ভোর ৫:১১, মঙ্গলবার, ২২শে মে, ২০১৭ ইং

কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত নভোএয়ার-বিপিজিএ কাপ গলফ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাদল হোসেন। প্লে-অফে দুলাল হোসেনকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো প্রোফেশনাল গলফের শিরোপা জিতলেন তিনি।
চার রাউন্ড শেষে দুলাল হোসেন ও বাদল হোসেন উভয় গলফারই ‘৫ আন্ডার পার’ খেলে লিডারবোর্ডের শীর্ষে জায়গা করে নেন। তাই শিরোপা নির্ধারণের জন্য প্লে-অফ করা হয়। কিন্তু প্রথম প্লে-অফেও টাই হয়ে যায়। তবে দ্বিতীয় প্লে-অফে কোর্সের ১৮নং হোলে বার্ডি পেলে শিরোপা নিশ্চিত করেন সাভারের গলফার বাদল হোসেন। রানার আপ হয়েছেন দুলাল। ‘৩ আন্ডার পার’ খেলে তৃতীয় হয়েছেন তারকা গলফার জামাল হোসেন মোল্লা।

এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন দেশ সেরা ৭৯জন পেশাদার গলফার। এছাড়া ১১জন সৌখিন (ছেলে) এবং ১৩জন সহযোগী সদস্য (ছেলে ও মেয়ে) অংশ নিয়েছিলেন। সৌখিন বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন শাহআলম। আর সহযোগী সদস্যদের মধ্যে প্রথম হন মেজর আরমান হোসেন (অব.) ও ইয়াসমিন রহমান। বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। চ্যাম্পিয়ন বাদলের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ হীল বাকী, পৃষ্ঠপোষক নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রোফেশনাল গলফারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল (দিপু), সেক্রেটারী জেনারেল ব্রি. জে. জিএম কামরুল ইসলাম।
চ্যাম্পিয়ন বাদল হোসেন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো প্রোফেশনাল গলফের শিরোপা জিততে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এর আগেও একবার আমি প্লে-অফে হেরে গিয়েছিলাম। তবে এবার মানসিকভাবে অনেক শক্ত ছিলাম। যে কারণে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছি। ভবিষ্যতে আমি আরও ভালো করতে চাই। আমার লক্ষ্য এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জেতা।’
প্রধান অতিথি বীরেন শিকদার বলেন, ‘গলফ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এক খেলা। ইতোমধ্যেই আমরা ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশ্বে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। আমাদের সিদ্দিকুর রহমান গলফে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। আশা করছি ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন তারকা আসবে। গলফ বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।’
ব্রি. জে. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গলফের উন্নয়নে আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, ক্রিকেটের পরই এখন গলফ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে শক্ত জায়গা করে নিয়েছে। সিদ্দিকুর রহমান সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন। সিদ্দিকুরের মতো আরও নতুন নতুন তারকা গলফার উঠে আসুক, সে জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
মফিজুর রহমান বলেন, ‘গলফ এগিয়ে যাচ্ছে। একটা দেখতেই ভালো লাগছে। বিপিজিএ-র সঙ্গে এমন একটি টুর্নামেন্টে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত।’

আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন সিদ্দিকুর

তৃতীয় রাউন্ডের শুরু আর শেষটা দুই রকম সিদ্দিকুর রহমানের। দুটি বগি দিয়ে শুরু। অথচ দিন শেষ তার ৬ বার্ডি দিয়ে। যা বগির দ্বিগুণ। এমন একটি দিন পার করে বাংলাদেশের এ গলফার নিজের আশাটাও বাঁচিয়ে রেখেছেন ঘরের কোর্সে।

তৃতীয় রাউন্ড শেষে লীডারবোর্ডে সিদ্দিকুর তৃতীয় স্থানে। পারের চেয়ে ৮ শট কম খেলেছেন দুটি এশিয়ান ট্যুর জয়ী দেশসেরা এ গলফার। শীর্ষে আছেন থাইল্যান্ডের জাজ জানেওয়াত্তানানোন্দ। তিনি খেলেছেন পারের চেয়ে ১৩ শট কম। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের গলফার শুভংকর শর্মা খেলেছেন পারের চেয়ে ৯ শট কম।

শেষ দিনে নাটকীয় কিছু দেখতে অপেক্ষায় স্বাগতিক দর্শকরা। শীর্ষে থাকা জাজের দিনটা খারাপ কাটলে আর সিদ্দিকুর যদি ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখতে পারেন তাহলে শিরোপা লড়াইটা আরো জমে উঠবে। তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান ট্যুর জেতা না হলেও অন্তত দ্বিতীয় হওয়াটা কঠিন নয় সিদ্দিকুরের জন্য।

যে সিদ্দিকুর এখন শিরোপা জয়ের কথা ভাবছেন, তার শুরুটা হয়েছিল কী বাজেভাবে। প্রথম রাউন্ড শেষে ছিলেন ২৯ তম। দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে পঞ্চম এবং তৃতীয় রাউন্ড শেষে তৃতীয়। দুর্দান্তভাবে ফিরে এসে সামনে থাকা দুই গলফারকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন সিদ্দিকুর।

তৃতীয় রাউন্ড শেষে সিদ্দিকুর বলেছেন, ‘দুটি বগি দিয়ে শুরু। অনেকের কাছে খারাপ শুরু। তবে আমি খারাপ বলবো না। এটা খেলারই অংশ। অন্যভাবে যদি বলি, ওই শুরুর দুই বগি আমার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ভালোভাবে ফিরে এসেছি। একদিন হাতে আছে। আমি রোমাঞ্চকর কিছুই আশা করছি।’

আশানুরূপ সূচনা হলো না সিদ্দিকুরের

তার হাত ধরেই বাংলাদেশের গলফ পরিচিতি লাভ করেছে বিশ্ব দরবারে। সেই সিদ্দিকুর রহমানকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। তবে বছরের শুরুটা আশানুরূপ হলো না তারকা এই গলফারের।

এশিয়ান ট্যুরের প্রথম আসরের প্রথম দিনটি সিদ্দিকুরের কেটেছে হতাশায়ই। যৌথভাবে ৮৯তম স্থানে থেকে এই দিনের খেলা শেষ করেছেন দেশসেরা গলফার।

বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের সেসোন্তা গলফ ক্লাবে আলোকস্বল্পতার কারণে মাঝপথেই প্রথম দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে দুটি বার্ডি ও তিনটি বোগি করেন সিদ্দিকুর। ১১ হোল শেষে পারের চেয়ে একটি শট বেশি খেলে ফেলেছেন ৩২ বছর বয়সী এই গলফার।

সিঙ্গাপুরে সফলতা চান সিদ্দিকুর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি গলফে সকলের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার হাত ধরেই দেশের গলফ পাচ্ছে নতুন জনপ্রিয়তা।

দেশ সেরা এই গলফারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে। আলাপকালে জানা গেলো, আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে সিঙ্গাপুরে শুরু হচ্ছে গলফ টুর্নামেন্ট। আর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতেই এখানে আশা। তবে এর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাবেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারী আবার সিঙ্গাপুর ফিরবেন।

শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সিদ্দিকুর। তাই এ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দেশ সেরা এই গলফার। আর এ জন্যই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন তিনি।

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। এক সময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা।

আর অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও বাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিকুর।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর এ অংশ নেয়ার। ২০১০ সালে বাংলাদেশি হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। আর ২০১৬ সালে রিও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।

ম্যানিলায় পেছালেন সিদ্দিকুর

ম্যানিলা মাস্টার্সের দ্বিতীয় রাউন্ডে পিছিয়ে পড়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। ১৪ জনের সঙ্গে যৌথভাবে ৪৫তম স্থানে আছেন বাংলাদেশের সেরা এই গলফার।
ফিলিপিন্সের ম্যানিলা সাউথউডস গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি কাবে শুক্রবার চারটি বার্ডির পাশাপাশি তিনটি বোগিও করেন সিদ্দিকুর। সব মিলিয়ে পারের চেয়ে পাঁচ শট কম খেলেছেন এশিয়ান ট্যুরের দুটি শিরোপা জেতা এই গলফার।
প্রথম রাউন্ডে চার বার্ডি করে ১২ জনের সঙ্গে যৌথভাবে ২৬তম স্থানে ছিলেন সিদ্দিকুর।
১০ লাখ ডলার প্রাইজমানির এশিয়ান ট্যুরের এই আসরে দুই রাউন্ড মিলিয়ে পারের চেয়ে ১৫ শট কম খেলে শীর্ষে রয়েছেন ভারতের জ্যোতি রানধাওয়া।

তৃতীয় রাউন্ডে পিছিয়ে গেলেন সিদ্দিকুর

দ্বিতীয় রাউন্ডে কিছুটা আশা দেখানো দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান তৃতীয় রাউন্ডে আবার হতাশ করেছে। পারের চেয়ে চার শট বেশি খেলে তৃতীয় রাউন্ড শেষে ৫৫তম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের এ তারকা।

তৃতীয় রাউন্ডে চারটি বোগি করেন সিদ্দিকুর। বোগি দিয়ে দিন শুরুর পর টানা আট হোলে পারের সমান শট খেলেন ৩১ বছর বয়সী এই গলফার। ১০ নম্বর হোলে বোগি করে বিরতির পরের খেলা শুরু করেন সিদ্দিকুর। শেষ নয় হোলের খেলায় মোট তিন বোগি করেন। তিন রাউন্ড মিলিয়ে পারের চেয়ে সাত শট বেশি খেলে পিছিয়ে পড়েন অলিম্পিকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া সিদ্দিকুর রহমান।

তৃতীয় রাউন্ড শেষে পারের চেয়ে ১২ শট কম খেলে শীর্ষে আছেন যুক্তরাজ্যের জাস্টিন রোজ।

দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই সিদ্দিকুরের বিদায়

অলিম্পিক যাত্রার আগে প্রস্তুতিটা ভালো হল না দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমানের। থাইল্যান্ডের কিংস কাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েছেন বাংলাদেশের এই গলফার।

সাড়ে সাত লাখ ডলার প্রাইজমানির এই টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে পারের চেয়ে দুই শট কম খেলে ১২ জনের সঙ্গে ১৯তম স্থানে ছিলেন এশিয়ান ট্যুরের দুটি শিরোপা জেতা সিদ্দিকুর। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে পাঁচটি বোগি ও একটি ডাবল বোগি করে অনেক পিছিয়ে যান সিদ্দিকুর। দুই রাউন্ড মিলিয়ে পারের চেয়ে পাঁচ শট বেশি খেলে ১১২তম স্থানে থেকে বিদায় নেন তিনি।

আগামী ৫ অগাস্ট ব্রাজিলের রিও দে জেনেইরোতে শুরু হবে অলিম্পিক। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অলিম্পিকে সরাসরি খেলবেন সিদ্দিকুর।

রিওতে সবকিছু উজাড় করে দেবো: সিদ্দিকুর

বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান। রিওতে সেই টুর্নামেন্টে সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন দেশ সেরা এই গলফার। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে পেশাদার গলফ সার্কিটে খেলার পর আমার যে অভিজ্ঞতা তার সবকিছু মিলিয়ে উজাড় করে দেবো রিও অলিম্পিকে।’

গত বছর ইনজুরিতে খুব বেশি কিছু করে দেখাতে পারেননি সিদ্দিকুর। সেই আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৪-১৫ সালে ইনজুরির কারণে প্রত্যাশা মতো খেলতে পারিনি। তবে সেই ইনজুরি কাটিয়ে উঠেছি। সেই সঙ্গে আমার খেলা আরও উন্নত করতে বেশকিছু পদক্ষেপও নিয়েছি। এর প্রতিফলন আশা করি রিওতে দেখাতে পারবো। আমার আত্মবিশ্বাস এখন আগের থেকে অনেক বেশি।’
দেশের প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে অলিম্পিকে খেলতে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে সিদ্দিকুর বলেন, ‘ভালো লাগছে অবশ্যই। এমন আনন্দের বিষয় ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দেশের পতাকা সেখানে উড়াতে পারবো তাতেই তো অন্যরকম লাগছে। বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আমি অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি যেটা অবশ্যই গর্বের।’
এসময় সিদ্দিকুর জানান ২৪ জুলাই থাইল্যান্ডে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছেন তিনি। সেখান থেকে ফিরেই ২ আগস্ট রিও তে চলে যাবেন এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জেতা প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি এই গলফার।

সিদ্দিকুর নন কাজী শাহানাই প্রথম

১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অলিম্পিক থেকে নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সেই থেকে বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের অলিম্পিকে জায়গা করে নিতে হতো বিশেষ কোটা ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে।

রিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তবে তিনি নন, বাংলাদেশি হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা প্রথম অলিম্পিয়ান কাজী শাহানা পারভীন।

১৯৯২ সালে বার্সেলোনা অলিম্পিকে শুটিংয়ের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে কোয়ালিফাই স্কোর করে সরাসরি মূল পর্বে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন কাজী শাহানা।

ইতিহাস গড়ে অলিম্পিকে সিদ্দিকুর

বাংলাদেশ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্রীড়াবিদ সরাসরি অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পায়নি। ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে নিয়মিত দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সেই থেকে বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের অলিম্পিকে জায়গা করে নিতে হতো বিশেষ কোটা ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে।

এবার সেই লজ্জা থেকে বের হয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান। ইতিহাস সৃষ্টি করা শুধু সময়ের ব্যাপার ছিল। শুধু প্রয়োজন ছিল এ সপ্তাহে প্রকাশিত গলফ র্যাংকিংয়ের ৬০ জনের মধ্যে থাকা। এই অবস্থানে থাকতে পারলেই ইতিহাসটা তৈরি করে ফেলবেন সিদ্দিকুর রহমান।

অবশেষে সেই সুসংবাদটা বাংলাদেশ পেয়েই গেলো। ৬০ জনের মধ্যেই রয়েছেন সিদ্দিকুর। তিনি রয়েছেন ৫৬তম স্থানে এবং এরই সুবাধে রিও অলিম্পিকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়ে গেলেন এই গলফ তারকা।

গত সপ্তাহে চীনা তাইপেতে টুর্নামেন্ট শেষ করার পর সিদ্দিকুর ছিলেন ৫৩তম স্থানে। তখনই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তার রিও ডি জেনিরো যাওয়া। আজ (সোমবার) প্রকাশিত র্যাংকিং শেষে আর কোনো সংশয় রইল না।

৫৬তম অবস্থানে থেকেই আগামী ৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া ব্রাজিল অলিম্পিকে অংশ নিতে যাচ্ছেন সিদ্দিকুর। ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জিকা ভাইরাসের আতঙ্কে এবারের অলিম্পিকে বিশ্বের সেরা গলফারদের অনেকেই যাচ্ছেন না। সিদ্দিকুরের ব্রাজিল যাওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

তবে মরিশাসে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশিয়া ব্যাংক টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হওয়াটাই সিদ্দিকুরের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছিল অনেকটা। সিদ্দিকুর ছাড়াও এরই মধ্যে ওয়াইর্ল্ড কার্ড নিয়ে অলিম্পিক যাওয়া নিশ্চিত করেছেন শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি, তিরন্দাজ শ্যামলী রায়, সাঁতারু মাহফিজুর রহমান ও সোনিয়া আক্তার টুম্পা।

সিদ্দিকুরের ভাগ্য নির্ধারণ

বাংলাদেশের গলফ তারকা সিদ্দিকুর রহমানের রিও অলিম্পিক গেমসে খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হবে কাল মঙ্গলবার। ১৯০৪ সালের পর আবার অলিম্পিক গেমসে ডিসিপ্লিন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া গলফে সিদ্দিকুর খেলতে পারবেন কিনা তা জানার জন্য আন্তর্জাতিক গলফ ফেডারেশনের চূড়ান্ত র‌্যাংকিংয়ের তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
আন্তর্জাতিক গলফ ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী র‌্যাংকিংয়ের ৫৯ জন গলফার রিও অলিম্পিক গেমসে খেলার সুযোগ পাবেন। ১১ জুলাই শীর্ষ ১৫ জনের স্থান চূড়ান্ত হবে। শীর্ষ ১৫-তে কোনও দেশ থেকে চারজনের বেশি খেলোয়াড় সুযোগ পাবেন না। বাকি ৪৪ জনের মাঝে এবার শুরু হবে পরবর্তী স্থানগুলো পূরণ করার পালা। এখানে আবার প্রতি দেশ থেকে দুই জনের বেশি সুযোগ পাবেন না অর্থাৎ কোনও দেশের যদি তিনজন গলফার এ তালিকার মধ্যে থাকেন তবে তৃতীয় র‌্যাংকিংয়ের গেলফার বাদ পড়ে যাবেন। সুযোগ পাবেন অন্য দেশের গলফার।

আজ পর্যন্ত সিদ্দিকুরের বিশ্বর‌্যাংকিং ছিল ৫৩। সে ক্ষেত্রে কাঁটায় কাঁটায় ঝুলছে তার ভাগ্য। তবে সিদ্দিকুরের জন্য অন্য পথও খোলা আছে। দেশভিত্তিক বণ্টনের পর অলিম্পিক মুভমেন্ট অব্যাহত আছে এমন মহাদেশগুলোর জন্য রয়েছে একটি করে টিকিট। শীর্ষ ৫৯-এ এশিয়ার গলফার রয়েছেন ১৩ জন। এর মাঝে কোরিয়ার বিয়ং হুন আনের র‌্যাংকিং ১০, থাইল্যান্ডের তংচান জাইদির ১১, কোরয়িার কে টি কিমের ১২, থাইল্যান্ডের কিরাদেচ আপিভারমাতের ১৮, ভারতের অনির্বান লাহিড়ির ২১, ফিলিপাইনের মিগুয়ের তাউবেনার ৩৭, চীনের হাও তং লির ৩৮, ভারতের এস চৌরাশিয়ার ৪৫, মালয়েশিয়ার ড্যানি চিয়ার ৪৬। এরাই র‌্যাংকিংয়ে সিদ্দিকুরের চেয়ে এগিয়ে বাকি তিনজন সিদ্দিকুরের পেছনে আছেন। এশিয়ানরা যদি নিজ র‌্যাংকিংয়ের সুবাদে যোগ্যতা অর্জন করেন তাহলেও সিদ্দিকুরের দ্বার খোলা থাকবে।

কুইন্স কাপ থেকে সিদ্দিকুরের নাম প্রত্যাহার

ব্যাক পেইন ইনজুরির কারণে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত কুইন্স কাপ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিলেন দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। অনুশীলনের সময় পিঠে ব্যথা অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শেই আসর থেকে নাম প্রত্যাহার করেন তিনি।

২০১০ সালে এই সামুই ক্লাব আসর দিয়েই নিজের ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময় শুরু করেছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। টুর্নামেন্টে দুই বারের শিরোপাও জিতেছিলেন দেশ সেরা এই গলফার। তাই এবারো প্রত্যাশা ছিলো আরো ভালো কিছু করার। কিন্তু চোটের কাছে শেষ পর্যন্ত হেরে যান তিনি।

উল্লেখ্য গত মাসে ইউরোপিয়ান ট্যুরে, পুরো টুর্নামেন্ট দারুণ করেও শেষ তিন হোলে ভাল না করায় হেরে যান বাংলাদেশের এই গলফার।

ব্যাকপেইন ছিটকে দিল সিদ্দিকুরকে

অবশেষে ব্যাকপেইন সিদ্দকুরের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। কেননা হঠাত করেই ব্যাকপেইনে আক্রান্ত হয়ে থাইল্যান্ডে কুইন্সকাপের চলতি আসর থেকে ছিটকে পড়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষ গলফার সিদ্দিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের সামুই কাউন্ট্রি ক্লাবে শুরু হয়েছে গলফের এই আন্তর্জাতিক আসর।

আর দু:খজনকভাবে সিদ্দিকুর ব্যাকপেইনে আক্রান্ত হন টুর্নামেন্ট আগের দিন অর্থাত বুধবার (১৫ জুন) বিকেলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শেষ অনুশীলনে।

বিষটি নিশ্চিত করেছে সিদ্দিকুরের ঘনিষ্টসুত্র।

ঘনিষ্টসুত্রের মতে, ‘১৫ জুন থাইল্যান্ডে পড়ন্ত বিকেলের অনুশীলনে পার্টিংয়ের সময় তিনি পিঠে ব্যাথা অনুভব করলে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন।’

২০১০ সালে এই সামুই ক্লাব দিয়েই ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময় শুরু করেছিলেন সিদ্দিকুর। এখানেই তিনি জিতেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম শীর্ষ ১০ এর খ্যাতি।

এর আগে গেল মাসে ইউরোপিয়ান ট্যুরেও পুরো টুর্নামেন্টে বলতে গেলে দুর্দান্তাই ছিলেন এই টাইগার গলফার। কিন্তু শেষ তিন হোলে বাজে পারফর্ম করায় হেরে যান এই লাল সবুজের গলফার।

অলিম্পিকে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল সিদ্দিকুরের

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের বর্তমান অবস্থানটা ধরে রাখতে পারলেই পূরণ হয়ে যাবে স্বপ্নটা; রিও দে জেনেইরোর আসরে খেলার সুযোগ পাবেন সিদ্দিকুর রহমান। সব শেষ আফ্রোএশিয়া ব্যাংক মরিশাস ওপেনে রানারআপ হয়ে র‌্যাংকিং বাড়িয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের সেরা এই গলফার।

গত ৮ মের বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে সিদ্দিকুরের অবস্থান ছিল ৪০৬ নম্বরে। মরিশাস ওপেনে দ্বিতীয় হওয়ায় এক লাফে ২৭৪তম স্থানে উঠে এসেছেন ৩১ বছর বয়সী এই গলফার।

নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১১ জুলাইয়ের বিশ্ব র‌্যাংকিং থেকে ৬০ জন গলফার অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাবেন। তবে র‌্যাংকিংয়ের সেরা ১৫ জনের মধ্যে প্রতি দেশ থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন এবং সেরা পনেরোর পর প্রতি দেশ থেকে সর্বোচ্চ দুই জন সুযোগ পাবেন। কোনো দেশের কোটা পূর্ণ হয়ে গেলে র‌্যাংকিংয়ের উপরের দিকে থাকলেও আর সুযোগ মিলবে না সেই দেশের অন্য গলফারদের।

ফলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের বতর্মান অবস্থান সিদ্দিকুরকে অলিম্পিক র‌্যাংকিংয়ে ৫৪তম স্থানে নিয়ে এসেছে। এখন আগামী ১১ জুলাইয়ের র‌্যাংকিংয়ে ৬০ জনের মধ্যে থাকলেই লক্ষ্য পূরণ হবে তার।

মরিশাস ওপেন জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি সিদ্দিকুর। শেষ রাউন্ডে ১৬ নম্বর হোলে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে ডাবল বোগি করেন তিনি; পরের হোলেও বোগি করায় শেষ পর্যন্ত তৃতীয় এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা আর পূরণ হয়নি তার। সব মিলিয়ে পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে দ্বিতীয় হন সিদ্দিকুর। এ আসরে প্রথম হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার জেউনগুন ওয়াং তার চেয়ে ১ শট কম খেলেন।

২০১০ সালে ব্রুনাই ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়ান ট্যুরের প্রথম শিরোপা জিতেছিলেন সিদ্দিকুর। তার দ্বিতীয় ট্রফিটি আসে ২০১৩ সালে হিরো ইন্ডিয়ান ওপেনে।

একটুর জন্য পারলেন না সিদ্দিকুর

দুঃসময়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছেন সিদ্দিকুর রহমান; তবে একটুর জন্য পারলেন না এশিয়ান ট্যুরের তৃতীয় শিরোপাটি জিততে। আফ্রোএশিয়া ব্যাংক মরিশাস ওপেনে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলাদেশের সেরা এই গলফার।
সব মিলিয়ে পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলেন সিদ্দিকুর। প্রথম হওয়া দণি কোরিয়ার জেউনগুন ওয়াং তার চেয়ে ১ শট কম খেলেন।
২০১০ সালে ব্রুনাই ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়ান ট্যুরের প্রথম শিরোপা জিতেছিলেন সিদ্দিকুর। তার দ্বিতীয় ট্রফিটি আসে ২০১৩ সালে হিরো ইন্ডিয়ান ওপেনে।
রোববার চতুর্থ রাউন্ডে ১৫তম হোলের পরও ওয়াংয়ের চেয়ে ৩ শট এগিয়ে ছিলেন সিদ্দিকুর। কিন্তু তিনি পরের হোলে ডাবল বগি আর ১৭তম হোলে বগি করায় স্কোর সমান হয়ে যায়। শেষ হোলে ওয়াং বার্ডি করলেও পারেননি সিদ্দিকুর করেন পার।
অ্যানাহিতার ফোর সিজনস গলফ কাব কোর্সে রোববার পারের চেয়ে ২ শট বেশি খেলেন তৃতীয় রাউন্ড শেষে শীর্ষে থাকা সিদ্দিকুর। শেষ রাউন্ডে একেবারে শেষ হোলে পিছিয়ে পড়েন তিনি, হাতছাড়া করেন শিরোপা। ৩১ বছর বয়সী এই গলফার এদিন তিনটি বার্ডির পাশাপাশি তিনটি বগি করা ছাড়াও মারেন ম্যাচ প্রায় ঘুরিয়ে দেওয়া ১৬তম হোলের ডাবল বগিটি।
১০ লাখ ইউরোর এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হয়ে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৬৪ ডলার পেয়েছেন সিদ্দিকুর। চলতি বছর এটি তার খেলা নবম এশিয়ান ট্যুরের আসর। গত বছরই পিঠের চোট পিছু নিয়েছিল। নতুন বছরের শুরুতেও সেটা পিছু ছাড়েনি; নিজের প্রথম টুর্নামেন্টে সিঙ্গাপুর ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে কাট-এর নিচে থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।
শুরুর ওই ব্যর্থতা পিছু ছাড়েনি ভারতে হওয়া সব শেষ হিরো ইন্ডিয়ান ওপেনেও। যে কোর্সে নিজের দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিলেন, সেই চেনা কোর্সে শেষ পর্যন্ত ৫৮তম হন তিনি।
মরিশাসে নোঙর ফেলার আগে জাপানের প্যানাসনিক ওপেনে ৭৪তম হন সিদ্দিকুর। মরিশাসে শিরোপা জিততে না পারলেও দারুণভাবে ফর্মে ফিরেছেন দেশ সেরা এই গলফার।

গ্রামীণফোন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ কাবে ১৫তম গ্রামীণফোন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক এবং কুর্মিটোলা গলফ কাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান আনুষ্ঠানিক টি অফ এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ শুক্রবার শুরু

দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্ট-২০১৬। এই প্রতিযোগিতা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। আর্মি গলফ ক্লাবের আয়োজনে ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্ট-২০১৬ এর সংবাদ সম্মেলন আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), এটিএন বাংলার এডভাইজার টু চেয়ারম্যান মীর মো. মোতাহার হাসান, আর্মি গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী অফিসার লে. কর্নেল মো. তোজাম্মেল হক (অবঃ), জেনারেল ম্যানেজার (ক্লাব) মেজর সৈয়দ ইকবাল হোসেন (অবঃ) এবং ম্যানেজার গলফ অপারেশনস এন্ড স্পোর্টস মেজর মো. রবিউল ইসলাম (অবঃ)।
এক বক্তব্যে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার বলেন, ‘আমরা ওয়ালটন গ্রুপ শুধু ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি নয়, দেশের প্রায় সব ফেডারেশনের সঙ্গেই কাজ করছি। আমরা চাই দেশের সব ধরণের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে। প্রতিটি খেলার মধ্যমে দেশের ব্র্যান্ডিং করতে। সেটা ক্রিকেট হোক, ফুটবল হোক, কাবাডি হোক কিংবা হোক অন্য কোনো খেলা। তবে ওয়ালটন গ্রুপ গলফের উপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা গলফের মাধ্যমেও দেশের সুনাম অর্জন করতে চাই। আমি এই টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টে মূলত অ্যামেচার গলফাররা অংশ নিচ্ছেন। মোট পাঁচটি ক্যাটাগোরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাটাগোরিগুলো হলো – লেডিস, জুনিয়র, ভ্যাটারান, রেগুলার ও সিনিয়র। টুর্নামেন্টে আনুমানিক ৬০০ জন গলফার অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি গলফারও রয়েছেন।
আগামী ২৯ এপ্রিল শুক্রবার সকালে আর্মি গলফ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল হামিদুর রহমান চৌধুরী ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এটিএন বাংলা সরাসরি সম্প্রচার করবে।

আগামী ৩০ এপ্রিল শনিবার আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

মাঠে গড়াল ওয়ালটন কাপ গলফ টুর্নামেন্ট

সাভার গলফ ক্লাবে জমকালো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মাঠে গড়াল ওয়ালটন কাপ গলফ টুনামেন্টের তৃতীয় আসর। শুক্রবার বেলা ১১টায় দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। এ সময় ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), সাভার গলফ ক্লাবের সভাপতি (প্রশাসন ও অর্থ) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আনিসুজ্জামান, সাভার গলফ ক্লাবের নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর (অব) শফিকুর রহমানসহ সাভার গলফ ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সম্মান উজ্জ্বল করতে ওয়ালটন গ্রুপ প্রশংসীয় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে ওয়ালটনের মতো আরো অনেক শিল্প গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু এরকম কাজে তারা ওয়ালটনের থেকে অনেক পিছিয়ে। ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে ক্রিকেটের মতো গলফ খেলাও একদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, শুধু সাভার গলফ ক্লাব নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গলফ ক্লাবের সংঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন গ্রুপ। গলফ খেলাকে জনপ্রিয় করে তুলতে এটি ওয়ালটনের ছোট একটি প্রয়াস। ওয়ালটন গ্রুপ খেলাধুলার সঙ্গে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
তৃতীয়বারের মতো সাভার গলফ ক্লাবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করায় ক্লাবের সভাপতি (প্রশাসন ও অর্থ) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আনিসুজ্জামান ওয়ালটন গ্রুপকে ধন্যবাদ দেন।
দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে দেশি বিদেশি দুই শতাধিক গলফার অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সাভার গলফ ক্লাব কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুরে টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার শুরু ওয়ালটন কাপ গলফ

সাভার গলফ ক্লাবে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তৃতীয় ওয়ালটন কাপ গলফ। এবারের টুর্নামেন্টে দেশি-বিদেশি তিন শতাধিক গলফার অংশ নেবেন। দুই দিনব্যাপী টুর্নামেন্টে তিনটি বিভাগে সাতটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগগুলো হলো- পুরুষ, নারী ও জুনিয়র। ক্যাটাগরি হলো: জেন্টস ১৮ হোল, জেন্টস ৯ হোল, ভেটেরান, সিনিয়র, সুপার সিনিয়র, লেডিস ও জুনিয়র।

আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে টুর্নামেন্টের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এডিশনাল ডিরেক্টর এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), ওয়ালটন গ্রুপের স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বিভাগের এজিএম মেহরাব হোসেন আসিফ ও সাভার গলফ ক্লাবের সিইও মেজর মো. শফিকুর রহমান (অব.)।

বাংলাদেশ এ্যামেচার গলফ চ্যাম্পিয়নশীপ

বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের সার্বিক তত্বাবধানে ও কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের আয়োজনে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে রানার গ্রপ ৩১তম বাংলাদেশ এ্যামেচার গলফ চ্যাম্পিয়নশীপ মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্ট শেষ হবে ৫ মার্চ। ওানার গ্রপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসস্থ শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। এ সময় আরো উপস্থি ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব:) শফিকুজ্জামান।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ জাতীয় দল ছাড়াও আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্যীলংকার শ্রেষ্ঠ এ্যামেচার গলফাররা অংশ নিচ্ছেন। ১৯জন বিদেশীসহ মোট ১৯০ গলফার(১৬০ পুরুষ ও ৩০ মহিলা) টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরেন সাংগঠনিক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব) সেলিম আখতার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব) আবিদুর রেজা খান এবং কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের জেনারেল গলফ অপারেশনস লে: কর্নেল(অব) মো: আব্দুল বারি।

এগিয়ে জামাল-সোহেল, অস্বস্তিতে সিদ্দিকুর

শেষ হলো ‘বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন গলফ’ এর দ্বিতীয় আসরের তৃতীয় রাউন্ডের খেলা। আর তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান মোটেই স্বস্তিদায়ক স্থানে নেই। মেগা এই ইভেন্টের তৃতীয় রাউন্ড শেষে ব্রুনাই ওপেন জয়ী সিদ্দিকুর রয়েছেন ৪৭তম স্থানে (যৌথভাবে)।
দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে কাট পেয়েছিলেন বাংলাদেশের পাঁচ গলফার। বাকি ২৬ জনই কাট মিস করেন অর্থা‍ৎ বাদ পড়েন। সিদ্দিকুরের সঙ্গে তৃতীয় রাউন্ডে খেলতে নামেন শাখাওয়াত হোসেন সোহেল, জামাল হোসেন, আবদুল মতিন ও মো: সাইয়ুম।
শুক্রবার তৃতীয় রাউন্ড শেষে এবারের আসরে এখন পর্যন্ত যৌথভাবে সপ্তম স্থানে রয়েছেন জামাল ও সোহেল। পারের চেয়ে তারা আট শট কম খেলেন। সকাল সাড়ে আটটায় এক নম্বর হোল থেকে টি অফ করেন সিদ্দিকুর। ১৮ হোলের খেলায় তিনটি বার্ডির দেখা পেলেও ৫টি বোগির খপ্পরে পড়েন তিনি।
এদিকে, দেশি গলফারদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন জামাল। দিন শেষে তিনি চারটি বার্ডি আর একটি বোগি করেন। জামালের পরেই রয়েছেন সাখাওয়াত সোহেল। সাতটি বার্ডির সঙ্গে তার বোগির সংখ্যা ৫টি। দিনের প্রথম হোলেই তিনি বোগির খপ্পরে পড়েন। ১১তম স্থানে রয়েছেন আবদুল মতিন। ৫টি বার্ডি আর দুটি বোগি করা বাংলাদেশের এই গলফার একটি ডাবল বোগির খপ্পরেও পড়েন। এছাড়া, দেশি গলফারদের মধ্যে তলানিতে মোহাম্মদ সাইয়ুম। ৫৭তম স্থানে থেকে দিনের খেলা শেষ করেন একটি বার্ডি আর চারটি বোগি করা এই গলফার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে এশিয়ান ট্যুরের এবারের আসরে অংশ নিয়েছিলেন ৩১ গলফার।

বগি ফাঁদে সিদ্দিকুরের লেভেল পার

তিন আন্ডার পার নিয়ে ‘বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন গলফ’র উদ্বোধনী দিন সন্তুষ্টি নিয়ে শেষ করলেও দ্বিতীয় দিন নিজেকে ততটা তুষ্ট করতে পারলেন না দেশসেরা গলফার মো: সিদ্দিকুর রহমান। ২ বগি ও ২ বার্ডিতে লেভেল পার খেলে প্রথম দিনের সেই তিন আন্ডার পার নিয়েই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করলেন এই স্বাগতিক গলফার।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ১০ নম্বর হোল থেকে দিনের খেলা শুরু করে প্রথম দুই হোল পারের সমান খেললেও দিনের তিন নম্বরটিতে এসেই ধাক্কা খেলেন সিদ্দিকুর। ১২ নম্বর হোলটি মূলত চার পারের, যা শেষ করতে একটি বেশি খেললেন, ফলাফলও হাতেনাতে। দিনের প্রথম বগির কবলে পড়ে পয়েন্ট হারালেন।
পরেরটিতে অবশ্য বগির কবলে পড়লেন না। পার লেভেল করে ফেললেন। তবে ১৪ নম্বর হোল দিনের প্রথম হাসি এনে দিল সিদ্দিকুরের মুখে। পাঁচ পারের খেলাটি শেষ করলেন চার পার দিয়েই।
১৫ ও ১৬ নম্বরটি কোন রকম লেভেল পার করে কাটিয়ে দিলেও ১৭ নম্বরেই আবার বগি বাধা। ৫ পারের এই খেলাটি শেষ করতে সিদ্দিকুরকে খরচ করতে হল একটি বেশি পার। ফলে আবার সেই পয়েন্ট হারানোর কষ্ট।
এই শেষ। এরপর অবশ্য আর কোন বগির বেদনায় সিদ্দিকুরকে কষ্ট পেতে হয়নি। ১৮, ১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর হোল টানা লেভেল পার খেলে ৭ নম্বরটিতে এসেই দেখা পেলেন বার্ডির। ফলে স্বস্তির মাত্রা যেমন বাড়লো তেমনি বেড়েছে আত্মবিশ্বাসও।
সেই আত্নবিশ্বাস নিয়েই পরের দুই হোল টানা লেভেল পার খেলে দুই বার্ডি ও দুই বগির যোগ বিয়োগে দিন শেষে কোন পয়েন্ট থলিতে না পুরে বা থলি থেকে না হারিয়ে পার লেভেল খেলে তিন আন্ডার পার দ্বিতীয় দিন শেষ করেছেন সিদ্দিকুর।

পর্দা উঠলো বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় এক বছর বিরতির পর ফের পর্দা উঠলো বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের। এটি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর। বুধবার সকালে কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে ৩ লাখ মার্কিন ডলার প্রাইজমানির এই টুর্নামেন্টটির এবারের আসরের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা (জনসংযোগ) এবং মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুল ওয়াহেদ। বাংলাদেশর গলফার মো. ফরহাদ, সিঙ্গাপুরের কো ডেং শ্যান ১ নম্বর হোল থেকে টি অফ করলে টুর্নামেন্টে দিনের প্রথম সেশনের খেলা শুরু হয়। বেলা ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এ সেশনের খেলা চলবে। এরপর শুরু হবে দিনের দ্বিতীয় সেশনের খেলা।
প্রথম সেশনে বাংলাদেশের হয়ে আরও খেলবেন, মো. জীবন আলী, মো. মিলন আহমেদ, মো. আব্দুল মতিন, মো. সাইয়ুম ও কাওসার হোসেন। তবে, দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর প্রথম দিনের খেলা শুরু করবেন দিনের দ্বিতীয় সেশনে। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে ৮ নম্বর হোল থেকে এবারের টুর্নামেন্ট শুরু করবেন তিনি।
বিশ্বের ৩৫টি দেশের ১৩৮ জন গলফার অংশ নেবেন এশিয়ান ট্যুরের এই আসরে। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন সিঙ্গাপুরের গলফার মারদান মামত এবার আসতে পারেননি বাবার অসুস্থতার কারণে। সিদ্দিকুর রহমানসহ বাংলাদেশের মোট ৩১ জন গলফার অংশ নেবেন এ আসরে। গলফে বড় আয়োজন এশিয়ান ট্যুর ঘিরে ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম আসরে বাংলাদেশের গলফাররা সুবিধা করতে না পারলেও এবার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এশিয়ান ট্যুরের দুই শিরোপা জয়ী সিদ্দিকুর রহমান তৃতীয় শিরোপাটা দেশের মাটিতেই জিততে চান।
মঙ্গলবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সত্যিই আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। দেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান ট্যুরের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অনেক বড় বিষয়। ঘরের কোর্সে খেলার বিষয়টি আমাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। গত আসরে শিরোপা জিততেই হবে, এমন ভাবনা থেকেই বাড়তি চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম। তাই এবার অনেকটা রিল্যাক্স আছি। আমি শুধু আমার খেলাটা উপভোগ করব।’
স্থানীয় গলফারদের মধ্যে সেরা দুলাল হোসেন। মঙ্গলবার প্রো-অ্যাম ওয়ার্ম আপ ম্যাচে তার দল সিদ্দিকুরের দলকে হারিয়ে দিয়েছে। এই কোর্সে ‘১৬ আন্ডার পার’ খেলার রেকর্ড আছে দুলালের। গত আসরে যেখানে ‘১৪ আন্ডার পার’ খেলে শিরোপা জিতেছিলেন মামত। তাই এবার শিরোপা জয়ে আশাবাদী দুলাল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা গলফার ক্যাসে ওটুলও বসুন্ধরা গলফের শিরোপা জিততে চান। তিনি বলেছেন, ‘ভালোই লাগছে আমার। আমি সব শেষ মায়ানমার ওপেনে সেরা পাঁচের মধ্যে ছিলাম। এখানে আরও ভালো করতে চাই। যদিও আমি কিছুটা ক্লান্ত, তারপরেও চেষ্টা করব নিজের সেরা পারফর্মটা করে দেখাতে।’
শিরোপায় দৃষ্টি কোরিয়ান গলফার ওয়াউকিউন চ্যাংয়েরও। তিনি বলেন, ‘আমার সময়টা এখন ভালো যাচ্ছে। এখানেও ভালো করার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
এর আগে গেল বছরের মে মাসে বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম আসর বসেছিল। ওই আসরেও অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের শীর্ষ গলফার সিদ্দিকুর। তবে দেশবাসীর প্রত্যাশানুযায়ী ফল করতে পারেননি তিনি। চূড়ান্ত পর্বের খেলায় পারের চাইতে ৪ শট বেশি খেলে যুগ্মভাবে ৩৮তম হয়েই তাকে শেষ করতে হয় প্রথম আসর। আর পারের চাইতে ১৪ শট কম খেলে ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের মারদান মামাত।

প্রো-অ্যাম ম্যাচে রানারআপ সিদ্দিকুর

বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন গলফ ২০১৬’ এর দ্বিতীয় আসর। আর এই আসরকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি ) ওয়ার্ম আপ ম্যাচে অংশ নেন দেশ-বিদেশের প্রফেশনাল ও অ্যামেচার গলফাররা।
এদিন প্রফেশনাল গলফারদের হয়ে এই গা গরমের ম্যাচে প্রতিযোগিতা করেন ২০ জন। তাদের থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের মো: দুলাল হোসেন। প্রথম রানারআপ হয়েছেন কোরিয়ার চ্যাং ই কেন আর দ্বিতীয় রানার আপের গৌরব লাভ করেন সিদ্দিকুর রহমান।
প্রফেশনালদের সঙ্গে এদিন অ্যামেচাররাও প্রতিযোগিতা করেছেন। অ্যামেচারদের প্রথম বিজয়ী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর কাদের (অব), দ্বিতীয় বিজয়ী মেজর খন্দকার নুরুল আফসার (অব) আর তৃতীয় হয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তারেক (অব)। ম্যাচ শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুল ওয়াহেদ।

শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় বসুন্ধরা গলফ

দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে দ্বিতীয়বারের মতো বসছে পেশাদার গলফ টুর্নামেন্ট ‘দ্বিতীয় বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন ২০১৬’।
এশিয়ান ট্যুরের অনুমোদনক্রমে আগামী ১০-১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ আসরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকছে বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন। বুধবার দুপুরে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ টুর্নামেন্টের সার্বিক বিষয় তুলে ধর‍া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের হেড অব ব্র্যান্ড সেলিম উল্লাহ সেলিম, ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম রুবেল, ‘দ্বিতীয় বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন ২০১৬’ সাংগঠনিক কমিটির সদস্য ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সেলিম আকতার, বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. ওবাইদুল হক ও গলফ ক্লাবের টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবিদুর রেজা খান।
সংবাদ সম্মেলনে বসুন্ধরা গলফের এবারের আসরের বিস্তারিত বিষয়াদি তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সেলিম আকতার।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এই গলফ টুর্নামেন্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে এশিয়ার খ্যাতিমান পেশাদার গলফাররা অংশ নেবেন। এই আয়োজন ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পাশাপাশি এই ইভেন্টটি বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম সেরা গলফিং গন্তব্যে পরিণত করবে। এছাড়া, ক্রীড়া, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এ টুর্নামেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সেলিম আকতার বলেন, এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং আফ্রিকার প্রায় ২৩১ জন গলফার অংশ নেবেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন ৩০ জন, যার মধ্যে ২৫ জন পেশাদার গলফার এবং ৫ জন অ্যামেচার গলফার।
যথারীতি এবারের আসরেও থাকছেন দেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমানসহ সুজিত, মাজেদ, দুলাল, জামাল, মিলন ও লিটন হাওলাদার। টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি তিন লাখ ডলার।

নিউ ইয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট শুরু

ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিউ ইয়ার গলফ টুর্নামেন্ট, ২০১৬’। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) আর্মি গলফ ক্লাবে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট চলবে আগামী শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত।
এই টুর্নামেন্টে প্রায় সাত শতাধিক খ্যাতনামা গলফার অংশগ্রহণ করছেন। টুর্নামেন্টের স্পন্সর করছে দেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর আর্মি গলফ ক্লাবে টুর্নামেন্টে বিজয়ী গলফারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

ফিলিপাইনেও বাজে শুরু সিদ্দিকুরের

ফিলিপাইন্স ওপেনেও শুরুটা ভালো হয়নি সিদ্দিকুর রহমানের। যৌথভাবে ৩৮তম স্থানে থেকে প্রথম রাউন্ড শেষ করেছেন বাংলাদেশের এই গলফার।
শুক্রবার প্রথম রাউন্ডের খেলায় চারটি বার্ডি এবং একটি করে বোগি ও ডাবল বোগি করেন এশিয়ান ট্যুরের দুটি শিরোপা জেতা সিদ্দিকুর। সব মিলিয়ে পারের চেয়ে এক শট কম খেলেন তিনি।
থাইল্যান্ডে এশিয়ান ট্যুরের আগের আসরেও হতাশ করেন সিদ্দিকুর। ‘কাট’- এর নিচে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।
তিন লাখ ডলার প্রাইজমানির এই আসরে প্রথম রাউন্ডে পারের চেয়ে ছয় শট কম খেলে শীর্ষে রয়েছেন কানাডার লিন্ডসে রেনল্ডস।

শীর্ষ থেকে ত্রিশে!

শনিবারওে শীর্ষে ছিলেন সিদ্দিকুর রহামন।কিন্তু এবার আর শিরোপা নয়। ত্রিশে থেকেই সিঙ্গাপুরে ওয়ার্ল্ড ক্লাসিক চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করল বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান।

শনিবার তৃতীয় রাউন্ড শেষে যুগ্মভাবে শীর্ষে ছিলেন সিদ্দিকুর। তাই দেশবাসীর আশা ছিল বিদেশের মাটিতে বিজয়ের হাসি হাসবেন। কিন্তু তা আর হলো না। শনিবার চতুর্থ রাউন্ডেই পারের চেয়ে ১১ শট বেশি খেলেন বাংলাদেশের সেরা এ গলফার।

সবমিলিয়ে পারের চেয়ে ৯ শট কম খেলে সাতজনের সঙ্গে যৌথভাবে ৩০তম হন সিদ্দিকুর। সাড়ে ৭ লাখ ডলার প্রাইজমানির এই আসরে পারের চেয়ে ২ শট কম খেলে চ্যাম্পিয়ন হন থাইল্যান্ডের ড্যানখাই বুনসা।

ভিয়েতনামে ২১তম সিদ্দিকুর

ভিয়েতনামে হো ট্রাম ওপেনে ২১তম হয়েছেন বাংলাদেশের গলফার সিদ্দিকুর রহমান। রোববার তিনি শেষ রাউন্ড পারের চেয়ে এক শট কম নেন। তাই লিডার বোর্ডে চার ধাপ এগিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন এশিয়ার অন্যতম সেরা এই গলফার।

পারের (৭১ শট) চেয়ে দুই শট কম নিয়ে সিদ্দিকুর প্রথম রাউন্ড শেষ করেছিলেন ৩৩ নম্বরে থেকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে পারফরম্যান্সে বেশ খানিকটা উন্নতি হয় সিদ্দিকুরের। পারের চেয়ে চার শট কম নিয়ে এক লাফে ওঠে আসেন নয় নম্বরে। তবে তৃতীয় রাউন্ডে ছন্দপতন হওয়ায় তিন রাউন্ড শেষে তার জায়গা হয়েছিল লিডার বোর্ডের ২৫ নম্বরে।

আর চার রাউন্ড শেষে পারের চেয়ে চার শট কম নিয়ে দুইবারের এশিয়ান ট্যুর জয়ী এই তারকা টুর্নামেন্ট শেষ করেন ২১ নম্বরে থেকে। ১৫ লাখ প্রাইজমানির এই টুর্নামেন্টে তার অর্জন প্রায় ১৫ হাজার ডলার। পারের চেয়ে ১৪ শট কম নিয়ে টুর্নামেন্টে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চারজন।

শেষ হলো ওয়ালটন বিজয় দিবস গলফ টুর্নামেন্ট

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল গলফ ক্লাবে ওয়ালটন আয়োজিত ‘বিজয় দিবস গলফ টুর্নামেন্ট-২০১৫’ শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট শুক্রবার রাতে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যান এস.এম. নুরুল আলম রেজভী।
টুর্নামেন্টে লে. কর্নেল আজিজ চ্যাম্পিয়ন এবং মেজর পারভেজ রানার-আপ হওয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ‘বেস্ট গলফার’ হন মেজর ফিরোজ।
এছাড়াও টুর্নামেন্টে সেরা পাঁচজনকে ওয়ালটনের পক্ষ থেকে স্মার্টফোন দিয়ে উৎসাহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল সেনানিবাসের জিওসি ও ঘাটাইল গলফ ক্লাবের সভাপতি মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান।

নভোএয়ার ভিক্টোরি-ডে কাপ গলফ টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কুর্মিটোলা আর্মি গলফ ক্লাবে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী চতুর্থ নভোএয়ার ভিক্টোরি-ডে কাপ গলফ টুর্নামেন্ট-২০১৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন আর্মি গলফ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল হামিদুর রহমান চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নভোএয়ার’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, আর্মি গলফ ক্লাব ও
নভোএয়ার’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা।
নভোএয়ার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরণে গত ৪ বছর ধরে বিজয় দিবস টুর্নামেন্টের আয়োজন করে আসছে।
এছাড়াও নভোএয়ার দেশের ক্রীড়ান্নোয়নে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হকি খেলাসহ অন্যান্য খেলাধুলায়ও পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অ্যামেচার গলফারদের নিয়োজিত ৫টি (পাঁচটি) ক্যাটাগরিতে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগগুলো হলো-সিনিয়র, জুনিয়র, রেগুলার, লেডিস ও ভ্যাটারান।
এই টুর্নামেন্টে দেশি-বিদেশিসহ মোট ৫৫০ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন। গলফারদের জন্য রয়েছে ট্রফিসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। এছাড়া বাংলাদেশি গলফারদের জন্য মায়ানমারে বিশেষ গলফ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
টুনামেন্টটি ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১২ ডিসেম্বর শেষ হয়। ১৬ ডিসেম্বর টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।

বিজয় দিবস গলফ টুর্নামেন্ট শুরু

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল সেনানিবাসের ভেতরের সৌন্দর্যমণ্ডিত গলফ কোর্সে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ওয়ালটন বিজয় দিবস গলফ টুর্নামেন্ট-২০১৫। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেছেন ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রেজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল সেনানিবাসের জিওসি ও ঘাটাইল গলফ ক্লাবের সভাপতি মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) একেএম মুজাহিদ উদ্দিন, ওয়ালটনের এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার মামুনসহ ঘাটাইল গলফ ক্লাবের সদস্যরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রেজভী বলেছেন, ‘আমরা সব ধরনের খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতা করার পাশাপাশি গলফে পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে জোর দিব। গলফকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করব। ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো অন্যান্য খেলা ৪০ বছর বয়সের পর খুব একটা খেলা যায় না। কিন্তু গলফ ৫০ থেকে শুরু করে ৮০ বছর কিংবা তারও বেশি বয়সে খেলা যায়। ভবিষ্যতে আমরা খেলাধুলায় আরও বেশি পৃষ্ঠপোষকতা করব। কারণ, স্পোর্টসের মাধ্যমে সুস্থ জাতি গড়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেছেন, ‘আগে প্রত্যেক স্কুলে মাঠ থাকত। এখন স্কুলে মাঠই থাকে না। মাঠ না থাকায় ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা করার সুযোগ পায় না। খেলাধুলায় আসক্ত হতে পারে না। তাই তারা অনেক সময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। খেলাধুলার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা যায়।’

এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক গলফার অংশ নিচ্ছেন। ১৮ ও ৯ হোলে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে পুরুষ গলফার, মহিলা গলফার, জুনিয়র গলফার ও সাব জুনিয়র গলফাররা অংশ নিয়েছেন।

বিজয় দিবস গলফ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ঢাকা: টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল সেনানিবাসের গলফ কোর্সে দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) শুরু হয়েছে ‘ওয়ালটন বিজয় দিবস গলফ টুর্নামেন্ট-২০১৫’।

শুক্রবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব এস.এম. নুরুল আলম রেজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল সেনানিবাসের জিওসি ও ঘাটাইল গলফ ক্লাবের সভাপতি মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান। আরো উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) একে.এম. মুজাহিদ উদ্দিন, ওয়ালটন গ্রুপের স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার বিভাগের প্রধান এফ.এম. ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), এডিশনাল ডিরেক্টর (হেড অব পারচেস) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার মামুনসহ ঘাটাইল গলফ ক্লাবের এবং ওয়ালটন গ্রুপের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

এ সময় ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যান এস.এম. নুরুল আলম রেজভী বলেন, ‘আমরা সব ধরনের খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতা করার পাশাপাশি গলফে পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসব। গলফকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করব। ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো অন্যান্য খেলা ৪০ বছর বয়সের পর খুব একটা খেলা যায় না। কিন্তু গলফ ৫০ থেকে শুরু করে ৮০ বছর কিংবা তারও বেশি বয়সে খেলা যায়।’

বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সম্ভাবনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে স্কাই ডাইভিং, হট এয়ার বেলুন, প্যারা গ্লাইডিংসহ অ্যাডভেঞ্চারাস স্পোর্টসের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়ালটন গ্রুপ ফুটবল, ক্রিকেট, গলফসহ অন্যান্য খেলাধুলার মতো অ্যাডভেঞ্চারাস স্পোর্টসে পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসবে।’

তিনি যোগ করে বলেন, ‘আগে প্রত্যেক স্কুলে মাঠ থাকত। এখন অনেক স্কুলে মাঠ নেই। মাঠ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা করার সুযোগ পায় না, খেলাধুলায় আসক্ত হতে পারে না। তাই তারা অনেক সময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। খেলাধুলার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা যায়।’

এবারের ‘ওপেন ওয়ালটন বিজয় দিবস গলফ টুর্নামেন্টে’ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক গলফার অংশ নিয়েছেন। ১৮ ও ৯ হোলে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে পুরুষ গলফার, মহিলা গলফার, জুনিয়র গলফার ও সাব জুনিয়র গলফাররা অংশ নিয়েছেন।

গলফ খেলাটি বুঝতে চান?

সর্বোচ্চ উচ্চতায় দেশের পতাকা উত্তোলনের প্রত্যয় নিয়ে দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান এখন অস্ট্রেলিয়ায়। আজ থেকে রয়্যাল মেলবোর্ন গলফ ক্লাবে শুরু হচ্ছে গলফ বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো গলফার অংশ নিচ্ছেন তাতে।
১৯৫৩ সালে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ গলফে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ২৪ বারের চ্যাম্পিয়ন এবং নয়বারের রানার-আপ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আফ্রিকা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন এবং চারবারের রানার-আপ। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে গলফ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য।
সিদ্দিকুর রহমান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনন্য ইতিহাস গড়লেন। মাত্রই কদিন আগে সিদ্দিকুর জিতেছেন হিরো ইন্ডিয়ান ওপেন। সিদ্দিকুরের কারণেই আমাদের প্রায় অনেকেরই অচেনা খেলা গলফটি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা নেওয়ার সময় এসে গেছে। আসুন, সংক্ষেপে বুঝে নিই গলফ খেলাটি।
আমজনতার মধ্যে একটা ধারণা আছে, গলফ কোটিপতিদের খেলা। আসলেও অনেকটা যেন তা-ই। প্রধানত ইংরেজিভাষী ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেই গলফ জনপ্রিয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্রমাগ্রসরমাণ দেশ যেমন—চীন কিংবা ভারতেও খেলাটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
পেশাদার গলফ প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে—ম্যচ প্লে ও স্ট্রোক প্লে। এ ছাড়া বগি প্রতিযোগিতা, স্কিন গেম, নয়-পয়েন্ট, ফোরবল, বেস্টবল ইত্যাদি নামে আরও কিছু উপ-আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক গলফও প্রচলিত।
যদিও বর্তমান বিশ্বে গলফ আক্ষরিক অর্থেই ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ সবার খেলা, এর পরও গলফ সম্পর্কে একটা বেশ চালু মিথ আছে। ইংরেজি GOLF শব্দটি Gentlemen Only, Ladies Forbidden-এরই নাকি একটি অদ্যাক্ষর মিলিয়ে তৈরি। অবশ্য নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাসীরা জেনে খুশি হবেন, এই মিথের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। গলফের উত্পত্তির ইতিহাস সম্পর্কে নেদারল্যান্ড, চীন, পারস্য, রোম প্রতৃতি দেশ নিয়ে নানা মুনির নানা মত থাকলেও আধুনিক গলফ বলতে মূলত ১৫ শতকে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া গলফকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
গলফ খেলায় উপকরণের লম্বা তালিকা থাকলেও প্রধান সরঞ্জাম মূলত দুটি—গলফ ক্লাব ও গলফ বল। অন্যান্য উপকরণের মধ্যে থাকে টি, নিশানদণ্ড, বল মার্কার, গলফ ব্যাগ, ক্লাব কভার। বাধ্যতামূলক নয়, তবে গলফাররা গ্লাভস, ক্যাপ, কেডসও ব্যবহার করে গলফের কেতা অনুসরণ করেন। খেলাটার মধ্যেই যে একটা আভিজাত্যের সুর আছে।
গলফে টি ব্যবহার করা হয় প্রথম শটটি খেলার জন্য বলকে মাটি থেকে একটু উঁচুতে রাখতে। নিশানদণ্ড ব্যবহূত হয় দূর থেকে ‘হোল’ চিহ্নিত করার জন্য। খেলার সময় প্রয়োজনভেদে একজন গলফার বিভিন্ন ধরনের সর্বোচ্চ ১৪টি ক্লাব ব্যবহার করতে পারেন। গলফ ক্লাব সাধারণত কাঠ, লোহা, পাটার এই তিন ধরনের বা এদের সংকর হয়ে থাকে।
‘যে খেলা যতটা অভিজাত, সেটা ততটাই উত্তেজনাহীন এবং খেলার প্রক্রিয়াও সাধারণের জন্য যথেষ্ট দুর্বোধ্য’—সাধারণ এই নীতি গলফের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। উত্তেজনা ক্রিকেট-ফুটবলের মতো না হলেও নিয়মনীতিতে গলফ খেলা আর দশটা খেলার চেয়ে বেশ সরল। ‘ক্লাব’-এর আঘাতে বলকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত হোল-এ ফেলাই হচ্ছে গলফের সারসংক্ষেপ। গলফ গুটিকয়েক ব্যাট-বলের খেলার অন্যতম, যেখানে মাঠের কোনো নির্দিষ্ট আয়তন নেই; বরং ১০০ থেকে ২০০ একরের গলফ খেলার মাঠ বা গলফ কোর্সকে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে বল ফেলার নির্দিষ্ট গর্ত বা হোল দিয়ে।
কিছু ব্যতিক্রম বাদে গলফ ১৮ হোলের খেলা। খেলার ফলাফল নির্ধারিত হয় সব কটি হোল সম্পন্ন করতে নেওয়া সর্বমোট স্ট্রোকের ভিত্তিতে। নির্ধারিত স্ট্রোকের চেয়ে সবচেয়ে কম খেলা স্ট্রোকের ভিত্তিতেই ঠিক করা হয় বিজয়ী।
তাই খেলাটির স্কোরিংও করা হয় প্রতিটি হোলের জন্য নির্ধারিত স্ট্রোক বা ‘পার’-এর সঙ্গে তুলনা করে। ১৮ হোলের জন্য নির্ধারিত সর্বমোট স্ট্রোকের সংখ্যা ৭২ অথবা ৭১। যার মধ্যে চারটি হোল তিন স্ট্রোকের, মোট ১২ স্ট্রোক; দশটি হোল চার স্ট্রোকের, মোট ৪০ স্ট্রোক এবং চারটি হোল পাঁচ স্ট্রোকের, মোট ২০ স্ট্রোক। পারের চেয়ে এক স্ট্রোক কম খেলাকে বলা হয় ‘বার্ডি’। যথাক্রমে দুই, তিন ও চার স্ট্রোক কম খেলার নাম ইগল, অ্যালবাট্রস বা ডাবল ইগল ও কন্ডোর। এই বার্ডি বা ইগলই একজন গলফারের পরম আরাধ্য। যেহেতু গলফ খেলায় কম সংখ্যক স্ট্রোকই একমাত্র বিবেচ্য, তাই একটা বার্ডি বা ইগলের অর্থ হলো পারের চেয়ে -১ বা -২-এ এগিয়ে থাকা এবং জয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া। অপরদিকে পারের চেয়ে বেশি স্ট্রোক খেলাকে স্ট্রোকের সংখ্যার ভিত্তিতে যথাক্রমে ‘বগি’, ডাবল বগি ও ট্রিপল বগিতে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
প্রতিবছরই পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিভিন্ন গলফ টুর্নামেন্ট ও চ্যাম্পিয়নশিপ হয়ে থাকে। প্রাইজ মানির হিসাবে প্লেয়ারস চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড গলফ চ্যাম্পিয়নশিপ, দুবাই, ইউরোপিয়ান ট্যুর প্রভৃতি প্রতিযোগিতা এগিয়ে থাকলেও ঐতিহ্য ও মর্যাদার দিক থেকে বিশেষ উল্লেখযোগ্য মেজর চ্যাম্পিয়নশিপ বা শুধুই মেজর। মেজরে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়েরাই অংশগ্রহণ করে থাকেন এবং একজন খেলোয়াড়ের খ্যাতি ও প্রতিপত্তি বহুলাংশে নির্ভর করে মেজরের সংখ্যার ওপর।
প্রতিবছর ‘মাস্টার্স টুর্নামেন্ট’, ‘ইউএস ওপেন’, ‘ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ’ এবং ‘পিজিএ চ্যাম্পিয়নশিপ’ নামে পুরুষদের চারটি মেজর অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যের ‘ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ’ ছাড়া এ চারটি মেজরের তিনটিই যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হয়। প্রতিবছর মেয়েদের অনুষ্ঠিত মেজর পাঁচটি। বিখ্যাত খেলোয়াড় ও শিরোপার সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বিশ্বের প্রায় ৩৫ হাজার গলফ কোর্সের মধ্যে ৫০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
সেদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয়, যেদিন এ দেশেও ফুটবলের গোলের সঙ্গে একই কাতারে উচ্চারিত হবে গলফের স্ট্রোক আর হোল কিংবা ক্রিকেটের উইকেট-ছয়-চারের সঙ্গে উচ্চারিত হবে বার্ডি-বুগি-পার শব্দগুলো। সিদ্দিকুর রহমান যে পথ আমাদের দেখালেন, কে জানে সে পথ ধরে এ দেশ থেকেও একদিন উঠে আসবে না টাইগার উডস, জ্যাক নিকলাস, বেন হোগান, আর্নল্ড পালমার, গ্রেগ নরম্যান, কেরি ওয়েবরা!
বিদেশ বিভুঁইয়ে দেশের পতাকা এর আগেও অনেকবার সগৌরবে উড়েছে। অধিকাংশ সময়ই সেই পতাকা বহনের গুরুভার হয়তো বইতে হয়েছে ১১ জনের একটি দলকে। দেশের সেই পতাকার ভার সিদ্দিকুরের একার কাঁধে। একজন শেরপা দিনের পর দিন এভারেস্ট জয় করে চলেন কিন্তু দিন শেষের তারার মেলায় তার দেখা পাওয়া ভার। তখন তিনি নিঃসঙ্গ শেরপা। আমাদের নিঃসঙ্গ শেরপা সিদ্দিকুরের জন্য শুভকামনা। তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি!