বিকাল ৪:৩৩, মঙ্গলবার, ২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং

এশিয়া কাপ শেষ না হতেই শুরু হয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে এর আগে পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে এশিয়া কাপের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের বিখ্যাত ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। আর সেখানে জায়গা পেয়েছেন চার বাংলাদেশি খেলোয়াড় সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও পেসার আল আমিন হোসেন।

একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। ধোনি ছাড়াও আরও তিন ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, জাসপ্রিত বুমরাহ একাদশে রয়েছেন।

এছাড়া একাদশে পাকিস্তানের দুজন- শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ আমির আর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে দলে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ জায়গা পেয়েছেন।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো সেরা একাদশ: রোহিত শর্মা, সৌম্য সরকার, বিরাট কোহলি, সাব্বির রহমান রুম্মান, শোয়েব মালিক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক-উইকেটরক্ষক), আমজাদ জাভেদ, মোহাম্মদ আমির, আল আমিন হোসেন, জাসপ্রিত বুমরাহ।

ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাংকিংয়ে সাব্বির

এশিয়া কাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাব্বির রহমান রুম্মন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। এর পুরস্কার হিসেবে আইসিসির টি-টোয়েন্ট ৪৪ ধাপ এগিয়েছেন সাব্বির।

সোমবার আইসিসি তাদের টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে। সেখানে টি-টোয়েন্টির ব্যাটসম্যান ক্যাটাগরিতে সাব্বিরের অবস্থান ২০তম। তার রেটিং পয়েন্ট ৫৭৪। এটি মারকুটে এই ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ারে অর্জিত সর্বোচ্চ র‌্যাংকিং ও রেটিং পয়েন্ট। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ২৫তম অবস্থানে রয়েছেন তিনধাপ পিছিয়ে যাওয়া সাকিব আল হাসান। তার রেটিং পয়েন্ট ৫৪৩।

র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বরেই রয়েছে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত। এছাড়া টি-টোয়েন্টির ব্যাটসম্যান হিসেবে এক নম্বরে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অ্যারন ফিঞ্চ, বোলারদের তালিকায় শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার সুনীল নারাইন আর টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডার তালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন অজি তারকা শেন ওয়াটসন। অলরাউন্ডার তালিকায় দুই নম্বরে সাকিব আল হাসান।

টিম ইন্ডিয়া সর্বোচ্চ ১২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। ১১৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই ও তিনে রয়েছে যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দ. আফ্রিকা। দুই পয়েন্ট কম নিয়ে চার নম্বরে নিউজিল্যান্ড। ১১২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে ইংল্যান্ড আর ১১১ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তান ১১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সাত নম্বরে। শ্রীলঙ্কা ১০৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার আট নম্বরে অবস্থান করছে। নয় নম্বরে রয়েছে ৭৭ পয়েন্ট অর্জন করা আফগানিস্তান। এরপরই রয়েছে এশিয়া কাপের ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মর্তুজার দল অর্জন করেছে ৭৪ পয়েন্ট।

এদিকে ব্যাটসম্যান ক্যাটাগরিতে এক নম্বরে থাকা ফিঞ্চের পরের জায়গাটি ধরে রেখেছেন ভারতের ইনফর্ম ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। একধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ফাফ ডু প্লেসিস। বোলারদের তালিকায় এক থেকে দশ নম্বরে রয়েছেন যথাক্রমে সুনীল নারাইন, ভারতের অশ্বিন, পাকিস্তানের ইমরান তাহির, শহীদ আফ্রিদি, জিম্বাবুয়ের গ্রায়েম ক্রেমার, নিউজিল্যান্ডের ম্যাকক্লেনাঘেন, আফগানিস্তানের দৌলত জাদরান, দ. আফ্রিকার ডেভিড উইসি, বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান এবং শ্রীলঙ্কার সেনানায়েকে।

‘মাহমুদউল্লাহ প্রত্যাশার থেকেও বেশি করে দিয়েছে’

মাত্র ৩ ওভার বাকি থাকতে এশিয়া কাপের ফাইনালে ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু ওই ৩ ওভারে ভারতকে নাকানিচুবানি খাওয়ান মাহমুদউল্লাহ। ঝড়ো ব্যাটিং করে ১৩ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় তুলে নেন ৩৩ রান। তার ঝড়ো ইনিংসে শেষ ৩ ওভারে বাংলাদেশ ৪২ রান সংগ্রহ করে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাব্বির রহমান।

 

মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ মাশরাফি। ম্যাচ শেষে মারকুটে এ ব্যাটসম্যানের প্রশংসা করে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘রিয়াদের যেটা খেলার কথা ছিল তার থেকে ও বেশি খেলেছে। আমরা যেটা প্রত্যাশা করছিলাম তার থেকে বেশি ও আমাদের জন্যে করে দিয়েছে।’

 

রিয়াদের ব্যাটিং নিয়ে মাশরাফি আরও বলেন, ‘পূর্বেও রিয়াদ এরকমই ব্যাটি করত। এই মুহুর্তে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে ওর। এ জন্য ওর থেকে আমরা আরও বেশি সার্ভিস পাচ্ছি।’

 

ব্যাটিং মাহমুদল্লাহকে কেন আগানো নামানো হয়নি? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘রিয়াদ ওর জায়গায় ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পাচ্ছিল। এবং আমাদের পরিকল্পনামত ও ওর খেলা খেলে যাচ্ছিল। এমন না যে যারা রিয়াদের আগে ব্যাটিং করেছে তারা বড় ইনিংস খেলতে ক্যাপবল না। ওরা আগেও ভালো করেছে। সামনে ওদেরকেই আরও বড় ইনিংস খেলতে হবে।’

 

 

 

 

 

বৃষ্টি বিড়ম্বনা : উত্তেজনার আগুনে ভাটা

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টির কারণে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। হঠাৎ তুষার ঝড়ে কিছু সময়ের জন্য থেমে গিয়েছিল রাজধানী ঢাকা। তুমুল বৃষ্টিতে মনে হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের সাথে ভারতের ম্যাচটি মাঠে গড়াবে না। কিন্তু সব আশঙ্কা দূর করে সেদিন ভালো মতই নির্ধারিত সময় খেলা শুরু হয়। কিন্তু এবার আর তা হলো না। আবারও বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ। ভেন্যূ সেই মিরপুর স্টেডিয়াম। ম্যাচ শুরুর সময়ও একই, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। তবে ম্যাচের গুরুত্ব আরও ব্যাপক। ফাইনাল। শিরোপা লড়াই। জিতলে বাংলাদেশ গড়বে নতুন ইতিহাস। এশিয়া পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন। আর তাই এ ম্যাচকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে টাইগার ভক্তদের ঘুম হারাম। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে- এ প্রত্যাশায় উৎসবের সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছিল গোটা দেশ। টিকিট নিয়ে কি না লঙ্কা কান্ড হলো! মাঠে বসে খেলা দেখার আশায় ২ দিন আগে ব্যাংকের সামনে লাইন। পুলিশের সাথে সংঘর্ষ। লাটিচার্জে কেউ কেউ রক্তাক্ত। আর যারা এত কিছুর পরও কোনো টিকিট ম্যানেজ করতে পারেনি, তারা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বড় পর্দায় অনেকের সাথে বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল দেখবেন। লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে পাড়া মহল্লায় আয়োজন ‘বড় স্ক্রিনে’ খেলা দেখার। উৎসবের সব উত্তেজনায় পানি ঢেলে দিল প্রকৃতি। আবারও এশিয়া কাপে বৃষ্টির থাবা। এবার ফাইনালে। সেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে। এবার আর সময় মত খেলা মাঠে গড়ালো না। সাড়ে সাতটার ম্যাচ শুরু হলো রাত সাড়ে ৯ টায়।
তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে খেলা মাঠে গড়ালেও তা ২০ ওভার থেকে কমে হয়ে যায় ১৫ ওভারের। রাত পৌনে ৯টায় মাঠ পরিদর্শন শেষে এমন সিদ্ধান্ত জানান ম্যাচ রেফারি। এর আগে ৮টা ২৫ মিনিটে পিচের ওপর থেকে কাভার সরিয়ে নেয়া হয়। ম্যাচটি ১৫ ওভারে নির্ধারণ হওয়ায় পাওয়ার প্লে ৬ ওভারের পরিবর্তে নেমে ৫ ওভারে দাঁড়ায়। একজন সর্বোচ্চ তিন ওভার বল করতে পারবেন। ইনিংসের জন্য বিরতি রাখা হয় ১০ মিনিট।
এর আগে হঠাৎ সন্ধ্যায় শুরু হয় ঝড়ো বৃষ্টি। সোয়া ৬টার দিকে প্রচন্ড ঝড়সহ বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে ৭টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর দ্রুতই মাঠে নেমে পড়েন গামিনি সিলভার নেতৃত্বে গ্রাউন্ডসম্যানরা। মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যাধুনিক হওয়ায় বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ থেকে সরে যায় পানি।
এদিকে, বাংলাদেশের গ্রাউন্ডসম্যানদের তৎপরতায় মুগ্ধ ইথান নামে ক্রিকইনফোতে এক ব্যক্তি লেখেন, কলকাতার মাঠের গ্রাউন্ডম্যানদের এখান থেকে শেখার আছে। আর পিচ দেখে বোঝার উপায় নেই যে বৃষ্টি হয়েছে, এমনটাই বলেছেন রাসেল আরনল্ড। স্বাভাবিক সময়ের মতোই পিচ যথেষ্ট শুকনো। সামান্য কুয়াশায় মাঠের চেহারা যেমন সে রকমই রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই লঙ্কান অলরাউন্ডার।
বৃষ্টি থামার পর ড্রেসিংরুমের সামনে ফুটবলে খেলে ওয়ার্মআপ সারেন মাশরাফিবাহনী। ধোনি-কোহলির ভারত দলও শরীর গরম করে নেয় ফুটবল খেলে।
তবে ভোগান্তিতে পড়েন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশ-ভারত এশিয়া কাপ ফাইনালের টিকিট পেতে নানা ঝড়-ঝঞ্চা সইতে হয়েছে দর্শকদের। টিকিটের চরম অব্যবস্থাপনা ও অপ্রতুলতার কারণে দুই দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ‘সোনার হরিণ’ টিকিট সংগ্রহ করতে হয় তাদের। এবার প্রকৃতির বিরুপ আচরণে আরও একবার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হলো সেই দর্শকদেরই। বৃষ্টিতে ভিজে একাকার স্টেডিয়াম ফাইনাল ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকরা।
২৫ হাজার আসন সংখ্যার স্টেডিয়ামে ছাউনি নেই পূর্ব গ্যালারিত, যেটি ‘সাধারণ গ্যালারি’ বলেও ডাকা হয়। সাধারণ গ্যালারিতে থাকা প্রায় সকল দর্শককেই ভিজতে হয়েছে সন্ধ্যায় নামা বৃষ্টির পানিতে। অন্য গ্যালারিতে ছাউনি থাকলেও বৃষ্টির পানি থেকে কেবল বাঁচতে পেরেছেন উপরের সারিতে (আপার) বসা দর্শকরা। নিচের সারিতে (লোয়ার) যাদের জায়গা হয়েছে তারাও ভিজেছেন বৃষ্টিতে।
এদিকে, বাংলাদেশে দিনের শুরুই যেন হয় এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার কথা নিয়ে। মাঠ-ঘাট, পরিবহন, ক্যাম্পাস, কর্মস্থল সব জায়গায়ই একই আলোচনা। কিন্তু সন্ধ্যার কালবৈশাখী ও ঝড় বৃষ্টি সেই ফাইনালকে ফেলে দেয় অনিশ্চয়তায়। আর তাতে স্বস্তি ফিরে সবার মাঝে। যারা বড় পর্দায় খেলা দেখবেন বলে বিকেল থেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন রাস্তার মোড়ে মোড়ে, তারা আবারও হাজির হন বড় পর্দার সামনে। বৃষ্টিতে ভিজেও শাহবাগে বড় পর্দার সামনে ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাহাত ও ফয়জুল বলেন, আমরা টাইগারদের এখান থেকে সমর্থন করে যাবো। ঝড়-বৃষ্টি আমাদের কোনো কিছু থেকেই পেছনে ফেলতে পারবে না। আমরা বলবো; মাশরাফি, তোমরা মনোযোগ দিয়ে খেলো, শিরোপা আমাদের-ই।
শুধু রাহাত-ফয়জুল না, এই বিশ্বাস গোটা বাংলাদেশের ছিল।
বৃষ্টির কারণে খেলা না হলে কি হবে- এ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। ন্যূনতম ৫ ওভার খেলা হতে হবে। আর তা শুরু হতে হবে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে। কারণ রিজার্ভ ডে ছিল না। আর যদি এত কিছুর পরও খেলা না হলে বাংলাদেশ ও ভারতকে যৌথভাবে ঘোষণা করা হতো এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।

বৃষ্টি থেমেছে, ম্যাচ অফিসিয়াল মাঠে

মিরপুরে বৃষ্টি থেমেছে। স্টেডিয়ামে এখন কোন বৃষ্টি নেই। এরই মধ্যে ম্যাচ অফিসিয়ালরা মাঠে নেমেছেন। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। এর আগে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিলো এক ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। সেই হিসেবে প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যেই বৃষ্টি থেকে যায়। আর ঝড়ো হাওয়া বন্ধ হয় আরও আগে রাত ৭টার দিকে।
আবহাওয়া দফতরের সহকারী পরিচালক সাদিকুল আলম সংবাদ কর্মীদের জানান, রোববার আকাশে মেঘের যে কাঠামো ছিলো তাতে মিরপুর এলাকায় একটু বেশিই বৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, নগরীর উত্তর দিকটাতে একটু বেশি আর দক্ষিণে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এই আবহাওয়াবিদ আরও জানান, রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় আবহাওয়া অফিস ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে। মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় তা ২২ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সেখানে বৃষ্টিপাত মাপার কোনও ব্যবস্থা নেই।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ একাদশে দুই পরিবর্তন!

এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ফাইনালে আজ ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে দেশজুড়ে টাইগার ভক্তদের মাঝে চলছে চরম উন্মাদনা। ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ঘিরে সেই উন্মাদনায় পারদ ঢালছেন দলের খেলোয়াড়রাও। আর এ ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে দেখা যেতে পারে দুই পরিবর্তন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে দলে না থাকা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সোহান অনুমিতভাবেই বোঝা যাচ্ছিল দলে ফিরছেন। শেষদিকে তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের কারণে তাকে দলে নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবর্তে বাদ পড়ছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিথুন।

আর ভারতীয় চার বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের (যুবরাজ সিং, শেখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়না ও জাদেজা) কথা মাথায় রেখে বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানীকে দলের বাইরে রাখা হতে পারে। তার পরিবর্তে দলে জায়গা পেতে পারেন বিপিএলে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি আবু হায়দার রনি।

ইতিহাস থেকে এক পা দূরে বাংলাদেশ

আমিনুল হক মল্লিক : আর মাত্র একটি ম্যাচ। এশিয়া কাপের ফাইনালে রোববার ভারতকে হারাতে পারলেই নতুন ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা উঠবে বাংলাদেশের ঘরে। ২০১২ এশিয়া কাপে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে পাকিস্তানের বিপে ২ রানের সেই হারের পর সাকিব-মুশফিকদের কান্না কাঁদিয়েছিল গোটা দেশকেও। চার বছর পর সেই পাকিস্তানকে হারিয়েই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে। সেই সঙ্গে ২০১২ সালের ফাইনালে হারের তে দিয়েছে সান্ত্বনার প্রলেপ। এখন স্বপ্নের শিরোপা থেকে মাত্র এক কদম দূরে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠানরত এবারের এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটাও তো সবার জানা। সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে। ভারতের বিপে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পাঁচটি জয় থাকলেও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলে হার সব কটিতেই। রোববার ফাইনালের আগে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা নিতে পারে তাই ওয়ানডে থেকেই। গত বছর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে ২-১-এ হারানোর স্মৃতিটা এখনো টাটকাই। ২০১২ সালে তো এই এশিয়া কাপেই ভারতকে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে সেদিন শচীন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি ম্লান হয়ে গিয়েছিল তামিম, সাকিব, নাসির, মুশফিকদের দারুণ ব্যাটিংয়ের কাছে। ২০১২ এশিয়া কাপের সেই সুখস্মৃতি রোববার ফাইনালেও ফিরবে?
শনিবার ম্যাচ পুর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টাইগারদের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, নিজেদের স্বাভাবিক থেকেই বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপে মুখোমুখি হতে হবে। ফাইনালে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী লাল-সবুজের দলপতি। সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানান, কোনো সন্দেহ নেই ভারত টি-টোয়েন্টির এক নম্বর দল। তারা শুধু টি-টোয়েন্টি ফরমেটেই নয়, টেস্ট এবং ওয়ানডেতেও ভালো মানের দল। তাদের ব্যাটিং অর্ডার বেশ শক্তিশালী। টপঅর্ডারের ছয়জন ব্যাটসম্যান রয়েছে যারা যেকোনো জায়গা থেকে ম্যাচ বের করে নিতে পারেন। তবে, আমাদের বোলাররা ছেড়ে কথা বলবে না। ফাইনালে তাদের ব্যাটসম্যানদের আটকানোর কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারকে গুরুত্ব দিয়ে ম্যাশ জানান, ভারতের বিপে আমরা প্রথম ছয় ওভার ভালো বল করতে চাই। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ভারতীয় টিম ম্যানেজার রবি শাস্ত্রী। তিনি বাংলাদেশকে নিজ মাটিতে কঠিন প্রতিপ হিসেবেই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটি অনেক কঠিন ছিল। আর সেই ম্যাচে জয়ী হয়ে শুরু করাটাও ভারতের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুরুতে সেই ম্যাচে চাপেই ছিলাম। শেষ ১০ ওভারে ঘুরে দাঁড়াই। রোববারের ম্যাচে বোলিং ও ব্যাটিংয়ের মাঝে সঠিক ভারসাম্য আনাটাই জরুরি। তবে বাংলাদেশ নিজ মাঠে শক্ত প্রতিপ। বাংলাদেশের ‘হোম ক্রাউড’-এ খেলা। এ নিয়ে ভারত কোনও চাপে রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে রবি শাস্ত্রী বলেন, এ নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমরা বড় দর্শকদের সামনে খেলতে অভ্যস্ত।

সংশয় কাটিয়ে ফাইনালে খেলবেন সাকিব

একদিন পরেই এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে স্বপ্নের ফাইনাল। এর আগে হঠাৎ করেই জানা গেলো ইনজুরিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কোচ-অধিনায়কদের কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ। কিন্তু আগামীকালের ম্যাচে খেলা নিয়ে তেমন কোন সংশয় নেই বলে জানিয়েছেন দলের প্রধান ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম।

সাকিবের ইনজুরি সম্পর্কে জানতে চাইলে বায়েজিদ বলেন, ‘সাকিব গতকাল একটা ব্যথা পেয়েছে, এটাকে আমরা কন্ট্রিউশন ইনজুরি বলে থাকি। ও এখন মোটামুটি ভালো আছে। আজকে আমাদের ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল। আমাদের নিষেধাজ্ঞা ছিল ও অনুশীলনে যাবেনা, তারপরেও গেছে। খুব বেশি অনুশীলন করে নাই। ভালো আছে ইনশাল্লাহ। এতো বেশি টেনশনের কিছু নাই। আশা করি কালকের ম্যাচের আগেই পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে।’

আগের দিনই নেটে অনুশীলনে ব্যাটিং করার সময় বাঁ পায়ের উরুতে আঘাত পান সাকিব। এর পর থেকেই ফিজিও ও চিকিৎসকদের নিবিড় তত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। এ ধরণের ইনজুরি সারতে সাধারণত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর এটা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কমে বলে জানান বায়েজিদ। নতুন করে আজকে ব্যাথা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে নতুন করে ব্যথা পায় নাই। এটা গতকালেরই ব্যথা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এ ধরনের ইনজুরি ঠিক হয়ে যায়। আমরা আসা করছি ম্যাচের আগেই সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যাবে।’

এ ধরণের ইনজুরিতে ইনজেকশন দিলেই যে কমে যাবে তা নয় বলে জানান ফিজিও। তবে কিছু ক্ষেত্রে অনেকের কমে আবার অনেকের কমে না বলেও জানান তিনি। এশিয়া কাপে ব্যাট হাতে ফর্মে না থাকলেও বল হাতে দারুণ করছেন সাকিব। তাই ফাইনালের আগে তার দলে না থাকাটা টাইগারদের জন্য বড় ধাক্কা।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সাইড স্ট্রেনের চোটে পরে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছেন হালের নতুন সেনসেশন ও দেশ সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

রোববারের রাত হোক শুধুই ক্রিকেটের…

এম এস সাহাব : রোববার ভালোবাসার রাত, ভালোলাগার রাত। রোববারের রাত ক্রিকেটের জন্য ভালোবাসা। তাই রোববারের রাত হতে পারে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসবের। রোববার রাতে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে মাশরাফিবাহিনী। এ ম্যাচ জিততে পারলে তা হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের দেশে এখন সবচেয়ে বড় বিনোদনই এই ক্রিকেট। আর যদি এশিয়ার সেরা হওয়া যায়, তাহলে তো কথা-ই নেই। স্বপ্ন যেন সত্যি হয়ে যাবে গোটা দেশের। তাই রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে আমজনতার আকাক্সক্ষা বিজয় আমাদেরই হোক। গত ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠার পর থেকেই সবার মধ্যে এই ছিল স্বপ্ন, একই বাসনা। প্রার্থনাও সেই একই-মাশরাফিবাহিনী ফাইনাল যেন জিতে যায়। আর তাই সেই কাক্সিক্ষত ইতিহাস গড়ার রাতের জন্য প্রস্তুত গোটা দেশ, জাতি। লাল-সবুজের পতাকার বাংলাদেশ। যার শুরুটা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…’। এক টুকরো মিরপুর স্টেডিয়ামই যেন এখন গোটা বাংলাদেশ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে শিরোপা দ্বৈরথ। এই দ্বৈরথকে ঘিরে ইতিমধ্যে লঙ্কাকান্ড ঘটে গেছে। ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। প্রস্তুতি রয়েছে ঘরের বাইরে। টেলিভিশনে, জায়ান্ট স্ক্রিনে চোখ থাকবে ছাপান্নো হাজার বর্গ মাইলের এই দেশের সর্বত্র। পারলে স্টেডিয়ামে বসেই খেলা দেখার জন্য ইচ্ছে ষোল কোটি বাংলাদেশীর। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়। তারপরও অনেকেই এই বাস্তবতা মানতে নারাজ। তারা যে কোনোভাবেই হোক মাঠে বসেই খেলা দেখবেন। আর তাই একটি টিকিটের জন্য রক্তপাতের ঘটনাও ঘটে গেছে। ফাইনালের টিকিট যেন সোনা নয়, ‘হিরা’র টুকরো। কোথাও ‘টিকিট’ নেই। আলাদিনের চেরাগ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মহামূল্যবান ফাইনালের টিকিট। মাশরাফি-মুশফিক-তামিম-সাকিবদের এশিয়ার সেরা মুকুট জেতার লড়াই রোববার। এই লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাঠে থাকতে ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গেছে ২ দিন আগেই। কেবল টিম স্কোয়াডের ক্রিকেটারদেরই প্রায় ১৫শ’ বন্ধু-বান্ধব পরিবার-পরিজন? মাঠে থাকতে চান। থাকতে চান ভিআইপি মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে তারকা ক্রীড়ামোদীরাও। আরও থাকতে চান লাখো টাইগারপ্রেমী। তাই, মূল্য যা-ই হোক, টিকিটের সন্ধানে এখনো অনেকে। কিন্তু টিকিট যে নেই! শুক্রবার থেকেই বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট মহারণ্য দেখতে অগণিত টিকিট চাহিদার চিত্র রাজধানীর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আশপাশে দেখা গেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা শর্মিলী জানান, তিনি ও তার স্বামী দু’দিন থেকে অনেক চেষ্টা করেও কোথাও থেকে টিকিট ম্যানেজ করতে পারছেন না। কেউ বলছেও না কোথাও টিকিট পাওয়া যাবে। শনিবার সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) দীর্ঘ লাইন এবং সংঘর্ষে টিকিট বিক্রি বন্ধের পর অবস্থা ছিল আরও করুণ। টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় হাজারো ক্রিকেট পাগল মাঠে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার হতাশায় পুড়ছেন। বিসিবি সূত্র বলছে, কেবল লাইনে দাঁড়ানো মানুষই নন, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিসিবির নিজস্ব কর্মকর্তারদের চাহিদা অনুযায়ীও টিকিট পাওয়া যায়নি। এদিকে, টিকিট নিয়ে এ ‘যুদ্ধের’ মধ্যে খেলার আগের দিন শনিবার থেকে শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে স্বাগত জানাতে আনন্দ-মিছিল ও বিজয়োল্লাসের প্রস্তুতি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ক্রিকেট কাব, পাড়া মহল্লায় পতাকা নিয়ে স্বাগত মিছিলের প্রস্তুতি নিতেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের মাঠে ৬০ ফুটের জাতীয় পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিল ও বিজয়োল্লাসে বের হবেন শিার্থীরা। মহাখালীর বিটিসিএল কলোনি ওয়ারলেস এলাকার বাসিন্দারা পাকিস্তানের সঙ্গে জেতার রাতেই মিছিল করেছিলেন। সেখান থেকেই তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন ফাইনাল খেলার আগের দিন বিকেল থেকে ওয়ারলেস এলাকায় মিছিল বের করা হবে। একইসঙ্গে আয়োজন থাকবে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানোর। এমন উৎসবের প্রস্তুতি সারাদেশেই। ক্রিকেটেই এখন বাংলাদেশের প্রাণ। ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর গোটা দেশ এক কাতারে দাঁড়িয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ছিল। এরপরও যে কয়বার এদেশের মানুষ দলমত ভুলে এক হয়ে আনন্দ করেছে তা এই ক্রিকেটের কল্যাণেই। তাই সহজে অনুমেয়, যদি এশিয়া কাপ ক্রিকেটের শিরোপা মাশরাফিবাহিনী জিততে সক্ষম হয় তবে বাংলাদেশে আরেকবার কি হতে চলেছে! টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার আকাশ আতশবাজি আর রং ছটায় রঙিন হয়ে উঠবে। নেচে-গেয়ে উঠবে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্নের রাতের বিজয়োল্লাসের অপেক্ষা-ই শুধু এখন। ক্রিকেটে রোববার বাংলাদেশ জিতে গেলে জিতে যাবে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়–ক সবখানে…।

বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ

এশিয়া কাপের এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে শুরুতেই বাংলদেশের বোলিং তোপের সামনে অনেকটাই চাপে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। মাশরাফি-আল আমিনদের আক্রমনাত্মক বোলিং দলীয় ৪২ রানে ভারতের তিন টপঅর্ডারকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেয়।
তারপরেও সেই চাপ সামলে রোহিত শর্মা ও হারদিক পান্ডের ব্যাটে ভর করে শেষ পর্যন্ত খেলায় ফেরে ভারত। ম্যাচে টিম ইন্ডিয়া ৪৫ রানের জয়ও তুলে নেয়।
প্রথম ম্যাচের এমন পারফরমেন্সের কারণেই বাংলাদেশকে এশিয়া কাপের ফাইনালে কঠিন প্রতিপক্ষ বলে মনে করেন, ভারত দলের পরিচালক রবি শাস্ত্রী।
শনিবার এশিয়া কাপের ফাইনালের আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি এভাবেই প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে রবি জানান, ‘আপনারা দেখেছেন প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা ভাল খেলেছে। যদিও আমরা শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছি। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত আমাদের চাপে রাখে। মূল কথা বাংলাদেশ সহজ কোনো প্রতিপক্ষ নয়।’
এদিকে, পিচ বা উইকেট প্রতিটি ম্যাচেই বেশ গুরুত্ব পায়। সেই ধারাবাহিকতায় এই ম্যাচেও মিরপুরের উইকেট দু’দলের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ কেননা, উইকেট কেমন আচরণ করবে তার উপরে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করে।
তাই সঙ্গত কারণেই রবি’কে প্রশ্ন করা হয়, এশিয়া কাপে এখনও পর্যন্ত মিরপুরের উইকেট টি-টোয়েন্টির মতো আচরণ করেনি, তাছাড়া আপনার কী মনে হয় যে হার্ডহিটাররা এই উইকেটে সুবিধা পাবে? উত্তরে তিনি জানান, ‘দেখুন পিচ আমাদের হাতে নেই। আমাদের কাজ খেলে যাওয়া। তাই পিচ যেমনই হোক না কেন, আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটিই খেলবো।’
এদিকে, টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ধারাবাহিক ভাবেই ভাল খেলে যাচ্ছেন ভারতের টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশর বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৯ ও তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৬ রানের ইনিংস টিম ইন্ডিয়াকে জয় এনে দিয়েছে। আর রোহিত শর্মা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন ৮৩ রানের ইনিংস। এদিকে, সুরেশ রায়না ও যুবরাজ সিং ধারাবাহিক আছেন রানের মাঝেই। যুবরাজ লঙ্কানদের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৩৫, পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ১৩ আর বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৫ রানের ইনিংস।
এমন বাস্তবতায় ফাইনালেও ভারত এই ক’জন ব্যাটসম্যানের উপর বেশি নির্ভর করবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রবি শাস্ত্রী মনে করেন, ভারত এক বা দুজন খেলোয়াড় নির্ভর দল নয়। এখানে সবার সম্মিলত অংশগ্রহণেই দলটি ‘টিম ইন্ডিয়া’ নামে খ্যাত।

টিকিটের জন্য হাহাকার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ফাইনালের টিকিটের হাহাকার পড়ে গেছে। শত চেষ্টা করেও কোথাও মিলছে না ক্রিকেট। এ নিয়ে সংর্ঘষের ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার বিপুল সংখ্যক টিকেটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছে কয়েকজন। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়।
এই সংঘর্ষের কারণে শনিবার মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) বুথে টিকেট বিক্রি চার ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। বাংলাদেশ-ভারতের রোববারের ফাইনাল খেলার টিকেট কিনতে টিকেট এদিন সকাল থেকেই ছিল দীর্ঘ লাইন।
দুপুর ১২টায় টিকেট বিক্রি শুরুর কথা ছিল। কিন্তু বিসিবি থেকে তখন পর্যন্ত টিকেট পাঠানো হয়নি বলে বেসরকারি এই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান। এর মধ্যেই ‘টিকেট নাই’ এবং ‘জাল টিকেট বিক্রি হচ্ছে’ গুজব ছড়ালে বেলা পৌনে ১২টার দিকে লাইনে দাঁড়ানো টিকেট প্রত্যাশীদের মধ্যে ােভ দেখা দেয়।
Ticketing-2
মিরপুর থানার ওসি ভূইয়া মাহবুব হোসেন বলেন, “টিকেট বিক্রি শুরুর আগেই এক পর্যায়ে ব্যাংকে ইট নিপে এবং সড়কে গাড়ি ভাংচুর শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।”
প্রত্যদর্শীরা জানায়, টিকেট প্রত্যাশীরা টিকেট বিক্রিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও রবার বুলেট ছুড়তে শুরু করে।
ওই সংঘর্ষের পর টিকেট বিক্রি আর শুরু হয়নি। কখন হবে, তার কোনো ঘোষণাও আসেনি ব্যাংকের কাছ থেকে।
এরপর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এক ব্যক্তিকে শুধু একটি টিকেটই দেয়া হয় এবং তা শুধু দেড়শ টাকা দামের টিকেট। এক ঘণ্টার মধ্যে টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে যায়, তখনও অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এই লাইন ছিল দীর্ঘ। মিরপুর ১১ নম্বরের ৬ নম্বর সেকশনের সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ব্যাংকের সামনে ক্রিকেটপ্রেমীদের কোয়ার্টার মাইল লম্বা লাইন পড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করেছিল প্রশাসন। শনিবার ব্যাংকের সামনে ঘুরে দেখা যায়, ফাইনাল ম্যাচের টিকিট পেতে ইউসিবির আশপাশে মানুষের ঢল নেমেছিল। ব্যাংকের সামনে থেকে টিকিট প্রার্থীদের লাইন ১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছে পৌঁছে যায়। তিন ভাঁজের প্যাঁচানো লাইন সোজা মেলে ধরলে তা গোল চত্বর ছাড়িয়ে যাবে আরও দূর।
টি-টোয়েন্টির এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ-ভারত খেলা ঘিরে টাইগার সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। টিকেট নিয়ে হাহাকার চলছে সর্বত্র।

বাংলাদেশের প্রধান শক্তি দর্শক : মাশরাফি

বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটি? ব্যাটিং, বোলিং নাকি ফিল্ডিং? কেউ যদি বলে এর একটিও নয় তাহলে নিশ্চিত করে বিশাল ধাঁধায় পড়বেন যে কোন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞও। বিষয়টি পরিস্কার করলেন বাংলাদেশ দলের রঙিন জার্সির অধিনায়ক ও দেশ সেরা পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা। জানালেন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় শক্তি দর্শক।

শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে আগামীকাল এশিয়া কাপের ফাইনালের মঞ্চে নামছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে নামার আগে নানা প্রশ্ন ক্রিকেটভক্তদের মনে ঘুরছে। নিজেদের শক্তিশালী দিক কোথায় জানতে চাইলে শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তি দর্শক, সবসময়ই ছিল, এখনও আছে। দর্শক না থাকলে আমরা এতটা অনুপ্রাণিত হতাম না। আমাদের ক্রিকেট এ পর্যন্ত আসার পেছনে জনসাধারণের অনেক অবদান, অনেক ত্যাগও আছে। এটা আমাদের জন্য ভালো একটি সুযোগও। আমরা যদি ভালো খেলতে পারি, ভালো কিছু করতে পারি, তাহলে অবশ্যই সবাই খুশি হবে। আমাদের জন্য তাই দারুণ সুযোগ।’

সেই দর্শকদের ভোগান্তি কাঁদায় মাশরাফিকেও। এদিন নিজেই দেখেছেন তাদের দুর্দশা। দুই দিন আগে থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকেট পাননি দেশের আনাচে কানাচে থেকে আসা হাজারো ভক্তরা। এখন তাদের জন্য ভালো ক্রিকেট খেলে প্রতিদান দিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সকালেই দেখেছি, অনেক মানুষ টিকিটের জন্য লাইন দিয়ে আছে। একটি টিকিটের জন্য অনেক কষ্ট করেছে, অনেকেই নাকি বেশ সমস্যায়ও পড়েছেন। আমরা ভালো খেললে প্রায়ই এটা হয়ে আসছে। এখন আরও বেশি হচ্ছে। আমি আশা করব এবং পুরো দলই চেষ্টা করবে তাদের জন্য ভালো কিছু করার।’

উল্লেখ্য, রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ।

সময়ের হাত ধরে ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান

অন্য অনেক দেশের মতই বাংলাদেশের প্রথম পছন্দের খেলা ছিল ফুটবল। এখনও গ্রাম-গঞ্জে বড় কোন ফুটবল ম্যাচ আয়োজন হলে হাজার হাজার মানুষ মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে যায় খেলা দেখতে। ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালবাসা যেন আদি এবং অকৃত্রিম। বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই দেখা যায়, এ দেশের প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে উড়বে ব্রাজিল না হয় আর্জেন্টিনা, জার্মানি কিংবা স্পেনের পতাকা। দেখে মনে হবে যেন, প্রতিটি বাড়িতেই একএকটি দেশের উপনিবেশ।

সত্যিই এক মাসের জন্য, বাংলাদেশের ঘরে ঘরে যেন উপনিবেশ কায়েম করে ব্রাজিলের সুপার পাওয়াররা। ফুটবলের এমন জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে বাংলাদেশে ক্রিকেটই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সেই ৮০’র দশকেও ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত ছিল না খুব বেশি মানুষ। ৯০-এর দশক থেকে পরিচিত হয়ে উঠতে উঠতে ১৯৯৭ সালে এসে প্রবল পরাক্রমে বাড়তে থাকে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা।

কিভাবে, কখন থেকে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে- সেটাই তুলে ধরা হলো পাঠকদের সামনে-

প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে আইসিসি ট্রফিতে। একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের বিশ্ব ক্রিকেটে অভিষেক এশিয়া কাপ দিয়েই। তখন এশিয়া কাপে একদিনের ম্যাচ হতো। সেটা ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ এবং প্রথম ম্যাচটাই বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। যে পাকিস্তানকে হারিয়ে এবার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার্সরা। দশ নম্বর দেশ হিসেবে ২০০০ সালে প্রথম টেস্ট ক্রিকেট খেলার ছাড়পত্র পায় বাংলাদেশ। সেটা হয়েছিল ঢাকায় ভারতের বিরুদ্ধে। আবার সেই ভারতের সামনে বাংলাদেশ। এবার এশিয়া কাপ ফাইনাল।

এত বছরে অনেক প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অতীতে যে সাফল্যের মুখ দেখেনি তা নয়; কিন্তু সেটা ধারাবাহিক ছিল না। একটি ম্যাচ জয় তো চারটিতে হার। তবে এ বছর এশিয়া কাপের শুরু থেকেই নিজেদের প্রতি মুহূর্তে চিনিয়েছেন মাশরাফি, সাকিবরা।

একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে সব খেলার সেরা বাঙালির ভুমি ফুটবলই ছিল। কিন্তু একটু একটু করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থানে মানুষ ক্রিকেটপ্রেমী হতে শুরু করে। ১৯৯০ থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়াক্ষেত্রের দখল নেয় ক্রিকেট। ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম আইসিসি ট্রফি জিতে ইংল্যান্ডে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। এটা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের সব থেকে বড় সাফল্য এবং প্রথম বিশ্বকাপেই পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। হারিয়েছিল স্কটল্যান্ডকেও। তখনও আইসিসির সম্পূর্ণ সদস্য হতে পারেনি তারা। তখন অ্যাসোসিয়েট মেম্বার হিসেবেই বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ২০০০-এর ২৬ জুন বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ সদস্যপদ দেয় আইসিসি।

খারাপ সময়ও কম যায়নি। পর পর সব থেকে বেশি টেস্ট ম্যাচ হারের রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশেরই। এর সঙ্গে বিশ্বকাপে ওই দুটো ম্যাচ জয়ের পর আবার বাংলাদেশ একদিনের ম্যাচে জয়ে ফেরে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় ২০০৯ এ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। ৩১২টি একদিনের ম্যাচ খেলে ৯৮টি জিতেছে বাংলাদেশ। টি২০ খেলেছে ৫৪টি। জয় মাত্র ১৮টিতে।

র‌্যাংকিংয়ের দিক থেকেও সেরা ফর্মে রয়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে ৯, ওয়ানডে তে ৭, টি২০-তে এই মুহূর্তে রয়েছে ১০ নম্বর স্থানে। এশিয়া কাপ শেষে টি২০ র‌্যাংকিংয়ে যে অনেকটাই উত্থান হবে সেটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

২৬ হাজার টিকিটের মধ্যে ইউসিবি পায় ৩ হাজার

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ২৬ হাজার। টিকিটও করা হয় সমপরিমাণ। কিন্তু টিকিট মেলে না সাধারণ মানুষের। টিকিট নিয়ে নয়ছয় যেন প্রতি ম্যাচের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় ধরনের ম্যাচ হলে তো কথাই নেই।

রোববার এশিয়া কাপের ফাইনালে নামছে বাংলাদেশ ও ভারত। এ ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশ পাবে প্রথম বড় কোনো শিরোপার স্বাদ। তাই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না টিকিট। টিকিট যেন হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ।

জানতে চাইলে টিকিট বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, টিকিট বিক্রির দায়িত্ব থাকলেও তাদেরকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে পরিমাণ টিকিট দেয় তা খুবই অপ্রতুল। ফলে টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে তাদের বারবার সমালোচিত হতে হচ্ছে। টিকিট বেশি চেয়ে বিসিবিকে চিঠি দেয়া হলেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

জানা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ৩ হাজারের মতো টিকিট দেয় ব্যাংকটিকে। এর মধ্যে ৫শ থেকে হাজার খানেক বিতরণ হয়ে যায় ব্যাংকের ভেতরেই। বাকি ২ থেকে আড়াই হাজার টিকিট যায় সাধারণ ক্রেতাদের কাছে, যারা দিন রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন একটি টিকিটের জন্য।

ফলে এবারের এশিয়া কাপের পুরো সময়টাতে টিকিটের জন্য হাহাকার চলছে। সামনে এসেছে ২৬ হাজার টিকিট গেলো কোথায়। সৌজন্য আর কালোবাজারির দাপটে বেহাল টিকিট ব্যবস্থাপনা।

জানা গেছে, এবার টিকিটের জন্য হাহাকার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও। দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হলে প্রতি ম্যাচেই চার-পাঁচটি করে সৌজন্য টিকিট পান খেলোয়াড়েরা। এর বাইরে বিসিবির কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টিকিট কিনে নিতে পারেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। একই অবস্থা সাবেক খেলেয়াড়দের ক্ষেত্রেও।

২০১১ বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশে এই হাহাকার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মোট টিকিটের প্রায় ৪০ শতাংশ ‘সৌজন্য টিকিট’ হিসেবে চলে যায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার কাছে। তবে এবার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ টিকিট চলে গেছে এসব প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে দুটি বিশেষ সংস্থার নামও রয়েছে।

তবে টিকিটের এতো হাকারের মধ্যেও চলছে কালোবাজারি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কালোবাজারিতে ১৫০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। আবার ৩ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি দামে। অনেকে সৌজন্য টিকিট নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

চাপ মুক্ত থাকার লড়াই টাইগারদের

দ্বিতীয় বারের মত এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। অপরদিকে ভারত এ নিয়ে আসরের ১৩ বারে নয় বারের মত ফাইনাল খেলছে। এছাড়াও আর অনেক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে তারা। তাই স্বাভাবিকভাবে ফাইনালের লড়াইয়ে চাপে থাকবে বাংলাদেশ। তাই মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে থাকছে আরেক লড়াই। আর তা হচ্ছে চাপমুক্ত থাকার লড়াই।

শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘এই ধরণের টুর্নামেন্টে আমাদের ফাইনাল খেলা খুব বিরল। এইরকম পরিস্থিতিতে অনেক সময় ঘাবড়ে যাবার একটা সুযোগ থাকে। মাথা কাজ না করা বা এই পরিস্থিতিতে পড়লে কি করতে হবে এই ভেবে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া। তবে আমি মনে করি, এই ধরণের ফাইনাল তারাই জেতে যারা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না। সিদ্ধান্ত মানে প্রয়োজনের সময় আগ্রাসী সিদ্ধান্ত নিতে কখনো সংশয়ে ভোগে না। আমরা চেষ্টা করব যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই স্বাধীন থেকে খেলতে। এত বড় ম্যাচ খেলার অভ্যাস যেহেতু খুব বেশি নেই, আমরা চেষ্টা করছি চাপটা থেকে যেন যতটা মু্ক্ত থাকা যায়।’

চাপ মুক্ত থাকার জন্য সেরা ক্রিকেট খেলা ছাড়া কিছুই ভাবছেন না অধিনায়ক। ফাইনালের কথা ভাবে বাড়তি চাপ না নিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে পুরো দল। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের উচিত শুধু ম্যাচ নিয়েই ভাবা। আমরা সেটাই চাচ্ছি এবং করছি। ছেলেরা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে একটা কথা আমি বলেছি যে আমরা অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে ছিলাম না। আমরা চেয়েছিলাম যে, এশিয়া কাপের আগে যেভাবে খেলছিলাম, সেটায় যেন উন্নতি করতে পারি।’

উল্লেখ্য, রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালই মাশরাফির সেরা ম্যাচ

ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আর একটি ম্যাচ জয় মানেই প্রথমবারের মত এশিয়া কাপ জয়। বড় কোন টুর্নামেন্টে এটাই হবে মাশরাফিদের সেরা সাফল্য। তাই এমন ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই দলের অধিনায়ক মাশরাফির কাছে প্রশ্ন এটাই কি আপনার সেরা ম্যাচ? জবাবে অধিনায়ক জানান ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালই তার জীবনের সেরা ম্যাচ।

শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বড় ম্যাচ ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। এটি অন্যতম বড় ম্যাচ অবশ্যই। তবে তুলনা করলে সেই ম্যাচ আরও বড় ছিল। কারণ ৫০ ওভারের ক্রিকেট ও বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল, ওই ম্যাচ আরেকটু বড় ছিল।’

এর আগে ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার জিততে পারেননি টাইগাররা। শেষ দিকে স্নায়ু চাপ জয় করতে না পারায় ২ রানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। তবে এবার এমন কোন পরিস্থিতি আসলে সে চাপ উতরে জাবেন বলে আশা করেন অধিনায়ক।

এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওরকম পরিস্থিতি হলে এবার হয়তো আগের চেয়ে ভালো হবে। তবে এভাবে বলতে পারব না যে চার বছর আগের সেই ফাইনালে এত কাছে গিয়েছি বলেই এবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। তবে যদি ক্লোজ হয়, পরিস্থিতি ঐ রকম হলে হয়ত চার বছর আগের তুলনায় ভালো করতে পারব। কিন্তু আবার বলছি, টি-টোয়েন্টি খেলাটাই হলো সুনির্দিস্ট দিনে যে ভালো খেলবে।’

উল্লেখ্য, রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত।

বিশ্বকাপে মাশরাফিদের নতুন জার্সি

ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের জন্য নতুন জার্সি উম্মোচন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। শনিবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাশরাফি বাহিনীর হাতে এই জার্সি তুলে দেওয়া হয়।
আগামী ৮ মার্চ থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যাত্রা। তাই শনিবার প্রকাশ পেলো মাশরাফি বিন মুর্তজাদের বিশ্বকাপ জার্সিও। তবে তা প্রথম রাউন্ডের ম্যাচের জার্সি কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে জার্সি উম্মোচনের পর একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। যেখানে রয়েছেন মাহমদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম। প্রতিবারের মতো এবারেও নতুন টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জার্সিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন। তবে লাল-সবুজ দলের নতুন জার্সিতে লাল রঙটাই বেশি জায়গা করে নিয়েছে।

৫ কারণে এশিয়া কাপ জিতবে বাংলাদেশ

ক্রিকেট কিংবা ফুটবল, এমনকি যদি বলি হকির কথা- কোন ম্যাচের আগেই কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে কে জিতবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে একটা কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, ‘গিভেন ডে’। ওইদিন যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। সুতরাং, ভারতীয় মিডিয়া কতবার মহেন্দ্র সিং ধোনিদের নামে ‘ফেভারিট’ শব্দটা ট্যাগ করলো সেটা কোন ব্যাপার নয়। দিনটা যদি হয় বাংলাদেশের, তাহলে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাটা মাশরাফির হাতে উঠলে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। সুতরাং, রোববারের দিনটা হতে পারে বাংলাদেশেরও। পুরো বাংলাদেশ এখন অপেক্ষায় আছে, ধোনিদের হারিয়ে মাশরাফির হাতেই উঠে যাচ্ছে এশিয়া কাপের শিরোপা। কেন বাংলাদেশ জিততে পারে, তার একটা অনুপ্রেরণা তারা নিতে পারে নিচের এই ৫টি কারণ থেকে।

সাম্প্রতিক ইতিহাস

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হয়তো বাংলাদেশ হেরেছে ভারতের কাছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে কিন্তু কোনভাবেই ভারতের কাছে পরাজিত দল নয় বাংলাদেশ। গত বছর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেলবোর্নে বিতর্কিত সেই হারের পর বাংলাদেশ ভারতের মুখোমুখি হয়েছে মোট ৫বার। এর মধ্যে একটি টেস্ট ছিল, যেটা ড্র হয়েছে। বাকি চার ম্যাচের মধ্যে গত বছর ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। ওই সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পায় ভারত এবং এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচের জিতেছে তারা। সুতরাং, ফাইনালে ফিফটি ফিফটি চান্সই ধরে রাখছে সবাই। সুতরাং, ফাইনালে কেউ ফেভারিট নয়। সুতরাং, বাংলাদেশও এশিয়া কাপের ফাইনালে জয়ের বেশ সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘরের মাঠের দর্শক
সম্ভবত এই প্রথম তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে, ভারত কোন ফাইনালে সম্পূর্ণ দর্শক সমর্থন হারাবে। কারণ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ- যেখানেই ভারত খেলতে যাক, সেখানেই অর্ধেক গ্যালারি ভরিয়ে তোলে প্রবাসী ভারতীয়রা। সুতরাং, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বিদেশের মাটিতে ভারতের দর্শকই বেশি। এবারই প্রথম তারা ভুগবে সমর্থকদের সমর্থনহীনতায়। ৬ মার্চ রোববার মিরপুরের গ্যালারিতে উপস্থিত হবে প্রায় ৩০ হাজার দর্শক। গ্যালারির বাইরে থাকবে তার চেয়েও বেশি দর্শক। এবং লাখ লাখ সমর্থক থাকবে রাস্তায়। সবার কণ্ঠেই একটা প্রতিদ্বনি উচ্চারিত হবে- বাংলাদেশ। যখন লাখ লাখ কণ্ঠে এক সঙ্গে এমন উচ্চারণ ভেসে আসতে থাকবে, তখন ভারতীয়রা নিশ্চিত মানসিকভাবেই পিছিয়ে পড়বে।

পিচ কন্ডিশন
মিরপুরে আগের ম্যাচেই ভারতের জন্য সবুজ ফাঁদ পেতেছিল বাংলাদেশ। উইকেটে ঘাঁস, বাউন্সি হওয়ার কারণে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ সমস্যাতেই পড়তে হয়েছিল ওই ম্যাচে। যদিও শেষ দিকে এসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা নিজেদের সামলে নেয়ার সুযোগ পায়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও ওই কন্ডিশনে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তবে, এই সময়ের মধ্যে উইকেটে বেশ পরিবর্তণ এসেছে। শ্রীলংকা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পুরনো চেহারাতেই দেখা গেছে মিরপুরের উইকেট। যেখানে আমাদের ব্যাটসম্যানরা আবার বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফাইনালেও একইরকম উইকেট দেখা যেতে পারে, যেখানে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা আছে। এমন উইকেটই যদি হয়, তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায়, বাংলাদেশের দারুন একটা সম্ভাবনা আছে।

প্রেরণাদায়ী মার্চ
দিনে দিনে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে মার্চ মাস হয়ে উঠছে অসম্ভব প্রেরণাদায়ী একটি মাস হিসেবে। স্বাধীনতার মাস। ৪৫ বছর আগে, ১৯৭১ সালে এই মাসেই সূচিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের। বিজয় অর্জনের পর থেকেই মার্চ মাস এবং বাংলাদেশের সাফল্য হাত ধরাধরি করে হেঁটেছে একসাথে। এই মাসেই চার বছর আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে মাত্র ২ রানের জন্য পাকিস্তানের কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আরও উন্নতি করেছে ক্রিকেটে। পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলে। আর পাকিস্তানের কাছ থেকেও নিয়েছে দারুণ প্রতিশোধ। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ভালোভাবেই চাইবেন, কোনভাবেই যেন ২০১২ ফিরে না আসুক, ফিরে আসুক, ১৯৭১।

মাশরাফির অধিনায়কত্ব
২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে কেন বাংলাদেশ হেরেছিল- এই বিশ্লেষনে অনেক সময়ই উঠে এসেছে নেতৃত্বের দুর্বলতার কথা। মুশফিকুর রহিম একজন ভালো ক্রিকেটার এবং ভালো অধিনায়ক- তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু মাশরাফির যে নেতৃত্বগুণ তার সঙ্গে অনেক কিছুই মিল পাওয়া যাবে না মুশফিকের মধ্যে। চাপের সময়টা কিভাবে সামলাবেন সেটাই জানা ছিল না হয়তো মুশফিকের। মাশরাফিকে ইতিমধ্যেই অনেকে বলতে শুরু করে দিয়েছেন, ‘ক্যাপ্টেন কুল’। এমনকি বাংলাদেশ না জিতলেও একই মন্তব্য ভেসে আসবে। গত বছর থেকেই মাশরাফির নেতৃত্বে অসাধারণ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। তার অসাধারণ নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বমানের অনেক সাফল্য এনে দিচ্ছে। এমনকি মাশরাফির নেতৃত্বে একটি এশিয় কাপ জয় যেন অনিবার্য হয়ে উঠছে।

আফ্রিদি চান বাংলাদেশই শিরোপা জিতুক

পাকিস্তানকে হারিয়েই এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আর বিদায় হয়ে গেছে পাকিস্তানেরই। তবুও পাকিস্তান অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি এবং দেশটির পেস বোলিং সেনসেশন মোহাম্মদ আমির উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের। দু’জনই আগে থেকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার জন্য।
এশিয়াকাপজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য আবারও বাংলাদেশের উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। যে পারফরম্যান্স টাইগারদের তুলে দিয়েছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয় পাকিস্তান হাই কমিশন অফিসে। সেখানেই মন্তব্য করতে গিয়ে আফ্রিদি মিডিয়াকে বলেন, ‘আমি মনে করি, যেভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলেছে, যেভাবে তারা উন্নতি করেছে, তাতে তারাই ফাইনাল খেলার যোগ্য দাবিদার। এবং আমার বিশ্বাস, ফাইনালেও তারা ভালো করবে এবং শিরোপা জিতবে। আমার শুভ কামনাও থাকলো বাংলাদেশের প্রতি।’
একই সময় পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার সৌম্য সরকারের। পাকিস্তানি এই পেসারের মতে, সৌম্যই হচ্ছেন বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান ম্যাচে সবচেয়ে বড় পার্থক্য সৃষ্টিকারী। ওই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সৌম্য সম্পর্কে আমির বলেন, ‘এটা তো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। আমি মনে করি, ১০৩ রান তাড়া করা খুবই সহজ। যখন ম্যাচটা সৌম্য সরকার একতরফা বানিয়ে ফেলেছিলেন। আর টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের গতি পরিবর্তণ হয়ে যেতে পারে মাত্র একটি ওভারেই। গত দুই বছরে বাংলাদেশ দুর্দান্ত পারফর্ম করে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে যেভাবে তারা উন্নতি করেছে, তাতে বিশ্বের যে কোন শক্তিশালি দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখে তারা।’

খেলার টিকেট বিক্রিতে হাঙ্গামা

এশিয়া কাপের ফাইনালের বিপুল সংখ্যক টিকেটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছে কয়েকজন। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। এই সংঘর্ষের কারণে শনিবার মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) বুথে টিকেট বিক্রি চার ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। বাংলাদেশ-ভারতের রোববারের ফাইনাল খেলার টিকেট কিনতে টিকেট এদিন সকাল থেকেই ছিল দীর্ঘ লাইন।
দুপুর ১২টায় টিকেট বিক্রি শুরুর কথা ছিল। কিন্তু বিসিবি থেকে তখন পর্যন্ত টিকেট পাঠানো হয়নি বলে বেসরকারি এই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান।
এর মধ্যেই ‘টিকেট নাই’ এবং ‘জাল টিকেট বিক্রি হচ্ছে’ গুজব ছড়ালে বেলা পৌনে ১২টার দিকে লাইনে দাঁড়ানো টিকেট প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
মিরপুর থানার ওসি ভূইয়া মাহবুব হোসেন বলেন, “টিকেট বিক্রি শুরুর আগেই এক পর্যায়ে ব্যাংকে ইট নিক্ষেপ এবং সড়কে গাড়ি ভাংচুর শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিকেট প্রত্যাশীরা টিকেট বিক্রিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও রবার বুলেট ‍ছুড়তে শুরু করে। ওই সংঘর্ষের পর টিকেট বিক্রি আর শুরু হয়নি। কখন হবে, তার কোনো ঘোষণাও আসেনি ব্যাংকের কাছ থেকে। এরপর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এক ব্যক্তিকে শুধু একটি টিকেটই দেওয়া হয় এবং তা শুধু দেড়শ টাকা দামের টিকেট। এক ঘণ্টার মধ্যে টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে যায়, তখনও অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টির এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ-ভারত খেলা ঘিরে টাইগার সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। টিকেট নিয়ে হাহাকার চলছে বলেও আগেই গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

স্বাভাবিক থেকেই নিজেদের সেরাটা খেলবো

স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগারদের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। সেখানে তিনি জানান, নিজেদের স্বাভাবিক থেকেই বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হতে হবে। ফাইনালে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী লাল-সবুজের দলপতি।
সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানান, কোনো সন্দেহ নেই ভারত টি-টোয়েন্টির এক নম্বর দল। তারা শুধু টি-টোয়েন্টি ফরমেটেই নয়, টেস্ট এবং ওয়ানডেতেও ভালো মানের দল। তাদের ব্যাটিং অর্ডার বেশ শক্তিশালী। টপঅর্ডারের ছয়জন ব্যাটসম্যান রয়েছে যারা যেকোনো জায়গা থেকে ম্যাচ বের করে নিতে পারেন। তবে, আমাদের বোলাররা ছেড়ে কথা বলবে না। ফাইনালে তাদের ব্যাটসম্যানদের আটকানোর কোনো বিকল্প নেই।
নিজেদের পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারকে গুরুত্ব দিয়ে ম্যাশ জানান, ভারতের বিপক্ষে আমরা প্রথম ছয় ওভার ভালো বল করতে চাই। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় ওভার আর শেষের দিকের ওভারগুলো ম্যাচের ড্যামেজ সাইড। আমরা সেদিকে নিজেদের ফোকাস ধরে রাখার চেষ্টা করবো।
মাশরাফি আরও জানান, ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে নামার আগে আমাদের ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমন সুযোগ সবসময় আসেনা। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়েই সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাই।
দর্শক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ম্যাচে দর্শক সবসময়ই পাশে থাকেন। তাদের জন্যই আমাদের এতদূর আসা। তাদের অনুপ্রেরণাতেই আমরা ভালো খেলে থাকি। তারা আমাদের ম্যাচের বড় একটি অংশ। এ ম্যাচেও আমি দর্শকদের পাশে থাকার আহবান জানাই। আর নিজেদের সামনে এত বড় সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য দর্শকদের সঙ্গে আমাদেরও কিছুটা আবেগ রয়েছে। তবে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের খেলতে হবে। আবেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। এটা নিয়ন্ত্রণ করাটাও বেশ কঠিন। তবে, ভারতের মতো ভালো দলের বিপক্ষে কঠিন কাজটিই আমাদের করতে হবে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে আর স্বাভাবিক থেকেই খেলতে চাই। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার (০৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও ভারত।

ব্যাংকে টিকিট কেনার লাইনে মারামারি, পুলিশের লাঠিচার্জ

এশিয়া কাপ টি-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের টিকিট কেনার জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (উইসিবি) লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় আহত হন বেশ কয়েকজন দর্শক। ক্ষুব্ধ দর্শকদের ছোড়া ঢিলে আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশও। শনিবার (০৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় গোলযোগ। মারামারি ও লাঠিচার্জের ঘটনায় মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ‍তাজ জানান, এখানে কোনো মারামারি হয়নি, সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
asia_cup-2

ব্যাংক বন্ধ, কোথায় গেল ফাইনালের টিকিট!

ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের ফাইনালে রোববার (০৬ মার্চ) ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাশরাফি বাহিনী। আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে দাপটের সঙ্গেই ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি টাইগারদের মনে। ফাইনালটা এক অর্থে তাই প্রতিশোধেরও!
এ ম্যাচ দেখতে টাইগারপ্রেমীদের আগ্রহ চরমে পৌঁছাবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে খেলা দেখতে লাগবে যে ‘সোনার হরিণ’ টিকিট। কিন্তু কোথাও মিলছে না ফাইনালের টিকিট!
ম্যাচ শুরুর একদিন আগে (শনিবার) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল টিকিট পার্টনার ইউসিবি ব্যাংকে পাওয়ার কথা ফাইনালের টিকিট। কিন্তু সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার বেলা ১২টা অবধি ইউসিবির মিরপুর শাখা (১০ নম্বর) তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। খেলা চলাকালীন সাধারণ ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখা হয়।
Mirpur_ML2
শনিবার (০৫ মার্চ) সকাল থেকে ফাইনালের টিকিট পাওয়া যাবে-এমন আশাতে রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণ-যুবারা আগের দিন শুক্রবার সকাল ৭টা থেকেই ভিড় করে মিরপুরের ইউসিবি শাখায় সামনে। সেখানে দিন-রাত যাপনের পর অনেকই পানিশূন্যতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক না খোলায় মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে টিকিটপ্রত্যাশীদের।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন দুই তরুণ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (১২টা ১৫ মি.) তালাবদ্ধ ব্যাংকের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ সদস্যরা। আনা হয়েছে জলকামান। ২৪ ঘণ্টারও বেশী সময় অপেক্ষা করেও টিকিট না পাওয়া চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে টিকিট প্রত্যাশীদের মনে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তারা, ব্যাংক আদৌ খোলা হবে কি?
পুলিশ সদস্যরা এ ব্যাপারে কোনো ধারনা দিতে পারেননি। ইউসিবি ব্যাংকের দায়িত্বরত কমকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিসিবির টিকিট অ্যান্ড সিটিং কমিটির প্রধান ইসমাইল হায়দার মল্লিকের সঙ্গে এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
২৫ হাজার দর্শক-ধারণক্ষম শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে রোববার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা আসলে কারা দেখবেন-এ নিয়ে কৌতূহল জাগছে ক্রিকেটপ্রেমী ও সংবাদকর্মীদের মনে।

শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের হারিয়ে পাকিস্তানের জয়

এশিয়া কাপের নিয়ম রক্ষার ম্যাচে শুক্রবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। এশিয়া কাপের দশম ম্যাচে দিনেশ চান্দিমালের শ্রীলঙ্কাকে ৪ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই হারায় পাকিস্তান। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের দলপতি শহীদ আফ্রিদি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
নির্ধারিত ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সামনে ১৫১ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়। ওপেনার দিনেশ চান্দিমালের পর অর্ধশতক হাঁকান দিলশান। জবাবে, ১৯.২ ওভারে জয় তুলে নেয় ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তান।
টস হেরে শ্রীলঙ্কার হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন দিনেশ চান্দিমাল এবং দিলশান। পাকিস্তানের হয়ে বোলিং শুরু করেন মোহাম্মদ আমির। ইনিংসের ১৫তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজ ফেরান ওপেনার চান্দিমালকে। শারজিল খানের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি করেন ৫৮ রান। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার আর একটি ছক্কার মার। আউট হওয়ার আগে দিলশানের সঙ্গে ১১০ রানের জুটি গড়েন চান্দিমাল।
চান্দিমালের পর বিদায় নেন জয়সুরিয়া। শোয়েব মালিকের করা ইনিংসের ১৬তম ওভারের শেষ বলে শারজিল খানের হাতে ধরা পড়েন ৪ রান করা জয়সুরিয়া। ১৮তম ওভারে দুটি উইকেট তুলে নেন পেসার ইরফান মোহাম্মদ ইরফান। প্রথম বলে কাপুগেদারাকে (২) বোল্ড করেন ইরফান। সেই ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করেন দাসুন শানাকাকে।
দিলশান ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫৬ বল মোকাবেলা করে ডানহাতি এ ওপেনার ১০টি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান। পাকিস্তানের হয়ে দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান। উইকেট শূন্য থাকেন শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির আর মোহাম্মদ নওয়াজ। শোয়েব মালিক ও ওয়াহাব রিয়াজ নেন একটি করে উইকেট।
১৫১ রানের টার্গেটে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন শারজিল খান এবং মোহাম্মদ হাফিজ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে জয়সুরিয়া নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়ে দেন ১৪ রান করা মোহাম্মদ হাফিজকে। অষ্টম ওভারে দিলশানের বলে কাপুগেদারার তালুবন্দি হন আরেক ওপেনার শারজিল খান। বিদায়ের আগে ২৪ বলে ৫টি চার আর একটি ছক্কায় তিনি ৩১ রান করেন।
এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ৩৬ রান যোগ করেন সরফরাজ আহমেদ ও উমর আকমল। ইনিংসের ১৩তম ওভারে ফেরেন ২৭ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে ৩৮ রান করা সরফরাজ। তাকে এলবির ফাঁদে ফেলেন শ্রীবর্ধানে।
এরপর শোয়েব মালিক আর উমর আকমল ৫৬ রানের জুটি গড়েন। জয় থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে ফেরেন ৪৮ রান করা উমর আকমল। তার ৩৭ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার আর দুটি ছক্কা। কুলাসেকারা ফেরান আকমলকে। শোয়েব মালিক ১৭ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৯.২ ওভারে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
এশিয়া কাপে এবারের আসরের শুরু থেকেই ম্লান ছিল গতবারের রানারআপ পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দলটি ৫ উইকেটে হেরে যায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে। অস্তিত্ব রক্ষার দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয় পেলেও ফাইনাল উঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে বিদায় নেয় এশিয়া কাপের এবরের আসর থেকে।
অপরদিকে, এশিয়া কাপের এবারের আসরে পাকিস্তানের মতোই অবস্থা শ্রীলঙ্কারও। একমাত্র আরব আমিরাত ছাড়া আর কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের শেষ হাসি হাসতে পারেনি লঙ্কানরা। আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লঙ্কানরা ১৪ রানের জয় পায়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কাছে হেরে যায় ২৩ রানে। আর ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে ফাইনালে উঠার স্বপ্ন বেঁচে থাকলেও টুর্নামেন্টের ৮ম ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে যাওয়ায় তাদের ফাইনালে উঠার আশা বিসর্জন দিতে হয়।
এ ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন মালিঙ্গার পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তার জায়গায় লঙ্কানদের নেতৃত্ব দেন দিনেশ চান্দিমাল। ম্যাথুজের জায়গায় দলে আসেন নিরোশান দিকওয়েলা। পাকিস্তান একাদশ থেকে বাদ পড়েন মোহাম্মদ সামি, খুররম মনজুর আর আনোয়ার আলি। তাদের পরিবর্তে দলে আসেন ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ নওয়াজ আর ইফতেখার আহমেদ।

টিকিট পেতে ২৭ ঘণ্টা আগেই লম্বা লাইন!

বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হবে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে। তবে শুক্রবার সকাল ৭টা থেকেই ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিট পেতে টাইগারপ্রেমিদের অপেক্ষা ইউসিবি ব্যাংকের মিরপুর শাখায়। ব্যাংক খোলার একদিন আগেই মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত ইউসিবি ব্যাংকের এ শাখায় ভিড় জমাতে থাকেন তারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার তরুণ-যুবা হাজির হয়েছেন এখানে। তাতে ব্যাংকের গেট থেকে টিকিট প্রত্যাশীদের লাইন গড়িয়ে গেছে মাদ্রাসা গলি পর্যন্ত। খবরের কাগজ রাস্তায় বিছিয়ে গল্প-আড্ডা আর তাস খেলে সময় পার করছেন তারা।
শুক্রবার দুপুরে তাস খেলে সময় পার করা টিকিটপ্রত্যাশী বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলো।
কল্যানপুর থেকে আসা আরিফ, ইমরান, রুবেল, জাহাঙ্গীরদের সাথে কথা হলো তাদের খেলার ফাঁকেই। টিকিট পেতে উৎসাহী হলেও মনে তাদের দুঃশ্চিন্তা, শেষ পর্যন্ত মিলবে তো একটি টিকিট! কারণ ২৪ মার্চ বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের একদিন আগে এভাবেই রাত্রীযাপন করেছিলেন আরিফ-ইমরানরা। তবে সকাল হতেই লাইনের ভেতরে নিয়ম ভেঙে শত শত লোক ঢুকে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কালোবাজারীদের কাছ থেকে চড়া দামে টিকিট কিনেই দেখতে হয়েছিল খেলা।
ticket_1
এবার কোনোভাবেই এমন হতে দেবেন না তারা। যে কোনো মূল্যে ব্যাংক থেকে টিকিট কেটে রোববার খেলা দেখেই বাসায় ফিরবেন বলে পণ করেই আটসাট বেধে রাস্তার পাড় দখল করেছেন তারা। শুধু রাজধানী থেকেই নয়; নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, জামালপুর থেকেও অনেক যুবক এসে রাস্তাতেই দিন-রাত কাটাচ্ছেন। টিকিট পেতে এমন অমানবিক পরিশ্রম, রাস্তায় রাত যাপন করতে চাননি এদের অনেকেই, চেয়েছিলেন ইউক্যাশের মাধ্যমে টিকিট কিনতে। তবে সেখানে বিপত্তি ঘটাতেই দেড় দিন আগেই তাদের স্থান রাস্তা। টিকিট কিনতে আসা ইমরান বাংলানিউজকে জানান, ইউক্যাশে অ্যাকাউন্ট খুলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে অনেক চেষ্টা করলাম টিকিট কেনার। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নাকি সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে জানানো হলো ইউক্যাশের পক্ষ থেকে। এসএমএস এলো ASIA CUP FINAL (BAN VS IND) ALL TICKETS HAS BEEN SOLD-এমন লেখা।
শোনা যাচ্ছে ফাইনাল ম্যাচে লাইনে দাঁড়ানো প্রতি জনকে একটির বেশি টিকিট দেওয়া হবে না। ঠিক কি পরিমান টিকিট এ ব্যাংকের শাখা থেকে সাধারণ দর্শকদের জন্য সরবরাহ করা হবে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্রবার) ব্যাংক বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ফাইনাল ম্যাচে টিকিটের আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে এখানে যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্যে ইউসিবি ব্যাংকের সামনে শুক্রবার সকালেই মোতায়েন করা হয়েছে ২৫জন পুলিশ সদস্য। মিরপুর ১৪ নম্বর পুলিশ লাইনের এস আই মো: জাকির হোসেন জানান, এখানে অপেক্ষমান টিকিট প্রত্যাশীদের মাঝে যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ জন্য আমাদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাত ৮টায় আমরা চলে যাব তখন পুলিশের আরেকটি দল এখানে ডিউটি করবে।
ব্যাংক ছাড়াও মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রতিটি গেটে ভীড় করছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। কোথায় গেলে মিলবে ফাইনালের টিকিট, গেটে আনসার সদস্যদের কাছে তাদের কৌতুহলী জিজ্ঞাসা? মিরপুর শাখা ছাড়াও ফাইনাল ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে ইউসিবির সোনারগাঁও জনপথ, বিজয়নগর, প্রগতি সরণি, বসুন্ধরা ও নয়াবাজার শাখায়।

ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত টিম-টাইগার্স

পাকিস্তান জয়ের পর একদিন বিশ্রামে কাটিয়ে আবারও অনুশীলনে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুরে প্র্যাকটিস সেশন শেষ করে ওপেনার তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, রোববারের ফাইনালে দলগত ভাবেই ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত টিম-টাইগার্স। নিজ নিজ পজিশনে কেউ না কেউ জ্বলে উঠলেও চ্যাম্পিয়নশীপটা নিজেদের করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন টাইগার ওপেনার তামিম।
বৃহস্পতিবার ছুটি কাটিয়ে আবারও প্র্যাকটিসে টিম-বাংলাদেশ। এক টুর্নামেন্ট পর আবারও এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে হোস্টরা। এশিয়ার সেরা হতে ওই একটি মাত্র ম্যাচই Sommyবাকি মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের।২০১২-এর এশিয়কাপ ফাইনালে টানা চার ফিফটির রেকর্ড স্পর্শ করে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। চার বছর পর আবারও তার দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশী ব্যাটিং লাইনআপ।
তামিম ইকবাল বলেন, আমার টার্গেট ফুলফিল করার পুরোপুরি চেষ্টা করবো। বাকি আল্লাহর ইচ্ছা। আশা করি যে আমরা টিম হিসেবে ভালো খেলবো। আর আমরা যদি ভালো খেলতে পারি তাহলে যেকোন কিছুই করা সম্ভব।
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের প্রথম এশিয়া কাপ, প্রথমবারই ফাইনালে নাম লেখিয়ে শিরোপার স্বদ নিতে প্রস্তুত টিম-টাইগার্স। প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তা না আনলেও তামিম ইকবালরা জানেন শেষ লড়াইটা যে সহজ হবে না।
তামিম বলেন, ভারত অনেক শক্তিশালী টিম। কিন্তু আমরা গত তিনটা ম্যাচ যেভাবে খেলেছি আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী। প্রথম ম্যাচে ভারতের সাথে আমরা যে ভুলগুলো করেছিলাম আমরা চেষ্টা করছি ওগুলো যেন রিপিট না হয়। ওদের সাথে জিততে হলে আমাদের তিনটা বিভাগেই ভালো খেলতে হবে। তা করতে পারলে যেকোন কিছুই সম্ভব।
রোববার হোম অফ ক্রিকেটে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারত এশিয়া কাপ টি-টুয়েন্টির গ্র্যান্ড ফাইনাল।

পাকিস্তানের টার্গেট ১৫১ রান

এশিয়া কাপের দশম ম্যাচে মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের সামনে ১৫১ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে। ওপেনার দিনেশ চান্দিমালের পর অর্ধশতক হাঁকান দিলশান।
টস হেরে শ্রীলঙ্কার হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন দিনেশ চান্দিমাল এবং দিলশান। পাকিস্তানের হয়ে বোলিং শুরু করেন মোহাম্মদ আমির।
ইনিংসের ১৫তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজ ফেরান ওপেনার চান্দিমালকে। শারজিল খানের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি করেন ৫৮ রান। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার আর একটি ছক্কার মার। আউট হওয়ার আগে দিলশানের সঙ্গে ১১০ রানের জুটি গড়েন চান্দিমাল। চান্দিমালের পর বিদায় নেন জয়সুরিয়া। শোয়েব মালিকের করা ইনিংসের ১৬তম ওভারের শেষ বলে শারজিল খানের হাতে ধরা পড়েন ৪ রান করা জয়সুরিয়া।
১৮তম ওভারে দুটি উইকেট তুলে নেন পেসার ইরফান মোহাম্মদ ইরফান। প্রথম বলে কাপুগেদারাকে (২) বোল্ড করেন ইরফান। সেই ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করেন দাসুন শানাকাকে।
দিলশান ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫৬ বল মোকাবেলা করে ডানহাতি এ ওপেনার ১০টি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান। এশিয়া কাপের নিয়ম রক্ষার ম্যাচে শুক্রবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামে পাকিস্তান। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের দলপতি শহীদ আফ্রিদি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
পাকিস্তানের হয়ে দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান। উইকেট শূন্য থাকেন শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির আর মোহাম্মদ নওয়াজ। শোয়েব মালিক ও ওয়াহাব রিয়াজ নেন একটি করে উইকেট। এশিয়া কাপে এবারের আসরের শুরু থেকেই ম্লান ছিল গতবারের রানারআপ পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দলটি ৫ উইকেটে হেরে যায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে। অস্তিত্ব রক্ষার দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয় পেলেও ফাইনাল উঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে বিদায় নেয় এশিয়া কাপের এবরের আসর থেকে।
এদিকে এশিয়া কাপের এবারের আসরে পাকিস্তানের মতোই অবস্থা শ্রীলঙ্কারও। একমাত্র আরব আমিরাত ছাড়া আর কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের শেষ হাসি হাসতে পারেনি লঙ্কানরা। আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লঙ্কানরা ১৪ রানের জয় পায়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কাছে হেরে যায় ২৩ রানে। আর ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে ফাইনালে উঠার স্বপ্ন বেঁচে থাকলেও টুর্নামেন্টের ৮ম ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে যাওয়ায় তাদের ফাইনালে উঠার আশা বিসর্জন দিতে হয়।
এ ম্যাচে বিশ্রামে মালিঙ্গার পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তার জায়গায় লঙ্কানদের নেতৃত্ব দেন দিনেশ চান্দিমাল। ম্যাথুজের জায়গায় দলে আসেন নিরোশান দিকওয়েলা। পাকিস্তান একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ সামি, খুররম মনজুর আর আনোয়ার আলি। তাদের পরিবর্তে দলে আসেন ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ নওয়াজ আর ইফতেখার আহমেদ।

সেই রমিজ রাজার মুখে বাংলাদেশের প্রশংসা

বিতর্কিত মন্তব্য করে সব সময় সংবাদের শিরোনাম হতে পছন্দ করেন। তার বেশিরভাগ বিতর্কিত মন্তব্য যদিও বাংলাদেশ সম্পর্কিত। স্পষ্ট করে বলতে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটার সম্পর্কিত। তবে এবার আর আগের পথে হাঁটলেন না রমিজ রাজা। এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠায় বাংলাদেশের প্রশংসা করলেন বিতর্কিত এই ধারাভাষ্যকার।
ম্যাচ শেষে টুইটারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশংসা করে রমিজ রাজা বলেন, বাংলাদেশের একটি অসাধারণ ও অনমনীয় পারফরম্যান্স। সেরা দুটি দল ফাইনালে পৌঁছেছে। এতে কোন সন্দেহ নেই।
রমিজ রাজা আরেকটি টুইট করে বলেন, বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে তাদের জয় এখন আর অপ্রত্যাশিত সাফল্য নয়। তারা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করছে।
এর আগে পিএসএলে রমিজের ভুলে বিব্রত হন সাকিব। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ম্যাচ সেরার নাম নিতে গিয়ে সাকিবের পরিবর্তে ভুল করে সিমন্সের নাম বলে এই ধারাভাষ্যকার। আর তামিমের দ্বিতীয় ম্যাচে সবাইকে অবাক করে দিয়ে রমিজ তামিমের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘আমি তো তোমার ভাষা জানি না, ইংরেজি কি চলবে ? নাকি… ?’

দাপুটে ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ: ধোনি

ঘরের মাটিতে বাংলাদেশকে ফাইনালে হারানো কঠিন হবে বলে মনে করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারত অধিনায়ক বলেছেন, স্বাগতিকদের হারাতে প্রথম ম্যাচের মতো ফাইনালেও দলকে দারুণ কিছু করতে হবে।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করেছিল ভারত। সেই দুই দলই আবার মুখোমুখি ফাইনালে। ভারতের কাছে হারার পর টানা তিন জয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। আর ভারত জেতে প্রথম পর্বের সবকটি ম্যাচ।
বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারানোর পর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ধোনি জানালেন ফাইনাল নিয়ে তার ভাবনা। “যে কোনো দলকেই ঘরের মাটিতে হারানো কঠিন। বাংলাদেশ তো খুব ভালো খেলছে, দাপুটে ক্রিকেট খেলছে। ফাইনাল জিততে হলে আরেকটি দারুণ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে আমাদের।”
বাংলাদেশকে সমীহ করলেও ধোনির ভাবনা জুড়ে অবশ্য ফাইনালে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলা। “প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে আমরা নিজেদের খেলাটা নিয়েই ভাবতে চাই। গত ক’বছরে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। খুব ভালো দল ওরা। কিন্তু আমাদের চাওয়া থাকবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।”

হেরে বোর্ডের সমালোচনায় ইমরান খান

পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের কণ্ঠেও শহীদ আফ্রিদির দলের ও বোর্ডের সমালোচনা। বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে এশিয়া কাপের আসর থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান। টাইগারদের বোলিং তোপে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরোই ব্যর্থ হয় পাকিস্তান।
তাতে মাশরাফি-তাসকিন-আল আমিন-সাকিব-আরাফাত সানিদের বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক লিজেন্ডরা বাহবা দিলেও ইমরান খান পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ও বোর্ড কর্মকর্তাদের ‘দুয়ো’ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান জানান, দলের সঠিক কম্বিনেশন ধরে রাখতে ক্রিকেটারদের আরও ট্যালেন্ট হতে হবে। ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী এ দলপতি জানান, এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় দেশটির ক্রিকেট পাগলরা দলের উপর বেজায় চটেছেন। ক্রিকেটারদের মেধা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ইমরান খান আরও জানান, ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকশিত হবে যদি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মেধার উপর নির্মিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। নির্বাচকদের অবশ্যই ক্রিকেটারদের মেধা নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু তাই নয় নির্বাচকদেরও সমানভাবে মেধাবী হতে হবে। আমি আশা করবো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি পিসিবির প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রেও মেধা যাচাই করবেন।
নিয়মরক্ষার ম্যাচে পাকিস্তানকে মিরপুরে নামতে হবে আগামী ০৪ মার্চ। সে ম্যাচে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ টাইগারদের কাছে হার মানা শ্রীলঙ্কা। দু’দলই এবারের আসর থেকে বিদায় নিয়েছে। ফাইনালে ০৬ মার্চ মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশকে মোকাবেলা করবে মহেন্দ্র সিং ধোনির টিম ইন্ডিয়া।

সেরা খেলার প্রতিশ্রুতি তাসকিনের

রোববার এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচটি টাইগারদের জন্য ভীষণ উপভোগ্য হবে বলে মত দিলেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ।
এদিকে ঘরের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের হাতছানি, তাই বেশ উদ্বেলিত টিম বাংলাদেশ। আর ম্যাচের দিন টাইগাররা নিজেদের মেধার সঠিক প্রয়োগ করতে পারলে ভারতের বিপক্ষে দারুণ কিছু করা সম্ভব বলে মনে করেন তাসকিন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমের সামনে এভাবেই ফাইনালের আগে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন তাসকিন আহমেদ। এসময় তিনি ভারতের বিপক্ষে সেরা খেলাটি খেলার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘এশিয়া কাপের আগে আমরা দুই মাস ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। শুধু ভালো প্রস্তুতিই নয় আমরা আগের তিনটি ম্যাচে ভালো খেলেছি এই সব কিছু থেকেই আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’
এদিকে, ভারতের বিপক্ষে জয় পেতে ম্যাচের দিন নিজেদের সেরা খেলাটি খেলতে পারলে দলটির বিপক্ষে ভালো হতে পারে বলেও জানান তাসকিন, ‘নিঃসন্দেহে ভারত পৃথিবীর একটা সেরা দল। তবে আমরা যদি আমাদের সেরা খেলাটি তাদের বিপক্ষে খেলতে পারি, তাহলে ভাল কিছু হওয়া সম্ভব। তাদের বিপক্ষে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা ৫০-৫০।’

আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ভারতের সহজ জয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে সহজেই জিতেছে শক্তিশালী ভারত। তারা আমিরাতকে ৮১ রানে আটকে দেয়ার পর ৫৯ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে। ভারত শুধু ওপেনার রোহিত শর্মার (৩৯) উইকেটটি হারায়। ৮২ রান তারা তুলে নেয় ৯ উইকেট হাতে রেখে, ১০.১ ওভারেই। এশিয়া কাপে এটি ভারতের টানা চতুর্থ জয়। আগেই তাদের ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল। ৬ মার্চ টিম ভারত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশের। টাইগাররা একমাত্র ভারতের কাছেই হেরেছে। আসরের অন্য তিন দল আমিরাত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে তারা।
৮২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫.৫ ওভারে রোহিতকে হারায় ভারত। দলীয় ৪৩ রানে রোহিত আউট হন। এরপর বাকি পথ নির্বিঘেœ শেষ করেন ধাওয়ান (১৬) ও যুবরাজ সিং (২৫)।
এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৮১ রান সংগ্রহ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে মান বাঁচানো সংগ্রহ এনে দিয়েছেন সাইমন আনওয়ার। তার ৪৩ রানে ভর করেই ৮১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছে আমিরাত। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ এসেছে ওপেনার রোহান মোস্তফার (১১ রান) ব্যাটে। ভারতের পে ভুবেনেশ্বর কুমার ২ উইকেট নিয়েছেন। এর আগে এশিয়া কাপ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রথম তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। আগামী ৬ মার্চ বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে তারা। আর অন্য প্রতিপ সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩টি ম্যাচেই হেরে গিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। ফলে আজকের ম্যাচটি নিয়মরার ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে আমিরাত

এশিয়া কাপে বৃহস্পতিবার নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি এশিয়া কাপে আমিরাতের শেষ ম্যাচ। এদিন খেলা শুরু আগে মার্টিন ক্রোর মৃত্যুতে এক মিনিটের নীরবতা পালন করে দুই দল। এতে অংশ নেন মার্টিন ক্রোর ভাই জেফ ক্রো। এটি দুই দলের জন্যই নিয়মরক্ষার ম্যাচ। ইতিমধ্যেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। ফাইনালে তাদের স‌‌ঙ্গী বাংলাদেশ।
এদিন ভারতীয় দলে অভিষেক হয়েছে স্পিনার পবন নেগির। এছাড়া দলে ফিরেছেন হরভজন সিং ও ভুবনেশ্বর কুমার। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে আশিষ নেহরা, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবীচন্দ্রন অশ্বিনকে।
বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে এশিয়া কাপের মূল পর্বে উঠেছে আরব আমিরাত। তবে মূল পর্বে তিনটি ম্যাচেই হেরেছে তারা। নিজেদের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলাই লক্ষ্য আকিব জাভেদের শিষ্যদের।

বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসায় ক্রিকেট গ্রেটরা

এশিয়া কাপের লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল টাইগাররা। এর আগে ২০১২ সালে ফাইনালে উঠেছিল মুশফিক-মাশরাফিরা। সেবার ফাইনালে মাত্র ২ রানে হেরে যায় পাকিস্তানের কাছে। এবার ভিন্ন ফরম্যাটের এই আসরে সেই পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে সকলকে। তাইতো বাংলাদেশের প্রশংসা পঞ্চমুখ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট গ্রেটরা।
শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ক্রিকেটার কুমার সঙ্গাকারা টুইট করেন, ‘অসাধারণ জয়। স্কিল, সাহস ও বিশ্বাস। ফাইনালে যাওয়ার যোগ্য তারা। হাথুরুসিংহ ও তার দলকে অভিনন্দন।’
ইয়ান বিশপ বলেন, ‘বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে আরো একবার মুগ্ধ। তাদের ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ এটি। এবং মাশরাফির দারুণ নেতৃত্ব।’
পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘আমরা বেশ লড়াই করেছি কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। এমন ম্যাচে ব্যাটিংটা আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। আমি মনে করি ব্যাটিং প্লান ছিল, কিন্তু সেটা কাজে আসেনি। সাবাশ বাংলাদেশ।’
ভিভিএস লক্ষণ লিখেন, ‘দারুণ জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশ দলের মানসিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।’
রাসেল আরনল্ড লিখেন, ‘অভিনন্দন বিসিবি টাইগার। দারুণ ক্রিকেট খেলেছো।’
আফ্রিদির মন্তব্যের সমালোচনা করে অ্যালান বুচার রিটুইট করেন, ‘ভালো দলের বিপক্ষে এই ভুলগুলো আমরা করতে পারব না। এটা কী বাংলাদেশের প্রশংসা? নাকি অন্যকিছু..!?’
পাকিস্তানের স্পোর্টস অ্যানকর সাওয়েরা পাশা লিখেন, ‘হ্যাঁ বাংলাদেশ করে দেখিয়েছে এবং তারা ফাইনালে। টিম পাকিস্তান হারার যোগ্য।’

সাকিবকে তিরস্কার করল আইসিসি

মোহাম্মদ আমিরের করা ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বল। স্কুপ করতে গিয়ে পরিস্কার বোল্ড হয়ে যান সাকিব। চাপের সময় রান পাচ্ছিলেন না । তার উপর আউট হয়ে গেলেন। তাই মেজাজ হারিয়ে ব্যাট দিয়ে স্ট্যাম্পে আঘাত করেন সাকিব। করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার ভুল বুঝতে পারেন এবং আম্পায়ারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর পর থেকেই সবার মনে প্রশ্ন ঘুরছিল কী ঘটতে যাচ্ছে সাকিবের ভাগ্যে! কয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন তিনি? কত টাকা জরিমানা করা হবে তাকে? সাকিব মাঠে যে আচরণ করেছে সেটা আইসিসির আচরণবিধির লেভেল ১ লঙ্ঘন। আইসিসির ২.১.৮ ধারায় বলা আছে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে খেলার উপকরণ, কাপড়-চোপড়, মাঠের উপকরণ, সূচি ও অন্যান্য জিনিস নষ্ট করা। এই ধরণের আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে একজন খেলোয়াড়কে তিরস্কার করার পাশাপাশি ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যায়।
মাঠে সাকিব যে আচরণ করেছে সেটা ভালোভাবে নেয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তারা সাকিব আল হাসানকে তিরস্কার করেছে। তবে কোনো জরিমানা করেনি।
বৃহস্পতিবার সকালে সাকিব আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি জিওফ ক্রো এর কাছে দোষ স্বীকার করেন এবং তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেন। সে কারণে আর কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

ফাইনালে খেলার কথা সতীর্থদের বলেছিলেন মাশরাফি

কোচের চাওয়ায় ব্যাটিং অর্ডারে আগে মাশরাফি

বিশ্ব মিডিয়ায় মাশরাফিদের জয়

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের খবর বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে ছাপা হয়েছে। জাগো নিউজরে পাঠকদের জন্য প্রসিদ্ধ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজী দৈনিক দ্য ডন তাদের ‘Asia Cup: Bangladesh hold nerve to beat Pakistan, reach final’ শিরোনামের সংবাদে লিখেছে। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। পত্রিকাটি আরো লিখেছে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তান শেষ অবধি ৭ উইকেটে ১২৯ তুলতে সমর্থ হয়।জবাবে বাংলাদেশ ১৯.১ ওভারেই ৫ উইকেটে ১৩১ রানে পৌঁছে যায়। পত্রিকাটি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিংয়েরও ভূয়সী প্রসংশা করেছে।

অপরদিকে, ভারতের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা ‘পাকিস্তানকে উড়িয়ে এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশ’ শিরোনামের সংবাদে ছেপেছে।এতে বলা হয়েছে, বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দিলেন মাহমুদুল্লাহ। তার পরই ভাঙল গ্যালারি থেকে রিজার্ভ বেঞ্চের উচ্ছ্বাসের বাঁধ। পাকিস্তানকে উড়িয়ে এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। তবে টাইগাররা এ ম্যাচে যেভাবে ব্যাট করেছে এশিয়া কাপে এখনও কোনো দল তা করেনি।

পত্রিকাটি তাদের ‘এগারো বাঙালি বাঘের লড়াইয়ে আবেগাশ্রুতে ভাসল শের-ই-বাংলা’ অপর একটি শিরোনামের সংবাদে লিখেছে, দুরন্ত বাংলাদেশ। অসাধারণ বোলিং। তাতেও ছাপিয়ে গেল ব্যাটিং। যেটা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি পাকিস্তান। এভাবে বাংলাদেশের ব্যাট তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেব। কিন্তু হল তেমনটাই।

এছাড়া লন্ডন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বাংলা তাদের ‘পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ’ শিরোনামে লিখেছে, ঢাকায় এশিয়া কাপ ক্রিকেটের এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লার ছক্কায় পাঁচ উইকেটে লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায় স্বাগতিক দল। এই জয়ের ফলে ৬ই মার্চের ফাইনালে আবারো ভারতের প্রতিপক্ষ হবে বাংলাদেশ। সংবাদ মাধ্যমটি আরো লিখেছে গত তিনটি টি-২০ ম্যাচে তাড়া করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই সাফল্য ফাইনালে নিঃসন্দেহে তাদের মনোবল বাড়াবে।

সেবার পারিনি এবার পেরেছি : মাহমুদউল্লাহ

সময়টা ২০১২। এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হেরে চোখের জলে পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা। সেবার ছিল স্বপ্নভঙ্গের বেদনা, এবার স্বপ্ন পূরণের উচ্ছ্বাস। মাহমুদউল্লাহ বলছেন, ৪ বছর ধরে বয়ে বেড়ানো যাতনা এবার ভুলবেন তিনি।

২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালেও শেষ সময়টায় উইকেটে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। সমীকরণ শেষ ওভারে ঠেকেছিল সেবার ৯ রান। মাহমুদউল্লাহ ৩ বল খেলে করেছিলেন ৫ রান। বাংলাদেশ হেরেছিল ২ রানে। তবে এবার জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

ম্যাচে শেষে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদউল্লাহ বলেন, ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনাল আমার মাথায় খেলা করছিল। সেবার পারিনি, এবারও নানা ভাবনা খেলা করছিল মাথায়। শেষ পর্যন্ত আমরা পেরেছি। সেবারের হারকে ভুলিয়ে দিতে সাহায্য করবে এবারের জয়।

প্রচণ্ড চাপের মাঝেও অস্থিরতাকে প্রশ্রয় দেননি মাহমুদউল্লাহ। জানালেন, চাপ তো সবসময়ই ছিল। কিন্তু কখন মাথা ঠাণ্ডা করে খেলতে হবে আর কখন বড় শট খেলতে হবে, সেটা বুঝতে হবে। আমি চাইছিলাম খেলাটা শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে। কারণ জানতাম ১৮তম ও ১৯তম ওভার করবে আমির ও সামি। দৃষ্টি ছিল শেষ ওভারে। তবে আগের ওভারেই জয়টা প্রায় নিশ্চিত করেছি আমরা।

আফ্রিদিকে পাগল বললেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী

এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারে চূড়ান্ত হতাশ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার এবং সমর্থকরা। এরপর থেকেই সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন পাকিস্তানি অধিনায়ক আফ্রিদি। সমর্থকরা ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ জানাচ্ছেন। এবার পাকিস্তানি টেলিভিশন অভিনেত্রী কান্ডেল বেলচ অধিনায়ক আফ্রিদিকে পাগল বলে আখ্যা দিলেন।

পাকিস্তানি এই অভিনেত্রী নিজের টুইটারে লেখেন, যতদিন এই পাগল অধিনায়ক আফ্রিদি থাকবে ততদিন দলের কোন কিছু হবে না। সামনে টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আর আমাদের দলের অবস্থা এই, লজ্জা…

এদিকে ভারতের সাথে হারের পর ক্ষোভ আছড়ে পড়ে পাকিস্তানে। দেশটির বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে পাকিস্তান সমর্থকদের রোষের খণ্ডচিত্র দেখানো হয়েছে। সমর্থকরা ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়ারও দাবি জানান তারা। পাকিস্তানের কোথাও কোথাও রাগে-ক্ষোভে টেলিভিশন সেট ভেঙে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।

পঞ্জাবের কোথাও কোথাও অধিনায়ক আফ্রিদিসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের কুশপুত্তুলও দাহ করা হয়। শনিবার আফ্রিদি ম্যাচের পর বলেন, ‘ভারতের কাছে হার খুব একটা বড় ব্যাপার নয়। পাকিস্তান এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পাক সমর্থকদের ক্ষোভের আগুনে আফ্রিদির এই মন্তব্য ঘৃতাহুতি দিয়েছে।’ এমন মন্তব্যের জন্য সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং সাবেক পেসার সরফরাজ নওয়াজও আফ্রিদিকে একহাত নিয়েছেন।

টাইগারদের জয়ে উৎফুল্ল জবি ও পুরান ঢাকাবাসী

পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করায় সারাদেশের মতো উৎফুল্ল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজধানীর পুরান ঢাকাবাসী। বুধবার (০২ মার্চ) রাতে পুরান ঢাকার অলিগলিতে খেলা উপভোগ শেষে আনন্দে মেতে ওঠেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে খেলা উপভোগ করার জন্য পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, লোহার পুল, মুরগিটোলা, ধূপখোলা এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। জয় নিশ্চত হওয়ার সাথে সাথেই শিক্ষার্থী, যুবক, ব্যবসায়ী, সহ সর্বস্থরের মানুষ আনন্দে উল্লসিত হয়ে ওঠেন। তারা আতশবাজি ও পটকা ফোটায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, ইসলামপুর রোড, লক্ষ্মীবাজার, রায়সাহেব বাজার সহ বিভিন্ন রাস্তায় মধ্য দিয়ে বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে কতিপয় স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ততার মাঝেও মনযোগ সহকারে খেলা উপভোগ করেছি। খেলা শেষে মিষ্টি নিয়ে বাসায় যাচ্ছি।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

এম এস সাহাব : এই দিনটির জন্যই সম্ভবত গোটা বাংলাদেশ অপেক্ষায় ছিল। ৪ বছর আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হেরেছিল টাইগাররা। সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়ে চলতি এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মাশরাফিবাহিনী। অঘোষিত ফাইনালে বুধবার পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। আবারও শিরোপা লড়াইয়ে নামবে টিম টাইগার। এবার প্রতিপক্ষ ভারত।
পাকিস্তানকে ইতিমধ্যে কয়েকবারই হারিয়েছে টাইগাররা। কিন্তু এশিয়া কাপে তাদের বিরুদ্ধে ফাইনালসহ ২টি ম্যাচে হারের প্রতিশোধটা ঠিক যেন নেয়া হয়নি। বুধবারের ম্যাচে তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় প্রত্যাশা ছিল টাইগার ভক্তদের। খোদ যেন সেই অপেক্ষায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। আর তাই গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বসে প্রায় পুরো ম্যাচই তিনি দেখেছেন। উৎসাহ দিয়েছেন মাশরাফি-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহদের। এই জয়ে দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে স্বাধীনতার মাসে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান।
এদিকে গতকাল ছিল বাংলাদেশের পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। পাকিস্তানকে ‘বধ’ করে এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আরেকটি মার্চে, একই ভেন্যুতে, সেই পাকিস্তানকে নখ কামড়ানো উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে হারিয়ে এবার শেষ হাসি হাসলো বাংলাদেশ। স্নায়ুর পরীা নেয়া ম্যাচে পাকিস্তান আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৯ রান করেছিল। শেষ ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লার চারে জিতে যায় বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২২ মার্চ এশিয়া কাপের ফাইনালে এই পাকিস্তানের বিপইে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় পুড়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে সাকিব-মুশফিকদের কান্না কাঁদিয়েছিল গোটা দেশকেই। ২০১৪ সালের ৪ মার্চ, এশিয়া কাপে আবারও পাকিস্তানের বিপে জয় ফসকে গিয়েছিল হাতের মুঠো থেকে। এবার আরেকটি মার্চেই বাংলাদেশের ভাগ্যবদল। জয়রসূচক চার মেরেই ড্রেসিং রুমের দিকে ছুটলেন মাহমুদউল্লাহ, ঝাঁপিয়ে পড়লেন ঘাসে। তার ওপর ঝাঁপালেন দলের বাকি সবাই। চার বছর আগে যে মাঠের সবুজ ঘাসে মিশে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কান্না, এবার সেই ঘাসেই বিজয় উৎসব।
ইনিংসের শুরুতে দুঃসময়ের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশকে টেনেছেন সৌম্য সরকার। মাঝে স্বাগতিকরা কিছুটা পথ হারালেও অসাধারণ দতায় শেষটা করেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারতেন মোহাম্মদ আমির। সেই আমিরকেই প্রথম ওভারে দুর্দান্ত এক ফিক শটে ছক্কা মেরে তামিম ইকবাল শুরু করেন বাংলাদেশের রান তাড়া। ফেরার ইনিংসে তামিম (৭) টেকেননি বেশিণ। তবে টিকে যান সৌম্য। সাব্বির রহমানকে (১৪) নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ রানের জুটিতে কাটিয়ে দেন শুরুর ধাক্কা। বেশ কবারই অল্পের জন্য সৌম্যর ব্যাটের কানা নেয়নি বল। বল হাওয়ায় উড়লেও পড়েছে ফিল্ডারের আশেপাশে। ভড়কে না গিয়ে ব্যাট চালিয়ে যান সৌম্য। টাইমিংয়ে গড়বড় অনেক শটের পাশাপাশি খেলেছেন দারুণ সব শটও।
এই সৌম্যকে ফেরাতে প্রয়োজন ছিল ‘স্পেশাল’ একটি বল। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে পাকিস্তানকে তেমনই একটি ডেলিভারি উপহার দেন আমির। অসাধারণ ইয়র্কারে বোল্ড সৌম্য (৪৮ বলে ৪৮)। মুশফিক-সাকিব এগোচ্ছিলেন সিঙ্গেলে ভর করে। হঠাৎই শোয়েব মালিককে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ মুশফিক (১২)। শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার রুচিরা পালিয়াগুরুগের সিদ্ধান্তটি অবশ্য ছিল বাজে, বল পিচ করেছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে, যেত স্টাম্পের ওপর দিয়ে। বাংলাদেশ তখন বেশ চাপে, শেষ ৪ ওভারে প্রয়োজন ৩৫ রান। অসাধারণ এক শটে চাপটা কমান মাহমুদউল্লাহ। শর্ট অব লেংথ বলকে ছক্কা মারেন লং অফ দিয়ে, টুর্নামেন্টেরই অন্যতম সেরা শটে।
তবে বাজে শটে মুশফিককেও ছাড়িয়ে যান সাকিব। প্রতিপরে সেরা বোলার আমিরকে অযথাই স্কুপ করতে গিয়ে হন বোল্ড (৮)। বাংলাদেশ তখন শঙ্কায়। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ যে হয়ে উঠেছেন অসাধারণ এক ‘ফিনিশার!’ আবারও খেললেন অসাধারণ এক ইনিংস। আর প্রয়োজনের সময় ৭ বলে ১২ রানের মহামূল্য এক ইনিংস খেললেন মাশরাফি। সাকিব আউট হওয়ার পরের দুই বলে অধিনায়কের দুটি বাউন্ডারি ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়।
নাটকীয়তার বাকি ছিল অবশ্য তখনও। ১৯তম ওভারে সামির বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন মাশরাফি। ফিল্ডার ক্যাচ ধরেনও, কিন্তু আম্পায়ার ডাকেন নো! ওই ওভারেই আরেকটি নো বলে চার মারেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারের প্রথম বলে আরেকটি চারে তিনিই শেষ করেন ম্যাচ (১৫ বলে ২২*)।
এর আগে বাংলাদেশকে জয়ের প্রোপট তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররা। উইকেট ছিল না ঘাস, এখনও পর্যন্ত এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং উইকেট। সেখানেই ইনিংসের প্রায় পুরোটা জুড়ে দারুণ বোলিং করলেন বাংলাদেশের বোলাররা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার বোলিং পরিবর্তন ও মাঠ সাজানো ছিল প্রায় নিখুঁত। দলের ফিল্ডিং ছিল অসাধারণ, মাঠে সবাই ছিলেন প্রাণশক্তিতে ভরপুর। কিন্তু সরফরাজ আহমেদ (অপরাজিত ৫৮) ও অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক (৪১) খাদের কিনারা থেকে টেনে পাকিস্তানকে এনে দেন লড়ার মত রান।
সংপ্তি স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১২৯/৭ (মনজুর ১, শারজিল ১০, হাফিজ ২, সরফরাজ ৫৮, আমল ৪, মালিক ৪১, আফ্রিদি ০, আনোয়ার ১৩; আল আমিন ৩/২৫, আরাফাত ২/৩৫, তাসকিন ১/১৪, মাশরাফি ১/২৯)
বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ১৩১/৫ (তামিম ৭, সৌম্য ৪৮, সাব্বির ১৪, মুশফিক ১২, সাকিব ৮, মাহমুদউল্লাহ ২২*, মাশরাফি ১২*; আমির ২/২৬, মালিক ১/৩, আফ্রিদি ১/২০, ইরফান ১/২৩)
ম্যাচ সেরা: সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ)

ফাইনাল নিশ্চিতে বাংলাদেশের টার্গেট ১৩০

এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলতে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৩০ রান। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ন এ ম্যাচ টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তুলেছে পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন সরফরাজ আহমেদ। বাংলাদেশের হয়ে আল আমিন হোসেন তিনটি ও আরাফাত ‍সানি দুটি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তাসকিন আহমেদ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মারাত্মক ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ২৮ রান তুলতেই টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। চাপে পড়া পাকিস্তানকে ১২ ওভার পর্যন্ত রানের চাকা আটকে রাখেন বোলাররা। তবে ১২ থেকে ১৬ ওভার- এই চার ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে রানের চাকা সচল করেন সরফরাজ আহমেদ ও শোয়েব মালিক জুটি। দলীয় ৯৮ রানে মালিককে ফিরিয়ে ৭০ রানের জুটিটি ভাঙ্গেন আরাফাত সানি। শেষ ওভারে ১০ রান তুললে লড়াকু সংগ্রহ দাড়িয়ে যায় পাকিস্তানের বোলাররা।
আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাকে হারানোয় তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট বাংলাদেশের। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে পরাজয়ের পর আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। তাদের পয়েন্ট দুই। পাকিস্তানের কাছে হারলেও ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাচ্ছে না মাশরাফি বাহিনীর। সেক্ষেত্রে ৪ মার্চের ম্যাচের (শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান) দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার হবে সমান চার পয়েন্ট। রান রেটের বিচারে নিশ্চিত হবে ফাইনালিস্ট। প্রথম তিনটি ম্যাচের হারে ফাইনালে উঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে আরব আমিরাত। আর প্রথম তিন ম্যাচ জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। এ ম্যাচ জিতে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছাবে বাংলাদেশ, এটাই ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা।
এর আগে, ২০১২ সালে প্রথম বারের মত এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠে এই পাকিস্তানের কাছেই ২ রানের ব্যবধানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল টিম বাংলাদেশ। সেটি ছিল ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া ‍কাপ, এবার হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার লড়াই। এ যেন আরেকটি ফাইনাল। ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনালের কথা ভুলে যায়নি কেউ। এবার স্বাধীনতার মাসে আরেকটি পাকিস্তানবধের মধ্য দিয়ে মাশরাফিরা যেন এশিয়া কাপের ফাইনালে স্থান করে নিতে পারে, এটাই প্রত্যাশা এ দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের।

তবে, ম্যাচের শুরুতে ভাগ্যের লড়াইয়ে জিতে গেছে পাকিস্তান। টস করতে গিয়ে কয়েন নিক্ষেপে জিতেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি এবং জিতেই ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

বিস্তারিত আসছে…

ফাইনালের মিশনে পাকিস্তান বধের স্বপ্ন মাশরাফিদের

চার বছর আগে মিরপুর স্টেডিয়ামে এক ইতিহাস রচিত হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিল। তবে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হেরে সেদিন এশিয়া সেরা হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল তখন। টি২০ ফরম্যাটে প্রথমবার অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলতে সেই পাকিস্তান বাধাটাই এবারও পেরোতে হবে বাংলাদেশকে। বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই মিশনে নামবেন মাশরাফিরা।

প্রথম দল হিসেবে প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠেছে ভারত। প্রথম পর্বে চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে তারা। আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ফাইনালের দৌঁড় থেকে ছিটকে পড়েছে। আর তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে শ্রীলঙ্কার ফাইনাল সম্ভাবনাও এখন ক্ষীণ। বাংলাদেশ আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। এখন মাশরাফিদের সামনে একটাই সমীকরণ পাকিস্তানকে হারাতে হবে। সেই সমীকরণ মেলাতে এখন কাজ করছেন তারা।

এই ম্যাচের জন্য দলে কিছুটা পরিবর্তন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ইনজুরির কারণে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে ব্যাটিংয়ে শক্তি বৃদ্ধির জন্য মারকুটে ওপেনার তামিম ইকবালকে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে। যদিও মুস্তাফিজের বিকল্প পেসার হিসেবে আবু হায়দার রনিকে নেওয়ার সুযোগ আছে কোচ হাথুরুসিংহের। তথাপি সেপথে হাঁটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে। তাই প্রথম তিন ম্যাচে চার পেসার নিয়ে মাঠে নামলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে সেখানে হয়তো তিন পেসার নিয়েই খেলবেন মাশরাফিরা।

নিয়মিত বোলার হিসেবে আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও মাশরাফি থাকছেন। সঙ্গে অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাব্বির রহমানকেও ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে মাশরাফির হাতে। যদিও সাব্বির ব্যাট হাতেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচে বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে শুধু লড়াই নয়, কর্তৃত্ব রেখে খেলতে চান। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো করছি। টি২০-তে আমরা আগে শ্রীলংকাকে হারাতে পারিনি। এবার সেটা করতে পেরেছি। তাই আমরা আগে যা পারিনি তা এবার অর্জন করতে যাচ্ছি। এমন আশা সব সময় থাকে। কারও বিপক্ষে লড়াই করা কোনো সাফল্য নয়। আমরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেভাবে খেলব।’

আর অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘এই ম্যাচে যারা জিতবে তাদেরই ফাইনাল খেলার সুযোগ বেড়ে যাবে। সুতরাং এখানে আমাদের প্রতিটি জায়গায়ই সুযোগ আছে। প্রতিপক্ষেরও সুযোগ আছে। তারা একবার টি২০-তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এ ছাড়া তাদের অনেক খেলোয়াড় বিভিন্ন জায়গায় টি২০ খেলে। আমরাও নতুন করে শুরু করেছি। অনেক কিছু চেষ্টা করেছি অনুশীলনে। সেগুলো নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি ওদের দিকে না তাকিয়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক প্রয়োগ করি, আমার মনে হয় আমাদের সব সুযোগই আছে।’

পাকিস্তানও চলতি এশিয়া কাপে যেখান থেকে শুরু করেছিল ধীরে ধীরে সেখোন থেকে উন্নতির পথে আছে। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানরা ভালো না করলেও দলটির বোলাররা দুর্দান্ত খেলেছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ আমির দলটির প্রধান বোলিং অস্ত্র। তার সঙ্গে আরব আমিরাতের ম্যাচে শোয়েব মালিক ও ওমর আকমলের জোড়া হাফসেঞ্চুরি ব্যাটিংয়েও দলটিকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ সামি ও শহীদ আফ্রিদিরা তো রয়েছেনই বোলিংয়ে।

তাই পাকিস্তানও এই ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী। দলটির বোলিং কোচ আজহার মেহমুদ বলেছেন, ‘সবাই ভুল করেছে। আমরা ভুল থেকে যথেষ্ট শিক্ষাগ্রহণ করেছি। ভারতের দিকে তাকান, ভারত বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনের দল। তারাও এখানে ধুকছে। উইকেটটা খুবই কঠিন ছিল। তবে এখন পরিবর্তন হয়েছে। খেলোয়াড়রা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। ক্রিকেটটা আত্মবিশ্বাসের খেলা। আশা করছি সামনের ম্যাচে আমরা কামব্যাক করব। বল-ব্যাট উভয় দিকেই ভালো করব।’

নিজেদের শক্তির দিকে ইঙ্গিত করে আজহার মেহমুদ বলেন, ‘আমির বিশ্বমানের বোলার। সে আগে যেভাবে বোলিং করেছে প্রত্যাবর্তনের পরও সেভাবেই খেলছে। আমিরাতের বিপক্ষে জয়ের পর আমাদের ছেলেরা মানসিকভাবে বেশ চাঙা। মালিক ও আকমল দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। তারা দুজন ম্যাচের সফল সমাপনী টেনেছে। এটা আমাদের দলের জন্য কিছুর ইঙ্গিত বহন করে।’

দুদলের সামনে অভিন্ন লক্ষ্য; জিততে হবে ম্যাচ। সে জন্য নিজেদের সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়বে তারা। সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা জিতবে তা দেখতেই এখন অপেক্ষা।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অনিশ্চিত!

কিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রিয়াদকে নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার পিঠের ব্যথায় ঠিকঠাক মতো অনুশীলন করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি খেলতে না পারলে তার পরিবর্তে কাকে খেলানো হবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

কয়জন পেসার নিয়ে মাঠে নামবে হাথুরুসিংহের ছেলেরা, ঘুরপাক পাচ্ছে এই প্রশ্নটিও।

গতকাল মাশরাফির কাছেও এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল। অধিনায়ক স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি। শুধু বলে যান, এ নিয়ে আমাদের আরো ভাবতে হবে।

ম্যাচের আগে পেসারদের নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার কারণ আছে। পেসার সংখ্যা দেখলেই ‘গেম-প্লানে’র অনেক কিছু পরিষ্কার হবে।

রিয়াদের ব্যাপারে সকালে দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলামের সঙ্গে সংবাদকর্মীরা কথা বলতে চাইলেও বোর্ডের নির্দেশ থাকায় স্পষ্ট করে কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি। তবে তার কথায় ঠিকই আভাস পাওয়া গেছে রিয়াদকে নিয়ে চিন্তায় আছে দল।

আমিরাতের বিপক্ষে রিয়াদের অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কা ম্যাচেও শেষ দিকে দারুণ ব্যাট করে লড়াইয়ের স্কোর করতে সাহায্য করেন বিশ্বকাপের জোড়া সেঞ্চুরিয়ান।

এদিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত তিন/চার পেসারের তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে বিসিবির একটি সূত্র বলছে আজও চার নম্বর উইকেটে খেলা হবে। এই তথ্য থেকে অনুমান করা যায় তিন পেসারে যেতে পারে বাংলাদেশ। কেননা এই উইকেটটিতে তুলনামূলক কম ঘাস রয়েছে। লঙ্কানদের বিপক্ষে এই উইকেটে খেলা হয়েছিল।

সূত্রের দাবি, আজ সাকিবকে সাপোর্ট দিতে নাসির অথবা আরাফাত সানিকে খেলানোর একটা আলোচনা টিম মিটিংয়ে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অলরাউন্ডার হওয়ায় নাসিরের খেলার সম্ভাবনা বেশি। এই তথ্য থেকেও অনুমান করা যায় আজ তিন পেসারে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

কেউ কেউ আবার বলছেন, মুস্তাফিজের জায়গায় আবু হায়দার রনিকে নিলেও নিতে পারে নীতিনির্ধারকরা।

রনির খেলার ব্যাপারে যুক্তি অবশ্য পক্ষে নয়। কেননা ভারতও কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে দুইজন ফাস্ট বোলার নিয়ে ভালোভাবে জিতেছে। বুমরাহ এবং নেহেরার সঙ্গে মিডিয়াম পেসার হিসেবে ছিলেন পাণ্ডে। বাংলাদেশ দলে এক্ষেত্রে তিন জন মূল পেসার ইতিমধ্যে ফিট আছেন-মাশরাফি, তাসকিন এবং আল-আমিন।

তিন পেসারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে আরেকটি সূত্র থেকে। আজকের উইকেট নাকি কিছুটা স্পিন সহায়ক হবে।

বিশ্বকাপের আগেই ফিরবেন মুস্তাফিজ!

সাইড স্ট্রেনের চোটে দল থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। এশিয়া কাপে আর খেলা হচ্ছে না কাটার মাস্টারের। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই সম্পূর্ণ সুস্থ হবেন বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

মুস্তাফিজের চোট নিয়ে ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের চোটে সর্বোচ্চ সাত দিন খেলতে পারা যায় না। তবে ৪-৫ দিনের মধ্যেও বোলিংযে ফিরে আসতে পারেন মুস্তাফিজ।’ তবে ভাগ্য সহায় না হলে তিন সপ্তাহ লেগে যেতে পারে তার। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে শংকা দেখা দিবে। আর বিশ্বকাপের মত বড় আসরে মুস্তাফিজকে না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বিরাট ক্ষতি।

বর্তমানে এ তারকা চিকিৎসকের অধীনে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে চাইলে মুস্তাফিজ এখনো খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এ নবীন তারকা।

আগেরদিন মুস্তাফিজের না থাকা নিয়ে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘মুস্তাফিজের না থাকা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। ও যেটা দলের জন্য দেয়, সেটা সব সময়ই দলের জন্য অসাধারণ কিছু। এটা প্রমাণিত বিষয়।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যথা অনুভব করেন মুস্তাফিজ। ম্যাচ শেষে ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে পরদিন এমআরআই করান। তারপর বোঝা যায় তার চোটের মাত্রা। সোমবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয় বিসিবি, এশিয়া কাপে আর মুস্তাফিজ খেলতে পারবেন না।

‘আমি ‘ব্রিলিয়ান্ট’ সাব্বিরকে নিয়ে খুশি’

য়ানডেতে বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে দেখেছে ক্রিকেট দুনিয়া। এবার তারা দেখতে শুরু করেছে টি-২০তে বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই ফরমেটে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলার দামাল ছেলেরা এগিয়ে যাচ্ছেন।

মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা দীর্ঘদিন খেলে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে। এজন্যই নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ভারতের মতো দলকে বলে-কয়ে হারাতে পারছেন টাইগারা। বিশ্বের বেশ কয়েকজন সাবেক গ্রেট ক্রিকেটারদের অভিমত এমনই। কিছু দিন আগে যেমন ভারতের কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলি এক সাক্ষাৎকারে সেই বিষয়টিই তুলে ধরেছিলেন।

তরুণদের মধ্যে গর্জে ওঠা বাংলাদেশকে যারা এগিয়ে নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন উল্লেখযোগ্য। তবে টি-২০তে সাব্বির নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই ফরমেটে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। পরিচিতি লাভ করছেন একজন টি-২০ স্পেশালিস্ট হিসেবে। তারই প্রমাণ রাখলেন এশিয়া কাপের খেলায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ম্যাচে তিন নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির। খেলেন ৫৪ বলে ৮০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।

সেই ‘ব্রিলিয়ান্ট’ সাব্বিরকে নিয়ে দারুণ খুশি বাংলাদেশ দলের কোচ হাথুরুসিংহে। লঙ্কান এই কোচ বলেন, ‘টি-২০তে বড় স্কোর করা আসলেই কঠিন। ভুল হতেই পারে। এসবের মধ্যেও ব্যাট হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছে সাব্বির। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে উন্নতিতে তার অবদান রয়েছে। আমি ‘ব্রিলিয়ান্ট’ সাব্বিরকে নিয়ে খুশি।’

সাব্বিরের পাশাপাশি অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে বাংলাদেশকে টানছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাই কোচ হাথুরুসিংহের প্রশংসা থেকে বাদ পড়েননি মাহমুদউল্লাহও, ‘সংঘবদ্ধভাবেই দলকে এগিয়ে নিতে হয়। টি-২০তে যেকোনো ৩-৪ জন ব্যাটসম্যানকে ভালো করতে হয়। তাহলে সম্মানজনক একটি স্কোরলাইন দাঁড় করানো সম্ভব। বাংলাদেশ দলে মাহমুদউল্লাহ তাদেরই একজন। ধারাবাহিকভাবে দলে অবদান রাখছে সে। আমি বলব, দলের জন্য গ্রেট কাজটিই সে করে যাচ্ছে। যা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

আজ জিতলেই ফাইনালে বাংলাদেশ

ঠিক চার বছর আগে ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। প্রথমবার ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত ২ রানে হেরে গিয়েছিল টাইগাররা। এতে কেঁদেছিল গোটা দেশ।

এর মাঝে অনেকটা সময় কেটে গেছে। আজ আবার যখন বাংলাদেশ মুখোমুখি হচ্ছে তখন পাকিস্তানের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।  সাম্প্রতিক বহু জয়ে টাইগাররা আজ উজ্জীবিত। আজ জিতলে ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। আর এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির চলতি আসর থেকে বাদ পড়বে পাকিস্তান।

তাই দুই দলের জন্য চলতি আসরে টিকে থাকার লড়াই। বলা চলে ফাইনালের আগেই ফাইনালের আমেজ।

২০১৪ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরমেটে ৩২০ রান করেও হেরে যায়।  কিন্তু ২০১৫ সালে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় তারা। শুধু তাই নয়, একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারিয়েও টাইগাররা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয় পায়।

সেই হিসেবে আফ্রিদির দলের জন্য এই লড়াইটি হবে প্রতিশোধেরই। যদিও ক্রিকেটে প্রতিশোধ শব্দটা কোনো দলই মানতে রাজি নয়।

গতকাল বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও হোয়াইটওয়াশের স্মৃতিকে বড় করে দেখতে চাইলেন না। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিটি ম্যাচেই তারা নামেন জয়ের জন্য। আজও মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে নামবে জয়ের জন্যই।

গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেয়িামের ইনডোরের সামনে অনুশীলনের আগে মাশরাফির বক্তব্য ছিল এরকম: ‘আমার মনে হয় না, ওই সিরিজের ফল এবার কোনো সাহায্য করবে। কারণ এটি নতুন দিন, নতুন খেলা, নতুন টুর্নামেন্ট। আগে কী হয়েছে তা না ভেবে, আজ কতটা ভালো করতে পারি, তা নিয়ে আমরা ভাবছি।’

অনুশীলন শেষে কোচ হাতুরাসিংহের জবাব:  ‘সেটি তো এক বছর আগের কথা, তাই না? আসলে অত দিন আগে আমরা কী করেছি না করেছি, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এখন আমরা কী করব।’

তবে তারা যাই বলনু না কেন আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই তো ফাইনাল! হেরে গেলেও সুযোগ থাকবে। কিন্তু হারার আগে হারার কথা কেন ভাববে বাংলাদেশ। তাও যদি পাকিস্তান সেই আগের মতো অজেয়-অধরা থাকত, সেটি ভিন্ন কথা। গত বছরের সেই অদম্য পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় আজ তাই জয় ভিন্ন কিছু ভাবছে না মাশরাফির দল।

টি-টোয়েন্টি ফরমেটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত খেলে ৮টি ম্যাচ। শেষ ম্যাচটি ছিল গেল বছর মিরপুর মাঠে।

এমনিতে এশিয়া কাপের আগের ভাবনায় বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা উচ্চারিত হয়নি জোরেশোরে। ফরম্যাটটা টি-টোয়েন্টি যে! আর এতে বাংলাদেশের সীমিত সামর্থ্যের সূত্র ধরেই ওই নিরাশার হাওয়া। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে যাচ্ছেতাই হার ওই নিরাশাকেই দেয় অনুমোদন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাত্র ১৩৩ রানে থেমে যায় টাইগার বাহিনী।

তবে এরপরই ঘুর দাঁড়ায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল! শুরুতে অল্প পুঁজি নিয়ে আমিরাতকে বড় ব্যবধানে হারায়। পরের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি জিতে নেয়। তাই টগবগে আত্মবিশ্বাস নিয়েই তাই আজ পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

আত্মবিশ্বাসের সেই সৌরভে একটাই কাঁটা—ইনজুরির কারণে মুস্তাফিজুর রহমানের ছিটকে যাওয়া। আবার বাড়তি সৌরভ নিয়ে তামিম ইকবালেরও তো প্রত্যাবর্তন।

মাশরাফি পরোক্ষে মেনে নেন তা, ‘তামিমের না থাকা ছিল আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর ব্যাপার। সব ফরম্যাটে সে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। তামিম অনেক দিন ধরে খেলছে, সে অনেক অভিজ্ঞ। তবে মুস্তাফিজের না থাকা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। ও যেটা দলের জন্য দেয়, সেটা সব সময়ই দলের জন্য অসাধারণ কিছু। এটা প্রমাণিত বিষয়।’

মুস্তাফিজ না থাকায় আজ হয়তো আর চার পেসার নিয়ে খেলবে না বাংলাদেশ। একাদশে ঢুকতে পারেন বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাত সানি।

তবে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙলেও জয়ের ধারাবাহিকতা ভাঙবে না বলেই আশাবাদী বাংলাদেশ। আমিরাত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দুটির ধারাবাহিকতা দেখানোর প্রত্যয় মাশরাফির, ‘আমাদের সামনে আসলেই ফাইনাল খেলার খুব ভালো সুযোগ আছে।

সর্বশেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেভাবে খেলতে পারলে অবশ্যই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। কিছু ভুলও অবশ্য ছিল। কিন্তু আমরা প্রয়োজনের সময় দরকারি কাজ করতে পেরেছি বলেই ম্যাচ দুটি জিততে পেরেছি।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্য পরিকল্পনার ঠিকঠাক প্রয়োগের ওপর জোর দেন তিনি, ‘এই ম্যাচে যারা জিতবে তাদেরই ফাইনাল খেলার সুযোগ বেড়ে যাবে। সুতরাং এখানে আমাদের প্রতিটি জায়গায়ই সুযোগ আছে। প্রতিপক্ষেরও সুযোগ আছে। তারা একবার টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এ ছাড়া তাদের অনেক খেলোয়াড় বিভিন্ন জায়গায় টি-টোয়েন্টি খেলে। তবে আমরা যদি ওদের দিকে না তাকিয়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক প্রয়োগ করি, আমার মনে হয় আমাদের সব সুযোগই আছে।’

সুযোগের আরেকটি বড় জায়গা সম্ভবত উইকেট। এমনিতে এশিয়া কাপের উইকেট দেখে চমকে গেছেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা। ঘাস-গতি-বাউন্সে যেন উপমহাদেশের ২২ গজ নয় এটি। টুর্নামেন্ট এগোতে থাকায় সপ্রাণ উইকেটের সতেজতা কমেছে অনেকটা। মোহাম্মদ আমিরের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের দুরন্ত পেস বোলিং সামলাতে তাই আর অতটা ঝামেলা হওয়ার কথা নয় বাংলাদেশের।

মাশরাফি অবশ্য সরাসরি কিছু না বলে ওই নিজেদের কাজে মনোযোগ দেওয়া কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘এখন উইকেটে খুব বেশি ঘাস থাকছে না। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে কোন উইকেটে খেলা হবে, তা জানি না। তবে আমরা ওদিকে চিন্তা না করে নিজেদের কাজ গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

কোচ হাতুরাসিংহেরও প্রায় অভিন্ন উচ্চারণ, ‘উইকেট ক্রমশ শক্ত হচ্ছে। এতগুলো ম্যাচ টানা খেলার পর সেটি সতেজ থাকার আশা করা যায় না। এটি আমাদের সাহায্য করবে কি না, জানি না। উইকেটে গতি থাকলে তাও কিন্তু আমাদের সাহায্য করে।’ ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে যেমন দ্রুতগতির পিচে খেলেছি। আমাদের তাই অভিযোগ না করে উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছরের সিরিজ নিয়ে প্রশ্নে কোচ-অধিনায়কের একই উত্তর। উইকেট নিয়ে প্রশ্নেও উত্তরের অভিন্ন মোহনায় তারা। এবার হাতুরাসিংহের পরিকল্পনার বাস্তবায়নটা আজ যদি মাশরাফির নেতৃত্বে ১১ ক্রিকেট সৈনিক করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে!

পাকিস্তানকে হারিয়ে তখন এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ। আর এটা দেখার জন্যই তো উদগ্রীব পুরো দেশ।

ফাইনালে ভারত

টানা তিন জয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে পৌঁছে গেছে ফেভারিট ভারত। স্বাগতিক বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে হারানো পর মঙ্গলবার বিরাট কোহলির অপরাজিত ফিফটিতে তারা হারিয়েছে শ্রীলংকাকে, ৫ উইকেটে। এশিয়া কাপে তারাই এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল। ভারত নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে দুর্বল আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে। ম্যাচটি হবে বৃহস্পতিবার।
কোহলি দলের বিপদের সময় অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। তিনি ৪৭ বল খেলে ৭টি চারের সাহায্যে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারত ৪ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হাতে রেখে ১৪২ রান করে জয় তুলে নেয়।
মিরপুরে স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার ছুঁড়ে দেয়া ১৩৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টিম ইন্ডিয়া দলীয় ১৬ রানেই দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকে হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায়। লংকান বোলার কুলাসেকারাই দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরান। এরপর দলকে টেনে নেন বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়না। তারা স্কোরবোর্ডে ৫৪ রান যোগ করেন। ইনিংসের ১২তম ওভারে বিদায় নেন রায়না (২৫)। তখন দলীয় স্কোর ৭০। সেখান থেকে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কোহলি ও যুবরাজ সিংহ। তারা চতুর্থ উইকেট জুটিতে তুলে নেন ৫১ রান। এরপর দ্রুত যুবরাজ সিং ও পান্ডিয়ার উইকেট হারায় ভারত। যুবরাজ সিং মাত্র ১৮ বলে তিন করে ছক্কা ও চার মেরে ৩৫ রান করেন। ছয় বলের ব্যবধানে পান্ডিয়াও (২) হেরাথের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন। অবশ্য কোহলি ছিলেন ক্রিজে। তিনি আর অধিনায়ক ধোনি (অপরাজিত ৭) দলের জয় নিশ্চিত করেন।
টি-টোয়েন্টিতে রোহিত ৫৩তম ম্যাচে নামেন আর ১৬তম ম্যাচে নামেন ধাওয়ান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কুলাসেকারা বিদায় করেন ধাওয়ানকে (১)। উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। চতুর্থ ওভারে আবারো কুলাসেকারা আঘাত হানেন। ১৪ বলে ১৫ রান করা আরেক ওপেনার রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দেন ডানহাতি এ পেসার।
এরপর রায়না-কোহলি-যুবরাজে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। এর আগে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা বাঁচা-মরার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও শ্রীলংকা রানের চাকা ঠিকভাবেই ঘোরাতে থাকে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা ১৩৮ রান তোলে।

বাংলাদেশের সবাই সংগ্রাম করছে : আজহার

টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পর থেকেই ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেটেই খেলে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু গত বছর থেকে মুস্তাফিজ, তাসকিনদের মত দুর্দান্ত বোলার পাওয়ায় বাংলাদেশ এখন ঘাসের উইকেটের দিকে মনযোগী হয়েছে। তাই এশিয়া কাপে সবুজ উইকেটে ব্যাটসম্যানরা কঠিন সংগ্রাম করছেন বলে জানান পাকিস্তান দলের বোলিং কোচ আজহার মাহমুদ।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে আজহার বলেন, ‘আমরা দেখেছি মুশফিক ও সাকিব পিএসএলে বেশ সমস্যায় ভুগেছে। কিন্তু এখানে সবাই সংগ্রাম করছে। কারণ পিচে যথেষ্ট সুইং হচ্ছে এবং অনেক বাউন্স আছে। সবাইকে কিছুটা সময় নিতে হচ্ছে।’
তবে বাংলাদেশের উইকেট নিয়ে অভিযোগ নেই আজহারের। সব ধরণের উইকেটে খেলার দিকে অভ্যস্ত হতে পরামর্শ দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ ধরণের পিচ আমরা ভারতেও কিছুদিন আগে দেখেছি, যেখানে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারত ৮০ রানেই গুটিয়ে গেছে। এ কারণে মাঝে মাঝে কৌশল ও দক্ষতার দিকে মনোযোগী হতে হয়। পিচ নিয়ে কোনো তর্ক করব না, এটা ঠিক আছে। আমাদের পেশাদারিত্ব দেখিয়ে খেলতে হবে। আমাদের শিখতে হবে এবং সব ধরণের পিচেই খেলতে হবে।’
নিজেদের বোলিং অ্যাটাক নিয়ে আশাবাদী আজহার। আমিরের দারুণ প্রত্যাবর্তনে খুশি তিনি। বোলিং অ্যাটাক নিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানের বোলিং সবসময়ই শক্তিশালী দিক। ছেলেরা তাদের ব্যাটিং ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করছে। আর আমির যেভাবে আগে বোলিং করেছে এবং ফেরার পর যেভাবে করছে সেখান থেকে বলতে পারি আমির বিশ্বমানের বোলার।’

ফাইনাল নিশ্চিতে ভারতের টার্গেট ১৩৯

এশিয়া কাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে ফেভারিট ভারতের মুখোমুখি হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। বাঁচা-মরার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে লঙ্কানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও শ্রীলঙ্কা রানের চাকা ঠিকভাবেই ঘোরাতে থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা ১৩৮ রান তুলেছে। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটির হয়ে ব্যাটিং শুরু করেন ৩৭ ম্যাচ খেলা দিনেশ চান্দিমাল এবং ৭৩ ম্যাচ খেলা তিলকারত্নে দিলশান।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আশিস নেহারার বলে উইকেটের পেছনে থাকা ধোনির গ্লাভসবন্দি হন দিনেশ চান্দিমাল। বিদায় নেওয়ার আগে এই ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ১১ বলে করেন মাত্র ৪ রান। দলীয় ৭ রানের মাথায় ওপেনার চান্দিমাল বিদায় নেন। এরপর উইকেটে থেকে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জয়সুরিয়া ও দিলশান। তবে, ইনিংসের চতুর্থ ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর শিকার হয়ে উইকেটের পেছনে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সুরিয়া (৩)। দলীয় ১৫ রানের মাথায় দুই উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা টপঅর্ডারের তৃতীয় ব্যাটসম্যানকে হারায় দলীয় ৩১ রানের মাথায়। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হয়ে সাজঘরে ফেরেন দিলশান। হারদিক পান্ডের করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই অশ্বিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৬বলে ১৮ রান করা দিলশান।
ইনিংসের ১১তম ওভারে হারদিক পান্ডে বোল্ড করেন ম্যাথুজকে। বিদায় নেওয়ার আগে লঙ্কান দলপতি ১৯ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে করেন ১৮ রান। এরপর জুটি গড়েন কাপুগেদারা ও শ্রীবর্ধানে। ৩১ বলে ৪৩ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। ইনিংসের ১৭তম ওভারে অশ্বিনের বলে রায়নার তালুবন্দি হয়ে বিদায় নেন ১৭ বলে ২২ রান করা শ্রীবর্ধানে। একই ওভারের শেষ বলে রান আউট হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন দাসুন শানাকা (১ রান)।
১৮তম ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহ ফেরান ৩০ রান করা কাপুগেদারাকে। পান্ডের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৩২ বলে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান। ১৯তম ওভারে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন থিসারা পেরেরা। তবে, অশ্বিনের বলে আউট হওয়ার আগে মাত্র ৬ বল থেকে দুই চার ও এক ছয়ে ১৭ রান করেন পেরেরা। মিরপুর স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন টিম ইন্ডিয়ার দলপতি মহেন্দ্র সিং ধোনি। ম্যাচটি জিতলেই টিম ইন্ডিয়ার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোহলিদের বিপক্ষে হেরে গেলে লঙ্কানদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকাটিই ঘোর অনিশ্চয়তার মাঝে পড়বে!
প্রথম দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত। আর আরব আমিরাতের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে তিন নম্বরে লঙ্কানরা। মূলপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে (৩ মার্চ) আমিরাতের মুখোমুখি হবে টিম ইন্ডিয়া। পরদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবেন ম্যাথিউস-চান্দিমালরা। বলা বাহুল্য, দুই ম্যাচ শেষে পয়েন্ট সমান হলেও শ্রীলঙ্কার চেয়ে রান রেটে পিছিয়ে শহীদ আফ্রিদির পাকিস্তান।
টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি লড়াইয়ে লঙ্কানদের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে ভারত। ৯ বারের দেখায় পাঁচটিতে ভারত ও চার ম্যাচে জয় পায় লঙ্কানরা। অার প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ টি-২০ ফরমেটে হওয়ায় সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এ টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল। ফিটনেস সমস্যায় বাংলাদেশের পর এবার ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও খেলতে পারছেন না নিয়মিত অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা।
ভারত একাদশ: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, হার্দিক পান্ডে, রবিন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জাসপ্রিত বুমরাহ ও আশিষ নেহরা।
শ্রীলঙ্কা একাদশ: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (অধিনায়ক), দিনেশ চান্দিমাল, তিলকরত্নে দিলশান, শিহান জয়সুরিয়া, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনে, দাসুন শানাকা, চামারা কাপুগেদারা, থিসারা পেরারা, নুয়ান কুলাসেকারা, রঙ্গনা হেরাথ ও দুশমান্থা চামিরা।

পেসারদেরই দাপট, স্পিনারদের ‘ভাত নেই’!

ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের প্রতি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের আলাদা একটু ঝোঁক আছে। খোঁজ খবর রাখেন বেশ। তবে এশিয়া কাপের পরিসংখ্যানের খোঁজ তাঁর না রাখলেই ভালো। এবারের আসরে বোলারদের তালিকায় অশ্বিনের অবস্থান ছয়ে, কিন্তু সেটি শেষ দিক থেকে! সব মিলিয়ে ৪৮ জন বোলার এবার উইকেট পেয়েছেন। উইকেটপ্রাপ্তির দিক দিয়ে তালিকায় ভারতীয় স্পিনারের অবস্থান ৪৩-এ!
২ ম্যাচে ৭ ওভার বোলিং করে ৪৪ রানে ১ উইকেট—এই হলো অশ্বিনের প্রাপ্তি। টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা বোলার তিনি। এশিয়া কাপে খেলছেন এমন বোলারদের মধ্যে শীর্ষে। সেই অশ্বিন যেন এবার থই পাচ্ছেন না।
শুধু অশ্বিন? টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে চারে থাকা শহীদ আফ্রিদিও দুই ম্যাচে নিয়েছেন ১ উইকেট। অশ্বিন তবু ৭ ওভার বোলিং করেছেন, অধিনায়ক আফ্রিদি দুই ম্যাচে নিজেকে ৪ ওভারের বেশি বোলিং করানোর আত্মবিশ্বাসই যেন পাননি! র‍্যাঙ্কিংয়ে নয়ে থাকা রবীন্দ্র জাদেজা ২ ম্যাচে নিয়েছেন ২ উইকেট। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে থাকা স্পিনারদের মধ্যে সাকিব আল হাসানই বলা যায় ব্যতিক্রম। ৩ ম্যাচে ৫ উইকেট। এবারের আসরে স্পিনারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট আরব আমিরাতের রোহান মোস্তাফার। তবে ৬ উইকেট নেওয়া রোহান খেলেছেন ৬টি ম্যাচ।
এশিয়া কাপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। কিন্তু এশিয়া কাপে উইকেট তো দূরের কথা, রানেও বাঁধ দিতে পারছেন না। গত ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থার মধ্যেও ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে অশ্বিন উইকেটশূন্য। ওই ম্যাচেই ভারতের পেসাররা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানকে। বিশেষ করে দুই তরুণ পান্ডিয়া আর বুমরা ১৬ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি যেন এবারের এশিয়া কাপেরই প্রতিচ্ছবি। যেখানে দাপট পেসারদেরই। স্পিনাররা থই পাচ্ছে না!
এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপে ৯৯টি উইকেট পেসারদের। স্পিনারদের ঝুলিতে উইকেট প্রায় অর্ধেক—৫৪টি। এটি অবশ্য বাছাই পর্বের হিসাব ধরেই। জাদেজা-অশ্বিন-আফ্রিদিরা বাছাই পর্ব খেলেননি। বাছাই পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলে এসেছেন বলেই উইকেটপ্রাপ্তিতে শীর্ষে আরব আমিরাতের দুই পেসার আমজাদ জাভেদ আর মোহাম্মদ নাভিদ। কিন্তু তাতেও স্পিনারদের আড়াল করা যাচ্ছে না। মূল পর্বেও এসেও সর্বোচ্চ উইকেট আমিরাত অধিনায়ক জাভেদের। তা ছাড়া বাছাই পর্বে কি আর স্পিনাররা খেলেননি?
স্পিনারদের ধারহীনতার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ এশিয়ার এখনকার অন্যতম তিন সেরা স্পিনারের বোলিং। অশ্বিন-আফ্রিদি-জাদেজারা একদমই সুবিধা করতে পারেননি এখনো। শুধু উইকেট সংখ্যায় নয়, পেসারদের তুলনায় স্পিনারদের গড়ও ভালো নয়। পেসাররা ১৯.৩৫ গড়ে উইকেট নিয়েছেন, স্পিনাররা নিয়েছেন ২৩.২৮ গড়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ২৭৭.৫ ওভার বোলিং করে ৬টি মেডেন পেসারদের, ১৮২ ওভার বোলিং করে স্পিনারদের মেডেন মাত্র একটি।
এবারই প্রথম এশিয়া কাপ হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। কিন্তু তাই বলে স্পিনারদের রাজত্বও রাতারাতি এমন শেষ হয়ে যাবে! পেসারদের দাপট, তাদের সামনে ব্যাটসম্যানদের অসহায় চেহারার কারণেই এবারের উইকেট আলোচনায় আসছে বেশি করে। যদিও উইকেটকেই বেশি ‘কৃতিত্ব’ দিলে পেসারদের চেষ্টাকে অসম্মান করাই হয়।
গত এশিয়া কাপেও কিন্তু স্পিনাররা নিয়েছিলেন ৭৯ উইকেট, পেসাররা ৬৬টি। এবার পেসাররা ৯৯-৫৪ ব্যবধানে এগিয়ে!

বাংলাদেশের সাফল্যে অবাক নন জাদেজা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়টি একেবারেই অবাক করেনি অজয় জাদেজাকে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই তারকা মনে করেন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষে জিতে বড় দল হিসেবে নিজেদের আগেই প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের একটি খেলার চ্যানেলে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন এই সাবেক ভারতীয় তারকা। সেখানেই বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখাল জাদেজাকে।
জাদেজা মুগ্ধ সাব্বির রহমানের ব্যাটিংয়েও। গত ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ধুঁকছে, ঠিক তখনই সাব্বিরের পাল্টা আক্রমণ। জাদেজার চোখে এটি ‘বীরত্ব’, ‘দলের বিপর্যয়ের মধ্যেও সাব্বির যেভাবে ব্যাট করল, তাকে বাহবা না দিয়ে পারা যায় না। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সে ছিল দারুণ ইতিবাচক। সে ব্যাটিং বীরত্ব দিয়ে কঠিন পরিস্থিতি জয় করেছে।’
জাদেজা বলেন, ‘বাংলাদেশ দলটা দারুণভাবেই দাঁড়িয়ে গেছে। দলটা কোনো বিশেষ খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। নতুন নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে।’
মাশরাফি বিন মুর্তজার অধিনায়কত্ব নিয়েও মুগ্ধ জাদেজা, ‘মাশরাফির উপস্থিতিটাই বাংলাদেশের জন্য খুব বড় অনুপ্রেরণা। স্কোরকার্ডের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ব্যাটে-বলে কিন্তু খুব বড় কোনো পারফরম্যান্স নেই তাঁর। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিংয়ের সময় সবকিছু কী সুন্দর আর নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করল সে। মাশরাফিই দলের তরুণদের জন্য খুব বড় প্রেরণা।’
মুশফিকুর রহিমকে কিপিং থেকে সরিয়ে তরুণ নুরুল হাসানকে দলে নেওয়ার ব্যাপারটিও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন জাদেজা। তিনি মনে করেন, এটা বাংলাদেশের নিজেদের একটা ভালো দল হিসেবে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টারই অংশ, ‘মুশফিক কত বছর ধরে কিপিং করছে। সে কিপিংয়ে নির্ভরতা। কিন্তু সে দলে থাকতে তরুণ একজনকে কিপিংয়ের দায়িত্ব দেওয়াটাই তো ভবিষ্যৎ দৃষ্টির পরিচয়। এতে করে দুজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। মুশফিকের ছায়াতলে একজন নতুন কিপারকে তৈরি করার ব্যাপার হিসেবেও দেখতে পারেন এটিকে।’
সবশেষে মুস্তাফিজুর রহমান নিয়ে উচ্ছ্বাস ঝরেছে জাদেজার কণ্ঠে, ‘অসাধারণ বোলার সে। বলে কী অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ! মুস্তাফিজদের মতো খেলোয়াড়দের উঠে আসাটা কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ারই প্রমাণ।’

ডট বলের নতুন রেকর্ড গড়লেন আমির

প্রথম ওভারে কোনো রান নেই। পরের ওভারে হলো মাত্র ১ রান। পরের ওভারেও মাত্র ১ রানই। তিন ওভার শেষে মোহাম্মদ আমিরের পরিসংখ্যান দাঁড়াল ৩-১-২-১। তাহলে কি টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কিপটে বোলিংয়ের রেকর্ড হয়ে যাবে? শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি, শেষ ওভারে ‘চা-র’ রান দিয়ে ফেলায় আমিরের বোলিং ফিগার হয়ে গেছে ৪-১-৬-২। তবে একটা কীর্তি আমির ঠিকই গড়ে ফেলেছেন। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ডট বল দেওয়ার রেকর্ডটা এখন তাঁরই।
আরব আমিরাতের বিপক্ষে আমিরের চার ওভারে মাত্র তিনটি বল থেকে রান হয়েছে। তার মানে, তাঁর ২১টি বল থেকে কোনো রানই নিতে পারেননি আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ডট বল দেওয়ার নতুন রেকর্ড এখন এটি। অন্তত চার ওভার বল করেছেন, এমন বোলারদের মধ্যে আমিরের চেয়েও কম রান দেওয়ার কীর্তি আছে। ২০১৪ সালে কলম্বোতে নেপালের বিপক্ষে হংকংয়ের বোলার আইজাজ খান ৪ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ৪ রান। কিন্তু তাঁর ২৪টি ডেলিভারিতে ডট ছিল ২০টি।
টি-টোয়েন্টি প্রতিটি ডট বল সোনার চেয়েও দামি। পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনো কখনো একটি ডট বলের মূল্য যেন উইকেটের চেয়েও বেশি। চার-ছক্কার এমন খেলায় বোলাররা হয়তো সৎ​ ছেলের অনাদরই পায়। কিন্তু অনাদরের ধুলো ঝেড়ে বোলাররা টি-টোয়েন্টিতেও দাপট দেখান বৈকি। শাসনে বাধ্য করেন ব্যাটসম্যানদের। ডট বল যেন তাদের সেই শাসনেরই চাবুক!
এক ইনিংসে ২০টি ডট বল দেওয়ার রেকর্ড আরও আছে। তার দুটি আবার একই ম্যাচেই। ২০০৮ সালে কানাডার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ম্যাচে ক্রিস পোফু ও রেমন্ড প্রাইস ভীষণ কিপটে বোলিং করেছিলেন। দুজনেই ৪ ওভার করে দিয়েছিলেন ৬ রান করে। দুজন সেটি করেছিলেন ২০টি করে ডট বল। এক ইনিংসে ২০ ডট বলের কৃতিত্ব আছে আর একজনেরই। ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনার সুলেমান বেন ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৩ উইকেট। তাঁরও ২০টি বল থেকেও কোনো রান হয়নি।
টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারে ৬ রান দেওয়ার ঘটনা আর আছে মাত্র দুটি। এর একটি বাংলাদেশের মনে থাকার কথা। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ড স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৩ উইকেট। তবে তাঁর ডট বল ছিল ১৮টি। আর জিম্বাবুয়ের স্পিনার প্রসপার উতসেয়াও ২০০৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দিয়েছিলেন ১৯টি ডট বল।
আমিরের একটাই আক্ষেপ থাকতে পারে। এমন বোলিং করেও তাঁর কীর্তিটা রেকর্ড বইয়ে লেখা থাকবে না। ডট বলের জন্য সেভাবে আলাদা করে কোনো রেকর্ড কর্নারই যে নেই!

মুস্তাফিজকে হারানো অপূরণীয় ক্ষতি : মাশরাফি

আমিরাত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতে আবারো এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। নিজেদের শেষ ম্যাচে বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে টাইগাররা। কিন্তু এ ম্যাচের আগে বড় দুঃসংবাদ শুনতে হলো মাশরাফিদের। দলের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুরকে আর পাচ্ছে তারা। সাইড স্ট্রেনের চোটে পড়ে এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেছে তার। মুস্তাফিজকে হারানো দলের অপূরণীয় ক্ষতি মানছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে দলের অনুশীলনের আগে অধিনায়ক বলেন, ‘মুস্তাফিজের না থাকা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। ও যেটা দলের জন্য দেয়, সেটা সব সময়ই দলের জন্য অসাধারণ কিছু। এটা প্রমাণিত বিষয়।’
তবে তার পরিবর্তে তামিম ইকবালকে পাওয়ায় দলের ব্যাটিং শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে মানছেন অধিনায়ক। তামিমের ফিরে আসা নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘তামিমের না থাকা সব সময় আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর ব্যাপার। সব ফরম্যাটে সে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। তামিম অনেক দিন ধরে খেলছে, সে অনেক অভিজ্ঞ।’
মুস্তাফিজের পরিবর্তে রনি দলে আসতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি মুস্তাফিজের জায়গায় যে আসবে সে ওর মতোই পারফর্ম করবে, তাহলে এটা খুবই কঠিন ব্যাপার হবে।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে মুস্তাফিজ রহমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেক হয়েছিল। সে ম্যাচে হাফিজ ও আফ্রিদির মতো ভয়ংকর ক্রিকেতারদের উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন এ পেসার। তারপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আসছেন তিনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিঠুনের পরিবর্তে নাসির!

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমনিতেই ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার পরিবর্তে দলে প্রবেশ করেছেন তামিম ইকবাল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম একাদশে ফিরছেন এটা নিশ্চিত। ওপেনিংয়ে বাংলাদেশ তার সেরা তারকাকে পেয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংস ওপেন কে করবেন এ প্রশ্ন আর আগে থেকে তৈরী হচ্ছে না।
তামিম দলে ফিরবেন মুস্তাফিজের পরিবর্তে। তাহলে, ওপেনিংয়ে খেলা মিঠুনের জায়গাটা হবে কোথায়? এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী দিনে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে যান মোহাম্মদ মিথুন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আবর আমিরাতের বিরুদ্ধে ৪৬ রান করলেও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন শূণ্য রানে। আর আমিরাতের বিপক্ষেও হতেন দারুণ ব্যর্থ। আমিরাতের ফিল্ডাররা যদি শুরুতেই তার সহজ ক্যাচ মিস না করতো।
এমনিতেই ওপেনিংয়ে মিঠুনকে নামানো নিয়ে বেশ প্রশ্নের সম্মুখিন বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তার ওপর, একের পর এক ব্যর্থতার কারণে মিঠুনের দলে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরী হয়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের বিপক্ষে মিঠুনের পরিবর্তে একাদশে ডাক পেতে পারেন নাসির। দলের সঙ্গে থাকলেও, এখনও পর্যন্ত এশিয়া কাপের একাদশে থাকতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।

আর ভুল করবেন না আফ্রিদি

আরব আমিরাতের বিপক্ষে মহা ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। মাত্র ১৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। মিরপুরের মত উইকেটে ১২৯ রান তাড়া করা সত্যিই মহা এক পাহাড় টপকানোর সামিল। ওই তিন উইকেটের পর যদি আরও দু’একটি উইকেট পড়তো, তাহলে সত্যি বিপদেই পড়তো তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত শোয়েব মালিক আর উমর আকমলের দৃঢ়তায় কোনমতে রক্ষা পায় পাকিস্তান।
কেন এমন হচ্ছে পাকিস্তানের? দেশটির ক্রিকেট কর্মকর্তাদের কাছে এটা এক বড় প্রশ্ন। অবশেষে অধিনায়ক আফ্রিদি উপলব্ধি করতে সক্ষম হলেন যে, সামনের ম্যাচগুলোতে আর কোন ভুল করা যাবে না। করলেই মহা বিপদ অপেক্ষা করছে তার দলের সামনে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে তো কোন ভুলই করা যাবে না।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফ্রিদির নেতৃত্বেই হেরেছে পাকিস্তান। গত বছর এপ্রিলে ১ ম্যাচের ওই সিরিজে বাংলাদেশ আবিষ্কার করেছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে। যদিও বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে থাকছেন না মুস্তাফিজ। যা তাদের জন্য বড় একটা স্বস্তিও বটে। তবুও আফ্রিদি সতর্ক। বাংলাদেশ যেহেতু রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে, শ্রীলংকার মত দলকে হারিয়েছে এবং সবচেয়ে বড় কথা তারা খেলবে নিজেদের মাটিতে। সুতরাং, সতর্ক না হয়েও উপায় নেই আফ্রিদির।
আরব আমিরাতের বিপক্ষে নিজেদের ঢিলেমির বিষয়টা প্রকাশ্যে এনে আফ্রিদি বলেন, ‘আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গা ঢিলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আপনি মাঠে হালকা চালে খেলতে পারবেন না, সাজঘরেও আয়েশি মেজাজে থাকতে পারবেন না। এবারের এশিয়া কাপে এখনো পর্যন্ত আমরা ভুল করছি প্রচুর। বড় দলগুলোর বিপক্ষে যে ম্যাচ দুটো বাকি আছে, সেগুলোতে ভুল করলে চলবে না।’
মাত্র ১৭ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তো বিপদ ক্রমেই ঝেঁকে বসছিল আমিরাতের ওপর। ওই বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আফ্রিদি বলেন, ‘আমি ব্যাটসম্যানদের বলেছিলাম, খুব সাধারণ ক্রিকেট খেলতে। কোনভাবেই বড় শট খেলার দরকার নেই। আমরা যখন বোলিংয়ে ছিলাম, দ্রুত তাদের তিন উইকেট তুলে নেয়ার পর ভেবেছিলাম তাদেরকে ৯০ কিংবা ১০০ রানের মধ্যে বেধে ফেলতে পারবো। কিন্তু সত্যি তারা ভালো খেলেছে।’
তবে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচটা ভারত ম্যাচের আগে হলে নাকি তাদের জন্য আরও ভালো হতো। আফ্রিদি বলেন, ‘এই ম্যাচটা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হলে আমরা নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারতাম।’

মুস্তাফিজকে নিয়ে যা বললেন মাশরাফি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়েন দেশসেরা বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। ইনজুরির কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা হচ্ছে না তার। এমন কী বাংলাদেশ ফাইনালে উঠলেও তিনি খেলতে পারবেন কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে মঙ্গলবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেখানে অনিবার্যভাবে মুস্তাফিজের প্রশ্ন আসে।
মুস্তাফিজের বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘মুস্তাফিজের না থাকাটা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। ও যেটা দলের জন্য দেয়, সেটা সব সময়ই দলের জন্য অসধারণ কিছু। এটা প্রমাণিত বিষয়। যেহেতু মুস্তাফিজ খেলতে পারছে না। এটা আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। ওর জায়গা নিয়ে খেলার মতো কোনো বোলার এখন বিশ্বে-ই নেই। তারপরও ওর জায়গায় যে আসবে তার জন্য কাজটা খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা ওর না থাকা নিয়ে এখন আর ভাবছি না। আমরা সামনের দিকে তাকাচ্ছি। যারা আছে, তাদের সেরাটা নিয়ে আমরা খেলবো।’
মুস্তাফিজের জায়গায় রনিকে খেলানোর সম্ভাবনার বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের আসলে এসব নিয়ে আরো ভাবতে হবে। কম্বিনেশন, প্রতিপক্ষ- এসব চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুস্তাফিজের বিষয়ে বলি, আমরা যদি মনে করি মুস্তাফিজের জায়গায় যে আসবে সে ওর মতোই পারফর্ম করবে, তাহলে একটা খুবই কঠিন ব্যাপার হবে।’
মুস্তাফিজের না থাকায় দলে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘তখন একটা সময় ছিল। এখন আরেকটা সময়। খুব অল্প সময়ে সে বাংলাদেশ দলকে যা দিয়েছে, সেটা অবিশ্বাস্য। তার না থাকার প্রভাব পড়াটা খুব স্বাভাবিক। তবে, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এই বাস্তবতাটা আমি মানি, যে কারো যে কোনো সময়ে ইনজুরি হতে পারে। পারিবারিক ব্যাপার না থাকলে তামিম এশিয়া কাপে খেলবে না, এটা আমরা কখনোই চাইতাম না। সুতরাং যে কারো সমস্যা হতে পারে। বিষয়টা মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।’

‘ফাইনাল খেলার খুব ভালো সুযোগ আছে’

এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ভারতের কাছে ৪৫ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫১ রানে হারিয়ে কক্ষপথে ফিরে আসে টাইগাররা। আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে পরের ম্যাচে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয়।
তার মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার আশা দারুণভাবে জাগিয়ে তোলে মাশরাফি বাহিনী। আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে টাইগাররা। এই ম্যাচে জয় পেলে ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। হেরে গেলেও সম্ভাবনা ফুরিয়ে যাবে না।
তার আগে মঙ্গলবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফাইনালে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে আসলেই ফাইনাল খেলার খুব ভালো সুযোগ আছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেভাবে খেলতে পারলে অবশ্যই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। কিছু ভুলও অবশ্য ছিলো। কিন্তু আমরা প্রয়োজনের সময় দরকারি কাজ করতে পেরেছি বলেই ম্যাচ দুটি জিততে পেরেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভাবনার কথা বলবো যে, প্রতিটি জায়গায়ই সুযোগ আছে। একটা নতুন ম্যাচ কালকে। যারা জিতবে তাদেরই ফাইনাল খেলার সুযোগ বেড়ে যাবে। সুতরাং এখানে আমাদের প্রতিটি জায়গায়ই সুযোগ আছে। প্রতিপক্ষেরও সুযোগ আছে। তারা একবার টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এ ছাড়া তাদের অনেক খেলোয়াড় বিভিন্ন জায়গায় টি-টোয়েন্টি খেলে। আমরাও নতুন শুরু করেছি। অনেক কিছু চেষ্টা করেছি অনুশীলনে। সেগুলো নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি ওদের দিকে না তাকিয়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক প্রয়োগ করি, আমার মনে হয় আমাদের সব সুযোগই আছে।’

পাকিস্তানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল!

সাত বছর ধরে বলতে গেলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় না পাকিস্তানে। ২০০৯ সালে লাহোরের লিবার্টি চত্বরের কাছে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সশস্ত্র জঙ্গি হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে একরকম ‘একঘরে’ করেই রাখা হয়েছে।

 

গত বছর অবশ্য জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল। যদিও পরে জানা যায়, অতিরিক্ত টাকা পেয়েই নাকি পাকিস্তান সফরে যেতে রাজি হয়েছিল জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটাররা। নতুন খবর হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও নাকি পাকিস্তান সফরে যেতে রাজি হয়েছে! এমন কথাই জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।

 

এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে বাংলাদেশে এসেছিলেন শাহরিয়ার খান। সোমবার দেশে ফিরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ দল পাকিস্তান সফরে যেতে প্রস্তুত। খেলা হবে করাচি ও লাহোরে। তবে কবে এবং কখন এই সিরিজ হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি তিনি।

 

শাহরিয়ার খান বলেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানে খেলতে আসতে রাজি হয়েছে। ম্যাচ করাচি ও লাহোরে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

 

নিরাপত্তা ইস্যুতে আগামী মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে প্রথমে রাজি ছিল না পাকিস্তান। তবে নানা নাটকীয়তা শেষে ভারতে দল পাঠাতে পিসিবিকে সবুজ সংকেত দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবে সেখানে পাকিস্তান দলের নিরাপত্তার সকল দায়দায়িত্ব ভারত সরকারের বলে জানালেন শাহরিয়ার খান।

 

এ ব্যাপারে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তান ভারত সফরে যাবে। আমাদের জাতীয় দলের নিরাপত্তার সকল দায়িত্ব ভারত সরকার ও কর্তৃপক্ষের। ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ভারত পাকিস্তান সফরে এলে আমরা ওদের যে রকম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছি, আশা করি সে রকম নিরাপত্তা ভারতও আমাদের দেবে।’

 

তথ্যসূত্র : দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডেইলি টাইমস।

 

 

যে কারণে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করল আইসিসি

চলতি মাস থেকে ভারতে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রস্তুতি ম্যাচের সূচিতে সংশোধন এনেছে আইসিসি। আইসিসির এই সংশোধনের ফলে ৫ মার্চ ধর্মশালায় হংকং ও বাংলাদেশের অনুষ্ঠেয় প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের দারুণ পারফরমেন্সের জন্য তুলনামূলক দুর্বল দলের সাথে বাংলাদেশের খেলা বাতিল করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের পরিবর্তে ভারতের স্থানীয় একটি দলের বিপক্ষে হংকং খেলবে বলে জানিয়েছে আইসিসি।

সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, এশিয়া কাপের চলতি আসরে বাংলাদেশের অসাধারণ পারফরমেন্সের কারণে প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। কেননা, আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে টাইগারদের এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। তাই ওই প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।

উল্লেখ্য, এশিয়া কাপের চলতি আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে মার্চের ৬ তারিখে। ফলে ফাইনালে উঠলে সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ ওই ম্যাচ খেলতে পারবেনা। শুধু তাই নয়, ৪ মার্চ ও ৬ মার্চ বিন্দ্রায় নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও ওমানের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো দিনের দুইটি ভাগে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছে আইসিসি।

জিতল পাকিস্তান

১৭ রানেই নেই ৩ উইকেট। তাই এমন ম্যাচ সহজে জিতবে পাকিস্তান-তা হয়ত কেউ ভাবেনি। কিন্তু চতুর্থ উইকেট জুটিতে শোয়েব মালিক আর উমর আকমলের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ৮ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জয় তুলে নিল পাকিস্তান। ৬৩ রানে শোয়েব মালিক এবং ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন উমর আকমল।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হেরে বসা পাকিস্তানের জন্য এ ম্যাচ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্বল আরব আমিরাত ১২৯ রান তুলে পাকিস্তানকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। টার্গেটটা চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে কারণ পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা। ১৩০ রানের ল্েয ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৭ রানেই প্রথম সারির তিন উইকেট হারায় তারা। আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ নিজের প্রথম ওভার বল করতে এসেই তৃতীয় ও পঞ্চম বলে তুলে নেন শারজিল খান ও খুররম মঞ্জুরের উইকেট। পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট করেন অভিজ্ঞ হাফিজকে। আমজাদ জাভেদের বোলিং তোপে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। কিন্তু শেষ অবদি দলকে বাঁচান আকমল ও মালিক।
pakistan
এর আগে সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে শুরতেই পাকিস্তানি পেসারদের তোপে আমিরাত। মাত্র ১২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া আমিরাতকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন শাইমান আনোয়ার। এক প্রান্তে দারুণ বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন শাইমান আনোয়ার। ৪২ বলে ৪৬ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। এই রান করতে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি।
শেষ দিকে অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ ও মোহাম্মদ উসমানের ৪৬ রানের জুটিতে লড়াকু সংগ্রহ পায় আমিরাত। অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে করেন ২৭ রান। ১৮ বল মোকাবেলা করে ৩টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে এই রান করেন তিনি।
এছাড়া ১৭ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ২১ রান করেন উসমান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে তারা। পাকিস্তানের পে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ আমির। এছাড়া মোহাম্মদ ইরফান ৩০ রানে পান ২টি উইকেট।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে থাকছেন না মিথুন, ফিরছেন নাসির!

মোহাম্মদ মিথুন। উইকেট কিপার কাম ব্যাটসম্যান। তবে এশিয়া কাপে একাদশে খেলছেন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে। এই নিয়ে আছে অনেক প্রশ্ন। জানা গেছে, কোচ হাথুরাসিংহের পছন্দের কারণেই একাদশে জায়গা হয়েছে তার। যদিও দলে সুযোগ পেয়ে তেমন কিছু করতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে করেন ১ রান। পরের ম্যাচে দু’দুটি জীবন পেয়ে করেছিলেন ৪৬। এদিন ছিলেন ব্যর্থ। শ্রীলঙ্কার বিপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। মিথুনকে নেওয়া হয়েছিল মূলত তামিমের অনুপস্থিতির কারণে। টি-২০ বিশ্বকাপে এমনিতেই বাদ পড়তেন মিথুন। তবে
মুস্তাফিজের ইনজুরি এশিয়া কাপের বাকি ম্যাচ থেকে খুব সম্ভবত ছিটকে দিচ্ছে মিথুনকে। মুস্তাফিজের জায়গায় দলে আসছেন তামিম। আর তামিম ফেরা মানে মিথুনের একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ।
ওপেনিং জুটি টানা ব্যর্থ বলেই তামিমকে ব্যাংকক থেকে ডেকে আনা হয়েছে। মিথুন-সৌম্য উইকেটে মোটেও থিতু হতে পারছেন না। এ কারণেই অভিজ্ঞ তামিমের শরণাপন্ন হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
আগামী ম্যাচে মিথুন বাদ পড়লে একাদশে জায়গা পেতে পারেন অল রাউন্ডার নাসির হোসেন। মোটামুটি ফর্মে থাকার পরও তাকে বেশ কিছু দিন ধরে ম্যাচের বাইরে রাখা হচ্ছে। এই নিয়ে যথেষ্ঠ সমালোচনা আছে।
নাসির ফিরলে পাকিস্তানের বিপে তিন পেসার নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। গত ম্যাচ গুলোতে ব্যাটিং দুর্বলতা প্রচণ্ড আকারে দেখা গেছে। এ কারণে দলের ব্যাটিং শক্তি বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট, এমটাই জানা গেছে টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে। বাকিটা দেখা যাক।

হাথুরুসিংহের শতভাগ, সৌম্যর সংস্কার

দুপুরের কড়া রোদটা পড়তে শুরু করেছে তখন। বাংলাদেশ দলের ম্যাচ নেই। অনুশীলনও নেই। গোটা দলেরই ছুটি সোমবার। সন্ধ্যার পর পাকিস্তান মাঠে নামবে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে। অথচ শেরে বাংলার উইকেটের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। সঙ্গে মিরপুরের কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। তারপর সোজা ইনডোরে চলে গেলেন টাইগার কোচ। যেখানে অনুশীলন করছিলেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম। নেটে ব্যাটিং করেছেন তামিম ও সৌম্য। বোলিং মেশিনে লম্বা সময় ব্যাটিং করেছেন মুশফিক। তামিম-মুশফিক ফিরে গেলেও রান খরায় ভোগা সৌম্যকে নিয়ে নেটে সময় কাটান হাথুরুসিংহে। নিজে বোলিং করলেন নেট বোলারদের সঙ্গে। কিছুণ পরপর আবার ব্যাটিং স্টান্স, শট খেলার ভঙ্গিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন সৌম্যর সঙ্গে।
হাথুরুসিংহের সময়টা ভালো যাচ্ছে বাংলাদেশে। রোববারই তার অধীনে টি-২০ তে প্রথমবার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে টাইগাররা। দল ছাড়াও কোচ হাথুরুসিংহের অর্জন রয়েছে ওই জয়ে। স্বদেশ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কোচ হাথুরুসিংহের এটি প্রথম জয়। এই শ্রীলঙ্কা দলেরই কোচ হওয়ার সুযোগ ছিল তার। কিন্তু লঙ্কান হয়েও শ্রীলঙ্কার বোর্ড কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন ৪৭ বছর বয়সী এ কোচ। পরে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান হাথুরুসিংহে। অস্ট্রেলিয়ায় কোচ হিসেবে টানা অনেক বছর চাকুরির পর বিসিবির ডাকে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার বিপে প্রথম জয়ের অভিনন্দন জানাতেই হাথুরুসিংহে বলে উঠলেন, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এর আগে তো কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি। তাহলে আমি জিতবো কিভাবে। সেেেত্র উপোর স্বদেশের বিরুদ্ধে হাথুরুসিংহের সাফল্যের রেকর্ডটা তাই শতভাগই থাকলো।
ক্রিকেটাররা সবাই কমবেশি সংস্কার মানেন। যেমনটা ডান প্যাড আগে পায়ে লাগানো। সৌম্য সরকারও তেমন কিছু করেন। তবে সংস্কার হিসেবে নয়। সোমবার ইনডোরে সৌম্যকে দেখা গেল প্রথমে বাঁ পায়ে প্যাড পরছেন। জানতেই বলেন, আমি সবসময় এভাবেই পরি। আগে বাঁ পায়ে। গ্লাভস আবার ডান হাতেরটাই আগে পরেন।
আবার মাঠে নামেন সৌম্য ডান পা আগে দিয়ে। এশিয়া কাপে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না বাঁহাতি এ ওপেনারের। টানা দুই ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছেন জ্বলে উঠতে। তবে সৌম্যর সামনে এখন পাকিস্তান। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরিটা করেছিলেন সৌম্য। সেদিন অপরাজিত ১২৭ রানের অসামান্য ইনিংস খেলেছিলেন। সেই সুখস্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই সৌম্যর মুখে খেলে গেল এক ঝিলিক হাসি। বুধবার পাকিস্তানের বিপে আবারও হেসে উঠবে সৌম্যর ব্যাট, এমনটাই সবার আশা।

অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন আফ্রিদি

পারফর্ম করতে না পারলে যে কোনো খেলোয়াড় এমনকি অধিনায়ককেও দল থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাচক হারুন রশীদ। তিনি বলেন, এটা প্রত্যেক দেশেই হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, একজন খেলোয়াড় এমনকি অধিনায়কও যদি দলে ভালোভাবে পারফর্ম করতে না পারে, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে দলে রাখা হবে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন বলে কিছুদিন আগে ঘোষণা দেন অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়টি একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ব্যাপার উল্লেখ করে পিসিবির প্রধান নির্বাচক হারুন রশীদ বলেন, আমরা কাউকে অবসর নেওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারি না।
প্রধান নির্বাচক বলেন, কোনো খেলোয়াড় অবসর নেবেন কি না সে বিষয়ে লিখিতভাবে জানানোর জন্য পিসিবির কোনো নীতিমালা নেই। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক আজহার আলীর কাছ থেকে অধিনায়কত্ব কেড়ে নিয়ে শরফরাজ আহমেদকে দেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যাপক ফর্মে থাকা শরফরাজকে অধিনায়ক করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠে। শরফরাজের দল কোয়েটা গ্লাডিয়েটরস এবারের আসরে রানার্স আপ হয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরে ক্রিকেটের এই ছোট সংস্করণে আফ্রিদি অবসরের পর দলের নেতৃত্বে শরফরাজ আসছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ তথ্যকেও উড়িয়ে দিয়েছেন পাক ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক।

ভারত-শ্রীলংকা ম্যাচ মঙ্গলবার : দু দলেরই চিন্তায় ইনজুরি

এশিয়া কাপ টি-২০ টুর্নামেন্টের সপ্তম ম্যাচে মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা। তবে এ ম্যাচের আগে উভয় দলের দুশঃচিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি সমস্যা। ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি নিজ মাঠে শ্রীলংকার বিপে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী ভারত এ ম্যাচে স্পষ্টতই ফেবারিট।
শ্রীলংকা অধিনায়ক ও স্টাইক বোলার লাসিথ মালিঙ্গার হাঁটুর সমস্যা আবারো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠায় পুরো টুর্নামেন্টেই তার খেলা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হওয়ার পর লংকার অস্থায়ী অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ বলেছিলেন, মালিঙ্গার ফিটনেসের যে অবস্থা তাতে আগামী দুই ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে কিনা আমি জানি না। তার ইনজুুরিটা আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। শ্রীলংকা এ পর্যন্ত দুই ম্যাচ খেলে দুর্বল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপে কষ্টার্জিত জয় পেলেও স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপে বড় ব্যবধানে হেরেছে। তাই টুর্নামেন্টে ঠিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটির। পান্তরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দলের বিরুদ্ধেই জয় পেয়েছে ভারত। তবে ইনজুরি রয়েছেন ভারতীয় শিবিরেও। লংকানদের চ্যালেঞ্জের চেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে টিম ইন্ডিয়াকে। পিঠে আঘাত নিয়েই খেলছেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ইনজুরির কারণে অধিকাংশ অনুশীলন শেসনই মিস করছেন ধোনি। কেবল মাত্র ধোনি নন ইনজুরির কারণে পাকিস্তানের বিপে ম্যাচের আগে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন শিকার ধাওয়ানও। ধোনি-ধাওয়ানের পর ইনজুুরির তালিকায় আছেন ইনফর্ম ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। পাকিস্তানের বিপে ম্যাচে পেসার মোহাম্মদ আমিরের বলে পায়ের আঙ্গুলে আঘাত পেয়েছেন শর্মা। তবে ভারতীয় দলের জন্য সুসংবাদ এক্সরেতে রোহিতের বড় কোন সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে উভয় ওপেনারই ইনজুরিতে থাকলে গত আটটি টি-২০ ম্যাচ খেলা দলটিতে সেরা একাদশ গঠন নিয়ে ভাবতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
পরিস্যখ্যান মতে এবছর মোট আটটি টি-২০ ম্যাচের মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়েছে ভারত। পাকিস্তান ম্যাচের পর নতুন ওপেনিং জুটি নিয়েও মাঠে নামতে পারে ভারত। রোহিত এবং শিখর এ ম্যাচে না খেললে ওপেনিং জুটি হিসেবে খেলতে পারেন আজিঙ্কা রাহানে ও পার্থিব প্যাটেল।
পাকিস্তানের বিপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপমুক্ত ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট। ইনফর্ম বিরাট কোহলির ৪৯ রানের সুবাদে পাকিস্তানের বিপে জয়টা শেষ পর্যন্ত সহজ হয়েছে ভারতের। কিন্তু সুরেশ রায়নাকে এ ম্যাচে শর্ট বলের বিপে ধুকতে দেখা গেছে। তাই লংকানদের বিপে আত্মবিশ^াস ফিরে পেতে চাইবেন তিনি। তারকা খেলোয়াড় যুবরাজ সিংও খুব বেশি রান পাননি। তবে তিনি যে ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছেন তাতে বিশ^কাপের আগে বেশ খুশি অধিনায়ক। ভারতীয় বোলিং বিভাগে এই মুহূর্তে বড় কোন সমস্যা নেই। গত এক মাসের মধ্যে ৮টি টি-২০ ম্যাচ খেলা আশিষ নেহরাকে এ ম্যাচে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। আর সেটা হলে সুযোগ পেতে পারেন গত এক বছর ধারাবাহিকতার মধ্যে না থাকা ভুবনেশ^র কুমার। দুই তরুণ তুর্কি হার্ডিক পান্ডে ও জসপ্রিত বুমরাহ টি-২০ ফর্মেটে অসাধারন পারফরমেন্স করে আসছেন। বিশেষ করে পান্ডে এশিয়া কাপের দুই ম্যাচেই ব্যাটে-বলে নিজের জাত চিনিয়েছেন। পান্তরে দলের দুই আইকন খেলোয়াড় কুমরি সাঙ্গাকারা এবং মাহেলা জয়াবর্ধনের অবসরের পর মালিঙ্গার ইনজুরি লংকানদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। উপড়ন্ত বাংলাদেশের কাছে ২৩ রানে পরাজিত হওয়ার পর টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখাও এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন।

পাকিস্তানকে ১৩০ রানের চ্যালেঞ্জ দিল আমিরাত

শায়মান আনোয়ারের ৪৬ রানের ইনিংসে ভর করে পাকিস্তানকে ১৩০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে আরব ‍আমিরাত। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ষষ্ঠ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুর চাপ সামলে ২০ ওভারে ছয় উইকেটে ১২৯ রান তুলেছে তারা। সোমবারের (২৯ ফেব্রুয়ারি) ম্যাচটিতে পাকিস্তানি পেসারদের দাপটে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় আমিরাত। ১২ রানেই টপঅর্ডারের তিন ‌উইকেট তুলে নেন আমির, সামি, ইরফান। এর পর শায়মান আনোয়ার প্রতিরোধ গড়ে দলকে টেনে নিয়ে যান। শায়মান আনোয়ার পেসার ইরফানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে যখন বিদায় নেন দলীয় স্কোর তখন পাঁচ উইকেটে ৭২।
শেষদিকে অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ ও মোহাম্মদ উসমানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১২৯ রানের লড়াকু পুজি পায় আমিরাত। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এ দুই ব্যাটসম্যান যোগ করেন ৪৬ রান। শেষ অবধি আমজাদ অপরাজিত থাকেন ২৭ রানে। ওসমানের ব্যাট থেকে আসে ২১।
আগের ম্যাচের মতো এদিনও অসাধারণ বোলিং করেছেন মোহাম্মদ আমির। চার ওভারে ৬ রান ‍দিয়ে নেন দুটি উইকেট। দুটি উইকেট নেন আরেক পেসার মোহাম্মদ ইরফান। একটি করে উইকেট লাভ করেন মোহাম্মদ সামি ও শহীদ আফ্রিদি।
টস জিতে আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ ১২০ এর কাছাকাছি পুজি চেয়েছিলেন ম্যাচ জমিয়ে তুলতে। এবার আমিরাতের বোলাররা মিরপুরে আজ কী করতে পারেন সেটিই দেখার। আমিরাত জিতলে বাংলাদেশের জন্য ফাইনালে ওঠাটা সহজ হবে। তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।
বাছাইপর্বের তিনটি ম্যাচ দাপটের সঙ্গে জিতে এশিয়া কাপের মূলপর্বে জায়গা করে ‍নেয় আমিরাত। মূলপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে হার মানে তারা।

এশিয়া কাপের সেরা ব্যাটসম্যান সাব্বির, বোলার আল-আমিন

এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। মোট ম্যাচ হয়েছে পাঁচটি। কোয়ালিফাইং রাউন্ড ছাড়া মূল পর্বের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সেরা ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান এবং সেরা বোলার আল-আমিন হোসেন।

মূল পর্বের লড়াইয়ে বাংলাদেশের হার্ড-হিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির তিন ম্যাচে করেছেন ১৩০ রান। সাব্বিরের পরে ৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শ্রীলঙ্কান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমাল।

তবে কোয়ালিফাইং রাউন্ডসহ ধরলে সাব্বিরের উপরে রয়েছেন দুই সহযোগী দেশের দুইজন খেলোয়াড়। হংকংয়ের বাবর হায়াত করেছেন ১৯৪ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ উসমান করেছেন ১৪৬ রান।

বোলারদের মাঝেও শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশের পেসার আল-আমিন হোসেন। তিন ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তারপরেই রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

তবে বোলারদের মধ্যেও কোয়ালিফাইং রাউন্ডসহ ধরলে আল-আমিনের উপরে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের  দুইজন খেলোয়াড়। মোহাম্মদ নাভিদ উইকেট নিয়েছেন ১১টি উইকেট এবং ৯ উইকেট নিয়ে তার পড়েই রয়েছেন অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ।

উল্লেখ্য, ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে হার দিয়ে এশিয়া কাপের আসর শুরু করে বাংলাদেশ। তবে পরের দুই ম্যাচে আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা।

দেশে ফিরেই অনুশীলনে তামিম

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে পিএসএলের সব ম্যাচ খেলতে পারেননি তামিম ইকবাল। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টটির মাঝপথেই ব্যাংককে উড়াল দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তারকা ওপেনার। এ ছাড়া এশিয়া কাপের স্কোয়াডেও ছিলেন না তিনি।

রোববার পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন তামিম। এরপর দেশে ফেরেন তিনি। সোমবার ব্যাট-প্যাট নিয়ে ফের অনুশীলনে নেমে পড়লেন ২৬ বছর বয়সী এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

এদিকে রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অবিস্মরণীয় এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের সুসংবাদের পাশাপাশি স্বাগতিকদের জন্য রয়েছে বড় এক দুঃসংবাদও। আর সেই দুঃসংবাদটি হচ্ছে, ওই ম্যাচে চোট পাওয়ায় এশিয়া কাপই অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দলের অন্যতম সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের।

মুস্তাফিজের পরিবর্তে দলে ফেরার জোড়ালো সম্ভাবনা রয়েছে সদ্য পিতৃত্বের স্বাদ পাওয়া ব্যাংকক ফেরত তামিম ইকবালের। এ জন্যই হয়তো বিশ্রাম নয়, দেশে ফিরেই তামিম শুরু করে দিলেন অনুশীলন।

মুস্তাফিজের দুঃসংবাদে ফিরছেন তামিম

টানা ম্যাচের ধকল সহ্য হয় না হয়তো মুস্তাফিজের। খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে চার ম্যাচের টি২০ সিরিজে খেলেছিলেন প্রথম দুটিতে। তারপরেই কাধের ইনজুরিতে বাকি দুই ম্যাচে ছিলেন বিশ্রামে। এবার চলমান টি২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপেও একই অবস্থা। তিন ম্যাচ খেলেই ইনজুরির শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তার পরিবর্তে দলে ফিরতে পারেন হার্ড হিটার ওপেনার তামিম ইকবাল। ইতোমধ্যে বাংকক থেকে দেশে ফিরেই অনুশীলনে নেমে পড়েছেন তামিম।

এশিয়া কাপ শুরুটা ভালো হয়নি মুস্তাফিজের। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে ৪০ রান দিয়ে পাননি কোন উইকেট। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ১৩ রানে পান দুটি উইকেট। বোলিংয়ের ধার ছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৩ রানের জয়ের ম্যাচেও। আগামী দুই মার্চ ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ মোকাবেলা করবে পাকিস্তানের। এমন ম্যাচের আগে মুস্তাফিজের চোটের খবর বড় ধাক্কাই দলের জন্য। তবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা তামিম দলে ফিরছেন, একই খবর দলের জন্যও স্বস্তিকর।

Caption

রোববার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচে সাইড স্ট্রেইনে ব্যথা অনুভব করেন মুস্তাফিজ। সোমবার পরীক্ষার নিরীক্ষার জন্য তাকে নেয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। এমনটিই জানিয়েছেন, বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, সামনে টি২০ বিশ্বকাপ বলে মুস্তাফিজকে বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান সুপার লিগে পেশোয়ার জালমির হয়ে দুর্দান্ত খেলেছিলেন তামিম। তবে আসরের সব ম্যাচ খেলা হয়নি তার। মাঝখানেই চলে আসেন তিনি। ছুটে যান ব্যাংককে সন্তানসম্ভাবা স্ত্রীর কাছে। ইতোমধ্যে পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছেন তামিম। এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাকে উড়িয়ে আনা হয়েছে সোমবার। এসেই তিনি মিরপুরে অনুশীলনে নেমে পড়েন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন কোচ হাথুরুসিংহেও। এশিয়া কাপের স্কোয়াডে নেই তামিম। তলে দলে কেউ ইনজুরিতে পড়লে, তার রিপ্লেস করতে পারবে বিসিবি।

ভারতীয় সাংবাদিকের মুখে ঝামা ঘষে দিলেন সাব্বির

রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান ৮০ রানের যে অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন, তা দেখলে যে কারোরই চোখ জুড়িয়ে যাবে। দারুণ সব চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে মিরপুরের দর্শককে মাতিয়ে রাখেন তিনি। আর লঙ্কান বোলারদের করে ফেলেন একরকম কোণঠাসা।

তাই তো ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসলেন, ‘এমন একটা ইনিংস খেলার পর কি মনে হয়েছে, আপনার পক্ষেও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলা সম্ভব?’ ভারতীয় সাংবাদিকের বাউন্সারের জবাবে সাব্বির উড়িয়ে ছক্কা মেরেছেন।

সেই সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সাব্বির বলেন, ‘আইপিএল বা সিপিএল কোনোটিতেই খেলার কথা আমি কখনোই ভাবিনি। আর খেলা সম্ভব কি না, সেটাও জানি না। আমার একমাত্র ভাবনা নিজের ব্যাটিংয়ের উন্নতি করা। সেদিকেই সব সময় লক্ষ্য থাকে আমার। সেটাকেই ধ্যান-জ্ঞান হিসেবে জানি।নিজের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে পারলেই নিজেকে সার্থক মনে করব। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে তখনই মনে করব, আমি সফল হয়েছি। অন্য কোনো লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই বড় সাফল্য নয়।’

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের ১৭তম ম্যাচে সাব্বির ৫৪ বলে ৮০ রান করেন। অসাধারণ এই ইনিংসটিকে ১০টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজিয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর সেরা ইনিংস। এর আগে তাঁর সেরা ইনিংসটি ছিল গত এপ্রিলে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩২ বলে হার না মানা ৫১ রান।

দারুণ সব চার-ছক্কায় মিরপুরের দর্শককে মাতিয়ে রাখেন সাব্বির। দর্শকও প্রাণভরে উপভোগ করেন তাঁর এই অসাধারণ ইনিংসটি।

ম্যাথিউজের মুখে মুস্তাফিজ বন্দনা

সময় কত দ্রুতই না বদলে যায়! ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ওই সময় মুস্তাফিজ নাকে কোন ক্রিকেটারকে লংকানরা তো দুরে থাক, বাংলাদেশের মানুষও তো জানতেন না। তার নামই শুনেনি তখন কেউ। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে পরাজিত দলের নাম বাংলাদেশ।

এক বছরেরও কম সময় পর রোববার আবারও মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলংকা। এবার এশিয়া কাপের ম্যাচে। ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি। দুই বছর আগে ঢাকা থেকে এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপটা জিতে নিয়ে গিয়েছিল শ্রীলংকাই। রোববারের এই ম্যাচটি যখন মাঠে গড়ালো, তখন দু’দলে আকাশ-পাতাল পরিবর্তণ।

শ্রীলংকা দল থেকে হারিয়ে গেছে কয়েকটি বড় বড় নাম। একটা অন্তর্বর্তীকালীন সময় পার করছে তারা। আর বাংলাদেশ এই এক বছরে হয়ে উঠেছে দুর্ধর্ষ, দুর্দমনীয়। এর মধ্যে এই দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান নামে এক ক্রিকেট রত্নের নাম।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এই প্রথম শ্রীলংকার মুখোমুখি হলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশে উদিত ক্রিকেটের আকাশের এই নক্ষত্রের খবর পৌঁছেছে শ্রীলংকায়ও। তারা এতদিন শুনেছে শুধু তার সম্পর্কে। মুখোমুখি মোকাবেলার জন্য হয়তো ভিডিও ফুটেজনও বিশ্লেষণ করেছে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে; কিন্তু সরাসরি এই প্রথম তার মুখোমুখি হলো লংকান সিংহরা।

তারা হয়তো এটা জানতে পারেনি, মুস্তাফিজ সুন্দরবনের কোলঘেঁষে বেড়ে ওঠা একজন ব্যঘ্র। সুতরাং, মিরপুরের শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিংহবাহিনী তার গর্জন শুনবে এটাই স্বাভাবিক। মুস্তাফিজ হতাশ করেননি তার ভক্তদের। প্রথম স্পেলে মাত্র এক ওভার বল করেছিলেন। অধিনায়ক মাশরাফি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তুলে রেখেছিলেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে।

দ্বিতীয় স্পেলে যখন আক্রমণে নিয়ে আসলেন, তখন শ্রীলংকার হাতে বাকি আছে আর মাত্র ৭ ওভার। এর মধ্যে তিন ওভারই মোকাবেলা করতে হবে মুস্তাফিজকে। ধীরে ধীরে রান রেট বাড়তে থাকার সময় মুস্তাফিজকে মোকাবেলা করাটা যেন লংকানদের জন্য মরার ওপর খাড়ার গাঁ হয়েই দেখা দিল। শেষ পর্যন্তু মুস্তাফিজ চার ওভার বল করে শেষ করলেন ১৯ রান দিয়ে। ১টি উইকেট নিলেও তাকে মোকাবেলা করতে যে হিমসিম খেতে হয়েছে লংকানদের সে কথা অনায়াসেই স্বীকার করে নিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ।

রোববার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলংকার অধিনায়ক বাংলাদেশের পেস সেনসেশনের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা গোপন রাখতে পারেননি। তিনি নিজেও মুস্তাফিজের মোকাবেলা করেছিলেন। ৭ বল খেলে মাত্র ৫ রান নিতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশের কাটার মাস্টার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের সেরা বোলার। ওকে বোঝা মুশকিল। বিশেষ করে এই ধরনের উইকেটে বল যেখানে গ্রিপ করে, ওর বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়। তার স্কিল লেভেল ব্রিলিয়ান্ট। বাংলাদেশের জন্য সে অসাধারণ আবিষ্কার।’

বাঘের সিংহ বধ

ক্যাচ মিস হলেও এবার আর ম্যাচ মিস হয়নি। নিশ্চিত-অনিশ্চিত মিলিয়ে কম করে হলেও ৫টি ক্যাচ মিস করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। কিন্তু দলীয় পারফরমেন্সে তা উতরে যায় টিম বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের অনবদ্য ব্যাটিং আর বোলারদের চমৎকার নৈপুণ্যে বাঘের কাছে এবার বধ হয়েছে সিংহ। চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকাকে ২৩ রানে হারিয়ে দিয়েছে মাশরাফিবাহিনী। লংকানদের বিরুদ্ধে টি-টুয়েন্টি ম্যাচে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। আর সোমবার মিরপুরের এই জয়ে চলতি এশিয়া কাপের ফাইনালের পথে অনেকদূর এগিয়ে থাকলো স্বাগতিকরা।
ধূসর শুরুতে রঙ চড়াল সাব্বির রহমানের অসাধারণ ইনিংস। সাকিব আল হাসান আর মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে ইনিংসের শেষটা হলো উজ্জ্বল। দুর্দান্ত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের শেষ হলো রঙিন। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে শ্রীলঙ্কা করতে পারে ৮ উইকেটে ১২৪। ভারতের কাছে হার দিয়ে শুরু করলেও টানা দ্বিতীয় জয়ে মাশরাফিরা টিকিয়ে রাখল ফাইনালের সম্ভাবনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকাকে হারিয়ে ফাইনালের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টিতে পঞ্চম ম্যাচে এসে লংকাণদের বিরুদ্ধে জয় পেল বাংলাদেশ।
ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে টস জিতে এ ম্যাচে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের দলপতি মাশরাফি। শুরুতে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারালেও সাব্বির রুম্মনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ হারায় ৭টি উইকেট। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রানে থামে লংকানদের ইনিংস।
টস জিতে টাইগারদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ম্যাথুজ এলবির ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন মিঠুনকে। প্রথম দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে মিঠুন ফিরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ওভারে কুলাসেকারার বলে ম্যাথুজের হাতে মিডঅফে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। দুই ওপেনার ফেরেন শূন্য রানে।
শুরুতে দুই ওপেনারকে হারালেও দারুণ ব্যাট করতে থাকেন সাব্বির রহমান এবং মুশফিকুর রহিম। তবে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দুই ব্যাটসম্যানের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন ৪ রান করা মুশফিক। দলীয় ২৬ রানের মাথায় টপঅর্ডারের তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর ব্যাটে ঝড় তোলেন সাব্বির রহমান। ৫৪ বলে দশটি চার আর তিনটি ছক্কায় তিনি করেন ৮০ রান। ইনিংসের ১৬তম ওভারে চামিরার বলে জয়সুরিয়ার তালুবন্দি হন তিনি। এর আগে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন সাব্বির। ৩৮ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাব্বির। সাব্বির-সাকিব স্কোরবোর্ডে আরও ৮২ রান যোগ করেন (৬৭ বলে)। ইনিংসের ১৮তম ওভারে সাব্বিরের পর ৩৪ বলে ৩২ রান করে ফেরেন সাকিব। তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি বাউন্ডারি। চামিরার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ২৩ রান করে। আর মাশরাফি ২ রান করেন। ইনিংসের শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান ২ রান করে বিদায় নেন।
আরব আমিরাতের বিপে খেলা দলটিকেই রেখে দেয় বাংলাদেশ। উইনিং কম্বিনেশনে বদল আনেনি স্বাগতিকরা। চার পেসার নিয়েই মাঠে নামবে তারা। ইনজুরির কারণে শ্রীলঙ্কা দলে খেলছেন না টি-টোয়েন্টির বিধ্বংসী বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। তার পরিবর্তে দলে আসেন থিসারা পেরেরা। আর এ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন ২০১৩ সালে সবশেষ টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।
বাংলাদেশের হয়ে বোলিং শুরু করেন তাসকিন আহমেদ। ১৪৮ রানের টার্গেটে লঙ্কানদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন দিলশান ও চান্দিমাল। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বোলিং আক্রমণে এসেই ১২ রান করা দিলশানকে ফেরান সাকিব। সৌম্য সরকারের অসাধারণ এক ক্যাচে ফেরেন দিলশান। প্রথম ওভারেই জীবন ফিরে পান চান্দিমাল। সৌম্য সরকার তার ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে আল আমিনের বলে স্লিপে দাঁড়ানো মাহামুদুল্লাহ জীবন পাইয়ে দেন দিলশানকে। দলীয় ২০ রানের মাথায় দিলশানকে হারায় লঙ্কানরা। উইকেটে থেকে জয়সুরিয়া ও চান্দিমাল দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে, ইনিংসের ১১তম ওভারে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ ফিরিয়ে দেন ওয়েলসেট চান্দিমালকে। তাসকিনের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ৩৭ বলে ৩৭ রান করেন। পরের ওভারে সাকিব ফেরান আরেক সেট ব্যাটসম্যান জয়সুরিয়াকে। স্ট্যাম্পিং হওয়ার আগে তিনি করেন ২২ বলে ২৬ রান।
১৩তম ওভারে মুস্তাফিজের কাটারে এলবির ফাঁদে পড়েন থিসারা পেরেরা (৪)। ১৫তম ওভারে মাশরাফি ফেরান শ্রীবর্ধানেকে। সাব্বিরের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ম্যাথুজকে ফিরিয়ে দেন আল আমিন। সাকিবের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি করেন ১২ রান। শেষ ওভারের প্রথম বলে আল আমিন ফেরান ১৪ বলে ১৪ রান করা শানাকাকে। তৃতীয় বলে কুলাসেকারাকে ফিরিয়ে দেন আল আমিন।
আগামী ০২ মার্চ পাকিস্তানের বিপে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
সংপ্তি স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪৭/৭ (মিঠুন ০, সৌম্য ০, সাব্বির ৮০, মুশফিক ৪, সাকিব ৩২, মাহমুদউল্লাহ ২৩*, নুরুল ২, মাশরাফি ২; চামিরা ৩/৩০, ম্যাথিউস ১/৮, কুলাসেকারা ১/৪৪)
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১২৪/৮ (চান্দিমাল ৩৭, দিলশান ১২, জয়াসুরিয়া ২৬, ম্যাথিউস ১২, থিসারা ৪, সিরিবর্ধনা ৩, শানাকা ১৪, কাপুগেদারা ১২*, কুলাসেকারা ০, চামিরা ১*; আল আমিন ৩/৩৪, সাকিব ২/২১, মাহমুদউল্লাহ ১/১৪, মাশরাফি ১/১৭, মুস্তাফিজ ১/১৮)
ম্যাচ সেরা: সাব্বির রহমান (বাংলাদেশ)

আতঙ্কিত হয়েই হেরেছে পাকিস্তান: আকিব জাভেদ

আতঙ্কিত হওয়ার কারণেই ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে পাকিস্তান। ঠিক এমনটাই মনে করেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও বর্তমান আরব আমিরাতের কোচ আকিব জাভেদ। রবিবার মিরপুরের একাডেমিতে অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পাকিস্তানের সাবেক এই গ্রেট ক্রিকেটার।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের হারের মূল কারণ আতঙ্কিত হওয়া। হারের ভয় ঢুকে পড়া। ক্রিকেট খেলাটা যতটা না স্কিলের, তার চেয়ে বেশি মাথা আর মনোবলের। আমাদের ক্রিকেটাররা এখানেই হেরে গেছে।’
শনিবারের ম্যাচে শুধু নয়, ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হার যেন এখন নিয়মিত ঘটনা প্রবাহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যানই তার প্রমান। টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের ৭ ম্যাচের লড়াইয়ে। পাকিস্তান জিতেছে মাত্র একটিতে।
আকিব জাভেদ যখন খেলতেন তখনকার দৃশ্যপট এমন ছিলো না। তখন ভারতের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকতো পাকিস্তান! তাইতো রবিবার তার কণ্ঠে আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমরা তেমন কিছু ভাবতামই না। জানতাম আমরা মাঠে নামব আর ওদের স্রেফ উড়িয়ে দেব। এখন ম্যাচের আগে দলের ভেতর ক্রিকেট ছাড়াও আরও অনেক কিছু ঢুকে পড়ে। সবাই বাড়িতে ফোন করে, বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধবের কাছে দোয়া চায়। এই করতে হবে, সেই করতে হবে, এসব ভাবে।’
এখনকার ক্রিকেটাররা অনেক চাপে থাকে বলে মনে করেন তিনি। পারফরম্যান্সে এর একটি প্রভাব আছে বলে মনে করেন আকিব। তিনি বলেন, ‘এখনকার ক্রিকেটাররা আগেই অনেক চাপ নিয়ে নেয়। আমাদের সময় আমরা এসব ভাবতামই না। আমাদের সেই মানসিকতা এখন ভারতীয় দলে দেখি। এরা চাপ নিতে পারে, ভেঙ্গে পড়ে না।’

মিরপুরে সাব্বির শো

২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর দিনে বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলেছেন সাব্বির রহমান রুম্মন। রবিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাব্বিরের ব্যাটে ৫৪ বলে ৮০ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস দেখেছেন মিরপুরে দর্শকরা।
সাব্বির রহমান
শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের উপর চড়াও হন সাব্বির। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কুলাসাকারাকে দিয়ে তার বিধ্বংসী রূপ দেখান। ওই ওভারে ৩ চার ও এক ছয়ে ১৮ রান করেন সাব্বির। ওখান থেকে শুরু করে থামেন ৮০ রানে। দুশমান্থা চামিরার বল ডিপ মিড উইকেটে ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে তালুবন্দী হন শিহান জয়সুরিয়ার হাতে। তার আগে ৩ ছয় ও ১০ চারে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান করেন তিনি।
২০১২ সালে তামিম ইকবাল মিরপুরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ওই ম্যচে তার ব্যাট থেকে এসেছিলো ৮৮ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাকিব আল হাসানের পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৪ রান, ২০১২ সালে। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যাওয়া নিজামউদ্দিনের তৃতীয় সর্বোচ্চ (৮১)। ২০০৭ সালে নাইরোবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। রবিবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৮০ রানের ইনিংস খেলে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যান রাজশাহী থেকে উঠে আসা সাব্বির।
টি-টোয়েন্টি সাব্বিরের একটি সেঞ্চুরিও আছে। তবে অফিসিয়াল ম্যাচ না হওয়ার কারণে এটা আইসিসির রেকর্ডে নেই। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ শুরুর আগে ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে ৯৯ বলে সাত চার ও আট ছয়ে ১২৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে বিসিবি একাদশকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। তার এর পর থেকেই তাকে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ নামে অ্যাখায়িত করা হয়।
অবশ্য গত অস্ট্রেলিয়া-নিউজ্যিলান্ড বিশ্বকাপে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে নাম কুড়িয়েছিলেন সাব্বির। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দলে নিয়মিত খেলে চলেছেন। টি-টোয়েন্টি তার প্রিয় খেলা বলেই ৬-৭ নাম্বার থেকে প্রমোশন দিয়ে তাকে তিন নাম্বারে আনা হয়েছে। সুযোগ পেয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছেন তিনি। আরব আমিরতারে বিপক্ষে রান না পেলেও ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সাব্বির(৪৪)।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৭ ম্যাচে ৪১১ রান সংগ্রহ করেছেন তরুণ এই তুর্কি। শতক না থাকলেও তার রয়েছে ৩টি অর্ধশতক। এছাড়া ২৩ ওয়ানডে খেলে ৪৮২ রান এসেছে সাব্বিরের ব্যাট থেকে। অর্ধশতক দুটি।

সাব্বির ঝড়ে টাইগারদের সংগ্রহ ১৪৭

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের পঞ্চম ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। শুরুতে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারালেও সাব্বির রুম্মনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ হারায় ৭টি উইকেট।
ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে টস জিতে এ ম্যাচে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের দলপতি মাশরাফি। দুই দলের মহাগুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচটি শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
টস জিতে টাইগারদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ম্যাথুজ এলবির ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন মিঠুনকে। প্রথম দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে মিঠুন ফিরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ওভারে কুলাসেকারার বলে ম্যাথুজের হাতে মিডঅফে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। দুই ওপেনার ফেরেন শূন্য রানে।
Sabbir000
শুরুতে দুই ওপেনারকে হারালেও দারুণ ব্যাট করতে থাকেন সাব্বির রহমান এবং মুশফিকুর রহিম। তবে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দুই ব্যাটসম্যানের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন ৪ রান করা মুশফিক। দলীয় ২৬ রানের মাথায় টপঅর্ডারের তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর ব্যাটে ঝড় তোলেন সাব্বির রহমান। ৫৪ বলে দশটি চার আর তিনটি ছক্কায় তিনি করেন ৮০ রান। ইনিংসের ১৬তম ওভারে চামিরার বলে জয়সুরিয়ার তালুবন্দি হন তিনি। এর আগে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন সাব্বির। ৩৮ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাব্বির। সাব্বির-সাকিব স্কোরবোর্ডে আরও ৮২ রান যোগ করেন (৬৭ বলে)।
ইনিংসের ১৮তম ওভারে সাব্বিরের পর ৩৪ বলে ৩২ রান করে ফেরেন সাকিব। তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি বাউন্ডারি। চামিরার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ২৩ রান করে। আর মাশরাফি ২ রান করেন। ইনিংসের শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান ২ রান করে বিদায় নেন।
আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলা দলটিকেই রেখে দিয়েছে বাংলাদেশ। উইনিং কম্বিনেশনে বদল আনেনি বাংলাদেশ। চার পেসার নিয়েই মাঠে নামবে তারা। ইনজুরির কারণে শ্রীলঙ্কা দলে খেলছেন না টি-টোয়েন্টির বিধ্বংসী বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। তার পরিবর্তে দলে আসেন থিসারা পেরেরা। আর এ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করছেন ২০১৩ সালে সবশেষ টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। শ্রীলঙ্কা দলে মালিঙ্গার অনুপস্থিতিতেও স্বস্তিতে থাকার কথা নয় বাংলাদেশের। মালিঙ্গার পরিবর্তে আসা থিসারা পেরেরাও কম ভয়ঙ্কর নন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে ভুগিয়েছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কঠিনতম প্রতিপক্ষের একটি শ্রীলঙ্কা। যাদের বিপক্ষে চার ম্যাচের সবকটিতেই হার বাংলাদেশের। মানে, টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখনো জয়ের স্বাদ পায়নি টাইগাররা। টাইগারভক্তদের মাঝে অতীতের হতাশা আজ ভুলিয়ে দিতে পারেন মাশরাফি-সাকিবরা, একটি জয় তুলে নিয়ে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে লঙ্কানরা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফর্মে কোনো দলই এগিয়ে নেই। কেউ কারো চেয়ে কম যায়নি। সবশেষ খেলা পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে তিনটি ম্যাচে। অপরদিকে, শ্রীলঙ্কাও তাদের সবশেষ পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জিতলেও হেরেছে তিনটিতে। সবশেষ তারা ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজ হারে ২-১ ব্যবধানে। আর বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা সবশেষ চার ম্যাচ সিরিজে ২-২ এ সমতা রাখে।
এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৪৫ রানে হারে লাল-সবুজরা। তবে, ঘুরে দাঁড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৫১ রানের বড় জয় তুলে নেয় সাকিব-সৌম্য-মুশফিক-মুস্তাফিজরা। এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ জয় ভিন্ন কিছুই ভাবছে না। ভক্তদের প্রত্যাশা ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠে নিশ্চয়ই মেটাতে চাইবে মাশরাফির দল।
অপরদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৪ রানে হারায় লঙ্কানরা। তবে, ব্যাটিং ইনিংসে ১২৯ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল লাসিথ মালিঙ্গার দলটি।
বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ, নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), আল-আমিন হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।
শ্রীলঙ্কা একাদশ: দিনেশ চান্দিমাল, তিলকারত্নে দিলশান, মিলিন্ডা শ্রীবর্ধানে, দাসুন শানাকা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, চামারা কাপুগেদারা, সিহান জয়সুরিয়া, নুয়ান কুলাসেকারা, রঙ্গনা হেরাথ, দুসমন্ত চামিরা ও থিসারা পেরেরা।

পাকিস্তান-আমিরাত মুখোমুখি মঙ্গলবার

এশিয়া কাপের শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্ধী ভারতের কাছে হেরেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে দলটি। তবে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচেই সহজ প্রতিপক্ষ পাচ্ছে আফ্রিদির দল। মঙ্গলবার দলটির প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আবর আমিরাত। এশিয়া কাপে প্রথমবারে মতো অংশ নিচ্ছে আরব আমিরাত। তবে প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে হার দিয়ে শুরু করা আমিরাত দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশের কাছে। ফলে টানা দুই ম্যাচ হারা দলটির সামনে ফাইনালে যাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। নিয়ম রক্ষার জন্যই বাকি দু-ম্যাচ খেলতে হবে আবর আমিরাতকে। অবশ্য পাকিস্তানের জন্য এই ম্যাচে বড় জয় নিয়ে এগিয়ে থাকার সুযোগ। আর সেই টার্গেট নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিদির দল। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। বাংলাদেশ টেলিভিশন, জিটিভি আর মাছরাঙ্গা টেলিভিশন ম্যাচটি সরাসরি সস্প্রচার করবে।
এশিয়া কাপে নিজেরে ফেভারিট হিসেবেই মনে করে পাকিস্তান। আর ফেভারিটদের মতোই এশিয়া কাপ শুরু করতে চেয়েছিল দলটি। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই দলটির প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ফলে শুরুটা জয় দিয়ে করতে চেলেও তা পারেনি পাকিস্তান। এশিয়া কাপের শুরু করতে হয়েছে আফ্রিদিদের হার দিয়েই। তবে প্রথম ম্যাচে হারলেও মঙ্গলবার দলটির সামনে নিশ্চিত জয় অপেক্ষা করছে। কারণ এ ম্যাচে ফেভারিট পাকিস্তানই। আবার প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারা পাকিস্তানের সামনে জয়ের বিকল্প কোন পথ নেই। কারণ মঙ্গলবার হারলেই পাকিস্তানকে বিদায় নিতে হবে। দলটির সামনে ফাইনালে যাওয়ার আর কোন সুযোগই থাকবে না। ফলে এই ম্যাচে বড় জয়ই পাকিস্তানের টার্গেট।
এশিয়া কাপে পাকিস্তান শক্তিশালী দল হলেও প্রথম ম্যাচে ভালো করতে পারেনি দলটি। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে দলটি ব্যাটিং ছিল খুবই খারাপ অবস্থা। প্রথম ম্যাচেই দলটি অলআউট হয়েছে মাত্র ৮৩ রানে। দলের কোন ব্যাটসম্যানই নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি। ভারতের বিপক্ষে পুরো ২০ ওভার খেলতে পারেনি দলটি। তবে ব্যাটসম্যানদের চেয়ে কিছুটা ভালো করেছে বোলাররা। বিশেষ করে মোহাম্মদ আমির আর মোহাম্মদ সামি। ভারতের সামনে ছোট টার্গেট দিয়েও তারা ভারতকে বোলিং আক্রমনে আটকে রাখতে চেয়েছে। তবে মঙ্গলবার আমিরাতের বিপক্ষে নিজেদের তুলে ধরার বিকল্প নেই পাকিস্তানের সামনে। এই ম্যাচে বড় জয় দিয়েই নিজেদের ফর্ম ফিরে পেতে হবে পাকিস্তানকে। অবশ্য আমিরাতের সামনে যেহেতু ফাইনালে যাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই তাই দলটির হারানো কিছু নেই। এখন দলটির সামনে একটাই টার্গেট বাকি দুই ম্যাচে নিজেদের তুলে ধরার। আর সেই টার্গেট নিয়ে মাঠে নামবে আরব আমিরাত।

কোহলিকে জরিমানা

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে দলের টপঅর্ডার যখন বালুর বাধের মতো ভেঙ্গে পড়ছিল ঠিক তখনই দলের হাল ধরেন বিরাট কোহলি। তার দায়িত্বশীল ইনিংসেই জয়ের কাছে পৌঁছে যায় ভারত। তবে দল জিতলেও মাত্র এক রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি না হওয়ার আক্ষেপে পুড়ছেন কোহলি।
ব্যক্তিগত ৪৯ রানে আউটের পর তার অসন্তোষ এতটাই দৃশ্যমান ছিল যা দেখতে অশোভনীয় ছিল। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি এবং শ্রদ্ধাশীল না হওয়ায় ভারতীয় এই সুপার হিরোকে জরিমানা করেছে আইসিসি।
আইসিসির কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গের দায়ে কোহলিকে ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা করা হয়। তা নিশ্চিত করে আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের ১৫তম ওভারে। কোহলি এলবিডব্লিউ আউট দেয়া হয়। এরপর কোহলি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানায় ও নিজের ব্যাট প্রদর্শন করে। এরপর তিনি ক্রিজ ছাড়ার সময় আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে কিছু কথা বলতে থাকেন। যেটা এই খেলাটার নিয়ম নীতি বিরুদ্ধ।’
শনিবার এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসের ১৫তম ওভারে মোহাম্মদ সামির বলে ৪৯ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন কোহলি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছেন না মালিঙ্গা

এশিয়া কাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ম্যাচটি শুরু হবে। এরই মধ্যে টস সম্পন্ন হয়েছে। টসে জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে আতিথীয়তা দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা শতভাগ ফিট না হওয়ায় মালিঙ্গাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।
দুই দল এখন পর্যন্ত ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। ৪টিতেই জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

মিরপুরের উইকেট থেকে ঘাস উধাও!

ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ঘাসে ঢাকা ছিলো মিরপুরের উইকেট। পরের কয়েকটি ম্যাচেও বোলারদের দাপট ছিল মিরপুরের উইকেটে। তবে রবিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পেস বোলিং সহায়ক উইকেট থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ। রবিবার যে উইকেটে খেলা হবে সেখানে ঘাস প্রায় নেই বললেই চলে!
দুই দলের লড়াই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের তিন নম্বর উইকেটে। উদ্বোধনী ম্যাচটি হয়েছিলো পাঁচ নম্বর উইকেটে। হয়তো শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গার গতিময় বোলিং এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত! তবে এই উইকেটে আগের ম্যাচগুলোর মতো পেসাররা ব্যাটসম্যানদের গতি দিয়ে পরাস্ত না করতে পারলেও স্পিন বোলিং কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উইকেট থেকে বোলাররা যেমন সুবিধা পাবেন, একই রকম সুবিধা আদায় করতে পারবেন ব্যাটসম্যানরাও। এই কারণে রবিবার বাংলাদেশের একাদশ থেকে একজন পেসার কমে স্পিনার ঢোকার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

হেরে আমিরাতকে সমীহ পাকিস্তানের

ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটের হারে এশিয়া কাপের মিশন শুরু করেছে পাকিস্তান। সোমবার পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারতের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারে আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছে ২০০৯ এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের্। আইসিসির সহযোগী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বেশ সমীহ করছে আফ্রিদি-মালিকরা। সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন পর্যন্ত কোনো জয় না পেলেও দারুণ পারফরম্যান্স করছে।
কোয়ালিফাইং ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে মূল পর্বে উঠেছে। মূলমঞ্চে প্রথম দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে ভালোই চ্যালেঞ্জ করেছিল ইউএই। বোলিংয়ে তাদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৪০ এর ঘরে কেউ যেতে পারেনি।
তবে ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের ভোগাচ্ছে। এ কারণে ম্যাচ হাত থেকে ফসকে গিয়েছে। অন্যথায় শ্রীলঙ্কা কিংবা বাংলাদেশ অঘটনের শিকার হতে পারত। প্রতিবেশী দেশের চ্যালেঞ্জিং পারফরম্যান্স ভাবাচ্ছে পাক শিবিরকে। শোয়েব মালিকের কথায় তাই মনে হল।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলার একাডেমী মাঠে অনুশীলন শেষে পাকিস্তানের ডানহাতি অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক বলেন,‘এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি দল ভালো। ভারতের বিপক্ষে খেলা মানেই প্রচণ্ড চাপ নিয়ে খেলা। আমরা ম্যাচে কয়েকটি ভুল করেছি। যার কারণে পরবর্তীতে ফিরে আসতে পারিনি। এ মুহুর্তে আমাদের চিন্তা ইউএইকে নিয়ে। আমাদের এখন তাদের নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। আমি মনে করি আগামীকাল ইউএইর বিপক্ষে দারুণ একটি ম্যাচ হবে।’
শোয়েব মালিকের দাবি কন্ডিশনের বিপক্ষে মানিয়ে নিতে না পারায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হেরেছে পাকিস্তান। মিরপুর শের-ই-বাংলার স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও করেছেন সমালোচনা, ‘গতকাল ব্যাটিং করা খুব কঠিন ছিল। ওটা ওই ধরণের উইকেট ছিলো না যেখানে ১৭০-১৮০ রান হবে। এ ধরণের উইকেটে ১৪০-১৫০ রান অনেক। আমরা ভুল করেছি। সে ভুলগুলো থেকে বের হয়ে আসতে আজ অনুশীলন করলাম।’
ব্যাটসম্যানদের বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক। এক প্রশ্নের জবাবে মালিক বলেন, ‘আমাদের বোলিং বিভাগ ভালো করেছে। ব্যাটসম্যানরা সেভাবে পারেনি। আমাদের বড় স্কোরের একটি দায়িত্ব থাকে। ইউএইর বিপক্ষে আমাদের স্বরূপে ফিরে আসার লক্ষ্য থাকবে।’

লড়াইটা মালিঙ্গা-মুস্তাফিজের

উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে চেনা ছন্দে খুঁজে পাওয়া যায়নি বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমানকে। তবে পরের ম্যাচেই আমিরাতের বিপক্ষে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দুর্দান্ত বোলিং করে দলের জয়ে রেখেছেন দারুণ অবদান। অপরদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে একাই আমিরাতকে কাবু করে দিয়েছেন শ্রীলংকার অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা। তাই বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা- দুই দেশের লড়াইয়ের মধ্যে মালিঙ্গা-মুস্তাফিজের ব্যাক্তিগত লড়াইটাও আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে দর্শকদের কাছে।

অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভরসা মুস্তাফিজ। স্বপ্নের মত কাটানো ২০১৫ সালের প্রায় সবগুলো জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তিনি। তাই এবারো বাংলাদেশ চেয়ে থাকবে তার দিকে। যদিও দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, ‘প্রতিদিন মুস্তাফিজের কাছে সবকিছু চাওয়া ঠিক নয়। এটা কখনোই সম্ভব নয়। দলের সবাইকে অবদান রাখতে হবে।’

মুস্তাফিজকে শক্ত প্রতিপক্ষ মানছেন লঙ্কান অধিনায়ক মালিঙ্গাও। সাম্প্রতিক সময়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে তার সম্পর্কে তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই নয় শুধু, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও মুস্তাফিজ দারুণ এক সম্পদ। সে সত্যিই খুব ভালো খেলছে।’ তবে মুস্তাফিজকে মোকাবেলা করার রশদ তাদের দলে রয়েছে বলেও জানান।

শক্ত প্রতিপক্ষ মালিঙ্গাও। প্রথম ম্যাচে একাই চারটি উইকেট তুলে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন আমিরাতের ইনিংস। ম্যাচে শেষে বলেছিলেন, এটা তার সেরা পারফরম্যান্স নয়। ৬০ সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ। ইনজুরি থেকে ফিরে এখনো শতভাগ দিতে পারছেন না। তবে পরের ম্যাচে দেবার চেষ্টা করবেন। সত্যিই যদি আজ শতভাগ দিতে পারেন তাহলে দুর্ভাগ্যই রয়েছে টাইগারদের কপালে।

মালিঙ্গার সঙ্গে দারুণ ফর্মে রয়েছেন আরেক পেসার নুয়ান কুলাসেকেরাও। আমিরাতের বিপক্ষে চার ওভার বল করে উইকেট নিয়েছেন ৩টি তবে বড় কথা হচ্ছে রান দেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ কৃপণ ছিলেন তিনি। মাত্র ১০ রান দিয়েছিলেন সেদিন। অপরদিকে মুস্তাফিজের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্য পেসাররাও ভালো করছেন। শুরু থেকেই ছন্দে রয়েছেন মাশরাফি, আল-আমিন ও তাসকিন। তাই লড়াইটা দুই দলের পেসারদেরও।

হারতে পছন্দ করেন না কোহলি

তার প্রতিভা নিয়ে কারও কোন সন্দেহ নেই। গত তিন-চার বছর ধরে আরও পরিণত হয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শের-ই-বাংলায় ভয়ঙ্কর পাক পেসকে সামলে দলকে জয়ের রাস্তায় এনে সেই পরিণতিবোধকেই আরও কয়েক ধাপ ওপরে উঠিয়েছেন বিরাট কোহলি।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর পাক কোচ ওয়াকর ইউনিস বলেন, কোহলি এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তিনি এমনই একজন যে হারতে একেবারেই অপছন্দ করে। বিপক্ষকে সব সময়েই চাপে রাখে। এর আগে বিরাট নিজেও বহু বার বলেছেন যে, হারতে তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। আর এটাই তার সফল্যের বীজমন্ত্র।

ভারত সফররত এক অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক এক বার বিরাটকে প্রশ্ন করেছিলেন, কী করে বড় ম্যাচগুলোর জন্য নিজেকে তৈরি করেন করেন? প্রতিটা বড় টুর্নামেন্টে এত ভাল পারফর্ম করার রহস্য কী? উত্তরে কোহলি বলেন, টাফ শহরে ছোট থেকে বেড়ে ওঠা আমায় খুব সাহায্য করেছে।

আবারো বিতর্কের জন্ম দিলেন রমিজ

বিতর্কিত মন্তব্য করে সব সময় সংবাদের শিরোনাম হতে পছন্দ করেন। তার বেশিরভাগ বিতর্কিত মন্তব্য যদিও বাংলাদেশ সম্পর্কিত। স্পষ্ট করে বলতে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটার সম্পর্কিত। বিতর্কিত এই ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা শুক্রবার এশিয়া কাপ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে এসেছেন।

আবারো পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে উর্দুতে কথা বলে বিতর্কের জন্ম দিলেন পাকিস্তানি এই ধারাভাষ্যকার। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইংরেজি জানা সত্ত্বেও শহীদ আফ্রিদির সাথে উর্দুতে কথা বলেন তিনি। যদিও টসের সময় এই রমিজ রাজাই আফ্রিদির সাথে ইংরেজিতে কথা বলেছিলেন।

স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক ম্যাচে যারা ইংরেজি জানেন তারা ইংরেজিতেই কথা বলেন। আর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইংরেজি জানা সত্ত্বেও শহীদ আফ্রিদির সাথে তিনি কেন উর্দুতে কথা বললেন তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

এর আগে পিএসএলে পেশোয়ারের হয়ে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হার না মানা ৫৫ রানের ইনিংস খেলে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন তামিম। তামিম পুরস্কার নিতে আসলে বিতর্কিত রমিজ বলেন, ‘আমি তো বাংলায় কথাই বলতে পারি না, ইংরেজি কি চলবে? নাকি…? এই নাকি দিয়ে হয়তো উর্দুতে আলাপ চলবে কি-না সেটি জানতে চেয়েছেন রমিজ। রমিজের এমন কাণ্ডে ‘বিব্রতকর’ পরিস্থিতিতে পড়েন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার তামিম। পরে অবশ্য ইংরেজিতে অবলীলায় প্রশ্নের উত্তর দেন এই টাইগার ওপেনার।

 

ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারলেও পরের ম্যাচে আমিরাতকে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচে আমিরাতকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী শ্রীলঙ্কাও। শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ থাকলেও, ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় দু`দলই। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

এশিয়া কাপের ময়দানটা এ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের। সঙ্গে মর্যাদারও। যে দৌড়ে কারো কারো আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। এশিয়া কাপে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ড ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা। এশিয়া কাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড খুবই খারাপ। এর আগে ১২বার দল দুটি মুখোমুখি হলেও ১১ বারই জিতেছে শ্রীলংকা আর একবার বাংলাদেশ। এবার এশিয়া কাপ হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশের পরিণতি আরো করুণ। চারটি ম্যাচের চারটিতেই সহজ জয় পেয়েছে লঙ্কানরা।

তবে পরিসংখ্যান যাই বলুক সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধানের অবসরের পর শ্রীলংকার ব্যাটিংয়ের সেই তেজ আর নেই। তাই লঙ্কানদের বিপক্ষে জয়ের টার্গেট নিয়েই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। কারণ হারলেই এক রকম নিশ্চিত হয়ে যাবে বিদায়। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির বলেন, ‘যে ভালো খেলবে সেই জিতবে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পার্থক্য ১৯-২০। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগে যে ভালো সামর্থ্য দিয়ে খেলবে তারাই ম্যাচ জিতবে। টি-টোয়েন্টিতে ছোট-বড় দল বলতে কিছু নেই। আমরা শুধু শ্রীলংকা না যে কোনো দলের বিপক্ষে সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করব। যদি আমরা সেরাটা দিতে পারি তাহলে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’

অপরদিকে বাংলাদেশকে শক্ত প্রতিপক্ষ মানছে শ্রীলঙ্কাও। বিশেষ করে পেস বোলিং লাইনআপ গত মৌসুম থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আসছে। নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুরকে বিশেষ দৃষ্টিতেই দেখছে তারা। তবে নিজেদের ব্যাটিংয়ের উপর আস্থা রাখছেন মালিঙ্গা। এ নিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও মুস্তাফিজ দারুণ এক সম্পদ। সে সত্যিই খুব ভালো খেলছে। বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ বেশ ভালো। আমরা সবাই তা জানি। বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ঠেকানোর জন্য কী করতে হবে, তা আমাদের জানা আছে। বোলার কে, তা নিয়ে আমরা ভাবছি না; বরং একটা একটা বল খেলার চিন্তা করছি।’

ভারতের বিরুদ্ধে বিধ্বস্ত পাকিস্তান

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে একতরফাভাবে ম্যাচ জিতে নিলো ভারত। ব্যাটিংয়ে তো পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি। আর বোলিংয়ের সময় মোহাম্মদ আমিরের সুবাদে ম্যাচে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারলেও শেষটা ভালো হয়নি। ম্যাচ হেরেছে ৫ উইকেটে। গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ভারতের দুর্দান্ত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ৮৩ রানেই গুটিয়ে গেছে পাকিস্তানের ইনিংস। প্রথমে ব্যাট করে এটাই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর। জবাব দিতে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে পড়েছিল ভারতও। মাত্র ৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এরপর অবশ্য বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিংয়ের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে বিপদ কেটে যায়। তারা ৬৮ রান তুলেন। জয় থেকে সামান্য দূরে দলকে রেখে ব্যক্তিগত ৪৯ রানে আউট হয়ে যান কোহলি। মোহাম্মদ সামি তিন বলের ব্যবধানে কোহলি ও পান্ডিয়াকে আউট করে পাকিস্তানের হারের ব্যবধান কিছুটা কমালেও ভারতের জয় পেতে তেমন সমস্যা হয়নি। যুবরাজ সিং ৩২ বল খেলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। আর বাউন্ডারি মেরে দলের জয় নিশ্চিত করা ধোনি অজেয় থাকেন ৭ রানে। ১৫.৩ ওভারে ৮৫ রান তুলে নেয় ভারত।
মাত্র ৮৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং আজিঙ্কা রাহানে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই এলবির ফাঁদে ফেলে রোহিতকে ফেরান মোহাম্মদ আমির। কোনো রান স্কোরবোর্ডে না উঠতেই উইকেট হারায় ভারত। একই ওভারে এলবির ফাঁদে ফেলে রাহানেকেও বিদায় করেন আমির। আজিঙ্কা রাহানে আর রোহিত শর্মার পর ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আমিরের আঘাতে ফেরেন সুরেশ রায়না। ওয়াহাব রিয়াজের তালুবন্দি হয়ে বিদায় নেওয়ার আগে এ বামহাতি ব্যাটসম্যান করেন এক রান। টানা বল করে নিজের কোটার ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৮ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ আমির।
এর আগে টস হারার পর পাকিস্তান অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি বলেছিলেন, টস জিতলে ব্যাটিংই করতেন তারা। মনে হয়েছিল তার কথাই ঠিক। ম্যাচের দ্বিতীয় বলে আশিস নেহরাকে দারুণ এক স্কয়ার ড্রাইভে চার মেরে শুরু করেছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। কিন্তু পরের বল থেকেই সব বদলে যায়। এক বল পরই শোধ তুলে নেন নেহরা। বাড়তি লাফানো ডেলিভারিতে কটবিহাইন্ড হাফিজ (৪)। এরপর দুই ওভারের ‘বিরতি’, পাল্টা আক্রমণের ইঙ্গিতও দিতে শুরু করেছিলেন শারজিল খান ও খুররম মনজুর। চতুর্থ ওভার থেকেই শুরু পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল।
জাসপ্রিত বুমরাহর বলে স্লিপে ধরা পড়েন শারজিল (৭)। শোয়েব মালিকের সঙ্গে হাস্যকর ভুল বোঝাবুঝি আর বিরাট কোহলির সরাসরি থ্রোতে রান আউট মনজুর (১০)। হার্দিক পান্ডিয়ার অনেক বাইরের বল তাড়া করে আউট অভিজ্ঞ মালিক (৪)। পেস-উৎসবের মাঝেই হুট করে যুবরাজ সিংয়ের হাতে বল তুলে দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রথম বলেই স্কিড করে একটু ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ উমর আকমল (৪)।
পাকিস্তানের রান তখন ৫ উইকেটে ৩৫। রবীন্দ্র জাদেজার গুলির বেগে থ্রোতে আফ্রিদি রান আউট হলে স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ৪২! বিপর্যয়ে যা একটু লড়ছিলেন সরফরাজ আহমেদ। ২৫ রান করে এই উইকেটকিপারও আউট জাদেজার বলে বাজে এক শটে।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে পান্ডিয়া মুড়িয়ে দেন লেজ। ৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার নবীন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারই। ১১ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন জাদেজা। নেহরা, বুমরাহ ও যুবরাজ একটি করে।

৮৩ রানেই অলআউট পাকিস্তান

পাকিস্তানের দেওয়া ৮৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই তিনটি উইকেট হারিয়েছে ভারত। তিনটি উইকেটই নিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে রোহিত শর্মাকে এলবিডব্লিউ শিকারে পরিণত করেন মোহাম্মদ আমির। একই ওভারের চতুর্থ বলে রাহানেকে আউট করেন আমির। নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে রায়নাকে আউট করেন আমির। ২.৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ মাত্র ৮ রান।
এর আগে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ধোনি। বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী সবার মতে, এটি হবে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ বনাম পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের যুদ্ধ। কিন্তু এদিন ম্যাচ শুরুতে ‌‌‌দেখা গেল উল্টো দৃশ্য। ভারতের বোলিংয়ে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পণ। ভারতীয় বোলারদের তোপে শেষমেষ ১৭.৩ ওভারে মাত্র ৮৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।ম্যাচ জিততে ধোনি-কোহলিদের প্রয়োজন ৮৪ রান। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে নেহরার বলে ধোনির হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ (৪)।
222
এরপর ৩.৩ ওভারে দলীয় ২২ রানে বুমরাহ’র বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন শারজিল খান। আউট হওয়ার আগে ৫ বলে ৭ রান করেন তিনি। দলীয় ৩২ রানে ফেরেন খুররাম মনজুর। ব্যক্তিগত ১০ রানে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর আরও দ্রুত দুই উইকেট পড়ে যায় পাকিস্তানের। দলীয় সপ্তম ওভারের শেষ বলে ৩৫ রানে শোয়েব মালিককে (৪) ফেরান হার্দিক পান্ডে। পরের ওভারের প্রথম বলে উমর আকমলকে (৩) সাজঘরের পথ দেখান যুবরাজ সিং। দলীয় ৪২ রানে রানআউটের শিকার হন শহীদ আফ্রিদি (২)। ফলে ৪২ রানের মাথায় ৬ উইকেটের পতন ঘটে পাকিস্তানের। দলীয় ৫৩ রানে জাদেজার বলে এলবিডব্লিউ হন ওয়াহাব রিয়াজ (৪)। দলীয় ৭০ রানে পাকিস্তানের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে। সরফরাজকে ফের এলবিডব্লিউ’র শিকারে পরিণত করেন জাদেজা। তবে আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যা ইনিংসের সর্বোচ্চ রান। শেষে পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ৮৩ রানে অলআউট হয় আফ্রিদির দল।
ভারতের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন হার্দিক পান্ডে। দুটি উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। এশিয়া কাপে এটি পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ। অন্যদিকে উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানো ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচ এটি। এই ম্যাচে ভারত দলে একটি পরিবর্তন এসেছে। ইনজুরির কারণে শিখর ধাওয়ানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আজিঙ্কা রাহানে।

গতবার যা হয়েছে সবটাই মিডিয়ার অপপ্রচার

গত বছর ২১ জুন ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের তৃতীয় একদিনের ম্যাচ শেষে ভারতীয় সমর্থক সুধীর গৌতমের উপর হামলা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন গৌতমের সঙ্গে এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র কয়েকজন বাংলাদেশি সুধীর গৌতমকে ঘিরে‘ভুয়া, ভুয়া’ চিৎকার করেছিল। এছাড়া তাকে‘মওকা-মওকা’বলেও টিটকারি করেছিলেন কয়েকজন।
অথচ সুধীর গৌতমের ওপর হামলা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। সেই সূত্র ধরে সংবাদ প্রকাশ করে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমও। সংবাদ প্রকাশের পর বেশ আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে সুধীরের নাম। তখন অবশ্য সুধীর বলেছিলেন, বাংলাদেশের কয়েকজন দর্শক তাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেছিলেন মাত্র।
এশিয়া কাপে ভারতের খেলা দেখতে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন সুধীর। শনিবার পাক-ভারত ম্যাচের আগে কথা বললেন তিনি। এ সময় সুধীর জানান, সেবার তার সঙ্গে তেমন কিছুই হয়নি। বাংলাদেশের সবাই তাকে খুব ভালোবাসে।
শনিবার বিকেল প্রায় পাঁচটা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে ভারতীয় ক্রিকেট দলের আগমনের অপেক্ষায় সুধীর গৌতম। ভারতীয় দলের বাস প্রবেশের সময় ধোনিদের স্বাগত জানাবেন!
এরই এক ফাঁকে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসেন সুধীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাকে খুব ভালোবাসে। গতবার যা হয়েছিল সেটির পুরোটাই মিডিয়ার অপপ্রচার। এখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খুব ভালো। তারা দারুন সহযোগিতা করেছে আমাকে। এখানে আসলে ভয়ের কিছু নেই। আমি আমার দেশের মতোই এখানেও ক্রিকেট উপভোগ করি।’
মিরপুর থানার ‍পুলিশের সঙ্গে তার যে বন্ধুত্ব এটা বোঝা গেল কিছুক্ষণ পরই। এক পুলিশ সদস্য এগিয়ে এসে বললেন, ‘আমার বন্ধু কেমন আছো?’ বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা সুধীরও অকপটে স্বীকার করে নিলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবার ভালোবাসায় আমি সিক্ত। সবাই আমাকে খুব সাহায্য করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টাস অ্যাসোসিয়েনের সবাই আমাকে খুব পছন্দ করে। আসলে আমি এতো এতো ভালোবাসা পেয়ে মুগ্ধ।’
আজকের ম্যাচ নিয়ে রীতিমতো রোমাঞ্চিত সুধীর গৌতম। তিনি এক কথায় ভারতের উপর বাজি রাখলেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি দারুণ উপভোগ্য হবে। তবে দিনশেষে আমরাই (ভারত) জিতবো। এই ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।’
পুরো শরীরে তিরঙ্গা একে সুধীর প্রায় এক দশক ধরে ভারতের সব খেলা মাঠে গিয়ে উপভোগ করছেন। বিশেষ করে তিনি শচীনের কট্টর সমর্থক। শচীন খেলাকালে সুধীর তার পিঠে ১০ নম্বর লিখে রাখতেন। আর শচীন ক্রিকেট থেকে বিদায়ের পর তার পিঠে লিখা থাকে ‘মিস ইউ’।
ভারতীয় এই সমর্থকের বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতিও রয়েছে ভালোবাসা। সাকিব-মাশরাফিদের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো মোবাইলে খুব গর্বের সঙ্গেই দেখাচ্ছিলেন সুধীর গৌতম।

বাংলাদেশকে সমীহ করছেন মালিঙ্গা

বাংলাদেশ এশিয়া কাপের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার। এর আগের দুই ম্যাচে বোলিং বিভাগ ভালো করলেও ফিল্ডিং ও ব্যাটিং বিভাগে যাচ্ছে তাই ছিল বাংলাদেশের। গত এক বছর ধরেই পেস বোলিংয়ে দারুণ করছে লাল-সবুজরা। বিষয়টি চোখ এড়ায়নি শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গার।
শনিবার ফতুল্লা খান সাহেব ওসামান আলী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানেই বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রশংসা ঝরেছে তার কণ্ঠে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ বেশ ভালো। আমরা সবাই তা জানি। আমরা নিশ্চিত বাংলাদেশ তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ঠেকানোর জন্য কী করতে হবে, তা আমাদের জানা আছে। কে বোলিং করছে এইসব নিয়ে আমরা একদম ভাবছি না। বরং একটি একটি বল নিয়ে ভাবছি।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি কিভাবে নিচ্ছেন জানতে চাইলে মালিঙ্গা বলেন, ‘কালকের (রবিবার) ম্যাচটি আমাদের জন্য সাধারণ একটি ম্যাচই। এশিয়া কাপ খেলছে পাঁচটি দল। প্রত্যেকটি দলই কঠিন। কোনও দলকেই আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। কালকের প্রতিপক্ষ কে- সে দিকে আমাদের মনোযোগ নেই! ম্যাচে কার কি দায়িত্ব সবাই এসব খুব ভালো ভাবেই জানে। আমার মনে হয় প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভাবাই ভালো।’
আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১২৭ রানে অলআউট হয়। সেদিনের উইকেট এই রানের জন্যই ছিল বলে দাবি করেন মালিঙ্গা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেদিনের উইকেট ১২৭ রানের উইকেটই ছিল। ব্যাটসম্যানরা কষ্ট করে সেই উইকেটে জেতার মতো রান করেছে। কালকের উইকেট আলাদা। কালকের মনোভাবও থাকবে ভিন্ন রকম। দেখা যাক ব্যাটসম্যানরা কাল কী করতে পারে।’
গতবার আপনারা জিতেছেন, এবার যদিও ভিন্ন ফরম্যাটের খেলা। কী ভাবছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এশিয়া কাপ আগে ৫০ ওভারের খেলা ছিল, এবার টি-টোয়েন্টি; দুই ফরম্যাটের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন। এক বা দুই ওভারের মধ্যেই একটি ম্যাচ বদলে যেতে পারে। এই টুর্নামেন্টে কে সেরা; তা বলা খুব কঠিন। আমরা সব সময় আমাদের শক্তি এবং ম্যাচে আমাদের সামর্থ্য নিয়েই চিন্তা করি। আমরা যদি ব্যাটিং-বোলিং- ফিল্ডিং; তিন বিভাগেই ভালো খেলি, তাহলে আমার বিশ্বাস, এই টুর্নামেন্টে আমরা বেশ ভালো একটা অবস্থানে থাকতে পারবো।’

মালিঙ্গাকে ভয় পাচ্ছে না টাইগাররা

ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৫ রানে হেরে যায়। ওই ম্যাচ হেরে আত্মবিশ্বাস যেন মিলিয়ে যেতে বসেছিলো টাইগারদের। শুক্রবার সহযোগী ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ আরব আমিরাতের সঙ্গে ৫১ রানে ম্যাচ জিতে নিজেদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ! আগামী রবিবার মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
শনিবার ঐচ্ছিক অনুশীলন পর্ব শেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ খ্যাতি পাওয়া সাব্বির রহমান রুম্মন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সাব্বির বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ হারের পর আমাদের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। আমিরাতের সঙ্গে জিতে আমরা হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। সামনের ম্যাচের জন্যে এটা অনেক বেশি কাজে দেবে।’
শ্রীলঙ্কার বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। গত ম্যাচে আমিরাতেকে একা্ই গুড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। অবশ্য তাকে নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবছে না বাংলাদেশ। সাব্বির বলেন, ‘তাকে (মালিঙ্গা) নিয়ে আমাদের বিশেষ কোনও চিন্তা নেই। বল টু বল খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। কোন বোলার বল করছে সেদিকে তাকিয়ে নেই আমরা।’
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাফল্য না পাওয়ার কারণ হিসেবে অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করছেন সাব্বির। তার মতে, ‘ভারত অনেক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলে। এছাড়া আইপিএলে ওদের প্রচুর খেলোয়াড় খেলে থাকে। আমরা খুব বেশি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাই না বলে কিছুটা ঘাটতিতো আছেই। তবে আমার বিশ্বাস দ্রুতই এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে পারবো।’
টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে চতুর্থ স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বাংলাদেশ দশে। রবিবারের ম্যাচ কতটা কঠিন হতে পারে। এমন প্রশ্নের উত্তরে সাব্বির বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে ছোট-বড় দল বলতে কিছু নেই। আমরা শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নয়, যে কোনও দলের বিপক্ষে সেরা খেলাটা খেলতে পারলে জয় সম্ভব। আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার দিকে মনোযোগী। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগে যারা সবটুকু সামর্থ্য খেলবে তারাই জিতবে।’
একসঙ্গে তিন বিভাগে ভালো না করলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়া যায় না। বোলাররা গত দুই ম্যাচে ভালো করেছে। এখন ব্যাটসম্যানরা নিজেদের দায়িত্বটা ঠিকমতো পালন করতে মনোযোগী বলে জানান তিনি। সাব্বির বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আসলে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগকেই শতভাগ দিতে হয়। যেহেতু বোলিং বিভাগ ভালো করছে আমরাও চেষ্টা করছি নিজেদের সেরাটা দেওয়ার। আমরা ১৭০-১৯০ রান করতে চাচ্ছি, যাতে বোলাররা রিল্যাক্সে বোলিং করতে পারবে। এটাই আমাদের ফোকাস থাকবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ম্যাচের মধ্যে কিছু মিস ফিল্ডিং হতেই পারে। যে জায়গায় ক্যাচ মিস হবে, ওই জায়গাতে কেউ ফিল্ডিং করতে পারবে না এমনটা নয়। আমরা সব সময় চিন্তা করি যে কে কিভাবে ক্যাচ ধরতে পারবে এবং তাড়াতাড়ি রান আউট করতে পারবে। এভাবে আমাদের আত্মবিশ্বাস বিল্ড আপ হয়।’

পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ নিয়ে মিরপুরে তুমুল উত্তেজনা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলদা উত্তেজনা। দুই দেশের মাঝেই শুধু সীমাবদ্ধ থাকে না, এর রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বেই। বাংলাদেশের দর্শকদের মাঝেও এ ম্যাচ নিয়ে চলছে তুমুল আয়োজন। উৎসব আমেজে ম্যাচটি দেখতে মিরপুরের শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসেছেন দর্শকরা।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে এশিয়া কাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি। গেট খুলে দেয়ার কথা বিকাল সাড়ে ৫টায়। অথচ দেখা গেলো গ্যালারিতে ঢুকতে দুপুর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রিকট ভক্তরা। তবে শুধু বাংলাদেশের দর্শকই নয়। ভারত ও পাকিস্তান থেকেও এসেছেন অনেক দর্শক।
ভারতের চণ্ডীগড় থেকে এসেছেন রামবাবু। সারা শরীরে মেখেছেন ভারতের পতাকার প্রতিকৃতি, তেরঙ্গা। আর তাতে লিখেছেন প্রিয় খেলোয়াড় ধোনির নাম। আজকের ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আজকে ভারত জয়লাভ করবে। এর আগে আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশে এসেছিলাম। সেবারও জয় নইয়ে দেশে ফিরেছিলাম। এবারও যাবো।’
বরাবরের মত এদিনও স্টেডিয়ামের আশে-পাশে গড়ে উঠেছে ভাসমান বেশকিছু দোকান। ভারতের পতাকা, জার্সি, ব্যান্ড, টুপি, ব্রেসলেট জাতীয় দ্রব্যসহ নানা রকম পণ্য বিক্রয় করছেন তারা। তবে কোথাও দেখা যায়নি পাকিস্তানের কোন পতাকা। এমনই এক পতাকা বিক্রেতাকে পাকিস্তানের পতাকা নেই কেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ভারতের পতাকাই আছে, নিতে চাইলে নেন। আর পাকিস্তানের নাই, কারণ এটা কেউ কেনার সাহস পায় না।’ তবে অনেকেই রঙ দিয়ে পাকিস্তানের পতাকা শরীরের এঁকে নিয়েছেন।
ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকেও এসেছেন তিন যুবক জিতেন্দ্র রায়, নরেশ চান ও রায়ধিরাজ। মহাত্মা গান্ধী ফাইন আর্টস কলেজের ছাত্র। প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসেছেন তারা। আজকের ম্যাচ নিয়ে এ তিন ভারতীয় বলেন, ‘ভারত আজকে ভালো খেলেই জিতবে। তিনবন্ধু যখন এসেছি আমরাই জিতবো।’
এছাড়াও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানিও ছিলেন সেখানে। তবে মিডিয়াতে কোন কথা বলতে রাজী নন তারা। ঢাকার টঙ্গী থেকে রুবেল ও শর্মি নামে এক যুগল এসেছেন পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ দেখতে। তারা আজকের ম্যাচে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবেন। এ নিয়ে জাগোনিউজকে তারা বলেন, ‘আমরা মূলতঃ একটু ঘুরতে এসেছি। ব্যবসার কাজে তেমন সময় পাই না। আজকে আসলাম খেলা দেখতে। আর খেলা দেখলে তো এক দলকে সমর্থন করতেই হবে। আমরা পাকিস্তানকে সমর্থন দিব।’

আর কত অপেক্ষায় থাকবেন মুস্তাফিজ!

মাত্র ২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এই কয় ম্যাচেই পাঁচ-পাঁচবার হ্যাটট্রিকের দুয়ার থেকে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিন বলে তিন উইকেট নেওয়ার সামনে দাঁড়িয়েও হ্যাটট্রিকটা পাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের তরুণ এই পেসারের। হ্যাটট্রিকের জন্য আর কত অপেক্ষায় থাকবেন মুস্তাফিজ!

 

মুস্তাফিজ সর্বশেষ হ্যাটট্রিক-বঞ্চিত হয়েছেন শুক্রবার এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়েও তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য। তাই আমিরাতের বিপক্ষে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল মুস্তাফিজের।

 

আমিরাতের বিপক্ষে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন মুস্তাফিজ। নিজের বলে দৌড়ে গিয়ে মুস্তাফিজ নিজেই রোহান মুস্তাফার দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিলেও হাত মাটিতে ছুঁয়েছে বলে সেটাতে আউট দেননি থার্ড আম্পায়ার শোজাব রাজা।

 

প্রথম ওভারে উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ওভারেই জাদু দেখান মুস্তাফিজ। দারুণ দুটি অফ কাটারে টানা দুই বলে নেন দুই উইকেট। প্রথম বলে মোহাম্মদ শাহজাদকে ফিরতি ক্যাচ বানানোর পর দ্বিতীয় বলে স্বপ্নিল পাতিলকে মাশরাফির তালুবন্দি করান। এবার কি হবে মুস্তাফিজের হ্যাটট্রিক? না, এবারও হলো না। মুস্তাফিজের আরেকটি অফ কাটার অল্পের জন্য আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ জাভেদের ব্যাটের কানায় লাগেনি।

 

মুস্তাফিজ এর আগে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়েছিলেন গত মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে। খুলনায় সে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১৮তম ওভারে প্রথম দুই বলে এলটন চিগুম্বুরা ও লুক জঙ্গুয়েকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ, দুটিই বোল্ড। কিন্তু পরের বলটি ঠেকিয়ে দেন শন উইলিয়ামস।

 

গত বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টেও হ্যাটট্রিক-বঞ্চিত হন মুস্তাফিজ। চট্টগ্রামে সে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এক ওভারে তিন উইকেট পেলেও হ্যাটট্রিকটা হয়নি তার। পরপর দুই বলে হাশিম আমলা আর জেপি ডুমিনিকে ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সামনে। কিন্তু পরের বল কুইন্টন ডি কক ঠেকিয়ে দেন। অবশ্য পরের বলেই ডি কককে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরের পথ দেখিয়েছিলেন মুস্তাফিজ।

 

তিন বলে তিন উইকেট নেওয়ার সামনে দাঁড়িয়েও হ্যাটট্রিকটা না পাওয়ার আক্ষেপের গল্পটা শুরু হয়েছিল মুস্তাফিজের ওয়ানডে অভিষেক ম্যাচেই। গত বছর তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়া ওই সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের ইনিংসের ৩৭তম ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে যথাক্রমে সুরেশ রায়না ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরের বলটি ভুবনেশ্বর কুমার ঠেকিয়ে দিয়ে এক রান নিয়েছিলেন।

 

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ভারতের ইনিংসের ৪০তম ওভারে পরপর দুই বলে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও অক্ষর প্যাটেলকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অশ্বিন। এবারও হ্যাটট্রিক-বঞ্চিত।

 

ছোট্ট এ ক্যারিয়ারেই পাঁচ-পাঁচবার হ্যাটট্রিকের দুয়ার থেকে ফিরলেন মুস্তাফিজ। অধরা এই হ্যাটট্রিকটা তার কাছে কবে যে ধরে দেবে, কে জানে!

 

 

 

মিরপুরে পাক-ভারত মহারণ সন্ধ্যায়

যুগ-যুগ ধরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অন্যরকম উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, আর বারুদে উত্তাপে ঠাঁসা। প্রতিটি মুহূর্ত যেন শ্বাসরুদ্ধকর। দুই দেশের বৈরি রাজনৈতিক সম্পর্কটাও যেন আগুনের ফুলকি হয়ে উঠে আসে ২২ গজের কমব্যাট জোনে। বাংলাদেশে চলমান এশিয়া কাপে তেমনি একটি ম্যাচেরই প্রতীক্ষায় ভক্ত-সমর্থকরা। শনিবার চলতি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মিরপুরে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। ক্রিকেট ম্যাচ না বলে মহারণ বললেও অত্যুক্তি হবে না।

লড়াইটা পাকিস্তানের পেস বোলিং বনাম ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং। ইমরান-ওয়াসিম-ওয়াকার-শোয়েবদের স্বর্ণালী যুগে শচীন-সৌরভ-দ্রাবিড়-লক্ষণরা পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। তাদের পরবর্তী যুগেও সেটির অবসান হয়নি। সম্প্রতি রোহিত-কোহলি-রায়না-ধোনিরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন মোহাম্মাদ আমির-ইরফান-ওয়াহাব রিয়াজদের। আবারও পাক-ভারত লড়াইয়ের সেই রোমাঞ্চকর উপখ্যান দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। এশিয়া কাপে ভারত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চিরশত্রু পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি ও বিটিভি।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলে কথা। আবার ম্যাচটা হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে। তাইতো শনিবার সন্ধ্যায় এ ম্যাচটার দিকে দৃষ্টি থাকবে কোটি-কোটি দর্শকের। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক না কেন টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি লেগে যাবে এটাই স্বাভাবিক। শনিবারের ম্যাচ নিয়েও টিকিটের জন্য হাহাকার। বাংলাদেশের সমর্থকরাও তো এদিন দুইভাগে ভাগ হয়ে যাবেন এই ম্যাচ দেখতে। সবার চোখ শুধু থাকবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াই দেখার।

মিরপুরে খেলা অথচ এই দুই দল শুক্রবার অনুশীলন করেছে ফতুল্লায়। ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলে নিজেদের মিরপুরের উইকেটে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছেন। স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয়ের পর তারা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। সেই হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশে এসেছে বুধবার। অনুশীলন করেছে মাত্র একদিন। অবশ্য বাংলাদেশের মাটিতে বরাবরই ভালো করার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের।

তাছাড়া শহীদ আফ্রিদি বাহিনী পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) টানা ক্রিকেট খেলেছে। তারা এখন টি২০ ধারাতেই রয়েছে। দু’দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল টি২০ বিশ্বকাপে এই মিরপুর স্টেডিয়ামেই। আবার দুই বছর পর সেই মিরপুরেই দু’দল মুখোমুখি। সাপে-নেইলে সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটই মাঝে মধ্যে বয়ে আনে সৌহার্দের বার্তা।

শুক্রবার দলের অনুশীলনের আগে পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলেন, ‘খেলাধুলা সব সময় দু’দলের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে। দু’দেশের সমর্থকেরা এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকবে। খেলাধুলার মধ্যে আমরা রাজনীতির রং লাগাতে চাই না।’

শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিকের মতো পাকিস্তান দলে যেমন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে, তেমনি মোহাম্মদ নেওয়াজের মতো তরুন ক্রিকেটারও রয়েছেন। শহীদ আফ্রিদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তবে ভারতের বিপক্ষে তাদের পরিসংখ্যান খুবই খারাপ। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখিতে মাত্র একবারই (৪-১) জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

অপরদিকে বড় আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সব সময়ই ভয়ংকর এক দল ভারত। বড় আসরে তারা যেন হারতেই জানেনা পাকিস্তানের বিপক্ষে। সে হিসেবে এশিয়া কাপে দু’দলের ফলাফল সমানই। দু’দলই পাঁচটি করে ম্যাচ জিতেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দেয়ার পরও দারুণ জয় তুলে নিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। মিরপুরের সবুজ উইকেটেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন রোহিত শর্মা।

সেই সঙ্গে ভারতের বোলাররাও রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। তবে ঐতিহ্যগত লড়াইটা থাকছে এবারও। আসল লড়াই হবে পাকিস্তানের পেসার ও ভারতের ব্যাটিং। শুক্রবার দলের অনুশীলনের আগে এ প্রসঙ্গে ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা বলেন, ‘পাকিস্তানের ভালোমানের কিছু বাঁ-হাতি পেসার রয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা আমাদের ব্যাটিং নিয়ে আরো পরিকল্পনা করছি। প্রত্যেক দলের আলাদা কিছু শক্তির জায়গা থাকবে। তবে আমরা চেষ্টা করবো আমাদের শক্তির জায়গাগুলোতে ফোকাস রাখতে।’

যদিও এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি কেউই ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারেননি। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা জ্বলে ওঠার চেষ্টায় থাকবেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজদের নিয়ে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ খুবই শক্তিশালী। ব্যাটিং লাইনে কিছুটা দুর্বল মনে হলেও শোয়েব মালিক-মোহাম্মদ হাফিজরা জ্বলে উঠলে ভালো কিছুই হতে পারে বলে মনে করছে পাক ভক্তরা।

তামিমের প্রতি স্ত্রী আয়েশার ভালোবাসা

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষে বাবা হতে যাচ্ছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। আর এ সময়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে স্ত্রীর পাশে ব্যাংককেই রয়েছেন তামিম। আর এর জন্য দেশের মাটিতে খেলতে পারছেন না এশিয়া কাপ।

তামিমের এই ভালোবাসা দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মা হওয়ার প্রাক্কালে এক বার্তা দিলেন স্ত্রী আয়েশা। তিনি লিখেছেন, তামিম ইকবাল, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বেশির ভাগ অংশের মানুষ তাকে চেনে তার ক্রিকেট প্রতিভার জন্য, তার দারুণ সব ইনিংসের জন্য, নায়কোচিত স্কোরের জন্য। তবে এর বাইরেও এই মানুষরটা এমন কিছু গুণ আছে যা সকলের অজানা।

তিনি শুধু দারুণ একজনই স্বামীই নন, খুবই নরম মনের একজন। বলা যায়, ওই আমাদের পরিবারের মেরুদণ্ড। সবার জন্য ওর ভালবাসা আর ত্যাগ দেখে প্রায়ই আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলি। কেউ যদি তার সাহায্য ও উপদেশের জন্য অপেক্ষা করে, তাহলে তিনি কখনওই নিরাশ হবেন না।

আমি প্রতিটা দিন ওর সাথে থাকি আর অবাক হয়ে হয়ে কিভাবে ও এত-শত কাজ এতটা যত্ন নিয়ে করে। একজন মায়ের জন্য ও সেরা সন্তান, সেরা বন্ধু, সেরা স্বামী আর ইনশাল্লাহ একটা সন্তানের সেরা বাবা হবে।

আশা করি তুমি কখনও বদলে যাবে না। আল্লাহ সব সময় তোমার পাশে থাকুক আর পৃথিবীর সবটুকু সুখ তুমি পাও। অনেক ধন্যবাদ জীবনের এই কঠিন নয়টি মাস পাশে থাকার জন্য! তোমাকে ভালবাসি।

বাংলাদেশের বোলিংয়ে উড়ে গেল আমিরাত

ব্যাটিংটা মোটেও ভালো হয়নি। দুর্বল আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে মাত্র ১৩৩ রান তুলেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ভারতের বিরুদ্ধে হারের পর এই ম্যাচেও কি তাহলে অঘটনের শিকার হচ্ছে টাইগাররা! এমন সংশয় জাগলেও তা আর হয়নি। বরং বীরদর্পেই জয় তুলে নিয়েছেন মাশরাফি-মুস্তাফিজ-মাহমুদুল্লাহরা। এই তিন ‘এম’ (নামের প্রথম অক্ষর) এর বোলিং মুখে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে যায় আরব আমিরাতের ইনিংস। এই তিনজনই নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। অবশ্য ২টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসানও। শুক্রবার মিরপুরে ৫১ রানের এই জয়ে এশিয়া কাপে টিকে রইল মাশরাফিবাহিনী।
আরব আমিরাতের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা ভালোই জানা ছিল বাংলাদেশের বোলারদের। শ্রীলংকার ১২৯ রান তাড়া করতে গিয়ে তাদের টপঅর্ডার কিভাবে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছিল সেটা মাশরাফিরা ভালোভাবেই দেখেছিলেন। তাই যেন শুরুটাও সেভাবেই করে তারা। ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসেই আমিরাতের ব্যাটসম্যানদের ওপর আঘাত হেনেছেন আল আমিন। ওভারের তৃতীয় বলেই মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন প্রতিপরে ওপেনার মোহাম্মদ কলিমকে। দলীয় ২ রানেই ফিরে গেলেন তিনি। আল আমিনের আঘাতের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা আরব আমিরাতের। রোহান মোস্তফা আর মোহাম্মদ শেহজাদের ২৩ রানের জুটি সে চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ। তবে এরই ফাঁকে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজের অসাধারণ ক্যাচ সত্ত্বেও বেঁচে গেলেন রোহান মোস্তফা। প্রথমে আউট দিলেও রিপ্লেতে দেখা গেছে নাকি মুস্তাফিজের ক্যাচটা মাটি ছুঁয়ে গেছে। তবে মুস্তাফিজের বলে ক্যাচ না দিলেও মাশরাফি তোপের মুখে পড়ে ইতিমধ্যে কাঁপতে শুরু করেছে আরব আমিরাত। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলেই রোহান মোস্তফাকে মুস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মাশরাফি। নিজের পরের ওভারেই (দলীয় ৭ম ওভারে) সাইমান আনোয়ারকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ৪ বলে ১ রান করা আরব আমিরাতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যানটিকে মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মাশরাফি। এরপর আর মুস্তাফিজকে আটকানো গেলো না। আবারও রিটার্ন ক্যাচ নিলেন মুস্তাফিজ। তার বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে তুলে দেন মোহাম্মদ শেহজাদ। ক্যাচটা তালুবন্দী করেন মুস্তাফিজই। পরের বলে আবারও ক্যাচ। এবারও ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বল তুলে দেন আরব আমিরাতের ব্যাটসম্যান স্বপ্নিল পাতিল। মাশরাফি ধরেন ক্যাচটা। ৩৪ রানেই পড়ে যায় আরব আমিরাতের ৫ উইকেট। হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরী হয় মুস্তাফিজের। কিন্তু পঞ্চমবারের মত সম্ভাবনা জাগিয়েও হ্যাাটট্রিক পেলেন না তিনি।
এরপর অবশ্য আর তেমন কিছু করার ছিল না আরব আমিরাতের। একে একে উইকেট হারাতে থাকে। তা থামে যায় ১৪ বল আগেই। মাত্র ৮২ রানে অল আউট হয় আমিরাত।
গত বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে ১২৯ রানে আটকে দিয়ে আরব আমিরাত বার্তা দিয়েছিল বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়বে না তারা। শুক্রবারও প্রথমে বোলিংয়ে নেমে যেন প্রতিপ যতটা সম্ভব কম রানে গুটিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল আমিরাতের বোলাররা। আমজাদ জাভেদ-নাভিদদের বোলিং তোপে এদিন বাংলাদেশ আটকে গেল মাত্র ১৩৩ রানে। সর্বোচ্চ ৪৭ রান এসেছে মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাট থেকে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ রানের ইনিংস।
আমিরাতের বিপে ঝড়ো শুরুর পর হঠাৎই ভেঙে পড়েছিল লঙ্কানরা। এদিন লঙ্কানদের দেখানো পথই যেন অনুসরণ করলো বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো শুরু করেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিথুন। ৫.১ ওভারে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য সরকার। ১৪ বলে ২১ রান করে মোহাম্মদ শাহজাদের বলে ক্যাচ তুলেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন সাব্বির রহমান। তবে তিনিও বেশিণ টিকতে পারেননি। দলীয় ৭২ রানে রোহান মুস্তফার বলে আউট হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১২ বলে মাত্র ৬ রান করেছেন সাব্বির। এরপরই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে শুরু করে।
১১.৪ ওভারে দলীয় ৮১ রানে রোহান মুস্তফার বলে স্টাম্পড হন মিথুন। আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে চারটি ৪ ও দুটি ছক্কায় ৪৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এরপরই সাজঘরে ফিরেন মুশফিক (৪)। দলীয় ৮৩ ও ব্যক্তিগত ৪ রানে নাভিদের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন তিনি। দলীয় ১১২ রানে আমজাদের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাকিব আল হাসানও (১৩ বলে ১৩ রান)। এর এক বল পরেই ফিরে যান নুরুল হাসান সোহান (০)। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে শূন্য রানে ফিরে যান মাশরাফিও। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২৭ বলে ৩৬ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করে টাইগাররা।
আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দলে একটি মাত্র আনা হয়। ইমরুল কায়েসের পরিবর্তে দলে নেয়া হয় নুরুল হাসান সোহানকে। এর আগে বুধবার এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে হেরেছিল মাশরাফি বাহিনী। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে লড়াইয়ে টিকে রইল স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশি বোলারদের প্রশংসায় ওয়াকার

এশিয়া কাপে অংশ নিতে বাংলাদেশে অবস্থান করছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আর তাদের কোচ হিসেবে আছেন নিজের সময়ে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার ওয়াকার ইউনুস। ওয়াসিম আকরা আর তার জুটিকে একনামে ডাকা হতো ‘টু ডব্লিউ’ নামে। নিজে পেসার ছিলেন বলে নতুন প্রজন্মের পেসারদের প্রতি দারুণভাবে ভরসা করেন তিনি। স্বপ্ন দেখেন পেসারদের পুরনো দাপট আবারো দেখা যাবে ক্রিকেটে। এবার তারই মুখ থেকে প্রসংশা ঝরলও টাইগার পেসারদেরও।
টাইগার বোলারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একঝাঁক দুর্দান্ত পেসার আছে। তারা ভালোও করছে, কোনো সন্দেহ নেই। খুব গভীরভাবে তাদেরকে দেখার সুযোগ অবশ্য হয়নি। তবে আমরা সবাই জানি তারা দারুণ কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পেসাররা সত্যিই খুব ভালো।
মুস্তাফিজ-তাসকিনদের প্রসংশা করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বোলিং অ্যাটাক এখন বেশ সমৃদ্ধ। মুস্তাফিজের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে এনে নিজেদের দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে তুলে ধরেছে তারা। তবে বাংলাদেশের পেসাররা সীমিত ওভারে বেশি কার্যকর। গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাদের খেলা দেখেছি। শুরুর দিকে তারা দারুণ কিছু ঝলক দেখিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শেষটা ভালো করতে পারেনি। বাংলাদেশি পেসারদের বিপক্ষে আমরা সতর্ক থাকব।

পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে ভারত

এশিয়াকাপের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে আগামীকাল মাঠে নামছে ভারত ও পাকিস্তান। উপমহাদেশের প্রতিবেশি এ দুই দেশের ম্যাচে বরাবরই আলাদা উত্তেজনা কাজ করে দর্শকদের মাঝে। শুধুমাত্র এ চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশেই নয়, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই। এ লড়াইয়ের আগে কে জিতবে? এ আলোচনায় মেতেছে ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে ভারত।
টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে এ দুই দল। এর মাঝে চারবার পরিস্কার ব্যবধানে জয়ে পেয়েছে ভারত। হেরেছে মাত্র একটি ম্যাচ। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি টাই হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।
শুধু পরিসংখ্যানই নয়। সাম্প্রতিক সময়ের ফর্মেও এগিয়ে আছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অসিদের। ফলশ্রুতিতে আইসিসি র্যাংকিংয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এক নম্বরে উঠে এসেছে ভারত।
তবে পরিসংখ্যান যাই হোক। পাকিস্তান-ভারত ম্যাচে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। তাই দর্শকরা আগামিকাল (শনিবার) একটি উপভোগ্য লড়াই দেখবে বলেই প্রত্যাশা ক্রিকেটবোদ্ধাদের।

লড়াইটা পাকিস্তানি পেসার বনাম ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের

এবারের এশিয়াকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতকেই পাচ্ছে পাকিস্তান। চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দারুণ প্রত্যয়ী পাকিস্তান দল। অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদির আশা, ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেবেন তার পেসাররাই। ইরাফান, আমির, সামি ও রিয়াজের বোলিংয়ের উপর দারুণ আস্থা রয়েছে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষেই পাকিস্তানি বোলারদের মূল মোকাবেলা হবে মনে করেন এ অলরাউন্ডার।
শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সাধারণত স্পিনারদের ভাল খেলে এবং তাদের বেশ কিছু খেলোয়াড় ফর্মে আছে। ভাল ক্রিকেট খেলেই তারা এখানে এসেছে। আমাদের পেসাররা বেশ ভাল অবস্থায় আছে। সেটা আমির, ইরফান বা ওয়াহাব যে কেউ হতে পারে। আমি জানি তাদের ব্যাটিং শক্তিশালি, কিন্তু আমাদেরও দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণ আছে। আমি আশা করছি ফলাফল আমাদের জন্য বেশ ভালই হবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন পাকিস্তানের পেসাররা। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করার পর এবার তাদের মিশন এশিয়া কাপ। মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ সামি ও ওয়াহাব রিয়াজের মত পেসাররা এবার পাকিস্তান বোলিং লাইনআপে। দলের পেসারদের নিয়ে আফ্রিদি বলেন, ‘এ ধরণের কন্ডিশনে পেস বোলাররা অবশ্যই বড় ভূমিকা রাখে। আমরা চারজন পেসার পেয়েছি দলে এবং তারা উইকেট শিকারের বিবেচনায় ভালো ক্রিকেটার। আমাদের ফাস্ট বোলাররা শুরুর ছয় ওভারের সদ্ব্যবহার করতে চেষ্টা করবে এবং চেষ্টা করবে ব্যাটসম্যানদের ফেরত পাঠাতে।’
তবে নিজেদের ব্যাটিংকেও পিছিয়ে রাখছেন না আফ্রিদি। পিএসএল খেলে দলের ব্যাটসম্যানরা দারুণ ছন্দে রয়েছেন বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরও ব্যাটিংয়ে শক্ত দিক আছে। কারণ তারা সবাই পিএসএল খেলে ভালো অবস্থায় আছে। আমি শুধু আশা করব, যেন আমরা নিজেদের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না করি এবং নিজেদের মৌলিক বিষয়গুলো ধরে রাখতে পারি।’

মিরপুরের উইকেট দেখে বিস্মিত রোহিত

টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকেই বাংলাদেশের উইকেট ছিল স্পিনবান্ধব। ঘাস কেটে ন্যাড়া উইকেটেই খেলা হতো সবসময়; কিন্তু হঠাৎ করেই এবার এশিয়া কাপে সবুজ উইকেট! তাই স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত ক্রিকেটাররা। বিস্মিত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রায় একাই ম্যাচ জেতানো রোহিত শর্মারও।
শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে রোহিত বলেন, ‘মিরপুরের উইকেট টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য কঠিনই ছিলো। বিশ্বের এই অঞ্চলে ওই রকম (সবুজ) উইকেট দেখাটা সত্যিই বিস্ময়কর ছিলো।’
তবে উইকেট যেমনই হোক তা মোকাবেলা করার মত নিজেদের যথেষ্ট রসদ রয়েছে বলে জানান রোহিত। নিজেদের ব্যাটিং লাইনআপের ওপর ভরসা রয়েছে এ ওপেনারের। যে কোন একজন ব্যাটসম্যান লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করলে ভালো সংগ্রহ করতে পারবেন বলে বিশ্বাস রোহিতের।
এমন উইকেটে ব্যাটিং করা কতটা চ্যালেঞ্জিং তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সংগ্রাম করতে হয়। তবে এটা নিয়ে আমরা ভাবছি না, কারণ আমরা বড় স্কোর করছি। ক্রিকেট খেলায় এমন হবেই, আপনি উইকেট হারিয়ে ফেলবেন; কিন্তু এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের একটি দৃঢ় ব্যাটিং লাইনআপ আছে।’

বাংলাদেশ অনেক পছন্দ আফ্রিদির

বাংলাদেশে থাকতে পছন্দ করেন পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। জানালেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আতিথিয়েতা তাকে বরাবরই মুগ্ধ করে। সুতরাং, এশিয়া কাপের পর আবারো বাংলাদেশে খেলতে আসার ইচ্ছা পোষণ করলেন বুমবুম খ্যাত এ পাকিস্তানি তারকা। শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলন শেষে এমনটাই জানালেন এ অলরাউন্ডার।
ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ সময়ে চলে এসেছেন আফ্রিদি। অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন এশিয়া ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর অবসরে জাবেন তিনি। যদিও দু’দিন আগে জানিয়েছেন অবসরের ব্যাপারে সবাই তাকে আবার বিবেচনা করতে বলছেন। তাই খেলা চালিয়ে গেলেও হয়তো খুব বেশিদিন খেলবেন না। তাই বাংলাদেশে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে নাও দেখা যেতে পারে এ অলরাউন্ডারকে।
আগামীতে বাংলাদেশে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে আসছেন কি না জানতে চাইলে আফ্রিদি বলেন, ‘আপনি কি আমাকে বিপিএলে দেখতে চান না? বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা সবসময়ই বড় ব্যাপার এবং এখানে ক্রিকেট খেলাটা খুব উপভোগ করি। প্রতিটি মিনিট এবং প্রতিটি সেকেন্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখানে থাকতে পছন্দ করি এবং এখানকার সাধারণ জনগণ আমাকে অনেক আতিথিয়েতা দেয়।’
এবার বাংলাদেশের মাঠে কিছু বুমবুম ব্যাটিং দেখা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই তা করতে চেষ্টা করি এবং দলের হয়ে পারফরম্যান্স করতে চাই। কারণ আমার দলের জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে বোলিং। কিন্তু আমি বুঝতে পারি যখন ব্যাটিং করি তখন দলের জন্য কিছু অবদান রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০-৩০ যাই হোক এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

ব্যর্থতার আবর্তেই ঘুরছেন সাকিব

ব্যর্থতা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারলেন না সাকিব আল হাসান। আরব আমিরাতকে পেয়েও পারলেন না ফর্মে ফিরতে। ৮৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছে বাংলাদেশ, তখনই মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ইনিংস মেরামত করে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।
কিন্তু না, পারলেন না সাকিব। একের পর এক ব্যর্থতার আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন তিনি। আজও আউট হয়ে গেলেন মাত্র ১৩ বলে ১৩ রান করে। একটি মাত্র বাউন্ডারি মারতে পেরেছিলেন তিনি। আমজাদ জাভেদের কোমরের উপরে আসা ফুলটস বলটিতে শট খেলতে গিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে গিয়ে সোজা আঘাত হানলো স্ট্যাম্পে। বোল্ড হয়ে গেলেন সাবিক।
এভাবে সাকিব বোল্ড হন খুব কমই। কিন্তু ব্যর্থতার ঘূর্ণাবর্তে ঘুরপাক খেতে খেতে এমন আউটও হতে হচ্ছে তাকে। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে সাকিব ফর্মে ফিরতে পারেন কি না সেটাই দেখার বিষয়।

পাকিস্তানি পেসারদের ভয় পায় না ভারত

সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন পাকিস্তানি পেসাররা। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করার পর এবার তাদের মিশন এশিয়া কাপ। মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ সামি এবং ওয়াহাব রিয়াজদের মত পেসাররা এবার পাকিস্তান বোলিং লাইনআপে; কিন্তু তবুও তাদের ভয়ের কোন কারণ দেখছেন ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। জানিয়ে দিলেন, এমন পেসারদের মোকাবেলা করার জন্য তাদের দৃঢ় ব্যাটিং লাইনআপ রয়েছে।
শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে ভারতীয় ওপেনার রোহিত বলেন, ‘পাকিস্তানের বাঁ-হাতিসমৃদ্ধ বোলিং আক্রমণ। তাদের বোলিং আক্রমণ যে ভয়ানক তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা আমাদের শক্তির দিকে মনোযোগ দিয়ে পরিকল্পনাগুলো সাজিয়ে নিতে চাই। আমাদের শক্তি হলো ব্যাটিং। আমরা উইকেটের ওপরও নির্ভর করব।’
এবার অনেকটাই ঘাসের উইকেট তৈরি করা হয়েছে মিরপুরের মাঠে। এমন উইকেটে ইরফান, আমির, সামি ও রিয়াজরা অনেক ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। তাদের কিভাবে মোকাবেলা করবেন জানতে চাইলে রোহিত বলেন, ‘মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সংগ্রাম করতে হয়। তবে এটা নিয়ে আমরা ভাবছি না। কারণ আমরা বড় স্কোর করছি। ক্রিকেট খেলায় এমন হবেই। আপনি উইকেট হারিয়ে ফেলবেন; কিন্তু এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের একটি দৃঢ় ব্যাটিং লাইনআপ রয়েছে।’
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার ক্রিকেটে ফিরে দারুণ খেলছেন মোহাম্মদ আমির। পিএসএলের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। বিপিএলেও দুর্দান্ত ছিলেন এ পেসার। তাই তাকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমিরকে আগেও খেলেছি এবং অন্যদেরও খেলেছি। আমরা শুধুমাত্র একজনকে নিয়ে চিন্তা করছি না। প্রত্যেককে মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আমাদের ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ নিতেও প্রস্তুত। আমরা খুব দূরে তাকাচ্ছি না। কাল ম্যাচ জেতার জন্য যা করণীয় সবই আমরা করবো।’

সমর্থকদের উল্লাসে মাতোয়ারা মিরপুর

মিরপুরের আকাশে বাতাসে যেন টাইগারদের জয়ধ্বনি ভাসছে। নিজদের দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামলেও মিথুন-সৌম্যদের ব্যাট যেন আজ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। শুক্রবার এশিয়া কাপের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সময় স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক উল্লাসে মেতে ওঠে। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারায় অনেকটাই হতাশ ছিলেন স্বাগতিক দর্শকরা। সেদিন ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিংও ছিল বেশ হতাশাজনক। তবে আরব আমিরাতের বিপক্ষে শুরু থেকেই টাইগারদের দেখা যায় আক্রমণাত্মক।
ম্যাচের শুরু থেকেই নাভেদ, জাবেদ ও শেহজাদদের বোলিংকে বাউন্ডারি বাইরে আছড়ে ফেলে দলকে দারুণ শুরু এনে দেন উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও মিথুন।
তাদের সেই ক্ষুরধার ব্যাটিংয়ের উচ্ছাস গিয়ে আছরে পড়ছে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। টাইগারদের সমর্থন জানাতে বিগত দিনগুলোর ধারাবাহিকতায় আজও বাঘ সেজে গ্যালারিতে বসেছেন টাইগার সমর্থকেরা। টাইগারদের প্রতিটি শটই যেন তাদের জন্য উল্লাসের উপলক্ষ বয়ে আনছে।
তবে, ভক্তদের এমন উল্লাস ও আনন্দ তখনই স্বার্থক হবে যদি বাংলাদেশ আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নিজেদের করে নিতে পারেন।

আমিরাতকে ১৩৪ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর মোহাম্মদ মিঠুন মিলে দারুন সূচনা। এরপর মাঝে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়। শেষ ওভারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ঝড়। অবশেষে আরব আমিরাতের সামনে ১৩৪ রানের লক্ষ্য বেধে দিলো বাংলাদেশ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দু’ওপেনার মিলে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলকে; কিন্তু ৪৬ রানের মাথায় এই জুটিতে ভাঙন ধরার পরই পাল্টে গেলো দৃশ্যপট। দ্রুত চারটি উইকেট হারিয়ে বলতে গেলে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর মোহাম্মদ মিঠুন ছাড়াও ৮৩ রানের মাথায় ফিরে গেছেন সাব্বির রহমান এবং মুশফিকুর রহিম।
৮৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দায়িত্ব বর্তেছিল সাকিব আল হাসান আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ওপর। কিন্তু ব্যর্থতার ঘূর্ণাবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। মাত্র ১৩ বলে ১৩ রান করে আউট হয়ে গেলেন তিনিও। দলীয় রান তখন ১১২। সাকিব আউট হয়ে যাওয়ার পর মাঠে নামেন নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু পরের বলেই তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সোহান, কোন রান না করেই।
এরপর মাঠে নামেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিন বল মোকাবেলা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোন রান না নিয়েই ক্যাচ তুলে দিলেন লং অফে। ১১৪ রানের মাথায় সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান তিনিও। মাশরাফি আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন তাসকিন আহমেদ। যদিও শেষ বলের আগে আর উইকেট হারাতে হয়নি বাংলাদেশকে। তবে মাহমুদুল্লাহ ঝড়ে শেষ ওভারে ১৭ রান তুলতে পেরেছিলো বাংলাদেশ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। টাইগারদের ইনিংস ওপেন করতে নামলেন সৌম্য সরকার এবং মোহাম্মদ মিঠুন। ভারতের বিপক্ষে ওপেনিং জুটি মোটেও সফল হয়নি। এ কারণে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। সুতরাং, দেখে-শুনেই খেলার চেষ্টা সৌম্য-মিঠুনের।
প্রথম ওভার থেকে মাত্র ১ রান নিতে পেরেছেন দুই ওপেনার। হাত খোলা শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ওভারে। দুই ওপেনার মিলে ধীরে ধীরে আরব আমিরাতের বোলারদের ওপর চেপে বসতে শুরু করেন। একের পর এক বলকে পাঠাতে শুরু করেন বাউন্ডারির বাইরে।
তবে দুর্ভাগ্য বলতে হবে আরব আমিরাতের। সৌভাগ্য বাংলাদেশের। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আমজাদ জাভেদের বলে দু’বার ক্যাচ তুলেছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু সেই ক্যাচগুলো তালুবন্দী করতে পারেনি আমিরাতের ফিল্ডাররা। ফলে ওই যাত্রায় বেঁচে যান সৌম্য এবং মিঠুন।
তবে আমিরাতের ফিল্ডাররা ক্যাচ মিস করাতে সম্ভবত সাহস বেড়ে যায় সৌম্য সরকারের। ফিল্ডিংয়ের পজিশন না দেখেই ব্যাট চালানো শুরু করেন তারা। ফল যা হওয়ার তাই হলো। ৬ষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ শেহজাদের বলে আমজাদ জাভেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন সৌম্য।
আউট হওয়ার আগে ভালো ঝড় তুলেছিলেন তিনি। ১৪ বলে খেলেছেন ২১ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাতে বাউন্ডারি ২টি এবং ছক্কা একটি। সৌম্য আউট হয়ে যাওয়ার পর মিঠুনের সঙ্গে জুটি বাধতে মাঠে নামেন সাব্বির রহমান। গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি।
কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাস দেখাতে গিয়ে মিডউইকেটেই ক্যাচ তুলে দিলেন তিনি। ১২ বলে ৬ রান করে আউট হয়ে গেলেন সাব্বির। মোহাম্মদ মিঠুন আউট হয়েছেন একেবারের বাজেভাবে। বলতে গেলে বোকামির দণ্ডই দিলেন তিনি। ১২তম ওভারে রোহান মোস্তফার ৪র্থ বলটি ঠেকালেন তিনি। কিন্তু বলকে স্ট্যাম্পের গোড়ায় রেখে সামনে চলে আসেন। সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করলো না আরব আমিরাতের উইকেটরক্ষক স্বপ্নিল পাতিল।
পরের ওভারেই উইকেট বিলিয়ে আসলেন মুশফিকুর রহিম। মোহাম্মদ নাভেদের বলে শট খেলতে গিয়ে লাগালেন ব্যাটের কানায়। সেটাই শেষ পর্যন্ত গিয়ে জমা পড়লো উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ৮ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হয়ে গেলেন মুশফিক।

নিজেদের ফেভারিট বলছেন মালিক

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশতো বটেই, উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। বাংলাদেশেও এ ম্যাচ নিয়ে থাকে ভক্তদের মধ্যে বিপুল আগ্রহ। এবারো এমনই একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ চান দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিক। আর এ ম্যাচে পাকিস্তানকেই ফেভারিট বললেন এ অলরাউন্ডার।
বৃহস্পতিবার টিম হোটেল লা-মেরিডিয়ানে শোয়েব মালিক বলেন, ‘পাকিস্তানি হিসেবে আমিও বলবো পাকিস্তান এ ম্যাচে ফেবারিট। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে যদি ভারতের পারফরম্যান্স যদি দেখেন, তারা খুবই ভালো করছে। আমরাও প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলছি। আমরা মাত্রই পিএসএল খেলে এসেছি। আমরা ওখানে নিজেরা অংশ্রগহণ করেছি। আমি মনে করি দুই দলের আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হবে।’
সাধারণ মানুষের মতো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে খেলোয়াড়রাও উত্তেজনা বোধ করেন বলে জানান মালিক। আর সবার একটাই চাহিদা জয় থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবাই জানে যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বড় ম্যাচ। দুই দেশের মানুষ খুব আনন্দ নিয়ে ম্যাচটি উপভোগ করেন। সবাই চায় যে তাদের দলটি যেন জেতে। ক্রিকেটাররাও এ ম্যাচটি জিততে মুখিয়ে থাকে, আপ্রাণ চেষ্টা করে। এই ম্যাচটি যেরকম তৃপ্তি পাওয়া যায় সেটা দুই দলের ক্রিকেটাররাই উপভোগ করে।
ভারতের বিপক্ষে একাদশে কতজন পেসার রাখবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা অধিনায়ক বলতে পারবেন। চার পেসার না পাঁচ পেসার নিয়ে খেলবো। যেদিন ম্যাচ হবে সেদিনের পিচ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, আগামী শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ভারত ও পাকিস্তান।

তবুও ইতিবাচক দেখছেন মাশরাফি

ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বড় হারই হেরেছে বাংলাদেশ। ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ১৫ওভার ম্যাচে থাকলেও এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টাইগাররা। এই প্রথম ১৫ ওভার ম্যাচে থাকাকেই ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। পাশাপাশি সেদিনের ভুল শুধরে আগামী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিপক্ষে কী ইতিবাচক দিক পেলেন? জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, ‘কয়েকটি ইতিবাচক দিক অবশ্যই আছে। ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে আমরা ১৫ ওভার পর্যন্ত আটকে রাখতে পেরেছি। ওই পর্যন্ত আমরা ম্যাচে ছিলাম। এরপর আক্রমণ না করে ডিফেন্স করে রান আটকে রাখা যেত কিনা এই সব কিছু বিবেচনা করার আছে। এগুলো আমরা গতকাল ভুল করে গেছি। আবার ব্যাটিংয়ে সেই একই জিনিস। আমরা মনে করি ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে আটকে রাখা আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক কিছু এবং আমরা যেমন অনুশীলন করেছি এবং পরিকল্পনা করেছি। সেগুলোর বাস্তবায়ন ঠিক মতোই হচ্ছিলো। হয়তো শেষটা যেভাবে করার দরকার ছিলে সেভাবে আমরা করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ের কথা বললে বলবো দ্রুত উইকেট পড়লে একটা চাপ তৈরি হয়; ওটাই হয়েছে।’
ওয়ানডে ক্রিকেটে এগিয়ে গেলেও সে তুলনায় টি-টোয়েন্টিতে এগোতে পারছে না বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির ভাষা বুঝতে না পারার কারণ জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ঠিক পথেই আছি। টি-টোয়েন্টি এমন না যে প্রত্যেকদিন ভালো খেলা সম্ভব। আমার বিশ্বাস এভাবে করতে থাকলে আশা করি আমরা ভালো জায়গায় যেতে পারবো। হয়তো রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। আগে চিন্তা করতাম আমরা ভালো খেলতে পারি না, সেই চিন্তা-ভাবনাটা এখন আমাদের পরিবর্তন হয়েছে।’
এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে বাংলাদেশ। এরপর ঢাকার বাইরে খুলনা-চট্টগ্রামের কন্ডিশনে অনুশীলন করেছে তারা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কতটুকু সফল হল বাংলাদেশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমে বলি খুলনা এবং চট্টগ্রামে অনুশীলন করার কোন আলাদা কারণ ছিলে না। তখন যুব বিশ্বকাপ চলছিলো ঢাকাতে। কোন কিছু আসলে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমাদের অনেক কিছু আছে অর্জন করার।’
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

জয়ে শুরু শ্রীলংকার

চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা জয়ে শুরু করেছে এশিয়া কাপের মিশন। বৃহস্পতিবার মিরপুর স্টেডিয়ামে ২০ ওভারের ম্যাচে শুরুটা ভালো করলেও শেষ অবদি তাদের ইনিংস স্বস্তিদায়ক ছিল না। ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তুলতে পেরেছিল শ্রীলংকা। অবশ্য জয় তুলে নিতে অসুবিধা হয়নি। মালিঙ্গার বোলিং তোপে ১১৫ রানে আটকে যায় আরব আমিরাতের ইনিংস। তারা ৯ উইকেট হারায়। আর লংকা জয় পায় ১৪ রানে জয় পায়। মালিঙ্গা ৪ ওভার বল করে ২৬ রানে তুলে নেন ৪টি উইকেট। টি-টুয়েন্টিতে এখন তার উইকেট সংখ্যা ২৯৯টি।
দিনেশ চান্ডিমাল আর তিলকারতেœ দিলশান মিলে দুর্দান্ত একটা জুটিই গড়ে তুলেছিলেন ওপেনিং জুটিতে। তখন মনে হচ্ছিল আরব আমিরাতের সামনে বড় স্কোরই গড়ে তুলতে যাচ্ছে শ্রীলংকা। কিন্তু ৬৮ রানের জুটিটা ভেঙে পড়তেই দৈন্যদশা বেরিয়ে এলো লংকানদের। চান্ডিমালের অনবদ্য ৫০ রান সত্ত্বেও আরব আমিরাতের সামনে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করতে সম হয়েছে লংকানরা।
22222
১০ম ওভারে গিয়ে দিলশান আউট হয়ে যান ৩৬ বলে ২৭ রান করে। এরপর সিরিবর্ধনে (৬), দাসুন সানাকা (৫), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজরা (৮) আউট হয়ে যান দ্রুত। এদের মাঝেই আউট হন ৫০ রান করা চান্ডিমালও। ৩৯ বলে তিনি খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। ৭টি বাউন্ডারির সঙ্গে ১টি ছক্কার মার মারেন তিনি। শ্রীলংকার পুরো ইনিংসে এলো এই একটি মাত্র ছক্কা। সেহান জয়সুরিয়া আর চামারা কাপুগেদারারা ১০ রান করে যোগ করেন দলীয় স্কোরের সঙ্গে। না হয় ১২৯ রানও হয় না লংকানদের। আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ ২৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। মোহাম্মদ নাভেদ এবং মোহাম্মদ শেহজাদ নেন ২টি করে উইকেট।
জবাব দিতে নেমে ৪৭ রানে ৬টি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দুর্বল আমিরাত। উইকেটকিপার প্যাটেলের কল্যাণে শতরানের ইনিংস পার করে তারা। প্যাটেল ৩৬ বলে ৩৭ রান করে আউট হন। সাইমান আনোয়ার ও অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ ১৩ রান করে করেন।

টি-টোয়েন্টিতেও ঠিক পথে বাংলাদেশ: মাশরাফি

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব একটা আশা জাগানিয়া নয়। তবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার দাবি, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণেও উন্নতির সঠিক পথে আছে তার দল। ২০০৬ সালে অভিষেক টি-টেয়োন্টিতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল জয় দিয়ে। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ পেরিয়েছিল গ্রুপ পর্ব। কিন্তু তার পর থেকে আর টি-টোয়েন্টিতে উন্নতির ধারা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং সময়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের জন্য ক্রমশ হয়ে উঠেছে ধাঁধা।
৫১টি ম্যাচ খেলে মোটে ১৫টি ম্যাচ জিততে পেরেছে বাংলদেশ। জিম্বাবুয়ে ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে হারাতে পেরেছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে। গত মাসে দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ২ ম্যাচ হেরে ড্র করেছে সিরিজ। হারের স্বাদ পেতে হয়েছে এমনকি নেদারল্যান্ডস, হংকংয়ের কাছেও।
বুধবার এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও ভারতের কাছে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের অতীতের সঙ্গে এটিকে মেলাতে চান না মাশরাফি। বৃহস্পতিবার টিম হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক দাবি করেন, টি-টোয়েন্টিতেও উন্নতি করছে বাংলাদেশ। “আমরা ঠিক পথেই আছি। টি-টোয়েন্টি এমন খেলা নয় যে প্রতিদিনই ভালো খেলা সম্ভব। আমরা উন্নতি করছি। এভাবে করতে থাকলে আমার বিশ্বাস, আমরা ভালো জায়গায় যেতে পারব। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। আগে আমরা চিন্তা করতাম যে, এই ফরম্যাটে ভালো খেলি না। এখন তো এই চিন্তাটা বদলেছে আমাদের!”
এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার আশা এখনও ছাড়ছেন না অধিনায়ক। “প্রথম ম্যাচে আমরা পারিনি তবে সামনে আরও অন্তত তিনটি ম্যাচ আছে। অবশ্যই একটি করে ম্যাচ ভাবতে হবে আমাদের। আমরা যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলছি, যে মানসিকতা ছিল, সেটা ধরে রাখতে পারলে আমরা ভালো কিছু করতে পারব বলে আশা করি।”

ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন সাকিব-মুশফিক

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন এখনও গুঁড়িয়ে যায়নি টাইগারদের। কঠিন হলেও নিজেদের পরের ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশ এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে সংযুক্ত আর আমিরাতের বিপক্ষে। চলতি টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে ২৬ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টাইগারদের মুখোমুখি হবে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা আমিরাত। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
বল হাতে ভারতের বিপক্ষে ৩ ওভারে ১৫ রান খরচ করে সাকিব একটি উইকেট পান। ১৬ বলে ১৫ রান করা যুবরাজ সিংকে সাজঘরে ফেরান সাকিব। ফিল্ডিংয়ে রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলে দিয়ে সমালোচনার ঝড়ে পড়েন তিনি। ব্যাট হাতে এর উপযুক্ত জবাব দিতে পারতেন টাইগারদের সেরা অলরাউন্ডার। তবে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে উইকেটে পিছলে পড়ে রান আউট হওয়ার আগে ৮ বলে তিনি করেন মাত্র ৩ রান।
এশিয়া কাপের প্রথম মিশনে ভারতের বিপক্ষে ৪৫ রানে হেরে গেলেও সাকিব তার ভক্ত-সমর্থকদের আশ্বাস দিয়ে জানান, ‘আমরা আবারো আসব দৃঢ় প্রত্যয়ে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে!’
সাকিব তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে কোটি কোটি টাইগার সমর্থকদের আশার বানী শোনান। ভারতের বিপক্ষে ১৭ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকা মুশফিক তার পেজে জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ৪৫ রানের ব্যবধানে হেরেছে। আমরা খেলেছি টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে। পরের ম্যাচেই আমরা পূর্ণশক্তিতে ফিরে আসব, ইনশাল্লাহ।’
আরব আমিরাতের পর বাংলাদেশ তাদের পরের ম্যাচে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২৮ ফেব্রুয়ারি লঙ্কানদের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা। আর ০২ মার্চ মাশরাফি-মুশফিক-সাকিব-মুস্তাফিজ-সৌম্যদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বিরল রেকর্ড

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া এক বিরল রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে এ রেকর্ডটি মূলত টিম ইন্ডিয়ার বোলাররাই সৃষ্টি করে। ম্যাচে টাইগারদের ৪৫ রানে হারায় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
আগে ব্যাট করে রোহিত শর্মার ৮৩ রানের উপর ভর করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান তোলে। জবাবে, ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১২১ রানে।
টাইগারদের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভার করে বোলিং করে প্রত্যেকে ১০ ইকোনমি রেটে দেন ৪০ রান। মাশরাফি একটি উইকেট পেলেও মুস্তাফিজ শিশির ভেজা মাঠে বল ঠিকমতো গ্রিপ করতে না পারায় উইকেটের দেখা পাননি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে টিম ইন্ডিয়ার দলপতি মহেন্দ্র সিং ধোনি পাঁচজন বোলার ব্যবহার করেন। প্রত্যেকে ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে নিজেদের বোলিং কোটা শেষ করেন। এর মাঝে চার বোলারই প্রত্যেকে ২৩ রান খরচ করেন। শুধুমাত্র বামহাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ২৫ রান খরচ করেন। নয়তো একই ম্যাচে পাঁচ বোলারের ইকোনমি রেট একই হতে পারতো। তবে, চার বোলার নিজেদের বোলিং কোটা একই ইকোনমি রেটে শেষ করে বিরল রেকর্ডটি গড়েছেন।
ইনিংসের শেষ ওভারে জাদেজা দুটি ওয়াইড না দিলে পাঁচ বোলারের ইকোনমি রেট একই হতো।
আশিস নেহারা, জাসপ্রিত বুমরাহ, হারদিক পান্ডে এবং রবীচন্দ্রন অশ্বিন প্রত্যেকে ৪ ওভার বল করে আর ৫.৭৫ ইকোনমি রেটে ২৩ রান খরচ করে বাংলাদেশের ছয় ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠান। একমাত্র জাদেজা ৬.২৫ ইকোনমি রেটে ২৫ রান খরচায় কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেননি। সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন নেহারা। একটি করে উইকেট পান বুমরাহ, অশ্বিন এবং পান্ডে।

শ্রীলঙ্কার সামনে আরব আমিরাত

বাছাইপর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে এশিয়া কাপের মূলপর্বে উঠে চমক দেখিয়েছে আরব আমিরাত। এশিয়া কাপের ১৩তম আসরের চূড়ান্ত পর্বে পঞ্চম দল হিসেবে অনেকেই ধরে রেখেছিলেন আফগানিস্তানকে। কিন্ত সবাইকে একরকম তাক লাগিয়েই মূলপর্বে উঠে এসেছে তারা।
মূলপর্বের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রথম ম্যাচেই আমিরাতের প্রতিপক্ষ এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা-আমিরাত ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
সামর্থ্যের বিচারে আমিরাতের চেয়ে সব বিভাগেই এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। তবে খেলাটি যেহেতু টি-টোয়েন্টি, আমিরাত চাইবে অঘটন ঘটাতে। বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে যেভাবে ব্যাট-বলের দাপট দেখিয়েছে তারা, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে রোমাঞ্চকর হয়ে উঠতে পারে আজকের ম্যাচটি। পাঁচবারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা অবশ্য চাইবে না ম্যাচে আমিরাতকে জ্বলে ওঠার কোনো সুযোগ দিতে।
লাসিথ মালিঙ্গার নেতৃত্বে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা দল। মালিঙ্গা দলে থাকায় পেস আক্রমণ অনেক শক্তিশালী হয়েছে দলটির। বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথও ফিরেছেন। টপঅর্ডারে তিলকারত্মে দিলশান, দিনেশ চান্দিমাল, চামারা কাপুগেদারা আছেন। আর অলরাউন্ডার হিসেবে স্কোয়াডে আছেন থিসারা পেরেরা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।

ক্যাচ মিস খেলারই অংশ: মাশরাফি

ভারতের ব্যাটিং ইনিংসের ১১তম ওভারের তৃতীয় বলটি বেশ ভালই ডেলিভারি দিয়েছিলেন তাসকিন। ভারতের ইনফর্ম ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মার তখন ব্যক্তিগত সংগ্রহ মাত্র ২১ রান আর ভারতের দলীয় সংগ্রহ ৫২ রান।
তাসকিনের সেই বলটি খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন রোহিত, সেখানে তখন ফিল্ডিং করছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু ক্যাচটি নিতে না পারায় জীবন পান রোহিত। আর তারপরেই শুরু হয় তার ব্যাটিং ঝড়।
সেই ঝড় চলে ২০তম ওভার পর্যন্ত। আর রোহিত খেলেন ৫৫ বলে ৮৩ রানের এক বিষ্ফোরক ইনিংস। ফলে ভারতের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৬ রান। রোহিত ওই সময় আউট হয়ে গেলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘অবশ্যই রোহিতের ক্যাচটি সাকিব নিতে পারলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। তবে, ক্যাচ মিস খেলারই একটি অংশ।’
ভারত বাংলাদেশকে যে লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিল তা অতিক্রম করা কঠিন হলেও অসম্ভব ছিলনা বলেও মত দিলেন মাশরাফি।
এদিকে, ম্যাচে সতীর্থদর বোলিং-ব্যাটিংও আশানুরুপ ছিলনা তাই হারতে হয়েছে বলেও মত মাশরাফির, ‘আমাদের ব্যাটিং খু্ব বেশি ভাল ছিলনা। অল্প রানেই বেশ কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় আমরা ব্যাটিংয়ে ততটা জ্বলে উঠতে পারিনি। আর ১২ ওভারের পর ডিউ ফ্যাক্টর শুরু হওয়ায় আমাদের বোলাররা বল গ্রিপ করতে পারেনি। তাই শেষের ১০ ওভারে রান একটু বেশিই দেয়া হয়ে গেছে।’
এর বাইরে আরও একটি বিষয়কে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন টাইগার দলপতি। আর সেটি হলো, মাঠে পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করতে না পারা। তিনি জানান, ‘আমরা আমাদের ম্যাচ পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন মাঠে করতে পারিনি, তাই ফলাফল এমন হয়েছে।’
তবে, প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে হারের বিস্মৃতি পরের ম্যাচ দিয়েই ভুলতে চাইছেন ম্যাশ। শুধু তাই নয়, এই ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন টাইগার দলপতি।

রোহিত স্পেশাল একটা ইনিংস খেলেছে: ধোনি

বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে শুরুতে বেশ বড় এক ধাক্কাই খেয়েছিল ভারত। সেখান থেকে রোহিত শর্মা একাই টেনে নেন দলকে। তার ৫৫ বলে ৮৩ রানের ইনিংসে ১৬৬ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে ভারত। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের তরতাজা ঘাসের উইকেটে এ রান যে যথেষ্ট-ই তার প্রমাণ বাংলাদেশের স্কোরকার্ড। ২০ ওভারে সাত উইকেটে বাংলাদেশ থামে ১২১ রানে।
৪৫ রানের জয় নিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করা ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ম্যাচ শেষে পুরো কৃতিত্বটা রোহিতকেই দিলেন। ধোনি জানান, উইকেটে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। শুরুতে আমরা বেশ চাপেই পড়ে গিয়েছিলাম তিন উইকেট হারিয়ে। সেখান থেকে রোহিত স্পেশাল একটা ইনিংস খেলেছে। অমন ইনিংস ম্যাচের ওই সময়টায় খুব প্রয়োজন ছিল।
ভারতের লড়াকু পুঁজি গড়তে অবদান রেখেছেন ৬ নম্বরে নামা হারদিক পান্ডে। রোহিতের সঙ্গে উইকেটে থেকে ১৮ বলে ৩১ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। হারদিকের প্রশংসা করতেও ভোলেননি ক্যাপ্টেন কুল খ্যাত মহেন্দ্র সিং ধোনি, ‘হারদিককে বলা হয়েছিল ব্যাট চালিয়ে খেলতে। সে দারুণভাবেই সেটি করতে পেরেছে। তার ভেতরে বেশ সম্ভাবনা আছে ভবিষ্যতেও ভালো করার।’

উইকেটশূন্য থাকলেন মুস্তাফিজ

ভারতের বিপক্ষ দিয়েই উত্থান বাংলাদেশের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমানের। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন তিনি। তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট তুলে প্রথমবারেরমত বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ। তাই এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সেই ভারতের বিপক্ষে মুস্তাফিজকে নিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তদের প্রত্যাশার পারদ ছিল অনেক উঁচুতে; কিন্তু এদিন উইকেটশূন্য থেকে হতাশ করেছেন এ পেসার।
সিরিজের আগেই ভারতীয় শিবির জানিয়েছিল এবার তারা মুস্তাফিজকে স্টাডি করেই এসেছে। এর প্রমাণ রাখলেন তারা। আগের সিরিজের হারের ক্ষত মুছতে মুস্তাফিজকেই মেরেছেন বেশি। এদিন চার ওভার বল করে সর্বোচ্চ ৪০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থেকেছেন মুস্তাফিজ। যদিও চার ওভার বল করে সমানসংখ্যক রান দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফিও। তবে একটি উইকেট পেয়েছেন তিনি।
এদিন ভারতের মোট পাঁচটি ছক্কার দুটি ছক্কাই এসেছে মুস্তাফিজের বল থেকে। নিজের তৃতীয় ওভারেই এই ছক্কা দুটির একটি মারেন রোহিত অপরটি পাণ্ডে। দলীয় ১৭তম ওভারেই তিনি মোট ২১ রান দেন।

ভারতের বিরুদ্ধে জয় অধরাই টাইগারদের

টি-টুয়েন্টিতে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো না। এর আগে দুই বিশ্বকাপে ক্রিকেটের নতুন এই ভার্সনে মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা। প্রথমবার ২০০৯ আর দ্বিতীয়বার ২০১৪ সালে। দু’টিতেই হারতে হয় যথাক্রমে ২৫ রান ও ৮ উইকেটে। পরিসংখ্যান যাই হোক, বাংলাদেশ কিন্তু বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতীয়দের মুখোমুখি হয়েছিল জয়ের প্রত্যাশায়। কারণও ছিল যথেষ্ট। গত বছর এই ভারতীয় দলকেই ওয়ানডে সিরিজে হারায় মাশরাফিবাহিনী। তাই মনোবল ছিল দৃঢ়। কিন্তু ওয়ানডের সেই সাফল্য টি-টুয়েন্টির কাজে আসেনি। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে যথারীতি ভারতের কাছে হেরেছে ৪৫ রানে।
এইবারই প্রথম এশিয়া কাপ ক্রিকেট টি-টুয়েন্টি ফরমেটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আল আমিন-মুস্তাফিজ-মাশরাফির বোলিংয়ে শুরুতে বেগ পেতে হলেও রোহিত শর্মার অনবদ্য ব্যাটিং ভারতকে লড়াইয়ে পুঁজি এনে দেয়। ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান তোলে। সাকিব আল হাসানের ক্যাচ মিসের কারণে জীবন পাওয়া রোহিত ৫৫ বলে ৮৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
১৬৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে কখনি ম্যাচে স্বস্তিতে ছিল না স্বাগতিক বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন ঘটে। একমাত্র সাব্বির হোসেন কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার ৩২ বলে ৪৪ রানের কারণেই মূলত বাংলাদেশ শতরানের গন্ডি পেরিয়েছে। পুরো ২০ ওভার খেলে ৭ উইকেটে ১২১ রান পর্যন্ত যায় বাংলাদেশের ইনিংস। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ১৬ আর বোলার তাসকিন ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকারের সঙ্গে মিঠুনকেই নামানো হয় মাঠে। ইমরুল কায়েসকে বসিয়ে রাখা হয় পরের দিকে ব্যাট করার জন্য। কিন্তু মিঠুন তার ওপর আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে গেলেন আশিস নেহরার বলে। ৩ বল খেলে করলেন মাত্র ১ রান। পরের বলেও অবশ্য আউটের জোরালো আবেদন উঠেছিল। কিন্তু সাব্বির রহমান এ যাত্রায় বেঁচে যান। সাব্বির বাঁচলেও পরের ওভারে বুমরাহর বলে বাঁচতে পারলেন না সৌম্য সরকার। চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য। ১৪ বলে ১১ রান করেন তিনি। ১৫ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চরম বিপদে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন ইমরুল কায়েস এবং সাব্বির রহমান। যদিও এ দু’জনের স্লো ব্যাটিং ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে পরাজয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। কারণ, ৯ ওভারে ৪৮ রান কোনভাবেই জয়ের মানসিকতা তৈরী করে না। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ১৪ রানের ‘টেস্ট ইনিংস’ খেলে আউট হলেন ইমরুল কায়েস। ১০ম ওভারের ৫ম বলে গিয়ে রবিচন্দ্র অশ্বিনের বলে যুবরাজ সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ইমরুল কায়েস।
গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের মতো আবারও বাংলাদেশকে ভোগালেন রোহিত শর্মা। সবুজ উইকেটে ফায়দা পুরোপুরি তুলতে পারল না বাংলাদেশের বোলাররা। গত মার্চে মেলবোর্নে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার-ফাইনালে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলা রোহিত এবার করেছেন ৫৫ বলে ৮৩! ইনিংসের একাদশ ওভারে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান রোহিত। রান ছিল তখন তার ২৮ বলে ২১। পরের ২৭ বলে তিনি করেছেন ৬২ রান!
উইকেট-কন্ডিশন পেস বোলিংয়ের জন্য ছিল আদর্শ। ঢাকায় সকাল থেকেই ছিল মেঘ-রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি। টসের সময়ও আকাশ ছিল মেঘলা, বাতাস ভেজা; উইকেট ঘাসে ভরা। টস জিতে বোলিং বেছে নিতে সময় নেননি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বল হাতে শুরুটাও ছিল কাক্সিক্ষত, কিন্তু ধরে রাখা যায়নি সেই ধারা।
বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন আল আমিন হোসেন। ভেতরে ঢোকা বল শিখর ধাওয়ানের (২) ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে উড়িয়ে দেয় স্টাম্প। উইকেটে গিয়েই ব্যাটের কানায় লেগে চার পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি। পরের ওভারে বেশ কবার ব্যর্থ হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমানকে তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে। শেষ পর্য্ত ভারতের সেরা ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাশরাফির একটু বাড়তি লাফানো বল তুলে মারতে গিয়ে কোহলি (৮) ক্যাচ দিয়েছেন মিড অফে। বাঁহাতি সুরেশ রায়নার জন্য অফ স্পিনার মাহমুদউল্লাহকে সাকিবের আগেই বোলিংয়ে আনেন মাশরাফি। কাজেও লেগে যায় মাশরাফির ভাবনা। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসা রায়নাকে খানিকটা ভেতরে ঢোকা ফাইটেড বলে বিভ্রান্ত করে বোল্ড করেন মাহমুদউল্লাহ (১৩)। ৪২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন কম্পমান ভারত। নড়বড়ে সেই ভিত শক্ত হয় রোহিত-যুবরাজের জুটিতে। যুবরাজের অবদান ছিল তাতে সামান্যই, শুধু সঙ্গ দিয়ে গেছেন। আরেক প্রান্তে দারুণ সব শটের পসরা মেলে ধরেছিলেন রোহিত। যদিও ক্যাচ দিয়েও রোহিত পার পেয়েছে ঝড় তোলার আগেই। তাসকিনের বলে পয়েন্টে রোহিতের ক্যাচ ছেড়েছেন সাকিব। জীবন পেয়ে ব্যাটের গতিই পাল্টে যায় তার। পরের তিন বলেই চার-ছক্কা-চার! যুবরাজকে (১৫) ফিরিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। কিন্তু রোহিত ব্যাট চালিয়ে যেতে থাকেন। আর দারুণ সব শটে বাংলাদেশের বোলিং এলোমেলো করে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। মুস্তাফিজের এক ওভারে দুজন নেন ২১ রান। মাত্র ২৭ বলে ৬১ রানের জুটি গড়েন দুজন। দুজনই আউট হয়েছেন আল আমিনের করা ইনিংসের শেষ ওভারে। সৌম্য সরকারের দারুণ ক্যাচে ফিরেছেন রোহিত। ১৮ বলে ৩১ করে লং অনে ক্যাচ দেন পান্ডিয়া। শেষ বলের ছক্কায় ইনিংস শেষ করে ধোনি। শুরুর সব অস্বস্তি কাটিয়ে ভারত তখন স্বস্তির স্কোরে!
বাংলাদেশের আল আমিন নিয়েছেন ৩ উইকেট; মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব একটি করে।

এবার যুবরাজকে ফেরালেন সাকিব

আল আমিন হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সাঁড়াসি আক্রমণের মুখে কোনঠাসা হয়ে পড়ার পর যুবরাজ সিংকে নিয়ে ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরেছিলেন রোহিত শর্মা। তবে ৫৫ রানের এই জুটিতে অবশেষে ভাঙন ধরাতে পেরেছেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের ১৫তম ওভারে এসে সাকিব আল হাসানকে খেলতে গিয়ে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন যুবরাজ সিং। ১৬ বলে ১৫ রানে ফিরে গেলেন ভারতের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
এর আগে ৮ম ওভারে ভারতীয় ইনিংসে আঘাত হেনেছিলেন মাহমদুল্লাহ রিয়াদ। নিয়মিত স্পিনার সাকিব আল হাসানকে আক্রমণে না এনে মাশরাফি আক্রমণে নিয়ে আসলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। অকেশনাল এই অফ স্টিনারের ঘূর্ণি ফাঁদ বুঝতেই পারলেন না ক্রমে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ভারতের ব্যাটসম্যান সুরেষ রায়না। ইনিংসের অষ্টম ওভারে বোল্ড করে মাহমুদুল্লাহ প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দিলেন রায়নাকে।
এর আগে ভারতের ইনিংসে আঘাত হেনেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এবার তিনি ফিরিয়ে দিলেন বিরাট কোহলিকে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলেই মাশরাফির বল খেলতে গিয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কোহলি। ১২ বল খেলে ৮ রান করেন তিনি।
এর আগে টস জিতে কেন বাংলাদেশ ফিল্ডিং নিলো, সেটা প্রমাণ করে দিলেন পেসার আল আমিন হোসেন। মিরপুরের ঘাসের উইকেটে যে ভারতের জন্য ফাঁদ ছড়িয়ে রেখেছে বাংলাদেশ, সেটা হাঁড়ে হাঁড়েই টের পাচ্ছে ভারতীয়রা। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের ইনসুইঙ্গারে রীতিমত ভুগতে হয়েছে তাদের।
দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসেই ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দিলেন আল আমিন হোসেন। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই ভারত ওপেনারকে বোল্ড করে দিলেন আল আমিন। আল আমিনের দুর্দান্ত সুইংয়ে কুপোকাত ভারতের মারমুখি এই ওপেনার।
এ রিপোর্ট লেখার সময় ভারতের রান ১৫.৩ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান। উইকেটে রয়েছেন রোহিত শর্মা ৫৮ এবং ১ রানে হার্দিক পাণ্ডে।

এমন উইকেট কখনও দেখা যায়নি মিরপুরে!

অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাই বলে থাকেন, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও স্পিন মোকাবেলা করতে পারেন; কিন্তু ঘাসের বাউন্সি উইকেটে ঠিক তার বিপরীত। এটা ভেবেই কি না এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের উইকেট পুরো ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বলা যায়, বিরাট কোহলিদের জন্য মিরপুরে সবুজের ফাঁদ তৈরী করেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে এতো ঘাস, সর্বশেষ কবে কে দেখেছিল- সঠিককরে কেউ তা বলতে পারলো না।
গত বছর জুনে, সর্বশেষ ভারত সিরিজে চার পেসার নিয়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। সে ভাবনা থেকেই ঘরের মাঠে কিছুটা সুবিধা নিতে উইকেটের ঘাস ছাঁটা হয়নি। উইকেট বিবেচনাতেই সম্ভবত বাংলাদেশ বোলিংয়ে পেস শক্তি বাড়াতে পারে। মাশরাফির দলে রয়েছেন পাঁচ পেসার। বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিতে তাই ঘাসের উইকেটই পেলো টাইগাররা।
বরাবরই মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট অনেকটা ন্যাড়াই থাকে; কিন্তু গত কয়েকটি সিরিজ থেকেই কিছুটা পেস সহায়ক উইকেট পাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াতে স্পোর্টিং উইকেটে ভালো খেলার পর থেকেই এমন উইকেটে মানিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। তাই এশিয়াকা পের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘাসের উইকেটেই ভারত বধ করতে চায় মাশরাফি অ্যান্ড কোং।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৬৭ রান

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ২০ ওভারে ১৬৬/৬
সবুজ উইকেটে প্রথম বল থেকে ভারতের ব্যাটসম্যানের পরীক্ষায় ফেলা বাংলাদেশকে প্রথম উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন আল আমিন।
ভেতরে ঢোকা লেংথ বল শিখর ধাওয়ানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্পে আঘাত হানলে উল্লাসে মাতে শের-ই-বাংলার গ্যালারি।
পঞ্চম ওভারে বোলিং এসেই উইকেট পেতে পারতেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে কোনোমতে বেঁচে যান রোহিত শর্মা। তবে উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মাশরাফিকে। তৃতীয় বলেই আঘাত হানেন তিনি। টাইমিংয়ে গড়বড় করে মিড অফে মাহমুদউল্লাহকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ভারতের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা বিরাট কোহলি (৮)।
বিপজ্জনক সুরেশ রায়নাকে ফেরাতে মাশরাফি বিন মুর্তজার কৌশল কাজে লাগে। বিশেষজ্ঞ স্পিনার সাকিব আল হাসানকে না এনে প্রথম স্পিনার হিসেবে মাহমদুউল্লাহকে আক্রমণে আনেন তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই রায়নাকে বোল্ড করেন এই অফ স্পিন অলরাউন্ডার। এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন রায়না (১৩)। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর ধীর গতির বল তার ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে মিডল স্টাম্পে আঘাত হানে।
আবার বেঁচে গেলেন রোহিত শর্মা। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে ডিপ মিডউইকেটে সাকিব আল হাসানকে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। সেবার সময় মতো জায়গায় পৌঁছতে পারেননি সাকিব। সেই ভুল পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসেছিল সাকিবের সামনে। তাসকিন আহমেদের বলে পয়েন্টে সরাসরি আসা ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। তাসকিনের সেই ওভারের পরের তিন বলে ১৪ রান নেন রোহিত। এর মধ্যে একটি চার আসে আল আমিন হোসেনের পায়ের ফাঁক গলে।
রোহিত শর্মা-যুবরাজ সিংয়ের বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভেঙেছেন সাকিব আল হাসান। তার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে সৌম্য সরকারের তালুবন্দি হন যুবরাজ (১৫)। ভারতের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করার পথে রোহিতের সঙ্গে অর্ধশত রানের জুটি উপহার দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
চমৎকার এক ক্যাচে বিদায় নিয়েছেন রোহিত শর্মা (৮৩)। আল আমিন হোসেনের শেষ ওভারে অনেকটা সামনে ঝাঁপিয়ে বল তালুবন্দি করেন সৌম্য সরকার।
এক বল পরে আবার আঘাত হানেন আল আমিন। তার বলে লংঅনে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান হার্দিক পান্ডিয়া (৩১)। ঢাকায় সকাল থেকেই ছিল মেঘ-রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি। সময়মত খেলা শুরু হওয়া নিয়েই ছিল শঙ্কা। তবে বিকেল থেকে আর বৃষ্টি না হওয়ায় টস হয়েছে সময়মতোই। আকাশ মেঘলা, বাতাস ভেজা; উইকেট সবুজাভ। উইকেট-কন্ডিশনে নতুন রূপে মিরপুর শের-ই-বাংলা! টস জিতে তাই বোলিং বেছে নিতে ভাবতে হয়নি বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার।
চমক জাগানিয়া ছিল মিরপুরের উইকেট। উইকেটে তরতাজা ঘাস! মিরপুরের উইকেট এত সবুজ আগে কখনো দেখা গেছে কিনা সন্দেহ।
বাংলাদেশ অনুমিতভাবেই খেলছে চার পেসার নিয়ে। মাশরাফির সঙ্গে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও আল আমিন হোসেন। আর সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংস শুরু করবেন ইমরুল কায়েস। খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত টস করেছেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।

ম্যাচ শুরুর অপেক্ষায় মিরপুর, মাঠে টাইগাররা

বৃষ্টির আনাগোনা কাটিয়ে সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়েছে মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। বৈরী আবহাওয়ার রেশ কেটে যাওয়ায় এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ (বাংলাদেশ-ভারত) দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা। দিনের চেয়ে এখন মিরপুরের আকাশ অনেকটাই পরিষ্কার।
ফলে বৃষ্টির আশঙ্কায় ঢেকে রাখা মাঠের কাভারগুলো উঠতে শুরু করেছে। কাভার সরিয়ে সেখানে পরিচর্যার কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ দল স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছে। হালকা করে কিছুটা অনুশীলনের অপেক্ষায় টাইগাররা।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোদের দেখা মেলে। ফলে দর্শদের হতাশাও ফুরিয়েছে। প্রিয় দল বাংলাদেশ ও প্রিয় খেলোয়াড় মাশরাফি, সাকিব, সৌম্য ও মুস্তাফিজের খেলা দেখার অধীর অপেক্ষায় দর্শকেরা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি।
দুপুরের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে দর্শক মনে শঙ্কা জাগে। এমন অবস্থায় একজনকে জিজ্ঞস করা হয়, মেঘলা আবহাওয়া কেমন লাগছে। উত্তরে জানালেন, ‘আমি পূর্ব দিকের গ্যালারির টিকিট কিনেছি তাই ভয়ই পাচ্ছি। কারণ বৃষ্টি শুরু হলে আমি ভিজে যাব। তাছাড়া খেলার মুল মজাটাও কমে যাবে। দোয়া করছি যেন বৃষ্টি না হয়।’
এদিকে মিরপুরে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচেই পতাকা বিক্রেতারা পতাকা, রাবার ব্যান্ড হাতে পসরা সাজান। আজ তাদেরও কিছুটা অলস দেখা গেল। বৃষ্টির ভয়ে তারাও রাস্তা বা স্টেডিয়ামের গেট ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন দোকানের ছাউনির নিচে। তবে দু একজন অবশ্য এখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ‘পতাকা…এই পতাকা’ বলে হাঁক দিচ্ছেন। খেলার মাঝে বৃষ্টি আর বাধ সাধবেনা এমনই প্রত্যাশা তাদের।

‘চাপের মুখে’ অবসর নেবেন না আফ্রিদি

টি-২০ বিশ্বকাপ শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেবেন। কথাটা আগেই বলেছিলেন শহীদ আফ্রিদি। তবে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের ‘চাপের মুখে’ নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
আগামী ১ মার্চ ৩৬-এ পা দেবেন ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম তারকা অলরাউন্ডার আফ্রিদি। পাকিস্তানের জার্সি গায়ে তিনি এখন শুধু টি-২০ ফরমেটে খেলছেন। ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ (৮ মার্চ শুরু) শেষে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও এবার তা পুনর্বিবেচনা করছেন ‘বুমবুম’ আফ্রিদি।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আফ্রিদি বলেন, ‘আমার ওপর অনেক চাপ আসছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে যাওয়াটা ঠিক হবে না। সেক্ষেত্রে আমি খেলতে পারি। এখনো কোনো সত্যিকারের প্রতিভা পাকিস্তান ক্রিকেটে আসেনি যার যায়গাটা আমি নিচ্ছি।’
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক যোগ করেন, ‘বর্তমানে আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব সহ সিনিয়ররাও অনেক প্রেসার দিচ্ছে। আমি টি-২০ থেকে অবসর নিই এটা কেউই চাচ্ছে না। এটা বিশাল চাপ। এখন সত্যিকার অর্থে আমি শুধু বিশ্বকাপেই চোখ রাখছি। এটা আমার জন্য একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।’
বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল নিয়ে আশাবাদী আফ্রিদি, ‘প্রথমেই আমি দেখতে চাই, পাকিস্তান বিশ্বকাপের কোন অবস্থানে দাঁড়াবে। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমি প্রস্তুত। নিজেকে নিয়েও বিশ্লেষণ করতে চাই। নিজের ফিটনেস নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। এখানে এনার্জি নিয়ে খেলার বিকল্প নেই। আমি ক্রিকেটটা উপভোগ করছি। কিন্তু, বিশ্বকাপ শেষেই সবকিছু (অবসর প্রসঙ্গ) পরিষ্কারভাবে বলতে পারবো।’
এদিকে, বিশ্বকাপের আগে আফ্রিদির নেতৃত্বে এশিয়া কাপ মিশনে মাঠে নামবে পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। আগামী শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা

আর কয়েক ঘণ্টা পরই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। তবে এ মুহূর্তে মিরপুরে হালকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টির চোখ রাঙানি থাকবে-এমন আভাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া পূর্বাভাসের প্রতিফলন ঘটে গতকাল রাতেই। রাত দুইটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মিরপুরে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হয়।
মধ্যরাতের বৃষ্টির পর সকাল থেকে দুপুর অবধি পুরো মাঠ ত্রিপলে ঢেকে রাখা হয়। দুপুর দুইটার দিকে গ্রাউন্ডসম্যানরা কাভার তোলার জন্য প্রস্তুতি নিতেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় মিরপুরে। পরে আবারও ত্রিপলে আবৃত করা হয় পুরো মাঠ।
সকালে ঢাকায় একপশলা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বালী লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। তারা জানায়, মৌসুমি বায়ু ঊর্ধ্বগামী হওয়ার কারণেও বৃষ্টি হচ্ছে। রংপুর ছাড়া সব বিভাগেই কম বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ধরনের বৃষ্টি পরিমাপযোগ্য নয়। মৌসুমে শুরুতে এ ধরনের বৃষ্টি এটাই প্রথম। রাতের দিকে আবারও কিছুটা হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু আজই নয়; বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে পারে আগামীকালও। বৃষ্টি বাধায় পড়তে পারে বৃহস্পতিবারের শ্রীলঙ্কা-আরব আমিরাতের ম্যাচও।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি

রাত পোহালেই মিরপুরে শুরু হবে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আসর। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে মোকাবেলা করবে ভারত। দারুণ উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচটি দেখতে ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ক্রিকেট ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনতে পারে বৃষ্টি। কেননা বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকা আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে কীনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আজ রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আর ঢাকায় আগামীকাল দুপুরের পর ঝড়ো বাতাসসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।’
এশিয়া কাপে বৃষ্টির বাগড়া প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান ‘শুধু আগামীকালই নয়, বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে পরের দিনও। তাহলে যা দাঁড়াচ্ছে সেটা হলো, বৃষ্টি বাধায় পণ্ড হতে পারে বৃহস্পতিবারের (২৫ ফেব্রুয়ারি) ম্যাচও।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা ও আরব আমিরাতের মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

অামিরের ভূয়সী প্রশংসায় কোহলি

পাকিস্তান দলে মোহাম্মদ আমিরের প্রত্যাবর্তনকে ভালো চোখেই দেখছেন বিরাট কোহলি। শুধু তাই নয়, প্রতিভাবান এ বোলারকে রীতিমতো প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত মাসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন ২৩ বছর বয়সী এ বাঁহাতি পেসার।
আর ক’দিন বাদে‌ই এশিয়া কাপের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে টিম ইন্ডিয়া। এরই সুবাদে ব্যাট হাতে হয়তো আমিরকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন কোহলি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৭টায় হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে।
পাকিস্তানের বাইরে খুব কম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারই আছেন, যারা আমিরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কোহলি এই স্বল্প তালিকার একজন। আমির প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘অামিরকে জাতীয় দলে ফিরতে দেখে আমি খুশি। এটা ভালো যে, সে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সংশোধন করেছে। আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি, আমির একজন বিশ্বমানের বোলার।’ এক সাক্ষাৎকারে নিজের এমন অভিব্যক্তিই প্রকাশ করেন কোহলি।
ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক যোগ করেন, ‘আমির পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে। জাতীয় দলে ফিরতে সে অনেক কঠোর পরিশ্রম করে। ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবেই সে বিশ্বসেরা তিনজন বোলারদের মধ্যে একজন হবে। তার মধ্যে অনেক প্রতিভা রয়েছে। পেস, বাউন্সের পাশাপাশি ভালো ইয়র্কার দিতেও সক্ষম। আমিরের জন্য আমার শুভকামনা থাকবে।’
এদিকে, পাকিস্তান ম্যাচ প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললে ভিন্নরকম কোনো অনুভূতি হয় না। এটা ক্রিকেটের অন্য সব ম্যাচের মতোই। অন্যান্য প্রতিপক্ষদেরও আমি একই চোখে দেখি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা নিশ্চিতভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এ ম্যাচটিকে ঘিরে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা থাকলেও খেলোয়াড়রা অন্য ম্যাচের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।

বুধবার আসছে পাকিস্তান, প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ভারত

এশিয়া কাপ আয়োজনের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে হয়ে গেল ট্রফি উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতাও। ২৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাঠের লড়াই।
এশিয়া কাপে অংশ নিতে ভারত, শ্রীলঙ্কা এসেছে আগেভাগেই। বাছাইপর্ব খেলতে আরব আমিরাত তো ঢাকায় আছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। বাকী কেবল পাকিস্তান। তারা আসছে বুধবার সন্ধ্যায়। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চড়ে আফ্রিদি-শোয়েব মালিকদের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।
দুবাইয়ে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) অংশ নেওয়ার কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আসছেন একটু দেরিতে। এ বিলম্বে অবশ্য বিঘ্ন করছে না কোনো কিছু। কারণ, তাদের প্রথম ম্যাচ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ভারতের বিপক্ষে। ঢাকায় পৌঁছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির সময় পাবেন পাক্কা দুই দিন।
পাকিস্তান দল ঢাকায় পা রাখার আগেই অবশ্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে উত্তাপ শুরু হয়ে গেছে ক্রিকেট মহলে। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় দলের টপঅর্ডারের হার্টথ্রুব বিরাট কোহলির কাছে এলো ২৭ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্ন। কোহলি জানালেন, রোমাঞ্চকর একটি ম্যাচই হবে মিরপুরে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘পাকিস্তান শক্তিশালী দল। আশা করি ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। দুই দলের স্কিলই খুব ভালো। এ কারণে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ম্যাচে। মাঠের বাইরে বেশ উত্তাপ থাকবে দর্শকদের মাঝে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কি হয় না হয় এমন ভাবণায় আচ্ছন্ন থাকবে সবাই। তবে মাঠে আমরা কেবল ক্রিকেটটাই খেলবো।’
এশিয়া কাপ শুরুর আগে পাকিস্তান স্কোয়াডে আনা হয়েছে তিনটি পরিবর্তন। বাবর আজম ও রুম্মান রাইসের ইনজুরিতে এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলে এসেছেন ব্যাটসম্যান শারজিল খান ও ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ সামি। এ দু’জন ছাড়াও ইফতেখার আহমেদের পরিবর্তে নেওয়া হয়েছে ব্যাটসম্যান খালিদ লতিফকে। নতুন অন্তর্ভূক্ত করা তিন ক্রিকেটারই পিএসএলে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন।
পাকিস্তান স্কোয়াড: শহীদ আফ্রিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, সরফরাজ আহমেদ (উইকেটরক্ষক), ইমাদ ওয়াসিম, আনোয়ার আলী, শারজিল খান, মোহাম্মদ নেওয়াজ, মোহাম্মদ আমির, খালিদ লতিফ, মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ সামি, ওয়াহাব রিয়াজ ও খুররম মনজুর।

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে এশিয়া কাপ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে শুরু হবে ‘এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১৬’। এশিয়ার ৫টি দেশ; বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আরব আমিরাতের অংশগ্রহণে ক্রিকেটের এই মেগা ইভেন্টকে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা প্রধান মেজর (অব:) হোসেইন ইমাম এশিয়া কাপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জানান, ‘সদ্য শেষ হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের নিরাপত্তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকছে এশিয়া কাপেও। এর আওতায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে টিম হোটেল, টিম হোটেলের বাইরে খেলোয়াড়দের চলাচল, অনুশীলন মাঠ ও মূল ভেন্যুতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হবে।’
এশিয়া কাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য ৠাব, পুলিশ, এপিবিএন, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবি সহ আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবেন বলে তিনি জানান।
ম্যাচ চলাকালীন মাঠের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে হোসেইন ইমাম বলেন, ‘খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় দর্শকেরা পানির বোতল, দিয়াশলাই, ধারালো ছুরি, কাঁচি, ছুঁড়ে মারা যায় এমন কোন দ্রব্য, পতাকা, ঢোল, মাঠে বর্ণ বৈষম্য সৃষ্টি কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কোন ব্যানার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এদিকে, বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে এবারের এশিয়া কাপ। আর এই ম্যাচ উপলক্ষ্যে বিকেল ৩টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হবে। এ সময় একমাত্র বিসিবির স্টিকার সম্বলিত গাড়িই স্টেডিয়াম চত্বরে প্রবেশ করতে পারবে। দর্শকেরা মাঠে প্রবেশের সময় হোটেল পূর্ণিমা মোড়ে নিরাপত্তা চৌকী পার হয়ে আসবেন বলেও জানান হোসেইন ইমাম।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কোহলিরাই ফেভারিট

আসন্ন এশিয়া কাপের আসরে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ভারত। ২৭ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত আর পাকিস্তান। আর এ ম্যাচে ভারতকেই ফেভারিট বলে জানালেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম।
ভারত ও পাকিস্তান সবশেষ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়। অ্যাডিলেডের সে ম্যাচে জয় তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। বিশ্বকাপের পর সম্প্রতি মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছে। অজিদের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে হারায় টিম ইন্ডিয়া। নিজেদের মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারায় ২-১ ব্যবধানে। আর সাম্প্রতিক পারফরমেন্সের ভিত্তিতে ভারত টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ ৠাংকিং ধরে রেখেছে।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম জানান, ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচগুলো দারুণ উত্তেজনায় ভরপুর থাকে। এবারও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে, আমি বিশ্বাস করি এবারের ম্যাচে পরিস্কারভাবেই এগিয়ে ভারত। পাকিস্তানকে হারানো সম্ভাবনাই বেশি ধোনির দলটির। কারণ তারা বর্তমানে যেভাবে খেলে চলেছে তাতে তাদেরই ফেভারিট হিসেবে মনে হচ্ছে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারের এশিয়া কাপের আসরটি হবে টি-টোয়েন্টি ফরমেটে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান আকরাম।
এ প্রসঙ্গে আকরাম বলেন, এবারের আসরটি টি-টোয়েন্টি ফরমেটে হওয়ায় বিশ্বমঞ্চে প্রতিটি দলেরই ভালো প্রস্তুতির মঞ্চ হয়েছে। অসম্ভব সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। বাংলাদেশ তাদের নিজেদের মাটিতে পরাশক্তি হিসেবেই খেলবে। দেশের মাটিতে তারা অন্যদের একবিন্দু ছাড় দেবেনা। এবারের আসরটি বেশ জমবে বলেই আমার বিশ্বাস। এখান থেকেই অন্য দলগুলো তাদের সেরা কম্বিনেশন খুঁজে পাবে।

এশিয়া কাপের ট্রফি উন্মোচন

বুধবার পর্দা উঠছে এশিয়া কাপের ১৩তম আসরের। বাছাই পর্বের লড়াই শেষে এশিয়ার চার টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রথম দিনেই শক্তিশালী ভারতের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। এরআগে মঙ্গলবার হয়ে গেল এশিয়া কাপের ট্রফি উন্মোচন। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলার জন্য পাকিস্তান দল এখনো ঢাকায় না আসায় চার দেশের অধিনায়ককে নিয়ে উন্মোচিত হল এশিয়া কাপের ট্রফি।
এদিন ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ। তবে ছিলেন পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। পিএসএল খেলার কারণে আগামী বুধবার ঢাকায় পৌঁছাবে পাকিস্তান।
এশিয়া কাপ ট্রফির উন্মোচন অনুষ্ঠান শুরু করেন টুর্নামেন্ট পরিচালক সুলতান রানা। চার অধিনায়ক ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে আরোও উপস্থিত ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরি ও এশিয়া কাপের টাইটেল স্পন্সর মাইক্রোম্যাক্স এর চিফ মার্কেটিং অফিসার শুভজিত সিং।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বেও লড়াই। তিন পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এখন সমানভাবেই, সমীহসহকারে উচ্চারিত হয় বাংলাদেশের নাম। ২০১২ এশিয়া কাপের কথা মনে করে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এবার হয়তো আর ফাইনালে হতাশা নিয়ে ফিরতে হবে না।
মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে এবারই হয়তো কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে বাংলাদেশ। বুধবারই এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
যদিও এবার এশিয়া কাপটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের। যেখানে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবুও বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মনে করছেন, বাংলাদেশের পক্ষে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। বরং, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তারা মাঠে নামবে বলে জানালেন রিয়াদ। কিন্তু সে জন্য প্রস্তুতিটা কেমন বাংলাদেশের?
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ প্রস্তুতির বিষয়টি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। খুলনা ও চট্টগ্রামে দুটি অনুশীলন পর্ব খুব ভালোভাবে শেষ করেছি। কিছু অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি আমরা। তাতে প্রস্তুতি আরও ভালো হয়েছে। আশা করি শুরুটা ভালো হবে।
এশিয়া কাপে লক্ষ্য কী? জানতে চাইলে রিয়াদ বলেন, ‘শুধু প্র্যাকটিস অবশ্যই নয়। যখন ম্যাচ হবে, আমরা অবশ্য লড়াই করব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। আমাদের দলের জন্য শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। শুরুটা ভালো হলে আমরা সেখান থেকে এগিয়ে যেতে পারবো।’
পাকিস্তান, ভারত এবং শ্রীলঙ্কা সবাই খেলার মধ্যে আছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ কি অনেকটা পিছিয়ে নেই? জবাবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, ‘আমরাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ খেললাম, চার ম্যাচের। এরপর কিছুটা সময় আমাদের দরকার ছিল, ঘাটতিগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য এবং স্কিলে উন্নতির জন্য। প্রস্তুতির জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর ছিল না। কিছু জিনিস কিয়ে কাজ করা দরকার ছিল। আমরা সে সব করেছি। দিন শেষে মাঠে গিয়ে সেসব দেখাতে হবে। মাঠে দেখাতে না পারলে লাভ নেই। মাঠে দেখাতে পারলে প্রস্তুতিও সফল হবে।’

মুস্তাফিজকে সামলাতে কোহলিদের আলাদা প্রস্তুতি

বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে এত সহজে ভুলবেন কী করে বিরাট কোহলি! ভারতকে যেভাবে নাকানি-চুবানি খাইয়েছিলেন বাংলাদেশের তরুন পেস সেনসেশন- সেই ঘটনার পর এখনও তো এক বছর হয়নি। ভারতের বিপক্ষেই গত বছর জুনে অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের। তার হাতেই ধরাশায়ী হয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনি অ্যান্ড কোং। পুনরায় বাংলাদেশে আসার পর সেই মুস্তাফিজকেই স্মরণ করতে বাধ্য হলেন কোহলিরা। শুধু তাই নয়, এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুস্তাফিজকে সামলানোর সব প্রস্তুতি নিয়েই ঢাকায় এসেছে ভারত।
এশিয়া কাপের ১৩তম আসর শুরুর আগেরদিন (আজ) নিজেদের রণ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হলেন উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দলের দুই অধিনায়ককে। সেখানেই বার বার উঠে আসছিল মুস্তাফিজ প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা যেমন, তেমনি ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। দু’জনের মুখেই উঠে আসলো মুস্তাফিজের প্রশংসা।
অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে দু’বার করে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। সুতরাং, মুস্তাফিজকে মোকাবেলা করতে এবার আলাদা প্রস্তুতি নিয়েই ঢাকায় এসেছে ভারতীয় শিবির।
আগেরদিন নিয়মিত অধিনায়ক মহেদ্র সিং ধোনি হঠাৎ ইনজুরিতে পড়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বিরাট কোহলি। এদিন সংবাদ সম্মেলনেও আসলেন তিনি। মুস্তাফিজকে প্রসঙ্গে ভারতের পোস্টারবয় বলেন, ‘মুস্তাফিজ সত্যিই খুব ভালো করছে। আমাদের বিপক্ষে খেলার সময় থেকে গত এক বছরে বাংলাদেশের হয়ে দারুণ বোলিং করেছে সে। ১৯ বছর বয়সী একটা ছেলেকে এভাবে বোলিং করতে দেখা ছিল রোমাঞ্চকর। ১৪০ কিমির আশেপাশে গতির সঙ্গে স্লোয়ার বল করছিল, আমাদের জন্যও সেটি ছিল ব্যতিক্রমী এক অভিজ্ঞতা। নতুন বলেও খুব ভালো স্লোয়ার এবং কাটার করছিল। খেলাটায় নতুন কিছু নিয়ে এসেছে মুস্তাফিজ, খেলাটাকে আরও ঝাঁঝালো করেছে। ক্রিকেটের জন্য এটা খুব ভালো।’
মুস্তাফিজকে মোকাবেলায় এবার ভারত আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান কোহলি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো স্পিনিং কন্ডিশনে একজন পেসার যদি ৪-৫টা উইকেট নিতে পারে এবং ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলতে পারে, খেলাটা তাতে আরও প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্যাটসম্যান হিসেবেও উত্তাপটা টের পাওয়া যায় যে, এই ছেলেটার আলাদা এক ধরণের স্কিল আছে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে আমাদেরকে। তাকে সামলানোর জন্য আলাদা কিছু করতে হবে। নিজের খেলাতেও তাতে আরও উন্নতি হয়। মুস্তাফিজকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। দারুণ বোলিং করে আসছে সে। অবশ্যই এই টুর্নামেন্টেও বাংলাদেশের জন্য সে হতে যাচ্ছে বড় একটি ফ্যাক্টর।’

‘কান কথায় কান দেন না মুস্তাফিজ’

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই চারদিকে আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু যেন বাংলাদেশের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। কারণ ভারতের বিপক্ষে তার সেই বিধ্বংসী বোলিং! অভিষেকে একাই তিনি ধ্বসিয়ে দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়াকে। এবার কি করবেন মুস্তাফিজ? এবারও তাই স্পট লাইটটা নিবদ্ধ মুস্তাফিজের ওপর। ভারতও তাকে মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছে।
তাহলে চাপটা কী মোস্তাফিজের ওপর বেশি। তেমনটাই মনে করছেন সবাই। তবে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জানালেন অন্য কথা। কে কি বললো তা নিয়ে নাকি কখনোই কিছু ভাবেন না মুস্তাফিজ। খেলার বাইরে অন্য কিছুতেই এ তরুণ কান দেন না বলেও উল্লেখ করেন মাশরাফি।
মঙ্গলবার রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ পেস সেনসেশনকে নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘মুস্তাফিজ ওসব (চাপ, আলোচনা) সম্পর্কে কিছুই জানে না। আর জানলেও সে এগুলো নিয়ে চিন্তাও করে না। আমি শতভাগ নিশ্চিত। ওকে নিয়ে যত কথা হচ্ছে, সেগুলোতে ও কিছুতেই কানে দেয় না। এটা মোটেও কঠিন কাজ না যে মুস্তাফিজকে নিয়ে কথা হচ্ছে আর ও এটা নিয়ে চাপ নেবে। আর ও চাপ নেওয়ার ছেলেও না। এটা ওর জন্মগত পাওয়া।’
এদিন সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিরাট কোহলি অকপটেই স্বীকার করেছেন যে, ‘মুস্তাফিজকে মোকাবেলায় এবার তারা আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন।’ বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিংলাইনআপ সমৃদ্ধ দল ভারত। তাদের বিপক্ষে এবার চাপে থাকা মুস্তাফিজ কেমন করবেন? জানতে চাইলে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘মুস্তাফিজ সব সময় আত্মবিশ্বাসী থাকে। ওর যে স্লোয়ারটা আছে, যেটা আমরা বলি কাটার ও সেটা বিভিন্নভাবে ডেলিভারি দিতে পারে। একটা ম্যাচের আগে ও কখনোই একটা ব্যাটসম্যান কিংবা কোনো দল নিয়ে চিন্তা করে না। ও ওর পারফরম্যান্সটাকেই বিশ্বাস করে। ওর যে বলগুলো আছে সেগুলোতে ওর বিশ্বাস থাকে, ব্যাটসম্যান কি করবে সেটা চিন্তা করে না। এটা ওকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। যুদ্ধে জয়ী করে দেয়। নিজের উপর ও অনেক বিশ্বাস রাখে এবং ওর যেটা আছে সেটা নিয়ে আপনি হোম ওয়ার্ক করতে পারেন কিন্তু খুব কঠিন হবে।’
তবে মুস্তাফিজের একার পারফরমেন্সের ওপর ভরসা করে থাকতে চান না মাশরাফি। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে মাত্র চার ওভার বল করার সুযোগ পাবেন প্রতি বোলার। তাই মুস্তাফিজের সঙ্গে অন্য বোলারদের কাছ থেকেও সেরাটা চান মাশরাফি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘এটা ঠিক যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওদের ব্যাটিং অর্ডার খুবই কঠিন। শুধু মুস্তাফিজের ওপর নির্ভর করলে হবে না। অন্য সাইড থেকেও সবাইকে হেল্প করতে হবে। আমি সব সময়ই বলে থাকি, মুস্তাফিজ যেটা পারবে সেটা অন্য কারো পারা কঠিন হবে; কিন্তু আমরা সবাই সাপোর্টিং রোলে থাকি এবং ভুলগুলোকে কম করতে পারি তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমরা ভালো করতে পারব।’

টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের প্রমাণের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের

ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত একটি দল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে এখনও সেভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারেনি মাশরাফি অ্যান্ড কোং। বারবার এই ফরম্যাটে এসে হোঁচট খায় তারা। র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে অনেক বেশি। অন্তত বাংলাদেশের আগে রয়েছে আফগানিস্তানের মতো দেশ। তো, এই বৃত্ত থেকে বের হওয়ার চ্যালেঞ্জ এবার বাংলাদেশের। বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মনে করছেন, এবার এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে পারবেন তারা।
টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘এটাই চ্যালেঞ্জ আমাদের। সবাই বলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমরা ভালো দল নই। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ, নিজেদের প্রমাণ করতে হবে আমাদের। স্ট্রাইক রেট আরও ভালো করতে হবে। আগ্রাসী ক্রিকেট খেললে নিজের খেলাও ভালো হবে, দলেরও ভালো হবে। আশা করি এবারের এশিয়া কাপে আমরা এই শেকিনেস কাটিয়ে উঠতে পারবো। আমরা জ্বলে উঠবো।’
এশিয়া কাপের আগে প্রতিজ্ঞার কথাও জানালেন রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘সবসময়ই আমাদের মধ্যে ওই প্রতিজ্ঞা কাজ করে, যখন আমরা দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামি। সবসময়ই আত্মবিশ্বাস থাকে সবার মাঝে। গত এশিয়া কাপে ভালো সুযোগ থাকলেও আমরা পারিনি। এবার তেমন কিছু চাই না। কাছাকাছি (ফাইনালের) যেতে চাই, এরপর সেখান থেকে যেন সুযোগ না হারাই।’
আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে চান রিয়াদ। বললেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, কনফিডেন্ট ক্রিকেট খেলতে হবে। আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা সেই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবো।’
টি-টোয়েন্টিতে রিয়াদ অচল, তার ব্যাটিং এ ফরম্যাচে চলে না- এসব অভিযোগ এবার ঘুচিয়ে দিতে চান আগ্রাসী ব্যাটিং করে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে আগ্রাসী ব্যাটিং করার জন্যই প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি। যখনই নামবো, প্রথম বলেই ছক্কা মারার চেষ্টা করবো। শুধু ব্যাটসম্যান না, বোলার বা সবাইকেই টি-টোয়েন্টিতে একটু কৌশলী হতে হয়। পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়। একটা উইকেট, রান আউট বা ছক্কা খেলার পরিস্থিতি বদলে দেয়। ধারাবাহিকতা ধরে রাখা ও পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে।’
তাহলে রিয়াদ আগ্রাসী খেলার উৎসটা পাবেন কোথা থেকে? তিনি নিজেই জানালেন, ‘আত্মবিশ্বাস। এই মুহূর্তে আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমাদের বিশ্বাস যে আমরা ব্যতিক্রমী ও আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলতে পারবো। আগে যেটা বললাম, আগ্রাসী খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। সবার মানসিকতা এরকম যে আমরা আগ্রাসী খেলতে পারবো।’

ঢাকার জ্যাম নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারের হাসিঠাট্টা!

বর্তমান সময়ে ঢাকাবাসীকে উল্লেখ্যযোগ্য একটি সময় পার করে দিতে হচ্ছে জ্যামে বসেই। আর এশিয়া কাপকে সামনে রেখে ভিআইপি কিংবা বিদেশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য যানজট আরও বাড়ছে। আর ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে ভারতীয় দলের ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হারশা ভোগলতো হাসাহাসিই শুরু করে দিয়েছেন।
এর শুরুটা হয়েছিল জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হারশা ভোগলের একটি টুইট থেকে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দেশে ঘোরাঘুরির পর ঢাকায় বেশ কিছুদিন থাকা যাবে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘সিডনি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, যোধপুর, পুনে, রাঁচি, বিশাখাপত্তনম, গোয়া, হায়দরাবাদে কাটিয়েছি গত ২০ দিন। এখন ঢাকায়। এবার এক জায়গায় বেশ কয়েকদিন থাকা যাবে!’
হারশা ভোগলের এই টুইটের উত্তরে ভারতের অফস্পিনার অশ্বিন লিখেছেন, ‘ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম এটা নিশ্চিত করবে যে, গত ২০ দিনে আপনি যেসব জায়গায় ছিলেন, তার চেয়ে বেশি সময় থাকবেন একটা সিগন্যালে।’ হারশা ভোগলে আবার অশ্বিনের এই উত্তরের জবাবে লিখেছেন, ‘হা হা! টিম বাস থেকে বের হয়ে আমাদের মতো যানবাহনে চড়ার সময় আসলে তোমারও একই অবস্থা হবে। তোমার যেন আরো বেশি সময় লাগে!’

বাংলাদেশকে দেখে এগিয়ে যাচ্ছে এশিয়ার ক্রিকেট

ক্রিকেটের অভিজাত আঙ্গিনায় প্রবেশের পর তিক্ত সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। একসময় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস কেড়ে নেয়ার শত শত প্রস্তাব বাতাসে উড়েছে। সেই সময় আজ ইতিহাস হয়ে গেছে। সব সমালোচনা আর গালিগালাজকে ইতিহাস বানিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ আইসিসির কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। আর এ রোল মডেলকে মেনে এগিয়ে যাচ্ছে এশিয়ার ক্রিকেট। এমনটাই মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম উল হক।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান সর্ম্পকে ইনজামাম বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরে দারুণ খেলছে, তাদের এই অগ্রগতি আরব আমিরাত, আফগানিস্তানের মত দলগুলো এখন আরো আগ্রহী হচ্ছে। সামনের দিনে ক্রিকেট শুধু এশিয়ান দেশগুলোই শাসন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। বাংলাদেশের এই জাগরণে উদ্দীপ্ত হয়ে সামনের দিনগুলোতে আরো এগিয়ে যাবে এশিয়ার ক্রিকেট।
গত কয়েক বছরে বিপুল বিক্রমে উন্নতি করছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ২০১৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০১৫ সালে এসে যা বিরাটাকায় রুপ নিয়েছে। এক টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টাইগাররা হারিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিধর দলকে। বছরের প্রারম্ভে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ভূপাতিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল মাশরাফি বাহিনী। তাই বাংলাদেশকে রোল মডেল বানিয়ে সহযোগী দেশগুলোর সামনে তুলে ধরে আইসিসি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে চাপে থাকবে ভারত

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে বুধবার পর্দা উঠছে এশিয়া কাপের ১৩ তম আসরের। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে চাপে থাকবে ভারত। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে নিজের নামের আদ্যক্ষর ও জার্সি নাম্বারের অনুকরণে সিগনেচার পারফিউম এন.এইচ 69 এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন টাইগার দলের অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের বাকি সদস্যদের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের নামে রয়েছে নানান সামগ্রী। তবে, এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোন ক্রীড়া বিদের নামে নামকরণ করা হয়েছে একটি পারফিউমের। তিনি হলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন। তবে এখানেই শেষ নয়, এই সুগন্ধির ঘ্রাণের আবিষ্কারকও স্বয়ং নাসির। ফলে নামকরণ করা হয়েছে তার নামের আদ্যক্ষর এন. এইচ ও জার্সি নাম্বার 69 এর অনুকরণে এন. এইচ 69। আর এর মাধ্যমেই ক্রিকেটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও জড়ালেন এই অলরাউন্ডার।
তবে, নতুন এই পণ্যের মাধ্যমে এদিন নিজেকে পরিচিত করতে আসলেও ক্রিকেটের আলোচনার বাইরে যেতে পারলেন না নাসির। তাই, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠেয় মূল পর্বের লড়াই নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানালেন তিনি। পাশাপাশি, ক`দিন আগেই দেশের মাটিতে হারানোয় প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভারতই চাপের মুখে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, নতুন এই পারফিউমের মাধ্যমেই ভক্তদের মাঝে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন নাসির হোসেন। ভবিষ্যতে এন. এইচ 69 ব্র্যান্ডের আরো পণ্য বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন এই অলরাউন্ডার।

মাশরাফিদের নিয়ে বিসিবির প্রমোশনাল ভিডিও

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে বুধবার পর্দা উঠছে এশিয়া কাপের ১৩ তম আসরের। আর এ আসরে মাশরাফি বাহিনীকে উজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি ভিডিও প্রমোশনাল প্রকাশ করেছে।
`টাইগার ক্রিকেট` ওয়েবসাইটে এবং ইউটিউবের অফিশিয়াল চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে ভিডিওটি। ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে `কাটার মাস্টার` মুস্তাফিজুর থেকে শুরু করে `ক্যাপ্টেন ম্যাশ` এর বিভিন্ন আকর্ষনীয় ক্রিকেট নৈপূণ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এশিয়া কাপ খেলতে ঢাকায় ভারত-শ্রীলঙ্কা

এশিয়া কাপের মূল পর্বের পর্দা উঠতে বাকি মাত্র আর মাত্র তিনদিন। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের মহরণের মূল লড়াই শুরু হবে বুধবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে। এরইমধ্যে এশিয়া কাপের ত্রয়োদশতম আসর খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান আসছে বুধবার।
এশিয়া কাপ খেলতে প্রথম দল হিসেবে ঢাকায় পা রেখেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় লঙ্কান ক্রিকেটাররা।
এছাড়াও রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হযরত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পৌঁছেছে ধোনি-কোহলির টিম ইন্ডিয়া। কলকাতা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ২৩০ নম্বর ফাইটে চড়ে ঢাকায় আসেন তারা।
তবে এশিয়ার আরেক দল পাকিস্তান আসবে বুধবার। পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ ২৭ ফেব্রুয়ারি। যে ম্যাচটি আগাম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। কারণ পাকিস্তানের প্রতিপ সেখানে ভারত। প্রথম ম্যাচ ২৭ ফেব্রুয়ারি বলেই দেরিতে আসছে পাকিস্তান। তাছাড়া এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলছে পাকিস্তান সুপার লিগ। যেখানে পাকিস্তান জাতীয় দলের সিংহভাগ খেলোয়াড়। ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের আসরের। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের টিকিট মঙ্গলবার থেকে

আর মাত্র এক দিনের অপোয়। মঙ্গলবার থেকে মাঠে গড়াবে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। প্রথমবারের মতো টি-২০ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। ফলে বাড়তি রোমাঞ্চ খেলা করছে ভক্তদের মনে। চার-ছক্কার ধুন্ধুমার লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছে সমর্থক-অনুরাগীরা। এ ল্েয মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে যাবে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের টিকিট বিক্রি। প্রতিটি ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি)।
আগেই টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ১৫০ টাকায় খেলা উপভোগ করতে পারবেন ভক্তরা। সর্বোচ্চ টিকিটের মূল্য ৩০০০ টাকা। প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন নির্ধারিত শাখা থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন দর্শকরা। ঢাকায় ইউসিবি ব্যাংকের মিরপুর শাখা থেকে সরাসরি টিকেট কেনা যাবে। এছাড়া প্রগতি সরণী, সোনারগাও জনপদ, বিজয়নগর, বসুন্ধরা ও নয়াবাজার শাখায় ইউক্যাশের মাধ্যমে ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে।
টিকেটের মূল্য : গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ৩০০০ টাকা, ভিআইপি স্ট্যান্ড ১০০০ টাকা, শহীদ জুয়েল/মুস্তাক স্ট্যান্ড ৫০০ টাকা, উত্তর/দণি গ্যালারি ২৫০ টাকা, পূর্ব গ্যালারি ১৫০ টাকা।

শুরুটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন রিয়াদ

এই নিয়ে ঢাকার মাটিতে টানা তিনটি এশিয়া কাপের আসর বসতে যাচ্ছে। আগের দুই আসরের প্রথমটিতে ২০১২ সালে বাংলাদেশের পারফরমেন্স ছিল বেশ আশা জাগানিয়া। সেবার পাকিস্তানের বিপে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাত্র ২ রানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিলো স্বাগতিকরা। তার পরের আসরে ২০১৪ সালে অবশ্য টিম বাংলাদেশের পারফরমেন্স মোটেও ভাল ছিলনা। চার ম্যাচের কোনটিতেই জয় না পাওয়ায় থাকতে হয়েছিল পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে। তবে, গেলবারের গ্লানি কাটিয়ে এবারের এশিয়া কাপে দলের সঙ্গে নিজেকেও বেশ ভিন্ন আঙ্গিকেই জ্বলে উঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন টাইগারদের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি জানান, এবারের আসরের শুরু থেকেই আমরা আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলতে চেষ্টা করবো। দলের পাশাপাশি নিজেকেও ব্যতিক্রমী হিসেবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ভাবছি নেমে প্রথম বলেই ছয় মারবো।
তবে, ব্যতিক্রমটা শুধু ব্যাটিংয়ে নয়, বোলিংয়েও থাকবে বলে আশ্বস্ত করলেন রিয়াদ। সোমবার এশিয়া কাপকে সামনে রেখে অনুশীলন শেষে এভাবেই নিজেদের অবস্থা তুলে ধরেন রিয়াদ।
ঢাকা সেশনের আগেও এশিয়া কাপের এবারের আসর সামনে রেখে দু’দফায় অনুশীলন করেছে লাল-সবুজের দল। প্রথম দফার অনুশীলন ছিল খুলনায় আর দ্বিতীয় দফা ছিল চট্টগ্রামে। আশার কথা হলো, দেশের দুই বিভাগে নিজেদের অনুশীলন শেষে এশিয়া কাপের জন্য বেশ আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিক বাংলাদেশ। রিয়াদ যোগ করেন, আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভাল হয়েছে। আমরা প্রস্তুত। তবে, আমার মতে শুরুটা ভাল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপ ভারত। সন্দেহ নেই টি-টোয়েন্টি ফরমেটে ভারত বিশ্ব ক্রিকেটের দলগুলোর মধ্যে অনন্য। তারপরেও ভারতকে নিয়ে তেমন কোন চাপে নেই টাইগারদের এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। রিয়াদের মতে, শুরুটা শুধু আত্মবিশ্বাসী হওয়া জরুরি। প্রথম ম্যাচে আমাদের প্রতিপ ভারত। তবে, আমরা খুব বেশি চাপে নেই। দলের সবাই বেশ নির্ভার। প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করে মোমেন্টাম নিজেদের পে আনতে পারলে এবং পরের ম্যাচ গুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেললে টুর্নামেন্টে ভাল ফলাফল করা সম্ভব হবে। এদিকে, এশিয়া কাপের পরে ভারতে বসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। তাই সঙ্গত কারণেই গণমাধ্যম কর্মীরা রিয়াদকে জিজ্ঞেস করেন, এশিয়া কাপ শুধুই কী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কী না? উত্তরে রিয়াদ জানান, না এশিয়া কাপকে আমরা শুধুই বিশ্বকাপের প্রস্ততি হিসেবে দেখছিনা। এই আসরে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই লড়বো।

হংকংকে হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল আফগানিস্তান

নাজিবুল্লাহ জাদরান ও আসগর স্তানিকজাইয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ের পর মোহাম্মদ নবির চমৎকার বোলিংয়ে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে আফগানিস্তান। রান রেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চেয়ে এগিয়ে যেতে হংকংকে ৬৬ রানে হারিয়েছে দলটি। ৩ ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট পাওয়া আফগানিস্তান (+০.৯৫৪) শ্রেয়তর রান রেটে শীর্ষে উঠে এসেছে। চূড়ান্ত পর্বে খেলতে হলে ওমানকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে হারাতেই হবে দুই জয়ে চার পয়েন্ট পাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (+০.৭৪০)।
সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৭৮ রান করে আফগানিস্তান।
৬০ রানে অপরাজিত থাকেন নাজিবুল্লাহ। তার ৩৫ বলের ইনিংসটি গড়া ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায়। ৩৫ বলে ৪৯ রানের আরেকটি ভালো ইনিংস খেলেন অধিনায়ক আসগর। এছাড়া ২৪ রান আসে মোহাম্মদ শাহজাদের ব্যাট থেকে। হংকংয়ের আইজাজ খান তিন উইকেট নেন ৩৮ রানে।
জবাবে ১৭ ওভার ১ বলে ১১২ রানে অলআউট হয়ে যায় হংকং।
সর্বোচ্চ ৪১ রান অসে আনশুমান রাথের ব্যাট থেকে। তার সঙ্গে ৫৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়া কিনচিত শাহ করেন ২৯ রান। এই দুই জনের বাইরে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন কেবল বাবর হায়াত (১৮)।
হংকংয়ের শেষ আট ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। দলটি শেষ ৯ উইকেট হারায় ৩৩ রানে। ১৭ রানে চার উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের জয়ে বড় অবদান রাখেন অলরাউন্ডার নবি। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন রশিদ খান ও দৌলত জাদরান।

আফগানদের সংগ্রহ ১৭৮ রান

এশিয়া কাপের বাছাপর্বের ৫ম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে ১৭৮ রানের পুঁজি সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। এদিন ৩৫ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। ম্যাচ জিততে হংকংয়ের প্রয়োজন ১৭৯ রান।
বিকেল তিনটায় ঢাকায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে হংকংয়ের তানউয়ির আফজাল।
শুরু থেকেই দ্রুতগতিতে রান তোলে আফগানরা। ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ১৪ বলে ২৪ রান করে আউট হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও রানের গতি সচল রাখে আফগানরা। অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাইয়ের ৪৯ (৩৫ বলে) ও নাজিবুল্লা জাদরানের ৩৫ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান করে আফগানিস্তান।
প্রসঙ্গত, এর আগে আফগানিস্তান দুটি ম্যাচ খেলে একটিতে জয় পেয়েছে। এক পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। এ ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই তাদের। দিকে হংকংও দুটি ম্যাচ খেলেছে। তবে দলটি একটি ম্যাচেও জয় পায়নি।

ইনডোরে মাশরাফিদের ব্যাট-বলের অনুশীলন

ফুটবল খেলে ওয়ার্মআপ সেরেই দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার পায়ে বেঁধে নিলেন প্যাড। বল হাতে রানআপ মিলিয়ে নিচ্ছেন মাশরাফি, তাসকিন, আল আমিনরা। একে একে সব ব্যাটসম্যান-বোলাররাই নিজেদের ঝালিয়ে নিলেন ইনডোরের নেটে।
স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে টাইগারভক্তদের চোখ আটকে গেল মাশরাফি-সাকিব মুশফিকদের অনুশীলনে। এশিয়া কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ ততক্ষণে শুরু হয়েছে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচ দেখতেই অবশ্য আগমন দর্শকদের।
tiger_pic
ক্রিকেটারদের ব্যাট-বলের অনুশীলন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হেলায় হারালেন না তারা। পুলিশের বাঁধার কারণে অল্পসময়ই দেখতে পেরেছেন টাইগারদের অনুশীলন। বাকি সময়টা তারা উপভোগ করেছেন আফগানিস্তান-হংকং ম্যাচ দেখেই।
২3 ফেব্রুয়ারি বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে বালাদেশ। একই সময়ে ফতুল্লায় অনুশীলন করবে ভারতীয় দল।
আগামী বুধবার এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত।

এশিয়া কাপে পানির তৃষ্ণা মেটাবে ফ্রেশ

মাঝে আর মাত্র এক দিন। তারপরেই মিরপুরে শুরু হচ্ছে এশিয়ার পাঁচ জাতির ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এশিয়া কাপ ২০১৬। আর এই টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল পানীয় হিসেবে থাকছে ফ্রেশ।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপ-২০১৬ এর গোল্ড স্পন্সর ও বেভারেজ পার্টনার হয়েছে ফ্রেশ। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অন্যতম সেরা এ কোমল পানীয় এর আগেও ক্রিকেটের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত ছিল।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা একটি দল সহ মোট ৫টি দলের অংশগ্রহণে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এশিয়া কাপের ১৩ম আসর। ২৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মিরপুরে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত।

আমিরাতের টানা দ্বিতীয় জয়

এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে আরব আমিরাত। ফলে এশিয়া কাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল দেশটি। আগামীকাল সোমবার ওমানকে হারালেই মূল পর্বে উঠবে আইসিসির সহযোগী সদস্য আরব আমিরাত।
রবিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হংকংকে ছয় উইকেটে হারিয়েছে আরব আমিরাত। এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান সংগ্রহ করে হংকং।
হংকংয়ের পক্ষে বাবর হায়াত ৫৪, মার্ক চ্যাপম্যান ২৯ ও নিজাকত খান ২৮ রান করেছেন। আর আমিরাতের পক্ষে মোহাম্মদ নাভিদ ৩টি, আমজাদ জাভেদ ২টি, ফারহান আহমেদ ১টি ও আহমেদ রাজা ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
১৪৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৮.৩ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় আরব আমিরাত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন মোহাম্মদ শাহজাদ। ৪১ রান করেছেন মোহাম্মদ ওসমান, ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন শায়মান আনোয়ার।
এ জয়ে মূল পর্বে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল আরব আমিরাত। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট অর্জন করেছে আফগানিস্তান ও ওমান। আগামীকাল সোমবার ওমানকে হারালেই ৬ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি মূল পর্বে উঠবে আইসিসির সহযোগী সদস্য আরব আমিরাত।

ঢাকায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল

এশিয়া কাপ খেলতে প্রথম দল হিসেবে ঢাকায় পৌঁছেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় আসার কথা রয়েছে মহেদ্র সিং ধোনির ভারতের। আর পাকিস্তানের আসার কথা বুধবার।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের মূল পর্ব। ৬ মার্চ শেষ হবে এই আসর। মূল পর্ব শুরু হওয়ার আগে চলছে বাছাইপর্ব। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বাছাইপর্বে অংশ নেবে আইসিসির চার সহযোগী দেশ আফগানিস্তান, আরব আমিরাত, হংকং ও ওমান। লিগ পদ্ধতিতে সবাই খেলবে সবার সঙ্গে একবার করে। পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা দলটি পাবে মূল পর্বের টিকিট। এই পর্বের সব ম্যাচই হবে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আগামী বুধবার স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচ দিয়ে আসরটি শুরু হবে।

দলের সবাই বেশ আত্মবিশ্বাসী: মাশরাফি

সামনেই ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ, মাশরাফিদের দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। দুটি মেগা ইভেন্টকে সামনে রেখে দম ফেলার সুযোগ নেই টাইগারদের। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত মাশরাফি-মুশফিক-সৌম্য-মুস্তাফিজরা।
রোববার নিজেদের অনুশীলনের দিন বসে থাকেননি টাইগার ক্রিকেটাররা। বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া বাঙালির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে ভাষা শহীদদের গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মাশরাফি বাহিনী। সংবাদকর্মীদের টাইগারদের দলপতি মাশরাফি বলেন, আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি এটা বড় আনন্দের। নিজেদের ভাষায় কথা বলতে পারি এটা ভেবে গর্ব হয়। আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ বাংলা ভাষার জন্য গর্ব করা। ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করে। এটা আমাদের জন্য বিশেষ একটি দিন। এই দিনটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপকে নিয়ে মাশরাফি বলেন, আমাদের নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই। দলের সবাই বেশ আত্মবিশ্বাসী। মাঠে নামার জন্য তারা মুখিয়ে আছে। প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তবে, স্বল্প সময়ে কতোটা প্রস্তুত টাইগাররা এমন প্রশ্নে মাশরাফি জানান, হাতে আর মাত্র তিনদিন সময় আছে। কিন্তু, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমরা নির্ভার হয়েই মাঠে নামবো। এর আগে খুলনা ও চট্টগ্রামে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি ভালো কিছুই হবে।
এর আগে খুলনা ও চট্টগ্রামে অনুশীলন ক্যাম্প শেষ করে ‘হোম অব ক্রিকেট’ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার শুরু হয় মাশরাফিদের অনুশীলন। গত জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে খুলনা যায় মাশরাফিরা। সিরিজ শেষে খুলনাতেই চলে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। এরপর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে চট্টগ্রামে অনুশীলন করে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম পর্ব শেষে তিন দিন বিশ্রাম নিয়ে মিরপুরের সবুজ চত্ত্বরে ফেরে টাইগাররা। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এশিয়া কাপের মূলপর্ব।

এশিয়া কাপে ফেভারিট বাংলাদেশ : ইনজামাম

বিশ্বকাপের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে সফল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মত দৈত্য বধ। এবার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও মাঠের খেলাতে এবারের এশিয়া কাপে এগিয়ে থাকবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এমনটাই মনে করেন পাকিস্তান দলের সাবেক অধিনায়ক ও আফগানিস্তান দলের বর্তমান কোচ ইনজামাম উল হক। আর যেকোনো কন্ডিশনে ভারত টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব সেরাদের কাতারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইনজামাম বলেন, আপনি টি-টোয়েন্টিতে ফেভারিট তত্ত্ব খাটাতে পারবেন না। যেকোনো দিন যে কেউ জিততে পারে এই খেলায়। তবে আমি বাংলাদেশ ও ভারতকে এগিয়ে রাখবো, কারণ ভারতের দলটিতে এমন কিছু ক্রিকেটার আছে যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ বদলাতে সক্ষম। আর বাংলাদেশ বর্তমানে ভালো খেলছে। তাছাড়া নিজেদের তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, গত ক`বছরে বাংলাদেশ দলেও বেশ কিছু ক্রিকেটার উঠে এসেছেন যারা ক্রিকেটের উত্থানের সারথি। মুস্তাফিজ, সাব্বিররা যেমন আছে, তেমনি নেতৃত্বে আছে সাকিব-তামিমরা। নতুনদের উদ্যম ও পুরনোদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বহুদূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
ইনজামাম বলেন, বাংলাদেশে আছে তামিমের মতো ওপেনার ও সাকিবের মত অলরাউন্ডার, সামনের দিনগুলোতে আরো দুর্ধর্ষ হবে এই দলটি।` এশিয়া মহাদেশে ক্রিকেটের উত্থান নিয়েও বেশ খুশি এই সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক।

আরব আমিরাতকে ১৪৭ রানের টার্গেট দিল হংকং

এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান সংগ্রহ করেছে হংকং।
রবিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হংকংয়ের পক্ষে বাবর হায়াত ৫৪, মার্ক চ্যাপম্যান ২৯ ও নিজাকত খান ২৮ রান করেছেন। আর আমিরাতের পক্ষে মোহাম্মদ নাভিদ ৩টি, আমজাদ জাভেদ ২টি, ফারহান আহমেদ ১টি ও আহমেদ রাজা ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
যদি হংকং জিততে পারে তাহলে তারা মূল পর্বে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখবে। আর হারলেই তাদের মূল পর্বে খেলার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত জিততে পারলে মূল পর্বে খেলার দৌঁড়ে তারা এগিয়ে যাবে।

প্রথম টুর্নামেন্টে সেরার বাসনা মুস্তাফিজের

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠেছিল গত বছর। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের টি২০ ম্যাচে। সেই ম্যাচে ততটা আলোচিত হতে পারেননি। তবে একই বছর জুনে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার অফ-কাটারে বিধ্বস্ত হয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে হার মানতে হয়েছিল শক্তিশালী ভারতকে। এরপর মুস্তাফিজ জাদুতে সিরিজ জিতেও নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে মুস্তাফিজ সবার কাছে পরিচিত কাটার মাস্টার হিসেবে। দেশে-বিদেশে তুমুল আগ্রহ তাকে ঘিরে। আসন্ন এশিয়া কাপেও তাই বাংলাদেশের এই তরুণ পেস সেনসেশন থাকছেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। আর মুস্তাফিজও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন সেই আসর শুরুর। কেননা, এশিয়া কাপের আসরটি হবে জাতীয় দলের জার্সিতে এই তরুণ পেসারের প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ। আগে যে কয়েকটি ম্যাচ তিনি খেলেছেন, সেগুলো ছিল দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ। মুস্তাফিজ তাই নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট (জাতীয় দলের হয়ে) নিয়ে রোমাঞ্চিত। এই আসরে নিজের বাংলাদেশকে নিজের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার স্বপ্ন তার।
এশিয়া কাপ সামনে রেখে শনিবার মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। বেলা ৩টায় বিসিবি একাডেমি জিমনেশিয়ামে শরীর চর্চার মধ্য দিয়ে অনুশীলন শুরু করেন মাশরাফিরা। পরে সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটে ফিল্ডিং অনুশীলনও করেছেন তারা। আর সবার সঙ্গে মুস্তাফিজও অখণ্ড মনোযোগে অনুশীলন করেছেন। অনুশীলন শেষে মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। কাটার মাস্টার বলেছেন, ‘এশিয়া কাপে এর আগে আমি খেলিনি। এটাই প্রথম। যে কারণে ভাল লাগাটাও অন্যরকম। আমাকে টিমে রেখেছে, এ জন্য কোচ ও নির্বাচকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখানে আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
তবে এশিয়া কাপে না খেললেও এই আসরে বাংলাদেশের বিগত খেলাগুলো দেখেছিলেন তিনি। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। শিরোপা জেতার মতো মঞ্চও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ অব্দি পাকিস্তানের কাছে দুঃখজনক হারে সেই সম্ভাবনা মলিন হয়ে যায়। সেদিন স্টেডিয়াম ভর্তি বাংলাদেশি সমর্থকরা স্বপ্নের এমন অপমৃত্যুতে চোখের জলে ভেসেছিলেন; কেঁদেছিলেন ক্রিকেটাররাও। ফাইনালটি মামার বাড়িতে টেলিভিশনে দেখেছিলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের সেই অশ্রুসিক্ত সেই ফাইনালের কথা কাটার মাস্টারের ভালই মনে রয়েছে।
ভারতের বিপক্ষে জাদু মাখানো বোলিং দিয়েই মুস্তাফিজের আবির্ভাব। এবারের এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সেই ভারতেরই মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে মুস্তাফিজ কি ভাবছেন? উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ভাল করেছি বলে এবারও তেমনটা করব, বিষয়টা আসলে তা নয়। আসলে সব সময়ই চেষ্টা করি ভাল করার। বেস্ট ইলেভেনে রাখলে আমি অবশ্যই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে টুর্নামেন্ট ঘিরে তেমন কোনো নতুন পরিকল্পনা নেই। আগে যেমনটা আমি খেলেছি, সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চাই।’
মুস্তাফিজ আরও বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর আমরা দুটি ভিন্ন পরিবেশে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি; খুলনা এবং চট্টগ্রাম। সব মিলিয়ে আমাদের ভাল অনুশীলন হয়েছে। টুর্নামেন্টে ভাল করার ব্যাপারে দলের সবাই আত্মপ্রত্যয়ী। আশা করছি দারুণ কিছুই হবে। বোলিংয়ের পাশাপাশি এবার আলাদা করে ব্যাটিংয়েরও মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়েছি। দলের প্রয়োজনে অবশ্যই তা কাজে লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
মাঝে হুট করেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন মুস্তাফিজ। ইনজুরির ধকল কাটিয়ে তিনি এশিয়া কাপে শেষ অব্দি খেলতে পারবেন কিনা— তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে বোলিং মোটামুটি শুরু করছি। ততটা অসুবিধা অনুভব করছি না। হাতে যেহেতু এখনো ৪ দিন আছে (এশিয়া কাপ শুরু হতে), এই ক’টা দিন প্র্যাকটিস করতে পারলে আগের মতোই বোলিং করতে পারব বলেই আমার বিশ্বাস।’
এশিয়া কাপের এবারের আসরটি হবে টি২০ ফরম্যাটে। এই ফরম্যাটে খেলা কঠিন কিনা? মুস্তাফিজের কাছে রাখা হয়েছিল সেই প্রশ্ন। উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘খেলতে পারলে সবই ফরম্যাটই সহজ। তবে আমার কাছে ওয়ানডে ম্যাচগুলোই বেশি ভাল লাগে। এরপরও এশিয়া কাপে আমার সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব।’
এশিয়া কাপে কী বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে? মুস্তাফিজের উত্তর, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমরা চেষ্টা করি জয়ী হওয়ার। আর এটাকেও (বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়া) আমি কঠিন কিছু বলে মনে করি না।’

এশিয়া কাপের প্রস্তুতি শুরু বাংলাদেশের

বরাবরের মতো সবার প্রস্তুতি শেষ হয়ে গেলেও মুশফিকুর রহিমেরটা হয় না! বিকেল ৩টা থেকেই মুশফিকুর রহিমের জন্য বসে আছেন নেট বোলাররা। গায়ে মাইক্রোম্যাক্স এশিয়া কাপের জার্সি। নেট বোলারদের নিয়ে মুশফিকুর রহিম চলে গেলেন ইনডোরে। সেখানে চলল মুশফিকের ব্যাটিং অনুশীলন।
এশিয়া কাপকে সামনে রেখে শনিবার থেকে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলের সবাই অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। পিএসএল খেলে আসা সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমও ছিলেন অনুশীলনে। ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও। শুধু এশিয়া কাপ না, টিম বাংলাদেশের চোখ মার্চে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।
BD-2
প্রথমে রিপোর্টিংয়ের পর জিমে ঘাম ঝরিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এরপর চলে স্কিল অনুশীলন। দিনের আলো ফুরিয়ে যেতেই মিরপুরে জ্বলে ওঠে কৃত্রিম আলো। কৃত্রিম আলোয় ফিল্ডিং অনুশীলন করেছেন। এশিয়া কাপের সবগুলো ম্যাচই রাতে অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য কৃত্রিম আলোয় ক্রিকেটারদের অনুশীলন করিয়ে নিচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এশিয়া কাপের মূলপর্ব।
বাংলাদেশের স্কোয়াড :
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিথুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানি, আবু হায়দার রনি, নুরুল হাসান।

আফগানদের হারালো আরব আমিরাত

রোহান মোস্তফার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ জয় পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এশিয়া কাপের বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে আফগানদের ১৬ রানে হারায় আইসিসির সহযোগী এ দেশটি। মূলত রোহান মোস্তফার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয় পায় দলটি।
আরব আমিরাতের দেওয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৯ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে দারুণ চাপে পরে আফগানিস্তান। এরপর তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক আসঘার স্তানিকজাইও টেকেননি বেশিক্ষণ। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন করিম সাদিক। ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলের চাপ সামলে নেন এই দুই ব্যাটসম্যান।
তবে দলীয় ৮৪ রানে নবি (২৩) আউট হলে আবার চাপে পরে দলটি। তবে এক প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখেন করিম। ৪৮ বলে ৭২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। এই রান করতে ৮টি চার এবং ১টি ছক্কা মারেন এ ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে নজিবুল্লাহ জরদান ১৪ বলে ২১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানে থামে আফগানদের ইনিংস। আরব আমিরাতের পক্ষে রোহান মোস্তফা ১৯ রানে ৩টি উইকেট পান। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন রোহান মোস্তফা ও মোহাম্মদ নাভিদ।
এর আগে শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ। ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুই ওপেনার রোহান মোস্তফা এবং মোহাম্মদ কলিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভারেই ৬৪ রান সংগ্রহ করে আমিরাত।
তবে দলীয় ৮৩ রানে দারুণ এ জুটি ভাঙ্গেন রশিদ খান। মোহাম্মদ কলিমকে (২৫) বোল্ড করে আফগানিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন তিনি। কলিমের বিদায়ের পর শাইমান আনোয়ারকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মোস্তফা। এই দুই ব্যাটসম্যান আরও ৩৮ রান যোগ করেন। শাইমান আনোয়ার ১১ রান করে রশিদ খানের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।
দলীয় ১২২ রানে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করে আউট হন রোহান মোস্তফা। ৫০ বল মোকাবেলা করে ৭টি চার এবং ৪টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন এ ওপেনার। মোস্তফার বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি অধিনায়ক আমজাদ (৪)। শেষ দিকে উসমান মুস্তাক এবং মোহাম্মদ শেহজাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮০ রানের বড় সংগ্রহ পায় আমিরাত। উসমান মুস্তাক ২০ বলে ২৩ এবং মোহাম্মদ শেহজাদ ১৬ বলে ২৫ রান করেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আদিল রশিদ ২৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার। এছাড়া আমির হামজা নেন একটি উইকেট।

পেশোয়ারের বিশাল অংকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তামিম!

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের তিন সেরা ক্রিকেটার। সাকিব-তামিম-মুশফিক। সাকিব-মুশফিক একই দল করাচি কিংসে খেললেও, তামিম ছিলেন তাদের প্রতিপকক্ষ। খেলেছেন পেশোয়ার জালমিতে। তিন তারকার মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল তামিম। তার ব্যাটে ভর করে পেশোয়ার ডাবল রাউন্ড রবিন লিগে হয়েছে গ্রুপ সেরা। শীর্ষে থেকেই উঠেছে প্লে অফে। ৬ ম্যাচ খেলে তামিমের রান ২৬৭। তিনটি হাফ সেঞ্চুরি। ২বার হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
অথচ এমন তারকাকে ছাড়াই কি না প্লে অফ খেলতে নামতে হচ্ছে শহিদ আফ্রিদির দল পেশোয়ারকে। পিএসএলের মাঝপথে দেশে ফেরার কথা জানালে পেশোয়ার জালমি ছাড়তে চায়নি তামিমকে। তবে তাদেরকে তিনি যখন ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন, তখন তারা আর বেধে রাখতে চেষ্টা করেনি। তামিম নিজেই বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাকে জানিয়েছেন এ তথ্য।
তবে ভিন্ন একটি সূত্রে জানা গেছে, তামিম যাতে পুরো পিএসএল খেলেন, সে জন্য পেশোয়ার জালমির মালিক তাকে বিশাল অংকের অর্থের প্রস্তাবও করেছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, বিশাল অংকের প্রস্তাব পেলে হয়তো তামিম সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারেন। কিন্তু, সন্তানের মুখ দেখার জন্য তিনি এশিয়া কাপেই না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে তো পিএসএল অনেক দুরে। সুতরাং, পেশোয়ার জালমির বড় অংকের অর্থের প্রস্তাবেও টলেননি তিনি। তবে তামিম জানিয়েছেন, পেশোয়ার তাকে বলেছে আগামী আসরেও যেন তিনি তাদের দলে খেলেন এবং অন্য কোন দলের সঙ্গে কথা না বলেন।

আফগানিস্তানকে ১৭৭ রানের টার্গেট দিল আমিরাত

রোহান মোস্তফার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াকু সংগ্রহ পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এশিয়া কাপের বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচেই এই ওপেনারের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৬ রান করে আইসিসির সহযোগী এ দেশটি।
শুকবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়ায় এশিয়াকাপের বাছাই পর্ব। প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ। ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুই ওপেনার রোহান মোস্তফা এবং মোহাম্মদ কলিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভারেই ৬৪ রান সংগ্রহ করে আমিরাত।
তবে দলীয় ৮৩ রানে দারুণ এ জুটি ভাঙ্গেন রশিদ খান। মোহাম্মদ কলিমকে (২৫) বোল্ড করে আফগানিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন তিনি। কলিমের বিদায়ের পর শাইমান আনোয়ারকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মোস্তফা। এই দুই ব্যাটসম্যান আরও ৩৮ রান যোগ করেন। শাইমান আনোয়ার ১১ রান করে রশিদ খানের দ্বিতীয় শিকারে পরিনত হন।
দলীয় ১২২ রানে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করে আউট হন রোহান মোস্তফা। ৫০ বল মোকাবেলা করে ৭টি চার এবং ৪টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন এ ওপেনার। মোস্তফার বিদায়ের পর বেশিক্ষন থাকতে পারেননি অধিনায়ক আমজাদ (৪)। শেষ দিকে উসমান মুস্তাক এবং মোহাম্মদ শেহজাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮০ রানের বড় সংগ্রহ পায় আমিরাত। উসমান মুস্তাক ২০ বলে ২৩ এবং মোহাম্মদ শেহজাদ ১৬ বলে ২৫ রান করেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আদিল রশিদ ২৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়ে সেরা বোলার। এছাড়া আমির হামজা নেন একটি উইকেট।

২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা আসছে ভারত

কথা ছিল এশিয়া কাপের ত্রয়োদশতম আসর খেলতে শীর্ষ তিনটি দল ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা ঢাকায় আসা শুরু করবে ২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে। কিন্তু শুক্রবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই ঘোষণা করেছে, সোমবার নয়, একদিন আগেই ঢাকায় এসে পৌঁছাবে ভারতীয় ক্রিকেট দল।
বিসিসিআই থেকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বলা হয়েছে `এশিয়া কাপ খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দল ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবে।` এরপর জানা গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনিরা ঢাকার ফ্লাইট ধরবে কলকাতা থেকেই।
এই প্রথম এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরের বিশ্বকাপ সামনে রেখে এশিয়া কাপের ফরম্যাট পরিবর্তন হবে প্রতি আসরেই। পরের বিশ্বকাপ যদি হয় টি-টোয়েন্টি, তাহলে আগের এশিয়া কাপটি হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আর পরের বিশ্বকাপ যদি হয় ওয়ানডের তাহলে আগের এশিয়া কাপ হবে ওয়ানডে ফরম্যাটে।
আবার এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়া কাপের বাছাই পর্ব। আজই মাঠে গড়াচ্ছে বাছাই পর্ব। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে আজ শুরু হয়েছে চার সহযোগি দেশের মূল পর্বে ওঠার লড়াই।
এশিয়া কাপে ভারতীয় ক্রিকেট দল
মহেন্দ্র সিং ধেঅনি (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, রবিন্দ্র জাদেজা, হার্দিক পাণ্ডে, রবিচন্দ্র অশ্বিন, জসপ্রিত বুমরাহ, আশিস নেহরা, সুরেষ রায়না, আজিঙ্কা রাহানে, হরভজন সিং, মোহাম্মদ শামি, পবন নেগি।

এশিয়া কাপে ভালো করবে বাংলাদেশ

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শেষ না করেই দেশে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের তিন তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম। দুবাই থেকে বৃহস্পতিবার রাতেই তারা দেশের মাটিতে পা রাখেন। এই তিন জনের মধ্যে শনিবার এশিয়া কাপের ক্যাম্পে যোগ দেবেন সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম। তামিম দেশে ফিরলেও অংশ নিতে পারছেন না এশিয়া কাপের ক্যাম্পে। কারণ, কয়েকদিন পরই প্রথমবারেরমত বাবা হতে যাচ্ছেন তিনি। যে কারণে স্ত্রীর পাশে থাকতে ব্যাংকক চলে যাবেন তামিম।
এশিয়া কাপে খেলতে না পারলেও বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার বিশ্বাস করেন, এশিয়া কাপে ভালো করবে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সিরিজের চেয়ে অন্তত ভালো হবে বলে জানালেন তিনি। তামিম বলেন, `আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে সিরিজ খেলেছে তার চেয়েও এশিয়া কাপে অনেক বেশি ভালো করবে।`
তবে নিজেদের দিকেও দৃষ্টি রয়েছে তামিমের। এ কারণে তিনি সঙ্গে যোগ করেন, `তবে আমি এটা বলছি না যে, টি-টোয়েন্টিতে আমরা অনেক উপরে রয়েছি। আমি এটা বোঝাতে চাইছি যে, আমরা এই ফরম্যাটে ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। সত্যি, এশিয়া কাপে বাংলাদেশের দুর্দান্ত একটি সাফল্যের দিকেই তাকিয়ে আছি আমি।`

এশিয়া কাপে মাশরাফিদের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা

ওয়ানডে ক্রিকেটেই গত ব্ছর যা উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। অন্য যে কোন ফরম্যাটের চেয়ে এই ফরম্যাটেই অভাবনীয় উন্নতি মাশরাফিদের। কিন্ত যখনই টি-২০ ফরম্যাটের কথা সামনে চলে আসে, তখনই তৈরী হয় একরাশ প্রশ্ন, এই ফরম্যাটে কেমন করবে বাংলাদেশ? কারণ, এই একটি ফরম্যাটে প্রতিনিয়ত ওঠা-নামা করে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স।
দেখতে দেখতে আরেকটি এশিয়া কাপ চলে এলো একেবারে দুয়ারে। বলা যায় দরজায় কড়া নাড়ছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই টুর্নামেন্ট। যেটা আবার প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। সুতরাং, চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই টুর্নামেন্টে কেমন করবে বাংলাদেশ!
শঙ্কাটা তৈরী হয়েছে মূলতঃ হার্ডহিটার ওপেনার তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দারুন ফর্মে ছিলেন এই ড্যাশিং ওপেনার। বিপিএল কিংবা পিএসএল যাই বলুন, অসাধারণ খেলেছেন তিনি। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সিরিজে ছিলেন উজ্জল পারফরমার; কিন্তু খুব দ্রুতই প্রথম সন্তানের জনক হচ্ছেন তামিম। যে কারণে স্ত্রীর পাশে থাকতে তিনি চলে যাচ্ছেন ব্যাংকক। পরিবর্তে নেয়া হয়েছে ইমরুল কায়েসকে। তামিম না থাকাতেই এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।
তিনি বলেন, `যদিও আমরা ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছি। তবে আমাদেরকে ইমরুলের ওপর আস্থা রাখতেই হবে। আমরা আশা করবো পুরো দলই সেরা খেলাটা উপহার দেবে। তবুও তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিটা একটা বড় অভাব। কারণ, সে দারুণ ফর্মে ছিল।`
পিএসএলের প্রথম ম্যাচে দারুন পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু পরের ম্যাচগুলোতে ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। ৮ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩ উইকেট এবং ১২৬ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন ৫১ রান। তাকে নিয়ে নান্নু বলেন, `সাকিব এখন সঠিক ফর্মে নেই। মুশফিক পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি নিজেকে প্রমাণ করার। তবুও তারা অভিজ্ঞ পারফরমার। তারা জানে কিভাবে সময়মত জ্বলে উঠতে হয়। আমরা আশা করবো, এশিয়া কাপে আবারও তারা ফর্মে ফিরে আসবে।`

এশিয়া কাপের দল ও স্কোয়াড

মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপের ত্রয়োদশ আসর। ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের এশিয়া কাপ। মূলপর্ব শুরু হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগে হবে বাছাইপর্বের ম্যাচ। একটি দল সেখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়বে।
২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মূলপর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে। আর ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে। বাছাইপর্বের ম্যাচ শেষ হবে ২২ ফেব্রুয়ারি। সেখানে লড়বে আফগানিস্তান, হংকং, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। লিগ পদ্ধতির এ খেলায় সেরা পয়েন্ট অর্জকারী দল মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। দুই দলের যদি পয়েন্ট সমান হয় তবে নেট রান রেট দেখে এক দলকে মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
দেখে নেওয়া যাক এশিয়া কাপের দলগুলোর স্কোয়াড:
বাংলাদেশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানি, আবু হায়দা, নুরুল হাসান।
ভারত: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, রবীন্দ্র জাদেজা, হারদিক পান্ডে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জাসপ্রিত বুমরাহ, আশিষ নেহরা, সুরেশ রায়না, আজিঙ্কা রাহানে, হরভজন সিং, মোহাম্মদ শামি, পবন নেগি।
পাকিস্তান: শহীদ আফ্রিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, সরফরাজ আহমেদ (উইকেটরক্ষক), ইমাদ ওয়াসিম, আনোয়ার আলী, বাবর আজম, মোহাম্মদ নেওয়াজ, মোহাম্মদ আমির, ইফতেখার আহমেদ, মোহাম্মদ ইরফান, রুম্মান রইস, ওয়াহাব রিয়াজ, খুররম মনজুর।
শ্রীলঙ্কা: লাসিথ মালিঙ্গা (অধিনায়ক), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (সহ-অধিনায়ক), দিনেশ চান্দিমাল, তিলেকারাত্নে দিলশান, নিরোশান ডিকওয়েলা, শিহান জয়সুরিয়া, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনে, ধাসুন শানাকা, চামারা কাপুগেদারা, নুয়ান কুলাসেকারা, দুশমান্থা চামিরা, থিসারা পেরেরা, সাচিত্রা সেনানায়েক, রঙ্গনা হেরাথ ও জাফরি ভান্ডারসে।
আফগানিস্তান: আসগর স্তানিকজাই (অধিনায়ক), নুর আলী জাদরান, মোহাম্মদ শাহজাদ (উইকেটরক্ষক), উসমান গনি, মোহাম্মদ নবী, করিম সাদিক, শফিকুল্লাহ, রশিদ খান, আমির হামজা, দৌলত জাদরান, শাপুর জাদরান, গুলবাদিন নায়েব, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, ইয়ামিন আহমাদজাই।
হংকং: তানভীর আফজাল (অধিনায়ক), আইজাজ খান আনসি রাথ, বাবর হায়াত, ক্রিস্টোফার কার্টার (উইকেটরক্ষক), মার্ক চ্যাপম্যান, হাসিব আমজাদ, আদিল মেহমুদ, নাদিম আহমেদ, নিজাকাত খান, কিনচিট শাহ, নিনাদ শাহ, তানভীর আহমেদ, ওয়াকাস বারকাত, ওয়াকাস খান।
ওমান: সুলতান আহমেদ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), আমির কালিম (সহ-অধিনায়ক), আকিব সুলেহরি, আদনান ইলিয়াস, আমির আলী, মুনিস আনসারী, বেলাল খান, জাতিন্দার সিং, অজয় লালচেতা, মেহরান খান, রানপুরা, সুফিয়ান মেহমুদ, বৈভব, জিসান মাকসুদ, জিসান সিদ্দিকী।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমজাদ জাভেদ (অধিনায়ক), মোহাম্মদ কালিম, রোহান মুস্তাফা, শাইমান আনোয়ার, মোহাম্মদ শাহজাদ, স্বপ্নীল পাতিল (সহ-অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), উসমান মুশতাক আহমেদ রাজা, জহির মাকসুদ, মোহাম্মদ নাভিদ, ফারহান আহমেদ, কাদির আহমদ, মোহাম্মদ উসমান, ফাহাদ তারিক, সাকলাইন হায়দার।

এশিয়া কাপের টাইটেল স্পন্সর মাইক্রোম্যাক্স

ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপ-২০১৬ এর টাইটেল স্পন্সর হয়েছে মাইক্রোম্যাক্স ইনফরমেটিক লিমিটেড। টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড ও মাইক্রোম্যাক্সের যৌথ চুক্তিতে এবারের আসরের নাম রাখা হয়েছে ‘মাইক্রোম্যাক্স টি-২০ এশিয়া কাপ ২০১৬’।
এশিয়াকাপ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রথমবারেরমত এবার এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। এতে মূলত এশিয়ার চার শক্তিধর ক্রিকেট দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যতম সেরা এ আসরটি এবারও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। এগারোতম এ আসর আগামী ২৪ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে। ৬ ফেব্রুয়ারি গ্র্যান্ড ফাইনালের মাধ্যমে এ আসরের পর্দা নামবে।
তবে এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়গঞ্জের ফতুল্লায় শুরু হয়ে যাবে সহযোগী চার দেশ নিয়ে বাছাই পর্ব। মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে সহযোগী চার দেশ হচ্ছে আফগানিস্তান, হংকং, আরব আমিরাত এবং ওমান। বাছাই পর্বে শীর্ষে থাকা দল ও এশিয়ার চার টেস্ট দল মোট পাঁচ দল নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মিরপুরে শুরু হবে মূল এশিয়া কাপের লড়াই।

এশিয়া কাপের বেভারেজ পার্টনার ফ্রেশ

ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপ-২০১৬ এর গোল্ড স্পন্সর ও বেভারেজ পার্টনার হয়েছে ফ্রেশ। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অন্যতম সেরা এ কোমল পানীয় এর আগেও ক্রিকেটের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত ছিল।
এদিকে এশিয়া কাপের টাইটেল স্পন্সর হয়েছে মাইক্রোম্যাক্স ইনফরমেটিক লিমিটেড। টুর্নামেন্টটির এগারোতম আসরের নাম রাখা হয়েছে ‘মাইক্রোম্যাক্স টি-২০ এশিয়া কাপ ২০১৬’।
আগামী ২৪ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে এশিয়া কাপের। ৬ ফেব্রুয়ারি গ্র্যান্ড ফাইনালের মাধ্যমে এ আসরের পর্দা নামবে। তবে এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়গঞ্জের ফতুল্লায় শুরু হয়ে যাবে সহযোগী চার দেশ নিয়ে বাছাই পর্ব।
মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে সহযোগী চার দেশ হচ্ছে আফগানিস্তান, হংকং, আরব আমিরাত এবং ওমান। বাছাই পর্বে শীর্ষে থাকা দল ও এশিয়ার চার টেস্ট দল (ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ) মোট পাঁচ দল নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মিরপুরে শুরু হবে মূল এশিয়া কাপের লড়াই।

বাছাইপর্বের টিকিট মিলবে ২০ টাকায়

এশিয়া কাপে বাছাইপর্বের টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফতুল্লা ভেন্যুতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ও সর্বনিম্ন ২০ টাকা ধরা হয়েছে টিকিট মূল্য। বাছাইপর্বে মিরপুর ভেন্যুতেও একই হারে ধরা হয়েছে টিকিটের মূল্য।
আগামী ১৯, ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বাছাইপর্বের প্রথম চারটি ম্যাচ। এতে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা। ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি, ক্লাব হাউস, উত্তর/দক্ষিণ স্ট্যান্ড ও পূর্ব গ্যালারির টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা হারে।
ম্যাচের একদিন আগে টিকিট পাওয়া যাবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) তিনটি শাখায়। শাখাগুলো হলো-নারায়নঞ্জ, কাচপুর ও চাষাড়া। নগদ মূল্যে টিকিট নেওয়া যাবে। পর্যাপ্ত টিকিট থাকলে ম্যাচের দিনও নির্ধারিত শাখায় ‍পাওয়া যাবে বাছাইপর্বের ম্যাচের টিকিট।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২২ ফেব্রয়ারি গড়াবে বাছাইপর্বের শেষ দুটি ম্যাচ। মিরপুরে খেলা দেখা যাবে দুটি গ্যালারি থেকে। সাধারণ গ্যালারির টিকিট মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। ভিআইপি গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা যাবে ১০০ টাকায়।
আগামী ১৯-২২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান, ওমান, হংকং ও আরব আমিরাতকে নিয়ে গড়াবে বাছাইপর্বের খেলা। বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা সেরা দলটি খেলবে এশিয়া কাপের মূলপর্বে।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৬ মার্চ পর্যন্ত মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ার পাঁচটি দেশকে নিয়ে শুরু হবে এশিয়া কাপের মূলপর্ব। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা একটি দল খেলবে মূলপর্বে।

এশিয়া কাপের টিকিট যেখানে পাবেন
আর মাত্র ৭ দিনের অপেক্ষা। তারপরেই মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে এশিয়া কাপের ত্রয়োদশ আসর। মাঠে গিয়ে এশিয়া কাপের জমজমাট ক্রিকেট দেখতে নিশ্চই ভক্তরা এক রকম মুখিয়েই আছেন। আর কাঙ্খিত ম্যাচের টিকিটটি হাতে পেতে হয়তো ভাবছেন কোথায় যাবেন?
ভক্তদের জন্য খবর হলো, এশিয়া কাপের টিকিট পাওয়া যাবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)’র ঢাকাস্থ ৬টি শাখায়। শাখাগুলো হল, মিরপুর, সোনারগাঁও জনপদ, বিজয়নগর, প্রগতি সরণী, বসুন্ধরা ও নয়াবাজার শাখা। এছাড়া ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় গিয়ে কেউ টিকিট কিনতে না চাইলে ইউক্যাশের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করতে পারেন। টিকিট বাজারে ছাড়া হবে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে।
যেহেতু ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ মূল পর্বের প্রতিটি ম্যাচই মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে তাই ঢাকার বাইরে ব্যাংকটির কোন শাখায়ই টিকিট ছাড়া হয়নি। ২২ ফেব্রুয়ারির পর টিকিট পাওয়া যাবে প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন।
টিকিটের মূল্য: গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ৩০০০ টাকা, ভিআইপি স্ট্যান্ড ১০০০ টাকা, শহীদ জুয়েল/মুস্তাক স্ট্যান্ড ৫০০ টাকা, উত্তর/দক্ষিণ গ্যালারি ২৫০ টাকা আর পুর্ব গ্যালারি ১৫০ টাকা।
২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের এশিয়া কাপ।

ঢাকায় আরব আমিরাত ক্রিকেট দল

টানা তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের আসর বসছে বাংলাদেশে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৬ মার্চ পর্যন্ত মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ার পাঁচটি দেশকে নিয়ে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এ টুর্নামেন্ট। স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার সঙ্গে বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা একটি দল খেলবে মূলপর্বে।
এর আগে আগামী ১৯-২২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান, হংকং, ওমান ও আরব আমিরাতকে নিয়ে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে গড়াবে বাছাইপর্বের খেলা। বাছাইপর্বে ‍অংশ নিতে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে দলগুলো। প্রথম দল হিসেবে বুধবার (১৭ ফেব্রয়ারি) ঢাকায় পৌঁছেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট দল।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোডে অবস্থিত পাঁচতারকা হোটেল লা মেরিডিয়ানে উঠেছে তারা। হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিকেলে বাকী তিনটি দল- হংকং, ওমান ও আফগানিস্তানের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। সবগুলো দলই উঠবে লা মেরিডিয়ানে।
বাছাইপর্বের খেলা শুরু হবে আগামী শুক্রবার (১৯ ফেব্রয়ারি)। ওইদিন দুপুর দেড়টায় ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে আরব আমিরাত। সন্ধ্যা ৬টায় হংকং খেলবে ওমানের বিপক্ষে। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে চারটি দলই একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মোকাবেলা করবে। বাছাইপর্বের খেলা শেষ হবে ২২ ফেব্রয়ারি। গত এশিয়া কাপে বাছাইপর্বের বা‍ধা টপকে মূলপর্বে খেলেছিল আফগানিস্তান।
এশিয়া কাপ বাছাইপর্বের সূচি:
ফেব্রুয়ারি ১৯: আফগানিস্তান-আরব আমিরাত (দুপুর দেড়টায়), হংকং-ওমান (সন্ধ্যা ৬টায়)
ফেব্রুয়ারি ২০: আফগানিস্তান বনাম ওমান (দুপুর দেড়টা)
ফেব্রুয়ারি ২১: আরব আমিরাত বনাম হংকং (সন্ধ্যা ৬টা)
ফেব্রুয়ারি ২২: আফগানিস্তান-হংকং (দুপুর দেড়টা), আরব আমিরাত-ওমান (সন্ধ্যা ৬টা)।

গাজী, মাছরাঙ্গা, বিটিভি এবং স্টার স্পোর্টসে দেখা যাবে এশিয়া কাপ

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ডামাঢোল শেষ। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এরই মাঝে ঢাকায় বসছে এশিয়া কাপের ১৩তম আসর। উপমহাদেশের চার পরাশক্তির সঙ্গে একটি সহযোগি দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপের আসরটি। এবারই প্রথম এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।
২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এশিয়া কাপের লড়াই। তার আগে শুরু হবে বাছাই পর্ব। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সহযোগি চার দেশকে নিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লায় শুরু হবে বাছাই পর্ব। চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপরই শুরু হবে মূল লড়াই। ২৪ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ এবং ভারত। ২৭ ফেব্রুয়ারি মহারণ। এদিন মুখোমুখি হচ্ছে ভারত এবং পাকিস্তান।
এশিয়া কাপের খেলা কোথায়, কোন টিভিতে দেখা যাবে। আগে থেকেই জানার ইচ্ছা ক্রিকেটপ্রেমীদের। অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেরমত এশিয়া কাপের খেলাগুলোও দেখা যাবে বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন গাজী টিভিতে। সঙ্গে দেখা যাবে মাছরাঙ্গা এবং সরকারী টেলিভিশন বিটিভিতে।
এশিয়া কাপের সম্প্রচার স্বত্ব অবশ্য স্টার স্পোর্টসের। সুতরাং, বাংলাদেশের বাইরে এশিয়া কাপের খেলাগুলো দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস ১, ৩, স্টার স্পোর্টস এইচডি ১ ও ৩-এ। শুধু টিভিতে নয়, অনলাইনেও বসে সরাসরি খেলা দেখা যাবে। অনলাইনে দেখতে হলে সাবস্ক্রাইবারদের প্রবেশ করতে হবে স্টার স্পোর্টস ওয়েবসাইট এবং হটস্টারে।

এশিয়া কাপের সূচি

২৪ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ-ভারত, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
২৫ ফেব্রুয়ারি, শ্রীলংকা-টিবিসি, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ-টিবিসি, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
২৭ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তান-ভারত, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
২৮ ফেব্রুয়িারি, বাংলাদেশ-শ্রীলংকা, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
২৯ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তান-টিবিসি, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
১ মার্চ, ভারত-শ্রীলংকা, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
২ মার্চ, বাংলাদেশ-পাকিস্তান, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
৩ মার্চ, ভারত-টিবিসি, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
৪ মার্চ, পাকিস্তান-শ্রীলংকা, সন্ধ্যা ৭.৩০টা
৬ মার্চ, ফাইনাল, সন্ধ্যা ৭.৩০টা

টিবিসি হলো, বাছাই পর্ব থেকে উঠে আসা দলটি।

এশিয়া কাপে নেই তামিম ইকবাল

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য এশিয়া কাপ খেলছেন না তামিম ইকবাল। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন আরেক বাঁহাতি ওপেনার ইমরুল কায়েস। অনুমিত এই একটি পরিবর্তন ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলটিই রেখে দেওয়া হয়েছে এশিয়া কাপের জন্য।
তামিম এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলছেন পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল)। তামিমের স্ত্রী ও পরিবার কদিন আগেই চলে গেছেন থাইল্যান্ডে। সেখানেই ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা তামিম-আয়েশা দম্পতির প্রথম সন্তান। পিএসএল খেলেই থাইল্যান্ডে যাওয়ার কথা তামিমের। প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ জানালেন, ছুটি আগেই নিয়ে রেখেছিলেন তামিম। এই ওপেনারকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধান নির্বাচকের আশা, ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি হবে না তার।
“তামিম আগেই ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছে। যে কোনো মানুষের জীবনে প্রথমবার বাবা হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এই সময়টায় ওর স্ত্রীর পাশেই থাকা উচিত। এখন পিএসএলে খেলছে, খুব ভালোও খেলছে। এশিয়া কাপ না খেললেও তাই বিশ্বকাপের জন্য ম্যাচ অনুশীলনের অভাব হবে না।”
ইমরুল কায়েসের মতো ভালো একজন বিকল্প থাকায় প্রধান নির্বাচকের কণ্ঠে উঠে এলো স্বস্তি। “ইমরুল তো এখন সব ধরনের ক্রিকেটেই খুব ভালো খেলছে। বিপিএলে ভালো ব্যাট করেছে। ওর দুর্ভাগ্য যে বিশ্বকাপ দলে ওকে আমরা রাখতে পারিনি। তবে এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়েছে, আশা করি, সুযোগটি সে পুরোপুরি কাজে লাগাবে।”
গত বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শিরোপা জয়ে বড় অবদান ছিল ইমরুলের। কোয়ালিফায়ারে করেছিলেন ৬৭, ফাইনালে ৫৩। সব মিলিয়ে ৩১২ রান করে হয়েছিলেন বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। ২৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে শুরু এবারের এশিয়া কাপ।
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, নুরুল হাসান সোহান, মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি, আল আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানি।

এশিয়া কাপেও খেলবে বিশ্বকাপের দল!

আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য ইতোমধ্যেই ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে বিশ্বকাপের আগেই এশিয়া কাপের মঞ্চে নামবে মাশরাফিরা। অথচ এশিয়া কাপের জন্য এখনও দল ঘোষণা করা হয়নি। যদিও বিশ্বকাপের দল থেকে এশিয়া কাপের দলে খুব বেশি পার্থক্য থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ।
বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘এশিয়া কাপের দল আমরা দিয়ে দিব। খুব কাছাকাছিই সময়েই। কেননা আমাদের দেশে এতোবেশি খেলোয়াড় নাই যে একটা টুর্নামেন্টের মাঝে বড় পার্থক্য হবে। এর কাছাকাছি একটা দল দিব। এরজন্য আরো ৫-৬ দিন অপেক্ষা করতে হবে।’
এ মাসের শেষ দিকে প্রথমবারের মত সন্তানের পিতা হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে তাই এশিয়া কাপে নাও খেলতে পারেন তিনি। বোর্ডের কাছে ছুটি চেয়ে আবেদনও করেছেন তামিম। শেষ মুহূর্তে তামিমের ছুটি মঞ্জুর হলে তার পরিবর্তে ইমরুল কায়েস দলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে জানালেন ফারুক।
বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপকে আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিরিজ ভাবছেন কি না এমন প্রশ্নে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা এশিয়া কাপে চেষ্টা করছি একটা সেট কম্বিনেশন দাঁড় করাতে। এশিয়া কাপ একটা বড় টুর্নামেন্ট যেখানে আমরা ভালো করতে চাই। তারপরে তো আরো বড় টুর্নামেন্ট। ওইটাতেও ভালো করতে চাই। তো বলতে পারি কাছাকাছি দলই দেখতে পারবেন।’

আবারও মাশরাফিদের হারালেন শুভাগতরা

এশিয়া কাপকে সামনে রেখে জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা রবিবার খুলনার শেখ আবু নাসের বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলেছেন। এই খেলায় মাশরাফির লাল দলকে নয় উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে শুভাগত হোমের সবুজ দল। খেলায় ৪টি অর্ধশতক হয়েছে। এই প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ শেষে বিকাল ৪টার দিকে মাশরাফিরা ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।
রবিবার কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ থাকার কারণে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচটি ১১টায় শুরু হয়। প্রথমে ব্যাট করে মাশরাফির লাল দল ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। তামিম ইকবাল ৫১ রান ও মাহমুদুল্লাহ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন। আবু হায়দার রনি ৩টি, মো. শহীদ ও কামরুল ইসলাম দুটি করে উইকেট লাভ করেন।
১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সবুজ দল উদ্বোধনী জুটিতেই ১৬৩ রান সংগ্রহ করে। অনবদ্য এই জুটি গড়েন মো. মিথুন ও ইমরুল কায়েস। ১৬ ওভারে ওই রান সংগ্রহ করেন তারা। ১৬ ওভারে ব্যক্তিগত ৬৭ রানে সাব্বিরের বলে আউট হন মিথুন। তিনি ৫টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে এ রান করেন। অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন। তিনি ৯টি চার ও ৪টি ছয়ে এ রান করেন। ম্যাচ শেষে হোটেল সিটি ইনে ফিরে দুপুরের খাবারের পর ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করে মাশরাফি বাহিনী।

এশিয়া কাপের বাছাইপর্বের সূচি

টানা তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের আসর বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আগামী ২৪ ফেব্রয়ারি থেকে ০৬ মার্চ পর্যন্ত মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ার পাঁচটি দেশকে নিয়ে শুরু হবে এ আসর। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপ। স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার সঙ্গে বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা একটি দল খেলবে মূলপর্বে।
আগামী ১৯-২২ ফেব্রয়ারি আফগানিস্তান, হংকং, ওমান ও আরব আমিরাতকে নিয়ে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাছাইপর্বের খেলা। চার দলের মধ্যে সেরা দলটি উঠে আসবে মূলপর্বে।
শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) এ টুর্নামেন্টটির বাছাইপর্বের সূচি অফিসিয়ালি প্রকাশ করা হয়।
বাছাইপর্বের শুরুর দিন ও শেষ দিন মাঠে গড়াবে দু’টি করে ম্যাচ। মাঝের দু’দিন অনুষ্ঠিত হবে একটি করে ম্যাচ। বাছাইপর্বে চারদিনে মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বাছাইপর্ব খেলতে দলগুলো ঢাকায় আসবে ১৭ ফেব্রয়ারি।
বাছাইপর্বের শুরুর দিন (১৯ ফেব্রয়ারি) দুপুর দেড়টায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে আরব আমিরাত। সন্ধ্যা ৬টায় হংকং খেলবে ওমানের বিপক্ষে। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে চারটি দলই একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মুখোমুখি হবে। বাছাইপর্বের খেলা শেষ হবে ২২ ফেব্রয়ারি।

এশিয়া কাপের বাছাইপর্বের সূচি:

ফেব্রুয়ারি ১৯: আফগানিস্তান-আরব আমিরাত (দুপুর দেড়টায়), হংকং-ওমান (সন্ধ্যা ৬টায়)
ফেব্রুয়ারি ২০: আফগানিস্তান বনাম ওমান (দুপুর দেড়টা)
ফেব্রুয়ারি ২১: আরব আমিরাত বনাম হংকং (সন্ধ্যা ৬টা)
ফেব্রুয়ারি ২২: আফগানিস্তান-হংকং (দুপুর দেড়টা), আরব আমিরাত-ওমান (সন্ধ্যা)।