়াইটা গেইল-কোহলিরও। ইতিমধ্যে তাদের নিয়ে কথা লড়াই শুরু হয়ে গেছে। তাদের দুজনের ময়দানি লড়াই দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আজ রাত পর্যন্ত।

তার আগে চলুন জেনে নিই কেমন হতে পারে সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের সম্ভাব্য একাদশ।

ভারতের সম্ভাব্য একাদশ :
১. রোহিত শর্মা
২. শিখর ধাওয়ান
৩. বিরাট কোহলি
৪. সুরেশ রায়না
৫. আজিঙ্কা রাহানে/মানিশ পান্ডে
৬. এমএস ধোনি
৭. হার্দিক পান্ডে
৮. রবীন্দ্র জাদেজা
৯. রবীচন্দ্রন অশ্বিন
১০. জাসপ্রিত বুমরাহ
১১. আশিষ নেহেরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য একাদশ:
১. ক্রিস গেইল
২. জনসন চার্লস
৩. লেন্ডাল সিমন্স
৪. মারলন স্যামুয়েলস
৫. দিনেশ রামদিন
৬. ডোয়াইন ব্রাভো
৭. আন্দ্রে রাসেল
৮. ড্যারেন স্যামি
৯. কার্লোস বার্থওয়েট
১০. সুলেমান বেন
১১. স্যামুয়েল বার্দি।

কোহলি বনাম গেইল!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত। বলার অপো রাখে না এই ম্যাচের বাড়তি আকর্ষণ বিরাট কোহলি বনাম ক্রিস গেইলের যুদ্ধ। ২২ গজে তাণ্ডব তোলার লড়াইয়ে যিনি এগিয়ে যাবেন তার দলই ইডেনের ফাইনালে খেলবে এটা সহজে অনুমিত।
খেলাটি হবে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে। এখানকার পিচ কিছুটা ফ্যাট। প্রচুর রান ওঠে। বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড কাপের ম্যাচে দেখা গিয়েছে বল সামান্য টার্ন করলেও প্রচুর রান উঠেছে। এখানেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গেইল ৪৮ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তাই গেইলকে যদি শুরুতেই প্যাভিলিয়নের পথ না দেখানো যায় তাহলে ভারতের কপালে দুঃখ আছে। শুধু গেইল নন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরও কয়েকজন ব্যাটসম্যান আছেন যারা ম্যাচ বদলে দিতে পারে। তারা হলেন স্যামুয়েল, স্যামি ও সিমন্স।
ভারতের সমস্যাটা হল, কোহলি বাদে বাকিরা কিন্তু সেইভাবে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ। ওপেনিং জুটি এবারের বিশ্বকাপে মোটেই সুবিধা করতে পারছে না। মিডল অর্ডারেও যুবরাজ, রায়নারাও তেমন রান করতে পারছেন না। ফলে কোহলি-নির্ভরতা ভারতকে আরও বেশি চিন্তায় ফেলে দিচ্ছে। তবে খেলাটা যেহেতু নিজেদের মাটিতে তার ওপর ভারত ম্যাচ জেতার ‘মোমেন্টাম’ পেয়ে গিয়েছে সে কারণে সব মিলিয়ে ভারতকেই ফেভারিট মানছেন অনেকে।
যদিও গেইল হুমকি দিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি পাওয়াটা বেশ ভালো। তবে বৃহস্পতিবার একটা বড় রান চাই। দেশকে ফাইনালে তুলতে হবে। ইন্ডিয়া ফেভারিট। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজও অঘটন ঘটানোর জন্য তৈরি হচ্ছে। আমি বাদেও টিমে কম ম্যাচ উইনার নেই।’

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

টুয়েন্টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের স্বাদ একবার করে নেয়া হয়ে গেছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাবটা গায়ে এটে গেছে তাদের। আরও একবার করে চ্যাম্পিয়নের স্বাদ নেয়ার লক্ষ্য ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে তার আগে সেমিফাইনালের গন্ডি পেরোতে হবে দু’দলকে। শেষ চারের বাধাঁ পেরোনোর জন্য লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার টি-২০ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে তারা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে খেলাটি।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড়সড় ধাক্কা খায় ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের লজ্জা পায় তারা। তবে এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। সুপার টেনের বাকী তিন ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পায় ধোনির দল। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমির টিকিট নিশ্চিত করে ভারত।
গ্রুপ রানার্স হয়েই সেমিফাইনালের লাইন-আপে নাম উঠে ভারতের। আর এখানে তাদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে ক্যারিবীয়রা। সেমির টিকিট নিশ্চিত করার পর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আফগানিস্তানের কাছে হারের পরও বেশ তরতাজা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনাল জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন সামি, ‘প্রথম ম্যাচে আত্মবিশ্বাস যা ছিলো, এখনও তাই আছে। আর আগে কি হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা ভাবছি না। সামনে নতুন ম্যাচ। নতুনভাবে সবকিছু শুরু করবো। ভালো ফল করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল।’
ফাইনালের টিকিট পেতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যাশিং ওপেনার ক্রিস গেইলও। তবে ভারতকে এ ম্যাচে ফেভারিট মানছেন তিনি, ‘এ ম্যাচে ভারত ফেভারিট। তারা খুবই ভালো দল। অলরাউন্ড দল। তাদের ফিল্ডিং ভালো। ব্যালেন্সড দল। তাই তাদের হারানো কঠিনই। তবে যেকোন কিছু করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। ভারতকে হারিয়ে অঘটন ঘটাতে আমরা তৈরি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত যেকোন পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তত ভারতও। জানালেন দলের অধিনায় মহেন্দ্র সিং ধোনি, ‘চলমান টুর্নামেন্টে দারুন খেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দল হিসেবে তারা অনেক শক্তিশালী। সুপার টেনের ম্যাচগুলোর পারফরমেন্স তা প্রমান করে। তবে আমরাও চ্যালেঞ্জে নিতে প্রস্তুত। শুধুমাত্র গেইলকে নিয়ে নয়, পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিরোপা জয়। এজন্য ফাইনালে উঠতে হবে আমাদের। তা করতেও প্রস্তুত আমরা।’
সব কিছু করার জন্যই প্রস্তত ভারত। কিন্তু চিন্তার রেশ ভারতের কপালে অনেক বড় আকার ধারন করেছে, তা বলাই যায়। কারন দলের সেরা তারকা ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিং ইনজুরিতে পড়েছেন। ফলে তার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। তার জায়গায় দলে এসেছেন ডান-হাতি ব্যাটসম্যান মনিষ পান্ডে।
তবে ভারতের একাদশে কে খেলবেন, তা নিয়ে এখনো চিন্তায় দলের ম্যানেজমেন্ট। কারন ভারতের টিম ডিরেক্টর রবি শাস্ত্রী চাইছেন আজিঙ্কা রাহানেকে। আর দলের নেতা চাইছেন বাঁ-হাতি স্পিনার পবন নেগিকে। তাই শাস্ত্রী ও ধোনির মধ্যে চলছে একাদশ নিয়ে আলোচনা।
ভারত স্কোয়াড : মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), রবীচন্দ্রন অশ্বিন, জাসপ্রিত বুমরাহ, শিখর ধাওয়ান, হরভজন সিং, রবীন্দ্র জাদেজা, বিরাট কোহলি, মোহাম্মদ সামি, পবন নেগি, আশিষ নেহরা, হার্ডিক পান্ডে, আজিঙ্কা রাহানে, সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা ও মনিষ পান্ডে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড : ড্যারেন সামি (অধিনায়ক), স্যামুয়েল বদ্রি, সুলেমান বেন, কালোর্স বার্থওয়েথ, ডোয়াইন ব্রাভো, জনসন চালর্স, ক্রিস গেইল, জেসন হোল্ডার, এভিন লুইস, অ্যাশলে নার্স, দিনেশ রামদিন, আন্দ্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, লেন্ডল সিমন্স ও জেরম টেইলর।

ফাইনালে ইংল্যান্ড

প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে সহজে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড। বুধবার দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ইংলিশরা ৭ উইকেটে হারায় কিউইদের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৫৩ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ১৭ বল বাকি থাকতে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড। আগামী রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কারা হবে তা নির্ধারণ হবে বৃহস্পতিবার। মুম্বাবুয়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল।
উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। তাদের দুই ওপেনার জেসন রয় ও অ্যালেক্স হেলস ৮.২ ওভারে ৮২ রান তুলে নেন। হেলস ১৯ বলে ২০ রান করে আউট হলেও অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন অপর ওপেনার রয়। তিনি মাত্র ৪৪ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ম্যাচ জয়ী ৭৮ রান সংগ্রহ করেন। দলীয় ১১০ রানে রয় সোধির বলে বোল্ড আউট হওয়ার পর পরের বলেই অধিনায়ক ইয়ন মরগানের উইকেটও হারায় ইংরেজরা। কিন্তু তাতেও তেমন বেগ পেতে হয়নি তাদের। জো রুট (২৭) ও জস বাটলার (৩২) অবিচ্ছিন্ন থেকে দলের ফাইনাল নিশ্চিত করেন। তারা জুটিতে ৪৯ রান তুলেন।
1.+England's+Moeen+Ali+fieds+the+ball.
এর আগে কলিন মানরো ও কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে সেমিফাইনালে লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। শুরুতেই মার্টিন গাপটিলকে হারায় নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় ওভারেই ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যানকে হারানো দলটি প্রতিরোধ গড়ে মানরো-উইলিয়ামসনের ব্যাটে। দ্বিতীয় উইকেটে উইকেটে অধিনায়কের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন মানরো। একাদশ ওভারে মইন আলিকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে উইলিয়ামসন (৩২) ফিরে গেলে ভাঙে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি। এরপর বেশিণ টেকেননি মানরোও। চতুর্দশ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে ৪৬ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন তিনি। তার ৩২ বলের ইনিংসটি সাজানো ৭টি চার ও একটি ছক্কায়। ১০৭ রানে মানরো ফিরে যাওয়ার পর প্রায় একাই খেলতে হয় কোরি অ্যান্ডারসনকে। ২৩ বলে ২৮ রানের ইনিংসে দেড়শ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান দলকে। কোনোমতে দেড়শ’ পার হওয়া দলটির সংগ্রহ অআরও বড় হয়নি পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। উইলিয়ামসন ফিরে যাওয়ার পর ৯.৩ ওভারে ৬২ রানের বেশি করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। ২৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার বেন স্টোকস।

ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

ভারতের বিপক্ষে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে স্মিথ-ওয়াটসনরা ছিটকে পড়লেও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ভক্তদের এখনো শিরোপা স্বপ্ন দেখাচ্ছেন প্রমীলারা।

 

মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে উঠেছে ম্যাগ ল্যানিংয়ের দল।

 

বুধবার দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩২ রান করে অস্ট্রেলিয়া নারী দল। ফলে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের নারীদের ১৩৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়।

 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করলেও শেষপর্যন্ত ছন্দে থাকতে পারেনি ইংলিশ মেয়েরা। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক চার্লতি এডুয়ার্ড ও বিয়ামন্টের ৬৭ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে ফাইনালের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু তারা সাজঘরে ফেরার পর ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে টিকে থাকার স্বপ্নও যেন ফিরে গেল সাজঘরে। ব্যক্তিগত ৩১ রানে আউট হন এডুয়ার্ড। তার চেয়ে একরান বেশি করে সাজঘরে ফেরেন বিয়ামন্ট।

 

সারা টেইলরের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। এরপর আর কেউ প্রতিরোধ গড়তে না পারায় ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৭ রানে থামে ইংল্যান্ড। ফলে ৫ রানে হারের আক্ষেপ নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়তে হয়েছে তাদের।

 

বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মেগান স্কট ২টি এবং অ্যালেসি পেরি, ফারেল, বিয়েমস ও এরিন ওসবোর্ন ১টি করে উইকেট পান।

 

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে শুভ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার আলি হিলি ও অ্যালিসি ভিলানি। ওপেনিং জুটিতে ৪১ রান যোগ করেন দলের স্কোরশিটে। স্কিভারের শিকার হয়ে প্রথমে সাজঘরে ফেরেন ভিলানি (১৯)।

 

আর মার্শের বলে এলবিডল্ডিউর ফাঁদে পড়ার আগে হিলির ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান। অ্যালিসি পেরির ব্যক্তিগত ইনিংসটি থামে ১০ রানে। ১৩ বলে ১১ রান করা ব্ল্যাকওয়েল কাটা পড়েন রানআউটে।

 

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মেগ ল্যানিং। অসি অধিনায়কের ৫০ বলের এই ইনিংসে ৪টি চারের মার ছিল। ৫৫ রান করে স্কিভারের বলে নাইটের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ল্যানিং।

 

বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে ২টি উইকেট নেন স্কিভার। আর মার্শ ও জেনি গান পান একটি করে উইকেট।

 

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকেই গেলেন যুবরাজ

মানিষ পাণ্ডেকে আগেই তার পরিবর্তে দলে নেয়া হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জানা গেলো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকেই গেলেন যুবরাজ সিং। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মোহালিতে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি।

বাম পায়ের গোড়ালিতেই চোটটা পেয়েছিল যুবরাজ। তবে চেষ্টা করা হচ্ছিল সুস্থ করে তাকে ফিরিয়ে আনার; কিন্তু সেমিফাইনালের আগের দিন দুপুরে নিশ্চিত হয়ে গেল, খেলতে পারছেন না যুবি। সেমিফাইনাল তো খেলতে পারছেনই না, এমনকী দল ফাইনালে উঠলেও তিনি খেলতে পারবেন না। এমন অবস্থায় কভার হিসেবে আগেই ডেকে নেওয়া হয়েছিল মানিষ পাণ্ডেকে।

যুবরাজের জায়গায় কে, সে নিয়েও ভারতে চলছিল বিতর্ক। কখনও শোনা যাচ্ছিল আজিঙ্কা রাহানের নাম তো কখনও পবন নেগি। শেষ পর্যন্ত মানিষ পাণ্ডেকেই নেয়া হলো বিশ্বকাপ খেলার জন্য।

সেমিতে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।

 

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, মাছরাঙা, গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টস।

 

সুপার টেনের চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে এসেছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে ‘এ’ গ্রুপের রানার আপ হয়ে সেমিফাইনালে এসেছে ইংল্যান্ড। উভয় দলই দারুণ ফর্মে রয়েছে। সুতরাং হাইভোল্টেজ একটি সেমিফাইনাল দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

 

তার আগে চলুন দেখে নিই সেমিফাইনালে কেমন হতে পারে ইংল্যান্ড  ও নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ।

 

ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ :
১. জ্যাসন রয়
২. আলেক্স হালস
৩. জো রুট
৪. জস বাটলার
৫. ইয়ান মরগান
৬. বেন স্টোকস
৭. মঈন আলী
৮. আদিল রশিদ
৯. ক্রিস জর্দান
১০. ডেভিড উইলি
১১. লিয়াম প্লাঙ্কেট।

 

নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ :
১. মার্টিন গাপটিল
২. কেন উইলিয়ামসন
৩. কলিন মুনরো
৪. কোরি অ্যান্ডারসন
৫. রস টেলর
৬. গ্রান্ট এলিয়ট
৭. লুক রনকি
৮. মিশেল স্যান্টার
৯. অ্যাডাম মিলনে
১০. ইস শোধি
১১. মিশেল ম্যাক্লেনাঘান।

 

 

ইংল্যান্ডের সামনে অপরাজেয় নিউ জিল্যান্ড

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে উন্মুখ নিউ জিল্যান্ড। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবার পরীক্ষায় নামতে হবে কৌশলী দলটিকে। দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সেমি-ফাইনালে পৌঁছানো ওয়েন মর্গ্যানরাও প্রস্তুত টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে। আগামী বুধবার নিউ জিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের সেমি-ফাইনাল শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
ভারতে কিভাবে খেলতে হবে তা নিয়ে অন্য দলগুলো যেখানে অনিশ্চিত সেখানে সাবলীলভাবে এগিয়ে চলেছে নিউ জিল্যান্ড। অন্যরা যেখানে এখনও হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত সে সময় সঠিক সমন্বয়ই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে দলটির জন্য। সেরা একাদশ বেছে নিতে টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্টের মতো দুই বোলারকে বসিয়ে রেখেছে নিউ জিল্যান্ড। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অবিশ্বাস্য শোনাত সম্পূর্ণ ফিট থাকার পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ পাবেন না এই দুই পেসার।
নাগপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে নিউ জিল্যান্ডের জয়যাত্রা শুরু। ধর্মশালায় পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাগান পার্থক্য গড়ে দেন তাসমান সাগরপারের আরেক দেশ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। মোহালির তুলনামূলক দ্রুত গতির উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন আরেক পেসার অ্যাডাম মিল্ন।
কলকাতার মন্থর-দুই গতির উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে আবার সামনে আসেন ত্রয়ী স্পিনার মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি ও নাথান ম্যাককালাম। ২০১৪ সালের শেষ দিকের পর থেকে উপমহাদেশে খেলেনি নিউ জিল্যান্ড, সেই দলটিই সবার আগে নিশ্চিত করে সেমি-ফাইনাল। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচেই আগে ব্যাট করে নিউ জিল্যান্ড, প্রতি ম্যাচেই লড়াইয়ের পুঁজি পাওয়ায় বোলারদের বাকি কাজটুকু সারতে কোনো সমস্যা হয়নি।
সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অসাধারণ অধিনায়ক উইলিয়ামসন, পেছনে আছেন ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিস্কের মাইক হেসন। তাদের যুগল বন্দিতে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পৌঁছায় নিউ জিল্যান্ড। সরল রেখার মতো এগিয়ে যাওয়া নিউ জিল্যান্ডের বিপরীতে ফাইনাল উঠার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে আছে উত্থান-পতন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা মর্গ্যানের দল ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে।
শেষের ঝড়ে লড়াইয়ে পুঁজি গড়ে তারা আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বাঁচা-মরার ম্যাচে কোনোমতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পৌঁছায় শেষ চারে। দলটি ততটা দাপুটে ক্রিকেট হয়ত খেলছে না কিন্তু জয়ের পথ ঠিকই খুঁজে নিচ্ছে।
কোটলায় এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। দলটির ব্যাটিং গভীরতাও যথেষ্ট। তবে বোলিংয়ে কিছুটা দুর্বলতা রয়েই গেছে তাদের। নিউ জিল্যান্ডের জয়ে বড় অবদান রাখছেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল। টুর্নামেন্টে দলের একমাত্র অর্ধশতকটি এসেছে তার ব্যাট থেকেই। তিনি ছাড়া কেউ সেভাবে বড় ইনিংস খেলেননি টুর্নামেন্টে, তাকে দ্রুত ফেরাতে পারলে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টে এখনও কোনো ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করেনি নিউ জিল্যান্ড। তাই লক্ষ্য তাড়ায় তারা কেমন সেই পরীক্ষা হয়নি এখনও।

‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোহলির মত ব্যাট করতে চাই’

এক ইনিংসেই যেন বাজিমাত করে ফেললেন বিরাট কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চাপের মুখেও অপরাজিত ৮২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কোহলি। কোহলির মতই খেলতে চান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বুধবার কিউইদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
ম্যাচ পূর্ববর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে কেন উইলিয়ামসন বলেছেন, ‘আমি সে রকম কিছু করতেই পছন্দ করি। কোহলি এবং রুট এই বিশ্বকাপে নজরকাড়া খেলা উপহার দিয়ে আসছে। অসাধারণ দুইজন ক্রিকেটারর অনেকদিন ধরেই ক্রিকেটে রয়েছে। আপনি যদি তাদের দেখে সে অনুযায়ী ব্যাট করতে পারেন তাহলেই আপনি বুঝবেন অনেক কিছু শিখেছেন।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার কথাও চিন্তা করছেন কেন উইলিয়ামসন। ইংলিশদের বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান বেশি দেখে খেলানো হতে পারে অফ স্পিনার ন্যাথান ম্যাককালামকে। উইলিয়ামসন বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের আগে উইকেটের দিকে তাকানো উচিত। উইকেট দেখেই আমরা একাদশ ঠিক করবো।’
দিল্লিতে এর আগে দুইটি ম্যাচ খেলার কারণে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড এমনটাই মনে করেন কিউই অধিনায়ক। ‘তারা ভাগ্যবান যে এখানে দুইটি ম্যাচ খেলেছিল। সেজন্য এখানকার কন্ডিশনটাও তারা জানে; কিন্তু আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোন কিছুই হতে পারে। প্রত্যেক দল বিশ্বাস করে তারা ফাইনালে উঠবে, ইংল্যান্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। আশা করছি উপভোগ্য একটি ম্যাচ হবে।’
দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় প্রথম সেমিফাইনালে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড।

আগের চেয়ে শক্ত হয়ে ফেরার প্রত্যয় তাসকিনের

অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন বাংলাদেশ দলের এই অন্যতম পেস বোলার তাসকিন আহমেদ। বিশ্বকাপের মূল পর্বের ম্যাচে তার অনুপস্থিতি বেশ ভুগিয়েছে দলকে। সে কথা অকপটে শিকার করে নিয়েছেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগের চেয়ে শক্ত হয়ে ফিরবেন বলে আশাবাদ তাসকিনের। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আইসিসির নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে তিনি বলেছেন, এটা চলার পথে একটা ধাক্কা মাত্র। হয়তো আমি খান থেকে আরও শক্ত হয়ে ফিরতে পারব। আল্লাহ যা করেন ভালো কিছুর জন্যই করেন।
বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বলেন, আমি এখন অনেক কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি। আমি নিশ্চিত এই ধাক্কা কাটিয়ে আবার যখন ফিরব, আগের চেয়ে শক্ত তাসকিন হয়ে ফিরব।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এক রানের পরাজয়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন জানিয়ে তাসকিন বলেন, সেই হারটা হোটেলে একা একা বসে দেখছিলাম। আমি ভাবছিলাম, প্রথম ইনিংসটা দেখে একটু বের হব হোটেল থেকে। একা একা খেলা দেখতে ভাল লাগে না। কিন্তু এতো সুন্দর বল করল সবাই টিভির সামনে থেকে উঠতে পারলাম না। শেষ ওভারে সে আমার হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছিল। মাঠে থেকে কোনও দিন এত নার্ভাস লাগেনি। মুশফিক ভাই দুটো চার মারল, আমি চিৎকার শুরু করে দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ তিনটে বলে কী যে হল! এই আফসোস জীবনেও যাবে না।

আশার আলো মুস্তাফিজ : মুশফিক

এশিয়া কাপের মাঝপথ থেকেই ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে। যে ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপের অর্ধেক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব এবং মূল পর্বের প্রথম ম্যাচটাও খেলতে পারেননি তিনি। সর্বনাশা ইনজুরি তাকে ঘ্রাস করে নিচ্ছে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। তবে, তাসকিন-সানির নিষেধাজ্ঞার কারণে হালকা ইনজুরি সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মাঝ পথে আবারও দলে ফিরলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারেরমত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নামেন মাঠে।
ওই ম্যাচেই স্টিভেন স্মিথকে বোল্ড এবং মিচেল মার্শকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষেও ছিলেন একই রূপে। বোল্ড করেছিলেন রোহিত শর্মা এবং রবিন্দ্র জাদেজাকে। দুই ম্যাচ থেকে চার উইকেট তুলে নিলেও নিজের সেরাটা যেন লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি শেষ ম্যাচের জন্য। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২২ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। যার চারটিই বোল্ড। কেন উইলিয়ামসনের মত ব্যাটসম্যান পর্যন্ত বোল্ড হয়ে ফিরেছেন তার বলে।
এবারের বিশ্বকাপে সেরা পরাফরম্যান্স করলেন মুস্তাফিজ। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ট বোলার হিসেবে নিলেন ৫ উইকেট। বিশ্বকাপের বাংলাদেশের অনকে অপ্রাপ্তির মাঝে যেন প্রাপ্তি হচ্ছে মুস্তাফিজের বোলিং। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৭৫ রানের লজ্জার হারে ডুবলেও মুস্তাফিজই যেন সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন। এ কারণেই দেশে ফেরার পর দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম তাকে বর্ণনা করলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের আশার আলো’ হিসেবে।
নিজের ফেসবুক পেজে মুশফিক মুস্তাফিজের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘সব বাধার মধ্যেও আশার আলো আমাদের মুস্তাফিজ (Despite all the negativity, Mustafiz gives us a lot of hope for the future!)।’
খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে মুশফিক গিয়েছিলেন মুস্তাফিজের বাড়িতে। সেখানে তার মা বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলে মুশফিক লিখেছিলেন, ‘আল্লাহর কাছে প্রার্থণা, আমি যেন মুস্তাফিজের মত বড় তারকা হতে পারি।’ এবার আবারও মুস্তাফিজের প্রশংসা করলেন তিনি।

‘তিন বলে দুই রান’-ভুলতে পারছেন না মাহমুদউল্লাহ

তিন বলে দুই রান নিতে না পারাটা স্বপ্ন ভঙ্গের মতই। ভারতের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে যেয়েও হার নিয়ে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। ওই সময় ক্রিজে ছিলেন দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিম। তারাও এই হার কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে শনিবার দেশে ফেরে বাংলাদেশ দল। ওই সময়ই দেখা গেছে সেই হারের মলিনতা রয়ে গেছে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিকের চোখে-মুখে।
বিমানবন্দরেই ক্রিকেটারদের চেহারাতে দেখা গিয়েছিল সেই ম্যাচ হারের বিমর্ষতা। ওই ম্যাচের কষ্ট ভুলতে মুশফিক তার ফেসবুক পেজে এক ভক্তের বানানো ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সেই ভিডিওতে মাহমুদউল্লাহ এবং মুশফিকের বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক অবদানের উল্লেখ করা হয়।
মুশফিক সেটি দেখে কিছুটা কষ্ট ভুলতে পারলেও রিয়াদ একদমই মুষড়ে পড়েছেন। দেশে ফিরে মাহমুদউল্লাহ বলছেন, ‘হ্যা, মুশফিক আমাকে ভিডিওটি দেখিয়েছে। আমি আসলে ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না যে ভিডিওটি দেখে স্বস্তি পেয়েছি কী পাইনি!’
বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগে তিনি প্রকাশ করে গিয়েছিলেন নিজে ভেতরে জ্বালার কথাও, ‘আমি আসলে এখনও খুব আপসেট। ব্যাপারটি একদমই ভুলতে পারছি না।’ হয়তো এই হার সামনে আরো জয়ের ভিত গড়ে দিবে কিন্তু তখনও কি রিয়াদ ভুলতে পারবেন এই হারের কথা!

যে কারণে নাসির-সৌম্য’র উপর এতো রাগ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সব রাগ যেনো এখন অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের উপর। বোর্ডের উপর থেকে নীচ সবাই নাসিরের বিরুদ্ধে একহাত নিচ্ছেন। আকারে-ইঙ্গিতে নানা অভিযোগ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শুধু ‘শৃঙ্খলাজনিত’ কারণের কথা বলছেন তারা। একইভাবে সৌম্য সরকারের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলা ভাঙ্গার অভিযোগ তাদের।
ভারতে বসে বিসিবির এক পরিচালক এমনকি একথাও বলেছেন, বাংলাদেশ দল থেকে এবার নাসির হোসেন বাদ পড়লে আর কখনোই দলে ফিরতে পারবেন না। টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে সস্ত্রীক ভারতে আসা ওই পরিচালক রোববার রাতে এখানকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সসহ নাসির এবং সৌম্য’র বিষয়ে কথা বলেছেন।
দলের ভেতরে ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে বিসিবি বরাবরই কঠোর উল্লেখ করে, তিনি বলেন: নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগেও নাসিরের বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে আমি প্রশ্ন করি। জিজ্ঞেস করি, কেনো নাসিরকে খেলানো হচ্ছে না? তখন জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেন, নাসির অনুশীলনে সিরিয়াস না। তাছাড়া ওর ব্যাপারে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে।
ওই পরিচালক জানান, তাদের কথোপকথনের সময় ক্রিকেট বোর্ডের আরো উচ্চ পর্যায়ের একজন সামনে ছিলেন। সেসময় অলাউন্ডার নাসিরকে নিয়ে তাদের তিনজনের মধ্যে অনেকক্ষণ কথা হয় এবং সব শুনে খুবই উচ্চ পর্যায়ের মানুষটি নাসিরের প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ হন বলে জানান বিসিবির ওই পরিচালক।
তিনি বলেন: তিনি (খুবই উচ্চ পর্য়ায়) খুবই রেগে আছেন, তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে অত্যন্ত সোচ্চার। আপনাদের নিশ্চয়ই সাকিবের ঘটনা মনে আছে। সুতরাং, বলতে পারি, সাকিব বলে দল থেকে বাদ পড়ে আবার ফিরতে পেরেছে, নাসির সেটা পারবে না- এটা আমি বলে রাখলাম।
তবে শুধু নাসির নন, সিরিয়াসনেস নিয়ে সৌম্য সরকারেরও কঠোর সমালোচনা করেন বিসিবির পরিচালক।
তিনি বলেন, সৌম্য অতিরিক্ত পরিমাণে মোবাইল ফোনে কথা বলে, বলতে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বলতে পারেন, সবকিছুর একটা লিমিট থাকে, আমি সেটা লক্ষ্য করেছি। সৌম্যকে বলেছি- দেখো তুমি যদি এটা এখনই নিয়ন্ত্রণ না করো, তাহলে তোমাকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।
রাতের খাবার শেষ করে অনেকটা নীরব কলকাতার রাস্তায় হাঁটতে বের হয়ে অনেক্ষণধরেই ক্রিকেট দল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন একসময় শৃঙ্খলার বিষয়-আশয় দেখা বিসিবি পরিচালক।
তিনি বলেন, ফোনালাপের ব্যাপারে সৌম্য সরকার আমাকে কথা দিয়েছিলো। বলেছিলো, ভাই, সব বাদ দিয়ে দেবো। কিন্তু, টি-২০ বিশ্বকাপে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়া এই ওপেনারের পারফরম্যান্সে বোর্ড ক্ষুব্ধ। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত ভারতে থাকবেন বিসিবির এই পরিচালক। কলকাতা থেকে দিল্লী গিয়ে আবার কলকাতায় ফিরে ৩ এপ্রিল ইডেন গার্ডেন্সের ফাইনাল উপভোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আর বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান, এমপি’র কলকাতা থেকে মুম্বাই গিয়ে সেখানে ৩০ মার্চ আইসিসির বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নাজমুল হাসানেরও ৩ এপ্রিলের ফাইনালে মাঠে উপস্থিত থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন বোর্ড প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত আস্থাভাজন ওই পরিচালক।
নতুন করে ফিরে আসার স্বপ্নে নাসির
নাসির হোসেনকে নিয়ে বোর্ডের পরিকল্পনা যাই থাকুক, বিশ্বকাপ দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ফিরে আসার চেষ্টায় আছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। রোববার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পর সেখানে তিনি বলেছেন: দলের সঙ্গে সবসময় ছিলাম, মানসিকভাবে সবসময় থাকবো। আপাতত ১০ দিনের জন্য খেলা থেকে একদম দূরে থাকবো। কারণ আগামী দুই-আড়াই মাস আমাদের কোনো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ নেই। তবে প্রিমিয়ার লীগ খেলা আছে, সেটির জন্য অনুশীলন করবো। দশ দিনের বিশ্রাম শেষে সেই অনুশীলন শুরুর কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকায় জাকিয়া আক্তারকে তিনি বলেছেন, তাকে দলে রাখা বা না রাখা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। তারা যা ভালো মনে করেছেন, সেই কাজটি করেছেন। আলোচিত-সমালোচিত টি-২০ বিশ্বকাপে একটি ছাড়া আর কোনো ম্যাচে ছিলেন না নাসির হোসেন যে কারণে ক্রিকেটপ্রেমীরা ক্ষুব্ধ।
তবে দেশে ফিরে নাসির এ নিয়ে অন্ততঃ প্রকাশ্যে কোনো ক্ষোভ বা কষ্টের কথা বলেননি। তার সাফ কথা: টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে। এখানে তার কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, পুরো বিশ্বকাপ সফরটি খুব ভালো ছিলো। ‘আমরা হেরেছি কিন্তু সফলতা ছিলো অনেক। টিমের জন্য খুব ভালো ছিলো এই সফর। তামিম ভাই, মোস্তাফিজসহ দলের অনেকে খুব ভালো খেলেছেন। ভারত, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টিম টাইগার্স দুর্দান্ত খেলেছে। শুধুমাত্র ম্যাচগুলো জেতা হয়নি আমাদের।’
দল এতো ভালো খেলেছে কিন্তু তার ভাগিদার আপনি হতে পারেননি এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে নাসির হোসেন বলেন, ‘আমার কোনো আক্ষেপ নেই, টিম ম্যানেজমেন্ট যে কাজটি করেছেন অবশ্যই দলের ভালোর জন্য করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো সিদ্ধান্তের উপর আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

আইসিসি ওয়েবসাইটে টাইগারদের সাফল্যচিত্র

ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে দুরন্ত ক্রিকেট খেলার পর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সমাপ্তি কিছুটা হতাশা দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ দলের। বাছাইপর্বে দারুণ পারফর্ম দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু পর সুপার টেনে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি টাইগাররা।
তবে এই হতাশার মধ্যে অনেক অর্জন আছে তাদের। বিশ্বকাপের সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলাদের তালিকায় জয়জয়কার টাইগারদের। শীর্ষ দশ ব্যাটসম্যান ও বোলারদের তালিকায় সব মিলিয়ে ছয়জন রয়েছেন বাংলাদেশের।
এর পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ৫০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে করা আইসিসির ‘সুপার হিরোস’ তালিকায় রয়েছেন পাঁচ টাইগার। বিশ্বকাপের আর মাত্র তিনটি ম্যাচ বাকি। দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনালের আগে এ পর্যন্ত রান সংগ্রহের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল। বাছাইপর্ব ও সুপার টেন মিলে ৬ ম্যাচে টাইগার ওপেনারের রান সংখ্যা ২৯৫। ৭৩ দশমিক ৭৫ গড়ের সঙ্গে ১৪২ দশমিক ৫১ স্ট্রাইক রেট। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে শতরান তুলে নিয়েছেন এই বিশ্বকাপেই। করে একটি হাফসেঞ্চুরিও।
666
সংগ্রাহকদের শীর্ষ দশে তামিম ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে রয়েছেন সাব্বির রহমান ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তালিকার পাঁচে থাকা সাব্বিরের রান ১৪৭। ৭ ম্যাচে ১২৩ দশমিক ৫২ স্ট্রাইক রেট ও সাড়ে ২৪ গড়ে এই রান করে তিনি। আর নবম স্থানে থাকা সাকিবের রান ১২৯। একটি হাফসেঞ্চুরি ও ৩২ দশমিক ২৫ গড়ে এই রান করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
শীর্ষ দলে বাংলাদেশীরা ছাড়া একাধিক খেলোয়াড় রয়েছেন শুধু আফগানিস্তানের। ২২২ রান করে তালিকার দুই নম্বরে রয়েছেন আফগান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ।আর ১৪১ রান নিয়ে তালিকার আট নম্বরে রয়েছেন আসগার শায়েখজাই।
শীর্ষ দশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যরা হলেন- ভারতের বিরাট কোহলি(চার ম্যাচে ১৮৪), ইংল্যান্ডের জো রুট(চার ম্যাচে ১৬৮), সাউথ আফ্রিকার কুইনটিন ডি কক(তিন ম্যাচে ১৪৪), অস্ট্রেলিয়ার উসমান খাজা(চার ম্যাচে ১৪৩) ও নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল(তিন ম্যাচে ১২৫)।
0005
সবচেয়ে বেশী উইকেট শিকারি

বোলারদের শীর্ষ তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। ৭ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১০ উইকেট। তিন ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে পেসার কাটার মুস্তাফিজ আছেন তালিকার পাঁচ নম্বরে। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। বোলারদের শীর্ষ দশ তালিকার আরেক সদস্য পেসার আল-আমিন হোসেন। ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে তিনি রয়েছেন তালিকার আট নম্বরে। বোলাদের শীর্ষ দশে সবার উপরে রয়েছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। ৭ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১২টি। ১১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংলিশ স্পিনার রশিদ খান।
শীর্ষ দশের অন্য সদস্যরা হলেন-নিউজিল্যান্ডের মিচেল সান্টনার(চার ম্যাচে ৯ উইকেট), নিউজিল্যান্ডের ইশ সোদি(চার ম্যাচে ৮ উইকেট), অস্ট্রেলিয়ার জেমস ফকনার (চার ম্যাচে ৮ উইকেট), ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল(চার ম্যাচে ৭ উইকেট) ও নেদারল্যান্ডসের পল ভ্যান ম্যাকিরিন(তিন ম্যাচে ৬ উইকেট)।
সুপার হিরো
এছাড়া প্রতি দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে ৫০ জনের যে ‘সুপার হিরোস’দের তালিকা করেছে আইসিসি তাতে বাংলাদেশ থেকেই বেশি তারকার জায়গায় পেয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন পাঁচজন তারকা-মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান ও মুশফিজুর রহিম।

চার দলের সেমিফাইনাল মিশন শুরু বুধবার

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ হাসি হেসেছে ভারত। গ্রুপ ‘ওয়ান’ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। বিরাট কোহলির অপরাজিত ৮২ রানের সুবাদে ৫ বল হাতে রেখেই জয় পায় তারা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘টু’ থেকে সেমিতে উঠেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আগামী ৩০ মার্চ বুধবার দিল্লিতে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। পর দিন মুম্বাইতে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত। ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে।
গ্রুপ ‘ওয়ান’ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড ও ভারত। নিউজিল্যান্ড গ্রুপের সবগুলো দেশকেই হারিয়েছে। এদিকে ভারত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছে। বাকি তিন দল পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছে তারা।
অন্যদিকে গ্রুপ ‘টু’ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। ক্যারিবিয়ানরা রবিবার আফগানিস্তানের সঙ্গে গুরুত্বহীন ম্যাচে হেরেছে। বাকি তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে ক্যারিবিয়ানরা। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে হারলেও বাকি তিনিটি দলকে পরাজিত করে ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিশ্চিত করছে।
তবে ভাগ্য সহায় বলতে হবে ভারতের। বাংলাদেশর বিপক্ষে ভাগ্যের সহায়তা জয় পায় তারা। এই কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নিয়েছিল। যারা জিতবে তারাই ফাইনাল খেলবে এমন সমীকরণ রেখেই মাঠে নামে দু’দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে কাঁদিয়ে শেষ হাসি হাসে কোহলি-রোহিতরা।

মাশরাফিকে নিয়ে বিশ্বমিডিয়ার অপপ্রচার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে রোববার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশে ক্রিকেট দল। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
আর সেটিকে ভুল ব্যাখ্যা করছে আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদমাধ্যম। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইসিসির বিরুদ্ধে মাশরাফি কথা বলেছেন, এমন অপবাদও দিতে ছাড়েনি সেই সব সংবাদমাধ্যমগুলো।
বিমানবন্দরে নেমে টাইগার দলপতি মাশরাফি জানান, ‘সামনে আমরা আরো ভালো করতে পারবো, এবারের বিশ্বকাপে মূলপর্বে আমরা কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। অনেকগুলো ক্লোজ ম্যাচ হয়েছে। দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে জয় নিয়ে ফেরার যোগ্যতা রয়েছে। এবারের আসর থেকে দলের সবাই দারুণ কিছু শিখেছে, যা ভবিষ্যতে টি-২০ ফরম্যাটে ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’
Cricket_sm_151828998
তিনি আরও জানান, ‘বিশ্বকাপের মেগা ইভেন্ট চলাকালীন আমরা বেশ বড় হোঁচট খেয়েছি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের মধ্যে তাসকিন ও সানির শূন্যতা অনুভব হয়েছে। তারা থাকলে হয়তো আরও ভালো করতে পারতাম। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে আমাদের জয় পাওয়াটা দরকার ছিলো।’
অথচ ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘মেইল অনলাইন’ তাদের শিরোনামে লিখেছে ‘বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে পড়ায় মাশরাফি আইসিসিকে দোষারোপ করছে’।
ঠিক এমনসব শিরোনাম দিয়েই খবর ছেপেছে আরও কিছু সংবাদমাধ্যম। যার কোনো সত্যতা নেই, ভিত্তি নেই। নিজেদের বানানো রগরগে সব শিরোনাম দিয়ে মাশরাফির বিরুদ্ধে আইসিসিকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা।
বিমানবন্দরে ম্যাশ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলে, আমরা আগের থেকে আরও বেশি ভালো পারফর্ম করতে শিখেছি। বিশ্বের যেকোনো দলের বিপক্ষে এখন আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে পারি।
অথচ, “বিশ্বমঞ্চ থেকে টাইগারদের বিদায় আইসিসির কারণেই হয়েছে: মাশরাফি”- এই শিরোনাম দিয়ে বাংলাদেশের সফল দলপতিকে হেয় করার চেষ্টা করে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’, ‘আইবিএন’, দক্ষিণ আফ্রিকার ‘সুপার স্পোর্টস’, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘গালফ টুডে’ এমন শিরোনাম দিয়ে মাশরাফির নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এছাড়া, নিউজইউনাইটেডডটকম, সৌদি গেজেট, এনভিএসটোয়েন্টিফোরডটকম, লেটেস্টনিউজ, এমআইডটকম, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডট কম ইত্যাদি সংবাদমাধ্যম এই অপপ্রচার চালাতে বেশ সক্রিয়।

শচীনের চেয়েও সেরা কোহলি!

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখে মন্তব্য করেছিলেন, শচীনকেও ছাড়িয়ে যাবেন কোহলি। ওয়ানডেতে তো অবশ্যই। কারণ, ইতিমধ্যেই ২৫টা সেঞ্চুরি করে ফেলেছে তিনি। টেস্টেও এগিয়ে যেতে থাকবেন। টি-টোয়েন্টিতে তো নিজেকে সত্যিই অসাধারণরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক।

আইসিসি থেকেই হিসেব-নিকেশ করে দেয়া হয়েছে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে গ্রেট রান চেজার হলেন বিরাট কোহলি। রানা তাড়া করে জয়ের ক্ষেত্রে কোহলির ব্যাটিং গড়ই সবচেয়ে বেশি। অবিশ্বাস্যভাবে সেটা ৯১.৮ ভাগ। এ তালিকায় তিনি পেছনে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসিকে। রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি। গড় ৫২.৬ করে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি। ৪৭.৯ করে তার রান তাড়া করার গড়। এরপরের অবস্থানে ছিলেন শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারা। কিছুদিন আগে অবসরে চলে যাওয়া সাঙ্গাকারার গড় ৪৪.৯ করে। জেপি ডুমিনি রয়েছেন এরপরের অবস্থানে। ৪৩.৭ করে রান তাড়া করার গড়।

আইসিসির এই হিসাব-নিকাশ অবশ্য দেখতে হয়নি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিরাট কোহলির ব্যাটিং তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, সরাসরি শচীনের ওপরেও তাকে ঠাঁই দিতে ভুল করলেন না। তিনি সার্টিফিকেট দিয়ে বললেন, ‘রানতাড়া করার দিক থেকে এরই মধ্যে শচীনকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন কোহলি।’

অস্ট্রেলিয়ার করা ১৬০ রানের জবাব দিতে নেমে এক সময় ভারতের পরাজয়ই দেখা যাচ্ছিল যেন। ওভার প্রতি রান প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল ১৩ করে। অথচ সে জায়গা থেকে কোহলি কী অসাধারণ ব্যাটিং করে ভারতকে জয় এনে দিলেন ৫ বল হাতে রেখেই। ৫১ বলে ৮২ রানের অপরাজিত অসাধারণ এক ইনিংস খেলে অবিসংবাধিতভাবে ম্যাচের সেরা হলেন কোহলি।

ভারতের ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ বলেন, ‘আমার দেখা এখনও পর্যন্ত রান তাড়া করার ক্ষেত্রে কোহলিই সেরা। এমনকি শচীন টেন্ডুলকারের চেয়েও সেরা। আমি শচীনের কথা মাথায় রেখেই বলছি। শচীন তো ছিলেন স্পেশাল একজন; কিন্তু যদি আপনি শুধু রান তাড়া করার কথা ভাবেন, কোহলি এরই মধ্যে টেন্ডুলকারের চেয়ে বেশি কিছু করেছে। সত্যিই কোহলি আমার কাছে অবাস্তব কিছু!’

১৬১ রান করতে নেমে যখন খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল ভারত, তখনও নাকি সৌরভ ভরসা হারাননি। তার বিশ্বাস ছিল যেন ভারতই জিতবে এবং কোহলিই ম্যাচ বের করে আনবে। তিনি বলেন, ‘সে ঠিকই জানত যে কোনো সময় রানের গতি বাড়িয়ে ম্যাচটা বের করে আনতে পারবে। ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টও জানে, ও ভারতের আসল চাবিকাঠি। তাই ও যখন ধীরে রান তোলে, তখনো কেউ ওর ওপর চাপ তৈরি করে না।’

একপর্যায়ে ৩০ বলে ৩৫ রান ছিল কোহলির। পরের ২১ বলে ৪৭ রান তুলে সেই কোহলি ম্যাচটার রংই বদলে দিয়েছেন মুহূর্তেই।

কোহলির ব্যাটে চড়ে সেমিতে ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোববার দু’টি অসাধারণ ম্যাচ হয়ে গেল। দিনের প্রথম ম্যাচে অসাধারণ খেলে চলতি আসরের সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে নবাগত আফগানিস্তান। তারা ৬ রানে হারিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এ হারে ক্যারিবীয়দের অবশ্য সেমিতে যাওয়া সমস্যা হয়নি। তারা আগেই শেষ চার নিশ্চিত করে। কিন্তু দিনের অন্য ম্যাচটি ছিল অনেকটা কোয়ার্টার ফাইনাল। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে যে জিততে তারাই পাবে সেমিফাইনালের টিকেট। এই ম্যাচে বিরাট কোহলির অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কাছে হার মানে অস্ট্রেলিয়া। সেমিফাইনাল নির্ধারণী ম্যাচে অজিদের ছয় উইকেটে হারিয়ে জয়োল্লাসে মাতে ভারত। ব্যাট হাতে কোহলির ৮২ রানের (৫১ বল) অপরাজিত ইনিংসে ১৬১ রানের টার্গেটা পাঁচ বল বাকি থাকতেই টপকে যায় টিম ইন্ডিয়া।
IND_VS_AUS_
রোববার মোহালির বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে টস জিতে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা। জয়ের ল্েয খেলতে নেমে পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে ৩৭ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের উইকেট হারায় ভারত। শিখর ধাওয়ান (১৩) ও শেন ওয়াটসনের বলে কিন বোল্ড হন রোহিত শর্মা (১২)। ব্যক্তিগত ১০ রানে ওয়াটসনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সুরেশ রায়না। ইনিংসের ১৪তম ওভারে কোহলি-যুবরাজের ৪৫ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে। জেমস ফকনারের বলে ওয়াটসনের দুর্দান্ত ক্যাচে মাঠ ছাড়েন যুবরাজ সিং (২১)। তবে অপর প্রান্ত আগলে রাখেন কোহলি। এরপর তিনি ও অধিনায়ক ধোনি অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে সেমিতে পৌঁছে দেন। কোহলি একাই শাসন করেন অজি বোলারদের। এক সময় জেতার জন্য ২৪ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। অথচ কোহলির ব্যাটিংয়ে অনায়াসে সেই টার্গেট ছুয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। ১০ বলে ১৮ রান করা ‘মিস্টার সুপার কুল’ ধোনি চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন।
tos
এর আগে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু এনে দেন উসমান খাজা (১৬ বলে ২৬) ও অ্যারন ফিঞ্চ। ওপেনিং জুটিতে ৪.২ ওভারে আসে ৫৪ রান। অষ্টম ওভারের মাথায় মাত্র ৬ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার। দশম ওভারে যুবরাজের বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির গ্লাভসবন্দি হন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (২)। এরপরই চাপের মুখে পড়ে অজিরা।
দলীয় একশ রানের মাথায় আউট হন ফিঞ্চ (৩৪ বলে ৪৩)। জাসপ্রিত বুমরাহর স্লোয়ারে স্ট্যাম্প ভাঙে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (৩১)। ইনিংসের শেষ ওভারে হার্দিক পান্ডের বলে বিরাট কোহলির তালুবন্দি হন জেমস ফকনার (১০)। শেন ওয়াটসন ১৮ ও পিটার নেভিল দুই বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ওভার শেষে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৬০। ভারতের হয়ে পান্ডে দু’টি উইকেট লাভ করেন। একটি করে উইকেট নেন আশিষ নেহরা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, যুবরাজ ও বুমরাহ। উইকেট পেলেও বেশ খরুচে ছিলেন দলের সেরা স্পিনার অশ্বিন (দুই ওভারে ৩১)।
সবশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠেই টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশের (৩-০) লজ্জায় ডোবান ধোনি-কোহলিরা। তাই স্মিথদের সামনে এবার প্রতিশোধ নেওয়ার হাতছানি! অন্যদিকে, অজিদের হারিয়ে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিতে চোখ রাখছে স্বাগতিকরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মঞ্চে চারবারের দেখায় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দু’দলই দু’বার করে জয়োল্লাসে মাতে। আর সব মিলিয়ে ১২ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে অজিদের চারটি জয়ের বিপরীতে আট ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টিম ইন্ডিয়া।
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), হার্দিক পান্ডে, রবিন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, আশিষ নেহরা ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: অ্যারন ফিঞ্চ, উসমান খাজা, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, শেন ওয়াটসন, জেমস ফকনার, পিটার নেভিল (উইকেটরক্ষক), অ্যাডাম জাম্পা, নাথান কোল্টার নাইল ও জস হ্যাজেলউড।

কিংবদন্তিদের প্রশংসায় ভাসছে আফগানিস্তান

অসাধারণ, অতুলনীয়, অবিশ্বাস্য! কোন উপমা দিয়েই হয়তো আফগানিস্তানের এই জয়কে উপমিত করা সম্ভব না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ রানের অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিলো আইসিসির সহযোগী দেশ আফগানিস্তান। সুপার টেনের প্রথম ম্যাচ থেকেই বড় দলগুলোর সাথে লড়াই করে হেরেছে আফগানিস্তান। প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্বব্যপী। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেটার ষোলকলা পূর্ণ করলো আফগানরা।
আফগানদের প্রশংসা করে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন টুইট করে বলেন, ‘অসাধারণ! আফগানিস্তান ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন। আইসিসি এবার তোমার চিন্তায় পরিবর্তন আনার পালা।’
আরেক ইংলিশ ক্রিকেটার এন্ড্রু ফ্লিনটফতো এই ম্যাচে আফগানদেরই সমর্থক ছিলেন। ম্যাচ শেষে লিখেছেন, ‘ইয়েসসসসসসসসস, আফগানিস্তান!!!’ ইংলিশ ক্রিকেটার জেমস টেলর টুইট করেন, ‘অবিশ্বাস্য! আফগানিস্তানের জন্য এই জয় অনেক বড় পাওয়া।’
ইংলিশ বোলার জেমস এন্ডারসন লেখেন, ‘আফগানিস্তান ফেভারিট ছিল এই ম্যাচে। গত কয়েক সপ্তাহ তারা অসাধারণ খেলেছে।’ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারলেও আফগানিস্তানের প্রশংসা করতে পিছপা হননি সাবেক উইন্ডিজ বোলার ইয়ান বিশপ। তিনি লিখেছেন, ‘আফগানিস্তান এই ম্যাচটাতে জয়ের জন্যেই খেলেছে। ফেভারিট হিসেবেই জিতেছে তারা।’
ধারাভাষ্যকার রাসেল আরনল্ড লিখেছেন, ‘তারা জিতে গেল! আফগানিস্তান জিতে গেল। অসাধারণ একটি জয়। আরো একবার দলগত নৈপুণ্য দেখলাম। ফেবারিট হিসেবেই জিতেছে।’
ভারতের কিংবদন্তি বোলার অনিল কুম্বলে লিখেছেন, ‘অবিশ্বাস্য এক জয় আফগানদের জন্য। বিশ্বক্রিকেটের জন্য এ এক ইতিবাচক দিক।’

আফগানদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বধ

বোলারদের নৈপুণ্যে আফগানিস্তানকে অল্প রানে বেধে ফেলে প্রথম কাজটা ভালোভাবেই সেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু জেগে ওঠা আফগান বোলারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়লো ক্রিস গেইল বিহীন ক্যারিবীয় ব্যাটিং। সুপার টেন পর্ব পেরুতে না পারলেও ৬ রানের অসাধারণ এক জয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো আইসিসির সহযোগী দেশটির।
নাগপুরে বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১২৩ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে ৮ উইকেটে ১১৭ রানের বেশি করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা।
প্রথম তিন ম্যাচ জিতে অবশ্য আগেই সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ড্যারেন স্যামির দল। নেট রান রেটের হিসেবে ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে গ্রুপের শীর্ষস্থান পেল তারা।
ছোট লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই পথ হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ; ৩৮ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এর মধ্যে আবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ সেরা আন্দ্রে ফ্লেচার আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন (১০)।
প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ক্যারিবীয়রা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ডোয়াইন ব্রাভো ও দিনেশ রামদিনরা চেষ্টা করলেও নিজেদের ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি।
শেষ দুই ওভারে ২৫ রানের প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ওই ওভারে ড্যারেন স্যামির উইকেট পড়লেও ক্রেইগ ব্রেথওয়েইট দুই ছক্কা মেরে জয়ের সম্ভাবনা জোরালো করেন। শেষ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০, কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কিন্তু অভিজ্ঞ অলরাউন্ড-স্পিনার মোহাম্মদ নবি দারুণভাবে জ্বলে উঠলেন। প্রথম দুই বলে কোনো রান না দিয়ে তৃতীয় বলে শিকার করলেন আট বলে ১৩ রান করা ব্রেথওয়েইটকে।
এরপর চোট নিয়েও দলকে বাঁচাতে ব্যাট হাতে ফিরেন ফ্লেচার। কিন্তু উদ্যমী আফগানদের সামনে তিনিও কোনো বাধা হতে পারেননি। রশিদ খান ও নবি ২টি করে উইকেট নেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে আফগানিস্তান। ওখান থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ৪০ বলের ইনিংসটি ৪টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ। মোহাম্মদ শাহজাদ ২৪ ও আসগর স্তানিকজাই ১৬ রান করেন। স্যামুয়েল বদ্রি ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার। ১২৩ মোটেও বড় কোনো লক্ষ্য নয়। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সেটাই হয়ে উঠল পাহাড়সম, যা পাড়ি দেওয়া হলো না ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়নদের।

নাসিরের মত শৃঙ্খলা বিরোধী কেউ নেই : পাপন

ভারতের বিপক্ষে ১ রানের হারের পর নাসিরকে নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। দলের হারের জন্য অনেকে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সেরা ফিনিসার খ্যাত এ অলরাউন্ডারকে না খেলানোকেও দায়ী করেছেন। তবে নাসিরের মূল একাদশে না থাকা সম্পর্কে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলছেন অন্য কথা।

চ্যানেল আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপন বলেন, খেলার বিষয়ে নাসির কেন জানি এখন মোটেই সিরিয়াস না। প্র্যাকটিসেও আসে না। এই মুহূর্তে তার মতো শৃঙ্খলা বিরোধী দ্বিতীয় কেউ নেই।

তবে নাসিরকে দলে না নেয়ার বিষয়ে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, আসলে এই সিদ্ধান্তটি একক ভাবে হয় না। সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা যখন মনে করেছি শুভাগতকে খেলাতে হবে, তাকেই মাঠে নামিয়েছি। মূলত কম্বিনেশনের জন্যই নাসিরকে নামানো হয়নি।

মাশরাফির বিকল্পে পাপনের পছন্দ রিয়াদ

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজা অবসরে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন সেই এশিয়া কাপ থেকেই। বাংলাদেশের অনেক মিডিয়া এ নিয়ে ফলাও করে খবর ছাপা হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপ শেষেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে অবসরে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে মাশরাফি নিজে সরাসরি এমনটা বলেননি কখনও। তবে মাশরাফি যদি অবসর নিয়েই নেয় সে ক্ষেত্রে অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই বেশি পছন্দ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের।
বিশ্বকাপের সময় চ্যানেল আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বোলিং-ব্যাটিং কোন ক্ষেত্রেই মাশরাফি এখন ফর্মে নেই। দল পুনর্গঠনে সবার আগে তার বাদ পড়ার কথা। কিন্তু ক্যাপ্টেন হিসেবে দলে তার বিকল্প কেউ নেই। আমি চাইবো সেই ক্যাপ্টেন থাকুক। কিন্তু সে যদি নিজে কোন সিদ্ধান্ত নেয় বা নিতে চায় সেটা তার ব্যাপার। আর মাশরাফির পর ক্যাপ্টেন হিসেবে আমার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই পছন্দ। কিন্তু রিয়াদ ক্যাপ্টেন্সির জন্যে প্রস্তুত কিনা তাাআমি জানি না।
এর আগে বিপিএলে বরিশাল বুলস-এর অধিনায়কত্বের জন্য মাহমুদউল্লাহর প্রসংশা করে মাশরাফি বলেছিলেন, সত্যি, তার নেতৃত্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছি। দলকে মোটিভেট করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। আজ ফাইনালেও যেমন দেখেছি, তার ফিল্ডিং সাজানো, বোলিং পরিবর্তন, এমনকি হঠাৎ হঠাৎ ফিল্ডিংয়ের আমুল রদবদল করে আমাদের বিপদে ফেলে দিয়েছিল সে। এর আগে তো জাতীয় লিগ কিংবা প্রিমিয়ার লিগে দেখেছি তাকে নেতৃত্ব দিতে। তবে, এবার বিপিএলে মনে হলো রিয়াদ খুব ভালো একজন অধিনায়ক।

গেইলকে নিয়ে আফগানিস্তানের বিজয় উদযাপন

আফগান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যখন আফগানদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হতে শুরু করলো, তখনই শাহজাদ অনুকরণ শুরু করলেন গেইলকে। ব্যঙ্গ করে নয়, অনুসরণ করেই শাহজাদ দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে একবার সামনে আরেকবার পেছনে নিয়ে উদযাপন শুরু করলেন। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের সময় গেইলকে দেখা গিয়েছিল নতুন এই উদযাপনটি করতে। অবশেষে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলো আফগানরা, তখন শাহজাদের উদযাপনটি সংক্রমিত হলো দলের সব ক্রিকেটারের মাঝেই।
gayle-afgan
নিজে এই ম্যাচে না খেললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডাগআউটে বসে আফগানদের বিজয় উদযাপনের গেইলীয় ভার্সন দেখলেন স্বয়ং গেইল নিজেই। আসগর স্টানিকজাই কিংবা মোহাম্মদ নবীদের এই উদযাপন দেখে কৌতুহল জাগলো গেইলেরই। তিনি নেমে আসলেন মাঠে। অভিনন্দন জানালেন আফগানদের। অসাধারণ এই জয়ে তিনিও অভিভূত না হয়ে পারলেন না। শেষের চাপকে যেভাবে সামলে জয় পেয়েছে আফগানিস্তানের মত অনভিজ্ঞ এবং নতুন একটি দল, তা সত্যিই প্রসংশনীয়।
এ কারণেই সম্ভবত আফগানদের বিপক্ষে হারে ক্ষতবিক্ষত থাকলেও সেই আফগান ক্রিকেটারদের সঙ্গেই তাদের জয়ে সামিল হলেন ক্রিস গেইল। মাঠে নেমে তিনিও যেন বিলিন হয়ে গেলেন আফগান উৎসবে। প্রিয় তারকাকে সামনে পেয়ে শাহজাদ-নবীরাও ছাড়বে কেন! সুতরাং, গেইলকে মধ্যমণি রেখে চারপাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ফেললেন আফগান ক্রিাকটাররা। ম্যাচ শেষে এটাই হয়ে থাকলো যেন ক্রিকেটের আসল স্পিরিট, সম্প্রীতির বন্ধন হিসেবে।

রেকর্ড গড়লেন সাব্বির

বাংলাদেশ দলের অন্যতম তারকা ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। টি-টোয়েন্টির স্পেশালিস্ট হিসেবেই ২৪ বছর বয়সী এ ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বেশ পরিচিতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শনিবার (২৬ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ১২ রান করে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন এই টাইগার ব্যাটসম্যান।
সর্বোচ্চ রান সংগ্রহে তার সাথে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই চলছিল ভারতের অন্যতম ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর কোহলির রান মোট রান ৪৫৪। অন্যদিকে ৪৬১ রান করে ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ রান করে তালিকায় সবার শীর্ষে সাব্বির।
এর আগে ২০১২ সালে ১৩ ম্যাচ খেলে ৪৭২ রান করেছিলো নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল। ২০০৯ সালে লঙ্কান ওপেনার তিলকারত্নে দিলশান করেছিলেন ৪৭১ রান। ২০১২ তেই বিরাট কোহলি করেছিলেন ৪৭১ রান।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি ছিল পাতানো!

ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচটি চলাকালেই ভারতের উত্তর প্রদেশে হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছিলেণ এক ভক্ত। শেষ ওভারে যে থ্রিলার জন্ম নিয়েছিল ওই ম্যাচে, যা হার্ট দুর্বল মানুষদেরকে বেশ সমস্যাই ফেলে দিয়েছিল। শ্বাসরূদ্ধকর ওই ম্যাচে ভারত জিতবে এটা অতি স্বপ্নাচারি কেউ ভাবতে পারেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মহেন্দ্র সিং ধোনিরা ১ রানে জিতে টিকে রইলো টুর্নামেন্টে, শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে।

এমন একটি ম্যাচ, অথচ এটি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছে না অনেকেই। যেমন পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার তৌসিফ আহমেদ। তার চোখে, যেভাবে ম্যাচটি শেষ হয়েছে তাতেই সন্দেহ তুলে দেয়া যায়। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মত নয়। তিনি আইসিসিকে আহ্বান জানান, আকসুর উচিৎ বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি নিয়ে তদন্ত করা। কারণ, এ ধরনের ম্যাচেই ফিক্সিংয়ের সম্ভাবনা থাকে বেশি।

পাকিস্তানের হয়ে ৩৪ টেস্ট আর ৭০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তৌসিফ আহমেদ। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,‘শেষ ওভারে বাংলাদেশ কিভাবে ভারতকে ম্যাচ উপহার দিলো, তা ক্রিকেটের কোনো ফর্মুলাতেই বুঝতে পারছি না। আমি মনে করি, এ ম্যাচটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ শেষ বলে ম্যাচ হেরেছে। ৪ উইকেট হাতে থাকা বাংলাদেশের শেষ ৩ বলে জয়ের প্রয়োজন ছিল ২ রান। তৌসিফ বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর অনভিজ্ঞ দল নয়। তখন দলের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যানই ছিলেন ক্রিজে। আমি বুঝতে পারছি না তারা কিভাবে ম্যাচটিকে প্রথমে অন্তত টাই না করে বিগ হিটে গেলেন। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, ম্যাচে কিছু জিনিস সঠিক ছিল না।’

পাকিস্তানের সাবেক এ ক্রিকেটার এখন দেশটির ‘এ’ দলের কোচ। আছেন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কোচিং স্টাফেও। সম্প্রতি তার কোচিংয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ জিতেছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচকে ব্যঙ্গ করলেন ধারাভাষ্যকাররা!

ভারতের কাছে দুই বলে তিন রানে হারার ক্ষত এখনো ভুলতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ওভারের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত হারের পর মুষেড়ে পড়েছে বাংলাদেশ দল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেন তারই প্রতিচ্ছবি দেখলো সবাই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭০ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। কিন্তু এই ম্যাচেও ঘুরে ফিরে সেই ভারতের বিপক্ষে হারার কষ্টটা ফিরে এসেছিল। এবার সেই ম্যাচে বাংলাদেশের শেষ বলে হারকে ব্যঙ্গ করলো ধারাভাষ্যকাররা।
ভারতের বিপক্ষে তিন বলে দরকার ছিল দুই রান কিন্তু দুইজন আউট হলে শেষ বলে প্রয়োজন হয় দুই রান। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার বল ব্যাটে লাগাতে সক্ষম হননি শুভাগত হোম। মুস্তাফিজ অপরপ্রান্ত থেকে দৌড় দিলে ক্রিজে পৌছানোর আগেই ধোনি স্ট্যাম্প ভেঙে দেন।
এই মুহূর্তটাকে চার ধারাভাষ্যকার মিলে চেষ্টা করেছেন ফুটিয়ে তুলতে। এখানে হার্দিক পান্ডিয়ার জায়গায় দেখা যায় শন পোলককে, ধোনির জায়গায় দেখা যায় ড্যারেন গঙ্গাকে, শুভাগত হোমের জায়গায় দেখা যায় রাসেল আরনল্ডকে এবং মুস্তাফিজের জায়গায় দেখা যায় নিক নাইটকে।

বিশ্বকাপ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই পেয়েছি

বাছাই পর্বের কয়েকটি সুখ স্মৃতিছাড়া পুরোটাই খালি হাত টাইগারদের। মূল পর্বের সবগুলো ম্যাচ হেরে খালি হাতেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছে মাশরাফি-সাকিবরা। তবে এর মধ্যেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমনটাই মনে করেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি।

রোববার সকালে দেশে ফিরে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও বললেন সেটাই, ভারতের বিপক্ষে দল যেভাবে হেরেছে তাতে সত্যিই হতাশ। তবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই পেয়েছি, যেটা ভবিষ্যতে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের যথেষ্ট কাজে দেবে।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির মতো দুই বোলারকে হারানোটাও দলের ওপর প্রভাব ফেলেছিল বলেই জানান মাশরাফি।

টি-টোয়েন্টিতে উন্নতির ছাপ নেই বিশ্বকাপে

ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১১টি বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে বাংলাদেশের উন্নতির খুব একটা প্রমাণ মিলেনি। প্রধান কোচ হাথুরুসিংহেও মানছেন, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেনি।

প্রথম রাউন্ডের আবরণে হওয়া বাছাই পর্ব পেরিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। আসল বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে হেরে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে।

শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৭৫ রানে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহে জানান, বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে, এগিয়ে যেতে হলে আরও উন্নতি করতে হবে।

“বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উন্নতির তেমন কোনো প্রমাণ নেই। ফলাফলের কথা বললে আপনার সঙ্গে একমত হতেই হবে। তবে ২-১ বছর আগের তুলনায় আমরা অনেক উন্নতি করেছি টি-টোয়েন্টিতে।”

গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে যায় বাংলাদেশ। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয় না পেলেও অস্ট্রেলিয়া-ভারতের বিপক্ষে লড়াকু ক্রিকেট খেলেছেন মাশরাফিরা।

হাথুরুসিংহে মনে করেন, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে এক দিন ফল মিলবে। তবে সেটি খুব একটা দ্রুত নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“আগে আমাদের গড় স্কোর ছিল ১৩০/১৩৫, এখন সেটা আরও বেশি এই কঠিন উইকেটেও। আমাদের বোলিং ভালো হয়েছে, পরিকল্পনাও ছিল দারুণ। ক্যাম্প করে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনেক উন্নতি হয়েছে।”

ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে এক গ্রুপে পড়ে বাংলাদেশ। কঠিন এই গ্রুপে কোনো জয় না পাওয়ায় অবশ্য কোনো অজুহাত দেখাচ্ছেন না হাথুরুসিংহে।
“এই গ্রুপটা সহজ ছিল না। কারণ, অন্য দলগুলিও অনেক ভালো; অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে তাদের। অবশ্যই সব ম্যাচ হেরেছি বলে আমরা হতাশ।কিন্তু আমরা কঠিন গ্রুপে ভালো লড়াই করেছি।”

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও হারে বাংলাদেশ; ভারতের বিপক্ষে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে। প্রধান কোচ মনে করেন, ছোট ভুলগুলো এড়াতে পারলে সামনের দিনে এই ধরনের ম্যাচে ইতিবাচক ফলই আসবে।

“আগে টি-টোয়েন্টিতে ভালো দল ছিলাম না আমরা। টি-টোয়েন্টিতেও উন্নতির প্রমাণ আমরা রেখেছি। দুটি ম্যাচ আমরা খুব কাছে গিয়েছি, জিততেও পারতাম। আরও অনেক উন্নতি অবশ্যই করতে হবে। বিশেষ করে ছোট ছোট বিষয়গুলিতে।”

নাসির কেন খেলেনি সেটা টিম ম্যানেজমেন্ট জানে: হাথুরুসিংহে

নাসির হোসেন, ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত এক টাইগার অলরাউন্ডারের নাম। দলের রান সংকটে যেমন ব্যাট হাতে দলের হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, তেমনি পারেন বল হাতেও। সময়মত ব্রেক থ্রু এনে দিতেও পারেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের এবারের আসরে একটি ম্যাচেও নাসিরকে টাইগারদের হয়ে নামতে দেখা যায়নি। তার পরিবর্তে খেলছেন শুভাগত।

আর বিষয়টি নিয়ে দলীয় কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে একবারেই নিরুত্তাপ মনে হলো। তার মতে কন্ডিশন, উইকেট ও প্রতিপক্ষ এই তিন বিবেচনায় নাসিরের চাইতে শুভাগত দলকে আরও বেশি অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স এনে দিতে পারতো।

শনিবার (২৬ মার্চ) আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবারের আসরের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানালেন, হাথুরুসিংহে।

সংবাদ সম্মেলনে টাইগার কোচকে প্রশ্ন করা হয়, নাসির হোসনকে এবারের বিশ্বকাপের একটি ম্যাচেও কেন খেলানো হয়নি এবং তার জায়গায় শুভাগত কতটুকু যৌক্তিক? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নাসির হোসেনকে কেন নামানো হয়নি এটা টিম ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্ত। তারা মনে করেছে শুভাগত হয়ত আরও ভালো অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিতে পারবে। তবে এই মুহূর্তে কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ ও উইকেটকে মাথায় রেখে আমাদের মনে হয়েছে, শুভাগত আমাদের আরও ভালো অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিতে পারত।’

এদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বের ম্যাচে ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে টি-২০ ক্যারিয়ার সেরা বল করেছেন টাইগার কার্টার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। তাই কোচও এতটুকু দ্বিধা করলেন না শিষ্যকে প্রশংসায় ভাসাতে।

তিনি আরও বলেন, ‘সে খুবই বুদ্ধিমান ক্রিকেটার। যদিও খুব বেশি অভিজ্ঞ সে নয়। কিন্তু খুবই চতুর বোলার। এমন কিছু বৈচিত্র ওর আছে যা অন্যদের নেই। সে এসব খুব চতুরভাবে ব্যবহার করছে। বৈচিত্রগুলো খুব ভালো ভাবে মেলে ধরে সে। আজকেও দারুণ ছিল ওর পারফরম্যান্স, উইকেটও ওর জন্য আজকে আদর্শ ছিল।’

টাইগারদের ব্যাটিংকে দুষলেন কোচ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৫ রানের হার দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ। পরিতাপের বিষয় হলো, বিশ্বকাপের এবারের আসরে আগেও তিনটি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। তবে, এই হারটি টাইগারদের জন্য একটু বেশিই হতাশার এবং চোখে জ্বালা ধরানোর হয়ে থাকলো।

কেননা, কিউইদের বিপক্ষে ৭০ রানে অলআউট হয়ে টি-২০তে বাংলাদেশের সব চাইতে কম সংগ্রহের রেকর্ডটি হয়ে থাকলো কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। এর আগে বাংলাদেশের সর্ব নিম্ন স্কোর ছিল ৭৮ রান। আর প্রতিপক্ষ ছিল এই নিউজিল্যান্ডই। ঘটনাটি ছিল ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হ্যামিল্টনে। আর শেষ ম্যাচে শিষ্যদের এই হতাশাজনক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কারণ হিসেবে টাইগার কোচ হাথুরু সিংহে বললেন, আমাদের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না।

শনিবার (২৬ মার্চ) ইডেন গার্ডেন্সে’র সম্মেলন কক্ষে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শিষ্যদের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে আরও বলেন, ‘আমার মতে আমরা কন্ডিশন বুঝে এই টুর্নামেন্টে ভালোই ব্যাট করেছি। তবে আজকে আমাদের ব্যাটিংয়ের অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না। অন্য ম্যাচগুলোয় আমরা খারাপ করিনি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের শুরুতে আরেকটু রান করলে ভালো হতো। এই তো। এই ম্যাচ বাদ দিলে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে আমি খুশিই।

এদিকে বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে মুস্তাফিজ টাইগারদের হয়ে দুর্দান্ত খেললেও ইডেন গার্ডেন্স’র এই উইকেটে থামিয়ে রাখা যায় নি কেন উইলিয়ামস, কলিন মুনরো ও রস টেইলরের ব্যাট। উইলিয়ামসের ৩২ বলে ৪২ ও মুনরো’র ৩৩ বলে ৩৫ ও রস টেইলরের ২৪ বলে ২৮ রানের ইনিংসে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের সংগ্রহ পেয়েছে কিউইরা। যা কীনা এই উইকেটে একেবারেই অপ্রত্যাশিত বললেন হাথুরুসিংহে। ‘এই উইকেট আমার মতে ১৪০ রানের উইকেট নয়।

হয়ত ১২০-১৩০ রানের উইকেট। প্রথম ৪-৫ ওভার থেকেই বল নিচু হচ্ছিল। বলের শক্তভাব কেটে গিয়েছিল। বল নিচু হচ্ছিল এবং দু’রকম গতির ছিল। নিউ জিল্যান্ডের কৃতিত্ব অবশ্য কেড়ে নিচ্ছি না আমরা। ওদের বোলাররার কন্ডিশন বুঝে দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বোলিং করেছে। তবে দিনশেষে আবারও বলতে হবে আমাদের ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না।’

আর অপ্রত্যাশিত এই ১৪৫ রানই দিন শেষে বাংলাদেশের হারের কারণ হিসেবে দায়ী করলেন তিনি। উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে এদিন একমাত্র শুভাগত হোম ছাড়া ব্যক্তিগত ১৫ রানের কোঠা পার করতে পারেননি কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান!

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ ওয়ানে শ্রীলঙ্কাকে ১০ রানে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফা‌ইনাল নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের করা ১৭১ রানের পর নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান করে লঙ্কানরা। আর এ ম্যাচ হারের ফলে আসর থেকে বাদ পড়লো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস বাহিনী।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তিনি ৫৪ বলে ৩ চার ও ৫ ছয়ে ৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে নিতে ব্যর্থ হন দলনেতা।

এদিন লঙ্কার ইনিংসের প্রথম ওভারেই তিলকরত্নে দিলশানকে আউট করেন ডেভিড উইলি। পরের ওভারে দিনেশ চান্দিমালকে আউট করেন ক্রিস জর্ডান। দীলয় তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে মিলিন্দা সিরিওয়ার্ধনে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান উইলিলি। আর শেষ বলে রান আউট হন লাহিরু থিরিমান্নে।

দলীয় ৯৫ রানে লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে ৩০ রান করে আউট হন চামারা কাপুগেদেরা। পরে ইনিংসের ১৩৭ রানের সময় ২০ রান করে জর্ডানের দ্বিতীয় শিকার হন থিসারা পেরেরা।

পরে ১৫৫ ও ১৫৭ রানে আউট জর্ডান দানুস শানাকা ও রঙ্গনা হেরাথকে আউট করলে ইংল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। জর্ডান সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন। আর উইলি নিয়েছেন ২টি উইকেট।

এর আগে গ্রুপ ওয়ানের এ ম্যাচটিতে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় টসে হেরে আগে ব্যাট করা ইংল্যান্ড নির্ধারিত ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান করে । বাটলার ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তিনি ৩৭ বলে ৮ চার ও ২টি ছক্কায় তার ইনিংসটি সাজান। এটি তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি। অন্যপ্রান্তে ৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন বেন স্টোকস।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ অ্যালেক্স হেলসে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। ওপেনার হেলস ৪ বল খেলে কোন রান না করেই প্যাভিলিওনে ফেরেন।

পরে দলীয় ৬৫ রানে জেফরি ভ্যান্ডারসের বলে আউট হন জো রুট। তিনি আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ৪ চারে ২৫ রান করেন।

ম্যাচের ৮৮ রানের সময় ব্যক্তিগত ৪২ রান করে আউট হন ওপেনার জেসন রয়। তিনি ৩৯ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে হাকিয়ে ভ্যান্ডারসের বলে এলবিডব্লিউ হন। ইনিংসের ২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রান আউটের শিকার হন ইয়ন মরগান। আউট হওয়ার আগে তিনি ১৬ বলে ২২ রান করেন।

ইংল্যান্ড একাদশ:
জেসন রয়, অ্যালেক্স হেলস, জো রুট, ইয়ন মরগান, বেন স্টোকস, জস বাটলার, মঈন আলী, ক্রিস জর্ডান, ডেভিড উইলি, আদিল রশিদ, লিয়াম প্লাঙ্কেট।

শ্রীলঙ্কা একাদশ:
দিনেশ চান্দিমাল, তিলকারত্নে দিলশান, মিলিন্দা সিরিওয়ার্ধনে, লাহিরু থিরিমান্নে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, চামারা কাপুগেদেরা, থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, ধাসমান্থ চামিরা, রঙ্গনা হেরাথ, জেফরি ভ্যান্ডারসে।

মুস্তাফিজের প্রশংসায় রস টেইলর

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৫ রানের হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ করলো বাংলাদেশ। কিউদের দেওয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং দৈন্যতায় ৭০ রানে অলআউট হয় টাইগারর‍া।

ব্যাট হাতে সাকিব-তামিম-সাব্বির ব্যর্থ হলেও বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা বল করে পুরো ইডেন গার্ডেন্সে এদিন সাড়া ফেলে দেন এই বোলিং বিস্ময়।

প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের সিনিয়র ব্যাটসম্যান রস টেইলরও মুস্তাফিজের প্রশংসায় তাই পঞ্চমুখ!

শনিবার (২৬ মার্চ) ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাফিজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে টেইলর বলেন, মুস্তাফিজ একই সঙ্গে একজন ভালো এবং স্মার্ট বোলার। ও জানে প্রতিপক্ষকে কোন সময়ে কোন বলটি করতে হবে। ইডেন গার্ডেন্সের উইকেটে আমাদের বিপক্ষে ও খুবই ভালো বোলিং করেছে। ওর বাউন্সারগুলো খেলা খুবই কঠিন ছিল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের জয়ের দিনে সতীর্থ বোলার ও ব্যাটসম্যানদেরও প্রশংসায় ভাসান টেইলর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটিং ও বোলিং ডিপার্টমেন্ট খুবই ভালো ছিল। তাই এই ম্যাচে আমরা সহজ জয় পেয়েছি।

বুদ্ধিমান, চতুর ও অনন্য মুস্তাফিজ

ছোট্ট ক্যারিয়ারেই মুস্তাফিজুর রহমানের বর্ণনায় বার বার এসেছে মুগ্ধতা, বিস্ময়, অনন্য, এমন আরও কিছু শব্দমালা। কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের মতে, অনভিজ্ঞ হলেও দারুণ চতুর বোলার মুস্তাফিজ।

শনিবার ইডেন গার্ডেনসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বিধ্বস্ত হওয়ার ম্যাচেও আলো ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজ। এর মধ্যেই অনেক রেকর্ড গড়ে ফেলা তরুণ পেসার নাম লিখিয়েছেন আরও রেকর্ডে। বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছেন সব বিশ্বকাপ মিলিয়েই প্রথম ৫ উইকেট। গড়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড।

উইকেট সংখ্যার চেয়েও আনন্দদায়ী ছিল মুস্তাফিজ যেভাবে উইকেটগুলো নিয়েছেন। কিউই ব্যাটসম্যানদের ধন্দে ফেলে দিয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার। ৫টি উইকেটই নিয়েছেন স্লোয়ার ও কাটারে, ৪টিই বোল্ড! কেন উইলিয়ামসনের মতো সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হার মেনেছেন মুস্তাফিজের চাতুর্যের কাছে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ হাথুরুসিংহেও খুলে দিলেন প্রশংসার ঝাঁপি।

“সে খুবই বুদ্ধিমান ক্রিকেটার। যদিও খুব বেশি অভিজ্ঞ নয়, কিন্তু খুবই চতুর বোলার। এমন কিছু বৈচিত্র ওর আছে, যা অন্যদের নেই। সে এসব খুব চতুরভাবে ব্যবহার করে। বৈচিত্রগুলো খুব ভালো ভাবে মেলে ধরে সে। আজকেও দারুণ ছিল ওর পারফরম্যান্স।”

শুধু ৫ উইকেট পাওয়ার ম্যাচই নয়, হাথুরুসিংহের চোখে লেগে আছে ভারতের বিপক্ষে মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সও।

“গত ম্যাচে যেভাবে সে ধোনিকে বোলিং করেছে…গত ৬-৭ মাসে সে ধোনির বিপক্ষে অনেক খেলেছে। তারপরও যেভাবে ধোনিকে শান্ত রাখতে পেরেছিল, ইয়র্কার-কুইকার-কাটার যেভাবে মিলিয়ে বোলিং দিয়েছে, এটাই বলে দিচ্ছে ওর ক্রিকেট বোধ ও বুদ্ধি কতটা তীক্ষ্ণ!”

রেকর্ডে উদ্ভাসিত মুস্তাফিজ

ফ্লাডলাইটগুলোর সব বাতি তখনও জ্বলে ওঠেনি, তার পরও আলোয় ঝলমল করল ইডেন গার্ডেন্স। বোলিংয়ের বৈচিত্রের জাদুতে যে আলো ছড়ালেন মুস্তাফিজুর রহমান।

মুগ্ধতা ছড়ানোর পালায় এবার বিশ্বকাপ মাতালেন বাংলাদেশের তরুণ পেস সেনসেশন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে উপহার দিলেন প্রথম ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসেই এটি সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট!

শনিবার ইডেনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ, এখনও পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে যা সেরা বোলিং। আগের দিনই পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জেমস ফকনার।

চোটের জন্য এশিয়া কাপের ফাইনালসহ শেষ দুই ম্যাচে খেলা হয়নি মুস্তাফিজের। সাইড স্ট্রেইনের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেও খেলা হয়নি তার। সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষেও দর্শক হয়ে ছিলেন তিনি।

মুস্তাফিজের জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। তবে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা-চন্দিকা হাথুরুসিংহেরা।

ছন্দে ফিরতে মোটেও সময় নেননি মুস্তাফিজ। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে দুটি করে উইকেট নেন এই তরুণ। তৃতীয় ম্যাচে এসে দেখা গেছে তার সেরাটা। ধ্রুপদি লেগ স্পিনারের মতো এ দিন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের নাচিয়েছেন তিনি।

চতুর্থ ওভারে প্রথম মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি। শুরু থেকেই অস্বস্তিতে রাখা হেনরি নিকোলসকে শেষ বলে বোল্ড করে দলকে ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন তিনি।

নবম ওভারটি করতে যাচ্ছিলেন সাব্বির রহমান। শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টে মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি। সেই ওভারেরও শেষ বলে কেন উইলিয়ামসনের মূল্যবান উইকেট এনে দেন মুস্তাফিজ।

টানা দুই বলে নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ককে পরাস্ত করেন মুস্তাফিজ। কোনোমতে বেঁচে যাওয়া উইলিয়ামসন শেষ বলে বাঁচেননি। স্লোয়ার অফ কাটারে উড়ে যায় তার অফ স্টাম্প।

নিউ জিল্যান্ডের শেষের ঝড় থামাতে ১৮ ও ২০তম ওভার দুটি মুস্তাফিজকে দিয়ে করান মাশরাফি। এই দুই ওভারে বোলিং আক্রমণের সেরা অস্ত্র তাকে এনে দেন ৩ উইকেট।

ঝড় তোলার আগে গ্র্যান্ট এলিয়টকে নিজের তৃতীয় ওভারে থামান মুস্তাফিজ। শেষ ওভারে পরপর দুই বলে মিচেল স্যান্টনার ও নাথান ম্যাককালামকে ফেরান তিনি। ৪ ওভারের ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট শিকারি তিনিই; এই কীর্তি গড়লেন ২০ বছর ২০২ দিন বয়স।

সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুস্তাফিজের চেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট আছে আর কেবল একজনেরই। গত মাসেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন স্কটল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার মার্ক ওয়াট। সেদিন বয়স ছিল তার ১৯ বছর ১৯১ দিন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগের সেরা বোলিং ছিল সাকিবের। চলতি আসরেই প্রথম রাউন্ডে ধর্মশালায় ওমানের বিপক্ষে ১৫ রানে চার উইকেট নিয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব।

বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট নিলেন মুস্তাফিজ। পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং রেকর্ড ছিল মাশরাফির অধিকারে। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

হাতছানি ছিল আরও একটি কীর্তির। শেষ ওভারে টানা দুই বলে পেয়েছিলেন উইকেট। শেষ বলে উইকেট পেলে হতে পারত হ্যাটট্রিক। তবে স্লোয়ারটি আগেই বুঝে বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দিলেন মিচেল ম্যাককক্লেনাগন।

তাতে অবশ্য কমছে না মুস্তাফিজের ঔজ্জ্বল্য। বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেই তিনি হয়ত এখন উজ্জ্বলতম নবীন তার

সকালেই দেশে ফিরছে টাইগাররা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের চারটি ম্যাচই শেষ করেছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই পায়নি জয়ের দেখা। ভারতের বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ১ রানের হারেই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। শেষ ম্যাচেও হারতে হয়েছে ৭৫ রানের ব্যবধানে।

বিশ্বকাপ শেষে এবার ঘরে ফেরার পালা টাইগার ক্রিকেটারদের। রোববার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টায় জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে কলকাতা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে মাশরাফিবাহিনী।

মিরপুরে এশিয়া কাপের ফাইনাল (৬ মার্চ) শেষ করে ৭ মার্চ ভারতে যায় বাংলাদেশ দল। বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে সুপার টেনে ওঠে লাল-সবুজের দল। ধর্মশালা, ব্যাঙ্গালোর ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো। ভারতের এ তিন শহরে ১৯ দিন কাটিয়ে এবার দেশে ফিরছে টাইগাররা।

বিব্রতকর হারে শেষ বিশ্বকাপ অভিযান

হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নিভে গিয়েছিল ইডেনের একটি ফ্লাড লাইট টাওয়ারের সব বাতি। তবে বাংলাদেশের ইনিংস অন্ধকারে নিমজ্জিত এর আগেই। আত্মহত্যার মিছিলে সামিল একের পর এক ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল নিজেদের সর্বনিম্ন রানে; বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো বাজে হারের হতাশায়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে কলকাতায় নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৭৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান তুলেছিল নিউ জিল্যান্ড। ১৫.৪ ওভারে ৭০ রানেই গুটিয়ে গেল মাশরাফির দল। রেকর্ড গড়া ৫ উইকেটের পরও মুস্তাফিজুর রহমানকে থাকতে হলো বিজিত দলে।

টি-টোয়েন্টিতে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। আগের সবচেয়ে কম রানও ছিল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে।

বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচে হারানোর ছিল না কিছু। কিন্তু দল হারিয়ে ফেলল যেন উদ্যমটাই। শরীরী ভাষায় দেখা গেল না দারুণ কিছুর তাড়না।

মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটে বাংলাদেশের বোলিং ছিল মিশ্র। মুস্তাফিজের জন্য উইকেট ছিল আদর্শ। একটু গ্রিপ করেছে বল, ব্যাটে এসেছে থেমে। তরুণ বাঁহাতি পেসার মেলে ধরেছিলেন নিজের জাদুর পসরা। স্লোয়ার, কাটার আর গতি-বৈচিত্রে খাবি খাওয়ালেন কিউই ব্যাটসম্যানদের।

খারাপ করেননি মাশরাফি-আল আমিনও। কিন্তু স্পিনাররা ছিলেন বিবর্ণ। ফিল্ডিংও হলো ভালো-মন্দ মিশিয়ে। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতা পরে ছাপিয়ে গেছে সব কিছুকেই।

শুরুতেই ধাক্কা হয়ে এসেছিল তামিম ইকবালের রান আউট। দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ মিঠুন চেষ্টা করছিলেন ঘুরে দাঁড়াতে। মিচেল ম্যাকক্লেনাগানকে তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে মিঠুনের বিদায়ে ভাঙল ২৫ রানের জুটি। তখন কে ভাবতে পেরেছিল, এটিই হয়ে থাকবে ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি।

এরপর আর দু অঙ্কের জুটিই হয়েছে একটি। মিঠুনের দেখানো পথে একের পর এক ব্যাটসম্যান ফিরেছেন উইকেট বিলিয়ে। ছিল না টিকে থাকার তাড়না, লড়াই করার প্রয়াস।

উইকেট বুঝে ভালো বোলিং করেছেন স্লো মিডিয়াম পেসার গ্রান্ট এলিয়ট ও লেগ স্পিনার ইশ সোধি। তবে বোলিং ফিগার যেমন বোঝাচ্ছে, মোটেও তেমন ভয়ঙ্কর ছিলেন না দুজন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই উদার হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন নিজেদের প্রাণ। দুই অঙ্ক ছুঁতে পারলেন মাত্র দুজন।

অথচ ব্যাটসম্যানরা উজ্জীবিত হতে পারতেন মুস্তাফিজের পারফরম্যান্সে। টি-টোয়েন্টিতে আগে কখনোই ম্যাচে ২ উইকেটের বেশি পাননি। এবার নিলেন ২২ রানে ৫ উইকেট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। যে কোনো বিশ্বকাপেই বাংলাদেশের প্রথম ৫ উইকেট।

মার্টিন গাপটিলকে বিশ্রাম নিয়ে অভিষিক্ত হেনরি নিকোলসকে ওপেনিংয়ে নামায় নিউ জিল্যান্ড। বাঁহাতি প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান অবশ্য ডানা মেলতে পারেননি।

তবে আরেক পাশে কেন উইলিয়ামসন ছিলেন নিজের সৌন্দর্যময় সেরায়। দারুণ টাইমিং, নিখুঁত প্লেসমেন্টে খেলেছেন চোখ জুড়ানো কিছু শট। মাশরাফির করা প্রথম ওভারে দৃষ্টিনন্দন দুটি ড্রাইভে চার যেমন। সাকিবকে ইনসাইড আউটে চার, কিংবা ডাউন দ্য উইকেটে যে ছক্কা মারলেন, বল যেন টেরও পায়নি ব্যাটের আঘাত। আলতো করে সেফ্র ভাসিয়ে দিয়েছেন হাওয়ায়!

দুই ওপেনারকেই ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজ। দারুণ এক স্লোয়ার-কাটারে বিভ্রান্ত হয়েছেন নিকোলস, বল এতটা ভেতরে ঢুকেছে যেন কোনো বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনারের দারুণ টার্নিং বল!

দারুণ খেলতে থাকা উইলিয়ামসনও পেরে ওঠেননি মুস্তাফিজের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে। শাফল করে এলোমেলো করে দিতে চেয়েছিলেন বোলারকে। কিন্তু দারুণ এক স্লোয়ারে বোকা বানিয়েছেন কিউই অধিনায়ককে। নাড়িয়ে দিয়েছেন স্টাম্প (৩২ বলে ৪২)।

পরের বলেই আউট হতে পারতেন কলিন মানরো। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে কেন যে সাড়া দিলেন না দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার ইয়োহান ক্লোয়েটে, সেটি একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন। টিভি রিপ্লে দেখাল বল লাগল মিডল স্টাম্পের মাঝে! রান ছিল তখন তার ১২ বলে ৮।

এমনিতে দারুণ আক্রমণাত্নক মানরো অবশ্য এদিন মন্থর উইকেটে ধুঁকছিলেন শুরু থেকেই। বেশ কিছুক্ষণ উইকেট কাটিয়ে ঝড় তোলার চেষ্টা করলেন মাহমুদউল্লাহকে এক ওভারে চার ও ছক্কা মেরে। ছক্কা মারলেন আল আমিনকেও। তবে ওই ওভারেই নিচু হয়ে যাওয়া বলে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড মানরো (৩৩ বলে ৩৫)।

বিপজ্জনক কোরি অ্যান্ডারসনকে শূন্য রানে ফেরান মাশরাফি। বাংলাদেশ অধিনায়ক নিতে পারতেন টেইলরের উইকেটও। কিন্তু সহজ ক্যাচ ছাড়েন আল আমিন। টেইলর জীবন পাওয়া উদযাপন করলেন সাকিবকে ছক্কা মেরে। সেই আল আমিনই পরে ফিরিয়েছেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যানকে (২৮)।

শুভাগতর দারুণ ক্যাচে মুস্তাফিজ আগেই ফিরিয়েছেন এলিয়টকে (৯)। শেষ ওভারে রনকি-স্যান্টনারদের ঝড় তুলতে দেননি মুস্তাফিজ। দারুণ দুটি কাটারে টানা দুই বলে ফেরান স্যান্টনার ও নাথান ম্যাককালামকে। ৫ উইকেটের ৪টিই বোল্ড!

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যে মানসিকভাবে ‘বোল্ড’ হয়ে ছিলেন আগে থেকেই! ২২ গজ যখন হয় আত্মহত্যার মঞ্চ, এমন পরাজয়ই তখন নিয়তি!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৪৫/৮ (নিকোলস ৭, উইলিয়ামসন ৪২, মানরো ৩৫, টেইলর ২৮, অ্যান্ডারসন ০, এলিয়ট ৯, রনকি ৯*, স্যান্টনার ৩, ম্যাককালাম ০, ম্যাকক্লেনাগান ৬*; মুস্তাফিজ ৫/২২, আল আমিন ২/২৭, মাশরাফি ১/২১)

বাংলাদেশ: ১৫.৪ ওভারে ৭০ (তামিম ৩, মিঠুন ১১, সাব্বির ১২, সাকিব ২, সৌম্য ৬, মাহমুদউল্লাহ ৫, মুশফিক ০, শুভাগত ১৬*, মাশরাফি ৩, মুস্তাফিজ ৬, আল আমিন ০; এলিয়ট ৩/১২, সোধি ৩/২১, ম্যাকক্লেনাগান ১/৩, ম্যাককালাম ১/৬, স্যান্টনার ১/১৬)

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৭৫ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: কেন উইলিয়ামসন

ইডেন গার্ডেনে মুস্তাফিজ বন্দনা

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে রীতিমতো সোরগোল ফেলে দিয়েছেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

তার ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি বোলিং দেখে শুধু বাংলাদেশরই নয়, মুগ্ধ ভারতের সমর্থকেরাও। ‘দেখেচো ও দারুণ বল করেচে? এত ভালো বোলিং! ওমা! সত্যি অবাক হয়ে গেচি’। বলছিলেন সান্ত্বনা নামে এক কুমারী।

অঞ্জন নামে কলকাতার আরেক সমর্থক বললেন, সত্যিই তোমরা দারুণ একজন বোলার পেয়েচো। কি কাটার মারচে! ওরা (নিউজিল্যান্ডে) তো বল চোখেই দেখতে প‍াচ্ছে না।

এভাবেই কলকাতার দর্শকদের মুখে মুখে ফিরছে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম।

শনিবার (২৬ মার্চ) কলকাতার ইডেন গার্ডেনে কিউইদের বিপক্ষে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বল করতে আসেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। প্রথম ৫টি বলে কোন সাফল্য না এলেও ওভারের শেষ বলটিতে দারুণ এক স্লোয়ার দিয়ে ব্যক্তিগত ৭ রানে কিউই ওপেনার নিকোলাসের অফ স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন তিনি। উল্লাসে মেতে ওঠেন ইডেন গার্ডেনে উপস্থিত সমর্থকরা।

এরপর কিউই শিবিরে নিজের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় আঘাত হানেন মুস্তাফিজ। এই ওভারেও শেষ বলে তার স্লোয়ারে সম্পূর্ণ পরাস্ত হন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান ব্যক্তিগত ৪২ রানে।

মুস্তাফিজ তৃতীয় সাফল্যের দেখা পান, ১৮তম ওভারে এসে। ওই ওভারে তার পঞ্চম ডেলিভারিটি ছিল স্লোয়ার অফ কাটার যা গ্র্যান্ট এলিয়ট মিড অন দিয়ে উঠিয়ে মারলে দৌঁড়ে এসে তা তালুবন্দি করেন শুভাগত হোম।

তিন ওভারে তিন উইকেটের পর মুস্তাফিজ শেষ দুটি উইকেটের দেখা পান ২০তম ওভারে এসে। ওভারের চতুর্থ বলে মিচেল স্যান্টনারকে বোল্ড আউটের পরের বলেই নাথান ম্যাককালামের স্ট্যাম্পে চিড় ধরিয়ে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট।

এ সময় মুস্তাফিজ! মু্স্তাফিজ! চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্যালারি।

এর আগে ছোট্ট ক্যারিয়ারে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দুই বার ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একবার ৫ উইকেটের দেখা পান মুস্তাফিজ।

নিউ জিল্যান্ড ম্যাচে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের প্রতিচ্ছবি

কখনও দুর্দান্ত, কখনও বাজে- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একবাক্যে এটাই বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের সারাংশ। প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে মনে করছেন, নিউ জিল্যান্ড ম্যাচে ঠিক এই চিত্রই ফুটে উঠেছে।

প্রথম রাউন্ডের আবরণে হওয়া বাছাই পর্ব পেরিয়ে সুপার টেনে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। ‘আসল’ বিশ্বকাপে দারুণ কিছু মুহূর্ত থাকলেও কোনো ম্যাচে ফল নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজারা।

পাকিস্তানের কাছে বাজে হার দিয়ে সুপার টেন শুরু করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে মাশরাফিরা হারে লড়াই করে। ভারতের কাছে অবিশ্বাস্য হারের পর নিউ জিল্যান্ডের কাছে বিব্রতকর পরাজয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হয় হাথুরুসিংহের শিষ্যদের।

টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্স সম্পর্কে হাথুরুসিংহে বলেন, “আজকের ম্যাচই আমাদের গোটা বিশ্বকাপ অভিযানের প্রতীকি বলতে পারেন। শুরুতে মাঠে আমরা নিশ্চল ছিলাম, ফিল্ডিংয়ে ছিল না প্রাণ। তবে দারুণ কিছু মুহূর্তও আবার এসেছে, বোলাররা ভালো করেছে। এটাই আমাদের গোটা বিশ্বকাপ অভিযানকে তুলে ধরছে।”

জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৪৬

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তো কী হয়েছে, নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের তো প্রদর্শনী করাই যায়। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডেকেও তো মুস্তাফিজের স্লোয়ার-কাটারের স্বাদ দেয়া প্রয়োজন। সেই স্বাদটা দিয়েই মূলতঃ শুরু করলেন মুস্তাফিজ। স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিলেন হেনরি নিকোলস আর কেন উইলিয়ামসনের। মোট চার ব্যাটসম্যানের স্ট্যাম্প উড়িয়েছেন তিনি। একজনকে বাধ্য করেছেন ক্যাচ দিতে। টি-টোয়েন্টিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখালেন তিনি।

মুস্তাফিজের নৈপুন্যেই নিউজিল্যান্ডের মত শক্তিশালি দলকে মাত্র ১৪৫ রানের মধ্যে বেধে রাখতে পারলো বাংলাদেশ। কিউইরা উইকেট হারিয়েছে ৮টি। মাত্র ২২ রান দিয়ে একাই ৫ উইকেট নিলেন মুস্তাফিজ। আল আমিন ২টি এবং মাশরাফি নিলেন ১টি উইকেট।

টস জিতে ইডেনের ফ্ল্যাট উইকেটে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়াতে মার্টিন গাপটিলকে বিশ্রাম দিয়ে হেনরি নিকোলসকে সুযোগ দেয় কিউইরা। কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নামেন হেনরি।

প্রথম তিনটি ওভার ভালোই বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবেলা করছিল নিউজিল্যান্ড। ৩ ওভারে তুলে ফেলেছে তারা ২৩ রান। চতুর্থ ওভারে প্রথমবারেরমত মুস্তাফিজকে আক্রমণে নিয়ে আসেন মাশরাফি। প্রথম ৫ বল থেকে মাত্র ২রান নিতে পেরেছেন কিউইরা।

শেষ বলে এসে দুর্দান্ত এক স্লোয়ার কার্টার। পুরোপুরি পরাস্ত হেনরি। ফ্রন্ট ফুটে এসে কভার ড্রাইভ করার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু বল ফাঁকা পেয়ে গেলো ব্যাট এবং প্যাডের মাঝে। সোজা গিয়ে উপড়ে দিল হেনরির অফ স্ট্যাম্প। অবাক হয়ে তিনি শুধু দেখলেন স্ট্যাম্পের উড়ে যাওয়াটা। ২৫ রানে পড়লো প্রথম উইকেট।

উইকেট পাওয়ার পর মুস্তাফিজকে সরিয়ে নেন অধিনায়ক মাশরাফি। চার ওভার বিরতি দিয়ে আবারও তাকে আনা হয় আক্রমণে। নবম ওভারে বল করতে এসে মুস্তাফিজ যেন আরও অপ্রতিরোধ্য। তবুও মাঝে একটি বাউন্ডারি মেরেছিলেন উইলিয়ামসন। কিন্তু ওভারের শেষ বলেই উইলিয়ামসনের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিলেন মুস্তাফিজ।

বলটা খেলার জন্য আগেই পজিশন নিয়ে রেখেছিলেন উইলিয়ামসন। অফ স্ট্রাম্পেরও সামনে এগিয়ে এলেন। লক্ষ্য, স্কয়ার ড্রাইভ করবেন। কিন্তু এর আগে তো আর মুস্তাফিজকে তারা খেলেনি। সুতরাং, বুঝে ওঠার আগেই উইলিয়ামসন দেখলেন মিডল স্ট্যাম্প নেই, উড়ে গেছে। ৩২ বলে ৪২ রান করে ফিরে গেলেন কিউই অধিনায়ক। ৫৭ রানে পড়লো দ্বিতীয় উইকেট।

উইলিয়ামসনের স্টাম্প উড়িয়ে দিলেন মুস্তাফিজ

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১১ ওভারে ৬৫/২

নিজের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসারের স্লোয়ার কাটার খেলতেই পারেননি হেনরি নিকোলস। চতুর্থ ওভারের শেষ বলটি প্যাড ও ব্যাটের মধ্য দিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেয়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগে ফিল্ডিং করছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিং নেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। ভারতের বিপক্ষে হৃদয় ভাঙা হারের ম্যাচের একাদশ নিয়েই খেলছে বাংলাদেশ।

নিউ জিল্যান্ড দলে পরিবর্তন আছে দুটি। অ্যাডাম মিল্ন ও মার্টিন গাপটিলের বদলে এসেছেন হেনরি নিকোলস ও নাথান ম্যাককালাম।

স্বাধীনতা দিবসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে দেশের মানুষকে কিছু একটা দেওয়ার প্রত্যয় জানালেন অধিনায়ক মাশরাফি।

গেইলকে টপকে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক তামিম

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের নাম ক্রিস গেইল। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং করে দর্শকদের বিনোদনের অন্যতম উৎস ক্যারিবীয় এই তারকা। তবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাকা সর্বোচ্চ ছক্কা মারার তালিকার প্রথমে নাম নেই এই দানবের। সবাইকে টপকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক বাংলাদেশের তামিম ইকবাল। শুধু ছক্কাই নয়, সর্বোচ্চ চার মারার তালিকাতেও তামিম রয়েছেন সবার উপরে। অথচ আজকেই কিনা তামিম টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছেন বাংলাদেশের হয়ে!

কলকাতায় কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হচ্ছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি  বিশ্বকাপ মিশন। সুপার টেনে ভালো খেললেও একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪টি ছয় মেরে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক তামিম। ১১টি ছক্কা মেরে মোহাম্মদ শেহজাদ এবং ক্রিস গেইল রয়েছেন দুই নাম্বারে। ৭টি ছক্কা মেরে ডি ভিলিয়ার্স রয়েছেন তালিকার সাত নাম্বারে।

সর্বোচ্চ চার মারার তালিকাতেও সবার উপরে রয়েছেন তামিম। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২৪টি চার মেরেছেন এই ড্যাশিং ওপেনার। ২১টি চার মেরে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদ রয়েছেন দুই নাম্বারে। তাছাড়া ১৬টি চার মেরে বাংলাদেশের সাব্বির রহমান তালিকার পাঁচ নাম্বারে রয়েছেন।

কলকাতায় টাইগারদের জুমআর নামাজ আদায়

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন। আর শেষ ম্যাচ হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। তাই মাশরাফিরা এখন কলকাতায়। আর সেখানে চলছে কঠোর অনুশীলন। তবে এই অনুশীলনের ফাঁকে টাইগাররা সবাই মিলে জুমআরর নামাজ আদায় করে নেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল।
উল্লেখ্য, শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

জাহানারাদের খালি হাতে ফেরা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের চার ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে খালি হাতেই ফিরলেন জাহানারা-সালমা-রুমানারা। শুক্রবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে টাইগ্রেসরা।
বিশ্বকাপে এবার জাহানারা আলমের দল বেশ কঠিন গ্রুপে পড়ে। প্রথম তিন ম্যাচে স্বাগতিক ভারত, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে লড়তে হয় তাদের। শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েও ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারতে হয় নারী দলকে।
বিশ্বকাপের চার ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান নিগার সুলতানা জ্যোতি। বল হাতে লেগস্পিনার রুমানা আহমেদ ৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন।

টাইগারদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা

স্পোর্টস রিপোর্টার : ভারতের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য হারের মানসিক ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার বিশ্বাস, সব সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে দল। গত বুধবার রাতের হারের পর কয়েকদিন হতে চললো। বেঙ্গালুরু ছেড়ে কলকাতা চলে এসেছে দল পর দিনই। কিন্তু ছেড়ে আসতে পারেনি সেই তিন বলের বিভীষিকা। দলকে এখনও তাড়া করছে দু:সহ স্মৃতি।
নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগের দিন ইডেন গার্ডেনসে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফিও স্বীকার করে নিলেন সেই বাস্তবতা, ‘সবাই এক রকম শোকের মধ্যে আছে। সবাই খুবই আপসেট। কেউ কাউকে দোষ দিচ্ছে না, তবে মেনেও নিতে পারছে না কেউ। এভাবে হারার পর মানসিকভাবে ফিরে আসাটা কঠিন।’
তবে বাস্তবতার কাছে এভাবে বলি না হয়ে লড়াই করার প্রত্যয়ও শোনা গেল অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ওখানে পড়ে থাকলে চলবে না। ওটা নিয়ে চিন্তা করে আসলে কোনো লাভ হবে না। সেদিন ম্যাচ শেষেই বলেছিলাম যে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখানেই থেমে থাকবে না। দলের প্রতি আমার পরিষ্কার বার্তা, আগের হার নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। ওটা আর ফিরে আসবে না। সামনের ম্যাচে মন দিতে হবে।’
প্রতিটি হারই একেকটি শিা। খুব কাছ গিয়েও নিজেদের ভুলে হার আরও বড় শিা। ভুলটা স্বীকার করেই মাশরাফি তাগিদ জানালেন শিা নেয়ার।
‘আমার বিশ্বাস, এই অবস্থা থেকে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে দল। আমরা যে ভুল করেছি, সেটা অস্বীকার করার কারণ নেই। কিন্তু ভুল থেকে শিা নিয়ে সেটা কতটা শোধরাতে পারছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিা নিতে পারলে সামনে এমন পরিস্থিতি আবার এলে আমরা ম্যাচ বের করে নিয়ে যেতে পারব।’
বিশ্বকাপের টিকে থাকার লড়াইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ১ রানে হেরে হৃদয় ভাঙে বাংলাদেশের। শেষ তিন বলে দুটি রান তুলতে গিয়ে উল্টো তিন বলে তিন উইকেট হারায় টাইগাররা। সে ক্ষত এখনও পোড়াচ্ছে মাশরাফি-সাকিবদের। গতকাল শুক্রবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলন শেষে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা সবাই হতাশ। অবশ্যই বাংলাদেশের দর্শকরা আমাদের পাশে থাকবে। এখনো আছে। আমরা সবাই বুঝতে পেরেছি, বাসার সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রত্যেকটা মানুষই ভেঙ্গে পড়েছে। চেষ্টা করবো সামনের ম্যাচটায় আমাদের সেরা খেলাটা খেলার। যদি সুযোগ থাকে ম্যাচটা জেতার। আমি আশা করি সামনে এমন আরও ভালো কিছু থাকবে।’
আগের ম্যাচে হারের কোন ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না মাশরাফি। পুরো ম্যাচে ভালো খেলে শেষ তিন বলে সব গুলিয়ে ফেলে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। তবে তা নিয়ে না ভেবে সামনের দিকে তাকাতে চান তিনি।
শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ৩টায় নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করবে মাশরাফিরা। নিজেদের শেষ ম্যাচে একটি জয় নিয়েই দেশে ফিরতে চায় টাইগাররা।

তাসকিনের প্রতি অবিচার করেছে আইসিসি: পাপন

তাসকিন আহমেদ ইস্যুতে আলোচনা থেমে নেই। শুক্রবার সকালে ভারত থেকে দেশে পৌঁছেছেন তাসকিন। তবুও কলকাতায় তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা। তাসকিনকে নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে। এর আগে কোনও ক্রিকেটারকে নিয়ে এতো আলোচনা হয়নি। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত যোগ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও।
শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় এক হোটেলে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবিএই কর্তা। তার মতে, আইসিসি তাসকিনের প্রতি অবিচার করেছে। শুধু তাসকিনের প্রতি অবিচারের কথাই বলেননি পাপন, বাংলাদেশ দলকে পরবর্তীতে বৈরি আবহাওয়াতে খেলতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা তার! এখানে আবহাওয়া বলতে আইসিসির রোষানলকে বুঝিয়েছেন তিনি।
সানি ও তাসকিনের বিরুদ্ধে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ উঠায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের পরীক্ষা দিতে হয়েছিলো। পরীক্ষার পর তাদের অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। সানির ব্যাপারে তেমন কোনও আপত্তি না থাকলেও তাসকিনের ব্যাপারটা মানতে পারছেন না কেউই। পরবর্তীতে আইনজীবির মাধ্যমে আপিলও করে বিসিবি। বিসিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আইসিসির সঙ্গে এ নিয়ে তর্কেও জড়িত হন। তাতেও কাজ হয়নি। তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে আইসিসি। তাতে বেজায় চটেছেন বিসিবি সভাপতিও। শেষপর্যন্ত না পেরে বলেই দিলেন, ‘তাসকিনের প্রতি অবিচার করেছে আইসিসি।’
তাসকিন পরীক্ষা দিয়ে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন বলে আত্মবিশ্বাসী পাপন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস তাসকিন আবার পরীক্ষা দিলেই বৈধতা পাবে। কেননা তার কোনও সমস্যা আমরা দেখিনা। আমার পূর্ণ বিশ্বাস ও দ্রুতই ফিরে আসবে।’

সবার ওপরে সাকিব–তামিম

সুপার টেনে বাংলাদেশের অর্জনের খাতাটা এখনো শূন্য। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে হারে শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ইডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগামীকাল শেষ ম্যাচটি তাই মাশরাফিদের কাছে শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। কিউইদের বিপক্ষে দারুণ কিছু না করতে পারলে সুপার টেনে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্মৃতিটুকুই বাংলাদেশের কাছে বড় সম্বল হয়ে থাকবে।
সুপার টেনে দলীয় অর্জন বিস্মরণযোগ্য হলেও ব্যক্তিগত সাফল্যে উজ্জ্বল বাংলাদেশ। কাল পর্যন্ত টুর্নামেন্টে শীর্ষ ব্যাটসম্যান-বোলার দুজনই বাংলাদেশের। সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের তিনজনই বাংলাদেশের। ৫ ম্যাচে ২৯২ রান করে সবার ওপরে তামিম ইকবাল। দুইয়ে থাকা আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদের রান ৬ ম্যাচে ১৯৮। ৩ ম্যাচে ১৪৩ রান করে তিনে ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুট। ৬ ম্যাচে ১৩৫ রান করে সাব্বির রহমান আছেন চারে। সমান ম্যাচে ১২৭ রান করে সাকিব আল হাসান পাঁচে।
রান গড়েও সবার ওপরে তামিম। বাংলাদেশ দলের এই বাঁহাতি ওপেনারের গড়টা বিস্ময়কর—৯৭.৩৩! দুইয়ে থাকা লঙ্কান ওপেনার তিলকরত্নে দিলশানের গড় ৯৫.০০। ৬৯.০০ গড়ে তিনে রয়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ।
ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তামিম এখনো শীর্ষে। ওমানের বিপক্ষে করা তাঁর অপরাজিত ১০৩ রান ছাড়িয়ে যেতে পারেননি কেউ। ক্রিস গেইল অবশ্য তামিমকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, এখন পর্যন্ত পারেননি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০ রান করে ক্যারিবীয় ওপেনার তাই দুইয়ে। টুর্নামেন্টে এই দুজনই শুধু ছুঁতে পেরেছেন তিন অঙ্ক।
বোলিংয়ে ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে শীর্ষে সাকিব আল হাসান। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেও বোলিং গড়ে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে রয়েছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেও ‘নাম্বার ওয়ান’ সাকিব।
বলতে পারেন, তামিম-সাকিবের এগিয়ে থাকার পেছনের মূল কারণ, প্রথম পর্বে তিনটি ম্যাচ বেশি খেলার সুযোগ। কিন্তু আফগানিস্তানও তো প্রথম পর্ব খেলেছে। আফগানদের কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেননি তামিম-সাকিবকে। তা ছাড়া ম্যাচসংখ্যা যা-ই হোক, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেই দুজনের ব্যাটিং-বোলিং গড়টা এমন উজ্জ্বল।
ওপরের পরিসংখ্যান অবশ্য তামিম-সাকিবের জন্য শুধুই আক্ষেপ-জাগানিয়া। দল সাফল্য না পেলে ব্যক্তিগত অর্জন সব সময়ই অর্থহীন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে দারুণ কিছু করতে পারলে আক্ষেপ তবেই কিছুটা কমবে।

ক্লান্ত তাসকিনের ফেরা

প্রায় এক মাস ধরে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। রিকশা-গাড়ি তো দূরে থাক, এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই কঠিন। কবে এই খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হবে কে জানে! আবদুর রশিদ কিছুটা হেঁটে রাস্তার মোড়টায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত শ্রমিকেরা এই ফাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনের পোলা আইব কখন?’
—এই তো কিছুক্ষণের মধ্যেই।
‘হের আবার মাঠে নামতে কত বছর লাগব?’
আবারও মা-বাবার পাশে তাসকিন, এভাবে ফিরতে চাননি অবশ্য। ফা​ইল ছবিআবদুর রশিদকে খানিকটা বিব্রত দেখায়। এমন প্রশ্নের উত্তর কী হতে পারে? তাসকিনের ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তা যেন এখন বাংলাদেশের সবার। এই ঘামে-ভেজা মেহনতি মানুষদেরও। এর মধ্যেই মন্দের ভালো খুঁজে পেলেন একজন, ‘ভালো অইছে, এই রাস্তা দিয়াই তো হাঁইটা যাইব। সব সময় টিভিতে দেহি। নিজের চক্ষে তারে দেখতে পাব।’
ছেলের প্রতি মানুষের এই আবেগ-আগ্রহ আপ্লুত করে আবদুর রশিদকে। কিছুক্ষণ পরই বিসিবির গাড়িটা এসে থামে। নেমে আসেন তাসকিন আহমেদ। বাবা আবদুর রশিদ বুকে জড়িয়ে নেন তাঁকে। মিষ্টি হেসে সবার কুশল জিজ্ঞেস করেন। শ্রমিকেরা নিজেদের কাজ ফেলে দৌড়ে আসেন তাসকিনের ব্যাগ-লাগেজ ধরতে।
মা সাবিনা ইয়াসমিন অপেক্ষায় ছিলেন সিঁড়ি ঘরে। ছেলেকে পরম স্নেহে বুকে আগলে নেন। তাসকিন এমন বহুবার ফিরেছেন বিদেশ সফর শেষে। গত বছর এই মার্চেই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ শেষে ফেরার পর এই মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডেই কী হুলুস্থুল কাণ্ডটা না হয়েছিল! তাসকিনকে বীরের বেশে বরণ করে নিয়েছিল এলাকাবাসী। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষেও হতে পারত একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি।
কিন্তু একটা ঘটনাই এলোমেলো করে দিয়েছে সব। ৯ মার্চ হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেই অভিযোগ উঠেছিল অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ। মানসিক ধাক্কা সামলে খেলেছিলেন প্রথম পর্বের সবগুলো ম্যাচই। ১৫ মার্চ চেন্নাইয়ে দিতে গিয়েছিলেন পরীক্ষা। পরীক্ষার ধকল না কাটতেই পরের দিন ইডেনে খেলেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচও। ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ বোলারদের বাজে পারফরম্যান্সের দিনে তিনিই ছিলেন যা উজ্জ্বল।
পরীক্ষা ভালো হয়েছে, ফল তাঁর পক্ষেই আসবে—এমনই ছিল আত্মবিশ্বাস। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেল ১৯ মার্চ। আইসিসি জানাল, তাসকিনের কিছু কিছু ডেলিভারি অবৈধ। বিসিবি অবশ্য এই ফল পুনর্বিবেচনা করতে আবেদনও করেছিল। কিন্তু শেষমেশ আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল আইসিসি। শেষ হয়ে গেল তাসকিনের বিশ্বকাপ।
কাল দলের সঙ্গে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতা এসেছিলেন। আজ সকাল নটায় পৌঁছেছেন ঢাকায়। এভাবে একা ফিরতে হবে, তা কী ভেবেছিলেন! ক্যারিয়ারে দুঃসময় গেছে অনেকবার। কিন্তু এমন কঠিন সময় কি এসেছে? নিজের ঘরটায় বসে তাসকিন চারদিকে তাকান। উত্তর হাতড়ে বলেন, ‘নাহ, আসেনি। চোটে পড়েছি, খারাপ সময় গেছে অনেকবার। কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়িনি। এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম।’
ধাক্কা খেলেও ভেঙে পড়েননি তাসকিন। শিগগির ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা তাঁর কণ্ঠে, ‘যা হওয়ার হয়েছে। এখন আমার একটাই লক্ষ্য, দ্রুত ফেরা। দেশবাসী ও বিসিবিকে ধন্যবাদ, সবাই আমাকে সমর্থন ও সহায়তা করেছেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। শুরুতে ভেঙে পড়লেও সাহস পেয়েছি সবার সমর্থনে। আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারি।’
আপাতত পরিকল্পনা কী? ঝটপট জবাব, ‘ঘুম! এখন ঘুমাব।’ চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ; যতটা না ভ্রমণের, তার চেয়ে বেশি গত কদিনে বইয়ে যাওয়া ঝড়ের।
খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে তাসকিনে আবার জেগে উঠতে চান নতুন উদ্যমে, নতুন শক্তিতে।

ধোনির সাফল্যের রহস্য এখানেই…

বল শুরুর আগে হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে ধোনির কথোপকথন। ব্যাটসম্যান-বধের মন্ত্রটাই বুঝি শেখাচ্ছিলেন। ছবি: এএফপি’ক্যাপ্টেন কুল’ কি আর এমনি এমনি! পরশু ম্যাচটা ভারত আসলে বের করে নিয়ে গেল মহেন্দ্র সিং ধোনির ‘মাথা’ দিয়েই। ধোনিও জানিয়েছেন, শেষ দিকের ওভারগুলোতে মাথা ঠান্ডা রাখাটাই ছিল এই জয়ের আসল রহস্য।
ধোনি বলেছেন, ‘এমন সময় পরিস্থিতিটা থাকে আক্ষরিক অর্থেই খুব গোলমেলে। আর তখন যা করা হয় তা কেবলই হট্টগোলটা সামলানো। গোলমাল তো হওয়ারই কথা। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের চল্লিশ হাজার দর্শকের হই-হুল্লোড়। সঙ্গে আছে দশজন সতীর্থকে উজ্জীবিত রাখার বড় দায়িত্ব। স্টাম্পের পেছন দিকটাও তো সামলাতে হয় তাঁকেই। ম্যাচের পরিস্থিতি যত জটিল হয়, যত উত্তেজনাপূর্ণ হয়, ততই যেন ধোনির আসল জাদু বেরিয়ে আসে। সেদিন যেমন এল।
পরশু ম্যাচের শেষ ওভারে দেখা গেছে, বোলার পান্ডিয়াকে বলার মতো পরামর্শ যেন প্রত্যেকেরই আছে। অন্তত পাঁচ-ছয়জন মিলে এক নাগাড়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছিল কী করা উচিত আর কী করতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এত এত পরামর্শ শেষে ‘পোড়া-মর্শ’ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। সেটাই ভালোভাবে সামলে নিয়েছেন ধোনি।
ধোনি বলেছেন, ‘এ রকম সময়ে দলের প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব মতামত নিয়ে আসে। দেখা যায় যে একজন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে আরেকজন বোলারের মতের পার্থক্য আকাশ-পাতাল।’ এটা তাহলে সামলান কীভাবে ‘ক্যাপ্টেন কুল’? ধোনির জবাব, ‘এমন সময় আমাকে দেখতে হয়েছে যে ক্রিজে থাকা ব্যাটসম্যানের শক্তির দিক কোনটি কিংবা উইকেট কী রকম আচরণ করছে। কারণ শেষ পর্যন্ত আমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বোলারকে কোথায় বল করতে বলব।’
তবে কি দলের সবাই এসে একের পর এক বুদ্ধি বাতলে দেওয়াটা ঝামেলা? ধোনি অবশ্য তা মনে করেন না। বরং বললেন, এমন পরিস্থিতিতে অন্যদের বক্তব্য খুব সাহায্য করে তাঁকে।

ভারতের বিপক্ষে হারা ম্যাচে মাশরাফির জরিমানা

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ‘স্লো ওভার রেট’ –এর কারণে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও বাংলাদেশ দলের সদস্যদের জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বুধবার সুপার টেনের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক ওভার কম বল করেছে বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী আইসিসির ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ এবং অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করেন। মাশরাফি দোষ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
জয় হাতের মুঠোয় নিয়েও ম্যাচটি ১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। আগামী শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মাশরাফির দল।

বাড়ি ফিরে অবসর নিয়ে ভাববেন মাশরাফি

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে পারে মাশরাফি বিন মুর্তজার শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। সিদ্ধান্ত নেবেন দেশে ফিরে।
বিশ্বকাপ দিয়েই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর একটি ভাবনা গত বছর থেকেই ছিল মাশরাফির। নানা উপলক্ষে বেশ কবারই বলেছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তিনি ঠিক ওয়ানডের মতো উপভোগ করেন না।
এখনও পর্যন্ত যা সূচি, তাতে বিশ্বকাপের পর এ বছর আর কোনো টি-টোয়েন্টি নেই বাংলাদেশের। মাঝে নতুন করে কিছু আয়োজন করা না হলে পরের টি-টোয়েন্টি আগামী জানুয়ারিতে, নিউ জিল্যান্ডে।
এবারের পর থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে চার বছর পরপর। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবেই খেলবেন না মাশরাফি। সব মিলিয়েই সংক্ষিপ্ত সংস্করণ থেকে তার বিদায়ের গুঞ্জণটা তীব্র।
নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগের দিন মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনে উঠল বিদায়ের প্রসঙ্গ। মাশরাফির উত্তরটা এক লাইনের, “এটা নিয়ে বাসায় গিয়ে ভাববো।”
নিজেকে নিয়ে আড়ম্বর, উন্মাদনা, লোকের অতি আগ্রহ, এসব বরাবরই এড়িয়ে চলতে চান মাশরাফি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকেও আলাদা করে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। সব মিলিয়েই হয়ত চান না টি-টোয়েন্টির অবসর নিয়ে বেশি হইচই হোক।
পরে মাশরাফি জানালেন, অবসর নিয়ে ভাবতে চান না ম্যাচের আগে।
“কালকে গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ আছে আমাদের। আপাতত সেদিকেই পুরো মনোযোগ। টি-টোয়েন্টি এরপরও আর খেলব কিনা, সেসব ভাবার অনেক সময় আছে দেশে ফিরে।”

এখনও কোনো ব্যাখ্যা নেই মাশরাফির কাছে

ভারতের কাছে হারের দুই দিন পরও এর কোনো ব্যাখ্যা নেই মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছে। তবে সেই হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়কের মনে হয়েছে, অনভিজ্ঞতার জন্য পেরে উঠেননি তারা।
আগামী শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশ জুড়ে মাশরাফিকে কথা বলতে হয় ভারতের বিপক্ষে এক রানের হার নিয়ে।
“সত্যি কথা বলতে, শেষ ম্যাচটা হারার কোন ব্যাখা আমার কাছে নেই। এক রানে হারলে যে কোন জায়গাতেই ত্রুটি বের করা যায়। এমন পরিস্থিতিতে না খেলার কিছুটা অনভিজ্ঞতা রয়েছে। হয়ত এমন পরিস্থিতিতে সব সময় আমরা অভ্যস্ত হতে পারি না। এটাও একটা কারণ হতে পারে।”
মাশরাফির বিশ্বাস, সমর্থকরা বরাবরের মতো এই কঠিন সময়েও তাদের পাশে থাকবে।
“আমি এটাই বলতে চাই, সবাই হতাশ। সবাই যেভাবে আমাদের সাপোর্ট করেছেন…। এমন না যে আমরা এর আগে হারেনি। অবশ্যই বাংলাদেশের দর্শকরা আমাদের পাশে থাকবে। এখনো আছে। আমরা সবাই বুঝতে পেরেছি, বাসার সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রত্যেকটা মানুষই ভেঙে পড়েছে।”
সুপার টেনে এখনও কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। একেবারে খালি হাতে ফিরতে চান না বাংলাদেশের অধিনায়ক।
“চেষ্টা করবো সামনের ম্যাচটায় আমাদের সেরা খেলাটা খেলার। যদি সুযোগ থাকে ম্যাচটা জেতার। আমি আশা করি, সামনে এমন আরও ভালো কিছু থাকবে।”

হেরেই বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় পাকিস্তানের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিল পাকিস্তান। সুপার টেনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ রানে হেরেছে শহীদ আফ্রিদির দল। মোহালিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২৬তম ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সাড়ে তিনটায়। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার দলপতি স্টিভেন স্মিথ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে, ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানে থেমে যায় পাকিস্তান।
টস জিতে আগে ব্যাট করা অজিদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন ইনফর্ম উসমান খাজা এবং টি-টোয়েন্টির এক নম্বর ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উসমান খাজাকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন ওয়াহাব রিয়াজ। আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ৩টি চার আর একটি ছক্কায় ২১ রান করেন খাজা।
দলীয় ২৮ রানের মাথায় অজি ওপেনার উসমান খাজা বিদায় নিলেও রানের চাকা ঘোরাতে থাকেন অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। তবে, ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের দ্বিতীয় শিকারে বিদায় নেন ওয়ার্নার। বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৯ রান।
ইনিংসের অষ্টম ওভারে ১৬ বলে ১৫ রান করা ফিঞ্চকে বোল্ড করেন ইমাদ ওয়াসিম।
ইমাদের দ্বিতীয় শিকারে ইনিংসের ১৪তম ওভারে বিদায় নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। আহমেদ শেহজাদের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ১৮ বলে তিনটি চার আর একটি ছক্কা হাঁকিয়ে করেন ৩০ রান। ম্যাক্সওয়েল দলপতি স্মিথের সঙ্গে ৩৮ বলে আরও ৬২ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে।
চতুর্থ উইকেট পড়ে যাবার পর স্মিথ আর ওয়াটসন জুটি গড়েন। মাত্র ৩৮ বল মোকাবেলা করে এই দুই ব্যাটসম্যান অবিচ্ছিন্ন ৭৪ রান তুলে নেন। স্মিথ ৪৩ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৬১ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর ওয়াটসন ব্যাটে ঝড় তুলে ২১ বলে ৪টি চার আর ৩টি ছক্কায় করেন ৪৪ রান।
পাকিস্তানের হয়ে ওয়াহাব রিয়াজ আর ইমাদ ওয়াসিম দুটি করে উইকেট দখল করেন।
১৯৪ রানের টার্গেটে দলের হয়ে ব্যাটিং শুরু করেন শারজিল খান ও আহমেদ শেহজাদ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে হ্যাজেলউড ফিরিয়ে দেন আহমেদ শেহজাদকে। কোল্টার-নাইলের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি মাত্র এক রান করেন। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ফেরেন আরেক ওপেনার শারজিল। জেমস ফকনারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। ব্যাট হাতে বেশ ভালোই জবাব দেন শারজিল। পাকিস্তানের এই ওপেনার ১৯ বলে ৬টি বাউন্ডারি হাঁকান।
এরপর ৪৫ রানের জুটি গড়েন উমর আকমল এবং খালিদ লতিফ। ইনিংসের ১১তম ওভারে অ্যাডাম জামপা ক্লিন বোল্ড করেন আকমলকে। ২০ বলে তিনটি বাউন্ডারি আর একটি ওভার বাউন্ডারিতে ৩২ রানের ইনিংসটি সাজান আকমল।
আকমলের বিদায়ে উইকেটে এসে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়ে মাত্র ৭ বলে দুটি ছক্কায় আফ্রিদি ১৪ রান করেন। তবে, ডাউন দ্য উইকেটে এসে জামপার বলের লাইন মিস করলে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়তে হয় তাকে।
এরপর জুটি গড়েন শোয়েব মালিক ও খালিদ লতিফ। ২৫ বলে ৩৭ রান যোগ করেন তারা। ১৮তম ওভারে ফকনার বোল্ড করেন সেট ব্যাটসম্যান লতিফকে। ৪১ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় ৪৬ রান করেন লতিফ। পরের বলেই ইমাদ ওয়াসিমকে ফিরিয়ে দেন ফকনার।
শোয়েব মালিক ২০ বলে দুটি করে চার ও ছয়ে ৪০ রান করে অপারজিত থাকেন।
শেষ ওভারে ফকনার ফেরান সরফরাজ আহমেদ ও ওয়াহাব রিয়াজকে। আগের বারের মতো এবারও হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হন ফকনার। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫ উইকেট দখল করেন ফকনার। দুটি উইকেট নেন জামপা আর একটি উইকেট পান হ্যাজেলউড।
চলতি বিশ্বমঞ্চে এর আগে তিনটি ম্যাচ খেলে পাকিস্তান। শহীদ আফ্রিদির দল প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিয়ে শুরু করে বিশ্বকাপের মিশন। তবে, নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে হেরে বসে তারা। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও হারে পাকিস্তান। তাই এ ম্যাচটিতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না আফ্রিদি বাহিনীর।
অপরদিকে, পাকিস্তানের বিপক্ষে নামার আগে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে দুটি ম্যাচ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারে স্টিভেন স্মিথের দল। দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় তুলে নেয় অজিরা। তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতা অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে।
এ ম্যাচের মধ্যদিয়ে অজিদের ওপেনার উসমার খাজা জন্মভূমির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচে মাঠে নামেন। অবসরের ইঙ্গিত দেওয়া পাকিস্তানের দলপতি শহীদ আফ্রিদির এটিই হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ মেগা কোনো ইভেন্ট। অপরদিকে, অজিদের অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনও জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্বকাপের আসর শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: শেন ওয়াটসন, উসমান খাজা, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যারন ফিঞ্চ, জেমস ফকনার, পিটার নেভিল (উইকেটরক্ষক), জস হ্যাজেলউড, নাথান কোল্টার-নাইল, অ্যাডাম জামপা।
পাকিস্তান একাদশ: শারজিল খান, আহমেদ শেহজাদ, খালিদ লতিফ, উমর আকমল, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (উইকেটরক্ষক), শহীদ আফ্রিদি (অধিনায়ক), ইমাদ ওয়াসিম, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ সামি, মোহাম্মদ আমির।

তাসকিন-সানির জন্য কলকাতায় ক্রিকেট ভক্তদের পূজাপালন

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই সদস্য তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি যাতে খুব শিগগির ফিরে আসে সেই দোয়া করে হোমযজ্ঞ করল কলকাতার স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন যশোর রোডের ধারে এই মহাযজ্ঞের আয়োজন করে সংস্থাটি।
তাসকিন ও সানির দ্রুত কামব্যাকের দাবিতে তারা স্লোগানও দেয়। রীতিমতো বৈদিক ও হিন্দু শাস্ত্র মতে আধা ঘন্টা ধরে চলে এই হোমযজ্ঞ।
যজ্ঞে অংশ নেওয়া একজন ক্রিকেট ভক্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের যেদুজন খেলোয়াড়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আমি তাদের জন্য হোমযজ্ঞ করলাম। তাদের যদি কোনাে ভুলত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে সেটা শুধরে তারা যেন দ্রুতই ফিরে আসে তার জন্য এই যজ্ঞ করলাম। আমরা আশা করি, তাদের আবার ফিরিয়ে আনা হবে।’
আরেক ক্রিকেট সমর্থক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ভাসবাসি। যেদুজন খেলােয়াড়ের উপর নিষধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেটা আইসিসির একান্ত ব্যাপার। তবে আমরা এটা সমর্থন করি না। আমরা চাই এই দুই খেলোয়াড় দ্রুতই স্বমিহমায় খেলার জগতে ফিরে আসুক। এ জন্য ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে এই যজ্ঞ করলাম।’
কলকাতা স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোশিয়েসনের সেক্রেটারি দিবাকর রায় বলেন, ‘তাসকিন-সানিকে যেভাবে ফেরানো হয়েছে তাতে আমরা মর্মাহত। আমরা চাই তাদের কথা বিবেচনা করে দ্রুতই ফিরিয়ে আনা হোক।’
11
তিনি আরো বলেন, আমরা কোনাে দেশের সমর্থক হিসেবে নয়, আমরা ক্রিকেটপ্রেমী। আমরা চাই ভালো ক্রিকেটার ভালো জায়গা পাক। আর আইসিসি এ ব্যাপারে নরম মনোভাব পােষণ করুক।
তাসকিন-সানির নিষেধাজ্ঞা একটা নির্মম অবিচার উল্লেখ করে দিবাকর বলেন, ‘এটা তাদের প্রতি নির্মম অবিচার করা হয়েছে। আমরা আশা করি আইসিসি এটা নরম মনে চিন্তা করবে এবং একটা ভালাে ব্যবস্থা নেবে।’
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন ভালো খেলছে একটা এশিয়ান টিম হিসেবে আমরা এতে গর্বিত। প্রসঙ্গত টি-২০ বিশ্ব কাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দুই বোলার তাসকিন আহমেদ এবং আরাফাত সানিকে তাদের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরে তাসকিনের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিসিতে আবেদন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)। তবে সেই আবেদন খারিজ করে বুধবার তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে আইসিসি। এখন অ্যাকশন শুধরানো না পর্যন্ত দুজনকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাময়িক নিষিদ্ধ থাকবেন।

অভিশপ্ত তিনটি বল!

আরিফুল ইসলাম রনি : বিস্ময়, হতাশা, প্রশ্ন, আক্ষেপ, প্রতি মুহূর্তেই বদলাতে থাকা নানা অনুভূতির দোলাচল। কী তীব্র একেকটি অনুভূতি! ভারত ম্যাচের পর থেকেই এমন সব অনুভূতির ঝড়ে টালমাটাল বাংলাদেশের ক্রিকেট। সবশেষে সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবল হয়ে ওঠে হয়ত একটি ব্যাপারই, অবিশ্বাস। এই ম্যাচও হারা কিভাবে সম্ভব! ক্রিকেটে মাঝে মাঝেই এমন কিছু ব্যাপার ঘটে যায়, যেগুলোর ব্যখ্যা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের শেষ তিনটি বলের মূল ব্যখ্যাও এটিই, কোনো ব্যখ্যা নেই!
কোন যুক্তিতে এটি ব্যাখ্যা করা যায়? ফেলা যায় কোন ছাঁচে? ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারও বলা যেতে পারে। কিন্তু অবিশ্বাসের রেশ থেকে যায় তার পরও। মাহমুদউল্লাহর কথাই ধরা যাক। গত কিছু দিনের পারফরম্যান্সে টি-টোয়েন্টিতে শুধু বাংলাদেশের নয়, হয়ত বিশ্ব ক্রিকেটেরই সেরা ‘ফিনিশার’। ফর্ম দুর্দান্ত, টেম্পারামেন্ট তো তার বরাবরই দারুণ। যে কোনো পরিস্থিতিতে শান্ত, স্থিতধী থাকতে পারার ক্ষমতা সহজাত। এই ম্যাচে যে পরিস্থিতি ছিল, সেটির জন্য হয়ত সবচেয়ে আদর্শ ব্যাটসম্যান।
ওই পরিস্থিতিতে নিজেদের একজন ব্যাটসম্যানকে বেছে নিতে বললে বাংলাদেশ দল নি:সন্দেহে মাহমুদউল্লাহকেই বেছে নিত। সেই তিনিই ওই সময়ে হার্দিক পান্ডিয়ার ফুল টস বলকে ফিল্ডারের হাতে তুলে দেবেন, কে ভাবতে পেরেছিল!
মহেন্দ্র সিং ধোনি ম্যাচ শেষে বলেছেন, অনেক সময়ই ব্যাটসম্যানদের এরকম হয়। জয় নাগলে থাকলে শট খেলে ম্যাচ শেষ করে দিতে ইচ্ছে করে। সোজা ভাষায় বলা যায়, নায়কোচিত কিছু করা। কিন্তু এই ব্যাপারও তো মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে যায় না! নায়ক হবার তাড়না তার মাঝে কবেই বা দেখা গেছে! ক্যারিয়ার জুড়েই আড়ালে থেকে করে গেছেন নিজের কাজ। পাদপ্রদীপের আলোকে উপেক্ষা করে গড়ে নিয়েছেন নিজের আলোর ভুবন।
এই ম্যাচেও তো দেখা গেছে আপন রূপের মাহমুদউল্লাহকে। প্রবল চাপেও ভড়কে না গিয়ে আগলে রেখেছিলেন ইনিংস, টেনে নিচ্ছিলেন দলকে। সৌম্য সরকারের আউটে দল যখন চাপে, পরের বলেই একদম ঠাণ্ডা মাথায় এমন একটি বাউন্ডারি মারলেন, যা পুরো ম্যাচেরই সম্ভবত সবচেয়ে দৃষ্টিননন্দন শট। চেহারায় ফুটে উঠছিল প্রতিজ্ঞা।
সেই মাহমুদউল্লাহ হঠাৎ কেন চোখধাঁধানো কিছুর পেছনে ছুটবেন? কেন এই দিনটিতেই এমন পরিস্থিতিতে দেখাতে চাইবেন বীরদর্প! বিশেষ করে আগের বলেই যখন দেখলেন, আরেক প্রান্তে আত্মহত্যা করেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। তার পর তো আরও সতর্ক, সাবধানী হয়ে যাওয়ার কথা মাহমুদউল্লাহর। কেন হতে পারেন নি, সেটার ব্যখ্যা নেই। ব্যখ্যা হয় না!
কিংবা মুশফিক! শেষ ওভারে টানা দুটি চার মারলেন, দুলতে থাকা পেন্ডুলাম স্থির করলেন বাংলাদেশের পাশে। একটি রান নিলেই স্কোর থাকত সমতায়, শেষ দুই বলের জন্য ফিল্ডার চাপিয়ে আনতে বাধ্য হতেন ধোনি। শেষ দুই বলে তখন বাউন্ডারির সুযোগ আরও ভালো থাকত। মৌলিক এই ভাবনা মুশফিকের মাথায় না আসার কারণ নেই। লং অন থেকে মিড উইকেট পর্যন্ত সীমানায় তিনজন ফিল্ডার রেখে পান্ডিয়া যে শর্ট বা স্লোয়ার শট বল করতে পারেন, এটাও মুশফিকের না বোঝার কারণ নেই। তবু ওই শট খেলে ফেলেছেন। কেন? উত্তর মেলা ভার। নিশ্চিত, তিনি নিজেও হিসাব মেলাতে পারছেন না।
দুজনে মিলে খেলেছেন ৪৬৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এত এত বছরের অভিজ্ঞতা। ওই মুহূর্তের সামান্য করণীয়টা না বোঝার কারণ নেই। ধারাভাষ্যকার-বিশ্লেষকরা বলেছেন, সিঙ্গেল নিয়ে খেললেই হতো। ম্যাচ শেষে অধিনায়কও বলেছেন একই কথা। কোটি ক্রিকেট ভক্ত, আমজনতা সবাই বলছেন সিঙ্গেল নিলেই হতো। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ সেটা বোঝেননি? অবশ্যই বুঝতেন। কিন্তু ওই মুহূর্তটিতে দুজনই আসলে পা দিয়েছিলেন সময়ের ফাঁদে। সেই ব্যখ্যাতীত সময়!
ওই শট দুটি দেখে বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি দর্শক যখন প্রশ্ন করছেন, ‘কেন খেলতে গেলেন তারা অমন দুটি শট’, তারা দুজনও কিন্তু তখন এমন কথাই ভাবছেন! মুশফিক যখন আউট হয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে ফিরছেন বা মাঠেই হাঁটুতে ভর দিয়ে উবু হয়ে দাঁড়িয়ে মাহমুদউল্লাহ, দুজনই কিন্তু ভাবছেন, ‘কেন এই শট খেলতে গেলাম!’ ক্রিকেট এভাবেই মাঝে মাঝে হারিয়ে যায় ব্যখ্যার সীমানা।
কিংবা মুস্তাফিজুর রহমান; শেষ বলে এরকম পরিস্থিতিতে নন স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যান সবসময়ই বোলারের সঙ্গেই ২২ গজের প্রায় অর্ধেক ছুটে চলে যায়। মুস্তাফিজের ওইটুকু বোধ অবশ্যই আছে। কিন্তু রানের জন্য ছুটতে মুহূর্তখানেকের জন্য দেরি হলো তার। কি ব্যখ্যা দেওয়া যায়?
অফ স্টাম্পের বাইরে পান্ডিয়ার ওই শর্ট বলে হয়ত ১০ বারের ৬-৭ বারই চার মারবেন শুভাগত হোম। এদিন মারলেন না বলে ব্যাট ছোঁয়াতেই।
মনস্তাত্ত্বিক খেলার কথা বলা যায়। ভারত অধিনায়ক ধোনি শেষ মুহূর্তগুলোয় অনেকটা সময় নিয়েছেন প্রতিটি বলের আগে। চাপের মাঝেও ছিলেন শান্ত। মাঠ সাজানো, পরিকল্পনা যখন কাজে গেছে, সেসবও সফল বলতেই হবে। কিন্তু এসব যুক্তিকেও বড় করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত পান্ডিয়ার বল দুটি তো ছিল একটি শর্ট বল, আরেকটি ফুল টস!
শেষ ওভারে দুটি চার হজম করে এবং আরও দুটি বাজে বল করেও নায়ক পান্ডিয়া। কিন্তু দারুণ খেলে নায়ক হওয়ার দোড়গোড়ায় ছিলেন যে দুজন, মুহূর্তের ভুলে তারা ডুবে হতাশার অতলে। ক্রিকেট কখনও কখনও এমনই। থিতু হয়ে যাওয়া মাইক গ্যাটিং নতুন বোলারকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে ডোবান দলকে। ল্যান্স ক্লুজনার ও অ্যালান ডোনাল্ড পাগলাটে দৌড়ে ছুটে চলে যান ট্র্যাজেডির মঞ্চে। বিশ্বের সেরা ফিল্ডারদের একজন হার্শেল গিবস লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দিয়ে শোনেন বিশ্বকাপ ফেলে দেওয়ার টিপ্পনি। ব্যখ্যাতীত এসব ঘটনা আছে ক্রিকেট ইতিহাসের পরতে পরতে।
ভারত ম্যাচের ইতিবাচকতাও কিন্তু কম নেই। বাংলাদেশের লড়াই ছিল দু:সময়ের সঙ্গে। বাংলাদেশের লড়াই ছিল প্রবল প্রতিপত্তির ভারতের বিপক্ষে। জিততে পারলে সেটি হতো রূপকথা। কিন্তু এই পারিপার্শ্বিকতায় জয়ের অবস্থা সৃষ্টি করাটাও কি কম কথা!
বাংলাদেশের ওয়ানডে দল দাঁড়িয়ে গেছে। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জানিয়ে দিল, নানা সীমাবদ্ধতার পরও টি-টোয়েন্টি দলটিও মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে। এভাবে ম্যাচ হারার কষ্ট হয়ত এসব ভাবনায় কমবে না, এমন হারের সান্ত্বনার প্রলেপও এটি নয়, তবে কিছু প্রাপ্তি তো বটেই!
অধিনায়কের মতো সবারই চাওয়া, হৃদয় মোচড়ানো তিন বলের বিভীষিকা হোক ভবিষ্যতের শিক্ষা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর এমন লড়াই, দু:সময়কে পাল্টা জবাব দেওয়ার দু:সাহস থেকেই আসুক ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা।
-বিডিনিউজ

শুক্রবার দেশে ফিরবেন তাসকিন

অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে তাসকিন আহমেদের। এরপরও দলের সাথে ছিলেন তাসকিন। তবে এবার বিসিবির পরামর্শে শুক্রবার দেশে ফিরছেন টাইগার এই বোলার।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, `তাসকিন যেহেতু বিশ্বকাপে আর খেলতে পারছে না, তাই একটু সময় নিয়ে পরীক্ষা দেওয়াই ভালো। দেশে ফিরে গিয়ে অ্যাকশন শোধরানোর কাজ শুরু করবে। পরে সুবিধামতো সময়ে পরীক্ষা দেবে আবার।`
আর তাসকিন যদি দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে তাতেও ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা নেমে আসবে তার ওপর। তাই হুট করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বিসিবি।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ এবং স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন দুই অনফিল্ড আম্পায়ার এস রবি এবং রড টাকার। এর পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অভিযোগ তোলে আইসিসিও।
এরপর গত ১২ মার্চ সানি ও ১৫ মার্চ তাসকিন চেন্নাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেকানিক্যাল সেন্টারে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে আসেন। সানির পরীক্ষার ফলাফল এক সপ্তাহ পর দিলেও তাসকিনের ফলাফল পাওয়া যায় চার দিনের মাথায়। এতে নিষিদ্ধ হন দু’জনই।
পরে তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে আইসিসিকে মেইল করে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আইসিসির পক্ষ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় নিয়মানুযায়ী জুডিশিয়াল কমিশনারের কাছে রিভিউয়ের জন্য আবেদন করে বিসিবি। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে আইসিসি জুডিশিয়াল কমিশন। বুধবার আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিবর্তন আসুক আমাদের মানসিকতায়

শায়খ মিশন : সাম্প্রতিক সময়ে উপমহাদেশের কোন দলের কাছে বাংলাদেশ হেরে গেলেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ দেখা যায়। বিশেষ করে ২০১৫ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। চলমান বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে অবস্থা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলোয়ারের পেজে দুই দেশের বাগবিতণ্ডা এখন অকথ্য বা অশ্রাব্য পর্যায়ে চলে গিয়েছে, যেটা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ভারতীয় সমর্থকদের অত্যন্ত তীর্যক ও অপ্রকাশ্য মন্তব্য করতে দেখা যায়। প্রত্যুত্তরে বাংলাদেশের সমর্থকরাও একই ধরনের অকথ্য মন্তব্য করতে থাকেন। এর আগে এশিয়া কাপে পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের সমর্কথকদের সাথেও একই পরিস্থিতির তৈরি হয়। এছাড়াও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচেও নেপালী সমর্থকদের সাথে এই বাকযুদ্ধ লক্ষ্য করা গিয়েছে। যদিও এডমিন থেকে অনেককেই ব্যান করা হয়েছে, তবুও সংখ্যায় তারা এত বেশি যে কিছু অংশ থেকেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ অনেকটাই বদলে গেছে, টাইগাররা এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি। বাংলাদেশ এখন ভাল খেলে বলেই অন্য দেশের সমর্থকরা বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবে, আমাদের বিপক্ষে তারা এখন জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু তাই বলে আমাদেরও ভাষা নির্বাচনে সংযত থাকা উচিত। ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার পাশাপাশি একটা ‘স্মার্ট ক্রিকেটিং ন্যাশন’ হিসেবেও আমাদের আত্মপ্রকাশ করার এখনই সময়। সে কারণে আমাদের কখনই অন্য দেশের সমর্থকদের সাথে অশ্রাব্য বাক্য বাণে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। আমরা অবশ্যই খেলা অথবা খেলোয়ারদের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তাই বলে কুরুচিপূর্ণ কোন বক্তব্য অবশ্যই না। আবেগ থাকবেই, তবে পার্শ্ববর্তী দেশের সমর্থকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাটাই শ্রেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাশরাফিকে নিয়ে সুনীল গাভাস্কারের মন্তব্যের পর অনেকেই এর পক্ষে বিপক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকে আবার ভাষার শেষ সীমাও অতিক্রম করে গিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর বাজে শট সিলেশনের পরও অনেকে তাদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করতে থাকেন। সমালোচনা বা গঠনমূলক আলোচনা চলতেই পারে, তবে সবারই উচিত মন্তব্য প্রকাশে সংযত থাকা। এর আগেও সাকিব কিংবা তামিমের ফর্মহীনতায়ও তাদের শুনতে হয়েছে খারাপ মন্তব্য। কিছু ভাল জয়ের পর যেমন কোন দল বা খেলোয়ারকে নিয়ে সহসাই অত্যুক্তি করা উচিত না, তেমনি আবার হেরে গেলেই সেই দল বা খেলোয়ারকে যা নয় তাই মন্তব্য করাও অনুচিত। খেলায় ভুল বা পরাজয় ঘটতেই পারে, আলোচনা-সমালোচনাও করা যাবে না তাও বলছি না। তবে সব কিছুই একটা নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে থাকাটাই বাঞ্ছনীয়।
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে আমরা এখন যথেষ্টই শক্তিশালী দল। আশা করি, সামনে আমরা আরও এগিয়ে যাব, একদিন হয়তো আমাদেরই হাতে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফি। কিন্তু খেলার উন্নতির পাশাপাশি সমর্থক হিসেবে আমাদের মানসিকতারও উন্নতি প্রয়োজন। ধীরে ধীরে আমরা যেন একটি সভ্য ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ক্রিকেট জাতি হিসেবে পরিগণিত হতে পারি, এখন থেকেই তার চর্চা করাটা দরকার। আমাদের মনে রাখা উচিত, সম্মান দিলেই সেটা পাওয়া সম্ভব। শেষমেষ প্রত্যাশা এটাই যে, খেলায় উন্নতির পাশাপাশি সমর্থক ও জাতি হিসেবেও আমরা বিশ্ব অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হব। সে প্রত্যাশার প্রাপ্তির অপেক্ষায় রইলাম!
লেখক পরিচিতি : কম্পিউটার প্রকৌশলী

শতভাগ ফিট পেসার রুবেল

ইনজুরির কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলে জায়গা পাননি বাংলাদেশের অন্যতম পেস বোলার রুবেল হোসেন। তবে সকল শঙ্কা কাটিয়ে নিজেকে শতভাগ ফিট দাবি করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে আমি এখন শতভাগ ফিট। এইমাত্র বিসিবির চিকিৎসক খবরটি আমাকে নিশ্চিত করেছেন। এখন আমার অল্প কিছুদিনের জন্য ছুটি লাগবে। কাল (বৃহস্পতিবার) আমি আমার পরিবার ও বন্ধুদের দেখতে বাগেরহাট যাচ্ছি (ইনশাআল্লাহ)।
গত বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে সর্বশেষ মাঠে নামেন রুবেল হোসেন। এরপর ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাকে। অভিযোগ ওঠে, রুবেল বিসিবির নিয়ম মেনে চলছেন না। শাস্তি হিসেবে সর্বশেষ চুক্তিতেও রাখা হয়নি রুবেলকে।

মাহমুদউল্লাহকে শেখার পরামর্শ ধোনির

‘ক্যাপ্টেন কুল’ বলা হয় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। কেন বলা হয় তা ক্রিকেট বিশ্ব বারবার দেখেছে। বারবার ধোনিও দেখিয়েছেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার, অধিনায়ক। বুধবার ভারতের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আরেকবার তার প্রমাণ মিললো।
বাংলাদেশের নিশ্চিত জয় পাওয়া ম্যাচে ধোনি ভারতকে জিতিয়েছেন নিজের দক্ষতায়, নিজের বুদ্বিমত্তায়। শেষ ওভারে ১১ রানের প্রয়োজনে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৩ বলে ৯ রান তুলে নেয়। কিন্তু নিজের বোলারদের উপর আত্মবিশ্বাস রেখে একজন ফিল্ডারও বৃত্তের ভিতরে নিয়ে আসেননি ধোনি। বরং ফিল্ডিং পাল্টেছেন বারবার। হার্দিক পান্ডিয়ার চতুর্থ বলে মুশফিক আউট হন মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে। বল করার আগে হার্দিকের কাছে গিয়ে পরামর্শ দেন। ধোনির কথা মত হার্দিক স্লোয়ার মারেন। মুশফিক বল বুঝতে না পেরে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন ধাওয়ানের হাতে। পরের বলে আবারো হার্দিককে পরামর্শ দেন। এবার ফুলটস। ফিল্ডার পরিবর্তন করে মিডউইকেট থেকে শেখর ধাওয়ানকে সরিয়ে রবিন্দ্র জাদেজাকে রিপ্লেস করেন। ফলাফলও পেয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ফুলটস ডেলিভারি উঠিয়ে মারতে দিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ ছয় হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করতে চাইবেন এমন ধারণা থেকে ফিল্ডার সেট আপ করেছিলেন ধোনি। এতে পুরো লেটার মার্কস পেয়েছেন ভারতের অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে ধোনি জানালেন, এরকম পরিস্থিতি কিভাবে ম্যাচ জিততে হয় তা মাহমুদউল্লাহর শিখতে হবে।
ধোনির ভাষ্য,‘সব সময়ই আপনি চাইবেন বড় শট খেলে দলকে জেতাতে। আপনার হাতে উইকেট আছে সেটা সম্পর্কেও আপনি অবগত। আপনি মাঠে থেকে যেমনটা চিন্তা করছেন প্রতিপক্ষ দলের অন্য কেউও তেমনটা চিন্তা করছে; সেটা আপনার মাথায় থাকতে হবে। আপনি ভালো করছেন, সে সময়ে কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় সেটা মাহমুদউল্লাহর শিখতে হবে।’
শেষ বলের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে ধোনি বলেন,‘আমি সবকিছু এখানে বলতে চাচ্ছি না। তবে সিদ্ধান্ত ছিল লেন্থ বল করা। সঠিক জায়গায় বল করা। ইয়র্কার করলে অন্য কোনো ফল হতে পারে। সে কারণে আমি লেন্থ বল করার পরামর্শ দেই। বল ব্যাটে না লাগলে বাকি কাজটুকু আমি করতে পারব সেই বিশ্বাস আমার ছিল।’

এমন হার ইতিহাসেই প্রথম!

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১১ রান, হাতে ৪ উইকেট। ক্রিজে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। বোলিংয়ে এলেন নিজের প্রথম দুই ওভারে ২০ রান দেওয়া হার্দিক পান্ডিয়া।
প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহর সিঙ্গেল। পরের দুই বলেই চার মারলেন মুশফিক। তখন ৩ বলে চাই ২ রান। জয় তো হাতের মুঠোয়। কিন্তু কে জানত, নাটকের শেষ মঞ্চায়ন যে তখনো বাকি!
চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করার চেষ্টায় মুশফিক ক্যাচ দিলেন ডিপ মিড উইকেটে শিখর ধাওয়ানের হাতে। পরের ফুল টস বলটি মাহমুদউল্লাহও ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়লেন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। অবিশ্বাস্যই বটে, একটি সিঙ্গেল নিলেই যেখানে স্কোর লেভেল, অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান কিনা ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট!
শেষ বলে সিঙ্গেল নিলে অন্তত সুপার ওভারে গড়াতে পারত ম্যাচ। পান্ডিয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারলেন না শুভাগত হোম। মুস্তাফিজুর রহমান দৌড়ে সেই সিঙ্গেলটিও নিতে পারলেন না। ছুটে এসে স্টাম্প ভেঙে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, মুস্তাফিজ রান আউট।
যেখানে ৩ বলে চাই ২ রান, সেই তিন বলেই কিনা ৩ উইকেট! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে বুধবার বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে জয় হাতের মুঠোয় পেয়েও বাংলাদেশ হারল ১ রানে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এবার নিয়ে নবমবারের মতো ১ রানের হার দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ তিন বলে ৩ উইকেট হারিয়ে হারের ঘটনা এটাই প্রথম!
আর ভারত টি-টোয়েন্টিতে এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার ১ রানের জয় পেল। এর আগে ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতীয়রা জিতেছিল ১ রানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১ রানে জয়ের ঘটনা এবার নিয়ে চতুর্থবার। যেখানে দুবারই জয়ী দল ভারত।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার ১ রানের জয়ের ঘটনা ঘটেছিল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সিডনিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। আর সর্বশেষটি তো বুধবার বেঙ্গালুরুতে।

মুশফিকের দুঃখ প্রকাশ

ভারতের কাছে ১ রানের হার মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। কষ্ট ছুঁয়ে গেছে ক্রিকেটারদেরও। জয় হাতের মুঠোয় পেয়েও ভারতের কাছে এভাবে হেরে যাওয়ায় দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বুধবার বেঙ্গালুরুতে জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে ২ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। সে সময় ক্রিজে ছিলেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু পর পর দুই বলে দুই জনই আউট হন উচ্চাভিলাষী শট খেলে। শেষ বলে শুভাগত হোম ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি, মুস্তাফিজুর রহমান দৌড়ে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে হয়ে যান রান আউট। বাংলাদেশ হেরে যায় ১ রানে।
জয় হাতের মুঠোয় পেয়েও বাংলাদেশের ১ রানে যাওয়াটা মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের সমর্থকরা। এমন হারের জন্য মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহকেই দায়ী করছেন অনেকে। আর এমন হারের জন্য নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুশফিক।
বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুক স্ট্যাটাসে মুশফিক লিখেছেন, ‘আমি জানি গতকালের হারটি আপনাদের জন্য অনেক বেদনাদায়ক ছিল…। কিন্তু দলের সকলেই প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলে…। তাই আমার ও দলের সবার জন্যই পরাজয়টা কষ্টকর ছিল।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘এরকম সময়ে আমার এভাবে আউট হওয়া ঠিক হয়নি…। হয়তো আমার জন্যই দল হেরে গেছে…। সেক্ষেত্রে দেশবাসীর কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আপনাদের মুখে আবারও হাসি এনে দিতে পারব।’

১ রানের সেই হারগুলো

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান এরপর অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে হেরে টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মাশরাফির বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে একক আধিপত্য বজায় রেখেও শেষ তিন বলে তিন উইকেট হারালে এক রানে হারতে হয় টাইগারদের। ৫৪৭ টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে নয় বিভিন্ন দল মাত্র ১ রানে হেরেছে। আসুন দেখে নেই সেই নয়-ম্যাচ।

অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউজিল্যান্ড, ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি ২০০৯: ক্রিকেটে আর অন্য সব ঘটনার মতো এখানেও জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাম। সিডনিতে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড হাসির ৩৯ রানের ভর করে শেষ পর্যন্ত ১৫০ রান করতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া। ৪৭ বলে ৬১ রানের ঝড় তুলেও সেদিন দলকে জেতাতে পারেননি ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। শেষ ওভারে জয়ের জন্য কিউইদের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। প্রথম বলে রান আউট হন জেমস ফ্রাঙ্কলিন। পরের তিন বলে মাত্র ২ রান নিতে সমর্থ কিউই ব্যাটসম্যানরা। তবে পঞ্চম বলে চার মেরেছিলেন নাথান ম্যাককালাম। শেষ বলে ছক্কা মারলেও ১ রানের হার এড়াতে পারেননি তিনি।

নিউজিল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯ জুন ২০০৯: দ্বিতীয়বারও পরাজিত দলের নাম নিউজিল্যান্ড। ২০০৯ সালের টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের খেলায় ক্যালিস-স্মিথের ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও মাত্র ১২৮ রানে শেষ হয় প্রোটিয়াদের ইনিংস। এবারও ম্যাককালামের ৫৭ রানের ইনিংস জেতাতে পারেনি কিউইদের। শেষ ওভারে ১৫ রান প্রয়োজন ছিল নিউজিল্যান্ডের। তবে সেই ওভার থেকে ১৩ রান করতে নিতে পেরেছিলেন স্কট স্টাইরিস ও জ্যাকব ওরাম।

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড, ১০ নভেম্বর ২০০৯: জোহানেসবার্গে দ্বিপাক্ষীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে ইয়ন মরগানের ৪৫ বলে ৮৫ এবং পল কলিংউডের ৩২ বলে ৫৭ রানে ভর করে ২০২ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে ১৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৭ রান তুলে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর বৃষ্টি নামলে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি আইনে ১ রানে হেরে যায় গ্রায়েম স্মিথের দল।

নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান, ৮ মার্চ ২০১০: ২০১০ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের গ্রুপ পবের্র ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১ রানে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। পাকদের স্পিন দাপটে ১৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। সবোর্চ্চ ৩৮ রান করেছিলেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি। সালমান বাটের অপরাজিত ৬৭ রানও জেতাতে পারেনি পাকিস্তানকে। নিউজিল্যান্ডের পেস ব্যাটারির সামনে সেদিন হারতে হয় শহীদ আফ্রিদির পাকিস্তানকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০ মে ২০১০: আগের ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অ্যান্টিগাতে সমতা ফেরার সুডোগ ছিল ক্যারিবীয়দের সামনে। জেরম টেলর ও ড্যারেন স্যামি ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ করে রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ১২০ রানে বেধে রেখে। তবে ডোয়াইন ব্রাভোর ৪০ ও শিবনারায়ন চন্দরপলের ২৯ রানের পরও মাত্র ১১৯ রানেই থেমে যায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে ১৫ রান দরকার ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ড্যারেন সামি দুটি চার মেরে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেলেও শেষ ৩ বলে মাত্র ২ রান নিতে সক্ষম হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড, ২০ জুলাই ২০১২: ষষ্ঠ ঘটনার স্বাক্ষী বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে নাসির হোসেনের ৩৩ বলে ৫০ ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ৩৮ রানে ভর করে সেদন ১৪৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০ রান। হাতে রয়েছে ৬ উইকেট। জয়ের প্রহর গুনছে আইরিশরা। তবে সেদিন আয়ারল্যান্ডের কাছ থেকে জয়টা কেড়ে নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে ১ রানে হারায় বাংলাদেশ।

১ রানের সেই হারগুলো
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ : চেন্নাইয়ের হাজার পঞ্চাশেক দর্শকের সামনে সেদিন ঝড় তুলেছিলেন ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। ৫৫ বলে ৯১ রান করে ভারতীয় বোলারদের অসহায় করে তোলেন এই ব্যাটসম্যান। ৫ উইকেটে ১৬৭ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। শুরুতে গম্ভীর ফিরলেও কোহলি ও রায়না হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শেষের দিক যুবরাজ চার ছয়ে ঝড় তুললেও অপরপ্রান্তে অধিনায়ক ধোনির শম্ভুকগতির ২৩ বলে ২২ রানের কারণে ১ রানে হার মানতে হয় ভারতকে।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ০২ অক্টোবর ২০১২ : শ্রীলংকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পবের্র ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১ রানে হারালেও রান রেটের ফাড়ায় পড়ে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় ভারত। রায়না-ধোনির লড়াইয়ে ১৫২ রানের ভালো স্কোর করে ভারত। সমীকরণ দাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১২১ রানে অলআউট করতে পারলে পাকিস্তানকে হটিয়ে সেমিফাইনালে উঠবে ভারত। তবে সেদিন ভারতের ইচ্ছায় বাঁধ সাধেন ডু প্লেসিস। অন্য প্রান্তে ব্যাটসম্যানরা যাওয়া আসা করলেও ৩৮ বলে ৬৫ রান করে ভারতকে সেমিফাইনাল বঞ্চিত রাখেন ডু প্লেসিস।

ভারত বনাম বাংলাদেশ, ২৩ মার্চ ২০১৬: এবার ১ রানে হারের দু:খে পুড়তে হয় বাংলাদেশকে। টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৪৬ রানের লক্ষ্য দেয় ভারত। শেষ ওভারের শেষ তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে ১ রানে হারতে হয় বাংলাদেশকে।

‘এক রান করে নিলেই হত’

ভারতের কাছে ১ রানের হারে ভীষণ হতাশ মাশরাফি বিন মুর্তজা। কাউকে দুষছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। তবে তিনি মনে করছেন, শেষে এক রান করে নিলেই সুপার টেনে প্রথম জয়টি পেয়ে যেতেন তারা।
ভারতের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানেই হেরেছিল বাংলাদেশ। সুযোগ এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, সেটাও কাজে লাগাতে পারেননি মাশরাফিরা।

ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়ায় মাশরাফি জানান, এদিন বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ, “আমরা শেষ বল পর্যন্ত খেলায় ছিলাম। এই সময়ে এক করে নিলেই হত… কিন্তু এটা হতেই পারে। মাত্র দুই দরকার ছিল কিন্তু এই সময়ে তিন বলে তিন উইকেট হারালাম।”

ভারতের বিপক্ষে জয় এসে পড়েছিল হাতের মুঠোয়। এভাবে হারাটা মানতেই পারছেন না অধিনায়ক, “এটা খুবই হতাশাজনক। আমরা সব মিলিয়ে ভালো খেলেছি, …কিন্তু দিন শেষে এটা খুবই হতাশাজনক ছিল আজকে।”

বুধবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শেষ তিন বলে দুই রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। হাতে ছিল চার উইকেট। হার্দিক পান্ডিয়ার করা বলে ছক্কায় ম্যাচ শেষ করতে গিয়ে শিখর ধাওয়ানের হাতে ধরা পড়েন মুশফিকুর রহিম।

প্রান্ত বদল করে স্ট্রাইক পাওয়া মাহমুদউল্লাহর সামনে সুযোগ ছিল এক রান নিয়ে দুই দলের স্কোর সমান করার। তিনিও ছক্কায় শেষ করতে গিয়ে সীমানায় রবিন্দ্র জাদেজাকে সহজ ক্যাচ দেন।

শেষ বলে শুভাগত হোম চৌধুরী বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি। তারপরও রান নিতে চেয়েছিলেন তিনি ও মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু ধোনির বুদ্ধির কাছে হার মানেন তারা, রান আউট হন মুস্তাফিজ।

শেষ ৩ বল ছাড়া ঠিক সবই

শেষ তিন বল জয় কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাঁচা-মরার ম্যাচেই সেই তিন বল ছাড়া পুরো ম্যাচে তার অসাধারণ খেলেছে বলে মনে করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বুধবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ১৪৬ রানে বেঁধে রাখে বাংলাদেশ। বোলারদের এই পারফরম্যান্সে খুশি মাশরাফি।

তামিম ইকবাল-সাব্বির রহমান-সাকিব আল হাসানরা জয়ের পথেই রেখেছিলেন বাংলাদেশ। মাশরাফি মনে করেন, শেষ দুই ওভারে পথ হারায় তার দল।

“জেতার জন্যে যতটুকু যতটুকু দরকার ছিল আমরা ঠিক ততটুকু ততটুকু করেছি। ওরা যতবার আমাদের ম্যাচ থেকে দূরে নিয়ে গেছে ততবার আমরা ফিরে এসেছিলাম। প্রত্যেকটি বল আমরা ঠিকমত খেলতে পেরেছি।”

মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনে সিংহভাগ সময় থেকেছে বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ তিন বল। ভাগ্য গড়ে দেওয়া সেই তিন বলে কিছুই মাশরাফিদের চাওয়া অনুযায়ী হয়নি। পরপর দুই বলে আউট হন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ।

শুভাগত হোম চৌধুরী শেষ বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি। বাই এক রান নিতে গিয়ে রান আউট হন মুস্তাফিজুর রহমান। সেই তিন বল ভুলতে অনেক সময় লাগবে বাংলাদেশের।

“আমি মনে করি, ওই তিনটি বল বাদ দিলে ম্যাচ জিততে হলে যতটুকু করা দরকার ততটুকু আমরা ঠিক মতই করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত এটা বড় হতাশার।”

আক্ষেপে পুড়ছে বাংলাদেশ

ভারতের কাছে এক রানের হার মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার। বাংলাদেশের অধিনায়ক জানিয়েছেন, তার মতো একই আক্ষেপে পুড়ছে পুরো দল।

মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানান, এই হার তার দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য গভীর হতাশার।

“আমার মনে হয় শুধু আমার না, ড্রেসিং রুমে যারা আছে তাদের সবার জন্যেই ম্যাচটি হতাশার। শেষ ৩ বলে আপনার লাগবে ২ রান। তখনও দুই সেট ব্যাটসম্যান ও একজন ব্যাটসম্যান লাইনআপে ছিল। ওই অবস্থায় ৩ উইকেট হারানো সবার জন্যেই খুব কঠিন।”

সে সময় ক্রিজে ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাথার দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। দুই জনই আউট হন উচ্চাভিলাষী শট খেলে। শুভাগত হোম চৌধুরীর মুখোমুখি হওয়া প্রথম বল ছিল ম্যাচের শেষ। সেই বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।

টি-টোয়েন্টিতে এটাই হত ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। সেই জয়ের এত কাছে এসেও এই ট্র্যাজেডি মানতে পারছেন না মাশরাফি।

“এটা শুধু আমার না, আমরা যারা খেলোয়াড় আছি, সবার জন্যেই এটা শকিং। এ ধরনের ম্যাচ কেউ হারে না। কেউ হারত না। এখন বোঝানো খুব কঠিন। তবে এটা হতাশাজনক।”

কাউকে দায় দিচ্ছেন না মাশরাফি

কাঠগড়ায় কোনো সতীর্থকে চাইলেই দাঁড় করাতে পারতেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে এক রানের অবিশ্বাস্য হারের পর কাউকে দুষছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক।

গত কিছু দিন তেমন কোনো সুখবর শোনেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট। সেই সুখবর আসতে পারত বুধবার। ভারতের বিপক্ষে জয় বিশ্বকাপেও টিকিয়ে রাখত মাশরাফির দলকে। কিন্তু শেষে তিন বলে দুই রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি দলটি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানান, আরেকটু তৎপর হলে হয়তো সব কিছু বাংলাদেশের পক্ষেই আসতে পারত।

“আমি কাউকে দায়ী করছি না। আমি কাউকে দায় দিচ্ছি না।”

জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে হৃদয় ভেঙে দেওয়া হারকে নিজেদের ক্রিকেটের জন্য বড় একটা ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তবে এই ধাক্কা সামলে এগিয়ে যেতে সতীর্থদের তাগিদ দেন মাশরাফি।

“আমাদেরকে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট তো এখানেই থেমে যেতে পারে না। আমাদেরকে এ অবস্থা থেকে এগিয়ে যেতে হবে।”

আগামী শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ।

শেষের চাপে সঠিক চিন্তা হয়নি

দলের সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটসম্যান যখন পথ হারান তখন আর কিছু করার থাকে না। নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ভারতের কাছে ১ রানে হারের পর মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছেন, শেষের দিকে তারা সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারেননি।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ১১ রান। প্রথম তিন বলে ৯ রান আসায় দরকারটা দাঁড়িয়েছিল দুই রানে। তিন বলে এই রান করা খুব কঠিন ছিল না, হাতে চার উইকেট থাকায় জয় তখন বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়।

কিন্তু পর পর দুই বলে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর দুই উচ্চাভিলাষী শট বিপদে ফেলে বাংলাদেশকে। অফ স্টাম্পের বাইরের শেষ বলে শুভাগত হোম চৌধুরী ব্যাট ছোঁয়াতে না পারায় হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানান, সেই সময়ে ব্যাটসম্যানরা হিসেবি থাকলে কোনো ঝুঁকি থাকত না। তিনি মনে করেন, মুশফিক যে বলে আউট হন সেটায় এক রান হয়ে গেলেই বাংলাদেশ নিরাপদ জায়গায় চলে যেত।

“ফিল্ডার একজনও উপরে ছিল না। সবাই বাইরে ছিল। ওই বলটায় এক হয়ে গেলে হয়ত আমরা ভালো পজিশনে থাকতাম। তখন থেকে ১ হয়ে গেলে আমাদের ২ বলে ১ রান লাগত।”

একই সুযোগ ছিল মাহমুদউল্লাহর সামনেও। তিনিও করেন মুশফিকের মতো একই ভুল। মাশরাফি মনে করেন, সেই পরিস্থিতি ঠিকমতো পড়তে পারেননি তারা।

“ওই অবস্থায় ওই সব (এক রান নিয়ে খেলা) চিন্তা করলেই ভালো হত। আমরা তা করতে পারিনি।”

অবিশ্বাস্য হার!

এম এস সাহাব : এটাকে কি বলা যায়! তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়া, নাকি নিজের তরী নিজে ডুবানো? মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদুল্লাহ যা করলেন তাকে তীরে এসে তরী ডুবানো বলাই শ্রেয়। তারাই ভারতের বিরুদ্ধে তাদের মাঠেই বাংলাদেশের জয়ের শতভাগ সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। শেষ তিন বলে ম্যাচ জিততে দরকার মাত্র ২ রান! আর টাই করতে প্রয়োজন ১। ক্রিজে ছিলেন দেশের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। যখন বেঙ্গালুরে টাইগারদের কর্তৃত্বে শত কোটি ভারতীয়দের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম, জয় যখন বাংলাদেশের সুনিশ্চিত, তখনই আত্মাহুতি দিলেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। দু’জনই ডুবালেন দলকে। জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে হতাশায় নিমজ্জিত করলেন গোটা বাংলাদেশকে। ৩ বলে দুই রান! অথচ তারা খেলতে গেলেন বিগ হিট। মুশফিরের পর একই ভুল মাহমুদুল্লার। আর তাতেই সর্বনাশ। হারদিক পান্ডে পর পর দুই চার মেরে বাংলাদেশকে জয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া মুশফিক আবার বল তুলে মারতে গিয়ে শেখর ধাওয়ানের কাছে ক্যাচ দিলেন। স্ট্রাইকে এলেন মাহমুদুল্লা। তিনিও সজোরে চালালেন বল। লং অনে বল তুলে দিলেন জাদেজার হাতে। আর তাতেই ম্যাচের গতি ঘুরে গেল। যে ম্যাচ জেতার কথা। তা হারে পরিণত হলো। শেষ বলেও এলো না রান। শুভগত ব্যাটে বল লাগাতেই পারেনি। বল সরাসরি চলে যায় ধোনির তালুতে। অবশ্য রান নেয়ার জন্য দৌড়েছিলেন তিনি ও মুস্তাফিজ। কিন্তু মুস্তাফিজ ক্রিজে পৌঁছার আগে তাকে রান আউট করে দেন ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি। সাথে সাথে নেচে উঠলো গোটা ভারত। আর উল্লাসের বদলে কান্নায় ডুবলো রাত জাগা টাইগারভক্তরা।
অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় মাত্র ১ রানে হেরে যেতে হলো বাংলাদেশকে। ভারতের করা ১৪৬ রানের জবাব দিতে নেমে ৯ উইকেটে ১৪৫ রানে থামলো বাংলাদেশের ইনিংস। এই হার অনেকদিন দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে মাশরাফিবাহিনীর। অথচ জয়ের কত কাছে চলে এসেছিল বাংলাদেশ। শেষ ওভারে ১১ রান প্রয়োজন। মুশফিকুর রহিম পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে জয়টাকে একেবারে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু দুটি সিঙ্গেল না নিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হলেন মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহর মত সিনিয়র ব্যাটসমানরা। এই দুটি আউটই হারিয়ে দিলো বাংলাদেশকে। শেষ বলে প্রয়োজন দুই রান। কিন্তু শুভাগত হোম ব্যাটেই বল লাগাতে পারেননি।
বাংলাদেশ নিশ্চিত জয় পাচ্ছিল যে ম্যাচে, সেই ম্যাচটিতে টান টান উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল শেষ মুহূর্তে। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ১৭ রান। শেষ ওভারে ১১ রান। বোলার ছিলেন হার্দিক পাণ্ডে। শেষ এই ওভারে নায়কে পরিণত হলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম বলে দিলেন ১ রান। দ্বিতীয় বলে মুশফিক মারলেন বাউন্ডারি। প্রতিটি বলের আগেই তৈরী হলো টান টান উত্তেজনা। ভারতীয় খেলোয়াড়রা বার বার পরামর্শ দিচ্ছিলেন পাণ্ডেকে। কিন্তু তৃতীয় বলে আবারও বাউন্ডারি মারলেন মুশফিক। তিন বলে প্রয়োজন ২ রান। কিন্তু চতুর্থ বলে এসে আবারও বাউন্ডারি মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন মুশফিক। ২ বলে প্রয়োজন ২ রান। ৫ম বলে ইজি বল ছক্কা মারতে গেলেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু এবারও ক্যাচ। আউট হয়ে গেলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। শুভাগত হোমের মত ব্যাটসম্যান ব্যাটেই বল লাগাতে পারলেন না। দৌড়েছিলেন রানের জন্য। তাও পারলেন না। রানআউট হয়ে গেলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
একই সঙ্গে ভারতের কাছে হেরে সেমিতে যাওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো বাংলাদেশের। গ্রুপ-২ এ এখন ভারতের পয়েন্ট ৪। বাংলাদেশের কোন পয়েন্ট নেই। অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান ২ করে। টানা তিন ম্যাচ জিতে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে রেখেছে নিউজিল্যান্ড।
১৪৭ রানের ল্েয খেলতে নেমে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। অবশ্য দু’বার লাইফ পেয়েছিলেন তিনি। একবার বোলারকে দিয়েছিলেন রিটার্ন ক্যাচ। আরেকবার জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবুও খুব বেশিদুর এগুতে পারলেন না বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনার। ৩৫ রান করে ফিরে যেতে হলো তাকে।
তবে আউট হওয়ার আগে দারুণা সূচনা এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ভারতের করা ১৪৬ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ১১ রানের মাথায় মোহাম্মদ মিঠুন আউট হয়ে গেলে যে বিপর্যয় তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, সেটা আপাতত কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। ৩২ বলে খেলা তার ৩৫ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৫টি বাউন্ডারির মার।
তার আগে ৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে যান মোহাম্মদ মিঠুন আলি। এরপর সাব্বির রহমান আর সাকিব আল হাসান মিলে দারুন একটি জুটি গড়ে তোলেন। যদিও দলের ৬৯ রানের মাথায় অমার্জনীয় এক ভুলে আউট হয়ে যান সাব্বির রহমান। ওয়াইড বলে সরতে গিয়ে ধোনির স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি।
সাকিব আল হাসানও সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন ১৫ বলে ২২ রান করেছিলেন তিনি। কিন্তু অশ্বিনের এক ঘুর্ণিতে স্লিপে রায়নার হাতে ক্যাচ দিলেন তিনি। মাশরাফি নেমেছিলেন ৫ নম্বরে। ইচ্ছা ছিল দ্রুত কিছু রান তোলা। কিন্তু ৫ বলে ৬ রান করে আউট হয়ে যান তিনিও। সৌম্য সরকারকে নামানো হয়েছিল ৭ নম্বরে। ২১ বল খেলে ২১ রান করে আউট হয়ে যান তিনিও।
মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহও আউট হলেন শেষ মুহূর্তে। অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা এবং হার্দিক পাণ্ডে নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন সুরেশ রায়না, এবং আশিষ নেহরা।

অ্যাকশন শোধরাতে তাসকিন-সানির পাশে সালাউদ্দিন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসতে অ্যাকশন শোধরানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির। এই দুই বোলারের অ্যাকশন শোধরাতে কোন বিশেষজ্ঞ কোচকে নিয়োগ দেওয়া হবে- এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বিসিবি। তবে বিসিবি পাড়ায় গুঞ্জন বিকেএসপির সাবেক কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকেই দেওয়া হতে পারে দায়িত্ব।
Salauddinসালাউদ্দিন কাজ করেন কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ায় ক্রিকেট কোচ হিসেবে। বর্তমানে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন ‍তিনি। স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক যখন নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তখন পুনবার্সনের কাজ করে সফল হয়েছিলেন সালাউদ্দিন। আব্দুর রাজ্জাক ফিরেছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। সোহাগ গাজীও শরণাপন্ন হয়েছিলেন সালাউদ্দিনের। মালয়েশিয়ায় গিয়ে সালাউদ্দিনের টিপস নিয়েছিলেন গাজী।
এবারও তাসকিন-সানির পুনর্বাসনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। আর দায়িত্ব পেলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই কাজ করবেন বলে জানালেন সফল এ কোচ। তিনি বলেন, আমাকে বিসিবি থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে দায়িত্ব দেওয়া হলে অবশ্যই করবো। নিষিদ্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা বোলারদের জন্য কতটু‍কু সম্ভবপর? -এমন প্রশ্নে সালাউদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানো সম্ভব। তবে বোলিংয়ে আগের সেই কার্যকারিতা থাকে না। সোহাগ গাজীও কিন্তু অ্যাকশন ঠিক করার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলো। কিন্তু তাকে আগের মতো করে পাওয়া যায়নি। অ্যাকশন ঠিক করে দেওয়া খুব সহজ কিন্তু বোলিংয়ে আগের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন।

যেখানে অনুপ্রেরণা খুঁজছেন সানি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদকে। অতীতেও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। তারা হলেন আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী ও আল-আমিন হোসেন।
এ তিনজনই ত্রুটি শুধরে আবার ফিরতে পেরেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে ফিরে আসায় শতভাগ সফল বাংলাদেশের বোলাররা। এখানেই ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি।
ব্যাঙ্গালুরু থেকে ঢাকায় ফিরে সে দৃষ্টান্তই তুলে ধরলেন সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া ক্রিকেটার আরাফাত সানি, ‘আসলে এরকম নিষেধাজ্ঞা অনেক বোলারের উপরেই এসেছে। আমাদের রাজ্জাক ভাই, সোহাগ গাজী, আল-আমিনদের সাথে এমন হয়েছে। যেহেতু তারা সবাই ফিরতে পেরেছে, সে জন্য আমি অতটা চিন্তিত নই। আমিও হয়তো তাদের মতো করেই কামব্যাক করবো।’
বোলিং অ্যাকশন শুধরে আল-আমিন হোসেন বেশ দাপট নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করে যাচ্ছেন। তবে, স্পিনারদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বোলিং করাটা একটু কঠিনই। অ্যাকশন শুধরে এসে রাজ্জাক-গাজীরা আন্তর্জাতিক ম্যাচে পুরনো ফর্ম ফিরে পাননি। সানি কি পারবেন এমন কঠিন চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে? সেটি জানতে অন্তত এক-দুই মাস সময় তো অপেক্ষা করতেই হবে।
ভারতের মাটিতে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর শেষ না করেই দেশে ফিরলেন আরাফাত সানি। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি।
বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে ভারত গিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার সানি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই উইকেট তুলে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদানও দিচ্ছিলেন ভালোভাবেই। কিন্তু এর আগে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচে অবৈধ বোলিংয়ের অভিযোগ ওঠে সানির বিরুদ্ধে। ল্যাবে বোলিং পরীক্ষা দিয়েই নামেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে। এরপর পরীক্ষার ফলাফলে সবকিছু ওলট-পালট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাঞ্জার খড়গ নেমে আসে সানির ওপর। এখন হুমকির মুখে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
তাই ভারত থেকে এক রাশ হতাশা সঙ্গী করে দেশে ফিরতে হলো সানিকে।

আবারও সৌম্য সরকারের অবিশ্বাস্য ক্যাচ

সৌম্য যেন উড়ন্ত পাখি। ঠিক বাজপাখির মত যেন শিকার ধরেন। ভারতের বিপক্ষে হার্দিক পাণ্ডের অসাধারণ একটি ক্যাচ ধরে আবারো নিজেকে বিশ্বসেরা ফিল্ডারেদের কাতারে নিয়ে গেলেন সৌম্য সরকার। স্কোয়ার লেগে আল আমিনের বলে পুল করলে দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে এক হাতে অসাধারণ একটি ক্যাচ লুফে নেন বাংলাদেশের অন্যতম এই সেরা ফিল্ডার।
সৌম্যের ক্যাচে দেখে ক্রিকেট বিশ্লেষক ইয়ান বিশপ বলেন, ‘মনে হচ্ছে ক্যাচেদের সেরা ক্যাচটি ধরলো সৌম্য। অসাধারণ।’ হার্শা বোগলে টুইট করেছেন, ‘সৌম্য সরকারের কাছ থেকে আরও একটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ দেখলাম। ক্রিকেটে সম্ভবত অন্যতম সেরা ফিল্ডারদের একজন সে।’
এর আগেও তিনি বিশ্বকাপে সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে মিড অনে বাউন্ডারি লাইনে মোহাম্মদ হাফিজের চোখ জুড়ানো একটি ক্যাচ নিয়েছিলেন। যেটির প্রশংসা করেছিলেন বিশ্বসেরা ফিল্ডার জন্টি রোডস।

গাভাস্কারকে জবাব দিলেন মাশরাফি

আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হারের পর সুনীল গাভাস্কার তোপ দাগিয়ে বলেছিলেন, ‘মাশরাফি কেন দলে?’ জবাবটা বোধ হয় এবার পেয়ে গেছেন ভারতের ব্যাটিং লিজেন্ড মিস্টার গাভাস্কার। তার দল ভারতের বিপক্ষেই দুর্দান্ত বল করে মাশরাফি জানিয়ে দিলেন, সত্যি সত্যি কেন তিনি দলে। উইকেট পাননি মাশরাফি। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেট নেয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ রান কম দেওয়া। আজ সে কাজটি করেছেন তিনি। বল করেছেন চার ওভার, রান দিয়েছেন ২২। ডট দিয়েছেন ৬টি। ওভার প্রতি গড় রান ৫.৫। ১২তম ওভারে নিজের কোটা শেষ করেন ম্যাশ। তখন ভারতের সংগ্রহ ৭৯ রান।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর, ভারতীয় মিডিয়া লিখেছিল একটা দিন খারাপ যেতেই পারে। কথাটা ধ্রুব সত্য। এক ম্যাচে খারাপ হতেই পারে। ভারতের মিডিয়ার খবরে তা যেন শুধু ভারতের জন্যই। মাশরাফির একটা খারাপ দিনকে নিয়ে তারা যেভাবে বলেছিলেন; এ যেন মার চাইতে মাসির দরদ বেশি হবার মত।
দলের কতটা ভালোবাসেন তা ভালো ভাবেই জানেন টাইগাররা। তাসকিনকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করায় কষ্টের পরিমাণ এতটাই ছিল যে সংবাদ সম্মেলনে কেঁদেই ফেলেছিলেন মাশরাফি। ভাঙ্গা মনোবল নিয়েও অসিদের বিপক্ষে যে লড়াই করেছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

ভারতকে হারাতে চাই ১৪৭ রান

সাত ম্যাচ পর টস জয়ের স্বস্তি। আরও বড় স্বস্তি হয়ে এলো বোলারদের নিয়ন্ত্রিত শুরু। শরীরী ভাষায় চেনা বারুদ, ফিল্ডিং হলো দুর্দান্ত। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্ব ক্ষুরধার। সব মিলিয়ে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকে বাংলাদেশ থামাল দেড়শর নিচেই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেনে প্রথম জয়ের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ ভারতকে আটকে দিয়েছে ১৪৬ রানে।
শুরু থেকেই বারবার বোলার বদলে ভারতীয় ওপেনারদের থিতু হতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন বোলররাও। প্রথম ৫ ওভারে উইকেট না এলেও রোহিত ও ধাওয়ানের মতো দুই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান তুলতে পেরেছেন মাত্র ২৭ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মুস্তাফিজের দুটি বল জুতসই জায়গায় পেয়ে ছক্কা মারেন দুই ব্যাটসম্যান। জবাবটাও দ্রুতই দেন মুস্তাফিজ, ওভারের শেষ বলে ফিরিয়ে দেন রোহিতকে (১৮)।
ওই ডেলিভারির ঠিক আগেই ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে সাব্বিরকে বৃত্তের ভেতরে টেনে আনেন মাশরাফি। ফাঁকা রেখে দেন অন সাইডে পুরো সীমানা। ফাঁদে পা দিয়ে সীমানা পার করতে গিয়েছিলেন রোহিত, ধরা পড়েন ভেতরে আনা সেই সাব্বিরের হাতেই। পরের ওভারেই ফুল লেংথ এক বলে সাকিব ফেরান ধাওয়ানকে (২৩)। উজ্জীবিত বাংলাদেশের বোলাররা চেপে ধরে নতুন দুই ব্যাটসম্যান কোহলি ও রায়নাকে। টানা ২৯ বলে ছিল না বাউন্ডারি।
রানের জন্য ছটফট করতে থাকা দুই ব্যাটসম্যানই পান জীবন, যদিও দুটি ক্যাচই ছিল ভীষণ কঠিন। কোহলির ফিরতি ক্যাচ ফলো থ্রোতে হাতে জমাতে পারেননি আল আমিন। এক বল পরই স্কয়ার লেগ সীমানায় বল হাতে নিতে পারেননি শুভাগত, রায়না পান ছক্কা। পরের বলেই মারেন আরেকটি ছয়। শুভাগতর ফুলটসে কোহলির ছক্কায় জুটি স্পর্শ করে পঞ্চাশ। জুটি থেমেছে ওখানেই, পরের বলেই স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড ভারতের সেরা ব্যাটসম্যান (২৪)।
আগের ওভারে দুই ছক্কার জবাব দিলেন আল আমিন টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে। রায়্নার (২৩ বলে ৩০) সঙ্গে দ্বৈরথে জিতেছেন সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে। রান বাড়াতে প্রমোশন পাওয়া হার্দিক পান্ডিয়া (৭ বলে ১৫) বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন। তিনিও শিকার আল আমিনের। যদিও এই উইকেটকে শুধুই নিজের দাবি করতে পারেন সৌম্য সরকার।
পান্ডিয়ার পুল শটে টাইমিং ছিল দুর্দান্ত, বল সীমানায় যাচ্ছিল গোলার বেগে। সৌম্য ছুটলেন, বল যখন নিচু হয়ে স্পর্শ করতে যাচ্ছেছ ঘাস, সৌম্য ঝাঁপালেন চিতার ক্ষিপ্রতায়। এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ক্যাচ!
জোড়া শিকারে তখন দারুণ উজ্জীবিত দল। মাহমুদউল্লাহ প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দিলেন যুবরাজ সিংকে (৩)। রানের গতিও গেল থমকে। শেষ দিকেও টানা ১৯ বলে হলো না বাউন্ডারি। শেষের আগের ওভারে অবশ্য ৩টি চার গুণেছেন আল আমিন। তবে শেষ ওভারে ধোনিকে বড় কিছু করতে দেননি মুস্তাফিজ। রানটা তাই থাকল বাংলাদেশের নাগালেই।
রান তাড়ার আদর্শ মাঠে ম্যাচের শুরুতে এই লক্ষ্যের কথা বললে নিশ্চয়ই হাসিমুখেই মেনে নিত বাংলাদেশ!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৪৬/৭ (রোহিত ১৮, ধাওয়ান ২৩, কোহলি ২৪, রায়না ৩০, পান্ডিয়া ১৫, ধোনি ১৩*, যুবরাজ ৩, জাদেজা ১২, অশ্বিন ৫*; মাশরাফি ০/২২, শুভাগত ১/২৪, আল আমিন ২/৩৭, মুস্তাফিজ ২/৩৪, সাকিব ১/২৩, মাহমুদউল্লাহ ১/৩)।

সাত ম্যাচ পর টস জিতলেন মাশরাফি

ম্যাচ ভাগ্যের মত মাশরাফির টস ভাগ্যটাও অনেকদিন ছেলেখেলা করছিল। সুপার টেনের দুই ম্যাচে এখনো জয়ের দেখা পাননি মাশরাফি। অবশেষে ভাগ্য সহায় হল মাশরাফির। টানা সাত ম্যাচ টসে হারার পর অবশেষে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে এসে টসে জিতলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। টসে জিতেই স্পিনিং উইকেটে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টাইগার দল নেতা।
এর আগে সর্বশেষ এশিয়া কাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে শেষবার টসে জিতেছিলেন মাশরাফি। ওই ম্যাচটিও জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সামনে ভারত। যদিও প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন।
ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানো অনেক কঠিনই বলা চলে সেখানে বাংলাদেশের নেই দুই সেরা বোলার তাসকিন এবং আরাফাত সানি। তবুও দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে ভারতের বিপক্ষে ভালো কিছু করার আশাবাদী অধিনায়ক মাশরাফি।

বাংলাদেশের সামনে কোণঠাসা ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একের পর এক অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরে বিস্ময় সৃষ্টি করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সৌম্য সরকার। পাকিস্তানের বিপক্ষে মোহাম্মদ হাফিজের অসাধারণ ক্যাচ ধরার পর ভারতের ব্যাটসম্যান হার্দিক পাণ্ডেরও অসাধারণ ক্যাচ ধরলেন তিনি। রীতিমত বিস্ময়কর। আর পরপর দুই বলে রায়না এবং হার্দিক পাণ্ডেকে ফিরিয়ে দিয়ে অসাধারণভাবে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে আনলেন আল আমিন হোসেন।
কোহলি আউট হওয়ার পর মাঠে নেমেই যেন ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পাণ্ডে। ৭ বলেই ২টি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কায় ১৫ রান করেছিলেন পাণ্ডে। কিন্তু তাকে অসাধারণ ক্যাচে ফিরিয়ে দিলেন আল আমিন আর সৌম্য সরকার। হার্দিক পাণ্ডের পর আউট হলেন যুবরাজ সিংও। মাহমুদুল্লাহর বলে আল আমিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন যুবরাজ সিং।
তার আগের বলেই ফিরিয়েছিলেন সুরেষ রায়নাকে। বিরাট কোহলির মত বিধ্বংসী হয়ে উঠছিলেন সুরেশ রায়না। ২৩ বলে ৩০ রান করেছিলেন তিনি। কিন্তু আল আমিনের বলে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রায়না।
তার আগে ফিরেছিলেন বিরাট কোহলিও। ২৪ বলে করলেন মাত্র ২৪ রান। মাশরাফি এবং সাকিবরা যখন উইকেট পাচ্ছিলেন না, তখন শুভাগতকেই বোলিংয়ে নিয়ে আসেন মাশরাফি। ১৪তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি। এরপর একটি সিঙ্গেল। পরের বলেও খেলেন ছক্কা। এরপরের বলেই অসাধারণ ডেলিভারিতে বোল্ড করে দিলেন বিরাট কোহলিকে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একটু সতর্কভাবেই শুরু করেছিল ভারত। কিন্তু বোলিংয়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আসার পর কেন যেন হঠাৎ করে বিধ্বংসী হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ান। তবে, শেষ রক্ষা আর করতে পারলেন না রোহিম শর্মা। ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছক্কা মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন রোহিত। মিডউইকেটে ক্যাচটি লুফে নেন সাব্বির রহমান।
৭ম ওভারেই আউট হয়ে গেলেন শিখর ধাওয়ান। ওভারের শেষ বলে সাকিব আল হাসানের বলে শট খেলতে গিয়ে পুরোপুরি পরাস্ত হন। জোরালো আবেদন উঠতেই আঙ্গুল তুলে দিলেন আম্পায়ার অক্সেনফোর্ড।
প্রথম ওভারেই বল করতে এসেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দ্বিতীয় ওভার তুলে দিয়েছিলেন শুভাগত হোমের হাতে। এরপর আনা হয় আল আমিনকে। চার নম্বরে আসেন মু্স্তাফিজ।
এ রিপোর্ট লেখার সময় ভারতের রান ১৭ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৮। উইকেটে ধোনি ৩ রান নিয়ে এবং রবিন্দ্র জাদেজা রয়েছেন ০ রানে।শর্মাকে (১৬ বলে ১৮ রান) ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার স্লোয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত হন রোহিত। মুস্তাফিজুর রহমানের পর আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। এই বাঁহাতি স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হন শিখর ধাওয়ান (২২ বলে ২৩ রান)।
দুঃসংবাদ দিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ পেয়েছে দুটি সুসংবাদ। টানা সাত ম্যাচে টস হারের পর এবার জিতেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অসুস্থতা কাটিয়ে একাদশে ফিরেছেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। বুধবার এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছেন নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি।
এর আগে দিনের শুরুতে আইসিসি জানায়, শুনানির পর জুডিশিয়াল কমিশনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ের ওপর আনা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন।
টের পীড়ায় গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তামিম। বুধবার ম্যাচ শুরুর আগেই দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শারীরিকভাবে খানিকটা দুর্বল হলেও ভারতের বিপক্ষে খেলবেন তামিম। ছন্দে থাকা বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফেরায় বাদ পড়েছেন সাকলাইন সজীব।
এর আগে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে বাংলাদেশ। গাণিতিক আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। নিউ জিল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করে ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে দলটি। এই গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে সবার আগে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নিউ জিল্যান্ড।

একাদশে ফিরলেন তামিম

সুপার টেনের প্রথম দু’ম্যাচ হেরে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে বাংলাদেশের। তৃতীয় ম্যাচে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সাকলাইন সজীবের পরিবর্তে দলে ফিরেছেন ইনফর্ম ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল।
দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেটের পীড়া এবং জ্বরের কারণে খেলতে পারেননি তামিম। তবে জ্বল্পনা ছিল সৌম্য সরকারকে নিয়ে। ফর্মে না থাকায় তাকে বাদ দেয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও, শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো দলে ঠিকই রয়েছেন সৌম্য সরকার। অথ্যাৎ দলে একটি মাত্র পরিবর্তণ আনা হয়েছে। সুতরাং, আবারও উপেক্ষিত হলেন নাসির হোসেন।
বাংলাদেশ একাদশ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, শুভাগত হোম, মাশরাফি মুর্তজা, আল আমিন হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান।
ভারত একাদশ
রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, আশিষ নেহরা, বুমরাহ।

আফগান ‘বাধা’ কাটিয়ে সেমির পথে ইংল্যান্ড

আফগানিস্তানকে ১৫ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকল ইংল্যান্ড। আফগান বোলিং তোপে শুরুর ধাক্কা সামলে মঈন আলীর ব্যাটে সাত উইকেটে ১৪২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংলিশরা। জবাবে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫ ‍রানের আক্ষেপে পুড়ে আফগানরা।
বুধবার দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতে ইংলিশ ইনিংসের পুনরাবৃত্তি ঘটায় আফগানিস্তান। ৩৯ রানের মধ্যে তারা পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ডেভিড উইলির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মোহাম্মদ শাহজাদ। অধিনায়ক আসগর স্ত্যানিকজাই মাত্র ১ রান করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। এরপর ‍আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি।
সর্বোচ্চ ৩৫ রান (২০ বলে) করে অপরাজিত থাকেন ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা শফিকউল্লাহ। ১৭তম সাজঘরে ফেরেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি (২২)। এছাড়া ওপেনার নুর আলী জাদরান ১৭, রশিদ খান ১৫, মোহাম্মদ নবী ১২ ও নাজিবুল্লাহ জাদরান (রান আউট) ১৪ রান করে আউট হন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৪ রানের বিপরীতে বেন স্টোকসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৮ রান নিতে সমর্থ হন শফিকউল্লাহ। দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১২৭।
ইংলিশ বোলারদের মধ্যে দু’টি করে উইকেট লাভ করেন উইলি ও আদিল রশিদ। একটি করে উইকেট নেন ক্রিস জর্ডান, মঈন আলী ও বেন স্টোকস।
সুপার টেনে গ্রুপ ‘ওয়ান’ এ নিজেদের আগের ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ২৩০ রানের লক্ষ্যটা অনায়াসেই টপকে যায় ইংল্যান্ড। তবে দিল্লির উইকেটে আফগান বোলিংয়ের সামনে রীতিমতো হিমশিম খায় ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপ।
অাগে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৫৭ রানের মধ্যেই ছয় উইকেট হারিয়ে এক প্রকার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইংলিশরা। তবে সপ্তম উইকেটে ক্রিস জর্ডানের সঙ্গে ২৮ ও অষ্টম উইকেটে ডেভিড উইলির (২০ অপ.) সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রানের জুটিতে মাঝারি পুঁজি এনে দেন মঈন আলী। এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৩৩ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ওভার শেষে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় সাত উইকেটে ১৪২।
দুই ওপেনার জেসন রয় (৫) ও জেমস ভিঞ্চি ২২ রান করে আউট হন। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক জো রুট (১২) রান আউটের ফাঁদে পড়েন। মোহাম্মদ নবীর বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মরগান। বেন স্টোকস ৭ ও জস বাটলার ৬ ও পেসার ক্রিস জর্ডানের ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান।
আফগানদের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবী। একটি করে উইকেট লাভ করেন আমির হামজা ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি।
গুরুত্বপূর্ণ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে চার থেকে দুই নম্বরে উঠে এলো ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় ও এক পরাজয়ে ইংলিশদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। সমান পয়েন্টে রান-রেটে এগিয়ে থাকায় শীর্ষেই এক ম্যাচ কম খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টানা তিন হারে তলানিতে আফগানিস্তান। দুই ম্যাচে সমান এক জয়ে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

দুঃসংবাদ দিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ পেয়েছে দুটি সুসংবাদ। টানা সাত ম্যাচে টস হারের পর এবার জিতেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অসুস্থতা কাটিয়ে একাদশে ফিরেছেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল।
বুধবার এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছেন নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি।
এর আগে দিনের শুরুতে আইসিসি জানায়, শুনানির পর জুডিশিয়াল কমিশনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ের ওপর আনা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন।
পেটের পীড়ায় গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তামিম। বুধবার ম্যাচ শুরুর আগেই দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শারীরিকভাবে খানিকটা দুর্বল হলেও ভারতের বিপক্ষে খেলবেন তামিম।
ছন্দে থাকা বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফেরায় বাদ পড়েছেন সাকলাইন সজীব। এর আগে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে বাংলাদেশ। গাণিতিক আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে।
নিউ জিল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করে ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে দলটি। এই গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে সবার আগে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নিউ জিল্যান্ড।

মঈন আলির নৈপুন্যে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ১৪২

আফগান বোলিংয়ে শুরু থেকে দিশেহারা ইংল্যান্ডের শোচনীয় পরাজয়ই আজ ভেবে নিয়েছিল সবাই। পুঁচকে আফগানিস্তানের সামনে ১০০ রানও করতে পারে কি না ইংলিশরা, সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় সংশয়ের। অথচ, শেষ মুহূর্তে এসে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিল ইংল্যান্ড। এক মঈন আলির নৈপুন্যেই আফগানিস্তানের সামনে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। ৩৩ বলে ৪১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন আলি এবং তার সঙ্গী ডেভিড উইলি ১৭ বলে অপরাজিত থাকেন ২০ রানে।
অথচ প্রথম থেকে কী অসাধারণ বোলিংই না করে আসছিল আফগান বোলাররা। মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, আমির হামজা কিংবা সামিউল্লাহ সেনওয়ারিদের বোলিং তোপে একের পর এক উইকেট হারাতে শুরু করে ইংল্যান্ড। এক সময় তো মোহাম্মদ নবী হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরী করেন। ১৫তম ওভারে ৮৫ রানে ৭ উইকেট হারানোর পরই মঈন আলি আর ডেভিড উইলির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড।
শেষ ৫ ওভারে ৫৫ রান তোলে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। শেষ চার ওভারেই উঠেছে ৪৪ রান। অথচ ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে পরপর দুই বলে জেমস ভিন্স এবং ইয়ন মরগ্যানকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তেরী করেছিলেন আফগান ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন মোহাম্মদ নবী। হ্যাটট্রিক ঠেকানোর জন্য ক্রিজে আসেন বেন স্টোকস। বলটাকে ফ্লাইট ডেলিভারিতে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন নবী। স্টোকস পরাস্ত হলেন। বল আঘাত করলো প্যাডে। জোরালো আবেদন ১১ আফগান ক্রিকেটারের। কিন্তু আম্পায়ার এস রবির মন গললো না তাতে। হ্যাটট্রিকটাও আর হলো না আফগানদের।
কিন্তু তাতে কী, হ্যাটট্রিক না পাওয়ার দুঃখকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিলেন না খোদ ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুটই। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে সেই মোহাম্মদ নবীর হাতেই রানআউটের খাঁড়ায় কাটা পড়লেন। এক ওভারে, ৪ বলের ব্যবধানে তিনজন ইংলিশ ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়ে দিল আফগান বোলাররা। মূলতঃ এভাবেই আফগানদের সামনে রীতিমত অসহায় হয়ে পড়েছে শিরোপা প্রত্যাশী ইংল্যান্ড।
নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় মুখোমুখি ইংল্যান্ড এবং আফগানিস্তান। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারের শেষ বলেই জ্যাসন রয়ের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আমির হামজার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৬ষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে জেমস ভিন্স রিটার্ন ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ নবীর হাতে।
পরের বলে নবীর ঘূর্ণি বলটি বুঝতেই পারেননি ইয়ন মরগ্যান। ব্যাট উঁচিয়ে ছেড়ে দিতে চাইলেন। কিন্তু বল সরাসরি আঘাত হানলো তার স্ট্যাম্পে। এরপর হ্যাটট্রিক চান্সটা আম্পায়ার এস রবির কারণে পেলেন না নবী। তবে পরের বলেই রান আউট হয়ে গেলেন জো রুট। ৯ম ওভারের প্রথম বলে রশিদ খানের বলে মাটি কামড়ানো ক্যাচ তালুবন্দী করেন মোহাম্মদ নবী। অথ্যাৎ ৫০ রানেই নাই হয়ে যায় ইংল্যান্ডের ৫ উইকেট।
এরপর ৫৭ এবং ৮৫ রানের মাথায় আরও দুই উইকেটের পতন। এরপরই ইংলিশরা ঘুরে দাঁড়ায়। মঈন আলির ৩৩ বলে ৪১ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৪টি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কার মার। উইলি মারেন ২টি ছক্কা। মোহাম্মদ নবি এবং রশিদ খান নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন আমির হামজা এবং সামিউল্লাহ সেনওয়ারি।

রুবেল কোথায়?

বুধবার হয়তো পুরো বাংলাদেশ তার দিকে তাকিয়ে থাকত৷ দেখতে চাইত, তার সঙ্গে বিরাট কোহলির চেনা লড়াই৷ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উত্তরণের সেই অন্যতম নায়ক পেসার রুবেল হোসেনকেই বুধবার রাতে বসতে হবে টিভির সামনে৷ চোটের কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা রুবেল বেঙ্গালুরুর ভারত-বাংলাদেশ বিশ্বকাপ আবহ থেকে বহু দূরে। তিনি এখন অবস্থান করছেন বাগেরহাটে।
ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রুবেল বলেন, ‘কার আর নিজের টিমের খেলা টিভিতে দেখতে ভালো লাগে? কিন্তু কী করা যাবে, চোটের উপর তো কারও হাত নেই৷ এটাই জীবন।’
বিরাট কোহলিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে দেখলে নিজেকে সামলাতে পারবেন না তিনি। রুবেলের গলায় অসহিষ্ণুতা, ‘বিরাটের সঙ্গে লড়াইটা খুব মিস করব৷ আসলে ওর সঙ্গে আমার লড়াইটা অনেক পুরোনো, আন্ডার নাইন্টিন থেকে৷ মাঠের মধ্যে অনেকবার ঝগড়া হয়েছে৷ সবই কিন্তু মাঠের মধ্যে৷ মাঠের বাইরে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো৷
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তাসকিন আহমেদ নিষিদ্ধ। এখন মাশরাফির টিমের তাকে কতটা প্রয়োজন উপলব্ধি করেই রুবেলের বক্তব্য, ‘এখন আমি পুরো সুস্থ৷ কিন্তু যা হয়নি তা নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই৷ আমাদের টিম জিতলেই আমি খুশি৷ এখনও দুটো ম্যাচ আছে, সেই দুটো ম্যাচের জন্য এখান থেকেই গলা ফাটাব৷ ‘
তাসকিনের মনোবল বাড়ানোর জন্য তাকে ফোনও করেছিলেন রুবেল। বুঝিয়েছেন জীবনের কঠিন মুহূর্তে কী ভাবে ফোকাস ধরে রাখতে হয়৷
গত বছর প্রেমিকা অভিনেত্রী হ্যাপির সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে তাকে জেলে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল৷ এখন হ্যাপি রুবেলের জীবনে নেই৷ ওই বিতর্কও শেষ৷ জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রুবেল নিশ্চিত, কঠিন সময়ের মধ্যে থাকাটা বাড়তি তাগিদ এনে দেবে বাংলাদেশ শিবিরে৷

ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছেন তামিম

অসুস্থতার কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে না খেললেও ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামছেন হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের অভাব সেদিন টের পেয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফিসহ টাইগার সমর্থকরা।
বুধবার বেঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে তামিমের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে অধিনায়ক মাশরাফিকে অনেকটাই নির্ভার করবে। বিশ্বকাপের চলতি আসরে চার ম্যাচ খেলে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে ব্যাটসম্যানের তালিকায় তামিম রয়েছেন শীর্ষে। ওমানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হাঁকিয়েছেন দুরুন্ত এক সেঞ্চুরি।
চলতি আসরে তামিমের ব্যাটিং গড় ১২৮.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৫৩.৮৯। একটি শতক ছাড়াও তার ব্যাট থেকে এসেছে দুর্দান্ত একটি অর্ধশতক।

পাপন এলেন, দেখলেন, কিছুই বললেন না

তাসকিন আহমেদের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে আইসিসি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরু এসেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
পাপনের বেঙ্গালুরু আসার পরদিন বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাসকিনের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা জানায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
তাসকিন প্রসঙ্গে আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত জানানোর পর বেলা ১১টার দিকে টিম হোটেল রিজ কার্লটনে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে যান বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু হোটেলে প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান।
তারা বলেন, পাপন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথার বলবেন এমন কোনো তথ্যই তাদের কাছে নেই। তাই কোনোভাবেই হোটেলে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
ফলে দুপুরের কাঠফাটা রোদের মধ্যে হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে সংবাদকর্মীরা অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অপক্ষোর পর বের হয়ে আসেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।
বের হয়ে এসে সুজন বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন এটা কে বলেছে? আমরা তো আপনাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানাইনি।’ ততক্ষণে অবশ্য অধিকাংশ সংবাদকর্মী ক্ষোভে হোটেল চত্বর ত্যাগ করেছেন।
এরপরে অবশ্য তিনি জানান, ‘আপনারা এসেছেন শুনে ব্রিফিংয়ের জন্য আমরা একটি রুম রেডি করেছি আসেন।’ ততক্ষণে অনেক দেরি করে ফেলেছেন সুজন। সহকর্মীরা চলে যাওয়ায় সুজনের এ আহ্বানের পর বাদ বাকি সংবাদকর্মীরাও হোটেল চত্বর ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাতে বাংলাদেশের এক বেসরকারি টিভি চ্যানলের সাংবাদিককে পাপন জানিয়েছিলেন যে তিনি পরদিন বুধবার দুপুর ১টায় (২৩ মার্চ) তাসকিন ইস্যুত গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন।

তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল

তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে আইসিসিকে মেইল করে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আইসিসির পক্ষ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় নিয়মানুযায়ী জুডিশিয়াল কমিশনারের কাছে রিভিউয়ের জন্য আবেদন করে বিসিবি। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে আইসিসি জুডিশিয়াল কমিশন। বুধবার (২৩ মার্চ) আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুরে ব্যাঙ্গালুরু যান বিসিবি প্রধান। আইসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতেই তিনি ব্যাঙ্গালুরু  গেছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ এবং স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন দুই অনফিল্ড আম্পায়ার এস রবি এবং রড টাকার। এর পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অভিযোগ তোলে আইসিসিও।

এরপর গত ১২ মার্চ সানি ও ১৫ মার্চ তাসকিন চেন্নাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেকানিক্যাল সেন্টারে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে আসেন। সানির পরীক্ষার ফলাফল এক সপ্তাহ পর দিলেও তাসকিনের ফলাফল পাওয়া যায় চার দিনের মাথায়। এতে নিষিদ্ধ হন দু’জনই।

ভারতের বিপক্ষে রাতে মাঠে নামছে টাইগাররা

ক্রিকেট
টি২০ বিশ্বকাপ
ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান
সরাসরি, বিকাল ৩টা ৩০ মি.

বাংলাদেশ ও ভারত
সরাসরি, রাত ৮টা
গাজী টিভি ও স্টার স্পোর্টস ১

ফুটবল
স্প্যানিশ ফুটবল
লা লিগা
রিয়াল মাদ্রিদ ও সেভিয়া
পুনঃপ্রচার, রাত ১২টা
সনি ইএসপিএন

ইতালিয়ান সিরি`আ
নাপোলি ও জেনোয়া
পুনঃপ্রচার, রাত ৮টা ৩০ মি.
সনি ইএসপিএন

দ্বিতীয় মওকা মওকার দারুণ জবাব বাংলাদেশি সমর্থকের (ভিডিও)

দুই দেশের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আছে বন্ধুত্ব, আতিথ্য ও সম্প্রীতি। কিন্তু গেল বিশ্বকাপ থেকে দুই দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে ভার্চুয়াল জগতে শুরু হয়েছে চরম মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব। যদিও এখানে ভারতের একটা আধিপত্যের রেশ আছেই। আইসিসিকে তাদেরই প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বলে অভিহিত করছেন ক্রিকেট সমর্থকরা। এর নানা কারণও আছে। গত বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বাংলাদেশের বিতর্কিত পরাজয়ের পর থেকেই অনলাইন যুদ্ধটা আরো জমে উঠেছে।

ভারতীয় সমর্থকদের প্রথম ‘মওকা মওকা’র পর বাংলাদেশিদের ‘বাঁশ’ তথা ব্যাম্বু ও হাতে হারিকেন ভিডিও বেশ আলোড়ন তোলে। এরপর বাংলাদেশ সফরে এসে ধোনি বাহিনী জবাবও পায়।

কিন্তু এবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিতর্ক আরো জমে উঠেছে। আর এশিয়াকাপ চলাকালীন তাসকিনের হাতে ধোনির কাটা মুণ্ডুর ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় অনলাইন জগতে। যদিও এ ছবির ফটোশপ এডিশন ভারতীয় সমর্থকের হাত দিয়েই ছড়ায় বলে অভিযোগ উঠে।

কিন্তু এরপর ঘটে যায় বেদনাদায়ক অধ্যায়। তাসকিন-সানির বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করে আইসিসি। সেই সুযোগে ভারতীয় সমর্থকরা বাংলাদেশিদের কাটা ঘায়ে নুনের ছেটা দিয়ে তৈরি করে ‘মওকা মওকা’ নামক ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিওর দ্বিতীয় ভার্সন। এরই জবাবে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশি সমর্থকরাও আইসিসি ও ভারতকে ব্যঙ্গ করে আরেকটি ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করেছে।

আবারো নিজের রূপে ফিরবে বাংলাদেশ : মুশফিক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জয় না পেলেও প্রতিপক্ষের সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। কখনও ব্যাট হাতে, কখনও বল হাতে জ্বলে উঠছে টাইগাররা। তাইতো বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ এখন এক অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি।

তবে দলের এমন সব ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন হয়েছে কয়েকজন খেলোয়াড়ের। তাদের মধ্যে অন্যতম মুশফিকুর রহিম। ব্যাট হাতে  বাংলাদেশের অনেক ম্যাচে সাফল্য এনে দিলেও এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেনি তিনি। তারপরও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে স্বরুপে ফেরার প্রত্যয় তার। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাংলাদেশ দলের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই টাইগার ব্যাটসম্যান।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, দলকে যারা দিনের পর দিন সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। এখন হয়তো সময়টা ভালো যাচ্ছেনা … কিন্তু বাংলাদেশ আবার নিজের রুপে ফিরে আসবেই। চলো বাংলাদেশ! দোয়া করবেন আজকের ম্যাচের জন্য।

উল্লেখ্য, নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় ভারতের মোকাবেলা করবে মাশরাফি-সাকিবরা।

পাকিস্তানকে হারিয়ে সবার আগে সেমিতে নিউজিল্যান্ড

জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হতো পাকিস্তানকে। ১৮০ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড যে তাদের নেই আর! সেই রেকর্ডটা অবশ্য মোহালির আই এস বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে গড়তে পারলো না শহিদ আফ্রিদির দল। বরং পাকিস্তানকে ২২ রানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সবার আগে সেমি ফাইনালটা নিশ্চিত করে ফেললো দুর্দান্ত গতিতে উড়তে থাকা নিউজিল্যান্ড।
টানা তিন ম্যাচ জিতেছে কিউইরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের। সে সঙ্গে এই ম্যাচে হেরে সেমির লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়লো পাকিস্তান। তিন ম্যাচের মধ্যে ২টিতেই হেরেছে তারা।
১৮১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান থেমে গেছে ৫ উইকেটে ১৫৮ রানে। অথচ, শুরুটা তারা যেভাবে করেছিল, তাতে মনে হচ্ছিল রেকর্ডটা তারা আজ গড়েই ফেলবে। ৪ ওভারেই ৫০ রান পার হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের দুই ওপেনার। শারজিল খান এবং আহমেদ শেহজাদের ৫.৩ ওভারেই ৬৫ রানের জুটিতে আঘাত হেনে পাকিস্তানের স্বপ্নে প্রথম ধাক্কা দেন অ্যাডাম মিলনে। ২৫ বলে ৪৭ রান করে আউট হন শারজিল খান। এরপর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন এবং রান রেট কমতে থাকে পাকিস্তানের।
পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন আফ্রিদি। ৮ বলে ১৯ রান করার পর সবাই ভেবেছিল, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে হয়তো পাকিস্তানকে জিতিয়ে ছাড়বেন আফ্রিদি। কিন্তু ইশ শোধির বলে অ্যান্ডারসনের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন তিনিও। উমর আকমলের ২৪, শোয়েব মালিকের ১৫, সরফরাজ আহমেদের ১১ এবং আহমেদ শেহজাদের ৩০ রানও বাঁচাতে পারেনি পাকিস্তানকে।
নিউজিল্যান্ডের মিচেল সান্তনার এবং অ্যাডাম মিলনে নেন ২টি করে উইকেট। ইশ শোধি নেন বাকি উইকেটটি। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মার্টিন গাপটিলের ৪৮ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ড ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় পাকিস্তানের বিপক্ষে। রস টেলর ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

আলোচনায় এখন নাসির

আগামী ম্যাচেই দলে ফিরতে পারেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।অধিনায়ক জানান, সামনেই সুযোগ আসতে পারে নাসিরের।
ঘরের মাঠের এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব মিলিয়ে টাইগারদের খেলা সর্বশেষ ৯টি টি-২০ ম্যাচের মাত্র দুটিতে মূল একাদশে ছিলেন নাসির। এশিয়া কাপের ফাইনালের পর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দলে ছিলেন তিনি।
দলের অন্যতম সেরা ‘ফিনিশার’ নাসির দলে না থাকায় প্রশ্ন ক্রিকেট ভক্তদের। তাদের একটাই প্রশ্ন, নাসির হোসেন কেনো মূল একাদশে নেই? ভক্তদের অনেকেই বলছেন, আমরা কোচের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করছি না। সানির জায়গায় সজিব খেলবেন ঠিক আছে। ভ্রমণের কারণে ক্লান্ত হইলেও বিকল্প নাই। কিন্তু, ক্লান্ত শুভাগত হোম কেনো? যেখানে নাসির আগের থেকেই দলের সঙ্গে আছেন।
সোমবার ব্যাঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে হারের পর সংবাদ সম্মেলনেও নাসিরকে দলে না রাখা নিয়ে প্রশ্ন আসে। জবাবে অধিনায়ক মাশরাফি জানান, সামনেই সুযোগ আসতে পারে নাসিরের।
মাশরাফি বলেন, ‘নাসির অবশ্যই আমাদের কম্বিনেশনে আছে, সব সময় থাকবেও। একাদশে রাখা হচ্ছে না কারণ কম্বিনেশন। বিভিন্ন ভাবে কম্বিনেশনের ভাবনায় শেষ পর্যন্ত সুযোগটা হয়ে উঠছে না। আশা করি, সামনেই সুযোগ পাবে। আর পেলে ভালো খেলবে।’
স্পিন বলের সাথে দুরন্ত এক ফিল্ডার নাসির। দলের ব্যাটিং অর্ডারে সাত নম্বরের উপরে খুব কম সময়ই ব্যাট হাতে নামতে পেরেছেন। যে পজিসনে নামলে বড় স্কোর গড়ার সময় থাকে না। তার পরও ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে অসাধারণ ফিনিশিংয়ের জন্য নাসিরকে অনেকেই অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল বেভান, মাইকেল হাসি, সাউথ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার, ভারতের আছে মহেন্দ্র সিং ধোনি, পাকিস্তানের আবদুল রাজ্জাক, উমর আকমলের সঙ্গে তুলনা করেন।
তাকে বলা হয় বাংলাদেশের রান তাড়ার ‘আনসাং হিরো’ও। আর এই ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানে ওপরে উল্লেখিতদের চাইতে একটা জায়গায় এগিয়ে নাসির। ফিনিশারের ভূমিকায় এগিয়ে আছেন ওপরের সব কটি নাম থেকেই। তিনি দলে ছিলেন এবং বাংলাদেশের জেতা ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে নাসিরের ব্যাটিং গড় ১১৭। ধোনির গড় এখানে ১০১ দশমিক২৮। যেখানে আকমলের ৮৯ দশমিক ৮০, মাইকেল বেভানের ৮৬ দশমিক ২৮ ও মাইক হাসির ৭৪ দশমিক ১০।
২০১২ এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ৫৮ বলে ৫৪, পরের ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬১ বলে অপরাজিত ৩৬, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ম্যাচে অপরাজিত ৩৯, পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ম্যাচে ২৭ বলে অপরাজিত ৩৩ রান। এরকম ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আরো ইনিংস রয়েছে নাসিরের।
শুধু জাতীয় দল নয়, এই কাজে তিনি অভ্যস্ত বলে এর আগে নিজেই জানিয়েছিলেন নাসির। ‘অনূর্ধ্ব-১৩ বা অনূর্ধ্ব-১৫ দলে থাকতেও এই ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
যে ব্যাঙ্গালুরুতে নাসিরকে মাঠে নামায়নি বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বরেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ম্যাজিক দেখিয়েছিলেন তিনি। ৯৪ বলে সেঞ্চুরি তুলে ৯৬ বলে অপরাজিত ১০২ রানের পর বল হাতে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। তার অলরাউন্ড পারফর্মেন্সে ভারতকে ৬৫ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
চেন্নাস্বামীর সেই ম্যাচের পর ‘উইজডেন ইন্ডিয়া’ এক প্রতিবেদনে নাসিরকে তুলনা করেছিল স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস, গ্রায়েম হিক, পল কলিংউড, শহীদ আফ্রিদি, সৌরভ গাঙ্গুলি, স্কট স্টাইরিস আর আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে।

তামিমের অবস্থার উন্নতি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে একের পর এক বিশাল ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে হারানোর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তামিম ইকবালকেও হারায় টিম বাংলাদেশ। তবে টাইগারদের জন্য সুসংবাদ হচ্ছে, আগের তুলনায় সুস্থ হয়ে উঠছেন তামিম। তবে আরেকটু সুস্থ হতে পারলেই, ভারতের বিপক্ষে তিনি খেলতে পারবেন বলে আশাবাদী বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে হঠাৎ পেটের পিড়া ও প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হন তামিম। গত রাতের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র। ডাক্তারের পরামর্শে চলছে নিয়মিত ওষুধ ও পরিচর্যা। টিম হোটেলে নিজের কক্ষে বিশ্রামেই সময় কাটছে তামিমের।
তামিম দলে না থাকায় আগের দিন সৌম্য সরকারের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন মোহাম্মদ মিঠুন। তবে তেমন সুবিধা করে উঠতে পারেনি। দলও হেরে প্রায় ছিটকে পড়েছে টুর্নামেন্ট থেকে। তবুও শেষ আশা বাঁচিয়ে রাখতে আগামীকালের ম্যাচে তামিমকে অবশ্যই দলে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে আসছিলেন তামিম ইকবাল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সংগ্রহকারী বাংলাদেশের এ ড্যাশিং ওপেনার। ৪ ম্যাচে ১টি সেঞ্চুরি ও ১টি হাফ সেঞ্চুরিসহ করেছেন ২৫৭ রান।

ফিল্ডিংয়ে আরও উন্নতি চান সাকিব

বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৬ রানের পুঁজি নিয়েও লড়াই করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হেসে-খেলে জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। বোলিংয়ে লড়াই করলেও ফিল্ডিংয়ে হতাশ করেছে টাইগাররা। দুটি ক্যাচ মিস করা বাদেও সহজ কিছু রান খরচ করেছে ফিল্ডাররা। মিস ফিল্ডিং না হলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফল ভিন্ন হত, এমনচটাই দাবী সাকিব আল হাসনের।
মঙ্গলবার সাকিবের বলেন,‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিল্ডিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। আমরা সবগুলো ক্যাচ ধরতে চাই, ফিল্ডিংয়ে রান সেভ করতে চাই। আমরা গতকাল ফিল্ডিং ঠিকমত করতে পারিনি। এটা হতাশাজনক। আমাদের দলে তরুণ ও অসাধারণ ফিল্ডার রয়েছে। আশা করছি গতকাল যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো সামনে পুনঃরায় না করতে।’
বুধবার বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ ভারত। ভারতের বিপক্ষে খেলতে হলে সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। এমনটাই মনে করছেন সাকিব। ফিল্ডিংয়ে আরও উন্নতি প্রত্যাশা করে সাকিব বলেন, ‘ফিল্ডিং ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিতে সক্ষম। এমনিতেই আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে মাঠে নামতে পারছি না। সেজন্য আমাদের সাম্ভাব্য সকল সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। ভালো ফিল্ডিং করেও অনেক সময় ম্যাচ জেতা সম্ভব। আমাদেরকে আমাদের প্রক্রিয়াগুলো ঠিকমত কাজে লাগাতে হবে।’

ফেসবুক-টুইটার স্পর্শ করে না সাকিব-নেহরাদের!

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ এখন আর শুধুই আরেকটি ম্যাচ নয়। মেলবোর্নে গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকেই এটি অন্য একটা মাত্রা পেয়ে গেছে। বিতর্কিত নো বলে রোহিত শর্মার বেঁচে যাওয়া, মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়া ক্যাচ….এ সবের সঙ্গে তখনকার আইসিসি সভাপতি আহম মুস্তফা কামালকে ঘিরে নাটক রীতিমতো অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বাংলাদেশে।
সেটির রেশ এখনো আছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রীতিমতো মুখর। দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে তিক্ত বাদানুবাদের সুযোগও করে দিয়েছে এই ফেসবুক-টুইটার। ক্রিকেটারদেরও কি তা স্পর্শ করে না?
আরেকটি বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা উঠল। সাকিব আল হাসান দাবি করলেন, ক্রিকেটাররা এ সব নিয়ে ভাবেন না। ‘সোশ্যাল মিডিয়াতেই এ সব হয়। আমার মনে হয় না কোনো প্লেয়ার এমন কিছু চিন্তা করে। আমাদের দলের অন্য কেউও এভাবে চিন্তা করে না। ভারতীয় দলেও কেউ করে বলে আমার মনে হয় না।’
ভারতের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাঁহাতি পেসার আশিস নেহরার উত্তরটা আরও মজার। প্রথমেই জানিয়ে দিলেন তিনি ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ নন। এর পরই জানিয়ে দিলেন, এটি থেকে তিনি শত হস্ত দূরে থাকেন, ‘আমি এখনো আমার সেই পুরোনো নকিয়া ফোনই ব্যবহার করি। আমি ফেসবুকে নেই, টুইটারও ব্যবহার করি না। কেউ বলতে পারে, আমি পুরোনো যুগে পড়ে আছি। বললে বলুক, আমি এভাবেই ভালো আছি।’

বাংলাদেশকে যুবরাজের চ্যালেঞ্জ

বুধবার ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচের মধ্যে একটিতে জিতেছে ভারত। আর বাংলাদেশ দুই ম্যাচেই হেরেছে। গত শনিবার অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ এনে বাংলাদেশের দুই বোলার আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এ অবস্থায়ও সোমবার বাংলাদেশকে হারাতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ভারতের অন্যতম হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিং।
টি-২০ বিশ্বকাপে যুবরাজের প্রত্যাবর্তনটা বেশ জমজমাট ছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার গোছানো ২৪ রান টিম ইন্ডিয়ার জয়ের ভিতটা বেশ খানিকটা মজবুত করে দিয়েছিল। দলে ফিরে জুনিয়র ক্রিকেটরদের সঙ্গে যুবরাজের তালমিলটা ভালই হয়েছে। এমনিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুবরাজের রেকর্ড বেশ ঈর্ষনীয়। এই তো সে দিন এশিয়া কাপেও আফ্রিদিদের বিরুদ্ধে দলের জয় সূচক ইনিংসের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি।
আপাতত সেই জয়ের আনন্দেই আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছেন যুবরাজ সিংহ। যার জেরে এ বার বাংলাদেশকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ছন্দে ফিরেছে ভারত। সাবধান বাংলাদেশ।’
নিজের ব্যাটিং ভূমিকা সম্পর্কে যুবরাজ বলেন, আমার কাজ হচ্ছে কম বল খেলা এবং এরপর আমার আক্রমণাত্মক ভূমিকা অব্যাহত রাখা।

মুস্তাফিজকে দলে পেয়ে খুশি নেহরা

আশিস নেহরার মতে, মুস্তাফিজুর রহমানের স্লোয়ার ডেলিভারি ঈশ্বর প্রদত্ত। প্রতিভাবান এই বোলারকে আইপিএলে নিজ দলে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভারতের এই অভিজ্ঞ পেসার।
বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন নেহরা। জানালেন, তামিম ইকবাল, মুস্তাফিজুর রহমানের মতো ক্রিকেটাররাই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। বিশ্ব ক্রিকেটের সিনিয়র একজন এবং অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার বলে মুস্তাফিজকে নিয়ে তার মূল্যায়ন আলাদা গুরুত্ব দাবি করে। নেহরা ব্যখ্যা করলেন, প্রথাগত আর দশটা বাঁহাতি পেসারের চেয়ে কোথায় আলাদা মুস্তাফিজ।
“আমি মনে করি, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মুস্তাফিজ দারুণ। বিশেষ করে যে ধরনের স্লোয়ার ডেলিভারি সে করে। ‘গড গিফটেড’ একটি স্লোয়ার বল পেয়েছে সে। অ্যাকশন দারুণ। সে অমিত সম্ভাবনাময় এক ক্রিকেটার, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য।”
গত মে মাসে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই বিশ্ব ক্রিকেট তোলপাড় করে দেওয়া অভিষেক মুস্তাফিজের। বিশ্বকাপ শেষে সেই ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট, আইপিএলে খেলবেন মুস্তাফিজ। নিলামে লড়াই করে ১ কোটি ৪০ লাখ রূপিতে তাকে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
এই একই দলে আছেন নেহরা, ট্রেন্ট বোল্ট, উঠতি বারিন্দর স্রানের মতো এক ঝাঁক বাঁহাতি পেসার। তবে নেহারা বিশেষ করে খুশি মুস্তাফিজের মতো প্রতিভাকে সতীর্থ হিসেবে পেয়ে।
“ভালো একটা ব্যাপার হলো, আইপিএলে সে আমার দলেই খেলবে। আমার জন্যও এটি খুব সহায়ক হবে। যেটা বললাম, দারুণ এক প্রতিভা সে, খুবই সম্ভাবনাময়।”

ভুল শুধরে মাঠে নামবে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে যাওয়া ভুলগুলো শুধরে পরবর্তী ম্যাচে ভারতকে মোকাবলা করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আগামী বুধবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে মূলপর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে মাশরাফি বাহিনী।
মঙ্গলবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব। ১৬ মার্চ ইডেন গার্ডেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় টিম বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় বিশ্বকাপে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভারতের বিপক্ষে জয় ভিন্ন কোনো উপায় নেই টাইগারদের।
ম্যাচের আগে দলের ভাবনা সম্পর্ক জানতে চাইলে সাকিব বলেন, এখনও টিম মিটিং হয়নি। তবে আমরা যার যার মতো প্রস্তুতি নিচ্ছি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হওয়া ভুলগুলো ঠিক করত হবে। আমার মনে হয় এটাই একমাত্র উপায়। ভুলগুলো ঠিক করতে পারলে ভারতের বিপক্ষে ভালো পারফরম করা যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোলিং ভালো হয়নি তাই এ ম্যাচে বোলিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না? জানতে চাইলে উত্তরে সহ অধিনায়ক বলেন, বোলিংয়ে আমরা বেশি ভুল করেছি এটা বলা ভুল হবে। হয়তো এ ম্যাচে আমরা ছোটো-খাটো ভুল করেছি। ভারতের বিপক্ষে সেটা ঠিক করতে পারলে আমরা ইমপ্রুভড একটা সাইড হবো। গেল ম্যাচে আমাদের বোলিংয়ের ভুল নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা ভুল হবে। কেননা এ মাঠে ১৭০-৮০ রান হয়, আর সেটা হলে খেলার ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। আমার মন হয় সাধারণভাবে আমাদের বোলিং ঠিক ছিল। তবে হ্যাঁ, ফিণ্ডিংটা আমরা স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী করতে পারিনি।
টি-টোয়েন্টিতে আগে আপনি তিন নম্বরে ব্যাট করতেন। তিনে নামলে আপনি কি ভালো করবেন? গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব যা বলেন, টিম আমার কাছে কী চাচ্ছে এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই আমাকে সুযোগ দিলে আমি তিনেই ব্যাটিং করবো। কারণ এখানে আমি ভালো করছিলাম। দলের চাহিদা ও অবস্থা অনুযায়ী আমি চার নম্বরে ব্যাটিং করছি। টিম মনে করলে আমি তিন নম্বরে ব্যাট করবো।

বুধবার দেশে ফিরছেন সানি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে ভারত গিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই উইকেট তুলে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদানও দিচ্ছিলেন ভালোভাবেই। কিন্তু এর আগে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচে অবৈধ বোলিংয়ের অভিযোগ ওঠে সানির বিরুদ্ধে।
ল্যাবে বোলিং পরীক্ষা দিয়েই নামেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে। এরপর পরীক্ষার ফলাফলে সবকিছু ওলট-পালট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাঞ্জার খড়গ নেমে এসেছে সানির ওপর। এখন হুমকির মুখে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
তাই ভারত থেকে এক রাশ হতাশা সঙ্গী করে দেশে ফিরতে হচ্ছে সানিকে। বুধবার (২৩ মার্চ) ঢাকায় ফিরবেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

টাইগারদের বিপক্ষে রান-রেটে চোখ ধোনির

বাংলাদেশের বিপক্ষে সুপার টেনের ম্যাচে ভারতের বিগ-হিটারদের দিকে তাকিয়ে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে টাইগারদের বিপক্ষে জিততে রানের চাকা সচল রাখলেই চলবে না, ধোনি জানান দলের রান-রেটও এগিয়ে রাখতে হবে।
বিশ্বকাপের মূলপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ রানের ব্যবধানে হেরেছিল টিম ইন্ডিয়া। তবে, দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় ধোনির দল। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মাশরাফির বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৩ মার্চ বেঙ্গালুরুতে মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া।
আর এ ম্যাচকে পাখির চোখ করে রেখেছেন ধোনি। টিম ইন্ডিয়ার দলপতি জানান, আমরা এখনও টুর্নামেন্টে টিকে রয়েছি। খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছি মেগা এই ইভেন্টের সেমিতে যেতে হলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। নিজেদের পারফর্ম ভালো করার পাশাপাশি দলের জন্য রান রেট এগিয়ে রাখতে হবে। আর সেজন্য আমরা বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুযোগকে কাজে লাগাতে চাই।
ধোনি আরও যোগ করেন, প্রথম ম্যাচে আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। সে ম্যাচে হেরে আমাদের রান-রেট অনেক নিচে নেমে আসে। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় আমাদের কাজে দেবে। তবে, বাংলাদেশের বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্টসহ আমরা রান-রেটও এগিয়ে রাখতে চাই।
এদিকে, ছেড়ে কথা বলতে না এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হয়ে খেলা বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ঘুরে দাঁড়াতে চায় টাইগাররাও। দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়েছেন, আমরা প্রথম দুটি ম্যাচে হেরেছি। কিন্তু, আমাদের হাতে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি আছে। পরের ম্যাচ দুটিতে আমরা শক্তভাবে ফিরে আসার চেষ্টাই করবো।
২৩ মার্চ বেঙ্গালুরুতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় মাঠে নামবে টাইগাররা। এ ম্যাচে হারলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে বাংলাদেশকে।

শিগগিরই তাসকিনের রিভিউ শুনানি হবে: সিইও

টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিং নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের রিভিউ চেয়ে আইসিসির কাছে নোটিশ পাঠায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় দুই-একদিনের মধ্যেই তাসকিনের আপিলের বিষয়ে রিভিউ শুনানি হবে বলে জানান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম‌উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
এর আগে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে সোমবার (২১ মার্চ) বিকেলে আইসিসির কাছে একটি নোটিশ পাঠানো হয়।
রিভিউ প্রক্রিয়ায় খুব দ্রুত নিষেধাজ্ঞা ওঠার সম্ভাবনা কম। এ প্রক্রিয়ায় নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার কিছু না থাকলেও প্রথমে এক বা একাধিক শুনানি হবে। সেখানে দু’পক্ষ তাদের নিজেদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরবে। এতে সিদ্ধান্ত আসতে কিছুটা সময় লাগার কথা। ফলে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই বৈধতার সার্টিফিকেট নিয়ে তাসকিনের ফেরার সম্ভাবনাটা কিছুটা কম। কারণ, গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের ম্যাচ শেষ হবে ২৬ মার্চ।
তারপরও আশাবাদী নিজামউদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, যদি ফলাফল আমাদের পক্ষে আসে তাহলে দ্রুতই জানা যাবে। অনেক সময় একটা শুনানিতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমরা তাই আশা ছাড়ছি না। বিসিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গত রোববার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আইসিসির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাসকিনের বোলিংয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে আইসিসিকে একটি মেইলও পাঠায় বিসিবি।
এ ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি- এমন আশায় ছিলেন বিসিবি সভাপতি। কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো খবর না আসায় অপেক্ষা না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই রিভিউ আবেদন করে বিসিবি।

তাসকিন ইস্যুতে ভারতে পাপন

টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে আইসিসির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ভারতে গেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
মঙ্গলবার দুপুরে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি। বিসিবির একটি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করে।
‌আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি আইনি লড়াইও চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
তাসকিন আহমেদের বোলিং নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের রিভিউ চেয়ে গতকাল সোমবার (২১ মার্চ) আইসিসির কাছে নোটিশ পাঠায় বিসিবি। এরই ধারাবাহিকতায় দুই-একদিনের মধ্যেই তাসকিনের আপিলের বিষয়ে রিভিউ শুনানি হবে।
মঙ্গলবার এ কথা জানান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম‌উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
রোববার (২০ মার্চ) বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আইসিসির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাসকিনের বোলিংয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে আইসিসিকে একটি মেইলও পাঠায় বিসিবি। ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় এবার সশরীরে ভারত ছুটে গেলেন নাজমুল হাসান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরও দুটি ম্যাচ। মাশরাফি বাহিনী যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সাহস নিয়ে পরের দুটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে ক্রিকেটারদের সেভাবে উজ্জীবিত করার কাজটিও নিশ্চয়ই করবেন বিসিবি সভাপতি।

‘অ্যাকশনে’ নিষিদ্ধ ১৬ বোলার, ৪ জনই টাইগার, নেই ভারতীয়

‘গতিদানব’ তাসকিন আহমেদ ও ‘ঘূর্ণি জাদুকর’ আরাফাত সানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারিতে আবারও বিতর্কে উঠলো ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির ‘বোলিং অ্যাকশন’ ইস্যু। প্রায় শত বছরের পুরনো এই বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে সংস্থাটির এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান, পরীক্ষা পদ্ধতি ও তৎপরবর্তী পদক্ষেপ। বিশেষত তাসকিন আহমেদের পরীক্ষা ও তারপর দেওয়া সিদ্ধান্ত সমালোচনার শূলে বসাচ্ছে আইসিসিকে।
শনিবার (১৯ মার্চ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ‘অ্যাকশনে ত্রুটি’র কারণে তাসকিন ও সানিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এই নিষেধাজ্ঞায় হতভম্ব হয়ে যান বোলিং অ্যাকশন ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আইনজীবী হিসেবে কাজ করা সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি তাসকিনের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ‘প্রহসন’ ও ‘অবিচার’ বলে আখ্যা দিয়ে উল্টো আইসিসিরই পরীক্ষা ও পদক্ষেপ প্রশ্নবিদ্ধ বলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তার এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে।
এই বিতর্কের মধ্যে খুঁজেছে আইসিসির ‘বোলিং অ্যাকশন আপত্তি’র ফিরিস্তি। খুঁজেছে নিষেধাজ্ঞার ‘বলি’ হওয়া ক্রিকেটারদের তালিকা এবং আইসিসির ‘সতর্কতার কোপে’ ‘আহত’ হয়ে ‘জাত হারানো’ বোলারদের নামও।
ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের ‘দায়ে’ এখন পর্যন্ত আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন ১৬ জন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বোলার। এই ১৬ জনের মধ্যে চারজনই টাইগার। বাকি ১২ জনের মধ্যে চারজন পাকিস্তানের, তিনজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এবং একজন করে আছেন জিম্বাবুয়ের, শ্রীলঙ্কার, দক্ষিণ আফ্রিকার, ইংল্যান্ডের ও নিউজিল্যান্ডের। বিস্ময়করভাবে বোলিং অ্যাকশনের কারণে কোনো সময়েই আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়নি কোনো ভারতীয় কিংবা অস্ট্রেলীয় বোলারকে।
নিষেধাজ্ঞায় পড়া এই বোলাররা হলেন- বাংলাদেশের আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী এবং একসঙ্গে আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ; পাকিস্তানের শোয়েব আখতার, সাব্বির আহমেদ, সাঈদ আজমল ও মোহাম্মদ হাফিজ; ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেন শিলিংফোর্ড, মারলন স্যামুয়েলস ও সুনীল নারিন; জিম্বাবুয়ের প্রসপার উৎসেয়া; শ্রীলঙ্কার সচিত্রা সেনানায়েকে; দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান বোথা; ইংল্যান্ডের জেমস কার্টলি এবং নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন।
এছাড়া, ক্রিকেট ম্যাচ (ওয়ানডে ও টেস্ট) চলাকালে অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে অভিযুক্ত হন শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন; জিম্বাবুয়ের হেনরি অলঙ্গা ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার; পাকিস্তানের হাসিব আহসান; ওয়েস্ট ইন্ডিজের শার্লি গ্রিফিথ; দক্ষিণ আফ্রিকার কুয়ান ম্যাককার্থি ও জিওফ্রে গ্রিফিন; ইংল্যান্ডের সি বি ফ্রাই, আর্থার মোল্ড, দোগ ইনসোল, টনি লক, ডেভিড গওয়ার, হ্যারল্ড রোডস, বাচ হোয়াইট ও রেগ সিম্পসন; অস্ট্রেলিয়ার আরনি জোনস, কেইথ স্ল্যাটার, ইয়ান মেকিফ, ইয়ান রেডপাথ, জিম হিগস ও ব্রুস ইয়ার্ডলি; ভারতের মধুসূদন রেজে, আবিদ আলী ও সৈয়দ কিরমানি।
এর বাইরে আইসিসির পক্ষ থেকে সন্দেহজনক অ্যাকশনের জন্য তলব করা হয় পাঁচজনকে। তবে, তাদের ম্যাচ চলাকালে সন্দেহভাজন বলে চিহ্নিত করা হয়নি। এ পাঁচজন হলেন শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা ও অজন্তা মেন্ডিস; ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্মেইন লসন; অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি; পাকিস্তানের শোয়েব মালিক এবং ভারতের হরভজন সিং।
এ পর্যায়ে জানা যাক বোলিং অ্যাকশন ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া কিছু ক্রিকেটারের খবরাখবর। উল্লেখ করতে হয়, সাধারণত বল ছোঁড়ার ক্ষেত্রে কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বেঁকে গেলে সেটিকে আইসিসির আইনে অবৈধ বলা হয়। এই কনুই বেঁকে যাওয়াটা লক্ষ্য করেন ম্যাচের আম্পারসহ অফিসিয়ালরা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার বায়োমেকানিক্যাল ল্যাবে পরীক্ষা হয়। এরপর ফলে নির্ধারিত হয় বোলারদের ভাগ্য।

শোয়েব আখতার
বোলিং অ্যাকশন বিতর্ক ১৮৫৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার আরনি জোনসকে দিয়ে উঠলেও নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে ১৯৯৯ সাল থেকে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রথম চোখ রাঙানি হজম করতে হয় পাকিস্তানের স্পিডস্টার শোয়েব আখতারকে। ওই বছর অস্ট্রেলিয়া সফরকালে পাকিস্তানি এ পেসারের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে প্রথম অভিযোগ তোলা হয়। সেই প্রেক্ষিতে আখতারকে পাঠানো হয় নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে। অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে প্রমাণ হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় শোয়েবের ওপর। পরে আইসিসির নিয়মে অনুশীলন ও অ্যাকশন সংশোধন করে ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। তবু বিতর্ক পিছু ছাড়েনি শোয়েবের।

শাব্বির আহমেদ
পাকিস্তানের আরেক পেসার শাব্বির আহমেদও পড়েছিলেন বোলিং অ্যাকশনে সন্দেহভাজন হয়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে। কয়েক দফায় বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটির অভিযোগ ওঠার পর ২০০৫ সালে তাকে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সে বছর ডিসেম্বরে প্রমাণ হয় শাব্বিরের অ্যাকশন অবৈধ। এই প্রেক্ষিতে শাব্বিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। প্রায় একবছর নিষিদ্ধ থেকে অনেক অনুশীলন-পরীক্ষার পর ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। কিন্তু অ্যাকশন বদলের ফলে ফর্ম পড়ে যাওয়ায় শাব্বির এখন দলেই জায়গা পান না।

আব্দুর রাজ্জাক
বাংলাদেশ দলের সেরা স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক অভিষেকের পর কয়েক বছর খেললে ২০০৮ সালে তার অ্যাকশনে সন্দেহের অভিযোগ তোলা হয়। পরীক্ষায় প্রমাণের ভিত্তিতে ওই বছরের ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় রাজ্জাকের ওপর। অ্যাকশন শোধরানোয় পরের বছরের মার্চে রাজ্জাকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু অ্যাকশন শুধরে সেই বোলিংয়ের ‘ধার’ রাখতে পারেননি রাজ্জাক। সে কারণে জাতীয় দলেও জায়গা নিতে পারছেন না একসময়ের বোলিং অ্যাটাকের এ কাণ্ডারী।

জোহান বোথা
পেস ‍আক্রমণের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহান বোথা প্রধান সারির স্পিনার বলে পরিচিত। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই বোথার অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এরপর পরীক্ষা করে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অ্যাকশন শোধরালে ওই বছরের নভেম্বরে আবার খেলার সুযোগ পান বোথা। কিন্তু ২০০৯ সালের এপ্রিলে আবার অভিযুক্ত হন তিনি। এরপর তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র দুসরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইসিসি। এই দুসরা হারিয়ে দল থেকেই প্রায় হারিয়ে গেছেন বোথা।

শেন শিলিংফোর্ড
সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে দু’বার অভিযুক্ত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চমকে দেওয়া বালক স্পিনার শেন শিলিংফোর্ড। তিনি প্রথম অভিযুক্ত হন ২০১০ সালের নভেম্বরে। পরের মাসেই তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। অনুশীলনের পর অ্যাকশন শোধরালে তিনি ২০১১ সালের জুনে আবারও খেলার অনুমোদন পান। কিন্তু ২০১৩ সালের নভেম্বরে ভারত সফরকালে আবারও অভিযুক্ত হন শিলিং ফোর্ড। এরপর নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। পরে সংশোধিত হয়ে ফিরলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় শিলিংফোর্ডের দুসরায়। এই দুসরা ছাড়া তিনি কতোটা দুর্বল, তা তার জাতীয় দলের অনুপস্থিতিই বলে দিচ্ছে।

মারলন স্যামুয়েলস
শিলিংফোর্ডের সঙ্গে অভিযুক্ত হন তার স্বদেশি অগ্রজ স্পিনার মারলন স্যামুয়েলসও। পরীক্ষার পর স্যামুয়েলসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর সংশোধিত হয়ে এলে কেবল নর্মাল অফ-ব্রেক বল ছোঁড়ার অনুমতি দেওয়া হয় স্যামুয়েলসকে। এর ফলে তিনি ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে যে ‘প্রায় পেস’ বলটি ছুঁড়তেন সেটি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। স্যামুয়েলস আগে নিয়মিত বল করলেও এখন তাকে একেবারেই অনিয়মিত দেখা যাচ্ছে বোলার হিসেবে।

সচিত্রা সেনানায়েকে
কিংবদন্তি মুরালিধরনের দেশে সচিত্রা সেনানায়েকে নামে আরেক ‘রহস্যময়’ অফ-স্পিনারের আগমন ঘটে। কিন্তু ২০১৪ সালের জুলাইয়ে সেনানায়েকের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে তিনি বোলিং অ্যাকশন বদলাতে বাধ্য হন। এর প্রেক্ষিতে ওই বছরের ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হন সেনানায়েকে। কিন্তু এই অ্যাকশন বদলে ‘ধার’ হারিয়ে গেছে লঙ্কান এ স্পিনারের।

সাঈদ আজমল
এই সময়ের সবচেয়ে ক্ষুরধার বোলার ‘ছিলেন’ পাকিস্তানের সাঈদ আজমল। ‘ছিলেন’ বলা হচ্ছে, তিনি এখন আগের মতো ‘ক্ষুরধার’ নেই বলে। তার ধার পড়ে গেছে বোলিং অ্যাকশন বদলের কারণে এবং সবচেয়ে ‘বড় অস্ত্র’ দুসরায় নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে। ২০১৪ সালের ‍আগস্টে বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত হন আজমল এবং নিষিদ্ধ হন। পরে তাকে অ্যাকশন বদলের জন্য অনুশীলন ও পরীক্ষা করতে হয়। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে আজমল আবারও খেলার অনুমতি পান। কিন্তু ফিরেও সেই ‘আজমল’ হয়ে ফিরতে পারছেন না তিনি। তার প্রমাণ এখন দলে তার অনিয়মিত উপস্থিতি।

সোহাগ গাজী
স্পিন অ্যাটাকের বাংলাদেশে অফ-স্পিনার এমনিতেই কম। এরমধ্যে চমক নিয়ে আবির্ভূত হন অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। কিন্তু তার এই চমক বেশি দিন থাকলো না। ২০১৪ সালের আগস্টে বোলিংয়ে সন্দেহজনক বলে অভিযুক্ত হয়ে নিষিদ্ধ হন গাজী। এরপর অ্যাকশন বদল করে ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে আবারও খেলার অনুমতি পান তিনি। কিন্তু অ্যাকশন বদল করে ‘বদলে’ গেছেন গাজীও, নেই সেই আগের দুরন্ত রূপে।

মোহাম্মদ হাফিজ
২০১৪ সালে ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি চলাকালে প্রথম অভিযুক্ত হন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ। সেসময় অবশ্য তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। ওই বছরের নভেম্বরে তার অ্যাকশনে আবারও সন্দেহের তীর ছোঁড়া হয়। এরপর পরীক্ষায়ও ধরা পড়ে তার কনুই সীমা লঙ্ঘন করছে। এই প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের এপ্রিলে নিষিদ্ধ হন হাফিজ। পরে সংশোধিত হয়ে হাফিজ ক্রিকেটে ফিরেছেন। কিন্তু ব্যাটের পাশাপাশি বলে সেই ‘মিস্টার প্রফেসর’কে খুঁজে পাচ্ছে না পাকিস্তান জাতীয় দল।

সুনীল নারিন
এসময়ের সবচেয়ে ‘রহস্যময়’ স্পিনার বলে ‘খ্যাতি’ আছে সুনীল নারিনের। নানা ধরনের অফ-ব্রেক বল ছুঁড়ে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করে আসা নারিন ২০১৪ সালে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি চলাকালে প্রথম বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত হন। ল্যাবে পরীক্ষায় অ্যাকশন ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণ হওয়ায় ২০১৫ সালের নভেম্বরে তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়। অনুশীলনে বারবার চেষ্টা করেও নারিন ১৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে পারছেন না তার কনুই। এ কারণে তার দেশের সাবেক গ্রেট স্যার অ্যান্ডি রবার্টস মন্তব্য করেন, নারিনের ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া বিবেচনা করা উচিত বলে বিশ্বাস করি।

তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি
আইসিসির বোলিং অ্যাকশন বিতর্কে সবশেষ নিষেধাজ্ঞার খাদে পড়েছেন বাংলাদেশ দলের তাসকিন আহমেদ ও ‍আরাফাত সানি। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের মাঝপথে টাইগারদের প্রধান দুই বোলিং ভরসার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো আইসিসি। সানির ব্যাপারে বলা হয়েছে, বল ছোঁড়ার সময় তার কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু তাসকিনের ব্যাপারে কেবল বলা হয়েছে, তার সব ডেলিভারি বৈধ নয়।

এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার কবলে না পড়লেও কনুইয়ের সীমা ভাঙার অভিযোগে বেশ ক’বার মাঠেই ‘নো’ বলের কল পান লঙ্কান ‘ঘূর্ণি রাজা’ মুরালিধরন। শেষবার ১৯৯৯ সালে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার একটি ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ার মুরালির বলে ‘নো’ ডাকলে প্রতিবাদে দল নিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। পরে অবশ্য ম্যাচ অফিসিয়ালরা সমঝোতা করতে বাধ্য হন এবং ১৪ মিনিট পর মাঠে ফেরেন ‘বীর’ রানাতুঙ্গা।

কনুই এর আগে সর্বোচ্চ ৫ ডিগ্রি বাঁকানো যেত, মুরালিধরনের অ্যাকশন পরীক্ষা করতে গিয়েই সেসময় দেখা যায় অনেক বোলারের হাতই এতো অল্প ডিগ্রিতে থাকছে না। তখন আইন পরিবর্তন করে ১৫ ডিগ্রি বাঁকানোর সুযোগ রাখা হয়।

এই সুযোগেই বেঁচে গেছেন মুরালির দেশের স্পিনার অজন্তা মেন্ডিস। বিতর্কিতভাবে বেঁচে গেছেন হরভজন সিং-ব্রেট লিরা। মেন্ডিসকে অবশ্য অ্যাকশনে কিছু গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেওয়ার ফলে হারিয়ে গেছে তারও সেই ‘ক্ষুরধার’।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মেন্ডিস-সোহাগ-রাজ্জাক-আজমলদের এই ধার কেবল তাদের বল ছোঁড়ার গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ কিংবা অ্যাকশন বদলের কারণেই কমে যায় না, বল ছোঁড়ার ক্ষেত্রে কনুই বাঁকানোর ক্ষেত্রে বিশেষ মনোসংযোগ দেওয়ার কারণেও হয়। আগে যদি বোলাররা কেবল তার বল ছোঁড়ার বৈচিত্র্যে নজর দিতেন, এই ধরনের পরীক্ষা-সতর্কতার পর তাদের নজর চলে যায় কনুইয়ের দিকে, যেটা মানসিক চাপেরও সৃষ্টি করে।

ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের হিসাব বলছে, মাঠের আম্পায়াররা কেবল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বোলারদের অ্যাকশনেই ঘন ঘন ‘সন্দেহজনক’ কিছু দেখতে পান। হিসাব মতে, বিস্ময়করভাবে এই সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে যাচ্ছেন অনিল কুম্বলে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা, আশিস নেহরা এবং জাসপ্রিত ‍বুমরাহরা।

নাসির কেন উপেক্ষিত? উত্তর দিলেন মাশরাফি

অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি। তার ওপর পেটের পীড়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের একাদশের বাইরে ছিলেন সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। এমতাবস্থায় দলের নির্বাচকরা নাসির হোসেনকে একাদশে দলে নেবেন, এমনটাই হতো ভেবেছিলেন ভক্তরা।

কিন্তু না, সবাইকে চমকে দিলেন নির্বাচকরা। বিশ্বকাপের মাঝপথে দলে যোগ দেয়া শুভাগত হোমকে দলের এগারো জনের একজন বানালেন তারা। উপেক্ষিত রইলেন নাসির! তাই বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একাদশে নাসির কেন উপেক্ষিত? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাসির থাকলে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দলের শক্তি যোগ হতো। বাংলাদেশ পেতে পারত আরো বেশি কিছু রান!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উইকেট শিকারের পর শুভাগত হোমের উচ্ছ্বাস (ফাইল ফটো)

এবার দেখে নেয়া যাক, নাসিরের বিকল্প শুভাগতর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। ব্যাটিংয়ে পাঁচে নামেন তিনি। ১০ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। অ্যাডাম জাম্পার বলে এলবিডল্ডিউর ফাঁদে পড়েন। বাংলাদেশের পক্ষে বল করতে আসেন সবার শেষে। বোলিংয়ে ২ ওভারে ৬.৫০ ইকোনোমি রেটে খরচ করেছেন ১৩ রান। ছিলেন উইকেটশূন্য।

অপরদিকে নাসির হোসেন সবশেষ ম্যাচ খেলেছেন বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। অবশ্য নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ছিলেন ব্যর্থ। ব্যাট হাতে করেন ৭ বলে তিন রান। আর বোলিংয়ে ২ ওভারে ২৪ রান খরচায় নেন একটি উইকেট। যার ইকোনেমি রেট ১২।

তার পরেও একাদশে নাসির কেন নেই? এই প্রশ্নটা আরো একবার শুনতে হলো মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমাদের পরিকল্পনায় নাসির আছে, থাকবেও। তবে একাদশের কম্বিনেশনের কথা আমাদের মাথায় রাখতে হয়। সেজন্যই অনেক সময় একাদশে সুযোগ মেলে না নাসিরের। আশা করছি, সে আগামীতে একাদশে জায়গা পেলে নিজেকে মেলে ধরবে।’

শুরুতে উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপ মাশরাফির

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতে উইকেট তুলে না নেওয়ায় আক্ষেপ করছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি মনে করছেন শুরুতে ২-১ টি উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছিলো প্রথম উইকেট তুলে নেওয়ার। কিন্তু মিথুন এবং মাশরাফির ভুল বোঝাবুঝিতে সহজ ক্যাচ মিস হয়ে যায়। ওয়াটসন ব্যক্তিগত ৮ রানে জীবন পান। যদিও ওয়াটসন ২০ রানের মাথায় রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

দ্রুত উইকেট তুলে না নিলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলাররা ৭ উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয়। আর কিছু রান স্কোর বোর্ডে থাকলেও ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। ওই আক্ষেপটাই মাশরাফি করছেন। সোমবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা যদি শুরুতে ২-১টি উইকেট নিতে পারতাম, তাহলে ম্যাচটি অন্যরকম হতে পারত। ব্যাটিংয়ে আমরা শুরুতে ও মাঝে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছি। এজন্য ১৭০ পর্যন্ত যেতে পারিনি। ছোট ছোট কিছু ভুল করেছি আমরা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ছোট ছোট ভুলের কারণে অনেক কিছু করা সম্ভব হয়নি। যদি ওগুলো ওভারকাম করতে পারতাম তাহলে ম্যাচটা অন্যদিকেও যেতে পারত।’ বিশেষ কোন ভুলগুলোর কথা বলছেন জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। দুই-তিনটা জায়গায় ব্যাটসম্যান-বোলাররা ভালো করেনি। সেগুলো যদি না হতো ম্যাচটা আমাদের দিকে আসলেও আসতে পারত।’

ম্যাচ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই পাচ্ছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক যে জিনিসগুলো হয়েছে, রিয়াদ ফর্মে আছে। ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। সাকিব বোলিং ভালো করেছে। ব্যাটিংয়েও ওই সময়টায় ভালো করেছে। মুশফিক অনেক দিন পর হাত খুলে ব্যাটিং করল। সিনিয়র ক্রিকেটাররা ভালো করেছে, এটা অমাদের সামনের ম্যাচে কাজে লাগবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছে বাংলাদেশ। এমনকি দলের দুই ক্রিকেটারদের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও খেলার সময় মাথায় রাখেনি কেউ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি মাশরাফির। তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দুইজন খেলোয়াড় ছিলো মিসিং ছিলো। সেই সঙ্গে তামিমও ছিল না। তারপরও আমরা যথাযথ চেষ্টা করেছি যতটুকু ওগুলো বাইরে রাখার।’ মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘মুস্তাফিজ  ইনজুরির আগ পর্যন্ত আমাদের সেরা বোলার ছিল। আগেও সে ভালো করেছে। আজকেও করেছে।’

স্পিন উইকেটে হবে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ

বাঘের ডেরায় এনে ভারতকে নাস্তানাবুদ করেছিল বাংলাদেশ। এবার নিজেদের মাঠেও সেরকম কিছু করার চিন্তা করছে ভারত। ভারতের পরবর্তী ম্যাচ বাংলাদেশের বিপক্ষে। এতদিন ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে সবাই জানতো ব্যাটিং স্বর্গ হিসেবে, হয়তো এবার সেই ধারণাটা খোদ ভারতই পাল্টে ফেলার নেশায় নেমেছে।

ভারতের ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার ব্যাঙ্গালুরু ঘুরে এসে জানালেন স্পিন উইকেট হতে যাচ্ছে ম্যাচটিতে। সোমবার দুপুরে রাহানেকে নিয়ে ব্যাঙ্গালুরু স্টেডিয়ামের বাইরে নেটে অনুশীলনে যান বাঙ্গার। অনুশীলনের ফাকে স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে পিচ পরিদর্শনও করে আসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচটি যে উইকেটে হয়েছিল সেখানেই বুধবার হবে ভারত-বাংলাদেশ দ্বৈরথ।

জানা গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে মোট তিনটি উইকেট তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে একটিতে শুধু মহিলাদের ম্যাচ খেলানো হচ্ছে। বাকি দু’টো পিচে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ফেলা হচ্ছে পুরুষ দলের ম্যাচ। সোমবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ হয়েছে যে উইকেটে সেখানে বুধবার খেলা হবে না।

ভারতীয় বোর্ডের পিচ কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধি পি আর বিশ্বনাথন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘উইকেট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য একেবারে আদর্শ। বড় রান উঠবে। স্পিনারদের জন্য কিছুটা সাহায্য তো থাকবেই।’

একটি জয়ই ঘুচিয়ে দিতে পারে সমস্ত আক্ষেপ

ভারতের বিপক্ষে ৩২টি ওয়ানডে খেলে ৫টিতে জয় থাকলেও তাদের বিপক্ষে টেস্টে বা টি-টোয়েন্টিতে কোন জয় নেই বাংলাদেশের। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে ৪ বার ভারতের সাথে দেখা হলেও সবকটিতেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে উদীয়মান বাংলাদেশের অভিধানে ‘অসম্ভব’ শব্দটি যে নেই তার প্রমাণ গত দেড় বছরে বহুবার দিয়েছে বাংলাদেশ। আর নিজেদের মাটিতে ফেভারিট ভারতকে হারলেই বিদায় নিতে হবে বিশ্বকাপ থেকে, এই চাপটাও সঙ্গী হচ্ছে তাদের। তাই আগামীকাল (বুধবার) ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী মাঠে দারুণ একটি ম্যাচই উপভোগ করতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব!

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে সেই ‘মওকা মওকা’ ভিডিও দিয়ে শুরু। তারপর কোয়ার্টার ফাইনালে রুবেলের বিতর্কিত নো বল কিংবা রিয়াদের ছক্কাকে আউট দেওয়াটা কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধই করেছিল আম্পায়ারদের ভূমিকা। তা নিয়ে অবশেষে তৎকালীন আইসিসি প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামালের পদত্যাগে বিষয়টি আরও বড় আকার ধারণ করে। গত বছর ওয়ানডে সিরিজে অভিষিক্ত মুস্তাফিজকে ধাক্কা মেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ভারতের অধিনায়ক ধোনি, জরিমানাও গুনতে হয় তাকে।

সবশেষ এবারের এশিয়া কাপে ‘তাসকিনের হাতে ধোনির কাটা মাথা’ নিয়ে একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অতঃপর অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে সেই তাসকিন ও সাথে সানির বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণায় ক্রিকেটে ভারতের সাথে বৈরিতা এখন প্রায় তুঙ্গে! এখানেই শেষ নয়। যে মাশরাফির হাত ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বদলে যাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যাওয়ার পর গতকাল ভারতের সুনীল গাভাস্কার প্রশ্ন তুললেন বাংলাদেশ দলে সেই মাশরাফির কার্যকারিতা নিয়েই! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রীতিমত তোলপাড় চলছে। তাসকিনের নিষেধাজ্ঞায় ভারত কলকাঠি নেড়েছে কিনা সে বিষয়টি নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে, তবে এদেশের দর্শকদের অবাধ আনন্দের খোরাক জোগাতে পারে ভারতের বিপক্ষে প্রথম বার টি-টোয়েন্টিতে জয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হেরে ইতমধ্যেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে বাংলাদেশ, তাই তাদের সামনে থাকছে নির্ভার ভাবে কোন চাপ ছাড়াই খেলার সুযোগ। অন্যদিকে এই ম্যাচে হারলেই দেশের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে ভারতকে, তাই চাপ থাকছে ভারতের উপরই। ভারতের ভয়টা আরও বেশি হওয়ার কারণ, এর আগে এই বাংলাদেশের কাছে হেরেই ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালের এশিয়া কাপের মত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে।

ভারতের দুশ্চিন্তার আরেকটি কারণ হতে পারে মুস্তাফিজের ফিরে আসা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারলেও মুস্তাফিজের দারুণ বোলিংয়ের পাশাপাশি প্রাপ্তি আছে আরও। ব্যাটে-বলে সাকিবের ছন্দে ফেরা, মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত ফর্মের পাশাপাশি ১৫৬ রানের পুঁজি নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করাটা আশার খোরাক হয়ে থাকবে ভারতের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের জন্য। যদিও তামিমের অসুস্থতা কিছুটা অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে, তবে তার ফেরার সম্ভাবনা আছে পরের ম্যাচেই। পাশাপাশি পরের ম্যাচে দলে সুযোগ মিলতে পারে নাসিরের, ম্যাচ পরবর্তী প্রেস কনফারেন্সেও সে আভাসই দিলেন অধিনায়ক। তিনি বললেন, এতদিন টিম কম্বিনেশনের কারণেই সুযোগ দেওয়া যায়নি নাসিরকে।

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে প্রেস কনফারেন্সে তাসকিনের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেঁদেছিলেন মাশরাফি। তার এই কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল এদেশের অজস্র ক্রিকেট ভক্তদের, ইয়ান চ্যাপেল বা ওয়াসিম আকরামের মত কিংবদন্তিরাও এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভক্তদের মনে তাই জয়ের নেশা, আর টাইগারদের চেষ্টা শোককে শক্তিতে রূপান্তরের। অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলা এই চিন্নাস্বামীর মাঠেই কাল বাংলাদেশ খেলতে যাচ্ছে ভারতের বিপক্ষে, টাইগাররা কি পারবে বুকের সমস্ত আগুনকে ঢেলে দিয়ে ভারতকে তাদের মাটিতেই বিশ্বকাপের মত আরও একটি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিতে?

লড়েই হেরেছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ : ১৫৬/৫, ২০ ওভার
অস্ট্রেলিয়া : ১৫৭/৭, ১৮.৩ ওভার
ফল : অস্ট্রেলিয়া : ৩ উইকেটে জয়ী
এর চেয়ে কঠিন মানসিক পরীা আর কিছু হতে পারে না। সেই পরীায় বাংলাদেশ কত নম্বর পেল? রেজাল্ট বলছে বাংলাদেশ হেরেছে। আসলেই কি ‘হার’ বলা যাবে একে? তাসকিন-সানির নিষেধাজ্ঞায় আগেই হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিল মাশরাফি বাহিনী। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে হজম করতে হলো আরও বড় এক ধাক্কা। দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল খেলছেন না। পেটে সমস্যার কারণে নেই একাদশে। খবর শুনে পুরো বাংলাদেশই যেন হতবাক। যাকে বলে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। ফলে রেজাল্ট কি হতে পারে তা শুরুতেই অনুমেয় ছিল। সত্যি বললে, অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারবে কি না এ নিয়েই ছিল যথেষ্ট সন্দেহ।
কিন্তু আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন, সব প্রতিকূলতার জবাব মাঠে দেবেন। এটা ঠিক ম্যাচ জেতা হয়ত হয়নি। টাইগাররা হেরেছে ৩ উইকেটে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই তারা দমে যাবেন না, সেটা অনন্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি-মাহমুদুল্লাহ-মুস্তাফিজরা। বিশ্ব সেরাদের এমনিই জিততে দেননি। যথাসাধ্য লড়াই করেছেন। বলতে হবে, এত প্রতিকূলতায় দাঁড়িয়েও তারা যথেস্ট ভালো খেলেছেন। তামিমবিহীন বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে রান তুলে নেয় ১৫৬। কম কিসের! তার ওপর অজিদের তো প্রায় ধরেই ফেলেছিল। ১৫৭ রান তুলতে তাদের খেলতে হয়েছে ১৮.৩ ওভার। আর উইকেট খুইয়েছে বাংলাদেশের চেয়েও ২টি বেশি। ৯ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেয়িলা। শেষ দিকে কয়েকটি ক্যাচ মিস না হলেও অন্য রকমও কিছু হতে পারত।
৬ষ্ঠ ওভারে বল করতে এসেছিলেন মুস্তাফিজ। প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শেন ওয়াটসন। অনেক ওপরে উঠলেও জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে ক্যাচটা মিস করে ফেললেন মোহাম্মদ মিঠুন। ১৮তম ওভার। বল করছেন সাকিব আল হাসান। তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিলেন জন হাস্টিংস। সহজ ক্যাচটা তালুতে নিয়েও ছেড়ে দিলেন আল আমিন হোসেন। ৫ম বলেই রান আউটদের দারুন সুযোগ। মিস করলেন মুশফিক। এভাবেই কয়েকটি ক্যাচ মিস আর মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে শেষ দিকে সম্ভাবনা জাগিয়েও জয়টা পেল না বাংলাদেশ।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরাজিত হওয়া অস্ট্রেলিয়া এ ম্যাচেও ব্যাটিংয়ে অস্বস্তিতে ভুগেছে। ওপেনার খাজাই মূলত তাদের জয়ের পথ দেখান। এই ওপেনার একদিকের উইকেটে ধরে রেখে মাত্র ৪৫ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন। টি-টোয়েন্টিতে এটি খাজার প্রথম ফিফটির ইনিংস। তিনি যখন আউট হন তখন দলের স্বোর ১৩ ওভারে ২ উইকেটে ১১৫ রান। দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন অপর ওপেনার ওয়াটসন ও ম্যাকওয়াল। তারা উভয়ে ১৫ বল খেলে যথাক্রমে করেন ২১ ও ২৬ রান। বাংলাদেশের ফাষ্ট বোলার মুস্তাফিজ এদিন প্রথম মাঠে নেমে ভালোই বল করেন। তিনি পেসারদের মধ্যে একমাত্র বোলার যিনি পুরো ৪ ওভার বল করেন। এবং ৩০ রানে নেন ২টি উইকেট। তবে বাংলাদেশের সফল বোলার ছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনি ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। আল আমিন নেন ১৪ রানে ১টি উইকেট।
এর আগে মাহমুদুল্লাহ (অপরাজিত ৪৯) ও সাকিবের (৩৩) কল্যাণে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান তুলে।

ম্যাচের আগেই বাংলাদেশের তামিম-ধাক্কা

ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে দুই ক্রিকেটারকে হারিয়ে এমনিতেই জেরবার অবস্থা বাংলাদেশ দলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে এসেছে আরেকটি বড় ধাক্কা। পেটের পীড়ায় মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না তামিম ইকবাল।
দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ জানান, আগের দিন থেকেই একটু সমস্যা ছিল তামিমের পেটে। সোমবার দুপুরের পর থেকে সেটা আরও বেড়েছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তামিম। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রান তারই। আগের চার ম্যাচে রান করেছেন ৮৩*, ৪৭, ১০৩* ও ২৪।

টানা তৃতীয় জয়ে সেমিফাইনালে কিউইরা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের পুরুষ দলের মতো নারী দলও দারুণ সফলতা পাচ্ছে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ছয় উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কিউই নারী দল। আর অজিদের হারিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো ব্ল্যাক ক্যাপসরা।
নাগপুরে অজিদের করা ১০৩ রানের জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে ও ২২ বল বাকি থাকতেই জয় পায় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে ওপেনার সুজি বেটস ও রাখেল প্রিয়েস্ট ২৩ ও ৩৪ রান করেই মূলত জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কিউই বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নির্ধারিত ওভার শেষে আট উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানের বেশি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন এলশে পেরি। কিউই বোলারদের মধ্যে লেইগ ক্যাসপেরেক তিনটি উইকেট নেন। দুটি উইকেট পান ইরিন বার্মিংহাম। নিউজিল্যান্ড নারী দল এর আগে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পায়।

অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

তাসকিন-সানির নিষেধাজ্ঞায় এই ম্যাচটি পরিণত হয়েছে শোকের। আগেরদিন মাশরাফির চোখের পানি সেই শোককে পরিণত করেছে শক্তিতে। তবে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বড় ধাক্কাটি খেতে হলো তামিমকে হারিয়ে। পেটের পীড়া এবং জ্বরের কারণে খেলতে পারছেন না তামিম। তবুও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে জিততে হলে করতে হবে ১৫৭ রান।
শুরুতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলেও শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ঝড়ে বাংলাদেশ লড়াকু স্কোর পেয়ে যায়। ২৯ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে যান মাহমুদুল্লাহ। আফসোস এক রানের জন্য। না হয় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরিটা পেয়েও যেতে পারতেন তিনি। ৭টি বাউন্ডারির সঙ্গে একটি ছক্কা মারেন তিনি। সাকিব আল হাসান করেন ২৫ বলে ৩৩ রান। ২২ বলে ২৩ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন। ১০ বলে ১৩ রান করেন শুভাগত হোম। সাব্বির রহমান আউট হন ১৭ বলে ১২ রান করে। মুশফিক অপরাজিত থাকেন ১১ বলে ১৫ রান।
Toss
তামিম না থাকাতে যেন ব্যাটিংয়ের অর্ধেক শক্তিই নাই হয়ে গেলো বাংলাদেশের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে যেন তারই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরলেন সৌম্য সরকার। তামিম না থাকায় সৌম্যর সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নামেন মোহাম্মদ মিঠুন। অস্ট্রেলিয়ার বোলার কাউল্টার নেইলকে মোকাবেলা করেন মিঠুন। প্রথম বলে ১ রান। পরের ৫ বল থেকে আসে আর একটি রান। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে আসেন শেন ওয়াটসন। প্রথম বলে আউট সুইং।
দ্বিতীয় বলটাও ওয়াটসন দিলেন স্ট্যাম্পের অনেক বাইরে। মারার মত বল পেয়ে লোভ সামলাতে পারলেন না সৌম্য সরকার। খেললেন পয়েন্ট। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দুর্দান্ত একটি শট আরও দুর্দান্ত একটি ক্যাচে পরিণত হলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের হাতে। ২ রানেই পড়লো বাংলাদেশের প্রথম উইকেট।
সৌম্য আউট হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ মিঠুন এবং সাব্বির রহমান। ইনফর্ম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাব্বিরের ওপর বেশ প্রত্যাশা তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের। দুটি বাউন্ডারি মেরে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনও ঘটাতে শুরু করলেন যেন সাব্বির। কিন্তু সেই ওয়াটসনের হাতে আবারও ধরা পড়লেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানটি।
৬ষ্ঠ ভারের প্রথম বলেই ওয়াটসনের স্লোয়ার ডেলিভারিটিকে সজোরে হাঁকাতে গিয়েছিলেন; কিন্তু ব্যাটের উপরের অংশে লেগে বল মিড অনে ক্যাচ উঠে যায়। ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি লুফে নেন জেমস ফকনার। ১৭ বলে ১২ রান করে আউট হয়ে যান সাব্বির। এরপর আউট হন মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান এবং শুভাগত হোম।
এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া উভয় দলই হার মানে। ফলে দু’দলের জন্যই এ ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতায় বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৫৫ রানে হারে। অন্যদিকে ধর্মশালায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ রানে পরাজিত হয় অজিরা।

বাংলাদেশ একাদশ:
মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, আল-আমিন হোসেন, শুভাগত হোম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, ও সাকলাইন সজীব।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ:
স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, নাথান কোল্টার-নাইল, জেমস ফকনার, জন হ্যাস্টিংস, উসমান খাজা, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, পিটার নেভিল (উইকেটরক্ষক), শেন ওয়াটসন ও অ্যাডাম জাম্পা।

বাঘেরা জানে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়: মুশফিক

ইডেনে পাকিস্তানের কাছে হারের পর দলের অন্যতম শক্তি তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির উপর নেমে এলো নিষেধাজ্ঞার খড়্‌গ। নিজেদের নিয়ম ভঙ্গ করেই অনেকটা অস্পষ্ট কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে তাসকিনকে।
সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে হারের পর যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলো টাইগাররা, ঠিক তখন দলের জন্য আইসিসির পক্ষ থেকে দুঃসংবাদ। পরের ম্যাচ খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। এমন পরিস্থিতেও ভেঙে পড়ার পাত্র নয় টাইগাররা।
অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে টাইগার উইকেটরক্ষক মুশফিকুর তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, সৃষ্টিকর্তা সাথে থাকলে কেউ ঠেকাতে পারবে না ইনশাল্লাহ!
আরেকটি পোস্টে লিখেছেন, হোঁচট খেয়েছি অনেকবার, তবুও হার মানিনি। বাধা এসেছে বারবার, তবুও থেমে থাকিনি। বাঘেরা জানে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। আপনারা আমাদের সাথেই থাকুন… ইনশাল্লাহ আল্লাহ ও আমাদের সহায় হবেন। চলো বাংলাদেশ!
সাকিব আল হাসান তার পোস্টে লিখেছেন, ক্রিকেটের দুরন্ত ময়দানে অসীদের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। একটি শক্ত মোকাবিলার জন্য আমরাও প্রস্তুত।
এর আগে তিনি লেখেন, টাইগাররা আরও হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে আগামী ম্যাচে। আমাদের সাথে গর্জে উঠবেন আরও জোরে!
এছাড়া সাব্বির আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আজ আমরা খেলতে নামবো অস্ট্রেলিয়ার সাথে। আমাদের সাথে থাকুন এবং দোয়া করুন। আমরা আমাদের সেরাটাই দিবো ইনশাল্লাহ !!
আইসিসির সিদ্ধান্তে ভেঙে না পড়ে এভাবে আরও দুরন্ত শক্তি নিয়ে অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামতে মুখিয়ে টাইগাররা।

তাসকিনের রিভিউ আবেদন আইসিসির কাছে

টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিং নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের রিভিউ চেয়ে আইসিসির কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে বিসিবি। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে সোমবার (২১ মার্চ) বিকেলে এ নোটিশ পাঠানো হয়। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম‌উদ্দিন চৌধুরী সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রিভিউ-প্রক্রিয়ায় খুব দ্রুত নিষেধাজ্ঞা ওঠার সম্ভাবনা কম। এ প্রক্রিয়ায় নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার কিছু না থাকলেও প্রথমে এক বা একাধিক শুনানি হবে। সেখানে দু’পক্ষ তাদের নিজেদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরবে। এতে সিদ্ধান্ত আসতে কিছুটা সময় লাগার কথা। ফলে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই বৈধতার সার্টিফিকেট নিয়ে তাসকিনের ফেরার সম্ভাবনা কমলো। কারণ, গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের ম্যাচ শেষ হবে ২৬ মার্চ।
তারপরও আশাবাদী নিজামউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, যদি ফলাফল আমাদের পক্ষে আসে তাহলে দ্রুতই জানা যাবে। অনেক সময় একটা শুনানিতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমরা তাই আশা ছাড়ছি না। বিসিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রোববার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আইসিসির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাসকিনের বোলিংয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে আইসিসিকে একটি মেইলও পাঠায় বিসিবি।
এ ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি- এমন আশায় ছিলেন বিসিবি সভাপতি। কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো খবর না আসায় অপেক্ষা না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই রিভিউ আবেদন করলো বিসিবি।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন মওকা (ভিডিও)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে নতুন মওকা ভিডিও বানিয়েছে ভারতের কিছু সমর্থক।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের আগে ফটোশপ নিয়ে যেই কারিকুরি দেখা গেছে তারই পাল্টাচিত্র দেখা গেছে ভারত সমর্থকদের তৈরী করা নতুন ভিডিওতে।
বাংলাদেশি পেসার তাসকিনের কাধে ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির মাথা ধরা একটি ছবি কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফটোশপের মাধ্যমে কোনো এক অতি উৎসাহী টাইগার সমর্থক নির্বোধের মতো কাজটি করেন।
সম্প্রতি আরাফাত সানী ও তাসকিন আহমেদের অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নিষেধাজ্ঞায় তাসকিনের হাতে ধরা ওই ফটোশপ ছবির প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। কেননা ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ছবি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ফটোশপ নিয়ে ভারতের নতুন মওকা ভিডিওতে দেখা যায় প্রথমে পাকিস্তানের জার্সি পরিহিত একটি ছেলে বিশ্বকাপের ছবি উঠান। ভারতের জার্সি পরা একজন ফটোগ্রফার তাকে গাইড করেন। ট্রফির বিভিন্ন সাইজ নিয়ে তিনি পাকিস্তানের ছেলেটির সঙ্গে কথা বলেন। পাকিস্তানি ছেলেটি জানতে চান ফটোশপ ছবিতে আমি ওয়ার্ল্ড কাপ হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছি মনে হবে কিনা? জবাবে ভারতের ছেলেটি জানান সমস্যা নেই। খুবই ভালো মানের ফটোশপের কাজ হবে।
এরপর বাংলাদেশি জার্সি পরিহিত একটি ছেলে ওই ফটোশপের দোকানে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে বিশ্বকাপের ট্রফি দাবি করেন। তখন ভারতীয় ছেলেটি তাকে জানান সমস্যা নাই ছবি তুলে ট্রফির সঙ্গে ফটোশপ করে বসিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু বাংলাদেশি ছেলেটি ফটোশপ নয়, আসল বিশ্বকাপের কথা জানান। তখন ভারতীয় ছেলেটি বাংলাদেশি ছেলেটির মুখের মাপ নেন। তারপর তার সমানে রাখা বিভিন্ন ছুরি পরখ করে দেখতে থাকেন। বাংলাদেশি ছেলেটি কারণ জিজ্ঞস করলে তাকে জানানো হয় তার মাথা কেটে ধোনির মাথা লাগিয়ে দিলেই কেবল আসল বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব হবে। পরে বিস্মিত হয়ে বাংলাদেশি ছেলেটি ফটোশপের দোকান ত্যাগ করেন।

তাসকিনের পাশে শোয়েব

বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট চলাকালীন টাইগারদের পেসার তাসকিন আহমেদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাই অবাক হননি। গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। থেমে থাকেননি পাকিস্তানের গতিদানব শোয়েব আখতার।
নিজের টুইটারে জানিয়ে দিলেন, তাসকিন পুরো ক্রিকেট বিশ্বের সম্পদ।
2222
টুইটারে রাওয়ালপিন্ড্রি এক্সপ্রেস খ্যাত শোয়েব টুইট করেন, ‘তাসকিনের জন্য সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। আশা করি সে খুব শিগগিরই আইসিসি থেকে ছাড়পত্র পেয়ে যাবে। কারণ সে ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই বড় সম্পদ।’
এর আগে এশিয়া কাপের আসরে বাংলাদেশে এসেছিলেন শোয়েব। পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের ম্যাচের আগ মুহূর্তে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে তাসকিনকে পাশে ডেকে বেশ কিছু টিপসও দিয়েছিলেন পাকিস্তানের গতি দানব। বর্তমানে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি।
বোলিং অ্যাকশনের কারণে তাসকিন ও সানিকে নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের জন্য তা দুঃসংবাদ ডেকে আনে। এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জোর চেষ্টা চালাচ্ছে এই মেগা আসরেই তাসকিনকে ফিরিয়ে আনতে।
Shoaib_Taskin-2
বিশ্বকাপে তাসকিনের খেলার সম্ভাবনা এখন আর নেই- এটা যেমন টাইগারপ্রেমীদের মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে, তেমনি আশায় বুক বাধতেও তারা পিছপা হচ্ছেন না। কারণ, শোয়েব আখতারের ক্যারিয়ার। তাসকিনের মতোই বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটির অভিযোগ উঠেছিল পাকিস্তানের এই কিংবদন্তির। তবে, স্বল্প সময়ে এবং বিশেষ উপায়ে পুনরায় পরীক্ষা ছাড়া বোলিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠেছিলেন শোয়েব।
১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর শোয়েব আখতারের বোলিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আপিলে ১১ দিনের মাথায় আইসিসি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন শোয়েব।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচের পর বাংলাদেশ আগামী ২৩ মার্চ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে। আর সুপার টেনে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগাররা ২৬ মার্চ খেলবে। বিসিবির আপিলে স্বল্প সময়ে আর বিশেষ উপায়ে তাসকিনকে পুনরায় পরীক্ষা ছাড়া বোলিং করার অনুমতি দিলে তা হবে টাইগার এই গতি দানবের জন্য ক্যারিয়ার সেরা উপহার। যেখানে আইসিসি সব সময়ই তরুণ ক্রিকেটারদের বিভিন্ন উপায়ে উৎসাহিত করার নজির আগেই রেখেছে।

তাসকিনকে সম্পদ বললেন শোয়েব আখতার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সদস্য নিষিদ্ধ হওয়া টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদের পাশে দাঁড়ালেন পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতার। শুভ কামনা জানালেন তাসকিনের জন্য। সোমবার (২১ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন তাদের ‘গতি দানব’ তাসকিনকে খুঁজে ফিরছে তখন শোয়েবের টুইট ‘সত্যি তাসকিনের কথা ভাবছি। আশা করছি খুব শিগগিরই সে আইসিসির ছাড়পত্র পাবে…কারণ সে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একজন সম্পদ…’
2222
এই টুইটের পরপরই তাসকিন তার ফেসবুক পেজে শোয়েব আকতারের টুইটটির স্ক্রিন শর্ট দিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছন। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো আসরের মাঝপথে শনিবার (১৯ মার্চ) প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা জানায় আইসিসি। সানির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট 333করে বলা হয়, ‘তার কনুই বল ছোঁড়ার সময় সীমা লঙ্ঘন করে’। কিন্তু তাসকিন আহমেদের ব্যাপারে একেবারেই অস্পষ্ট করে বলা হয়, ‘তার সব ডেলিভারি বৈধ নয়’।
বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কিত আইসিসির আইনের ২.২.৬ ধারায় বলা আছে, যে ডেলিভারির জন্য আম্পায়াররা বোলারকে সন্দেহ করেছেন, ল্যাব পরীক্ষায় সেই নির্দিষ্ট ডেলিভারিই করে দেখাবেন বোলার। কিন্তু অফিসিয়ালরা তাসকিনকে নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারির জন্য অভিযুক্ত করেননি। কেবল বলেছেন, ‘তার অ্যাকশন সন্দেহজনক’। ‍আম্পায়ারদের অভিযোগটাই ভুল।
এই নিষেধাজ্ঞার পর সারা বিশ্বের টাইগারভক্তরা ফেটে পড়েছেন ক্ষোভে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে আইসিসি ও ক্রিকেটীয় মোড়লদের নিয়ে সমালোচনার ঝড়।

গুগল-ডুডলেও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে নতুন সাজে সেজেছে সার্চ ইঞ্জিন গুগল-অস্ট্রেলিয়া। ২১ মার্চ ব্যাঙ্গালুরুতে মাঠে নামবে দুই দল।
বিশ্বমঞ্চের সুপার টেনে দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে তাই টাইগারদের পাশাপাশি জয়ের বিকল্প নেই ক্যাঙ্গারুদেরও।
আর হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের উত্তেজনায় মেতেছে গুগল।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ উপলক্ষে গুগল অস্ট্রেলিয়া নতুন একটি ডুডল তৈরি করেছে। যেখানে শোভা পাচ্ছে দুটি ব্যাট। যার একটিতে রয়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের আভা। সেখানে ক্লিক করলেই আইসিসি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের স্কোরসহ আরও নিউজ চলে আসে। ব্যাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে।

আইসিসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

তাসকিনের সব বোলিং অবৈধ না হওয়ার পরও তাকে সাময়িকভাবে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সোমবার ব্যাঙ্গালুরুতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচেই এই পেসারকে চায় তারা। এখন আইসিসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ।

গত দুই দিন ধরেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন আইসিসির শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে। বোর্ড সভাপতি তাসকিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কথা বলেছেন আইসিসির সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর, প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন ও সংস্থার প্রধান আইন কর্মকর্তার সঙ্গে।

গত শনিবার অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য আরাফাত সানি ও তাসকিনের বোলিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। রোববার এক প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি সভাপাতি জানান, ধারাবাহিকভাবে দেশের হয়ে খেলা দুই বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে হঠাৎ প্রশ্ন উঠায় তারা বিস্মিত।

এ বিষয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বোলিং, এটা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির ওপর আঘাত। এমন তো না, আমরা বিশ্বকাপে ওদের নতুন নামিয়েছি। ওরা নিয়মিত খেলছিল, সেখানে আইসিসির ম্যাচ রেফারি-আম্পায়াররা ছিলেন। এখন এসে যেটা হল সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় ধাক্কা, আমরা এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত।’

বিশেষ করে তরুণ ডানহাতি পেসার তাসকিনের ব্যাপারে আসা রিপোর্ট মেনে নিতেই কষ্ট হচ্ছে বিসিবি সভাপতির। এ প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান বলেন, ‘তাসকিনের (বোলিং অ্যাকশন নিয়ে) যে রিপোর্ট পেয়েছি এটা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। অত্যন্ত দুঃখজনক। আজ (রোববার) সকালে আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর, সিইও ডেভিড রিচার্ডসনের সাথে কথা বলেছি। তারা আইনজীবী দলের সঙ্গে বসেছে। আমরা তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।

বিসিবি সভাপতি জানান, দ্রুত সাড়া দেয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছে আইসিসির চেয়ারম্যান ও সিইওর কাছ থেকে। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে যা যা করা দরকার আমি করেছি। অমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধান দুই বোলারর চলে গেলে আমরা বিশ্বকাপ কি খেলব? এখন তো প্রায় আমাদের না খেলার মতোই অবস্থা দাঁড়িয়েছে।’

কোনো বোলারের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণার পর পুনরায় পরীক্ষা না দিয়ে মুক্ত হওয়ার কোনো নজির নেই। তারপরও নিয়মানুযায়ী সাত দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ আছে তাসকিন আহমেদের। আর সেই আবেদনই করা হয়েছে। এবার আইসিসির সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষা।

বাংলাদেশ দলের প্রশংসায় হাতুরুসিংহে

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল অনেক আগেই। তবে টি-টোয়ন্টিতে নিজেদের খুব একটা প্রমাণ করতে পারছিল না টাইগাররা। কিন্তু সেই দু:স্বপ্নও ঘুচিয়েছে টাইগাররা। সম্প্রতি এশিয়া কাপ ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে বেশ উচ্ছাসিত মাশরাফিবাহিনী। তবে দলের ধারাবাহিক সাফল্যে বেশ জোড়ালো ভূমিকা রাখছেন যিনি, তিনি টাইগারদের কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে। কিন্তু দলের এই সাফলতার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের ভূমিকাকেই বড় করে দেখছেন তিনি।

সোমবার (২১ মার্চ) আইসিসির ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি বিষয়ক এক ভিডিওতে হাতুরুসিংহে বলেন, বাংলাদেশ দল বর্তমানে খুব ভালো খেলছে। তারা এখন জানে কিভাবে ম্যাচে সফল হওয়া যায়। আমি এই দলটিকে নিয়ে খুব আশাবাদী।

তিনি বলেন, যদি দলের প্রতিভা ও দক্ষতার কথা বলি, তাহলে অবশ্যই বলব দলটি এখন সম্পূর্ণ দায়িত্বশীলভাবে মাঠে নিজেদের উপস্থাপন করছে। যা একটি দলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিষয়টি উপস্থাপন করে। আমি মনে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরো ভালো খেলবে। কারণ দলে বিশ্বমানের কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। যারা সবসময় দর্শকদের জন্য নতুন নতুন চমক নিয়ে আসে।

ভিডিওতে কোচের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার মতে, চান্দিকা হাতুরুসিংহে খুবই ভালো একজন প্রশিক্ষক। তিনি দলের প্রত্যেকটি খেলোয়াড়কে নিজের মতো করে শেখাচ্ছেন। যা সবার জন্যেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের আশাবাদ মাশরাফির

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ (সোমবার) মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া দলেরও এটি দ্বিতীয় ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি।  বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রতিবেশি নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে দু’দলই একটু চাপে রয়েছে। কিন্তু অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে পেসার তাসকিন আহমেদ এবং স্পিনার আরাফাত সানিকে নিষিদ্ধ ঘোষণায় এ ম্যাচে মাঠে নামার আগে একটু অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশে শিবির।

তবে সকল অস্বস্তি দূর করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সোমবার (২১ মার্চ) আইসিসির ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি বিষয়ক এক ভিডিওতে মাশরাফি এমনটাই জানালেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ান দলের সকল খেলোয়াড় বেশ অভিজ্ঞ। অবশ্যই তাদের সাথে আমাদের জিততে হলে, সর্বোচ্চ ভালোটাই খেলতে হবে। আমরা জানি তারা যে কোন সময় বিধ্বংসী হয়ে খেলতে পারে। তবে আমরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামব।

মাশরাফি বলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা টি-টোয়েন্টিতে বেশ কিছু সফলতা পেয়েছি। এশিয়া কাপে পাকিস্তান ও শ্রীলংকাকে হারিয়েছি আমরা। যা দলের জন্য বেশ প্রেরণা যোগাবে।

‘শেম অন ইউ, আইসিসি’ : তাসকিন-সানির জন্য বিক্ষোভ

‘শেম অন ইউ, আইসিসি!’ ইউর অ্যাকশন ইজ ইলিগাল। উই ওয়ান্ট তাসকিন-সানি ব্যাক।’ বড় ব্যানারে লেখা বাক্যগুলো। দুই পাশে তাসকিন-সানির ছবি। বিুব্ধ ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে স্লোগান-তাসকিন সানিকে ফেরত চাই। কারও বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় ঘটানা আসলে কি?
বাংলাদেশের গতিময় পেসার তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে তাদের নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ শাহবাগ চত্ত্বরে। রোববার বিকেলে মানববন্ধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট ফ্যানস ইউনিটের (বিসিএফইউ) সদস্যরা শাহবাগে আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।
প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামও (বোয়াফ)। বাংলাদেশের দুই বোলার অ্যাকশন অবৈধ বলে তাদের নিষিদ্ধ করায় আইসিসি’র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিােভ সমাবেশে তারা দাবি জানায়, সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়া আদালতে আপিল ও আইসিসি’র বিরুদ্ধে মামলা করার। বিুব্ধরা গতকাল বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসকাবের সামনে এ বিােভ সমাবেশ করে। সমাবেশের সভাপতি ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেলবোর্নে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে যে ষড়যন্ত্র শরু করেছিলো, তাসকিন-সানির বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করে সেই ষড়যন্ত্র ও নোংরা ক্রিকেট রাজনীতি অব্যাহত রেখেছে আইসিসি। আইসিসি’র তীব্র সমালোচনা করে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মেজবাহ বলেন, ‘বিসিবি’র উচিত, শিগগিরই সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়া আদালতে বিষয়টি নিয়ে যাওয়া’।
21
এদিকে, বিসিএফইউ এর সভাপতি সঞ্জীবন সুদীপ বলেন, ‘মানবন্ধনের মাধ্যমে আইসিসির হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিসিবিকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ জানাই। আমরা জেনেছি, তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন পরীায় সঠিক নিয়ম পালন করা হয়নি। নিশ্চয়ই এটা ষড়যন্ত্র। এ জন্য বিসিবিকে কালবিলম্ব না করে পরবর্তী পদপে নেয়ার অনুরোধ জানাই। বাংলাদেশ দলকে মেসেজ দিতে চাই বিশ্বকাপে তারা যেন সাহস ন