রাত ৩:১৬, শনিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের শিরোপা জয় করা পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে বিএমডব্লু এক্স-১ গাড়ি উপহার দিলেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও স্পিডস্টার পেসার শোয়েব আখতার।
পাকিস্তানের জিও টিভির রমজান শো ‘জিও খেলো’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরফরাজ। সেই অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আকরাম ও আখতার। আর ঐ অনুষ্ঠানেই সরফরাজের হাতে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার তুলে দেন তারা।
জিও খেলো ও জেএস ব্যাংকের মিলে সরফরাজকে বিএমডব্লিউ গাড়ি ও একটি প্লট উপহার দেয়া হয়।

একাদশে এবার সাকিব

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হলেও রেশটা এখনো রয়েই গেছে। টুর্নামেন্ট শেষে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা-আইসিসিসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও বিশ্লেষকরা পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে সেরা একাদশ তৈরি করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নিজের সেরা একাদশ ঘোষণা করছেেন এবার ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। তার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এর আগে বিভিন্ন সেরা একাদশে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গা হলেও, ভনের একাদশে সাকিবই হলেন বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার।
মাইকেল ভনের একাদশে শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার জায়গা হলেও, জায়গা হয়নি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির। চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় রয়েছেন এই একাদশে। পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজই তার দলের অধিনায়ক। এছাড়া ইংল্যান্ডের তিনজন, ভারতের দুইজন ও বাংলাদেশের একজন আছেন এই একাদশে।
মাইকেল ভনের সেরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি একাদশ:
ফখর জামান, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, জো রুট, সাকিব আল হাসান, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, আদিল রশিদ, মোহাম্মদ আমির, হাসান আলী, জুনাইদ খান।

বাংলাদেশের আয় চার কোটি টাকা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে শিরোপা জয়ী পাকিস্তান ভাসছে পুরস্কারের বন্যায়। আর কোচ কুম্বলের পদত্যাগে রানার্সআপ ভারত আছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনায়। এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠে প্রমান দিলো নিজেদের সামর্থের। সেই সঙ্গে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে প্রায় চার কোটি টাকাও।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো ভারত। গত ১৯ জুন এবজাস্টনে সেই ম্যাচ ৯ উইকেটে জিতে ভারত পৌঁছে যায় ফাইনালে । তাতে কি পরাজিত হলেও তো বাংলাদেশ পায় তিন কোটি ৬৩ লাখ টাকা (০.৪৫ মিলিয়ন ডলার)। সেমিতে পরাজিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডও পায় একই পরিমাণ অর্থ। চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান পেয়েছে ১৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা (২.২ মিলিয়ন ডলার)। রানার্সআপ ভারতের আয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা (১.১ মিলিয়ন ডলার)। গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে প্রায় ৭২ লাখ টাকা করে। অন্যদিকে, গ্রুপের শেষ দল নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকা পায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা করে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অর্থ পুরস্কার হিসেবে আইসিসি ৩৬ কোটি টাকা (৪.৫ মিলিয়ন ডলার) অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়।

পুরস্কার এক কোটি রুপি

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের কারণে পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে এক কোটি রুপি করে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। লন্ডনের দ্যা ওভালে অলরাউন্ড পারফর্ম করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জেতে পাকিস্তান। ৩৩৯ রানের টার্গেটে নেমে মাত্র ১৫৮ রানে অলআউট হয় ভারত।

উচ্ছ্বাসের রঙ সবুজ!‌ হ্যাঁ, গোটা পাকিস্তানই যে ওই রঙে রাঙিয়েছে নিজেকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের পর, দেশে ফিরলেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, বাবর আজম, হাসান আলি, ফাহিম আশরাফ, রুমান রাইসরা। শাবাদ খান, ইমাদ ওয়াসিম আর ফকর জামান পৌঁছন পরে। টিকিটের সমস্যা থাকায় ক্রিকেটাররা একসঙ্গে একই বিমানে ফিরতে পারেননি। লাহোরের আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন সমর্থকরা। গোলাপের মালা আর ফুলের তোড়ায় বরণ করে নেওয়া হয়। সেখানে করাচির মেয়র ওয়াসিম আখতার, রাজ্যপাল সিন্দ মুহম্মদ জুবের স্বাগত জানান। যে ট্রফিটা ছোঁয়ার জন্য এত লড়াই, সেই ট্রফিটা সরফরাজ সবার সামনে তুলে ধরেন। যা দেখা মাত্রই আকাশ–বাতাস কাঁপিয়ে গর্জন তোলেন সমর্থকরা। অধিনায়ক ছিলেন এক্কেবারে ফুরফুরে মেজাজে। কারও কোনও আবদার মেটাতে আপত্তি করেননি। সেলফি তুলতেও দেখা যায় তাঁকে। সরফরাজদের জন্য বিমানবন্দরেই হাজির ছিলেন প্রায় হাজারখানেক সমর্থক। ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ির মধ্যে ছিলেন সাংবাদিকরাও। তাঁদের অনুরোধে সরফরাজ বলেন, ‘‌পাকিস্তানী জনতার জন্য এটা বড় জয়। দলের প্রতিটি সদস্য প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে। প্রথম ম্যাচে হারের পর যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে, অবিশ্বাস্য।’‌

অনীল কুম্বলের পদত্যাগ

ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে তাকে রাখা, না রাখা নিয়ে, জল্পনা চলছিলই। নিজেই বোধহয় টের পাচ্ছিলেন সময়টা তার পক্ষে নেই। তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হতেই ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন অনিল কুম্বলে।
অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরেই শেষ হয়ে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কুম্বলের চুক্তি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত তাঁকে দলের কোচের দায়িত্ব সামলাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরেই দাঁড়ালেন। মঙ্গলবার সকালে লন্ডন থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে উড়ে গিয়েছে ভারতীয় দল। কিন্তু দলের সঙ্গে যাননি অনিল কুম্বলে। জল্পনা শুরু হয়েছিল সোমবার থেকেই। জানা যাচ্ছিল না আদৌ দলের সঙ্গে যাবেন কি না তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টও তা নিয়ে কোনও তথ্য জানাতে পারেনি। ক্রিকেটাররাও ছিলেন পুরো অন্ধকারে। শেষ পর্যন্ত খোলসা করলেন কুম্বলে নিজেই।
কোহালি ও কুম্বলের সম্পর্ক যে তলানিতে এসে ঠেকেছে সেটা এতদিনে জেনে গিয়েছে সকলেই। যে কারণে শুরু হয়েছে নতুন কোচের খোঁজ। বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে আবেদনপত্র চেয়ে। যেটা কুম্বলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাঁর হাত ধরে কম সাফল্য পায়নি ভারতীয় দল। ঘরের মাঠে টানা টেস্ট সিরিজ জয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পৌঁছনো সবই রয়েছে সেই তালিকায়। তার পরও নতুন কোচের খোঁজ শুরু হওয়াটা ভালভাবে নিতে পারেননি তিনি। যে কারণেই এই সরে দাঁড়ানো

প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার পরেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতির বন্যা দেখা যাচ্ছে। ফাইনালের নায়ক ফকর জামানসহ দলের সব ক্রিকেটারকেই আর্থিক পুরস্কার, জমিসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ইউনিস খান বলেন, পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি যেন পূরণ করা হয়। শুধু প্রচারের জন্য যেন পুরস্কারের কথা ঘোষণা না করা হয়।
পাকিস্তানের এক ব্যবসায়ী রিয়াজ মালিক ঘোষণা করেছেন, ফকরকে জমি এবং ১০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা দেবেন। দলের বাকিদের সম পরিমাণ অর্থ এবং ছোটমাপের জমি দেবেন। এই খবর শোনার পর ইউনিস বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে এটা খুব ভাল কথা। কিন্তু রিয়াজ মালিককে মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০৯ সালে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পরও এই ধরণের পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি। তাই অনুরোধ থাকবে, এবার যেন প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়।’

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে একমাত্র তামিম

দারুণ পারফর্ম করে কঠিণ গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠলেও, আইসিসি-র মন গলাতে পারেন নি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তা না হলে, তামিম ইকবাল ছাড়া আর কেউ কেনো জায়গা পাবেন না এবারের আইসিসি একাদশে। অবশ্য একাদশ কেনো, সেটা তো হবে দ্বাদশ। আর দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে, টুর্নামেন্টে ২৪৪ রান করা নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনকে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একাদশে শিরোপা জয়ী দল পাকিস্তানের আছেন চারজন, রানার্সআপ ভারতের ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের তিনজন করে ক্রিকেটার। আর একজন বাংলাদেশের। আর দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-র দল হলো-
শিখর ধাওয়ান (ভারত), ফকর জামান (পাকিস্তান), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), বিরাট কোহলি (ভারত), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান), আদিল রশীদ (ইংল্যান্ড), জুনায়েদ খান (পাকিস্তান), বি. কুমার (ভারত), হাসান আলী (পাকিস্তান) ও কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আর্থারটন, ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, পাকিস্তানের রমিজ রাজা এবং বেশকিছু নামী সাংবাদিক মিলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই দলটি গঠণ করেন।

পাকিস্তানের সাফল্য: ইমরান-আফ্রিদিদের শুভকামনা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত ও অসাধারণ জয়ে মুগ্ধ সে দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। রবিবার রাতে ওভালে পাকিস্তানের জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট ভেসে উঠতে শুরু করে। ২০০৭-এ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হারা পাক দলের সদস্য ও সম্প্রতি অবসর নেওয়া প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক টুইট করেন, ‘তোমরা আমাদের খুশি ও গর্বিত করেছ। এখান থেকেই ওপরে ওঠা শুরু হোক আমাদের।’

১৯৯২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান খানের প্রতিক্রিয়া, ‘অভিনন্দন পাকিস্তান দল। ফখর জামানের প্রতিভার পরিচয় পেয়ে দারুণ লাগল।’ আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক ও জনপ্রিয় ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদি টুইটারে লেখেন, ‘দুই দেশের সমর্থকদেরই এই ম্যাচটা বহুদিন মনে থাকবে। এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা চিরকাল মনে রাখব।’
ওয়াসিম আকরামের উচ্ছ্বাস অনেকটা এ রকম, ‘ওয়াও…ওয়াও…ওয়াও। সবুজ দলের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জয়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আকাশে উড়ছি।’
অন্যান্য দেশের প্রাক্তনরাও পাকিস্তানের এই জয়ে অভিভূত। কুমার সাঙ্গকারা বলেছেন, ‘পাকিস্তানিদের কলিজার জোরটাই দেখা গেল। নিজেদের উপর আস্থা ও সাহস বুকে নিয়ে খেললে কী হয়, সেটাই দেখা গেল।’ নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথও সরফরাজ আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ফাইনাল সেরা ফাখর, টুর্নামেন্ট সেরা হাসান আলি

ফাইনালে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। ভারতের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনিই। টিম ইন্ডিয়ার টপ-অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানকেই সাজঘরে ফেরান আমির। রোহিত শর্মা (০) শিখর ধাওয়ান (২১) ও বিরাট কোহলিকে (৫) আউট করেন তিনি। ৬ ওভারেই ২টি মেডেনসহ ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন আমির।
অনেকেরই হয়তো ভাবনা ছিল আমিরই হতে পারেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু না। পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়া ফাখর জামানই বনে গেলেন ফাইনালের নায়ক। খেলেছেন ১১৪ রানের ইনিংস।
১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ফাখর। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন। ততক্ষণে পাকিস্তানের বড় পুঁজির ভিত গড়ে ফেলে।
এই টুর্নামেন্টে বল হাতে ধারাবাহিক ছিলেন হাসান আলি। ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানি এই বোলার। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ফাইনালে ৬.৩ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ফাইনালে ১৮০ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। প্রথমবারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতল পাকিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তোলে সরফরাজ আহমেদের দল। জবাবে ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হয় ভারত।

নৌবাহিনী ছেড়ে ক্রিকেটে ফাখর জামান

ফাখর জামান ক্রিকেটকে খুব ভালোবাসেন। ছোটবেলায় পড়াশুনার ফাঁকে পাড়ার ক্রিকেটে খেলতেন। তবে জীবনের তাগিদে নৌবাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছিল তাকে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ওই চাকরি চালিয়ে যান। এরপর নৌবাহিনী ছেড়ে ক্রিকেটে ফিরে আসেন তিনি।
ওই বছরই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফাখরের অভিষেক। মুলতানের বিপক্ষে করাচি বুলসের হয়ে। কায়েদ-এ আজম ট্রফিতে অভিষেকেই জাত চিনিয়েছিলেন। চারদিনের ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে ১১৪ বলে ৯টি চারে করেন ৭৯ রান। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ বল খেলে ১২টি চারের সাহায্যে করেন ৮৩ রান।
২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় দলে অভিষেক হয় ফাখর জামানের। টি-টোয়েন্টি দিয়ে পথচলা শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চলতি বছরের ৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষিক্ত ম্যাচে মাত্র ৫ রানেই থামেন তিনি। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৩টি। সর্বসাকুল্যে করতে পেরেছেন ২৬ রান।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ফাখরের পথচলা শুরু চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যায়। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন আহমেদ শেহজাদ (১২)। তাতে কপাল খোলে ফাখরের। শেহজাদের পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একাদশে জায়গা পান তিনি।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ফাখরের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। এরপর থেকে পাকিস্তান একাদশে খেলে যাচ্ছেন তিনি। শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করেছেন, রান সংখ্যা যথাক্রমে ৫০ ও ৫৭।
ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তো আরও উজ্জ্বল ফাখর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিটাও পেয়ে গেলেন তিনি। খেলেছেন ১১৪ রানের ইনিংস। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেন তিনিই।
চার ইনিংসে ৬৩ গড়ে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৫২ রান (আজকের ম্যাচসহ)। ফাখর জামান নিজেকে বড় ভাগ্যবানই ভাবতে পারেন। নৌবাহিনীর চাকরিটা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তটা যথার্থই ছিল! নৌবাহিনীতে থাকলে তাকে ক`জনই বা চিনতেন। এখন ফাখরের খেলা দেখছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। যেভাবে খেলছেন, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

ধাওয়ান শীর্ষে, তামিম তিনে

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে রোববার শিরোপার জন্য লড়বে করতে নামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। শিরোপার লড়াইয়ে ব্যক্তিগত একটা লড়াইও ছিল ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের মধ্যে। দুজন ব্যর্থ হলেও সেই লড়াইয়ে জিতেছেন ধাওয়ান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরে ৫ ম্যাচে ৬৭.৬০ গড়ে সর্বোচ্চ ৩৩৮ রান করে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ধাওয়ান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়া ম্যাচে মাত্র ২১ রান করে মোহাম্মদ আমিরের বলে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ভারতীয় ওপেনার।
ধাওয়ানের চেয়ে ১৩ রানে পিছিয়ে থেকে ফাইনাল খেলতে নামেন রোহিত। তবে কোনো রান না করেই আমিরের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন এই ভারতীয় ওপেনার। সবমিলিয়ে ৭৬.০০ গড়ে ৩০৪ রান করেন রোহিত; টুর্নামেন্টে যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হওয়া হলো না তামিম ইকবালের। বাংলাদেশি ওপেনার ৭৩.২৫ গড়ে ৪ ম্যাচে ২৯৩ রান করে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন; সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর দৌড়ে তামিম রয়েছেন তিন নম্বরে।ধাওয়ান শীর্ষে, তামিম তিনে
২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে সর্বোচ্চ ৩৬৩ রান করেছিলেন ধাওয়ান। এবারও সেরা হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করলেন তিনি। তবে আক্ষেপ হলো- গতবার চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার গোহারা হেরে রানার্সআপ হয়েই ধাওয়ানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
জো রুট এবং বিরাট কোহলি সমান সমান ২৫৮ রান নিয়ে যথাক্রমে চার এবং পাঁচ নম্বরে রয়েছেন। শীর্ষ দশে থাকা অপর পাঁচজন হলেন- ফখর জামান (২৫২), কেন উইলিয়ামসন (২৪৪), আজহার আলি (২২৮), এউইন মরগ্যান (২০৮) ও বেন স্টোকস (১৮৪)।

রেকর্ড গড়েই শেষ করলেন হাসান আলি

হাসান আলি যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হতে যাচ্ছেন সেটি অনুমিতই ছিল। এই পাকিস্তানি পেসারকে কেউ টপকাতে পারেনি। রোববার লন্ডনের ওভালে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে শুধু সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিই হননি; সেইসঙ্গে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন হাসান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন এই পাকিস্তানি পেসার।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নেয়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেরোমি টেলরের দখলে ছিল। ২০০৬ সালের আসরে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন এই ক্যারিবিয়ান পেসার। এবারের আসরে ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে টেলরকে ছাড়িয়ে যান হাসান। টেলরের তুলনায় কম ম্যাচে ১৩ উইকেট নেয়ায় এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় চূড়াতেই রয়েছেন ফাইনালে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেয়া হাসান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরে সবচেয়ে ধারাবাহিক বোলারের নাম হাসান আলি। ৫ ম্যাচে ৪৪.৩ ওভার বোলিং করে ১৯১ রান দিয়ে ১০ সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়েছেন এই পাকিস্তানি পেসার। ওভারপ্রতি ৪.২৯ রান দিয়ে ১৪.৬৯ গড়ে উইকেটগুলো নেন হাসান।
জস হ্যাজলউড ৯ এবং লিয়াম প্লাঙ্কেট ও জুনায়েদ খান ৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষ চারে রয়েছেন। আদিল রশিদ ও ভুবনেশ্বর কুমার নেন সমান সাতটি করে উইকেট।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এক আসরে ১২টি করে উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা ও পারভেজ মাহরুফ। ১১টি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল ম্যাকক্লেনঘান, জেমস অ্যান্ডারসন, লাসিথ মালিঙ্গা ও ওয়াইন পারনেল। রোববার এদেরকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠলেন হাসান।

ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

দুই দলের প্রথম দেখায় ব্যাটে-বলে সুবিধা করতে না পারা পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। ফাইনালে ভারতের বিপে নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। শিরোপাধারীদের বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ফাইনালে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ফখর জামান আর শেষের ঝড়ে মোহাম্মদ হাফিজ দলকে এনে দিয়েছিলেন বিশাল সংগ্রহ। জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ভারতকে, অসাধারণ বোলিং করা মোহাম্মদ আমির, জুনায়েদ খান, হাসান আলিরা তার ধারে কাছে যেতে দেননি বিরাট কোহলির দলকে।
এক পেশে ফাইনালে উজ্জ্বীবিত পাকিস্তান জিতেছে ১৮০ রানে। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের সেরা ছিল ২০০৫ সালে দিল্লিতে ১৫৯ রানের জয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ার পর আলোচনায় চলে আসে ২০০৩ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে আসা ভারতের বিপে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫৯ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরই ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অজিদের সামনে। ১৪ বছর পর আইসিসির ইভেন্টের আরেকটি ফাইনালে একই পরিণতি বরণ করতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। এবার প্রতিপ অস্ট্রেলিয়া নয়; পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারালো তারা।
লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বিরাট কোহলি। ফখর জামান ও আজহার আলির মধ্যকার সেঞ্চুরি জুটির ওপর ভর করে মজবুত ভিত পায় সরফরাজের দল। এরপর অন্যান্যদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের কোমড় ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১২৫ রানে হেরেছিল ভারত। তবে এবার ব্যবধানটা আরো বেশি। বলতে গেলে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে টিম পাকিস্তান।
ভারতের হয়ে যা একটু লড়াই করেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাহায্যে ৭৬ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। শিখর ধাওয়ান ২১ এবং যুবরাজ সিং ২২ রান করে আউট হন। রোহিত শর্মা (০), বিরাট কোহলি (৫), এমএস ধোনি (৪), কেদার যাদবরা (৯) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হন। পাকিস্তানের হয়ে আমির ও হাসান আলি তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া শাদাব খান দুটি ও জুনায়েদ খান নেন একটি উইকেট।
৩৩৯ রানের ল্েয ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত। সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন ভারতীয় ওপেনার।

প্রথম ওভারে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারত তাকিয়ে ছিল রান তাড়ায় মাস্টার কোহলির দিকে। কিন্তু দলকে চরম হতাশ করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। আমিরের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজহার আলির বদান্যতায় বেঁচে যান কোহলি। কিন্তু পরের বলেই পয়েন্টে শাদাব খানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। শুরুতেই ২ উইকেট হারানোর পর ধাওয়ান ও যুবরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেন আমির। এই পাকিস্তানি পেসারের করা নবম ওভারের শেষ বলে ধাওয়ানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বল জমা পড়লে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া। এরপর যুবরাজ ও ধোনি মিলে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়ে উঠেন। তবে শাদাবের করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে যুবরাজ ফিরে গেলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ভারত। আম্পায়ার প্রথমে লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া না দিলে শাদাব সঙ্গে সঙ্গেই সরফরাজকে রিভিউ নেয়ার জন্য তাড়া দেন। রিভিউতে লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত আসলে কোণঠাসা হয়ে টিম ইন্ডিয়া।
ভারতের শেষ আশা-ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন ধোনি। তবে পরের ওভারে তিনিও পথ ধরেন সাজঘরের। হাসান আলির করা ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ইমাদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে দলকে চরম বিপদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরেন ধোনি। আর তাতেই ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। এরপর দলীয় ৭২ রানের মাথায় শাদাবের করা ১৭তম ওভারের শেষ বলে কেদার যাদব আকাশে বল তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে চরম লজ্জার মুখে পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন পান্ডিয়া ও জাদেজা। এই দুজন ৫৭ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানের মাথায় জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে পান্ডিয়া রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। এরপর দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় পরপর জাদেজা ও অশ্বিন আউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের বড় হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। হাসানের করা ৩১তম ওভারের তৃতীয় বলে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠে পাকিস্তান।
এর আগে টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করা ফখর ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। তার ওপেনিংয়ের সঙ্গী আজহার রানআউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। এছাড়া বাবর আজম ৫২ বলে ৪৬ এবং হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫৭ রান। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।
ভারতীয় একাদশ : রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।
পাকিস্তান একাদশ : আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।

ভারতকে ৩৩৯ রানের টার্গেট দিলো পাকিস্তান: ফাখর জামানের সেঞ্চুরি

ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ৩ রানেই। আর সেই সংখ্যাটা রূপ দিলেন তিন অঙ্কে। ভাগ্যে থাকলে যা হয়! নো বলের কল্যাণে বেঁচে যান ফাখর জামান। জাসপ্রিত বুমরাহর করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে ফাখর জামান আউট হয়েছেন ভেবে হাঁটা শুরু করেন। আম্পায়ার বলটি চেক করতে গিয়ে দেখেন অবৈধ। মানে, নো বল। আর তাতে জীবন পান ফাখর জামান। পাকিস্তানি এই ওপেনার জীবন পেয়ে সুযোগটা কাজে লাগালেন। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি। ৩১তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি করেন ফাখন জামান। ৯২ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে রয়ে-সয়ে ব্যাট করেছেন। ৬১ বলে প্রথম পঞ্চাশ রান করেন। যেখানে ছিল সাতটি বাউন্ডারি। দ্বিতীয় পঞ্চাশ রান ফাখর তুলেছেন ঝড়ো গতিতেই। মাত্র ৩১ বলেই এ রান তোলেন। এতে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ২টি বিশাল ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে থেমেছেন ফাখর। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন পাকিস্তানি এই ওপেনার।
তার সঙ্গে অন্য ওপেনার আজহার আলীর ৫৯, মোহাম্মদ হাফিজের ৩৭ বলে অপরাজিত ৫৭ রান আর বাবর আজমের ৪৬ রানে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তোলে পাকিস্তান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ভূবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কাদের যাদব ১টি করে উইকেট তুলে নেন।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের দর্শক!

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত আর পাকিস্তান, এ তথ্য সবারই জানা। লন্ডনের ওভালে আজকের ম্যাচটি টিভিতে সারা দুনিয়ার কত লোক দেখবে, এটাও একটা জল্পনা-কল্পনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ম্যাচটি ৫০ কোটি লোক টিভিতে দেখবে? নাকি ১০০ কোটি?
ক্রিকিনফো ওয়েবসাইটে টিম উইগমোর লিখছেন, এর আগেও একাধিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে এমন জল্পনা হয়েছিল, তবে পরে দেখা গেছে প্রকৃত টিভি দর্শকসংখ্যা ছিল ধারণার চাইতে অনেক কম। সবচেয়ে বেশি টিভি দর্শক হয়েছিল ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালের দিন।

ঐ ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিলো ভারত। ক্রিকিনফোর দেয়া জরিপ জানায়, সেই খেলা টিভিতে দেখেছিল ৫৫ কোটি ৮০ লাখ লোক। আর সেই বিশ্বকাপেই ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনাল ছিল সর্বোচ্চ টিভি দর্শকের তালিকায় দ্বিতীয়। আইসিসির দেয়া তথ্য উদ্ধৃত করে ক্রিকিনফো বলছে, আজকের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনাল দেখবে ৩২ কোটি ৪০ লাখ লোক, যা হবে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
ক্রিকিনফো আরো জানাচ্ছে, কোন ক্রীড়ানুষ্ঠানের টিভি দর্শক ১০০ কোটি ছুঁয়েছিল একবারই। সেটি হলো, ২০০৮এর বেইজিং অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন। যাই হোক আসলে দর্শক কত হয় তা তো জানা যাবে খেলা হবার পর। কারণ এই ফাইনাল দেখবেন শুধু ভারত আর পাকিস্তানের লোকেরা নয়। সারা পৃথিবীতে যেখানেই ক্রিকেটভক্ত আছে, তারা প্রায় সবাই আজ দেখবেন এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই।

আশার কথা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত বৃষ্টি আজ খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। লন্ডনে সারা দিন রোদ থাকবে, এবং থাকবে গরম। দুপুর নাগাদ তাপমাত্রা হবে ৩০ ডিগ্রির মতো ।

শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি আজ ভারত-পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল খেলছে ভারত ও পাকিস্তান, আর উত্তেজনায় পুরো বিশ্ব। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। এমনিতেই রাজনৈতিক কারণে প্রতিবেশি দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ক্রিকেট খেলার চল নেই বললেই চলে। যেটুকু হয় তাও সেই আইসিসি-এর টুর্নামেন্টেই। আর তারই সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আজ লন্ডনের ওভালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটা থেকে।
২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালকে ঘিরে ইতিমধ্যে উত্তেজনায় ফুটছে গোটা লন্ডন। আর সেই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। চলতি টুর্নামেন্টেই অবশ্য পাকিস্তানকে হারিয়েছে বিরাট কোহলির দল। তবে সেটা ছিলো গ্রুপ পর্বে। কিন্তু ফাইনাল ভিন্ন ম্যাচ, গ্রুপ পর্বের ম্যাচের সঙ্গে ফাইনাল মেলান ঠিক নয়।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে সরফরাজ-বিরাট।
রবিবারে ফাইনালের প্রসঙ্গে পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন, ‘আমরা নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী খেলব। ব্যাটিংয়ের থেকেও বোলিং লাইনআপ আমাদের শক্তিশালী। গোটা টুর্নামেন্টে আমাদের বোলাররা ভাল বল করেছে। ফাইনালেও সেটা ধরে রাখতে চাই।’
অন্য দিকে, পাকিস্তানকে সম্মান জানিয়ে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি বলেন, ‘পাকিস্তান বড় দল। ওদের দক্ষতা এবং ক্ষমতার প্রসঙ্গে সকলেই জানে। নিজেদের দিনে যে কোনও দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে পাকিস্তান। তবে আমরা আগের ম্যাচগুলোর মতই খেলব। দলের প্রত্যেকে আশাবাদী ফাইনালে ভাল পারফরম্যান্সের বিষয়।’
অন্যদিকে, পাক সমর্থকদের জন্য সুখবর ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন পেসার মোহাম্মদ আমির। আমির এলে দল থেকে বাদ পরতে হবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলা রুমান রাইসকে। এ ছাড়া পাকিস্তানের দলে পরিবর্তনের কোনও সম্ভবনা নেই।
পাকিস্তানের দলে পরিবর্তন এলেও একই দল খেলবে ভারতের। নিজেদের সেট টিমকেই ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামাতে চলেছে ভারতীয় টিম ম্যানেজম্যান্ট। ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পাওয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিন ফাইনালে মাঠে নামছেন, এমনই সুখবর বিরাজ করছে ভারত শিবিরে।

আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তানের পরিসংখ্যান


ফাইনালের ভেন্যু: দ্যা ওভাল
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু ক্রিকেট মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, উত্তাপ ছড়িয়ে পরে দেশ থেকে দেশান্তরেও। আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান দু’দলই বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। তবে, অধিকাংশ সময়ই ভারতের কাছে হারতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে ছয়বার ভারতের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। কিন্তু একবারও হারাতে পারেনি ভারতকে। এমনকি ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী ইমরান খানের পাকিস্তানও হারাতে ব্যর্থ হয় ভারতকে। ১৯৯২-র পর ১৯৯৬ তেও ভারতের কাছে পরাজিত হয়েছিলো পাকিস্তান। এরপর আর কখনই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। ১৯৯৯, ২০০৩, ২০১১ ও ২০১৫ প্রতিটি বিশ্বকাপেই ভারতের মুখোমুখি হলেও পরাজয় দিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। শুধু বিশ্বকাপেই নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চারবার পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। ২০০৭ সালে পাকিস্তানকে হারিয়েই প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এরপর ২০১২ এবং ২০১৪ তেও ভারতের কাছে নতিস্বীকার করে পাকিস্তান।
তবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের কাছে বারবার হারলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। আইসিসির এই ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে চারবার। যার মধ্যে দুইবার করে জিতেছে দুই দল। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। এরই পুনরাবৃত্তি ঘটে ২০০৯-এ সেঞ্চুরিয়নে। পাকিস্তানের ৩০২ রানের জবাবে ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২৪৮ রানে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে পরিসংখ্যানে উন্নতি ঘটায় টিম ইন্ডিয়া। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ডাক-ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তানকে দুই উইকেটে হারিয়ে দেয় ধোনির ভারত। চলতি চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফিতেও পাকিস্তানকে হার স্বীকার করতে হয় ভারতের সামনে। আর আজকের ফাইনালটি শুধু ট্রফি জেতা নয়, জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা থাকছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে।

ফেরেন নি মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আকাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। তবে দারুণ কিছু সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকায় এসে পৌঁছে মাশরাফির নেতৃত্বে দলটি। তবে দেশে ফেরেন নি মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েস। তাঁরা থেকে গেছেন ইংল্যান্ডেই। সেখানেই তাঁরা ছুটি কাটাবেন কিছুদিন। মাশরাফিদের সঙ্গে ফেরেন নি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। অবশ্য আজ বিকেলেই পরিবারের সঙ্গে অন্য ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর। অপাতত জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই ক্রিকেট থেকে দূরে থাকবেন কিছুদিন।
অবশ্য ঈদের পর শুরু হবে ক্রিকেটারদের নতুন ব্যস্ততা। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। দুটি টেস্ট খেলতে আগামী ১৮ আগস্টে বাংলাদেশে আসছে স্টিভেন স্মিথের দল। গতকাল শুক্রবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফাইনালের আম্পায়াররা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে আম্পায়ারিং করবেন দক্ষিণ আফ্রিকার মারিয়াস এরাসমাস ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড কেটেলবরো। শুক্রবার আইসিসি এই ঘোষণা দিয়েছে। এরাসমাস ও কেটেলবরো ঠান্ডা মাথার জন্য পরিচিত। সেই কারণেই ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজক ম্যাচে তাদেরই আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার। রিজার্ভ আম্পায়ার শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা।
৫৩ বছর বয়সি এরাসমাস প্রাক্তন পেসার। তিনি সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচেও আম্পায়ারিং করেছেন। রবিবার ৭১-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করবেন এরাসমাস। অন্যদিকে, ৪৪ বছর বয়সি কেটেলবরো ৭২-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকবেন।
ইয়র্কশায়ার ও মিডলসেক্সের প্রাক্তন এই ব্যাটসম্যান সেমি-ফাইনালে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচেও আম্পায়ারিং করেছেন। রবিবার তাঁর ৭২-তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

ফাইনালে বাজির দরে এগিয়ে ভারত

ব্রিটেনে জুয়া আইনসিদ্ধ, সঙ্গে আছে প্রযুক্তির আশীর্বাদ। দু’য়ে মিলে রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচের উপর অন্তত ২০০০ কোটি টাকার বাজি ধরেছেন জুয়াড়িরা। এমন খবরই জানা গেছে। শনিবার পর্যন্ত পাওয়া খবরে, বাজিকরদের কাছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিশ্চিতভাবেই ফেভরিট ভারত। তবে তাদের কাঁধেই নিঃশ্বাস ফেলছে পাকিস্তান। ভারতের পক্ষে ১০০ টাকা বাজি ধরা হলে, আর কোহলির দল জিতলে পাওয়া যাবে ১৪৭ টাকা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষে একই অঙ্কের টাকা বাজি ধরে জিতলে পাওয়া যাবে ৩০০ টাকা।
অল ইন্ডিয়া গেমিং ফেডারেশন-এআইজিএফের সিইও রোল্যান্ড ল্যান্ডারস বলেন, “প্রতিবছর ভারত সবমিলিয়ে যতগুলি ম্যাচ খেলে, তার উপর অন্তত ২ লক্ষ কোটি টাকার বাজি ধরা হয়। আর আগামিকাল রবিবারের ম্যাচের দিকে তো জুয়াড়িরা রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছেন। গত ১০ বছর ধরে কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়নি। এতে রবিবারের ম্যাচে আরও টাকা লগ্নি করতে মুখিয়ে আছেন জুয়াড়িরা।”
তবে শুধু যে ফাইনাল ম্যাচের ফলাফলের উপরেই কোটি কোটি টাকার বাজি ধরা হয়েছে এমনটা নয়, বাজি ধরা হবে ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত মোট রান, উইকেটের উপরেও। বা ১০ ওভার শেষে কোন টিম এগিয়ে থাকবে তার উপর। এমনকী, কোন খেলোয়াড় কত নম্বরে ব্যাট করতে নামবেন, তার উপরেও ধরা হবে কোটি টাকার বাজি।
ভারতে ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে জুয়া বেআইনি হলেও একাধিক ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মারফত ভারতীয়রা তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড, ই-ওয়ালেট ব্যবহার করতে বাজি ধরতে পারবেন। এবং ধরছেনও।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: ফাইনাল কাল

রবিবার সকাল থেকে একদা ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা দ্বিখন্ডিত দুটি দেশের মানুষ উত্তেজনার আঁচে ফুটতে ফুটতে জ্বলন্ত উনুনের মতো ফুটবে থাকবে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে এই দুটি দেশের ক্রিকেটারদের এই সম্মুখসমর শুধুমাত্র ব্যাট বলের লড়াই নয়, এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িত ভারত ও পাকিস্তানের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের আবেগ, সম্মান ও আত্মমর্যাদা। আসন্ন সুপার সানডেতে ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনের দ্য ওভালে দ্বৈরথে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান।
দু’দেশের মানুষ সকাল থেকে মন্দির-মসজিদে প্রার্থনা করবেন প্রিয় দলের জয় দেখার জন্য। প্রায় সোয়া শ’কোটি ভারতবাসীর প্রকৃত দেশাত্মবোধ জেগে ওঠে ক্রিকেট মাঠে ‘টিম ইন্ডিয়া’ খেললে। গ্রুপে তিনটি ম্যাচে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে জেতা ইংল্যান্ডকে সেমি ফাইনালে পাকিস্তান হারিয়েছিল ১৩ ওভার বাকি থাকতে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। এই রেজাল্ট কোনও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের দূরতম কল্পনাতেও প্রশ্রয় পায়নি। ওপেনার ফকর জামান, হাসান আলি, রুমন রইসদের এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কে চিনত? আবার এই পাকিস্তান দলই গত ৪ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’র প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে কাটা কলাগাছের মতো নেতিয়ে লুটিয়ে পড়ে হেরেছে। সেই পরাজয়কে একপেশে বললে খুব কম বলা হয়।
নিয়মিত প্র্যাকটিসে তেমন ঘাম না ঝরিয়েও কোহলি ব্রিগেড কিন্তু এই টুর্নামেন্টে পিক ফর্মে রয়েছে। টপ ব্যাটিং অর্ডার চাবুক ফর্মে রয়েছে। ভুবনেশ্বর, বুমরাহ, কেদার, অশ্বিনরা মনে হয় না পাক ব্যাটসম্যানদের মাথা তুলতে দেবেন, তবে মোহাম্মদ আমির চোট সারিয়ে দলে ফিরলে পাক পেস আক্রমণকে ইংল্যান্ডের মাঠে এই নির্জীব উইকেটেও সমীহ করতে হবে। যদিও ব্যাটিং শক্তিতে রোহিত, শিখর, বিরাট, যুবি, ধোনিরা পাক ব্যাটসম্যানদের তুলনায় ‘ম্যান এগেইনস্ট ম্যান’ সুপিরিয়র। তাই ফাইনালে ভারত হেরে গেলে সেটা অঘটন রূপেই বিবেচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বীরের বেশে দেশে টাইগাররা

ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান দলটিই আরো ভালো খেলবে বলে মনে করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে দেশে ফিরে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
প্রথমবারের মতো কোন বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেললো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে পেছনে ফেলে গ্র“প অব ডেথ থেকে শেষ চারে খেলাটা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই সেরা সাফল্য। তারপরও সন্তষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বলেন, এই পারফরম্যান্স নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ফিরে আসাটা বেশ স্বস্তির। ভালো লাগছে। তবে সুযোগতো ছিলো ফাইনালে ওঠার। নকআউট পর্বে সবসময়ই সুযোগ থাকে। সুযোগটা নিতে পারিনি। আশা করি সামনে আরো বড় বড় টুর্নামেন্ট আছে, বড় বড় সিরিজ আছে। সেগুলোকে ব্যবহার করা গুরুত্বপূন এখন। ইনশাআল্লাহ সামনে এমন সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে পারবো। আর কঠিণ একটা গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে পিছনে ফেলে সেমিফাইনালে খেলাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ এতো প্রাপ্তির মধ্যেও হতাশা গ্রাস করছে মাশরাফিকে। সেটা হলো পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারার। ‘ভালোতো লাগছেই। তবে কিছুটা খারাপ লাগাও আছে। যেহেতু একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আরেকটা ম্যাচ খেলতে পারতাম। সেটা না হওয়াতে অবশ্যই হতাশ। তবে তার মানে এই নয়, এখানেই থেমে যাচ্ছি আমরা। এখন সামনের টুর্নামেন্ট সুযোগগুলো কাজে লাগানোই ইমপরটেন্ট।’
মাশরাফি জানান, মূলতঃ অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সই এবার টাইগারদের এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। সেখানে মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমানরা পুরোপুরি ব্যর্থ। তবে সমালোচনা নয়, বরং তরুণদের হয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। বললেন, ‘দেখেন তরুনদের জন্য এইসব স্টেজ এতো সহজ না। এট দ্য সেইম টাইম বলবো তাদের ইমপ্র“ভও করতে হবে। সিনিয়রদের ভালো খেলাটা খুবই জরুরী। ইয়াংদেরও ভালো খেলতে হবে। যেটা হয়তোবা আশানুরুপ হয়নি। আশা করি যে দলটা আছে ২০১৯ বিশ্বকাপ যদি বলেন, তখন অনেক বেশী রেসপনসিবিলিটি নিয়ে খেলতে পারবেন। অনেক ম্যাচুরড হবে দুই বছর পরে। তখন অবশ্যই ওদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। এখন আসলে ইমপ্র“ভ করার সময়। যে লেভেলে খেলতে পেরেছে। ওদের উচিত এখান থেকে আরো ইমপ্র“ভের চেষ্টা করা। সো এটা যদি তারা সিরিয়াসলি নিতে পারি। আমি শিউর ওরা আরো ভালো খেলতে পারবে।’
দেশ সেরা এই পেসারের বিশ্বাস, বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাই বর্তমান দলটিকে আরো এগিয়ে নেবে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ২০১৫ নাকি ২০১৭ টুর্নামেন্ট কোনটা সেরা। ২০১৫ তে সুযোগ ছিলো ভুল শোধরানোর। তবে সেখানে ৮ দল সুযোগ ছিলোনা। দুটোই সমান গুরুত্বপুর্ণ টুর্নামেন্ট ছিলো আমাদের জন্য।’ মাশরাফি আরো বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার যেটা বললাম, আপনি যদি দেখেন, এখানে দুটা এক্সটা অর্ডিনারি ইনিংস খেলার জন্যই আমরা সেমিতে গেছি। একজন প্লেয়ার হিসেবেই বলছি, এটাই হওয়া উচিত। টিম হিসেবে আরো ভালো খেলা উচিত ছিলো। যেটা আমরা পারিনি। তবে নেক্সট টাইম আমাদের আরো ম্যাচিউরড খেলতে হবে। বোলাররা যারা আছে, তাদের আরো ভালো বল করতে হবে। এ ধরনের ফ্লাট উইকেটে কিভাবে বল করতে হয়, এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। এখন সেদিকেই নজড় দেয়া উচিত। প্রস্তত হওয়া ফিজিক্যালি, মেন্টালি, স্কিলডওয়াইজ।’
দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে দেশে ফিরে আপাতত বিশ্রামে থাকছেন ক্রিকেটাররা। তবে ঈদের পরই শুরু হবে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন।

ভারতের বিপক্ষে সফল ব্যাটসম্যানদের তালিকায় তামিম

ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আইসিসি আয়োজিত এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে যে কয়জন সেরা ব্যাটসম্যান রয়েছেন, তাদের মধ্যে তামিম ইকবাল অন্যতম। আরো খোলাসা করে বললে বলা যায় তামিম তৃতীয়। এটি মূলত নির্ধারণ করা হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার উপর ভিত্তি করে।

২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে ও একবার আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিম ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন। রান করেছেন ২১৬টি। ভারতের বিপক্ষে তামিমের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৩টি। ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এরপর ঘরের মাঠে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন ৭০ রানের ইনিংস। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মেলবোর্নে খেলেছিলেন ২৫ রানের একটি ইনিংস। আর আজ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে তিনি খেললেন ৭০ রানের ইনিংস। চার ম্যাচে তামিমের মোট রান ২১৬ (৫১+৭০+২৫+৭০)।

এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তিনি ভারতের বিপক্ষে ৯ ইনিংস খেলে করেছেন ৫১৩ রান। পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৪টি। তার মধ্যে ২টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ১৪০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। তিনি ৪ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৭৭ রান। পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস রয়েছে ৩টি। কোনো সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ রান ৯৭।

তবে এই তিনজনের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন তামিম। তামিমের স্ট্রাইক রেট ৮৭.৮০। রিকি পন্টিং রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার স্ট্রাইক রেট ৮৭.০৯। আর জ্যাক ক্যালিসের স্ট্রাইক রেট ৭৫.৪৭।

ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান

হট ফেবারিট ইংল্যান্ড বধ করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শিরোপা নির্ধারণীতে পা রাখলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্যটা ৯.৫ ওভার হাতে রেখে অনায়াসেই টপকে যায় টিম ইন্ডিয়া। রোহিত শর্মা ১২৩ ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৯৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

এর মাধ্যমে পুরোদুস্তর দক্ষিণ এশিয়ার ফাইনালে পরিণত হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। পাশাপাশি আরেকবার ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটভক্তরা। রোববার (১৮ জুন) লন্ডনের কেনিংটন ওভালে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে।

ফাইনাল সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী জয়ই পেল ভারত-পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। বার্মিংহামে টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপের চতুর্থ ম্যাচে গত ৪ জুন ম্যাচটি ডিএল পদ্ধতিতে ১২৪ রানের উড়ন্ত জয় পেয়েছিল কোহলির দল। শিরোপা লড়াইয়ে সরফরাজ আহমেদদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

গ্রুপ সেরা ভারতের বিপক্ষে সেমিতে মুখোমুখি হয় অপর গ্রুপের রানারআপ বাংলাদেশ। সহজ জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে অনীল কুম্বলের শিষ্যরা। এর আগে গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ হেরেছে ভারত। সেটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বাকী আরেকটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল কোহলির দল।

অন্যদিকে, একই গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণার আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপ রানার আপ হয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বলতে গেলে অসহায় আত্মসমর্পণই করেছে স্বাগতিকরা। ব্যাটে-বলে সমান দাপট দেখিয়ে পাকিস্তান ম্যাচটি পকেটে পুড়েছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে র্যাংকিংয়ের আট নম্বর দলটি।

ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের আরেকটি দ্বৈরথ দেখতে পাবে দর্শকরা। একদিকে ভারতের ব্যাটিং। অপরদিকে পাকিস্তানের বোলিং। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষ ছয়ে তিন ভারতীয় ব্যাটসম্যান (শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি) অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষ ছয়ে আছেন পাকিস্তানের দুজন (হাসান আলী ও জুনায়েদ খান।)।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ক্রিকেট ছাড়িয়ে যেন জাতীয়বাদের খেলায় পরিণত হচ্ছে। এর আগেও ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল দ্বৈরথ দেখেছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কার কপালে জুটবে সেটা ১৮ তারিখেই নিশ্চিত হবে। তার আগে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পারদ ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।

তামিমকে সরিয়ে এবার শীর্ষে ধাওয়ান

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তাকে সরিয়ে এবার শীর্ষেই জায়গা করে নিলেন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। সেমিফাইনালে ২৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দেখে শুনেই খেলছেন ভারতীয় দুই ওপেনার। ভারতের সংগ্রহ ৮ ওভারে ৫৬ রান। ওপেনার রোহিত শর্মা ব্যাট ২৬ করছেন রানে আর শিখর ধাওয়ান ২০ রানে। ধাওয়ান এখন তালিকার শীর্ষে আছেন ২৯৫ রান নিয়ে।

এর আগে বাংলাদেশ টস হেরে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান তুলে। শুরুর ধাক্কাটা শুরুতে ধাক্কা খেলেও দারুণভাবে কাটিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে স্বরূপে ফেরেন তামিম ইকবাল। সঙ্গে মুশফিকুর রহিমও ছন্দে ফিরলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু ‘একটার সঙ্গে একটা ফ্রি’ যুগ থেকে এখনও যে বেরোতে পারেনি টাইগাররা! তাই তামিম-মুশফিকের ১২৩ রানের জুটির পরও স্কোর বেশিদূর যায় না। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংটা হয়ে ওঠে আরও ধারালো। সেমিফাইনালের উত্তেজনাকর লড়াইয়ে তামিম-মুশফিক বাদে অন্যরা ছিলেন ব্যর্থ। শেষ দিকে মাশরাফি ব্যাটে ঝড় তোলায় ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করতে পেরেছে ২৬৪ রান।

সেমিফাইনালে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

আইসিসির বড় কোনও ইভেন্টে এবারই প্রথম সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে ধীরে ধীরে বড় নাম হয়ে ওঠা বাংলাদেশ টসে হেরে শুরুটাও করেছিল দারুণ। যদিও ধীরে ধীরে আর ব্যাটের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ভারতীয় বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ৭ ‍উইকেটে ২৬৪ রানই তুলতে পারে। সেই ম্যাচই দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটে জিতে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ভারত জয় পেয়েছে ৪০.১ ওভারেই। আর বাংলাদেশও বিদায় নিলো সেমিফাইনাল থেকে।

২৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একপেশেভাবেই ব্যাট হাতে জবাব দিতে থাকে ভারত। দুই ওপেনারের দারুণ শুরুর ভিত্তিতেই আসে ৮৭ রান। যদিও ১৪.৪ ওভারে মাশরাফি আঘাত হেনে ভেঙে দেন হুমকি হয়ে ওঠা এই জুটি। ভারত তাতেও অবশ্য দমে থাকেনি। কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১৭৮ রানের জুটি গড়েন ওপেনার রোহিত শর্মা। এ দুজনের ব্যাটে ভর করেই জয়ের পথে দ্রুত এগিয়ে যায় ভারত। রোহিত হাঁকিয়েছেন ১১তম সেঞ্চুরি। তার ১২৩ রানের ইনিংসটি ছিল ১২৯ বলে সাজানো। যেখানে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। অবশ্য সেঞ্চুরির কাছাকাছি থাকলেও সেটি আর পূরণ হয়নি ভারতীয় অধিনায়কের। ৯৬ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় কোহলিকে। তার ৭৮ বলের ইনিংসে ছিল ১৩টি চার।

এর আগে অবশ্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শীর্ষ রান সংগ্রাহক হয়েই বিদায় নেন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ৩১৭ রান নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে আছেন তিনি। ১৫তম ওভারে মাশরাফির ওভারে মনোযোগ ঠিক রাখতে পারেননি। ৪৬ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ওপেনার তালুবন্দী হন মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে। তার ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা।

এর আগে বাংলাদেশ টস হেরে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান তুলে। শুরুর ধাক্কাটা শুরুতে ধাক্কা খেলেও দারুণভাবে কাটিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা ঝেড়ে স্বরূপে ফেরেন তামিম ইকবাল। সঙ্গে মুশফিকুর রহিমও ছন্দে ফিরলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু ‘একটার সঙ্গে একটা ফ্রি’ যুগ থেকে এখনও যে বেরোতে পারেনি টাইগাররা! তাই তামিম-মুশফিকের ১২৩ রানের জুটির পরও স্কোর বেশিদূর যায় না। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংটা হয়ে ওঠে আরও ধারালো। সেমিফাইনালের উত্তেজনাকর লড়াইয়ে তামিম-মুশফিক বাদে অন্যরা ছিলেন ব্যর্থ। শেষ দিকে মাশরাফি ব্যাটে ঝড় তোলায় ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করতে পেরেছে ২৬৪ রান।

ভারতকে ২৬৫ রানের টার্গেট দিলো বাংলাদেশ

শুরুর ধাক্কা খুব ভালোভাবে সামাল দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ২ উইকেটে ১৫৯ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন দলকে। সেখান থেকে তিনশ পর্যন্ত যাওয়া খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় থামতে হল তার অনেক আগেই।
শেষ পর্যন্ত যে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৬৪ রানে গেল তাতে বড় অবদান মাশরাফি বিন মুর্তজার। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক।
তামিমের ৭০ আর মুশফিকের ৬১ রানের বাইরে প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের কেউ ত্রিশের ঘরে যেতে পারেননি। নয়তো দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারতকে আরও বড় লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব ছিল।
অনিয়মিত স্পিনার কেদার যাদব মাঝের ওভারে করেছেন সবচেয়ে বড় সর্বনাশ। ৬ ওভারে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন তামিম আর মুশফিকের উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৪/৭ (তামিম ৭০, সৌম্য ০, সাব্বির ১৯, মুশফিক ৬১, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ২১, মোসাদ্দেক ১৫, মাশরাফি ৩০*, তাসকিন ১১*; ভুবনেশ্বর ২/৫৩, বুমরাহ ২/৪০, অশ্বিন ০/৫৪,পান্ডিয়া ০/৩৪, জাদেজা ১/৪৮, যাদব ২/২২)

ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে পাকিস্তান

এটাই পাকিস্তান। অঘটন ঘটাতে যাদের সঙ্গে তুলনা নেই কারও। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তার ছাপ ফেলল ‘আন্ডারডগ’ হয়ে নামা দলটি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা যাদের হাতে দেখছিলেন অনেকেই, সেই ইংল্যান্ডকে নিয়ে রীতিমত খেলল সরফরাজ আহমেদরা। কার্ডিফের সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে ফাইনাল। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৯.৫ ওভারে ইংলিশদের অলআউট করে দেয় মাত্র ২১১ রানে। সহজ সেই লক্ষ্যটা ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় তারা ৭৭ বল হাতে রেখে। তাতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ওঠার উৎসবে মাতে পাকিস্তান।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আগে ইংল্যান্ডের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলেছিলেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এক দল, এর ওপর আবর খেলবে ঘরের মাঠে, তাই ফেভারিটের তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছিল ইংলিশদের গায়ে। বিপরীতে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান ছিল ‘আন্ডারডগ’। সেমিফাইনালে যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল দল দুটি, তখন ইংল্যান্ডকে ফাইনালেও তুলে দিয়েছিলেন অনেকে! হিসাবের সেই খাতা উল্টিয়ে পাকিস্তান দেখিয়ে দিলো সুদিন হারালেও হারিয়ে যায়নি পাকিস্তান।

কাজের কাজটা আগেই করে রেখেছিল পাকিস্তান বল হাতে। হাসান আলী, জুনাইদ খান ও রুম্মান রইসের পেস আগুনে ইংলিশদের অলআউট করে দেয় মাত্র ২১১ রানে। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা হাসান ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। জুনাইদ ও রইস নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

২১১ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইংলিশদের জয়ের স্বপ্ন দেখতে হলে বোলিংয়ে করতে হতো দারুণ শুরু। তা তো করতে পারেইনি, উল্টো পাকিস্তানকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার আজহার আলী ও ফখর জামান। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ১১৮ যোগ করলে জয়ের সুবাস পেতে থাকে পাকিস্তান। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ব্যাটিং করে দুজনই পান হাফসেঞ্চুরির দেখা।

একটু হাত খুলে খেলতে থাকা ফখর জামান ৫৮ বলে ৫৭ রান করে আউট হলেও তাতে কোনও প্রভাব ফেলতে দেননি তিন নম্বরে নামা বাবার আজম। আজহারের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান তিনি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৫৫ রান। আজহারকে বোল্ড করে জেক বল জুটি ভাঙলেও বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল ইংলিশদের। জয় থেকে পাকিস্তান তখন যে খানিকটা দূরে! ১০০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংস খেলা আজহার ততক্ষণে গড়ে দিয়ে গিয়েছেন জয়ের ভিত। যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন বাবর (৩৮*) ও মোহাম্মদ হাফিজ (৩১*)।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে প্রথমবার নাম লেখাল পাকিস্তান। এখন অপেক্ষা শিরোপা জয়ের মঞ্চের প্রতিপক্ষের। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দলের বিপক্ষে রবিবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

সমর্থকদের আরও সংহত হওয়ার আহ্বান মাশরাফির

‘কুকুরের গায়ে ভারতের পতাকা এবং বাঘের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা। সেই বাঘ ধাওয়া করছে কুকুরকে। প্রাণপনে ছোটার চেষ্টা করছে ভারতীয় পতাকা জড়িত কুকুরটি’- ফটোশপের মাধ্যমে এভাবেই ভারতকে অপমান করে ছবিটি তৈরি করেছে বাংলাদেশের কোনো এক গোঁড়া ক্রিকেট সমর্থক। প্রতিযোগিতায় এ ধরনের নোংরা মানসিকতা বরং দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি করে। রেষারেষি সৃষ্টি করে।

ভারতীয় প্রথম সারির প্রায় সবগুলো পত্রিকার অনলাইনেই ছবিটি শোভা পাচ্ছে। সবাই ক্ষুব্ধ, ক্ষিপ্ত। তাদের কথা, সোশ্যাল নেটওয়ার্টে এ কেমন অসভ্য আচরণ বাংলাদেশের সমর্থকের। কুকুরের গায়ে জড়িয়ে দেবে একটি দেশের জাতীয় পতাকা! আজ সারাদিনই ভারতীয় মিডিয়া এ নিয়ে সরগরম।

মিডিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে আজ বার্মিংহ্যামের সংবাদ সম্মেলনেও উঠলো বিষয়টি। কলকাতার বাংলা মিডিয়ামের এক সাংবাদিক মাশরাফির কাছে প্রশ্নটা রাখলেন। বললেন, ‘আপনাকে বাংলাদেশের মানুষ শুধু ক্যাপ্টেন হিসেবে জানে না, একজন লিডার হিসেবে দেখে। সম্মান করে। এই ম্যাচ ঘিরে, ম্যাচের বাইরে নানান কথা-বার্তা হয়, যেগুলো ঠিক ক্রিকেটীয় নয়। অনেকটা হাইপ তোলে। অধিনায়ক হিসেবে সেগুলোকেও কী হ্যান্ডেল করা কঠিন হয়ে যায়? টিমকে তার থেকে দুরে রাখার জন্য?’

মাশরাফি সমর্থকদের সংহত হওয়ারই পরামর্শ দিলেন এতে। তবে তার কথায় কিছুটা অসহায়ত্ব ঝরে পড়লো। তিনি বলেন, ‘প্রথমত হচ্ছে যে, এগুলো আসলে খেলোয়াড়দের কন্ট্রোলের বাইরে থাকে। এ জিনিসগুলো আসলেই কারোরই কাম্য নয়। কারণ, দিন শেষে এটা শুধুই একটি খেলা। এখান বসে আমি কিংবা অন্য দলের অধিনায়ক যেই বলুক না কেন, আসলে কোনো কাজ হয় না। আমি আগেও দেখেছি। আসল কাজ হচ্ছে ওদিকে মন না দেয়া এবং নিজের খেলাটা খেলে যাওয়া। এর বাইরে আসলে কিছু করারও থাকে না।’

সেই মোস্তাফিজের খোঁজে বাংলাদেশ

ক্রিকেটে মোস্তাফিজের আবির্ভাবটা হয়েছিল অনেকটা ধূমকেতুর মতো। ‘এলাম, খেললাম এবং জয় করলাম’- মোস্তাফিজের অবস্থাটা ছিল ঠিক তেমনই। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও মূলত ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক সিরিজেই আত্মপ্রকাশ ঘটে এই বাঁহাতি পেসারের। ক্রিকেট বিশ্ব খুঁজে পায় নতুন এক রত্ন।

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে থাকে বাংলাদেশ। শুরুটা হয় পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশের মধ্য দিয়ে। শুরু হয় বাংলাদেশের নতুন এক স্বপ্ন যাত্রা। ওই সিরিজে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হয় মোস্তাফিজুর রহমানের। অভিষেকেই শহীদ আফ্রিদির মতো ব্যাটসম্যানকে আউট করে আলোচনায় আসেন মোস্তাফিজ।

এরপর বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসে ভারত। ওয়ানডেতে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। আর বল হাতে জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই পেসার। শুরুটা করেন রোহিত শর্মাকে দিয়ে। তার দেয়া কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে ভারতের এই ওপেনার ক্যাচ দেন মাশরাফির হাতে। পরের ওভারেই আরেক স্লোয়ার কাটারে রাহানেকে সাজঘরে ফেরান।

তবে এ দুই উইকেট কিছুটা ম্লান হয়ে যায় রায়নাকে বোল্ড করার পর। মোস্তাফিজের অফ কাটারে রায়না বোল্ড হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকেন মোস্তাফিজের দিকে। আর শেষ দিকে জাদেজা ও অশ্বিনকে ফিরিয়ে অভিষেক ম্যাচেই তুলে নেন পাঁচ উইকেট। নির্বাচিত হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

এরপর দ্বিতীয় ম্যাচেও তার কাটারে বিধ্বস্ত হয় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রোহিত শর্মাকে সাব্বিরের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান। এরপর ধোনিকে স্লোয়ার কাটার দিয়ে বোকা বানিয়ে ফিরিয়ে দেন সাজঘরে। আগের ম্যাচে বোল্ড হয়ে বোকা বনে যাওয়া রায়না এ ম্যাচে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।

এরপর জাদেজাকে দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করেন। শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেল ও অশ্বিনকে আউট করে দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে নেন ৬ উইকেট। আর শেষ ম্যাচে আবারও রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়নাকে আউট করে তিন ম্যাচের সিরিজে তুলে নেন ১৩ উইকেট। গড়েন বিশ্ব রেকর্ড।

এরপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিসহ ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নাম লেখান আইপিএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। বল হাতে জাদু দেখিয়ে অভিষেক আসরেই ১৭ উইকেট নিয়ে হন আইপিএলের সেরা উদীয়মান তারকা।

এরপরই বাধে বিপত্তি। হানা দেয় ইনজুরি। আর এই ইনজুরি নিয়েই সাসেক্সের হয়ে খেলতে যান ইংলিশ কাউন্টিতে। সেখানে গিয়েই কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন তিনি। লন্ডনেই কাঁধের অপারেশন করা হয়। সেই ইনজুরিতে নয় মাসের বিরতি দিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আবার ফেরেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তবে ওই সিরিজে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এই তারকা। এরপর শ্রীংলঙ্কা এবং আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে কিছুটা ছন্দ ফিরে পান কাটার মাস্টার। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ উইকেট পেয়েছেন এই তারকা।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত। সেমিতে প্রতিপক্ষ ভারত হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাকিয়ে আছে মোস্তাফিজের দিকেই।

সেমির ফাইনালের আগে এক সাক্ষাৎকারে মোস্তাফিজ আগের রূপে ফেরার আশা ব্যক্ত করেছেন। ভারতের বিপক্ষে সেমিতে জ্বলে উঠে দেখাবেন তার কাটার ভেলকি। আর তাই তো ভারতের এখন মাথা ব্যথার কারণও মোস্তাফিজ। কারণ শেষ ২০১৫ সালের সিরিজে মোস্তাফিজের কাটারে জ্বলতে হয়েছিল তাদের। তাই আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) যদি মোস্তাফিজ জ্বলে ওঠেন তবে ভারতকে বাঁচাবে কে?

মোস্তাফিজ নিজেই জানালেন জ্বলে ওঠার কথা। তবে স্বীকার করেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি তিনি। ইংল্যান্ডে পা দেওয়ার পর থেকে অফকাটারে ধার যে কমে গিয়েছে। মোস্তাফিজ বলেন, ‘ঘরের মাঠে আমার অফকাটারগুলো বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। কারণ বাংলাদেশের পিচ, সেখানকার পরিবেশ, ওই ধরনের বল করার পক্ষে উপর্যুক্ত; কিন্তু এখানকার পরিবেশে তেমন কাজ করছে না কাটারগুলো। তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে।’

সাকিব-মোস্তাফিজের অন্যরকম প্রতিশোধ ম্যাচ!

প্রথমবারের মতো আইসিসির মেগা টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। মিনি বিশ্বকাপ খ্যাত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগারদের প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ম্যাচটি সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য অন্যরকম প্রতিশোধের! আবার নিজেদের প্রমাণেরও। কীভাবে?

শ্রীলঙ্কা সফর শেষে সরাসরি আইপিএলের দশম আসরে অংশ নিতে ভারত চলে যান সাকিব। আর মোস্তাফিজ খেলতে যান দেশ ঘুরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র নিয়ে। আইপিএলকে এত গুরুত্ব দিয়ে ভারত যাওয়ার পর বলতে গেলে হতাশার একটি টুর্নামেন্ট কেটেছে বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারের। ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একটি করে!

ম্যাচের পর ম্যাচ বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে বসিয়ে রেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এবং বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সুযোগ দেয়নি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অথচ এই দুই ক্রিকেটারের অনন্য অবদানে শিরোপা জিতেছিল দল দুটি।

প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে বাজিমাত করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলের নবম আসরে হায়দরাবাদের হয়ে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। কাটার-স্লোয়ার-ইয়র্কারের সংমিশ্রণে দুর্দান্ত বোলিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন।

১৬ ম্যাচে ২৪.৭৬ গড়ে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। আর তাতেই প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হায়দরাবাদ। ওই আসরে সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কারও জেতেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ।

আবার কেকেআর দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেই দুবারই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সাকিব আল হাসান। অথচ সেই সাকিবই এবার কেকেআরে ব্রাত্যই থেকে গেলেন।

ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই দিয়েছেন সাকিব-মোস্তাফিজ। এই ভারতের বিপক্ষেই অভিষেক ঘটে মোস্তাফিজের। প্রথম ম্যাচেই নেন ৬ উইকেট। ওই ম্যাচে একাই তো ভারতকে উড়িয়ে দেন কাটার মাস্টার। পরের ম্যাচেও নেন ৫ উইকেট। ভারতের ত্রাস হয়ে এবারও দেখা দেবেন মোস্তাফিজ; এমনটাই প্রত্যাশা টাইগার ভক্তদের।

এছাড়া ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হয়ে বড় সর্বনাশ হয়েছিল ভারতের। ভারতের সর্বনাশ ডেকে আনা চার ক্রিকেটারের একজন সাকিব। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম ও মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। দারুণ এক ফিফটি করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার।

উপেক্ষিত হওয়ার জবাব দেয়ার মোক্ষম সুযোগ এখন বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারের সামনে। প্রতিশোধের মিশনে নেমে সাকিব ও মোস্তাফিজ নিজেদের সেরাটাই উজাড় করে দিতে চাইবেন। এই দুই ক্রিকেটারের দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলাদেশ। সাকিব-মোস্তাফিজ আপন মহিমায় জ্বলে উঠতে পারলে ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা সহজ হবে টাইগারদের। দেখা যাক, বাংলাদেশের এই দুই সেরা তারকা কী করেন!

আবারও দেখা যাবে রুবেল-কোহলি দ্বৈরথ!

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের চেয়েও কী তবে এখন বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ বেশি উত্তেজনা ছড়ায়! ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট সম্পর্কে যে নমুন মাত্রা যোগ হয়, সেটা চলমান আজ অবধি এবং জ্যামিতিক হারেই বলা যায় বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট বিরোধ বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে স্নায়ুবিক উত্তেজনা। দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত লড়াইয়ের ময়দানে লড়াই হয় ব্যাক্তিগত পর্যায়েও।

ভারত-বাংলাদেশ লড়াই মানেই যেন এখন অবধারিত দুই দেশের দুই ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত লড়াইও। রুবেল হোসেন এবং বিরাট কোহলি। ভারত অধিনায়কের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস বোলারের দ্বৈরথ সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু ২০০৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় থেকে।

কোহলি তখন ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক। সেই বিশ্বকাপের এক ম্যাচে রুবেলের সঙ্গে কোহলির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এরপর দুজন আবার মুখোমুখি হন ২০১১ বিশ্বকাপে। সেবার অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান বিরাট কোহলি। অপরাজিত ১০০ রান করার পথে রুবেলের বিপক্ষে ১৫ বল খেলে ১৭ রান তোলেন তিনি।

২০১৪ সালের এশিয়া কাপে ফতুল্লায় আবারও মুখোমুখি হন কোহলি-রুবেল। এবারও কোহলির প্রাধান্য। ১২২ বলে ১৩৬ রান করে ভারতকে ৬ উইকেটে জেতানো কোহলি আউট হন রুবেলের বলেই। তবে আউট হওয়ার আগে রুবেলের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হওয়া ১৬ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

তিন তিনবারের এগিয়ে থাকা কোহলিকে ২০১৫ সালে ফিরিয়ে দিয়ে দারুণ প্রতিশোধ তোলেন রুবেল হোসেন। শুধু তাই নয়, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রুবেলের সামনে চরমভাবে অপমানিত হতে হয়েছিল তখনকার ভারতীয় ব্যাটসম্যান, বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। সারাজীবনই এই অপমান মনে রাখতে বাধ্য তিনি। নিঃসন্দেহে সময়ের বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। তার ব্যাটের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে যেকোনো বোলার। অথচ বাংলাদেশের রুবেল হোসেন যেন কোহলির যম।

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে থেকেই দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০০৮ সাল থেকে চলে আসা ব্যক্তিগত দ্বৈরথের রেশ পুরোপুরি পড়ে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই লড়াইয়ে রুবেলের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বিরাট কোহলি। মাঠে নামার পর মাত্র ৮ বল খেলতে পেরেছিলেন। অবশেষে রুবেলের অফ স্ট্যাম্পের ওপর রাখা বলটি কোহলির ব্যাটে চুমু দিয়ে গিয়ে জমা পড়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহীমের হাতে।

তিনি আউট হয়ে গেলেন ৩ রানে। কোহলিকে আউট করার পর বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন রুবেল হোসেন। কোহলির দিকে এমন একটা অঙ্গভঙ্গি করলেন, যেটা সত্যিই ভারতীয় এই ব্যাটসম্যানের জন্য অপমানজনক। ভারতীয় একটি মিডিয়া সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেই লিখেছে, এই অপমান কোনোদিন হয়তো ভুলতে পারবেন না বিরাট কোহলি।

২০১৫ বিশ্বকাপের পরও রুবেল-কোহলি মুখোমুখি হয়েছিলেন। ভারতের বাংলাদেশ সফরের সময়। সেবার ২-১ ব্যবধানে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় পায় বাংলাদেশ। তবে তিনবারের মুখোমুখিতে একবারও কোহলিকে আউট করতে পারেননি রুবেল হোসেন। প্রথমদিন তাসকিন, দ্বিতীয়দিন নাসির হোসেন এবং তৃতীয়দিন কোহলির উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। তবে পুরো সিরিজেই নিষ্প্রভ ছিল কোহলির ব্যাট।

এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি বিরাট কোহলি এবং রুবেল হোসেন। এবার সেই কোহলি ভারত জাতীয় দলের অধিনায়ক। রুবেল হোসেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া দ্বৈরথের হাওয়া কী এবারও লাগবে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে? ‘পাগলামি’ করা রুবেল যদি পাগলামি করে এদিনও কোহলিকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তাহলে সেটা বরং বাংলাদেশেরই বিশাল লাভ।

বাংলাদেশ বিপজ্জনক : কোহলি

সেমিফাইনাল নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বাংলাদেশ জিতলে আপনি বিস্মিত হবেন? ভারতের সাবেক অধিনায়ক ‘নাহ’ শব্দটা দুবার উচ্চারণ করেন। বলেন, ‘বাংলাদেশ জিতলে আমি বিস্মিত হব না। ওরা দারুণ ক্রিকেট খেলছে। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেই সেমিফাইনালে উঠেছে।’

সৌরভ গাঙ্গুলির সুর ধরে ভারতের বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলিও বললেন, বাংলাদেশ দল এখন আর কারও কাছে বিস্ময় নয়। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে টাইগাররা এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।

বাংলাদেশ নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে। তাই বাংলাদেশকে হারিয়ে দেবে ভারত; এমন কথা আর বলছেন না কোহলি। বরং সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নামার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা বাহিনীকে সমীহ করছেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। জানালেন, নিজেদের দিনে বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশ দলকে হালকাভাবে নিতে নারাজ কোহলি, ‘বাংলাদেশ দল এখন আর কারও কাছে বিস্ময় নয়। অনেক উন্নতি করেছে তারা। দেশটির ক্রিকেট ব্যবস্থাপনাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। দলের খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নিয়ে খেলছে। নিজেদের দিনে বাংলাদেশ বিপজ্জনক দল। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে কারও বিপক্ষে জয় নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত। গত দুই বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছে। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার মানেই নেই।’

বাংলাদেশের সুবর্ণ সুযোগ দেখছেন হাথুরু

সেমিফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত। অনেকেই ম্যাচটাকে দেখছেন বাংলাদেশের প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে। কারও কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ম্যাচ! এর আগে আইসিসির কোনো মেগা টুর্নামেন্টের শেষ চারে উঠতে পারেনি; এবারই যে প্রথম! বড় ম্যাচ কিংবা প্রতিশোধ মানেই তো মাশরাফি বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ।

শিষ্যদের ওপর চাপ তৈরি হোক, এমনটা চান না বাংলাদেশ কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। যে কারণে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিকে বাংলাদেশের জন্য সুবর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখছেন লঙ্কান এই কোচ। আর এই সুযোগটাকে মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকরা দু’হাত ভরে আলিঙ্গন করবেন, এমন প্রত্যাশাই তার।

এজাবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মঙ্গলবার প্র্যাকটিস সেশন শেষে হাথুরু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা বড় কোনো ম্যাচ নয়, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে মুখিয়ে থাকে যেকোনো ক্রিকেটার। এ কারণেই খেলোয়াড়রা এই ধরনের ম্যাচ পছন্দ করে। সিনিয়র কিংবা জুনিয়র; সব ক্রিকেটারের উদ্দেশ্যে আমার বার্তা থাকবে এমন- দু’হাত ভরে সুযোগটা লুফে নাও।’

২০১৫ সালে ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ‘হেয়প্রতিপন্ন’ করেন ভারতীয় সমর্থকরা। মাঠের পারফরম্যান্সে ছিল আম্পায়ারদের প্রভাব। আলিম দার ও ইয়ান গোল্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেঞ্চুরির আগেই যে রোহিত শর্মা আউট হয়ে যেতে পারতেন, আম্পায়ারের বদান্যতায় সেই রোহিতই ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ স্কোরার। খেলেন ১৩৭ রানের ইনিংস।

ম্যাচটিতে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ জিততে পারেনি। হেরে যায় ১০৯ রানে। এবার ম্যাচটিকে তাই অনেকে প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। তবে হাথুরু ম্যাচটিকে প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন না। বরং অন্য যেকোনো ম্যাচের মতোই এটাকে গণ্য করছেন তিনি এবং কোচ চান সে চিন্তা ধারণ করেই এবারের লড়াইয়ে নামবেন টাইগাররা।

ভারতের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হাথুরুসিংহে, ‘প্রতিশোধের কোনো ভাবনা নেই। ভারতের ভালো একটি দলের বিপক্ষে আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। ম্যাচটিতে জিততে পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে বহুগুণে। আমরা জয়ের কথাই ভাবছি। নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দেব।’

ভারতের ব্যাটসম্যানরা দারুণ ফর্মে আছেন। তাদের নিয়ে সতর্ক হাথুরুসিংহে। কোহলি-রোহিতদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ কোচের। ভারতকেই ফেবারিট মানছেন লঙ্কান এই কোচ। বাংলাদেশকে খেলবে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে।

টাইগারদের চাপমুক্ত রাখতে চাইছেন হাথুরু। বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ভারত ফেবারিট। আমার কাছে এখনও তারাই ফেবারিট। আমরা সেমিফাইনালে উঠতে পারব, এটা হয়তো অনেকেরই চিন্তার বাইরে ছিল। ভারত অনেক ভালো দল। যদি আমরা তাদের হারাতে পারি, তা আমাদের জন্য হবে বড় অর্জন।’

মাঠের বাইরেও বাংলাদেশ-ভারত যুদ্ধ

একদিকে বিরেন্দর শেবাগ, অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। গরম করে তুলছেন ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া। সময়ে-অসময়ে বাংলাদেশকে খোঁচা মেরে কথা বলাটা যেন অভ্যাসে পরিণত করেছেন শেবাগ। সেই খোঁচাটা ভারত সেমিফাইনালে ওঠার পরপরই তিনি দিয়ে দিলেন। তাতে যেন বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাঁপিয়ে তোলা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

এখন আর ভারত বনাম বাংলাদেশ মানে নীরব ক্রিকেট দ্বৈরথ নয়। বরং দুই দেশের সমর্থকদের তীব্র রেষারেষি আর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা। ভারতীয় পত্রিকাগুলোর মতে, বাংলাদেশের সমর্থকরা নাকি ইচ্ছা করেই ঝগড়ার আবহ তৈরি করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় তেমনই খেলা হলো, ‘সেমিফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে ভারতের বিরুদ্ধে, এটা জানার পর থেকেই ফেসবুকে বাংলাদেশের সমর্থকরা টিপ্পনী কেটে একটা ঝগড়া করার আবহ তৈরি করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন। ভারত তো খেলবে ১৫ জনে। ১১ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে মাঠের দু’জন আম্পায়ার, থার্ড আম্পায়ার এবং রিজার্ভ আম্পায়ারের কথা বোঝাতে চাইছেন তারা।’

ভারতীয়দের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিল যেন একটি ছবি। সোশ্যাল দুনিয়ায় ইতোমধ্যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে গেছে। কম্পিউটারের কারসাজিতে দেখানো হচ্ছে, বাঘের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা। আর ছোট একটি কুকুরের গায়ে ভারতের পতাকা। বিশাল সেই বাঘটি হালুম করে হামলে পড়তে চাইছে ছোট কুকুরটির ওপর।

বাংলাদেশের সমর্থকরা বোঝানোর চেষ্টা করছে, বাংলাদেশই ফেবারিট। কুকুরের গায়ে ভারতের পতাকা জড়িয়ে দিয়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে বাংলাদেশের সমর্থকরা। ভারতীয়রা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। কলকাতার মিডিয়া থেকে শুরু করে পুরো ভারতেরই বিভিন্ন মিডিয়ায় ছবিটি প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের সমর্থকদের এ অপমান গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে যেন ভারতীয়দের। এটাই না আবার বুমেরাং হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য!

নিঃসন্দেহে ছবিটি বেশ অপমানজনক। খেলায় প্রতিযোগিতা থাকবেই। সুস্থ প্রতিযোগিতা বলেই হয়তো খেলাধুলা মানুষের কাছে বিনোদনের অন্যতম একটা মাধ্যম এবং এত জনপ্রিয়। পরস্পর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যেও। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট লড়াইয়ে কেন যেন ভক্তদের মধ্যে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে গেছে। গত দুই বছরে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটে এই লড়াইয়ের সূচনাটা ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়ে। গ্রেগ চ্যাপেল-রাহুল দ্রাবিড়ের ভারতকে হারিয়ে তাদের শুধু গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে দেয়নি বাংলাদেশ, খুঁচিয়ে তুলল এক নতুন তিক্ততার কাহিনিও। যখন মাশরাফি মর্তুজা ম্যাচ জিতে বলে দিলেন, ‘লিফটের মধ্যে অনিল কুম্বলেদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিল, ধরেই নিয়েছে আমাদের হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে চলে গেছে। সেটা দেখেই সতীর্থদের গিয়ে বলি, এই উপেক্ষার জবাব দিতে হবে বন্ধুরা।’

মাশরাফিরা জবাব দিয়েছিলেন। ভারতকে হারিয়ে তারা শোকস্তব্ধ করে দেন শচিন, সৌরভদের। এরপর থেকে আর কখনও পুরনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ফিরে আসেনি। বরং রেষারেষি আর বাগযুদ্ধ বেড়েছে। চট্টগ্রামে টেস্ট খেলতে গিয়ে বিরেন্দর শেবাগ সোজাসাপ্টা ঘোষণা দিলেন, বাংলাদেশ টেস্টটা কিছুতেই জিতবে না। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন, কেন? শেবাগ বললেন, কারণ খুব সহজ। ওদের ২০টা উইকেট নেয়ার ক্ষমতা নেই।

পরদিন টেস্টের প্রথম দিনই দারুণ বল করল বাংলাদেশ। তুলে নিল ভারতের আট উইকেট। পাল্টা হুঙ্কার ছেড়ে গেলেন মুশফিকুর রহীম। তোপের মুখে পড়লেন শেবাগ। সেই থেকে শুরু হয়ে গেল নতুন এক রেষারেষি এবং কথার যুদ্ধ।

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই ‘মওকা’ ‘মওকা’ বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের তাতিয়ে দিয়েছিল ভারতীয়রা। সেউ উত্তেজনার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ে মাঠেও। রোহিত শর্মার বিরুদ্ধে আউটের আবেদন নাকচ হওয়া নিয়েই গ্যালারিতে ফেটে পড়লেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা। সেই উত্তেজনা বেশ কয়েক দিন চলেছিল।

ধোনির ভারত এর পর বাংলাদেশে গিয়ে একদিনের সিরিজ হারল। সে সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মাঠের মধ্যে উচ্ছ্বল উৎসব ভালো লাগেনি ভারতীয়দের। তাদের কারও কারও মনে হয়েছিল, মাশরাফিদের উৎসবের ভঙ্গি শালীনতা ছাড়িয়েছিল। আবার বাংলাদেশের মিডিয়ায় ফানি ম্যাগাজিনে গোটা ভারতীয় দলের গ্রুপ ছবিতে ধোনি-কোহলিদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছিল। ন্যাড়া করেছিলেন নাকি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ।

এর কয়েক দিন পরই এশিয়া কাপে খেলতে গিয়ে ইন্টারনেট স্লেজিংয়ের মুখে পড়লেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তাসকিন আহমেদের ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সেবার। তাসকিনের হাতে ধোনির কাটা মুণ্ডু। ভারতীয় শিবিরেও সেই খবর ছড়িয়ে পড়ল। ধোনি ফাইনালে তার জবাব দিলেন, পরপর দুই ছক্কা মেরে।

এবার আবার মুখোমুখি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে। ভেন্যু বার্মিংহাম। এবং ইতোমধ্যেই দুটো ব্যাপার নিয়ে খোঁটাখুঁটি শুরু হয়ে গেছে। এবার আবারও সামনে এসে গেলেন শেবাগ।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর টুইটারে অভিনন্দন জানিয়ে শেবাগ লিখেন, ‘সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্য শুভেচ্ছা রইল।’ তার টুইট দেখে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তরা ফের ক্ষিপ্ত। তাদের বক্তব্য, শেবাগ কি তাহলে বাংলাদেশকে পাত্তাই দিচ্ছেন না? আগেভাগেই কোহালিদের ফাইনালে তুলে দিয়েছেন? না হলে ফাইনালেরও শুভেচ্ছা কেন?

বাংলাদেশের সমর্থকদের ক্ষেপে ওঠার আরও একটি কারণ আছে। সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুটো সেমিফাইনাল হচ্ছে কার্ডিফে এবং বার্মিংহ্যামে। শুরুতে কে কোনটাতে খেলবে বোঝা যাচ্ছিল না; কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা দুই জায়গারই প্রচুর টিকিট আগে থেকে কেটে রেখেছিল। বাংলাদেশের সমর্থকরা এ পথে হাঁটেননি। কারণ, তাদের সামনে সেমিফাইনালটা ছিল অনিশ্চিত।

এজবাস্টনে এ কারণে টিকিট পাচ্ছে না বাংলাদেশের সমর্থকরা। গ্যালারিতে তাই বাংলাদেশি সমর্থকের চেয়ে ভারতীয়দের সংখ্যাই থাকবে বেশি। ওদিকে বাংলাদেশি ভক্তরাও টিকিটের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। টাইগাররা এই প্রথম আইসিসির কোনো ইভেন্টে সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সমর্থকরা এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান। কিন্তু টিকিট যে নেই। চলছে হাহাকার।

ফর্মে ফেরা সাকিবের চাই ৩২ রান

ফর্মটা ভালো যাচ্ছিল না তার। আগের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ‘ব্যাটসম্যান’ সাকিব ফর্মে ফিরেছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি দিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ২২৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় জয় (৫ উইকেটে) এনে দিয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
ফর্মে ফেরা সাকিব এবার অনন্য এক মাইলফলকের সামনে। ওয়ানডেতে ৫ হাজার রানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আর মাত্র ৩২ রান করতে পারলেই মাইলফলকটি স্পর্শ করবেন সাকিব।
দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন সাকিব। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল। ১৭২ টি ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশি ড্যাশিং ওপেনারের বর্তমান রান সংখ্যা ৫৬৭৩। এতে ৯টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ৩৭টি হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তামিম।
এখন পর্যন্ত সাকিব আল হাসান খেলেছেন ১৭৬টি ওয়ানডে। ৩৪.৯৮ গড়ে নামের পাশে জমা করেছেন ৪৯৬৮ রান। এতে ৭টি সেঞ্চুরির সঙ্গে রয়েছে ৩৪টি হাফ সেঞ্চুরি। সাকিবের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা ১৩৪*। বল হাতে এই অলরাউন্ডার নিয়েছেন ২২৪ উইকেট।

সেমিফাইনালের চাপ নয়, স্বাভাবিক খেলতে চাই : মাশরাফি

আইসিসির কোনো মেগা আসরে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে গড়াবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়।
ম্যাচটি সামনে রেখে আজ (বুধবার) সংবাদ সম্মলনে কথা বলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন তিনি। প্রতিপক্ষ ভারত বলে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ দল নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে চায়। অন্য ম্যাচের মতো স্বাভাবিক খেলাটাই লক্ষ্য। সেমিফাইনালের চাপ নিতে চান না টাইগার অধিনায়ক।
প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলতে পেরে টাইগাররা রোমাঞ্চিত। এখন লক্ষ্য পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার। মাশরাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে ছেলেরা খুব রোমাঞ্চিত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো আসরের সেমিফাইনালে খেলছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছিলাম। এখানে আসার আগে আয়ারল্যান্ড সফর থেকেই। আমরা এখন সেমিতে আছি। আমরা যদি অন্য একটি ম্যাচ হিসেবে খেলতে পারি; অন্যথায় সেমিফাইনাল।’
সেমিফাইনালে লক্ষ্য নিয়ে মাশরাফির ভাষ্য, ‘প্রত্যেকটি ম্যাচই আমরা জয়ের জন্য খেলেছি। এই ম্যাচের উচ্চতা অনেক বড়। এটা খুবই স্বাভাবিক। লক্ষ্য থাকবে ভালো খেলেই ম্যাচটা জেতার। সেমিফাইনালের চাপ নয়, স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চাই।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অর্থ বেড়েছে বাংলাদেশের

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠেই প্রচুর অর্থ পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অষ্টম আসরকে সামনে রেখে আগেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পুরস্কারের মোট অর্থের পরিমাণ বাড়িয়েছিলো ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। গত আসরের থেকে এবারের আসরে মোট পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার। সেই হিসেবে বাংলাদেশ পাবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পুরস্কার পর্বের জন্য মোট ৩৬ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করেছে আইসিসি। অর্থপ্রাপ্তির সুবিধা বেড়েছে চ্যাম্পিয়ন দল থেকে শুরু করে গ্রুপ পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোরও।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয় করা দল পাবে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। আর রানার-আপ দলের মিলবে তাঁর অর্ধেক অর্থাৎ, প্রায় ৯ কোটি টাকা। তাছাড়া সেমি ফাইনালের বাধায় থেকে যাওয়া দুই সেমিফাইনালিস্ট দলের প্রত্যকে পাবে প্রায় ৩কোটি ৬০ লাখ টাকা($৪৫০,০০০ ডলার)। আর গ্রুপ পর্বের তৃতীয় দলটির ভাগ্যে মিলবে প্রায় ৭২ লাখ টাকা ($৯০,০০০ ডলার) যেখানে গ্রুপ পর্বের তলানিতে থাকা দলটি পাবে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ($৬০,০০০)।

সৌম্য-সাব্বিরের পাশে মাশরাফি

সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান রুম্মন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের পরীক্ষিত দুই ব্যাটসম্যান। তাদের ব্যাট হাসলে বাংলাদেশের জয়ের কাজটা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের ব্যাট কেন যেন হাসছে না কোনোভাবেই।
২৪, ৮ ও ৮। টুর্নামেন্টের গ্রুপর্বের তিন ম্যাচে সাব্বিরের ব্যাটিং পরিসংখ্যান। আর সৌম্য সরকারের তিন ম্যাচের রান সংখ্যা যথাক্রমে ২৮, ৩ ও ৩। এই পরিসংখ্যান নিশ্চিয়ই তাদের নামের পাশে বড্ড বেমানানই।
আগামী ১৫ জুন সেমিফাইনালের লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে তরুণদের ব্যাট হাসবে। এমনটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা সাব্বির-সৌম্যর পাশে দাঁড়ালেন নড়াইল এক্সপ্রেস।
মাশরাফি জানালেন, ইংল্যান্ডের উইকেটের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে তরুণদের। তবে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে ভালো করবেন সৌম্য-সাব্বিররা। এবার ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে হয়তো পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি তরুণ ক্রিকেটাররা।
সাব্বির-সৌম্যকে নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টটা আসলে তরুণদের জন্য শিক্ষণীয়। তাদের কাছে নতুন কন্ডিশন। আমি চাইব, তারা যেন খেলা উপভোগ করে এবং যতদূর সম্ভব শিখে নেয়। দুই বছর পর বিশ্বকাপের আসরে এই কন্ডিশনেই তারা খেলবে। এবারের আসরটি তাদের প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।’

সেমির টিকিট পাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা!

দলকে উজ্জীবিত করে তুলতে মাঠে সরব উপস্থিতি থাকে সমর্থকদের। ভারতীয়রা এক্ষেত্রে একটু বেশিই এগিয়ে! দল সেমিফাইনালে উঠতে পারবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগেই সেমিফাইনালের সব টিকিট কিনে নিয়েছে ভারতীয় সমর্থকরা!
ভারতীয় সমর্থকরা ঝুঁকি নিতে চাননি! কার বিপক্ষে খেলবেন কোহলি-যুবরাজরা? এটা নিশ্চিত হওয়ার আগেই দুটি সেমিফাইনালের টিকিট দখলে নিয়েছে তারা। ভারতীয়দের দাপটে সেমির টিকিট পাচ্ছেন না বাংলাদেশের সমর্থকরা!
আয়োজক ইংল্যান্ড এখন ভীষণ বিপাকে। ভারতীয় সমর্থকদের কাছে তাদের মিনতি, ক্রয়কৃত টিকিট নতুন করে যেন বিক্রি করে দেন। আর সেই টিকিট কিনতে পারবেন বাকি তিন সেমিফাইনালিস্ট দলের সমর্থকরা!
আইসিসির এক মুখপাত্র মিররকে জানান, ‘সেমিফাইনালের দল নিশ্চিত হওয়ার আগেই শেষ চারের দুটি ম্যাচে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ভারতীয় সমর্থকরা কার্ডিফের ৩৭ শতাংশ ও এজবাস্টনের ৩৮ শতাংশ টিকিট কিনে নিয়েছেন। অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন করে টিকিট বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। যার যে টিকিট প্রয়োজন হবে না, সেটি তারা বিক্রি করে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

পাকিস্তানকে ২৩৭ রানের লক্ষ্য দিল শ্রীলঙ্কা

জিতলে সেমিফাইনালের খেলা নিশ্চিত। আর হারলেই বিদায়। এমনই এক বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ কার্ডিফে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান তুলেছে লঙ্কানরা। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ছুড়ে দিয়েছে ২৩৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। দলীয় ২৬ রানেই ধাক্কা খায় লঙ্কানরা। জুনায়েদ খানের শিকার হয়ে সবার আগে সাজঘরে ফেরেন গুনাথিলাকা (১৩)। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কুশল মেন্ডিসকে (২৭) বোল্ড করেন হাসান আলি।
দিনেশ চান্দিমালকে রানের খাতাই খুলতে দেননি ফাহিম আশরাফ। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজকে থামান মোহাম্মদ আমির। আমিরের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড ম্যাথিউজ। বিদায়ের আগে ৫৪ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৯ রান করেন লঙ্কান অধিনায়ক।
এরপর ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান জুনায়েদ খান। ১ রান করতেই জুনায়েদের বলে সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ধনঞ্জয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান নিরোশান ডিকভেলা। লঙ্কান এই ওপেনারকে ৭৩ রানে থামান আমির। ২৭ রান আসে আসেলা গুনারত্নের ব্যাট থেকে।
পাকিস্তানের সেরা বোলার জুনায়েদ খান। ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। সমসংখ্যক উইকেট নিয়েছেন হাসান আলিও। মোহাম্মদ আমির ও ফাহিম আশরাফ পকেটে পুরেছেন দুটি করে উইকেট।

লড়াই করে জেতার আনন্দই আলাদা: প্রধানমন্ত্রী

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘লড়াই করে জেতার আনন্দই আলাদা। এমন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের জয় আসবেই।’

মূলত সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহর কাঁধে চড়ে কিউইদের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতল মাশরাফি বাহিনী। পাশাপাশি রেকর্ডের খাতায় নাম লেখালেন সাকিব-রিয়াদ। এর আগে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিল ১৭৮ রান। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম তৃতীয় উইকেটে ওই সংগ্রহ গড়েছিলেন।

আজ কার্ডিফে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা জুটির রেকর্ড উপহার দিলেন সাকিব-রিয়াদ। শুরুর দিকে টপাটপ চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশকে টানছেন এই মানিকজোড়। শেষ পর্যন্ত সাকিব-রিয়াদ জুটি থেকে টাইগারদের স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ২২৪ রান। ১১৪ করে ফিরে যান সাকিব আর ১০২ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রিয়াদ।

ইনিংসের শুরুতে শূন্য রানে ফিরে যান তামিম ইকবাল। প্রথম ম্যাচে শতক, পরের ম্যাচে ৯৫ রান করা তামিম আজ পারলেন না। টিম সাউদির বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি। তাতেও হয়নি শেষ রক্ষা।

৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাব্বিরও। শুরু করেছিলেন পরপর দুই বলে চার হাঁকিয়ে। কিন্তু নিজের দ্বিতীয় ওভারে টপ অর্ডারে ফেরা সাব্বির রহমানকে বিদায় করেন টিম সাউদি। একই পথে হাঁটেন সৌম্য সরকার। আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে করেন ৩ রান।

এর আগে স্লগ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে কিউইদের ২৬৫ রানে আটকে দেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৩ ওভারে ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক। ৪৩ রানে ২ উইকেট তাসকিনের। ৬০ রানে ১ উইকেট শিকার করেন রুবেল। মোস্তাফিজ ৫২ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। মাশরাফি ও সাকিব উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন।

টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়ে খালেদার অভিনন্দন

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের কার্ডিফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৫ উইকেটে নিউজল্যান্ডকে হারানোর পর এ অভিনন্দন জানান তিনি।

শুক্রবার দিনগত রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তারাবি নামাজ শেষে টাইগারদের খেলা টেলিভিশনে উপভোগ করেছেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ দলের অসাধারণ বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

অতীতের মতো বাংলাদেশের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি প্রধান।

অবিশ্বাস্য জয়ের পর যা বললেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ

তাদের দু’জনের প্রশংসার ভাষা এখন আর কারো জানা নেই। কী শব্দে তাদের প্রশংসা করবেন। এ জন্য যে এখনও কোনো শব্দ তৈরি হয়নি! পরাজয়ই তো ধরে নিয়েছিল সবাই। ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর কেউ কেউ হয়তো ভেবেছিলেন, একজন, দু’জন মন ভোলানো একটা, দুটা ইনিংস খেলতে পারেন।

কিন্তু সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যা করে দেখালেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। কিউই বোলিংয়কে কচুকাটা করে ২২৪ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে তুললেন দু’জন। তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার, অথ্যাৎ সেঞ্চুরি করলেন তারা দু’জনই। জোড়া সেঞ্চুরিতে জয় না এসেই পারে না।

অবশেষে মোসাদ্দেক হোসেনের উইনিং বাউন্ডারি। তাতেই যেন গড়া হয়ে গেলো ইতিহাস। চরম অনিশ্চয়তার এক ম্যাচকে এভাবে অসাধারণ ক্যারিশমা দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসলো বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে এর কারিগর তারা দু’জনই, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ডেকে নেয়া হলো সাকিব-মাহমুদউল্লাহ দু’জনকেই। অসাধারণ সেঞ্চুরির পর দু’জনই ম্যাচ সেরার দাবিদার। কাকে সেরা ঘোষণা করা হবে। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানকেই ম্যাচ সেরার জন্য ঘোষণা করা হলো। তবে, এটা হয়তো আনুষ্ঠানিকতা; কিন্তু সেরা যে তারা দু’জনই!

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এমন ব্যাটিংয়ের রহস্য সম্পর্কে বললেন, ‘আমাদের এই জুটির সবচেয়ে বড় রহস্য হচ্ছে, আমরা আসলে একে অপরের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলিনি। আমরা শুধু ব্যাটিংটাই করতেই চেয়েছি। ইতিবাচক থাকতে চেয়েছি। শুরুতে উইকেটে খুব সুইং ছিল। যখনই সুইং বন্ধ হলো, তখন ব্যাট করা সহজ হয়ে গেলো। আমি মনে করি, এই টুর্নামেন্টে তামিম দারুণ ব্যাটিং করেছে। এ কারণে শুরুতেই তাকে হারিয়ে ফেলা আমাদের জন্য ছিল বিশাল ক্ষতির কারণ। সাকিব আর আমি চেয়েছিল শুধু গ্যাপে শট খেলতে এবং বাজে বল পেলেই সেগুলোকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে।’

ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাকিব আল হাসান বললেন, ‘মাহমুদউল্লাহ যেমন বলেছেন, আমরা আসলে ব্যাট করার সময় খুব বেশি কথা বলিনি। আমরা আসলে শুরুতে ভাবিইনি যে, এই রান তাড়া করবো। আমরা শুধু চেয়েছিল ৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে। এরপর দেখতে চাইলাম আমরা কোথায় আছি। আইসিসির কোনো ইভেন্টে একটা ম্যাচ জেতা মানে অনেক বড় কিছু। এখান থেকেই আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ খুঁজে পাবো।’

আনন্দ বৃষ্টিভেজা কথামালা মাশরাফির

২০১১ সালে সর্বশেষ খেলেছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া আসলে ভাল খেলেছে। বোলিংটাতো দুর্দান্ত করেছে। তামিম ছাড়া কেউ ভাল খেলেনি। আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমন পুরোই ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের অতিরিক্ত পেস আছে। এটাই অস্ট্রেলিয়াকে অন্য দল থেকে আলাদা করে রেখেছে।

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেয়েছি। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি। এবারও সেই রকম সুযোগই মিলেছে। সেইসময় এক পয়েন্ট আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে চাই। একটা ফল চাই। জানি ন্উিজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমরা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল খেলতে পারি, তাহলে সেমিফাইনালে জেতেও পারি।

অস্ট্রেলিয়া আমাদের চেয়ে অনেক দূরে ছিল। এগিয়ে ছিল। এটা মানতেই হবে। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে ছিল। আবহাওয়ার ওপর কোন হাত নেই। এখন শেষ ম্যাচে যদি আমরা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারি, তাহলে পরের ধাপে যেতেও পারি।

সত্যি কথা বলতে কী ১৬ ওভার যখন হয়ে যায়, তখন মনে হচ্ছিল আরও এক দুই ওভার হবে কিনা। বা আম্পায়াররা চালিয়ে নিয়ে যাবে কিনা। পানি বিরতি যখন পাই, তখনও জানি না খেলা বন্ধ করে দিচ্ছে। তারপর যখন খেলা বন্ধ হয়, তখনও জানিনা আবহাওয়া বার্তা কী আছে। তবে আমরা জানতাম সাড়ে ছয়টার দিকে বৃষ্টি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত খেলাই হল না। আমরা এও চিন্তা করছিলাম যে খেলাটা যতদূর চালিয়ে যাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার দুর্ভাগ্য। আমরা ভাগ্যবান। এই ম্যাচ থেকে একটা পয়েন্ট পেয়েছি। আমরা যদি এখন এ পয়েন্টটাকে ব্যবহার করতে পারি, সামনের ম্যাচে জিততে পারি। তবুও জানিনা জিতলে যাব কিনা। তবে এই পয়েন্টটা আমাদের জন্য অনেক লাকি পয়েন্ট। ম্যাচটা পুরোটা অস্ট্রেলিয়ার দিকেই ছিল। হয়তবা আর ৪ ওভার খেলা হলে আর ১ রান না করলেও অস্ট্রেলিয়া জয় পেয়ে যেত।

এরকম অনেক ম্যাচ গিয়েছে, আবহাওয়া বার্তায় আছে বৃষ্টি। একরকম দেখা গেছে। হয়েছে আরেক। ভাল উইকেটে বৃষ্টি আছে কি নেই, এরকম নির্ভর করা যায় না। অস্ট্রেলিয়াও ব্যাটিংই নিত। আগের দুইদিন যদি বৃষ্টি হত তাহলে ভিন্ন বিষয় ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল আগের ম্যাচের মত হয়ত ৩০০ করা লাগবেনা। ২৭০ বা ২৮০ রান করলেই ভাল খেলা হতে পারে। আমরা ওই পথেই ছিলাম। সাকিবের আউটটা না হলে তামিমের সাথে থাকলে হয়তবা ২৫০-২৬০ হত। ব্যাটিং আগে করাটাই ভাল সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।

অস্বীকার করার কোন সুযোগই নেই যে অস্ট্রেলিয়া আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। আর ৪ টা ওভার হলে অস্ট্রেলিয়া ২টা পয়েন্ট নিয়ে যেত। একটা পয়েন্ট পেয়ে আমাদেরও খুব ভাল লাগছে। আমাদের একটা সুযোগ তৈরী হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকে হলে হয়ত কোন দলই চাইত না খেলা না হোক। এ পজিশন থেকে একটা দলই চেয়েছে খেলা হোক। আমরা কোথাও ছিলাম না। আমরা এক পয়েন্ট পেয়ে খুশি।

তামিমের ব্যাটিংটা নিয়ে বলব, বিশ্বের সেরা দুইটা দলের বিপক্ষে ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সে দেখিয়েছে কী ফর্মে আছে। শেষ ৮-৯ টা ইনিংস দেখলেও বোঝা যাবে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছে, শ্রীলঙ্কাও করেছে। আবার এখানে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করার একেবারে সামনেই ছিল। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকলে যেভাবে খেলে, ও ঠিক সেভাবেই খেলছে। ওর অনুভুতিও অন্যান্যা ব্যাটসম্যানের চাইতে আলাদা। তামিম এক্সট্রা অর্ডিনারি ফর্মে আছে। আমাদের দলের সেরা ব্যাটসম্যানও সে।

আমাদের কাছে মনে হয়েছে ঠিক একাদশই ছিল। কোন চয়েজই ছিল না। মিরাজকে খেলাতেই হত। একজন বোলার থাকলে আগের ম্যাচটাতে ভাল হত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হয়ত ২৬০-২৭০ করতাম তাহলে মিরাজ অনেক কাজে দিত। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু মাঝখানে ভাল করতে পারিনি।

প্রথমত হচ্ছে সাব্বির সর্বশেষ আট নয়টা ইনিংস ৩ নম্বরে খেলেছে। ইমরুলের গড়টা অনেক ভাল। এই ধরনের উইকেটে আমরা চাচ্ছিনা যে উইকেট তাড়াতাড়ি পড়–ক। রুম্মন শট খেলতে পারে। উইকেট ধরে রাখার চেষ্টা করছি। পাচজন বোলার নিয়ে খেলতে হবে। ১৬ ওভারের ১৫ ওভারই পেসার দিয়ে করানো হয়েছে। চিন্তাই ছিল, ম্যাচে পেছনে চলে গিয়েছি। কামব্যাক করার চেষ্টা করতে হবে। আমি তাই একটু দুরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা থেকেই পেসারদের দিয়ে বেশি বল করিয়েছি।

ম্যাচ পরিত্যাক্ত তবে টিকে রইলো বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার কাছে নিশ্চিত পরাজয় থেকে বাংলাদেশকে বাঁচালো বৃষ্টি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচটি পরিত্যাক্ত। তাতে মাশরাফিরা পেলো অনাকাক্সিক্ষত এক পয়েন্ট। এক ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় বিদায় নিতে যাওয়া বাংলাদেশও এখন দেখছে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।
গ্যালারির দর্শকের বেশিরভাগই চলে যান বৃষ্টি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই। একবার থেমেও গিয়েছিলো। খেলা শুরুর প্রক্রিয়াও চলছিলো। কিন্তু পরেরবারের বৃষ্টি আর খেলা হতেই দেয়নি। তাতে টিকে রইল বাংলাদেশ।
ওভালে মেঘ মাথায় নিয়েই শুরু হয় খেলা। কারণ আগেই জানা ছিলো বৃষ্টি হওয়ার কথা। ব্যাটিং নিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ৫ ওভার কাটে অঘটন ছাড়াই। এরপর হেজেলউডের লেজে নাড়া দিতে গিয়ে নিজেই সাজঘরে সৌম্য সরকার। জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাওয়াকে আবারো প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলেন ইমরুল। মুশফিকুর রহিমও লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফিরলেন প্যাভিলিয়নে। তবে রিভিউ নিলে তিনি হয়তো বেঁচেও যেতেন। ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন ব্যাকফুটে।
চতুর্থ উইকেটে সাকিব-তামিমের ৬৯ রানে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা টাইগারদের।২৯ রান করে বিদায় নেন সাকিব। সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহও দলে অবদানরাখতে পারলেন না। তবে একাই অজি বোলারদের শাসন করেন তামিম ইকবাল। শেষ ছয় ম্যাচের মধ্যে চতুর্থ ফিফটি পাওয় তামিমের ইনিংসটি থামে ৯৫ রানে। তার বিদায়েই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। দলের স্কোরে আর মাত্র ১ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নে চার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ অলআউট ১৮২ রানে।
নতুন বলে মাশরাফি ও মুস্তাাফিজ খারাপ করেননি। বেশ কয়েকবারই বিপাকে ফেলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চকে। তবে আউট করা যায়নি তাদের। রুবেল এসেই ফেরান ফিঞ্চকে। তাতে প্রভাব পড়ে সামান্যই। ডেভিড ওয়ার্নার ও স্মিথ দলকে জয়ের পথেই রেখেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি থামিয়ে দেয় অজিদের।
১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ১ উইকেটে ৮৩। বৃষ্টিতে খেলা আর হতেই পারেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৮২ (তামিম ৯৫, সৌম্য ৩, ইমরুল ৬, মুশফিক ৯, সাকিব ২৯, সাব্বির ৮, মাহমুদুল্লাহ ৮, মিরাজ ১৪, মাশরাফি ০, রুবেল ০, মুস্তাফিজ ১*; স্টার্ক ৪/২৯)।
অস্ট্রেলিয়া: ৮৩/১ (ওয়ার্নার ৪০*, ফিঞ্চ ১৯, স্মিথ ২২*; রুবেল ১/২১)।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া লড়াইয়ে অপেক্ষা

কিছুক্ষণের মধ্যেই লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ওভাল স্টেডিয়ামের বাইরে প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশী ভিড় করছেন গ্যালারিতে প্রবেশের জন্য। আর স্টেডিয়ামের ভেতরে চলছে তখন পিচ রিপোর্ট। আর দলগুলোর নিজেদের শেষ সময়ের প্রস্তুতি। তবে বৃষ্টি কিন্তু ঠিকই চোখ রাঙাচ্ছে ম্যাচটি নিজের করেনেওয়ার জন্য। কিংবা বলা যায়, ম্যাচটি চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে আবহাওয়া।

বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াই

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি লন্ডনের ওভালে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে। ম্যাচটি লন্ডনের সময় অনুযায়ী দিবারাত্রি ম্যাচ। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে। তাই এই ম্যাচ বাংলাদেশের সামনে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রান করেও হেরেছে বাংলাদেশ। সেটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচ। বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ৮ উইকেটে হেরেছে। ম্যাচটিতে হেরে এমনিতেই টুর্নামেন্ট থেকে পিছিয়ে পড়েছে। তবে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ও ৯ জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে, সেমিফাইনালে উঠে যাবে মাশরাফিবাহিনী। কিন্তু ্আজ হারলেই বিদায় ঘটবে।
ইংল্যান্ডের কাছে হেরেই পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশসহ স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে জেতায় এই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার সবার উপরে আছে ইংল্যান্ড (২ পয়েন্ট)। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দুই দলই ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে। দুই দলই সমান অবস্থানে আছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ সবার নিচেই আছে। বাংলাদেশের পয়েন্ট তালিকায় কোন পয়েন্ট এখনও যে যোগ হয়নি। আজ যদি বাংলাদেশ জিতে তাহলে পয়েন্ট যোগ হবে। সঙ্গে সেমিফাইনালে ওঠার একটা সুযোগও থাকবে। নয়ত বিদায় ঘটবে।
আজ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচ শেষে সামনে এই গ্রুপে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড খেলা আছে। এরপর নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া খেলা আছে। যদি আজ বাংলাদেশ হেরে যায়, তাহলে বিদায় নেবে; কারণ অস্ট্রেলিয়ার ৩ পয়েন্ট হয়ে যাবে। বাংলাদেশ শেষ ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও তখন কোন লাভ হবে না। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ যে আছে। যে দলই জিতুক তখন বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পয়েন্টই থাকবে।
আজ হেরে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলেও ২ পয়েন্ট হবে। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতলে হবে ৪ পয়েন্ট। আর নিউজিল্যান্ড জিতলে হবে ৩ পয়েন্ট। তার মানে আজ হারলেই বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত। কোনভাবেই বিদায় ঠেকানো যাবে না। তখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি হয়ে যাবে আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আজ জয় ছাড়া কোন বিকল্প পথ খোলা নেই।
অবশ্য দলটি অস্ট্রেলিয়া বলেই বাংলাদেশ জিতবে, এমন আশা করা যাচ্ছে না। দলটি খুবই শক্তিশালী। এরআগে সাতবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়েছে। সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০০৬ ও ২০০৯ সালে টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে দলটি। দুইবার ফাইনালে খেলেছে। দুইবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভারতও দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে একবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এককভাবে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দলটি এখন পর্যন্ত একবারই শুধু গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেবারও অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপে ছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড এবং উপমহাদেশের দল শ্রীলঙ্কা। সেবারও খেলা হয়েছিল ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসেই। এবার শ্রীলঙ্কার জায়গায় বাংলাদেশ যোগ হয়েছে। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে অস্ট্রেলিয়ার খুব ভাল অবস্থান নেই। তবে ২০০৪ সালে যখন ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়, তখন সেমিফাইনালে খেলে অস্ট্রেলিয়া। এবার তৃতীয়বারের মত ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হচ্ছে। এ আসরে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলছে। যদিও প্রথম ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলটি হারের মুখে পড়েও বৃষ্টির জন্য বেচে গেছে। তবে দলটি যে কোন সময় ঘুরে দাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। একটি জয় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের ভেতর অনেক আত্মবিশ্বাস এনে দিতে পারে। সেই আত্মবিশ্বাসেই তারা শিরোপায় ছোয়াও দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ এখন থেকে সব ম্যাচকেই ফাইনাল ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বলেছেন, ‘আমরা টুর্নামেন্ট জিততে চাই। জিততে হলে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের ফাইনাল।’ স্মিথ শিরোপায় দৃষ্টি দিচ্ছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে সেখানে ভাবনাই নেই। ভাবনা একটাই যেভাবেই হোক জিততে চান।
বাংলাদেশ কী করবে? ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর প্রেরণা আছে। তবে সেটি বহু বছর আগে। স্মৃতি এখনও সুমধুর। ্এ একটিবারই যে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো গেছে। কিন্তু সেই স্মৃতি নিয়ে কী আর বসে থাকলে চলবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বসেও নেই। দলের একটিই লক্ষ্য। সুযোগ পেলেই জয় তুলে নেওয়া। সেটি অবশ্য অনেক কঠিন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এরআগে যে চারবার খেলেছে বাংলাদেশ, খুব ভাল কোন ফল পাওয়া যায়নি। ২০০০ সালে প্রথমবার একটিমাত্র ম্যাচ খেলতে পারছে। বাছাইপর্ব খেলেছে। ২০০২ ও ২০০৪ সালে সরাসরি টুর্নামেন্টে খেললেও গ্রুপ পর্বই অতিক্রম করতে পারেনি। ২০০৬ সালেও বাছাইপর্ব খেলা পর্যন্তই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এবার বাংলাদেশ দল আবার সরাসরি খেলছে। র‌্যাংকিংয়ের সেরা আটে থেকে টুর্নামেন্টে খেলছে। যোগ্যতা অর্জন করেই খেলছে। সেই যোগ্যতার প্রমানও দিতে চায় দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই যেমন বলেছিলেন, ‘কিছু করে দেখাতে চাই।’ বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। সবার দৃষ্টি থাকবে টুর্নামেন্টে। এখানে ভাল কিছু করতে পারলে সবার দৃষ্টিতে তা পরবে। তাই বাংলাদেশ দল কিছু করে দেখানোর চেস্টায় আছে। সুযোগ পেলে অস্ট্রেলিয়াকেও যে হারিয়ে দেবেনা, তা কে বলতে পারে। মাশরাফির আশা সামনে ভাল কিছু করার, ‘প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংটা ভাল হয়েছে। দল ভাল করেছে। জয় উপহার দেওয়া যায়নি। তবে সামনে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভাল করতে পারব আশা করি।’
যদিও প্রথম ম্যাচ হেরে গেছে বাংলাদেশ। এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। শেষ ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার আগে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা রয়েছে। এ ম্যাচটি জিততেই হবে বাংলাদেশকে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এর কোন বিকল্প নেই।

অনুশীলনে উজ্জীবিত বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে ৮ উইকেটে পরাজয় বাংলাদেশের। এতে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথটা অনেকটা অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে টাইগারদের। তবে প্রতিপক্ষ এবার অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সে যাই হোক আইসিসি-র মেইলে টাইগারদের অনুশীলন ভেন্যু হিসেবে ঠিকানা দেয়া ছিল লন্ডন স্কুুল অব ইকনোমিক্সের। কিন্তু জায়গায় পৌছে বুঝা গেলো ‘সকলি গরল ভেল’। কারণ সেখানে ছিল শুধুই ক্যাম্পাস। কোনো খেলার মাঠই নেই। তাদের প্লে গ্রাউন্ড হলো উইম্বলডনের কাছে, সারেতে।
অবশেষে নানা ঝক্কি-ঝামেলা শেষে মাঠে পৌছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুশীলন শেষ। শেষ আধঘন্টা অনুশীলনে দেখা গেছে উজ্জ্বীবিত এক টিম বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের পরাজয়ের হতাশা, কিংবা মলিনতা অথবা গ্লানি- কোনো পিছুটান টাইগার-ক্রিকেটারদের পেয়ে বসেনি। যেনো ভুলেই গেছেন তারা তিনশ’র বেশি রান করেও পরাজয়টা। অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে সবাই বেশ মজা করছিলেন। কখনো মেতে উঠেছিলেন হাসাহাসিতে।
অনুশীলণ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার মাঠে আসার পর মোস্তাফিজকে নিয়ে সৌম্য-মোসাদ্দেকরা ঠাট্টায় মেতে ওঠেন। মাঠে শুয়ে থাকা মোসস্তাফিজের উপর সৌম্য-মোসাদ্দেক ঝাঁপিয়ে পড়েন। এমনি করেই অনুশীলন আর দুস্টুমি চলছিলো দলের খেলোয়াড়দের। তাতে ইংল্যান্ডের কাছে ৩০৫ রান করেও সহজেই হার মানাতে কারো মনোবলে চিড় ধরেনি। যেনো সবার মাঝে একটা বাড়তি জেদ কাজ করছে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর। সাব্বিরে কথার মধ্যেও সেই সুর। তিনি জানান, ’ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর আমাদের কারো মনোবলই ভেঙ্গে যায়নি। এখনো সম্ভাবনা আছে সেমিফাইনালে যাওয়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
তিন নাম্বারে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার পরও গত ম্যাচে সেই পজিসন ছেড়ে দেয়াতে সাব্বিরের মাঝে নেই কোন আফসোস কিংবা আক্ষেপ। তার কথায় আছে দলীয় সংহতি। সাব্বিরের কাছে দলের প্রয়োজনটাই আসল। তিনি বলেন, ‘তিন নম্বারে আমি ভালো খেললেও দলের প্রয়োজনটাই আসল। যে কোন পজিশনে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। এতে আমার কোন সমস্যা হয় না।’
সাব্বির নিজের তিন নম্বার আসন হারালেও মেহেদী হাসান মিরাজ হারিয়েছেন সেরা একাদশের জায়গাটা। সাব্বিরে মতো তার মাঝেও নেই কোন আফসোস। তার কাছেও দলের প্রয়োজনটাই সবার আগে। মেহেদী হাসান মিরাজ জানান, ‘দল যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে। আল্লাহ তায়ালা যা করেন ভালোর জন্যই করেন।’ প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করার পর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসল লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুতই ছিলেন তিনি। না খেলার বিষয়টি তিনি ম্যাচের দিন সকালেই জেনেছেন।
অধিনায়ক মাশরাফি এবং কোচ হাথুরুসিংকে অনুশীলন শেষে মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে গভীর মনযোগে শলা-পরামর্শ করতে দেখা যায়। হয়তো আরো একবার অজি-বধের ছক কষছিলেন তখন তারা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অন্যতম সেরা তামিম

আর মাত্র ক’দিন পরেই শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আট দলের অংশগ্রহনে এবারের আসরটি বেশ জমজমাটই হতে চলেছে। এই টুর্নামেন্টে এক দশকেরও বেশি সময় পর খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যেখানে ইতোমধ্যে যেকোনো দলের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। আগামী ১ জুন ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদেরই বিপে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা দলগুলোই লড়াই করবে। যেখানে গ্রুপ ‘এ’তে রয়েছে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। আর ‘বি’ গ্রুপে আছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দণি আফ্রিকা। এই আটটি দলে রয়েছে অসংখ্য তারকা ক্রিকেটার। যারা এবারের আসরে দেখাতে পারেন চমক করা পারফরম্যান্স। এই তারকাদের একজন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলি এক কলামে আট দল থেকে একজন করে সেরা ক্রিকেটার বাছাই করা হয়েছে। এ তালিকায় টাইগার ড্যাশিং ব্যাটসম্যান তামিমের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
কলামে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে এই দলটি দারুণ উন্নতি করেছে। অবশ্যই তারা টুর্নামেন্টে অন্য দলগুলোর জন্য হুমকি। তাদের কয়েকজন সেরা স্পিনার রয়েছেন যারা প্রতিপরে জন্য টার্নিং উইকেটে ভয়ঙ্কর হতে পারেন। পরে বিশেষ ক্রিকেটার হিসেবে তামিম সম্পর্কে বলা হয়, টপ অর্ডারে দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান তামিম। তার দিনে সে প্রতিপকে ধ্বংস করে দিতে পারে। সত্যিকারের একজন স্ট্রোক খেলোয়াড়, যে কিনা প্রথম বল থেকেই ভয়হীন ক্রিকেট খেলেন।
নিচে অন্য সাত দলের সেরা ক্রিকেটারের নাম দেওয়া হলো :
ভারত-রবিচন্দ্রন অশ্বিন (স্পিন অলরাউন্ডার)।
দণি আফ্রিকা-কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক-ব্যাটসম্যান)।
শ্রীলঙ্কা-অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (ব্যাটিং অলরাউন্ডার)।
পাকিস্তান-মোহাম্মদ আমির (ফাস্ট বোলার)।
ইংল্যান্ড-আদিল রশিদ (লেগ স্পিনার অলরাউন্ডার)।
অস্ট্রেলিয়া-জেমস প্যাটিনসন (ফাস্ট বোলার)।
নিউজিল্যান্ড-কেন উইলিয়ামসন (ব্যাটসম্যান)।

বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়ছে পাকিস্তান

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ জয়ে ৩৪২ রানের টার্গেটে নেমে, ১৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে পাকিস্তান। দলের ১৪ রানে ওপেনার আজহার আলীকে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দি করান তাসকিন আহমেদ। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১৪ বলে ৮ রান করেন আজহার আলী। দলের ১৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বাবর আজম। ৩ বলে ১ রান সংগ্রহ করা বাবরকে মুশফিকের গ্লাভসে জমা করান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এরআগে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৩৪১ রান তোলে বাংলাদেশ।
এজবাস্টনে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার জুনায়েদ খানের বলে ১৯ রানের পুঁজিতে ফিরে গেলেও, নবম ওভারে জুনাইদের ওই ওভার থেকে মোট ২৫ রান নেয় টাইগাররা। ইমরুলের সঙ্গে তামিমের জুটিও বরাবরের মতো জমে যায় দারুণ। ৩৯ বলে ফিফটি করেন তামিম। আর ইমরুল করেন ৪৭ বলে। ১২২ বলে ১৪২ রানের জুটি গড়ে ইমরুল বিদায় নেন ৬১ রান করে। মুশফিককে নিয়ে চালিয়ে খেলেন তামিম। সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন ৮৮ বলে। ৯৩ বলে ৯টি চার, ৪টি ছক্কায় ১০২ রানের ইনিংস খেলা তামিমকে থামান শাদাব খান।
পরে মুশফিকের ৪৬, মাহমুদুল্লাহর ২৯ এবং মোসাদ্দেকের ২৬ রানে ৯ উইকেট হারানো বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩৪১ রান।

প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বার্মিংহামে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসর। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী আটটি দেশের মধ্যে ছয়টি দল খেলবে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ওয়ানডে ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলায় তাদের কোন অনুশীলন ম্যাচ রাখেনি আইসিসি।
দু’টি করে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের প্রথম প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে হারায় শ্রীলংকাকে। শ্রীলংকার ৭ উইকেটে ৩১৮ রানের জবাবে ৮ উইকেটে ৩১৯ রান করে ২ বল আগে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। আজ শনিবার দ্বিতীয় প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে সুখস্মৃতি নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে রানার্স-আপ হওয়া ছাড়াও, সিরিজের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপ রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারায় মাশরাফির দল। এই জয়ে ওয়ানডে র‌্যাংকিং-এর ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ দল। ত্রিদেশীয় সিরিজের ডাবল লিগ-পর্বে ৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে ২টি জয়, ১টি হার ও ১টি পরিত্যক্ত ম্যাচ নিয়ে ১০ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হয় নিউজিল্যান্ড।
ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। তাই ফুরফুরা মেজাজে থেকেই প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ শুরু করছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পর ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে আগামী ১ জুন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী দিন লন্ডনের কেনিংটন ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় মর্যাদাকর আসর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী দু’টি ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, আগামী ৫ ও ৯ জুন।

এজবাস্টনের বাংলাদেশের অনুশীলন

এজবাস্টনে আজ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কারণ বার্মিংহামের এই এজবাস্টন স্টেডিয়ামেই আগামীকাল প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। আগামী ৩০ মে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগাররা মুখোমুখি হবে ভারতের। ম্যাচটি হবে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে। এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে কেনিংটন ওভালেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মাশরাফিরা।

*** বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভিডিও ফুটেজ ও মাশরাফির ইন্টারভিউ সংযুক্ত করা হলো। ***

বাংলাদেশের ভাবনায় র‌্যাংকিং

আগামী ১ জুন থেকে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা দিয়ে লন্ডনে শুরু হবে এবার বাংলাদেশের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন। আগের দুটি আসরে খেলার সুযোগই পায়নি বাংলাদেশ। র‌্যাংকিংয়ের সেরা আটে থাকতে না পারার মাশুল গুণতে হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দর্শক হয়ে থাকতে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। কিন্তু সেই দিন এখন অতীত। বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলছে বাংলাদেশ। তাও আবারও তিন তিনটি বিশ্বকাপজয়ী দলের চেয়ে এগিয়ে থেকে!
নিজেদের তিন দশকের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নামতে যাচ্ছে ১৯৯৬র চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা আর ১৯৯২র চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। দুই বিশ্বকাপের মালিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই নেই! তিন বিশ্বকাপজয়ীর চেয়ে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডের। র‌্যাংকিংয়ের পাঁচে উঠে যাওয়ার পথ সময়সাপেক্ষ; কিন্তু আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিতের কাজ অনেকটাই হাতের নাগালে।
আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদ করা র‌্যাংকিং টেবিল বলছে, পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনেকখানি পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে র‌্যাংকিংয়ের সাত থেকে ছয়ে উঠে এসেছে মাশরাফি মুর্তজার দল। সাত নম্বরে নেমে যাওয়া শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ উভয়েরই পয়েন্ট ৯৩ করে। তবে ০.৫০ শতাংশে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। লংকার পয়েন্ট ৯৩ দেখানো হলেও মূলত তা ৯২.৮। আর বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯৩ হলেও আসলে সংখ্যাটা ৯৩.৩। র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বরে থাকা পাকিস্তানের পয়েন্ট ৮৮। আর নয় নম্বরে থাকা উইন্ডিজের সংগ্রহে ৭৯ পয়েন্ট, বাংলাদেশের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট পেছনে।
আগে থেকেই জানা, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে আটটি দল। স্বাগতিক ইংল্যান্ড বাদে র‌্যাংকিংয়ের প্রথম সাতটি দল পাবে এই সুযোগ। ইংলিশদের বাদ দিলে বাংলাদেশ এখন সাত দলের মধ্যে পঞ্চম স্থানে আছে। র‌্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত হিসাব যেহেতু ৩০ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের সেরা সাতের মধ্যে থেকে যাওয়া তাই অনেকটাই নিশ্চিত। আর ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যদি ন্যূনতম একটি জয় আসে, তাহলে পুরোপুরিই নিশ্চিত হয়ে যাবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষের একটি মাত্রই ত্রিদেশীয় সিরিজে হারিয়ে দেওয়া নিউজিল্যান্ড। তার আগে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম দিনই অবশ্য স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। যে হিসাব নিয়ে আইসিসি র‌্যাংকিং তৈরি করে, তাতে দেখা যাচ্ছে ইংল্যান্ডকে হারালে ৩ পয়েন্ট পাবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হারালে আসবে আরও দুটি পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ৯৮ পয়েন্ট জোগাড় করে বেশ নিশ্চিন্তেই থাকবেন মাশরাফিরা। তবে দুটি ম্যাচেই হেরে গেলে উল্টো বিপদ আছে। সেক্ষেত্রে পয়েন্ট নেমে যাবে ৯২-তে, র‌্যাংকিং চলে যাবে সাতে। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রীলংকার ম্যাচগুলোরও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা আছে। র‌্যাংকিংয়ের দুইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া আর পাঁচে থাকা ইংল্যান্ডের মধ্যে যে কোনো একটি ম্যাচে জিতলেও অবশ্য বাংলাদেশের লাভ আছে। তখন পয়েন্ট হবে ৯৫, টিকে থাকবে ছয় নম্বরের অবস্থান।
আইসিসি র‌্যাংকিংয়ের প্রথম পাঁচটি দলেরই পয়েন্ট ১১০’র উপরে থাকায় তাদের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ পুরোপুরি নিশ্চিত। বাকি তিনটি জায়গার জন্য কম-বেশি লড়াই বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান আর উইন্ডিজের। বিশেষ করে পাকিস্তান আর উইন্ডিজের মধ্যেই মূল লড়াই। পাকিস্তান দল যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবে, উইন্ডিজ তখন ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেবে আফগানিস্তানকে। দশ নম্বরে থাকা আফগানদের বিপক্ষে জয় পেলে অবশ্য ক্যারিবীয়দের তেমন কোনো লাভ নেই। এজন্য তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ভারতকে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আমন্ত্রণও জানিয়ে রেখেছে। তিন নম্বরে থাকা ভারতকে হারাতে পারলে উইন্ডিজের অবশ্য পয়েন্ট বাড়িয়ে আটের দিকে ওঠার পথ খুলতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বিপদে থাকবে পাকিস্তানই। বাংলাদেশের লড়াইটা থাকবে শ্রীলংকার সঙ্গে, র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বর স্থান ধরে রাখা না রাখা নিয়ে।

ইংল্যান্ডে এখন টিম বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠস্থানে ওঠার ম্যাচ জয়ের পর রাতে আনন্দ-উৎসব করেছে টিম বাংলাদেশ। উৎসব না করার কোনো কারণও নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়ে যেভাবে জয় তুলে নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।
সামনেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে হবে খুব শিগগিরই। তার আগে নিজেদের চাঙা রাখতে রাতের উৎসব। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের পথে রওনা হওয়া। ১ ঘন্টা পাঁচ মিনিট বিমান ভ্রমণ শেষে বার্মিংহামে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। টাইগারদের থাকার হোটেলের নাম হায়াত বার্মিংহাম।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে বাংলাদেশ দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। বার্মিংহামে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ২৭ মে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। পর দিন লন্ডনে যাবে মাশরাফির দল।
ভারতের বিপক্ষে ৩০ মে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ১ জুন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে দেশে ফিরে আসার কথা নাসির হোসেন ও শুভাশীষ রায়ের। ক্রিকেট বোর্ড আগেই জানিয়েছিল, মুশফিকুর রহিমের স্ট্যান্ডবাই হিসেবে কাজী নুরুল হাসান সোহান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফর করবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আস্থা রাখছে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক :

১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে বসবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আসর। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ঠিক আগে ম্যানচেস্টার শহরে ঘটল ন্যক্কারজনক ঘটনা।

সোমবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-র আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে ম্যানচেস্টার শহরে। এতে ২২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১১৯ জন। আত্মঘামী বোমা হামলায় ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ক্রিকেটবিশ্ব।

ওয়ানডের সেরা আট দল খেলবে ইংল্যান্ডে। টুর্নামেন্টের আয়োজক আইসিসিও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ দল এখন আয়ারল্যান্ডে। ২৫ মে আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ড যাবে টাইগাররা। বর্তমান নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উদ্বিগ্ন হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখছে। সৃষ্ট পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বিসিবি।

মঙ্গলবার বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন এমটাই জানালেন। তিনি বলেন,‘নিরাপত্তা নিয়ে আমরা অবশ্যই চিন্তিত। এরকম ঘটনা সব সময়ই চিন্তার কারণ। কিন্তু আমরা আস্থা রাখছি আইসিসি এবং স্বাগতিক বোর্ডের উপর। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আইসিসি এরই মধ্যে জানিয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থান দ্বিগুণ জোরদার করা হচ্ছে। আমরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ করব।’

নিজামউদ্দিন চৌধুরী যোগ করেন,‘আমরা ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সাথে অবশ্যই থাকব। তারা গত বছর আমাদের এখানে সফর করেছে। সফরের আগে এরকম ঘটনা চিন্তার কারণ। আমরা এখানে ওদেরকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছি ওরাও ঠিক একইভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে। অস্ট্রেলিয়া যখন আমাদের এখানে সফর করেনি তখন ইংল্যান্ড কিন্তু এখানে এসেছিল। তারা সব সময়ই আমাদের পাশে ছিল। আমরাও থাকব।’

ম্যানচেস্টারের হামলা ভাবাচ্ছে বিসিবিকেও

উৎসব মুখরই ছিলো ইংল্যান্ডে। চলছিলো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ক’দিন পরই এখানে শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেট। কিন্তু সব ওলোট-পালোট করে দিলো আত্মঘাতি হামলা। ম্যানচেস্টারে বোমা হামলার পর ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তার কথা জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি)। সেরা আট দলের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দু’দিন পরই ইংল্যান্ডে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। যে কারণে ম্যানচেস্টারের বোমা হামলার বিষয়টি ভাবাচ্ছে বিসিবিকেও। আজ মঙ্গলবার এমনটাই জানান, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
ম্যানচেস্টারের বোমা হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা এমন একটি ঘটনা যেটা দেখার পর চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্বভাবতই আমাদেরও চিন্তা হচ্ছে। তবে আমার মনেহয় নিরাপত্তার ব্যাপারে ইংল্যান্ড ও আইসিসির ওপর ভরসা রাখা যায়। তাদের ওপর আমাদের সেই আস্থা আছে। কারণ এতগুলো দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে তারা কোনো কিছুই করবে না। এই ঘটনার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে বলে বিশ্বাস বিসিবির প্রধান নির্বাহীর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নিরাপত্তার জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিলো এখন হয়তো তার পরিধি আরো বাড়ানো হবে। আইসিসি এবং ইংল্যান্ড এ বিষয়ে অনেক সতর্ক। ইতিমধ্যে দলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি।
এমন অবস্থায় বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার আশা করতেই পারে ইংল্যান্ড। কারণ গত বছর গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরও বাংলাদেশ সফরে এসেছিলো ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। পুরো এক মাস বাংলাদেশ সফর করে গেছে তারা। সেটা মনে করেই নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুটি বড় বড় ঘটনার পরও কিন্তু ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর বাতিল করেনি। তারা এসেছিলো। ম্যানচেস্টারে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসিও। সোমবার রাতে ম্যানচেস্টারে একটি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্দে। কনসার্ট চলাকালে বোমা হামলা হয়। প্রাথমিকভাবে ইংল্যান্ডের পুলিশ এটাকে আত্মঘাতি হামলা বলে জানায়। এই বোমা হামলায় ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক।

চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে পাকিস্তানের লক্ষ্য শিরোপা জয়

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যতই এগিয়ে আসছে এর উত্তেজনাও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যেকোন টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে যেখানে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকে এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজিত না হওয়ায় আইসিসি’র টুর্নামেন্টগুলোতেই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকে সমর্থকরা।
এবারও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সব আকর্ষনই থাকবে আগামী ৪ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনের দিকে। এই দিনই ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক জানিয়েছেন তারা শুধুমাত্র ভারতকে পরাজিত করতে নয় বরং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিততেই ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো ইনজামামের বরাত দিয়ে এই কথা জানিয়েছে। ২০০৪ সালে এই এজবাস্টনে ভারতকে হারানোর সুখস্মৃতি আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ইনজামাম। ঐ সময় পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এবারও তার পুনরাবৃত্তির আশা করছেন ইনজামাম। সম্প্রতী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজ জয় করা পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস বেশ তুঙ্গে। ইনজামাম বিশ্বাস করেন এই জয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভাল খেলতে তার দলকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ

মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয় পেলো বাংলাদেশ। ডাবলিনে স্বাগতিকদের দেয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য ১৩৭ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সৌম্য সরকার ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ডাবলিনে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথম জয় পেলো টাইগাররা। আইরিশদের দেয়া ১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২৩ ওভার বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
জয়ের টার্গেট ছোটে। তাই হয়তো একেবারে নির্ভার হয়ে খেললেন তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৮৩ বলে দলের স্কোরে যোগ করেন ৯৫ রান। তাতেই বড় জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। কেভিন ও’ব্রায়েনের গুড লেংথ বলে উইকেটরক্ষক নায়াল ও’ব্রায়ানের তালুবন্দি হন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার আগে ৫৪ বলে ৬ চারে তুলে নেন ৪৭ রান।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের সপ্তম স্থান আর ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা জরুরী ছিলো বাংলাদেশের জন্য। যার পথটা তৈরি করেছেন টাইগার বোলাররা। পরে জয়ের পথে স্বাচ্ছন্দেই হেঁটেছেন ব্যাটসম্যানরা। ৩৪ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রানের পুঁজিতে প্যাভিলিয়েনে ফেরেন সাব্বির রহমান। তারপর মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন সৌম্য সরকার। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত তিনি। আর মুশফিক ৩ রানে। মুস্তাফিজুর রহমান ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচ সেরা।

১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের যেন পাত্তাই দিলেন না তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ১৩ ওভার ৫ বলে ৯৫ রানের ঝড়ো উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কেভিন ও’ব্রায়েনের স্লোয়ারের ফাঁদে পা দেয়ার আগে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। এরপরও ঝড় থামাতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ১১ ওভারে ৭৬ রানের জুটি গড়ে আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সৌম্য ও সাব্বির রহমান। সাব্বির ৩৫ রানে বিদায় নিলেও অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন সৌম্য। ৬৮ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিলো ১১ বাউন্ডারি আর দুই ছক্কায়। এটি সৌম্যের ষষ্ঠ ওয়ানডে ফিফটি। তাতে ২৭ ওভারে ২ উইকেটে ১৮২ রান তোলে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্যটা আগেই সহজ করে দেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো বাংলাদেশ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণে বেশি সময় নেয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পল স্টারলিংয়ের উইকেট তুলে নেন ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’। ধাক্কাটা সামলে নিতে দেননি সাকিব ও মোসাদ্দেক, দলের ৬১ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে।


এরপর নেইল ও’ব্রায়েন, কেভিন ও’ব্রায়েন এবং গ্যারি উইলসনকে বিদায় করে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেন মুস্তাফিজ। তাঁর সেই ধার আর নেই—এমন সমালোচকদের বল হাতেই যেন জবাব দিলেন ‘ফিজ’। ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হন সাতক্ষীরার সন্তান। আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করা এড জয়েসকে ক্যারিয়ারের প্রথম শিকারে পরিণত করেন স্পিনার সানজামুল ইসলাম। পরে কার্থারকে বিদায় করে অভিষেক ম্যাচটা আরও রঙ্গিন করেন তিনি। ৪৭তম ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জোড়া আঘাতে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: শ্রীলঙ্কা আন্ডারডগ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০০২ সালে নিজেদের সেরা সাফল্য পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেবার দেশের মাটিতে আয়োজিত আসরের ফাইনালে উঠেছিল লঙ্কানরা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচ আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর আর কখনও চ্যাম্পিয়ন্স টফির ফাইনাল খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আগামী এক জুন ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের। তাই ক্রীড়াপ্রেমীদের আলোচনা এখন আসরের ফেভারিটদের নিয়ে। সেই তালিকায় ক্রিকেটপ্রেমীরা শ্রীলঙ্কাকে তো রাখবেই। কিন্তু ফেভারিটদের তালিকায় লঙ্কানদের দেখছেন না দেশটির প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড নিজেই! ‘বি’ গ্রুপে এই দলটিকে লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। একমাত্র পাকিস্তানই আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কার চেয়ে। পাকিস্তান এই মুহূর্তে আট নম্বরে আর শ্রীলঙ্কা ছয় নম্বরে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর এবং ভারত তিন নম্বর দল। গ্রুপের অন্য দলগুলোর তুলানায় তারা যে পিছিয়ে আছেই বলে মত কোচ গ্রাহাম ফোর্ডেরও। তাই নিজেদের আন্ডারডগ মেনে নিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। লঙ্কান কোচ ফোর্ডের ভাষ্য, আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের মেনে নিতে হবে যে এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে যাচ্ছি। যদিও মাঝে মাঝে এটা খুবই ভাল অবস্থান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারার সঙ্গে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার চামারা কাপুগেদেরা ফেরাতে ভাল একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে দলে। আর এই দলটি নিয়ে যে কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা ফোর্ডের, চমৎকার কিছু খেলোয়াড় আছে আমাদের। আমরা শুধু যে ম্যাচটি সামনে আসবে সেটা নিয়েই ভাবব। একটি ছেড়ে পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তার কোন কারণ দেখি না। বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে গেছে অনেক কঠিন। প্রতিটি দলেই কিছু উচ্চ পর্যায়ের ভাল নৈপুণ্য দেখতে পাই আমরা। আমাদের গ্রুপে যে প্রতিপক্ষরা আছে তাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। ভাল কিছু করার জন্য আমাদের অবশ্যই নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে খেলতে হবে গতবারের শিরোপাজয়ী ভারত, ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে শীর্ষ দুটি দল। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে পারে, এমন ধারণাই করছেন অনেকে। তবে এখনই সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ শ্রীলঙ্কার কোচ ফোর্ড। তিনি এগুতে চান একটা একটা করে ম্যাচ, আমাদের এক সময়ে একটা ম্যাচ নিয়েই ভাবতে হবে। আগেই পরের ম্যাচগুলোর কথা ভেবে কোনো লাভ নেই। বর্তমান সময়ে প্রতিটা ম্যাচই হবে খুব কঠিন। আগামী ৩ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন। এর প্রায় ১৫ দিন আগেই ইংল্যান্ডে এসেছে দলটি। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য এটা দারুণ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন ফোর্ড। এছাড়া ২৬ ও ৩০ মে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এটা আরও ফলপ্রসূ হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে। এ টুর্নামেন্ট উপলক্ষে দলের বোলিং বিভাগকে আরও শাণিত করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার এলান ডোনাল্ডকে পেস বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। ইংল্যান্ডের পরিবেশের কথা বিবেচনায় রেখে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ মিটার উঁচু ভূমিতে ক্যান্ডির পাহাড়ী অঞ্চলে বিশেষ অনুশীলন করেছে লঙ্কানরা। অধিনায়ক ম্যাথুসও তাই দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই দিনকে দিন উন্নতি করছি। আমি নিশ্চিত ছেলেরা আসন্ন যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এটা নিয়ে বাড়তি চাপে থাকার কিছু নেই।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ১২ আম্পায়ার, ৩ ম্যাচ রেফারি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর্দা উঠবে আগামী ১ জুন । আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। ১ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই।
ম্যাচ পরিচালনার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ সদস্যের এলিট আম্পায়ারিং প্যানেলের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি।এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা হলেন-আলীম দার, কুমার ধর্মাসেনা, মারাইস এরাসমাস, ক্রিস গ্রাফানে, ইয়ান গৌল্ড, রিচার্ড ইলিংয়র্থ, রিচার্ড ক্যাটেলবারোহ, নাইজল লং, ব্রছ অক্সেনফোর্ড, সুন্দারাম রবি, পল রাইফেল ও রড টাকার। আর এতে ম্যাচ রেফারি থাকবেন ৩ জন। তারা হলেন-ক্রিস ব্রড, ডেভিড বুন ও অ্যান্ডি পাইক্রফট। শুধু মূল আসর নয়, ওয়ার্মআপ ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করবেন তারা। পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছেন ২০০৯ ও ২০১১ সালে সেরা আম্পায়ারের পুরস্কার পাওয়া আলীম দার। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যাচ পরিচালনা করবেন। দ্বিতীয়বারের মতো নাম লিখালেন ধর্মাসেনা, ইরাসমাস, কাটেলবারোহ, লং, অক্সেনফোর্ড এবং টাকার। এবারই অভিষেক হতে যাচ্ছে গ্রাফানে, ইলিংয়র্থ, রবি ও রাইফেলের। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ওভালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন সুন্দারাম রবি ও রড টাকার। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অক্সেনফোর্ড ও গ্রাফানে। ম্যাচ রেফারি হিসেবে থাকবেন বুন।
৫ জুন ওভালে খেলবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন নাইজেল লং ও ক্রিস গ্রাফেনি। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয় ও সুন্দারাম রবি চতুর্থ আম্পায়ার থাকবেন। ম্যাচ রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৯ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। কার্ডিফে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন নাইজেল লং ও ইয়ান গৌল্ড। তৃতীয় আম্পায়ার আলীম দার, চতুর্থ আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংয়র্থ। এই ম্যাচেও রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড।
এদিকে আইসিসির মূলমঞ্চে মাঠে নামার আগে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইলিংয়র্থ ও রাইফেল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইরাসমাস ও লং। প্রসঙ্গত, দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের আম্পায়ার নির্বাচন করেনি আইসিসি।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কে কত পাবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

: প্রাইজমানি বেড়েছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। এবারের টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টুর্নামেন্টের চেয়ে মোট প্রাইজমানি বেড়েছে ৫ লাখ ডলার।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রাইজমানির কথা জানায় আইসিসি। আগামী ১ জুন ইংল্যান্ডে শুরু টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২২ লাখ ডলার। রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে ১১ লাখ ডলার।

সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে সাড়ে ৪ লাখ ডলার করে। প্রতিটি গ্রুপের তৃতীয় দল পাবে ৯০ হাজার ডলার। আর গ্রুপে শেষ স্থানে থাকা দল পাবে ৬০ হাজার ডলার।

আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। প্রতিটা গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সেমিফাইনাল

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ১-১৮ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে মোট সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ২০১৩ সালের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার পাঁচ লাখ পাউন্ড বাড়ানো হয়েছে। খেলা হবে তিনটি ভেন্যু কার্ডিফ, এজবাস্টন ও ওভালে। এরমধ্যে শিরোপা জয়ী দল পাবে ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড আর রানার্সআপ দল পাবে ১.১ মিলিয়ন পাউন্ড। দুই সেমিফাইনালিস্ট পাবে সাড়ে চার লাখ পাউন্ড করে। প্রত্যেক গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল পাবে ৯০ হাজার পাউন্ড। আর গ্রুপের শেষ দল পাবে ৬০ হাজার পাউন্ড।

সেরা একাদশের অধিনায়ক সৌরভ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বকালের সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলিকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা একাদশের নাম ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি-র এই টুর্নামেন্টে সেরা পারফর্মারদের নিয়ে সর্বকালের সেরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একাদশ প্রকাশ করা হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে। আর এই দলটির অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সৌরভ গাঙ্গুলিকে। দলের উইকেটকিপার হিসেবে রাখা হযেছে রাহুল দ্রাবিড়কে। এছাড়া আর কোনো ভারতীয় খেলোয়াড়ের জায়গা হয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সেই দলে। এমনি শচীন টেন্ডুলকারেরও ঠাঁই হয়নি সেখানে।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন- ক্রিস গেইল, হার্শেল গিবস, জাক কালিস, ড্যামিয়েন মার্টিন, শেন ওয়াটসন, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, কাইল মিলস, মুত্তিয়া মুরলীধরন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা।