বিকাল ৪:৩৪, মঙ্গলবার, ২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং

গৌতম গম্ভীর আর বিরাট কোহলি। একে অপরকে খুব একটা মেনে নিতে পারেন না! কেন যেন লেগে যায় কোহলি-গম্ভীরের! মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে। অনেকে তো দুজনের সম্পর্কটাকে ‘সাপে-নেউলে সম্পর্ক’ হিসেবেই দেখছেন।

আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ক্রিকেট- মাঠে কথার লড়াই সব জায়াগাতেই হয়। আইপিএলে দুজনকে তর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে কয়েকবার। এবার আর মাঠে নয়, ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহলিকে নিয়ে কথা বলেন গম্ভীর।

ভারতের ক্রিকেটে এ যেন চিরকালের এক অপবাদ- দেশের মাটিতে বাঘ, বিদেশে গেলেই বিড়াল। সেই অপবাদ মুছতে পারলে কোহলিই হবেন ভারতের সেরা অধিনায়ক। শুধু ভারত নয়, উপমহাদেশের বাইরে বেশি বেশি জিততে পারলেই কিনা কোহলিকে ভালো অধিনায়ক মানবেন গম্ভীর!

ক্রিকইনফোকে গম্ভীর বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজে ফেবারিট ভারত। সেখানে জিততে পারে কোহলির দল। তবে উপমহাদেশের বাইরে (টেস্ট) জয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে কোহলিকে। তাহলেই কিনা তাকে অধিনায়ক করার মান রাখতে পারবে। নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে, সে ভালো অধিনায়ক।’

ভারতকে চূড়ায় রাখতে পারবেন তো শাস্ত্রী?

অনেক নাটকের অবসান ঘটিয়ে ভারতের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন রবি শাস্ত্রী। কোচিংয়ের দায়িত্ব নেয়ার পরই টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষেই পেলেন ভারতকে। তার প্রথম মিশন শ্রীলঙ্কায়।

ভারতীয় দল নিয়ে এখন শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন শাস্ত্রী। লঙ্কা সফরে তিনটি টেস্ট খেলবে ভারত। প্রথম টেস্টটি মাঠে গড়াবে আগামীকাল বুধবার, গলে। শাস্ত্রী চাইবেন, জয় দিয়েই তার মিশন শুরু করতে।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতকে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায় রাখতে পারবেন তো শাস্ত্রী? তবে র্যাংকিং নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে চাইলেন না। পূর্বসূরী অনিল কুম্বলের রেখা যাওয়া অবস্থানটা ধরে রাখাই যে শাস্ত্রীর লক্ষ্য, এটা বলা বাহুল্য। সেজন্য ভালো এবং ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার বিকল্প দেখছেন না ভারতের নতুন এই কোচ।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারানো ভারত দলের সবাই এখন আত্মবিশ্বাসী। শাস্ত্রীর ভাষায়, ‘ছেলেরা তাদের কাজটা ভালোভাবেই করে যাচ্ছে। তারা পেশাদার ক্রিকেটার। মাঠে পিছিয়ে পড়লেও কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তা জানে। আমার কাজ হচ্ছে ছেলেদের থেকে সেরাটা বের করে নিয়ে আসা এবং ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পথ দেখানো।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাহমুদুল্লাহর দশ বছর

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। অর্থাৎ জাতীয় দলের জার্সিতে মাহমুদুল্লাহর ১০ বছর পূর্ণ হলো আজ।
কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআই দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। এরপর একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর কেনিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআইতে হারলেও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ের স্বাদ পান বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক দশক পূর্ণ হলেও মাত্র ১৪৫টি ওডিআই এবং ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদুল্লাহ। অন্যদিকে গত ৮ বছরে মাত্র ৩৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০০৯ সালের ৯ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের আনসান হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বেশ কয়েকটি ম্যাচে দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখলেও অন্য কোনো সতীর্থের কীর্তির আড়ালে বার বার হারিয়ে গেছে তার ভূমিকা। এখন পর্যন্ত ওডিআইতে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন মাত্র ৪ বার। টি-টোয়েন্টিতে একবার ম্যাচসেরার পুরস্কার পেলেও দীর্ঘ ফরম্যাটের কোনো ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাননি তিনি।

২০১৫ সালের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক করেন মাহমুদুল্লাহ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম শতকের পর পরের ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এখন পর্যন্ত ওডিআইতে মাহমুদুল্লাহর সর্বোচ্চ রানের ইনিংস সেটি।
অন্যদিকে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ৬৪ (অপরাজিত) রানের ইনিংস রয়েছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। আর টেস্টে সর্বোচ্চ ১১৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের এই অলরাউন্ডার ৩৩ টেস্টে ১ হাজার ৮০৯ রান; ১৪৫ ওয়ানডেতে ৩ হাজার ১৫৫ রান এবং ৫৮ টি-টোয়েন্টিতে ৮১০ রান করতে সক্ষম হন। অন্যদিকে বল হাতে টেস্টে ৩৯ উইকেট; ওডিআইতে ৭০ উইকেট এবং টি-টোয়েন্টিতে ২২ উইকেট নিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ।

বিপিএলে প্রতিম্যাচে পাঁচ বিদেশি

এবারের বিপিএলে, একাদশে চারজন না পাঁচজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানো হবে সেটা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছিল। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকই কয়েকমাস আগে এই বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন, আমাদের দেশে ‘কোয়ালিটি ক্রিকেটারের সংখ্যা কম’ বলে।
এ বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, পাঁচজন করে বিদেশি খেলানোর। অবশেষে, গভর্নিং কাউন্সিলের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো পাঁচজন খেলানোর।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানান, প্রতিটি ম্যাচে একাদশে পাঁচজন করে বিদেশি খেলাতে হবে। বাকি ৬ জন থাকবেন দেশি ক্রিকেটার।
আইপিএল, সিপিএল, পিএসএল থেকে শুরু করে সবগুলো ফ্রাঞ্জাইজি লিগের নিয়মই হচ্ছে, চারজন করে বিদেশি ক্রিকেটার এবং সাতজন করে দেশি ক্রিকেটার খেলানোর। বিপিএলের আগের চার আসরেও ছিল এই নিয়ম।
কিন্তু এবার একটি দল বেড়ে যাওয়ার কারণেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১টি দল বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন বিপিএলে মোট দলের সংখ্যা ৮টি। চারজন করে বিদেশি খেলানো হলে, বাকি আরও সাতজন করে আট দলে মোটামুটি মানের মানসম্পন্ন ক্রিকেটার প্রয়োজন ৫৬ জন।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এতগুলো মানসম্পন্ন ক্রিকেটার নেই যে, তাদেরকে দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলানো যাবে এবং বিপিএলকে আকর্ষণীয় করে তোলা যাবে। ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই আসল। সেটাই যদি না থাকে তাহলে বিপিএলের আকর্ষণও হারাবে।
সংবাদ সম্মেলনে মল্লিক জানান, ‘বৈঠকে আটটি ফ্রাঞ্চাইজির মধ্যে ৫টিই চেয়েছে ৫জন করে বিদেশি ক্রিকেটার। বাকি ৩টি চেয়েছে চারজন করে। মেজরিটি ভিত্তিতে আমরা ৫জন বিদেশি খেলানোর পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

২ নভেম্বর শুরু বিপিএল

বিশ্বের অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের সঙ্গে যেন শুরুর সময়ের সংঘাত না হয় সেজন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর তারিখে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজ সোমবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক সংবাদ সম্মেলনে, সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানান, ২ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরুর তারিখ। অর্থাৎ ২ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এবারের বিপিএল। তবে এর দুইদিন আগে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিপিএলের জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর।
কল্যাণপুরে একমি কার্যালয়ে, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসমাইল হায়দার মল্লিক। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগের সময়ের সঙ্গে আমাদের বিপিএলের সময়ের একটা সংঘাত দেখা দিচ্ছে। এ কারণেই আমরা বিপিএলকে দুইদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
প্রথম আসর থেকেই নভেম্বরকে বিপিএল আয়োজনের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে সবচেয়ে বেশি, ৮টি দল। নতুন ফ্রাঞ্চাইজি হিসেবে এবার যোগ হয়েছে সিলেট।

হরমনপ্রীতের প্রতিবাদী ৮৪

৭ জুলাইয়ে জন্মানো মহেন্দ্র সিং ধোনি লাকি নম্বর হিসেবে জার্সিতে ৭ নম্বরটি বেছে নিয়েছেন। শচীন টেণ্ডুলকার থেকে বিরাট কোহলি, প্রত্যেকেরই জার্সি নম্বরের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত কোন না কোনও কারণ। কিন্তু হরমনপ্রীত এক্কেবারে আলাদা, অন্যরকম। তাঁর জার্সির নম্বর ৮৪। এটা তার জন্ম সাল নয়, এই নম্বরের সঙ্গে ব্যক্তিগত রানের কোনও ইতিহাসও নেই। আসলে, ১৯৮৪ সালের দাঙ্গার প্রতিবাদেই ৮৪ নম্বর জার্সিটি গায়ে চাপান তিনি।

হরমনপ্রীত কাউর

হরমনপ্রীত কাউরই ভারতের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সর্বোচ্চ ১৭১ রান (অপরাজিত) করে রেকর্ড গড়েন। পুরুষ ক্রিকেটেও এই রেকর্ড নেই। ভারতীয় মহিলা দলে তিনি হয়ে উঠেছেন লেডি বীরেন্দ্র শেবাগ।
১৯৮৪ সালে শিখ-বিরোধী দাঙ্গায় উত্তাল হয়েছিল পুরো ভারত। শিখ দেহরক্ষীর হাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার ঘটনার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কংগ্রেস আমলে সেই সময় প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু শিখ সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তাঁদের উৎসর্গ করেই ৮৪ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামেন হরমনপ্রীত। শুধু দেশের জার্সির নম্বরই নয়, বিগ ব্যাশ লিগেও ৮৪ নম্বর জার্সি গায়ে খেলেন এই ভারতীয় নারী তারকা ক্রিকেটার।

মাহমুদুল্লাহ্ পিঠে ব্যথা

অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজকে সামনে রেখে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অনুশীলনের সময় পিঠের ইনজুরিতে পড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারকে।
রোববার সকালে জিমনেশিয়ামে ওয়েট তুলতে গিয়ে পিঠে টান পড়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ব্যথা অনুভব করায় মাহমুদউল্লাহকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। অ্যাপোলো হাসপাতালে তার পিঠের এক্স-রে করা হয়েছে। তবে বিসিবির সহকারী চিকিৎসক মইনুল আমিন জানান, মারাত্মক কোনো ব্যথা নয় এটা।

টাকার জন্য পাকিস্তানে ক্রিকেটাররা

দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে মরিয়া পাকিস্তান। তার জন্য নানা চেষ্টা চালাচ্ছে সেদেশের ক্রিকেট বোর্ড। জিম্বাবুয়ে দলের সফরের পর পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল হয় লাহোরে। সেখানে বেশ কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় অংশ নেন।
সফরভাবে সেই ফাইনাল সস্পন্ন করার পর নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয় পিসিবি। আইসিসির পূর্ণ তত্তাবধায়নে বিশ্বের তারকাদের নিয়ে গঠিত একটি দল পাকিস্তানে টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলানোর আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। অংশ হিসেবে ‘বিশ্ব একাদশে’র হয়ে পাকিস্তান খেলতে যাবেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ও সাউথ আফ্রিকার হাশিম আমলার মতো ক্রিকেটাররা।
তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ১২-১৯ সেপ্টেম্বরে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর পিসিবি এখন সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়। ম্যাচ হবে পিএসএলের ফাইনালে হওয়া সেদেশের সবচেয়ে বড় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।
পিসিবি চেয়ারম্যান শাহারিয়ার খান পাকিস্তান টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘বিশ্ব একাদশের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বর্তমান পাকিস্তান দলের ব্যাটিং কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।
আর পাকিস্তানে যাচ্ছেন মাইকেল ক্লার্ক, হাশিম আমলা, নিউজিল্যান্ডের লুক রনকি, অস্ট্রেলিয়ার টিম পেইনের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা।
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা খেলোয়াড়দের বহন করা বাসে বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর পর আর কোনো টেস্ট দল পাকিস্তান সফর করেনি। শুধু ২০১৫ সালে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফর করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল।

সরে গেলেন রাহুল দ্রাবিড়

ভারত ক্রিকেট দলের ব্যাটিং পরামর্শকের পদ থেকে সরে গেলেন রাহুল দ্রাবিড়। শনিবার বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ)-এর প্রধান বিনোদ রাই জানান, সিনিয়ার দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে অংশ নিতে পারবেন না রাহুল। তিনি বলেন, “দ্রাবিড়ের চুক্তি সম্পর্কিত সব সমস্যাই মিটে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে অংশ নেবেন না।”
বর্তমানে ইন্ডিয়া ‘এ’ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের কোচ রাহুল। আগামী বছরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য দলকে আরও ভালও ভাবে তৈরি করতেই যে রাহুলের এই সিদ্ধান্ত তা এ দিন জানিয়ে দেন বিনোদ। তিনি বলেন, “আগামী বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাহুল। তবে, সিনিয়র দলের কোচ রবি শাস্ত্রী যদি চান তা হলে, ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে বিরাটদের পরামর্শদাতা হিসেবে যোগ দিতে পারেন দ্রাবিড়।” তবে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপই রাহুলের সরে যাওয়ার মূল কারণ নয় বলে মনে করছেন অধিকাংশ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, কোচ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অপমানিত হওয়ার কারণেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন রাহুল।

শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ চামিন্দা ভাস

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক যে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা, এর অন্যতম কারণ বোলিংয়ে দুর্বলতা। এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই সাবেক পেসার চামিন্দা ভাসের সরণাপন্ন হয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। বোলিং কোচ হিসেবে ভাসকে নিয়োগি দিতে যাচ্ছে তারা। চম্পকা রামানায়েকের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের পরই লঙ্কান ক্রিকেট দলের বোলিং কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চম্পকা রামানায়েকে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দুই বছর দায়িত্ব পালন করার পর রামানায়েকে লঙ্কান দলের বোলিং কোচের পদ ছাড়লেন।

চম্পকা রামানায়েকে পদত্যাগ করার পর শুক্রবারই নতুন বোলিং কোচ হিসেবে চামিন্দা ভাসের নাম ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। নিয়োগ দেয়ার সময়ই এসএলসি জানিয়ে দেয়, ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কান পেস অ্যাটাককে গাইড করবেন তিনি। তবে ২০১৬ সাল থেকেই নানাভাবে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভাস।

কী কারণে রামানায়েকে লঙ্কান জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন সেটা তিনি জানাননি। বলেছেন, তার কয়েকটি গন্তব্য রয়েছে। তবে এসবই মুখের কথা। রামানায়েকের পরবর্তী গন্তব্য বাংলাদেশ। জাগো নিউজেই সবার আগে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এইচপি দলের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। বিসিবির সঙ্গে কথা পাকাপাকি হওয়ার পরই তিনি লঙ্কান বোলিং কোচের চাকরিটা ছেড়ে দেন।

২০০৮ সালেই প্রথম বিসিবি চম্পকা রামানায়েকেকে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে সাত বছর তিনি লঙ্কান ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের পেস বোলারদের কাছে তিনি বেশ প্রিয়। কারণ, তারা নিজেদের উঠতি সময়টাতে পেয়েছে রামানায়েকেকে। বিশেষ করে রুবেল এবং শফিউলকে খুঁজে বের করার কৃতিত্ব দেয়া হয় রামানায়েকেকে।

এক গোল দিয়ে তিনটি হজম যুবাদের

তাজিকিস্তান জাতীয় দলের বিরুদ্ধে একটি জয় আছে বাংলাদেশের। ২০১০ সালে শ্রীলংকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে তাজিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। সাত বছর আগের বড়দের ওই জয় কিছুটা হলেও সাহস জুগিয়েছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে।

ফিলিস্তিনে এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুটাও ছিল সুন্দর। প্রথম ম্যাচে জর্ডানের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাজিকিস্তানকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ছিল লাল-সবুজ জার্সিধারী যুবাদের, কিন্তু কে জানতো প্রথমার্ধে ১-০ গোলে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল খেয়ে মাঠ ছাড়বে?

বাস্তবে হয়েছেও তাই। প্রথমার্ধে তাজিকদের চেয়ে ভালো খেলেই এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৩ মিনিটে ডান দিক থেকে নেয়া কর্নার কিক এক ডিফেন্ডার ফিরিয়ে দিলে বল পান বক্সের বাইরে সোহেল রানা। তিনি বলটি থামিয়ে শট নেন বা পায়ে। তাজিকিস্তানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় সোহেল মিয়ার সামনে। তিনি ভুল করেননি- প্লেসিং শটে বল পাঠিয়ে দেন তাজিকিস্তানের জালে।

পিছিয়ে পড়া তাজিকিস্তান দ্বিতীয়ার্ধে আহত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের উপর। ৫৫ মিনিটে ম্যাচে সমতা আনেন তাজিকিস্তানের আমিরঝোন সাফারভ। তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন তিনি। ৬৬ মিনিটে পেনাল্টি গোলে তাজিকিস্তানকে এগিয়ে দেন নোজিম বাবাদজানভ। তার নেয়া পেনাল্টি শট গোলরক্ষক জিকো বাম দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাবাদজানভ ফিরতি বল পাঠিয়ে দেন জালে।

তাজিকিস্তান জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ৮৬ মিনিটে। আবদুগাফারভের পাস থেকে গোল করেন জইর জোরাবায়েভ। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ রোববার স্বাগতিক ফিলিস্তিনের বিপক্ষে। পর পর দুই ম্যাচ হারা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে শেষ ম্যাচটা এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।

প্রত্যাশিত শিক্ষা পাওয়াতেই খুশি এইচপি দলের খেলোয়াড়রা

সব ম্যাচে জয় নয়, বরং কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে প্রত্যাশিত শিক্ষা নিয়ে আসতে পেরেই বেশি খুশি বিসিবির হাই পারফর্মেন্স দলের খেলোয়াড়রা। অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরিতে ১৫ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ৫ ওয়ানডে আর একটি তিনদিনের ম্যাচের সবগুলো জিতে দেশে ফেরার পর নিয়মিত অনুশিলন শেষে একথা জানান দলের অধিনায়ক লিটন ও পেসার সাইফুদ্দিন।
দুই সপ্তাহের সফর শেষে সোমবার রাতে দেশে ফেরে বিসিবি এইচপি দল। ডারউইনে নর্দান টেরিটরি আমন্ত্রিত একাদশের বিপে পাঁচটি একদিনের ম্যাচ ও একটি তিন দিনের ম্যাচের সবকটি জিতেছে বাংলাদেশের দলটি। তবে জয়ের চেয়ে বেশি কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে নিজেদের কাঙ্খিত শিাটা অর্জন করে আসতে পারাতেই বরং সন্তুষ্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও পেসার সাইফুদ্দিন আহমেদের। তবে বিরুপ আবহাওয়ায় কিভাবে মানিয়ে নিতে হয় সে শিাটাও তারা নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে। এইচপি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস সেটাই বললেন, ‘বাংলাদেশে প্রচুর সোয়েটিং হয়। ওখানেও হয়েছে। কিন্তু সেখানে প্রচুর বাতাস থাকে। তাতে ঘাম খুব একটা অসুবিধা করতে পারে নি। আমরা নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
এই দুই তরুণই আছেন অস্ট্রেলিয়া ও দণি আফ্রিকার বিপে সিরিজের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডে। এই সফরে অলরাউন্ডারের ভূমিকায় আর্বিভূত হন পেসার সাইফুদ্দিন। তিনি একটি ম্যাচে সেঞ্চুরিও করেন। তাতে দল পায় সহজ জয়। জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন থাকলেও এ মুহূর্তে ভাবনা জুড়ে কেবলই বর্তমানের দায়িত্বটুকু। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা এই ক্রিকেটার জানান, ‘জাতীয় দলে খেলার ভাবনা নিয়ে তো খেলি নি। খেলেছি দলের নিজের দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করার জন্য। সেটা করতে পেরেই আমি সন্তুষ্ট। আর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারলে এমনিতেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসবে।’
বেলিং নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও ব্যাটিং নিয়ে আছে কিছুটা হতাশা। আরও ভালো হতে পারত ব্যাটিং। উন্নতির সুযোগ আছে ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ে। বোর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বে এবারের সফরে খেলতে পারেন নি অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটোরির নিয়মিত খেলোয়াড়রা। তারপরও একম্যাচ ছাড়া বাকি কোনোটিতেই বড় স্কোর করতে না পারায় দলের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা হতাশা আছে দুজনেরই।

নিজের ব্যাটে খেলতে পারবেন না গেইল ওয়ার্নার ও ধোনী-রা

ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, ডেভিড ওয়ার্নার এবং মহেন্দ্র সিং ধোনী তাদের পছন্দের ব্যাট দিয়ে আর খেলতে পারবেন না। আগামী অক্টোবর থেকেই নিজেদের প্রিয় ব্যাটটি দূরে রাখতে হবে তাদের। মেরিলিবোন ক্রিকেট কাব-এমসিসি যারা ক্রিকেটের নিয়মগুলো করে থাকে তারা ব্যাটের আকারে পরিবর্তনের নিয়ম এনেছে।
সেই হিসেবে ব্যাটের প্রস্থ ১০৮ মিলিমিটারের বেশি হতে পারবে না। সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিমিটার পুরো হবে ব্যাট। আর তার কানারা হতে হবে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার। আর ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, ডেভিড ওয়ার্নার এবং মহেন্দ্র সিং ধোনীর ব্যাটের কিনারা তো ৪০ মিলিমিটারের চেয়ে বেশি। তাই আগামী ১ অক্টোবর থেকে চালু হতে যাওয়া নিয়ম অনুযায়ী তারা নিজেদের প্রিয় ব্যাট দিয়ে খেলতে পারবেন না।
অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল এবং পোলার্ডের ব্যাটের কিনারা ৫০ মিলিমিটারের ওপরে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনীর ব্যাটের কিনারা হলো ৪৫ মিলিমিটার। আর এই ব্যাট দিয়েই তারা বোলারদের আঁছড়ে ফেলেন মাঠ কিংবা গ্যালারির বাইরে। জানা গেছে, নতুন ব্যাটে অভ্যস্ত হতে এখন থেকেই অনুশীলন শুরু করেছেন কাইরন পোলার্ড।

সনির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন শচীন টেন্ডুলকার

ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলো ভারতের সনি পিকচার নেটওয়ার্ক। তাদের দুটি নতুন চ্যানেলের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের মালিক শচীন টেন্ডুলকার। মুম্বাইয়ে চ্যানেল দুটির অ্যাম্বাসেডর হিসেবে টেন্ডুলকারকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এ সময় তিনি আসন্ন ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপকে সফল করে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ক্রিকেটকে যেমন ভালোবাসে ভারতের জনগণ তেমনি দেশের অন্যান্য খেলাকেও ভালোবাসেন, এটাই এবার প্রমানের সময়। আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আসর।

নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড

চরম নাটকীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২ উইকেটে হারিয়ে মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ভারতের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা দলটি এখন প্রতিযোগিতার ফাইনালে। মঙ্গলবার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের নেমে ৬ উইকেটে ২১৮ রান তোলে প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বড় রান করেন লরা উলভার্ট(৬৬) এবং মিগনন ডু’প্রেজ(৭৬)।
জবাবে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৯.৪ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ৮ উইকেট হারিয়ে হিথার নাইটের দল তোলে ২২১ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সারা টেলর(৫৪)। সারা ছাড়াও এই জয়ের নেপথ্যে অবদান রাখেন ফ্রান উইলসন(৩০), নাইট(৩০), জেনি গান(২৭)। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দু’উইকেট উইকেট পান শাবনিম আয়বঙ্গা খাকা এবং সান লুস। এ দিনের ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজ উইকেটরক্ষক সারা টেলর।

টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আশা মুমিনুলের

গত কিছুদিন যাবত টেস্টে যেভাবে খেলছে বাংলাদেশ তাতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকেও হারানো সম্ভব। এমনটাই মনে করেন টাইগারদের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে এমনটাই জানান তিনি।
স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বে অস্ট্রলিয়ার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খারাপ নয়। তারপরও সেই দলটিকেই হারাতে চান বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই আশা যোগাচ্ছে বাংলাদেশের ‘দ্যা ওয়াল’কে। আগামী মাসের ১৮ তারিখে ঢাকায় আসার কথা অস্ট্রেলিয়ার। তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নিতে চলছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। আজ মঙ্গলবারের অনুশীলন শেষে মুমিনুল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার ইচ্ছা ২-০ তে জেতা। গত কয়েক বছরে আমরা যেভাবে টেস্ট খেলেছি তাতে করেই আমার এ বিশ্বাস। ১-১ হলেও খারাপ হয় না। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের দুটি ম্যাচই জেতার সামর্থ্য রয়েছে। কেননা আগের চেয়ে আমাদের টেস্ট দলটা অনেক ভালো।’
গত বছর থেকে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচেও ভালো খেলছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে হারলেও দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টাইগাররা। ভারতেও টাইগারদের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখ করার মতোই। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শততম টেস্ট জয়। এ সকল কারণেই মুমিনুল আত্মবিশ্বাস অনেক তুঙ্গে। যুক্তি তুলে ধরে মুমিনুল জানান, ‘বলছি না আমরা ২-০ তেই জিতবো। তবে আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলছি এবং যদি এভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে ২-০ তে জেতা সম্ভব।’
অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগে খেলা ৪ ম্যাচেই হেরেছে টাইগাররা। হোম সিরিজে টাইগাররা তুলনামূলকভাবে সুবিধা পাবে বলে মনে করেন মুমিনুল। বলেন, ‘আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের চেয়ে খানিকটা কঠিন হবে। কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়া ভারতের কন্ডিশনে খেলে এসেছে। আর ইংল্যান্ড আমাদের বিপক্ষে খেলে ভারতে গিয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খানিকটা কঠিন হবে। ওরা এই কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত। আমাদের সেভাবেই প্রস্তুত হতে হবে।’

রেকর্ড গড়া জয়ে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারালো শ্রীলঙ্কা

নিজেদের মাটিতে সর্বোচ্চ ৩৮৮ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে কলম্বো টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ার রেকর্ড পাকিস্তানের। ২০১৫ সালে পালেকেল্লের সেই টেস্ট ৭ উইকেট জিতেছিল অতিথরা। দেশের মাটিতে লঙ্কানরা সর্বোচ্চ ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে, ২০০৬ সালে পি সারা ওভালে। এটা সবমিলিয়ে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

ষষ্ঠ উইকেটে ডিকাভেলা ও গুনারত্নের ১২১ রানই জয়ের পথ দেখায় শ্রীলঙ্কাকে।

রীতিমত অবিশ্বাস্য। লঙ্কানদেরও সম্ভবত কেউ বিশ্বাস রাখতে পারেননি, তারা জিততে পারেন। ওয়ানডে সিরিজে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর মানসিকভাবে জিম্বাবুয়ে যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিল, তাতে কলম্বো টেস্ট জয় যেন তাদের জন্য খুব সহজ একটি কাজ; কিন্তু শেষ দিনে এসে কিছুটা বুড়ো হাঁড়ের ভেলকি দেখাল শ্রীলঙ্কা। যদিও দলের ক্রিকেটাররা অনেক তরুণ।
শেষ মুহূর্তে অ্যাসেলা গুনারত্নে এবং নিরোশান ডিকভেলার দারুণ একটি জুটিতেই ঐতিহাসিক জয় পেয়ে গেলো শ্রীলঙ্কা।
জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল ৩৮৮ রান। নিজেদের মাঠে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড লঙ্কানদের তো ছিলই না। এমনকি এশিয়া মহাদেশেও এত বড় রান তাড়া করার রেকর্ড নেই। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ২০১৫ সালে ৩৮২ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের। এবার সেটাকেও পার হয়ে গেলেন দিনেশ চান্দিমালরা।
লাঞ্চের পরই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। একমাত্র টেস্টের এই সিরিজে জয়ের মধ্য দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে দারুণ অভিষেক হলো দিনেশ চান্দিমালেরও।
কলম্বো টেস্টের শেষদিনে ৬ উইকেটে ৩৯১ রান তোলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ সেরা আসেলা গুনারত্নে ৮০ রানে এবং দিলরুয়ান পেরেরা ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এর আগে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭৭ রান করে লঙ্কাকে ৩৮৮ রানে জয়ের টার্গেট দেয় জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩৪৬ রানে অল আউট হয়েছিলো শ্রীলঙ্কা।
টেস্টের ১৪০ বছরের ইতিহাসে এটি তৃতীয় ঘটনা যে ম্যাচের চারটি ইনিংসই ৩০০-৪০০ র মধ্যে রান হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে : ৩৫৬ ও ৩৭৭।
শ্রীলংকা : ৩৪৬ ও ৩৯১/৬(ডিকভেলা ৮১, গুনারুত্নে ৮০*, ক্রেমার ৪/১৫১)।
ফল : শ্রীলংকা ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আসেলা গুনারত্নে (শ্রীলংকা)
ম্যান অব দ্য সিরিজ : রঙ্গনা হেরাথ (শ্রীলংকা)

বৃহস্পতিবার থেকে নারী ক্রিকেটারদের অনুশীলন

২০ জুলাই থেকে শুরু হবে নারী ক্রিকেটারদের অনুশীলন ক্যাম্প। এই ক্যাম্পের জন্য ৪২ ক্রিকেটারকে ডাকা হয়েছে। ১৯ জুলাই বিকেল ৫টায় ক্রীড়া পল্লিতে তাদেরকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
ক্যাম্প চলাকালে ৪২ ক্রিকেটারকে ৩টি দলে বিভক্ত করা হবে। পদ্মা একাদশ, মেঘনা একাদশ ও যমুনা একাদশ। এই তিন দল ২২ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।
ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৪২ নারী ক্রিকেটার হলেন : রুমানা আহমেদ, জাহানারা আলম, সানজিদা ইসলাম, সালমা খাতুন, ফারাজানা হক, রিতু মনি, নিগার সুলতানা, সুরাইয়া আজমিন, পান্না ঘোষ, শারমিন আক্তার সুপ্তা, আয়শা রহমান, খাদিজাতুল কুবরা, শায়লা শারমিন, নাহিদা আক্তার, ফাহিমা খাতুন, শারমিন সুলতানা, মোর্শেদা খাতুন, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, নুজহাত তাসনিয়া টুম্পা, লতা মন্ডল, তৃপ্তি মন্ডল, শামীমা সুলতানা, সানজিদা জান্নাত, লিলি রানি, শবনম মুস্তারি, তাজ নাহার, ইশমা তানজিম, পাব্রিতা রায়, লাবনি আক্তার, সানদিহা ইসলাম, ইসমত জাহান ইমু, বৈশাখি সুলতানা ইয়াসমিন, বৃষ্টি রায়, ইসমত আরা, সামিয়া আক্তার সালমা, জান্নাতুল ফেরদৌস তিথি, পূজা চক্রবর্তী, আয়েশা আক্তার, নিপা আক্তার, তানিয়া সরকার ইলা, হ্যাপি আলম ও সোহেলি আক্তার।

সমতায় ফিরলো দক্ষিণ আফ্রিকা, ধরাশায়ী ইংল্যান্ড

নটিংহাম টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে ৪ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা আনলো প্রোটিয়ারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান ব্যবধানে এটি প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় বড় জয়।
তৃতীয় দিনই ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৪ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বেলায় ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ১ রান তুলে দিন শেষ করেছিলো ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ইংলিশদের ব্যাটসম্যান। ফলে ১৩৩ রানে নিজেদের ইনিংস গুটিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ভারনন ফিল্যান্ডার ও কেশব মহারাজ ৩টি করে উইকেট নেন।
ওভালে আগামী ২৭ জুলাই হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা : ৩৩৫ ও ৩৪৩/৯(ডি)।
ইংল্যান্ড : ২০৫ ও ১৩৩(কুক ৪২, ফিলান্ডার ৩/২৪)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৪০ রানে জয়ী।
সিরিজ : ৪ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা।

আরও এক ইতিহাসের সামনে জিম্বাবুয়ে

কলম্বো টেস্টের পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার ২১৮ রান আর জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ৭ উইকেট। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩-২ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর এবার একমাত্র টেস্টেও পরাজয়ের লজ্জার মুখে লঙ্কানরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট জিততে হলে এখন রীতিমত রেকর্ড গড়তে হবে।
সিকান্দার রাজার অসাধারণ এক সেঞ্চুরির ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে জিম্বাবুয়ে। অলআউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে জিম্বাবুয়ের রান ওঠে ৩৭৭। প্রধম ইনিংসে ১০ রানে লিডসহ মোট ৩৮৭ রানের লিড নিয়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ৩৮৮ রান।

টেস্টের যে পরিস্থিতি, তাতে লঙ্কানদের জন্য এই ৩৮৮ রান বলতে গেলে অসম্ভবই। আবার নিজেদের মাটিতে জিততে হলে লঙ্কানদের রীতিমত রেকর্ডই গড়তে হবে। কারণ, চতুর্থ ইনিংসে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সর্বোচ্চ ৩৮২ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানের। ২০১৫ সালে ইউনিস খানের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে এই রান তাড়া করে জিতেছিল পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের করা রেকর্ডটি গুঁড়িয়ে দিতে হবে দিনেশ চান্দিমালদের।
তবে ইতিহাস গড়া লঙ্কানদের পক্ষে সম্ভব হবে কি না তাতে যথেষ্টই সন্দেহের। কারণ ১৩৩ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছে শ্রীলঙ্কা। ফিরে গেছেন দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা, দিমুথ করুনারত্নে এবং অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। করুনারত্নে আর থারাঙ্গা মিলে ৫৮ রানের জুটি গড়ার পর স্পিনার ক্রেমারের হাতে ভাঙে ওপেনিং জুটি। ২৭ রানে ফিরে যান থারাঙ্গা। এরপর ৪৯ রান করে করুনারত্নে এবং ১৫ রান করে আউট হয়ে যান। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ আর কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ভালোই ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। চতুর্থ দিন শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭০ রান। ৬০ রান নিয়ে কুশল মেন্ডিস এবং ম্যাথিউজ অপরাজিত আছেন ১৭ রানে।

মিরাজের ‌ওযেস্ট ইন্ডিজ যাত্রা ২৭ জুলাই

আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয় গেছে। রোববার অনাপত্তিপত্রে সই করেছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে আগামী ২৭ জুলাই রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
পুরো টুর্নামেন্ট অবশ্য খেলতে পারবেন না মিরাজ। দেশে ফিরতে হবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেই। অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। ত্রিনবাগো তাকে পাবে তাই প্রথম ৫ ম্যাচে। এদিকে, সিপিএলে দল পেয়ে সে সময় দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন মিরাজ।
জানিয়েছিলেন, অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলতে পারার কথা। তাদের কাছ থেকে শিখে নিজের খেলায় উন্নতি করার কথাও।
সিপিএলে মিরাজ খেলবেন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সে। অস্ট্রেলিয়ান চায়নাম্যান বোলার ব্র্যাড হগের বদলে বাংলাদেশের অফ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে নিয়েছে দলটি।
সিপিএলের এবারের আসর শুরু হবে ৪ অগাস্ট। উদ্বোধনী দিনেই মিরাজের দল খেলবে সেন্ট লুসিয়া স্টার্সের বিপক্ষে।
একই আসরে জ্যামাইকা তালাওয়াহসের হয়ে খেলবেন সাকিব আল হাসান। তার দেশ ছাড়ার কথা ২৯ জুলাই।

সৌম্যর চোখে অস্ট্রেলিয়া বধের স্বপ্ন

২০১৫ সালে অভিষেকের বছরটা বেশ ভালই কেটেছিলো বাংলাদেশের ওপেনার সৌম্য সরকারের। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সেবছরই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে সবার প্রশংসাও পেয়েছিলেন বাঁহতি এই ওপেনার। কিন্তু বর্তমান সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছেনা তার। চলিত বছর খেলা ১১ ওয়ানডেতে প্রায় ২১ গড়ে তার রান মাত্র ২৩৫। তবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগেই নিজের পুরেণা সেই ছন্দে ফিরতে প্রত্যয়ী সৌম্য সরকার। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে মাত্র ১টি টেস্ট খেলেছেন, সেটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই সৌম্যর টার্গেট এবার অস্ট্রেলিয়া। সোমবার মিরপুরে অনুশীলন শেষে স্টিভেন স্মিথের দলের বিপক্ষে দারুণ কিছু করার প্রত্যয় তার কণ্ঠে, ‘এটা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার প্রথম টেস্ট সিরিজ হবে। আমি এটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। আমার ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে যেন আমরা দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম কোন টেস্ট জিততে পারি সেই চেষ্টাই করব।’
টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর প্রায় ১৭ বছর কাটিয়ে দিলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা মোট ম্যাচের সংখ্যা মাত্র ৪টি। সবশেষ টেস্ট সিরিজটি ছিলো ২০০৬ সালের এপ্রিলে, বাংলাদেশেই। এরপর কেটে গেছে ১১ বছরের বেশি সময়। অসিদের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলা দলের মধ্যে একমাত্র মাশরাফি বিন মুর্তজা এখনও ক্রিকেট খেলেন। তবে শুধু মাত্র ওয়ানডে। টেস্টে নেই তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই অসিদের বিপক্ষে এটাই হবে বর্তমান দলের সবার জন্যই প্রথম টেস্ট।
কদিন আগেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করেছিল বাংলাদেশ। সেই ওয়ানডেতে দলে ছিলেন সৌম্য। এর আগে ভারতে আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও অসিদের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি। তাই এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা তার জন্য খুব নতুন কিছু না। তবে ওদের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তো আর নেই। তা সত্ত্বেও জয়টাই লক্ষ্য থাকবে বলে জানালেন সৌম্য, ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ। আমাদের এখানে তারা আসবে। তাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা মুখিয়ে আছি। আশা করি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারব।’ টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বাংলাদেশের জন্য প্রায় অসম্ভব ভাবনা। কিন্তু সময়টা তো বাংলাদেশেরও বদলেছে। সৌম্যও জানালেন সেই কথা, ‘আমরাতো এমনিতেই টেস্ট কম খেলি। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও কম খেলি। তবে গত কিছুদিন ধরে আমরা টেস্ট ভালো খেলছি। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা টেস্ট সিরিজে ভালো করেছি।’

অনুশীলনে নামার অপেক্ষায় সাকিব

গত সপ্তাহে ইনজুরিতে পড়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ইনজুরির কারণে ফিটনেস ক্যাম্পেও কয়েকদিন ধরে যোগ দিতে পারছেন না তিনি। তবে শীঘ্রই ইনজুরি সেরে মাঠে ফিরছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
জানা যায়, বাসার সিড়ি থেকে নামতে গিয়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান সাকিব। এই চোটের কারণে বেশ কয়েকদিন বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে তাকে। তবে এখন আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ সাকিব। আশা করা যাচ্ছে ৫-৬ দিনের মধ্যেই সেরে উঠবেন তিনি। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে না আসার কারণে এখনো অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেনি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারা। কোচ আসার পরেই ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন শুরু করবে ক্রিকেটাররা। তাই পুরোপুরি সুস্থ হয়েই অনুশীলন শুরু করতে পারবেন সাকিব আল হাসান।
এদিকে, বাংলাদেশদ দলের ফিজিও এবং ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ান আশা করছেন অতি শীঘ্রই পুরোদমে সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে ক্যাম্পে যোগ দেবেন সাকিব। ট্রেনার মারিও আরো জানান, সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্যে হালকা অনুশীলন করবেন সাকিব এবং মঙ্গলবার থেকে সাইক্লিং করবেন তিনি।

সিকান্দার রাজার ব্যাটে জিম্বাবুয়ের লিড- চাপে শ্রীলঙ্কা

প্রথম সেঞ্চুরির পথে থাকা সিকান্দার রাজার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। রঙ্গনা হেরাথের চমৎকার বোলিংয়ের পরও কলম্বো টেস্টে বিপদে শ্রীলঙ্কা।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৫২ রান। সিকান্দার রাজা ৯৭ ও ম্যালকম ওয়ালার ৫৭ রানে অপরাজিত আছেন। সপ্তম উইকেটে তাদের অপরাজিত ১০৭ রানের জুটিতে ২৬২ রানের লিড নিয়েছে অতিথিরা, হাতে আছে ৪ উইকেট।
৫৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং। লঙ্কান স্পিনে কুপোকাত জিম্বাবুয়ে। দ্রুত রান তুলে দলের ওপর চাপ সরিয়ে দেন সিকান্দার রাজা। পরে ব্যাট করেছেন পরিস্থিতি অনুযায়ী। রাজার ৯৭ রানের ইনিংসটি গড়া ১৫৮ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায়।
এরআগে কলম্বায়, ১০ রানের লিড পেয়ে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে শুরুতে কাঁপিয়ে দেন হেরাথ। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনারের দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ২৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে অতিথিরা।
দিনের বাকি সময়টুকু শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ স্পিনারের জন্য শুধুই হতাশার। খুব সহজেই তাকে খেলেছেন রাজা, পিটার মুর ও ওয়ালার। অন্য স্পিনার পেরেরাও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। বাড়তি গতির জন্য যা একটু ভুগিয়েছেন পেসার লাহিরু কুমারা।
এই পেসারই ভাঙেন মুরের সঙ্গে রাজার ৮৬ রানের জুটি। মুরের সংগ্রহ ৪০ রান। ৮৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন হেরাথ। কুমারা ও পেরেরার শিকার একটি করে।
এর আগে রোববার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ২৯৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা শ্রীলঙ্কা, ৩৪৬ রানে অলআউট হয়। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৩৫৬
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৪৬
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ২৫২/৬ (রাজা ৯৭*, ওয়ালার ৫৭*; হেরাথ ৪/৮৫)

অন্যের সমালোচনা নয় খেলা নিয়েই বেশি ভাবনা নাসিরের

পত্রিকা খুব একটা পড়া হয়ে ওঠে না জাতীয় দলের অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের। ফেসবুকও খুব কম ব্যবহার করেন তিনি। তাতে সমালোচনা নজরে আসে কম। সমালোচনা নিয়ে নয়; খেলা নিয়েই ভাবতে চান এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। আজ (রোববার) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) লাউঞ্জে বসে এ কথা বলেন তিনি।
নাসির আরও বলেন, ‘যাদের নাম হয়, তাদের বদনামও হয়। আর আপনি আমাকে এক চোখে দেখবেন আর অন্যজন অন্য চোখে দেখবে এটাই স্বাভাবিক।’

অলরাউন্ডার নাসির হোসেন

ফিটনেস ক্যাম্প নিয়ে নাসির বলেন, ‘ভালো পারফর্ম করার জন্য ফিটনেস ৬০ ভাগ সাহায্য করে। আমি আমারটা ফিটনেস ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। মনোযোগ আর প্রস্তুতি এখন ফিটনেস ট্রেনিং নিয়ে। ব্যাটিং-বোলিং শুরু করার পর সেখানেও ভালো করার চেষ্টা করব।’
দলে ফেরার ব্যাপারে এই টাইগার ক্রিকেটার বলেন, ‘দলে ফেরার জন্য আমি সিরিয়াস অনুশীলন করছি। দলে প্রবেশের সুযোগ আমার হাতে নেই। আমার করণীয় যেটা, সেটা আমি করছি। এতটুকু বিশ্বাস আছে, আমি যেভাবে খেলছি সেভাবে খেলতে পারলে অবশ্যই জাতীয় দলে ঢুকব।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়েই ভাবছেন নাসির। তিনি আশা করছেন, জাতীয় দলের জার্সিতে সেখান থেকেই সূচনা হতে পারে নাসিরের । তার মতে, ‘টেস্ট সিরিজ নিয়ে তেমন কোনো লক্ষ্য নেই। ওয়ানডেতে যদি আমি খেলি অবশ্যই দল আমার থেকে যা চায়, সেটাই করার চেষ্টা করব।’
মাঠের বাইরের জীবনযাপন নিয়ে এদেশে সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারের নাম নাসির হোসেন। বরাবরই আলোচনায় থাকেন ফিনিশার খ্যাত এই অলরাউন্ডার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশরাফির পর সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটারও এই নাসির।

সৌরভের মূর্তি বসানো নিয়ে সমস্যা

নিজের মূর্তি উন্মোচন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন মহারাজ। নিরাপত্তা থেকে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, সবই ছিল প্রত্যাশা মাফিক। কিন্তু মূর্তি উন্মোচন করতে গিয়েই দেখা দিল আরেক সমস্যা।
শনিবার বালুরঘাট ছিল সৌরভময়। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়কের জন্য ব্যানার ও পোস্টারে সেজে উঠেছিল বালুরঘাট। সৌরভের উপস্থিতির জন্য স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা। বালুরঘাট স্টেডিয়ামে নিজের মূর্তি উন্মোচনের কথা ছিল সৌরভের। যথারীতি সেই মূর্তিও এসে যায়। অথচ তা বালুরঘাট স্টেডিয়ামে বসানো সম্ভব হয়নি। কেন? আসলে বালুরঘাট স্টেডিয়ামের যে কমিটি রয়েছে তার প্রধান হলেন এই জেলার ডিএম। তিনি আইনিগত সমস্যাকে তুলে ধরে জানিয়ে দেন, এখনই মূর্তি বসানোর অনুমতি দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এতে নিজের মূর্তি উদ্বোধন করে গেলেও তা কোথায় বসানো হবে তা নিয়ে জটিলতা রয়ে যায়। এই ব্যাপারে সৌরভ হাসতে হাসতে বলেন, ‘তেমন হলে আমি এই মূর্তি নিয়ে চলে যাব।’
শিলিগুড়ির শিল্পী সুশান্ত পাল প্রায় ৩ মাস ধরে সৌরভের এই মূর্তিটি তৈরি করেছেন। ২০০৩ বিশ্বকাপে অধিনায়ক সৌরভের আদলে মূর্তিটি তৈরি করা হয়। গত সোমবার মূর্তিটি বালুরঘাটে এসে পৌঁছায়।

রবি শাস্ত্রীর বেতন বছরে ৭ কোটি রুপি

ভারতের নতুন কোচ রবি শাস্ত্রীকে বছরে দেওয়া হবে ৭ কোটি রুপিরও বেশি। বিসিসিআই এমনই জানিয়েছে। প্রাক্তন কোচ অনিল কুম্বলেও সমপরিমাণ টাকাই দাবি করেছিলেন বোর্ডের কাছে। এর আগে শাস্ত্রী যখন টিম ডিরেক্টর ছিলেন তখনও বছরে ৭ কোটির বেশি পেতেন তিনি।
এক বোর্ড কর্তা জানিয়েছেন, ‘‌রবি শাস্ত্রীকে বছরে ৭ কোটিরও বেশি দেওয়া হবে। অনিল কুম্বলেও গত মে মাসে এই টাকাই দাবি করেছিলেন। তবে শাস্ত্রীকে সাড়ে ৭ কোটির বেশি যে দেওয়া হবে না এটুকু নিশ্চিত।’‌ শাস্ত্রীর সাপোর্ট স্টাফরা বছরে পাবেন ২ কোটির কাছাকাছি। যে তালিকায় সঞ্জয় বাঙ্গার ছাড়াও ভরত অরুণরা রয়েছেন। খুব শীঘ্রই বোর্ড শাস্ত্রী ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলবে।
তবে ভরত অরুণের চুক্তি এখনও নিশ্চিত নয়। ভরত অরুণ আবার বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ও হায়দরাবাদ রনজি দলের বোলিং কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। ভারতীয় দলের বোলিং কোচ নিযুক্ত হলে এই দায়িত্ব ছেড়ে আসতে হবে অরুণকে। বাঙ্গার যেমন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের দায়িত্ব ছাড়ার পরই জাতীয় দলের সহকারী কোচ নিযুক্ত হন। আবার রাহুল দ্রাবিড় যেমন ভারতীয় এ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্বের জন্য প্রথম বছরে পাবেন সাড়ে চার কোটি। দ্বিতীয় বছর পাঁচ কোটি। বিদেশ সফরে ভারতীয় দলের ব্যাটিং পরামর্শদাতা হওয়ায় বাড়তি টাকা পাবেন রাহুল। জাহির খানকে নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বোর্ড। জাহিরকে কতদিন পাওয়া যাবে তার উপর নির্ভর করছে চুক্তির টাকার অঙ্ক। গতবারও জাহিরকে বোলিং পরামর্শদাতা হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেবার ১০০ দিনের জন্য ৪ কোটি চেয়েছিলেন জাহির।

একটু সম্মানের আশা মুশফিকের

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির আসন্ন আসরকে ঘিরে নিজেদের মতো করে দল সাজাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তবে দল নিয়ে এখনই ভাবছে না বরিশাল বুলস। গত আসরে তাদের আইকন ক্রিকেটার ছিলেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বিপিএল চলাকালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বরিশাল বুলসের মালিক পক্ষের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনও লেগেছিলো, যার প্রভাব পড়েছে মাঠেও।
তবে এবারের আসরে আইকন ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিককে পছন্দ নন বলে জানান, বরিশাল বুলসের অন্যতম কর্ণধার এম এ আউয়াল চৌধুরী। তিনি বলেন, মুশফিকের কারণেই ভালো ফলাফল পায়নি বরিশাল বুলস। শুধু মুশফিকের অধিনায়কত্বই নয়, প্রশ্ন তোলেন দলের ক্রিকেটারদের প্রতি মুশফিকের দায়িত্ববোধ নিয়েও।
বাংলাদেশ টেস্ট দলের সফল অধিনায়ককে নিয়ে এমন মন্তব্য কতটা রুচিকর ছিলো সেটা নিয়ে ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। মুশফিককে বলা হয় দলের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার। অনুশীলন থাক বা না থাক, সবার আগে মাঠে হাজির হয়ে অনুশীলনে নেমে পড়েন দলের এই সফল উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এমন দায়িত্ববান ক্রিকেটারের সম্পর্কে তার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলাতে বিব্রত সবাই। নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য শুনে হতাশা মুশফিকও। বিষয়টি জানান বিসিবিকে মুশফিক। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে
আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুশফিক। বলেন, দীর্ঘদিন দলের হয়ে খেলার সুবাদে অন্তত এটুকু সম্মান তো পেতে পারেন। জানান,
‘আমার সম্পর্কে যেকোন টিম মালিক এটুকু বলতে পারে, আমি খেলোয়াড় হিসেবে ভালো না কিংবা অন্যকিছু। কিন্তু আমার কোন দায়িত্বজ্ঞান নেই, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে পারি না, টিম মিটিংয়ে কথা বলতে পারি না বা আমি নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলি না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের খেলোয়াড়রা জানে বা বাংলাদেশের অনেকেই জানে আমি কেমন এবং কতটুকু করতে পারি। তিনি যে ভাষ্য (বরিশাল বুলসের কর্ণধার) গুলো দিয়েছেন সেগুলো খুবই খারাপ লেগেছে।’
‘ক্রিকেট খেলছি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এবং আন্তর্জাতিক খেলছি ১২ বছর ধরে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের খেলার সুবাদে, অন্তত এইটুকু সম্মান তো পেতে পারি।’

ইনজুরিতে সাকিব আল হাসান

জাতীয় ক্রিকেট দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে এসে ইনজুরিতে পড়লেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সাকিব ইনজুরিতে পড়েছেন। তবে এ নিয়ে সাকিব নিজে তো না’ই, অন্য কেউও কিছু বলছেন না।
জানা যায়, সাকিব যখন গাড়ি থেকে নেমে মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন দেখা গেলো তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। ডান পায়ে ব্যান্ডেজ বাধা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় পূর্ণাঙ্গ সফরের লক্ষ্যে মিরপুরে শুরু হয়েছে ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। আজ ছিল ক্যাম্পের ৬ষ্ঠ দিন। সকাল থেকেই গুঞ্জন ছিল সাকিব ইনজুরিতে পড়েছেন।
যদিও ইনজুরির ধরন সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। তিনি নাকি ডান পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পেয়েছেন তিনি। আঘাতের ধরণ দেখতে স্ক্যান করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুরোপুরি বিষয়টা জানা যাবে। তবে কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে তাকে।

আরভিনের সেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে জিম্বাবুয়ে

শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনের নায়ক জিম্বাবুয়ের ক্রেইগ আরভিন। কলম্বোতে সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনই সেঞ্চুরি করে ১৫১ রানে অপরাজিত তিনি। তার এমন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে লংকানদের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩৪৪ রান তুলে দিন শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতে উজ্জীবিত জিম্বাবুয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি। ৩৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় তারা। দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ১৯ ও রেগিস চাকাভা ১২ রান করে লংকান বাঁ-হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের শিকার হন।
তিন নম্বরে নামা তারিসাই মুসাকান্দা ৬ রান করে পেসার লাহিরু কুমারার বলে আউট হন। ১৩ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
চতুর্থ উইকেটে আরভিন ও সিন উইলিয়ামস সেই চাপ দূর করার চেষ্টা করে‌ও সফল হননি। দলীয় ৭০ রানে আউট হ‌ওয়ার আগে উইলিয়ামস করেন ২২ রান। তবে সিকান্দার রাজার সাথে পঞ্চম উইকেট জুটি গড়ে সফল হন আরভিন। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে দলের স্কোর দেড়শ পার করেন তারা। কিন্তু এরপরই ঘটে ছন্দপতন।
ম্যাচের ৪০তম ওভারে আক্রমণে এসেই আরভিন-রাজার জুটিতে ভাঙ্গন ধরান জিম্বাবুয়ের প্রথম দুই উইকেট শিকারী হেরাথ। এতে দেশের মাটিতে ৪৪তম ম্যাচে নিজের ২৫০ উইকেটও পূর্ণ করেন তিনি। দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে পঞ্চমস্থানে আছেন হেরাথ।
হেরাথের শিকার হবার আগে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৬ রান করেন রাজা। আরভিনের সাথে ১৯ ওভারে ৮৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।
দলীয় ১৫৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পরও ভড়কে যায়নি জিম্বাবুয়ে। কারণ ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন আরভিন। তাকে দেখে সাহস পান উইকেটরক্ষক পিটার মুর।
আরও একটি বড় জুটির স্বপ্ন দেখছিলেন আরভিন-মুর। তাদের স্বপ্নে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান শ্রীলংকার মিডিয়াম পেসার আসলে গুনারতেœ। ১৯ রানে থাকা মুরকে আউট করে শ্রীলংকাকে খেলায় ফেরান গুনারতেœ।
এরপর দলকে বড় জুটির স্বাদ দিয়েছেন আরভিন ও ম্যালকম ওয়ালার। সেই সাথে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ১২তম ম্যাচ খেলতে নামা আরভিন। ২০১৬ সালের আগস্টে বুলাওয়েতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন তিনি
আরভিনের সেঞ্চুরির কিছুক্ষণ পরই আউট হন ওয়ালার। দারুন জমে উঠা জুটিতে ভাঙ্গন ধরান হেরাথ। ৪টি চারে ৩৯ বলে ৩৬ রান করা ওয়ালারকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান হেরাথ।
ওয়ালারের বিদায়ের পর উইকেটে গিয়ে আরভিনকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার। মাত্র ১৩ রান করে আউট হন তিনি।
তবে দশ নম্বরে ব্যাট হাতে নামা ডোনাল্ড তিরিপানোকে নিয়ে দিনের বাকী খেলা ভালোভাবেই শেষ করে দেন আরভিন। ১৫১ রানে অপরাজিত থাকেন আরভিন। তার ২৩৮ বলের ইনিংসে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। অন্যপ্রান্তে ৪৫ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিরিপানো। শ্রীলংকার হেরাথ ১০৬ রানে ৪ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
জিম্বাবুয়ে : ৩৪৪/৮, ৯০ ওভার (আরভিন ১৫১*, ওয়ালার ৩৬, হেরাথ ৪/১০৬)।

লিড নিয়েছে নর্দান টেরিটোরি

অস্ট্রেলিয়া সফরে নর্দান টেরিটোরি একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের একমাত্র ম্যাচটির প্রথম দিন নিজেদের করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের ব্যাটসম্যানরা। ৬ উইকেটে তুলেছিল ৩১২ রান। কিন্তু শুক্রবার দ্বিতীয় দিনটা মনের মতো কাটাতে পারলো না লিটন কুমার দাশ, এনামুল হক বিজয়রা। ওভার নাইট ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাশ। ব্যাটিংয়ে নেমে নর্দান টেরিটোরি সারাদিন কেবল হতাশাই উপহার দিয়েছে বিসিবি এইচপি একাদশের বোলারদের। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে তুলেছে ৩১৬ রান। ৭ উইকেট হাতে রেখে ৪ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা।
ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে, নর্দান টেরিটরি ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তোলে ৮৪ রান। ন্যাথান ম্যাকসুইনিকে ৪০ রানে ফিরিয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠা এ জুটিটি ভাঙ্গেন নিহাদ-উজ-জামান। এরপর নর্দান টেরিটরি অধিনায়ক আলেক্সান্ডার গ্রেগোরিকে ফিরিয়েছেন তানবীর হায়দার। কিন্তু জ্যাকব ডিকম্যানকে সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশি বোলারদের হতাশা বাড়িয়ে তোলেন রায়ান হ্যাকনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯৯ রান তোলেন এ দুই ব্যাটসম্যান।
রায়ান হ্যাকনি অবশ্য ৯৭ রান করে ফিরেছেন তানবীরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। তবে জ্যাকব ডিকম্যান তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। চতুর্থ উইকেটে জ্যাক ডয়েলের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১০৫ রানের জুটি গড়ে দিনটি নিজেদের করে নেন এনটি একাদশের ব্যাটসম্যানরা। ১০২ রান অপরাজিত আছেন ডিকম্যান। ১৭০ বলের ইনিংসটি ৯টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে সাজান এ ব্যাটসম্যান। ডয়েল অপরাজিত আছেন ৪৬ রানে।
বাংলাদেশের বোলারদের বিবর্ণ দিনে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন তানবীর। ২৯ রানের খরচায় তুলে নিয়েছেন ২টি উইকেট। আর নিহাদ-উজ-জামান ৩২ রানের বিনিময়ে পেয়েছেন ১টি উইকেট।
তিন দিনের ম্যাচের আগে এই নর্দান টেরিটোরির বিপক্ষেই ৫টি একদিনের ম্যাচ খেলেছে বিসিবি এইচপি একাদশ। ৫ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পায় লিটন-বিজয়রা। তিন দিনের ম্যাচেও প্রথম দিন প্রাধান্য বিস্তার করার পর দ্বিতীয় দিনে পিছিয়ে পড়েছে তারা। শনিবার ম্যাচের তৃতীয় ও শেষ দিন।
দ্বিতীয় দিনশেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর :

এইচপি বিসিবি : ৩১২/৬ (ইনিংস ঘোষণা)
নর্দান টেরিটোরি : ৩১৬/৩ (ডিকম্যান ১০২*, হ্যাকনি ৯৭, ডয়েল ৪৬, ম্যাকসুইনি ৪০, গ্রেগোরি ১৭; তানবীর ২৯/২, নিহাদ-উজ-জামান ৩২/১)

টি-টোয়েন্টির সেরা পাঁচে সাকিব-রিয়াদ

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা আইসিসি-র নতুন র‍্যাংকিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার ক্যাটাগোরিতে প্রথমবারের মতো সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। এরা হলেন- সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার একমাত্র টি-টোয়েন্টি শেষে র‍্যাংকিং আপডেট করেছে আইসিসি। নতুন এই র‍্যাংকিংয়ে ৩৫৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন সাকিব। ২০৩ রেটিং পয়েন্টি নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন রিয়াদ। এবারই প্রথমবারের মতো কোন নির্দিষ্ট ফরম্যাটের অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ে সেরা পাঁচেও জায়গা করে নিয়েছেন রিয়াদ।
সেরা টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন অজি অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তার রেটিং পয়েন্ট ৩৪৩। ২৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছেন যথাক্রমে মারলন স্যামুয়েলস ও আফগান নবী। পাঁচ থেকে ছয়ে নেমে গেছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং।

শুরুতেই শাস্ত্রী বিরোধী উপদেষ্টা কমিটি

ভারতীয় কোচ হিসেবে নাম ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ঘোর বিপাকে শাস্ত্রী। সুপারিশ না মেনে নিজের পছন্দের সহকারী চেয়ে বোর্ড প্রধানের কাছে আবেদন জানানোয় শাস্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ সৌরভ গাঙ্গুলি, শচীন টেন্ডুলকার ও ভিভিএস লক্ষণের সমন্বয়ে গড়া তিন সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি।
নতুন নিয়োগ পাওয়া ভারতীয় এই কোচের বিরুদ্ধে কাজকর্মে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বোর্ড প্রধান ও সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের দল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসকে (সিওএ) লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। সঙ্গে আছেন শচীন-লক্ষণও।
লিখিত সেই অভিযোগে তারা জানান, জহির খানকে বোলিং কোচ হিসেবে বেছে নেওয়ার পরও শাস্ত্রী নিজের পছন্দের ভরত অরুণকে বোলিং কোচ করতে চাইছেন। এমনকি সেইজন্য ক্রিকেটের অ্যাডভাইজারি কমিটির কাজেও নাক গলাচ্ছেন। বলা হয়ে থাকে, সৌরভ গাঙ্গুলী শাস্ত্রীকে কোচ হিসেবে বেছে নিতে মোটেই রাজি ছিলেন না। পরে তাকে করানো হয় শাস্ত্রীর সঙ্গে জহির খান, রাহুল দ্রাবিড়কে জুড়ে দিয়ে।

সৌরভ গাঙ্গুলি, ভিভিএস লক্ষণ ও শচীন টেন্ডুলকার (বাম থেকে)।

কিন্তু শাস্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, হেড কোচ হওয়ার সুবাদে তিনি সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের অধিকারী। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর অনুযায়ী, কোচ নির্বাচিত হওয়ার পর শাস্ত্রী তার পুরনো কোচিং স্টাফ ফেরানোর জন্য চেষ্টা করেন।
প্রথমবার যখন শাস্ত্রী কোচ ছিলেন তখন ব্যাটিং কোচ ছিলেন সঞ্জয় বাঙ্গার এবং বোলিং কোচ ছিলেন ভরত অরুণ। বিষয়টি মোটেই ভালোভাবেই নেননি শচিন-সৌরভ-লক্ষণরা। তারা সরাসরি কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স ও বোর্ড প্রধানকে মেইল করে পুরো বিষয়টা জানিয়েছেন।
আগামী ১৫ জুলাই শনিবার বোর্ডের প্রশাসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা শাস্ত্রীর।

নৃত্যশ্পিল্পী থেকে বিশ্বরেকর্ডধারী ক্রিকেটার

বরাবরই তাঁকে মহিলা ক্রিকেটের শচীন টেন্ডুলকার বলা হয়। তিনি মহিলাদের বিশ্ব ক্রিকেটে যে দাপট দেখিয়েছেন তা এক কথায় অনন্য। ব্যাটসম্যান হিসেবে একেরপর এক শৃঙ্গ জয় করেছেন। বলছি, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তথা সবচেয়ে সেরা ব্যাটসম্যান মিতালি রাজের কথা। প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের বিশ্ব ক্রিকেটে ৬ হাজার রান করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্রিস্টলে এই রেকর্ড গড়েছেন মিতালি রাজ। এই রেকর্ডের ফলে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান শার্লট এডওয়ার্ডসকে পিছনে ফেললেন তিনি। শার্লট একদিনের ম্যাচে ৫৯৯২ রান করে এতদিন শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন। মিতালি নিজের কেরিয়ারের ১৮৩ তম একদিনের ম্যাচে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪ রান করে মিতালি নতুন কৃতিত্ব অর্জন করেন। সেই ম্যাচে শেষপর্যন্ত ৬৯ রান করে মিতালি আউট হন।

মিতালি রাজ

সবচেয়ে কমবয়সে একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে মিতালির। এছাড়া অভিষেকেই শতরান করেছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মিতালি টেস্ট ম্যাচেও দ্বিশতরান করেছেন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পরপর সাতটি একদিনের ম্যাচে অর্ধশতরানের রেকর্ডও রয়েছে এই তারকা মহিলা ক্রিকেটারের।
তবে ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলা বা খেলোয়াড় হওয়ার প্রতি সেরকম আগ্রহ ছিল না। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ‘শচীন তেন্ডুলকার’ মিতালি রাজ ভরতনট্যম নৃত্যশিল্পী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর তখন। তবে একটু বয়স হতেই ক্রিকেটের প্রতি টান তৈরি হয়। পরে বদলে যায় ভালোবাসায়। মিতালিকে ভারতীয় ক্রিকেটকে উপহার দেওয়ার কৃতিত্ব মূলত দুজনের। একজন প্রাক্তন হায়দরাবাদী পেসার জ্যোতি প্রসাদ, অন্যজন প্রয়াত এনআইএস কোচ সম্পত কুমার। জ্যোতি দশবছর বয়সী মিতালির মধ্যে ট্যালেন্ট দেখেন। সম্পত অ্যাকাডেমিতে মিতালিকে গড়ে তোলেন।

মিতালি রাজ

মিতালির বাবা ডোরাই রাজ ভারতের বিমানবাহিনীর প্রাক্তন সেনা। পরে ব্যাঙ্কে চাকরি নেন। তিনিই হাতে ধরে মেয়েকে সেকেন্দ্রাবাদে সেন্ট জন্স কোচিং ক্যাম্পে নিয়ে যেতেন। তখন মিতালির বয়স মাত্র ১০ বছর। সেখানেই জ্যোতি প্রসাদ চিনে নেন মিতালির প্রতিভাকে। সঙ্গে প্র্যাকটিস করতেন মিতালির ভাইও। কয়েকমাস পরে ডোরাই রাজকে ডেকে জ্যোতি প্রসাদ বলেন, ছেলে নয়, মেয়ের প্রতি বেশি মনোনিবেশ করতে। কারণ মিতালি বেশি প্রতিভাবান। তবে জ্যোতি প্রসাদের ক্যাম্পে বেশিদিন ক্রিকেট শেখা হয়নি মিতালির। সেখানে ছেলেদের ক্রিকেট শেখানো হতো। ফলে জ্যোতির পরামর্শেই মিতালিকে নিয়ে বাবা ডোরাই রাজ হাজির হন সম্পত কুমারের কাছে। কিছুদিনের মধ্যেই মিতালির প্রতিভা দেখে মুগ্ধ সম্পত জানিয়ে দেন, এই মেয়ে শুধু ভারতের হয়ে খেলবেই না, বহু রেকর্ড ভেঙে দেবে।

মিতালি রাজ

১৯৯৯ সালের ২৬ জুন মাত্র ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করে, মিতালি যে রেকর্ড গড়েন তা আজও অটুট।
একদিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক রান
কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্যক্তিগত ৬ হাজার রানের মাইলস্টোন টপকে গেছেন মিতালি। এর আগে মহিলাদের একদিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ছিলেন ইংল্যান্ডের শার্লট এডওয়ার্ডস। তাঁর করা ৫৯৯২ রান টপকে মিতালি আপাতত ৬০২৮ রানে দাঁড়িয়ে। আর আশেপাশে তাঁকে ধরার মতো কেউ নেই।
একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ গড়
ওয়ানডে ক্রিকেটে গড়ের হিসেবেও সকলকে টপকে গেছেন ভারত অধিনায়ক মিতালি রাজ। অন্তত তিন হাজার রান করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ে সবার উপরে রয়েছেন মিতালি। তাঁর গড় ৫১.৫২। তাঁর পরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার কারেন রল্টন (৪৮.১৪ গড়) ও বেলিন্ডা ক্লার্ক (৪৭.৪৯)। তবে এরা মিতালির চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে।
সবচেয়ে বেশি অর্ধশতরান
দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মিতালি মাত্র ১৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে তার মধ্যে ৪৯টি অর্ধশতরান করেছেন তিনি। তাঁর পিছনে রয়েছেন শার্লট এডওয়ার্ডস (৪৬টি) ও কারেন রল্টন (৩৩টি)।
মিতালি খেলা মানে ভারত জেতা। মহিলা ক্রিকেটে এটাই দস্তুর। মিতালি দলের জয়ে ভূমিকা নিয়েছেন অনেক বেশি। দল জিতেছে এমন ম্যাচে মিতালির ব্যাটিং গড় ৭৫.৭২। অনেক পিছনে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর (৬৬.১৩ গড়) ও অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং (৬৩.৪০ গড়)।

সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার আশা গেইলের

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে স্বাগতিক শ্রীলংকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরাজয়ে কিছুটা আশাবাদী হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সুযোগে সরাসরি আগামী ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছে তারা। দলের ওপেনার ক্রিস গেইল তো আবার এককাঠি সরেস। ইংল্যান্ডে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ইচ্ছেও পোষণ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে গেইল জানান, ‌’আমরা ২০১৯ বিশ্বকাপ জিততে চাই। তবে এটা সত্যি যে টুর্নামেন্টের অংশিদার হতে আমাদেরকে প্রচুর কষ্ট করতে হবে।’
তবে এখন দলের বাইরে আছেন ক্রিস গেইল সহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। নতুন করে দলে নেওয়া হয়েছে ক্যারিবিয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যামেরনকে ‘বিগ ইডিয়ট’ বলে গত নভেম্বর মাসে বহিস্কার হওয়া ড্যারেন ব্রাভোকে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইন, কাইরন পোলার্ড এবং ডোয়াইন ব্রাভোকেও শিগগিরই ফিরিয়ে আনা হবে। বর্তমানে ওয়ানডে র‌্যাকিংয়ের নবমস্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আসন্ন ইংল্যান্ড সফরে তাদেরকে অনেক ভালো করে র‌্যাকিংয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে। কারণ ২০১৯ বিশ্বকাপে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় আটটি দল সরাসরি খেলবে। পরের চারটি দলের মধ্যে কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষে দুটি দল চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। অর্থাৎ ১০টি দল নিয়ে হবে ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট।

স্ত্রীর ওপর হামলার কথা অস্বীকার তামিমের

স্ত্রীর ওপর হামলার কথা অস্বীকার করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। তিনি এক টুইট বার্তায় জানান, লন্ডনে তার স্ত্রীর উপর এসিড হামলার বিষয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এসেক্সে খেলার সময়টা কমিয়ে এনেছেন।
ইংলিশ কাউন্টি লিগ ‘ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের’ জন্য এসেক্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের উদ্বোধনি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরে আসছেন।
এরআেগ, ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে আকস্মিকভাবে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন দেশসেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তার ফিরে আসার খবর নিশ্চিত করে এসেক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এসেক্স কাউন্টি ক্লাবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে বিদেশি ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ব্যক্তিগত কারণে ফিরে যাচ্ছেন।”
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পর ছয় বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারো ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার সুযোগ মেলে তামিম ইকবালের। সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করেননি তিনি। আট ম্যাচের জন্য এসেক্স ঈগলসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে আসরে অংশগ্রহণ করার জন্য অনাপত্তি পেয়ে গত শনিবার দেশ ছাড়েন তিনি।
এর একদিন বাদে কেন্টের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেন তামিম। চলতি আসরে নিজের প্রথম ম্যাচে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জ্বলে ওঠতে আত্মপ্রত্যায়ী ছিলেন তামিম। তবে হঠা, তার ফিরে আসায় এখন তা আর হচ্ছে না। প্রসঙ্গত, এসেক্স অভিষেকে কেন্টের বিপক্ষে আউট হওয়ার আগে ৭ বলে ৭ রান করেন তিনি।

চান্দিমাল শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়ক আর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে উপুল থারাঙ্গা

দিনেশ চান্দিমালকে শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়ক আর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে উপুল থারাঙ্গাকে দায়িত্ব দিয়েছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। জিম্বাবুয়ে সিরিজের ব্যর্থতায় দায় নিয়ে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস অধিনায়কত্ব থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যে, নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করলো এসএলসি। তবে চান্দিমাল এবং থারাঙ্গা দুজনই এর আগে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রতিক্রিয়ায় শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ম্যাথিউস দায়িত্ব ছাড়লেও, দলের যে কোন প্রয়োজনে তার কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া হবে।

আগস্টেই সিপিএল খেলতে যাওয়ার কথা

বাংলাদেশ যুবদলে ছিলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনিই এখন বিশেষজ্ঞ অফস্পিনার, যিনি কিনা প্রয়োজনে ব্যাটিংও করে দিতে পারেন। দেশের মাটিতে সব শেষ টেস্ট সিরিজে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত এ তরুণের সামনেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ। নিজেদের মাঠে খেলা মানেই মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর ভরসা। তবে তিনি নিজেকে তৈরি করা নিয়েই ব্যস্ত। আছেন ফিটনেস ট্রেনিংয়ে। নিজের ভাবনার কথা বলেছেন, মেহেদী হাসান মিরাজ।

প্রশ্ন : ফিটনেস ক্যাম্প শুরু হয়েছে। একটানা এত দিন ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সুযোগ তো খুব একটা পান না। ক্যাম্পটা কেমন হচ্ছে?
মেহেদী হাসান মিরাজ : আসলেই আমরা ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সময় তো খুব বেশি পাই না। বছরে যদি ফিটনেসের জন্য ২০-২৫ দিন সময় পাই, তাহলে সেটা ফিটনেসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শেষবার জাতীয় দলের ক্যাম্প দেখেছি, তখন আমার অভিষেক হয়নি। ওই একটা ক্যাম্প করে আমরা এক বছর ক্রিকেট খেলেছি। ওটা খুব ভালো কন্ডিশনিং ক্যাম্প ছিল। আমি দেখেছি, তখন এইচপির ক্যাম্পে ছিলাম। তো, ওই ক্যাম্পের পর থেকে সবাই টানা ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে। এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।

প্রশ্ন : এখন টেস্টেও উন্নতি করছে বাংলাদেশ। সব শেষ হোম সিরিজে ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়েছে। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে কোনো ভাবনা?
মেহেদী মিরাজ : এটা কিন্তু এখন সবাই জানে যে শুধু ওয়ানডে না, টেস্টেও আমরা ভালো খেলছি। গত এক বছর ধরে ভালো খেলছি, টেস্টও জিতেছি। ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি, শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট জিতেছি। আমার মনে হয়, বিশ্বের বড় দলগুলোর বিপক্ষে আমরা ভালোমতো লড়াই করতে পারব। আমরা বিশ্বাস রাখি, আমরা বড় বড় দলকে হারানোরও ক্ষমতা রাখি, যেটা আমরা প্রমাণ করেছি।
প্রশ্ন : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে নিশ্চয়ই স্পিনসহায়ক উইকেট চাইবেন?
মেহেদী মিরাজ : যে উইকেটেই খেলি না, আমাদের টার্গেট থাকবে ভালো ক্রিকেট খেলা। উইকেট তো আর আমাদের হাতে নেই। তবে আমরা যদি ইংল্যান্ড সিরিজের মতো উইকেট পাই, তাহলে আমাদের স্পিনারদের জন্য ভালো হবে।
প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কেবলই শুরু হলো। এরই মধ্যে বিশ্বের বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ নিতে হলো। কিভাবে সামলাচ্ছেন নিজেকে?
মেহেদী মিরাজ : আসলে আমি সব সময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। আমাদের সামনে অনেকটি ভালো সিরিজ আছে। আশা করছি ভালো কিছু হবে। এ কন্ডিশনিং ক্যাম্পটা খুব কাজে দেবে। তিন সপ্তাহের এ ক্যাম্পে আমরা নিজেদের ঝালাই করে নিতে পারব। ক্যাম্পে কষ্ট করলে ফিটনেসে উন্নতির পাশাপাশি স্কিল বাড়ানোর কাজটাও সহজ হবে।

প্রশ্ন : আপনার ক্যারিয়ার প্রিমিয়ার লিগ খেলতে যাওয়ার কী হলো?
মেহেদী মিরাজ : ১ আগস্ট সিপিএল খেলতে যাওয়ার কথা। সিইও (নিজাম উদ্দিন চৌধুরী) স্যারকে জানিয়ে রেখেছি। বোর্ড থেকে একটা চিঠি (অনুমতিপত্র) নিতে হয়। আশা করি দ্রুতই সেটা পেয়ে যাব। কোচ, আকরাম স্যার, সুজন স্যার বলেছেন ফিটনেস ক্যাম্প শেষ করে আমি যেতে পারব। চিঠি পেলেই যাব।

অনেক নাটকের পর রবি শাস্ত্রীই ভারতের কোচ

কোচ নিয়োগ নিয়ে চূড়ান্ত নাটকের পর রবি শাস্ত্রীকেই ফিরিয়ে আনলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।
শুধু তা-ই নয়, শাস্ত্রীকে হেড কোচ করা হলেও তাঁর সঙ্গে বোলিং কোচ হিসেবে জাহির খান এবং বিদেশে ব্যাটিং কোচ হিসেবে রাহুল দ্রাবিড়কে আনা হয়েছে। দ্রাবিড়কে বরাবরই খুব পছন্দ করেন শাস্ত্রী। এমনিতে জাহির খানকে নিয়েও তাঁর কোনও অসুবিধে নেই। কিন্তু শাস্ত্রীর সময় উনিশ মাস ভারতীয় দলের বোলিং কোচ ছিলেন ভরত অরুণ। তিনি খুব বড় নাম না হলেও অশ্বিনদেরও আস্থা জিতে নিয়েছিলেন। আইপিএলে কোহালির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বোলিং কোচ তিনি। কুম্বলে হেড কোচ হয়ে আসার পর তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল শাস্ত্রী ফিরলে অরুণও ফিরবেন। সেটা আপাতত স্থগিত।
এরআগে, ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৬-এর এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের পদত্যাগ

দুদিন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক নাও থাকতে পারেন। তবে দিনটি যে এত দ্রুত এসে যাবে, ভাবেননি হয়ত তিনি নিজেও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হারই ত্বরান্বিত করল সিদ্ধান্ত। শ্রীলঙ্কার অধিনায়কত্ব ছাড়লেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।
সোমবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চম ওয়ানডেতে হেরে সিরিজও হেরে বসে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে ম্যাথিউস জানিয়েছিলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময়ের একটি। বলেছিলেন, নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করবেন নিজের নেতৃত্বের ভবিষ্যত। তার সিদ্ধান্তই বলে দিচ্ছে আলোচনার ফলাফল। মঙ্গলবারই ম্যাথিউস জানিয়ে দিলেন তার সিদ্ধান্ত।
আন্তর্জাতিক অভিষেকের বেশ আগে থেকেই লঙ্কান ক্রিকেট সার্কিটে ম্যাথিউসকে মনে করা হতো ভবিষ্যত শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। সেটিই বাস্তব হয়ে আসে ২০১৩ সালে। ২৫ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পান ম্যাথিউস। নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৪ টেস্ট, ৯৮ ওয়ানডে ও ১২টি টি-টোয়েন্টিতে।
টেস্টে তার নেতৃত্বে স্মরণীয় কিছু সাফল্য পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। দারুণ পারফরম্যান্সে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ম্যাথিউস। যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে আগে মাত্র একটি টেস্ট জিততে পেরেছিল শ্রীলঙ্কা, সেই অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করে ম্যাথিউসের শ্রীলঙ্কা।
ছিল হতাশাও। তার নেতৃত্বে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় হোয়াইটওয়াশড হয় শ্রীলঙ্কা। বরাবরই যেখানে বেশি উজ্জ্বল শ্রীলঙ্কা, সেই রঙিন পোশাকেই বেশি বিবর্ণ ছিল দল। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুতে লাসিথ মালিঙ্গার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ম্যাথিউসের নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপ, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
তার নিজের পারফরম্যান্সেও ছিল উঠানামা। বাজে সময়ের ধারাবাহিকতায় সবশেষ সংযোজন ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ। যে দলের বিপক্ষে দেশের মাটিতে আগে কখনোই কোনো সংস্করণে একটি ম্যাচও হারেনি শ্রীলঙ্কা, এবার তদের বিপক্ষে হেরে বসল সিরিজই।

সাকিব-ইমরুলের নতুন পথচলা

একজন জাতীয় দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যান, অন্যজন ব্যাট করেন মিডল অর্ডারে। মাঠের ক্রিকেটে দু’জনের জুটিটা তাই খুব একটা দেখা যায় না। বলছি, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও জাতীয় দলের বাঁ-হাতি ওপেনার ইমরুল কায়েসের কথা।
মাঠে হোক বা মাঠের বাইরে, দু’জনই খুব ভালো বন্ধু। তবে মাঠের ক্রিকেটে এই জুটির ব্যাটিং খুব একটা দেখা না গেলেও মাঠের বাইরে ঠিকই জুটি বেঁধেছেন জাতীয় দলের এই দুই ক্রিকেটার। সাকিব এবং ইমরুল মিলে নেমেছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়। রাজধানীর মিরপুর এক নম্বর সেকশনে খুলেছেন সাকিব’স ৭৫ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন হল।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সাকিব-ইমরুলের এই যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদিন দুপুরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাকিব’স ৭৫- এ ঢল নামে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিটনেস ক্যাম্প শেষ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন এবং সানজামুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাকিব ও ইমরুলের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা। তবে ব্যক্তিগত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি রেস্টুরেন্টের অন্যতম কর্ণধার সাকিব আল হাসান।

সাকিব উপস্থিত না থাকলেও জাতীয় দলের সতীর্থ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে কেক কেটে সাকিব’স ৭৫ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়। এর আগে গেল ১২ এপ্রিল পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে সাকিব’স ৭৫ এর উদ্বোধন করা হয়। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে ভারতে থাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি সাকিব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাকিবের প্রতিনিধি হিসেবে কন্যা আলাইনা হাসান অউব্রিকে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব পত্নী উম্মে আহমেদ শিশির।

রবি শাস্ত্রীই কী তবে ভারতের কোচ!

শেষ পর্যন্ত রবি শাস্তরীকেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেব নিয়োগ দেয়া হলো। কমিটি অফ অ্যাডিমিনিস্ট্রেটরের চাপে শেষ পর্যন্ত কোচের নাম ঘোষণা করেই দিতে বাধ্য হল বিসিসিআই। বিরাট কোহালির জন্য আর অপেক্ষা করা হল না। কিন্তু বিরাট কোহালির পছন্দের কথা মাথায় রেখেই বেছে নেওয়া হয় রবি শাস্ত্রীকে। তাঁকে সরিয়েই গত বছর নিয়ে আসা হয়েছিল অনিল কুম্বলেকে। এবার কুম্বলেকে সরিয়ে ভারতীয় দলের দায়িত্ব দেয়া হলো শাস্ত্রীর হাতে। জয় হল কোহালি-শাস্ত্রী জুটির। কিন্তু এই খবর প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতের একটি অনলাইন পত্রিকা (ওয়ানইন্ডিয়া) জানায়, বিসিসিআই বলেছে যে, চূড়ান্তভাবে এখনো কাউকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আরও চারজন—বীরেন্দর শেবাগ, টম মুডি, রিচার্ড পাইবাস ও লালচাঁদ রাজপুত। কোচের নামটাও ঘোষণা করার কথা ছিল গতকাল। কিন্তু প্রথমে তা পিছিয়ে দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আজই ঘোষণা করে দেওয়া হলো। বিসিসিআই জানিয়েছে, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক অলরাউন্ডার রবি শাস্ত্রী।

ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরছেন তামিম

ইংলিশ কাউন্টি লিগ ‘ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের’ জন্য এসেক্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের উদ্বোধনি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরে আসছেন।
তামিম ইকবালের দেশে ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এসেক্স ঈগলসের পক্ষ থেকে। ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করা হলেও ঠিক কি কারণে আকস্মিকভাবে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশসেরা এ ব্যাটসম্যান তা জানা যায়নি। তামিমের ফিরে আসার খবর নিশ্চিত করে এসেক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এসেক্স কাউন্টি ক্লাবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে বিদেশি ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ব্যক্তিগত কারণে ফিরে যাচ্ছেন।”
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পর ছয় বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারো ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার সুযোগ মেলে তামিম ইকবালের। সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করেননি তিনি। আট ম্যাচের জন্য এসেক্স ঈগলসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে আসরে অংশগ্রহণ করার জন্য অনাপত্তি পেয়ে গত শনিবার দেশ ছাড়েন তিনি।
এর একদিন বাদে কেন্টের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেন তামিম। চলতি আসরে নিজের প্রথম ম্যাচে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জ্বলে ওঠতে আত্মপ্রত্যায়ী ছিলেন তামিম। তবে হঠা, তার ফিরে আসায় এখন তা আর হচ্ছে না। প্রসঙ্গত, এসেক্স অভিষেকে কেন্টের বিপক্ষে আউট হওয়ার আগে ৭ বলে ৭ রান করেন তিনি।

নর্দান টেরিটোরি হোয়াইটওয়াশ

অস্ট্রেলিয়া সফরে নর্দান টেরিটোরি একাদশকে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশই করলো বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দল। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে, শেষ ওয়ানডেতে নর্দান টেরিটোরিকে ১৪১ রানের বড় ব্যবধানে হারায় এনামুল-লিটনরা।
আগে ব্যাট করা এইচপি একাদশকে ২৫৯ রানে থামিয়ে দিয়েও শেষ হাসি হাসতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। জবাবে মাত্র ১১৮ রানেই অলআউট হয় নর্দান টেরিটোরি।

মূলত: বাংলাদেশ এইচপি-র পেস তোপে অসহায় আত্মসমর্পণ করে নর্দান টেরিটোরি। ব্যাটসম্যানরা নিজেদের নামের প্রতি সুবচিার করতে র্ব্যথ হওয়ায় ৩১ ওভারেই শেষ হয় তাদের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন জেরার্ড ফ্রিম্যান। বাংলাদেশ এইচপি-র বোলারদরে মধ্যে সাইফউদ্দিন ও আবুল হাসান রাজু ৩টি করে উইকটে নেন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে, ৯ বল বাকী থাকতেই ২৫৯ রানে অলআউট হয় এইচপি। দলের পক্ষে এনামুল হক ৫৩ করেনন ৫৩ রান। তাসামুল ও ইরফান ৪৬ রান করে এবং ইমতিয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান।
দু’দলের একমাত্র তিনন দিনের ম্যাচটি হবে বৃহস্পতিবার থেকে, ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামেই।
সংক্ষপ্তি স্কোর
বাংলাদশে হাইপারফরম্যান্স দল: ২৫৯/১০ (৪৮.৩ ওভার)
এনামুল ৫৩, তাসামুল ৪৬, ইরফান ৪৬, ইমতয়িাজ ৩৯, হায়দার ৩৫
নর্দান টেরিটোরি: ১১৮/১০ (৩১ ওভার)
ফ্রিম্যান ২৯; সাইফউদ্দিন ১৩/৩, রাজু ২০/৩, রাহী ১৫/২
ফল: এইচপি একাদশ ১৪১ রানে জয়ী।

চিটাগং ছেড়ে এবার রংপুরে গেইল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গত আসরে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে খেলেছিলেন ক্রিস গেইল। খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। জানা গেছে, এবার দলবদল করছেন তিনি। খেলবেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। তার সঙ্গে দলটির কথা পুরোপুরি চূড়ান্ত। তবে, তিনি পুরো টুর্নামেন্টে খেলবেন না। তাকে হয়তো দুই-চারটি ম্যাচে খেলতে দেখা যেতে পারে।
ক্রিস গেইল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে ফর্মে নেই। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে নিয়মিত নন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না গেইল।
ক্রিস গেইল ছাড়াও রংপুর রাইডার্স ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা, ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারা ও ক্যারিবীয় লেগস্পিনার স্যামুয়েল বদরিকে। তাছাড়া প্রোটিয়া অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হবে বিপেএলের পঞ্চম আসর। তার আগে ২ নভেম্বর হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আর প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। গত আসরে অংশ নিয়েছিল সাতটি দল। তবে, এবার দলের সংখ্যা বেড়েছে। মোট আটটি দলের অংশগ্রহণে হবে এবারের বিপিএল।

এদেশের নারী ক্রিকেট একটা জায়গায় থেমে আছে

গত সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলের সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। তাতে ১-০ ব্যবধানে জেতা সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন তিনিই। রক্ষণশীল পরিবার থেকে উঠে আসা সেই রুমানা আহমেদই এখন বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক। ব্যাটে ও বলে, নিয়মিত পারফর্মার। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আশা-ভালোবাসা ও প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন রুমানা আহমেদ।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক আপনার। আয়ারল্যান্ডে। ২০১৬ সালে। এটা তো অমরত্ব পেয়ে যাওয়া। সেদিনকার অনুভূতি কেমন ছিলাে?
রুমানা : তখন এবং এখন দুই ক্ষেত্রেই আমার অনুভূতি একইরকম। এটা আমার অন্যরকম রেকর্ড। নিজেই অবাক হয়ে যাই যে আমি হ্যাটট্রিক করেছি। সবচেয়ে বড় কথা ওদের দেশে ওদের আম্পায়ার আমাকে পর পর তিনটা এলবিডব্লিউ দিয়েছে। এটা আসলে ভাবতেই পারিনি। অবাক করেছে আমাকে।
প্রশ্ন : ১০৬ রান করেও ঐ ম্যাচ ১০ রানে জিতেছিলেন। এমন টাফ ম্যাচ কি আর খেলেছেন?
রুমানা : হ্যাঁ, আরও বেশ কিছু ম্যাচেই আমরা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছি। ভারতের বিপক্ষে একটা ম্যাচে খুব কাছে গিয়ে অল্পের জন্য হেরেছিলাম।
প্রশ্ন : আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আপনার হ্যাটট্রিকের ম্যাচে স্পিনাররা নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি স্পিন, পিছিয়ে পেসাররা। এটা কি আমাদের দেশের নারীদের শারীরিক সামর্থ্যের কারণে ঘটছে?
রুমানা : আসলে পেস বা স্পিন ব্যাপার না, ব্যপারটা হচ্ছে যত্ন নেওয়ার। যাদের যত্ন নেবেন তারাই ভালো করবে। আমাদের পেসাররা দুর্বল এটা ঠিক না। বলতে পারেন আমাদের পেসার সংখ্যার স্বল্পতা। এটাই কারণ। আমাদের জাহানারা আর পান্না ছাড়া তেমন ভালো কোন পেসার নেই। ওরা নিয়মিত বল করে যাচ্ছে। ওয়ানডেতে ওরা ২০ ওভার করে আবার টি-টয়েন্টি ৮ ওভার করছে। পেসার বের করার জন্য একটা পেসার হান্ট হয়েছে, এরপর তেমন যত্ন নেওয়া হয়নি। এবার কিছু টুর্নামেন্টে আমাদের পেসাররা ভালো করেছে। তাদের যদি যত্ন নেওয়া যায় দেখা যাবে স্পিনারদের চেয়ে পেসাররাই ভালো করবে।
প্রশ্ন : হঠাৎ করে অধিনায়ক হয়েছিলেন। তার কিছুদিন আগেই অধিনায়ক ছিলেন জাহানারা। এভাবে আচমকা নেতৃত্ব পাওয়াটা কি আশা করেছিলেন?
রুমানা : আসলে এটা খুব অবাক করা একটা ব্যপার ছিল। এটা শোনার পর থেকেই আমার গা হাত পা কাঁপছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে হঠাৎ এমন একটা পরিবর্তন আসবে। জাহানারার অধিনায়কত্ব তখন এক বছরও যায়নি। তাও দুই সংস্করণেই পরিবর্তন। আশা ছিল পেতে পারি তবে এভাবে হঠাৎ পাবো আশা করতে পারিনি।
প্রশ্ন : দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ সিরিজে একটি ম্যাচে কক্সবাজারে হারিয়েছিলেন। কিন্তু ওদের সাথে আমাদের পার্থক্য আসলে কতোটা?
রুমানা : পার্থক্যতো আমরা ওদের দিকে তাকালেই দেখতে পারি। এবারের বিশাকাপে ওরা কিন্তু খুব ভালো করছে। ওরা খুব ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে। অনেক নিশ্চিন্তে খেলে। আমরা বছরে চার পাঁচটা ম্যাচ বা যাই খেলি তা দেখা যায় বিশেষ কোন টুর্নামেন্ট। ধরেন বিশ্বকাপ বা বাছাই পর্ব কিংবা এশিয়া কাপ। আমাদের প্রস্তুতিটা কম থাকে। নিজেদের তৈরি করতেও ঠিকমতো পারি না। এদিক থেকে ওরা অনেক এগিয়ে।
প্রশ্ন : জাহানারা বলেছেন, চলমান ২০১৭ বিশ্বকাপেই আমাদের খেলার যোগ্যতা ছিল। আপনি কি তা বিশ্বাস করেন? আর বিশ্বাস করলে কেন হলো না?
রুমানা : তাতো অবশ্যই। আমাদের দলের প্রশংসা অন্য সব দলই করে। অনেক দলের ম্যানেজাররা এসে বলে তোমাদের বোলিং লাইন আপ অনেক ভালো।
প্রশ্ন : আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে খেলতে হলে কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে?
রুমানা : আপনারা যাচাই করলেই দেখবেন আমরা খেলা পাই কয়টা। আন্তর্জাতিক ম্যাচ না পেলেও আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট দিকে এগিয়ে থাকতে হবে। একদিক না পেলে আরেক দিক থাকতে হবে। যদি দুইটাই বন্ধ থাকে তাহলে উন্নতি হবে কি দিয়ে।
প্রশ্ন : বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আমাদের দুর্বলতা ব্যাটিংকে সবল বলা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। বোলিংই টেনে নিয়ে গেছে। ব্যাটিংয়ে এই নিয়মিত ব্যর্থতার কারণ কি?
রুমানা : আসলে ব্যাটাররা ব্যর্থ এটা আমি বলবো না কারণ আমি নিজেও একজন ব্যাটার। আর একজন ব্যাটার যতো খেলবে ততো তার খেলার ধার বাড়বে। ব্যাটিং একটা সাধনার ব্যপার। এটা ম্যাচ খেলার উপর অনেকটা নির্ভর করে। বোলিং কিন্তু করা যায়। কারণ একটা ভুল হলেও ফিরে আসার সুযোগ থাকে। কিন্তু ব্যাটারদের একটাই সুযোগ। ভুল হলেই শেষ।
প্রশ্ন : লেগ স্পিন সবচেয়ে কঠিন আর্ট। এমন কঠিন বোলিংয়ে আসার পেছনে গল্প কি?
রুমানা : হ্যাঁ, এটা আসলেই একটা গল্প। আমি কিন্তু প্রথমে লেগ স্পিনার ছিলাম না। ২০০৯ সালে আমি দল থেকে বাদ পরি এরপর আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। নিজে নিজে অনুভব করেছিলাম আমার অনেক ঘাটতি আছে। দলে ফিরতে হলে আমাকে সেরা হয়েই ফিরতে হবে। এই মনোবল নিয়ে তখন আমি নিজে নিজে লেগ স্পিন শুরু করি পাশাপাশি ব্যাটিং। বাংলাদেশে তখন লেগ স্পিনার তেমন ছিলো না তাই আমার স্যারেরাও অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। যার কারণে আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাসী হয়ে গেছি।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট এখন কোথায় আছে? দ্রুত উন্নতি করতে হলে কি করতে হবে?
রুমানা : আমাদের ক্রিকেট আসলে একটা জায়গায় এসে থেমে আছে। আমরা কিন্তু শুরুটা ভালো করেছিলাম। কিন্তু এরপর একটা জায়গায় এসে থেমে গিয়েছি। আমাদের পাশের সবাই এগিয়ে গেছে। আমরা সেই আগের জায়গাই আছি। ২০১১ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর আমরা কয়টা ম্যাচ খেলেছি। এই ছয় বছরে দেখেন আমরা কয়টা ম্যাচ খেলেছি আর অন্যরা কয়টা। তবে আমাদের মেধা কিন্তু কম নেই। আমাদের বেশ ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে। অনেক রেকর্ডও আছে। কুবরা কিংবা পিঙ্কির কথাই ধরেন, খুব ভালো খেলছে। আমাদের আসলে প্রতিভার বিকাশ হচ্ছে না।
প্রশ্ন : এই দেশে মেয়ে ক্রিকেটারদের ঘাটতি। আরো মেয়ে ক্রিকেটার পাইপলাইনে আনতে কি করা দরকার?
রুমানা : আমাদের কিন্তু হাতে গোনা কয়েকটা জায়গায় মেয়েদের অনুশীলন করানো হয়। গুনে গুনে বলে দেওয়া যাবে কোথায় কোথায়। খুলনায় আমাদের পিলু স্যার, বগুড়ায় মোসলেম স্যার আর বিকেএসপি। অন্য জায়গায় মেয়েদের সুযোগ নেই। ছেলেরা যে কোন জায়গায় এমনকি রাস্তায়ও খেলতে পারে। ছেলেদের বিভিন্ন এলাকায় বোর্ড থেকে কোচও আছে। বয়সভিত্তিক দল আছে। তেমন করে যদি মেয়েদের কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে ভালো হতো। অনেক মেয়েরা খেলায় এসে আবার নিরাশ হয়ে ফিরে যায় কারণ মাঠে খেলা থাকে না। মেয়েদের ‘এ’ দলের কাজ যদি শুরু হতো। মেয়েদের অনুশীলনের সুযোগ ও খেলার মাঠ বাড়িয়ে দেওয়া যায়।
প্রশ্ন : আপনার দলের সবচেয়ে বেশি শক্তি আর দুর্বলতা কোথায়?
রুমানা : আমরা কিন্তু নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ খুব কম পাচ্ছি। আমরা যে উন্নতি করেছি এটা দেখানোর জায়গাটা কম। আমাদের ব্যাটিং এবং বোলিং ঠিক আছে। আমার মনে ফিল্ডিংয়ে আরও কিছু কাজ করা দরকার। ফিল্ডিংটায় আমরা একটু পিছিয়ে আছি। ফিল্ডিং যে খুব খারাপ ছিল তা না হঠাৎ করে কিছুদিন থেকে আমাদের এখানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
প্রশ্ন : ক্যারিয়ার শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
রুমানা : আমি নিজেকে একজন সফল অলরাউন্ডার হিসেবে দেখতে চাই। সেরা ১০ অলরাউন্ডারের তালিকায় থাকতে চাই। আর আমার এখন প্রথম লক্ষ্য আমাদের দলকে র্যায়ঙ্কিংয়ের সেরা আটে এনে আমাদের মেয়েদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো।
প্রশ্ন : কোন খেলোয়াড়কে আপনি ফলো করেন কিংবা আপনার আদর্শ কে?
রুমানা : আদর্শ বলতে আমি অনেক আগে থাকতেই শেন ওয়ার্নকে ফলো করি। ওনার বল আমার কাছে ম্যাজিক বল বলে মনে হয়। ওনার বল যত দেখি তত অবাক হই। এখন উনি নাই সত্যি বলতে কি অনেক মিস করি উনাকে।

ইতিহাস গড়ে জিম্বাবুয়ের সিরিজ জয়

স্বাগতিক শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে লংকার মাটিতে প্রথম সিরিজ জিতলো জিম্বাবুয়ে। ২০০৯ সালের পর বিদেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জিতলো জিম্বাবুয়ে। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল, হিথ স্ট্রিক কিংবা ডেভ হটনরাও যা করতে পারেনি, সেটিই করে দেখালো খর্ব শক্তির গ্রায়েম ক্রেমার, শন অরভিন, সলোমন মীরে এবং সিকান্দার রাজারা।
২০৪ রানে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নেমে দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকদজা ও সুলেমান মীরে ৯২ রান তুলে জিম্বাবুয়েকে কক্ষপথেই রাখেন। ৩২ বলে ৪৩ রান করা সুলেমান গুনারতেœর শিকারে পরিণত হলে মাসাকাদজার সঙ্গী হন মুসাকান্দা। এই জুটিতে ৪৫ রান যোগের পর দলের ১৩৭ রানে, মালিঙ্গার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাসাকাজদা। ৮৬ বলে ৯ চার আর এক ছক্কায় ৭৩ রান করেন সিরিজ সেরা মাসাকাদজা। তখনো তাদের জয়ে দরকার ৬৭ রান। হাতে ছিলো ৮ উইকেট আর ২৬ ওভার।

এরপরই ছন্দ হারায় জিম্বাবুইয়ানরা। সহজ জয়টা কঠিণই করে ফেলে তারা। আকিলা ধনাঞ্জয়ার ঘূর্ণিবলে কুপোকাত হয়ে অল্পরানে ফেরেন আরভিন (২), শন উইলিয়ামস-রা (২) এবং এরপর ৩৭ রানে থাকা মুসাকান্দা, ধনঞ্জয়ার শিকার হন। পরে মালিঙ্গা ফিরতি বলে ওয়ালারের উইকেট নিলে ১৭২ রানে ৬ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। দলের ১৭৫ রানে পিটার মুরকে ধনঞ্জয়া নিজের চতুর্থ শিকাের পরিণত করলে, জয়ের পাল্লাটা ঝুকে পড়ে লংকানদের দিকে। তখনও জিম্বাবুয়ের জয়ে দরকার ২৯ রান। আর আছে হাতে ৩ উইকেট ও ৮৬ বল। আর কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেন নি ম্যাচ সেরা সিকান্দার রাজা ও অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার। শেষ পর্যন্ত ৭১ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে ২০৪ রান তুলে সিরিজ ৩-২ এ জিতে নেয় জিম্বাবুয়ে। রাজা ২৭ ও ক্রেমার ১১ রানে অপরাজিত থাকেন।

এরআগে, পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ২০৩ রানে বেঁধে রাখে জিম্বাবুয়ে। সোমবার হাম্বানটোটায় সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ২০৩ রান তোলে।
জিম্বাবুইয়ান বোলারদের সামনে এদিন শুরু থেকেই লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা ছিল অসহায়। মাত্র ১৩ রানে ২ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। টেন্দাই চাতারার বলে মাত্র ৩ রান করে ফিরেন আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ওপেনার নিরোশান ডিকভেলা। ১ রান করে ফিরে যান কুশল মেন্ডিস। উপুল থারাঙ্গাও খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। তার সংগ্রহ ৬ রান।

তবে শ্রীলঙ্কার স্কোরটা দুইশ’র উপরে যায় গুনাথিলাকা ও গুনারতেœর দারুণ ব্যাটিংয়ে। একপ্রান্তে দারুণ খেলেছেন ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা। ৮৬ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৫২ রান করেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে বা-হাঁতি ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেটে ৪৭ রানের জুটি গড়েন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের সঙ্গে। ম্যাথুজ ২৪ রান করে ফিরলে পঞ্চম উইকেটে ৪১ রানের জুটি গুনাথিলাকা ও দানুসকা গুনারতেœর।
গুনারতেœ ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। জিম্বাবুয়ে বোলারদের মধ্যে সিকান্দার রাজা ২১ রানে নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার নিয়েছে ২ উইকেট।
আগামী শুক্যবার থেকে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দু’দল একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলবে।

প্রস্তুত হচ্ছে টাইগাররা

অস্ট্রেলিয়ায় চলছে ক্রিকেটার বিদ্রোহ। আর তাদের সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আরও প্রায় দেড় মাস বাকি। দুই ম্যাচের সেই টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে আজ (সোমবার) থেকে মিরপুরে শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে ২৯ জনের প্রাথমিক দল আগেই ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই ২৯ জনের মধ্যে প্রস্তুতি ক্যাম্পের শুরুর দিন উপস্থিত হয়েছেন ২২জন ক্রিকেটার।
বাকি সাতজনের মধ্যে তামিম ইকবাল গেছেন ইংল্যান্ডে এসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতে। রুবেল হোসেন ইনজুরির কারণে ক্যাম্পে উপস্থিত হতে পারেননি। বাকি ৫ জন রয়েছেন এইচপি ইউনিটের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে।
সকালে ফিটনেস কোচ মারিও ভিল্লাভারয়নের কাছে রিপোর্ট করেন মুশফিক-সাকিবরা। এরপর ক্রিকেটাররা কিছুক্ষণ সময় কাটান জিমনেসিয়াম। মূলতঃ এ সময় ক্রিকেটারদের ফিটনেস লেভেল দেখেন কোচ ভিল্লাভারায়ন। বাকি সময়টা তারা কাটিয়েছেন ইনডোরে। মাঠেও কিছুক্ষণ ওয়ার্মআপ করেছেন ক্রিকেটাররা।
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলে আসার পর ২২ দিনের ছুটি পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। এই ২২ দিনের মধ্যে ছিল ঈদ-উল ফিতর। সব মিলিয়ে পরিবার এবং বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানোর মাধ্যমে ছুটি কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ২২ দিনের বিশাল বিরতিতে ক্রিকেটারদের ফিটনেস সম্পূর্ণ ঠিক থাকার কথা নয়। এ কারণেই প্রস্তুতি ক্যাম্পের শুরুতেই থাকছে ফিটনেস ট্রেনিং। মারিও ভিল্লাভারায়নের দায়িত্ব আগামী দুই সপ্তাহে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঠিক করা। এরপর ছুটি শেষে ফিরে আসলে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের অধীনে শুরু হবে ব্যাট-বলে অনুশীলন। সেটা সম্ভবত ২৮ জুলাই থেকে।

এসেক্সে তামিমের পরাজয়

এসেক্সের হয়ে প্রথম ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেননি তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতার দিনে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে কেন্টের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে তার দল।
কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট মাঠে রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে, ৮ উইকেটে ১৬৬ রান করে এসেক্স। জবাবে ১৮ ওভার ৩ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
সিঙ্গেল নিয়ে শুরু করা তামিম পরের চার বলে রান পাননি। চতুর্থ ওভারে অ্যাডাম মিল্নকে ছক্কা হাঁকিয়ে চাপটা সরিয়ে নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। নিউ জিল্যান্ডের পেসারের পরের বলেই ফিরেন বোল্ড হয়ে।
বরুন চোপড়ার ৪৭, রবি বোপারার ৪৫ আর অধিনায়ক রায়ান টেন ডেসকাটের ৩৮ রানের ওপর ভর করে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে এসেক্স।
৩৭ রানে ৩ উইকেট নেন কেন্টের জিমি নিশাম। মিল্ন ২ উইকেট নেন ২৪ রানে।
ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ডের অপরাজিত ৯০ রানের ওপর ভর করে ৯ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় কেন্ট।
দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই হারা এসেক্স আগামী বৃহস্পতিবার তৃতীয় ম্যাচে খেলবে সমারসেটের বিপক্ষে।

মঈনেই কুপোকাত দক্ষিণ আফ্রিকা

চতুর্থ দিন থেকেই বদলাতে শুরু করে লর্ডসের পীচের চরিত্র। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৩১ রানে জয়ের লক্ষ্য দিয়ে তাই অনেকটাই নিশ্চিন্ত ছিল ইংল্যান্ড। তবে এভাবে ভেঙে পড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা, সেটি হয়ত ভাবতে পারেননি ইংলিশরাও। ১৯ উইকেট পতনের দিনে বিধ্বস্ত প্রোটিয়ারা। তাতে লডর্স টেস্টে জয় পায় ইংলিশরা ২১১ রানে। চার ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি চার দিনে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ইংলিশ ক্রিকেটে রুট-যুগের শুরু হলো দারুণ এক জয়ে।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৫৩ রানে ৬ উইকেট নেন মইন। আগের সেরা ছিল ৬৭ রানে ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসের চারটিসহ ১০ উইকেট নিলেন ১১২ রানে। ম্যাচে ১০ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই প্রথমবার।
দিনের শুরুতে কেশভ মহারাজের বল যেভবে টার্ন করেছে, সেটিই বলে দিচ্ছিল প্রোটিয়াদের অপেক্ষাতেও আছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৪ উইকেট নেন মহারাজ। ১ উইকেটে ১১৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইংল্যান্ড থমকে যায় ২৩৩ রানেই।
প্রোটিয়াদের দশা হলো আরও করুণ। শুরুর ব্রেক থ্রু এনে দেন জেমস অ্যন্ডারসন। মাঝে জেপি দুমিনিকে ফেরান মার্ক উড। বাকি কাজ সেরেছেন দুই স্পিনার মইন ও লিয়াম ডসন। উইকেটে স্পিন ধরছে তাই প্রথম ওভারে উইকেট নেওয়ার পরও উডকে আর বোলিং করাননি জো রুট। নতুন বলে ব্রডও করেছেন ১ ওভার।
প্রমোশন পেয়ে পাঁচে নামা কুইন্টন ডি কক ও টেম্বা বাভুমা চেষ্টা করছিলেন প্রতিরোধের। কিন্তু মইনের বলে বোল্ড হন দুজনই। মাত্র ৩৬.৩ ওভারেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
নেতৃত্বের অভিষেকে ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস আর জয়ে রাঙালেন রুট। তবে ৮৭ রানের দারুণ ইনিংসের পাশে ম্যাচে ১০ উইকেটে ম্যান অব দা ম্যাচ মঈন আলি। পরের টেস্ট ট্রেন্ট ব্রিজে আগামী শুক্রবার থেকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৪৫৮ ও ২৩৩।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৬১ ও ১১৯।
ফল: ইংল্যান্ড ২১১ রানে জয়ী।

লুইস ঝড়ে টি-টোয়ন্টিতে ভারতকে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বিরাট কোহালিরা বড় লক্ষ্যই দিয়েছিলাে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। কিন্তু তারা যে টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, রবিবার ভারতকে সেটা মনে করিয়ে দিয়েই জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে ৯ উইকেটে জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাও আবার ৯ বল হাতে রেখেই। ২৫ বছর বয়সি ত্রিনিদাদের ব্যাটসম্যান এভিন লুইস ব্যাটে ঝড় তুলে একাই উড়িয়ে দিলেন ভারতকে। ৬২ বলে ১২৫ রান করলেন বিধ্বংসী লুইস। তাতে, ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি-টোয়েন্টিতে ঠিকই নিজেরা যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তার প্রমাণ রাখলো ক্যারিবিয়রা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল দারুণ। মাত্র ৫ ওভারেই ৬০ রান তোলেন দুই ওপেনার কোহলি ও ধাওয়ান। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের ৩৯ রান করা কোহলিকে ফেরান সুনীল নারিন। এরপর মাত্র ১ রানের ব্যবধানে দ্রুত ফিরে যান ধাওয়ান। কেসরিক উইলিয়ামসের দুর্দান্ত এক থ্রোতে ২৩ রানে, রান আউটের শিকার হন তিনি।
পরবর্তীতে দীনেশ কার্তিক এবং রিশাভ পান্টের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। তৃতীয় উইকেটে দীনেশ কার্তিক এবং রিশাভ পান্ট ৮৬ রানের জুটি দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান। দলীয় ১৫১ রানে মাথায় দুর্দান্ত খেলতে থাকা কার্তিককে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন স্যামুয়েলস। ৩ ছক্কা এবং ৫ চারে ২৯ বলে ৪৮ রান করেন কার্তিক। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯০ রান সংগ্রহ করে ভারত।
ভারতের ছুঁড়ে দেয়া ১৯০ রানের পাহাড়সম টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে জ্বলে উঠতে পারেননি গেইল। একটি করে ছক্কা-চারে ফিরেন ১৮ রান করে। তবে ১২ ছক্কা এবং ৬ চারে ৬২ বলে ১২৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন লুইস। স্যামুয়েলস ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। এটি ভারতের বিপক্ষে লুইসের দ্বিতীয় শতরান।

অনুশিলন শুরু করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলে ঈদের ছুটির পর দীর্ঘ বিরতি ছিলো ক্রিকেটারদের। অবশেষে আজ থেকে আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আবারো শুরু করলো অনুশিলন। আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট সিরিজ খেলতে আসবে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে দীর্ঘ সময় পর আবারও ক্রিকেটে ফেরার কথা হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। তবে তার আগেই ক্রিকেটারদের পদধূলি পড়বে স্টেডিয়ামটির ঘাসে- অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন মুশফিক-সাকিবরা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান হানিফ ভুঁইয়া বলেন, ‘প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে মাঠ প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। আগামী পরশু মাঠ পরিদর্শনে যাব। আর কিউরেটরের সাথে কথা বলে ঠিক করবো, কবে থেকে মাঠ ব্যবহার উপযোগী হবে।’

এদিকে, জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন জানান, ‘যেহেতু বেশ কিছুদিন সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেছে ক্রিকেটাররা, তাই অস্ট্রেলিয়ার সাথে হোম সিরিজের আগে তাদের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ প্র্যাকটিস জরুরী। তাই আমরা অন্তত তিনটি দু দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চিন্তা-ভাবনা করেছি।’

৪-০ তে এগিয়ে গেলো বিসিবি এইচপি দল

আবারো জিতলো বিসিবি এইচপি দল। তাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ তে এগিয়ে গেলো বিসিবি হাই পারফরম্যান্স দল। জয়ের জন্য মাত্র ১৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৬ ওভার ও ৯ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জিতে যায় এইচপি দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস।

এরআগে, আজ (রবিবার) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নর্দান টেরিটোরি। তবে তাদের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন বিসিবি এইচপি’র বোলাররা। মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অ্যালেক্স গ্রেগরি।
বাংলাদেশের পেসার আবু হায়দার রনি, আবুল হাসান রাজু ও এবাদত হোসেন তিনজনে মিলে নিয়েছেন ৮ টি উইকেট। রনি মাত্র ২২ রানে নেন ৪ উইকেট। আরেক পেসার এবাদত হোসেন ১৮ রানে এবং আবুল হোসেন রাজু ২৯ রানে নিয়েছেন ২ টি করে উইকেট।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে সিরিজে ৩-০ তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হাই পারফরম্যান্স দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নর্দান টেরিটোরিঃ ১৩৬/১০
অ্যালেক্স গ্রেগরি ৩৪
আবু হায়দার রনি ৪/২২, এবাদত হোসেন ২/১৮, আবুল হাসান রাজু ২/২৯ ।

বিসিবি এইচপি দলঃ ১৩৭/১
লিটন কুমার দাস ৭২*

ফলাফলঃ বিসিবি এইচপি দল ৯ উইকেটে জয়ী।

তিনদিনেই চালকের আসনে ইংল্যান্ড

নিয়মিত অধিনায়ক না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডিন এলগারের অভিষেকটা মোটেও ভালো হচ্ছে না- এটা বলাই যায় এখন। কারণ প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের করা ৪৫৮ রানের জবাবে মাত্র ৩৬১ রানেই অলআউট হয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ইংলিশদের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের লিড দাঁড়াল ২১৬ রান।

৩৩ রান করে কিটন জেনিংস আউট হয়ে গেলেও অ্যালিস্টার কুক ৫৯ এবং গ্যারি ব্যালান্স ২২ রান করে তৃতীয় দিন শেষে অপরাজিত থাকেন।

৫ উইকেটে ২১৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। উইকেটে ছিলেন টেন্ডা ভাবুমা এবং নাইটওয়াচম্যান কাগিসো রাবাদা। দিনের শুরুতে রাবাদা ২৪ রান করে ফিরে যান।

এরপর জোড়া হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন কুইন্টন ডি কক আর ভারনন ফিল্যান্ডার। ৫১ করেন ডি কক। ফিল্যান্ডার করেন ৫২ রান। শেষ দিকে বাকিরা আর দাঁড়াতে না পারায় ৩৬১ রানেই শেষ হয়ে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস। মঈন আলি নেন ৪ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড এবং লিয়াম ডসন।

জয়ের পর জিম্বাবুয়ের জরিমানা

চতুর্থ ওয়ানডেতে দুর্দান্ত জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়েছে জিম্বাবুয়ে। তবে দুর্দান্ত এমন জয়ের দিনে জরিমানা গুনতে হল গ্রায়েম ক্রেমারের দলকে। এক বিবৃতির মাধ্যমে আইসিসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘স্লো ওভার রেটিংয়ের’ অভিযোগ এনে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারকে ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ ও দলের বাকি ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা নির্ধারণ করেন ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড।

সাজা শুনানোর পর প্রাথমিকভাবে ক্রেমার তা স্বীকার করে নিলে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোন শুনানির প্রয়োজন হয়নি। প্রসঙ্গত, আগামী ১২ মাসের মধ্যে ফের ‘স্লো ওভার রেটিং’ করলে নিয়মানুযায়ী এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়ক ক্রেমার।

উল্লেখ্য, আগামী সোমবার একই মাঠে সিরিজের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজের পর শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হবে।

মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে না চিটাগাং ভাইকিংসের

কিছুদিন আগেই গুঞ্জন ওঠে ডিবিএল গ্রুপের হাতে চট্টগ্রাম ভাইকিংসের মালিকানা পরিবর্তন হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের মেয়র ও বিসিবির সহসভাপতি আ জ ম নাছির হচ্ছেন পরবর্তী ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক। মালিকানার সঙ্গে থাকার কথা ছিল আকরাম খানেরও। তবে বিপিএলের কিছু আইনের সাথে না মেলায় এবার আর মালিকানা বদলের সম্ভাবনা নেই। ফলে বিপিএলে মালিকানা থাকছে ডিবিএল গ্রুপের কাছেই।

এই প্রসঙ্গে বিসিবির অন্যতম পরিচালক এবং ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, ‘বিপিএলের দল গড়তে হলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন। ফলে এবার আগ্রহ কম দেখিয়েছেন নাসির ভাই। তবে আমরা চেষ্টা করবো আগামী বছর কিংবা তার পরের বছর নতুন করে চুক্তির জন্য।’

এদিকে মালিকানা পরিবর্তন না হলেও, একাদশে ৫ জন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর জোড় সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্থানীয় ক্রিকেটারদের সুযোগ কমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এ নিয়ে আকরাম খান বলেন, ‘স্থানীয় ক্রিকেটার আছেন, তারা কোন মানে আছে, কেমন খেলবে সেগুলো বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’

ক্রিকেটার শহীদের বিরুদ্ধে বিসিবিতে নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর

জাতীয় দলের ক্রিকেটার শহীদের বিরুদ্ধে স্ত্রী ফারজানা আকতার নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। আজ (রোববার) বিসিবি ভবনে অভিযোগ জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে নির্যাতনের কথা বলেন।

ফারজানা অভিযোগ করে বলেন, শহীদের বিয়ের পর থেকে গত দুই বছর ধরে বিবাহ বহির্ভূত বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে কথা বলে নানানভাবে ফারজানার উপর নির্যাতন চালায়।

এমনকি গত দুই বছর ধরে এক সঙ্গে বসবাসও করছে না তারা দু`জন। পরিবারও তাকে নানাভাবে অসহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মূলত বিসিবি সভাপতি বরাবর অভিযোগ দিতেই আজ বিসিবি ভবনে আসেন শহীদের স্ত্রী। সঙ্গে করে নিয়ে আসেছেন দুই সন্তান আরাফ (৩) ও আরহীকে (১১ মাস)।

বিসিবিতে আসার পরও শহীদ ফোন দিয়ে ফারজানা তার স্ত্রীকে বোর্ডে যেতে নিষেধ করেন এবং বোর্ডে গেলে সংসার না করার হুমকিও দেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৪ জুন ফারজানা-শহীদ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর থেকে ফারজানা তার শ্বশুর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের তল্লাতে বসবাস করছিলেন। গত ২৩ জুন ফারজানাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বেড় করে দেয়ার অভিযোগ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় টানা চতুর্থ জয়ে এইচিপ-র দরকার ১৩৭ রান

আজ (রবিবার) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নর্দান টেরিটোরি। তবে তাদের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে বিসিবি এইচপি’র বোলাররা। মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অ্যালেক্স গ্রেগরি।

বাংলাদেশের পেসার আবু হায়দার রনি, আবুল হাসান রাজু ও এবাদত হোসেন তিনজনে মিলে নিয়েছেন ৮ টি উইকেট। রনি মাত্র ২২ রানে নেন ৪ উইকেট। আরেক পেসার এবাদত হোসেন ১৮ রানে এবং আবুল হোসেন রাজু ২৯ রানে নিয়েছেন ২ টি করে উইকেট।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে সিরিজে ৩-০ তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হাই পারফরম্যান্স দল।

শ্রীলঙ্কার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়

বিফলে গেলো শ্রীলঙ্কান উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের বিশ্বরেকর্ড। জিম্বাবুয়ের কাছে আবারো হারলো তারা। এবার পরাজয় ৪ উইকেটের। তাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ এ সমতা ফেরালো গ্রায়েম ক্রেমারের দল। হাম্বানতোতায়, বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৩১ ওভারে ২১৯ রানের টার্গেট ১০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেট হারিযে তুলে জয় নিশ্চিত করে জিম্বাবুয়ে।

এরআগে টসে জিতে ব্যাট করে, নিরোশান ডিকভেলা ও দানুস্কা গুনাথিলাকা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম কোনো জুটি হিসেবে টানা দুই ম্যাচে দুই শতাধিক রানের জুটি গড়েন। তাদের আগে এমনটি আর কেউ করতে পারেননি। ২০৯ রান করেন তারা। গেল বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে উদ্বোধনী জুটিতে ২২৯ রান তোলেন তারা দুজন। ওয়ানডে ক্রিকেটের ৪৬ বছরের ইতিহাসে তাদের আগে এমনটি আর কেউ করতে পারেননি। আজ ডিকভেলা সেঞ্চুরি তুলে নিলেও ৮৭ রানে আউট হন গুনাথিলাকা। ডিকভেলা ১১৬ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩০০ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
জবাবে জিম্বাবুয়ে ২১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩৯ রান তোলার পর বৃষ্টিতে থেমে যায় খেলা। পরে জিম্বাবুয়ের জয়ে ৩১ ওভারে ২১৯ রানের টার্গেট পায় সফরকারীরা। ম্যাচ সেরা ক্রেইগ আরভিনের অপরাজিত ৬৯ রানের দারুণ এক ইনিংসে ১০ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। সুলেমান মির করেন ৪৩ রান।

ওয়ানডেতে দুই লঙ্কানের রেকর্ড

ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচে ২০০ কিংবা তার বেশি রানের জুটি গড়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন দুই লঙ্কান ওপেনার নিরোশান ডিকেভেল্লা ও ধানুষ্কা গুনাথিলাকা।
শনিবার চতুর্থ ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার ২০৯ রান করেন। গুনাথিলাকা ৮৭ রানে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ডিকেভেল্লা সেঞ্চুরি করে (১১৬) বিদায় নেন। একই ভেন্যুতে আগের ম্যাচে তারা ২২৯ রান করেছিলেন।
ডিকেভেল্লা আগের ম্যাচেও শতক হাঁকিয়েছিলেন। সপ্তম লঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি করার নজির গড়লেন তিনি। এর আগে কুমার সাঙ্গাকারা, রোশান মহানামা, রয় ডিয়াস, জয়াসুরিয়া, দিলশান এবং উপুল থারাঙ্গার এই রেকর্ড আছে।
চতুর্থ ম্যাচে জিম্বাবুয়ে বাজে ফিল্ডিং করায় দুই ওপেনারের কাজটা সহজ হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ের এটি বাঁচা-মরার লড়াই।

ইংল্যান্ডে গেলেন তামিম

কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ডে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। কাউন্টি দল এসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে অংশ নেবেন তিনি।
ক’দিন আগেই ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে আসায় কাউন্টি ক্রিকেটে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তামিম। আজ শনিবার সকালে ইংল্যান্ডে যাবার আগে বিমানবন্দরে এমনটাই জানান তিনি। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অস্থিরতা চললেও অজিদের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে আশাবাদী তিনি। এ প্রসঙ্গে
তামিম বলেন, ‘সমস্যা সবারই হয়। হয়তো তাঁদেরও সমস্যা হচ্ছে। এখনও আমাদের হাতে অনেক সময় আছে। যখন তারা সফরে আসবে তাঁর আগেই হয়তো সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।’
কাউন্টি ক্রিকেট নিয়ে তামমি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য এই খেলা খুব বেশি হেল্পফুল হবে কি না বলতে পারছিনা কারণ এটা একদমই আলাদা একটা ফরমেট।’
এদিকে, ন্যাটওয়েস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার সারের কাছে ২ উইকেটে হেরেছে এসেক্স। রোববারের লড়াই কেন্টের বিপক্ষে। এই ম্যাচে খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিমের। দলের কোচ সিলভারউড বলেছেন, ‘ওপেনিং জুটিতে আমাদের আরও শক্তির প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে তামিমের অংশগ্রহণ আমাদেরকে রোমাঞ্চিত করছে। ৮ ম্যাচে জন্য আমরা তাকে পাচ্ছি। আশা করি সে আমাদের জন্য দারুণ কিছু করে দেখাবে।’

সাইফউদ্দিনের সেঞ্চুরিতে এইচপির টানা তৃতীয় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : 

আগের ম্যাচে বল হাতে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবার ব্যাট হাতে করলেন সেঞ্চুরি। তাতে অস্ট্রেলিয়া সফরে টানা তৃতীয় জয় পেল বিসিবি হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল।

ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুক্রবার তৃতীয় একদিনের ম্যাচে নর্দান টেরিটোরি (এনটি) আমন্ত্রিত একাদশকে ৪২ রানে হারিয়েছে লিটন কুমার দাসের দল।

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সাইফউদ্দিনের সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান তোলে এইচপি দল।

১০৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন সাইফউদ্দিন। এ ছাড়া ওপেনার এনামুল হক বিজয় করেন ৩৬ রান। প্রথম ম্যাচে ফিফটি করা তানভীর হায়দারের ব্যাট থেকেও আসে ৩৬ রান।

২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২২৫ রানেই গুটিয়ে যায় নর্দান টেরিটোরি। অ্যালেক গ্রেগরি একাই করেন ১৪৪ রান। বাকিরা তাকে সঙ্গ দিতে না পারায় টানা তৃতীয় হারের মালা গলায় পরে স্বাগতিক দল।

টানা তিন জয়ে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বিসিবি এইচপি দল। সিরিজের চতুর্থ একদিনের ম্যাচ হবে রোববার।

দ্বিতীয় দিন শেষে চাপে দক্ষিণ আফ্রিকা

ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে করা ৪৫৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে ব্রড শুরুতেই স্বাগতিক দলকে সাফল্য এনে দেন। ব্রডের চমৎকার এক ডেলিভারিতে হিনো কুহন (১) প্রথম স্লিপে ধরা পড়েন অ্যালেস্টার কুকের হাতে।

দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন ডিন এলগার ও হাশিম আমলা। এ জুটি ভাঙেন মঈন আলী। এরপর স্কোরবোর্ডে ২২ রান যোগ করতে আরও ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে সফরকারীরা। সাজঘরে ফিরেন এলগার (৫৪) ও ডুমিনি (১৫)। এরপর দলের হাল ধরেন বাভুমা ও ডি ব্রুইনের ব্যাটে। দুই ব্যাটসম্যান গড়েন ৯৯ রানের চমৎকার জুটি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ১৭ বল আগে ডি ব্রুইনকে ফিরিয়ে অতিথিদের আবার চাপে ফেলেন অ্যান্ডারসন।

এর আগে ৫ উইকেটে ৩৫৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে খেলা শুরু ইংল্যান্ড। তবে মরনে মরকেল, রাবাদার দারুণ বোলিংয়ে ৪৫৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস।

এক ম্যাচ নিষিদ্ধ রাবাদা

বেন স্টোকসকে উদ্দেশ্য করে বাজে ভাষা ব্যবহার করে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেন কাগিসো রাবাদা। লর্ডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত ৫৬ রানে রাবাদার বলে ডি কককে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন স্টোকস। এরপর বুনো উল্লাসের সঙ্গে সঙ্গে বাজে ভাষা ব্যবহার করেন প্রোটিয়া এই তারকা।

আইসিসির নিয়মানুযায়ী কোনো খেলোয়াড়ের নামের পাশে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হলে সে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হবে। এর আগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকভেলার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছিলেন রাবাদা। এবার স্টোকসকে গালি দিয়ে আরো একটি ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ায় মোট চারটি পয়েন্ট হওয়ায় এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেন রাবাদা। আর এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন না তিনি।

এদিকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তার ম্যাচ ফি এর ১৫ শতাংশ জরিমানাও করা হয়েছে। শুক্রবার রাবাদা তার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। পাশাপাশি মেনে নিয়েছেন জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা। সে কারণে, কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

আমার আউটসুইংটা খেলা কঠিন

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের প্রথম গ্ল্যামার গার্ল- জাহানারা আলম। ফাস্ট বোলার হিসেবে মাঠে যেমন আগ্রাসী, ব্যক্তি জীবনেও হাসিখুশী একজন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের নারী পেসার বলতে সবার আগে উঠে আসে তারই নাম। গেল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বাংলােদশ নারী দলের অধিনায়ক ছিলেন জাহানারা। ২৪ বছর বয়সী মেধাবী এই ফ্যাশনেবল পেস বোলারের দু:খ-কষ্ট এবং ভবিষ্যতের আশা জানতে রয়েছে বিশেষ সাক্ষাৎকার।

প্রশ্ন : এমন একটা বয়সে আপনি দাঁড়িয়ে যেটিকে নারী পেস বোলারদের জন্য আদর্শ বলা যায়। নিজের সেরা সময়ে কি এখনো পৌঁছাতে পেরেছেন?
জাহানারা : এটা বিচার করা আসলে খুব কঠিন। তবে আমি এটুকু বলতে পারি আগে যে টুর্নামেন্ট খেলতাম তা থেকে এখন অনেক এগিয়ে আসছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে আগের চেয়ে ভালো। ২০১৬ বিশ্বকাপে আমি আমার গতি মেপেছিলাম। ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে বল করতে পেরেছি। আর গড় ছিল ঘণ্টায় ১১৭/১১৮ কিমি। এরপর আর মাপা না হলেও মনে হচ্ছে আগের চেয়ে এখন ভালো অবস্থায় আছি। টুর্নামেন্ট না হলে এটা বোঝা মুশকিল।
প্রশ্ন : আপনার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স গত বিশ্বকাপ বাছাইয়ে, ফেব্রুয়ারিতে। ৩ উইকেট ২১ রানে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। মাঝে লম্বা সময় কিন্তু খুব ভালো বল করলেও উইকেট তেমন পাননি। কারণটা কি বলে মনে করেন?

জাহানারা : এমনিতেই আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম পাই, তার উপর আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট অনেক কম হয়। দেখা যায় বছরে একটা বা দুইটা ঘরোয়া আয়োজন হয়। বাকি সময়টায় অনুশীলন করা খুব কঠিন হয়ে যায়। আমাদের এখানে অনুশীলনের সব সুবিধা আছে। তবে কোনো একটা টুর্নামেন্ট সামনে রেখে যে অনুশীলনটা থাকে তা আসলে নিজে নিজে হয় না। যা হয় তা নিজেকে ধরে রাখা। এটা আসলে একটা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
প্রশ্ন : পুরুষ ক্রিকেটাররা অনেক সুযোগ সুবিধা পায়। আপনাদের কি নিজেদের বঞ্চিত লাগে? আপনারাও তো জাতীয় দলের সদস্য।
জাহানারা : আসলে সুযোগ সুবিধা সবই আছে আমাদের। আমার যখন ইচ্ছা অনুশীলন করতে পারি। তবে নানা কারণে সব হয়ে ওঠেনা। ধরেন বৃষ্টির সময়ে মাঠে অনুশীলন করা আর যায় না। কিন্তু ইনডোর আছে। চাইলে করা যায়। যেটা হচ্ছে একটা লক্ষ্য থাকলে একটা তাড়া থাকে নিজের। টুর্নামেন্ট থাকলে এ তাড়াটা থাকে। কিন্তু সামনে যদি কোনো টুর্নামেন্ট না থাকে তাহলে মনে হবে যে দুই তিন বিশ্রাম নেই। পরে আবার করবো।
প্রশ্ন : এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে কি কি সমস্যা আপনি দেখেন? সেগুলো কিভাবে দূর করা যায়?
জাহানারা : আমাদের যখন প্রিমিয়ার লিগ হওয়ার কথা ছিল তখন ছেলেদের লিগ শুরু হয়ে গেলো। এরপর আমাদের লিগটা শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তখন হঠাৎ জাতীয় লিগ শুরু হলো। এখন আমাদের প্রিমিয়ার লিগ হবে। সামনে যেহেতু আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে জোর দিতে হবে। আমাদের তিনটা টুর্নামেন্ট হয়, এর সঙ্গে আর দুইটা বাড়ানো গেলে ভালো হবে। পাঁচটা টুর্নামেন্ট হলে আপনার পাইপলাইনে খেলোয়াড় তৈরির জন্য যথেষ্ট। তখন আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল আশা করতে পারি। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আন্তর্জাতিক ম্যাচই। এর সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে মিলবে না। আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হয়। অভিজ্ঞতা বাড়বে। আমরা আসলে অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে।
প্রশ্ন : আপনার ইকোনোমি রেট খুব ভালো। কিন্তু সেই হিসেবে উইকেট নেওয়ার রেটটা অতো উজ্জ্বল নয়। ২৯ ম্যাচে ২৫ উইকেট। নতুন বলে ভালো পেস বোলিং পার্টনার সেভাবে পান না বলে এমনটা হয় কি?
জাহানারা : আমি যখন বোলিং করি তখন সম্পূর্ণ আমি আমার চরিত্রে ঢুকে যাই। তখন আমার কাজ থাকে কিভাবে আমার ওভার শেষ করবো এবং ভালোভাবে। দেখা যায় আমি একটু আঁটসাঁট বোলিং করেছি। এতে আমার পার্টনার উইকেট পেয়েছে হয়তো সে একটু বেশি রান দিয়েছে। আমি চাপ তৈরি করেছি ও উইকেট পেয়েছে। ক্রিকেট দলীয় খেলা দল এতে লাভবান হয়। এতেই আমি খুশি। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও এমন হয়। আমাকে ব্যাটাররা একটু দেখেই খেলে ফলে আমি অনেক ভালো বল করে রান কম দিলেও উইকেট অনেক কম থাকে। দেখা যায় অন্য কেউ বাজে বল করেও উইকেট পায়। আমার বলে কেউ যদি পরাস্ত হয় তাহলে আমার খুব খুশি লাগে। আমি ডটের জন্য বল করি উইকেটের জন্য না। আমি ভালো বল করলে আমার পার্টনারও উৎসাহিত হয়। তখন দুই প্রান্তে ভালো বল হলে ব্যাটসম্যানদের টিকে থাকার কোন রাস্তাই থাকে না। এটাই বোলিং পার্টনারশিপ।
প্রশ্ন : নিজের বোলিংয়ের কোন দিকটাকে আপনার শক্তিশালী মনে হয় এবং প্রতিপক্ষরা আসলে আপনার কোন দিকটিকে ভয় পায়?
জাহানারা : আমার অস্ত্র যদি আমি জানিয়ে দেই তাহলে তো সতীর্থরা জেনে যাবে। হয়তো জানে। তবে জানা এক ব্যাপার আর নিজে থেকে বলে মনে করিয়ে দেওয়া আরেক ব্যাপার। তারপরও বলছি আমার নতুন বলের আউটসুইংটা খেলা একটু কঠিন। পুরাতন বলে ভালো রিভার্স সুইং হয়। ২৫/৩০ ওভারের পর থেকেই আমি রিভার্স সুইং পাই। আর ওইখান থেকে আমি আউটসুইংও করাতে পারি। আর আমার অফ কাটারটাও খুব ভালো পারি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমার অনেক উইকেট আছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বেশিদিনের নয়। আর বাংলাদেশ ম্যাচ খেলে বেশ বিরতি দিয়ে দিয়ে। এই যে অনেকদিন পর পর ম্যাচ খেলার সুযোগ পান, সেটি কি নিয়মিত খুব ভালো পারফর্ম করার ক্ষেত্রে বড় বাধা কি না?
জাহানারা : দেখুন পারফরম্যান্স এখানে আপডাউন হবেই। আমরা যাদের সঙ্গে খেলতে যাই দেখা যায় আমরা ছয় মাসে একটা টুর্নামেন্ট খেলি তারা খেলে ছয়টা টুর্নামেন্ট। তারা ক্রিকেটে থাকে ফলে অভিজ্ঞতা হয়। রানেও থাকে, ধারাবাহিকতা থাকে। সেখানেই আমরা পিছিয়ে যাই। এর জন্যই আমাদের ব্যাটিং ভেঙে পরে। এমনকি বোলিং এবং ফিল্ডিং যেটা আমাদের শক্তির জায়গা তাতেও পিছিয়ে পড়ি।
প্রশ্ন : আপনাদের দলের দুর্বলতা হিসেবে ব্যাটিংকে বলা হয় সবসময়। কি কারণে এই দুর্বলতা দূর করা যাচ্ছে না?
জাহানারা : মূল কারণ উইকেটের সঙ্গে সম্পর্কটা। আগেই বললাম ধারাবাহিকভাবে না খেলা। অনেক দিন পর পর খেলছি আর প্রতিপক্ষ নিয়মিত খেলছে। তাদের যে আত্মবিশ্বাসটা থাকে আমাদের তেমনটা থাকেনা। আসলে এখানে মূল পার্থক্যটা ওই অভিজ্ঞতাই। পাকিস্তানের কথা দেখেন একসময় মনে হতো ওরা আমাদের নিচে আছে। এখন ওদের আসে পাশেই আমরা যেতে পারিনা। শ্রীলঙ্কাকে আমরা বারবার হারিয়েছি। এখন উল্টো ওদের কাছে বারবার হারছি আমরা। একটাই কারণ ওরা অনেক ম্যাচ খেলে। বিশ্বকাপে দেখেন ওদের তিন চারটা খেলোয়াড়ই খেলে। ওদের যে বোলিং বিভাগ আমাদের কাছে তা কিচ্ছু না।
প্রশ্ন : ফিটনেসের ঘাটতির কোনো ব্যাপার নয় তো?
জাহানারা : ছয় মারতে কিন্তু শারীরিক শক্তি অনেক দরকার হয়না। তাহলে বডি বিল্ডারই খেলতো। এটা একটা কম্বিনেশন। আপনার শক্তিশালী খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ভালো মেধা ও স্কিলের দরকার। টেকনিক আর ট্যাকটিস তবে সঙ্গে শক্তিরও দরকার হয়। এটা আসলে সব মিলিয়েই হয়। আমার কাছে মনে হয় ফিটনেসের ঘাটতির কারণে এটা হয় না। অভিজ্ঞতার অভাবটাই মুখ্য। তবে আমি অবশ্যই বলবো আমাদের ফিটনেস আরও ভালো করতে হবে। এটা স্বীকার করি যে ফিটনেসে আমরা একটু পিছিয়ে আছি।
প্রশ্ন : দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন অবস্থায় আছে?
জাহানারা : আমার মনে হয় আমাদের দলটা বিশ্বকাপে খেলার মতো অবস্থায় ছিল। সেক্ষেত্রে সেরা আটের মধ্যে থাকা উচিত ছিল। আমাদের জায়গায় এখন শ্রীলঙ্কায় আছে। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা আমাদের প্রাপ্যটা আদায় করে নিতে পারেনি।
প্রশ্ন : বিশ্বকাপ বাছাই তার আগে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখা গেছে এই যে বিশ্বকাপ খেলছে যে ৮টি দল তাদের সাথে বাংলাদেশের অনেক পার্থক্য। তাদের সাথে বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে না। কি কি কারণে এমনটা হয়?
জাহানারা : আপনি যদি ভারতের নারী দলের দিকে তাকান। ওদের দল কিন্তু এতো উন্নত কখনোই ছিলোনা। দুই তিন বছর আগেও ওরা অনেক হেরেছে। আজ তারা ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে খুব সহজেই। যারা যে কয়টা ম্যাচ খেলেছে ভালোভাবেই জিতেছে। আসলে আমাদের ম্যাচ খেলতে হবে। ম্যাচ না খেললে কখনোই সম্ভব না। শুধু ভিডিও সেশন দেখে একটা দলের বিপক্ষে ভালো করা কঠিন। খেলতে খেলতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা আমরা ভালো করতে পারবো।

প্রশ্ন : আপনার স্বপ্নপুরণের পথে কি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট আছে? আপনার চোখে বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে, কাছাকাছি ভবিষ্যতে এই দেশের নারী ক্রিকেট কোথায় পৌঁছতে পারে বলে মনে হয়।
জাহানারা : আমি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। আমি চার বছর আগেও এ কথাই বলেছি। এখনো আমার কথার কোন পরিবর্তন হয়নি কারণ আমি নিজেকে যতটা বিশ্বাস করি তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশ দলকে বিশ্বাস করি। আমার বিশ্বাস এ দল র‍্যাঙ্কিংয়ে পাঁচে আসার মতো। এর জন্য আসলে সুযোগ করে দিতে হবে। আপনাকে যদি জোনটা তৈরি করে না দেওয়া হয় তাহলে কিন্তু মনের মতো কাজ করতে পারবেন না। আজকে আমরা একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে যাবো। ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা হয়তো এটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে ভারত দলের মতো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা আসতে পারবো একটা ভালো অবস্থানে।

অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিতলো এইচপি দল

এবার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে টানা তৃতীয় জয় পেল বিসিবি হাই পারফরম্যান্স-এইচপি দল।
ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুক্রবার তৃতীয় একদিনের ম্যাচে নর্দান টেরিটোরি-এনটি আমন্ত্রিত একাদশকে ৪২ রানে হারায় লিটন কুমার দাসের দল।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সাইফউদ্দিনের সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান তোলে এইচপি দল। ১০৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন সাইফউদ্দিন। এছাড়া ওপেনার এনামুল হক বিজয় করেন ৩৬ রান। প্রথম ম্যাচে ফিফটি করা তানভীর হায়দারের ব্যাট থেকেও আসে ৩৬ রান।
২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২২৫ রানেই গুটিয়ে যায় নর্দান টেরিটোরি। অ্যালেক গ্রেগরি একাই করেন ১৪৪ রান। বাকিরা তাকে সঙ্গ দিতে না পারায় টানা তৃতীয় হারের মালা গলায় পরে স্বাগতিক দল।
টানা তিন জয়ে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বিসিবি এইচপি দল। সিরিজের চতুর্থ একদিনের ম্যাচ হবে রোববার।

মাশরাফিই দেশের সেরা অধিনায়ক: আশরাফুল

অবসর এবং অধিনায়ক থাকা না থাকা নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে কম লেখালেখি হচ্ছে না। মাশরাফিও দিয়ে যাচ্ছেন সাধ্যমতো উত্তর। বৃহস্পতিবার মাশরাফি সম্পর্কে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত অধিনায়ক এসেছে সবাই সবার জায়গা থেকে তাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছে। আমাদের সময় আমরা যেমন ছিলাম, তার আগে যারা ছিলেন সবাই সেরাটা দিয়েছেন। তার মধ্যে অবশ্যই আমি বলবো, বাংলাদেশের সেরা অধিনায়ক মাশরাফিই।’
আশরাফুল আরো জানান, ‘কারণ ওর সাতটা অস্ত্রোপচার হয়েছে পায়ে। এভাবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিরাট বড় মানসিকতা লাগে। এ ধরনের মানসিক শক্তি সবার থাকে না। একমাত্র মাশরাফির মধ্যে আছে বলেই সে এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। এবং দলটাকে আমি বলবো যে খুব সুন্দরমতো নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
মাশরাফির অধীনে এখন পর্যন্ত ৪৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২৭টি ম্যাচে জয়ী হয়েছে টাইগাররা। জয়ের হার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ। এর পরেই আছেন সাকিব আল হাসান। ৫০টি ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করে ৪৬.৯৩ শতাংশ জয় পেয়েছেন। তবে এর অধিকাংশই এসেছে দুর্বল দলের বিপক্ষে। টি-টুয়েন্টিতেও শীর্ষে মাশরাফি। তার অধীনে খেলা ২৮ ম্যাচের ১০টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন তিনি। জয়ের হার ৩৭.০৩ শতাংশ।
শুধু দলীয় পারফরম্যান্সই নয়, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও সবার উপরে মাশরাফি। ২০১৪ সালের নভেম্বরে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি।ওভার প্রতি রান মাত্র ৪.৯৪।
আশরাফুল জানান, ‘সবকিছু মিলে আমি বলবো মাশরাফি অসাধারন নেতা। আমি মনে করি যে, সে জানে যে তার কখন কি করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, সে নিয়মিত পারফর্ম করছে। অধিনায়কত্ব তখনই সহজ হয় যখন খেলায় নিজে পারফর্ম করে।’
এদিকে, গত দুই বছরে ফিটনেসটা দারুণভাবে ধরে রেখেছেন মাশরাফি। তাই ফিট মাশরাফিকে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার কথাই বললেন আশরাফুল, ‘ফিটনেস যদি ঠিক থাকে তাহলে অবশ্যই মাশরাফির ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা উচিত। আর ফিটনেসটা যে তার খুব ভালো তা গত দুই তিন বছরে মাঠের পারফরম্যান্স দেখলেই জানা যায়।’

৩৬ বছরের ১৩ বছর ধরে ডুবে আছেন ক্রিকেটে

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব : 

বিপদে পাশে থাকাই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়। কথাটি সত্য হলে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের সত্যিকার বন্ধুই বটে। কেননা উইকেট হারিয়ে দল যখনই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তখনই ভারতীয় ভক্তদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমে অসাধারণ সব ইনিংস খেলা যেন এখন অনেকটা নিয়মিতই হয়ে গিয়েছে। কখনো বা শেষ ছোঁয়াটি দিয়ে মাঠ ছেড়েছেন কখনো বা শেষটা রাঙাতে পারেননি। তবে দলের প্রয়োজনে ঠিকই মাটি কামড়ে থাকতেন ২২ গজের ক্রিজটিতে। এতোক্ষনে হয়তো ঠিক ধরে ফেলেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। জ্বি, বলছি মাহেন্দ্র সিং ধোনির কথা। যিনি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য গত ১৩ বছর ব্যক্তিগত পারফম্যান্স দ্বারা নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন।

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রায় এক যূগ ধরেই যেন নায়কের ভূমিকার দায়িত্বটি নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন। দলের সামনে যখন পরাজয়ের হাতছানি ঠিক তখন অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে সাথে নিয়ে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ বা জয়ের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন অসংখ্যবার। তাই তো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মাইকেল বেভানের পর ফিনিশার তকমাটি তার নামের পাশেই সবচেয়ে ভালো মানায়।

ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল সেই ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে সেদিনই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা করেন এই ক্রিকেটার। মেনে নিতে একটু কষ্ট হলেও এ কথা  সত্য যে প্রথম ম্যাচে শূন্য রান করেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল সাজঘরে। তবে শুরুটা বাজে হলেও পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে ব্যার্থতার ছাপ একদম নেই বললেই চলে।

টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি এই তিন ফরম্যাটেই নিজেকে সমানতালে মানিয়ে নিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তবে তিন ফরম্যাটের বিবেচনায় পরিসংখ্যান বলে ওয়ানডেতেই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল এই ক্রিকেটার। এখন পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছেন ২৯৫টি। তবে ব্যাটিং করার সুযোগ মিলেছে ২৫৫ ইনিংসে। আর এরই মাঝে ৬৪টি অর্ধশতক এবং ১০ টি শতকে ৫১.৩২ গড়ে করেছেন ৯৪৯৬ রান! ২৫৫টি ইনিংসের ৭০টি ইনিংসেই অপরাজিত ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠ ছেড়েছেন এই ক্রিকেটার! বেশিরভাগ সময়ই পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাট করেন বিধায় নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থাকার সুযোগ মিলে না। তবে এতোকিছুর পরেও একদিনের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৮৩ রানের। অন্যদিকে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও কম যান না এই খেলোয়াড়। ৯০ টেস্টে ১৪৪ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৩টি অর্ধশতক এবং ৬ টি শতক হাঁকিয়ে ৩৮.০৯ গড়ে করেছেন ৪৮১৬ রান।

শুধু ব্যাটিংই নয় উইকেটের পেছনে থেকে উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় তিনি কতোটা আগ্রাসী তা কেবল প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরাই ভালো বলতে পারবেন। ক্রিজ থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি ব্যাটে বলে সংযোগ না হওয়া মানেই যেন ব্যাটসম্যানদের জন্য সাজঘরের টিকিট কেটে ফেলা। কেননা ধোনির ওই বিশ্বস্ত হাত জোড়া দিয়ে উইকেটের বেল ফেলে দেওয়াটা যেন আজকাল অনেকটা অনুমিতই বটে। এখন পর্যন্ত ২৯৫টি ওয়ানডেতে ক্যাচ ও স্ট্যাম্পিং এর সংখ্যা যথাক্রমে ২৭৫ ও ৯৭ টি! যার থলিতে এতো উইকেট সেই যদি উইকেটের পেছনে থাকে তবে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের লাইন ছেড়ে বের হয়ে আক্রমণাত্মক শটস খেলা একটু কষ্টকরই বটে।

ব্যাটিং-কিপিং এর পাশাপাশি ক্রিকেটীয় মেধাও দারুণ এই ক্রিকেটারের। তাই তো দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন ভারতের অধিনায়ক হিসেবেও। ভারতের হয়ে অধিনায়কের দায়িত্বটা কাঁধে বয়ে বেড়িয়েছেন বেশ কিছু বছর। তবে ২০১৭ এর ৪ জানুয়ারি অধিনায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় তাকে। দীর্ঘ এই পথচলায় অধিনায়ক হিসেবে অসংখ্য রেকর্ড, অসংখ্য প্রাপ্তি জমা করেছেন ভারতের ক্রিকেটের জন্য। তবে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বড় অর্জনের কথা বললে হয়তো তিনিও বলতেন ২০১১ সালের সেই বিশ্বপের কথা। কেননা সেবার তার নেতৃত্বেই ভারত দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সাধ পেয়েছিল। তাছাড়া সর্বশেষ ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতকে শিরোপা জেতানোর কৃতিত্বটা তারই। অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আইপিএলে চেন্নাইয়ের অধিনায়ক হয়েও দুইবার দলকে ফাইনাল জেতাতে সক্ষম হন তিনি। বলতে গেলে ক্রিকেটকে সম্পূর্ণ গিলেই খেয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আজ ঘটা করে কেনই বা তার কথা বলা হচ্ছে? বলা হচ্ছে এই কারণে যে আজ অর্থাৎ ৭ জুলাই পয়ত্রিশকে পিছনে ফেলে ছত্রিশ বছর পূর্ণ করলেন এই ক্রিকেটার। জন্মদিনে তাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

কোহলির রেকর্ড শতকে ভারতের দাপুটে জয়

ক্রীড়া ডেস্ক :

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে সহজ জয় তুলে নিয়েছে ভারত। বিরাট কোহলির রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে দাপুটে জয়ে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করেছে টিম ইন্ডিয়া।

বৃহস্পতিব জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে ভারতকে আতিথ্য দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঘরের মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দিনটা নিজেদের করে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। সাই হোপের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে দলীয় সংগ্রহ ২০৫ রানের বেশি করতে পারেনি উইন্ডিজরা। জবাবে কোহলির সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ভারত।পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডেতে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে সফরকারীরা।

শেষ ওয়ানডেতে জয়ের জন্য ২০৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। দলীয় ৫ রানে ধাওয়ানকে হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খায় দলটি। তবে এরপর আর বিপর্যয়ে পড়তে হয়নি তাদের। ব্যক্তিগত ৩৯ রানে আজিঙ্কা রাহানের পর ভারতের আরও কোনো উইকেট নিতে পারেনি স্বাগতিক বোলাররা।

ওয়ানডাউনে নেমে অপ্রতিরোধ্য এক সেঞ্চুরিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের চতুর্থ আর সব মিলিয়ে ২৮তম শতকে বাকিটুকু সহজেই সারেন কোহলিই। ১১৫ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১১১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অপর প্রান্তে ব্যাট হাতে রাহানের পর অধিনায়ককে দারুণ সহায়তা করেন দিনেশ কার্তিক।

লক্ষ্য তাড়ায় এটি কোহলির রেকর্ড ১৮তম শতক। ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার নেমে গেছেন দ্বিতীয় স্থানে, লক্ষ্য তাড়ায় তার সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৭টি। কোহলির সেঞ্চুরির সঙ্গে গতকাল ৫০ রান করে অপরাজিত ছিলেন দিনেশ কার্তিক।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উইন্ডিজদের হয়ে সাই হোপ ৫১, কিলে হোপ ৪৬, জেসন হোল্ডার ৩৬ ও রোমনা পুয়েলের ৩১ রান করেন। বড় কোনো ইনিংস না আসায় ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০৫ রানে থামে ক্যারিবীয়দের দৌড়।

ভারতের হয়ে বল হাতে মোহাম্মদ সামি ৪টি ও উমেশ যাদব ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া ১টি করে উইকেট পান হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।

নির্বাচকদের অপেক্ষা

এক বছর আগে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে প্রধান করে যাত্রা শুরু করেছিল জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক কমিটি। সহযোগী হিসেবে ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন ও সাজ্জাদ আহমেদ শিপন। তবে গেল বছর নির্বাচক কমিটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি নতুন একটি মাত্রা যোগ করে। এ কমিটিতে রাখা হয় জাতীয় দলের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনকে। জাতীয় দল নির্বাচনের সময় ভূমিকা রাখেন তারাও। এই নিয়ে মতপার্থক্যেক কারণে আগের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের পদত্যাগের পরই তার কমিটিতে থাকা মিনহাজুলকে প্রধান নির্বাচক করা হয়। গেল ৩০শে জুন সেই নির্বাচক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই নির্বাচকরা অপেক্ষায় আছেন নতুন চুক্তির জন্য। এক সপ্তাই পার হলেও বিসিবি নীরব। প্রশ্ন উঠেছে আগের কমিটিই বহাল থাকবে নাকি নতুন কেউ আসবে? এই বিষয়ে নান্নু বলেন, ‘আমাদের এক বছরের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুনভাবে চুক্তির অপেক্ষায় আছি। কোনো পরিবর্তন হবে কি না তা বোর্ড বলতে পারবে। সাধারণত বোর্ড সভাতেই সিদ্ধান্ত হয় এ সব বিষয়ে। কিন্তু যতটা জানি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে হলে, বোর্ড সভাপতি অনুমোদন দিলে এমনিতেই হয়ে যাবে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যেই হবে।’
তিনি বলেন, ‘কবে চুক্তি হবে জানিনা। যতটা শুনেছি খুব দ্রুতই চুক্তি হবে। তার আগে বোর্ড হয়তো আমাদের সঙ্গে কথাও বলবে। এই বিষয়ে আসলে বলতে পারবে বোর্ডের প্রধান নির্বাহী (সিইও)।’
এ বিষয়ে বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘আমাদের নির্বাচকদের সঙ্গে চুক্তি ছিল একবছরের। তা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা চুক্তি নতুনভাবে করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমেই চুক্তি হবে, সেজন্য হয়তো বোর্ড সভার প্রয়োজন হবে না। দ্রুতই চুক্তি হয়ে যাবে।’
নির্বাচক কমিটিতে রদবদল হচ্ছে নাকি আগের কমিটিই থাকছে এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান সিইও। তিনি বলেন, ‘এটি আসলে এখনই বলা যাবে না। বলতে পারি দ্রুতই চুক্তি হয়ে যাবে।’ অবশ্য দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মধ্যে হলে রদবদলের তেমন সুযোগও নেই।

অধিনায়ক রুটের অভিষেক সেঞ্চুরি: ইংলিশদের স্বস্তি

অধিনায়ক হিসেবে জো রুটের অভিষেক সেঞ্চুরিতে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভালো অবস্থানে আছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। লর্ডসে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমেই প্রোটিয়া বোলিং তোপে পড়ে ইংলিশরা। দলের ৭৪ রানে অ্যালিস্টার কুকসহ চার উইকেট পড়ে গেলে বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক দল। অল্প রানেই গুটিয়ে যাওয়ার শংকা নামে ইংল্যান্ড শিবিরে। ৫ম উইকেটে বেন স্টোকসকে নিয়ে ১১৪ এবং ৬ষ্ঠ উইকেটে মঈন আলীকে নিয়ে, দলের সংগ্রহে জো রুট আরো ১৬৭ রান যোগ করলে বড় সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। এরই মাঝে রুট তুলে নেন, অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি। ষষ্ঠ ইংলিশ অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করলেন জো রুট। এটি তার দ্বাদশ শতরান। প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩৫৭ রান তোলে ইংলিশরা। রুট ১৮৪ রানে এবং মঈন আলী ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন। প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ফিল্যান্ডর ৪৬ রানে ৩টি উইকেট তুলে নেন।

আবারো ইংল্যান্ড যাচ্ছেন তামিম

সাম্প্রতিক ফর্মে মুগ্ধ হয়ে তামিম ইকবালকে দলে ভিড়িয়েছে কাউন্টির দল এসেক্স। এসেক্সের হয়ে খেলতে শুক্রবার সকালে দেশ ছাড়বেন তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। ইতিমধ্যে বিসিবি থেকে অনাপত্তিপত্র পেয়ে গেছেন তিনি।
এসেক্সের হয়ে খেলতে যাওয়ার আগেরদিন বৃহস্পতিবার মিরপুরে অনুশীলনও করেছেন যে কোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মালিক তামিম। কাজ করেছেন ব্যাটিং নিয়ে।
তার ইল্যান্ড যাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনও, ‘তামিম আমাদের কাছে আবেদন করেছে। আমরা তার যাওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছি। বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়েছে।’
এরআগেও কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন তামিম। তার আগের ক্লাব নটিংহ্যামশায়ার। সেবার খেলেছিলেন পাঁচটি ম্যাচ। এবার তার নতুন ঠিকানা এসেক্স। এসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলবেন তামিম।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে এসেক্সের হয়ে ৯টি ম্যাচ খেলবেন তামিম। এরপর দেশে ফিরে আসবেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই তামিম দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।
টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামছে তামিমের দল এসেক্স। ৭ জুলাই তাদের প্রথম ম্যাচ সারের বিপক্ষে। তবে দেশে থাকায় এই ম্যাচে তামিম খেলা হচ্ছে না তার। এসেক্সের দ্বিতীয় ম্যাচেই ব্যাট হাতে মাঠে নামবেন বাংলাদেশ ওপেনার।
দ্বিতীয় ম্যাচটি ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ওই ম্যাচে তামিমদের প্রতিপক্ষ কেন্ট। এসেক্সের অধিনায়ক করা হয়েছে নেদারল্যান্ডস অলরাউন্ডার রায়ান টেন ডোসকাটকে।

শান্ত-র সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় জয় বিসিবি এইচপি দলের

নর্দার্ন টেরিটরির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সহজ জয় পেয়েছে বিসিবি এইচপি একাদশ। এই ম্যাচে এইচপি একাদশ ৭০ রানে হারিয়েছে নর্দার্ন টেরিটরিকে। গতকাল সিরিজের প্রথম ম্যাচে নর্দার্ন টেরিটরির বিপক্ষে মাত্র ১ উইকেটে জিতেছিলো এইচপি একাদশ।
ডারউইনে মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সফরের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় এইচপি একাদশ। নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় এইচপি একাদশ। শান্ত ১০১ রান করেন। এছাড়া ইরফান শুক্কুর ৬০ ও এনামুল হক বিজয় ৫৮ রান করেন।
৩১৪ রানের বড় টার্গেটে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নর্দার্ন টেরিটরি। ফলে ৪৫ দশমিক ৩ ওভারে ২৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। এইচপি একাদশের সাইফুদ্দিন ৩৬ রানে ৪ উইকেট ও এবাদত হোসেন ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন। আগামীকাল হবে তৃতীয় একদিনের ম্যাচটি।

জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারালো শ্রীলঙ্কা

বৃথাই গেলো হ্যামিল্টন মাসাকাদজার সেঞ্চুরি। নিজেরা সেঞ্চুরি করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলকে লিড এনে দিলেন শ্রীলংকার দুই ওপেনার নিরোশান ডিকাবেলা ও দানুষ্কা গুনাথিলাকা। হাম্বানটোটায় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারালো শ্রীলংকা। এতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো স্বাগতিক লংকানরা।
ডিকােভলা এবং গুনাতিলকার সেঞ্চুরিেত ২ উইকেটে ৩১২ রান করে জয় পায় স্বাগতিকরা। ডিকােভলা ১০২ এবং গুনাতিলকা ১১৬ রান করেন। এই জুটির ২২৯ রানে ভর করে জয় পায় শ্রীলঙ্কা। পরে বাকী আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন কুশল মেন্ডিজ আর উপুল থারাঙ্গা। তাতে ১৬ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জেতে স্বাগতিক দল।

এরআগে, শ্রীলঙ্কাকে ৩১১ রানের বিশাল টার্গেট দেয় জিম্বাবুয়ে। আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে জিম্বাবুয়ে তুলেছে ৩১০ রান।
পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পায় জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল। এই জয়ে ২-১-এ এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চড়াও হন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। সেঞ্চুরি পান হ্যামিলটন মাসাকাদজা। ৯৮ বলে ১৫ চার ও ১ ছক্কায় ১১১ রান করেন। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। এছাড়া তারিসাই মুসাকান্দা ৪৮, শন উইলিয়ামস ৪৩ রান করেন। শেষ দিকে সিকান্দার রাজার ২৫ ও পিটার মুরের ২৪ রানে তিনশ রান অতিক্রম করে সফরকারীরা।

লঙ্কান বোলারদের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন হাসারাঙ্গা ও আশেলা গুনারত্নে। পেসার লাসিথ মালিঙ্গা ৯ ওভারে ৭১ রান দিয়ে পান ১ উইকেট। একই ভেন্যুতে আগামী ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে।

সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সঙ্গে বেতন চুক্তি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট করে খেলোয়াড়রা। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েসন (এসিএ)।
গত রোববার অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েসনের(এসিএ) সঙ্গে সিডনিতে জরুরি বৈঠক করেন ক্রিকেটাররা। বৈঠক শেষে সাফ জানানো হয়, বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি না হলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট করবে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’দল। অবশেষে সে পথেই হাঁটল ম্যাক্সওয়েল, উসমান খাজারা। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নয় পরবর্তী সিরিজগুলোও নিয়েও ভাবতে শুরু করছে ক্রিকেটাররা।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসিএ জানায়, ‘এটা খুবই হতাশাজনক যে বর্তমান বিতর্কের সমাধান করার জন্য কোন অগ্রগতি নেই। অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা নিশ্চিত করেছে যে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে না।’ এসিএ আরও জানায়, ‘সব খেলোয়াড়ই সিএ-র আচরণে গভীরভাবে হতাশ। খেলোয়াড়রা তাদের দেশের জন্য খেলতে পারছেন না। তারা এই ধরনের পদক্ষেপ সমর্থন করে না।’
১২ জুলাই থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের। দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলার পাশাপাশি স্বাগতিক দল ও ভারত ‘এ’ দলকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার কথা ছিলো তাদের।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রত্যাখান করে চুক্তিতে সই করেনি অস্ট্রেলিয়ার ২৩০ পেশাদার ক্রিকেটার। ৩০ জুন ছিল বেতন চুক্তি নবায়নের শেষ দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো ক্রিকেটারই চুক্তিতে সই করেনি। চুক্তিতে সই না করায় এক অর্থে বেকার অসি ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট করায় হুমকির মুখে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর, ভারত সফর ও অ্যাশেজ সিরিজও।

এক উইকেটে জিতলো এইচপি দল

অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটোরি দল এক উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জয় পেলো বাংলাদেশ হাই পারফরমেন্স দল। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে, টস হেরে ব্যাট করে, ৭ উইকেটে ১৮৯ রান তোলে স্বাগতিক দল। ৭৮ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন জে. ডিকম্যান। বাংলাদেশ এইচপি দলের বোলারদের মধ্যে রাজু ৭ ওভারে ৩৪ রানের খরচায় ২টি উইকেট তুলে নেন।

১৯০ রানে জয়ের টার্গেটে ব্যাট করে, ৮৬ রানে ৪ উইকেট পড়ে গেলেও, তানভীর হায়দারের অপরাজিত ফিফটিতে ৯ উইকেটে ১৯০ রান করে জয় পায় এইচপি দল। তানভীর ৮৩ বলে ৪ চারে ৫১ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলেন। ৩১ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ওপেনার লিটন দাস করেন ৪১ রান। ৩১ রান আসে আবুল হাসান রাজুর ব্যাট থেকে। আগামীকাল একই ভেন্যুতে একই দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এইচপি দল।

এবারো খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ

আগের আসরের সাফল্যের পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরেও খুলনা টাইটান্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী এনাম আহমেদ।

দলের নতুন কোচ শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
কাজী এনাম বলেন, ‘রিয়াদ আমাদের আইকন প্লেয়ার ছিলো, এবারও আছে। আমরা খুশির সঙ্গে ঘোষণা করছি যে গেল আসরের মতো এই আসরেও সে খুলনার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবে। সে একজন টোটাল টিম প্লেয়ার, আমরা তার উপর ভরসা রাখতে চাই।’

টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরে খুলনা মাঝারি গোছের দল নিয়েও রিয়াদের নেতৃত্বে তৃতীয়স্থান পায়। তারই ধারাবাহিকতায় আবারও রিয়াদকে অধিনায়ক নির্বাচিত করলো দলটি। রিয়াদ নিজেও দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব পেয়ে খুশি। দলকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চান তিনি। আরও ভালো করতে চান। একই সঙ্গে দলের নতুন কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনের উপস্থিতিও তাকে রোমাঞ্চিত করছে। রিয়াদ বলেন, ‘এনাম ভাইকে ধন্যবাদ আবারও অধিনায়কত্ব দেওয়ার জন্য। খুব ভালো লাগছে। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। সঙ্গে মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো কিংবদন্তিকে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার আমাদের কারো অজানা নেই। আমি তার সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।’
গেল আসরে চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় খুলনা। এরপর রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিলো রিয়াদের দল।

উইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি দলে গেইল

ক্রীড়া ডেস্ক: 

ঘরের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলে ডাক পেয়েছেন ক্রিস গেইল। জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে ওই ম্যাচটির জন্য ক্যারিবীয় ১৩ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন বিস্ফোরক এ ব্যাটসম্যান।

বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান গেইলকে জায়গা করে দিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল থেকে বাদ পড়েছেন লেন্ডল সিমন্স। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ তিনটি ম্যাচে তার স্কোর ছিল ৬, ১৭*, ১৫। তাই ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে তাকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উইন্ডিজ নির্বাচকরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক জেসন হোল্ডার এই ম্যাচে খেলবেন না। মূলত বিশ্রাম দিতেই তাকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে।

ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সবশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন গেইল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সি গায়ে দীর্ঘ সময় পর আবারও মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি। ১৫১৯ রান নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ স্কোরার গেইল। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি। ভারতের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পেলে তার জন্য ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ সাবিনা পার্কে এর আগে কখনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি গেইল।

আগামী ৯ জুলাই শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

উইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি দল: কার্লোস ব্রেথওয়েট (অধিনায়ক), স্যামুয়েল বদ্রি, রনসফোর্স বিটন, ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, সুনিল নারিন, কাইরন পোলার্ড, রোভম্যান পাওয়েল, মার্লন স্যামুয়েলস, জেরোম টেইলর, চ্যাডউইক ওয়ালটন (উইকেটরক্ষক), কেসরিক উইলিয়ামস।

 

ক্রিকেটারই হবেন তামিম পুত্র

নিজের ছেলে বড় হয়ে কি হবেন, এমন কোন কিছুই এখনো বলেননি বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ছেলের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন এই ওপেনার। আর এরপর থেকেই গুঞ্জন উঠেছে তাহলে কি বাবার মতই ক্রিকেটার হচ্ছেন তামিম পুত্র!

ফেসবুকের ভিডিওতে দেখা যায়, `দুই হাতে দুই ব্যাট নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন তামিম পুত্র আরহাম।`

উল্লেখ্য, স্কুল জীবন থেকেই তামিম-আয়েশার মন দেয়া-নেয়া শুরু। আট বছরের লম্বা সময় ধরে চলেছে প্রেম পর্ব। ২০১৩ সালের ২২ জুন আনুষ্ঠানিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারকা এ জুটি। এরপর ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসেন তামিম-আয়েশা দম্পতির প্রথম সন্তান আরহাম খান।

তিন ফরেমেটেই পাকিস্তানের অধিনায়ক এখন সরফরাজ

অবশেষে তিন ফরমেটেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক করা হলো সরফরাজ আহমেদকে। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডের পর এবার পাকিস্তানের টেস্ট দলেরও অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন তিনি।
ইংল্যান্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান। র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থেকেও দলকে শিরোপা জয়ে কার্যকরী নেতৃত্ব দেওয়ায় টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হবে সরফরাজকে সে কথা আগেই জানিয়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি শাহরিয়ার খান। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।
এ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার খান বলেন, ‘ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সঙ্গে আহমেদকে (সরফরাজ আহমেদ) টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সুযোগটি নিচ্ছি আমি।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন সরফরাজ আহমেদ। অক্টোবরে ওই সিরিজটি নিরপেক্ষ ভেন্যু আরব আমিরাতে হওয়ার কথা রয়েছে।
টেস্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে গর্বিত সরফরাজ বলেন, ‘টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে আমাকে মনোনীত করায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। সব ফরম্যাটে দলকে ভালো ফলাফল এনে দিতে আমি সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ের পর আমরা থেমে যেতে চাই না।’

বাংলাদেশ এইচপি দলের ডারউইন সূচি

বাংলাদেশ হাই পারফরমেন্স দল পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি তিনদিনের ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে। নর্দান টেরিটোরি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে খেলাগুলো।
৫, ৬ ও ৭ জুলাই হবে প্রথম তিনটি ওয়ানডে। একদিন করে বিরতির পর ৯ ও ১১ জুলাই হবে চতুর্থ ও পঞ্চম ওয়ানডে। আর ১৩ থেকে ১৫ জুলাই হবে একমাত্র তিনদিনের ম্যাচটি।

ভুবনেশ্বরে অনুশীলনে সন্তুষ্ট বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা

আর চারদিন পর ভারতের ভুবনেশ্বরে শুরু হবে এশিয়ার অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে বাংলাদেশের ১৮ অ্যাথলেট এখন উড়িষ্যা রাজ্যের রাজধানীতে। এই প্রথম এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিশাল দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন। ১৪ জন পুরুষের সঙ্গে রয়েছেন ৪ জন নারী।

কেবল বড় দলই পাঠায়নি ফেডারেশন, চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই ভুবনেশ্বরেই বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের দুই সপ্তাহের অনুশীলনের সুযোগও করে দিয়েছে। ইন্ডিয়া অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সহযোগিতায় মেজবাহ আহমেদরা পেয়েছেন দারুণ এই সুযোগ।

তিনজন কোচও গেছেন ১৭ অ্যাথলেটের সঙ্গে। মাহবুবা ইকবাল বেলী, রফিকুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমানদের পাশাপাশি স্থানীয় অভিজ্ঞ কোচদের সহায়তাও পাচ্ছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। নারী অ্যাথলেট জেসমিন আক্তারের জ্বর হওয়া ছাড়া ভুবনেশ্বরে আর তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি বাংলাদেশ দলকে। জেসমিনকে একদিন স্থানীয় হাসপাতালেও থাকতে হয়েছিল।

অ্যাথলেটরা ওখানে দুই সপ্তাহের অনুশীলনে দারুণ খুশি। ভুবনেশ্বর থেকে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদ জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘এখানে আমাদের অনুশীলন সুন্দর হয়েছে। এখানে আসার পর আমরা যে হোটেলে ছিলাম সেখান থেকেই আজই উঠেছি অফিসিয়াল হোটেলে। ৫ জুলাই চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন। পরের দিন খেলা শুরু হবে। আমরা আগের দিন পর্যন্ত অনুশীলন করবো।’

নারী স্প্রিন্টার সুস্মিতা ঘোষ জাগো নিউজকে বলেছেন,‘আমাদের অ্যাথলেটরা এ ধরণের বড় আসরের আগে এমন লম্বা অনুশীলনের সুযোগ আগে কখনো পায়নি। তাও আবার টুর্নামেন্টের শহরে। এখানে আমাদের অনেক কদর করেছে ইন্ডিয়া অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের লোকজন। থাকা-খাওয়া সবই কিছু ভালো। আমরা এই দুই সপ্তাহ নিবিঢ়ভাবে অনুশীলন করতে পেরেছি।’

হ্যামার থ্রোয়ার মো. হেদায়েত হোসেন এই অনুশীলনে অনেক লাভবান হয়েছেন। ভুবনেশ্বরে তিনি ৫০ মিটারের বেশি ছুড়ছেন। যেখানে ঢাকায় ছিল সর্বোচ্চ ৪৫ মিটার। সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি রৌপ্য পেয়েছিলেন ৪৫ মিটারে। ‘এখানে এসে আমার অনেক উন্নতি হয়েছে। আমি আশাবাদী এভাবে দূরত্ব বাড়াতে পারলে আগামী এসএ গেমসে স্বর্ণ জিততে পারবো ইনশাল্লাহ’-ভুবনেশ্বর থেকে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এ অ্যাথলেট।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক দল

মেজবাহ আহমেদ, কাজী শাহ ইমরান, শরীফুল ইসলাম, আবদুর রউফ, মাসুদ রানা, ইসমাইল হোসেন, মাসুদ খান, খন্দকার কিবরিয়া, কামরুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, মাহফুজুর রহমান, হেদায়েত হোসেন, আল-আমিন, আলমগীর হোসেন, সোহাগী আক্তার, সুস্মিতা ঘোষ, সুমি আক্তার ও জেসমিন আক্তার।

টিম ম্যানেজার : অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু, কোচ : মাহবুবা ইকবাল বেলী, রফিকুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান।

নারী বিশ্বকাপেও ভারতকে হারাতে পারল না পাকিস্তান

ইতিহাসটা বদলাতে পারলো নারী ক্রিকেটাররাও। এমনিতেই হয়তো ভুরি ভুরি ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বসে পাকিস্তান; কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই কেন যেন উল্টে যায় চিত্রটা। ভারতকে কোনোভাবেই হারাতে পারে না তারা। পুরুষ বিশ্বকাপে তো পারেই না। এবার নারী বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে একই অবস্থা। ভারতের নারীদের হারাতে পারেনি পাকিস্তানের নারীরা। উল্টো হেরেছে ৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে।

তবে সরফরাজদের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল হারের বদলাই নিল ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানকে ৭৪ রানে অলআউট করে দিল মিতালি অ্যান্ড কোং। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে একতার (১৮ রানে ৫ উইকেট) বোলিং দাপটের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলো পাকিস্তানের ব্যটসম্যানরা। এ’নিয়ে টানা ১০ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালেন ভারতীয় নারী ক্রিকেটাররা।

ভারতের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি পাকিস্তানের। মাত্র এক রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকা পাকিস্তানের নারীরা কখনই ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে থিতু হতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত ৭৪ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। অধিনায়ক সানা মির সর্বোচ্চ ২৯ এবং নাদিয়া খান ২৩ রান করেন। এছাড়া আর কেউই দু’অঙ্কের ছোঁয়া পাননি। একতা বিস্ত একাই পাঁচ উইকেট নেন।

রোববার ডার্বির কাউন্টিগ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নামে ভারত। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ভারতীয় টপ অর্ডার দুরন্ত ফর্মে থাকলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছন্দপতন ঘটে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের নায়ক স্মৃতি মান্ধানাকে মাত্র ২ রানে প্যাভিলিয়ানে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেয় পাকিস্তান। এরপর ধীরে চলো নীতি নিয়ে দলকে টানেন পুনম রাউত। তিনি ৪৭ রানে আউট হলে আবার চাপের মুখে পরপর উইকেট হারায় ভারতীয় দল।

প্রথম দু’ম্যাচে রান পেলেও অধিনায়ক মিতালি (৮) এদিন ব্যর্থ। একসময় ভারত দেড়শো রানের গণ্ডি পার হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। যদিও সপ্তম উইকেটে সুষমা ভার্মা ও ঝুলন গোস্বামীর ৩৪ রানের জুটিতে ভর করে ১৭০ রানের লক্ষ্য দেয় ভারত। পাকিস্তানের পক্ষে নাসরা সান্ধু ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন।

উড়ন্ত ভারতকে মাটিতে নামাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। পরের দুই ম্যাচে দাপটের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ অনেকটা নিজেদের করে নিয়েছে ভারত; কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে এসে অবিশ্বাস্যভাবে ভারতকেই হারিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ১৮৯ রান করেও ১১ রানের ব্যবধানে জয় পেলো স্বাগতিক ক্যরিবীয়রা।

অ্যান্টিগার স্যর ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ৪৯তম ওভারের শেষ বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্যাচটা অ্যালজারি জোসেফ লুফে নিতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল ক্যারিবিয়ান দর্শকরা। ধোনির আউটেই যে প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলো শ্বাসরূদ্ধকর একটি জয়! ১১৪ বল মোকাবেলায় ৫৪ রান করে তিনিই যে ভারতের শেষ প্রদীপ হয়ে মিট মিট করে জ্বলছিলেন! শেষ পর্যন্ত থাকলে কোনো না কোনো বিপদ হতেই পারতো। তার বিদায়ে বিজয়ের উল্লাস করাটাই স্বাভাবিক।

পরের ওভারেই বাকি দুটি উইকেট তুলে নিতে মোটেও বেগ পেতে হলো না জেসন হোল্ডারের। চার বলেই দুটি উইকেট শেষ। ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতেই জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো ক্যরিবীয় শিবির।

রোববার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে টিম ইন্ডিয়ার ইনিংস শেষ হয়ে গেলো ১৭৮ রানে। ১১ রানে মধুর জয় পেল জেসন হোল্ডার বাহিনী।

১৯০ রানের সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বিরাট কোহলিরা। মাত্র ৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান। অধিনায়ক বিরাট কোহলিও এদিন ব্যর্থ হন। মাত্র ৩ রান করে হোল্ডারের শিকার হন তিনি। চার নম্বরে নামা দিনেশ কার্তিকও (২) ব্যর্থ।

৪৭ রানে তিন উইকেট হারনোর পর দলের হাল ধরেন রাহানে-ধোনি। চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রান যোগ করেন তারা। রাহানে হাফ সেঞ্চুরি (৬০) করে আউট হন। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে টিম ইন্ডিয়া।

১৭৬ রানে ধোনি (৫৪) আউট হওয়ার পরই দলের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। অবিশ্বাস্য স্লো ব্যাটিং করেন ধোনি এবং রাহানে। ৬০ রান তুলতে রাহানে খেলেন ৯১ বল। ৫৪ রান তুলতে ধোনি খেলেন ১১৪ বল।

ধোনির আউট হওয়ার পর আর দু’রান যোগ করেই বাকি দুটি উইকেট হারায় বিরাট কোহলিরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে অধিনায়ক হোল্ডার ২৭ রানে ৫ উইকেট নেন।

এদিন ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতীয় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে শুরুটা মন্দ হয়নি তাদের। প্রথম পাওয়ার প্লে’তে ৩১ রান তোলে তারা। ৫৭ রানের মাথায় হারায় প্রথম উইকেট। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকা ক্যারিবিয়ানরা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৮৯ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। উমেশ যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া তিনটি করে উইকেট নেন। সিরিজে এখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুলাই।

আর বিসিবি-র সভাপতি হতে চান না নাজমুল হাসান পাপন

ব্যক্তিগত কারণে আর বিসিবি-র সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চাইছেন না নাজমুল হাসান পাপন। তবে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তিনি পরিচালক হিসেবে নির্বাচন করার পক্ষপাতি।
গত ২০১২ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্ব নেন নাজমুল হাসান পাপন। পরের বছর হলেন নির্বাচিত। এরপর গত চার বছর সাফল্যের সাথেই দায়িত্বটা পালন করেছেন। এ সময় আমূল পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের । বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন জায়ান্ট একটি দল। তার অনেকটা তো বোর্ডের শীর্ষ কর্তার কৃতিত্বের খাতাতেও যায়। তবে এমন সাফল্যের পরও প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে আর আগ্রহ নেই পাপনের! আইসিসি সভা থেকে ফিরে রোববার দুপুরে এমনটাই জানালেন তিনি। তবে ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসার কারণেই বোর্ড ডিরেক্টর হিসেবে থাকতে চান বলেও জানান বিসিবি প্রধান।
বিসিবির পরবর্তী নির্বাচন এই বছরেরই সেপ্টেম্বরে। সেখানে নিজের ভূমিকা কি হতে পারে তা নিয়ে পাপন জানালেন, ‘আসলে একদম মনের কথা বলছি। ক্রিকেট বা খেলাধুলা এমন একটা জিনিস যেটা থেকে আমার দূরে থাকা খুব কঠিন। আজকেও আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে যে ক্রিকেট বোর্ডে যদি থাকতেই হয় ডিরেক্টর হিসেবে থাকাই ভালো। এই প্রেসিডেন্ট পদটা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এটাই আমার মনের কথা।’
বিসিবি প্রধানের দায়িত্ব ছাড়াও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়া রাজনীতিতেও সক্রিয়। তাই পাশাপাশি তিনটি গুরুদায়িত্ব পালন করতে সবসময় হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে প্রায় সর্বক্ষণই ক্রিকেটকে দিতে হয় বলে জানান তিনি। তাই প্রেসিডেন্ট পদে না থেকে সাধারণ ডিরেক্টর পদকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন পাপন।
‘আমার মনে হয় এটা অতিরিক্ত। যে পরিমাণ সময় আমাকে ক্রিকেটে দিতে হচ্ছে এটা প্রায় সর্বক্ষণ। চাপটা অনেক বেশি। ভ্রমণটাও অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। আইসিসি, এসিসি, তারপর আবার বিসিবি ক্রিকেট এগুলোতো আছেই। চাকরি, রাজনীতিতো আছেই। আর খেলোয়াড় প্রত্যেকের সঙ্গে আমি যেহেতু সরাসরি জড়িত। ওরা সরসারি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সব মিলিয়ে চাপটা অনেক-’ বলেছেন বিসিবি কর্তা।
গত চার বছরে শুধু মাঠের সাফল্য পেয়েছেন পাপন এমন নয়। ভবিষ্যতে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখাতে কাঠামোগতভাবেও অনেক পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তাই তার জায়গায় যিনি আসবেন তিনিও ভালো করবেন বলে বিশ্বাস করেন পাপন, ‘আমি জানি যেই আসুক খারাপ হবে না। এখন ক্রিকেটের অনেক সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। সব হয়তো সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ দলের যে ধারা আছে আগামী আট বছর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। উন্নতির ধারা থাকবে বলে আমার ধারণা। কেউ এসে চাইবে না তার সময়ে খারাপ কিছু হোক।’

সিরিজে সমতা আনলো শ্রীলংকা

স্পিনার হাসারাঙা-র অভিষেকেই হ্যাটট্রিক, আরেক স্পিনার সান্দাকানের ৪ উইকেট আর উপুল থারাঙ্গার অপরাজিত ৭৫ রান-তাতে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারালো শ্রীংকা। আর এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ এ সমতা আনলো স্বাগতিকরা। জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৫৬ রানের টার্গেট উপুল থারাঙ্গার হাফ সেঞ্চুরিতে ১১৯ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলে লংকানরা।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ৮৬ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৭৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন উপুল থারাঙ্গা। ওপেনার নিরোশান দিকভেলা করেন ৩৫ রান। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ অপরাজিত ছিলেন ২৮ রান নিয়ে। দলীয় ৭৭ রানের মাথায় দিকভেলা তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরলে ম্যাথুজ ও থারাঙ্গা মিলে ৭১ বলে ৮১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন জিম্বাবুয়ের হয়ে টেন্ডাই চাতারা দুটি উইকেট নেন। গ্রায়েম ক্রেমার নেন একটি উইকেট।

এর আগে লক্ষ্মন সান্দাকানের দুর্দান্ত বোলিং এবং হাসারাঙ্গার রেকর্ডগড়া হ্যাটট্রিকে ১৫৫ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের হয়ে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৪১, ম্যালকম ওয়ালার ৩৮ এবং ক্রেইগ আরভিন করেন ২২ রান।সহজ জয়ে সমতায় ফিরল শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার হয়ে সান্দাকান সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। অন্যদিকে ইতিহাসের তৃতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা হাসারাঙ্গা ২.৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। এর আগে বাংলাদেশি স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার ক্যাগিসো রাবাদা অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩১৬ রান করেও হেরে যায় শ্রীলঙ্কা। আগামী ৬ জুলাই হাম্বানটোটায় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে।

অভিষেকে হাসারাঙ্গা-র হ্যাটট্রিক

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেছেন শ্রীলঙ্কার ১৯ বছর বয়সী লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ভানিদু হাসারাঙ্গা। টানা তিন বলে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ে শেষ তিন উইকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি ৪২তম হ্যাটট্রিক।
অভিষেকে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি হাসারাঙ্গার আগে আছে মাত্র দুজনের। ২০১৪ সালে অভিষেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম। পরের বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে হ্যাটট্রিকসহ ১৬ রানে ৬ উইকেট নেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদা।
গলে এদিন সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে হাসারাঙ্গা। এক ওভার করিয়েই তাকে সরিয়ে নেন অধিনায়ক। আবার আক্রমণে আনেন খানিক পরই। জিম্বাবুয়ের তখন ৭ উইকেট নেই। স্পেলের দ্বিতীয় ওভারেই হ্যাটট্রিক।
ওভারের প্রথম বলটিতে চার মেরেছিলেন ম্যালকম ওয়ালার। পরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড। পরের বলটি গুগলি। কিছু না বুঝতে পেরে এলবিডব্লিউ ডোনাল্ড টিরিপানো।
পরের বলটি আবারও গুগলি। লোয়ার অর্ডারের জন্য একটু বেশিই ভালো বল। ব্যাট-প্যাডের বিশাল ফাঁক গলে বোল্ড টেন্ডাই চাতারা। সতীর্থদের উল্লাস-উচ্ছ্বাসের মধ্যমণি তখন হাসারাঙ্গা।
২.৪ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট হাসারাঙ্গার। ৪ উইকেট নিয়ে মিডল অর্ডারে ছোবল দিয়েছেন চায়নাম্যান লাকশান সান্দাকান। আগের ম্যচে ৩১৬ রান তাড়ায় রেকর্ড গড়ে জয়ী জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে গেছে ১৫৫ রানেই।
তাইজুলের কীর্তিটাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। সেবারও চাতারা ছিলেন তিন শিকারের একজন। রাবাদার কীর্তিটা আবার বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেটিও মিরপুরে। প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার নিজের দ্বিতীয় আর ইনিংসের মাত্র চতুর্থ ওভারে টানা তিন বলে ফেরান তামিম, লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহকে।

আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত বাংলাদেশের

২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। শুক্রবার ভারতের বিপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারেই তা নিশ্চিত হয়।
এখন রেটিং পয়েন্টে যে অবস্থা আছে, তাতে চাইলেও আর বাংলাদেশকে র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরের নিচে নামানো সম্ভব নয়। র‌্যাঙ্কিংয়ে এ মুহূর্তে বাংলাদেশ আছে সাত নম্বরে। রেটিং পয়েন্ট ৯৪। বাংলাদেশের পরে আছে শ্রীলঙ্কা। তাদের র‌্যাঙ্কিং আট নম্বর। রেটিং পয়েন্ট ৯১। এরপর নয় নম্বরে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৭৭। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা টপকাতে পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর টপকাতে পারবে না।
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে আটটি দল র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বর পর্যন্ত থাকবে। তারাই ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার রেটিং পয়েন্ট পার্থক্য ১৭। কোনভাবেই এই ১৭ পয়েন্ট আর জোগাড় করা সম্ভব নয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। কিন্তু আর কোনভাবেই তাদের ১৭ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব নয়। ভারতের বিপে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ চলছে। সিরিজের আছে বাকি দুই ম্যাচ। এই দুই ম্যাচ জেতার সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিপে একটি ওয়ানডে ও ইংল্যান্ডের বিপে আসন্ন ৫টি ওয়ানডে জিতলেও ১৭ পয়েন্ট পাবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের বিপে হাতে থাকা দুটি ম্যাচ জিতলে ৮২ পয়েন্ট হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপে একটি ম্যাচ জিতলে মিলবে ১ পয়েন্ট। হবে ৮৩ পয়েন্ট। যদি ইংল্যান্ডকে টানা ৫ ম্যাচেও হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মিলবে আরও ১০ পয়েন্ট। হবে ৯৩ পয়েন্ট। তার মানে তখনও বাংলাদেশের চেয়ে ১ পয়েন্ট কম থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তার মানে সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুধু শ্রীলঙ্কাকেই পেছনে ফেলার সুযোগ পাচ্ছে, বাংলাদেশকে নয়। আর তাই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের যে ভরাডুবি দেখা যাচ্ছে, তাতে ধরেই নেয়া হচ্ছে, শেষপর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপেও সরাসরি খেলতে পারবে না।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ডে। সেই বিশ্বকাপে সরাসরি আটটি দল খেলবে। মোট ১০ দলের টুর্নামেন্ট হবে। বাকি দুটি দল বাছাইপর্ব উতরে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বর দল সরাসরি খেলবে। ইংল্যান্ড স্বাগতিক বলে তারা এমনিতেই খেলবে। এরপর ইংল্যান্ডকে বাদ দিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বর পর্যন্ত যে সাতটি দল থাকবে, তারাই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। বাংলাদেশ যে আট নম্বরে অন্তত থাকছে, তা নিশ্চিত হয়ে গেল। দণি আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড আগেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে পাকিস্তানও সেই দলে যোগ দিয়েছে। সাত নম্বর দল হিসেবে বাংলাদেশও একই পথের পথিক হয়ে গেল। এখন আর একটি দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। সেটি শ্রীলঙ্কা না ওয়েস্ট ইন্ডিজ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হার-জিতের হিসাব শতভাগ ধরা দেবে। র‌্যাঙ্কিংয়ে রেটিং পয়েন্ট হিসাব হয় হার-জিতের হিসাবেই। যদি দুই দলের মধ্যকার ৩৮ বা তার বেশি রেটিং পয়েন্ট পার্থক্য থাকে, তাহলে রেটিং পয়েন্টে নিচে থাকা দলটি ৩ পয়েন্ট করে পায়। সেই হিসেবে ভারতের বিপস্ষে (১১৬ রেটিং পয়েন্ট) চতুর্থ ওয়ানডেটি যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে তাহলে ৩ পয়েন্ট পাবে। হবে ৮০ পয়েন্ট। এরপর ভারতের সঙ্গে পঞ্চম ওয়ানডে জিতলে পাবে ২ পয়েন্ট। হবে ৮২ পয়েন্ট। আয়ারল্যান্ডের বিপে জিতলে আরও ১ পয়েন্ট। আর ইংল্যান্ডের বিপস্ষে (১১৩ রেটিং পয়েন্ট) পাঁচ ম্যাচই জিতলে আরও ১০ পয়েন্ট মিলবে। সবমিলিয়ে ৯৩ পয়েন্ট হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বাংলাদেশকে ছুঁতেই পারবে না। আর যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারতে থাকে, তাহলে কথাই নেই।
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের যদি কোন ওয়ানডে ম্যাচ থাকত, তাহলে সমস্যা হতে পারতো। তখন হারলেই রেটিং পয়েন্ট কমার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোন ওয়ানডে খেলাই নেই। পাকিস্তানের বিপে সিরিজ ছিল। কিন্তু পাকিস্তান খেলবে না। তাই বাংলাদেশের আর রেটিং পয়েন্ট কমারও কোন সম্ভাবনা নেই।

বয়কটের সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের

আগামীকাল দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা সবাই হাজির হবেন ব্রিসবেনে। মঙ্গলবার থেকে শুরু অনুশীলন। আজ বিশেষ সভা শেষে ক্রিকেটাররা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ব্রিসবেনে শুরু অনুশীলনে যোগ দেবেন তারা। কিন্তু তাতে সমস্যা শেষ হয়ে যায়নি। ক্রিকেটাররা বলেছেন, এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি না হলে ১২ জুলাই শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে না অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল!
অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের অধিনায়ক উসমান খাজা বলেছেন, ‘এটা (সফর বয়কট করা) মোটেও সহজ কিছু নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি সত্যিই ক্রিকেট খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। অনেক দিন হলো খেলিনি। বাকিরাও নিশ্চয়ই তা-ই চায়। কিন্তু আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমরা তবু অনুশীলনে যোগ দিচ্ছি। আমরা আমাদের কাজটা চালিয়ে যাব, প্রস্তুত হব। আশা করি, এর মধ্যে কিছু একটা সমাধান বের হবে। কিন্তু তা না হলে আমাদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

সেই সিদ্ধান্ত যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট করা হবে, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের সংগঠন এসিএর প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার নিকলসন।
সফরটা ‘এ’ দলের হলেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্য তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে চার টেস্টের সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবে মূল দল। ১৯৭০ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় এক সফরে চারটি টেস্ট খেলার কথা আছে তাদের। সেই সফরের আগাম প্রস্তুতি ‌‌‌‌‘এ’ দলের এই সফর।
এই সফরে দুটি চার দিনের ম্যাচ শেষে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা। যাতে যোগ দেবে ভারতের ‘এ’ দল। অস্ট্রেলিয়া ভারতে আবার ফিরে যাবে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে। ফলে ‘এ’ দলের এই সফরটাও কাজে দেবে ওই ওয়ানডে সিরিজের সময়।
ভারত সফরের আগেই অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে আসার কথা দুটি টেস্ট খেলতে। এরপর নভেম্বরে অ্যাশেজ। এর সবই এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আপাতত সবচেয়ে সংকটে ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ক্রিকেটাররা জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যে অন্তত সমঝোতা চুক্তি না হলে এই সফরে তাঁরা যাবেন না।

অস্ট্রলিয়ার বেকার ক্রিেকটারদের ধর্মঘট!

ধর্মঘটের ডাক দিতে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার বেকার ক্রিকেটাররা। দেশটির শীর্ষ ক্রিকেটাররা ১ জুলাই থেকে বেকার হয়ে পড়েছেন। কারণ, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া প্রস্তাব তারা মেনে নেননি। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই করেননি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সংস্থা এসিএ ওটা বয়কট করার কথা ভাবছে। রোববার তারা বৈঠকে বসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সিএ এবং ক্রিকেটারদের সংস্থা নিশ্চিত করেছে সমঝোতাটা হলো না। শুক্রবারের মধ্যে নতুন চুক্তিতে সই করার ডেডলাইন চলে গেছে।

এসিএ আগেই জানিয়েছিলো, বৈষম্যের এই চুক্তিতে তারা সই করবেন না। বেকারত্ব মেনে নেবেন, তবুও না। তাই হয়েছে। সিএ কিছুটা পরিবর্তিত চুক্তি সামনে আনলেও সেটি মানেননি ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ১৯৭০ এর কেরি প্যাকার ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট বিপ্লবের পর এই প্রথম এতো বড় সঙ্কটে। সামনের আগস্টে বাংলাদেশ সফর, তারপর ভারত সফর এবং ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ, সব এখন হুমকিতে। দেশটির শীর্ষ ফাস্ট বোলার জশ হ্যাজলউড ক্রিকেটারদের পক্ষে জানিয়েছেন, অন্যায় চুক্তিতে সই করার চেয়ে তাদের কাছে বেকারত্ব অনেক ভালো। ‘অবশ্যই আমাদের যা করার দরকার তা করবো’- বলেছেন হ্যাজলউড। খেলোয়াড়দের সংস্থা সেই সাথে জানিয়েছে রোববার তারা সিডনিতে বৈঠকে বসবে। সেখানে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এসিএ জানাচ্ছে তাদের ২০০’র বেশি ক্রিকেটার শনিবার থেকে বেকার। রোববারের বৈঠকে তারা সমাধানের বিষয়ে আলাপ করবেন। কিন্তু সমাধান সহসা আসবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই বেকার পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি তহবিল খোলার সিদ্ধান্ত আসবে। এসিএর প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টেয়ার নিকোলসন বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের জন্য বোর্ড খেলোয়াড় পাবে কি না সেই সিদ্ধান্তও নেবেন তারা। ৮ জুলাই শুরু ওই সফর।

অস্ট্রেলিয়া সফরে বিজয়ের লক্ষ্য

আজ শনিবার রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে বিসিবি হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দল। এই দলের অন্যতম সদস্য এনামুল হক বিজয়। তার লক্ষ্য, নিজের প্রস্তুতি কেমন হয়েছে তা পরখ করে নেওয়া। এবং অেস্ট্রিলয়ায় ভালো পারফর্ম করে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া।

আগামী ১০ জুলাই থেকে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে এই ক্যাম্পে যোগ দেবেন এনামুল। জাতীয় দলে ফিরতে মরিয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের কাছে অস্ট্রেলিয়া সফর ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভালো কিছু শেখার চেষ্টা করবো। পাঁচটা ওয়ানডে খেলবো বলে অনেক কিছু শিখতেও পারবো। সেখানে নতুন বোলারদের বিপক্ষে খেলবো। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কী করলাম, কতটুকু শিখলাম তা দেখারও সুযোগ হবে।’ সফরে ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে তার অভিমত, ‘গত দুই বছরে প্রস্তুতি কতটা নিতে পেরেছি, তা পরখ করার সুযোগ পাবো। কোচদের কাছ থেকে কতটুকু শিখেছি, তা-ও দেখতে পারবো। টার্গেট অবশ্যই বড়।’
অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচটি ওয়ানডের পাশাপাশি একটি তিনদিনের ম্যাচ খেলবে এইচপি দল। এই সফর ভবিষ্যতে কাজে লাগবে বলে মনে করেন এনামুল, ‘বাইরের কন্ডিশন দেশের কন্ডিশনের চেয়ে আলাদা। তাই ওখানে (অস্ট্রেলিয়ায়) ভালো করতে পারলে তা ভবিষ্যতে আমাদের বিদেশের মাটিতে ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’

চারটি টেস্ট, ৩০টি ওয়ানডে ও ১৩টি টি-টোয়েন্টি খেলা এনামুলের বিশ্বাস, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়াদের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের জন্য এই সফর একটা বড় সুযোগ, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্যই বড় সুযোগ। দলে যারা আছে তারা প্রত্যেকে খুব ভালো ক্রিকেটার। প্রিমিয়ার লিগ, এনসিএল, বিসিএল সহ ঘরোয়া ক্রিকেটে সবাই ভালো পারফর্ম করেছে।’
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পেয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন এনামুল। সে বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেললেও তিনি জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতে পারেন নি।

এখনই অবসরে যেতে চাইছেন না শোয়েব মালিক

এই ৩৫ বছর বয়সেও ক্রিকেটটা বেশ উপভোগ করছেন পাকিস্তান দলের সিনিয়র সদস্য শোয়েব মালিক। তিনি আরো কিছুদিন ক্রিকেট খেলতে চান। যদিও ২০১৫ সালে টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের ওয়ানডে এবং ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই স্বল্পদৈর্ঘের ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
শোয়েব মালিক তার অবসর ভাবনা সম্পর্কে জানান, ‘ আমার ফর্ম আর ফিটনেস যদি ঠিক থাকে তবে দেশের হয়ে, আগামী ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলতে চাই।’

তবে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা মালিক সবার আগে গুরুত্ব দেন, ফিটনেসকে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সিনিয়র সদস্য হিসেবে আমি দলের জন্য কতোটা করতে পারছি, সবকিছু নির্ভর করছে তার ওপর। দলকে সাহায্য করতে চাই কিন্তু বোঝা হতে চাই না। যদি আমি না পারি, তবে নিজে থেকেই অবসরে যাবো। কিন্তু কিছুদিন আগে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতায়, খুব আশাবাদী করেছে আমাকে-ইংল্যান্ডে আগামী বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে।’
৩৫ টেস্ট, ২৫২ ওয়ানডে এবং ৮৬ টি-টোয়েন্টি খেলা শোয়েব মালিক জানান, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আপাতত এটাই তার পরিকল্পনা। দলের অধিনায়ক এবং কোচের সঙ্গে আলোচনা করে বাকী লক্ষ্য স্থির করবেন।

রেকর্ড গড়েই জিতলো জিম্বাবুয়ে

নিজেদের ক্রিকেটে এই দৈন্য দশার দিনে এমন জয়, তা কে ভাবতে পেরেছিলো! হারিয়ে দিলো তারা লংকান সিংহদের। পাঁচ ম্যাচের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে গলে ৩১৬ রান করেও জিততে পারেনি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। আজ শুক্রবার সফরকারী জিম্বাবুয়ে ৩১৭ রানের টার্গেট ছুঁয়ে ফেলে ৪ উইকেট হারিয়ে, ১৪ বল হাতে রেখেই।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে এটা অবশ্য সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ২৯৬ ওয়ানডেতে এই প্রথম কোনো দল তিন শতাধিক রান তাড়া করে জিতল। ৩১৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। ১২ রানে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ৪৬ রানে ক্রেইগ আরভিন ফিরে গেলে বিপাকেই পড়ে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সলোমান মিরে ও শন উইলিয়ামস দলীয় স্কোরকে ২০৭ রান পর্যন্ত টেনে নেন। এরপর সলোমান মিরে তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি (১১২) তুলে নিয়ে সাজঘরে ফেরেন। যাওয়ার আগে উইলিয়ামসের সঙ্গে ১৬১ রানের জুটি গড়ে যান। তাতে অবশ্য জয়ের ভিত পেয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

২২০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফ্রিকান দলটি। ৬৭ রান করে ফিরে যান উইলিয়ামস। এরপর সিকান্দার রাজা ও ম্যালকম ওয়ালার ১৩.২ ওভারে ১০২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। রাজা ৫৬ বলে ৭টি চার ও ১ ছক্কায় ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে ২৯ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ওয়ালার। বল হাতে শ্রীলঙ্কার আসেলা গুনারত্নে ২টি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হন সেঞ্চুরিয়ান সলোমান মিরে।

এরআগে কুশাল মেন্ডিসের ৮৬, উপুল থারাঙ্গার অপরাজিত ৭৯, দানুস্কা গুনাথিলাকার ৬০ ও অধিকায়ন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ৪৩ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের চাতারা ২টি উইকেট নেন। আগামী রবিবার গলে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।

সোহান-লিসা’র নতুন ইনিংস

জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার কাজী নুরুল হাসান সোহান। খুলনার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের মেয়ে তাসনিম ইসলাম লিসার সঙ্গে ইতোমধ্যে বাগদান সম্পন্ন হয়েছে সোহানের। শিগগির বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন বলে জানান, জাতীয় দলের এই তরুণ ক্রিকেটার।

কলেজ থেকেই সোহান-লিসার পরিচয়। একসঙ্গে খুলনা সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজে পড়াশুনা করেছেন দুজন। এরপর খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটিতেও একসঙ্গে পড়ালেখা শেষ করেন তারা। সোহান-লিসার মন বিনিময় হয় মূলত কলেজ জীবনে। ধীরে ধীরে সেটা আরও বেশি পরিণত হয়।
সোহান বলনে, ‘দায়িত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এখন থেকে বাবা-মার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়েও ভাবতে হবে। দুই পরিবারের সম্মতিতে সম্পর্কটা হচ্ছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
এদিকে আজ শুক্রবার খুলনা ক্লাবে নুরুল হাসান সোহানের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। সোহানের বাবা কাজী নাসিবুল হাসান সান্নু ছিলেন খুলনার প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের সেরা গোলরক্ষক। আরামবাগের গোলরক্ষক হিসেবে বেশ নাম ছিল সান্নুর।

এন্টিগায় ভারতের এগিয়ে যাওয়ার মিশন

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে আছে ভারত। সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে যাওয়ার মিশনের আগামীকাল শুক্রবার তৃতীয় ম্যাচে বিরাট কোহলিদের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এন্টিগার নর্থ সাউণ্ডে স্যার ভিভ রিচার্ড স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে।
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামে ভারত। বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। দ্বিতীয় ওয়ানডে ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে জিতে নেয় ভারত।

তৃতীয় ওয়ানডে জিতে এই লিডকে ডাবল করতে চাইছেন ভারতের ওপেনার রাহানে। আগের ম্যাচের হিরো বলেন, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। দলের সবাই তাদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছে। তৃতীয় ম্যাচেও আমরা ভালো পারফরমেন্স করতে চাই এবং ডাবল লিড নিতে চাই। তাতে সিরিজ জয়ের সুযোগও তৈরি হবে। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই অ্যান্টিগায় আমরা মাঠে নামবো।’
ভারতের যেখানে ডাবল লিড নিয়ে ভাবছে, সেখানে সিরিজে সমতা আনতে মরিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এজন্য মাঠে সেরাটা দিতে হবে বলে মনে করেন ক্যারিবীয় উইকেটরক্ষক শাই হোপ, ‘দ্বিতীয় ওয়াডেতে আমাদের ব্যাটিং-বোলিং কোনটিই ভালো হয়নি। আমাদের আরও ভালো পারফরমেন্স করতে হবে। ভারতের ব্যাটিং বিশ্বসেরা, বোলিং-ও বেশ ভালো। তাই দু’বিভাগে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। ভালো পারফরমেন্স করতে পারলে, সিরিজে সমতা আনা সম্ভব।’

জিম্বাবুয়ে দলে বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা

শ্রীলংকার বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের জন্য জিম্বাবুয়ে দলে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। টেস্ট দলেও অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন এই তরুণ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ মাসাকাদজা ওয়ানডেতে খেলেছিলেন। পরের বছর মার্চে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন। নেদারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে দলে এই একটিমাত্র পরিবর্তন হয়েছে।
এ পর্যন্ত খেলা ১০টি ওয়ানডে ও সাতটি টি-েটােয়িন্ট খেলা ২৩ বছর বয়সী মাসাকাদজা ১৫ ও ৮টি উইকেট দখল করেছেন। তবে এখনো টেস্ট দলে জায়গা হয়নি।
টেস্ট দলে সোলোমন মায়ার, রিচার্ড এগারাভা ও চামু চিবাবার স্থানে ডাক পেয়েছেন রেজিস চাকাভা, কার্ল মুম্বা ও ন্যাথান ওয়ালার। আফগানিস্তান সিরিজে অল রাউন্ডার ওয়ালার জিম্বাবুয়ে দলে থাকলেও কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
শ্রীলংকায় প্রথমবারের মত সফরে জিম্বাবুয়ে একটি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। ৩০ জুন থেকে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। একমাত্র টেস্টটি শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই।

ওয়ানডে স্কোয়াড : সোলোমন মায়ার, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, রায়ান বার্ল, গ্র্যায়েম ক্রিমার (অধিনায়ক), ক্রেইগ এরভিন, সিন উইলিয়ামস, পিটার মুর (উইকেটরক্ষক), সিকান্দার রাজা, টেন্ডাই চাতারা, ক্রিস এমপফু, ডোনাল্ড তিরিপানো, রিচার্ড এগারাভা, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, ম্যালকম ওয়ালার, চামু চিবাবা, টারিসাই মুসাকান্ডা।
টেস্ট স্কোয়াড : রেজিস চাকাভা, হ্যামিল্টন মাসাদাকাদচা, রায়ান বার্ল, গ্র্যায়েম ক্রিমার (অধিনায়ক), ক্রেইগ এরভিন, সিন উইলিয়ামস, পিটার মুর (উইকেটরক্ষক), সিকান্দার রাজা, টেন্ডাই চাতারা, ক্রিস এমপফু, ডোনাল্ড তিরিপানোা, ন্যাথান ওয়ালার, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, ম্যালবর ওয়ালার, কার্ল মুম্বা, তারিসাই মুসাকান্ডা।

২১৯৯ কোটি রুপিতে আইপিএলের সঙ্গে ভিভো

আগামী পাঁচ বছরের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ- আইপিএলের টাইটেল স্পন্সর স্বত্ত্ব ধরে রাখলো মোবাইল ফোন কোম্পানি ভিভো। অবশ্য এজন্য তাদেরকে খরচ করতে হবে ২১৯৯ কোটি রুপি। আগের চুক্তির চেয়ে শতকরা ৫৫৪ ভাগ বেশি।

বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী পাঁচটি আইপিএল আসরের জন্য মোবাইল ফোন কোম্পানী ভিভো নতুন (২০১৮-২০২২) চুক্তি করেছে। এদিকে, চুক্তির পর আইপিএল-এর চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা বলেন, ‘এই সংস্থা আবার আমাদের টাইটেল স্পন্সর হওয়ায় আমরা খুশি। পাঁচ বছরের জন্য ওরা আমাদের সঙ্গে থাকছে। গত দু’বছর ওদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন খুব ভাল ছিল। আমার বিশ্বাস এই চলা আরও বাড়বে।’


২০১৬ এবং ২০১৭ আইপিএল টাইটেল কিনতে ভিভো খরচ করেছিল ২০০ কোটি টাকা। প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা, বিগত দু বছর ভিভো’র সঙ্গে এই চুক্তিই চলছে বিসিসিআইয়ের। সেই চুক্তি শেষ হওয়ার পরই নতুন ভাবে চুক্তি করার জন্য নিলামের আয়োজন করে বিসিসিআই। সেই নিলামে ভারতীয় দলের স্পনসর ‘অপ্পো’ মোবাইলকে টেক্কা দিয়ে আইপিএল টাইটেল সত্ত্ব নিজেদের পকেটে পুরে নিল ‘ভিভো’। নিলামে আইপিএল টাইটেল সত্ত্ব কিনে নিতে ১,৪৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত দর হেঁকেছিল অপ্পো। কিন্তু দিনের শেষে ভিভোর দেওয়া ২,১৯৯ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি আর কোনও সংস্থা।

এবার বিসিসিআই-য়ে সৌরভ

বিসিসিআই-য়ের বিশেষ সাধারণ সভায় সোমবার, সিদ্ধান্ত হয়েছিল একটি কমিটি তৈরি করা হবে। যে কমিটি নজর রাখবে লোধা কমিটির দেওয়া নির্দেশ সঠিকভাবে কার্যকরী হচ্ছে কি না। সৌরভ ছাড়াও এই কমিটিতে আছেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী, সিনিয়র অফিসিয়াল রাজীব শুক্লা, কেরালার ক্রিকেট প্রতিনিধি টিসি ম্যাথু, উত্তর-পূর্বাঞ্চল প্রতিনিধি নব ভট্টাচার্য, গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের জয় শাহ এবং বিসিবিআইয়ের কোষাধক্ষ্য অনিরুদ্ধ চৌধুরী।
সোমবার বোর্ড-এর দফতরে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা বৈঠক চলে। তার পরেই বোর্ড সচিব অমিতাভ চৌধুরি জানিয়ে দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করতে মঙ্গলবারই গঠন করা হবে ছয় সদস্যের কমিটি। কিন্তু গড়া হয়েছে সাত সদস্যের কমিটি। বোর্ডের এই বিশেষ সাধারণ সভার আগেই সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকদের কমিটি বৈঠক করেছিল প্রতিটি রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
লোধা কমিটির সুপারিশ মেনে নেওয়ার জন্যই বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হলেও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এক সংস্থা, এক ভোট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও। যে সুপারিশ কার্যকর করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট। কারণ এই দুই রাজ্য মিলিয়ে রয়েছে সাতটি ক্রিকেট সংস্থা। এ ছাড়াও প্রশাসকদের বয়সের সর্বোচ্চ সীমা এবং ‘কুলিং অফ পিরিয়ড’ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে কয়েকটি সংস্থার। সেই সব জটিল বিষয়কে পথ দেখাবে এই কমিটি। যারা রাজ্য সংস্থাগুলির সঙ্গে মধ্যস্থতা করবে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যাতে সঠিকভাবে মানা হয় সেদিকেও নজর রাখবে এই কমিটি।

এবার ক্রিকেটার শহীদের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মোহাম্মদ শহীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন শহীদের স্ত্রী, ফারজানা আক্তার। অভিযোগে বলা হয়, ছয় বছরের সংসার জীবন; গত কয়েক বছর দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে শহীদের অত্যাচারে। এমনকি ঈদের দুই দিন আগে তাকে সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও করেন তিনি। ফারজানা আক্তার তার ১১ মাস বয়সী মেয়ে আরোহীকে নিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে অবস্থান করছেন।

রবিবার ফারজানা জানান, বড় সন্তান ছেলে হওয়ায় আরাফকে অবশ্য ভালোই জানেন শহীদ। কিন্তু ছোট সন্তান আরোহীকে নিজের মেয়ে বলে মেনে নিচ্ছেন না শহীদ। ফারজানাকে ঈদের তিন দিন আগে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ায়, মুন্সীগঞ্জের হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিতে যান তিনি। কিন্তু সেখানে তার অভিযোগ নেয়া হয়নি।

ফারজানা জানান, শহীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। ঈদের ছুটি শেষেই নারায়ণগঞ্জে আদালতে মামলা করবেন তিনি। যেকোনো মূল্যে তিনি ফিরতে চান স্বামীর ঘরে। কিন্তু শহীদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না।এরআগে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন তারকার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, সম্পর্কের নামে প্রতারণা, গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই তালিকায় সবশেষ যোগ হলো শহীদের নাম।

টি-টোয়েন্টি বোলিংয়ে শীর্ষে ইমাদ ছয়ে মুস্তাফিজ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। দুইয়ে আছেন জাসপ্রিত বুহরাহ। শীর্ষে থাকা ইমরান তাহির তিনে নেমে গেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই লেগ স্পিনার। দুই ম্যাচে মাত্র এক উইকেট পেয়েছেন। তাহিরের অবনমনে উন্নতি হয়েছে ইমাদ ওয়াসিম ও জাসপ্রিত বুমরাহ-র।
ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠলেন ইমাদ ওয়াসিম। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের হয়ে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন বাঁহাতি এ স্পিনার। বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম তিনটি পজিশনে পরিবর্তন হলেও পরের স্থানগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। ছয়ে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। নয়ে আছেন সাকিব আল হাসান।
অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সাকিব আল হাসান শীর্ষেই রয়েছেন। ব্যাটিংয়ে বিরাট কোহলি, অ্যারন ফিঞ্চ ও কেন উইলিয়ামসন সবার শীর্ষে রয়েছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বাধিক ১৪৬ রান করে ১২ ধাপ এগিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০ নম্বরে রয়েছেন মারকুটে এ ব্যাটসম্যান। ১০৩ রান করা জেসন রয় ২৬ ধাপ এগিয়ে ২৫তম স্থানে এসেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়েছে ইংল্যান্ড। ১২৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১২১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে পাকিস্তান। ১২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। এদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারায় র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে এক রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। ১১০ রেটিং পয়েন্ট তাদের।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের নতুন রেকর্ড

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের ব্যর্থতার পরে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে ভারত। গতকাল রবিবারের ম্যাচে ইন্ডিজকে উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী হলো বিরাট কোহলির দল। এদিন তিনশো রানের গণ্ডি পেরোতেই একদিনের ম্যাচে সবথেকে বেশি তিনশো প্লাস স্কোর করার কৃতিত্ব দেখালো ভারত। টপকে গেল অস্ট্রেলিয়াকে। এই নিয়ে ৯৬ বার একদিনের ম্যাচে তিনশো করল তারা। অস্ট্রেলিয়া ৯৫ বার তিনশো রান করেছে।
মজার কথা হল, একদিনের ক্রিকেটে ভারতের অভিষেক হয়েছিল ১৯৭৪ সালের ১৩ জুলাই। কিন্তু প্রথম তিনশো রানের ইনিংস খেলতে তাদের লেগে যায় প্রায় ২২ বছর। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শারজায় প্রথমবার তিনশো পেরোয় ভারত। তারপর থেকেই দ্রুত একের পর এক ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে অন্যসব দেশকে এ ব্যাপারে পিছনে ফেলতে থাকে ভারত।
সাড়ে তিনশো থেকে চারশো রানের স্কোরের রেকর্ডে ভারত কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে পিছিয়ে। ভারত ২৩ বার এই স্কোর করেছে, আর প্রোটিয়ারা করেছে ২৪ বার। চারশো প্লাস স্কোরেও প্রোটিয়াদের (৬ বার) থেকে পিছনে (৫ বার) ভারত। হয়তো এই রেকর্ডও দ্রুত অর্জন করে ফেলবে তারা।

রাহানের সেঞ্চুরিতে ভারতের জয়

আজিঙ্কা রাহানের সেঞ্চুরিতে দারুণ এক জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০৫ রানে হারালো ভারত। প্রথম ম্যাচে ব্যাটে দাপট দেখিয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান। আর রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচে অজিঙ্ক রাহানে ও বিরাট কোহালির ব্যাটের দাপট দেখল ক্যারিবিয়রা। তাতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কুইন্স পার্ক ওভালে বৃষ্টি বন্ধ হলেও থামল না ভারতের রান-বৃষ্টি।

দ্বিতীয় ওয়ানডেও পণ্ড হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল বৃষ্টিতে। তাতে দু’ঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হয়। ৪৩ ওভার খেলা হয় প্রতি ইনিংসে। ৪৩ ওভারে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ৩১০ রান। আর এই রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে প্রায় হিমশিম খেয়ে হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৩ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৫ রান তোলে তারা। ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং ও কুলদীপ যাদবের গুগলিতে চাপে চিঁড়ে চ্যাপ্টা হয় ক্যারিবিয়রা। দু’জনই তুলে নেন দু’টি করে উইকেট। ওপেনার ও উইকেটকিপার সাই হোপের ৮১ ছাড়া কোনও বড় রান নেই তাদের।

টস হেরে ভারত প্রথমে ব্যাট করে বিশাল রানের পাহাড় চাপিয়ে দেয় ক্যারিবিয়ানদের ঘাড়ে। শিখর ধাওয়ান ৬৩ করে আউট হওয়ার পর অজিঙ্ক রাহানে তাঁর তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পান। এর পর কোহালি-ম্যাজিক শুরু হয়। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে থাকা অবস্থায় ছয় হাঁকাতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ভাররত-অধিনায়ক। সকাল থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে প্রায় পণ্ড হতে বসেছিল ম্যাচটা। তবে সৌভাগ্যবশত বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা শুরু হয়। কিন্তু সারা দিনই বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল বলে রানের গড়টাও বাড়িয়ে রাখা দরকার ছিল। গোটা দশেক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অ্যাশলে নার্সের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান শিখর। রাহানে দশটা চার ও দুটো ছয় মেরে ১০৪ বলে ১০৩ রান করার পর মিগুয়েল কামিেন্সর বলে সাজঘরে ফেরেন। বিরাট চারটে চার ও সমান সংখ্যক ছয় মেরে ৬৬ বলে ৮৭ রান তোলেন। কিন্তু হার্দিক পান্ডে (৪), যুবরাজ সিং (১৪) বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। শেষে ধোনি (১৩ অপ.) ও কেদার যাদব (১৩ অপ.) দলকে তিনশো পার করিয়ে দেন।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে নড়াইলে মাশরাফি

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনডে সফল অধিনায়ক নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজা মা-বাবাসহ স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জন্মস্থান নড়াইল পৌঁছেছেন। ঈদের দিন মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধ-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও নড়াইলে ভক্তদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। এবারও নড়াইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের ঈদের নামাজ আদায় করবেন মাশরাফি।
রোববার সকাল ৮ টায় তিনি নড়াইলে পৌঁছান। নড়াইলে এসে তার মা বাবার সঙ্গে দেখা করতে প্রথমে শহরের মহিষখোলাতে নিজের বাড়িতে যান। পরে সেখানে বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা করে শহরের আলাদাৎপুরে মামা নাহিদুল ইসলামের বাড়ি অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, মাশরাফি ঈদ উদযাপন শেষে বেশ কয়েকদিন নড়াইলে অবস্থান করবেন। আগামী শনিবার (১ জুলাই) ঢাকায় ফিরবেন।
এদিকে মাশরাফি নড়াইলে এসেছে বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল থেকেই শহরের আলাদাৎপুর মামা বাড়িতে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাশরাফির ভক্তরা আসতে শুরু করেছেন প্রিয় মাশরাফিকে এক নজর দেখার জন্য।

মাশরাফির পিতা গোলাম মর্তুজা স্বপন জানান, মাশরাফি দেশে থাকলে প্রতি বছরই নড়াইলে ঈদ উদযাপন করেন। এবছরও ঈদের আনন্দ নড়াইলের মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে সকালে নড়াইলে পৌঁছেছেন। মাশরাফির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন গোলাম মর্তুজা স্বপন।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শুভ সূচনা ভারতের

মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়েছে ভারত। ২৮২ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে ২৪৬ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক দল। এরআগে, ডার্বিশায়ারে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৮১ রান তোলে ভারত। জবাবে ১৫ বল হাতে থাকতেই ২৪৬ অলআউট হয় ইংলিশ নারী ক্রিকেট দল।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে, উদ্বোধনী জুটিতে পুনম রাউত ও স্মৃতি মদনা ১৪৪ রান তুলে ভারতকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান। ম্যাচ সেরা স্মৃতি ৯০ রান করে হিদার নাইটের শিকারে পরিণত হন। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৭২ বলে ১১ চার আর ২ ছক্কায় তোলেন এই রান। এরপর পুনম রাউতের ৮৬ আর অধিনায়ক মিতালী রাজের ৭১ রানে ৩ উইকেটে ২৮১ রানে থামে ভারতের ইনিংস। এই ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়ে রেকর্ড গড়েন মিতালি রাজ। তিনি টানা সাত ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকানোর বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তার আগে কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেনি।

জবাবে, খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ইংল্যান্ডের নারী ক্রিকেটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে তাদের। দলের পক্ষে ফ্রান উইলসন সর্বোচ্চ ৮১ রান করলেও ২৪৬ রানেই থামে স্বাগতিকরা। তাতে ৩৫ রানের জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো ভারতের মেয়েরা।

জয় দিয়েই শুরু নিউজিল্যান্ডের

জয় দিয়েই বিশ্বকাপ ক্রিকেট মিশন শুরু করলো নিউজিল্যান্ড নারী দল। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা ৯ উইকেটে হারায় শ্রীলংকাকে। লংকানদের ৯ উইকেটে ১৮৮ রানের জবাবে সুজি বেটিসের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ১ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ তুলে ৭৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে কিউইরা।
ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে টসে হেরে ব্যাট করে, উদ্বোধনী জুটিতে ৪৯ রান তুলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় উইকেটে চামারি আতাপাত্তু (৫৩) ও চামারি পোলগামপোলা (৪৯) ৯২ রান তুলে রানের গতিটা ঠিকই রেখেছিলেন। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় মাত্র ১৮৮ রান তোলে ৯ উইকেট হারানো শ্রীলংকা। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে ম্যাচ সেরা হলি হাডলস্টোন ৩৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ধস নামান, লংকান শিবিরে।

জবাবে, অধিনায়ক সুজি বেটিসের অপরাজিত ১০৬ রানে ভর করে ৭৪ বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়, ১ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড। সুজি বেটিস ১০৯ বলে ১১ চার আর এক ছক্কায় তার ইনিংসটি সাজান। অন্য ব্যাটসম্যান অ্যামি সাদেরওয়েট ৭৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলংকা ১৮৮/৯ (চামারি আতাপাত্তু ৫৩, চামারি পোলগামপোলা ৪৯, হলি হাডলস্টোন ৫/৩৫)।
নিউজিল্যান্ড ১৮৯/১ (সুজি বেটিস ১০৬*, অ্যামি সাদেরওয়েট ৭৮)।

শ্রীলঙ্কা দলের কোচের পদ ছাড়লেন গ্রাহাম ফোর্ড

শ্রীলঙ্কার কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন গ্রাহাম ফোর্ড। দ্বীপ দেশটির জাতীয় ক্রিকেট দলে দ্বিতীয় মেয়াদে ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের পর ‘ক্ষোভ থেকে’ পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেটার।
তবে আজ শনিবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি থিলাঙ্গা সুমাথিপালা দাবি করেছেন, দুপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব ছেড়েছেন ফোর্ড। তবে ইসএসপিএন-ক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, কাজে বোর্ডের হস্তক্ষেপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গ্রাহাম ফোর্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে বর্তমানে ছুটিতে আছেন এই কোচ। গত সপ্তাহে শেষ হওয়া আইসিসির এই প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় ১৯৯৬ সালের বিশ্বজয়ীরা।
গত ফেব্রুয়ারিতে আসাঙ্কা গুরুসিনহাকে ‘ক্রিকেট ম্যানেজার’ হিসেবে নিয়োগ দেয় এসএলসি। গুরুসিনহার দায়িত্ব বিস্তৃত হওয়ায় কোচের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হতে থাকে, যা মেনে নিতে পারেননি ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া ফোর্ডের চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

২০১১ থেকে এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলে মোট আট জন কোচ কাজ করলেন, তার মধ্যে ফোর্ড ছিলেন দুই মেয়াদে। প্রথম মেয়াদে ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আর গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত।

নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য গুগলের ডুডলে পরিবতর্ন

কিছুক্ষণ আগেই শুরু হয়ে গেছে নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের লড়াই। ডার্বিশায়ারে, উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
সে যাই হোক, মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে সার্চ ইঞ্জিন গুগল পরিবর্তন এনেছে নিজেদের ডুডলে।

৩ রানের জয়ে সিরিজে সমতায় দক্ষিণ আফ্রিকা

জয়ের জন্য শেষ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪ রানের। পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আশাও বাঁচিয়ে রেখেছিলেন লিয়াম ডসন। তবে ফেলুকওয়ায়োর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে শেষ বলে নিলেন ১ রান। আর এতেই ৩ রানের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংলিশদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলেন আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো। তার দারুণ শেষ ওভারে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ উইকেট হাতে নিয়েও শেষ ৫ ওভারে ৪২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি ইংল্যান্ড।
টনটনের কাউন্টি মাঠের অভিষেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৭৪ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৬ উইকেটে ১৭১ রানে থামে ইংল্যান্ড।
জেজে স্মাটস ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে শুরুটা ভালো ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। দুই জনের চমৎকার ব্যাটিংয়ে ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৬ রানের দৃঢ় ভিত পায় অতিথিরা। ৩৫ বলে ৪৫ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান স্মাটস।

আগের ম্যাচে ‘মন্থর’ ব্যাটিং করা ডি ভিলিয়ার্স এবার ছিলেন স্বরূপে। অধিনায়ক ফিরেছেন ২০ বলে ৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪৬ রান করে। শেষের দিকে দ্রুত উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন ফারহান বেহারডিন। ২১ বলে দুটি করে ছক্কা-চারে করেন ৩২ রান।
মাত্র একটি বলই খেলেন ড্যান প্যাটারসন। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শেষ বলে চার হাঁকান তিনি। নিজেদের শেষ বলে সেই কাজটিই করতে পারেননি ডসন। অভিষেকে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন টম কুরান। ২ উইকেট লিয়াম প্লানকেট।
শুরুতেই স্যাম বিলিংসকে হারানো ইংল্যান্ডকে কক্ষপথে রেখেছিলেন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। দুই জনের ১১০ রানের জুটিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয়ের আশা জাগিয়েছিল স্বাগতিকরা।

৩৭ বলে ৪৭ রান করা বেয়ারস্টোকে আউট করে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন ক্রিস মরিস। তার পরের ওভারে ফিল্ডিংয়ে বাধা দিয়ে আউট হন ছন্দে ফেরা রয়। এই বিস্ফোরক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ৪৫ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় খেলেন ৬৭ রানের চমৎকার এক ইনিংস।
দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে হারানো ইংল্যান্ডের ত্রাতা হতে পারেনন জস বাটলার, ওয়েন মর্গ্যান। অভিষেকে নায়ক হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন লিয়াম লিভিংস্টোন। শেষের দিকে সুযোগ এসেছিল ডসনের সামনেও। তবে তিনিও হতাশ করেছেন দলকে।
মাত্র ১৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার মরিস। ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া বোলিংয়ের জন্য তিনিই জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। প্যাটারসন ৩২ ও ফেলুকওয়ায়ো ৩৪ রানে নেন ‌১ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৭৪/৮ (স্মাটস ৪৫, হেনড্রিকস ৭, মোসেলে ১৫, ডি ভিলিয়ার্স ৪৬, মিলার ৮, বেহারডিন ৩২, মরিস ১২, ফেলুকওয়ায়ো, মরকেল ০*, প্যাটারসন ৪*; উইলি ১/২৯, জর্ডান ১/৩৮, কুরান ৩/৩৩, প্লানকেট ২/৩৬, ডসন ১/৩৮)
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭১/৬ (রয় ৬৭, বিলিংস ৩, ৪৭, লিভিংস্টোন ১৬, বাটলার ১০, মর্গ্যান ৬, ডসন ৭*, প্লানকেট ০*; মরকেল ০/৪৩, মরিস ২/১৮, প্যাটারসন ১/৩২, ফেলুকওয়ায়ো ১/৩৪, স্মাটস ০/১১, শামসি ০/২৪)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ রানে জয়ী, ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ক্রিস মরিস।

উইন্ডিজ-ভারত প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভারতের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডেতে জয় হলো বৃষ্টির। বার বার ফিরে আসা বৃষ্টিই হাসল শেষ হাসি। তার দাপটে পোর্ট অব স্পেনে ভেসে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি। খেলা হয় পরিত্যাক্ত। আমাগীকাল রোববার ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর কুইন্স পার্ক ওভালে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।

স্থানীয় সময় পৌনে চারটার দিকে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন দুই আম্পায়ার। অথচ তার কিছুক্ষণ আগেই ঠিক হয়েছিল স্বাগতিকদের লক্ষ্য। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ২৬ ওভারে জিততে তাদের দরকার ছিল ১৯৪ রান।
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় বিকাল চারটায়। আবার বৃষ্টি নামলে, তার ১২ মিনিট আগে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচ।
এরআগে, কুইন্স পার্ক ওভালে শুক্রবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩৯.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান করে ভারত। এরপর বৃষ্টি নামলে আর খেলা সম্ভব হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এনিয়ে টানা দুটি ওয়ানডে পরিত্যক্ত হল। এরআগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্বাগতিকদের শেষ ওয়ানডের ফল হয়নি।
অজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে ১৩২ রানের জুটিতে দলকে চমৎকার সূচনা এনে দেন শিখর ধাওয়ান। ক্যারিবিয়ায় এটি ভারতের মাত্র তৃতীয় শতরানের উদ্বোধনী জুটি। ৭৮ বলে ৮টি চারে ৬২ রান করে ফিরেন রাহানে।

লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর বলে লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন শিখর ধাওয়ান। তার আগে খেলেন তিনি ৮৭ রানের ইনিংস। মাত্র ৪ রান করে ফিরেন যুবরাজ সিং। অধিনায়ক বিরাট কোহলি একটি চারে অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে, মহেন্দ্র সিং ধোনি অপরাজিত ৯ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৩৯.২ ওভারে ১৯৯/৩ (রাহানে ৬২, ধাওয়ান ৮৭, কোহলি ৩২*, যুবরাজ ৪, ধোনি ৯*; হোল্ডার ১/৩৪, জোসেফ ১/৫৩, নার্স ০/২২, কামিন্স ০/৪৬, বিশু ১/৩৯, কার্টার ০/৫)।

প্রস্তাবিত টেস্ট লিগে বাংলাদেশের ১২ সিরিজ

আইসিসির টেস্ট ও ওয়ানডে লিগ বাস্তবায়ন হওয়াটা এখন মাত্র সময়ের ব্যাপার। গত সপ্তাহের শেষদিকে আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের কমিটির আলোচনা সভা শেষে ওয়ানডে ও টেস্ট লিগের সম্ভাব্য সূচি তৈরি করা হয় । এ লিগ শুরুর সম্ভাবনা ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে। চার বছরের প্রস্তাবিত এ টেস্ট লিগের সূচিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোন টেস্ট সিরিজ নেই। ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিক-সাকিব-মিরাজরা কোন টেস্ট সিরিজ খেলতে না পারার হতাশা থাকলেও বাংলাদেশ খেলবে মোট ১২টি টেস্ট সিরিজ।
২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৯টি দলই খেলবে ১২টি টেস্ট সিরিজ। সিরিজগুলো হবে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে । জিম্বাবুয়ে এবং দুই নতুন টেস্ট দল আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে এই লিগে বিবেচনায় আনা হয়নি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ অংশ নেবে।

ক্রিকইনফো দলগুলোর প্রস্তাবিত টেস্ট সিরিজের সূচি ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। প্রত্যেক সিরিজ কমপক্ষে ২ ম্যাচের হবে। চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি করে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এছাড়া প্রত্যেকের বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুটি টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, হোম ভেন্যুতে। আর ২০২৩ সালে এ সূচির ভিত্তিতে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে সবকিছু জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে আরো কিছুটা সময়।

শুরুর অপেক্ষায় নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেট

আগামীকাল থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে মহিলা বিশ্বকাপের এগারতম আসর। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত মহিলা বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ইংল্যান্ড। বর্তমানে আইসিসি র‌্যাংকিং-এর শীর্ষ আট দল এবারের বিশ্বকাপে খেলছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন রয়েছে দু’টি ম্যাচ। ডার্বিতে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও ভারত এবং ব্রিস্টলে শ্রীলংকার বিপক্ষে লড়বে নিউজিল্যান্ড। দু’টি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।
১৯৭৩ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হয় মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ইংল্যান্ডে ঐ বিশ্বকাপে সাতটি দল অংশ নিয়েছিলো। লিগ ভিত্তিক সেই আসরে সর্বোচ্চ ২০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। রানার্স-আপ হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া।

এর পাঁচ বছর পর ভারতে দ্বিতীয়বারের মত বসে বিশ্বকাপ আসর। এবার অংশ নিয়েছিলো চারটি দেশ। এবারও লিগ ভিত্তিক আসরে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এই আসরটিতেই শেষবারের মত লিগ পদ্বতিতে শিরোপা নির্ধারন করা হয়। এরপর আটটি আসরেই ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে সেরা দল বেছে নেয়া হয়। সবশেষ ২০১৩ সালের আসরে ভারতের মাটিতে শিরোপা ঘরে তুলেছিলো অস্ট্রেলিয়া। মোট দশটি আসরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে র‌্যাংকিং-এ এক নম্বর দল অসিরা। তাই এবারও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া।

আত্মবিশ্বাসে টগবগে স্বাগতিক ইংল্যান্ডও। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধাটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে চায় র‌্যাংকিং-এর দ্বিতীয়স্থানে থাকা দলটি। শিরোপা অন্যতম দাবীদার নিউজিল্যান্ড ও ভারত। র‌্যাংকিং-এ তৃতীয় ও চতুর্থস্থানে রয়েছে এই দু’দল।
শিরোপা জয়ের প্রত্যাশায় মাঠে নামবে র‌্যাংকিং-এর পরের চারটি দল- ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। কিন্তু ফর্মটা খুব একটা ভালো নয় তাদের। শিরোপার স্বাদ নিতে মাঠের লড়াইয়ে সেরাটাই দিতে হবে এই চারটি দলকে। এদিকে বাছাই পর্ব পেরোতে না পারায় এবারও বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।
টুর্নামেন্টে মূল লড়াইয়ে নামার আগে প্রত্যকটি দলই একে অপরের বিপক্ষে দু’টি করে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলেছে।
এবারের টুর্নামেন্টেও লিগ ভিত্তিক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ প্রত্যকটি দলই লিগ পর্বে সাতটি করে ম্যাচ খেলবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল খেলবে সেমিফাইনাল। এরপর ফাইনাল। আগামী ২৩ জুলাই লর্ডসের ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়ার লড়াই।

টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রিকেট

উইন্ডিজ-ভারত
প্রথম ওয়ানডে
সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা
এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
শ্রীলংকান লায়ন্স-নেপাল স্টোর্মস
সরাসরি, সকাল ১১টা
সনি সিক্স
ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
সরাসরি, রাত ১০টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট এইচডি ১

পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মাশরাফি

কিছুদিন আগে টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা ১৫০ জন ছাড়িয়ে যায়। আহত ও ঘরবাড়ি হারান আরও অনেক মানুষ। এবার তাদের সাহায্যে পাশে দাঁড়ালেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। নিজের অটোগ্রাফ বিক্রি করা থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।

মাশরাফির একটি অটোগ্রাফ বিক্রি করে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের’ একটি অটোগ্রাফ নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ পাঠানো হচ্ছে রাঙ্গামাটিতে সাহায্যের জন্য। মাশরাফির হাতে লেখা কিছু কথা আর একটি স্বাক্ষর করা এক টুকরো কাগজ নিলামে বিক্রি হয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকায়।

mashrafe

এ তথ্য জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের লেখক ও সমাজকর্মী আরিফ আর হোসেন। তার হাতেই এ অটোগ্রাফটি তুলে দিয়েছিলেন পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসা মিশু। শুরুতে এর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার টাকা। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ভিত্তিমূল্যের চেয়ে দশগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এটি।

ধোনি-যুবরাজকে নিয়ে দ্রাবিড়ের প্রশ্ন

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের ক্ষত না কাটতেই কোহলির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে বিদায় নিয়েছেন অনিল কুম্বলে। এরই মধ্যে দলে ধোনি-যুবরাজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়।

২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখনই দল নিয়ে ভাবা উচিত ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের উল্লেখ করে দ্রাবিড় বলেন, ‘নির্বাচক এবং ম্যানেজমেন্টকে এ বার এ নিয়ে ভাবতে হবে। আগামী দুই বছরে এই দুই ক্রিকেটারের অবস্থা কী থাকবে, সেটা দেখার। দু’জনেই কি টিমে থাকবে? নাকি, একজন থাকবে?’

এদিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই দেশ ছেড়েছে ভারত। এ নিয়ে দ্রাবিড় বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রায় পুরো শক্তির টিম নিয়েই গেছে ভারত। তবে আশা করব, ওখানে টিম নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তরুণদের সুযোগ দেওয়া হবে।’

এদিকে ধোনি-যুবরাজকে নিয়ে দ্রাবিড় আরও বলেন, ‘যদি ধোনি ও যুবরাজ ফিট থাকে, ভালো ফর্মে থাকে, তা হলে ওদের নিয়ে সত্যিই কিছু বলার নেই।’

প্রথমবারের মত মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।  সম্প্রতি ‘উৎসবের বাংলাদেশ’ শিরোনামের মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। মাশরাফি ছাড়াও কণ্ঠশিল্পী বুশরা শাহরিয়ার ও মডেল দেজানও মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ করে মিউজিক ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় উৎসব পালনের দিকে ইঙ্গিত করে ভিডিও তৈরিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সমাজজীবনে মানুষের আনন্দ-উল্লাসকে।

মিউজিক ভিডিওটি প্রথম প্রচারিত হয় গত ২২ জুন বিকেল চারটায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে। এরপর মূল কণ্ঠশিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলেও তা আপলোড করা হয়।এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সাড়া ফেলা।

এই প্রসঙ্গে বুশরা শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের দেশটা আসলে খুবই সুন্দর। তবে শুধু সঠিক প্রচারণার ওভাবে এর সৌন্দর্য বিশ্বের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে। এরকম একটি গান বানাতে এই ব্যাপারটা আমার মাথায় কাজ করছিল।’

‘উৎসবের বাংলাদেশ’ গানটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন বব সেন। আর ভিডিও পরিচালনা করেছেন নোমান রবিন।

কুম্বলেকে নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন কোহলি

ইংল্যান্ড সিরিজের পর থেকেই কুম্বলে আর কোহলির মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে হঠাৎ করে তা প্রকাশ পায়। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর কোহলির এক মন্তব্যে তা আরও জোড়াল হয়। আর মঙ্গলবার কুম্বলের পদত্যাগের মধ্যদিয়ে এ অধ্যায়ের সমাপ্ত হয়।

এদিকে কুম্বলে পদত্যাগ পত্রে  অধিনায়ক কোহলির সঙ্গে সমস্যার কারণ উল্লেখ করার পর থেকেই শুরু হয় কোহলির সমালোচনা। এদিন চুপ থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সংবাদ সম্মেলনে নিজের নীরবতা ভাঙলেন কোহলি।

কুম্বলের খেলোয়াড়ি জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোহলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেষ ৩-৪ বছরে আমাদের সংস্কৃতিটা এমন যে আমরা আমাদের ড্রেসিং রুমের খবর রুমের বাইরে নেই না। এই ব্যাপারে আমরা সবসময় সচেষ্ট ছিলাম। আর পুরো দল এই নিয়মেই বিশ্বাস করে। আমি তো এটা অবশ্যই করি এবং এই ব্যাপারেও করেছি।’

এদিকে কুম্বলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে কোহলি আরও বলেন, ‘আমি তার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। আর ক্রিকেটার হিসেবে আমি তাকে অবশ্যই সম্মান করি। কেননা তিনি আমাদের দেশকে অনেক কিছুই দিয়েছেন। আর আমাদের ড্রেসিং রুমে যা হয়েছিলো তা মোটেও সুখকর ছিল না। এটা আমদের কাছে গোপনীয়। আর এই গোপনীয়তা আমরা জনসম্মুখে প্রকাশ করবো না।’

ভারতের আয় বাড়ায় কমল বাংলাদেশের

আইসিসির প্রস্তাবিত নতুন আর্থিক কাঠামো এপ্রিলে বড় ধাক্কাই দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই)। নতুন আর্থিক সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত আইসিসির কাছ থেকে পাওয়ার কথা ছিল ২৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্বাভাবিকভাবে ভারত এই সংস্কার মানতে চায়নি। তাদের দাবি ছিল ৫৭০ মিলিয়ন ডলার। আইসিসি বিসিসিআইকে তখন ৪০০ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

অবশেষে নানা জলঘোলার পর আইসিসি-বিসিসিআই পৌঁছেছে। অতিরিক্ত ১১২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ভারতকে শান্ত করেছে আইসিসি। তবে ভারতের আয় বাড়াতে গিয়ে কমেছে বাংলাদেশসহ অন্য ছয় ক্রিকেট বোর্ডের।

নতুন আর্থিক সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মতো বাকি ছয়টি দলকেও ১৩২ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। আর সহযোগী দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ ২৮০ মিলিয়ন। এখন ভারতের আয় বাড়ায় ৪ মিলিয়ন ডলার করে কম পাবে বাংলাদেশসহ অন্য ছয় ক্রিকেট বোর্ড।

২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আইসিসির রাজস্ব বণ্টন :

  এপ্রিলে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ (মিলিয়ন ডলার) জুনে পাস হওয়ার পর
ভারত ২৯৩ ৪০৫
ইংল্যান্ড ১৪৩ ১৩৯
অস্ট্রেলিয়া ১৩২ ১২৮
শ্রীলঙ্কা ১৩২ ১২৮
পাকিস্তান ১৩২ ১২৮
দ.আফ্রিকা ১৩২ ১২৮
বাংলাদেশ ১৩২ ১২৮
ও. ইন্ডিজ ১৩২ ১২৮
নিউজিল্যান্ড ১৩২ ১২৮
জিম্বাবুয়ে ৯৪ ৯৪
সহযোগী ২৮০ ২৪০

অধিকার বঞ্চিতদের পাশে আশরাফুল

অধিকার বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। ধানমন্ডির নিউ মডেল হাই স্কুলে অধিকার বঞ্চিত শিশুদের ঈদের জামা উপহার ও ভালো খাবার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এ সময় তিনি বলেন, ‘সবাই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সেটাকে আলোড়িত করতে পারে না বা ধরে রাখতে পারেনা সবাই। স্বপ্নালোড়নের স্বেচ্ছাসেবকদের দেখে খুব ভালো লাগছে যে তারা সেটা পারছে। ভবিষ্যতেও এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নালোড়ন’ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম, খেলাঘরের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব শেখ সালেকিন শাওন, নিউ মডেল হাই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকসহ আরো অনেকে।
বিগত দুবছর যাবত অধিকার বঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করে যাওয়া এই স্বপ্নালোড়ন ঢাকায় ৬টি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিমাসে একটি করে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমও পরিচালনা করে।

অবসরে এবার জিতান প্যাটেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে লুক রনকির পর অবসরের ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ডের অফ স্পিনার জিতান প্যাটেল। রনকির অবসরের পর পরই গতকাল ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৪ টেস্ট, ৪৩ ওয়ানডে এবং ১১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন জিতান প্যাটেল। ২০০৫ সালে কিউই ক্রিকেটে তার আগমন। নিউজিল্যান্ড দলে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকার পর ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ডাক পান তিনি। এরপর ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের টপ বোলারদের তালিকায় থাকায় সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আশার সুযোগ পান ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশর বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেন জিতান প্যাটেল। ইংল্যান্ড অনুষ্ঠিত সবশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। ২০১৫ সালের উইজডেনের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলো জিতান প্যাটেলের নাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে ৭৮ ম্যাচে মোট ১৩০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান এই কিউই স্পিনার।

সরফরাজকে আকরাম-শোয়েবের উপহার

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের শিরোপা জয় করা পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে বিএমডব্লু এক্স-১ গাড়ি উপহার দিলেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও স্পিডস্টার পেসার শোয়েব আখতার।
পাকিস্তানের জিও টিভির রমজান শো ‘জিও খেলো’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরফরাজ। সেই অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আকরাম ও আখতার। আর ঐ অনুষ্ঠানেই সরফরাজের হাতে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার তুলে দেন তারা।
জিও খেলো ও জেএস ব্যাংকের মিলে সরফরাজকে বিএমডব্লিউ গাড়ি ও একটি প্লট উপহার দেয়া হয়।

টেস্ট মর্যাদা পেল আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান

আইসিসি পূর্ণাঙ্গা সদস্য পদ পেয়েছে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আবির্ভূত হল তারা। ১৭ বছর পর টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এখন থেকে টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা ১২টি।
১৯৮১ সাল পর্যন্ত টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা ছিল ৭টি। ১৯৮২ সালে শ্রীলঙ্কা টেস্ট মর্যাদা পেলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় আটে। এরপর ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ে ও ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পেলে সেই সংখ্যাটা হয় ১০। গেল ১৭ বছর ধরে টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা বাড়েনি। আজ সেটা বেড়ে গেল। নতুন করে টেস্ট খেলার মর্যাদা পেয়েছে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান।
২০১১ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায় আফগানিস্তান। তার অনেক আগে থেকেই তারা ভালো ক্রিকেট খেলছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তানের ক্রিকেট যেভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর কথা সেভাবে পারেনি। তারপরও যুদ্ধের প্রভাব ও প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলছে তারা। ২০১৫ সালে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলে। এরপর ২০১৬ সালে খেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও।
আয়ারল্যান্ড আস্তে-ধীরে ক্রিকেটে বেশ উন্নতি করেছে। তারা ২০০৭ সালে প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলে। সেবার তারা পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠে। এরপর সুপার এইটে বাংলাদেশের বিপক্ষেও জয় পায়। এরপর ২০১১ ও ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলে। খেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।

আইসিসি থেকে ৪০৫ মিলিয়ন লভ্যাংশ ভারতের

আগের সভায় নির্ধারিত হয়েছিল যে ভারত লভ্যাংশ হিসেবে ২৯৩ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাবে। ভারত সেটা মানতে রাজি হয়নি। ৫৭০ মিলিয়ন ডলার দাবি ছিলো তাদের। কিন্তু অন্যান্য পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর কারণে সেযাত্রা আর অর্থের পরিমাণ বাড়েনি ভারতের।
তবে লন্ডনে চলমান আইসিসির সভায় ভারত ঠিকই আইসিসির কাছ থেকে তাদের লভ্যাংশ বাড়িয়ে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সভায় ভারতকে আরো ১০০ মিলিয়ন দিতে রাজি হয় আইসিসি। এরপর তার সঙ্গে আগের চুক্তি অনুযায়ী আরো ১২ মিলিয়ন যোগ করা হয় (মোট ১১২ মিলিয়ন)। সব মিলিয়ে ৪০৫ মিলিয়ন ডলার (২৯৩+১১২) আদায় করে নেয় ভারত।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩৯ মিলিয়ন লভ্যাংশ পাচ্ছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। তবে তাদের চেয়ে ২৬৬ মিলিয়ন ডলার বেশি পাচ্ছে ভারত। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা প্রত্যেকে পাচ্ছে ১২৮ মিলিয়ন ডলার করে। জিম্বাবুয়ে পাচ্ছে ৯৪ মিলিয়ন ডলার। শেষ পর্যন্ত সহযোগী দেশগুলোর অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে ভারতকে ৪০৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে।

সুযোগ কাজে লাগাতে চান এনামুল

গত বিশ্বকাপে হনস্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে বাদ পড়ার পর দলে আর জায়গাই পাননি এনামুল হক বিজয়। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবালের সঙ্গী হন, সৌম্য সরকার। গত আড়াই বছরে মাত্র দুটি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেলেও ৫০ ওভারে সুযোগ হয়নি এনামুলের। তবে এই মুহূর্তে হোম সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দলের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তিনি। ভালো খেলেই জাতীয় দলে ফিরতে চান তরুণ এই ওপেনার।
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে আশার আলো খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মিরপুরের একাডেমিতে অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই আমার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। জাতীয় দলে ফিরতে কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে চাই না। তাই প্রতিটি ম্যাচেই রান করা আমার কাছে খুব জরুরি। অস্ট্রেলিয়া সফরটা আমার জন্য বড় মঞ্চ। অস্ট্রেলিয়ার মতো ভালো জায়াগাতে ভালো কিছু করতে পারলে নিশ্চয়ই সুযোগ আসবে। এখন আমার কাজ পারফর্ম করা। প্রিমিয়ার লিগ মোটামুটি ভালো হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমার দায়িত্ব মাঠে পারফরম্যান্স করা। দলে সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচকদের।’

বিজয় জানান, ‘আমি নিজে খুব রোমাঞ্চিত। অনেকদিন পর বিদেশ সফরে যাচ্ছি। এমনিতেই অস্ট্রেলিয়া আমার জন্য সৌভাগ্যপূর্ণ ভেন্যু। যদিও শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে সেটা দুর্ভাগ্যের হয়ে উঠেছিল ইনজুরির কারণে। আমাদের দলে বেশ ভালো কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। সেখানে ভালো কিছু করে আসার সুযোগ পাব।’
প্রায় তিন সপ্তাহের এ সফরের জন্য বিসিবি এখনও ১৬ জনের দল ঘোষণা করেনি। যদিও এইচপি স্কোয়াডের ২৪ জন থেকেই ১৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্বাচন করবে নির্বাচকরা। দল ঘোষণার আগেই এনামুল জানালেন তাদের দলটি কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, ‘জাতীয় দলের পর বাংলাদেশের সেরা পারফরমাররা এই দলে আছে। দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। দলে ব্যাটসম্যান-বোলারদের পাশাপাশি বেশকিছু অলরাউন্ডার আছে। আশা করি অস্ট্রেলিয়া সফরে দল হিসেবে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’
অস্ট্রেলিয়ার সফরে ডারউইনে প্রাদেশিক একটি দলের বিপক্ষে ৫টি ওয়ানডে, দু’টি দুই দিনের ও একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ এইচপি দল।

একাদশে এবার সাকিব

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হলেও রেশটা এখনো রয়েই গেছে। টুর্নামেন্ট শেষে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা-আইসিসিসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও বিশ্লেষকরা পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে সেরা একাদশ তৈরি করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নিজের সেরা একাদশ ঘোষণা করছেেন এবার ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। তার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এর আগে বিভিন্ন সেরা একাদশে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গা হলেও, ভনের একাদশে সাকিবই হলেন বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার।
মাইকেল ভনের একাদশে শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার জায়গা হলেও, জায়গা হয়নি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির। চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় রয়েছেন এই একাদশে। পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজই তার দলের অধিনায়ক। এছাড়া ইংল্যান্ডের তিনজন, ভারতের দুইজন ও বাংলাদেশের একজন আছেন এই একাদশে।
মাইকেল ভনের সেরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি একাদশ:
ফখর জামান, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, জো রুট, সাকিব আল হাসান, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, আদিল রশিদ, মোহাম্মদ আমির, হাসান আলী, জুনাইদ খান।

বিসিবি’র প্রাথমিক দল ঘোষণা

আসন্ন অস্ট্রেলিয়া হোম সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি ২৯ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক এই দলে সুযোগ পেয়েছেন দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এনামুল হক বিজয় ও আল আমিন হোসেন। এছাড়া ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পাওয়া নাসির হোসেনও আছেন ২৯ জনের মধ্যে।
আগস্টের মাঝামাঝিতে অস্ট্রেলিয়া আসবে বাংলাদেশে। ২৭ আগস্ট ও ৪ সেপ্টেম্বর দুটি টেস্ট খেলবে তারা স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে বাংলাদেশ যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, সেখানে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে টাইগাররা প্রোটিয়াদের সঙ্গে।দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প আগামী ১০ জুলাই থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক দলের সদস্যরা হলেন- তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শুভাষিস রায়, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুবেল হোসেন, নূরুল হাসান সোহান, সাঞ্জামুল ইসলাম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাইফ উদ্দিন, এনামুল হক বিজয়, আবুল হাসান রাজু, আল আমিন হোসেন, নাসির হোসেন, মুক্তার আলী, তানভীর হায়দার রনি, সাকলায়েন সজীব ও শফিউল ইসলাম।

ইংলিশদের কাছে পাত্তাই পেলো না দক্ষিণ আফ্রিকা

সিরেজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের কাছে কোনো পাত্তাই পেলো না দক্ষিণ আফ্রিকা। সাউদাম্পটনে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ তে এগিয়ে গেলো ইংলিশরা।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার ক্ষত এখনো দগদগে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ক্ষতে এবার নুনের ছিটা দিল ইংল্যান্ড। রোজ বোলে গতকাল প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশদের কাছে প্রোটিয়ারা পাত্তাই পায়নি।
ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৪৩ রানের। মাঝারি সেই লক্ষ্যটাকে মামুলি বানিয়ে ফেলেন তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান জেসন রয়, অ্যালেক্স হেলস ও জনি বেয়ারস্টো। উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন রয়। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ফেরার আগে ১৪ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ডানহাতি ওপেনার। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ১ উইকেটে ৪৫।

বাকি কাজটা করেন হেলস ও বেয়ারস্টো। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৯৮ রানের জুটিতে ৩৩ বল বাকি থাকতে জয় পায় ইংল্যান্ড। প্রায় এক বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা বেয়ারস্টো ৩৫ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস খেলেন। ৩৮ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন হেলস।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ বলেই দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার জেজে স্মুটস ও রেজা হেনড্রিকস সাজঘরে ফেরেন। ২৫ বলের মধ্যে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহটা যে শেষ পর্যন্ত ১৪২ হয়েছে, সেটা মূলত অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ফারহান বেহারদিয়েনের কল্যাণে। দুজন অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় জুটিতে যোগ করেন ১১০ রান। তবে এ জুটি খেলেছে প্রায় ১৬ ওভার। ডি ভিলিয়ার্স ৬৫ ও বেহারদিয়েন ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ইংল্যান্ডের দুই পেসার ডেভিড উইলি ও মার্ক উড উইকেট নিয়েছেন তাদের প্রথম বলেই। আর মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চেপে ধরে স্পিনাররা। হাম্পশায়ারের দুই স্পিনার লিয়াম ডসন ও ম্যাসন ক্রেন ৮ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৪১ রান। টনটনে পরের ম্যাচ হবে শুক্রবার।

এবার পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সরফররাজ

জয়ের রেশ এখনো শেষ হয়নি। পুরস্কারে ভাসছেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। এমনি সময়ে আরো একটি সুখবর পেলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ওয়ানডের সঙ্গে এবার তাকে টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এক সিনিয়র অফিসিয়াল পিটিআইকে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকী। লন্ডন থেকে আইসিসি মিটিং শেষে দেশে ফিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এ বিষয়ে ঘোষণা দেবেন। সরফরাজ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

পদত্যাগ পত্রে যা লিখলেন কুম্বলে

ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কুম্বলে। গতকাল (মঙ্গলবার) নিজের পদত্যাগপত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে জমা দিয়েছেন কুম্বলে। পদত্যাগ পত্রে ঠিক কী লিখেছেন সদ্য ভারতকে বিদায় জানানো এই কোচ, ভারতীয় গণমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়া তা প্রকাশ করেছে। এবার তা দেখে নেওয়া যাক।

কুম্বলের পদত্যাগ পত্রঃ

“ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি আমার উপরে যেভাবে আস্থা দেখিয়ে কোচ পদে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিল তাতে আমি সম্মানিত। গত একবছরে সাফল্যের শ্রেয় অধিনায়ক, গোটা দল, কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফদের।

গতকালই (১৯ জুন) আমাকে প্রথমবার বিসিসিআইয়ের তরফে বলা হয় যে অধিনায়কের আমার কাজ করার ধরন ও প্রধান কোচ থাকা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। আমি অবাক হয়েছি কারণ কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আমি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। বিসিসিআই আমার ও অধিনায়কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এগিয়ে এসেছিল। সবমিলিয়ে এটা বোঝা যাচ্ছিল যে এই পার্টনারশিপ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে আমার মনে হয়েছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা, সততা, ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা- এগুলি আনার চেষ্টা করেছি আমি। আর এগুলিই পার্টনারশিপ বা সম্পর্ক টিঁকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আমার মতে কোচের ভূমিকা হল দলের সামনে আয়না দেখানোর মতো যাতে দলের স্বার্থে আরও উন্নতির পথে হাঁটা যায়।

ফলে যখন আমার থাকা নিয়ে আপত্তির কথা শুনলাম তখন মনে হয়েছে দায়িত্ব অন্য কারও নেওয়াই ভালো। বিসিসিআই ও ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি যাকে ভালো মনে করবে দায়িত্ব দিতে পারে।

সবশেষে বলি, গত একবছরে প্রধান কোচ হিসাবে কাজ করাটা সম্মানের ছিল। আমি সেজন্য ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি ও বিসিসিআই ও ক্রিকেট প্রশাসক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। ভারতীয় ক্রিকেটকে সমর্থন করার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের ধন্যবাদ জানাই। আমি সারাজীবন দেশের ক্রিকেটের ভালোর জন্য শুভকামনা করে যাব।”

উল্লেখ্য, কুম্বলেকে ছাড়াই মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে কোহলি-ধোনিরা। এরপরই ভারতীয় বোর্ডকে পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন কুম্বলে।

কোহলির সঙ্গে সমস্যাতেই কুম্বলের পদত্যাগ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে হঠাৎ করে গুঞ্জন ওঠে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ অনিল কুম্বলের দ্বন্দ্ব নিয়ে। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর কোহলির এক মন্তব্যে তা আরও জোড়াল হয়। আর কুম্বলেকে ছাড়াই মঙ্গলবার কোহলি-ধোনিরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে তা সত্যে পরিণত হয়।

এরপরই নিজের পদত্যাগপত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে জমা দেন কুম্বলে। আর পদত্যাগ পত্রে বিস্ফোরক মন্তব্য করে কুম্বলে জানান, অধিনায়ক কোহলির সঙ্গে সমস্যার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়া কুম্বেলের পদত্যাগ পত্র প্রকাশ করেছে। আর তাতে কুম্বেলে উল্লেখ করেন, ‘আমার কাজের ধরণ নিয়ে কোহলির আপত্তি ছিল। আমি অবাক হয়েছি কারণ কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আমি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। বিসিসিআই আমার ও অধিনায়কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এগিয়ে এসেছিল। সবমিলিয়ে এটা বোঝা যাচ্ছিল যে এই পার্টনারশিপ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে আমার মনে হয়েছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।’

কুম্বলের পদত্যাগ পত্রঃ

“ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি আমার উপরে যেভাবে আস্থা দেখিয়ে কোচ পদে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিল তাতে আমি সম্মানিত। গত একবছরে সাফল্যের শ্রেয় অধিনায়ক, গোটা দল, কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফদের।

গতকালই (১৯ জুন) আমাকে প্রথমবার বিসিসিআইয়ের তরফে বলা হয় যে অধিনায়কের আমার কাজ করার ধরন ও প্রধান কোচ থাকা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। আমি অবাক হয়েছি কারণ কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আমি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। বিসিসিআই আমার ও অধিনায়কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এগিয়ে এসেছিল। সবমিলিয়ে এটা বোঝা যাচ্ছিল যে এই পার্টনারশিপ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে আমার মনে হয়েছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা, সততা, ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার ক্ষমতা- এগুলি আনার চেষ্টা করেছি আমি। আর এগুলিই পার্টনারশিপ বা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আমার মতে কোচের ভূমিকা হল দলের সামনে আয়না দেখানোর মতো যাতে দলের স্বার্থে আরও উন্নতির পথে হাঁটা যায়।

ফলে যখন আমার থাকা নিয়ে আপত্তির কথা শুনলাম তখন মনে হয়েছে দায়িত্ব অন্য কারও নেওয়াই ভালো। বিসিসিআই ও ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি যাকে ভালো মনে করবে দায়িত্ব দিতে পারে।

সবশেষে বলি, গত একবছরে প্রধান কোচ হিসাবে কাজ করাটা সম্মানের ছিল। আমি সেজন্য ক্রিকেট পরামর্শদাতা কমিটি ও বিসিসিআই ও ক্রিকেট প্রশাসক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। ভারতীয় ক্রিকেটকে সমর্থন করার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের ধন্যবাদ জানাই। আমি সারাজীবন দেশের ক্রিকেটের ভালোর জন্য শুভকামনা করে যাব।”

ঢাকাতে রুবেলের অস্ত্রোপচার আজ

ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর শেষ করে দেশে ফিরেই ইনজুরিতে পড়া বাংলাদেশের তারকা বোলার রুবেল হোসেনের অস্ত্রোপচার আজ। ঢাকার একটি হাসপাতালে হওয়ার কথা সেটি। আর অস্ত্রোপচারের পর অন্তত মাস দেড়েক খেলা ও অনুশীলনের বাইরে থাকতে হতে পারে এই পেসারকে।

চোট নিয়ে রুবেল বলেন, ‘ম্যাচ শেষে হোটেলে ফেরার পর রুমের দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিলাম। ওই সময় খুব বেশি ব্যথা অনুভব করিনি। দেশে আসার তাড়াহুড়ার মধ্যে তাই আর ফিজিওকে বিষয়টা বলিনি। কিন্তু ফোলাটা আস্তে আস্তে বাড়ায় ঢাকায় এসে ডাক্তার দেখিয়েছি।’

এদিকে এমআরআই রিপোর্টে চোটের জায়গায় ফাটল ধরা পড়লে বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরে আজ (বুধবার) অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন রুবেল হোসেন।

রাজশাহী কিংসেই থাকছেন স্যামি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হতে এখনো অনেক দিন বাকি। তবে এরই মধ্যে ঘর গুছানো শুরু করে দিয়েছে গত আসরের রানারআপ রাজশাহী কিংস। গত আসরে অধিনায়কত্ব করা দলের ক্যারিবিয়ান তারকা ড্যারেন স্যামিকে এবার ধরে রেখেছে দলটি। দলটি পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে রাজশাহী কিংসের সিইও তাহমীদ আজিজুল হক বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও আমাদের সমর্থকদের উৎসাহ দরকার। আর স্যামির সমর্থনই আমাদের ভালো খেলার প্রেরণা দেয়।’

টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আরও জানানো হয়, স্যামি দলে থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে সেরাটি বের করে আনতে সক্ষম হবেন। গত বছরের মতো এবারও ভালো পারফরমেন্স উপহার দিতে টিম মিটিংয়ে বেশ কিছু চমৎকার প্রস্তাব করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এবার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু চমক থাকছে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী কিংস সর্বশেষ ২০১৬ সালের বিপিএলে ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে রানারআপ হয়। ফাইনালে তারা ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে হেরে যায়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুঃখ ভুলতে…

ইংল্যান্ডের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা সবচেয়ে বেশি হতাশার। কারণ আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে থাকার পরও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বই উৎরাতে পারেনি প্রোটিয়ারা। আগের মতই ‘চোকার্স’ রয়ে গেলো তারা। পাকিস্তান এবং ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।

ইংল্যান্ডের অবস্থাটা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে একটু ভালো। যদিও গ্রুপ পর্বে উড়তে থাকার পর সেমিফাইনালে এসে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়তে হলো পাকিস্তানের সামনে। এত এত ফেবারিটের তকমা নিয়েই কি না নিজেদের দেশে ইংল্যান্ডকে পাকিস্তানের কাছে এভাবে হেরে যেতে হবে!

 

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তাই দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড- দু’দলের জন্যই একটি বিভিষিকার নাম। খুব দ্রুতই তারা টুর্নামেন্টটিকে ভুলতে চায়। সেই ভুলে যাওয়ার লক্ষ্যেই আজ নতুন করে দি-পাক্ষিক সিরিজে মেতে উঠছে দেশ দুটি। বাংলাদেশ সময় আজ রাত সাড়ে ১১টায় সাউদাম্পটনের রোজ বোলে শুরু হবে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি।

এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে দেখা যেতে পারে একেবারে নতুন এক ইংল্যান্ডকে। অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান জানিয়েছেন, তাদের দলে অন্তত পাঁচ জনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ অভিষেক হতে পারে। তরুণ ক্রিকেটারদের দিয়ে ইংল্যান্ড দল গঠন করার যে দাবি সেটা হয়তো এবার বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে লিয়াম লিভিংস্টোন, টম কারেন এবং ম্যাসন ক্রেনের পদচারনা শুরু হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

পাকিস্তানকে সমর্থন করায় ভারতে গ্রেফতার ২০

পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সমর্থন করায় ভারতে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভারতের দুটি ভিন্ন প্রদেশ থেকে এই ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার করা সবাই মুসলিম। গত রোববার ভারতের মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলায় ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর বিকানের জেলা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালাত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন। খবর ইন্ডিয়াটুডের।

রিপোট অনুযায়ী- ইমরান, সঞ্জয় খান, তানভীর, শোয়েব ও ওয়াসিমরা পাকিস্তানের জয়ে উল্লাস করেছেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নেচেছেন। পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় কেউ কেউ ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন। রাস্তায় আতশবাজি পোড়াচ্ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের ‘ডানপন্থী’ সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই ২০ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছে সংগঠনটি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। ভারতীয় হয়েও পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।

খুলনা টাইটান্সে ক্রিস লিন

বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরু হতে এখনও অন্তত ৫ মাস বাকি; কিন্তু এখন থেকেই ঘর ঘোচাতে শুরু করে দিয়েছে বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডাইনামাইটস ইতিমধ্যেই দলে টেনে নিয়েছে দুই পাকিস্তানি সেনসেশন মোহাম্মদ আমির, শহিদ আফ্রিদি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিন এবং অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসনকে। রাজশাহী কিংস ঘোষণা দিয়েছে, ড্যারেন স্যামিই থাকছেন তাদের দলে।

তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন খুলনার দল খুলনা টাইটান্স। ঘর ঘোচাতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ান মারমুখি ওপেনার ক্রিস লিনকে দলে টেনে নিচ্ছে খুলনার দলটি। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেই ঘোষণা দিয়েছে খুলনা টাইটান্স।

নিজেদের ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দিতে গিয়ে খুলনা টাইটান্স জানিয়েছে, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা দিচ্ছি যে, অস্ট্রেলিয়ার হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান ক্রিস লিন এখন খুলনার টাইটান্স। ২০১৭ বিপিএলে খুলনা টাইটান্সে যোগ দেবেন তিনি।’

সর্বশেষ আইপিএলেই মূলতঃ হার্ড হিটার ক্রিস লিনকে সবাই চিনেছিল। গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে কেকেআরের হয়ে ৪১ বলে খেলেছিলেন অপরাজিত ৯৩ রানের ইনিংস। কেকেআরকে এনে দিয়েছিলেন ১০ উইকেটের বিশাল এক জয়। এরপরের ম্যাচগুলোতেও তিনি ছিলেন দারুণ পারফরমার। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

চলতি বছরই জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে খেলেন ক্রিস লিন। এরপর আর খেলা হয়নি তার। তবে ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। রান করেছেন মাত্র ৬৫টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রান ৩৩ অপরাজিত। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৯২টি। ৩৬.৭৯ গড়ে তিনি রান করেছেন ২৬৪৯টি। সেঞ্চুরিও রয়েছে একটি। হাফ সেঞ্চুরি ১৯টি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় স্যামি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট এখন খাদের কিনারে! আফগানিস্তানের মতো দলের সঙ্গে ১৩৫ রান তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্যারিবিয়দের। অথচ যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নিয়ে যেতে পারে শিখরে, তা দাপিয়ে খেলছেন বিশ্বের ঘরোয়া লিগগুলোতে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের (সিডব্লুআই) নিয়ম-কানুনের কারণেই ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভোদের জায়গা হচ্ছে না জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টেস্ট দলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই শঙ্কায় পড়েছেন ড্যারেন স্যামি।

বোর্ডের নিয়ম বলছে, দেশটির ঘরোয়া লিগে না খেললে টেস্ট ও ওয়ানডে দলে জায়গা হবে না। আর বিশ্বের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের বেশ কদর। সঙ্গে কাড়ি কাড়ি অর্থের হাতছানি। সব মিলে ঘরোয়া লিগে খেলছেন না গেইলরা। তাই জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে। আসতে পারছেন না কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও।

৩৩ বছর বয়সী স্যামির আপত্তি বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ নিয়ে। বোর্ড প্রশাসকদের নিয়ম-কানুন স্যামির পছন্দ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে নিয়ে ভয়টা হয়তো সেখান থেকেই। এভাবে চলতে থাকলে ক্যারিবিয়ানরা হারিয়ে ফেলবে তাদের ঐতিহ্য।

সোমবার বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে ড্যারেন স্যামি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনকে দিয়ে কিছু হবে বলে মনে হয় না! আপনি তো একজন খেলোয়াড়কে বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে নিষেধ করতে পারেন না। এর মাধ্যমেই তো তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়। পরিবার পরিচালনা করে থাকে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। ২০১২ ও ২০১৬ সালে। টি-টোয়েন্টিতে ভালো করলেও অন্য ফরম্যাটে (টেস্ট ও ওয়ানডে) বাজে সময় পার করছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট। এর পেছনে বোর্ডের দুর্বল অবকাঠামোকেই দায়ী করছেন স্যামি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুবার বিশ্বকাপজী দলের অধিনায়কের ভয়, ‘আমাদের ক্রিকেট যেভাবে চলছে, তাতে বেশি কিছু আশা করতে পারি না। আমার খুব ভয় হয় যে, একদিন কিনা অবনমিত হয়ে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলতে হয়। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য খুবই দুঃখজনক।’

বাংলাদেশের আয় চার কোটি টাকা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে শিরোপা জয়ী পাকিস্তান ভাসছে পুরস্কারের বন্যায়। আর কোচ কুম্বলের পদত্যাগে রানার্সআপ ভারত আছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনায়। এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠে প্রমান দিলো নিজেদের সামর্থের। সেই সঙ্গে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে প্রায় চার কোটি টাকাও।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো ভারত। গত ১৯ জুন এবজাস্টনে সেই ম্যাচ ৯ উইকেটে জিতে ভারত পৌঁছে যায় ফাইনালে । তাতে কি পরাজিত হলেও তো বাংলাদেশ পায় তিন কোটি ৬৩ লাখ টাকা (০.৪৫ মিলিয়ন ডলার)। সেমিতে পরাজিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডও পায় একই পরিমাণ অর্থ। চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান পেয়েছে ১৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা (২.২ মিলিয়ন ডলার)। রানার্সআপ ভারতের আয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা (১.১ মিলিয়ন ডলার)। গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে প্রায় ৭২ লাখ টাকা করে। অন্যদিকে, গ্রুপের শেষ দল নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকা পায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা করে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অর্থ পুরস্কার হিসেবে আইসিসি ৩৬ কোটি টাকা (৪.৫ মিলিয়ন ডলার) অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়।

কুম্বলের ছেড়ে যাওয়া সিংহাসনে শেবাগ!

লাঞ্ছনা আর অপমান নিয়ে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে অনিল কুম্বলেকে। তাঁর উপর কোহলির অনাস্থার বিষয়টি জানতে পারেন ভারতীয় দলের ক্রিকেট কোচ। পাশাপাশি, তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বোর্ডের তরফে কোচের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়টিও ভালভাবে নেননি তিনি। তাছাড়া, কোচকে গালিগালাজও নাকি করেছিলেন কোহলি। এমন অবস্থায় সম্মানের সঙ্গেই ভারতীয় কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেছেন কিংবদন্তি লেগস্পিনার অনিল কুম্বলে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত কোচ কুম্বলের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবুও সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
এখন ভারতের কোচ হবেন কে? জানা যায়, শেবাগই বসতে যাচ্ছেন কুম্বলের ছেড়ে যাওয়া সিংহাসনে। এরআগে বিসিসিআই যখন কোচের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন করেছিল। সেসময়েই বোর্ড থেকে শেবাগকে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তিনি সেসময় মাত্র দু’লাইনের সিভি পাঠিয়েছিলেন বলে খবর বের হয়েছিলো। যদিও শেবাগ সেই কথা অস্বীকার করেন। বোর্ড থেকে কোচ নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটিকে (শচীন, সৌরভ এবং লক্ষ্মণ) জানানো হয়েছে, দ্রুত পরবর্তী কোচ নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য। শেবাগ আইপিএল-এ কিংস ইলেভেন পঞ্জাব-এর মেন্টরের দায়িত্বও পালন করেছেন।

শেবাগ ছাড়াও ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে রয়েছে টম মুডি, রিচার্ড পাইবাসের নাম। পাইবাস বাংলাদেশে কোচিং করিয়েছেন। আর শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলে দীর্ঘসময় কোচ ছিলেন মুডি। জন রাইট, গ্রেগ চ্যাপেল, গ্যারি কার্স্টেন এবং ডানকান ফ্লেচারের মতো বিদেশি কোচের পর দেশি কোচেরাই ভারত দলকে কোচিং করাচ্ছেন। বিরাট, ধোনিরাও দেশি কোচের পক্ষে রয়েছেন। সেই হিসেবে শেবাগ কোনও কারণে কোচ হতে ইচ্ছুক না হলে লালচাঁদ রাজপুত ও ডোড্ডা গণেশের নাম বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। অনুর্ধ্ব-১৯ ও জাতীয়-এ দলকে সাফল্যের সঙ্গে কোচিং করিয়েছেন রাজপুত। তাছাড়া রাজপুত কিংবা গণেশ কোচ হলে বোর্ডের অনেকেই মনে করছেন অধিনায়কের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাত ঘটবে না। যা কোহলি-কুম্বলের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

নেপালের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়

প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করলেও এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় ম্যাচে ‘পঁঁচা শামুক পা’ কাটলো বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ টাইগার্স ৩ রানে হারিয়েছিলো আফগানিস্তান বুলসকে। আজ বুধবার, ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে, স্বাগতিক নেপালের কাছে ৭ উইকেটে হারলো, আল আমিনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টাইগার্স।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ বল বাকী থাকতেই মাত্র ১৪৮ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন পাঞ্চল। সংযোগ বিনকর তোলেন ২৭ রান। নেপালের বোলারদের মধ্যে মালিন্দার ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে ধস নামান।
জবাবে, ভূপিন্দর থাপা-র অপরাজিত ৫১ রানে ভর করে ২০ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে ১৫০ রান তুলে জয় পায় নেপাল স্টর্মস। ৩৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন ভূপিন্দর। আর দিশান্ত যাদব ৩৫ বলে ৪৬ রান করেন।

পুরস্কার এক কোটি রুপি

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের কারণে পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে এক কোটি রুপি করে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। লন্ডনের দ্যা ওভালে অলরাউন্ড পারফর্ম করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জেতে পাকিস্তান। ৩৩৯ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১৫৮ রানে অলআউট হয় ভারত।

উচ্ছ্বাসের রঙ সবুজ!‌ হ্যাঁ, গোটা পাকিস্তানই যে ওই রঙে রাঙিয়েছে নিজেকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের পর, দেশে ফিরলেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, বাবর আজম, হাসান আলি, ফাহিম আশরাফ, রুমান রাইসরা। শাবাদ খান, ইমাদ ওয়াসিম আর ফকর জামান পৌঁছন পরে। টিকিটের সমস্যা থাকায় ক্রিকেটাররা একসঙ্গে একই বিমানে ফিরতে পারেননি। লাহোরের আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন সমর্থকরা। গোলাপের মালা আর ফুলের তোড়ায় বরণ করে নেওয়া হয়। সেখানে করাচির মেয়র ওয়াসিম আখতার, রাজ্যপাল সিন্দ মুহম্মদ জুবের স্বাগত জানান। যে ট্রফিটা ছোঁয়ার জন্য এত লড়াই, সেই ট্রফিটা সরফরাজ সবার সামনে তুলে ধরেন। যা দেখা মাত্রই আকাশ–বাতাস কাঁপিয়ে গর্জন তোলেন সমর্থকরা। অধিনায়ক ছিলেন এক্কেবারে ফুরফুরে মেজাজে। কারও কোনও আবদার মেটাতে আপত্তি করেননি। সেলফি তুলতেও দেখা যায় তাঁকে। সরফরাজদের জন্য বিমানবন্দরেই হাজির ছিলেন প্রায় হাজারখানেক সমর্থক। ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ির মধ্যে ছিলেন সাংবাদিকরাও। তাঁদের অনুরোধে সরফরাজ বলেন, ‘‌পাকিস্তানী জনতার জন্য এটা বড় জয়। দলের প্রতিটি সদস্য প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে। প্রথম ম্যাচে হারের পর যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে, অবিশ্বাস্য।’‌

অনীল কুম্বলের পদত্যাগ

ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে তাকে রাখা, না রাখা নিয়ে, জল্পনা চলছিলই। নিজেই বোধহয় টের পাচ্ছিলেন সময়টা তার পক্ষে নেই। তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হতেই ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন অনিল কুম্বলে।
অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরেই শেষ হয়ে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কুম্বলের চুক্তি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত তাঁকে দলের কোচের দায়িত্ব সামলাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরেই দাঁড়ালেন। মঙ্গলবার সকালে লন্ডন থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে উড়ে গিয়েছে ভারতীয় দল। কিন্তু দলের সঙ্গে যাননি অনিল কুম্বলে। জল্পনা শুরু হয়েছিল সোমবার থেকেই। জানা যাচ্ছিল না আদৌ দলের সঙ্গে যাবেন কি না তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টও তা নিয়ে কোনও তথ্য জানাতে পারেনি। ক্রিকেটাররাও ছিলেন পুরো অন্ধকারে। শেষ পর্যন্ত খোলসা করলেন কুম্বলে নিজেই।
কোহালি ও কুম্বলের সম্পর্ক যে তলানিতে এসে ঠেকেছে সেটা এতদিনে জেনে গিয়েছে সকলেই। যে কারণে শুরু হয়েছে নতুন কোচের খোঁজ। বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে আবেদনপত্র চেয়ে। যেটা কুম্বলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাঁর হাত ধরে কম সাফল্য পায়নি ভারতীয় দল। ঘরের মাঠে টানা টেস্ট সিরিজ জয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পৌঁছনো সবই রয়েছে সেই তালিকায়। তার পরও নতুন কোচের খোঁজ শুরু হওয়াটা ভালভাবে নিতে পারেননি তিনি। যে কারণেই এই সরে দাঁড়ানো

এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামবে বাংলাদেশ টাইগার্স

ক্রিকেট

এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ

বাংলাদেশ টাইগার্স-আফগানিস্তান বুলস
সরাসরি, সকাল ১১টা
সনি সিক্স

ইন্ডিয়ান স্টারস-শ্রীলঙ্কান লায়নস
সরাসরি, দুপুর ২-৩০ মিনিট
সনি সিক্স

হকি
হকি ওয়ার্ল্ড লিগ

ভারত-নেদারল্যান্ডস
সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা
স্টার স্পোর্টস টু

ইংল্যান্ড-দক্ষিণ কোরিয়া
সরাসরি, রাত ১টা
স্টার স্পোর্টস টু

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে স্টার স্পোর্টসের সেরা একাদশে মাহমুদউল্লাহ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটের ওয়েবসাইট ও বিশ্লেষকরা পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে সেরা একাদশ তৈরি করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নিজেদের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছেন ভারতীয় জনপ্রিয় স্পোর্টস চ্যানেল স্টার স্পোর্টস। আর এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তিন নম্বর পজিশনে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৩ ম্যাচে ২৪৪ রান করেন এই কিউই অধিনায়ক। উইলিয়ামসনের পরেই জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগ্যান। ব্যাট হাতে বেশ উজ্জ্বল ছিলেন এই ইংলিশ অধিনায়ক। ৪ ম্যাচে ২০৮ রান সংগ্রহ করেন তিনি। মরগ্যানের পরেই মিডল অর্ডারে অল-রাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন আরেক ইংল্যান্ড ক্রিকেটার বেন স্টোকস।

ছয় নম্বর পজিশনের জন্য স্টার স্পোর্টসের সেরা একাদশে জায়গা করে নেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে শতক হাঁকিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন এই মিডল অর্ডার।

কিপার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জয়ী অধিনায়ক হিসেবে একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন পাকিস্তান উইকেটকিপার সরফরাজ আহমেদ আর অধিনায়ক হিসেবেও তাকেই বেছে নেয় স্টার স্পোর্টস।

স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন আদিল রাশিদ। পেস আক্রমণে গোল্ডেন বল জয়ী হাসান আলীর সঙ্গে আছেন আরেক পাকিস্তানি জুনায়েদ খান ও ভারতের জাস্প্রিত বুমরাহ।

স্টার স্পোর্টসের সেরা একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন, ইয়ন মরগ্যান, বেন স্টোকস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সরফরাজ আহমেদ-(অধিনায়ক/উইকেটকিপার), আদিল রশিদ, জুনায়েদ খান, হাসান আলী, জাস্প্রিত বুমরাহ।

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

সময়টা খুব ভালো যাচ্ছে না ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দুইবারের চ্যাম্পিয়ন্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিছুদিন আগেই ঘরে মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে যায় দলটি। এবার নিজের মাঠে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ক্যারিবীয়রা। আর এ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।

২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে র্যা ঙ্কিংয়ে প্রথম আট দলের মধ্যে থাকতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আইসিসির সর্বশেষ ঘোষিত র্যাঙঙ্কিংয়ে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে নয় নম্বরে। আর এক ধাপ উপরে থাকা শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৯৩।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের সবকয়টিতে হারালে ১১ পয়েন্ট পাবে ক্যারিবীয়রা। একই সঙ্গে সব ম্যাচে হারলে দুই পয়েন্ট খোয়াবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

তবে শঙ্কা আছে উইন্ডিজের সামনে। কেননা কয়েকদিন পরেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কা। আর তাই এই সিরিজে ভারতের বিপক্ষে অনেক ভালো করলেও পিছিয়ে পরার শঙ্কায় থাকবে তারা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), দেবেন্দ্র বিশু, জোনাথন কার্টার, রোস্টন চেইস, মিগুয়েল কামিন্স, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, অ্যাশলি নার্স, কাইরন পাওয়েল, রোভম্যান পাওয়েল, কেসরিক উইলিয়ামস।

কোহলি-ধোনিদের হকি খেলার পরামর্শ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর থেকে একের পর এক সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে কোহলি-ধোনিরা। অপর দিকে একই দিনে বিশ্ব হকি লিগে পাকিস্তানকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ভারত। তাই ক্রিকেটের ফাইনালে কোহলিদের হারের পর দেশটিকে হকি খেলার পরামর্শ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন।

শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়েই কোহলির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে গিয়েছিল ভারত। শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানকে বিশাল ব্যবধানে হারানোর পর তৃতীয় ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয় দলটি। সেমিতে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিল দলটি।

 

তবে ফাইনালে ঘটলো ছন্দপতন। পাকিস্তানের করা ৩৩৮ রানের জবাবে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ শেষ হয় মাত্র ১৫৮ রানে। পান্ডিয়া ছাড়া কেউ মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারেনি। ফলে ১৮০ রানের লজ্জাজনক হার সঙ্গী হয় দলটির।

india

এদিকে ওই দিনই বিশ্ব হকি লিগে পাকিস্তানকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ভারত। আর এরপরই এক টুইটে ভারতকে খোঁচা দিয়ে এক টুইট বার্তায় ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন লেখেন, ‘ভারতের এখন হকির দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত।’

১৭ বছর পর গলে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে

২০০০ সালের পর এই মাঠে আর কোনো ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৭ রানে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ২০০০ সালে সেটি ছিল ত্রি-দেশীয় সিরিজের খেলা। ২০০০ সালের ৬ জুলাইর পর কেটে গেছে ১৭টি বছর।

এর মধ্যে সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছে গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম। সেটি আবার সংস্কার করা হয়েছে। নিয়মিত টেস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে; কিন্তু প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেলেও ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

এর একমাত্র কারণ, ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের সৌন্দর্য্য ফ্লাড লাইটে, দিবা-রাত্রিতে; কিন্তু গলের মাঠে কোনো ফ্লাড লাইট নেই। আসন সংখ্যা খুবই কম। তারওপর, ফ্লাড লাইট বসিয়ে দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজন করা খুব ব্যায়বহুল। তবে, জিম্বাবুয়ে লো-প্রোফাইল দল হওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ এই মাঠে ওয়ানডে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অবশেষে গলের সবুজ মাঠে গড়াবে ৫০ ওভারের ম্যাচ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি অনুষ্ঠিত হবে গলে।

জিম্বাবুয়েও প্রায় ১৬ বছর পর যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সফরে। ২০০১ ডিসেম্বর এবং ২০০২ জানুয়ারিতে সর্বশেষ দুই ওয়ানডে এবং তিন টেস্টের সফর করেছিল জিম্বাবুয়ে।

গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মোট সাতটি ওয়ানডে খেলা হয়েছে। তবে, ২০০০ সালের ৬ জুলাইর পর এই মাঠ থেকে যেন ওয়ানডে নির্বাসিত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সফরে প্রথম দুই ওয়ানডের পর সিরিজের বাতি তিন ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে হাম্বানতোতা স্টেডিয়ামে। এখানেও গত দুই বছর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।

সিরিজে এক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। যে ম্যাচটি খেলা হবে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। যেখানে টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয় না বললেই চলে। এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় শুধু ওয়ানডে এবং টেস্ট। এবার হবে টি-টোয়েন্টি।

টেস্ট গ্রহে বাংলাদেশের প্রথম ১১জন

বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিবার বা ক্রিকেট সমাজ তাদের কীভাবে মনে রেখেছে সেটা তর্কযোগ্য। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ যদি কোন দিন ইমারত সদৃশ্য কিছু হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে বলতেই হবে তার প্রথম এগারটা পিলার তাঁরা। তারা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম এগারজন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকায়ও তারা উপরের দিকেই থাকবেন। ইন্টারনেটের যুগে গুগল কিংবা ক্রিকইনফোতে সার্চ দিলেই নামগুলো চলে আসবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ আর বাঘের মুখের চাপ দেয়া সবুজ ক্যাপ পরে টেস্ট আঙিনায় প্রথম পা রেখেছিলেন তারা। অমরত্ব পান বা নাই পান, ইতিহাসে ঢুকে পড়তে আর কী লাগে তাদের!

ইতিহাসে ঢুকে পড়েছেন তারা। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের একেবারে সূচনা অধ্যায়েই আছেন তারা। কিন্তু ইতিহাস মনস্ক বাঙালি ক্রিকেটপ্রেমীরা সেই অধ্যয়টা কতোটা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বাঙালি খুব বেশি ইতিহাস মনস্ক সেই দাবি কী করা যায়?

দাবি-টাবির কথা বাদ দিন। বাস্তবতা হচ্ছে ‘ওরা এগার জন’-র অনেকেই এখন শুধুই সাবেক ক্রিকেটার। অনেকে আবার ক্রিকেটার ইমেজটাকে ডিপোজিট করে ভালই আছেন। সুদে-আসলে যা পাচ্ছেন তাতে দিব্যি চলে যাচ্ছে। টেস্ট গ্রহে প্রথম পা রেখে সেদিন তাদের কেউ কেই বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। কেউ ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে অভিষেক টেস্টে দল হিসেবে স্মরণীয় কিছু করতে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে তাদের কারো কারো নাম রেকর্ড বইয়ে জ্বলজ্বল করছে। আবার কারো কারো নাম চাইলেও ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না।

Test-Eleven

টেস্ট ক্রিকেটে দেশের হয়ে প্রথম বলটা খেলেছিলেন যিনি, রেকর্ড বইয়ে তার নামটা থাকবে। তবে রেকর্ড-ইতিহাস-পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি নিজে কখনো খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। এখনো না। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অনেক আগেই। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেয়ার সুযোগ তারও হয়নি। আর অবসরোত্তর জীবনে ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে তিনি। জড়িয়েছেন পারিবারিক ব্যবসায়।

স্মৃতির ক্যাবল দিয়ে মনের ভেতর ক্রিকেট নামক বাল্বটাকে আর জ্বালাতে খুব আগ্রহী মনে হয় না শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎকে। তাই স্যাটেলাইটের এই জমনায় টেলিভিশনের ক্রিকেট আড্ডায়ও তাকে দেখা যায় না। পাওয়া যায় না। অথচ ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তিনিই খেলেছিলেন দেশের হয়ে প্রথম বল। স্মৃতি রোমান্থনে কত রোমাঞ্চকর অনুভূতির কথাই না বেরিয়ে আসতে পারে তার মুখ থেকে! স্মৃতির সাগরে ডুব দেয়ার চেয়ে ব্যবসায়ে বেশি মনোযোগী বাংলাদেশ দলের এই ওপেনার।

শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের ওপেনিং পার্টনার ছিলেন যিনি, তিনি খুব একটা বদলাননি। শরীরে মননে খুব একটা পরিবর্তন নেই মেহরাব হোসেন অপির। সতের বছর আগে টেস্ট খেলা মেহরাবের শরীর এখনো বলবে, তিনি ক্রিকেটার। কিন্তু প্রায় দেড় দশক আগে টেস্ট ক্রিকেটে সাবেক হয়ে যাওয়া মেহরাবের মন আর মননে এখনও সেই চপলতা। কখনো কোচিং করানোর কথা ভাবেন। চলে যান কিশোরগঞ্জের একটা ক্রিকেট একাডেমিতে।

মাস তিনেক যেতে না যেতে আবার ফিরে আসা। মনে মনে স্বপ্নের জাল বুনেন জাতীয় দলের নির্বাচক হবেন। না হয় বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক। কখনো তার মনে উঁকি দেয় বিসিবির একাডেমি টিমের কোচ হওয়ার স্বপ্ন। আবার কিছুদিন পর বুঝতে পারেন, বাস্তবতা আর স্বপ্নের মাঝখানে বাইশ গজের চেয়ে দূরত্ব অনেক বেশি।

1st-test

তাই স্বপ্নগুলোকে সরিয়ে উঠে দাঁড়াতে চান বাস্তবের রুক্ষ জমিনে। তাই কখনো পারিবারিক ব্যবসায়ে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা। কখনো ব্যবসা ছেড়ে করপোরেট জগতে ঢুকে পড়া। কখনো ফুয়াং ফুডে তার অধিনায়কের ছায়াতলে ন’টা পাঁচটা অফিস করা কর্মকর্তা! জীবনের বাইশ গজে তিনি এখন যাই করুন, ক্রিকেট তার মনে। ক্রিকেটের মায়াটা ছাড়তে পারেন না।

তাই টেলিভিশন টক শো-তে বিশেষজ্ঞ হয়ে সন্তুষ্ট নন। মাইক্রোফোন হাতে তিনি দাঁড়াতে চান বিভিন্ন মাঠে। যেতে চান বিভিন্ন স্টেডিয়ামের কমেন্ট্রিবক্সে। এই কাজটা যে তার জন্য খুব কঠিন ছিল, তাও নয়। কিন্তু তিনি যে মেহরাব হোসেন অপি! কমেন্ট্রিবক্সে ঠিক সময়ে তিনি হাজির হবেন, সেই নিশ্চয়তা কে দেবেন? আর সেই নিশ্চয়তা ছাড়া তার হাত মাইক্রোফোন দেয়ার ঝুঁকি-ই বা নেবেন কোন চ্যানেলের কোন প্রোডিউসার?

কিন্তু অসম্ভব রকম ঝুঁকি আর নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন একজন। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বয়স তখন মাত্র ২৬ মিনিট। সেই সময় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি লাইন টপকে বাইশ গজের দিকে পা বাড়ালেন চোটখাটো চেহারার এক ব্যাটসম্যান।

ভারতীয়দের উল্লাসের মধ্যে শঙ্কা নিয়েই হাঁটা উইকেটের দিকে। আশঙ্কা জহির খানের বলে নয়। যদিও বাঁহাতি জহির খানই টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানকে আউট করে রেকর্ড বইয়ে। ওটা তার ক্যারিয়ারেরও প্রথম টেস্ট উইকেট। মেহরাব হোসেন আউট হয়েছিলেন জহিরের বলে ৪ রান করে। তাই জহির-শ্রীনাথদের নতুন বলের মুখেই পড়তে হলো হাবিবুলকে। কিন্তু তার আগেই তো নির্বাচকদের রিভার্স সুইংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। ‘পা চলে না’! অর্থাৎ ‘ ফুটওয়ার্ক’ নেই। এই দোহাই দিয়ে হাবিবুলকে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের চৌদ্দজনের স্কোয়াডেই রাখেননি প্রয়াত তানভীর হায়দারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি।

মিডিয়ার সমালোচনা আর বোর্ড সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর হস্তক্ষেপে হাবিবুল স্কোয়াডে এলেন। বাংলাদেশের চৌদ্দজনের স্কোয়াড বেড়ে হলো ষোলজনের। হাবিবুলের সঙ্গী হয়ে স্কোয়াডে এলেন বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক মনিও। মনিকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র নির্বাচকদের স্ট্যান্স পরিবর্তনকে মিডিয়ায় জায়েজ করতে। মিডিয়ার প্রবল সমালোচনার মুখে হাবিবুলকে স্কোয়াডে জায়গা দেয়া। আর তিনি স্কোয়াডে থাকা মানে প্রথম একাদশেও থাকবেন।

এটা নির্বাচকদের পাশাপাশি জানতেন সবাই। আর হাবিবুল জানতেন, অভিষেক টেস্টটাই তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের লাইফ লাইন। ব্যর্থ হলেই শেষ। নির্বাচকরা ওঁৎ পেতে বসে আছেন তাকে ছেঁটে ফেলার জন্য। ওখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার। হাবিবুলের মত এতোটা ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের আর কোন ক্রিকেটারের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়নি। তাই শঙ্গা আর ঝুঁকি নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখা তার।

Aminul-Islam

হাবিবুল ব্যাট করার সময় অন্যরকম এক শঙ্কার বাতাবরণ ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে। বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রেসের মধ্যে! কারণ, মিডিয়ার লোকজনও জানতেন, হাবিবুল ব্যর্থ হলে সেই সময়ের নির্বাচক কমিটি গলা সপ্তমে চড়িয়ে বলতেন; ‘দেখলেন তো, এদেশের মিডিয়া ক্রিকেট বোঝে না!’ ধন্যবাদ হাবিবুলকে। তার পা চললো। ব্যাট চললো। টেস্টে প্রথম যার বলের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই জহির খানের বলে আউট হওয়ার আগে ৭১ রানের ইনিংস খেলে বন্ধ করে দিয়েছিলেন নির্বাচকদের মুখ।

সেখান থেকে জন্ম নতুন এক হাবিবুলের। যিনি শুধু অভিষেক টেস্ট খেলেননি। বাংলাদেশের পক্ষে এক সময় সবচেয়ে বেশি টেস্ট আর বেশি রানেরও মালিক হয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন লম্বা সময়। তার অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ তার ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জিতেছে।
সেই হাবিবুল আট বছর পর নিজের ক্যারিয়ার আরো লম্বা করার স্বপ্নকে বির্সজন দিয়ে সাড়া দিলেন আইসিএলের হাতছানিতে। ডলার পেলেন। কিন্তু নিষিদ্ধ হয়ে শেষ হলো তার ক্যারিয়ার! সেই নিষেধাজ্ঞা খুব বেশি লম্বা হয়নি। তাই হাবিবুল ফিরলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। তবে অন্য ভূমিকায়। নির্বাচক হিসেবে। অবসরোত্তর জীবনে ভালই আছেন বাংলাদশ ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান। যাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক এখনো বলেন, ‘ও ছিল গরিবের আজহার উদ্দিন!’

হ্যাঁ, গরিবের আজহার উদ্দিন। বাংলাদেশ তো ক্রিকেট বিশে^ এক সময় গরিব-ই ছিল। ক্রিকেটীয় দীনতাকে সঙ্গী করে টেস্ট ক্রিকেটে এক দশকের বেশি সময় পার করতে হয়েছে তাকে। তবে সেই সময়েও বাংলাদেশ দলে একজন হাবিবুল ছিলেন। আজহারের মত কবজির মোচড়ে মাঠে কিছুটা শিল্পের ছোঁয়া দিতে পারতেন যিনি। আজহারের মতো টানা তিন টেস্টে সেঞ্চুরি দিয়ে হয়তো তার ক্যারিয়ার শুরু হয়নি। কিন্তু এক সময় তিনি ছিলেন বাংলাদেশ দলে ‘মিস্টার ফিফটি’! হাবিবুল মাঠে নামা মানে হচ্ছে, কমপক্ষে একটা হাফ সেঞ্চুরি।

কিন্তু যার মুখে প্রথম শুনেছিলাম, ‘হাবিবুল, ও তো গরিবের আজহার উদ্দিন’ তিনি অবশ্য আজহার উদ্দিনের মতো ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্টেই এলিটদের সরণিতে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে আজহার উদ্দিনও অভিজাত ঐ সরণির বাসিন্দা নন। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে আজহারের সেঞ্চুরি আছে। একটা নয়, পর পর তিন টেস্টেই তিনটা সেঞ্চুরি আজহারের। তবে দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় শুধু আজহার নন। তার দেশেরও কেউ নেই।

ঐ তালিকায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আগে আছেন মাত্র দু’জন। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান। আর জিম্বাবুয়ের ডেভ হটন। একশ চল্লিশ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ঐ তালিকার তৃতীয় নাম- আমিনুল ইসলাম বুলবুল। হাবিবুলের মত না হলেও তার ক্যারিয়ারও ঝুঁকির মুখেই ছিল। ফর্ম নেই। চাপ নিতে পারছেন না। এই আওয়াজ তুলে তার সঙ্গে কোন কথা না বলেই সরিয়ে দেয়া হয়েছিল তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে। কিন্তু সেই বুলবুল অভিষেক টেস্টের চাপ সামলে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪৫ রানের ইনিংস। উইকেটে থাকলেন ৫৩৫ মিনিট। বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে যোগ্যতা দিয়ে।

Aminul-Islam

পৃথিবীশুদ্ধ মানুষকে সেটা বোঝানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই যেন ব্যাট করলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট করার কাজটা খুব কঠিন কাজ না! সেটা নাকি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন নন স্ট্রাইক এন্ডে দাঁড়িয়ে অন্য একজনের ব্যাটিং দেখে। সেই ভদ্রলোকের নাম অবশ্য হাবিবুল বাশার। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চেয়ে মাত্র ৫৭ মিনিট আগে যিনি টেস্ট উইকেটে পা রেখেছিলেন। ‘সুমনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ব্যাটিংটা খুব সহজ।’

মেলবোর্ন প্রবাসী আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঢাকায় এসে ক্রিকেট আড্ডায় বহুবার কথাটা বলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একটা রেকর্ড আগামী প্রজন্মের কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের পক্ষে ভাঙা সম্ভব হবে না। দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি। ঐ একটা ইনিংসের কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে যার অমরত্ব পেয়ে যাওয়ার কথা, অবসরের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট তাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চায়নি। এখনও চাইছে তেমন কথা বলা যাবে না। তাই ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন থেকে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির প্রশ্ন, ‘আমিনুলকে কেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কাজে লাগায় না!’

উত্তরটা যাদের ভাল জানা তারা নিশ্চুপ থাকেন। অথবা বলেন, ‘ও তো আসতে চায় না। আমাদের তো কিছু বলে না।’ আইসিসির ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে এশিয়া অঞ্চল নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন বুলবুল। মেলবোর্নে পরিবার আর কাজ নিয়ে খারাপ আছেন তিনি তা বলা যাবে না। ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার এক সময়ের খুব প্রভাবশালী ক্রিকেট সাংবাদিক এখন যিনি ডেপুটি এডিটর, সেই বন্ধু বিজয় লোকপল্লী দিল্লিতে বসে বছর খানেক আগে এক কফি আড্ডায় বলছিলেন,‘ তোমাদের অভিষেক টেস্টেও কে কেমন আছে জানি না। তবে শুনেছি তাদের অনেকেই ক্রিকেট প্রশাসনে জড়িয়েছেন। এটা এক দিকে ভাল।’ তারপর হাসতে হাসতে বললেন,‘ ক্রিকেট ইতিহাস অবশ্য সবাইকে কী মনে রাখবে?’

ক্রিকেট রিপোর্টার হিসেবে বিজয় কখনো ঠিক আর পাঁচজন ভারতীয় বা ইংলিশ প্রেসের মতো নন। ভারতীয় হিসেবে শুধু ভারতের ক্রিকেটার কিংবা ইংলিশদের মত শুধু ইংলিশ টিমের খোঁজ-খবরে ব্যস্ত থাকতে হবে সেই তত্ত্বেও তিনি বিশ্বাসী নন। তাই গত ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের পর বুলবুলকে নিয়ে ‘দ্য হিন্দু’তে বড় একটা স্টোরি লিখেছিলেন। বিশ্বজুড়ে এতো তারকা থাকতে কেন বুলবুল? এই প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি নিবাসী বিজয়ের উত্তর; ‘ভারতীয় সাংবাদিক হিসেবে অনেক স্টার-সুপার স্টার-মেগা স্টারের সঙ্গে কথা বলেছি।

তাদের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছি। বিশ্বকাপ জয়ী অনেক অধিনায়কের সঙ্গে দিনের পর দিন আড্ডা দিয়েছি। ভারতীয় হিসেবে আমরা অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যান পেয়েছি। কিন্তু এমন কাউকে পাইনি যে ভারতের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন! ঐ কৃতিত্ব তো দেখিয়েছেন মাত্র তিনজন। তাদের দু’জন আবার সেটা করেছেন ভারতের বিপক্ষে। তৃতীয় জন কাজটা করেছিলেন ভারত টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার পঞ্চান্ন বছর আগে। এবং সেটা ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার সত্তর বছর আগে। অস্ট্রেলিয়ান সেই চার্লস ব্যানারম্যানকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ নেই। ডেভ হটন আর আমিনুলকে দেখছি। আমিনুল দিল্লিতে, আর তাঁর সাথে কথা বলবো না! তা হলে আমি সেই গোরা (ইংরেজ) ক্রিকেট সাংবাদিক হয়ে গেলাম! যেটা কোনদিন হতে চাই না।’

কোন ভারতীয় তাদের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। কোন ইংলিশও পারেননি। তাই বুলবুলের সেঞ্চুরি করা ব্যাটটার প্রতি ইংরেজদের হয়তো বাড়তি একটু আগ্রহ ছিল। বুলবুলের সেঞ্চুরি করা সেই ব্যাট ইংলিশরাই সযত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছে। আর যে বলটায় বুলবুল আউট হয়েছিলেন সেটা থাকার কথা এক ভারতীয়র কাছে। দেশের অভিষেক টেস্টে যে তিনজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেছিলেন, তাদের দুজনের আউটের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার ভূমিকা ছিল। জিম্বাবুয়ের ডেভ হটনের ১২১ রানের ইনিংস শেষ হয় শ্রীনাথের বলে। কিরণ মোরের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছিলেন ঐ জিম্বাবুয়ান।

আর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ১৪৫ রানের ইনিংসে দাড়ি টেনে দিতেও সেই শ্রীনাথের হাত। অজিত আগাকারের বলে শ্রীনাথের হাতে ক্যাচ দিলেন বুলবুল। শোকস্তব্ধ গোটা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। সঙ্গে গোটা দেশ। কারণ, চালর্স ব্যানারম্যানের ১৬৫ রানের ইনিংসকে ছাড়িয়ে যাবেন বুলবুল। প্রেসবক্স তখন ব্যস্ত ব্যানারম্যানের ইনিংসের খুঁটিনাটি খুঁজে বের করতে। কিন্তু সিডনির সমাধিতে শান্তিতেই ঘুমিয়ে থাকতে পারলেন ব্যানারম্যান। ১৬৫ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছিলেন চার্লস ব্যানারম্যান। তার সেই রেকর্ড অক্ষতই রইলো। এবং এখনো আছে।

বুলবুলেরও আক্ষেপের তেমন কিছু থাকার কথা নয়। কারণ, অভিষেক টেস্ট মানেই তো ব্যানারম্যান। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বল ফেস করেছিলেন তিনি। টেস্টে প্রথম রান করেছিলেন তিনি। প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। মরণের ওপারে থাকুন না তিনি শান্তিতে। আর শান্তিতে থাকার জন্য-ই কী আমিনুল ইসলাম বুলবুল চলে গেলেন ব্যানারম্যান যেখানে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন সেই মেলবোর্নে!

হ্যাঁ, মেলবোর্ন এখন বুলবুলের স্থায়ী ঠিকানা। আর মেলবোর্নে তার বাড়ির নম্বরও ঠিক ১০০! ক্রিকেট ঈশ্বর আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সুযোগ দেননি চার্লস ব্যানারম্যানের ইনিংসকে ছাপিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ঈশ্বর এক জায়গায় তাদের দু’জনকে আবার মিলিয়ে দিলেন। দু’জনের হাতে ধরিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট!

একজনকে দিয়েছিলেন ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরুর আগে। আরেকজনকে দিলেন ক্যারিয়ার শেষে। হ্যাঁ, চার্লস ব্যানারম্যানের জন্ম তো ইংল্যান্ডে। বাবা-মার সাথে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে। ব্যানারম্যানকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি বুলবুল। কিন্তু যেটা পারলেন সেটাই কম কী! দেশের অভিষেক টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান। দেশের প্রথম বিশ্বকাপে অধিনায়ক। ক্রিকেটীয় অমরত্ব পেতে আর কী-ই বা দরকার পড়ে!

অভিষেক টেস্ট হয়তো অমরত্ব দেয়নি আরেকজনকে। কিন্তু দেশজ ক্রিকেটে তিনি এমন একটা জায়গায় তাকে ঠিক নড়ানো যাবে না। সরানো যাবে না। বিশাল আকৃতির মানুষটা তার চওড়া কাঁধে করেই বাংলাদেশকে পৌঁছে দেন বিশ্বকাপে। তারপরই বাংলাদেশের সামনে খুলে যায় টেস্ট ক্রিকেটের দরোজা। আর বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে তিনিও ছিলেন। শুধু ছিলেন না। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে অন্যতম ভরসা হিসেবেই ছিলেন। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আকরাম খান করেছিলেন ৩৫ রান। স্কোরটা হয়তো খুব বড় নয়।

তবে আকরাম ছিলেন আকরামের মেজাজেই। বুলবুলের সঙ্গে রানের একটা পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। তবে অভিষেক টেস্ট নয়। আকরামকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম ‘পিলার’ হিসেবে। তামিম-মুশফিকদের এখনকার ডাবল সেঞ্চুরিতে আবেগের দমকা হাওয়াও সেটাকে নড়াতে পারবে না। অন্তত ইতিহাস মনস্কদের মন থেকে।

সেই আকরাম অবশ্য মাঠ থেকে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলন করে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। তবে অবসরোত্তর জীবনে ভালভাবেই আছেন ক্রিকেটে। কখনো নির্বাচক। কখনো নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান। কখনো বিসিবি পরিচালক। আবার সেই আকরাম খানও কখনো কখনো অভিমানী! অভিমান করে পদত্যাগও করতে পারেন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে! তারপরও বলতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আকরাম খানের যা ডিপোজিট তাতে অবসরোত্তর জীবনের বাকি দিনগুলো ভালভাবেই পার করতে পারবেন তিনি।

অভিমান! নাকি উন্নত নিরাপদ জীবনের হাতছানি! তা হয়তো শুধু তিনি নিজেই জানেন। তবে আপাতত মনে হয় উন্নত নিরাপদ জীবন আর পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে ক্রিকেট ছেড়ে প্রবাস জীবনকে বেছে নিয়েছেন আল-শাহরিয়ার রোকন। অভিষেক টেস্টের প্রথম একাদশেও তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাঁর প্রতিভা নিয়ে অনেক কথা লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে। তবে স্কোরশিটে সেই প্রতিভার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি তিনি। আর এই না পারাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ট্র্যাজেডি না রহস্য তা নিয়ে গবেষণাও হতে পারে।

গবেষণা যাদের করার তারা হয়তো করবেন। সেটা ভবিষ্যতের কথা। বর্তমানে আল-শাহরিয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রবাসী। আর প্রবাস জীবনে কোচিংকেই বেছে নিয়েছেন ক্যারিয়ার হিসেবে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমাজ যদি অংক আর সৌন্দর্যের দ্বন্দ্বে সৌন্দর্যের পক্ষ নেয়, তাহলে মনে রাখতে হবে আল-শাহরিয়ারকে। বাহারি খেলা-ই ছিল তার দর্শন। ওটাই ছিল তার কাঙ্খিত ক্রিকেট। জন্মটা আর একটু পরে হলে, টি- টোয়েন্টির এই জমানায় আল-শাহরিয়ার হতে পারতেন বাংলাদেশ দলের বড় এক সম্পদ। ওর চেয়ে ভাল স্ট্রোক মেকার শত টেস্ট খেলা বাংলাদেশ কী পেয়েছে?

ক্রিকেটীয় সম্পদশালী বাংলাদেশ নয়। তিনি ছিলেন ক্রিকেটীয়ভাবে দরিদ্র বাংলাদেশের উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এক সৈনিক। উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটের কাউন্টার পার্ট হিসেবে ভারতীয় দলে যার অভিষেক হয়েছিল সেই সাবা করিমের চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিলেন। শুধু সাবা কেন? তার সময়ে অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক উইকেট কিপার ছিলেন পাইলট। অভিষেক টেস্টে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা পাইলটের চেয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে বেশি সময় ব্যাট করেছিলেন শুধু মাত্র একজন। আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

প্রথম ইনিংসে নট আউটও থাকলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে পরবর্তীতে সেঞ্চুরিও করেছেন পাইলট। অধিনায়কত্ব করেছেন। তবে অভিষেক টেস্ট নিয়ে পাইলটের আক্ষেপ থাকতে পারে একটা কারণে। গ্লাভস হাতে তার কোন ডিসমিসাল ছিল না! বরং ভারতীয় উইকেট কিপার সাবা করিমকে স্টাম্পড করেছিলেন পাইলটের জায়গায় গ্লাভস হাতে নেয়া শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ! তবে ক্রিকেট ছেড়েও পাইলট এখন ক্রিকেটেই আছেন। কোচিং করাচ্ছেন। একাডেমি চালাচ্ছেন। টুর্নামেন্ট আয়োজন করছেন। টক শো করছেন। ক্রিকেটের প্রায় সব জায়গাতেই আছেন তিনি। বলা যায় বিখ্যাত ফুটবলার বাবার ক্রিকেটার ছেলের ডিএনএ-তেই ক্রিকেট।

আরেকজন তার বিখ্যাত ফুটবলার মামা-কে দেখে হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। শেষ পর্যন্ত তিনি হলেন ক্রিকেটার। এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটে যার নামটা অমোচনীয় হয়েই থাকলো। কারণ, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক তিনি। নাঈমুর রহমান দুর্জয় বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চাইলেও কী তার নাম মুছে ফেলা যাবে? তিনি তো ইতিহাসের অংশ হয়েই আছেন। দুর্জয় যখন অভিষেক টেস্টে টস করতে নামলেন, তখনই ক্রিকেট গ্রহে প্রথম বার পা রাখলেন দুই বাঙালি টেস্ট অধিনায়ক! দুর্জয়ের প্রথম টেস্ট।

আর ভারতের অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলিরও ছিল ওটা প্রথম টেস্ট। অধিনায়ক হিসেবে দুর্জয় পরাজিত দলেই ছিলেন। কিন্তু ঐ টেস্ট মনে রাখার জন্য তার ব্যক্তিগত অর্জন কম ছিল না। ভারতের প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন এই অফ স্পিনার। ইনিংসে ছয় উইকেট দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল যার তিনি খুব বেশি দিন টেস্ট খেলতে পারেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে রাজনীতির মেরুকরণ আর ফর্মের বিশ্বাস ঘাতকতা একটু আগেভাগে দাড়ি টেনে দেয় দুর্জয়ের টেস্ট ক্যারিয়ারে।

ক্রিকেট মাঠ ছাড়ার পর নিয়তি তাকে ঠেলে দিয়েছে সেই রাজনীতির মাঠে। পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাবার পথ ধরে রাজনীতিতেই ব্যস্ত এখন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক। দুর্জয় পুরোপুরি রাজনীতিবিদ। বাবার উত্তাধিকার আর ক্রিকেটের সৌজন্যে জাতীয় সংসদের সদস্যও তিনি। ক্রিকেট উত্তর জীবনে রাজনীতিতে কতদূর যাবেন নাঈমুর রহমান তা হয়তো সময় বলবে। তবে দেশের ক্রিকেটীয় রাজসিংহাসনে তিনি বসেই আছেন। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ককে চাইলেও কী ইতিহাস থেকে সরিয়ে ফেলা যাবে?

ইতিহাস। এদেশের ক্রিকেট সমাজ। কে কীভাবে তাকে মনে রাখলেন বা না রাখলেন তা নিয়ে মোটেও ভাবিত নন তিনি। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল বাঁহাতি স্পিনার তিনি। শুধু স্পিনার বলছি কেন, তিনি সফল অলরাউন্ডার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে যিনি সেঞ্চুরি করলেন, সেই বাঁ-হাতি স্পিনারকে অলরাউন্ডার বলবেন না কেন! বাঙালির কাছে মোহাম্মদ রফিক অলরাউন্ডার।

অভিষেক টেস্টে নাঈমুরের অফ স্পিনের সাফল্যের পাশে হয়তো ঢাকা পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে গোটা তিনেক উইকেট নিয়ে ছিলেন। আর বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ইকনোমি রেট ছিল তার। বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি বলও করেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। পরবর্তীতে তিনিই হয়ে গেলেন বাংলাদেশ দলের মূল স্ট্রাইক বোলার। বহু ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু মোহাম্মদ রফিক প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে থাকলেন এক ইনিংসের বোলার!

কারণ, বাংলাদেশের নড়বড়ে ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয় ইনিংসে খুব বেশি ব্যাট করতে হয়নি তার সময়। এই আক্ষেপটা মোহাম্মদ রফিককে নিশ্চিত পোড়ায়। কিন্তু তিনি কতোটা দগ্ধ হন তা বোঝা কঠিন। কারণ, বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে উঠে আসা লোকটা ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার পর এখন বুড়িগঙ্গার মত নিস্তরঙ্গ। ক্রিকেটীয় ঢেউ তার মনের তটে খুব বেশি আচড়ে পড়ে কী! বলা কঠিন। আবার ক্রিকেট একেবারে ভুলে আছেন তাও নয়। ব্যবসা আর কেরানীগঞ্জের ক্রিকেট। এই নিয়ে খুব একটা খারাপ নেই বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পারের বাসিন্দা।

খারাপ নেই বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বল করেছিলেন যিনি। ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন। ক্রিকেট ছাড়ার পর এখন বিসিবির বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক। ব্যবসা, বিসিবির বেতন সব মিলিয়ে ভালই আছেন হাসিবুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তার আক্ষেপ- মানুষ নাকি ভুলেই গেছেন তিনি টেস্ট খেলেছেন! শুধু অভিষেক টেস্ট খেলেননি। এরপর আরো গোটা চারেক টেস্ট খেলেছেন শান্ত।

অভিষেক টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসে কোন উইকেট তিনি পাননি; কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের একমাত্র উইকেটটা তিনি-ই নিয়েছিলেন। আর তাতেই অভিষেক টেস্টে দশ উইকেটের হার এড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তবে নিজের আক্ষেপের ওপর আবার শান্ত নিজেই সান্ত্বনার প্রলেপ বুলিয়ে বলতে পারেন; ‘বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে প্রথম বল করেছি আমি। বিশ্বকাপেও প্রথম বল করেছি দেশের পক্ষে। আর বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ^কাপে গিয়েছিল আমার প্যাড থেকে আসা উইনিং রানে।’ আইসিসি ট্রফিতে শান্তর প্যাড থেকে আসা সেই উইনিং রানের ছবিটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মরণীয় এক ফ্রেম।

তবে অভিষেক টেস্টে নতুন বলে হাসিবুল হোসেন শান্তর পার্টনার ছিলেন যিনি সেই বিকাশ রঞ্জন দাস (পরবর্তীতে মাহমুদুল হাসান) এখন আর ক্রিকেটীয় হিসাব-নিকেশের মধ্যে নেই। তিনি এখন পুরোদস্তুর ব্যাংকার। একটা বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার এক সময়ের টিমমেটরা এখন তাকে নিয়ে প্রায়ই বলেন; ‘ও বল করতো বাঁহাতে। কিন্তু ব্যাংক সামলায় দুই হাতে! দারুণ করিতকর্মা। যেমন কাজ করছেন তেমনি মোটা বেতনও পাচ্ছে।’

ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব বেশি বিকশিত করতে না পারলেও ক্রিকেট উত্তর জীবনে তিনি ভাল আছেন। অনেকের চেয়ে ভাল আছেন। টিমমেটদের কাছ থেকে এই সার্টিফিকেট বিকাশের জন্য খুব কম প্রাপ্তি নয়। তবে বড় প্রাপ্তি অবশ্যই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম এগারতে জায়গা করে নেয়া।

স্ট্যাটটিকস নামক স্ক্যান রিপোর্ট দিয়ে অবশ্য অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেটের চেহারা বোঝার চেষ্টা এখন না করাই ভাল। একুশ শতকের প্রথম দশকের শুরুতে টেস্ট খেলতে নেমেছিল যে বাংলাদেশ, তার ক্রিকেটীয় চেহারা মোটেও আজকের মত ঝকঝকে উজ্জ্বল ছিল না। তবে ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর শুরু হওয়া সেই টেস্টের গুরুত্ব ছিল অনেক। সেদিন যারা বাংলাদেশ ক্যাপ পরে টেস্ট গ্রহে প্রথম পা রেখেছিলেন সেই এগার জনের প্রত্যেকেই নিজের মত করেই ভাল আছেন। তবে নিশ্চয়ই সবাই ভাল আছেন, অন্য একটা কথা ভেবে। তারাই তো টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বংশ।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। শেষ চারের ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন শেষ হয় মাশরাফিবাহিনীর। তবে এ ম্যাচে কোন অতিরিক্ত রান না দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তামিম ও মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে প্রথমে ২৬৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শিখর ধাওয়ানের উইকেট হারিয়ে ৪০.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। আর এ ম্যাচে বাংলাদেশের আটজন বোলার বোলিং করলেও কোন অতিরিক্ত রান দেয়নি। আর এতেই ওয়ানডে ক্রিকেট নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

ওয়ানডেতে এর আগে এ রেকর্ড ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষে। চলতি বছর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৯ রানের ইনিংসে কোন অতিরিক্ত রান দেয়নি দলটি।

আর টেস্ট এ রেকর্ডটি এখনো ভারতের দখলে। ১৯৫৪-৫৫ সালে লাহোরে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রান করে। আর ওই ইনিংসে কোন অতিরিক্ত রান দেয়নি ভারত।

রোমাঞ্চকর জয়ে শুরু আল-আমিনের বাংলাদেশ টাইগার্সের

এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগের আসর বসেছে নেপালে। আজ মাঠে গড়িয়েছে খেলা। উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তান বুলসের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ টাইগার্স। ম্যাচটিতে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে আল আমিনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টাইগার্স।

প্রথমে ব্যাট করে ১৮ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান তোলে বাংলাদেশ টাইগার্স। জবাবে ১৮ ওভার খেললেও ৭ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান বুলসের ইনিংস থামে ৯৮ রানে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ টাইগার্সের অধিনায়ক আল-আমিন। ৩.৪ ওভার খেলা মাঠে গড়ানোর পরই শুরু হয় বৃষ্টি। তাই নির্ধারিত ২০ ওভার থেকে কর্তন করা হয় ২ ওভার। খেলা হয় ১৮ ওভার করে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান আসে কাজী জিসান আহমেদের ব্যাট থেকে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় আফগানিস্তান বুলস। ৫০ রানেই হারিয়ে ফেলে পাঁচ উইকেট। তবে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেষ ১৮ বলে দরকার ছিল ২৯ রান।

কিন্তু আল-আমিনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেটা আর করতে পারেননি আফগানিস্তান বুলসের ব্যাটসম্যানরা। ৯৮ রানেই থেমে যায় আফগানদের ইনিংস। ফলে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ টাইগার্স।

প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম বসেছে এশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি। আয়োজন করেছে ভারতীয় একটি স্পোর্টস কোম্পানি। নাম- আলটিমেট স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট (ইউএসএম)। টুর্নামেন্ট চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। ৬টি দল অংশ নিয়েছে এই টুর্নামেন্টে। দলগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ টাইগার্স, আফগানিস্তান বুলস, দুবাই ওয়ারিয়র্স, ইন্ডিয়ান স্টার্স, নেপাল স্টোর্মস ও শ্রীলঙ্কান লায়ন্স।

প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার পরেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতির বন্যা দেখা যাচ্ছে। ফাইনালের নায়ক ফকর জামানসহ দলের সব ক্রিকেটারকেই আর্থিক পুরস্কার, জমিসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ইউনিস খান বলেন, পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি যেন পূরণ করা হয়। শুধু প্রচারের জন্য যেন পুরস্কারের কথা ঘোষণা না করা হয়।
পাকিস্তানের এক ব্যবসায়ী রিয়াজ মালিক ঘোষণা করেছেন, ফকরকে জমি এবং ১০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা দেবেন। দলের বাকিদের সম পরিমাণ অর্থ এবং ছোটমাপের জমি দেবেন। এই খবর শোনার পর ইউনিস বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে এটা খুব ভাল কথা। কিন্তু রিয়াজ মালিককে মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০৯ সালে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পরও এই ধরণের পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি। তাই অনুরোধ থাকবে, এবার যেন প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়।’

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে একমাত্র তামিম

দারুণ পারফর্ম করে কঠিণ গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠলেও, আইসিসি-র মন গলাতে পারেন নি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তা না হলে, তামিম ইকবাল ছাড়া আর কেউ কেনো জায়গা পাবেন না এবারের আইসিসি একাদশে। অবশ্য একাদশ কেনো, সেটা তো হবে দ্বাদশ। আর দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে, টুর্নামেন্টে ২৪৪ রান করা নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনকে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একাদশে শিরোপা জয়ী দল পাকিস্তানের আছেন চারজন, রানার্সআপ ভারতের ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের তিনজন করে ক্রিকেটার। আর একজন বাংলাদেশের। আর দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-র দল হলো-
শিখর ধাওয়ান (ভারত), ফকর জামান (পাকিস্তান), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), বিরাট কোহলি (ভারত), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান), আদিল রশীদ (ইংল্যান্ড), জুনায়েদ খান (পাকিস্তান), বি. কুমার (ভারত), হাসান আলী (পাকিস্তান) ও কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আর্থারটন, ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, পাকিস্তানের রমিজ রাজা এবং বেশকিছু নামী সাংবাদিক মিলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই দলটি গঠণ করেন।

একধাপ নেমে গেলো বাংলাদেশ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে খেলা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে। তবে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ নিচে নেমে গেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এদিকে, প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে টাইগারদেরকে পেছনে ফেলে ছয় নম্বরে উঠেছে পাকিস্তান।
৯৩ পয়েন্ট নিয়ে ৮ দলের টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে একমাত্র জয়টি পায় মাশরাফির দল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের কাছে হারের পরও ৯৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরেই ছিল তারা। কিন্তু ফাইনালে বিরাট কোহলিদের হারিয়ে ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ছিটকে দেয় পাকিস্তান। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা এখন আছে সপ্তমস্থানে।

৯৩ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে নেমে গেছে শ্রীলঙ্কা। এদিকে, ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কদিন পরেই ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে থাকা ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলবে তারা। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার বাস্তবিক কোনো সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে এই সিরিজে যতটা সম্ভব রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে হবে জেসন হোল্ডারের দলকে। ১১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ১১৭। সেরা পাঁচে আছে ইংল্যান্ড (১১৩) ও নিউজিল্যান্ড (১১১)।
স্বাগতিক ইংল্যান্ড এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা অন্য সাত দল সরাসরি খেলবে ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

পাকিস্তানের সাফল্য: ইমরান-আফ্রিদিদের শুভকামনা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত ও অসাধারণ জয়ে মুগ্ধ সে দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। রবিবার রাতে ওভালে পাকিস্তানের জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট ভেসে উঠতে শুরু করে। ২০০৭-এ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হারা পাক দলের সদস্য ও সম্প্রতি অবসর নেওয়া প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক টুইট করেন, ‘তোমরা আমাদের খুশি ও গর্বিত করেছ। এখান থেকেই ওপরে ওঠা শুরু হোক আমাদের।’

১৯৯২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান খানের প্রতিক্রিয়া, ‘অভিনন্দন পাকিস্তান দল। ফখর জামানের প্রতিভার পরিচয় পেয়ে দারুণ লাগল।’ আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক ও জনপ্রিয় ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদি টুইটারে লেখেন, ‘দুই দেশের সমর্থকদেরই এই ম্যাচটা বহুদিন মনে থাকবে। এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা চিরকাল মনে রাখব।’
ওয়াসিম আকরামের উচ্ছ্বাস অনেকটা এ রকম, ‘ওয়াও…ওয়াও…ওয়াও। সবুজ দলের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জয়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আকাশে উড়ছি।’
অন্যান্য দেশের প্রাক্তনরাও পাকিস্তানের এই জয়ে অভিভূত। কুমার সাঙ্গকারা বলেছেন, ‘পাকিস্তানিদের কলিজার জোরটাই দেখা গেল। নিজেদের উপর আস্থা ও সাহস বুকে নিয়ে খেললে কী হয়, সেটাই দেখা গেল।’ নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথও সরফরাজ আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রাইজমানি

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অর্থ পুরস্কারও বাড়ানো হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর রানার্সআপকে দেয়া হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা- আইসিসি এ কথা জানিয়েছে।
আইসিসি আগেই ঘোষণা করেছিল, এবার মেয়েদের বিশ্বকাপে মোট ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। যা কিনা গত বিশ্বকাপ অর্থাত্, ২০১৩-এর বিশ্বকাপের পুরস্কার অর্থের থেকে ১০ গুন বেশি। যে দুই দল সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেবে, সেই দুই দল প্রত্যেকে পাবে ১,৬৫,০০০ মার্কিন ডলার করে। গ্রুপের প্রত্যেকটি ম্যাচ জেতার জন্য ২০,০০০ মার্কিন ডলার করে আর্থিক পুরস্কার পাবে দলগুলো। আগামীকাল থেকেই বিশ্বকাপের ওয়ার্মআপ ম্যাচ শুরু হয়ে যাচ্ছে। চেস্টারফিল্ডে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, ডার্বিশায়ারে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করার সঙ্গে সঙ্গে এই বিপুল অর্থের জন্যও আগামী ২৪ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে লড়বে বিশ্বের সেরা আটটি দল।

ব্যাটে সেরা শিখর, বলে সেরা হাসান আলি

শিখর ধাওয়ান পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। এমনিতেই সব সময় ব্যাটে ঝড় তোলেন। ঝড় তুলতে পছন্দ করেন। আইপিএল খেলে উঠে আসা ভরতের এই ওপেনার ব্যাট করেন ভয়-ডরহীন। যে কোনো প্রতিপক্ষ, যে কোনো বোলার তার কাছে যেন নস্যি। তার ব্যাটে রান উঠবে এটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে ভারতের আরও ব্যাটসম্যান রয়েছেন, যারা যে কোনো টুর্নামেন্টে সেরা হওয়ার ক্ষমতা রাখে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের মত ব্যাটসম্যানরা যে দলে থাকেন, তাদেরকে ব্যাটিং পাওয়ার হাউজ বললেও অত্যুক্তি হবে না।

এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের তালিকা দেখলে সেটাই প্রতীয়মান হবে। শীর্ষ দুইজন ব্যাটসম্যানই ভারতের। শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা। সেরা পাঁচে রয়েছেন বিরাট কোহলিও। তবুও ফাইনালে ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটেছে ভারতের। পাকিস্তানের কাছে হারতে হলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

 

অন্যদিকে সব সময়ই বোলার জন্মদাত্রী দেশ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান। দেশটিতে রয়েছে যেন পেসারের খনি। অলি-গলি থেকে উঠে আসে পেসার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলটির সেরা পেসার মোহাম্মদ আমির। হাসান আলির নামই জানতো না কেউ। সেই হাসান আলিই এবারের টুর্নামেন্টের সেরা বোলার।

সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী (সেরা ১০)

খেলোয়াড় ম্যাচ রান সর্বোচ্চ গড় ১০০ ৫০
শিখর ধাওয়ান (ভারত) ৩৩৮ ১২৫ ৬৭.৬০
রোহিত শর্মা (ভারত) ৩০৪ ১২৩* ৭৬.০০
তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ) ২৯৩ ১২৮ ৭৩.২৫
জো রুট (ইংল্যান্ড) ২৫৮ ১৩৩* ৮৬.০০
বিরাট কোহলি (ভারত) ২৫৮ ৯৬* ১২৯.০০
ফাখর জামান (পাকিস্তান) ২৫২ ১১৪ ৬৩.০০
কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড) ২৪৪ ১০০ ৮১.৩৩
আজহার আলি (পাকিস্তান) ২২৮ ৭৬ ৪৫.৬০
ইয়ন মরগ্যান (ইংল্যান্ড) ২০৮ ৮৭ ৬৯.৩৩
বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড) ১৮৪ ১০২* ৯২.০০

সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী (সেরা ১০)

খেলোয়াড় ম্যাচ রান উইকেট সেরা গড় ইক.রেট
হাসান আলি (পাকিস্তান) ১৯১ ১৩ ৩/১৯ ১৪.৬৯ ৪.২৯
জস হ্যাজলউড (অস্ট্রেলিয়া) ১৪২ ৬/৫২ ১৫.৭৭ ৫.০৭
জুনায়েদ খান (পাকিস্তান) ১৫৫ ৩/৪০ ১৯.৩৭ ৪.৫৮
লিয়াম প্লাঙ্কেট (ইংল্যান্ড) ১৯৬ ৪/৫৫ ২৪.৫০ ৫.৮৫
আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড) ১৪২ ৪/৪১ ২০.২৮ ৪.৭৩
ভুবনেশ্বর কুমার (ভারত) ১৯৭ ২/২৩ ২৮.১৪ ৪.৬৩
অ্যাডাম মিলনে (নিউজিল্যান্ড) ১৪৬ ৩/৭৯ ২৪.৩৩ ৬.৮৪
নুয়ান প্রদীপ (শ্রীলঙ্কা) ১৮৭ ৩/৬০ ৩১.১৬ ৬.২৩
ইমরান তাহির (দক্ষিণ আফ্রিকা) ৮০ ৪/২৭ ১৬.০০ ৪.৩২
মরনে মর্কেল (দক্ষিণ আফ্রিকা) ৮৭ ৩/১৮ ১৭.৪০ ৪.৩৫

পাকিস্তানকে অভিনন্দন বিরাট কোহলির

বিরাট কোহলির লা জবাব হয়ে যাওয়ারই কথা। যে দলটিকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হেসে-খেলে হারিয়েছে, সেই দলটিই কি না ফাইনালে এসে এভাবে উল্টে গেলো। গ্রেটেস্ট কামব্যাক বুঝি একেই বলে। ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর যে দলটিকে সবাই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল তারাই কি না খেললো ফাইনাল এবং দাপটের সঙ্গেই জিতলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা।

এমন খেলার পর যে কেউ অভিনন্দন জানাবে পাকিস্তান। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বিরাট কোহলিও এর ব্যতিক্রম হবেন কেন! তিনি বরং, প্রতিক্রিয়া জানানো শুরুই করলেন পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানিয়ে।

পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের সময়ই দেখা গিয়েছিল মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা একে অপরের সঙ্গে হাসি-মুখে কথা বলছেন। যুবরাজ-হাফিজরা খুনসুটি করছেন। দেখে কে বলবে, একটু আগে তারা মহারণ শেষ করে এসেছে। পুরস্কার বিতরণের সময় যখন সঞ্চালক নাসের হুসেইন মঞ্চে ডেকে নিলেন বিরাট কোহলিকে, তখন তিনি শুরুতেই অভিনন্দন জানালেন পাকিস্তানকে।

বললেন, ‘দুর্দান্ত একটা টুর্নামেন্ট খেলার জন্য পাকিস্তানকে অভিনন্দন। বাজে একটা শুরুর পর যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে বোঝা যায়, দলটিতে প্রতিভার কমতি নেই। তারা আবারও প্রমাণ করেছে, নিজেদের দিনে তারা যে কাউকে চমকে দিতে পারে।’

নিজেদের হতাশার কথা জানাতে ভুললেন না কোহলি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য অবশ্যই হতাশার। যদিও আমি আমার মুখে হাসি ধরে রাখবো। কারণ, দুর্দান্ত খেলেই আমরা ফাইনালে উঠে এসেছি।’

আবারও পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানালেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। কারণ, তারা আমাদেরকে ম্যাচ থেকে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টেই পুরোপুরি বের করে দিয়েছিল। খেলাধুলায় এমন হতেই পারে। আমরা কাউকেই হালকাভাবে নেই না। এই দিনটিতে তারা ছিল সেরা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসম্ভব সুন্দর খেলা প্রদর্শণ করেছে। বল হাতে আমরা উইকেট নিতে পারিনি। চেষ্টা করেছি নিজেদের সেরাটা খেলতে; কিন্তু বল এবং ব্যাট হাতে তারা ছিল সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী। হার্দিক পান্ডিয়া ছাড়া আমরা কেউই ভালো করতে পারিনি। তার শটগুলো ছিলো দারুণ। বুমরাহর (নো বল) অপরাধটা খুব বড় নয়। এটা ক্রিকেটে ঘটতেই পারে।’

ভারতে এখন গণ-ভিলেন বুমরাহ

ভারতজুড়ে এখন ‘ইস!’ ‘যদি’র আফসোস। ইস! ওই বলটি যদি নো না হতো! ওই একটি বলই তো নো হয়েছে। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে জসপ্রিত বুমরাহ যদি বলটি ওভার স্টেপিংয়ে নো না দিতেন, তাহলে কী ম্যাচের চিত্র এমন হতে পারতো। এতটা একতরফা ম্যাচ কী হয়ে যেতো! ব্যক্তিগত ৩ রানে থাকা ফাখর জামান যদি ওই সময় আউট হয়ে যেতেন, তাহলে ম্যাচটার ভাগ্য কী হতে পারতো?

লন্ডনের কেনিংটন ওভালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল শেষে এখন ভারত জুড়ে গণ আফসোসের মুখে গণ ভিলেনে পরিণত হয়েছে জসপ্রিত বুমরাহ। স্লগ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে থাকেন। প্রতিপক্ষের রান বেধে রাখতে ওস্তাদ। টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠানোর পর কোহলির পরিকল্পনা মতোই কাজ এগুচ্ছিল যেন। কারণ, চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ফাখর জামানকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন বুমরাহ।

উইকেট পাওয়ার আনন্দে মেতে উঠলো পুরো ভারতীয় দল। গ্যালারিতে তখন উল্লাসে ঢেউ। প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছেন ফাখর জামানও। আম্পায়ার ডেকে দাঁড় করালেন। নিয়ম অনুযায়ী আউট হওয়া বল চেক করতে হয়, নো হয়েছে কি না। সেই চেক করতে গিয়েই দেখা গেলো পরিস্কার ওভার স্টেপিং করে ফেললেন বুমরাহ। ফলে নো বল। বেঁচে গেলেন ফাখর জামান।

বাকিটা তো ইতিহাস। আজহার আলির সঙ্গে রেকর্ড ১২৮ রানের জুটি। ১১৪ রানের বিশাল ইনিংস- ফাইনালটাকে শুধুই নিজের বানিয়ে ফেললেন পাকিস্তানের এই নতুন ব্যাটসম্যান।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা তো চেতন শর্মার সঙ্গে তুলনা করে ফেললো বুমরাহর। দু’জনই যে হতাশার ইতিহাসের সঙ্গী। আনন্দবাজার জানাচ্ছে, “শারজায় শেষ বলে ছক্কা খাওয়া চেতন শর্মার জমে থাকা দুঃখ-যন্ত্রণা ভাগ করার জন্য এতদিনে কারও একটা আবির্ভাব ঘটল। ওভালের জসপ্রিত বুমরাহ!

চেতনের বলটা ছিল ফুলটস। পাকিস্তানের জিততে দরকার ছিল ছয় রান। কোমরের উচ্চতায় আসা বল উড়িয়ে দেন মিয়াঁদাদ। আর ওভালে বুমরা এবং ভারতের অভিশপ্ত ডেলিভারি হয়ে থাকল একটি ‘নো বল’।

ওভালে অবশ্য পাকিস্তান রান তাড়া করছিল না, টস জিতে তাদের প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান কোহালি। শুরুতেই সাফল্য এল। বুমরার বলে ধোনির হাতে খোঁচা দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন ফখর জমান।

কিন্তু জায়ান্ট স্ক্রিন দেখাল বুমরা ‘নো বল’ করেছেন। জমান তখন ৭ বলে ৩। পাকিস্তান ৩ ওভারে ৭-১ হয়ে যায়। সেই যে বাঁচলেন বাঁ-হাতি ওপেনার, থামলেন ১০৬ বলে ১১৪ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে। প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। আর সেটা এল কি না ফাইনালে ভারত-পাক ম্যাচে। কী অসাধারণ এক আবির্ভাব!”

ভারতে এখন নো বলের নাম পাল্টে রাখা হচ্ছে ‘বুমরাহ বল’। আনন্দ বাজারই জানাল এমন চাঞ্চল্যকর খবর। পত্রিকাটি লিখেছে, “রোববারের পরে কানে এল ‘নো বলের’ নাম পাল্টে নাকি রাখা হবে ‘বুমরা বল’! ক্লাইভ লয়েড পর্যন্ত লাঞ্চের সময় বলেন, বুমরার ‘নো বল’টাই টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকল।”

তবে ভারতের ম্যাচ হারের পেছনে শুধু বুমরাহর নো বলকেই দুষছেন না বোদ্ধারা। তাদের চোখে পরাজয়ের অন্যতম কারণ টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া। ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ফাইনালেও টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করতে পাঠান সৌরভ গাঙ্গুলি। সেখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। টসের হিসেব ওলটপালট করে দিল বিরাটের ভাগ্যও।

তবু টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে থেকে যাবে বুমরার ‘নো বল’। যেমন ছিল ওয়াংখেড়েতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডল সিমন্সকে সে দিন শুরুতেই আউট করেছিলেন অশ্বিন। এ দিনের মতোই রিপ্লে দেখিয়েছিল, ‘নো বল’ হয়েছে। সে দিন সিমন্স ম্যাচ নিয়ে চলে যান। এ দিন নিয়ে গেলেন জমান।

১৯৮৬’র শারজায় সেই শেষ বলের ছক্কা নিয়ে আজও কথা শুনতে হয় চেতন শর্মাকে। ১৮ জুন, ২০১৭-ও তাড়া করে ফিরবে জসপ্রিত বুমরাহকে।

সেই ইংল্যান্ডেই সাত বছর পর আমিরের ‘শাপমোচন

সেই ইংল্যান্ড, সেই লন্ডন। মোহাম্মদ আমিরের ক্যারিয়ার থেকে সব কেড়ে নিয়েছিল সাত বছর আগে। আমিরের কাছে ইংল্যান্ড এবং লন্ডন তাই অভিশপ্তই। ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পাঁচ বছরের জন্য। সঙ্গে আরও দু’জন সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফ। সেই লন্ডনেই, সাত বছর পর এসে শাপমোচন করলেণ মোহাম্মদ আমির। তার বলের আগুণে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলো পুরো ভারত।

জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ক্রিকেটকেই কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল সালমান বাটরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী পাকিস্তান ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল প্রতিভা মোহাম্মদ আমির। দোষি প্রমাণিত হওয়ার পর পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন। অবশেষে ক্রিকেটে ফিরলেন ২০১৫ সালে।

এক বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রস্তুত করার পর ২০১৬ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে আবারও ক্রিকেটে ফেরেন মোহাম্মদ আমির। ফেরার পর থেকে যেন পুরনো আমিরেরই দেখা মিলছিল। সর্বশেষ রোববার নিজের বলের আগুন ঝরালেন ইংল্যান্ডের মাটিতেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে, ভারতের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে দলকে জিতিয়ে নিজের পাপ মোচন করলেন যেন তিনি।

সাত বছর আগে একদিন যে ইংল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে দল ও দেশের মাথা ছোট করে দিয়েছিলেন, সে দেশ এবং সে শহরে দাঁড়িয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে দলকে বল হাতে নেতৃত্ব দিয়ে জেতালেন পাকিস্তানকে।

ফাইনালে টস জিতে পাকিস্তানকেই ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভারত। ফাখর জামানের সেঞ্চুরিতে ভারতের সামনে ৩৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য বেধে দেয় পাকিস্তান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বলে একে একে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি।

অথচ এই তিন স্তম্ভই গোটা টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের ব্যাটিংকে টেনেছেন। ফাইনালে এসে যেন ইংল্যান্ডের মাঠে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে ফের একবার নিজের ফিরে আসার বার্তা দিলেন আমির।

চিরকালই ভক্ত কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আক্রামের। বল হাতে কিছু করার চেষ্টাও তাকে দেখেই। ছোট থেকেই গলির ক্রিকেটে অভ্যস্ত ছিলেন। পাঞ্জাব প্রদেশের গুজ্জর পরিবারের সন্তান আমির ২০০৭ সালে চোখে পড়ে যান ওয়াসিম আক্রামের। এরপর একে একে ঘরোয়া ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব ১৯ দল হয়ে ২০০৯ সালে পাকিস্তান দলে অভিষেক।

বিশ্ব ক্রিকেট যখন ধীরে ধীরে আমিরকে চিনতে শুরু করেছে, যখন ভাবা হচ্ছে ওয়াসিম আক্রমের পর ফের একজন ভালো বাঁ-হাতি পেসার পেয়ে গেছে পাকিস্তান, সে সময়ই, ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের জড়িয়ে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ বছরের বেশি সময় আমির নষ্ট করে ফেলেন। তবে তাতে তিনি যে দমে যাননি, সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে ছাড়লেন মোহাম্মদ আমির।

ভারতজুড়ে ক্ষোভ আর কান্নার রোল (ভিডিও

পরিস্কার ফেবারিট ভারত। এই ইংল্যান্ড থেকেই তো চার বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে নিয়েছিল ভারত। সেই একই দেশে, একই শহরে এসে আবারও ফাইনালে, ভারতের ১২০ কোটিরও বেশি মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুণতে শুরু করে দিয়েছিল, পাকিস্তান বধ করে আবারও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলে নেবে ভারত।

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারত যেভাবে বৃষ্টি আইনের মাধ্যমে পাকিস্তানবে বিধ্বস্ত করে ছেড়েছিল, তাতে ভারতীয়দের আশায় বসতি করাই স্বাভাবিক। এতবড় ব্যাটিং লাইনআপ। দুর্দর্ষ বোলিং। যে কোনোভাবেই ভারতের হারার কথা নয়। আর আইসিসি ইভেন্ট মানেই তো অন্য কিছু। যেখানে পাকিস্তানের হার অবধারিত।

এমন হিসাব-নিকাশ, পরিসংখ্যান। সব কিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছে দুরমুশ হতে হলো ভারতকে। ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোরের নিচে চাপা পড়ে মাত্র ১৫৮ রানে অলআউট। তাও ৫৪ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হার্দিক পান্ডিয়ার আচমকা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শ’র গন্ডি পার হয় ভারত। শেষ পর্যন্ত পরাজয় মানতে হলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

এমন পরাজয় মেনে নেয়া কঠিন। মেনে নিতে পারছে না ভারতীয়রা। পুরো ভারতজুড়েই জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছিল ক্রিকেট পাগল ভারতীয়রা। সারা দিনের কাজ ফেলে তারা বসেছিল টিভির সামনে। কিন্তু বুমরাহর নো বলের পর ফাখর জামানের সেঞ্চুরি আর পাকিস্তানের ৩৩৮ রান দেখেই আশার গুড়ে অর্ধেক বালি।

বাকি যেটুকু আশা ছিল, সেটাও কেড়ে নিলেন মোহাম্মদ আমির। দুর্দান্ত এক স্পেলে ফিরিয়ে দিলেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি এবং শিখর ধাওয়ানকে। ভারতের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড সেখানেই ভেঙে বাঁকা হয়ে গেছে। যেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি ভারত।

এ অবস্থা দেখে পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ। ক্রিকেট ভক্তরা ক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসে। তাদের সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়ে নীরিত টিভি সেটের ওপর। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষুব্ধ ভক্তরা টিভি সেট ভাঙছেন। কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে কান্না রোল বইয়ে দিতে। পাকিস্তানের কাছে এমন লজ্জাজনক হারে ক্ষোভে পুড়ছে বলতে গেলে পুরো ভারতবর্ষই।

দেখুন ভিডিও

বাংলাদেশে না আসার হুমকি স্মিথ-ওয়ার্নারদের

নানা অজুহাতে বাংলাদেশে সফর পেছানোর ক্ষেত্রে জুড়িমেলা ভার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। তবে, এবার তারা পাকা কথা দিয়েছে, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে দল পাঠাবেই। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে তারা দলও ঘোষণা দিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু এবার বাধ সাধতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। তারা হুমকি দিয়েছে, সময়মত দাবি মেনে না নিলে বাংলাদেশ সফরেই আসবে না তারা। ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হয়ে এই হুমকিটি দিয়েছেন ওপেনার এবং দলের সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

সমস্যাটা মূলতঃ ক্রিকেটারদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের। খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা, রাজস্বের অংশীদারিত্বের বিষয়েই বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ক্রিকেটারদের। নতুন করে যে নীতিমালা প্রনয়ণ করা হয়েছে, তাতে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়া হয়েছে অনেকাংশে। সে কারণেই দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা।

পুরনো চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই। তারও অনেক কম সময়। এরই মধ্যে নতুন চুক্তি করা না হলে বাংলাদেশ সফরে আসবে না বলে হুমকি দিয়ে রাখলেন ওয়ার্নার। নতুন করে চুক্তি না হলে ১ জুলাই থেকে বেকার হয়ে যাবেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। সে ক্ষেত্রে তারা পরবর্তী সফরগুলোতেও না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

নিজেদের দাবি-দাওয়া টেশ করে ডেভিড ওয়ার্নার বলেছেন, ‘আমাদের দাবি বেশ পরিষ্কার, আইসিসির দেওয়া রাজস্বের যে অংশ আগে ক্রিকেটাররা পেত, সেটা আমাদের দিতে হবে। শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য সেই অংশটা ঘরোয়া লীগ খেলা ক্রিকেটার এবং নারী ক্রিকেটারদেরও দিতে হবে। তা না হলে আমরা চুক্তি করব না। আর চুক্তি না করলে বাংলাদেশ সফরে আমরা কেউই যাব না।’

ক্রিকেটার এবং বোর্ডের সঙ্গে এই বিরোধ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরুর আগে থেকেই। এ নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে দেশটির ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) সঙ্গে; কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেই আলোচনা থেকে কোনো ফল বের হয়ে আসেনি।

এ সপ্তাহেই দু’পক্ষের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা, সেখান থেকে ফলপ্রসূ কিছু না এলে আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের কেউ।

মূলতঃ ওয়ার্নার আর স্মিথদের মতো কয়েকজন শীর্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা চুক্তি করতে চেয়েছে বোর্ড। সেখানে তাদের রাজস্বের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ দিতেও চেয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ); কিন্তু ওয়ার্নারা চান এই অংশটা অস্ট্রেলিয়ার সব ক্রিকেটাররাই যেন পায়। এখানেই যত বিরোধ বোর্ডের সঙ্গে। কারণ ওয়ার্নারদের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না তারা।

এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলার সময়ও বোর্ডপ্রধান জেমস সাদারল্যান্ড হুমকি দিয়েছেন চুক্তি না করলে ১ জুলাই থেকে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে সবার। তাতে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ওয়ার্নার। তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে চাই, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য; কিন্তু যদি আমাদের সঙ্গে চুক্তি না হয়, তাহলে এই মৌসুম আমরা কোথাও খেলতে পারব না। শুধু বাংলাদেশ সফরই নয়, অ্যাশেজ সিরিজেও খেলা হবে না আমাদের। চুক্তি না হলে আমরা অনুশীলনও করতে পারব না। সব কিছু থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব। এটা খুব হতাশার খবর হবে যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি না হয়।’

বাংলাদেশ সফরের লক্ষ্যে আগামী ১৮ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা অস্ট্রেলিয়া দলের। ফতুল্লায় তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সফর। ২৭ আগস্ট থেকে মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর।

যে ভুলে হারতে হলো ভারতকে

ভারতই জিতবে। ফাইনাল শুরুর আগে এমনই মনে করছিল সবাই। ভারত জয়ের মঞ্চও যেন তৈরি ছিল। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যেভাবে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল ভারত, তাতে মনে করা হচ্ছিল, ফাইনালে ভারত আসবে, দেখবে, আর জয় করবে। কিন্তু হল ঠিক তার উল্টো।

আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে আট নম্বরে থাকা পাকিস্তান দল ব্যাটে-বলে পুরোপুরি নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল বিরাট কোহলি অ্যান্ড কোংকে। ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ভারতকে।

ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম থেকেই আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান। কখন কী করে বসবে তারা, কেউ জানে না। এমনকি নিজেরাও জানে না এটা। নিজেদের দিনে যে কোনও পরাশক্তিকে হারিয়ে চমকে দিতে পারে পুরো বিশ্বকে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হলও তাই। ব্যাটে-বলে পরাক্রমশালী ভারতকে হেলায় হারিয়ে প্রথমবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঘরে তুলল পাকিস্তান।

ভারত যেন অসহায় আত্মসমপর্ণ করল পাকিস্তানের সামনে। এমন পরাজয়ের মূল কারণ কি ছিল? কোথায় ভুল ছিল ভারতের? ভারতীয় কয়েকটি মিডিয়া খুঁজে বের করেছে সেই ভুলগুলো। একনজরে দেখে নেওয়া যাক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণ…

ভুল দল নির্বাচন 
ইংল্যান্ডের আবহাওয়ায় বল নড়াচড়া করে। তা সত্ত্বেও প্রথম দুটি ম্যাচের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ থেকে দুই স্পিনারে খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিরাট কোহলির দল। উমেশ যাদবকে বসিয়ে, মোহাম্মদ শামিকে একটিও ম্যাচ না খেলিয়ে ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহকে খেলানো হয়েছে। বেশিরভাগ ম্যাচেই পাটা উইকেট হলেও ফাইনালের পিচে কিছুটা বাউন্স ছিল। আর পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা গোটা টুর্নামেন্টেই শর্ট বলে বেশি আউট হয়েছে জেনেও উমেশ বা শামিকে না খেলিয়ে রবিচন্দ্রণ অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজাকে খেলানো হল। পাকিস্তান স্পিন ভালো খেলে জেনেও কোনো হোমওয়ার্ক করেনি টিম ইন্ডিয়া।

 

টসে জিতে ফিল্ডিং 
পাটা ব্যাটিং উইকেটে টসে জিতেও বিরাট কোহলি ফিন্ডিং নেন। এত বড় ম্যাচে সাধারণত বড় রান করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সবাই ভেবেছিলেনও, কোহলি টসে জিতলে ব্যাটিং নেবেন। কারণ পাকিস্তানের ব্যাটিং দুর্বল। স্কোরবোর্ডে ভালো রান তুলে ফেলতে পারলে ম্যাচ এমনিতেই পকেটে চলে আসত। এই পাকিস্তান দল অনভিজ্ঞ। এত বড় ম্যাচে চাপ এরকম চাপ আগে নেয়নি। তা সত্ত্বেও ভুল করল টিম ম্যানেজমেন্ট। টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ম্যাচটাই তুলে দিল পাকিস্তানের হাতে।

অনেক বড় রানের বোঝা 
ভারতের বাজে বোলিংয়ের সুবাদে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান করে। এতবেশি রান তাড়া করে আইসিসি টুর্নামেন্টে এর আগে কোনও দল জেতেনি। আর ফাইনালে তো নয়ই। আর ভারতও সেই রানের বোঝার নিচে চাপা পড়ল। ১৮০ রানের লজ্জার হার হারতে হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে।

মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা 
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিজুড়ে ভারতের প্রথম তিনজন ব্যাটসম্যানই অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দেখিয়েছেন। শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি ফাইনালের আগ পর্যন্ত ব্যাট হাতে দলকে টেনে নিয়ে তুলেছেন। ব্যাট হাতে কোনও না কোনও ম্যাচে এই তিনজনই জিতিয়েছেন। মিডল অর্ডারকে কখনও চাপের মুখে পড়তে হয়নি। অথচ ফাইনালে যখন এই তিনজন ব্যর্থ হলেন এবং প্রয়োজন পড়ল মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। তখন যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি, কেদার যাদবরা মুখ থুবড়ে পড়লেন। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাই এত বড় লজ্জার হারের মুখোমুখি করল ভারতীয় দলকে।

ওয়ার্নের কাঠগড়ায় কোহলির নেতৃত্ব

২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে একই ভুল করেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। টস জিতে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়াকে। একই সঙ্গে ম্যাচটাও যেন তিনি তুলে দিলেন রিকি পন্টিংয়ের হাতে। শেষ পর্যন্ত ৩৫৯ রানের বিশাল স্কোরের নিচে চাপা পড়ে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছিল ভারতকে।

ঠিক একই ভুল করলেন বিরাট কোহলি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে টস জিতে ব্যাট তুলে দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের হাতে। একই সঙ্গে যেন ম্যাচটাই তুলে দিলেন তিনি। এ কারণে, অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তী শেন ওয়ার্নও বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।

শেন ওয়ার্নের কাঠগড়ায় কোহলির টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার সঙ্গে বোলিং পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুললেন। লন্ডনের ওভালে ফাইনালে ধারাভাষ্য দেয়ার সময় ওয়ার্ন সরাসরি প্রশ্ন করে বসলেন, ‘কোহলির বোলিং চেঞ্জ দেখে আমার মনে হয়েছে ওর কোন পরিকল্পনাই নেই ফাইনালের। পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের থামানোর কোনও পরিকল্পনা দেখতে পেলাম না। কোহলিকে দেখে মনে হচ্ছে ক্যাপ্টেন হিসেবে ও দিশেহারা হয়ে গেছে।’

রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে টানা বোলিং করানোরও কঠোর সমালোচনা করেছেন ওয়ার্ন। তিনি বলেন, ‘আমি অশ্বিনের ভক্ত; কিন্তু ফাইনালে ওর বোলিং দেখে আমি দারুণ হতাশ। কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। কোনও বৈচিত্র নেই বোলিংয়ে। সবচেয়ে বড় কথা অধিনায়ক কোহলি মার খাওয়া অশ্বিনকে কেন টানা বোলিং করাল? অশ্বিনকে বসিয়ে অন্য কোনও পার্টটাইম বোলারকেও দিতে পারত। জানি না কী ঘুরছিল কোহলির মাথায়?’

 

বোলারদের কারণেই মূলতঃ হারতে হয়েছে ভারতকে। এ কারণে ভারতীয় বোলিংকে দিশাহীন বলছেন ধারাভাষ্যকাররা। সৌরভ গাঙ্গুলি বললেন, ‘অতিরিক্ত কিছু করতে গিয়েই ভারতীয় বোলাররা নিজেদের চাপে ফেলে দিয়েছে। বুমরাকে দেখে মনে হল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল এবং প্রতিপক্ষ পাকিস্তান- এই দুটো চাপ সামলাতে পারল না। জঘন্য বোলিং ভারতের। একমাত্র ভুবনেশ্বর কুমার ছাড়া আর কোনও বোলার পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখতে পারল না! জানি না কী হল ভারতীয় বোলারদের? সত্যি এত খারাপ বোলিং পারফরমেন্স ভাবা যায় না।’

সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন বললেন, ‘পাকিস্তান দেখিয়ে দিল, ওদের নিচু চোখে দেখা উচিত হয়নি। এই পাকিস্তান সত্যি চমকে দিল ক্রিকেট বিশ্বকে।’

পাকিস্তান নিয়ে সৌরভের মূল্যায়ন, ‘ভারতের বিপক্ষে এজবাস্টনে প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর প্রতিটা ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্ত উন্নতি করেছে। যার প্রমাণ ফাইনাল। দুরন্ত ব্যাটিং। সঙ্গে দুরন্ত বোলিং। দাঁড়াতেই দিল না ভারতকে। মনে রাখতে হবে নবাগত ফাখরের ব্যাটিং। ওকে দেখে কে বলবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাট করল! ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে ওর ফুটওয়ার্ক দেখলাম। যা একজন পরিণত ব্যাটসম্যানের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল। তেমন বোলিং আমিরের। প্রথম বল থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করে গেল।’

সুনিল গাভাস্কার বললেন, ‘এত পরিকল্পনাহীন ভারতীয় বোলিং বহুদিন দেখিনি। অশ্বিন-জাদেজা জুটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনিং জুটিকে ফাখর একাই শেষ করে দিল। এত বাজে বোলিং হলে তখন দলের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপটা স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে। সেটাই হল। ফাইনালে ৩০০ রানে বোঝা সবসময় বেশ কঠিন হয়ে থাকে। সঙ্গে এই পাকিস্তানি বোলিং। কোনও সন্দেহ নেই পাক বোলিংয়ে যা বৈচিত্র রয়েছে তা পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে দেখতে পাওয়া যায় না।’

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিংও মনে করেন ফাইনালে যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ বাজেভাবে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। দেখার মতো, একটা দল যেভাবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের ছাপিয়ে গেল। না, এমন সচরাচর দেখা যায় না। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তান জিতলে সেটাই হবে যোগ্য দলের জয়। সত্যি, ভারতীয় বোলিং চোখে দেখা যায় না। এত খারাপ বোলিং ভারতের এই প্রতিযোগিতায় আগে দেখা যায়নি। পাকিস্তান তিন বিভাগেই ভারতকে টেক্কা দিল।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের প্রাপ্তি ফাখর জামান-হাসান আলি

বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আসে নতুনের বার্তা এবং পুরাতনকে বিদায় দেয়ার জন্য। বিশেষ করে বিশ্বকাপ। তবে, এর বাইরেও কোনো কোনো টুর্নামেন্ট তারকার জন্ম দিতে পারে। যার প্রমাণ এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। প্রায় এক দশক নিজ দেশে ক্রিকেট নির্বাসিত। তবুও ক্রিকেট প্রতিভা কতটা জন্ম দিতে পারে পাকিস্তান, সেটা আরও একবার দেখিয়ে দিলো তারা।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শিরোপা জয় করাই নয় শুধু বিশ্ব ক্রিকেটকে কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল, উদীয়মান ক্রিকেটার উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। যার মধ্যে অন্যতম ওপেনার ফাখর জামান এবং পেসার হাসান আলি।

নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের সেরা প্রাপ্তি এই দুই ক্রিকেটার। শুধু ফাখর জামান আর হাসান আলিই নয়, পাকিস্তানের প্রাপ্তির খাতায় রয়েছেন আরও দু’জন। যারা হয়তো ফাখর জামান আর হাসান আলির ছায়ায় ঢেকে গিয়েছেন। এ দু’জন হলেন স্পিনার শাদাব খান এবং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ।

ফাখর জামানের বয়য়স কম নয়। ২৭। অথচ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেকটা হলো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দলের কৌশল পরিবর্তন করে ফেলে পাকিস্তান। ওপেনার আহমেদ শেহজাদকে দলের বাইরে ছুড়ে ফেলা হয়। নিয়ে আসা হয় নতুন মুখ ফাখর জামানকে। এছাড়া ওয়াহাব রিয়াজের পরিবর্তে দলে নেয়া হয় জুনায়েদ খানকে।

এই দুটি পরিবর্তনই যেন বদলে দিল পাকিস্তানকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দেখা গেলো ভিন্ন চেহারায়। ফাখর জামান অভিষেক ম্যাচে করলেন ৩১ রান। কিন্তু জিতলো পাকিস্তান। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেলো পাকিস্তান। যে জয়ে ব্যাট হাতে অবদান রাখলেন ফাখর জামান। ৫০ রান করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও হাসলো তার ব্যাট। রান করলেন ৫৭টি। অবশেষে জমানো সব পারফরম্যান্স উগড়ে দিলেন ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে। করলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তার গড়া ১১৪ রানের ইনিংসের ওপরই ৩৩৮ রানের ভিত গড়ে ওঠে পাকিস্তানের। জয়ও এলো ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

পাকিস্তানের আরেক প্রাপ্তি পেসার হাসান আলি। মোহাম্মদ আমিরের পর সম্ভবত আরেকজন প্রতিভাবান পেসার পেয়ে গেলো পাকিস্তান। অভিষেক হয়েছে গত বছরই ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২১টি ওয়ানডে খেলেও ফেলেছেন ইতিমধ্যে। তবে নিজেকে চেনালেন এই টুর্নামেন্টে এসে। ভারতের বিপক্ষে ১টি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩টি, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড এবং ফাইনালে ভারতের বিপক্ষেও নিলেন ৩টি করে উইকেট। মোট ১৩ উইকেট নিয়ে হলেন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার।

প্রায় ১৯ বছর বয়সী তরুণ লেগ স্পিনার শাদাব খানেরও অভিষেক চলতি বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। হাতের ঘূর্ণিতে দারুণ কাজ রয়েছে। দারুণ সম্ভাবনাময়ী। ফাইনালে তুলে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব ক্রিকেটে দারুণ লেগ স্পিনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি।

ফাহিম আশরাফ একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছেন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে যেভাবে নিজেকে চিনিয়েছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসে খেলবেন আমির

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতকে কাঁপিয়ে দেওয়া পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমিরকে দলে নিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের পঞ্চম আসর। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনও অনেক দেরি, তবে এখনই ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের নেওয়া শুরু করেছে কয়েকটি দল। বিশেষ করে ঢাকা ডায়নামাইটস জোরেশোরে নেমেছে মাঠে। শহীদ আফ্রিদি, শেন ওয়াটসন, সুনীল নারিনের পর আমিরকে দলে টেনেছে তারা।
স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালে ক্রিকেটে ফিরেছিলেন আমির। ওই বছরের শেষ দিকে বিপিএলের তৃতীয় আসরে তিনি খেলেছিলেন চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে। সেবার বিপিএলে ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নেওয়ার পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান দলে জায়গাও পেয়ে যান এই বাঁহাতি পেসার।

ফাইনাল সেরা ফাখর, টুর্নামেন্ট সেরা হাসান আলি

ফাইনালে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। ভারতের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনিই। টিম ইন্ডিয়ার টপ-অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানকেই সাজঘরে ফেরান আমির। রোহিত শর্মা (০) শিখর ধাওয়ান (২১) ও বিরাট কোহলিকে (৫) আউট করেন তিনি। ৬ ওভারেই ২টি মেডেনসহ ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন আমির।
অনেকেরই হয়তো ভাবনা ছিল আমিরই হতে পারেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু না। পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়া ফাখর জামানই বনে গেলেন ফাইনালের নায়ক। খেলেছেন ১১৪ রানের ইনিংস।
১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ফাখর। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন। ততক্ষণে পাকিস্তানের বড় পুঁজির ভিত গড়ে ফেলে।
এই টুর্নামেন্টে বল হাতে ধারাবাহিক ছিলেন হাসান আলি। ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানি এই বোলার। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ফাইনালে ৬.৩ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ফাইনালে ১৮০ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। প্রথমবারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতল পাকিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তোলে সরফরাজ আহমেদের দল। জবাবে ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হয় ভারত।

নৌবাহিনী ছেড়ে ক্রিকেটে ফাখর জামান

ফাখর জামান ক্রিকেটকে খুব ভালোবাসেন। ছোটবেলায় পড়াশুনার ফাঁকে পাড়ার ক্রিকেটে খেলতেন। তবে জীবনের তাগিদে নৌবাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছিল তাকে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ওই চাকরি চালিয়ে যান। এরপর নৌবাহিনী ছেড়ে ক্রিকেটে ফিরে আসেন তিনি।
ওই বছরই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফাখরের অভিষেক। মুলতানের বিপক্ষে করাচি বুলসের হয়ে। কায়েদ-এ আজম ট্রফিতে অভিষেকেই জাত চিনিয়েছিলেন। চারদিনের ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে ১১৪ বলে ৯টি চারে করেন ৭৯ রান। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ বল খেলে ১২টি চারের সাহায্যে করেন ৮৩ রান।
২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় দলে অভিষেক হয় ফাখর জামানের। টি-টোয়েন্টি দিয়ে পথচলা শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চলতি বছরের ৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষিক্ত ম্যাচে মাত্র ৫ রানেই থামেন তিনি। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৩টি। সর্বসাকুল্যে করতে পেরেছেন ২৬ রান।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ফাখরের পথচলা শুরু চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যায়। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন আহমেদ শেহজাদ (১২)। তাতে কপাল খোলে ফাখরের। শেহজাদের পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একাদশে জায়গা পান তিনি।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ফাখরের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। এরপর থেকে পাকিস্তান একাদশে খেলে যাচ্ছেন তিনি। শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করেছেন, রান সংখ্যা যথাক্রমে ৫০ ও ৫৭।
ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তো আরও উজ্জ্বল ফাখর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিটাও পেয়ে গেলেন তিনি। খেলেছেন ১১৪ রানের ইনিংস। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেন তিনিই।
চার ইনিংসে ৬৩ গড়ে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৫২ রান (আজকের ম্যাচসহ)। ফাখর জামান নিজেকে বড় ভাগ্যবানই ভাবতে পারেন। নৌবাহিনীর চাকরিটা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তটা যথার্থই ছিল! নৌবাহিনীতে থাকলে তাকে ক`জনই বা চিনতেন। এখন ফাখরের খেলা দেখছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। যেভাবে খেলছেন, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

ধাওয়ান শীর্ষে, তামিম তিনে

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে রোববার শিরোপার জন্য লড়বে করতে নামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। শিরোপার লড়াইয়ে ব্যক্তিগত একটা লড়াইও ছিল ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের মধ্যে। দুজন ব্যর্থ হলেও সেই লড়াইয়ে জিতেছেন ধাওয়ান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরে ৫ ম্যাচে ৬৭.৬০ গড়ে সর্বোচ্চ ৩৩৮ রান করে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ধাওয়ান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়া ম্যাচে মাত্র ২১ রান করে মোহাম্মদ আমিরের বলে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ভারতীয় ওপেনার।
ধাওয়ানের চেয়ে ১৩ রানে পিছিয়ে থেকে ফাইনাল খেলতে নামেন রোহিত। তবে কোনো রান না করেই আমিরের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন এই ভারতীয় ওপেনার। সবমিলিয়ে ৭৬.০০ গড়ে ৩০৪ রান করেন রোহিত; টুর্নামেন্টে যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হওয়া হলো না তামিম ইকবালের। বাংলাদেশি ওপেনার ৭৩.২৫ গড়ে ৪ ম্যাচে ২৯৩ রান করে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন; সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর দৌড়ে তামিম রয়েছেন তিন নম্বরে।ধাওয়ান শীর্ষে, তামিম তিনে
২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে সর্বোচ্চ ৩৬৩ রান করেছিলেন ধাওয়ান। এবারও সেরা হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করলেন তিনি। তবে আক্ষেপ হলো- গতবার চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার গোহারা হেরে রানার্সআপ হয়েই ধাওয়ানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
জো রুট এবং বিরাট কোহলি সমান সমান ২৫৮ রান নিয়ে যথাক্রমে চার এবং পাঁচ নম্বরে রয়েছেন। শীর্ষ দশে থাকা অপর পাঁচজন হলেন- ফখর জামান (২৫২), কেন উইলিয়ামসন (২৪৪), আজহার আলি (২২৮), এউইন মরগ্যান (২০৮) ও বেন স্টোকস (১৮৪)।

রেকর্ড গড়েই শেষ করলেন হাসান আলি

হাসান আলি যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হতে যাচ্ছেন সেটি অনুমিতই ছিল। এই পাকিস্তানি পেসারকে কেউ টপকাতে পারেনি। রোববার লন্ডনের ওভালে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে শুধু সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিই হননি; সেইসঙ্গে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন হাসান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন এই পাকিস্তানি পেসার।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নেয়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেরোমি টেলরের দখলে ছিল। ২০০৬ সালের আসরে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন এই ক্যারিবিয়ান পেসার। এবারের আসরে ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে টেলরকে ছাড়িয়ে যান হাসান। টেলরের তুলনায় কম ম্যাচে ১৩ উইকেট নেয়ায় এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় চূড়াতেই রয়েছেন ফাইনালে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেয়া হাসান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরে সবচেয়ে ধারাবাহিক বোলারের নাম হাসান আলি। ৫ ম্যাচে ৪৪.৩ ওভার বোলিং করে ১৯১ রান দিয়ে ১০ সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়েছেন এই পাকিস্তানি পেসার। ওভারপ্রতি ৪.২৯ রান দিয়ে ১৪.৬৯ গড়ে উইকেটগুলো নেন হাসান।
জস হ্যাজলউড ৯ এবং লিয়াম প্লাঙ্কেট ও জুনায়েদ খান ৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষ চারে রয়েছেন। আদিল রশিদ ও ভুবনেশ্বর কুমার নেন সমান সাতটি করে উইকেট।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে ১২টি করে উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা ও পারভেজ মাহরুফ। ১১টি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল ম্যাকক্লেনঘান, জেমস অ্যান্ডারসন, লাসিথ মালিঙ্গা ও ওয়াইন পারনেল। রোববার এদেরকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠলেন হাসান।

ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

দুই দলের প্রথম দেখায় ব্যাটে-বলে সুবিধা করতে না পারা পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। ফাইনালে ভারতের বিপে নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। শিরোপাধারীদের বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ফাইনালে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ফখর জামান আর শেষের ঝড়ে মোহাম্মদ হাফিজ দলকে এনে দিয়েছিলেন বিশাল সংগ্রহ। জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ভারতকে, অসাধারণ বোলিং করা মোহাম্মদ আমির, জুনায়েদ খান, হাসান আলিরা তার ধারে কাছে যেতে দেননি বিরাট কোহলির দলকে।
এক পেশে ফাইনালে উজ্জ্বীবিত পাকিস্তান জিতেছে ১৮০ রানে। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের সেরা ছিল ২০০৫ সালে দিল্লিতে ১৫৯ রানের জয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ার পর আলোচনায় চলে আসে ২০০৩ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে আসা ভারতের বিপে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫৯ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরই ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অজিদের সামনে। ১৪ বছর পর আইসিসির ইভেন্টের আরেকটি ফাইনালে একই পরিণতি বরণ করতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। এবার প্রতিপ অস্ট্রেলিয়া নয়; পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারালো তারা।
লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বিরাট কোহলি। ফখর জামান ও আজহার আলির মধ্যকার সেঞ্চুরি জুটির ওপর ভর করে মজবুত ভিত পায় সরফরাজের দল। এরপর অন্যান্যদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের কোমড় ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১২৫ রানে হেরেছিল ভারত। তবে এবার ব্যবধানটা আরো বেশি। বলতে গেলে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে টিম পাকিস্তান।
ভারতের হয়ে যা একটু লড়াই করেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাহায্যে ৭৬ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। শিখর ধাওয়ান ২১ এবং যুবরাজ সিং ২২ রান করে আউট হন। রোহিত শর্মা (০), বিরাট কোহলি (৫), এমএস ধোনি (৪), কেদার যাদবরা (৯) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হন। পাকিস্তানের হয়ে আমির ও হাসান আলি তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া শাদাব খান দুটি ও জুনায়েদ খান নেন একটি উইকেট।
৩৩৯ রানের ল্েয ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত। সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন ভারতীয় ওপেনার।

প্রথম ওভারে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারত তাকিয়ে ছিল রান তাড়ায় মাস্টার কোহলির দিকে। কিন্তু দলকে চরম হতাশ করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। আমিরের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজহার আলির বদান্যতায় বেঁচে যান কোহলি। কিন্তু পরের বলেই পয়েন্টে শাদাব খানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। শুরুতেই ২ উইকেট হারানোর পর ধাওয়ান ও যুবরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেন আমির। এই পাকিস্তানি পেসারের করা নবম ওভারের শেষ বলে ধাওয়ানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বল জমা পড়লে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া। এরপর যুবরাজ ও ধোনি মিলে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়ে উঠেন। তবে শাদাবের করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে যুবরাজ ফিরে গেলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ভারত। আম্পায়ার প্রথমে লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া না দিলে শাদাব সঙ্গে সঙ্গেই সরফরাজকে রিভিউ নেয়ার জন্য তাড়া দেন। রিভিউতে লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত আসলে কোণঠাসা হয়ে টিম ইন্ডিয়া।
ভারতের শেষ আশা-ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন ধোনি। তবে পরের ওভারে তিনিও পথ ধরেন সাজঘরের। হাসান আলির করা ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ইমাদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে দলকে চরম বিপদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরেন ধোনি। আর তাতেই ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। এরপর দলীয় ৭২ রানের মাথায় শাদাবের করা ১৭তম ওভারের শেষ বলে কেদার যাদব আকাশে বল তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে চরম লজ্জার মুখে পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন পান্ডিয়া ও জাদেজা। এই দুজন ৫৭ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানের মাথায় জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে পান্ডিয়া রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। এরপর দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় পরপর জাদেজা ও অশ্বিন আউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের বড় হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। হাসানের করা ৩১তম ওভারের তৃতীয় বলে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠে পাকিস্তান।
এর আগে টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করা ফখর ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। তার ওপেনিংয়ের সঙ্গী আজহার রানআউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। এছাড়া বাবর আজম ৫২ বলে ৪৬ এবং হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫৭ রান। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।
ভারতীয় একাদশ : রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।
পাকিস্তান একাদশ : আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।

মাশরাফিকে ‘দার্শনিক অধিনায়ক’ বললেন ভারতীয় আইনজীবী

গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দল অনেক উন্নতি করেছে। নিজেদের গড়ে তুলেছে ‘টিম বাংলাদেশ’ হিসেবে। মাশরাফি বিন মর্তুজা নামক জিয়নকাঠির ছোঁয়ায়। তার নেতৃত্বে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ।

এবার তারই অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেললেন টাইগাররা। আইসিসির বৈশ্বিক আসরে প্রথমবারের মতো সেমিতে খেলার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। ১৫ বছর ধরে বল হাতে দারুণ সফল মাশরাফি। নড়াইল এক্সপ্রেস সফল নেতৃত্বেও।

এ তো গেল মাঠের মাশরাফি। মাঠের বাইরে ব্যক্তি মাশরাফি সফল। বেশ জনপ্রিয়ও। ভারতীয় আইনজীবী শশী ঠাকুর যেমন বনে গেলেন মাশরাফির ভক্ত। বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। মাশরাফিকে তো দার্শনিক অধিনায়ক’ই বলে ফেললেন ভারতীয় এই আইনজীবী।

নিজের টুইটার পেজে মাশরাফির একটি ছবি পোস্ট করেছেন শশী ঠাকুর। যে ছবির ওপরে লেখা মাশরাফির একটি উক্তি। যেখানে শ্রমিকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক।

ছবির পাশে মাশরাফির প্রশংসায় টুইটার পেজে শশী ঠাকুর লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের দার্শনিক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্রিকেটের ওপর মানসিক দৃঢ়তার প্রতি সম্মান জানাই। (মাশরাফির মতো) আসল তারকাদের (শ্রমিকদের) প্রশংসা করুন।’ ভারত-পাকিস্তানের মধ্য ফাইনাল উপভোগ করার আহ্বান জানান শশী, ‘ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করুন।’

শশী ঠাকুরের শেয়ার করা ছবির ওপরে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে মাশরাফির উক্তিটি ছিল এমন, ‘তারকা হলেন শ্রমিকরা, দেশ গড়ে ফেলছেন। ক্রিকেট দিয়ে আমরা কি বানাতে পারছি? একটা ইটও কি ক্রিকেট দিয়ে বানানো যায়? একটা ইটও কি ক্রিকেট দিয়ে বানানো যায়? একটা ধান জন্মায় ক্রিকেট মাঠে? যারা ইট দিয়ে দালান বানান, কারখানায় এটা-ওটা বানান বা ক্ষেতে ধান জন্মান, রিয়েল তারকা তো তারাই।’

ফাখর জামানের ব্যাটে রেকর্ড

চলতি টুর্নামেন্টেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক বাঁ-হাতি ওপেনার ফাখর জামানের। তাও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নয়। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। খেলেছিলেন ৩১ রানের একটি ইনিংস। পাকিস্তানের জয়ে সামান্যতম হলেও ভুমিকা রাখলেন। এরপর শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুটি হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে তুলে দিলেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।

কিন্তু ২৭ বছর বয়সী এই যুবার ব্যাট কী তবে ফাইনালের জন্য স্পেশাল কিছু তুলে রেখেছিল! কেউ হয়তো তেমন কল্পনায়ও আনেনি। একে তো নতুন, তার ওপর পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল। সব মিলিয়ে এক ধরনের প্যানিক তৈরি হওয়ারই কথা। সেই প্যানিক কি তৈরি হয়েছিল একবার? ব্যাক্তিগত ৩ রানের মাথায় হার্দিক পান্ডিয়ার বলে যখন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি! আম্পায়ারের নো বল সিগন্যালে সে যাত্রায়া বেঁচে যান।

এরপর ব্যাটকে বানালেন তলোয়ার। কাটলে ভারতীয় বোলারদের। তার ধারালো ব্যাটের সামনে রীতিমত কচুকাটা হতে হয়েছে ভারতীয় বোলারদের। তুলে নিলেন নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। ভারত-পাকিস্তানের এমন হাই ভোল্টেজ ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নেয়া কম কথা নয়। সে কাজটাই করলেন ফাখর জামান।

এই এক সেঞ্চুরিতেই ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন পাকিস্তানের নতুন এই ওপেনার। একই সঙ্গে আজহার আলির সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে গড়লেন দারুণ এক রেকর্ড। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের কোনো ওপেনিং জুটিতে তিন অংকের রান ছিল না। ১৯৯৬ সালে সর্বোচ্চ ৮৪ রানের জুটিটি গড়েছিলেন দুই ওপেনার আমির সোহেল এবং সাঈদ আনোয়ার।

২০০৩ রানে সাঈদ আনোয়ার এবং তৌফিক ওমর করেন ৫৮ রানের জুটি। চলতি টুর্নামেন্টেই এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে ৪৭ রানের জুটি গড়েছিলেন আহমেদ শেহজাদ এবং আজহার আলি।

এবার সব রেকর্ড ভেঙে ফাখর জামান আর আজহার আলি গড়লেন ১২৮ রানের জুটি। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে ওপেনিং জুটিতে এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড।

 

একই সঙ্গে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে সেঞ্চুরি করা ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন তিনি। শুধু তাই নয়, যে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সেঞ্চুরি পাওয়া একমাত্র পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান হলেন ফাখর জামান।

আইসিসি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিলিয়ে ফাইনালে সেঞ্চুরি করলেন মোট ১২ জন। চলতি টুর্নামেন্টেই অভিষেক হওয়া ফাখর জামান তাদের একজন। তার আগে আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র দুই পাকিস্তানি- সাঈদ আনোয়ার (২০০৩ বিশ্বকাপ) ও শোয়েব মালিক (২০০৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি)।

শুরুতেই ভয়ঙ্কর রোহিত শর্মাকে ফেরালেন আমির

৯১, ৭৮, ১২ ও ১২৩*; চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চার ইনিংসে রোহিত শর্মার রানের পরিসংখ্যান। ভারতীয় ওপেনার ব্যাট হাতে কতটা ভয়ঙ্কর, তা বলে দিচ্ছে এই পরিসংখ্যানই। ফাইনালেও তার ব্যাট হাসবে, এমন প্রত্যাশাই ছিল ভারতীয় সমর্থকদের।

 

কিন্তু রোহিতকে আগে বাড়তে দিলেন না মোহাম্মদ আমির। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা পাকিস্তানি এই পেসার শুরুতেই সাজঘরে ফেরালেন ভয়ঙ্কর রোহিত শর্মাকে। আমিরের করা দ্বিতীয় বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন রোহিত। ভারতীয় এই ওপেনার খুলতে পারেননি রানের খাতাই।

বিস্তারিত আসছে…

ওয়ালশের আমলে বোলিংয়ে ‘বেহাল’ দশা

কোর্টনি ওয়ালশ, এক সময়ের দুর্দান্ত একজন পেসার। যার সামনে হিমশিম খেত বিশ্বের সব তাবড় ব্যাটসম্যান। ভালো ইনিংস খেলার আগেই ব্যাটসম্যানদের বিদায় করতেন কোর্টনি। সাবেক এই ক্যারিবিয়ান তারকা দেশের হয়ে ১৩২ টেস্টে ৫১৯টি উইকেট নিয়েছেন। ২০০১ সালে অবসর নেন তিনি। টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে অনেক দিন ছিল কোর্টনি ওয়ালশের নাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রঙ্গিন জার্সিতে ২০৫ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ২২৭টি উইকেট। এছাড়া ২২টি টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ওয়ালশ। এক বুক আশা নিয়ে সেই অসাধারণ প্রতিভার মানুষটিকে করা হয় বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ। স্বপ্ন তাসকিন-মোস্তাফিজদের ধার আরও শাণিত করা। কিন্তু কোর্টনি যোগ দেওয়ার প্রায় ১০ মাস কেটে যাচ্ছে, পেস আক্রমণে তেমন কোনো ফল পাচ্ছে না বাংলাদেশ। উল্টো কেনো জানি ভোতা হয়ে পড়েছে টাইগারদের বোলিং বিভাগ। তবে কি জং পড়েছে পেসারদের হাতে? প্রশ্ন ক্রিকেটবোদ্ধাদের।
কোর্টনির হাত ধরে যাত্রাটা কতটা মলিন সেটা পরিসংখ্যানও সাক্ষ্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হওয়ার পর মাশরাফিরা ওয়ানডে জিতেছে ৭টি। খেলেছে ২০টি ম্যাচ। সাত ম্যাচের মধ্যে বোলারদের হাত ধরে জিতেছে মাত্র চারটি। তাও বড় দলের বিপক্ষে দুটি আর খর্বশক্তির দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতিয়েছেন বোলাররা।

তার ঠিক এক কদম পেছনে ফিরলে বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বাহবা দিবেন অনেকই। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হিসেবে দারুণ সফল ছিলেন হিথ স্ট্রিক। তার সময় মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদের মতো পেসারদের উত্থান বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে সাফল্যের পর ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ে স্ট্রিকের হাতে তৈরি বোলিং আক্রমণের বড় ভূমিকাও ছিল। যে সফল যাত্রা শেষ হয় গেল বছরের মে মাসে।
যদিও পেসারদের সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে উইকেট একটা বড় ফ্যাক্টর। তবু এতটা বিবর্ণ দশা আগে হয়েছে কি বাংলাদেশে দলে। যেখানে বাংলাদেশ একটা সময় ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ গড়লেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে টেক্কা দিতো বোলিং দিয়ে। সেই বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ ধীরে ধীরে যেন প্রাণ হারাচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব পালন করলেও বোলাররা পারছেন কি-না, থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন। উত্তরটা কে দেবে? গুরু নাকি ছাত্ররা!

ভারতকে ৩৩৯ রানের টার্গেট দিলো পাকিস্তান: ফাখর জামানের সেঞ্চুরি

ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ৩ রানেই। আর সেই সংখ্যাটা রূপ দিলেন তিন অঙ্কে। ভাগ্যে থাকলে যা হয়! নো বলের কল্যাণে বেঁচে যান ফাখর জামান। জাসপ্রিত বুমরাহর করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে ফাখর জামান আউট হয়েছেন ভেবে হাঁটা শুরু করেন। আম্পায়ার বলটি চেক করতে গিয়ে দেখেন অবৈধ। মানে, নো বল। আর তাতে জীবন পান ফাখর জামান। পাকিস্তানি এই ওপেনার জীবন পেয়ে সুযোগটা কাজে লাগালেন। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি। ৩১তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি করেন ফাখন জামান। ৯২ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে রয়ে-সয়ে ব্যাট করেছেন। ৬১ বলে প্রথম পঞ্চাশ রান করেন। যেখানে ছিল সাতটি বাউন্ডারি। দ্বিতীয় পঞ্চাশ রান ফাখর তুলেছেন ঝড়ো গতিতেই। মাত্র ৩১ বলেই এ রান তোলেন। এতে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ২টি বিশাল ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে থেমেছেন ফাখর। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন পাকিস্তানি এই ওপেনার।
তার সঙ্গে অন্য ওপেনার আজহার আলীর ৫৯, মোহাম্মদ হাফিজের ৩৭ বলে অপরাজিত ৫৭ রান আর বাবর আজমের ৪৬ রানে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তোলে পাকিস্তান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ভূবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কাদের যাদব ১টি করে উইকেট তুলে নেন।

অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে হাই পারফরম্যান্স দল

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলা নেই বহুদিন। আপাতত জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া আর উঠে আসা খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে নেওয়ার মঞ্চ হাই পারফরম্যান্স দল। এনামুল হক, লিটন দাস, আবুল হাসান, মেহেদী মারুফদের উপস্থিতিতে শক্তিশালী একটি হাই পারফরম্যান্স দল অস্ট্রেলিয়া সফর করবে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দল সব ম্যাচ খেলবে ডারউইনে। তিন দিনের ম্যাচের সঙ্গে খেলবে পাঁচটি ওয়ানডে।
আমরা ১৬ জনের একটা দল দিয়েছি, যারা অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে। আমরা দুটি জিনিস নিয়ে এখানে কাজ করছি, একটা ইমিডিয়েট রিপ্লেসমেন্ট, আরেকটা ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াড। ওই হিসেবেই আমরা খেলোয়াড় দিয়েছি। অভিজ্ঞ কিছু খেলোয়াড়কে ডেকেছি। তার মধ্যে এনামুল হক বিজয় আছে, মেহেদী মারুফ, লিটন দাস, আবুল হাসান আছে। কিছু প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারও আছে। ভালো একটা কম্বিনেশন দাঁড় করিয়েছি। আশা করছি এখান থেকে ভালো একটা ফিডব্যাক পাবো। যেটা আমরা জাতীয় দল, ‘এ’ দলে কাজে লাগাতে পারবো।
ভেন্যু হিসেবে কেন ডারউইনকে বেছে নেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল। অস্ট্রেলিয়ায় যখন মৌসুম শেষ হয় তখন ডারউইনে মৌসুম শুরু হয়। তখন ওখানে অনেক খেলোয়াড় এসে খেলে। ওখান থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে একটা দল গড়ে ওরা আমাদের সঙ্গে খেলবে। কদিন পরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর মাশরাফি বিন মুর্তজা-মুশফিকুর রহিম-সাকিব আল হাসানের দল যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সামনে আছে আরও অনেক খেলা। তার আগে কিছু খেলোয়াড়কে দেখে নিতে চান নির্বাচকরা। হোমে টেস্ট ম্যাচ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ফরম্যাটের খেলা আছে। বড় সিরিজ আছে ব্যাক টু ব্যাক। সে হিসেব মাথায় রেখেই কিছু খেলোয়াড়কে দেখবো। ১০ জুলাই জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পের জন্য ২৯ জনের দল দেবেন নির্বাচকরা। অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে স্টিভেন স্মিথদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে মুশফিকের দল।
ইমিডিয়েট রিপ্লেসমেন্ট কিছু দরকার আছে (জাতীয়) দলে। ঐগুলো যেন আমরা পরিপূর্ণ করতে পারি। সঙ্গে আগামী ১-২ বছরের মধ্যে আমরা কিছু খেলোয়াড়কে জাতীয় দল, আর ‘এ’ দলের জন্য চাই। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফিরে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে যাবে হাই পারফরম্যান্স দল। প্রধান নির্বাচক মনে করেন, এরপরই বোঝা যাবে ঠিক খেলোয়াড়দের উন্নতি কি পর্যায়ে আছে।

পিছিয়ে গেলো বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট

আগামী বছর কোনো বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হবে না। ২০১৮ সালে শীর্ষ দলগুলো নিজেদের মধ্যে সিরিজ খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দিয়েছে আইসিসি। হবে ২০২০ সালে। আইসিসি-র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিটিআইকে এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনও স্বাগতিক দলের নাম ঠিক হয়নি।
তিনি জানান, হ্যাঁ, আমরা আগামী বছরের বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি পিছিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কোনো ভেন্যু এখনও ঠিক করা হয়নি। পিছিয়ে দেয়ার প্রাথমিক কারণ হলো, ২০১৮ সালে বিভিন্ন দেশগুলো নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকবে, সেজন্য সেই সময়ে আইসিসি-র টি-টোয়েন্টি আয়োজনে কোনো সূচি বের করতে পারছেনা। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় হতে পারে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর।
এরআগে, দক্ষিণ আফ্রিকা (২০০৭), ইংল্যান্ড (২০০৯), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১০), শ্রীলংকা (২০১২), বাংলাদেশ (২০১৪) এবং ভারত (২০১৪) সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজক হয়েছিলো।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের দর্শক!

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত আর পাকিস্তান, এ তথ্য সবারই জানা। লন্ডনের ওভালে আজকের ম্যাচটি টিভিতে সারা দুনিয়ার কত লোক দেখবে, এটাও একটা জল্পনা-কল্পনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ম্যাচটি ৫০ কোটি লোক টিভিতে দেখবে? নাকি ১০০ কোটি?
ক্রিকিনফো ওয়েবসাইটে টিম উইগমোর লিখছেন, এর আগেও একাধিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে এমন জল্পনা হয়েছিল, তবে পরে দেখা গেছে প্রকৃত টিভি দর্শকসংখ্যা ছিল ধারণার চাইতে অনেক কম। সবচেয়ে বেশি টিভি দর্শক হয়েছিল ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালের দিন।

ঐ ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিলো ভারত। ক্রিকিনফোর দেয়া জরিপ জানায়, সেই খেলা টিভিতে দেখেছিল ৫৫ কোটি ৮০ লাখ লোক। আর সেই বিশ্বকাপেই ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনাল ছিল সর্বোচ্চ টিভি দর্শকের তালিকায় দ্বিতীয়। আইসিসির দেয়া তথ্য উদ্ধৃত করে ক্রিকিনফো বলছে, আজকের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনাল দেখবে ৩২ কোটি ৪০ লাখ লোক, যা হবে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
ক্রিকিনফো আরো জানাচ্ছে, কোন ক্রীড়ানুষ্ঠানের টিভি দর্শক ১০০ কোটি ছুঁয়েছিল একবারই। সেটি হলো, ২০০৮এর বেইজিং অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন। যাই হোক আসলে দর্শক কত হয় তা তো জানা যাবে খেলা হবার পর। কারণ এই ফাইনাল দেখবেন শুধু ভারত আর পাকিস্তানের লোকেরা নয়। সারা পৃথিবীতে যেখানেই ক্রিকেটভক্ত আছে, তারা প্রায় সবাই আজ দেখবেন এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই।

আশার কথা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত বৃষ্টি আজ খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। লন্ডনে সারা দিন রোদ থাকবে, এবং থাকবে গরম। দুপুর নাগাদ তাপমাত্রা হবে ৩০ ডিগ্রির মতো ।

শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি আজ ভারত-পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল খেলছে ভারত ও পাকিস্তান, আর উত্তেজনায় পুরো বিশ্ব। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। এমনিতেই রাজনৈতিক কারণে প্রতিবেশি দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ক্রিকেট খেলার চল নেই বললেই চলে। যেটুকু হয় তাও সেই আইসিসি-এর টুর্নামেন্টেই। আর তারই সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আজ লন্ডনের ওভালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটা থেকে।
২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালকে ঘিরে ইতিমধ্যে উত্তেজনায় ফুটছে গোটা লন্ডন। আর সেই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। চলতি টুর্নামেন্টেই অবশ্য পাকিস্তানকে হারিয়েছে বিরাট কোহলির দল। তবে সেটা ছিলো গ্রুপ পর্বে। কিন্তু ফাইনাল ভিন্ন ম্যাচ, গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সঙ্গে ফাইনাল মেলান ঠিক নয়।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে সরফরাজ-বিরাট।
রবিবারে ফাইনালের প্রসঙ্গে পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন, ‘আমরা নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী খেলব। ব্যাটিংয়ের থেকেও বোলিং লাইনআপ আমাদের শক্তিশালী। গোটা টুর্নামেন্টে আমাদের বোলাররা ভাল বল করেছে। ফাইনালেও সেটা ধরে রাখতে চাই।’
অন্য দিকে, পাকিস্তানকে সম্মান জানিয়ে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি বলেন, ‘পাকিস্তান বড় দল। ওদের দক্ষতা এবং ক্ষমতার প্রসঙ্গে সকলেই জানে। নিজেদের দিনে যে কোনও দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে পাকিস্তান। তবে আমরা আগের ম্যাচগুলোর মতই খেলব। দলের প্রত্যেকে আশাবাদী ফাইনালে ভাল পারফরম্যান্সের বিষয়।’
অন্যদিকে, পাক সমর্থকদের জন্য সুখবর ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন পেসার মোহাম্মদ আমির। আমির এলে দল থেকে বাদ পরতে হবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলা রুমান রাইসকে। এ ছাড়া পাকিস্তানের দলে পরিবর্তনের কোনও সম্ভবনা নেই।
পাকিস্তানের দলে পরিবর্তন এলেও একই দল খেলবে ভারতের। নিজেদের সেট টিমকেই ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামাতে চলেছে ভারতীয় টিম ম্যানেজম্যান্ট। ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পাওয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিন ফাইনালে মাঠে নামছেন, এমনই সুখবর বিরাজ করছে ভারত শিবিরে।

আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তানের পরিসংখ্যান


ফাইনালের ভেন্যু: দ্যা ওভাল
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু ক্রিকেট মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, উত্তাপ ছড়িয়ে পরে দেশ থেকে দেশান্তরেও। আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান দু’দলই বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। তবে, অধিকাংশ সময়ই ভারতের কাছে হারতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে ছয়বার ভারতের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। কিন্তু একবারও হারাতে পারেনি ভারতকে। এমনকি ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী ইমরান খানের পাকিস্তানও হারাতে ব্যর্থ হয় ভারতকে। ১৯৯২-র পর ১৯৯৬ তেও ভারতের কাছে পরাজিত হয়েছিলো পাকিস্তান। এরপর আর কখনই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। ১৯৯৯, ২০০৩, ২০১১ ও ২০১৫ প্রতিটি বিশ্বকাপেই ভারতের মুখোমুখি হলেও পরাজয় দিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চারবার পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। ২০০৭ সালে পাকিস্তানকে হারিয়েই প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এরপর ২০১২ এবং ২০১৪ তেও ভারতের কাছে নতিস্বীকার করে পাকিস্তান।
তবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের কাছে বারবার হারলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। আইসিসির এই ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে চারবার। যার মধ্যে দুইবার করে জিতেছে দুই দল। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। এরই পুনরাবৃত্তি ঘটে ২০০৯-এ সেঞ্চুরিয়নে। পাকিস্তানের ৩০২ রানের জবাবে ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২৪৮ রানে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে পরিসংখ্যানে উন্নতি ঘটায় টিম ইন্ডিয়া। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ডাক-ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে দুই উইকেটে হারিয়ে দেয় ধোনির ভারত। চলতি চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফিতেও পাকিস্তানকে হার স্বীকার করতে হয় ভারতের সামনে। আর আজকের ফাইনালটি শুধু ট্রফি জেতা নয়, জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা থাকছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে।

ফেরেন নি মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আকাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। তবে দারুণ কিছু সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকায় এসে পৌঁছে মাশরাফির নেতৃত্বে দলটি। তবে দেশে ফেরেন নি মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েস। তাঁরা থেকে গেছেন ইংল্যান্ডেই। সেখানেই তাঁরা ছুটি কাটাবেন কিছুদিন। মাশরাফিদের সঙ্গে ফেরেন নি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। অবশ্য আজ বিকেলেই পরিবারের সঙ্গে অন্য ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর। অপাতত জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই ক্রিকেট থেকে দূরে থাকবেন কিছুদিন।
অবশ্য ঈদের পর শুরু হবে ক্রিকেটারদের নতুন ব্যস্ততা। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। দুটি টেস্ট খেলতে আগামী ১৮ আগস্টে বাংলাদেশে আসছে স্টিভেন স্মিথের দল। গতকাল শুক্রবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চার নারী আম্পায়ার

নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির নাম ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ২৪ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডে হবে নারীদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসর। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩০ দিনের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতির খেলা শেষে পয়েন্টে এগিয়ে থাকা চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল হবে লর্ডসে।
নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১১তম এই আসর শুরু হয়েছিলো ১৯৭৩ সালে, পুরুষ বিশ্বকাপ ক্রিকেটেরও আগে। টুর্নামেন্টে চারজন নারী আম্পায়ারের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। তারা হলেন- ক্যাথি ক্রস (নিউজিল্যান্ড), সুউ রেডফ্রেন (ইংল্যান্ড), ক্লেয়ার পোলোসাক (অস্ট্রেলিয়া) ও জ্যাকুলিন উইলিয়ামস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। এদের মধ্যে ক্যাথি ক্রস চতুর্থবারের মতো নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করতে নামবেন। তবে অন্য তিনজনের এবারই ডেব্যু হচ্ছে বিশ্বকাপে।
নয়জন পুরুষ আম্পায়ার হলেন- গ্রেগরি ব্রেদওয়েট, ক্রিস ব্রাউন, অনীল চৌধুরী, শন জর্জ, অড্রিয়ান হোল্ডস্টক, আহসান রাজা, ল্যাংটন রুসেরি, এস. সৈকত ও পল উইলসন। এদিকে- রিচি রিচার্ডসন, স্টিভ বার্নার্ড এবং ডেভিড জুকস থাকবেন আট দলের এই টুর্নামেন্টের ম্যাচ রেফারি হিসেবে। ৩১ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টের খেলাগুলো হবে, ব্রিস্টল, ডার্বি, লেস্টার এবং টনটনে। আগেই বলা হয়েছে, নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল হবে লর্ডসে।

ফাইনালের আম্পায়াররা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে আম্পায়ারিং করবেন দক্ষিণ আফ্রিকার মারিয়াস এরাসমাস ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড কেটেলবরো। শুক্রবার আইসিসি এই ঘোষণা দিয়েছে। এরাসমাস ও কেটেলবরো ঠান্ডা মাথার জন্য পরিচিত। সেই কারণেই ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজক ম্যাচে তাদেরই আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার। রিজার্ভ আম্পায়ার শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা।
৫৩ বছর বয়সি এরাসমাস প্রাক্তন পেসার। তিনি সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচেও আম্পায়ারিং করেছেন। রবিবার ৭১-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন এরাসমাস। অন্যদিকে, ৪৪ বছর বয়সি কেটেলবরো ৭২-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকবেন।
ইয়র্কশায়ার ও মিডলসেক্সের প্রাক্তন এই ব্যাটসম্যান সেমি-ফাইনালে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচেও আম্পায়ারিং করেছেন। রবিবার তাঁর ৭২-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

ফাইনালে বাজির দরে এগিয়ে ভারত

ব্রিটেনে জুয়া আইনসিদ্ধ, সঙ্গে আছে প্রযুক্তির আশীর্বাদ। দু’য়ে মিলে রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচের উপর অন্তত ২০০০ কোটি টাকার বাজি ধরেছেন জুয়াড়িরা। এমন খবরই জানা গেছে। শনিবার পর্যন্ত পাওয়া খবরে, বাজিকরদের কাছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিশ্চিতভাবেই ফেভরিট ভারত। তবে তাদের কাঁধেই নিঃশ্বাস ফেলছে পাকিস্তান। ভারতের পক্ষে ১০০ টাকা বাজি ধরা হলে, আর কোহলির দল জিতলে পাওয়া যাবে ১৪৭ টাকা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষে একই অঙ্কের টাকা বাজি ধরে জিতলে পাওয়া যাবে ৩০০ টাকা।
অল ইন্ডিয়া গেমিং ফেডারেশন-এআইজিএফের সিইও রোল্যান্ড ল্যান্ডারস বলেন, “প্রতিবছর ভারত সবমিলিয়ে যতগুলি ম্যাচ খেলে, তার উপর অন্তত ২ লক্ষ কোটি টাকার বাজি ধরা হয়। আর আগামিকাল রবিবারের ম্যাচের দিকে তো জুয়াড়িরা রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছেন। গত ১০ বছর ধরে কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়নি। এতে রবিবারের ম্যাচে আরও টাকা লগ্নি করতে মুখিয়ে আছেন জুয়াড়িরা।”
তবে শুধু যে ফাইনাল ম্যাচের ফলাফলের উপরেই কোটি কোটি টাকার বাজি ধরা হয়েছে এমনটা নয়, বাজি ধরা হবে ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত মোট রান, উইকেটের উপরেও। বা ১০ ওভার শেষে কোন টিম এগিয়ে থাকবে তার উপর। এমনকী, কোন খেলোয়াড় কত নম্বরে ব্যাট করতে নামবেন, তার উপরেও ধরা হবে কোটি টাকার বাজি।
ভারতে ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে জুয়া বেআইনি হলেও একাধিক ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মারফত ভারতীয়রা তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড, ই-ওয়ালেট ব্যবহার করতে বাজি ধরতে পারবেন। এবং ধরছেনও।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: ফাইনাল কাল

রবিবার সকাল থেকে একদা ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা দ্বিখন্ডিত দুটি দেশের মানুষ উত্তেজনার আঁচে ফুটতে ফুটতে জ্বলন্ত উনুনের মতো ফুটবে থাকবে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে এই দুটি দেশের ক্রিকেটারদের এই সম্মুখসমর শুধুমাত্র ব্যাট বলের লড়াই নয়, এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িত ভারত ও পাকিস্তানের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের আবেগ, সম্মান ও আত্মমর্যাদা। আসন্ন সুপার সানডেতে ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের দ্য ওভালে দ্বৈরথে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান।
দু’দেশের মানুষ সকাল থেকে মন্দির-মসজিদে প্রার্থনা করবেন প্রিয় দলের জয় দেখার জন্য। প্রায় সোয়া শ’কোটি ভারতবাসীর প্রকৃত দেশাত্মবোধ জেগে ওঠে ক্রিকেট মাঠে ‘টিম ইন্ডিয়া’ খেললে। গ্রুপে তিনটি ম্যাচে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে জেতা ইংল্যান্ডকে সেমি ফাইনালে পাকিস্তান হারিয়েছিল ১৩ ওভার বাকি থাকতে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। এই রেজাল্ট কোনও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের দূরতম কল্পনাতেও প্রশ্রয় পায়নি। ওপেনার ফকর জামান, হাসান আলি, রুমন রইসদের এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কে চিনত? আবার এই পাকিস্তান দলই গত ৪ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’র প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে কাটা কলাগাছের মতো নেতিয়ে লুটিয়ে পড়ে হেরেছে। সেই পরাজয়কে একপেশে বললে খুব কম বলা হয়।
নিয়মিত প্র্যাকটিসে তেমন ঘাম না ঝরিয়েও কোহলি ব্রিগেড কিন্তু এই টুর্নামেন্টে পিক ফর্মে রয়েছে। টপ ব্যাটিং অর্ডার চাবুক ফর্মে রয়েছে। ভুবনেশ্বর, বুমরাহ, কেদার, অশ্বিনরা মনে হয় না পাক ব্যাটসম্যানদের মাথা তুলতে দেবেন, তবে মোহাম্মদ আমির চোট সারিয়ে দলে ফিরলে পাক পেস আক্রমণকে ইংল্যান্ডের মাঠে এই নির্জীব উইকেটেও সমীহ করতে হবে। যদিও ব্যাটিং শক্তিতে রোহিত, শিখর, বিরাট, যুবি, ধোনিরা পাক ব্যাটসম্যানদের তুলনায় ‘ম্যান এগেইনস্ট ম্যান’ সুপিরিয়র। তাই ফাইনালে ভারত হেরে গেলে সেটা অঘটন রূপেই বিবেচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বীরের বেশে দেশে টাইগাররা

ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান দলটিই আরো ভালো খেলবে বলে মনে করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে দেশে ফিরে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
প্রথমবারের মতো কোন বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেললো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে পেছনে ফেলে গ্র“প অব ডেথ থেকে শেষ চারে খেলাটা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই সেরা সাফল্য। তারপরও সন্তষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বলেন, এই পারফরম্যান্স নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ফিরে আসাটা বেশ স্বস্তির। ভালো লাগছে। তবে সুযোগতো ছিলো ফাইনালে ওঠার। নকআউট পর্বে সবসময়ই সুযোগ থাকে। সুযোগটা নিতে পারিনি। আশা করি সামনে আরো বড় বড় টুর্নামেন্ট আছে, বড় বড় সিরিজ আছে। সেগুলোকে ব্যবহার করা গুরুত্বপূন এখন। ইনশাআল্লাহ সামনে এমন সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে পারবো। আর কঠিণ একটা গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে পিছনে ফেলে সেমিফাইনালে খেলাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ এতো প্রাপ্তির মধ্যেও হতাশা গ্রাস করছে মাশরাফিকে। সেটা হলো পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারার। ‘ভালোতো লাগছেই। তবে কিছুটা খারাপ লাগাও আছে। যেহেতু একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আরেকটা ম্যাচ খেলতে পারতাম। সেটা না হওয়াতে অবশ্যই হতাশ। তবে তার মানে এই নয়, এখানেই থেমে যাচ্ছি আমরা। এখন সামনের টুর্নামেন্ট সুযোগগুলো কাজে লাগানোই ইমপরটেন্ট।’
মাশরাফি জানান, মূলতঃ অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সই এবার টাইগারদের এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। সেখানে মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমানরা পুরোপুরি ব্যর্থ। তবে সমালোচনা নয়, বরং তরুণদের হয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। বললেন, ‘দেখেন তরুনদের জন্য এইসব স্টেজ এতো সহজ না। এট দ্য সেইম টাইম বলবো তাদের ইমপ্র“ভও করতে হবে। সিনিয়রদের ভালো খেলাটা খুবই জরুরী। ইয়াংদেরও ভালো খেলতে হবে। যেটা হয়তোবা আশানুরুপ হয়নি। আশা করি যে দলটা আছে ২০১৯ বিশ্বকাপ যদি বলেন, তখন অনেক বেশী রেসপনসিবিলিটি নিয়ে খেলতে পারবেন। অনেক ম্যাচুরড হবে দুই বছর পরে। তখন অবশ্যই ওদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। এখন আসলে ইমপ্র“ভ করার সময়। যে লেভেলে খেলতে পেরেছে। ওদের উচিত এখান থেকে আরো ইমপ্র“ভের চেষ্টা করা। সো এটা যদি তারা সিরিয়াসলি নিতে পারি। আমি শিউর ওরা আরো ভালো খেলতে পারবে।’
দেশ সেরা এই পেসারের বিশ্বাস, বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান দলটিকে আরো এগিয়ে নেবে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ২০১৫ নাকি ২০১৭ টুর্নামেন্ট কোনটা সেরা। ২০১৫ তে সুযোগ ছিলো ভুল শোধরানোর। তবে সেখানে ৮ দল সুযোগ ছিলোনা। দুটোই সমান গুরুত্বপুর্ণ টুর্নামেন্ট ছিলো আমাদের জন্য।’ মাশরাফি আরো বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার যেটা বললাম, আপনি যদি দেখেন, এখানে দুটা এক্সটা অর্ডিনারি ইনিংস খেলার জন্যই আমরা সেমিতে গেছি। একজন প্লেয়ার হিসেবেই বলছি, এটাই হওয়া উচিত। টিম হিসেবে আরো ভালো খেলা উচিত ছিলো। যেটা আমরা পারিনি। তবে নেক্সট টাইম আমাদের আরো ম্যাচিউরড খেলতে হবে। বোলাররা যারা আছে, তাদের আরো ভালো বল করতে হবে। এ ধরনের ফ্লাট উইকেটে কিভাবে বল করতে হয়, এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। এখন সেদিকেই নজড় দেয়া উচিত। প্রস্তত হওয়া ফিজিক্যালি, মেন্টালি, স্কিলডওয়াইজ।’
দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে দেশে ফিরে আপাতত বিশ্রামে থাকছেন ক্রিকেটাররা। তবে ঈদের পরই শুরু হবে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন।

অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে ১৮ আগস্ট

বছর খানেক আগে নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ওই সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের। এরপর অবশ্য সূচিটি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথাও জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

সব ভাবনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই টেস্ট দুটি খেলতে আগ্রহী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দিনক্ষণও নির্ধারিত হয়েছে। দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে ১৮ আগস্ট। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্যই জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

টেস্ট মাঠে গড়ানোর আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। প্রস্তুতি ম্যাচটা দুই দিনের। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি গড়াবে ২২ আগস্ট। চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত।

টেস্টের লড়াই শুরু হবে ২৭ আগস্ট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গড়াবে প্রথম টেস্ট। ম্যাচটি শেষ হবে ৩১ আগস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

প্রাপ্তির ঝুলি নিয়ে দেশে ফিরল টাইগাররা

ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে আজ দেশে ফিরলেন মাশরাফি-সাকিবরা। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের বহন করা বিমান এক ঘণ্টা দেরিতে অবতরণ করে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের। এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মত র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠে আসে মাশরাফিবাহিনী।

এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে ২৭ এপিল ঢাকা ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প শেষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড যায় টাইগাররা। সেখানে আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও জয় পায় বাংলাদেশ।

এরপর ২৫ মে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে ফিরে বাংলাদেশ। সেখানে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ১ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট অর্জন করে। আর ৯ জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সেমিফাইনালের টিকেট। তবে ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যায় টাইগাররা।

পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের। আর ভারতের বিপক্ষে হেরে ১ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েও র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে রয়েছে মাশরাফিবাহিনী।

তবে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে। এ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান জিতলেই ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে সাতে চলে যাবে পাকিস্তান।

তবে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে এক রেটিং পয়েন্ট কমবে পাকিস্তানের। ৯২ পয়েন্ট নিয়ে আটে নেমে যাবে দলটি। এদিকে ৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাতে উঠে আসবে বর্তমানে অষ্টম অবস্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা। অপরিবর্তিত থাকবে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এবং র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান। তাই ফাইনালে পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ।

উল্লেখ্য, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে র্যা১ঙ্কিংয়ে ওপরে থাকা অন্য সাতটি দল। আর ভারতের কাছে হেরে ১ পয়েন্ট খোয়ালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা থাকছে বাংলাদেশের।

সেমিফাইনাল খেলাই বড় প্রাপ্তি : মাশরাফি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেই স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে নিজেদের গ্রুপকে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। আর কঠিন এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলাকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। শনিবার দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মত দলকে পেছনে ফেলে আমরা সেমিফাইনাল খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

এদিকে এ রকম বড় আসরে প্রথমবারের মত সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে আরও ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাশরাফি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আরও উন্নতি করতে হবে। আমাদের আরও শিখতে হবে। আর এ অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে ভালো করতে সাহায্য করবে।’

দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্সে খুশি কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। যদিও দলের জুনিয়র ক্রিকেটাররা খুশি করতে পারেনি তাকে, তবে সিনিয়রদের পারফরমেন্সে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। সৌম্য সরকারের পারফরমেন্স নিয়ে খুবটা চিন্তিত না হলেও, সাব্বির রহমানকে হুশিয়ার করে দিলেন হাথুরুসিংহে। বললেন, টিকে থাকতে ভালো করতে হবে পারফরমেন্স।
এদিকে, সেমিফাইনালে আগে একই হোটেলে ছিলো বাংলাদেশ ও ভারত এই দুই দল। তবে বাংলাদেশ দল দেশের উদ্যেশ্যে রওনা হওয়ার আগেই হোটেল ছেড়েছে ভারত। তবে তারা অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে। দুই দলের গন্তব্যও ভিন্ন। ওভালে ফাইনালের উদ্যেশ্যে ভারত। আর বাংলাদেশ ফিরছে দেশে। টানা ৫০ দিন দেশের বাইরে টাইগাররা। তবে এবারের সফরটা খারাপ খারাপ যায়নি টাইগারদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠাটা বড় সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে পরাজয়টা হতাশার হলেও অস্বাভাবিক নয় কোচের কাছে। তিনি জানান, ছেলেরা বেশ ভালো খেলেছে। কিছু সময় ম্যাচটি নিজেদের মধ্যেও ছিলো। কিন্তু শেষের দিকে সেটা আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। দলের সিনিয়ররাও চমৎকার পারফরমেন্স করেছে। তা না হলে কে-ই বা ভাবতে পেরেছে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলবে।’
দলের পারফরমেন্স ভালো হলেও তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে খুব একটা খুশি নন কোচ। বিশেষ করে সাব্বিরের পারফরমেন্সে হতাশাই ঝড়েছে তার কন্ঠে। ‘হ্যাঁ, কখনো কখনো এমন হয়। ভারতের বিপক্ষে ভালোই খেলছিলো ওয়ান ডাউনে নামা সাব্বির। কিন্তু অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে সে দলের সর্বনাশটাই করে আসলো। দলের প্রয়োজনেই সবাইকে খেলতে হবে। তেমনটা হলে ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।’
বার্মিংহাম থেকে দুবাই হয়ে আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশে ফিরছে বেশিরভাগ ক্রিকেটার। তবে দলের সঙ্গে ফিরছেন না কোচ হাথুরুসিংহে। ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন তিনি। ৫০ দিন দেশের বাইরে কাটিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ফিরেই ঈদের ছুটিসহ চার সপ্তাহের লম্বা ছুটিতে যাবেন তারা।

বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। সিরিজের দুটো টেস্ট খেলতে আগামী ১৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসছে স্টিভেন স্মিথের দল। ২২ থেকে ২৪ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায়, বিসিবি একাদশের সঙ্গে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ১৭ অগস্ট মিরপুরে হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
বাংলাদেশ সফরের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন পেসার মিশেল স্টার্ক। ভারত সফরে দুর্দান্ত পারফর্ম করা স্টিভেন ও’ক্যাফেও।
২০১৬ সালে প্রথম টেস্ট খেলার পর চোটের জন্য ছিটকে যাওয়া পেসার জেমস প্যাটিনসন দলে জায়গা ফিরে পেয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া হিলটন কার্টরাইটকে এ বার দলে রেখেছে অসিরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩৭ রান করেছিলেন কার্টরাইট। তবে শেফিল্ড শিল্ডে রয়েছে ৮৬১ রান তাঁর।
ভারতের সঙ্গে চার টেস্টে ভাল পারফর্ম না করায় বাদ পড়েছেন ব্যাটসম্যান শন মার্শ। আট ইনিংসে মার্শের গড় ছিল ১৮.৮১। এ ছাড়া চোটের কারণে মিচেল সুইপসন, পেসার জ্যাকসন বার্ড, মিচেল মার্শ ও মার্কাস স্তইনিস বাদ পড়েছেন।
বাংলাদেশ সফরে স্পিনার হিসেবে নাথান লিয়ঁওর সঙ্গে হাত ঘোরাবেন অ্যাশটন অ্যাগার। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলেন তিনি। ব্যাটসম্যান হিসেবে ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, উসমান খজা, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ব্যাটসম্যান থাকছেন বাংলাদেশ সফরে।

ভারতের বিপক্ষে সফল ব্যাটসম্যানদের তালিকায় তামিম

ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আইসিসি আয়োজিত এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে যে কয়জন সেরা ব্যাটসম্যান রয়েছেন, তাদের মধ্যে তামিম ইকবাল অন্যতম। আরো খোলাসা করে বললে বলা যায় তামিম তৃতীয়। এটি মূলত নির্ধারণ করা হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার উপর ভিত্তি করে।

২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে ও একবার আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিম ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন। রান করেছেন ২১৬টি। ভারতের বিপক্ষে তামিমের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৩টি। ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এরপর ঘরের মাঠে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন ৭০ রানের ইনিংস। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মেলবোর্নে খেলেছিলেন ২৫ রানের একটি ইনিংস। আর আজ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে তিনি খেললেন ৭০ রানের ইনিংস। চার ম্যাচে তামিমের মোট রান ২১৬ (৫১+৭০+২৫+৭০)।

এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তিনি ভারতের বিপক্ষে ৯ ইনিংস খেলে করেছেন ৫১৩ রান। পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৪টি। তার মধ্যে ২টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ১৪০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। তিনি ৪ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৭৭ রান। পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৩টি। কোনো সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ রান ৯৭।

তবে এই তিনজনের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন তামিম। তামিমের স্ট্রাইক রেট ৮৭.৮০। রিকি পন্টিং রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার স্ট্রাইক রেট ৮৭.০৯। আর জ্যাক ক্যালিসের স্ট্রাইক রেট ৭৫.৪৭।

ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান

হট ফেবারিট ইংল্যান্ড বধ করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শিরোপা নির্ধারণীতে পা রাখলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্যটা ৯.৫ ওভার হাতে রেখে অনায়াসেই টপকে যায় টিম ইন্ডিয়া। রোহিত শর্মা ১২৩ ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৯৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

এর মাধ্যমে পুরোদুস্তর দক্ষিণ এশিয়ার ফাইনালে পরিণত হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। পাশাপাশি আরেকবার ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটভক্তরা। রোববার (১৮ জুন) লন্ডনের কেনিংটন ওভালে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে।

ফাইনাল সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী জয়ই পেল ভারত-পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। বার্মিংহামে টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপের চতুর্থ ম্যাচে গত ৪ জুন ম্যাচটি ডিএল পদ্ধতিতে ১২৪ রানের উড়ন্ত জয় পেয়েছিল কোহলির দল। শিরোপা লড়াইয়ে সরফরাজ আহমেদদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

গ্রুপ সেরা ভারতের বিপক্ষে সেমিতে মুখোমুখি হয় অপর গ্রুপের রানারআপ বাংলাদেশ। সহজ জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে অনীল কুম্বলের শিষ্যরা। এর আগে গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ হেরেছে ভারত। সেটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বাকী আরেকটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল কোহলির দল।

অন্যদিকে, একই গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণার আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপ রানার আপ হয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বলতে গেলে অসহায় আত্মসমর্পণই করেছে স