বিকাল ৫:১৯, বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং

ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ ফুটবলে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইংলিশ দল আর্সেনাল। মৌসুম শুরুর আগে ক্যার্লিফোনিয়ায়, প্রস্তুতিমূলক এই টুর্নামেন্টে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ে।

খেলার ৪৯ মিনিটে লেফটব্যাক লুকাস পোজানস্কির আত্মঘাতি গোলে লিড নেয় আর্সেনাল। তবে খেলার ৭১ মিনিটে বায়ার্নের ফরোয়ার্ড রবার্ট লিউয়ান্ডোস্কি ম্যাচে সমতা ফেরান। নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে, এডি কেইতা আর্সেনালের ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ দলে ফিরলেন বিজয় ‌ও তাইজুল

মাশরাফি বিন মোর্ত্তজাকে অধিনায়ক করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। ছুটিতে থাকায় স্কোয়াডে নেই সাকিব আল হাসান এবং লিটন দাসের নাম। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ওপেনার এনামুল হক বিজয় এবং স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে দল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

বিশ্বকাপে থাকা ১৫ সদস্যের দল থেকে বাদ দেয়া হলো আবু জায়েদ রাহির নাম। ১৪ সদস্যের দলের সদস্যরা হলেন, মাশরাফি, মুশফিকুর, মাহমুদউল্লাহ, তামিম, সৌম্য, মিথুন, সাব্বির, রুবেল, মুস্তাফিজুর, মিরাজ, মোসাদ্দেক এবং সাইফুদ্দিন। তাইজুল আর বিজয়ের জায়গা পাওয়ার কারন হিসেবে প্রধান নির্বাচক বললেন, বিসিবি একাদশ আর এ দলের হয়ে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স।

এ সিরিজ দিয়ে বিশ্বকাপের হতাশা কাটাতে চায় টাইগাররা। মাথায় থাকছে র‌্যাঙ্কিংয়ে উপরের উঠার বিষয়টিও। প্রধান নির্বাচক জানান কিছু ক্রিকেটার নিজেদের প্রমানের চেস্টাও করবেন।

বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম তিন বছর পর ওয়ানডে দলে ডাক পেলেন। আর ডানহাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয় গত বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেটি খেলেছেন। কলম্বোয় ২৬ জুলাই প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডে ২৮ তারিখ, আর তৃতীয়টি ৩১ জুলাই।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে সংবর্ধনা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে ডাউনিং স্ট্রিটে থেরেসা মে’র বাসভবনে অধিনায়ক ইয়ন মর্গানের নেতৃত্বে হাজির ছিলেন দলের সদস্যরা।

জোফরা আর্চার, বেন স্টোকসদের সাথে হাত মেলানোর পর ট্রফি হাতে নিয়ে ছবি তোলেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে থেরেসা মে বলেন, এই জয় বিশ্ব দরবারে আধুনিক ব্রিটেনের নামকে আরো উজ্জল করবে। এসময় এই অভিযানে ক্রিকেট দলের সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রশ্নবিদ্ধ ইংল্যান্ডের শিরোপা উল্লাস

অনেক ঐতিহাসিক ঘটনারই সাক্ষী লর্ডস। সেই লর্ডসেই গতকাল হয়ে গেলো আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। পঞ্চমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলো ইংল্যান্ডের লর্ডসে। তবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো টানটান উত্তেজনার আর কখনও দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। এ ম্যাচেই ক্রিকেটভক্তরা দখলেন অদ্ভুত এক জয়। হতবাক হয়ে গেলেন তারা এই জয় দেখে। অনেকে মনে করলেন, লিগ টেবিলে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ওপরে থাকার জন্যই হয়তো কাপ জিতলো ইংল্যান্ড। বিষয়টি বোধগম্য হয় কিছুক্ষণ পরে। জানা যায়, ম্যাচে কিউয়িদের চেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারায় জিতেছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জয়ের এক আলাদা তৃপ্তি আছে। কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদে একটু হলেও যেন কেমন ময়লা পড়ে গেল ইংল্যান্ডের। ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয় সমান সমান অবস্থায়। সুপার ওভারও শেষ হয় অমীমাংসিতভাবে। এই অবস্থায় কী করে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে শুধুমাত্র বাউন্ডারি মারার সংখ্যা? এই প্রশ্নই ঘুরছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাথায়।

চার বছরের অপেক্ষা। ১০ দলের লড়াই। ৪৪ দিন ধরে চলা মেগা টুর্নামেন্ট। একাধিক টানটান ম্যাচ। সেই টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণ হলো দুটি দলের মধ্যে কে বেশি চার মেরেছে তাই দিয়ে! ক্রিকেটে কি তা হলে শুধু বেশি বাউন্ডারি মারাই প্রধান লক্ষ্য? ‘জেন্টলম্যানস গেম’ বলা হয় ক্রিকেটকে। বোলার বুদ্ধি খাটিয়ে বল করে উইকেট নেন। ধীরে ধীরে সিঙ্গলস নিয়ে ইনিংস গড়েন ব্যাটসম্যান। কত রকমের মাইন্ড গেম চলে, তার ইয়ত্তা নেই। একের পর এক উইকেট হারানোর পরে ব্যাটসম্যান দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ইনিংস গড়েন, বোলারের মারাত্মক বাউন্সারের ছোবল সহ্য করেও ব্যাট করে চলার তো তা হলে কোনও মূল্য রইল না!

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে এ সব প্রশ্ন উঠছে। একটা ফাইনাল বেশ বিতর্ক তৈরি করে দিয়ে গেল। লর্ডসের হার নিউজিল্যান্ড শিবিরকে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়ার কথা। গতবারের হারের থেকেও এই হার যে বেশি যন্ত্রণার।

৫০ ওভারে ২৪১ রান করে দু’ দলই। কিন্তু সেই রান তুলতে নিউজিল্যান্ডের থেকে বেশি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। কিউইরা তো বটেই, ক্রিকেটবিশ্বের একটা বড় অংশের দাবি, কেন সেই বিষয়টা গ্রাহ্য করা হবে না? অনেকে আবার মনে করেন, এই অবস্থায় আইসিসি যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করলেই পারতো। ১০০ ওভারের শেষে দুটো দেশেরই রান সংখ্যা সমান। সুপার ওভারেও রান সমান। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড ক্রিকেটিয় বিচারে কোনও অবস্থাতেই ফাইনালে হারাতে পারেনি কিউইদের। পরে যে দল বেশি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে, সেই দলকেই চ্যাম্পিয়ন করে দেওয়া হোক। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মহামঞ্চে এভাবে হারটা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

এরকম নিয়মের বেড়াজালে হেরে যাওয়া সত্যিই দুঃখের। ২০১৮-র সেপ্টেম্বর থেকে ধার্য হওয়া আইসিসি-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী সুপার ওভার ড্র হলে বাউন্ডারি যেদল বেশি মেরেছে তাদের জয়ী ঘোষণা করা হবে। কথা উঠেছে গাপ্টিলের থ্রো স্টোকসের ব্যাটে লেগে হওয়া চারে ছয় রান দেওয়া নিয়েও। কারও মতে, এটা পাঁচ রান হওয়ার কথা ছিল। আইসিসি-র নিয়মও সে রকমই বলছে।

আলোচনা, যুক্তি পাল্টা যুক্তি চলতেই থাকবে। পাল্টানো যাবে না মহাম্যাচের ফলাফল। ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরুর ৪৪ বছর পর জিতলো ক্রিকেটের জনকেরা। কিন্তু সেই জয়টা‌ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রইলো।

আইসিসি’র বিশ্বসেরা একাদশে সাকিব

আইসিসি’র বিশ্ব সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে এই একাদশের অধিনায়কের দায়িত্বে রেখেছে আইসিসি। দ্বাদশ ব্যাক্তি হিসেবে রাখা হয়েছে, কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টকে।

একাদশে সবচেয়ে বেশি, বিশ্বকাপ জয়ী দল ইংল্যান্ডের চারজন, রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের দুইজন করে এবং বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।

আইসিসির বিশ্ব সেরা একাদশের খেলোয়াড়রা হলেন – জেসন রয় (ইংল্যান্ড), রোহিত শর্মা (ভারত), কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক, নিউজিল্যান্ড), জো রুট (ইংল্যান্ড), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার, অস্ট্রেলিয়া), মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া), জোফরা আর্চার (ইংল্যান্ড), লকি ফার্গুসন (নিউজিল্যান্ড), জাসপ্রিত বুমরা (ভারত)।

ইংল্যান্ডের অপেক্ষার অবসান

এ যেনো রবার্ট ব্রুটসের কাহিনী। তিনবার ব্যর্থতার পর চতুর্থবারে এসে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপুরণ করলো ইংল্যান্ড। লর্ডসে, নিউজিল্যান্ডকে সুপার ওভারে পরাজিত করে প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে, ক্রিকেটের জনকরা। তবে এর আগে, তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি ইংলিশদের। চতুর্থ সুযোগে পূর্বসূরিদের সেই আক্ষেপ দূর করলেন, ইয়ন মর্গানরা।

অবশেষে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হলো ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ আসরের জন্মের পর এবারই প্রথম সোনালী ট্রফি ছুঁতে পারলো ক্রিকেট খেলার জনকেরা। নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৪২ রানের টার্গেটে নেমে খেলা টাই। সুপার ওভারও টাই। ফলাফল নির্ধারণে বাইলজের স্মরণ। তাতে কিউইদের ১৪টি বাউন্ডারির বিপরীতে ২২ টি হাঁকানোয় জয় পায় থ্রি লায়নরা। তাতে ইংলিশরা প্রথমবার পেলো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ।

তবে এর আগের তিনবারই পরে ব্যাট করেছিলো ইংলিশরা। অর্থাৎ জয়ের টার্গেটে তিনবারই ব্যর্থ থ্রি লায়নরা। হতাশার বোনো জলে ভেসে যায় তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। ১৯৭৯ সালে থেকে ১৯৯২, এই ১৩ বছরের মধ্যে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ড। অথচ ছুঁয়ে দেখা হয়নি সোনালী ট্রফি। তিনবারই রান তাড়া করতে গিয়ে ব্যর্থ তারা।

১৯৭৯ সালে এই লর্ডসেই প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। তখন ৬০ ওভারে হতো ওয়ানডে ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২৮৭ রানে টার্গেটে নেমে, অধিনায়ক মাইক বিয়ারলি ও জিওফ বয়কটের ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটিও জেতাতে পারেনি ইংল্যান্ডকে। জোয়েল গার্নার মাত্র ৩৮ রানে ৫ উইকেট শিকার করলে, ১৯৪-এ গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর ১৯৮৭ বিশ্বকাপে ভারতে ইডেন গার্ডেনসে আবার এক ট্র্যাজিক ঘটনার জন্ম দেয় ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫৪ রানের লক্ষ্যে নেমে শিরোপার খুব কাছেও হেরে যায়, মাইক গ্যাটিংয়ের দল। মাত্র ৭ রানের পরাজয়ে বিশ্বকাপটা সেবারও ছোঁয়া হয়নি ইংলিশদের।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার এখানেই শেষ নয় ইংল্যান্ডের। ১৯৯২ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডেও বিশ্বকাপ লুকোচুরি খেলে তাদের সাথে। ২৫০ রানের টার্গেটে নেমে, ওয়াসিম আকরামের পেস আর মুস্তাক আহমেদের স্পিনে হাবুডুবু খায় গ্রাহাম গুচের দল। তাতে ২২ রানে ইংলিশদের হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে পাকিস্তান। আর আরো একবার বিশ্বকাপ-ফাইনালে পরাজয়ে ট্র্যাজিক উপাখ্যানের জন্ম দেয় ইংল্যান্ড।

এবার সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ডকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করায় ইয়ন মর্গান-ব্রিগেড।

অবশেষে ইংল্যান্ড বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের। লর্ডসে শ্বাসরুদ্ধকর এক ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে সুপার ওভারে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতলো ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ওভারের ম্যাচ টাই হওয়ায় খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও টাই হওয়ার পর বেশি সংখ্যক বাউন্ডারি হাঁকানোর সুবাদে শিরোপা উল্লাসে মাতে ইংলিশরা।

দুর্দান্ত, অসাধারণ, চোখ জুড়ানো- যে উপমাতেই সাজানো হোক না কেনো, এমন এক ম্যাচের সবচেয়ে বড় পুরষ্কারই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারা। কিন্তু বিশ্বকাপের ফরম্যাট বলেই হয়তো খালি হাতে ফিরতে হলো নিউজিল্যান্ডকে। নাটক আর পাল্টা নাটকের পর ৫০ ওভারের ম্যাচ টাই আর সুপার ওভারেও একই ফল থাকার পর বেশি সংখ্যক বাউন্ডারির সুবাদে প্রথমবারের মত বিশ্বসেরার মুকুট পেলো ইংল্যান্ড।

ফাইনাল তো দূরে থাক, বিশ্বকাপের কোনো পর্যায়েই এমন জমজমাট আর নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচ কখনও দেখেনি কেউ। বারবার কেবল বাইলজ ঘাঁটতে হয়নি ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের। সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে বেন স্টোকস আর জশ বাটলার জুটি তোলেন ১৫ রান। জোফরা আর্চার বল হাতে নিয়ে গাপ্টিল-নিশামকে রুখে দেন সেই একই সংগ্রহে।

অথচ এর আগে, ইংলিশদের জয়ের লক্ষ্যটা তেমন কঠিন মনে হয়নি। ২৪২ রান লর্ডসের মাঠে মোটেও বিশাল চ্যালেঞ্জ নয়। কিন্তু, ম্যাট হেনরি, গ্রান্ডহোম, ফার্গুসনদের বোলিং তোপে সেটাই যেনো পাহাড়ের মত ঠেকছিলো ইংলিশ টপ অর্ডার আর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায়। দলের ৮৬ রানের মধ্যে সাজঘরে প্রথম চার ব্যাটসম্যান। লর্ডসের আকাশে তখন মেঘের সাথে দর্শক-সমর্থকদের মধ্যেও দুশ্চিন্তার ঘনঘটা। এরপরই কান্ডারির ভূমিকায় নামেন জশ বাটলার আর বেন স্টোকস। এর আগেও বহুবার এমন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার অভিজ্ঞতা আছে এই দুই ইংলিশের। এবারও তারা জুটি গড়ে দেখালেন তেমনই কৃতিত্ব। ১১০ রানের জুটি গড়ে বাটলার ফেরার পরও দলকে প্রায় জয়ের বন্দরেই পৌঁছে দেন বেন স্টোকস। কিন্তু শেষ বলে আর পেরে ওঠেননি। তাতে টাই ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

এরআগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৪১ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। হেনরি নিকোলস ৫৫ ও টম ল্যাথাম করেন ৪৭ রান। ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস ও লিয়াম প্লাঙ্কেট তুলে নেন তিনটি করে উইকেট।

বিশ্বকাপ জয়ে ইংল্যান্ডের দরকার ২৪২ রান

ইংল্যান্ডের বোলিং দাপটে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ব্যাকফুটে নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে বড় রান করতে ব্যর্থ কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু লিয়াম প্লাঙ্কেট ‌ও ক্রিস ওকসরা ঠিকই তাদের কাজটা করে দেখিয়েছেন। তাতে লর্ডসে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান তোলে। বিশ্বকাপ জিততে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট এখন ২৪২ রানের।

বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্রিন টপ উইকেট। মাঠ আর উইকেট যেন আলাদা করা যাচ্ছে না। এমন উইকেটে পেসাররা যে আগুন ঝড়াবেন তা বলাই বাহুল্য। তবুও লর্ডসে মেগা ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। হেনরি নিকলস ধীরে শুরু করলেও কিছুটা আক্রমনাত্মক ব্যাটিং করেন। বিশ্বকাপে অফ ফর্মে থাকা গাপটিলকে ১৯ রানে ফিরিয়ে কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন ক্রিস ওকস। এরপর অবশ্য নিকোলস ও উইলিয়ামসন জুটি নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান। কিন্তু ৩০ রানে উইলিয়ামসনকে ফেরান লিয়াম প্লাঙ্কেট। নিকলসকেও ৫৫ রানে ফেরান সেই প্লাঙ্কেটই। ১৫ রানে আউট রস টেলর। জিমি নিশাম করেন ১৯ রান।

১৬ রান করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। শেষ দিকে টম ল্যাথাম করেন ৪৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড পায় ২৪১ রানের পুজি। বিশ্বকাপ জিততে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট ২৪২ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম প্লাঙ্কেট ও ক্রিস ওকস ৩টি করে উইকেট তুলে নেন।

বাংলাদেশ রানার্সআপ

এমপিদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যায় নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দল।

খেলার শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশ সংসদীয় দল ৮ উইকেটে তোলে ১০৪ রান। জবাবে পাকিস্তান ৮ ওভার বাকী থাকতেই এক উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তুলে জয় পায়। অথচ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এই পাকিস্তানকেই পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে বিজয়ীর বেশেই দেশে ফিরবেন এমপিরা।

এমপিদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশ

ইন্টার পার্লামেন্টারি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। কেন্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশের সাংসদরা। শুক্রবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হন নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দল।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে বাংলাদেশ।

১৮৪ রানে জয়ের টার্গেটে খেলতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রানে থেমে যান ইংল্যান্ডের সাংসদরা।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দল।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য দল: শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), জাহিদ আহসান রাসেল (ক্রীড়া ও যুব প্রতিমন্ত্রী), নাজমুল হাসান পাপন (বিসিবি সভাপতি), আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব (চেয়ারম্যান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ-১), নাহিম রাজ্জাক (শরীয়তপুর-৩), জুয়েল আরেঙ (ময়মনসিংহ-১), আনোয়ারুল আজিম (আনার) (ঝিনাইদহ-৪), জুনায়েদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী), শেখ তন্ময় (বাগেরহাট-২), ছোট মনির (টাঙাইল-২), আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন (ময়মনসিংহ-৯), নুরুন্নবী চৌধুরী (ভোলা-৩), মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন (ফরিদপুর-৪), আহসান আদেলুর রহমান আদিল (নীলফামারী-৪), মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন (টাঙাইল-৫), মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম শিমুল (নাটোর-২), ফাহিম গুলান্দাজ বাবেল (ময়মনসিংহ-১০), মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন (রাজশাহী-৩) ও ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারি (গাইবান্ধা-১)।

সংসদীয় ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

ইন্টারপার্লামেন্টারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছ বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পাকিস্তান সংসদীয় দলকে ১২ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।

প্রথমে ব্যাট করে, বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট দল নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে।

জবাবে পাকিস্তান সংসদীয় ক্রিকেট দলের ইনিংস থামে ১২৩ রানে। তাতে জয় দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করল বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট দল।

ভারতকে বিদায় করে বিশ্বকাপের সেমিতে নিউজিল্যান্ড

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড। এতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে এখন কিউইরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডের বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৩৯ রানের ফাইটিং স্কোর গড়ে কেন উইলিয়ামসনের দল। জবাবে, তিন বল বাকী থাকতেই ২২১ রানে অলআউট হয় ভারত। ম্যাচ সেরা হন কিউই পেসার ম্যাট হেনরি।

ভারতের জয়ে ১০ বলে প্রয়োজন ২৪ রান। ক্রিজে তখনো অভিজ্ঞ মহেন্দ্র সিং ধোনী। তাই টিম টিম করে জ্বলছিল ভারতের জয়ের সলতেটাও। কিন্তু মার্টিন গাপ্টিলের ম্যাজিক্যাল থ্রো মহেন্দ্র সিং ধোনির ফিফটি আটকাতে না পারলেও, ঠিকই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয় ভারতকে।

অবশ্য ২৪০ রান করলেই টিম ইন্ডিয়া পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। এমন সমীকরনের ম্যাচে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বিরাট কোহলিরা। বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে থাকা, রেকর্ড পাঁচ সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মাকে মাত্র এক রানের পুঁজিতে সাজঘরে ফেরান, ম্যাচ সেরা ম্যাট হেনরি।

অধিনায়ক বিরাট কোহলিও ব্যর্থ। মাত্র এক রানে ট্রেন্ট বোল্টের শিকার তিনি। লোকেশ রাহুলও এক রানের পুঁজিতে প্যাভিলিয়নে। তাতে ৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে প্রচন্ড চাপে পড়ে ভারত। দলের ২৪ রানে দিনেশ কার্তিক, হেনরির তৃতীয় শিকার হলে, কিউই পেস আক্রমনে সবকিছু ভেঙে পড়ার অবস্থা তখন ভারতের।

হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে ৪৭ রানের জুটিতে দলের বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা চলে ঋষভ পান্টের। বাহাতি স্পিনার স্যান্টনার তাদের বিদায় করলে, ৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বল্পরানে গুটিয়ে যাওয়ার শংকায় পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে রাবিন্দু জাদেজা ও মহেন্দ্র সিং ধোনীর ব্যাট ঠিকই ভারতকে জয়ের পথে রাখে। ১০৩ বলে তাদের ১১৬ রানের জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট- ৭৭ রানে থাকা জাদেজাকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করে। ধোনীর বিদায়ের পর আর কোনো প্রতিরোধই করতে পারেনি ভারত। তাতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড।

এর আগে, মেঘ আর বৃষ্টি মুক্ত ওল্ড ট্রাফোর্ডে, আগের দিনের, ৪৬ ওভার এক বলে, পাঁচ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে রিজার্ভ ডে-তে ব্যাট করতে নেমে, দলের স্কোরে আরো ২৮ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করা রস টেলর রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে, ভারতের বিপক্ষে ৮ উইকেট ২৩৯ রানের ফাইটিং স্কোর পায় নিউজিল্যান্ড। ভারতের বোলারদের মধ্যে ভুবনেশ্বর কুমার ৪৩ রানে তুলে নেন তিন উইকেট।

স্টিভ রোডসের বিদায়

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ স্টিভ রোডসেকে বিদায় করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। সমঝোতার ভিত্তিতে ক্রিকেট দলের কোচ স্টিভ রোডসের সাথে চুক্তি বাতিল করেছে বিসিবি। আগামী বোর্ড সভায় নতুন কোচের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস।

২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত ইংলিশ কোচ স্টিভ রোর্ডসের সাথে চুক্তি ছিলো ক্রিকেট বোর্ডের। চুক্তি বাতিল করা হলেও, শ্রীলঙ্কা সফরে টাইগারদের কোচের দায়িত্বে কে থাকবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আসন্ন বোর্ড সভায়। সেখানে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের বিদায়ের গুঞ্জন বেশ জোড়ালো হয়ে উঠছে। সেই সাথে স্পিন কোচ সুনিল যোশির বিষয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ম্যাঞ্চেস্টারে কাল বৃষ্টির সম্ভাবনা

এবারের বিশ্বকাপে বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না। এই ম্যাঞ্চেস্টারেই গ্রুপের ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি‌ও বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। আগামীকাল মঙ্গলবার ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথম সেমিফাইনালে আবার‌ও মুখোমুখি হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড। ম্যাঞ্চেস্টারে মেঘে ঢাকা আকাশ সঙ্গে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে আগামীকাল মঙ্গলবার। তবে সেমিফাইনালে অবশ্য রিজার্ভ ডে আছে। সুতরাং ম্যাচ পন্ড হ‌ওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এবারের বিশ্বকাপে এক নম্বরে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে গতবারের রানার্স নিউজিল্যান্ড চার নম্বরে লিগ শেষ করেছে। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে গ্রুপ লিগে কিউইদের সঙ্গে টিম ইন্ডিয়ার সাক্ষাত্ হয়েছিল ১৩ জুন, নটিংহ্যামে। কিন্তু বৃষ্টিতে এক বলও খেলা হয়নি। ভেস্তে যায় ম্যাচ। পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল। বিশ্বকাপের ওয়ার্মআপ ম্যাচে অবশ্য কিউইদের কাছে হেরেছিল কোহলিরা।

মঙ্গলবার ম্যাঞ্চেস্টারে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস। এরপর কিছু সময়ের জন্য মেঘ সরে যাবে। কিন্তু টসের সময় কালো মেঘে ঢাকা থাকতে পারে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশ। দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশে কালো মেঘ থাকবে। ফলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা‌ও থেকে যাচ্ছে। সন্ধা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। তারপর অবশ্য বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা থাকছে না। তবে মেঘে ঢাকা থাকবে ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশ। সান্ত্বনা অবশ্য এটুকুই যে সেমিফাইনালে অবশ্য রিজার্ভ ডে আছে।

বিশ্বকাপে কাল ভারত-নিউজিল্যান্ড লড়াই

ফারদিন আল সাজু

বিশ্বকাপে এর আগে, ভারত ‌ও নিউজিল্যান্ড এই দুইদল সাতবার মুখোমুখি হয়েছিলো। তবে জয়ের পাল্লাটা কিউইদেরই বেশি। চারবার জিতেছে ব্লাকক্যাপরা আর তিনবার জয় পায় ভারত।

এদিকে, গ্রুপের ৪৫টি ম্যাচ শেষ। বিশ্বকাপ কে জিতবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর তিন ম্যাচ। তার আগে সেমিফাইনালের মহারণে লড়বে চার দেশ। ৯ ম্যাচের ৭ টিতেই জিতে যেখানে সবার উপরে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক ম্যাচ হারা কোহলিরা লড়বে গতবারের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আসরে ৫টি জয় নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছি কেন উলিয়ামসনের দল। গ্রুপ পর্বে দুই দলের ম্যাচটি বৃষ্টি কারনে পরিত্যাক্ত হয়েছেলো। আগামীকাল মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বিশ্বকাপ শুরু আগে ধারণা করা হয়েছিলো, এবারে অন্যতম ফেভারেট দল ভারত। কাগজে-কলমেও এগিয়েিছল তারা। সেই ধারা অব্যাহত রেখে, এবারে আসরে ১টি মাত্র হার। বিশ্ব আসরে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে কোহেলিরা। এবারে আসরে ধারালো তরবারি মতোই ব্যাট করছেন রোহিত শর্মা। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরি। তবে রান খড়ায় ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহেলি। সাথে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং করছেন সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে ফাইনাল খেলতে হলে জ্বলে উঠতে হবে তাদের ব্যাট।

এদিকে কিউ বধের বড় অস্ত্র ভারতের বোলিং লাইনআপ। এবারে আসরে তাদের বোলিং আছে সেরা ছন্দে । গ্রুপ পর্বে সামির হ্যাট্রিকের সাথে বুমরার কিপটে বোলিং বেশ ভুগিয়েছে বড় বড় দলগুলোকে। সাথে হার্দিক পান্ডিয়া, ভুবনেশ্বর, চাহালদের কৃতিত্বে ম্যাচ জিতেছে ভারত।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সেরা ছন্দে ফেরে নিউজিল্যান্ড। তবে শেষে এসে সেই ছন্দের উত্থান-পতন ঘটে। একমাত্র অধিনায়ক ছাড়া তেমন কোন ব্যাটসম্যান ছন্দে নেই। তবে বেলিংটা ঠিক ঠাকই করেছেন ফার্গুনসন-বোল্টরা।

এর আগে ৭ বার সেমিফাইনাল খেলেছে ব্লাকক্যাপরা। ফাইনাল খেলেছে মাত্র একবার। এবার ভারতের প্রাচীর টপকাতে পারলে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলবে কিউইরা।

ঠিক হয়ে গেছে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের লাইনআপ

বিশ্বকাপে প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে করে বাংলাদেশকে সরিয়ে পয়েন্ট টেবিলের সপ্তমস্থানে এখন প্রোটিয়ারা।

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩২৫ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে, ডেভিড ওয়ার্নারের ১২২ রানও অস্ট্রেলিয়াকে জেতাতে পারেনি। এক বল আগেই অলআউট হয় তারা ৩১৫ রানে।

এতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে দ্বিতীয় হওয়ায় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। আর অন্য সেমিতে, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল ভারত মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের।

সহজেই শ্রীলঙ্কাকে হারাল ভারত

রোহিত শর্মার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার দেয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্য ৭ উইকেট হাতে রেখেই ছুঁয়ে গ্রুপপর্বের লড়াই শেষ করলো ভারত। আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বেশ নির্ভার ছিলো বিরাট কোহলির দল। রোহিতের ইতিহাস গড়া এবং রাহুলের প্রথম সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।

রোহিত শর্মা এখন যা ধরছেন, তাতেই সোনা ফলাচ্ছেন। নতুন রেকর্ড গড়ছেন, তাঁর ব্যাটের দাপটে ভাঙতে বসেছে পুরনো সব রেকর্ড। আজ শনিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ‘হিটম্যান’।

এক বিশ্বকাপে পাঁচ-পাঁচটি সেঞ্চুরি করার বিরল রেকর্ড এখন রোহিতের। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশের পরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও তাঁর ব্যাট কথা কয়ে উঠলো। ১০৩ রান করে ফিরে যাওয়ার আগে লিডসের আনাচকানাচে ছড়িয়ে দিলেন দারুণ সব মণিমুক্তো।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই কুমার সঙ্গকারাকে ছুঁয়েছিলেন রোহিত। চার বছর আগের বিশ্বকাপে পর পর চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন লংকান সাবেক উইকেটকিপার। আজ যেনো অন্য গ্রহের বাসিন্দা হয়ে গেলেন রোহিত। এক বিশ্বকাপে পাঁচটি সেঞ্চুরি করায় তাঁর আশপাশে কেউ নেই। চলতি বিশ্বকাপে ৬৪৭ রান করে রোহিত এখন, সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে সবার উপরে। শচীন তেন্ডুলকরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। ২০০৩ বিশ্বকাপে ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ ৬৭৩ রান করেছিলেন। সেই রেকর্ডও এখন ভাঙনের মুখে।

বিশ্বকাপে মোট ছ’টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন শচিন। রোহিতও ছুঁয়ে ফেললেন তাঁর ‘আইডল’কে। চার বছর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক। আর এই বিশ্বকাপে তো ইতিহাস গড়লেন— পাঁচ-পাঁচটি সেঞ্চুরি। রোহিতের পাশাপাশি লোকেশ রাহুলও সেঞ্চুরি করেন।

সেমিফাইনালের আগে বিরাট শ্রীলঙ্কার ২৬৪ রানের জবাবে রোহিত ও রাহুল ওপেনিং জুটিতে ১৮৯ রান যোগ করেন। তাতেই অর্ধেক জেতা হয়ে যায় ভারতের। বাকি কাজটা শেষ করেন বিরাট কোহালি-সহ বাকিরা। ৩৯ বল বাকি থাকতে সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

লিডসে শুরুটা দারুণ করেছিলেন ভারতীয় বোলাররা। দ্রুত শ্রীলঙ্কার চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন বুমরা-পান্ডিয়া-জাদেজারা। ভারতীয় বোলারদের দাপটে তাসের ঘরের মতো তখন ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। বিপর্যয় থেকে শ্রীলঙ্কাকে উদ্ধার করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। পান্ডিয়াকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি করেন তিনি।

থিরিমানে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে কুলদীপ যাদবের বলে আউট হলেও ম্যাথুজ ১১৩ রান করে বুমরার শিকারে পরিণত হন। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারের শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৬৪ রান।

রোববার ফিরে আসবে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ মিশন শেষ। এবার দেশে ফেরার পালা। আগামীকাল রোববার দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল টাইগাররা। এই হারে টাইগারদের জয় নিয়ে ফেরার স্বপ্নের সমাপ্তি হলো। হতাশাজনক বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংটাও আশানুরূপ না হওয়ায় শেষ ম্যাচের ফলটাও এসেছে নেতিবাচক।

প্রত্যাশা মতো খেলতে পারলে বাংলাদেশ দলকে দেশে ফেরার যাত্রাটা এতো আগেই করতে হতো না। মঙ্গলবার (৯ জুন) অন্তত প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচের পর বোঝা যেত কবে দেশে ফিরবে টাইগাররা।

কিন্তু মাঠের খেলায় প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। যে কারণে সেমিফাইনাল রাউন্ড শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিমান ধরবেন মাশরাফি-সাকিবরা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে না পারার কারণেই মূলত টাইগারদের এত তড়িঘড়ি করে দেশে ফেরা হচ্ছে।

বিসিবি থেকে জানানো হয়েছে আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২০ মিনিট হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দরে অবতরণ করবে টাইগাররা।

এর আগে লন্ডন থেকে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিট (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে) এমিরেটসের ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবে দল। যাত্রাপথে দুবাইতে ট্রানজিট করে পরে ঢাকায় আসবেন তারা।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ইংল্যান্ড-ওয়েলসে বিশ্বকাপ খেলার উদ্দেশে গত ১ মে তারিখে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রায় সোয়া দুই মাসের সফর শেষে তারা রবিবার দেশে ফিরছেন ক্রিকেটাররা।

মুস্তাফিজ এবার লর্ডসে

মুস্তাফিজ মানে পেসার মুস্তাফিজুর রহমান মানে কাটার ফিজ। বিশ্ব ক্রিকেটেরও বড় তারকা হওয়ার আভাস ক্যারিয়ারের শুরুতেই দিয়েছিলেন। নিজের প্রথম ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে জানান দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বোলিংয়ের ঝান্ডা থাকবে তার হাতেই। হয়ে উঠবেন ভরসা‌ও।

তবে মাঝখানে কিছুটা খেঁই হারিয়ে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। যে কাটারে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করতেন ব্যাটসম্যানদের, সেটাও যেন ঠিকঠাক মতো কাজ করছিল না। হয়ে গিয়েছিল ভোঁতা। চলতি বিশ্বকাপের শুরুতেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি তিনি।

নিজের আসল ছন্দটা খুঁজে পান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। ওই ম্যাচে ১০ ওভার বল করে এক মেইডেনসহ ৫৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে ৫ উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়েন মুস্তাফিজ।

আর শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক লর্ডসে বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নতুন এক কীর্তি গড়েন মুস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে ৭৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন কাটার মাস্টার।

আর এই পাঁচ উইকেটের মাধ্যমেই ঐতিহাসিক লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুলেছেন এই পেসার। এর আগে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুলেছিলেন তামিম ইকবাল ও পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিব।

তবে তারা দুজনই নাম তুলেছিলেন টেস্ট খেলে। এবার মুস্তাফিজ অনার্স বোর্ডে নাম তুললেন ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়ে।

অবসরে শোয়েব মালিক

গত বছরই জানিয়েছিলেন বিশ্বকাপের পর ‌ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ না হলে‌ও পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। তাই প্রত্যাশিতভাবেই একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন শোয়েব মালিক। শুক্রবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হতেই সাংবাদিক সম্মেলনে শোয়েব জানিয়ে দেন, পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মনোযোগ দিতেই একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর।

৩৭ বছর বয়সী শোয়েব মালিক চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে মাত্র ৩টি ম্যাচে খেলার সুযোগ পান। করেন মাত্র ৮ রান। যার মধ্যে দুটি ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন।

২০১৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি। ১৯৯৯ সালে একদিনের ক্রিকেটে অভিযেক হয় শোয়েব মালিকের। ২৮৭ টি একদিনের ম্যাচে শোয়েব মালিক করেছেন ৭৫৩৪ রান। ৯টি সেঞ্চুরি আর ৪৪টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। নিয়েছেন ১৫৮টি উইকেট। শুক্রবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দলে না থাকলেও খেলা শেষে সরফরাজরা শোয়েব মালিককে গার্ড অব অনার দেন।

পারলোনা বাংলাদেশ মুস্তাফিজের শত উইকেট

১৯৯৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ‌ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তানকে হারিয়ে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিল আমিনুল ইসলামের বাংলাদেশ। তখন দারুণ এক দল পাকিস্তান। ওয়াসিম আকরামের পাশাপাশি ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেটের দুর্দান্ত সব বোলারকে সামলে সেবার বাংলাদেশ ৬২ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে।

চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ ইতিমধ্যেই জিতেছে। শুক্রবার লর্ডসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাংলাদেশের কাছে ২০ বছর আগের এক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির। বিশ্বকাপ থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছে বাংলাদেশ। অঙ্কের হিসেবে বেঁচে ছিল পাকিস্তানের শেষ চারে পৌঁছনোর আশা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ৫০ ওভারের শেষে পাকিস্তান থামল ৯ উইকেটে ৩১৫ রানে। মাশরাফিদের ৭ রানে অলআউট করলে পাকিস্তান চলে যেত শেষ চারে। বাংলাদেশ খুব সহজেই সেই রান করে ফেলায় সেমিফাইনালের দরজা বন্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানের জন্য। পাকিস্তানী ওপেনার ইমাম উল হক ১০০ রান করেন। বাবর আজম ৯৬ রানে ফেরেন প্যাভিলিয়ানে। সেঞ্চুরি না পেলেও বাবর আজম গড়েন রেকর্ড। সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদকে টপকে পাকিস্তানের হয়ে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করার মালিক এখন তিনি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ৪৩৭ রান করেছিলেন মিয়াঁদাদ। বাবর করলেন ৪৭৪ রান।

বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি এদিন। তবে ব্যতিক্রম মুস্তাফিজুর রহমান। হারিস সোহেলকে ফিরিয়ে ৫৪ ম্যাচে ১০০ উইকেট নেন তিনি। জিতলে‌ও বাবর আজমের রেকর্ড গড়ার দিনে, সেমিফাইনালের আগেই লর্ডস ছাড়তে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

বিশ্বকাপে কাল বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াই

ফারদিন আল সাজু
আসরে শেষ ম্যাচে কাল লর্ডসে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেলেও নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপটা স্মরণীয় রাখতে চাইবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সেমির স্বপ্ন টিকে থাকলেও অনেক কঠিন সমীকরণের মারপ্যাঁচে ম্যধ্যে আছে পাকিস্তান। তাই তারা চাইবে সমীকরণটা ঠিক রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিয়ে সেমিতে খেলতে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায়।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলো দু’দল। তবে ভারতের বিপক্ষে তীরে এসে তৈরি ডুবিয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় টিম বাংলাদেশের। অথচ এই বিশ্বকাপে কি দারুন শুরুই না করেছিলো বাংলাদেশ। স্বয়ং ভাগ্যদেবী ছিলো বাংলাদেশের পক্ষে। তাইতো বাংলাদেশের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নপূরণ আর হলোনা। এবার রূপকথার গল্পের মতোই বিশ্বকাপ শুরু করেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দলকে একাই যেন টেনেছেন তিনি। ৫৪২ রান এবং ১১ উইকেট মালিক এই বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সাকিব ছাড়া বলা যায় এবারে বিশ্বকাপে বাকি ব্যাটসম্যানরা সুপার ফ্লপ। তবে শেষ ম্যাচটি জয়ের জন্য সাকিবের পাশাপাশি সৌম্য, তামিম, লিটন, মুশফিকদের দায়িত্ব নিতে হবে বড় ইনিংস খেলার। এবং পাশাপাশি সেরা বোলিংটা দিতে হবে মাশরাফি, সাইফুদ্দিন, মুস্তাফিজদের। সেরাটাও দিতে হবে ফিলিংয়েও। কেননা বাংলাদেশের একের পর এক ক্যাচ মিসের মাশুল গুনতে হচ্ছে ম্যাচে হেরে। ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

অপরদিকে সেমিফাইনাল খেলতে হলে অনেক মারপ্যাঁচের মধ্যে আছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে জিতলেই তাদের পয়েন্ট হবে ১১। কিন্তু রান রেটে সমান পয়েন্ট পা‌ওয়া নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেটাই পিছিয়ে পাকিস্তান। তাদেরকে সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪৫০ রান তুলে, মাশারাফী বিন মোর্ত্তজার দলকে ১২৯ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩২১ রানে। অথবা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪০০ রান তুলে টাইগারদের ৮৪ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩১৬ রানে। কিংবা স্কোরবোর্ডে ৩৫০ রান তুলে বাংলাদেশকে ৩৮ রানে অলআউট করে সরফরাজদের ম্যাচ জিততে হবে ৩১২ রানে।

যদিও সমকরটি অনেক কঠিন। কিন্তু আমির, শাহীন আফ্রিদি, রিয়াজদের বোলিংয়ের সামনে তা অসম্ভব নয়। তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিলো। সেবার পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

সম্ভাবনা থাকলে‌ও সেমিফাইনাল খেলা হচ্ছে না পাকিস্তানের

কাগজে-কলমে এখন‌ও পাকিস্তানের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা টিকে আছে। কিন্তু খেলা হচ্ছেনা পাকিস্তানের। গতকাল বুধবার নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রান হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের এই জয়ে, পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ভাগ্য ঝুলে রইলো।

লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল শুক্রবার পাকিস্তান, বাংলাদেশকে হারাতে পারলে ৯ ম্যাচ শেষে ১১ পয়েন্টে হবে। অন্যদিকে ৯ ম্যাচ খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেক্ষেত্রে ৯ ম্যাচ শেষে দুই দলের নেট রান রেট দেখা হবে। আর সেখানেই পিছিয়ে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের চেয়ে নেট রান রেটে অনেক এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। লিগ পর্ব শেষ কিউইদের নেট রান রেট +০.১৭৫। সেখানে পাকিস্তানের নেট রান রেট -০.৭৯২। তবে খাতা-কলমে এখনও পাকিস্তানের সেমিতে যাওয়ার অঙ্ক রয়েছে।

১.বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪৫০ রান তুলে, মাশারাফী বিন মোর্ত্তজার দলকে ১২৯ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩২১ রানে।
২. বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪০০ রান তুলে টাইগারদের ৮৪ রানে অলআউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিততে হবে ৩১৬ রানে।
৩. স্কোরবোর্ডে ৩৫০ রান তুলে বাংলাদেশকে ৩৮ রানে অলআউট করে সরফরাজদের ম্যাচ জিততে হবে ৩১২ রানে।

অঙ্ক অনুযায়ী সরফরাজের টস ভাগ্যের উপরই পাকিস্তানের সেমিফাইনাল ভাগ্য ঝুলে আছে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলে তবেই সেমির জন্য অন্তত শেষ চেষ্টা করতে পারবে পাকিস্তান। আর বাংলাদেশ টস জিতে ব্যাটিং করলে, বল মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেমির স্বপ্নভঙ্গ হবে পাকিস্তানের। আসলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আশা শেষ পাকিস্তানের। চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলবে নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড

ডারহ্যামের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে তৃতীয় দল হিসাবে সেমিফাইনালে চলে গেল ইংল্যান্ড। টসে জিতে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ৩০৬ রান তোলে। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউইরা।

দারুণ শুরু করে ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি। জেসন রয় ৬০ রান করে ফিরে গেলেও জনি বেয়ারস্টো এই ম্যাচেও ১০৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন। তবে মিডল অর্ডারে কেউ সেভাবে বড় রান করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৫ রানে ইনিংসে ইতি টানে।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই কিউই ব্যাটসম্যানরা আউট হতে শুরু করেন। হেনরি নিকোলাস ফেরেন শূন্য রানে। মার্টিন গাপটিল ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ভালো শুরু করেও ২৭ রানে রান আউট হন। রস টেলরও ফেরেন ২৮ রানে। একদিকে টম ল্যাথম ইনিংস ধরে রাখলেও অপর প্রান্ত থেকে পরপর উইকেট খোয়াতে থাকে কিউইরা। টম ল্যাথম ৫৭ রান করেন। সবমিলিয়ে ১০ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে মার্ক উড ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া ক্রিস ওকস, জোফ্রা আর্চার, লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট, আদিল রশিদ ও বেন স্টোকস একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

বিশ্বকাপে সেমির স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

ভারতের কাছ ২৮ রানে হেরে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। ক্রিকেটে প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে-ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। বাংলাদেশকে এই ক্যাচ মিসের চড়া মাশুল গুনতে হলো মঙ্গলবার। বিশ্বকাপের মহামঞ্চে ভারতের মতো দাপুটে প্রতিপক্ষকে চোখ রাঙাতে হাফ চান্সকেও সুবর্ণ সুযোগ পরিণত করতে হয়। সেখানে রোহিত শর্মার সহজ ক্যাচই ফেলে দেন তামিম ইকবাল। ৯ রানে জীবন পাওয়া রোহিত সুদে-আসলে বুঝিয়ে দিলেন পাওনা। তার সেঞ্চুরিতে ভারত পেল রানের পাহাড়।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান করে ভারত। জবাবে টাইগাররা সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান তোলে। হেরে যায় ২৮ রানে। হারলেও বাংলাদেশের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছেন টাইগার পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন।

ভারতের দেওয়া ৩১৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম এবং সৌম্য সরকার সাবধানী শুরু করেন। এরপরই সেট হয়ে আউট হন তামিম ও সৌম্য। ২২ রানে মোহাম্মদ শামীর বল খোঁচা মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান দেশসেরা তামিম। এরপর হার্দিক পান্ডিয়ার বলে এক্সট্রা কভারে সৌম্যও ধরে পড়লেন অধিনায়ক বিরাট কোহলির হাতে। ৩৮ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করেছেন এ ওপেনার।

দলীয় ৭৪ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সে চাপ থেকে দলকে উত্তরণের চেষ্টা করেছেন দেশ সেরা দুই ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দলকে ভরসা দেওয়া মুশফিক লেগ স্পিনার যুবেন্দ্র চাহালের বল সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ শামি মুঠোয়। ২৪ রানে ফিরে যান মুশি।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু এক প্রান্তে সাকিব ধরে খেলছিলেন। রানের গতিও সচল রেখেছেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। ফিরে গেছেন লিটন দাস; একই পথে হেঁটেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও।

এরপর লিটন-মোসাদ্দেকের দ্রুত বিদায়ের পর ফিরে গেলেন সাকিবও (৬৬)। এক্সট্রা কভারে সহজ ক্যাচ তুলে দেন দিনেশ কার্তিকের হাতে। ৭৪ বলে ৬টি চারের সাহায্যে করেছেন ৬৬ রান।

মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে দলের সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সপ্তম উইকেটে ইনিংস মেরামতের কাজ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে করছিলেন সাব্বির রহমান। একটা সময় মনে হচ্ছিলো এই দুজনের ব্যাট থেকে ভালো সংগ্রহ পাবে বাংলাদেশ। দলকে উপহারও দিয়েছেন প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি। কিন্তু দলীয় ২৪৫ রানে বুমরাহর বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাব্বির। ৩৬ বলে ৩৬ রান করেছিলেন তিনি।

এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের বিপর্যয়ে অধিনায়কের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেছিল দল। ভুবনেশ্বর কুমারের প্রথম বলে দারুণ একটি ছক্কাও মেরেছিলেন। কিন্তু পরের বলে আরও একটি মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন ম্যাশ। শেষের দিকে দুর্দান্ত লড়াই করে সাইফ ফিফটি তুলে নিলেও তাকে কেউ সঙ্গ দিতে না পারায় হারতে হলো বাংলাদেশকে। ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন সাইফ।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি ও লোকেশ রাহুলের ৭৭ রানের সূচনার পর ৯ উইকেটে ৩১৪ রান তোলে ভারত। শেষ দশ ওভারে মাত্র ৬৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগার শিবির।

তামিম ইকবালের সহজ ক্যাচ মিসে আফসোস হচ্ছে। ইনিংসের পঞ্চম বলে ভারতের সেরা হার্ডহিটার রোহিত শর্মা, যিনি এ বিশ্বকাপেও দুরন্ত ছন্দে ছিলেন। নয় রানে থাকা তারই ক্যাচ ফেলে দিলেন তামিম। নয়তো আরও কম সংগ্রহ গড়তে পারত টিম ইন্ডিয়া।

জীবন পেলে আরও ভয়ঙ্কর হন রোহিত, বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাই হলো। লোকেশ রাহুলকে নিয়ে অনায়াসে তিনি গড়েন শতরানের জুটি। ৪৫ বলে রোহিত ও ৫৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন রাহুল। অপরদিকে, টাইগার শিবির তখন উইকেটের জন্য হাহাকার করছিল।

৯০ বলে ২৬তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন রোহিত সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায়। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বাধিক চার সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে রোহিত স্পর্শ করেন কুমার সাঙ্গাকারাকে। বাংলাদেশকে অবশেষে ব্রেক থ্রু এনে দেন সৌম্য। ফিরিয়ে দেন ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান রোহিতকে। ৯২ বলে ১০৪ রানে আউট রোহিত। এ বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৮০ রানের ওপেনিং জুটি থামে ভারতের।

রোহিতকে ফিরিয়ে টাইগার বোলাররা নিজেদের খুঁজে পায়। পেসার রুবেল প্যাভিলিয়নে পাঠান লোকেশ রাহুলকে। ৯২ বলে ৭৭ রান করেন তিনি ছয় চার ও এক ছক্কায়। এরপর মুস্তাফিজের ডাবল ব্রেক থ্রুতে বিরাট কোহলি ও হারদিক পান্ডিয়াকে আউট করলে স্বস্তি নামে মাশরাফিদের। পঞ্চম উইকেটে দুই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্ত ও মহেন্দ্র সিং ধোনি গড়েন ৪০ রানের জুটি। তবে পান্তকে ৪৮ রানে আউট করেন সাকিব। টাইগারদের হয়ে সবচেয়ে কম খরুচে বোলিং করেন তিনি। দশ ওভারে মাত্র ৪১ রান দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

শেষদিকে দুর্দান্ত বোলিং করেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। দ্রুত ফিরিয়ে দেন দিনেশ কার্তিককে। ইনিংসের পঞ্চাশতম ওভারে মহেন্দ্র সিং ধোনি ৩৩ বলে ৩৫ রানে ফিরে যান। বুমরাহকে আউট করে বিশ্বকাপে স্বপ্নের পাঁচ উইকেট পেলেন মুস্তাফিজ। সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে এ কীর্তি মুস্তাফিজের।

ভারতের বিপক্ষে ভুল করার যাবে না: মাশরাফী

শুধু ব্যাটিং কিংবা বোলিং নয়- ভারতকে হারাতে হলে সব বিভাগেই নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এ ছাড়া ম্যাচে ভুল করারও সুযোগ নেই বলে‌ও জানান তিনি। মঙ্গলবার বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বার্মিংহামের এজবাস্টনে বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ভারতকে হারাতেই হবে টাইগারদের।

শক্তিশালী ভারতকে হারানো কঠিন। তবে বিরাট কোহলির দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসীই শোনাল মাশরাফিকে। সোমবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক জয়ের প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমি অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী। ভারত অনেক শক্তিশালী দল। তবে আমরাও আমাদের সেরাটা চেষ্টা করব। আত্মবিশ্বাসী ভাবে নিজেদের কাজটা করার চেষ্টা করব।’

এরপরই মাশরাফি যোগ করে বললেন, ‘তবে সমস্ত ক্ষেত্রেই আমাদের ভুলের পরিমাণ কম করতে হবে।’ অর্থাৎ নিজেদের ভুলের সুযোগ যেন প্রতিপক্ষ নিতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে চায় টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে ভুল করলে ম্যাচ জয়ের সুযোগ নেই বলে বিশ্বাস করেন মাশরাফির।

এ ছাড়া সব বিভাগেই ভালো করার তাগিদ টাইগার অধিনায়কের। এক প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা যখন যার বিপক্ষেই জিতি না কেন, আমার মনে হয় না আমরা একটা বিভাগ দিয়ে জিতেছি। সব জায়গায় ভালো ক্রিকেট খেলেই জিতেছি। ক্যাচিং, গ্রাউন্ড ফিল্ডিং, বোলিং তো অবশ্যই, ব্যাটিংয়ের আমরা ভালো করে জিতেছি। এবং এই টুর্নামেন্টেও। আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকটা জায়গা থেকেই আমরা ভালো খেলে জিততে পারি।’

উদাহরণ টেনে মাশরাফি বলেন, ‘যদি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখেন ব্যাটিং ভালো করেছি, বোলিং করিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যাটিং একটা পর্যায় পর্যন্ত ভালো করেছি, বোলিং ভালো করিনি। সব বিভাগেই যদি আমরা এক সাথে ক্লিক করতে পারি, আমরা যদি কম্বিনেশন ঠিক রাখতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা জিততে পারি।’

‘তবে একটা বিভাগে ভালো করে, অন্য বিভাগে খারাপ করে এই ধরনের পর্যায়ে ভারতের মতো দলের বিপক্ষে জেতা কঠিন হবে। আমি আশা করি আমরা যখন যেটা করি যেন ভালো করতে পারি।’

রানীর শহরে বাংলাদেশের জেতার লড়াই

রানীর শহর বার্মিংহামে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্য়াচে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। ইংল্যান্ডের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে নামছে টিম ইন্ডিয়া। আর হারলেই বিদায় নিতে হবে এমন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে। সাকিবদের হারালেই কাল সেমিফাইনাল সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যাবে ভারতের।
তেমনিভাবে ভারতকে পরাজিত করলেই বিশ্বকাপে টিকে থাকবে বাংলাদেশ (৭ ম্যাচে ৭)। ভারত, পাকিস্তান- পরপর দুটি ম্যাচে জিতলে, সেমিফাইনালে ওঠার একটা সম্ভাবনা‌ও তৈরি হবে টাইগারদের। কাজটা কঠিন, তবে একেবারে অসম্ভব নয়।

বিশ্বকাপে ৩টি জয় ও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচে লড়ে হারলেও মন জিতেছে বাংলাদেশ। তবে আগামী দুটি ম্যাচের ওপরেই নির্ভর করছে সাকিব-মাশরাফীদের বিশ্বকাপ ভাগ্য। টাইগাররা অবশ্য একটা একটা ম্য়াচ ধরে এগিয়ে যেতে চায়। তবে ইংল্যান্ড রোববার ভারতকে হারিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের কাজটা কঠিন হয়ে গেছে।

ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে দু’দেশের সমর্তকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ইদানিং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আবেগেকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ম্য়াচ। সাম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কোহলিরা যতটা একপেশেভাবে জিতেছেন, ঠিক উল্টোটা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে। গত বিশ্বকাপে ২০১৫ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। ধোনিদের বিরুদ্ধে সেই ম্য়াচে বেশ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আম্পায়ারদের পক্ষপাতিত্বে জয় পায়নি টাইগাররা।

এই ম্য়াচটি তাই ২০১৫-র বিশ্বকাপের বদলা হিসেবে দেখছে মাশরাফীবাহিনী। তবে টুর্নামেন্টে টানা ৬টা ম্য়াচে জেতা ভারতের বিজয়রথ আটকে সাকিবদের সামনে কিছু জেতার রাস্তা খুলে গিয়েছে ইংল্যান্ড। আর সেটা হল ভারতীয় ব্যাটিং অনেকটাই রোহিত, কোহলি নির্ভরশীল। ভারতীয় পেসারদের প্রথমে উইকেট না দিলে, আর স্পিনারদের পরে আক্রমণ করলে ভারতীয় বোলিং একেবারে সাদামাটা দেখায়। তামিম-সাকিবরা তেমনটাই চাইছেন।

৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট পেয়ে সেমিফাইনালের একেবারে দোরগড়ায় দাঁড়িয়ে কোহলিরা কালই বাংলাদেশকে হারিয়ে শেষ চার সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে চাইছেন। শেষ ম্য়াচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্য়াচটাকে সেমিফাইনালের প্রস্তুতি হিসেবেই রাখতে চান কোহলিরা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোহলিদের মূলত তিনটি লক্ষ্য থাকবে-১) ইংল্য়ান্ডের কাছে হারের পর আবার নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া। ২) সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা, ৩) মিডল অর্ডার ও স্পিনারদের ফর্মে ফেরা। খারাপ ব্য়াটিং করা ধোনির উপরেও নজর থাকবে।

সেমিফাইনালের কঠিন অঙ্কে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে এখন‌ও পর্যন্ত কেবল অস্ট্রেলিয়া। আর সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। আশা টিকে আছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশেরও। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রেখেছে বাংলাদেশ। সাত ম্যাচে অর্জন ৭ পয়েন্ট। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল জিতেছে ‌ও হেরেছে তিনটি করে ম্যাচে। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে অন্যটি।

বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকা হিসেব করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে বাদ পড়তে হবে ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের যে কোনো একটি দলকে। সমান আট ম্যাচ খেলে কিউইদের অর্জন ১১ পয়েন্ট, ইংলিশদের ১০। এই তালিকায় ভারতও আছে। তবে তাদের হাতে রয়েছে দুটি ম্যাচ। শেষটি আবার দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তাছাড়া, ভারত রান রেটেও অনেক এগিয়ে (+০.৮৫৪)। তাই তাদের শেষ চারে খেলাটা একরকম নিশ্চিতই।

বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকা

দল                     ম্যাচ       জয়      হার      পরিত্যক্ত       পয়েন্ট          রান রেট

১. অস্ট্রেলিয়া            ৮         ৭        ১          ০             ১৪            +১.০০০

২. ভারত                 ৭         ৫        ১          ১              ১১             +০.৮৫৪

৩. নিউজিল্যান্ড         ৮         ৫        ২         ১              ১১             +.০.৫৭২

৪. ইংল্যান্ড              ৮        ৫         ৩         ০              ১০             +১.০০০

৫. পাকিস্তান             ৮         ৪         ৩         ১               ৯              -০.৭৯২

৬. বাংলাদেশ           ৭         ৩         ৩         ১               ৭               -০.১৩৩

৭. শ্রীলঙ্কা               ৭         ২         ৩         ২                ৬              -১.১৮৬

৮. দক্ষিণ আফ্রিকা      ৮        ২         ৫         ১                ৫               -০.০৮০

৯. ওয়েস্ট ইন্ডিজ      ৭        ১          ৫         ১               ৩               -০.৩২০

১০. আফগানিস্তান      ৮        ০          ৮        ০               ০              -১.৪১৮

বাংলাদেশের হাতে আছে দুটি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আবার মহা-পরাক্রমশালী ভারত ও পাকিস্তান। আগামীকাল মঙ্গলবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে বিরাট কোহলিদের মুখোমুখি হ‌ওয়ার পর, ৫ জুলাই লর্ডসে সাকিব-মুশফিকরা খেলবেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুটি ম্যাচেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। কোনো বিকল্প নেই। তাতেও অবশ্য সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত নয় টাইগারদের। তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য ম্যাচের ফলের দিকে। তবে নিজেদের কাজটা আগে সেরে নিতে হবে টাইগারদের অর্থাৎ দুটি ম্যাচেই তুলে নিতে হবে জয়। যে কোনো একটিতে হারলেই বেজে যাবে বিদায় ঘণ্টা। থাকবে টুর্নামেন্ট শেষের আগেই দেশে ফেরার শঙ্কা‌ও। দুই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে হবে ১১।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পরদিন লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচের ফল খুব গুরুত্বপূর্ণ মাশরাফিদের জন্য। স্বাগতিক ইংলিশরা যদি কিউইদের কাছে হেরে যায় তবে নিজেদের ম্যাচ দুটিতে জিতলেই বাংলাদেশ পাবে সেমিফাইনালের টিকিট। তখন নিউজিল্যান্ডের হবে ১৩ পয়েন্টে। পাকিস্তানের পয়েন্ট থাকবে ৯, ইংল্যান্ডের ১০ আর বাংলাদেশের ১১। পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় সেমিতে যাবে বাংলাদেশ।

উল্টোটা যদি ঘটে অর্থাৎ ইংল্যান্ড জিতে যায়, তবে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ, সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে রান রেট বাড়িয়ে নেওয়া ছাড়া তখন আর কোনো উপায় থাকবে না। এমনিতেই রান রেটে কিউইরা বেশ এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। তাদের রান রেট +০.৫৭২। বাংলাদেশের -০.১৩৩। এই ব্যবধান পুষিয়ে নিতে উপমহাদেশের দুই দলকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। এমনটা ঘটলে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট তখন হবে ১২, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের সমান ১১। রান রেটে এগিয়ে সেমিতে উঠবে বাংলাদেশ।

এই সমীকরণের মারপ্যাঁচ মিলিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠাটা বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব নয়। তবে খুবই কঠিন। দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ কাটিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে নেওয়া মাশরাফী বাহিনী শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতেও পারে। তবে অর্জনগুলো তো আর মোছা যাবে না। ব্যাট-বল হাতে সাকিব আল হাসানের একের পর এক অনন্য কীর্তি, মুশফিকুর রহিমের ধারাবাহিক রান পাওয়া, মুস্তাফিজুর রহমান-মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনদের উইকেটের শিকারে দুই অঙ্কে পৌঁছানো, নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোর, সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতা- এত সাফল্য বিশ্বকাপের একক কোনো আসরে আগে কখনওই তো পায়নি বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বিজয় শঙ্কর

বিশ্বকাপে প্রথম হারের ধাক্কার পর এবার ইনজুরির চোখ রাঙানি। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর। পায়ের আঙুলে চোট পাওয়ায় শঙ্করের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। শিখর ধাওয়ানের পর বিশ্বকাপ চলাকালীন আরও এক ভারতীয় ক্রিকেটার ছিটকে গেলেন দল থেকে।

নেটে অনুশীলনে জাসপ্রিত বুমরার বলে আঙুলে আঘাত পাওয়ায় বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যায় শঙ্করের। যেমন নাটকীয়বাবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছিলেন শঙ্কর, তেমন নাটকীয়ভাবে তাঁর অভিযানও শেষ হয়ে গেল।

কারণ শঙ্করের চোট দেখে প্রথমে বোঝাই যায়নি যে চোটটা এত গুরুতর হতে পারে। গতকাল রোববার বার্মিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে টসের সময় অধিনায়ক বিরাট কোহলি জানিয়েছিলেন, শঙ্করের আঙুলে চোট থাকায় তিনি খেলতে পারবেন না।

বিজয়ের জায়গায় খেলেন ঋষভ পান্ট। ঋষভ দলে যোগ দেন, শিখর ধাওয়ানের চোট পাওয়ায় পরিবর্ত হিসেবে। আম্বাতি রাইড়ুকে অগ্রাহ্য করে বিজয় শঙ্করকে ভারতের বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়েছিল। এবার‌ও অগ্রাহ্য করা হলো সেই রাইডুকে। বিজয় শঙ্করেরর পরিবর্তে নেওয়া হবে কর্ণাটকের ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে।

বিশ্বকাপে আজ শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ ‌ও.ইন্ডিজ

বিশ্বকাপে আজ সোমবার একমাত্র ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাত ম্যাচে মাত্র এক জয় আর পাঁচ হারে সেমিফাইনালের আগেই ক্যারিবীয়দের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। জেসন হোল্ডারদের তাই হারনোর কিছু নেই। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি তারা অনেকটা নির্ভার হয়ে খেলতে পারবে!

অন্যদিকে সমান ম্যাচে দুই জয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে থাকা লঙ্কানদের সেমির পথটা কাগজে-কলমে বেঁচে থাকলে‌ও এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। মূলত বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত দুই ম্যাচ থেকে পাওয়া দুটি পয়েন্ট তাদের এখনও ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রেখেছে। গ্রেট মাহেলা জয়বর্ধনে তাই উত্তরসূরিদের ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার তাগিদ দিয়েছেন। দিমুথ করুনারত্নেরা নিশ্চয়ই সেটাই করতে চাইবেন। চেস্টার লি স্ট্রিটে খেলাটি শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।

এ পর্যন্ত মুখোমুখি ৫৬ ওয়ানডের ২৮টিতে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শ্রীলঙ্কা জিতেছে ২৫ ম্যাচে। ৩টি ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়। আর বিশ্বকাপ ইতিহাসেও ৬ দেখায় ৪ জয়ে এগিয়ে ক্যারিবীয়রা। লঙ্কানদের সাফল্য মাত্র দু’বার।

বাংলাদেশ-ভারত লড়াই কাল

২০০৭ সালে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় করে দিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও ভারত দু’দলেরই প্রথম ম্যাচ ছিলো সেটি। ভারত বধের পর বারমুডাকেও হারিয়ে গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করে, ‘সুপার-৮’-এ খেলে বাংলাদেশ।

যখনই ভারত-বাংলাদেশ খেলা হয়েছে তখনই বাংলাদেশের সামনে ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগোর পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভাল স্টেডিয়ামে, ৫ উইকেটের সেই জয়টি প্রেরণা হয়ে ধরা দিয়েছে। আর তাই বার্মিংহামের এজবাস্টনে আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ কী সেই ২০০৭ বিশ্বকাপের সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারবে?

সেই বিশ্বকাপে হারে, অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় কষ্ট পেয়েছেন। ফেবারিট হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিলে কষ্ট পাওয়ারই কথা। আবার ভারতীয় সমর্থকরা ক্রিকেটারদের বাড়িতে হামলাও চালিয়েছিলেন! কি যে হতাশায় কাটাতে হয়েছে ভারত ক্রিকেটারদের। দ্রাবিড় বলেছিলেনও, ‘২০০৭ সালে বাংলাদেশের কাছে হারের অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছিল আমাদের।’ পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই যে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে ভারতের বিদায়ে তোলপাড় লেগে গিয়েছিল। শচীন টেন্ডুলকরতো তার, ‘আঃ বিলিয়ন ড্রিমসে’ এ নিয়ে কষ্টের স্মৃতিচারণও করেছেন। সব দোষ বিতর্কিত কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের কাঁধে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন নিয়ে ব্যস্ত না থেকে, ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন গ্রেগ। বিশ্বকাপে বিদায়ের পরতো কোচ হিসেবে চ্যাপেল আর অধিনায়ক হিসেবে দ্রাবিড়ের বিদায় ঘণ্টাও বেজেছিল।

সৌরভ গাঙ্গুলী, বীরেন্দ্রর শেবাগ, শচীন টেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি, স্পিনার হরভজন সিং, পেসার অজিত আগারকার, জহির খান; সেই সময়ের সেরা সব ক্রিকেটার ছিলেন ভারত দলে। অথচ সেই দলকেই টালমাটাল করে দেন বল হাতে ম্যাচসেরা পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা (৪/৩৮), স্পিনার মোহাম্মদ রফিক (৩/৩৫), আব্দুর রাজ্জাক (৩/৩৮)। আর ব্যাট হাতে মুশফিকুর রহিম (৫৬*), সাকিব আল হাসান (৫৩) ও তামিম ইকবাল (৫১)। ভারতকে ১৯১ রানে অলআউট করে দিয়ে বাংলাদেশ (১৯২/৫; ৪৮.৩ ওভার) ম্যাচ জিতে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারায় বাংলাদেশ।

সেটি এক যুগ আগের। এখন বাংলাদেশ দল আরো ভয়ঙ্কর। ওয়ানডেতে যে কোন দলকে হারিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। যে মুশফিক, সাকিব, তামিমরা এত সাহস দেখান তখনই, এক যুগ হয়ে যাওয়ার পর কী করবেন? তারা এতটাই অভিজ্ঞ এখন প্রতিপক্ষের আতঙ্ক এ তিন ব্যাটসম্যান। সাকিবতো আবার এবার বিশ্বকাপে ব্যাট-বল হাতে মাতাচ্ছেন। বিশ্বকাপে সেরা হওয়ার মতো খেলছেন। এই তিন ক্রিকেটারের সঙ্গে এবার ব্যাট হাতে আবার সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আছেন। মাহমুদুল্লাহ যদিও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারবেন কিনা শতভাগ নিশ্চয়তা নেই। তিনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের সময় কাফ মাসলে চোট পান। যদিও এখন সুস্থ। ভারত ম্যাচের আগে পাঁচদিনের ছুটিতে অনেকটাই ফিটও হয়ে উঠেছেন। ব্যথাও কম। কিন্তু খেলার মতো শতভাগ ফিট কিনা তা ম্যাচের আগেই বোঝা যাবে। তবে সব ব্যাটসম্যানই দলের জয়ে অবদান রাখছেন। ফর্মেও আছেন।

তাই ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের সুখস্মৃতি ফিরে আসুক ২০১৯ সালে, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আছেন সেই অপেক্ষায়।

ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শেষ চারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড

ভারতকে ৩১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে আসার পাশাপাশি সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। বার্মিংহামে, প্রথমে ব্যাট করে, ম্যাচ সেরা জনি বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৩৭ রানের বড় স্কোর গড়ে ইংল্যান্ড। জবাবে, রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩০৬ রানে থামে ভারতের ইনিংস। চলতি বিশ্বকাপে এটাই বিরাট কোহলির দলের প্রথম পরাজয়।

বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করলেন ঠিকই তবে দলকে জেতাতে পারলেন না `হিটম্যান’ রোহিত শর্মা। ভারতকে ৩১ রানে হারিয়ে, আট ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে গেল বিশ্বকাপের স্বাগতিক ইংল্যান্ড। অবশ্য ৩৩৮ রানের টার্গেটে নেমে শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি ভারতের। রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ‌ওপেনার লোকেশ রাহুল।

রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি দলের স্কোরে ১৩৮ রান যোগ করেন। বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ফিফটিতে, ২০১৫ সালে গড়া স্টিভ স্মিথের রেকর্ডে ভাগ বসানোর পর, ৬৬ রানে বিদায়, ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির।

ইংলিশদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে সৌরভ গাঙ্গুলির বিশ্বকাপে তিন সেঞ্চুরির রেকর্ড ঠিকই ছুঁয়ে ফেলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু ১০৯ বলে ১০২ রানের পুঁজিতে ফেরেন ‘হিটম্যান’ রোহিত শর্মা।

পরে বলের সঙ্গে রানের গতি বাড়াতে পারেন নি, ধোনি-পান্ডিয়ারা। তাতে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার পরাজিত হলো ভারত। এতে বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াইটা‌ও বেশ জমে উঠলো।

এর আগে, এজবাস্টনে সুপার সানডেতে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের শুরুতে ভারতের বোলারদের উপর রাজত্ব চালান দুই ইংলিশ ওপেনার জনি বেয়ারস্টো এবং জেসন রয়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের উইলো ঝড়ে এবারই প্রথম ভারত পায় বিশ্বকাপের আসল উত্তাপ। জুটিতে দলের স্কোরে যোগ করেন তারা ১৬০ রান। ৫৭ বলে ৬৬ রানে থাকা জেসন রয়ের উইকেট নিয়ে জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব।

এরপর ৯০ বলে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করা বেয়ারস্টোর উইকেট নিয়ে ইংলিশদের রান তোলার গতি কমান মোহাম্মদ সামি। ১০৯ বলে ১১১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বেয়ারস্টো।

ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মর্গান ফিরে যাওয়ার পর, জো রুট ও বেন স্টোকস ৭০ রানের জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। তবে মোহাম্মদ সামি ৬৯ বলে পাঁচ উইকেট তুলে নিলে সম্ভাবনা জাগিয়েও রানের পাহাড়ে চড়া হয়নি ইংল্যান্ডের। স্টোকসের ৫৪ বলে ৭৯ রানে, ৭ উইকেটে ৩৩৭ রান তোলে ইংল্যান্ড।

পাঁচ হাজার চিঠির অনুপ্রেরণা বাংলাদেশ দলকে

ভারতের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচের আগে দারুণ এক অনুপ্রেরণা পেলো বাংলাদেশ। বিভিন্ন বয়সের বাংলাদেশি সমর্থকের হাতে লেখা পাঁচ হাজার শুভেচ্ছা বাণী পৌঁছোলো ক্রিকেটারদের কাছে। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সংগ্রহ করা চিঠিগুলো দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ও ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খানের হাতে তুলে দেন শহিদুল আলম রতন নামের প্রবাসী এক ক্রিকেট সংগঠক।

ক্রিকেট পাগল বাঙালি জাতি বরাবরই খেলাটির প্রতি আবেগপ্রবণ। বড় টুর্নামেন্ট বা উপলক্ষ্য এলে যেনো তাদের আবেগ নতুন মাত্রা পায়। ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে ঘিরে আবারো হৃদয়ছোঁয়া এক আবেগ দেখালো দেশবাসী।

শনিবার দুপুর বেল গড়িয়েছে। বিশ্বখ্যাত এক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে এক প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রিকেট সংগঠকের হাত ঘুরে খেলোয়াড়দের আবাসিক হোটেলে এলো প্রায় বিশ কেজি ওজনের একটি বাক্স। খানিক ভয়, আর অভারবনীয় চমক নিয়ে খোলা হয়। আরো একবার মুগ্ধ হওয়ার পালা বোর্ড কর্তাদের।

ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে লেখা একের পর এক শুভেচ্ছাবাণী। রাবেদ খান নামের এক বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফল এই পাঁচ হাজার শুভেচ্ছাবাণী।

সাকিব থেকে লিটন, তামিম থেকে মুস্তাফিজ; সব ক্রিকেটারদের জন্যই রয়েছে অনুপ্রেরণার উপলক্ষ্য। ভারতের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে, এমন আবেগি উদ্যোগ দলের সবার জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করে টীম ম্যানেজমেন্ট।

‌ভারতের কাছে বড় হার ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২৫ রানে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের পথে ভারত এগিয়ে গেলো। প্রথমে ব্যাট করে ২৬৮ রান করার পর, দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৪৩ রানে অল আউট করে অপরাজিতই থাকলো টিম ইন্ডিয়া। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ভারত এখন পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। বাকি তিন ম্যাচে এক পয়েন্ট পেলেই সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যাবে বিরাট কোহলির দলের।

ভারতের আর‌ও তিনটি ম্যাচ বাকি রইলো- ইংল্যান্ড (রবিবার), বাংলাদেশ (২ জুলাই) ও শ্রীলঙ্কা (৫ জুলাই)।

৮২ বলে ৭২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি। ধোনি শেষ বল পর্যন্ত ক্রিজে থেকে দায়িত্ব নিয়ে ৫৬ বলে অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে। হার্দিক পান্ডিয়া ৩৮ বলে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

২৬৮ রান তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ সামি ও জাসপ্রিত বুমরা-র আগুনে স্পেলে ছারখার হয়ে যায় ক্যারিবিয়ান ইনিংস। সামি ১৬ রানে তুলে নেন চার উইকেট। বুমরা নেন ৯ রানে ২টি উইকেট নেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের পর এবার বিরাট কোহলির বিজয়রথে চাপা পড়ে গেলো ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাতে পাকাপাকিভাবে শেষ হয়ে গেলো ক্রিস গেইলদের বিশ্বকাপ।

শ্রীলংকা-দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াই কাল

বিশ্বকাপের ম্যাচে শুক্রবার শ্রীলঙ্কা নিজেদের সপ্তম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। এর আগের ম্যাচে হট ফেভারেট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নটা এখন বাঁচিয়ে রেখেছেন লংকানরা। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট পাওয়া হাতুরাসিংহের শিষ্যরা প্রোটিয়াদের বিপক্ষেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে সাত ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে অনেক আগেই। দুই দলের এই লড়াইটি হবে ডারহামের রিভারসাইড গ্রাউন্ড স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায়।

চলতি বিশ্বকাপে বেশ ভাগ্যবান বলা যায় ১৯৯৬-র চ্যাম্পিয়ানদের। ব্যাটিংয়ে জ্বলে উঠতে না পারলেও বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে ঠিকই দাপট দেখাছে হাতুরুসিংহের শিষ্যারা। সেই সাথে বৃষ্টির কল্যাণে সেমিফাইনাল খেলার আশা এখনো টিকে আছে লংকানদের। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২০ রানে হারিয়ে এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে করুরাত্নেরা।

বোলিংয়ে ম্যাজিক দেখাচ্ছেন মালিঙ্গা, লাকমল ও পেরেরা। তবে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। ছয় ম্যাচে তাদের দলীয় সার্বোচ্চ ইনিংস ২৩২ রান। এদিকে ঘুমিয়ে থাকা শ্রীলংকার ব্যাটিং লাইনআপটা জেগে উঠলে দিশাহার হতে পারে প্রোটিয়াদের বোলিং বিভাগ।

অন্যদিকে বিশ্বকাপটা এমনভাবে শুরু হবে তা কখনো ভাবেই নি প্রোটিয়ারা। ‘৯২-র পর এবারই প্রথম নক-আউট পর্ব থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এবারে আসরে একটি মাত্র জয় তাও আবার আফগানিস্থানের বিপক্ষে। তবে শক্তির বিচারে এতটা বাজে হবার কথা না ‌ওটিস গিবসনের শিষ্যদের। তবে মাঠে ঠিক কাজটা করতে পারলে হয়তো আসরে দ্বিতীয় জয় পাওয়াটা অসম্ভব নয়। কুক, আমলা, ডু প্লেসিস, মিলারদের বিস্ফোরক ব্যাটিংটা করতে পারলে, শ্রীলঙ্কা তো বটেই ভষ্ম হতে পারে যেকোন প্রতিপক্ষ। সামার্থের ঘাটতি নেই বোলিংয়েও। রাবাদা-লুঙ্গি মারিসদের সাথে ইমরান তাহির। দারুণ ইউনিট ডু-প্লেসিস বাহিনীর।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দু’দলের ৫ দেখায় ৩ জয় প্রোটিয়াদের এবং ১ জয় লংঙ্কানদের। আর একটি ম্যাচে টাই হয়েছে। ওয়ানডে পরিসংখ্যানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। মোট ২৬ বারের দেখায় প্রোটিয়াদের ১৪ জয়ের বিপরীতে ৯ টিতে জিতেছে শ্রীলংকা।

ইংল্যান্ডের চেয়ে বাংলাদেশের সেমির সম্ভাবনা বেশি

এজবাস্টনে বুধবার রাতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারের লড়াইটা জমিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। আপাতত স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে এখন অজিরা। তবে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে শেষ চারের টিকিট পেয়ে যেতো নিউজিল্যান্ড‌ও। তার উল্টোটা হ‌ওয়ায় জমে উঠেছে বিশ্বকাপের সেমিতে উঠার পরের তিনটি দল হ‌ওয়ার লড়াই। এবার সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে বাকি তিনটি স্থানের জন্য লড়াই চলবে।

আজ বৃহস্পতিবার যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেয় ভারত, তাহলে বিরাট কোহলির দলও সেমিতে উঠবে। সোজা কথা বললে, অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছে। আর কার্যত ওঠার পথে আছে ভারত। তবে পাকিস্তানের কাছে হারলে‌ও সম্ভাবনা রয়েছে কিউইদের‌ও। এখন প্রশ্ন, চতুর্থ দল হিসেবে কোন দল সেমিতে উঠবে।

সেই লড়াইয়ে মূলত: আছে চারটি দল ইংল্যান্ড (৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট), বাংলাদেশ (৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট), পাকিস্তান (৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট), শ্রীলঙ্কা (৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)। এখন সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে আসল লড়াই পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেমিতে উঠতে গেলে কোন দলকে কী করতে হবে

অস্ট্রেলিয়া ( ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট): ইতোমধ্যেই সেমিতে উঠে গেছে।

নিউজিল্যান্ড (৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট): বাকি দুটি ম্যাচের একটাতে জিতলেই চলবে।

ভারত (৫ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট): আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই সেমিতে। তবে বাকি চারটি ম্যাচের দুটিতে জিতলেই চলবে। টিম ইন্ডিয়ার শেষ চারটি ম্যাচের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা।

ইংল্যান্ড (৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট): শ্রীলঙ্কা ‌ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা দুই ম্যাচে খারাপভাবে হারের পর খাদের কিনারায় এখন বিশ্বকাপের স্বাগতিকরা। ইয়ন মর্গানের দলের বাকি আছে দুটি কঠিন ম্যাচ। ৩০ জুন ভারতের বিরুদ্ধে খেলার পর শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। দুটোতেই জিততে হবে ইংল্যান্ডকে।

বাংলাদেশ ( ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট): বাংলাদেশ তাদের শেষ দুটি ম্যাচে জিতলে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে। তবে প্রতিপক্ষ এশিয়ার এই দুই সুপার পাওয়ার ভারত ‌ও পাকিস্তান। এই দুটি ম্যাচে জিততে হবে সাকিবদের। অন্যথা হলেই বিদায়। তবে বাংলাদেশকে শুধু জিতলেই হবে না, ইংল্যান্ডের ম্যাচের ফলের দিকে‌ও তাকিয়ে থাকতে হবে।

পাকিস্তান (৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট): বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারের তিনটি দলের লড়াইকে কার্যত জমিয়ে দিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল। এখন বাংলাদেশ তো বটেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের‌ও বাদ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। তাদের শেষ দুই প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান (২৯ জুন) ‌ও বাংলাদেশ (৫ জুলাই)।

শ্রীলঙ্কা ( ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট): ইংল্যান্ডকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কা আচমকা শেষ চারের লড়াইয়ের আশাটা বাঁচিয়ে রেখেছে। মালিঙ্গারা তাদের শেষ তিনটি ম্যাচে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা (২৮ জুন), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১ জুলাই) ও ভারতের (৬ জুলাই) বিপক্ষে। অসাধ্য সাধন করতে হলে শ্রীলঙ্কাকে তিনটি ম্যাচই জিততে হবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ( ৬ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট): কার্যত বিদায় নিয়েছে। আজ ভারতের কাছে হারলে বিদায় সম্পূর্ণ নিশ্চিত হবে। এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।

নির্ভার ভারত জিততে মরিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ফারদিন আল সাজু

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামীকাল(বৃহস্পতিবার) ভারতের মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চলতি বিশ্বকাপে ভারত এখন‌ও কোনো ম্যাচে হারে নি। এখন‌ও পর্যন্ত অপরাজিত তারা। পাঁচ ম্যাচে চার জয় এবং একটি ড্র (বৃষ্টিতে) করে মোট নয় পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে বিরাট কোহলির দল। অন্যদিকে সেমিফাইনালে যেতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ম্যনচেস্টারে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে তিনটায়।

কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার। এবারে বিশ্বকাপটা দাপুটেভাবে শুরু করেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু পরে আর সেই ধারা রক্ষা করা যায় নি। প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডির বিপক্ষে ৪২১ রান করে সবাইকে শক্তির বার্তা জানিয়ে দিয়েছিলেন জেসন হোল্ডাররা। সেই শক্তির প্রভাবটা দেখালেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১০৫ রানে অলআউট করেছিলো তারা। সেই ম্যাচে ৭ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচেটি জিতে‌ও যায়। এরপর বৃষ্টির কল্যানে চোকার্স দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক পয়েন্ট পায় ক্যারিবিয়ানরা। আর কোনো ম্যাচে জয়ের আশা জাগাতে পারেনি ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালের আগে তাদের হাতে আছে মাত্র তিনটি ম্যাচে। শেষ চারের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। এদিকে রাসেলের ইনজুরি। তবে স্বস্থির খবর গেইল, ব্রেথওয়েট, হেটমায়ারদের ব্যাটে রান আসছে। সাথে যদি শাই হোপ নিজের ফর্মটা কাজে লাগাতে পারেন তাহলে ভারতের বিপক্ষে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেই পারে হোল্ডাররা। বোলিংয়ে কটরেল আছেন সেরা ছন্দ। তার পাশে থমাস, হোল্ডার এবং রোচরা জ্বলে উঠলে, উড়তে থাকা ভারতকে মাটিতে নামানো সম্ভব।

অন্যদিকে এবারে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত দল ভারত। সেরা চারের অন্যতম দাবিদার তারা। সেমির পথ অনেকটাই পরিস্কার। বাকী আরো চারটি ম্যাচে। প্রতিটাই ম্যাচই গুরুত্বপূর্ন। তবে হারলে শঙ্কা থাকবে সেমি থেকে ছিটকে যাওয়া। তাই হাইভোল্টেজ লড়াই ম্যাচে পুরোটাই রাঙিয়ে দিতে চাইবে বিরাট বাহিনিরা। রোহিত, কোহলি, রাহুল, ধোনি, পান্ডিয়াদের নিয়ে গড়া বিশ্বের শক্তিশালি ব্যাটিং লাইন আপ ভারতের। অন্যদিকে বুমরা, ভুবেনশ্বর কুমার, সামি, চাহাল, জাদোদের নিয়ে গড়া বোলিং লাইন আপের সামনে অগ্নিপরীক্ষায় পরতে হবে গেইল-হোপদের।

বিশ্বকাপের মহামঞ্চে আটবার মুখোমুখি হয়েছে দুইদল। পাঁচবার জিতেছে ভারত আর তিনবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুই দলের দেখা হয়েছে মোট ১২৬ বার। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে। তারা জিতেছে ৬২ টি আর ভারতের জয় ৫৯ টিতে। ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচে এবং পরিত্যাক্ত হয়েছে তিনটি ম্যাচ।

সবকিছুকে পেছনে ফেলে ভারত চাইবে এই ম্যাচে জিতে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্যই চাইবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সাথে সেমির দৌড়ে টিকে থাকতে। সেই বিবেচনায় এই ম্যাচটি কিছুটা হলেও উত্তাপ ছড়াবে ক্রিকেটাঙ্গনে।

টাইগার সমর্থকদের সেমির প্রত্যাশা

দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের ধারায় থাকা বাংলাদেশ শেষ দুই ম্যাচেও একইভাবে জয় অব্যাহত রেখে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে বলে বিশ্বাস করেন প্রবাসী বাঙ্গালিরা। বাংলাদেশের খেলা দেখতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা সমর্থকরা দলের পারফর্মেন্সে মুগ্ধ হয়ে এমন আশা প্রকাশ করেন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দলের ধারাবাহিক পারফরমেন্স দেখে এসব কথা জানান তারা।

৩২২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয় পেস আক্রমণের মুখেও ৫১ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটের বিশাল জয়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৮১ রানের পাহাড়ে চাপা পড়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে ৩৩৩ রান তোলা কিংবা সাকিব আল হাসানের একার কৃতিত্বে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দেয়া। টানা মনোমুগ্ধকর ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। যদি কিন্তুর হিসেবে থাকা লাল-সবুজের দলের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা নিয়ে এখন অনেক আশাবাদী বাংলাদেশি সমর্থকরা।

শেষ দুই ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার দুই শক্তি ভারত ও পাকিস্তান। এশিয়া কাপ ক্রিকেট খেলার সুবাদে উভয়ই বেশ চেনা প্রতিপক্ষ সাকিব-মুশফিক-মাশরাফীদের জন্য। দর্শকদের বিশ্বাস, ম্যাচ জয়ে কাজে দেবে সে অভিজ্ঞতা।

টানা দুই ম্যাচে ইংলিশদের হারে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সমীকরণ স্বপ্ন বোনাচ্ছে বাংলাদেশি সমর্থকদের মনে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা আর পাকিস্তানও এখন সম্ভাবনার দৌড়ে চলে আসায় টাইগারদের মাথায় রাখতে হচ্ছে সেসব হিসেবও।

পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ আজ নিউজিল্যান্ড

সেমিফাইনালের পথটাকে মসৃণ করতে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই আজ বুধবার মাঠে নামবে পাকিস্তান। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পাকিস্তান আগের ম্যাচেই প্রোটিয়াদের হারিয়ে এখন সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছে। ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলের সপ্তমে এখন সরফরাজ আহমেদের দল। বার্মিংহামে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় চাইলে‌ও বাস্তবতার বিচারে ম্যাচটা পাকিস্তানের জন্য কেবল পরীক্ষাই নয়, রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষা। কারণ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ধুঁকতে ধুঁকতে আসছে সরফরাজের দল। উল্টোদিকে, উইলিয়ামসনের দল আছে জয়ের মধ্যে। চলতি বিশ্বকাপে এখনো হারেনি নিউজিল্যান্ড। তাতে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পরেই আছে কিউইরা।

২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই ইংল্যান্ডেই চিরশত্রু ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে গিয়েছিলেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকেই পতনের শুরু ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানের। এশিয়া কাপ, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং পয়মন্ত আমিরাতে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে দুটি সিরিজে ভরাডুবির পর ঠিক বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড সফরেও বিধ্বস্ত হয় পাকিরা। ওয়ানডেতে টানা দশ হারের ব্যর্থতা সঙ্গী করে আসরের প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১০৫ রানে অলআউট। ৭ উইকেটের হারে নিজেদের লজ্জার রেকর্ডটা ১১তে উন্নীত করার পর কে ভেবেছিল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেবে তারা?

পাকিস্তানীদের এই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ মেজাজটাই হতে পারে নিউজিল্যান্ডের জন্য ভয়ের কারণ। গত বিশ্বকাপের (২০১৫) ফাইনালে উঠেও প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়েছিল কিউইদের। আধুনিক ক্রিকেটে সবসময়ই সমীহ জাগানিয়া দলটি আগের ১১ বিশ্বকাপে ছয়বারই সেমিফাইনালে খেলেছে। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব মিলিয়ে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ। ওপেনিংয়ে মার্টিন গাপটিল, কলিন মুনরো। টপঅর্ডারে অধিনায়ক উইলিয়ামসনের সঙ্গী ইনফর্ম রস টেইলর। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান টম লাথামও প্রয়োজনে কম যান না। অলরাউন্ডার হিসেবে জিমি নিশাম, কলিন ডি গ্রান্ডহোম বেশ কার্যকর। স্পিনে মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি। আর যেটির কথা আলাদা করে বলতে হয় সেটি নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণ। ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি, লোকি ফার্গুসনের পাশাপাশি চতুর্থ ও পঞ্চম পেসার হিসেবে আছেন নিশাম আর গ্রান্ডহোম। ১০ উইকেটের বড় জয়ের পথে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে মিশন শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর একে একে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তারা হারিয়েছে।

১৯৭৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মুখোমুখি ১০৬ ওয়ানডের ৫৪টিতে জিতে এগিয়ে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের সাফল্য ৪৮। টাই ১ ও পরিত্যক্ত ৩। আর বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৮ দেখায় ৬ জয় পাকিস্তানের, কিউইদের জয় ২টি। দুই পরিসংখ্যানেই এগিয়ে পাকিস্তান। তবে মাঠের খেলায় আজ যারা ভালো করতে পারবেন তারাই জিতবেন।

পর্যবেক্ষণে আছেন মাহমুদুল্লাহ

সাউদাম্পটনে গতকাল সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় কাফ মাসলে ব্যাথা পান বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটিং করার সময় সাবলীল ছিলেন না তিনি। তাই পরে আর ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি। পুরো সময় ড্রেসিংরুমেই ছিলেন। ম্যাচ শেষে মাহমুদুল্লাহ স্ক্যান করা হয়। আজ জানা গেছে মাহমুুদুল্লাহ ইনজুরির আপডেট। স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জানা গেলো, নিচু মাত্রার টিয়ার রয়েছে মাসলে।

বাংলাদেশের দলের ফিজিও থিলান চন্দ্রমোহন জানান, ‘মাহমুদুল্লাহ নিচু মাত্রার কাফ মাসলের ইনজুরিতে আক্রান্ত। তার অবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন তার ইনজুরির অবস্থার উন্নতির ওপর নির্ভর করবে, কবে নাগাদ পুরোপুরি সুস্থ হতে পারবেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে তার খেলা নিয়ে এখনো কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ইনজুরিতে ভুগছেন মাহমুদুল্লাহ। কাঁধের ইনজুরির কারণে বোলিং করতে পারছেন না তিনি। নতুন করে এখন যোগ হলো আরও একটি ইনজুরি। ফলে আগামী ২ জুলাই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অষ্টম ম্যাচে অনিশ্চিত মাহমুদুল্লাহ।

ইনজুরিতে মাহমুদুল্লাহ

ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। এমনিতেই কাধের ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে বল করতে পারছেন না মাহমুদউল্লাহ। আর আফগানিস্তনের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সময় পায়ে চোট পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসের ৩৪ ওভারের সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ডান পায়ে চোট পান মাহমুদউল্লাাহ। ফলে বাকি সময়টা খোঁড়াতে খোঁড়াতে ব্যাট করে ৩৮ বলে ২৭ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। গতরাতেই তাকে চোট আক্রান্ত জায়গায় স্ক্যানিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। আজ রিপোর্ট দেখেই সিদ্ধান্ত হবে কয়দিনের বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে রিয়াদকে।

সাকিবময় ম্যাচে রেকর্ড গড়েছেন মুশফিকও

ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে সংশয় ছিল না কখনোই। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাকে স্বীকৃতি দেন সবাই। কিন্তু উইকেটরক্ষক মুশফিককে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকবারই। উইকেটের পেছনে গ্লাভসজোড়া হাতে মাঝে মধ্যেই ভুল করে বসেন তিনি।

সে জন্য অনেকেরই চাওয়া উইকেটের পিছন থেকে সরে এসে কেবল ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলুক মুশফিক। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে সবসময়ই ছিলেন অটল। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটরক্ষকের দায়িত্বও পালন করতে চেয়েছেন।

এবার এ দুই বিভাগ মিলিয়ে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন মুশফিক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত ৮০০'র বেশি রান ও ২৫ এর বেশি ডিসমিসাল আছে তিনজন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। যাদের মধ্যে একজন মুশফিকুর রহীম।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৮৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ৪৬ রানের সময়ই বিশ্বকাপে ৮০০ রান পূরণ করেন মুশফিক। সোমবার গ্লাভস হাতে তিনটি ডিসমিশালও করেন তিনি। আফগান ব্যাটসম্যান নাজিবউল্লাহ জাদরানকে করা স্টাম্পিংটি ছিলো মুশফিকের বিশ্বকাপের ২৫তম ডিসমিসাল। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার মোট রান ৮৩৭, ডিসমিসাল ২৬ টি।

তার আগে আরও দুইজন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের এমন কৃতিত্ব রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা এর আগে এমন কীর্তি গড়েছিলেন।

বিশ্বকাপে ৩১ ম্যাচ খেলে ৩৬.১৭ গড়ে গিলক্রিস্ট করেছিলেন ১০৮৫ রান। কিপিং গ্লাভস হাতেও ৪৫ ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি ৭টি স্টাম্পিং করেছিলেন সাবেক এই অসি কিংবদন্তি। এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৬ ক্যাচ ও ৬ ডিসমিসাল তার।

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে আরেক কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা বিশ্বকাপে ৩৫ ম্যাচ খেলে ৫৬.৭৪ গড়ে ১৫৩২ রান করেন। উইকেরক্ষক হিসেবে ৪১ ক্যাচ ও ১৩ টি স্টাম্পিং করেছিলেন তিনি। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩ ক্যাচ ও ৪ ডিসমিসাল আছে সাঙ্গাকারার।

আফগানদের উড়িয়ে টাইগারদের দাপুটে জয়

ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশের মনে যেন খানিক ভয়ই ঢুকিয়ে দিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু সেসবকে থোড়াই কেয়ার করে আফগানদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৬২ রানের ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক সাকিব আল হাসানই। যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহীমের ৮৩ ও সাকিব আল হাসানের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পায় ২৬২ রানের লড়াকু পুঁজি। যা কি-না ঢের প্রমাণিত হয় আফগানদের জন্য। সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২০০ রানে। টাইগাররা জয় পায় ৬২ রানের ব্যবধানে।

লক্ষ্য ২৬৩ রানের। এ রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল। পাওয়ার প্লে'র প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ। ১১তম ওভারে এসে বল হাতে নিয়েই এই জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবের বলটি মিডঅনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন রহমত শাহ। জায়গা থেকে কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ৩৫ বলে আফগান ওপেনার করেন ২৪ রান।

পরের ১০ ওভারে ৩০ রানের জুটি হাসমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদিন নাইবের। ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলা হাসমতউল্লাহ শহীদি ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান। তবে মোসাদ্দেকের ওভারের পঞ্চম বলেই পড়েন স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে। পা-টা একটু বেরিয়ে এসেছিল শহীদির। মুশফিক চোখের পলকে স্ট্যাম্পিং করে দেন। ৩১ বল খেলে শহীদি তখন ১১ রানে।

নেতৃত্বের ঝলক দেখালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওপেনিংয়ে নেমে গুলবাদিন নাইব যেন মাটি কামড়ে ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসিকে আটকা পড়ে গেলেন আফগান অধিনায়ক।

শর্ট মিড অফে লিটনকে নিয়ে এসেছিলেন মাশরাফি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। চোখের পলকে সেই ক্যাচটি নিয়ে নেন লিটন। আফগান অধিনায়ক ৭৫ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এক বুক হতাশা নিয়ে।

ওই ওভারেই শূন্য রানে মোহাম্মদ নবীকে বোল্ড করেন সাকিব। বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের করা আর্মার ডেলিভারিটি বুঝতেই পারেননি নবী। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গোলে তা সরাসরি আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান নবী।

অনেকক্ষণ ধরে উইকেটে থিতু হয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। রানরেটের চাপটাও টের পাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তাই তো ইনিংসের ৩৩তম সাকিবের বলকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে বসেন তিনি।

ফল হয় যা হওয়ার তাই। জায়গামতো দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত হন আসগর। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে ২০ রান করেন তিনি। এরপর সরাসরি থ্রোতে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলি খিলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটন দাস।

তবে সপ্তম উইকেটে পাল্টা প্রতিরোধের আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে ফেলেন ৫৬ রানের জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙতে ফের বল হাতে হাজির হন সাকিব।

ইনিংসের ৪৩তম ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারার চেষ্টা উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নাজিবউল্লাহ। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মুশফিক বল গ্লাভসে জমিয়ে উইকেট ভাঙতে সময় নেননি একদমই।

এ উইকেটের সঙ্গে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নিলেন সাকিব। তার আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব দেখান যুবরাজ সিং।

সাকিবের বোলিং স্পেল শেষ হয় ১০ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ২৯ রান খরচায়। মাঝে রশিদ খানকে মাশরাফির হাতে ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। সাকিবের স্পেল শেষ হবার পর দাওলাত জাদরানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার।

ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় আফগানরা। তবু একা খানিক লড়াই করেন শিনওয়ারি। কিন্তু অপরপ্রান্তে মুজি উর রহমান আউট হয়ে গেলে তিনি অপরাজিত থেকে যান ৪৯ রানে। ইনিংসের ৩ ওভার বাই থাকতেই অলআউট হয়ে যায় আফগানরা। 

এর আগে ৭ উইকেটে ২৬২ রানের পুঁজি গড়তে পারে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় টাইগাররা। ইনিংসের ৪ ওভার পেরোতেই আউট লিটন দাস। দলের রান তখন মাত্র ২৩। যদিও ক্যাচটা বিতর্কিত ছিল।

বলটা মনে হচ্ছিল, মাটিতে লেগেছে। টিভি আম্পায়ার আলিম দার কয়েকবার রিপ্লে টেনে টেনে দেখলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউটের সিদ্ধান্তই দিলেন। মুজিব উর রহমানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন।

শর্ট কভারে হাসমতউল্লাহ শহীদি ক্যাচটা নেয়ার পরও লিটন ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আলিম দারও নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ক্যাচটা আসলে মাটিতে লেগেছে কিনা। একবার মনে হচ্ছিল, বলের নিচে আঙুল আছে। আরেক দিক থেকে মনে হচ্ছিল, মাটিতে বলের ছোঁয়া লেগেছে। ভাগ্যটা লিটনের বিপক্ষেই গেছে।

অথচ লিটনের শুরুটা হয়েছিল বেশ ভালোই। মূলত ওপেনিং জুটিতে তিনিই ভালো খেলছিলেন। ১৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান করেন ১৬ রান। ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৬১ বলে ৫১ রানের জুটি তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানের।

১ উইকেটে ৭৪ রানে পৌঁছে যাওয়া টাইগাররা ১৫তম ওভারের শেষ বলে এসে তামিমকে হারিয়ে বসে। মোহাম্মদ নবীর বলটি ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন টাইগার ওপেনার, ৫৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তামিম করেন ৩৬ রান।

পরের ওভারে রশিদ খানের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আবারও আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। এবার সাকিব রিভিউ নিয়ে জিতে যান। বল দেখা যায় স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যেত।

তৃতীয় উইকেটে ৬১ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন সাকিব-মুশফিক। সাকিব একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও ৩০তম ওভারে এসে বাঁচতে পারেননি। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৯ বলে গড়া সাকিবের ৫১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটিতে ছিল মাত্র একটি বাউন্ডারির মার।

মুজিবের পরের ওভারে আবারও ঝলক। এবার তিনি ফিরিয়ে দেন ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডারে আসা সৌম্য সরকারকে। এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে সৌম্য করেন মাত্র ৩ রান। ১৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন ফের বিপদে বাংলাদেশ।

এরই মধ্যে পায়ের কাফে টান পড়ে নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহর। তিনি তখন মাত্র ৩ রানে। টাইগার সমর্থকরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। তবে মাহমুদউল্লাহ ওই ব্যথা নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন।

পঞ্চম উইকেটে মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন ৫৬ রান। ৩৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৭ রান করে মাহমুদউল্লাহ গুলবাদিন নাইবের শিকার হন।

এমন উত্থান পতনের মধ্যে একটা প্রান্ত ধরে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন মুশফিক। ষষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৪ রানের জুটি তার। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ইনিংসের ৪৯তম ওভারে এসে দৌলত জাদরানের বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে যান মুশফিক। ৮৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তখন তিনি ৮৩ রানে।

এরপর মোসাদ্দেক শেষের কাজটা করে দিয়েছেন। ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে একদম শেষ বলে আউট হয়েছেন ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান।

আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিব উর রহমান ৩টি আর গুলবাদিন নাইব নিয়েছেন ২টি উইকেট।

অনন্য সাকিব

মমিনুর রিপন

একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে ১০০০ রান ও ৩০ উইকেট নেয়ার নতুন রেকর্ড গড়ে্েযছন সাকিব আল হাসান। যুবরাজের সিংয়ের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান বাংলাদেশী এই অলরাউন্ডার। সেই সাথে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বসেরার মঞ্চে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাকিব আল হাসান।

সাকিব আল হাসানের কাছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ যেন রেকর্ড গড়ার এক মঞ্চ। ব্যাট ও বল হাতে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই একের পর এক সাফল্যের পালক যোগ হচ্ছে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ারে। বাংলাদেশের তিন জয়েই ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতেছেন সাকিব। ধারাবাহিকতা রাখতে চান ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ অলরাউন্ড পারফর্ম করেছেন ম্যাচসেরা সাকিব। বল হাতে ব্রেক-থ্রু এনে দেয়ার পাশাপাশি তার ঘুর্ণিতে ধ্বসে পড়ে আফগানদের ব্যাটিং লাইনআপ। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে এবং ক্যারিয়ার সেরা বোলিং উপহার দেন ২৯ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে। সাথে অনন্য এক রেকর্ডও গড়েন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে এক হাজার রান আর বল হাতে শিকার ৩০ উইকেট।

এর আগে ম্যাচের ২১ তম ওভারে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে এক হাজার রানের মালিক বনে যান বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫০ রান তুলে, প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এক আসরে পাঁচ ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন টাইগারদের এই রান মেশিন। তার ৫১ রানের ইনিংসে ডেভিড ওয়ার্নারকে পেছনে ফেলে ৪৭৬ রান নিয়ে আবারও ব্যক্তিগত রানের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ-আফগান ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের উদ্মাদনা ছিলো চোখে পড়ার মত। খেলা শুরুর দেড়-দু’ঘন্টা আগে থেকেই সাউদাম্পটনের রোজ বোল স্টেডিয়ামের বাইরে নিজ দলের জার্সি পরে নেচে গেয়ে দলকে উৎসাহ দিতে আসেন বাংলাদেশী সমর্থকরা। বেশ কিছু আফগান সমর্থক‌ও এসেছেন মাঠে। তবে তুলনায় টাইগার সমর্থকদের চেয়ে অনেক কম। লাল-সবুজের দলের সমর্থকদের প্রত্যাশা দলের জয়।

বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই নিজ দেশের আমেজে খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি সর্মথকদের মেলা। অন্য সব ম্যাচের মত এ ম্যাচেও বাংলাদেশের দারুণ এক জয়ের প্রত্যাশা তাদের। মাঠে আসা দর্শকরা সবাই চাইছেন আরো একটি জয় পাক বাংলাদেশ। আফগানদের হারানোর মধ্য দিয়ে পৌছে যাক টাইগাররা সেমিফাইনাল খেলার রেসে।

কেবল ইংল্যান্ডে বসবাসকারীরাই নন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের খেলা দেখতে এসেছেন লাল-সবুজের সমর্থকরা। কেউ গেছেন বাংলাদেশ থেকে, কেউ আবার এসেছেন প্যারিস থেকে‌ও।

মাঠে এসেছেন বেশ কিছু আফগান সমর্থকও। তবে কয়েক হাজার বাংলাদেশি সমর্থকদের তুলনায় তাদের সংখ্যা খুবই কম।

সেমির স্বপ্ন এখন পাকিস্তানের

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৯ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখলো পাকিস্তান। লর্ডসে, ৩০৯ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে ২৫৯ রানে থামে ৯ উইকেট হারানো প্রোটিয়ারা। এর আগে, প্রথমে ব্যাট করে মাচ সেরা হারিস সোহেলের ৮৯ ও বাবর আজমের ৬৯ রানে, ৭ উইকেটে ৩০৮ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ৫ নিয়ে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার আশা বেঁচে রইলো সরফরাজ আহমেদের দলের।

পাকিস্তান তিনশ’ পাড় হতেই ধারণা করা গিয়েছিল, আরো একটা পরাজয় অপেক্ষা করছে দক্ষিণ আফ্রিকার। হলোও তাই। পেস আর স্পিনে ভেঙে পড়লো প্রোটিয়ারা। তাতে ম্যাচ জিতে সেমির স্বপ্ন এখন পাকিস্তানীদের।

আগের ম্যাচগুলো হেরে আত্মবিশ্বাসের একেবারে তলানিতে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা। পেস আর স্পিন আক্রমণে পাকিস্তানীরা শুরু থেকেই প্রোটিয়াদের কোনঠাসা করে ফেলে। ওপেনার কুইন্টন ডি ককের পর অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসিস দলকে পরাজয়ের কিনার থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। ডি কক ৪৭ ও ডুপ্লেসিস ৬৩ রানে বিদায় নিলে, লড়াইটা একপেশে হয়ে যায়। ভ্যান ডার ডুসেন, ডেভিড মিলার ও ফেলুকুয়ো’র প্রচেষ্টা প্রোটিয়াদের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিলো না।

অবশ্য লর্ডসে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের জন্য ‘ডু অর ডাই’। শোয়েব মালিকের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েই সবকিছু একেবারে পাল্টে দিলেন পাঁচ নম্বরে নামা হারিস সোহেল। ৩৮ বলে ফিফটির পর, বিশ্বকাপে পাঁচ নম্বরে নামা পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইমরান খানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন। ৫৯ বলে ৮৯ রান করে হারিস যখন সাজঘরে ফেরেন ৭ উইকেট হারানো পাকিস্তানের পুঁজি তখন ৩০৭ রান।

এরআগে, টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম উল হক ও ফখর জামানের উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৯ টি উইকেটের মালিক বনে যান ইমরান তাহির। পরে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারে ১৪তম ফিফটি করা বাবর আজমের ৬৯ রানের কল্যাণে ৭ উইকেটে ৩০৮ রানের বড় স্কোর পায় পাকিস্তান।

স্বপ্ন বাঁচাতে কাল মাঠে নামছে বাংলাদেশ

ফারদিন আল সাজু

সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আগামীকাল সোমবার আফগানিস্থানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচে দুটি জয় তিনটি হার ও একটি ড্র নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠস্থানে এখন বাংলাদেশ। অন্যাদিকে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে অনেকটাই ছিঁটকে গেছে আফগানরা। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিয়ে আসরটা ভালোভাবে শেষ করতে চায় রশিদ খান-মোহাম্মদ নবীরা। সাউদাম্পটনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায়।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারে ব্যাটে রান বন্যায় ভাসছে এখন বাংলাদেশ। পাঁচ ইনিংস সাকিব আল হাসানের রান ৪২৫, বিশ্বকাপ আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দুই সেঞ্চুরির সাথে দুটি ফিফটি‌ও করেছেন এই টাইগার অলরাউন্ডার। তার ব্যাটেই মূলত ভালো শুরু পাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে নিয়ে না ভেবে, তারা প্রতিপক্ষ ভাবছেন সাকিবকেই। তাই সাকিবকে আটকানোর জন্য তারা আলাদা ছক‌ও তৈরি করছে। তবে ছক কিংবা সিলেবাসের বাইরেও প্রশ্ন আসতে পারে তামিম, সৌম্য, মুশফিক, লিটন, মাহামুদুল্লাহরা। যারা কিনা একাই ম্যাচের গতি পথ বদলে দিতে পারেন। এছাড়া অজিদের বিপক্ষে মুশফিকের সেঞ্চুরি, মাহমুদুল্লাহর আগ্রাসি ব্যাটিং এবং তামিমের রানে ফেরাটা বাংলাদেশের দলে একটা স্বস্থির আভাস বইয়ে দিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষকে কাবু করতে হলে শুধু ব্যাটিং ভালো হলে চলবে না, সেরাটা দিতে হবে বোলিংয়েও।

জ্বলে উঠতে হবে মুস্তাফিজ, মাশরাফি, সাইফুদ্দিনকেও। তবে সাইফুদ্দিনের খেলা নিয়ে এখন‌ও সংশয় কাটে নি। ইনজুরির কারণে এ ম্যাচের বাইরে‌ও থাকতে পারেন তিনি। তাই সেমিফাইনালে পা রাখতে হলে প্রতিপক্ষকে হারাতেই হবে বাংলাদেশের। এই ম্যাচে একাদশে ফিরতে পারেন মোসাদ্দক হোসেন।

অন্যদিকে আফগানদের সেমিফাইনালের খেলার আশা নেই বললেই চলে। ছয় ম্যাচে কোনটি জিতে পারেনি। তবে তাদের বড় অনুপ্রেরণা ভারতের বিপক্ষে লড়াকু হার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো কিছু করে আসরটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে আফগানরা। বিশ্ব আসরে আফগানদের সাথে একবারে দেখা বাংলাদেশ জিতেছিলো ১০৫ রানে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সাথে সাতবারের দেখায় আফগানরা জিতেছে তিনটিতে আর বাংলাদেশ জিতেছে চারটিতে।

ভারতের জয়

সাউদাম্পটনে বোলাররা ভারতকে এনে দিলেন দারুণ এক জয়। আগের ম্যাচগুলোতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা পাহাড়প্রমাণ রান করেছিলেন। তাতে বোলারদের কাজ‌ও সহজ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার ভারতের ব্যাটসম্যানরা বড় রানের বোঝা চাপাতে পারেননি আফগানিস্তানের উপরে। উল্টো চাপটা ছিল বোলারদের উপরেই। বল করতে নেমে যাসপ্রীত বুমরা, মোহাম্মদ সামি ‌ও চাহালরা হতাশ করেননি কোহালিকে। সামি তো ভারতকে জেতাতে গিয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করার নজির‌ও গড়ে ফেলেন।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানদের দরকার ছিল ১৬ রান। কোহালি বল তুলে দেন সামির হাতে। বিপজ্জনক মোহম্মদ নবী (৫২), আফতাব আলম (০) এবং মুজিব উর রহমানকে (০) পর পর তিন বলে ফিরিয়ে ভারতকে জয় এনে দেন শামি। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের চেতন শর্মা হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তার পরে সাকলাইন মুস্তাক, চামিন্দা ভাস, ব্রেট লি, লাসিথ মালিঙ্গা-সহ অনেকেই হ্যাটট্রিক করেছেন। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করলেন বাংলার পেসার। তাঁর শেষ ওভারে দাপটেই আফগানিস্তান শেষ হয়ে গেল ২১৩ রানে। আর কোহালিরা পেলেন ১১ রানের দারুণ এক জয়।

অথচ ভারতের রান তাড়া করতে নেমে একটা সময়ে জয়ের পথেই ছিল আফগানিস্তান। রহমত শাহ ও শাহিদি শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ছিলেন। সেই সময়ে উইকেটের দরকার ছিল কোহালির। বুমরা ঠিক সময়ে দু’ জনকে তুলে ভারতকে ম্যাচে ফেরান। নবী ঠাণ্ডা মাথায় আফগানিস্তানকে জয়ের লক্ষ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্য প্রান্ত থেকে তাঁর সতীর্থরা ফিরে গেলেও নবীর মধ্যে টেনশনের লেশমাত্র ছিল না। কিন্তু, শেষ রক্ষা হলো না। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ছ’টি ম্যাচই হারলো আফগানরা।

সাউদাম্পটনের রোজ বউল স্টেডিয়ামে, টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বিরাট কোহালি। উদ্দেশ্য রানের পাহাড় তুলবে টিম ইন্ডিয়া। তার পরে যাসপ্রীত বুমরা, মোহাম্মদ সামিরা দ্রুত মুড়িয়ে দেবেন আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ। উল্টো আফগান-বোলাররা ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের পরীক্ষা নিলেন। পিচ মন্থর হওয়ায় তাঁদের কাজটা সহজ হয়।

বল পড়ে ঠিক মতো ব্যাটে আসছিল না। শট খেলতে সমস্যায় পড়তে হয় ভারতীয়দের। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো মারকুটে ব্যাটসম্যানও পারলেন না দ্রুতগতিতে রান তুলতে। বিরাট কোহালি আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন, তখন ভারতের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৩৫ রান (৩০.৩ ওভার)। ধোনি নিজের খেলাটাই খেলতে পারলেন না। বল নষ্ট করলেন। শেষে রশিদ খানকে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হলেন। ৫২ বলে ২৮ রান করেন তিনি। কেদার যাদব ৬৮ বলে করেন ৫২ রান।

রোহিত শর্মা চলতি বিশ্বকাপে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা হয়ে গিয়েছে তাঁর। এদিন মুজিব উর রহমানের বলটাই ঠিক মতো বুঝতে পারলেন না। বলের লাইন মিস করে বোল্ড হলেন শর্মা। ভারতের রান তখন এক উইকেটে সাত। রোহিত টিকলেন মাত্র ১০ বল। রোহিত দ্রুত ফেরায় ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি ইনিংস গড়ার কাজ করেন লোকেশ রাহুলের সঙ্গে। রাহুল ৩০ রান করে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আউট হন। কোহালি ৪৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু, কোহালির ব্যাটে যখন বড় রানের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তখনই ছন্দপতন। নবির বলটা হঠাৎই লাফিয়ে ওঠে। কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন কোহালি (৬৭)। আফগান বোলাররা রীতিমতো পরীক্ষা নিচ্ছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের।

বিজয় শঙ্কর নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না। রহমত শাহের বলে এলবিডব্লিউ হন শঙ্কর (২৯)। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রশিদ খান ৯ ওভারে ১১০ রান দিয়েছিলেন। আর ভারতের বিপক্ষে ১০ ওভারে খরচ করেন মাত্র ৩৮ রান। ধোনির উইকেট নেন তিনি। তাতে ২২৪ রানে থামে ৮ উইকেট হারানো ভারতের ইনিংস।

আগফানদের বিপক্ষে‌ সতর্ক বাংলাদেশ

মর্যাদার লড়াই হিসেবে বিবেচনা করেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বেশি সতর্ক থাকতে চায় বাংলাদেশ। এ ম্যাচকে সামনে রেখে ঐচ্ছিক অনুশিলনে যাওয়ার আগে একথা জানিয়েছেন মোহাম্মদ মিথুন ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হবে দু’দল।

নতুন ভেন্যু সাউদাম্পটনে এখনও অনুশিলনে নামা হয়নি টাইগারদের। তার আগেই দুশ্চিন্তা এসে ভর করেছে টাইগার শিবিরে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস আর ইনজুরির নিয়ে গুঞ্জন। সাথে সংবাদ মাধ্যমে নানামুখি কথা। তবে দলের ভেতরে এরকোনো প্রভাব পড়তে দিচ্ছেন না কেউই। প্রধান নির্বাচক আশ্বস্ত করলেন, পরের ম্যাচে পাওয়া যাবে মোসাদ্দেককে, তবে নিশ্চিত নয় সাইফুদ্দিনের খেলা।

এদিকে রেংকিং আর ক্রিকেট ঐতিহ্য সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আফগানিস্তান। তাই পঁচা শামুকে যেনো পা না কাটে তাই নিয়ে বরং বেশি সতর্ক দলের সবাই।

তবে বেশি সতর্ক হতে গিয়ে যেনো বিপদ না আসে, সেদিকে মনোযোগ রাখতেই হচ্ছে অধিনায়ক -ম্যানেজার থেকে শুরু করে সবাইকে।

ভারতকে চেপে ধরেছে আফগানরা

সাউদাম্পটনে ভারতকে ঠিকই চেপে ধরেছে আফগানিস্তান। এমনিতেই দলের ভিতরে-বাইরে নানা বিষয় নিয়ে বিপন্ন অবস্থায় দিন কাটছে আফগানদের। তাছাড়া বিশ্বকাপে পয়েন্ট তালিকায় সবার শেষে অবস্থান তাদের। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচই হেরেছে তাঁরা। এরকম পরিস্থিতিতে খেলতে নেমে ভারতকে ২২৪ রানে (৮ উইকেটে) আটকে রাখল আফগানিস্তান। আজ শনিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বিরাট কোহালি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই। প্রথমে ব্যাট করে রানের পাহাড় তুলবে টিম ইন্ডিয়া। তার পরে জাসপ্রীত বুমরা, মোহাম্মদ সামিরা দ্রুত মুড়িয়ে দেবে আফগানিস্তানের ব্যাটিং।

উল্টো আফগান-বোলাররা ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের পরীক্ষা নিলেন। পিচ মন্থর হওয়ায় তাঁদের কাজটা সহজ হয়। বল পড়ে ঠিক মতো ব্যাটে আসছিল না। শট খেলতে সমস্যায় পড়তে হয় ভারতীয়দের। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো মারকুটে ব্যাটসম্যানও পারলেন না দ্রুতগতিতে রান তুলতে। বিরাট কোহালি আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন, তখন ভারতের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৩৫ রান (৩০.৩ ওভার)। ধোনি নিজের খেলাটাই খেলতে পারলেন না। বল নষ্ট করলেন। শেষে রশিদ খানকে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হলেন। ৫২ বলে ২৮ রান করেন তিনি। কেদার যাদব ৬৮ বলে করেন ৫২ রান।

রোহিত শর্মা চলতি বিশ্বকাপে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা হয়ে গিয়েছে তাঁর। এদিন মুজিব উর রহমানের বলটাই ঠিক মতো বুঝতে পারলেন না। বলের লাইন মিস করে বোল্ড হলেন শর্মা। ভারতের রান তখন এক উইকেটে সাত। রোহিত টিকলেন মাত্র ১০ বল। রোহিত দ্রুত ফেরায় ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি ইনিংস গড়ার কাজ করেন লোকেশ রাহুলের সঙ্গে। রাহুল ৩০ রান করে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আউট হন। কোহালি ৪৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু, কোহালির ব্যাটে যখন বড় রানের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তখনই ছন্দপতন। নবির বলটা হঠাৎই লাফিয়ে ওঠে। কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন কোহালি (৬৭)। আফগান বোলাররা রীতিমতো পরীক্ষা নিচ্ছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের।

বিজয় শঙ্কর নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না। রহমত শাহের বলে এলবিডব্লিউ হন শঙ্কর (২৯)। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রশিদ খান ৯ ওভারে ১১০ রান দিয়েছিলেন। আর ভারতের বিপক্ষে ১০ ওভারে খরচ করেন মাত্র ৩৮ রান। ধোনির উইকেট নেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার কাছে ইংল্যান্ডের হার

শেষ পর্যন্ত জিতেছে শ্রীলঙ্কা। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ফেভারিট ইংল্যান্ডকে ২০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে চমক সৃষ্টি করেছে লঙ্কান সিংহরা। ২৩৩ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে ইংল্যান্ড, ৩ ‌ওভার হাতে রেখেই ২১২ রানে গুটিয়ে যায়। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে লিগ টেবিলের পাঁচে উঠে এলো শ্রীলঙ্কা। আর ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনেই রইলো ইংল্যান্ড।

২৩৩ রানের টার্গেটে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরেন ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। সপ্তম ওভারে আরেক ওপেনার ভিন্স ফিরে গেলে আরও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এমন চাপের মাঝে জো রুট ও ইয়ন মর্গান জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন। মর্গানকে ২১ রানে ফিরিয়ে জুটি ভেঙে বিপদ বাড়িয়ে দেন উদানা। ইংল্যান্ডের চাপটা আরও বেড়ে যায় ৫৭ রান করা জো রুটকে মালিঙ্গা গ্লাভসবন্দী করালে।

এত চাপের মাঝে‌ও ইংলিশরা জয়ের পথ খোঁজার চেষ্টায় ছিল বেন স্টোকস আর জস বাটলারের ব্যাটে। বাটলারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে মূলত ম্যাচটাই নিজেদের করে নেন মালিঙ্গা। পরের ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করে গেলে‌ও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেন নি। বেন স্টোকস ৮৯ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৪৭ ‌ওভারে ২১২ রানে থামে ইংলিশরা।

ম্যাচ সেরা লাসিথ মালিঙ্গা ৪৩ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। তাতে বিশ্বকাপে ৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। ডি সিলভা নেন ৩টি উইকেট।

এর আগে লিডসে, সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ফিফটিতে ৯ উইকেটে ২৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা। হেডিংলিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার ওপেনারদের ব্যর্থতার পর দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন ম্যাথুজ। সতীর্থদের ব্যর্থতায় তিনি একাই হাতে লড়াই করে গেছেন। ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন।

শুরুতে ইংলিশ পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে এলোমেলো হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৩ রানে তারা হারায় ওপেনিং দুই ব্যাটসম্যানকে। বার্বাডোসে জন্ম নেওয়া পেসার জোফরা আর্চার শুরুতে ফেরান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নেকে(১)। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ক্রিস ওকসের শিকার হন আরেক ওপেনার কুশল পেরেরা (২)।

ওই ধাক্কা অবশ্য কাটিয়ে উঠেছিল লঙ্কানরা অভিষ্কা ফার্নান্ডো ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে। দলীয় রান বাড়ানোর সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনে হাফসেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন অভিষ্কা। কিন্তু ৪৯ রানে মার্ক উডের শিকার হয়ে তিনি ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার হারায় তৃতীয় উইকেট।

এরপরই শুরু ম্যাথুজ-মেন্ডিসের প্রতিরোধ। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৭১ রানের জুটি। তাতে বড় স্কোরের সম্ভাবনা তৈরি হয় ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের। যদিও হাফসেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে কুশল মেন্ডিস ফিরে গেলে সেই সম্ভাবনা মিইয়ে যায় ধীরে ধীরে। ৬৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংসটি তিনি সাজান মাত্র ২ বাউন্ডারিতে।

শ্রীলঙ্কা আরও বিপদে পড়ে জীবন মেন্ডিস (০) মুখোমুখি প্রথম বলেই আদিল রশিদের শিকারে পরিণত হলে। পরের সময়টায় ধনাঞ্জয় ডি সিলভা (২৯) চেষ্টা করেও বেশিদূর যেতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৮তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে লড়াই চালিয়ে যান ম্যাথুজ।

শ্রীলঙ্কাকে অল্পতে আটকে রাখার পথে ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন দুই পেসার মার্ক উড ও জোফরা আর্চার। ২ উইকেট শিকার স্পিনার আদিল রশিদের। আর একটি উইকেট নিয়েছেন ক্রিস ওকস।

আইসিসির নাম বিভ্রাট

আগের ম্যাচেই ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯৪ রানের দূরন্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান লিটন দাস। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা-আইসিসি সেই লিটন দাসকে চিনতেই পারল না। বৃহস্পতিবার নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার পর তাঁকে চিনতে পারে নি আইসিসি।

ম্যাচ শুরুর দশ মিনিট পর আইসিসি-র তরফে বাংলাদেশ দলের একটি ছবি পোস্ট করা হয়। প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সেই ছবিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সার্কেল করে দাঁড়িয়ে আছেন। সার্কেলের বাইরে রয়েছেন একমাত্র মোহাম্মদ মিঠুন। অথচ মিঠুনকে, লিটন দাস বলে ভুল করলো আইসিসি। লিটন দাস দাঁড়িয়ে ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফীর ঠিক উল্টোদিকে।

পরে অবশ্য ভুল বুঝতে পারে আইসিসি। তারা সংশোধন করে‌ও নেয়। লিটন দাসের জায়গায় মোহাম্মদ মিঠুনের নাম দিয়ে ক্যাপশনে লেখা হয়, বন্ধুরা আমাকে কি তোমরা সার্কেলের ভেতরে ঢুকতে দেবে?

পরাজয়েও অনেক অর্জন বাংলাদেশের

পরাগ আরমান

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হারলে‌ও অর্জন অনেক বাংলাদেশের। নানা রেকর্ডে একাকার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। তাতে পরাজয়ের বেদনার মধ্যে‌ও এই অর্জনকেই বড় হিসেবে মানছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বৃহস্পতিরার নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েও অস্ট্রেলিয়াকে হারতে পারেনি টিম বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের হার না মানা সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ৩৩৩ তোলে বাংলাদেশ। নটিংহ্যামের এই ইনিংসটিই টাইগারদের ‌ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে, চলতি বিশ্বকাপে ‌ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের ইনিংসটিই ছিল সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার সেই ইনিংসটিকে ছাড়িয়ে যায় টাইগাররা। তার আগে অবশ্য ২০১৫ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩২৯ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের আসনে ছিল। তার‌ও আগে ২০১৪ সােল মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে ৩ উইকেটে ৩২৬ রানই ছিল সর্বোচ্চ। এরআগে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১১ সালে মিরপুরে ৬ উইকেটে ২৯৫ রানের ইনিংসটিই ছিলো সর্বোচ্চ।

মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপে এর আগে তিনবার তিনশ'র বেশি রান করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের কোনটিতেই হারেনি টাইগাররা। জয় এসেছিল প্রতিবারই। কিন্তু এই ম্যাচে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান করেও জয় পেলো না মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন টাইগার তারকা মুশফিকুর রহিম। লড়াকু সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌছান বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। শুধু সেঞ্চুরি নয়, মুশফিক বিশ্বকাপে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি‌ও খেলেন বৃহস্পতিবার। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা তার ৮৯ রানের ইনিংসটিই এতোদিন ছিলো সর্বোচ্চ। এর আগে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২০১৫) এবং সাকিব আল হাসান (২০১৯)। আগের দুইজনই করেছেন দুটি করে সেঞ্চুরি, তাও আবার পরপর দুই ম্যাচে। তবে মুশফিকের সামনে টানা দুই সেঞ্চুরি করার সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তা পারবেন কিনা সেটি জানা যাবে পরের ম্যাচেই।

৯টি বাইন্ডারি ও ১টি ছক্কায় ৯৭ বলে ১০২ রান করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন মুশফিক। তবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম শতরান করতে গিয়ে মুশফিক বল খরচ করেন ৯৫টি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্রুততম ফিফটি‌ করার রেকর্ডও গড়েন বাংলাদেশর ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ। ৫০ বলে ৫ চার আর তিন ছক্কায় ৬৯ রানে সাজঘরে ফেরার আগে মাহমুদুল্লাহ, ৪১ বলে অর্ধশত রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। এটি বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অজিদের বিপক্ষে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আর আগে, ২০১১ সালে মাহমুদুল্লাহ ৪৯ বলে ফিফটি করেছিলেন। ২০১১ সালে ৫০ বলে ইমরুল কায়েস এবং অজিদের বিপক্ষে মাহমুদুল্লাহর দ্রুততম ফিফটির দিনে ৫৪ বলে ফিফটির দেখা পান সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। তাছাড়া পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ‌ও মাহমুদুল্লাহর ১২৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি। ২০১১ সালে দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল কায়েস ‌ও শাহরিয়ার নাফিজের ১৩৬ রান এখনও সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড ধরে রেখেছে। আর দ্বিতীয় স্থানে আছে ২০০৫ সালে কার্ডিফে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে চতুর্থ উইকেটে আশরাফুল আর হাবিবুল বাশারের গড়া ১৩০ রান।

বাংলাদেশকে হারিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া

ট্রেন্ট ব্রিজ বাংলাদেশকে ৪৮ রানে হারিয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ কম খেলা নিউজিল্যান্ডকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে এলো অজিরা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৩৮২ রানের টার্গেটে নেমে মুশফিকুর রহিমের হার না মানা সেঞ্চুরি আর তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লার ফিফটিতে ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান করে টাইগাররা। এরআগে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচ সেরা ডেভিড ওয়ার্নারের দেড়শ' রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩৮১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কাছে ম্যাচ হারলেও অসাধারণ লড়াই করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ানদের পেসারদের বিপরীতে ৩৮২ রানের টার্গেট তাড়া করা, এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার মতই কঠিন। তবুও মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে বীরের মতই লড়েছে টাইগাররা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের করতালিই যেন বলে দিচ্ছে বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকায় মুগ্ধ তারাও।

অবশ্য ইনিংসের মাত্র ২৩ রানেই সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর সাকিব ৪১ তামিম ৬২ আর লিটন যখন বিদায় নেন বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৭৫। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ও মাহমুদুল্লার ঝড়ো ব্যাটিং নতুন করে আশার আলো দেখাতে শুরু করে টাইগারভক্তরা। তাদের ১২৭ রানের জুটি কাঁপিয়ে দিয়েছেলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। তবে ৫০ বলে ৬৯ রান করে মাহমুদুল্লাহর বিদায়ের পর ম্যাচের আশাটাই যেন শেষ হয়ে যায় লাল-সুবজের দলের।

তবে মুশফিক ঠিকই তুলে নিয়েছে বিশ্বকাপে প্রথম ও ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত মিস্টার ডিপেন্ডেবলের ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসে, নিজেদের দলীয় সর্বোচ্চ ৩৩৩ রান করে বাংলাদেশ।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের দেড়শ' রানের ইনিংসে ভর করে রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চের ১২১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বোলাদের ব্যর্থতার দিনে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন সৌম্য সরকার, ৫৩ রানে থাকা অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চতে বিদায় করে। দ্বিতীয় উইকেটে উসমান খাজাকে নিয়ে ১৯২ রানের জুটিতে টাইগারদের রান বন্যায় ভাসান ওয়ার্নার। ক্যারিয়ারের ষোড়শ এবং আসরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার।

মাত্র ১০ রানে সাব্বির রহমানের কল্যাণে জীবন পাওয়া ওয়ার্নারের দুর্দান্ত ইনিংস থামে ১৪৭ বলে ১৬৬ রানে। যা এবারের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। আর ৮৯ রানে সৌম্য সরকারের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন উসমান খাজা। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ৩৮১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত এই রানের পাহাড়েই চাপা পড়ে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া জয়ের স্বপ্ন।

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেবল নিজেদের সেরা খেলা নয়, জয়ের জন্য প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে পারফর্ম করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করে অজিরা মানছে লড়াইটা হবে সমানে সমানে। নটিংহ্যামের ট্রেন্টব্রিজে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বৃষ্টির কারণে ২০১৫ বিশ্বকাপ আর ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ দুটি ভেসে গেছে। তাই ২০১১ তে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইট ওয়াশ হওয়াই তাদের বিপক্ষে ওয়ানডের সবশেষ অভিজ্ঞতা। ওয়ানডেতে না হলেও ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুবাদে তাদের বর্তমান দলটি সম্পর্কে ধারণা আছে বাংলাদেশের। তাই তাদের শক্তিমত্তা জেনেই পরিকল্পনা করছে টাইগাররা।
অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা জানান, ‘অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই বিশ্বকাপে ভিন্ন দল। বড় মঞ্চে সবসময়ই ভালো করে। কালকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দলের সঙ্গে খেলা আমাদের। এখানে নিজেদের সেরাটা দেওয়া ছাড়া আর বিকল্প নেই।’

অস্ট্রেলিয়া বরাবরই বিশ্বকাপে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তাই তাদের বিপক্ষে কেবল নিজেদের সেরা খেলাটা খেললেই হবে না। অধিনায়ক, চান, অজিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে পারফর্ম করতে। মাশরাফী জানান, ‘শুধু নিজেদের সে্রাটা দিলেই চলবে না। নিজেরা শতভাগ দেওয়ার পর চাইতে হবে যেন অস্ট্রেলিয়া ৭০ ভাগের বেশি দিতে না পারে।’

এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দেখে নিজেদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনছে না অজিরা। তবে তাদের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মানছেন, বাংলাদেশের সাথে লড়াই হবে জমজমাট। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি জানান, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তাদের দলের সাকিব-সৌম্য আছে দারুণ ফর্মে। অন্যরা‌ও দলের প্রয়োজনে সাহায্য করে যাচ্ছেন। আশা করি একটি দারুণ লড়াই হবে।’

নটিংহ্যামে বৃহষ্পতিবার সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা বলা হলেও ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই, বলে জানিয়েছে সেখানকার আবহা‌ওয়া অফিস।

শীর্ষ এখন নিউজিল্যান্ড

অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা অনেকটাই নিশ্চিত করলো নিউজিল্যান্ড। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষ এখন নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টি বিঘিœত খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার দেয়া ২৪২ রানের টার্গেট অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের হার না মানা ১০৬ রানে ৩ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড।

সহজ ম্যাচকে কিভাবে কঠিণ করে জিততে হয় তারই যেনো প্রমান দিলো নিউজিল্যান্ড। ৮০ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের বিপদে ফেললেও জয় পায় নি প্রোটিয়ারা। তাতে পাঁচ ম্যাচের সবকয়টি জিতে বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন ব্ল্যাক ক্যাপরা।
২৪২ রানের টার্গেট দিয়েও যে লড়াই করা সম্ভব, তার মহড়াই যেনো শুরুতে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান বোলাররা। আগুণে বোলিংয়ে ৮০ রানেই তুলে নেন, কলিন মুনরো, মার্টিন গাপ্টিল, রস টেলর আর টম ল্যাদামের উইকেট।

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে জেমস নিশামের সাথে ৫৭ ও গ্র্যান্ডহোমের সাথে ৯১ রানের জুটি গড়েন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। গ্রান্ডহোমের বিদায়ের পর স্যান্টনারকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন উইলিয়ামসন।

এর আগে, বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনের মাঠ ভেজা থাকায় খেলা শুরু দেরিতে। তাতে ৪৯ ওভারে নামিয়ে আনা হয় খেলা। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তটি সঠিক প্রমান করেন কিউই বোলার ট্রেন্ট বোল্ট ও ফার্গুসন। দলের ৫৯ রানেই সাজঘরে ডি কক ও ডুপ্লেসিস। তবে টুর্নামেন্ট জুড়ে নির্বিষ ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করা, দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শের দিনে, হাশিম আমলাকে ৫৫ রানে ফেরান স্যান্টনার। শেষ দিকে, ভ্যান ডার ডুসেনের ৬৪ বলে অপরাজিত ৬৭ রানে ২৪১ রানের পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

হাশিম আমলার নতুন রেকর্ড

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরেকটি সাফল্যের পালক যোগ করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ব্যাটসম্যান ওপেনার হাশিম আমলা। বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ‌ওয়ানডে ক্রিকেটে আট হাজার রান করার কৃতিত্ব গড়েন। ইংল্যান্ডে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ২৫তম ম্যাচে বার্মিংহামের এজবাস্টনে আজ বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েন আমলা। আজকের ম্যাচে ওপেনার হিসেবে খেলতে নেমে ৮৩ বলে ৫৫ রান করে মিচেল স্যান্টনারের শিকার হন তিনি।

৩৬ বছর বয়সী এ ওপেনার ৫০ ওভার ফের্মেটে নিজের ১৭৬তম ইনিংসে আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ অর্জন থেকে মাত্র ২৪ দূরে থেকে ৭৯৭৬ রান নিয়ে আজ মাঠে নামেন তিনি। বিশ্বে দ্বিতীয় দ্রুততম হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে আট হাজার রানের মালিক হলেন আমলা।

দ্রুত আট হাজার রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় সবার ওপড়ে আছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এ রেকর্ড নিজের করে নিতে তিনি খেলেছেন ১৭৫ ইনিংস। মজার বিষয় হচ্ছে এ মাঠেই দুই বছর আগে আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন কোহলি।

দ্রুত আট হাজার রান (ইনিংস বিবেচনায়) :

১৭৫ : বিরাট কোহলি (ভারত)
১৭৬ : হাশিম আমলা (দ. আফ্রিকা)
১৮২ : এবি ডি ভিলিয়ার্স (দ.আফ্রিকা)
২০০ : সৌরভ গাঙ্গুলি (ভারত)
২০০ : রোহিত শর্মা (ভারত)
উল্লেখ্য, দ্রুত দুই, তিন, চার,পাঁচ, ছয় এবং সাত হাজার রানের রেকর্ড টি আছে আমলার দখলে।

অস্ট্রেলিয়াকে‌ও হারাবে বাংলাদেশ: যুব ‌ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সেমিফাইনাল তো বটেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলার‌ও সামর্থ রয়েছে বাংলাদেশ দলের। আজ বুধবার দুপুরে সাভারের শেখ হাসিনা যুবকেন্দ্রে যুব সমাবেশে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এসময় আরও বলেন, ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ দল এখন অনেক উজ্জীবিত। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অষ্ট্রেলিয়ার সাথেও টাইগাররা জয় পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, নটিংহ্যাম বাংলাদেশ দলের বেশ পরিচিত মাঠ এখানে আগে‌ও খেলেছে টাইগাররা। তাদের যে রকম সামর্থ আছে তাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেতে কোনো অসুবিধা হবে না।

বিশ্বকাপের তাপ বুঝছে আফগানিস্তান

ম্যানচেস্টারে আফগানিস্তানকে দেড়শ’ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো ইংল্যান্ড। ৩৯৮ রানের কঠিন টার্গেট দিয়ে আফগানিস্তানকে ২৪৭ রানেই থামায় ইংলিশরা। এর আগে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক ইয়ন মরগানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রান করে স্বাগতিকরা।

বিশ্বকাপ যে কতটা কঠিন, তা ক্রমেই বুঝতে পারছে নবাগত আফগানিস্তান। নিজেদের পঞ্চম ম্যাচ শেষেও কোন পয়েন্ট না পাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত তাদের। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে স্বাগতিকরা। ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথে সবার আগে ইংলিশরা।

অবশ্য টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডকে জয়ের ভিত গড়ে দেন ব্যাটসম্যানরাই। দলীয় ৪৪ রানে জেমস ভিন্সকে হারালেও ১২০ রান যোগ করে বেয়ারস্টো এবং জো রুট দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। রুট ৯০ এবং বেয়ারস্টোর ৮০ রানে বিদায়ের পর আফগান বোলারদের উপর ঝড় বইয়ে মাত্র ৫৭ বলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার হাঁকান ইয়ন মর্গান। নিজের দুর্দান্ত ইনিংস শেষ করেন ১৪৮ রানে। বিশ্বকাপে এক ইনিংসে ১৭ ছক্কার নতুন রেকর্ড, মর্গানের। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায়, ৬ উইকেটে ৩৯৭ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশদের রানের বোঝা সামলাতে পারেনি আফগানরা। মাত্র ৪ রানে জাদরানের উইকেট হারানোর পর ১০৪ রানে ৩ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। হাসমত উল্লাহ শাহিদির ৭৬ রানেই যা একটু লড়াই করেছে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৪৭ রানেই থামে আফগান ইনিংস। জফরা আর্চার ও আদিল রশিদ নেন তিনটি করে উইকেট। আর এই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপে শুধুমাত্র সমীকরণের হিসেবেই টিকে থাকলো আফগানিস্তান।

বাংলাদেশে ধরাশায়ী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরিতে, টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে শেই হোপ, হেটমায়ার আর এভিন লুইসের হাফসেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ৩২১ রান তোলে ক্যারিবীয়রা। জবাবে, ম্যাচ সেরা সাকিবের অপরাজিত ১২৪ আর লিটন দাসের ৯৪ রানে ৫১ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

চোখ ধাধানো, অনিন্দ কিংবা অসাধারণ, কোনো বিশেষণেই যেনো পূর্ণতা পায় না এই জয়ের রূপ বিশ্লেষণ। আর জয়ের মুকুটটা তো তাকেই মানায়, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের মুুুুকুট যার মাথায় আরো বহু আগে থেকেই।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গেলো বিশ্বকাপেও ঠিক ৩২২ রান তাড়া করেই জয় পেয়েছিলো টাইগাররা। তাই এ ম্যাচেও একই লক্ষ্যটা তাদের কাছে অজেয় ছিলো না। সৌম্য-তামিমের ব্যাটে সে পথের শুরুটাও দুর্দান্ত। যদিও নবম ওভারেই সৌম্যের বিদায়ে কিছুটা হোঁচট।
তবে সেই ধাক্কাতেই যেনো আরো জেগে ওঠে বাংলাদেশ। যার নেতৃত্বে সাকিব আল হাসান। মাত্র ৯৯ বলে ১৬ বাউন্ডারিতে সাজানো তার ইনিংসটির কল্যাণে ক্যারিবীয়দের গড়া ৩২১ রানকেও মামুলিই মনে হয়েছে।

পঞ্চম ম্যাচে এসে একাদশে সুযোগ পেয়ে লিটনও যেনো নিয়েছেন পরিস্থিতির সবটুকু সুবিধা। মাত্র ৬৯ বলে ৯৪ রান করে তাকে সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশায় পুড়তে হয়েছে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ায়। আট বাউন্ডারির সাথে চারটি ছক্কায় এই ডানহাতি যেনো নিজের সামর্থ্যকে আরো একবার চেনালেন। তাতে ৫১ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বিশাল জয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্তভাবে টিকে রইলো মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল।

এর আগে মাশরাফির টস জিতে ফিল্ডিং নেয়াকে যথার্থই মনে হচ্ছিলো শুরুতেই ডেঞ্জারম্যান ক্রিস গেইলকে বিদায় করায়। রানের খাতা খোলার আগেই সাইফুদ্দিনের শিকার এই বাঁহাতি। সাইফুদ্দিনের সাথে অধিনায়ক মাশরাফী নিয়ন্ত্রিত আর আগুন ঝরা বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানদের রানের রাশটা টানা ছিলো বাংলাদেশের হাতেই।

তিন অঙ্কের পৌঁছাতে তাদের লেগে যায় ২৩ ওভার। কিন্তু এরপরেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন শেই হোপ। এভিন লুইস আর শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে দুটি জুটি গড়ে দলকে রানের পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান তিনি। হেটমায়ার ঝড়ের পর অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডারের তান্ডবে বাংলাদেশের ঘাড়ে সাড়ে তিনশোর বেশি রানের বোঝা চাপানোর শঙ্কা জাগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শেষ দিকে, মুস্তাফিজের ম্যাজিক বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে অজেয় ভারত

খেলা শুরুর আগের হুঙ্কার কিংবা বৃষ্টি কোনোকিছুই পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকাতে পারলো না। বিশ্বকাপে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলো টিম ইন্ডিয়া। তাতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে অজেয়ই থাকলো ভারত। এই নিয়ে সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়ে সাতবারই জয় তুলে নিল ভারত। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সরফরাজ আহমেদের দলকে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে ৮৯ রানে পরাজিত করে বিরাট কোহলির দল ভারত।

বৃষ্টি বিঘ্নিত বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৩৬ রান তোলে৷ দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন রোহিত শর্মা। তাঁকে সঙ্গ দিয়ে ফিরটি করেন লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৩৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান তোলার পর বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে খেলা শুরু হওয়ার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২ রান। অর্থাৎ বাকি ৫ ওভারে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৬ রান করতে হত সরফরাজের দলকে।

ভারতের জয় কার্যত তখনই নিশ্চিত হয়ে যায়। নিয়মরক্ষার শেষ পাঁচ ওভার ব্যাট করে পাকিস্তান কোনও উইকেট না হারিয়ে ইনিংসে আরও ৪৬ রান যোগ করে। ৪০ ওভারে ৬ উইকেটে তাদের সংগ্রহ থামে ২১২ রানে।

ফখর জামান, বাবর আজম ও ইমাদ ওয়াসিম পালটা লড়াই চালালেও বাকিরা পুরোপুরি ব্যর্থ। দুই অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর ও হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উইকেট তোলেন ‘চায়নাম্যান’ কুলদীপ যাদব।

এর আগে টসে হেরে, ভারতের হয়ে ওপেন করতে নেমে লোকেশ রাহুল ৭৮ বলে ৫৭ রান করেন। রোহিত শর্মা ১১৩ বলে ১৪০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। উদ্বোধনী জুটিতে দু’জনে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে বিরাট কোহলি ৬৫ বলে ৭৭ রান করে ক্রিজ ছাড়েন। হার্দিক পান্ডিয়া ১৯ বলে করেন ২৬ রান। পাকিস্তানের হয়ে ৪৭ রানে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির।

পাকিস্তান ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার ইমাম উল হকের উইকেট হারায়। প্রথমবার বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নেমে প্রথম বলেই ইমামের উইকেট তুলে নেন বিজয় শঙ্কর। বাবর আজম ৪৮ ও ফখর জামান ৬২ রান করে কুলদীপের শিকার হন। ইমাদ ওয়াসিম ৪৬ ও শাদব খান ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

ভারতের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন বিজয় শঙ্কর, হার্দিক পান্ডিয়া ও কুলদীপ চাহাল। রেকর্ড গড়া দুরন্ত শতরানের সুবাদে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন রোহিত শর্মা৷

অজিদের লঙ্কা জয়

অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের দূর্দান্ত ১৫৩ রান, আর স্টিভ স্মিথের অনবদ্য ৭৩ রানে ভর করে ওভালে শ্রীলঙ্কাকে হারালো অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটের পর বল হাতে মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে বাজিমাত করে অজিরা। তাতে শ্রীলঙ্কাকে ৮৭ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলো ক্যাঙ্গারুরা।

শনিবার ওভালে টস জিতে প্রথমে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করতে পাঠান লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথে করুনারত্নে। ব্যাট হাতে শুরুতেই ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারোন ফিঞ্চ জুটি অস্ট্রেলিয়াকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। ওয়ার্নার ২৬ আর উসমান খাজা ১০ দ্রুত ফিরে যান ধনঞ্জয় ডি’সিলভার বলে।

এরপর অস্ট্রেলিয়াকে বড় রান তুলতে সাহায্য করেন ফিঞ্চ-স্মিথ জুটি। ১৩২ বলে ১৫৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন ফিঞ্চ। ১৫টি চার ও ৫টি ছ্ক্কায় সাজানো অজি অধিনায়কের ইনিংস। স্মিথ ফিরে যান ৭৩ রান করে। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল শেষ দিকে ২৫ বলে অপরাজিত ৪৬ রানের ইনিংস খেললে, ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কার হয়ে ধনঞ্জয় ডি’সিলভা ও ইসরু উদানা ২টি করে উইকেট নেন।

৩৩৫ রানের টার্গেট নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটাও ভালো করেছিলেন অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে আর কুশল পেরেরা। ওপেনিং জুটিতে ১১৫ রান তোলেন তারা। কিন্তু ৫২ রানে স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেন পেরেরা। এরপর থেকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক করুণারত্নেও ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেন। ৯৭ রানে আউট হন তিনি। কুশল মেন্ডিস ৩০ রানে আর কেউ বড় রান করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২৪৭ রানে অল আউট হয় শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক ৪টি ও কেন রিচার্ডসন ৩টি উইকেট পান।

ভারতের কাছে হারের পর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে এখন অস্ট্রেলিয়া। ৫ ম্যাচে অজিদের পয়েন্ট এখন ৮।

ভারত-পাকিস্তান মহারণ আজ

বিশ্বকাপে আজ ভারত-পাকিস্তান মহারণ। বিরাট কোহলিরা চাইছেন বিশ্বকাপে পাকিস্তানীদের বিপক্ষে অপরাজেয় থাকার রেকর্ডটা আরো বাড়িয়ে নিতে। আর সরফরাজ আহমেদরা ভারতকে হারিয়ে পরাজয়ের গন্ডি থেকে বের হতে চান। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডের এই ম্যাচে ভারত-পাকিস্তানকে ছাপিয়ে জিতে যেতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস তেমনটাই জানিয়েছে। আজ রোববার ম্যানচেস্টারে খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই খেলারও অধিক। বাইশগজে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের লড়াই নিয়ে উত্তেজনার পারদ বরাবরই বাড়তি থাকে। বিশ্বকাপে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছে হারেনি ভারত। ছয়বারের প্রতিটিতেই জিতেছে তারা। আর হেরেছে পাকিস্তানীরা। তবে দু’বছর আগে এই ইংল্যান্ডে ভারতকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। এদিকে, শিখর ধাওয়ানের ইনজুরি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকেই। আর এই ম্যাচে যারা স্নায়ুর চাপ জয় করতে পারবে, তারাই বাজিমাত করবে বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, বিশ্বকাপে বেশ চাপেই আছে পাকিস্তান। চার ম্যাচে জয় মাত্র একটিতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টির কল্যাণে এক পয়েন্ট পাওয়া। এবারও পাকিস্তানের বড় তারকা মোহাম্মদ আমির। তার পেস-আগুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পুড়েছিল ভারতের ব্যাটিং। সেই সাথে প্রতিপক্ষের উপর আগুণের গোলা ছোঁড়ায় ওয়াহাব রিয়াজেরও জুড়ি মেলা ভার।

বারব আজম, ইমাম উল হক-রা বলের সাথে ব্যাটের সংযোগটা ঠিকমতো করতে পারলে, বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ইতিহাসটা পাল্টেও যেতে পারে। তবে এই মহারণের আগে ম্যাঞ্চেস্টারে ভারত-পাকিস্তানকে ভয় দেখাচ্ছে বৃষ্টির চোখ রাঙানি।

গুরুতর নয় মুশফিকের ইনজুরি

ইনজুরিতে পড়লেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই পুরোপুরি ফিট মুশফিকুর রহিমকে পাওয়া যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশী ওপেনার তামিম ইকবাল।

টনটনে সকালে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় ডান হাতের ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের নির্ভরশীল ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

তার ডান হাতের কবজিতে বলের আঘাতের সাথে সাথেই মাঠ ছাড়েন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। তবে তামিম ইকবাল জানিয়েন মুশফিকুর রহিমের ইনজুরি খুব বেশী গুরুতর নয়। খুব শিগগিরই অনুশীলনে ফিরবেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

টনটন স্টেডিয়ামের কথা

চলতি বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচের ভেন্যু টনটনের সামারসেট কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। ১৩৭ বছর আগে ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই স্টেডিয়ামটিতেই বাংলাদেশ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচ।

১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্টেডিয়ামটি সমারসেট কাউন্টি ক্রিকেট দলের নিজস্ব মাঠ। ১৩৭ বছরের ইতিহাসে বহু রেকর্ড গড়াÑভাঙা হলেও আন্তজাতিক ক্রিকেট হয়েছে মাত্র পাঁচটি। তাও আবার ১৯৮৩, আর ১৯৯৯ বিশ্বকাপ মিলে যেখানে ম্যাচ সংখ্যা ছিলো তিনটি, সেখানে এবারের বিশ্বকাপেই সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলা হচ্ছে।

আকৃতিতে ছোট এই স্টেডিয়ামটির পাশে অত্যাধুনিক কিছু আবাসিক ভবন গড়ে ওঠায় তা এখন হয়ে উঠেছে স্টেডিয়াম সৌন্দর্য্যরে বড় অংশ। তবে এ স্টেডিয়ামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এর পাশ ঘেঁষে থাকা সেন্ট জেমস চার্চটি। বলা হয়, দিন রাতের ম্যাচে অনেক সময়ই খেলোয়াড়রা স্টেয়িামের ফ্লাড লাইটের আলোর চার্চের মিনারের আলোকে মিলিয়ে দ্বিদায় পড়েন।

এই স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা মাত্র সাড়ে আট হাজার। বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচকে সামনে রেখে মাত্র চার মাষ আগেই সেখানে বসেছে অত্যাধুনিক ফ্লাড লাইট। টানা বারো মৌসুম সমারসেটের হয়ে খেলা ইংলিশ কিংবদন্তী অলরাউন্ডার স্যার ইয়ান বোথামের নামে আছে পৃথক একটি স্ট্যান্ড। এ পর্যন্ত হওয়া পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের চারটিতেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছে সম্প্রতি কপার অ্যাসোসিয়েটস স্টেডিয়াম নামকরণ হওয়া স্টেডিয়ামটি। অনেকটা চতুষ্কোণ গড়ণের এই স্টেডিয়ামটিই ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পঞ্চম ম্যাচের ভেন্যু।

বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি

বৃষ্টিতে ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ পন্ড হতে পারে এই পূর্বাভাস ছিলো আগেই। সেটাই হল। আজ বৃহস্পতিবার এক বলও খেলা হল না। এমন কি টসটা‌ও হতে পারে নি। পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দেওয়া হল ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে। ফলে বল হাতে ট্রেন্ট বোল্টের ঝলকানি দেখা গেল না। হতাশ হলেন কোহালি-ভক্তরাও। ভারত অধিনায়কের ব্যাট কথা বলার সুযোগই পেল না। আপাতত চোখ ম্যানচেস্টারে। কারণ আগামী রোববার সেখানেই বিশ্বকাপের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত।

এটা নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে বৃষ্টির জন্য চতুর্থ ম্যাচ ভেস্তে গেল। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন রিজার্ভ ডে রাখা হল না? এ নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে আইসিসি-কে। জবাবে আইসিসি প্রধান ডেভ রিচার্ডসন জানিয়েছেন, ‘এই ক্রিকেট বিশ্বকাপ রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের হওয়ায় এমনিতেই টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য বেড়ে গেছে। তার উপরে আলাদা করে গ্রুপ লিগের জন্য রিজার্ভ ডে রাখলে বিশ্বকাপের দৈর্ঘ্য আরও বাড়তো এবং সেটা এই টুর্নামেন্টকে আরও জটিল করে তুলতো।’

গত কয়েকদিন ধরেই নটিংহ্যামে চলছে বৃষ্টি। এদিন নটিংহ্যামে এই বৃষ্টি থামছে তো বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। একাধিক বার মাঠ পর্যবেক্ষণ করলেন আম্পায়াররা। শেষমেশ স্থানীয় সময় দুপুর তিনটেয় ঘোষণা করে দেওয়া হল ম্যাচ আর হচ্ছে না। কোহালি বলেন, ‘আউটফিল্ড ভারী, সেই কারণে ম্যাচ বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একদম সঠিক।’ এখনও পর্যন্ত ভারত ও নিউজিল্যান্ড একটি ম্যাচও হারেনি বিশ্বকাপে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় এখনই তার প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন কোহালি।

স্পিনারদের পারফরমেন্সে খুশি বাংলাদেশের স্পিন কোচ সুনীল যোশী

বিশ্বকাপের উইকেট আর কন্ডিশন তুলনায় বাংলাদেশের স্পিনারদের পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট দলের স্পিন কোচ সুনীল যোশী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা দুইদিনের ছুটিতে থাকলেও কোচ মনে করেন তাদের শারীরিক আর মানসিক প্রস্তুতির জন্য তা অনেক কাজে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

যে কোনো পরিস্থতি বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তাদের স্পিন আক্রমণ। তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সাথে এবারের গ্রীষ্মের বৃষ্টি মিলে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে সাকিব-মিরাজ-মোসাদ্দেকরা। তারপরও গেলো তিন ম্যাচে রান খরচার সাথে উইকেট তুলে নেয়ার তুলনামূলক বিবেচনায় দারুণ ধারাবাহিক তারা। তাই এ পর্যন্ত শিষ্যদের পারফরমেন্সে খুশি দলের স্পিন বোলিং কোচ। সুনীল যোশী বলেন, টানা ম্যাচ খেলে বেশ পরিশ্রান্ত দলের খেলোয়াড়রা। দুইদিনের বিশ্রাম তাদেরকে অনেক ফ্রেশ করে দেবে। তখন নতুন উদ্দমে মাঠে নামবে তারা। এই বিরতিটা খেলোয়াড়দের জীবনী শক্তি আরো বাড়িয়ে দেবে।

তবে পরের ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হওয়ায় স্বস্তির সুযোগ নেই। কারণ ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা যে টাইগার স্পিনে ভিত হবে না, তা তো জানাই। বাংলাদেশের স্পিন কোচ জানান, তাদের মধ্যে ব্যাটিং কম্বিনেশনটা খুব ভালো। তবে আমরা সতর্ক। আর ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সম্প্রতি আমরা খেলে এসেছি। সুতরাং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ছেলেরা বিষয়টি ভালোভাবেই জানে। তাছাড়া এখনকার মাঠ তুলনামূলকভাবে ছোটো। তাই আমরা পরিস্থিতি বুঝে মাঠে কাজ করবো।

খুব অল্প ব্যবধানে টানা ম্যাচ খেলতে হওয়ায়, ছোটখাট ইনজুরি থেকে ছন্দ ফিরে পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিলো না। তা এবার ফিরে পাওয়ার সাথে সাথে, দুদিনের ছুটিতে মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠারও সুযো পাবেন ক্রিকেটাররা বলে মনে করেন এই ভারতীয়।

লন্ডনি ঝালমুড়ি

বিশ্বকাপের সঙ্গে সঙ্গে আড্ডাবাজ বাঙালির প্রাণের খাবার ঝালমুড়ি‌ও ইংল্যান্ড মাতিয়ে বেড়াচ্ছে। এই ঝালমড়ি মনের প্রশান্তি মেটালে‌ও পকেটের অবস্থা কিন্তু কাহিল করে দিচ্ছে। এক ঠোঙা ঝালমুড়ির দাম ১০ পাউন্ড। অর্থাত বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১১০০ টাকা!

অবশ্য মুখরোচক এই খাবারের লোভে পকেটের কথা থোড়াই তোয়াক্কা করছে লোকজন। ভিড় জমাচ্ছেন সেই ঝালমুড়ি খেতে। লাইন পড়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ বিক্রেতা মিস্টার অ্যাঙ্গাস হাসিমুখে একের পর এক খদ্দেরকে ঝালমুড়ি খাওয়ে বিদায় করছেন। কেনিংটন ওভাল স্টেডিয়ামের বাইরে কোট-প্যান্ট ও মাথায় একখানা চেক টুপি পরে তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের কাছে মিস্টার অ্যাঙ্গাস যেন আলাদা এক আকর্ষণ হয়ে উঠছেন।

তিনি জানান, বেশ কয়েক বছর আগে কলকাতায় এসেছিলেন, পেশায় রাঁধুনি মিস্টার অ্যাঙ্গাস। বাঙালি খাবার-দাবারের স্বাদ-গন্ধে তিনি মোহিত হয়েছিলেন। এই শহর থেকে ফিরে তিনি ঝালমুড়ির স্টল দেন। তবে তাঁর স্টলের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। কখনও এখানে, তো কখনও ওখানে। স্টলের স্থাযী ঠিকানা নেই ঠিকই। তবে তাঁর স্টল ঘিরে ভিড় আছে প্রচুর। মিস্টার অ্যাঙ্গাস-এর ঝালমুড়ি খেতে হাসিমুখে লাইন দেন সাহেব-মেমসাহেবরা‌ও।

মিস্টার অ্যাঙ্গাস-এর ঝালমুড়ি এক্সপ্রেস এখন জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৌজন্যে তাঁর ঝালমুড়ি বিক্রির একটি ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে। দেখে মনে হবে, কোনও গ্রামের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন তিনি। শশা-পেঁয়াজ কাটা রয়েছে একটি পাত্রে। প্লাসটিকের মগে রাখা জিনিসপত্র। টক জল দিচ্ছেন মুড়িতে। সঙ্গে মশলা‌ও। কাগজ মুড়িয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন ঠোঙা। তারপর মুড়ি মেখে হাতা দিয়ে তুলে দিচ্ছেন সেই ঠোঙায়। হাসতে হাসতে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ঝালমুড়ি। ওভাল স্টেডিয়ামের বাইরে তিনি যতক্ষণ থাকেন, ভিড় জমে থাকে স্টলের সামনে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড ম্যাচ কাল

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কাল হট ফেবারেট ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চলতি আসরে দু’দলই একটি করে হারের স্বাদ পেয়েছে। তিন ম্যাচে দুটি জয় এবং একটি হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে ইংল্যান্ড। আর সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠস্থানে ক্যারিবিয়ানদের অবস্থান। সাউদাস্পটনে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হবে দু’দল।

এবারে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বিপদজনক দল বলা হয় ইংল্যান্ডকে। জেসন রয়, জো রুট, অধিনায়ক ইয়ন মর্গান, জস বাটলাদের ব্যাটিং লাইনআপের সামনে তিনশ’ বা ততোধিক রান মোটেই নিরাপদ নয়। এবারে বিশ্বকাপে সর্বোচ রান ৩৮৬ স্বাগতিকদের, আগের ম্যাচেই বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছে। ব্যাটিং-বোলিং কিংবা ফিল্ডিং, তিন ফরমেটেই ইংলিশদের পারফরমেন্স দূর্দান্ত। জোফরা আর্চার, ক্রিস ওকস, মার্ক উড আদিল রশিদের বোলিংয়ের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে গেইল-রাসেল-হোপদের। আর ব্যাটিংয়ে রয়, মর্গান, বাটলারাতো পরীক্ষিতই।

এদিকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্থানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছিলো দু’বারে চ্যাম্পিয়ন ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্থানের দেওয়া ১০৬ রানের টার্গেট ৭ উইকেট হাতে রেখে সহজ জয় পায় তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে অজিদের বিপক্ষে শুরতেই আগুনে বোলিং করেও শেষ পর্যন্ত ক্যারিবিয়নরা ১৫ রানে হেরে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত হয়। ফলে ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে আবস্থান জেসন হোল্ডারের দলের।

বিশ্বকাপ শুরু আগে প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডর বিপক্ষে চারশ’র (৪২১) উপরে রান করেছিলো ক্যারিরিয়ানরা। শাই হোপ, ক্রিস গেইল, এন্ড্রু রাসেলের ব্যাটিং ঠিক মত কথা বললে উড়তে থাকা ইংলিশদের মাটিতে ফেলতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এদিকে, বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে খানিকটা এগিয়ে ইংল্যান্ড। দু’দলের ছয়বারের দেখায় পাঁচটিতে জিতেছে ইংলিশরা। তবে এই আসরে তৃতীয় জয় নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষই থাকতে চাইবে ইংল্যান্ড। তাতে করে বিশ্বকাপের অন্যতম এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়াবে নি:সন্দেহে।

বাংলাদেশ এখন টনটনে

বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে ব্রিস্টল থেকে টনটনে পৌছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ক্যারিবিয়দের ম্যাচের আগে লম্বা বিরতি থাকায় দুই দিনের ছুটি দেয়া হয়েছে টাইগারদের।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে আবারও একসাথে অনুশীলনে সামবে মাশরাফী বিন মুর্তজার দল। চার ম্যাচ খেলে এক জয় আর এক ড্রয়ে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের নিচের দিকেই আছে বাংলাদেশ।

শেষ চারে টিকে থাকতে হলে ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে জয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ন টাইগারদের। আগামী ১৭ জুন নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের পরাজয়

আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পারলো না পাকিস্তান। অজিদের কাছে ৪১ রানে হেরে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের রাস্তাটাই কঠিন করে ফেললো পাকিস্তান। চার ম্যাচে সরফরাজ আহমেদের দলের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। আর সমান ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৬।

টনটনে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। দারুণ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার প্রথম উইকেটে ১৪৬ রান তোলেন। ফিঞ্চ ৮২ ও ওয়ার্নার ১০৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

এর পর কিছুটা হলেও ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। একসময়ে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া সাড়ে তিনশ’র কাছাকাছি রান তুলে ফেলবে। তবে শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভারে ৩০৭ রানে অলআউট হয়ে যায় অজিরা।

রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই ফকর জামানের উইকেট হারালেও ইমাম উল হক ৫৩ ও বাবর আজম ৩০ রান করে ম্যাচকে জয়ের পথেই রাখেন। তবে মোহাম্মদ হাফিজ ৪৬ রানে ফিরতেই দেড়শ’ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। এক সময়ে ১৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দুশ’ রানে অলআউটের শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। পরে হাসান আলী ১৫ বলে ৩২ রান করে লাইফলাইন দিয়ে যান পাকিস্তানকে।

ক্রিজে তখনও ছিলেন অধিনায়ক সরফরাজ। ওয়াহাব রিয়াজও শেষদিকে ৩৯ বলের ঝড়ে ৪৫ রান করেন। রিয়াজ যখন খেলছিলেন তখন মনে হচ্ছিল, হয়ত অসাধ্য সাধন করেও ফেলতে পারে পাকিস্তান। তিনি আউট হতেই ২৬৬ রানে গুটিয়ে যায় সরফরাজের দল। তাতে ৪১ রানে পরাজয় মানে পাকিস্তান।

ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ আজ

বিশ্বকাপে দুই অপরাজেয় দল ভারত ও নিউজিল্যান্ড লড়াই আজ। বিশ্বকাপে ভারত টানা দুই জয় পেলেও কিউইদের কাছে এসে পরাজয়ের পুরনো বেদনাটা মনে পড়ার কথা বিরাট কোহলির। প্রস্তুতি ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরেছিল তারা নিউজিল্যান্ডের কাছে। আর কিউইরাও চাইছে নিজেদের অপরাজেয় থাকার রেকর্ডটি ধরে রাখতে। আজ বৃহস্পতিবার নটিংহ্যামে খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।

শুধু প্রস্তুতি ম্যাচে পরাজয়ের প্রতিশোধই নয়, নটিংহ্যামের এই ম্যাচটি ভারতকে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে দেওয়ার- বিশ্বকাপে অপরাজেয় থাকার। তবে ওপেনিং নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বিরাট কোহলির কপালে। আঙুলের হাড়ে চিড় ধরায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা শিখর ধাওয়ান।

তাছাড়া টিম ইন্ডিয়াকে মাথায় রাখতে হচ্ছে হেনরি-নিসামের সুইং আর ফার্গুসনের গতির কথাও। এখনো পর্যন্ত উইকেটে শিকারে তারা তিনজনই যে আছেন শীর্ষ পাঁচে।

এদিকে, কেন উইলিয়ামসন, রস টেলর আর কলিন মুনরোদের উইলো ঝড়ে, জয়ের মধ্যেই আছে নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সবার উপরে এখন লকি ফার্গুসন। নিজের ২৮তম জন্মদিনে ভারতকে হারিয়ে দেশের জন্য আরো একটি জয়ই চাইছেন তিনি। আর ভারতকে বাউন্সারে কুপোকাত করার কথা তো আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন ফার্গুসন।

এদিকে, ম্যাচে আবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায়না। নটিংহ্যামের আবহাওয়া অফিস তেমনই ইংগিত দিয়ে রেখেছে।

আয় বৃষ্টি ঝেপে পয়েন্ট দেবো মেপে

পরাগ আরমান

এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপটি হয়ে উঠেছে যেনো ‘আয় বৃষ্টি ঝেপে পয়েন্ট দেবো মেপে’-র মতো অবস্থা। বৃষ্টিতে কাবু হয়ে গেছে এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ। ব্রিস্টলে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ ম্যাচ। এই নিয়ে তিনটি খেলা পরিত্যাক্ত হয়ে গেলো বৃষ্টিতে। এসব কারণে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, টুর্নামেন্টে প্রথম দ্বিতীয় হওয়ার ক্ষেত্রে বৃষ্টি নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

বৃষ্টির কবল থেকে মুক্তি পায়নি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটিও। ব্রিস্টলে সেই ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টির তোড়ে। ওয়ানডেতে উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি জিতেছে বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপে নিজ মহাদেশের প্রতিপক্ষদের মধ্যে কেবল লঙ্কানদের বিপক্ষেই কোনো জয় পায়নি টাইগাররা। তিন ম্যাচের সবক’টিতেই হেরেছে। এই পরাজয়ের অচলায়তন ভাঙার জন্যই পণ করেছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার শিষ্যরা। কিন্তু বৃষ্টির বাধায় সেটা হয়ে ওঠেনি। বারবার আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিল বৃষ্টি। তাতে ম্যাচই আয়োজন করা যায়নি।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন করে তা খেলার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় দু’দলই একটি পয়েন্ট করে ভাগাভাগি করে নেয়। ফলে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করার জন্য বাংলাদেশকে আরো চার বছর অপেক্ষায় থাকতে হলো। এই ম্যাচ না হওয়ায়, চার খেলায় এক জয় আর দুই পরাজয় ও এক ম্যাচ পরিত্যাক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে হলো ৩। আর সমান ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে পরিত্যক্ত হলো তিনটি ম্যাচ।

এর আগে ব্রিস্টলে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটিও পরিত্যক্ত হয়। গত শুক্রবার সেই ম্যাচে টস করাও সম্ভব হয়নি। যদিও খুব বেশি বৃষ্টি ছিলনা তথাপি ধীর লয়ের বৃষ্টির কোনো থামাথামির লক্ষণ দেখা যায়নি। সারক্ষণই বৃষ্টি ঝরছিলো। সাড়ে পাঁচ ঘন্টার মতো সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে মাঠ পরিদর্শন করেন আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড ও নাইজেল লং। কিন্তু ম্যাচ শুরু করার কোনো সম্ভাবনা না দেখে ম্যাচ পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন। তাতে পাকিস্তানের কাছে আরো একটি সমূহ পরাজয়ের হাত থেকে বেঁচে যায় শ্রীলঙ্কা। কারণ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে অনেকবার পরাজয়ের স্বাদ পাইয়ে দিলেও বিশ্বকাপে কখনো হারাতে পারেনি লংকান সিংহরা। ব্রিস্টলে লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার আগে সাতটি বিশ্বকাপের ম্যাচে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কখনোই জয় পায়নি শ্রীলঙ্কা। ব্রিস্টলের বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে আসে শ্রীলঙ্কার কাছে। ফলে বিশ্বকাপে অষ্টম পরাজয় নয়, উল্টো এক পয়েন্ট পায় তারা।

এর আগে, বৃষ্টির কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটিও পরিত্যাক্ত হয়। সেই ম্যাচটি ছিলো (১০ জুন) সাউদাম্পটনে। তবে ৭ ওভার তিন বল খেলা হয়েছিল। তারপর বৃষ্টিতে আর খেলা চালানো সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে টসে হেরে দক্ষিণ আফ্রিকা ২ উইকেটে ২৯ রান করেন। এই সব কারণে চলতি বিশ্বকাপকে কেউ কেউ আবার ‘বৃষ্টি কাপ’ বলেও ঠাট্টা-মশকরা করছেন।

বৃষ্টিতে পয়েন্ট হারালো বাংলাদেশ

ব্রিস্টলে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন করে তা খেলার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় দু’দলই এক পয়েন্ট করে পাবে।

তাতে চার ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে হলো ৩। আর সমান ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে পরিত্যক্ত হলো তিনটি ম্যাচ।

বিশ্বকাপ শেষ ধা‌ওয়ানের

আশঙ্কটাই সত্যে পরিণত হলো। বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারত। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন শিখর ধা‌ওয়ান। গত রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন শিখর ধাওয়ান। অজি ম্যাচে ধাওয়ানের চোট পাওয়া বাঁ-হাতের বুড়ো আঙুলের স্ক্যানের পর দেখা যায় আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তাঁর সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই। তাই ধাওয়ান চলতি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন। সেঞ্চুরি করা কোনও ব্যাটসম্যানকে বিশ্বকাপের মাঝে এভাবে হারানো বেশ বড় ধাক্কা বিরাট কোহলির দলের জন্য।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১৭ রানের ইনিংসের পর আর মাঠে নামতে পারেননি ধাওয়ান। তাঁর জায়গায় পঞ্চাশ ওভারই ফিল্ডিং করেন রবীন্দ্র জাদেজা। আগামী বৃহস্পতিবার নটিংহ্যামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ধাওয়ানের পরিবর্তে প্রথম একাদশে নেয়া হয়েছ রিশভ পান্টকে। ওপেনার হিসেবে রোহিত শর্মার সঙ্গে দেখা যেতে পারে লোকেশ রাহুলকে।

ধাওয়ান-রোহিতের ওপেনিং জুটিটা চলতি বিশ্বকাপে ভারতের বড় অস্ত্র ছিল। এশিয়া কাপ থেকে বিদেশের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্যের পিছনে ধাওয়ান-রোহিতের ওপেনিং জুটির বড় ভূমিকা ছিল। এখন আবার কোহলিকে নতুন ওপেনিং কম্বিনেশনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

এবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা

অদৃষ্টের কী নির্মম পরিহাস, যে বাংলাদেশকে জেতানোর জন্য কিছুদিন আগে‌ও প্রাণান্ত চেষ্টা করতেন হাতুরাসিংহে- সেই হারতুরাই এবার বাংলাদেশকে হারানোর জন্য ছক কষবেন। তাছাড়া নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম টুইট করেছিলেন, এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ একটি ম্যাচ জিতবে। প্রথম ম্যাচেই জিতে গেছে। কিন্তু ম্যাককালাম যে দলটির বিপক্ষে জেতার কথা বলেছিলেন, সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এ ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে বাংলাদেশ। তাছাড়া বর্তমানে শ্রীলঙ্কা দলটিও বেশ নড়বড়ে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে উড়ে গেছে লংকানরা। বৃষ্টি আইনে জিতলে‌ও আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ভাল কিছু করতে পারেনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। তাতে করে বাংলাদেশের ভাল সম্ভাবনাই দেখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে। অসাধারণ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪৪ রান করার পরও লড়াই করেছে। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে তাতে দলের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস কিংবা, মানসিকতায় কিছুটা চিড় ধরে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা এর আগে ৪৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে। ৭টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ৩৬টিতে জয় পায় শ্রীলঙ্কা। ২টি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। তবে সবশেষ ৬ ওয়ানডেতে দুই দলেরই জয়-পরাজয় সমান। তাতেই বোঝা যায়, বর্তমান সময়ে দুই দলই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অবস্থানেই আছে। কখনও বাংলাদেশ, কখনও শ্রীলঙ্কার দিন যায়। তবে বিশ্বকাপে আবার শ্রীলঙ্কাকে কখনই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে লড়াই করে হারে বাংলাদেশ। তবে তিলকারত্নে দিলশান, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনেদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ছিলেন। যারা দলকে সবসময়ই আগলে রাখতেন। এখন শ্রীলঙ্কা দলটিকেই ছন্নছাড়া মনে হয়। যার প্রভাব প্রতিনিয়ত পড়তে দেখাও যাচ্ছে।

তবে শ্রীলঙ্কার যে অবস্থা তাতে বাংলাদেশর জেতা কঠিন নয়। যদি বাংলাদেশের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে বাকিরাও নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেন। তাহলে শ্রীলঙ্কা কোনভাবেই জিততে পারবে না।

তবে ব্রিস্টলে এখন পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেই খেলেছিল বাংলাদেশ। সেটি ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচটি বাংলাদেশ ৫ রানে জিতেছিল। মাশরাফীর নেতৃত্বেই ম্যাচটি জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও যখন ব্রিস্টলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, মাশরাফীই অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে দল যে কতটা উন্নতি করেছে, তাতো সবারই জানা। এখন সেই উন্নতির ছোঁয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে লাগলেই হলো।

অবসরে যুবরাজ

ক্রিকেটের ব্যাট-প্যাড-গ্লাভস খুলে রাখার ঘোষণা দিলেন ভারতের যুবরাজ সিং। বিশ্বকাপে ওভালে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দেয়ার পর ভারতজুড়ে যখন আনন্দ উৎসব ঠিক তখনই ক্রিকেটপ্রেমিদের কাছে দু:সংবাদ হয়ে এলো যুবরাজের অবসরের খবরটি। ভারতীয় ক্রিকেট ফ্যানরা জানতে পারলেন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং ভারতের হয়ে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন না। ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন যুবরাজ সিং। এখন তিনি মনোযোগ দেবেন ক্যান্সারে আক্রান্তদের সাহায্যে।

যুবরাজ সিং ভারতের হয়ে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সব মিলিয়ে ৪০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। ১৯ বছরের ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০০০ সালে ওয়ানডে অভিষেকের মধ্য দিয়ে। ২০০৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক। আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৭ সালে তার টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়।

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা দিয়ে ৩৭ বছর বয়সী যুবরাজ সিং।

ভারতের কাছে অজিদের হার

বিশ্বকাপের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৩৬ রানে হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেলো চ্যাম্পিয়ন ভারত। প্রথমে ব্যাট করে, ম্যাচ সেরা শিখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩৫২ রানের বিশাল স্কোর গড়ে বিরাট কোহলির দল। জবাবে, স্টিভ স্মিথ, ওয়ার্নার ও অ্যালেক্স ক্যারির ফিফটিতেও ৩১৬ রানে অলাউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জিতে তৃতীয়টিতে ধাক্কা খেলো অস্ট্রেলিয়া। ভারতের কাছে ৩৬ রানের পরাজয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা ১০ ম্যাচ পর জয়রথ থামল অজিদের।

অবশ্য ৩৫৩ রানের টার্গেটে নেমে সতর্ক সূচনাই ছিলো অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নারের। ৩৬ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন অধিনায়ক ফিঞ্চ। পরে ওয়ার্নার-স্মিথ ৭২ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন।

ওয়ার্নার ৫৬ রানে সাজঘরে ফিরলেও, আশার আলো হয়ে জ্বলছিলো উসমান খাজা ও স্টিভ স্মিথের ব্যাট। কিন্তু ৪২ রানের খাজা আর ৬৯ রানে থাকা স্মিথকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে অজিদের লড়াইটাই থামিয়ে দেন ভারতীয় বোলারা। শেষ দিকে টেল এন্ডারদের চেষ্টা দলের পরাজয়ই শুধু কমিয়েছে। ভুবনেশ্বর কুমার ও বুমরাহ তিনটি করে উইকেট নিলে, ৩১৬ রানে অল আউট হয় অস্ট্রেলিয়া। তাতে ১৯৯৯ সালের পর বিশ্বকাপে আবারও রান তাড়া করতে নেমে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে, ওভালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে, ২০ রান করেই, শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন রোহিত শর্মা। তবে ইনিংসটি সমৃদ্ধ করতে পারেননি রোহিত। ৫৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন কোল্টার নাইলের বলে। তার আগে, শিখর ধাওয়ানের সাথে দলের স্কোরে যোগ করেন ১২৭ রান।

ভারতের ইনিংসের পরের সময়টা ছিল শিখর ধাওয়ান-ময়। অজি বোলারদের শাসন করে ৯৬ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৭তম শতরান। ১৯৯৯ সালে অজয় জাদেজার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করলেন ধাওয়ান। এতে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৭টি সেঞ্চুরি করার রেকর্ডও গড়লো টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সেঞ্চুরি ২৬টি।

অধিনায়ক বিরাট কোহলির সাথে ৯৩ রানের জুটি গড়ে মিচেল স্টার্কের বলে ১১৭ রানে করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ধাওয়ান। ততক্ষণে অবশ্য ২ উইকেটে ২২০ রান নিয়ে শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছে ভারত।

পরে হার্দিক পান্ডের ২৭ বলে ৪৮, মহেন্দ্র সিং ধোনির ১৪ বলে ২৭ আর বিরাট কোহালির ৭৭ বলে ৮২ রানে ৩৫২ রানের পুঁজি পায় ভারত।

ইংলিশদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে হেরেছে বাংলাদেশ: সাকিব

ইংলিশদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছেই হেরেছে বাংলাদেশ। কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে একথা বলেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

তবে টানা দুই ম্যাচ পরাজয়ের হতাশা থাকলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘুরে দাড়াতে প্রত্যয়ী বাংলাদেশ। টস জিতলে ব্যাটিং-বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত কোন একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করেনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং নেয়াটা দলীয় সিদ্ধান্ত ছিলো বলে জানিয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

সাকিবের সেঞ্চুরিতে‌ও বড় হার বাংলাদেশের

সোফিয়া গার্ডেনে ইংল্যান্ডের পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করে জিতবে বাংলাদেশ, এমনটা ভাবেননি কেউ। ছিল লড়াই করার আশা। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পর সকিব-মুশফিক চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা হয়নি। বিশ্বকাপে নিজেদর তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারলো ইংল্যান্ডের কাছে।

কার্ডিফে টস জিতে মাশরাফির প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন দুই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ‌ও জনি বেয়ারস্টো। তাদের ১২৮ রান ইংল্যান্ডকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেয়। জেসন রয় ৯২ বলে ওয়ান ডে ক্যারিয়ারে অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করে, একাই দেড়শ’র গন্ডি টপকে যান। বিশ্বকাপে প্রথম শতরানের পথে একটি ছক্কা ও ১২টি বাউন্ডারি মারেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৫৩ রানে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে সাজঘরে ফেরেন জেসন রয়।

রয় সেঞ্চুরি করলেও ফিফটির পরই অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বলে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটেন বেয়ারস্টো। পরে জো রুট ২১ রানে আউট হলেও মর্গ্যান ও জোস বাটলারের পার্টনারশিপে সহজেই তিনশ’র গণ্ডি টপকে যায় ইংল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে তারা ৯৫ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৮৬ রান তোলে ইংল্যান্ড।

জবাবে ৬৩ রানে দুই ওপেনার সৌম্য ‌ও তামিমকে হারায় টাইগাররা। তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ১০৬ রানের পার্টনারশিপে কিছুটা আশার আলো দেখে বাংলাদেশ। সাকিব ওয়ান ডে’তে অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে থ্রি-লায়ন্সকে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও মুশফিক ৪৪ রানে ফিরে যেতেই ধস নামে বাংলাদেশ শিবিরে।

জোফ্রা আর্চারের ও বেন স্টোকসের ৩টি করে উইকেট শিকারে ৪৮.৫ ওভারে ২৮০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

কার্ডিফে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এই নিয়ে ৮০টি ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করে ৩৯টিতে টস জিতলেন মাশরাফী।

ইয়ন মর্গানের দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঈন আলীর পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে প্লাংকেটকে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে মঈনের স্ত্রী আছেন হাসপাতালে। স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য মঈন আলী খেলছেন না। আর বাংলাদেশ দলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। একাদশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ভারত-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি কাল

বিশ্বকাপের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে আগামীকাল রোববার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও, অজিরা এ ম্যাচ জিতে শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চায়। আর বিরাট কোহলির দল মাঠে নামবে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬ উইকেটে হারানোর পর খোশ মেজাজেই আছে ভারত। রবিবার বিরাট কোহলিদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে বড় রান পাননি অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ভুল-ত্রুটি পেছনে ফেলে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত টিম ইন্ডিয়া।
বিরাটের তুরুপের তাস বুমরাহ। ভুবনেশ্বর কুমার প্রত্যাশা পুরন করতে না পারায়, একাদশে ফিরতে পারেন মোহাম্মদ সামি।

ইনিংসের মধ্যভাগে স্পিনারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই চাহাল-কুলদীপরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। আর দুই দলের বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে কেনিংটন ওভালে একটা হাইস্কোরিং ম্যাচের প্রত্যাশাই সবার।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ‘টিম ইন্ডিয়া’র লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। টানা দুই ম্যাচ জিতে অ্যারন ফিঞ্চ-মিচেল স্টার্করা আছেন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। বাঁ-হাতি পেসার মিচেল স্টার্ক আর ডান-হাতি প্যাট কামিন্স, ধাওয়ান-রোহিতদের স্বল্প রানেই সাজঘরে ফেরাতে মুখিয়ে থাকবেন।

অস্ট্রেলিয়ার আটজন ব্যাটসম্যানের যে কেউ জ্বলে উঠলে ভারতীয় বোলারদের নাভিশ্বাস উঠতেই পারে। তাছাড়া স্টিভ স্মিথ-নাইলরা যদি নিজেদের খেলাটা ধরে রাখতে পারেন তবে ভারতকে হারানো তো বটেই অজিরা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

পাকিস্তানী নারী সাংবাদিকের কান্ড

পাকিস্তানের জনপ্রিয় নারী ক্রীড়া সাংবাদিক জয়নাব আব্বাস। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) উপস্থাপকের ভূমিকায় দেখা গেছে তাঁকে। টেন স্পোর্টস এবং সনি ইএসপিএন-এর হয়ে‌ও কাজ করেন। আবার পাকিস্তানের প্রথম সারির পত্রিকা ‘দ্য ডন’-এ নিয়মিত কলাম লেখেন। সেই জয়নাব আব্বাস এবারের বিশ্বকাপে বিতর্কের জন্ম দিলেন।

https://www.cricketworldcup.com/video/1238135/cwc19-pakistan-coach-mickey-arthur-interview?tagNames=CWC,Cricket%20World%20Cup,Pakistan,latest%20vid,cwc2019,app-cwc19-video-hero&references=CRICKET_TEAM:20,CRICKET_TOURNAMENT:8191,CRICKET_MATCH:8202

বিশ্বকাপ শুরুর দুইদিন আগে বাংলাদেশের চার তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছিলেন জয়নাব আব্বাস। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তাঁকে পছন্দ করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু আচমকাই জয়নাবের জুতোর লোগো ঘিরে সমস্যা বিতর্ক তৈরি হল।

শুক্রবার সকালে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে আইসিসির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে। সেখানে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ মিকি আর্থারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জয়নাব। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে জয়নাবের পায়ে একটি সাদা রঙের জুতো পরা। আর সেই জুতোর এক দিকে একটি লোগো। যা কি না অবিকল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মতো দেখতে। দুপাশে সবুজ। মাঝে বৃত্তাকার লাল অংশ। তারপর থেকেই জয়নাবের উপর চটেছেন বাংলাদেশী সমর্থকরা।

কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশকে হেয় করার জন্যই জয়নাব এমন কাজ করেছেন। তবে অনেকে আবার বলেন, জয়নাব ইতালিয়ান ব্র্যান্ড গুচি-র জুতো পরেছেন। আর ওই সংস্থা এমন রঙের লোগো ব্যবহার করে থাকে। ফলে ব্যাপারটা নেহাতই স্বাভাবিক।

তবে জনপ্রিয় গুচি ব্র্যান্ড যে চিহ্নটি ব্যবহার করে তাতে সবুজ রঙের তিনটি সরলরেখার মতো অংশ থাকে। আর মাঝখানে থাকা রেখাটি লাল। তবে জয়নাবের জুতোয় থাকা লোগো লক্ষ্য করে দেখা গিয়েছে, মাঝের লাল অংশটুকু বৃত্তের মতো। যেমনটা বাংলাদেশের পতাকাতে রয়েছে। আর তাতেই সমস্যা।

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড লড়াই কাল

বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়েই কাল বিশ্বকাপের স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে ফেবারিট হিসেবে মেনে নিলেও বাংলাদেশকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। অন্যদিকে, টাইগারদের শক্ত প্রতিপক্ষ মেনেই তাদের বিপক্ষে ছক কষছে স্বাগতিকরা। আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

নিজেদের মাঠ, ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশিলনের সুযোগ সামান্যই পেলো বাংলাদেশ। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনের ইনডোরে হালকা ব্যাটিং অনুশিলনই ভরসা মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, মিথুনদের। তবু নিজেদের ওপর পূর্ণ আস্থা বাংলাদেশ অধিনায়কের। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা জানান, ইংল্যান্ড এবারের সেরা দল। কিন্তু আমরাও এতো ছোট না। জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে। আমরা জানি আমরা কি পারি।

গত চার বছরে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল ইংলিশরা। তাই তাদের পাল্টা আক্রমণ করার ভুল করতে চান না টাইগার দলপতি। বরং ইংলিশ সিংহদেরই ভুল করার সুযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিফেন্সই হবে আসল অফেন্স। তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে।

মুখোমুখি লড়াইয়ের কুড়ি ম্যাচের মাত্র চারটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তার মধ্যে দুটোই গেলো দুই বিশ্বকাপে। তার ওপর সিনিয়র ক্রিকেটার আর বিশ্বমানের স্পিনারদের নিয়ে বাংলাদেশ যে বেশ ভয়ঙ্কর এক দল, তা বেশ ভালোভাবেই মাথায় রাখছেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। এদিকে, কার্ডিফে দিনভর বৃষ্টিতে মাঠ ঢাকা থাকলেও শেষ বিকেলের হালকা রোদে মুখে হাসি ফুটেছে আয়োজকদের।

বৃষ্টিতে পন্ড পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ

বৃষ্টিতে পন্ড পাকিস্তান ‌ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি। খেলা তো বটেই, ব্রিস্টলে বৃষ্টির কারণে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তান ‌ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচে টসই হতে পারে নি। নির্ধারিত সময়ের চার ঘন্টা পার হয়ে গেলেও থেমে আছে খেলা। এখন‌ও শুরু করা যায় নি।

তবে বৃষ্টি থেমে গেলে‌ও পুরো ‌ওভারে যে খেলা হবে না সেটা নিশ্চিত ছিল না। আবার বৃষ্টি শুরু হলে দুই ইংলিশ আম্পায়ার নাইজেল লং এবং ইয়ান গোল্ড মাঠ পরিদর্শন করে, খেলা পন্ড ঘোষণা করেন। তাতে তিন ম্যাচে সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন ‌ও চার নম্বরে উঠে এলো শ্রীলঙ্কা ‌ও পাকিস্তান।

দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই: পাপন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় আগামীকাল শনিবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। ‌ওয়েলসের কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায়।

এই ম্যাচে দলে পরিবর্তন আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। তিনি জানান, একটা ম্যাচ হেরে গেলেই একদশে পরিবর্তন আনলে দলের জন্য ভুল বার্তা দেবে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আরো জানান, প্রথম দুই ম্যাচের পারফরমেন্সের পর বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বাকি দেশগুলোর দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন এসেছে। সাকিব আল হাসানের এই আসরে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করেন পাপন।

বিশ্বকাপ শেষ শেহজাদের

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই বিশ্বকাপের শেষ চারের স্বপ্ন ধাক্কা খেয়েছে আফগানিস্তানের। এবার আফগানদের দু:শ্চিন্তা বাড়িয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদ। অবশ্য তার আগেই চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেন প্রোটিয়া স্পিডস্টার ডেল স্টেইন। সেই তালিকায় শেহজাদ হলেন দ্বিতীয় সংযোজন।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচের সময় হাঁটুতে আঘাত পেয়েছিলেন এই আফগান ওপেনার। চোট নিয়েই প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে খাতা খুলতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে মাত্র ৭ রান করেন শেহজাদ। তাছাড়া কিপিং করার সময় রীতিমতো অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। যন্ত্রণা বাড়ায় বাকি টুর্নামেন্টে মাঠে নামা আর সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতিতে আফগান টিম ম্যানেজমেন্ট ইভেন্ট টেকনিক্যাল কমিটির কাছে শেহজাদের পরিবর্তন চেয়ে আবেদন করেছিল আগেই। তার পরিবর্তে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ইকরম আলী খিলকে দলে নিয়েছে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশ দল এখন কার্ডিফে

লন্ডনের ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন কার্ডিফে। এই শহরের সোফিয়া গার্ডেনে আগামীকাল শনিবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মাশরাফী বিন মোর্ত্তাজার দল।

কার্ডিফে পৌছেই বাংলাদেশ দূতাবাসে সংবর্ধনা দেয়া হয় টাইগারদের। আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হবে খেলাটি। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২১ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করেছিল। আর দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে‌ও নিউজিল্যান্ডের কাছে ২ উইকেটে হেরে যায় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল।

অস্ট্রেলিয়ার টানা দ্বিতীয় জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ২৮৯ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে, ২৭৩ রানে থামে ৯ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে প্রথমে ব্যাট করে, ম্যাচ সেরা কোল্টার নাইল ও স্টিভ স্মিথের ফিফটিতে ২৮৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

দারুণ শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু তাদের সাফল্য ম্লান করে জয়ের আনন্দে শেষটা মধুর করে তুললো অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। তাতে ১৫ রানে দ্বিতীয় জয় পায় অজিরা।

নটিংহ্যামে, ২৮৯ রানের টার্গেটে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মাত্র ৩১ রানে এভিন লুইস ও ক্রিস গেইলের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা। তৃতীয় উইকেটে নিকোলাস পুরান এবং চতুর্থ উইকেটে হেটমায়ারের সাথে জুটি গড়ে সেই চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন শাই হোপ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান বোলিং আক্রমণে তারা সুবিধা করতে পারেন নি। হোপ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন।

এরপর হাল ধরেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ফিফটি করে জয়ের আশাও বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু ৫১ রানে হোল্ডারের বিদায়ের পর ক্যারিবিয়নদের আশাটাও শেষ হয়ে যায়। ৯ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ২৭৩ রানে।

অবশ্য সহজ বিষয়কে লেজে-গোবরে করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরনো অভ্যাস। চলতি বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হলো না। নয়তো শুরুতে ৭৯ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অল্প রানে থামিয়ে দেওয়ার এমন সুযোগ হেলায় হারাবে কেন ক্যারিবিয়ান বোলাররা।
ষষ্ঠ উইকেটে অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে ৬৮ আর সপ্তম উইকেটে কার্টার নাইলের সঙ্গে ১০২ রানের জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দেন স্টিভ স্মিথ। ধৈর্যের প্রতিক হয়ে ১৭৮ মিনিট স্থায়ী ইনিংসে ৭৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন স্মিথ।

পরে বিশ্বকাপের আট নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়া কোল্টার নাইলের ৬০ বলে ৯২ রানের ঝড়ে ২৮৮ রান তোলে, ইনিংসের ছয় বল আগেই অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়া। পরে এই রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমান করেন অজি বোলাররা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে অজেয় নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের কাছে ২ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেলো বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের ২৪৪ রান, মুশফিকের কল্যাণে জীবন পাওয়া টেলর-উইলিয়ামসনের শতরানের জুটির সুবাদে ১৭ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেট খরচায় পেরিয়ে যায় কিউইরা। ম্যাচসেরা হন নিউজিল্যান্ডের রস টেলর।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে জয় অধরাই রইল বাংলাদেশের। ৫ বারের মোকাবেলায় কিউইদের কখন‌ও হারাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। আশা জাগিয়েও হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টাইগার ভক্তদের। অবশ্য এই পরাজয়ে উইকেটের পেছেনে মুশফিকুর রহিমের কয়েকটি ভুলকেই দায়ী করা যায়। পরে মুশফিকের কল্যাণে জীবন পাওয়া রস টেলর ‌ও কেন উইলিয়ামসন জুটি হারিয়ে দেন বাংলাদেশকে।

এমনিতেই ২৪৫ রানের মামুলি টার্গেট। তবু দশ ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার গাপ্টিল ও মুনরোকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আশার আলোই দেখান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু ১২তম ওভারে মুশফিকের কল্যাণে প্রথমে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন, পরে জীবন উপহার পান রস টেলর।

এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানই পরে হতাশা বাড়িয়েছেন সাকিব-মুস্তাফিজদের। ম্যাচটা নাগালের বাইরে নিয়ে যান তারা। তাতে নয় বাউন্ডারিতে ৮২ রানের দারুণ এক ইনিংসে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন রস টেলর। আর শেষ দিকে সাইফুদ্দিন-মোসাদ্দেকের সাফল্য, কেবল আফসোসই বাড়ায় বাংলাদেশি সমর্থকের। শ্রীলংকার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ে সেমির স্বপ্নটা এখন বেশ উজ্জ্বল কিউইদের।

এই উইকেটে রান তাড়া করে জেতা সহজ। টস জেতায়, ঢেকে রাখা উইকেট আর বাতাসকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন নিউজিল্যান্ডের বোলার ম্যাট হেনরি আর গ্র্যান্ডহোমরা।

তবে বোলারদের কৃতিত্বের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার দায়ই বেশি। প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানই উইকেট সেট হয়েও নিজের স্কোরকে বড় করতে পারেন নি। সাকিব ক্যারিয়ারের চুয়াল্লিশতম ফিফটির দেখা পেলেও তিনশো’র বেশি স্কোরের আশায় খেলতে নামা বাংলাদেশের ঝুলিতে আড়াইশ’ রানও জমা পড়েনি।

ভারতের জয়ে রেকর্ড হার দক্ষিণ আফ্রিকার

প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল ভারত। যুজবেন্দ্র চাহালের কৃতিত্বে টস জয়ী প্রোটিয়াদের প্রথমে ২২৭ রানে থামিয়ে দেওয়ার পর, ম্যাচ সেরা রোহিত শর্মার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে, ১৫ বল বাকী থাকতেই ৪ উইকেটে ২৩০ রান তুলে জয় পায় ভারত।

এরআগে বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচ কখনো হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সাউদাম্পটনে ম্যাচ সেরা রোহিত শর্মার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে প্রোটিয়াদের হারের হ্যাটট্রিকের লজ্জাতেই ফেলল বিরাট কোহলির দল।

অবশ্য ২২৮ রানের মামুলি টার্গেটে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের। দলের ৫৪ রানেই সাজঘরে শিখর ধাওয়ান ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

আর ম্যাচের বাকিটা ‘হিট ম্যান’ রোহিত শর্মা-ময়। দলকে জেতানো তার অপরাজিত সেঞ্চুরিটি করার পথে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন কেবল ২৬ রান করা লোকেশ রাহুল আর ৩৪ রানে সাজঘরে ফেরা মহেন্দ্র সিং ধোনী।

১২২ রানের হার না মানা ইনিংসটি খেলার পথে রোহিত ১২৮ বলে ১০ চার আর দুই ছক্কায় তুলে নেন সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১৪৪ বলে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান রোহিত শর্মা। আর এই জয়ে অস্ট্রেলিয়াকেও সাবধান বাণী দিয়ে রাখল ভারত। পুরণো পরাজয়ের বদলা নিতে প্রস্তুত টিম ইন্ডিয়া।

এরআগে, জাসপ্রিত বুমরাহ মিডিয়াম পেসের পর, যুজবেন্দ্র চাহালের স্পিন বিষে মাত্র ১৫৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা। অষ্টম উইকেটে ক্রিস মরিস ও রাবাদা ৬৬ রানের জুটিতে সেই চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সফল হননি তারা।

চাহাল ৫১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ৯ উইকেট হারানো প্রোটিয়ারা থামে ২২৭ রানে। দলের পক্ষে ক্রিস মরিস সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন।

আহত প্রোটিয়াদের মুখোমুখি নির্ভার ভারত

টানা দুই ম্যাচে হারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করছে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ওয়ানডে ক্রিকেটে জয়ের হিসেবে প্রোটিয়াদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও, নিজেদের শেষ লড়াইয়ে ৪-১ ম্যাচে জয়ের স্মৃতি নিয়েই মাঠে নামবে বিরাট কোহলির দল। এদিকে, বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই দক্ষিণ আফ্রিকার। সাউদাম্পটনে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে খেলাটি।

চলতি বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের সাথে হেরে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ ম্যাচে তারা কঠিণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করবে ভারতের সাথে। সাউদাম্পটনে তাই পুরোদমে অনুশীলনে বিরাট কোহলির দল। আঙুলের চোট সারিয়ে নেটে ফিরেছেন অধিনায়ক। শর্ট বল দেওয়ায় প্রোটিয়া বোলারদের জুড়ি মেলা ভার। তাই মোহম্মদ সামি সহ অন্য পেসারদের বিরুদ্ধে পুল-হুকের অনুশীলন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। স্পিনারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল ও বুমরাহ নিজেকে শানিত করার চেষ্টায় অনেকটা সময় অনুশীলনে কাটান।

এদিকে, জয় দিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু করলেও মূলপর্বে এসে রীতিমতো উল্টো অবস্থা দক্ষিণ আফ্রিকার। টানা দুই পরাজয়ে আহত সিংহই হয়ে আছে তারা। যে কোনো দলকে উড়িয়ে দিয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের দল।

পেসার লুঙ্গি এনগিডির ইনজুরি, শোক সংবাদ হয়ে আসে প্রোটিয়া শিবিরে। তবে সুখের কথা ভারতের বিপক্ষেই ফিরছেন ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুই স্তম্ভ হাশিম আমলা আর ডেল স্টেইন। তাদের মিলিত শক্তির সঙ্গে আগের ভুলগুলো শোধরানোর প্রত্যয় প্রোটিয়াদের। তা না হলে যে বিশ্বকাপটাই নিরস হওয়ার অবস্থা ‘চোকার’ দক্ষিণ আফ্রিকার।

নভেম্বরে ভারতে সফর বাংলাদেশের

ক্রিকেট পরাশক্তি্ বলেই নবীনদের খুব একটা আমন্ত্রণ জানায় না ভারত। আগামী নভেম্বর মাসে পূর্ণাঙ্গ খেলতে ভারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টেস্ট অভিষেকের পর ভারতের মাটিতে একবার মাত্র দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা হয়েছিল বাংলাদেশের। ২০১৭ সালে একমাত্র টেস্টটি হয় হায়দরাবাদে। তবে এবার ভারতের মাটিতে পুরো সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। সোমবার নিজেদের হোম সিরিজের সূচি ঘোষণা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। সিরিজে ৩টি-টোয়েন্টি ও ২টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে সিরিজ শুরু হবে। আগামী ৩ নভেম্বর সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে দিল্লীতে। ৭ নভেম্বর রাজকোটে হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। আর ১০ নভেম্বর নাগপুরে সিরিজের তৃতীয় ‌ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দু’দল।

এরপর তিনদিনের বিরতি শেষে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। প্রথম টেস্ট হবে ইন্দোরে, ১৪ থেকে ১৮ নভেম্বর। আর ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত কোলকাতার ইডেন গার্ডেনসে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ‌ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি।

আইসিসি প্রকাশিত নতুন এফটিপি অনুযায়ী এখন থেকে তিন ফরম্যাটের সফর খুব কম হবে। বেশিরভাগ সিরিজেই খেলা হবে যে কোনো দু’টি ফরম্যাট।

পাকিস্তানের জয় ইংল্যান্ডের হতাশা

ট্রেন্টব্রিজে জো রুট ও জস বাটলারের সেঞ্চুরির পরও পাকিস্তানের কাছে ১৪ রানে হেরেছে ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের দেয়া ৩৪৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন জো রুট। তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার ছুয়েছেন বাটলারও। তবুও ৩৩৪ রানেই থামে ইংলিশরা। এরআগে ব্যাট করতে নেমে বাবর, হাফিজ ও সরফরাজের ফিফটিতে ৮ উইকেটে ৩৪৮ রান করে পাকিস্তান।

বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিতভাবে ঘুরে দাড়ালো পাকিস্তান। আগের ম্যাচে মাত্র ১০৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটি হারিয়ে দিলো বিশ্বকাপের হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে। তাতে বিফলে গেলো দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের জোড়া সেঞ্চুরি। আর এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ালো ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নদের।

অথচ পাকিস্তানের দেয়া ৩৪৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১১৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর চাপটা বেশ ভাল মতই সামলে নিয়েছিলেন দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুট ও বাটলার। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান বনে যান জো রুট। সেই সাথে বাটলারের সেঞ্চুরিতে জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো ইংলিশরা।

কিন্তু রুট ১০৭ ও বাটলার ১০৩ রানে বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হারায় ইংল্যান্ড। লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায় ৯ উইকেটে ৩৩৪ রানেই থামে স্বাগিতকরা।

এরআগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে ভাল সূচনা এনে দেয় ইমাম উল হক ও ফখর জামানের ৮২ রানের উদ্বোধনী জুটি। শুরুটা সুন্দর হওয়ায় বাবর আজমের ৬৩ ও মোহম্মদ হাফিজের ৮৪ রানে ভর করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। এরপর সরফরাজ আহমেদের ৪৪ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩৪৮ রান।

সাকিবের অনন্য রেকর্ড

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অনন্য এক রেকর্ডের মালিক হলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসে ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে প্রোটিয়া ওপেনার মার্করামের উইকেট তুলে নিয়ে অনন্য নজির গড়েন সাকিব। এতে ‌ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫ হাজার রান ও ২৫০ উইকেট নেওয়া দ্রুততম ক্রিকেটারে পরিণত হন তিনি।

এর আগে, প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ৭৫ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলার সুবাদে সাকিব ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সংগ্রহ দাঁড়ায়, ৫৭৯২ রান। অর্থাৎ ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের মাইলস্টোন আগেই টপকেছিলেন তিনি। আর এই ম্যাচে মার্করামের উইকেটটি সাকিবের একদিনের ক্যারিয়ারের ২৫০তম শিকার।

ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৫ হাজার রান ও ২৫০ উইকেটের নিতে সাকিব খেলন মাত্র ১৯৯টি ম্যাচ। তাতে টপকে যান পাকিস্তানের অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাককে। এই ক্লাবের তালিকায় রাজ্জাকই এতদিন ছিলেন দ্রুততম। তিনি খেলেছিলেন ২৫৮টি ম্যাচ। গতকাল রবিবার ওভালে রাজ্জাককে পিছনে ফেলে রেকর্ড নিজের দখলে নেন সাকিব। অর্থাৎ একদিনের ক্রিকেটে ব্যাটে-বলে এমন নজির গড়া দ্রুততম ক্রিকেটার এখন সাকিব।

সাকিব-রাজ্জাক ছাড়া‌ও এই ক্লাবে নাম লেখানো শাহিদ আফ্রিদিকে ২৭৩টি, জ্যাক কালিসকে ২৯৬টি এবং সনৎ জয়সুরিয়াকে ৩০৪টি ‌ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে হয়েছিল।

গত বছর টেস্টে ৩ হাজার রান ও ২০০ উইকেট নেওয়া দ্রুততম ক্রিকেটারের মুকুট মাথায় পরেছিলেন সাকিব। তিনি ভেঙেছিলেন কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের রেকর্ড। এছাড়া ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৪ হাজার রান ও ৩০০ উইকেট নেওয়া দ্রুততম ক্রিকেটারের রেকর্ডও রয়েছে সাকিবের নামে। তিন ফর্ম্যাট মিলিয়ে ১০ হাজার রান ও ৫০০ উইকেট নেওয়ার দ্রুততম ক্রিকেটারও এখন সাকিব আল হাসান।

দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের

ইংল্যান্ডের মাটিতে গৌরবময় ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়া ম্যাচে, লন্ডনের ওভালে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো টাইগাররা। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে, সাকিব-মুশফিকের ১৪২ রানের রেকর্ড জুটিতে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে, মুস্তাফিজ-সাইফুদ্দিনদের বোলিংয়ে ৩০৯ রানে থামে ৮ উইকেট হারানো প্রোটিয়ারা। ম্যাচ সেরা হন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকা পরাস্ত- এ যেনো স্বপ্ন দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের। আর টানা দুই ম্যাচ হেরে প্রোটিয়াদের সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্নটাও এখন হুমকির মুখে।

৩৩১ রানের টার্গেট ছুঁতে হলে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রীতিমতো রেকর্ডই করতে হতো। কারণ বিশ্বকাপে ২৯৬ রানের চেয়ে বেশি তাড়া করার রেকর্ড নেই প্রোটিয়াদের। বাংলাদেশের দেয়া টার্গেটে নেমে, ডি কক, মার্করামরা আশার আলো ছড়িয়েছিলেন। পরে সেই আলোর সলতেটা আরো বাড়িয়ে মশালে পরিণত করেন অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসিস। কিন্তু দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করা ডুপ্লেসিসের উইকেট ভেঙে প্রোটিয়াদের আশায় জল ঢালেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ওয়ানডেতে দ্রুততম সময়ে সাকিবের আড়াইশ’ উইকেট ও পাঁচ হাজার রানের রেকর্ডের দিনে, ৮ উইকেট হারানো প্রোটিয়াদের ইনিংস থামে ৩০৯ রানে।

এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের তামিম-সৌম্যর জুটিটা জমেছিল দারুণ। লুঙ্গি এনগিদি ও কাগিসু রাবাদাকে তুলোধুনো করে সাত ওভারে দলের স্কোর ৫০ রান। তবে অযথাই বলে খোঁচা দিয়ে দলের ৬০ রানে, ১৬ রানের পুঁজিতে তামিমের বিদায়।

সৌম্য সরকারও বেশিক্ষণ টেকেন নি। ৩০ বলে ৪২ করা সৌম্য, ক্রিস মরিসের বলে ডি ককের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন।
পরে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়ে দেন শক্ত ভিতের উপর। দুজনেই করেন ফিফটি। তাদের ১৪২ রানের পার্টনারশিপ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। শততম ম্যাচ খেলতে নামা প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহিরের শিকার হওয়ার আগে সাকিব ৮৪ বলে করেন ৭৫ রান। আর দলকে ২৫০ রানে রেখে সাজঘরে ফেরার আগে মুশফিক ৮০ বলে করেন ৭৮।

তাদের দেখানো পথেই হাটেন মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক। ২০ বলে মোসাদ্দেক ২৬ রান করে বিদায় নিলেও, ৩৩ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল্লাহ। তাতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এবং ওয়ানডেতেও নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৩০ রানের লড়াকু পুঁজি পায় ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ। নিজেদের সব রেকর্ড ভেঙে টাইগাররা নতুন রেকর্ড গড়ে বিশ্ব ক্রিকেট মঞ্চে।

নিজেদের ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডের মাটিতে গৌরবময় ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। পাকিস্তান-শ্রীলংকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিরা যেখানে দেড়শ’ রানের গন্ডি পেরুতে পারেনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে, সেখানে বাংলাদেশ ৩৩০ রান করে ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়ে ভাবনায় ফেলে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

কেনিংটন ওভালে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তামিম-সৌম্য জুটিটা জমেছিল দারুণ। লুঙ্গি এনগিদি ও কাগিসু রাবাদাকে তুলোধুনো করে সাত ওভারে দলের স্কোর ৫০ রান। তবে অযথাই বলে খোঁচা দিয়ে দলের ৬০ রানে, ১৬ রানের পুঁজিতে তামিমের বিদায়।

সৌম্য সরকারও বেশিক্ষণ টেকেন নি। ৩০ বলে ৪২ করা সৌম্য, ক্রিস মরিসের বলে ডি ককের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন, দলের ৭৫ রানে।

পরে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়ে দেন শক্ত ভিতের উপর। দুজনেই করেন ফিফটি। তাদের ১৪২ রানের পার্টনারশিপ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। শততম ম্যাচ খেলতে নামা প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহিরের শিকার হওয়ার আগে সাকিব ৮৪ বলে করেন ৭৫ রান। আর দলকে ২৫০ রানে রেখে সাজঘরে ফেরার আগে মুশফিক ৮০ বলে করেন ৭৮ রান।

তাদের দেখানো পথেই হাটেন মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক। ২০ বলে মোসাদ্দেক ২৬ রান কওে বিদায় নিলেও, ৩৩ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল্লাহ। তাতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এবং ওয়ানডেতেও নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৩০ রানের লড়াকু পুঁজি পায় ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ। টাইগাররা নিজেদের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ে বিশ্ব ক্রিকেট মঞ্চে।

বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের স্বপ্নযাত্রা

স্বপ্নের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল আগেরবারের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে তারা ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারায়, শ্রীলংকাকে। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে, মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয় শ্রীলংকা। জবাবে, মার্টিন গাপ্টিল ও কলিন মুনরোর ফিফটিতে ২০৩ বল হাতে রেখেই ১০ উইকেটে বড় জয় পায় কিউইরা। ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন, কিউই পেসার ম্যাট হেনরি।

মেঘলা আকাশ আর সবুজ ঘাসে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা যে কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারেন, হারে হারে তার প্রমান পেল শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। সোফিয়া গার্ডেনের উইকেটে যেনো সাপের বিষ ছড়িয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের পেসাররা। তাতে দলের স্কোর ৬০ হতেই ছয় লংকান ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ম্যাচ সেরা ম্যাট হেনরি প্রথম স্পেলেই তুলে নেন থিরিমানে, কুশল পেরেরা আর কুশল মেন্ডিজের উইকেট।

কিছুটা প্রতিরোধ ছিল অধিনায়ক করুনারত্নে ও থিসারা পেরেরার ব্যাটে। সপ্তম উইকেটে দলের স্কোরে যোগ ৫২ রান। কিন্তু এই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। শেষ পর্যন্ত করুনারত্নের অপরাজিত ফিফটিতে শ্রীলঙ্কা অলআউট হয় মাত্র ১৩৬ রানে।

যে উইকেটে শ্রীলংকান ব্যাটসম্যানরা খেঁই হারিয়ে নাকানি-চোবানি খেয়েছেন, সেই উইকেটেই রান বন্যা বইয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনাররা। লাসিথ মালিঙ্গা, সুরাঙ্গা লাকমলদের বারবার সীমানার বাইরে পাঠিয়ে, ৫১ বলে গাপ্টিল ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান কলিন মুনরো ৪৭ বলে ৫৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। তাতে মাত্র ১৬ ওভার ১ বলেই ম্যাচ জিতে নেয় কিউইরা। এই জয়ে স্বপ্নের মতোই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হল নিউজিল্যান্ডের।

সরফরাজের কান্না

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে অল্পরানে গুটিয়ে পরে অসহায় আত্মসমর্পণ। সবমিলিয়ে এক লজ্জাজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ১৯৯২ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ কান্না করতে করতে।

অবশ্য বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সরফরাজ বলেছিলেন সব দল তাদেরকে ভয় পায়, কারণ প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তান অনেক ভয়ানক। আগে থেকেই পাকিস্তান নিয়ে কোনো পূর্ভাভাস চলে না। মজার ব্যাপার হলো, সরফলাজের কথা নটিংহ্যামেই পুরোপুরি সত্যে পরিণত হয়ে গেলা। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে যে তারা মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হবে-সেটা কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল। সে যাই হোক সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজ আসেন চোখের জল মুছতে মুছতে।

নিজের আবেগ গোপন করতে বারবার চোখ মুছছিলেন সরফরাজ। পরে জানান, আমাদের নিজেদের উপর বিশ্বাস হারালে চলবে না। এই পরাজয় নিয়ে বেশি ভাবলে‌ও চলবেনা। এই ম্যাচটা এখন অতীত পরের ম্যাচগুলো জেতানোর মতো ক্রিকেটার আমাদের রয়েছে।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন কাল শুরু

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আগামীকাল রোববার ওভালে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করছে বাংলাদেশ। তবে সেই মিশনের আগেই দলের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে, তামিম ইকবালের হাতের ইনজুরি। যদিও প্রাথমিক রিপোর্ট স্বস্তির খবরই দিয়েছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচ হারা প্রোটিয়ারা মুখিয়ে আছে ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়াতে। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হবে দু’দল।

ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন তামিম ইকবাল। এ দৃশ্য ভয় ধরানোর মতই! প্রাথমিক এক্সরে রিপোর্টে কোন চিড় ধরা না পরলেও পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে তাঁকে খেলানোর ঝুঁকি নিতে চাইবে না টিম ম্যানেজমেন্ট। সন্ধ্যার আগে এমআরআই রিপোর্টই নিশ্চিত করে দেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়া যাচ্ছে কি-না টাইগার ওপেনারকে! সমর্থকদের মত তাই দলের অন্যরাও প্রার্থনারত।

ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ যে ভালো খেলার আশা করছে, তার অন্যতম কারণ তামিমের অতীত পারফরম্যান্স। সাত ওয়ানডেতে প্রায় ৫১ গড়ে তামিম করেছেন ৩৪৩ রান। তবে শুধু তামিম নন, বাংলাদেশ শিবিরে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের চিত্রটা সেরা অবস্থায় নেই। ইনজুরি থেকে সাকিব আল হাসান ফিরে আসলেও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-প্রত্যেকেরই কোন না কোন সমস্যা রয়েই গেছে।

বাংলাদেশ যখন প্রত্যেককে শতভাগ ফিট অবস্থায় পাওয়ার ক্ষণ গুনছে; দক্ষিণ আফ্রিকানরা তখন পরিকল্পনা করছে, কি করে প্রথম ম্যাচে বাজে হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসা যায়। যদিও দলের সেরা পেসার ডেল স্টেইনকে এ ম্যাচেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই প্রোটিয়াদের। তবে কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদিরাও উড়িয়ে দিতে পারেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ।

অবসরে যাওয়ায় এবি ডি ভিলিয়ার্সের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না বাংলাদেশের বোলারদের। তবে হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডুপ্লেসিসদের সামনেও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে মাশরাফী-মোস্তাফিজদের।

ইনজুরিতে তামিম

বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নামার আগেই আঘাতে আঘাতে জর্জর বাংলাদেশ শিবির। একের পর এক দু:সংবাদ এসে জমা হচ্ছে টাইগার শিবিরে। সবশেষে চোটের তালিকায় নাম লেখান দলের ব্যাটিং লাইনের প্রাণ ভোমরা তামিম ইকবাল‌ও।

এরআগে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেই হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। পিঠের ব্যথায় কাবু মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন নি এখন‌ও। এরইমধ্যে লন্ডনে পা দিয়েই অনুশীলনের সময় বাঁ হাতে আঘাত পেয়ে ইনজুরিতে পড়েন তামিম ইকবাল। ততক্ষণাত X-Ray করা হয়। তাতে খুব বেশি চিন্তিত হ‌ওয়ার নেই- কারণ কোনো হাড় ভাঙার চিহ্ন ধরা পড়েনি। তবে আগামীকাল রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন কিনা সেজন্য আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে বিসিবি সূত্রে জানানো হয়।

পাকিস্তানের হারের দিনে গেইলের রেকর্ড

বিশ্বকাপের ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়লেন ‘ইউনিভার্সাল বস’ ক্রিস গেইল। দক্ষিণ আফ্রিকার এ বি ডিভিলিয়ার্সকে (২৩ ম্যাচ খেলে ৩৭ ছয়) টপকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছয় মারার রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন তিনি। তিনি এখনও পর্যন্ত মোট ২৭ ম্যাচে ৪০টা ছক্কা মেরেছেন ক্রিস গেইল। তাতে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করল ‌দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুক্রবার গেইলের এই কীর্তিতে ইতিমধ্যেই প্রশংসার ঝড় বইছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞেরাও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিন নটিংহ্যামশায়ারের ট্রেন্টব্রিজে টসে জিতে প্রথমে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতেই ইমাম উল হকের উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।

এরপর ফকর জামান ও বাবর আজাম ব্যাটিং-এর হাল ধরার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ফকর জামান ও বাবর আজাম সাজঘরে ফিরতে না ফিরতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। শেষে ওয়াহাব রিয়াজের ১১ বলে ১৮ রান পাকিস্তানকে ১০০ পার করতে সাহায্য করে।

১০৬ রানের লক্ষ্যে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওঠে গেইল ঝড়। ব্যক্তিগত ৫০ রানে গেইল বিদায় নিলেও পাকিস্তানের বোলারদের দুর্দশা তখনও শেষ হয়নি। নিকোলাস পুরানের অপ্রতিরোধ্য ১৯ বলে ৩৪ রানের টর্নেডো ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩.৪ ওভারেই জয়ের ঠিকানায় পৌছে যায় জেসন হোল্ডারের দল।

বেনসেনসেশনাল

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন বেন স্টোকস। ৭৯ বলে করেছেন ৮৯। বল হাতে নিয়েছেন দুই উইকেট। দুটি ক্যাচও নিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে একটি ক্যাচ তো রীতিমতো অনবদ্য। বিশ্বকাপের প্রথম দিনই কিন্তু দারুণ কীর্তিতে একটা রেকর্ড স্পর্শ করে ফেলেন এই ইংরেজ অলরাউন্ডার।

বিশ্বকাপে তিনি দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক ম্যাচে ৮০ প্লাস রান, দুটি ক্যাচ ও দুটি উইকেট নেন। এর আগে, ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার অরবিন্দ ডি’‌সিলভা এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি উইকেট, দুটি ক্যাচ ও ১০৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। ডি’‌সিলভা ম্যাচ সেরা‌ও হয়েছিলেন। আর স্টোকসও ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জেতেন গতকাল বৃহস্পতিবার।

উদ্বোধনী ম্যাচ শেষে যাবতীয় আলোচনা স্টোকসকে নিয়ে। যেন উড়ন্ত বাজপাখি!‌ বাউন্ডারি লাইনে যেভাবে ফেলুকায়োর ক্যাচ ধরলেন, তা দেখে সৌরভ গাঙ্গুলি, নাসের হুসেনের মতো বিশেষজ্ঞরা মেনে নিলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা অন্যতম সেরা ক্যাচ। সত্যি, না দেখলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আকাশ থেকে শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে এক হাতে বলটি তালুবন্দি করেন স্টোকস। ক্রিকেট যতদিন থাকবে ডিপ মিড উইকেটে স্টোকসের ক্যাচ ততদিনই মনে থাকবে। ব্যাটে রান, বলে উইকেট আর উড়ন্ত ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের সেরা বেন স্টোকস ছাড়া যে আর কাউকে ভাবা যায় না।

জয়ে শুরু ইংল্যান্ডের

ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে জয় দিয়েই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। তার কল্যাণেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ইংলিশরা। লন্ডনের কেনিংটন ‌ওভালে টসে হেরে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩১১ রান তোলে স্বাগতিকরা। জবাবে, ৬১ বল হাতে থাকতেই মাত্র ২০৭ রানে অলআউট হয় প্রোটিয়ারা। ম্যাচ সেরা হন বেন স্টোকস।

৩১২ রানের টার্গেটে নেমে জোফরা আর্চারের বাউন্সারে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন দক্ষিণ আফ্রিকান ‌ওপেনার হাশিম আমলা। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি প্রোটিয়ারা। দলের মাত্র ৪৪ রানেই আর্চার সাজঘরে ফেরত পাঠান মার্করাম ‌ও ফাফ ডু প্লেসিসকে। দুই সতীর্থকে হারিয়ে সাবধানে দলকে টানতে থাকেন কুইন্টন ডি কক। ৬৮ রানে থাকা ডি কককে সাজঘরে ফেরত পাঠান প্ল্যাঙ্কেট। এরপরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের সকল প্রতিরোধ। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ‌ওঠা ডুসেককে ৫০ রানেই থামিয়ে দেন আর্চার। শেষ পর্যন্ত ২০৭ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এরআগে ওভালে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেয়েছিল ইংল্যান্ডও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বলটি প্রথমবারের মতো কোনো স্পিনারকে দিয়ে করানোর নজির গড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস। ইমরান তাহিরের হাতে বল তুলে দেন। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই রানের খাতা খুলতে না পারা জনি বেয়ারস্টোকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে আস্থার প্রতিদান দেন তাহিরও। তারপরও জেসন রয়, জো রুট, ইয়ন মরগান ও বেন স্টোকসের ফিফটিতে তিনশ পেরোনো সংগ্রহ গড়েছে ইংল্যান্ড।

দুটি শতরানের জুটি আসে। প্রথমটি আসে রয় ও রুটের ব্যাটে। দুজনে যোগ করেন ১০৬ রান। দুজনেই ফিরেছেন ফিফটি পার করেই। ৮ চারে ৫৩ বলে ৫৪ রানের ইনিংস রয়ের। ৫ চারে ৫৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস রুটের। দুজনেই দ্রুত আইট হন ফিফটি করে।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে অবশ্য ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকরা। আরেকটি শতরানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলান মরগান ও স্টোকস। এই জুটিও ঠিক ১০৬ রানের। মরগানের বিদায়ে ভাঙে। ফেরার আগে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৬০ বলে ৫৭ রানের ঝলমলে ইনিংস আসে অধিনায়কের থেকে।

চার ফিফটির বড়টি স্টোকসের। ৯ চারে ৭৯ বলে ৮৯ রানের। এগারো রানের জন্য শতক হাতছাড়া করেছেন এ অলরাউন্ডার। পরে জস বাটলার ১৮ ও ক্রিস ওকসের ১৩ রানে তিনশ পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

প্রোটিয়াদের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা লুনগি এনগিডি, যদিও খরচ করেছেন ৬৬ রান। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাহির ও কাগিসো রাবাদা, যথাক্রমে ৬১ ও ৬৬ করে রান খরচ করে। ৮ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ফেলুকোয়ও নিয়েছেন একটি উইকেট।

ভারত সমর্থকদের সাজানো কান্ড

কী পারে না ভারতীয়রা! ছয়কে নয়, আর নয়কে ছয় করার ‌ওস্তাদ তারা। এমনই এক নজির গড়লো ভারতীয়রা। অবশ্য সবই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে। অতি উতসাহী কিছু লোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ছোট করবার জন্যই এমনটা করেছিল।

ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে। গত মঙ্গলবার ম্যাচের একটি ভিডি‌ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরতে শুরু করে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সাব্বির রহমানকে ডেলিভারির মাঝপথে থামিয়ে দিচ্ছেন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি। তারপর সাব্বিরকে ফিল্ডিং পজিশন পাল্টানোর পরামর্শ দিচ্ছেন নাকি ধোনি! এমএসডি-র পরামর্শ পেয়ে ফিল্ডারকে মিড উইকেট থেকে স্কোয়ার লেগে সরিয়ে নেন সাব্বির। ভারতীয় সমর্থকদের একাংশ ঘটনাটিকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই নিয়ে বাংলাদেশ দলকে তীব্র ব্যঙ্গও করা হয়েছে।

কিন্তু ঘটনাটি আসলে এমন নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৩৯ ওভারে সাব্বির রহমানের হাতে বল তুলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তাজা। সাব্বির যখন রান-আপ নিচ্ছিলেন তখনই ধোনি তাঁকে থামান। আসলে শর্ট মিড উইকেটের ফিল্ডার মুভ করছিলেন। তাতে ধোনির সমস্যা হচ্ছিল এবং মিড উইকেটে দাঁড়ানো ফিল্ডারের পজিশন নিয়েও তিনি ধোঁয়াশায় ছিলেন। এরপর সেই ফিল্ডারকে স্কোয়ার লেগে পাঠিয়ে দেন সাব্বির। পরে আবার রান-আপ নিয়ে বল করেন। আসল ঘটনা এটাই। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট দলের সমর্থকদের কল্যাণে সেই ঘটনা-চিত্র পাল্টে যায়।

লালকার্ডের ক্রিকেট বিশ্বকাপ

ফুটবলের কাছে রিনি হয়ে গেল এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেট। কারণ ফুটবলের মতো এবারই প্রথম ক্রিকেটে থাকছে 'লাল কার্ড'। শুনতে অবাক লাগলেও এবার বিশ্বকাপে এমনই হবে। মাঠে অশালীন আচরণ ঠেকাতে আইসিসি বদ্ধপরিকর। আর তাই এবার বিশ্বকাপে আম্পায়ারদের পকেটে থাকবে লাল কার্ড। কোনও ক্রিকেটারকে মাঠ থেকে বের করে দেয়া এবং বিপক্ষকে পাঁচ রান বোনাস দেয়ার আইন চালুর পর এই প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে। তাতে এবার একগুচ্ছ নতুন নিয়মের সঙ্গে পরিচিত হবেন দর্শকরা।

ক্রিকেটারদের অশালীন আচরণ চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই চার স্তরের ভিত্তিতে শাস্তি হতে পারে ক্রিকেটারদের।

লেভেল ওয়ান: অকারণে আম্পায়ারের সামনে অতিরিক্ত আপিলের ভঙ্গি দেখানো। অথবা আম্পায়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়া। প্রথমবার সতর্ক করতে পারেন আম্পায়ার। কিন্তু দ্বিতীয়বার হলে শাস্তি হিসেবে বিপক্ষকে পাঁচ রান বোনাস দেওয়া হবে।

লেভেল টু: কোনও খেলোয়াড়ের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বল থ্রো করা। অথবা ইচ্ছে করে কোনও ক্রিকেটারকে ধাক্কা দেয়া বা দৌড়নোর সময় বাধা সৃষ্টি করা। শাস্তি হতে পারে একই। বিপক্ষ দল পাবে পাঁচ রান।

লেভেল থ্রি: আম্পায়ারকে ভয় দেখানো। অন্য কোনও ক্রিকেটার, কর্তা বা দর্শককে আক্রমণের হুমকি দেওয়া। শাস্তি হিসাবে বিপক্ষ দল পাঁচটি পেনাল্টি রান পেতে পারে। অথবা দোষী খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভারের জন্য মাঠ থেকে বের করে দিতে পারেন আম্পায়ার।

লেভেল ফোর: আম্পায়ারকে হুমকি দিলে অথবা মাঠে কোনও রকম হিংসাত্মক আচরণ করলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে ক্রিকেটারকে।। এক্ষেত্রেও বিপক্ষকে পাঁচটি পেনাল্টি রান দেওয়া হতে পারে। এছাড়া দোষী ক্রিকেটারকে ম্যাচের বাকি সময়ের জন্য মাঠ থেকে বের করে দিতে পারেন আম্পায়ার।

বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

অপেক্ষার পালা শেষ। এবার রাত পোহালেই শুরু বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। দশ দলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হলো ভিন্ন আঙ্গিকে। বলা যায়, জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে। এই নিয়ে পঞ্চমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ইংল্যান্ড। এর আগে এমন নজির আর কোনও দেশের নেই। বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় বাকিংহ্যাম প্যালেসের সামনে ‘দ্য মল’-এ এক ঘন্টার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাধারণত আয়োজক দেশের কোনও স্টেডিয়ামে হয়ে থাকে। কিন্তু এবার প্রথা ভেঙেছে ইংল্যান্ড। যুগ যুগ ধরে ব্রিটিশ ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে যে জায়গা, সেই বিখ্যাত দ্য মল-এ এবার শুরু হয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। দ্য মল জায়গাটি ব্রিটিশদের জন্য বেশ গর্বের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় উৎসব‌ও দ্য মল-এ পালন করেছিল ইংরেজরা। এছাড়া রানি এলিজাবেথের সিংহাসন আরোহণের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানও দ্য মল-এ’ই হয়েছিল।

দ্য মল-এর আসনসংখ্যা মাত্র চার হাজার। এই চার হাজার দর্শকের প্রত্যেকেই আইসিসি’র আমন্ত্রিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রিকেট ছাড়াও সঙ্গীত ও সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রদর্শনী ছিল। ছিল আইসিসির প্রতিটি দেশের সদস্য দূতদের ৬০ সেকেন্ডের স্ট্রিট ক্রিকেট‌ও। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ও জয়া আহসান বাকিংহামের মাঠে ব্যাট করেন।

এর আগে, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অতিথি হয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য বাকিংহাম প্যালেসে যান দশ দলের অধিনায়ক।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের হার

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের কাছে ৯৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। হট ফেভারিটদের বিপক্ষে এই পরাজয় অনুমিতই ছিল। ভারতের করা ৩৫৯ রানের জবাবে ২৬৪ রানে অলআউট হয় মাশরাফিবাহিনী।

বিশ্বকাপের মূলপর্ব শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় দিয়েই বিশ্বকাপের অন্তিম প্রস্তুতি সারল বিরাট কোহলির দল। আজ মঙ্গলবার কার্ডিফে লোকেশ রাহুল ‌ও মহেন্দ্র সিং ধোনির জোড়া শতকে টস হারা ভারত ৭ উইকেটে তোলে ৩৫৯ রান। জবাবে বাংলেদেশ ইনিংস শেষ হয়ে গেল ২৬৪ রানে।

ওভালে থাকবে বাংলাদেশিদের দখলে

আজই প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। আগামী ২ জুন ওভালে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন। ৩০ মে থেকে শুরু হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপে মাশরাফি বাহিনী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা দিয়ে শুরু করবে। ওভালের গ্যালারীতে রয়েছে ২৪ হাজার আসন। যার মধ্যে ১৬ হাজার আসন এখন টাইগার ক্রিকেট সমর্থকদের দখলে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের ম্যাচে মাঠে থেকে টাইগারদের উজ্জীবিত করতেই তাদের এই প্রয়াস। শুধু ওভালে নয়, প্রায় সব ভেন্যু নিজেদের দখলে রাখার ইচ্ছা টাইগার সমর্থকদের। গত রোববার কার্ডিফে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে বৃস্টিতে বাতিল হয়। এই ম্যাচেও প্রচুর বাংলাদেশী সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে লন্ডন প্রবাসী এক ক্রিকেট ভক্ত মোখলিসুর রহমান ছোটন জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স এবং নিজ দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই তাদের এই উন্মাদনা। তিনি জানান একটা সময় সবাই বাংলাদেশ দলকে অবহেলা করত, আর এখন লন্ডনের স্থানীয় মানুষরাও বাংলাদেশ দলকে সম্মান করে এবং তাঁরাও বিশ্বাস করে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয় সম্ভব।

বৃষ্টি শেষে ভারতে আঘাত বাংলাদেশের

বৃষ্টি শেষে খেলা শুরু হতেই শিখর ধা‌ওয়ােনর উইকেট হারাল ভারত। এটিই ভারত শিবিরে বাংলাদেশের প্রথম আঘাত। দলের ৫ রানে মুস্তাফিজের বলে লেগবিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন ধা‌ওয়ান। ১০ ‌ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ এক উইকেটে ৩৪ রান।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল হওয়া সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে একতরফা হার মানতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে৷ স্কোর বোর্ডে পর্যাপ্ত রান না থাকায় ওভালে বোলারদের নিয়ে অভিযোগের অবকাশ ছিল না। তবে ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ে কপালে ভাঁজ পড়ে সমর্থকদের। একমাত্র রবীন্দ্র জাদেজা ছাড়া কেউ ফিফটি‌ও করতে পারেন নি।

যদিও অনুশীলন ম্যাচের এমন হারে বিচলিত নন শচীন টেন্ডুলকরের মতো কিংবদন্তি। তাঁর মতে, প্র্যাকটিস ম্যাচে কোনও দলই নিজেদের সবটুকু দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে না। জয়ের থেকেও কম্বিনেশন নির্ধারণ ও পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দিকেই নজর থাকে দলগুলির।

এদিকে, কার্ডিফে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত হয়। একটি বল‌ও মাঠে গড়ায়না। বিশ্বকাপের এমন স্টেজ রিহার্সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টস ভাগ্য সঙ্গ দিল না ভারতকে। টসে জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতরউজা ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভারতকে। প্রথম প্র্যাকটিস ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় মাশরাফিা দলের সব ক্রিকেটারকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন।

কোহলি অবশ্য এই ম্যাচে প্রথমে বোলিং করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় গত কয়েকদিনের ঢেকে রাখা পিচে বোলিং করেত চান পরিস্থিতির সুবিধা নিতে। তবে ভারত যেহেতু একই রকম পরিবেশে প্রথম ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং করেছে, তাই কোহলি চেয়েছিলেন চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে এই ম্যাচে শুরুতে বোলারদের যাচাই করে নিতে। যদিও টস হারায়, সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় টিম ইন্ডিয়ার।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ পরিত্যক্ত

অবশেষে পরিত্যাক্তই হল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যেকার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রস্তুতি ম্যাচ। বৃষ্টির কারণে বল তো মাঠে গড়ায়ই নি, এমনকি টসই হতে পারে নি।

কার্ডিফের আকাশ সকাল থেকেই ছিল মেঘে ঢাকা। বেলা একটু গড়াতেই মেঘ সামান্য কমার পূর্বাভাস ছিল। পরে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। এছাড়া বৃষ্টি যদি পরে থামেও তবে খেলা হওয়া নিয়ে আছে শঙ্কা। কারণ আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বেলা ১২টা নাগাদও আকাশে শতভাগ মেঘ থাকবে। ওই মেঘ সন্ধ্যা নাগাদ কমার সম্ভাবনাই বেশি। তার আগেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যেতে পারে। তবে আম্পায়াররা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সময় রাত আটটা ০২ মিনিটে শুরুর সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে খেলা হবে ২০ ‌ওভারে। কিন্তু পরে আর খেলার পরিচালনার জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে নি কার্ডিফের মাঠ।

বাংলাদেশ দল এ ম্যাচে কিছু ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দিয়ে খেলার চিন্তা করেছিল। তবে ম্যাচটা না হলে ইংল্যান্ডে প্রথম গা গরমের ম্যাচ খেলার সুযোগটাই হারাবে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচটা পাকিস্তানের জন্যও খেলা ছিল খুব দরকারি। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তাদের সামান্য হলেও আত্মবিশ্বাসের রশদ দরকার।

বৃষ্টিতে থেমে আছে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ

প্রস্তুতি ম্যাচেই শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের আমেজ। ইংল্যান্ডকে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভারত গা গরমের ম্যাচে পাত্তাই পায়নি কিইউদের কাছে। পাকিস্তান হেরেছে আফগানদের কাছে। আর আজ রোববার কার্ডিফে প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ‌ও পাকিস্তানের। কিন্তু ম্যাচের আগেই শুরু হয় বৃষ্টি। তাতে খেলা শুরু তো দূরের কথা টসই হতে পারে নি।

কার্ডিফের আকাশ সকাল থেকেই ছিল মেঘে ঢাকা। বেলা একটু গড়াতেই মেঘ সামান্য কমার পূর্বাভাস ছিল। পরে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। এছাড়া বৃষ্টি যদি পরে থামেও তবে খেলা হওয়া নিয়ে আছে শঙ্কা। কারণ আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বেলা ১২টা নাগাদও আকাশে শতভাগ মেঘ থাকবে। ওই মেঘ সন্ধ্যা নাগাদ কমার সম্ভাবনাই বেশি। তার আগেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যেতে পারে। তবে আম্পায়াররা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সময় রাত আটটা ০২ মিনিটে শুরুর সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে খেলা হবে ২০ ‌ওভারে।

বাংলাদেশ দল এ ম্যাচে কিছু ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দিয়ে খেলার চিন্তা করেছিল। তবে ম্যাচটা না হলে ইংল্যান্ডে প্রথম গা গরমের ম্যাচ খেলার সুযোগটাই হারাবে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচটা পাকিস্তানের জন্যও খেলা ছিল খুব দরকারি। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তাদের সামান্য হলেও আত্মবিশ্বাসের রশদ দরকার।

বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে পাকিস্তান। প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানরা সহজে হারিয়েছে তাদের। পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ ম্যাচ তাই আর প্রস্তুতি ম্যাচ নেই। বিশ্বকাপে অন্তত একটা জয়ের সুবাস নিয়ে যেতে চাইবে তারা। বাংলাদেশ স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদি মিরাজও জানিয়েছে, গা গরমের ম্যাচ বলে হালকাভাবে নিচ্ছেন না।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ কাল

আগামীকাল রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম অনুশীলন শুরুর আগে সতীর্থরা সবাই ব্যস্ত গা গরমের ফুটবলে। আর মাহমুদউল্লাহ তখন মাঠের এক পাশে। বল হাতে নিয়ে হাত ঘোরাচ্ছেন স্পিন কোচ সুনীল যোশীর সঙ্গে। কাছ থেকেই তীক্ষ্ণ নজর রাখছিলেন ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহন।

কাঁধের চোটের পর বোলিং বাদ রেখেছিলেন। এ দিনই আবার বোলিংয়ে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম দিনের বোলিং আশা দেখাচ্ছে তাকে ও বাংলাদেশ দলকে। এই অলরাউন্ডের বিশ্বাস, বোলিং করতে পারবেন বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে। আর প্রস্তুতি ম্যাচটিকে হালকাভাবে না নিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন‌ও করছিলেন সবাই।

আফগানে মচকে গেল পাকিস্তান

বিশ্বকাপের মুলমঞ্চের লড়াই শুরুর আগেই প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে ক্রিকেট বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-০ তে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আফগানিস্তানের কাছেও হারল পাকিস্তান। এতে বিশ্বকাপের আসল লড়াইয়ের আগে চাপেই থাকল সরফরাজ আহমেদের দল। আগামী রোববার বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে তারা।

প্রস্ততি ম্যাচে ব্যাট হাতে একেবারে টি-টুয়েন্টি মেজাজে হজরতউল্লাহ জাজাই। ব্রিস্টলে তিনি শাহিন শাহ আফ্রিদিকে এক ওভারে পাঁচটি চার হাঁকান। ২৬৩ রানের টার্গেটে নেমে ম্যাচের চতুর্থ ওভারে শাহিন আফ্রিদির বিরুদ্ধে বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন জাজাই। আফ্রিদির সেই ওভারে ২১ রান নেয় আফগানিস্তান। ম্যাচে জাজাইর সংগ্রহ ২৮ বলে ৪৯ রান। ইনিংস সাজানো ৮টি চার ও ২টি ছয় দিয়ে৷ মাত্র এক রানের জন্য এদিন অর্ধশতরান মাঠে ফেলে আসেন তিনি।

স্পিনার শাদাব খানের বলে শোয়েব মালিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪৯ রানে সাজঘরে ফেরেন আফগান তরুণ ব্যাটসম্যান। তার আগে অবশ্য অসুস্থতার কারণে সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মদ শাহজাদ।

জাজাই-শাহজাদের ওপেনিংয়ে ৮০ রানের ভিতে দাঁড়িয়ে দলকে জয়ের পথ দেখান রহমত শাহ (৩২), সামিউল্লাহ শেনওয়ারি (৩০), মোহাম্মদ নবি (৩৪) ও হাসমতউল্লাহ শাহিদী(৭৪)। ১০২ বলে সাতটি চারের সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন হাসমতউল্লাহ।

একসময় মনে হচ্ছিল, সহজ জয়ই পেতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। কিন্তু দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানি বোলাররা ম্যাচ নিজেদের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দুই বল বাকি থাকতে তিন উইকেট হাতে রেখে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় আফগানিস্তান। পাকিস্তানের হয়ে ইমাদ ওয়াসিম দুটি এবং মোহাম্মদ হাসনাইন, ওয়াহাব রিয়াজ ও শাদাব খান একটি করে উইকেট নেন।

অন্যদিকে প্রথমে ব্যাট করে এদিন নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলে ওঠার আগেই ২৬২ রান অলআউট হয় পাকিস্তান। দলের হয়ে ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১২ রানের ইনিংস খেলেন বাবর আজম। তার ব্যাটে ভর করেই আফগানিস্তানকে ২৬৩ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় সরফরাজ আহমেদের দল। বাবর ছাড়া রান ইমাম উল-হক ৩২ ও অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক ৪৪ রানের দামি ইনিংস খেলেন।

বল হাতে এদিন আফগানিস্তানের হয়ে বাজিমাত করেন নবি। ১০ ওভারে ৪৬ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। আরেক স্পিনার রশিদ খান ৯ ওভারে ২৭ রান খরচ করে ২ উইকেট পান।

দলের জয়ের অংশ হতে চান রুবেল

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম পেস ব্যাটারি রুবেল হোসেন। আগের দুটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০১১ ও ২০১৫ মিলে ১২ ম্যাচে তার নামের পাশে ১৩টি উইকেট। দলে নিজের জায়গা আগে পাকাই ছিল। কিন্তু এখন একাদশে থাকার নিশ্চয়তা কম রুবেলের। তবে বিশ্বকাপ ও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগের অপেক্ষায় তিনি। একাদশে জায়গা পেলে নিজের সেরাটা দেবার কথাই জানান, এই ডানহাতি পেসার রুবেল হোসেন।

বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে আগামী রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। কার্ডিফের সেই ম্যাচের আগে রুবেল কথা বলেছেন সম্প্রতি শেষ হওয়া আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের উইকেট নিয়েও। তিনি বলেন, ‘এখন আমি সম্পূর্ণ ফিট। গত চার-পাঁচটা সেশন আমি বোলিং করেছি।’

দলের প্রথম একদাশে এখন প্রতিযোগিতা তুমুল। সেখানে জায়গা করে নিতে কতটা আত্মবিশ্বাসী? রুবেলের উত্তর, ‘অবশ্যই কঠিন। তবে আমাকে যদি খেলার সুযোগ দেয় এবং আমি যদি দলে থাকি, তাহলে নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব। চেষ্টা করব বেস্ট ক্রিকেট খেলার। আসলে আমি সুযোগের অপেক্ষায়।’

নিজের ফিটনেসের সঙ্গে রুবেল কথা বলেন সাকিব আল হাসানকে নিয়েও, ‘সাকিব ভাই এখন ভালোই আছেন। বোলিং-ব্যাটিং করছেন। সবশেষ তার মুখ থেকেই শুনেছি তিনি ভালো আছেন। আমাদের দলে এখন কারোই তেমন ইনজুরি নেই।’

ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের উইকেট নিয়ে রুবেল বলেন, ‘দুটি জায়গাতে উইকেট প্রায় একই রকম। তবে আয়ারল্যান্ডে ঠাণ্ডা একটু বেশি ছিল। মনে হয়, এখানে (ইংল্যান্ডে) রান একটু বেশি হবে।’ নিজে ভালো বোলিং করে দলের জয়ের অংশীদার হতে চান রুবেল।

অধিনায়কদের স‌ওয়াল-জবাব

আইসিসির আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের ১০ অধিনায়ক একসঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিল সংবাদ মাধ্যমের। মঞ্চের ঠিক মাঝখানে রাখা ট্রফি। পাশের সোফায় বসেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। একই আসনে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিস। বাকি সব অধিনায়কের মতো মাশরাফির দিকেও বেশ কিছু প্রশ্ন গেল। সে সবের উত্তর দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বললেন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা।

একটি মজার প্রশ্ন ছিল ১০ অধিনায়কের উদ্দেশে। যদি একজন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সুযোগ থাকত, কাকে নিতেন। মাশরাফি বলেন, বিরাট কোহলির কথা। এ সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান। চাপের মুখে নিজের সেরাটা খেলেন। একজনকে নেওয়ার সুযোগ থাকলে মাশরাফি কোহলিকেই দলে নিতেন।

এউইন মরগান বলেন, এখনকার কোনো ক্রিকেটার নয়, সুযোগ থাকলে তিনি রিকি পন্টিংকে নিতেন। দু’বারের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের দলটার সংস্কৃতির ভক্ত ছিলেন বলে। কোহলি জানান, ‘প্রশ্নটার জবাব দেওয়া কঠিন। নিজেদেরই যথেষ্ট ভালো মনে করি আমরা। একজনকে যদি নিতেই হয়, এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যেই কি নিতে হবে? আমি এবি ডি ভিলিয়ার্সের কথাই বলতাম, কিন্তু ও তো অবসর নিয়ে নিয়েছে। হুম, ফাফ ডু প্লেসিকে নিতাম। আমার ভালো বন্ধু।’

সরফরাজ এক কথায় জবাব দিয়েছেন, তিনি নিতেন জস বাটলারকে। জেসন হোল্ডার ও গুলবাদিন নাইব প্রশ্নটার উত্তর এড়িয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, তিনি চান কাগিসো রাবাদাকে। রাবাদার মতো খেলোয়াড় শুধু বল হাতে নয়, দলেও কতটা ‘এনার্জি’ নিয়ে আসেন। তাঁর চোখে রাবাদা ‘সুপারস্টার’। ফাফ ডু প্লেসি বলেছেন জসপ্রিত বুমরা ও রশীদ খানের কথা। লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে বলেন, তিনি নিতেন বেন স্টোকসকে। আর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেছেন রশীদ খানের কথা।

তবে নিজের বিশ্বকাপ দল নিয়েই মাশরাফি খুশি, তাও জানিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমাদের দলে একগাদা ভালো ক্রিকেটার আছে। বেশ কজন সিনিয়র ক্রিকেটারের পাশাপাশি তরুণরাও উঠে আসছে যারা সবখানেই দারুণ ক্রিকেট খেলছে। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্য মিলিয়ে দারুণ মিশেল আছে আমাদের দলে। আয়ারল্যান্ডে হয়ে যাওয়া গত সিরিজেও সবাই ভালো খেলেছে। আশা করছি বিশ্বকাপটাও ভালোভাবে শুরু করতে পারব। ২ জুন ফাফের (দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের দিকে তাকিয়ে) দলের বিপক্ষেই তো আমাদের শুরু। আশা করছি ভালো শুরুই হবে।’

সিপিএলে আফিফ

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) সপ্তম আসরের নিলামে এবার সাকিব-তামিমের মতো বাংলাদেশের বড় তারকারা দল না পেলে‌ও চমক জাগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব। তিনি খেলবেন সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে।

সিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফটে এবার ছিল বাংলাদেশের ১৮ খেলোয়াড়ের নাম। বড় তারকাদের মধ্যে ছিলেন- সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু তাদের কাউকেই নিলামে কেনেনি কোনো দল। বাংলাদেশ থেকে শুধু দল পেয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তাকে কিনেছে সেন্ট কিটস এবং নেভিস প্যাট্রিয়টস।

দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে বিদেশেী লিগে সুযোগ পেয়েছেন আফিফ। আর এবারই প্রথম দেশের বাইরে কোন ফ্র্যাঞ্জাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছেন তিনি। সিপিএলে এর আগে, বাংলাদেশ থেকে খেলেছেন- সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ আর মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ড্রাফটে থাকা তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, লিটন কুমার দাস, জাকির হোসেন, আরিফুল হক, জুবায়ের হোসেন লিখন, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, মুশফিক, আবুল হাসান রাজু, আবু হায়দার রনি এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন‌ও দল পাননি।

লন্ডন গেলেন মাশরাফি

পরিবারের সাথে ছুটি কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলের সাথে যোগ দিতে ইংল্যান্ড রওয়ানা দিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ বুধবার সকালে লন্ডনের উদ্দ্যেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

বিমানবন্দরে সংবাদিকদের মাশরাফি বলেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে সাফল্য পেতে দলের শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার লন্ডনে আইসিসি আয়োজিত সব দেশের অধিনায়কদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন মাশরাফি। সেখান থেকে কার্ডিফে গিয়ে মাশরাফি দলের সাথে যোগ দেবেন। আগামী ২৬ ও ২৮ মে পাকিস্তান ও ভারতের সাথে দু’টি ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

সাকিব আবার‌ও বিশ্বসেরা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের নক্ষত্রই তিনি। নানা অর্জনে বারবার নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন সাকিব আল হাসান। আইসিসির অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানকে তেমনই বানিয়ে ফেলেছিলেন ‘নিজস্ব সম্পত্তি’। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে জায়গাটা কেড়ে নেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান। ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত খেলে সাকিব আবারও ফিরলেন শীর্ষস্থানে। আজ ওয়ানডের হালনাগাদ করা র‌্যাঙ্কিং তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার।

ত্রিদেশীয় সিরিজে ৫ ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই খেলতে পারেননি সাকিব। এক ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে, অন্যটিতে আঘাত হানে চোট। তাতে ফাইনালে দর্শক হয়ে বসে থাকতে হয় ড্রেসিংরুমে। কিন্তু তার আগেই যা করার করে ফেলেন সাকিব। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করা সাকিবের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৩৫৯। দুইয়ে নেমে যাওয়া রশিদ খানের রেটিং পয়েন্ট ৩৩৯।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে দুটিতে অপরাজিত ফিফটি তুলে নেন সাকিব। এতে ৩ ম্যাচে তাঁর রান ১৪০, ব্যাটিং গড়ও ১৪০! বল হাতেও কম যাননি। ২ উইকেট পেলেও তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৪.৩১। বল হাতে বেশ ভুগিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না রশিদ। শেষ ম্যাচে ‘গোল্ডেন ডাক’ দেখতে হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট পেলেও পরের ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। পরিণতিতে শীর্ষস্থান হারাতে হলো সাকিবের কাছে। আট মাস পর শীর্ষ ওয়ানডে অলরাউন্ডারের জায়গা ফিরে পেলেন সাকিব।

বিশ্বকাপ জার্সি বিক্রির সিন্ডিকেট ভাঙার দাবী

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়া বাংলাদেশ দলের জার্সি বিক্রি পড়েছে চার সিন্ডিকেটের হাতে। সেই সিন্ডিকেট ভাঙার দাবীতে আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইস্পোর্টার্স এসোসিয়েশন।

এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম ‌ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিখিত বক্তব্যে জানান, আপনারা জানেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল লাল-সবুজের গৌরবময় জার্সি পড়ে মাঠে নামবে। সারা দেশের মানুষও দেশের গৌরবময় এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলা উপভোগ করবেন। জার্সি গায়ে বিশ্বকে ‘বাংলাদেশ’কে চেনাবেন। কিন্তু কিছু হঠকারী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জার্সি ক্রয় করার প্রত্যাশা পুরণ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন।

কারণ হিসেবে তারা বলেন, ৩০০ টাকায় তৈরী করা জার্সি ক্রয় করতে হবে সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ১১৫০ টাকায়। কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়া একটি সিন্ডিকেটের চার প্রতিষ্ঠান ‘অঞ্জনস’, ‘জেন্টল পার্ক’, ‘স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টস’ এবং ‘রবিন স্পোর্টস’কে জার্সি তৈরী ও বিক্রয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। এই চার সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কোন ক্রীড়া পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই জার্সি তৈরী বা বিক্রয় করতে পারবে না বলে তারা সকল ক্রীড়া ব্যবসায়ীকে সতর্ক করছে। এর ফলে সাধারণ ক্রীড়ানুরাগীদের পক্ষে উচ্চ মূল্যে অর্থাৎ ১১৫০ টাকায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানো সম্ভব হয়ে উঠবে না। আমরা এই অনিয়ম এবং ৩০০ টাকার জার্সি ৪০০ টাকা না হয়ে ১১৫০ টাকায় বিক্রয়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রযুক্তিঘেরা এক ক্রিকেট বিশ্বকাপ

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সর্বাধিক প্রচারিত এবং প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বকাপ। ৪৬ দিনের এই আসরের মূল পর্বের ৪৮ টি ম্যাচ তো বটেই, সাথে প্রথমবার ১০টি প্রস্তুতি ম্যাচও সরাসরি সম্প্রচার করতে যাচ্ছে আইসিসি। আর ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য থাকছেন ২৪ জন ধারাভাষ্যকার। শুধু তাই নয়, এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে ব্যবহৃত হবে কমপক্ষে ৩২ টি ক্যামেরা। যার মধ্যে থাকবে ৮ টি আল্ট্রা মোশন ‘হক আই ক্যামেরা’ যা দিয়ে বলের সম্ভাব্য গতিবিধি নির্ণয় করা হয়ে থাকে। উইকেটের সামনে এবং পেছন দিকের ছবি নেয়ার জন্য স্টাম্পের সামনে এবং পেছনে দুইটি করে ক্যামেরা থাকবে। সাথে থাকবে স্পাইডার ক্যামেরা যা তারের মাধ্যমে বিচরণ করবে মাঠের চারদিক।

দর্শকদের জন্য চমক হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও রিপ্লের ব্যবস্থা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পিয়েরোর সাহায্যে একাধিক ক্যামেরার ভিডিও একসাথে করে ৩৬০ ডিগ্রি রিপ্লে দেখানো হবে। যা জটিল মুহূর্তগুলোকে বিশ্লেষণে সহযোগিতা করবে। ইংল্যান্ড আর ওয়েলসের মাঠগুলো আকাশ ও ভূপৃষ্ঠ থেকে টিভির পর্দায় দেখানোর জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশ থেকে গোটা স্টেডিয়ামগুলো দেখানো যাবে আর বাগি ক্যাম দিয়ে গ্রাউন্ড ভিউ অর্থাৎ মাঠের ভূপৃষ্ঠের ভিডিও দেখানো হবে। এছাড়া স্পোর্টস গ্রাফিক্স বিশেষজ্ঞ অ্যালস্টন এলিওট একটি নতুন গ্রাফিক্স প্যাকেজ তৈরি করেছে এবারের বিশ্বকাপ সম্প্রচার উপলক্ষে। যার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্কোর এবং পরিসংখ্যান খেলা চলাকালীন সময়ে তুলে ধরা হবে টিভির পর্দায়।

আইসিসির মিডিয়া স্বত্বের প্রধান আরতি দাবাস বলেন, এমন একটি সম্প্রচারকারী দল পেয়ে আমি আনন্দিত। ক্রিকেট ভক্তদের কাছে এরা এবারের বিশ্বকাপকে প্রাণবন্ত করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগের যেকোনো বারের তুলনায় দর্শকদের এবার আরো বেশি সম্পৃক্ত করা। আমাদের বিচক্ষণ দল সেই উদ্দেশ্য সফলেরই পরিকল্পনা দিয়েছে।

এবারে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ধারাভাষ্যকারদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপভোগ করতে পারবে দর্শকরা, যা এই বিশ্বকাপকে করে তুলবে আরো বেশি আকর্ষণীয়। আইসিসি টিভি মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়েও বিষয়বস্তু তৈরি করে তাদের সম্প্রচার অংশীদারদের সরবরাহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই বিষয়বস্তুর মধ্যে থাকবে প্রতিদিনের প্লেয়ার প্রোফাইল, টিম ফিচার, ম্যাচ প্রিভিউ, ভেন্যু ফিচারসহ মাঠের বাইরের আরও অনেক তথ্য।

ফিরেছেন মাশরাফি

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্ত্তোজাসহ ৪ ক্রিকেটার আয়ারল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। গতকাল শনিবার রাত ১১ টায় হযরত শাহজালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দরে ইমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা অবতরণ করেন।

দেশে ফেরা বাকি ক্রিকেটাররা হলো তাসকিন, রাব্বি ও নাঈম। এছাড়া দলের নিবার্চক মিনহাজুল আবেদিনও ফিরেছেন। বহুজাতিক কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম ট্রফি জেতা অধিনায়ক মাশরাফি ব্যক্তিগত ছুটিতে এসে জানন, সবার প্রচেষ্টাতেই দলের এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। টিমের সব সদস্য সাথে না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

পরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল বলেন, বড় ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ টিমের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভাল খেলবে বলে, প্রত্যাশা করেন তিনি।

এবার শুরু বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি নিতে এখন লেস্টারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল শনিবারই ডাবলিন থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছায় টাইগাররা।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর সরাসরি লেস্টারের পথে রওনা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে হোটেল পৌঁছে বিশ্রামেই কাটিয়েছেন মুশফিক-সাকিব-সৌম্যরা। তবে আজ রোববার হালকা অনুশিলন শুরু করার কথা রয়েছ। বাংলাদেশ সময় বিকেলে লেস্টার ক্রিকেট মাঠে অনুশিলনে যাবেন তারা।

সবচেয়ে বেশি প্রাইজমানির বিশ্বকাপ

ঘরের দরোজায় কড়া নাড়ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। দলগুলো‌ও প্রস্তুত নিজেদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য। তবে আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পুরস্কারের টাকার অংকে সব কিছুকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিজয়ী দল পাবে ৪০ লাখ ডলার যা টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। আর প্রতিযোগিতায় দশটি দলের জন্য সবমিলিয়ে থাকছে ১ কোটি ডলারের অর্থ পুরস্কার।

৪৬ দিনের এই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ দল পাবে ২০ লাখ ডলার। ৮ লাখ ডলার করে পাবে সেমিফাইনালে বাদ পড়া দুটি দল। সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া ৬টি দল পাবে ১ লাখ ডলার করে।

প্রতিযোগিতাকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে লিগের ৪৫টি ম্যাচের প্রতিটিতে বিজয়ী দলের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা অর্থ পুরস্কার। ৪০ হাজার ডলার করে পাবে প্রতিটি ম্যাচের জয়ী দল। আগামী ৩০ মে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার খেলা দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বাদশ আসর।

অবশেষে শিরোপায় হাত বাংলাদেশের

ব্যর্থতার ষষ্ঠসোপান পেরিয়ে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন আছে সপ্তম স্বর্গে। বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে ডাক‌ওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৭ বল আগেই চ্যাম্পিয়ন হয় টাইগাররা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২৪ ‌ওভারে ১ উইকেটে ১৫২ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। বৃষ্টি আইনে জয়ের টার্গেট পায় বাংলাদেশ ২১০ রানের।

এর আগে ছয়বার কোনো টুর্ণামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল টাইগাররা। কিন্তু শিরোপা জয়টা অধরাই ছিল। অবশেষে বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সেই অধরা শিরোপাটায় প্রথমবার ছুঁতে পারল লাল-সবুজের দল। আর বাংলাদেশর এই শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন তরুণ দুই ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ‌ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল ফিফটি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের পর মুশফিক, মিঠুনরা যখন একে একে ফিরে যাচ্ছিলেন আর বাংলাদেশ তখন জয় থেকে ধীরে ধীরে দুরে সরে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই মালাহাইডে ঝড়টা ফিরিয়ে আনলেন মোসাদ্দেক। ২২তম ওভারের ফ্যাবিয়েন এলেনের ওভার থেকেই মোসাদ্দেক নিলেন ২৫ রান। মূলতঃ ম্যাচটা ওই ওভারেই বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় চলে আসে। তিনটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি ওই ওভারে।

২৩তম ওভারের পঞ্চম বলে রেমন রেইফারকে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত, ২৪ বলে ৫২ রানে ম্যাচ সেরা মোসাদ্দেক এবং ২১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ করলো ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের বৃষ্টি আইন এটা।

এর আগে সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের উড়ন্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো, সেটা মোটেও কাজে লাগলো না। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে গেলেন সাব্বির। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেলো। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহিম।

মুশফিক-সৌম্যর ব্যাটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে ওঠে। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে।

তিনি আউট হওয়ার পর মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মুশফিক করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে বৃষ্টির কারণে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়। কার্টেল ওভারে ম্যাচটি নির্ধারণ করা হয় ২৪ ওভারে। সেই নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৫২ রান।

কিন্তু বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ালো ২১০ রান। ওভার সেই ২৪টিই।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।

মাশরাফি বিশ্বকাপে সবচে’ বেশি বয়সী অধিনায়ক

আর মাত্র ১৩ দিন পরই সবাই মেতে উঠবেন বিশ্বকাপ ক্রিকেটর মৌতাতে। ইংল্যান্ডে শুরু হবে ক্রিকেট কার্নিভ্যাল। ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস মুখরিত হবে বিশ্বের সেরা সেরা ক্রিকেটার আর দর্শক-সমর্থকদের উপস্থিতিতে। বিশ্বকাপের মেগা আসর যে সখানেই।

এবারের বিশ্বকাপে যে দশটি দল অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী অধিনায়ক বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। আসন্ন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামতে চলেছেন তিনি। মাশরাফির বর্তমান বয়স ৩৫ বছর।

বয়সের হিসেবে তাঁর পরই আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসি। প্রোটিয়াদের অধিনায়কের বয়স ৩৪ বছর। আর তিন নম্বরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার দলপতি অ্যারন ফিঞ্চ। বয়সের বিচারে অধিনায়কদের মধ্যে তিন নম্বরে রয়েছেন তিনি। অজি কাপ্তানের বয়স ৩২ বছর। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় ১৯৮৬ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ফিঞ্চ।

বয়সের হিসেবে অধিনায়কদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রেয়েছন স্বাগতিক ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। ব্রিটিশ অধিনায়কের বর্তমান বয়স ৩২ বছর। ইয়ন জোসেফ জেরার্ড মর্গ্যান, ১৯৮৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি আয়ারল্যান্ডের পক্ষ হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেছিলেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই দেশের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন ইয়ন মর্গান।

শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে, বয়স ৩১ বছর। ১৯৮৮ সালের ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বকাপের অধিনায়কদের মধ্য এই বাহাতি ‌ওপেনার বয়সের হিসেবে আছেন পঞ্চমে। পাকিস্তানের অধিনায়ক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের বয়সও ৩১ বছর।

এদিকে, ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। অধিনায়ক হিসেবে বিরাট বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন ৩০ বছর বয়সে। নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনের বয়স ২৮ বছর। আফগানিস্তানের ক্যাপ্টেন গুলবাদিন নায়েবের বয়স‌ও ২৮ বছর। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের বয়স ২৭ বছর। এবারের বিশ্বকাপে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক।

বিশ্বকাপে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার

বিশ্বকাপের আমেজে মেতে উঠতে খুব বেশি দিন আর নেই। দরজায় কড়া নাড়ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছেন কারা। এবার জানাবো সেই কথাটাই।

অভিজ্ঞদের মধ্যে তালিকায় শীর্ষে আছে ক্রিস্টোফার হেনরি গেইলের নাম। অর্থাৎ ক্রিস গেইলের নাম। এখনও পর্যন্ত মোট চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫ বিশ্বকাপে খেলছেন ‘ইউনির্ভাল বস’। চার বিশ্বকাপ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন ক্রিস গেইল।

গেইলের পরই তালিকায় দু’নম্বরে আছেন নিউজিল্যান্ডের রস টেলর। ২০০৭, ২০১১ ‌ও ২০১৫ বিশ্বকাপ মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন টেলর। আর তিন নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ পেসার লাসিথ মালিঙ্গা, দেশের হয়ে তিন বিশ্বকাপে মোট ২২টি ম্যাচ খেলেছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্ত্তজা- ২০০৩, ২০০৭ ‌ও ২০১৫ বিশ্বকাপ মিলিয়ে মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছেন। বাংলাদেশের আরও দুই ক্রিকেটার তিন বিশ্বকাপে মোট ২১টি করে ম্যাচ খেলেছেন। তারা হলেন, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি তিন বিশ্বকাপে ২০০৭, ২০১১ ‌ও ২০১৫ সালে খেলেছেন ২০টি ম্যাচ। এই তিন বিশ্বকাপের মধ্যে দুটি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেন ধোনি। জিতেছেন ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে ভারতকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের ফাইনাল বিড়ম্বনা

পরাগ আরমান

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এর আগে, মোট ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থতা আর হাতাশার কান্নায় পুড়তে হয়েছে। আরো একটি ফাইনালের সামনে বাংলাদেশ। এবার প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফাইনাল হলেই হৃদকম্প শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। কারণ টাইগারদের ফাইনালের রেকর্ড মোটেই সুবিধার নয়। একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে, একবারও শিরোপা জিততে পারেনি। ঘরের মাঠেই হেরেছে চারটি ফাইনাল। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত ২ রানের আক্ষেপে কাঁদতে হয়েছে ক্রিকেটারসহ পুরো বাংলাদেশকে।

এর আগে ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জয়ের সুবাস পেয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে হারতে হয় লাল-সবুজের দলকে। ২০১২ এশিয়া কাপের হৃদয় ভেঙে দেওয়া ফাইনালের পর, ২০১৬ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ও সবশেষ গত জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে হেরেছে বাংলাদেশ।

আর স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিদেশের মাটিতে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেও শেষ বলে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয়। বিদেশে আরো একটি ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পারবে কি বাংলাদেশ ভাগ্য বদলে শিরোপা জিতে নতুন রেকর্ড গড়তে, নাকি আরো একবার শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হবে টাইগারদের। তার জন্য অপেক্ষা আরো একটি বিকেলের।

নেপালকে হারাল বাংলাদেশ

এশিয়া কাপ হুইলচেয়ার টি-টোয়ন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের বেদনা ভুলে জয়ে ফিরেছে মোহাম্মদ মোহসিনের দল। নেপালে, স্বগতিকদের দেয়া ১৪৯ রানের টার্গেট ২ উইকেট হারিয়ে আট বল হাতে রেখেই ছুয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

এরআগে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের বোলিং তোপে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক নেপাল। ৫ বল বাকি থাকতেই ১৪৮ রানে অলআউট হয় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন হোমনাথ রাই। এছাড়া দিগম সিং ৩৫ ও বিষ্ণু পাকর ১৬ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মহিদুল ইসলাম ২৬ রানে দুটি এবং রামিম শেখ ২২ রানে একটি উইকেট তুলে নেন।

জবাবে, ১৪৯ রানের টার্গেটে নেমে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। মাত্র ১৮.৪ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম টাইগার। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ রিপন। জাভেদ আহমেদ ৩৮ এবং সাজ্জাদ হোসেন ৩১ রান করেন। নেপালের বোলারদের মধ্যে দিগরাম সিং ‌ও সুদীপ পাই একটি করে উইকেট নেন।

আগামীকাল শুক্রবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা থেকে।

পাত্তাই পেল না আয়ারল্যান্ড

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচটা ছিল শুধুই নিয়ম রক্ষার। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইবার সহজেই হারিয়ে বাংলাদেশ আগেই ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। প্রায় তিনশ’র কাছাকাছি টার্গেটে নেমেও আইরিশদের উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে বুধবার বাংলাদেশ জিতেছে ৬ উইকেটে। আগে ব্যাট করতে নেমে পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২৯২ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। প্রথম তিন ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে বাংলাদেশ সেটি পেরিয়ে যায় ৪২ বল বাকি থাকতেই। আর বল হাতে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা আবু জায়েদ রাহী।

আগেই ফাইনাল নিশ্চিত হ‌ওয়ায় বাংলাদেশ চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া রুবেল হোসেন দ্বিতীয় ওভারেই জেমস ম্যাককলামকে (৫) ফিরিয়ে ভাঙেন ২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। অ্যান্ডি বালবির্নিকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট নেন রাহী।

এরপর অনেকটা সময়জুড়েই বাংলাদেশের বোলারদের ভুগিয়েছে স্টার্লিং ও পোর্টারফিল্ডের ১৭৪ রানের জুটি। ১৫ ম্যাচে প্রথম ফিফটি পেলেন পোর্টারফিল্ড। স্টার্লিং ২০১৮ সালের মার্চের পর প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান। তবে ৬ রানের জন্য আইরিশ অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড (৯৪) সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। তাকে ফিরিয়ে বড় জুটি ভাঙেন রাহী।

রাহী নিজের পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে নেন কেভিন ও’ব্রায়েন ও স্টার্লিংয়ের উইকেটও। ১৪১ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১৩০ রান করেন স্টার্লিং। গ্যারি উইলসনকে ফিরিয়ে রাহী পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ছিল নাগালেই। বাংলাদেশ বড় লক্ষ্য পায় এবারই প্রথম। তামিমের সঙ্গে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন সৌম্য সরকারের বিশ্রামে সুযোগ পাওয়া লিটন। তিন ম্যাচে বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় শতরানের উদ্বোধনী জুটি। ১১৭ রানের জুটি ভাঙে তামিমের বিদায়ে (৫৭)।

সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল লিটনের। কিন্তু ব্যারি ম্যাককার্থির স্লোয়ারে তিনি বোল্ড হন ৭৬ রানে। তৃতীয় উইকেটে ৮৪ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সাকিব ও মুশফিক। মুশফিক ৩৫ করে সাজঘরে ফেরেন। আর সাকিব ৫১ বলে ৫০ করে মাঠ ছাড়েন ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে। মোসাদ্দেক হোসেন ১৪ রানে ফেরেন। এরপর দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান। ২৯ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। আগের ম্যাচে ব্যাটিং না পাওয়া সাব্বির ৮ বলে করেন ৭ রান।

আগামী ১৭ মে (শুক্রবার) ত্রিদেশীয় ‌ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আইপিএলে মুম্বাই চ্যাম্পিয়ন

শেষ বলের নাটকীয় জয়ে আইপিএলের দ্বাদশ শিরোপা ঘরে তুলল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এ জয়ে আইপিএলে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। মালিঙ্গার করা ম্যাচের শেষ ওভারে ৯ রান করতে পারলেই জয় পেত চেন্নাই। শেষ বলে চেন্নাইয়ের জয়ে দরকার ২ রান।মালিঙ্গার ইয়র্কারের শিকার হয়ে শারদুল ঠাকুর সাজঘরে ফিরলে চেন্নাইয়ের চতুর্থ শিরোপা জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটে। চলতি মৌসুমে চতুর্থ সাক্ষাতেও রোহিত শর্মার দলকে হারাতে পারল না মহেন্দ্র সিংহ ধোনির চেন্নাই। তাছাড়া ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭ সালের পর আবার‌ও সেই বিজোড় বছর ২০১৯ সালে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

এর আগে হায়দরাবাদে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে পোলার্ডের ৪১ রানের ওপর ভর করে ১৪৯ রান করে মুম্বাই। ১০১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একটা সময় বিপর্যয়ের মুখে পড়া মুম্বাইকে টেনে তোলে পান্ডিয়া-পোলার্ড জুটি। এই জুটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত চেন্নাইকে ১৫০ রানের লক্ষ্য দেয় মুম্বাই।

জবাবে শুরুটা ভালোই করেছিল চেন্নাই। ৩৩ রানের মাথায় ডু প্লেসিকে হারালেও অন্য প্রান্তে ভালোই ঝড় তোলেন ওয়াটসন। শেষ ওভারে এসে ওয়াটসনের উইকেট আর মাঝে ধোনির রান আউটই চেন্নাইয়ের শিরোপা জয়ের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে, আইপিএল ফাইনালে শুরুতে ব্যাট করে ১৫০’র কমে রান করে জেতার নজির ছিল তিনটি। ২০০৯ সালে ডেকান চার্জার্স (১৪৩ রান) বাদ দিলে বাকি দু’বারই জয় পেয়ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

২০১৩ সালে শুরুতে ব্যাট করে ১৪৮ রান করে মুম্বাই হারিয়েছিল এই সিএসকে-কে। আর ২০১৭ সালের আইপিএলে ১২৯ রান করে রোহিতের দল হারিয়েছিল রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসকে।

শীর্ষে উঠে গেলো ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ

‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে যে দুজন সেঞ্চুরি পেলেন তারা কেউই বিশ্বকাপ দলে নেই। তবু তাদের কল্যাণেই ম্যাচটি সাতশ’র কাছাকাছি রানে চলে গেলো। আর সেই ম্যাচে অ্যান্ডি বালবার্নির সেঞ্চুরিকে ম্লান করে সুনিল আমব্রিসের বীরত্বে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতে ক্যারিবিয়ানরা উঠে গেল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে। ওয়ানডেতে এর আগে একবারই তিনশ বা তার বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে ৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে।

সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩২৮ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গেছে ১৩ বল বাকি থাকতে। টুর্নামেন্টে এটা ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় জয়।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও এর আগে সেঞ্চুরি ছিল না আমব্রিসের। জন ক্যাম্পবেলের চোটে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার ১২৬ বলে খেলেন ১৪৮ রানের দারুণ এক ইনিংস। ১৯ চার ও এক ছক্কায় গড়া ইনিংস তাকে এনে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার‌ও।

এর আগে ডাবলিনে, শনিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জেমস ম্যাককলামকে হারায় আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিংয়ের সঙ্গে ১৪৬ রানের জুটিতে দলকে পথ দেখান বালবার্নি। আট চার ও দুই ছক্কায় ৭৭ রান করা স্টার্লিংকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ১০০ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান বালবার্নি। ১১ চার ও চার ছক্কায় ১২৪ বলে ১৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩২৭ রানে থামে ৫ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড।

বড় রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দেয় সফরকারীদের। আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শেই হোপকে ৩০ রানে থামান বয়েড র‌্যানকিন। মাত্র চতুর্থ ওয়ানডেতে খেলতে নামা আমব্রিস, রোস্টন চেইসের সঙ্গে ১২৮ রানের জুটিতে দলকে গড়ে দেন জয়ের ভিত। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া আর আমব্রিসকে থামান র‌্যানকিন। শেষ পর্যন্ত হোল্ডার ও জোনাথন কার্টারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজেই জয় পায় ক্যারিবিয়ানরা। ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন কার্টার।

এই জয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের পয়েন্ট ৬। আগামী সোমবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড।

বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই: বিসিবি সভাপতি

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই, বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। দলীয় অনুশীলনে পেসার আবু জায়েদ রাহি বোলিং না করায় তার ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়। গুঞ্জন ওঠে তার পরিবর্তে বাংলাদেশ দলে ফিরতে পারেন তাসকিন আহমেদ।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের বাসায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি জানান, তাসকিনকে নেওয়া কিংবা জায়েদকে বাদ দেওয়া- কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি। যে চারজন পেসার আছে- মাশরাফি, মুস্তাফিজ, রুবেল এবং আবু জায়েদ রাহী। এদের সবার উচ্চতা, পেস প্রায় কাছাকাছি। রুবেল হয়তো একটু জোরে বোলিং করে। সবার বোলিংয়ের ধরণ প্রায় একই। এখানে যদি বৈচিত্র্য চান, ওরা মনে করছে তাসকিন হতে পারে একটা বৈচিত্র্য। ওর উচ্চতা, গতি, বাউন্সার ও ইয়র্কার দেওয়ার সামর্থ্যে টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, তাসকিন ভালো একটা বিকল্প হতে পারে।’

তবে বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হওয়ার আগে ইনজুরি ছাড়া দলে কোন পরির্বতনের সুযোগ নেই। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন চাইলে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে তা আলোচনা করা হবে বলেও জানান বিসিবি সভাপতি। তাসকিনকে বিশ্বকাপ দলে না নেওয়ার পেছনে বড় যুক্তি ছিল তার ফিটনেসের ঘাটতি। এই ঘাটতি কতটা কাটিয়ে উঠেছেন তাসকিন? বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি মনে করি এখনো সে পুরোপুরি ফিট না, পূর্ণ ছন্দে ফিরতে পারেনি। লাইন-লেন্থ এখনো ঠিক হয়নি। এসব ঠিক না হওয়ার আগে রাহীকে বাদ দেব, আরেকজন অন্তর্ভুক্ত করব; এটা যদি টিম ম্যানেজমেন্ট করতে চায়, আমার মনে হয় সেটা ঠিক হবে না। এমন কোনো প্রস্তাবও আসেনি আমার কাছে। তবে সে (তাসকিন) যদি ভালো করে, ২২ তারিখ পর্যন্ত একটা সুযোগ তো থাকছেই।’

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার জন্য এখন‌ও সময় আছে তাসকিনের সামনে। ২২ মে পর্যন্ত দলে পরিবর্তন আনা যাবে। ১৫ জনের স্কোয়াডের শেষ ক্রিকেটারকে এখনও নির্বাচন করেনি বিসিবি। এ বিষয়ে পাপন বলেন, ‘শুধু ফিট থাকলেই চলবে না, যদি ভালো বোলিং করতে পারে তবে। এখনো তেমন কিছু দেখেনি। দুর্দান্ত কিছুই সে করে দেখায় নি। তুলনা করার সুযোগই তো পাইনি। রাহী একটা ম্যাচও খেলেনি। এটা নিয়ে কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। কেউ যদি চোটে পড়ে তবে বিকল্প হিসেবে যেতে পারে। এখনো অপেক্ষায় থাকতে হবে। পরের ম্যাচটা যদি আমরা জিতি, শেষ ম্যাচটা হয়তো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে।’

দশবারের মধ্যে আটবারই ফাইনালে চেন্নাই

শুক্রবার দ্বাদশ আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লিকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেল ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। এই নিয়ে দশ মৌসুমে (আইপিএলের ১২ মৌসুমের মধ্যে দু’বছরের নির্বাসনে ছিল চেন্নাই) ৮ বারই ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেল সিএসকে। নি:সন্দেহে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল চেন্নাই। তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়ের পর টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার রেকর্ড রয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। দ্বাদশ আইপিএল নিয়ে মুম্বাই পঞ্চমবারের জন্য ফাইনালের টিকিট পেয়েছে।

একনজরে ধোনির চেন্নাইয়ের ১০ মৌসুমে ৮ ফাইনালের খুঁটিনাটি

১) ২০০৮ সালে প্রথম আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ফাইনালে খেলেছিল চেন্নাই। ফাইনালের অবশ্য চেন্নাইকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রাজস্থান।

২) ২০০৮ পর ২০১০ সালে আবার ফাইনালে সুপার কিংস। এবার মুম্বাইকে ২২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য আইপিএল শিরোপা জেতে তারা।

৩) ২০১১ সালে চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আরসিবিকে ৫৮ রান হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয় চেন্নাই।

৪) টানা দু’বার ট্রফি জিতে হ্যাটট্রিকের প্রত্যাশা জাগালেও স্বপ্ন সত্যি হয়নি চেন্নাইয়ের। ২০১২ সালে চেন্নাইকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কোলকাতা নাইট রাইডার্স।

৫) পরের বার ২০১৩ সালে চেন্নাইকে ২৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

৬) ২০১৫ সালের ফাইনালে মুম্বইয়ের কাছে হার স্বীকার চেন্নাইয়ের। সেবার ফাইনালে ৪১ রানে ম্যাচ হারে ধোনিরা।

৭) দু’বছরের নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন করে ২০১৮ সালে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ফাইনালে জয় পায় চেন্নাই। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হায়দরাবাদকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মাহি অ্যান্ড কোম্পানি।

৮) ২০১৮ পর ২০১৯, আরও একবার ফাইনালে উঠল মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।

সব মিলিয়ে দু’বছরের নির্বাসন বাদ দিলে টুর্নামেন্টে ১০ মৌসুম খেলে ৮ বার ফাইনালে ওঠার অনন্য রেকর্ড গড়ল চেন্নাই সুপার কিংস।

আইপিএলের ফাইনালে চেন্নাই

আইপিএলের দ্বিতীয় প্লে-অফে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ১৪৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে এক ওভার বাকি থাকতে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ধোনিরা। তাতে অষ্টমবারের জন্য আইপিএল ফাইনালে পৌঁছে গেল চেন্নাই সুপার কিংস। ফাইনালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে খেলবে সিএসকে। রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের হয়ে ডুপ্লেসি ও ওয়াটসন ফিফটি করেছেন। এই দুই ওপেনারের উপর ভরসা করেই ফাইনালের টিকিট নিয়ে হায়দরাবাদ উড়ে যাচ্ছে ধোনিরা, যেখানে তাদের অপেক্ষায় মুম্বাই।

তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার ম্যাচে প্রথমে ফিল্ডিং নিয়ে লিগের অন্যতম সফল দল দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১৪৭ রানে বেঁধে রাখে চেন্নাই। রান তাড়া করতে নেমে এরপর ওয়াটসন-ডুপ্লেসি শোয়ের সামনে ফিকে হয়ে যায় দিল্লি। রানের ছন্দে ফিরলেন ধোনির ফেভারিট ওপেনার শেন ওয়াটসন।

দ্বিতীয় প্লে-অফের আগে পর্যন্ত মাত্র এক ম্যাচে ব্যাট হাতে বোলারদের শাসন করতে পেরেছিলেন ওয়াটসন। দ্বাদশ আইপিএল তাঁর অফ ফর্ম নিয়ে সমালোচকরা মুখ খোলার আগেই ‘সেমিফাইনাল’ ম্যাচে ব্যাট হাতে সমালোচনার জবাব দিয়ে দিলেন শেন। দিল্লির বোলারদের শাসন করে এদিন ৩২ বলে ৫০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ান এই ওপেনার। ওয়াটসনের ইনিংস সাজানো ৩টি চার ও ৪টি ছয় দিয়ে। অন্য ওপেনার ফাফ ডুপ্লেসিকেও পাওয়া গেল বিধ্বংসী মেজাজে৷ ৩৯ বলে অর্ধশতরান করে সাজঘরে ফেরেন প্রোটিয়া ক্রিকেটার। ইনিংসের ৭টা চার ও ১টি ছয় রয়েছে।

দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া ব্যাটিং ভিতের উপর ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১ ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিল চেন্নাই। মারকাটারি ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ডুপ্লেসি।

অন্যদিকে প্রথমবারের জন্য আইপিএল ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকলেও স্বপ্ন সত্যি করতে ব্যর্থ দিল্লি। ব্যাটিং থেকে বোলিং, কোন বিভাগেই এদিন অভিজ্ঞ চেন্নাইয়ের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি সৌরভের দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রত্যাশা জাগিয়েও উনিশের আইপিএলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে অভিযান শেষ করল রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজি।

বৃষ্টির কবলে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ

বৃষ্টির কবলে পড়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটি। সেদেশের আবহাওয়া বার্তাই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। গত পরশু বৃষ্টি হবে হবে করেও হয়নি। তবে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টির দাপট। এ কারণে অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। আজ বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের টস পিছিয়ে দিয়েছে বৃষ্টি। এই মুহূর্তে ডাবলিনের মালাহাইডে ঝরছে বৃষ্টি। এদিকে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে পয়েন্ট হারানোর শংকা পেয়ে বসেছে বাংলাদেশকে।

উল্লেখ্য, ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। এদিকে প্রথম ম্যাচে বোনাস পয়েন্ট পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। আজকের ম্যাচটি না হলে বাংলাদেশ একটু বিপদে পড়ে যাবে। এই ম্যাচ ভেসে যাওয়া মানে সম্ভাব্য ৩ পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে মাত্র ২ পয়েন্ট পাবে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড দুই দল।

জয়ে শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়েই ত্রিদেশিয় ‌ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে, ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ দল।

অবশ্য ২৬২ রান তাড়া করতে নেমে সতর্ক সূচনা তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের। ১২ ওভারে দলের স্কোরে যোগ করেন তারা ৫৫ রান। ওপেনিং জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল ৮৯ রান। ১৮.৪ ওভারে আসে ১০০ রান।

সৌম্য ৪৭ বলে পেয়ে যান ফিফটির দেখা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভরপুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আয়ারল্যান্ডে যাওয়া এ বাঁহাতি ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও করেন দারুণ ব্যাটিং। অভিজ্ঞ তামিম ৭৮ বলে করেন ফিফটি। তাদের ১৪৪ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের জয়ের পথটা সুগম হয়। বাকী কাজটা সারেন সাকিব আল হাসান, মুশফিককে নিয়ে। তামিম ৮০, সৌম্য ৭৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সাকিব ৬১ আর মুশফিক ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। তখন‌ও বাকী ছিল ৩০ বল।

এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬১ রান তোলে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ১৭০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা শাই হোপ টাইগারদের বিপক্ষে করেন ১০৯। তাতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার‌ও পান তিনি। স্লগ ওভারে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিলে নাগালেই থাকে বাংলাদেশের লক্ষ্য।

বাংলাদেশের টার্গেট ২৬২ রান

শুরুতে দারুণ ব্যাটিং করে‌ও পরের সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বড় স্কোর গড়া হলো না ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাতে ডাবলিনে ত্রিদেশিয় সিরিজের ম্যাচ জয়ে ২৬২ রানের টার্গট পায় বাংলাদেশ। দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, নিয়েছেন ৩টি উইকেট। যে কারণে হোপের সেঞ্চুরি এবং চেজের ফিফটির পরেও ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬১ রানের বেশি করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৬২ রান।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে টাইগার বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ঘণ্টায় (১৬ ওভারে) বিনা উইকেটে তোলে তারা ৮৫ রান।

১৭তম ওভারে আক্রমণে আসেন মিরাজ। তাকে বাউন্ডারি মেরে তাকে স্বাগত জানান অ্যামব্রিস। তবে পরের বলেই অ্যামব্রিসকে শর্ট কভারে থাকা মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ বানিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নেন মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ৪টি বাউন্ডারি মেরে ৫০ বলে ৩৮ রান করেছেন অ্যামব্রিস। পরের ওভারে ড্যারেন ব্রাভোকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব আল হাসান। ব্রাভো আউট হন ৪ বলে মাত্র ১ রান করে।

পরপর দুই উইকেট পড়লেও তৃতীয় উইকেটে রস্টোন চেজকে নিয়ে আবার‌ও জুটি গড়েন শাই হোপ। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টাইগারদের বিপক্ষে টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২১তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারিয়ারের দুই হাজার রানও পূরণ করেন হোপ। একইসঙ্গে ভেঙে দিয়েছেন দুই সাবেক ক্যারিবীয় তারকা স্যার ভিভ রিচার্ডস এবং ব্রায়ান লারার রেকর্ড।

এতদিন ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে কম ইনিংসে ২০০০ ওয়ানডে রান করার রেকর্ড ছিলো স্যার ভিভের। তিনি করেছিলেন ৪৮ ইনিংসে। আজ নিজের ৪৭তম ইনিংসেই ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন শাই হোপ। এছাড়াও ক্যারিবীয়দের হয়ে সবচেয়ে কম সময়ে ২০০০ ওয়ানডে রান পূরণ করার নতুন রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন ডানহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হোপ। অভিষেকের ২ বছর ১৭৩ দিনের মাথায় ২০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। আগের রেকর্ড ছিল বাঁহাতি তারকা ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারার, ২ বছর ৩৬১ দিনে।

দুই কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙার পর চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরিটিও তুলে নেন হোপ। গত অক্টোবরের আগে ৩৭ ম্যাচের ৩৪ ইনিংসে মাত্র ১টি সেঞ্চুরি করতে পেরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শাই হোপ। সেই তিনিই গত ৬ মাসে মাত্র ১৪ ম্যাচের ১৩ ইনিংসে হাঁকালেন আরও ৫টি সেঞ্চুরি।

শেষ পর্যন্ত ২৬১ রানে থামে ৯ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে অধিনায়ক মাশরাফি ৪৯ রানে ৩ উইকেট তুলে ন‌েওয়া ছাড়াও ২টি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন এবং মুস্তাফিজ। দুই স্পিনার মিরাজ ও সাকিব নেন ১টি করে উইকেট।

গানের জগতে রাসেল

আইপিএলের শীর্ষ চারে উঠতে পারেনি আন্দ্রে রাসেলের দল কোলকাতা নাইট রাইডার্স। তাই খেলায় নেই তিনি। গত রবিবার মুম্বাইয়ের কাছে হেরে দল প্লে-অফে কোয়ালিফাই না করতে পারলে কী হিবে, দ্বাদশ আইপিএলে বিনোদনকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান আন্দ্রে রাসেল। অমানবিক ব্যাটিংয়ে বিপক্ষের ত্রাস তো হয়ে উঠেছেনই, একইসঙ্গে সুদূর ক্যালিপসোর দেশ থেকে এসে নাইট শিবিরের মধ্যমনি হয়ে ওঠেন তিনি। এবার আর ব্যাট হাতে নয়, মাইক হাতে বলিউড মাতাতে আসছেন আন্দ্রে রাসেল।

এর আগে, আন্দ্রে রাসেলকে একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল টিম হোটেলে সতীর্থদের সঙ্গে হিন্দি গান গাইতে। ইন্টারনেটে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে উঠেছে। তার গানের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রাসেল সত্যিই এবার বলিউডে তাঁর ডেব্যু প্লে-ব্যাক সেরেই ফেললেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি মিউজিকের প্রতি রাসেলের প্যাশনের কথা অনুরাগীদের অজানা নয়। ২০১৫ জামাইকান জনপ্রিয় গায়ক বেনি ম্যানের সহযোগীতায় ‘দ্রে রাস’ নামে সিঙ্গেলও রেকর্ড করেছিলেন রাসেল। এবার ভারতে এসে অল্পদিনের মধ্যেই বলিউডে পসার জমিয়ে ফেললেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট তারকা। বলিউডে তাঁর প্রথম প্লে-ব্যাকের কথা নিজেই জানালেন অনুরাগীদের।

মিউজিক কম্পোজার পলাশ মুচ্ছালের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে রাসেল জানান, বলিউডে তাঁর প্রথম প্লে-ব্যাকের কথা। তবে এক্ষেত্রেও সিঙ্গেলই রেকর্ড করেছেন রাসেল। স্বভাবতই রাসেলের পোস্ট দেখে ভারতের মাটিতে তাঁর নতুন ইনিংসের জন্য শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি অনুরাগীরা। ব্যাট হাতে ২০৪.৮১ স্ট্রাইক রেটে আইপিএলে সবচেয়ে বিনোদন প্রদানকারী ক্রিকেটার এবার বিনোদন-দুনিয়ায় কেমন পারফর্ম করেন, সেই অপেক্ষায় সবাই।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট করছে ও.ইন্ডিজ

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস ভাগ্যটা ভাল হল না বাংলাদেশের। ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে বাধ্য হয়েই ফিল্ডিং করতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ক্যারিবিয়রা। অন্যদিকে প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের কাছে হেরে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে রয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের বিপক্ষে এ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। পিঠের ব্যথায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শেন ডাওরিচ। বাংলাদেশ দলে সুযোগ মেলেনি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের।

গেইল এবার সহ অধিনায়ক

বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার ক্রিস গেইল নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ওপেনার এবার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। তাকে গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ডে আসন্ন বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় দলের অধিনায়ক থাকবেন জেসন হোল্ডার। তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গেইলকে। অর্থাৎ বিশ্বকাপে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

এমন এক দায়িত্ব পেয়ে গেইল নিজেও ভীষণ খুশি। এক বিবৃতিতে এই ক্যারিবিয়ান জানিয়েছেন, ‘যে কোনো ফরমেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করা সম্মানের ব্যাপার। আর এই বিশ্বকাপ তো আমার জন্য স্পেশাল। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে অধিনায়ক এবং দলের প্রতিটি সদস্যকে সমর্থন দেয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’

এদিকে, আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে জেসন হোল্ডারের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শাই হোপকে। আর আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ।

আইপিএলের পরিসংখ্যান

আইপিএলে লিগ পর্বের খেলা শেষ। এবার প্লে অফের অপেক্ষা। তার আগে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক চলতি আইপিএলে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানগুলি৷ সঙ্গে আইপিএলের চূড়ান্ত পয়েন্ট টেবিল।

কমলা টুপি: লিগের খেলা শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরলেও এখনও পর্যন্ত চলতি আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহ করে অরেঞ্জ ক্যাপের দখল রেখেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। ১২ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৬৯২ রান। পঞ্জাবের লোকেশ রাহুল (৫৯৩) ও কলকাতার আন্দ্রে রাসেল (৫১০) রয়েছেন দুই ও তিন নম্বরে। তবে দুটি দলই প্লে-অফে জায়গা করতে না পারায় তাদের পক্ষে ওয়ার্নারকে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় ডেভিডের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন মুম্বইয়ের কুইন্টন ডি’কক (৪৯২) ও দিল্লির শিখর ধাওয়ান (৪৮৬)। তবে তাদের পক্ষে শেষ কয়েকটা ম্যাচে ওয়ার্নারকে টপকে যাওয়া কঠিন বলেই আপাতত মনে হচ্ছে।

বেগুনি টুপি: ১২ ম্যাচে ২৫টি উইকেট নিয়ে চলতি আইপিএলের বেগুনি টুপি আপাতত নিজের সংগ্রহে রেখেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের কাগিসো রাবাদা। ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে যাওয়ায় নতুন করে উইকেট সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে। ১৪ ম্যাচে ২১টি উইকেট নিয়ে রাবাদাকে তাড়া করছেন চেন্নাইয়ের ইমরান তাহির। যারা প্লে-অফের লড়াইয়ে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রাবাদাকে ছুঁতে পারেন মুম্বইয়ের জসপ্রীত বুমরাহ (১৭) ও হায়দরাবাদের খলিল আহমেদ (১৭)।

এছাড়া চলতি আইপিএলে সব থেকে বেশি ৫২টি ছক্কা মেরেছেন আন্দ্রে রাসেল। ক্রিস গেইল ৩৪টি ছক্কা মেরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ছ’টি সেঞ্চুরির মধ্যে সব থেকে বড় ১১৪ রানের ইনিংস খেলেছেন হায়দরাবাদের জনি বেয়ারস্টো। সব থেকে বেশি ৮টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন ওয়ার্নার। সব থেকে বেশি ৫৮টি চার মেরেছেন শিখর ধাওয়ান। এক ইনিংসে সব থেকে বেশি ১০টি ছক্কা মেরেছেন মুম্বইয়ের কাইরন পোলার্ড। এক ইনিংসে সব থেকে বেশি ১২টি চার মেরেছেন জনি বেয়ারস্টো ও পৃথ্বী শ।

দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া (১৭ বলে)। দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন বেয়ারস্টো (৫২ বলে)। সবচেয় বড় ১১১ মিটারের ছক্কা মেরেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। স্ট্রাইক রেট সব থেকে ভালো আন্দ্রে রাসেলের (২০৪.৮১)। বোলিংয়ে সব থেকে বেশি ২টি মেডেন ওভার নিয়েছেন রাজস্থানের জোফ্রা আর্চার। সবচেয়ে বেশি ১৫৬টি ডট বল করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ২০টি ডট বল করেছেন চেন্নাইয়ের দীপক চাহার। দশটির বেশি ম্যাচ খেলা বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ বোলার হলেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি ওভার প্রতি ৬.৪৪ রান খচর করেছেন।

সেরা বোলিং গড় আলজারি জোসেফের। তিনি ১২ রানে ৬টি উইকেট নিয়েছেন। ৪ ওভারে সব থেকে বেশি ৬৬ রান খরচ করেছেন মুজির উর রহমান। সবচেয়ে জোরে ১৫৪.২৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বল করেছেন রাবাদা। হ্যাটট্রিক করেছেন শ্রেয়স গোপাল ও স্যাম কুরান।

আইপিএলের পয়েন্ট টেবিল:

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.৪২১)।
চেন্নাই সুপার কিংস: ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.১৩১)।
দিল্লি ক্যাপিটালস: ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.০৪৪)।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.৫৭৭)।
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (নেট রানরেট: ০.০২৮)।
কিংস ইলেভেন পঞ্জাব: ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট (নেট রানরেট:-০.২৫১)।
রাজস্থান রয়্যালস: ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট (নেট রানরেট:-০.৪৪৯)।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর: ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট (নেট রানরেট:-০.৬০৭)।

আইপিএলের প্লে অফ সূচি

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে গ্রু পর্বের খেলা শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। আট দলের অংশগ্রহণে তুমুল লড়াইয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে দুর্দান্ত খেলেও প্লে অফ নিশ্চিত করতে পারেনি আন্দ্রে রাসেলদের দল কোলকাতা নাইট রাইডার্স। গ্রু পর্বের শেষ ম্যাচে রোববার মুম্বাইয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। প্রত্যাশিত পারফর্ম করেও দুর্ভাগ্যবশত ট্রফির লড়াই থেকে ছিটকে যায় বিরাট কোহলির দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

প্লে অফে ওঠা চারটি দল নিয়ে আগামী ৭ মে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু হবে। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। চেন্নাইয়ে, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচে যারা জিতবে তারা সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে।

আর যারা হেরে যাবে তারা ৮ মে এলিমিনেটর ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচে জয়ী দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে খেলবে। আর সেই (দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার) ম্যাচে যারা জিতবে তারা ১২ মে ফাইনালে খেলবে।

প্লে অফের সূচি

প্রথম কোয়ালিফায়ার

৭ মে: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম চেন্নাই সুপার কিংস (চেন্নাই, রাত ৮টা )।

এলিমিনেটর

৮ মে: দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (বিশাখাপত্তনম, রাত ৮টা)।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার

১০ মে: ১ম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত বনাম এলিমিনেটরের জয়ী (বিশাখাপত্তনম, রাত ৮টা)।

ফাইনাল

১২ মে: ১ম কোয়ালিফায়ারের জয়ী বনাম ২য় কোয়ালিফায়ারের জয়ী (হায়দরাবাদ, রাত ৮টা)।

মুম্বাই লিগের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার অর্জুন

মুম্বাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগের নিলামে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ রুপিতে বিক্রি হলেন ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন টেল্ডুলকার। মুম্বাই টি-টোয়েন্টি লিগের দ্বিতীয় মৌসুমের জন্য ১৯ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি পেসারকে কিনে নেয় আকাশ টাইগার্স মুম্বাই ওয়ের্স্টান সুবার্ব।

গত শনিবার অনুষ্ঠিত ‌ওই নিলামে পেসারদের ক্যাটাগরিতে এক লাখ রুপির বেইস প্রাইসের তালিকায় ছিলেন অর্জুন। নিলামে তার নাম ডাকার পরই এই পেসারকে দলে ভেড়াতে দফরফা শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। শেষ পর্যন্ত দু’টি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ প্রাইস ৫ লাখে গিয়ে অর্জুনকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তাই বাধ্য হয়ে লটারি করা হয় অর্জুনকে নিয়ে। সেই লটারিতে জিতে অর্জুনকে কিনে নেয় আকাশ টাইগার্স মুম্বাই। এই লিগে ৫ লাখের উপরে কোনো খেলোয়াড়কে কিনে নেয়ার কোন নিয়ম নেই।

আগামী ১৪ মে থেকে শুরু হবে আট দলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর শচীন টেন্ডুলকার।

উদ্বোধনী জুটিতে বিশ্ব রেকর্ড

ডাবল সেঞ্চুরির আক্ষেপটা হয়তো থাকবে জন ক্যাম্পবেলের। কিন্তু সেই আক্ষেপ তাকে খুব বেশি পোড়াবে না। কারণ যা করেছেন তাতেই তিনি হয়ে গেছেন ইতিহাসের অংশ। যেন তেন ইতিহাস নয়, রীতিমতো বিশ্ব রেকর্ড। শাই হোপকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৬৫ রান তুলে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন এই জুটি।

ডাবলিনে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে উদ্বোধনী জুটির নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন হোপ-ক্যাম্পবেল। ওয়ানডের যেকোনো উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও হতে হতে হয়নি অল্পের জন্য, তারা থেমেছেন ৩৬৫ রান করে। ‌ওয়ানডে ক্রিকেটে উদ্বোধনীতে জুটির আগের রেকর্ডটি ছিল ৩০৪ রানের। পাকিস্তানের ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৮ সালে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে রেকর্ডটি গড়েছিলেন। জন ক্যাম্পবেল ও শাই হোপ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ভেঙে দিলেন সেটিই, নতুন রেকর্ড থামল ৩৬৫ রানে।

কেবল ওপেনিং জুটিই নয়, হোপ-ক্যাম্পবেলের সামনে হাতছানি দিচ্ছিল ওয়ানডের যেকোনো জুটিতে সর্বোচ্চর রেকর্ডটিও। যেকোনো জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলসের ৩৭২ রানের, দ্বিতীয় উইকেটে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৫ সালে ক্যানবেরায় গত বিশ্বকাপে রেকর্ডটি গড়েন।

ওই ম্যাচে গেইল ১৪৭ বলে ২১৫ রান করে আউট হন, স্যামুয়েলস অপরাজিত থাকেন ১৩৩ রানে। উইন্ডিজ তোলে ২ উইকেটে ৩৭২ রান, ২ বল খেলে ডোয়াইন স্মিথ রানের খাতা না খুলে সাজঘরে ফিরলে ঝড় তোলেন গেইলরা। জিম্বাবুয়ে পরে ২৮৯ রান তুলে বৃষ্টি আইনে ম্যাচ হারে ৭৩ রানে।

তবে আরেকটি নতুন কীর্তি গড়েন এই দুই ‌ওপেনার। তা হলো, এর আগে কখনো ক্যারিবিয়ান দুই ‌ওপেনার সেঞ্চুরি করতে পারেন নি। হোপ-ক্যাম্পবেল রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি সেটা‌ও করে দেখান। তাছাড়া উদ্বোধনী জুটিতে দুই ব্যাটসম্যান এরআগে কখনো দেড়শ’ বা তারচেয়ে বেশি রানের ইনিংস খেলতে পারেন নি। তারা দুজন সেই সেই রেকর্ড‌ও নিজেদের করে নেন।

১৩৭ বলে ১৭৯ রানে ব্যারি ম্যাক্কার্থির বলে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড ছুঁড়ে এসেছেন ক্যাম্পবেল। সাজঘরে ফেরার আগে ৬ ছক্কা ও ১৫ চারে ১৭৯ রানের ইনিংস সাজান।

ক্যাম্পবেল ফেরার পর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেন নি শাই হোপ। ক্যাম্পবেলের বিদায়ের তিন বল পর টাকারকে ক্যাচ দিয়ে ম্যাক্কার্থির শিকার হন তিনি। ফেরার আগে ১৫২ বলে ২ ছয় ও ২২ চারের সাহায্যে করেছেন ১৭০ রান।

তাতে নির্ধারিত ওভারে ৩ উইকেটে ৩৮১ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে উইন্ডিজ। যা ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। পরে আয়ারল্যান্ড মাত্র ১৮৫ রানে অলআউট হলে ১৯৬ রানের বড় জয় পায় ক্যারিবিয়ানরা।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের হার

ত্রিদেশীয় সিরিজে মাঠে নামার আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উলভসের কাছে ৮৮ রানে হারল বাংরাদেশ ক্রিকেট দল। অধিনায়ক মাশরাফী, সৌম্য সরকার কিংবা মুস্তাফিজও খেলেন নি এই ম্যাচে। আইরিশ এ দলের ৮ উইকেট ৩০৭ রানের জবাবে মাত্র ২১৯ রানেই অলআউট সাকিব আল হাসানের দল।

ডাবলিনে ৩০৮ রানের টার্গেটে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। কিন্তু দলের ৫৬ রানে এই দুজন প্যাভিলিয়নে ফিরলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তামিম ৩ চারে ৩৩ বলে ২১, আর লিটন ২ চার ও এক ছক্কায় ৩৯ বলে ২৬ করে আউট হন। তিনে নামা অধিনায়ক সাকিব বলের মতো ব্যাটেও সমান তালে খেলেছেন। টাইগারদের ইনিংসে একমাত্র তিনিই কেবল ফিফটি করেন। ৪৩ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৫৪ রান করেন সাকিব।

বাকিদের কেবল আসা-যাওয়ার মিছিল। মুশফিক ১১, মিঠুন ১৩, সাব্বির শূন্য, মিরাজ ৬, ফরহাদ রেজা ১৫, ব্যর্থতার দীর্ঘ সারি যেন। এরমাঝে মাহমুদউল্লাহর ৩৭-ই যা একটু দৃশ্যমান। তবে মান বাঁচাতে যথেষ্ট ছিল না সেটিও।

আইরিশ বোলারদের মধ্যে সিমি সিং ৫১ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। কেন ২টি ও একটি করে উইকেট নেন ইয়ং, চেজ ‌ও গেটকেট।

এর আগে দ্য হিলস পার্কে, আয়ারল্যান্ড উলভস টস জিতে ব্যটিংয়ে নামে। জেমস ম্যাককুলামের ১০২ এবং সিমি সিংয়ের ৯১ রানে ভর করে ৩০৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ৮ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড উলভস। ৭মে উইন্ডিজের বিপক্ষে নামার আগে বাংলাদেশের বোলারদের হাতের মরচে ঝেড়ে ফেলার ছিল ভালো সুযোগ। স্বাগতিকরা সেখানে ব্যাট করল দাপটেই।

বাংলাদেশোর বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ৬৬ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট। ৬৩ রানের খরচায় ২ উইকেট নেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। সাকিব আল হাসান ৩০ রানে নেন ১ উইকেট। আগামী মঙ্গলবার ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ শুরু করবে তাদের ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের র‌্যাংকিং প্রকাশ

প্রথমবারের মত ৮০ দলের টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং প্রকাশ করলো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার টেস্ট ও ওয়ানডের হালনাগাদ বার্ষিক র‌্যাংকিং প্রকাশ করে আইসিসি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হলো আজ শুক্রবার। 

এই তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পাকিস্তান। তাদের পয়েন্ট ২৮৬। এরপর পঞ্চমস্থান পর্যন্ত রয়েছে যথাক্রমে- দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। এই চারদলই একে অপরের কাঁধে নিঃশ্বাস ফেলছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬২, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ২৬১ ও ভারতের পয়েন্ট ২৬০। আর ২২০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশমস্থানে আছে বাংলাদেশ। তাদের উপর আছে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র‌্যাংকিং-এ সবশেষ অর্থাৎ ৮০ নম্বরে রয়েছে লেসোথো তাদের পয়েন্ট শূন্য।

টি-টোয়েন্টি প্রথম ১০টি দলের ক্রিকেট র‌্যাংকিং
 

র‌্যাংকিং           দল                        পয়েন্ট
0১                    পাকিস্তান                 ২৮৬
0২                  দক্ষিণ আফ্রিকা          ২৬২
0৩                  ইংল্যান্ড                     ২৬১
0৪                  অস্ট্রেলিয়া                 ২৬১
0৫                 ভারত                        ২৬০
0৬                নিউজিল্যান্ড               ২৫৪
0৭                আফগানিস্তান             ২৪১
0৮                শ্রীলংকা                      ২২৭
0৯                ওয়েস্ট ইন্ডিজ             ২২৬
১০               বাংলাদেশ                    ২২০

সুপার ‌ওভারের জয়ে প্লেঅফে মুম্বাই

রুদ্ধশ্বাস এক লড়াই শেষে সুপার ‌ওভারে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে পরাজিত করে আইপিএলের দ্বাদশ আসরে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের পর তৃতীয় দল হিসেবে প্লে-অফে চলে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ টাই করেন দেন মনীশ পাণ্ডে। পরে সুপার ‌ওভারে জয় পায় মুম্বাই।

সুপার ওভারে প্রথম ব্যাটিং করে মাত্র ৮ রান তোলে হায়দরাবাদ। বুমরাহ-র প্রথম চার বলে দু’ উইকেট হারানোয় শেষ দু’টি বল খেলতে পারেনি সানরাইজার্স৷ জয়ের জন্য মুম্বইয়ের টার্গেট ৬ বলে ৯ রান। ক্রিজে হার্দিক পান্ডিয়া ও কাইরন পোলার্ড। বল হাতে রশিদ খান। প্রথম বল ছক্কা হাঁকান পান্ডিয়া। ৩ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এতে (রবিবার কেকেআর-এর বিরু্দ্ধে) এক ম্যাচ বাকী থাকতেই ১৩ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের টিকিট পেল মুম্বাই।

বৃহস্পতিবার ১৬৩ রানের টার্গেটে নেমে, মার্টিন গাপ্টিল ও ঋদ্ধিমান সাহা উদ্বোধনী জুটিতে চার ‌ওভারে ৪০ রান এনে দেন সানরাইজার্সের ইনিংসে। কিন্ত ওভারের শেষ বলে ঋদ্ধির উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় সানরাইজার্স। ১৫ বলে ২৫ রান করে আউট হন ঋদ্ধিমান। পাওয়ার প্লে-তে দুই উইকেট হারিয়ে ৫৯ রান তোলে হায়দরাবাদ। মনীশ পান্ডে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচ সুপার ওভারে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ২ ছ্ক্কা ও ৮ বাউন্ডারিতে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন পান্ডে।

এর আগে, ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম তিন ওভারে ১০-এর বেশি রান-রেট থাকলেও পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে রোহিতের উইকেট হারায় মুম্বাই। ১৮ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে ২৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন রোহিত। এরপর সূর্যকুমার, ডি’ককের সঙ্গে মুম্বাইক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ২৩ রানে সূর্যকুমার বিদায় নেন। হার্দিক পান্ডিয়া ১০ বলে ১৮ রান করলেও ভুবনেশ্বর কুমারের শিকার হন। অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান ডি’কক। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতে ৫ উইকেটে ১৬২ রানের পুজি পায় মুম্বাই।

বাংলাদেশের নতুন জার্সির অনুমোদন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ দলের পরিবর্তিত জার্সির অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-আইসিসি। সবুজ এবং লাল দুটো জার্সির অনুমোদনই দিয়েছে আইসিসি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশ ও খেলোয়াড়ের নাম এবং নাম্বার, সবুজ জার্সিতে লালে মুদ্রিত হয়েছিল এবং অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আইসিসিকে লাল রঙের পরিবর্তে সাদা রং ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলো আইসিসি। এখন নতুন সবুজ রঙের জার্সির দুই হাতায় লাল রং না থাকলেও বুকে থাকবে দেশের নামে থাকবে লাল রঙের শেড। আর লাল জার্সিতে থাকবে হাতায় সবুজ স্ট্রাইপ।

এমসিসি’র সভাপতি সাঙ্গাকারা

ক্রিকেটের আইন প্রণেতা ‌ও শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব-এমসিসি’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। আগামী অক্টোবর মাস থেকে তিনি এক বছর এই পদে থাকবেন।

এক বিবৃতিতে এসসিসি এ কথা জানিয়েছে। গত বুধবার লর্ডসে এমসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাঙ্গাকারার নাম প্রস্তাব করেন ক্লাবের বর্তমান সভাপতি অ্যান্থনি রেফোর্ড। অন্য সদস্যরা সমর্থন জানালে লঙ্কান ক্রিকেট দলের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এই খবরে, ৪১ বছর বয়সী সাঙ্গাকারা জানান, এমসিসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে তিনি গর্বিত।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জার্সি

প্রথমবাররে মতো ক্রিকেটপ্রেমিদের সুযোগ মলিছে বাংলাদশে ক্রিকেট দলের অফিসিয়াল জার্সি সংগ্রহে রাখার। ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের জার্সিকে সহজলভ্য ও সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সম্ভাব্য সব ধরণের উদ্যোগ নেয়েছে জার্সি বিক্রির স্বত্ত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টজ।

দেশের দুটি শীর্ষ ব্র্যান্ড অঞ্জনস ও জেন্টেলপার্কের প্রায় শতাধিক আউটলেটে বিক্রি করা হবে বাংলাদেশ দলের জার্সি। ক্রেতারা অনলাইনে‌ও পছন্দের জার্সি কিনতে পারবেন। ক্রিকশপ বিডি(CricshopBD) ও জার্সি ফ্রিক বিডি (Jersey Freak BD) এই দুই অনলাইন প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করবে জার্সি। ডিমানি (Dmoney) অ্যাপের মাধ্যমে জার্সি কিনতে পারবেন ক্রেতারা। আর সারা দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে জার্সি ছড়িয়ে দিতে আলাদাভাবে কাজ করবে রবিন স্পোর্টস।

আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও বিসিবি’র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক আকরাম খান।

পোলোসাকের রেকর্ড

প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে পুরুষদের ওয়ানডে ম্যাচ পরিচালনা করবেন অস্ট্রেলিয়ার ক্লেয়ার পোলোসাক। নামিবিয়ায়, আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ ডিভিশন-টু’র ফাইনালে স্বাগতিক দল ও ওমানের ম্যাচ পরিচালনার জন্য মাঠে নামার সাথে সাথেই ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবেন পোলোসাক।

এরআগে, তিনি নারীদের ১৫টি ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে আম্পায়ার পোলোসাকের অভিষেক হয়। ২০১৮ সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ডের ম্যাচও পরিচালনা করেছিলেন। এবং ২০১৭ নারী বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার ক্লেয়ার পোলোসাক।

একজন নারী হয়ে‌ও পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার খবরে পোলোসাক খুব উল্লসিত। তিনি জানান, শুধুমাত্র ম্যাচ পরিচালনার জন্য মাঠে যাবো না, যাবো খেলার অংশ হতে। বিষয়টি ভাবতেই আনন্দ লাগছে।’

বিশ্বকাপের আম্পায়ারদের নাম ঘোষণা

চার বছর পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বাদশতম এ আসর বসছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে। ৩০ মে লন্ডনের ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ২০১৯ বিশ্বকাপের।

সবশেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপ দল গতকালই ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাতে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া ১০ দলের প্রত্যেকের স্কোয়াড জানা গেছে। প্রতিটি দল ঘোষণা করেছে ১৫ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড।

বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি ১৬ জন আম্পায়ারকে নির্বাচন করেছে। পাশাপাশি থাকবেন ৬ জন ম্যাচ রেফারি।

আম্পায়ারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ জন ইংল্যান্ডের। অস্ট্রেলিয়ার আছেন ৪ জন। এছাড়া একজন করে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দুইজন শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার রাখা হয়েছে।

আম্পায়াররা হলেন: ইয়ান গোল্ড (ইংল্যান্ড), রিচার্ড ইলিংওর্থ (ইংল্যান্ড), রিচার্ড ক্যাটলবোরফ (ইংল্যান্ড), নাইজেল লং (ইংল্যান্ড), পল রেইফেল (অস্ট্রেলিয়া), রড টাকার (অস্ট্রেলিয়া), পল উইলসন (অস্ট্রেলিয়া), কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা), রুচিরা পাল্লিয়াগুরুজ (শ্রীলঙ্কা), আলিম দার (পাকিস্তান), মারাইস ইরাসমুস (দক্ষিণ আফ্রিকা), ক্রিস গাফ্ফানে (নিউজিল্যান্ড), ব্রুস অক্সেনফোর্ড (অস্ট্রেলিয়া), সুন্দরম রবি (ভারত), জোয়েল উইলসন (ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো/ ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মাইকেল গফ (ইংল্যান্ড)।

ম্যাচ রেফারি: ক্রিস ব্রড (ইংল্যান্ড), ডেভিড বুন (অস্ট্রেলিয়া), অ্যান্ডি পাইক্রফ্ট (জিম্বাবুয়ে), জেফ ক্রু (নিউজিল্যান্ড), রঞ্জন মাদুগাল্লে (শ্রীলঙ্কা), রিচি রিচার্ডসন (অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারমুডা/ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।

আবার‌ও হার কোলকাতার

সব সমালোচনার জবাব দিতেই যেন জ্বলে উঠলেন কোলকাতা নাইটরাইডার্সের অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক। তবুও শেষরক্ষা হল না। রাজস্থান রয়্যালসের কাছে ৩ উইকেটে হারল তারা। এতে টানা ছয় ম্যাচ হেরে আইপিএলের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে এখন নাইটরা।

রাজস্থান-ম্যাচের বল গড়ানোর আগে ক্রমাগত ব্যর্থতার জন্য় সমালোচিত হচ্ছিলেন কার্তিক। তার উপরে ব্যাটে রান ছিল না। তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেবার দাবী‌ও ‌ওঠে। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে কার্তিক সব জবাব দিয়ে দিলেন। ৯৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেললেন ইডেন গার্ডেন্সে। ম্যাচের সেরা কার্তিকের জন্যই কোলকাতা ৬ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৭৫ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস চার বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয়।

ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় বলেই ক্রিস লিনকে হারায় কোলকাতা নাইরাইডার্স। অন্য ওপেনার শুভমান গিলকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন অ্যারন। সুনীল নারাইন রান আউট। এক প্রান্ত থেকে একের পর এক উইকেট যাচ্ছে। আর কার্তিক একা একদিক ধরে থাকলেন। বিগ হিটার আন্দ্রে রাসেল‌ও ব্যর্থ। দু’বার জীবন পেয়েও সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি রাসেল। শেষ পর্যন্ত কার্তিকের ব্যাটে ভর করে ৬ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে কলকাতা।

জবাবে সুনিল নারাইন ‌ও পিযুষ চা‌ওলার কল্যাণে ম্যাচের শুরুতে ভাল অবস্থানে থাকে কলকাতা। শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল রাজস্থানের। কিন্তু পরাগের ৪৭ ও শেষের দিকে আর্চারের ১২ বলে ২৭ রানের জন্য ইডেনে শেষ হাসি তোলা ছিল রাজস্থানের জন্য। ৭ উইকেটে ১৭৭ রান তুলে চার বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস।

ভারতের লিগে খেলবেন জাহানারা

এবার ভারতের টি-টোয়েন্টি লিগে খেলবেন বাংলাদেশের জাহানারা। আইপিএলের আদলে গতবছর থেকে মেয়েদের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ শুরু করেছে ভারত। প্রথম আসর দুটি দলের একটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন ছিল। এবার দলের সংখ্যা বেড়েছে। হতে যাচ্ছে পূর্নাঙ্গ একটি টুর্নামেন্ট। আর এই টুর্নামেন্টেই খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পেসার জাহানারা আলম। দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ডাক পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার তিনিই।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছিলেন জাহানারা। বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৩০ ও টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। এর আগে রুমানা আহমেদ এবং খাদিজা তুল কুবরা অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে অনুশীলনের করেছিলেন। তবে সেটি মূল টুর্নামেন্টের অংশ ছিল না। আইসিসির একটি প্রকল্পের আওতায় সুযোগ পেয়েছিলেন দুজন।

এবার জাহানারা বাংলাদেশের হয়ে আরেকটি ‘প্রথম’ এর জন্ম দিতে যাচ্ছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই লিগকে আইপিএলের মেয়েদের সংস্করণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় ভারত। আগামী ৬ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ভারতের জয়পুরে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে। তিন দল পরস্পরের মুখোমুখি হবে একবার করে। শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। ছেলেদের আইপিএলের পাশাপাশিই চলবে মেয়েদের এই টুর্নামেন্ট। পুরুষদের ক্রিকেটে ‘পোস্টার বয়’ সাকিবের পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেটেও একজন ‘পোস্টার গার্ল’ পেয়ে গেল বাংলাদেশ।

কুমিল্লা হাই স্কুল চ্যাম্পিয়ন

প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের দল কুমিল্লা হাই স্কুল। তাদের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারকার জাতীয় স্কুল ক্রিকেট আসর। মঙ্গলবার প্রতিযোগিতার ফাইনালে বগুড়ার পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে কুমিল্লা হাই স্কুল।

রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে, প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রায় ২০ ওভার আর ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে কুমিল্লা হাই স্কুল।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি স্কুল ক্রিকেটের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করে মাহফুজ। রিফাত ১৬ ও আরাফাতের ১২ ছাড়া আর কেউ বলার মতো স্কোর পায়নি। ২টি করে উইকেট নেয় সাব্বির আলম আর আতিকুর রহমান।

জবাবে, ছোট সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সাকিবকে হারায় কুমিল্লা হাই স্কুল। কিন্তু, ওয়ানডাউনে নামা আবু বকরের ৩৮ বলে ৪৯ রানের ইনিংসে জয়ের ভীত পায় তারা। ৬ বাউন্ডারির পাশাপাশি ৬ ছক্কা হাঁকায় আবু বকর। এরপর মাহফুজ-আরাফাত তড়িঘড়ি ৫ উইকেট তুলে নিলে বিপাকে পড়ে চট্টগ্রাম প্রতিনিধিরা। কিন্তু, আতিকুরের হার না মানা ১৬ রানের ইনিংসে প্রথম অংশগ্রহণেই শিরোপা জিতে কুমিল্লা হাই স্কুল। মাহফুজ ৩ আর আরাফাত নেয় ২ উইকেট। ম্যাচসেরা হয় আবু বকর।

কোচের দুশ্চিন্তায় পেসারদের ইনজুরি

বিশ্বকাপের অনুশিলনের শুরুতেই কোচের দুশ্চিন্তায় পেসারদের ইনজুরি। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রথম দিনের অনুশিলন শেষে পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ জানান, পেসাররা প্রায় সবাই ইনজুরিতে থাকায় তাদেরকে নিয়ে পরিকল্পনা তৈরিতে সমস্যায় আছেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ না খেলা পাঁচজন ক্রিকেটারকে নিয়ে মূলত হয় প্রথম দিনের অনুশিলন।

বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ঢাকা লিগে খেলতে থাকায় প্রথা অনুযায়ী প্রথম দিনে বিপ টেস্ট না করে সরাসরি স্কিল ট্রেনিংয়ে নেমে পড়ে পুরো কোচিং স্টাফ। ঢাকা লিগের বাইরে থাকা পাঁচ ক্রিকেটারই কেবল প্রথম দিনের অনুশিলনে থাকায় এদিন খেলোয়াড়ের চেয়ে মাঠে কোচিং স্টাফই ছিলেন বেশি। যদিও ক্লাবের অনুশিলনের ফাকে সৌম্য আর সাইফুদ্দিন ঠিকই দেখা করে গেছেন। তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহরা ম্যাচ প্র্যাকটিসের ঘাটতিটা যেনো প্রথম দিনই কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন।

রুবেল আর মুস্তাফিজকে নিয়েও স্টিভ রোডস এদিন ব্যাটিং অনুশিলন করিয়েছেন। তবে তাদের আসল গুরু কোর্টনি ওয়ালশের ভাবনা জুড়ে রুবেল, সাইফুদ্দিন আর মুস্তাফিজের ইনজুরি। ওয়ালশ জানান, বোলারদের ইনজুরি এখন‌ও ঠিক সেরে ‌ওঠেনি। তারা সুস্থ হয়ে না ‌ওঠায় পরিকল্পনা‌ও ঠিকমতো করা যাচ্ছেনা। আশা করছি দ্রুতই তারা সুস্থ হয়ে উঠবে।

ক্যারিবীয় এই কিংবদন্তীর মতে, ইনজুরি থেকে সেরে উঠলেই কেবল হবে না, বিশ্বকাপের জন্য চাই দুর্দান্ত পরিকল্পনা আর তার বাস্তবায়ন। কারণ গেলো বিশ্বকাপের মত এবারও প্রতি ম্যাচেই থাকবে রানের বন্যা।

সাকিব আল হাসান আইপিএল খেলে অনুশিলনে যোগ দিলেও দলের সাথে তার বোঝাপড়ায় কোন সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন ওয়ালশ। বাংলাদেশ দলের ক্যাম্প চলবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। আগামী ১ মে আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। ৫ মে শুরু হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত। সেখান থেকে বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ড যাবে টিম টাইগার্স।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৭৫

আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে শুরু হতে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে অনেক আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেছে উন্মাদনা। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আইসিসি বিশ্বকাপ। ১৯৭১ সালে ওয়ানডে ক্রিকেট চালু হবার চার বছর পর ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে, ইংল্যান্ডে। তখনকার প্রবল পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। আমাদের ধারবাহিক আয়োজন 'ফিরে দেখা বিশ্বকাপে' ফারদিন আল সাজু আজ জানাচ্ছেন, ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপের কথা।

অংশগ্রহনকারী দলগুলো

প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার ৯৪ বছর পর, ১৯৭১ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের শুরু হওয়া ছিল অনেকটা বিপ্লবের মতই। তবে ক্রিকেটের সীমিত ওভারের এই ফরম্যাটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও দর্শকদের কাছে এর আবেদনের বিষয়টি চিন্তা করেই, ১৯৭৫ সালে আরও একটি বিপ্লব দেখে ক্রিকেটবিশ্ব। প্রথমবারের মত আইসিসি আয়োজন করে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ৮টি দেশের অংশগ্রহণে ৭ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ১৫ দিন ধরে চলে ক্রিকেটের প্রথম বিশ্ব আসর। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও অন্য ৫টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানের সাথে অংশ নেয় শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব আফ্রিকা।

ভেন্যু

ইংল্যান্ডের ছয়টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ১৫টি ম্যাচ। লর্ডস, বার্মিংহাম, নটিংহাম, দি ওভাল, ম্যানচেস্টার ও লিডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ম্যাচগুলো হয়।

খেলার ধরণ

তখন ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছিলো সর্ম্পূন্ন ভিন্ন। প্রতি ইনিংস খেলা হতো ৬০ ওভারে এবং দিনের বেলায় ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতো। প্রথম বিশ্বকাপের পোষাক ছিলো সনাতনী ধাঁচের- সাদা। প্রাথমিকভাবে প্রথম বিশ্বকাপে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়। চারটি দেশ রাউন্ড-রবিন লীগ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় দুই দলসহ মোট চারটি দল নক-আউট পদ্ধতিতে মোকাবেলা করে সেমিফাইনাল খেলে।

রাউন্ড-রবিন লীগ

গ্রুপ 'এ' থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া ভারত একটি ম্যাচ জিতলেও পূর্ব আফ্রিকা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় একেবারে শূন্য হাতে, জয়বিহীন। অন্যদিকে গ্রুপ 'বি' থেকে সেমিফাইনালে পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গী হয় অস্ট্রেলিয়া। আর গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান একটি জয় পেলেও, শ্রীলঙ্কা বিদায় নেয় কোনো ম্যাচ না জিতেই।

সেমিফাইনাল

স্বাগতিকরা স্বপ্ন দেখছিল ফাইনালে খেলার। কিন্তু গ্যারি গিলমোর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয় ইংলিশরা। ২৪ বছর বয়সী এই পেসার মাত্র ৩৯ রানে ৬ উইকেট তুলে নিলে, প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৯৩ রানে অলআউট করে অস্ট্রেলিয়া। আর চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের ৬ উইকেটে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নেয় অজিরা। আরেক সেমিফাইনালও ছিল একপেশে। নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৫৮ রানে আটকে রাখে ক্যারিবিয়ান পেসাররা। জবাবে গর্ডন গ্রীনিজ ও কালিচরণের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফাইনাল

ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসের ফাইনালে, দর্শকদের সাক্ষী হন ক্ল্যাসিক এক ম্যাচের। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও, গ্যারি গিলমোরের দারুণ বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডার। তবে ব্যাতিক্রম ছিলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড। ৮৫ বলে ১২ চার ও ২ ছয়ে তিনি খেলেন ১০২ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ২৯১ রানের সংগ্রহ। স্নায়ুচাপে ভোগা অজিদের ৫ ব্যাটসম্যান রান আউট হন। এতে ২৭৪ রানে অল আউট হয় অস্ট্রেলিয়া। আর প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই আসরে ছিল না সিরিজ সেরার কোনো পুরস্কার। তবে ম্যান অফ দ্যা ফাইনাল হন ক্যারিবিয় অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড।

সেরা খেলোয়াড়

নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নার ৩৩৩ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান ও অস্ট্রেলিয়ার গ্যারি গিলমোর ১১ উইকেট তুলে নিয়ে হন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার।

কোহলিদের কাছে ১ রানে হার ধোনীদের

শেষ বলের থ্রিলারে চেন্নাই সুপার কিংসকে ১ রানে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে তৃতীয় জয় তুলে নিল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তবে জিততে না পারায়, ব্যর্থ হল মহেন্দ্র সিং ধোনীর ৪৮ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ‘একক’ লড়াই।

ব্যাঙ্গালুরুর দেয়া ১৬২ রানের টার্গেটে নেমে, রোববার রাতের শুরুতে স্টেইন ম্যাজিকে দিশাহারা চেন্নাই। ৫ রানে ওয়াটসনকে এবং শূন্য রানে রায়নাকে ডাগ আউটে ফেরান প্রোটিয়া স্পিডস্টার। ব্যক্তিগত ৫ ও ৯ রানে যাদবের শিকার হন ডু’প্লেসি ও কেদার যাদব। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেসামাল সিএসকে অক্সিজেন পায় পঞ্চম উইকেটে রাইডু-ধোনির ৫৫ রানের পার্টনারশিপে।

কিন্তু ২৯ রানে রাইডু যখন ফেরেন চেন্নাই তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান করে পরাজয়ের প্রহর গুনছে। জাদেজা ‌ও ব্রাভো অল্প রানে ফিরে গেলে ম্যাচ জয়ের দায়িত্বটা একাই তুলে নেন ধোনী। শেষ ওভারে প্রয়োজন হয় ২৬ রানের। প্রথম বলে চার, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বলে ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণ ৩ বলে ১০-এ নামিয়ে আনেন ধোনী। চতুর্থ বলে ২ রান সংগ্রহ করে এবং পঞ্চম বলে ফের ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছিলেন ‘বাহুবলী’ ধোনি। শেষ বলে যখন জয়ের জন্য ২ রান দরকার তখন উমেশ যাদবের ইয়র্কার ব্যাটে লাগাতে পারেননি মাহি। তবু প্রাণপন দৌড়ে ম্যাচ সমতায় আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধোনি পৌঁছে গেলেও উল্টোদিকে শার্দুল ক্রিজে পৌঁছনোর আগেই দুরন্ত থ্রোয়ে উইকেট ভেঙে দেন পার্থিব। ১ রানে থ্রিলার জয়ে কোহলিরা উচ্ছ্বাসে মাতলেও ধোনির ব্যাটে আরও এক রূপকথার গল্প থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন ক্রিকেট অনুরাগীরা।

এর আগে, টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরির পর চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অধিনায়ক বিরাট কোহলি (৮ বলে ৯ রান)। ডি’ভিলিয়ার্স ১৯ বলে ২৫ রানে ফিরলেন। আরসিবির ব্যাটিং লাইন আপকে ভরসা জোগানোর কাজটা করে দেন ওপেনার পার্থিব প্যাটেল। ৩৭ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন পার্থিব। শেষদিকে ইংরেজ অলরাউন্ডার মইন আলীর ১৬ বলে ২৬ রানে ভর করে ধোনিদের বিরুদ্ধে ১৫০-র গন্ডি পাড় হয় আরসিবি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬১ রানে শেষ হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের ইনিংস।

চারে উঠে এলো সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ

কোলকাতা নাইটরাইডার্সকে হেসেখেলে পরাজিত করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের প্লেঅফে শ্বাস ফেলছে এখন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে কাগজে-কলমে আশা থাকলে‌ও বাস্তবে তা খুবই ক্ষীণ দীনেশ কার্তিকের দল কোলকাতার। ৩০ বল আর ৯ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় কেন উইলিয়ামসনের দল। তাতে পয়েন্ট টেবিলে এখন চতুর্থস্থানে উঠে প্লে অফের দিকে হায়দরাবাদ।

নিজেদের মাঠ রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে, ১৬০ রানের টার্গেটে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণের পথ বেছে নেন ডেভিড ওয়ার্নার ও জনি বেয়ারস্টো। তাঁদের মারমুখী ব্যাটিংয়ে পাত্তাই পায়নি কেকেআরের বোলাররা। ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৬৭ রান করেন। তাঁকে ফেরান পৃথ্বী রাজ। বেয়ারস্টো অপরাজিত থাকেন ৮০ রানে। পাঁচ ওভার বাকি থাকতে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় সানরাইজার্স।

অবশ্য পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে রোববার নাইটরা দলে তিনটে পরিবর্তন আনে। রবিন উথাপ্পা, কুলদীপ যাদব ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাকে মাঠের বাইরে রেখেই খেলতে নামে তারা। তাঁদের বদলি হিসেবে রিঙ্কু সিংহ, কেসি কারিয়াপ্পা ও পৃথ্বী রাজকে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিলেন কেকেআররের সুনীল নারাইন। ৮ বলে ২৫ রান করেন তিনি। নাইটরাইডার্সের ভক্তদের মনে হচ্ছিল বড় রানের টার্গেট বুঝি দেবে প্রিয় দল। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত উইকেট পড়ে কোলকাতার। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৯ রানে থামে কোলকাতা নাইটরাইডার্স। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান ক্রিস লিনের (৪৭ বলে ৫১ রান)।

প্লে অফে যাওয়ার আশা ক্রমশ কমে আসছে নাইটদের। তবে সুযোগ যে একেবারে নেই তেমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। বাকি আছে আরো চারটি ম্যাচ।

শিরোপার আরো কাছে আবাহনী

ওয়ালটন ডিপিএলে লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জকে ১০২ রানে হারিয়ে শিরোপা জয়ের আরো কাছে চলে গেলো আবাহনী লিমিটেড। অন্য ম্যাচে, জিতেছে মোহামেডান ও প্রাইম দোলেশ্বর।

বিকেএসপিতে প্রথমে ব্যাট করে সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৭৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে আবাহনী। ৭৯ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৬ রান করেন ওপেনার সৌম্য সরকার। জহুরুল ইসলাম অমি ৭৫ এবং মোহাম্মদ মিঠুন করেন ৬৪ রান। রূপগঞ্জের বোলার তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শহীদ দুটি করে উইকেট তুলে নেন।

জবাবে, দলের ৩১ রানে মেহেদী মারুফ ও মুমিনুল হকের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে রূপগঞ্জ। নাঈমের অপরাজিত ১২৩ রানেও দলের পরাজয় ঠেকানো যায় নি। ২৭৫ রানে থামে, ৭ উইকেট হারানো রূপগঞ্জের ইনিংস। এই জয়ে ১৫ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে রূপগঞ্জের সঙ্গে শীর্ষে উঠে এলে মোসাদ্দেক হোসেনের দল।

লিটনের আংটি বদল

বিশ্বকাপের আগেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বিয়ের ধুম পড়ে গেছে। এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের উদ্বোধনী ব্যাটসমলিটন কুমার দাস। আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের আশীর্বাদ‌ও হয়ে গেছে তার। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে বিশ্বকাপের পর। সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ’র ছাত্রী দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতার সঙ্গে ২৮ জুলাই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দিনাজপুর শহরে কনের বাড়িতে আর্শীবাদ সম্পন্ন হয়। তবে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। আশীর্বাদের আংটি বদল করে অবসরই পাননি লিটন। আজ (শুক্রবার) ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ খেলতে হয় ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে। তার দল মোহামেডান টসে হেরে আগে ব্যাট করে ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। লিটন ৩৩ বলে ২৬ রান করলে‌ও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি।

সম্প্রতি মুস্তাফিজ-মিরাজ-সাব্বিরের পর এবার লিটন ও মুমিনুলও দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করছেন। সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড়ে জায়গা করে নিয়েছেন লিটন কুমার দাস।

আইপিএলের ধারাভাষ্যে হাবিবুল

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে খেলতে নয়, ধারাভাষ্য দিতে ভারতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন।

এর আগে ধারাভাষ্য দেয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না হাবিবুল বাশারের। তবে দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলায় প্রথমবারের মত ধারাভাষ্য দেয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি খুব একটা সমস্যা হবে না। আমার ক্রিকেট খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। আমি তো ক্রিকেট নিয়েই কথা বলব, তাই না?

ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল স্টার জলসার হয়ে বাংলায় ধারাভাষ্য দিতে আজ শুক্রবার ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। সাতদিনের জন্য ভারতে থাকার কথা রয়েছে তার।

রাজস্থানকে হারিয়ে চতুর্থস্থানে পাঞ্জাব

রাজস্থান রয়্যালসকে ১২ রানে হারিয়ে আইপিএলে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে উঠে এলো কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। নিজেদের মাঠ মোহালিতে মঙ্গলবার রাতে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে পাঞ্জাব। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৭০ রানে থামে রাজস্থানের ইনিংস। পাঞ্জাবের অধিনায়ক ম্যাচ সেরা রবিচন্দ্রন অশ্বিন ২৪ রানে ২ উইকেট তুলে নেন।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে, পাঞ্জাব শুরুটা খারাপ করেনি। ক্রিস গেইল ষষ্ঠ ওভারে ২২ বলে ব্যক্তিগত ৩০ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ময়াঙ্ক আগরওয়াল বিধ্বংসী শুরু করলেও ১২ বলে ২৬ রানেই থামেন। শেষদিকে ডেভিড মিলার ২৭ বলে ৪০ রান করে দলের রানকে ১৮২ রানে পৌঁছে দেন। একেবারে শেষদিকে নেমে অধিনায়ক অশ্বিন মাত্র ৪ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। রাজস্থানের বোলারদের মধ্যে জোফ্রা আর্চার ১৫ রানে ৩টি উইকেট তুলে নেন।

বিশ্বকাপের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

ইমরুল কায়েস এবং তাসকিন আহমেদকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, আনুষ্ঠানিকভাবে দলের ক্রিকেটারদের নাম ঘোষণা করেন বিসিবি’র প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

দু’টি নাম নিয়েই চলছিলো যত আলোচনা। ইমরুল কায়েস এবং তাসকিন আহমেদ। শেষ পর্যন্ত ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল আর লিটন দাসেই আস্থা রাখলেন নির্বাচকরা। তাতে কপাল পুড়লো ইমরুলের। বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, দল বাছাইয়ে তাদের বিবেচনায় রাখতে হয়েছে কন্ডিশন-পারফরম্যান্স সব কিছুই।

পেস বোলিংয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সঙ্গী মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৫ পেসারের তালিকায় আবু জায়েদ রাহীকে রাখার কারণটা‌ও পরিস্কার করেন প্রধান নির্বাচক। নান্নু বলেন, ‘তাসকিন তো আসলে বড় সময় ইনজুরিতে ছিলো। ফিরে এসে লিগে মাত্র ১টি ম্যাচ খেলেছে। কাজেই তার ম্যাচ ফিটনেস এবং ছন্দে ফিরতে পেরেছে কি-না সে ব্যাপারে পুরোপুরি ধারণা পাওয়া সম্ভব ছিলো না।’

‘পঞ্চম পেসার হিসেবে তাসকিনের ইনজুরির কারণে শফিউলই ছিলো আমাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সে খুব একটা ছন্দে নেই। অন্যদিকে রাহী নিউজিল্যান্ড ট্যুরে টেস্টে ছিলো এবং সেখানে সুইং আদায় করে নিতে পেরেছে। আমরা মনে করছি ইংল্যান্ডেও সে তার পেস এবং সুইং দিয়ে সমীহ আদায় করে নিতে পারবে। এ কারণে শফিউল বা তাসকিনের বদলে সুযোগ পেল রাহী।’

তবে দলের বাইরে থাকলেও এখনো নিজেকে ফিট প্রমাণ করে তাসকিন আহমেদের স্কোয়াডে জায়গা করে নেয়ার সুযোগ শেষ হয়নি বলেও জানান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

বিশ্বকাপ দল ছাড়াও আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। সেখানে যুক্ত হচ্ছেন নাইম হাসান এবং ইয়াসীর আলি। আগামী ২ জুন লন্ডনের কেনিংটন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান।

বিশ্বকাপ দল : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিথুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ রাহী।

ত্রিদেশীয় সিরিজের দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিথুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ রাহী, ইয়াসির আলী রাব্বী, নাঈম হাসান।

আবার‌ও হার কোহলিদের

হার্দিক হাঙ্গামায়, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ১৭১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে একটা সময়ে কিছুটা চাপে ছিল মুম্বাই। তবে শেষদিকে মাত্র ১৬ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। এই জয়ের ফলে ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আইপিএলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ম্যাচ সেরা লাসিথ মালিঙ্গা ৩১ রানে চার উইকেট নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ধ্বস নামান।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভালো খেলতে থাকেন মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানরা। কুইন্টন ডি কক ২৬ বলে ৪০ ও রোহিত শর্মা ১৯ বলে ২৮ রান করে ভালো শুরু এনে দেন। এরপরে ২৯ রান করে ফেরেন সূর্যকুমার যাদব। ইশান কিষাণও মাত্র ৯ বলে ২১ রান করে ফেরেন। তবে এদিন ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। তিনি ২১ বলে ১১ রান করে কিছুটা চাপ বাড়িয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু তার ভাই হার্দিক পান্ডিয়া মাত্র ১৬ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন। আরসিবি বোলারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল ও মঈন আলী দুটি করে উইকেট তুলে নেন। এই পরাজয়ে টুর্নামেন্টের প্লে অফে ওঠা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে গেল বিরাট কোহলির দলের।

বিশ্বকাপের দল ঘোষণা কাল

২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। তবে দলে খুব বেশী পরির্বতন নেই বলে জানিয়েছেন, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ক্যাম্পের শুরু থেকে যোগ দেয়ার জন্য আইপিএল ছেড়ে দেশে ফিরতে বলা হয়েছে, অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। মিরপুর স্টেডিয়ামে এসব কথা জানান, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে খুব বেশী দেরী নেই। একে একে দল ঘোষণা করতে শুরু করেছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। এবারের বিশ্বকাপের জন্য কেমন হবে বাংলাদেশ দল তা দেখার অপেক্ষায় আছেন টাইগার ভক্তরা। বিসিবি সভাপতি অবশ্য জানিয়েছেন পরীক্ষিত দলই যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে। নাজমুল হাসান বলেন, ‘উনারা (নির্বাচক প্যানেল) কাল দল দিয়ে দিবে। উনাদের কাছ থেকেই জানা ভালো। অনেকগুলো নাম এসেছে। কিন্তু আজ নাম বলার কোনো মানে হয় না, কারণ কালকেই আপনাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিচ্ছে। আমি যতটুক জানি।’

আইপিএলের জন্য টাইগারদের অনুশীলন ক্যাম্পের শেষ দিকে দলের সাথে যোগ দিতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু তা আর হচ্ছেনা। আইপিএল ছেড়ে দলের সাথে যোগ দিতে বলা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে। সোমবার মিরপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানান, ‘আমাদের ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। আমি বলেছি সাকিবকে চিঠি পাঠাতে। এখনই চিঠিটা দিয়ে দিতে। তারপর দেখা যাক, সে কী সাড়া দেয়। আমাদের যেহেতু ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, সে আমাদের ক্যাম্পে আসবে কী আসবে না, এটা নিয়ে কথা হয়নি। আমার মনে হয়েছে, ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, ওকে চিঠি দেওয়া দরকার যেন সে যোগ দিতে পারে।’

সম্ভাব্য বাংলাদেশ দলের জন্য মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ ও মুস্তাফিজ অটোমেটিক চয়েস। ব্যাটসম্যানের তালিয়ায় লিটন, মিথুন, সৌম্য, সাব্বির ও মোসাদ্দেক এগিয়ে আছেন। তবে পেসার নির্বাচন নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে পারেন নির্বাচকরা। চূড়ান্ত তালিকা কারা থাকছেন তা জানতে আর বেশী অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা টাইগার ভক্তদের। ২২ এপ্রিল থেকে ফিটনেস ট্রেনিং দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। ২৫ এপ্রিল থেকে হবে স্কিল অনুশীলন। মঙ্গলবার বিশ্বকাপের দলও দিয়ে দেবে বিসিবি। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ।

ভারতের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

রিশাভ পান্ট ও আম্বাতি রাইডুকে বাদ দিয়েই ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করলো ভারত। বিকেলে বিসিসিআইয়ের ঘোষিত দলে চমক বলতে দীনেশ কার্তিক ও বিজয় শঙ্করের ফেরা।

বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে তরুণ রিশাভ পান্ট সম্প্রতি দারুণ পারফর্ম করলেও অভিজ্ঞতার বিচারে জায়গা পেয়েছেন কার্তিক। আর বিকল্প ওপেনার হিসেবে থাকবেন লোকেশ রাহুল। স্পিন আক্রমণে যুজভেন্দ্র চাহাল আর কুলদ্বীপ যাদবের সাথে তৃতীয় পছন্দ হিসেবে আছেন রবীন্দ্র জাদেজা। আগামী ৫ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।

ভারতের ১৫ সদস্যের দল: বিরাট কোহলি(অধিনায়ক), রোহিত শর্মা(সহ-অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, বিজয় শংকর, মহেন্দ্র সিং ধোনি, দীনেশ কার্তিক, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, কুলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ শামি, জাসপ্রিত বুমরাহ, জাদেজা।

ঠেকানো যাচ্ছেনা ধোনীদের

যেনো ঠেকানোই যাচ্ছেনা মহেন্দ্র সিং ধোনীর দল চেন্নাই সুপার কিংসকে। আইপিএলের ম্যাচে আজ রোববার কোলকাতা নাইটরাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরো সুসংহত করলো চেন্নাই। এতে টানা তিন ম্যাচ হারলো কেকেআর। কোলকাতার ৮ উইকেটে ১৬১ রানের জবাবে দুই বল বাকী থাকতেই ৫ উইকেটে ১৬২ রান তুলে জয় পায় ধোনীরা। নিজ শহরের প্রতিশোধের ম্যাচে পরাজয়ই সঙ্গী হয় নাইটদের। সুরেশ রায়নার অপরাজিত ৫৮ রানে জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই।

ইডেন গার্ডেন্সে, শেষ দু’ ওভারে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ২৪ রান। গার্নির ওভারে উঠে ১৬ রান। শেষ ওভারে জেতার জন্য সিএসকের দরকার ছিল আট রান। চেন্নাই শিবির খুব সহজেই ম্যাচটা জিতে নেয়।

এর আগে, আন্দ্রে রাসেল ঝড় ওঠেনি। তাঁর পরিবর্তে ক্রিস লিন মারমুখী ব্যাটিং করেন। কিন্তু উইকেট ছুড়ে দেওয়ার বদভ্যাসে বড় রান করতে পারেনি কেকেআর। আগের ম্যাচে দীপক চাহার, নাইটদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙেছিলেন। এদিন প্রথম ওভার থেকেই চাহারকে আক্রমণ করে খেলেন ক্রিস লিন। তিনি ভয়হীন ব্যাটিং করলেও অন্য প্রান্ত থেকে উইকেট পড়তে থাকে নিয়মিত।

সুনীল নারাইন (২) ব্যর্থ। নীতীশ রাণা ১৮ বলে ২১ রান করেন। রাণা ও উথাপ্পা ইমরান তাহিরের শিকার। ৩৬ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন লিন। আন্দ্রে রাসেল (১০) শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিলেন। কিন্তু তাহিরের বলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। শার্দুল ঠাকুরের বলে ফেরেন অধিনায়ক কার্তিক। দ্রুত উইকেট পড়তে থাকায় কোলকাতা বড় স্কোর গড়তে পারেনি। ম্যাচ সেরা ইমরান তাহির ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কোলকাতার ব্যাটিংয়ে ধ্বস নামান।

ত্রিদেশীয় সিরিজে নেই গেইল-রাসেল

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে স্বাগতিক দেশসহ বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু আইপিএল তখনো চলমান থাকায় সে সিরিজের দলে নেই আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার এবং আলঝারি জোসেফের মতো ক্যারিবীয় তারকারা। ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ত্রিদেশীয় সিরিজটিতে অংশ নেবে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু এতে দলের মূল চার তারকাকে পাচ্ছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যে কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের এ দলটিই যে বিশ্বকাপ স্কোয়াড নয়- তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন ক্যারিবিয় ক্রিকেট দলের নতুন কোচ ফ্লয়েড রেইফার।

গেইল-রাসেলরা না থাকলেও জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন দলে ড্যারেন ব্রাভো, শাই হোপ, শেন ডাওরিচ, রস্টন চেজদের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের উপস্থিতি আশা যোগাবে ক্যারিবীয়দের। এছাড়াও ২০১৭ সালে সবশেষ ওয়ানডে খেলা ডানহাতি পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে দলে নেয়া হয়েছে এ ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য।

নতুন নির্বাচক কমিটির অধীনে ঘোষণা করা প্রথম দলের ব্যাপারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট জিমি অ্যাডামস বলেন, ‘নতুন নির্বাচক কমিটিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ফ্লয়েড রেইফার, অধিনায়ক জেসন হোল্ডার এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাচক রবার্ট হেইন্সকে রাখা রয়েছে। তারাই আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের দল ঠিক করেছে।’

এ সিরিজের জন্য ঘোষিত ১৪ সদস্যের স্কোয়াডে একমাত্র অনভিষিক্ত ক্রিকেটার হলেন প্রধান কোচ ফ্লয়েড রেইফারের স্বজন রেমন্ড রেইফার। ২৭ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার ৫১ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে শিকার করেছেন ৫১টি উইকেট, ব্যাট হাতে করেছেন ১০৯৬ রান।

আগামী ৫ মে থেকে শুরু হবে ত্রিদেশীয় সিরিজটি। তিন দল একে অপরের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলার পর ১৭ মে হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচ।

ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড: জেসন হোল্ডার, জন ক্যাম্পবেল, ড্যারেন ব্রাভো, শাই হোপ, শেলডন কটরেল, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রোচ, সুনিল অ্যামব্রিস, রেয়মন্ড রেইফার, ফাবিয়ান অ্যালেন, অ্যাশলে নার্স, রস্টোন চেজ, শেন ডাওরিচ ‌ও জোনাথন কার্টার।

কলকাতাকে হারাল দিল্লি

চিপকের পরে এবার ঘরের মাঠ ইডেনে, টানা দুই ম্যাচ হারল কোলকাতা নাইটরাইডার্স। দিল্লি ক্যাপিটালসের ওপেনার শিখর ধা‌ওয়ানের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে মাথা নীচু করে মাঠ ছাড়তে হল নাইটদের। ধা‌ওয়ান ৬৩ বলে ৯৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ঋষভ পান্ট। ধা‌ওয়ান ও পান্ট ১০৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন। পান্ট (৪৬ রান) যখন সাজঘরে ফেরেন, তখন দিল্লির রান ৩ উইকেটে ১৬২। বাকি কাজটা সারেন ধা‌ওয়ান ও ইনগ্রাম (৮ অপরাজিত)। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১৮০ রান করে ৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে দিল্লি।

টস জিতে কেকেআর-কে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার। শুরুতেই ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ইশান্ত শর্মা। প্রথম বলেই তিনি ফিরিয়ে দেন নাইট ওপেনার জো ডেনলিকে। ইডেনের বুক তখন দুরুদুরু কাঁপছে। তবে কি আবার চিপকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে? নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে নাইটরা করে সাত উইকেটে ১৭৮। এর পুরো কৃতিত্ব শুভমান গিল ও আন্দ্রে রাসেলের।

ডেনলি ফিরে যাওয়ার পরে গিল ও রবিন উথাপ্পা ইনিংস গড়ার কাজটা করেন। উথাপ্পাকে ২৮ রানে ফেরান রাবাদা। নীতীশ রাণা ১১ রান করে ফেরেন ডাগ আউটে। ৩৪ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন গিল। ব্যক্তিগত ৬৫ রানে তিনি ফেরার পরে রাসেল কেকেআরকে এগিয়ে নিয়ে যান। ২১ বলে ৪৫ রান করেন রাসেল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ধা‌ওয়ানের দাপটে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় নাইটদের। পৃথ্বী শ’ ১৪ ও শ্রেয়াস আয়ার ৬ রানে ফিরলেও দিল্লির জিততে বেগ পেতে হয়নি। ধা‌ওয়ান শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে দিল্লিকে জেতান।

ইনজুরি আক্রান্ত বাংলাদেশ

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হতে আর বাকি ৪৯ দিন। বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবনা থাকার কথা বাংলাদেশের। মাঠের লড়াই, রণকৌশল, প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার ভাবনা কিংবা নিজেদের দুর্বল জায়গা খুঁজে বের করে সেটা নিয়ে কাজ করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ দলে এখন ভাবনার নাম ইনজুরি। চোটের থাবায় জর্জরিত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অটোমেটিক চয়েস হিসেবে যাদের থাকার কথা, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন অনেকে, কেউ কেউ ফিরেছেন মাঠে। সুস্থ হতে অনেকের দীর্ঘদিনের সময় প্রয়োজন।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কাঁধের চোটে ভুগছেন। শেষ চার মাস টানা খেলার মধ্যে থাকার কারণে বিশ্রামের সুযোগ পাননি। গত সপ্তাহে তাকে ১৫ দিনের বিশ্রাম দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তবে নিয়ম মেনে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। জানা গেছে, মাহমুদউল্লাহর চোট গ্রেড-৩ টিয়ারের। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন।

মাহমুদউল্লাহর চোট নিয়ে বিসিবি’র চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘রিয়াদ ওর রিহ্যাব প্রোগ্রামের মধ্যেই আছে। আপাতত ও ব্যাটিং প্র্যাকটিস করছে এবং সবধরনের শটও খেলতে পারছে। কোনো অভিযোগ ওর নেই এ ব্যাপারে। আমরা আস্তে আস্তে ওর বোলিং এবং ফিল্ডিং ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো। এখন পর্যন্ত ওর অগ্রগতি সন্তোষজনক। ক্যাম্পে যোগ দিতে ওর কোনো সমস্যা হবে না।’

রুবেল হোসেন: সাইড স্ট্রেইনের কারণে চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারছেন না রুবেল হোসেন। বিশ্রামে আছেন জাতীয় দলের এই পেসার। গত মাসে লিগের ম্যাচ চলাকালে সাইড স্ট্রেইন চোটে পড়েছিলেন তিনি। আশার বিষয়, বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন ডানহাতি পেসার। ২২ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া ক্যাম্পেও থাকবেন তিনি। চিকিৎসক বলেছেন, ‘রুবেলের রিহ্যাব এই সপ্তাহে শেষ হতে যাচ্ছে। শনিবার থেকে ওর বোলিং প্র্যাকটিস শুরু হবে। আশা করছি পর্যাপ্ত পুনর্বাসন এবং বিশ্রাম পেয়েছে ও।’

মুশফিকুর রহিম: রিবের চোটে ভুগছেন মুশফিকুর রহিম। পাশাপাশি পাঁজরের পুরোনো ব্যথা মাঝে মধ্যেই কষ্ট দিচ্ছে উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানকে। একাধিকবার স্ক্যান করিয়েও খারাপ কিছু পাননি মুশফিক। তার ব্যথা কমার একমাত্র ঔষুধ- বিশ্রাম। সম্প্রতি ব্যাট হাতে অনুশীলন করেছেন মুশফিক। রানিং করছেন নিয়মিত। বিসিবি চিকিৎসক জানান, ‘মুশফিকের কিছুটা রিব ট্রমার ব্যথা ছিল। যদিও খেলাধুলার সঙ্গে এটার তেমন সম্পর্ক নেই, খেলতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে পাজরে কিছুটা ব্যথার কথা বলেছিল, তাই আমরা ওকে এমআরআই স্ক্যান করাই। স্ক্যানে ওর হাড়ে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। রিপোর্টটা নরমাল এসেছে। আশা করছি ওর খেলতে কোনো সমস্যা হবে না।’

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: টেনিস এলবো চোটে ভুগছেন পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। যদিও ব্যথা নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এই ক্রিকেটার। তার বোলিং কিংবা ব্যাটিংয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ফিল্ডিংয়ে ৩০ গজের বাইরে থেকে বল থ্রো করতে সমস্যা হচ্ছে। তাইতো তার দল আবাহনী তাকে ফিল্ডিং করাচ্ছে ৩০ গজ বৃত্তের ভেতরে।

মুস্তাফিজুর রহমান: চোটের থাবায় সবশেষ আক্রান্ত ক্রিকেটার হলেন মুস্তাফিজুর রহমান। চার বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে ভালো বোলিং করেছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। বৃহস্পতিবারও তার মাঠে নামার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন অনুশীলনে বাঁ পায়ের গোঁড়ালিতে চোট পান বাঁহাতি পেসার। এই চোটে তাকে দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। স্বস্তির খবর হলো, চোট ততটা গুরুতর নয়। বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয়ও নেই। তবে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না দল। এরই মধ্যে এ পেসারকে দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

ইনজুরিতে মুস্তাফিজ

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে অনন্য এক সম্পদের নাম মুস্তাফিজুর রহমান। তার ইনজুরির প্রবণতা এমনিতেই বেশি। বেছে বেছে তাকে মাঠে নামাচ্ছিল টিম ম্যানেজম্যান্ট। নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ওয়ানডের পর বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল তাঁকে। খেলিয়েছিল মাত্র একটি টেস্ট। মোটকথা মুস্তাফিজকে নিয়ে বিশ্বকাপের আগে কোনো ঝুঁকিই নিতে চায় নি টিম ম্যানেজম্যান্ট। এ জন্য আইপিএল খেলার অনুমতি‌ও তিনি পাননি।

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। বিশ্বকাপের ঠিক আগেই ইনজুরিতে পড়লেন বাংলাদেশের এই পেসার। নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর বিশ্রাম নিয়ে ফিরেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। চার বছর পর দেশের সবচে’ জৌলুসপূর্ণ ক্রিকেট আসরে খেলার সুযোগ পেয়ে শাইনপুকুরের জার্সিতে দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন। ৩ উইকেট পেয়েছিলেন দারুণ বোলিংয়ে। কিন্তু কে জানত এ মৌসুমে এটাই তার শেষ ম্যাচ।

আজ মিরপুরে খেলাঘরের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল তার। গতকাল করেছিলেন অনুশীলন। কিন্তু অনুশীলনে বাঁপায়ের গোঁড়ালিতে চোট পান বাঁহাতি পেসার। স্বস্তির খবর হল, চোট ততটা গুরুতর নয়। বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয়ও নেই। তবে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না দল। এরই মধ্যে এই পেসারকে দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

বিসিবি’র চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী মিরপুরে আজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘মুস্তাফিজের এক্সরে করা হয়েছে। এক্সরে ভালো আছে। আপাতত ও কিছুদিন বিশ্রামে থাকবে। আমরা একটু সাবধানে আগাবো। ও দুই সপ্তাহের বিশ্রামে থাকবে। এর মধ্যে ওর পায়ের টেপ চেঞ্জ করা হবে। অন্য সময় হলে হয়তো আমরা কম সময় নিতাম। কিন্তু সামনে যেহেতু বিশ্বকাপ, আমরা তাই একটু বেশি সময় নেব। ও গতকাল বাঁ পায়ের গোড়ালিতে ওয়ার্মআপের সময় ব্যথা পেয়েছে।’

রূপকথার জয়ে চেন্নাই শীর্ষে

আবার‌ও একটা রূপকথার জয় পেল চেন্নাই। ত্রাতা সেই মহেন্দ্র সিং ধোনি। কঠিন হয়ে যাওয়া টার্গেটকে সহজ করে দলকে জয় এনে দিলেন তিনি। অপরাজিত থাকতে না পারলেও ধোনির করা ৫৮ রানের ইনিংসে ভর করে শেষ বলে ছক্কা মেরে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ৪ উইকেটে জিতল চেন্নাই সুপার কিংস। তাতে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে তারাই।

প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫১ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস। শেষ ওভারে শার্দুল ঠাকুরের বলে ওঠে ১৮ রান। তা নাহলে দেড়শ’ রানের গণ্ডিও পার হতে পারত না রাজস্থান। শুরুতে অজিঙ্কা রাহানে ১১ বলে ১৪ রান ও জস বাটলার ১০ বলে ২৩ রান করে শুরুটা খারাপ করেননি। তবে দুজনে ফিরে গেলে টানা উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে রাজস্থান। মিডল অর্ডারে স্টিভ স্মিথ ১৫, রাহুল ত্রিপাঠী ১০, বেন স্টোকস ২৮ ও রিয়ান পরাগ ১৬ রান করলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষদিকে জোফ্রা আর্চার ১৩ ও শ্রেয়স গোপাল ১৯ রান করে দলকে দেড়শ’ রানের উপরে সংগ্রহ এনে দেন।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাই শুরুটা একেবারেই ভালো করতে পারেনি। পরপর আউট হয়ে ফেরেন দুই ওপেনার শ্যেন ওয়াটসন (০) ও ফাফ ডু প্লেসিস (৭)। সুরেশ রায়নাও ৪ রানে কাটা পড়েন। চার নম্বরে নামা অম্বাতি রাইডু খেলা ধরার চেষ্টা করলেও কেদার যাদব ১ রানে ফিরে যান। এরপরে নামেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। রাইডু ও ধোনি লম্বা পার্টনারশিপ গড়েন। রাইডু ৫৭ রান করে ফেরেন। শেষ ধোনি শেষ ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে করেন ৫৮ রান। শেষ বলে বাকী ছিল ৩ রান। তবে মিচেল স্যান্টনার ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেয়।

এই জয়ে চেন্নাই ৭ ম্যাচ ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রইল। হেরে রাজস্থান ছয় ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে চলে গেল।

পোলার্ড তান্ডবে মুম্বাইয়ের জয়

প্রথম ইনিংসে তাণ্ডব দেখিয়েছিলেন ক্রিস গেইল। পরের ইনিংসে মহাতাণ্ডব দেখালেন আর এক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান, কাইরন পোলার্ড। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের করা ১৯৭ রান তাড়া করতে নেমে হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন তিনি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ইনিংসের একেবারে শেষ বলে ৩ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বুধবার রাতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও গেইলের ব্যাটিং ঝড়ে ৪ উইকেটে ১৯৭ রান তোলে। মুম্বাইয়ের ‌ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শুরুতে স্বাগতিকদের বোলিংকে আক্রমণ শুরু করেন গেইল। মাত্র ৩৬ বলে ৬৩ রান করে ফিরে যাওয়ার পরে বাকী কাজটা সারেন লোকেশ রাহুল। মাত্র ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৪ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন, আইপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি করা রাহুল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি মুম্বাই। প্রথমবার খেলতে নামা সিদ্ধার্থ লাড চালিয়ে খেলছিলেন। তবে মোহাম্মদ শামির বলে ১৫ রানে ফেরেন। আর এক ওপেনার কুইন্টন ডি কক ২৪ ও তিন নম্বরে নামা সূর্যকুমার যাদব ২১ রানে ফেরেন। এরপর মুম্বাই ব্যাটিংকে একা টেনে নিয়ে যান পোলার্ড। শুধু রান করাই নয়, বিস্ফোরক ব্যাটিং করেন। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৮৩ রান করে তিনি যখন ফিরছেন তখন মুম্বাইয়ের চার বলে চার রান বাকী। শেষ বলে ২ রান নিয়ে জয় পায় মুম্বাই। চোটের কারণে অধিনায়ক রোহিত শর্মার বদলে দায়িত্ব পালন করেন পোলার্ড। ৭ উইকেটে ১৯৮ রান করে জয় পায় মুম্বাই।

আবাহনীর হার জামালের জয়

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আবার‌ও আবাহনীর হার। জিতেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। অন্য ম্যাচে জয় পেয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠতে হলে বিকেএসপিতে, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারতে হবে এবং পরাজিত করতে হবে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে।

কিন্তু উল্টো হলো ফল। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জও হারেনি, আবাহনীও জিততে পারেনি। আবাহনীকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সুপার লিগের পথে এগিয়ে গেল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মিরপুরে তাসকিন আহমেদের মাঠে ফেরার দিনে উত্তরা স্পোর্টিংকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ। উত্তরার দেয়া ১৮১ রানের টার্গেটে নেমে, মেহেদী মারুফের অপরাজিত ৬২ রানে ভর করে ৫৬ বল বাকি থাকতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রূপগঞ্জ।

এদিকে ফতুল্লায়, শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকে ১ উইকেটে পরাজিত করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রাইম দোলেশ্বরের দেয়া ২৫১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে, ৯ উইকেট হারিয়ে ১ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ব্রাদার্স।

টানা তৃতীয়বার উইজডেন সেরা কোহলি

টানা তৃতীয়বার ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের সেরা ক্রিকেটারের সম্মান ‘লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত হলেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। শুধু বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদই নন, উইজডেন প্রতি বছরই সেরা ৫জন ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করে। এবার সেই ৫ জনের তালিকায় বিরাট কোহলির সাথে আছেন, ইংল্যান্ডের জস বাটলার এবং স্যাম কুরান, সারের হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী অধিনায়ক ররি বার্নস এবং ইংল্যান্ড নারী দলের সদস্য ট্যামি বিউমন্ট।

২০১৮ সালজুড়ে স্বর্ণযুগ ছিল বিরাট কোহলির। তিন ফরম্যাট মিলে ২০১৮ সালে তিনি ৬৮.৩৭ গড়ে করেন ২৭৩৫ রান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের জো রুট আছেন বিরাটের চেয়ে ৭০০ রান দুরে।

এই এক বছরে কোহলি ৩৭ ইনিংসে করেছেন ১১টি সেঞ্চুরি। যার সাতটিই এসেছে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে। ইংল্যান্ড সফরে ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কোহলি ৫ টেস্টে ৫৯.৩০ গড়ে রান করেন ৫৯৩। এর মধ্যে দুটি সেঞ্চুরিও আছে।

উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের ২০১৯ সালের সংস্করণের মাধ্যমে লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড এবং উইজডেন ক্রিকেটার্স অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত করা হয়। উইজডেনের সম্পাদক লরেন্স বুথ বলেন, ‘একটি পরাজিত দলের সদস্য হিসেবে শেষ করলেও, ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। ২০১৪ সালে যে সংগ্রাম তিনি করেছিলেন, সেটাকে ঢেকে দিলেন এবার। তার টেস্ট ব্যাটিং, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে, ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৫০ ওভারেও নিজেকে অন্য লেভেলে নিয়ে গেছেন তিনি।’

সবার শীর্ষে চেন্নাই

কোলকাতা নাইটরাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে সবার শীর্ষে উঠে গেলো মহেন্দ্র সিং ধোনীর দল চেন্নাই সুপার কিংস। চেন্নাইয়ে কোলকাতার দেয়া ১০৯ রানের টার্গেট ১৬ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে ১১১ রান তুলে জয় পায় চেন্নাই।

প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে কোলকাতা। ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৫০ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেললে‌ও আন্দ্রে রাসেল দানবীয় ব্যাটিং করতে পারেন নি। তার বড় স্কোর গড়া হয়নি কোলকাতা নাইটরাইডার্সের। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১০৮ রান তোলে কোলকাতা। ম্যাচ সেরা চেন্নাইয়ের বোলার ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কোলকাতার ধ্বস নামান।

জবাবে, ১০৯ রানের টার্গেটে নেমে খুবই সাবধানী সুচনা করে চেন্নাই সুপার কিংস। ধীর-স্থির এবং ছোটো ছোঠো জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন খেলোয়াড়রা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ফ্যাফ ডুপ্লেসিস। ‌ওয়াটসন ১৭ আর রাইডু করেন ২১ রান। তাতে ৩ উইকেটে ১১১ রান তুলে জয় পায় চেন্নাই।

প্রস্তুতি ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার আগে দলগুলো নিজেদের ঝালাই করে নেবে। খেলবে প্রস্তুতি ম্যাচ। ২৪ মে থেকে শুরু হবে প্রস্তুতি ম্যাচ। আর এ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রি হবে ১০ এপ্রিল থেকে। বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দশটি দলের প্রত্যেকটি সুযোগ পাচ্ছে দু'টি করে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার। ২৪ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দশটি প্রস্তুতি ম্যাচ। ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড, কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম, হ্যাম্পশায়ার বল, দি ওভাল- এই চারটি স্টেদিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো।

অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সীদের জন্য টিকিটের দাম এক পাউন্ড। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রয়েছে গোল্ড ক্যাটাগরির দাম ১৫ পাউন্ড । ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড বনাম আফগানিস্তানের ম্যাচে রয়েছে ব্রোঞ্জ, সিলভার ও গোল্ড ক্যাটাগরির টিকিট যার মূল্য যথাক্রমে ১৫, ২০ ও ২৫ পাউন্ড। অনলাইনে ক্রিকেট বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কিনতে পারবে দর্শকরা। ম্যাচের দিনও স্টেডিয়ামে টিকিট পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে টিকিটের দাম পাঁচ পাউন্ড বেশি দিতে হবে।

প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি

২৪ মে- পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান (ব্রিস্টল) এবং শ্রীলঙ্কা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (কার্ডিফ)।

২৫ মে- ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া (হ্যাম্পশায়ার) এবং ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড (ওভাল)।

২৬ মে- দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম উইন্ডিজ (ব্রিস্টল) এবং পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ (কার্ডিফ)।

২৭ মে- অস্ট্রেলিয়া বনাম শ্রীলঙ্কা (হ্যাম্পশায়ার) এবং ইংল্যান্ড বনাম আফগানিস্তান (ওভাল)।

২৮ মে- উইন্ডিজ বনাম নিউজিল্যান্ড (ব্রিস্টল) এবং বাংলাদেশ বনাম ভারত (কার্ডিফ)।

 

অন্যান্য আইসিসি টুর্নামেন্টের মতো প্রস্তুতি ম্যাচগুলো হবে ৫০ ওভারের। তবে আন্তর্জাতিক ওয়ানডের মর্যাদা থাকবে না। ১৫ সদস্যের দলের যেকোনো ১১ জন মাঠে ব্যাটিং বা ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে নামতে পারবেন।

হায়দরাবাদকে হারিয়ে পাঞ্জাবের রুদ্ধশ্বাস জয়

সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএলে) লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দুই দলই ম্যাচ শুরুর আগে ছিল একই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। যদিও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ লিগ তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকলেও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব নেট রান রেটের কারণে ষষ্ঠ স্থানে ছিল। তবে ঘরের মাঠে শক্তিশালী হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আইপিএল লিগ তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এল পাঞ্জাব।

টসে জিতে পাঞ্জাব হায়দরাবাদকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। খুব ধীরগতিতে শুরু করে হায়দরাবাদ। প্রথম ১০ ওভারে তোলে ৫০ রান। পরের অর্ধে ওঠে ১০০ রান। সবমিলিয়ে ৪ উইকেটে ১৫০ রানে শেষ হয় হায়দরাবাদের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে ক্রিস গেইলের (১৬ রান) উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে লোকেশ রাহুল ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল সামলে নেন। মায়াঙ্ক ৫৫ রানে ফিরে গেলেও রাহুল শেষ পর্যন্ত ৭১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরেন। হায়দরাবাদের বোলার সন্দীপ শর্মা ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। রশিদ খান ২০ রানে ১টি উইকেট নেন। তবে ছোট লক্ষ্য হওয়ায় সহজেই তা অতিক্রম করে যায় পাঞ্জাব।

রূপগঞ্জে ধরাশায়ী আবাহনী

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনী লিমিটেডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জ। এছাড়া জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর এবং শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

মিরপুরে, আগে ব্যাট করতে নেমে, শুভাশিষ রয় এবং মোহাম্মদ শহীদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৯ রানে ৫ উইকেট হারায় আবাহনী। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন ৪০ রানে অপরাজিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১২২ এ গুটিয়ে যায় ঢাকার জায়ান্টরা। জবাবে, মেহেদী মারুফের ৫৯ রানে ভর করে ১৩৯ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় রুপগঞ্জ।

অন্য ম্যাচে, ফতুল্লায় প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব। জবাবে ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় প্রাইম দোলেশ্বর। ফরহাদ হোসেন ৫৯ আর মার্শাল আইয়ুব খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস।

বাংলাদেশ এখন যে কাউকে হারাতে পারে: গর্ডন গ্রিনিজ

‘বাংলাদেশ এখন যেমন খেলছে তাতে নিজেদের দিনে যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানও এ রকমই। বিশ্বকাপেও তেমন কিছু দেখব বলে আমার মনে হয়।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সম্পর্কে এমনই মন্তব্য ‌সাবেক কোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ‌ওপেনার গর্ডন গ্রিনিজের। আর তাঁর অধীনেই বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছে। সেই আসরেই পাকিস্তানকে হারিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন খালেদ মাহমুদরা। ২০ বছর পরের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে এমনই কথা বললেন গ্রিনিজ।

গ্রিনিজ জোর দিয়েই বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপে স্পষ্ট ফেভারিট কেউ নেই। কেউ সেভাবে আধিপত্য করতে পারছে না। আমি নিজে হয়তো ভারতকে এগিয়ে রাখব।’ বাংলাদেশকে আইসিসি ট্রফি জেতানো এই কোচ আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন একেবারেই ব্যতিক্রমী আয়োজনে। ঢাকায় চলা এশিয়ান ট্যুর গলফ টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু ওপেনে শুভেচ্ছা দূত হয়ে এসেছেন তিনি।

ক্রিকেটে কিংবদন্তি গ্রিনিজের আরেকটি ভালোবাসা গলফ, ঢাকায় থাকতে কুর্মিটোলায়ও খেলেছেন বহুবার। এমন একটা আসরে আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি নিজে বেশ উচ্ছ্বসিত, ‘খুবই ভালো লাগছে এখানে আসতে পেরে। গলফ আমার ভীষণ পছন্দের খেলা। একসময় আক্ষেপ হয়েছে কেন আমি খেলাটা ছোটবেলা থেকেই খেললাম না। এমন একটা টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের গলফ উপকৃত হবে অবশ্যই। আমি সিদ্দিকুরের কথা শুনেছি। ওর সঙ্গে দেখা করতে চাই।’

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার দিলহারা নিষিদ্ধ

ম্যাচ-ফিক্সিং সমস্যায় জর্জরিত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। দ্বীপরাষ্ট্রের ক্রিকেটার দিলহারা লুকুহেতিগেকে সাসপেন্ড করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ৯টি ওয়ানডে এবং ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন লুকুহেতিগে। ৩৮ বছর বয়সি লঙ্কার প্রাক্তন এই মিডিয়াম পেসারের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ছিল। তদন্তে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। লুকুহেতিগের বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙে চার্জ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে তথ্য পেশ করতে পারবেন এই লঙ্কার ক্রিকেটার।

আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সাময়িক সাসপেনশন থাকবে। এছাড়াও আইসিসি কোড পেন্ডিং ডিটারমিনেশনের জন্য লুকুহেতিগের প্রোভিশনালি সাসপেনশন চার্জ দেওয়া হয়েছে।’ গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টেন লিগ খেলার সময়ও তার উপর চার্জ লেগেছিল।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানকে সনৎ জয়সুরিয়াকে দু’বছরের জন্য নির্বাসন দিয়েছে আইসিসি।

মৈত্রী কাপ ক্রিকেট সমাপ্ত

দেশ ভাগ হয়েছে। সীমানায় বসেছে কাঁটাতারের বেড়া। তবে সাত দশকেও দুই বাংলার বন্ধুত্বের কোনো ঘাটতি হয়নি। সম্পর্ক রয়েছে অটুট। সেই বন্ধুত্বে নতুন সংযোজন ‘‌মৈত্রী কাপ ক্রিকেট’‌।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পশ্চিম বঙ্গের বারাসাতে হয়ে গেল মৈত্রী কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। বারাসতের আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টসের মাঠে তিন দলের এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। দু’‌দিনের এই ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের ছিটেফোঁটা ছিল না, পুরোটাই বন্ধুত্বের আবহ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে, পশ্চিম বঙ্গের টলিউড একাদশকে ১ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দল এফএলসিএল (‌রংপুর রাইডার্সের সিস্টার কনসার্ন)। তৃতীয় দলটি হলো গুলশন ক্লাবের। এই এফএলসিএলের কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টের উদ্যোক্তা। যাঁরা গত ৭ বছর ধরে বাংলাদেশে প্রয়াত রমন লাম্বার স্মৃতিতেও একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট করে থাকেন।

মৈত্রী কাপের প্রধান মুখ আতিক খান। বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর কথায়, ‘‌তিন বছর ধরে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি। বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররাই এর উদ্যোক্তা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক ধরে রাখতেই এই সম্প্রীতি ক্রিকেট। অতীতে অরুণলাল, অশোক মালহোত্রার মতো ক্রিকেটাররা খেলেছিলেন। আমরা যেমন এখানে আসি, তেমনই এখানকার দলকেও বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়।’‌

নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য সবার আগে ১৫ জনের দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। দল নির্বাচনে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চমক একটাই। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে টম ব্লান্ডেলের অন্তর্ভুক্তি। গতবারের রানার্সরা একবারও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ২০১৫–য় ফাইনালে হারতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। একদিনের দলগত র‌্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ড বর্তমানে আছে তিন নম্বরে। আগামী ৩০ এপ্রিল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যা‌ওয়া দেশগুলোর দল ঘোষণার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে আইসিসি।

কোচ গ্যারি স্টিড আশাবাদী কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে দল বিশ্বকাপে ভাল পারফরম্যান্স করবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য সেরা ১৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী খেলতে পারলে এই দল ভাল ফল করবে।’‌

গত মাসে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে টিম সিফার্ট আঙুলে চোট পান। তাতে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেলেন টম ব্লান্ডেল। নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে এখনও অভিষেক হয়নি। ১ জুন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কিউইরা।
১৫ জনের দল:‌ কেন উইলিয়ামসন (‌অধিনায়ক)‌, টম ব্লান্ডেল, ট্রেন্ট বোল্ট, কলিন ডি গ্রান্ডহোম, লকি ফার্গুসন, মার্টিন গাপটিল, ম্যাট হেনরি, টম ল্যাথাম, কলিন মুনরো, জিমি নিশাম, হেনরি নিকোলাস, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি, টিম সাউদি, রস টেলর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে রাজপথে

মাঠ বাঁচাতে ২০১৯ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে রাজপথে, ঐতিহাসিক মল-এ। বাকিংহ্যাম প্যালেস ও ট্রাফালগার স্কোয়ারের সংযোগস্থলে এই বিখ্যাত খোলা রাস্তায় হবে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে নাচ, গান, বিনোদনের দেদার আয়োজনের ভাবনা বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি শুরু আইসিসি-সাইটে। টিকিট কিনতে পা‌ওয়া যাবে এই লিঙ্ককে: www.cricketworldcup.com/opening-party

প্রায় ৪০০০ মানুষ দেখতে পাবেন এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালে লর্ডসে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মাঠটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তাই এবার এই উদ্যোগ আয়োজকদের।

বিরাটদের টানা চার পরাজয়

টানা চার ম্যাচেই পরাজয়। দৈন্যদশা কাটল না বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর। তাতে প্রথম তিন ম্যাচ হারের পর চলতি আইপিএলে প্রথম জয়ের দেখা পেল রাজস্থান রয়্যালস। আজ মঙ্গলবার রাতে পিঙ্ক সিটি রাজস্থানে আরসিবিকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে স্বাগতিকরা। অবশ্য রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে ১ বল বাকি থাকতে ১৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে থ্রিলার জয় তুলে নিল রাজস্থান রয়্যালস।

আইপিএল অভিযানে শুরু থেকে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স কিংবা রাজস্থান রয়্যালস। তাই জয়ের ছন্দ খুঁজে পেতে মরিয়া দু’দলই একাধিক পরিবর্তন করে মাঠে নামে। নিজেদের মাঠে টস জিতে কোহলিদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান রাহানে। অধিনায়ক হিসেবে মাইলস্টোন গড়ার দিনে ব্যাট হাতে সফল হতে পারলেন না আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। উদ্বোধনী জুটিতে পার্থিবকে নিয়ে দরের সঙ্গে ৪৯ রান যোগের পর ব্যক্তিগত ২৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বিরাট।

ডি ভিলিয়ার্স (১৩) কিংবা শিমরন হেটমেয়ারও (১) সফল হতে পারেননি। এরপর দলের হাল ধরেন পার্থিব-স্টোনিস জুটি। চতুর্থ উইকেটে তারা ৫৩ রানের পার্টনারশিপ দলের রানকে কিছুটা মজবুত জায়গায় নিয়ে যান। ফিফটি করে ৬৭ রানে ডাগ আউটে ফেরেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান পার্থিব। এরপর মইন আলিকে সঙ্গে নিয়ে আরসিবির রান ১৫০ পার করেন অজি অলরাউন্ডার স্টোনিস। ২৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৫৮ রানের পুঁজি পায় আরসিবি।

জবাবে শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে শুরু করেন রাজস্থানের ইংরেজ ওপেনার জস বাটলার। রাহানে-বাটলারের ওপেনিং জুটিতে ৬০ রান উঠতেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই ঝুঁকে যায় রাজস্থানের দিকে। অধিনায়ক রাহানে ২২ রানে ফিরলেও স্টিভ স্মিথকে নিয়ে দলের রান ১০০’র গন্ডি পার করেন বাটলার।

অর্ধশতরান পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে ডাগআউটে ফেরেন ইংরেজ ব্যাটসম্যান। এরপর রাহুল ত্রিপাঠির সঙ্গে জুটি বেঁধে তৃতীয় উইকেটে ৫০ রান যোগ করেন স্টিভ স্মিথ। একাধিক ক্যাচ মিস করে রাজস্থানকে সহজ জয়ের সুযোগ করে দেন কোহলির দলের ফিল্ডাররা। ১৯ ওভারের শেষ বলে ৩৪ বলে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে আউট হন স্মিথ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজস্থানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। বেন স্টোকসকে নিয়ে ১ বল বাকি থাকতেই দলকে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দেন ত্রিপাঠি। ২৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা শ্রেয়াস গোপাল।

বৃষ্টি বিলম্বিত ম্যাচে জয় গাজী গ্রুপ শাইনপুকুর আর মোহামেডানের

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে, জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

মিরপুরে প্রথমে ব্যাট করে, ৯ উইকেটে ২৩৫ রান তোলে গাজী গ্রুপ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন শামসুর রহমান। মাইশুকুর রহমান ও মেহেদী হাসান দুজনেই করেন ৪৪ রান করে। জবাবে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে, ৩৩ ওভারে ১৮৮ রানের টার্গেট পায় উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব। শেষ পর্যন্ত তারা ১৩৮ রানে অলআউট হয়।

এদিকে ফতুল্লায়, প্রিমিয়ার ব্যাঙ্ক ক্রিকেট ক্লাবকে ৪৮ রানে হারিয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। আর কার্টেল ওভারে খেলতে অস্বীকার করায়, ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে জয়ী ঘোষণা করা হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। এরআগে বিকেএসপিতে, মোহামেডান ৯ উইকেটে ৩১৬ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়।

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে আবাহনী, প্রাইম দোলেশ্বর ও রূপগঞ্জ। সাভারে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ১৩২ রানে হারিয়েছে আবাহনী।

খেলাঘরকে ২৬৩ রানের টার্গেট দিয়ে সানজামুলের স্পিন নৈপুণ্যে ১৩০ রানে গুটিয়ে দেয় আবাহনী। ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন সানজামুল। মিরপুরে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে ১ রানে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। আর ফতুল্লায় লিজেন্ড অব রুপগঞ্জের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি।

আইপিএলে মুম্বাইয়ের জয়

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ৬ রানে হারিয়ে আইপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পেলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ১৮৮ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে, নির্ধারিত ওভারে ১৮১ রানে থামে ৫ উইকেট হারানো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রান করে অপরাজিত থাকেন ডি ভিলিয়ার্স। আর আইপিএলে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া বিরাট কোহলি করেন ৪৬ রান। মুম্বাইয়ের বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ব্যাঙ্গালোরের ধ্বস নামান।

এর আগে, ব্যাঙ্গালোরের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে, প্রথমে ব্যাট করে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার ১৪ বলে ৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। যুবরাজ ২৩ আর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ব্যাঙ্গালোরের বোলারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল ৩৮ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন।

টানা দুই জয়ে শীর্ষে কলকাতা

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ২৮ রানে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় কলকাতা নাইটরাইডার্স। টানা দু’ ম্যাচ জিতে দ্বাদশ আইপিএল দারুণ শুরু করল কিং শাহরুখ খানের দল। সেই সঙ্গে লিগ টেবিলের এক নম্বরে উঠে গেল কেকেআর। নাইটদের পরের ম্যাচ শনিবার ফিরোজ শাহ কোটলায়, দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে।

ইডেন গার্ডেন্সে নাইটদের বিরুদ্ধে রেকর্ড রান তাড়া করতে নামেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও ক্রিস গেইল। ২১৯ রান তাড়া করে ২০ ওভার শেষে কিংস ইলেভেন চার উইকেটে ১৯০ রান তোলে। ডেভিড মিলার ৪০ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৯ এবং মনদীপ সিং ১৫ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মৈনাক আগার‌ওয়ালের ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান। কেকেআরের বোলারদের মধ্যে ম্যাচ সেরা আন্দ্র রাসেল ২১ রানে ২ উইকেট তুলে নেন।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে, ২০ ওভারে কেকেআর চার উইকেটে তোলে ২১৮ রান। কিংস ইলেভেনের সামনে বড় রানের টার্গেট রাখল নাইটরা। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও রাসেল ধামাকা। ইডেনে আইপিএলের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। নারিন-রানা-রবিন-রাসেলের ব্যাটে ইডেনে রেকর্ড স্কোর নাইটদের।

ইনিংসের শেষ বলে বাউন্ডারি নাইট অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের। নো-বলে রাসেলের জীবন দানের পর মাত্র ১৯ বলে ৫৬ রান তোলে কেকেআর৷ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন রবিন উথাপ্পা। নিতিশ রানা ৩৪ বলে ৬৩ রান করেন। আর আন্দ্রে রাসেল ১৭ বলে ৪৮ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন।

রাসেল আউট..১৭ বলে ৪৮ রান করে ডাগ-আউটে ফিরলেন রাসেল৷ পাঁচটি ছক্কা ও তিনটি বাউন্ডারি মারেন ক্যারিবিয়ান বিগ-হিটার৷

এখন রাজ্জাকের সময়

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেট শিকার করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ৩৭ ছুঁইছুঁই আব্দুর রাজ্জাক এবার উঠলেন আরেকটি চূড়ায়। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দেখা পেলেন ৪০০তম শিকারের।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যখন ৬০০ উইকেটের (বর্তমানে ৫৮১) মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় রাজ্জাক, তখন ৫০ ওভারের ক্রিকেটে লিখে ফেললেন নতুন রূপকথা। আজ বুধবার মিরপুরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমে ইতিহাসে নাম লেখান প্রাইম ব্যাংকের এই বাঁহাতি স্পিনার।

ঢাকা লিগে নামার আগে ৪০০ থেকে ৮ উইকেট দূরে ছিলেন রাজ্জাক। প্রাইম ব্যাংকের জার্সিতে প্রথম পাঁচ ম্যাচে নেন ৭ উইকেট। আর আজ বুধবার তার সামনে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। উত্তরার ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমনকে বোল্ড করতেই তার নাম উঠে যায় এলিট ক্লাবে। রাজ্জাক পরে নেন আরও ৩ উইকেট। ৮ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ শিকার করে দলকে দেখান জয়ের দিশা।

বল হাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজা রাজ্জাকের নামের পাশে লিস্ট ‘এ-তে এখন ৪০৩ উইকেট। খেলেছেন ২৬৯ ম্যাচ। সাদা পোশাকে এ স্পিনারের উইকেট ৫৮১টি। আর টি-টুয়েন্টিতে ৯৯। তিন সংস্করণ মিলে আগেই হাজার ছাড়িয়েছেন নিজের দখলে নেয়া উইকেটের সংখ্যা।

বৃষ্টির কারণে ৩৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩০ রান তোলে প্রাইম ব্যাংক। আল-আমিন ৬০, সালমান হোসেন ৩৭ ও আগের তিন ম্যাচে টানা সেঞ্চুরি হাঁকানো এনামুল হক বিজয় করেন ৩৬ রান। নাজমুল হোসেন মিলন ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। আনিসুল ইসলাম ইমন তিনটি ও আসাদুজ্জামান পায়েল নেন দুটি করে উইকেট।

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য টপকাতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের বেশি তুলতে পারেনি উত্তরা। তানজিদ হাসান করেন সর্বোচ্চ ৩৭ রান। রাজ্জাকের চার উইকেট শিকারের দিনে অফস্পিনার নাঈম হাসান নিয়েছেন দুটি উইকেট। ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথডে পাওয়া ৫৭ রানের জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বর স্থান ধরে রেখেছে প্রাইম ব্যাংক।

হেরে গেল রাজস্থান

হেরে গেল রাজস্থান। শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে দরকার ছিল ২১ রান। মাত্র ৬ রানের বেশি তুলতেই পারল না স্টিভ স্মিথের দল রাজস্থান রয়্যালস। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা তুলল ১৭০ রান। তাতে আইপিএলের প্রথম ম্যাচটি হার দিয়ে শুরু করল তারা।

href=”http://bangladesherkhela.com/wp-content/uploads/2019/03/KP-03.jpg”>

শেষ ওভারের প্রথম বলেই আউট হন জয়দেব উনাদকাট। নিজের বলেই ক্যাচ ধরলেন অঙ্কিত রাজপুত। পরের বলেই আউট কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। এবার তালুবন্দি করেন মোহাম্মদ শামি।

এর আগে পাঞ্জাবের ১৮৪ রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল রাজস্থান রয়্যালস। বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করেন জস বাটলার। তাঁর ৬৯ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংসটি সাজানো ছিল দুটি ছক্কা এবং দশটি চার দিয়ে। মাত্র ৪৩ বলে এই রান করেন তিনি। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও খেলছেন অতি ভরসাযোগ্য এক ইনিংস। বাটলারকে যোগ্য সহায়তা করছিলেন তিনি। তারপরই যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

রাহানেকে বোল্ড করেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তারপরই মুহূর্তের অসতর্কতায় ফিরে যান জস বাটলারও। বল করছিলেন অশ্বিন। তিনি নন-স্ট্রাইকার এন্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্রিজ থেকে দু’পা এগিয়ে গিয়েছিলেন বাটলার। অশ্বিন বল করা থামিয়ে দিয়ে বেলস ফেলে দেন। দৃশ্যতই প্রবল অসন্তুষ্ট বাটলার মাথা নাড়তে নাড়তে ফিরে যান ড্রেসিংরুমে। অশ্বিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এর আগে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ২০ ওভারের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে তুলল ১৮৪ রান। মাঠে ঝড় তুললেন ক্রিস গেইল! ৪৭ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। সোমবার রাতে মানসিংহ স্টেডিয়ামে নিজেদের আইপিএল সফর শুরু করল প্রথমবারের চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালস।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে আবাহনীর জয়

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের আজ সোমবারের ম্যাচে জয় পেয়েছে আবাহনী, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড।

আগে ব্যাট করে ইরফান শুক্কুর ও রকিবুল হাসানের জোড়া ফিফটিতে ৭ উইকেটে ২৪৮ রান তোলে মোহামেডান। সাইফুদ্দিন ও রুবেল ৩টি করে উইকেট নেন। জবাবে জহুরুলের ৯৬ আর সৌম্যর ৪৩ রানে ভর করে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় আবাহনী।

ফতুল্লায় গাজী গ্রুপকে ৪৩ রানে হারায় শেখ জামাল। আগে ব্যাট করে শেখ জামালের ৬ উইকেটে ২৭৭ রানের জবাবে ২৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় গাজীর ইনিংস। আর বিকেএসপিতে, খেলাঘর সবুজ সংঘকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জার্সি

আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের জার্সি বিক্রির স্বত্ব ঘোষণা নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার পরিচয় দিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী আগামী এক বছরের জন্য স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টসের সাথে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির স্বত্ত্ব ঘোষণা দিলেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জার্সি তৈরি করার হবে বললেও, সেই তৃতীয় পক্ষ কারা, কয়টি ফ্রাঞ্চাইজির মাধ্যমে, কোন কোন আউটলেটে, কিংবা কত টাকায় জার্সি বিক্রি করা হবে, সে সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি নিজামউদ্দিন চৌধুরী কিংবা স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টস-এর প্রতিনিধিরা। এমনকি জার্সি বিক্রি শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানাতে গিয়েও দুজন দু’রকম তথ্য দেন।

তাতে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি বিক্রির স্বত্ব কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির বিষয়টি হয়ে থাকলো বিতর্কিত।

জার্মানির জয় ক্রোয়েশিয়ার পরাজয়

নিকো সালসের শেষ মুহূর্তের গোলে ইউরো বাছাইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে জার্মানি। এছাড়া সাইপ্রাসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে বেলজিয়াম। তবে হাঙ্গেরির কাছে ২-১ গোলে হেরে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে বিশ্বকাপের বর্তমান রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া।

ক্ষণিকের ভুলে কেউ কাঁদে, কেউ হাসে। আমস্টারডামে রক্ষণের সেই ভুলের মাশুল দিলো নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে ৯০ মিনিটে গোল করে নায়ক বনে গেলেন নিকো সালসে। তবে জার্মানদের এই জয়টা না হলে অবিচার হয়ে যেতো। পুরো ম্যাচ জুড়েই দাপট দেখিয়েছেন জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা। প্রথম ৩৪ মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান ২-০। গোলদাতা লেরয় সানে, সার্জি নারবি।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুড়ে দাঁড়ানোর গল্প ডাচদের। ডি লিট আর মেমফিস ডিপে টানা দু ম্যাচে হারের স্বাদ দিতে চলেছিলেন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের বয়স তখন ৬৩ মিনিট। তবে শেষ রক্ষা নিকো সালসের জাদুতে।

ডাচদের ঘুঁড়ে দাড়ানোর গল্পটা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও, গ্রুপ ই’র ম্যাচে তা করে দেখালো হাঙ্গেরি। যদিও বিশ্বকাপের বর্তমান রানার্সআপ ক্রেয়েশিয়া ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় আন্তে রেবিচের গোলে।

তবে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বর দলের বিপক্ষে ৫২তম লড়াইয়ে শেষ হাসি ফেরেঙ্ক পুসকাসের উত্তরসুরীদের। অ্যাডাম সাজলেই আর ম্যাট পেতকাই জয় এনে দেন ৩৪ আর ৭৬ মিনিটের গোলে।

অন্যদিকে, গতবিশ্বকাপের রানার্সআপরা যে কাজটি পারেনি। তাই করে দেখালেন সেমিফাইনালিস্টরা। সাইপ্রাসের বিপক্ষে ম্যাচের ১৮ মিনিটের মধ্যেই ২-০ তে এগিয়ে যায় দ্যা রেড ডেভিলসরা। গোল করে বেলজিয়ামের জার্সিতে শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন এডেন হ্যাজার্ড। গোল পেয়েছেন বাতসুয়াইও।

রাসেল ঝড়ে হার সাকিবের হায়দ্রাবাদের

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এবারের আইপিএলে জয় দিয়ে শুরু করল দীনেশ কার্তিকের দল কোলকাতা নাইটরাইডার্স। অবশ্য নাইটদের ব্যাটিংয়ে ১৫.২ ওভার নাগাদ ফ্লাডলাইটের কিছু আলো বন্ধ হয়ে যায়। আলো ফিরতেই ইডেনে শুরু হয় রাসেল ঝড়। আর সেই ঝড়েই কুপোকাত হায়দরাবাদ। ক্যারিবিয়ান বিগ হিটারের দাপটে আইপিএলের দ্বাদশ আসর জয় দিয়েই শুরু করল কোলকাতা।

অবশ্য খেলার শুরুতে ইডেন গার্ডেন্সে ‌ওঠে কমলা রঙের ঝড়। ডেভিড ওয়ার্নারের ৮৫, জনি বেয়ারস্টোর ৩৯ এবং বিজয় শঙ্করের অপরাজিত ৪০ রানে প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ তোলে ৩ উইকেটে ১৮১ রান। নয় চার আর তিন ছক্কায় ৫৩ বলে ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার আগে অবশ্য ৩৫ বলে ৩৯ রান করে আউট হন জনি বেয়ারস্টো। প্রথম উইকেটে ১১৮ রানের পার্টনারশিপ হায়দরাবাদের। এরপর বিজয় শঙ্কর ২৪ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন। সুনীল নারিন, কুলদীপ যাদবরা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ৩২ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন আন্দ্রে রাসেল।

জবাবে, ১৮২ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাকিব আল হাসান তুলে নেন ক্রিস লিনের উইকেট। বিপদে পড়ে কোলকাতা। এরপর নীতিশ রানা ও রবিন উথাপ্পা জুটি টেনে তোলেন নাইটদের। কিন্তু পর পর উইকেট হারিয়ে আবার‌ও চাপে পরে কোলকাতা। রানা ৬৮ আর উথাপ্পা ৩৫ রান করেন। মাত্র ২ রান করেন দীনেশ কার্তিক। এরপরেই ইডেনে নামে রাসেল ঝড়। তাতে লন্ডভন্ড সাকিবের হায়দরাবাদের সকল প্রতিরোধ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন তিনি। আর ১০ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন শুভমান গিল। তাতে দুই বল বাকি ম্যাচ জিতে নেয় শাহরুখ খানের দল।

আইপিএলের পুরস্কার যতো

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের যতো অর্থের ছড়াছড়ি থাকে পৃথিবীর আর কোনো টুর্নামেন্টে ততটা থাকে না। এখানে চলে কোটি কোটি টাকার খেলা। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএলের দ্বাদশ সংস্করণে‌ও প্রতিবারের মতো আছে টাকার ছড়াছড়ি। জেনে নেওয়া যাক এবারের আইপিএলের প্রাইজমানি:

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১৫ কোটি টাকা। রানার্সদল পাবে ১০ কোটি টাকা। প্লে-অফের অন্য দুই দল পাবে পাঁচ কোটি টাকা করে। লিগ পর্যায়ে ম্যাচের সেরা হওয়া ক্রিকেটার পাবেন ১ লাখ টাকা। প্লে অফ রাউন্ডে ম্যাচের সেরা হওয়া ক্রিকেটার পাবেন ৫ লাখ টাকা। প্রতি ম্যাচে সেরা ক্যাচ ধরা ফিল্ডার পাবেন ১ লাখ টাকা। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কা হাকানো ব্যাটসম্যান পাবেন ১ লাখ রুপি। দুজন ব্যাটসম্যান সমান সংখ্যক ছক্কা মারলে সবচেয়ে লম্বা ছক্কা মারা ব্যাটসম্যান পাবেন সেরার পুরষ্কার।

অরেঞ্জ ক্যাপ: সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকারীর মাথায় থাকবে অরেঞ্জ ক্যাপ।

পার্পল ক্যাপ: সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর মাথায় উঠবে পার্পল ক্যাপ।

সাতটি কিংবা তার থেকে বেশি ম্যাচ আয়োজন করা মাঠ পাবে ৫০ লাখ টাকা। সাতটির কম ম্যাচ আয়োজন করা মাঠ পাবে ২৫ লাখ টাকা।

টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ ধরা ক্রিকেটার পাবেন ১০ লাখ টাকা।

গোটা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যান পাবেন ১০ লাখ রুপি। এক্ষেত্রেও টাই হলে ছক্কার দূরত্ব বিচার করা হবে।

দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান পাবেন ১০ লাখ টাকা। টাই হলে বিচার্য হবে স্ট্রাইক রেট।

সেরা স্টাইলিশ প্লেয়ার পাবেন ১০ লাখ টাকা।

টুর্নামেন্টের সব থেকে অভিনব ও দর্শনীয় শট খেলা ব্যাটসম্যান পাবেন ১০ লাখ টাকা।

উদীয়মান ক্রিকেটার পাবেন ১০ লাখ টাকা।

মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার হওয়া ক্রিকেটার পাবেন ১০ লাখ টাকা। (সবগুলো অর্থ মূল্যই ভারতীয় রুপিতে)

আইপিএলে জয়ে শুরু চেন্নাইয়ের

কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেন না বিরাট কোহলিরা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে আইপিএলে চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে যাত্রা শুরু করল চেন্নাই সুপার কিংস। এদিন আরসিবি-কে মাত্র ৭০ রানে অল আউট করে সিএসকে।

চেন্নাইয়ের স্পিনারদের সামনে কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেননি কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সরা। চেন্নাইয়ের হয়ে ৯ রানে ৩ উইকেট নেন ইমরান তাহির। ২০ রানের খরচায় হরভজন‌ও তুলে নেন ৩ উইকেট।

আগে ব্যাট করে, বিরাট কোহলি (৬) ও এবি ডিভিলিয়ার্স (৯) প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল চেন্নাই। কোহলি ফিরে যাওয়ার পরে তিন নম্বরে নামা মঈন আলি ৯ রানে এবংডি ভিলিয়ার্সও ৯ রানে ফেরেন। সকলের চোখ ছিল শিমরান হেটমায়ারের দিকে। তবে শূন্য রানে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি। তারপরে নামা শিবম দুবে (২), কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমরাও (৪) রান করতে ব্যর্থ হন। আরসিবি-র হয়ে একমাত্র পার্থিব প্যাটেল ২৯ রান করেন। আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

জবাবে চেন্নাই ১০ বল বাকী থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ৭১ রান তুলে জয় পায়। অাম্বাতি রাইডু ২৮, সুরেশ রায়না ১৯ করলেও শেন ওয়াটসন শূন্য রানে ফেরেন। কেদার যাদব ১৩ ও রবীন্দ্র জাদেজা ৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরেন।

টাই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

কেপটাউনে টাই হওয়া প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলংকাকে সুপার ওভারে হারিয়ে, তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২২ মার্চ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দু’দল মুখোমুখি হবে সেঞ্চুরিয়নে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রিত শ্রীলংকা, শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। কুশল মেন্ডিসের ২৯ বলে ৪১ রানের ইনিংসে ভর করে কোনো রকমে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান তোলে সফরকারীরা। প্রোটিয়াদের হয়ে ফেলুকওয়াও ৩ উইকেট নেন।

জবাবে, ম্যাচ সেরা মিলনারের ২৩ বলে ৪১ আর ভ্যান্ডার ডুসেনের ৩০ বলে ৩৪ রানের পরও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ঠিক ১৩৪-এই থামে প্রোটিয়াদের ইনিংস। তাতে সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে ডেভিড মিলনার স্বাগতিকদের হয়ে এক ওভারে ১২ রান তুললেও ইমরান তাহিরের বোলিং দৃঢ়তায় ৫ রানের বেশি তুলতেই পারেনি লংকানরা।

মনোবিদ নিয়োগ করবে বিসিবি

ক্রাইস্টচার্চ হামলার ধকল কাটানো ছাড়াও আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে মনোবিদ নিয়োগ দেবে বিসিবি। দুপুরে মিরপুরে ক্রাইস্টচার্চ হামলা থেকে ক্রিকেটাররা রক্ষা পাওয়ার কারণে শোকরানা দোয়া মাহফিলের পর একথা জানান, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে নিরাপত্তা পর্যক্ষেক পাঠানোর পরিকল্পনা না থাকলেও চুক্তির সুযোগ-সুবিধা যাচাই করার উদ্যোগ নেবে বিসিবি।

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। খেলোয়াড়রা নিরাপদে দেশে ফিরে আসার পর তাই বিসিবি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে ছুটি দেয়া হলেও ঢাকায় থাকা ক্রিকেটাররাও অংশ নেন, এই দোয়া অনুষ্ঠানে। পরে ক্রিকেটারদের মানসিক ট্রমা কাটানোর জন্য মনোবিদ নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, আমরা ওদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তবে এ জন্যই (ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা) যে মনোবিদ আসবে, তা নয়। আমরা ঠিক করেছি যে, সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ আছে সামনে, তার আগে একজন মনোবিদ এসে যদি ওদের সাথে সময় কাটায় তা দলের জন্যই ভালো। তখন যদি কারো মনে হয় কারো বিশেষ কোনো সাহায্য দরকার, তাহলে অবশ্যই তা নেয়া হবে।

এখন থেকে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি বিদেশ সফরের আগে পূর্ণ নিরাপত্তার দাবি জানানো হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন সভাপতি। তবে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সফরে আলাদা করে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। পাপন জানান, আগে তো বিষদ আলোচনা করতাম না। নিউজিল্যান্ডে তিনদিন ছিলাম, সেখানে কোনো পুলিশই দেখিনি। ওই দেশটাই হয়তো এমন। পুলিশ থাকলেও তারা মসজিদে পাহারা দেয়ার কথা চিন্তাই করেনি; কিন্তু নতুন ঘটনা চোখ খুলে দিয়েছে। এখন ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমাদের যদি মনে হয় বিদেশ থেকে যা দিচ্ছে, তা যদি যথেষ্ট মনে না হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো (নিজস্ব সিকিউরিটি পাঠাবো)। তবে এটা তারা যা দিচ্ছে, তার উপর নির্ভর করবে।

গেলো কয়েকদিন ধরে সাকিব আল হাসানের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে আগ্রহ প্রকাশের কারণে যে আলোচনা শুরু হয়েছিলো, তা পুরোপুরি নাকচ করে দেন বিসিবি সভাপতি। জানান, ড্রাফটে নাম না থাকা খেলোয়াড়রা খেলতে পারবেন না।

আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়

আয়ারল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম জয় পেল আফগানিস্তান। ভারতের দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানরা তাদের দ্বিতীয় টেস্টেই জয় তুলে নিল। ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণে পা রাখার ২৭৭ দিন পর প্রথম জয় পেল আফগানিস্তান।

এর আগে, আফগানিস্তানের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে প্রথম টেস্ট জয় পেয়েছে শুধু অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ইতিহাসের প্রথম টেস্টই। আফগানিস্তানের মতো নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ ষষ্ঠ টেস্টে, জিম্বাবুয়ে একাদশ, দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বাদশ, শ্রীলঙ্কা ১৪ তম, ভারত ২৫, বাংলাদেশ ২৫ এবং নিউজিল্যান্ড প্রথম জয় পেয়েছিল ৩৫ তম টেস্টে।

১৪৭ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ সোমবার চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১১৮ রান। আর আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ৯ উইকেট। আইরিশদের কোন সুযোগই দেননি রহমত শাহ ও ইহসানউল্লাহ। এই দুজনের ফিফটিতে আফগানরা জয় নিশ্চিত করেছে লাঞ্চের আগেই। জয়ের কাছে গিয়ে রহমত ৭৬ রানে আউট হলেও ইহসানউল্লাহ শেষ পর্যন্ত ৬৫ রানে অপরা