দুপুর ২:০৩, রবিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং

কামরুল ইসলাম রাব্বির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ। ক্যাচ মিসের মহড়ায় শনিবার নিজেদের প্রথম ইনিংসের শুরুটা দারুণ করেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছে টাইগাররা।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে আবারও বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৮ রান। ২৯ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন প্রথম টেস্টের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ টম লাথাম। আর নতুন ব্যাটসম্যান রস টেইলর ব্যাটিং করছেন ০ রানে।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে কিউইদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৭০

কামরুল ইসলাম রাব্বির জোড়া আঘাতে দারুণ শুরুর পর চাপে পরেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ কাটিয়ে উঠতে লড়ে যাচ্ছে তারা। টম লাথাম ও রস টেইলরের দৃঢ়তায় মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে ২ উইকেটে ৭০ রান করেছে স্বাগতিকরা।

ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে যাচ্ছেন টম লাথাম। ৭৪ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৩৮ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। তার সঙ্গী রস টেইলর অপরাজিত আছেন ১০ রানে।

এর আগে শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

লাথামকে ফেরালেন তাসকিন

কামরুল ইসলাম রাব্বির করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে নিউজিল্যান্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ সামলে টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছিলেন টম লাথাম ও রস টেইলর। তবে লাথামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের খাটো লেন্থের বল আড়াআড়ি খেলতে চেয়েছিলেন লাথাম। বলে ব্যাটে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে। তবে আউট হওয়ার আগে কার্যকরী ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১১ বলে ১১টি চারের সাহায্যে এ রান করেছেন তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৫৪ রান। ৮১ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন রস টেইলর। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন হেনরি নিকোলস।

এর আগে শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

টেলরকে ফেরালেন মিরাজ

লাথামের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন কিউই ব্যাটসম্যান রস টেলর। মিরাজের বলে ব্যক্তিগত ৭৭ রান করে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন কিউই এই ব্যাটসম্যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৭৭ রান। হেনরি নিকোলস ৯ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন মিশেল সান্টানার।

এর আগে কামরুল ইসলাম রাব্বির করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে নিউজিল্যান্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ সামলে টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছিলেন টম লাথাম ও রস টেলর। তবে লাথামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের খাটো লেন্থের বল আড়াআড়ি খেলতে চেয়েছিলেন লাথাম। বলে ব্যাটে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে। তবে আউট হওয়ার আগে কার্যকরী ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১১ বলে ১১টি চারের সাহায্যে এ রান করেছেন তিনি।

শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

আগের দিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল দুপুরের পর বৃষ্টি হবে। আকাশে মেঘ আর কনকনে ঠাণ্ডায় শরীর জমে গেলেও বৃষ্টি আসেনি। আজও আবহাওয়ার রিপোর্টে দুপুরের পর বৃষ্টি হতে পারে বলা আছে। এবার সত্যি সত্যি বৃষ্টি চলে আসল। স্থানীয় সময় বিকেল ৫ টা ৪০ মিনিটে ঝির ঝিরে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে গেল। আম্পায়াররা বেলস তুলে ফিরে গেলেন নিজের কক্ষে। আর টাইগার ফিল্ডার এবং দুই কিউই ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস ও সাউদি সাজঘরে।

আর মুহূর্তের মধ্যে মাঠ কর্মীরা পিচের আশপাশ কভারে ঢেকেও ফেললেন। তারপরও আকাশের যা অবস্থা তাতে আজ আর খেলা হবে কিনা সন্দেহ ছিল। কারণ আলো কমে গেছে। সে সংশয় সত্য। এই মাত্র ঘোষণা আসল আজকের দিনের খেলা শেষ। আগামীকাল রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট আগে সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে।

এদিকে বোলিংয়ে ফিরেই নিজের ঝলক দেখালেন সাকিব। নয় বলের মধ্যে সাজঘরে ফেরালেন কিউইদের তিন ব্যাটসম্যানকে। তবে এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। আর এতেই দিন শেষে ২৯ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করলো বাংলাদেশ। এর আগে লাথাম ও টেলরের বিদায়ের পর টাইগারদের সামনে সুযোগ ছিল খেলায় ফেরার। তবে সান্টনারকে সঙ্গে নিয়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন নিকোলস। অবশেষে এই দুই জনের ৭৫ রানের সেই জুটি ভাঙেন সাকিব। এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সান্টনারকে (২৯) সাজঘরে ফেরান টাইগার এই অলরাউন্ডার। এরপর দ্রুত ওয়াটলিং (১) ও গ্র্যান্ডহোমকে (০) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান সাকিব। ফলে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬০ রান।

এদিকে কামরুল ইসলাম রাব্বির করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে নিউজিল্যান্ডকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সে চাপ সামলে টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছিলেন টম লাথাম ও রস টেলর। তবে লাথামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের খাটো লেন্থের বল আড়াআড়ি খেলতে চেয়েছিলেন লাথাম। বলে ব্যাটে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে। তবে আউট হওয়ার আগে কার্যকরী ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১১ বলে ১১টি চারের সাহায্যে এ রান করেছেন তিনি। লাথামের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি কিউই ব্যাটসম্যান রস টেলর। মিরাজের বলে ব্যক্তিগত ৭৭ রান করে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান কিউই এই ব্যাটসম্যান।

শনিবার সকালে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন রাব্বি। একই ওভারে ফিরিয়ে দেন ওপেনার তিন রাভাল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে বল হাতে নেন রাব্বির। দ্বিতীয় বলেই রাভালকে ফেরান তিনি। রাব্বির করা খাটো লেন্থের বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান রাভাল।

এরপর এক বল পড়ে কিউই শিবিরে বড় আঘাত হানেন রাব্বি। দলের সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দি করেন তিনি।

তবে এদিন শুরুতেই কিউইদের চাপে ফেলতে পারতো বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই রাভালের ক্যাচ মিস করেন মাহমুদউল্লাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এরপর ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে একই জায়গায় আবার জীবন পান রাভাল। তবে এবার ছেড়েছেন দেশসেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। আর টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার ফলে ভালো সূচনা পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

সকালটা ছিল ঝলমলে রোদ। দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলা। বিকেলে টুপটাপ বৃষ্টি। শরীর জমিয়ে দেওয়া হিম বাতাস; ‘টিপিক্যাল’ নিউ জিল্যান্ড আবহাওয়া। কিন্তু হ্যাগলি ওভালে তখন শুধুই বাংলাদেশ! ২২ গজে চলছে সাকিব-রাজত্ব। কে বলবে, কন্ডিশন বিরুদ্ধ আর উইকেট সিমিং ও বাউন্সি! যেন বাংলাদেশেরই আপন আঙিনা।

তিন পেসার আগুন ঝরালেন দিনভরই। বিবর্ণ প্রথম স্পেলের পর মেহেদী হাসানও মিরাজও উজ্জল। বোলাদের এমন দিনেই কিনা প্রায় উধাও হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ বিকেলে হয়তো ভাবলেন, এবার কিছু না করলেই নয়!

ক্রাইস্টচার্চের আকাশের কান্না যখন শুরু; সাকিবের হাত ধরেও এল ছোটখাটো উইকেট বৃষ্টি। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে এলোমেলো করে দিলেন কিউই ব্যাটিং। বিকেল পর্যন্ত সমতায় থাকা দিনটি হয়ে গেল শুধুই বাংলাদেশের।

বৃষ্টির বেগ বাড়ায় থামল বাংলাদেশের ছন্দ। নিউ জিল্যান্ড তখন ৭ উইকেটে ২৬০। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে পিছিয়ে ২৯ রান। ১৯ ওভার আগে শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

দিনটি বাংলাদেশের, সাক্ষী স্কোরকার্ড। তবে স্কোর তো আর সবসময়ই বলতে পারে না পুরোটা! এদিনও যেমন স্কোরকার্ডে লেখা নেই, ভালো দিনটি হতে পারতো অসাধারণ, যদি না পড়তো একের পর এক ক্যাচ। যদি না ভুল করতেন আম্পায়ারও। কে জানে, হয়ত বেশ একটা লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশ শুরু করতে পারত দ্বিতীয় ইনিংস।

সাকিব ঝলকের আগে দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। এখানেও বোলিং ফিগার বলছে না পুরোটা। বলছে না বাংলাদেশের তিন পেসারই কতটা ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের।

অসাধারণ প্রথম স্পেলে দিনের সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে পেতে পারতেন গোটা দুই-তিন উইকেট।

আরেকপাশে আবার শুরু মিরাজের স্পিনে এবং যথারীতি ক্যাচ মিস। জিত রাভাল ২ রানে বেঁচে যান স্লিপে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১২ রানে বেঁচে যান আরও দুবার। একবার হতে পারতেন রান আউট। পরে স্লিপে সহজ ক্যাচ হাতছাড়া সাব্বিরের।

তাসকিনের দারুণ বোলিং দেখেও আরেকপাশে মিরাজকে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলা যায়। কামরুল ইসলাম রাব্বি এসেই সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন বটে, আবার প্রশ্নটিও উচ্চকিত করেছেন।

তিন বার বেঁচে গিয়েও রাভাল ফিরেছেন ১৬ রানে। কামরুল আগের ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই নিয়েছিলেন উইকেট। এবার দ্বিতীয় বলে। এক বল বেশি লাগল বলেই কিনা, পুষিয়ে দিলেন জোড়া শিকারে। দ্বিতীয়টি আবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিকার। অফ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়া নিখুঁত আউট সুইঙ্গারে বিদায় কেন উইলিয়ামসন।

১ রানে রস টেইলরকেও ফেরাতে পারতেন কামরুল। ক্যাচ ছেড়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ। রুবেল উইকেট না পেলেও বল করছিলেন দারুণ। ততক্ষণে থিতু হওয়া টম ল্যাথামকে নাড়িয়ে দেন বাউন্সারে বল হেলমেটের গ্রিলে লাগিয়ে।

ল্যাথাম ও টেইলর মিলে তবু কাটিয়ে দেন প্রথম সেশনের বাকিটা। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে একটু যেন কমলো বোলিংয়ের ধার। তাতে আলগা কিউইদের ফাঁস। তৃতীয় উইকেটে ল্যাথাম ও টেইলরের ১০৬ রানে জুটি।

উইকেট নেওয়ার মত অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি করেও না পাওয়া তাসকিন শেষ পর্যন্ত পেলেন আপাত নিরীহ এক বলে। অফ স্টাস্পের বাইরে কাট করতে গিয়ে একটু বাড়তি লাফানো বলে ৬৮ রানে আউট ল্যাথাম।

শুরুতে জীবন পাওয়া টেইলর আবার ৭৫ রানে বেঁচে যান মিরাজের বলে কামরুলকে ক্যাচ দিয়ে। তৃতীয় কিউই ব্যাটসম্যান হিসেবে পূর্ণ করেন ৬ হজার টেস্ট রান। তবে মার্টিন ক্রোর ১৭ সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি এদিনও। সেই মিরাজই ফিরিয়েছেন তাকে ৭৭ রানে।

থিতু দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কাও কিউইরা সামলে উঠেছিল হেনরি নিকোলস ও মিচেল স্যান্টনারের জুটিতে। বেশ কবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে দুজন গড়েন ৭৫ রানের জুটি। মনে হচ্ছিলো ভালোভাবেই লিড নিয়ে নেবে নিউ জিল্যান্ড। তখনই দৃশ্যপটে সাকিব। আর তিনি নায়কের ভূমিকায় মানে রাজত্বও বাংলাদেশের!

প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দিন শেষে ৩২ রানে ৩ উইকেট! চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা বুঝি এমনই। গোটা দিনটা নিজের করে নিতে লাগে মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭১ ওভারে ২৬০/৭ (রাভাল ১৬, লাথাম ৬৮, উইলিয়ামসন ২, টেইলর ৭৭, নিকোলস ৫৬*, স্যান্টনার ২৯, ওয়াটলিং ১, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, সাউদি ৪*; তাসকিন ১/৬৪, মিরাজ ১/৫১, রুবেল ০/৫৪, কামরুল ২/৪৮, সাকিব ৩/৩২, সৌম্য ০/১০)

সাকিবের ব্যাটিং দেখতে পছন্দ করেন রিচার্ড হ্যাডলি

শুধু নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বললে ভুল বলা হবে। বিশ্ব ক্রিকেটেরই এক অমুল্য রতন তিনি। জীবন্ত কিংবদন্তী। স্যার রিচার্ড হ্যাডলি। এক সময়ে বিশ্ব কাঁপানো এই অলরাউন্ডারের মুখে বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের উচ্চসিত প্রশংসা।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের প্যাভিলিয়নে বসে যখন একঝাঁক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সামনে বাংলাদেশেরেই এক ক্রিকেটারের উচ্চসিত প্রশংসা করছিলেন হ্যাডলি, তখন বাংলাদেশি হিসেবেই গর্বে বুক ফুলে উঠছিল আমাদের।

দীর্ঘ সময় র‌্যাংকিংয়ে অলরাউন্ডারের শীর্ষ আসনটা নিজের করে রেখেছিলেন সাকিব। শুধু তাই নয়, সাকিবই বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই এক সঙ্গে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আসনটি দখল করে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব, যিনি বিশ্বের সবগুলো ফ্রাঞ্চাইজি লিগেরই পছন্দের তালিকায় থাকেন এবং প্রায় সবগুলো লিগেই খেলেছেন তিনি।

এক সময়ের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্যার রিচার্ড হ্যাডলি অবশ্যই খোঁজ-খবর রাখেন সাকিব আল হাসানের। খবর রাখলেও সাকিব সম্পর্কে নিজের মনের ভাব হয়তো সেভাবে প্রকাশ করার সুযোগ হয়নি তার কখনও। এবার সুযোগ পেলেন। হ্যাগলি ওভালে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর পরই প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন তিনি। বললেন অনেক কথা।

সব কিছুর মধ্যে আলাদাভাবে উঠে আসলো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের কথা। সাকিব আল হাসান সম্পর্কে বলতে গিয়ে হ্যাডলির মুখে শুধু প্রশংসাই ভেসে উঠেছে। এক কথায় তিনি জানিয়ে দিলেন, ‘সাকিব ইজ অ্যা হিরো। তার ব্যাটিং দেখতে আমি খুব পছন্দ করি।’

ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কতটা কার্যকর সাকিব আল হাসান সে কথা স্পষ্টই উঠে এলো হ্যাডলির মুখ থেকে, ‘সাকিব ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত এখন। আমারও মনে হয় সে অত্যন্ত ভালোমানের খেলোয়াড়। শুধু ভালোমানেরই নয়, সে সত্যিই খুব কার্যকর একজন ক্রিকেটার।’

সাকিবের ব্যাটিং নাকি স্যার রিচার্ড হ্যাডলিকে খুব টানে। তার ব্যাটিং দেখতে তিনি খুব পছন্দ করেন। হ্যাডলি বলেন, ‘সাকিব হলেন সত্যিকার নায়ক। তার ব্যাটিং দেখতে আমি খুব পছন্দ করি। তার হাতের বাহারি মার, দৃষ্টি নন্দন স্ট্রোক প্লে এবং হাত খুলে খেলা আমাকে খুব টানে।’

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের প্যাভিলিয়নে বসে তিনি খুব মনযোগ দিয়ে দেখেছেন সাকিবের ব্যাটিং। সেটা উল্লেখ করতেও ভুললেন না হ্যাডলি। তিনি বলেন, ‘ওয়েলিংটনে সাকিব অসাধারণ খেলেছে এবং তার অভিজ্ঞতাও অনেক। তার রেকর্ড দেখলেই বোঝা যায়, সে কত বড় মাপের ক্রিকেটার।’

শচীনকে ছাড়িয়ে গেলেন যুবরাজ

পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে শেষবার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন প্রায় ছয় বছর আগে। এছাড়া চলতি সিরিজের আগে শেষবার একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিন বছর আগে, ২০১৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

ইংল্যান্ড সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার স্কোয়াডে ৩৫ বছর বয়সী যুবরাজের নাম থাকা নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৫ রানে আউট হওয়ার পর হয়তো সমালোচকরা হয়তো ওত পেতেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই জবাবটা যুবি দিয়ে দিলেন ব্যাট হাতেই।

বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান বৃহস্পতিবার কটকে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে করলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি, খেললেন ১২৭ বলে ২১টি বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কায় ১৫০ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। এই ইনিংস খেলার পথে অনন্য এক রেকর্ডও গড়েছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের হিসেবে শচীন টেন্ডুলকারকে টপকে গেলেন যুবি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭ ইনিংসে ১৪৫৫ রান করেছিলেন শচীন। দুই ইনিংস কম খেলে যুবরাজ নামের পাশে যোগ করলেন ১৪৭৮ রান।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চলছে তারকা পতন

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শুরুতেই এবার চমক আর চমক। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। যেখানে বলতে গেলে একক আধিপত্য সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচের। গত ৯ বছরে ৬টি শিরোপার মুকুট উঠেছে তার মাথায়। সর্বশেষ টানা দুইবার। সেই নোভাক জকোভিচই কি না বিদায় নিয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে।

বিশ্বের দুই নম্বর তারকাকে ৭-৬, ৫-৭, ২-৬, ৭-৬ এবং ৬-৪ সেটে হারিয়ে টেনিস বিশ্বকেই চমকে দিয়েছেন ১১৭ নম্বর তারকা  উজবেকিস্তানের অনামী তারকা, ডেনিস  ইস্তোমিন। অথচ এই টেনিস খেলোয়াড়ই কি না অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সুযোগ পেয়েছিলেন ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে। অথচ তিনিই কি না ঘটিয়ে দিলেন গ্র্যান্ড স্লামের ইতিহাসে অন্যতম বড় চমকটির।

বৃহস্পতিবার নিজের প্রিয় গ্র্যান্ড স্ল্যামে জকোভিচের মুখে যেন অমাবস্যার অন্ধকার। যে রড লেভার এরিনা তাকে অসংখ্য শিরোপার সামনে পৌঁছে দিয়েছে, সেই প্রিয় মঞ্চই হয়ে উঠল তার সামনে দুঃস্বপ্নের। দ্বিতীয় রাউন্ডেই শেষ হল গতবারের চ্যাম্পিয়নের সফর। চার ঘণ্টা আটচল্লিশ মিনিটের রদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে সার্বিয়ান টেনিস মহাতারকার মাথা তখন নিচু। এভাবে এত দ্রুত বিদায় নিতে হবে, কোনোভাবেই ভাবেননি তিনি।

একদিকে যখন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জকোভিচের শোকে কাতর, তখন আরেকটি ইন্দ্রপতন। মহিলা এককে শুধুই গ্ল্যামার নয়, পারফরম্যান্স দিয়েও প্রায় সবার নজর কেড়ে নিয়েছিলেন কানাডিয়ান টেনিস তারকা ইউজেনি বুশার্ড। তিনি অবশ্য বিদায় নিয়েছেন তৃতীয় রাউন্ড থেকে। আজ দিনের শুরুতেই আমেরিকান অখ্যাত তারকা কোকো ভ্যান্ডেওয়েগের কাছে ৬-৪, ৩-৬ এবং ৭-৫ সেটে হেরে যান বুশার্ড।

আগেরদিন তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছিলেন বিশ্বের নাম্বার ওয়ান তারকা অ্যান্ডি মারে, স্প্যানিশ তারকা রাফায়েল নাদাল ও মহিলা টেনিসে নাম্বার ওয়ান সেরেনা উইলিয়ামস।

ছেলেদের এককে তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে মারকোস বাগদ্যতিসকে ৬-৩, ৬-১, ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন ২০০৯ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী স্প্যানিশ তারকা নাদাল। সহজেই তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন নাম্বার ওয়ান তারকা অ্যান্ডি মারে। রাশিয়ান অ্যান্ডি রুবেলভকে ৬-৩, ৬-০ এবং ৬-২ সেটে পরাজিত করেন এই বৃটিশ তারকা। যদিও আজ চতুর্থ রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন স্যাম কুয়েরির।

নারী এককে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গেছেন ছয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। লুসি সাফারোভাকে ৬-৩, ৬-৪ গেমে সহজেই হারিয়েছেন মার্কিন এই তারকা।

২৮৯ রানেই থেমে গেলো বাংলাদেশের ইনিংস

মুশফিক নেই। ইমরুল এবং মুমিনুল হকও নেই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে ভাঙা-চোরা একটি দল। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের সবুজ উইকেটে টস হেরে ব্যাট করারই আমন্ত্রণ পেলো বাংলাদেশ। কিউই পেস ব্যাটারির সামনে তবুও বলতে গেলে বুক চিতিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

তবুও কিউই পেসারদের তোপ সামলে প্রথম পুরোটা শেষ করতে পারলো না তামিম অ্যান্ড কোং। যার ফলশ্রুতিতে প্রথম দিন শেষ হওয়ার ৫ ওভার আগ পর্যন্ত ২৮৯ রান তুলতেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। এরপরই দিনের খেলারও সমাপ্তি ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি জাগভাল শ্রীনাথ।

ইমরুলের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকারের ব্যাটই (৮৬) কিছুটা হেসেছিল। এছাড়া প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানের ব্যাটও (৫৯) কথা বলেছে। সঙ্গে মুশফিকুর রহীমের পরিবর্তে টেস্টে অভিষিক্ত নুরুল হাসানের (৪৭) দৃঢ়তা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসটা ছিল মোটামুটি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

ওয়েলিংটন টেস্টেই বাংলাদেশ দল পরিণত হয়েছিল মিনি হাসপাতালে। ইনজুরির শিকার হয়েছেন মুশফিকুর রহীম, ইমরুল কায়েস এবং মুমিনুল হক। তিনজনই দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। মুশফিক প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ১৫৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাথায় বলের আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। ইমরুল ব্যাট হাতে ভালো করতে না পারলেও মুশফিকের পরিবর্তে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেন। তামিমের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে ওপেন করতে নেমে জ্বলে উঠতে পারতেন তিনি।

মুমিনুল তো ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংসে কিউই পেসারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। তার ৬৪ রানের ইনিংসটি ছিল সাহসে ভরপুর। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। ক্রাইস্টচার্চেও ছিলেন ভরসার অন্যতম প্রতীক। কিন্তু পাঁজরের হাঁড়ে বল লেগে তিনিও ইনজুরির শিকার।

এ তিনজনের পরিবর্তে অভিষেক হলো নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহানের। শান্ত দলের সঙ্গে ছিলেন ডেভেলপমেন্ট পারফরমার হিসেবে; কিন্তু কী ভাগ্য- একের পর এক অন্যদের ইনজুরি শান্তর মাথায় টেস্ট ক্যাপই পরিয়ে দিলো। সঙ্গে দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার এবং পেসার শুভাশিস রায়ের পরিবর্তে রুবেল হোসেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেননি তামিম ইকবাল। দলীয় ৭ রানের মাথায় টিম সাউদির বলে উইকেটের পেছনে বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন তিনি। তামিমের আউটের পর সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ মিলে ভালো একটা জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের ৩১ রানের জুটিটা ভেঙে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। উইকেটের পেছনেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন তার নামের পাশে লেখা ২৪ বলে ১৯ রান।

তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দু’জন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। দু’জনই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে দলীয় ১৬৫ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার।

যদিও নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুল লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। খেলেছেন ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। মাত্র ১৭ বলের ব্যবধানে ধ্বস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

ট্রেন্ট বোল্টের পরের ওভারেই দলীয় ১৭৭ রানের মাথায় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির রহমান। ব্যাটিং অর্ডারে দুই ধাপ উন্নতিকে কোনো কাজেই লাগাতে পারেননি তিনি। আউট হলেন মাত্র ৭ রান করে। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ের পর কিউই পেসারদের বেশ কিছুক্ষণ রুখে দাঁড়াতে পেরেছিলেন দুই অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহান। প্রায় ২০ ওভার মোকাবেলা করেছে এ দু’জনের জুটি। রান করেছে ৫৩টি। তবে কিউই পেসারদের একের পর এক বাউন্সার আর শট বলের সামনে এক পর্যায়ে হার মানতে বাধ্য হন সদ্যই কৈশোর শেষ করা শান্ত। ৫৬ বল মোকাবেলায় ১৮ রান করে ফিরে যান তিনি।

শান্তর তুলনায় উইকেটে অনেক বেশি দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হন নুরুল হাসান সোহান। ৯৮ বলে তিনি খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। সোহানের জন্য আফসোস অভিষেকেই হাফ সেঞ্চুরির একেবারে দোরগোড়ায় গিয়ে পেলেন না। ট্রেন্ট বোল্টের ক্রমাগত শট বলেই ধরা খেলেন তিনি। মাথা বরাবর আসা বলকে পুল করতে গিয়েছিলেন সোহান। ফল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে।

তার আগেই অবশ্য মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েগনারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ১০ রান করে।  ২৬ বল খেলে ৮ রান করে আউট হন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পরই আউট হন সোহান। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বি আর রুবেল হোসেন মিলে ইনিংসের সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৬ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রাব্বি আউট হলে ১৬ রানে অপরাজিত থেকে যান রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশের ১০টি উইকেটই নেন কিউই পেসাররা। টিম সাউদি নেন ৫টি। ৪টি নেন ট্রেন্ট বোল্ট। বাকি উইকেটটি নিলেন নিল ওয়েগনার।

২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত শ্রীলংকার অধিনায়ক ম্যাথিউজ

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর শ্রীলংকার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই দাবি জানাতে শুরু করেন, নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হোক ম্যাথিউজকে।

তীব্র সমালোচনার মুখেও টলে যায়নি লংকান ক্রিকেট বোর্ড। দেশটির বোর্ড সভাপতি থিলান সুমাথিপালা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্তই শ্রীলংকার অধিনায়ক থাকছেন ম্যাথিউজ। শুধু বোর্ড সভাপতিই নন, বোর্ডের অন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং জাতীয় নির্বাচক কমিটির সভাপতি সনাথ জয়সুরিয়াও পাশে দাঁড়িয়েছেন ম্যাথিউজের। তারাও বোর্ড সভাপতির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

গত বুধবারেই ম্যাথিউজের ব্যাপারে কথা বলার জন্য মিডিয়ার মুখোমুখি হন সুমাথিপালা। সেখানেই তিনি জানান, তার মতামত আগেই বোর্ডের অন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাচক সনাথ জয়সুরিয়ার সঙ্গে বিনিময় করেছেন। সবাই তার মতকে স্বাগত জানিয়ে ম্যাথিউজকে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্বে রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ড এবং নির্বাচক কমিটি টেস্ট সিরিজের পর ইতিমধ্যেই একটি রিভিউ বৈঠকের আয়োজন করেছে অধিনায়ক ম্যাথিউজ, কোচ গ্রাহাম ফোর্ড এবং ম্যানেজার রনজিৎ ফার্নান্দোর সঙ্গে। টেস্ট পরাজয়ের পর ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে কতটা ভালো করা যায়, এ বিষয়ে আলোচনাই ছিল ওই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনেই সুমাথিপালা ম্যাথিউজকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার গুঞ্জনকে উড়িয়ে দেন। জানিয়ে দেন, এসব কেবলই গুঞ্জন। আমরা আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্তই তাকে নেতৃত্বে রেখে দিতে যাচ্ছি।

সৌম্যর প্রথম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি

দ্বিতীয় টেস্টে খেলারই কথা ছিল না তার। বরাতটা খুলে গেল ইমরুল কায়েসের ইনজুরিতে। আর সে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন সৌম্য সরকার। ইতোমধ্যেই তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন সৌম্য। তবে শুরুতেই তামিমকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ।

তবে একপ্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে দলকে চাপমুক্ত করেন সৌম্য। দারুণ সব শট খেলে মাত্র ৫৪ বলেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ৭টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫৮ বলে ৫২ রান করেছেন সৌম্য। আর বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১২ রান। সৌম্যর সঙ্গী সাকিব আল হাসান আছেন ৩২ রানে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

শুরুতে তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। এরপর দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১১ রান। উইকেটে আছেন অভিষেক হওয়া দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান।  ৭ রান নিয়ে ব্যাট করছেন শান্ত। আর সোহান আছেন ২৫ রানে।

অথচ তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাকিব ও সৌম্য। দু’ জনেই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

এর আগের ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্লিপে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির। তবে নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুলার লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৮৬ রানের ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

এর আগে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক তামিম ইকবালকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লেগ সাইডে রাখা টিম সাউদির বাউন্সার তামিম ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে তা ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে।

তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও। দলীয় ৩৮ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

কিউইদের শর্ট বল নিয়ে অভিযোগ নেই তামিমের

ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হেরেছে ৭ উইকেটে। অথচ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত বড় স্কোর করার পর হার নেই কোনো দলেরই। ম্যাচের চতুর্থ দিন যখন ৫৩৯ রানে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস, তখনও কেউ ভাবেনি পরাজয়ের পথে মুশফিকুর রহিমের দল।

কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম দিন বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় ইনিংসে গুড়িয়ে দিতে নিউজিল্যান্ড প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল বাউন্সারকে। এমনিতেই উপমহাদেশের ক্রিকেট মানেই স্পিন কিংবা ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের কথা ভাবলে মিরপুর, ফতুল্লা, চট্টগ্রাম কিংবা খুলনা-বগুড়া; বাউন্স বলতে তো এসব জায়গায়  কিছুই নেই। সাকিব-মুশফিকরা যতই ১০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলুক না কেন, এই জায়গাটায় তাই দুর্বলতা থেকেই যায়। যেমন অ্যালিস্টার কুক-জো রুটরা সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান হয়েও বাংলাদেশে গিয়ে স্পিনের সামনে নতজানু হয়ে ফিরে আসেন।

উইকেট কন্ডিশন তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কৌশলগত এক খেলা। বাংলাদেশ টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিশ্বাস করেন সেটাই। আগামীকাল ক্রাইস্টচার্চে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ইনজুরি আক্রান্ত মুশফিকের পরিবর্তে বাংলাদেশেকে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ জানিয়ে দিলেন, কিউই পেসাররা আগের ম্যাচে যে হারে বাউন্সার ছুঁড়েছে; সেটি নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

‘নাহ, তা নিয়ে আমার ও আমাদের কোনোই অভিযোগ নেই। সব দেশ তার নিজের শক্তি-সামর্থ্য ও কন্ডিশনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করে। নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররাও করছে। তারা আমাদের শর্ট ডেলিভারি দিয়ে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এটা তাদের গেম প্ল্যানের অংশ।’- সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন তামিম।

তামিম ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শুধু কিউই ফস্ট বোলারদের কথা বলা কেন, আমরা যদি বুঝি জানি- অমুক ব্যাটসম্যান শর্ট বলে দুর্বল। আমরাও তো তার বিপক্ষে শর্ট বল বেশি করবো। তাকে বিব্রত করতে এবং কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিতে চাইবো। এটা দোষের কিছু নেই। বরং কার্যকর কৌশল। এটা সবাই করে।’

তামিম উদারহণ টেনে বলেন বাংলাদেশের স্পিন-বান্ধব উইকেটের কথা, ‘আমরা ঘরের মাঠে স্পিনিং ট্র্যাকে খেলি। সেখানেও তো বল প্রচুর টার্ন করে। কই কেউই কি তখন বলে; উইকেটে এত টার্ন কেন? কাজেই তারা আমাদের বিপক্ষে শর্ট বল করায় কোনো অভিযোগ নেই। এটা নিছক কৌশলেরই অংশ।’

কী করবে তামিমের ভাঙাচোরা দল?

আসল নাম ‘হ্যাগলি পার্ক নিউ।’ বিশাল এলাকা জুড়ে। তার দক্ষিণাংশে ‘হ্যাগলি পার্ক সাউথ।’ আয়তনে এই পার্ক  ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তিনগুণ হবে। শুধু আকার আয়তনে বড় নয়। গাছপালাও অনেক বেশি। হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ হঠাৎ মনে হবে সবুজ বন।

চারিদিকে গাছপালায় ভরা। খালি সবুজ আর সবুজ। একদম পরিষ্কার। ঝকঝকে। তকতকে। একটু ময়লা-আবর্জনার লেশমাত্র নেই। তারই একটা অংশে ক্রিকেট মাঠ। কোনো গ্যালারি নেই। শুধু প্রমাণ সাইজের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড। সেটাই একমাত্র স্থায়ী অবকাঠামো।

আর সব অস্থায়ী। খেলার আগে তৈরি করা। প্রেসবক্স বহুদূরে, আগের দিন পর্যন্ত মিডিয়ার সবার কোনো জায়গার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে আজ চোখে পড়লো। সাইট স্কিনের পাশে সাদা তাবু খাটানো। জানা গেল- সেটাই প্রেস বক্স।

মাঠের দক্ষিণ দিকে উঁচু মাটির ঢিবি। ফ্লাডলাইট নেই। দর্শক ধারণ ক্ষমতা হাজার দশেক তো হবেই। খুব বেশি দিন হয়নি এ মাঠে টেস্ট হচ্ছে। এইতো তিন বছরেরও কম সময় আগে; ২০১৪ সালের ২৬-২৯ ডিসেম্বর। নিউজিল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে হ্যাগলি পার্ক ওভালের টেস্ট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু। সর্বশেষ টেস্ট হয়েছে মাত্র দু`মাস আগে; ১৭-২০ নভেম্বর, ২০১৬।

স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের সাথে খেলেছে পাকিস্তান। এছাড়া এই মাঠে প্রথম ওয়ানডে হয়েছে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি; স্কটল্যান্ড-কানাডার মধ্যে। আর শেষ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড; এইতো ২৪ দিন আগে। এই মাঠে এ পর্যন্ত তিনটি টেস্ট হয়েছে; যার দুটিতে জিতেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড আর একটিতে ব্ল্যাক-ক্যাপসদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে অজিরা- সেটা ২০১৬ সালের ২০-২৪ ফেব্রুয়ারি।

এছাড়া ২০১৪ সালের ২৬-২৯ ডিসেম্বর কিউইরা ৮ উইকেটে হারায় লঙ্কানদের। খেলা শেষ হয়ে যায় চার দিনে। আর ২০১৬ সালের ১৭-২০ নভেম্বর পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারায় কিউইরা। এছাড়া এই মাঠে নারীদের তিনটি টেস্ট ও ছয়টি ওয়ানডে হয়েছে।

এই মাঠে প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ হয় ১৮৬৭ সালে। ক্যান্টাবারি ক্রিকেট দলের সাথে ওটাগো একাদশের ম্যাচ হয়েছিল প্রথম। এছাড়া প্লাঙ্কেট শিল্ডের প্রথম ম্যাচ হয় ১৯০৭ সালে। মাত্র দুই মাস আগে এই মাঠে পাকিস্তান পর্যুদস্ত হয় চরমভাবে। মাত্র তিন দিনে শেষ হয়ে যায় ম্যাচটি।

১৭ নভেম্বর বৃষ্টির কারণে কোন খেলাই হয়নি। বাকি তিন দিনে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। তিন দিনে দু`বার অলঅাউট হয় পাকিস্তান। চার কিউই পেসার টিম সাউদি (২+৩ = ৫) , ট্রেন্ট বোল্ট (২+৩ = ৫) , ওয়েগনার (০+ ৩) ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম (৬+ ১ = ৭) ২০ উইকেটের সবগুলো ভাগ করে নেন।

হার মানা পাকিস্তানিরা যে ১২ উইকেটের পতন ঘটায়, তার ১১ টি জমা পড়ে পেসারদের পকেটে। মোহাম্মদ আমির ৩+১ =৪, সোহেল খান (৩+০) , রাহাত আলি (৪+০) ও অকেশনাল লেগস্পিনার আজহার আলি (১) উইকেট ভাগ করে নেন। মোদ্দাকথা, উইকেট একদম পেস-বান্ধব। এক কথায় পেসারদের স্বর্গ।

ইতিহাস জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে হ্যাগলি ওভালকেই ধরা হয় নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে পেস বোলিং সহায় উইকেট। সেখানে বাংলাদেশ খেলবে স্মরণাতীতকালের সবচেয়ে ভাঙ্গাচোরা ও দুর্বল দল নিয়ে। নিয়মিত অধিনায়ক ও মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা মুশফিকুর রহীম, ওপেনার ইমরুল কায়েস এবং টেস্টে দলের সবচেয়ে ভালো ও ধারাহিক পারফরমার মুমিনুল হক নেই। ইনজুরির কারণে তিনজনই খেলতে পারবেন না।

তাদের ছাড়া কাল এই হ্যাগলি ওভালে মাঠে নামবেন টাইগাররা। তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর সাকিব আল হাসান ছাড়া ব্যাটিং লাইন-আপের সবাই নবীন। সাব্বির রহমান অবশ্য প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করে সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন।

সৌম্য সরকার আবার টেস্টে সুযোগ পেয়েছেন। উইকেটকিপার কাম মিডল-অর্ডার নুরুল হাসান সোহান এবং নাজমুল হোসেন শান্ত- দুই তরুণের অভিষেক হচ্ছে। বোলিং লাইন-আপ মোটামুটি অপরিবর্তিতই আছে। দেখা যাক, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এমন ভাঙাচোরা দল কী করে?

অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে পাকিস্তান

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৪ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। পার্থে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬৩ রান করেছে সফরকারীরা।

এ প্রতিবেদন লেখা আগ পর্যন্ত ৩৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ উইকেটে হারিয়ে ১৭১ রান। স্মিথ ৬৭ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব ৫৩ রানে ব্যাট করছেন।

পাকিস্তান দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেছেন বাবর আজম। তার ১০০ বলের ইনিংসটি সমৃদ্ধ ৪টি চার ও ১টি ছক্কায়। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ রান করেছেন ওপেনার শারজিল খান। ৪৭ বল মোকাবেলা করে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট লাভ করেন জস হ্যাজেলউড। ট্রাভিস হেড নেন ২টি উইকেট। প্যাট কামিন্স ও বিলি স্টেনলেক দখলে নেন ১টি করে উইকেট।

ধোনি-যুবরাজের জোড়া সেঞ্চুরি

অভিজ্ঞতার ধার একেই বলে। লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ানরা ভালো ব্যাটসম্যান। বিরাট কোহলিও রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে; কিন্তু কোনো এক ম্যাচে এরা খারাপ করতেই পারেন। কারণ এটাই ক্রিকেট, এটাই প্রতিদ্বন্দ্বীতা।

সে ক্ষেত্রে দল তো আর পিছিয়ে পড়তে পারে না। কারণ, দলে যে আরও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন! ভারতীয় দলে এখন সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কে? চোখ বন্ধ করে সবাই উত্তর দেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং যুবরাজ সিংয়ের কথা। এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারই অবশেষে বাজিমাত করলেন।

কটকের বারাবতি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টপ অর্ডারে তিন ব্যাটসম্যানের দ্রুত বিদায়ে যে বিপর্যয়ে পড়েছিল ভারত, সেখান থেকে দলকে শুধু উদ্ধারই করেননি, অসাধারণ দুটি সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন যুবরাজ সিং এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি।

ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকসের বিধ্বংসী তোপের মুখে ২৫ রানের মধ্যেই একে একে উইকেট হারিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান এবং বিরাট কোহলি। এমন বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন যুবরাজ আর ধোনি। দু’জন মিলে গড়লেন ২৫৬ রানের বিশাল এক জুটি।

বুড়ো বয়সে এসেও যে ব্যাটের ঝাঁঝ মোটেও কমেনি সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন যুবরাজ সিং। একই সঙ্গে সমালোচকদেরও একহাত নিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি পূরণ করলেন ৯৮ বলে। এরপর বাকি ২৯ বলে আরও তাণ্ডব বইয়ে দিলেন তিনি ইংলিশ বোলারদের ওপর। শেষ পর্যন্ত ১২৭ বলে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। ২১টি বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কায় এই রান করেন তিনি। এর আগে সর্বোচ্চ ১৩৯ রান করেছিলেন তিনি। আউট হন সেই ক্রিস ওকসের বলেই।

যুবরাজের সঙ্গে ধোনি এতবড় জুটি গড়লেন, কিন্তু সেঞ্চুরি করবেন না তা কী করে হয়। সুতরাং, মহেন্দ্র সিং ধোনিও সেঞ্চুরি করলেন। ক্যারিয়ারে ১০ম সেঞ্চুরি পূরণ করার ক্ষেত্রে ধোনি খেলেন ১০৬ বল। ৯টি বাউন্ডারি এবং ৩টি ছক্কার মার রয়েছে সঙ্গে। এ রিপোর্ট লেখার সময় তিনি অপরাজিত ১২১ রানে। এই দু’জনের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ভারতও রয়েছে বিশাল স্কোরের পথে। ৪৭ ওভারেই তারা তুলে নিয়েছিল ৩৩৭ রান।

‘ফল দেখে মনে হলেও আমরা তত খারাপ খেলিনি’

ভাষা শুনে শ্লেষ মাখা প্রশ্ন মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে ভদ্রলোক শেষ টেস্টের আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছে খুব কায়দা করে বাংলাদেশ শিবিরের নাড়ির খবর জানতে চাইলেন। শেষ টেস্টের অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছে সে কিউই সাংবাদিকদের প্রশ্ন, ‘আচ্ছা পুরো সিরিজে একটি ম্যাচও জিততে পারেননি। নিশ্চয়ই হতাশ। এ হতাশা আপনাকে কতটা পোরাচ্ছে? শেষ টেস্টে নেতৃত্ব দেবার আগে আপনি কি হতাশ?

বাঘা বাঘা ফাস্ট বোলারের শর্ট অফ লেন্থের ডেলিভারি, ইয়র্কার আর অফস্টাস্পের আশপাশে পড়ে আরও বেড়িয়ে যাওয়া ডেলিভারি যাকে সহজে টলাতে পারে না, সেই তামিম কি আর ঐ প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হবেন? তামিমকে যারা চেনেন, জানেন, তারা বলবেন না। কিছুতেই না। তামিম সহজে ভেঙে পরার পাত্র নন। তামিমের মূল কথা হলো, খালি চোখে সব ম্যাচ হারতে দেখলেও ম্যাচের চালচিত্র মন দিয়ে খেয়াল করলে পরিষ্কার ফুটে উঠবে পারফরমেন্স তত খারা হয়নি। বরং বেশ কিছু খেলার কিছু কিছু সময় পারফরমেন্স বেশ ভাল ছিল। সুযোগ ও সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে ।

তাই তো কণ্ঠে এমন জবাব। ‘হ্যা ফলাফলের দিকে তাকালে হয়তো মনে হবে আমরা সব ম্যাচ হেরেছি। পারিনি একবারের জন্যও। কিন্তু একটু মন দিয়ে খেয়াল করলেই দেখবেন আমরা মোটেই খারাপ খেলিনি। এই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে প্রথম ওয়োনডে থেকে শুরু করে পুরো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং সবশেষে প্রথম টেস্ট, আমরা হয়তো এর কোনটাই জিতিনি। কিন্তু প্রায় সব ম্যাচের কোন না কোন সময় বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছি। কখনো কিউদের চেয়ে এগিয়েও ছিলাম। জয়ের সুযোগ ও সম্ভাবনাও তৈরি করেছি। হয়ত ফলটা আমাদের পক্ষে আসেনি এই যা। বলতে পারেন, জয় ছাড়া অনেক কিছুই করে দেখিয়েছি। আমার মনে হয় ৬/৭ বছর পর নিউজিল্যান্ডের অনভ্যস্ত ও প্রতিককূল কন্ডিশনে এসে যতটা ভালো খেলা যায় আমরা চেষ্টা করেছি। আমাদের টিম পারফরমেন্সে আমি সত্যিই খুশি। গর্বিতও।

হ্যা এটা সত্য, আমাদের মাঠে হয়ত কিছ ভুল ত্রুটি হয়েছে। কিন্তু ভালো খেলার ইচ্ছেতে কোনই কমতি ছিল না।  মানসিকতাও ছিল বেশ ইতিবাচক। মোদ্দা কথা আমার মনে হয় হতাশায় আচ্ছন্ন হবার মত কিছু আছে। বরং শেষ টেস্টে মাঠে নামার আগে আমাদের সঙ্গে কিছু ইতিবাচক বিষয়ও আছে। যা ভাল খেলার রসদ হিসেবেই কাজ করবে।

উইকেট নিয়ে মাথাব্যথা নেই তামিমের

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে প্রেসের সামনে আসার ঠিক আগের মুহূর্তে তাকে দেখা গেল কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের সাথে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পিচ দেখছেন। এবং কথা বলতে বলতে সাজঘরে ফেরত আসছেন। সেখান থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রেস মিটে চলে আসা। খুব স্বাভাবিকভাবেই পিচ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই কে একজন শুরুর দিকে জানতে চাইলেন, কিছুক্ষণ আগে দেখা গেলো আপনি আর কোচ পিচ দেখে কথা বলতে বলতে আসছেন। কেমন দেখলেন উইকেট?

এটা কি ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভেল চেয়েও সিমিং কন্ডিশন? এত সিরিয়াস প্রশ্নের ভাবলেশহীন জবাব দিতে গিয়ে তামিম পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, তার ক্রিকেট অভিধান ও অনুভবে পিচ নিয়ে চিন্তা ও ভাবনা খুব কম। উইকেট নিয়ে তার মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। তাই তো সোজা সাপটা কথা তামিমের, `আমি আসলে উইকেট নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতে চাই না। আমার ক্রিকেট অভিধান ও দর্শনে উইকেট নিয়ে চিন্তা কম থাকে। এখন দল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েও বলছি আমার দর্শন হচ্ছে আমি আগে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা স্থির করবো। নিজের সেরাটা কিভাবে উপহার দেয় যায়, তা নিয়ে ভাববো। সবার পরে চিন্তা করি উইকেট নিয়ে। কারণ আমি খুব ভালো করেই জানি উইকেট নিয়ে মাথা ঘামানোর চেয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারাই কথা ভাবাই আসল কাজ। আমরা যদি নিজেদের কাজ গুলো ঠিক মত করতে পারি তাহলে উইকেট ততটা বড় বাঁধা হবে না। আর উইকেট নিয়ে বেশি মাথা ঘামালাম, প্রচুর কথা বাত্যা বলা হোল  কিন্তু কাজের কাজ করতে পারলাম না, তাহলে লাভ কি হলো?`

সবচেয়ে বড় কথা হলো সবাই জানেন বোঝেন নিউজিল্যান্ড কেন, কোন দেশেই ওয়ানডে আর টেস্টে এক ধরনের উইকেট হয় না। আমরা এই মাঠে ওয়ানডে খেলে গেছি। তখন যেমন উইকেট ছিল, এখন টেস্টে হয়ত এমন থাকবে না। এটাই স্বাভাবিক। এসব ভেবেই আমরা মাঠে নামবো। এই পিচে মাত্র তিন মাস আগে পাকিস্তান তিনদিনে হেরে গেছে।

অবচেতন মনে কিংবা সিরিয়াসলি আপনার বা আপনাদের চিন্তায় কি তা কাজ করছে? তামিমের সাহসী জবাব, ‘নাহ ওসব নিয়ে ভাবি না। আমাদের খেলাটা খেলার কথাই ভাবছি। আমরা আগে ভাগেই হারবো না জিতবো তা ভাবতে যাব কেন?  তিন দিনে না চার দিনে খেলা শেষ হবে? এসব সাত পাঁচ নেতিবাচক চিস্তা ভাবনায় না ডুবে আমরা নিজেদের সেরাটা উপহার দেয়ার কথা ভাবছি। হারের চিন্তায় নয় অবশ্যই জয়ের কথা ভেবেই মাঠে নামবো। আমরা বিশ্বাস করি আমরা আমাদের সামর্থ্যগুলো যদি সঠিক ও সময় মত প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে অবশ্যই একটা খুব ভাল সম্ভাবনা থাকবে।

কঠিন সংকটে অধিনায়কত্ব পেয়েও চাপে নেই তামিম

সত্যিই জীবন কত অদ্ভুত! বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবন কাহিনি ও পলাশির করুণ পরিণতি নিয়ে দেশ বরেণ্য চলচ্চিত্রকার প্রয়াত খান আতা যে চলচ্চিত্র নির্মান করেছিলেন, তাতে একটি জীবনধর্মী সঙ্গীত ব্যবহৃত হয়েছে। যার প্রথম দুই চরণ হলো ‘নদীর এ কূল ভাঙে এ কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা, সকালে আমিররে ভাই ফকির সন্ধ্যে বেলা।’

সত্যিই জীবনটা এমন উত্থান-পতনের খোলা মঞ্চ। ক্রিকেটারদের জীবনটাও ঠিক তেমন। আজ হিরো তো কাল খলনায়ক। আজ পাদ প্রদীপের আলোয়। কাল অন্তরালে। মাত্র ২৪ ঘন্টা সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেও এমন ওঠা নামার পালা। বুধবার দুপুরের সঙ্গে আজকের দুপুরের কি বিস্তর ফারাক! আসুন একটু জেনে নেই কি সেই পার্থক্য।

দৃশ্যপট ১. ১৮ জানুয়ারী সকাল। ঘড়ির কাটা দুপুর একটা স্পর্শ করেনি। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের ঠিক মাঝখানে মানে পিচের আশপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন দু`জন মানুষ। দুজনারই পরনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ট্র্যাক স্যুট। একজন কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। আরেকজন মুশফিকুর রহীম। তারা মিনিট পাঁচ সাতেক পিচের আশপাশে দাঁড়িয়ে যে উইকেটে খেলা হবে, তা দেখে (যদিও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে পিচের অর্ধেকেরও বেশি অংশ ঢাকাই ছিল) কথা বলতে বলতে ড্রেসিং রুমে আসলেন।

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের চলতি সিরিজ কভার করতে যে সব সাংবাদিক এখন ক্রাইস্টচার্চে তাদের বড় অংশ, ঐ দৃশ্য অবলোকন করলেন। তখন কানাঘুষা শুরু হয়ে গেলো। মুশফিকুর রহীম তো ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ। হয়তোবা ওয়েলিংটন হাসপাতালের চিকিৎকসদের প্রটোকল পরামর্শ সত্বেও ঠিক টেস্টে মাঠে নেমে পড়বেন। তাই বুঝি উইকেট দেখে কোচের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আসলেন সাজঘরে।

টিম বাংলাদেশে সবচেয়ে সিরিয়াস ক্রিকেটারের নাম মুশফিক। অনুশীলনে তার আগে কেউ আসতে পারে না। আবার সবার প্র্যাকটিস শেষ হয়ে যাবার পরও নিজের গরজে বাড়তি প্র্যাকটিসটাও মুশফিকই করেন বেশি। তাই বলাবলি হল, মুশফিক যেমন সিরিয়াস ক্রিকেটার। ইনজুরি তাকে গ্রাস করতে নাও পারে। হয়তো খেলেও ফেলতে পারেন টাইগার টেস্ট অধিনায়ক। মুশফিক বলেই এ কথাটা কম বেশি সবার মনেই গেঁথে গেল। সবাই বলা বলি করলেন, মুশফিক যেহেতু, তাই খেলেও ফেলতে পারেন।

কিন্তু আজ দুপুর পৌনে একটার দিকে ঠিক তার বিপরিত দৃশ্য দেখেই ভুল ভাঙলো সবার। বাংলাদেশের প্র্যাকটিস ছিল দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে। ঠিক পৌনে একটার কয়েক মিনিট পর হ্যাগলে ওভালে ঢুকলো বাংলাদেশের টিম বাস। বাস থেকে নেমে সিড়ি বেঁয়ে হ্যাগলো ওভালের ড্রেসিং রুমে ওঠার আগে ঠিক কালকের মত দু`জন মানুষ সোজা মাঠের মাঝখানে পিচ যেখানে, ঠিক সেখানে চলে গেলেন। পিচ দেখে পাঁচ থেকে সাত মিানট কথাও বললেন। তারপরও কথা বলতে বলতে সাজঘরের পথে পা বাড়ালেন।

সময়কালের পার্থক্য মোটে ২৪ ঘন্টা। দৃশ্যপট এক। কিন্তু পিচের মাঝখানে কথা বলা দুই চরিত্রের রদ বদল। একজন হাথুরুসিংহে। অন্যজন তামিম ইকবাল। টেস্ট শুরুর ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে যখন কোচ তামিম ইকবালকে নিয়ে পিচ দেখতে গেছেন। এবং তার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে বলতেই সাজঘরে। ঠিক তখনই বোঝা গেল , মুশফিক আর দৃশ্যপটে নেই। ইনজুরি তাকে আবারো গ্রাস করেছে। কাল থেকে যে টেস্ট শুরু, তার অধিনায়ক আর মুশফিক নন। তামিম ইকবাল।

কোচ হাথুরুসিংহে সোজা সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেলেন। আর তামিম আসলেন অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সামনে। মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামকে বললেন, ‘রাবিদ ভাই প্রেস কনফারেন্সের প্রস্তুত নিন। তখনই জানা হয়ে গেলো, বোঝাও হলো, শুক্রবার থেকে যে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে, তাতে বালাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

সেই ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু। প্রায় ম্যাচেই একটা দৃশ্য চোখে পড়ছে। সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সম্ভাবনার দরজাও খুলছে। সে পথে হেঁটে খানিকটা পথ এগিয়েও যাচ্ছে। তারপর একটা পর্যায়ে গিয়ে কেমন যেনসব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কাজের কাজটি হচ্ছে না। এই না হবার পালা চলছেই।

দেখতে দেখতে সফর শেষ হবার সময়ও যে ঘনিয়ে এলো। এইতো ২৪ ঘন্টা পর শুরু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এ ম্যাচের আগে ইনজুরি ঘিরে ধরেছে চারদিক থেকে। নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকু রহীম ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যথার কারণে বাইরে। ওপেনার ইমরুল কায়েসও ঊরুর ব্যথায় সাইড বেঞ্চে।

পড়ন্ত বিকেলের খবর, মুমিনুল হকও একাদশের বাইরে ছিটকে পড়েছেন। এমনিতেই সাফল্য ধরা দিচ্ছেন। ‘সোনার হরিণ’ হয়ে পড়েছে। তার সাথে আবার ইনজুরির ভয়াল থাবা। জয় ধরা না দিলেও ওয়েলিংটন টেস্ট শুরুর আগেও টিমের যে আত্ববিশ্বাস ছিল, ক্রিকেটাররা যতটা চাঙ্গা-উৎফুল্ল ছিলেন, তাতে ভাটা এসেছে। একটা গুমোট ভাব চলে এসেছে। এরকম একটা ভাঙা চোরা দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

তিনজন অপরিহার্য্য পারফরমার নেই। মুশফিক নেই, যিনি একাধারে ‘ থ্রি ইন ওয়ান। ’ কীপার। অধিনায়ক এবং মিডল অর্ডারের অন্যতম স্তম্ভও। তার পাশাপাশি নেই ওপেনার ইমরুল কায়েসও। এমনিতেই সাফল্য ধরা দিচ্ছে না। সম্ভাবনার দরজা খুলছে শুধু। কিন্তু সাফল্যের মঞ্চে আর ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। তার সঙ্গে এক ঝাঁক নিয়মিত ও অপরিহার্য পারফরমার ছাড়া খেলতে হবে।

এ দায়িত্ব প্রাপ্তি কতটা সুখের? নাকি বাড়তি চিন্তা-টেনসন ও চাপের? তামিম কি চাপে? প্রশ্ন উঠলো। প্রেস কনফারেন্সে এ সাংবাদিরকর প্রশ্ন ‘আপনি কি চাপে? মানসিকভাবে ঠিক আছেন? তামিমের চিবুক সোজা করা জবাব, ‘না না মোটেই চাপে নেই। আমাকে যখন সহ অধিনায়ক করা হয়েছে, তখন থেকেই একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে। আমি জানি, বুঝি কোন কারণে এক ছোট সময়ের জন্য হলেও অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই মানসিক প্রস্তুুতি সব সময়ই থাকে। কাজেই বাড়তি চাপ অনুভব বা বোধ করা কিছুই নেই।’

কথা বলার সময় তার মুখ ও শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল, তিনি মনের দিক থেকে খানিকটা প্রস্তুতও ছিলেন। তাইতো চটপট ব্যাখ্যা, ‘আমার দায়িত্ব দুটা। এক ব্যাটিংটা ঠিক মত করা। দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখা। আর এখন মাঠে দল পরিচালনা। কাজেই বাড়তি চাপের কিছু নেই। আমি মনের দিক থেকে তৈরি। জানি কাজটা সহজ হবে না। চ্যালেঞ্জিং হবে। কয়েকজন অতি নির্ভরশীল পারফরমার নেই। কিন্তু কিছু করার নেই। ইনজুরির ওপর কারো হাতও নেই। আমার চেষ্টা থাকবে , দলকে যতটা সম্ভব চাঙ্গা রাখা। এবং মাঠে সামর্থের সেরাটা উপহার দেয়ায় অনুপ্রাণিত করা।’

মুশফিক, কায়েসকে ছাড়াই শেষ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৫৯ রান। দলের ৫৯৫ রানের প্রথম ইনিংসে তা ছিল দারুণ যোগ। সেখানে পরের টেস্ট ম্যাচে?

কিছুই দিতে পারছেন না মুশফিকুর রহিম। কারণ বুড়ো আঙ্গুলের আঘাতের কারণে অধিনায়কই যে নামতে পারছেন না মাঠে।

ক্রাইস্টচার্চে তাকে ছাড়াই শুক্রবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ টেস্ট দল। আর দ্বিতীয় টেস্টে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

২০০৭ সালের পর এই প্রথম মুশফিককে ছাড়াই টেস্টে ব্যাটিং করতে নামবে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে আসা

অন্যদিকে ইমরুল কায়েসের অভাবও ভালই অনুভব করতে হবে বাংলাদেশকে। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইমরুলের জুটি বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি বলে মনে করা হয়। সেখানে ইমরুলে বদলে ওপেনিং-এ প্রথম ব্যাট হাতে দেখা যাবে সৌম্য সরকারকে ।

ওপেনার কাম বদলি উইকেট কিপার ইমরুল কায়েস প্রথম টেস্টে রান নেয়ার সময় উইকেট বাঁচাতে গিয়ে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আর উঠে দাঁড়াতেই পারেন নি। পরে স্ট্রেচারে করে ফেরত যেতে হয় মাঠের বাইরে।

মুশফিক নেই। তার বদলে উইকেট আগলানোর দায়িত্ব পড়ে যার হাতে সেই ইমরুল কায়েসও নেই। তাহলে উইকেটে কে থাকবেন?
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২য় টেস্টে উইকেটকীপার হিসেবে অভিষেক হচ্ছে নুরুল হাসান সোহানের।

ওয়ানডে সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়ে আশা জাগিয়েছিল সফরকারীরা। তবে শেষপর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্টে পরাজয়ই মেনে নিতে হয়। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা দাড়াতে না পারায় ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই সফরে এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। আর শেষ টেস্টে সফরকারীরা মাঠে নামছে ইনজুরি আক্রান্ত একটি দল নিয়ে

ছিটকে গেলেন মুমিনুলও, দলে মুস্তাফিজ

ইনজুরি নামক মড়কের কারণে দলীয় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এবং ওপেনার ইমরুল কায়েসের ছিটকে পড়ার খবরটা জানা গিয়েছিল আগেই।

এবার সেই ইনজুরির মিছিলে যোগ হয়েছেন মুমিনুল হকও।পাঁজরের চোটের কারণে ক্রাইস্টচার্চে খেলার জন্য মুমিনুল প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ফিজিও ডেন কনওয়ে।

ক্রাইস্টচার্চে দলীয় অনুশীলনের আগে মুশফিক এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইমরুলের ইনজুরির কথা জানিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। আর অনুশীলন শেষে দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুমিনুলের ফিটনেসহীনতার কথা জানালেন ফিজিও।

মুমিনুলের ইনজুরি নিয়ে ডেন কনওয়ে জানান, ‘পাঁজরের ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন মুমিনুল।তার এক্সরে রিপোর্ট ভালোই এসেছে।তবে আজ অনুশীলনের সময় সে ঠিকমতো নাড়াচাড়া করতে পারেনি।সে এই টেস্টের জন্য প্রস্তুত নয়।’

মুমিনুলের ইনজুরির জন্য স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। তবে ব্যাটসম্যান মুমিনুলের পরিবর্তে একজন বাড়তি বোলারের কথা না ভেবে হয়তো শান্তকেই একাদশে নিতে পারেন নির্বাচকরা।

 

টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় সোহান

নিউজিল্যান্ড সফরে মুশফিকের ইনজুরিটাই কপাল খুলে দিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের। ফলে সীমিত ওভারের পর টেস্টেও অভিষেক হতে যাচ্ছে উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যানের।

ওয়েলিংটনে প্রথম ওয়ানডেতে হ্যামস্ট্রিংয়েরে চোটে ছিঁটকে পড়েন মুশফিক। ফিটনেস ফিরে পেতে গিয়ে সীমিত ওভারের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারেননি। তার ইনজুরির সুযোগে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়ে যায় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের। শেষ দুই ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ২৪ ও ৪৪ রান করেছিলেন তিনি।

সীমিত ওভারের পর এবার প্রথম টেস্টে বুড়ো আঙুলের চোটের কারণে ৩-৪ সপ্তাহের জন্য ছিঁটকে পড়েছেন মুশফিক। ফলে ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলছেন না টাইগারদের নিয়মিত এই অধিনায়ক। আর তাতেই ভাগ্য সুপ্রসন্ন হল সোহানের।

সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাট করার সময় ওয়েগনারের বলে বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল আর ডান হাতের তর্জনীতে চোট পান মুশফিক। এরপরও খেলেন ১৫৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে বল লাগে হেলমেটে। সেটা সমস্যা করেনি, সেরে উঠেছে তর্জনীও। বাঁধ সাধল বুড়ো আঙুল। দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিককে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৯ ম্যাচে ৫টি সেঞ্চুরি ও ১৩টি হাফ সেঞ্চুরিতে ২ হাজার ৪২৫ রান রয়েছে নুরুল হাসান সোহানের। যেখানে তার গড় ৪১.৮১। জাতীয় লিগে নিজের সবশেষ ম্যাচটিতেও দারুণ এক অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছিলেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। এবার ক্রাইস্টাচার্চ টেস্টের অভিষেকে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের ইনজুরিতে তার ওপর নজর থাকবে টাইগার সমর্থকদের।

 

 

মুশফিকের পরিবর্তে সোহান, ইমরুলের জায়গায় সৌম্য

ইনজুরির কারণে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ও শেষে টেস্টে তার পরিবর্তে খেলবেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।

মুশফিকের মতো ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টে ইনজুরিতে পড়েন ওপেনিং ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে দর্শকের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকেও। মুশফিকের ইনজুরির কারণে কপাল খুলে গেল সোহানের। ফলে টেস্টেও স্বপ্নের অভিষেক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

 

ওয়েলিংটনে হেলমেটে বল লাগলেও মুশফিকের মাথায় বা ঘাড়ে সমস্যা নেই। বুড়ো আঙুলের চোটই ছিটকে দিয়েছে টেস্ট অধিনায়ককে। ফিটনেস ফিরে পেতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে তার।

 

এদিকে, প্রথম টেস্টে মুশফিকের ইনজুরির পর প্রায় দেড়শ ওভার কিপিং করেছিলেন ইমরুল। এরপরই নামেন ব্যাটিংয়ে। কিন্তু একটি দ্রুত রান নেওয়ার চেষ্টায় ডাইভ নিয়ে টান লাগে বাঁ উরুতে। তার সেরে উঠতে দিন দশেক সময় লাগতে পারে। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই আগামীকাল ভোরে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।
নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকের ইনজুরির কারণে ক্রাইস্টচার্চে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে ওপেনিংয়ে ভিত গড়ার পাশাপাশি এবার দলকে ঠিকমতো নেতৃত্বে দেওয়ার ভারও এবার এই সহ-অধিনায়কের কাঁধে।

ইমরুল ও মুশফিক ইনজুরিতে ভুগলেও আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের জন্য প্রস্তুত হবেন; এমনটাই প্রত্যাশা বিসিবি’র নির্বাচকদের। নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করে ভারতে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে মুখোমুখি হবে তামিম-মুশফিক-সাকিবরা।

রুবেলের কথা শুনেই রেগে গেলেন হাথুরু

নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডেই ছিলেন না রুবেল হোসেন। বিপিএলের পারফরম্যান্স দিয়ে অবশেষে জায়গা পেলেন। গেলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ক্যাম্পে। এরপর নিউজিল্যান্ড। পুরো সফরেই দলের সঙ্গে রয়েছেন। খেলতে পেরেছেন মাত্র টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন উপেক্ষিত। টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়ে তিন ম্যাচে নিলেন ৭ উইকেট।

টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স দিয়ে রুবেল নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। সবাই ভেবে নিয়েছিল, টেস্টে অনভিজ্ঞ পেস বোলিং লাইনআপের নেতৃত্ব থাকবে রুবেলের কাঁধেই। দলের মধ্যে যে তিনিই অভিজ্ঞ পেসার!

কিন্তু ওয়েলিংটনে বাংলাদেশের একাদশ দেখে সবাই অবাক। কারণ যে তিনজন পেসারকে নিয়ে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ, তার মধ্যে দু’জনেরই অভিষেক হয়েছে ওই ম্যাচে। বাকি কামরুল ইসলাম রাব্বির অভিজ্ঞতা মাত্র ২ টেস্টের। অথ্যাৎ তিন পেসারের অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে মাত্র ২ টেস্টের।

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে বাকি ঘটনা সব ইতিহাস। বাংলাদেশকে দারুণ সুযোগ তৈরি করেও লজ্জ্বার রেকর্ডের শিকার হয়ে হারতে হলো। তখন আবারও প্রশ্ন উঠলো, রুবেল হোসেন যদি একাদশে থাকতো, তাহলে কী বাংলাদেশ হারতো? নিউজিল্যান্ড সফরকালে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খুব বড় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নেই। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ম্যানেজার সাব্বির খানকে সফরের ম্যানেজার করে পাঠানো হয়েছে। দলের মুখপাত্র হলেন মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম।

একাদশ নিয়ে তাই এদের মন্তব্য করার কিছুই নেই। তারা কোনো মন্তব্য করেনও না। বক্তব্য দেয়ার জন্য যিনি সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল, সেই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকেও পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে পাওয়া গেলো দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে, অথ্যাৎ বুধবার। নানা বিষয়ই নিয়েই কথা বললেন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে।

শুরুতেই ওয়েলিংটনের বোলিং, বিশেষ করে পেস অ্যাটাক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো হাথুরুর কাছে। নিজের মত একটা ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। এরপরের প্রশ্ন ছিল তার কাছে, রুবেলকে কেন নেয়া হলো না?

এ প্রশ্ন শুনেই খানিকটা রেগে গেলেন বাংলাদেশ দলের কোচ। চোখে-মুখে বিরক্তির চাপ ফুটিয়ে তুললেন। অনেকটা খেদের সঙ্গেই জবাব দিলেন, ‘এ ব্যাপারে আপনাকে কোনো যুক্তি দেয়ার প্রয়োজন তো আমার নেই!’ রাগের মাথায় এ কথা বলে ফেলার পর স্বর একটু নরম করে বললেন, ‘দলের জন্য যা ভালো মনে হয়, আমি সেটাই করি।’

তিন অনভিজ্ঞ পেসারকে দলে নেয়ার যুক্তিটা তার আগেই দিয়েছেন তিনি। নিজেই স্বীকার করলেন, অনভিজ্ঞ তিন পেসারকে দলে নিয়েছেন। যাদের কারও কারও গত আড়াই তিন বছরও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। সে সব জেনেও হাথুরুর মন্তব্য, ‘আগের ম্যাচে আমাদের জন্য সবুজ আক্রমণ তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের যে তিন পেসার খেলেছিল, তাদের অভিজ্ঞতা মাত্র দুই টেস্টের। আপনি হয়তো দেখবেন, তাদের অনেকেই দুই, আড়াই বছর প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেনি। একজন তো তিন বছরের বেশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেনি। তবে আমার কাছে এটা কোনো অজুহাত নয়। কারণ, তাদের তিনজকেই টেস্ট খেলার জন্য তৈরি করে নেয়া হয়েছে। আমি মনে করি প্রথম ইনিংসে তিনজনই খুব ভালো বল করেছে। ১৪০টির বেশি ওভার বল করেছে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করতে পারেনি চাপের কারণে। তবে বোলারদের কারণে নয়, আমরা হেরেছি মূলতঃ বাজে ব্যাটিংয়ের কারণে।’

এরপরই এলো রুবেল প্রসঙ্গ। তার কথা শুনেই কোনো উত্তর ঠিকমত দিলেন না। বরং উত্তেজিত হলেন হাথুরু। যদিও এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ার খুব বেশি ভালো নয় রুবেলের। এর আগে মোট ২৩টি টেস্ট খেলেছেন রুবেল। উইকেট নিতে পেরেছেন মোটে ৩২টি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেলের ওপর খুব বেশি আস্থা নেই হাথুরুর। কোচের বিশ্বাস, ৫দিন খেলার মত টেম্পারমেন্ট নেই রুবেলের; কিন্তু প্রশ্ন হলো যদি টেম্পারমেন্টই না থাকে, তাহলে তাকে কেন দলের সঙ্গে রাখা হলো। দলে রাখা হয়েছে যখন তখন তাকে খেলাতে সমস্যা কোথায়?

২৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ

পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকতে চতুর্থ ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। আর এ লক্ষ্যে প্রোটিয়াদের দেওয়া ২৫২ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা আগ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগহ ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান।

এর আগে বুধবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রোটিয়া অধিনায়ক। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৮ রানে স্টেইনের উইকেট হারায় দক্ষিন-আফ্রিকা প্রমিলারা। জাহানার বলে বোল্ড হয়ে ১৪ রান করে ফিরে যেতে হয় তাকে। দলের পক্ষে সর্বচ্চো রান করেন ডুপ্রিজ। ১৫৭ বলে করে ৭৯ রান। তার এই ৭৯ রানের ইনিংসটি থেকে আসে ৬টি চারের মার।

দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বচ্চো রান করে ট্রিয়ন। ৬৪ বলে ৭ চারের সাহায্যে করে ৪৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে খাদিজাতুল কোবরা নেন সর্বচ্চো ৩ উইকেট,রুমানা আহমেদ ২টি ও জাহানারা আলম নেন ১টি  করে উইকেট।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টই বড় অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের

খারাপ সময় নাকি পেছনে ফেলে আসা সোনালি দিনগুলোই হয় অনুপ্রেরণা। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে এখন সেই সব সোনালি অতীত হাতরে বেড়াচ্ছেন টাইগার কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। অনুপ্রেরণার প্রতীক খুঁজতে গিয়ে হাতের কাছেই পেয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে হোম সিরিজ। তিনি ঐ সিরিজ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো গত বছর অক্টোবরে; চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের ঐ সিরিজের প্রথম টেস্টের বেশির ভাগ সময় ইংলিশদের সঙ্গে সমান তালে লড়েও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় পুরো ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মুশফিকের দল হারে ২২ রানে।

আর ঠিক তার পরের টেস্টে টাইগারদের অন্যরূপ। একদম বাঘের গর্জনে ঘুরে দাঁড়ানো। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে টাইগারদের উজ্জিবীত ও অনুপ্রাণিত পারফরমেন্সের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ ইংলিশদের। মাত্র দুইমাস পর এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্টেও প্রায় একই কাহিনী। বরং এবার আরও ভালো অবস্থা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া।

এখন ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের আগে ইংল্যান্ডের সাথে দ্বিতীয় ম্যাচের কথা ভেবে অনুপ্রাণিত হতে পারে টাইগাররা। মনে সাহস সঞ্চার ও ভালো খেলার রসদ পেতে ইংলিশদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের উজ্জীবিত পারফরমেন্স এবং দারুণ জয়ই হতে পারে খুব ভালো দাওয়াই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো টাইগাররা কি তা ভাবছে? কোচ হাথুরুসিংহের কথা শুনে মনে হলো খুব ভালো ভাবেই তা মাথায় আছে তাদের। কথা বার্তায় বোঝা গেল হাথুরুসিংহে ছেলেদের ঐ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে থেকে অনুপ্রেরণা নেবার কথা বলেছেন। তাই তো কণ্ঠে এমন কথা, ‘অবশ্যই আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের কথা ভেবে অনুপ্রাণিত হতে পারি। ভালো খেলেও প্রথম ম্যাচ হারার ঠিক পরের ম্যাচ কিভাবে আরও ভাল খেলে জেতা যায়? ছেলেরা এই সেদিন শেরে বাংলায় করে দেখিয়েছে। মনে রাখতে হবে, সেটা ছিল টার্নিং উইকেট। আর এখন নিউজিল্যান্ডে এসে সামলাতে হচ্ছে সিমিং কন্ডিশন। চ্যালেঞ্জ দুই জায়গায় সমান। আমি মনে করি তখন যেমন ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে ছেলেরা, এখনও পারবে।’

তা যে পারবে, প্রথম ইনিংসের দুর্দান্ত ব্যাটিং শৈলিই তার প্রমাণ। আমার বিশ্বাস, ছেলেরা যেমন নিজ মাটিতে স্পিনিং ট্র্যাকে চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সাথে উৎরে গেছে, একইভাবে এখন নিউজিল্যান্ডে এসে কিভাবে সিমিং কন্ডিশন সামলানো যায়, সেটাও তারা রপ্ত করে ফেলেছে। ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংই তার প্রমাণ।’

নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব দিয়ে হাথুরুসিংহে বলেন, দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা ইংলিশদের সঙ্গে ভালো মতই দেখিয়েছে টার্নিং উইকেটে ভালো ব্যাটিং করার পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে তাদের। আবার নিউজিল্যান্ডে এসে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সিমিং কন্ডিশনেও তারা ভালো খেলতে পারে। আর এটা যে কোন দলের জন্যই একটা বড় গুণ। কাজেই আমার কাছে স্কিল আর কন্ডিশন কোনটাই খুব বড় নয়।  আমি এর কোনটাকেই খুব বড় করে দেখতে চাই না।’

এরপর আর কিছু বলেননি টাইগার কোচ। তবে তার শরীরী অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছিল কথা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। তা হলো, নিজ দলের স্কিল আর কন্ডিশন নিয়ে মোটেই মাথা ব্যথা নেই তার। তিনি বিশ্বাস করেন, তার শিষ্যদের সামর্থ্য আছে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ভালো খেলার। তা যে আছে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংই তার প্রমাণ। দরকার শুধু সেই দ্যুতিমাখা ব্যাটিংয়ের পুনরাবৃত্তি আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

পানেসারকে বোলিং পরামর্শক নিয়োগ দিল অস্ট্রেলিয়া

আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে সাবেক ইংলিশ স্পিনার মন্টে পানেসারকে বোলিং পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই ইংলিশ অফ স্পিনার অজি স্পিনারদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদের স্পিন মোকাবেলার টেকনিক নিয়েও কাজ করবেন।

বোলিং পরামর্শক হিসেবে পানেসারকে বেছে নেওয়ার কারণ- ভারতের মাটিতে পাওয়া তার সাফল্য। ২০১২-১৩ মৌসুমে ভারতের মাটিতে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল ইংলিশরা। ওই সিরিজে পানেসার ১৭ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৫০টি টেস্ট খেলেছেন পানেসার, উইকেট ১৬৭টি। ২৬ ওয়ানডেতে উইকেট ২৪টি আর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে উইকেট ২টি।

বেসিন রিজার্ভের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংটাই চান হাথুরুসিংহে

যে পথে হাঁটলে সাফল্যের নাগাল পাওয়া যাবে, সে পথটা ঠিকই খুঁজে পাচ্ছে তার শিষ্যরা। কিন্তু হয় কিছু দূর, না হয় অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছে। পুরো সফরেই এ অবস্থা। অতি বড় বাংলাদেশ বিরোধীও মানছেন, এ সফরে অন্তত একটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে পারতো মাশরাফির দল। কিন্তু জেতার সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেনি। একই অবস্থা টেস্টেও।

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে জয়ের মত অবস্থা তৈরি না হলেও ড্র করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল মুশফিক বাহিনীর সামনে। প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ার পর দ্বিতীয়বার স্কোরলাইন চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসাই হয়েছে কাল। অথচ একটু ভেবে চিন্তে আর রয়ে-সয়ে ঠান্ডা মাথায় বেশি সময় উইকেটে কাটানোর লক্ষ্যে ব্যাট করলে অনায়াসে প্রথম টেস্ট ড্র করা যেত। কিন্তু তার বদলে লক্ষ্য ও দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী ঘটায় হারই সঙ্গী থেকেছে। শেষটা ভালো না হওয়ায় প্রথম ইনিংসের উজ্জ্বল ব্যাটিং আর আকাশ ছোঁয়া অর্জন অনেকটাই ঢাকা পরে গেছে।

তারপরও অর্জন তো অর্জনই। শেষ পরিনতি যাই হোক না কেন, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঘাসের উইকেটে, প্রচণ্ড বাতাস ও শীতের মধ্যে ৫৯৫ রান করা এবং এক জুটিতে ৩৫৯ রান তোলা ছোটখাট কৃতিত্ব নয়। অনেক বড় অর্জন। তাই দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে ঘুরে ফিরে চলে আসছে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যের কথা।

কোচ হাথুরুসিংহেও মনেও গেঁথে আছে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ- অ্যাপ্লিকেশন। তাইতো ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টের আগে তার একটাই আশা ব্যাটিংটা যেন এমনই হয়। আজ দুপুরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে শেষ টেস্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচের কথা চলে আসে। টাইগার কোচ কায়মনে চাচ্ছেন ওই অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশনটার পুনরাবৃত্তি।

তাই তো মুখে এমন কথা ‘আমরা বেসিন রিজার্ভের ইতিবাচক ও ভালো দিকগুলোর কথা ভাবছি। আমার মনে হয় ঐ ম্যাচের ভালো দিকগুলো আমরা নিতে পারি। ভুলে গেলে চলবে না বেসিন রিজার্ভে আমরা প্রথম চারদিন এগিয়ে ছিলাম। চতুর্থ দিনের শেষ আধঘণ্টা আর শেষ দিনটুকুই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। না হয় বাকি সময় আমাদেরই নিয়ন্ত্রণ ছিল। কাজেই আমি চাই অ্যাপ্রোচটা ঠিক প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসের মত যেন হয়।’

হাথুরুসিংহের ধারণা, ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের পিচও বেসিন রিজার্ভের মতই হবে। তাই তার আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ আমরা ওয়েলিংটনে প্রথম ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করেছিলাম। আমার মনে হয় ক্রাইস্টচার্চের উইকেটও তেমনি হবে। এখানেও ঠিক বেসিন রিজার্ভের অ্যাপ্রোচটাই আশা করবো। যদি আগে ব্যাট করতে পারি তাহলে আমাদের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ঠিক তেমনই থাকবে। তবে একটা কথা, আমরা যদি এমন সুন্দর আর সাজানো শুরু করতে পারি, তাহলে এবার লক্ষ্য থাকবে যে করেই হোক শেষটা ভালো করা। আমাদের লক্ষ্য, পরিকল্পনা কিংবা প্রত্যাশা যাই বলুন না কেন, তাহলো প্রথম টেস্টের চেয়ে ভালো শেষ করা।’

লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। বার বার আশা ভঙ্গের বেদনায় ডুবতে হচ্ছে। তারপরও নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন এ শ্রীলঙ্কান। মুখের স্মিথ হাসিটা ঠিকই আছে। এর ওর সঙ্গে কথা বলছেন হাসিমুখেই। কাল জানিয়ে দিয়েছিলেন বুধবার কথা হবে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে। সেই মতো আজ হ্যাগলি ওভালে নিজ ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে বেশ অনেকটা সময় কথা বললেন।

অনেক কথার ভিড়ে বেসিন রিজার্ভের সেই দুর্দান্ত ব্যাটিংটার কথাই ঘুরে ফিরে উচ্চারণ টাইগার কোচের কথায়। তিনি একা নন, গোটা বাংলাদেশ ক্রাইস্টচার্চেও তামিম, মুমিনুল, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরদের কাছ থেকে ঠিক অমন উজ্জ্বল আর দায়িত্বসচেতন ব্যাটিংয়ের আশায় উন্মুখ। টাইগাররা কি সে আশা পূরন করতে পারবেন?

গিনেজ বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষা রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেটারের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশটির কোনো নাম নেই। আইসিসির সহযোগি দেশের তালিকায় তো নেই’ই। এর পররের সারির দেশগুলোতেও দেশটির নাম খুঁজে পাওয়া দায়। তবে আফ্রিকান দেশ রুয়ান্ডা কিন্তু এক জায়গায় এগিয়ে রয়েছে। দেশটির এক ক্রিকেটার টানা ৫১ ঘণ্টা নেটে ব্যাটিং করে ইতোমধ্যেই গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে নাম তুলে নিয়েছেন। এরিক ডুসিঙ্গিজিমানা নামে ওই পুরুষ ক্রিকেটারের পর এবার দেশটির আরেক নারী ক্রিকেটার গিনেজ বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষায়।

ক্যাথিয়া ওয়ামাহোরো নামে রুয়ান্ডা চ্যারিটি ক্রিকেট ক্লাবের ওই নারী ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক সবচেয়ে বেশি সময় ধরে টানা ব্যাটিং করার রেকর্ড গড়ে নাম তুলতে চান গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে। এ জন্য সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন ওই নারী। দীর্ঘ সময় ধরে টানা ব্যাটিং করে গিনেজ বুকে নাম তোলার জন্য কোনো নারী ক্রিকেটারের এটাই প্রথম প্রয়াস।

আয়োজকদের বরাত দিয়ে অল আফ্রিকা নিউজ জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সী ক্যাথিয়া আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি গিনেজ বুকে নাম তোলার জন্য ব্যাটিং শুরু করবেন। তার প্রাথমিক লক্ষ্য টানা ২৬ ঘণ্টা নেটে ব্যাটিং করে যাওয়া। আমাহোরো ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে ক্যাথিয়ার গিনেজ বুকে নাম লেখানো ব্যাটিংয়ের। যদি তিনি এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্বের জন্য গিনেজ বুকে নাম লিখিয়ে ফেলবেন এই রুয়ান্ডান।

টানা ২৬ ঘণ্টা ক্যাথিয়ার বিপক্ষে বল করার জন্য চ্যারিটি ক্রিকেট ক্লাব অনেকগুলো পুরুষ এবং মহিলা বোলার ঠিক করে রেখেছে। চ্যারিটি ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন রেকর্ড গড়ার জন্য। তিনি নিজে খুব আত্মবিশ্বাসী রেকর্ড গড়ার জন্য।

ক্যাথিয়া ওয়ামাহোরো বলেন, ‘আমি এ জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রতিদিনই ৮ ঘণ্টা করে অনুশীলন করছি। ২৬ ঘণ্টা টানা ব্যাটিং করার জন্য সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছি।’

বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল টাইগারদের অনুশীলন

`ইংলিশ উইমেন আর ইংলিশ ওয়েদার` এ দুটোই নাকি রহস্যময়ী। যখন তখন রূপ ও রং বদলায়। যাদের সম্পর্কে নিশ্চিত করেও নাকি কিছু বলা যায়না। এই ভালো তো এই খারাপ। নিউজিল্যান্ডের নারীদের নিয়ে এমন প্রবচন নেই। তবে আবহাওয়া নিয়ে আছে। পাহাড়-সাগর ঘেরা ও সবুজ গাছপালার এ দ্বীপ দেশের আবাহওয়া ক্ষণে ক্ষণেই বদলায়।

আজ রোদ ঝলমলে দিন। কিন্তু তাই বলে কালও যে মেঘমুক্ত নীল আকাশের দেখা মিলবে এমন না। আবহাওয়ার রূপ প্রতিনিয়ত বদলায়। একটানা দুই বা তিনদিন টানা রোদ ঝলমলে দিনের দেখা মেলেনি এখনো। নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মুঙ্গানিয়া, ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চ সব শহরই এক।

আজ আকাশ পরিষ্কারতো কাল আকাশে মেঘের ঘনঘটা। ক্রাইস্টচার্চে এসে প্রথম দিন দেখা মিললো রোদ ঝলমলে দিনের। রাত শেষ হয়ে বুধবার ভোর থেকেই আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আর বুধবার সকালে বৃষ্টির কবলে বাংলাদেশ টিম।

পূর্ব নির্ধারিরত সময় সকাল ১০ টায় প্র্যাকটিস শুরু ভেবে হোটেল ছেড়ে হ্যাগলে ওভালে চলে যাওয়া। কিন্তু বৃষ্টির খপ্পরে পড়ে হোটেলে ফিরে আসা।  আবার স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটে আবার মাঠে যাওয়া। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। অনুশীলন আর হয়নি। ঝির ঝিরে বৃষ্টির কারণে নেট হয়নি। অল্প ক`জন ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন।

বৃষ্টিতে অনুশীলন করা সম্ভব নয়। কিছু একটা তো করতে হবে। তাই কোচ হাথুরুসিংহে টিম মিটিংটা হ্যাগলে ওভালের ড্রেসিং রুমেই সেড়ে ফেললেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ টিম মিটিং শেষে বাংলাদেশ হেড কোচ এ সিরিজ কভার করতে আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। তারপর সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত ইনডোরে ব্যাটিং করতে যান।

ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকায় ৫ বাংলাদেশি

ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ২০১৬ সালের বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকা প্রকাশ করেছে। আর এতে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচজন খেলোয়াড়। তারা হলেন তামিম ইকবাল, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান। ১২ বিভাগে ২০১৬ সালের সেরা ক্রিকেটারদের পুরষ্কৃত করবে ওয়েবসাইটটি।

সেরা টেস্ট ব্যাটিং পারফরম্যান্সে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল খান। গত বছর মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাকিয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১৪৭ বলে ১০৪ রান করেছিলেন তিনি। তার সঙ্গে এই বিভাগে রয়েছে বেন স্টোকস, টেমবা বাভুমার, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মিসবাহ-উল-হক,ইউনিস খান, কুসল মেন্ডিস, জেপি ডুমিনি, ভিরাট কোহলি ও পিটার হ্যান্ডসকম।

টেস্টের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের তালিকাতে রয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের নাম। টেস্টে সেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি বর্ষসেরা অভিষিক্ত ক্রিকেটারদের পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেরা বোলিংয়ের দিক থেকে মিরপুর টেস্টে মিরাজের ৭৭ রানের ৬ উইকেট মনোনয়ন পেয়েছে এ বিভাগে। তার সাথে এ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে স্টুয়ার্ট ব্রড, ইয়াসির শাহ, রঙ্গনা হেরাথ, পেরেরা, অশ্বিন, ফিলান্ডার, রাবাদা, টিম সাউদি, জাদেজা।

এদিকে টি-টোয়েন্টিতে সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্সেও বাংলাদেশের দুইজন মনোনয়ন পেয়েছে। গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২২ রানের ইনিংস ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাব্বির রহমানের ৮০ রানের ইনিংসটি রয়েছে। এছাড়াও  বাংলাদেশের এই দুই জনের সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইল, জো রুট, লেন্ডল সিমন্স, কার্লোস ব্রাথওয়েট, মারলন স্যামুয়েলস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ে মনোনয়ন পেয়েছে কাটার মাস্টার খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে  নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেটের শিকারটি মনোনয়ন পেয়েছেন। তার সাথে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির, কসুন রাজিতা, মিশেল সান্টনার, অশ্বিন, জেমস ফকনার, ক্রিস জর্দান, ডোয়াইন ব্রাভো ও ইমাদ ওয়াসিম মনোনয়নের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

মুশফিক-তামিম-সাকিবরা এখন ক্রাইস্টচার্চে

যেখান থেকে শুরু নিউজিল্যান্ড সফর, ঘুরে আবার সেখানেই ফিরে আসা। গত ২৬ ডিসেম্বর এই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে হয়েছিল প্রথম ওয়ানডে। তারও আগে অস্ট্রেলিয়ায় ৯/১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে সরাসরি এই শহরেই প্রথম এসেছিল মাশরাফির দল।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েয়েন্টি সিরিজ ও প্রথম টেস্ট শেষে খেলতে নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মঙ্গানুই এবং ওয়েলিংটন হয়ে আবার ক্রাইস্টচার্চে ফিরে আসা। আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে এই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালেই হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

সে ম্যাচ খেলতে আজ দুপুরেই ক্রাইস্টচার্চ এসে পৌঁছেছে মুশফিক বাহিনী। স্থানীয় সময় বেলা সোয়া একটার দিকে জাতীয় দল ক্রাইস্টচার্চ পৌঁছায়। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বেসিন রিজার্ভের সবুজ ঘাসের উইকেট কতই না হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। এমন সবুজ উইকেটে কী করবেন টাইগাররা?

তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল নানা সংশয়-সন্দেহ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিচে আর তত সবুজ ঘাস ছিল না। বেশির ভাগই ছেটে ফেলা হয়। তারপরও যতটা ছিল, সেটাও কম না। বাংলাদেশের কোনো উইকেটে অত ঘাস থাকে না। এরকম কচি সবুজ ঘাসের উইকেট আর দমকা বাতাস ও কনকনে ঠাণ্ডা- সব মিলে প্রতিকূলতা ছিল যথেষ্ঠ। কিন্তু  তামিম, মুমিনুল, সাকিব, মুশফিক ও সাব্বিররা তা বেশ ভালোই মোকাবিলা করেছিলেন।

সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহীম ওয়েলিংটনে অনেক সম্ভাবনার প্রদীপ জ্বেলেছিলেন। তাদের রেকর্ড ৩৫৯ রানের পার্টনারশিপে ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর গড়ে ওঠে। কিন্তু ঐ রান পাহাড় গড়াই সার। শেষ পর্যন্ত মাথা আর উঁচু থাকেনি।

চতুর্থ দিন শেষ ঘণ্টা আর গতকাল শেষ দিন এক সেশন- এই মোট দুই সেশনের আলগা ও দায়িত্বহীন ব্যাটিং এবং অধিনায়ক মুশফিকের মাথার ইনজুরি আর ইমরুিল কায়েসের উরুতে টান পড়া- সব মিলে পরাজয় পেছন থেকে এসে কালিমা লেপে দেয়।

মোদ্দাকথা, ব্যক্তিগত আর দলগত রেকর্ড গড়ে প্রথম সাড়ে তিন দিন নিউজিল্যান্ডের চেয়ে মজবুত অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়া। শুধু হারাই নয়। রেকর্ড গড়ে হার। টেস্ট ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ১৪০ বছরের ইতিহাসে ১২২ বছর পর কোনো দল প্রথম ইনিংসে ৬০০ রানের দোরগোড়ায় (৫৯৫) পৌঁছেও ম্যাচ হারলো।

শুনতে কানে লাগবে। কিন্তু নিষ্ঠুর সত্য এই যে, ওই সম্ভাবনার ম্যাচের করুণ পরিণতি অবশ্যই পুরো দলের গায়ে ঘাঁয়ের মতো লেগে আছে। তার সাথে ইনজুরি সমস্যা তো আছেই। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ব্যথা, ইমরুল কায়েসের উরুর ইনজুরির সাথে মমিনুলের বুকের পাজরে ব্যথাও চিন্তার কারণ।

এই সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ কাজ না। দেখা যাক, ক্রাইস্টচার্চে সে কঠিন কাজটা করতে পারে কিনা মুশফিকের দল?

জাতীয় ব্লাইন্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কক্সবাজার

জাতীয় ব্লাইন্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কক্সবাজার ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল। চট্টগ্রাম এম. এ. আজিজ স্টেডিয়ামে সোমবার অনুষ্ঠিত আসরটির ফাইনালে চট্টগ্রাম ব্লাউন্ড ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে চট্টগ্রাম। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা ১৬২ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান সংগ্রহ করেন আরিফ। ১৬৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ ব্লাইন্ড ক্রিকেট দল ১৮ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে।

কক্সবাজারের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৬ রান সংগ্রহ করেন আবদুল্লাহ জুবায়ের। ৭ উইকেটে জয় লাভ করে কক্সবাজার দল। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী মো. আরিফ।

চ্যাম্পিয়ন দল কক্সবাজারের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি তুলে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এ সময় অতিথি ছিলেন ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের সিনিয়র সভাপতি চট্টগ্রাম ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের সভাপতি লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্রিকেট কাউন্সিলের পরিচালক ও কক্সবাজার ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের সভাপতি এম.এম সিরাজুল ইসলাম।

আরো উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সমন্বয়কারী মো. হাফিজুর রহমান, ক্রিকেট কাউন্সিল এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দ কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. তাইজুদ্দিন ও কোচ সানোয়ার আহমদ।

মুশফিক অনেকটাই ভালো : ইমরুল-মুমিনুলের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান

মাথার আঘাত বলে কথা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকে ওয়েলিংটন সদর হাসপাতাল থেকে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে রিলিজ দিলেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের কথা বলে দেয়া হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্টও অধিনায়কের দিকে বিশেষ নজর রেখেছে।

কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া আছে। কিন্তু আশা করা যাচ্ছে, তার আর দরকার হবে না। মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম দুপুরে ক্রাইস্টচার্চ পৌঁছে জানান, মুশফিক সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ভালোই আছে। দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথে। এখন আর কোনো রকম সমস্যা নেই। সবার সাথে কথা বলছে।

এদিকে অধিনায়ক দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথে হাঁটলেও বাকি দু`জন মানে- ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হকের অসুস্থতা কাটেনি এখনো। টাইগাররা ওয়েলিংটন থেকে ক্রাইস্টচার্চ পৌঁছলেও ইনজুরি তাদের পিছু ছাড়েনি। সাথে সাথেই আছে।
ইমরুলের উরুর সমস্যা কমেনি। আবার মুমিনুলের বুকের পাজরের ব্যথাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

তাদের সত্যিকার সমস্যা খুটিয়ে দেখতে ব্যতিব্যস্ত ফিজিও ডিন কনওয়ে। খালি চোখে সত্যিকার সমস্যা নিরুপণ করা কঠিন। তাই অনেকটা এমআরআইয়ের আদলে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করা হয়েছে দুজনার। ম্যানেজার সাব্বির খান ও ফিজিও ডিন কনওয়ে ওয়েলিংটন থেকে বিমান ভ্রমণের পর টিম হোটেলে ঢুকে চেক ইন করে বিশ্রামের ফুরসত পাননি।

দুপুরের খাবার খেয়ে ইমরুল ও মুমিনুলকে নিয়ে ছুটতে হয়েছে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করতে। জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপে ম্যানেজার সাব্বির খান ইমরুল-মুমিনুলের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করার কথা জানান। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা) ইমরুল ও মুমিনুলের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান শুরু হয়।

ক্রাইস্টচার্চে রোদের কড়া ঝাঁঝ!

ওয়েলিংটন বিমানবন্দরে নামার মিনিট পাঁচেক পরই এক প্রবাসী বাঙালির কাছ থেকে জানা হলো, ক্রাইস্টচার্চের আবহাওয়া এখন খানিক ভিন্ন। ভিন্ন মানে? যতগুলো শহরে খেলা হয়েছে, তার একটার সাথেও বর্তমান ক্রাইস্টচার্চের আবহাওয়ার তেমন মিল নেই।

নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মঙ্গানুই এবং ওয়েলিংটনের তুলনায় তাপমাত্রা বেশি। শুধু তাই নয়। রোদের ঝাঁঝও বেশি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার আগে হ্যাগলি ওভালের আশপাশে হেঁটে টের পাওয়া গেল রোদের ঝাঁঝ। বাংলাদেশে কার্তিক মাসের আবহাওয়ার কথা ভাবুন।

একটু ভেজা ভেজা বাতাস। খানিক শীতল আবহাওয়া। কিন্তু মেঘমুক্ত নীল আকাশ। আর ঝাঁঝাঁলো রোদ। একদম মুখে গিয়ে লাগে। ক্রাইস্ট চার্চেও ঠিক তাই। তাপমাত্রাও নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মঙ্গানুই এবং ওয়েলিংটনের চেয়ে অন্তত ৪/৫ সেলসিয়াস বেশি; ২৫ সেলসিয়াস।

একদম মেঘমুক্ত নীল আকাশ। এক চিলতে মেঘের অস্তিত্ব নেই। ওয়েলিংটনের সেই ‘পাগলা হাওয়াও’ নেই। বাতাস বইছে। ওয়েলিংটনের মতো অত জোরে নয়। আবার বাংলাদেশে যে শীতকালে মৃদু বাতাস বয়, তত আস্তেও না। নিউজিল্যান্ডের মতোই।

তারপরও অন্যান্য শহরের তুলনায় ক্রাইস্টচার্চের বর্তমান আবহাওয়া অনেকটাই বাংলাদেশের মতো। ঠাণ্ডা। বাতাস ও রোদ-সব কিছুই সহনীয়। ক্রাইস্টচার্চেও ঠিক তা-ই। সকাল থেকে বেলা গড়ানোর সাথে সাথে রোদের ঝাঁঝ বাড়তে থাকে।

সূর্য্য মাথার ওপরে আসতেই রোদের কড়া তেজে খোলা আকাশের নীচে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কষ্ট। নিউজিল্যান্ডের অন্য শহরের সাথে এখানেই মূল পার্থক্য ক্রাইস্টচার্চের। ওয়েলিংটন-মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে যখন রোদ উঠে তখন বেশ ভালোভাবেই সূর্য কিরণ পাওয়া যায়। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের মতো কড়া তেজ নেই কোথাও।

ইংল্যান্ড থেকে শিক্ষা নিয়েই কোহলির তাণ্ডব

লক্ষ্য ৩৫১ রান। এই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৬৩ রানে নেই ৪ উইকেট। টপ-অর্ডারে খেলতে নামা শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি দ্রুত প্যাভিলিয়নের পথ ধরলেন টিম ইন্ডিয়াকে বিপদের মুখে রেখেই।

তবে সদ্য অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া বিরাট কোহলি যে সে কাজ করতে পারেন না! আর সেটা করলেনও না। ভারতকে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েই ফিরলেন সাজঘরে। শেষের দিকে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

কোহলি একপ্রান্ত আগলে রাখলেন। বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। এই মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে সামাল দিলেন?  এবং খেলছেন ১২২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস? তার এই ইনিংসে ভর করেই ইংল্যান্ডকে হারাতে সক্ষম হয় ভারত। তাই জয় দিয়ে ওয়ানডেতে স্থায়ী অধিনায়কত্বের শুভসূচনা করলেন কোহালি।

বিপর্যয়ে ভেঙে না পড়ে; বরং বিপর্যয়ে হাল ধলেন কোহলি। পরবর্তীতে জানালেন, ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের থেকে শিক্ষা নিয়েই ব্যাটিংয়ের ধরনটা তাৎক্ষণিক পরিবর্তন করে ফেলেন। যা সাফল্যের নিয়ামক হিসেবে ধরা দিয়েছে কোহলিকে। ভারতও খুঁজে পেয়েছে দিশা।

কোহলির ভাষায়, ‘টেকনিক একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। (ইংল্যান্ডের) অনেক খেলোয়াড়েরই টেকনিক ভালো না থাকলেও রান করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে মাইন্ডসেট বড় একটা বিষয় হিসেবে কাজ করেছে। আমি ভেবেছিলাম, ইনসুইং বেশি আসবে। কোমরটা বারবার ঘুরিয়েছিলাম। ইনসুইং মোকাবেলা করেছি। আউটসুইংগুলো এড়িয়ে গেছি।’

এমন ম্যাচেও হারলো বাংলাদেশ!

প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রান। সাকিবের ২১৭ ও মুশফিকের ১৫৯ রান। কে জানতো এমন রানের সংগ্রহ পেয়েও হারতে হবে বাংলাদেশকে। চিরাচরিত দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতায় এমনটাই হয়েছে ওয়েলিংটন টেস্টে। মাত্র ১৬০ রানেই শেষ হয় তাদের ইনিংস। ফলে প্রথম দল হিসেবে প্রথম ইনিংসে এতো রান করার পর হেরে লজ্জার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা। আর সাত উইকেটের বড় জয় নিয়েই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের দেওয়া ২১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে নিউজিল্যান্ড। ৩২ রানের ওপেনিং জুটি পায় তারা। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাতে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচের দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। জিত রাভালকে নিজের বলে নিজে তালুবন্দি করার পর টম লাথামকে বোল্ড করেন মিরাজ।

এরপর দারুণ এক জুটি গড়েন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান রস টেলর ও অধিনায়ক উইলিয়ামসন। ১৬৩ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন টেস্ট বাঁচানোর স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন এ দুই ব্যাটসম্যান। কিউইদের এ জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত শুভাশিস। দ্বিতীয় স্লিপে মিরাজের তালুবন্দি হয়ে আউট হন টেলর। এরপর বাকি কাজ হেনরি নিকোলসকে নিয়ে শেষ করেন উইলিয়ামসন।

শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামসন। ৯০ বলে মোকাবেলা করে ১৫টি চারের সাহায্যে ১০৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এছাড়া ৭৭ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করেন টেলর। বাংলাদেশের পক্ষে ৬৬ রানে ২টি উইকেট নেন মিরাজ। এছাড়া ১টি উইকেট পান শুভাশিস।

এর আগে সোমবার সকালে আগের দিনের তিন উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। সান্টনারের বলে মিডঅনে উইলিয়ামসনের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে খালি হাতেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। সাকিবের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হকও। দলীয় ৯৪ রানে ওয়াগনারের বলে গ্র্যান্ডহোমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

তবে বাংলাদেশ সবচেয়ে আঘাতটি পায় অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের ইনজুরিতে। দলীয় ১১৪ টিম সাউদির বাউন্সার বসে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন মুশফিক। তবে কোনাকুনি ডেলিভারি গিয়ে আঘাত হানে তার মাথার পিছনের অংশে। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আঘাত গুরুতর না হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ফিরে ড্রেসিং রুমে অবস্থান করছেন তিনি।

একপ্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করেন সাব্বির রহমান। সপ্তম উইকেট হিসেবে কামরুল ইসলাম রাব্বির আউট হওয়ার পর আগের দিন ইনজুরিতে পরা ইমরুল কায়েস আবার ব্যাটিংয়ে ফিরে আসেন। তবে দলীয় ১৫২ রানে সাব্বির বিদায় নিলে কার্যত শেষ হয়ে বাংলাদেশের টেস্ট বাঁচানোর আশা। এরপর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শুভাশিস বিদায় নিলে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন সাব্বির। আর ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন ইমরুল কায়েস। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৫৩ রানে ৩টি উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। ২টি করে উইকেট পান ওয়েগনার ও সেন্টনার। এছাড়া ১টি উইকেট পেয়েছেন সাউদি।

বড় স্কোর গড়েও হারের বিশ্ব রেকর্ড বাংলাদেশের

ওয়ানডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। আজকাল বিজ্ঞাপন, বাণিজ্য ও বিপনের মিশেলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটও পেয়েছে বেশ দর্শকপ্রিয়তা। কিন্তু হারায়নি টেস্ট ক্রিকেটের ঔজ্জ্বল্য। চিরায়ত সৌন্দর্য্য ও ঐতিহ্য নিয়ে ঠিক টিকে আছে টেস্ট ক্রিকেট। পাঁচদিনের খেলা। পরতে পরতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মত উত্তেজনা, আকর্ষণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়তো নেই। টেস্টের সৌন্দর্য্য। ভিন্ন। একেক সেশনে একেক রকম চালচিত্র। কখনো শীতল। আবার কখনো উষ্ণ। ওঠা নামার পালাও অনেক বেশি।

মোদ্দা কথা সীমিত ওভারের খেলার তুলনায় পরিধি, আকার ও দীর্ঘ পরিসরের খেলা বলে টেস্টে ঘটনা প্রবাহও অনেক বেশি। তাই পৃথিবীর তাবৎ খেলার তুলনায় টেস্ট ম্যাচের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাটাঘাটি, কথা বার্তা, আলোচনা-পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও হয় অনেক বেশি। সেই আলোকেই বলা টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড নিয়ে যত কথা বার্তা হয় এবং আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়, অন্য কোন খেলার অন্য কোন ফরম্যাট নিয়ে তা হয় না। বলা যায় টেস্ট ক্রিকেটের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য তার রেকর্ডের পাতায়। তার পরিসংখ্যানে।

টেস্টের এই পরিসংখ্যান ঘেটেই বেড়িয়ে আসলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোনরকম ভনিতা না করেই বলে দেয়া ভালো, এ তথ্যটা বাংলাদেশ দলের জন্য মোটেই কৃতিত্বের নয়। বরং চরম ব্যর্থতার। গ্লানিরও।

টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের বিরলতম ঘটনার জন্ম হলো আজ ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে। যে মাঠে মাত্র দু`দিন আগে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়া। পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিমের ৩৫৯ রানের বিশাল রেকর্ড গড়ে শুধু নিজ দেশের টেস্টে সবচেয়ে বড় পার্টনারশিপের রেকর্ড গড়েননি। ঐ জুটিতে ৩০০ পেড়িয়ে যেতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে যে কোন উইকেটে সবচেয়ে বড় জুটিরও মালিক বনে যান সাকিব-মুশফিক।

সেই বেসিন রিজার্ভে অবশেষে ব্যর্থতার এক নতুন ইতিহাসেরও জন্ম হলো। সে ব্যর্থতার স্রষ্টাও টাইগাররা। এ মাঠে বাংলাদেশ শুধু রান পাহাড় গড়ে হারেনি। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র দল হিসেবে ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর গড়ে হারা প্রথম দলও হলো বাংলাদেশ। এ দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোন দলের ৫৯৫ রানের হিমালয় সমান স্কোর নিয়েও হারের রেকর্ড ছিল না।

আজ ১৬ জানুয়ারী সে ব্যর্থতার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলো মুশফিকের দল। প্রথম দল হিসেবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬০০ রানের  দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারের তেঁতো স্বাদ নিলো তামিম, ইমরুল, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে টেস্টের প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ৫৮৬ রান করে ম্যাচ হারের রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার। সেটা বহু দিন আগের কথা। সেই ১৮৯৪ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৮৬ রানের পাহাড় সমান স্কোর গড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারে অজিরা। টেস্টে ক্রিকেটে  প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৫৬ রান করে হারের রেকর্ডটাও অস্ট্রেলিয়ার। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে এডিলেডে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ঐ রান করেও ম্যাচ জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। হারের তেঁতো স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে তৃতীয় সর্বাধীক ৫৫১ রান তুলে হারের রেকর্ডটা ইংল্যান্ডের। সেটা ২০০৬ সালের ঘটনা। অ্যাডিলেডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে ৫৫১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণার পর উল্টো হেরে যায় ইংলিশরা। এছাড়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়ে ম্যাচ হারার রেকর্ড আছে আরও কয়েকটি।

এর মধ্যে ১৯৬৮ সালের মার্চে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ হেরেছিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। পোর্ট অফ স্পেনে হওয়া সে ম্যাচে ক্যারিবীয়রা আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৫২৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষনা করেও শেষ অবদি ম্যাচ হেরে যায়। এছাড়া প্রথম ইনিংসে ৫২০ এবং ৫১৯ রান করেও টেস্ট হারের রেকর্ড আছে একজোড়া। প্রথম ইনিংসে ৫২০ রান তুলেও শেষ পর্যন্ত টেস্ট হারের রেকর্ডটি অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৫৩ সালে মেলবোর্নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫২০ রানের বড় স্কোর গড়েও কুলিয়ে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া ৫১৯ রান করে টেস্ট হারের রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের। আজ থেকে অনেক আগে সেই ১৯২৯ সালের মার্চে মেলবোর্নে অজিদের সাথে ঐ বড় স্কোর গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত হার মানে ইংলিশরা।

হাসপাতাল থেকে ফিরে ড্রেসিং রুমে মুশফিক

ম্যাচের ফল ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মুশফিকুর রহীমের ইনজুরির খবর। মাঠ থেকে যেহেতু সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে , তাই নিশ্চয়ই অবস্থা গুরুতর। এমন চিন্তায় সবাই উদগ্রীব।

কিন্তু সাউদিরর বাউন্সারে মাথার পিছনে বল লেগে আহত মুশফিককে দেখতে মাঠের ভিতরে যাওয়া তামিম আগেই জানিয়েছিলেন, চিন্তার কিছু নেই। মুশফিক ভালো আছেন। আশা করি ভালো হয়েই ফিরে আসবে। শুধু সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তামিম প্রায় আড়াই ঘন্টা আগে স্বদেশী সাংবাদিকদের যা জানিয়ে ছিলেন, তাই সত্য।

শেষ খবর, মুশফিকুর রহিম এখন অনেকটাই সুস্থ। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮.০৭ মিনিটে ( স্থানীয় সময় বিকেল ৩ টা ৮ মিনিট) ম্যানেজার সাব্বির খান জানালেন, মুশফিক অনেকটাই সুস্থ । হাসপাতাল থেকে চলে এসেছে। এখন আমাদের ড্রেসিং রুমে বসে আছে। তার সিটি স্ক্যান করতে হয়নি।

ব্যথাটা পিছনের দিকে হেলমেটের ওপর দিয়ে লেগেছিল, তাই হাতপাতালের চিকিৎসকরা তার মাথার পিছনের ও ঘারের এক্স-রে করেছেন। তাতে কোন রকম খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুক্ষণ নিবিঢ় পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এখন মুশফিক আমাদের সঙ্গে ড্রেসিং রুমে । বল যে জায়গায় আঘাত হেনেছিল, সেখানে একটু ব্যথা আছে। তবে সেটা সহ্যের মধ্যে।

সাউদির বলে মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে মুশফিক

ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যথা। দেড়দিন কিপিং না করে আর দুই দিন মাঠের বাইরে থাকার পর দলের প্রয়োজনে অবশেষে দায়িত্ববোধের চরম নিদর্শন হিসেবে মাঠে নামলেন মুশফিকুর রহীম। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ব্যথার জায়গা যতটা সম্ভব আড়ালে রেখে ব্যাট করতে চাইবেন। এ সত্য জেনে বুঝেই তাকে একের পর এক বাউন্সার ছোড়া শুরু কিউই বোলারদের।

সাউদি, বোল্ট আর নেইল ওয়েগানার তিন কিউই পেসার মুশফিক ক্রিজে আসার পর থেকেই খাট লেন্থে বল ফেলে মুশফিককে পিছনের পায়ে নেয়ার প্রাণপন চেষ্টা করলেন। একের পর এক বাউন্সারও ছোড়া হল। যাতে আঘাত পাওয়া জায়গাকে আড়াল করতে গিয়ে মুশফিক পিছনের পায়ে যান এবং উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরত আসেন।

এ লক্ষ্য নিয়েই মুশফিককে একের পর এক বাউন্সার ছুড়ে বিব্রত করার চেষ্টা। মুশফিকও যতটা সম্ভব সতর্ক ও সাবধানে সে বাউন্সারগুলোক পাশ কাটিয়ে, না হয় বসে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন; কিন্তু কতক্ষণ এভাবে পারা যায়? একবার তাকে বলের আঘাতে ব্যথা পেতেই হল।

টিম সাউদির রাউন্ড দ্য উইকেটে করা ১৩৫ কিলোমিটার গতির বাউন্সার বসে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন মুশফিক। তবে রাউন্ড দ্য উইকেটের সে বাউন্সার যে তার দিকেই আসতে পারে, তা হয়ত খেয়াল করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। বলের থেকে চোখ সরিয়ে মুখ ও মাথা ঘুরিয়ে নিয়ে ফেললেন।

কৌনিক ডেলিভারি গিয়ে আঘাত হানল তার মাথার পিছনের অংশে। সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। বাংলাদশ এবং নিউজিল্যান্ড- দুই দলের ফিজিওসহ মাঠে ছুটে গেলেন দু ’দলের অনেকেই।

তাৎক্ষনিকভাবে দেখার পর ত্বরিৎ তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হল হাসপাতালে। মাঠের পাশেই থাকা ওয়েলিংটন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স কয়েক মিনিটের মধ্যে ঢুকে গেল মাঠে। ততক্ষণে মুশফিকের প্যাড, গøাভস, থাই প্যাড ও অ্যালবো গার্ড খুলে তাকে তুলে দেয়া হলো অ্যাম্বুলেন্সে।

বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটের (স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিট) দিকে মুশফিককে নিয়ে ওয়েলিংটন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মাঠ ছাড়ল অ্যাম্বুলেন্স।

মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম ও ম্যানেজার সাব্বির খান গেলেন তার সাথে।

তালগোল পাকিয়ে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য হার

এক সময়ে জয়ের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত হেরেছে বড় ব্যবধানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে তালগোল পাকানোর পর বোলাররাও পারেননি লড়াই করতে। তাই সেই হারের বৃত্তেই মুশফিকুর রহিমের দল। ওয়েলিংটন টেস্ট ৭ উইকেটে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড।

বিব্রতকর রেকর্ড

প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেও হারতে হলো ওয়েলিংটন টেস্ট! টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত রান করে হারেনি কোনো দল।

উইলিয়ামসনের শতক

দলকে সামনে থেকে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া কেন উইলিয়ামসন করেন দারুণ এক শতক। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সুইপ করে নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি। ৮৮ বলে পঞ্চদশ শতক করার পথে ১৫টি চার হাঁকান তিনি। সেই ওভারেই ১ রান নিয়ে দলকে ৭ উইকেটের জয় এনে দেন অধিনায়ক।

ব্যাটিংয়ে তালগোল, বোলিং নির্বিষ

আগের দিন শেষ সময়ে মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজের আউটে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পর দিন উইকেট ছুড়ে আসেন সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক ও সাব্বির রহমান। মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের বীরত্বের পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

২১৬ রানের পুঁজি নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন মিরাজ। দুই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। কিন্তু স্বাগতিকদের সেরা দুই ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলরের দেড়শ’ রানের জুটি দলকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে যায়।

টেইলরকে ফেরালেন শুভাশীষ

শুভাশীষ রায়ের বলে স্লিপে মেহেদী হাসানের চমৎকার এক ক্যাচে ফিরেন রস টেইলর। ভাঙে ১৬৩ রানের জুটি।

৬০ রান করে টেইলর ফিরে যাওয়ার সময় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ২০২/৩। জয়ের জন্য তাদের চাই আর ১৫ রান।

নিউ জিল্যান্ডের দুইশ’

জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ৩৫ ওভারে দুইশ’ রানে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। দেড়শ’ রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটির দেড়শ’

নিউ জিল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখা কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে গড়েন দেড়শ’ রানের জুটি। তাদের ১৫০ রান আসে ১৩৪ বলে।

৩৪ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৯০/২। জয়ের জন্য আরও ২৭ রান চাই তাদের।

টেইলরের অর্ধশতক

তাসকিন আহমেদের বলে ১ রান নিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান রস টেইলর। তার সঙ্গে কেন উইলিয়ামসের শতরানের জুটিতে জয়ের পথে নিউ জিল্যান্ড। ৬১ বলে ৫০ রান করতে ৫টি চার হাঁকান চোখের অস্ত্রোপচারের পর এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা টেইলর।

নিউ জিল্যান্ডের দেড়শ

জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ২৭.২ ওভারে দেড়শ’রানে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। শত রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলরের শতরানের জুটি

তৃতীয় সেশনের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর গড়েন শতরানের জুটি। ৮২ বলে জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান এই দুই জনে।

২৫ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৩৯/২। জয়ের জন্য আরও ৭৮ রান চাই তাদের।

উইলিয়ামসনের অর্ধশতক

শুভাশীষ রায়কে চার হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান কেন উইলিয়ামসন। তার অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে নিউ জিল্যান্ড।

৪৩ বলে ৮টি চারে পঞ্চাশে যান উইলিয়ামসন। তখন দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১২৭ রান। জয়ের জন্য আরও ৯০ রান চাই তাদের।

নিউ জিল্যান্ডের একশ’

জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ২০.৩ ওভারে তিন অঙ্কে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটির অর্ধশতক

দ্বিতীয় সেশনের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে রস টেইলরের সঙ্গে জুটির অর্ধশতক স্পর্শ করেন কেন উইলিয়ামসন। ৪৬ বলে আসে তাদের জুটির অর্ধশতক।

১৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৯১/২। জয়ের জন্য শেষ সেশনে আর ১২৬ রান চাই তাদের।

মিরাজের দ্বিতীয় শিকার ল্যাথাম

টানা দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন প্রথম ইনিংসে শতক করা টম ল্যাথাম।

১৬ রান করে ল্যাথাম ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩৯/২। জয়ের জন্য তাদের চাই আরও ১৭৮ রান।

ম্যাচে মিরাজের প্রথম উইকেট

নবম ওভারে নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ফিরতি ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জিত রাভাল। স্বাগতিকদের স্কোর তখন ৩২/১। জয়ের জন্য চাই আরও ১৮৫।

ম্যাচে মিরাজের এটাই প্রথম উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৩৭ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।

দুই প্রান্তেই স্পিনার

নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে দুই প্রান্তেই স্পিনার ব্যবহার করেন তামিম ইকবাল। তিন ওভার বল করার পর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে সরিয়ে সাকিব আল হাসানকে আক্রমণে আনেন তিনি। অন্য প্রান্তে টানা বল করেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।

বাংলাদেশে দৃশ্যটা নিয়মিত হলেও ওয়েলিংটনে চলতি টেস্টে এই চিত্র এবারই প্রথম দেখা গেল।

৮ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩০/০। জয়ের জন্য আরও ১৮৭ রান চাই তাদের।

এবার কিপিংয়ে সাব্বির

নিয়মিত উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম হাসপাতালে, মাঠে ফিরলেও তার কিপিং করার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রথম ইনিংসে তার বদলে কিপিং করা ইমরুল কায়েস ঠিক মতো হাঁটতেই পারছেন না। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটের পেছনে দাঁড়ান সাব্বির রহমান।

১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ

মুশফিকুর রহিম-ইমরুল কায়েসের বীরত্ব, সাব্বির রহমানের অর্ধশতকের পরও ওয়েলিংটন টেস্টের পঞ্চম দিন দ্বিতীয় সেশনে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

শুভাশীষ রায়কে শূন্য রানে বোল্ড করে বাংলাদেশ ইনিংসের ইতি টানেন ট্রেন্ট বোল্ট। হেলমেটে বল লাগায় মাঠ থেকে হাসপাতালে যাওয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন মুশফিক। খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠে নামা ইমরুল অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।

অলআউট হওয়ার আগে শেষ দিন ৯৪ রান যোগ করে বাংলাদেশ। শেষ দিন বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক ও সাব্বিরের দিকে। তিনজনই ফিরেন বাজে শট খেলে।

জয়ের জন্য ২১৭ রানের লক্ষ্য পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

পাগলাটে শটে সাব্বিরের বিদায়

অন্য প্রান্তে ইমরুল কায়েস আছেন, চোটের জন্য হয়তো দৌড়ে রান নিতে পারবেন না কিন্তু কিছু বল ঠেকিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তো তার আছে। নিউ জিল্যান্ড তখন মনোযোগী বাউন্ডারি বাঁচানোর দিকে। খানিকটা সময় সহজেই কাটিয়ে দিতে পারতেন সাব্বির রহমান। টিকে থাকার চেষ্টা না করে তিনি ফিরেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল অহেতুক তাড়া করতে গিয়ে।

৫০ রান করে বাজে শটে সাব্বির ফেরার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২/৮। দলের লিড তখন ২০৮ রান।

ইমরুলের ফেরা

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস ব্যাটিংয়ে ফিরেন কামরুল ইসলাম রাব্বি ফেরার পর। মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই চার হাঁকান তিনি। খোঁড়াতে খোঁড়াতে ক্রিজে যাওয়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দৌড়ে রান নিতে পারছেন না।

টিকলেন না কামরুলও

টিম সাউদির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। শর্ট বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি। গ্লাভসে লেগে আসা সহজ ক্যাচ তালু বন্দি করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ।

কামরুল ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১৪৮/৭। লিড তখন ২০৪।

সাব্বিরের অর্ধশতক

দলকে এগিয়ে নেওয়ার পথে ম্যাচে দ্বিতীয় অর্ধশতকে পৌঁছান সাব্বির রহমান। ৯৭ বলে পঞ্চাশে যেতে ৯টি চার হাঁকান এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। এর আগে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত অর্ধশতক আসে তার ব্যাট থেকে।

৫৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৪৮/৬। লিড তখন ২০৪ রান।

প্রথম সেশনে ৩ উইকেট আর মুশফিকের বিদায়

পঞ্চম ও শেষ দিনের শুরুতে যতটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং দরকার ছিল তা করতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতে বাজে শটে ফিরেন সাকিব আল হাসান। উইকেট ছুড়ে আসেন মুমিনুল হকও।

আঙুলে চোট নিয়ে লড়াই করা মুশফিকুর রহিম মাঠ ছাড়েন অ্যাম্বুলেন্সে করে। টিম সাউদির শর্ট বল তার মাথার পেছনে হেলমেটে আঘাত হানে। শেষটায় ট্রেন্ট বোল্টের দারুণ এক ইয়র্কারে ফিরেন তাসকিন আহমেদ।

লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১৩৭/৬। লিড ১৯৩ রান। সাব্বির রহমান ৪০ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি শূন্য রানে ব্যাট করছেন।

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস প্রস্তুত ব্যাটিংয়ে নামার জন্য। হেলমেট-প্যাড পরে বসে থাকতে দেখা গেছে এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে।

পরিস্থিতি হতে পারতো আরও খারাপ। প্রথম সেশনে তিনটি ক্যাচ ছেড়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ফিল্ডাররা। লাঞ্চের আগে দ্বিতীয় শেষ বলে ফিরে যেতে পারতেন সাব্বির। অন্য প্রান্তে থাকা কামরুলের পরামর্শে রিভিউ নিয়ে টিকে যান তিনি।

রিভিউ নিয়ে টিকে সাব্বির

টিম সাউদির বলে কট বিহাইন্ড দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে টিকে যান সাব্বির রহমান। ক্যাচ যায় আর্ম গার্ডে লেগে। টিম সাউদির বল ব্যাট বা গ্লাভস স্পর্শ না করায় পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। সে সময় ৪০ রানে ব্যাট করছিলেন সাব্বির।

প্যাড পরে প্রস্তুত ইমরুল

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস প্রস্তুত মাঠে নামার জন্য। তাসকিন আহমেদ আউট হওয়ার পর এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে দেখা যায় হেলমেট, প্যাড পরে বসে থাকতে।

বোল্ড হয়ে ফিরলেন তাসকিন

আগের বলে শর্ট লেগে জীবন পান তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের পরের দারুণ ইয়র্কার ঠেকাতে পারেননি এই তরুণ। বোল্ড হয়ে তিনি ফেরার সময় দলের স্কোর ১৩৭/৬। দলের লিড ১৯৩ রান।

অ্যাম্বুলেন্সে মাঠ ছাড়লেন মুশফিক

আঙুলে চোট নিয়ে ব্যাট করা মুশফিকুর রহিমের হেলমেটের পিছন দিকে লাগে টিম সাউদির বল। ক্রিজেই শুয়ে পড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিউ জিল্যান্ডের ব্যর্থ রিভিউ

মুশফিকুর রহিম ক্রিজে আসার পর এক ঘণ্টায় মাত্র একটি স্কোরিং শট খেলা সাব্বির রহমান টিম সাউদিকে হুক করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। রিভিউ নেয় নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু বল ব্যাট বা গ্লাভস কোথাও স্পর্শ না করায় পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

জীবন পেলেন সাব্বির

ট্রেন্ট বোল্টকে চার হাঁকাতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সাব্বির রহমান। সে সময় ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি।

সেই ২৬তম ওভারে শেষ রান পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ক্রিজে আসার পর ১২ ওভারে যত বল খেলেন সাব্বির তার সবই ডট। বোল্টের সেই ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে আবার রানের দেখা পান তিনি।

জীবন পেলেন মুশফিক

লেগ গালি আর শর্ট লেগ রেখে শর্ট বলে মুশফিকুর রহিমকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা প্রায় সফল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু নিল ওয়েগনারের বলে অধিনায়কের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচ গালিতে হাতে জমাতে পারেননি টিম সাউদি। সে সময় ৬ রানে ব্যাট করছিলেন মুশফিক।

৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৩/৫। লিড ১৫৯।

ওয়েগনারের শর্ট বলে পরীক্ষা মুশফিকের

আঙুলে চোট নিয়ে ব্যাট করা মুশফিকুর রহিমকে অস্বস্তিতে রাখতে শর্ট লেগ আর লেগ গালি রেখে একের পর এর এক শর্ট বল করে যান নিল ওয়েগনার। বেশ কয়েকবার বল লাগে ব্যাটের হাতলে। দুয়েকবার একটুর জন্য আবার চোট পাননি অধিনায়ক।

বাংলাদেশের একশ পার

মুশফিকুর রহিমের চারে দ্বিতীয় ইনিংসে একশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০০/৫। লিড তখন ১৫৬ রান।

দলকে বিপদে ফেলে ফিরলেন মুমিনুল

দলকে বিপদে ফেলে ফিরেন মুমিনুল হক। নিল ওয়েগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

২৩ রান করে মুমিনুল ফেরার সময় দলের সংগ্রহ ৯৬/৫।লিড তখন ১৫২ রান।

দ্বিশতকের পর সাকিবের শূন্য

শেষ দিনের শুরুতেই দলকে বিপদে পেলে আউট হন আগের ইনিংসেই রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান। স্যান্টারের বলে মিড-অনে কেন উইলিয়ামসের হাতে সহজ ক্যাচ দেন প্রথম ইনিংসে ২১৭ রান করা এই অলরাউন্ডার।

পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে সাকিবের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৬/৪। লিড আগের দিনের মতোই ১২২।

হঠাৎ শঙ্কার মেঘ

চতুর্থ দিন শেষ সেশনে নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সাবলীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। হঠাৎ বিপত্তি, দ্রুত রান নিয়ে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। দ্রুত ফিরেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। আঙুলে চোট রয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের।

শেষ দিন ১২২ রানের লিড নিয়ে ১০ রানে অপরাজিত মুমিনুল হকের সঙ্গে নামেন আগের ইনিংসেই ২১৭ রান করা সাকিব আল হাসান। দলকে নিরাপদে নিতে ভূমিকা রাখতে হবে সাব্বির রহমানকেও।

‘আমরা জয়ের জন্যই খেলবো’

‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’-এমন একটা প্রবাদ আছে। ওয়েলিংটন টেস্টের শেষ দিনে যা মাথায় থাকবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড দ ‘দলেরই। বেসিন রিজার্ভে হাই-স্কোরিং ম্যাচেও ড্র নয়, জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি দেখছে তারা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫৯৫ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ড করেছে ৫৩৯ রান।

বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৬৬ রান তুলে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে। ইতোমধ্যে পেয়ে গেছে ১২২ রানের লিড। দিন শেষে ১০ রানে অপরাজিত থাকা টাইগার ব্যাটসম্যান মুুমিনুল হক সৌরভ নতুন সঙ্গী নিয়ে আগামীকাল (সোমবার) শেষ দিনের লড়াইয়ে মাঠে নামবেন।

এদিকে পঞ্চম দিনের শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবে নিউজিল্যান্ড। দলটির তারকা ওপেনার টম লাথাম যেমন সেই হুমকিটাই দিয়ে রাখলেন। জানালেন, ওয়েলিংটন টেস্ট জয়ের লক্ষ্যেই শেষ দিন তারা মাঠে নামবেন।

লাথামের ব্যাখ্যা, ‘আগামীকালের (টেস্টের পঞ্চম দিন) শুরু ভালো করতে পারাটাই চ্যালেঞ্জের। আমি মনে করি, উইকেট এখনও ব্যাটিং-বান্ধব। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারলে জয় আসবেই। টার্গেট যত বড়ই হোক; আমরা জয়ের জন্যই খেলবো। আশা করছি, লক্ষ্যটা সহজই থাকবে। সেই লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারবো। শেষ দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে প্রথম ঘণ্টার খেলা।’

সব দায়িত্ব এখন মুমিনুল সাকিব মুশফিকের কাঁধে

আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হবার কিছুক্ষণ পরের কথা। বেসিন রিজার্ভের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের নিচে দেখা হওয়া মাত্র প্রবাসী বাঙালি নিক্সনের প্রশ্ন, ‘আচ্ছা ওয়েলিংটনের দমকা হাওয়ার ঝাপটা কি টাইগারদের গায়েও এসে লাগল?’

এটুকু শুনে মনে হতে পারে ভদ্রলোক বুঝি রসিকতা করেছেন। আসলে মোটেই তা নয়। শুনতে খারাপ লাগলেও বাস্তবতা এমনই। এ টেস্টে টাইগারদের অবস্থা ছিল একদম সাজানো বাগানের মতো। গোলাপ, বকুল, রজনীগন্ধা, বেলি, হাসনাহেনা ফুটেছিল থরে থরে।

হঠাৎ তাসমান সাগর থেকে উঠে আসা ‘পাগলা হাওয়া’ যেন এক ঝাপটায় সেই সাজানো বাগান কিছুটা এলোমেলো করে দিয়ে গেলো। মুশফিকের দল আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে খানিকটা চাপে এবং অস্বস্তিতেও।

ভাববেন না এ চাপ শুধুই দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৩ উইকেট খোয়ানোর কারণে। আসলে এই অস্বস্তি ও মনস্তাতাত্ত্বিক চাপের নাম হলো ‘ইনজুরি’। বলা নেই, কওয়া নেই- হঠাৎ চারদিক থেকে রাজ্যের ইনজুরির চাপ এসে গ্রাস করলো।

এই ইনজুরিই এখন যত চিন্তার খোরাক। একজন, দুজন নয়- তিন তিনজন ইনজুরির শিকার। যার প্রথমজন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। মাঝখানে মুমিনুল হক ও সর্বশেষ ইনজুরির শিকার ওপেনার ইমরুল কায়েস।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ইমরুল আর মুশফিক দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন কিনা- তা নিয়েই জেগেছিল রাজ্যের সংশয়। প্রথম ইনজুরির শিকার হলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। শুক্রবার ১৫৯ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস গড়ার পথে বল লেগে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ব্যথা পেয়েছেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক।

শনিবার সেই ব্যথার কারণে উইকেটকিপিং করতে পারেননি। আজও না। সকালে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম রীতিমতো ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের দুজনার কথা শুনে মনে হচ্ছিল, অধিনায়ক বুঝি এ টেস্টে আর ব্যাটিং করতে পারবেন না।

যাক তবু আজ বিকেলে খেলা শেষে জানা গেল, মুশফিক ব্যাটিং করতে পারবেন। দ্বিতীয় ইনজুরির শিকার মমিনুল হক। এ নির্ভরযোগ্য বাটসম্যানও কাল ক্লোজ-ইন পজিশনে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বুকের পাঁজরে বলের আঘাতে ব্যাথা পেয়েছেন। আজ বেশিরভাগ সময় ফিল্ডিং করেননি। তারপরও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন ঠিক পজিশনেই।

আর সর্বশেষ ইনজুরির শিকার ওপেনার ইমরুল কায়েস। প্রথম ইনিংসে ভালো করতে না পারা এ বাঁ-হাতি উইলোবাজ দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিলেন বেশ আস্থা এবং আতত্মবিশ্বাস নিয়ে। যে শট যেখানে খেলতে চাচ্ছিলেন, সেখানেই যাচ্ছিল। প্রায় সব বল মাঝ ব্যাটেও আসছিল; কিন্তু হঠাৎ রান নিতে গিয়ে উরুতে টান পড়ল। মাটিতে পড়ে ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলেন। কাল বিলম্ব না করে পাঠিয়ে দেয়া হলো হাসপাতালে। অবশেষে রাতে ফিরে এসেছেন হাসপাতাল থেকে।

তবে আগামীকাল শেষ দিন ব্যাট হাতে নামতে পারবেন কি না ইমরুল, যথেষ্ট সন্দেহ রয়ে গেছে। মূলত এই নির্ভরযোগ্য পারফরমারদের ইনজুরিই এখন চিন্তার বড় কারণ। না হয় চতুর্থ দিন শেষে টাইগারদের লিড ১২২ রান। এখনো হাতে আছে আরও ৭ উইকেট। ইমরুল ব্যাটিংয়ে নামতে পারলে তাই। আর ইমরুল ব্যাটিংয়ে নামতে না পারলে এক উইকেট কম। এটাই চিন্তা। এটাই চাপ।

ইমরুল ইনজুরিতে না পড়লেই চিন্তা হয়তো অনেক কমে যেতো। যে আস্থার সাথে খেলছিলেন, তাতে ইমরুল ইনজুরির শিকার না হলে নির্ঘাত মুমিনুলকে নিয়ে দিন শেষ করে আসতে পারতেন। তখন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজকে পাঠানোরও দরকার পড়তো না। তিনি এসে রান আউটও হতেন না।

কাজেই শেখ কথা, এখন টিম বাংলাদেশের শুধু রানের চাপ নেই। সময়ের চাপও আছে। রান করতে হবে। এমন এক স্কোর লিড হিসেবে দাঁড় করাতে হবে, যাতে কিউইরা প্রাণপন চেষ্টা করেও বাংলাদেশের রান আর টপকাতে না পারে।

এ জন্য শেষ দিনের প্রায় ১০০ ওভারের মধ্যে অন্তত ৫০ ওভার খেলে ফেলতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এর কমে ইনিংস শেষ হয়ে গেলে ঝুঁকি থেকে যাবে। উইকেটে আছেন মুমিনুল। এরপর মুশফিক, সাকিব এবং সাব্বির আছেন। এই চারজনের মধ্যে দুটি হান্ড্রেড প্লাস জুটি হলেও সব ল্যাঠা চুকে যায়। আর কিছুই করার প্রয়োজন হবে না।

তখন কিউদের জয়ের জন্য দরকার পড়বে তিনশ’ প্লাস রানের। যা দেখে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় টেস্টটা বেঁচে যাবে।

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ শেষ দিন চা বিরতি পর্যন্ত কাটিয়ে দিতে পারলেই ব্যাস। তখন যে সময় পাওয়া যাবে, তাতে ব্যাক ক্যাপ্সরা ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালালেও কাজ হবে না।

চা বিরতির আগে দুই আর পরে দুই মোট চার ঘণ্টায় ৩০০ রান করা বেশ কঠিন। তাও যদি না হয়, তাহলে লাঞ্চের পর কোন রকমে আর এক ঘণ্টা পার করে দিতে পারলেই চিন্তা থাকবে না। তখন পাঁচ দিন খেলেও ম্যাচ হযে যাবে নিষ্প্রাণ ড্র। যা অবশ্যই হবে নিউজ্যিাল্ডের মাটিতে গৌরবের সঙ্গে প্রথম টেস্ট ড্র।

কিন্তু প্রশ্ন হলো আজ (চতুর্থ দিন) পড়ন্ত বিকেলে ২০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ড্রেসিং রুমের অবস্থা কেমন? টিমের কি সেই মনের জোরটা আছে? পেসার তাসকিন আহমেদের সহজ সরলর স্বীকারোক্তি, ‘ইমরুল ভাইয়ের ইনজুরিতে পড়ার পর একটু হলেও মানসিক ধাক্কা এসে লেগেছে দলের গায়ে।’

এখন প্রশ্ন ও দেখার বিষয় একটাই- মুমিনুল, সাকিব, মুশফিক এবং সাব্বির মিলে অন্তত তিন ঘন্টা ক্রিজে কাটিয়ে দিতে পারেন কি না। প্রথম ইনিংসে সাকিব আর মুশফিক যে লম্বা ইনিংস খেলেছেন, তা ছিল সবার স্বপ্নের বাইরে। এখন প্রয়োজনীয় সময় আর স্বপ্নালোকে বিচরণের প্রয়োজন নেই। বাস্তবে তা করে দেখাতে পারলেই হলো। আর চিন্তা থাকবে না।

আপনারাই দেখেছেন তারা কতটা ভয়ঙ্কর : লাথাম

ওয়েলিংটন টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫৯৫ রানের জবাবে আজ চতুর্থ দিনে নিউজিল্যান্ড ৫৩৯ রানে অলআউট হয়। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৬৬ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আর তাতে টাইগাররা লিড পেয়ে গেছেন ১২২ রানের।

টেস্টের পঞ্চম দিন কিউই বোলাররা যে টাইগারদের স্কোরটা খুব বেশি বড় হতে চাইবেন না, এটা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে কিউই ওপেনার টম লাথাম জানালেন, বাংলাদেশ দল বড় ভয়ঙ্কর। যে কোনো সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

লাথামের ভাষায়, ‘আমি বলতে চাই না, আপনারাই দেখেছেন তারা (বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা) কতটা ভয়ঙ্কর। কিন্তু আমাদের তিনজন বিশ্বমানের সিমার এবং ভালো স্পিনার আছে। আমরা যদি দীর্ঘ সময় ভালো জায়গায় বল ফেলতে পারি, তাহলে আশাকরি- তাদেরকে আমরা বিব্রত করতে পারবো।’

বাংলাদেশকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে জয় তুলে নেয়াই নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য উল্লেখ করে লাথাম বলেন, ‘আমরা যদি দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারি এবং তারা যদি জুটি গড়তে না পারে সেটিই হতে পারে আমাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।’

এখনও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তাসকিন

পুরো চারটা দিন শীর্ষে থাকলো বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে এসে তিনটা উইকেট হারিয়েই কি না এখন শঙ্কা সৃষ্টি হয়ে গেছে, এ টেস্টের ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে আসবে তো! ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের সবুজ মাঠ থেকে প্রশ্নটা ছড়িয়ে গেলো বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমেও। ব্যাটসম্যানদের ওপর এখন নির্ভর করছে অনেক কিছু।

কিন্তু দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পাশাপাশি হঠাৎ ইমরুলের ইনজুরিতে পড়ে যাওয়াটাই শঙ্কার সৃষ্টি করছে। উইকেটে টিকে আছেন এখনও মুমিনুল। বাইরে আছেন প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান, সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহীম, হাফ-সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির রহমান। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এখন এরাই বড় ভরসার নাম।

তবুও শঙ্কার কালো মেঘ ঘুরছে ওয়েলিংটনের আকাশে। চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা তাসকিন আহমেদের কাছেও উত্থাপন হলো প্রশ্নটি। পঞ্চম দিন কি করবে বাংলাদেশ? পারবে তো শেষ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচটি বাঁচাতে?

তাসকিনের কথায় স্পষ্ট হলো, ড্রেসিং রুমেও প্রশ্নটার সংক্রমণ ঘটেছে। যার প্রতিধ্বনি হলো তার মুখে। ওয়েলিংটনে অভিষিক্ত এই পেসার প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পরিস্থিতি কি দাঁড়ায় তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে আমরা অবশ্যই জয়ের জন্য খেলব। ব্যাটসম্যানরা সেট হলে রান করা সহজ হবে।’

পেসার তাসকিনও স্বীকৃতি দিলেন বেসিন রিজার্ভের উইকেটটা পুরোপুরি ব্যাটিংবান্ধব। স্কোর কার্ডের দিকে তাকালে সেটা আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। প্রথম ইনিংসে দু’দলেরই রান হলো ৫০০’র ওপর। তাসকিন বললেন, ‘উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। প্রথম ইনিংসে আমরা ৫৯৫ করে ইনিংস ঘোষণা করলাম। নিউজিল্যান্ডেরও রান হলো ৫৩৯। ব্যাটসম্যানদের জন্যই এই উইকেটটা।’

এমন ব্যাটিং উইকেটেই কি না দ্বিতীয় ইনিংসে পুরোপুরি ব্যাকফুটে বাংলাদেশ! ব্যাটসম্যানদের উইকেট হলেও তাসকিনের মতে, ভালো খেলতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তিনি বলেন, ‘তবুও আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভালো খেলতে হবে। কারণ নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ অনেক ভালো।’

শেষ মুহূর্তে তাসকিনের মুখে দৃঢ়তা ফুটে উঠলো। সেই দৃঢ়তা ব্যাটিং নিয়ে। শেষ দিন বাংলাদেশ ভালো ব্যাটিং করবে বলে তার প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ভালো ব্যাটিং করব। দিনের শেষের দিকে দ্রুত কয়েকটা উইকেট খারাপভাবে আউট হয়ে গেল। ইমরুল ভাই ভালো ব্যাটিং করলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটে পড়লেন। আশা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। অন্যরাও দায়িত্ব নিয়ে খেলবেন।

মুশফিকের দিকে তাকিয়ে মিনহাজুল আবেদীন

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তারা। তবে ছন্দপতনের শুরুটা হয় ইমরুলের ইনজুরিতে। ব্যক্তিগত ২৪ রানে দ্রুত রান নিতে গিতে বাঁ পায়ের উরুতে চোট লাগে তার। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।

এরপর দলীয় ৫০ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। বলে লেন্থ ঠিকভাবে বুঝতে না পারায় বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম (২৫)। সান্টনারের বলে লেট কাট করতে গিয়েছিলেন তিনি। তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও (৫)। শর্ট বলে জুজু কাটাতে না পারা এ ব্যাটসম্যান আরও একবার ওয়াগনারের বলে উইকেটরক্ষক ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা পড়েন।

এরপর স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ করতেই ফিরে যান টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ (১)। দুই রান নিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটে কাটা পড়লে দলের বিপদ আরও বেড়ে যায়। এরপরই দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। ফলে ৩ উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ১০ রান অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক।

এ অবস্থায় মুশফিকের দিকে তাকিয়ে আছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। ঠিক শঙ্কিত না হলেও তার চোখে মুখে খানিক চিন্তার রেখে রেখেই মিনহাজুলের ব্যাখ্যা, `দারুণ রমরমা সময় কাটছিল। আমরা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউইদের বিরুদ্ধে ৫৬ রানের লিডও পেয়ে গিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম, শেষ দিনটা আমরা খেলবো একদম চিন্তা ও চাপমুক্ত অবস্থায়। কোনই টেনশন থাকবে না। আমাদের ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় ইনিংসেও একদম টেনশনমুক্ত হয়ে ফ্রি ব্যাটিং করবে। কিন্তু দূর্ভাগ্য। তা আর হলো না। ইমরুল কায়েসের ইনজুরি আর মেহেদী হাসান মিরাজের রান আউট একটু হলেও চাপে ফেলে দিয়েছে দলকে। তবে আমার বিশ্বাস, এ চাপ কাটিয়ে উঠতে পারবো আমরা। একটি বড় জুুটি গড়ে উঠলেই আর কোন চিন্তা থাকবে না। মুশফিক ব্যাট করতে পারলে আশা করি আর কোন চিন্তা থাকবে না।`

ইমরুলের বিশ্ব রেকর্ড

কামরুল ইসলাম রাব্বির বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লাগে বল নেইল ওয়াগনারের। উইকেটের পেছনে সহজেই তা তালুবন্দি করেন উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েস। আর তাতেই নতুন ইতিহাস রচনা করে ফেলেন তিনি। বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে গড়েন বিশ্বরেকর্ড।

তবে শুধু বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে বিশ্বরেকর্ডই গড়েননি ইমরুল। পাশাপাশি ছুয়েছেন বাংলাদেশের পক্ষে কিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডও। এর আগে দুই বার এক ইনিংসে পাঁচটি করে ক্যাচ নিয়েছিলেন নিয়মিত উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীম। প্রথমবার ঘরের মাঠে মিরপুরে ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে,এরপর  ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোয়।

আগের দিন জিত রাভালের ক্যাচ নিয়ে শুরু করেছিলেন ইমরুল। এরপর নিয়েছিলেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ। আর চতুর্থ দিনে গ্লাভবন্দি করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, ব্র্যাডলি ওয়াটলিং ও নেইল ওয়াগনারের ক্যাচ। উইকেটের পেছনে ছিলেন মোট ১৪৮.২ ওভার।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করার সময় আঙ্গুলে চোট লাগে মুশফিকের। তাই বাধ্য হয়েই উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে হয় ইমরুলকে। আর দাঁড়িয়েই যে বিশ্বরেকর্ড গড়বেন হয়তো কল্পনাও করেননি তিনি। তবে রেকর্ড গড়ার দিনটি ভালো যায়নি ইমরুলের। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনজুরিতে পড়েন এ ওপেনার।

তবে এবারই প্রথম লম্বা সময় ধরে উইকেটের পিছনে ছিলেননা ইমরুল। এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ১২০ ওভার কিপিং করেছিলেন ইমরুল। সেবারও মুশফিকের ইনজুরির কারণেই তাকে কিপিং করতে হয়েছিল। তবে সেবার কোনো ডিসমিসাল করার সুযোগ হয়নি তার।

স্বস্তির খবর : ব্যাট করবেন মুশফিক

চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হয়েছে মাত্র। দুই আম্পায়ার বেলস তুলে প্যাভিলিয়নের দিকে পা বাড়িয়েছেন। আর বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান মমিনুল হক ও মিরাজ প্রায় ড্রেসিং রুমের সামনে। তাদের পিছনে পিছনে কিউই ফিল্ডাররাও সাজঘরের খুব কাছাকাছি।

বাংলাদেশের সাংবাদিকরা প্রেস কনফারেন্সে যাবার বিশেষ করে ইমরুল কায়েসের উরুর ইনজুরি আর অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সর্বশেষ আপডেট জানতে তড়িঘড়ি করেই বেসিন রিজার্ভের প্রেস বক্স থেকে বেড়িয়ে বেইসমেন্টে প্রেস কনফারেন্সের নির্ধারিত জায়গায় যেতে ব্যতিব্যস্ত।

এমন সময় ছুটে এলেন নিউজিল্যান্ডের নামী সাংবাদিক। চোখে মুখে রাজ্যের কৌতুহল। কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন , ‘ আচ্ছা তুমি কি আমাকে জানাতে পারো, মাঠের পশ্চিম দিকে কে দৌড়াচ্ছে? কাঁচ ঘেরা প্রেস বক্সের ভিতর থেকে পরিষ্কার বোঝা গেল মুশফিকুর রহীম রানিং করছেন। সঙ্গে ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন।

আজ দুপুরেও তাকে নিয়ে ছিল রাজ্যের সংশয়। তার পক্ষে কিপিং করা সম্ভব নয়। ইমরুল কায়েসকেই গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে কাটাতে হবে। এ তথ্য সকালেই মিলল। তা হয়েছেও। ইমরুলই কীপারের ভূমিকা পালন করেছেন। সেটা মূল কর্তব্য নয়। আসল কথা হলো মুশফিকের দৌড়ানোর তাৎপর্য কি?

ঐ ঝানু কিউই সাংবাদিক বলেই ফেললেন, আজ দিনের খেলা শেষে যখন মুশফিক রানিং করছে, তার মানে আগামীকাল তাকে ব্যাট হাতে নামতে দেখা যাবে। ঠিক সেটাই সত্য। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সন্মেলনে বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম দুটি খবর দিলেন। যার একটি ইতিহবাচক। অন্যটি নেতিবাচক অবশ্যই। তবে সেটাও চূড়ান্ত নয়।

বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার সোজা জানিয়ে দিলেন , মুশফিকুর রহীম সোমবার ব্যাট করতে পারবেন। এবং অধিনায়ক ব্যাট হাতে নামবেন। ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যাথা পাওয়া অধিনায়ক খুব দরকার না পড়লে আর ব্যাটিং ও কিপিং কোনটাই করবেন না, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম।

বোঝাই গেল দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে নামার প্রস্তুুতি নিচ্ছেন মুশফিক। না নিয়ে উপায়ও নেই। তামিম-মাহমুদউল্লাহর মত দুইজন অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ওদিকে উরুতে টান পড়ে আজ পড়ন্ত বিকেলে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস এক রাত্রির মধ্যে ইনজুরি কাটিয়ে কাল ব্যাট হাতে নাতে পারবেন কিনা? সন্দেহ। কাজেই দলের প্রয়োজনেই এখন মুশফিককে প্রয়োজন।

এখন মুশফিকও হাতের ব্যথা নিয়েও দলের প্রয়োজন মেটাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। সন্দেহ নেই সাকিব আল হাসান টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা ব্যাটিং করেই দেশের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ও নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাকিয়েছেন।

কিন্তু অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমকেও পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তিনি ছিলেন বড় নির্ভলতা। সাকিব মাঝে মধ্যে অফস্টাম্পের বাইরে কিছু উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে দু তিন বার প্রায় বিপদ ডেকে এনেছিলেন। কিন্তু মুশফিক খেলেছেন একদম প্রথতাগত টেস্ট ইনিংস।

নিজের অতি পছন্দর শট স্লগ সুইপ একদম না খেলে, অফস্টাম্পের বাইরে স্কোয়ার কাট এবং ফ্ল্যাশ করায় সর্বোচ্চ সতর্ক ও সাবধান থেকে মনগড়া শট খেলেননি মুশফিক। যতটা সম্ভব বলের মেধা গুণের বিচার করে ব্যাকরণ মেনে ক্রিকেটীয় শট খেলার চেষ্টাই করেছেন বেশি। তারই ফসল প্রায় নিশ্চিদ্র ইনিংস।

আজ যেখানে শেষ করেছে টাইগাররা, সেখানে ঠিক অমন সাহসী, আত্মবিশ্বাসী আর প্রথাগত টেস্ট ব্যার্টিটাই যে খুব দরকার। সেই কাজে মুশফিকের চেয়ে দক্ষ-পারদর্শী আর কেইবা আছে?

দ্বিতীয় টেস্টে অপরিবর্তিত বাংলাদেশ দল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে দলে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। আস্থা রাখা হয়েছে প্রথম টেস্টের দলের উপরই। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি।

যথারীতি অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড থাকছে মুশফিকুর রহীমের হাতে। যদিও আঙ্গুলের ইনজুরিতে শেষ দুই দিন মাঠে ছিলেন না তিনি। প্রথম টেস্টে তার পরিবর্তে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ইমরুল কায়েস। তবে মুশফিকুরের ব্যাক-আপ হিসেবে স্কোয়াডে আছেন নুরুল হাসান সোহান।

গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফিরতে পারেন বাংলাদেশ দলের বিস্ময় বালক মোস্তাফিজুর রহমান। খেলার জন্য ফিট থাকলেও তাকে নিয়ে কোন ঝুঁকি নেয়নি বিসিবি। তাই পেস বোলিংয়ের দায়িত্ব থাকছে তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও শুভাশিস রায়ের হাতে।

দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াড: মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক),  ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, নুরুল  হাসান সোহান ও শুভাশিষ রায়।

চাপে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ৪৬ রানে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে হঠাৎই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার ইমরুল কায়েস। আর তাতেই উলটপালট হয়ে যায় সব। ইমরুলের ইনজুরির পর ব্যাটসম্যানরা শুরু করেন সাজঘরে আসা যাওয়া। স্কোরবোর্ডে ২০ রান যোগ করতেই ফিরে যান টপ অর্ডারের সেরা তিন ব্যাটসম্যান। ফলে ৩ উইকেটে ৬৬ রানে চতুর্থ দিন শেষ করে টাইগাররা। আর এতে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ১২২ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তারা। তবে ছন্দপতনের শুরুটা হয় ইমরুলের ইনজুরিতে। ব্যক্তিগত ২৪ রানে দ্রুত রান নিতে গিতে বাঁ পায়ের উরুতে চোট লাগে তার। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।

এরপর দলীয় ৫০ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। বলে লেন্থ ঠিকভাবে বুঝতে না পারায় বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম (২৫)। সান্টনারের বলে লেট কাট করতে গিয়েছিলেন তিনি। তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও (৫)। শর্ট বলে জুজু কাটাতে না পারা এ ব্যাটসম্যান আরও একবার ওয়াগনারের বলে উইকেটরক্ষক ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা পড়েন।

এরপর স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ করতেই ফিরে যান টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ (১)। দুই রান নিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটে কাটা পড়লে দলের বিপদ আরও বেড়ে যায়। এরপরই দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। ফলে ৩ উইকেটে ৬৬ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ১০ রান অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক।

এর আগে রোববার ওয়েলিংটনের বেসিন রিসার্ভ স্টেডিয়ামে আগের দিনের ৩ উইকেটে ২৯২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান নিকোলস আর লাথাম এদিন সকালে দলের পক্ষে আরও ৫৫ রান সংগ্রহ করে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেন। তবে দলীয় ৩৪৭ রানে সাকিবের বলে ফিক করতে গিয়ে লেগ স্লিপে মিরাজের হাতে ধরা পড়েন নিকোলস। তবে আউট হওয়ার আগে দলের জন্য মূল্যবান ৫৩ রান করেছেন তিনি।

নিকোলসের বিদায়ের পর উজ্জিবিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। দ্রুত আরও দু’টি উইকেট তুলে নেয় তারা। কলিন ডি গ্রান্ডহোমকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেট পান শুভাশিস। তবে দলীয় ৩৯৮ রানে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ব্যাটসম্যান লাথাম ফেরাতে সমর্থ হয় টাইগাররা। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব। তবে আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৭৭ রান করেছেন তিনি। ৩২৯ বলে ১৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান এ ওপেনার।

তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠছিলেন ব্র্যাডলি ওয়াটলিং ও মিচেল সান্টনার। ৭৩ রানের রানের গড়ে তোলেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তবে বল হাতে নিয়েই এ জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ। শুধু তাই নয় নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হেনে বাংলাদেশকে দারুণভাবে খেলায় ফিরিয়ে আনেন তিনি। ওয়াটলিংকে উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি করার পর টিম সাউদিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। ব্যক্তিগত ৪৯ রান আউট হন ওয়াটলিং।

এরপর নবম উইকেটে নেইল ওয়াগনারকে নিয়ে ৩১ রানের জুটি গড়ে পাঁচশত রানের কোটা পার করেন সেন্টনার। দলীয় ৫০৪ রানে রাব্বির তৃতীয় শিকার হন ওয়াগনার। এরপর শেষ উইকেটে বোল্টের সঙ্গে ৩৫ রানের আরও একটি দারুণ এক জুটি গড়েন সেন্টনার। ফলে প্রথম ইনিংসে ৫৩৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক দলটি। ১০৫ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৭৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন সেন্টনার।

বাংলাদেশের পক্ষে ৮৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন কারুল ইসলাম রাব্বি। ২টি করে উইকেট পান সাকিব, শুভাশিস ও মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া তাসকিন পেয়েছেন ১টি উইকেট।

আরটি/এমআর/আরআইপি

মাঠ থেকে হাসপাতালে ইমরুল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের সিরিজের প্রথম টেস্টে আবহাওয়ার পাশাপাশি ইনজুরির সঙ্গেও লড়াই করতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় হাতে ব্যথা পেয়ে আর ফিল্ডিং করতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইনজুরিতে পরলেন ইমরুল কায়েস।

দলীয় ৪৬ রানে ওয়াগনারের বাউন্সার পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে দ্রুত রান নিতে গিয়েছিলেন তামিম। এ সময় জোড়ে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে ক্রিজে পৌঁছালেও বাঁ-পায়ের উরুতে ব্যথা পান ইমরুল। এরপর মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় তার। তবে কাজ না হওয়ায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। পরে  মাঠ থেকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে।

ইমরুলের ইনজুরিতে উলটপালট হয়ে যায় বাংলাদেশের। এরপর উইকেট পতনের মিছিলে নামে টাইগাররা। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ২০ যোগ করতেই ফিরে যান প্রথমসারির তিন ব্যাটসম্যান। ফলে ব্যকফুটে থেকেই চতুর্থ দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

রাব্বির চেয়েও অভিজ্ঞ তাসকিন!

দিন তিনেক আগে ওয়েলিংটনের বেসিন রিসার্ভ স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্যাপ পরার সৌভাগ্য হয় পেসার তাসকিন আহমেদের। টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে আজ শনিবারের দিনটিই। কারণ আগের দুই দিন দলে থাকলেও ব্যাট বা বল কোনটাই করার সুযোগ হয়নি তার। আরেক পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির অভিষেক ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সিরিজে। সে সিরিজের দুটি টেস্টেই একাদশে ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও রাব্বির চেয়ে অভিজ্ঞ তাসকিন!

শুধু টেস্ট ম্যাচই নয় বড় দৈর্ঘ্যর ম্যাচেই যোজন যোজন এগিয়ে রাব্বি। ৪৯টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার বিপরীতে তাসকিন খেলেছেন মাত্র ১০টি। সর্বশেষটি খেলেছেন ২০১৩ সালে। কিন্তু তারপরেও তাসকিনকে নিজের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ বললেন রাব্বি।

আসলে ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তাসকিনকে বিবেচনা করেননি রাব্বি। ২০১৪ সালের জুনে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক পেসার তাসকিনের। ইতোমধ্যে খেলেছেন ৩৭টি ম্যাচ। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় নবীন সদস্য রাব্বি। ২টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে আসেন তিনি। আর এ কারণেই তাসকিনকে অভিজ্ঞ বলেছেন এ পেসার।

‘আজকে যারা নতুন খেলছে তাদের সঙ্গে আমরা অনেক দিন ধরে খেলছি। প্রথম শ্রেণী, প্রিমিয়ার লিগ। তাসকিন তো অনেকদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। আমারা কাছে মনে হচ্ছিল তাসকিন তো আমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। সে আমার চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে।’- সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেন রাব্বি।

শনিবার বোলিংটা অবশ্য খারাপ খেলেননি তাসকিন। ১৫ ওভার বল করে ৭৯ রানে পেয়েছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের উইকেট। আর কিউই অধিনায়ককে যেভাবে সুইংয়ের খেলায় হারিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। অফ স্ট্যাম্পের সামান্য বাইরে ফেলে আউট সুইং হওয়ার সময় উইলিয়ামসনের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েসের হাতে।

এবার লড়াই করে হারলো বাংলাদেশ

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বড় ব্যবধানে (৮৬ রানের) হেরেছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। দ্বিতীয় ম্যাচেও একই ফল আসলো। মানে, দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের কাছে পরাস্ত হয়েছে রুমানা আহমেদের দল। এবার অবশ্য লড়াই গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে স্বাগতিকরা, হেরেছে ১৭ রানে।

কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভার খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সবকটি উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ২২৩ রান। জবাবে ৫০ ওভার খেললেও ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে গেছে ২০৬ রানে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নামা বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান শারমিন আকতার ও অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। দুজনই তুলে নিয়েছেন ফিফটি। রানআউটে কাটা পড়া শারমিন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেছেন। ৬৮ রান করে ক্যাপের বলে সরাসরি বোল্ডআউট হন রুমানা। আর তাতেই ভেঙে যায় বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন। নিগার সুলতানার ১৪ ছাড়া বাকিরা ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন ওপেনার লি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৬ রান এসেছে আরেক ওপেনার অ্যান্ড্রি স্টেইনের ব্যাট থেকে। প্রোটিয়া অধিনায়ক করেন ২৭ রান। বাংলাদেশের পক্ষে ৪ উইকেট নিয়েছেন খাদিজাতুল কুবরা।

দিন শেষে ৩০৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

দিনের শেষ বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন হেনরি নিকোলস। তবে সে ক্যাচ লুফে নিতে পারেননি সিলি মিডঅফে দাঁড়ানো সাব্বির রহমান। নিতে পারলে কিছুটা স্বস্তি নিয়েই তৃতীয় দিন শেষ করতে পারতো বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত ৩০৩ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগার অধিনায়ক মুশফিক।  আর তৃতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ২৯২ রান করেছে কিউইরা।

শনিবার ওয়েলিংটনের বেসিন রিসার্ভ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে দারুণ সূচনা করে নিউজিল্যান্ড। ওপেনিং জুটিতে ৫৪ রান যোগ করেন টম লাথাম ও জিত রাভাল। কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। তার অফসাইডে করা বলটিতে কাট করতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে পার্ট টাইম উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েসের গ্লাভসে জমা পড়ে বলটি। ২৭ রান করে ফিরে যান রাভাল।

রাভালের বিদায়ের পর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন টম লাথাম। ৭৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান এ দুই ব্যাটসম্যান। দলীয় ১৩১ রানে কিউই অধিনায়ককে ফিরিয়ে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের দেখা পান তাসকিন আহমেদ। রাভালের মত প্রায় একই ঢঙ্গে পার্টটাইম উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন উইলিয়ামসনও।

অধিনাকের বিদায়ের পর মাঠে নামেন কিউইদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রস টেলর। ৭৪ রানের জুটি গড়ে রীতিমত চোখ রাঙাচ্ছিলেন তারা। তবে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙেন রাব্বি। রাব্বির করা কোমর সমান উঁচু বলে পুল করতে চেয়েছিলেন টেলর। তবে বল চলে যায় স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহ বরাবর। আর সে বল সহজেই তালুবন্দি করলে সাজঘরমুখী হন টেলর।

এরপর চতুর্থ উইকেটে নিকোলসকে নিয়ে দলের হাল ধরেন লাথাম। শেষ পর্যন্ত দারুণ ব্যাটিং করে অপরাজিত আছেন এ দুই ব্যাটসম্যান। ইতোমধ্যেই করেছেন ৮৭ রানের জুটি। আর তাতে ভোর করেই দিনশেষে ২৯২ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা।

দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছেন লাথাম। ২২২ বল মোকাবেলা করে ১৩টি চারে ১১৯ রানে অপরাজিত আছেন এ ওপেনার। এছাড়া উইলিয়ামসন ৫৩ ও টেইলর ৪০ রান করেন। আর ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন নিকোলস। বাংলাদেশের পক্ষে রাব্বি ২টি ও তাসকিন ১টি উইকেট নেন।

এর আগে সকালে আগের দিনের ৭ উইকেটে ৫৪২ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। এদিন তাসকিনের উইকেট হারিয়ে আরও ৫৩ রান যোগ করে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ এক হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সাব্বির রহমান। ৮৬ বলে ৭টি চারে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন এ ড্যাশিং ব্যাটসম্যান।

ওয়েলিংটনের আকাশে আবারো মেঘ-পাগলা হাওয়া

দু`দিন পুরো হলো না। একদিন ভালো যেতেই বদলে গেলো ওয়েলিংটনের আবহাওয়া ও আকাশ। আবার শুরু ‘পাগলা হাওয়ার’ পাগলামি। ওয়েলিংটনে আবারো শুরু দমকা বাতাস। তবে গত পরশু যতটা জোরে ও প্রচণ্ড ‘শন শন’ শব্দে প্রবাহিত হয়েছিল, ততটা না।

এমনিতে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনও ঘটেনি। সকাল থেকে মেঘ আর সূর্যের লুকোচুরি খেলা চলছে। একবার সূর্যের দেখা মিলে। আবার মেঘ এসে ঢেকে দেয়। এর মধ্যেই চলছে খেলা।

এদিকে আরও একটা বড় খবর আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস মোটেই সুখকর না। আবারো পাগলা হাওয়া মাথা চাড়ার পূর্বাভাস। আবহাওয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, আজ রাতটা খুবই ‘উইন্ডি’ থাকবে। তার মানে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার পর বাতাসের তীব্রতা বাড়বে। পাশাপাশি আকাশও মেঘে ঢেকে যাবে এবং বৃষ্টি পড়ারও সম্ভাবনাও আছে।

এদিকে আামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাবার কথা বলা আছে। পাশাপাশি আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে এমন কথাও জানানো হয়েছে। তার মানে ব্যাটসম্যানদের পর এবার বোলার ও ফিল্ডারদের পাগলা হাওয়ার মোকাবিলা করতে হবে।

সেটা সুখকর হবেনা নিশ্চয়ই। কারণ এমন প্রচণ্ড বাতাসে বোলিং ও ফিল্ডিং করাও সহজ নয়। বিশেষ করে পেসারদের বাতাসের বিপরীতে বোলিং করতে বাড়তি শক্তিক্ষয় করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাসকিন, শুভাশিস ও কামরুল ইসলাম রাব্বির কারোই এমন দমকা বাতাসের বিপরিতে বোলিং করার  পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

কাজেই যারা বাতাসের অনুকূলে বল করবেন, তার হয়তো বাড়তি শ্রমক্ষয় হবে না। কিন্তু যারা বাতাসের বিপরিতে বল করবেন, তাদের অনেক কষ্ট ভোগ করতে হবে। তার মানে বাড়তি শারীরিক সক্ষমতার দরকার।

তামিম ও মুমিনুল প্রথম দিন প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে প্রায় অর্ধেক দিন কাটিয়ে দিয়েছেন উইকেটে। শুক্রবার সাকিব আর মুশফিক অবশ্য অনেক সৌভাগ্যবান ছিলেন। তাদের দমকা বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে সাঁরা দিন ব্যাটিং করতে হয়নি। যা এখন করতে হবে পুরো দলকে। বিশেষ করে পেসারদেরদের। দেখা যাক এ টেস্টে এখন পর্যন্ত কল্পনাকে ছাড়িয়ে যাওয়া সব নতুনত্তর মাঝে প্রচণ্ড বাতাসে বোলিং করার অভিজ্ঞতাটা কেমন হয় রাব্বি, তাসকিন ও শুভাশিসের?

টেইলরকে ফিরিয়ে রাব্বির দ্বিতীয় আঘাত

তৃতীয় উইকেট জুটিতে বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন দুই ব্যাটসম্যান টম লাথাম ও রস টেইলর। ৭৪ রানের জুটি গড়ে রীতিমত চোখ রাঙাচ্ছিলেন তারা। তবে টেইলরকে ফেরাতে পেরেছে টাইগাররা।

মাহমুদউল্লাহর তালুবন্দি করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৫১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রান। ৮২ রান নিয়ে উইকেটে রয়েছেন টম ল্যাথাম। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে ৬ রানে অপরাজিত আছেন হেনরি নিকোলস।

এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ সূচনা করে নিউজিল্যান্ড। ৫৪ রানের জুটি গড়ার পর বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আঘাত হানেন রাব্বি। তার অফসাইডে করা বলটিতে কাট করার চেষ্টা করেছিলেন রাভাল। কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিক মতো করতে পারেননি। ফলে ব্যাটের কানায় লেগে পার্ট টাইমার হিসেবে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েসের গ্লাভসে গিয়ে জমা পড়ে বলটি। ২৭ রান করে ফিরে যান রাভাল।

রাভালের বিদায়ের পর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন টম লাথাম। ৭৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান এ দুই ব্যাটসম্যান। দলীয় ১৩১ রানে কিউই অধিনায়ককে ফিরিয়ে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের দেখা পান তাসকিন আহমেদ।

উইলিয়ামসনও পার্টটাইম উইকেটরক্ষক ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব ২১৭, মুশফিক ১৫৯, মুমিনুল ৬৪, তামিম ৫৬ এবং সাব্বির ৫৪ রান করেন।

বেসিন রিজার্ভে বিরল রেকর্ড গড়লেন অফস্পিনার মিরাজ

আগেই জানা দুই তরুণ ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রায়ের অভিষেক হয়েছে। ভাবা হচ্ছিল তারাই দু’জন দুদিকে নতুন বল ভাগ করে নেবেন। আদর্শ সিমিং কন্ডিশনে দু’দিক থেকে দুই তরুণ তুর্কী বল হাতে দৌড় শুরু করবেন। তিন স্লিপ আর এক গালি ওঁৎ পেতে থাকবে- দেখতেই ভাল লাগবে। এমন ভেবে অপেক্ষার প্রহর গোনা।

কিন্তু একি! তাসকিন-শুভাশিসের কেউ নন। সবাইকে অবাক করে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল বল হাতে তুলে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। বোলিং মার্কের দিকে এগুচ্ছেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাতাস আর ঘাসযুক্ত উইকেটেও স্পিনার দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু! ঋাবা যায়? কে কবে দেখেছে এমনটা? হ্যাঁ দেখেছে। তবে সেটা টেস্টে নয়। ওয়ানডেতে।

১৯৯২ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে প্রায় প্রতি খেলায় অফস্পিনার দীপক প্যাটেলকে দিয়ে বোলিংয়ের সূচনা করিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেটা ৫০ ওভারের ম্যাচে; কিন্তু পাঁচদিনের টেস্টে স্পিনার দিয়ে শুরু? আদৌ কখনো হয়েছে কি?

বেসিন রিজার্ভের প্রেস বক্সে রেকর্ড ঘাঁটাঘাটি শুরু হয়ে গেল। পরে ক্রিকইনফোর মোহাম্মদ ইসামের সৌজন্যে মিললো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মেহেদী হাসান মিরাজের আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আরও তিন স্পিনারের বোলিং শুরুর রেকর্ড আছে। তবে সেটা প্রথম কোনো দলের প্রথম বোলিং ইনিংসে নয়। পরের ইনিংসে।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মেহেদী হাসান মিরাজের আগে আরও তিন স্পিনার বোলিং শুরু করেছিলেন। প্রথমজন হলেন ইংলিশ স্পিনান ডেনিস কম্পটন। তিনি ১৯৫১ সালে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার তৃতীয় ও ইংলিশ বোলিংয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং শুরু করে ২ ওভার করেছিলেন।

এরপর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দ্বিতীয় হিসেবে বোলিং শুরুর রেকর্ডটি এক দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার সি ই এক্সটেনের। তিনি ১৯৯৫ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫ ওভারের ওপেনিং স্পেল করেন। সেটা ছিল ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে। অর্থাৎ নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের সময়।

আর কিউই বাঁ-হাতি স্পিনার ও সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিও একবার টেস্টে বোলিং ওপেন করেন। সেটা ১৯৯৯ সালে হ্যামিল্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজদের বিরুদ্ধে। ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং শুরু করেন বাঁ-হাতি স্পিনার ভেট্টোরি।

আর আজ মেহেদী হাসান মিরাজ বল করলেন একদম প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসে। এমন ঘটনা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এই প্রথম। আর ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভেও প্রথম। ৮ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ওভারে উইকেট পাবার সম্ভাবনা জাগিয়ে ছিলেন মিরাজ।

তার বলে ঠিকমত খেলতে না পেরে ক্যাচ দিয়ে ফেলেছিলেন কিউই ওপেনার রাভাল। প্রথম আর দ্বিতীয় স্লিপের পাশ দিয়ে বল চলে যায়। স্লিপে একজন ছিলেন। দু’জন থাকলেই হয়ত ক্যাচ হয়ে যেত।

তার মানে কি দাড়াল? ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে প্রথম কোনো স্পিনারে বল হাতে সূচনা। আর ম্যাচের দ্বিতীয় তথা পরে ব্যাট করা দলের প্রথম ইনিংসে বোলিং সূচনাকারী হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজই প্রথম স্পিনার।

আঙ্গুলে ব্যাথা পাওয়া মুশফিকের পরিবর্তে কিপিংয়ে ইমরুল

বেসিন রিজার্ভের প্রেস বক্সটা মাঠ থেকে বেশ উঁচুতে। কাঁচ ঘেরা ওই প্রেস বক্সের একটা বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মত, তাহলো এ মাঠের অনেক শব্দই প্রেস বক্স থেকে শোনা যায়। ব্যাটসম্যানের ব্যাটে-বলের পরিষ্কার আওয়াজ কানে আসে।

বাংলাদেশ দল ফিল্ডিংয়ে নামল, কোথায় সাবাশ-সাবাশ ধ্বনি কানে আসবে, তা না তেমন কোন কথাই শোনা গেল না। সাধারনতঃ মুশফিকুর রহীম দলকে উজ্জীবিত করতে সব সময় এসব উদ্দীপক কথা বলেন।

কিন্তু আজ সকালে ফিল্ডিংয়ে নামার সময় সে উদ্দীপ্ত কথোপকোথন শোনা গেল না। উল্টো মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা তামিম ইকবাল বল তুলে দিলেন অফস্পিনার মিরাজের হাতে।

তার সাথে কথা-বার্তা বলে ফিল্ডিং সেট করার দায়িত্বটাও সামলালেন তামিম। টিম বাংলাদেশ মাঠে নামল, বোলার মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে বল তুলে দেয়া থেকে শুরু কওে তার সাথে কথা বলা, প্রতিটি ডেলিভারিরর আগে তার কাছে ছুটে যাওয়া আর ফিল্ডিং রদ-বদলের প্রয়োজন আছে কি না- এসব জানতে চাইতে কেন বারবার মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা তামিম ইকবাল এসে করবেন?

ফিল্ডারদের পজিশন দেখে একে-ওকে এদিক-ওদিক সরে যেতে বলছেন সহ অধিনায়ক। সেকি তামিম কেন এসব করছেন? এ গুলোতো অধিনায়কের করার কথা। মুশফিক থাকতে তামিম কেন অধিনায়কত্ব করছেন?

তাহলে মুশফিক কোথায়? বেসিন রিজার্ভের প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের মাঝে মৃদু গুঞ্জন। সত্যিই তো মুশফিক কোথায়? বাংলাদেশ অধিনায়ক তো মাঠেই নেই! তার বদলে যে ইমরুল কায়েস কিপিংয়ে।

শুক্রবার প্রায় সারা দিন ব্যাটিং করা মুশফিক মাঠে নামবেন না। গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে দাঁড়াবেন না- তা কি হয়?

হঠাৎ কি হলো যে অধিনায়ক ছাড়াই ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ দল? তবে কি হ্যামস্ট্রিং ইনজুুরিটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল নাকি? নানা প্রশ্ন, গুঞ্জন।
অবশেষে জানা গেল, নাহ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি না। আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় দুই হাতের আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়েছিলেন মুশফিক। বাঁ-হাতে বুড়ো আঙ্গুল আর ডান হাতের তর্জনীতে বল লেগেছিল। ব্যাটিংয়ের সময় তেমন ব্যথা অনুভব না হলেও আজ সকাল থেকে খানিক ব্যথা অনুভব করা। ইনজুুরির গুরুত্ব জানতে আজ সকালে এক্সরে করতে গেলেন।

সহ অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে দল যখন ফিল্ডিংয়ে নামল, মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম জানালেন, মুশফিক তখন কাছেই এক ক্লিনিকে এক্সরে করতে গেছেন। এ কারণেই উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ইমরুল কায়েস।

৫৯৫ রানে বাংলাদেশের ইনিংস ডিক্লেয়ার

গত কালের মত অত সুন্দর সোনালী রোদের সকাল নয়। আকাশ অমন নীলাম্বরি শাড়িও পরে নেই। এমনিতে পরিষ্কার। তবে একটু-আধটু মেঘের ঘনঘটাও আছে। বাতাস আছে। তবে ৪৮ ঘন্টা আগের সেই প্রচণ্ডতা ও তীব্রতা নেই। তারপরও সব মিলে ওয়েলিংটনে আজও এক সুন্দর সকাল।

এ সুন্দর সকালটা বিফলে যায়নি। মন্দ কাটেনি টাইগারদের। ৬ উইকেটে ৫৪২ রান নিয়ে খেলতে নামা মুশফিকের দল শনিবার সকালে যোগ করেছে আরও ৫৩ রান। একটি মাত্র উইকেট হারিয়েছে। ফিরে গেছেন তাসকিন আহমেদ (৩)।

১০ রানে দিন শুরু করা সাব্বির রহমান রুম্মনও অগ্রজ সাকিব-মুশফিকের পথে হাঁটার চেষ্টা করেছেন। ইংল্যান্ডের সাথে এইতো গত অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধশতকের দেখা পাওয়া সাব্বির এক টেস্ট পর আবার হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।

তার ব্যাট পঞ্চাশ ছুঁয়েছে। সাব্বিরের ব্যাট পঞ্চাশ ছুঁতেই ইনিংস ঘোষণা। আজ সকালে এক ঘণ্টায় সাব্বিরের সাবলীল ব্যাট চালনা আর কিউই ফিল্ডারদের আলগা ফিল্ডিং- দুয়ে মিলে ৬০ মিনিটে ৫৩ রান যোগ হলো।

এর পরপরই ইনিংস ঘোষণা। শেষ পরিনতি কি হবে? তার জবাব দেবে সময়। তবে আগের দিনের অমন সোনালি সাফল্য আর একগুচ্ছ রেকর্ডে মোড়ানো দিনের ধারাবাহিকতা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়নি।

কারো কারো সংশয়-সন্দেহ ছিল, আজ তৃতীয় দিন সকালে সে ধারাবাহিকতা বজায় নাও থাকতে পারে। তৃতীয় দিন সকাল সকাল হয়তো অল্প সময় ও সংগ্রহে ইনিংসের বাকি উইকেটের পতন ঘটবে মুশফিক বাহিনীর। সেটাও অসাড় প্রমাণ হয়েছে।

আগের দিনের ধারাবাহিকতা হারিয়ে যায়নি। বজায় ছিল। আর তা ছিল বলেই তো তৃতীয় তিন প্রথম ঘণ্টায় মাত্র এক উইকেট হারানো। শুধু তাই নয়, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউইদের প্রায় দুই দিন ফিল্ডিং করিয়ে তারপর বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণা। তাও ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে। এটাই বা কম কি?

মুশফিক-সাকিবের রেকর্ডের মত এটাও যে নতুন!

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৫২ ওভারে ৫৯৫/৮ ইনিংস ঘোষণা (তামিম ৫৬, ইমরুল ১, মুমিনুল ৬৪, মাহমুদউল্লাহ ২৬, সাকিব ২১৭, মুশফিক ১৫৯, সাব্বির ৫৪*, মিরাজ ০, তাসকিন ৩, রাব্বি ৬*; বোল্ট ২/১৩১, সাউদি ২/১৫৮, ডি গ্র্যান্ডহোম ০/৬৫, ওয়াগনার ৪/১৫১ স্যান্টনার ০/৬২, উইলিয়ামসন ০/২০)।

তাসকিনের প্রথম টেস্ট উইকেট

অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে স্বপ্ন পুরণ হল। টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল তার বহুদিনের। ফিটনেস ঠিক থাকলে আর ইনজুরি বার বার আঘান না হানলে হয়তো আরও আগে টেস্ট ক্যাপ মাথায় পরা হয়ে যেতো তাসকিন আহমেদের। রঙিন জার্সির পর এবার জাতীয় দলের সাদা জার্সিতেও স্বপ্নের অভিষেক হয়েছে প্রতিভাবান এই পেসারের। অভিষেকের পর প্রথম উইকেটের জন্যও প্রতীক্ষা করতে হয়নি খুব বেশি। কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে ফিরিয়ে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের দেখা পেলেন তিনি।

২০১৪ সালে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর ২৩টি ওয়ানডে ও ১৪টি টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন এই পেসার। ওয়ানডেতে ৩৫টি এবং টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৯ উইকেট। অবেশেষে প্রতীক্ষার অবসান হলো তার এবং টেস্ট দলের একজন হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে গেলেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো, বেসিন রিজার্ভের পিচ যতই ফাস্ট বোলার ফ্রেন্ডলি হোক না কেন, তাসকিন কি সেখানে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন? মাত্র ১০টা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। এত কম ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেস্ট অভিষেক, তাও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে। এত স্বল্প অভিজ্ঞতা নিয়ে তাসকিন কতটা কুলিয়ে উঠতে পারবেন? এই প্রশ্ন ছিল সবার মাঝেই।

অবশেষে আসল সে মাহেন্দ্রক্ষণ। বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ার্মআপ, স্ট্রেচিং, হালকা ফিল্ডিং-ক্যাচিং এবং স্পট বোলিংয়ের পর কোর্টনি ওয়ালসের হাত থেকে টেস্ট ক্যাপ পরলেন তাসকিন। বৃহস্পতিবার অভিষেক হলেও প্রথম হাত ঘোরানোর সুযোগ পেলেন ম্যাচের তৃতীয় দিন এসে।

আজ টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম ওভারেই তাসকিন পেতে পারতেন উইকেটের স্বাদ; কিন্তু সাকিব ক্যাচ মিস করায় প্রথম ওভারে আর উইকেটের দেখা পেল না ডানহাতি এ পেসার। তবে অভিষেক উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় নি তাকে।

নিজের অষ্টম ওভারে এসে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের উইকেট তুলে নিয়ে টেস্টে উইকেটের খাতা খুললেন তাসকিন। তার বলে ইমরুল কায়েসের হাতে নিজের উইকেট সঁপে দেন উইলিয়ামসন। ৫৫ বলে ৫৩ রান করে সাজ ঘরে ফেরেন তিনি। চার মেরেছেন ৮টি।

হাবিবুল বাশারকে ছাড়িয়ে তামিম

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের খুব একটা খারাপ কাটেনি। বৃষ্টিভেজা দিনে ৩ উইকেটে ১৫৪ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ৬৪ আর সাকিব আল হাসান ৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

অর্ধশত রানের ইনিংস এসেছে তামিম ইকবালের ব্যাট থেকেও। ৫০ বলে ৫৬ রান করে ফেরার দিনে একটা মাইলফলকও ছাড়িয়ে গেছেন এই বাঁ-হাতি স্টাইলিস্ট ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন টেস্টে বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক, যা তাকে নিয়ে গেছে নিজের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের ওপরে।

বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হাবিবুল বাশার সর্বোচ্চ ২৭টি পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলার (২৪টি ফিফটি এবং ৩টি সেঞ্চুরি) রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার তাকে পেরিয়ে তামিমই এখন টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশোর্ধ রানের (২০টি ফিফটি এবং ৮টি সেঞ্চুরি) ইনিংস খেলার কীর্তি গড়লেন। তবে হাফ সেঞ্চুরির হিসেবে এখনও এগিয়ে হাবিবুল বাশার সুমনই। সুমনের ২৪টি এবং তামিমের হাফ সেঞ্চুরি এখন ২০টি। সাবেক অধিনায়ককে টপকাতে হলে আরও ৫টি হাফ সেঞ্চুরি করতে হবে তামিমকে।

কিছুদিন আগেই তামিম ইকবালের এক মাইলফলক ছোঁয়ার সময় হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, ‘টেস্টে তামিমের দশ হাজার রান হবে।’ তিনি নিজে অবশ্য প্রথম অধিনায়কের এই কথাকে প্রেরণা হিসেবে নিলেও সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে আশার কথা বলেননি। বলেছিলেন- ‘আমরা যে পরিমাণ টেস্ট খেলার সুযোগ পাই, তাতে সে সম্ভাবনা খুব একটা নেই।’

তবে তামিম ইকবাল বাংলাদেশের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ঠিকই নিজের করে চলেছেন। তিন ফরমেটেই তিনি দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে নয় হাজার রান ছাড়িয়ে এখন এখন দশ হাজার রানের পথে তামিম।

দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৪

কনকনে হিম ঠাণ্ডার সঙ্গে শোঁ শোঁ বাতাসেই ভোর হয়েছিল ওয়েলিংটনে। আবহাওয়ার পূর্বাভাষও ছিল সকালে না হলে দুপুরে বৃষ্টি আসতে পারে। আর ধারণা অনুযায়ীই বৃষ্টি আঘাতে নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা হলো মাত্র ৪০.২ ওভার। আর তাতে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার বেসিন রিসার্ভ স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আর শুরুতেই ইমরুল কায়েসের (১) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। টিম সাউদির কাঁধ সমান উঁচু বলে হুক করতে গিয়ে স্কোয়ারিশ লং লেগে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল। আর সে ক্যাচ সহজেই তালুবন্দি করেন ট্রেন্ট বোল্ট।

ইমরুলের বিদায়ের পর টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হককে নিয়ে দলের হাল ধরেন তামিম ইকবাল। ধীর গতিতে এগিয়ে যেতে থাকেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তবে ১১.৩ ওভার পর বৃষ্টি নামলে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বৃষ্টির তাণ্ডব শেষ হলে আবার খেলা শুরু হয়। তবে এবার বেনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন তামিম। মাত্র ৪৮ বলেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি। তবে হাফসেঞ্চুরি করার পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তিনি। ৫০ বল মোকাবেলা করে ব্যক্তিগত ৫৬ রানে বিদায় নেন এ ড্যাশিং ওপেনার।

বোল্টের একটু ভেতরে ঢোকা বলে লাইন মিস করলে তামিমের পায়ে লাগে। আম্পায়ার স্বাগতিকদের জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন কেন উইলিয়ামসন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের উপরের দিকে আঘাত হানতো। সিদ্ধান্ত পাল্টে এবার তামিমকে আউট দেন আম্পায়ার।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। গড়ে তোলে অর্ধশত রানের জুটি। তবে এরপর আবার বাগড়া দেয় বৃষ্টি। ফলে খেলা আবারো বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ের বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১৯ রান।

প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হয়। তবে দলীয় স্কোরবোর্ডে আর ২৬ রান যোগ করতেই নেইল ওয়াগনারের বলে সাজঘরে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অফষ্ট্যাম্পের অনেক বাইরে থাকা বল অনেকটা ব্যাটসম্যানের মত খোঁচা মারতে গিয়ে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর উইকেটে আসেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে আর ১৩ বল করার পরই আলোক স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মাঠের পরিস্থিতি ঠিক না হলে দিনের খেলা সেখানেই শেষ হয়। এ সময় বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৪ রান। ক্যারিয়ারের ১১তম হাফসেঞ্চুরি তুলে মুমিনুল অপরাজিত আছেন ৬৪ রানে। আর সাকিব অপরাজিত রয়েছেন ৫ রানে।

মুমিনুলের ১১তম হাফসেঞ্চুরি

বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিষ্ট বলা হয় মুমিনুল হককে। তাই টেস্ট ম্যাচে তার কাছে বাড়তি প্রত্যাশাটা থাকেই ক্রিকেটভক্তদের। বুধবার ওয়েলিংটনে তার ষোলোআনাই উসুল করে দিচ্ছেন টাইগার এই লিটল মাস্টার। দারুণ ব্যাটিং করে ইতোমধ্যেই তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১১তম হাফসেঞ্চুরি।

এদিন ম্যাচের চতুর্থ ওভারেই উইকেট আসতে হয় মুমিনুলকে। শুরুতেই ইমরুল কায়েসের উইকেট হারিয়ে চাপে পরা বাংলাদেশকে টেনে তোলেন তিনি। ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গে ৪৪ রানের জুটি গড়ার পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে গড়েছেন অর্ধশতাধিক রান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইতোমধ্যেই গড়েছেন ৮১ রানের জুটি।

আর ব্যক্তিগত ৫৮ রানে অপরাজিত আছেন মুমিনুল। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ৭৯ বলে। ৯টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

মুমিনুলের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে ভর করে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। টাইগার এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে গড়ে তোলেন অর্ধশত রানের জুটি। এরপরই বাগড়া দেয় বৃষ্টি। প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হলে মুমিনুল তুলে নেন নিজের ক্যারিয়ারের এগারোতম অর্ধশত। তবে মুমিনুলের অর্ধশতের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ব্যক্তিগত ২৬ রান করে নেইল ওয়াগনারের বলে ওয়ালটিংকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২ রান। মুমিনুল ৬৩ আর সাকিব ৫ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।

এর আগে সকাল থেকেই শোঁ শোঁ বাতাসের সঙ্গে কনকনে হিম ঠাণ্ডা। আবহাওয়ার পূর্বাভাষ জানান দিয়েছিল, সকালের দিকে না হলেও ভর দুপুরে বৃষ্টি চলে আসতে পারে। ধারণা করা হচ্ছিল লাঞ্চের সময় কিংবা তার পরপরই হয়ত বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা আছে। তারপরও সকালে আবহাওয়া তেমন বাধা হয়ে দাড়াল না। অন্তত শুরুটা ভালোয় ভালোয় হয়ে গেল। টেস্ট নির্ধারিত সময়, মানে স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা (বাংলাদেশ সময় ভোর চারটা) শুরু হল।

কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাষকে ভুল প্রমাণ করে এক ঘন্টা পুরো পার না হতেই শুরু হলো ঝিরঝিরে বৃষ্টি। ঠিক বাংলাদেশে উপকূলে ঝড়ো বাতাস বইলে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলে যেমন দমকা বাতাসের সাথে ঝিঝিরে বৃষ্টি পড়ে ঠিক তেমনি। খেলা নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়ার ১ ঘণ্টা পর অবশেষে নেমে এলো ঝিরঝিরে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকলো প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। অবশেষে আবারও খেলা শুরু হলো। বাংলাদেশ সময় সোয়া ৬টায় আবারও শুরু হয় খেলা।

তবে বৃষ্টির পর বাংলাদেশ হারালো সবচেয়ে বড় উইকেটটি। বোল্টের একটু ভেতরে ঢোকা বলে লাইন মিস করলে তামিমের পায়ে লাগে। আম্পায়ার স্বাগতিকদের জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন কেন উইলিয়ামসন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের উপরের দিকে আঘাত হানতো। সিদ্ধান্ত পাল্টে এবার তামিমকে আউট দেন আম্পায়ার।

তবে আউট হওয়ার আগে অবশ্য ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেন তামিম ইকবাল। ৫০ বল খেলে তিনি করেন ৫৬ রান। ইনিংসে বাউন্ডারির মার ছিল ১১টি। তিনি যখন আউট হন বাংলাদেশের রান তখন ৬০। এর আগে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ভাঙে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। টিম সাউদির শর্ট বলে পুল করে ট্রেন্ট বোল্টকে ক্যাচ দেন ইমরুল(১)।

তামিমের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি

ওয়েলিংটনের প্রচন্ড বাতাস আর হিম শীতল সকালে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে তামিম ইকবাল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পূরণ করলেন টেস্ট ক্যরিয়ারের নিজের ২০তম হাফসেঞ্চুরি।

সকাল থেকেই শোঁ শোঁ বাতাসের সঙ্গে কনকনে হিম ঠাণ্ডা। এরই মধ্যে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দলীয় ১৬ রানে কিউই পেসার সাউদির বলে বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে তামিম তুলে নেন নিজের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি তামিমের ষষ্ট অর্ধশত।

কিন্তু ছন্দটা ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। হাফ সেঞ্চুরি করেই আউট হয়ে যান এই ওপেনার। বোল্টের একটু ভেতরে ঢোকা বলে লাইন মিস করলে তামিমের পায়ে লাগে। আম্পায়ার স্বাগতিকদের জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন কেন উইলিয়ামসন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের উপরের দিকে আঘাত হানতো। সিদ্ধান্ত পাল্টে এবার তামিমকে আউট দেন আম্পায়ার।

তবে আউট হওয়ার আগে অবশ্য ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেন তামিম ইকবাল। ৫০ বল খেলে তিনি করেন ৫৬ রান। ইনিংসে বাউন্ডারির মার ছিল ১১টি।

সেদিন প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলেন মুশফিক

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট মাঠ গড়াচ্ছে বৃহস্পতিবার। মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে কিউইদের বিপক্ষে এদিন সকালেই মাঠে নামবে সাদা পোশাকের বাংলাদেশ দল। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর এখন টেস্ট সিরিজ থেকে টাইগারদের কিছু নিয়ে ফেরার সময়।

এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসেবেই প্রাপ্তির খাতায় যোগফল শূন্য হয়ে আছে তা নয়, সফরটা কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছুই। মুশফিকুর রহীম যেমন সফরের প্রথম ওয়ানডেতেই ইনজুরিতে পড়ে খেলতে পারেননি বাকি দুই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে। মাশরাফি বিন মতুর্জ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে পড়েছেন আবারও ইনজুরিতে।

ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭৭ রানে হারা ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সময় হ্যামট্রিং ইনজুরিতে পড়েন উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম। ৩৪২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুশফিকুর রহীম মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ৪২ রান করে। সেদিন ড্রেসিং রুমে নাকি প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলেন মুশফিক, সংবাদ মাধ্যমের কাছে আজ বুধবার বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন এমনই।

মুশফিক বলেন, ‘উইকেটগুলো দেখে যেটা মনে হয়েছে, আমি খুবই মিস করেছি সিরিজটি। চোট পাওয়ার পর ড্রেসিং রুমে ফিরে আমি প্রায় কেঁদেই দিয়েছিলাম সেদিন।’

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে আগে থেকেই ভালো খেলার লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন মুশফিক। ৪২ রানের ইনিংসে বার্তাও ছিল। কিন্তু ড্রেসিং রুমে ফিরে যখন বুঝলেন, ইনজুরি মাঠ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে তাকে, তখনই মনটাকে আর বেঁধে রাখতে পারেননি আবেগী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মুশফিক। ‘এসব দেশে এসে যে ভালো খেলে, তাদেরকে অন্যরকমভাবে মূল্যায়ন করা হয়। আমি সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলো না,’ বুধবার সংবাদ মাধ্যমে বলেন মুশফিক।

কাল প্রোটিয়া নারীদের মুখোমুখি রোমানারা

বৃহস্পতিবার ভোরে নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর একই দিনে কক্সবাজারে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রোটিয়া নারীদের বিপক্ষে প্রতিশোধের মিশনে নামবে রোমানা বাহিনী।

সর্বশেষ ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নারী দল বাংলাদেশ সফর করেছিল। সেবার সিরিজ হারলেও দারুণ লড়াই করেছিল সালমাবাহিনী। তিন ম্যাচ সিরিজের একটি ম্যাচ জয় তুলে জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের নারীরাও কম যান না। তার ঠিক এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয় সালমারা। তাই বাংলাদেশের জন্য এবারের সিরিজটি প্রতিশোধের মিশন।

এর আগের দুই সিরিজে প্রায় অনভিজ্ঞ ছিল বাংলাদেশের নারীরা। সময়ের সঙ্গে অনেকটাই পরিণত হয়েছে তারা। মাস তিনেক আগে আয়ারল্যান্ডে গিয়ে সিরিজ জিতে এসেছে তারা। তাই এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের লক্ষেই মাঠে নামবে রোমানারা।

জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী দলের অধিনায়ক রুমানাও, ‘হোম সিরিজ সবার জন্যই সহজ হয়। তাই আমরা খুবই আশাবাদী। সবাই ভাল খেলেই আশা করি সিরিজ জিততে পারবো।’

বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশের মূল দুঃশ্চিন্তা থাকবে ব্যাটিংয়ে। কারণ আগের প্রায় সব ম্যাচেই দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হারের স্বাদই পেতে হয় তাদের। এ ব্যর্থতার রেশ কাটাতে ইংল্যান্ড থেকে ভালো মানের ব্যাটিং কোচও এনেছে তারা। ডেভিড ক্যাপেলের অধীনে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।

তবে রোমানা চান- তিনটি বিভাগেই জ্বলে উঠতে। তবে ব্যাটসম্যানদের বাড়তি দায়িত্ব নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠলে ঠিকই জিতবো। দলের সবার ফিটনেস শতভাগ আছে। আমরা জয়ের লক্ষ্যেই খেলবো। আমরা আত্মবিশ্বাসীও। তবে জিততে হলে শুধু ব্যাটিং নয়; সব বিভাগেই ভালো খেলতে হবে।’

ওয়েলিংটনে মুশফিকদের জন্য বিসিবির নৈশভোজ

ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে সব ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের হতাশা গ্রাস করতে পারেনি। শিবিরে সত্যিকারে হতাশা নেমে আসেনি একবারের জন্যও। কিছু গুঞ্জন ডালপালা গজালেও ক্রিকেটারদের বাহ্যিক আচার-আচরণে কোনোই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। সবাই স্বাভাবিক।

ওয়েলিংটনে ব্ল্যাক-ক্যাপসদের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের আগে গত দু’দিনের অনুশীলনে পুরো দলকেই  চাঙ্গা মনে হয়েছে। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে দলকে উজ্জীবিত রাখতে টিম ডিনারের আয়োজন করা হয়। ওয়েলিংটনের ‘থাই সেফ’ রেস্টুরেন্টে পুরো দল মিলে রাতের খাবার একসাথে খেয়েছেন মুশফিক, তামিম, ইমরুল, সাকিব ও মামুদউল্লাহরা।

এ সময় সব কোচিং স্টাফ, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এবং ম্যানেজার সাব্বির খান ও মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাথে জাতীয় দলের আরেক সাবেক ক্রিকেটার ও এ সিরিজের অন্যতম ধারাভাষ্যকার আতহার আলিও ছিলেন ওই নৈশভোজে।

মোস্তাফিজকে মিস করবেন মুশফিক

বিশ্বকাপের পর থেকেই দেশের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে সফল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারলেও এর আগে ঘরের মাঠে পায় টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়ের স্বাদ। টাইগারদের সামনে সুযোগ ছিল নিউজিল্যান্ড সফরে নিজেদের তুলে ধরার। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি হোয়াটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশের সামনে এবার লক্ষ্য টেস্ট সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানো। তবে এ পরীক্ষায় টাইগারদের টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিক পাচ্ছে না দলের অন্যতম সেরা বোলার মোস্তাফিজকে।

সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, `মোস্তাফিজের জন্য আফসোসতো থাকবেই। সে এমন এক বোলার যাকে যে কোন ফরম্যাটে মিস করবেন যে কোন অধিনায়ক।`

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টে অভিজ্ঞ পেসার নেই বললেই চলে। পুরো পেস বহরে অভিজ্ঞ বলতে একা রুবেল হোসেন, যার ঝুলিতে মোটে ২৩ টেস্টের অভিজ্ঞতা। আর সঙ্গে যে তিন আনকোরা তরুণ, তাসকিন, শুভাশীষ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। যাদের মধ্যে তাসকিন ও শুভাশিসের টেস্ট অভিষেকই হয়নি। বেসিন রিজার্ভের ঘাসের পিচে ঠিক কোন লাইনে বল ফেলতে হয়, তা তাদের অজানা।

বলার অপেক্ষঅ রাখে না, উইকেটে ঘাস থাকলেই যে তা বোলারদের স্বর্গ হবে, তা ভাবার কোন কারণ নেই। এ জন্য জায়গা মতো বল ফেলা খুব জরুরী। লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল ফেলতে পারলেই কেবল সাফল্য ধরা দিবে।

অন্যথায় উইকেট যতই পক্ষে থাকুক না কেন , উল্টো ব্যর্থতার ঘানি টানতে হবে। একইভাবে রুবেল, তাসকিন, শুভাশীস ও কামরুল ইসলাম রব্বির মত আনকোরা তরুণদের এই পিচে আবেগতাড়িৎ হয়ে অযথা খাটো লেন্থে বল ফেললে বিপদ। তখন সাফল্যের বিপরীতে ব্যর্থতাই হবে সঙ্গী। এরপরও ইনজুরি থেকে সদ্য ফেরা মোস্তাফিজকে নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে লঙ্গার ভার্সনে এখনই খেলানোর মত ঝুঁকি না নিয়ে প্রথম টেস্ট দলের বাইরে রেখেছেন।

শতভাগ ফিট না হয়েও অন্যরকম চ্যালেঞ্জ মুশফিকের

শুধু ক্রিকেট নয়, জীবনটাও কত বৈচিত্রময়! অধিনায়ক না হলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ। গত তিন চার বছরের হিসেব করলে দেখা যাবে টিম বাংলাদেশের হয়ে সব ফরম্যাটে, বিশেষ করে টেস্ট এবং ওয়ানডেতে সবচেয়ে ভালো খেলা ব্যাটসম্যানের অন্যতম হচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চে প্রথম ওয়ানডেতে হ্যামস্ট্রিং ইনজুুরির শিকার হবার পর থেকে সেই নির্ভরতার প্রতীক মাঠের বাইরে।

শেষ দুই ওয়ানডেতে আর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের পুরো সময় ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবেল’ মুশফিকুর রহিমের সার্ভিস পায়নি টিম বাংলাদেশ। গত প্রায় দুই সপ্তাহ পুরো দল সীমিত ওভারের সিরিজে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। সহযোগী সবাই ব্যস্ত ছিলেন নিবিড় ও কঠোর অনুশীলনে। আর সে সময়টা মুশফিকুর রহিম লড়াই করেছেন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে টেস্টে মাঠে ফেরার সংগ্রামে। এ কাজে তার সঙ্গী ছিলেন ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন। প্রতিদিন টিম প্র্যাকটিসের আগে শুরু হয়েছে মুশফিকের মাঠে ফেরার লড়াই। কখনো রানিং। কখনো ফিজিক্যাল ট্রেনিং করেছেন একান্তে। তারপরও কারো কারো মনে সংশয় সন্দেহ ছিল, মুশফিক শেষ পর্যন্ত টেস্ট খেলতে পারবেন তো ? কীপিংটা না হয় নুরুল হাসান সোহান চালিয়ে দিবেন, কিন্তু  যদি মুশফিক খেলতে না পারেন , তাহলে অধিনায়কত্ব করবেন কে?

এমন সংশয়-সন্দেহর বীজ কিন্তু অঙ্কুরিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সে শঙ্কা ও  সন্দেহের মেঘ কেটেছে। হ্যামিস্ট্রিং ইনজুরির সঙ্গে লড়ে দুসপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে নিজেকে ফিট প্রমাণ করেই মাঠে মুশফিক। সব কিছু ঠিক থাকলে তিনি খেলবেন, উইকেট কীপিং করবেন এবং নেতৃত্বও দেবেন।

mushfik

গত দু`দিন অনুশীলনেই পরিষ্কার হয়েছে মুশফিকুর রহিমই কীপিং করবেন। উইকেট কীপার ও তিন স্লিপ এক গ্যালি রেখে যে ক্যাচিং প্র্যাকটিস হয়েছে, সেখানে গ্লাভস হাতে ছিলেন মুশফিক। মুশফিকের কীপিং করার অর্থ, নুরুল হাসান সোহানের এগার জনের বাইরে চলে যাওয়া। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পাঁচ খেলায় গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে দাড়ানো নুরুল হাসান সোহানকে টেস্টে ড্রেসিং রুসে বসেই কাটাতে হবে।

তারপরও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সন্মেলনে প্রশ্ন উঠলো টেস্ট ম্যাচ, ৫ দিনের খেলা। দীর্ঘ সময় কীপিং করতে হবে। আবার ব্যাটিংয়েও বেশি সময় উইকেটে থাকতে হতে পারে। বাড়তি ফিটনেস দরকার। আপনি আপনার ফিটনেস লেভেল কেমন ? কীপিং ও ব্যাটিং করার মত ফিটনেস কি আছে আপনার? নিজেকে কতটা ফিট মনে করেন আপনি?

এ প্রশ্নর জবাবে মুশফিকের সহজ সরল স্বীকারোক্তি , ‘আল্লাহর রহমতে শারীরিক অবস্থা ভাল। হ্যামিস্ট্রিং ইনজুরির সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে।  তারপরও নিজেকে ১০০ ভাগ সুস্থ্য বা ফিট বলা ঠিক হবে না। হ্যামিস্ট্রং ইনজুরি কিন্তু আবারো ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। তারপরও বলবো , খেলার জন্য ফিট।’

mushfik

তার মানে মুশফিক নিজেই শতভাগ ফিট মানছেন না। তবে যেটুকু আছে, তা দিয়ে কাজ চলবে। এমন আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই মাঠে নামার প্রস্তুতি। সেক্ষেত্রে স্রষ্টার অনুকূল্য দরকার। এমনিতেই হ্যামস্ট্রিং একটু খারাপ জাতের ইনজুরি যা সহজে যায় না, ভোগায় আবার মাথা চারা দেয়। এ সিরিজের মাঝে যদি দেয়, তাহলে শুধু মুশফিককেই হতাশার অতলে তলিয়ে নেবে না। টিম বাংলাদেশের জন্যও হবে অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ টেস্টে মুশফিকের ব্যাটিংটা যে খুব জরুরী।

তিন সহযোগী তামিম, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ প্রত্যেকের নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভালো খেলার রেকর্ড আছে। সেঞ্চুরি না থাকলেও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সর্বাধিক টেস্ট হাফ সেঞ্চুরির মালিক তামিম ইকবাল। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে একমাত্র টেস্টে শতরান করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ ( প্রথম ইনিংসে ১১৫) ও সাকিব (১০০)। মুশফিকুর রহিমের নামের পাশে এখনো কিছুই নেই। বরং তার নিজের ট্র্যাক রেকর্ডের তুলনায় নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পরিসংখ্যান খারাপ। খারপ মানে ভীষণ খারপ। আগের তিন টেস্টে তার কোন হাফ সেঞ্চুরিও নেই। সাকুল্যে রান করেছেন মোটে ২০১০ সালের ১৫ ও ১৯ । ফেব্রুয়ারীতে হ্যামিল্টনে হওয়া শেষ টেস্টে মাহমুদউল্লাহ-সাকিব যখন তিন অংকে পা রেখেছিলেন, মুশফিকের ব্যাটে রান খরা।  সংগ্রহ ছিল ৭ ও ২২।

তারও আগে ২০০৮ সালের জানুয়ারী দুই টেস্টের চার ইনিংসেও মুশফিকের ব্যাট কথা বলেনি। ডুনেডিনে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে ( ৭+৬)  দুই অংকেই পৌছানো সম্ভব হয়নি। আর সেই বছর এই ওয়েলিংটনের বেসিন রেজার্ভে দ্বিতীয় টেস্টেও মুশফিক রান পাননি। এই মাঠেও আট বছর আগে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে চরম ব্যর্থ মুশফিক। দুই ইনিংস মিলে করেছেন মোটে ( ৮+০)।

ভাগ্য নাকি পরিশ্রমী আর সাহসী বীরদের সঙ্গে থাকে। যদি তাই হয়, তাহলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আগের সব ব্যর্থতা ঝেড়ে মুছে জ্বলে উঠতেও পারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।  দেখা যাক অনেক পরিশ্রম করে নিজের শারীরিক অবস্থাকে টেস্টের উপযোগি করে তোলা মুশফিক এবার শতভাগ ফিট না হয়েও জ্বলে উঠতে পারেন কিনা?

সৌম্য না মিরাজ?

ঘাস কাটা হয়েছে। আরও হবে। তারপরও যতটুকু ঘাস থাকবে, সেটাও অনেক। ওদিকে শুধু উইকেটই নয় আবহাওয়াও পেসারদের পক্ষ নিয়েছে। এমনিতেই ওয়েলিংটন ‘বাতাসের শহর।’ নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ‘উইন্ডি শহর ধরা হয় রাজধানীকে। তার সঙ্গে বুধবার সকাল থেকে যোগ হয়েছে প্রচন্ড বাতাস। আকাশে মেঘের ঘনঘটা। বৃষ্টি না নামলেও যে কোন সময় নামতে পারে। মোদ্দা কথা, ‘ টিপিক্যাল নিউজিল্যান্ড কন্ডিশন।’

ঠাণ্ডা কনকনে বাতাস। আর সবুজ ঘাসের উইকেট এক কথায় আদর্শ সীমিং কন্ডিশন। তাই বেসিন রিজার্ভে টিম কম্বিনেশন, লক্ষ্য-পরিকল্পনা স্থির এবং একাদশ সাজানো, সব কিছুতেই ঘুরে ফিরে চলে আসছে ‘উইকেট।’ বাংলাদেশের প্র্যাকটিস ও দল সাজানোর ওপরও উইকেটের প্রভাব যথেষ্ঠ। শেরে বাংলায় যে প্র্যাকটিস হতো নামমাত্র, সেই কাজগুলো বেসিন রিজার্ভে হচ্ছে বেশি।

সীমিং কন্ডিশন। পেস বোলাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন। তাদের প্রচন্ড গতি, বাড়তি বাউন্স ও সুইংয়ে ব্যাটসম্যানের ব্যাটের বাইরের কোনা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ উঠবে বেশি, এমন চিন্তায় উইকেট কীপার, স্লিপ ও গালি ফিল্ডারদের প্র্যাকটিস চলছে অবিরাম। গতকাল প্র্যাকটিসের একটা বড় অংশ জুড়ে কীপার মুশফিক, সৌম্য, ইমরুল, সাব্বির ও মেহেদী হাসান মিরাজকে ঐ সব পজিসনে দাড় করিয়ে ক্যাচিং প্র্যাকটিস করানো হলো। আজও চললো সে পালা।

এদিকে বাংলাদেশের লাইন আপ চূড়ান্ত করা নিয়েও চলছে নানা হিসেবে নিকেশ। ১১ জন ঠিক করতে গিয়েও বার বার উইকেটের কথাই ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান সেই সকাল থেকেই প্র্যাকটিস দেখতে মাঠে। জাতীয় দলের এই দুই সাবেক অধিনায়কই উইকেট ও একাদশ নিয়ে জাগো নিউজের সাথে কথা বলেন।

তাদের কথায় একটা বিষয় পরিষ্কার, পেস বান্ধব পিচে অন্তত তিন পেসার খেলানো নিশ্চিত। এখন আর একজন পেসারের অন্তর্ভুক্তির চিন্তাও চলছে। বহরে যে চারজন পেসার ( রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশিস রায় ও কামরুল ইসলাম রাব্বি) আছেন তাদের কেউই ব্যাট হাতে তেমন সাবলীল নন। সীমিং কন্ডিশনে মাথা তুলে দাঁড়াবেন, এমন সামর্থ্যেও আছে রাজ্যের ঘাটতি।

এখন চার পেসার নিয়ে মাঠে নামার অর্থ ব্যাটিং শক্তি কমে যাওয়া। মনে রাখতে হবে, এটা ঘরের মাঠ নয় যে, বাংলাদেশ জিততে মাঠে নামবে। বেসিন রিজার্ভে টাইগারদের মূল লক্ষ্য ‘ড্র।’ প্রতিটি সেশনে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে ম্যাচকে পঞ্চম দিনে নিয়ে যাওয়া এবং অমিমাংসিত রাখার চিন্তা ভাবনাই চলছে।সেই কাজ করতে হলে শুধু পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে সমৃদ্ধ করলেই চলবে না। ব্যাটিং লাইন আপকেও রাখতে হবে সমৃদ্ধ। তাই চার নম্বর পেসার হিসেবে সৌম্য সরকারের কথা ভাবা হচ্ছে জোরে সোরে। সৌম্য ফর্মে আছেন। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে অনায়াসে কিউই ফাষ্টবোলারদের মোকাবিলা করেছেন। কাজেই তাকে খেলানোর অর্থ ব্যাটিং দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়া।

এদিকে এই মাঠের শেষ দুই টেস্টের ট্র্যাক রেকর্ড আবার অন্য কথা বলছে। বেসিন রিজার্ভে শেষ টেস্টে বল হাতে রাজত্ব করেছেন অস্ট্রেলিয়ান অফস্পিনার ন্যাথান লায়ন। কাজেই ইংলিশদের নাস্তানাবুদ করা মেহেদী হাসান মিরাজও তাই হিসেবের বাইরে নেই। তার কথাও ভাবনায় আছে।

এ রিপোর্ট লিখার সময় প্র্যাকটিস শেষে টিম মিটিং চলছিল। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন জানালেন, টিম মিটিংয়েই ১১ জন চূড়ান্ত করা হবে। তবে ৯ জনকে অটোমেটিক চয়েজ ধরে নেয়ার ইঙ্গিত মিনহাজুলের। টিম কম্বিনেশনের নিশ্চিত ফর্মুলাটা এমন তিন পেসার। সাত ব্যাটসম্যান। একমাত্র স্পেশালিষ্ট স্পিনার সাকিব আল হাসান।

এখন পেসারদের মধ্যেও কোন তিনজনকে খেলানো হবে , তা নিয়ে চলছে আলোচনা। পর্যালোচনা। মিনহাজুল আবেদিন ও আকরাম খানের কথা শুনে মনে হলো তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিসের খেলা নিশ্চিত। এখন থার্ড সিমার হিসেবে কে খেলবেন ? রুবেল হোসেন নাকি কামরুল ইসলাম রাব্বি? তা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আালোচনা চলছে।

তবে জানা গেছে রাব্বি এগিয়ে। সুইং করানোর ক্ষমতা বেশি এবং লম্বা স্পেলে বল করতে পারেন, এই চিন্তায় রুবেলের বদলে রাব্বিকে খেলানোর কথাই ভাবা হচ্ছে। তার মানে বেসিন রিজার্ভে অভিষেক হতে যাচ্ছে দুই তরুণ তাসকিন আহমেদ ও শুভাশিস রয়ের। এখন যে বিষয়টা চূড়ান্ত হয়নি, তাহলো সাকিবের সঙ্গে বাড়তি স্পিনার হিসেবে কি মেহেদী হাসান মিরাজকে খেলানো হবে? নাকি সৌম্যকে আট নম্বর ব্যাটসম্যান কাম ফোর্থ সিমার হিসেবে নামানো হবে, সেটাই এখন দেখার।

সম্ভাব্য প্রথম একাদশ
তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মন, সৌম্য সরকার / মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, শুভাশিস রয় ও কামরুল ইসলাম রাব্বি।

উইকেটের সেই সবুজ ঘাস নেই!

কোন উইকেটে খেলা হবে? ২৪ ঘন্টা আগে তা বুঝে উঠতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। তাই বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক রসিকতার সুরে বলেছিলেন, চারিদিকে এত সবুজ যে, কোনটা আসল উইকেট তা বোঝাই কঠিন।

তবে শেষ খবর, কাল উইকেটের যে চেহারা ছিল, এখন তা নেই। ঘন সবুজ গালিচার মত উইকেটের ওপরের ঘাসের একটা অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। ঘাস ছাটার পর আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতে পিচের যে চেহারা হয়েছে, তা দেখে অনায়াসে বোঝা যায় প্রথম টেস্টের উইকেট কোনটি ? কেউ বেসিন রিজার্ভে ঢুকে মাঠের যে কোন প্রান্তে দাঁড়িয়েও বলে দিতে পারবেন  কোন উইকেটে খেলা হবে।

আশার খবর, ঘাস ছেটে ফেলার এই পালা নাকি  অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার টেস্ট শুরুর আগেও নাকি এক প্রস্থ কাটিং মেশিনে ব্যবহার হবে। যদি তাই হয়, তাহলে সবুজের সমারোহ কমে যাবে আরও খানিকটাই। আগের দিন যেমন ঘন সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেট ছিল, তা আজই নেই। শেষ পর্যন্ত হয়তো আরও থাকবে না। আর যাই হোক উইকেটের চেহারা দেখে বুক কাপবে না ? তারপরও সবুজ কচি ঘাস থাকবেই। সেটাও বাংলাদেশের কিংবা উপমহাদেশের যে কোন উইকেটের চেয়ে অনেক বেশি ঘাসযুক্ত।

৩০০ পেরিয়েও হারলো ধোনিরা

কিছুদিন আগেই সীমিত ওভারের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতিতে ম্যাচে আরেকবার নেতৃত্ব দিতে নেমেছিলেন ধোনি। কিন্তু প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ৩০০ পেরিয়েও জিততে পারেনি ধোনি, যুবরাজ সিং, রায়ডু, শিখর ধাওয়ানদের নিয়ে গড়া ভারত ‘এ‘ দল।

আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়া সিরিজে অধিনায়কের টুপি খুলে রেখে টিম ইন্ডিয়ায় দেখা যাবে শুধু ক্রিকেটার ধোনিকে। তাই মুম্বাইয়ে কুড়ি হাজার দর্শক আবারো তার নেতৃত্ব দেখতে হাজির হয়েছিল। ভক্তদেরকেও নিরাশ করেননি তিনি। ১৭০ স্ট্রাইক রেটে ৮ চার এবং ২ ছক্কায় ৪০ বলে করেন অপরাজিত ৬৮ রানের ঝড়ো ইনিংস। তার এই ইনিংস যেন মনে করিয়ে দিলেন ডেথ ওভারে এখনও কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন তিনি। ওকসের শেষ ওভারে ধোনির ব্যাট থেকে এল ২৩ রান।

এ দিকে দীর্ঘদিন পর ব্যাট করতে নেমে অর্ধশতক করলেন যুবরাজ সিংও। ৪৮ বলে করলেন ৫৬ রান। এ ছাড়া অম্বাতি রায়ডুর (১০০) সেঞ্চুরি আর শিখর ধবনের ৬৩ রানের উপর ভর করে ৫০ ওভারে ভারত‘এ‘ দল করে ৩০৪। তবে স্যাম বিলিংসের ৯৩ রানের দাপটে ৭ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতে যায় ইংল্যান্ড একাদশ।

‘তাসকিনের অভিষেকের শ্রেষ্ঠ জায়গা এটি

টেস্ট খেলার স্বপ্ন তার বহুদিনের। ফিটনেস ঠিক থাকলে আর ইনজুরি বার বার ছোবল না দিলে হয়তো আগেই টেস্ট ক্যাপ মাথায় পড়ে ফেলতেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু তা আর হলো কই ? তার সমবয়সী ও সমসাময়ীক প্রায় সবাই টেস্ট খেললেও এখন পর্যন্ত অভিষেকই হয়নি তাসকিনের। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই তাসকিনের দেখা দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্নটা সত্যি হতে চলেছে! লাল-সবুজ জার্সির পর এবার জাতীয় দলের সাদা জার্সিতেও অভিষেক হতে চলেছে প্রতিভাবান এই পেসারের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুশফকি বলনে, `আমার মনে হয় তাসকিনের অভিষেকের শ্রেষ্ঠ জায়গা এটি। নিউজিল্যান্ডের উইকেট এমনিতেই গতিময়, পেসারদের স্বর্গ। আর এখানে তাসকিন নিজের প্রতিভা মেলে ধরতে পারবেন।`

কিন্তু কঠিন সত্য হলো বেসিন রিজার্ভের পিচ যতই ফাষ্ট বোলার ফ্রেন্ডলি হোক না কেন, তাসকিন কি সেখানে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন ? তারতো দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের সঙ্গেই যোগাযোগ অনেক কম। সব মিলে সাকুল্যে মাত্র ১০ টা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। এত কম ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেস্ট অভিষেক, তাও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ব্ল্যাক ক্যাপ্সদের বিরুদ্ধে। যারা নিজেদের মাটিতে যারপরনাই শক্তিশালী। এত স্বল্প অভিজ্ঞতা নিয়ে তাসকিন কতটা কুলিয়ে উঠতে পারবেন?
তাসকিনের মতে, বিশ্বের সব বোলার বা ক্রিকেটারেরই একদিন না একদিন অভিষেক হয়। তার আগে সবাই কম বেশি অনভিজ্ঞ থাকে। মানছি আমরা অভিজ্ঞ নই। অনভিজ্ঞ। তবে আনাড়ি নই। আমাদেরও সামর্থ্য আছে। আমাদের কোচিং স্টাফরাও অনেক সাহায্য করছেন। প্রয়োজনীয় বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছেন। জানি উইকেটে গতি-বাউন্সের পাশাপাশি মুভমেন্ট থাকবে। সুইং হবে। নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা অতি মাত্রায় আক্রমণাত্মক হওয়া চলবে না। উইকেটে ঘাস আছে মানেই যে কোনো লাইন ও লেন্থে বল করলেই সফল হবো এমন নয়। বাতাস যেদিকে টানবে, সেদিকে সুইং করানো সহজ। সে চেষ্টাই থাকবে।`

বোলারদের নয় মূল চ্যালেঞ্জটা ব্যাটসম্যানদের : মুশফিক

সমালোচক ও নিন্দুকেরা বার বার ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টানা ছয় ম্যাচ হেরে টেস্টে মাঠে নামাকে বড় করে দেখছেন। তাদের দাবি, মনের দিক থেকে দূর্বল ও ভাঙা চোরা থাকবে বাংলাদেশ। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গেছেন, কিংবা মনে থাকলেও মাথায় আনছেন না যে , নিউজিল্যান্ডে এসে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নাকাল হওয়াই শেষ কথা নয়। বেসিন রিজার্ভে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার সময় ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালি দলের বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট ম্যাচ জয়ের সুখ-স্মৃতিও সঙ্গে থাকবে টিম বাংলাদেশের।

কেউ কেউ হয়ত ফোরন কেটে বলতে চাইবেন, আরে সেটা তো ঘরের মাঠের স্লো ও লো ট্র্যাকে। স্পিনারদের সহায়তায়। আর বেসিন রিজার্ভের ঘাসের উইকেটে গিয়ে সামলাতে হবে কিউই ফাস্ট বোলারদের তোপের মুখে। সব মিলে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কি ভাবছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ? ইংলিশদের টেস্টে হারানোর স্মৃতি নিশ্চয়ই এখনো মনে জাগরুক। বৃহস্পতিবার থেকে যে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে, তাতে ঐ স্মৃতিটাও কতখানি কাজে দেবে? অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে? আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠলো।

মুশফিকুর রহিমও খুব ভেবে চিন্তে হিসেব কষেই জবাব দিলেন। তার কথার সারমর্ম হলো, একটা টেস্ট জয়ের স্মৃতি অবশ্যই অনুপ্রেরণা। তারপরও একদম তরতাজা। সেটা উদ্দীপক দাওয়াই হিসেবে কাজ করবে অবশ্যই। তবে কন্ডিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই পুলকিত ও রোমাঞ্চিত হবার কিছু নেই। করণীয় কাজগুলো করতে হবে ঠিকমত। বোলার ও ব্যাটসম্যানদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে দিতে হবে শতভাগ নিষ্ঠা ও দায়িত্ব সচেতনতার ছাপ।

তবে মুশফিক শেরে বাংলায় ইংলিশদের হারানোর সুখ স্মৃতির চেয়ে অন্য বিষয়কেই বড় করে দেখতে চাইছেন। তার কথা, ‘সবার আগে মাথায় রাখতে হবে, খেলাটা ভিন্ন কন্ডিশনে। আমাদের দেশের আবহাওয়া, উইকেট ও মাঠ কোনটার সঙ্গেই যার কোনই মিল নেই। তবে একটা সন্তুষ্টি আছে আমাদের। শেষ টেস্টে আমরা প্রমাণ করেছি যে বোলিং গ্রুপ হিসেবে ২০ উইকেট নেবার ক্ষমতা আছে আমাদের। ইংল্যান্ডকে দু`বার অলআউট করে দেখিয়েছি আমরাও পারি। প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেবার সামর্থ্য আছে আমাদের বোলারদেরও। সেটা অবশ্যই সন্তুষ্টির। একরকম অনুপ্রেরণাও। তারপরও এটা ভিন্ন পরিবেশ। আমরা শেষ কবে টেস্ট খেলেছি, তাও অনেক দিন আগে। এখানে সিমিং কন্ডিশন থাকবে। পুরো বিষয়টাই চ্যালেঞ্জিং।’

mushfik

এছাড়া বাংলাদেশ অধিনায়কের মাথায় আরও একটি বিষয় কাজ করছে। ঘরের মাঠে স্লো ও লো ট্র্যাকে জয়ের রূপকার ছিলেন স্পিনাররা। মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে দিশেহারা ছিল ইংলিশরা। কিন্তু এখানে সবুজ ঘাসের উইকেট। এবার আর স্পিনারদের হাত ধরে বৈতরণী পার হবার কোনই সুযোগ ও সম্ভাবনা নেই। যা করার করতে হবে পেসারদের।

সে বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন মুশফিক, ‘আমাদের দেশের আবহাওয়া ও উইকেটের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়া এবং পিচের চরিত্রগত পার্থক্য অনেক। সম্পূরূর্ণ ভিন্ন। দেশে স্লো ও লো ট্র্যাকে সিরিজ জয়ে মূল ভূমিকা ছিল স্পিনারদের। আর এখানে ঘাসের উইকেটে মূল ভূমিকা রাখতে হবে পেসারদের। তবে আমার মনে হয় না আমাদের পেস অ্যাটাক দূর্বল। সৌম্য সরকারকে ধরে আমাদের পেসার সংখ্যা ৫। আমার বিশ্বাস তারা যথেষ্ঠ ক্যাপেবল। তাদের সামর্থ্য আছে এই কন্ডিশনে ভালো করার। শুধু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই নয় যে কোন ব্যাটিং শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের পেসারদের ভালো করার পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে। তারা যদি বেস্ট বোলিংটা করতে পারে তাহলে অবশ্য সে সুযোগটা থাকবে।  এখানে পেসারদের মূল কাজ হলো ভালো জায়গায় বল ফেলা। পিচে ঘাস আছে, তা দেখে আবেগ তাড়িৎ হলে চলবে না। কাজের কাজ করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো লাইন-লেন্থে বল করে যেতে’ এমন তাগিদও মুশফিকের কণ্ঠে।

braverdrink

রুবেল হোসেন (২৩ টেস্ট) ছাড়া পেস ডিপার্টেেমন্টের বাকি তিনজনের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার খুবই জীর্ণ-শীর্ণ। কামরুল ইসলাম রাব্বি খেলেছেন দুটি মাত্র টেস্ট। আর তাসকিন ও শুভাশীষ আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। এমন এক অনভিজ্ঞ পেস আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামার আগেও মুশফিক মনে করেন মূল দায়িত্বটা পালন করতে হবে ব্যাটসম্যানদের। অধিনায়কের অনুভব, পেসারদের চেয়েও মূল চ্যালেঞ্জটা ব্যাটসম্যানদের। তাদের এমন স্কোর গড়তে হবে, যাতে বোলাররা লড়াই করার মতো পুঁজি পায়। মূল চ্যালেঞ্জটা সামলাতে  হবে ব্যাটসম্যানদের। তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও অনেক বেশি।’

ব্যাটসম্যানদের প্রতি অধিনায়কের বার্তা ‘ঘাসের উইকেটে কিউই বোলারদের সামলানো এবং বোলারদের লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে দেয়ার দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করতে হবে ব্যাটসম্যানদের। অধিনায়ক বোঝাতে চেয়েছেন, ব্যাটসম্যানরা প্লাটফর্ম তৈরি করে দিলে বোলাররা হালে পানি পাবেন।

নিজেদের মেলে ধরার শক্তি সামর্থ্য ও রদস মিলবে। আর ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে বোলারদের শক্তি ও সামর্থ্য কমে যাবে অনেক। কাজেই তামিম, ইমরুল, মমিনুল, মাহমুদউল্লাহ , সাকিব ও সাব্বিরের কাছেই তার প্রত্যাশা বেশি। সঙ্গে তিনি নিজেও আছেন। এই সাতজন মিলে যদি অধিনায়কের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন, তাহলেই কেবল বোলাররা লড়তে পারবেন।

ব্যাটসম্যানরা কি তা পারবেন? ইতিহাস আশা জাগাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২০১০ সালে শেষ টেস্টে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে মাহমুদউল্লাহ (১১৫) ও সাকিবের (১০০)। তার মানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করতে পারেন, এ সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আগের বারই। ছয় বছর পর এবার ব্যাটসম্যানরা সেই ধারা অব্যাহত রাখলে বোলারদের ভালো করার পথও খুলে যাবে।

হায়দরাবাদে না হলে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ইডেনে

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের সিরিজটি আয়োজক হায়দারাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। ভেন্যু রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়ার কথা এই টেস্ট ম্যাচটি। তবে, শঙ্কার খবর হলো আর্থিক সংকটের কারণে হায়দারাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন নাকি চিঠি লিখে বিসিসিআইকে জানিয়েছে তারা এই টেস্ট ম্যাচটি আয়োজন করতে অপারগ।

হায়দরাবাদ আদৌ কী পারবে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করতে? রোববার এই মন্তব্য সামনে এলেও সোমবার হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাকেই রটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সচিব কে জন মনোজ  জানিয়েছেন, তারা তৈরি এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য। তবুও বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ইডেন গার্ডেনকে তৈরি রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তার আগেই  ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলবে ভারত।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে একটি টেস্ট ম্যাচ হওয়ার কথা অনেক আগে থেকেই। ঘরের মাঠে টানা ১৩টি টেস্টের একটি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাজ্য সংস্থাগুলো আগের মতো ফান্ড পাচ্ছে না বিসিসিআই থেকে। এই অবস্থায় রাজ্য সংস্থাগুলো সমস্যায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত আটকায়নি কোনও ম্যাচ। সামনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। সেটাও হবে।

হায়দরাবাদেই হবে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট। কিন্তু কোনও কারণে সমস্যা হলে তবেই ইডেনের কথা ভাবা হবে। তবে এইচসিএ-র সচিবের বক্তব্যের পর এটা নিশ্চিত হায়দরাবাদের এই ম্যাচ আয়োজন করতে কোনও সমস্যা নেই।

হায়দারাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জন মনোজ মিডিয়াকে বলেন, ‘শুধু টেস্ট ম্যাচের সময়ই নয়, বাংলাদেশ যদি মনে করে প্রস্তুতির জন্য এক সপ্তাহ আগে হায়দারাবাদে চলে আসবে, তাতেও আমাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমার মনে হয়, বিসিসিআইতে কিছু অযোগ্য মানুষ বসে আছে যারা এই গুজবগুলো ছড়াচ্ছে।’

‘ধোনির ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি’

মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে চাপ দেয়া হয়েছে, এমনই অভিযোগ উঠছে এখন ভারতজুড়ে। চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই নাকি নেতৃত্ব থেকে সরে গেলেন ভারতের সবচেয়ে সফলতম এই অধিনায়ক। বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সচিব আদিত্য ভার্মা সরাসরি আঙুল তুলেছিলেন যুগ্ম সচিব অমিতাভ চৌধুরির দিকে। শুধু তাই নয়, অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে নির্বাচক প্রধান এমএসকে প্রসাদের নামও।

এমন অভিযোগে যখন টালমাটাল ভারতের ক্রিকেট, তখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক এমএসকে প্রাসাদ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এই অভিযোগ। তিনি বলেন, কোনোভাবেই ধোনির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। অভিযোগের জবাব দিয়ে প্রাসাদ বলেন, ‘অধিনায়কত্ব ছাড়ার জন্য ধোনির উপর কোনও চাপ ছিল না। এটা ওর একান্ত ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত। ও আমাকে রঞ্জি ট্রফি সেমিফাইনালের দিনই জানিয়েছিল। ঝাড়খণ্ড-গুজরাট ম্যাচে।’

হঠাৎই সবাইকে চমকে দিয়ে সবধরনের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। তার পরিবর্তে নেতৃত্ব উঠেছে বিরাট কোহালির হাতে; কিন্তু এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এভাবে হঠাৎ তার অধিনায়কত্ব ছাড়া নিয়ে।

১৯৯টি একদিনের ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা ধোনি দাড়িয়েছিলেন ২০০তম ম্যাচের সামনে। আর কিছুদিন পরেই ঘরের মাঠে শুরু হতে চলেছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ। তার আগে এভাবে সরে যাওয়ায় প্রশ্ন এমনিতেই উঠছিল। সেই আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতকাজ করেছে আদিত্য ভার্মার মন্তব্য।

প্রধান নির্বাচক প্রসাদ বলেন, ‘ধোনি একজন সৎ মানুষ। আর এই সিদ্ধান্তটা অবাক হওয়ার মতো নয়। এটা একদম সঠিক সময় যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে কোহলি অনেকটা সময় পাবে নিজেকে উপযুক্ত করে নেওয়ার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধোনিকে অসংখ্য ধন্যবাদ ওর অবদানের জন্য। কিন্তু ওর কাজ এখনই শেষ হচ্ছে না। বিরাটের পাশে থাকতে হবে।’

ধোনির নেতৃত্বে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। টি২০ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের পাশাপাশি এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ২০০৯ সালে ভারতকে টেস্ট র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে তুলেছিলেন তিনিই। যেটা আবার ফিরে এসেছে বিরাট কোহালির হাত ধরে। শুধু অধিনায়কত্ব নয় ব্যাট হাতেও রান করেছেন যা দেশের কাজে লেগেছে।

২৮৩টি ম্যাচে ধোনির রান ৯১১০, গড় ৫০.৮৯। সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৮৩। এখন প্লেয়ার হিসেবে দলের সঙ্গে থাকবেন কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকবেন কি না সেটা সময়ই বলবে।

সৌরভ গাঙ্গুলিকে হত্যার হুমকি

কিছুদিন আগেই নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, মৃত্যুর খুব কাছে থেকে ফিরে এসেছিলেন একবার! এক মাতাল বন্দুকধারীর তাক করা বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার স্মৃতি ভুলতে পারেননি আজো। তবে এবার এক চিঠিতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক এবং বর্তমান সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ।

ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি হত্যার হুমকি পাওয়া ওই চিঠি হাতে পেয়েছেন সৌরভ। যাতে কলকাতার দাদাকে সাবধান করে বলা হয়েছে, ‘মেদিনীপুরে এলে আপনি জীবন নিয়ে ফিরতে পারবেন না।’

এদিকে এ চিঠি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমকে সৌরভ বললেন, ‘‘এ রকম চিঠি পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি।’’ এই অবস্থায় তিনি কি মেদিনীপুর সফরে যাবেন? সৌরভ শুনে বললেন, ‘‘এখনও সেটা ঠিক করিনি।’’

এদিকে জি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডাক বিভাগের মাধ্যমে আসা হত্যার হুমকি সম্বলিত চিঠি হাতে পাওয়ার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন সৌরভ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারকেও বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

আগামী ১৯ জানুয়ারি মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জেলা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সৌরভের। সেই যাত্রার আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেখানে না যেতে সৌরভের কাছে বার্তা এসেছিল। এবার তো হত্যার হুমকি দিয়ে লেখা চিঠিই হাতে পেলেন সৌরভ।

টেস্টে অভিষেক হচ্ছে তাসকিনের!

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন পেস বোলিং এর জোয়ার। এখন রীতিমত দলে ঢুকতে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে পেস বোলারদের। আর সে পেস বোলিং এর জোয়ারে অন্যতম ঢেউ এর নাম তাসকিন। জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্ট খেলা হলেও টেস্ট খেলার স্বপ্নটা অধরাই ছিল এতদিন ডানহাতি পেসারের।

তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই তাসকিনের দেখা দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্নটা সত্যি হতে চলেছে! লাল-সবুজ জার্সির পর এবার জাতীয় দলের সাদা জার্সিতেও অভিষেক হতে চলেছে প্রতিভাবান এই পেসারের। এমনই আভাস মিললো জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ও টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকের কথায়। তাহলে সব কিছু ঠিক থাকলে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের সবুজ উইকেটেই অভিষেক হচ্ছে তাসকিনের।

এদিকে টেস্ট অভিষেক নিয়ে তাসকিন বলেন, `টেস্ট খেলা আমার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। আর সে স্বপ্ন পূরণের দোরগোড়ায়। ভাবতে খুব ভালো লাগছে। পুলকিত ও রোমাঞ্চ অনুভব করছি। আর এমন ঘাসের উইকেটে অভিষেক হবে, এটা ভেবে আরও ভাল লাগছে।`

টেস্ট খেলা নিয়ে তাসকিন আরও বলেন, `যদিও আমার দীর্ঘ পরিসরের অভিজ্ঞতা কম। মাত্র ১০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেস্ট খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু আমার মনে হয় আমি পারবো। আর ঘাষের উইকেট দেখেই আবেগতাড়িৎ হয়ে ইচ্ছে মত বল করবো, তা নয়। আমার লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল করা। অহেতুক আক্রমণাত্মক হতে চাই না।`

উল্লেখ্য, আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে থেকে ওয়েলিংটনে শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট।

শীর্ষস্থান ফিরে পেলেন সাকিব

সময়টা খুব ভালো যায়নি। সেই সঙ্গে ফর্মটাও নামের সঙ্গে যাচ্ছিল না। এমন মুহূর্তে তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডারের জায়গাটা হারিয়ে ফেলেছিলেন। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডেতে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানটা ফিরে পেলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে এখনও দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছেন সাকিব।

ওয়ানডেতে এই বিভাগে সবার ওপরে সাকিবকে জায়গা দিতে দুইয়ে নেমে গেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। সাকিবের নামের পাশে জমা আছে ৩৭৭ রেটিং। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ম্যাথিউসের সংগ্রহ ৩৩৫ রেটিং। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ৩৩২ রেটিং নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে।

টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে শিরোপাজয়ী সাকিবের অর্জন ৩৪৬ রেটিং। শীর্ষস্থানটা আগলে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অস্ট্রেলিয়ান তারকার সঞ্চয় ৩৮৮।

৪০৫ রেটিং নিয়ে টেস্ট অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে সাকিব। এক্ষেত্রে সবার ওপরে অবস্থান করছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতীয় এই স্পিনারের পুঁজি ৪৮২।

সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে ধোনিকে!

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দুই ফরম্যাটেই (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) ভারতকে বিশ্বকাপ উপহার দেওয়া ‘ক্যাপ্টেন কুল’ খ্যাত মহেন্দ্র সিং ধোনি হঠাৎ করেই ঘোষণা দিয়েছেন রঙিন পোশাকের অধিনায়কত্ব ছাড়ার। আসলে তিনি কি সেচ্ছায় অধিনায়কের পদ থেকে সরে এসেছে নাকি তাকে অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা করে হয়েছে? প্রশ্নটা যে থেকেই যাচ্ছে। মহেন্দ্র সিং ধোনির এই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার খবর ভক্তকুলের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণের মতোই হয়ে এসেছে যেন।

কামানের গোলার মত ভেসে এসেছে একটি কথা, ভারতীয় এই অধিনায়ক নিজ থেকে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি, তাকে বাধ্য করা হয়েছে সরে দাঁড়াতে। কেননা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বুধবার ঘোষণা করে যে, ধোনি টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ভারতের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যাবেন।

কেউ কেউ বলছেন, একেবারে নিখুঁত টাইমিং। আবার কেউ তাকে আরও অন্তত বছর দুয়েক ক্রিকেট মাঠে দেখতে চান। এম এস ধোনির ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চায় ব্যস্ত ক্রিকেট বিশ্ব। তবে বিসিসিআইয়ের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান এমএসকে প্রসাদ জানান, ‘ধোনি তার নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করেনি।’

তবে পরবর্তীতে প্রসাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমি তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমি তার এই নিখুঁত সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানাই। সে জানতো যে ভারতীয় দলকে ভালোভাবেই নেতৃত্ব দিতে পারবে বিরাট কোহলি। তার কারণ- কোহলি সাদা পোশাকেও ভারতীয় দলকে এনে দিচ্ছে সাফল্য। আর এটি প্রমাণিত যে টেস্ট দলপতি হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে কোহলি।’

এদিকে ধোনির অবসরের পর অনেকে অনেক মন্তব্য করলেও ভারতের সাদা পোশাকের অধিনায়ক অনেকটাই চুপ ছিলেন। অবশেষে মুখ খুললেন। আর জানালেন, ‘ধোনি ভাই সব সময়ই আমার অধিনায়ক।’

চট্টগ্রাম মাতিয়ে এলেন শাটলার শাপলা

চট্টগ্রাম ব্যাডমিন্টন লিগ মাতিয়ে এলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন শাপলা আক্তার। এ শাটলারের নৈপূণ্যে চট্টগ্রাম লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ক্লাবটি ৫ টি ইভেন্টের মধ্যে ৩টি জিতেছে। যার দুটিই শাপলা আক্তারের। তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মেয়েদের একক ও মিশ্র দ্বৈতে। মিশ্র দ্বৈতে তার পার্টনার ছিলেন চট্টগ্রামেরই ছেলে আসাদ।

৪ দিনের লিগ শেষ হয়েছে শনিবার। ৩০ দল খেলেছে এবারের লিগে। এলিনা সুলতানা ছাড়া জাতীয় শাটলারদের অনেকেই খেলেছেন এ লিগে। ছেলেদের দুটি  একক, মেয়েদের একক, ছেলেদের দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈত-এই ৫ ইভেন্টে হয়েছে লিগ।

চট্টগ্রামের এ লিগ খেলে আর্থিকভাবেও কিছুটা লাভবান হয়েছেন শাটলাররা। চারদিনের এ লিগে শাপলা কি পরিমান অর্থ পেয়েছেন সেটা প্রকাশ করেনি। শুধু বলেছেন, ‘যা পেয়েছি তা সম্মানজনকই’।

লিগ খেলে শাটলাররা অর্থ উপার্জন করছেন এটা ভালো খবর দেশের ব্যাডমিন্টনের জন্য।

টি-টোয়েন্টি থেকে আজই অবসর নিতে চেয়েছিলেন মাশরাফি!

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে আজ (রোববার) মাঠে নামার আগেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সে ঘোষণা আর দেননি টিম বাংলাদেশের অধিনায়ক। ঢাকায় ফেরার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণাটা দেবেন বলে বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টিভির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট।

যমুনা টেলিভিশনের ওই সাক্ষাৎকারে বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন জানান, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন আগের দিনই তাকে জানিয়েছেন মাশরাফি মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শুরুর আগেই এ ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দেবেন।

প্রধান নির্বাহীর কাছ থেকে এ তথ্য জানার পর বিসিবি প্রেসিডেন্ট তার মাধ্যমেই মাশরাফিকে জানান, এমন সিদ্ধান্ত এখন যেন না নেয়। নিলেও ঘোষণাটা কেন নিউজিল্যান্ডে দেবে? সেটা দেশে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়ার জন্য। প্রধান নির্বাহীর মাধ্যমে বিসিবি প্রেসিডেন্টের এ বার্তা পাওয়ার পর মাশরাফি শেষ টি-টোয়েন্টির আগে আর অবসরের ঘোষণা দেননি।

তবে যমুনা টেলিভিশনকে বিসিবি প্রেসিডেন্ট জানান, মাশরাফি হয়তো দেশে ফিরেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণাটা দিয়ে দেবেন।

নিউজিল্যান্ড সফরে মাশরাফির নেতৃত্বে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টির সবগুলোই হেরেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে দুই বছর দারুণ সফল হওয়ার পর বিদেশের মাটিতে গিয়ে টানা দুটি সিরিজ হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ধাক্কাটা বেশ ভালোই লেগেছে বাংলাদেশ দলে।

এ কারণেই হয়তো সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করতে পারেন মাশরাফি। নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কিছু না জানালেও নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টা হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। সেখান থেকেই শুনেছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট এবং মাশরাফিকে দেশে এসে অবসরের ঘোষণা দেয়ার অনুরোধ জানান।

মুশফিকদের সামনে র‌্যাংকিংয়ে আটে ওঠার হাতছানি

অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ শেষে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যে টেস্ট র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে, সেখানে তালিকায় সবার ওপরে আছে ভারত। বিরাট কোহলির দলের সংগ্রহ ১২০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সঞ্চয় ১০৯।

ওই সিরিজের হোয়াইটওয়াশ হওয়া পাকিস্তান নেমে গেছে র‌্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থানে। পাঁচটি পয়েন্টও খুইয়ে ফেলা মিসবাহ-উল-হকের দলের ভাণ্ডারে জমা আছে ৯৭ পয়েন্ট। পাকিস্তানের অবনতিতে র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের। ঝুলিতে ১০২ পয়েন্ট জমা থাকা প্রোটিয়াদের অবস্থান তৃতীয়। আর এক পয়েন্টে পিছিয়ে ইংলিশরা রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

এদিকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি কিংবা অবনতি, কোনোটাই হয়নি। ৬৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টাইগারদের অবস্থান নবম। বাংলাদেশের ঠিক ওপরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ ৬৯।

এই যখন অবস্থা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে মুশফিকদের সামনে রয়েছে র‌্যাংকিংয়ে আটে ওঠার হাতছানি। দুটি ম্যাচ জিতলে তো কথাই নেই। আর সেটা না হলেও এক ধাপ ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে টাইগারদের। কীভাবে? এই সিরিজে দুটি টেস্ট ম্যাচ ড্র করলেও চলবে। তাহলেও র‌্যাংকিংয়ে আটে উঠে যাবে মুশফিকদের দল।

১২ জানুয়ারি থেকে ওয়েলিংটনে শুরু হতে চলা টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারাতে পারলে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা পড়বে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট। আর ১-০ ব্যবধানে জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৭৬।

সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করতে পারলে ৫ পয়েন্ট পাবেন টাইগাররা। তার তাতেও ক্যারিবিয়দের টপকানোর সুযোগ থাকছে মুশফিক-তামিমদের।

তবে সিরিজে ২-০ কিংবা ১-০ ব্যবধানে হারলে সেটা আর হচ্ছে না। ২-০ হারলে তিন রেটিং পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ। আর ১-০ ব্যবধারে পরাজয় বরণ করলে রেটিং পয়েন্ট যা আছে থাকবে তা-ই।

বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট আয়োজন করবে না হায়দারাবাদ!

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের ১৬ থেকে ১৭ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও একটিবারের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর সৌজন্যতা দেখায়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বাণিজ্যিক অজুহাতে সব সময়ই তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ আয়োজনে অনিচ্ছুক। ভারতের পত্রিকা দ্য হিন্দু জানিয়েছে এ খবর।

অবশেষে একটি মাত্র টেস্টের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে সেই এক ম্যাচের টেস্টি সিরিজটি ২০১৭ (চলতি বছরের) সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়ে আসে। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতের মাটিতে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি। বিসিসিআই অবশ্য এ ব্যাপারে এখনও কোনো জবাব দেয়নি হায়দারাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে।

কিন্তু এবার সেই টেস্ট ম্যাচটি আয়োজনেও বাধ সাধছে হায়দারাবাদ রাজ্য ক্রিকেট এসোসিয়েশন। তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই টেস্ট ম্যাচটি আয়োজন করতে পারবে না। এর কারণ হিসেবে তারা বিসিসিআইর কাছে লিখেছে, ওই টেস্ট ম্যাচটি আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড তাদের কাছে নেই।

শুধু তাই নয়, তামিল নাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও বিসিসিআইকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা আগামী মাসেই অনুষ্ঠিতব্য ইংল্যান্ডে অনুর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ভারতীয় অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আয়োজন করতে পারবে না। চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এই দুটি ম্যাচ। এর একমাত্র কারণ, আর্থিক সমস্যা।

মুম্বাইতে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা ইংল্যান্ড অনুর্ধ্ব-১৯ দলের। এরপর তাদের যাওয়ার কথা ছিল চেন্নাই; কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ইংল্যান্ড অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে মুম্বাইতে ওয়ানডে ম্যাচগুলো খেলেই দেশের বিমানে উঠে যেতে হতে পারে। তামিল নাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এমন এক সময়ে বিসিসিআইকে চিঠিটা দিয়েছে, যখন বিসিসিআই জুনিয়র দলের নির্বাচকরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মোট ৭ ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করে ফেলেছে।

বিসিসিআইর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ৩ জানুয়ারি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিসিসিআই সম্পর্কে যে রায় দিয়েছে- এসব তারই প্রভাব। ওই রায়ের কারণেই এখন কোনো পূর্ণ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন বিসিসিআইর কোনো ম্যাচ আয়োজনে সমর্থ না।

অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ভারতের টেস্ট ম্যাচ ভেন্যু পুনে, রাঁচি, ব্যাঙ্গালুরু এবং ধর্মশালা পরিদর্শণ করার কথা। যেখানে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে এই সিরিজটিও এখন পুরোপুরি অন্ধকারে। বিসিসিআইও এসব ব্যাপারে এখন পুরোপুরি অন্ধকারে।

কিশোর ফুটবলারদের সংবর্ধনা

কাপ পর্বে চোখ রেখে মালয়েশিয়া গিয়েছিল কিশোর ফুটবলাররা; কিন্তু সুপার মক কাপে বাংলাদেশের সে লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বরাবরের মতো প্লেট পর্বের ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরেছে। এটা মন্দের ভালো ফল। কারণ প্লেট পর্বে অনেক ভালো ভালো দেশকে টপকে ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ। সেই কিশোর ফুটবলারদের রোববার ঘটা করে সংবর্ধনা দিয়েছে দলটির পৃষ্ঠপোষক ম্যাক্স গ্রুপ।

ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, বাফুফের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর, বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও সহসভাপতি বাদল রায়। মক কাপের প্লেট পর্বে চ্যাম্পিয়ন কিশোর ফুটবলারদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দিয়েছে ম্যাক্স গ্রুপ।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেছেন,‘সরকার ফুটবল উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তবে ফুটবল যদি শুধু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই বন্দি থাকে তাহলে উন্নয়ন হবে না। জেলার ফুটবল সচল নেই, অনেক সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর সমাধান বাফুফেকেই করতে হবে। এর দায়দায়িত্ব মন্ত্রণালয় কিংবা ক্রীড়া পরিষদের নয়।’

বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছেন,‘আমাদের কোনো সাফল্য নেই, এক অভিযোগ সত্য নয়। আগামীতে কিভাবে সাফল্য আসবে সে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমরা বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সঙ্গে কথা বলেছি বয়স ভিত্তিক ফুটবলের উন্নয়নে কিভাবে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যায়। এখন আমরা ৩৫ জন তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে ক্যাম্প শুরু করবো। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে।’

মাশরাফির সঙ্গে ইনজুরিতে তামিম-ইমরুলও

খালি চোখে সবাই দেখলো, জানলো এবং পরিসংখ্যানের খাতায় লেখা থাকবে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের কাছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের তুলোধুনো হওয়ার দিন। বাংলাদেশের মাটিতে দুই দুইবার ‘বাংলাওয়াশের’ পর ঘরের মাঠে এটা ব্ল্যাক-ক্যাপসদের প্রতিশোধ পূরণেরও দিন।

অন্যদিকে মাশরাফি বাহিনীর এটা হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবারও দিন। কেউ কেউ লজ্জা কথাটা বারবার বলছেন।
তাদের কাছে প্রশ্ন, নিউজিল্যান্ডের মতো দল যখন বাংলাদেশের কাছে পরপর দুইবার নাকাল, তখন নিউজিল্যান্ডের মিডিয়া কি সেটাকে লজ্জায় ডোবার দিন বলে অভিহিত করেছিল?

নিশ্চয়ই না। তাই বাংলাদেশের তিন ম্যাচ পরপর হারাও তেমনি লজ্জায় ডোবার না। যাদের লজ্জা দেওয়ার কথা, তারা মানে কিউইরা তো একবার ঐ ‘লজ্জা’ শব্দটি ব্যবহার করেনি। বলছেন। হ্যাঁ, এটা সত্য, তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টির সব ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ। এটা বড় ব্যর্থতা।

একটি বাক্যই বলে দেয় অধিনায়ক মাশরাফি নিজ দলের এ পরিণতিতে কতটা দুঃখ ও যন্ত্রণাকাতর। অাজ রাতে তরাঙ্গায় টিম হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়ে মাশরাফির ভাষ্য, ‘ফ্র্যাকচার কেন, হাত ভেঙ্গে দু’টুকরা হয়েও যদি দল জিততো। আমরা যদি অন্তত ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একটি করে ম্যাচ জিততে পারতাম- তাহলে হাতের ফ্র্যাকচার হলেও খারাপ লাগত না। কিন্তু যা চেয়েছিলাম তা হলো না। আর যা চাইনি তা-ই হলো। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটি ম্যাচও জিততে পারলাম না।  সব ম্যাচ হারলাম। আবার আমার ডান হাতের কব্জিটাও গেল ভেঙ্গে।’

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার এ যন্ত্রণাকাতর সংলাপে ফুটে উঠেছে আজকের দিনটার সত্যিকার চিত্র। হোয়াইওয়াশ, তুলোধুনো কিংবা সব ম্যাচ হারা- যাই বলা হোক না কেন, এর বাইরে আজকের ম্যাচ বা দিনের আরও একটি অন্যরকম তাৎপর্য আছে। সেটা মোটেই সুখকর নয়।

আসলে আজকের খেলাটি বাংলাদেশকে পেয়েছিল শনির দশায়। একদিনে পুরো দলে ইনজুরি এসে বাসা বেঁধেছে। শনির দশাই যদি না হবে, তাহলে এক ম্যাচে তাও ২০ + ২০ = ৪০ ওভারের ম্যাচে তিন তিনজন ক্রিকেটার কেন আহত হবেন।

প্রথম ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছেড়েছেন ইমরুল কায়েস। ফিল্ডিংয়ের সময় হাঁটুতে চোট পেয়ে সোজা মাঠের বাইরে ছিলেন এ বাঁ-হাতি ওপেনার। সন্ধ্যার পর টিম হোটেলে দেখা। ইমরুলেল আশাবাদী উচ্চারণ, ‘আশা করছি, বড় ধরনের সমস্যা হবে না। আমি ঠিক টেস্টের আগেরই ফিট হয়ে যাবো।’

অধিনায়ক মাশরাফির ডান কব্জির ওপরের অংশ ফ্র্যাকচার হয়েছে। অন্তত ছয় সপ্তাহ তাকে মাঠের বাইরের থাকতেই হবে। আট সপ্তাহও লাগতে পারে। এটাই শেষ নয়। আরও আছে। অধিনায়ক মাশরাফির বলে কিউই ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ ধরতে গিয়ে বাঁ-হাতের তালুতে ব্যথা পেয়েছেন তামিম ইকবালও।

এর মধ্যে মাশরাফি ও তামিমের আঘাত গুরুতর ভাবা হলেও শেষ খবর, ইমরুল কায়েসের ডান হাঁটুর ইনজুরিকে অত সিরিয়াস মনে করছেন না টিম ম্যানেজমেন্ট। সন্ধ্যায় হোটেল লবিতে দেখা। ইমরুলের অভ্যাস আছে। প্রচণ্ড খরতাপে  আক্রান্ত হলে মাশরাফির ইনজুরিটাই। অর সবাই তা দেখেছেন। তামিম সেভাবে প্রকাশ করেননি।

কিন্তু পরে দেখা গেছে, তামিমেরও আঘাত পাওয়ার জায়গাটি খানিক ফুলেছে। আপাতত ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে অাছেন তামিম। ব্যথা ও ফোলা বাগলে হয়তো আগামীকাল নাগদে তার ব্যাথা পাওয়া জায়গায় এমআরআই করার জোর সম্ভাবনা আছে।

মাশরাফির মতো মুহূর্তে অতো ফুলে ওঠেনি। ব্যথাও নিয়ন্ত্রণের ভেতরে আছে। তামিমের শেষ আপডেট- আজকের রাতটুকু কাটার পর যদি কালকেও ব্যথা এবং ফোলা থাকে, তখনই কেবল এমআরআই করা হবে। তারপরও তামিম বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ। তার একটাই কথা, ‘আমার সমস্যা হলে আমি অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবো।’

রাতটুকু ভালো কাটলে আগামীকাল সোমবার এমআরআই নাও করাতে পারেন তামিম। কিন্তু ইমরুল কায়েসের হাঁটুর ইনজুরি নিয়ে তেমন ঝক্কি পোহাতে হবে না। সন্ধ্যায় বাংলাদেশের টিম হোটেলে দেখা হলো ইমরুল কায়েসের।
জানালেন, ‘অাশা করছি তেমন সমস্যা হবে না। প্রথম টেস্ট শুরুর এখনো আছে চার দিন।’

কিউইদের হয়ে ছক্কার রেকর্ড গড়লেন অ্যান্ডারসন

নিউজিল্যান্ডের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছেন কোরি অ্যান্ডারসন। রোববার বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪১ বলে ২ চার ও ১০ ছক্কায় ৯৪ রান করেন অ্যান্ডারসন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে এর আগে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

আন্তজার্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে সেরার রেকর্ডটি এখন অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চের দখলে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ সে রেকর্ড ছোঁয়ার লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত ১০ ছক্কা হাঁকিয়ে থামতে হয়েছে অ্যান্ডারসনকে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ ছক্কা আর ২ চারে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন অ্যান্ডারসন। টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে ১০ ছক্কা হাঁকিয়ে ক্রিস গেইলের পাশে  অ্যান্ডারসন। ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক ইনিংসে ১০টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ব্যাটিং দানব গেইল।

স্ক্যান করাতে হাসপাতালে মাশরাফি

ঘরের মাঠে দারুণ সাফল্য পাবার পর প্রায় আড়াই বছর পর দেশের বাইরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড উড়ে এসেছিল বাংলাদেশ। তবে দেশের মাটিতে প্রাপ্ত সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। শুরুতেই ওয়ানডেতে বিদ্ধস্ত হয় টাইগাররা। এবার টি-টোয়েন্টিতেও বিদ্ধস্ত হয়েছে তারা। শেষ ম্যাচে ২৭ রানের বড় ব্যবধানে হেরে হোয়াইটওয়াশ হলো মাশরাফিবাহিনী।

সিরিজে হোয়াইটওয়াশের সঙ্গে দু:খস্মৃতি যুক্ত হয়েছে টাইগার অধিনায়কের। ডান হাতের কব্জিতে ব্যথা পেয়ে স্ক্যান করাতে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে টাইগার এই অধিনায়ককে। এর আগে প্রেস কনফারেন্সে কথা বলার সময় হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে আসেন মাশরাফি।

এর আগে নিজের শেষ ওভারে বোলিং করতে এসে নিজের দ্বিতীয় বলে কোরি অ্যান্ডারসনের শট ফেরাতে গিয়ে ডানহাতে চোট পান মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেওয়ার পর মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক। তার অসমাপ্ত ওভার শেষ করেন মোসাদ্দেক হোসেন।

এদিকে ম্যাচের ১২তম ওভারে মাশরাফির বলে অ্যান্ডারসনের মারা ছয় ফেরাতে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা পান টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস। এরপর আর ব্যাট হাতে মাঠে নামা হয়নি এই তারকার। তবে ম্যাচ শেষে জানা গেছে ইমরুল সুস্থ আছে।

আক্ষেপ নিয়েই নিউজিল্যান্ডে মাশরাফির ‘শেষ’ ম্যাচ!

২০০১ সালে ক্যারিয়ারের শুরুতেই নিউজিল্যান্ড সফর করেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিন উইকেট নিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছিলেন। যদিও দলীয় ব্যর্থতায় তার সাফল্যটা ফুটে উঠেনি সেদিন। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০০৮ সালে সফরে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ এবারের সফর নিয়ে সেখানে গেলেন তৃতীয় দফায়।

হয়তোবা কিউইদের ডেরায় এটাই মাশরাফির শেষ সফর! কেননা চলমান নিউজিল্যান্ড সফর শেষে অন্তত আগামী ৪-৫ বছর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের কোনও সফর হওয়ার সম্ভবনাই নেই। ২০০৮ সালের পর প্রায় ৮ বছর বাদে তৃতীয় সফর পেয়েছে টাইগাররা। সেই হিসেবে যখন চতুর্থ সফর আসবে হয়তো, তখন নিশ্চিত করেই বলা যায়-বাংলাদেশ দলে থাকবেন না মাশরাফি!

তবে এবার আশা ছিল প্রথমবারের মতো মাশরাফির নেতৃত্বে কিউই বধ সম্ভব হবে। এমন স্বপ্নই দেখছিলেন টাইগার ভক্তরা। কিন্তু সেই আশায় গুঁড়েবালি। ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুড়পাক খেয়েছে বাংলাদেশ। এরমধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে কখনোই হারের বৃত্ত ভাঙতে পারেনি লাল-সবুজের দল।

গত দুই বছর ধরে ঘরের মাঠে ভালো খেলতে থাকায় সমর্থকদের মনে আশা ছিল এই সিরিজে কিউইদের বিপক্ষে আগের পরিসংখ্যানগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো সম্ভব হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। সতীর্থদের সামনে সুযোগ ছিল মাশরাফির শেষটা স্মরণীয় করে রাখার! কিন্তু শেষ ম্যাচটাতে জয়ের সুবাস পেয়েও হার দিয়ে সিরিজ শেষ করতে হয়েছে লাল-সবুজদের।

ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও একই পরিণতি হয়েছে টাইগারদের। আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। তার আগে মাশরাফিকে বিদায় নিতে হচ্ছে কিউইদের ডেরা থেকে! হয়তো কোনও একদিন একাদশের অংশ না হলেও টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড সফর করবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়ক!

কিউইদের বিপক্ষে দেশ ছাড়ার আগে আগের রেকর্ডগুলোকে মুছে ফেলার যে স্বপ্নটা নিয়ে এসেছিলেন মাশরাফি। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নটা পূরণ না হওয়াতে নিশ্চিত ভাবেই আক্ষেপে পুড়ছেন তিনি!

২০০১ সালে সাদা পোষাকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় মাশরাফির। এত বছরের ক্যারিয়ারে ইনজুরির কারণে বার বার দল থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের অধিনায়ককে। কিউইদের বিপক্ষে ৬টি টেস্ট খেলা মাশরাফি চারটিই খেলেছেন তাদের মাটিতে। এছাড়া ১৪ ওয়ানডের মধ্যে ৭টি খেলেছেন তাদের মাটিতেই। এবং ৬টি টি-টোয়েন্টির তিনটি খেলেছেন কিউইদের ডেরাতে।

তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফির আক্ষেপটা এখানেই- ওদের কন্ডিশনে গিয়ে বেশ কিছু ম্যাচ জেতার কাছে থেকেও জিততে পারেনি তার দল। এই আক্ষেপটা হয়তো ক্যারিয়ার শেষেও পীড়া দেবে মাশরাফিকে।

টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে উড়ন্ত সূচনা করেও হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের কাছে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ২৭ রানে হেরেছে সফরকারীরা। ১৯৫ রানের জবাবে ৬ উইকেটে ১৬৭ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এরমধ্য দিয়ে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ হলো সফরকারীরা।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শুরুর দিকে ৪.৩ ওভারেই আসে ৪৪ রান। তামিমের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৪। তবে ৪.৪ বলে আর মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননি তামিম। বোল্টের বলে গ্র্যান্ড হোমকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মারকুটে এই ওপেনার।

তামিম বিদায় নিলেও মারমুখী ভঙ্গিতে খেলেছেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার।  তবে বেশিক্ষণ তাকে মারমুখী ভঙ্গিতে খেলতে দেননি স্পিনার সোধি।  ৮.২ ওভারে নিজের হাতেই তালুবন্দী করেন সৌমকে।  উড়িয়ে মারতে গিয়ে ২৮ বলে ৪২ রানে বিদায় নেন তিনি। ২ উইকেট গেলেও টাইগারদের শুরুর পাওয়ার প্লেতেই এসেছে ৬৯ রান।

দ্রুত রান নেওয়ার তাড়ায় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বিরও।  ১৮ রান করে ১২তম ওভারে উইলিয়ামসনের বলে বোল্ড হন।  এরপর চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব।  জুটিতে আসে ২৫ রান।  তবে দলীয় ১২২ রানে মাহমুদউল্লাহ বোল্ড হলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি। সোধির বলে বোল্ড হয়ে ১৮ রানে ফেরেন তিনি।  এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচ চলে যেতে থাকে কিউইদের দিকে। বড় লক্ষ্যের চাপে মনোযোগ রাখতে পারেননি মোসাদ্দেক। রানের ব্যবধান কমিয়ে স্যান্টনারের বলে ১২ রানে ফেরেন তিনি। মাঝে বড় ইনিংস খেলার দৃঢ়তা দেখালেও শেষ ওভারে ৪১ রানে ফেরেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ থামে ৬ উইকেটে ১৬৭ রানে।   কিউইদের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ড ও সোধি।  একটি করে নেন স্যান্টনার ও উইলিয়ামসন।  ম্যাচ সেরা হন ঝড় তুলে খেলা অ্যান্ডারসন।

এর আগে বাংলাদেশকে ১৯৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। টস হেরে ব্যাট করে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান।

আগে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেলেও খেলতে নেমে শুরুটা দেখেশুনে করেছিল নিউজিল্যান্ড। ৪ ওভারেই আসে ৩৪ রান। যদিও পঞ্চম ওভারে রুবেলের বলে ঘটে বিপত্তি। তার ৪.২ ওভারে এলবিডব্লুতে ফেরত যান জিমি নিশাম। বিদায় নেন ১৫ রানে।

এরপর ক্রিজে নামেন কলিন মুনররো। তাকেও টিকতে দেননি রুবেল। তাকে একই ওভারের শেষ বলে সৌম্য সরকারের হাতে তালুবন্দী করেন। মুনরো বিদায় নেন রানের খাতা না খুলেই।

মাঝে একটি ওভার বিরতি গেলে ফের শুরু হয় আঘাত। ক্রিজে নামা নতুন ব্যাটসম্যান টম ব্রুসকেও ক্রিজে টিকতে দেননি মোসাদ্দেক।  ৭ম ওভারের প্রথম বলেই কিউই ব্যাটসম্যানকে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দী করেন তরুণ এই অফ স্পিনার।  ৩ উইকেট হারানোর সঙ্গে সঙ্গে রানের গতিও কমে আসে কিউইদের।

যদিও চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে ইনিংস মেরামত করেন কেন উইলিয়ামসন ও কোরে অ্যান্ডারসন। তাদের ১২৪ রানের জুটিতে বড় পুঁজি পায় কিউইরা। ১৭তম ওভারে সৌম্য সরকারের এক ওভারেই তিন ছয় মেরে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন অ্যান্ডারসন। ৩০ বলে এই ওভারে ৬১ পূরণ করেন তিনি।

এই জুটি অতটা মারমুখী হতো না যদি উইলিয়ামসনের ক্যাচগুলো নিতে পারতো বাংলাদেশ।  কারণ কিউই এই ব্যাটসম্যানের দুটি ক্যাচ মিস করেছে টাইগাররা। ১৭.১ ওভারে দ্বিতীয়বার জীবন পান ওপেনার উইলিয়ামসন।  মাশরাফির বলে তার ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন তামিম।  এর আগে ১৫তম ওভারেও মাশরাফির বলে ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।

তবে আজকের ম্যাচে কিউইদের ভালোই ভুগিয়েছেন পেসার রুবেল।  শুরুর দিকের মতোন ঝলক দেখান শেষের দিকেও। ১৮.১ ওভারে বোল্ড করেন ৬০ রানে ব্যাট করতে থাকা কেন উইলিয়ামসনকে।  এই উইকেটের মধ্য দিয়ে ভাঙে ত্রাস ছড়ানো অ্যান্ডারসন-উইলিয়ামসন জুটি।  উইলিয়ামসন ৫৭ রানে বলে ৬০ রান করে। তবে সব চেয়ে বেশি মারমুখী ছিলেন অ্যান্ডারসন। ৪১ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। যেখানে ছিল ১০টি ছয় ও ২টি চার। তার ব্যাটেই শেষ দিকে ১৯৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

পেসার রুবেল বাংলাদেশের পক্ষে একাই নিয়েছেন ৩ উইকেট।  একটি নিয়েছেন মোসাদ্দেক।

একা নয়, পুরো দলকেই ভালো খেলতে হবে : তামিম

তাকে নিয়ে একটি কথা চাওর আছে। ‘তামিম ভাল খেললে দল অনুপ্রাণিত হয়। পরের ব্যাটসম্যানদের সাহস বাড়ে। তামিমের ব্যাট কথা বললে প্রতিপক্ষ বোলিং হয় এলোমেলো। আর দল হাসে। তামিম রান করলেই দল জেতে।’

এটাকে শুধু কথার কথা ভাবার কোনো কারণ নেই। সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যান ভিত্তিক খেলা ক্রিকেটে যেহেতু পরিসংখ্যানই একমাত্র মানদণ্ড ও শেষ কথা, সেই পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, তামিম ইকবাল টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সফলতম পারফরমার। তিন ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রান তামিমের। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসও চট্টগ্রামের এ বাঁহাতি ওপেনারের।

গত চার পাঁচ বছরে বাংলাদেশ যতগুলো ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতেছে তার বেশির ভাগ জয়ে তামিমের ভূমিকাই বেশি। তামিম ভালো খেললে দুটি কাজ হয়। প্রথমতঃ তার আক্রমণাত্তক উইলোবাজির ক্ষমতাটা আর যে কারো চেয়ে বেশি। তামিম বেশি সময় উইকেটে থাকা মানেই প্রতিপক্ষ বোলিং এলোমেলো হয়ে পড়া।

এক সময় তেড়েফুড়ে ব্যাট ছুঁড়লেও সময়ের প্রবাহতায় তামিম অনেক পরিণত। এখন রয়ে সয়ে এবং দেখে লম্বা ইনিংস খেলতে পারেন। তাতে দলের আরও লাভ হয়। কিন্তু এবার নিউজিল্যান্ডে এসে সেই চেনা তামিমের দেখা মেলেনি। এমন নয় তামিম ভাল খেলছেন না। উইকেটে গিয়েই আউট হয়ে যাচ্ছেন। কিংবা খেলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বল নষ্ট করছেন। কিন্তু রান পাচ্ছেন না। তাও নয়।

শুরু ভালোই হচ্ছে। মাঝব্যাটেই খেলছেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে আর পারছেন না সাজঘরে ফিরে আসছেন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও এমন হয়েছে। টি-টোয়ন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও তাই। স্কোরলাইন দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ৩৮+১৬+৫৯+। আর টি-টোয়েন্টিতে ১১+১৩।

টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়ক মাশরাফি তার দিকে তাকিয়ে। তামিম একটা বড় ইনিংস খেললেই ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা কেটে যাবে, এই আশায় উন্মুখ ভক্ত-সমর্থকরা। তামিম নিজেও ভিতর থেকে ভালো খেলার তাগিদ অনুভব করছেন।

আর করছেন বলেই আজ (শনিবার) সকাল সকাল বিশ্রামের দিনেও ব্যাটিং অনুশীলনে চলে আসা। শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে স্বদেশি প্রচার মাধ্যমের সামনে দাড়িয়ে কথা বলার সময় বার বার মনে হচ্ছিল তামিম কায়মনে চাচ্ছেন দলকে কিছু একটা দিতে। কার্যকর অবদান রাখতে। কিন্তু হচ্ছে না।

কিন্তু যখন বলা হলো, আপনি ভালো খেললেই দল জেতে, তখনই আপত্তি। ‘না না। বিষয়টা একদমই তেমন না। আমি একা ভালো খেললে কি আর হবে ? আসলে আমরা সবাই ভালো খেললেই দল জেতে। আমি চাই পুরো দল ভালো খেলুক। তাহলেই দেখবেন সাফল্য ধরা দেবে।’

বরিশালকে ইনিংস ব্যবধানে হারালো ঢাকা বিভাগ

শাহরিয়ার নাফীসের সেঞ্চুরি ফলোঅনে পড়া বরিশালের জন্য সুখের বৃষ্টি হয়েই এসেছিল গতকাল। তবে সেই সেঞ্চুরিও জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় থেকে রুখতে পারেনি দলটিকে। ঢাকা বিভাগ জয় তুলে নিয়েছে ইনিংস ও ৭৮ রানে।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় টস হেরে আগে ব্যাট করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৮৮ রানের (ইনিংস ঘোষণা) পাহাড় গড়েছিল ঢাকা। জবাবে ব্যাটিং ব্যার্থতায় পড়ে বরিশালের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৮৯ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশালের ইনিংস শেষ হয় ৩২১ রানে। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ঢাকা হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করা তাইবুর রহমান (২৪২ রান)। ঢাকার ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন সাইফ হাসানও (২০৪ রান)। তবে তাইবুর রহমান বরিশালের দ্বিতীয় ইনংসে তুলে নেন ২ উইকেটও।

এই জয়ে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগ শেষ করেছে মোহাম্মদ শরীফের দল। একদিন হাতে রেখেই গতকাল ঢাকা মেট্রোকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করেছিল খুলনা (৫৮)।

বিশ্রামে মোস্তাফিজ, তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ফিরছেন তাসকিন

ইনজুরি থেকে সদ্য ফেরা মোস্তাফিজকে প্রথম ওয়ানডে খেলার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল। এরপর একটি ওয়ানডে এবং দুটি টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন তিনি। এবার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে আবার বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের বিস্ময় বালক মোস্তাফিজকে। তবে মোস্তাফিজের পরিবর্তে দলে ফিরছেন প্রথম দুই টি-টোয়েন্ট ম্যাচে জায়গা না পাওয়া তাসকিন আহমেদ।

সর্বনাশা ইনজুরি দীর্ঘ একটা সময় মাঠের বাইরে রেখেছে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে। ইনজুরির কারণে ঘরের মাঠে আফগানিস্তান আর ইংল্যান্ড সিরিজ খেলতে পারেননি। বিপিএলেও বসেছিলেন দর্শক হয়ে। লন্ডনে সাসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে যে বাম কাঁধের ইনজুরিতে পড়েছেন এবং সেখানো অস্ত্রোপচার করার পর নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে অবশেষে মোস্তাফিজ মাঠে ফিরেছেন।

মোস্তাফিজ এরই মধ্যে টানা তিন ম্যাচ খেলে ফেলেছেন (তৃতীয় ওয়ানডে ও প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি)। আর দীর্ঘদিন পর ফেরা মোস্তাফিজকে টানা বেশি ম্যাচ না খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন ফিজিও। তাই তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি না খেললেও প্রথম বারের মত টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তাই টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে তাকে ঝালিয়ে নিতে চাইছে ম্যানেজমেন্ট। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ মোস্তাফিজের পরিবর্তে মাঠে দেখা যাবে তাসকিনকে।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াটওয়াশের পর টানা দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হেরে এ সিরিজেও হোয়াটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে মাশরাফি বাহিনী। তাই শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াটওয়াশ এড়াতে মরিয়া টাইগাররা।

ভারত-শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রাথমিক দলে নাসির!

দীর্ঘ দিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আসা যাওয়ার মধ্যে নাসির হোসেন। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ব্যানারে থাকলেও একাদশে জায়গা পাননি ঠিকমত। আর সে ধারায় চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজের ২৩ সদস্যের দলেও জায়গা হয়নি তার। তবে এবার কপাল খুলছে দেশসেরা এই ফিনিশারের। আসন্ন ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৮ জনের প্রাথমিক দলে রাখা হচ্ছে কিছুদিন আগে ডাবল সেঞ্চুরি করা এই তারকাকে।

এদিকে শুধু নাসিরই নন এই সিরিজের জন্য প্রাথমিক দল ডাক পাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় ও বিপিএলে নিয়মিত পারফরম করা শাহরিয়ার নাফিস। জাগো নিউজের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে বিসিবির প্রধান নির্বাচকের কথায় এমনটাই আভাস মিলেছে।

প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন, প্রথমবারের মত আমরা ভারত সফরে যাচ্ছি। এরপর পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাবো শ্রীলংকায়। আর এই দুই সিরিজকে সামনে রেখে ওয়েলিংটনে গিয়ে আমরা প্রাথমিক দল ঘোষণা করবো।

সবশেষ ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে ছিলেন নাসির। এরপর আর তাকে দলে বিবেচনা করা হয়নি। তবে কিছু আগে রংপুরের হয়ে জাতীয় লিগের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিজের ফর্মের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেতো অনেক আগে থেকেই পরীক্ষিত। তাই এবার হয়তো এই দুই সিরিজে তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্রামের দিনেও তামিম-মাহমুদউল্লাহ-সৌম্যদের ব্যাটিং অনুশীলন

এক সময় ছিল। ম্যাচ হারলেই পর দিন সকাল সকাল প্র্যাকটিসে চলে আসতেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহরা। দিন পাল্টেছে। নিউজিল্যান্ডের অনভ্যস্ত কন্ডিশনে এখনো জয়ের নাগাল না পেলেও ম্যাচ হেরে পরদিন অনুশীলনের সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে এবার।

তবে আজ ব্যতিক্রম। শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় বে ওভালে এসে হাজির টাইগাররা। সে কি ! এই না বলা হলো ঐ সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে! হ্যা বন্ধ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে এসে এক দিনের বিরতিতে যে ক`টা ম্যাচ খেলেছে, তার সবকটা দিন বিশ্রামে কাটিয়েছে টাইগাররা। আজ টাইগাররা অনুশীলন করেছেন ঠিক, তাই বলে পুরো দল নয়। আংশিক।

শুক্রবার যে ১১ জন খেলেছেন, তাদের জন্য আজকের অনুশীলন ছিল ‘ঐচ্ছিক।’ তারপরও রানে ফেরার তাড়া থেকে আজ সকালে নেটে অনেকটা সময় নিজেকে ঝালিয়ে নিলেন ওপেনার তামিম ইকবালসহ তিন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার ও নুরুল হাসান সোহান। তারা সাদা বলে বেশ অনেকটা সময় বে ওভালের নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন।

সকাল দশটায় শুরু হল এ ঐচ্ছিক অনুশীলন। এই প্র্যাকটিসটা যে পূর্ব নির্ধারিত সিডিউলের বাইরে, শুধু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আরও বেশি করে প্রস্তুত করার জন্য, তার প্রমাণ এ অনুশীলন সেশনে কোন স্থানীয় নেট বোলার ছিল না। টেস্ট স্কোয়াডে থাকা তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, শুভাশীষ রায় ও কামরুল ইসলাম রাব্বি এবং দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামরা টানা বোলিং করলেন। সঙ্গে ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাভিরা এবং পেস বোলিং কোচ কুর্টনি ওয়ালশও ৫/৭ পা দৌড়ে নেটে বোলারের ভূমিকায়। ব্যাটিং স্তম্ভ তামিম শুরু করছেন ভালোই। কিন্তু অল্প কিছুদূর গিয়েই আউট হয়ে যাচ্ছেন। তাই শেষ ম্যাচের আগে একটু বাড়তি মনোযোগি তামিম।

দীর্ঘ রান খরা কাটিয়ে আবার রানে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। নিজেকে মেলে ধরতে ব্যতিব্যস্ত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। আর মুশফিকুর রহিমের ইনজুরিজনিত অনুপস্থিতিতে উইকেটরক্ষক কাম মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করা নুরুল হোসেন সোহান, এই তিনজনই এখন টাইগার মিডল অর্ডারের অন্যতম পারফরমার। টি-টোয়েন্টির শেষ ম্যাচের আগে তারা যেন আরও একটু ঝালিয়ে নিতে পারেন, সে চিন্তায় ঐচ্ছিক অনুশীলনে তাদের বেশি সময় নেটে ব্যাটিং করানো। তারা প্রায় পৌনে এক ঘন্টার মত নেটে নিজেদের ঝালিয়ে নিলেন।

এছাড়া টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হক, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি লাল বলে নিজেদের টেস্টের জন্য প্রস্তুত করেছেন।  প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু প্রথম ব্যাটিং সেশন মানে মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার ও নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটিং খুব মন দিয়ে খেয়াল করলেন। ঐ সেশনের পুরোটা পরিচালনায় ছিলেন ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাভীরা। পেস বোলিং কোচ কুর্টনি ওয়ালশও ছিলেন নেটে। নিজেও ৫/৭ পা দৌড়ে এসে খানিক্ষণ বল করলেন এ ক্যারিবিয় গ্রেট।

তিন ওয়ানডে মিডল অর্ডার মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য ও নুরুল হক সোহানের ব্যাটিং শেষ হবার পর শুরু হলো এ মুহূর্তে টি টুয়েন্টি স্কোয়াডের বাইরে আছেন, কিন্তু টেস্ট দলে ডাক পাওয়াদের নিয়মিত অনুশীলন। প্রতিদিন একটা সময় করে মমিনুল, সঙ্গে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরার আশায় নিজেকে তৈরি করতে ব্যস্ত ,মুশফিকুর রহিম এবং তিন বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম রাব্বিরা লাল বলে আলাদা অনুশীলন করছেন।

আজও সেটাই হলো। নেটে খানিক্ষণ ব্যাটিং শেষে ট্রেনার  মারিও ভিল্লাভারায়নের অধীনে বে ওভালে বেশ কিছুটা সময় রানিং করলেন মুশফিকুর রহিম। এদিকে যত সময় গড়ালো বে ওভালে বাংলাদেশ ড্রেসিং রুমে টাইগারদের আনাগোনা আরও বাড়ল। সকাল ১১ টা নাগাদ আসলেন তামিম ইকবাল। সঙ্গে সাব্বির রহমান রুম্মনকেও দেখা গেল। এছাড়া ২৪ ঘন্টা আগে খেলা অধিনায়ক মাশরাফি, ভাইস ক্যাপ্টেন সাকিব, মোসাদ্দেক, রুবেল ও মোস্তাফিজ হোটেলেই বিশ্রামে কাটালেন।

এত গেল ক্রিকেটারদের খবর। টিম ম্যানেজমেন্টও বসে নেই। দুপুরে বে ওভালে একটা অনানুষ্ঠানিক সভা হয়ে গেল। হেড কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের নেতেৃত্বে ঐ মিটিংয়ে সব কোচিং স্টাফ, ফিজিও-ট্রেনার এবং প্রধান নির্বচিক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও ছিলেন। যা চললো স্থানীয় সময় প্রায় দুপুর দুইটা পর্যন্ত।

জমে উঠেছে প্রিমিয়ারে ওঠার লড়াই

পেশাদার ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ (বিসিএল) শেষের পথে। ১৪ রাউন্ডের এ লিগে দলগুলো শেষ করেছে ১৩টি করে ম্যাচ। রোববার ও সোমবার ১৪ তম রাউন্ডের মধ্যে দিয়ে পর্দা নামবে এ লিগের। বিসিএল থেকে দুটি দল উঠবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে(বিপিএল)। কোন দুই দল উঠবে তা দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত। প্রিমিয়ারে ওঠার লড়াইটা যে বেশ জমে উঠেছে।

৮ দলের এ লড়াই থেকে ৫ দলই ছিটকে গেছে। প্রিমিয়ারে ওঠার লড়াইয়ে টিকে আছে ৩ দল ইয়ংমেন্স ক্লাব ফকিরের পুল, নবাগত সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড ও অগ্রণী ব্যাংক। শুক্রবার কাওরান বাজারকে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে ইয়ংমেন্স ক্লাব ফকিরেরপুল। ২৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে সাইফ পাওয়ার। ৩ নম্বরে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের পয়েন্ট ২০।

প্রিমিয়ারে ওঠার সবচেয়ে সহজ সুযোগ ইয়ংমেন্স ক্লাবের। তারা শীর্ষেতো আছেই, শেষ ম্যাচে আবার প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম মোহামেডান, যারা এখন রিতীমতো অবনমনের শঙ্কায়। পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে চট্টলার দলটি। পরীক্ষাটা একটু কঠিন অগ্রণী ব্যাংকের জন্য। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সাইফ পাওয়ার। জিতলে তাদের প্রিমিয়ারে ওঠার সুযোগ থাকবে। সাইফ এসসির ড্র করলেই চলবে।

শুক্রবারের ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইয়ংমেন্সের জন্য। ম্যাচটি তারা জিতেছে শেষ মিনিটের গোলে। ২৩ মিনিটে মহিউদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় কাওরান বাজার। ৪০ মিনিটে টিটুর গোলে সমতায় ফেরে ইয়ংমেন্স। ৮৯ মিনিটে জুয়েল গোল করে ইয়ংমেন্সকে এনে দেন অতি প্রয়োজনীয় জয়টি।

দিনের অন্য ম্যাচে ভিক্টোরিয়া ৪-০ গোলে চট্টগ্রাম মোহামেডানকে হারিয়ে অবনমনের শঙ্কা কমিয়ে এনেছে। তারা কাওরান বাজারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই টিকে থাকবে বিসিএলে। তবে হারলেও টিকবে যদি শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম মোহামেডান জিততে না পারে।

টেস্ট দলে মুশফিক, বড় চমক তাসকিন

সব কিছু ঠিক থাকলে বুধবার কিংবা আজই হয়ত টেষ্ট স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে যেত। কিন্তু কাল তা হয়নি। আজও হবে, এমন সম্ভাবনাও কম। কারণ বোর্ড সভাপতির অনুমোদন ছাড়াতো আর দল ঘোষণা সম্ভব না। বিসিবি বিগ বস নাজমুল হাসান পাপনের বুধবারই মাউন্ট মঙ্গানুই এসে পৌছানোর কথা ছিল।

কিন্তু তিনি সিঙ্গাপুরে এসে অসুস্থবোধ করায় আর বুধবার আসেননি। আজ আসবেন, বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ তা নিশ্চিত করে জানাতেও পারেননি। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানালেন , টেষ্ট স্কোয়াড তৈরি। এখন শুধু বোর্ড সভাপতির অনুমোদন বাকি।

জাগো নিউজের সাথে আলাপে প্রধান নির্বাচক টেস্ট স্কোয়াড নিয়ে একান্তে কথা বলেছেন। তাতে টেস্ট দল সম্পর্কে একটা প্রচ্ছন্ন ধারণাও মিলেছে। মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর দেয়া তথ্য অনুযায়ী হ্যামম্ট্রিই ইনজুরি কাটিয়ে অবশ্যই দলে থাকছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এ সম্পর্কে মিনহাজ জানান,‘আমরা আশা করছি প্রথম টেষ্টের আগে মুশফিক সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে। আরও এক সপ্তাহ বাকি আছে। এখনই তার সমস্যা অনেক কেটে গেছে। তিন দিন ধরে সে নেটে লাল বলে ব্যাটিং প্র্যাকটিসও করছে। কাজেই আমাদের বিশ্বাস, নতুন করে কোন সমস্যার উদ্রেক না ঘটলে মুশফিক দলে থাকছে। এবং নেতৃত্বও দেবে।’

এমন আশার বানী শোনালেন, প্রধান নির্বাচক একটা অন্য কথাও বলেছেন।  যেহেতু হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি, তাই ধরে নিতে হবে আবারও সে ইনজুরি মাথা চারা দিয়ে উঠতে পারে। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট সম্ভবত বিকল্প উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানকে রেখে দিচ্ছেন। যাতে মুশফিকের সমস্যা হলে নুরুল হাসান সোহান উইকেট রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

মোদ্দা কথা, প্রধান নির্বাচকের কথায় বোঝা গেছে তারা মুশফিকুর রহিমের ইনজুরিটা পাখির চোখে পরখ করছেন। সামনে যেহেতু বেশ কটা বিদেশ সফর আছে, তাই মুশফিক যাতে শতভাগ ফিট থাকে , তার জন্য সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টাই  চালানো হবে। এমনও হতে পারে মুশফিক ঠিকই খেলবেন। তবে সেটা অধিনায়ক হিসেবে এবং ব্যাটসম্যান কোটায়। কিপিং করতে পারে নুরুল হাসান।

তবে টেস্ট স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক হতে যাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। ১৭ জনের টেস্ট দলে জায়গা পাচ্ছেন এ সুঠাম দেহীর দ্রুততম বোলার। প্রধান নির্বাচক জাগো নিউজকে জানিয়ে দিয়েছেন , টেস্ট দলে আছে তাসকিন। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন ও ঘাসযুক্ত উইকেটে তাসকিন যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে। তার গতি আছে। সুইং কারাতে পারে। বাউন্সও আদায় করে নিতে সক্ষম। সব বিবেচনায় তাসকিনকে টেস্ট দলে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার মানে অবশেষে টেস্ট দলে তাসকিন। এবং সব কিছ’ ঠিক থাকলে ওয়েলিংটন কিংবা ক্রাইস্টচার্চের কোথাও এ স্পিডস্টারের টেস্ট অভিষেকও হয়ে যাচ্ছে।

মাশরাফির আতঙ্কের নাম ওয়েলিংটন এয়ারপোর্ট!

নড়াইলের চিত্রা নদী সাতরে বড় হওয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা যেন এক সাহসী নাবিক। তার সাহস নিয়ে গল্প লেখা যেতে পারে। কল্পলোকের কাহিনীও তার সাহস, প্রত্যয়ের কাছে হার মানে। শুধু সাহস আর অদম্য ইচ্ছশক্তি দিয়ে হাঁটু ও গোড়ালিতে ছোট বড় মিলে আট নয়টি অপারেশনের ধাক্কা সামলে এখনো মাঠে বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক।

বাংলাদেশেতো নয়ই বিশ্বের খুব কম দেশে এভাবে অপারেশনের টেবিল থেকে বার বার ঘুরে আবার মাঠে ফিরে আসা ক্রিকেটার পাওয়া কঠিন। শুধু ঐ অপারেশনের ধকল সামলে মাঠে নামাই নয়, তার চলাফেরা, চিন্তা-ভাবনা ও ক্রিকেট মাঠে স্বপ্রতিভ পদচারণা, সব কিছুতেই অন্যরকম সাহসী মানসিকতার ছোয়া পরিষ্কার। মোদ্দা কথা ক্রিকেটার ও মানুষ মাশরাফি যেন বীরের প্রতিচ্ছবি।

কিন্তু শুনে অবাক হবেন, এমন সাহসী যোদ্ধাও প্লেনের বাম্পিংকে যারপরনাই ভয় পান। বাম্পিংয়ের ভয়ে চরম ভীত মাশরাফি নিউজিল্যান্ডের একটি শহরে যাবার কথা মনে হলেই গায়ে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর উঠে যায়। প্লেনে ওয়েলিংটন যেতে হবে শুনলেই বুক কাপে।হাঁটুতে কাঁপন লাগে। বুকের ভিতরে কেমন যেন ঢিপ ঢিপ ঢিপ করে। তাইতো নিউজিল্যান্ডে এলেই যতটা সম্ভব ওয়েলিংটন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

প্রসঙ্গত নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওয়েলিংটন। বিশ্বের সবচেয়ে জোরে বাতাস বহতা শহরও। এ শহরে সারা বছর গড়ে প্রতি ঘন্টায় ২৬ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বয়। বাতাস বেশি বলেই এখানে বিমান ওঠা নামায় বাম্পিং বেশি। শুধু বেশি বললে কম বলা হবে, ওয়েলিংটনে যে কোন ফ্লাইট অবতরণের আগে বাতাসে কাপেনি এমন ঘটনা প্রায় বিরল। ছোট আর বড় নেই, যে কোন বিমান ওয়েলিংটন বিমান বন্দরে নামতে গিয়ে কাপে। সেই বাম্পিংয়ে রাজ্যের ভয় মাশরফির।

বলার অপেক্ষা রাখে না জাতীয় দলের সাথে তার প্রথম বিদেশ সফরই নিউজিল্যান্ড। সেই প্রথমবার বিদেশ আসা ২০০১ সালের ডিসেম্বরে। তখন  ওয়েলিংটনে টেষ্ট খেলতে গিয়ে পড়েছিলেন বিমানের বাম্পিংয়ের খপ্পরে। সেই থেকে মনে ভয় ঢুকে গেছে। এখনো ওয়েলিংটন বিমান বন্দর তার কাছে এক বিরাট আতঙ্ক!  সিরিজের সেটা ছিল দ্বিতীয় টেস্ট। হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্টের পর বিমান আসছিলেন ওয়েলিংটন আসতে গিয়েই প্রচন্ড বাতাসের  ঝাপটায় মাশরাফির বিমানটি অরেক বেশি দুলছিল যা একবার নীচে অন্যবার ওপরে উঠছিল। সেদিনের সবে কৈশোর পার করা মফস্বলের ছেলে মাশরাফির মনে সেই যে ভয় ঢুকে গেছে , তা কাটেনি এখনো।অবশ্য তার একার ভয় না।  বাংলাদেশ দলের যে সব ক্রিকেটার একবার হলেও বিমানে ওয়েলিংটন এসেছেন বা অবতরণ করেছেন তাদের কাছে ওয়েলিংটন বিমান বন্দর সত্যিই এক আতঙ্ক।

এর সাত বছর পর ২০০৮ সালের জানুয়ারীতে আবার নিউজিল্যান্ড এসেছিলেন মাশরাফি। সেবারও ওয়েলিংটনে ছিল দ্বিতীয় টেস্ট। ঐ বারও ওয়েলিংটন বিমান বন্দরে অবতরণের সময় বাতাসে বিমান কেপেছিল অনেক। সেই কাপুনিতে হাবিবুল বাশারসহ আরও কজন নাকি বমিও করে দিয়েছিলেন। সেই থেকে মাশরাফি ওয়েলিংটন বিমান বন্দরের কথা শুনলেই ডরে-ভয়ে কম্পমান।

এবার ওয়েলিংটন হয়ে কোন বিমান ভ্রমণ করেননি নড়াইল এক্সপ্রেস। এমনকি টি-টোয়েন্টি নিরিজ শেষে ৫/৬ দিনের জন্য স্ত্রী ও কন্যা-পুত্রসহ সিডনি যাবেন, তখনো ওয়েলিংটন এড়িয়ে অকল্যান্ডকে বেছে নেয়া।

আজ মাউন্ট মোঙ্গানুয়ের বে ওভাল মাঠে প্র্যাকটিসের পর ওয়েলিংটন বিমান বন্দর নিয়ে কথা উঠতেই মাশরাফির সোজা সাপটা জবাব, ‘ভাই আমি জীবনেও কোনদিন ওয়েলিংটন বিমান বন্দরে নামতে পারবে না। ২০০১ আর ২০০৮ দুই দুই বার যে রকম বিমান বাম্পিং করেছে, তাতে আমার কম্প কাবার হবার যোগার। আমি পণ করে রেখেছি জীবনে কখনই ওয়েলিংটন বিমান বন্দরে প্লেনে অবতরণ করবো না। ওরে বাবা কি যে ভয়ঙ্কর ! বিমান কাপবেই। আর বাম্পিং করে কখনো কখনো একবারের এক থেকে দেড়শো ফুট নীচে নেমে যায়। খুবই ভয় লাগে আমার। আমি ঐ রকম বাাম্পিংকে সত্যিই খুব ভয় পায়। বুক কাপে। প্রয়োজন হয় ঘুরে যাব, ট্রানজিট থাকলে অন্য শহর দিয়ে যাব, তবু ওয়েলিংটন নয়। ’

এবারো সত্যি ওয়েলিংটন যাননি। এমনকি আগামী ১২ জানুয়ারী থেকে ওয়েলিংটনে যে প্রথম টেস্ট শুরু হবে, টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে সেখানেও যাবেন না মাশরাফি। তার গন্তব্য অকল্যান্ড। তার ভাষায়, ‘আমি ১৩ জানুয়ারী নিউজিল্যান্ড ছাড়ব। তখনতো প্রথম টেস্ট খেলতে দল ওয়েলিংটন থাকবে। আর আপনি অকল্যান্ড যাবেন মানে ? হ্যা যাবো। খুব সহজ কথা, আমি ওয়েলিংটন বিমান বন্দরকে এড়াতে চাই। আর সে কারণেই ওয়েলিংটনের বদলে অকল্যান্ডকে বেছে নেয়া। যাতে ওয়েলিংটন যেতে না হয় , তাই আমি সিডনির উদ্দেশ্যে বিমানে উঠব অকল্যান্ড থেকে। ’

প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে আগামী ১৩ জানুয়ারী স্বপরিবারে যাত্রী, কন্যা ও শিশু পুত্র সহ অস্ট্রেলিয়ার ডিনি ঘুরতে যাবেন মাশরাফি।
সেখানে কদিন পরিবারের সাথে একান্তে সময় কাটিয়ে দেশে ফিরবেন ১৯ জানুয়রী।

শেষ দুই ম্যাচে অপরিবর্তিত বাংলাদেশ দল

ওয়ানডে সিরিজে হারের পর অধিনায়ক থেকে শুরু করে দলের সবার কথায়ই ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর এই প্রত্যয় নিয়েই সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে জ্বলে উঠতে পারলেন না বোলাররাও। আর এতেই হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হলো বাংলাদেশের।

এদিকে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে হারের পর শেষ দুই টি-টোয়েন্টির স্কোয়াড ঘোষণায় চমক দেখার আশা করলেও থাকছে না সেটি। কারণ যথারীতি প্রথম টি-টোয়েন্টির স্কোয়াড নিয়ে বাকি দুই ম্যাচের দল ঘোষণা করা হয়েছে।

মাউন্ট মঙ্গুনুইয়ে আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮ টায় দ্বিতীয় ও রোববার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দল :
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শুভাগত হোম, শুভাশীষ রায়, তাইজুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান।

নাসির : দ্যা পিপলস চ্যাম্পিয়ন

গত বছর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে ব্রাত্য হয়ে আছেন নাসির হোসেন। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের ব্যানারে থাকলেও একাদশে জায়গা পাননি ঠিকমত। আর সে ধারায় চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজের ২৩ সদস্যের দলেও জায়গা হয়নি তার। অথচ গড়পড়তার পারফরম্যান্স করেও দলে আছেন শুভাগত হোমের মত খেলোয়াড়রা।

সাম্প্রতিক সময়ের নাসিরের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন কোচ-অধিনায়করা হর হামেসাই। জাতীয় লিগের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিজের ফর্মের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেতো অনেক আগের থেকেই পরীক্ষিত। তারপরও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও আছেন শুভাগত, নেই নাসির।

নাসিরের প্রতি কেন এতো অনীহা?

এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে নানা গুঞ্জন। কোচ-নির্বাচকরা দিচ্ছেন নানা মতবাদ। এমনকি বাদ যাননি খোদ বিসিবি প্রেসিডেন্টও। আর এ যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাদের একহাত তুলে নিচ্ছেন ক্রীড়ামোদীরা

কয়দিন আগেই নাসির হোসেনকে নিয়ে আবারও বিধ্বংসী মতবাদ দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ নাসির হোসেন। পারফরম্যান্সে নাকি তার চেয়ে অনেক এগিয়ে শুভাগত হোম।

‘নাসির নেই অথচ দলে আছেন শুভাগত, কেন?’ –স্বাভাবিকভাবেই এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচ হাথুরুকে।

আর তাতে ক্রুদ্ধ হাথুরু উল্টো প্রশ্ন করেন সাংবাদিকদের, ‘আমাকে আপনারা বলেন যে, নাসিরকে কোন জায়গাটায় নেবো? আমার দলে একই পজিশনে খেলার মত মোসাদ্দেক আছে। মিরাজ আছে। শুভাগত হোম আছে। এই তিনজনের চেয়ে নাসির গত দুই বছরে এমন কী পারফরম্যান্স করেছে যে তাকে আমি নেবো। এই তিনজনের জায়গায় কিভাবে তাকে দলে নেবো? আমি কী তাহলে একই জায়গায় চারজনকে নেবো?’

যোগ করে আরও বলেন, ‘যে ক্রিকেটার ঢাকা লিগে ভালো পারফর্ম করতে পারে না, তাকে জাতীয় দলে নেয়ার যৌক্তিকতা আছে? গত দুই বছরে ওর রেকর্ড দেখুন, সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি পরিসংখ্যান ও দলে অবদান দেখে কাজ করি। সে তো কোনো অবদান রাখতে পারেনি।`

‘তিনজনের চেয়ে নাসির গত দুই বছরে এমন কী পারফরম্যান্স করেছে যে তাকে আমি নেবো’ আর ‘যে ক্রিকেটার ঢাকা লিগে ভালো পারফর্ম করতে পারে না, তাকে জাতীয় দলে নেয়ার যৌক্তিকতা আছে?’ –এ কথায় বিশাল আপত্তি সমর্থকদের। আর তাই দেখে নেওয়া যাক গত দুই বছরে এ দুই ক্রিকেট তারকার পারফরম্যান্স। ক্রিকইনফো থেকে নেওয়া তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো জাগোনিউজের পাঠকদের জন্য।

প্রথমের দেখা যাক গত বছরের (২০১৫-১৬ মৌসুম) পারফরম্যান্স। গত বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে টুর্নামেন্ট হয়েছে তিনটি –জাতীয় লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)।

জাতীয় লিগে গত আসরে ৪ ম্যাচ খেলেছেন নাসির। আর তাতে ৭ ইনিংস ব্যাট করে ৪২.৪২ গড়ে রান করেছেন ২৯৭; সর্বোচ্চ ৯৬ রান। আর ১ ম্যাচ খেলে ৫৬ রান ও ৬টি উইকেট পেয়েছেন শুভাগত।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ১৬ ম্যাচে ১২ ইনিংস খেলে ৭৫.৪২ গড়ে ৫২৮ রান; সর্বোচ্চ ৯৭ রান। আর ১৬ ম্যাচে নাসিরের চেয়ে দুই ইনিংস বেশি খেলে ৬০ গড়ে ৩০৯ রান করেছেন শুভাগত হোম। পাশাপাশি ১৬টি উইকেট পেয়েছেন শুভাগত। তবে তার চেয়ে দুটি উইকেট কম পেয়েছেন নাসির।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জমজমাট লিগ বিপিএলে শুভাগতর চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিলেন নাসির। ১৪ ম্যাচে ১০ ইনিংস ব্যাট করে ১৯.৫০ গড়ে ১৯৫ রান করেছেন নাসির, সর্বোচ্চ ৪৩*। আর ওভার প্রতি ৭.৯০ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন ৪টি। আর ১৩ ম্যাচে নাসিরের চেয়ে ২ ইনিংস বেশি ব্যাট করে ৯.৫৮ গড়ে রান করেছেন ১১৫, সর্বোচ্চ ৪০ রান। আর বল হাতে ওভার প্রতি ৮.১৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট পেয়েছেন শুভাগত।

এবার আসি ২০১৪-১৫ মৌসুমের পারফরম্যান্সের ফলাফল নিয়ে। এ মৌসুমে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য থাকায় জাতীয় লিগে কোন ম্যাচ খেলেননি নাসির। তবে ৬ ম্যাচে ৯ ইনিংস খেলে ৫৯ গড়ে ৪৭২ রান করেন শুভাগত, সর্বোচ্চ ১৩৫ রান। পাশাপাশি ২১টি উইকেট নেন তিনি।

তবে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলেছেন দুইজনই। ১৬ ম্যাচে ১৫ ইনিংস ব্যাটিং করে ৫০ গড়ে ৫৫০ রান করেন নাসির, সর্বোচ্চ ১০৪ রান। পাশাপাশি ওভার প্রতি ৩.৫২ রান দিয়ে ১৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি। আর নাসিরের চেয়ে ৩ ম্যাচ কম খেলে ২৭ গড়ে ৩০২ রান করেন শুভাগত, সর্বোচ্চ ৫১*। তবে বল হাতে ২টি উইকেট বেশি নিয়েছেন তিনি।

এরপর বছরের শেষ টুর্নামেন্ট বিপিএলে যথারীতি এগিয়ে নাসির।  ১১ ম্যাচে ১৯.৩০ গড়ে ১৯৩ রান করেছেন তিনি, সর্বোচ্চ ৩৩ রান। আর ওভার প্রতি ৫.০৪ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন ৬টি। আর নাসিরের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ১১.৭৫ গড়ে রান করেছেন ৯৪, সর্বোচ্চ ৩০। আর বল হাতে ওভার প্রতি ৬.৭৫ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৫টি।

অর্থাৎ পরিসংখ্যানের বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে নাসির। কোচ-নির্বাচকরা যে যুক্তি দিচ্ছেন তা তাতে ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। তবে কোচ-নির্বাচকদের দৃষ্টিতে জাতীয় দলের খেলার যোগ্যতা না রাখলেও দর্শকদের মন জয় করেই চলেছেন নাসির। সামাজিক মাধ্যমে নাসিরের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করে যাচ্ছেন ভক্ত সমর্থকরা।

হলিউডের রিয়েল স্টিলের মুভির উদাহরণও টেনেছেন অনেকে। রোবট জিউসের বিপক্ষে ভালো খেলেও শিরোপা জয় করতে পারেনি রোবট এটম। তবে ভালোবাসাটা পেয়েছিলেন এটমই। ভক্তরা এটমকে ডেকেছিলেন ‘দ্যা পিপলস চ্যাম্পিয়ন’ নামে। তেমনি নাসিরকেও দেখছেন ‘দ্যা পিপলস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবেই।

২৬ দিন পর স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে লাঞ্চ মাশরাফির

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভাল মাঠে পুরো দস্তুর প্র্যাকটিস সেশন শেষে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা ছিল। ড্রেসিং রুম লাগোয়া সে ডাইনিংয়ে কম বেশি সব ক্রিকেটারই দুপুরের খাবার খেলেন। কিন্তু একজন বাদ থাকলেন। তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা। টাইগার অধিনায়ক, ম্যানেজার সাব্বির খানকে জানিয়ে দিলেন আমি লাঞ্চ করবো না।

পুরো দল প্রায় এক সাথে মধ্যাহ্ন ভোজে, অথচ অধিনায়ক নেই। কোন সমস্যা ? নিশ্চয়ই ভাবছেন অধিনায়কের আবার কিছু হলো নাকি। না না। অমন কিছু নেই। মাশরাফি সম্পূর্ণ সুস্থই আছেন। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারার পর যে মনের কোনে হাল্কা মেঘ জমেছিল তাও কেটে গেছে। আজ বৃহষ্পতিবার প্র্যাকটিসে একদম চাঙ্গা। চিরচেনা মাশরাফি।

কিন্তু সব যদি ঠিক থাকবে, তাহলে লাঞ্চ না করার কারন কি ? নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে, তাহলে শুনুন, মাশরাফির স্ত্রী আর সন্তানরা আজ মাউন্ট মুঙ্গানাইয়ে আসছেন। প্র্যাকটিস শেষে টিম হোটেলে ফিরে গিয়ে তাদের সবাইকে নিয়ে পরম আনন্দে দুপুরের খাবার খাবেন, তাই দলের সাথে আজকের দুপুরের খাবার না খাওয়া অধিনায়কের।

মাশরাফি যখন বে ওভালে প্র্যাকটিসে, তখন তার স্ত্রী দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ওভালে এসে নামলেন। তারপর ওভার থেকে এক ঘন্টার ফ্লাইটে মাউন্ট মুঙ্গানাইয়ে তেয়ারাঙ্গার টিম হোটেলে।

সেই গত বছর ডিসেম্বরের ১১ তারিখে ঢাকা ছেড়েছেন। তারপর প্রায় চার সপ্তাহ হতে চললো। স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে এক সঙ্গে বসে আর খাবার খাওয়া হয়নি। অবশেষে আজ সে সুযোগ এসেছে।

সবার জানা মনের দিক থেকে উদার মাশরাফি স্নেহ পরায়ন পিতাও। শেরে বাংলায় কন্যা ও পুত্র কোলে অনেকবার দেখা গেছে। সেই সন্তানদের ছাড়া প্রায় ২৬/২৭ দিন। তাই নড়াইল এক্সপ্রেস উন্মুখ । কখন সন্তানদের মুখ দেখবেন, কখন তাদের কোলে নিয়ে আদর করবেন ? স্নেহ মমতায় ভরিয়ে দেবেন। পিতা বলে কথা !

তাইতো বললেন, ‘আমি হোটেলে গিয়ে ছেলে মেয়েকে নিয়ে লাঞ্চ করবো। ’ চার সপ্তাহ পর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ( এক মেয়ে, এক ছেলে )
দেখা, তাদের সঙ্গে এক বেলা খাওয়া, এ আবার এমন কি ? খালি চোখে এটা নিতান্তই সাধারণ এক ঘটনা।

কিন্তু এর ভিতরের অন্তর্নিহিত কারণ অন্য। মাশরাফি একজন যোগ্য দক্ষ অধিনায়কের পাশাপাশি আদর্শ নেতাও।  আবার ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে এক অনিন্দ সুন্দর মনের মানুষও। তার চেয়ে বড় কথা, পিতা হিসেবেও মাশরাফি অন্যন্য। আজ দুপুরে এক বেলা খাবার তিনি স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে না করতেই পারতেন। নাহ, এতদিন পর ওদের সাথে দেখা , দুপুরে সবাই মিলে এক সঙ্গে স্থানীয় কোন ভালো রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার মাঝে একটা অন্যরকম আনন্দ ও তৃপ্তি আছে। মাশরাফি যে অমন অকৃত্রিম আনন্দই ভালবাসেন।

এ ভালবাসা জানান দিল, টাইগার ক্যাপ্টেনের কাছে ক্রিকেট মাঠ,  বল, ব্যাট ও সহযোগী ক্রিকেটাররা যেমন প্রিয় , একই ভাবে তার ঘর ও সন্তানরাও অনেক প্রিয়।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সর্বোচ্চ সমর্থন পাবেন মাশরাফিরা

পারফরমেন্স ও অর্জন যেমনই হোক না কেন, প্রিয় জাতীয় দলের প্রতি বাঙ্গালির ভালবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থন একচুলও কমে না। কমেওনি। হোক তা দেশে কিংবা বিদেশে, প্রিয় জাতীয় দল যেখানেই খেলতে যায় সেখানেই ঢল নামে উৎসাহি বাঙ্গালির।

নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইতে আজ বিকেলে সেই চিরন্তন সত্যের দেখা মিললো আবারো। নিউজিল্যান্ডে এসে হারের বৃত্তে আটকে টাইগাররা। তাতে কি?

মাশরাফি বাহিনীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করতে আর উষ্ণ ভালোবাসার পরশে মাখতে আজ বিকেলে টিম হোটেল ট্রিনিটি হোয়ার্ফে ছুটে এসেছিলেন স্থানীয় প্রবাসী বাঙ্গালিরা। শুধু প্রিয় জাতীয় দলের প্রতি ভালবাসা জানিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি প্রবাসিরা। রাতে পুরো দলকে ডিনারের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল।

জানা গেছে পুরো দল ওই ডিনারে অংশ না নিলেও স্কোয়াডের আটজন গিয়ে স্বদেশিদের সাথে নৈশভোজ সেরে আসেন। সাভারের ছেলে তানভির রেজা শিমুল জানালেন, আগামী ৬ ও ৮ জানুয়ারি মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে যে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, তাতে অন্তত তিন থেকে সাড়ে তিনশো প্রবাসি বাঙ্গালি মাঠে উপস্থিত থাকবেন প্রিয় জাতীয় দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে। মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মামুদউল্লাহ, সাব্বির ও মোস্তাফিজদের অনুপ্রাণিত করতে।

newzeland

এই তো অল্প কিছুদিন আগেও মাউন্ট মঙ্গানিয়ায় থাকতেন, এখন অকল্যান্ডে থাকেন তানভির শিমুল। এ ব্যবসায়ি প্রায় ১২/১৩ বছর ধরে নিউজিল্যান্ড রয়েছেন। তার একটাই কথা, ‘আমরা যারা দেশের বাইরে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকি, তারাও প্রিয় জাতীয় দলকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। তাই নিউজিল্যান্ডে জাতীয় দলের খেলা হলেই ছুটে যাই মাঠে। মেতে উঠি ক্রিকেট আনন্দে।’

এদিকে এর আগে ক্রাইস্টচার্চ-নেলসন ও নেপিয়ারে তিনটি ওয়ানডে আর একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেও ওই তিন ভেন্যুতে সে অর্থে প্রবাসি বাঙ্গালির উপস্থিতি একটু কমই ছিল। কারণ ওই অঞ্চলে প্রবাসি বাঙ্গালি এমনিই কম থাকেন।

তবে মাউন্ট মঙ্গানুই এবং ওয়েলিংটনে বাঙ্গালির নিবাস বেশি। তাই ধারনা করা হচ্ছে, এ শহরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে টাইগাররা মাঠে নামতে পারবেন বাড়তি ভক্ত-সমর্থন পুষ্ট হয়ে।

বোর্ড সভাপতির মন্তব্য নিয়ে মাশরাফির ‘নো কমেন্টস’

মঙ্গলবারের ম্যাচের আগের দিন থেকেই নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন। এর মধ্যে বোর্ড সভাপতির মন্তব্যে ক্রিকেট পাড়া হয়েছে আরও সরব। তার উদ্বৃতি দিয়ে কয়েকটি পত্রিকা, টিভি ও এবং অনলাইনে ছাপা হয়েছে এক স্পর্শকাতর মন্তব্য।

নিউজিল্যান্ডে যাবার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপে বোর্ড সভাপতি না কি বলেছেন, ‘জাতীয় দল গঠন করে মাশরাফি ও সাকিব।’ বোর্ড প্রধানের অমন মন্তব্য রীতিমত সাড়া পড়ে গেছে।

মিডিয়ায় প্রশ্ন, আসলেই কি চন্ডিকা হাথুরুসিংহে থাকতে ওয়ানড ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক-সহ অধিনায়ক মিলে চূড়ান্ত একাদশ তৈরি করেন? চন্ডিকা কী এত স্বাধীনতা এবং ক্ষমতা তাদের দেবেন?

বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পানের এমন মন্তব্যে যখন গোটা দেশে তোলপাড়- তখন খোদ মাশরাফির প্রতিক্রিয়া কী? নড়াইল এক্সপেস কী ভাবছেন এ নিয়ে? তার অনুভুতি কী? আকাশে-বাতাসে ভাসছে এ প্রশ্ন।

আজ খেলা শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সন্মেলনেও উঠল ওই প্রশ্ন। এক সাংবাদিক জানতে চাইলেন, বোর্ড সভাপতি বলেছেন, আপনি আর সাকিব মিলেই দল সাজান? এ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

মাশরাফির সংক্ষিপ্ত জবাব নিয়ে নিয়ে, ‘হ্যাঁ অধিনায়ক হিসেবে দল গঠনে আমার ভূমিকা তো থাকবেই। আমি দল সাজানোয় অবদান অবশ্যই রাখি। তবে বোর্ড সভাপতির মন্তব্যের ওপর আমি কোন রকম কমেন্টস করবো না।’

বাংলাদেশে আসবে অস্ট্রেলিয়া

বছর খানেক আগে নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ওই সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের। এরপর অবশ্য সূচিটি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথাও জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

সেই ভাবনাটা বোধ হয় শেষ হয়েছে অসিদের। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই টেস্ট দুটি খেলতে আগ্রহী তারা। সম্ভাব্য তারিখও জানিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনকার মতো হলেই কিনা চলতি বছরের আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরে টাইগারদের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলতে বাংলাদেশে আসবে অস্ট্রেলিয়া।

২০১৬ সালের শেষের দিকে নিরাপত্তা শঙ্কা উড়িয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ইংল্যান্ড। সে সময় বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনী ইংলিশদের ভালোভাবেই নিরাপত্তা দিয়েছে। সেটা দেখে মুগ্ধ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সেই আশায়ই টাইগারদের বিপক্ষে খেলতে সম্মতি জানিয়েছে তারা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহীর ভাষায়, ‘আমার মতে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা এখন অনেক ভালো মানের। যেমনটা দেখেছিলাম গত বছরের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের সময়ে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে সফরকারী দলকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছিল স্বাগতিকরা। আমাদের নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারোলকে পাঠিয়েছিলাম বাংলাদেশে। সাত থেকে দশ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।’

দ্বিতীয় টেস্টেও হতশাজনক ব্যাটিং শ্রীলঙ্কার

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও হতাশাজনক ব্যাটিং করেছে শ্রীলঙ্কা। মঙ্গলবার কেপটাউনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম টেস্টের চেয়ে আরো বাজে ব্যাটিং করেছে লঙ্কানরা।

প্রথম ইনিংসে বিশাল স্কোরের পর দক্ষিণ-আফ্রিকার পেসার রাবাদা এবং ফিল্যান্ডের আগুনঝরা বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা পুড়ে ছাই।

মঙ্গলবার কেপটাউনে ৬ উইকেটে ২৯৭ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি ককের রেকর্ড গড়া ইনিংসে প্রায় চারশ রান করে স্বাগতিকরা। ১২৪ বলে ১১ চারে ১০১ রান করে আউট হন ডি কক। সেই সঙ্গে হাজারি ক্লাবে যোগ দেন তিনি এবং দলকে এনে দেন ৩৯২ রানের বড় সংগ্রহ।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ৭৯ রানের ব্যবধানে ১০ উইকেট হারায় তারা। সর্বোচ্চ ২৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা।

বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারনন ফিলান্ডার ও কাগিসো রাবাদা ৪টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট নেন কেশব মহারাজ।
ফলোঅনে শ্রীলঙ্কাকে আর ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে দক্ষিণ-আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে যায়। দিন শেষ হওয়ার আগে বিনা উইকেটে ৩৫ রান করে স্বাগতিকরা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম টেস্টে ২০৬ রানের ব্যবধানে হেরেছে লঙ্কানরা।

টি-টোয়েন্টিতেও হারে শুরু বাংলাদেশের

ওয়ানডে সিরিজে হারের পর অধিনায়ক থেকে শুরু করে দলের সবার কথায়ই ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর এই প্রত্যয় নিয়েই সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে জ্বলে উঠতে পারলেন না বোলাররাও। আর এতেই হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হলো বাংলাদেশের।

টাইগারদের দেওয়া ১৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে কিউই ব্যাটসম্যান ব্রুম এবং উইলিয়ামসন শুরুটা ভালো করলেও তৃতীয় ওভারের শুরুতে রুবেল হোসেনের বলে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরেন নিল ব্রুম (৬)। ডিপ স্কয়ার লেগে বল ধরে দড়ি পার হওয়ার আগ মুহূর্তে মাঠের ভেতর দিকে ছোড়েন সাকিব। পরে সামনে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে ক্যাচ তালুবন্দি করেন দলের সহ-অধিনায়ক।

চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। তরুণ এই বাঁহাতি পেসারের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানকে ক্যাচ দেন কলিন মানরো (২ বলে ০)। দলীয় ৪৬ রানে ৭ম ওভারের শুরুতে অ্যান্ডারসনকে ফেরান সাকিব।ব্যক্তিগত ১৩ রান করে তামিমের তালুবন্দি হন তিনি। সাকিবের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন অ্যান্ডারসন।

এরপর দারুণ ফিল্ডিংয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন অভিষিক্ত টম ব্রুস। মাশরাফির বলে এক রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে একটু এগিয়ে যাওয়া ব্রুস আর ফিরতে পারেনি। সৌম্য সরকারের থ্রো পেয়েই স্টাম্প ভেঙে দেন মাশরাফি। টপঅর্ডারের চারজন ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে জয় এনে দেয় কেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসনের অপরাজিত ৭৩ রানের ব্যাটিং তান্ডবে ১৮ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ৫৫ বলে দুই ছক্কা ও ৫ চারের সাহায্যে খেলেন ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। আর গ্র্যান্ডহোম ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে ওয়ানডে সিরিজের হারের পর টি-টোয়েন্টি তে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে  শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। ম্যাট হেনরির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যক্তিগত ০ রানে উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন ইমরুল কায়েস।আর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে অভিষিক্ত বেন হুইলারের শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে সীমানায় সহজ ক্যাচ দেন ছন্দে থাকা বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল (১১)।

তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি সাব্বির। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষিক্ত বোলার লকি ফার্গুসনের ফুলটস বলে মিডউইকেটে ম্যাট হেনরিকে সহজ ক্যাচ দেন সাব্বির (১৬)। পরের বলেই গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সৌম্য।  তবে মাহামুদুল্লাহকে নিয়ে ভালোই শুরু করেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাহামুদউল্লাহকে নিয়ে গড়ে তুলেন ৩৭ রানের পার্টনারশিপ। কিন্তু ১২ তম ওভারে ব্যক্তিগত ১৪ রানে গ্র্যান্ডহোমের বলে সান্টনার এর তালুবন্দি হন তিনি।

এরপর মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। তবে মিচেল স্যান্টনার বলে ব্যক্তিগত ২০ রান করে অ্যান্ডারসনকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান মোসাদ্দেক। রানের গতি বাড়াতে সোহানের আগে উইকেটে আসেন মাশরাফি। তবে ব্যক্তিগত ১ রান করে হুইলারের বলে গ্র্যান্ডহোমের কাছে ক্যাচ দেন টাইগার এই অধিনায়ক।

মাশরাফির বিদায়ের পর ওয়ানডে সিরিজ বাজে কাটানো মাহমুদউল্লাহ এক প্রান্ত ধরে রেখে দারুণ এক অর্ধশতক তুলে নেন। ৪৫ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক স্পর্শ করার পর বেশিক্ষণ টিকেননি এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৫২ রান করেন দেশ সেরা এই তারকা। আর শেষ দিকে সোহান ৬ বলে ৭ রান করলে ১৪১ রানের সংগ্রহ পায় টাইগাররা। কিউইদের হয়ে অভিষিক্ত লকি ফার্গুসন নেন ৩ উইকেট।

রানে ফিরে একা একা লড়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ

আবার বাংলাদেশের টপ আর মিডল অর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয়। সিনিয়রদের এক মাহমুদল্লাহ রিয়াদ ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি কিউই বোলারদের তোপের মুখে। টস জিতে আগে ব্যাট নিয়ে বাংলাদেশ করেছে ১৪১ রান। এরমধ্যে রিয়াদের একার রানই ৫২। ফার্গুসনের বলে আউট হওয়ার আগে এই রান করেন তিনি।

১৪১ রানের মধ্যে কিউই বোলারদের ওয়াইড বলে উপহার ছিল ‍১৭ রান। বড় আশার সৌম্য সরকার হাঁসমার্কা হয়ে ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওয়ানডে সিরিজে তিনি হতাশ করলেও সর্বশেষ বিপিএল’এর অভিজ্ঞতায় তার কাছে দল বড় একটি ইনিংস আশা করেছিল। রিয়াদ প্রত্যাশার বিনিময়ও দিয়েছেন। কিন্তু তাকে সমর্থন দেওয়ার কেউ ছিলেন না! তাকে সাজঘরে রেখে একের পর এক সাকিব, মোসাদ্দেক সৈকত, মাশরাফি মুর্তজা সবাই একে একে  ফিরে যান সাজঘরে। তাই দলের অল্পরানের পুঁজিতে ম্যাকলিন পার্কে দেশের খেলা দেখতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মন খারাপ।

অবশ্য এ খেলায় বাংলাদেশের ফল যাই হোক না কেনও নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কের মঙ্গলবারের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সব প্রথমের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি  লেখা হবে বাংলাদেশের নাম! কারণ এটি প্রথম টো-টোয়েন্টি ম্যাকলিন পার্কের। এ মাঠের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রথম টস জিতেছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচের প্রথম আউট ইমরুল কায়েস। প্রথম চারের মার সাব্বির রহমানের। প্রথম ছক্কাও সাব্বিরের। প্রথম উইকেট  পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের হেনরি। কিউই খেলোয়াড় রনকি ধরেছেন ম্যাচের প্রথম ক্যাচ।

বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪১ রান

নেপিয়ারে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ১৪২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৪১ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। যদিও শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়েই ছিল মাশরাফি বাহিনী। সেখান থেকে হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে ভালো সংগ্রহ পাইয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ।

যদিও শুরুর দিকে চিত্রগুলো ছিল ব্যতিক্রম। ‍খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান ইমরুল কায়েস। ১.৩ বলে হেনরির বলে লাইনের বাইরে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইমরুল। ফেরেন রানের খাতা না খুলেই।  ইমরুল ফিরলে টিকতে পারেননি তামিমও।  পঞ্চম ওভারে অভিষেক হওয়া হুইলারের বলে হুক করতে গিয়ে তালুবন্দী হন তামিম ইকবাল।  বিদায় নেন ১১ রানে।  তামিমের বিদায়ে ভূমিকা ছিল আজকে অভিষেক হওয়া ব্রুস ও হুইলারের। ব্রুসের হাতেই ক্যাচ দেন তামিম।

এরপর হঠাতই বোলিং জাদু দেখান অভিষেক হওয়া আরেক পেসার ফার্গুসন।  পর পর জোড়া আঘাতে ফেরান সাব্বির (১৬) ও সৌম্য সরকারকে (০)।  ফার্গুসন দ্বিতীয় বোলার হিসেবে করেছেন দুর্দান্ত এক কীর্তি। টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম দুই বলেই উইকেট পেয়েছেন এই পেসার।

৩০ রানে ৪ উইকেট যাওয়ার পর একটু খানি মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব। ৫ম উইকেটে ৩৭ রান আসে এই জুটিতে। তবে ১১তম ওভারে ১৪ রানে ব্যাট করতে থাকা সাকিবকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন গ্র্যান্ডহোম। তারপরেও থেমে থাকেননি ওয়ানডেতে নিজের ছায়া হলে খেলা মাহমুদউল্লাহ। ষষ্ঠ উইকেটে তরুণ মোসাদ্দেককে নিয়ে যোগ করেন আরও ৩২ রান। দলীয় ৯৯ রানে মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে ফের জুটি ভাঙেন স্যান্টনার। মোসাদ্দেক ফেরেন ২০ রানে। এরপর ১ রানে ফেরেন অধিনায়ক মাশরাফি।  দলকে ভালো সংগ্রহ পাইয়ে দেওয়া মাহমুদউল্লাহ ফেরেন শেষ ওভারেই। ৫২ রানে ফার্গুসনের বলে বোল্ড হন তিনি।  তার ৪৭ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৩টি ছয়। শেষ দিকে অপরাজিত ছিলেন নুরুল হাসান (৬) ও রুবেল (১)।

এই ম্যাচে কিউইদের দলে অভিষেক হয়েছে তিন জনের। টম ব্রুস, ফার্গুসন ও হুইলার সুযোগ পেয়েছেন প্রথম ম্যাচে। তারাই মূলত আলো ছড়িয়েছেন নেপিয়ারে।

কিউইদের পক্ষে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ফার্গুসন।  দুটি নিয়েছেন হুইলার।  একটি করে নেন স্যান্টনার, গ্র্যান্ডহোম ও হেনরি।

দল ঠিক করে মাশরাফি-সাকিবই: পাপন

বাংলাদেশ ক্রিকেটে দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি সেই বিতর্কে কোচ হাথুরুসিংহে একটা বড় চরিত্র। টাইগারদের লঙ্কান এই কোচ নিজের কিছু পছন্দের ক্রিকেটারকে বেছে নেন সব সময়; সেই সঙ্গে নাসির-আল আমিনের মতো ক্রিকেটারদের জায়গা দেন না অপছন্দের কারণে। মিডিয়ায় এমন সংবাদ প্রচার হচ্ছে অনেকদিন ধরেই।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সেই বিতর্ক আরও বড় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তানবির হায়দার-শুভাগত হোমকে দলে রাখা নিয়ে দর্শকের বিতৃষ্ণার শেষ নেই। এই বিতর্কে এবার মুখ খুললেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। জানালেন, মাশরাফি-সাকিব দল ঠিক করেন।

টাইগারদের সঙ্গ দিতে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আগে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন পাপন।
এ সময় দল নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে কোচের কে প্রিয় সেটা বড় কথা নয়। দল নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মিটিংয়ে আমি সরাসরি জড়িত থাকি। মাশরাফি-সাকিব যেটা বলে সেটাই হয়।’

তানবির হায়দার প্রসঙ্গে পাপন যোগ করেন, ‘তানবিরকে নিয়ে যে এত বিতর্ক, ওকে তো টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড়েও রেখেছিল মাশরাফি।’

বিপিএল নিয়ামক হবে তো?

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা এখনও ঠিকভাবে রপ্ত করাতে পারেনি বাংলাদেশ! টাইগারদের নিয়ে এই একটা কথায় বোধ হয় দ্বিমত নেই অতি আবেগী দর্শকেরও। যদিও শুরুর সময়ে ক্রিকেটের এই ভার্সনেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখেছিলেন অনেকে।

সময়ের সাথে সাথে সেই বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মতামত মন থেকে ঝেরে ফেলেছেন। আসলে তা করতে বাধ্য করেছেন ক্রিকেটাররাই। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর, ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সমান্তরালে দিন কেটেছে বাংলাদেশের। সেখানে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিক করতে পারলেও, পারেনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে।

টেস্ট ক্রিকেটে না পারার অন্যতম কারণ অবশ্যই খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়া। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে কথাটা। তবে টেস্টে ভালো না করার ক্ষেত্রে আছে আরও একটা কারণ- ঘরোয়া ক্রিকেটে লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটের প্রতি অবহেলা!

ঠিক এই জায়গাতে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আয়োজিত হয় বেশ জাকজমকভাবে। সেই ২০১২ সাল থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ-বিপিএল। নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে এই বিপিএল নিয়েই ব্যস্ত ছিল বাংলাদেশ। যেখানে অনেক বিদেশির ভিড়ে মাঠ মাতিয়েছেন বাংলাদেশের তারকারাই।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তাই ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হলেও, টি-টোয়েন্টিতে একটা জায়গায় আশা থাকছেই- এই মূহুর্তে অন্তত টি-টোয়েন্টি খেলে অভ্যস্ত মাশরাফি-সাবিকরা।

বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোরারের তালিকায় সেরা পাঁচের প্রথম তিনে যেমন যথাক্রমে- তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান। বিপিএলের ফর্মকে যদি মঙ্গলবার নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে টেনে নিতে পারেন এই তিন তারকা, তখন আশায় বুক তো বাধায় যায়।

দেখার বিষয় ওয়ানডেতে একেবারেই নিষ্প্রভ মাহমুদউল্লাহ কিংবা তামিম-সাব্বিরদের কেউ টি-টোয়েন্টিতে জ্বলে ওঠতে পারেন কিনা। বিপিএল নিয়ামক হবে তো?

খোশ মেজাজে টাইগাররা

ঘরের মাঠে ৭টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে যার ৬টিতেই জয়ী লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারলেও (২-১) হোয়াইটওয়াশ চোখ রাঙ্গাতে পারেনি। এবার সুযোগ ছিল দেশের বাইরে নিজেদের প্রমাণের। শুরুতেই নিউজিল্যান্ড সফরে এসে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারেনি মাশরাফি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। তবে ওয়ানডে সিরিজে খারাপ করলেও টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া টাইগাররা। আজ নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে প্রথম টি-টোয়েন্টি।

এদিকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াটওয়াশ হলেও মানসিক ভাবে চাঙ্গাই আছে মাশরাফি-সাকিবরা। সিটি সেন্টারে দুপুরের খাবার খেতে দেখা মিললো বেশ ক`জন ক্রিকেটারের। সাকিব শিশিরকে নিয়ে লাঞ্চে খেলেন মাছ আর চিপস। এছাড়া মাশরাফি ও তামিমকেও লাঞ্চে দেখা গেলো মাছ আর চিপস খেতে। তাসকিন-ইমরুল-সাব্বিররা দুপুরের খাবার খেলেন এক ভারতীয় রেস্তোরাঁয়। চোখে দেখা এসব দৃশ্যই বলে দেয় মাশরাফি বাহিনী অন্তত মনের দিক থেকে ঠিক আছে। তাদের ‘মনের বাঘ খেতে পারেনি।’

মঙ্গলবার থেকে নেপিয়ারের ম্যাকলেন পার্কে যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে তার আগে সোমবার ছিল নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার শেষ দিন। কিন্তু বৃষ্টির বাগড়ায় তাও হলো না। অন্য সময় হলে হয়তো মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহরা খানিক অনুযোগের সুরে বলতো ইস শেষ প্রস্তুতিটাও ভালো মতো নেয়া হলো না। কিন্তু আজ বৃষ্টিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিটা চরমভাবে বিঘ্নিত হলেও টাইগাররা স্বাভাবিক। কথাবার্তা হাবভাব ও শরীরী অভিব্যক্তি এমনকি আর করা? বৃষ্টির ওপরতো আর কারো হাত নেই। সবার মনোভাব এমন, আসলে আমরাতো প্র্যাকটিস আর খেলার ভিতরেই আছি। তাই এক-দুদিন অনুশীলন না হলেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ওয়ানডে সিরিজে তুলোধুনো হওয়ার পরও দলের এমন ইতিবাচক মানসিকতার কারণ কি? সাকিব তাও জানিয়ে দিলেন। তার মুখে আশাবাদী সংলাপ, আমরা জানি ও বিশ্বাস করি আমাদের জেতার সামর্থ্য আছে। কাজেই ওয়ানডে সিরিজে খারাপ করায় হতোদ্যম হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাই না।  আর আমার বিশ্বাস, ওই না পারাকে আমরা পারার অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারি।’

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ম্যাকলেইন পার্কের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় শুরু। নেপিয়ারের এ মাঠে আর অল্প কিছু সময় পর হবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তাতে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। এই মাত্র টসও হয়ে গেল। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মানে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা আর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২ টায় ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে টাইগারদের ইনিংস শুরু করবেন তামিম ইকবাল।

আগের রাতে ম্যাকলিন পার্কে বৃষ্টি হয়েছে। তবে মুষলধারে নয়। ঝিরঝিরে। ইলশেগুঁড়িরও বলা যায়। আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত নেপিয়ারের আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ইলশেগুঁড়ির কমে একদম হালকা টিপ টিপ বৃষ্টিতে রুপান্তরিত হয়। বেলা ১২ টা পর্যন্ত সূর্য আর মেঘের লড়াই হয়েছে। তারপর যত সময় গড়িয়েছে ততই পরিষ্কার হয়েছে নেপিয়ারের আকাশ।

এদিকে আজকের ম্যাচের লাইন আপ আগেই জানা। ১৫ জনের মধ্য থেকে এ ম্যাচের বাইরে আছেন অলরাউন্ডার শুভগত হোম, দুই পেসার শুভাশীষ রায় ও তাসকিন আহমেদ এবং বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

তার মানে মুশফিকুর রহিমের কিল্প হিসেবে ওয়ানডের দুই ম্যাচ খেলা নুরুল হাসান সোহানকে ধরে এ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান আটজন ( তামিম, ইমরুল, সাব্বির, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য, মোসাদ্দেক ও নুরুল হাসান)। পেসার তিন জন অধিনায়ক মাশরাফি। রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজ। স্পেশালিষ্ট স্পিনার সে অর্থে সাকিব একা। ওয়ানডের মত টি- টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায়ও বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি তামিম ইকবাল আর  ইমরুল কায়েস। তিন নম্বরে সাব্বির রহমান রুম্মন। সৌম্য সরকারকে খেলনো হবে ছয় নম্বরে।

ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেটের ফাইনালে মুন্সীগঞ্জ

বিসিবি ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেটের ঢাকা বিভাগীয় পর্বের সেমিফাইনালে শরীয়তপুরকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ।
আজ সোমবার গোপালগঞ্জের শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ৫৭ রানে শরীয়তপুরকে হারায় মুন্সীগঞ্জ । প্রথমে ব্যাট করে ১৫১ রানে অল আউট হয় মুন্সীগঞ্জের ছেলেরা। দলের পক্ষে গোলাম রাব্বি করেন সর্বোচ্চ ৩২ রান । এছাড়া গোলাপ ২৩ ও শামিম করেন ২০ রান। জবাবে ইয়াকুবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় শরীয়তপুরের ইনিংস । ইয়াকুব নেন ৪ উইকেট ।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জেরে মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ৫ জানুয়ারি ফাইনালে মুখোমুখি হবে মুন্সীগঞ্জ।

প্রথম স্তরে টিকে থাকতে লড়বে ঢাকা মেট্রো

ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ ও ষষ্ঠ রাউন্ড শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। এই রাউন্ড শেষে জানা যাবে কোন দলটি নিচের স্তরে নেমে যাচ্ছে; আর কোনটি নিচের স্তর থেকে উপরের স্তরে উঠে আসছে। যদিও দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে ঢাকা মেট্রো। শেষ রাউন্ড শুরু হওয়ার আগে তাদের পয়েন্ট সংখ্যা ২৬। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বরিশালের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা।
শেষ রাউন্ডে বরিশালকে পেছনে ফেলতে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে আশরাফুল-মার্শাল-মারুফদের। ঢাকা মেট্রোর কোচ মিজানুর রহমান বাবুল অবশ্য আশাবাদী, ‘শেষ রাউন্ড শুরু হওয়ার আগে দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আসলে লিগে আমরা বাজে ক্রিকেট খেলেছি। তবে সবশেষ ম্যাচে আমরা বরিশালের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি তুলেছি। বরিশাল আমাদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। লক্ষ্য থাকবে যত দ্রুত ৬ পয়েন্ট তুলে নেওয়া যায়। আশা করি ছেলেরা শেষ রাউন্ডে ভালো খেলতে পারবে।’
দ্বিতীয় স্তরে থেকে প্রথম স্তরে উঠতে দুটি দল লড়াই করছে। শেষ রাউন্ডে রাজশাহী ও রংপুরের মধ্যে যারা পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকবে তারাই চলে যাবেন প্রথম স্তরে। দুই দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান ৩।
প্রসঙ্গত, পঞ্চম রাউন্ড শেষে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্তরের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে খুলনা। ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা বিভাগ দুইয়ে, ৩২ পয়েন্ট নিয়ে বরিশাল তিনে, আর ২৬ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা মেট্রো আছে চতুর্থ স্থানে।
অন্যদিকে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে রংপুর। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছে রাজশাহী। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে চট্টগ্রাম তিনে, আর ২৫ পয়েন্ট নিয়ে সিলেট আছে সবার নিচে।

মেয়েদের ক্রিকেট লিগের দল-বদল সম্পন্ন

প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে মেয়েদের ক্রিকেট লিগের দলবদল সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আগামী শনিবার গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠ ও সিটি ক্লাব মাঠে শুরু হবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট। এই আসরে নতুন দুটি দল যোগ হয়েছে। দল দুটি হচ্ছে কেরানীগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমি ও চট্টগ্রামের সাইনিং ক্রিকেট একাডেমি।
এছাড়া এক বছর বিরতি দিয়ে প্রথম বিভাগে ফিরেছে আনসার ও ভিডিপি। সবমিলিয়ে এই আসরে ১৩টি ক্লাব অংশ নিচ্ছে।
লিগে অংশ নেওয়া দলগুলো : দিপালী যুব সংঘ, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, শ্রীপুর উইমেনস ক্রিকেট দল, সিটি ক্লাব, কেরানীগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমি, ইস্ট অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাব, ইন্দিরা রোড ক্রিকেট একাডেমি, মিরপুর বয়েজ ক্রিকেট ক্লাব (উইমেনস টিম), বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি ক্রিকেট টিম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্রিকেট টিম, সরকারি শিশু পরিবার ও সাইনিং ক্রিকেট একাডেমি।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে থাকছেন না তাসকিন-শুভাগত!

এটা কি বিলম্বিত বোধোদয়? নাকি শুভবুদ্ধির উদয়? একেকজন একেকভাবে দেখতে পারেন। তবে আসল কথা হলো, দেরিতে হলেও দল নির্বাচন ও একাদশ সাজানো নিয়ে এ সফরে যেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে, অবশেষে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

অবশ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পালা যে শেষ হতে যাচ্ছে, গতকাল রোববার কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কথা-বার্তাতেই মিলেছিল তার ইঙ্গিত। তিনি আকারে-ইঙ্গিতে বলেই দিয়েছিলেন, মোসাদ্দেক বেটার স্ট্রোক প্লেয়ার। কার্যকরিতাও বেশি। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুভাগত হোমের চেয়ে তার খেলার সম্ভাবনাই বেশি।

ওদিকে সৌম্য সরকারের প্রতিও কোচকে সহানুভূতিশীল মনে হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি বলেই দিয়েছেন, সৌম্যর প্রতি আমরা হয়তো একটু নির্দয়ের মতোই ব্যবহার করেছি। কারণ, সে যথার্থই ম্যাচ উইনার। যে ক’টি বড় ইনিংস খেলেছে, তার বেশিরভাগই প্রতিপক্ষ বোলিং-ফিল্ডিংকে তছনছ করে দেয়া। সে ইনিংসগুলোর কার্যকারিতাও যথেষ্ট। সৌম্য যে ম্যাচগুলোয় ভালো খেলেছে, তার বেশিরভাগ খেলায় দল জিতেছে।’

তবে মোসাদ্দেকের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, মন্তব্য করলেও সৌম্য খেলবেন কি খেলবেন না, তা বলেননি। শুধু সৌম্য যেদিন খেলে সেদিন দল জেতে- বলেই শেষ করেছিলেন।

তার এমন কথা-বার্তার পরই বোঝা যাচ্ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে অন্তত নেপিয়ারে প্রথম ম্যাচে সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেককে হোসেন সৈকতের খেলার সম্ভাবনা বেশি। সেটাই সত্য। শেষ মুহূর্তে কোনো অতি নাটকীয় ঘটনা না ঘটলে হয়তো মঙ্গলবার ম্যাকলিন পার্কে দুজনকেই ১১ জনের দলে দেখা যেতে পারে।

যত দূর জানা গেছে আগামীকাল মঙ্গলবার নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কের টি-টোয়েন্টি অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে নামছেন সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথাও জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। তা হলো পেসার তাসকিনের পরিবর্তে সম্ভবত রুবেল হোসেনকে খেলানো হবে এই ম্যাচে।

প্রসঙ্গত, ওয়ানডে সিরিজে তাসকিন তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তিন ম্যাচেই রান দিয়েছেন বেশ। এদিকে আহত মুশফিকুর রহীমের বদলে গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে দাঁড়ানো নুরুল হাসান সোহানকে ধরে আটজন ব্যাটসম্যান খেলানোর চিন্তা ভাবনা চলছে। সম্ভাব্য টিম কম্বিনেশন তেমনই।

যেখানে ব্যাটসম্যান কোটায় আছেন তামিম, সৌম্য, ইমরুল, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব, সাব্বির ও মোসাদ্দেকের সাথে নুরুল হাসান সোহানও। সঙ্গে তিন পেসার মাশরাফি, মোস্তাফিজ ও রুবেল হোসেন। স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাঁ-হাতি সাকিবের সাথে দুই অফস্পিনার মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক সৈকত।

শুভাগত হোমের চেয়ে মোসাদ্দেক হোসেন ভালো ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে প্রথম খেলতে নেমে প্রথম ওয়ানডেতে ফিফটি হাঁকিয়ে সে সামর্থ্যরে প্রমাণও রেখেছেন ময়মনসিংহের এ তরুণ। কাজেই শুভাগত হোমের বদলে তাকেই বেছে নিতে যাচ্ছে টিম মানেজমেন্ট।

যদিও কোচ হাথুরু, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কেউই একাদশের ঘোষণা দেননি। তবে নেপিয়ারে টিম হোটেলের আশপাশের খবর, শুভাগত হোম, শুভাশীষ রায়, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশে থাকছেন না।

সুতরাং প্রথম টি-টোয়েন্টির সম্ভাব্য একাদশ দাঁড়াল এমন
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন।

কন্ডিশন নিয়ে অভিযোগ নেই সাকিবের

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে সিডনি সিক্সার্স ও সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন টাইগাররা। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে জিতলেও পরের ম্যাচটিতে হারের মুখ দেখেই মাঠ ছাড়েন তারা।

এছাড়া নিউজিল্যান্ডে গিয়ে কিউই একাদশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচটিতেও অবশ্য হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়ে মাশরাফি বাহিনী। এরপর ব্ল্যাক-ক্যাপসদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে সফরকারীরা। সবকটি ম্যাচেই হার সঙ্গী বাংলাদেশের।

তার মানে, নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পেয়েছেন মাশরাফিরা। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কেন উইলিয়ামসনের দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে কন্ডিশন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানালেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ভাষ্য, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়াতে ক্যাম্প করেছি, এখানে আসছি বেশ অনেক দিন হয়ে গেল। কন্ডিশন নিয়ে অভিযোগের জায়গা নেই। আমার কাছে মনে হয়, যে কয়বার এসেছি আবহাওয়া এবারই সবচেয়ে ভালো। এসব নিয়ে অভিযোগের সুযোগ নেই।’

ওয়ানডে সিরিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে এখন নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়ে মুখিয়ে সাকিব। নিজের প্রমাণ করার কথাও জানালেন দেশে অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। বলেন, ‘এখন শুধু মাঠে পারফরম্যান্সের জায়গাটায় আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী করতে পারিনি। সেটা করতে হবে।’

নেপিয়ারে ফায়ার পাওয়ারের দরকার নেই!

ব্যাটসম্যানদের দীর্ঘ ইনিংস খেলার জোর তাগিদ সাকিব আল হাসানের। অনেকেরই ধারণা, টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংয়ের মূল কথাই হচ্ছে ‘পাওয়ার হিটিং।’ ওই বিশ্বাস যাদের, তারা মনে করেন- ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটে যেহেতু হাত খুলে খেলা এবং যেনতেনভাবে রান করাই আসল, তাই এখানে টেকনিক, গাণিতিক, শৈল্পিকতা, নান্দনিকতা ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাট চালনার চেয়েও গায়ের জোরের ব্যাটিং অনেক বেশি কার্যকর।

কেউ কেউ ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ড্যারেন স্যামি ও আন্দ্রে রাসেলদের উপমা হিসেবে ধরেন। বলেন, ওই সব ব্যাটসম্যানরা তো অনেকটা গায়ের শক্তি খাটিয়েই বলকে সীমানার ওপারে পাঠান। তাদের বক্তব্যের যে একদমই ভিত্তি নেই, তা নয়। দীর্ঘ ও সুঠাম দেহের ব্যাটসম্যানরা সত্যিই গায়ের শক্তিকে ব্যবহার করেন। তাদের পাওয়ার হিটিং অ্যাবিলিটি সত্যিই বেশি।

অনেক ভালো বলেও তারা শুধু গায়ের জোরে চার-ছক্কা হাঁকান। ওই জায়গায় বেশ কিছুটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। ভাবা হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের ভালো করতে না পারার পথে এটাও একটা অন্তরায়। কারণ মাশরাফির দলে সে অর্থে পাওয়ার হিটার নেই একজনও!

ব্যাটসম্যান তকমাধারীদের মধ্যে তামিম, সাকিব, সৌম্য আর সাব্বির পাওয়ার হিটিং করতে পারেন। অধিনায়ক মাশরাফিরও শরীরের শক্তি খাটিয়ে চার-ছক্কা হাকানোর ক্ষমতা আছে। কিন্তু অন্য দলগুলো বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে শরীরের শক্তিকে পুঁজি করে বড় শট খেলতে পারেন, সে অর্থে তা নেই বাংলাদেশের।

পাওয়ার হিটে নিজেদের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা ও সামর্থ্যের ঘাটতির কথা জানেন টাইগার সাপোর্টাসরাও। তবে তাদের আশ্বস্ত হওয়ার মতো খবর আছে- অন্তত এ সিরিজে। বিশেষ করে নেপিয়ারের ম্যাক্লেইন পার্কে ওই পাওয়ার হিটিংয়ের অভাববোধ কম হবে। অনুমান নির্ভর কথা নয়।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশেষজ্ঞ সাকিব আল হাসানের কথা। আজ বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সাথে আলাপে সাকিব অমন ধারণাই পোষণ করেছেন। প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তো পাওয়ার হিটে দুর্বল। সে দুর্বলতা কাটানোর কোন রসদ আছে কি?

তার জবাবে সাকিব বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে খুব বেশি ফায়ার পাওয়ার দরকার নেই। কারণ মাঠগুলো অতো বড় না। এখানে মাঠ ছোট। বিশেষ করে উইকেটের দুই দিকে সীমানা অনেক ছোট। কাজেই সীমানা ছাড়া করতে অত বেশি শক্তির প্রয়োজন নেই। আউটফিল্ডও ফাস্ট। আমাদের যা শক্তি আছে, তা দিয়েই মাঠ পার করা সম্ভব। সেদিক থেকে ফায়ার পাওয়ার অতটা দরকার নেই।’

টি-টোয়েন্টিতে কিউইদের হারানোর সামর্থ্য আছে : সাকিব

দেশ থেকে এক সাংবাদিক বন্ধুর ফোন, ‘আরে যে ফরম্যাটে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো, সে ওয়ানডেতে টাইগাররা সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং সব হিসেবেই ভালো দল বলে সমাদৃত, সেই ওয়ানডেতেই যখন পারেনি, তখন টি-টোয়েন্টিতে আর কী করবে? ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটেতো রেকর্ড এমনিই খুব ভালো না। ’

শুধু ওই সাংবাদিক বন্ধুর ফোন সংলাপ হবে কেন? এখন অনেকের মনেই এমন সন্দেহের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অসংখ্য স্ট্যাটাস চোখে পড়ছে। মোদ্দা কথা, ওয়ানডে সিরিজে সব ম্যাচ হারের পর অতিবড় বাংলাদেশ ভক্তও প্রিয় দলের পরিণতি নিয়ে চিন্তিত।

পরিসংখ্যানও জানাচ্ছে বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের রেকর্ড ভালো না। কিন্তু এই খারাপের মাঝেও একজন অনেক ভালো ও বড় ক্রিকেটার আছেন। যাকে ভাবা হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেরই অন্যতম সেরা চৌকস ক্রিকেটার। ভারতের আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্ট আসর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিপিএল, পাকিস্তানের পিএসএল আর শ্রীলঙ্কার সিপিএলে যে অল্প কজন ক্রিকেটারের চাহিদা সর্বাধিক, তার অন্যতম হলেন সাকিব আল হাসান।

ফরম্যাটে তিনি শুধু বাংলাদেশের সেরা ও সফলতম পারফরমারই নন, সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও পরিণত পারফরমারও। বিশ্বের প্রায় সব দেশের বড় বড় ও সেরা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলে সাকিব এ ফরম্যাটে হাত পাকিয়ে ফেলেছেন। এ ফরম্যাটের নিগূঢ় রহস্য, গতি-প্রকৃতি, ধরন এবং অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কেও তার ধারণা অনেক বেশি পরিষ্কার। সেই সাকিব কিন্তু মোটেই নিরাশ নন। বরং যথেষ্ট আশাবাদী। রেকর্ড সময় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা গায়ে থাকা এ তারকা নিজ দলকে মোটেই ছোট করে দেখতে নারাজ।

তার বিশ্বাস, নিউজিল্যান্ডের সাথে টি টুয়েন্টি সিরিজে ভালো করা সম্ভব। কি করলে কিউইদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জমজমাট লড়াই হবে, সাফল্যের দেখা মিলতে পারে, আজ সকালে স্বদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তাও বলেছেন সাকিব। তার অনুভব ও স্থির বিশ্বাস, ওয়ানডে সিরিজে যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে সেটা দলটির আসল চেহারা নয়। এর চেয়ে ঢের ভালো খেলার সামর্থ্য তাদের আছে।

তাইতো মুখে এই সংলাপ, ‘ওয়ানডে সিরিজে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম, যেগুলো নিতে পারিনি। তবে এটি নতুন একটি সিরিজ। টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড দারুণ এক দল। তাদের মাটিতে আমাদের কাজটা সহজ হবে না। তবে আমাদেরও সামর্থ্য আছে ভলো খেলার এবং জেতার।’

সেটা কীভাবে? কিউইদের হারানোর মূল মন্ত্র কি? এ প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো, খেলার দৈর্ঘ্য ছোট হলেও পুরো সময় তাল, লয় ও ছন্দ ধরে রাখতে হবে। কোনোভাবেই ছন্দপতন হলে চলবে না। ধারাবাহিকতা ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, তাই ছন্দ ধরে রাখা জরুরি। কোনো কারণে ছন্দ হারিয়ে বসলে আর রক্ষা নেই। সব সম্ভাবনা ও সুযোগ হবে হাতছাড়া। ওয়ানডে সিরিজে আমরা ছন্দ পেলেও ধরে রাখতে পারিনি। টি-টোয়েন্টিতে সেটা ধরে রাখা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে।’

সাকিবের কথা শুনে মনে হলো বিশ্বাসটা অটুট আছে। ‘আমরা এখনও বিশ্বাস করি যে, জিততে পারি। ছেলেরা দেখিয়েছে যে, তারা অন্তত কিছু করতে পারে। আগে যে দু`বার নিউজিল্যান্ডে এসেছি, একটুও ভালো করতে পারিনি। এবার ফলাফল হয়তো খুব ভালো বলছে না, তবে অনেক উন্নতির ছাপ রাখতে পেরেছি। সেটিকে ইতিবাচক ধরে নিয়ে খেলতে পারলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আরও ভালো করতে পারি আমরা।’

ভালো খেলার যে একদমই সামর্থ্য নেই, তাই বা বলা কি করে? ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে, আছে। খুব বেশি দিন আগে নয়, এইতো গত বছর ২৬ মার্চ ; ভারতের মাটিতে ভারতকে প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। ব্যাঙ্গালুরে ভারতীয়দের ভীত কাঁপিয়ে প্রায় জিতেই গিয়েছিল মাশরাফির দল। একদম তীরে গিয়ে তরী ডোবার মতো ১ রানে হার, এখনো মনে কাটা হয়ে বিঁধে আছে। ভারতের মাটিতে গিয়ে ভারতীয়দের সাথে সমান তালে লড়ে জয়ের একদম তীরে পৌঁছে যাওয়ার সামর্থ্য যাদের আছে, তারা যে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পারবেই না, তাই বা কি করে ভাবা? বলা। পারতেও তো পারে।

৪ রেটিং পয়েন্ট হারালো বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২৮ মাস পর আবারো হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। আর কিউইদের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ায় বাংলাদেশ ওয়ানডে র্যা ঙ্কিংয়ে ৪ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে সাতে থাকা বাংলাদেশের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৯১।

আইসিসি এখনও বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ঘোষণা করেনি। তবে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে আইসিসি এক ইমেইলে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ যদি ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে তাহলে ৪ রেটিং পয়েন্ট হারাবে। আর ৪ রেটিং পয়েন্ট হারানোয় পাকিস্তানের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে র্যা ঙ্কিংয়ে আটে থাকা পাকিস্তানের রেটিং পয়েন্ট ৮৯। বাংলাদেশের থেকে মাত্র ২ রেটিং পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। বছরের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৫টি ওয়ানডে খেলবে পাকিস্তান। আর সিরিজ জিতে বাংলাদেশকে টপকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে পাকিস্তানের। পাকিস্তানের পর নয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৮৬।

উল্লেখ্য, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নিতে হলে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। আর না পারলে ২০১৮ সালে আইসিসি সহযোগী দেশের সঙ্গে কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হবে বাংলাদেশকে।

বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে ১০২ রান। তবে সেই বাংলাদেশ এখন শঙ্কায় পড়েছে দুইশত রানের আগেই অলআউট হয়ে যাওয়ার। ইতোমধ্যেই ফিরে গেছেন দলের সেরা সাত ব্যাটসম্যান। ব্যাটিং ব্যর্থতার মিছিলে এবার যোগ দিলেন সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তানবীর হায়দার।
জিতান প্যাটেলের করা ৩৭তম ওভারে ফিরে গেছেন সাকিব ও মোসাদ্দেক। ওভারের প্রথম বলে শর্টে ঠেলে দিয়েই এক রান নিতে গিয়েছিলেন সাকিব। তবে উইকেটরক্ষক লুক রঞ্চির দারুণ ফিল্ডিংয়ে সরাসরি উইকেট ভাঙলে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন সাকিব। একই ওভারের পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন মোসাদ্দেক। মিডেল স্ট্যাম্পে থাকা বল লেগে ঘোরাতে চেয়েছিলেন এ নবীন। তবে ব্যাটে সংযোগ না হওয়ায় সোজা প্যাডে লাগে বল।
এর দুই ওভার পরে আউট হন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা তানবীর হায়দার। কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৯ রান। ৬ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন নুরুল হাসান সোহান। আর ০ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন মাশরাফি।
এর আগে নেইল ব্রুমের অতিমানবীয় ক্যাচে সাজঘরে ফিরে যান ইমরুল কায়েস। সান্টনারের করা ২২তম ওভারের দ্বিতীয় দলে এগিয়ে গিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন ইমরুল। কিন্তু বলে ব্যাটে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় বল চলে যায় শর্ট থার্ডম্যানে। তবে প্রায় ১০ গজ পিছনের দিকে দৌড়ে ঝাপিয়ে পড়ে এক হাতে ক্যাচ লুফে নেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ব্রুম।
এরপর ম্যাট হেনরির করা ২৫তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে টানা দুইটি দারুণ চার মারেন সাব্বির। এরপরের বলটি ওয়াইড করেছিলেন হেনরি। তবে পঞ্চম বলটিও ছিল খুবই সাধারণ। লেগ স্ট্যাম্পে থাকা শর্ট বলটি গ্ল্যান্স করতে গেলে কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। ফলে ব্যক্তিগত ১৯ রানেই বিদায় নেন এ ড্যাসিং ব্যাটসম্যান।
সাব্বিরের বিদায়ের রেশ না কাটতেই আউট হন মাহমুদউল্লাহ। নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজে নিজের ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করেন তিনি। টিম সাউদির বাউন্সার পুল করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে জেমস নিশামের হাতে ধরা পড়েন রিয়াদ।
এরপর দলের বিপদ বাড়িয়ে ফিরে যান তামিমও। ৩০তম ওভারের প্রথম বলে হঠাৎই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। নিশামের গুড লেন্থের বল স্লগ করতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে আকাশে উঠে যায়। পয়েন্ট থেকে কিছুটা দৌড়ে সে ক্যাচ সহজেই তালুবন্দি করেন নেইল ব্রুম। তবে আউট হবার আগে ৮৮ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।

ম্যাচ হেরে পাকিস্তানের জরিমানা

মিচেল স্টার্কের দারুণ নৈপুণ্যে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে মেলবোর্ন টেস্টে হেরে গেছে পাকিস্তান। হারের সঙ্গে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ হয়ে দেখা দিলো জরিমানা।

ম্যাচে স্লো-ওভার রেটের কারণে সফরকারী দলকে জরিমানা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইসিসি। মেলবোর্ন টেস্টে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান দুই ওভার কম বোলিং করে। ফলে, ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে পাকিস্তানের দলপতি মিসবাহ সহ বাকিদেরও জরিমানা করে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, স্লো-ওভার রেটের দায়ে অভিযুক্ত হলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি’র ১০ শতাংশ কাটা যায়। আর দলপতিকে গুনতে হয় দ্বিগুণ জরিমানা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি ছিল দুই ওভারের। যার কারণে অধিনায়ক মিসবাহকে ম্যাচ ফি’র ৪০ শতাংশ এবং বাকিদের ম্যাচ ফি’র ২০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

২৮ মাস পর হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৪ সালের আগস্টে সর্বশেষ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। মুশফিকের ক্যারবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে। এরপর মাশরাফির নেতৃত্বে ৭টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, যার ৬টিতেই জয়ী লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারলেও (২-১) হোয়াইটওয়াশ চোখ রাঙ্গাতে পারেনি। তবে এবার নিউজিল্যান্ড সফরে এসে নিজের অধিনায়কত্বে প্রথম আর দীর্ঘ ২৮ মাস পর হোয়াইটওয়াশ হল মাশরাফি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

আগের দুই ম্যাচ হেরে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি নিছক নিয়মরক্ষার হলেও মাশরাফিদের জন্য ছিল মুখরক্ষারও। আর তা করতে গিয়ে শুরুটাও পেয়েছিল দুর্দান্ত। ২১.২ ওভারে বিনা উইকেটে ১০২ রান। তবে এরপর হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। আউট হওয়ার মিছিলে যোগ দেন ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।

শনিবার নেলসনের সেক্সটন ওভাল স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় টাইগাররা। ১০২ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে আউট হন ইমরুল। মূলত নেইল ব্রুমের অতিমানবীয় ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন এ ওপেনার। শর্ট থার্ডম্যানে প্রায় ১০ গজ পিছনের দিকে দৌড়ে ঝাপিয়ে পড়ে এক হাতে ক্যাচ লুফে নেন ব্রুম।

ইমরুলের বিদায়ের পরই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। এক একে ফিরে যান সাব্বির, মাহমুদউল্লাহ, তামিম, সাকিব, মোসাদ্দেক ও তানবীর। মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিনা উইকেটে ১০২ রানে থাকা বাংলাদেশের রান হয় ৭ উইকেটে ১৭৯ রান।

তবে অষ্টম উইকেটে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে ৩৩ রানের জুটি গড়ে দলের রান দুইশত পার করেন নুরুল হাসান সোহান। শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ৪৪ রানের দারুণ কার্যকরী এক ইনিংস খেলেন তিনি। ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন তিনি।

তবে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি তুলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন তামিম। ৮৮ বল মোকাবেলা করে ৫টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ৬২ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৪৪ রান করেন ইমরুল। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৩৮ রানে ২টি উইকেট নেন সান্টনার। এছাড়া সাউদি, প্যাটেল, হেনরি, নিশাম ও উইলিয়ামসন ১টি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৩৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। শতভাগ ফিট না থাকায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলতে না পারা মোস্তাফিজ সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেই নিজের ঝলক দেখান। নিজের প্রথম ওভারেই ল্যাথামকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান এই বিস্ময় বালক। এরপর দলীয় ১৬ রানে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গাপটিল।

প্রথম উইকেট হারানো ধাক্কা সামলে শূন্য রানে জীবন পাওয়া নিল ব্রুমের সঙ্গে ১৭৯ রানের জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে জয়ের পথে নিয়ে যান কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন। মোস্তাফিজের বলে মাশরাফিকে ক্যাচ দিয়ে ৯৭ রানে ব্রুম ফিরে গেলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক। শতকের চেষ্টা না করে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৯৫ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।  ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন উইলিয়ামসন।

ভুল অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশনে ভেস্তে গেল অমন সুন্দর শুরু

তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস যখন ব্যাট করছিলেন, তখন এক ওভার থেকে আরেক ওভারের ব্রেকে হঠাৎ সাউন্ড বক্সে বেজে উঠল মমতাজ বেগমের জনপ্রিয় গান ‘ খাইরুললো, তোর ঐ লম্বা লম্বা চুল ,,,,,, চিরল চিরল ………… । নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে বাংলা গান। তাও দেশ বরেণ্য শিল্পি মমতাজ বেগমের জনপ্রিয় গান। ম্যাচ দেখতে আসা অল্প কিছু বাঙ্গালি দর্শক আর প্রেস বক্সে বসা বাংলাদেশি সাংবাদিকের মধ্যে অন্যরকম রোমাঞ্চ।

কিন্তু বড় জোর মিনিট খানেক শোনা গেল মমতাজ বেগমের সেই সুরের মূর্ছনা। তারপরই থেমে গেল। প্রথম ইনিংসের পুরো সময় ব্রেকে শুধু জনপ্রিয় ইংলিশ মিউজিকই বাজল। হঠাৎ বেজে ওঠা মমতাজ বেগমের গান অল্পতে থেমে যাবার মতই অবস্থা বাংলাদেশ ব্যাটিংয়েও।  ইনিংসেও।

সকালে কি দারুণ সূচনা ! তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস এমন আস্থা ও আত্ববিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন যা দেখে মমতাজ বেগমের গানের মতই পুলক জাগাচ্ছিল মনে। দুই ওপেনারের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ও অ্যাপ্লিকেশন দেখে মনে হচ্ছিল, আগের দিনের কথা বুঝি সত্য হতে যাচ্ছে। তিন নম্বর ওয়ানডেতে এসে বুঝি সত্যিই নিজেদের খুঁজে পেয়েছে টাইগাররা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বৃহস্পতিবার সবার কণ্ঠে ছিল প্রথম দুই ম্যাচের ভুল ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার দৃঢ় প্রত্যয়। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা থেকে শুরু করে প্রতিটি সদস্যর মুখে শোনা গেছে দুটি সংলাপ, ‘নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন ও উইকেট সম্পর্কে ধারনা জন্মেছে আমাদের। সেই ধারনা কাজে লাগিয়ে আর আগের দুই ম্যাচে করা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে চাই শেষ ম্যাচে।’

তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েসের শুরুর ব্যাট চালনা দেখে মনে হলো সত্যিই বুঝি নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে শিখেছে টাইগাররা। আগের দুই ম্যাচের ভুল ত্রুটি কাটিয়ে শনিবার বুঝি রান পাহাড় গড়ে তুলবে মাশরাফির দল। সিরিজে প্রথমবারের মত উদ্বোধনী  জুটি ৫০ পেড়িয়ে গেল। ১১.১ ওভারে বিনা উইকেটে স্কোর ৫০। ঠিক ২০.৩ ওভারে অফস্পিনার জিতেন প্যাটেলের বল সীমানার ওপারে পাঠালেন তামিম। বিনা উইকেটে রান গিয়ে ঠেকল ১০০‘তে।

এরচেয়ে সুন্দর সূচনা আর কিইবা হতে পারে। এমন সাবলীল ও শক্ত ভীতের ওপর দাড়িয়ে ৩০০`তে পৌঁছে যাওয়া যায়। ভক্ত ও সমর্থকরা যখন ৩০০`র আশপাশে স্কোরের চিন্তায় মগ্ন, ঠিক তখন বিনা মেঘে বজ্রপাত। অপ্রয়োজনীয় শট খেলে উইকেট বিসর্জন ইমরুল কায়েসের। বোলার ছিলেন মিচেল সান্টনার। এই বাঁহাতি স্পিনারের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে আকাশে তুলে বিদায় নিলেন ইমরুল। তার ব্যাটের বাইরের কোনায় লেগে বল উঠে গেল আকাশে। শর্ট থার্ডম্যান থেকে বেশ খানিকটা ডানে দৌড়ে অনেকটা অ্যাক্রোবেটিক কায়দায় এক হাতে তা ধরে ফেললেন ব্রুম।

মুখে ভুল ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার কথা বললেও আবারও ভুল পথে পা বাড়ালেন ইমরুল। ওভার প্রতি ৫ রানের ওপরে আসছে। একটু রয়ে সয়ে ইনিংসকে আরও লম্বা করি, খালি এমন ভেবে ব্যাট করলেই চলতো। কিন্তু ইমরুল তার ধার কাছ দিয়েও গেলেন না। এ বাঁহাতি ওপেনারের ৬২ বলে ৪৪ রানের ঐ ইনিংস শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে ভোজ বাজির মত বদলে গেল বাংলাদেশ ইনিংসের দৃশ্যপট।

পরের ৬৬ রানের ভিতরে সাজ ঘরে পা বাড়ালেন পাঁচ ব্যাটিং স্তম্ভ সাব্বির রহমান রুম্মন, মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। কিউই বোলাররা দুর্দান্ত বোলিং করলে তবু একটা কথা ছিল। মানা যেত বোলিংটা ভাল হয়েছে। কিছু ডেলিভারি আনপ্লেয়েবল ছিল, তাই হয়ত পর পর উইকেটের পতন ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি।

একদম নিজেদের ভুলে ও বাজে শট খেলে আউট হলেন দলের চার সেরা উইলোবাজ সাব্বির, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব ও তামিম। অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশন ছিল চোখে লাগার মত খারাপ। শুরুর ২০-২৩ ওভার আর শেষ দিকে অনভিজ্ঞ নুরুল হাসান সোহানের ইনিংস টুকু বাদ দিলে তামিম, সাব্বির , মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবের মত পরিণত অভিজ্ঞ পারফরমাররা দায়িত্ব সচেতনতার পরিচয় রাখতে পারেননি। তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই একটা বড় সড় স্কোর গড়ার পথ হলো রুদ্ধ।

এর মধ্যে তামিম ছিলেন শতভাগ ওয়েল সেট হয়ে। ইনিংসের অর্ধেক শেষ হবার আগে ( ২৩.২ ওভার ) পঞ্চাশে পৌঁছে যাওয়া তামিমের সামনে ছিল লম্বা ইনিংস খেলার পর্যাপ্ত সময় ও অবারিত সুযোগ। নিকট অতীতে বিশেষ করে বিপিএলে নিজের সহজাত ও স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্তক ব্যাটিং বাদ দিয়ে এক প্রান্ত আগলে রাখার পাশাপাশি রান চাকা সচলের কাজটি বেশ দক্ষতার সাথে করে দেখানোর কারণে তার প্রতি সবার বিশ্বাসটাও বেড়েছে বেশি। ভাবা হচ্ছিল ইমরুল মধ্য চল্লিশে ফিরলেও তামিম হয়ত আর ভুল পথে পা বাড়াবেন না।

কিন্তু বাস্তবে হলো তার উল্টোটা। হাতে প্রচুর ওভার থাকা সত্বেও তামিম অযথা বেপরোয়া শট খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট দিয়ে আসলেন। কিউই ফাষ্ট বোলার জেমস নিশামের বলে ৫৯ ( ৮৮ বলে) রান করে অযথা ক্রস ব্যাটে স্লগ করতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দিলেন তামিম।

অবশ্য তামিম ফেরার আগেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসে লাগল। ইমরুল ফেরার পর উইকেটে এসেই নয়ন জুড়ানো কভার ড্রাইভ , স্কোয়ার কাট ও পুল করে বাউন্ডারি হাকানো সাব্বিরের আকর্ষণীয় ইনিংসটি জ্বলে ওঠার আগেই নিভে গেল। মাত্র ১৪ বলে চার বাউন্ডারিতে ১৯ রান করা সাব্বির আউট হলেন কিউই পেসার হ্যানরির লেগ স্টাম্পের বাইরে পরে বেড়িয়ে যাওয়া ডেলিভারিকে অযথা গ্ল্যান্স, ফ্লিক ও পুলের মাঝামাঝি গোছের শট খেলতে গিয়ে। বল ব্যাটের ওপরে লেগে চলে গেল কীপার রঞ্চির গ্লাভসে।

প্রসঙ্গত, প্রথম ওয়ানডেতে প্রায় একই ধরণের বলে ঠিক একই শট খেলতে গিয়ে ডাউন দ্যা লেগে ক্যাচ তুলে ফেরত আসেন ইমরুল কায়েস। আর এ সফরে এসে হঠাৎই নিজেকে খুঁজে ফেরা মাহমুতউল্লাহ আবার ব্যর্থতার ঘানি টানলেন। আগের দুই ম্যাচে ০ ও ১ রান  করা মাহমুউল্লাহ ( ৩) আউট হলেন নিউজিল্যান্ড ফাষ্টবোলার টিম সাউদীর একটা খাট লেন্থের ডেলিভারিতে। পেট ও বুকের মাঝামাঝি উচ্চতায় থাকা ঐ বলকে অনসাইডে য তোন জায়গা দিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠানো যেত। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ আড়ষ্ট হাতে যে পুল শটটা খেললেন তা গিয়ে জমা পড়ল ৩০ গজে দাঁড়িয়ে থাকা নেশামের হাতে।

সাকিব-মোসাদ্দেক ক্ষত সাড়িয়ে ইনিংসকে নতুন ভাববে সাজানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু হায় অফস্পিনার জিতেন প্যাটেলের সোজা ডেলিভারিতে লেগবিফোর উইকেটের ফাঁদে জড়ালেন মোসাদ্দেক ( ১১)। এরপর সাকিব হলেন রান আউট (১৮)। ১৭৯ রানে ৭ উইকেট পতনের পর মনে হলো অমন সুন্দর সূচনার পরও বুঝি ২০০ হবে না।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্কোর গিয়ে ঠেকল ২৩৬  এ। এটা সম্ভব হলো নুরুল হাসান সোহানের দৃঢ়তায়। আহত মুশফিকুর রহিমের বদলে সুযোগ পাওয়া এ তরুন প্রানপন চেষ্টা করলেন দলকে সামনে এগিয়ে নিতে। সিনিয়র ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের দূর্বল ও ভুলে মাখা অ্যাপ্রোচ- অ্যাপ্লিকেশনের দিনে এই তরুণ কিছু সময় মাথা ঠান্ডা রেখে সিঙ্গেলস-ডাবলসে খেলে খেলে শেষ দিকে হাত খুলে করলেন ৩৯ বলে ৪৪। আর তাতেই স্কোর ২৩০‘র ঘরে।

জীর্ণ- শীর্ণ অবস্থার উত্তোরণ ঘটলেও আক্ষেপ-অনুশোচনা থেকেই গেল। অমন সুন্দর শুরু । প্রথম উইকেটে ১০০ পেরিয়ে যাবার পরও শেষ পর্যন্ত রান আড়াইশো হলো না। আফসোস থেকেই গেল।

নাসিরের অসাধারণ ডাবল সেঞ্চুরি

আগের দিনই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। দিন শেষে নাসির হোসেন অপরাজিত ছিলেন ১০৫ রানে। আজ তৃতীয় দিনে সেটিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন ‘মিস্টার ফিনিশার’।

আর নাসিরের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদেই ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে লিড পেয়েছে রংপুর বিভাগ।

অথচ আগের দিন নাসির যখন উইকেটে এলেন, ১৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে রংপুর। দলের ২৯ রানে তাকে একা রেখে ফিরে যান মাহমুদুল হাসানও। সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে ধীমান ঘোষের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন নাসির।

ধীমান ২৬ করে ফিরলেও আরিফুল হকের সঙ্গে জুটি বেঁধে নাসির তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৭৩ বলে ফিফটি করা নাসির পরের ৫০ করেন ৫৯ বলে। ব্যক্তিগত ৯৫ থেকে অলোক কাপালিকে চার মেরে ৯৯-এ পৌঁছার পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে পূর্ণ করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরি।

নাসির ৯১ ও আরিফুল ১৫ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন শুরু করেছিলেন। আরিফুল অবশ্য ২৬ করেই ফিরে যান। তবে সপ্তম উইকেটে সোহরাওয়ার্দী শুভকে সঙ্গে নিয়ে ১৪৬ রানের বড় জুটি গড়েন নাসির।

সোহরাওয়ার্দী যখন ৭৮ রান করে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরলেন নাসিরের ব্যক্তিগত রান ১৭৪। এরপর দ্রুত ফিরে যান আলাউদ্দিন বাবুও (১০)। তখনো ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ২৪ রান দূরে নাসির।

তবে কি সঙ্গীর অভাবে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটা পাবেন না নাসির? নাসিরকে সেই আক্ষেপে পুড়তে দেননি সাজেদুল ইসলাম। নবম উইকেটে নাসিরকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। আর নাসির তুলে নিয়েছেন অসাধারণ এক ডাবল সেঞ্চুরি।

১৮১ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া নাসির বিরতি থেকে ফিরে মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৯ থেকে আবু জায়েদ রাহির বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৩৪০ বলে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। রাহির পরের ওভারেই অবশ্য আউট হয়ে যান নাসির। তার আগে ৩৪৩ বলে ২৪ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ২০১ রানের অনন্য-অসাধারণ ইনিংস। প্রথম ইনিংসে সিলেটের ২৭২ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৩৯৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ১২৬ রানের লিড পেয়েছে রংপুর।

অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলে ব্রাত্য নাসির। দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ পান না তেমন একটা। অক্টোবরে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়ে ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৭ রানের পর বল হাতে নিয়েছিলেন একটি উইকেট। বাংলাদেশও ম্যাচ জিতেছিল। চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডেতে খেলার পর আর দলে সুযোগ মেলেনি তার। আজকের ডাবল সেঞ্চুরির পর যদি অন্তত নাসিরের ওপর সুনজর পড়ে জাতীয় দলের নির্বাচকদের!

বাজে ব্যাটিংকে দুষলেন মাশরাফি

প্রথম ওয়ানডের মতো আজ দ্বিতীয়টিতেও শুরুতে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড। তবে আগের ম্যাচের চেয়ে কিউই ব্যাটসম্যানদের আজ ভালোই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশি বোলাররা।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে নেইল ব্রুম ছাড়া অন্যদের জ্বলে উঠতে দেননি মাশরাফি-তাসকিন-সাকিবরা। বোলাররা কাজের কাজটি ঠিকমতো করলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় জয়ের হাসি হাসতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে ৬৭ রানে হেরে সিরিজ খোয়াল টাইগাররা।

স্যাক্সটন ওভালে দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ‘গত ম্যাচের তুলনায় আজ বোলাররা সত্যিই অনেক ভালো বোলিং করেছে। এই ধরনের উইকেটে তাদেরকে (নিউজিল্যান্ড) ২৫১ এর মধ্যে রাখতে পারাটা বেশ ভালো ছিল। তবে ব্যাটিংয়ে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল খুবই হতাশার। বিশেষ করে ১-১০০ হওয়ার পর এভাবে ভেঙে পড়াটা খুবই হতাশার।’

স্যাক্সটন ওভালের উইকেট নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘উইকেটের দিকে লক্ষ করলে আপনি বুঝতে পারবেন এটা আগেরটার চেয়ে ভালো ছিল। সব মিলিয়ে এখানে ভালো করার দারুণ সুযোগ ছিল আমাদের।’

১০৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে সাব্বিরের আউটের পর বাকি ৭৯ রানের মধ্যেই অলআউট বাংলাদেশ। বিশেষ করে মিডলঅর্ডারে মাহমুদউল্লাহ (১), সাকিব (৭), মোসাদ্দেক (৩) ও তানভীর হায়দারের (২) মতো ব্যাটসম্যানরা টাইগার সমর্থকদের বেশি হতাশ করেছেন।

ইমরুলের ১৩তম অর্ধশত

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। আর এ ম্যাচে ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশত তুলে নিয়েছেন টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস।

নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক শুরু করেন দুই ওপেনার তামিম-ইমরুল। তবে অষ্টম ওভারে সাউদির বলে এগিয়ে এসে মারতে দিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৬ রানে সাজঘরে ফেরেন তামিম।

তামিমের বিদায়ের পর সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে করেন ৭৫ রানের পার্টনারশিপ। তবে দলীয় ১০৫ রানে রান আউটের স্বীকার হয়ে মাঠ ছাড়েন সাব্বির রহমান। এরপর দ্রুত মাহমুদুল্লাহ আউট হলেও সাকিবকে সঙ্গে করে ফিফটি তুলে নিলেন ইমরুল।

নতুন উচ্চতায় সাকিব

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নিজের নামের সঙ্গে আরেকটি মাইলফল যোগ করলেন সাকিব আল হাসান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় সবার উপর টাইগার এই অলরাউন্ডার।

সিরিজ শুরুর পূর্বে এই মাইলফলকে পোঁছাতে সাকিবের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ উইকেট। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সোমবার ক্রাইস্টচার্চে ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। আর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এসে শিকার করে নিলেন দুই উইকেট। কিউই ব্যাটসম্যান টিম সাউদির উইকেট তুলে নিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব।

বর্তমানে এই অলরাউন্ডারের উইকেট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ ম্যাচে ৩৩টি। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৭ ম্যাচে ৩৩ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন কিউই পেসার কাইল মিলস। তবে মিলস এবং সাকিবের উইকেট সংখ্যা সমান হলেও মিলসের চেয়ে কম ম্যাচ খেলায় উপরে আছেন এই টাইগার।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সহজ সুযোগ হাতছাড়া

নিউজিল্যান্ডকে ২৫১ রানেই আটকে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে একটি ওয়ানডে জয়ের আশাই জেগেছিল বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে। ভালো ব্যাটিং করে সেই আশাটা আরও জোরদার করেছিলেন ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমান। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পরেই বাংলাদেশ হয়েছে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার। ১ উইকেটে ১০৫ রান থেকে কয়েক ওভারের ব্যবধানেই স্কোরটা হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৪১। শেষপর্যন্ত মাশরাফিদের মাঠও ছাড়তে হয় ৬৭ রানের হার নিয়ে।

২৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ রান জমা করে ভালো সূচনার ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন তামিম ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু জুটিটা খুব বেশি বড় করতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার। অষ্টম ওভারে টিম সাউদি ফিরিয়েছেন তামিমকে। শুরুতে তামিমের উইকেট হারালেও ইমরুল আর সাব্বিরের জুটিতে ভর করে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁরা গড়েছিলেন ৭৫ রানের জুটি। কিন্তু ২৩তম ওভারে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে সাব্বিরকে। শর্ট কাভারে বল ঠেলে দিয়ে একটি রান নিতে চেয়েছিলেন ইমরুল। শুরুতে সেই ডাকে সাড়াও দিয়েছিলেন সাব্বির। কিন্তু কিছুটা এগিয়ে আবার ফিরে আসেন তিনি। ইমরুলও ততক্ষণে চলে এসেছিলেন উইকেটের অপর প্রান্তে। শুরুতে মনে হয়েছিল আউট হয়ে ফিরে যেতে হবে ইমরুলকেই। প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটতেও শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে তাঁকে আবার উইকেটে ফেরান আম্পায়াররা। সাজঘরের দিকে হাঁটতে বলেন সাব্বিরকে। ৩৮ রান করে ফিরে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এই দুর্ভাগ্যজনক রানআউটটাই পাল্টে দেয় ম্যাচের চিত্র। পরবর্তী আট ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ হারায় আরও তিনটি উইকেট। একে একে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ (১), সাকিব (৭) ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (৩)। তখনও আশার প্রতীক হয়ে উইকেটে টিকে ছিলেন ইমরুল। কিন্তু ৩২তম ওভারে ৫৯ রান করে ইমরুল ফিরে যাওয়ার পরেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার আশা। শেষপর্যায়ে অধিনায়ক মাশরাফির ১৭ ও অভিষিক্ত নুরুল হাসান সোহানের ২৪ রানের ছোট ইনিংস দুটি বাংলাদেশের হারের ব্যবধানটাই শুধু কমাতে পেরেছে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রায় একাই লড়েছেন দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা নেইল ব্রুম। ১০৭ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এর সঙ্গে লুক রনকির ৩৫ ও জেমস নিশামের ২৮ রানের ছোট দুটি ইনিংসে ভর করে নিউজিল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছিল ২৫১ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১০ ওভার বল করে ৪৯ রান দিয়ে নিয়েছেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট গেছে তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসানের ঝুলিতে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার বর্ষসেরা দলে বাংলাদেশের তিন তারকা

কয়েকদিন আগে আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এবার একই দিনে আরো দুটি সুসংবাদ পেলেন কাটার মাস্টার। এক. ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নিলেন এই বাঁহাতি। দুই. ভারতের জনপ্রিয় অনলাইন মিডিয়া টাইমস অব ইন্ডিয়ার বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলেও রয়েছেন তিনি।

টিওআই-এর এই বর্ষসেরা দলে মোস্তাফিজের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশের আরো দুই প্রতিনিধি, সাকিব আল হাসান ও আল আমিন হোসেন। বিপিএলে আলো ছড়ানো আফগান হার্টহিটার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদও আছেন সেই দলে।

দলটির অধিনায়কের দায়িত্বে রয়েছেন ভারতের বিরাট কোহলি। এছাড়া টিম ইন্ডিয়ার আরেক সদস্য জসপ্রীত বুমরাহ আছেন একাদশে। দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দল : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), মার্টিন গাপটিল, মোহাম্মদ শাহজাদ, জো রুট, জস বাটলার, আন্দ্রে রাসেল, স্যামুয়েল বদ্রি, মিচেল স্যান্টনার, মোস্তাফিজুর রহমান, জসপ্রীত বুমরাহ, আল আমিন হোসেন।

দ্বাদশ : সাকিব আল হাসান।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলছেন না মোস্তাফিজও

রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর সিরিজে টিকে থাকে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশের। তবে এ ম্যাচে নামার আগে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে মুশফিকুর রহিমের ইনজুরি।  তবে শুধু মুশফিকই না নেলসনে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে মোস্তাফিজুর রহমানকেও।

দল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর ফেরা মোস্তাফিজকে টানা না খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন ফিজিও। ফলে তার জায়গায় অভিষেক হতে যাচ্ছে পেসার শুভাশীষ রায়ের।

কিন্তু রুবেল হোসেনের মত অভিজ্ঞ বোলার থাকতেও মোস্তাফিজের জায়গায় শুভাশীষকে খেলানোর সিদ্ধান্ত জন্ম দিচ্ছে  প্রশ্নের। বিপিএলে দারুণ বোলিং করেছেন রুবেল। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার রেকর্ডও দারুণ। তবে জানা গেছে, কোচের প্রবল চাওয়াতেই সুযোগটা পাচ্ছেন শুভাশীষ।

এছাড়া ফর্মের কারণে দ্বিতীয় ওয়ানডের দল থেকে বাদ থেকে পড়তে পারেন সৌম্য সরকার। তার জায়গায় ওয়ানডে অভিষেক হতে পারে লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারের।

অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে মোস্তাফিজ

মোস্তাফিজুর রহমান এখন শুধু একজন বিস্ময় বালক নন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একটি শক্তির নাম, রেকর্ডের নাম। কয়েকদিন আগেই আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নিলেন বাঁহাতি এ বোলার।

এ বছর আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশ, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও সাসেক্সের জার্সিতে ২৬ ম্যাচে ৩৭টি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের বিস্ময় বালক মোস্তাফিজ। গড় ১৮.১০। ইকোনোমি রেট ৬.৬৮। সেরা বোলিং ফিগার ৫/২২।

আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স বিবেচনায় ২০১৬ সালের সেরা টি-টোয়েন্টি একাদশ নির্বাচন করেছে সিএ’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ব্যাটিংয়ে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ওপেনিংয়ে রয়েছেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। পরের দু`টি অবস্থানে বর্তমান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দুই নাম ভারতের বিরাট কোহলি (অধিনায়ক) ও দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স।

মূল পেসার হিসেবে একাদশে জায়গা পেয়েছেন মোস্তাফিজ। তার সঙ্গী ভারতীয় প্রতিভাবান পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। ক্যারিবীয় তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলকেও রাখা হয়েছে।

তবে আশ্চর্যের বিষয় বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরে থাকা পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন। স্পিন বোলিংয়ে আফ্রিদি পাশে পাচ্ছেন অজি লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে। উইকেটরক্ষক ভূমিকায় রাখা হয়েছেন জস বাটলার।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দল: ডেভিড ওয়ার্নার, জেসন রয়, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, আন্দ্রে রাসেল, জস বাটলার (উইকেটরক্ষক), ফারহান বেহারদিয়েন, শহীদ আফ্রিদি, জাসপ্রিত বুমরাহ, অ্যাডাম জাম্পা, মোস্তাফিজুর রহমান।

নেলসনে আত্মবিশ্বাসী তামিম

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডে খেলতে বর্তমানে নেলসনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। আর এ মাঠেই নিজেদের রেকর্ড ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। আর ঐ ম্যাচের স্মৃতি আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বাংলাদেশের। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানালেন তামিম ইকবাল।
দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তামিম বলেন, `বিশ্বকাপে এখানে একটা ম্যাচ খেলেছি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বড় রান তাড়া করে আমরা জিতেছিলাম। ঐ ম্যাচে ভালো খেলার স্মৃতি এবার কাজে লাগবে।`

তবে সে সময় উইকেট বানানো হয়েছিল আইসিসির চাওয়া অনুযায়ী। এবার তেমনটা পাবেন কি না সংশয় আছে তামিমের। এ নিয়ে তামিম জানান, `উইকেট একই রকম নাও থাকতে পারে। তবে কম বেশি ধারণা আছে এই মাঠের ব্যাপারে, যা অবশ্যই কাজে দেবে।`

জেতার সম্ভাবনা দেখছেন তামিম

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় হার দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন টাইগার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। নেলসনে টিম হোটেলে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তামিম।
এ নিয়ে তামিম বলেন, মাঠে নেমে ঠিক মত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের খুব ভালো সম্ভাবনা আছে জেতার। সিরিজ বলছি না, অন্তত একটি ম্যাচ। আমি পরের ম্যাচের কথাই বলছি। সেটা জিতলে পরেরটা ম্যাচ নিয়ে ভাবা যাবে।

তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। তাই সিরিজে টিকে থাকলে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই টাইগারদের। এ নিয়ে তামিম আরও বলেন, দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি একরকম সিরিজ নির্ধারক, চেষ্টা করব যেভাবে হোক আমরা যেন জিতি।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলছেন না মুশফিক

নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আগামীকাল ভোরে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।

প্রথম ম্যাচে ৭৭ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া মাশরাফি বাহিনী। তবে তার আগে বড় একটা ধাক্কা খেল টাইগাররা। ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না মুশফিকুর রহিম। তার পরিবর্তে খেলতে পারেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।

এর আগে সোমবার প্রথম ওয়ানডেতে রান নেওয়ার সময় ডাইভ দিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মুশফিকুর রহিম। ৪৮ ঘণ্টা পর তার স্ক্যান করার কথা থাকলেও অবস্থার একটু উন্নতি না হওয়ায় স্ক্যান করা হয়নি। বৃহস্পতিবার মুশফিকের স্ক্যান করা হতে পারে।

মুশফিকের ইনজুরি নিয়ে টাইগার কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেন, ‘আমরা দুই সপ্তাহ ধরে তার ইনজুরির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করব। সে সব ফরম্যাটে আমাদের দলের ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষক হিসেবে বেশ ভালো একজন খেলোয়াড়। তবে ইনজুরিও খেলার অপরিহার্য একটি অংশ। আমি তাকে দেখেছি। সে খুব ভালোভাবেই সেরে উঠছে। সে সব সময় প্রস্তুতি নিয়েই ডাইভ দেওয়ার চেষ্টা করে। আশা করি এ ইনজুরি থেকেও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।’

দুই সপ্তাহ ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও মুশফিকের দলে থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ।

চেনা স্যাক্সটনে আশাবাদী হাথুরুসিংহে

ক্রাইস্টচার্চে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে  প্রথম ওয়ানডেতে খেলতে নেমে ৭৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এর ফলে নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শেষ আটটি ম্যাচে হারের স্বাদ পেল টা্ইগাররা।

তবে প্রথম ম্যাচে শুরুতে উইকেট হারিয়েও শেষপর্যন্ত ২৭০ রান করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।তাছাড়া নেলসনের স্যাক্সটন ওভাল ভেন্যুটি আগে থেকেই পরিচিত বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের কাছে। গতবছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩২২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৫ মার্চ স্যাক্সটন ওভালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই ইনিংস গড়ছিল টাইগাররা। তাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাড়ানোর ম্যাচে আগামী দিনের ম্যাচ নিয়ে স্বপ্নজাল বুনছে টাইগাররা।

দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের হাথুরুসিংহে বলেন, ‘ঘরের মাঠে আমরা সবশেষ বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি। তাই দেশের বাইরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের খুঁজে পেতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’

স্যাক্সটন ওভালের ম্যাচ নিয়ে টাইগার কোচ বলেন, ‘ইতিহাস বলে আমরা এখানে ভালো খেলেছি। এটা খুব বেশি আগে নয় এবং আমাদের জন্য তা ভালো একটি দিক।গতবার এখানে বর্তমান দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় মাঠে নেমেছিলেন। ওই সুখস্মৃতি তাদেরকে প্রেরণা দিবে।’

প্রথম ওয়ানডেতে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হাথুরুসিংহে বলেন,‘দলের এমন পারফরম্যান্স পরের ম্যাচে আপনাকে সাহায্য করবে। গত ম্যাচে শুরুতে উইকেট হারিয়ে আমরা শেষপর্যন্ত ২৭০ করেছিলাম। পরের ম্যাচে এটি ছেলেদের আত্মবিশ্বাস যোগ দিবে।’

সৈকতে শিশুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেললেন কিউই ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৭৭ রানের বড় জয়ের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার নেলসনে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে মঙ্গলবার কোন অনুশীলনই করেনি কেন উইলিয়ামসন অ্যান্ড কোং। বক্সিং ডেতে বিজয় উদযাপনের পরের দিনটি অবকাশ কাটিয়েছেন কিউই ক্রিকেটাররা।
sতবে সেই অবকাশের ফাঁকে দুই কিউই ক্রিকটোর ম্যাট হেনরি এবং কলিন মুনরো তানুনানুই সমূদ্র সৈকতে শিশু-কিশোর ভক্তদের সঙ্গে বীচ ক্রিকেট খেলে সময় পার করেছেন। শতাধিক ক্ষুদে ক্রিকেটারের সঙ্গে বোলিং-ব্যাটিং-ক্যাচ প্র্যাকটিস সহ আনন্দঘন সময় পার করেছেন দুই স্বাগতিক ক্রিকেটার। ওয়েবসাইটটিতে প্রকাশ করা ছবি দেখে মনে হচ্ছে প্রথম ম্যাচ জিতে নির্ভারই রয়েছেন তারা।
নিউজিল্যান্ডের একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ম্যাট হেনরি বলেন, ‘এটা দারুণ শুরু। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টম ল্যাথামসহ প্রত্যেকে অসাধারণ খেলেছে। বোলারদের পারফরমেন্সও ছিল দারুণ। সব মিলিয়ে প্রথম ওয়ানডেটি ছিল অসাধারণ।’

মুশফিকের পরিবর্তে সোহান!

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সোমবার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন টাইগারদের নিয়মিত উইকেট রক্ষক মুশফিকুর রহিম। ইনজুরিতে পড়ায় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতেও তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও তাঁর বাঁ-পায়ের স্ক্যান না করা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না।
যদি সিরিজের বাকি দুই ওয়ানডেতে মুশফিককে মাঠে না দেখা যায়, তবে সেক্ষেত্রে তার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন আরেক উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।
সোমবার ক্রাইস্টচার্চে ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে ৭৭ রানের হারের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এমনটাই জানিয়েছেন। সোমবারই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। তার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই প্রধান নির্বাচক গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।
নান্নু বলেন, মুশফিকের ব্যাপারে এখনও পুরোপুরি তথ্য আমরা হাতে পাইনি। তা ছাড়া আমি যাচ্ছি। ওখানে গিয়ে বুঝতে পারবো ওর কন্ডিশন কি। আপাতত আমরা দলে কোনো পরিবর্তন আনছি না। কেউ যদি আনফিট হয়ে যায় তখন তার পরিবর্তে রিপ্লেসমেন্ট নেওয়া হবে। যেহেতু মুশফিক এখন চোট পেয়েছে, ও যদি খেলতে না পারে, তাহলে তার পরিবর্তে সোহানকে খেলানো হবে। আমাদের হাতে সুযোগ রয়েছে।
প্রথম ওয়ানডে নিয়ে যখন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা দোষারোপ করছেন বাজে ফিল্ডিং আর বোলারদের অপরিকল্পিত শর্ট বলকে। তখন প্রধান নির্বাচক বলেন, ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ দল। এমনকি প্রথম ম্যাচে ভালো খেলেছে বলেও মনে করেন তিনি।
এই উইকেটে তিনশ যখন পার হয়ে গেছে তখনই চেজ করা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের আরও ভালো ব্যাটিং করতে হবে। পাশাপাশি বোলারদেরকেও লাইন-লেন্থের পাশাপাশি শর্ট অব লেন্থের বল করার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেই ফিরছেন রস টেলর

পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টেস্ট চলাকালেই ডান চোখে সমস্যার অনুভব করেন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান রস টেলর। এরপর দু’জন স্পেশালিস্টের সরণাপন্ন হন তিনি। ডাক্তাররা তার চোখের সমস্যা ধরিয়ে দিলেও সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলবেন। হ্যামিল্টনের ওই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেই হাঁকান অসাধারণ এক সেঞ্চুরি। এরপর তার অনুপস্থিতিতে চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় নিউজিল্যান্ড।
হ্যামিল্টন টেস্টের পরই ডান চোখে অস্ত্রোপচার করান। যে কারণে চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হয় রস টেলরকে। একই কারণে তাকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে রাখতে পারেনি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। তবে, নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ সুপার স্ম্যাশের মধ্য দিয়ে আবারও মাঠে ফিরছেন রস টেলর। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টেও খেলবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
২০০৭ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া রস টেলর নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। এখনও পর্যন্ত ৭৮টি টেস্ট খেলে ৪৬.৭০ গড়ে তিনি রান করেছেন ৫৮৩৮। সেঞ্চুরি ১৬টি এবং হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে ২৫টি। ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে দুটি। সর্বোচ্চ রান ২৯০।
এমন একজন ব্যাটসম্যান অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আমাদের বোলারদের জন্য তাকে মোকাবেলা করা হবে অনেক কঠিন। রস টেলরের না থাকাটা অবশ্যই ছিল স্বস্তির; কিন্তু চোখের অপারেশন করার পর সেরে উঠে তিনি আবার ফিরছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে।
নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা জানাচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবারই সুপার স্ম্যাশ লিগ দিয়ে মাঠে ফিরছেন তিনি। সেন্ট্রাল স্টেজের হয়ে তিনি খেলবেন অকল্যান্ড এচেসের বিপক্ষে। সেন্ট্রাল স্টেজে টেলর খেলবেন টম ব্রুসের পরিবর্তে। যাকে আবার ডেকে নেয়া হয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে।
সুপার স্ম্যাশ দিয়ে হাত পাকানোর পর ১২ জানুয়ারি ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়েই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন টেলর।

প্রথম দিন শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ২৭৭

ওয়ালটন এলইডি টিভি ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৭৭ রানের সংগ্রহ পেয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ঘরের মাঠে ইরফান শুক্কুর, তাসামুল হক ও নাফিস ইকবালের তিনটি হাফসেঞ্চুরিতে এ রান তোলে দলটি।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে চট্টগ্রাম। ব্যাটিং নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে তারা। দলীয় ৭৬ রানেই হারিয়ে ফেলে প্রথম সারির চার ব্যাটসম্যানকে। তবে পঞ্চম উইকেটে ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে দলের হাল ধরেন তাসামুল হক। ১৬৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখান এ দুই ব্যাটসম্যান।
তবে দলীয় ২৪৩ রানে ইরফানের বিদায়ের পর আবার নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। এরপর আর ৩৪ রান যোগ করতে আরও চারটি উইকেট হারায় দলটি। ফলে ৮ উইকেটে ২৭৭ রানেই প্রথম দিন শেষ করে স্বাগতিকরা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯০ রান করেন ইরফান। ১৫৬ বলে ১২টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ২২৯ বলে ১০টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৮৯ রান করে অপরাজিত রয়েছেন তাসামুল। এছাড়া ৭২ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫১ রান করেন নাফিস ইকবাল। রাজশাহীর পক্ষে ৪৪ রানে ৪টি উইকেট নেন সাকলাইন সজীব। এছাড়া ৫৪ রানে ৩টি উইকেট পান ফরহাদ রেজা।

জাকিরের ব্যাটে টিকে আছে সিলেট বিভাগ

মঙ্গলবার প্রথমবারের মত জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ পান জাকির আলী। অভিষেকেই দলের মূলনায়ক হয়ে ওঠেন ২০ বছর বয়সী এ তরুণ। ওয়ালটন এলইডি টিভি ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে তার ব্যাটেই রংপুর বিভাগের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে সিলেট বিভাগ। প্রথম দিনে ৬ উইকেটে ২০৩ রান সংগ্রহ করেছে অলক কাপালীর দল।
মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পরে দলটি। নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে তারা। একমাত্র জাকির আলী ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই উইকেটে থিতু হতে পারেনি। সপ্তম উইকেটে রাহাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে জাকিরের অপরাজিত ৬০ রানের জুটিটিই ম্যাচের সর্বোচ্চ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করে অপরাজিত আছেন জাকির। ১৩৫ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি। ৬৩ বলে ২টি চারে ৩০ রান করেন ওপেনার ইমতিয়াজ। এছাড়া রাজিন সালেহ করেন ২৫ রান।
রংপুরের পক্ষে ৫৮ রান ৩টি উইকেট নিয়েছেন সোহরাওয়ার্দি শুভ। এছাড়া ১টি করে উইকেট পান আলাউদ্দিন বাবু, মোহাম্মদ সাদ্দাম ও মাহমুদুল হাসান।

ঢাকা মেট্রোর সংগ্রহ ২৫৫/৭

ওয়ালটন এলইডি টিভি ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে পঞ্চম রাউন্ডের খেলার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বরিশাল বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা মেট্রো। প্রথম টায়ারে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে জয় পেতেই হবে মার্শাল আইয়ুব-মোহাম্মদ আশরাফুলের দলটিকে। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিতে পারেনি তারা। দিনশেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান সংগ্রহ করেছে ঢাকা মেট্রো।
মঙ্গলবার সাভারের বিকেএসপি তিন নম্বরে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে ঢাকা মেট্রো। সদ্যই নিউজিল্যান্ড থেকে ফেরা মেহেদী মারূফ এবং সাদমান ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দারুণ সূচনা পায় দলটি। ওপেনিং জুটিতে ৮১ রানের সংগ্রহ পাওয়ার পর দুর্ভাগ্যজনকভেবে রানআউটের শিকার হন সাদমান।
সাদমানের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ঢাকা মেট্রো। এরপর আর ৬০ যোগ করতেই হারিয়ে ফেলে প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। এরপর সৈকত আলীকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়ে দলের চাপ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র। দলীয় ১৯৮ রানে সৈকত আউট হওয়ার পর আবার চাপে পরে যায় দলটি। এরপর সপ্তম উইকেটে জাবিদ হাসানকে নিয়ে ৪৩ রানের জুটি গড়েন মেহরাব।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন মেহেদী মারুফ। ৭৩ বলে ১০টি চারের সাহায্যে এ রান করেন এ ওপেনার। এছাড়া ১৭৪ বলে ৩টি চারে ৪৮ অপরাজিত রয়েছেন মেহরাব হোসেন। সৈকত আলি ২৯ ও জাবিদ ২৩ রান করেন। এছাড়া মোহাম্মদ আশরাফুল করেন ২০ রান। বরিশালের পক্ষে ৫১ রানে ৩টি উইকেট পান মনির হোসেন। এছাড়া সালমান হোসেন ২টি ও সালেহ আহমেদ শাওন ১টি উইকেট পান।

বাংলাদেশের ‘বড় দুর্বলতা’ খুঁজে পেয়েছে নিউজিল্যান্ড!

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ‘বড় দুর্বলতা’ খুঁজে পেয়েছে নিউজিল্যান্ড! দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেটা কাজে মরিয়া স্বাগতিকরা। এছাড়া এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সিরিজটা নিশ্চিত করতে চাইছে তারা। কী সেই দুর্বলতা?
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ৯টি উইকেট পতন ঘটে (মুশফিক সেচ্ছায় অবসরে যান)। এর মধ্যে ৫টি উইকেটের পতন ঘটে শট বলে। তাই এক্সট্রা পেস ও বাউন্সারে বাংলাদেশের ‘বড় দুর্বলতা’ দেখছেন কিউই ফাস্ট বোলার লকি ফার্গুসন।
ব্ল্যাক-ক্যাপস এই তারকা বোলার বলেন, ‘আমি মনে করি, ছেলেরা (নিউজিল্যান্ডের বোলাররা) বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ওপর আক্রমণাত্মক হয়েছিল। দ্রুত উইকেট নেয়ার জন্য উদগ্রীব ছিলাম আমরা। ওটাই ছিল আমাদের পরিকল্পনা।’
উপমহাদের কন্ডিশনে বাউন্সার খুব একটা কাজে দেয় না, চলে স্পিন-রাজত্ব! অপরদিকে নিউজিল্যান্ডে বাউন্সারের-রাজত্ব। এই বাউন্সারেই বাংলাদেশকে আবারও পরাস্ত করতে চান ফার্গুসন। বলেন, ‘একট্রা পেস ও বাউন্সে অভ্যস্ত নয় বাংলাদেশ। এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সফরকারীদের শাসন করা সম্ভব। পরের ম্যাচেও এটা প্রয়োগ করতে চাই।’

অপেক্ষায় তাসামুল, বঞ্চিত ইরফান

চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় স্তরে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক চট্টগ্রাম বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগ। চট্টগ্রামে আগে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে। দিনের খেলা ৮৮.২ ওভারে শেষ হওয়ার আগে চট্টগ্রাম ২৭৭ রান তোলে।
রাজশাহীর বিপক্ষে চট্টগ্রামের হয়ে শতকের অপেক্ষায় রয়েছেন তাসামুল হক। শতক বঞ্চিত হয়েছেন দলপতি ইরফান শুক্কুর। অর্ধশতকের দেখা পান ওপেনার নাফিস ইকবাল। নাফিস ৫১ রানে বিদায় নেন। আরেক ওপেনার পিনাক ঘোষ ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তিন নম্বরে নামা জসিমউদ্দিন ৯ রানে বিদায় নিলে তাসামুল হক খেলেন অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংস। তার ২২৯ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি বাউন্ডারি আর একটি ওভার বাউন্ডারির মার। ইরফান শুক্কুর ১৫৬ বলে ১২টি চারের সাহায্যে করেন ৯০ রান।
রাজশাহীর হয়ে চারটি উইকেট দখল করেন সাকলাইন সজীব। ফরহাদ রেজা নেন তিনটি উইকেট। আর বাকি উইকেটটি দখল করেন মুক্তার আলি।

সোহরাওয়ার্দির বিপক্ষে অভিষিক্ত জাকের আলির লড়াই

চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় স্তরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলছে রংপুর বিভাগ। ম্যাচের প্রথম দিন রংপুরের স্পিনার সোহরাওয়ার্দি শুভর দারুণ বোলিংয়ে বেশি দূর এগুতে পারেনি সিলেট। তবে, প্রথম বিভাগের ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেলেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জাকের আলি।
সিলেট বিভাগ ৮৬ ওভার ব্যাট করে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২০৩ রান। অর্ধশতক হাঁকিয়ে অপরাজিত আছেন জাকের আলি।
রংপুরের বিপক্ষে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন ৩০ রান আর সায়েম আলম ১৩ রান করেন। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান ১ রানে বিদায় নিলেও রাজিন সালেহ করেন ২৫ রান। দলপতি অলোক কাপালি ১৮ রানে বিদায় নেন।
জাকের আলি ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৩৫ বলের ইনিংসে তিনি ৮টি চারের পাশাপাশি একটি ছক্কা হাঁকান। ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিংয়ে নামবেন রাহাতুল ফেরদৌস।
রংপুরের হয়ে তিনটি উইকেট দখল করেন সোহরাওয়ার্দি শুভ। এছাড়া, একটি করে উইকেট নেন আলাউদ্দিন বাবু, মোহাম্মদ সাদমান এবং মাহমুদুল হাসান।

ঢাকা মেট্রোর হয়ে উজ্জ্বল মেহেদি মারুফ

বিপিএলে নজরকাড়া ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সফরের ক্যাম্পে ডাক পান মেহেদি মারুফ। ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহ কাটিয়ে দেশে ফিরে জাতীয় লিগেও ছন্দ ধরে রেখেছেন এ ডানহাতি ওপেনার। তবে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিনটা ঢাকা মেট্রোর জন্য হতাশাজনক।
সাত উইকেটে ২৫৫ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছে মেট্রো। যারা পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) প্রথম স্তরের অপর ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খুলনার বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে ঢাকা বিভাগ। রকিবুল হাসানের সেঞ্চুরি ও সাইফ হাসানের অপরাজিত ৮৯ রানে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে চার উইকেটে ৩০৩।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা মেট্রোকে ভালো শুরু এনে দেন সাদমান ইসলাম (৩৩, রানআউট) ও মেহেদি মারুফ। দু’জনের ওপেনিং জুটিতে আসে ৮১। অর্ধশতক হাঁকিয়ে ফেরেন মারুফ (৫৬)। কিন্তু, এরপর আর কেউই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিতে পারেননি।
মোহাম্মদ আশরাফুল ২০, অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুব ১২, শামসুর রহমান ১২, সৈকত আলী ২৯ ও জাবিব হোসেন ২৩ রান করে আউট হন। এখন ৪৮ রানে অপরাজিত থাকা মেহরাব হোসেন জুনিয়রের ব্যাটে তাকিয়ে ঢাকা মেট্রো। তার সঙ্গী ইলিয়াস সানি (৯ অপ.)।
বরিশালের হয়ে মনির হোসেন তিনটি ও সালমান হোসেন দু’টি উইকেট লাভ করেন। বাকি উইকেটটি নেন সালেহ আহমেদ শাওন।

শের-ই-বাংলায় ব্যাপক সংস্কার

ঘরের মাঠে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সিরিজ। সারা বছর ব্যস্ত থাকা শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম পাচ্ছে বিশ্রাম। লম্বা এ সময়টা কাজে লাগাচ্ছে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটি। প্রায় ১০ বছর পর মাঠের সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন চলছে উইকেটের কাজ। পুরণো মাটি সরিয়ে উইকেটে বসানো হচ্ছে নতুন মাটি। মাঠ সংস্কারের বড় অংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থায়। মাটির নিচে থাকা পাইপ পরিবর্তন, বালু ফেলা-সরানোর কাজ চলবে জানুয়ারি থেকে জুন-জুলাই পর্যন্ত।
এ উদ্যোগ নিয়ে বিসিবির গ্রাউন্ড অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ কমিটির ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন জানান, ‘মিরপুরের মাঠ তৈরি হয়েছে প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে। সে কারণে আমরা ড্রেনেজ সিস্টেমটা একটু ঝালিয়ে দেখবো। মাটির নিচে যে জিও ট্যাক্স পাইপ, নেটিং সিস্টেম, বালু-পাথর দেয়া হয়েছে তা কার্যকরী আছে কিনা তা দেখবো। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ-আলোচনা করছি। জানুয়ারিতেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো। জুন-জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
এমনিতেই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উপমহাদেশের মধ্যে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে। আব্দুল বাতেন মনে করেন সংস্কার কাজ শেষ হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, ‘গত এশিয়া কাপের ফাইনালে আপনারা দেখেছেন কী ঝড়-বৃষ্টি! মাঠে পানি জমে গেল। বৃষ্টি থামার এক ঘণ্টার মধ্যেই কিন্তু আবার খেলা মাঠে গড়ায়। এমনিতে মাঠের কোনো সমস্যা নেই। তবে, আমরা চাই আরেকটু ভালো হোক। কাজ হলে আরও উন্নত হবে, আউটফিল্ড আরও ভালো হবে।’
২০০৪ সালে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম দখল পাওয়ার পর বিসিবি মাঠ নতুন করে ক্রিকেটের জন্য তৈরি করেছিল। ছয় বছর পর মাঠ সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাংলাদেশ দলের ব্যস্ত সূচির (আন্তর্জাতিক সিরিজ) কারণে মাঠের কাজ সেভাবে করতে পারেনি বিসিবি। আগামী জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের সব খেলাই দেশের বাইরে। মোক্ষম সুযোগটা তাই হাতছাড়া করছে না বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটি।

সাইফ-রকিবুলের ব্যাটে শক্ত অবস্থানে ঢাকা

রকিবুল হাসানের সেঞ্চুরি ও সাইফ হাসানের অপরাজিত ৮৯ রানে জাতীয় লিগের পঞ্চম রাউন্ডে শক্ত অবস্থানে ঢাকা বিভাগ। প্রথম দিন শেষে প্রথম স্তরের শীর্ষে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খুলনার বিপক্ষে তাদের সংগ্রহ চার উইকেটে ৩০৩।
মঙ্গলবার খুলনার সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান নেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক। ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৬৯ রান তুলে ভালো শুরু এনে দেন ঢাকার দুই ওপেনার আব্দুল মজিদ (২৪) ও জয়রাজ শেখ (৪৫)।
এরপর বড় সংগ্রহের ভিত গড়েন রকিবুল হাসান ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। সেঞ্চুরির পর ফেরেন জাতীয় দলের এক সময়ের নিয়মিত মুখ রকিবুল। খেলেন ১৩৭ বলে ১১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
রকিবুলের পথে হাঁটছেন তরুণ সাইফ। শতক থেকে আর মাত্র ১১ রান দূরে এ ডানহাতি উঠতি ব্যাটসম্যান। প্রথম দিন শেষে তার সঙ্গী নাদিফ চৌধুরী (১৫ অপ.)। ১০ রান করে আউট হন তাইবুর রহমান। খুলনার হয়ে দু’টি উইকেট লাভ করেন রাজ্জাক। দুই পেসার আল আমিন হোসেন ও আশিকুজ্জামান নেন একটি করে।

দোয়া চাইলেন তামিম

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী বাংলাদেশ স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছে ৭৭ রানে। সিরিজ জিততে কিংবা সিরিজে টিকে থাকতে হলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের। বাকি দুই ম্যাচ তাই টাইগারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর খুব শিগগিরই জয়ের ধারায় ফিরতে চান বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল।
কিউইদের ছুঁড়ে দেওয়া ৩৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪.৫ ওভারে ২৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তামিম করেন ৩৮ রান। তার ৫৯ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি বাউন্ডারি। আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েস করেন ১৬ রান। তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে ১ রান আসলেও চার নম্বরে নামা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে কোনো রান আসেনি। মাঝে সাকিব ৫৯, মুশফিক ৪২, মোসাদ্দেক ৫০ রান করলেও সাব্বির বিদায় নেন ১৬ রান করে।
টপ অর্ডারের ব্যার্থতার দিনে বাংলাদশকে হারতে হয়েছে ৭৭ রানের ব্যবধানে। হারের আগে তখনও হাতে বল বাকি ছিল ৩১টি। তবে, পেছনের ব্যর্থতা ভুলে সামনের দিকে তাকাতে চাইছেন তামিম। দেশবাসী আর তার সকল ভক্ত-সমর্থকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
নিজের ফেসবুক পেজে তামিম লিখেছেন, ‘‘ইনশাল্লাহ!! আমরা খুব শীঘ্রই জয়ে ফিরবো, দোয়া করবেন আমাদের জন্য।’
এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। আটটিই জিতে নেয় কিউইরা। বাকি তিন ম্যাচ ড্র। ওয়ানডেতে ২৬ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে আট ম্যাচে জয় (১৮টিতে হার) নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টিতে চার ম্যাচেই শেষ হাসি হাসে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে কিউইদের বিপক্ষে সবশেষ মুখোমুখি হওয়া ৮টি ওয়ানডের ৭টিতেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের মাটিতে কিউইদের দু’বার হোয়াইটওয়াশ করার সুখস্মৃতিও রয়েছে টাইগারদের। আগামী বৃহস্পতিবার নেলসনে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে টাইগাররা।

ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নেলসনে টিম বাংলাদেশ

ক্রাইস্টচার্চ থেকে নেলসনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। নিউল্যান্ডের বিপক্ষে এখানেই হবে তিন ম্যাচ সিরিজের বাকি দু’টি ওয়ানডে। ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে জয় ভিন্ন কিছুই ভাবছেন না মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা।
অফিসিয়াল টুইটার পেজে তাসকিন-মিরাজদের বিমান থেকে নামার একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে নেলসনে নিরাপদে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সফরকারীদের আগেই এই শহরে পা রাখে স্বাগতিকরা।
বক্সিং ডে’তে অনুষ্ঠিত (ক্রিসমাসের পরদিন) প্রথম ওয়ানডেতে ৭৭ রানের জয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে কিউই শিবির। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচাতে ছন্দে ফিরবে টাইগাররা সেই প্রত্যাশাই করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগণিত ভক্ত-সমর্থকরা।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দু’দল। নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে যথারীতি বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় খেলা শুরু হবে। একই গ্রাউন্ডে ৩১ ডিসেম্বর তৃতীয় ওয়ানডে।

হারে শুরু বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ডের ৩৪১ রান টপকে জিততে হলে রেকর্ডই গড়তে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু জয়ের কাছেও যেতে পারল না মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। প্রথম ওয়ানডেতে ৭৭ রানের হার সঙ্গী করে সিরিজ শুরু করল সফরকারীরা।

অথচ ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ম্যাচের শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। দীর্ঘ ৯ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে শুরুতেই নিউজিল্যান্ড শিবিরে আঘাত হেনেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসার ঝড় তোলার আগেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মার্টিন গাপটিলকে।

তখনো কে জানতো, ঘরের মাঠে কী দুর্দান্ত এক ইনিংসই না খেলতে যাচ্ছেন টম ল্যাথাম! তিনি ক্যারিয়ার সেরা ১৩৭ রান করার পথে কলিন মানরোকে নিয়ে গড়েন ১৫৮ রানের জুটি। তাতে রানের পাহাড়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। যে পাহাড়ে চাপা পড়ল বাংলাদেশ।

৩৪২ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা দেখেশুনেই করেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। মারার বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে, ছাড়ার দেওয়ার পর ছেড়ে দিয়ে প্রথম ৭ ওভারে দুজন তোলেন ৩০ রান। কিন্তু অষ্টম ওভারে টিম সাউদির একটি শর্ট বল ইমরুলের ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার লুক রনকির গ্লাভসে। ২১ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ইমরুল করেন ১৬। বাংলাদেশের স্কোর তখন ১ উইকেটে ৩৪।

প্রস্তুতি ম্যাচে রানে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে ওয়ানডে দলে ফিরেছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতে হতাশই করলেন বাঁহাতি ওপেনার। জেমস নিশামের বলে মিড অফে কেন উইলিয়ামসনকে ক্যাচ দেওয়ার আগে সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ রান। একই ওভারে ডাক মেরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহও। তখন ৪৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ।

দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন তামিম। তবে সেটিও খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৮তম ওভারে নিশামের বলে তামিম মিচেল স্যান্টনারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেল ভেঙে যায় ৩৩ রানের জুটি। ৫৯ বলে ৫ চারে তামিম করেন ৩৮।

এরপর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন সাকিব। ২৭তম ওভারে স্যান্টনারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি। পরের ওভারে লোকি ফার্গুসনকে লন অনের ওপর দিয়ে আছড়ে ফেলেন গ্যালারির দর্শকদের মাঝে। কিন্তু পরের বলে আবার ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিড উইকেটে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাকিব। ৫৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় সাকিব ৫৯ করে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১৪৪।

ব্যাটিং পজিশন পাল্টে সাতে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন সাব্বির রহমান। ফার্গুসনের বলে বোল্টকে ক্যাচ দেওয়ার আগে এক ছক্কায় সাব্বির করেন ১৬। তবে মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর ২০০ পার করেন মুশফিক। দুজন দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ৩৮তম ওভারে স্যান্টন্যারের বলে কঠিন একটি সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ডাইভ দিয়ে চোট পান মুশফিক। ফিজিওর সেবাশুশ্রূষা নিয়ে একটি বল খেলার পর আর মাঠে থাকতে পারেননি টেস্ট অধিনায়ক। ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৪২।

বাংলাদেশের যে ক্ষীণ আশা ছিল, সেটিও নিভে যায় মুশফিক মাঠ ছাড়ার পরেই। পরে মোসাদ্দেকের ফিফটি কেবল বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধানই যা একটু কমাতে পারে। ৪৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক।

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। টসের সময় বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, জিতলে তিনি বোলিংই বেছে নিতেন। বোলিংয়ে শুরুটাও হয়েছিল ভালোই। শুরুটা দুর্দান্ত করেন দীর্ঘ ৯ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মুস্তাফিজ।

‘কাটার মাস্টার’ ইনিংসের ষষ্ঠ আর নিজের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে সফলতা এনে দেন। ঝড় তোলার আগেই মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। তার স্লোয়ার বল লং অফ দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন গাপটিল। কিন্তু টাইমিং হয়নি, বল উঠে যায় আকাশে। মিডঅনে বলটি সহজেই তালুবন্দি করেন সৌম্য সরকার। ১৯ বলে একটি করে চার, ছক্কায় গাপটিল করেন ১৫। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ১ উইকেটে ৩১।

গাপটিলের বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেটে ল্যাথামকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে গাপটিলের উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজকে সরিয়ে আরেক পেসার তাসকিনকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি। সেই তাসকিনই নিজের তৃতীয় ওভারে উইলিয়ামসনকে ফিরিয়ে ভাঙেন ৪৮ রানের জুটি। তাসকিনের বাউন্সার কিউই অধিনায়কের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। ৩৬ বলে ৫ চারে উইলিয়ামসন করেন ৩১। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ২ উইকেটে ৭৯।

ছয় বছর পর এদিন নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নামেন নিল ব্রুম। ৩৩ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরতে পারতেন ব্যক্তিগত ১৭ রানেই। কিন্তু সাকিবের বলে ডিপ মিড উইকেটে ব্রুমের ক্যাচ ফেলেন মাহমুদউল্লাহ। অবশ্য নিজের পরের ওভারেই ব্রুমকে (২২) এলবিডব্লিউ করে সাজঘরের পথ দেখান সাকিব। নিজের এক ওভার পরে এসে নতুন ব্যাটসম্যান জেমস নিশামকেও (১২) এলবিডব্লিউ করেন সাকিব। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৫৮।

এরপরই মানরোর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের স্কোর ২০০ পার করেন ল্যাথাম। ৪০তম ওভারে তাসকিনের বল ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলে ঠিক ১০০ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিও তুলে নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আর মানরো ৪৪ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। তাতে ৪২ ওভারেই আড়াই শ’ পেরোয় নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ। মাইলফলক ছোঁয়ার পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এই দুজন। ৪৬তম ওভারের প্রথম বলে মাশরাফিকে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের স্কোর ৩০০ পার করেন ল্যাথাম।

ঝড় তোলা মানরোকে ফিরিয়ে ১৫৮ রানের বড় জুটি ভাঙেন সাকিব। তাসকিনকে ক্যাচ দেওয়া মানরো ৬১ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৮৭। পরের ওভারে ল্যাথামকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। ১২১ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ১৩৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন ল্যাথাম। ততক্ষণে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ উঠে যায় চূড়ায়।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আজকের ৩৪১ রানই এখন নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ১৯৯০ সালে শারজায় দুই দলের প্রথম দেখায় কিউইরা ৪ উইকেটে করেছিল ৩৩৮। হ্যাগলি ওভালে ৩০০ রান তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। পারল না বাংলাদেশও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ৩৪১/৭ (ল্যাথাম ১৩৭, মানরো ৮৭, উইলিয়ামসন ৩১; সাকিব ৩/৬৯, মুস্তাফিজ ২/৬২, তাসকিন ২/৭০)।

বাংলাদেশ ৪৪.৫ ওভারে ২৬৪ (সাকিব ৫৯, মোসাদ্দেক ৫০*, মুশফিক ৪২, তামিম ৩৮; নিশাম ৩/৩৬, ফার্গুসন ৩/৫৪, সাউদি ২/৬৩)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৭৭ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: টম ল্যাথাম।

সেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ফিরলেন মুস্তাফিজ

কী অদ্ভুদ মিল! মুস্তাফিজুর রহমান সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ২৬ মার্চ, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের তরুণ পেসার ৯ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন সেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই, তারিখটাও আবার ২৬ ডিসেম্বর!

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে খেলছেন ‘দ্য ফিজ’।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলেছেন মুস্তাফিজ। আইপিএলের পর খেলেছেন ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্ল্যাস্টে। বাঁহাতি পেসার ২২ জুলাই সাসেক্সের হয়ে সারের বিপক্ষে ম্যাচেই পড়েন কাঁধের চোটে। এরপর অস্ত্রোপচার করিয়ে  পাঁচ মাসের বিরতি।

দীর্ঘ সময় পর গত বৃহস্পতিবার প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন মুস্তাফিজ। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ওই প্রস্তুতি ম্যাচে পুরনো ছন্দেই দেখা যায় মুস্তাফিজকে। প্রথম ওভারেই নেন উইকেট। সব মিলিয়ে ৭ ওভার বল করে নেন ২ উইকেট।

আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে তার খেলা নিয়ে যদিও সংশয় ছিল। কারণ বোলিং ঠিকমতো করলেও সমস্যা ছিল ফিল্ডিং আর থ্রোয়িংয়ে। আগের দিন প্রথম ওয়ানডেতে মুস্তাফিজের খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তাই তার ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তই নিলেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসার ৯ মাস পর বল হাতে নেমে পড়লেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২২ গজে।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ হারলেও মুস্তাফিজ ৪ ওভার বল করে ২২ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ‘কাটার মাস্টার’ আজ ওয়ানডেতেও সেরকম কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। নিজের তৃতীয় ওভারেই ঝড় তোলার আগে মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। শুরুটা অবশ্য ধরে রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৬২ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট।

রেকর্ড গড়লেন উইলিয়ামসন

দারুণ এক রেকর্ড গড়লেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ড গড়েছেন ২৬ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান।

সোমবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৩৬ বলে ৩১ করার পথে ৪০০০ রান স্পর্শ করেছেন উইলিয়ামসন। তিনি মাইলফলকে পৌঁছেছেন ৯৬ ইনিংসে।

এর আগে মার্টিন গাপটিল ৪ হাজার রান করেছিলেন ১১২ ইনিংসে। উইলিয়ামসন গাপটিলের রেকর্ডটা ভেঙে দিলেন।

সব মিলিয়ে পঞ্চম দ্রুততম উইলিয়ামসন। ৮১ ইনিংসে ৪ হাজার রান করে বিশ্ব রেকর্ডটা দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলার। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসের লেগেছিল ৮৮ ইনিংস, বিরাট কোহলির ৯৩ ইনিংস, আর উইলিয়ামসনের সমান ৯৬ ইনিংস লেগেছিল গর্ডন গ্রিনিজের।

মাহমুদউল্লাহ যখন ইমাম

ঘরের মাঠে সাধারণত এমন দৃশ্য দেখা যায় না। তখন ড্রেসিং রুমেই খেলোয়াড়রা নামাজ আদায় করেন।

কিন্তু মাঠের মধ্যে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা সারিবব্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন এমন দৃশ্য শেষ করে দেখা গেছে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

সাধারণত আফগানিস্তান ও পাকিস্তান দল কোথাও সফরে গেলে এমনটি করে থাকে। এবার বাংলাদেশ দলকেও দেখা গেল তেমন কিছু করতে। শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে জুমা’র নামাজ আদায় করেন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। যেখানে ইমামের দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তার পেছনে নামাজ আদায় করেন নামজুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান সোহান, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, তানভীর হায়দার, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রুবেল হোসেন ও তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন। আর সেখানে ক্যাপশন লিখেন,‘আপনি কোথায় আছেন সেটা ব্যাপার না, নামাজ সবার আগে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এ রিপোর্ট লেখা তার এই ছবিটিতে ১ লাখ ৭০ হাজার ভক্ত লাইক দিয়েছেন। ৪ হাজার ৫০০ লোক শেয়ার করেছেন। ৩ হাজার ৮০০ লোক মন্তব্য করেছেন।

ভারতে টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ চায় বাংলাদেশ

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হবে ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি।

এক টেস্ট ম্যাচের এই সিরিজের আগে ভারতে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বাংলাদেশ ও ভারতের কন্ডিশন মোটামুটি একই হলেও টেস্টের আগে নিজেদের ঝালিতে নিতেই মূলত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ। বিসিসিআই যদিও এখনো বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এ ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এটা আলোচনার পর্যায়ে আছে। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।’ প্রস্তুতি ম্যাচের সম্ভাব্য ভেন্যুর কথাও জানালেন এই কর্মকর্তা, ‘কলকাতা আমাদের সামনে অপশন।’

প্রথম দুটি বিষয় চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে কার সঙ্গে? বিসিসিআই এখনো কিছু না জানালেও প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে এবারের রনজি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন দল। গত সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে মূল সিরিজ শুরুর আগে রনজি ট্রফির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল নিউজিল্যান্ড।

সৌম্যের রানে ফেরায় স্বস্তি

জাতীয় দলে সময়টা ভালো যাচ্ছে না সৌম্য সরকারের। মার্চে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ৪৮ রানের ইনিংসের পর রান খরার মাঝেই ছিলেন তিনি। তার এই বাজে ফর্মের কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দল থেকে বাদও পড়েছিলেন। বিপিএলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি এই ব্যাটসম্যান।

এরপরই গুঞ্জন ওঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজে হয়তো থাকা হচ্ছে না সৌম্যের। তবে শেষ সুযোগ হিসেবে হয়তো নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাকে দলে নেয়া হয়েছে। আর সফরের শুরুতেই প্রস্তুতি ম্যাচে হেসেছে সৌম্যের ব্যাট। আর সিরিজ শুরু আগে সৌম্যর এই রানে ফেরা নিয়ে স্বস্তি ফিরেছে টিম ম্যানেজমেন্টেও।

নিউজিল্যান্ড একদশের বিপক্ষে ৪৭ বলে ৪০ রান করে আউট হন তিনি। তার এই ৪০ রানের ইনিংসে ছিল ৪ টি চার। খুব বড় যে ইনিংস খেলেছেন সেটিও নয়। তবে তার রানে ফেরার জন্য এই ইনিংসটি দরকার ছিল। তার এই রানে ফেরা নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ সামারাবিরা।

সামারাবিরার বিশ্বাস এই সফরেই নিজেকে ফিরে পাবেন তিনি। নিজের চির চেনা রূপে ফিরতে পারবেন আবারো। আসলে খারাপ সময় সবকল ব্যাটসম্যানেরই আসে। শচিন টেন্ডুলকার, কুমার সাঙ্গাকারা, আরও বড় বড় সকল খেলোয়াড়দেরও এসেছে। সবাইকেই এই সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। কোচিং স্টাফদের সমর্থন এই সময়টাতে খুব বেশি জরুরি।

এদিকে কিউইদের প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে সামারাবিরা বলেন, বড় স্কোর না হওয়ায় খুব বেশি দুর্ভাবনা নেই। এই অঞ্চলে এসে শুরুতে বড় রান করা কঠিন সকল ব্যাটসম্যানদের জন্য। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে মূল সিরিজে সে ভালো করবে বলে আশাবাদী সাবেক এই লঙ্কান ক্রিকেটার।

‘মোস্তাফিজের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সোমবার ভোরে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর এ ম্যাচে মোস্তাফিজকে দলে রাখতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানালেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি বলেন, `মোস্তাফিজকে নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সবকিছু নির্ভর করছে তার উপর, সে কেমন অনুভব করছে। আজও সে বোলিং করেছে। আর তার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।`

তিনি আরও বলেন, `ফিজিওর দিক থেকে মোস্তাফিজের খেলতে কোন সমস্যা নেই। তবে তাকে নিয়ে আমরা কোন ঝুঁকি নিতে চাই না। ম্যাচের আগে বোলিং করার পর সে যদি খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে করে তাহলেই তাকে খেলানো হবে।`

ইনজুরি কাটিয়ে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে পাঁচ মাস পর ক্রিকেটে ফেরেন মোস্তাফিজ। মাঠে ফিরেই বল করেছেন সাত ওভার। ৩৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।

নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে টাইগাররা

নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরদিনই ওয়াংঙ্গেরি ছেড়ে ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছালেও টাইগাররা প্রথম অনুশীলন করেছে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর)।
ওয়ানডের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শুরু হবে। আগামী সোমবার হ্যাগলি ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপে প্রথম ওয়ানডে খেলবে টাইগাররা। তার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অনুশীলনে নামেন মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকরা।
আগামী ২৬ ডিসেম্বর এই ক্রাইস্টচার্চেই টাইগারদের বিপে মাঠে নামবে কিউইরা। হ্যাগলি ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপে প্রথম ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। তাই, প্রস্তুতি ম্যাচের উত্তর শহর ছেড়ে দেিণ অবস্থান করছে মাশরাফি, মুশফিক, তামিম, সাকিব, সৌম্য, সাব্বিররা। ঠান্ডা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে টাইগাররা আরও একদিন সময় পাচ্ছে। ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে সেখানে হালকা বৃষ্টি হয়েছে।
অনুশীলন চলাকালীন টাইগারদের একাংশ/ছবি: সংগৃহীততিন ম্যাচ সিরিজের বাকী দু’টি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর। তবে, পরের দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে নেলসনে। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় পর বিদেশের মাটিতে এটিই হতে যাচ্ছে টাইগারদের প্রথম দ্বিপাকি সিরিজ। সবশেষ ২০১০ সালে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিল টিম বাংলাদেশ।
ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছে শুক্রবার অনুশীলন করেনি চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। তবে, টিম হোটেলে অবস্থানকালে দলের সদস্যদের মাঝে দীর্ঘ সময় মিটিং সম্পন্ন হয়।
ওয়ানডের পর আগামী ০৩ জানুয়ারি নেপিয়ারে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবে মাশরাফি বাহিনী। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ ০৬ এবং ০৮ জানুয়রী। দুটি ম্যাচই হবে মাউন্ট মাউনগানুইয়ে।
আগামী ১২-১৬ জানুয়ারি দুই দলের মধ্যকার প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ওয়েলিংটনে। আর ২০-২৪ জানুয়ারি দ্বিতীয় টেস্ট হবে ক্রাইস্টচার্চে। ফলে, ক্রাইস্টচার্চ থেকে টাইগারদের মিশন শুরু এবং শেষ।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সবগুলো ওয়ানডে ও টেস্ট ম্যাচ ভোর ৪টায় শুরু হবে। প্রথম টি-টোয়েন্টি দুপুর ১২টায়। পরের দুই ম্যাচ মাঠে গড়াবে সকাল ৮টায়।
অনুশীলন চলাকালীন টাইগারদের একাংশ/ছবি: সংগৃহীতনিউজিল্যান্ডে আসার আগে অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্প চলাকালীন দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটিতে জিতেছিল টাইগাররা। তবে, পরের ম্যাচে হেরে যায় ম্যাশ বাহিনী। নিউজিল্যান্ডে এসে স্বাগতিক একাদশের বিপে প্রস্তুতি ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ। তাই টানা দুই ম্যাচ হারের পর ওয়ানডেতে মাঠে নামতে হচ্ছে টাইগারদের।
এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপে ১১টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। আটটিই জিতে নেয় কিউইরা। বাকি তিন ম্যাচ ড্র। ওয়ানডেতে ২৫ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে আট ম্যাচে জয় (১৭টিতে হার) নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টিতে চার ম্যাচেই শেষ হাসি হাসে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

হেগলি ওভালে এখনো হারেনি নিউজিল্যান্ড

বিশ্বকাপের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারলেও এর আগে ঘরের মাঠে পায় টানা ষষ্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ। এবার টাইগারদের ল্য দেশের বাইরে নিজেদের তুলে ধরার। আর প্রথমেই নিউজিল্যান্ডকে পাচ্ছেন মাশরাফি-সাকিবরা।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে আগামী ২৬ ডিসেম্বর (সোমবার) মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা হেগলি ওভালে এখন পর্যন্ত হারের স্বাদ পায়নি নিউজিল্যান্ড। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে প্রতিটি ম্যাচেই বিজয়ী দল নিউজিল্যান্ড। আর সব কটিই শ্রীলঙ্কার বিপ।ে
নিউজিল্যান্ডের হয়ে চার ওয়ানডেতে ৩৩ উইকেট পেয়েছেন কিউই পেসাররা। আর স্পিনারদের কপালে জুটেছে মাত্র ৪ উইকেট। কিউইদের হয়ে এ মাঠের সবচেয়ে সফল বোলার মিচেল ম্যাকলেনাহান। ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট তার। বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বিষয় ম্যাকলেনাহান বাংলাদেশের বিপে একাদশে নেই। তবে দুই ম্যাচে ৮ উইকেট পাওয়া ফাস্ট বোলার ম্যাট হেনরি ঠিকই আছেন। এছাড়া ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি আর ফার্গুসনরা তো আছেনই।
এ পরিসংখ্যান থেকে বুঝাই যায় সোমবার হেগলি ওভালে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় এক পরীাই নেবেন কিউই পেসাররা। তামিম, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকরা তৈরি তো?

মার্চে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ

আইসিসির বাজেট বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণার পরই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) ঘোষণা দিয়েছিল চলতি বছর থেকে নিজেদের শক্তিতে উঠে দাঁড়ানোর। আর তারই অংশ হিসেবে নিজেরাই টুর্নামেন্ট আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্চে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অংশ নেবে বাংলাদেশও।
শ্রীলঙ্কায় এসিসি সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বছরের মার্চ থেকে নতুন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান এমার্জিং কাপ। আর এবারের এই টুর্নামেন্টে এশিয়ার দুটি সহযোগি দেশের পাশাপাশি অংশ নেবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার একটি করে দল। এই খবর নিশ্চিত করেছে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।
এই প্রসঙ্গে নিজামউদ্দিন বলেন, ‘ আগামী ১৫ থেকে ২৫ মার্চ দুবাইতে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। আর এশিয়া কাপের পাশাপাশি এমার্জিং এশিয়া কাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ও মেয়েদের এশিয়া কাপ এখন থেকে নিয়মিত আয়োজন করা হবে বলে আমরা আশা করছি।’
এদিকে এ টুর্নামেন্টে এশিয়ার সহযোগি দেশগুলো তাদের মূল জাতীয় দল পাঠালেও চারটি টেস্ট খেলুড়ে দল তাদের অনুর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাবে। তবে শর্ত হচ্ছে এই দলে ৩ জন জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে রাখতেই হবে। আর টুর্নামেন্টের দুটি সহযোগি দেশ বাছাই করা হবে মূলত র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে।

নিউজিল্যান্ড সিরিজ বাংলাদেশকে বসাতে পারে শক্তিশালী জায়গায়

পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ সিরিজ জিতলে নিজেদের সপ্তম স্থানটা করবে আরও সুসংহত। তাতে ২০১৭ সালের বিশ্বকাপ পথটা হয়ে যাবে আরও সহজ।
২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে ওয়ানডেতে উড়ছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঘরের মাঠে হারিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের বড় দলদের। এবার পালা ঘরের বাইরে নিজেদের প্রমাণের। যে মিশনে নিউজিল্যান্ডের সুইং আর বাউন্সি উইকেটে দিতে হবে কঠিন পরীা। যদি এই পরীাতে সফল হয় বাংলাদেশ, তাহলে শুধু পারফরম্যান্সে নয়, র‌্যাংকিংয়েও পেয়ে যাবে শক্তিশালী জায়গা। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ সিরিজ জিতলে নিজেদের সপ্তম স্থানটা করবে আরও সুসংহত। তাতে ২০১৭ সালের বিশ্বকাপ পথটা হয়ে যাবে আরও সহজ।
সিরিজ হারলেও ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের সাত নম্বরেই থাকবে বাংলাদেশ। তবে জিতলে যোগ হবে বাড়তি পয়েন্ট। সামনের বিশ্বকাপে সরাসরি সুযোগ পাওয়ার পথে ফেলবে বড় ধাপ। যে পথে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে আরও এগিয়ে যাবে মাশরাফিরা যদি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ না হয়। এই মুহূর্তে ৯৫ পয়েন্ট নিতে সপ্তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের পরে রয়েছে পাকিস্তান (৮৯) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৮৭)। ২০১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক ইংল্যান্ড বাদ দিয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র‌্যাংকিংয়ের সেরা সাত দল সরাসরি সুযোগ পাবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে।
সিরিজ হারলে নিউজিল্যান্ড র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে যাবে একধাপ। বাংলাদেশ অবশ্য যে কোনও ফলাফলেই ধরে রাখবে সপ্তম স্থান।
কী হলে কী হবে :
নিউজিল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে জিতলে : তখন স্বাগতিকদের পয়েন্ট হবে ১১১, আর বাংলাদেশের ৪ পয়েন্ট কমে হবে ৯১।
নিউজিল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জিতলে : তখন স্বাগতিকদের পয়েন্ট হবে ১০৯, বাংলাদেশের পয়েন্ট থাকবে আগের মতোই ৯৫।
বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে জিতলে : নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট হবে ১০৫ (চার থেকে নেমে যাবে পাঁচে), বাংলাদেশের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ১০০।
বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিতলে : নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট হবে ১০৭ (দশমিক ব্যবধানে পেছনে চলে যাবে ইংল্যান্ডের), আর বাংলাদেশের ২ পয়েন্ট বেড়ে হবে ৯৭।

ফিটনেসের উন্নতি হচ্ছে মুস্তাফিজের

ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে শনিবার প্রথম উড়লো বাংলাদেশের লালসবুজ পতাকা। কারণ এখানেই যে সোমবার অনুষ্ঠিত হবে নিউজিল্যান্ডের বিপে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। শুরু হবে বাংলাদেশ দলের অফিসিয়াল নিউজিল্যান্ড সফর-ব্ল্যাক ক্যাপস বনাম টাইগার্স। শনিবার এ মাঠেই প্রথম অনুশীলন করল টিম বাংলাদেশ। তিন ঘন্টার বেশি সময় ধরে এখানে ঘাম ঝরিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। ১৫ জনের মূল দলের সবাই অনুশীলনে ছিলেন। ১৫ জনের বাইরে উদীয়মান নতুন যাদেরকে দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে উড়িয়ে আনা হয়েছে, তারাও ছিলেন অনুশীলনে। খুব স্বাভাবিক নেট প্র্যাকটিসে তাদেরকে নেয়া হয়নি।
অনুশীলনে সবার নজর ছিল মুস্তাফিজের দিকে। বাংলাদেশের অন্যতম বোলিং স্তম্ভ কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ শতভাগ ফিট কিনা, এ প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ, ব্যাটিং পরামর্শক থিলান সামারাভিরা এবং খোদ মুস্তাফিজের কাছে প্রশ্নটি রাখা হয়েছিল। ওয়ালশ, সামারাভিরা এদের কেউ শতভাগ জোর দিয়ে বলতে চাননি যে মুস্তাফিজ শতভাগ ফিট। বলেছেন, ‘ও ভালো করছে, দিনে দিনে উন্নতি করছে, আশা করা যাচ্ছে এই সফরের মধ্যেই সে অনেক উন্নতি করে ফেলবে।’
আর মুস্তাফিজ কী বলেছেন? আইসিসির ২০১৬ সালের উদীয়মান ক্রিকেটারের নতুন সম্মান যোগ হয়েছে তার ঝুলিতে। এ প্রসঙ্গ তুলতে স্বভাবসুলভ লাজুক মুস্তাফিজ বলতে চাইলেন তার কাছে সবচেয়ে বড় হলো তিনি দলে ফিরে এসেছেন। সবার সঙ্গে আছেন, অনুশীলন করছেন, সবার সমর্থন পাচ্ছেন। তার অবস্থা আসলে কী, নিজেকে পুরোপুরি ফিট মনে হয় কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো অনুভব করছেন। একটু সমস্যা হয়, তবে তা বিশেষ কিছু না। খুব তাড়াতাড়ি আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।’ তার যে মূল অস্ত্র কাটার, তা তিনি এখন শতভাগ দিতে পারছেন কিনা জানতে চাইলে, স্বীকার করেন তিনি এখন পুরোপুরি কাটার ডেলিভারির চেষ্টা করছেন না। একটু একটু করছেন। আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ কখনও স্বাগতিকদের বিপে কোনও ম্যাচ জেতেনি। এবার কি নিউজিল্যান্ডের বিপে প্রথম ম্যাচ জেতাতে তাকেই ভাবা হচ্ছে মূল অস্ত্র? এ প্রশ্নে লাজুক মুস্তাফিজ আরও লাজুক হন। জড়তা কাটিয়ে বলেন, ‘আমি তো একা দলকে জেতাতে পারব না। তবে পুরো দল আমাদের ভালো খেলছে। পুরো দল ভালো খেলেই আমরা জিততে পারি।’ মুস্তাফিজের ইচ্ছার পুরো বাংলাদেশ দল ভালো খেলবে কিনা তা জানতে অপো করতেই হবে আগামী সোমবার পর্যন্ত।

করপোরেট ক্রিকেটে ওয়ালটন চ্যাম্পিয়ন

আল হারামাইন পারফিউমস ষষ্ঠ টি-২০ করপোরেট ক্রিকেটের শিরোপা জিতেছে ওয়ালটন গ্রুপ। শনিবার রেসিডেনসিয়াল কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ওয়ালটন ৬৪ রানে এডিসন গ্রুপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেটে ১৪১ রান করে ওয়ালটন। ৫৫ বলে ৫৭ রান করে দলের সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। এডিসন গ্রুপের শাহ মাহমুদ ১৪ রানে নেন তিনটি উইকেট। জবাবে ১৭.৩ ওভারে ৭৭ রানে অলআউট হয় এডিসন গ্রুপ। মুরাদ চৌধুরী করেন ২৫ রান। আট রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ওয়ালটনের রাকিব হাসান।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন। আল হারামাইন পারফিউমসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সাব্বির আহমেদ, বিসিবি পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি ও অন্যরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সীমিত ওভারে নেই সাউদি-বোল্ট

টানা খেলার ধকল থেকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশের বিপে সীমিত ওভারের খেলায় থাকছেন না নিউজিল্যান্ডের দুই পেসার টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট। নিউজিল্যান্ড কোচ মাইক হেসন ওই দুই পেসারের না থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপে সাউদি ও বোল্টের না থাকার কথা জানিয়ে হেসন বলেন, ‘ওয়ানডে থেকে টি-টোয়েন্টির শুরু পর্যন্ত থাকবেন না ট্রেন্ট। তার সঙ্গে টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে সীমিত ওভারে থাকবেন না টিম। সব ধরনের ফরম্যাটে সমতার জন্যেই বোলারদের নিয়ে এভাবে দল সাজানো হয়। টেস্টের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নিতে আমরা তাদের সুযোগ দিতে চাই।’
সাউদি ও বোল্টের শূন্যস্থান পূরণ করতে নিউজিল্যান্ডের সীমিত ওভারের দলে ডাক পেতে পারেন লকি ফারগুসন। তাকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে হেসন বলেন, ‘আশা করছি সে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের বিপে চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে। তার বোলিং বেশ ভালো। বলের গতি ও বাউন্সও অসাধারণ।’
বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান এবং অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ব্যাপারেও শিষ্যদের সতর্ক থাকার কথা বলেছেন নিউজিল্যান্ড কোচ হেসন।

ফেসবুকে কিউইদের বিপক্ষে সুখস্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন মুশফিকুর

আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের টগবগে করে তুলতে সুখস্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন টাইগার দলের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ আট ওয়ানডের মধ্যে ৭টিতেই জিতেছিলো বাংলাদেশ, ১টিতে নিউজিল্যান্ড। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশ ৭, নিউজিল্যান্ড ১ লিখে একটি ছবি পোস্ট করেছেন মুশফিকুর।
২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে আসে নিউজিল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে কিউইদের ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছিলো টাইগাররা। সিরিজের একটি ম্যাচ হয় পরিত্যক্ত। এরপর ২০১৩ সালে আবারো বাংলাদেশ সফরে এসে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হারে নিউজিল্যান্ড। ফলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচ জয়ের স্বাদ নেয় টাইগাররা।
২০১৩ সালের পর আর কোন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপে পুল- ‘এ’র ম্যাচে দেখা হয় দু’দলের। কিন্তু ওই ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বাঘের মত লড়াই করে হারে টাইগাররা।
তাই টানা সাত ম্যাচ হারের পর, অবশেষে হ্যামিল্টনে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখে নিউজিল্যান্ড। ফলে সর্বশেষ আট ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে- বাংলাদেশ ৭, নিউজিল্যান্ড ১।
তাই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে মুশফিকুরের এমন সুখস্মৃতি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একটি সিরিজ জয়ের টনিক হিসেবেও কাজ করতে পারে বাংলাদেশের কাছে।

১০ হাজার রানের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওপেনার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল সম্বন্ধে পাঁচ শব্দে যদি একটি বাক্য বলতে বলা হয় আপনি প্রত্যুত্তরে কী বলবেন? কি ভেবে পাচ্ছেন না তবে এভাবেই শুরু করুন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান।
কেননা তামিম ইকবাল বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার দেশের হয়ে ব্যাট হাতে প্রায় সকল রেকর্ড নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট (৩ হাজার ৩৪৯ রান), ওয়ানডে (৫ হাজার ৭ রান) এমনকি টি-টোয়েন্টিতে (১ হাজার ১৫৪ রান) সর্বাধিক রানের কারিগর তিনি।
পাশাপাশি ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ১৬টি সেঞ্চুরির রেকর্ড তার-ই দখলে। বলাবাহুল্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র সেঞ্চুরি করার সৌভাগ্য হযেছে শুধু তারই। এমনককি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ছয় হাজার (৬ হাজার ৬৯৯) রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেছেন তামিম ইকবাল।
এবার সেই তামিম ইকবাল আবারও দাঁড়িয়ে অনন্য মাইলফলকের সামনে।তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে প্রথম কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তামিম ৪৯০ রান যোগ করতে পারলেই প্রথম টাইগার ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ১০ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করবেন। বর্তমানে তামিম ইকবালের তিন ফরম্যাটের রান সংখ্যা ৯ হাজার ৫১০।
এদিকে আগামী ‘বক্সিং ডে’ (২৬ ডিসেম্বর) তে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিপাকি সিরিজ। যেখানে স্বাগতিকদের বিপে তিনটি ওয়ানডে, তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। তামিমের সঙ্গে তার ভক্তদেরও চাওয়া থাকবে এই সিরিজেই যেন তিনি ১০ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করেন।

আইসিসি পুরস্কারের যোগ্য নন মুস্তাফিজ!

অসাধারণ একটি বছর কাটানোর জন্য ২০১৬ সালের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম ঘোষণা করে আইসিসি। তবে মুস্তাফিজ এ পুরস্কারের যোগ্য নন বলে মনে করছে ভারতের ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট স্পোর্টসকিডা।
গত বৃহস্পতিবার ২০১৬ সালের সেরা ক্রিকেটারদের নাম ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেখানে উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের নাম ঘোষণা করা হয়।
তবে স্পোর্টসকিডার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের এ পুরস্কারের জন্য নাকি মুস্তাফিজের চেয়েও যোগ্য ক্রিকেটার রয়েছেন। এ েেত্র ভারতীয় ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুল, জাসপ্রিত বুমরাহসহ কুশল মেন্ডিস এবং কাগিসো রাবাদার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তি হিসেবে স্পোর্টসকিডা দেখিয়েছে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কম ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজ। সর্বশেষ ১২ মাসে মুস্তাফিজ মাত্র ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সেই ১৩ ম্যাচে ১১.৭৪ গড়ে নিয়েছেন ২৭ উইকেট।
অন্যদিকে জাসপ্রিত বুমরাহ ২৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৭টি উইকেট। আর ভারতীয় ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুল তিন ফরমেটেই শতক হাঁকিয়েছেন। মুস্তাফিজের চেয়ে বেশি ম্যাচ এবং ধারাবাকিতা ধরে রাখার জন্য তাদের বেশি যোগ্য দাবি করা হয়।
তাদের বাদ দিলেও মুস্তাফিজকে যোগ্য মনে করেনি স্পোর্টসকিডা। আইসিসির সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে এরপরেও যদি কেউ যোগ্য হোন সেটা দণি আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা হতে পারত বলে রিপোর্টে বলা হয়।
মুস্তাফিজ ও রাবাদা একই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করেন এবং একই সময়ে দুজনেই অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। তবে মুস্তাফিজের চেয়ে রাবাদার পারফরম্যান্স বেশি উজ্জ্বল ছিল বলে স্পোর্টসকিডা উল্লেখ করে।

সিলেটকে সহজেই হারালো রাজশাহী

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে সিলেট বিভাগকে ১৫১ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে রাজশাহী।
আগে ব্যাট করে রাজশাহী ২০৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে, সিলেট সবক’টি উইকেট হারিয়ে তোলে ২১৯ রান। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহী ৩৪৪ রান তুললে জয়ের জন্য সিলেটের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৩৩০ রান। তবে, ১৭৮ রান তুলতেই গুটিয়ে যায় সিলেটের ইনিংস।
রাজশাহীর হয়ে প্রথম ইনিংসে মিজানুর রহমান ৩২, জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৬, ফরহাদ হোসেন ৩৫, জহুরুল ইসলাম ১২, মুক্তার আলি ২৯ আর সাঞ্জামুল ইসলাম ২০ রান করেন। ফরহাদ রেজার ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। সিলেটের হয়ে প্রথম ইনিংসে একাই ছয়টি উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে সিলেটের হয়ে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন অপরাজিত থাকা আবুল হাসান। ৪১ রান করেন রুমান আহমেদ। ৪০ রানের ইনিংস খেলেন দলপতি অলোক কাপালি। ৩৬ রান আসে ওপেনার সায়েম আলমের ব্যাট থেকে। রাজিন সালেহ রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন। রাজশাহীর হয়ে ৫টি উইকেট দখল করেন ফরহাদ রেজা। এছাড়া, ৪টি উইকেট লাভ করেন মামুন হোসেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহীর হয়ে ফরহাদ হোসেন ১৩২ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন। তার ২৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৯টি চার আর ৪টি ছক্কার মার। ওপেনার মাইশুকুর রহমান ৩৮ রান করেন। ৭৮ রান আসে জুনায়েদ সিদ্দিকীর ব্যাট থেকে। ৩০ রান করেন সাঞ্জামুল ইসলাম। সিলেটের হয়ে আবু জায়েদ তুলে নেন তিনটি উইকেট।
৩৩০ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের ওপেনার ইমতিয়াজ ৩২ আর সায়েম আলম ৪ রান করে বিদায় নেন। জাকির হাসান ২৪, রাহাতুল ফেরদৌস ২, অলোক কাপালি ৭, রুমান ৫, শাহানুর ২১, আবুল হাসান ০ রানে বিদায় নেন। তবে, ১৭৮ রানে সিলেট গুটিয়ে গেলেও ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন রাজিন সালেহ। তার ১২৬ বলের ইনিংসে ছিল ১২টি চারের মার।
রাজশাহীর হয়ে তিনটি করে উইকেট দখল করেন সাকলাইন সজীব এবং সাঞ্জামুল। দুটি উইকেট লাভ করেন ফরহাদ রেজা। ম্যাচ সেরা হন ফরহাদ হোসেন।

চিটাগংকে উড়িয়ে দিলো রংপুর

চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে বড় জয় তুলে নিয়েছে রংপুর বিভাগ। ফলোঅনে পড়া চিটাগং বিভাগকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নাসির হোসেন, লিটন দাস, নাঈম ইসলাম আর সোহরাওয়ার্দি শুভদের রংপুর।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চারদিনের ম্যাচের চতুর্থ দিন জয় পাওয়া রংপুর নিজেদের প্রথম ইনিংসে তোলে ৪৫০ রান। জবাবে, ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮২ রানেই গুটিয়ে যায় চিটাগংয়ের ইনিংস। ফলোঅনে পড়ে আবারো ব্যাটিংয়ে নামা চিটাগং দ্বিতীয় ইনিংসে তোলে ২৯৭ রান। ফলে, রংপুরের সামনে জয়ের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় মাত্র ৩০ রান। বিনা উইকেটে তা টপকে যায় রংপুর।
রংপুরের হয়ে প্রথম ইনিংসে ১২১ রানের দুর্দান্ত শতক হাঁকান সোহরাওয়ার্দি শুভ। তার ২০৪ বলের ইনিংসে ছিল ১৪টি বাউন্ডারি। ওপেনার লিটন দাস করেন ৭৩ রান। দলপতি নাঈম ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। অলরাউন্ডার নাসির হোসেন খেলেন ৩০ রানের ইনিংস।
এছাড়া, প্রথম শ্রেণির ম্যাচে প্রথমবারের মতো মাঠে ব্যাট হাতে নেমে আরিফুল হক করেন ৫২ রান। শেষ দিকে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন আলাউদ্দিন বাবু। চিটাগংয়ের হয়ে চারটি উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এছাড়া, তিনটি উইকেট দখল করেন হোসাইন আলি।
চিটাগংয়ের হয়ে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন দলপতি ইরফান শুক্কুর। এছাড়া, ২৮ রান করেন ওপেনার অভিষেক মিত্র। ২৫ রান আসে সাইফুদ্দিনের ব্যাট থেকে আর ২৩ রান করেন তাসামুল হক। রংপুরের হয়ে তিনটি করে উইকেট তুলে নেন সেঞ্চুরিয়ান সোহরাওয়ার্দি শুভ এবং অভিষিক্ত মোহাম্মদ সাদমান। নাসির হোসেন একটি উইকেট দখল করেন।
ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে চিটাগংয়ের হয়ে ওপেনিংয়ে নামা অভিষেক মিত্র ১১ আর পিনাক ঘোষ ৪৫ রান করেন। ইয়াসির আলির ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান। সাঈদ সরকার ২২, সাইফুদ্দিন ৪৩, ইফতেখার সাজ্জাদ ৪৩ রান করে বিদায় নেন। চিটাগং ২৯৭ রানে অলআউট হলে রংপুরের সামনে মাত্র ৩০ রানের টার্গেট দাঁড়ায়। দুই ওপেনার সায়মন আহমেদ (১৮) আর লিটন দাসের (১২) ব্যাটে ভর করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ল্েয পৌঁছে রংপুর।

মাশরাফিদের বরণ করে নিলেন ক্রাইস্টচার্চের বাংলাদেশিরা

খেলোয়াড়দের কয়েকজন প্রবাসীদের অনুরোধে তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। ছবির জন্যে সবার তাড়াহুড়া দেখে বাংলাদেশ দলের অন্যতম স্তম্ভ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান মজা করে বলেন, ‘অত তাড়াহুড়ার কী আছে। আমরা তো এখানে কয়েকদিন আপনাদের সঙ্গে থাকব।’
শুক্রবার বৃষ্টিভেজা বিকালে অকল্যান্ড থেকে ক্রাইস্টচার্চ এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দুপুর ২-২৫ মিনিটে এয়ার নিউজিল্যান্ডের এনজেড ৫২৭ ফাইটটি আসার কথা থাকলেও তা পৌঁছেছে কিছুটা দেরিতে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়দের বের হতে বিকাল সোয়া তিনটার মতো বেজেছে। ক্রাইস্টচার্চ বিমানবন্দরে প্রিয় দলটিকে অভ্যর্থনা জানান একদল প্রবাসী বাংলাদেশি।
৮৫ মিনিটের ফাইটে উড়ে এসে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ দলের সদস্যরা বেশ ক্যাজুয়াল মুডেই ছিলেন। খেলোয়াড়দের কয়েকজন প্রবাসীদের অনুরোধে তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। ছবির জন্যে সবার তাড়াহুড়া দেখে বাংলাদেশ দলের অন্যতম স্তম্ভ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান মজা করে বলেন, ‘অত তাড়াহুড়ার কী আছে। আমরা তো এখানে কয়েকদিন আপনাদের সঙ্গে থাকব। একসঙ্গে অনেক ছবি তোলা যাবে। গল্প করা যাবে ‘ অভ্যর্থনার জবাবে বাংলাদেশের সীমিত ওভার ক্রিকেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, ‘আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা যাতে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি।’

ওপেনার ইমরুল কায়েসের প্রতিক্রিয়াটা ছিল এমন, ‘অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে। আশা করি আমরা এখান থেকে ভালো একটি সূচনা করতে পারব।’ যদিও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি দলের কোচ হাতুরাসিংহে।
বিমানবন্দর পর্ব শেষে টিম বাসে করে বাংলাদেশ দল চলে যায় ক্রাইস্টচার্চের হোটেল লাটিমারে। ক্রাইস্টচার্চের দিনগুলোয় এই হোটেলেই থাকবে বাংলাদেশ দল। শনিবার এখানকার হেগলি ওভালে প্রথম অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল। আগামী সোমবার ২৬ মার্চ এই ওভালেই নিউজিল্যান্ডের বিপে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। সঙ্গে হবে আরেক পরীাও। কারণ এর আগে বাংলাদেশ দল দেশের মাটিতে অনেক দিন ধারাবাহিক ভালো খেলেছে, এবার তাদের দেশের বাইরে ভালো খেলার এবং জয়ের পরীা দিতে হবে।
উল্লেখ্য এই নিউজিল্যান্ড সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ দল কোটি টাকা ব্যয়ে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে নর্থ সিডনি ওভালে সিডনি সিক্সারের বিপে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে জিতলেও পরের খেলায় হেরেছে। হার দিয়ে শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ড সফরও। অকল্যান্ডের হোয়ানগারেইতে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৩ উইকেটে হেরেছে মাশরাফি বাহিনী। হোয়ানগারেইতে বৃষ্টির জন্য নির্ধারিত সময়ের আধ ঘন্টার বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। বাংলাদেশ ইনিংসের একাদশ ওভার শেষে আবার বৃষ্টি নামলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৪৩ ওভারে নেমে আসে। ওই ৪৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৫ রান করতে পারে অতিথিরা। কিন্তু স্বাগতিকরা ৪১.৪ ওভারে ৭ উইকেটে পৌঁছে যায় সে ল্েয।
সব মিলিয়ে তিন শ’র মতো প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন ক্রাইস্টচার্চে। নিউজিল্যান্ডের দণি দ্বীপ শহরটিতে স্বদেশি দলের আগমন উপল্েয তাদের মধ্যে অন্যরকম উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এদের অনেকে দেশ থেকে আনিয়েছেন দলের জার্সি। বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা, বাঘের পুতুল সহ আরও অনেককিছু। এসব নিয়ে বিজয়ের মাসে দলের খেলা দেখার প্রস্তুতি, তাদের আবেগ-অনুভূতির পারদ তাই ছুঁয়েছে আকাশ। যা আসলে ভাষায় প্রকাশের নয়।

বরিশালের বিপক্ষে বড় জয় পেল খুলনা

ওয়ালটন এলইডি টিভি ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে খুলনা বিভাগ। আগের দিনই চালকের আসনে থাকা খুলনা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পেসার আশিকুজ্জামানের বোলিং তোপে মাত্র ১১ রানের লিড নিতে সমর্থ হয় বরিশাল। আর তা সহজেই পার করে ১০ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় জিয়াউর রহমানের দল।
সাভারের বিকেএসপিতে নিজেদের আগের দিনের ১০ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে বরিশাল। ব্যাটিংয়ে নেমেই খুলনার পেসারদের তোপে পরে তারা। দলীয় ৬ রান যোগ করতেই ফিরে যান শাহরিয়ার নাফীস। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে তারা। ফলে মাত্র ২১১ রানেই গুঁটিয়ে যায় দলটি। পঞ্চম উইকেটে আল-আমিনের সঙ্গে মনির হোসেনের ৬০ রানের জুটিই ছিল সবচেয়ে বড়।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন মনির হোসেন। ৭২ বলে ১০টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ১০ নম্বরে নেমে তৌহিদুল ইসলামের করা ৩০ রানে ইনিংসের সুবাদে পরাজয়ের লজ্জা থেকে মুক্তি পায় দলটি। এছাড়া ৭২ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৩৭ রান করেন আল-আমিন।
এদিন শুরু থেকে দুর্দান্ত বোলিং করে একাই বরিশালের ৬ উইকেট তুলে নেন আসিকুজ্জামান। ৫৭ রানের বিনিময়ে এ উইকেট পান তিনি। এছাড়া জিয়াউর রহমান ও বিশ্বনাথ হালদার নেন ২টি করে উইকেট।
জয়ের জন্য ১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০ বলেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা। ৮ বলে মেহেদী হাসান ১১ রান করেন। ফলে ১০ উইকেটের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে তুষার ইমরানের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি ও এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৭১ রান সংগ্রহ করে খুলনা। বরিশাল তাদের প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে অলআউট হয়ে যায়।

সিলেটকে বড় লক্ষ্য দিল রাজশাহী

ওয়ালটন এলইডি টিভি ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে জমে উঠেছে সিলেট বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের খেলা। তৃতীয় দিনে জয়ের জন্য বড় লক্ষ্য পেয়েছে সিলেট। ফরহাদ হোসেনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও জুনায়েদ সিদ্দিকীর হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে রাজশাহী।
বৃহস্পতিবার বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আগের দিনের তিন উইকেটে ৯২ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। তবে শুরুতেই নাইটওয়াচম্যান সাকলাইন সজীবকে হারায় তারা। তবে চতুর্থ উইকেটে ফরহাদের সঙ্গে ৯০ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন জুনায়েদ। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে হামিদুর রহমানের সঙ্গে ৬৬ রানের আরও একটি দারুণ জুটি উপহার দেন ফরহাদ। ফলে ৩৪৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় দলটি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৩২ রান করেন ফরহাদ। ২৩৪ বল মোকাবেলা করে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ১০৯ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৭৮ রান করেন জুনায়েদ। এছাড়া মাইশুকুর ৩৮ ও সানজামুল ৩০ রান করেন।
সিলেটের পক্ষে ৭৭ রানে ৩টি উইকেট নিয়েছেন আবু জায়েদ রাহী। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন খালেদ আহমেদ ও রাহাতুল ফেরদৌস। এছাড়া ১টি করে উইকেট পান শানুর রহমান, আবুল হাসান রাজু ও অলক কাপালী।
৩৩০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সায়েম আলমের উইকেট হারিয়েছে সিলেট। তবে আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন (১৮) ও জাকির হাসানের (৪) দৃঢ়তায় দিন শেষে ২৮ রান সংগ্রহ করেছে দলটি। রাজশাহীর পক্ষে ১টি উইকেট নিয়েছেন মুক্তার আলী।

ইনিংস পরাজয় এড়াতে লড়ছে চট্টগ্রাম

ওয়ালটন এলইডি টিভি ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ইনিংস পরাজয় এড়াতে লড়ছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ফলোঅনে পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও ধুঁকছিল দলটি। তবে ইয়াসির আলী ও সাঈদ সরকারের ব্যাটে ইনিংস হার এড়ানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি।
বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগের দিনের দুই উইকেটে ৮২ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে চট্টগ্রাম। তবে আর ৩১ রান যোগ করার পর সাজঘরে ফিরে যান ইরফান শুক্কুর। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ফলে মাত্র ১৮২ রানে গুঁটিয়ে যায় তারা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন ইরফান শুক্কুর। ৯১ বলে ৬টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। এছাড়া অভিষেক মিত্র ২৮ ও সাইফউদ্দিন ২৫ রান করেন। রংপুরের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন সোহরাওয়ার্দি শুভ ও মোহাম্মদ সাদ্দাম। ২টি উইকেট নেন মাহমুদুল হাসান। ১টি করে উইকেট নেন নাসির হোসেন ও আলাউদ্দিন বাবু।
ফলোঅনে পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা ভালো করতে পারেনি চট্টগ্রাম। দলীয় ১৬ রানেই ফিরে যান ওপেনার অভিষেক। এরপর দ্রুতই বিদায় নেনে তাসামুল। তবে তৃতীয় উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ইরফান ও পিনাক ঘোষ।
এরপর দলীয় ৮৭ রান থেকে ৮৮ রানে পৌঁছাতেই এ দুই সেট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। তবে পঞ্চম উইকেটে ৬১ রানের দারুণ জুটি গড়ে দলকে লিডের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ইয়াসির আলী ও সাঈদ সরকার। ইয়াসির ৩৯ ও সাঈদ ২১ রানে ব্যাট করছেন।
রংপুরের পক্ষে ১৬ রানে ২টি উইকেট পেয়েছেন আরিফুল হক। এছাড়া আলাউদ্দিন বাবু ও সোহরাওয়ার্দি শুভ ১টি করে উইকেট নেন।

এবার ১২ রান করে রানআউট আশরাফুল

এবারও পারলেন না। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শিকার হলেন দুর্ভাগ্যের। মাত্র রানে রান আউট হয়ে গেলেন তিনি।
গত সেপ্টেম্বরে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার পর আশরাফুল খেলার সুযোগ পেয়েছেন কেবল জাতীয় ক্রিকেট লিগ। এ নিয়ে খেললেন চতুর্থ রাউন্ড। একটি ম্যাচেও অন্তত হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন না তিনি। সর্বোচ্চ রান করেছেন ৩৯। সদ্য শেষ হওয়া চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই এই রান করেন তিনি।
তবে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল না হলেও, বল হাতে দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ঢাকা বিভাগের তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষকে অলআউট করে দিয়েছিলেন ১৮৭ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা মেট্রো যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে, তখন আশরাফুলের কাছ থেকে বড় ইনিংস আশা করছিল সবাই। তার ব্যাটের দিকেই তাকিয়েছিল ঢাকা মেট্রো; কিন্তু ৪৪ বল খেলে ১২ রান করার পর নাজমুল ইসলামের হাতে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় আশরাফুলকে। তার পর মেহরাব হোসেন জুনিয়র ৩৯ রান করলেও মাত্র ১২৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ঢাকা মেট্রো।
ফলে জয়ের জন্য ঢাকা বিভাগের সামনে মাত্র ১০৫ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। এই রান তুলতে ৫ উইকেট হারালেও লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা বিভাগ। ৩.৫ ওভার বল করেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি আশরাফুল।

আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার অশ্বিন

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন অশ্বিন আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়ে। শুধু তা-ই নয়, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারও নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় স্পিনার। ওয়ানডের বর্ষসেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক।
স্মৃতির মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখার মতো একটা বছর পার করলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। বল হাতে যেমন আলো ছড়িয়েছেন, তেমনি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে। যার স্বীকৃতি তিনি পেলেন আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতে। শুধু তা-ই নয়, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারও নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় স্পিনার। ওয়ানডের বর্ষসেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক।
তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন অশ্বিন। শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়ের পর জিতেছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স ট্রফি। সঙ্গে পেয়েছেন বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটের পুরস্কারটাও। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর বোলার এখন অশ্বিন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকা ভোটিং সময়ে ভারতীয় এই স্পিনার নিয়েছেন ৪৮ উইকেট, সঙ্গে রান করেছেন ৩৩৬। আর শুধু ২০১৬ সালের হিসাবে ১২ টেস্টে অশ্বিনের শিকার ৭২ উইকেট, যাতে তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে পরিণত হন দ্বিতীয় দ্রুত ২০০ উইকেট নেওয়া বোলার।
ডি কক নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন এই উইকেটরক্ষক। আর ভোটিং সময়ে ১৬ ওয়ানডেতে করেছেন ৭৯৩ রান। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২২ ওয়ানডেতে তার রান ১১৭৫, যাতে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফসেঞ্চুরি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্স এবি ডি ভিলিয়ার্সের পর দ্বিতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে তাকে এনে দিয়েছে বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কার।
টি-টোয়েন্টির সেরা পারফরমার হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্লোস ব্রাথওয়েট। এই অলরাউন্ডারের ১০ বলে হার না মানা ৩৪ রানের ইনিংসের ওপর ভর দিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই বছরের শুরুর দিকে জেতে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির শিরোপা।

এক নজরে আইসিসি অ্যাওয়ার্ড :
বর্ষসেরা ক্রিকেটার : রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার : রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার : কুইন্টন ডি কক।
টি-টোয়েন্টির সেরা পারফরমার : কার্লোস ব্র্যাথওয়েট।

হেরেও স্বস্তি মাশরাফিদের

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলে ফেললো বাংলদেশ। ফল বাংলাদেশের বিপক্ষে গেলেও আসল উদ্দেশ্য সফল টাইগারদের। অনুশীলন ম্যাচটি যাদের দরকার ছিল, তারা প্রত্যেকেই পারফরম করেছেন। ব্যাট হাতে রান পেয়েছেন সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম। আর বল হাতে সাফল্য পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান এবং পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।
বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির জন্য নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টা পর ম্যাচটি শুরু হয়। বাংলাদেশ ইনিংসের ১১তম ওভার শেষে আবার বৃষ্টি নামলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৩ ওভারে। টাইগাররা ৯ উইকেটে করে ২৪৫ রান। ডি/এল পদ্ধতিতে কিউইদের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৫ রান। ৪১.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
শুরুতেই মুস্তাফিজের শিকার হয়ে ফিরে যেতে হয় ওপেনার রায়ান ডাফিকে। আরেক ওপেনার স্মিথ ও তিন নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান পাপলি মিলে ৮৮ রানের দারুণ জুটি গড়নে। সাকিবের বলে ৫০ রান করা স্মিথ ফিরে গেলে দ্রুত আরও দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
তারপর হেনরি শিপলি ও উইকেটরক্ষক বেন হর্নের ব্যাটে খেলায় ফিরে কিউইরা। শিপলিকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। ২৯ রান করে শিপলি ফিরে গেলে ব্রিট হ্যাম্পটনের সঙ্গে দারুণ জুটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ৫৩ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন হর্ন।
মাঝের সময়টাতে মুস্তাফিজের ওভারে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান কেন ম্যাকলার রান আউট হয়ে ফিরে গেলে সাকিবের জোড়া আঘাতে কিছুক্ষণের জন্য ম্যাচে ফিরেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিব ৪১ রান খরচ করে নেন ৩টি উইকেট। অন্যদিকে মুস্তাফিজ ২টি এবং মাহমুদউল্লাহ নেন একটি উইকেট।
তার আগে কোবহ্যাম ওভালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৭ রানে ওপেনার তামিম ইকবাল (১) সাজঘরে ফিরলেও ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার ৫৫ রানের জুটি গড়েন।
ইমরুল ২৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৩৬ রানের ‘ছোট ঝড়’ তুলে আউট হন। সৌম্য নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টায় ছিলেন। ৪৭ বলে ৪০ রানে থামে তার ইনিংস। এরপর মাহমুদউল্লাহ ও ‍মুশফিকুর রহিম ফিফটির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। মাহমুদউল্লাহ ৪৩ ও মুশফিক ৪৫ রানে আউট হন। শেষদিকে মাশরাফি বিন মর্তুজা ১৯ বলে ২১ রান করলে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ২৪৫ রানে।

দুই ঢাকার লড়াইয়ে জয়ী ঢাকা বিভাগ

ওয়ালটন এলইডি টিভি ১৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে দুই ঢাকার লড়াইয়ে জয় পেয়েছে ঢাকা বিভাগ। ম্যাচের শুরু থেকে বোলারদের আধিপত্য থাকায় একদিন আগেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচটি। আর তাতে পাঁচ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে মোহাম্মদ শরীফের দল।
বৃহস্পতিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে আগের দিনের চার উইকেটে ২৭ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ঢাকা মেট্রো। তবে আর ২৮ রান যোগ করতেই রান আউটে কাটা পড়েন দলের সেরা তারকা মোহাম্মদ আশরাফুল। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ফলে মাত্র ১২৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র। ৬০ বলে ৬টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। এছাড়া সাদমান ইসলাম করেন ২৮ রান। ঢাকা বিভাগের পক্ষে ২৪ রানে ৩টি উইকেট নেন মোহাম্মদ শরীফ। ২টি করে উইকেট পান তাইবুর রহমান ও শাহাদাত হোসেন। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম ও দেওয়ান সাব্বির।
ঢাকা মেট্রোর দেওয়া ১০৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার আব্দুল মজিদ ও জয়রাজ শেখ। তবে দলীয় ৩৭ রানে মজিদকে ফিরিয়ে মেট্রোকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন সৈকত আলী। এরপর দলীয় ৬২ রানে আবার জোড়া আঘাত হানেন আবু হায়দার রনি। ১ রান যোগ করার পর আবার জোড়া আঘাত হেনে রনি। ফলে দারুণভাবে ম্যাচ ফিরে আসে ঢাকা মেট্রো।
তবে ষষ্ঠ উইকেটে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাহিদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন তাইবুর রহমান। এ দুই ব্যাটসম্যানের অপরাজিত ৪৩ রানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঢাকা বিভাগ। তাইবুর ২৭ ও জাহিদ ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
তবে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন জয়রাজ। ঢাকা মেট্রোর পক্ষে ৪২ রানে ৪টি উইকেট পান রনি। এছাড়া ১টি উইকেট পান সৈকত আলী।

মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারের সেরা প্রাপ্তি

আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অর্জনের কথা জানার পর রোমাঞ্চিত বাঁহাতি এই পেসার বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা প্রাপ্তি।’
২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনায় মুস্তাফিজকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এই সময়ে তিন ওয়ানডেতে মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৮ উইকেট। অন্যদিকে ১০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে তিনি নিয়েছেন ১৯ উইকেট।
এমন এক পুরস্কার অর্জনের পর রোমাঞ্চিত মুস্তাফিজ আইসিসিকে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত এটা আমার ক্যারিবিয়ারে সেরা প্রাপ্তি। এই পুরস্কার সামনের বছরগুলোতে আমাকে আরও ভালো খেলতে উৎসাহিত করবে। এ পুরস্কার জিতে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। বিশেষকরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই অর্জনে সত্যিই আমি আনন্দিত।’
মুস্তাফিজ আরও যোগ করেন, ‘ সব ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার। এখানে খেলাটা সবসময়ই আকাঙ্খিত এবং আনন্দের। আমার জন্য এই স্বপ্নটা সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছে। যারা আমাকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে আমি আরও বেশি আনন্দের উপলক্ষ বয়ে আনতে পারব।’

প্রস্তুতি ম্যাচে হাসলো সৌম্যের ব্যাট

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নিজেদের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে রানে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। এছাড়া নিজেদের ফর্ম ধরে রেখেছেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ায়র ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ৪৩ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে ২৪৪ রান। নিউজিল্যান্ড একাদশকে জিততে হলে করতে হবে ২৪৫ রান।
আফগানিস্তান-ইংল্যান্ডের পর বিপিএলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি সৌম্য সরকার। এরপরই গুঞ্জন ওঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজে হয়তো থাকা হচ্ছে না সৌম্যে