রাত ১০:১৭, বুধবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

জাকার্তা-পালেম্বাং এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনের মতো সমাপনীতেও আয়োজনের কোন কমতি ছিল না। স্থানীয় আয়োজকরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমান করতে কতো চেষ্টাই না করেছেন। তাদের সে চেষ্টাতে কিছুটা বাগড়া দিয়েছিল প্রকৃতি। কিন্তু কোন বাঁধাই হার মানাতে পারেনি সফল এ সমাপ্তির। রাতের কালো আঁধার ভেদ করে হাজারো লাল-নীল রশ্মির আলোকচ্ছ্বটায় আলোকিত হয়ে উঠে জাকার্তার আকাশ। করুন সুরে বিদায় জানানো হয় গেমসের তিন মাসকটকে (অতুন, বিনবিন, কাকা) বিদায় জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বাগত জানানো হয় ২০২২ সালে চীনের হ্যানসো শহরে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসকে। ওসিএ’র পতাকা ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে চায়নিজ অলিম্পিক কমিটিকে দেয়া হয়। হ্যানসো প্রদেশের মেয়র ওসিএ’র পতাকা গ্রহণ করেন।

বিকেল থেকেই আচমকা কালো হতে শুরু করে জাকার্তার আকাশ। হঠাৎকরেই বিকেল পাঁচটায় শুরু হয় বৃষ্টি। কিন্তু প্রকৃতির কোন বাঁধাই মানেননি দর্শকরা। দল বেঁধে ঠিক সময়েই হাজির হন গেলোরা বুকার্নো ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মূল স্টেডিয়ামে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি বন্ধ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের মঞ্চটা ছিল ভিন্ন রকম। গান ও নাচের জন্য বড় মঞ্চ। মঞ্চের দুই পাশ থেকেই গান হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি, জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য তুলে ধরলেও সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল অনেকটাই সঙ্গীত নির্ভর। গিগি, আইকন, বিসিএলের মতো জনপ্রিয় শিল্পিরা গান গেয়ে জিবিকে মাতিয়ে তোলেন। ইন্দোনেশিয়ান সঙ্গীতের পাশাপাশি আরবি, হিন্দি গানও পরিবেশন করাও হয়। সঙ্গীতের সাথে প্রযুক্তির ছোয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। সঙ্গীতের মাঝেমাঝে মঞ্চে বড় ডিসপ্লে হয়েছে। সাথে আলোর ঝলকানি ও আতশবাজি ছিল।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সংগীত দিয়ে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। একটি সঙ্গীত ডিসপ্লের পর হয় মার্চ পাস্ট। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন সদ্য অবসরে যাওয়া জাতীয় দলের তারকা হকি খেলোয়াড় মামুনুর রহমান চয়ন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগে আনুষ্ঠানিক পর্ব ছিল। আনুষ্ঠানিক পর্বে অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়ার সভাপতি আহমেদ ফাহাদ আল সাবাহ স্থানীয় সময় রাত আটটায় গেমসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ট্রাফিকের শহর হিসেবে খ্যাত জাকার্তা। তার বক্তব্যে জাকার্তার ট্রাফিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন, ‘ট্র্যাফিক অনেক পরিশ্রম করেছে গেমস সুষ্টভাবে আয়োজনের জন্য। তারা বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য।’ উদ্বোধনী অনুষ্টানে থাকলেও সমাপনী অনুষ্টানে ছিলেন না রাষ্ট্রপতি জোকো ইউদো। লম্বক থেকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন অবশ্য। ভিডিও বার্তায় গেমস সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইওসি সভাপতি ড. টমাস বার।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সেরা মাসুদা

মাসুদা আক্তারের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। দিনব্যাপি এই প্রতিযোগিতায় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদা আক্তার চ্যাম্পিয়ন এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী রেশমা আক্তার ইতি রানার্সআপ হন। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন এবং শেষে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ। এ সময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাকিয়া পারভীন, আবাসিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা অ্যাথলেটিকস সমাপ্ত

দুটি স্বর্ণ পাচটি রৌপ্য এবং একটি তাম্র সহ ২৬ পয়েন্ট নিয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা অ্যাথলেটিক্সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাহরাম খান পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। আজ রোববার পাকুন্দিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলার ১০টি স্কুলের ১১০ জন (অনূর্ধ্ব-১৬) বালক এবং বালিকা অংশ নেয়। দৌড়, লং জাম্প, শটপুট, মোরগ লড়াই, দড়ি লাফ এবং ভারসাম্য দৌড় ইভেন্টে ছোট এবং বড় দুটি বিভাগে অংশ নেয় তারা।

দুই পয়েন্ট কম নিয়ে রানার্সআপ হয় স্বাগতিক পাকুন্দিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিটি ইভেন্টের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী খেলোয়াড়দের পুরষ্কার এবং সার্টিফিকেট দেয়া হয়। প্রতিযোগিতা শেষে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেছুর রহমান বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফছর উদ্দিন আহম্মদ ‌ও কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসার আল আমিন সবুজ।

ভারত যাচ্ছে উশু দল

ভারত যাচ্ছে ১৫ খেলোয়াড়সহ ১৮ সদস্যের উশু দল। আগামী ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি ভারতের পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কাউন্সিল গেমস। ১২টি দেশ অংশ নেবে এবারের টুর্নামেন্ট। আসরের ১৫টি ইভেন্টে খেলবেন লাল-সবুজের উশু খেলোয়াড়রা। মূলত সান্দা ও থাউলু দু’টি ডিসিপ্লিনেই অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টে।

আগামী ৮ জানুয়ারি ভারতে যাওয়া বাংলাদেশ উশু দলের সদস্যরা হলেন- পুরুষ বিভাগে সেনাবাহিনীর মিলন আহমেদ, রাসেল হোসেন ও রাকিব খন্দকার, বিজিবির সেলিম আহমেদ ও নাজমুল হোসেন, আনসারের ওমর ফারুক, লিটন আলী ও নুরুল আফসার, বিকেএসপির আমির হোসেন এবং মহিলা বিভাগে সেনাবাহিনীর ইতি ইসলাম ও ফাহমিদা তাবাসসুম, আনসারের সাকি আক্তার, রিতা বিশ্বাস পুজা, ইবা ইয়াসমিন দিশা ও শিলা আক্তার। ম্যানেজার হিসেবে ফেডারেশনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, দলনেতা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন ও কোচ হিসেবে যাচ্ছেন আনোয়ারুল রাসেল।

আসর থেকে সোনা জয়ের প্রত্যাশার ও প্রাপ্তির কথা জানিয়ে দলনেতা দুলাল হোসেন বলেন, চলতি বছর মিনিস্টার কাপ, অ্যাম্বাসেডর কাপ এবং জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জয়ীদের নিয়ে আমরা একটি শক্তিশালী দল গঠন করেছি। তাই সোনাজয়ের প্রত্যাশা কররতেই পারি। বিশেষ করে সাকি, শিলা, ইতি ইসলাম, আমির হোসেন ও রাকিবের মাধ্যমে আমাদের স্বর্ণজয়ের প্রত্যাশা রয়েছে। তাই নতুন বছরে বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক এনে শুভ সূচনা করতে চাই।

২০১০ সালে ঢাকায় সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে সোনাজয়ী উশুকা ইতি ইসলাম বলেন, স্বর্ণপদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা ভারত যাচ্ছি। আশাকরি, দেশের জন্য স্বর্ণ জিতে আনতে পারবো। তাছাড়া গৌহাটি এসএ গেমসে আমরা লক্ষ্য পূরন করতে পারিনি। তাই এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নেপাল এসএ গেমসে সোনা জয়ের লক্ষ্য স্থির করতে চাই। খেলা শেষে আগামী ১৫ জানুয়ারি দেশে ফিরবে দলটি।

গিনেস রেকর্ড গড়লেন ফয়সাল

স্পোর্টস রিপোর্টার

বাংলাদেশে গিনেস রেকর্ডের পথটা দেখিয়েছিলেন টেবিল টেনিস কন্যা জোবেরা রহমান লিনু। সে ধারাবাহিকতায় ক’দিন পরপরই বিশ্বমন্ডলে বাংলাদেশকে পরিচিত করছেন আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন প্রতিভাবানরা। তাদেরকেই একাট্টা করে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ওয়ালটন গ্রুপ।

নতুন এই প্রতিভাবান তরুণের নাম মাহমুদুল হাসান ফয়সাল। তার গ্রামের বাড়ি মাগুরার হাজীপুরে। বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়তে ও ভাঙতে প্রস্তুত মাহমুদুল হাসান ফয়সাল বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে আমি এটা শুরু করি। সেটা শুধু ফুটবল নিয়ে নয়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। এই রেকর্ড গড়া কিংবা ভাঙার জন্য আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে আমার নানা-নানী। তাদের উৎসাহেই এতদূর আসা। আমার বাবা-মা প্রথম প্রথম সমর্থন দিতেন না। কিন্তু পরবর্তীতে আমার আগ্রহের প্রতি সম্মতি দেন তারা।’

নড়াইলের কালিয়াতে জন্ম নেয়া ফয়সালের পৈতৃক নিবাস মাগুরার হাজীপুর। সেখানেই শৈশব ও কৈশোর পার করেছেন। বাবা অবসরপ্রাপ্ত আর্মি। মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাসের পর মাগুরা পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটে ভর্তি হন ফয়সাল। বর্তমানে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। ফয়সাল বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গিনেস রেকর্ড গড়তে চান, ‘ওয়ালটন গ্রুপ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি রেকর্ড ভাঙা ও গড়াটাকে প্যাশন হিসেবে নিয়েছি। আমি বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গিনেস রেকর্ড গড়তে চাই।’

লিনুর পর ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন কারুকাজ করে তিনবার গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন আব্দুল হালিম। ২০১১ সালে বল মাথায় রেখে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে রেকর্ড গড়েছিলেন। এরপর বল মাথায় নিয়ে স্কেটিং জুতা পরে দ্রুততম সময়ে (২৭.৬৬ সেকেন্ড) ১০০ মিটার অতিক্রম করে ২০১৫ সালে নতুন রেকর্ড গড়েন। ২০১৭ সালে বল মাথায় নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ড গড়েন। গতমাসেই আরেক সফলতা অর্জন করেন মাসুদ রানা। তিনিও ফুটবল কৌশল দেখিয়ে।

এবার করলেন মাগুরার ফয়সাল। আশ্চর্যের বিষয় হলো ফয়সাল আগে গিনেস কার্যালয়ে এন্ট্রি করে তারপর অনুশিলন শুরু করেন। বুকের সামনের দিকে দুই হাত গোল করে তার মাঝে ফুটবলকে চক্রাকারে ঘুরাতে থাকেন। গিনেস কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় জার্মানির ডেভিড র’ একমিনিটে ১২৭ বার বল ঘুরাতে পেরেছিলেন। তোমাকে তা অতিক্রম করতে হবে। ফয়সাল ১ মিনিটে ১৩৪ বার ঘুরিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। মজার ব্যাপার হলো, তিনি ১৪০ বার পর্যন্ত ঘুরাতে সক্ষম। আজ বুধবার বিওএ ভবনে এই ফয়সালকেই সম্বর্ধনা দিলো ওয়ালটন। প্রাপ্তি এক লাখ টাকা ও ব্লেজার। ভবিষ্যতে ওয়ালটন তার পাশেই থাকবে বলে জানালেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর ইকবাল বিন আনোয়ার ডন।

ফয়সাল জানান, ‘গত দুই মাসে আমি পড়ালেখার পাশাপাশি ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা অনুশীলন করেছি। ভবিষ্যতে আমি ফ্রি স্টাইলে আরো রেকর্ড গড়তে চাই। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।’

মিমুর বিদায় সংবর্ধনা

বিকেএসপির উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত এ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমু’র অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা আজ সাভার বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত হয়।

মিমু ২০০২ সালে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দিনাজপুরে উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১১ সাল থেকে ঢাকা বিকেএসপিতে একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩-১৯৮২ সাল পর্যন্ত তার খেলোয়াড়ি জীবনে ২২টি স্বর্ণ, ১৩টি রৌপ্য ও ০৭টি ব্রোঞ্জ পদক জয়ের কৃতিত্ব দেখান। মিমু তার বিদায়ী বক্তব্যে বিকেএসপিতে তাঁর সময়কালে সাবেক মহাপরিচালকদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।

শামীমা সাত্তার মিমু দেশের নারী খেলোয়াড়দের জীবন্ত কিংবদন্তী। তিনি একাধারে একজন সফল ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, জাজ ও প্রশাসক। তিনি দেশ-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন কোর্স ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, ক্রীড়াঙ্গণের সফল এ ক্রীড়াবিদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের কথা বিকেএসপি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন রাখবে। তিনি তার সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বিকেএসপির সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে রুপা-শা‌ওন দ্রুততম

এবারের জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে‌ও সাফল্য শুধু ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল রুপা খাতুনের। সেই চ্যালেঞ্জে তিনি বিজয়ী। আর খুলনার স্প্রিন্টার শাওন আহমেদ এবারই প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে হয়েছেন সেরা।

রুপা বিকেএসপিরই পতাকা উঁচু করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বছর গ্রুপে ১০০ মিটার জিতেছেন তিনি ১২.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। এটা ইলেকট্রনিক টাইমিং। ইলেকট্রনিক টাইমার ঠিকঠাক চলবে কি না তা নিয়ে দৌড়ের সময়ও শঙ্কা ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। মাঠে রাখার প্রদর্শনী বোর্ড অকেজো দেখালেও মূল যন্ত্রে সময়টা শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক ধরা গেছে। তা না হলে হাতঘড়ির সময়ে কাল রেকর্ডই হয় রুপার, সেখানে তাঁর টাইমিং ১২.২০। এর আগের রেকর্ড আইরিন আক্তারের, ১২.৩১ এ দৌড়েছিলেন তিনি।

খুলনার তরুণ শাওন বিকেএসপির রাজিব রাজু ও নাদিম মোল্লাকে পেছনে ফেলে ১০০ মিটার শেষ করেছেন ১১.৪২ সেকেন্ড সময় নিয়ে। কুষ্টিয়া তাঁর বাড়ি, খেলেছেন এবার খুলনা বিভাগের হয়ে। আন্ত:স্কুল অ্যাথলেটিকসে ভালো করার পরই তাঁকে নিয়ে কাজ শুরু করেন কুষ্টিয়ার আরেক সাবেক অ্যাথলেট সাহেব আলী। সেই প্রশিক্ষণেই বিকেএসপির দুই স্প্রিন্টারকে হারিয়ে শাওনের স্বপ্নের আকাশ এখন বেড়ে গেছে অনেক, ‘আমার আত্মবিশ্বাস ছিল সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে দৌড়াতে পারলে ভালো কিছুই হবে। আমি আজ সেটা পেরেছি। অ্যাথলেটিকসটাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। ঢাকায় এসে এরমধ্যে সেনাবাহিনীতে ট্রায়ালও দিয়েছি। সেখানেও প্রথম হই। সেনাবাহিনীতে সুযোগটা হয়ে গেলে এই অ্যাথলেটিকসেই বড় কিছু করার দরজা খুলে যাবে আমার।’

শুক্রবার অবশ্য দুটি নতুন রেকর্ডও হয়েছে। মেয়েদের হাইজাম্পে বিকেএসপির জান্নাতুল ১.৬১ মিটার পেরিয়ে গড়েছেন নতুন রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ১.৫৫ মিটার, বিকেএসপিরই লাবনী আক্তার গড়েছিলেন ২০১১ সালে। জ্যাভলিন থ্রোতে আবার জেলার সাফল্য। নড়াইলের তন্ময় বৈদ্য ৫৫.৯২ মিটার পার করে ২০০৭ সালে গড়া হাবিবুর রহমানের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এছাড়া ১৫০০ মিটারে নড়াইলের বিজয় মল্লিক ও রিংকি বিশ্বাস, ছেলেদের হাইজাম্পে নড়াইলেরই আমিনুর রহমান, শটপুটে একই জেলার কিমি কর্মকার ও লং জাম্পে সোনা জিতেছেন বিকেএসপির হোসেন মুরাদ।

আগামী বছর এসএ গেমসে খেলার ইচ্ছা আছে : জান্নাতুল

মেয়েদের হাই জাম্পে আশা দেখাচ্ছেন জান্নাতুল। বিকেএসপির এই অ্যাথলেট জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের অনূর্ধ্ব-১৭ বছর গ্রুপে রেকর্ড গড়েছিলেন আগেরবার। শুক্রবার আবার নতুন রেকর্ড গড়লেন অনূর্ধ্ব-১৯ গ্রুপে। এবার সিনিয়র মিটে চোখ তাঁর, স্বপ্ন দেখেন এসএ গেমসেও পদক জয়ের। ইভেন্ট শেষে সে প্রসঙ্গেই কথা বলেন তিনি।

প্রশ্ন : টানা দুই বছর রেকর্ড গড়লেন, কেমন লাগছে?

জান্নাতুল : ভালতো লাগছেই। কারণ এটাই আমার লক্ষ্য ছিল। আমি ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৭ বছর গ্রুপে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলাম। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ গ্রুপেও তাই হলো। এখন আমার লক্ষ্য আগামী সিনিয়র মিটে নিজেকে মেলা ধরার।

প্রশ্ন : গত বছর সোনা জিতেছিলেন, এবারও জিতলেন। তবে পারফরম্যান্সে কতটা উন্নতি হলো?

জান্নাতুল : গত বছর সোনা জিতেছিলাম আমি ১.৫১ মিটার পেরিয়ে। এবার লাফিয়েছি ১.৬১ মিটার। আমি সন্তুষ্টই এই পারফরম্যান্স নিয়ে। কারণ গত সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপেই সোনা এসেছে ১.৬০ মিটারে। আশা করি এই পারফরম্যান্সটা ধরে রেখে বা তার চেয়েও উন্নতি করে আগামী ডিসেম্বরের সিনিয়র মিটেই আমি সোনা জিততে পারবো। তবে আমার লক্ষ্য জুনিয়রের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিনিয়রে নতুন রেকর্ড গড়ার।

প্রশ্ন : জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন?

জান্নাতুল : সেই স্বপ্ন তো আছেই। সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করেই আমার পরের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক আসরে নিজেকে মেলে ধরার। আগামী বছর এসএ গেমসেই খেলার ইচ্ছা আছে আমাদের। এর জন্য অবশ্যই আমাকে আরো ভালো করতে হবে।

প্রশ্ন : এই সময়ের মধ্যে পারফরম্যান্সের কতটা উন্নতি আশা করছেন আপনি?

জান্নাতুল : এসএ গেমসে পদকের জন্য লড়তে নিশ্চয় ১.৭০ বা ১.৭৫ মিটার লাফাতে হবে। তার মানেই আরো উন্নতি করতে হবে আমাকে।

প্রশ্ন : বিকেএসপির অ্যাথলেট হিসেবে আপনাদের তো ফেডারেশনের দেওয়া প্রশিক্ষণ সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না?

জান্নাতুল : না, বিকেএসপিতেই আমাদের বেশ ভালো অনুশীলন হয়। তাছাড়া একজন অ্যাথলেট হিসেবে এই প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা আমরা পাই, তা যথেষ্ট। এভাবে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারলে অবশ্যই আমার আরো ভালো করার সুযোগ আছে।

প্রশ্ন : হাইজাম্প শুরু করেছেন কি আপনি বিকেএসপিতে এসেই?

জান্নাতুল : না, বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার আগে ইন্টারস্কুল চ্যাম্পিয়নশিপেও আমি হাই জাম্প করেছি। বিকেএসপিতে এসে খেলাটা আরো বেশি করে শেখা হলো। স্কুলে প্রথম প্রথম অন্যদের যখন হাই জাম্প করতে দেখতাম, খুব কঠিন মনে হতো। এখন তো খুব ভালো লাগে।

ব্যর্থতার দায় একে অন্যের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস থেকে এবার শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে একটি ইভেন্টেও কোন পদকের দেখা পায়নি লাল-সবুজরা। প্রত্যাশার ইভেন্ট মহিলা কাবাডি, শ্যূটিং ও গলফ জুড়ে ছিল শুধুই হতাশা। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এছাড়া ভারোত্তোলন, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্সের মতো ইভেন্টগুলো থেকে হিটে বাদ পড়ে লজ্জায় মুখ লুকিয়েছেন অ্যাথলেটরা। এমন হতাশাজনক পারফর্ম্যান্সের পর অংশগ্রহনকারীরা দোষারোপ করছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিবাবক অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ)। আর অলিম্পিক দোষারোপ করছে অ্যাথলেটদের। উভয় পক্ষের এ দোষারোপের মধ্যেই শেষ হয় বাংলাদেশের এবারের এশিয়ান গেমস মিশন। কিন্তু ব্যর্থতার মূল কারন উদঘাটনে কারোই যেনো কোন ভূমিকা নেই। ভুলটা আসলে কোথায়? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন না কেউ। 

আমাদের পাশের দেশ ভারত যখন একের পর এক স্বর্ণ পদক জিতে উৎসবে মাতছে, তখন আমাদের হিসেবের খাতায় প্রাপ্তি একেবারেই শূণ্য। অতিথি হয়েই থাকতে হয়েছে গেমসে। পদক তালিকায় এবারো শীর্ষে আছে চীন। এরইমধ্যে ১০৬ ডিসিপ্লিনের স্বর্ণ পদক জয় করেছে তারা (আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত)। গত আসরের মতো এবারো তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সিঁড়িতে এক কদম এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের সংগ্রহ ৫৩টি স্বর্ণসহ ১৬৩টি পদক। দক্ষিণ কোরিয়া ৩৭টি ডিসিপ্লিনে সেরা হয়ে তিন নম্বরে রয়েছে। আর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ৩০টি স্বর্ণ পদক নিয়ে তালিকার চার নম্বরে আছে।

আমাদের পাশের দেশ ভারত ১১টি স্বর্ণসহ ৫৪টি পদক জিতে নিয়ে সেরা দশে অবস্থান করছে। ইন্দোনেশিয়ার মতো গরীব একটি রাষ্ট্র যদি একের পর এক স্বর্ণ পদক জিততে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? পিছিয়ে থাকতে হবে কেনো বাংলাদেশের? ভারত যদি দিন দিন উন্নতি করতে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? এমন প্রশ্ন আসলে সবার মনেই। উত্তর নেই কারো কাছে, শুধু প্রশ্নের পাহাড়। আসলেই কি উত্তর নেই? না কি জেনেও আমরা হাঁটছি ভুল পথে?

এবারের আসরে আসার অন্তত সাত মাস আগেই বিওএ অ্যাথলেটদের অনুশীলন শুরু করার কথা জানিয়েছিল। কয়েকটি ইভেন্টে তারা জোড় দিয়ে ক্যাম্প শুরুও করেছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটে মাঝ পথেই ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্প নিয়ে এমন ধোঁয়াশার কারনে মনোকষ্ট ছিল অংশগ্রহনকারীদের মধ্যেও। সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর নিজের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে বলেছিলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আসার মাত্র এক মাস আগে ক্যাম্প শুরু করেছিলাম। যেটা মোটেও পর্যাপ্ত ছিল না আমার জন্য। আরো বেশী করে অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিওএ সেটা করেনি। ভেবেছিলাম এবার সাত-আট মাস সময় পাচ্ছি। ভালো কিছু করতে পারবো। কিন্তু না, বিওএ’র উদাসীনতার কারনে তা আর হয়নি।’

ক্ষোভ ছিল এসএ গেমসের ভারেত্তোলন ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত’র কণ্ঠেও। চলতি এ আসরের মার্চপাষ্টে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী এ অ্যাথলেট জানান, ‘বিওএ আমার অনুশীলনের ব্যবস্থাই করেনি। যতোটুকু করেছি নিজের চেষ্টাতেই করেছি। বিওএ যদি অনুশীলনের ব্যবস্থা করতো, তাহলে আরো ভালো কিছু করতে পারতাম।’ আসলে কতোটুকু ভালো বা উন্নতি করতেন সাঁতারু সাগর কিংবা মাবিয়ারা, সেটা পরের বিষয়। তার আগে বিওএ’র উচিত ছিল আগে থেকেই ক্যাম্প শুরু করা এবং ইভেন্ট ধরে উন্নতির চেষ্টা করা।

তবে অ্যাথলেটদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ডেপুটি সেফ দ্যান মিশন একে সরকার, ‘এখানে এককভাবে বিওএ’র দোষ দিলে চলবে না। অ্যাথলেটরও নিজ উদ্যেগে ভালো করার মানসিকতা থাকতে হবে। তারা শুধু অংশগ্রহন করার জন্যই আসে। দেশকে কিছু দেয়ার চিন্তা তাদের মাথায় কাজ করে না। আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনিভাবে অ্যাথলেটদেরও দায়িত্ব নিয়ে অংশগ্রহন করা উচিত।’

হতাশায় গেমস শেষ বাংলাদেশের

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ন গেমসের গত কয়েকটি আসর থেকে পদক নিয়েই দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে কাবাডিতে পদক ছিল নিশ্চিত। কিন্তু এবার শুধুই হতাশা। একরাশ দু:খ নিয়ে শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয়া লাল-সবুজের পতাকাবাহিরা কোন ইভেন্টেই আশাব্যঞ্জক সাফল্য পায়নি। উল্টো ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে ছিল লজ্জাজনক পারফর্ম্যান্স।

ট্র্যাকে কিংবা কোর্টে, সব জায়গাতেই অ্যাথলেটরা ছিলেন বিবর্ণ। পারফরমেন্স মোটেই ছিল না আশা জাগানিয়া। শুধু লজ্জাতেই ফেলেছে দেশকে। বিশেষ করে সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, শ্যূটিং, ভারোত্তোলন, গলফ, রেসলিং ও রোয়িংয়ের শুরুতেই বাদ পড়েন অ্যাথলেটরা। চূড়ান্ত পর্বে লড়াইয়ে যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেননি। তবে, পদক না পেলেও এবার জাকার্তায় এসে নিজেদের উন্নতির গ্রাফটা ঠিকই প্রমান হয়েছে ফুটবল, হকি আর আরচ্যারিতে। আর সম্ভাবনাময় ইভেন্ট কাবাডিতে (মহিলা) গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়ে নিজেদের জাতীয় খেলার অবস্থা যে কোথায় গিয়ে ঠেঁকেছে, সেটাই প্রমান করেছেন মালেকারা।

চলতি এ আসরের ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয় লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক এবং কর্মকর্তা মিলে বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। বিশাল এ বহর নিয়ে বেশ কয়েক ধাপে জাকার্তায় এসেছিল তারা। অথচ গেমস শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ ক্রীড়াবিদ ফিরেছেন দেশে।

ইন্দোনেশিয়ায় এখন হকি দল ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ নেই। হকি ইভেন্টেও পদকের কোন সম্ভাবনা নেই। জেগে আছে শুধু স্থান নির্ধারনী ম্যাচ জয়ের আশা। সেটাও পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থানের জন্য। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ একটি পদকও দেশে নিয়ে ফিরতে পারেনি। এটা যে কতোটা লজ্জা আর কষ্টের, সেটা হয়তো অনুধাবন করতে পারেননি বিওএ কর্মকর্তারা।

কাবাডি ইভেন্টে প্রতিবারই একটা পদক জেতে বাংলাদেশ। আগের আসরগুলোতে নিদেনপক্ষে একটি ব্রোঞ্জ এলেও এবার একেবারেই শূণ্য হাতে ফিরতে হয়েছে। তিন খেলার সব ক’টিতে হেরে বিদায় নিয়েছে চার বছর আগের ব্রোঞ্জ জয়ীরা। অন্যদিকে পুরুষ কাবাডি দল কিছুটা সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। সাঁতার থেকে পদকের স্বপ্ন না দেখলেও নিজেদের উন্নতিটা প্রমান করবেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু হিটেই বাদ পড়েছেন দেশসেরা এই দুই সাঁতারু। সাগরতো ২০০ মিটারে পুলেই নামেননি অনুশীলন করতে না পারার দোহাই দিয়ে।

শ্যূটিং রেঞ্জেও গ্রাস করেছিল হতাশা। দেশসেরা শ্যূটারররা ইন্দোনেশিয়া এসে পদক জয়তো দূরের কথা, নিজেদের সেরাটাও দিতে ব্যর্থ হন। আবদুল্লাহেল বাকী, রিসালাতুল ইসলাম, উম্মে জাকিয়া সুলতানা, শারমিন আক্তার রত্নারা হতাশ করেছেন পালেম্বাংয়ের কাজাবারিং শ্যূটিং কমপ্লেক্সে।

এবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চপাষ্টে লাল-সবুজের পতাকা ছিল যে অ্যাথলেটের কাঁধে, সেই মাবিয়ার পারফর্ম্যান্স‌ই সবচেয়ে বাজে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতেও পারেননি তিনি। দেশসেরা এ ভারোত্তোলক ব্যর্থ হন স্ন্যাচ আর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ইভেন্টে। বার বার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সামর্থ্যরে অধিক ভার তুলতে ব্যর্থ হন গোহাটি এসএ গেমসে সোনা জেতা এই তারকা ভারোত্তোলক।

বাস্কেটবলের অবস্থা ছিল আরো করুণ। টানা দুই ম্যাচে হেরেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। কুস্তির শুরুতেই শেষ হয়ে যায় লাল-সবুজদের স্বপ্ন। মোহাম্মদ আলী আমজাদ ও শরৎ চন্দ্র রায়ের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন শিরিন সুলতানা। বিচ ভলিবলে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যায় লাল-সবুজরা। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের লড়াইয়ে নামার পর প্রমানিত হয়েছে বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা যে দিনদিন কতোটা পিছিয়ে পড়ছে। আবু তালেব ও সুমি আক্তাররা হিটেই বাদ পড়েছেন অ্যাথলেটিক্স থেকে। তাদের পারফর্ম্যান্স ছিল আরো হতাশার।

তবে এতো হতাশার মধ্যেও আশা জাগিয়েছে ফুটবল, হকি ও আরচ্যারি ইভেন্ট। পদক না আসলেও এ তিন ইভেন্টে যে বাংলাদেশ আগের চেয়ে উন্নতি করেছে সেটা প্রমান হয়েছে।

হতাশার মধ্যেও স্বপ্নজাল বুনছেন সুমী

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে 

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে আবারো হিটেই বাদ পড়লেন বাংলাদেশী স্প্রিন্টার সুমী আক্তার। বির্বণ হয়েছে তার স্বপ্ন। ৮০০ মিটারে আজ সোমবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু দৌড় শেষ করলেন ২ মিনিট ২৬.৫৯ সেকেন্ডে। তাতে এক নম্বর হিটে সাত জনের মধ্যে সবার পেছনেই ছিল তার নাম। দৌড় শেষ করে অন্যান্য প্রতিযোগিরা যখন ট্র্যাকে বসে বাতাস খাচ্ছিলেন, তখনও দৌড়ে যাচ্ছিলেন লাল-সবুজের পতাকাবাহী এই স্প্রিন্টার। যদিও এটা তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং।

ইভেন্টের হিট রাউন্ড শেষে দেখা গেছে ২০ জন প্রতিযোগির মধ্যে ১৮তম হয়েছেন তিনি! আবু তালেবের পর বাংলাদেশী এই অ্যাথলেটকেও হতাশা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে দেশে। হয়তো আগামীকালের মধ্যেই কোচ রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে ঢাকায় ফিরবেন সুমী ও আবু তালেব। জাকার্তা থেকে হতাশা নিয়ে ফিরলেও নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সুমী। তার লক্ষ এখন এসএ গেমস। আগামী বছর নেপালে অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরের ৮০০ মিটারে স্বর্ণ পদক জয় করতে চান তিনি।

নারী অ্যাথলেট হিসেবে সুমী আক্তার যখন জাকার্তায় আসেন, তখন ৮০০ মিটারে তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং ছিল ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড। উন্নতি চোখে পড়েছে প্রায় ৪ সেকেন্ড। বাংলাদেশী এ অ্যাথলেট যখন নিজের ৪ সেকেন্ড উন্নতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, তখন এশিয়ার অন্য দেশের প্রতিযোগিরা হিট শেষ করেন দুই মিনিট ৪ দশমিক ৩৫ সেকেন্ড সময়ে। হিট রাউন্ডে এক নম্বর হওয়া বাহরাইনের মার্তা ইয়োতার সঙ্গে সুমী’র ফারাকটা যে কতোটা বিশাল, সেটা স্ক্রিনেই ভেসে উঠেছে।

তবুও নিজের টাইমিং এবং উন্নতি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত, ‘এখানে আমরা পদক জিততে আসিনি। আমাদের লক্ষই ছিল নিজেদের সেরাটা দিয়ে উন্নতিটা প্রমান করার। আমাদের মূল লক্ষ এসএ গেমস। আজ ট্র্যাকে নিজের সেরা টাইমিংয়ের ৪ সেকেন্ড আগে শেষ করেছি ৮০০ মিটার। এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। এই টাইমিং ধরে রাখতে পারলে আগামী এসএ গেমসে পদক জিতবই।’ তবে অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন নিজেদের দূর্বলতার কথা, ‘এশিয়ার অন্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা স্পষ্ট। ওদের সঙ্গে আমাদের এ দূরত্বটা কমাতে হলে অনুশীলনে আরো উন্নতি করতে হবে।’

৪০০ মিটারে ১৬ বারের সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও সুমীর কোচ রাজিয়া সুলতানা অনু স্বপ্ন দেখছেন তাকে ঘিরে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি ইভেন্টে খেলে চারটিতেই সোনা সুমির। তাঁর ভালোর জন্য যে কোন একটি বেছে নেয়ার পরামর্শ অনুর,‘ আমার মনে হয়, সুমীর একটি ইভেন্টেই জোর দেয়া উচিত। একটি ইভেন্টে খেললে আরও ভালো করতে পারবে। ৪০০ মিটার বেশ দ্রুত গতির, তুলনায় ৮০০ মিটার ধীর আর কঠিন। সমন্বয় করা কঠিন।’

ট্র্যাকেও হতাশ করলেন অ্যাথলেটরা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

কাবাডি, হকি, ভারোত্তোলন, কুস্তির পর এশিয়ান গেমস অ্যাথলেটিক্সেও হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। হিট থেকেই বাদ পড়তে হয়েছে দুই স্প্রিন্টার আবু তালেব ও সুমি আক্তারকে। এশিয়াড অ্যাথলেটিক্সে কখনোই পদকের আশা থাকে না বাংলাদেশের। নিজেদের সেরাটা দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় মঞ্চ হিসেবেই এ আসরকে বেছে নেয় লাল-সবুজরা। একই সঙ্গে এশিয়ার সেরা এথলেটদের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো খুজে বের করার চেষ্টা থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্সের পুরুষ ও মহিলাদের ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেয়ার জন্য আবু তালেব ও সুমি আক্তার এসেছেন ইন্দোনেশিয়ায়। আজ শনিবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন সেনা বাহিনীর অ্যাথলেট আবু তালেব। কিন্তু ট্র্যাকে নেমেই লজ্জায় ডুবিয়েছেন দেশকে। ২৮ জনের মধ্যে হয়েছেন ২৭তম! সময় নিয়েছেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড! শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় হয়ে ফিরেছেন ট্র্যাক থেকে। আরেক স্প্রিন্টার সুমি আক্তারও সুবিধা করতে পারেননি ট্র্যাকে।

আজ শনিবার জিবিকে মেইন স্টেডিয়ামে সকালে ৪০০ মিটার দৌড়ে ট্র্যাকে নামেন বাংলাদেশী অ্যাথলেট আবু তালেব। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন তিন নম্বর লেনে। হিটে ছিলেন মোট ছয়জন প্রতিযোগী। দৌড়ের শুরুতেই তিনি পিছিয়ে পড়েন। এরপর আর এগিয়ে যেতে পারেননি। শেষ করতে হয়েছে সবার শেষে থেকেই। ফিনিসিং লাইন টাচ করেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। একরাশ হতাশা নিয়ে দৌড় শেষ করে বিশ্রাম নিতে চলে যান দিনাজপুরের এ স্প্রিন্টার। এমন পারফর্ম্যান্স হয়তো আশা করেননি আবু তালেব নিজেও। দেশের হয়ে পদক জয়ের স্বপ্নতো দূরের থাক, চূড়ান্ত পর্বেও অংশ নেয়ার আশা করেননি। তবে প্রত্যাশা ছিল অন্তত নিজের বেষ্ট টাইমিং ছাড়িয়ে যাওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্নটা‌ও পূরন হয়নি। নিজের রেকর্ডকেও ছুঁতে পারেননি জাকার্তায়। বরং আরো বেশী সময় নিয়েছেন। গত বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে একই ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ী এ স্প্রিন্টার সময় নিয়েছিলেন ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড সময়।

দৌড় শেষে আবু তালেব বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম আন্তর্জাতিক আসর। আজ আমি মোটেও ভালো করতে পারিনি। আমি আমার টাইমিং নিয়ে সন্তুষ্ঠ নই। ফিনিসিং আরো ভালো করা উচিত ছিল। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে আমার বেষ্ট টাইমিং ছিল ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড। কিন্তু আজ সেটাও আমি করতে পারিনি।’ নিজের সেরা টাইমিং উৎরে যেতে না পারার কারন হিসেবে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে আসার জন্য আমার প্রস্তুতি বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু আসার কিছু দিন আগে আমি বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য ছিলাম। আসার পরও ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি অসুস্থ্যতার কারনে। আমার বাঁ পায়ের মাসলের দিকে ব্যথা ছিল। সে ব্যথা নিয়েই আজ ট্র্যাকে নেমেছিলাম। সব কিছু মিলিয়ে আমি হতাশ।’

উল্লেখ্য, এবারের আসরে আবু তালেবের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু জহির রায়হানের ইনজুরির কারনেই কপাল খোলে তার। সে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। নিজেকে প্রমানের বড় মঞ্চ থেকে ফিরেছেন হতাশা সঙ্গী করে।

টাইমিংয়ের উন্নতি চাইছে অ্যাথলেটিক্স

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর র্পযন্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পালেমবাংয়ে হবে ১৮তম এশিয়ান গেমসের আসর। এই আসরে ১৪ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। অ্যাথলেটিক্স দল‌ও প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ান গেমসের। গত এশিয়ান গেমসে সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্স না রাখায় বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন-বিওএ। পারফরমেন্সের উন্নতি না ঘটলেও সমালোচনার মুখে ডিসিপ্লিন দুটিকে এবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাঁতারের মতো অ্যাথলেটিক্সে দুজন অ্যাথলেটকে জাকার্তা পাঠাচ্ছে ফেডারেশন।

দুজনই ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত বছর জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করেই আবু তালেব ও সুমী আক্তার নামে এ দুজনকে চূড়ান্ত করা হয়। পদকের প্রত্যাশা না দেখালে টাইমিংয়ে উন্নতির কথাই জানান এই দুই প্রতিযোগী।

অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিলো। অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের নিয়মিত পদক আসতো এসএ গেমস থেকে। ১৯৮৫ ও ১৯৯৩ সালে দ্রুততম মানব হন বাংলাদেশের দুই অ্যাথলেট শাহ্‌ আলম ও বিমল তরফদার। দক্ষিণ এশিয়া ছাড়িয়ে স্বপ্নের এশিয়ান গেমসে আলো ছড়াবে এই প্রত্যাশাও জেগেছিল। এখন এশিয়ান গেমসে তো দূরের কথা এসএ গেমসে অ্যাথলেটিক্সে পদক জেতাটা স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন ব্যর্থতায় শুধু অ্যাথলেটদের সমালোচনা করেও লাভ নেই। উপযুক্ত ট্রেনিং ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণে দিনকে দিন পিছিয়ে পড়ছে অ্যাথলেটরা। এক্ষেত্রে ফেডারেশন ও অলিম্পিক এসোসিয়েশনের দায় এড়ানো যায় না। এশিয়ান গেমসে ৪০০ স্প্রিন্টে অংশ নেবেন আবু তালেব। সুমি আক্তার অংশ নিবেন ৪০০ ও ৮০০ মিটার স্প্রিন্টে। দুজনায় গতবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে র্স্বন পদক জিতেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে অ্যাথলেটিক্সের প্রধান আকর্ষণ ১০০ মিটার স্প্রিন্টে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দ্রুততম মানব-মানবীর খেতাব পাওয়া মেজবাহ ও শিরিনকে গুরুত্বপূর্ণ গেমসে না পাঠানোয়।

এই দুই অ্যাথলেটকে দিয়ে এশিয়াডে ফেডারেশেনর প্রত্যাশা হলো টাইমিংয়ের উন্নতি করা। জাতীয় প্রতিযোগিতায় সুমি শুধু ৪০০ মিটার নয় আরও দুটি ইভেন্টে প্রথম হয়ে সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কার জিতেছেন। ৪০০ মিটারে সুমির টাইমিং ৫৭.৬০ সেকেন্ড আর তালেবের ৪৮.৯০ সেকেন্ড। সামার অ্যাথলেটিক্সেও সুমি শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলেও ৪০০ মিটারে পদক হারিয়েছে আবু তালেব। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই স্প্রিন্টার। সুমি এবারের সামার মিটে চারটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবকটিতে স্বর্ণ জিতে সেরা অ্যাথলেট নির্বাচিত হন। গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে এই অ্যাথলেটরা বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সামার এ্যাথলেটিক্স শুক্রবার

শুক্রবার থেকে ট্র্যাকে গড়াবে চলতি বছরে প্রথম মিট ঢাকা সিটি এফসি সামার অ্যাথলেটিকস। পুরুষ ও নারী বিভাগে ৩৬টি ইভেন্টে অংশ নেবে বিভিন্ন জেলা, বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বাহিনীর ক্রীড়াবিদরা। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু। তিনি আর‌ও জানান, আগামী অক্টোবর মাসে ঢাকায় হবে বঙ্গবন্ধু সাফ অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। এ সময় সভাপতি এএসএম আলী কবির এবং পৃষ্ঠপোষক ঢাকা সিটি এফসির সম্পাদক সামসুদ্দোহা উপস্থিত ছিলেন।

ছয় আসরে দ্রুততম মানবের খেতাব জিতে আসছেন মেজবাহ আহমেদ। পাঁচ আসরে দ্রুততম মানবীর মুকুট ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। কিন্তু তারা কেউই সাবেকদের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেননি। বরং দু’চার সেকেন্ড কমিয়ে নিজেদের রেকর্ডই ভাঙ্গছেন। তাইতো বছরের পর বছর ধরে প্রত্যেকটি মিটে বইয়ের পাতায় সেই নাজমুন নাহার বিউটি, জাকিয়া সুলতানা, শর্মিলা রায়, সুমিতা রানী, ফৌজিয়া হুদা, মাহবুব আলম, গোলাম আম্বিয়া, মিলজার হোসেন, মোস্তাক আহমেদের নাম এখনও ছাপা হচ্ছে।

২০০৯ সালে ১০০ মিটার হার্ডলসে রেকর্ড গড়া সুমিতা রানী আজও এই ইভেন্টের বড় রানী। সেখানে জায়গা করে নিতে পারছেন না নতুনরা। এখানেই অ্যাথলেটিকসের দৈন্যতা ফুটে ওঠছে। তবে এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা নাকি করছে ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক জানান, আমরা চেষ্টা করছি অ্যাথলেটদের মান বৃদ্ধি করতে। তাইতো ঘরোয়া আসর বাদেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে নিয়মিত অংশগ্রহন নিশ্চিত করছি। কোচ কিতাব আলী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও শুটিং ফেডারেশন গুলি আনার অনুমোদন দেয়নি। তাই কাঠ দিয়েই স্টার্টারের কাজ সারতে হবে এবারও। সেপ্টেম্বরে দু’দিনের জুনিয়র মিট এবং ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী সিনিয়র অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার ইলেক্ট্রোনিক্স টাইম না থাকলেও ফটোফিনিশিং থাকবে বলে জানানো হয়। পৃষ্ঠপোষক ঢাকা সিটি এফসি একটি ফুটবল ক্লাব। দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষনের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করে ১২ বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ দেবে। আগামীতে বিশ্বকাপ বাছাইয়েও খেলার জন্য দেশকে সহায়তা করতে চায়। এর জন্য ইউক্রেন থেকে দু’জন কোচও আনবে তারা।

২০১০ সালে ঢাকা এসএ গেমসের পর আন্তর্জাতিক কোন আসরের আয়োজন করতে পারেনি অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। প্রতিবছর জাতীয় সিনিয়র, জুনিয়র ও সামার মিট হয়েছে। বিদেশের মাটিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক আসরেও অংশ নিয়েছে। কিন্তু দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক আসর গড়াতে পারেনি। আগামী বছর অক্টোবরে ঢাকায় বসবে বঙ্গবন্ধু সাউথ এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। যে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ।

আগামী বছরের মার্চে নেপালে অনুষ্ঠিত হবে সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস। ওই গেমসে কি স্বর্ণখরা ঘুচতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় কোচ কিতাব আলীর কথা, র্স্বণের আশা করতে দোষ নেই। তবে সম্ভব নয়। কারণ এই আক্ষেপটি ঘুচাতে হলে ভালো মানের বিদেশী কোচ প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের দরকার। উদাহরন হিসেবে বলবো, গৌহাটিতে শ্রীলংকা বিশাল বহর নিয়ে অ্যাথলেটিকসে এসেছিল। যে বহরে কোচই ছিলেন ২২ জন। একজন কোচের তত্বাবধানে থাকেন মাত্র দু’থেকে তিনজন অ্যাথলেট। চার বছর অনুশীলন করিয়েছেন তারা। যার ফলটাও অ্যাথলেটরা এনে দিয়েছেন। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। নেপালে ছেলে মেয়েরা চেষ্টা করবে স্বর্ণ জিততে।

সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বলেন, ‘তাইওয়ানের সঙ্গে দু’জন কোচের বিষয়ে কথা হয়েছে। আমি আরও চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা বলেছে, ফেডারেশন পর্যায়ে এরচেয়ে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। সরকারী পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলে আমরা অনেকজন কোচ দিতে পারবো। সঙ্গে সরঞ্জামাদিও দিতে পারবো। কিন্তু কিভাবে সরকারকে আমরা সম্পৃক্ত করবো বুঝতে পারছি না। আশাকরি এ উদ্যৌাগ সফল হবে।

সবার শেষে শিরিন

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

বাংলাদেশের সেরা এ্যাথলেট। দৌড়ে তার জুড়ি নাই। কিন্তু সেই শিরিন আক্তার পাত্তাই পেলেন না গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে। আগেই ১০০ মিটার স্প্রিন্টে হিট থেকে বিদায় নেন দেশের দ্রুততম মানবী। আর আজ মঙ্গলবার তো রীতিমত লজ্জাই পেলেন। নিজের সেরা দৌড় দিয়েও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে হিটে ৮ জনের মধ্যে অস্টম হন। আর ৩৬ জনের মধ্যে হয়েছেন ৩৬তম।

এই ইভেন্টে মোট ৩৮ জনের অংশ নেয়ার কথা ছিল। দুইজন দৌড়াননি। ফলে ৩৬ জনের মধ্যে কয়েকটি হিটে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সব হিট মিলে ৩৬ জনের মধ্যে শিরিন হয়েছে ৩৬তম। এর আগে গত রোববার শেষ হওয়া মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটে অংশ নিয়ে সাতজনের মধ্যে ষষ্ঠ হলেও আজ আরো খারাপ করলেন তিনি। কারারা স্টেডিয়ামে ২০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম রাউন্ডে এক নম্বর হিটে শিরিন ২৬.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন। এটি এই গেমসে তার সেরা। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের চেয়ে এবার গোল্ড কোস্টে কিছুটা ভালো করলেন শিরিন। গেমসের আগের আসরে গ্লাসগোতে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে তার টাইমিং ছিল ২৬.৪১ সেকেন্ড।

এই ইভেন্টের হিটে কানাডার অ্যাথলেট ক্রিস্টালি অ্যামুুয়েল প্রথম, জ্যামাইকার শাশালি ফোর্বেস দ্বিতীয়, ত্রিনিদাদা এন্ড টোবাগোর সেমে হাকেট তৃতীয় ও নাইজেরিয়ার প্রাইস ইডামাডুডু চতুর্থ স্থান পান। এই হিট থেকে এ চারজন পরের রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করন। আগামীকাল ২০০ মিটারের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এ ইভেন্টে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ছয়বারের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারের এবারের কমনওয়েলথ গেমস মিশন শেষ হলো। এর আগে পুরুষ ১০০ মিটারের প্রথম রাউন্ডে ছয় নম্বর হিটে খেলে দেশের সাতবারের দ্রুততম মানব মেজাবাহ আহমেদও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিনি ১০.৯৬ সেকেন্ড সময়ে দৌড়ে সাতজনের মধ্যে পঞ্চমস্থান পেয়ে গেমস থেকে ছিটকে পড়েন।

এদিকে শ্যূটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য আর কোন সুখবর আনতে পারেননি শ্যূটাররা। একমাত্র আবদুল্লাহ হেল বাকির রৌপ্য জয়েই থেমে আছে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে লাল-সবুজের সাফল্য। আজ ব্রিসবেনের বেলমন্ট শ্যূটিং সেন্টারে টানা তৃতীয় দিনের মতো এই ডিসিপ্লিনে খেলতে নামে বাংলাদেশ। ৫০ মিটার রাইফেল প্রোন ইভেন্টে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শোভন চৌধুরী ৩০ জনের মধ্যে ২০তম স্থান পান। তিনি অর্জন করেন ৬০৪.৫ পয়েন্ট। এ ইভেন্টের স্বর্ণ যায় ওয়ালসের ঘরে। দেশটির ডেভিড ফিলিপস ২৪৮.৮ পয়েন্ট করে নতুন গেমস রেকর্ড গড়ে সোনা জিতে নেন। গতকাল তার জন্মদিন ছিল। জন্মদিনের উদযাপনটা ডেভিডের স্বর্ণপদক দিয়েই হলো। ২৪৭.৩ পয়েন্ট পেয়ে স্কটল্যান্ডের নেইল স্টিরটন পান রৌপ্য এবং ২২৬.৬ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের কেনেথ পার জিতে নেন ব্রোঞ্জ পদক। আগামী ১৪ এপ্রিল ৫০ মিটার রাইফেল পজিশন ইভেন্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশের শোভন চৌধুরী।

দ্রুততম মানব সিমবেনি মানবী মিশেল

গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে এম এস সাহাব 

কমনওয়লথ গেমসে ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে নতুন রাজা-রানী নির্ধারণ হয়ে গেছে। গোল্ড কোস্ট কমনওয়লথ গেমসে দ্রুততম মানব হন দক্ষিণ আফ্রিকান স্প্রিন্টার সিমবেনি আকানি এবং দ্রুততম মানবীর খেতাব জেতেন ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর মিশেল লি আইছে।

 

আজ সোমবার কারারা স্টেডিয়ামে গেমসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট পুরুষ ও মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট অনুষ্ঠিত হয়। গতিদানব জ্যামাকার উসাইন বোল্ট এবার না থাকায় সবার আগ্রহ ছিল এ ইভৈন্টে নতুন রাজা কে হন তা দেখার। গোল্ড কোস্টবাসী সহ গোটা বিশ্ব দেখলো কমনওয়েলথ গেমসের দ্রুততম মানবকে। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের নতুন রাজা দক্ষিণ আফ্রিকার সিমবেনি আকানি। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নেমে ১০.০৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে জয় করেন স্বর্ণপদক। তার স্বদেশী ব্রুন টিয়েস হ্যারিস ১০.১৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে পান রৌপ্য। জ্যামাইকান স্প্রিন্টার ইয়োহ্যান ব্লাক ১০.১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন। এই ইভেন্টে সবচেয়ে ফেবারিট ছিলেন ব্লেক। মনে হচ্ছিল তিনি হবেন বোল্টের উত্তরসুরি। কিন্তু বাজিমাত করলেন আকানি।

 

 

একই ভেন্যুতে মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হন ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর মিশেল লি আইছে। তিনি ১১.১৪ সেকেন্ড সময়ে দৌড়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক। জ্যামাইকার ক্রিস্টিনা উইলিয়ামস ১১.২১ সেকেন্ড সময় নিয়ে পান রৌপ্য এবং তার স্বদেশী গায়োন ইভান্স ১১.২২ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে লাভ করেন ব্রোঞ্জ পদক।

ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে মেজবাহ-শিরিনের পরীক্ষা

এম এস সাহাব, গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে

‘মাদার অব গেমস’ খ্যাত ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের যুদ্ধ শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার থেকে। গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে আকষনীয় এই ডিসিপ্লিন চলবে শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। গেমসের উদ্বোধনী ভেন্যু কারারা স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক্সের প্রথমদিনই ট্র্যাকে নামবেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব-মানবী মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার।

দুপুরে শিরিন মহিলা ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম রাউন্ডে ১ নং হিটে দৌঁড়াবেন। হিট শেষে যোগ্যতা অর্জনকারীরা বিকালে অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনালে অংশ নেবেন। এই ইভেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে সোমবার। ফাইনাল শেষে পাওয়া যাবে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের দ্রুততম মানবীকে। ১০০ মিটার শেষে ১০ এপ্রিল শিরিন খেলবেন ২০০ মিটার স্প্রিন্টেও। এই ইভেন্টের হিট শেষে ১১ এপ্রিল সেমিফাইনাল এবং পরের দিন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

শিরিন কমনওয়েলথ গেমসের আগের আসরেও এ দুই ইভেন্টে খেলেছিলেন। ২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটে শিরিনের টাইমিং ছিল ১২.৮৭ সেকেন্ড। ওই আসরে ২৬.৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০০ মিটার স্প্রিন্টের দৌড় শেষ করেছিলেন বাংলাদেশের দ্রুততম এই মানবী। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভালো করতে বেশ আশাবাদী শিরিন। ট্র্যাকে নামার আগে তিনি জানান, দেশে প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। তবে কমনওয়েলথ গেমসে পদক আশা করছেন না। তার আশা এবারের আসরে তিনি আগের চেয়ে ভালো করবেন।

শিরিনের ইভেন্টের দিনই মেজবাহ ট্র্যাকে নামবেন নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে। আগামীকাল বিকেলে একই ভেন্যুতে তিনি পুুরুষ ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম রাউন্ডে ছয় নম্বর হিটে অংশ নেবেন। এদিনই অনুষ্ঠিত হবে এই ইভেন্টের সেমিফাইনাল। আর সোমবার হবে ফাইনাল।

মেজবাহ আগের আসর গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে খেলার দু’বছর পর ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিক গেমসেও ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেন। যদিও দেশের দ্রুততম এই মানব ওই দু’আসর থেকে সাফল্য তুলে আনতে পারেননি। তবে গোল্ড কোস্টে ভালো করতে আশাবাদী মেজবাহ। তিনি বলেন, ‘এবারের কমনওয়েলথ গেমসকে সামনে রেখে কঠোর অনুশীলন করেছি। প্রস্তুতিতে আমি সন্তুষ্ট। তাই আমার আশা গোল্ড কোস্টে নিজের সেরা টাইমিংটা করতে পারবো।’
দুই এ্যাথলেট শিরিন ও মেসবাহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

হংকং এস আই হতে পারে উদাহরণ

কবিরুল ইসলাম, হংকং থেকে

ইন্সপায়ার, ট্রেইন এন্ড এক্সেল- এই তিনটি শব্দই হচ্ছে হংকং স্পোর্টস ইন্সটিটিউটের (এইচ কে এস আই) মূল মন্ত্র। আমাদের যেমন জাতীয় ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), ওদের তেমনি এইচ কে এস আই। বিশ্বমানের অ্যাথলেট তৈরির এ কারখানায় যে সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা আছে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনা। একটি দেশের স্পোর্টসের উন্নতি নিয়ে কি পরিমাণ ভাবনা থাকলে সে দেশের সরকার এতো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে অ্যাথলেটদের, সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিণ। বছরে বাজেটের কি পরিমান টাকা খরচ করা হয় এখানে তার কোনো নির্ধারিত পরিমান নেই। যখন যেখানে যা দরকার, তাই খরচ করা হচ্ছে। এইচ কে এস আই"র মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বিশ্বসেরা অ্যাথলেট তৈরি করা। এই প্রতিষ্ঠানটি হতে পারে আমাদের জন্য বড় উদাহরণ।

১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু এই সংস্থাটির। প্রতিষ্ঠার মাত্র ১৬ বছরের মধ্যেই ১৯৯৬ আটলান্টা অলিম্পিকের উইন্ড সার্ফিং ইভেন্ট থেকে স্বর্ণ জয় করেন লি লাই সান। অলিম্পিকের মতো বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ক্রীড়া আসর থেকে পদক ছিনিয়ে এনে বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকাকে উজ্জ্বল করেন হংকংয়ের অ্যাথলেটরা। প্রায় ৮ হাজার শতাংশের উপর নির্মিত এ স্পোর্টস কমপ্লেক্সের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেখলে মাথা ঘুরে যাবার উপক্রম। কি নেই এখানে- এমন প্রশ্নের উত্তর খুজলে পাওয়া মুশকিল। একজন অ্যাথলেটের জন্য ট্রেনিং থেকে শুরু করে ডোপ টেস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে। পরিকল্পনার ছোঁয়া ও আধুনিকতার মিশ্রণে গড়া এ কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময়ই ধাক্কা খেতে হবে যে কাউকে। কতোটা উন্নত মননশীলতা থাকলে এতোটা সুন্দর ও পরিপাটিভাবে সাজানো যায় একটা কমপ্লেক্স। প্রতিটি জায়গার সদব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি রাস্তার দু'পাশে অ্যাথলেটদের হাটার জন্য আলাদা করে টার্ফ বসানো হয়েছে। যেন মাঠের বাইরেও তারা টার্ফ এ হাটার প্র‍্যাকটিস চালিয়ে যেতে পারে। ৫২ মিটারের সুইমিং পুলে রয়েছে আরো আধুনিকতার ছোঁয়া। ২৫ মিটারের পুলের প্রয়োজন হলে অন্য কোথাও যেতে হয় না। এই পুলের একটি অংশে রয়েছে অতিরিক্ত একটি ডাইভ পয়েন্ট। সেটি একটি ইলেক্ট্রিক সুইচের মাধ্যমে পুলের মাঝে এনে বসিয়ে ২৫ মিটার বানিয়ে ফেলা হয় ৫২ মিটারের পুলটাকে। টেবিল টেনিস, উশু ও সাইক্লিংয়ে অনেক এগিয়েছে দেশটি। অলিম্পিকে এরই মধ্যে গোল্ড মেডেল জয় করেছে তারা।

উশু প্লেয়ারদের জন্য আছে ৫টি কোর্ট। যেখানে সকাল-বিকাল দু'বেলাই উশু প্লেয়ারদের ট্রেনিং করান। মূল ভবনের পাশেই নির্মিত রাগবি মাঠের চারদিকেই গড়ে উঠেছে অ্যাথলেটিক্স টার্ফ ও হ্যামার থ্রো কোর্ট। রোয়ারদের ট্রেনিং করতে দূরে যেতে হয় না। ইন্সটিটিউটকে ঘিরে চারদিকে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম লেক। যে লেকে অনুশীলন করেন তারা। ১৪১ টি রোইং বোরট আছে এই ইন্সটিটিউটে। পাশের লেকেই অনুশীলন করে থাকেন রোয়াররা। তারা শুধু ভর্তি হন এখানে। বাকী সব কিছুই সরকারি এ সংস্থা থেকে প্রদান করা হয়ে থাকে। টেনিস প্লেয়ারদের জন্য আছে ৬টি হার্ড কোর্ট এর পাশাপাশি আছে দু'টি উন্নতমানের ক্লে কোর্ট। হংকংয়ের টেনিস ফেডারেশনের ক্লে কোর্ট না থাকলেও এই ইন্সটিটিউটেই আছে। প্রকৃতির নিবিড় ছোঁয়ার ১৯ টি ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটদের ট্রেনিং করানো হয় এখানে। তবে তৃণমূল থেকে তুলে এনে নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে ভালো করা বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটরা ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন। হংকং স্পোর্টস ইন্সটিটিউট এর কমিউনিকেশন ও রিলেশন ডিপার্টমেন্ট এর সহকারি অফিসার ম্যাং বলেন, '১৯৮০ সালে শুরুর পর থেকে আমাদের লক্ষ্যই ছিল ভালোমানের অ্যাথলেট তৈরি করা। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জকি ক্লাব আমাদের বিশাল পরিমান অর্থ সহযোগিতা করে থাকে। এখানে অ্যাথলেটদের ট্রেইনিংয়ের পাশাপাশি স্পোর্টস মেডিসিনের উপর ধারণা দেয়া হয়। ড্রাগের উপরও ক্লাস করানো হয়। আর মাঝে মধ্যেই অ্যাথলেটদের ব্লাড টেস্ট করানো করানো হয়। যেন তারা ডোপ কিংবা মাদক গ্রহণ থেকে দূরে থাকে।' অত্যাধুনিক ফিটনেস মেশিন দিয়ে সাজানো হয়েছে বিশালাকারের ফিটনেস ট্রেনিং সেন্টার। যেখানে ১০০জন এথলেট একসাথে ব্যায়াম করতে পারেন বলে জানান ম্যাং, 'এটা খুবই উন্নতমানের একটা জিম হাউজ। কারণ খেলোয়াড়দের ফিটনেসটা খুবই জরুরী। তাই আমরা ব্যায়ামের পাশাপাশি নিজস্ব কিচেনের বাবুর্চিরা নিউট্রিশাসদের পরামর্শ অনুযায়ী রান্না করে থাকেন। যেন খাবার-দাবারে পরিমান মতো সব ধরনের ভিটামিনের উপস্থিত থাকে।'

১২০০ এথলেটের ট্রেনিং সুবিধার এই ইন্সটিটিউটে আছেন ৩০০জন স্টাফ। ১৮৫ রুমে খেলোয়াড়দের আবাসন ব্যবস্থা। অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকলেও পড়াশোনার কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। এখানকার অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষনের জন্য মাঝেমধ্যেই বাইরে থেকে কোচ নিয়ে আসা হয়। আমাদের দেশের বিকেএসপির দেয়াল টপকে রাতের আধারে খেলোয়াড় পালানোর অহরহ ঘটনা থাকলেও এখান থেকে কোনো অ্যাথলেট পালিয়ে বাইরে গেছে, এমন কোনো নজির নেই। নিয়মানুবর্তিতা আর অধ্যাবসায় কাকে বলে, সেটা এই ইন্সটিটিউট না ঘুরলে বুঝা দায়। উন্নত প্রশিক্ষন ব্যবস্থা আর শৃঙ্খল জীবনই যে পারে একজন খেলোয়াড়কে উন্নতির চরম শিখরে পৌছে দিতে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরন হংকং স্পোর্টস ইন্সটিটিউট।

হাসান ও রুপা দ্রুতমম মানব-মানবী

বাংলাদেশ যুব গেমসের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টের বালিকা বিভাগে রাজশাহীর রুপা খাতুন ১২:৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে এবং বালক বিভাগে চট্টগ্রামের হাসান মিয়া ১০:৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জেতেন। রুপা ও হাসান দু’জনেই বিকেএসপির শিক্ষার্থী।

বালিকা বিভাগে ১২.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপা জিতেছেন রাজশাহীর আরেক প্রতিযোগী সনিয়া আক্তার (বিকেএসপি) এবং ১২.৬০ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন চট্টগ্রামের তছলিমা। এদিকে, বালক বিভাগে ১১.৪০ সেকেন্ডে রুপা জিতেছেন চট্টগ্রামের আবদুল মোত্তালেব এবং ১১.৬০ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ জেতেন ঢাকার নাদিম মোল্লা (বিকেএসপি)।

মেয়েদের গ্রামীন খেলার প্রতিযোগিতা সমাপ্ত

গ্রাম বাংলার বিলুপ্ত প্রায় গ্রামীন খেলাধুলাকে বর্তমান প্রজন্মের নিকট তুলে ধরবার লক্ষ্যে ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা দুইদিন ব্যাপী মেয়েদের গ্রামীন খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজন করে।

প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগের ১০ টি জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা গোল্লাছুট, দড়িলাফ, হা-ডু-ডু এবং বৌ-চি খেলায় অংশ নেয়। আজ শনিবার শেষ দিনে দড়িলাফ খেলায় প্রথম হন কিশোরগঞ্জ জেলার রিয়া আক্তার, দ্বিতীয় হন নারায়ণগঞ্জ জেলার আশা এবং তৃতীয় হন মাদারীপুর জেলার মিথিলা। হা-ডু-ডু খেলায় ফরিদপুর জেলা ১৪-০৭ পয়েন্টে গোপালগঞ্জ জেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। বৌ-চি খেলায় কিশোরগঞ্জ জেলা ৪০-১১ পয়েন্টে ফরিদপুর জেলা কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।

প্রতিযোগিতা শেষে বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস এসোসিয়েশনের সভাপতি শাইখ সিরাজ বিজয়ী ও বিজিত খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করেন। এ সময় ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী নাজমুন নাহার বজলুল, সাধারণ সম্পাদিকা কামরুন নাহার হীরু উপস্থিত ছিলেন।

আবার‌ও ধরা রাশিয়া

এমনিতেই ডোপিং কেলেঙ্কারি জর্জরিত রাশিয়া। এই কারণে রি‌ও অলিম্পিকে তাদেরকে খেলা হয়নি আ‌ইওসি’র নিষেধাজ্ঞায়। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে‌ শীতকালীন অলিম্পিকেও ডোপ টেস্টে পজেটিভ প্রমানিত হয়েছে রাশিয়ান অ্যাথলেটরা।

গত মঙ্গলবার কোর্ট অব আর্বিটেশন ফর স্পোর্টস এন্টি ডোপিং ডিভিশন ডোপ টেস্টে পজেটিভ প্রমান হ‌ওয়ায় মেলডোনিয়ামের মিক্স ডাবলসে ব্রোঞ্জ জয়ী দুই অ্যাথলেটের পদক কেড়ে নেয়া এবং নিষিদ্ধ করার আভাস দিয়েছে। আলেক্সান্ডার কুরসেলনিটস্কি ‌ও তার স্ত্রী অ্যানাস্তাসিয়া ব্রিজগালভ ডোপ টেস্টে পজেটিভ হন।

তবে মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদে কুরসেলনিটস্কি জানান, কখন‌ও তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন পদার্থ গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই ডোপিংয়ের বিপক্ষে। সবসময় এন্টি ডোপিংয়ের আইন-কানুন মেনে চলেছি। মেলডোনিয়াম টেস্টে পজেটিভ কিভাবে আসলো সেটাই ভেবে অস্থির, আমি আর আমার স্ত্রী। ব্যাপারটা আমাদের জন্য বেশ শকের। সেই সঙ্গে আমাদের ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে দে‌ওয়ার জন্য যথেষ্ট।’

জাতীয় বক্সিংয়ের ফাইনাল কাল

ওয়ালটন ২৯তম জাতীয় সিনিয়র পুরুষ ও ৪র্থ জাতীয় সিনিয়র মহিলা বক্সিং প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে ২৬ জন পুরুষ ও মহিলা বক্সার। তিনদিনের এই প্রতিযোগিতা আগামীকাল শনিবার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

আজ শুক্রবার প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের ৩৫টি বাউট থেকে ১৩টি ওজন শ্রেণির মোট ২৬ জন বক্সার ফাইনালে ‌ওঠেন। এবারের এই প্রতিযোগিতায় দেশের ১১০টি দল অংশ নিয়েছে। যেখানে পুরুষ বক্সারের সংখ্যা ১১৭ জন। আর মহিলা বক্সার ৫০ জন। আর সার্ভিসেস দলগুলোর পুরুষ ও মহিলা বক্সারের সংখ্যা ৫৩ জন।

সিনিয়র পুরুষ বিভাগের প্রতিযোগিতা ৯টি ওজন শ্রেণিতে এবং সিনিয়র মহিলা বিভাগের প্রতিযোগিতা ৪টি ওজন শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি ওজন শ্রেণির পদকজয়ীদের মেডেল, সার্টিফিকেট ও ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে হোম অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে উৎসাহিত করা হবে।

জাতীয় বক্সিং শুরু বৃহস্পতিবার

ওয়ালটন ২৯তম জাতীয় সিনিয়র পুরুষ ও চতুর্থ জাতীয় সিনিয়র মহিলা বক্সিং প্রতিযোগিতা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। পল্টনের মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে তিনদিনের এই প্রতিযোগিতা শনিবার চূড়ান্ত রাউন্ড ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর (গেমস এন্ড স্পোর্টস) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের ১১০টি দল অংশ নিবে। যেখানে পুরুষ বক্সারের সংখ্যা ১১৭। আর মহিলা বক্সার ৫০ জন। আর সার্ভিসেস দলগুলোর পুরুষ ও মহিলা বক্সারের সংখ্যা ৫৩ জন।

সিনিয়র পুরুষ বিভাগের প্রতিযোগিতা ৯টি ওজন শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত হবে। আর সিনিয়র মহিলা বিভাগের প্রতিযোগিতা ৪টি ওজন শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত হবে।

দ্রুততম মানব-মানবী মেজবাহ ‌ও শিরিন

মেজবাহ-শিরিনের দ্রুততম মানব-মানবী হ‌ওয়ার মধ্য দিয়ে আজ রোববার পর্দা নেমেছে ৪১তম জাতীয় এ্যাথলেটিক্সের। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সমাপনী দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৩ ইভেন্টের মধ্যে ১৫টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য ও ১১টি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সমান স্বর্ণ পেলেও নয়টি রৌপ্য ও আটটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তবে গেমসের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পুরুষ ও মহিলা দু’বিভাগের স্বর্ণই গেছে নৌ বাহিনীর ঘরে। সন্ধায় আসরের সমাপনী ঘোষনা দেন ফেডারেশনের সভাপতি এএসএম আলী কবির।

আসর শেষ হলেও আশার খবর নেই। ভালোমানের নতুন অ্যাথলেট ওঠে আসছে না- তার প্রমাণ জাতীয় অ্যাথলেটিকস। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেই পুরানো মুখ মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার। আজ রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পুরুষ বিভাগের ১০০ মিটারে দ্রুততম মানব হয়েছেন মেজবাহ আহমেদ। তিনি সময় নেন ১০.৭৯ সেকেন্ড। অন্যদিকে মহিলা বিভাগে শিরিন আক্তার সময় নিয়েছেন ১২.৩০ সেকেন্ড। ফলে অ্যাথলেটিকসের আকর্ষন ১০০ মিটারের দু’টি স্বর্ণই গেছে নৌবাহিনীর ঘরে।

গত পাঁচ বছরে জাতীয় ও সামার টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা সাতবার দ্রুততম মানবের মুকুট মাথায় ধরে রেখেছেন মেজবাহ আহমেদ। তার দাবী এর ফলে সাবেক দ্রুততম মানব মোশাররফ হোসেন শামীমের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন। যদিও শামীম সাত বছরে সাতটি জাতীয় টুর্নামেন্টে দ্রুততম মানবের মুকুট পড়েছিলেন। তবে ফেডারেশনের কাছেও নেই সঠিক তখ্য। তবে এরপর যা শুনালেন মেজবাহ, তাতে অবাক হওয়ার মতোই। ২৭ বছর বয়সী এই দ্রুততম মানবের কথা, অষ্টমবার দ্রুততম মানবের খেতাব জিতেই আমি অবসরে যেতে চাই। তবে এই ঘোষণা রহিত করবো, যদি জাপান অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাই।

আজ বিকেলে দ্রুততম মানবের খেতাব জিততে অবশ্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে মেজবাহকে। মাত্র .১ সেকেন্ডের ব্যবধানে সতীর্থ আবদুর রউফকে (১০.৮০) পেছনে ফেলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে মেজবাহ’র আশাবাদ, কিভাবে প্রথম হতে হয়, আমি জানি। অভিজ্ঞতার একটি দামতো রয়েছে। রউফ দুই বাহু এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমি বুক এগিয়ে দিয়েছি। আর তাতেই বাজিমাত করেছি।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে শুরু মেজবাহ’র। সেবার প্রথম দ্রুততম মানবের খেতাব জেতেন। অবশ্য বাংলাদেশ গেমসকেও জাতীয় টুর্নামেন্ট ধরা হয়। এরপর আরও চারটি জাতীয় টুর্নামেন্ট ও দু’টি সামার টুর্নামেন্টেও স্বর্ণপদক জিতেছেন মেজবাহ। এবারের আসরে দ্রুততম মানবের খেতাব জিততে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। স্বর্ন জয় শেষে মেজবাহ বলেন, ২০ দিন আগে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। চারদিন বিশ্রাম নিয়ে আবার ওঠে দাঁড়াই। অনুশীলন করেছি। পরিশ্রম করেছি। তারপরেই আমাকে এই মুকুট ধরে রাখার মিশনে নামতে হয়েছে। এখন আমি কমনওয়েলথ গেমসের জন্য অনুশীলন করছি। সবাই দোয়া করবেন।

মেজবাহ’র মতো না হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে শিরিন আক্তারকেও। মাত্র .১৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে সতীর্থ সোগাহী আক্তারকে (১২.৪৫) পেছনে ফেলেন তিনি। টানা ছয়বার দ্রুততম মানবীর মুকুট ধরে রাখায় খুশী শিরিন। উচ্ছসিত শিরিন জানান, আমি খুব খুশী টানা ছয়বার দেশের দ্রুততম মানবী হতে পেরে। আশাকরি সামনের আসরেও এই কৃতিত্ব দেখাতে পারবো।

সাতে চোখ মেজবার

বাংলাদেশের স্প্রিন্ট ট্র্যাককে নিজের রাজত্ব বানিয়ে ফেলেছেন মেজবাহ আহমেদ। ২০১৩ সালে জিতেছিলেন প্রথম স্বর্ণপদক। প্রথমবার দ্রুততম মানবের মর্যাদা পান বাংলাদেশ গেমসে। তারপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি। কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেননি তার শ্রেষ্ঠত্ব। দুই বা তিনবার নয়, দ্রুততম মানব হয়েছেন ছয়বার। এবার সেই সংখ্যাকে বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ তার সামনে।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় অ্যাথলেটিক্স। লক্ষ্যে অবিচল মেজবাহ সপ্তমবার হতে চান দেশের দ্রুততম মানব। ১০০ মিটারে মেজবাহর ছয়টি স্বর্ণ এসেছে- জাতীয় আসরে তিনটি, জাতীয় সামারে দুটি ও বাংলাদেশ গেমস থেকে একটি। এবার আরও একটি স্বর্ণপদকের হাতছানি। নিজের প্রস্তুতি নিয়ে মেজবাহ বলেন, ‘প্রস্তুতি ভালো। আশা করা যায় এবারও ভালো কিছু হবে। সবকিছু আগে বলা কঠিন। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে সপ্তমবার জিততে পারবো।’

আত্মবিশ্বাসী মেজবাহর চোখ রেকর্ড সাতবার দ্রুততম মানব হওয়ায়। দেশের সাবেক দ্রুততম মানব মোশাররফ হোসেন শামীম সাতবার প্রথম হয়ে সবার ওপরে আছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দাপট ছিল তার। তার রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবেন মেজবাহ? দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দিলেন গত ছয়বারের দ্রুততম মানব, `শামীম ভাইয়ের রেকর্ড স্পর্শ করার ইচ্ছা আছে। সেই লক্ষ্যে আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন চলছে আমার।’

আরও একটি ব্যাপার মেজবাহকে ভালো করার তাগাদা দিচ্ছে। এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দাহলান আল হামাদ থাকবেন এবারের ইভেন্টে। তার সামনে ভালো কিছু করতে চান মেজবাহ। আর সবচেয়ে বেশি দ্রুততম মানব হওয়ার রেকর্ডটা এককভাবে দখল করার ইচ্ছা তার। তারপরই হয়তো জীবনের অন্য অধ্যায় শুরু করবেন তিনি, ‘এবার শামীম ভাইয়ের রেকর্ড ছুঁতে চাই। তারপর আগামী বছরে আরও একটা মিট আছে। সেখানে জিতে নতুন রেকর্ড গড়ে অবসরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে। রেকর্ড গড়েই ট্র্যাক ছাড়তে চাই। তাছাড়া এবার এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসেছেন। তার সামনে সেরা হতে পারলে আরও ভালো লাগবে।’

এবার মেজবাহর প্রতিদ্বন্দ্বী তার দল নৌবাহিনীর আবদুর রউফ এবং সেনাবাহিনীর শরিফুলসহ আরও কয়েকজন। এবার ইলেকট্রনিক্স টাইমিংয়ে জাতীয় অ্যাথলেটিক্স হওয়ার কথা আছে। ২০১৪ সালে ২০০ মিটারে স্বর্ণজয়ী মেজবাহ আশাবাদী টাইমিংয়ের ব্যাপারেও, ‘আমার টাইমিং আগের মতো ভালোই আছে। এখন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কী হয় দেখা যাক। সবার টাইমিং তো এক হয় না।’

অনেক সময় হ্যান্ড টাইমিংয়ে গড়ে ফল হয়। টাইমিং যার মাধ্যমেই হোক না কেন, সবার আগে ফিনিশিং লাইন পার হওয়াই মেজবাহর একমাত্র লক্ষ্য।

জাতীয় এ্যাথলেটিক্স শুক্রবার থেকে শুরু

৪১তম জাতীয় সিনিয়র অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন করতেই আজ বুধবার ঢাকায় এসেছেন আইএএএফ সহসভাপতি ও এশিযান এ্যাথলেটিক্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কাতারের জেনারেল দাহলান আল হামাদ। তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অ্যাথলেটিকসের অবস্থা দেখাতেই মূলত তাকে আনা হচ্ছে বলে ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বলেন, বাংলাদেশে এশিয়ান অ্যাথলেটিকসের প্রথম কোন বড় কর্তা এলেন। আশাকরি আমাদের খেলা দেখে উনি বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকস সম্পর্কে নতুন ধারনা নিয়ে যাবেন। পাশাপাশি তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রত্যাশা করছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তরা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ফেডাশেনের সহ-সভাপতি ফারুকুল ইসলাম ও শাহ আলম এবং ইকবাল হোসেন, সদস্য জয়ন্ত কুমার দেব ও কবিরুজ্জামান কবির এবং ৪১তম জাতীয় এ্যাথলেটিক্সের পৃষ্ঠপোষক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজ্জাজ বিন মাহফুজ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দাহলানের আসা উপলক্ষ্যে দীর্ঘ সাত বছর পর ইলেক্ট্রোনিক্স স্কোরবোর্ড এবং স্টার্টার সংযোজনের চেষ্টা করছে অ্যাথলেটিক ফেডারেশন। কোচ কিতাব আলীর কথায়, আমরা ব্যাটারি এনেছি। স্কোরবোর্ড বসিয়ে কাজ শুরু করেছি। ফটো ফিনিশিংয়ের জন্য ক্যামেরাও বসানো হচ্ছে। আশাকরি এবার স্কোরবোর্ডেই আমরা জাতীয় সিনিয়র মিট করতে পারবো। তিন যোগ করেন, স্টার্টারের জন্য তিনটি পিস্তল ছিল। কিন্তু এখন তার একটিরও হদিস নেই। তবে স্কোরবোর্ডে সাউন্স দিলেই টাইমিং শুরু হয়। তাই আমরা সাউন্ডের ব্যবস্থা করবো।

জাতীয় এ্যাথলেটিক্সের এবারের আসরে দেশের ৬৪ জেলা, আট বিভাগ, বিশ্বিবিদ্যালয়, শিক্ষাবোর্ড, বিকেএসপি ও সার্ভিসেস দলের প্রায় ৫০০ অ্যাথলেট অংশ নেবে। তিনদিনের প্রতিযোগিতায় পুরুষদের ২২টি এবং মহিলাদের ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেবে। প্রতিয়োগিতার বাজেট প্রায় ১৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা যার মধ্যে আটলাখ টাকা প্রদান করবে পৃষ্টপোষক প্রতিষ্ঠান। আগামী রবিবার প্রতিযোগিতার আনুষ্টানিক সমাপনী ঘোষনা করবেন ফেডারেশনের সভাপতি এএসএম আরী কবির। এরআগে আগামী শুক্রবার জাতীয় অ্যাথলেটিক্স শুরু হবে।

কিশোরগঞ্জে যুব গেমস শুরু

এ্যাথলেটিকস ইভেন্টের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠলো বাংলাদেশ যুব গেমসের কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার। আজ সোমবার সকালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ এবং বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য কামরুন্নাহার হিরু ‌ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।

সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কিশোরগঞ্জে প্রথম দিনের এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। বালক এবং বালিকা উভয় বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বালক বালিকাদের ৭ টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ এবং ফারদিয়া আক্তার রাত্রি, ২০০ মিটার স্প্রিন্টে মেরাজুল ইসলাম এবং ফারদিয়া আক্তার রাত্রি, ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে মোরাজুল ইসলাম এবং আইভি আক্তার, লং জাম্পে রমজান আলী এবং ফেরদৌস আক্তার, হাই জাম্পে নজরুল ইসলাম এবং আশা আক্তার, গোলক নিক্ষেপে নাইমুর রহমান আকন্দ হীরা এবং আফরিয়া জাহান, ডিসকাসে মাহমুদুল হক শাওন এবং সুমি আক্তার প্রথম হন।

প্রতিটি ইভেন্টের সেরা খেলোয়াড়রা আগামী ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুব গেমসের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাবে। আগামীকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জে যুব গেমসের সাঁতার এবং ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এছাড়া বালক ‌ও বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতা‌ও হবে।

আগামীকাল ফান রান

আগামী বছরের ১৮ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বও পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পালেমবাং শহরে এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে। গেমসে অংশ নেয়া দেশের জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার জন্য এবং গেমসের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা পৌছে দেওয়ার জন্য ‘ফান রান’-এর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন ফান গেম আয়োজন করবে আগামীকাল সোমবার। বিওএ ভবনে এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের প্রতিনিধি জিনস ঝো জিয়ান ও এলেনা রিস্টোভা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিওএ-ও দুই উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু ‌ও আসাদুজ্জামান কোহিনুর।

আগামীকাল সকাল সাড়ে সাতটায়, ফান রানটি বাফুফে ভবন থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হবে। এই ফান রানে অংশগ্রহনকারীদের বি‌ওএ হতে সার্টিফিকেট এবং টি-শার্ট দেয়া হবে। তাছাড়া অংশগ্রহনকারীদের মধ্য হতে ৩০ জনকে লটারীর মাধ্যমে স্মারক মেডেল পুরস্কার দেয়া হবে।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ফিরছে রাশিয়ার অ্যাথলেটরা

দুই বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আবার‌ও বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ফিরছে রাশিয়ার অ্যাথলেটিক্স। রাষ্ট্র ক্রীড়াবিদদের ডোপ নে‌ওয়ায় উতসাহিত করছে এই অভিযোগে, ২০১৫ সালের নভেম্বরে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন- আইএএএফ। সে কারণে রাশিয়ার অ্যাথলেটরা ২০১৬ সালে রি‌ও অলিম্পিকে এবং চলতি বছর লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে‌ও অংশ নিতে পারেনি।

এতোদিন পরে নরম হতে শুরু করেছে আইএএএফ। তাদেরকে আর‌ও একটা সুযোগ দিতে চাইছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি-আই‌ওসি। আগামী ৫-৭ ডিসেম্বরের সভায় রাশিয়াকে আবার‌ও বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ফেরার বিষয়টি নিশ্চত করা হবে বলে জানা যায়। ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচেঙ শীতকালীন অলিম্পিক দিয়েই ফেরার সুযোগ পাচ্ছে রাশিয়া।

পার্টি আর হই-হুল্লোরে ব্যস্ত উসাইন বোল্ট

ট্রাক এন্ড ফিল্ডকে গুডবাই জানানোর পর থেকেই পার্টি আর হই-হুল্লোরে মেতে আছেন জ্যামাইকান ‘গতি দানব’ উসাইন বোল্ট। নাইট ক্লাব আর পার্টি তার নিত্যদিনের কাজ।

গত গ্রীষ্মে অ্যাথলেটিক্স বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নে‌ওয়ার পর ট্রাক এন্ড ফিল্ডকে বিদায় জানানোর পর এক অন্য জীবনে প্রবেশ করেছেন বোল্ট, যেখানে কোনো নিয়ম-নীতির বালাই নেই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বোল্ট রূপার পদক জেতেন।

লন্ডনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ জাস্টিন গ্যাটলিনের কাছে হারলে‌ও ১০০ মিটারের (৯.৫৮ সেকেন্ড), ২০০ মিটারের (১৯.১৯ সেকেন্ড) এবং ৪ গুনিতক ১০০ মিটার রীলের (৩৬.৮৪ সেকেন্ড) বিশ্ব রেকর্ড এখন‌ও বোল্টের দখলেই আছে।

তাছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থক উসাইন বোল্ট খেলা দেখতে ‌ওল্ড ট্রাফোর্ডে‌ও যান। কারণ ট্রাক এন্ড ফিল্ড থেকে অবসরের পর রেড ডেভিলদের হয়ে খেলার স্বপ্ন ছিলো তার।

হালিম সংবর্ধিত

‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে’ তৃতীয়বার জায়গা করে নেয়া আব্দুল হালিমকে সংবর্ধনা দিয়েছে ওয়ালটন। গত ১০ আগস্ট গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ আব্দুল হালিমের বল মাথায় নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৩.৭৪ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

এর আগে, ২০১১ ও ২০১৫ সালে দুটি রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের এই খ্যাতিমান ফুটবল প্রদর্শক। বিওএ ভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ ও ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর ইকবাল বিন আনোয়ার।

এ সময় আব্দুল হালিমকে পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা ও একটি ওয়ালটনের এলইডি টিভি দেয়া হয়।

বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপের স্বাগতিক হতে চায় কেনিয়া

গত দশ বছরে দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করার পর এবার ২০২৩ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজন করতে চায় কেনিয়া।
আফ্রিকার কোন দেশই এ পর্যন্ত অ্যাথলেটিকসের বিশ্ব আসর আয়োজন করতে পারেনি। তবে কেনিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রী হাসান ওয়ারিও বলেন, বিশ্বের ১৩০টি দেশের অ্যাথলেটদের একত্রিত করে গত জুলাইয়ে নাইরোবিতে আইএএএফ অনুর্ধ-১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজন করে কেনিয়া তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
লন্ডনে শেষ হওয়া বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপে পদক তালিকায় যুক্তরাস্ট্রের পর দ্বিতীয় স্থান লাভ করা কেনিয়ার ক্রীড়াবিদদের দেয়া এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ওয়ারিও বলেন, ‘ছোট পরিসরের ইভেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা আমরা ইতোমধ্যে দেখিয়েছি। এখন আমাদের সামনে বড় পরিসরের আয়োজনের সময় এসেছে।’
তিনি বলেন,‘বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে আফ্রিকার কোন দেশ হিসেবে কেনিয়া প্রথমবার পদক তালিকায় শীর্ষ স্থান লাভ করে। এবার আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে আমরা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাই।’
তিনি আরো বলেন,‘ নাইরোবি, মোম্বাসা এবং এলডোরেটে আমাদের বড় তিনটি স্টেডিয়াম আছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো নতুন সাতটি স্টেডিয়াম তৈরী করা হবে।’
সম্প্রতি কনফেডারেশন অব আফ্রিকান এ্যাথলেটিক্স(সিএএ) সভাপতি হামাদ কালকাবা মালবুম বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ আফ্রিকার কোন দেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হবে।
মালবুম জানান, কেনিয়াসহ আফ্রিকার ছয়টি দেশ এ ইভেন্ট আয়োজন করতে সক্ষম। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ বিশ্ব এ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশীপ।

বিশ্ব এ্যাথলেটিক্সে যুক্তরাষ্ট্রই সেরা

বরাবরের মতোই এবারও সমাপ্তির পর শ্রেষ্ঠত্ব দখলে থাকল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্ব এ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপসে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য খর্ব হয়নি। এবার তাদের এ্যাথলেটদের সঙ্গে পেরে ওঠার মতো তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশই ছিল না। প্রতিবছর জ্যামাইকা বড় ধরনের হুমকি হয়ে থাকে তাদের জন্য ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ডে। কিন্তু এবার সেই জগতেও যুক্তরাষ্ট্রই দাপট দেখিয়েছে। তারা ১০ স্বর্ণ, ১১ রৌপ্য ও ৯ ব্রোঞ্জসহ ৩০ পদক নিয়ে শীর্ষে থেকে শেষ করেছে তারা। দুইয়ে থাকা কেনিয়া ৫ স্বর্ণ, ২ রৌপ্য ও ৪ ব্রোঞ্জসহ ১১ পদক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে। রবিবার লন্ডন অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শেষদিনের প্রতিযোগিতায় ক্যারিয়ারের ১৬তম স্বর্ণপদক জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ্যালিসন ফেলিক্স। তিনি মহিলাদের ৪০০ মিটার রিলেতে স্বর্ণ জয় করেন। আর ৮০০ মিটারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাস্টার সেমেনিয়া। কিন্তু ৫০০০ মিটারে আলমাজ আয়ানার ডাবল জয়ের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন কেনিয়ার হেলেন ওবিরি। পুরুষদের হাই জাম্পে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কাতারের ফেবারিট মুতাজ ইসা বারশিম।

এবার লন্ডন বিশ্ব আসর থেকেই বিদায় ঘটেছে দুই কিংবদন্তি তারকা জ্যামাইকার স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট আর ব্রিটিশ দৌড়বিদ মো ফারাহর। ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন তারা দু’জনই। তাই শেষদিনের প্রতিযোগিতা ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। বোল্ট তার উভয় ইভেন্টে হেরে যাওয়াতে জ্যামাইকা দলই যেন বিমর্ষ হয়ে পড়েছিল। তাই মহিলাদের স্প্রিন্টেও কোন স্বর্ণপদক আসেনি। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পথ আরও কণ্টকমুক্ত ছিল। শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়ার জন্য তাদের খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়নি। শেষদিনেও অন্যতম ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ড এ্যাথলেট ফেলিক্স যুক্তরাষ্ট্রকে স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন মহিলাদের ৪০০ মিটার রিলেতে। তার সঙ্গে থাকা কুয়ানেরা হায়েস, শাকিমা উইম্বলি ও ফিলিস ফ্রান্সিস শেষ করেছেন ৩ মিনিট ১৯.০২ সেকেন্ডে। এটি ক্যারিয়ারের ১৬তম বিশ্ব আসর পদক ফেলিক্সের। এর মধ্যে ১১টি স্বর্ণপদক। রিলে দলের সঙ্গেই জিতেছেন ৯টি পদক এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে ৭টি পদক। ফেলিক্স অলিম্পিকেও ৬ স্বর্ণসহ জিতেছেন ৯ পদক। এই ইভেন্টে এবার স্বাগতিক ব্রিটেন রৌপ্য জয় করেছে ৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে। আর পোল্যান্ড ৩ মিনিট ২৫.৪১ সেকেন্ড টাইমিংয়ে তৃতীয় হয়।
মহিলাদের ৮০০ মিটারে সবার নজর ছিল সেমেনিয়ার দিকে। ২০০৯ সালে লৈঙ্গিক বিতর্কে বেশ কিছুদিন ট্র্যাকের বাইরে থাকতে হয়েছিল। সেই সেমেনিয়াই আবার জিতেছেন স্বর্ণপদক। রিও অলিম্পিকেও তিনি স্বর্ণপদক জয় করেন। এবার ১ মিনিট ৫৫.১৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন। এটি বিশ্ব আসরে তার তৃতীয় স্বর্ণপদক। ২০০৯ ও ২০১১ সালেও স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। বুরুন্ডির ফ্রান্সিন নিয়োনসাবা ১ মিনিট ৫৫.৯২ সেকেন্ড সময় নিয়ে রৌপ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের এ্যাজি উইলসন ১ মিনিট ৫৬.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করেন।

ট্র্যাজিক হিরো হয়েই বোল্টের বিদায়

পারেলন না উসাইন বোল্ট। শেষ র্পযন্ত ট্র্যাজিক হিরো হয়েই বিদায় নিতে হলো তাকে। দেশরে হয়ে নজির গড়ে বিদায় নিতে পারলেন না তিনি। জ্যামাইকান গতি দানব উসাইন বোল্ট সুখকর করতে পারলেন না বিদায়টা । ৪ গুনিতক ১০০ মটিার রিলেতেে ক্যারয়িাররে শেষ পদকটা এনে দতিে পারনেনি দেশকে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে ৫০ মিটার দৌড় শেষ করার পরে বাম পায়ের পেশিতে টান পড়ায় তিনি ট্র্যাকে লুটিয়ে পড়েন। সাথে সাথে জ্যামাইকার র্স্বণ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। রিলেতে ব্রিটেন ৩৭.৪৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে র্স্বণ জয় করে।
ইনজুরি আক্রান্ত বোল্টকে ট্র্যাক থেকে হুইল চেয়ারে করে বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হলে‌ও তিনি হেটেই ট্র্যাক ছাড়েন। দলের হয়ে শেষ খেলোয়াড় হিসেবে বোল্টি যখন দৌড় শুরু করছিলেন তখন জ্যামাইকা তৃতীয় স্থানে ছিল। কিন্তু শেষ র্পযন্ত লন্ডন স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার সর্মথককে খুশী করতে পারেননি সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই অ্যাথেলট।

চিজিনুড উজা, এ্যাডাম জেমিলি, ড্যানিয়েল টালোবট ও ব্লেককে নিয়ে গঠিত স্বাগতিক ব্রিটেন র্স্বণ জয় করায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বোল্ট সর্মথকরা। ব্রিটেন থেকে ০.০৫ সকেন্ডে কম সময় নিয়ে রৌপ্য জিতেছে জাস্টনি গ্যাটলিনের যুক্তরাষ্ট্র। ৩৮.০৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করে অবাক করেছে জাপান।
জ্যামাইকা দলের চকিৎিসক ড: কেভিন জোনস জানিয়েছেন, বাম পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়েছে বোল্টের। কিন্তু প্রচন্ড ব্যথার কারণে তিনি শেষ পযর্ন্ত আর দৌড় শেষ করতে পারেন নি। গত তিন সপ্তাহ তার উপর দিয়ে দারুণ চাপ গেছে। এখন তার সুস্থতার জন্য সকলে আশাবাদী।
এদিকে, জ্যামাইকা দলের হয়ে দ্বিতীয় লেগে দৌড়ানো জাস্টনি ফর্টে বলছেনে, ‘আসলইে কি ঘটেছিল সে সর্ম্পকে বোল্ট আমাদরে কিছুই বলেনি। কিন্তু আমি যতটুকু দেখেছি তার পেশীতে টান পড়েছিল। সে এজন্য আমাদের সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছ। কিন্তু আমরা তাকে জানিয়েছি এখানে ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। ইনজুরি খেলারই একটি অংশ।’
চলতি সপ্তাহরে শুরুতে গ্যাটলনি ও ক্রিস্টিয়ান কোলম্যানের কাছে পরাজিত হয়ে ১০০ মিটারে নিজের শিরোপা ধরে রাখতে পারেন নি বোল্ট। কিন্তু ক্যারয়িারের শেষ প্রতিযোগিতাটি নিযে বোল্টকে ঘিরেছিল পুরো বিশ্ব। সে কারণেই লন্ডন স্টেডিয়ামে আগত সমর্থকরা নিজ দেশকে বাদ দিয়ে বোল্টকে দেখতে ও তাকে শেষবারের মত সর্মথন দিতে উন্মুখ ছিল। স্টেডিয়িমের জায়ান্ট স্ক্রিনও বোল্টের দেকেই আটকে ছিল।
প্রথমে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জ্যামাইকা সমান তালে লড়াই চালিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোল্ট পড়ে গেলে জাপান তৃতীয় স্থানে উঠে আসে।
এর মাধ্যমে ১০০ ও ২০০ মিটারে বিশ্বরের্কডধারী বোল্ট ১১টি বিশ্ব আসরের পদক নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এলিসন ফেলিক্সের থেকে যা মাত্র একটি পদক কম। এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে আটটি অলিম্পিক র্স্বণ‌ও।

উসাইন বোল্টের বিদায়ী দৌড়

ক্যারিয়ারের শেষ ৪ গুনিতক ১০০ মিটার প্রিন্টে মাঠে নামছেন ‘গতি দানব’ উসাইন বোল্ট। লন্ডনের এলিজাবেথ অলিম্পিক স্টেডিয়ামে, তিনি শেষবারের মতো ট্র্যাকে নামবেন। এর আগে, লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে ৩০ বছর বয়সী এই জ্যামাইকান তরুণ নিজের সেরা ইভেন্ট ১০০ মিটার প্রিন্টে তৃতীয় হন। যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন গ্যাটলিন এবং ক্রিস্টিয়ান কোলম্যানের কাছে পরাজিত হন তিনি। আজ রাত ১০ টায় হবে প্রতিযোগিতার হিট। আগামীকাল হবে ৪ গুনিতক ১০০ মিটার রিলের ফাইনাল। আট বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন উসাইন বোল্ট এই ইভেন্টের মধ্যদিয়েই ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডকে বিদায় জানাবেন।

হালিমের আরও একটি গিনেস রেকর্ড

গিনেস রেকর্ড গড়ায় হ্যাটট্রিক করলেন আব্দুল হালিম।
ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ ও ২০১৬ সালে দুটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন আব্দুল হালিম। এবার আরো একটি রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের এই খ্যাতিমান ফুটবল প্রদর্শক। বল মাথায় নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি (Greatest distance travelled on a bicycle balancing a football on the head)। গতকাল বৃহস্পতিবার তার সেই রেকর্ডের স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে হ্যাটট্রিক রেকর্ড গড়লেন মাগুরার এই কৃতি সন্তান।
চলতি বছরের জুন মাসের ৮ তারিখ শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে বল মাথায় নিয়ে সাইকেল চালিয়ে ১৩.৭৪ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন এই রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা চালান হালিম। সেদিন সকাল ১১.৫৩ মিনিটে তিনি বল মাথায় নিয়ে সাইকেল চালানো শুরু করেন। প্রবল বাতাসের ঝাপটায় দুপুর ১টা ১২ মিনিটে তার মাথা থেকে বল পড়ে যায়। ততক্ষণে ৯১ ল্যাপে ১৩.৭৪ কিলোমিটার অতিক্রম করে ফেলেন তিনি। যা নতুন রেকর্ড। ২০১৬ সালে এই রেকর্ড গড়ার জন্য হালিম যখন গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তখন তারা কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার অতিক্রম করার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তাদের বেধে দেওয়া সেই সীমা ১ ঘণ্টা ১৯ মিনিটে অতিক্রম করে হালিম ১৩.৭৪ কিলোমিটার করেন।
এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তার রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টার পুরো ভিডিও, স্থিরচিত্র এবং এ নিয়ে ইলেট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের প্রমাণাদি গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেটি বিচার-বিশ্লেষণ করে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় আব্দুল হালিমকে নতুন এই রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ।
রেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়ে আব্দুল হালিম যারপরনাই খুশি ও কৃতজ্ঞ, ‘আসলে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আবেগে আমার কান্না আসতেছে। এটা আমার তৃতীয় রেকর্ড। এই রেকর্ড গড়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাব ওয়ালটন গ্রুপকে। তারা পৃষ্ঠপোষকতা না করলে হয়তো সবকিছু এত দ্রুত হত না।’ তিনি আরো বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে দেশবাসীকে আরো রেকর্ড উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার আরো দুটি রেকর্ড প্রক্রিয়াধীন আছে।’
উল্লেখ্য, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সৃষ্টিকারী আব্দুল হালিম ২০১২ সালে বল মাথায় রেখে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। এরপর বল মাথায় নিয়ে রোলার স্কেটিং জুতা পরে দ্রুততম সময়ে (২৭.৬৬ সেকেন্ড) ১০০ মিটার অতিক্রম করে ২০১৬ সালে নতুন একটি রেকর্ড গড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রের টোরি বোয়ি বিশ্বের দ্রুততম মানবী

অলিম্পিক স্বর্ণ জয়ী এলাইনি থম্পসনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্রুততম মানবী হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টোরি বোয়ি। লন্ডনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে থম্পসন ফেবারিট থাকলেও আইভোরি কোস্টের ম্যারি জোসে টা লু’র সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১০ দশমিক আট পাঁচ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জেতেন মার্কিন তরুণী বোয়ি। নেদারল্যান্ডসের ডাফনে স্কিপার্স ১০.৯৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। থম্পসনকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় পঞ্চম স্থান নিয়ে।রিও অলিম্পিকে রূপা জেতা ২৬ বছর বয়সী বোয়ি জানান, শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি বলেই এবার সোনা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি লাইন পার না হওয়া পর্যন্ত কখনই হাল ছাড়ি না। টা লু’ দ্রুত চলে গেল, তবে সে এটা সব সময়ই করে। কিন্তু আমি তাতে বিচলিত হইনি। আমি কেবল আমার পাত-পা চালিয়ে গেছি ফিনিশ লাইন পর্যন্ত।’

এদিকে, মেয়েদের লং জাম্পে বেলজিয়ামের নাফিসাটো থিয়াম ছয় দশমিক পাঁচ সাত মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে স্বর্ণ জেতেন। মেয়েদের পোলভোল্টে চার দশমিক নয় এক মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে প্রথম জন গ্রিসের ইকাতেরিনি স্টেফানিডি।

গ্যাটলিনের কাছে নিভে গেলো বোল্টের আলো

পারলেন না উসাইন বোল্ট। জীবনের শেষ ১০০ মিটার দৌড়ে তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাস্টিন গ্যাটলিনের কাছে হেরে গেলেন কিংবন্তি এই অ্যাথলিট। জীবনের শেষ ১০০ মিটার দৌড়ে পরাজয়ই সঙ্গী হয়ে থাকল বোল্টের। তৃতীয় হয়ে ট্র্যাক ছাড়তে হল তাঁকে।
লন্ডনে একশো মিটারের ট্র্যাকে শেষ বারের মতো দৌড়তে দেখা গেল তাঁকে। শনিবার রাতের পরে সেই কথাটা এখন বাস্তব। উসাইন বোল্ট আর একশো মিটারে দৌড়বেন না। ট্র্যাকে আর একবার তাঁকে অবশ্য দেখা যাবে। যখন একশো মিটার রিলেতে দৌড়বেন তিনি।

সেমিফাইনাল বা ফাইনালে মোটেই নিজের সেরা ফর্মের কাছেধারে ছিলেন না বোল্ট। সেমিফাইনালে দ্বিতীয় হলেন। তার আগে হিটেও নিজের ফর্ম নিয়ে খুশি ছিলেন না বোল্ট। হবেনই বা কী করে, ক্যারিয়ারের শেষ মিটে তাঁর লক্ষ্য একটাই বরাবরের মতো সোনা জিতে শেষ করা। কিন্তু ১০০ মিটারের হিটে শুরুটা এতটাই খারাপ হল তাঁর, যে ৫০ মিটার পর্যন্ত তিনি পাঁচ নম্বরে ছিলেন। শেষ ৫০ মিটারে সবাইকে ছাপিয়ে ১০.০৭ সেকেন্ডে হিট জিতলেও সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা নেই।
লন্ডন স্টেডিয়ামে ৯.৯২ সেকেন্ডে সবার আগে দৌড় শেষ করেন গ্যাটলিন। ৯.৯৪ সেকেন্ডে রূপা জিতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিয়ান কোলম্যান। আর ৯.৯৫ সেকেন্ডে তৃতীয় হন বোল্ট। ২০০৫ সালে হেলসিঙ্কির আসরের এক যুগ পর বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে সেরা হলেন গ্যাটলিন।
দুই বছর পর পর হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ২০১১ সালে ১০০ মিটারে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বোল্ট। ওই একটি হতাশার অধ্যায় ছাড়া ২০০৯ থেকে এই আসরের আগ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ্সের প্রতিটি ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪*১০০ মিটার রিলে দৌড়ে সেরা ছিলেন তিনি।

সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের মতো শেষটাও রাঙানোর প্রত্যাশায় ছিলেন ১০০ ও ২০০ মিটারের রেকর্ড টাইমিংয়ের মালিক। লক্ষ্য ছিল অ্যাথলেটিক্সের সবচেয়ে বড় এই আসরে ১০০ মিটারে চতুর্থ সোনা জয়ের; কিন্তু হলো না স্বপ্নপূরণ। এখানে তার সোনার পদক রয়ে গেল ১১টিই।
ডোপিংয়ের কারণে দু-দুবার নিষিদ্ধ হয়েছেন গ্যাটলিন। কিন্তু প্রতিবারই ফিরেছেন বীরের বেশে। তারপরও এবারের ফেরাটা কি স্বপ্নেও দেখেছিলেন তিনি? গত এক দশকে ট্র্যাকের রাজত্বটা যে নিজের করে নিয়েছিলেন বোল্ট। সেই কিংবদন্তিতুল্য বোল্টের বিদায়ী ইভেন্টে সোনার হাসি হাসলেন ৩৫ বছর বয়সী গ্যাটলিন। তবে বোল্টকে শ্রদ্ধা জানাতে ভোলেননি। দৌড় শেষে ‘অমর বোল্টের’ সামনে নতজানু ভঙ্গিতে জানিয়েছেন সম্মান!
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গ্যাটলিনের এটা তৃতীয় সোনার পদক। ২০০৫ আসরে ১০০ ও ২০০ মিটারে সেরা হয়েছিলেন ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিকের ১০০ মিটারের চ্যাম্পিয়ন।

বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ফারাহ-র শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুন্ন

বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী দিনে, দশ হাজার মিটারে স্বর্ণপদক জিতেছেন ব্রিটেনের মোহাম্মদ ফারাহ। আর ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে নামার আগে ১০০ মিটারের হিটে প্রথম হন উসাইন বোল্ট। লন্ডনে, আইএএএফ চ্যাম্পিয়নশীপের স্প্রিন্টের হিটে, অঘটন বলতে ইনজুরির কারণে অ্যান্দ্রে দি গ্রাসের ট্রাকে নামতে না পারা। তবে, মুল লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ক্রিস্টিয়ান কোলম্যান, ইয়োহান ব্লাক, জাস্টিন গ্যাটলিন, উসাইন বোল্টের মত বড় তারকারা। আজ রাত পৌনে তিনটায় শেষ বারের মতো ১০০ মিটার জেতার লড়াইয়ে নামবেন আটবারের অলিম্পিক জয়ী উসাইন বোল্ট। প্রথম দিনের একমাত্র ফাইনাল ইভেন্টে ১০ হাজার মিটারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন টানা ১০ বার ম্যারাথনে অপরাজিত ব্রিটিশ অ্যাথলেট মোহাম্মদ ফারাহ।

আবার‌ও আইএএএফ-র নজরে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্স

দায়িত্ব নেয়ার মাস দুয়েকের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সুখবরটি দিয়েছিলেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব মন্টু। গতকাল আরেকটি সুখবর দিলেন তিনি। সুখবরটি হলো বন্ধ থাকা বাৎসরিক অনুদান নতুন করে পাচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন মঙ্গলবার লন্ডনে আন্তর্জাতিক অ্যামেচার অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের (আইএএএফ) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লন্ডন থেকে এ তথ্য জানান তিনি।

বেশ কিছুদিন ধরে আইএএএফের (আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন) সঙ্গে সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছিল না বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের। ২০১৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকসের অভিভাবক সংস্থাটির কাছে আগের বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠানোর কথা ছিল। গত বছরের ৩রা মে ছিল এই প্রতিবেদন পাঠানোর শেষ সময়সীমা। কিন্তু ওই প্রতিবেদন না পেয়ে আইএএএফ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশের সঙ্গে। এরপরও সাড়া দেননি ওই সময়ের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের ওপর নেমে আসে আইএএএফের নিষেধাজ্ঞা। বৈশ্বিক সিরিজে অ্যাথলেট পাঠানো বাবদ আইএএএফ যে আর্থিক অনুদান দিত, সেটি বন্ধ হয়ে যায়। গত মার্চে অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েই এই নিষেধাজ্ঞা ওঠানোর ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করে। তাদের যোগাযোগের প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় বাংলাদেশের। মঙ্গলবার আইএএএফ’র কংগ্রেস সভায় বন্ধ থাকা বাৎসরিক অনুদান নতুন করে পাচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন।

উসাইন বোল্টের আবেদন

আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে মগ্ন জামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্ট। বর্ণময় কেরিয়ারের ইতি টানার কথা এই লন্ডনেই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ও রিলেতে নামবেন উসাইন বোল্ট। তাঁরই ফাঁকে অ্যাথলিটদের জন্য বার্তা দিয়েছেন বোল্ট। তাঁর উপদেশ, ‘‌ডোপ নিও না। তাহলে অ্যাথলেটিক্সটাই মরে যাবে। সারা বিশ্বে ডোপ কাণ্ড ছেয়ে গেছে। অনেক অ্যাথলিটই নির্বাসিত রয়েছেন। খেলাটাকে স্বচ্ছ থাকতে দিন।’‌
রিও অলিম্পিকের আগে ডোপ কাণ্ডে ফেঁসে রাশিয়ার অ্যাথলিটরা এখনও নির্বাসিত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তারা নামতে পারছেন না। বোল্টের কথায়, ‘‌রাশিয়ার অ্যাথলিটদের কথাই ধরুন। নির্বাসনে যেতে হল অনেককেই। সেকারণেই আমার আবেদন ডোপ নেবেন না।’‌
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারের ফাইনাল ৫ আগস্ট, শনিবার। ওইদিনই রিলে ফাইনাল। অর্থাৎশেষবারের মতো ট্র্যাকে সম্ভবত নামবেন শনিবারই। জেতার ব্যাপারে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী বোল্ট বলেন, ‘‌আমি এখনও বিশ্বের দ্রুততম। শেষবার ১০০ মিটার দৌড়েছি ৯.‌৯৫ সেকেন্ডে। তাই বিদায় নিলেও আমার রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার মতো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। অন্তত ১০ বছর অক্ষত থাকবে আমার রেকর্ড।’‌
দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যান নিকের্ককে অবশ্য নম্বর দিতে কুণ্ঠা করলেন না বোল্ট। তাঁর কথায়, ‘‌ও তারকা হয়ে উঠছে। অলিম্পিকে রেকর্ড সময় করে ৪০০ মিটারে সোনা পেয়েছিল। এখানে ২০০ ও ৪০০ মিটারে নামবে। তাই ওর সঙ্গে লড়তে না পারার আফশোস থাকবে।’‌

বোল্টই সেরা

৪ আগস্ট লন্ডনে শুরু হবে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। শেষবারের মতো ট্র্যাকে নামবেন উসাইন বোল্ট। তিনিই টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ। তাঁকে দেখার জন্যই দর্শকরা স্টেডিয়ামে ভিড় জমাবেন।
প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স সংস্থার সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো, বক্সিং কিংবদন্তি মহম্মদ আলীর সঙ্গে তুলনা করেন বোল্টকে। তিনি বলেন, ‘‌বিশ্বের সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার বোল্ট। ও একজন জিনিয়াস। ওর সঙ্গে একমাত্র মহম্মদ আলীর তুলনা হতে পারে। বক্সিংয়ে আলী যে নজির গড়েছে। অ্যাথলেটিক্সে বোল্টও সেই নজির গড়েছে। তাই বোল্টকে সেরা বলতে কোনও দ্বিধা নেই।’‌
লন্ডনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরই ট্র্যাককে বিদায় জানাবেন বোল্ট। একরকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন অলিম্পিকে ৮টি সোনার মালিক। বোল্টের অবসরের পর অ্যাথলেটিক্স যে অনেকটাই বর্ণহীন হয়ে যাবে তা মনে করেন কো। তিনি বলেন, ‘‌বোল্ট একজন চরিত্র। ও যদি নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকে, তাহলে অ্যাথলেটিক্স অনেকটাই বর্ণহীন হয়ে পড়বে।’‌
এদিকে নির্বাসিত থাকায় রাশিয়ার অ্যাথলিটদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয় নি কতৃপক্ষ।

বোল্টের বিপক্ষে বাজি ধরা মানা !

এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী গতিমানব উসাইন বোল্ট। ‘সাদা বিদ্যুত’‌ও বলেন কেউ কেউ। প্রহর গুণছেন অবসরের। কিছুদিন আগের ডায়মন্ড লীগের মিটে ১০০ মিটার ইভেন্টে এই গতি মানব সময় নেন মাত্র ৯.৯৫ সেকেন্ড! অবশ্য এই ঘটনা এই বছর প্রথম নয়, দ্বিতীয়বারের মতো।
কে না জানে তার বীরত্বের কথা। তাবৎ বিশ্বের সকল ক্রীড়াবিদ জানেন বোল্টের সক্ষমতার কথা। তাই তো সাবেক ১০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ডধারী দৌড়বিদ ডোনোবান বেইলী বিশ্বের সকল দৌড়বিদদের বোল্টের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।
জ্যামাইকায় জন্ম নেয়া এই কানিডয়ান দৌড়বিদ ডনোভান বেইলী এক সাক্ষাৎকারে জানান,‘যে কোনো মেজর চ্যাম্পিয়নশীপে এসে বোল্টের বিরুদ্ধে কেউ বাজি ধরলে তা হলো আনস্মার্ট। বোল্টের বিরুদ্ধে কেউ বাজি ধরো না।’
বোল্টের প্রতিদ্বন্দ্বিদের তিনি বলেন,‘খেলাটাকে আনন্দদায়ক বানাতে ভুলহীন একটা দৌড় দিতে হবে অ্যাথলেটদের।’
অলিম্পিকের গত তিন আসরে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪*১০০ মিটার রিলেতে সোনা জিতেন বোল্ট। তবে তার সে অনন্য ‘ট্রিপল ট্রিপল’ রেকর্ডটি আর নেই। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে জ্যামাইকার ৪*১০০ মিটার রিলেতে সোনা জয়ী দলের সদস্য নেস্টা কার্টারের নিষিদ্ধ উপাদান নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্বের দ্রুততম মানবের একটি অলিম্পিক সোনার পদক ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।

সামার অ্যাথলেটিক্সে সেরা সেনাবাহিনী

জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্সের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সেনাবাহিনীর দুই অ্যাথলেট আল আমিন ও সুমি আক্তার।
১৫০০ মিটার ও পাঁচ হাজার মিটার দৌড়ে র্স্বন পদক ও ৮০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জেতা সেনাবাহিনীর আল আমিনকে পুরুষ বিভাগের সেরা নির্বাচিত করেছেন বিচারকরা। আর মেয়েদের বিভাগে সেরা র্নিবাচিত সেনাবাহিনীর সুমি আক্তার ৮০০ মিটার, ১৫০০ মিটার ও ৩ হাজার মিটারে র্স্বন পদক ও ৪০০ মিটারে রূপা জিতেছেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনী ১৮টি সোনা, ১৭টি রূপা ও ১৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৮টি পদক নিয়ে সেরা হয়েছে। দ্বিতীয় নৌবাহিনী জিতেছে ১২টি সোনা, ১১টি রূপা ও ১০টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩৩টি পদক। আর ৪টি সোনা, ৩টি রূপা ও ৪টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১১টি পদক নিয়ে তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ জেল।
শনিবার প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে ছেলেদের ৫ হাজার মিটারে আল আমিন সোনা জিততে সময় নেন ১৬ মিনিট ৩ দশমিক ১০ সেকেন্ড।
১০০ মিটার রিলেতে মেজবাহ আহমেদ-আব্দুর রউফ-এম ইসমাইল-কাজী শাহ ইমরান ৪১ দশমিক ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নৌবাহিনীকে সোনা এনে দিয়েছেন। ১০০ মিটারে মেয়েদের বিভাগে সুস্মিতা-শরিফা-বর্ষা-কনা সেনাবাহিনীকে সোনা জেতান, ৪৯ দশমিক ৪০ সেকেন্ডে।
ছেলেদের পোল ভোল্টে শরিফুল ইসলাম (৩ দশমিক ৮০ মিটার), জ্যাভলিন থ্রোয়ে পাপিয়া আক্তার (৩৮ দশমিক ৯৭ মিটার), শটপুটে মামুন সিকদার (১৩ দশমিক ৭৬ মিটার) সোনা জিতেছেন।
মেয়েদের হাইজাম্পে রত্না খাতুন (১ দশমিক ৬০ মিটার), ৩ হাজার মিটার স্প্রিন্টে সুমী আক্তার (১২ মিনিট ৮ দশমিক ৭০ সেকেন্ড) সোনা জিতেছেন। ২০ কিলোমিটার হাঁটায় আব্দুর রহিম (১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড), ১০০ মিঃ হার্ডলস সুমিতা রানী দাস (১৫ দশমিক ৩০ সেকেন্ড) সেরা হয়েছেন।
আয়েশা আক্তার আয়েশা আক্তার ৪০০ মিটারে ছেলেদের বিভাগে সাইফুল ইসমাইল খান (৪৯ দশমিক ১০ সেকেন্ড) ও মেয়েদের বিভাগে আয়েশা আক্তার (৫৯ দশমিক ৩০ সেকেন্ড) সোনা জিতেছেন।
ডিসকাস থ্রোয়ে জাফরিন আক্তার (৩৪ দশমিক ৬৫ মিটার), ৩০০০ মিটারে সোহেল রানা (১০ মিনিট ২৯ সেকেন্ড), ট্রিপল জাম্পে এম মনজুরুল মোল্লা (১৪ দশমিক ৮৩ মিটার), ৮০০ মিটারে সুমি আক্তার (২ মিনিট ২৯ দশমিক ৭০ সেকেন্ড), ডিসকাস থ্রোয়ে (পুরুষ) মামুন সিকদার (৪৩ দশমিক ৭০মিটার), হ্যামার থ্রোয়ে লিটন রহমান (৪৬ দশমিক ৮৮ মিটার), ১১০ মিটার হার্ডলসে মির্জা হাসান (১৪ দশমিক ৮০ সেকেন্ড), ৮০০ মিটার দৌড় (পুরুষ) খোন্দকার কিবরিয়া (১ মিনিট ৫৭ দশমিক ৪০ মিনিট) সেরা হয়েছেন।

এদিকে, লং জাম্পে এম আল আমিন (৭ দশমিক ৩৬ মিটার), জ্যাভলিন থ্রোয়ে নাজমুল হাসান (৬২ দশমিক ৫৬ মিটার), ১০ হাজার মিটার দৌড়ে সোহেল রানা (৩৬ মিনিট ৭ দশমিক ১০ সেকেন্ড), ৪০০ মিটার রিলের পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (৩ মিনিট ১৮ দশমিক ৮০ সেকেন্ড) ও মহিলা বিভাগে নৌবাহিনী ৪ মিনিট ০ দশমিক ১০ সেকেন্ড) সেরা হয়।

আবারও দ্রুততম মানব-মানবী মেজবাহ-শিরিন

১০০ মিটার স্প্রিন্টের মুকুট ধরে রেখেছেন নৗবাহিনীর দুই অ্যাথলটে মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ শনিবার জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্সের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে ছেলেদের ১০০ মিটারে ১০ দশমিক ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে শাহ ইমরান ও শরীফুল ইসলামকে পেছনে ফেলে সেরা হন মেজবাহ।
১০ দশমিক ৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ইমরান দ্বিতীয় ও ১১ দশমিক ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে শরীফুল তৃতীয় হয়েছেন।
সবমিলিয়ে জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে তিনবার, সামার অ্যাথলেটিক্সে দুইবার ও বাংলাদেশ গেমসে একবার সেরা হন বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে খেলা মেজবাহ।
আগামী অগাষ্টে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে লন্ডনের ট্র্যাকে নামার আগে দেশের ট্র্যাকের সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে জানান তিনি।
‘আমি এই ইভেন্ট নিয়ে আমি খুব আশা করে ছিলাম; কেননা, সামনে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ, এখানে খারাপ করলে ওখানে ভালো কিছু করা কঠিন হয়ে যেত। তবে এই টাইমিংয়ে আমি খুশি না। কিন্তু এই মাঠে আসলে এর চেয়ে ভালো টাইমিং করা সম্ভবও না। কেননা, এই টার্ফ অনেক পুরান হয়ে গেছে, তাই স্লো হয়ে গেছে।’
মেয়েদের ১০০ মিটারে দৌড় শেষ করতে শিরিন সময় নেন ১২ দশমিক ৩০ সেকেন্ড। সোহাগী আক্তার ১২ দশমিক ৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় ও সুস্মিতা ঘোষ ১২ দশমিক ৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন। জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে তিনবার ও সামার অ্যাথলেটিক্সে দুইবার সেরা হলেন শিরিন।
গত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে দ্রুততম মানবী শিরিনকে না পাঠিয়ে আলিদা শিকদারকে পাঠিয়েছিল ফেডারেশন। ওই ঘটনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে শিরিন কৌশলী উত্তরই দিলেন। এমনকি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে না যেতে পারলেও ক্ষুব্ধ নন তিনি।
‘আসলে ওভাবে রাগ বা অন্য কিছু ছিল না। আমাদের অভিভাবকরা যেভাবে মনে করেছে, সেভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার এগুলো নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আমার মাথা ব্যাথা নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে। আমাকে কোথায় পাঠাবে, কোথায় পাঠাবে না এসব নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। এটা কতৃপক্ষের ব্যাপার।’
মেজবাহর মতো নিজের টাইমিং নিয়েও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন শিরিন। তিনিও হ্যান্ড টাইমিংয়ের বলয় থেকে ফেডারেশনকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানলেন। জানালেন আগমী এসএ গেমসে সোনা জেতার আশাবাদও।
‘টাইমিং নিয়ে খুব সন্তুষ্ট নই। মোটামুটি সন্তুষ্ট। আসলে আজকে বাতাস ছিল। তবে আমাদের টাইমিংয়ের হিসাবটা ইলেক্ট্রনিক্সে হলে ভালো হয়। আমার বেস্ট ১১.৯৯ (ইলেক্ট্রনিক্স) আর হ্যান্ড টাইমিংয়ে ১১.৮৪।’

ডিআরইউ পারিবারিক ক্রীড়া উৎসব

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সদস্যদের পরিবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত ‘পারিবারিক ক্রীড়া উৎসব’ আজ শেষ হয়েছে। শহীদ ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সদস্য সন্তানদের ২০০ মিটার দৌঁড়ে বড়দের বিভাগে রায়ান নেওয়াজ প্রথম, দ্বিতীয় সুভেনির জাহিদ ও তৃতীয় হয়েছে মুশফিকুর রহমান শুভ্র। এই ইভেন্টে মেয়েদের বিভাগে শ্রীতমা মাধূর্য প্রভা প্রথম, অহনা আনজুম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছে আসমিতা ইসলাম। নারী সদস্যদের স্বামীদের ২০০ মিটার দৌড়ে এস এম রেজুয়ান হক প্রথম, ইমরান হোসেন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছেন ইমরাদ তুষার। সদস্য স্ত্রীদের ২০০ মিটার দৌঁড়ে এরিনা সুলতানা শিল্পী প্রথম, আনোয়ারা পারভীন দ্বিতীয় এবং হাসিনা সুলতানা তৃতীয় হয়েছেন। সদস্যদের স্ত্রীদের পিলোপাসে হাসিনা সুলতানা প্রথম, আনোয়ারা পারভীন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছেন বিলকিস আক্তার।

সামার অ্যাথলেটিক্সে ২০০ মিটারে সাইফুলের বাজিমাত

জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্সে ২০০ মিটারে সেরা হয়েছেন সাইফুল ইসলাম ও সোহাগী আক্তার।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার ২১.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে গতবারের সেরা শরীফুল ইসলামকে পেছনে ফেলেন বাংলাদেশ জেলের সাইফুল। শরীফুল ২১.৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় ও মেজবাহ আহমেদ ২২.০০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
মেয়েদের ২০০ মিটারে দ্বিতীয়বারের মতো সেরা হওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সোহাগী ২৫.১০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। বাংলাদেশ জেলের জাকিয়া সুলতানা (২৫.৬০ সেকেন্ড) দ্বিতীয় ও আয়শা আক্তার (২৫.৯০ সেকেন্ড) তৃতীয় হয়েছেন।
২০১৫ সালে জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে ১০০ মিটার (১০.৫৩ সেকেন্ড) ও ২০০ মিটারে (২১.৬০) রেকর্ড গড়ে সোনা জেতা সাইফুল মনে করেন, শুরুটা ভালো হওয়ায় সেরা হতে পেরেছেন তিনি। শনিবার হতে যাওয়া ১০০ মিটার স্প্রিন্টে গতবারের সেরা মেজবাহকেও হারানোর লক্ষ্য ১৮ বছর বয়সী এই অ্যাথলেটের।

বিশ্ব যুব অ্যাথলেটিক্সের সেমিফাইনালে জহির রায়হান

লক্ষ্যই ছিলো তার বিশ্ব যুব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে উঠার। কথা রাখলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) -র ছাত্র মোহাম্মদ জহির রায়হান। বুধবার দুপুরে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ৪০০ মিটার দৌড়ের হিটে তিনি ৪৮.০০ সেকেন্ড সময় নিয়ে উঠে যান সেমিফাইনালে। অ্যাথলেটিকের যেকোনো পর্যায়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এটাই বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেটের প্রথম সেমিফাইনালে ওঠা। এবং সেরা সাফল্য। বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকে নতুন ইতিহাস গড়লেন শেরপুরের এ যুবক।
যুব হোক কিংবা সিনিয়র- বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেটের পদকের স্বপ্ন দেখা বাড়াবাড়ি। জহিরও সেটা দেখছেন না। তবে সেমিতে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই তিনি নাইরোবি গিয়েছিলেন। গত মে মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান যুব অ্যাথলেটিকের সেমিফাইনালে জহির সময় নিয়েছিলেন ৪৯.১২ সেকেন্ড। নাইরোবিতে তিনি টাইমিং কমিয়েছেন ১.১২ সেকেন্ড।

কিশোরগঞ্জে অটিস্টিক ক্রীড়া সমাপ্ত

আনন্দমুখর একটি দিন কাটালো কিশোরগঞ্জের অটিস্টিক শিশুরা। কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে শেষ হলো অটিস্টিক ক্রীড়া উৎসব। জেলার চারটি বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী স্কুলের ২৫ জন খেলোয়াড় অংশ নেয় এই উৎসবে।
ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি এই আয়োজনে ছিলো প্রতিবন্ধী বালক এবং বালিকাদের দৌড়। তবে মূল আকর্ষণ ছিলো ঢাকা থেকে আগত স্পেশাল অলিম্পিকস কমিটির প্রতিনিধি দলের ‘ইয়ং অ্যাথলেট প্রোগ্রাম’। অনূর্ধ্ব-৯ বৎসর বয়সী অটিস্টিক খেলোয়াড় এবং তাদের অভিভাবকদের নিয়ে এই প্রোগ্রামের নেতৃত্ব দেন স্পেশাল অলিম্পিকস্ কমিটির জাতীয় পরিচালক ফারুকুল ইসলাম।

বিশেষ এই শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়ার আহবান জানান তিনি। স্পেশাল অলিম্পিকে বাংলাদেশের সুনাম আরো ছড়িয়ে দিতে কিশোরগঞ্জের প্রতিভাবান খেলায়োড়দের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণাও দেন ফারুকুল ইসলাম।
শেষে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার আল-আমিন সবুজ।

বাংলাদেশে আসছেন মার্গারিটা মামুন

এ বছরই বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছেন রিও অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী জিমন্যাস্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্গারিটা মামুন। বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় পিতৃভূমির টানে এদেশে আসার কথা জানিয়েছেন এ অ্যাথলেট। চলতি বছরের অক্টোবর কিংবা নভেম্বরে বাংলাদেশে আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন জিমন্যাস্ট মার্গারিটা মামুন। তার মা রাশিয়ান হলেও বাবা বাংলাদেশী।

বাবা মারা যাওয়ার পর পৈতৃক ভূমি ভ্রমণের কথা জানিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে আসলে বাবার মৃত্যর পর এটাই হবে তার এ দেশ সফর। রিও অলিম্পিক-২০১৬ তে রিদমিক জিমন্যাস্টে সেরাটার জন্য স্বর্ণপদক জেতেন মার্গারিটা মামুন। স্বর্ণ জয়ের পাশাপাশি অলিম্পিকে নতুন রেকর্ড গড়ে তার পারফরম্যান্স। রিও অলিম্পিকে ৭৬.৪৮৩ স্কোর নিয়ে রেকর্ড গড়েন ২১ বছর বয়সি এ অ্যাথলেট।

তার এ এম কৃতির মাত্র ছয় দিন পর মস্কোতে মারা যান বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন। পাকস্থলির ক্যান্সারের আক্রান্ত হয়ে ৫২ বছর বয়সে মৃত্যবরণ করেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল মামুন। বাংলাদেশ সফর নিয়ে গালফ নিউজকে মার্গারিটা মামুন বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেখানে (বাংলাদেশ) গিয়ে বাবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। তার মৃত্যর পর সেখানে এটাই আমার প্রথম সফর হতে পারে।

মেজবাহ যাবেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে

অ্যাথলেটিক্সের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদ। মস্কো, বেইজিংয়ের পর এবার তিনি অংশ নেবেন আগামী ৪ থেকে ১৩ আগস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য আইএএএফ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের ১৬তম আসরে।
ট্র্যাকের রাজার আসনে প্রথম বসেছিলেন ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসে। সেই থেকে মেজবাহ আহমেদের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠত্বের এই মুকুট কেউ কেড়ে নিতে পারেননি। এক এক করে ৫ বার ১০০ মিটারে দেশসেরা হন নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট।
আগামী ২০ জুলাই শুরু হবে সামার অ্যাথলেটিক মিট। সেখানে মেজবাহর লক্ষ্য ডাবল হ্যাটট্রিক। দ্রুততম মানবের খেতাব ধরে রাখতে পারলে অনন্য এক রেকর্ড গড়াও হবে বাগেরহাটের এই তরুণের।

ঘরের ট্র্যাকে রাজত্ব করা মেজবাহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আসর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও করতে যাচ্ছেন। মস্কো, বেইজিংয়ের পর এবার তিনি অংশ নেবেন আগামী ৪ থেকে ১৩ আগস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য আইএএএফ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের ১৬তম আসরে।
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেট প্রাথমিক পর্ব অতিক্রমের স্বপ্নই দেখেন না। চোখ থাকে নিজের সেরা টাইমিং করা।
মেজবাহসহ ১৮ অ্যাথলেট এখন ভারতের ভুবনেশ্বর শহরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এশিয়ান অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য। বাংলাদেশ অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের উদ্যোগ এবং ইন্ডিয়া অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা এ সুযোগ পেয়েছেন প্রতিযোগিতার আগে। ৬ থেকে ৯ জুলাই ভুবনেশ্বরেই অনুষ্ঠিত হবে এই চ্যাম্পিয়নশিপ।
মেজবাহ আহমেদ ২০১৩ সালে রাশিয়ার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দৌড়েছিলেন ১১.২৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে। ২০১৫ সালে চীনের বেইজিংয়ে সময় নিয়েছিলেন ১১.১৩ সেকেন্ড। সবশেষ রিও অলিম্পিকে মেজবাহ সময় নিয়েছিলেন ১১.৩৪ সেকেন্ড। এসএ গেমসে মেজবাহর সময় ছিল ১০.৭২ সেকেন্ড। দ্রুততম মানবের খেতাব ধরে রাখতে সবশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মেজবাহর টাইমিং ছিল ১০.৬৩ সেকেন্ড।

উসাইন বোল্টের প্রত্যাশিত জয়

চেক প্রজাতন্ত্রের ওস্ত্রাভায় গোল্ডেন স্পাইক মিটে ঠিকই জয় পেলেন জ্যামাইকার গতিমানব উসাইন বোল্ট। তবে টানা দ্বিতীয়বার ১০ সেকেন্ডের নিচে ১০০ মিটারের দৌড় শেষ করতে ব্যর্থ হন তিনি। তাতে জিতলেও খুব একটা খুশি হতে পারেন নি বোল্ট।
অলিম্পিকে ১০০ মিটারে তিনটি সোনা জয়ী বোল্ট বুধবার ১০.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। ক্যারিয়ার সেরা ১০.০৯ সেকেন্ড টাইমিং করে দ্বিতীয় হন কিউবার ইউনিয়ের পেরেস। আর তুরস্কের জ্যাক আলী হার্ভে ১০.২৬ সেকেন্ড নিয়ে হন তৃতীয়।

গত ১১ জুন ঘরের মাঠে শেষবারের মতো ট্র্যাকে নেমে ১০.০৩ সেকেন্ডে ১০০ মিটার শেষ করেছিলেন বোল্ট। টানা দুবার এমন টাইমিংয়ে খুশি নন ১০০ ও ২০০ মিটারে রেকর্ডের মালিক। তবে দ্রুত নিজের সেরা ছন্দে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। জানান, ‘টাইমিং নিয়ে আমি খুশি নই। আমার আরো কিছু অনুশীলন করতে হবে।’
অলিম্পিকে আটটি সোনা ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১৩টি পদক জয়ী এই কিংবদন্তি অাগস্টে লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর অবসর নিতে পারেন। তবে গত মঙ্গলবার তিনি জানান, অবসর নেওয়ার ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এটাই যে তার শেষ মৌসুম তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

উসাইন বোল্টের অবসর ভাবনা

আসছে আগস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর অবসর নেবেন উসাইন বোল্ট। রিও অলিম্পিকের পর সে কথাই জানিয়েছিলেন, জামাইকান গতিদানব। ৩০ বছর বয়স হয়ে গেছে বোল্টের। কিন্তু ফর্ম হারাননি। ট্র্যাকে এখনও তিনিই রাজা। তাই অবসরের ভাবনা থেকে সরে আসতে পারেন বোল্ট। এই ব্যাপারে কোচ গ্লেন মিলসের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি। বোল্ট জানান, ‘‌অবসরের ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি।’‌ অবশ্য বোল্টের ভক্তকূল ধরেই নিয়েছিলেন লন্ডনে ১২ আগস্টই জীবনে শেষবারের মতো ট্রাকে নামবেন বোল্ট।

এই মুহূর্তে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুতি সারছেন বোল্ট। তাঁর কথায়, ‘‌আপাতত মাথায় রয়েছে লন্ডন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হোক। তারপরই সবকিছু নতুন করে ভাববো।
এখনও ১০০ ও ২০০ মিটারে বিশ্বরেকর্ডটা রয়েছে উসাইন বোল্টের দখলে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর অবসর না নিলেও আর কতদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান বোল্ট?‌ তিনি বলেন, ‘‌অন্তত এই মৌসুম শেষ করার ইচ্ছা রয়েছে। সমর্থকরা আমাকে ট্র্যাকে দেখতে ভালবাসেন। ওদের জন্যই তো দৌড়াই’।

যাত্রা শুরু শেখ কামাল এ্যাথলেটিকস একাডেমীর

দেশের তৃনমূল পর্যায়ে এ্যাথলেটিকসের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক আসরে সাফল্যের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করলো শেখ কামাল এ্যাথলেটিকস একাডেমী। একাডমেীর উদ্বোধন হলেও এরকার্যক্রম শুরু হবে আগামী মাসে। শুরুতে কোচেস ও জাজেস কোর্স, এরপর এ্যাখলেটদের নিয়ে আবাসিক ক্যাম্প শুরু করা হবে।
শুক্রবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে একাডেমীর উদ্বোধন করেন শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডাশেনের সভাপতি এএসএম আলী কবিরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি বাদল রায়, উপমহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু ও আসাদুজ্জামান কোহিনুর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, ফেডাশেনের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু ও স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের সংগঠক সাইদুর রহমান প্যাটেল উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এ পর্যন্ত এ্যাথলেটিকসে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়বিদদের সংবর্ধনাও দেয়া হয়।

নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন আনসার

নারী বিভাগে স্যান্ড সাওলো ইভেন্টে ১০টি সোনা, ১টি সিলভার ও ৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৪টি পদক নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ আনসার। আর রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তারা ৫টি স্বর্ণ, ৭টি সিলভার ও ৫টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৭টি পদক জয় করে। আর ২টি স্বর্ণ, ২টি সিলভার ও ৫টি ব্রোঞ্জ নিয়ে তৃতীয় হয়েছে যশোর জেলা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে বিজয়ী দল ও খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এ সময় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় উপস্থিত ছিলেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন। এবারের চ্যাম্পিয়নশীপে ৮টি সার্ভিসেস টিম ও ২৮টি জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ ৩৫টি উশু দলের প্রায় ৩৫০ জন প্রতিযোগি অংশ নেয়।

তাউলু ইভেন্টে সেরা যশোর

শেখ রাসেল জাতীয় উশুর তাউলু ইভেন্টে সেরা হয়েছে যশোর। বুধবার শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে তাউলু ইভেন্টে যশোর দু’টি স্বর্ণ ও একটি রুপা, বিজেএমসি একটি করে সোনা ও রুপা এবং বিকেএসপি একটি স্বর্ণপদক জয় করেছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি। উশু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আবদুস সোবহান গোলাপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, চায়না বাংলা সিরাক্সি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও উশু এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর শাহ ভূইয়া । এবারের চ্যাম্পিয়নশীপে ৩৫টি উশু দলের প্রায় সাড়ে তিনশ’ প্রতিযোগি অংশ নিচ্ছেন।

আলিদাকে নেয়া ভুল ছিল : মিকু

কিছুদিন ধরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত নাম আলিদা শিকদার। না, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এ অ্যাথলেট লাল-সবুজের দেশকে কোনো সাফল্য এনে দিয়ে আলোচনায় আসেননি। দেশের সম্মানহানি করে তিনি এখন নেতিবাচক আলোচনায়। ইসলামী সলিডারিটি গেমসের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজারবাইজানের বাকুতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ); কিন্তু আলিদা কোনো খেলায়ই অংশ গ্রহণ করেননি। দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে বঞ্চিত করে বিনা ট্রায়ালে আলিদা ঢুকে পড়েছিলেন বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টে। ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ও লংজাম্পে অংশ না নিয়েই কেন আলিদা বাকু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেলেন তার কোনো জবাব নেই। গেমস থেকে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন নুরুল ফজল বুলবুল দেশে ফিরলেই আলিদার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বিওএ। তবে বিওএর উপমহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু অকপটে স্বীকার করেন গেমসের জন্য আলিদাকে নির্বাচন করা ছিল তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। শনিবার রাতে হোটেল পূর্বানীতে জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল সংগঠকদের মতবিনিময় সভা শেষে আশিকুর রহমান মিকু বলেন, আমি এ নিয়ে শাহেদ ভাইয়ের (বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও বলেন, আলিদাকে নির্বাচন ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। আলিদার জন্য আমার দেশের মেয়েটি (শিরিন) বঞ্চিত হলো। বিওএর উপমহাসচিব মিকুর কথায় একটা ইঙ্গিত মিললো- আলিদার কারণে আগামীতে প্রবাসী ক্রীড়াবিদদের আর বিবেচনায় নাও আনতে পারে বিওএ। কিছু গেমস আছে যেখানে পদক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই আমাদের। তাহলে দেশে যারা সারা বছর খেলে তাদেরই সুযোগ পাওয়া উচিত। আগামীতে এমন আর হবে না। আমাদের ঘরের ছেলে-মেয়েরা যতটুকু পারে ততটুকুই ভালো- বলেন বিওএর উপমহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু।

ইসিনবায়েভা অপসারিত

রাশিয়ার অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির প্রধানের পদ থেকে অপসারন করা হলো পোল্টভল্টের রানী ইয়েলেনা ইসিনবায়েভাকে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি না আসলেও, বিশ্ব মাদক বিরোধী সংস্থাÑওয়াডা খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, সরকারী মদদে রাশিয়ার অ্যাথলেটদের নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের পেছনে দুইবারের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী পোলভোল্টারেরও ভূমিকা ছিলো। আর সে বিষয়টি অনুধাবন করেই দুইবারের অলিম্পিক স্বর্নজয়ীকে তার পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়া। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে রাশিয়ার নিষিদ্ধ অ্যাথলেটদের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী ইসিনবায়েভাও ছিলেন। এ বছর নভেম্বরের মধ্যে রাশিয়াকে ওয়াডার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করে জিততে হবে। তা না হলে তাদের অ্যাথলেটরা নিষিদ্ধই থাকবেন।

ঢাকা বিভাগীয় দ্রুততম মানবী সাহিদা

ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়ায় দ্রুততম মানবী হয়েছেন টাঙ্গাইলের সাহিদা সরকার। ওয়ালটন ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া উৎসবে ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দুইদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে, অ্যাথলেটিক্সের ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হন টাঙ্গাইলের সাহিদা সরকার। দ্বিতীয় হয়েছেন রাজবাড়ীর শাহনাজ আক্তার। তৃতীয় হয়েছেন ঢাকা জেলার সুরাইয়া আক্তার। ৪০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হয়েছেন ফরিদপুরের চায়না। দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকার উর্মি আক্তার। আর তৃতীয় হয়েছেন টাঙ্গাইলের মিতু।
প্রতিযোগিতার হাইজাম্পে প্রথম হয়েছেন টাঙ্গাইলের নীপা। দ্বিতীয় হন ঢাকার বিথী আক্তার। আর তৃতীয় হয়েছেন রাজবাড়ীর শাহনাজ। বর্ষা নিক্ষেপে প্রথম হয়েছেন মাদারীপুরের শিউলি। দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকার সেলিনা ও শামসুন্নাহার।
এবারের এই ওয়ালটন ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া উৎসবে ঢাকার চারটি জোনের (ময়মনসিংহ, জামালপুর, ফরিদপুর ও ঢাকা) প্রায় দুই শতাধিক প্রতিযোগি অংশ নিয়েছেন। অ্যাথলেটিকস, হ্যান্ডবল, ভলিবল ও কাবাডি- এই চারটি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশেষ শিশু-কিশোর ক্রীড়া সমাপ্ত

জাতীয় প্রতিবন্ধী ক্রীড়া সমিতির (এনএনএসপিডি) বিশেষ শিশু-কিশোরদের গ্রীষ্মকালিন ক্রীড়া উৎসব শেষ হয়েছে। ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে, দুইদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতা মঙ্গলবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বধির হাইস্কুল। আর রানার্স-আপ হয়েছে প্রয়াস। ঢাকা শহরের ২৪টি সংস্থার ৩ শতাধিক বিশেষ শিশু-কিশোর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ১৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সবাইকে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে জার্সি ও ক্যাপ দেওয়া হয়।
সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর ও জাতীয় প্রতিবন্ধী ক্রীড়া সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ইকবাল বিন আনোয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রতিবন্ধী ক্রীড়া সমিতির মহাসচিব ড. সেলিনা আক্তার ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মেজর (অব:) মোহাম্মদ ইয়াদ আলী ফকির।

জাতীয় অ্যাথলেটিকে চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী

জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ৪০তম জাতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ১৯ স্বর্ণ, ১৯ রৌপ্য ও ১৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৫১টি পদক জিতে তারা চ্যাম্পিয়নের গৌরভ লাভ করেছে।
সেনাবাহিনীর চাইতে ৮ স্বর্ণ কম জিতে অর্থাৎ ১১ স্বর্ণ, ১১ রৌপ্য ও ৪ ব্রোঞ্জসহ ২৬টি পদক নিয়ে রানারআপ হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আর ২ স্বর্ণ, ২ রৌপ্য ও ২ ব্রোঞ্জসহ ৬টি পদক জিতে তৃতীয় হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার সমাপণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সভাপতি এ এসএম আলী কবির। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হেলেনা জাহাঙ্গীর।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহীম চেঙ্গিস সহ অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শুরুতেই জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ৪০তম জাতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতার দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদ ও মানবী শিরিন আক্তারের হাতে ১০ হাজার টাকা প্রাইজমানি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি। পরে চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী ও রানার্সআপ নৌবাহিনীরহাতে দলীয় ট্রফি তুলে দেয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় ৬৪ জেলা, ৮ বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিাবোর্ড, বিকেএসপি ও সকল বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ জন (পুরুষ ও মহিলা) অ্যাথলেট অংশ নেন। প্রতিযোগিরা দুই গ্রুপে ৩৬ টি ইভেন্টে খেলেন, যার মধ্যে পুরুষদের ২২টি ও মহিলাদের ১৪টি ইভেন্ট ছিল।

সেনাবাহিনীর পতাকার জন্য লড়লেন শরিফুল

রণাঙ্গনে নয়, অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাকে সেনাবাহিনীর পতাকা উঁচুতে রাখার জন্য লড়ে সফল হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্প্রিন্টার শরিফুল ইসলাম। জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার শরিফুল ২১.৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে অুণ্ন রাখেন তার ২০০ মিটার স্প্রিন্টের জাতীয় শিরোপা।
প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে শরিফুল ১০০ মিটার স্প্রিন্টে তৃতীয় হয়েছিলেন, পেরে উঠেননি মেজবাহ আহমেদ ও আব্দুর রউফের সঙ্গে। সেই দুঃখ প্রশমিত করতেই কি এবার নিজের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করলেন শরিফুল? এমন প্রশ্নে তার জবাবটা এরকম, ‘না, এবারের আসরের শুরু থেকেই সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনীর মাঝে একটা অঘোষিত লড়াই চলছে। বৃহস্পতিবার নৌ বাহিনীর মেজবাহ ও রউফ যখন ১০০ মিটারের প্রথম দুটি স্থান নিয়ে নিল। তখন স্টেডিয়ামে একটা রব ছিল যে সেনাবাহিনী-নৌবাহিনীর সঙ্গে পারে না। তখন থেকেই আমি পণ করি যে ২০০ মিটারের শিরোপা আমার নিজের ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য জিততেই হবে। আর আমি সেটাই করে দেখিয়েছি।’
শরিফুল এসময় দুঃখ করে বলেন, ‘বছরের শুরুতে গৌহাটিতে এসএ গেমসের সময় পায়ে ব্যথা থাকার কারণে নিজের সেরাটা দিতে পারিনি। আমার বয়স ২৪, তাই আমি পরবর্তী এসএ গেমসের দিকে তাকিয়ে আছি। কঠোর অনুশীলন করে এসএ গেমসে সেরা হওয়াই আমার একমাত্র ল্য।’
শরিফুল শিরোপা জিতলেও তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বিকেএসপির সাইফুল ইসলাম সানি। ২১.৬৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি হন দ্বিতীয়। আর আনসার ভিডিপির আল-আমিন ২১.৭০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হন তৃতীয়।

আবারও দ্রুততম মানবী শিরিন

স্প্রিন্ট ট্র্যাকে তার ধারে কাছে যে কেউ নেই-তার প্রমাণ রেখে সহজেই দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব অুণ্ন রেখেছেন বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর শিরিন আকতার।
শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ৪০তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে মহিলাদের ১০০ মিটার ফাইনালে ১২.০১ সেকেন্ড সময় নিয়ে শিরিন তার শিরোপা অুণ্ন রাখেন। গত বছর শিরিন ১২.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিতেছিলেন এই শিরোপা।
শিরিন শেষ ২০ মিটারে তার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করেন আর সেখানেই তার টিমমেট সোহাগী আকতারের সঙ্গে তার ব্যবধান বেড়ে যায়। ১২.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোহাগী হন দ্বিতীয় আর সেনাবাহিনীর বর্ষা খাতুন ১২.৩৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে হন তৃতীয়।
সাফল্যে উদ্বেলিত শিরিন শিরোপা জেতার পর বলেন, ‘পরীার জন্য ঠিক মতো অনুশীলন করতে পারিনি, সপ্তাহ খানেক আগে বিকেএসপি-তে গিয়ে অনুশীলন করে মাঠে নেমে গেছি। সোহাগী আমাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করবে জানতাম, তাই শেষ দিকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েছি। সাফল্যে আমি আনন্দিত।’
এনিয়ে টানা তিনটি দ্রুততম মানবীর শিরোপা জিতলেন শিরিন। একটি সামার অ্যাথলেটিক্সে বাকি দুটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে।

বোল্টকে দেখেই দ্রুততম মানব মেজবাহ

দেশের দ্রুততম মানবের শিরোপা অক্ষুণ্ন রেখেছেন মেজবাহ আহমেদ। জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের প্রথম দিনে বৃহম্পতিবার ১০.৬৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি জিতেছেন ১০০ মিটার স্প্রিন্টের শিরোপা।
কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত দেশের দ্রুততম মানবের শিরোপা অক্ষুণ্ন রেখেছেন মেজবাহ আহমেদ। জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের প্রথম দিনে বৃহম্পতিবার ১০.৬৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি জিতে নেন ১০০ মিটার স্প্রিন্টের শিরোপা। আর ১০.৭০ সেকেন্ডে দ্বিতীয় হন নৌবাহিনীর আব্দুর রউফ, ১০.৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন সেনাবাহিনীর শরিফুল ইসলাম।
ইভেন্টের শেষে মিজবাহ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন উসাইন বোল্টকে অনুসরণ করেই এমন সাফল্য পেয়েছেন, ‘উসাইন বোল্টকে দেখে যে শিক্ষা নিয়েছি তা প্রয়োগ করেই সাফল্য পেলাম। আজ আমাকে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনে পড়তে হলো তা আমি আশা করিনি। বোল্ট সব সময়ই শেষ প্রান্তে এসে বাড়তি গতি দিয়ে শরীর ছেড়ে দেন, আমিও তাই করেছি এবং সাফল্য ধরে রেখেছি।’
১০০ মিটারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই স্প্রিন্টারের এটি টানা তৃতীয় জাতীয় শিরোপা। গত তিনটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি দ্রততম মানব, মাঝে একটি সামার অ্যাথলেটিকস ও বাংলাদেশ গেমসের দ্রুততম মানব হন। ২০১১ সালে বিকেএসপির হয়ে জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে দ্রুততম মানব হয়ে সবার চোখে পড়েন।

রেকর্ড ষষ্ঠবার বর্ষসেরা অ্যাথলেট বোল্ট

নয়বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন উসাইন বোল্ট রেকর্ড ষষ্ঠবার আইএএএফ বর্ষসেরা পুরুষ অ্যাথলেটের মর্যাদা পেলেন।
রিও অলিম্পিকে ১০ হাজার মিটারে ১৪ সেকেন্ডের ব্যবধানে রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণজয়ী আলমাজা আয়ানা হয়েছেন বর্ষসেরা মেয়ে অ্যাথলেট। ১৯৯৩ সালে চীনের ওয়াং জুনজিয়ার গড়া রেকর্ডকে পেছনে ফেলেন এই ইথিওপিয়ান।
রিওতে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪*১০০ মিটারে তৃতীয়বার অলিম্পিক স্বর্ণ জিতে ‘ট্রিপল ট্রিপল’ নিশ্চিত করেন ৩০ বছর বয়সী বোল্ট। ষষ্ঠবার পুরস্কার হাতে ২০০৮, ২০০৯, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের বর্ষসেরা অ্যাওয়ার্ডজয়ী জ্যামাইকান বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই একটা বিশাল পাওয়া।’ আগামী বছর লন্ডনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের পর অবসর নিতে যাওয়া বোল্ট আরও যোগ করেন, ‘বর্ষসেরা অ্যাথলেট হওয়ার মানে হলো আপনার পরিশ্রম ফলপ্রসূ হচ্ছে। ছয় বছর এটা জেতা মানে আরও বড় কিছু।’
গত অলিম্পিকে ২৯ মিনিট ১৭.৪৫ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন ছুঁয়ে ২৩ বছর আগের রেকর্ড ভাঙেন আয়ানা। ২৫ বছর বয়সী এই দূরপাল্লার দৌড়বিদ ৫ হাজার মিটারেও জেতেন ব্রোঞ্জ। ডায়মন্ট রেসটাও নিজের করে নেন তিনি।
পুরুষ বিভাগের বর্ষসেরা উদীয়মান তারকার মর্যাদা পেয়েছেন কানাডার আন্দ্রে ডি গ্রাসে। রিওতে ২০০ মিটারে রৌপ্য ও ১০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জেতেন এই ২২ বছর বয়সী। উদীয়মান নারী তারকার পুরস্কারটি হাতে পেয়েছেন অলিম্পিক হেপটাথলনের চ্যাম্পিয়ন নাফিসাতু থিয়াম।

জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে দু’টি জাতীয় রেকর্ড

হাজী নুরুল ইসলাম মুন্সি স্মৃতি ৩২তম জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে শুক্রবার দু’টি নতুন জাতীয় জুনিয়র রেকর্ড হয়েছে। কিশোরীদের শটপুটে বিকেএসপির তাহমিনা আক্তার ১০.৪২ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন এই জাতীয় রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ডটি ছিল ১০ মিটারের। এছাড়া বালক ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন জাতীয় জুনিয়র রেকর্ড গড়েন বিকেএসপির হাসান মিয়া। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ১০.৬৫ সেকেন্ডে।
index
বালক ও বালিকা এবং কিশোর ও কিশোরী এই চারটি বিভাগে ৩৪টি ইভেন্ট নিয়ে ২৭ মে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে হাজী নুরুল ইসলাম মুন্সি স্মৃতি জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা। যেখানে বালক ও বালিকাদের ১৪টি এবং কিশোর ও কিশোরীদের ২০টি ইভেন্ট রয়েছে। বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি। এ সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ফতুল্লা এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু, নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস উপস্থিত ছিলেন।

খেলা রূপা-ব্রোঞ্জের ট্র্যাকেই অ্যাথলেটিকসের দৌড়

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) সবচেয়ে বেশি সোনার পদকের লড়াই হয় অ্যাথলেটিকসে। কিন্তু মর্যাদার এই ডিসিপ্লিনের ৩৮ ইভেন্ট থেকে এবার বাংলাদেশের সোনার চাওয়া নেই সে অর্থে। রূপা আর ব্রোঞ্জকেই ঘিরেই চলছে যত হিসেব, নিকেষ।
নয়টি সোনা, ১৭টি রূপা, ৩১টি ব্রোঞ্জ-দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) গত এগারোটি আসরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি। সর্বশেষ ২০০৬ সালে এই ইভেন্ট থেকে সোনার পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। মাঝে ২০১০ সালে নিজেদের ট্র্যাকে সোনার পদক অধরা থেকে গেছে। এবারও তা হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কেননা, যাদের হাতে স্বপ্ন পূরণের ভার, সেই মেজবাহ, শিরিনরাও জোর গলায় বলতে পারছেন না-আমরা পারবই। টাইমিংয়েও মিলছে না তার আভাস।
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ে শুরু হবে এসএ গেমসের দ্বাদশ আসর। অ্যাথলেটিকসে ছেলেদের ২০টি, মেয়েদের ১৮টি ইভেন্টে পদকের লড়াই হবে। মেজবাহ, শিরিনদের কথায় এই ৩৮টি সোনার পদক প্রতিপক্ষের দিয়ে রেখে রূপা আর ব্রোঞ্জের ছকে থাকার ইঙ্গিতই মিলেছে!
গত বছর অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) চলছে অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি। কোচ আব্দুল্লাহেল কাফির পর্যবেক্ষণও বলছে না, ২০০৬ সালের কলম্বো গেমসের ১১০ মিটার হার্ডলসে মাহফুজুর রহমান মিঠুর সর্বশেষ সোনা জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য তার বর্তমান ২৬ শিষ্যের কারো আছে। যা একটু সোনা জয়ের আশ্বাস শুনিয়েছেন, তা লং জাম্পার আল আমিন।
হালের অ্যাথলেটিকস এগিয়ে অনেক; বাংলাদেশ রয়েছে সেই হাতঘড়ির (হ্যান্ড টাইমিং) যুগে! তাতে মেজবাহ, শিরিন, সোহাগী, চুমকিরা ঠিক কত সেকেন্ড দৌড় শেষ করলেন, তা-ই জানা যায় না। এর সঙ্গে এবার প্রস্তুতির সময়ের স্বল্পতা যোগ হওয়ার কথা জানালেন কোচ কাফি।
“প্রস্তুতি মোটামুটি। যতটুকু সময় পেয়েছি, তাতে প্রস্তুতি খুব একটা ভালোও না, মন্দও না। সোনার পদকের স্বপ্নটা আমরা ওভাবে দেখাচ্ছি না। তবে রূপা আর ব্রোঞ্জ আগের তুলনায় ভালোই হবে।”
১০০ মিটার, ২০০ মিটার, ১০০ মিটার রিলে ও লং জাম্প-এই চার ইভেন্ট থেকে পদকের আশা বেশি জানিয়ে কাফি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের ব্যবধানটাও জানান।
“(১০০ মিটার) শ্রীলঙ্কা আর মালদ্বীপের ছেলেরা ভালো। জেনেছি, ভারতের একটা মেয়ে গত ডিসেম্বরে ১১.৪০ সেকেন্ডে দৌড়াছে, আমাদের শিরিনের হ্যান্ড টাইমে সেরা ১১.৮৪। পদকের খুব কাছাকাছি কিন্তু গোল্ড পাওয়ার জন্য তা যথেষ্ঠ নয়।”

তবু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যারা

এসএ গেমসের সবচেয়ে মর্যাদার ইভেন্ট ১০০ মিটার দৌড়ে বাংলাদেশের সর্বশেষ সোনা জয় বিমল চন্দ্র তরফদারের হাত ধরে; সেটা ১৯৯৩ সালের আসরে। ১০.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দেশের দ্রুততম মানব হওয়া মেজবাহ ‘বিমল’ হয়ে ওঠার স্বপ্নটা দেখাচ্ছেন না।
“এটা আমার প্রথম এসএ গেমস। প্রস্তুতি ভালো। টাইমিংও ভালো। সবাই গোল্ড জেতার জন্য নামে। আমি গোল্ড দিতে পারব কিনা জানি না, তবে এতটুকু বলতে পারি, ভালো একটা ফাইট হবে।”
এসএ গেমসের গত আসরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতেছিলেন শ্রীলঙ্কার শেহান সায়েরুয়ানের আবেয়িপের (১০.৪৬ সেকেন্ড)। এই ইভেন্টে এসএ গেমসের রেকর্ড ১৯৯৯ সালের কাঠমান্ডুর আসরে ভারতের অনিল কুমারের (১০.৩৭ সেকেন্ড)। এসব তথ্য শুনে বাস্তবের মাটিতে নেমে আসেন মেজবাহ। “এত কম প্রস্তুতিতে তো আর অত কিছু আশা করা যায় না। তবে খালি হাতে ফিরব না; এটা নিশ্চিত।”
১২.২০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দেশের দ্রুততম মানবী হওয়া শিরিনও রূপা-ব্রোঞ্জের ছকে থাকছেন। তবে প্রথমবারের মতো এসএ গেমসে খেলা বলে একটু বেশিই রোমাঞ্চিত তিনি, “পদক পাওয়ার আশা আছে। ইচ্ছা সোনার কিন্তু অতটকু তো সম্ভব নয়।”
১০০ মিটার রিলেতে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে মেয়েরা। শিরিন ছাড়াও রিলে দলে আছেন জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ৪০০ মিটারে সেরা হওয়া সোহাগী। গতবারের রূপাকে এবার তাই সোনায় রূপ দেওয়ার প্রত্যয় শামসুন্নাহার চুমকির, “গত গেমসের চেয়ে এবার প্রস্তুতির জন্য কম সময় পেয়েছি। তবে আমাদের রিলে দলটা ভালো। আমরা রিলেতে জোর দিচ্ছি, যেন আমরা দেশকে এখান থেকে গোল্ড দিতে পারি।”
গত আসরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ১০০ মিটার হার্ডলসে ফটো ফিনিশিংয়ে সুমিতা রানী দাসের রূপা পাওয়া ছিল উল্লেখ করার মতো প্রাপ্তি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এবার তাকে ভোগাচ্ছে। ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে সুমিতাকে নিয়ে।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এরই মধ্যে ছিটকে দিয়েছে হাই জাম্পে আট বার জাতীয় রেকর্ড ভাঙা নৌবাহিনীর সজীব হোসেনকে। সজীবের জায়গায় সুযোগ পাওয়া মাহফুজুর রহমান ট্রায়ালে ১.৯৫ মিটার লাফিয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ভালো কিছুর।
ঘরের মাঠে গত এসএ গেমসে চাকতি নিক্ষেপে আজহারুল ইসলাম, মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসে জেসমিন আক্তার, মেয়েদের ৪০০ মিটার রিলে এবং লং জাম্পে আল আমিন পেয়েছিলেন ব্রোঞ্জ। ২০০৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৪বার জাতীয় পর্যায়ে লং জাম্পে সেরা আল আমিন এবার সোনার খরা দূর করতে উন্মুখ। ২০১৩ সালে লং জাম্পের সেরার পদকটি যার কাছে হারিয়েছিলেন, সেই ইসমাইলও ভারতে যাচ্ছেন বলে আরও আত্মবিশ্বাসী আল আমিন।
“প্রতিবারই ভালো করতে চাই কিন্তু কেন যে হয় না। গতবার তো আমার সামনে থেকে গোল্ড নিয়ে গেল। এবার আমি আর ইসমাইল গোল্ডের জন্য যাব।”

ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের বার্ষিক অ্যাথলেটিকস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের বার্ষিক অ্যাথলেটিকস্ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বুধবার সকাল ৯টায় জগন্নাথ হল খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মো: মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এসময় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
পরে অপরাহ্নে জগন্নাথ হল খেলার মাঠে হলের বার্ষিক অ্যাথলেটিকস্ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন। এ সময় হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মো: মফিজুর রহমান, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম বাংলাদেশ মাস্টার্স অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু শুক্রবার

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী সাবেক তারকা অ্যাথলেটদের নিয়ে আগামী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম বাংলাদেশ মাস্টার্স অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশ মাস্টার্স অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ আসর বসছে বাংলাদেশে।
প্রতিযোগিতায় ৩৫-৬০ বছর ঊর্ধ্ব মোট ৬টি গ্রুপে ১৪০টি ইভেন্টে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগে বিভিন্ন বয়স ক্যাটাগরিতে কলকাতার ৫০ এবং বাংলাদেশের প্রায় ২৫০ জন সাবেক অ্যাথলেট এই আসরে অংশ নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ মাস্টার্স অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস।
সভাপতি ইব্রাহিম চেঙ্গিস জানিয়েছেন, ‘মাস্টার্স অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বহু বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ দল গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত ৩টি ও ফ্রান্সে ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো সাবেক তারকা অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে আমরা এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি। যেখানে বাংলাদেশের সাবেক তারকা অ্যাথলেটদের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অ্যাথলেটরাও অংশ নেবেন।’
শুক্রবার বিকালে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস।