সকাল ৬:০৮, শনিবার, ২১শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের শিরোপা জিততে মরিয়া দুই দল বাংলাদেশ ‌ও ভারত। ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে ভারত কোচ ময়মল রকির ঘোষণা ‘অল-আউট’ ফুটবল খেলবে তার দল। একই সুর বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের‌ও।

কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রোববার বেলা দুইটায় শিরোপা লড়াইয়ে নামবে দুই দল। লিগের শেষ ম্যাচে ভারতকে ৩-০ গোলে হারানোর বাড়তি আত্মবিশ্বাস আছে বাংলাদেশের। তবে দুই দলের কোচই বলেছেন, আগের ম্যাচের ফল মনে রাখছেন না কেউ। নতুন ম্যাচ, নতুন লক্ষ্য নিয়ে নামবেন তারা।

লিগের তিন ম্যাচের সবগুলো বাংলাদেশ জিতেছে ১২ গোল করে; গোল হজম করেনি একটিও। দুই ম্যাচ জেতা ভারত গোল করেছে ১৩টি, খেয়েছে ৩টি। কোনো গোল হজম না করায় রক্ষণভাগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলাদেশ কোচ জানান, শিরোপা হাসি হাসতে আগের তিন ম্যাচের মতো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে তার দল। ছোটন জানান, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল- প্রত্যেকটা ম্যাচ জয়ের জন্য নামবো। নিজেদের খেলায় থাকবো। আমি মনে করি, আমাদের মেয়েরা এ পর্যন্ত সে কাজটি শুরু থেকে করতে পেরেছে। তারা প্রত্যেকটা ম্যাচই শুরু থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত নিজেদের খেলায় থাকতে পেরেছে। নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছে।’

তিনি আর‌ও জানান, ‘একটা টুর্নামেন্টে আমরা তিনটা ম্যাচ খেলেছি এবং কোনো গোল খাইনি, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো দিক। আমরা সেটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। আমাদের লক্ষ্য থাকবে ডিফেন্ডার এবং গোলকিপার কোনো গোল খাবে না এবং ফরোয়ার্ডরা যে সুযোগ পাবে, সেটা কাজে লাগাবে।’

এদিকে নিজেদের মাঠে, চেনা দর্শকের সামনে খেলতে নামা বাংলাদেশকে সমীহ করছেন ভারতের কোচ রকি। তবে তারও চাওয়া লিগ ম্যাচের হার ভুলে ফাইনালে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা।

তিনি বলেন, ‘ফাইনালের অংশ হতে পেরে খুশি। ফাইনালের জন্য মুখিয়ে আছি এবং ভালো একটা ম্যাচ খেলতে চাই আমরা। আশা করি, দর্শক, গণমাধ্যম সবাই ম্যাচটা উপভোগ করবে। গ্রুপের (লিগের) ফল আমাদেরকে নিরুৎসাহিত করছে না বরং এটা আমাদের ফাইনালে আরও ভালো খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।’

এসএ গেমসে খো খো’র রৌপ্য পদক জয়

২০ বছর পরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে এসএ গেমসে বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দল রৌপ্য পদক অর্জন করেছে। ভারতের সাথে ফাইনালে তারা পরাজিত হয়ে রানার্স আপ হয় এবং রৌপ্য পদক পায়।
খো খো খেলার জন্মদাতাই হচ্ছে ভারত এবং ভারতে এই খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রচ- প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাত্র তিন মাসের অনুশীলনের পর (ম্যাট ছাড়া) এ বিজয় ঐতিহাসিক বলে ভারতের খো খো বোদ্ধারা বলেছেন। এসএ গেমসে বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দলের পারফর্মেন্স ভারতের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ইতিমধ্যে আগামী এপ্রিলে ভারতের ভূপাল ও মহারাষ্ট্রে ফ্রেন্ডশীপ ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দল। এসএ গেমসে বাংলাদেশ দল ভারতে পৌঁছে লক্ষ্য করে খেলার নিয়মকানুনে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে ভারত। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ খো খো দল মোটেও অবহিত ছিল না। তাই নতুন আদলে খেলতে গিয়ে কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় পুরুষ ও মহিলা উভয় দলকেই। অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলো ছিল ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও পাকিস্তান। নেপালের পুরুষ ও মহিলা খো খো দল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দলেকে মাঠে উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শক উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করে এবং অভিনন্দন জানায়। বাংলাদেশের পুরুষ ও মহিলা খো খো দল ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে।