রাত ১:২২, মঙ্গলবার, ২২শে মে, ২০১৭ ইং

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যতই এগিয়ে আসছে এর উত্তেজনাও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যেকোন টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে যেখানে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকে এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজিত না হওয়ায় আইসিসি’র টুর্নামেন্টগুলোতেই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকে সমর্থকরা।
এবারও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সব আকর্ষনই থাকবে আগামী ৪ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনের দিকে। এই দিনই ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক জানিয়েছেন তারা শুধুমাত্র ভারতকে পরাজিত করতে নয় বরং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিততেই ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো ইনজামামের বরাত দিয়ে এই কথা জানিয়েছে। ২০০৪ সালে এই এজবাস্টনে ভারতকে হারানোর সুখস্মৃতি আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ইনজামাম। ঐ সময় পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এবারও তার পুনরাবৃত্তির আশা করছেন ইনজামাম। সম্প্রতী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজ জয় করা পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস বেশ তুঙ্গে। ইনজামাম বিশ্বাস করেন এই জয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভাল খেলতে তার দলকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ

মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয় পেলো বাংলাদেশ। ডাবলিনে স্বাগতিকদের দেয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য ১৩৭ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সৌম্য সরকার ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ডাবলিনে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথম জয় পেলো টাইগাররা। আইরিশদের দেয়া ১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২৩ ওভার বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
জয়ের টার্গেট ছোটে। তাই হয়তো একেবারে নির্ভার হয়ে খেললেন তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৮৩ বলে দলের স্কোরে যোগ করেন ৯৫ রান। তাতেই বড় জয়ের ভিত পায় বাংলাদেশ। কেভিন ও’ব্রায়েনের গুড লেংথ বলে উইকেটরক্ষক নায়াল ও’ব্রায়ানের তালুবন্দি হন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার আগে ৫৪ বলে ৬ চারে তুলে নেন ৪৭ রান।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের সপ্তম স্থান আর ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা জরুরী ছিলো বাংলাদেশের জন্য। যার পথটা তৈরি করেছেন টাইগার বোলাররা। পরে জয়ের পথে স্বাচ্ছন্দেই হেঁটেছেন ব্যাটসম্যানরা। ৩৪ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রানের পুঁজিতে প্যাভিলিয়েনে ফেরেন সাব্বির রহমান। তারপর মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন সৌম্য সরকার। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত তিনি। আর মুশফিক ৩ রানে। মুস্তাফিজুর রহমান ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচ সেরা।

১৮২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের যেন পাত্তাই দিলেন না তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ১৩ ওভার ৫ বলে ৯৫ রানের ঝড়ো উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কেভিন ও’ব্রায়েনের স্লোয়ারের ফাঁদে পা দেয়ার আগে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। এরপরও ঝড় থামাতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। দ্বিতীয় উইকেটে ১১ ওভারে ৭৬ রানের জুটি গড়ে আয়ারল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সৌম্য ও সাব্বির রহমান। সাব্বির ৩৫ রানে বিদায় নিলেও অপরাজিত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন সৌম্য। ৬৮ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিলো ১১ বাউন্ডারি আর দুই ছক্কায়। এটি সৌম্যের ষষ্ঠ ওয়ানডে ফিফটি। তাতে ২৭ ওভারে ২ উইকেটে ১৮২ রান তোলে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্যটা আগেই সহজ করে দেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো বাংলাদেশ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণে বেশি সময় নেয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পল স্টারলিংয়ের উইকেট তুলে নেন ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’। ধাক্কাটা সামলে নিতে দেননি সাকিব ও মোসাদ্দেক, দলের ৬১ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে।


এরপর নেইল ও’ব্রায়েন, কেভিন ও’ব্রায়েন এবং গ্যারি উইলসনকে বিদায় করে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেন মুস্তাফিজ। তাঁর সেই ধার আর নেই—এমন সমালোচকদের বল হাতেই যেন জবাব দিলেন ‘ফিজ’। ৯ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হন সাতক্ষীরার সন্তান। আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করা এড জয়েসকে ক্যারিয়ারের প্রথম শিকারে পরিণত করেন স্পিনার সানজামুল ইসলাম। পরে কার্থারকে বিদায় করে অভিষেক ম্যাচটা আরও রঙ্গিন করেন তিনি। ৪৭তম ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জোড়া আঘাতে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: শ্রীলঙ্কা আন্ডারডগ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০০২ সালে নিজেদের সেরা সাফল্য পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেবার দেশের মাটিতে আয়োজিত আসরের ফাইনালে উঠেছিল লঙ্কানরা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচ আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর আর কখনও চ্যাম্পিয়ন্স টফির ফাইনাল খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আগামী এক জুন ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের। তাই ক্রীড়াপ্রেমীদের আলোচনা এখন আসরের ফেভারিটদের নিয়ে। সেই তালিকায় ক্রিকেটপ্রেমীরা শ্রীলঙ্কাকে তো রাখবেই। কিন্তু ফেভারিটদের তালিকায় লঙ্কানদের দেখছেন না দেশটির প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড নিজেই! ‘বি’ গ্রুপে এই দলটিকে লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। একমাত্র পাকিস্তানই আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কার চেয়ে। পাকিস্তান এই মুহূর্তে আট নম্বরে আর শ্রীলঙ্কা ছয় নম্বরে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর এবং ভারত তিন নম্বর দল। গ্রুপের অন্য দলগুলোর তুলানায় তারা যে পিছিয়ে আছেই বলে মত কোচ গ্রাহাম ফোর্ডেরও। তাই নিজেদের আন্ডারডগ মেনে নিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। লঙ্কান কোচ ফোর্ডের ভাষ্য, আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের মেনে নিতে হবে যে এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে যাচ্ছি। যদিও মাঝে মাঝে এটা খুবই ভাল অবস্থান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারার সঙ্গে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার চামারা কাপুগেদেরা ফেরাতে ভাল একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে দলে। আর এই দলটি নিয়ে যে কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা ফোর্ডের, চমৎকার কিছু খেলোয়াড় আছে আমাদের। আমরা শুধু যে ম্যাচটি সামনে আসবে সেটা নিয়েই ভাবব। একটি ছেড়ে পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তার কোন কারণ দেখি না। বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে গেছে অনেক কঠিন। প্রতিটি দলেই কিছু উচ্চ পর্যায়ের ভাল নৈপুণ্য দেখতে পাই আমরা। আমাদের গ্রুপে যে প্রতিপক্ষরা আছে তাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। ভাল কিছু করার জন্য আমাদের অবশ্যই নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে খেলতে হবে গতবারের শিরোপাজয়ী ভারত, ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে শীর্ষ দুটি দল। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে পারে, এমন ধারণাই করছেন অনেকে। তবে এখনই সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ শ্রীলঙ্কার কোচ ফোর্ড। তিনি এগুতে চান একটা একটা করে ম্যাচ, আমাদের এক সময়ে একটা ম্যাচ নিয়েই ভাবতে হবে। আগেই পরের ম্যাচগুলোর কথা ভেবে কোনো লাভ নেই। বর্তমান সময়ে প্রতিটা ম্যাচই হবে খুব কঠিন। আগামী ৩ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন। এর প্রায় ১৫ দিন আগেই ইংল্যান্ডে এসেছে দলটি। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য এটা দারুণ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন ফোর্ড। এছাড়া ২৬ ও ৩০ মে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এটা আরও ফলপ্রসূ হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে। এ টুর্নামেন্ট উপলক্ষে দলের বোলিং বিভাগকে আরও শাণিত করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার এলান ডোনাল্ডকে পেস বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। ইংল্যান্ডের পরিবেশের কথা বিবেচনায় রেখে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ মিটার উঁচু ভূমিতে ক্যান্ডির পাহাড়ী অঞ্চলে বিশেষ অনুশীলন করেছে লঙ্কানরা। অধিনায়ক ম্যাথুসও তাই দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই দিনকে দিন উন্নতি করছি। আমি নিশ্চিত ছেলেরা আসন্ন যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এটা নিয়ে বাড়তি চাপে থাকার কিছু নেই।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ১২ আম্পায়ার, ৩ ম্যাচ রেফারি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর্দা উঠবে আগামী ১ জুন । আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। ১ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই।
ম্যাচ পরিচালনার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ সদস্যের এলিট আম্পায়ারিং প্যানেলের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি।এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা হলেন-আলীম দার, কুমার ধর্মাসেনা, মারাইস এরাসমাস, ক্রিস গ্রাফানে, ইয়ান গৌল্ড, রিচার্ড ইলিংয়র্থ, রিচার্ড ক্যাটেলবারোহ, নাইজল লং, ব্রছ অক্সেনফোর্ড, সুন্দারাম রবি, পল রাইফেল ও রড টাকার। আর এতে ম্যাচ রেফারি থাকবেন ৩ জন। তারা হলেন-ক্রিস ব্রড, ডেভিড বুন ও অ্যান্ডি পাইক্রফট। শুধু মূল আসর নয়, ওয়ার্মআপ ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করবেন তারা। পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছেন ২০০৯ ও ২০১১ সালে সেরা আম্পায়ারের পুরস্কার পাওয়া আলীম দার। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যাচ পরিচালনা করবেন। দ্বিতীয়বারের মতো নাম লিখালেন ধর্মাসেনা, ইরাসমাস, কাটেলবারোহ, লং, অক্সেনফোর্ড এবং টাকার। এবারই অভিষেক হতে যাচ্ছে গ্রাফানে, ইলিংয়র্থ, রবি ও রাইফেলের। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ওভালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন সুন্দারাম রবি ও রড টাকার। তৃতীয় ও চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অক্সেনফোর্ড ও গ্রাফানে। ম্যাচ রেফারি হিসেবে থাকবেন বুন।
৫ জুন ওভালে খেলবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার থাকবেন নাইজেল লং ও ক্রিস গ্রাফেনি। ইয়ান গৌল্ড তৃতীয় ও সুন্দারাম রবি চতুর্থ আম্পায়ার থাকবেন। ম্যাচ রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৯ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। কার্ডিফে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন নাইজেল লং ও ইয়ান গৌল্ড। তৃতীয় আম্পায়ার আলীম দার, চতুর্থ আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংয়র্থ। এই ম্যাচেও রেফারি থাকবেন ক্রিস ব্রড।
এদিকে আইসিসির মূলমঞ্চে মাঠে নামার আগে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইলিংয়র্থ ও রাইফেল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইরাসমাস ও লং। প্রসঙ্গত, দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের আম্পায়ার নির্বাচন করেনি আইসিসি।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কে কত পাবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

: প্রাইজমানি বেড়েছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। এবারের টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টুর্নামেন্টের চেয়ে মোট প্রাইজমানি বেড়েছে ৫ লাখ ডলার।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রাইজমানির কথা জানায় আইসিসি। আগামী ১ জুন ইংল্যান্ডে শুরু টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২২ লাখ ডলার। রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে ১১ লাখ ডলার।

সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে সাড়ে ৪ লাখ ডলার করে। প্রতিটি গ্রুপের তৃতীয় দল পাবে ৯০ হাজার ডলার। আর গ্রুপে শেষ স্থানে থাকা দল পাবে ৬০ হাজার ডলার।

আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। প্রতিটা গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সেমিফাইনাল

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ১-১৮ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে মোট সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ২০১৩ সালের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার পাঁচ লাখ পাউন্ড বাড়ানো হয়েছে। খেলা হবে তিনটি ভেন্যু কার্ডিফ, এজবাস্টন ও ওভালে। এরমধ্যে শিরোপা জয়ী দল পাবে ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড আর রানার্সআপ দল পাবে ১.১ মিলিয়ন পাউন্ড। দুই সেমিফাইনালিস্ট পাবে সাড়ে চার লাখ পাউন্ড করে। প্রত্যেক গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল পাবে ৯০ হাজার পাউন্ড। আর গ্রুপের শেষ দল পাবে ৬০ হাজার পাউন্ড।

সেরা একাদশের অধিনায়ক সৌরভ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বকালের সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলিকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা একাদশের নাম ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি-র এই টুর্নামেন্টে সেরা পারফর্মারদের নিয়ে সর্বকালের সেরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি একাদশ প্রকাশ করা হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে। আর এই দলটির অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সৌরভ গাঙ্গুলিকে। দলের উইকেটকিপার হিসেবে রাখা হযেছে রাহুল দ্রাবিড়কে। এছাড়া আর কোনো ভারতীয় খেলোয়াড়ের জায়গা হয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সেই দলে। এমনি শচীন টেন্ডুলকারেরও ঠাঁই হয়নি সেখানে।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন- ক্রিস গেইল, হার্শেল গিবস, জাক কালিস, ড্যামিয়েন মার্টিন, শেন ওয়াটসন, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, কাইল মিলস, মুত্তিয়া মুরলীধরন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা।