রাত ৯:৫০, মঙ্গলবার, ২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং

রোববার প্রদান করা হবে ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। ক্রীড়ােেত্র অনন্য অবদানের জন্য ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন ৩২ জন কৃতি খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক। সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল।
২০১০ সালের জন্য পুরষ্কার পাচ্ছেন হারুন-অর-রশিদ (সাঁতার), আতিকুর রহমান (শুটিং), মাহমুদা বেগম (অ্যাথলেটিকস), দেওয়ান নজরুল হোসেন (জিমন্যাস্টিকস), মিজানুর রহমান মানু (সংগঠক), এ এস এম আলী কবীর (সংগঠক), মরহুম তকবির হোসেন (সাঁতার), ফরিদ খান চৌধুরী (অ্যাথলেটিকস), নেলী জেসমিন (অ্যাথলেটিকস), নিপা বোস (অ্যাথলেটিকস, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী)।
২০১১ সালের জন্য পুরষ্কার পাচ্ছেন, রওশন আরা ছবি (জিমন্যাস্টিকস), কাঞ্চন আলী (বক্সিং), আশরাফ আলী (কুস্তি), হেলেনা খান ইভা (ভলিবল), খালেদ মাসুদ পাইলট (ক্রিকেট), রবিউল ইসলাম (ফটিক দত্ত) (শরীর গঠন), জুম্মন লুসাই (মরণোত্তর) (হকি), কুতুবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (আকসির) (সংগঠক), আশিকুর রহমান মিকু (সংগঠক), শহীদ শেখ কামাল (মরণোত্তর) (ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক)।
এ ছাড়া ২০১২ সালের জন্য পুরষ্কার পাচ্ছেন, সাকিব আল হাসান (ক্রিকেট), মোহাম্মদ মহসীন, খুরশিদ আলম বাবুল, আবদুল গাফ্ফার, আশীষ ভদ্র, সত্যজিৎ দাশ রুপু (ফুটবল), ফিরোজা খাতুন (অ্যাথলেটিকস), নাজিয়া আক্তার যুথী (ব্যাডমিন্টন), রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল (সংগঠক), মামুন উর রশিদ (হকি), নুরুল আলম চৌধুরী (সংগঠক)।

ক্রীড়াখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন গুরুত্ব পেয়েছে

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্রীড়াখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন গুরুত্ব পেয়েছে। বেশ কয়েকটি স্টেডিয়াম উন্নয়ন, নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সুইমিং পুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ব্যয় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ছিল ১১৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এবারে তা কমে নেমে এসেছে ৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকায়।

তবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির জন্য বরাদ্দ বেড়েছে। উন্নয়ন খাতে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বিকেএসপির জন্য বরাদ্দ ছিল ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, সেটি বেড়ে এবার ৭২ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় দাাঁড়িয়েছে।

উন্নয়ন খাতে গত অর্থবছরে বাজেট ছিল ১৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সেটি এবার বেড়ে ১৫৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।

যেসব নতুন প্রকল্প নতুন অর্থ বছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলো হলো:

১. নীলফামারি, নেত্রকোনা জেলা স্টেডিয়াম উন্নয়ন ও রংপুরে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ (২১ কোটি ও ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প)।

২. কিশোরগঞ্জ জেলায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়াম উন্নয়ন (১৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প)।

৩. ভৈরবে আইভি রহমান স্টেডিয়াম নির্মাণ (৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার প্রকল্প)।

৪. নাটোর ও গাইবান্ধায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ (৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার প্রকল্প)।

৫. কুমিল্লা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম উন্নয়ন ও সুইমিং পুল নির্মাণ (১৬ কোটি টাকার প্রকল্প)।

৬. চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর সুইমিং পুল নির্মাণ (১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার প্রকল্প)।

৭. সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ (১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রকল্প)।

৮. দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলো সংস্কার ও উন্নয়ন (৪৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রকল্প)।

জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে বিকেএসপি

তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে জেলা পর্যায়ে বাছাই কার্যক্রম আগামীকাল (১৮ মে) থেকে শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। এ জন্য দেশের ৬৪টি জেলাকে চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। মোট ১৭টি ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।

প্রথম দিনে পঞ্চগড়, ভোলা, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ক্রীড়া অফিসার ও জেলার সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষকদের সহযোগিতায় ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের বাছাই সম্পন্ন হবে। এটি চলবে ৪ জুন পর্যন্ত।

শুধুমাত্র ঢাকা জেলার বাছাই পরীক্ষা সাভার বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত হবে। অনূর্ধ্ব-১২ থেকে ১৪ বছর বয়সের ছেলে-মেয়েরা ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, আরচ্যারি, অ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, জুডো, শুটিং, টেবিল টেনিস, কারাতে, তায়কোয়ানদো, উশু ও ভলিবল এবং অনুর্ধ্ব-৮ থেকে ১২ বছর বয়সের ছেলে-মেয়েরা বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অংশ নিতে পারবে।

বাছাইকৃতদের প্রথমে এক মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে ৪ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে আগামী ৩ বছরে সর্বমোট ৩৬০০ খেলোয়াড়দেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে বিজয়ীদের ৪ মাস ৬ থেকে ৮ বছর মেয়াদী প্রশিক্ষনের জন্য বিকেএসপিতে ভর্তিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

কবে কোন জেলায় বাছাই:

১৮ মে: পঞ্চগড়, ভোলা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী
১৯ মে: ঢাকুরগাঁও, বরিশাল, রাজবাড়ী, সুনামগঞ্জ।
২০ মে: দিনাজপুর, ঝালকাঠি, ফরিদপুর, সিলেট।
২১ মে: নীলফামারি, পটুয়াখালি, গোপালগঞ্জ, মৌলভিবাজার।
২২ মে: রংপুর, বরগুনা, মাদারীপুর, মন্সিগঞ্জ।
২৪ মে: লালমনিরহাট, পিরোজপুর, শরিয়তপুর, হবিগঞ্জ।
২৫ মে: কুড়িগ্রাম, বাগেরহাট, নারায়নগঞ্জ, ব্রাক্ষনবাড়িয়া।
২৬ মে: গাইবান্ধা, খুলনা, নারায়নগঞ্জ, চাদপুর।
২৮ মে: বগুড়া, সাতক্ষীরা, ঢাকা, লক্ষীপুর।
২৯ মে: জয়পুরহাট, যশোর, গাজীপুর, নোয়াখালী।
৩০ মে: নওগাঁ, নড়াইল, টাঙ্গাইল, ফেনী।
৩১ মে: চাপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরা, জামালপুর, খাগড়াছড়ি
০১ জুন: রাজশাহী, ঝিনাইদাহ, শেরপুর, রাঙ্গামাটি।
০২ জুন: নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, ময়মংসিংহ, চট্টগ্রাম।
০৩ জুন: পাবনা, মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, বান্দরবান।
০৪ জুন: সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা, কক্সবাজার।

মাহফুজার দ্বিতীয় স্বর্ণ, বাংলাদেশের তৃতীয়

আগের দিন ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন মাহফুজা খাতুন শিলা। সাঁতারের দীর্ঘ ১০ বছর পর দেশকে স্বর্ণজয়ের আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। এবার দেশের হয়ে তৃতীয় এবং ব্যক্তিগত দ্বিতীয় স্বর্ণপদক জিতলেন এই সাঁতারু।
সোমবার ভারতের গুয়াহাটির ডক্টর জাকির হোসেন অ্যাকুয়াটিক কমপ্লেক্সে ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন মাহফুজা। এই পদক জিততে তিনি সময় নিয়েছেন ৩৪ দশমিক ৮৮ সেকেন্ড।
Mahfuja-33মাহফুজা ২০০৬ সালে কলম্বো এসএ গেমসে শ্রীলঙ্কার রাহিম মাইয়ুমির রেকর্ড ভেঙেছেন। ওই লঙ্কান সাঁতারু সেবার ৩৪ দশমিক ৯৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেলেন।
এর আগে ভারোত্তোলনে মাবিয়া আক্তারের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছিল। নারীদের ৬৩ কেজি ওজনশ্রেণিতে সোনালি সাফল্যের আনন্দে দেশকে ভাসিয়েছেন এবং নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
এরপর সাঁতার থেকে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন মাহফুজা। নারীদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন মাহফুজা। দীর্ঘ ১০ বছর পর এসএ গেমসের সাঁতার থেকে স্বর্ণ জিতেছে বাংলাদেশ।
গত রোববার ব্যক্তিগত প্রথম স্বর্ণ জিততে মাহফুজার সময় লাগে এক মিনিট ১৭ দশমিক ৮৬ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে দ্বিতীয় হওয়া পাকিস্তানের লিয়ানা ক্যাথরিন সোয়ানের টাইমিং ছিল এক মিনিট ১৮ দশমিক ৫৮ সেকেন্ড। এক মিনিট ১৮ দশমিক ৭৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জপদক পান ভারতের চাহাত অরোরা।