সন্ধ্যা ৭:০৮, বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারি এশিয়ার ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল ওয়ার্ল্ড আরচ্যারি এশিয়ার সেক্রেটারী জেনারেল উম সাং হো-সহ আরচ্যারি জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী সকলকে নিয়ে বিকেএসপি পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান বিকেএসপি’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান।

এ সময় বিকেএসপি’র কর্মকর্তা, বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও বিকেএসপি’র আরচ্যারি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেএসপি’র মহাপরিচালক আরচ্যারি জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী সকলকে বিকেএসপির বিভিন্ন বিভাগ, স্থাপনা, আরচ্যারি গ্রাউন্ড দেখান।

দশ আরচ্যার চূড়ান্ত বাছাইয়ে

স্পোর্টস রিপোর্টার

২০২০ জাপান অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণজয়ের টার্গেটে ‘তীর-গো ফর গোল্ড’ প্রজেক্ট শুরু করেছে আরচ্যারী ফেডারেশন। এর আওতায় গত ২৩ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর, দেশের ১২টি জেলার ২৫৫৫ জন প্রশিক্ষনার্থীর মধ্যে চুড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ন আরচ্যারদের সার্টিফিকেট প্রদান এবং তীর আরচ্যারী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির সমাপণী ও অনুষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আরচ্যারদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক শোয়েব মো: আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি লে: জেনারেল মো: মইনুল ইসলাম (অব:), সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল, জাতীয় আরচ্যারী দলের কোচ মার্টিন ফ্রেডারিক, ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সিটি গ্রুপের কর্মকর্তা এবং আরচ্যারবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ১৯ জন (১২ জন বালক ও ০৭ জন বালিকা) আরচ্যারের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। ১৯ জনের মধ্যে ১০ জন (০৯ জন বালক ও ০১ জন বালিকা) আরচ্যারকে দীর্ঘমেয়াদে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এরা হলেন অং শিং মারমা (বান্দরবান), দীপন মুরুং (বান্দরবান), আবু সুফিয়ান প্রান্ত (দিনাজপুর), ইমরান হোসেন (ঢাকা), জান্নাতুল ইসলাম খান (ফরিদপুর), রাহাত শেখ (নড়াইল), রিফাত উজ্জামান অভয় (রাজশাহী), সৌরভ রায় (নীলফামারী), উঅং শিং মারমা (চট্টগ্রাম), উ সাইং মে মারমা (বান্দরবান)।

আবারো হিটেই বাদ শ্যূটার সাব্বির

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের শ্যূটিং ইভেন্টের বাছাই পর্ব থেকেই আবারো বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আজ রবিবার স্কিট ইভেন্টের হিট রাউন্ড থেকে বাদ পড়েন সাব্বির হাসান। আর আরচ্যারির পুরুষ কম্পাউন্ড ইভেন্টে এলিমিনেশন রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন জাবেদ আলম, অসিম কুমার ও আবুল কাশেম মামুন। শ্যূটার সাব্বির হাসান দ্বিতীয় দিনের মতো রেঞ্জে নেমেছিলেন স্কিট ইভেন্টে।

কিন্তু দ্বিতীয় দিনেও সুবিধা করতে পারেননি। হিট রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয় তার। ৩০জন শ্যূটারের মধ্যে হয়েছেন ২৭তম। ১২৫ পয়েন্টের মধ্যে করেছেন মাত্র ৯৫ পয়েন্ট। শনিবার শুরু হওয়া এ লড়াইয়ের প্রথম দিনেই তিন শট নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলার পথটা রুদ্ধ করে ফেলেন। প্রথম শুটে মাত্র ১৮ পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় শুটে অবশ্য নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। ২৫-এর মধ্যে করেছিলেন ২৩ স্কোর। কিন্তু তিন নম্বর শুটে গিয়ে ১৭ স্কোর তুলে নিয়ে একেবারেই পিছিয়ে পড়েন। প্রথম দিনেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সাব্বির হাসানের বিদায়।

আজ সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো রেঞ্জে নেমেও সুবিধে করতে পারেননি। চতুর্থ শুট নিয়ে তুলেছিলেন ১৯ এবং শেষ শুটে পান ১৮ পয়েন্ট। পাঁচ শুটে নিজের ঝুলিতে জমা করেন মাত্র ৯৫ পয়েন্ট। ফলে হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হয় তাকে।

আরচ্যারি থেকে‌ও বিদায় 

এদিকে, আরচ্যারির পুরুষ কম্পাউন্ড এলিমিনেশন রাউন্ডে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। লাল-সবুজদের হয়ে লড়াই করা জাবেদ আলম, অসিম কুমার ও আবুল কাশেম স্কোর করেছিলেন ২২৮ পয়েন্ট। আর স্বাগতিক আরচ্যাররা তুলে নেন ২২৩০ পয়েন্ট।

 

মাত্র দুই পয়েন্টের জন্য বিদায় নিলেও এ ইভেন্টে বাংলাদেশের আরচ্যারদের উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরচ্যারি-শ্যূটিংয়েও হতাশা

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসে একের পর এক ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে বাংলাদেশের। আজ শনিবার গেমসের অষ্টম দিনে আরচ্যারির রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে হেরেছে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী দল উভয়ই।

রিকার্ভ দলগত পুরুষ, নারী দুই বিভাগেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে লাল-সবুজরা। ৬-২ সেটে পুরুষরা হেরেছেন মঙ্গোলিয়ার কাছে। পুরুষ দলের হয়ে ইমদাদুল হক মিলন, ইব্রাহিম শেখ ও রোমান সানা।

একই ব্যবধানে নারীদের হার জাপানের বিপক্ষে। নারী দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন নাসরিন আক্তার, ইতি খাতুন ও বিউটি রায়।

আরচ্যারিতে ব্যর্থতার দিনে শ্যূটিং ইভেন্ট থেকে‌ও কোনো আশার খবর পায়নি বাংলাদেশ। সেখানে‌ও ভর করেছে হতাশা। বাকি, আরমিন, আরদিন, শাকিলের পর এবার হতাশ করলেন শ্যূটার সৈয়দ মোহাম্মদ সাব্বির হাসান। স্কিটে টোটাল স্কোর করলেন ৫৮।

কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে প্রথমে করলেন ১৮, এরপর ২৩ এবং তৃতীয় চেষ্টায় ১৭। ত্রিশ জন প্রতিযোগির মধ্যে হলেন ২৮ তম।

ভাল খেলতে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই : রোমান সান

বাংলাদেশ আর্চারির সম্ভাবনাময় তরুণ রোমান সানা। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ব্যক্তিগত রিকার্ভে পৌঁছেছিলেন তৃতীয় রাউন্ডে। টোকিও অলিম্পিক পর্যন্ত বৃত্তি পেয়ে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন সুইজারল্যান্ডে। এশিয়ান গেমসে নিজের সেরা স্কোর করে ছাড়িয়ে যেতে চান রোমান সানা নিজেকেই।

প্রশ্ন : এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে?

রোমান সানা : খুবই ভালো। সিটি গ্রুপের তীর স্পন্সর হওয়ার পর টানা অনুশীলনে আছি আমরা। বাংলাদেশের আর্চারিতে এটা ভাবা যেত না একটা সময়। জার্মান কোচ ফ্রেডরিখ আসার পর সবার স্কোরে উন্নতি হয়েছে অনেক। আমরা প্রথমবার সুযোগ পেয়েছি আর্চারি বিশ্বকাপে। এ সাফল্যটা ছোট করে দেখা যাবে না। আর্চারি বিশ্বকাপ অনেক মর্যাদার টুর্নামেন্ট। সেখানে প্রথমবার অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলেছিল বাংলাদেশ।

প্রশ্ন : ব্যক্তিগত ইভেন্টে আপনি পৌঁছেছিলেন তৃতীয় রাউন্ডে। সব মিলিয়ে হয়েছেন ১৭তম। এটা কি সন্তুষ্টির?

রোমান সানা : প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৭তম হওয়া অবশ্যই সন্তুষ্টির। আমরা চাইনিজ তাইপের চেয়ে আর্চারিতে অনেক পিছিয়ে। সেখানে সেই দেশের আর্চারকে হেড টু হেডে হারিয়েছি আমি। আসলে আমাদের খেলাটাই হেড টু হেডের। ঠিক সময়ে ভালো কয়েকটা নিশানা দরকার।

প্রশ্ন : সেই প্রস্তুতি নিশ্চয়ই আছে আপনার?

রোমান সানা : তা তো বটেই। অজুহাত শোনাতে পারে, এর পরও বলে রাখি—জাকার্তায় বাতাস সমস্যা করতে পারে কিছুটা। জার্মানি বিশ্বকাপে সেই সমস্যায় পড়েছিলাম। আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত প্রচণ্ড বাতাস থাকে না। অনুকূল পরিবেশে অনুশীলন করতে পারি। কিন্তু বাইরের দেশে ব্যাপারটা আলাদা। জার্মানি বা ইন্দোনেশিয়ায় বাতাসের গতি প্রচণ্ড। তাতে সমস্যা হতে পারে কিছুটা। ব্যাপারটা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও এক। আমি চেষ্টা করব নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

প্রশ্ন : রিকার্ভের ব্যক্তিগত ইভেন্টে আপনার সেরা স্কোর কত?

রোমান সানা : খুব খারাপ বলব না। ৭২০-এর মধ্যে ৬৭৯। এ স্কোরটা করতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালে পৌঁছানো অসম্ভব নয়। এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, চাইনিজ তাইপে, জাপানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্কোর জানি। ৬৭৫ থেকে ৬৯০-এর ঘরে ঘোরাফেরা করে স্কোরটা। আমি নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারলে, দেখা যাক কী হয়?

প্রশ্ন : কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ বাংলাদেশের সেরা আর্চার মনে করেন আপনাকে।

রোমান সানা : আমার সৌভাগ্য তিনি এতটা পছন্দ করেন। সুইজারল্যান্ডে আমার বৃত্তি পাওয়ায় ভীষণ খুশি তিনি। কোচ হয়ে এসে আপন করে নিয়েছেন পুরো দেশটাকে। আমরা যেমন দেশের জন্য ভালো করতে সব উজাড় করে খেলতে চাই, তেমনি ফ্রেডরিখও নিজের জানা সব কৌশল শেখাচ্ছেন আমাদের।

দ্বিতীয় বছরে অর্থ বাড়লো আর্চারির

‘গো ফর গোল্ড’ কর্মসূচির দ্বিতীয় বছরে আর্চারী ফেডারেশনকে ৪০ লাখ টাকা বেশি অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান তীর। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শোয়েব মো: সৈয়দ আসাদুজ্জামান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সাফ আর্চারী, এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক এবং বিশ্ব আর্চারীতে বাংলাদেশের আর্চারা আরো ভাল ফল করবে। চলতি বছর আর্চারী ফেডারেশনকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় আর্চারী ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল এবং প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১০জন আর্চারকে পাঁচ হাজার টাকা করে বৃত্তির অর্থ দেয়া হয়।

আরচারিতে সাফল্যের আশা

গেল কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে আরচারি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আসরও বসেছে ঢাকায়। এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ের পর সবচেয়ে বড় বহর এবারেরর গেমসে আরচারির। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত ট্রেনিংয়ের পরও সেই আরচারিও এশিয়ান গেমস নিয়ে আশার কথা শোনাতে পারছে না। অন্য ডিসিপ্লিনের মতো তাদের প্রত্যাশা অতীতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। লক্ষ্য বড় জোর কোয়ার্টার ফাইনাল।

মাত্র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে এসেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। এসেই ব্যস্ত এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে। আগামী ১৮ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়ান গেমসে তীর-ধনুকের লড়াইয়ে নামবেন প্রতিযোগীরা। দীর্ঘ প্রস্তুতির আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছে বাংলাদেশের আরচাররা। তাছাড়া ঢাকায় ইসলামিক সলিডারিটি ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পদক তালিকার শীর্ষে থেকে আলোড়ন তোলেন রোমান সানা-সজীবরা। তাতে আত্মবিশ্বাসী হয়েই এশিয়ান গেমসে খেলবেন আরচাররা। আরচারদের মানোন্নয়নে বিখ্যাত কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল পদক জয়ের আশ্বাস না দিলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের কথা উল্লেখ করেন। সাফ চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের অভিজ্ঞতা যেখানে আছে সেখানে পদক জয় সম্ভব নয় কেন? চপল বলেন, ‘অলিম্পিকের পর এশিয়ান গেমসই বড় গেমস। সুতরাং এখানে পদক জিতব সেই আশা করাটা এখনই ঠিক হবে না। তবে জার্কাতা গেমসে বাংলাদেশের আর্চাররা কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ১৩ জন আরচার অংশ নেবেন। রিকার্ভ বিভাগে চারজন পুরুষ, তিনজন মহিলা, কম্পাউন্ডে তিনজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা অংশ নেবেন। দুই কোচ হিসেবে যাচ্ছেন মার্টিন ফ্রেডরিখ ও জিয়াউল হক।

রোকসানার বাজিমাত

সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশী আরর্চার রোকসানা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তীরন্দাজ ইরাকের ফাতিমাকে পরাস্ত করে কম্পাউন্ড নারী এককের স্বর্ণ পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি। আজ বুধবার ফাইনালের মহারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ১৩৬-১৩৩ সেট পয়েন্ট ব্যবধানে স্বর্ণ জেতেন বাংলাদেশের এই তারকা।

সতীর্থ আর্চারের সঙ্গে পদক হাতে রোকসানা

স্বর্ণ পদক জয়ের পর মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে রোকসানা ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেন স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা অভিনন্দনের বন্যায় সিক্ত করেন তাকে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে পরাস্ত করে স্বর্ণ পদক জয় করা রোকসানা নিজেও আপ্লুত। তিনি জানান, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) ফাইনাল নিশ্চিতের পর আমি জানিয়ে ছিলাম নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা। আজ যখন তীর নিয়ে বোর্ডের সামনে দাঁড়াই, তখন আমার আত্মবিশ্বাস একটু সময়ের জন্যও হারাইনি। আমার মনে হয়েছিল, আমি পারবো। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই আজ আমি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে পরাস্ত করে পদক জিতেছি। এ আনন্দ আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

রোকসানা লক্ষ্য এখন আরো উপরে। নিজের মাটিতে নয়, এবার দেশের পতাকা উড়াতে চান বিদেশের মাটিতেও। আরো বড় আসরে উজ্জ্বল করতে চান নিজ দেশের মুখ। পদক ছিঁনিয়ে আনতে চান দেশের হয়ে। এজন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার দাবী করেন তিনি।

আরচ্যারিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

দ্বিতীয় আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জিতেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দশ ইভেন্টের মধ্যে পাঁচটি স্বর্ণ, তিনটি রৌপ্য নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতলো স্বাগতিকরা। তবে গেলো আসরে জেতা ছয়টি সোনার পদকের রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় কিছুটা হতাশা আর্চাররা।

কম্পাউন্ড পুরুষ এককে বাংলাদেশের অসীম কুমার দাস ১৪০-১৩৪ স্কোরের ব্যবধানে স্বদেশী আবুল কাশেম মামুনকে, কম্পাউন্ড মহিলা এককে বাংলাদেশের রোকসানা আক্তার ১৩৬-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে ইরাকের আল মাসহাদানী ফাতিমাকে, কম্পাউন্ড মিশ্র দলগতভাবে ইরাক (আল মাসহাদানী ফাতিমা ও সাখান ওয়ালিদ হামিদ) ১৪৬-১৪৩ স্কোরের ব্যবধানে বাংলাদেশ (অসীম কুমার দাস ও রোকসানা আক্তার) কে, কম্পাউন্ড পুরুষ দলগতভাবে বাংলাদেশ (অসীম কুমার দাস, মো: আবুল কাশেম মামুন ও মো: মিলন মোল্লা) ২২৫-২০৫ স্কোরের ব্যবধানে ইরাক (‘আল দাঘান ইসহাক, ফাইয়াধ আব্দুল্লাহ্ ও মোতির আমির) কে এবং কম্পাউন্ড মহিলা দলগতভাবে বাংলাদেশ (রোকসানা আক্তার, বন্যা আক্তার ও রিতু আক্তার) ২১৬-১৫২ স্কোরের ব্যবধানে মরক্কো (‘এল আসাদি কাদিয়া, এল ফাইজ সৌদ ও কারদাউদ ফাতিমা জাহরা) কে পরাজিত করে গোল্ড মেডেল জয় করেন।

চ্যাম্পিয়নশীপস শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া উপ-মন্ত্রী আরিফ খান জয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি লে: জেনারেল মইনুল ইসলাম ‌ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।

আরচ্যারীর ১০ ইভেন্টের ৯টির ফাইনালে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশীপে ১০ ইভেন্টের ৯টির ফাইনালে উঠেছেন বাংলাদেশের আরচ্যাররা। ৯ ইভেন্টের একটি আবার ‘অল বাংলাদেশ’ ফাইনাল। যার অর্থ একটি স্বর্ণ নিশ্চিত বাংলাদেশের।

মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় দিনেও ছিল বাংলাদেশীদের দাপট। একমাত্র রিকার্ভ নারীদের ব্যক্তিগত ইভেন্টেই পারেনি ফাইনালে উঠতে। রিকার্ভ পুরুষ ব্যক্তিগত ইভেন্টের ফাইনালে উঠেছেন রোমান সানা। বাংলাদেশের স্বর্ণ নিশ্চিত কম্পাউন্ড পুরুষ এককে। এ ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের দুই আরচ্যার আবুল কাশেম মামুন ও অসীম কুমার দাস।

কম্পাউন্ড নারী ব্যক্তিগত ইভেন্টের ফাইনালে উঠেছেন রোকসানা আক্তার। তাছাড়া রিকার্ভ পুরুষ দলগত, রিকার্ভ নারী দলগত, রিকার্ভ মিশ্র দলগত, কম্পাউন্ড নারী দলগত, পুরুষ দলগত এবং কম্পাউন্ড মিক্সড দলগত ইভেন্টের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

তীর আরচ্যারী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি

নীলফামারী জেলায় শুরু হলো `তীর গো ফর গোল্ড’ প্রজেক্টের আওতায় ‘তীর আরচ্যারী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি’। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার এবং নীলফামারী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।

প্রথম দিনে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে ৪০০ জন বালক ও বালিকা অংশ নেয়। তাদের মধ্য হতে ১০০ জনকে বাছাই করা হয়। আগামীকাল রোববার বাছাই করে ২০ জন বালক ও বালিকাকে পরবর্তী ০৮ দিন প্রশিক্ষণ দিয়ে র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে আবু সাঈদ ভূইয়া এবং সহকারী প্রশিক্ষক হিসেবে বিপু রায় দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৭ মে কর্মসূচির সমাপণী দিনে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ২ জন বালক ও বালিকা নির্বাচন করা হবে।

আর্চারির প্রতিভা অন্বেষণ

তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় বাছাই করতে আগামী সোমবার থেকে ‘তীর গো ফর গোল্ড’ কর্মসূচী শুরু করছে বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন। এ বছর রাজধানী ঢাকাসহ ১২টি জেলা থেকে প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করা হবে।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এ কর্মসূচীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। তিনি জানান, প্রতিটি জেলা থেকে শুরুতে ৫০ জনকে বাছাই করা হবে। পরে সেখান থেকে ২০ জনকে ৮ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এরপর সেরা দুজনকে আনা হবে ঢাকায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য।

এভাবে ১২টি জেলা থেকে মোট ২৪ জন খেলোয়াড়কে বাছাই করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় এই খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি পিরচালনা করবে আর্চারি ফেডারেশন। প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে প্রস্তত করা হবে জাতীয় দলের জন্য। এ কর্মসূচির পৃষ্ঠপোষক সিটি গ্রুপ।

ছয়টি স্বর্ন সহ ১২টি পদক জয় বাংলাদেশের

তৃতীয় দক্ষিণ এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশীপে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছয়টি স্বর্ন সহ মোট ১২টি পদক জিতেছে। বিকেএসপিতে প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে, রিকার্ভ পুরুষ এককে স্বাগতিক দেশের ইব্রাহিম শেখ রেজোয়ান ৭-১ সেট পয়েন্টে একই দেশের রুমান সানাকে পরাজিত করে প্রথম স্বর্ন পদক জেতেন।

কম্পাউন্ড মহিলা এককে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বাংলাদেশের রোকসানা আক্তার ১৪০-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে স্বাগতিক দলের সুস্মিতা বনিককে হারিয়ে গোল্ড জেতেন। রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশের রুমান সানা ও নাসরিন আক্তার ৫-১ সেট পয়েন্টে ভারতের সুমেদ ভি মোহোদ ও হিমানীকে পরাজিত করে স্বর্ন জেতেনে। এদিকে কম্পাউন্ড মিশ্র এবং পুরুষ দলগত ইভেন্টে, রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশ স্বর্ন পদক জেতে।

কম্পাউন্ড মহিলা এককে বাংলাদেশের রোকসানা আক্তার

রিকার্ভ মহিলা এককে ভারতের প্রতিযোগী হিমানী ৬-৩ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে বাংলাদেশের নাসরিন আক্তারকে পরাজিত করে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককে ভারতের হারস পরসার ১৪৪-১৪১ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের ভেনকাতাদ্রি কুন্দেরুকে পরাজিত করে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।

বিকেলে প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন যুব ‌ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। এ সময় বিকেএসপি’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামছুর রহমান ‌ও আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল উপস্থিত ছিলেন।

পদক তালিকা
দেশের নাম রিকার্ভ কম্পাউন্ড মোট

গোল্ড সিলভার ব্রোঞ্জ মোট গোল্ড সিলভার ব্রোঞ্জ মোট সর্ব মোট

বাংলাদেশ ৩ ৩ ০ ৬ ৩ ২ ১ ৬ ১২
ভারত ২ ২ ২ ৬ ২ ৩ ১ ৬ ১২
শ্রীলংকা ০ ০ ২ ২ ০ ০ ১ ১ ৩
নেপাল ০ ০ ১ ১ ০ ০ ১ ১ ২

বাংলাদেশের ৫ স্বর্ন জয়

তৃতীয় সাউথ এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশীপের শেষ হ‌ওয়া আটটি ইভেন্টের মধ্যে পাচটিতেই স্বর্ন পদক জিতেছেন স্বাগতিক বাংলাদেশর আরচ্যাররা। সাভারের বিকেএসপিতে, রিকার্ভ পুরুষ এককে ইব্রাহিম শেখ রেজোয়ান ৭-১ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে রুমান সানাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশীপসের প্রথম গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।

রিকার্ভ মহিলা এককে ভারতের হিমানী ৬-৩ সেট পয়েন্টে বাংলাদেশের নাসরিন আক্তারকে হারিয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককে ভারতের হারস পরসার ১৪৪-১৪১ স্কোরে একই দেশের ভেনকাতাদ্রি কুন্দেরুকে পরাজিত করে গোল্ড মেডেল জয় করেন। কম্পাউন্ড মহিলা এককে বাংলাদেশের রোকসানা আক্তার ১৪০-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের সুস্মিতা বনিককে হারিয়ে স্বর্ন পদক জয় করেন।

কম্পাউন্ড মহিলা এককে বাংলাদেশের রোকসানা আক্তার

এদিকে, রিকার্ভ মিশ্র দলগত বিভাগে স্বাগিতক দেশের রুমান সানা ও নাসরিন আক্তার ৫-১ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে ভারতের সুমেদ ভি মোহোদ ও হিমানীকে পরাজিত করে গোল্ড মেডেল জেতেন। কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত বিভাগে বাংলাদেশের অসীম কুমার দাস ও বন্যা আক্তার ১৫৩-১৪৮ স্কোরের ব্যবধানে ভারতের ভেনকাতাদ্রি কুন্দেরু ও ইশা কেতন পাওয়ারকে হারিয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।

রিকার্ভ মহিলা দলগতভাবে ভারতের হিমানী, কির্তি ও রিতা সাওয়াইয়ান ৬-২ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে স্বাগতিক দলের নাসরিন আক্তার, রাদিয়া আক্তার শাপল ও রাবেয়া খাতুনকে পরাজিত করে গোল্ড মেডেল অর্জন করে। কম্পাউন্ড পুরুষ দলগতভাবে বাংলাদেশের অসীম কুমার দাস, আবুল কাশেম মামুন ও আশিকুজ্জামান অনয় ২২৬-২২৫ স্কোরের ব্যবধানে ভারতের ভেনকাতাদ্রি কুন্দেরু, মায়াংক রাওয়াত ও হারস পরসারকে হারিয়ে স্বর্ন পদক জয় করেন।

বাংলাদেশের ইব্রাহিমের প্রথম স্বর্ন জয়

তৃতীয় দক্ষিণ এশিয়ান আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিনে স্বাগতিক বাংলাদেশের ইব্রাহিম প্রথম স্বর্ন জিতলেন। বিকেএসপিতে, আজ মঙ্গলবার পুরুষ ব্যাক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে, স্বাগতিক দলের আরেক প্রতিযোগী রুমান সানাকে ৬-২ সেট পয়েন্টে পরাজিত করে স্বর্ন পদক জেতেন, ইব্রাহিম শেখ রেজওয়ান।

সাউথ এশিয়ান আরচারী চ্যাম্পিয়নশিপে ইব্রাহিম শেখ রেজওয়ান

প্রথম স্বর্ণ জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইব্রাহিম বলেন, প্রতিটা তীর মারার সময় বুকের মধ্যে কাঁপ ছিলো। রুমান ভাইকে হারাতে পারবো ভাবতেও পারিনি। গতকাল থেকেই ভাবছিলাম আমি আমার মত খেলবো এবং রৌপ্য পদক পাবো। কিন্তু মাঠে ঘটনা বদলে যায়। খুব ভাল লাগছে ভাল লাগছে যে আমার হাত দিয়ে এবারের ৩য় সাউথ এশিয়ান আরচারী চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম স্বর্ণটি পেল বাংলাদেশ।
খেলা শেষে দুজনকেই অভিনন্দন জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল।

দক্ষিণ এশিয়ান আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিনে ১০টি স্বর্ণ, ১০টি রৌপ্য ও ১০ ব্রোঞ্জ পদক জয়ের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের প্রতিযোগিতা।

সাউথ এশিয়ান আরচ্যারি শুরু

দি ব্লেজার বিডি-বিকেএসপি ৩য় সাউথ এশিয়ান আরচ্যারি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে আজ শনিবার থেকে। ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, পাকিস্তান ও স্বাগতিক বাংলাদেশের মোট ৬৫ জন তীরন্দাজ এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামছুর রহমান চারদিনের এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল ও ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

প্রতিযোগিতায় রিকর্ভ ইভেন্টে- ২১ জন পুরুষ ও ১৫ জন মহিলা এবং কম্পাউন্ড ইভেন্টে ১৮ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।বাংলদেশের দুটি দল এ ও বি নামে অংশ নিচ্ছে। তীরন্দাজরা রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড ইভেন্টে ১০টি স্বর্ণ, ১০টি রৌপ্য ও ১০টি তাম্রসহ মোট ৩০টি পদকের জন্য লড়বেন।

সাউথ এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশীপ

আগামী শনিবার থেকে বিকেএসপিতে শুরু হবে তৃতীয় সাউথ এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশীপ। ২০০৬ সালে বিকেএসপিতে প্রথম আসর শুরুর পর ২০০৮ সালে দ্বিতীয় আসর বসে ভারতের জামসেদপুৃরে। পরবর্তী ১০ বছর আসর মাঠে গড়ায়নি।

আজ বৃহস্পতিবার বিওএ ভবনের ডাচ-বাংলা অডিটরিয়ামে প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল। সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে পৃষ্ঠপোষক বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুর রহমান, ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান দীপু ও সদস্য রফিকুল ইসলাম টিপু উপস্থিত ছিলেন।

আসরে ইতিমধ্যে ভারত. নেপাল, শ্রীলংকা ও স্বাগতিক বাংলাদেশের দুটি দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত হয়েছে। ভিসা জটিলতা শেষ হলে আগামীকাল শুক্রবার পাকিস্তান দল এসে শনিবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। অপরদিকে আরচ্যারিতে সফল দেশ হলেও ভুটান অংশ নিচ্ছেনা, সেদেশের সরকারী পর্যায়ে বিধি নিষেধের কারনে।

প্রতিযোগিতা হবে রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড ডিভিশনে (পুরুষ ও মহিলা)। পাচ ইভেন্টে- পুরুষ একক ও দলীয়, মহিলা একক ও দলীয় এবং মিশ্র দ্বৈত। প্রতিযোগীরা লড়বেন ১০টি করে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদকের জন্য। বাংলাদেশের কোন প্রতিযোগী দক্ষিন এশীয় পর্যায়ে স্বর্ণ পদক না পেলেও এবার একাধিক ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ে আশাবাদী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। ফেডারেশনের জার্মান কোচ ৩৫ জন শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে দুটি দল গঠণ করেছেন।

আরচ্যারিতে জার্মান কোচ

‘তীর গো ফর গোল্ড’ প্রোগ্রামের আওতায় জার্মান কোচ ফ্রেডেরিক মার্টিনকে নিয়েই অলিম্পিকে পদক জয়ের লক্ষ্যে নেমেছে বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশন। ১৯৬৮ সাালে বার্লিনে জন্ম নেয়া জার্মান কোচ ফ্রেডেরিক গত ছয় বছর কাজ করেছেন চিলির জাতীয় আরচারি দলের কোচ হিসেবে। লিপজিগ স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি থেকে কোচিংয়ে সার্টিফিকেট পাওয়া ফ্রেডরিক এরআগে জার্মানীর হেড কোচ, জুনিয়র দলের কোচ এবং বার্লিনের অলিম্পিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করেন

প্রোজেক্টের আওতায় উদীয়মান আরচ্যার এবং জাতীয় দলের আরচ্যারদের ক্রীড়া নৈপুণ্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জার্মান কোচ ‘ফ্রেডরীক মার্টিন’ কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জার্মান কোচ ফ্রেডরিক মার্টিন গত ১৪ ফেব্রুয়ারী থেকে টঙ্গিতে আরচ্যারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাস্টার স্টেডিয়ামে, এদেশের আরচ্যারদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

আজ সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে ফ্রেডেরিক মাটির্নের সঙ্গে বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে নবায়ন করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল এবং সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (মার্কেটিং এন্ড ফাইন্যান্স) শোয়েব মো: আসাদুজ্জামান ‘তীর গো ফর গোল্ড’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক মো: আনিসুর রহমান দিপু, ফেডারেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিটি গ্রুপের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ আরচ্যারিতে ফ্রেডেরিক পঞ্চম বিদেশী কোচ। ভারতীয় নিশীথ দাস ছিলেন প্রথম বিদেশী। যিনি অদ্যাবধি কাজ করে যাচ্ছেন আরচ্যারির সঙ্গে। এরপর ব্রিটিশ রিচার্ড জন প্রিয়েস্টম্যান বাংলাদেশে এসেছিলেন। কোরিয়ার মেউন কুন পার্ক কাজ করেছেন বাংলাদেশের আরচ্যারদের নিয়ে। সবশেষ বিদেশী কোচ হিসেবে এসেছিলেন কোরিয়ার কোচ হেগ ইয়ং কিম।

জাতীয় আরচ্যারী সমাপ্ত

রোকসানা আক্তারের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তীর ৯ম জাতীয় আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশীপ। টঙ্গির শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাস্টার স্টেডিয়ামে, রিকার্ভে দলীয় রেকর্ড গড়েন বিকেএসপির আরচ্যারারা। আর ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাবের রোকসানা আক্তার তিনটি স্বর্ণ পদক জয় করে চ্যাম্পিয়নশীপে সেরা আরচ্যার নির্বাচিত হন। প্রতিযোগিতা শেষে আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি লে: জেনারেল মইনুল ইসলাম (অব:) বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন। এ সময় স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) শোয়েব মো: আসাদুজ্জামান ‌ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল উপস্থিত ছিলেন।

রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে বিকেএসপি সর্বোচ্চ ১৯৩৭ স্কোর করে ২০১৪ সালের রেকর্ড (১৮২৪ স্কোর) ভেঙ্গে নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করে। এছাড়াও কম্পাউন্ড পুরুষ এককে বাংলাদেশ আনসারের মিলন মোল্লা সর্বোচ্চ ৬৮৫ স্কোর করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন। সমাপনী দিনে মেডেল ম্যাচে রিকার্ভ পুরুষ এককে আনসারের রুমান সানা ৭-৩ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে বিকেএসপির শেখ সজিবকে পরাজিত করে স্বর্ণ জয় করেন। মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম (বিকেএসপি) ৭-১ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে ইব্রাহিম শেখ রেজোয়ানকে (তীরন্দাজ সংসদ) পরাজিত করে ব্রোঞ্জ। মহিলা এককে বিউটি রায় (তীরন্দাজ সংসদ) ৭-৩ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে নাসরিন আক্তারকে (ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাব) পরাজিত করে গোল্ড, ইতি খাতুন (তীরন্দাজ সংসদ) ৬-৪ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে রাবেয়া খাতুনকে (বিকেএসপি) পরাজিত করে ব্রোঞ্জ লাভ করেন।

কম্পাউন্ড পুরুষ এককে আশিকুজ্জামান (তীরন্দাজ সংসদ) ১৪৩-১৩৮ স্কোরের ব্যবধানে রতন মিয়াকে (ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাব) পরাজিত করে স্বর্ণ, অসীম কুমার দাস (তীরন্দাজ সংসদ) ১৪২-১৩২ স্কোরের ব্যবধানে সুমন কুমার দাসকে (এএসপিটিএস) পরাজিত করে ব্রোঞ্জ, রোকসানা আক্তার (ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাব) ১৪০-১৩৯ স্কোরের ব্যবধানে সুস্মিতা বনিককে (ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাব) পরাজিত করে গোল্ড, বিপাশা আক্তার (তীরন্দাজ সংসদ) ১০০-৯৫ স্কোরের ব্যবধানে বন্যা আক্তারকে (বাংলাদেশ আনসার) পরাজিত করে ব্রোঞ্জ মেডেল জয় লাভ করেন।

রিকার্ভ পুরুষ দলগতভাবে বিকেএসপি (হাকিম আহমেদ রুবেল, শেখ সজিব ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম) ৫-১ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে তীরন্দাজ সংসদকে (ইব্রাহিম শেখ রেজোয়ান, সাকিব মোল্লা ও আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন) পরাজিত করে গোল্ড, বাংলাদেশ আনসার (রুমান সানা, ইমদাদুল হক মিলন ও শাহ আলমগীর) ৬-২ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাবকে (তোফাজ্জল হোসেন, মিজানুর রহমান ও আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন) পরাজিত করে ব্রোঞ্জ, মহিলা দলগতভাবে ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাব (শ্যামলী রায়, নাসরিন আক্তার ও ইসরাত জাহান) ৫-৩ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে বিকেএসপিকে (রাদিয়া আক্তার শাপল, রাবেয়া খাতুন ও হিরা মনি) পরাজিত করে গোল্ড, বাংলাদেশ আনসার (নাজমিন খাতুন, মাথুই প্রু মারমা ও আফরোজা আক্তার সাথী) ৫-৩ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে এএসপিটিএসকে (কানিজ ফাতেমা নিপা, খাদিজা ও সুরমা) পরাজিত করে ব্রোঞ্জ, মিশ্র দলগতভাবে বিকেএসপি (রাদিয়া আক্তার শাপলা ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম) ৫-১ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে ঢাকা আর্মি আরচ্যারী ক্লাবকে (তোফাজ্জল হোসেন ও নাসরিন আক্তার) পরাজিত করে গোল্ড, তীরন্দাজ সংসদ (ইব্রাহিম শেখ রেজোয়ান ও বিউটি রায়) ৪*-৪ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে বাংলাদেশ আনসারকে (রুমান সানা ও নাজমিন খাতুন) পরাজিত করে ব্রোঞ্জ মেডেল জয় লাভ করে। দু’জনের পয়েন্ট সমান (টাই) হওয়াতে পরবর্তীতে ১টি করে তীর ছুড়ার মাধ্যমে পদক নির্ধারিত হয়।

শুরুতেই রুমান সানার রেকর্ড

জাতীয় আরচ্যারির উদ্বোধনী দিনেই রেকর্ড গড়লেন রুমান সানা। আজ বুধবার টঙ্গির আরচ্যারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাস্টার স্টেডিয়ামে তীর নবম জাতীয় আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশীপের রিকার্ভ ডিভিশনের পুরুষ এককে বাংলাদেশ আনসারের রুমান সানা, ২০১৬ সালের ৬৫২ স্কোরের নিজ রেকর্ড ভেঙ্গে ৬৫৪ স্কোর করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন।

রিকার্ভ ডিভিশনে পুরুষ এককে ইলিমিনেশন রাউন্ডের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন কম্পাউন্ড ডিভিশনে মহিলা এককে ইলিমিনেশন রাউন্ডের প্রতিযোগিতা‌ও হয়।
এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) শোয়েব মো: আসাদুজ্জামান, আরচ্যারী ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান দিপু ‌ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। চারদিনের এই প্রতিযোগিতায় ৩২টি দলের ১৪২ জন পুরুষ ও মহিলা আরচ্যার অংশ নিচ্ছেন।

জাতীয় আরচ্যারি শুরু বুধবার

৩১টি দলের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘তীর নবম জাতীয় আরচ্যারি প্রতিযোগিতা’। এ উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টঙ্গির শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে, রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড ডিভিশনে ১৩৯ জন তীরন্দাজ অংশ নেবেন।

দুই দিনের এই প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ব্র্যান্ড ম্যানেজার রবিউল আহমেদ।

আর্চারির ইতিহাসে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য

প্রত্যাশার মাত্রাকে‌ও ছাড়িয়ে গেছে এশিয়ান আর্চারির আয়োজক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্বাগতিক দলের লক্ষ্য ছিল শীর্ষ দশে থাকা। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে এবারের আসরে বাংলাদেশ শীর্ষ সাতে উঠে এসেছে।

শুধু তাই নয়, প্রথম দুই দিন স্বাগতিক দলের হয়ে আলো ছড়িয়েছে আবুল কাশেম মামুন। পুরুষ একক কম্পাউন্ড ইভেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে তিনি চমক দেখান। এবারের আসরে তার সফলতাকেই সেরা মনে করা হচ্ছিল স্বাগতিক শিবিরে। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার মহিলা দলগত কম্পাউন্ডের সেমিফাইনালে উঠে শুধু চমকই দেখাননি বাংলাদেশের তিন আর্চার রোকসানা আক্তার, বন্যা আক্তার ও সুস্মিতা বণিক; পদক জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন।

এবারো বাংলাদেশ দলের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারত। অভিষেক ভার্মা মামুনকে বিদায় করেছিলেন কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। আর বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে প্রথমবারের মত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হল বাংলাদেশ নারী দল। এরপর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে আরেক শক্তিশালী দল ইরানের কাছে হেরে এবারের মতো এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের সমাপ্তি ঘটায় তারা।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সকালে কোয়ার্টার ফাইনালে চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হয় রোকসানা-বন্যা-সুস্মিতারা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তাইপেকে ২২৪-২২২ পয়েন্টে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শেষ চারে পা রাখে আর্চাররা।

এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের যে কোনো ইভেন্টের সেমিফাইনালে ওঠাই বাংলাদেশ আর্চারির ইতিহাসে সেরা সাফল্য। কিন্তু সেমিতে ভারতের বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। হারে ২২৮-২১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে।

অভিজ্ঞতা আর ম্যাচ কম খেলা এ দুইয়ের অভাবেই এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক হয়েও ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও এই টুর্নামেন্টে পদক জেতার আশা ছিল না। ভালো খেলাই ছিল বাংলাদেশের লক্ষ্য। এবার সেই লক্ষ্যেও চেয়েও বেশি সফলতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কোচ নিশীথ দাস।

তিনি বলেন, ‘ইরান শক্তিশালী দল। তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিনই। তারপরও মেয়েরা যতটুকু চেষ্টা করেছে ভালোই করেছে। আমাদের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা খুবই কম। বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে আমার দল ভবিষ্যতে আরো ভালো ফল করবে।’

শেষ আট থেকে বিদায় মামুনের

প্রথমবারের মত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশীপ। বাংলাদেশের এই আয়োজনকে আরো রঙ্গিয়ে তুলেছিলেন স্বগতিক আরচ্যার আবুল কাশেম মামুন। পুরুষদের একক কম্পাউন্ড বিভাগে কারাবাইয়েভকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠা এই বাংলাদেশী তীরন্দাজ ওই রাউন্ডে ১৫০ পয়েন্টের মধ্যে ১৪৯ পয়েন্ট নিয়ে তাইপের ওয়েং ইকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। বিশ্ব মানের কোন আরচ্যারের পক্ষেই সম্ভব এমন স্কোর করা।

তবে আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সকালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও শেষ পর্যন্ত হার মানেন ভারতের অভিষেক ভার্মার কাছে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় মামুনকে। কম্পাউন্ড এককের এই কোয়ার্টার ফাইনালে ১৪১ স্কোর করেছিলেন মামুন। ১৪৮ স্কোর করে তাকে টপকে যান ভারতের অভিষেক।

অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়েছে বাংলাদেশ আনসারের এই আরচ্যারকে। গত ২২ নভেম্বর বিএ শেষ বর্ষের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সেই প্রস্তুতিও ছিল মামুনের। পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় ঘরের মাঠে এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুবর্ণ সুযোগ পান নড়াইলের এই আরচ্যার। পরীক্ষা না পেছালে হয়তো তাকে এই প্রতিযোগিতায় পাওয়া যেত না। যেমনটি অংশ নিতে পারছেননা সজিব।

আজ পরাজিত হবার পর কিছুটা হতাশ মামুন জানান, ‘আসলে বড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের অভিজ্ঞতা আমাদের কম। তাই এই পর্যায়ে এসে কিছুটা নার্ভাসনেস ছিল। সেই সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিকুলে বাতাসের প্রবাহ।’

তিনি আর‌ও বলেন, ‘আগামীতে আরো ভাল করতে হলে অবশ্যই আরো বেশী করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিতে হবে। ভারত বা কোরিয়ার আরচ্যাররা যে পরিমান টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পায় তার ধারে কাছেও নেই আমরা।’

২০০৯ সাল থেকেই বাংলাদেশে রিকার্ভ ইভেন্টের সেরার অবস্থান ধরে রাখা নড়াইলের ছেলে মামুন। এর আগে ইসালামী সলিডারিটি আরচ্যারিতে দুটি স্বর্ন পদক জয় করেন তিনি। ১৭ দেশের অংশগ্রহনে ওই প্রতিযোগিতায় তিনি মিক্স টিম ও টিম ইভেন্টে স্বর্ন পদক জয় করেছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাধান্য

২০তম এশিয়ান আরচ্যারির চতুর্থ দিনে আজ বুধবার চারটি ইভেন্টে পদক নির্ধারিত হয়েছে। পদক নির্ধারনী এই প্রতিযোগিতায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

পুরুষদের ব্যক্তিগত কম্পাউন্ডে ভারতের অভিষেক ভার্মা স্বর্ন পদক জয় করলেও বাকী তিনটি ইভেন্টের স্বর্ন পদক ঘরে তুলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুধু স্বর্ন পদকই নয় চার ইভেন্ট থেকে তারা সব মিলিয়ে জিতে নিয়েছে আটটি পদক।

সকালে পুরুষদের ব্যক্তিগত কম্পাউন্ডে শেষ আটের লড়াইয়ে বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুনকে হারিয়ে দেয়া ভারতের অভিষেক ভার্মা স্বর্ন পদকের লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম জংহোকে হারিয়ে স্বর্ন পদক জয় করেন। জংহোকে রৌপ্য পদক নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছে। তারই স্বদেশী হং সুং হো জয় করেন ব্রোঞ্জ পদক।

মহিলাদের ব্যক্তিগত কম্পাউন্ডে স্বর্ন পদক জয় করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সং ইয়ন সু। স্বদেশী চোল বোমিন জিতে নিয়েছেন রৌপ্য পদক। এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন ভারতের জয়তি সুরেখা ভেনাম।

পুরুষদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে স্বর্ন পদক জয় করেন যথারিতি দক্ষিণ কোরিয়ার লি সিয়ংগিউন। এতে জাপানের কাওয়াতা ইয়কি রৌপ্য এবং চীনের ওয়াং ডাপেং ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।

রিকার্ভের মহিলা ব্যক্তিগত ইভেন্টের তিনটি পদকই জয় করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার আরচ্যাররা। লি ইয়ন গিয়ং স্বর্ন, চোই মিনসিওন রৌপ্য এবং কি বো বেই ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।

বাংলাদেশের ভরসা মামুন

বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশীপে টিকে রইলেন আবুল কাশেম মামুন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, আজ মঙ্গলবার কম্পাউন্ড ইভেন্টে কাজাকিস্থানের আকবর আলি কারাবায়েভকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেন স্বাগতিক দেশের এই আর্চার।

তীব্র প্রতিদন্ধীতার পর এক পয়েন্টের ব্যবধানে কারাবায়েভকে হারান মামুন। তবে সম্ভাবনা জাগিয়েও রিকার্ভ মেনস ইভেন্টে চায়না তাইপের লি-ইয়েন-ইউর কাছে হেরে চতুর্থ রাউন্ড থেকে বাদ পড়েন রোমান সানা।

এদিকে, মেয়েদের ইভেন্টে কম্পাউন্ড ইভেন্টে কোরিয়ার সং ইয়ান সোর কাছে হেরে যান সুস্মিতা বনিকও। আগামীকাল বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের অভিষেক ভার্মার বিপক্ষে খেলবেন আবুল কাশেম মামুন।

কোরিয়ার প্রথম স্বর্ন জয়

এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের ২০তম আসরের প্রথম স্বর্ণ জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কম্পাউন্ড মিশ্র দলগতের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই আরচার কিম জঙ্গো ও সো চিওন ১৫৭-১৫৩ পয়েন্টে হারিয়েছেন ভারতের জোতি সুরেখা ও অভিষেক বর্মনকে। প্রথম স্বর্ণ জয়ের মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পথে এগিয়ে থাকলো কোরিয়ানরা।

এ ইভেন্টের ব্রোঞ্জ জিতেছে কাজাখস্তান। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে কাজাখস্তানের আকবর আলী কারাবায়েভ ও মাকারচুক দিয়ানা ১৫৫-১৫১ পয়েন্টে হারিয়েছেন চাইনিজ তাইপের চিন লু জু ও পান ইউ পিংকে।