সকাল ৯:৫২, রবিবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং

গত দশ বছরে দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করার পর এবার ২০২৩ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজন করতে চায় কেনিয়া।
আফ্রিকার কোন দেশই এ পর্যন্ত অ্যাথলেটিকসের বিশ্ব আসর আয়োজন করতে পারেনি। তবে কেনিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রী হাসান ওয়ারিও বলেন, বিশ্বের ১৩০টি দেশের অ্যাথলেটদের একত্রিত করে গত জুলাইয়ে নাইরোবিতে আইএএএফ অনুর্ধ-১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজন করে কেনিয়া তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
লন্ডনে শেষ হওয়া বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপে পদক তালিকায় যুক্তরাস্ট্রের পর দ্বিতীয় স্থান লাভ করা কেনিয়ার ক্রীড়াবিদদের দেয়া এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ওয়ারিও বলেন, ‘ছোট পরিসরের ইভেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা আমরা ইতোমধ্যে দেখিয়েছি। এখন আমাদের সামনে বড় পরিসরের আয়োজনের সময় এসেছে।’
তিনি বলেন,‘বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে আফ্রিকার কোন দেশ হিসেবে কেনিয়া প্রথমবার পদক তালিকায় শীর্ষ স্থান লাভ করে। এবার আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে আমরা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাই।’
তিনি আরো বলেন,‘ নাইরোবি, মোম্বাসা এবং এলডোরেটে আমাদের বড় তিনটি স্টেডিয়াম আছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো নতুন সাতটি স্টেডিয়াম তৈরী করা হবে।’
সম্প্রতি কনফেডারেশন অব আফ্রিকান এ্যাথলেটিক্স(সিএএ) সভাপতি হামাদ কালকাবা মালবুম বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ আফ্রিকার কোন দেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হবে।
মালবুম জানান, কেনিয়াসহ আফ্রিকার ছয়টি দেশ এ ইভেন্ট আয়োজন করতে সক্ষম। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ বিশ্ব এ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশীপ।

বোল্টই সেরা

৪ আগস্ট লন্ডনে শুরু হবে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। শেষবারের মতো ট্র্যাকে নামবেন উসাইন বোল্ট। তিনিই টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ। তাঁকে দেখার জন্যই দর্শকরা স্টেডিয়ামে ভিড় জমাবেন।
প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স সংস্থার সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো, বক্সিং কিংবদন্তি মহম্মদ আলীর সঙ্গে তুলনা করেন বোল্টকে। তিনি বলেন, ‘‌বিশ্বের সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার বোল্ট। ও একজন জিনিয়াস। ওর সঙ্গে একমাত্র মহম্মদ আলীর তুলনা হতে পারে। বক্সিংয়ে আলী যে নজির গড়েছে। অ্যাথলেটিক্সে বোল্টও সেই নজির গড়েছে। তাই বোল্টকে সেরা বলতে কোনও দ্বিধা নেই।’‌
লন্ডনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরই ট্র্যাককে বিদায় জানাবেন বোল্ট। একরকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন অলিম্পিকে ৮টি সোনার মালিক। বোল্টের অবসরের পর অ্যাথলেটিক্স যে অনেকটাই বর্ণহীন হয়ে যাবে তা মনে করেন কো। তিনি বলেন, ‘‌বোল্ট একজন চরিত্র। ও যদি নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকে, তাহলে অ্যাথলেটিক্স অনেকটাই বর্ণহীন হয়ে পড়বে।’‌
এদিকে নির্বাসিত থাকায় রাশিয়ার অ্যাথলিটদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয় নি কতৃপক্ষ।

ক্রীড়াবিদদের আইওসির বৃত্তি

২০২০ টোকিও অলিম্পিকে যেন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর এ্যাথলেটরা যোগ্যতা বলে অংশ নিতে পারে সেজন্য উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। বাংলাদেশের শূটিং, আরচারি, সাঁতারের মোট সাত ক্রীড়াবিদকে বৃত্তি দিয়েছে আইওসি। এরা হলেন : শূটার শাকিল আহমেদ, রায়হানুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও আরমিন আশা; আরচারিতে রোমান সানা ও বিউটি রায় এবং সাঁতারু আরিফুল ইসলাম। এদের চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন।

১৯৮৪ সাল থেকে অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করে ওয়াইল্ড কার্ড ছাড়া অলিম্পিকে অংশ নেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান।
তবে কোন ইভেন্টের এ্যাথলেটরা কোন্ দেশে প্রশিক্ষণ নিবেন তা চলতি মাসে নির্ধারণ করবে আইওসি। এ্যাথলেটরা দুই বছর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এ সময়ের মধ্যে তারা আইওসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। সেসব টুর্নামেন্টের ফলের ভিত্তিতে টোকিও’র টিকেট মিলবে।

আগামীকাল রোববার বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস

আগামীকাল রোববার ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপিত হবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার (এআইপিএস) অনুমোদিত সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি দিবসটি পালন করবে। বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে একযোগে উদযাপিত হবে দিবসটি।
১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার (এআইপিএস) আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওইদিনটিকেই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
বিশেষ এই দিনে, দেশের সব ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়ালেখকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি। রোববার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ক্রীড়ালেখক সমিতি কার্যালয়ে রাত আটটায় কেক কেটে ঘরোয়া পরিবেশে দিবসটি উদযাপন করা হবে।
পরর্বতীতে বিএসপিএ নাইট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাজের স্বীকৃতি যেমন দেয়া হবে ঠিক তেমনি প্রথা মেনে এআইপিএস ডে সংবর্ধনাও জানানো হবে দেশের প্রবীন ক্রীড়া সাংবাদিক ও লেখকদের।

বাদল রায়কে বিওএ-র সাহায্য

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাদল রায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিওএ’র পক্ষ থেকে ১০,০০০ মার্কিন ডলারের সমপরিমান অর্থ আট লাখ চল্লিশ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হয়। বিওএ-র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজার কাছ থেকে বাদল রায়ের পক্ষে এই অর্থ গ্রহণ করেন সাবেক জনপ্রিয় ফুটবলার এবং তাঁর সতীর্থ আব্দুল গাফ্ফার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিওএ’র মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব ও কোষাধ্যক্ষ কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল, উপ-মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর, রফিকুল ইসলাম টিপু এবং বাদল রায়ের ভাই সঞ্জয় রায়। এ সময় বিওএ-র সকল সদস্যের পক্ষ থেকে বাদল রায়ের শারিরীক উন্নতি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।

ইসলামিক গেমসে শুটিংয়ে রুপা বাংলাদেশের

সবার প্রত্যাশা ছিল আবদুল্লাহ হেল বাকিকে ঘিরে। কিন্তু বাকি নয়, চতুর্থ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ছেলেদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রুপা জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তরুণ শুটার রাব্বি হাসান। শনিবার আজারবাইজানের বাকুতে ২৪৫.৫ পয়েন্ট স্কোর করে রুপা জেতেন রাব্বি। ২৪৯.৮ স্কোর করে সোনা তুরস্কের ওমর আকগুনের।
সকালে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন বাংলাদেশের দুই শুটার। রাব্বি ৬২৪ স্কোর করে বাছাইপর্বে দ্বিতীয় হয়ে শুট-অফে (পদকের লড়াই) পৌঁছান। কমনওয়েলথ গেমসে রুপাজয়ী আবদুল্লাহ হেল বাকি ৬২০.৩ স্কোর করে শুট-অফে গিয়েছিলেন ষষ্ঠ হয়ে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাকি পদক পেলেন না। তাঁর স্থান পঞ্চম। রুপার পদক জিতে দিনটাকে স্মরণীয় করে রেখেছেন রাব্বি।
এদিকে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে পদকের লড়াইয়ে আছেন সৈয়দা আতকিয়া হাসান দিশা। তিনি বাছাইপর্বে ৪১০.৪০ স্কোর করে ষষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শুট-অফে।
শুটিং ছাড়াও আজ গেমসের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস, কারাতে ও ভারোত্তলনে নামবে পদকের লড়াইয়ে। সাঁতারে বাছাইপর্বে মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে মাহফুজা খাতুন শিলা, ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে নাঈমা আক্তার, ৮০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে নাজমা খাতুন, ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে আরিফুল ইসলাম পুলে নামবেন। ভারোত্তলনে ফুলপতি চাকমা ৫৩ কেজিতে ওজন তুলবেন। কারাতেতে মাউনজেরা বর্ণা ৫০ কেজি ওজন শ্রেণিতে ও আল আমিন ইসলাম ৬০ কেজিতে অংশ নেবেন। জিমন্যাস্টিকসে সাদ্দাম হোসেন ফ্লোর এক্সারসাইজ, প্যারালাল বার ও রিংসে অংশ নেবেন।
ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশ নিচ্ছে ৫৪টি মুসলিম দেশের ৩০০০ অ্যাথলেট। একেবারে শেষ মুহূর্তে গেমস থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে সুদান, লিবিয়া ও কুয়েত। ২২ মে পর্দা নামবে এই গেমসে।

অলিম্পিক আয়োজনে স্বাগতিকতার লড়াই

২০২৪ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পেতে শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রতিযোগিতা। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ আয়োজনে প্রতিযোগিতা হবে মূলত: লস এঞ্জেলেস এবং প্যারিসের মধ্যে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পেরুর লিমায় আইওসি-র মূল্যায়ন কমিটির সভায় ভোটাভূটিতে নির্ধারণ করা হয়ে ২০২৪ সালের অলিম্পিক গেমসের আয়োজন শহরের নাম।
অবশ্য গেমস আয়োজনের পথে এগিয়ে লস এঞ্জেলেস এবং প্যারিস। ১৯৩২ ও ১৯৮৪ সালের পর আবারো অলিম্পিক গেমসের স্বাগিতক হতে চাইছে লস এঞ্জেলেস। আর প্যারিস, পুরো একশ বছর পর আবারো নাম লেখাতে চাইছে তারা অলিম্পিকের স্বাগতিকতার খাতায়। এর আগে থেকেই অবশ্য অলিম্পিকের স্বাগতিক হতে চাইছিলো প্যারিস। কিন্তু ২০০৮ সালে বেইজিংয়ের কাছে এবং ২০১২ সালে লন্ডনের কাছে হেরে যায় তারা।
বিশ্ব ক্রীড়ার এতো বড় আয়োজন করতে মাত্র দুটো দেশ কোনো আগ্রহী হলো। তবে কি কমে যাচ্ছে অলিম্পিক গেমসের জনপ্রিয়তা। মেটেই নয়, হামবুর্গ, বুদাপেস্ট এবং রোম নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কমে এসেছে স্বাগতিক দেশ। এরআগে ২০১২ সালের স্বাগতিক হওয়ার জন্য লড়াই করেছিলো পাঁচটি দেশ। এবং ২০১৬ ও ২০২০ এর হোস্ট হওয়ার জন্য লড়াই হয়েছিলো চারটি করে দেশের মধ্যে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পেরুর রাজধানী লিমায় আইওসি-র কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় লস এঞ্জেলেস ও প্যারিস অলিম্পিক গেমস আয়োজনের ফাইনাল প্রেজেন্টেশন দেখানোর পর ভোটাভূটিতে চূড়ান্ত করা হবে ২০২৪ সালে বিশ্ব অলিম্পিকের স্বাগতিক শহরের নাম।

রুশ প্রবাসী বাঙালিদের ভালোবাসায় সিক্ত মার্গারিটা

মাত্র গত বৃহস্পতিবারই অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয় করে দেশে ফিরেছেন মার্গারিটা মামুন। এরইমধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে। বাদ পড়েনি রাশিয়া প্রবাসী বাঙালিরাও।
রাশিয়া প্রবাসী বাঙালিদের এক আয়োজনে অংশ নিয়ে সকলের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন মার্গারিটা। এসময় প্রবাসীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায় মার্গারিটাকে।
এর আগে বুধবার রিও থেকে রাশিয়া পৌঁছালে মস্কো বিমানবন্দর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্বর্ণকণ্যার জন্য অধীর হয়ে অপোয় ছিলেন প্রিয়জনরা। ব্রাজিলের রিও থেকে মাদ্রিদ এবং সেখান থেকে মস্কো পৌছাতে প্রায় ১৫ ঘন্টা সময় লেগেছে মার্গারিটার।
স্থানীয় সময় গভীর রাতে বাসায় ফিরলেও এপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন এ জিমন্যাস্ট। এসময় বাবা আব্দুল্লা আল মামুন এবং মা এন্নিয়া মামুনের সঙ্গে আবেগে আপ্লুত হন ২০ বছর বয়সী জিমন্যাস্ট।

‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে গর্বের কিছু হতে পারে না’

রিও অলিম্পিক গেমসে তীর-ধনু নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন আর্চার শ্যামলী রায়। ২০১৫ সালে ডেনমার্কে বিশ্ব আর্চারিতে ৩২তম স্থানে প্রতিযোগিতা শেষ করায় শ্যামলী প্রত্যাশা করেছিলেন অলিম্পিক ওয়াইল্ড কার্ডের। গত মাসে এটি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নিবিড় অনুশীলনে মগ্ন এই আর্চার। ২৩ বছর বয়সী শ্যামলী রিকার্ভ বো ইভেন্টে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এবং অলিম্পিকে এটিই তার ইভেন্ট। তার কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে তার প্রস্তুতির নানা দিক। সেটিই পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: কেমন চলছে আপনার প্রস্তুতি?

শ্যামলী: আমার অলিম্পিক প্রস্তুতি ভালোই চলছে। ৩১২ থেকে ৩১৫ পর্যন্ত স্কোর করতে পারছি, কোচ নিশিথ দাষ আমাকে নিয়মিত একটি প্রক্রিয়াবদ্ধ অনুশীলনের মাঝে রেখেছেন। ব্যাংকক এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আমি ৩১৭ স্কোর করেছিলাম। আর এটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমার সেরা স্কোর। এখন প্রচেষ্টা স্কোরকে আরও ওপরে নেওয়া, আর্চারিতে কন্ডিশনটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি ব্রাজিলে একটা অনুকুল কন্ডিশন পাবো আর সঠিক মনোসংযোগ এবং নিজেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারলে অলিম্পিকের পদক জেতা সম্ভব। তবে ৩২০+ স্কোর অবশ্যই লাগবে।

প্রশ্ন: আর্চারিতে কতদিন হলো?

শ্যামলী: আমি নড়াইলের মেয়ে, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল আমার প্রবল ঝোঁক। তবে আর্চার হবো এমনটি ভাবিনি কখনও, ২০১৩ সাল থেকে আমি আর্চারির আনুষ্ঠানিক বা শীর্ষ পর্যায়ে সম্পৃক্ত হয়েছি । বলা যায় এ তিন বছরেই আমি আর্চারির যা কিছু জেনেছি এবং বুঝেছি। আর্চারিতে মোটিভেশন একটা বড় ব্যাপার এবং সার্বক্ষণিক নিজেকে আরও পরিশীলিত করার চিন্তাটা করতে হয়। এটি নিজের সাধনার ব্যাপার। কোচ শিখিয়ে দিচ্ছেন, বলে দিচ্ছেন অনেক কিছু। কিন্তু আমি যদি এটি মাঠে বাস্তবায়িত করতে না পারি, তবে কোনও লাভ নেই। আর্চারিতে তাই সাধনা করতে হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের আর্চারির সম্ভাবনা কতটুকু?

শ্যামলী: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদচারণা আমাদের খুব একটা নেই। তবে এর মাঝেও যতটুকু রয়েছে তাতে আমার মনে হয় বাংলাদেশের আর্চারির রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। আমাদের আর্চাররা খুব অল্প সময়ের মাঝেই একটা অবস্থানে পৌঁছেছে, বাংলাদেশে আর্চারির প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। এছাড়া এটা এখনও কোনও জনপ্রিয় ইভেন্ট নয়। এর মাঝেই আমাদের আর্চাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছেন। আমি দৃঢ়বিশ্বাসী বাংলাদেশের আর্চাররা অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক আন্তর্জাতিক সাফল্য আনবে।

প্রশ্ন: অলিম্পিক নিয়ে আপনার অনূভূতি ও প্রত্যাশা…

শ্যামলী: আমি ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে অলিম্পিকে যাচ্ছি, আরও অনেক ভালো লাগতো যদি কোয়ালিফাই করে অলিম্পিকে যেতে পারতাম। আগামীতে কোয়ালিফাই করার লক্ষ্য আমি এখনই নির্ধারণ করে রেখেছি। অলিম্পিক যে কোনও খেলোয়াড়ের জন্য স্বপ্ন। বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া উৎসবে আমি আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করবো এর চেয়ে গর্বের আর কিছুই হতে পারে না। লাল-সবুজ পতাকা বুকে নিয়ে দেশের জন্য জন্য লড়বো সেরা নৈপুণ্য দিয়ে- এটিই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

সিদ্দিকুর নন কাজী শাহানাই প্রথম

১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অলিম্পিক থেকে নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সেই থেকে বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের অলিম্পিকে জায়গা করে নিতে হতো বিশেষ কোটা ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে।

রিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তবে তিনি নন, বাংলাদেশি হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা প্রথম অলিম্পিয়ান কাজী শাহানা পারভীন।

১৯৯২ সালে বার্সেলোনা অলিম্পিকে শুটিংয়ের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে কোয়ালিফাই স্কোর করে সরাসরি মূল পর্বে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন কাজী শাহানা।

রাশিয়ায় রুপা জিতলেন শ্যুটার সুফিয়ান

ষষ্ঠ চিলড্রেন অব এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস গেমসে এবার রুপা জিতল বাংলাদেশ। রাশিয়ার ইউকুশিয়া সাখা রিপাবলিকে অনুষ্ঠানরত প্রতিযোগিতায় আজ শ্যুটিংয়ের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রুপা জিতেছেন বিকেএসপির তরুণ শ্যুটার আবু সুফিয়ান। এর আগে গতকাল আর্চারির রিকার্ভ বোয়ের মিশ্র দ্বৈতে সোনা জিতেছিলেন বিকেএসপির দুই তিরন্দাজ হাকিম আহম্মেদ রুবেল ও রাদিয়া আক্তার শাপলা। আর্চারি ও শ্যুটিংয়ের পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের দাবা ও তায়কোয়ান্দো দল।

আরচারদের ঈদ-উপহার : স্বর্ণ জিতেছেন রুবেল ও শাপলা

ঈদের আনন্দের মধ্যেই রাশিয়া থেকে সুসংবাদ দিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। রাশিয়ার ইউকুশিয়া শাখা রিপাবলিকে অনুষ্ঠানরত ষষ্ঠ চিলড্রেন অব এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস গেমসে স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ হাকিম আহমেদ রুবেল ও রাদিয়া আক্তার শাপলা।
Archery
রিকার্ভ বোয়ের মিশ্র দ্বৈতে শুক্রবার লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন তারা। বাংলাদেশ স্বর্ণ জিতেছেন ৫ -১ পয়েন্টে ইউকুশিয়া শাখা রিপাবলিক দলকে হারিয়ে। ৬ জুলাই শুরু হওয়া ষষ্ঠ চিলড্রেন অব এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস গেমসের এই আসরে আর্চারি ছাড়াও দাবা ও শ্যুটিংয়ে প্রতিযোগিতা করছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

অলিম্পিকে আরও দুই বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদ

রিও ডি জেনিরো অলিম্পিকের ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ পেয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদ। এরা হলেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও সোনিয়া আক্তার টুম্পা। আগামী ৫ আগস্ট থেকে ব্রাজিলে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় আয়োজন গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক। এই গেমসে সাঁতারের ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইল ও ব্রেস্টস্ট্রোকে পদকের জন্য লড়বেন করবেন বাংলাদেশের সাগর ও সোনিয়া।
এর আগে শ্যুটিংয়ে কমনওয়েলথ গেমসের রূপাজয়ী আবদুল্লাহ হেল বাকি ও আর্চারিতে শ্যামলী রায় অলিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ পেয়েছেন। এ চারজনের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারীদের দলে নাম লেখাতে যাচ্ছেন দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। ৠাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ৫৫তম স্থানে রয়েছেন এ গলফার। ১১ জুলাইয়ের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে ৬০ এর মধ্যে থাকতে পারলে অলিম্পিকে সরাসরিই খেলার সুযোগ পেয়ে যাবেন সিদ্দিকুর।
দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমানের অলিম্পিকযাত্রা অনেকটা নিশ্চিত বলা যায়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সিদ্দিকুর রহমানই হতে যাচ্ছেন অলিম্পিকে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ।

ওয়াইল্ড কার্ডের অপেক্ষায় থেমে অলিম্পিকের অনুশীলন

আর মাত্র একমাস। তারপরই ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনিরোতে মহাসম‍ারোহে পর্দা উঠবে দ্য ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত অলিম্পিকের। ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এ প্রতিযোগিতা চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত।

ক্রীড়ার এই মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মতো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে, ভাবনার বিষয় হলো হাতে সময় কম থাকলেও এখন পর্যন্ত শুটিং ছাড়া আর কোনো ডিসিপ্লিনেরই কাঙ্ক্ষিত ওয়াইল্ড কার্ড (প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি) হাতে পায়নি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

অলিম্পিকের এ আসরে অংশ নিতে বক্সিং, আরচারি, ভারোত্তোলন, শুটিং ও সুইমিং ডিসিপ্লিনে ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য ‘অলিম্পিক ট্রিপার্টাইট কমিটি’র কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ।

আবেদন অনুযায়ী প্রতিটি ডিসিপ্লিনেই কার্ড পাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়টিও এখনও নিশ্চিত নয় বিওএ’র কর্তা ব্যক্তিরা।

অলিম্পিকে অংশ নিতে আর্চারি থেকে শ্যামলী রায় ও ইমদাদুল হক মিলনের জন্য আবেদন করেছে বিওএ। এর মধ্যে পাবেন একজন। শুটিংয়ে আব্দুল্লাহেল বাকি ও সুবর্ণার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল আব্দুল্লাহেল বাকি কার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

এছাড়া, ভারোত্তোলনে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, বক্সিংয়ে আলামিনের জন্য, সাঁতারে সাগর ও সোনিয়া আক্তারের ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য আবেদন গেছে অলিম্পিক ত্রিপার্টাইট কমিটি।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় বিওএ’র কোষাধ্যক্ষ ও মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, সবশেষ আপডেট অনুযায়ী শুটিংয়ে আব্দুল্লাহেল বাকি ওয়াইল্ড কার্ড পেয়েছে। বাদ বাকি কারা পাবে, সেটা আমরা এখনও জানতে পারিনি। এ মাসের শেষে আমরা এই বিষয়ে আপনাদের জানাতে পারবো। আমরা পাঁচটি ডিসিপ্লিনের ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। কে কে যেতে পারে, সেটা নির্ভর করে ত্রিপার্টাইট কমিটির ওপর।

তবে বিওএ’র একটি সূত্র মতে, এই পাঁচটি ডিসিপ্লিনের বাইরে অ্যাথলেটিকস থেকেও কারও অলিম্পিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল।

অলিম্পিককে সামনে রেখে পাঁচটি ডিসিপ্লিনের প্রস্তুতি নিয়ে বিওএ’র ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সদস্য সচিব গ্রুপ ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম বলেন, শুটিংয়ে আমাদের তিন জন বিদেশি কোচ আছে। ইউরোপিয়ান একজন, বাকি দু’জন কোরিয়ান। আর্চারিতে একজন কোরিয়ান কোচ, সুইমিংয়ে একজন কোরিয়ান কোচ প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তবে সুইমিংয়ে যে দু’জনের নাম পাঠানো হয়েছে, তারা ব্যাংককে অনুশীলন করছে। দেশেও সুইমিংয়ের জন্য একজন কোরিয়ান কোচ আছেন। ভারোত্তোলনের ছেলে-মেয়েরা কিছুদিন আগে রাশিয়ায় একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ ওরা অনুশীলনের মধ্যেই আছে। তবে আমরা ভারোত্তোলনের জন্য এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করিনি। ওয়াইল্ড কার্ড পেলেই ব্যবস্থা করবো।

অলিম্পিকে কোনো কিছু অর্জন সম্ভব কিনা প্রশ্ন করলে রফিকুল বলেন, অলিম্পিকের জন্য সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য থাকতে হয় ন্যূনতম ৮ বছরের। প্রথম চার বছর থাকে যোগ্যতা অর্জনের। আর পরের চার বছর থাকে পদক পাওয়ার। যা আমরা পারিনি। তবে শুটিং ও আর্চারিতে কিছু হলেও হতে পারে।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে রওনা হবে ১২ সদস্যের বাংলাদেশ অলিম্পিক কন্টিনজেন্ট।

এদিকে, এবারই প্রথম অলিম্পিকে গলফে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্তও আছে। তা হলো, সিদ্দিকুরকে অলিম্পিকে অংশ নিতে হলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে হবে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ৬০ এর মধ্যে। গত মাসে ইউরোপিয়ান ওপেন শেষে ৫৪ নম্বরে ছিলেন সিদ্দিকুর। শঙ্কার বিষয় হলো, গত ১৬ জুন থাইল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাবের সামুই পার্কে শুরু হওয়া কুইন্স কাপে ব্যাকপেইনের জন্য ছিটকে গিয়েছেন লাল-সবুজের এই গলফার। তাই অলিম্পিকের বেঁধে দেওয়া সময় পর্যন্ত র‌্যাংকিং ধরে রাখতে পারেন কিনা সে নিয়ে উদ্বেগ থাকছে।

অন্যদিকে, এবারের অলিম্পিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘জিকা ভাইরাস’। পুরো ব্রাজিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মশাবাহিত এই রোগটি অলিম্পিকের আয়োজনকে অনেকটাই ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। তাই আয়োজকেরাও সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন অংশগ্রহণকারী ২০৬ দেশের অ্যাথলেটদের ওপর।

এই সতর্কতার বাইরে থাকছে না বাংলাদেশও। জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে অলিম্পিকে যেতে হলে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের জন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে মশারি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আয়োজকরা।

ভাইরাসটির সতর্কতা প্রসঙ্গে চপল বলেন, জিকার ব্যাপারে গেমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে আমাদের উপদেশ দিয়েছে এবং দিয়ে যাচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের উপদেশ মতো প্রতিকার নেওয়ার। যেমন তারা আমাদের মশারি নিয়ে যেতে বলেছে। যদিও তারা এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।

অলিম্পিক ডে-তে নানা আয়োজন

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার উদযাপন করা হয়েছে অলিম্পিক ডে-২০১৬। এ উপলক্ষে একটি র‌্যালি সকাল সাড়ে ৭টায় রমনা টেনিস কমপ্লেক্স থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মশাল গেটে এসে শেষ হয়।
র‌্যালিতে বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, আনসার ভিডিপি, পুলিশের খোলোয়াড়, বিভিন্ন স্কুল,কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়ানুরাগী অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে আর্মি অর্কেস্ট্রা দলের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
ডে-রান শেষে সকাল ৯টা থেকে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে প্রাক্তন হকি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে পুরুষ এবং ভিকারুননেসা নুন স্কুল ও আনন্দময়ী স্কুলের মেয়েদের অংশগ্রহণে আলাদা আলাদা ২টি প্রদর্শনী হকি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অলিম্পিক ডে আজ একই সঙ্গে বাংলাদেশের ৬টি বিভাগীয় শহর রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অলিম্পিক ডে-তে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিওএ’র সভাপতি এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক,এনডিসি, পিএসসি।

গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতার সমাপনী শনিবার

আগামী ৪ জুন গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা (জাতীয় পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে। সেই আয়োজনকে সামনে রেখে আজ ২ জুন, বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা (জাতীয় পর্যায়) সমাপনী আয়োজন সম্পর্কে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব (যুগ্ম সচিব) অশোক কুমার বিশ্বাস।

এ ছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান দ্য ব্লেজার বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) যুগ্ম-সচিব ও গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা কর্মসূচি পরিচালক দীল মোহাম্মদ বক্তব্য রেখেছেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব (যুগ্ম-সচিব) অশোক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রাম-বাংলার ক্রীড়াঙ্গনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার ৩ বছর মেয়াদী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ৪ জুন ২০১৬, শনিবার দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা (জাতীয় পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনে ৭টি বিভাগীয় দলের ২ শতাধিক ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। ইভেন্টগুলো হলোÑ বালক (দলীয়) : হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, সাতচাড়া; বালক (একক) : মোরগলড়াই, তৈলাক্ত বাঁশে ওঠা; বালিকা বিভাগে দলীয় ইভেন্টগুলো হচ্ছে গোল্লাছুট, বউ-চি, কানামাছি ভোঁ ভোঁ এবং একক ইভেন্ট এক্কা-দোক্কা, দড়িলাফ।’

এক প্রশ্নের উত্তরে সচিব (যুগ্ম সচিব) অশোক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট এই ৭ বিভাগের সেরা ২১০ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। অংশগ্রহণকারী প্রতি দলে থাকছে মোট ৩০ জন খেলোয়াড়। এদের মধ্যে ১৫ জন বালক ও ১৫ জন বালিকা। এ ছাড়া প্রতি দলে মোট ৩ জন করে কর্মকর্তা রয়েছেন।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে সচিব (যুগ্ম সচিব) অশোক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এই কর্মসূচির জন্য বছরে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ৩ আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়। প্রথম অর্থবছর ২০১১-১২ এ ১৮টি জেলার ১৪৭টি উপজেলা ও ১৩৬৬ ইউনিয়নে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা; দ্বিতীয় অর্থবছরে (২০১২-১৩) মোট ২৩টি জেলার ১৮৫টি উপজেলা এবং ১৭৮৭টি ইউনিয়নে জন্য ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় অর্থাৎ শেষ অর্থ বছরে (২০১৩-১৪) অবশিষ্ট ২৩টি জেলায় ১৫০টি উপজেলা ও ১৩৯২ ইউনিয়নে ২ কোটি ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

২০ কৃতী নারী ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা দিলো বিএসপিএ

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির (বিএসপিএ) আয়োজনে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন অদম্য নারী শিরোনামে নারী ক্রীড়াবিদের মিলনমেলা বসেছিলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটরিয়ামে। শনিবার বিকাল চারটায় এক ছাদের নিচে মিলিত হয়েছিলেন দেশের সকল নারী কৃতী ক্রীড়াবিদ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আসরে ২০ জন স্বর্ণপদক পাওয়া নারী ক্রীড়াবিদকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তারা হলেন, মাহফুজা খাতুন শিলা (সাঁতার), মাবিয়া আক্তার সীমান্ত (ভারত্তোলন), শারমিন ফারজানা রুমি (তায়কোয়ান্দো), শাম্মী আক্তার (তায়কোয়ান্দো), মুন্নি খানম (কারাতে), জ উ প্রু (কারাতে), উসাইনু মারমা (কারাতে), মরিয়ম খাতুন (কারাতে), ইতি ইসলাম (উশু), শারমিন আক্তার রতœা (শ্যুটিং), সৈয়দা সাদিয়া সুলতানা (শ্যুটিং), তৃপ্তি দত্ত (শ্যুটিং), শারমিন আক্তার (শ্যুটিং), ফৌজিয়া হুদা জুঁই (অ্যাথলেটিকস), লাভলী চৌধুরী আঁখি (শ্যুটিং), রহিমা খানম যুঁথি (অ্যাথলেটিকস), সাবরিনা সুলতানা (শ্যুটিং), কাজী শাহানা পারভীন (শ্যুটিং), মোল্লা সাবিরা সুলতানা (ভারোত্তোলন) ও শাহরিয়া সুলতানা সুচি (ভারোত্তোলন)। এছাড়া ক্রীড়ায় বিশেষ অবদান রাখায় রানী হামিদকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসেবে কৃতী নারী ক্রীড়াবিদদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। মন্ত্রী আশা করেন, বিএসপিএ তার এই উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখবে।
BSPA-3
দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের অগ্রগন্য রানী হামিদ। যাকে সবাই দাবার রানী বলেই জানেন। সেই রানী হামিদ বিশেষ সম্মাননা পেয়ে দারুণ খুশী। তার কথায়, ‘খুব ভালো লাগছে। অদম্য নারী- এমন পুরস্কার পেয়ে খুব ভালো লাগছে। অনেককেই আজ দেখতে পেরেছি এই অনুষ্ঠানের কল্যাণে। তাই আমার মনটাও ভালো। বিদেশের মাটিত লাল সবুজের পতাকা উড়ানো এই মেয়েদের দেখে আমি খুব আনন্দিত। ধীরে ধীরে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে-এই প্রত্যাশাই করছি।’
বিকেএসপির উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও জাতীয় পুরস্কার পাওয়া সাবেক তারকা অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমোও উচ্ছ্বসিত এমন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে। তার কথায়, ‘খুব ভালো লাগছে এখানে এসে। কতদিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। অদম্য নারী- নামই বলে দিচ্ছে মেয়েদের জন্য কতটা মহতী উদ্যোগ। দেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। এটা মেয়েদের আরও ভালো ফল করতে উৎসাহ যোগাবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘সাঁতারে বিদেশী কোচ আসায় যেমন গতি বেড়েছে, তেমনি নেপাল এসএ গেমসের আগে অন্য ডিসিপ্লিনগুলোতেও বিদেশী কোচ আসলে গতি বাড়বে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গণের নতুন নতুন প্রযক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে প্রয়োজনে আমাদের দেশের কোচদের বিদেশেও পাঠানো উচিত। যাতে নিত্য নতুন নিয়ম কানুন রপ্ত করে তারা আমাদের ক্রীড়াবিদদের অনুশীলন করাতে পারেন।’
BSPA-4
১৯৯১ ও ’৯৯ সাফ গেমসে স্বর্ণ জয়ী শুটার কাজী শাহানা পারভীন বলেন, ‘অদম্য নারী শিরোনাম শুনলেই স্পিড বেড়ে যায়। খুব ভালো লাগছে সম্মাননা পেয়ে।’ দেশের প্রথম স্বর্ণজয়ী নারী এই ক্রীড়াবিদ বলেন, ‘আমাদের সময়ে অনেক মনযোগি ছিলাম। কিন্তু এখনকার ছেলে মেয়েদের মধ্যে সে রকমটা দেখা যায় না। তাছাড়া সময় দিতে পারি না বলে তেমন খোঁজ খবরও রাখি না বর্তমান শুটিয়ের। নতুনদের জন্য শুধু এটুকুই বলব, সাধনা কর, ফল পাবে।’
১৯৯৩ ও ’৯৯ সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ী শুটার সাবরিনা সুলতানা বলেন, ‘অদম্য নারী শব্দ দু’টাই ভালো লাগে। দেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে এটা ভাবতেই ভালো লাগে। তবে মাঝে সাঝে হতাশ হই যখন শুটিংয়ের মেয়েদের মধ্যে ইচ্ছা শক্তির অভাব দেখি। তাদের মধ্যে সাধনার ইচ্ছা কমে গেছে। আমাদের সময়ে ক্যাম্প বন্ধ থাকলে নিজেদের গুলি দিয়েই প্রশিক্ষণ করতাম। কিন্তু এখনকার মেয়েদের মধ্যে ভাবটা এমন, ক্যাম্প বন্ধ তো আমাদের অনুশীলনও বন্ধ-এমনটাই।’
২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী কারাতেকা জ উ প্রুর কথায়, ‘আমি বান্দরবানের বৈসাবী উৎসব রেখে এখানে এসেছি। অদম্য নারী- অনুষ্ঠানে এসে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো। যদিও আমি এখন সংসারি। তবে এবারের গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে কারাতে ডিসিপ্লিনটি না থাকায় আমিও হতাশ হয়েছি। হয়তো অংশও নিতে পারতাম। সেই সুযোগটি নষ্ট হয়েছে।’
গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে দু’টি স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলার কথা, ‘স্বর্ণ জয়ের পর যেন সংবর্ধনায় ভাসছি। তবে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন ক্রীড়ালেখক সমিতির কাছ থেকে এমন সম্মাননা পেয়ে আমি গর্বিত। আশাকরি এই পুরস্কার আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’ স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বলেন, ‘স্বর্ণজয়ের পর আমার জীবনে আশাতীত পরিবর্তন এসেছে। তবে আগামীতে সাফল্য পেতে হলে আমাদের জিমন্যাশিয়াম আরও বড় করা প্রয়োজন।’

সংবাদ প্রেরক

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
দফতর সম্পাদক

অলিম্পিকে আলাদা গ্রুপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ নিলেও অলিম্পিকে কখনও সোনার পদক জেতেনি ব্রাজিল। এবার ঘরের মাঠে অলিম্পিক। তাই অধরা সেই স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নেইমাররা। এর মধ্যে হয়ে গেছে ২০১৬ অলিম্পিক ফুটবলের ড্রও। এ ড্রতে দুই গ্রুপে পড়েছে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে ব্রাজিল পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গী ডেনমার্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইরাক। আর ২০০৪ ও ২০০৮ সালের সোনা জয়ী আর্জেন্টিনার ‘ডি’ গ্রুপে পড়েছে পর্তুগাল, হন্ডুরাস ও আলজেরিয়া। ‘বি’ গ্রুপে ১৯৯৬ অলিম্পিকের সোনা জয়ী নাইজেরিয়ার সঙ্গী হয়েছে সুইডেন, কলম্বিয়া ও জাপান। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো পড়েছে ‘সি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গে আছে দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও ফিজি।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ অগাস্ট ইরাক-ডেনমার্ক ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ২০১৬ অলিম্পিক ফুটবল।

স্বর্ণজয়ীদের সংবর্ধনা এবং পুরস্কার

ভারতের শিলং এবং গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে পদকজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। আজ (মঙ্গলবার) রাতে ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থলে বসেছিল খেলোয়াড়-সংগঠকদের মিলনমেলায়।
এবার অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা জিতেছে মোট চারটি সোনা, ১৫টি রুপা এবং ৫৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৭৫টি পদক। প্রতিটি সোনার জন্য বিওএর আর্থিক পুরস্কার পাঁচ লাখ টাকা। রুপা তিন লাখ ও ব্রোঞ্জ এক লাখ টাকা করে। সব মিলিয়ে অ্যাথলেটদের মোট এক কোটি ২১ লাখ টাকা আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
দুটি সোনা ও রিলে দলের সদস্য হয়ে একটি ব্রোঞ্জ জেতা সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সোনাজয়ী শ্যুটার শাকিল আহমেদের প্রাপ্তি পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আরেক সোনাজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত (ভারোত্তোলন) পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা।
টাকার সঙ্গে খেলোয়াড়দের দেওয়া হয়েছে একটি করে ফুলের তোড়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, পদকজয়ী ফেডারেশনগুলোর কর্মকর্তারাসহ আরও অনেকে।

বিদ্যুৎ এলো ‘সোনার মেয়ের’ বাড়িতে

গ্রামের বাড়িতে ফিরে সবার ভালোবাসায় আপ্লুত এসএ গেমসে সাঁতারে বাংলাদেশকে সোনা এনে দেওয়া মাহফুজা আক্তার শীলা। তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আমার দায়িত্ব নিয়েছেন, এর থেকে বড় কিছু হয় না। যে সম্মান আমি বাংলাদেশের জন্য দিয়েছি,তার চেয়ে বড় সম্মান আমাকে দিয়েছে দেশ।”
এবারের এসএ গেমসে মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক আর ৫০ মিটারে দুটো সোনা জিতেছেন বাংলাদেশের এই সাঁতারু। তবে তার জীবনের পথ ছিল আরও কঠিন। সোনা জয়ের খবরের সঙ্গে সঙ্গে মাহফুজার পরিবারের দারিদ্র্য আর সংগ্রামী জীবনের কথাও গণমাধ্যমে এসেছে। সেই খবরে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়েছেন এই কৃতি সাঁতারু।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বুধবারই মাহফুজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। আর্থিক সঙ্কটে তার মা যে সোনার পদকটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, শুক্রবার নাগরিক সংবর্ধনায় সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহফুজা ঢাকা থেকে বাসে করে যশোর উপশহর বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছালে তার মা করিমন্নেসা, বাবা আলী আহমেদ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানান।
জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এরপর যশোরের এই কৃতি সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয় সার্কিট হাউসে। সেখানে মাহফুজাকে মিষ্টিমুখ করান জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি রুনা লায়লা।
মাহফুজা বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যশোরবাসী আমাকে এত ভালবাসা দেবে। আমি যে এতোকিছু পাব, এমন সারপ্রাইজড হব ভাবতে পারিনি। “ইতোমধ্যে খবর পেয়েছি আমার বাড়ির যে সমস্যা ছিল তার সমাধান হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
সার্কিট হাউজ থেকে দুপুরেই গ্রামের বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মাহফুজা। জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির বলেন, অভয়নগরে এই সাঁতারুকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। আর শুক্রবার নওয়াপাড়ায় হবে নাগরিক সংবর্ধনা।
তিনি বলেন, “মাহফুজা এখন শুধু যশোরের মেয়ে নন, তিনি সারাদেশের মেয়ে। তার সুবিধার জন্য তাদের গ্রামের বাড়িতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন একটি বাড়িও করে দেওয়া হবে।”

১২তম এসএ গেমসের যবনিকা : পরবর্তী আসর নেপালে

গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের আসাম রাজ্যের রাজ্যের গৌহাটিতে পর্দা উঠেছিল সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস-এর ১২তম আসরের। যদিও পরদিন আরেক আয়োজক মেঘালয়ের শিলংয়েও আরেকটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিকস স্টেডিয়ামে ‘এই পৃথিবী এক ক্রীড়াঙ্গন’… প্রয়াত ভুপেন হাজারিকার থিম সংয়ের সঙ্গে ভারতীয় ফুটবল লিজেন্ড বাইচুং ভুটিয়ার হাত দিয়ে যে মশাল প্রজ্বলিত হয়েছিল তা একই ভেন্যুতে মঙ্গলবার নিভে গেল আনুষ্ঠানিকভাবে। শেষ হলো আট দেশের প্রায ২৬০০ অ্যাথলেটদের (কর্মকর্তা ও আম্পয়ার জাজ মিলিয়ে প্রায় ৩৫০০ ) মিলন মেলা। ১৯৮৪ সালে নেপালের কাঠমুন্ডুতে যে আসরের সূচনা হয়েছিল আগামী ২০১৮ সালে সেখানেই বসবে পরবর্তী আসর। গত সোমবার গৈহাটিতে সাউথ এশিযান অলিম্পিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী মাসেই সম্ভাব্য তারিখ এবং ডিসিপ্লিন চূড়ান্ত হবে। যদিও ১৯৯৯ সালে কাঠমুন্ডুতে দ্বিতীয়বার বসেছিল এ আসর, তখন এর নাম ছিল সাফ গেমস।
স্বাগতিক ভারত বরবারের মত পদক তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ১৮৮ স্বর্ণ, ৯০ রৌপ্য, ৩০ ব্রোঞ্জ মিলিয়ে তাদের সংগ্রহ ৩০৮টি পদক। তবে শেষ দিন মহিলারা সফল হলেও, স্বাগতিকদের হতাশায় ডুবিয়ে পুরুষদের ফুটবলে স্বর্ণ জিতেছে নেপাল। পাকিস্তানকে টপকে লংকানরা পদক তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে, তাদের সংগ্রহ ২৫ স্বর্ণ, ৬৩ রৌপ্য এবং ৯৮টি ব্রোঞ্জ পদক। তাদের পরই পাকিস্তান ১২ স্বর্ণ, ৩৭ রৌপ্য ও ৫৭ ব্রোঞ্জ সহ ১০৭ পদক। গেমসে নতুন রেকর্ড হয়েছ ১২টি ইভেন্টে।
এবারের আসরে বাংলাদেশের ২২৩ পুরুষ এবং ১৪৭ মহিলা খেলোয়াড়, ৬০ কোচ, ৩৯ ম্যানেজার এবং অন্যান্য কর্মকর্তাসহ মোট ৪৬৯ সদস্যের দল অংশগ্রহণ করে। এই কন্টিনজেন্টের সঙ্গে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ১১ বিদেশী প্রশিকও ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, হেড কোয়ার্টার্স অফিসিয়াল এবং টিম ডাক্তারসহ সর্বমোট ৫৩১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়। দল ভারি হলেও পদকের ঝোলা কিন্তু ততটা ভারি হয়নি! যা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার, হতাশার।
Bangladesh in SA Games
বর্ণাঢ্য ক্রীড়া আসরে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির সেভাবে সমন্বয় ঘটাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ ১৮ স্বর্ণ, ২৪ রৌপ্য ও ৫৫ তামা পদক পেয়েছিল। এবার চার স্বর্ণের পাশাপাশি ১৫ রৌপ্য ও ৫৬ ব্রোঞ্জ। তারা গতবারের ১৮ স্বর্ণের অর্ধেকও জেতেনি! অথচ গেমসে অংশ নিতে ভারত যাওয়ার আগে দলের কর্মকর্তারা বড় মুখ করে অনেক পদক জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে গিয়েছিলেন। পদক বাংলাদেশ পেয়েছে ঠিকই, তবে সেগুলোর বেশির ভাগই তামা! কিছু পদক রূপার। এবার বাংলাদেশের অর্জন ছিল মাত্র চার স্বর্ণ। এর ৩টিই জিতেছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। ভারোত্তলনে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত জেতেন প্রথম স্বর্ণটি। তারপর জলকন্যা মাহফুজা আক্তার শিলা সাঁতারে রেকর্ড গড়ে একাই জেতেন দুই স্বর্ণ। আর পুরুষদের মধ্যে একমাত্র স্বর্ণজয় করেন পিস্তল শুটিংয়ে শাকিল আহমেদ। সাঁতারে স্বর্ণ এলেও, শুটিং থেকে আরও স্বর্ণ পদকের প্রত্যাশা ছিল।
এ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, ফুটবল-এই তিন ডিসিপ্লিন থেকে একটি সোনাও জেতেনি বাংলাদেশ। অথচ এই তিনটি খেলা নিয়ে বাংলাদেশী ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল বেশি। বিশেষ করে ফুটবলে স্বর্ণ না পেলেও অন্তত রৌপ্য জেতা উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকেই। মহিলা ও পুরুষ উভয় দলই তামা জিতেছে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে উভয় দলই হেরেছে ভারতের কাছে। মহিলা দলের হার ছিল বেশি হতাশার। কেননা তারা ওই ম্যাচে ড্র করলেই ভারতকে টপকে ফাইনালে উঠতে পারতো। কিন্তু ম্যাচে তারা হেরে যায় বড় ব্যবধানে। আর পুরুষ দল তো দুর্বল ভুটানের সঙ্গে শুরুতেই ড্র করে সমালোচিত হয়। পরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনমতে সেমিতে উঠলেও বাজে খেলে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়।
গত আসরে বাংলাদেশের ১৮ স্বর্ণ পদকের মধ্যে কারাতে ডিসিপ্লিনে চারটি, গলফে দুটি ও ক্রিকেটে একটিসহ মোট ৭টি স্বর্ণপদক এসেছিল। এবারের আসরে ওই ইভেন্টগুলো না থাকায় পদক সম্ভাবনার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এসএ গেমসকে সামনে রেখে গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) উদ্যোগে বিভিন্ন ফেডারেশন তাদের প্রস্তুতি পর্ব শুরু করে। এবারের আসরে আরচারি, এ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, কাবাডি শুটিং, সুইমিং, ভলিবল, তায়কোয়ানদো, ভারোত্তোলন, কুস্তি, সাইকিং, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ফুটবল, জুডো, টেনিস, হকি, খো খো, উশু ও স্কোয়াশসহ ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয় বাংলাদেশ।
২০১০ সালে ঢাকায় গত আসরে শ্রীলঙ্কা ছিল চতুর্থ আর বাংলাদেশ ছিল তৃতীয় স্থানে। এবার বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে লঙ্কানরা। কোন সন্দেহ নেই, অবিশ্বাস্য উত্থান! উত্থান ঘটেছে আফগানিস্তানেরও। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি পদক তালিকায় সোনা জয়ের (৭-৯-১৯) দিক থেকে পেছনে ফিলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। তারা এখন চার নম্বরে। বাংলাদেশ আছে পাঁচ নম্বরে। স্বর্ণ না পেলও এবারই প্রথমবারের মত রৌপ্য নিয়ে পদক তারিকায় এসেছে মালদ্বীপ ও ভুটানের নাম। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা যেভাবে পিছিয়ে পড়েছে তাতে করে হয়ত মালদ্বীপ ভুটানও একদিন পদক তালিকায় বাংলাদেশকে পিছনে ফেলতে পারে, এমন শংকা রয়েই যায়।

তিন রৌপ্য শেষ দিনে

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : মহিলা হ্যান্ডবল ও কাবাডির ফাইনালে উঠায় আগেই রৌপ্য পদক নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। স্বাগতিক ভারত যখন প্রতিপক্ষ তখন স্বর্ণ পদক যে লাল-সুবজ শিবিরের ভাগ্যে জুটবে না, সেটা আগেই অনুমেয় ছিল। হয়েছেও তাই। সোমবার সোনাপুরের এলএনআইপিই ইনডোর স্টেডিয়ামে মহিলা হ্যান্ডবলে ভারতের কাছে ৪৫-২৫ গোলে হেরে এসএ গেমসে প্রথমবারের মতো রৌপ্য জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আর মহিলা কাবডিতে মালেকা-পলিরা হেরেছে ভারতের কাছেই ৩৬-১২ পয়েন্টে। এদিন শ্যুটিংয়ের দলগত ১০ মিটার এয়ার পিস্তল থেকে আরও একটি রৌপ্য এসেছে। আর মালদ্বীপকে ট্রাইব্রেকারে হারিয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল।
অপরদিকে, শিলং অনুষ্ঠিত জুডোতে দুটি ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। ৫২ কেজিতে তমা ও ৮১ কেজিতে হাবিবুর রহমান ব্রোঞ্জ দুটি জেতেন। এ নিয়ে গৌহাটি শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসের দ্বাদশ আসরে চারটি স্বর্ণ, ১৪টি রৌপ্য ও ৫১ ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ১৮৩ স্বর্ণ, ৮৬ রৌপ্য ও ৩০ ব্রোঞ্জ নিয়ে সবার উপরে ভারত। ২৫ স্বর্ণ ৫৯ রৌপ্য ও ৯০ ব্রোঞ্জ নিয়ে দুই নম্বরে শ্রীলঙ্কা, ১০ স্বর্ণ ৩৩ রৌপ্য ৪৭ ব্রোঞ্জ নিয়ে তিন নম্বরে শ্রীলঙ্কা। সাত স্বর্ণ, পাঁচ রৌপ্য ও ১৭ ব্রোঞ্জ নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে চারে উঠে এসেছে আফগানিস্তান। পুরুষ হ্যান্ডবলে ৩৭-২৫ গোলে নেপালকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ কপালে জুটেছে ছেলেদের।
রৌপ্যতেই খুশী হ্যান্ডবল
গত আট বছর ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশ মহিলা হ্যান্ডবল দলের। এমন দলটিই কিনা এবারের এসএ গেমসে অপরাজিতভাবে ফাইনালে উঠেছিল। শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে ২৫-৪৫ গোলে হারের পরও আনন্দের কোন কমতি ছিল না লাল-সবুজদের। ম্যাচ শেষে পতাকা নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম ঘুরেছেন। ফটোসেশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলেছে। কোচ দিদার হোসেনও মেয়েদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তাদেরকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। এতো বড় ব্যবধানে হারের পরও দল এতো খুশী কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ দিদার বলেন, ‘আমরা এতো দূর আসতে পেরেছি, সেটাই বড় কথা। মেয়েরা দারুন খেলেছে। তাদের পারফরম্যান্সের কারণেই আমরা অপরাজিত থেকে ফাইনালে এসেছি।’ মায়ের মৃত্যুর কারণে হঠাৎ করে দেশে ফিরে যাওয়া দলের এক নম্বর গোলরক্ষক শীলা রায় সোমবার ফাইনাল খেলতে ভারতের এসে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না পারলেও দেশের জন্য লড়েছেন।
শ্যুটিং থেকে আরও একটি রৌপ্য
কাহিলি পাড়ার শুটিং রেঞ্চে সকালে আরদিন ফেরদৌসি, আরমিন আশা ও তুরিন দেওয়ান মিলে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে দেশকে রূপার পদক এনে দিয়েছেন। আরদিনা ফেরদৌস সাতটি সঠিক শুটঅফে ৩৭০, আরমিন আশা ছয়টি শুটঅফে ৩৬৯ এবং তুরিং দেওয়ান মাত্র সঠিকভাবে তিনটি শুটঅফে ৩৬৯ স্কোর করেন। ফলে বাংলাদেশ মহিলা দল ২৫টি শুটঅফে ১১০৩ স্কোরে দেশকে রুপা এনে দেয়।
ফুটবলে সান্ত¦নার ব্রোঞ্জ
এবারের গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি নবীব নেওযাজ জীবন। চার ম্যাচে তিন গোল করেছেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশকে লীড এনে দেন জীবন। ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে মালদ্বীপের আলী ফাসির ম্যাচে সমতা আনেন। ৬৫ মিনিটে ফাসিরের গোলে মালদ্বীপ ২-১ গোলে লীড নেয়। চার মিনিট পর সোহেল রানার গোলে আবার ম্য্র সমতায় ফেরে (২-২)। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোলের দেখা না মিললে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারেও লড়াই সমানে সমান। প্রথম চার শটেই গোল বাংলাদেশ মালদ্বীপের। অধিনায়ক আলী ফাসিরের নেয়া পঞ্চম শটটি পোস্টের উপর দিয়ে। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের শেষ শট। ধীর পায়ে হেটে যাচ্ছেন রায়হান হাসান। গোল হলেই ব্রোঞ্জ্। মিস হলে আবার সাডেন ডেথ পর্ব। ডিফেন্ডার রায়হান আর ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়াননি। গোল করে গেমসে বাংলাদেশের পদক তালিকায় একটি ব্রোঞ্জ বৃদ্ধি করেছেন। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী দলকে এবার ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

মালদ্বীপকে হারিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশ

চলমান দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের আসরে বাংলাদেশ ফুটবল দল ব্রোঞ্জ জিতেছে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ২-২ গোলে সমতা থাকায় মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে (৫-৪) হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সময়ের খেলায় বাংলাদেশ দুটি গোল করলেও প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের গোলসংখ্যা সমান থাকায় টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচটি। ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে পেনাল্টির সুযোগ নিয়ে গোল করেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। তবে, ৩৮ মিনিটের মাথায় মালদ্বীপের আলি ফাসির গোল করে দলকে সমতায় ফেরান।
প্রথমার্ধে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরবিতে যায় দুই দল। বিরতির পর ম্যাচের ৬৫ মিনিটে প্রথমবার লিড নেয় মালদ্বীপ। দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন আলি ফাসির। তবে, এর তিন মিনিট পরেই ম্যাচে ফেরে গঞ্জালো সানচেজের শিষ্যরা। বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান সোহেল রানা। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে খেলা শেষ হয়।
এরপর টাইব্রেকারে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ মালদ্বীপকে ৫-৪ গোলে হারায়। আর এর মধ্যদিয়েই ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে লাল সবুজরা। এসএ গেমসের আসরে ভুটানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। পরে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে। তবে, হেমন্ত-রেজাউল-রায়হানরা স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে হেরে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। গঞ্জালো সানচেজ মোরেনোর শিষ্যরা ভারতের বিপক্ষে হারে ৩-০ গোলের ব্যবধানে।

দুই স্বর্ণ কন্যার পাশে প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর এসএ গেমসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন দুই কন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এবং মাহফুজা আক্তার শীলা। নানান প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এই দুই ক্রীড়াবীদের জীবনের গল্প খুবই করুণ। শিলার সোনার পদক বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়েছিল তার পরিবারকে। আর মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বসবাস করেন খুবই নিম্নমানের একটি বসবাড়িতে।
মাবিয়া এবং মাহফুজাকে নিয়ে উঠে আসা করুণ এই গল্পগুলো দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। অবশেষে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা এই দুই স্বর্ণ কন্যার পাশে এসে দাঁড়ালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে। তাদের পরিবার যাতে ভালো জায়গায় থাকতে পারে, তাদের জীবন-যাপন যাতে আরও উন্নত হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শীলার বিক্রি করা সোনার পদক ফেরত পাওয়ার জন্য যথাযথ উদ্যোগ নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার মন্ত্রীসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ তথ্য জানান। বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এ তথ্য। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রীসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভারতের গুয়াহাটি এবং শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসের ভারোত্তোলনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে মোট ১৪৯ কেজি তুলে স্বর্ণ জেতেন মাবিয়া। গিলগাঁয়ের সিপাহীবাগে দুই কামরার একটি টিনের ঘরে বসবাস মাবিয়াদের। বাবা ছোট্ট মুদি দোকানদার। অর্থের অভাবে পড়ালেখাই বন্ধ করে দিতে হয়েছিল মাবিয়াকে। অপরদিকে সাঁতারে দুটি স্বর্ণ পদক জেতেন মাহফুজা আক্তার শীলা। যশোরের নোয়াপাড়ার এই কন্যার পরিবারও নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। মাহফুজার মা করিমন নেছা জানিয়েছিলেন, অভাবের কারণে মাহফুজার একটি স্বর্ণ পদক বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। খবরটা শুনে অনেক কেঁদেছিলেন শীলা।
দুই স্বর্ণ কন্যার কৃতিত্বের বিষয়টি সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওঠে। তাদের পারিবারিক অবস্থা ও আর্থিক অস্বচ্ছলতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ওদের পরিবার যাতে ভালো জায়গায় থাকতে পারে সে জন্য ঘরবাড়ি করে দেওয়া হবে। আমি তো আগেই এ নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি।

ইতিহাস গড়তে চাই একটি জয়

মহিলা হ্যান্ডবলের ফাইনালে বাংলাদেশ

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : মহিলা হ্যান্ডবলের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পরই গোলরক্ষক নিয়ে শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। দলের প্রধান গোলরক্ষক শিলা রায় মায়ের মৃত্যুর কারণে গোহাটি ছেড়ে দেশে ফিরেছেন। আর দুই নম্বর গোলরক্ষক হাতে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি সেদিন। তাই ফাইনালে উঠার ম্যাচে গোলবার আগলে রাখার দায়িত্ব কার কাঁধে তুলে দেয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তার কোন কমতি ছিল না লাল-সবুজ শিবিরে। অবশেষে সেই শঙ্কা দূর করে রোববার নেপালের বিরুদ্ধে হাই পাওয়ারের পেইন কিলার সেবন করেই মাঠে নেমে পড়লেন সুশিলা। দেশের সম্মানের কথা ভেবে চোট নিয়েও গোলবারে দাঁড়িয়ে যান তিনি। তাতে কোন সমস্যাও হয়নি। জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে শাহিদা খাতুনরা। নেপালের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে জয়টা এসেছে ৩৩-২৮ গোলে। এই প্রথম এসএ গেমসের ফাইনালে বাংলার মেয়েরা। ইতিহাস গড়তে আরেকটি জয় চাই বাংলাদেশের। সোমবার স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে স্বর্ণ জয়ের লড়াইয়ে মাঠে নামতে হবে দিদার হোসেনের শিষ্যদের।
রোববার সোনাপুরের এলএনআইপিই ইনডোর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে মাঠে নেমেই নেপালের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে ১৩-১১ পয়েন্টে এগিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। একটা সময় শঙ্কা জেগে উঠেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমনের ধারটা ধরে রেখেছিল লাল-সবুজ শিবির। অবশেষে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে তারা। দলের হয়ে ৮টি করে গোল করেন নিশি ও শিল্পী। ৬টি গোল করেন শিরিনা। ডালিয়া ৫টি, সুমি ৪টি ও খালেদা করেন দুই গোল। ফাইনালে ওঠায় এখন স্বর্ণ জয়ের হাতছানি মেয়েদের সামনে। যদিও প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। তারপরও আতœবিশ্বাসী কোচ দিদার হোসেন বলেছেন,-‘ফাইনালে আমাদের ভারতের সঙ্গে খেলতে হবে। এমনিতেই আমাদের খেলোয়াড় কম। দুজন সেরা খেলোয়াড়কে পাইনি এই ম্যাচে। গোলরক্ষক সুশীলাও হাতের ব্যথা নিয়ে খেলেছ। আমরা তাই ব্যাকফুটেই রয়েছি। তারপরও মেয়েরা তাদের সেরাটা দিয়েই সোনার জন্য লড়াই করবে।’
নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল-জানিয়ে অধিনায়ক শাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম হিমালয়ের কন্যাদের হারানোর ব্যাপারে। আমরা গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্য দিয়ে এবারের আসর শুরু করেছিলাম। এরপর একে একে মালদ্বীপ ও পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করেছি। তাই ভারতকে নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। আমরা কালকের (সোমবার) ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।’ সেমি ফাইনালে নেপালকে হারানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল হিসেবেই খেলছি। স্বর্ণ জয়ের সক্ষমতা আছে আমাদের। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য আমরা দলের প্রধান গোলরক্ষক শিলা রায়কে পাচ্ছি না। মায়ের মৃত্যুর কারণে শুক্রবার ভারত ছাড়তে হয়েছে তাকে। সেকেন্ড গোলরক্ষক সুশিলাও ইনজুরিতে।’
মহিলা দল ফাইনালে উঠলেও ব্যর্থ হয়েছে পুরুষ হ্যান্ডবল দল। এদিন সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৩৪-১৯ গোলে হেরেছে তারা। প্রথমার্ধ্বে ১৪-০৯ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। পুরুষরা এখন ব্রোঞ্চের লড়াইয়ে নামবে, আর মেয়েরা খেলবে হ্যান্ডবলে ইতিহাস গড়তে।

শামীমার অভিজ্ঞতা অর্জন

স্পোর্টস রিপোর্টার, গোহাটি থেকে : প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম যখন মেরিকম, তখন বুঁকেতো কাঁপন কিছুটা ধরবেই। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে রিংয়ে নেমে বুঁকে কাঁপন ধরেনি, এমন বক্সার খুব কমই আছে উপমহাদেশে। অথচ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জয়ী সেই বক্সারের বিরুদ্ধে রোববার আত্মবিশ্বাসের পারদটা উর্ধ্বমূখী করেই সেমিফাইনালের লড়াইয়ে রিংয়ে নেমেছিলেন বাংলাদেশী বক্সার শামীমা আক্তার। স্বাভাবিক লড়াইটাই করতে চেয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী এ বক্সার। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো অন্যখানে, মেরিকম খেলেন সাউথ-পো (প্রতিপক্ষের বামদিক থেকে খেলা) পজিশনে। আর এমন পজিশনে খেলা বক্সারের বিরুদ্ধে খেলার কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না শামীমার। তাই শেষ চারের লড়াইয়ে খুব বেশি সময় টিকতেও পারলেন না। মাত্র ২ রাউন্ডেই পরাজয় মেনে নিয়ে রিং ছাড়তে হলো শামীমাকে।
নিজের অনভিজ্ঞতার কথা অকপটেই স্বীকার করে নিলেন যশোরের এ বক্সার, ‘প্রতিপক্ষকে সেটা মূখ্য ছিল না। রিংয়ে নামার আগে এটা নিয়ে ভাবিওনি। কিন্তু সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। ও (মেরিকম) খেলেন সাউথপো পজিশনে (বাম দিক থেকে খেলা)। এটাই ছিল সাউথপো পজিশনের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আমার প্রথম লড়াই। এ কারণেই পাঞ্চগুলো আমি লাগাতে পারিনি, হাতও গুটিয়ে রাখতে হয়েছে। এতোদিন অর্থোডক্স ফাইটারদের বিপক্ষে খেলেছি। এ অনভ্যস্ততার কারণে পুরো ৪ রাউন্ড খেলতে পারিনি। আমার টার্গেট ছিল চার রাউন্ড পুরো খেলা। তাছাড়া এটাই ছিল আমার প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। অনভিজ্ঞতার কারণেই আজ আমাকে হারতে হয়েছে।’
শামীমা আক্তার বাই পেয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে নাম লেখান। বক্সিংয়ে সেমিফাইনালে নাম লেখালেই ব্রোঞ্চ নিশ্চিত। শেষচারের লড়াইয়ের ২ রাউন্ডে শামীমা আক্তারকে হারিয়ে মেয়েদের ৫১ কেজি ওজন বিভাগে ফাইনালে উঠেছেন ৩২ বছর বয়সি মেরিকম। যিনি একমাত্র মহিলা বক্সার হিসেবে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। সে আসরে ব্রোঞ্চ পদক জয় করেন ভারতের মনিপুর থেকে উঠে আসা এ বক্সার। শনিবার রাতে ৫১ কেজিতে শামীমা আক্তারের মতো সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্চ পদক নিশ্চিত হয়েছে আরও ৩ ইভেন্টে। যার মধ্যে ৫৬ কেজি ওজন বিভাগে ওয়াহিদুজ্জামান রোববার স্বাগতিক ভারতের শিবা থাপার কাছে হেরে স্বর্ণ ও ব্রোঞ্চপদক নির্ধারনী ম্যাচের আগেই বিদায় নিয়েছেন। ৫৬ কেজি ওজন বিভাগে শিবাই ভারতের সেরা বক্সার। ৩ রাউন্ড তূমুল লড়াইয়ের পর ওয়াহিদুজ্জামানের বিপক্ষে যার জয় ছিল ১০-৮ পয়েন্টের। ওয়াহিদুজ্জামান গত এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী আবদুর রহিম ছাড়া ছেলেদের বিভাগে অন্যান্য বক্সাররা প্রথম রাউন্ডের গন্ডিই টপকাতে পারেননি।
প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন গত আসরের আরেক স্বর্ণ জয়ী জুয়েল আহমেদ জনি এবং শেখ মোহাম্মদ আসলাম, আল-আমিন, খোরশেদ আলম ও সজীব হোসেন। মেয়েদের বিভাগে শামীমা আক্তারের মতো বাসনা খন্দকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন শনিবার রাতেই। আবদুর রহিমের মতো গত রাতেই রিংয়ে নামার কথা বাসনা খন্দকারের। ম্যাচ জিতলে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদকের লড়াইয়ে যাবেন, নইলে সন্তুষ্ট থাকতে হবে ব্রোঞ্চ পদক নিয়েই।

কাবাডির মহিলা ফাইনালে মেয়েরা

স্পোর্টস রিপোর্টার, গেভহাটি থেকে : গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিলো বাংলাদেশ মহিলা কাবাডি দল। সেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রোববার সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নেমেছিল লাল-সবুজ শিবির। একদিকে প্রতিশোধের ম্যাচ, অন্যদিকে স্বর্ণ জয়ের ম্যাচ নিশ্চিত করা। এমন ম্যাচে ঠিকই জয় তুলে নিয়েছেন মালেকা-পলিরা। দু’টি লোনাসহ ১৮-১৬ পয়েন্টে জয় পায় বাংলাদেশ। রোববার জহুরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমার্ধে ৬-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলো। সোমবার স্বর্ণ জয়ের মিশনে স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে লড়তে হবে বাংলাদেশকে। এদিকে শিলংয়ে সুখবর এসেছে তায়কোয়ানডো থেকেও। রোববার দু’টি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন তায়কোয়ানডোকারা। ৮৭ কেজি ওজন শ্রেনীতে মিজানুর রহমান ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন। আর প্রভা সেমিফাইনালে ওঠে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছেন। এদিকে পুরুষ ফুটবলে সোমবার ব্রোঞ্জ জয়ের মিশনে মালদ্বীপের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ।

ফুটবলে স্বর্ণ হারালো বাংলাদেশ

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : এসএ গেমসের পুরুষ ফুটবলের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে। শনিবার ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজ শিবিরকে। ডিফেন্ডারদের ভুল আর বাজে রেফারিংয়ের কারণে এমন হার সফরকারীদের। তপু-রায়হান-রেজারা যা খেলেছেন, তাতে ফুটবলকে নিয়ে কোন আশাই দেখা যাচ্ছে না। এ ম্যাচে শুধু হার নয়, সঙ্গী হয়েছে জামাল ভুইয়ার লাল কার্ডের লজ্জা এবং কোচ গঞ্জালো মরেনো সানচেজকে মাঠ থেকে বের করে দেয়া। ম্যাচ শেষে রেফারির সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেয়ার অপরাধে মিডফিল্ডার জামালকে লাল কার্ড দেখানো হয়। আর কোচ মরেনোকে ডাক আউট ছাড়া করা হয় ম্যাচ চলাকালীন ডাক আউটের বাইরে এসে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার অপরাধে। ম্যাচ শেষে রেফারির বাজে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেন সহকারী কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীও,-‘রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের বিরুদ্ধে গেছে। স্বাগতিক ভারত বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। দল ভালই খেলছিল। নিজেদের ভুলে গোল হজম করেছি। বিপরীতে ভালকিছু সুযোগ সৃষ্টি করেও গোল করতে পারিনি। এটাই ফুটবল, এখানে এমনটা হয়েই থাকে।’
আগের দিন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ফেবারিটই বলেছিলেন কোচ মরেনো। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে অপরিকল্পিত-অগোছালো ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন ফুটবলাররা। সেমিফাইনালের আগের দিন অনুশীলন শেষে আগের দুই ম্যাচের ভুল আর হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কোচ। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেনি। ভুল পাস আর অগোছালো ফুটবলই সঙ্গী ছিল। ভাগ্যের সহায়তায় গ্রুপ পর্বের বাঁধা টপকাতে পারলেও শনিবার আর সেটা হয়নি। হারের লজ্জা নিয়ে এখন ব্রোঞ্জের জন্য লড়তে হবে বাংলাদেশকে।
ফুটবলে চলছে টানা ব্যর্থতা। দিন দিন ফুটবল যে রসাতলে যাচ্ছে, তার প্রমান আরও একবার পাওয়া গেল ইন্দিরা গান্ধীতে। সাফে ব্যর্থতার পর ঘরের মাটিতে বঙ্গবন্ধুতেও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল জাতীয় দল। অগ্রজদের পদাঙ্ক অনুসরন করে অলিম্পিক দলও ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি হয়ে রইল।
আগের দিন ইন্দিরা গান্ধী আউটার স্টেডিয়ামে দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও শনিবার মাঠে দেখা যায়নি মধ্যমাঠের ভরসা হেমন্ত ভিনসেন্টকে। ইনজুরিতে থাকায় তাকে দলের বাইরে রেখেই একাদশ সাজাতে হয়েছিল কোচ মরেনোকে। মধ্যমাঠ সাজাতে হয়েছিল মাসুক মিয়া জনিকে দিয়ে। কিন্তু কোচের আস্থার প্রতিদান তিনি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। শুধু মধ্যমাঠই নয়, রক্ষন ও আক্রমনভাগও ছিল অগোছালো। এলোমেলো ফুটবলের চূড়ান্ত নিদর্শন ছিল এদিন। ডি-বক্সের সামনে গেলেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। বল রিসিভ করতেও যেনো ভুলে গিয়েছিলেন লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। ভারতের পরিকল্পিত আক্রমনের সামনে অসহায় ছিলেন তারা। সফরকারীদের অসহায়ত্ব আর নিজ দেশের হাজার তিনেক সমর্থকের সমর্থন নিয়ে দূর্দান্ত ফুটবল খেলেছে ভারতীয় দলটি। ম্যাচের ২১ মিনিটেই এসএ গেমসের সোনা পূনরুদ্ধারের ম্যাচে নিজেদের এগিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ডিফেন্ডার রেজাউল করিমের ভুলে গোল পেয়ে যায় ভারত। ছোট বক্সের ভেতরে বল কিয়ার করতে পারেননি বাংলাদেশী অধিনায়ক। পায়ের সামনে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় তা জালে পাঠিয়ে দেন কুমান উদান্তা সিং (১-০)। তিন পর ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি সোহেল রানা। তার দূর্বল শট ভারতের গোলরক্ষক রেয়েনেশ সহজেই বুকে জড়িয়ে নেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে ভারতকে আরও একধাঁপ উপরে নিয়ে যান জাতীয় দলে খেলা মাউইহিমিংতাঙ্গা। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে বাংলাদেশী গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদকে পরাস্ত করেন তিনি (২-০)।
প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া মরেনো শিষ্যরা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল তখনি। ফুটবলারদের মানসিকভাবে আরও ভেঙ্গে দিয়েছিল নেপালি রেফারি লাবা খাত্রির বেশ কয়েক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ৫৯ মিনিটে বক্সের ভেতরে নাবিব নেওয়াজ জীবনকে ফেলে দিলেও নিশ্চিত পেনাল্টি দেননি এ রেফারি। রেফারির এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় কোচ মরেনোকে ডাক আউট থেকে বের করে দেয়া হয়। সহকারী কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী দাঁড়িয়ে যান ডাক আউটে। পাঁচ মিনিট পর অফ সাইডে থেকে স্বাগতিক মিডফিল্ডার যয়েশ গোল করলেও তাতে কোন বাঁধা দেননি রেফারি লাবা খাত্রি (৩-০)।

শ্যুটিংয়ে ব্যর্থতার একদিন

এসএ গেমসের শ্যুটিং থেকে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন বাংলাদেশী শ্যুটাররা। আশা-নিরাশার দোলাচালে থাকা শ্যুটিং থেকে শাকিলের হাত ধরে স্বর্ণ পদক আসায় এ ইভেন্ট থেকে আরও একটি স্বর্ণ পদকের আশা করেছিলেন সবাই। কারণ শাকিল ৫০ মিটার এয়ার পিস্তল থেকে অপ্রত্যাশীতভাবেই দেশকে পদক জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছিলেন। তাকে ঘিরে কোন প্রকার স্বপ্ন ছিল না ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। আব্দুল্লা হেল বাকীকে ঘিরে যতো স্বপ্নের জাল বুনেছিলেন সবাই। অথচ সেই বাকী যখন রেঞ্জে নেমে নিজের প্রিয় ইভেন্টে পুরোপুরি ব্যর্থ হলেন, তখন আবারো শাকিলকে ঘিরে নতুন করে আশার জাল বুনতে শুরু করেন কর্মকর্তরা। কিন্তু শনিবার তিনি রেঞ্জেই নামতে পারলেন না। হঠাৎ করেই সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এ শ্যুটার।
শাকিলের অসুস্থতার দিনে ব্যর্থ হয়েছেন দেশের অন্য শ্যুটাররাও। কাহিলিপাড়া শুটিং রেঞ্জ থেকে কোন সুখবর দিতে পারেননি জাকিয়া-সুরাইয়ারা। মহিলাদের ব্যাক্তিগত ৫০ মিটার রাইফেল পজিশনেও একই হাল লাল-সবুজের মেয়েদের। সুরাইয়া আক্তার ৩৭৭.৬ স্কোরে সপ্তম এবং উম্মে সুলতানা জাকিয়া ৩৭৩.৩ স্কোরে আটজনের মধ্যে অষ্টম হন। অবশ্য এই ইভেন্টে তিনটি পদকই গেছে স্বাগতিক শুটারদের ঘরে। পুরুষদের দলগত ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ১৬৫৫ স্কোর করে বড় হতাশার জন্ম দিয়েছেন একক ইভেন্টে স্বর্ণপদক জেতা শাকিলরা। পাঁচ দেশের মধ্যে চতুর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজদের আনোয়ার হোসেন ৫৬০, সাব্বির আল আমিন ৫৪৮ এবং শাকিল ৫৪৭ স্কোর করেন। এই ইভেন্টে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা যথাক্রমে স্বর্ণ, রুপা ও ব্রোঞ্জ জিতেছে।
মেয়েদের ৫০ মিটার দলগত রাইফেল থ্রি পজিশনে চার দলের মধ্যে চতুর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের মহিলা শুটাররা। উম্মে সুলতানা জাকিয়া, সুরাইয়া আক্তার ও নাফিসা তাবসসুমের দল ১৬৫৪ স্কোর গড়ে চতুর্থ হন। এই ইভেন্টে স্বাগতিক ভারত ১৭২৬ স্কোরে স্বর্ণ, ১৬৮৬ স্কোরে শ্রীলংকা রুপা ও ১৬৫৬ স্কোরে ব্রোঞ্জপদক জেতে পাকিস্তান। মহিলাদের দলীয় ২৫ মিটার পিস্তলে ১৫৪৭ স্কোর করে চতুর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। আরদিনা ফেরদৌস ৫২৬, সিনথিয়া নাজনিন ৫১৭ এবং অন্তরা ইসলাম ৫০৪ স্কোর করেন।
শাকিলের অসুস্থতা সম্পর্কে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু বলেন, ‘১০ মিটার এয়ার পিস্তলে এককের মতো দলীয় বিভাগেও আমাদের বাজির ঘোড়া ছিলেন শাকিল আহমেদ। কিন্তুসকাল থেকেই বমি করছিলেন তিনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ফলে ১০ মিটার একক পিস্তলের বাছাইয়েও অংশ নেয়া হয়নি তার। তাছাড়া আনোয়ারের স্কোরও তেমন ভালো ছিল না। তাই এই ইভেন্টে পদক জিততে পারিনি আমরা।’ শাকিলের কথা, ‘সকাল থেকেই হঠাৎ করে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। খুব খারাপ লাগছিল। তাই নিজের সেরাটা খেলতে পারিনি। ফলে পদকও জেতা হয়নি।’

শেষ চারে উঠেও হ্যান্ডবল শিবিরে হতাশা

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের মহিলা হ্যান্ডবলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ চারে উঠেও হতাশা বিরাজ করছে লাল-সবুজ শিবিরে। কারণ সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের দুই গোলরক্ষকের একজনকেও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। দলের নিয়মিত গোলরক্ষক শিলা রায়ের মা মারা যাওয়ায় শনিবারই শিলং ছেড়ে গেছেন তিনি। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচে এদিন মালদ্বীপের বিপক্ষে জাতীয় মহিলা দলের অতিরিক্ত গোলরক্ষক সুশীলা হাতে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ম্যাচ শেষের আগেই। যে কারণে বাকি সময় অধিনায়ক সাহিদাকে গোলবার সামলাতে হয়েছে। সুশিলা সুস্থ্য হয়ে উঠতে না পারলে গোলবার কে আগলে রাখবেন- তা নিয়েই চিন্তায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশ শিবিরকে।
শনিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৪-২৭ গোলে মালদ্বীপকে পরাস্ত করে সেমিফাইনালে পা রাখে। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে অনিয়মিত গোলরক্ষক সুশিলা হাতে ব্যাথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন। রোববার সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে লড়তে হবে ‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ নেপালের বিপক্ষে। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় খেলাটি শুরু হবে। শেষ চারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দুই গোলরক্ষককে হারিয়ে বেশ দুঃচিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ শিবির। দলের কোচ দিদার হোসেন জানান, ‘বাংলাদেশ ছাড়া গেমসে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলই ১৬ জন করে খেলোয়াড় নিয়ে গোহাটি এসেছে। অথচ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্দেশে ১৪ খেলোয়াড় নিয়ে দল গড়েছে হ্যান্ডবল ফেডারেশন। নিশ্চিত একটি পদক হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় পড়েছি। আরো দু’জন খেলোয়াড় দলে থাকলে গোলরক্ষক নিয়ে ভাবতে হতো না। এদের মধ্যে একজন অবশ্যই গোলরক্ষক থাকতেন। বিওএ’র নির্দেশনা মানতে গিয়ে এখন আমরা বিপদে পড়ে গেছি। বলতে পারছি না সেমিফাইনালে গোলরক্ষক নিয়ে মাঠে নামতে পারবো কিনা। যদি সুশীলার হাতের ইনজুরি না সারে তাহলে অন্য পজিশনের খেলোয়াড়কেই গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে ফলাফল কি হয় বলতে পারছি না।’

ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ফাইনালে উঠার লড়াই

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : এসএ গেমসের পুরুষ ফুটবলে শনিবার সেমিফাইনালের ম্যাচে মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। দুপুর ২টায় ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক্স স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই হয়তো কোচ গঞ্জালো মরেনো সানচেজের চিন্তা কিছুটা বেশি। তবুও সেমিফাইনালে বাংলাদেশকেই ফেভারিট মানছেন স্পেনিশ এ কোচ। তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত যে কঠিন দল, সেটা মানতেও সময় নিলেন না। সেমিফাইনালের সিড়িতে পা রাখলেও শিষ্যদের পারফরম্যান্স এখনো মন ভরাতে পারেনি মরেনোকে। দুর্বল ভুটানের সঙ্গে ড্র আর নেপালের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া ম্যাচে যে তপু-রেজারা খুব ভালো খেলেছে, সেটা বলা যাবে না। অগোছালো ফুটবল আর ভুল পাসের মহড়া ছিল দু’টি ম্যাচেই। তাই সেমিফাইনালের আগে দলের এমন ভুল-ভ্রান্তিগুলো নিয়েই কাজ করলেন কোচ। সেমি ফাইনালে মহারনে যেনো গত দুই ম্যাচের মতো ভুল না হয়।
গত এসএ গেমসের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ঐ ম্যাচে জিতেই ফাইনালে পা রেখেছিল লাল-সবুজরা। তবে ৬ বছর আগের ভারতের সঙ্গে বর্তমান দলটির তফাৎ বিস্তার। ব্রক্ষ¥পুত্র নদীতে গড়িয়েছে অনেক জল। তারা নিজেদের ফুটবলটাকে যতোটা উপরে তুলেছে, বাংলাদেশ তা পারিনি। তবে এ সব নিয়ে ভাবছেন না দলের ফুটবলাররা। কোচ গঞ্জালোর দিক্ষা নিয়ে নতুন করে শুরু করতে চান রেজাউলরা। স্পেনিশ কোচ মরেনোর টিকি-টাকা দিক্ষাটাই শনিবার কাজে লাগাতে চান। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন ফুটবলাররাও। তবে সেমিফাইনালে জাতিকে হতাশ করতে চান না তারা- ‘বাবার অসুস্থতার কারণে মানসিকভাবে ভাল ছিলাম না। প্রথম দুই ম্যাচে তাই ভাল খেলতে পারিনি। চেষ্টা করব, টিকি-টাকা ফুটবল খেলে ভারতকে হারাতে। ঘরের মাঠের সুবিধা তারা পেলেও আশা করি ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠব আমরা। দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দিতেই মুখিয়ে আছে’- বলছিলেন দলের মিডফিল্ডার হেমন্ত ভিনসেন্ট।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দূর্বল ভুটানের সঙ্গে ড্র’য়ের ম্যাচে ছন্দহীন ছিল লাল-সবুজরা। অগোছালো ফুটবল আর সম্মন্বয়হীনতা ছিল ফুটবলারদের মধ্যে। অপরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে নেপালের বিপক্ষেও। তবে আগের দুই ম্যাচের মতো শেষ চারের লড়াইয়ে শিষ্যরা হতাশ করবেন না বলেই বিশ্বাস কোচ মরেনোর,-‘প্রথম দুটি ম্যাচ যে মাঠে খেলেছি তা বাজে ছিল। তবে আগামীকাল (আজ) ভাল মাঠে আমরা খেলব। আমার বিশ্বাস এখানে ছেলেরা ভাল ফুটবল খেলবে। আগামীকালের (আজকের) ম্যাচটির জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত। আমাদের প্রতিপক্ষ খুবই শক্তিশালী। তবে এ ম্যাচ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত আমরা। জয়ের জন্য সবাই প্রস্তুত।’
নিজেদের ফেবারিট মানলেও ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়া যে সহজ হবে না, সেটা মানছেন মরেনো,-‘ভারতের খেলোয়াড়রা খুব সিরিয়াস। তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। যাই হোক বাংলাদেশ দল যদি তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে তাহলে অবশ্যই ভারতকে হারানো সম্ভব। বাংলাদেশ এখন তাদের সেরা পারফরম্যান্সটা করার জন্য মুখিয়ে আছে। ভাল পারফরম্যান্স করাটাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা। অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে দু’দলের মধ্যে পাঁচবারের লড়াইয়ে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র এক ম্যাচে। দুই জয় আছে ভারতের ঝুলিতে। আর দু’টি ম্যাচ ড্র। সর্বশেষ গত বছরের মার্চে ঢাকায় এএফসি বাছাইপর্বে ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ।
এস এ গেমসে বাংলাদেশ
সাল পদক
১৯৮৪ রৌপ্য
১৯৮৫ রৌপ্য
১৯৮৭ নেই
১৯৮৯ রৌপ্য
১৯৯১ ব্রোঞ্জ
১৯৯৩ নেই
১৯৯৫ রৌপ্য
১৯৯৯ স্বর্ণ
২০০৪ নেই
২০০৬ নেই
২০১০ স্বর্ণ

ভারতের সঙ্গে ড্র করলেই ফাইনালে মেয়েরা

হিসেবটা খুব সহজ। শনিবার ভারতের সঙ্গে ড্র করলেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশ মহিলা দলের। অবশ্য স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ড্র নয়, জয় তুলে নিয়েই ফাইনালে পা রাখতে মরিয়া ১৬ কোটি বাঙ্গালিকে স্বপ্ন দেখানো সাবিনা খাতুনদের দল। শিলংয়ের জহুরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বিকাল চারটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
এস এ গেমসের প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর মেয়েদের নিয়ে আশার বেলুন ওড়াতে চাননি কেউই। তবে এক ম্যাচ পরই জেগে ওঠে গোলাম রব্বানী ছুটনের দল। শ্রীলংকাকে ২-১ গোলে হারিয়ে কক্ষপথে ফেরে তারা। আর তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে ২-০ গোলে হারিয়ে আশার পালে হাওয়া লাগায় মেয়েরা। অথচ এই মালদ্বীপের সঙ্গেই গোলশূন্য ড্র করে গত এস এ গেমসের স্বর্নজয়ী ভারত। নেপালের সঙ্গেও জিততে না পারায় পয়েন্ট টেবিলে স্বাগতিকরা এখন তিন নম্বরে। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট পাওয়া নেপাল ইতোমধ্যে ফাইনালে ওঠে গেছে। সমান ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট বাংলাদেশের। এক পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে ভারত। অর্থাৎ শনিবার না হারলেই নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
ভারতের সামনে জয়ের বিকল্প নেই। ঘরের মাঠে ম্যাচ বলে ফেভারিট ভারতই; কিন্তু সর্বশেষ দুই ম্যাচে সাবিনা-মার্জিয়াদের পারফরম্যান্সেমই নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। গতবার ব্রোঞ্জ পেয়েছে, এবার ফাইনালে উঠলে স্বর্ণ বা রৌপ্য একটা নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।

সোনার সম্ভাবনা জাগিয়েও পারলেন না শোভন

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনার পদক জেতার দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত রুপা পেয়েছেন শোভন চৌধুরী। শুক্রবার গুয়াহাটির শুটিং রেঞ্জে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দলগত রুপাও পেয়েছে শোভন, আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও অঞ্জন কুমার সিনহাকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল (১৮৪৫.৮)। স্বাগতিক ভারতের শুটাররা (১৮৬৩.৪) পেয়েছে দলগত সোনা। শ্রীলঙ্কা পেয়েছে ব্রোঞ্জ।
ফাইনালে শুট আউটে দারুণ লক্ষ্যভেদ করে ১২ শটের পর সবার উপরে ছিলেন শোভন। তবে ১৭ ও ১৮তম শটে ১০ -এর নিচে স্কোর করে ভারতের চ্যান সিংয়ের পেছনে পড়ে যান তিনি। শেষ দুটি শটে আর ব্যবধানটা কমানো যায়নি।
শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের চ্যান সিং ২০৪.৬ স্কোর গড়ে সোনা জেতেন। শোভনের স্কোর ২০৩.৬। ভারতের তারকা শুটার গগন নারাং পেয়েছেন ব্রোঞ্জ। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে যাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল বেশি, সেই আব্দুল্লাহ হেল বাকি হয়েছেন পঞ্চম।
চলতি আসরে শুটিং থেকে বাংলাদেশকে এখন পর্যন্ত একমাত্র সোনাটি এনে দিয়েছেন শাকিল আহমেদ। গত বুধবার ৫০ মিটার পিস্তলে সোনা জিতেন এই শুটার।
১৯৯১ সালের এসএ গেমসে শুটিং যোগ হয় প্রথমবার। সেবার বাংলাদেশ তিনটি সোনা জিতেছিল। পরের আসরে নিজেদের রেঞ্জে মিলেছিল সাতটি সোনার পদক। ১৯৯৫ সালের এসএ গেমসে শুটিং থেকে বাংলাদেশ পেয়েছিল পাঁচটি সোনার পদক। গত আসরেও এই ডিসিপ্লিন থেকে তিনটি সোনার পদক পায় বাংলাদেশ।

শূন্য রানেই অলআউট!

এগারোজন ব্যাটসম্যান। না টপঅর্ডার, না মিডলঅর্ডার, না লোয়ার অর্ডার। কোনো অর্ডারের কোনো ব্যাটসম্যানই স্কোরকার্ডের সূচনা করতে পারেননি! এমনকি ওয়াইড-নো বলও এলো না ‘রান-দেবতা’ হয়ে। আর তাই একেবারে অবিশ্বাস্যভাবে শূন্য রানেই অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ডের একটি দল। সিক্স-এ-সাইড চ্যাম্পিয়নশিপের ওই খেলায় দলের ১০ উইকেট পড়ে গেছে মাত্র ২০ বলেই। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আয়োজিত ওই চ্যাম্পিয়নশিপে ক্রাইস্টচার্চ ইউনিভার্সিটি দলের সঙ্গে খেলতে নেমে এই লজ্জায় বিপর্যস্ত হয় ব্যাপচিলড দল।
ইসিবি জানায়, ক্যান্টাবুরিতে ওই চ্যাম্পিয়নশিপের কেন্ট আঞ্চলিক ফাইনাল চলছিল ক্রাইস্টচার্চ ইউনিভার্সিটি ও বাপচিলডের মধ্যে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ক্রাইস্টচার্চ ১২০ রান সংগ্রহ করে। ১২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাপচিলড টিমের ব্যাটিং লাইন আপ।
বাপচিলডকে অলআউট করে দেওয়া ক্রাইস্টচার্চের স্পিনার মাইক রোজ বলেন, সত্যিই আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না যে একটি দলকে শূন্য রানে আউট করে দিয়েছি। তবে, ক্রিকেটে এটাই প্রথম শূন্য রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা নয়। এর আগে, ১৯৬৪ সালে ওই লজ্জায় পড়ে কেন্ট এলাকার মার্টিন ওয়াল্টার্স নামে একটি দল। সল্টউড সিসি দলের বেঁধে দেওয়া ২১৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮ দশমিক ২ ওভার খেলেও কোনো রান সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় ওয়াল্টার্স।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড ৬। ১৮১০ সালে ইংল্যান্ডের সেসময়কার অকেশনাল টিম ‘দ্য বিএস’ এই স্কোরের লজ্জায় পড়ে জাতীয় দলের বিপক্ষে। আর টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ন ২৬ রানের রেকর্ড হয় ১৯৫৫ সালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই স্কোরের লজ্জায় পড়েছিল নিউজিল্যান্ড।

পদক বিহীন একদিন

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার এসএ গেমসে কোন পদকই জিততে পারেনি। পদকবিহীন একটি দিন কাটিয়েছে লাল-সবুজ শিবির। অ্যাথলেটিক্সে এদিন চারটি ইভেন্টে ট্র্যাকে নামলেও আগের দিনের মতোই হতাশ হতে হয়েছে। পদকের জন্য নয়, বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা যেনো লড়াই করেছেন পজিশনের শেষ নাম্বারটা এড়ানোর জন্য। এদিন কাবাডিতেও ছিল হতাশা। এমন হতাশার দিনে আশার আলো দেখিয়েছেন ফুটবলাররা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দূর্বল ভুটানের কাছে হেরে যাওয়া রেজা-শাহেদরা বৃহস্পতিবার জয় তুলে নিয়েছেন শক্তিশালী নেপালের বিরুদ্ধে। ২-১ গোলের এ জয় নিয়ে সরাসরি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে নাম লিখিয়েছেন গঞ্জালো মরেনোর শিষ্যরা। ফাইনালের পথে এখন লাল-সবুজ শিবিরের সামনে বাঁধা স্বাগতিক ভারত। শনিবার ইন্ধিরা গান্ধি স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে তারা।
নেপালের বিরুদ্ধে ড্র কিংবা অল্প ব্যবধানে হারলেও সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারতো এসএ গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। কিন্তু ড্র নয়, জয়ের ক্ষুধা নিয়েই গোহাটির সাই স্টেডিয়ামে মাঠে নেমেছিলেন শাহেদ-রুবেল-তপুরা। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল গোল হজম করে। মাত্র তিন মিনিটেই এগিয়ে যায় হিমালয়ের দেশটি। রায়হানের ভুলে কর্নার পেয়ে যায় নেপাল। আর সেই কর্নার থেকেই দারুন এক হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার অন্তত তামাং (১-০)। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে লাল-সবুজ শিবির। কিন্তু বেশ কয়েকবার সংঘবদ্ধ আক্রমন করেও গোলে দেখা যখন মিলছিল না, ঠিক তখনি দলকে আনন্দে ভাসান রায়হান। ম্যাচের ৪০ মিনিটে সমতা সূচক গোল করেন রায়হান (১-১)। সমতা ফিরিয়েই আত্মবিশ্বাস যেনো বেড়ে যায় বাংলাদেশের। সেই আতœবিশ্বাস থেকেই প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে দলের স্কোর লাইনটা আরও এক ধাঁপ উপরে নিয়ে যান তরুন ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন। বক্সের ভেতরে হেমন্ত ভিনসেন্টের মাইনাস থেকে বল পেয়ে এক মুহূর্তও দেরী করেননি বল জালে ঠেলতে। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমনের ধারাটা ধরে রেখেছিল রেজাউল করিমবাহিনী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর গোলের মুখ দেখা হয়নি। তাই ২-১ গোলের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভূটানের সাথে ১-১গোলে ড্র করেছিলো বাংলাদেশ। শক্তিশালী নেপালের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ায় দারুন খুশী কোচ গঞ্জালো মরেনো,-‘ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমরা দারুন খুশী। নেপাল অনেক শক্তিশালী দল। ওদের দলের তিন চারজন ফুটবলার আছেন কোয়ালিটি সম্পন্ন। আশা করছি সেমিফাইনালে ভারতকে পরাস্ত করে আমরা ফাইনালে যেতে পারবো।’

প্রত্যাশা আরও বেশি

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : ৫০ মিটার পিস্তলে প্রায় দুই যুগ পর সাফে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরে শ্যুটার শাকিল আহম্মেদ স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন জাতিকে। দুই যুগের স্বর্ণ পদকের বন্ধাত্বতা ঘোঁচানোর পর এবার ১০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে নিয়েও স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সবাই। শকিল আহম্মেদের প্রিয় এ ইভেন্ট নিয়েই এখন আশার আলো দেখছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। আর স্বপ্ন দেখবেনই না কেন? এটাই যে খুলনার এ শ্যুটারের প্রিয় ইভেন্ট। শনিবার সকালেই গৌহাটির কাহিলিপাড়া শ্যূটিং রেঞ্জে নামবেন তিনি। আর শুক্রবার সকালে রেঞ্জে পদকের জন্য লড়াই করবেন দেশ সেরা শ্যুটার আব্দুল্লা হেল বাকী। তিনি নামবেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে।
কৃহস্পতিবার সকালে নিবিড় অনুশীলনে সময় কাটিয়েছেন শাকিল আহম্মেদ। আর বিকালে রেঞ্জে নিজেকে ঝালিয়ে নেন আব্দুল্লাহ হেল বাকী। বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য এ দুই শ্যুটারকে এদিন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দিতে চাননি। এমনকি অনুশীলনের সময়টাও জানাতে চাননি। মনোযোগ রেঞ্জের বাইরে চলে যেতে পারে, এ শঙ্কা থেকেই কর্মকর্তাদের এমন লুকোচুরি শাকিলকে নিয়ে।
অনুশীলন শেষে অল্প সময়ের জন্য নাগাল পাওয়া গিয়েছিল আগের দিন স্বর্ণ জয়ী শাকিলের। সেখানেই তিনি জানালেন, ‘আগের দিনের স্বর্ণটা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। কিন্তু কালকের (শুক্রবার) ইভেন্টটাই আমার প্রিয়। আমার বিশ্বাস এ ইভেন্ট থেকে স্বর্ণ জয় করতে পারবো।’
গত বছর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশীপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন শাকিল। সেই থেকেই তার আত্মবিশ্বাসের পারদটা বেশ উর্ধ্বমূখী, ‘গতবার কি করেছিলাম, সেটা এখন আমার কাছে অতিতের মতো। আমি ঐ স্বর্ণ নিয়ে ভাবতে চাইছি না। আমার ভাবনায় এখন কেবল কালকের (শুক্রবার) ইভেন্ট। সবাই আমাকে নিয়ে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। মনোযোগ যেনো গেমস থেকে সরে না যায়, সে জন্য কর্মকর্তারাও আমাকে কারো সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।’
রেঞ্জে অনুশীলন শেষে দেশে থাকা মায়ের সঙ্গে সেল ফোনে কথা সেরে নিলেন শাকিল। দোয়া চাইলেন মায়ের কাছে। দেশকে যেনো আরও একটি স্বর্ণ এনে দিতে পারেন।
শুক্রবার সকালে রেঞ্জে নামবেন বাংলাদেশের আরেক আশার প্রতীক আব্দুল্লা হেল বাকী। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে স্বাগতিক ভারতের শ্যুটার গগন নারায়ন, জিনসেন, ইমরান খানদের। গগন নারায়ন তো দেশের হয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন। আর ইমরান খান ঢাকায় অনুষ্ঠিত গত এসএ গেমসের সোনা জয়ী শ্যুটার। এ ইভেন্টে লড়াইটা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই হবে। শুধু বাকীই নন, রিয়াসাত ও শোভন চৌধুরীও থাকবেন সহযোদ্ধা হিসেবে। তারপরও এই ইভেন্টে স্বর্ণের জন্য বাংলাদশের বাজি আবদুল্লা হেল বাকীর জন্যই। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ শুটিংয়ের অন্যতম একটি নাম আবদুল্লা হেল বাকী। দেশের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অন্যতম সেরা শুটার। ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসাগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ভারতের অভিনব বিন্দ্রার কাছে হেরে ২০২.১ স্কোর করে রুপা জিতেছিলেন বাকী। চলতি এ গেমসকে সামনে রেখে নিজেদের বেশ ভালোভাবেই ঝালাই করেছেন স্বাগতিক শ্যুটাররা। তাই গগন-জিনসেনদের নিয়ে চিন্তিত বাকী নিজেও,-‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বি শ্যুটার বেশ শক্ত। একজন অলিম্পিয়ান পদক জয়ীও আছেন। তবে আমি আমার সেরাটাই দিতে চাই। শ্যুটিংয়ে ফাইনাল শটটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনাল শটে অনেক কিছুই নির্ভর করে। এটার জন্য মনোযোগ ধরে রাখাটা জরুরি।’ নিজের ইভেন্ট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী বাকী। স্বাভাবিক যে স্কোরটা তিনি এ ইভেন্টে করে থাকেন, সেটা করতে পারলেও নাকি স্বর্ণ জয়ের সম্ভবনা আছে তার।

সেমিফাইনালে মহিলা হ্যান্ডবল দল

গৌহাটি-শিলং ১২তম সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস মহিলা হ্যান্ডবলে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো বাংলাদেশ মহিলা দল। বৃহস্পতিবার গৌহাটির সোনাপুর এলএনআইপিই ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৮-২৪ গোলে হারায় পাকিস্তানকে। প্রথমার্ধে বিজয়ীরা ১৯-১৪ গোলে এগিয়ে ছিলো। বাংলাদেশের শিরিনা ১০টি, খালেদা ৬, সুমি, নিশি ও ফালগুণী ৫টি করে, ডালিয়া ৪টি ও শিল্পি ৩টি গোল করেন। প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজরা ৬২-৫ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলো আফগানিস্তানকে।
শনিবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশের মেয়েরা। একই ভেন্যুতে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এসএ গেমসে খো খো’র রৌপ্য পদক জয়

২০ বছর পরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে এসএ গেমসে বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দল রৌপ্য পদক অর্জন করেছে। ভারতের সাথে ফাইনালে তারা পরাজিত হয়ে রানার্স আপ হয় এবং রৌপ্য পদক পায়।
খো খো খেলার জন্মদাতাই হচ্ছে ভারত এবং ভারতে এই খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রচ- প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাত্র তিন মাসের অনুশীলনের পর (ম্যাট ছাড়া) এ বিজয় ঐতিহাসিক বলে ভারতের খো খো বোদ্ধারা বলেছেন। এসএ গেমসে বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দলের পারফর্মেন্স ভারতের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ইতিমধ্যে আগামী এপ্রিলে ভারতের ভূপাল ও মহারাষ্ট্রে ফ্রেন্ডশীপ ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দল। এসএ গেমসে বাংলাদেশ দল ভারতে পৌঁছে লক্ষ্য করে খেলার নিয়মকানুনে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে ভারত। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ খো খো দল মোটেও অবহিত ছিল না। তাই নতুন আদলে খেলতে গিয়ে কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় পুরুষ ও মহিলা উভয় দলকেই। অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলো ছিল ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও পাকিস্তান। নেপালের পুরুষ ও মহিলা খো খো দল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। বাংলাদেশ পুরুষ ও মহিলা খো খো দলেকে মাঠে উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শক উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করে এবং অভিনন্দন জানায়। বাংলাদেশের পুরুষ ও মহিলা খো খো দল ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে।

নেপালকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

শুরুর হতাশা কাটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের ফুটবলের মুকুট ধরে রাখার পথে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত নেপালকে হারিয়ে পুরুষ বিভাগের সেমি-ফাইনালে উঠেছে রায়হান-জীবনরা।
ভারতের গুয়াহাটির সাই সেন্টারে বৃহস্পতিবার ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ‍দুই গোলদাতা রায়হান হাসান ও নাবীব নেওয়াজ জীবন।
এসএ গেমসের দ্বাদশ আসরে ফুটবলের শিরোপাধারী বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচের ভুটানের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল গনসালো সানচেস মরেনোর শিষ্যরা। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেরা চারে উঠেছে বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়া তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে সেমি-ফাইনালে উঠেছে নেপাল।
বাংলাদেশকে শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছিল নেপাল। ভুটানকে উড়িয়ে দিয়ে এসএ গেমস শুরু করা দলটি এ দিন তৃতীয় মিনিটে অনন্ত তামাংয়ের গোলে এগিয়ে যায়। ৪২তম মিনিটে রায়হান হাসানোর গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নাবীব নেওয়াজ জীবনের দারুণ গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় শিরোপাধারীরা।
গোছালো আক্রমণে থেকে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের পা হয়ে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান জীবন; নিখুঁত ভলিতে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টে এটি জীবনের দ্বিতীয় গোল। ভুটানের বিপক্ষে ড্র ম্যাচে প্রথম গোলটি করেছিলেন তিনি। ‘এ’ গ্রুপ থকে সেরা চারে উঠেছে মালদ্বীপ ও ভারত। আগামী রোববার ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একই দিনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের প্রতিপক্ষ ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ নেপাল।

সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্সে ব্রোঞ্জ

ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে বুধবার হতাশাই বিরাজ করেছে। বাংলাদেশী অ্যথলেটরা আটটি ইভেন্টে অংশ নিলেও মাত্র একটি ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। চার গুনিতক একশ মিটার রিলে ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন জাকিয়া, সোহাগী, শিরিন ও চুমকি।
সাঁতারের শেষ দিনে আরও চার ব্রোঞ্জ
এসএ গেমস সাঁতার ইভেন্টে শেষ দিনে বুধবার আরও তিনটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন বাংলাদেশী সাঁতারুরা। পুরুষদের ১০০ মিটার ফ্রি ষ্টাইল, ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে, ৪ গুণিতক ১০০মিটার মিডল রীলে ও মহিলাদের ৪ গুণিতক ১০০মিটার মিডল রীলে ইভেন্টে এ পদক আসে। সব মিলিয়ে সাঁতার থেকে দুই স্বর্ণসহ ১৫টি ব্রোঞ্জ জয় করলো বাংলাদেশ।
হকিতে আবারও হার
দ্বিতীয় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশ হকি দলকে। বুধবার পাকিস্তানের কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয়েছে লাল-সবুজ শিবিরকে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিলেন মাহবুব হারুনের শিষ্যরা। শুক্রবার ব্রোঞ্জের জন্য বাংলাদেশকে লড়তে হবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।
মহিলা হ্যান্ডবলে উড়ন্ত সূচনা
হ্যান্ডবলে উড়ন্ত সূচনা করছে বাংলাদেশ মহিলা হ্যান্ডবল দল। বুধবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মহিলা দল ৬২-৫ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আফগানিস্তানকে। খেলার শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ছিল বাংলাদেশ। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ৩০-২ গোলে এগিয়ে ছিলো লাল-সবুজরা। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের গোল পাবার নেশাটা অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। ফলে এই অর্ধে আরও ৩২টি গোল করে বাংলাদেশ। আর গোল হজম করে মাত্র ৩টি। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ করে গোল করেন শিরিন ১৩টি, সুমি ১০টি, শিল্পি,খালেদা ও নিশি ৭টি করে, ডালিয়া ৬টি এবং শাহিদা ৫টি করে গোল করেন। শুক্রবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একই দিন নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ পুরুষ হ্যান্ডবল দল। শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।

স্বর্ণ জিতে অবাক শাকিল!

এসএ গেমসে বাংলাদেশ পেল চতুর্থ স্বর্ণ

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : এসএ গেমসের শ্যুটিংয়ের শুরুতেই চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ৫০ মিটার পিস্তলে অপ্রত্যাশীতভাবে দেশকে স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছেন শাকিল আহম্মেদ। এই ইভেন্টে প্রায় দুই যুগ ধরে কোন স্বর্ণ ছিল না বাংলাদেশের ঝুলিতে। তাই পিস্তল ইভেন্ট নিয়ে কোন আগ্রহ ছিল না কারো ভেতরেই। হিসেব-নিকেশের বাইরে থাকা সেই ইভেন্ট থেকেই দেশের হয়ে চতুর্থ স্বর্ণ পদক জয় করেন খুলনার এ শ্যুটার। স্বাগতিক ভারতের শ্যুটার ওম প্রকাশকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কমপিটিশনে লড়াই করতে আসা শাকিল। তিনি স্কোর করেছেন ১৮৭ দশমিক ৬। এই ইভেন্টের ব্রোঞ্জ গেছে পাকিস্তানের কলিমউল্লাহ খান। চলতি এ গেমসে এটা বাংলাদেশের পুরুষ অ্যাথলেটদের প্রথম স্বর্ণ পদক জয়। এর আগে ভারোত্তোলন থেকে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ন জয় করেছিলেন। আর সুইমিং ইভেন্ট থেকে মাহফুজা আক্তার শিলা টানা দু’টি স্বর্ণ জয় করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন।
পিস্তলে সর্বশেষ বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দিয়েছিলেন আতিকুর রহমান। সেটি ছিল ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে। দুই বছর পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ গেমসেও স্বর্ণ জয় করে দেশের পতাকাকে উর্ধ্বমূখী করেছিলেন আতিক। এরপর এ ইভেন্টে শুরু হয় স্বর্ণ খড়া। কোন শ্যুটারই স্বর্ণ পদক বয়ে আনতে পারছিলেন না। প্রায় দুই যুগ পর পিস্তল ইভেন্টের হারানো গৌরব ফিরে আসলো শাকিলের হাত ধরে। নিজের ইভেন্ট থেকে স্বর্ণ জয় করতে পারবেন, সেটা কল্পনার মধ্যেও ছিল না শাকিলের। যখন পদক নিশ্চিত হয়ে গেলো, তখন গৌহাটির কাহিলিপাড়ার শ্যূটিং রেঞ্জে উৎসবে মেতে উঠলেন শ্যুটিং ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশীদের উৎসবে রংয়ে রঙ্গীন হয়ে উঠলো পুরো রেঞ্জ। স্বর্ণ জয়ী শাকিল নিজেও অবাক হয়ে রইলেন খানিক সময়। স্বাগতিক শ্যুটার ওম প্রকাশকে পেছনে ফেলে স্বর্ণ জয় করাটা তার কাছে তখনও বিশ্বাস হয়নি। যখন ঘোর ভাঙ্গল তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না এ শ্যুটার, ‘সত্যিকার অর্থেই আমি ভাবতে পারিনি ওম প্রকাশকে পেছনে ফেলে স্বর্ণ জিততে পারবো। তবে আত্মবিশ্বাসের কোন কমতি ছিল না। আমি আমার মনোযোগ এক মুহূর্তের জন্যও নষ্ট করিনি। নিজের শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করেছি। আর তাতেই সফল হয়েছি। দেশের জন্য এতো বড় সম্মান বয়ে আনতে পেরে আমি খুব খুশী। এ অনুভুতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
স্বর্ণ জয় করতে গিয়ে স্বাগতিক শ্যুটার সঙ্গে বেশ ঘাম ঝড়াতে হয়েছে শাকিলকে,-‘ভারতীয়দের প্রস্তুতি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। তাদের পরাজিত করতে অনেক মনসংযোগের প্রয়োজন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারায় বেশ ভালো লাগছে।’ সেনাবাহিনীতে চাকরী করা এ শ্যুটারের সাফল্যের জন্য নিজ সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞ,-‘সেনাবাহিনী আমাকে নানাভাবে সাহায্য করছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য পাওয়া সম্ভব হতো না। সেনাবাহিনীর কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’ সাফ গেমসে স্বর্ণ জয়ের পর এখন তার আত্মবিশ্বাস বেশ উর্ধ্বমূখী। চোখ তার আরও বড় আসরে। নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলতে চান খুলনার এ শ্যুটার,-‘বাংলাদেশের যে কোনো ক্রীড়াবিদের জন্য সাফ গেমসে স্বর্ণ জয় বেশ গৌরবের। তবে আমি আরো বড় আন্তর্জাতিক আসরে দেশের হয়ে পদক জিততে চাই।’

জয়ই লক্ষ্য বাংলাদেশের

ভুটানের সঙ্গে ড্র’টাই বাংলাদেশের অপেক্ষাটা বাড়িয়ে দিয়েছে। ঐ ম্যাচটি জিততে পারলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যেত লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। কিন্তু ভুটানের বিরুদ্ধে ম্যাচে একাধিক সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারায় এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে নেপালের বিরুদ্ধে ম্যাচ পর্যন্ত। হিমালয়ের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে হারলেও শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ থাকবে গঞ্জালো মরেনো সানচেজের শিষ্যদের সামনে। তবে সে হারটা হতে হবে ৫-০ গোলের কম ব্যবধানে। কিন্তু হার কিংবা ড্র করে নয়, জয় তুলেই সেমিফাইনালে খেলার টিকিট পেতে মরিয়া এসএ গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। হিমালয়ের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ম্যাচে কোন ভুল করতে চান না তারা। ভুটানের বিরুদ্ধে দলের ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে বৃহস্পতিবার সাই স্টেডিয়ামে জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন মরেনোর শিষ্যরা। দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে এ ফুটবল দ্বৈরথ।
বুধবার মালিগাঁও রেলওয়ে মাঠে অনুশীলন শেষে মধ্যমাঠের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় জামাল হোসেন জানান, ‘ভুটানের বিরুদ্ধে আমার যেভাবে খেলেছি, সেটা খুবই হতাশাজনক। অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম আমারা। কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। একটি মাত্র গোল করেছি। ড্র নয়, জয়টাই প্রাপ্য ছিল আমাদের। অন্তত ৫-০ গোলে জিতা উচিত ছিল। কিন্ত তা হয়নি। একটি ম্যাচে এতো সুযোগ মিস করলে সেই ম্যাচ জেতা সম্ভব হয়ে উঠে না। সেটাই হয়েছে প্রথম ম্যাচে।’
ভুটানের বিরুদ্ধে ড্র করলেও বৃহস্পতিবার রেজাউল-শাহেদদে দৃষ্টি জয়ের দিকেই। জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছেন না তারা। কোচ গঞ্জালো মরেনো সানচেজ ইতোমধ্যেই ম্যাচের কৌশল বাতলে দিয়েছেন শিষ্যদের। সে পরিকল্পনা নেপালের বিরুদ্ধে মাঠে প্রয়োগ করতে চাইছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। নিজেদের শতভাগ উজার করে দিতে প্রস্তুত তারা। ‘ভুটানের বিরুদ্ধে ৫-০ গোলের জয় পেলেও আমাদের সঙ্গেও তারা তেমনটাই খেলবে, এটা ভাবার কোন অবকাশ নেই। আমরা আগের ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করেছি। অনুশীলনে সেই দূর্বল জায়গাগুলো সূধরে নেয়ার জন্য কাজ করেছি। এখন নেপালে বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কোন কিছুই ভাবছি না। আমাদের লক্ষ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন’- জানালেন জামাল হোসেন। দলের স্কোরাররা গোল না পাওয়ার বিষয়ে এ মিডফিল্ডার বলেন, ‘স্ট্রাইকাররা গোল পাাচ্ছে না এটা চিন্তার বিষয়। তবে এটা ঠিক আমাদের ডিফেন্স থেকে আক্রমনভাগটা দুর্বল।’
বাংলাদেশ দলের আগে একই ভেন্যুতে টানা দুই ঘন্টা অনুশীলনে ঘাম ঝড়িয়েছেন নেপালি ফুটবলাররা। বাংলাদেশকে পরাস্ত করেই ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য তাদের। তবে ভুটানের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট পেলেও লাল-সবুজ জার্সীধারীদের বেশ সমীহ করছে নেপাল। অধিনায়ক বিরাজ মহাজনের কথায় সেটা স্পষ্ট, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমরা অনেকবারই খেলেছি। এ দলটি সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারনা রয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে ড্র করলেও বাংলাদেশ দল শক্তিশালী। তাই তাদের হালকাভাবে দেখার কিছু নেই। ফুটবলে যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। আমরা সাবধানী। তাদের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের রক্ষনভাগকেই শক্তিশালী হিসেবে মানছেন বিরাজ।

চতুর্থ স্বর্ণ জিতলেন শ্যুটার শাকিল

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট এসএ গেমসে এতদিন আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের মেয়েদেরই। তিনটি স্বর্ণ জিতেছেন মেয়েরা। দুটি মাহফুজা আক্তার শিলা এবং একটি মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। বিদেশের মাটিতে মেয়েরা দেশের পতাকা পতপত করে ওড়াতে সক্ষম হলেও কোন ছেলে এখনও পর্যন্ত স্বর্ণ জয়ের গৌরব অর্জন করতে পারেনি। অবশেষে সেই আক্ষেপটা ঘোঁচালেন শ্যুটার শাকিল। শ্যুটিংয়ের ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তলের শ্যুট-অফে স্বর্ণ জিতলেন তিনি।
শ্যুটিংয়ে ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তলের শ্যুট-অফে উঠেছিলেন শাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন ও মহেন্দ্র কুমার। স্বর্ণ জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ পর্যন্ত জয় হলো বাংলাদেশের শাকিলেরই। সেনাবাহিনীর এই শ্যুটার আজ ১৮৭.৬০ স্কোর করে জিতে নিয়েছেন স্বর্ণপদক। এ নিয়ে এসএ গেমসে মোট ৪টি স্বর্ণ পদক জিতল বাংলাদেশ। শাকিলের পাশাপাশি আনোয়ার ও মহেন্দ্র আরেকটু ভালো করতে পারলে এই ইভেন্টের দলগত সোনাটিও হতে পারত বাংলাদেশের।
কিন্তু আনোয়ার ষষ্ঠ ও মহেন্দ্র অষ্টম হওয়ায় বাংলাদেশকে দলগত ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তবে শাকিল স্বর্ণ জিততে পারলেও, নিশ্চিত একটি স্বর্ণ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে নিশ্চিত স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও, তাতে কোনো পদকই সম্ভবত আনতে পারছেন না সুরাইয়ারা।

দুধ বিক্রি করে সংসার চলে স্বর্ণজয়ী মাহফুজাদের

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের সাঁতার ইভেন্টে দুটি স্বর্ণপদক জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার মেয়ে মাহফুজা আক্তার শিলা। শিলার এ কৃতিত্বে আনন্দের জোয়ার বইছে অভয়নগর উপজেলার পাঁচকবর গ্রামে। মেয়ের সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা বাবা মা ও প্রতিবেশিরা। তাদের প্রত্যাশা মাহফুজার এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। আর বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে।
এদিকে, দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনলেও অভাব অনটনের মধ্যে রয়েছে তার পরিবার। শিলা সাঁতার প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত চারটি স্বর্ণ পদক পেয়েছেন। যার মধ্যে দুটি স্বর্ণ পদক বিক্রি করে অসুস্থ পিতার চিকিৎসা সেবা এবং অভাবের সংসারের খরচ যুগিয়েছেন।
mahfuza-lrg
তার পিতা আলী আহম্মেদ গাজী জানান, আমি পরের জমি বর্গা চাষ করি এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাভী পালন করে দুধ বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করি। অর্থাভাবে রোগের চিকিৎসা সেবা করতে পারি না। ছয় শতক জমির উপর একটি টিনশেডের বাড়ি তৈরি করে পরিববার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। বাড়িতে নেই কোনো বিদ্যুৎ ও প্রবেশের জন্য ‘নেই’ রাস্তা। দুধ বিক্রি করে মাহফুজার খেলাধুলা ও লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছি কোনো রকম। ধার-দেনা আছে অনেক। একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি জমে যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না।
শিলার মা করিমন নেছা আক্ষেপ করে বলেন, আমার মেয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনলেও কেউ আমাদের দুঃখ কষ্টের খবর রাখে না। যখন সে স্বর্ণপদক জয় লাভ করে তখন সাংবাদিকসহ জনপ্রতিনিধিরা ছবি তুলতে বাড়িতে আসে। তারপর আর কেউ খবর রাখে না।
mahfuza-lrg2
বড় ভাই হাসান আলী গাজী জানান, এ পর্যন্ত সে সাঁতার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ বায়ান্নটি পদক পেয়েছে। ক্রেস্টও পেয়েছে অনেক। আছে সার্টিফিকেট। সে এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতার উপর গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেছে এবং বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে অস্থায়ীভিত্তিতে চাকরি করছে। এ বছর তার চাকরি শেষ।
বড় বোন আফরোজা বেগম জানান, আমরা পাঁচ ভাই বোন। মাহফুজা ভাই বোনের মধ্যে চতুর্থ। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়। তারপর যশোরে আব্দুল মান্নান স্যারের সহযোগিতায় সাঁতারে প্রশিক্ষণ নেয়। অর্থাভাবে বিকেএসপিতে অংশগ্রহণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে।
সরেজমিনে মাহফুজার বাড়িতে দেখা যায়, মাহফুজার মা করিমন নেছা গোয়াল ঘর পরিষ্কার করছেন। মাহফুজার বাবার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি বাজারে দুধ বিক্রি করতে গেছেন। ছোট মেয়েটা স্কুলে আছে।
বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটি ভাঙাচোরা এবং তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় আক্ষেপ করেন মা করিমন নেছা। আমার মেয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনলেও আমাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাংবাদিকদের আগমনের কথা জানতে পেরে পাড়া প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। তারা শিলার পরিবারে অভাব অনটন ও দুঃখ-দুর্দশার কথা পত্রিকায় লেখার জন্য অনুরোধ করেন।

ডাবল স্বর্ণ জয়ী মাহফুজাকে অভিনন্দন সংসদ অধিবেশনে

এশিয়ান গেমসে রেকর্ড গড়ে সাঁতারে ডাবল স্বর্ণ জয়ী বাংলাদেশের মেয়ে মাহফুজা খাতুন শিলাকে জাতীয় সংসদে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। দেশের জন্য এ সম্মান বয়ে আনায় মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশেনে তাকে এই ধন্যবাদ জানান এমপিরা।
মাহফুজা খাতুন এশিয়ান গেমসের সাঁতারে মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতেছেন। সম্পূরক প্রশ্নের আগে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সরকার দলীয় সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। তিনি ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কৃতী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা যিনি দুইটি ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করে দেশের মুখকে উজ্জ্বল করেছেন। এই সোনার মেয়েকে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, পদক গ্রহণের সময় জাতীয় পতাকা উড্ডয়নকালে মাহফুজা খাতুন শিলা যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, তার জন্য আমি অভিভূত হয়েছি। অভিভূত হয়েছি তার দেশপ্রেম এবং উজ্জীবিত শক্তি দেখে।
জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, আজকে বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের অবস্থান পৃথিবীতে অত্যন্ত সুদৃঢ়। বাংলাদেশ এখন ক্রীড়াক্ষেত্রে নগণ্য কোনো দেশের নাম নয়। ক্রীড়া ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবাই এখন বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশ ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে, আরো এগিয়ে যাবে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য কাজী রোজীও ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীদের সাফল্য তুলে ধরে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে এমপিরা তাকে অভিনন্দন জানান।

টানা দ্বিতীয় জয় মহিলা ফুটবলে

এসএ গেমসে নিজেদের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ফুটবল দলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হারতে হয়েছিল। এরপরই অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। শ্রীলঙ্কাকে ২-১ গোলে হারানোর পর মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। শিলংয়ের জহর লাল নেহরু স্টেডিয়ামে এদিন মালদ্বীপকে ২-০ গোলে ধরাশায়ী করেছে বাংলাদেশ। টানা দুই জয়ে ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো সাবিনা-মিরোনা-মার্জিয়ারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সাবিনার গোলে এগিয়ে যায় বাংলরাদেশ (১-০)। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আক্রমনের ধার অব্যাহত রাখে ছোটনের শিষ্যরা। এ অর্ধে আরও একটি গোল করেন মারজিয়া (২-০)। বৃহস্পতিবার ভারতের সঙ্গে জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। নয়তো ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকবে হবে।

হতাশার এক দিন

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : এসএ গেমসে মঙ্গলবার কোন স্বর্ণ পদকের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। আশা জাগিয়েও জাতিকে হতাশ করেছেন আরচ্যাররা। এ ডিসিপ্লিন থেকে একটি স্বর্ণ পদকের আশায় বুক বেঁধে ছিলেন সবাই। কিন্তু রৌপ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এদিন ১৫টি ডিসিপ্লিনে মাঠে নামলেও তিনটি রৌপ্য পদক জয়ই দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আরচ্যারি থেকে একটি আর খো খো থেকে দু’টি রৌপ্য পদক জয় করেছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। এছাড়া সাঁতার থেকে তিনটি ও আরচ্যারিতে রয়েছে আরও একটি ব্রোঞ্জ।
দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এ আসরে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে অ্যাথলেটিক্স। গেমসের সবচেয়ে আকর্ষনীয় এ ইভেন্টের চারটি বিভাগে লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু একটিতেও সফল হতে পারেননি অ্যাথলেটরা। দ্রুততম মানব-মানবীর লড়াইয়ে (১০০ মিটার স্প্রিন্ট) বাংলাদেশের মেজবাহ চতুর্থ আর সোহাগী ও শিরিন আক্তার যথাক্রমে পঞ্চম ও ৬ষ্ঠ হয়েছেন। মহিলা ফুটবলাররা টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেও হতাশ করেছে পুরুষ ফুটবল দল। ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেমিফাইনালে উঠার পথ কঠিন করেছেন তারা।

আরচ্যারিতে এলো রৌপ্য

স্পোর্টস রিপোর্টার, শিলং থেকে : এসএ গেমসের গত আসরে আরচ্যারিতে কোন স্বর্ণ পদক ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে সজীবের পারফরম্যান্স সবাইকে আশান্বীত করেছিল। ‘স্বর্ণ খড়া’ কাঁটানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন কর্মকর্তারা। সোমবার মিক্সড ডাবলসের রিকার্ভ ডিভিশনের ফাইনাল নিশ্চিত করে সে স্বপ্নের পালে হাওয়া দিয়েছিলেন শেখ সজীব ও বিউটি রায়। আকা-বাঁকা রাস্তা আর উচু-নিচু পাহাড় ঘেড়া ছোট্ট শিলংয়ে চোখ চলে যায় সবার। তাদের প্রতিপক্ষ ছিলেন ভারতের তরুনদীপ ও দিপিকা কুমারী। সবার চোখে-মুখেই তখন স্বপ্ন, ‘আরচ্যারি থেকে প্রথম স্বর্ণ পদকটা আসবেই।’ কিন্তু না স্বপ্ন জাগিয়েও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছে তীরন্দাজদের। স্বাগতিক তীরন্দাজদের কাছে ৬-০ পয়েন্টে হারতে হয়েছে। ফলে রৌপ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। স্বর্ণ খড়া কাটেনি আরচ্যারি ইভেন্টের। মঙ্গলবার এ ইভেন্ট থেকে আরও দু’টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে বাংলাদেশ। জয়ী হয়ে স্বর্ণ জিতেছেন ভারতের তরুন্দীপ রায় এবং দ্বীপিকা কুমারী। রিকার্ভ টিম ইভেন্টে ইমদাদুল হক মিলন, শেখ সজীব ও তামিমুল রিকার্ভ টিম ইভেন্টে ভুটানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। মহিলা ব্যক্তিগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বিউটি রায়।
আরচ্যারিতে গত আসরে স্বর্ণ না পেলেও এবারও এই ডিসিপ্লিনে প্রত্যাশাটা একটু বেশিই ছিল। কারণ তীরন্দাজদের পেছনে অনেক বেশী অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অনুশীলনের জন্য বিদেশী কোচ, বিদেশ পাঠানো থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে ফেডারেশন। আর শিলংয়ে এসে সজীব ও বিউটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সবাইকে আরও বেশী আশান্বীত করেছিল। কিন্তু তীরের লড়াইয়ে স্বাগতিকদের কাছে হারতেই হলো। ৬-০ সেটে পরাজিত হয়ে রৌপ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। স্বর্ণেও আশা জাগিয়ে না পাওয়ার হতাশায় সবাই। আর তীরন্দাজ হিসেবে সেই হতাশাটা বেশি ছুয়েছে সজীবকে- ‘খুব খারাপ লাগছে। আসলে আমাদের ভাগ্যটাই খারাপ। চেষ্টা করেছি, হয়নি। আসলে আমাদের দুর্ভাগ্য। এখন আর কী বলব। আর প্রথম শর্টে মেয়েটার (বিউটি) ভুল ছিল। তবে ভুল বলা যাবে না, কারণ আরেকটা জায়গায় অনুশীলন করেছি তো সেই জন্য সাইডটা তিনি বুঝতে পারেননি। বাকিগুলোতে তো ভাল করেছি।’
মঙ্গলবার শেষ হওয়া আরচারি ফলাফল নিয়েও মোটেও খুশি হতে পারেননি বাংলাদেশের সেফ দ্যা মিশন আশিকুর রহমান মিক-‘আরচ্যারিতে অত্যন্ত দুটি স্বর্ণের আশা করেছিলাম। কিন্ত তারা আমাদের হতাশ করেছে।’ এস এ গেমসে স্বর্ণের হতাশা নিয়ে শেষ হলো আরচ্যারি। এই ডিসিপ্লিনে তিনটি রৌপ্য এবং সমান ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ।

ভুটানের সঙ্গে ড্র ফুটবল দলের!

স্পোর্টস রিপোর্টার, গোহাটি থেকে : ফুটবলের অবস্থা যে দিন দিন কতোটা খারাপ যাচ্ছে, তা মাঠেই প্রমান হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সিনিয়রদের মতো যুবারাও মাঠে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। দেশের জন্য বয়ে আনতে পারছেন না কোন সুখবর। ভারতের গোহাটি-শিলংয়ে চলতি এসএ গেমসের ফুটবল ইভেন্টে সেটা আবারো প্রমান হলো। দূর্বল ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে গঞ্জালো মরেনো সানচেজের শিষ্যদের। অথচ এই ভুটানকেই সোমবার নেপাল ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে। অপ্রত্যাশীত এ ড্র’য়ের ফলে সেমিফাইনাল এখনো নিশ্চিত হয়নি লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। গ্রুপ পর্বের শেষ লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে রেজাউল করিমবাহিনীকে। ঐ ম্যাচে হিমালয়ের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট পেলেই শেষ চারে নাম লেখাতে পারবে তারা। তবে যদি ৬-০ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ, তাহলে ছিঁটকে পড়তে হবে এ আসর থেকে।
মঙ্গলবার সাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারেনি সমর্থকদের। পুরো ম্যাচটিই ছিল ভুলে ভরা। অগোছালো ফুটবল উপহার দিয়েছেন সানচেজের শিষ্যরা। বল রিসিভ কিংবা পাসিং, কোন কিছুতেই পরিকল্পনার ছাঁপ ছিল না। মাঠের লড়াইয়ে স্বার্থপরতারও পরিচয় দিয়েছেন ফুটবলাররা। সতীর্থদের পাস না দিয়ে নিজেরা গোল করতে গিয়ে দলকে জয় বঞ্চিত করেছেন বেশ কয়েকবার। বল খুঁজতে মাঠে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে ফুটবলারদের। শিষ্যদের এমন পারফরম্যান্সে বেশ হতাশই দেখালো কোচ সানচেজকে। ম্যাচ শেষে ডাক আউট ছেড়ে ড্রেসিং রুমেও ঢুকেননি কোচ। বসেছিলেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষের ঠিক দরজার সামনেই। সেখান থেকেই সরাসরি হাজির হলেন সংবাদ সম্মেলনে। নিজের ক্ষোভ ঢাললেন পুরোটাই, ‘একটা ম্যাচে এতো ভুল হলে জয় আসবে কি করে? আজ যদি ৪-১ স্কোর লাইন হতো, তাহলে খুশি হতাম। একে একে তিনটা সুযোগ হাতছাড়া করেছে দল। আমি তাদের পারফরম্যান্সে মোটেও খুশী নই। এভাবে খেললে ভালো কিছু হবে না। আমরা যখন গোল মিসের মহড়ায় ব্যস্ত, তখন ভুটান একটি সুযোগ পেয়েই কাজে লাগিয়ে দিয়েছে।’ দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুও বেশ ক্ষুব্ধ, ‘মাঠে আমরা জঘন্য খেলেছি। এমন খেললে কোন আশাই থাকবে না। নেপালের সঙ্গে কোনভাবেই পেরে উঠা সম্ভব নয়।’
ম্যাচের পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুন এক সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কপালটা মন্দই বলতে হবে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। নাবিব নেওয়াজ জীবনের নেয়া পাওয়ারফুল শটটি যদি ভুটানের ক্রসবারে লেগে ফিরে না আসতো, তবেই গোলের দেখা মিলে যেতো। এরপরই যেনো হঠাৎ করে অগোছালো হয়ে পড়ে বালাদেশ শিবির। ভুটানের পরিকল্পিত ফুটবলের সামনে অসহায় দেখাচ্ছিল রেজা-তপুদের। সবচেয়ে জঘন্য ছিল বাংলাদেশের ডিফেন্স। রক্ষণভাগের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ২ মিনিটেই এগিয়ে যায় ভুটান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে সেসো গিয়ালসন বল নিয়ে যখন বিপদসীমায় প্রবেশ করছিলেন, তখন ডিফেন্ডার তপু তার পেছন পেছন দৌঁড়াচ্ছিলেন। আর এ সুযোগেই মাইনাস করে বল ঠেলে দেন ছোট বক্সের ভেতরে থাকা জিগমি দর্জির সামনে। এ ডিফেন্ডার আলতো টোকায় বল জালে পাঠিয়ে দিতে ভুল করেননি (১-০)। গোল হজম করার পর ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে সানচেজের শিষ্যরা। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে সমতা ফিরিয়ে আনে রেজা-শাহেদরা। জামাল ভুঁইয়ার কর্নারে দারুন এক হেডে গোল করেন নাবিব নেওয়াজ জীবন (১-১)। দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে সোহেল রানার নেয়া জোরালো শটটি ভুটানের গোলরক্ষক গিয়ালসেন জাংপু বাদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে দলকে বিপদমুক্ত করেছিলেন। ৬৪ মিনিটে নাবিব নেওয়াজ জীবন আরও একটি সুযোগ মিস করেন। স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমনে যাওয়া জীবনের উল্টো দিকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন হেমন্ত ভিনসেন্ট। তিনি হেমন্তকে পাস দিলে গোল হতো নিশ্চিত। কিন্তু তা না করে নিজেই গোল করার বৃথা চেষ্টা করেন। ৭১ মিনিটে ভুটানের গোলরক্ষক গিয়ালসেন জাংপুকে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি বদলী হিসেবে মাঠে নামা রুবেল মিয়া। আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন বল।

স্বর্ণসহ ছয় পদকে এসএ গেমস শেষ ভারোত্তোলন দলের

ভারতের গৌহাটি ও শিলং শহরে চলছে ১২তম এসএ গেমস ২০১৬। উক্ত গেমসে মঙ্গলবার শেষ হলো চার দিনব্যাপী ভারোত্তোলন ইভেন্টের খেলা। প্রতিযোগিতায় একটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য ও তিনটি ব্রোঞ্জসহ মোট ছয়টি পদক জয়ের মধ্য দিয়ে এবারের এসএ গেমস মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল। পুরুষ আটজন এবং মেয়ে সাতজন মোট ১৫ জন ভোরোত্তোলক অংশ নেয় এবারের প্রতিযোগিতায়। সাতজন মেয়ের মধ্যে পদক পেয়েছে পাঁচজন। আর আট ছেলের মধ্যে পদক পেয়েছে মাত্র একজন।
গেমসে ভারোত্তোলন ডিসিপ্লিনে মেয়েদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেনীতে স্বর্ণ জেতেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। উল্লেখ্য এবারের আসরে বাংলাদেশ প্র্রথম স্বর্ণ পদক পায় ভারোত্তোলনে। মেয়েদের মধ্যে রোকেয়া সুলতানা সাথী ৬৯ কেজি এবং ফুলপতি চাকমা ৫৮ কেজিতে রৌপ্য পদক জয় করেন। এছাড়া, মোল্লা সাবিরা সুলতানা ৪৮ কেজিতে এবং ফিরোজা পারভীন ৭৫ কেজিতে বাংলাদেশের হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। আর ছেলেদের মধ্যে একমাত্র ব্রোঞ্জ পদক পান ৬২ কেজি ওজন শ্রেনীতে মোস্তাইন বিল্লাহ।
বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলের ফলাফল নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ জানান- মেয়েদের বেশ ভালো উন্নতি হয়েছে। আমরা সাত মেয়ের মধ্যে স্বর্ণসহ মোট পাঁচটি পদক পেয়েছি। আর ছেলেদের বিভাগ থেকে পেয়েছি মাত্র একটি ব্রোঞ্জ। অল মোস্ট আমাদের সবার নিজ নিজ ক্যাটাগোরীতে উন্নতি হয়েছে। কেউ কেউ অল্পের জন্য পদক পায়নি। আরো কিছু পদক পাওয়ার আশা ছিলো। সবমিলে যা হয়েছে তাতে আমরা খুশি।

ভারতীয়দেরও অন্তর ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের মাবিয়া

বাংলাদেশের সোনার কন্যা মাবিয়া ভারতীয়দেরও অন্তর ছুঁতে সমর্থ হলেন। মাবিয়ার কান্না খুব করেই স্পর্শ করেছে তাদের। এই নিয়ে ‘ কাঁদলেন মাবিয়া, এই বঙ্গকন্যা এখন ভারতের হৃদয়ে’ শিরোনামে সংবাদ করেছে ভারতের জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।
সংবাদের বর্ণনাটি ছিল এরকম- পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে হাপুস নয়নে কাঁদছিল মেয়েটি। সামনে তখন উঠছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। ব্যাকগ্রাউন্ডে জাতীয় সঙ্গীত, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। এতদিন তো তার নাম তেমনভাবে কেউ শোনেইনি। কে এই মেয়ে? তার চোখের জলের সঙ্গে ততক্ষণে মিশে গিয়েছে পুরো গ্যালারির আবেগ।
সংবাদে বলা হয়, গুয়াহাটিতে চলছে সাউথ-এশিয়ান গেমস। সেখানেই বাজিমাত বঙ্গকন্যার। যে বাংলাদেশ সারাক্ষণ ডুবে থাকে ক্রিকেটে। সেখান থেকে একটু আধটু প্রচার পায় ফুটবল। বাকি খেলা বাংলাদেশে না থাকার সামিল। সেখান থেকেই বিশ্ব মঞ্চে বাজিমাত মাবিয়া আক্তারের।
সাউথ-এশিয়ান গেমসে দেশকে ভারোত্তলনে এনে দিলেন প্রথম সোনা। একজন মেয়ে তাও আবার ভারোত্তলনের মতো খেলায়। এটাই বা কম কি? আবেগটা সেই সোনার মেয়ের দেশকে সোনা এনে দেওয়ার।
সংবাদে বলা হয়, পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকার দিকে তাকিয়ে স্যালুট করছিলেন মাবিয়া। চোখে অঝোর ধারা। গলায় সোনার মেডেল চকচক করছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন খেলার উত্তরণ হল কি না তা ভবিষ্যতই বলবে। কিন্তু সাউথ-এশিয়ান গেমসে ছাপ রেখে গেলেন এই মেয়ে। তাঁর কান্না বলে দিল কতটা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে থেকে এই সব খেলায় উঠে আসতে হয়। যেখান থেকে উঠে এসে এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রীড়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যান্য খেলায় এখন মাবিয়াই সেরা বিজ্ঞাপন। দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে এই দৃশ্য বহুদিন মনে রাখবে মানুষ। হয়তো আরও মানুষ এগিয়ে আসবে অন্য খেলায় মাবিয়ার পথ অনুসরণ করে।
কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে মাবিয়া একটি মেয়ের আবেগ। সাফল্যের আবেগ। অনামী খেলার বিশ্ব মঞ্চে উঠে আসার আবেগ। দেশের নাম দশের সামনে তুলে আনার আবেগ। মাবিয়ারা এভাবেই ফিরে ফিরে আসুক বিশ্ব মঞ্চে বার বার।

হকিতে বাংলাদেশের জয়

আগের দিন ভারতের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হারলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার গোহাটির মওলানা মো. তৈয়ব আহাম্মেদ হকি স্টেডিয়ামে সারোয়াদের জয়টি ছিলো ২-০ গোলের। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোলদু’টি করেছেন রাসেল মাহামুদ জিমি ও খোরশেদুর রহমান।

জলকন্যা মাহফুজার কড়া জবাব

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : চলতি এসএ গেমসে যে তিনটি স্বর্ণ জয় করেছে বাংলাদেশ, তার দু’টিই এসেছে সাঁতারু মাহফুজা আক্তার শিলার হাত ধরে। অথচ ২৫ বছর বয়সী এ সাঁতারুর সঙ্গেই বিমাতা সূলভ আচরন করেছিলেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। নানা কারণেই তাকে অসহযোগিতা করতেন। এসএ গেমসের আগে ঠিক মতো অনুশীলনেরও সুযোগ দেয়া হয়নি যশোর এ জলকন্যাকে। তাকে দিয়ে কিছুই হবে না বলে ভৎর্সনা করতেও ছাড়েননি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সেই সব কর্মকর্তাদের মুখে চুন-কালি লেপ্টে দিয়ে সোমবার আরও একটি স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছেন দেশকে। করেছেন রেকর্ড। ৫০ মিটার বেস্ট স্ট্রোকে নতুন এ রেকর্ডের মালিক হয়েছেন শিলা। তিনি সময় নিয়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৮৮ সেকেন্ড। এর আগে এ রেকর্ডের মালিক ছিলেন শ্রীলঙ্কার রাহিম মায়ুমি। ২০০৬ সালে কলম্বো এসএ গেমসে ৩৪ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৫০ মিটার বেস্ট স্ট্রোকের রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন লঙ্কান এ সাঁতারু। এক দশক পর তাকে পেছনে ফেলেন শিলা। গোহাটির ড. জাকির হুসেইন সুইমিং কমপ্লেক্সে দুই স্বর্ণ জয়ের মাধ্যমে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কঠিন জবাব দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন ২৫ বছর বয়সী এ সাঁতারু। তিনি নিজের ক্যারিয়ার আরও সামনের দিকে নিয়ে যেতে চান।
ফেডারেশনের কর্মকর্তা এসএ গেমসের আগে অনেক অবজ্ঞা করেছেন। তাদের অবহেলার কারণেই একটা সময় সাঁতারই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন যশোরের এ জলকন্যা। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুন যখন সাঁতারের কোচ হয়ে আসলেন। তিনি শিলাকে অনুপ্রেরণা দিতে থাকেন। তার অনুপ্রেরণাতেই আবারো জলের সঙ্গে সখ্যতা শুরু করেন টানা দুই স্বর্ণ জয়ী মাহফুজা। তাই রেকর্ডের পর ফেডারেশনের সেই সমস্ত কর্মকর্তাদের সমালোচনা করতে ছাড়েননি এ সাঁতারু,- ‘পার্কের অনুপ্রেনাতেই আমি আবারো জলে নেমেছি। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের আচরনে একটা সময় আমি সব ছেড়ে-ছুড়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পার্ক আমাকে বারবার বলেছেন, তুমি ফেডারেশনের কথা না ভেবে দেশের কথা ভাবো। তোমার পক্ষে সম্ভব দেশকে কিছু দেয়া। তাছাড়া আমার টিম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে সবাই আমাকে অনেক সাহস যুগিয়েছেন। আমার বাজে সময়টাতেও তারা আমাকে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন।’
স্বর্ণ জয়ের পর ফেডারেশনের উপর ক্ষোভটা ঝাড়লেন প্রকাশ্যেই, ‘আমি আজ যা করেছি, তা শুধুই আমার দেশের জন্য। ফেডারেশনের জন্য আমি কিছুই করিনি। ফেডারেশন আমাকে কোন সহযোগিতাই করেনি। তারা আমাকে অবহেলার চোখেই দেখেছে। আমার বয়স হয়ে গেছে, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না ইত্যাদি নানা কথা বলেছেন ফেডারেশনের আসনগুলোতে থাকা কর্তা ব্যক্তিরা। তারা আমাকে বিদেশে খেলতেও নিয়ে যায়নি। আমি মনে হয় নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ফেডারেশনকে একটা জবাব দিতে পেরেছি। আমার মতো এমন অনেক এ্যাথলেটকে পেছনে ঠেলে দেয়া হয়। আমি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো মেয়েদের পেছনে ঠেলে না দিয়ে এগিয়ে আসার সুযোগ করে দিন।’ স্বর্ণ জয়ের পরই কথা বলেছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে। তারাও মেয়ের এমন সাফল্যে আনন্দে উদ্বেলিত। অনেকেই মাহফুজার জন্মস্থান যশোরের অভনগর থানার নওয়াপাড়ার বাসা ছুটে আসছেন অভিনন্দন জানাতে। সেটা বাবা-মাই তাকে ফোনে বলেছেন।

এসএ গেমসে কুস্তির ১০টি পদক জয়

মোট দশটি পদক জয়ের মধ্য দিয়ে চলতি ১২তম এসএ গেমস মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ কুস্তি দল। সেই সাথে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী এবারের এসএ গেমসে কুস্তির খেলা। এবারের ১২তম এসএ গেমসে বাংলাদেশ দলে পুরুষ ও মহিলা মোট ১৬ জন খেলোয়াড় অংশ নেয় কুস্তি ডিসিপ্লিনে। এর মধ্যে নিজ নিজ ওজন শ্রেনীতে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ জেতেন মোট দশজন কুস্তিগীর। বাংলাদেশ দল পেয়েছে ৩টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জ পদক।
বাংলাদেশ দলে মেয়েদের মধ্যে রিনা ৬০ কেজি ওজন শ্রেনী, শিরিন ৬৯ কেজি ও ফারজানা ৬৩ কেজিতে রৌপ্য পদক জয় করেন। উল্লেখ্য শিরিন ও ফারজানা শেষ দিনে নিজ নিজ ক্যাটাগোরীতে রৌপ্য জয় করেন। আর অন্য মেয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রোঞ্জ জেতে মোট পাঁচজন খেলোয়াড়। এরা হলেন নদী চাকমা ৪৮ কেজি ওজন শ্রেনীতে, সোমা ৫৫ কেজি, তানজিলা ৫৮ কেজি, মিনা ৭৫ কেজি ও নামিমা ৫৩ কেজিতে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। সবমিলে মেয়েরা মোট আটটি পদক জয় করে।
এদিকে, ছেলেদের মধ্যে ৮৬ কেজিতে মিজানুর ও ৯৭ কেজিতে বিল্লাল বাংলাদেশের হয়ে দুটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।
বাংলাদেশ এ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান পালোয়ান দলের ফলাফল নিয়ে বলেন, খেলোয়াড়রা ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাথে কুস্তি করে দশটি পদক পেয়েছে আমি ও আমার ফেডারেশন খুশি। ১৬ জনের দল থেকে দশটি মেডেল পেয়েছি সব মিলে আমরা সন্তুষ্ট। তবে স্বর্ণ পেলে আরো ভালো হতো।

জিতলেই সেমিতে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার, গোহাটি থেকে : ফুটবলে অনেক দিন ধরে নেই কোন সুখবর। সর্বশেষ ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল স্বাগতিকদের। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতার কারণে বারবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হতাশ হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এসব ব্যর্থতাকে ভুলেই মঙ্গলবার ভুটানের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিতে মরিয়া লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। গোহাটির সাই স্পোর্টস কমপেক্সে স্থানীয় সময় দু’পুর আড়াইটার শুরু হবে দুই দলের এ ফুটবল দ্বৈরথ। ভুটানের বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেলেই সেমির পথে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে গঞ্জালো মরেনো সানচেজের শিষ্যরা। আর জিততে পারলে তো কোন কথাই নেই, সরাসরি শেষ চারে নাম লেখাবে রেজা-শাহেদ-তপুরা। কারণ ‘বি’ গ্রুপে নেপালের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ভুটান।
এসএ গেমসের গত আসরে ঘরের মাটিতে স্বর্ণ জয় করেছিল বাংলাদেশ। সেই শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্য নিয়েই গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের গোহাটিতে আসেন ফুটবলাররা। লক্ষ্য তাদের একটাই-‘জয়’। কিন্তু গোহাটিতে এসে আয়োজকদের অসহযোগিতার কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ফুটবল দলকে। হোটেল থেকে প্র্যাকটিস ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য প্রথম দু’দিনতো সময় মতো বাসই পাননি তারা। ফুটবলারদের যে হোটেল নামের খুপড়ি ঘরে রাখা হয়েছে, সেখান থেকে প্র্যাকটিস ভেন্যু মালিগাঁও রেলওয়ে স্টেডিয়ামের দূরত্ব প্রায় দশ কিলোমিটার। সোমবারই অনুশীলনের জন্য সময় মতো বাস মিলেছে বাংলাদেশের। পাহার ঘেরা এই মাঠে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই সকাল সাড়ে ৯টা থেকে একটানা দুই ঘন্টা ঘাম ঝড়ালেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। অনুশীলনের পুরোটা সময় জুড়েই ফুটবলারদের বেশ নির্ভার মনে হলো। প্রতিপক্ষ ভুটান বলেই কি এতোটা নির্ভার- ‘না আসলে তেমনটা নয়, ফুটবলারদের মানসিকভাবে একটু চাঙ্গা রাখতেই কোচ মরেনো অনুশীলনে এ কৌশলটা অবলম্বন করেন। শিষ্যদের সঙ্গে বন্ধু সূলভ আচরন করেন তিনি’- জানালেন দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু।
নেপালের কাছে ৫-০ গোলে হারা ভুটানকে খুব একটা হালকাভাবে দেখতে নারাজ কোচ গঞ্জালো মরেনো সানচেজ। এ ম্যাচটা ভুটানের জন্য ‘ডু অর ডাই’। তাই তারা ‘মরন কামড়’ দিতে চাইবে। সেটা বেশ ভালো করেই জানা কোচ মরেনোর। তাই শিষ্যরে আগে-ভাগেই সাবধান করেছেন, ‘আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচে জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয়ের বিকল্প ছিুই দেখছি না। আমি আমার ছেলেদের মাঠে তারাহুরো করতে নিষেধ করেছি। বল নিয়ন্ত্রন, ম্যাচ নিয়ন্ত্রন এবং প্লেসিং ফুটবল খেলার কৌশল নিয়েই আমরা মাঠে যাবো।’
গ্রুপের দুই প্রতিপক্ষ নেপাল ও ভুটানকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন মরেনো। তাই সোমবার ভুটানের ভিডিও দেখেছেন। তাদের দূর্বল দিকগুলো খুঁজে বের করেছেন। মঙ্গলবার মাঠে ভুটানের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্বক খেলার ছঁক কষেছেন মরেনো, ‘আমি খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানি। আমার সিস্টেম হচ্ছে, এক সঙ্গে খেলো। তড়িঘড়ি করে আক্রমনে গিয়ে অযথা বল ও সময় নষ্ট করো না। দুই স্ট্রাইকার নিয়ে এ ম্যাচ খেলবো ৪-৪-২ ফর্মেশনে। আমি আবারও বলছিÑদলটা ভালো। এখন খেলোয়াড়দের মনোসংযোগ ধরে রাখাটা জরুরী।’
জাতীয় দলের ফুটবলারদের সাম্প্রতিক সময়ের মাদক সেবনের কেলেঙ্কারি বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে ক্রীড়াঙ্গনে। তবে এসএ গেমসের এই দলটিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার মতো কোন ফুটবলার নেই বলেও জানালেন বার্সেলোনায় খেলা এ কোচ।
গত আসরে স্বর্ণী জয়ী দলের একমাত্র সদস্য অধিনায়ক রেজাউল করীম রেজা। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের টানা ব্যর্থতা ভুলে চলতি এ আসর নিয়েই ভাবতে চান, ‘আমরা যদি এখান থেকে সাফল্য নিয়ে ফিরতি পারি তবে আমাদের বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ ধামাচাপা পরে যাবে। প্রথম ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে। আমাদের ফোকাসটা সেদিকেই।’ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। ওই দলের ৯ সদস্য আছেন এসএ গেমসের অনূর্ধ্ব-২৩ দলে। সঙ্গে রুবেল মিয়া, মাসুম মিয়া জনিরা যোগ হওয়াতে বাংলাদেশ দলকে ব্যালেন্সই বলা চলে।
উল্লেখ্য, এসএ গেমসের ‘এ’ গ্রুপে আছে স্বাগতিক ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। আর গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশের সঙ্গী নেপাল ও ভুটান।

ভারোত্তোলনে ফিরোজার ব্রোঞ্জ জয়

ভারতে অনুষ্ঠিত ১২তম এসএ গেমসে ভারোত্তোলন ইভেন্টে আরো একটি পদক পেয়েছে বাংলাদেশ দল। মেয়েদের ৭৫ কেজি ওজন শেণিতে স্ন্যাচে ৭০ ও ক্লিন এন্ড জার্কে ৭৮ মোট ১৪৮ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন ফিরোজা পারভীন।
এই ক্যাটাগোরিতে (৯২ ও ১১৮) মোট ২১০ কেজি তুলে স্বর্ণ পায় ভারতের কবিতা দেবী। আর শ্রীলঙ্কার মুদিয়ান সিলাজী ((৭০ ও ৯০) মোট ১৬০ কেজি তুলে রৌপ্য পান। পদক পাওয়ার পর ফিরোজা বলেন, ‘আশা ছিল আরো ভালো কিছুর। কিন্তু হয়নি। তবু ভালো লাগছে বাংলাদেশকে একটি পদক দিতে পেরেছি। খালি হাতে ফিরছি না এটা ভেবে ভালো লাগছে।’

টিটিতে ব্রোঞ্জ ও ফুটবলে মহিলা দলের জয়

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : এসএ গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হারতে হয়েছিল মহিলা ফুটবলারদের। নেপালে কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুঁড়ে দাঁড়িয়েছে লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। কৃষ্ণা রানীর জোড়া গোলে শ্রীলঙ্কাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। রোববার শিলংয়ে এ জয়ের দেখা পায় তারা।

লঙ্কান মেয়েদের বিপক্ষে মাঠে নেমে শুরু থেকেই আক্রমনাতœক খেলতে শুরু করেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু তাতে গোলের সুবিধা আদায় করতে পারেনি সাবিনা-কৃষ্ণারা। তবে, দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই গোলের দেখা পেয়েছে ছোটনের শিষ্যরা। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে কৃষ্ণার দারুন এক গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ (১-০)। উৎসবে মেতে উঠেছিল লাল-সবুজরা। কিন্তু পরের মিনিটেই তাদের হাসি এক নিমিষেই মিলিয়ে যায় দ্বীপ দেশটি ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনলে (১-১)। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট ছয় আগে আবারো প্রতিপক্ষের জালে বল ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন কৃষ্ণা (২-১)।

টেবিল টেনিসের মহিলা দলগত ব্রোঞ্জ

টেবিল টেনিসে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ মহিলা দল। শিলংয়ে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের মৌমিতা আলম রুমি, রাইমা আক্তার ও শারমিন আক্তার মিনারা ৩-২ সেটে নেপালকে হারায়। এতে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয় বাংলাদেশে। তবে পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশের মানস চৌধুরী, মাহাবুব বিল্লা এবং মোঃ ইমরান হোসেন ৩-০ সেটে হারে নেপালের কাছে হেরে যান।

কুস্তিতে হতাশা

কুস্তিতে পদক লড়াইয়ের প্রথম দিন একটি রৌপ্য পদক জয়ের পর অনেকেই আশায় বুক বেঁধে রেখেছিলেন দ্বিতীয় দিনে আরও ভালো কিছুর। কিন্তু হতাশ করেছেন দেশের কুস্তিগিররা। স্বর্নতো দূরের কথা, রৌপ্যও জয় করতে পারেননি তারা। দিন শেষে মাত্র তিনটি ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছে তাদের। মেয়েদের ৫৩ কেজি ওজন শ্রেনীতে নাসিমা আক্তার ও ৫৮ কেজি ওজন শ্রেনীতে তানজিনা মাসুদি এবং পুরুষদের ফ্রি স্টাইল ৮৬ কেজি ওজন শ্রেনীতে রেহমান মোহাম্মদ ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন।

টেনিসে মিশ্র এক দিন

রোববার টেনিস ডিসিপ্লিনটি মিশ্রভাবে শেষ করেছে বাংলাদেশ। পুরুষদের দ্বৈত বিভাগে অমল রায় ও রঞ্জন রাম আফগানিস্তানের ফিরোজ আহম্মেদ ও গাফুরি ফরিদকে পরাস্ত করেছেন ৬-০, ৬-১ সেটে। একই বিভাগে দীপু লাল ও আনোয়ার হোসেন হেরেছেন ভারতের রনাথন রামকুমার ও বিজয় সুন্দরের কাছে। স্বাগতিকরা জয় পান ৬-০, ৬-২ সেটে।

মিক্সড ডাবলসের দুটি ইভেন্টের মধ্যে একটিতে জয় একটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। রঞ্জন রাম ও আফরানা ইসলাম জুটি ধরাশায়ী করেছেন ভদ্রয় কামাল ও শর্মা গাংগেকে। নেপালের এ জুটির বিরুদ্ধে ৪-৬, ৬-৪ ও ১০-৫ গেমে জয় পান তারা। একই ইভেন্টে হেরেছেন অমল রায় ও ইশিতা আফরোজ জুটি। তারা শ্রীলঙ্কান জুটি গুদামানা হারসানা ও মুঠিয়া অ¤্রথিার কাছে ৬-০, ৬-১ সেটে পরাস্ত হয়েছেন। মহিলাদের একক ইভেন্টে খুব বাজে একটি দিন পাড় করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের মনসুর সারাহর কাছে সরাসরি ৬-০, ৬-০ সেটে শাহলক্ষ্মী সাফিনা এবং শ্রীলঙ্কার ওয়াদুগি নিথমির কাছে আফরিনা ইসলাম প্রিতি হেরেছেন ৬-২, ৬-২ সেটে।

পাঁচ ডিসিপ্লিনে পাকিস্তান ভিসা পায়নি

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের ১২তম আসরকে ঘিরে এখন আসামের গৌহাটি শহর বিদেশী খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের পদচারণায় মুখরিত। নানা অব্যবস্থাপনার মাঝেও এসএ গেমসকে নিয়ে সবার মাঝেই রয়েছে আগ্রহ। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ভারত সরকার যেন কিছুটা কঠোর। তাই তো গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসের পাঁচ ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানের ১৭জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে কি কারনে ভিসা দেয়া হয়নি,তা জানা যায়নি। ইভেন্টগুলো হলো- স্কোয়াশ, কাবাডি, টেবিল টেনিস,কুস্তি ও জুডো। চলমান আসরে সর্বমোট ৩৩৭ জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু ১৭জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে ভিসা না দেয়ার কারনে সেই সংখ্যা কিছুটা হলেও কমে গেছে পাকিস্তান দলের।

ভারোত্তোলনে সাথীর রৌপ্য জয়

১২তম এসএ গেমসের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশকে আরো একটি রৌপ্য পদক এনে দিলো রোকেয়া সুলতানা সাথী। মেয়েদের ৬৯ কেজি ওজন শ্রেনীতে ¯œ্যাচে ৭৫ ও কিন এন্ড জার্কে ৯৪ মোট ১৬৯ কেজি তুলে রৌপ্য পান সাথী। এই বিভাগে (৮৬ ও ১০৮) মোট ১৯৪ কেজি তুলে স্বর্ণ জেতেন স্বাগতিক ভারতের রাখি হালদার। এবং শ্রীলঙ্কার চাতুরিকা প্রিয়াংথি (৭১ ও ৯০) মোট ১৬১ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।
সাথীর এই রৌপ্য পদক জয়ের মধ্য দিয়ে রোববার ভারোত্তোলন ইভেন্টে মেয়েদের তিনটি ওজন শ্রেনীতেই পদক পেল বাংলাদেশ। সীমান্ত জয় করে স্বর্ণ পদক। এছাড়া ফুলপতি চাকমা ও রোকোয়া সুলতানা সাথী দুজনে পান রৌপ্য পদক। পদক জয়ী সাথীকে শুভেচ্ছা জানান ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুর কাদের কোরাইশী, সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ, পুলিশ সুপার (সিআইডি) জান্নাত আরা ও অভিজ্ঞ মহিলা ক্রীড়া সংগঠক রাফিয়া আক্তার ডলি।

টেবিল টেনিসের ডাবলস ও মিক্সডে বাংলাদেশের জয়

এসএ গেমসে টেবিল টেনিসে পুরুষ দ্বৈতে বাংলাদেশের কাছে হেরে গেছে আফগানিস্তান। আর মিক্সড দ্বৈতেও ভারতের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। তবে, মেয়েদের এককে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশের নারী টেবিল টেনিস দল।
রোববার ভারতের শিলংয়ে এসএ গেমসের ১২তম আসরে টেবিল টেনিসের পুরুষ দ্বৈতে বাংলাদেশের শ্রী অমল রায় ও রনজম রামের কাছে ৬-০ ও ৬-১ গেমে হেরেছে আফগানিস্তানের গফুরি ফিরোজ আহমেদ ও গফুরি ফরিদ আহমেদ।
এদিকে, মিক্সড ডাবলসে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের রনজন রাম ও আফরানা ইসলাম ইসলাম প্রীতির বিপক্ষে নেপালের ভানদারি কমল ও শরমা গঙ্গা ৪-৬, ৬-৪ ও ১০-৫ গেমে হেরে গেলেও পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার হারশানা আমরিতার কাছে ৬-০ ও ৬-১ গেমে হেরেছে বাংলাদেশের অমল রায় ও ইশিতা আফরোজ। অন্যদিকে, মেয়েদের এককে পাকিস্তানের মনসুর সারাহ’র কাছে ৬-০ ও ৬-০ গেমে হেরেছে বাংলাদেশের সাফিনা। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ওয়াদুজ নিথমির বিপক্ষে ৬-২ ও ৬-২ গেমে হেরেছে বাংলাদেশের আফরিনা ইসলাম প্রীতি।

সাঁতারে সোনার হাসি মাহফুজার

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) সাঁতারে ১০ বছর ধরে চলা সোনার পদকের খরা দূর করলেন মাহফুজা আক্তার শীলা। মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশের এই সাঁতারু। ২০০৬ সালে সর্বশেষ সাঁতার থেকে সোনার পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ।
এসএ গেমসের গত ১১ আসর মিলিয়ে বাংলাদেশের জেতা ৬৩টি সোনার পদকের মধ্যে ১৫টিই এসেছিল সাঁতার থেকে। ২০১০ সালের আসরে নিজেদের পুলে ৬টি রুপা ও ১০টি ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ সাঁতারুরা।
স্বর্ণপদক জয়ের আনন্দ দ্বিগুণ হলো সন্ধ্যায়। এ সময় ডক্টর জাকির হোসেন অ্যাকুয়াটিক কমপ্লেক্সে পানিতে ঝড় তুললেন বাংলাদেশী জলকন্যা মাহফুজা খাতুন শিলা। তিনি এসএ গেমসের সাঁতার ডিসিপ্লিনের ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সেরা হয়ে দেশকে দ্বিতীয় স্বর্ণপদক এনে দেন। শিলা ১ মিনিট ১৭.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে পাকিস্তানের লিয়ান্না ক্যাথরিন সোয়ানকে পেছনে ফেলে সোনা জিতে নেন। ভারতের চাহাত অরোরা পান ব্রোঞ্জপদক। স্বর্ণপদক জয়ের পর শিলা বলেন,‘আমি খুব খুশী দেশকে স্বর্ণ এনে দিতে পেরে। আমার প্রত্যাশা ছিলো এই ইভেন্টে আমিই সেরা হবো। আমার পারফরমেন্সের জন্য কোচ ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। কাল (সোমবার) আমার প্রিয় ইভেন্ট ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোক যেন আমি ভালো করতে পারি এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
লাল-সবুজের জলকন্যা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এসএ গেমসের আগে যারা আমাকে নিয়ে অবহেলা করেছেন, স্বর্ণ জিতে আমি প্রমাণ করেছি-আমি এখনো ফুরিয়ে যাইনি।’
MAHFUZA

ভারোত্তোলনে রৌপ্য জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার, গোহাটি থেকে : চলতি এসএ গেমসের প্রথম যে রৌপ্য পদকটি এসেছিল, সেটি ছিল ভারোত্তোলনে। সেই ভারোত্তোলনের হাত ধরেই এলো দ্বিতীয় দিনের প্রথম পদকটি। তবে এটি ব্রোঞ্জ নয়, রৌপ্য পদক। এ পদকটি এসেছে ফুলপতি চাকমার হাত ধরে। রোববার সকালে গৌহাটির ভোগেশ্বরী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেয়েদের ৫৮ কেজি ওজন শ্রেনীতে তিনি এ পদক জয় করেন। শ্রীলঙ্কার উমেরিয়া মোহিদীনকে পেছনে ফেলে রৌপ্য পদক নিজের করে নিয়েছেন ফুলপতি। এ ইভেন্টে স্বর্ণ পদক গলায় পুড়েছেন স্বাগতিক ভারতের কমলা শ্রেষ্ঠ।
সকালে লড়াইয়ে নেমে ফুলপতি চাকমা ¯œ্যাচে ৬৩ ও ক্লিন এন্ড জার্কে ৮১ মোট ১৪৪ কেজি তুলে দেশের হয়ে দ্বিতীয় রৌপ্য পদকটি নিশ্চিত করেন। তবে স্বর্ণ জয়ী স্বাগতিক ভারতের কমলা শ্রেষ্ঠর সঙ্গে ওজনের পার্থক্যটা বিস্তর। ফুলপতির চেয়ে ৪৩ কেজি বেশী ওজন তুলেছেন স্বাগতিক ভারোত্তোলক। (৮০ ও ১০৭) মোট ১৮৭ কেজি তুলে স্বর্ণ জেতেন কমলা শ্রেষ্ঠ। আর (৬১ ও ৮১) মোট ১৪২ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পান শ্রীলঙ্কার উমেরিয়া মোহিদীন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটিই তার প্রথম রৌপ্য পদক জয় নয়, ২০১২ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাউথ এশিয়ান ভরোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশীপে রৌপ্য পেয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী এ ভারোত্তোলক। আর ২০১০ সালে মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশীপে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছিলেন।
এবারই প্রথম মহিলা ভারোত্তোলন ক্যাটাগরী যুক্ত করা হয় এসএ গেমসে। আর প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশকে রৌপ্য পদক এনে দিতে পেরে খুব খুশি ফুলপতি চাকমা, ‘আমি খুব খুব খুশী পদকটি জিততে পেরে।’ এ ইভেন্টে স্বর্ণ পদক জয়ী ভারতের কমলা শ্রেষ্ঠর সঙ্গে ওজনের ক্ষেত্রে বিস্তর তফাৎ রয়েছে ফুলপতির। সেটারও ব্যখ্যা দিয়েছেন ২০০৬ সালে জুডো খেলা ছেড়ে ভারোত্তোলনে নাম লেখানো ফুলপতি, ‘ভারতের স্বর্ণ জয়ী কমলা শ্রেষ্ঠর (৫৭ দশমিক ৯ কিলোগ্রাম) সঙ্গে আমার (৫৪ দশমিক ৮ কিলোগ্রাম) ওজনের পার্থক প্রায় চার কিলোগ্রাম। তাই তাকে টপকানো আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।’
পদক জেতার অনুভুতিতে তিনি আরো জানান, স্বর্ণ পদক তার প্রত্যাশা ছিলো। যেহেতু হয়নি তবু খুশি রৌপ্য পদক জিতে। দেশের জন্য একটি পদক জিততে পেরেছি বলে ভালো লাগছে।

মাবিয়ার হাত ধরে এল প্রথম সোনা

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) এবারের আসরে বাংলাদেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দিয়েছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। মেয়েদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সোনার পদক জেতেন এই ভারোত্তোলক।
MABIA-1ed2
ভারতের গুয়াহাটির ভোগেশ্বরী ফুকানানি ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ১৪৯ কেজি তোলেন সীমান্ত। স্ন্যাচে ৬৭ কেজি ও ক্নিন অ্যান্ড জার্কে ৮২ কেজি তোলেন তিনি। এই ইভেন্টে শ্রীলঙ্কার আয়েশা বিনোদানী (১৩৮ কেজি) রূপা ও নেপালের জুন মায়া চান্তিয়াল (১২৫ কেজি) ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। পদক নিতে মঞ্চে উঠে আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সীমান্ত। সোনার জয়ের আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে বেদিতে উঠেন বাংলাদেশের এই ‘সোনার মেয়ে’।
মেয়েদের ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে রূপা জিতেছেন ফুলপতি চাকমা। স্ন্যাচ ও ক্নিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ১৪৪ কেজি তোলেন তিনি। স্ন্যাচে ৬৩ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৮১ কেজি উত্তোলন করেন তিনি। স্ন্যাচ ও জার্ক মিলিয়ে ফুলপতির চেয়ে ৪৩ কেজি বেশি তুলে এই ইভেন্টের সেরা হয়েছেন ভারতের স্বরসতী রৌত।
আগের দিন শনিবার ভারোত্তোলন থেকে দুটি ব্রোঞ্জ পায় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভারোত্তোলন থেকে একটি করে সোনা, রূপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পেয়েছে বাংলাদেশ।
এসএ গেমসে এবারই প্রথম মহিলা ভারোত্তোলন সংযুক্ত করা হয়েছে। আর প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জিতে স্মরণীয় পারফরমেন্স করেছে বাংলাদেশ। দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয় করতে পেরে উল্লসিত মাবিয়া আক্তার। স্বর্ণ জয়ের পর আনন্দে কেঁদে ফেললেন তিনি। দেশকে সম্মান এনে দিতে পেরে দারুণ খুশী এই বাংলাদেশী ভারোত্তোলক। এসএ গেমসে অংশ নেয়ার আগে গত বছরের অক্টোবরে ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিত কমনয়েলথ ভারোত্তোলনে স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন সীমান্ত। ঐ আসর থেকে একটি রুপাও পেয়েছিলেন তিনি। এবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা মহিলা ভারোত্তোলকের খেতাবও জিতে নিলেন ১৮ বছর বয়সী মাবিয়া আক্তার। গোল্ডেন গার্ল সীমান্ত যখন বিজয় মঞ্চে আনন্দে কাঁদছে তখন আনন্দ অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি সেখানে উপস্থিত অনেক বাংলাদেশী। এসএ গেমসে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম স্বর্ণ জয়ী মহিলা ভারোত্তোলক সীমান্তর গলায় স্বর্ণপদক পড়িয়ে দেন বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন আশিকুর রহমান মিকু। আর ফুল তুলে দেন বাংলাদেশ ভারোত্তোরন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ।
হাতে ব্যাথা ছিলো। খেলা নিয়েও ছিলো সীমান্তর সংশয়। তবু তার মনের জোড়ে নামেন খেলতে। আর বাংলাদেশকে স্বর্ণ উপহার দিতেই নিজেকে উজাড় করে দেন তিনি। স্বর্ণপদক জয় করার পর অশ্রুসিক্ত নয়নে সীমান্ত মিডিয়াকে নিজ অনুভুতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিলো এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতবো। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবো। আল্লাহ আমার আশা পুরণ করেছেন। আমি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। স্বর্ণপদক জয় করতে পেরে কি যে আনন্দ লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমি খুব খুশী দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পেরে।’
তিনি আরও বলেন,‘আমার এই সাফল্য পাওয়ার পেছনে অবদান কোচ , ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন স্যার ও আমার পরিবারের। তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এখন আমার লক্ষ্য অলিম্পিক গেমসের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে অংশ নেয়া। দেশকে আরো পদক উপহার দিতে চাই।’

ব্রোঞ্জে শুরু সিলভারে শেষ

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : এসএ গেমসের পদক লড়াইয়ে প্রথম দিনটা ব্রোঞ্জ পদক জয়ের মাধ্যমে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আর দিনের শেষটা হয়েছে রৌপ্য পদক জয়ের মাধ্যমে। ভারোত্তোলক মোল্লা সাবিরার হাত ধরে আসে দিনের প্রথম পদকটি। তিনি ৪৮টি কেজি ওজন শ্রেনীতে দেশকে ব্রোঞ্জ পদক এনে দেন। দিনের শেষে রৌপ্য পদক জয় করে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুঁটিয়ে তুলেন কুস্তিগির রীনা আক্তার। প্রথম দিনে ১৯টি স্বর্ণ পদকের জন্য মাঠে নেমেছিলেন অ্যাথলেটরা। বাংলাদেশ কোন স্বর্ণ পদক জিততে না পারলেও একটি রৌপ্যসহ ৯টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানটি বাংলাদেশের। ১৪টি স্বর্ণ, চারটি রৌপ্য পদক নিয়ে তালিকার শীর্ষ স্থানটি স্বাগতিক ভারতের দখলে। দ্বিতীয় স্থানে আছে শ্রীলংকা। তাদের অ্যাথলেটরা জয় করেছে চারটি স্বর্ণ, দশটি রৌপ্য ও সাতটি ব্রোঞ্জ পদক। পাকিস্তান এক স্বর্ণ পদক জয়ের সঙ্গে দুই রৌপ্য ও সমান ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশের পরেই আছে নেপাল। তারা একটি রৌপ্য ও দুই ব্রোঞ্জ জয় করেছে। আফগানদের দখলে আছে একটি মাত্র ব্রোঞ্জ পদক। মালদ্বীপ ও ভুটান প্রথম দিনে কোন পদকের দেখা পায়নি।
কুস্তিতে সিলভার জয় রীনার
দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এসএ গেমসে এবারই প্রথম মেয়েদের কুস্তি ইভেন্টটি যুক্ত করা হয়। প্রথমবার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছেন রীনা আক্তার। ৬০ কেজি ওজন শ্রেনীতে রৌপ্য পদক জয় করেন। এছাড়াও কুস্তিতে আরও দু’টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে বাংলাদেশ। ৫৫ কেজি ওজন শ্রেনীতে সোমা চৌধুরী আর ৪৮ কেজি ওজন শ্রেনীতে নদী চাকমার হাত ধরেই এ দু’টি পদক আসে। তবে পাকিস্তান এ ইভেন্টে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করাতেই বাংলাদেশের সিঁকে ছিঁড়েছে!
পুলে ব্যর্থ সাঁতারুরা
প্রথমদিনই পুলে ঝড় তুলেছেন স্বাগতিক ভারত ও শ্রীলঙ্কার সাঁতারুরা। শনিবার সাঁতারে আট পদকের লড়াই হয়েছে। ড. জাকির হোসেন অ্যাকোয়াটিক কমপেক্সে পুলে তেমন ঝড় তুলতে পারেননি বাংলাদেশ। অনেকেই নিজের ও দেশের সেরা টাইমিং করেছেন কিন্তু এরপরেও পদক মেলেনি অনেকক্ষেত্রে। উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেয়া নাজমা আক্তার একেবারেই হতাশ করেছেন। মহিলাদের ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে নাজমা খাতুন আট জনের মধ্যে অষ্টম হয়েছেন। ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে রোমানা আক্তারের পারফরম্যান্স অবশ্য বেশ প্রশংসনীয়। ২.৪৯.৬০ টাইমিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন রোমানা। জাতীয় সাঁতারে ও হিটে এর চেয়ে বেশি টাইমিং ছিল রোমানার। এই ইভেন্টে রৌপ্য পদকধারীর টাইমিং ২.৪৯.১৭। ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ভারতের সন্দীপ সাজওয়ালের রাজত্ব অব্যাহত রয়েছে। তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী জানানোর মতো ছিলেন না কেউই। এই ইভেন্টে বাংলাদেশের শরিফুল ইসলাম ২.২৬.৯৯ টাইমিং করে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। শরিফুলের ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম পরীক্ষার কারণে আসতে পারেননি। আরিফুলের অনুপস্থিতি পুলে বেশ অনুভূত হলো। গত কয়েক বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাঁতারের অন্যতম প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান সাগর। সাফেও তিনি প্রথম প্রতিনিধি। পুলে বাংলাদেশের প্রথম পদক এসেছে তার মাধ্যমেই। ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে সাগর ১.৫৬.১৯ টাইমিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেন। রৌপ্য জয়ী সাউরাবের টাইমিং ১.৫৩.০৩। ৪০০ মিটার রিলেতে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক অব্যাহত রেখেছে। শ্রীলংকা সাঁতারের মাধ্যমে পদক উপরে উঠে এসেছে। চার স্বর্ণ নিয়ে মোট ২১ পদক নিয়ে শ্রীলংকা দ্বিতীয় স্থানে। ১৪ স্বর্ণ, ৫ রৌপ্য মোট ১৯ পদক নিয়ে ভারত প্রথম। বাংলাদেশ ১ রৌপ্য ও আট ব্রোঞ্জ নিয়ে চতুর্থ স্থানে।
সাইকিংয়ে হতাশার একদিন
সাইকিংয়ে হতাশার একটি দিন অতিবাহিত করেছে বাংলাদেশ। ৩০ কিলোমিটার মহিলা সাইকিংয়ে বাংলাদেশের সুবর্ণা বর্মা ১২ জনের মধ্যে পঞ্চম এবং ৪০ কিলোমিটার পুরুষ সাইকিং ইভেন্টে ১০ জনের মধ্যে বাংলাদেশের রিপন কুমার বিশ্বাস সপ্তম হন। সাইকিংয়ে এতোটা বাজে ফলাফল হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি।
ব্যাডমিন্টনে শুভ যাত্রা
সাইকিংয়ে হতাশার দিন পাড়ি দিলেও ব্যাডমিন্টনের যাত্রা শুভ হয়েছে সাটলারদের। শনিবার শিলংয়ে শুরু হওয়া এ ইভেন্টের পুরুষ ‘এ’ গ্রুপের খেলায় বাংলাদেশ দলের খালেদ, পরশ ও এনামুল হক ৩-০ সেটে হারিয়েছে আফগানিস্তানের সাটলারদের।
টেবিল টেনিসে মহিলাদের সফলতা
শিলংয়ে টেবিল টেনিস ডিসিপ্লিনে পুরুষ দল বাংলাদেশকে হতাশ করলেও মহিলা দল আশার আলো জ্বেলেছেন। পুরুষরা হেরে গেলেও প্রথম রাউন্ডে শ্রীলংকাকে ৩-০ সেটে হারিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। মৌমিতা শ্রীলংকার রুভিনি কান্নানগুরাকে, রহিমা আক্তার পরাস্ত করেছেন ইসহারাকে আর মিনারা শারমীন জয় পেয়েছেন ইরামডোর বিরুদ্ধে।
খো খোতে জয়
খো খো ইভেন্টের পুরুষ ও মহিলা বিভাগে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে ১৯-৬ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ দল। এদিন পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু পাকিস্তান খো খো দল নির্ধারিত সময়ে গোহাটিতে পৌঁছাতে না পারায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মাঠে লড়াই করে লাল-সবুজরা। একই দিনে ময়দানি লড়াইয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ মহিলা দলও।

মুুস্তাইন বিল্লাহর ব্রোঞ্জ জয়, ভারোত্তোলনে এলো দুটি পদক

ভারতের দুটি শহর গৌহাটি ও শিলং এ চলছে ১২তম এসএ গেমস ২০১৬। উক্ত গেমসে ২৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ভারোত্তোলন। গেমসের দ্বিতীয় দিন থেকে গৌহাটির ভোগেশ্বরী ইনডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ভারোত্তোলন ডিসিপ্লিনের খেলা। ভারোত্তোলনের প্রথম দিনে পুরুষ দুটি এবং মহিলা দুটি মোট চারটি ওজন শ্রেনীর খেলা অনুষ্ঠিত হয়। মোল্লা সাবিবার পর পুরুষ বিভাগে ৬২ কেজি ওজন শ্রেনীতে বাংলাদেশকে ব্রোঞ্জ পদক এনে দেন মুস্তাইন বিল্লাহ। ¯œ্যাচে ১০০ ও ক্লিন এন্ড জার্কে ১২৫ মোট ২২৫ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পান বিল্লাহ। এটি এসএ গেমসে বিল্লাহর প্রথম পদক জয়। এর ফলে আজ শনিবার বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ডিসিপ্লিন থেকে মোট চারটি ক্যাটাগোরী থেকে পেল দুটি পদক। এই ওজন শ্রেনীতে শ্রীলঙ্কার কুরুকুলা (১১৫ ও ১৫০) মোট ২৬৫ কেজি তুলে স্বর্ণ পান। আর নেপালের বিকাশ থাপা (১১২ ও ১৩০) মোট ২৪২ কেজি তুলে রৌপ্য পান। এই কাটাগোরীতে মোট ছয়টি দেশ অংশ গ্রহন করে। পদক পাওয়া প্রসঙ্গে মুস্তাইন বিল্লাহ বলেন- খুবই ভালো লাগছে যে দেশের জন্য একটি পদক জিততে পেরেছি। তাছাড়া আমি প্রথম এসএ গেমসে পদক জিতলাম তাই ভালোই লাগছে যে খালি হাতে দেশে ফিরছি না।

রৌপ্য জিতলেন রিনা

এসএ গেমসে মোল্লা সাবিরার পর আরেকটি পদক পেলো বাংলাদেশ। ব্রোঞ্জ পদকের পর মহিলা কুস্তিতে ৬০ কেজি বিভাগে রৌপ্য পদক জিতেছেন বাংলাদেশের রিনা আকতার।
এর আগে ভারোত্তোলনের মহিলা ইভেন্টে প্রথম ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন সাবিরা। যেটি ১২ তম এসএ গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক।

মোল্লা সাবিরার ব্রোঞ্জ জয়

রেশমা ও মিজানুর রহমান নিজ নিজ ক্যাটাগোরীতে ৪র্থ হয়েছে
ভারতের দুটি শহর গৌহাটি ও শিলং শহরে গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ১২তম এসএ গেমস ২০১৬। উক্ত গেমসে ২৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ভারোত্তোলন। আর এই ভারোত্তোলন ইভেন্টে প্রথম বারেরমত সংযুক্ত হয়েছে মেয়েদের ক্যাটাগোরী।
গেমসের দ্বিতীয় দিনে গৌহাটির ভোগেশ্বরী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেয়েদের ৪৮ কেজি ওজন শ্রেনীতে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ভারোত্তোলক মোল্লা সাবিরা। ¯œ্যাচে ৬৩ কেজি এবং ক্লিন এন্ড জার্কে ৮০ কেজি মোট ১৪৩ কেজি উত্তোলন করে ব্রোঞ্জপদক জয় করেন সাবিরা। এই বিভাগে (৭৯ ও ৯০) মোট ১৬৯ কেজি তুলে স্বর্ণ জেতেন স্বাগতিক ভারতের সাইকুম মিরাবাই চানু। আর ( ৬৫ ও ৮০) মোট ১৪৫ কেজি তুলে রৌপ্য পান শ্রীলঙ্কার দিনুশাহানসানি।
এছাড়া, (৪৭ ও ৬০) মোট ১০৭ কেজি তুলে চার দেশের মধ্যে চার নম্বর হন নেপালের মানিশা রানাভাট।
এদিকে, মেয়েদের ৫৩ কেজি ওজন শ্রেনীতে পাঁচ দেশের মধ্যে ৪র্থ হয়েছে বাংলাদেশের জহুরা আক্তার রেশমা। রেশমা (৫৮ ও ৭০) মোট ১২৮ কেজি তুলে ৪র্থ হয়। এবিভাগে প্রথম হয়েছে ভারত।
এছাড়া, পুরুষ বিভাগে ৫৬ কেজিতে (৯০ ও ১১৩) মোট ২০৩ কেজি তুলে পাঁচ দেশের মধ্যে ৪র্থ হন বাংলাদেশের মিজানুর রহমান। প্রথম হয়েছে ভারত।

জমকালো আয়োজনে শুরু এসএ গেমস

কবিরুল ইসলাম, গোহাটি থেকে : দ্বাদশ সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের পর্দা উঠেছে শুক্রবার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এ ক্রীড়া আসরের উদ্বোধন করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ইন্ধিরা গান্ধি অ্যাথলেটিক্স কমপ্লেক্সে এ গেমসের পর্দা উন্মোচন করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারত অলিম্পিকের সভাপতি এন রামাচন্দ্র, আসামের মূখ্যমন্ত্রী তরুণ গোগই, মেঘালয়ার মূখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দেশটির জনপ্রিয় ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া মশাল প্রজ্বলন করেন। সৌরভ গোসাল গেমসে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের শপথ বাক্য পাঠ করান।এরপর বেজে উঠে গেমসের থিম সং ‘এই পৃথিবী এক ক্রীড়াঙ্গন, ক্রীড়া হলো শান্তির প্রাঙ্গন।’
বিকাল পাঁচটার কিছু আগে স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো গোহাটিতেই নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি পাড় হয়ে দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে হয়েছে। তবে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কারো মনে কোনো ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যেই স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিকাল পাঁচটার কিছু আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে পৌঁছান। আসাম পুলিশের ব্যান্ড ডিসপ্লে শেষে বিকাল পাঁচটায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে দ্বাদশ এসএ গেমসের উদ্বোাধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অতিথিরা আসন গ্রহনের পর একে একে মাঠে আসেন অংশগ্রহনকারী আটটি দলের অ্যথলেট ও অফিসিয়ালরা। প্রথমেই মাঠে আসে আফগানিস্তান দল। এরপরই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ দলকে মাঠে নিয়ে আসেন সাঁতারু রুবেল রানা। বাংলাদেশের পর ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও সর্বশেষ মাঠে প্রবেশ করে স্বাগতিক ভারত।
আট দলের পরিচিতি পর্ব শেষে নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে ভারতের মাটিতে স্বাগতম। ভারত আতিথেয়তায় বিখ্যাত। আশা করি এবারও সেটার ব্যতয় হবে না।’ তিনি অংশগ্রহনকারী অ্যাথলেটদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমরা সবাই শান্তির জন্য খেলবে। মনকে উজার করে খেলবে। খেলা শান্তির প্রতীক। সীমারেখা বাদ দিলে আমরা সবাই একই দক্ষিণ এশিয়ার। দক্ষিণ এশিয়াই হচ্ছে আমাদের ঘর।’
আগামী বছর অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ একটি খেলা গোহাটিতে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোদি বলেন, গোহাটির যুবকরা তোমরা ফুটবল খেলা দেখা মিস করবে না। ২০১৭ যুব বিশ্বকাপের জনপ্রিয় একটি ম্যাচের ভেন্যু করা হবে এ গোহাটিকে।’ পরিশেষে তিনি এবারের আসরের সাফল্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ঘোষণার পর মশাল প্রজ্জ্বলন করেন ভারতের জনপ্রিয় ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া। আর অ্যাথলেটদের শপথ বাক্য পাঠ করান সৌরভ গোসাল।
এরপর শুরু হয়ে যায় গেমসের মূল আকর্ষণ মনোরম ডিসপ্লে। ডিসপ্লেতে ভারতের ইতিহাস-ঐতিহ্য, আয়োজক রাজ্য আসাম ও মেঘালয়ের ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি তুলে ধরেন শিল্পীরা। তাদের মনোমুগ্ধকর পারফর্মেন্সের সঙ্গে লাল-নীল আলোর নাচন অভিভূত করে উপস্থিত সবাইকে। আর উপমহাদেশের প্রয়াত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ভুপেন হাজারিকার ছেলে ময়ুগ হাজারিকার গাওয়া গেমসের থিম সংটি আলাদা একটা আমেজ তৈরি করেছিল দর্শকদের মনে। নানা আয়োজন শেষে সাড়েটায় শেষ হয় দ্বাদশ আসরের উদ্বোধন।

এসএ গেমস ফুটবলে হার দিয়ে শুরু মেয়েদের

হার দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) দ্বাদশ আসর শুরু করেছে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল। শুক্রবার আসরের উদ্বোধনী দিনে নেপালের মেয়েদের কাছে ৩-০ গোলে হারে গোলাম রব্বানি ছোটনের শিষ্যরা।
Bangladesh-Woman-2
আগামী রোববার দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামী মঙ্গলবার মালদ্বীপ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে মেয়েরা। লিগ ভিত্তিক ম্যাচের পর সেরা দুই দল সোনার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফাইনাল ম্যাচে। আর পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা দল পাবে ব্রোঞ্জ পদক। নিজেদের মাঠে গত আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।

এসএ গেমসের ভলিবলে বাংলাদেশের শুভসূচনা

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) ভলিবলে শুভসূচনা পেয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে জাবিররা। ভারতের গুয়াহাটির নবীন চন্দ্র বরদুলুই ইনডোর স্টেডিয়ামে শুক্রবার উদ্বোধনী দিনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টি ৩-২ সেটের।
দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী শনিবার মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এসএ গেমসের গত এগারো আসরে ভলিবলে বাংলাদেশের প্রাপ্তি দুটি ব্রোঞ্জ। সর্বশেষ ব্রোঞ্জটি ১৯৯৯ সালের আসরে জেতা।
এসএ গেমসের গত তিন আসরে ভলিবলে কোনো পদক না পাওয়ার হতাশা দূর করতে উন্মুখ থাকার কথা ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই জানিয়েছিলেন জাবির-মাসুদরা।

এসএ গেমসের পর্দা উঠছে শুক্রবার

কয়েক দফায় পেছানোর পর শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস। শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে গেমসের। প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরু হবে শনিবার। ভারতের শিলং ও গৌহাটিতে হচ্ছে এসএ গেমসের দ্বাদশ আসর। যা চলবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সাফ গেমসের যাত্রা হয় ১৯৮৪ সালে। নবম আসরে নাম পরিবর্তন করে সাউথ এশিয়ান গেমস গেমস রাখা হয়। যা এখন এসএ গেমস নামেই পরিচিত। ভারতে তৃতীয়বারের মতো হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা। এর আগে ১৯৮৭ ও ১৯৯৫ সালে সাফ গেমেসের আয়োজক ছিল দেশটি।
SA Games Logoপ্রায় ৪ হাজার ক্রীড়াবিদ এই গেমসে অংশ নেবেন। ২৩ ডিসিপ্লিনের এই প্রতিযোগিতায় বাজেট প্রায় ২০০ কোটি টাকার। ১৭টি ভেন্যুতে হবে এসব ইভেন্ট। আসাম ও মেঘালয়ে এবারই প্রথম এতো বড় গেমস হচ্ছে। তাই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। গেমসের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।
আসন্ন এসএ গেমসে এক ডজন স্বর্ণপদক পাওয়ার প্রত্যাশা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ)। এখন স্বপ্নের সঙ্গে প্রত্যাশার মেলবন্ধন করানোর পালা শুরু হবে। এসএ গেমসের ২৩ ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে ২২টিতে।
ডিসিপ্লিন গুলো হলো : আরচ্যারি, এ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, কাবাডি, শুটিং, সুইমিং, ভলিবল, তায়কোয়ানদো, ভারোত্তোলন, কুস্তি, সাইকিং, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ফুটবল, জুডো, টেনিস, হকি, খো খো, উশু ও স্কোয়াশ।
এ ল্েয ৪৬৯ জনের বাংলাদেশ ক্রীড়া বহর গৌহাটি ও শিলং যাচ্ছে। যার মধ্যে ২২৩ পুরুষ ও ১৪৭ জন নারী অ্যাথলেট ছাড়াও ৬০ জন কোচ ও ৩৯ জন ম্যানেজার রয়েছেন। সঙ্গে আছেন ১১ জন বিদেশী প্রশিকও। এখানে শেষ নয় বিওএ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, হেড কোয়ার্টারস অফিসিয়াল, টিম ডাক্তার মিলে বহরটি দাঁড়াচ্ছে ৫২০ জনের।
গত বুধবার প্রথম দফায় রওনা দিয়েছে ১৬০ জন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা। গেমসের সেফ দ্য মিশনের দায়িত্ব পালন করবেন বিওএর উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু। তার ডেপুটি হিসেবে থাকছেন আহমেদুর রহমান বাবলু এবং কামরুন নাহার ডানা। দলের কো-অর্ডিনেটনের দায়িত্বে থাকছেন বিওএ’র ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব গ্রুপ ক্যাপ্টেন এম রফিকুল ইসলাম। ২২টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে শ্যুটিং, ভারোত্তোলন, বক্সিং, তায়কোয়ানদো, খো খো এবং অ্যারচ্যারি থেকে স্বর্ণ জয়ের আশা করছে বাংলাদেশ। এছাড়া পদক জয়ের আশা করা হচ্ছে অ্যাথলেটিকসেও। গত ২০১০ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১১তম ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ মোট ১৮টি স্বর্ণ পদক পেয়েছিল।

এসএ গেমসে ভলিবলের রূপার স্বপ্ন

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) গত তিন আসরে ভলিবল থেকে কোনো পদক পায়নি বাংলাদেশ। না পাওয়ার হতাশা এবার দূর করতে মরিয়া জাবির-মাসুদরা। তবে বাস্তবতা মেনে ভলিবল দলের প্রথম লক্ষ্য ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করা; এর পর রূপার জন্য ঝাঁপানো।
লক্ষ্য পূরণের আত্মবিশ্বাস জাবিররা নিচ্ছেন গত বছর ইরানে গিয়ে খেলে আসা একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টের সাফল্য থেকে। ওই টুর্নামেন্টে ইরানের ক্লাবগুলোর সঙ্গে খেলা ১৪ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় আটটি; হার ছয়টি।
মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে ভলিবল দলের অলরাউন্ডার সাঈদ আল জাবির জানালেন, ইরানের অভিজ্ঞতা এসএ গেমসে কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেতে চান তারা।
“গত আগস্ট থেকে আমরা ইরানের কোচ আলি পোর আরজির অধীনে প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তুতিও ভালোই হচ্ছে। তাছাড়া কিছু দিন আগে আমরা ইরানে গিয়ে একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট খেলেছি। সেই অভিজ্ঞতা এসএ গেমসে কাজে লাগাতে চাই।”
১৯৯৫ ও ১৯৯৯ সালে পাওয়া ব্রোঞ্জ পদকই এশিয়ান গেমসের ভলিবল থেকে বাংলাদেশের এ পর্যন্ত সেরা সাফল্য। পরের তিন আসরে ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙা তো দূর অস্ত, পদকই মেলেনি! এবার রূপার লক্ষ্য পূরণে পথটাও মসৃণ নয়; তবে ছোটো স্বপ্ন দেখতে রাজি নন জাবির।
“বি-গ্রুপে আমাদের সঙ্গে আছে মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। পাকিস্তান শক্তিশালী। তাই আমাদের লক্ষ্য মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানকে হারিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সেমি-ফাইনালে ওঠা।”
গত বছর মে মাসে বাংলাদেশে এশিয়ান পুরুষ ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে পঞ্চম হয়েছিল স্বাগতিকরা। এর বাইরে ইরানের আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট ছাড়া এসএ গেমসের জন্য আর কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি ভলিবল দলের।
মহিলা ভলিবল দল ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ের আসরে অংশ নিচ্ছে না বলে ছেলেদের ওপর প্রত্যাশার চাপটাও বেশি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজেদের শক্তির ব্যবধানটা জানিয়ে বেশি প্রত্যাশা করতে যেন বারণই করে দিলেন জাবির।
“ভারত ও পাকিস্তান আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সোনা ও রূপা তারাই পায়। তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য ব্রোঞ্জটাই ফিরে পাওয়া। তবে প্রস্তুতি ভালো, তাই রূপা পাওয়ার লক্ষ্যও আছে।”

বৃহস্পতিবার উড়াল দেবে মোরেনোর শিষ্যরা

৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গুয়াহাটি ও শিলংয়ে শুরু হওয়া এসএ গেমসের ১২তম আসরে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ভারতের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে ২৬ সদস্যের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্যরা। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া প্রধান আহসান আহমেদ অমিত বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ দলের রুট সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যোগে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে যুবারা কলকাতা পৌঁছে সেখান থেকে বিমান যোগে আসাম এবং আসাম থেকে বাসে করে দল গুয়াহাটি পৌঁছাবে।’
গুয়াহাটিতে পৌঁছে ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভুটান ও ১১ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশের যুবারা। ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এসএ গেমস ফুটবলের সেমিফাইনাল আর ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে ফাইনাল ম্যাচ।

মোরেনো’র চোখে ভুটানই কঠিন প্রতিপক্ষ

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের এবারের আসরে শিরোপা জিতে দাপট দখিয়েছে দক্ষিণ এশিয়া ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি নেপাল। কিন্তু তারপরেও ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের গুয়াহাটিতে শুরু হওয়া এসএ গেমসের ১২তম আসরের ফুটবলে বাংলাদেশের শক্ত প্রতিপক্ষ ভুটান বলে জানালেন দেশটির অনুর্ধ্ব-২৩ দলের স্প্যানিশ কোচ গঞ্জালো সানচেজ মোরেনো।

বুধবার এসএ গেমসে অংশ নিতে ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগে বাফুফে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানালেন বাংলাদেশের যুবা দলের কোচ। উল্লেখ্য এসএ গেমসের এবারের আসরে ফুটবলে ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে নেপাল ও ভুটান।

গেল বারের এসএ গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা এবারের আসরে ধরে রাখতে চাইলে অর্থা‍ৎ স্বর্ণ জিততে হলে কীভাবে খেলা উচিত? এমন প্রশ্নের জবাবে মরেনো বলেন, ‘স্বর্ণ জিততে বা চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আমাদের ধাপে ধাপে জিততে হবে। সেই হিসেবে ৯ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রথম ম্যাচ ভুটানের বিপক্ষে। তাই ওই ম্যাচটি জেতাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। যেহেতু এটা আমাদের প্রথম ম্যাচ তাই ম্যাচটি জিতলে আমাদের সেমিফাইনালের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আর সেটা সম্ভব হলে দল আত্নবিশ্বাসী হবে যা ১১ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

ভুটানের বিপক্ষে জিততে হলে দলকে কীভাবে খেলতে হবে বলে আপনি মনে করেন? উত্তরে তিনি জানালেন, জয়ের সমীকরণ মাথায় রেখে মাঠে নেমে নিজেদের সহজ খেলাটি খেললেই দল জিতবে।’

কাজটি কতটা সহজ হবে? উত্তরে বললেন ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ শেষ হবার পরেই দল অনুশীলনে নেমেছে। প্রস্তুতি যা হয়েছে তাতে জয় পেতে খুব সমস্যা হবার কথা নয়। এছাড়াও আমাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দলটির সঙ্গে আছে জাতীয় দলের ৮ খেলোয়াড়। তাই অভিজ্ঞতা ও মাঠের রণ কৌশলে এগিয়ে থাকবো আমরাই। আর আমার শিষ্যরা আগের মতো নেই। প্রস্তুতির এই ক’দিনে তারা নিজেদের বেশ গুছিয়ে নিয়েছে। আশা করছি তারা বেশ ভাল খেলাই উপহার দিতে পারবে।’

এদিকে, পারিবারিক কাজের জন্য এসএ গেমসে খেলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ফরোয়ার্ড শাখাওয়াত হোসেন রনি। তার পরিবর্তে দলে আসবেন নাবিব নেওয়াজ জীবন বলে জানালেন লাল-সবুজের যুবাদের কোচ।

শিরোপা পুণরুদ্ধারই বাংলাদেশের লক্ষ্য

মাঝে আর মাত্র একটি দিন। তার পর দিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটিতে শুরু হচ্ছে এসএ গেমসের ১২তম আসর। এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এসএ গেমসে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল।

এসএ গেমসে অংশ নিতে যাবার আগে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সম্মেলন কক্ষে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ ও অধিনায়ক।

এসএ গেমসকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক রেজাউল করিম বলেন, ‘হার কিংবা ড্র’ নয়, গ্রুপ পর্ব জিতে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলে চ্যাম্পিয়ন হতেই আমরা এসএ গেমসে যাচ্ছি। গেল সাফ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আমাদের জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। সেই হতাশা ঘোচাতেই আমরা এসএ গেমসে যাচ্ছি।’

গেল এসএ গেমসের ফাইনালে ঢাকার মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশের যুবারা। এবার সেই স্বর্ণ ধরে রাখাও তাদের প্রতিজ্ঞার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানালেন এই লাল-সবুজের যুবা অধিনায়ক। ‘এবারের এসএ গেমসে আমদের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে গেল আসরের স্বর্ণ পুণরুদ্ধার করা।’

এবারের এসএ গেমসে ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে, ভুটান ও নেপাল। আর গ্রুপ ‘এ’তে আছে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
‘বি’ গ্রুপে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে সেরা দল হিসেবে নিজেদের এগিয়ে রাখলেন রেজা। ‘তিন দলের মধ্যে আমরাই সেরা। আমাদের পর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আমি এগিয়ে রাখছি ভুটানকে।’

গেল আসরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারের আসরেও আছে ভারত, মালদ্বীপ ও নেপালের মত দল। তবে গ্রুপ পর্ব উতরে গেলে এবারর আসরেও বাংলাদেশের স্বর্ণ জয় কেউ আটকে রাখতে পারবেনা বলেও আশ্বাস দিলেন রেজাউল করিম।

৯ ফেব্রুয়ারি পল্টন বাজারে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের এসএ গেমসের মিশন শুরু করবে গঞ্জালো সানচেজ মরেনোর শিষ্যরা। একই ভেন্যুতে ১১ ফেব্রুয়ারি নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের মুখামুখি হবে বাংলাদেশ।

এসএ গেমসে কারাতে না থাকাটা আমাদের জন্য বড়ই কষ্টের বিষয় : বাদল

আর মাত্র এক-দুইদিন। তারপর ৫ ফেব্র“য়ারী পর্দা উঠছে ১২তম এসএ গেমস-২০১৬। ভারতের গৌহাটি ও শিলং শহরে ২৩টি ডিসিপ্লিনের খেলা চলবে আগামী ১৬ ফেব্র“য়ারী পর্যন্ত। এবারের গেমসে মোট ২৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশ গ্রহন করছে ২২টিতে। ডিসিপ্লিন গুলো হলো : আরচ্যারি, এ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, কাবাডি শুটিং, সুইমিং, ভলিবল, তায়কোয়ানদো, ভারোত্তোলন, কুস্তি, সাইক্লিং, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ফুটবল, জুডো, টেনিস, হকি, খো খো, উশু ও স্কোয়াশ।
নেই শুধু কারাতে! অথচ গত ২০১০ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১১তম ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ মোট ১৮টি স্বর্ণ পদক পেয়েছিলো। এই ১৮টি গোল্ডের মধ্যে ৪টি স্বর্ণ এসেছিলো কারাতে থেকে। শুধু তাই নয় ৪টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদক পেয়ে বাংলাদেশ সাউথ এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অজন করেছিলো। সেবার কারাতে ইভেন্টে বাংলাদেশ প্রথম, দ্বিতীয় হয়েছিলো নেপাল এবং এবারের গেমস আয়োজক ভারত হয়েছিলো তৃতীয়। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১১তম এসএ গেমসে কারাতে ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলো নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক বাংলাদেশসহ মোট ছয়টি দল। অংশ নেয়নি ভুটান ও মালদ্বীপ।
বুধবার ৩ফেব্র“য়ারী থেকে গেমসে অংশ গ্রহনের জন্য ভারতে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ দলের বেশ কিছু ডিসিপ্লিনের দল। চোখের সামনে ভারতে খেলতে যাচ্ছে বিভিন্ন ইভেন্টের খেলোয়াড়রা, সাথে যাচ্ছেন কোচ, ম্যানেজার ও দলীয় কর্মকর্তারা। যা দেখে মর্মাহত বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলী আহসান বাদল ও কারাতে খেলোয়াড়রা।
আসলে ভারতে কারাতে ফেডারেশন ও নতুন অনুমোন পাওয়া কারাতে এসাসিয়েশন এই দুই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বের জেরে গেমসে ঠাই হয়নি কারাতে ইভেন্টের! মূলত আইনি জটিলতার কাছে হেরেছে কারাতে । ফলে গেমসে ঠাই মেলেনি আকর্ষণীয় কারাতে ডিসিপ্লিনে।
এবারের গেমসে কারাতে ইভেন্ট না থাকা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলী আহসান বাদল বলেন- গেমসে বাংলাদেশ থেকে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়ার জন্য দল যাচ্ছে ভারতে। যাচ্ছে না কারাতে। এটি আমাদের কারাতের জন্য বড়ই দুঃখের বিষয়। গতবার আমরা ৪টি স্বর্ণ জিতে সাঊথ এশিয়ান গেমসে কারাতে ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এবারও অর্জিত পদক ধরে রেখে আরও ভালো করতে পারতাম বলে আমার বিশ্বাস। কারাতে গেমসে না থাকার জন্য আমাদের সবার মন অল্প খারাপ না, খুবই খারাপ। ভারতীয় কারাতে ফেডারেশনের কেচ, মামলাসহ নানা কারণে আয়োজকরা গেমসে কারাতে ইভেন্ট রাখেননি। তারাও বঞ্চিত আমরাও বঞ্চিত হলাম। এখন মন খারাপ করে আর লাভ কি। বাস্তবতা নামতে হচ্ছে। কারাতে ছাড়াই গেমসে বাংলাদেশ দল ভালো করবে আশা করি। বাংলাদেশের জন্য কারাতে ফেডারেশন ও আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইলো।

এসএ গেমসে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ভারতে যাচ্ছে ভারোত্তোলন দল

আগামী ৫-১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের গৌহাটি ও শিলং শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২তম এসএ গেমস-২০১৬। উক্ত গেমসে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ভারতের উদ্দেশ্যে বিওএ’র ব্যবস্থাপনায় অন্য দলগুলোর সাথে সকাল ১০টায় বিমান যোগে রওনা হচ্ছে ১৯ সদস্যের বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল। এবারের প্রতিযোগিতায় পুরুষ আটজন ও মহিলা সাতজন মোট ১৫জন ভালোত্তোলক অংশ নিচ্ছে মোট ১৫টি ওজন শ্রেনীতে। দলের সাথে মহিলা কোচ হিসেবে রয়েছেন শাহরিয়া সুলতানা সুচি এবং পুরুষ কোচ হিসেবে রয়েছেন ফারুক সরকার কাজল ও বিদ্যুৎ কুমার রায়। আর দলীয় ম্যানেজার হিসেবে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
বাংলাদেশ দলে পুরুষ খেলোয়াড় এর তালিকায় রয়েছেন ৫৬ কেজি ওজন শ্রেনীতে মিজানুর রহমান, ৬২ কেজিতে মুস্তাইন বিল্লাহ, ৬৯ কেজিতে শিমুল কান্তি সিংহ, ৭৭ কেজিতে হামিদুল ইসলাম, ৮৫ কেজিতে মাইনুল ইসলাম, ৯৪ কেজিতে মো: আব্দুল্লাহ আল মমিন, ১০৫ কেজিতে ফরহাদ আলী এবং ১০৫ কেজি প্লাসে ফিরোজ মাহমুদ।
আর প্রথম বারেরমত এসএ গেমসে অর্ন্তভুক্ত হওয়া মহিলা ভারোত্তোলন ইভেন্টে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন ৪৮ কেজিতে মোল্লা সাবিরা, ৫৩ কেজিতে জহুরা আক্তার রেশমা, ৫৮ কেজিতে ফুলপতি চাকমা, ৬৩ কেজিতে মাবিয়া আক্তার সিমান্ত, ৬৯ কেজিতে রোকেয়া সুলতানা সাথী, ৭৫ কেজিতে ফিরোজা পারভীন এবং ৭৫ প্লাস কেজিতে জহুরা খাতুন নিশা।
উল্লেখ্য, গত ১১তম ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলের প্রাপ্তি ছিলো একটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য এবং দুটি ব্রোঞ্জসহ মোট পাঁচটি পদক।
এসএ গেমসে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলের অংশ গ্রহন প্রসঙ্গে ফেডারেশনের অভিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন- আমাদের দলের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আশা করি মেয়ে ও ছেলেরা দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য স্বর্ণ জেতা। সবাই দোয়া করবেন আমরা যেন বাংলাদেশের নাম উজ্জল করে দেশে ফিরতে পারি।

ফুটবলে মুকুট ধরে রাখার প্রত্যয়

“এর আগেও অনেকবার আমরা বলেছি কিন্তু কোনো ফলাফল দিতে পারিনি। এবার একটু চুপ থাকতে চাই; আমরা আসল কাজটা করে দেখাতে চাই” – নাবীব নেওয়াজ জীবনের কথাগুলো বলে দিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে বাংলাদেশ ফুটবল দলের লক্ষ্যটা।
এসএ গেমসের ফুটবলের মুকুট ধরে রাখার প্রত্যেয়র কথা জানালেন ফুটবলাররা; ১৯৯৯ সালের কাঠমাণ্ডু গেমসের পর ২০১০ সালে যেটা উঠেছিল বাংলাদেশের মাথায়। টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৩ গোল করে কোনো গোল হজম করতে হয়নি। ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সোনার মুকুট জিতেছিল বাংলাদেশ।
সেই হাসিটা আগামী শুক্রবার ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ে শুরু হতে যাওয়া দ্বাদশ গেমসে ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য কঠিন। কিন্তু ফেরানো জরুরি। সর্বশেষ সাফ গেমসের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দেশের মাঠে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপেও ব্যর্থ মামুনুলরা। এসএ গেমসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অনূর্ধ্ব-২৩ দলের গোল্ড কাপের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক; গ্রুপ পর্ব থেকে বেজেছিল বিদায় ঘণ্টা।
সেই হতাশা এবার কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় জানালেন খেলোয়াড়, কোচ সবাই। ফরোয়ার্ড জীবন বললেন, “লক্ষ্য অবশ্যই ভালো কিছু আছে। মুখ ফুটে অনেক কিছু বলি কিন্তু কিছুই পারি না। ভেতরে ভেতরে প্রতিজ্ঞা আছে। এবার অবশ্যই কিছু করে দেখাতে চাই।”
“টিম স্পিরিট ভালো। জাতীয় দলের অনেকে আছে। সিনিয়র-জুনিয়র মিলে টিমটা ভালো”, আরও আত্মবিশ্বাসী শোনায় সিনিয়র কোটায় এসএ গেমসের দলে ঠাঁই পাওয়া এই ফরোয়ার্ডের কণ্ঠ।
football-2
তিন সিনিয়র কোটায় জীবনের সঙ্গে আছেন মিডফিল্ডার জামাল ভূইয়া ও অধিনায়ক রেজাউল করিম। কোচ গনসালো মরেনো ফরোয়ার্ডে জীবনের সঙ্গে শাখাওয়াত রনিকে চেয়েছিলেন; কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রনির অভাব পূরণের সঙ্গে নিজেকে শতভাগ মেলে ধরার সুযোগটি তাই কাজে লাগাতে উন্মুখ জীবন।
গোল্ড কাপে বাহরাইনের যুবাদের আটকে দেওয়া ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় রুবেল হোসেন নিজের প্রথম এসএ গেমস নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত। তবে গত ২২ জানুয়ারি গোল্ড কাপের ফাইনালের পর শুরু হওয়া এসএ গেমসের প্রস্তুতিতে কিছুটা কমতি থেকে যাওয়া ভাবাচ্ছে তাকে।
“গোল্ড কাপ শেষ করেই আমরা এসএ গেমসের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তুতির জন্য আরেকটু সময় পেলে; প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে আরও ভালো হতে। তবে আমাদের লক্ষ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমি-ফাইনালে আগে ওঠা। এরপর পদক ধরে রাখা।”
“প্রথম এসএ গেমস নিয়ে একটু রোমাঞ্চিত। যশোরের গোল্ড কাপে ম্যাচ সেরা হওয়াটাও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। সুযোগ পেলে অবশ্যই ভালো কিছু করব। আমার বিশ্বাস, আমাদের দলটাও এবার খুব ভালো করবে”, যোগ করেন তরুণ এই মিডফিল্ডার।
রুবেলের সুরে সুর মিলিয়েছেন জুয়েল রানাও। জাতীয় দলে খেলা এই তরুণ ফরোয়ার্ড আশাবাদী হয়ে ওঠার কারণ জানাতে বলেন, “আমরা জাতীয় দলের সাত জন আছি। দলটাও ভালো। সাফ আর বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ব্যর্থতা কাটাতে সব কিছু দিয়ে চেষ্টা করব আমরা।”
দুঃসময়ে ঘুরপাক খাওয়া দলের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না সহকারী কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী। কিভাবে মুষড়ে পড়া শিষ্যদের উজ্জীবিত করছেন, সেটাও জানালেন।
“ছেলেদের বলেছি, গোল্ড কাপে যা হয়েছে ভুলে যাও। ছেলেরাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা মুকুট ধরে রাখার জন্য সবকিছু করবে। ওদেরকে আমি চিনি; ওরা নিজেরাও অনুতপ্ত। আমার বিশ্বাস, এসএ গেমসে ওরা সেরাটা নিংড়ে দেবে।”
মেয়েদের প্রস্তুতি নিয়েও খুশি কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন। ছেলেদের ‍তুলনায় প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পাওয়ায় রূপার পদকে চোখ রাখছেন তিনি।
“প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। গত নভেম্বর থেকে আমরা অনুশীলন করছি। গতবার আমরা ব্রোঞ্জ পেয়েছি; এবার লক্ষ্য সেটাকে ছাড়িয়ে যাওয়া।”

কাবাডিতে চোখ রূপায়

গত অগাস্ট থেকে চলা প্রস্তুতি নিয়ে খুশি পুরুষ ও মহিলা কাবাডি দল। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) পদকের লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের যাচাই করে নেওয়ার প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার হতাশাও কম নয়। সব মিলিয়ে কাবাডি থেকে এবারও সোনার পদকের সম্ভাবনা নেই; রূপাতেই আপাতত আটকে আছে লক্ষ্যটা।
আবাসিক হোটেলে থাকা, পল্টনের কাবাডি স্টেডিয়ামে ভারতীয় কোচের অধীনের প্রস্তুতি-গতবারের তুলনায় এবার পাওয়া সুযোগ সুবিধা নিয়ে খুশি পুরুষ দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আরদুজ্জামান। ধানমণ্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে চলা মহিলা দলের শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি নিয়ে ‍খুশি কোচ আব্দুল জলিলও। কিন্তু বড় স্বপ্ন নেই কারও চোখে।
k-3
আগামী শুক্রবার ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ে শুরু হতে যাওয়া এসএ গেমসের কাবাডি ইভেন্টের লক্ষ্য জানাতে গিয়ে পুরুষ দলের অধিনায়ক আরদুজ্জামান বললেন, “ভারত এতটা এগিয়েছে যে, সোনার পদকটা ওদেরকে দিয়ে রেখেই হিসেব কষতে হয়।”
মহিলা দলের কোচ জলিল জানালেন গতবারের রূপা ধরে রাখাই তার মূল লক্ষ্য। “যেভাবে মেয়েরা কঠোর অনুশীলন করছে, আমার বিশ্বাস রূপা ধরে রাখা সম্ভব। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের পরখ করে নিতে পারলে ভালো হতো।”
কাবাডিতে স্বপ্নটা বড় না হওয়ার কারণও অনেক। গত বছরে লিগ, ক্লাব টুর্নামেন্ট কোনোটাই আয়োজন করতে পারেনি কাবাডি ফেডারেশন। বড় ঘাটতির দিকটা অবশ্য দেখিয়ে দিলেন ভারতের প্রো-কাবাডি লিগে তেলেগু টাইটান্সের কোচের দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ পুরুষ দলের বর্তমান কোচ জগমোহন কিলারু। “কাবাডির নিয়মে অনেক আধুনিকতা এসেছে। কিন্তু এখানে সেই সনাতন পদ্ধতিতে শেখানো হয়। আমি যখন নতুন নিয়মে শুরু করলাম, তখন স্বাভাবিকভাবে ছেলেদের গতি কমে গিয়েছিল। তবে এখন তারা একটু একটু করে নিজেদের ফিরে পাচ্ছে।”
এই ফিরে পাওয়াতে জগমোহন খুব একটা আশাবাদী নন, “এই দলটা তরুণ। উঠে আসছে। ছেলেদের মধ্যে নিষ্ঠা আছে; তারা খুব পরিশ্রমী। এ কারণে এসএ গেমসের একটা পদক আশা করতে পারি; বলতে পারি, রূপা জেতার সুযোগ আছে।”
২০০৬ সালের কলম্বো গেমসে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয় মহিলা কাবাডি। ওই আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে নিজেদের মাঠে রূপা এসেছিল। প্রথম এসএ গেমসে (১৯৮৪) কাবাডি ছিল না। পরের ১০ আসরে বাংলাদেশের সাফল্য কখনোই সোনার পদক পর্যন্ত গড়ায়নি। তিন রূপা আর নয় ব্রোঞ্জে আটকে আছে। কাবাডি থেকে পুরুষ দলের প্রাপ্তি দুই রূপা, আট ব্রোঞ্জ।
গত বছর অগাস্ট থেকে নেওয়া প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট অধিনায়ক আরদুজ্জামান। তবে টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের যাচাই করে নেওয়ার প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার অক্ষেপ তার কণ্ঠে।
“প্রস্তুতি অনেকটা ভালো। এখনও টিমের যে অবস্থা, তাতে মনে হয় গত সাফের চেয়ে আমরা ভালো করব। যদি বড় ধরনের কোনো চোটে না পড়ি, তাহলে আমরা ভালো করব।”
“টুকটাক ইনজুরি সবসময় লেগে থাকে; বডি কন্টাক্ট গেম তো। তাছাড়া আমাদের খেলোয়াড়ও কম। ফলে আমরা ম্যাচও খেলতে পারছি না। প্রস্তুতি হচ্ছে; প্রস্তুতি ম্যাচটা হচ্ছে না”, যোগ করেন তিনি।
২০১০ সালের আসরে খেলা অভিজ্ঞ রাজু আহমেদ, ফিরোজ জামান আর আরদুজ্জামান-এই তিনজন আছেন বর্তমান দলে। প্রস্তুতি নিয়ে খুশি ফিরোজও, “এ মুহূর্তে আমাদের টিমের যে অবস্থা, তাতে বলব, প্রস্তুতি খারাপ না; উন্নতি যে করছি; সেটা আমরা বুঝতে পারছি কিন্তু আমরা সেটা পরখ করে নিতে পারছি না।”
“এখন আসলে আমাদের যা আছে তাই নিয়ে লড়াই করতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতাও আছে। পাকিস্তান আহামরি নয়, আমাদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান ২০-১৯। আমার মনে হয়, রূপা জয়ের সুযোগ আমাদের আছে।”

স্কোয়াশে স্বপনের স্বপ্ন ব্রোঞ্জ ছাড়িয়ে যাওয়া

২০০৬ কলম্বো গেমসে ব্রোঞ্জ; ২০১০ ঢাকা গেমসেও ব্রোঞ্জ। এবার স্কোয়াশ দলের অধিনায়ক স্বপন পারভেজ বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না। শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ব্রোঞ্জ ছাড়িয়ে রূপা পর্যন্ত যাওয়ার।
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ে শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) স্কোয়াশে বাংলাদেশের চাওয়াটা দলগত পদকের দিকে বেশি। অবশ্য অধিনায়ক স্বপন আর টিমের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় মোহাম্মদ সুমনের ব্যক্তিগত ইভেন্টে ভালো করতেও মুখিয়ে আছেন।
স্কোয়াশে ছেলে ও মেয়েদের ইভেন্ট থাকলেও বাংলাদেশ শুধু ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নেবে। দলগত ইভেন্টে স্বপন, রাজন কুমার রাজু আর সুমনের খেলার সম্ভাবনা বেশি। তিন জনের মধ্যে স্বপন কলম্বো ও ঢাকায় ব্রোঞ্জ জিতেছেন।
কলম্বোয় স্বপনের সঙ্গী ছিলেন ভোলালাম চৌহান ও রাম জগদীশ। ঢাকায় রাজন কুমার রাজু ও মাসুদ রানা। এবার রাজন-সুমনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লক্ষ্য পূরণে নামার কথা জানান স্বপন।
“তিন মাসের প্রস্তুতি। সবাই (এসএ গেমসের বাংলাদেশের অনান্য ক্রীড়ার প্রতিযোগীরা) প্রস্তুতি শুরু করেছে পাঁচ মাস আগে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আমাদের অনুমতি দিয়েছে দুই মাস পর। তারপরও আমাদের পদক পাওয়ার আশা আছে।”
“সুমন ফিট আছে। মানসিকভাবে ভালো। আশা করি, ব্যক্তিগত ইভেন্টে ও ভালো করবে।” প্রস্তুতির সময় আর আনুষঙ্গিক সুবিধা মিললে এসএ গেমসে আরও ফলের আশা করা সম্ভব হতো বলে দাবি করেন স্বপন, “সোনার পদকের স্বপ্ন দেখাতে পারছি না। আমাদের নিজস্ব কমপ্লেক্স নেই। কমপ্লেক্স থাকলে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৮ ও ১৯ থেকে খেলোয়াড় উঠে আসত। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেতো; অভিজ্ঞতা অর্জন করত; তখন আমরা এসএ গেমসে গোল্ড পাওয়ার আশা করতে পারতাম।”
প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যের ব্যবধান জানিয়ে রূপার লক্ষ্যটা জানান অধিনায়ক। “ভারত ও পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। শ্রীলঙ্কা আর আমরা সমানে সমান। লক্ষ্য ব্রোঞ্জ ছাড়িয়ে যাওয়া; এ ক্ষেত্রে আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কা। তাদের হারাতে পারলে পরে আমরা ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে ফাইট দিতে পারব।”
“এসএ গেমসে বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা অংশ নেবেন; বর্তমান বিশ্বের নাম্বার ১৮ সৌরভ ঘোষাল। গত এশিয়ান গেমসেও সোনা ও রূপা জেতেছে; সেও খেলবে এ আসরে,” যোগ করেন স্বপন। কমপ্লেক্স তো দূর অস্ত, এসএ গেমসের জন্য স্কোয়াশের অনুশীলন চলছে এখানে-ওখানে। তারপরও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্বপন, “বাংলাদেশ আর্মি ক্লাবে অনুশীলন করেছি। এরপর গুলশান ক্লাবে। তারপরও পদক পাওয়ার আশা আছে আমাদের।”

সোনার আশা সাইক্লিস্টদের

২০১৩ সালের বাংলাদেশ গেমসের পর আর কোনো জাতীয় প্রতিযোগিতা হয়নি সাইক্লিংয়ে। কিন্তু তাতে কি; দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসের এবারের আসর থেকে সোনার পদক নিয়ে ফেরার আশা করছেন সাইক্লিস্টরা। রিপনদের এতটা প্রত্যয়ী করে তুলছে আত্মবিশ্বাস আর প্রস্তুতির সন্তুষ্টি।
আগামী শুক্রবার ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ে পর্দা উঠেব এসএ গেমসের দ্বাদশ আসরের। গেমসকে সামনে রেখে প্রায় ছয় মাস আগে থেকে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সাইক্লিস্টরা। রিপন-আনোয়ারদের মানসম্পন্ন সাইকেল না পাওয়ার হতাশাটুকু এবার আর রাখেনি সাইক্লিং ফেডারেশন।
cycel-2
এসএ গেমসে এবার সাইক্লিংয়ে ৮টি সোনার লড়াই হবে। তিনটি সোনার পদক জয়ের আশা বাংলাদেশের সাইক্লিস্টদের। এ আশা পূরণের লক্ষ্যেই সাত জন ছেলে, সাত জন মেয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাস ছয়েক ধরে। গত আসরে ছেলেদের ৮০ কিলোমিটার রোড টিম টাইম ট্রায়ালে পাওয়া ব্রোঞ্জকে এবার ছাপিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন রিপন কুমার বিশ্বাস।
“গতবার আমরা ব্রোঞ্জ পেয়েছিলাম। গতবারের চেয়ে এবার প্রস্তুতি ভালো। দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে প্রস্তুতি নিচ্ছি; এখানকার পরিবেশও ভালো। প্রস্তুতিতে মানসম্পন্ন সাইকেল দেওয়া হয়েছে। আমরা এবার দুই থেকে তিনটা গোল্ড পেতে পারি।”
“ছেলেদের ১০০ কিলোমিটার রোড রেস, ৪০ কিমি ব্যক্তিগত ও ৮০ কিমি রোড রেসে পদক পাওয়ার আশা আমাদের”, যোগ করেন রিপন।
কোচ সহিদুর রহমান অবশ্য পদকের আশা করলেও বড় স্বপ্ন দেখিয়ে হতাশ করতে চান না। ছেলেদের ১০০ কিলোমিটার ব্যক্তিগত ও মেয়েদের ৮০ কিলোমিটার ব্যক্তিগত রোডরেসে আশা দেখছেন তিনি। কিন্তু সে আশা সোনার কিনা, তা বলতে রাজি নন।
গত আসরের ব্রোঞ্জ জয়ী রিপন অবশ্য সতীর্থদের নিয়ে বড় আশাই দেখছেন। নিজে ব্যক্তিগত রোডরেসে ভালো করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বললেন, “ইয়াসিন আলি ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস। আর মেয়েদের মধ্যে সুর্বনা বর্মন ও চিংবাই মারমা-এই দুইজনের কাছে আমাদের পদকের চাওয়াটা বেশি।”

ভারোত্তোলকদের টার্গেট স্বর্ণ জয়

আর মাত্র কয়েকদিন, ৫ফেব্র“য়ারী থেকে ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে শুরু হচ্ছে ১২তম এসএ গেমস। গেমসে মোট ২৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে ২২টিতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল রবিবার অলিম্পিক এসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে গেমস উপলক্ষে দলের প্রস্তুতি ও পদক জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা উল্লেখ্য করেন এবারের গেমসে ভারোত্তোলন, শ্যূটিং, বক্সিং, তায়কোয়ানদো ও আরচ্যারীতে ভাল ফলাফলের আশা করছেন। বর্তমান সময়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারোত্তোলন দলের যে পারফরমেন্স তা আশা দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।
প্রচেষ্টার সঙ্গে ভাগ্যের একটু ছোঁয়া যোগ হলেই ভারোত্তোলনে গতবারের প্রাপ্তিতে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) দ্বাদশ আসর নিয়ে এমনটাই ভাবনা ভারোত্তোলকদের। এ ভাবনা দেখাচ্ছে একাধিক সোনার পদক পাওয়ার স্বপ্নও। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি-শিলংয়ে শুরু হতে যাওয়া এসএ গেমস সামনে রেখে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে চলছে হামিদুল-সীমান্ত-সাথীদের অনুশীলন।
ক্যাম্পে থাকা আট পুরুষ ছেলে ও সাত নারী প্রতিযোগী ভারোত্তোলক এসএ গেমসের মোট ১৫টি ইভেন্টে পদকের লড়াইয়ে নামবেন এবার। বাংলাদেশের মেয়েরা এবারই প্রথম এসএ গেমসের ভারোত্তোলনে পদকের লড়াইয়ে নামবে। এ নিয়ে মোল্লা সাবিরা সুলতানার মতো অভিজ্ঞরা যেমন রোমাঞ্চিত; মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, রোকেয়া সুলতানা সাথী, জহুরা আক্তার রেশমা, ফিরোজাদের উচ্ছ্বাসও অনেক।
ছেলেদের তুলনার এবার মেয়েদের কাছে পদকের আশাটা ঢের বেশি। মেয়েরাও জানিয়েছেন ভারতের আসরে দেশের ‘ভার’ বইতে প্রস্তুত তারা। এসএ গেমসে বাংলাদেশকে ভারোত্তোলন থেকে প্রথম সোনার পদক এনে দেওয়া হামিদুলও দিয়েছেন মুকুট ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি।
একটি সোনা, ছয়টি রূপা আর ১৮টি ব্রোঞ্জ-এসএ গেমসের ভারোত্তোলন থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন। সোনার পদকটি গত আসরে নিজের দেশে ৭৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিতেছিলেন হামিদুল ইসলাম। এসএ গেমসে ২০০৪ সালে রূপা, ২০০৬ সালে ব্রোঞ্জ জেতা সেনাবাহিনীর এই ভারোত্তোলক দেশি কোচের অধীনে প্রস্তুতি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানালেও মুকুট ধরে রাখতে প্রত্যয়ী। ১৯ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হামিদুল বলেন, “গতবার সোনা জিতেছিলাম। এবারও শারীরিক অবস্থা ভালো। প্রস্তুতির জন্য আরেকটু বেশি সময় পেলে ভালো হতো। তারপরও প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো। আশা করি, গত আসরের সাফল্য ধরে রাখতে পারব।”
এবারের বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দলের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন মহিলা কোচ শাহরিয়া সুলতানা সূচি এবং পুরুষ কোচ ফারুক সরকার কাজল। মেয়েদের কোচ শাহরিয়া সুলতানা সূচি তার অধিনে অনুশীলন করা সাত মেয়েকে নিয়ে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন- প্রথমবার এসএ গেমসে মেয়েরা অংশ নিচ্ছে। যেভাবে মেয়েরা পরিশ্রম করছে তাতে আশা করি সাতটি মেয়েই কোন না কোন পদক পাবে। আমাদের মূল প্রতিপক্ষ ভারত। তাদের বিট করতে পারলেই স্বর্ণ পেয়ে যেতে পারে মেয়েরা। আশা করি মেয়েরা অনেক ভালো রেজাল্ট করবে।
এদিকে, এবং পুরুষ কোচ ফারুক সরকার কাজল জানান, দলের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। গত এসএ গেমসে স্বর্ণ পাওয়া হামিদুলসহ অন্য অভিজ্ঞ ভারোত্তোলকদের নিয়ে আশা করি ভালো করবে। পদক পুরুষ বিভাগ থেকে কিছু না কিছু আমরা পাওয়ার আশা করছি। সময় মত ভাগ্য আমাদের পক্ষে থাকলে দেশের জন্য স্বর্ণও পেয়ে যেতে পারে আমাদের ভারোত্তোলকরা।
২০১৪ সালে উজবেকিস্তানের আফ্রো-এশিয়ান গেমসে জুনিয়র বিভাগে রূপা, ২০১৫ সালে কাতার এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জয়কে গত বছরই ছাপিয়ে গেছেন সীমান্ত। ভারতের পুনেতে হওয়া কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপের ইয়ুথ বিভাগে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জয়ের কৃতিত্ব দেখান তিনি। সিনিয়রদের সঙ্গে এবার প্রথম লড়বেন তিনি। প্রথম এসএ গেমস, সিনিয়রদের সঙ্গে লড়াই নিয়ে রোমাঞ্চিত এই ভারোত্তোলক অবশ্য প্রত্যশার চাপ নিতে চান না। “নিজের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি।
পুনে ইয়ুথ কমনওয়েলথ গেমসের চেয়েও এখন পারফরম্যান্স ভালো। ওই আসরে সিনিয়রে যে গোল্ড পেয়েছিল, তার চেয়ে একটু পিছিয়ে আছি কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে হয়ে যাবে। অনুশীলন একটু কঠিন হচ্ছে কিন্তু পদক পাওয়া নিয়ে কোনো চাপ নেই।”
তুরস্কে হওয়া সর্বশেষ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে (সিনিয়র) ব্রোঞ্জ জেতেন সাথী। ওই আসরে ছেলেদের বিভাগ থেকে মইনুল ইসলামও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবার ব্রোঞ্জ পদক ছাপিয়ে যাওয়া লক্ষ্য সাথীর। “প্রস্তুতি ভালো। জাতীয় পর্যায়ে সোনার পদক জিতেছি; কিন্তু বিদেশের মাটিতে গোল্ড জেতা হয়নি। আশা আছে দেশের জন্য কিছু করা। আশা করি, এসএ গেমসেই ভালো কিছু করতে পারব।”
টুর্নামেন্টের স্বাগতিক ভারতের প্রতিযোগীরা বাংলাদেশের মুল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে জানিয়ে সাথী আরও বলেন, “ওরাও তো আর পিছিয়ে নেই। কিন্তু আমাদেরও ভালো সুযোগ আছে। কেননা, এ মুহূর্তে আমাদের মেয়েরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলছে; সাফল্যও পাচ্ছে। এটা আমরা ধরে রাখতে চাই।”
বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অভিজ্ঞ সাধারন সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ এসএ গেমসে দলের প্রস্তুতি এবং প্রাপ্তি নিয়ে বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা ১২মাস অনুশীলনের মধ্যে থাকে। কারণ এটি বডি ওয়েটের খেলা। ওজন ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন অনুশীলন করতে হয়। আর ১২তম এসএ গেমস উপলক্ষে বিওএ’র আর্থিক সহযোগিতায় আমাদের দলের অনুশীলন ভালো হয়েছে। বিওএ আমাদের নিয়ে আশা করছে। আমরাও তাদের সেই আশার প্রতিদান দিতে চায়। মেয়েরা যেহেতু প্রথমবার অংশ নিচ্ছে তাই তাদের নিয়ে আমাদের আশাটা একটু বেশি। সবমিলে আমি আশা করি এবারের এসএ গেমসে আমার দল ভালো ফলাফল করবে।

ব্যাডমিন্টনে রূপার লক্ষ্য এলিনা-আইমানদের

গতবারের তুলনায় এবার প্রস্তুতি কম হলেও এলিনা-শাপলাদের আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। তাই গতবারের ব্রোঞ্জটা ধরে রেখে এবারের দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) ব্যাডমিন্টনের রূপার জন্য লড়াই করার প্রত্যয় শাটলারদের কণ্ঠে।
২০১০ গেমসের আগে নয় মাসের প্রস্তুতি নিয়ে তিনটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল শাটলাররা। এবার প্রস্তুতি ছয় মাসের। বাংলাদেশের ১২ জনের দলে এবার ছেলে সাতজন, মেয়ে পাঁচজন।
এসএ গেমসের ব্যাডমিন্টনে এবার ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে সাতটি সোনার লড়াই হবে। প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার শক্তির কথা মাথায় রেখে এককের চেয়ে দলগত পদক পাওয়ার লক্ষ্য শাটলারদের। লক্ষ্য পূরণের আশায় গত নভেম্বরে আসা মালয়েশিয়ার কোচ বিবেক আনাংয়ের সঙ্গে কাজ করার কথা জানান আইমান-এলিনারা।
এসএ গেমসের ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশ প্রথম পদকের লড়াইয়ে নামে ২০০৪ সালে; সেবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। ২০০৬ সালের কলম্বো আসরেও কিছু পাওয়া হয়নি। ২০১০ সালে নিজেদের কোর্টে তিনটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। মিশ্র দ্বৈতে শাপলা আক্তার-রাসেল কবির জুটি আর পুরুষ ও মহিলাদের দলগত ইভেন্ট থেকে এসেছিল ব্রোঞ্জ তিনটি।
গতবারের ব্রোঞ্জ জয়ী মহিলা দলের শাপলা খাতুন এবার দলগতের সঙ্গে এককেও ভালো করা আশা করছেন, “প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো। পদকের চাওয়াটা—এবার রূপার জন্য লড়াই করব। আশা করি, টিম ইভেন্টের সঙ্গে এককেও ভালো লড়াই করব।”
পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে ঘরোয়ার এককের চ্যাম্পিয়ন এলিনা সুলতানাও জানালেন রূপার লক্ষ্যটা। তবে প্রস্তুতির সময়টা আরেকটু বেশি হলে লক্ষ্য পূরণের পথটা মসৃণ হতো বলে জানান তিনি।
“আমাদের গত আসরের রেজাল্ট ছিল ব্রোঞ্জ। গতবার নয় মাসের ট্রেনিং হয়েছিল। কিন্তু এবার ছয় মাসের অনুশীলন। এই ছয় মাসে আমরা যেভাবে অনুশীলন করেছি, তাতে বলতে পারি, ব্রোঞ্জ অবশ্যই ধরে রাখব; রূপার জন্য লড়াই করব।”
নিজের প্রথম এসএ গেমস বলে এলিনা দারুণ রোমাঞ্চিত। ভেতর থেকে আরও ভালো করার তাগাদা অনুভব করছেন দেশ সেরা এই মহিলা শাটলার। তবে প্রতিপক্ষের শক্তির বিবেচনায় লক্ষ্যটা দলগত ইভেন্টকে ঘিরে রাখার কথা জানালেন এলিনাও।
ছেলেদের ইভেন্টে আইমান ইবনে জামাম, আহসান হাবিব পরশদের কাছে এবার চাওয়াটা বেশি। ঘরোয়াতে ছেলেদের এককের সেরা আইমান প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই চাওয়া পূরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
“মালয়েশিয়ান কোচ এসেছেন। প্রস্তুতিও চলছে ছয় মাস ধরে। মাঝে আমরা একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছি; ফলে ফর্ম ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো পর্যায়ে আছি আমরা। ভালো কিছু পাওয়ার চেষ্টাই করব আমরা। দেখা যাক কি হয়।”
ভারতকে সব দিক থেকে ‘ফেভারিট’ মেনে নিয়ে ধাপে ধাপে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাটাও জানান আইমান, “ভারত এই টুর্নামেন্টের ফেভারিট। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান অনেক ভালো দল নিয়ে আসবে। আমরা একটু একটু করে আগাচ্ছি। আগেরবার ব্রোঞ্জ পেয়েছি। এবার চেষ্টা করব রূপা পাওয়ার।”
ব্যক্তিগত প্রথম এসএ গেমস বলে উৎসাহ যেমন আছেন, আইমানের ওপর প্রত্যাশার চাপও কম নয়। তবে বাংলাদেশের এক নম্বর শাটলার চাপ নিয়ে ভাবছেন না। “এটা আমার প্রথম এসএ গেমস। জুনিয়র অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমসে খেলেছি। চাপ নিলেই আসলে এটা সমস্যা হয়। তাই কোনো চাপ নিচ্ছি না। কোচ যতটুকু বলবেন, যেভাবে বলবেন, সেটাই কোর্টে কার্যকর করার চেষ্টা করব।”

আর্চারিতে এবার সোনার নিশানা তামিমুল-মিলন-সজীবদের

হারানো ছন্দ ফিরে পেতে শুরু করেছেন ইমদাদুল হক মিলন। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের গত আসরে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার হতাশা কাটিয়ে উঠতে উন্মুখ শেখ সজীব। তামিমুল ইসলামকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্য। এই তিনে ভর করে ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ের আসরে আর্চারি থেকে সোনার পদক পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
গত বছর জানুয়ারি থেকে টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের আবাসিক ক্যাম্পে তির-ধনুক নিয়ে অনুশীলন চলছে। ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে মোট ১৬ জন আর্চার প্রস্তুত হচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হাগ ইয়ং কিমের অধীনে।
আট জনের দুটি দল (প্রতি দলে চার জন করে ছেলে ও মেয়ে) রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড বিভাগে অংশ নেবে। দুই বিভাগ মিলিয়ে এবার ১০টি সোনার পদকের লড়াইয়ে নামবেন আর্চাররা।
লম্বা সময়ের প্রস্তুতি আর সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্য আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে মিলন, তামিম, মাথুই প্রু মারমাদের। তিরন্দাজরাও জানালেন, গুয়াহাটি-শিলংয়ের আসরে সোনার হাসি হাসতে চান তারা।
২০০৬ সালের শ্রীলঙ্কার আসরে প্রথমবারের মতো তিরন্দাজরা নামেন পদকের লড়াইয়ে। সেবার ছেলেদের ৭০ মিটার অলিম্পিক রাউন্ডের ব্যক্তিগত ইভেন্টে (রিকার্ভ) প্রথম ব্রোঞ্জ জেতেন বাংলাদেশের নূরে আলম। একই ইভেন্ট থেকে দলগত ব্রোঞ্জও জিতেছিল বাংলাদেশ।
২০১০ সালে নিজের দেশের আসরে ছেলেদের রিকার্ভে ব্যক্তিগত ইভেন্টে রূপার হাসি সজীবের; এই ইভেন্টের দলগত রূপাও জেতে বাংলাদেশ। এরপর মেয়েদের ৭০ মিটার অলিম্পিক রাউন্ডে (রিকার্ভ) মাথুই প্রুপ মারমা ব্যক্তিগত ও বাংলাদেশ দলগত ব্রোঞ্জ জিতেছিল। মাথুই প্রু মারমা এবারও আছেন; তার সঙ্গে আছেন বিউটি রায়, শ্যামলী রায়, সুস্মিতা বনিক, রোকসানা আক্তার, তামান্না পারভীনরা।
২০০৬ সালে ব্রোঞ্জ, ২০১০ সালে রূপা; এবার সোনার পদকটা ধরার লক্ষ্য। গত বছর সেপ্টেম্বরে সামোয়ায় যুব কমনওয়েলথ গেমসের রিকার্ভ বোতে সোনা জেতা তামিমুল ওত সব হিসেবে মধ্যে নেই। প্রত্যাশার চাপ ভুলে, শুধু স্নায়ুর লাগামটা মুঠোয় রেখে নিশানাভেদের স্বপ্ন তার চোখে।
“এখানে যেভাবে প্রস্তুতি চলছে; আমরা যেভাবে পারফরম করছি, এভাবে চললেই ভালো ফল হবে। সোনার পদকের জন্যই খেলব। তবে সাফল্য নির্ভর করবে, নিজেকে যে যত শান্ত রাখতে পারবে, তার ওপর।”
“এটা আমার প্রথম এসএ গেমস। ব্যক্তিগত, দলীয় ও মিক্সড-তিন ইভেন্টেই অংশ নেব। তিনটাতেই গোল্ড পাওয়ার ইচ্ছা আমার। কোচ আমাকে বলেছেন, আগে যা করেছ সব ভুলে যাও। সব ভুলে গিয়ে শূন্য থেকে শুরু করো। আমিও সেভাবেই ভাবছি”, যোগ করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) এই তিরন্দাজ।
দেশের হয়ে প্রথম রূপা জেতা সজীব এবার গত আসরের হতাশা ভুলতে চান। দেশকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার তাড়নার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “লক্ষ্য তো একটাই-গোল্ড; গতবার মিস করছি। ওটা ছিল প্রথম আমার বড় কোনো টুর্নামেন্ট। এবার তো অনেক দিন খেলছি; অভিজ্ঞতাও হয়েছে। গতবারের ভুলটা যেন এবার না হয়, সেদিকেই লক্ষ্য আমার।”
হারানো ছন্দ একটু একটু করে ফিরে পাওয়ায় স্বপ্ন দেখতে ও দেখাতে পারছেন মিলন। ২০১৩ সালের ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে সর্বশেষ রূপা জেতা এই তিরন্দাজ ভারত থেকে খালি হাতে ফিরতে চান না।
“এটা আমার দ্বিতীয় এসএ গেমস। প্রথমবার ভালো করতে পারিনি; এ নিয়ে একটু হতাশা আছে। মাঝে পারফরম্যান্সের অবস্থাও ভালো ছিল না। এখন আবার ভালো করছি। এটা ধরে রাখতে পারলে পদক জেতা সম্ভব।”
“আন্তর্জাতিক-দলগত ব্যক্তিগত মিলিয়ে ১২টা পদক পেয়েছি আমি। সর্বশেষটা পেয়েছি ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে। এ মুহূর্তে যেহেতু ফর্মে আছি, আমিও চাই নিজেকে আগের পর্যায়ে তুলে ধরতে,” যোগ করেন মিলন।

খেলা রূপা-ব্রোঞ্জের ট্র্যাকেই অ্যাথলেটিকসের দৌড়

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) সবচেয়ে বেশি সোনার পদকের লড়াই হয় অ্যাথলেটিকসে। কিন্তু মর্যাদার এই ডিসিপ্লিনের ৩৮ ইভেন্ট থেকে এবার বাংলাদেশের সোনার চাওয়া নেই সে অর্থে। রূপা আর ব্রোঞ্জকেই ঘিরেই চলছে যত হিসেব, নিকেষ।
নয়টি সোনা, ১৭টি রূপা, ৩১টি ব্রোঞ্জ-দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) গত এগারোটি আসরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি। সর্বশেষ ২০০৬ সালে এই ইভেন্ট থেকে সোনার পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। মাঝে ২০১০ সালে নিজেদের ট্র্যাকে সোনার পদক অধরা থেকে গেছে। এবারও তা হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কেননা, যাদের হাতে স্বপ্ন পূরণের ভার, সেই মেজবাহ, শিরিনরাও জোর গলায় বলতে পারছেন না-আমরা পারবই। টাইমিংয়েও মিলছে না তার আভাস।
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ে শুরু হবে এসএ গেমসের দ্বাদশ আসর। অ্যাথলেটিকসে ছেলেদের ২০টি, মেয়েদের ১৮টি ইভেন্টে পদকের লড়াই হবে। মেজবাহ, শিরিনদের কথায় এই ৩৮টি সোনার পদক প্রতিপক্ষের দিয়ে রেখে রূপা আর ব্রোঞ্জের ছকে থাকার ইঙ্গিতই মিলেছে!
গত বছর অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) চলছে অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি। কোচ আব্দুল্লাহেল কাফির পর্যবেক্ষণও বলছে না, ২০০৬ সালের কলম্বো গেমসের ১১০ মিটার হার্ডলসে মাহফুজুর রহমান মিঠুর সর্বশেষ সোনা জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য তার বর্তমান ২৬ শিষ্যের কারো আছে। যা একটু সোনা জয়ের আশ্বাস শুনিয়েছেন, তা লং জাম্পার আল আমিন।
হালের অ্যাথলেটিকস এগিয়ে অনেক; বাংলাদেশ রয়েছে সেই হাতঘড়ির (হ্যান্ড টাইমিং) যুগে! তাতে মেজবাহ, শিরিন, সোহাগী, চুমকিরা ঠিক কত সেকেন্ড দৌড় শেষ করলেন, তা-ই জানা যায় না। এর সঙ্গে এবার প্রস্তুতির সময়ের স্বল্পতা যোগ হওয়ার কথা জানালেন কোচ কাফি।
“প্রস্তুতি মোটামুটি। যতটুকু সময় পেয়েছি, তাতে প্রস্তুতি খুব একটা ভালোও না, মন্দও না। সোনার পদকের স্বপ্নটা আমরা ওভাবে দেখাচ্ছি না। তবে রূপা আর ব্রোঞ্জ আগের তুলনায় ভালোই হবে।”
১০০ মিটার, ২০০ মিটার, ১০০ মিটার রিলে ও লং জাম্প-এই চার ইভেন্ট থেকে পদকের আশা বেশি জানিয়ে কাফি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের ব্যবধানটাও জানান।
“(১০০ মিটার) শ্রীলঙ্কা আর মালদ্বীপের ছেলেরা ভালো। জেনেছি, ভারতের একটা মেয়ে গত ডিসেম্বরে ১১.৪০ সেকেন্ডে দৌড়াছে, আমাদের শিরিনের হ্যান্ড টাইমে সেরা ১১.৮৪। পদকের খুব কাছাকাছি কিন্তু গোল্ড পাওয়ার জন্য তা যথেষ্ঠ নয়।”

তবু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যারা

এসএ গেমসের সবচেয়ে মর্যাদার ইভেন্ট ১০০ মিটার দৌড়ে বাংলাদেশের সর্বশেষ সোনা জয় বিমল চন্দ্র তরফদারের হাত ধরে; সেটা ১৯৯৩ সালের আসরে। ১০.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দেশের দ্রুততম মানব হওয়া মেজবাহ ‘বিমল’ হয়ে ওঠার স্বপ্নটা দেখাচ্ছেন না।
“এটা আমার প্রথম এসএ গেমস। প্রস্তুতি ভালো। টাইমিংও ভালো। সবাই গোল্ড জেতার জন্য নামে। আমি গোল্ড দিতে পারব কিনা জানি না, তবে এতটুকু বলতে পারি, ভালো একটা ফাইট হবে।”
এসএ গেমসের গত আসরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতেছিলেন শ্রীলঙ্কার শেহান সায়েরুয়ানের আবেয়িপের (১০.৪৬ সেকেন্ড)। এই ইভেন্টে এসএ গেমসের রেকর্ড ১৯৯৯ সালের কাঠমান্ডুর আসরে ভারতের অনিল কুমারের (১০.৩৭ সেকেন্ড)। এসব তথ্য শুনে বাস্তবের মাটিতে নেমে আসেন মেজবাহ। “এত কম প্রস্তুতিতে তো আর অত কিছু আশা করা যায় না। তবে খালি হাতে ফিরব না; এটা নিশ্চিত।”
১২.২০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দেশের দ্রুততম মানবী হওয়া শিরিনও রূপা-ব্রোঞ্জের ছকে থাকছেন। তবে প্রথমবারের মতো এসএ গেমসে খেলা বলে একটু বেশিই রোমাঞ্চিত তিনি, “পদক পাওয়ার আশা আছে। ইচ্ছা সোনার কিন্তু অতটকু তো সম্ভব নয়।”
১০০ মিটার রিলেতে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে মেয়েরা। শিরিন ছাড়াও রিলে দলে আছেন জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ৪০০ মিটারে সেরা হওয়া সোহাগী। গতবারের রূপাকে এবার তাই সোনায় রূপ দেওয়ার প্রত্যয় শামসুন্নাহার চুমকির, “গত গেমসের চেয়ে এবার প্রস্তুতির জন্য কম সময় পেয়েছি। তবে আমাদের রিলে দলটা ভালো। আমরা রিলেতে জোর দিচ্ছি, যেন আমরা দেশকে এখান থেকে গোল্ড দিতে পারি।”
গত আসরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ১০০ মিটার হার্ডলসে ফটো ফিনিশিংয়ে সুমিতা রানী দাসের রূপা পাওয়া ছিল উল্লেখ করার মতো প্রাপ্তি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এবার তাকে ভোগাচ্ছে। ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে সুমিতাকে নিয়ে।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এরই মধ্যে ছিটকে দিয়েছে হাই জাম্পে আট বার জাতীয় রেকর্ড ভাঙা নৌবাহিনীর সজীব হোসেনকে। সজীবের জায়গায় সুযোগ পাওয়া মাহফুজুর রহমান ট্রায়ালে ১.৯৫ মিটার লাফিয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ভালো কিছুর।
ঘরের মাঠে গত এসএ গেমসে চাকতি নিক্ষেপে আজহারুল ইসলাম, মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসে জেসমিন আক্তার, মেয়েদের ৪০০ মিটার রিলে এবং লং জাম্পে আল আমিন পেয়েছিলেন ব্রোঞ্জ। ২০০৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৪বার জাতীয় পর্যায়ে লং জাম্পে সেরা আল আমিন এবার সোনার খরা দূর করতে উন্মুখ। ২০১৩ সালে লং জাম্পের সেরার পদকটি যার কাছে হারিয়েছিলেন, সেই ইসমাইলও ভারতে যাচ্ছেন বলে আরও আত্মবিশ্বাসী আল আমিন।
“প্রতিবারই ভালো করতে চাই কিন্তু কেন যে হয় না। গতবার তো আমার সামনে থেকে গোল্ড নিয়ে গেল। এবার আমি আর ইসমাইল গোল্ডের জন্য যাব।”

হকিতে ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙবে?

হকির বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ভারত সপ্তম, পাকিস্তান দশম; বাংলাদেশ ২৯তম। শ্রীলঙ্কা আরও পেছনে। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) তাই ব্রোঞ্জের ছকে বাংলাদেশ। এর বাইরেও হিসাব আছে; তবে সেটা আশার নিরিখে। খেলোয়াড় হিসেবে এসএ গেমসের ব্রোঞ্জ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের বর্তমান কোচ মাহবুব হারুনের। এবারের বাস্তবতাও তার ভালো জানা। কিন্তু স্বপ্নটাকে কোনোভাবেই ছোট রাখতে চান না তিনি।
“ভারত-পাকিস্তানের পরেই আমাদের স্থান। যদি এখানে মিরাকল কিছু হয়ে যায়; আমরা তো ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করবই।”
এসএ গেমসে চার দল নিয়ে খেলা হবে লিগ ভিত্তিক। সেরা দুই দল নামবে সোনার লড়াইয়ে। বাকি দুই দল খেলবে ব্রোঞ্জের জন্য। ব্রোঞ্জের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সালে মাদ্রাজের আসরে এবং এরপর ১৫ বছর বিরতি দিয়ে ২০১০ সালেও ব্রোঞ্জ।
দলবদলের গেরো খোলার পর শুরু হওয়া মাস দুয়েকের প্রস্তুতি নিয়েই ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙার ছক কষছেন হারুন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার ঘাটতি কিভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে দুর্ভাবনা আছে তার।
“ডিফেন্সিভ নয়, আমরা আক্রমণাত্মকই খেলব। প্রস্তুতিও খারাপ না। কিন্তু আমরা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে পারছি না। এ নিয়ে উদ্যোগ ছিল কিন্তু সেটা কাজে লাগানো যায়নি। ফলে আমি কি শেখালাম, ওরা কি শিখল, কোনো ঘাটতি আছে কিনা তা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছি না। সরাসরি আমরা টুর্নামেন্ট শুরু করব।”
৪৪ জন থেকে নেমে আসা ১৮ জনের চূড়ান্ত দলে অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশেল চোখে পড়ার মতো। রাসেল মাহমুদ জিমি, কৃষ্ণ কুমার, পুস্কর খীসা মিমোর কাঁধে আক্রমণভাগের জোয়াল; রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব ফরহাদ আহমেদ সিটুল, রেজাউল বাবুর; গোলপোস্ট আগলের রাখার জন্য অসীম গোপের সঙ্গে জাহিদও রয়েছেন। পেনাল্টি কর্নারের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা মামুনুর রহমান চয়নকে পেছনে ফেলে চূড়ান্ত দলে এবার জায়গা করে নিয়েছেন বিজয় দিবস হকিতে আলো ছড়ানো আশরাফুল ইসলাম। বিকেএসপির এই তরুণের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ খোরশেদুর রহমান।
বিজয় দিবস হকিতে পেনাল্টি কর্নার থেকে ১১ গোল করা আশরাফুলকে নিয়ে কোচ দারুণ উচ্ছ্বসিত। উঠতি এই তারকাও প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে মুখিয়ে আছেন, “এসএ গেমসে দলকে যতগুলো সম্ভব গোল এনে দিতে চাই।”
গত দুই আসরের ব্যর্থতা এখনও তাড়া করে ফেরে জিমিকে। ২০০৬ সালের কলম্বো গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে লাল কার্ড পেয়েছিলেন জিমি; এরপর হেরে খালি হাতে দেশে ফেরা। পরের আসরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
“এবার লক্ষ্য ফাইনাল খেলা। সেবার (গতবার) আমরা পাকিস্তানের কাছে জেতা ম্যাচ হেরেছি। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হবে; ভালো একটা দলকে হারাতে হবে, তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।”
দল নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক সারোয়ার হোসেনও। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারা নিয়েও খুব একটা দুর্ভাবনা নেই তার, “বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট প্রস্তুতি ম্যাচের অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করেছে।”
“প্রথম ম্যাচের জয়ের ভাবনা সবারই থাকে। তবে আমাদের ভাবতে হবে কাদের বিপক্ষে খেলছি। আমরা বলছি না তাদের (ভারত) বিপক্ষে জিতব, তবে লক্ষ্য থাকবে আগে যেভাবে খেলেছি, তার চেয়ে ভালো খেলার,” ব্রোঞ্জের বৃত্ত ভাঙতে আপাতত এতটুকুই অধিনায়কের পরিকল্পনা।

বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী নেপাল-ভুটান

আগামী ০৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ে শুরু হবে এসএ গেমসের দ্বাদশ আসর। আর আসন্ন আসরের ‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল খেলবে নেপাল ও ভুটানের বিপক্ষে। গত আসরেও এই দুটি দেশকে গ্রুপ সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিল বাংলাদেশ।
‘এ’ গ্রুপে টুর্নামেন্টের স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশের গ্রুপে আফগানিস্তানও ছিল। তবে, শেষ মুহূর্তে আফগানরা নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। দেশটির পুরুষ ও নারী দল এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না।
আফগানরা নাম প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশের নারী দলকে গ্রুপ পর্বে খেলতে হবে না। তারা সরাসরি উঠে গেছে সেমিফাইনালে।
বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল ০৯ ফেব্রুয়ারি এসএ গেমসের দ্বাদশ আসরের মিশন শুরু করবে। গঞ্জালো সানচেজ মরেনোর শিষ্যরা প্রথম ম্যাচে লড়বে ভুটানের বিপক্ষে। ১১ ফেব্রুয়ারি নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

পদকপ্রাপ্তদের পুরস্কৃত করল বিওএ

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের অধীনে ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার জন্য বিওএ’র সভাপতি জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া বৃহস্পতিবার বিওএ’র ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন। এ অনুষ্ঠানে Bakiপদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা ছাড়াও বিওএ’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা, বিভিন্ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট গেমসের সেফ দ্য মিশন বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার প্রারম্ভে বিওএ’র মহাসচিব বিগত ৩ বছরে বিওএ কর্তৃক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সাফল্যের উপর বিশদ আলোচনা করেন। এরপর বিওএ’র সভাপতি পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের মাঝে নগদ চেক, ফুলের তোড়া এবং ক্রেষ্ট উপহার দেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে খেলোয়াড়দেরকে প্রশিক্ষণের উপর আরো বেশী সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়, সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন, কোচ, ম্যানেজার এবং উক্ত প্রতিযোগিতার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আসন্ন ১২তম এসএ গেমসে বাংলাদেশ ভাল ফলাফল লাভ করবে। তাছাড়া আগামী দিনগুলিতে যে সকল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে তাতে বাংলাদেশের সুনাম বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও আন্তরিক হয়ে কাজ করার ব্যাপারে আহবান জানান। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন বিওএ’র সদস্য কামরুন নাহার ডানা।

বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আতিথেয়তা দেবে ভারত

ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ থেকে ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসের ১২ তম আসরে বাংলাদেশকে ঝামেলামুক্ত ভিসা, সর্বোচ্চ নিরাপত্তাসহ গেমস ভিলেজে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সফররত ভারতের ক্রীড়া বিষয়ক প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এই বিষয়ে আলোকপাত করেন এবারের আয়োজক ভারতের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্রতিনিধি ড: এসএম বালি ও রাকেশ কুমার। ড: এসএম বালি ভারত অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করছেন আর ড: রাকেশ কুমার ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ সফরে এসে দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এই এসএ গেমসে অংশগ্রহণের জন্য দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংঘসংগঠনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সভায় অংশ নিয়েছেন এই দুই প্রতিনিধি। বাংলাদেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর দেশটির এসএ গেমসে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিয়ে তারা আশানুরুপ সাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এসএ গেমসে ক্রীড়া মন্ত্রীকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানালেন তারা।
এই প্রসঙ্গে এসএম বালি বলেন ‘বাংলাদেশ থেকে এসএ গেমসের এবারের আসর সর্বাধিক সংখ্যক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করছে জানতে পেরে আমরা ভীষণ খুশি। বন্ধুপ্রতীম এই দেশটি গুয়াহাটি ও শিলংয়কে তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে আসরকে আলোকিত করবে, সেই মাহেন্দ্রক্ষনের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’
একই প্রসঙ্গে ড. রাকেশ কুমার বলেন, ‘আমরা এখানে একটি উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছি আর তা হলো, সর্বাধিক সংখ্যক প্রতিযোগী নিশ্চিত করা। মনে হয় আমরা আমাদের উদ্দেশ্য সফল করতে সক্ষম হয়েছি।’
উল্লেখ্য এসএস গেমসের এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে ২২ টি ইভেন্টে ২৪১ জন পুরুষ ও ১৮ টি ইভেন্টে ১৬৮ জন নারী প্রতিযাগী অংশ নিচ্ছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটিতে গেমসের উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের উত্তর-পুর্ব প্রদেশের সংষ্কৃতিসহ তুলে ধরা হবে অংশগ্রহণকারী বাকি ৭টি দেশের সংষ্কৃতিও।
২৩টি ডিসিপ্লিনের এবারের এসএ গেমসে মোট স্বর্ণ পদকের সংখ্যা ২২৮টি, রৌপ্য ২২৮টি ও ৩০৮টি ব্রোঞ্জ। মোট ডিসিপ্লিনের ১৬টি অনুষ্ঠিত হবে গুয়াহাটি ও বাকি ৭টি হবে শিলংয়ে। আর এসএ গেমসে অংশ নিতে ১৫০৫ জন নারী ও ১১৬৭ জন পুরুষ অ্যাথলেট এরই মধ্যে রেজিস্ট্রার্ড হয়েছেন বলে তারা দাবী করেন।
গেমসের মাসকট হিসেবে থাকছে ‘তিখর’ নামের ছোট অথচ তীক্ষ ও আধুনিক স্পোর্টিং মানসিকতার এক গন্ডার। আর থিম সং থাকছে, প্রয়াত ভুপেন হাজারিকার “পৃথিবী এখন ক্রীড়াঙ্গন, ক্রীড়া হল শান্তির প্রাঙ্গন।”
এদিকে, গেল বছরের ডিসেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জন্য অংশ নেয়নি পাকিস্তান। তবে, সাফ ফুটবলে অংশ না নিলেও এসএ গেমসে পাকিস্তানের অংশ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই দুই প্রতিনিধি। এসএ গেমস চলকালীন ভিলেজে, গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য সহজ যাতায়তসহ ইতোমধ্যেই মনোরম পরিবেশের আবাসস্থলসহ উন্নত ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও তারা আশ্বস্ত করেছেন।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল খুলনায়

এলটন চিগুম্বুরার নেতৃত্বে খুলনায় পৌঁছেছেন মাসাকাদজারা। যশোর বিমানবন্দর থেকে বাই রোডে মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় নগরীর হোটেল সিটি ইনে পৌঁছায় জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। জিম্বাবুয়ের খুলনা সফর- এমন সংবাদে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর মজিদ সরণী ও হোটেল সিটি ইনের সামনে ভিড় জমান ক্রিকেট প্রেমীরা।
চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা খুলনায় এসেছেন। আগামী শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) মাশরাফিদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে চিগুম্বুরারা। এরপর ১৭, ২০ ও ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে সফরকারীরা। সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে।
এদিকে, টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নির্বিঘ্ন করতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মজিদ সরণীর হোটেল সিটি ইন থেকে শিববাড়ী মোড় হয়ে নিউমার্কেট, জোড়াগেট, নূরনগর, বয়রা কলেজ মোড় ও বৈকালী হয়ে স্টেডিয়াম পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে পোশাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, নগর বিশেষ শাখার সদস্য, সাদা পোশাকধারী পুলিশ, দুই প্লাটুন বিজিবি এবং র‌্যাব সদসরা থাকবেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সিটিএসবি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু এসব তথ্য জানান।