সকাল ৮:৪২, সোমবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং

আগামী পাঁচ বছরের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ- আইপিএলের টাইটেল স্পন্সর স্বত্ত্ব ধরে রাখলো মোবাইল ফোন কোম্পানি ভিভো। অবশ্য এজন্য তাদেরকে খরচ করতে হবে ২১৯৯ কোটি রুপি। আগের চুক্তির চেয়ে শতকরা ৫৫৪ ভাগ বেশি।

বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী পাঁচটি আইপিএল আসরের জন্য মোবাইল ফোন কোম্পানী ভিভো নতুন (২০১৮-২০২২) চুক্তি করেছে। এদিকে, চুক্তির পর আইপিএল-এর চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা বলেন, ‘এই সংস্থা আবার আমাদের টাইটেল স্পন্সর হওয়ায় আমরা খুশি। পাঁচ বছরের জন্য ওরা আমাদের সঙ্গে থাকছে। গত দু’বছর ওদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন খুব ভাল ছিল। আমার বিশ্বাস এই চলা আরও বাড়বে।’


২০১৬ এবং ২০১৭ আইপিএল টাইটেল কিনতে ভিভো খরচ করেছিল ২০০ কোটি টাকা। প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা, বিগত দু বছর ভিভো’র সঙ্গে এই চুক্তিই চলছে বিসিসিআইয়ের। সেই চুক্তি শেষ হওয়ার পরই নতুন ভাবে চুক্তি করার জন্য নিলামের আয়োজন করে বিসিসিআই। সেই নিলামে ভারতীয় দলের স্পনসর ‘অপ্পো’ মোবাইলকে টেক্কা দিয়ে আইপিএল টাইটেল সত্ত্ব নিজেদের পকেটে পুরে নিল ‘ভিভো’। নিলামে আইপিএল টাইটেল সত্ত্ব কিনে নিতে ১,৪৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত দর হেঁকেছিল অপ্পো। কিন্তু দিনের শেষে ভিভোর দেওয়া ২,১৯৯ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি আর কোনও সংস্থা।

সাকিব ছাড়াই আইপিএলের সেরা একাদশ

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের মধ্যকার খেলা দিয়েই আজ শেষ হচ্ছে আইপিএলের দশম আসর। দীর্ঘ ৪২ দিন ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটের পর জুরি বোর্ড বাছাই করে আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ। জানা যায়, ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটে বাংলাদেশ ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এগিয়ে থাকলেও জুরি বোর্ডের হস্তক্ষেপে বাদ পড়েন আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ থেকে।
আইপিএলের নিয়ম মেনে অর্থাৎ, সাতজন স্থানীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি চারজন বিদেশী ক্রিকেটারকে নিয়ে গড়া আইপিএলের দলে ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিকেটার ডোয়েন ব্রাভোর কাছে জায়গা হারিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে প্রতিনিধিত্ব করা সাকিব আল হাসান।
তবে নাটকীয়ভাবে সর্বকালের সেরা একাদশের চার বিদেশী ক্রিকেটারের মধ্যে তিনজনই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার সাথে বাকী তিনজন বিদেশী ক্রিকেটার হলেন, ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইন এবং ডোয়াইন ব্রাভো।
ক্রিকেট অনলাইন ইএসপিএন ক্রিকইনফো ঘোষিত আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ হলো: মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার/ অধিনায়ক), ক্রিস গেইল, বিরেন্দ্র শেবাগ, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা, ডোয়াইন ব্রাভো, সুনীল নারাইন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং ভুবনেশ্বর কুমার।

আইপিএলের ফাইনাল আগামীকাল

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসরের ফাইনালে আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনাল খেলতে নামবে পুনে। পক্ষান্তরে মুম্বাইয়ের চোখ তৃতীয় শিরোপার দিকে। হায়দারাবাদে এই ফাইনালটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।
গেল আসরে সপ্তম স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করেছিলো পুনে। তাই চলমান মৌসুম শুরুর আগেই অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনে পুনে ফ্র্যাঞ্চাইজি। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয় পুনে। এমনকি দলের শক্তি বাড়াতে নিলামে বেশ পারদর্শীতা দেখায় তারা। ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে রেকর্ড মূল্যে দলে ভেড়ায় তারা। তাকে দলে নেয়ার কারণটা লিগ পর্বে প্রদর্শন করেছেন স্টোকস। ব্যাট-বল দিয়ে সেরা পারফরমেন্সই দেখিয়েছেন তিনি। তবে প্লে-অফে খেলা হয়নি তার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন স্টোকস।
তবে কোয়ালিফাইয়ার-১এর বাঁধা পেরিয়ে যেতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি পুনের। আজিঙ্কা রাহানে-মনোজ তিওয়ারির হাফ-সেঞ্চুরির সাথে সাবেক ধোনির ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রান লড়াই করার পুঁজি দেয় পুনেকে।
এরপর শুরুতেই অফ-স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের ধাক্কায় খেই হারিয়ে ফেলে মুম্বাই। পরবর্তীতে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মুম্বাই। শারদুল ঠাকুরের পেস তোপে ১৬৩ রানের টার্গেটে ১৪২ পর্যন্ত সমর্থ হয় মুম্বাই। ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সুন্দর। তাই স্টোকসের অভাব বুঝতে পারেনি পুনে।
তবে আগামী মৌসুম থেকে আইপিএলে থাকছে না পুনে ও গুজরাট লায়ন্স। কারন স্পট ফিক্সিং-এর দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া দুই দল চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসকে ফিরিয়ে আনার সিদ্বান্ত নিয়েছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। আগামী মৌসুম থেকে পুনে ও গুজরাটের পরিবর্তে আইপিএলে দেখা যাবে চেন্নাই ও রাজস্থানকে।
তাই ভালোভাবে এই মৌসুম শেষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন স্মিথ, ‘টুর্নামেন্টের সঠিক সময়ে সেরাটাই এখন প্রয়োজন। এটি সত্যিই এখন আমাদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়।’
এবারের আসরে ১৪ ম্যাচে ৪২১ রান করেছেন স্মিথ। অধিনায়কত্ব হারালেও, ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় সময় ঠিকই জ্বলে উঠেছেন ধোনি। কোয়ালিফাইয়ার-১এ ধোনি ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রানের কল্যাণে লড়াই করার পুঁজি পায় পুনে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এক কলামে ভারতের সবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার বলেন, ‘স্মিথের নেতৃত্বে পুনে ফাইনালে ওঠে। তবে অবশ্যই ধোনির সাহায্য নিয়ে।’
পুনের বোলিং-কে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন বাঁ-হাতি জয়দেব উনাদকত। তার সাথে সহযোগিতায় থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার ড্যান ক্রিস্টিয়ান-লেগ স্পিনার এডাম জাম্পা ও সুন্দর-ঠাকুর।
কোয়ালিফাইয়ার-১এ পুনের কাছে হারলেও, কোয়ালিফাইয়ার-২এ কলকাতা নাইট রাইডার্সকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট পায় মুম্বাই। এই নিয়ে চতুর্থবারের মত ফাইনাল খেলবে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১১ জয়কে সাথে নিয়ে ফাইনালে খেলতে নামবে মুম্বাই।
কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি। শিরোপা জয় থেকে এখন আমরা এক ধাপ দূরে। পুনের বিপক্ষে আমাদের ভালো রেকর্ড নেই। তবে আর মাত্র একটি বাঁধা।’
এই মৌসুমে পুনের সাথে তিনবারের দেখায় সবগুলোতেই হেরেছে মুম্বাই।
২০১৩ ও ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের হাতে রয়েছে একাই ম্যাচ ঘুড়িয়ে দেয়ার মত বহু খেলোয়াড়। বিদেশীদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড ও নিউজিল্যান্ডের পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান অন্যতম। চলমান মৌসুমে সেটি বেশ কয়েকবারই প্রমান দিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছেন ওপেনার উইকেটরক্ষক পার্থিব প্যাটেল। পরের দিকে রোহিতের সাথে পোলার্ড-দুই পান্ডে ভাই দলের জয়ে প্রধান ভূমিকাও রাখেন। তাই এরা পুনের বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন।
বোলিং-এ মুম্বাইয়ের সেরা অস্ত্র জসপ্রিত বুমরাহ। ডেথ ওভারে দুর্দান্ত সব ইর্য়কারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি দিচ্ছেন বুমরাহ। সাথে আছেন শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা-ম্যাকক্লেনাঘান-করন শর্মার মত বোলার। ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কলকাতাকে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন করন। ফাইনালেও তার স্পিন বিষ দেখতে চাইবে মুম্বাই। এতে তৃতীয়বারের মত আইপিএলের শিরোপা জয় করতে সুবিধাই হবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের।

ভারতের নারী ক্রিকেটারদের বিশ্বরেকর্ড

বিশ্ব রেকর্ডই করে ফেললো ভারতের নারী ক্রিকেট দল। ব্যাট হাতে তারা ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ কওে এই বিশ্ব রেকর্ডেও অধিকারী হন। বিশ্ব ক্রিকেটে এবারই প্রথম কোনো নারী দল তিনশ’ রানের গন্ডি পাড় হলো।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমে চারজাতি ক্রিকেট সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫৮ রানের বিরাট স্কোর গড়ে মিতালী রাজের দল। শুধু তাই নয়, দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের সেঞ্চুরিতে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ভারতের মেয়েরা। দীপ্তি শর্মা ১৮৮ রানের ইনিংস খেললেন। দীপ্তি শর্মার ১৬০ বলে ১৮৮ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ২৭টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারিতে। ভারতের হয়ে এটাই সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান। এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল জয়া শর্মার ১৩৮। এই সিরিজেই এর আগে সর্বোচ্চ উইকেট নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন ঝুলন গোস্বামী। আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পুনম রাউতের ব্যাট থেকে আসে ১০৯ রান। এর পরের আর কাউকে বেশি কিছু করতে হয়নি। ভারতের ওপেনিংয়ের ব্যাটন ছিল দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের হাতে। যার ফলে নিজেদের সর্বোচ্চ রান ২৯৮ পেছনে ফেলে নতুন স্কোর গড়লো ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। এটাই তাদের সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান। বলাই বাহুল্য রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়া এই ম্যাচে ভারতের জয় ২৪৯ রানের।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ১-১৮ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে মোট সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ২০১৩ সালের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার পাঁচ লাখ পাউন্ড বাড়ানো হয়েছে। খেলা হবে তিনটি ভেন্যু কার্ডিফ, এজবাস্টন ও ওভালে। এরমধ্যে শিরোপা জয়ী দল পাবে ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড আর রানার্সআপ দল পাবে ১.১ মিলিয়ন পাউন্ড। দুই সেমিফাইনালিস্ট পাবে সাড়ে চার লাখ পাউন্ড করে। প্রত্যেক গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল পাবে ৯০ হাজার পাউন্ড। আর গ্রুপের শেষ দল পাবে ৬০ হাজার পাউন্ড।

ভারতে আসছেন রোনাল্ডো

আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে শুরু হবে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল। ২৪ দলের এই প্রতিযোগিতার ড্র অনুষ্ঠানে থাকার জন্য ভারতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে চারবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর। অবশ্য এরই মধ্যে ভারতে আসার কথা নিশ্চিত করেছেন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো ম্যারাডোনা । এবারে ভারতীয় দর্শকদের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিতে আসছেন পর্তুগিজ মহাতারকা রোনাল্ডো। ৭ জুলাই মুম্বাইয়ে হবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান।
সপ্তাখানেক আগেই সিআর সেভেন বলেছিলেন, ‘বিশ্বের বেশ কিছু জায়গায় আমি যেতে চাই। তার মধ্যে ভারতও রয়েছে।’ তাই বিশ্বকাপের আগে যদি রিয়াল মহাতারকাকে ভারতে আসেন তবে এবারের জুনিয়র বিশ্বকাপটা যে আলোড়ন তুলবে তা বলাই বাহুল্য।

আইপিএলের ফাইনালকে মনোহরের না

আইপিএলের ফাইনালে থাকবেন না আইসিসি-র চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড-বিসিসিআই মনোহর ও তার স্ত্রী বর্ষা মনোহরকে আইপিএলের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য দাওয়াত করলে, তিনি তা প্রত্যাক্ষান করেন। আগামী ২১ মে হায়দ্রাবাদে হবে এবারের আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচটি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত বিসিসিআই-র বর্তামান কমিটি শশাঙ্ক মনোহরকে আমন্ত্রণ জানায়। তিনি হায়দ্রাবাদের ফাইনালে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির কিছু সদস্যের সঙ্গে মনোহর এবং তার সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ থাকার কারণেই তিনি সেখানে যাবেন না। তবে পারিবারিক ব্যস্ততার কারণই বলেছেন তিনি আইপিএলের ফাইনালে উপস্থিত হতে না পারার কারণ হিসেবে।

আইপিএলে এতো রঙ!

টেস্ট ক্রিকেটের পর ওয়ানডের সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বের পরিচয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যেতে থাকে ক্রিকেটের খোল-নলচে। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার পর তো রীতিমতো বিপ্লব ঘটে ক্রিকেটবিশ্বে। তার প্রভাব পড়ে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজিতেও। প্রভাব পড়ে পোশাক-আশাকে, জার্সিতে এবং জীবনাচারেও। ক্রিকেটারদের পরণে এখন রঙিন জার্সি, সেই সঙ্গে রংবেরংয়ের ট্রাউজার। ভক্তদের চোখ টানে প্রিয় ব্যাটসম্যানের গ্লাভস, জুতো, প্যাডও। ক্রিকেটে এতো রঙ ভালো নয় বলে অনেকেই হচ্ছেন সমালোচনামুখর।
এই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বদৌলতে কত কিছুই না ঘটছে মাঠে। মাঠে আপেলের পসরা নিয়ে বসছেন সুন্দরী বিদেশিনী। আম্পায়ারকে বলের পরিবর্তে দিচ্ছেন আপেল। চিয়ারলিডাররা উদ্দাম নাচছেন। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সির রংও চোখ পরার মতো। যুবরাজ সিংহ, ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, রবিন উথাপ্পা, মিচেল মার্শরা রঙিন জুতো পরে খেলছেন আইপিএল-এর আসরে। ব্যাট করতে নামার সময়ে বদলে যায় জুতো-প্যাড এমনকি হেলমেটের রংও।
হায়দরাবাদ-এর তারকা ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিংহ জানান, রংবেরংয়ের জুতো, প্যাড, গ্লাভস পরার কারণ। বলেন, ক্রিকেট কিট প্রস্তুকারী সংস্থাগুলো এখন ক্রিকেটারদের কথা মাথায় রেখেই গ্লাভস, প্যাড, জুতো রঙিন করেই এখন বানাচ্ছে। ক্রিকেটাররা এখন রোল মডেল, নায়ক একেকজন। বিশ্বজুড়ে তাদের ভক্তের সংখ্যাও অসংখ্য। মাঠের ভিতরে তাদের হাটা চলা, জামা কাপড় পরার ধরনধারণ অনুকরণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের চোখে পছন্দের নায়ক যাতে আরও গ্ল্যামারার্স হয়ে ওঠেন, সেই কারণেই কিট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো সবকিছুতেই রং মেশায় আজকাল। হরেকরকমের জার্সি ও ট্রাউজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গ্লাভস-প্যাডও রঙিন বানানো হচ্ছে। ব্যাট করার সময়ে সেগুলো পরে ব্যাটসম্যানদের আরও আকর্ষণীয় দেখায়।

কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সদের দলে মুস্তাফিজ

প্রতি বছরের মতো ভারতের মুম্বাইয়ে এবারও অনুষ্ঠিত হল ‘দ্য সিয়াট ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ডস’। আর অনুষ্ঠানে ২০১৫-১৬ মৌসুমের সেরা ক্রিকেটারদের পুরস্কৃত করার সঙ্গে সেরা একাদশও ঘোষণা করা হয়। আর এ তালিকায় কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সদের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান।

`সিয়াট টি-টুয়েন্টি ড্রিম টিম` -এ মুস্তাফিজের সঙ্গে আরো রয়েছেন রোহিত শর্মা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মিচেল স্টার্ক, অমিত মিশ্র, বিরাট কোহলি, আন্দ্রে রাসেল, ডেভিড ওয়ার্নার, মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), ফ্যাফ ডু প্লেসিস, সুরেশ রায়না ও রবীচন্দ্রন অশ্বিন।

টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার রোহিত শর্মা ভারতের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন। আইপিএলের রানমেশিন বিরাট কোহলি টি-টোয়েন্টির বর্ষসেরা পুরস্কার জেতেন। শ্রেয়ার্স ইয়ার জেতেন বর্ষসেরা ঘরোয়া ক্রিকেটারের পুরস্কার।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার নির্বাচিত হন। এছাড়া, ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা হন কিউই তারকা কেন উইলিয়ামসন, ভারতের রবীচন্দ্রন অশ্বিন আর আজিঙ্কা রাহানে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পুরস্কার পাওয়াদের তালিকা:

বিরাট কোহলি (ভারত): বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার (আইপিএলে চারটি সেঞ্চুরি আর সাতটি হাফ-সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ৯৭৩ রান)
রবীচন্দ্রন অশ্বিন: বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক বোলার
জো রুট (ইংল্যান্ড): বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার
কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড): বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার
মার্টিন গাপটিল (নিউজিল্যান্ড): বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার
রোহিত শর্মা (ভারত): বর্ষসেরা ভারতীয় ক্রিকেটার
রিশব প্যান্ট (ভারত): বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটার
শ্রেয়ার্স ইয়ার (ভারত): বর্ষসেরা ঘরোয়া ক্রিকেটার (২০১৫-১৬ রঞ্জিতে ১৩২১ রান)
আজিঙ্কা রাহানে (ভারত): বর্ষসেরা বিশেষ ক্রিকেটার (দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি)
দীলিপ ভেঙ্গসরকার (ভারত): জীবনকৃতী সম্মানে ভূষিত

রানমেশিন কোহলি, সেরা শিকারি ভুবনেশ্বর

বেঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে হায়দ্রাবাদের হাতে শিরোপা উঠে শেষ হয়েছে আইপিএলের নবম আসর। শুরু থেকেই ব্যাট-বলের জমজমাট এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে শীর্ষে থেকে আসরকে স্মরণীয় করে রাখলেন বিরাট কোহলি ও ভুবনেশ্বর কুমার।

ব্যাট হাতে আসরের প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের নাজেহাল করে ছাড়েন কোহলি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দলপতি কোহলি ১৬ ম্যাচে করেছেন সর্বোচ্চ ৯৭৩ রান। ৭টি অর্ধশতক আর ৪টি শতকে তার ব্যাটিং গড় ছিল অসাধারণ। ৮১.০৮ গড়ে আর ১৫২.০৩ স্ট্রাইক রেটে কোহলি ৬৪০টি বল মোকাবেলা করেন। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেছেন তিনি। ভারতীয় এই রানমেশিনের ব্যাট থেকে ৮৩টি বাউন্ডারি আর আসরের সর্বোচ্চ ৩৮টি ওভার বাউন্ডারি এসেছে।

এবারের আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৪৮ রান করেছেন হায়দ্রাবাদের দলপতি ডেভিড ওয়ার্নার। সর্বোচ্চ নয়টি অর্ধশতক হাঁকালেও তার কোনো শতক ছিল না। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৮৮টি চারের পাশাপাশি তিনি হাঁকিয়েছেন ৩১টি ছক্কা।

১৭ ম্যাচে ৬৬ ওভার বল করে ৪৯০ রানের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ২৩টি উইকেট দখল করেন হায়দ্রাবাদের পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ৭.৪২ ইকোনমি রেটে বল করা এই পেসারের সেরা বোলিং ফিগার ছিল ২৯ রানের বিনিময়ে চার উইকেট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি উইকেট দখল করেন বেঙ্গালুরুর যোগেন্দ্র চাহাল।

এবারের আইপিএলের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন কোহলি। ৩৫৬.৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনি টপকে যান ৩৩৮.৫ পয়েন্ট পাওয়া ডেভিড ওয়ার্নারকে। কোহলি-ভিলিয়ার্সদের বেঙ্গালুরুকে হারানোর পর এবারের আসরের ফেয়ার-প্লে অ্যাওয়ার্ডও নিজেদের নামে রেখেছে ওয়ার্নার-মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ।

সেরা ইকোনমি রেটে বল করেছেন পুনের অজি তারকা মিচেল মার্শ। ৩ ম্যাচ খেলে ইনজুরিতে ছিটকে পড়া এই পেসার ৫.০০ ইকোনমি রেট ধরে রেখেছিলেন। কলকাতার অলরাউন্ডার ইউসুফ পাঠান ১৫ ম্যাচ খেলে ৫.৫০ ইকোনমি রেটে বল করে এই তালিকায় দুইয়ে।

আইপিএলের সেরা একাদশে বাংলাদেশ তারকা মুস্তাফিজ

শেষ হয়ে গেল আইপিএল ২০১৬, নবম আসর। আসরের ফাইনালে রয়্যেল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ী এ দলটিকে ট্রফির স্বাদ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

 

সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলের এবারের আসর নিয়ে সেরা একাদশ তৈরি করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ইএসপিএনক্রিকইনফো’। একাদশটি আইপিএলের দলগুলোর আদলে ৭জন ভারতীয় ও ৪জন বিদেশি ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে। আর এ তালিকায় জায়গা হয়েছে ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজের নাম।

চলতি আসরে দুর্দান্ত বল করে মুস্তাফিজ তুলে নিয়েছেন ১৭টি উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিতে ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার (২৩) হলেও, সেরা ইকোনোমিতে (কৃপন বোলিং) ছিলেন টাইগার তারকা। ব্যাটসম্যানদের দাপট থাকলেও তিনি টুর্নামেন্টে রান দিয়েছে মাত্র সাতের নিচে (৬.৯০)।

এবারই প্রথম আইপিএল আসরে খেলতে গিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। তবে নিজের প্রথম অ্যাসাইন্টমেন্টেই আলো ছড়িয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্ট শেষে তার হাতে উঠেছে সেরা উদীয়মান তারকার খেতাব।

মুস্তাফিজের সঙ্গে সেরা একাদশে অন্য তিনজন বিদেশি ক্রিকেটার হলেন, হায়দ্রাবাদে মুস্তাফিজের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার, বেঙ্গালুরুর এবিডি ভিলিয়ার্স ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ক্রিস মরিস।

নিচের সেরা একাদশের দেওয়া হলো:

বিরাট কোহলি: ৯৭৩ রান, স্ট্রাইক রেট ১৫২.০৩
ডেভিড ওয়ার্নার: ৮৪৮ রান, স্ট্রাইক রেট ১৫১.৪২
এবিডি ভিলিয়ার্স: ৬৮৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬৮.৭৯
লোকেশ রাহুল: ৩৯৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৬.৪৯, ৫টি ক্যাচ, চারটি স্ট্যাম্পিং
ইউসুফ পাঠান: ৩৬১ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৫৬
ক্রিস মরিস: ১৯৫ রান, স্ট্রাইক রেট ১৭৮.৮৯, ১৩টি উইকেট, ইকোনোমি ৭
ক্রুনাল পান্ডে: ২৩৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৯১.১২, ৬টি উইকেট, ৭.৫৭ ইকোনোমি
ভুবনেশ্বর কুমার: ২৩ উইকেট, ইকোনোমি ৭.৪২
যুভেন্দর চাহাল: ২১ উইকেট, ইকোনোমি ৮.১৫
ধাওয়াল কুলকার্নি: ১৮ উইকেট, ইকোনোমি ৭.৪২
মুস্তাফিজুর রহমান: ১৭ উইকেট, ইকোনোমি ৬.৯০

মুস্তাফিজের কাউন্টি খেলা এখনও অনিশ্চিত

আইপিএল শেষ। শিরোপা জয় করে দেশেও ফিরে এসেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলের পরপরই তার ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট লিগ খেলতে যাওয়ার কথা। তবে ফিট থাকা সাপেক্ষেই তাকে কাউন্টিতে খেলার অনুমতি দেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

সেই ফিট কতটা মুস্তাফিজ? তা জানতে আজ মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসেছিলেন তিনি। দেখা করেছেন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীর সঙ্গে। বিসিবির চিকিৎসক এবং ট্রেনার তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করিয়েছেন।

পরীক্ষা-নীরিক্ষাগুলোর রিপোর্ট পেতে দু’দিন অপেক্ষা করতে হবে। মুস্তাফিজের পরীক্ষা-নীরিক্ষার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই বোঝা যাবে তিনি কতটা ফিট এবং এরপরই জানা যাবে তিনি আসলে কাউন্টি খেলতে যেতে পারবেন কি না।

তবে মুস্তাফিজ নিজে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হননি।

বিস্তারিত আসছে….

সম্পূর্ণ সুস্থ নন মুস্তাফিজ

রোববার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফাইনাল খেলে সোমবারই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের বিস্ময়বালক মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের ঘরোয়া এ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে ৪৫ দিন দেশের বাইরে ছিলেন তিনি। দেশে ফিরে জানালেন এখন শরীরের অবস্থা খুব ভালো নেই, পায়ে এখনো সমস্যা রয়েছে।

ভারত থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মুস্তাফিজুর রহমান। দেশে ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাফিজ নিজের শরীরের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমার পায়ে একটু সমস্যা আছে। আমি কালকে ক্রিকেট বোর্ডে যাবো। ফিজিওকে দেখাবো। বোর্ডে কথা বলবো তারপর জানা যাবে।’

বর্তমানে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ চলছে। এ আসরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ হয়ে খেলার কথা তার।

শরীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খেলতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচের আগে পায়ে একটু ব্যথা ছিল। এখন হালকা আছে। বিসিবিতে যাবো, ফিজিওকে দেখাবো তারপর মূল ব্যাপারটা জানা যাবে’

সবাই আমার থেকে বাংলা শিখতে চেয়েছিল’

ডেভিড ওয়ার্নার ও টম মুডি মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলার জন্যে ব্যবহার করেছেন গুগল ট্রান্সলেটর। হায়দরাবাদের টিম বাসে মুস্তাফিজকে পানি দিয়ে ওয়ার্নার বলেছিলেন, ‘নাও, ঠান্ডা পানি।’ মুস্তাফিজের জন্যে দোভাষী নিয়োগ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষ।

 

আইপিএল চলাকালেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছিল, ‘হায়দরাবাদের চোখের মণি মুস্তাফিজুর রহমান’। দেশে ফিরে মুস্তাফিজও বললেন একই কথা।

 

তার সঙ্গে কথা বলার জন্যে কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্টের অনেকেই তার থেকে বাংলা ভাষা শিখতে চেয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। মুস্তাফিজ এ নিয়ে বলেন, ‘আমি ইংলিশ খুব বেশি পারি না। ক্রিকেটের কিছু ভাষা পারি। সবাই আমার সঙ্গে কথা বলার জন্যে বাংলা শিখতে চেয়েছিল।’

 

আইপিএলে তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন সবাই। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ট্রামকার্ড ছিলেন বাঁহাতি এ পেসার। দলের মেন্টর ভিভিএস লক্ষণ বিভিন্ন সময়ে মুস্তাফিজকে বলেছিলেন ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা। মুস্তাফিজের প্রশংসা করতে কেউই বাদ যায়নি।

 

মুস্তাফিজ জানালেন, দলের ভেতরে-বাইরে যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারাই তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। দ্য ফিজ বলেন, ‘সবাই আমার সঙ্গে কথা বললে শুধু আমার বোলিংয়ের প্রশংসা করে।’

 

 

মুস্তাফিজকে সাসেক্সের অভিনন্দন

ন্যাটওয়েস্ট ক্রিকেটে মুস্তাফিজকে পেতে আশায় বুক বেঁধে আছে ইংলিশ ক্লাব সাসেক্স। তাদের সঙ্গে মুস্তাফিজের চুক্তি হলেও বাংলাদেশের আশ্চার্য প্রদীপকে পাওয়াটা যে অনেক কঠিন। কাউন্টি ক্লাবটির হয়ে মাঠে নামুক আর না নামুক, আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজকে অভিনন্দন জানিয়েছে সাসেক্স।

মুস্তাফিজ আইপিএলে খেলার কারণে সাসেক্সে খেলতে যেতে পারেননি। এবার খেলতে যেতে পারবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু নিজেদের দলের খেলোয়াড়ের সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে ভুল করেনি ক্লাবটি।

রোববার ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের প্রথম শিরোপা জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এই ম্যাচের পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ফিজকে অভিনন্দন জানায় সাসেক্স।

টুইটারে তারা লিখেছে, ‘আইপিএল জেতায় মুস্তাফিজ ও সানরাইজার্সকে অভিনন্দন। ক্রিস জর্ডান ও ডেভিড উইজির প্রতি সমবেদনা।’ ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার ক্রিস জর্ডান ও ডেভিড উইজি ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে খেলেছেন।

আইপিএলে রান হয়েছে মোট ১৮ হাজার আটশ

নানা রঙ্গের আইপিএল শেষ হলো রোমাঞ্চকর এক ফাইনালের মধ্য দিয়ে। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের ২০৮ রান তাড়া করে ২০০ রান পর্যন্ত করে ফেলেছিল বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরু। শেষ পর্যন্ত ৮ রানে জিতে ৬ষ্ঠ দল হিসেবে নব্ম আইপিএলের শিরোপা জিতলো মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ।

আইপিএল শেষ। এবার হিসাব নিকাশের পালা। কে কেমন করলো, কার কত রান, কত উইকেট। কে সেরা, কে ফ্লপ। নানা হিসেব নিকেশের মাঝ থেকে কিছু এক্সক্লুসিভ তথ্য তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

১০৫৫৭৭৪৪: সর্বমোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৪টি টুইট হয়েছে এবারের আইপিএলে
৭ : ৬০ ম্যাচে সর্বমোট সেঞ্চুরি হয়েছে ৭টি। এর মধ্যে একাই চারটি সেঞ্চুরি করেছেন বিরাট কোহলি। বাকি তিনটি করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, কুইন্টন ডি কক এবং স্টিভেন স্মিথ একটি করে।
১১০: এই আইপিএলে মোট হাফ সেঞ্চুরি হয়েছে ১১০টি।
১৮৮৬২ : এবারের আইপিএলে সর্বমোট রান হয়েছে ১৮ হাজার ৮৮২টি।
১০৩৬০ : মোট রানের মধ্যে শুধু বাউন্ডারি থেকেই (ছক্কাসহ) রান হয়েছে ১০ হাজার ৩৬০। যা মোট রানের প্রায় ৫৫ ভাগ।
৯৭৩ : আইপিএলে ব্যক্তিগত সর্বমোট রান বিরাট কোহলির। জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ।
২৪৮: এবারের আইপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর, ব্যাঙ্গালুরুর। গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে।
১২৯ : আইপিএলে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান এবি ডি ভিলিয়ার্সের অপরাজিত ১২৯, গুজরাটের বিপক্ষে।
১ : আইপিএলে হ্যাটট্রিক হয়েছে মাত্র একটি। করেছেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অক্ষর প্যাটেল।
১৫০: আইপিএলে এবারের আসরে সবচেয়ে দ্রুতগতির বল ১৫০.৩১ কিলোমিটার গতির।
৬৬৫ : আইপিএলে মোট ৬০ ম্যাচে সর্বমোট উইকেটের পতন ঘটেছে মোট ৬৬৫টি।
২৩: এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি ২৩টি উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপ জিতেছেন ভুবনেশ্বর কুমার।
১০: আইপিএলে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় ১০ উইকেটে। জিতেছে সানরাইজার্স, গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে।
৬৩৮ : আইপিএলে সর্বমোট ছক্কা হয়েছে ৬৩৮টি।
৩৮ : পুরো আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন বিরাট কোহলি। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৮টি ছক্কা। ৩৭টি ছক্কা ডি ভিলিয়ার্সের। ফাইনালে তিনি ছিলেন ছক্কাহীন।
১১৭ : সবচেয়ে লম্বা ছক্কা মেরেছেন বেন কাটিং। ফাইনালে নিজেদের শেষ ওভারে শেন ওয়াটসনের বলে ১১৭ মিটার দীর্ঘ এই ছক্কা মারেন তিনি।
৪: আইপিএলের ৬০ ম্যাচের মধ্যে শেষ বলে ম্যাচ শেষ হয়েছে মোট চারটি।
৬ : আইপিএলের সেরা বোলিং অ্যাডাম জাম্পার। পুনে সুপার জায়ান্টসের এই বোলার ১৯ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট, সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বিপক্ষে।

মুস্তাফিজের প্রশংসায় বিশ্ব ক্রিকেট

দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট শেষ করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলে নিজের দল সানরাইজার্স হায়দারাবাদের চেহারাই বদলে দিয়েছিলেন তিনি। সেই দলটিই শেষ পর্যন্ত জিতলো আইপিএল নবম আসরের শিরোপা। শুরু থেকেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। ডেথ ওভারে এসে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মূল কাজটা হতো তাকে দিয়েই।

সুতরাং, তিনিই এবারের আইপিএলের সেরা আবিষ্কার। আইপিএল শেষে তার হাতেই উঠেছে সেরা নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের পুরস্কার। পুরো টুর্নামেন্টে তাকে নিয়ে শোনা গিয়েছে নানা মন্তব্য। পুরো বিশ্বের ক্রিকেট মহল ঘুরে ফিরে মন্তব্য করেছে তাকে নিয়ে।

মুস্তাফিজকে প্রসংশায় ভাসিয়েছেন সকলেই। সেই মুস্তাফিজুরের প্রথম আইপিএল শেষ হল সাফল্যের সঙ্গে। চোটের জন্য খেলতে পারেননি প্লে অফের একটি ম্যাচ; কিন্তু ফাইনালে ফিরেছেন স্বমহিমায়। আইপিএল শেষে চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্সের অন্যতম সেরা বোলার মুস্তাফিজকে নিয়ে প্রশংসায় মেতে উঠেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

রামিজ রাজা: অ্যান্ডারসন, স্টেইনদের মতো প্লেয়াররা রয়েছেন। যারা টেস্টে খুব ভাল; কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানই।

মনোজ প্রভাকর: এটা নিয়ে কোনও সংশয় নেই মুস্তাফিজুরই এই মুহূর্তের সেরা বোলার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ভাল ইয়র্কার দিতে পারে; কিন্তু মুস্তাফিজুর এখন তার সেরা ফর্মে রয়েছে। ও দারুণ দ্রুততার সঙ্গে কাটার করতে পারে। একই সঙ্গে বলে নানা রকম পরিবর্তন আনতে পারে।

কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত: এই মুহূর্তে তার থেকে ভাল বোলার খুব একটা নেই; কিন্তু ওকে এই খেলাটা আরও কিছুদিন ধরে রাখতে হবে। তারপরই তাকে আমরা সেরার তকমা দিতে পারব।

ডেল স্টেইন: ওয়াসিম আক্রামের মধ্যে যে এক্স-ফ্যাক্টর ছিল সেটা মুস্তাফিজুরের মধ্যেও আছে। ওর বোলিং দেখতে দারুণ লাগে। ও যেভাবে পেসের পরিবর্তন করে সেটা আগে দেখিনি। ও আরও উন্নতি করবে।

রবি শাস্ত্রী: এ ছেলে বিস্ময় প্রতিভা। ভারতের বিরুদ্ধে একটা ওয়ানডে সিরিজে দুটো পাঁচ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিল। এরকম প্রতিভাকে লালন করতে হবে।

হাবিবুল বাশার: টি-টোয়েন্টিতে যেখানে বোলারদের উপর চড়াও হয় ব্যাটসম্যানরা, সেখানে ও রানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখছে। ওকে মেরে খেলা বিপজ্জনক বলেই ব্যাটসম্যানরা মেরে খেলতে চায় না।

মুত্তিয়া মুরালিধরন: মুস্তাফিজ শুধু বাংলাদেশ নয়, এই আইপিএলে হায়দরাবাদেরও বড় সম্পদ হয়ে উঠে এসেছে। ওকে সঠিক পরিচর্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তবেই ওর জন্য আগামীতে ও আরও বড় সাফল্য পাবে।

ডার্ক ন্যানেস: এখনও পর্যন্ত মুস্তাফিজুরের বল কেউ পড়তে পারেনি। যেভাবে অ্যাকশন পরিবর্তন না করে বলের গতি বদলে ফেলতে পারে সেটাই সবাইকে ধন্দে ফেলে দেয়।

আইপিএলের সেরা একাদশে মুস্তাফিজ

আইপিএল চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। টুর্নামেন্টের আগেই ঝড় তুলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এক কোটি ৪০ লাখ রুপিতে তাকে কিনেছিল সানরাইজার্স। কেন নতুন এক ক্রিকেটারকে এত টাকা দিয়ে কেনা হলো? সে প্রশ্নের জবাবে অনেক বাক্য ব্যায় করতে হয়েছিল মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণকে।

তবে এবার আর সমালোচকরা মুখ খুলবে না। উল্টো প্রশংসায় ভাসাচ্ছে সানরাইজার্সকে। মুস্তাফিজকে নিয়ে বাজি ধরার জন্য। ম্যান অব আইপিএলে পরিণত হলেন দ্য ফিজ। যে কারণে আইপিএলের সেরা একাদশেও ঠাঁই পেয়ে গেলেন তিনি।

আইপিএলের সেরাদের নিয়ে গঠন করা হলো এই একাদশটি। যার অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকে। এই একাদশে ঠাঁই পেয়েছে অধিকাংশই সানরাইজার্স হায়দারাবাদ এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ক্রিকেটার। অপরিহার্যভাবেই এই একাদশে পেসার হিসেবে রয়েছেন মুস্তাফিজ।

ভবিষ্যতে মুস্তাফিজ আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠবে: ওয়ার্নার

এবারের আইপিএল-এ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের আস্থার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বলা যায় পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ওয়ার্নারের তুরপের তাস ছিলেন ‘দ্য ফিজ’।
যখনই প্রয়োজন হয়েছে মুস্তাফিজকে ডেকেছেন ওয়ার্নার। প্রতিপক্ষের রানের চাকা যখন টেনে ধরতে হবে ঠিক সে সময় মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন তিনি। অধিনায়কের আস্থার দুর্দান্ত প্রতিদানও দেন কাটার মাস্টার।
ভুবনেশ্বর কুমার আর মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং জুটিই যে হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে, তা অস্বীকার করতে পারবে না কেউই। একপাশে রানের রাশ টেনে ধরেন মুস্তাফিজ। অন্য পাশে উইকেট তুলে নেন ভুবনেশ্বর। অধিনায়ক ওয়ার্নারও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এ দুই পেসারকে।
গতকাল ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজকে শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়। ভুবনেশ্বরের সঙ্গে সে যেরকম অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে, তাতে তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আশা করছি, সে সুস্থ থাকবে আর ভবিষ্যতে আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠবে।’

আইপিএলে মুস্তাফিজের যত কীর্তি

প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে গিয়েই শিরোপা জিতেছেন মুস্তাফিজ। তার অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ পায় ট্রফি জয়ের স্বাদ। ইনজুরির কারণে কেবল একটি ম্যাচেই বসে ছিলেন মুস্তাফিজ। ইনজুরি না থাকলে হয়ত সে ম্যাচেও মাঠে নামতেন কাটার মাস্টার।

মূলত স্লোয়ার এবং কাটারে পারদর্শী এই বোলারকে নিলামে ১ কোটি ৪০ লক্ষ রুপি দিয়ে কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত দলের হয়ে মাঠে নেমেছেন মুস্তাফিজ।

দেখে নেয়া যাক এবারের আইপিএলের মুস্তাফিজের বোলিংয়ের কিছু কীর্তিঃ
১. ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে আইপিএলে সর্বাধিক উইকেট পাওয়া বোলারদের তালিকায় মুস্তাফিজ রয়েছেন ৫ নম্বরে।

২. এক ইনিংসে বোলিংয়ে সব থেকে কম স্ট্রাইক রেটের বোলারদের তালিকাতে ১৯ নম্বরে রয়েছেন মুস্তাফিজ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের
বিপক্ষে ম্যাচে ৩ ওভার বল করে ১৬ রান দিয়েছিলেন তিনি যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৬।

৩. পুরো টুর্নামেন্টের সব থেকে কম স্ট্রাইক রেটের বোলারদের তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ২৯ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে ৪২১ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ২১.৫২।

৪. পুরো টুর্নামেন্টের সব থেকে কম ইকোনমির তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ৭ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে তার ইকোনমি ৬.৯০। কিন্তু ১০ বা তার বেশি ইনিংসে বোলিং করা বোলারদের ভেতর মুস্তাফিজ রয়েছেন তালিকার শীর্ষে।

৫. ম্যাচে সব থেকে কম ইকোনমির তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ৪ নম্বরে। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে ৯ রান দিয়েছিলেন। যেখানে তার ইকোনমি ছিল ২.২৫। এই ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচও হয়েছিলেন তিনি।

৬. এক ইনিংসে ১৭টি ডট বল দিয়ে আইপিএলের এক ম্যাচে সর্বাধিক ডট বল দেয়ার তালিকাতে রয়েছেন দুই নম্বরে।

৭. পুরো আইপিএল টুর্নামেন্টে ১৩৭টি ডট বল দিয়ে সর্বাধিক ডট বল দেয়ার তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন দুই নম্বরে।

৮. ১৬টি ম্যাচে ১টি মেডেন ওভার করে আইপিএলে সর্বাধিক মেডেন ওভার করা বোলারদের তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ষষ্ঠ স্থানে (স্ট্রাইক রেটে এগিয়ে থেকে)।

৯. পুরো টুর্নামেন্টে বল প্রতি উইকেট নেয়ার তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ২৩ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে মুস্তাফিজের গড় ২৪.৭৬।

প্রথমবার খেলতে গিয়েই এমন ঈর্শনীয় সাফল্যের কারণে সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কারও জেতেন মুস্তাফিজ।

হোটেলে ট্রফি নিয়ে মুস্তাফিজদের উল্লাস (ভিডিও)

উচ্ছ্বাসটা এমনই হওয়ার কথা ছিল। প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়েই হায়দারাবাদের হয়ে আইপিএল জিতেছেন মুস্তাফিজ।

টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৮ রানে জয় পায় মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ। ট্রফি নিয়ে স্টেডিয়ামেই এক ধাপ আনন্দ উল্লাস সেরে নেয় সানরাইজার্স। এর পর চলে নিজেদের টিম হোটেলে গেলে সেখানেও অপেক্ষা করছিল বিস্ময়।

হায়দারাবাদ সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় হোটেলে প্রবেশ করে মুস্তাফিজরা। এ সময় একে অপরের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন সবাই। পুরো রাত ব্যাপী চলে হায়দারাবাদের এই বিজয় উল্লাস।

‘বিষাক্ত’ মুস্তাফিজকে মনে রাখবে আইপিএল

মাহফুজ রাহমান : গত কয়েক বছর ধরে আইপিএল-এ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান। তবে চলতি আসরে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন তরুণ টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এবারের আইপিএল-এ সেরা উইকেট শিকারি তার সতীর্থ ভুবনেশ্বর কুমার হলেও ‘হট কেক’ ছিলেন মুস্তাফিজ-ই।
আইপিএল-এর নিলামে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ানোর জন্য লড়াই হয়েছিল হায়দরাবাদ ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যে। ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ রুপি হলেও শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজকে পাওয়ার জন্য এক কোটি ৪০ লাখ রুপি দাম ওঠে। নিলামে তাকে কিনে নেয় হায়দরাবাদ। এখন সে জন্য বড্ড আফসোস করতেই পারেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি!
স্কোয়াডে বর্তমান বিশ্বক্রিকেটের ভীতি জাগানিয়া সব ব্যাটসম্যান। আইপিএল জেতার মতো সব রসদই ছিল কোহলির অস্ত্রাগারা। কেবল একজন মুস্তাফিজ ছাড়া। মুস্তাফিজ হিন্দি জানেন না, ইংরেজিতেও নাকি তার ভীষণ ভয়। কিন্তু ক্রিকেটের নিজস্ব ভাষা যে মুস্তাফিজের বেশ রপ্ত! সেই ক্রিকেটীয় ভাষাতেই নিজের কাজটা করে গেলেন নিপুণভাবে। তার প্রধান অস্ত্র ‘বিষাক্ত’ ইয়র্কার। সঙ্গে কাটার ও স্লোয়ারে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের গলা চেপে ধরেছেন মুস্তাফিজ।
তবে দাপুটে বোলিং করলেও ভাগ্য সহায় না থাকায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি নন তিনি। কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর তার চাপ সৃষ্টির ফায়দা তুলে নেন অপর প্রান্তে থাকা হায়দরাবাদের আরেক পেসার ভুবনেশ্বর কুমার।
মুস্তাফিজের ইয়র্কার সামলাতে না পেরেই মাটিতে কুপোকাত হয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। যা ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে এখনও ভাসছে। মুস্তাফিজের ওই ‘বিষাক্ত’ ইয়র্কারও মনে রাখবে আইপিএল।

এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিশ্বব্যাপি নতুন করে নজর কেড়েছেন অভিষেকে হইচই ফেলে দেওয়া ‘দ্য ফিজ’। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেটবিশ্বের রথী-মহারথীরা। ঘোরতর বাংলাদেশ বিরোধী বলে পরিচিত নভোজ্যাৎ সিং সিধুর কণ্ঠেও শোনা গেছে মুস্তাফিজ স্তুতি। কাটার মাস্টারকে নিয়ে তার উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে কবিতাও লিখেছেন তিনি। মুস্তাফিজের প্রশংসায় সিধু মেতেছেন এভাবে, ‘মুস্তাফিজ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আর সে এখানে এসে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাকি সবাইকে। হি ইজ অ্যাবসলিউটলি মাইন্ডব্লোইং!’

ভারতীয় সাবেক মিডিয়াম পেসার মনোজ প্রভাকর বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ ইয়র্কার ও কাটার সব কিছুই দারুণভাবে আয়ত্ব করেছে। তার কব্জির ব্যবহার আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে ভবিষ্যতে তাকে আটকানো মুশকিল হয়ে যাবে। সে সুইংটাকে একেবারে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’

অ্যালান ডোনাল্ডের ভাষ্য, ‘সে আসলে অসাধারণ আবিষ্কার। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এমন একজন বোলারের অপেক্ষায়। তাকে মারার আগে ব্যাটসম্যানদের দুইবার ভাবতে হবে। এ ছাড়াও তার চমৎকার ইয়ার্কার আছে। গতির পরিবর্তন করে দারুণভাবে। বয়স কম হলেও সবকিছু চমৎকারভাবেই করে।’

সাবেক অসি পেসার ডার্ক ন্যানেস বলেন, ‘এখনও মুস্তাফিজের বল কেউই রিড করতে পারেনি। যেভাবে অ্যাকশন পরিবর্তন না করে বলের গতি বদলে ফেলতে পারে ও সেটাই সবাইকে ধন্দে ফেলে দেয়। যেটা অনবদ্য। আমার বিশ্বাস অনেকদিন ক্রিকেট মাঠ দাঁপানোর জন্যই এসেছে মুস্তাফিজ।’

বাংলাদেশবিরোধী হিসেবে পরিচিত রমিজ রাজা বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে জেমস অ্যান্ডারসন আর ডেল স্টেইন খুবই ভালো বোলার। তবে এই মুহূর্তে সীমিত ওভারে মুস্তাফিজই সেরা পেসার।’ সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের মতে, ‘ক্রিকেট বিশ্বে মুস্তাফিজের চেয়ে ভালো কেউ নেই। কিন্তু মুস্তাফিজকে সেরাদের সেরা হতে আরও লম্বা সময় ধরে পারফর্ম করতে হবে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ড্যারেন সামি বলেন, “এই ছেলেটি আমাকে অবাক করে দিয়েছে। কী নিখুঁত তার বোলিং। ‘ফিজ’ তুমি এগিয়ে যাও, সামনে তোমার অনেক বড় দিন আসতে চলেছে।”

আরেক ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ তার বোলিং ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছে, সে ১৪৫ কি.মি গতিতে খুব সহজেই বল করতে পারে। তার স্লোয়ারগুলো দুর্দান্ত। আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে সে তার বোলিংয়ের অ্যাকশন ও রানআপ পরিবর্তন করে না। ফলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তার বল খেলা খু্বই কঠিন।’

যেখানে সবার সেরা মুস্তাফিজ

রবিউল ইসলাম : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ হয়েছে তার।
আর এই সুযোগটা খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন মুস্তাফিজ। নিজের বোলিং দ্যুতি ছড়িয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। কী স্লোয়ার! কী কাটার! কী ইয়র্কার! সবখানে যেন মুস্তাফিজ দিনে দিনে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন সবাইকে।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম ম্যাচ থেকেই চমক দেখাতে থাকেন ফিজ। ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে শুরু হয় তার আইপিএল মিশন। তবে এই প্রাপ্তির মধ্যেও একটি অপ্রাপ্তি যোগ হয়েছে। বারবার হ্যাটট্রিকের সামনে গিয়েও হতাশ হতে হচ্ছে তাকে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিমধ্যে তিনি চারবার টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেই হ্যাটট্রিক পাননি। আইপিএল অভিষেকেও সুযোগ এসেছিল তার সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক ছুঁতে পারেননি তিনি। ওটা নিয়ে মোট পাঁচবার হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হলো মুস্তাফিজের।
আইপিএল-এ ১৭টি ম্যাচ খেলেছে মুস্তাফিজের সানরাইর্জাস। এর মধ্যে মুস্তাফিজ খেলেছেন ১৬টি ম্যাচ; যেখানে তার উইকেট সংখ্যা ১৭টি উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তিনি ৫ নম্বরে।
তবে কোনও মাচে ব্যাট হাতে নামতে পারেননি তিনি। ফলে রানের খাতা শূন্য। ১৬ ম্যাচে ৬১ ওভার বল করেছেন ফিজ। রান দিয়েছেন ৪২১। ওভার প্রতি তার নেট রান রেট ৬.৯০। কমপক্ষে ২০ ওভার বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে তার চেয়ে কম ইকোনোমি রেট নেই আর কারও। তার বেস্ট বোলিং ফিগার ১৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট। বেশ কিছু ম্যাচে উইকেট না পেলেও কিপটে বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন তিনি।
সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই মুস্তাফিজকে ডেথ ওভারের রাজা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। মুস্তাফিজ অবশ্য শুধু ডেথ ওভার নয়, পাওয়ার প্লে-তেও কার্যকরী বোলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
চলতি মৌসুমে ১৬ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে অন্তত ৬ ওভার হলেও করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানই রান খরচে সবচেয়ে বেশি কৃপণতা দেখিয়েছেন। যেখানে এই সময়টায় ব্যাটসম্যানদের মারকুটে তাণ্ডবে ওভারপ্রতি গড়ে ১২-১৫ রান পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়, সেখানে টাইগার বিস্ময় বালকের ওভার প্রতি খরচ মাত্র ৭ দশমিক ২৮ করে।
সানরাইজার্সের হয়ে ১৬ ম্যাচ খেলা মুস্তাফিজুরের প্রতি ম্যাচে ওভারপ্রতি রান খরচ ৬.৯০। যেখানে তার পেছনে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুনীল নারিনের খরচ ৬ দশমিক ৯২।

আইপিএল-এর সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় মুস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। রবিবার বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় হায়দরাবাদ। পুরস্কার বিতরণের সময় সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে মুস্তাফিজের নাম ঘোষণা করেন রবি শাস্ত্রী।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নবম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেকের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ হয়েছে তার। আর এই সুযোগটা খুব ভালো ভাবেই কাজে লাগিয়েছেন মুস্তাফিজ। নিজের বোলিং দ্যুতি ছড়িয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
কী স্লোয়ার! কী কাটার! কী ইয়র্কার! সবখানে যেন মুস্তাফিজ দিনে দিনে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন সবাইকে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম ম্যাচ থেকেই চমক দেখাতে থাকেন ফিজ। ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে শুরু হয় তার আইপিএল মিশন।
আইপিএল-এ ১৭টি ম্যাচ খেলেছে মুস্তাফিজের সানরাইর্জেস হায়দরাবাদ। এরমধ্যে মুস্তাফিজ খেলেছেন ১৬টি ম্যাচ; যেখানে তার উইকেট সংখ্যা ১৭টি উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তিনি ৫ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে ৬১ ওভার বল করেছেন ফিজ। রান দিয়েছেন ৪২১। ওভার প্রতি তার নেট রান রেট ৬.৯০। কমপক্ষে ২০ ওভার বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে তার চেয়ে কম ইকোনোমি রেট নেই আর কারও।

রানমেশিন কোহলি, সেরা শিকারি ভুবনেশ্বর

বেঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে হায়দ্রাবাদের হাতে শিরোপা উঠে শেষ হয়েছে আইপিএলের নবম আসর। শুরু থেকেই ব্যাট-বলের জমজমাট এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে শীর্ষে থেকে আসরকে স্মরণীয় করে রাখলেন বিরাট কোহলি ও ভুবনেশ্বর কুমার।

ব্যাট হাতে আসরের প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের নাজেহাল করে ছাড়েন কোহলি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দলপতি কোহলি ১৬ ম্যাচে করেছেন সর্বোচ্চ ৯৭৩ রান। ৭টি অর্ধশতক আর ৪টি শতকে তার ব্যাটিং গড় ছিল অসাধারণ। ৮১.০৮ গড়ে আর ১৫২.০৩ স্ট্রাইক রেটে কোহলি ৬৪০টি বল মোকাবেলা করেন। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেছেন তিনি। ভারতীয় এই রানমেশিনের ব্যাট থেকে ৮৩টি বাউন্ডারি আর আসরের সর্বোচ্চ ৩৮টি ওভার বাউন্ডারি এসেছে।

এবারের আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৪৮ রান করেছেন হায়দ্রাবাদের দলপতি ডেভিড ওয়ার্নার। সর্বোচ্চ নয়টি অর্ধশতক হাঁকালেও তার কোনো শতক ছিল না। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৮৮টি চারের পাশাপাশি তিনি হাঁকিয়েছেন ৩১টি ছক্কা।

১৭ ম্যাচে ৬৬ ওভার বল করে ৪৯০ রানের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ২৩টি উইকেট দখল করেন হায়দ্রাবাদের পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ৭.৪২ ইকোনমি রেটে বল করা এই পেসারের সেরা বোলিং ফিগার ছিল ২৯ রানের বিনিময়ে চার উইকেট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি উইকেট দখল করেন বেঙ্গালুরুর যোগেন্দ্র চাহাল।

এবারের আইপিএলের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন কোহলি। ৩৫৬.৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনি টপকে যান ৩৩৮.৫ পয়েন্ট পাওয়া ডেভিড ওয়ার্নারকে। কোহলি-ভিলিয়ার্সদের বেঙ্গালুরুকে হারানোর পর এবারের আসরের ফেয়ার-প্লে অ্যাওয়ার্ডও নিজেদের নামে রেখেছে ওয়ার্নার-মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ।

সেরা ইকোনমি রেটে বল করেছেন পুনের অজি তারকা মিচেল মার্শ। ৩ ম্যাচ খেলে ইনজুরিতে ছিটকে পড়া এই পেসার ৫.০০ ইকোনমি রেট ধরে রেখেছিলেন। কলকাতার অলরাউন্ডার ইউসুফ পাঠান ১৫ ম্যাচ খেলে ৫.৫০ ইকোনমি রেটে বল করে এই তালিকায় দুইয়ে।

মুস্তাফিজরাই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন

টস জিতেও সানরাইজার্স হায়দারাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ব্যাটিং নিয়েছিলেন বোলারদের ওপর আস্থা রেখে। ২০৯ রানের টার্গেট বেধে দেয়ার পর চ্যাম্পিয়নশিপটাও যেন নিজেদের করে নিয়েছিল মুস্তাফিজরা। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরাও জবাব দিয়েছিল বেশ। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বোলারদের নৈপুন্যেই আইপিএল নবম আসরের শিরোপা জিতে নিল মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

Sunrisers Hyderabad

Sunrisers Hyderabad


সানরাইজার্স হায়দারাবাদের দেয়া ২০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিরাট কোহলি আর ক্রিস গেইলের দুর্দর্ষ ওপেনিং জুটির পরও ৮ রানের ব্যবধানে হেরে যেতে হলো রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে। মাত্র ১০.৩ ওভারেই ১১৪ রানের বিশাল জুটি গড়ে ফেলেছিলেন কোহলি-গেইল। সে জায়গা থেকে বোলাররাই জয়ের পথে ফিরিয়েছে সানরাইজার্সকে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তুললো বিরাট কোহলির দল।

ম্যাচ শুরুর আগেও বেশ শঙ্কা ছিল মুস্তাফিজ খেলতে পারবেন কি না। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিকই ফিট হয়ে মাঠে ফিরলেন তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই দিলেন মাত্র ৪ রান। অথচ ওই সময় গেইল-কোহলির ধুন্দুমার ব্যাটিং চলছিল। সানরাইজার্সের বোলারদের কোন পাত্তাই দিচ্ছিল না তারা দু’জন।
Vivo IPL 2016 M34 - SRH v GL
অবশেষে সানরাইজার্সের ত্রানকর্তা হয়ে এলেন বেন কাটিং। ব্যাট হাতে যেমন শেষ মুহূর্তে ঝড় তুলে সানরাইজার্সের রান পার করে দিয়েছিলেন দুইশ’র বেশি। বল হাতে এসেই তুলে নিলেন ক্রিস গেইলের উইকেট। ৩৮ বলে ৭৬ রান করে আউট হন গেইল। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ৮টি ছক্কার মার।

এরপর বাকি ছিল বিরাট কোহলির উইকেট। তাকে বোল্ড করে ফেরালেন বারিন্দার ¯্রান। ৩৫ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ২ টি ছক্কার মার। বাকি ছিলেন আরেক ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট। বিপুল শর্র্মার বলে মাত্র ৫ রান করে ফিরে গেলেন তিনিও।

শেন ওয়াটসন চোখ রাঙ্গানি দিয়েছিলেন কিছুটা। তবে তাকে দারুন এক ¯েøায়ারে তুলে নিলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের এই বিস্ময় পেসার পেতে পারতেন আরও উইকেট। একটি ক্যাচ মিস হয়েছিল, আরও কয়েকটি ভালো বলে উইকেট পেলেন না তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত দিয়েছিলেন ৩৭ রান।

শচিন বেবি ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১১ রান করে করেন ওয়াটসন এবং লোকেশ রাহুল। বেন কাটিং ২ উইকেট নেন। ৩৯ রানের সঙ্গে ২ উইকেট নিয়ে তিনিই হলেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, ম্যান অব দ্য ফাইনাল।

প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজুর রহমান। সম্ভবত বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারের নাম। বাংলাদেশের সাৎক্ষীরার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্ব জয় করে নিয়েছেন তিনি। সবার মুখে মুখেই ঘুরছে তার নাম।

বিস্ময়কর পেসার হিসেবে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। সেই মুস্তাফিজ এবার জিতে গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে গø্যামারাস ফ্রাঞ্জাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট, আইপিএল। প্রথমবার খেলতে গিয়েই শিরোপা এনে দিলেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে।

পুরো আইপিএলজুড়ে করলেন অসাধারণ বোলিং। সবচেয়ে কৃপণ বোলার হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন তিনি আইপিএলে। ঈর্ষনীয় ইকনোমি রেট। ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষের কোমর ভেঙে দেয়ার মূল কাজটি তিনিই করে আসছিলেন। আজও যেমন শেষ দুই ওভারে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর মত ব্যাটিং নির্ভর দলের বিপক্ষে কম খরুচে বোলার ছিলেন তিনিই।

সব মিলিয়ে ১৬ ম্যাচ খেললেন তিনি। উইকেট নিলেন ১৭টি। ইকনোমি রেট মাত্র ৬.৯ করে। ১৬ ম্যাচে ৬১ ওভার বল করে ৪২১ রান দিয়েছেন।

হায়দারাবাদ নয় যেন জিতেছে বাংলাদেশ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এটি নবম আসর। এর আগে আটটি আসর হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এবারের মত এতটা আলোচনায় কখনোই ছিল না আইপিএল। আর এর একটাই কারণ, এবার যে খেলছেন বাংলাদেশের বিস্ময়বালক মুস্তাফিজুর রহমান।

এর আগে আইপিএলে খেলেছেন বাংলাদেশের আব্দুর রাজ্জাক, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মোহাম্মদ আশরাফুল। সাকিব আল হাসানতো দুইবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনায় ছিলেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত বোলিং করে সে আলোচনায় আরও রশদ জুগিয়ে দিয়েছেন এ নবীন পেসার।

ছেলে বুড়ো হতে সবাই রোববার চোখ রেখেছিলেন টিভির পর্দায়। সবার চাওয়া ছিল একটি। শিরোপাটা যেন মুস্তাফিজের হাতে ওঠে। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। দারুণ জমজমাট লড়াই শেষে শিরোপা জিতে নেয় হায়দারাবাদ। আর তাতেই গর্জে ওঠে বাংলাদেশ।

আইপিএলের ফাইনাল শেষ হবার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে মুস্তাফিজকে অভিনন্দন জানিয়ে স্ট্যাটাসের হিড়িক পরে যায়। শাহিন আহমেদ নামে একজন লিখেন, ‘এরচেয়ে ভালো আর কি হতে পারে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের হাতেই শিরোপা। মুস্তাফিজ তুমি সত্যিই সুন্দর।’

রুবেল নামে একজন লিখেছেন, ‘প্রথমবারেই কাপ মুস্তাফিজের হাতে। অবাক হবার কিছুই নেই। কারণ টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে কি টেস্ট অভিষেকেতো ওই হিরো ছিল। ইউ ডিজার্ভ ইট দ্যা ফিজ!’

আক্তারুজ্জান নামে একজন লিখেছেন, ‘ডেথ ওভারের হিরো সত্যিই ফিজ। আজকে কয়েকটা ছয় হয়েছে বলে অর বোলিং খারাপ হয়নি। আসলে পিচটাই ছিল পাটা। কে না আজ মেরেছে। সানরাজার্সের হিরো মুস্তাফিজ, ভুবেনেস্বর আর অবশ্যই ওয়ার্নার।’

আরিফ নামে একজন লিখেছেন, ‘প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়েই শিরোপার স্বাদ পেলেন মুস্তাফিজ! অভিনন্দন মুস্তাফিজ, অভিনন্দন ওয়ার্নার, অভিনন্দন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।’

ফাইনালে খেলছেন মুস্তাফিজ

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে আইপিএলের ফাইনালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুস্তাফিজের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে নিশ্চিত করা হয় তার খেলার খবর। বেঙ্গালুরুর চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুস্তাফিজদের প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়ে গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচই খেলেছেন মুস্তাফিজ। খেলেছেন এলিমিনেটর ম্যাচটিও। তবে শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ছিলেন না একাদশে। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার জানিয়েছিলেন, হালকা হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার।
১৫ ম্যাচ খেলে এবারের আইপিএলে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৬.৭৩। কমপক্ষে ১০ ওভার বোলিং করা বোলারদের মধ্যে এবারের আইপিএলে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং মুস্তাফিজেরই।

ব্যাটিং ডায়নামাইটসদের বিরুদ্ধে মুস্তাফিজদের স্বপ্নপূরণের যুদ্ধ

আইপিএলে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আজ মাঠে নামছে মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও বিরাট কোহলি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। আগের আট আসরের কোনটিতেই শিরোপা জিততে পারেনি হায়দরাবাদ ও ব্যাঙ্গালুরু। ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বমী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হবে ফাইনাল।

টুর্নামেন্টের পুরো আসর জুড়েই দাপট দেখিয়েছে মুস্তাফিজুরের হায়দরাবাদ। ফলে শেষ চারে জায়গা পেতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি তাদের। তৃতীয় দল হিসেবেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় হায়দরাবাদ। ১৪ খেলায় ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় হয় তারা।

দলের এমন দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পেছনে আসল ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান, অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও ভুবেনশ্বর কুমার। ১৬ ম্যাচে ৭৭৯ রান করে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ওয়ার্নার। আর বোলার হিসেবে ভুবেনশ্বর ২৩ ও মুস্তাফিজুর ১৬ উইকেট নেন। এই তিন খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে প্রথমবারের ফাইনালে নাম লেখায় হায়দরাবাদ।

এলিমিনেটর ম্যাচে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে কোয়ালিফাইয়ার-২ এ নাম লেখায় হায়দ্রবাদ। ২২ রানে ম্যাচটি জিতে তারা। আর কোয়ালিফাইয়ার-২ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পায় তারা। ৫৮ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারনে গুজরাটের বিপক্ষে কোয়ালিফাইয়ার-২ ম্যাচে খেলতে পারেননি মুস্তাফিজুর। তবে তার ইনজুরিটা খুব বেশি মারাত্মক কিছু নয় জানিয়েছিলেন ওয়ার্নার। ফাইনালে মুস্তাফিজুরকে খেলার ব্যাপারে আশাবাদি হায়দরাবাদ। ম্যাচ শুরুর আগে মুস্তাফিজুরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নিবে হায়দরাবাদ। তবে যাই হোক, ফাইনাল বলে কথা। যেভাবেই হোক দলের অন্যতম সেরা তারকাকে ফাইনালে খেলানোর পরিকল্পনা হায়দরাবাদের।

হায়দরাবাদের মত দুর্দান্ত ফর্ম টুর্নামেন্টের শুরু থেকে প্রদর্শন করতে পারেনি ব্যাঙ্গালুরু। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষদিকে এসে ঝলসে উঠে ব্যাঙ্গালুরু। আসলে ব্যাঙ্গালুরু বললে ভুলই হবে। দলকে একাই খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে শেষ চারে নিয়ে আসেন কোহলি। ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন শেষ আট ম্যাচে। ৩টি সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকান কোহলি। তার এমন রাজকীয় ইনিংসগুলোর উপর ভর করেই পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয়স্থান পায় ব্যাঙ্গালুরু। সেই অপ্রতিরোধ্য এবি ডি’ভিলিয়ার্সের সব টর্নেডো ইনিংস।

তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠছে ব্যাঙ্গালুরু। তাই এবার আর কোনো ভুল না করে শিরোপা জয়ের স্বাদ নিতে ব্যাকুল হয়ে আছে দলটি। শিরোপা জয়ের জন্য ব্যাকুল হায়দরাবাদও। তাই ফাইনালটি যে জম্পেশ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লিগ পর্বে দু’বার মুখোমুখি হয়েছিলো হায়দরাবাদ ও ব্যাঙ্গালুরু। প্রথম দেখায় ব্যাঙ্গালুরু জিতেছিলো ৪৫ রানে। আর দ্বিতীয় দেখায় হায়দরাবাদ জয় পেয়েছিলো ১৫ রানে।

ইনজুরি কাটানো মুস্তাফিজ আরো ভয়ংকর

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনবার ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে প্রত্যেকবার ইনজুরি থেকে ফিরে আরো ভয়ংকর রূপেই আর্বিভূত হয়েছেন বাইশ গজের ক্রিজে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইনজুরিতে পড়েছিলেন মুস্তাফিজ। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে বাম কাঁধের ইনজুরিতে পড়েছিলেন কাটার মাস্টার।

সেই ইনজুরি থেকে ফিরে ভয়ংকর রূপে দেখা দিলেন মুস্তাফিজ। এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অফ কাটার ম্যাজিকে চার ওভারে মাত্র ১৩ রানে নিয়েছিলেন দুই উইকেট, পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজ ভেলকিতে খেই হারিয়েছিলেন। ওই ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ার আগে চার ওভারে ১৯ রানে নিয়েছিলেন এক উইকেট।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরির কারণে মুস্তাফিজ টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাই এবং মূল পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে এক রানের হারের ম্যাচে ইনজুরি ফেরত মুস্তাফিজকে পড়তে হিমশিম খেতে হয়েছিল ভারতীয় শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের ব্যাটসম্যানদের।ওই ম্যাচে চার ওভারে ৩৪ রানে দুই উইকেট শিকার করেছিলেন দ্যা ফিজ।

তবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজ দেখান সেরা ভেলকি। নিউজিল্যান্ডের স্পেশালিস্ট টি-২০ ব্যাটসম্যানদের নাকনি চুবানি দিয়ে ঘোল খায়িয়ে চার ওভারে ২২ রানে শিকার করেছিলেন ৫ উইকেট।

চলতি আইপিএলে এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচে ৬.৭৩ ইকোনোমি রেটে ১৬ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি মুস্তাফিজ। ‘দ্যা ফিজ’ গেল প্রায় দুই মাস ধরে হায়দরাবাদের হয়ে টানা ১৫ ম্যাচ খেলেছেন। ১৫ ম্যাচে ৫৭ ওভার বল করেছেন তিনি। ১ মেডেনসহ ৩৮৪ রান দিয়েছেন। তার সেরা বোলিং ফিগার ১৬ রানে ৩ উইকেট। এবারের অইপিএলে সেরা ১০ উইকেট শিকারীর মধ্যে ইকোনমি রেটে মুস্তাফিজই সবার উপরে। আইপিএলে ডেথ ওভারে সবচেয়ে সেরা ইকোনোমি রেটও (৭.২৮) তার।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির জন্য শুক্রবার প্লে অফের কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে মাঠে নামেন নি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ।

রবিবারের ফাইনালের জন্য পুরো ফিট অবস্থায় রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। নতুন কোনো সমস্যা না হলে ফাইনালে ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরা ইনজুরি ফেরত কাটার মাস্টারের ভয়ংকর রূপ দেখতে পারবে ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান তাই বলে দিচ্ছে।

ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও বলেছেন মুস্তাফিজ একাই পারে শক্তিশালী ব্যাঙ্গালুরুর লাইন আপ গুড়িয়ে দিতে। আর মুস্তাফিজ ভক্তরাও চাচ্ছে প্রথমবারের আইপিএলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে দারুণ ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশি বাঁহাতি এই পেসার মুস্তাফিজ।

নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে আইপিএল

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ফাইনাল দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরের দেড় মাসের মহোৎসব। আর এ ম্যাচ শেষে আইপিএল পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে দুই দলের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে আজ মাঠে নামবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দুই দলের কেউই এখন পর্যন্ত জিততে পারেনি আইপিএল শিরোপা। আইপিএলের প্রথম থেকে শুরু করে সব আসরেই খেলছে বেঙ্গালুরু। আর ২০১৩ সালে আইপিএলে যাত্রা শুরুর পর হায়দরাবাদ এবার খেলছে চতুর্থবারের মতো।

২০০৯ ও ২০১১ সালে ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি বেঙ্গালুরু। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মোক্ষম সুযোগ আছে তাদের সামনে। অধিনায়ক বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্সরা যেভাবে ব্যাটিং করছেন, তাতে অনেকের চোখেই শিরোপার প্রধান ফেভারিট বেঙ্গালুরু। প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট লায়ন্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কোহলির দল।

আর আইপিএলে হায়দরাবাদের সেরা সাফল্য এসেছিল ২০১৩ সালে। সেবার তারা খেলেছিল প্লে-অফে। তবে এলিমিনেটর ম্যাচে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার অবশ্য একধাপ এগিয়ে গেছেন ডেভিড ওয়ার্নার-মুস্তাফিজরা। এলিমিনেটর ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

দলের অধিনায়ক ওয়ার্নার আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। আর বোলিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভুবনেশ্বর কুমার-মুস্তাফিজরা। তাই বলা যায় আজ লড়াইটা হবে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং বনাম হায়দরাবাদের বোলিং।

ফাইনালে কোহলি-মুস্তাফিজদের সম্ভাব্য একাদশ

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ফাইনাল দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরের দেড় মাসের মহোৎসব। দুই দলই তাদের প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। অবশ্য আজ লড়াইটা হবে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং বনাম হায়দরাবাদের বোলিং।

ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম থেকে যা সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন, সনি সিক্স ও সনি ইএসপিএন।

প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে যে দুই দলই সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বেঙ্গালুরু ফাইনালে সুযোগ দিতে পারে চাহালকে। তিনি কোয়ালিফায়ার ম্যাচ না খেললেও পুরো টুর্নামেন্টে বেশ ভালো বল করেছেন।

অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমানের ইনজুরি ঘাম ছুটিয়ে দিচ্ছে হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্টের। ইনজুরির কারণে মুস্তাফিজ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলতে পারেননি। তার পরিবর্তে সেরা একাদশে সুযোগ পাওয়া ট্রেন্ট বোল্ট খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। মুস্তাফিজ যদি ফিট থাকেন তবে ফাইনালে খেলবেন। আর ফিট না থাকলে তার পরিবর্তে বোল্ট মাঠে নামবেন।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সম্ভাব্য একাদশ :
ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, লোকেশ রাহুল, শেন ওয়াটসন, স্টুয়ার্ড বিনি, শচীন বেবি, ক্রিস জর্দান, ইকবাল আবদুল্লাহ,  শ্রীনাথ অরবিন্দ, ইউযবেন্দ্র চাহাল।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সম্ভাব্য একাদশ :
ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, মইসেস হেনরিকস, যুবরাজ সিং, দীপক হুদা, বেন কাটিং, নামান ওঝা, ভুবনেশ্বর কুমার, বিপুল শর্মা, বারিন্দার স্রান, মুস্তাফিজুর রহমান/ট্রেন্ট বোল্ট।

ফাইনাল খেলতে আত্মবিশ্বাসী মুস্তাফিজ

ইনজুরির কারণে আইপিএল-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে খেলতে পারেননি টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। যদিও তাকে ছাড়াই আইপিএল-এর ফাইনালে উঠেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
রবিবার ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মুস্তাফিজ খেলবেন কিনা তা নিয়ে বেশ চিন্তিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম জানালেন, ফাইনালে খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মুস্তাফিজ।
তিনি বলেন, ‘আজ দুপুরে মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জানালো ব্যথা নেই, ভালোই আছে। রাতে খুব ভালো সময় কেটেছে, সবার সঙ্গে মজা করেছে। সকালে ফিজিও দেখে জানিয়েছেন তেমন কোনও সমস্যা নয়। তবে আমি যেহেতু কাছে নেই এই মুহূর্তে আমার পক্ষে সব বলা সম্ভব নয়। তবে মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো, কালকে খেলার ব্যাপারে ওর আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন ইনজুরি সাধারণত খুব বেশি ভোগায় না ক্রিকেটারদের। মুস্তাফিজকে ইতিবাচকই মনে হয়েছে। এই ইনজুরিটা আগের নয়, এটা নতুন সমস্যা। মনে হয় খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই।’
আইপিএল-এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে টস জয়ের পর ওয়ার্নার বলেন, ‘মুস্তাফিজ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছে। তবে তা তেমন গুরুতর নয়।’

কোমর দুলিয়ে নাচলেন মুস্তাফিজ

যে রাঁধে সে চুলও বাধে- অথ্যাৎ সব কাজে পটু। বাংলায় বিভিন্ন স্লোকে কথাটা ব্যবহার হলেও এর সঙ্গে মুস্তাফিজের সংযোগ টানা কেন? তবে তার আগে একটু বিশ্লেষণ করা যাক, মুস্তাফিজ বাঁ-হাতের ভেলকি দেখিয়ে বিশ্ব মাত করে বেড়াচ্ছেন। তাই বলে কী, কোমর দুলিয়ে নাচবেন? কিংবা বন্দুক হাতে তুলে নেবেন? সব কাজে পটু হলেও তো এমন করার কথা নয়!

পাঠক, কথাগুলো শুনে অবাক হচ্ছেন! আসলে মুস্তাফিজকে নিয়ে এমন কথা লিখলে তো অবাক হওয়ারই কথা; কিন্তু কথাগুলো যে মজা করার জন্য নয়, সিরিয়াসলি বলা। কারণ, সত্যি সত্যি মুস্তাফিজ কোমর দুলিয়ে নেচেছেন এবং বন্দুকও হাতে তুলে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বোলিং ছেড়ে দিয়ে উইকেটরক্ষকের দায়িত্বও পালন করলেন তিনি।

আগেরদিনই অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে গুজরাট লায়ন্সকে হারিয়ে আইপিএল নবম আসরের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেললো সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। রোববার ফাইনালে মাঠে নামার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেলো সানরাইজার্স হায়দারাবাদের ক্রিকেটারদের।

হায়দারাবাদের স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেলো মুস্তাফিজদের। সময়টা অবশ্য প্লে অফ খেলার আগের ঘটনা। হায়দারাবাদের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে হায়দারাবাদের তিনজন করে ক্রিকেটারের একটি করে দল সময় কাটায়। মুস্তাফিজের সঙ্গে ছিলেন মইসেস হেনরিক্স এবং বিপুল শর্মা।

সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে মজা করতে যাওয়ার পর প্রথমেই দেখা গেলো প্ল্যাকার্ডে লেখা মুস্তাফিজের নাম। তার নামে স্লোগান দিয়ে শিশুরাও মুস্তাফিজকে স্বাগত জানায়। এরপর মঞ্চে দেখা গেলো হেনরিক্স আর বিপুল শর্মার নাচ। মুস্তাফিজ বসে বসে হাসছেন। শিশুদের জন্য প্রতিকী চিহ্ন হিসেবে সাদা ব্যানারে হাতের চাপ দিতে দেখা গেলো তাকে।

হেনরিক্স, বিসলাসহ নানা কার্যক্রম দিয়ে শিশুদের মাতিয়ে তোলেন। এরই এক ফাঁকে দেখা গেলো মঞ্চে দুই শিশুর হাত ধরে নাচছেন মুস্তাফিজ। এর একটু পরই বিপুল শর্মার সামনে ব্যাট করতে দাঁড়িয়ে গেলেন হেনরিক্স। উইকেটকিপার হলেন মুস্তাফিজ। তিনি আবার আউটও করলেন হেনরিক্সকে।

শেষে দেখা গেলো বন্দুক হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। না, কাউকে মারার উদ্দেশ্যে নয়, বেলুন ফাটানোর জন্য। আইপিএলে খেলতে গিয়ে যে বেশ মজার মধ্যেও আছেন মুস্তাফিজ, এ ভিডিও দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

কোহলির প্রেমে মজেছেন পুনম পান্ডে (ভিডিও)

সামনেই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে এক হাজার রানের হাতছানি। ৮১ রান দূরে থেকে ফাইনাল শুরু করবেন বিরাট কোহলি। এবারের আইপিএলে যেন ভিনগ্রহের ক্রিকেট খেলছেন এই ব্যাটসম্যান। টুর্নামেন্টে চারটি সেঞ্চুরি করে ইতোমধ্যে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন কোহলি। এমন সুদর্শন ব্যাটসম্যানের প্রেম পড়তে বাধ্য হলেন ভারতের অভিনেত্রী পুনম পান্ডে।

সম্প্রতি বিশ্বের তৃতীয় সেরা বাজারজাত খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিরাট কোহলি। তার চাহিদাও রয়েছে আকাশচুম্বী। অন্যদিকে পুরনো প্রেমিকা আনুশকা শর্মার সাথেও বিরাটের সম্পর্ক ঠিক হয়েছে বলে বিভিন্ন দিকে গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। ঠিক এ সময়েই বিরাটকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেন পুনম পান্ডে। একটি সাক্ষাৎকারে পুনম পান্ডে বলেন, ‘আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বিরাটকে ভালোবাসি।’

এর আগে নানা কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন পুনম পান্ডে। ২০১৫ সালে ভারত বিশ্বকাপ জিতলে নিজের নগ্ন ছবি প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অবশ্য ভারত না জেতায় সেটি বাস্তবে ঘটেনি।

অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি মডেল বিরাট কোহলির প্রেমে পড়ে আবেদনময়ী ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেন। যদিও কোহলি সে সকল বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে মাঠেই লড়ে গেছেন ভারতের হয়ে।

তবে পুনম পান্ডের সাক্ষাৎকারে বোঝা গেল, কোহলি আইপিএলের ফাইনাল জিতলে হয়ত বিশেষ কিছু অপেক্ষা করছে তার ভক্ত-সমর্থকদের জন্য।

মুস্তাফিজের ইনজুরিতে দুশ্চিন্তায় ভুবনেশ্বর

গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে টসের আগ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। টসে জিতে বোলিং নেয়ার সময়েই হায়দারাবাদের অধিনায়ক ওয়ার্নার জানালেন দুঃসংবাদটি। ইনজুরির কারণে আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ মিস করছেন মুস্তাফিজ। অবশ্য তাকে ছাড়াই ভুবনেশ্বরের অসাধারণ বোলিংয়ে ভালো লড়াই করে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে হায়দারাবাদ। কিন্তু মুস্তাফিজের অভাব বেশ ভালোভাবেই অনুভব করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার।

মুস্তাফিজের ইনজুরি নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। ফাইনালের মত বড় মঞ্চে মুস্তাফিজকে ছাড়া হায়দারাবাদ দল অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। কুমার বলেন, ‘মুস্তাফিজ এখন পর্যন্ত অসাধারণ পারফর্ম করে আসছে কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুস্তাফিজকে হারানো আমাদের জন্য খুব সহজ বিষয় ছিল না। কিন্তু বোল্ট বেশ ভালো করেছে। শেষের দিকে যদিও বোল্ট বেশ কিছু রান দিয়েছে কিন্তু এগুলো খেলারই অংশ।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিউই দলের সাথে থেকেও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ট্রেন্ট বোল্ট। হায়দারাবাদের হয়েও টুর্নামেণ্টের ১৫টি ম্যাচে খেলতে পারেননি এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম ম্যাচে বল হাতে ৪ ওভারে ৩৯ রান দেয়ার পাশাপাশি নিয়েছেন ১টি উইকেট।

দলে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে বেশ পরিশ্রম করেছেন বোল্ট। ভুবনেশ্বরের কথায়, ‘আপনি যদি তাকে দেখেন, সে অনেক পরিশ্রম করছে নেটে। সে জানে হয়ত সেমিফাইনাল কিংবা দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাকে মাঠে নামতে হতে পারে।তবে মুস্তাফিজকে হারানোটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি ছিল।’

ফাইনালে মাঠে নামবেন মুস্তাফিজ

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে দলে ছিলেন না কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। তবে ওয়ার্নারের ব্যাটের উপর ভর করে ফাইনালে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে মুস্তাফিজের দল। আর ফাইনালে দলের হয়ে মাঠে নামবেন এই কাটার মাস্টার। এমনটাই জানালেন দলের অধিনায়ক।

এ নিয়ে ওয়ার্নার বলেন, অনুশীলনের সময় সামান্য হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় এ ম্যাচে নেই মুস্তাফিজ। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়েই ফাইনালে আবারো মাঠে নামবেন ফিজ।

তবে, টানা খেলার মধ্যে থাকা মুস্তাফিজের শারিরীক অবস্থা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। আইপিএল খেলতে গিয়েই পায়ে সামান্য চোঁট পেয়েছেন মুস্তাফিজ। আর সাথে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার কারণে কাজ করছে ‘হোম সিকনেস’। সেকারণেই, গত কয়েকদিন যাবৎ নিষ্প্রভ বাঁ-হাতি এই পেসার।

এদিকে আইপিএল শেষ করে দেশে ফেরার পর কতটা বিশ্রাম পাবেন – সে ব্যাপারটাও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, সাসেক্সে খেলতে গেলে আবারও দীর্ঘ সময় থাকতে হবে দেশের বাইরে। আর দেশে থাকলে, মোহামেডানের হয়ে খেলতে নেমে যেতে হবে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে।

মুস্তাফিজের হায়দারাবাদকে ফাইনালে তুললেন ওয়ার্নার

মুস্তাফিজের অভাবটা ভালোই টের পেলো সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি তিনি। পরিবর্তে ট্রেন্ট বোল্ট সুযোগ পেলেন। কিন্তু কিউই এই পেসারের কাছ থেকে ৩৯ রান নিল গুজরাট ব্যাটসম্যানরা। সবচেয়ে বড় কথা, ডেথ ওভারে মুস্তাফিজ যেভাবে রান আটকায়, সেটা তো পারেইনি বোল্ট, উল্টো ডেথ ওভারে সানরাইজার্সের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ রান আদায় করে নিয়েছিল গুজরাট।

শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য দাঁড়াল ১৬৩। এই রান তাড়া করতে নেমেও যেভাবে একের পর এক উইকেট বিলাতে শুরু করে হায়দারবাদের ব্যাটসম্যানরা, তাতে পরাজয়ের শঙ্কাই দেখা দেয় মুস্তাফিজের দলের সামনে। ১১৭ রানের মাথায় ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের দৃঢ়তায় গুজরাটকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেলো সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

ডেভিড ওয়ার্নারকে সম্ভবত কোন বিশেষণেই বিশেষায়িত করা যাবে না। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে বলতে গেলে হায়দারাবাদকে একা টেনে নিয়ে এসেছেন তিনি। বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থতার পরিচয় দিলে সেখানে করার কিছু থাকে না; কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ ওয়ার্নারের ব্যাটই বাঁচিয়ে দিয়েছে সানরাইজার্সকে।

আজও যেমন শিখর ধাওয়ান গোল্ডেন ডাক মেরে দিল, হেনরিক্স আউট হয়ে গেলেন ১১ রানে। যুবরাজ সিং ১৩ বল খেলে ৮ রান, দীপক হুদা ৯ বলে ৪, বেন কাটিং ৭ বলে ৮ রান এবং নোমান ওঝা ৮ বলে ১০ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর সানরাইজার্সের জয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় বলতে গেলে। কেউ আর তখন তাদের পক্ষে বাজি ধরার মত ছিল না।

তবে, ডেভিড ওয়ার্নার তখনও উইকেটে ছিলেন বলে কেউ কেউ বাজি ধরার সাহস পেয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদেরই জয় হলো। ওয়ার্নারের উইলোবাজি এতটাই প্রকট ছিল যে, গুজরাট অধিনায়ক সুরেশ রায়নার কোন কুটচালও তাকে সেখান থেকে ফেরাতে পারেনি। মাত্র ৫৮ বল খেলে ১১টি বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৯৩ রান সংগ্রহ করেন ওয়ার্নার। এমনকি অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই তবে মাঠ ছাড়েন তিনি।

শেষ মুহূর্তে ওয়ার্নারকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন বিপুল শর্মা। মূলতঃ স্পিনার হলেও কার্যকরি ব্যাটিং করে থাকেন তিনি। ১১ বল খেলে ২৭ রান তুলে জয়ের কৃতিত্বটা কিন্তু তারও প্রাপ্য। ২৭ রানের মধ্যে তিনটি ছক্কা। কোন বাউন্ডারি নেই। ওয়ার্নারের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

গুজরাট লায়ন্সের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন শিবিল কৌশিক এবং ডোয়াইন ব্রাভো। ১ উইকেট নেন ডোয়াইন স্মিথ। ২৯ মে রোববার ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

আইপিএলে ডেথ ওভারের সেরা বোলার মুস্তাফিজুর

এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ডেথ ওভারের (১৬-২০) সবচেয়ে কৃপণ বোলার হিসেবে জায়গা দখল করে আছেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বাংলাদেশি পোস্টারবয় মুস্তাফিজুর রহমান।
শুক্রবার দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও গুজরাট লায়ন্সের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের আগে এ পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো।
তারা বলছে, চলতি মৌসুমে ১৬ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে অন্তত ৬ ওভার হলেও করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানই রান খরচে সবচেয়ে বেশি কৃপণতা দেখিয়েছেন। যেখানে এই সময়টায় সব দলের ব্যাটসম্যানদের মারকুটে তাণ্ডবে ওভারপ্রতি গড়ে ১২-১৫ রান পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়, সেখানে টাইগার বিস্ময়বালকের খরচ মাত্র ৭ দশমিক ২৮ করে। অর্থাৎ এই সময়টার প্রতিটি ওভারে তিনি রান দিয়েছেন মাত্র ৭ দশমিক ২৮ রান করে।
পুরো ম্যাচের বোলিং বিচারেও সবচেয়ে কৃপণ বোলার মুস্তাফিজুর। সানরাইজার্সের হয়ে ১৫ ম্যাচ খেলা মুস্তাফিজুরের প্রতি ম্যাচে ওভারপ্রতি রান খরচ ৬ দশমিক ৭৩। যেখানে তার পেছনে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুনীল নারিনের খরচ ৬ দশমিক ৯২।
এই টুর্নামেন্টে ১৬ ব্যাটসম্যানকে ধরাশায়ী করে মুস্তাফিজ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদেরও তালিকায় আছেন ৬ নম্বরে। সানরাইজার্স ও লায়ন্সের খেলা শুরু হওয়ার আগে ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ডার্ক ন্যানেস বলছেন, এবারের আইপিএলে সেরা বোলিং টিম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদই। মুস্তাফিজুর রহমান ও ভুবনেশ্বর কুমারদের নেতৃত্বাধীন এ টিমের বোলিং আক্রমণের সামনে প্রত্যেকটি টিমকেই পরীায় পড়তে হয়েছে, সে পরীা শুক্রবার ফিরোজ শাহ কোটলায় দিতে হবে গুজরাট লায়ন্সকেও। শুক্রবার লড়াইয়ের আগে ক্রিকইনফোর পাঠকদের অনেকেই ম্যাচে মুস্তাফিজের ওপর আলো থাকবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন।

আইপিএল-এ নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ সাকিব

আইপিএলের চলতি আসরে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার খেলেছেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমান খেলছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। গত বুধবার মুস্তাফিজের দলের সঙ্গে হেরে চলতি আসর থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সাকিবের কলকাতাকে।
শুক্রবার বিকেলে সাকিব দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, আইপিএল-এ কলকাতার পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও নিজের পারফম্যান্স নিয়ে হতাশ। সাকিব বলেন, ‘দলের জন্য ভালো। আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে বললে, আরও ভালো করার সুযোগ ছিলো। সব সময় মানুষ যেমন চায়, তেমনটা হয় না। আমি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো তেমন কোনও ভালো পারফরম্যান্স করিনি।’
আইপিএল-এর মতো বড় একটি টুর্নামেন্টে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের খেলাকে দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আইপিএলে মুস্তাফিজের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিলো। দুই জন বাংলাদেশি এমন একটি বড় আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার।’ শেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন না, এটা নিয়ে আপে আছে কিনা জানতে চাইলে সাকিব বলেন, ‘আসলে টিম যা ভালো মনে করে, সে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। দলের স্বার্থে সেরা কম্বিনেশনই সেট করার চেষ্টা করা হয়। এখানে কিছু মনে করার কোনও অবকাশ নেই। সুযোগ পেলে আমার সব সময়ই চেষ্টা থাকে ভালো করার। সেদিন সুযোগ পেলেও তাই করতাম।’
আবাহনীর হয়ে মাঠে শনিবার মাঠে দেখা যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আপাতত পরিকল্পনা বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেব। তারপর চিন্তা করবো কি করা যায়।’

ইনজুরিতে মুস্তাফিজ

আইপিএল-এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে নেই মুস্তাফিজুর রহমান। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আজ গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি চলতি আইপিএল-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মুস্তাফিজ। এদিন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।
টস জয়ের পর ওয়ার্নার বলেন, ‘মুস্তাফিজ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছে। তবে তা তেমন গুরুতর নয়। তার বদলে খেলছে ট্রেন্ট বোল্ট।’
দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটিতে যারা জয় লাভ করবে তারা ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে খেলবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ : ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, ময়েস হেনরিকস, যুবরাজ সিং, বেন কাটিং, নমান ওঝা, দীপক হুদা, ভুবনেশ্বর কুমার, বরিন্দ্রার স্রান, বিপুল শর্মা, ও টেন্ট বোল্ট।

গুজরাট লায়ন্স : অ্যারন ফিঞ্চ, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, সুরেশ রায়না, দিনেশ কার্তিক, ডোয়াইন স্মিথ, রবীন্দ্র জাদেজা, ডোয়াইন ব্রাভো, একলব্য দ্বিভেদী, ধবল কুলকারনি, প্রভিন কুমার ও শিভিল কৌশিক।

মুস্তাফিজ-রায়নাদের সম্ভাব্য একাদশ

আইপিএলের চলতি আসরের ফাইনালে জায়গা করে নিতে আজ মাঠে নামবে মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ ও রায়নার গুজরাট লায়ন্স। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সুরেশ রায়নার গুজরাট এর আগে প্রথম কোয়ালিফায়ারে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে হেরে যায়। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ফাইনালের আশা টিকে থাকে দলটির সামনে।

আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বুধবার রাতে এলিমিনেটর ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলার সুযোগ অর্জন করে। আজকের ম্যাচে গুজরাটকে হারাতে পারলে ২৯ মে ফাইনালে বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে তারা।

দু’দলের সম্ভাব্য একাদশ:

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ:
ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, মইসেস হেনরিকেস, যুবরাজ সিং, দীপক হুদা, নামান ওঝা, বেন কাটিং, ভুবনেশ্বর কুমার, মুস্তাফিজুর রহমান।

গুজরাট লায়ন্স:
অ্যারন ফিঞ্চ, ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম, সুরেশ রায়না, দিনেশ কার্তিক, ডোয়েন স্মিথ, রবিন্দ্র জাদেজা, ডোয়েন ব্রাভো, একলব্য দ্বিবেদী, প্রভীন কুমার, ধাওয়াল কুলকার্নি, প্রভিন তামবে।

আইপিএলের দরজা বন্ধ হচ্ছে গেইলের!

বিগ ব্যাশে নারী সাংবাদিককে ডেটিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি ক্রিস গেইলকে। জরিমানাও গুনতে হয়েছিল তাকে। এবার আইপিএলে এক বৃটিশ নারী সাংবাদিককে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান।

ব্যাঙ্গালুরুতে গেইলের সাক্ষাৎকার নেয়া শার্লট এডওয়ার্ডসের দাবি, গেইল তাকে বলেন, ‘আপনি কোনও কৃষ্ণাঙ্গের সঙ্গে সহবাস করেছেন বা একসঙ্গে তিনজনে রাত কাটিয়েছেন?’ যৌন ইঙ্গিতবাহী, আপত্তিকর বেশ কিছু মন্তব্যের মধ্যে গেইল এমনও দাবি করেন যে, তার ‘ব্যাট’ বিশ্বের বৃহত্তম, যা তুলে ধরতে দুটো হাতই লাগে। বলেছেন, ‘আমি এতটাই সুপুরুষ যে আমাকে দেখে মেয়েরা নিজেদের সামলাতেই পারে না!’

এদিকে এমন কর্মকাণ্ডের পর নড়ে চড়ে বসেছে আইপিএল কর্তৃপক্ষও। আইপিএল চেয়ারম্যান রাজিব শুক্লা বলেন,  ক্রিকেটারদের অবশ্যই আচরণগত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। আমরা তাদের কাছে এসব টুর্নামেন্টে নির্ধারিত আচরণে সীমাবদ্ধ থাকতেই প্রত্যাশা করি। বিতর্কিত মন্তব্য জনসম্মুখে কোনওভাবেই কাম্য নয়। আমি ইস্যুটি নিয়ে বিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করবো।

এমনকি এ নিয়ে গেইলের আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর কাছেও কথা বলতে চান রাজিব শুক্লা। তার এই কথার পর ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে আইপিএল থেকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে যাচ্ছেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।

কলকাতাকে হারিয়ে টিকে রইলেন মুস্তাফিজরা

এলিমিনেটর ম্যাচে ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) হারিয়ে ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখলো সানরাইজার্স হায়াদারাবাদ। হায়দারাবাদের দেয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৪০ রান তুলতে সক্ষম হয় কলকাতা।

কলকাতার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন মনীষ পাণ্ডে। তিনি ২৮ বলে ৩৬ রানে সাজঘরে ফেরেন। একটি ছয় ও দুটি চারের মার ছিল তার ইনিংসে। গৌতম গম্ভীর ২৮ বলে ২৮ রান করে আউট হন। তার ইনিংসেও ছিল একটি ছয় ও দুটি চার।

হায়দারাবাদের ভুবনেশ্বর কুমার তিনটি, ময়েসেস হেনরিকস দুটি এবং বারিন্দর স্রান ও বেন কাটিং একটি করে উইকেট লাভ করেন। মুস্তাফিজ চার ওভার বল করে ২৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। ম্যান অব দ্য প্লেয়ার নির্বাচিত হন ময়েসেস হেনরিকস।

এরআগে, দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে সানরাইজার্সকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় কলকাতা। এদিন কেকেআর বোলারদের সামনে বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি সানরাইজার্স ব্যাটসম্যানরা। তবুও মাঝারিমানের কয়েকটি ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে ১৬২ রান তুলতে সক্ষম হন ওয়ার্নার-মুস্তাফিজরা।

ডেভিড ওয়ার্নার এবং শিখর ধাওয়ান বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি। ১২ রানের মাথায় আউট হন ধাওয়ান। ২৮ বলে ২৮ রান করে আউট হন ডেভিড ওয়ার্নার। ২১ বলে ৩১ রান করে আউট হন মইসেস হেনরিক্স।

সর্বোচ্চ ৩০ বলে ৪৪ রান করেন যুবরাজ সিং। ১৩৪ বলে ২১ রান করেন দীপক হুদা। ৫ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন বিপুল শর্মা।

এই ম্যাচে কেকেআরের পক্ষে ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেন কুলদ্বীপ যাদব, ২টি করে উইকেট নেন মরনে মর্কেল আর জ্যাসন হোল্ডার।

কোহলির চোখে সেরা ডি ভিলিয়ার্স

বিরাট কোহলি নাকি এবি ডি ভিলিয়ার্স কে সেরা? এমন প্রশ্নে ক্রিকেটবোদ্ধারা হয়তো এগিয়ে রাখতে পারেন বিধ্বংসী বিরাট কোহলিকে। এক আইপিএল মৌসুমে চারটি সেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে সেরা বলা হয় কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্সও বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? দলের প্রয়োজনে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে এবি ডি ভিলিয়ার্সকেই সেরা ক্রিকেটার মেনে নিলেন বিরাট কোহলি।

গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে আইপিএলের ১ম কোয়ালিফায়ারের এক পর্যায়ে ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ব্যাঙ্গালুরু। কিন্তু তখনও ক্রিজে ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ইকবাল আবুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ১০ বল হাতে থাকতেই ১৫৮ রান টপকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ডি ভিলিয়ার্স।

ম্যাচ শেষে বিরাটের সহজ সরল স্বীকারোক্তি, ‘অবিশ্বাস্য! আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা আমি জয়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমার মনে হয় কে সেরা এই তর্কের অবসান আজকেই শেষ হল। পুরো বিশ্ব দেখেছে এবিই সেরা। এ ব্যপারে আর কোন প্রশ্ন থাকতে পারেনা।’

‘বড় ম্যাচে চাপের ভেতর থেকে দলকে এভাবে জেতানো সত্যিই অসাধারণ। তাকে স্যালুট জানাই। চাপের ভেতর থেকে সম্ভবত এটি তার সেরা একটি ইনিংস। ইকবাল আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে একাই লড়ে গেছে। আমি খুবই খুশি তার জন্য। সে ছাড়াও পুরো দলের এমন লড়াকু মানসিকতায় সত্যিই ভালো লাগছে।’

অথচ এক সময় মনে হয়েছিল এই দলটি প্লে-অফেই খেলতে পারবেনা। প্রথম সাত ম্যাচের মাত্র ২টি ম্যাচে জিতেছিল ব্যাঙ্গালুরু। কিন্তু পরের সাত ম্যাচে অসাধারণ ভাবে ফিরে এসে দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে ব্যাঙ্গালুরু। অবশেষে এখন তারা ফাইনালে। টুর্নামেন্টে ফর্মের তুঙ্গে থাকলেও গুজরাটের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হন কোহলি।

‘আমরা প্লে অফে ভালো ক্রিকেট খেলেই এসেছি। ক্রিকেটাররা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। আমরা ম্যাচ প্রতি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি। গুজরাটের বিপক্ষে টপ অর্ডার ভালো করেনি। কিন্তু এবির নজরকাড়া ব্যাটিংয়ে আমরা জয় পেয়েছি।’

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে কলকাতা

আজ জিতলেও ফাইনালে ওঠা হবে না। তবে হারলে বিদায়। একপ্রকার নকআউট। এই ম্যাচে জিতে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখা যাবে শুধু। আইপিএলের ইলিমিনেটর রাউন্ডে মুখোমুখি মুস্তাফিজুর রহমান এবং সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ ও কলকাতা নাইট রাইডার্স।

দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় এই ম্যাচে কয়েন নিক্ষেপে জয় হয়েছে নাইট অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তই নিলেন তিনি। ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে।

বিস্তারিত আসছে…

ক্ষমা চাইলেন রোহিত শর্মা

গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবারের আইপিএলে প্লে অফে উঠতেই ব্যর্থ হয়। ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে ভক্ত সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের কাছে ছয় উইকেটে হারার মধ্য দিয়ে মুম্বাইর বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হয়েও প্লে-অফে উঠতে না পারাটা ভীষণ পীড়া দিচ্ছে রোহিতকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে নিজের আইডিতে রোহিত শর্মা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দলগত ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘এটি কেবলমাত্র একটি দল নয়, এটি একটি পরিবার। খুবই খারাপ লাগছে আমরা প্লে অফে উঠতে পারিনি দেখে। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। যারা খেলতে এসেছেন এবং যারা খেলা দেখতে এসেছেন তাদের প্রত্যেককেই অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি আগামী বছর আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবো।’

টুর্নামেন্টের শুরুতেই লাসিথ মালিঙ্গা এবং লেন্ডল সিমন্সের মত ক্রিকেটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। পরবর্তীতে দলের ব্যাটম্যানদের ফর্মহীনতায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। শেষ ম্যাচ জিতলে প্লে-অফে যাওয়ার আশা বেঁচে থাকতো। কিন্তু সুরেশ রায়নার গুজরাটের বিপক্ষে ১৭২ রান করেও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং সুরেশ রায়নার ৯৬ রানের জুটিতে হেরে যায় মুম্বাই।

মুস্তাফিজের দুই শব্দ ‘প্রোবলেম’, ‘নো প্রোবলেম’!

 ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় আইপিএলে মাঠের বাইরের মুস্তাফিজকে তুলে ধরেছেন রিকি ভুই। এই মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি তরুণ এই ব্যাটসম্যান। তবে করে যাচ্ছেন আরেকটি মহাগুরুত্বপূর্ণ কাজ। টিম ম্যানেজমেন্ট ও দলের অন্যদের সঙ্গে মুস্তাফিজের যোগসূত্র তিনিই!

সাসেক্সে না খেললেও টাকা পাবেন মুস্তাফিজ!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মাতিয়ে তারপরই ইংলিশ কাউন্টি লিগে খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে মুস্তাফিজের। কিন্তু এখনো নিশ্চিত নয় মুস্তাফিজের সাসেক্স যাত্রা। তবে মুস্তাফিজের জন্য সুখবর হল কাউন্টিতে তার খেলা না হলে বিসিবি থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক তাকে দিয়ে দেওয়া হবে। এমনটাই জানালেন ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান আকরাম খান।

এ নিয়ে আকরাম খান সাংবাদিকদের বলেন, সাসেক্সের হয়ে মুস্তাফিজের খেলা না হলে বিসিবি থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া হবে মুস্তাফিজকে।  বোর্ড কিন্তু সবসময়েই ক্রিকেটারদের সাহায্য করতে চায়। কাউন্টির ব্যাপারেও এমন কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে। ফলে আর যাই হোক আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে না তাকে।

আকরাম আরও বলেন, যেহেতু ভারতে গিয়ে সে খেলছে, তার আগে ওয়ার্ল্ড কাপ খেলছিল এবং তার আগে ইনজুরিতে ছিল। সেটা কিন্তু আমরা চিন্তা ভাবনা করছি, ইংল্যান্ডে ওর যে চুক্তি আছে সেটার কি হবে। ওর জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে কি না। তার মতামত আমরা নিবো। তারপর এটি বোর্ডে আলোচনা করে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিবো।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডে খেলতে গেলেও সাসেক্সের হয়ে প্রথম তিন ম্যাচ খেলতে পারছেন না মুস্তাফিজ। সেক্ষেত্রে তার অভিষেক হতে পারে ১০ জুন কেন্টের বিপক্ষে। কিন্তু সর্বদাই সজাগ বিসিবি দেশের সেরা অস্ত্রকে কি ইংল্যান্ড পাঠাবে? উত্তর মিলবে মুস্তাফিজ দেশে ফিরলেই।

ভুবনেশ্বরকে গোপন অস্ত্র শেখালেন মুস্তাফিজ!

মুস্তাফিজকে নিয়ে ভয়টা আইপিএলে যাওয়ার আগে থেকেই ছিল। তার বোলিংয়ের গোপন অস্ত্রগুলো যেন ভারতীয়রা না জানতে পারে সেজন্য একবার তার আইপিএল খেলা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সবকিছুকে উপেক্ষা করে আইপিএলে নিজেকে মেলে ধরেছেন রাজার মত করেই। কিন্তু তার বোলিংয়ের ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্রগুলো কি ভারতীয়রা আয়ত্ত করে ফেলতেছে?

সেটা না হয় ভবিষ্যতে জানা যাবে কিন্তু সানরাইজার্স হায়দারাবাদের পেস বোলার ভুবনেশ্বর কুমার মুস্তাফিজের কাছ থেকে আইপিএল চলাকালীন সময়েই অনেক কিছু শিখেছেন। টুর্নামেন্টে ১৮ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। অন্যদিকে মুস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা ১৬। সবগুলো ম্যাচ খেলেছেনও একই সঙ্গে। এ সময় মুস্তাফিজের থেকে তার কিছু অস্ত্র আয়ত্ত করার চেষ্টাও করেছেন কুমার।

‘আপনি খুব কমই শিখতে পারবেন তার কাছ থেকে। কিন্তু আপনি তার সবকিছুকে আয়ত্ত করতে পারবেন না। তার অ্যাকশন অন্যান্য বোলারের থেকে ভিন্ন যে কারণেই সে অনেক কার্যকরী বোলার।’

তাহলে কি ভুবনেশ্বর কুমার কিছু শিখে ফেলেছেন মুস্তাফিজের কাছ থেকে? দলের প্রয়োজনের খাতিরে সেটি হয়তো শেখাতেই পারেন মুস্তাফিজ কিন্তু মুস্তাফিজের অস্ত্র দিয়েই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ঘায়েল করার কথা বললেন ভুবনেশ্বর কুমার।

‘মুস্তাফিজ এবং আমাদের ভাষাও আলাদা। সে খুব সামান্যই বলেছে আমাদের। সেটি আমাকে সাহায্য করছে নিজেকে আরো পরিণত করতে। আশাকরি ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশের বিপক্ষে এটির সুবিধা পাবে।’

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজেদের শেষ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। মুস্তাফিজের হায়দারাবাদের জন্য এই ম্যাচটি টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াই হলেও সাকিবের কলকাতার জন্য অনেকটা বাঁচা মরার ম্যাচ। প্লে-পফ নিশ্চিত করতে এই ম্যাচ জিততেই হবে কেকেআরকে।

ইনজুরির কারণে এই ম্যাচেও খেলছেন না কেকেআরের ভরসার প্রতীক আন্দ্রে রাসেলকে। দু দলের রয়েছে পরিবর্তন। ইয়ন মরগানের পরিবর্তে হায়দারাবাদ দলে ফিরেছেন কেন উইলিয়ামসন। অন্যদিকে মরনে মরকেলের পরিবর্তে কলিন মুনরো এবং পীযূষ চাওলার পরিবর্তে কুলদিপ যাদবকে দলে নিয়েছে কলকাতা। কলকাতার হয়ে আজকেও খেলছেন নামছেন সাকিব। আশীষ নেহরার ইনজুরিতে এ ম্যাচেও হায়দারাবাদের বোলিং বিভাগের দায়িত্ব থাকবে মুস্তাফিজের উপর।

কলকাতা নাইট রাইডার্সঃ
রবীন উথাপ্পা, গৌতম গম্ভীর, মানিষ পাণ্ডে, সুর্যকুমার যাদব, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, জ্যাসন হোল্ডার, ব্র্যাড হগ, কলিন মুনরো, কুলদিপ, উমেষ যাদব।

সানরাইজার্স হায়দারাবাদঃ
ডেভিড ওয়ার্নার, শেখর ধাওয়ান, ময়সেস হেনরিকস, যুবরাজ সিং, নামাজ ওঝা, দীপক হোড্ডা, কেন উইলিয়ামসন, কারন শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, বারিন্দর স্রান, মুস্তাফিজুর রহমান।

মুস্তাফিজদের ম্যাচ দেখতে আইপিএলে ‘টাইগার শোয়েব’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে ইতোমধ্যে নাম কুড়িয়েছেন ‘টাইগার শোয়েব’ খ্যাত শোয়েব আলী। বিশ্বের যে প্রান্তে বাংলাদেশের খেলা হতো সেখানেই ছুটে যেতেন ক্রিকেটের এই পাগল সমর্থক। এবার মুস্তাফিজের ম্যাচ দেখতে আইপিএলে ছুটে গেলেন শোয়েব আলী।

shoyeb

রোববার আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বিপক্ষে খেলবে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই ম্যাচেই আবার মাঠে দেখা যাবে টাইগার শোয়েবকে। আজকের ম্যাচের টিকেটাও শোয়েবকে উপহার দেন মুস্তাফিজ। নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে শোয়েব লেখেন, ‘আজকে থাকছি মাঠে। ধন্যবাদ মুস্তাফিজ ভাইকে আজকের ম্যাচের টিকেটটি দেওয়ার জন্য।’

প্রথমবারের মত আইপিএলের প্লে-অফে নেই ধোনি

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে জয় দিয়ে এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শেষ করলেন ধোনি এবং তার দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলের আটটি আসর খেলার পর এই আসরেই প্রথমবার পুনের হয়ে খেলেন ধোনি। ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসকে বহিষ্কার করে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পুনের হয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি ধোনি। প্লে-অফের আগেই বাদ পড়তে হল তাকে।

আটটি আইপিএলের সবগুলোতেই খেলেছিলেন প্লে-অফ রাউন্ডে। আইপিএলকে অনেকটা নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলছিলেন ধোনি। প্রথম আইপিএলের ফাইনালে খেলে ধোনির নেতৃত্বে চেন্নাই। আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে ফাইনালে উঠতে না পারলেও প্লে-অফে খেলেন ধোনি। ২০১০ এবং ২০১১ সালের মৌসুমে টানা দুবার আইপিএল শিরোপা জেতে ধোনির নেতৃত্বে চেন্নাই।

dhoni

২০১২ এবং ২০১৩ সালেও ফাইনালে উঠেছিল চেন্নাই কিন্তু দুবারই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ২০১৪ সালের আইপিএলেও প্লে অফ খেলেন ধোনি। ২০১৫ সালের আইপিএল ফাইনালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।

কিন্তু এবার মুদ্রোর উল্টোপিঠ দেখতে হলো ধোনিকে। পুনের হয়ে প্রথম আসরেই দলকে প্লে-অফে নিতে ব্যর্থ হলেন বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়ক। অবশ্য এতে দলের ইনজুরিকেও অনেকাংশে দায়ী করা যায়। ডু প্লেসি, পিটারসেন, মিচেল মার্শের মত ব্যাটসম্যানদের ইনজুরিতে অনেকটা নাজেহাল হয়ে পড়ে পুনে। পরবর্তীতে অন্য ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আর পায়নি পুনে।

ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতালেন ধোনি

শেষ ওভারে দরকার ২২ রান। যেকোন ব্যাটসম্যানের জন্যেই এটি অনেক চাপের। অক্ষর প্যাটেল যখন বোলিংয়ে আসলেন ম্যাচে তখনো এগিয়ে ছিল পাঞ্জাব। কিন্তু ব্যাটিং প্রান্তে ছিলেন ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ফিনিশার ধোনি। প্রথম পাঁচ বলে ১৬ রান নিয়ে ম্যাচ নিয়ে আসেন ১ বলে ৬ রানে। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা মেরে এবারের অসাধারণ এক জয় উপহার দেন ধোনি।

টস জিতে ব্যাটিং নেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক মুরালি বিজয়। শুরুতেই হাশিম আমলা এবং মুরালি বিজয় উড়ন্ত সূচণা এনে দেন পাঞ্জাবকে। ৭ ওভারে ৫৬ রান তুলেন এই দুই ওপেনার। দলীয় ৬০ রানে আমলা ৩০ রান করে আউট হলে ঋদিমান সাহাও দ্রুত ৩ রান করে আউট হন। কিন্তু তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান গুরকিত সিং এবং অধিনায়ক মুরালি বিজয়।

৫৮ রানের জুটি করে বিপর্যয় সামাল দেন তারা। ৫৯ রান করে অশ্বিনের বলে শিকার হন বিজয়। বিজয়ের মত গুরকিতও হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। ৫১ রান করে তিনিও অশ্বিনের শিকারে পরিণত হন। শেষের দিকে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৭ উইকেট হারিয়েই ১৭২ রানে থামতে হয় পাঞ্জাবকে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

১৭৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ১৯ রান করেই রাহানে আউট হন। খাজাও ফিরে যান ৩০ রান করে। দলের বিপর্যয়ে একাই হাল ধরেন ধোনি। তার হার না মানা ৬৪ রানে ভর করে শেষ বলে ম্যাচ জিতে পুনে। ৪ উইকেটে পাঞ্জাবকে হারিয়ে ১৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলো ধোনির পুনে। অন্যদিকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকেই আইপিএলকে বিদায় জানাতে হল প্রীতি জিনতার পাঞ্জাবকে।

রবিবার মুখোমুখি সাকিব-মুস্তাফিজ

আইপিএল-এ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রবিবার মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাঠে নামবে সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইতোমধ্যে শেষ চার নি‌‌‌শ্চিত করেছে সানরাইজার্স। তবে মুস্তাফিজদের বিপক্ষে হেরে গেলে শঙ্কায় পড়ে যাবে সাকিবের কলকাতার শেষ চারে ওঠা।
আবহাওয়া রিপোর্ট বলছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ম্যাচটি ভেস্তেও যেতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গ রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়ো-বাতাস ও প্রবল বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটা বলও মাঠে না গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ ম্যাচেও ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না হায়দরাবাদের ভারতীয় পেসার আশিষ নেহরা। এতে মুস্তাফিজই ওয়ার্নারের বড় ভরসার নাম। আসরের প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য তার ওপর নির্ভর করবে অনেক কিছু।

ভারতকে হারিয়েই কষ্ট ভুলতে চান সাকিব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ‘তিন বলে দুই রান’ নিতে না পাড়াটা আজও পীড়া দেয় বাংলাদেশের সকলকে। ক্রিকেটাররাও এর ব্যতিক্রম নন। সম্প্রতি ভারতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানালেন, তিনি আজও সেই হার ভুলতে পারেননি।

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে বেশ ভালো মৌসুম পাড় করছেন সাকিব। শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজের হায়দারাবাদের বিপক্ষে জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হবে তাদের। শেষ ম্যাচের আগে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ঘুরে ফিরে সেই ভারত ম্যাচের প্রসঙ্গই টানলেন ভারতীয় সাংবাদিক।

কলকাতার টিম হোটেলে প্রথমেই সেই ম্যাচ নিয়ে করা প্রশ্নে চমকে যান সাকিব। পরবর্তীতে নিজেকে সামলিয়ে সাকিব বলেন, ‘হ্যা, সেই হার এখনো কষ্ট দেয় আমাদের।’ নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না।

কিছুক্ষণ পর সাকিব সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, একটি দল কিংবা জাতি হিসেবে ঐ ম্যাচের হারটি ভুলতে পারবো। আশা করি, কোন একদিন ঐ রকম পরিস্থিতিতেই আমরা ভারতকে হারিয়ে এই ম্যাচের কষ্ট ভুলে যাবো। কিন্তু তবুও আক্ষেপ থেকে যাবে।’

পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটে বলে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে ১২৯ রান এবং বল হাতে ১০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। ভারতের বিপক্ষেও দ্রুত ১৫ বলে ২২ রান করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

‘যা ঘটেছিল সেটি আসলেই বলার মত নয়। রান তাড়া করে জেতা সবসময়েই কষ্টের এবং খেলোয়াড়রা চিন্তাতে থাকে। কিন্তু ঐ ম্যাচে আমরা আমাদের কৌশল অনুযায়ী সব কিছুই ঠিকঠাক করেছিলাম। আমরা কখনোই সেদিন স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাইনি কেননা এটি আলাদা চাপ সৃষ্টি করে।’

নায়ারের কাছে শেষ বলে হারল মুস্তাফিজরা

আইপিএলের চলতি আসরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস একমাত্র দল যারা দুই-দুইবারই সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়েছে।

 

প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদের ঘরের মাঠে তারা ওয়ার্নারদের হারায় ৭ উইকেটে। আর শুক্রবার রায়পুরে ৬ উইকেটে হারিয়েছে অরেঞ্জ শিবিরকে।

 

রায়পুরে শুক্রবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ। জবাবে শেষ বলে চার মেরে দিল্লির জয় নিশ্চিত করেন করুন নায়ার। তিনি ৫৯ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। রিশাপ প্যান্টের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।

 

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১১ রানের প্রয়োজন ছিল। প্রথম ৪ বলে ৫ রান নেন নায়ার ও স্যামসন। পঞ্চম বলে চার মারেন নায়ার। ফলে শেষ বলে জয়ের জন্য ২ রান প্রয়োজন ছিল। সেখানে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন নায়ার।

 

আইপিএলে নিজের সেরা ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন করুন নায়ার।

 

বল হাতে হায়দরাবাদের বারিন্দার ৩৪ রানে ২টি উইকেট নেন। একটি উইকেট নেন মুস্তাফিজ।

 

এর আগে হায়দরাবাদের ইনিংসে ডেভিড ওয়ার্নার ৫৬ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি ছাড়া বাকিদের কেউ তেমন উল্লেখযোগ্য রান পাননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন মইসেস হেনরিকস। ফলে ২০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ১৫৮ রানের বেশি হয়নি।

 

বল হাতে দিল্লির কার্লোস বার্থওয়েট ২টি উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন কাল্টার নাইল ও জেপি ডুমিনি।

 

এই ম্যাচে হারলেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে হায়দরাবাদ। শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজরা মুখোমুখি হবে সাকিবদের কলকাতা নাইট রাইডার্সের।

 

মুস্তাফিজকে সতর্ক করলেন রবী শাস্ত্রী

প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে গিয়েই সকলের প্রশংসার পাত্রে পরিণত হয়েছেন মুস্তাফিজ। বর্তমান থেকে শুরু করে সাবেক কিংবদন্তীদের প্রশংসায় ভাসছেন টাইগার এই তারকা। তবে এবার এই বাংলাদেশের বিরল এই প্রতিভাকে খুব সাবধানে, বুঝেসুঝে ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রবী শাস্ত্রী।

সম্প্রতি ভারতের ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি বলেন, মুস্তাফিজুরের আরো যত্ন নেওয়া জরুরি। এ রকম খাঁটি প্রতিভাকে লালন করার জন্য সঠিক লোক চাই। ছেলেটা কিন্তু এখনো শরীর আর মনের দিক থেকে কিশোরই। শরীরটাও তাই পুরোপুরি শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেনি। ওর মতো প্রতিভাকে কিন্তু খুব সাবধানে, বুঝে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মুস্তাফিজুরের একটা বিরল ডেলিভারি আছে। এমনিতে ওর অস্ত্র দুরন্ত সুইং, ধারালো কাটার, আর এমন একটা ইয়র্কার, যেটা ব্যাট থামাবে সাধ্য কী! তবে মুস্তাফিজুরের সবচেয়ে ধারালো অস্র হল সেই ডেলিভারিটা, যেটা পিচে পড়ে থমকে গিয়ে ব্যাটসম্যানের সামনে লাফিয়ে ওঠে। আর বেশির ভাগ সময়ই ব্যাটসম্যান সেটা কভারের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ফেরে। এই বলটা করার সময় ওর বোলিং অ্যাকশনে কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয় না।

রবী শাস্ত্রী মুস্তাফিজুরকে সাবধান করে বলেন, বাংলাদেশে আলোচনা হচ্ছে, মুস্তাফিজুর ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অন্তত বোলারের ঘনিষ্ঠমহলের তেমনই দাবি। সুতরাং ওর মতো প্রতিভাকে খুব সাবধানে, বুঝেসুঝে ব্যবহার করার বিকল্প নেই।

উদয়ীমান তালিকায় শীর্ষেই মুস্তাফিজ

আইপিএলের চলমান আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে দ্যুতি ছড়াতে থাকায় মুস্তাফিজকে রাখা হয়েছে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের তালিকায়। বিশ্ব গণমাধ্যমের সঙ্গে মুস্তাফিজে ‘বুঁদ’ হয়ে আছে আইপিএলের অফিসিয়াল পেজ। এ রিপোর্ট লেখা অবধি (২০ মে, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত) মুস্তাফিজ ৯৩.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে আইপিএলে উদয়ীমান খেলোয়াড়ের তালিকায় শীর্ষে আছেন।

আইপিএলের নবম আসর মাতানো হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বসেরা ক্রিকেট তারকার মাঝে অন্যতম বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজ। নবম আসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন টাইগার এই পেসার। আইপিএলের অফিসিয়াল পেজে নতুন একটি বিভাগ চালু হয়েছে। যেখানে ভোটিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন করা হচ্ছে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। ‘Emerging Player of the Season’ শিরোনামে অনলাইনে ভোটের মাধ্যমে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি করা হচ্ছে। অনলাইনে এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন যে কেউ।

বাংলাদেশের বোলিং পোস্টারবয় খ্যাত মুস্তাফিজুর এই তালিকায় রয়েছেন বেশ দাপটের সঙ্গেই। আইপিএলে উদয়ীমান খেলোয়াড় নির্বাচনের তালিকায় আরও রয়েছেন ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ, মুরুগান অশ্বিন, শিভিল কৌশিক, ক্রুনাল পান্ডে, হারদিক পান্ডে, সরফরাজ খান, লোকেশ রাহুল, বারিন্দ্রান স্রান, রিশব প্যান্ট ও অস্ট্রেলিয়ার কেন রিচার্ডসন, অ্যাডাম জাম্পা।
Mustafiz-Voting
মুস্তাফিজের পরে থাকা লোকেশ রাহুল এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ১.৭ শতাংশ ভোট। ক্রুনাল পান্ডে ১.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। চার নম্বরে থাকতে জাসপ্রিত বুমরাহ পেয়েছেন মাত্র ১.১ শতাংশ ভোট।

মুস্তাফিজকে উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করতে আপনারাও ভোট দিতে পারেন। টাইগার এই পেসারকে ভোট দিতে http://www.iplt20.com/polls ঠিকানায় প্রবেশ করুন। বামপাশের উপরের দিকে রয়েছে ইমার্জিং প্লেয়ারের (Emerging Player of the Season) একটি অপশন। যেখানে মুস্তাফিজের নামের পাশে ‘Vote Now’ লেখা রয়েছে। মুস্তাফিজকে ভোট দিতে সেখানে ক্লিক করতে হবে। এরপরই ভোটিংয়ের ফলাফল দেখতে পারবেন আপনিও।

আইপিএলেই কোহলির চার হাজার রান

ব্যাট হাতে যেভাবে ঝড় তুলছেন, তাতে একের পর এক মাইলফলক তার নামের পাশে যুক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। বরং, বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখে কেউ কেউ বলেও বসতে পারেন, ‘আরে, এ তো মানুষ নয়, ভিনদেশি কোন গ্রহের কোন ব্যাটসম্যান হবে হয়তো। একজন মানুষের পক্ষে কীভাবে সম্ভবত এভাবে ব্যাটিং করে যাওয়া!’ সেই বিরাট কোহলি এবার আইপিএল ক্যারিয়ারে ছুঁয়ে ফেললেন চার হাজার রানের মাইলফলক।

কী অবিশ্বাস্য ব্যাটিং! বিরাট কোহলি ব্যাট হাতে নিজেকে বিধ্বংসী নয়, ভক্তদের মাঝে মুগ্ধতাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন একের পর এক। পুরো টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যার ব্যাটে কোন সেঞ্চুরি ছিল না, তার ব্যাটে কি না এবারের আইপিএলেই চলে এলো চারটি সেঞ্চুরি। মাত্র ১৩ ম্যাচ খেলে ৪ সেঞ্চুরি এবং ৫ হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে তার ব্যাটে রান উঠেছে ৮৬৫টি। গড় ৮৬.৫০ করে এবং স্ট্রাইকরেট ১৫৫.০১। যদিও কোহলির সতীর্থ ডি ভিলিয়ার্সের স্ট্রাইকরেট আরও বেশি। ১৭২.৫৪ করে।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করার পর ৫০ বলে আউট হয়েছেন ১১৩ রানে। এই ইনিংস দিয়েই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে ৪০০০ রানের মাইলফলক পূর্ণ করে ফেললেন কোহলি। তবে কোহলির ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছেন সুরেশ রায়না। আইপিএলে তার রান ৩৯৮৫। আর ১৫ রান করলে তিনিও হয়ে যাবেন ৪ হাজার রান সংগ্রাহক। আইপিএল শুরুর আগে কোহলি ছিলেন এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে।

আইপিএলে এখনও পর্যন্ত ১৩৬টি ম্যাচ খেলেছেন কোহলি। ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ১২৮ ইনিংসে। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১১৩ রান করার পর তার সর্বমোট রান এখন ৪০০২। গড় ৩৭.৭৫ করে। সেঞ্চুরি ৪টিই। হাফ সেঞ্চুরি ২৪টি। বিপরীতে রায়না খেলেছেন ১৪৩টি ম্যাচ। ব্যাট করেছেন ১৩৯ ম্যাচে। তৃতীয়স্থানে থাকা রোহিত শর্মার রান ৩৮৪৪। তিনি খেলেছেন ১৪১ ম্যাচ। ব্যাট করেছেন ১৩৭টিতে।

এবারের আইপিএলে ৪টি সেঞ্চুরি করে একটি রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন কোহলি। ফ্রাঞ্জাইজি ভিত্তিক কোন টি-টোয়েন্টি লিগে সর্বাধিক সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালে নেটওয়েস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টিতে তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন মাইকেল ক্লিজ্ঞার। তবে সব আইপিএল মিলিয়ে কোহলির চেয়ে একটি বেশি সেঞ্চুরি তার সতীর্থ ক্রিস গেইলের। তার সর্বমোট সেঞ্চুরির সংখ্যা ৫টি।

ওয়ার্নারদের সঙ্গে সিরিয়াল দেখে কাঁদছিলেন মুস্তাফিজ!

শিরোনাম দেখে চমকে যেতে পারেন! কেউ কেউ বলবেন, কী হাবিজাবিই না লিখে দিয়েছে। তবে মুস্তাফিজ ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলছি, সত্যিই ডেভিড ওয়ার্নার, কেনে উইলিয়ামসন কিংবা ইয়ন মরগ্যানদের সঙ্গে বসে ভারতের কালারস টিভিতে সিরিয়াল দেখছিলেন মুস্তাফিজ। শুধু তাই নয়, সেই সিরিয়ালের একটি সিকুয়েন্স দেখে চোখের পানি এসে গিয়েছে উপস্থিত সবার।

চোখের পানি মুছতে যখন সবাই ব্যাস্ত- এ সময়ই হন্তদন্ত হয়ে দরজা ঠেলে প্রবেশ করলেন যুবরাজ সিং। সবাইকে এভাবে কাঁদতে দেখে রাগে-ক্ষোভে টিভিই অফ করে দিলেন যুবরাজ এবং হাতে থাকা দুটি ব্যাগই জোর করে রাখলেন টেবিলের ওপর। বললেন, প্র্যাকটিসের সময় হয়ে গেছে। শুনেই উঠে আসলেন সানরাইজার্স অধিনায়ক ওয়ার্নার। ব্যাগ খুলে দেখলেন তার ব্যাট নেই।

খুজে খুঁজে যখন পাওয়া গেলো না এবং ওয়ার্নারকে দেখা গেলো খুব টেনশনে রয়েছেন। তখন উইলিয়ামসন বললেন, একটি ব্যাটের জন্য এত চিন্তা কেন? মরগ্যান তার নিজের ব্যাট নিয়ে এসে বললেন, তারটা নিয়ে অনুশীলন করতে। কিন্তু ওয়ার্নার গোঁ ধরে বসে আছেন। তিনি যে ব্র্যান্ডের ব্যাট ব্যবহার করেন, সেটা ছাড়া তো আর ম্যাচ জেতা যাবে না। তাহলে কী করা যায়?

তাহলে কী কোন উপায় নেই? কোন পথ কী খোলা নেই ওয়ার্নারের ব্যাট পাওয়ার? আবার তার এই ব্র্যান্ডের ব্যাট পাওয়াও যে খুব কঠিন! সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলেন যুবরাজ সিং। তিনি ফোন করলেন একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে। ডিটিডিসি- নামক এই প্রতিষ্ঠানটিতে অর্ডার দিয়ে দিলেন ব্যাটের জন্য। নির্দেশ দিলেন আর্জেন্ট ডেলিভারির।

অর্ডার দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সময় হয়ে যায় ম্যাচের। যুবরাজ হাঁকাচ্ছেন, দ্রুত আসুন, দেরি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হতাশ ওয়ার্নার তার ব্যাট নেই দেখে হতাশা নিয়ে বসেই রইলেন। এ সময় বাজলো কলিং বেল। উইলিয়ামসন বললেন, নিশ্চয়ই কোচ এসেছেন। দ্রুত গিয়ে দরজা খুললেন তিনি। দেখলেন, কোচ নয়, দাঁড়িযে ডিটিডিসির প্রতিনিধি। তার হাতে প্যাকেট। যেখানে রয়েছে ওয়ার্নারের কাংখিত ব্র্যান্ডের সেই ব্যাট।

ব্যাট পেয়ে অবশেষে হাসি ফুটবল ওয়ার্নারের মুখে। মরগ্যান বললেন, মাত্র ১২ ঘন্টায় কিভাবে সম্ভব- এই ব্যাট পাওয়া? ডিটিডিসি আছে না!

পাঠক, পড়েই মনে হচ্ছে না কোন নাটকের সংলাপ এগুলো! সত্যি ধরলেন- ডিটিডিসি নামের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন করলেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের এই ক্রিকেটাররা। বিজ্ঞাপনের গল্পটা এভাবেই সাজানো হয়েছিল। বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে মুস্তাফিজকে। যদিও তার মুখে কোন সংলাপ ছিল না। শুধু অংশগ্রহণ করেছেন এবং পারফর্ম করেছেন।

এরপর ওয়ার্নাররা কোচও খোঁজা শুরু করে দিয়েছেন ডিটিডিসিতে। তাহলে দেখুন মুস্তাফিজদের নেই নতুন বিজ্ঞাপনটি:

বড় জয়ে সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলেন কোহলিরা

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে বড় পেয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এ জয়ের ফলে শেষ চারের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলেন গেইল-কোহলিরা। কোহলিদের দেয়া ২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৪ ওভারে ৯ উইকেটে ১২০ রান তুলতে সক্ষম হয় পাঞ্জাব।

নির্ধারিত ১৫ ওভারে বেঙ্গালুরু ২১১ রান করলেও পাঞ্জাবের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৪ ওভারে ২০৩। পরে ১৪ ওভারের পর আর ব্যাট করতে পারেনি পাঞ্জাব। ফলে বৃষ্টি আইনে পাঞ্জাবকে ৮২ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি।

এরআগে ক্রিস গেইল ও বিরাট কোহলির ঝড়ো ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে তোলে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এদিন টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বেঙ্গালুরু। বৃষ্টিতে দেরিতে খেলা শুরু হওয়ায় ১৫ ওভারে খেলা নির্ধারণ করা হয়।

গেইল ৩২ বলে ৭৩ রান করে আউট হন। ৮টি ছয় ও চারটি চার ছিল তার ইনিংসে। কোহলিও ঝড়ো ইনিংস খেলেন। করেন এবারের টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ শতক। ৫০ বলে ১১৩ রান করে আউট হন।

কোহলির ইনিংসেও ৮টি ছয়ের মার ছিল। এছাড়া ১২টি চার মারেন তিনি। শতক পূর্ণ করেন ৪৭ বলে। তবে আজকের ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি এবি ডি ভিলিয়ার্স। দুই বল খেলে কোনো রান না করেই আউট হন তিনি।

লোকেশ রাহুল ৬ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৩টি চার ছিল তার ইনিংসে। এছাড়া ২ বলে ১ রান করে অপরাজিত ছিলেন শেন ওয়াটসন। পাঞ্জাবের সন্দ্বীপ সাহু, কাইল অ্যাবোট ও অক্ষর প্যাটেল একটি করে উইকেট লাভ করেন।

বৃষ্টি আইনে ধোনিদের ১৯ রানের জয়

টার্গেট ছিল মাত্র ১২২ রান। এই স্বল্প রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে খেলার মাঝপথে বাগড়া দেয় বৃষ্টি। রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের রান যখন ১১ ওভারে ১ উইকেটে ৭৬ তখনই বৃষ্টি শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় খেলা।

রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর ডিএল পদ্ধতিতে পুনেকে ১৯ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। দলীয় ৩১ রানে একমাত্র উইকেটির পতন ঘটে। এসময় ১৩ বলে ১৯ রান করে আউট হন উসমান খাজা। চারটি চার মারেন তিনি।

অজিঙ্ক রাহানে ৩৬ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১টি ছয় ও পাঁচটি চারে সাজানো তার ইনিংস। এছাড়া জর্জ বেইলি ১৮ বলে একটি চারে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন অশোক ধিন্দা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পুনের বোলারদের তোপের মুখে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২১ রান তুলতে সক্ষম হয় দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। এদিন দিল্লির ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি পুনের বোলারদের সামনে।

কুইন্টন ডি কক এবং স্রেয়াশ আয়ার দ্রুত ফিরে যান। তবে করুণ নায়ার একপাশে দাঁড়িয়ে থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান। ৪৩ বলে তিনি করেন ৪১ রান। ৫টি বাউন্ডারির মার ছিল তার ইনিংসে।

এছাড়া শেষ দিকে ক্রিস মরিস ঝড় তুলেছিলেন। ২০ বলে তিনি অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। ১৪ রান করেন জেপি ডুমিনি। পুনের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন অশোক ধিন্দা এবং অ্যাডাম জাম্পা।

টস জিতে বোলিংয়ে পুনে

আইপিএল থেকে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের। তবুও নিয়ম রক্ষার লড়াইয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে ধোনির দলকে। যদিও আজ পুনের বিপক্ষে যারা মাঠে নামছে, সেই দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের জন্য লড়াইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শেষ চারে যেতে হলে জয়ের কোন বিকল্প খোলা নেই জহির খানের দলের সামনে।

এমনই এক পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে শুরুতেই অবশ্য জহির খানকে হারিয়ে দিলেন ধোনি। টস জিতলেন তিনি। তবে অবধারিতভাবেই টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। আইপিএলে ১২ ম্যাচে ধোনির দলের অর্জন মাত্র ৬ পয়েন্ট। একেবারে তলানীর দলটির নামই হচ্ছে পুনে সুপার জায়ান্টস। অপরদিকে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে দিল্লি।

আজ জিততে পারলে অন্তত চতুর্থ স্থানে উঠে যাবে জহির খানের দল। সে লক্ষ্যেই শুরুতে ব্যাট করতে নামবে তারা। যদিও ম্যাচটিতে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টির শঙ্কা। তবে জহির খান বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই বৃষ্টি আসবে কি না। সিদ্ধান্ত হলো আমরাই প্রথমে ব্যাট করবো। সুতরাং, আমি খুশি। আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের জন্যই আমাদের পরিকল্পনা থাকে। তিনটি পরিবর্তন এই ম্যাচে। নাথান কাউল্টার নেইল, মোহাম্মদ শামি এবং স্রেয়াশ আয়ারকে ফেরানো হয়েছে এই ম্যাচে।’

পুনে অধিনায়ক ধোনি বলেন, ‘পয়েন্ট টেবিল কী বলছে সেদিকে আমি তাকাতে রাজি নই। প্রতিটি ম্যাচই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। ম্যাচে যার প্রভাব পড়তে পারে। আমরা সংগ্রাম করছি। সুতরাং, ধারাবাহিক হওয়া প্রয়োজন। এখন তো হারানোর কিছু নেই। সুতরাং, সব উজাড় করে দিয়ে খেলবো আমরা।’

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস
আজিঙ্কা রাহানে, উসমান খাজা, জর্জ বেইলি, সৌরভ তিওয়ারি, ইরফান পাঠান, মহেন্দ্র সিং ধোনি, থিসারা পেরেরা, রবিচন্দ্র অশ্বিন, অ্যাডাম জাম্পা, অশোক দিন্দা, দীপক চাহার।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলস
স্রেয়াশ আয়ার, কুইন্টন ডি কক, করুণ নায়ার, সাঞ্জু স্যামসন, রিশাভ পান্তে, জেপি ডুমিনি, ক্রিস মরিস, নাথান কাউল্টার নেইল, অমিত মিশ্র, জহির খান, মোহাম্মদ শামি।

ইডেনের পিচ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাকিব

কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) বোলিং আক্রমণ অনেকটাই স্লো বোলারদের ওপর নির্ভরশীল বলে দাবি সাকিব আল হাসানের। তবে হোম ভেন্যু ইডেন গার্ডেনসের পিচ থেকে সে অনুযায়ী যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন টি-টোয়েন্টিতে বর্তমান বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার।

ইডেনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ১৮৩ রানের স্কোর গড়েও ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পেছনে এটিকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সাকিব, ‘আমি নিজের ব্যাপারে বলতে পারি এবং আমি বলবো হ্যাঁ, আমরা ওই সুবিধাটুকু (স্পিন সহায়ক উইকেট) পাইনি।’

‘আমরা স্পিন বোলিং নির্ভরশীল টিম, তাই সব সময়ই ঘরের মাঠে এমন কিছু সহায়তার আশা রাখি। এখন পর্যন্ত আমরা তা পাইনি। এটা খেলোয়াড়দের জন্য হতাশাজনক।’-যোগ করেন সাকিব।

এবারের আসরে হোম ভেন্যুতে ছয়টি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই (মুম্বাই, গুজরাট, বেঙ্গালুরু) হার মানে কেকেআর। আগামী ২২ মে (রোববার) ইডেনে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা।

পয়েন্ট টেবিলে ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও এখনো প্লে-অফ নিশ্চিত নয় কলকাতার। নিজেদের শেষ দুই ম্যাচের (গুজরাট ও সানরাইজার্সের বিপক্ষে) ফলাফলের ওপরই দু’বারের চ্যাম্পিয়নদের প্লে-অফ ভাগ্য নির্ভর করছে। গতবার তাদের গ্রুপ স্টেজ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মে) নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের মুখোমুখি হবে কেকেআর। খেলা ‍শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

আইপিএল সেরার পথে মুস্তাফিজ

প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে গিয়েই সকলের প্রশংসার পাত্রে পরিণত হয়েছেন মুস্তাফিজ। প্রতিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের ধরাশয়ী করে দিতে তার জুড়ি নেই। রানের চাকা অচল করে দিতেও বেশ পটু। তার বলে ভূপাতিত হচ্ছেন বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা। এবার আইপিএলে সেরা সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে টাইগার এই বোলার।

আইপিএলের নবম আসরে `Emerging Player of the Season` শিরোনামে অনলাইনে ভোটের মাধ্যমে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচন করা হচ্ছে। আর এ তালিকায় রয়েছেন মোট পাঁচজন বোলার। তারা হলেন -মুস্তাফিজুর রহমান, জাস্প্রিত বুমরাহ, কেন রিচার্ডসন, মুরুগান অশ্বিন, শিবিল কৌশিক। অনলাইনে এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন যে কেউ।

অনলাইনে এই ভোট প্রক্রিয়ায় মুস্তাফিজ প্রায় ৯০.৯ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় বোলার শিবিল কৌশিক আছেন ৩.৯ শতাংশ ভোট নিয়ে আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। তৃতীয় স্থানে আছেন জাস্প্রিত বুমরাহ তার প্রাপ্ত ভোট ৩.৭ শতাংশ।

মুস্তাফিজকে ভোট দিতে www.iplt20.com ঠিকানায় প্রবেশ করে ইমার্জিং প্লেয়ারের (Emerging Player of the Season) অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে মুস্তাফিজকে ভোট দিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, মুস্তাফিজ আইপিএলে এ পর্যন্ত ১২ টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৪টি উইকেট।

মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন সাকিব!

জিতলেই প্লে-অফ মোটামুটি নিশ্চিত কেকেআরের। এমন এক সমীকরণ সামনে রেখে আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে কোহলির আরসিবির মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮.৩০ মিনিটে।

বিশ্বকাপে পারফর্ম করলেও আইপিএলে নিজেকে খুঁজছিলেন সাকিব। ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে গুরুর শরণাপন্ন হয়েছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার। আর তার পরামর্শেই সফল কেকেআরের এই তারকা। ফিরে পেয়েছেন নিজের ছন্দ। ব্যাট হাতে রানের সাথে উইকেটও পাচ্ছেন বল হাতে। আর ঐ সময় কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। এবার জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল :

প্রশ্ন :  ইডেনে যে দিন ভাল ইনিংসটা খেললেন সে দিন গ্যালারিতে মাত্র তিরিশ হাজার দর্শক ছিল। নিশ্চয়ই ভাল লাগেনি?
সাকিব: আসলে এ বছর ইডেনে এত আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে— বিশ্বকাপ ফাইনাল, বাংলাদেশ-পাকিস্তান, ভারত-পাকিস্তান। অনেক বড় বড় ম্যাচ হয়েছে যে কলকাতার মানুষের কাছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা একটু হলেও একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে। সব জায়াগাতেই দেখছি, এ বার যেন আইপিএল নিয়ে আগ্রহটা বেশ কম।

প্রশ্ন : সামনে কঠিন লড়াই। আপনাদের ড্রেসিংরুমের অবস্থা কী?
সাকিব: ভাল অবস্থা। তবে পরের সব ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছি না আমরা, একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে। গতকাল জিতে যে মোমেন্টাম পেয়েছি, কাল তা কাজে লাগাতে হবে।

প্রশ্ন : শুনলাম গত সপ্তাহে ছোটবেলার কোচ সালাউদ্দিনের কাছে গিয়েছিলেন। নাইট শিবিরে জাক ক্যালিস, সাইমন ক্যাটিচ, ওয়াসিম আকরামরা থাকতে তার কাছে কেন?
সাকিব: না, না। সে রকম কিছু নয়। ভাবলাম ওখানে (ঢাকা) গেলে তার সঙ্গে কথা বললে কিছুটা আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বাড়িতে দু’দিন সময় কাটানোর প্রয়োজনও ছিল। দুটো কাজই হল।

প্রশ্ন : বলা হয়ে থাকে ব্যাটসম্যানদের ব্যাড প্যাচ চললে, একটা ভাল ইনিংসই তাদের ছন্দে ফিরিয়ে আনতে পারে। গুজরাট লায়ন্সের বিরুদ্ধে ইনিংসটাই কি সেই ইনিংস?
সাকিব: দেখুন, আমি যে খারাপ জায়গায় ছিলাম, তা নয়। ভাল জায়গায় ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। আসলে আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারছিলাম না। এখন সেটা পারছি মনে হচ্ছে।

প্রশ্ন : কী সমস্যা হচ্ছিল আপনার?
সাকিব: সমস্যাটা যতটা না টেকনিকের, তার চেয়ে বেশি ছিল মানসিক। আসলে আত্মবিশ্বাসটা মাঝে মাঝে কমে যায়। এত দিন ধরে খেলার পর টেকনিক্যাল সমস্যা সে রকম হয় না। মানসিকতাতেই হয়। এ রকম সময়ে অনেকক্ষণ ধরে ব্যাটিং করার সুযোগ পেলে ব্যাটিংয়ের ফ্লো-টা বাড়ে। কনফিডেন্সও বাড়ে।

প্রশ্ন : কী এমন বললেন সালাউদ্দিন, যে আপনার ব্যাটিংটাই খুলে গেল?
সাকিব: বেশিরভাগটাই মানসিক শক্তি বাড়ানো নিয়ে বা মানসিকতা নিয়ে। কিছু ছোটখাটো টেকনিক্যাল মেরামতি তো করতেই হয়। তবে ওটাই আসল। আসলে যার সঙ্গে কথা বলে ভাল লাগে, কমফর্ট অনুভব করি, এই রকম সময় তার পরামর্শ নিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। আগেও এ  ভাল ফল পেয়েছি।

প্রশ্ন : তার মানে কেকেআর কোচেদের সঙ্গে কথা বলে আপনি কমফর্টেবল নন?
সাকিব: না, না। এর মানে এই নয় যে, এখানে আমি কমফর্টেবল নই। আসলে আমার ক্রিকেটের শুরু থেকে, মানে অনূর্ধ্ব-১৩`র সময় থেকে থেকে উনি আমাকে দেখে আসছেন, তাই স্বাভাবিক ভাবেই উনি আমাকে আরও ভাল ভাবে জানেন, আমার সমস্যাগুলো আরও ভাল বোঝেন। সে জন্যই তার কাছে গিয়েছিলাম পরামর্শ করতে। ক্যাটিচ, ক্যালিসরা তো আর ছোটবেলা থেকে আমাকে চেনেন না। ওদের পক্ষে আমার সমস্যাগুলো স্যারের মতো করে বোঝা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : তিন নম্বরে ব্যাট করতে কি অসুবিধা হচ্ছে?
সাকিব: তিন নম্বর নিয়ে সমস্যা থাকবে কেন? ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ও সব বললে চলে না। দলের প্রয়োজনে যে কোনও জায়গায় খেলতে হয়। আমাকেও খেলতে হবে।

প্রশ্ন : আপনাকে তো বরাবর মাঠে সভ্য-ভদ্র বলেই জানি সবাই। কিন্তু গত বছর বিপিএলে আম্পায়ারকে গালিগালাজের জন্য এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল আপনাকে। হঠাৎ কী হয়েছিল?
সাকিব: আসলে যারা বেশি জিততে আগ্রহী, যাদের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইচ্ছা অনেক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এটা মাঝে মাঝে হয়। হিট অফ দ্য মোমেন্টে এগুলো হয়ে যায়। এ নিয়ে বেশি না বলাই ভাল।

প্রশ্ন : ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই এখন একটা উত্তেজনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচটা হলেই আপনাদের সংবাদমাধ্যম, সমর্থকরা বলতে শুরু করেন, ভারতের বিরুদ্ধে নামলেই বাংলাদেশকে ইচ্ছে করে হারিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রবণতা কেন?
সাকিব: আমাদের মিডিয়া, সমর্থকরা কী বলেন, তা নিয়ে বলতে পারব না। আমি ক্রিকেটারদের কথা বলতে পারি। আমরা যারা ক্রিকেটের বাস্তবটা জানি, খেলাটা বুঝি, তারা সে রকম ভাবি না।

প্রশ্ন : কী মনে হচ্ছে, নক আউটে যেতে পারবেন?
সাকিব: কেন নয়? একটা বেশি ম্যাচ জেতা থাকলে তো এখনই চলে যেতাম। শনিবার জেতায় সম্ভাবনাটা আরও বেড়ে গেল। নিজেদের খেলাটা ঠিক খেলতে পারলে বাকি তিনটে ম্যাচেই জিতব আমরা।

সাকিব-কোহলিদের সম্ভাব্য একাদশ

জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত সাকিবদের আর হারলেই বাদ কোহলির আরসিবি। এমন এক সমীকরণ সামনে রেখে আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮.৩০ মিনিটে।

১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাকিব-গম্ভীরদের কলকাতা। আজকের ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে প্লে-অফ। তাই কোহলিদের বিপক্ষে জয় দিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করতে চায় গম্ভীররা। তবে আজকের ম্যাচ হারলেও সমস্যা নেই সাকিবদের। বাকি দুই ম্যাচে এক জয় পেলেই নিশ্চিত হবে শেষ চার।

এদিকে আইপিএলে চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে চলেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দুই ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্স। তবে বোলারদের ব্যর্থতায় কাগজে কলমে শক্তিশালী দল গড়েও জয় পাচ্ছে না তারা। প্লে-অফে খেলতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই কোহলি- ডি ভিলিয়ার্সদের। চলুন দেখে নেয়া যাক রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে কলকাতার সম্ভাব্য একাদশটি।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরু (সম্ভাব্য) একাদশ:
ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, শেন ওয়াটসন, কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক), শচীন বেবি, স্টুয়ার্ট বিনি, জুবেন্দ্র চাহাল, এস অরবিন্দ, ক্রিস জর্ডান, বরুন অরুন।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (সম্ভাব্য) একাদশ:
গৌতম গম্ভীর (অধিনায়ক), রবিন উথাপ্পা (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, আন্দ্রে রাসেল, মানীষ পান্ডে, পীযুষ চাওলা, সুনীল নারাইন, অঙ্কিত রাজপুত, মরনে মরকেল।

যুবরাজ ঝড়ে শেষ চারে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স

যুবরাজ সিংয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শেষ চার নিশ্চিত করেছে মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এদিন পাঞ্জাবের দেওয়া ১৮০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় তুলেন নেয় সানরাইজার্স।

২৪ বলে ৪২ রান করেছেন যুবরাজ সিং। এছাড়া ৪১ বলে ৫২ রান করেছেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। এই জয়ে প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করলো সানরাইজার্স। এদিন ৪ ওভারে ৩২ রানে এক উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ।

টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামে সানরাইজার্স। ইনিংসের শুরুতেই মুস্তাফিজের মায়াবি জাদুতে বোকা বনে যান মুরলি বিজয়। ৬ রান করেই ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। কিন্তু এমন দুর্দান্ত সূচনার পরেও আমলা ম্যাজিকে আর পেরে ওঠেনি হায়দারাবাদ। পাঞ্জাবকে যেন একাই টেনে নিয়ে গেলেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান।

৫৬ বলে ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচের শেষ ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন। ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও দলকে নিয়ে গেছেন ১৭৯ রানের সংগ্রহে। ২৭ রান করে গুরকিত সিং এবং ২০ রান করে ডেভিড মিলার তাকে যোগ্য সহযোগিতা করেন। চার ওভার বোলিং করে ৩২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ।

১৮০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৮ ওভারের ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান তুলেন ওয়র্নার-শিখর ধাওয়ান। ২৫ রানে রান-আউট হয়ে ফিরে যান ধাওয়ান। ৪১ বলে ৫২ রান করে হিট-আউটের শিকার হন ওয়ার্নার। ২২ বলে ৩৪ রান করেন দীপক হুদা। এরপরই শুরু হয় যুবরাজ সিং ঝড়। তিনি ২৪ বলে অপরাজিত ৪২ রান করেন। এছাড়া ১১ বলে অপরাজিত ২১ রান করে বেন কাটিং।

মুস্তাফিজের ‘হাফ সেঞ্চুরি’

গত বছরের এপ্রিলে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বছর পেরুতেই তার ঝুলিতে এখন অর্ধশত টি-টোয়েন্টি উইকেট!
রোববার আইপিএলে মোহালিতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপে ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে উইকেটের ‘হাফ সেঞ্চুরি’ স্পর্শ করেছেন মুস্তাফিজ। পাঞ্জাবের অধিনায়ক মুরালি বিজয় তার ৫০তম শিকার।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের। সব ধরণের ক্রিকেট মিলিয়েও সেটি ছিল তার প্রথম টি-টোয়েন্টি। শহিদ আফ্রিদি ছিল মুস্তাফিজের প্রথম শিকার। অভিষেকে নিয়েছিলেন মোহাম্মদ হাফিজের উইকেটও।
৫০ উইকেট পেয়ে গেলেন মুস্তাফিজ ৩৫তম ম্যাচে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে উইকেট ২২টি, বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে নিয়েছিলেন ১৪টি। আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ১৪টি নিয়ে স্পর্শ করলেন অর্ধশত।
৫০তম শিকারও ছিল মুস্তাফিজের ‘ট্রেডমার্ক’ ডেলিভারি। ৪ ওভারে ৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন বিজয় ও হাশিম আমলা। মুস্তাফিজ জুটি ভাঙলেন বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই। দারুণ এক স্লোয়ারে বিভ্রান্ত বিজয়; ফিক করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে ধরা পড়লেন মিড অফে।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স

প্লে-অফ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এদিন টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমেছেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

প্রথম দেখায় পাঞ্জাবের বিপক্ষে জ্বলে উঠেছিলেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভারে ১ মেডেন ও ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন কাটার মাস্টার।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন হায়দরাবাদের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ। পাঞ্জাবকে হারালেই নক আউটে জায়গা করে নেবে তারা।

মুস্তাফিজকে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে: রবি শাস্ত্রী

আনন্দবাজারে লেখা এক কলামে মুস্তাফিজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন সাবেক ভারতীয় কিংবদন্তী রবি শাস্ত্রী। একইসঙ্গে মুস্তাফিজকে নিয়ে আরও যত্নশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রবি শাস্ত্রী লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে মুস্তাফিজুরের আরও যত্ন নেওয়া জরুরি। এ রকম খাঁটি প্রতিভাকে লালন করার আরও লোক চাই। ছেলেটা কিন্তু এখনও শরীর আর মনের দিক থেকে কিশোরই, পুরুষ হয়ে ওঠা বাকি। শরীরটাও পুরোপুরি শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেনি। ওর মতো প্রতিভাকে কিন্তু খুব সাবধানে, বুঝে-সুঝে ব্যবহার করতে হবে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে এ ছেলে বিস্ময়-প্রতিভা। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে দুটো পাঁচ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স দিয়ে শুরু। আমলা, দুমিনি আর ডি’কককে আউট করে টেস্ট অভিষেক। চলতি আইপিএলে ওকে দেখেই ব্যাটসম্যানরা গলে যাচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই মুস্তাফিজুর এমন একটা সমীহ আদায় করে নিয়েছে যেটা অনেক পেশাদার বোলারের তৈরি করতে সারাজীবন লেগে যায়। অথচ দেখে মনে হয় গতকালই ছেলেটা বাংলাদেশে ওর গ্রামের পুকুরের পাশে বসে ছিল।’

মুস্তাফিজের বোলিং অস্ত্রে বিস্মিত রবি শাস্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘মুস্তাফিজুরের ভাণ্ডারে একটা বিরল ডেলিভারি আছে। এমনিতে ওর অস্ত্র দুরন্ত সুইং, ধারালো কাটার আর এমন একটা ইয়র্কার যেটা ব্যাট থামাবে সাধ্য কী! তবে মুস্তাফিজুরের শোকেসের ব্রহ্মাস্ত্র হল সেই ডেলিভারিটা যেটা পিচে পড়ে থমকে গিয়ে ব্যাটসম্যানের সামনে লাফিয়ে ওঠে। আর বেশির ভাগ সময়ই ব্যাটসম্যান সেটা কভারের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ফেরে।’

আইপিএলে সেরা আট বোলার

চলতি মৌসুমে আইপিএলের প্রথম পর্বের খেলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মাঝে অনেকেই হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করে দিয়েছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। কে যাবে শেষ চারে। কারা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন। কে সবচেয়ে বেশি রান করেছে কিংবা কে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টিকে বলা হয় ব্যাটসম্যানদের খেলা। তবে এর মাঝেও কিছু কিছু বোলার নিজেদের স্বমহিমায় আলো কেড়ে নেন। এবারের আইপিএলেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত একাধিক বোলারের মারাত্মক স্পেল দেখেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। মিচেল ম্যাকক্লেনাঘ্যানের মারাত্মক স্পেল থেকে মুস্তাফিজুরের অসাধারণ কাটারে বিভ্রান্ত হতে দেখেছে তাবড় ব্যটসম্যানদের। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এ বারের আইপিএলের আট সেরা বোলারকে।

মিচেল ম্যাকক্লেনাঘ্যান: মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই পেসার ১২ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে রয়েছেন তালিকার শীর্ষে। গুজরাতের বিরুদ্ধে ২১ রানে ৪ উইকেট তার সেরা বোলিং।

ভুবনেশ্বর কুমার: মিচেলের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা হায়দরাবাদের ভুবি ১৪ উইকেট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে। তারও সেরা বোলিং গুজরাটের বিরুদ্ধে। ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

আন্দ্রে রাসেল: নাইট শিবিরের অন্যতম ভরসা ক্যারিবিয়ান রাসেলও নিয়েছেন ১০ ম্যাচে ১৪ উইকেট। তবে বোলিং গড়ে সামান্য পিছিয়ে থাকায় তিনি তিন নম্বরে। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ২০ রানে ৪ উইকেট তার সেরা বোলিং।

শেন ওয়াটসন: চার নম্বরে বেঙ্গালুরুর ওয়াটসন। রাসেলদের থেকে এক ম্যাচ কম খেলে ১৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং পুণের বিরুদ্ধে ২৪রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

মুস্তাফিজুর রহমান: ১১ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে পাঁচ নম্বরে রয়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ১৬ রানে তিন উইকেট তার সেরা বোলিং।

সন্দীপ শর্মা: চলতি আইপিএলের অন্যতম ইকনমিক্যাল বোলার পঞ্জাবের সন্দীপ। ১১ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে তিনি ছয় নম্বরে।

অমিত মিশ্র: দিল্লির এই লেগ স্পিনার ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট। সেরা বোলিং পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১১ রানে ৪ উইকেট।

মোহিত শর্মা: ১১ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে আট নম্বরে রয়েছেন পঞ্জাবের মোহিত। পুণের বিরুদ্ধে ২৩ রানে ৩ উইকেট তার সেরা বোলিং।

আবাহনীতে খেলতে ঢাকায় মনোজ তিওয়ারী

এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে খেলতে ঢাকা এসেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান মনোজ তিওয়ারী। আবাহনীর আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার উদয় কাউলের স্থলাভিষিক্ত হলেন পশ্চিম বঙ্গের এ ক্রিকেটার। এছাড়া একই দলে খেলছেন আরেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান মানবিন্দর সিং বিসলা।

এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলা মনোজ চলতি আইপিএলে খেলতে পারছেন না। সর্বশেষ নিলামে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজিই এবার তার ওপর আস্থা রাখতে পরেনি। যে কারণে সম্পূর্ণ বেকার বসেছিলেন তিনি। এ সুযোগটাই নিয়েছেন আবাহনীর কর্মকর্তারা।

২০০৯ সালের পর ভারতীয় ক্রিকেটাররা অন্য কোন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পাননি। আইপিএলের বাইরে থাকার কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্যই মূলতঃ তাদেরকে ঢাকা ক্রিকেট প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে খেলার সুযোগ দেয়া হয়।

ভারতের হয়ে এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মনোজ। ১টি সেঞ্চুরিসহ ওয়ানডেতে করেছেন ২৮৭ রান। আর টি-টোয়েন্টিতে একটি ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে করেছেন ১৫ রান।

এখনো অনেক অস্ত্র রয়েছে মুস্তাফিজের কাছে

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস এবং দিল্ল ডেয়ারডেভিলসের বিপে শেষ দু ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকতে হয়েছে মুস্তাফিজকে। পুনের বিপে ুদ্র সংগ্রহ নিয়েও মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছিল হায়দারাবাদ। উইকেটশূন্য থেকেও সেই ম্যাচে পুনের রানের চাকা আটকাতে সম হয়েছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু দিল্লির বিপে একটু অচেনাই লেগেছিল মুস্তাকে। ৪ ওভার বল করে ৩৯ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য। অনেকে মুস্তাফিজের দিন শেষ বলে রব ওঠালেও তাদের কথার সাথে একমত হতে পারছেন না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাাৎকারে বর্তমান জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এর আগের ম্যাচে তো ধোনির মতো ক্রিকেটারও মুস্তাফিজুরকে খেলতে পারেনি। ভুবনেশ্বর কুমার, আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস জর্ডন, মোহাম্মদ সামি, জহির খানরা যেখানে ইনিংসে ৫০ রানের বেশি খরচ করে ফেলেছেন, সেখানে এক ম্যাচে মুস্তাফিজুর ৩৯ রান দেওয়া নিয়ে এত আলোচনা হওয়া উচিত না।’
মুস্তাফিজের বল বুঝতে সব সময়েই সমস্যা হয়ে আসতেছে ব্যাটসম্যানদের। আইপিএলে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সুফল পাচ্ছে না আইপিএলের দলগুলো। শেষ দু ম্যাচে উইকেট না পেলেও মুস্তাফিজের বোলিংয়ের এখনো অনেক অস্ত্র দেখার বাকি রয়েছে বলে মনে করেন বাশার। ‘মুস্তাফিজুর কিন্তু সিম অফ করে ভেরিয়েশনে বল করছে না। কাটার দিয়েই ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করছে। আইপিএলে এক একটি দলে প্রচুর সাপোর্টি স্টাফ। তাই ভিডিও অ্যানালিসিস অথবা অন্য কোনও প্রযুক্তির মাধ্যমে মুস্তাফিজুরের বল বোঝার চেষ্টা করছে সবাই। তবে ওর কিছু কিছু অস্ত্র ধরতে পারলেও সমস্যার কিছুই দেখছি না। মুস্তাফিজুর যে মানের বোলার, তাতে ওর সব কাটার বুঝে ওঠা সম্ভব নয়।’
আইপিএলে এখন পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচ খেলে ১৩ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকাতে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মুস্তাফিজ। মাত্র এক দু ম্যাচ দেখেই মুস্তাফিজ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোহলির রেকর্ডের দিনে ব্যাঙ্গালুরুর ১৪৪ রানের জয়

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চটা যেন কোহলির জন্যেই প্রস্তুত করা ছিল। এবি ডি ভিলিয়ার্সের ঝড়ো সেঞ্চুরির পরেও ম্যাচের সবটুকু আকর্ষণ নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। এবারের আইপিএলের নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি করে ছাড়িয়ে গেছেন অতীতের সকল রেকর্ডকে। তার এবং ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরির সুবাদেই ২৪৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় ব্যাঙ্গালুরু। জবাবে পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০৪ রানেই গুটিয়ে যায় গুজরাট। ব্যাঙ্গালুরু পায় ১৪৪ রানের বিশাল জয়।
টস জিতে ব্যাঙ্গালুরুকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ব্রেন্ডন ম্যাককালামের গুজরাট লায়ন্স। প্রথম বাবা হওয়ার জন্য স্ত্রীকে সময় দিতে এই ম্যাচ থেকে বিশ্রামে ছিলেন সুরেশ রায়না। কিন্তু রায়নার অবর্তমানে যেন মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখতে হলো গুজরাটকে। গেইলকে ৬ রানে আউট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিলেও সেগুলোকে নিমিষেই টর্নেডোর মত উড়িয়ে দেয় ডি ভিলিয়ার্স-কোহলি জুটি।
রেকর্ড জুটি গড়ে দুজনই তুলে নেন সেঞ্চুরি। কোহলির থেকে একটু বেশিই ভয়ঙ্কর ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ১২৯ রানে অপরাজিত থাকার ম্যাচে হাঁকিয়েছেন ১২টি বিশাল ছক্কা। পাশাপাশি ছিল ১০টি চারের মারও। ২২৯ রানের জুটি গড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়লেন তারা। এর আগের রেকর্ডটাও তাদের দখলে ছিল। ২০১৫ সালে মুম্বাইর বিপে ২১৫ রানের জুটি গড়েছিল তারা।
২৪৯ রানের ল্েয ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে গুজরাটের ব্যাটসম্যানরা। ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে এদিন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেন বোলার ক্রিস জর্ডান। ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ১৮.৪ বলেই মাত্র ১০৪ রান করে অলআউট হয় গুজরাট লায়ন্স।

সাকিবের চোখে সেরা মুস্তাফিজ

প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে একের পর এক বিস্ময়ই উপহার দিচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ১১ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। আর মুস্তাফিজের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাকিব। তার মতে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মুস্তাফিজই সেরা।

দীর্ঘ বিরতির পর আজ ইডেন গার্ডেনে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের বিপক্ষে মাঠে নামবে সাকিবের কলকাতা। এর আগে সংবাদমাধ্যমকে সাকিব বলেন, মুস্তাফিজুর অসম্ভব প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটার। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ও এখন বিশ্বের সেরা পেসার।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ খুব ভাল খেলছে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভাল খেলতে হবে। টেস্ট জিততে হবে। তবেই সকলের কাছ থেকে আরও সমীহ আদায় করে নিতে পারবো।

মুস্তাফিজকে বশে আনলেন পান্ট!

বিস্ময় জন্ম দেয়া বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বল বোঝা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলতে গিয়েও ব্যাটসম্যানদের নাস্তানবুদ করে ছেড়েছেন মুস্তাফিজ। তার স্লোয়ার এবং কাটারের রহস্য ভেদ করতে কেউই এখন পর্যন্ত সম হননি।
কিন্তু সানরাইজার্সের হয়ে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে দেখা গেল অন্য মুস্তাফিজকে। ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন ৩৯ রান। থেকেছেন উইকেটশূন্য। একটা বাজে দিন ভেবে এদিনকে ঠিকই ভুলতে চাইবেন মুস্তাফিজ। কিন্তু দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ব্যাটসম্যান পান্ট কি পারবেন ভুলতে? কেননা তিনি যে অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুস্তাফিজ রহস্যকে যেখানে কেউ ভেদ করতে পারেনি সেখানে ভারতীয় ব্যাটসম্যান পান্ট অনেকটাই সম হয়েছেন মুস্তাফিজকে ভেদ করতে। হায়দারাবাদ দিল্লিকে ১৪৭ রানের টার্গেট দিলে ১১ বল হাতে থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় দিল্লি। এ ম্যাচেও হায়দারাবাদের তুরুপের তাস ছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু এদিন যে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হল মুস্তাফিজ। দিল্লির রিসবাহ পান্টের অনবদ্য ২৬ বলে ৩৯ রানে ভর করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় দিল্লি। কিন্তু মুস্তাফিজ-পান্টের লড়াইটা ছিল একদমই এক পেশে।
পান্টকে মোট ১৩টি বল করেছেন মুস্তাফিজ। যেখানে মহেন্দ্র সিং ধোনির মত ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে খেলার চিন্তা করে সেখানে পান্ট ছিলেন পুরোটাই ব্যতিক্রম। মুস্তাফিজের ১৩ বলে মোট ২৬ রান নিয়েছেন পান্ট! পান্টই একমাত্র ক্রিকেটার যে কিনা একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুস্তাফিজের বলে এতো রান নিয়েছেন। চারটি ডট বল খেললেও সিঙ্গেল নিয়েছেন ৪টি এবং দুই নিয়েছেন ১টি। কিন্তু বাউন্ডারি মেরেছে ২টি এবং ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন ২টি। তাতেই বনে গেছেন ম্যাচের নায়ক। এখন দেখার বিষয় পরবর্তী ম্যাচে আরো ভয়ঙ্কর রুপে মুস্তাফিজ নিজে প্রকাশ করেন কিনা!

‘সাসেক্সে খেলতে হলে মুস্তাফিজকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মাতিয়ে তারপরই ইংলিশ কাউন্টি লিগে খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে মুস্তাফিজের। কিন্তু এখনো নিশ্চিত নয় মুস্তাফিজের সাসেক্স যাত্রা। সাসেক্সে যাওয়ার ব্যাপারে মুস্তাফিজের নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
আইপিএল, সিপিএল, বিগ ব্যাশ, এসএলপিএল, পিএসএল খেলে আসা সাকিব আল হাসান নিজেকে দূরে রাখলেন মুস্তাফিজকে পরামর্শ দেয়া থেকে। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোতে দেয়া এক সাাৎকারে সাকিব বলেন, ‘মুস্তাফিজ তো আর ওখানে চার দিনের ম্যাচ খেলবে না। তবে এটা ওর জীবন, ও-ই ভালো বুঝবে কী করতে হবে। এগুলো যার যার শরীর ও মনের ওপর নির্ভর করে। আমি পরামর্শ দেওয়ার কেউ নই।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল এক বছর অতিক্রম করেছেন মুস্তাফিজ। এই ুদ্র সময়েই অনেক খ্যাতি অর্জন করতে সম হয়েছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার। কিন্তু কাউন্টি লিগে খেলতে যাওয়ার ব্যপারের মুস্তাফিজের মতামতকে বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন সাকিব।
সাকিব নিজে একা একাই এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। মুস্তাফিজকেই তাই পাড়ি দিতে হবে লম্বা পথ। ‘আমার বেলায় আমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কী করব। এখানেও একমাত্র মুস্তাফিজই জানে, ও কী পারবে আর কী পারবে না। ওর সিদ্ধান্ত ওকেই নিতে হবে।’

অনুজ্জ্বল মুস্তাফিজ, সানরাইজার্সের হার

আইপিএলের ৪২তম ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপে ৭ উইকেটে হেরে গেছে মুস্তাফিজুর রহমানের দল সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। হায়দারাবাদের দেওয়া ১৪৭ রানের ল্েয ব্যাট করতে নেমে ১১ বল বাকি থাকতে সহজেই জয় পায় জেপি ডুমিনিরা।
এদিন বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতাই হলো মুস্তাফিজুর রহমানের। ৪ ওভার বল করে ৩৯ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি তিনি। যা তার নামের সঙ্গে বেমানান।
টস জিতে ডেভিড ওয়ার্নারকে ব্যাটিংয়ে পাঠান দিল্লির অধিনায়ক জেপি ডুমিনি। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক জহির খানের বদলে এই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন ডুমিনি। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ভালোই সূচনা এনে দেয় দিল্লির বোলাররা। কিন্তু তারপরেই ওয়ার্নার তাণ্ডবে খেই হারাতে শুরু করে তারা।
হাফ সেঞ্চুরি থেকে চার রান দূরে থাকতে দলীয় ৬৭ রানে আউট হন ওয়ার্নার। অপর প্রান্তে শেখর ধাওয়ানও বেশিণ টেকেননি। ৩৪ রান করে তিনিও ওয়ার্নারের পথ ধরেন। মিডল অর্ডারে আর কোনও ব্যাটসম্যানই বলার মতো রান করতে পারেননি। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানেই থামে হায়দারাবাদের ইনিংস।
জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি দিল্লিরও। দলীয় ২০ রানে ফিরে যান আগরওয়াল। এরপর ঘুরে দাঁড়ান কুইন্টন ডি কক ও করুন নায়ার। একই ওভারে এই দুজনকে ফিরিয়ে সানরাইজার্সকে ম্যাচে ফেরান ময়েস হেনরিকস। তবে সঞ্জু স্যামসন ও রিশব পান্তের ব্যাটে সহজ জয় পায় দিল্লি।
৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। ভুবনেশ্বর কুমার ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩২ রান। ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন হেনরিকস। ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়েছেন আশিষ নেহরা।

মুস্তাফিজ সমস্যায় আম্পায়াররা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে শুরু হয়ে মুস্তাফিজ সংক্রান্ত আলোচনা এখনও ভেসে বেড়াচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের আকাশে-বাতাসে। আইপিএলে হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলা এই টাইগার পেসার প্রতিপরে জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন। শুধু ব্যাটসম্যানরাই না, মুস্তাফিজের বোলিংয়ে সমস্যায় পড়ছেন ম্যাচের দায়িত্বে থাকা আম্পায়াররাও।
মুস্তাফিজ কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্ব ক্রিকেটের এক অনন্য প্রতিভা।
ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’তে উঠে এসেছে মুস্তাফিজের বোলিং বৈচিত্র্য সমস্যায় ফেলছেন ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ফিল্ড আম্পায়ারদের। কিছু ম্যাচ অফিসিয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশি এই পেসারের ‘কাটার’ গুলো পিচ করে অফস্ট্যাম্পের দিকে ধেয়ে যাবে নাকি লেগস্ট্যাম্পের দিকে যাবে সেটি মাঠে থেকে বুঝতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে, সিদ্ধান্ত নিতেও সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
একজন ম্যাচ অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, ‘মুস্তাফিজের যেসব বল মিডল এবং লেগস্ট্যাম্পের মাঝে থাকে সেই বলগুলোকে বোঝা খুবই কষ্টকর। পরিস্কার করে বোঝা যায় না তার বলটা লেগস্ট্যাম্পে লাগবে, নাকি বের হয়ে যাবে। মুস্তাফিজ বলের অনেক রকম ভেরিয়েশন দেখাতে পারে। তার কাটারগুলো বোঝা মুশকিল। সে সাধারণভাবেই লেগস্ট্যাম্প এবং অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল করে থাকে। বাংলাদেশি এই পেসার মিডলস্ট্যাম্পের বোলার নয়।’
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই সংবাদের শেষ প্যারায় বাংলাদেশের ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের কথাও লেখা হয়েছে। বিজয় সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে গত দুই বছর থেকে খেলেছি। তাকে নেটেও মোকাবেলা করেছি। কিন্তু, তার বলগুলো বুঝে উঠা সত্যিই কষ্টকর।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দু’দুবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি বলেছিলেন, এই মুস্তাফিজুর রহমান পুরো ক্রিকেটের জন্যই দারুণ এক আবিষ্কার। বাংলাদেশ তাকে পেয়েছে। মুস্তাফিজুর ক্রিকেট বিশ্বের একটা আবিষ্কার। আমি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলেছি। তার সাধারণ বল আর কাটার বলের মধ্যে কোনো পার্থক্য বের করা কষ্টকর।
মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররাও প্রশংসায় মুখরিত হচ্ছেন। সম্প্রতি তার বোলিং নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া একান্ত সাাৎকারে ভারতের সাবেক স্পিনার মানিন্দার সিং জানান, ‘মুস্তাফিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন, দেখবেন তার পেস বৈচিত্র্য। তার স্লোয়ার গুলো সত্যিই দেখার মতো। বাংলাদেশি এই পেসারের স্লোয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য বোঝা কষ্টকরই বটে।’

মুস্তাফিজের জন্য গলা ফাটানো সেই তরুণী কে?

আইপিএলে এখন পর্যন্ত যা করেছেন মুস্তাফিজ তাতে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছে। মিতব্যয়ী বোলিং করে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছেন এই তরুণ বোলার। কাটার, স্লোয়ারে বিখ্যাত সব ব্যাটসম্যানদের স্টাম্প উপড়ে দিয়ে ইতিমধ্যে আইপিএলের হিরোতে পরিণত হয়েছেন।

এবার না চাইতেও খলনায়কে পরিণত হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে এবার খানখান হতে চলেছে যুবরাজ সিংয়ের হৃদয়। কি এমন করলেন মুস্তাফিজ!

পুনে ও সানরাইজ হায়দরাবাদ ম্যাচের মাঝামাঝি সময়! টানটান উত্তেজনা! ম্যাচের যা অবস্থা তাতে পুনের জয়ের পাল্লা ভারি। অধিনায়ক ওয়ার্নার বল তুলে দিলেন ভারতের বিশ্বকাপ হিরো যুবরাজ সিংয়ের হাতে। সেই ওভারে ১০ রান দিলেন যুবি।

পরের ওভারে হেনরিকস দিলেন আরো ৭ রান। আস্তে আস্তে ম্যাচ ঝুকে পড়ছে পুনের দিকে। বিপদ এড়াতে ওয়ার্নার বল দিলেন তার প্রধান অস্ত্র মুস্তাফিজকে। মাত্র ৫ রান দিলেন ফিজ।

গ্যালারিতে মুস্তাফিজের নামে তখন গলা ফাটাচ্ছেন যুবরাজের প্রিয়তমা হ্যাজেল কিথ। পুনের ইনিংসের ১৭তম ওভার। ২৪ বলে দরকার ৪২ রান। উইকেটে আছেন ধোনি ও পেরেরা। বল হাতে তৃতীয় ওভার করতে আসছেন মুস্তাফিজ।

ধোনি-পেরেরার চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস স্পস্ট। সেই ওভারে ফিজ দিলেন মাত্র ৫ রান। প্রতিবার দৌড় শুরু করেছেন মুস্তাফিজ আর প্রতিবার আসন ছেড়ে দাড়িয়ে পড়েছেন হ্যাজেল। মুস্তাফিজের প্রতি হ্যাজেলের অনুরাগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইনিংসের ১৮তম ওভারে।

পুনের জয়ের জন্য দরকার ২২ রান। ধোনি আর পেরেরার ব্যাটে ততক্ষণে আগুন ঝড়ছে। প্রথম ২ বলে চার রান নিলেন ধোনি। তৃতীয় সজোরে ব্যাট চালালেন ধোনি। তবে ফিজের কাটারে পরাস্ত হলেন ধোনি। লাফিয়ে উঠলেন হ্যাজেল। তার কণ্ঠে তখন কেবলই মুস্তাফিজ! মুস্তাফিজ!

শেষ দুই বলেও একইভাবে গলা ফাটালেন হ্যাচেল। শেষ পর্যন্ত ৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় যুবরাজ-মুস্তাফিজের দল হায়দরাবাদ। তবে হ্যাজেলের এমন উলম্ফন ভালো চোখে নেয়নি কেউই। যুবরাজের প্রেমিকা হয়ে মুস্তাফিজের নামে এমন উচ্ছাসকে অনেকেই বাড়াবাড়ি বলছেন।

আর মাঠ থেকে এমন দৃশ্য দেখতে যুবরাজেরও ভালো লাগেনি নিশ্চয়।

উল্লেখ্য, এরই মধ্যে বাগদান হয়ে গিয়েছে যুবরাজ সিংহ ও ব্রিটিশ সুন্দরী হ্যাজেল কিথের। খুব শিগগিরিই বিয়ে করতে যাচ্ছেন এই দুজন।

ডেথ ওভারে সেরা মুস্তাফিজ : ওয়ার্নার

আইপিএলে অভিষেকের পর থেকেই ঝড় তুলেছেন মুস্তাফিজ। নিজের পারফর্মেন্স দিয়ে চলে এসেছেন ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে। পুনের বিপক্ষে তার দল ৪ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিলেও নিজে ছিলেন উইকেট শূন্য। তবে ডেথ ওভারে তার অবিশ্বাসও বোলিংয়ের জন্যই জয় এসেছে, এমনটাই মনে করে দলের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজেরও প্রশংসা করে ওয়ার্নার বলেন, ডেথ ওভারে মুস্তাফিজ সেরা। সে ডেথ ওভারে আমাদের পক্ষে ম্যাচটি নিয়ে এসেছিল, ডেথ ওভারে তার বিকল্প নেই, এজন্যই তাকে আমি সবসময় শেষে ব্যবহার করি।

এদিকে, এই ম্যাচে উইকেট না পেলেও ডেথ ওভারে চমৎকার বোলিং করেছেন মুস্তাফিজ। তার চারটি ওভার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চার ওভার বল করে তিনি রান দিয়েছেন ২৬। তার বলে বাউন্ডারি এসেছে মাত্র একটি, এরকম লো-স্কোরিং ম্যাচে এরকম বোলিং ফিগার প্রশংসা পাওয়ারই যোগ্য। ম্যাচের ১৭তম ওভারে তিনি মাত্র ৫ রান দিয়েছেন অপরদিকে নিজের করা শেষ ওভারে রান দিয়েছেন ৮।

ভারতে কোহলির চেয়ে জনপ্রিয় মুস্তাফিজ

কাটার মাস্টার মুস্তাফিজকে নিয়ে চমকের যেন শেষ নেই। ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) চোখ ধাঁধানো বোলিং উপহার দিয়ে কিংবদন্তীদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। আর ভারতে শীর্ষ ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির চেয়েও জনপ্রিয় বাংলাদেশের মুস্তাফিজ। এমনটাই মনে করেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

মঙ্গলবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি আয়োজিত ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনায় বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারতে মুস্তাফিজের যত ফ্যান আছে, বিরাট কোহলির তত নেই—এটা সত্য। আইপিএলে মুস্তাফিজ যেভাবে খেলছেন, প্রতিদিন তাকে নিয়ে ভারতের পত্রিকায় খবর আসে। আমার বাড়িতে এটা নিয়ে তো লড়াই। আমি বিরাটের ফ্যান, আর ছেলেমেয়ে মুস্তাফিজের ফ্যান। আমার বউও তাই। মানে ডিভোর্স হওয়ার জোগাড়।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী আরও বলেন, ভারতের প্রতিটি সংবাদপত্রে মুস্তাফিজকে একবার উল্লেখ করা হচ্ছেই। প্রত্যেক বড় বড় খেলোয়াড় ডেল স্টেইন, মুত্তিয়া মুরলিধরন, রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলেসহ মুস্তাফিজের প্রশংসা করছেন। মুস্তাফিজ আমাদের এই অঞ্চলে এক বিরাট আবিষ্কার, সেটা আমি জোরগলায় বলতে পারি। আমি বলি, মুস্তাফিজ ইন্ডিয়ায় জন্মালেন না কেন, তাহলে ভারতের হয়ে খেলতে পারতেন। আমি নিজে ওর খেলা দেখেছি। যেভাবে খেলছেন, একদিন অনেক বড় খেলোয়াড় হবেন।

মুস্তাফিজকে আটকানোর উপায় খুঁজছেন ফ্লেমিং!

অভিষেকের পর থেকেই ঝড় তুলেছেন মুস্তাফিজ। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন তিনি। দিন যত গড়িয়েছে, তত তিনি নিজেকের তুলে ধরেছেন অন্য উচ্চতায়। চলতি আইপিএলে প্রথম বারের মত অংশ নিয়ে নিজেকে চিনিয়েছেন অন্যভাবে। আজ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুস্তাফিজের বিপক্ষে মাঠে নামছে ফ্লেমিংয়ের পুনে।

আইপিএলে তিকে থাকতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই পুনের। তবে জয়ের সবচেয়ে বড় বাঁধা মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজুর রহমানের গল্পটা যেন ‘এলাম, দেখলাম, আর জয় করলাম’। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। তাই মুস্তাফিজকে আটকানোর উপায় খুঁজছেন পুনে কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং।

এ নিয়ে ফ্লেমিং বলেন, মুস্তাফিজ আসলে দারুণ। ও এবারের আসরে যা করে দেখাচ্ছে, সেটা সত্যি অবিশ্বাসও। সে বড় একটা সেনসেশন। আমাদের অবশ্যই এই হুমকি সামলাতে হবে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা মুস্তাফিজের বল বিশ্লেষণ করছে কিভাবে সামালানো যায়।

তবে আজকের ম্যাচটা মুস্তাফিজের জন্য বড় একটা পরীক্ষাই। আইপিএলে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ ধারাবাহিক থাকলেও পুনের সঙ্গে আগের ম্যাচটাতেই মনে রাখার মতো কিছুই করতে পারেননি। ২ ওভারে ২১ রান দিয়েছিলেন। তার জন্য এবারের আসরে ওভারপ্রতি নয়ের বেশি রান দেওয়ার ঘটনা ওই একবারই ঘটেছে। আইপিএলে ওই ম্যাচেই শুধু উইকেটবিহীন ছিলেন।

আইপিএল ছেড়ে নেদারল্যান্ডস গেলেন রায়না

সন্তান সম্ভবা স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার পাশে থাকতেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মাঝপথেই নেদারল্যান্ডসে পাড়ি জমালেন ভারতীয় ক্রিকেটার ও গুজরাট লায়ন্সের অধিনায়ক সুরেশ রায়না। আইপিএলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা গুজরাটের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ১৪ মে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচের আগেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে গুজরাট অধিনায়কের।

কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর রায়না জানান,  আমার স্ত্রী মা হতে চলেছেন। আমি সোমবার আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হল্যান্ড যাচ্ছি। তাই ভীষণ উত্তেজিত।` এদিকে মা দিবস উপলক্ষ্যে ইনস্টাগ্রামে মায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন রায়না। তার আগে গত ১৮এপ্রিল স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার একটি ছবি পোস্ট করেন। যাতে দেখা যায় রায়নার স্ত্রী এক পুতুলের ডাইপার চেঞ্জ করছেন।

গাভাস্কারের চোখে সেরা বোলার মুস্তাফিজ

অভিষেকের পর থেকে ঝড় তুলেছিলেন। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন তিনি। দিন যত গড়িয়েছে, তত তিনি নিজেকের তুলে ধরেছেন অন্য উচ্চতায়। ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেকে চিনিয়েছেন অন্যভাবে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ, নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেনে উইলিয়ামসন থেকে শুরু করে সেরা সেরা ব্যাটসম্যানদের বোল্ড করেছিলেন তিনি।

এ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দারাবাদ তাকে কিনে নিয়েছে। প্রথমবারেরমত আইপিএল খেলতে গিয়েও বেশ আলোচনার জন্ম দিলেন বিস্ময়কর এই পেসার। তাদের হাতের জাদু দেখতে দেখতে যেন এখন মুগ্ধ পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

একের পর এক কার্টার, স্লোয়ার, ইয়র্কারে তিনি মাতিয়ে তুলেছেন আইপিএলকে। ভারতীয় মিডিয়া, ভারতীয় বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু পুরো পুরো বিশ্বের ক্রিকেটমহল তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আগেও মুস্তাফিজের দারুণ প্রশংসা করেছিলেন সুনিল গাভাস্কার। এবার আর প্রশংসা নয়, তিনি তৈরী করলেন এবারের আইপিএলের সেরা তিন ব্যাটসম্যান এবং সেরা তিন বোলারের একটি তালিকা। যেখানে অবধারিতভাবেই চলে এলো মুস্তাফিজের নাম।

সুনিল গাভাস্কারের চোখে সেরা তিন ব্যাটসম্যানের প্রথমজন বিরাট কোহলি। এবারের আইপিএলে যে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন তিনি, তাতে সুনিল গাভাস্কার কেন, যে কারও সেরা পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসবে তার নাম। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৮ ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৪১ রান। দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে তাতে। সর্বশেষ রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি।

কোহলি সম্পর্কে গাভাস্কার বলেন, ‘ব্যাট হাতে তিনি তার কাজটি সম্পাদক করে দিয়ে আসছেন শতভাগ। অন্যাদের জন্য খুব বেশি কিছু বাকি রাখছেন না। নিঃসন্দেহে এখনও পর্যন্ত তিনি একজন সেরা ব্যাটসম্যান।’

গাভাস্কারের চোখে দ্বিতীয় সেরা ডেভিড ওয়ার্নার। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট নিয়মিত হেসে চলছে আইপিএলে। ব্যাটিংয়ে একার হাতে দলকে অনেকটা টেনে নিয়ে চলছেন তিনি। নেতৃত্বেও তার ব্যাটিংয়ের প্রভাব পড়ছে। একই শিখর ধাওয়ানকেও ফর্মে ফিরিয়েছেন তিনি। ৯ ম্যাচে তিনি করেছেন ৪৫৮ রান।

গাভাস্কার বলেন, ‘কৃতিত্ব অবশ্যই ডেভিডের প্রতি যাওয়া উচিৎ। কারণ সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। যেমন অধিনায়কত্বে, তেমনি ব্যাট হাতেও। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ের সময়ও দারুন অধিনায়ক তিনি। ফিল্ডিং সাজানো এবং নিজের ফিল্ডিং দিয়ে উদাহরণ তৈরী করছেন ওয়ার্নার।’

তবে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নির্দিষ্ট কাউকে নির্বাচন করতে পারলেন না গাভাস্কার। তার মতে এই স্থানটির জন্য টস হওয়া প্রয়োজন রোহিত শর্মা, আজিঙ্কা রাহানে এবং গৌতম গম্ভীরের মধ্যে। এই তিন ওপেনার দলের জন্য প্রথম থেকে দারুণ অবদান রেখে চলেছেন। রান তাড়া করতে নেমে রোহিত তো দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন। গৌতম গম্ভীরও একইভাবে ব্যাট করে যাচ্ছেন। রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের হয়ে আজিঙ্কা রাহানের ব্যাটও নিয়মিত কথা বলে যাচ্ছে।

গাভাস্কারের চোখে সেরা তিন বোলারের মধ্যে শীর্ষে আছেন কেকেআরের ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। বল হাতে যেন নতুন বিপ্লব সূচনা করেছেন এই জ্যামাইকান। এখনও পর্যন্ত ১০ ম্যাচ থেকে ১৪টি উইকেট নিয়ে সেরা অবস্থানে রয়েছেন তিনি। আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে গাভাস্কার বলেন, ‘সে তো এক ওভারেই খেলার চেহারা পরিবর্তন করে দিতে পারে। সেটা হোক ব্যাট হাতে কিংবা বল হাতে। বেশ শক্তিশালী ক্রিকেটার তিনি। তার গতিময় বল এবং মাঝে মধ্যে স্লোয়ারগুলো বেশ কাজ দিচ্ছে এবারের আইপিএলে।’

গাভাস্কারের চোখে এবারের দ্বিতীয় সেরা বোলার নিউজিল্যান্ডের মিচেল ম্যাকক্লেনঘান। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই পেসারকে কমপ্লিট এ বোলার হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। ‘যেভাবে সে ক্রিজকে ব্যবহার করে এবং যেভাবে সে কোনাকুনি বল ডেলিভারি দেয়, তাতে বেশ ফল পাচ্ছেন তিনি। ওভার দ্য উইকেট কিংবা অ্যারাউন্ড দ্য উইকেট যেটাই হোক ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলছেনই তিনি। তার বল বুঝতেই পারছে না ব্যাটসম্যানরা।’

গাভাস্তারের চোখে এরপরের সেরা বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। স্পেশালি তিনি এই স্থানটি রাখলেন মুস্তাফিজের জন্য। কারণ বাংলাদেশের এই পেসারে দারুণ মুগ্ধ তিনি। গাভাস্কার বলেন, ‘তিনি খুব সহজেই ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারেন। তবে তার স্পেশালিটিটা হলো গতি পরিবর্তন না করেই স্লোয়ার দেয়ার ক্ষেত্রে। রানআপ কিংবা অ্যাকশন পরিবর্তন না করেই বলে দারুণ বৈচিত্র্য আনতে পারে মুস্তাফিজ। যে বলগুলো বোঝা ব্যাটসম্যানদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

শচীনের পা ছুয়ে যুবরাজের প্রণাম

তিন বছর আগে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও শচীনের জনপ্রিয়তা কিংবা মাহাত্ব্য একটুও কমেনি তার প্রমাণ পাওয়া গেল আইপিএলে। রোববার সানরাইজার্স হায়দারাবাদ ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচ শেষে শচীনকে দেখেই তার কাছে ছুটে এসে পা ছুয়ে প্রণাম করতে যান হায়দারাবাদের তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিং।

সানরাইজার্স হায়দারাবাদ ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচে ডাগআউটে উপস্থিত ছিলেন মুম্বাইয়ের ব্যাটিং পরামর্শক ও উপদেষ্টা শচীন টেন্ডুলকার। দল বাজেভাবে হেরে গেলেও প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের শুচেচ্ছা জানাতে মাঠে আসেন শচীন। এ সময় শচীনকে দেখেই তার কাছে ছুটে আসেন যুবরাজ। আর কাছেই এসেই পা ছুয়ে প্রণাম করতে যান তিনি।

যদিও শেষ শেষে শচীন তাকে পা ছুতে দেননি বরং বুকে টেনে নিয়ে অালিঙ্গন করছেন। ভারতে শচীন টেন্ডুল্কারকে ক্রিকেটার দেবতা হিসেবে মানা হয়। ১৩০ কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ নিয়ে ২৪ বছর দেশের হয়ে খেলে যাওয়া কম বড় অর্জন নয়।

আইপিএল শেষ গেইলের!

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মহানায়ক ক্রিস গেইল। তাকে ছাড়া ক্রিকেটের এই সংস্করণটির কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু ক্যারিবীয়ান ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল এবারের আইপিএলে ব্যাট হাতে এখন পর্যন্ত জ্বলে উঠতে পারেননি। তাই তিনি দলে আছেন, কিন্তু মাঠে নেই। সম্ভবত পরের ম্যাচগুলোতেও দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে গেইলকে।

এবারের আইপিএলে আরসিবি দলটির ব্যাটিং লাইন আপ দুর্ধর্ষ। গেইল ছাড়াও আছে বিরাট কোহলি, দক্ষিণ আফ্রিকার এ বি ডি ভিলিয়ার্স, অস্ট্রেলিয়ার অল রাউন্ডার শেন ওয়ানসন। এদের যেকোনো একজনই যেকোনো বোলিং লাইনআপকে তছনছ করে দিতে পারেন।

গেইলের মত খেলোয়াড় এমন দলেও তার স্থান হতে পারে আনায়াসে। তবে অধিনায়ক কোহলি বলেন, গেইলকে বিশ্রামে নয়, ফর্মহীনতা কারণে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। আর তার বদলে নেয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার ট্রাভিস হেডকে। সম্ভবত পরের ম্যাচগুলোতেও গেইলের কোনো সুযোগ নেই।

আইপিএলের সপ্তাহ সেরা ক্রিকেটার মুস্তাফিজ

আন্দ্রে রাসেলের দুই বার ম্যান অফ দ্য ম্যাচ, বিরাট কোহলির অনবদ্য সেঞ্চুরি কিংবা শেখর ধাওয়ানের দুর্দান্তভাবে রানে ফেরা; গেল সপ্তাহে আইপিএলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এগুলোই ছিল সবার উপরে। কিন্তু এদের সব পারফরম্যান্সকে তুচ্ছ বানিয়ে আইপিএলে গেল সপ্তাহের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। ভারতীয় পত্রিকা ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়ায়’ আয়োজিত ভোটে সকলেই ভোট দেন মুস্তাফিজকে। মূলত তার বাঁ-হাতের কারিশমার উপর ভর করেই সানরাইজার্স হায়দারাবাদ উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে। কিন্তু গেল সপ্তাহে খেলা একটি ম্যাচেও তার হাতে ওঠেনি ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

আইপিএলের প্রথম ছয় ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নারের হায়দারাবাদ মোটামুটি লড়াই করলেও শেষ ম্যাচে যেন নিজেদের নিয়ে গেছে সবার উপরে। ছয় দিনের বিরতি দিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স, গুজরাট লায়ন্স এবং দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মত শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে নামে সানরাইজার্স। কিন্তু সবাইকে তাক লাগিয়ে মুস্তাফিজের বদৌলতে প্রত্যেক ম্যাচেই দাপট দেখিয়ে জিতেছে হায়দারাবাদ।

গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে শুক্রবার মুখোমুখি হয় হায়দারাবাদ। ঐ ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ভুবনেশ্বর কুমার প্রথমেই ডুয়েন স্মিথ এবং সুরেশ রায়নার উইকেট নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে দেন। কিন্তু মুস্তাফিজের শেষ দিকের বোলিংয়েই মূলত বেশি দূর এগুতে পারেনি গুজরাট। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফর্মের তুঙ্গে থাকা দীনেশ কার্তিককে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে কেন উইলিয়ামসের ক্যাচের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজ। তারপরেই আবার বোলিংয়ে আসেন ১৪তম, ১৭তম এবং ১৯তম ওভার। এই ওভারগুলোতে দিয়েছেন যথাক্রমে  ১, ৬ এবং ৮ রান! শেষের দিকে নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজার উইকেট। চার ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ৪-০-১৭-২!

গুজরাটের থেকেও বেশি উজ্জ্বল ছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে। প্রথমেই ডেভিড ওয়ার্নার এবং শেখর ধাওয়ানের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহ পায় হায়দারাবাদ। এ ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ আশীষ নেহরা প্রথম পাঁচ ওভারের ভেতরেই মুম্বাইর প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করে হায়দারাবাদকে বড় জয়ের ভিত গড়ে দেন। মুস্তাফিজ যখন নবম ওভারে বোলিংয়ে আসেন তখন মুম্বাইর নেই ৬ উইকেট। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ব্যাটসম্যানরাই যেখানে মুস্তাফিজকে বুঝতে পারে না সেখানে শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের জন্য তো মুস্তাফিজ সাক্ষাৎ যমদূত! বোলিং করতে এসে হার্দিক পান্ডিয়াকে প্রথম বলেই নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করেন। তারপর একে একে টিম সাউদি এবং মিশেল ম্যাকগ্লেন্যাহানকে আউট করেন তিনি। তিন ওভার বোলিং করে শেষের ৪ উইকেটের ৩ উইকেটই নেন সাতক্ষীরার এই বিস্ময় বালক। ম্যাচ শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩-০-১৬-৩!  দুই ম্যাচে ৭ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

কোচ হিসেবে ভেট্টরিকে পছন্দ কোহলির

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বর্তমানে নতুন কোচ খোঁজার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দলের কোচ হিসেবে ভেট্টোরির নাম প্রস্তাব করলেন ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি। আর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতীয় পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চলতি বছর জুন থেকে আগামী বছর মার্চে ভারত ১৮টি টেস্ট খেলবে। তার আগেই ভারতীয় বোর্ড চাইছে নতুন কোচ নিয়োগ করতে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রীকেই পছন্দ বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ভেত্তোরির ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পরই অবসর নিয়েছিলেন। তারপর কোচ হিসেবে ব্রিসবেন হিটসের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। অনেকেই বলেন,আধুনিক ক্রিকেটে ভেট্টোরির মস্তিষ্ক বেশ ক্ষুরধার।

দেশের কোচ হিসেবে গ্রেগ চ্যাপেল, গ্যারি কার্স্টেনের নিয়োগের সময়ও অধিনায়কদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছিল বোর্ড। কোহলি এখন দেশের টেস্ট অধিনায়ক। নতুন কোচ খোঁজার ব্যাপারে তার বক্তব্য যে গুরুত্ব পাবে সেটা বলাই বাহুল্য।

বিকেলে মুস্তাফিজের মুখোমুখি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

সুপ্রিম কোর্টের আদেশে শেষ পর্যন্ত মুম্বাই থেকে সরাতে হলো আইপিএলের ম্যাচ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হোম ভেন্যু এখন ভিসাখাপত্মম। এখানেই আজ তারা নিজেদের ১০ম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দারাবাদের। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে দু’দলেরই লক্ষ্য শেষ চারের পথে অনেকটুকু এগিয়ে যাওয়া।

৮ ম্যাচ খেলে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের পয়েন্ট ১০। ৯ ম্যাচ খেলে মুম্বাইরও পয়েন্ট সমান ১০। আজ যে জিতবে তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে ১২। শীর্ষে থাকা দুই দল কেকেআর এবং গুজরাট লায়ন্সের ওপর তখন চাপ বাড়িয়ে দিতে পারবে তারা। বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে মুস্তাফিজ বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচটি।

তবে একটি বিষয়ে কিছুটা হলেও পিছিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কারণ, ইতিমধ্যে ৯টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা। আজ হয়ে যাবে ১০টি। সানরাইজার্স খেলেছে এক ম্যাচ কম। আজ হেরে গেলেও তাদের ফিরে আসার দারুন সুযোগ রয়েছে; কিন্তু মুম্বাই যদি হারে তাহলে তাদের ফেরার রাস্তা অনেক কমে যাবে। সুতরাং, শেষ চারের সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে সানরাইজার্সকে হারাতেই হবে রোহিত শর্মার দলকে।

সেটা কতটা সম্ভব? কারণ, সানরাইজার্সে রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এবারের আইপিএলের নিঃসন্দেহে সেরা বোলার। ৮ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। উইকেট হয়তো তার পারফরম্যান্স তেমন তুলে ধরবে না। তবে তিনি যে সত্যি সত্যি এবারের আইপিএলে ম্যাচের ফল নির্ধারক একজন বোলার তাতে কোন সন্দেহ নেই।

দুর্দান্ত ইকনোমি রেট। যাকে বলে সত্যিকার কৃপণ। ব্যাটসম্যানদের রান দেয়ার কোন ইচ্ছেই নেই। সর্বশেষ গুজরাটের বিপক্ষে দিয়েছেন মোটে ১৭ রান। ডট বল দিয়েছেন ১৪টি। উইকেট নিয়েছেন ২টি।

সুতরাং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের রোহিত শর্মা, কিয়েরণ পোলার্ড কিংবা জস বাটলারদের কঠিন পরীক্ষাই নিতে পারেন আজ মুস্তাফিজ। তার ওপর রোহিত শর্মা হচ্ছেন মুস্তাফিজের প্রিয় উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজার পর সবচেয়ে বেশি সম্ভবত রোহিতকেই আউট করেছেন মুস্তাফিজ। সুতরাং, মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে সানরাইজার্সই।

ঢাকা লিগে আরও তিন বিদেশি

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে এখনও পর্যন্ত যারা সেরা পারফরমার তাদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন বিদেশি ক্রিকেটার। এদের সঙ্গে এবার যোগ হচ্ছেন আরও তিনজন বিদেশি। তিনজনই অবশ্য উপমহাদেশের। ভারতের একজন এবং শ্রীলংকার দু’জন।

২০০৯ সালের পর এই প্রথম ভারতীয় কোন ক্রিকেটার তাদের দেশের বাইরে কোন ঘরোয়া লিগ খেলার অনুমতি পেলো। বিশেষ করে যারা বেশ পরিচিতি, অথচ এবারের আইপিএলে খেলতে পারছে না, তাদের আর্থিক বিষয়টা বিবেচনা করেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার অনুমতি দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

এর আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে ঢাকায় এসেছিলেন পশ্চিম বঙ্গের ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। আইপিএলে কেকেআর, দিল্লির হয়ে খেলেছিলেন তিনি একসময়। খেলেছেন ভারতীয় জাতীয় দলেও। অথচ এবার কোন ফ্রাঞ্চাইজি তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি।

তেমনই আরেক ক্রিকেটার মানবিন্দর সিং বিসলা। আইপিএল কাঁপানো। অথচ এখন বেকার। তাকেই দলে টেনে নিয়েছে আবাহনী। শনিবারই ঢাকা এসে পৌঁছেছেন তিনি।

অপর দুই ক্রিকেটার শ্রীলংকার। এদের একজন হলেন আশান প্রিয়ঞ্জন। তিনি খেলবেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে। শ্রীলংকার আরেকজন ঢাকায় আসছেন। শেনান জয়সুরিয়া। তিনি খেলার কথা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে।

মানবিন্দর সিং বিসলাকে আবাহনী নিয়ে এসেছে উদয় কাউলের পরিবর্তে। কারণ, উদয় খেলতে যাচ্ছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে। সোমবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষেই তামিম ইকবালের দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেন বিসলা। একই দিন রূপগঞ্জের হয়ে অভিষেক হতে পারে আশান প্রিয়ঞ্জনেরও। পাকিস্তানের আসার জাইদিও খেলেন রূপগঞ্জের হয়ে।

দিলশান মুনাভিরার পরিবর্তে প্রাইম ব্যাংকে খেলতে আসছেন শেনান জয়সুরিয়া। প্রাইম ব্যাংকের কোচ আবদুল করিম জুয়েল বলেন, ‘জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য ডাক পাওয়ায় আমরা দিলশান মুনাভিরাকে ছেড়ে দিয়েছি। তার পরিবর্তে আনা হচ্ছে শেনান জয়সুরিয়াকে।’

সানরাইজার্সের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজ!

প্রতিদিনই কোন না কোন বিদেশি মিডিয়া মুস্তাফিজকে নিয়ে রচনা করছে প্রশংসাগাথা। আইপিএলে খেলার কারণে ভারতীয় মিডিয়াগুলোর তো উচ্চসিত প্রশংসা পাচ্ছেনই। সঙ্গে যোগ হয়েছে এএফপি, গালফ নিউজসহ অনেকগুলো মিডিয়া। কেউ মুস্তাফিজের কথা দিয়ে, কেউ আবার নিবন্ধ রচনা করছে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। এবার সেই দলে সরাসরি যোগ দিলো ভারতের বিখ্যাত মিডিয়া এনডিটি অনলাইন।

এতদিন অন্যদের নিউজগুলোই হয়তো কপি করে, নয়তো অন্যদের উদ্বৃতি দিয়ে প্রকাশ করতো এনডিটিভি। এবার তারা নিজেরাই এক প্রস্থ প্রশংসাগাঁথা রচনা করলো মুস্তাফিজের নামে।

মুস্তাফিজুর রহমান অ্যান্ড দা ফিজ দ্যাট ইজ বুস্টিং সানরাইজার্স হায়াদারাবাদ- শিরোনামে এই ছোট লেখাটিতে মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাই তুলে আনলো তারা। সেখানেই এনডিটিভি লিখেছে, দ্য ফিজ- এবারের আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যে পারফরম্যান্স দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে। বাংলাদেশ থেকে আসা পেসার মুস্তাফিজের কারণেই এই দলটির মূল্য বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

মাত্র ১২ মাসেই কীভাবে নিজেকে এত মূল্যবান করে তুললেন মুস্তাফিজ! এর মধ্যে মাত্র ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ২২টি। ঈর্ষনীয় গড় ১৩.৯৫ করে। ইকনোমি রেট মাত্র ৫.৯৮ করে। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ১০টির বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা বোলারদের মধ্যে সেরা ইকনোমি রেট মুস্তাফিজের।

আইপিএলে তো আরও দুর্দান্ত। ৮ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১০ উইকেট। গড় ১৮.৭ করে। ইকনোমি রেট ৬.২৩। বয়সের তুলনায়, আইপিএলের উইকেট এবং ছোট মাঠের তুলনায় যে ইকনোমি রেট, তা নিশ্চিতভাবেই অসাধারণ।

দুর্দান্ত সব স্লোয়ার এবং কার্টার দিয়ে সবার নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি। বলের গতি পরিবর্তন না করে, কোন স্টাইল পরিবর্তন না করে স্লোয়ার দিতে পারেন, কার্টার করতে পারেন, এটা যেন ক্রিকেটের ইতিহাসে একক কোন কৃতিত্ব। যে কারণে প্রযুক্তির এই যুগেও মুস্তাফিজ এখনও পর্যন্ত রয়ে গেছেন দারুণ এক রহস্যময়ী বোলার হিসেবে।

আইপিএলে ভারতীয় ক্রিকেটার থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা পর্যন্ত প্রশংসায় পঞ্চমূখ মুস্তাফিজের বোলিংয়ের। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ানরা তো তাকে চিনেছে সেই বিশ্বকাপের সময় ব্যাঙ্গালুরুতেই। বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়ে মুস্তাফিজকে সামলাতে হিমসিম খেতে হয়েছে তাদের। নিউজিল্যান্ড বুঝেছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলকাতায়। মাত্র ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। যার চারটিই বোল্ড। ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ৫ উইকেটের ঘটনা।

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য সবারই টুপিখোলা অভিনন্দন পাচ্ছেন মুস্তাফিজ। তার অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার যেমন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচের পর বলেছিলেন, মুস্তাফিজ একজন বিরল প্রতিভা। তাকে পেয়ে তো বাংলাদেশ গর্বিত হতে পারে এবং তাদের উচিৎ হবে তাদের পরিচর্যা সঠিকভাবে করা। তার পেস পরিবর্তন এবং সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন যেন দুর্দান্ত।

মুস্তাফিজদের হিন্দি শেখালেন যুবরাজ (ভিডিও)

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ আর অধিনায়ক মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য বাংলা শিখছেন, খবরটা পুরনো। নতুন হলো, যুবরাজ সিং সবাইকে হিন্দি শিখিয়েছেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে ট্রেন্ট বোল্ট, ইয়ন মরগ্যান আর ওয়ার্নারদের হিন্দি শেখান যুবরাজ।
mustafiz-3
বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে অবশ্য হিন্দি বলতে হয়নি। নিজের আসনে বসে উপভোগ করেছেন সতীর্থদের মজার এসব কাণ্ড। তাই বলে একেবারে ছাড় পাননি তিনি। মজার একটা খেলা দেখাতে হয়েছে তাকে। যেখানে হাটু দিয়ে ঠেলে ক্রিকেট বলকে নিয়ে একটি বৃত্তের মধ্যে ফেলতে হয়েছে।

ভিডিওতে দেখুন মুস্তাফিজদের হিন্দি শেখানো:

‘মানুষ’ মুস্তাফিজে মুগ্ধ মুডি

মুস্তাফিজদের সঙ্গে এই ছবিটি মুডি পোস্ট করেছিলেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে।দুজনের দেখা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। মুস্তাফিজুর রহমানকে তখনই খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন টম মুডি। হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের কোচ হিসেবে বাংলাদেশি পেসারকে আগে থেকেই জানতেন, তবে পরিচয় ছিল না। এরপর মুস্তাফিজ এলেন আইপিএলে, আর সেখানেই তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখা। বোলার মুস্তাফিজ আইপিএলে কী করেছেন, সেটা সবাই জেনে গেছেন। শুধু একজন ক্রিকেটার মুস্তাফিজেই নন, মানুষ মুস্তাফিজেও মুগ্ধ মুডি।

আইপিএল শুরুর আগেই মুডি বলেছিলেন, মুস্তাফিজের দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হবে না। মুডির কথা যে ঠিক, মুস্তাফিজের মাঠের পারফরম্যান্সই তো সেই কথা বলে। কাল ২ উইকেট নিয়ে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে দলকে জেতাতে বড় অবদান রেখেছেন। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার নিজের আগের কথাটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘মানুষ হিসেবে সে দারুণ। সে খুবই সুন্দরভাবে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। সে বেশ মজার ছেলে।’

আইপিএলে মুস্তাফিজের ইংরেজি নিয়ে শুরু থেকেই কী সব মজার গল্প চলছে। মুডি তো আছেনই, অধিনায়ক ওয়ার্নার ও মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণও মুস্তাফিজের জন্য বাংলায় টুইট করেন। কাল পুনের সঙ্গে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুডি অবশ্য দাবি করেছেন, এই ব্যাপারটা এখন বড় কিছু নয়, ‘ওর ভাষা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সে ইংরেজিতে ঠিক স্বচ্ছন্দ নয়, আমরাও সেভাবে বাংলা বলতে পারি না। তবে ক্রিকেটের ভাষা সর্বজনীন, দিন শেষে আমাদের যোগাযোগ করতে তাই কোনো সমস্যা হয় না।’

হায়দরাবাদ দলের সঙ্গে অনেক দিন হয়ে গেল মুস্তাফিজের। মুডি তাই মানুষ হিসেবেও মুস্তাফিজকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতায়ও মুগ্ধতার রেশ, ‘তার রসবোধ দারুণ। সহজেই সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারে। মাঠে সে যা করেছে, সেটা এরই মধ্যে সবার নজর কেড়েছে। আর মাঠের বাইরে সে যা করছে, সেটাও দলের জন্য দারুণ।’

আগ্রাসী মনোভাব আমাকে সেরা হতে সাহায্য করেছে: কোহলি

বিরাট কোহলি বর্তমান সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান একথা স্বীকার করেন অনেকেই। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোহলি বরাবরই সমীহ আদায় করে নিয়েছেন ক্রিকেট সমর্থক থেকে বিশ্লেষকদের। তবে বিভিন্ন সময় নিয়ে মেজাজ হারিয়ে সমালোচিত হয়েছেন তিনি।
এবার নিজেই স্বীকার করলেন সে কথা। ২৭ বছর বয়সী কোহলি জানালেন, সহজে তিনি মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। এটা নাকি তার জন্য বেশ কঠিন কাজ! তবে নিজের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খুব বিচলিত নন কোহলি।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই আগ্রাসী হতে হয়। আপনার দক্ষতার প্রতি আপনার বিশ্বাস থাকতে হবে। তবে এ নিয়ে দম্ভ করা ঠিক নয়। আগ্রাসী মনোভাব আমার রয়েছে। নিজেকে এভাবেই উপস্থাপন করে থাকি। এটা আমাকে সেরা হতে সাহায্য করছে!’
কোহলি আরও বলে , ‘মেজাজ ধরে রাখা আমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এটা ধরে রাখা আমার জন্য বেশ কঠিন। আমি জানি, আমাকে খেলাধুলা নিয়েই কাজ করতে হবে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলায় বিশেষ কিছু নিয়ম মানতে হয়। এটা মাথায় রাখতে হয়। এমন আচরণের কোনও মানে নেই। তাই সমালোচিত হতে হয়।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অ্যাডিলেড টেস্টের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে জরিমানা গুণেছিলেন কোহলি। চলতি বছরে এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে তৈরি হয়েছিল আম্পায়ারিং বিতর্ক। বাংলাদেশের আম্পায়ার শারফুদ্দৌলা সৈকতের একটি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ভারতের ক্রিকেটাররা। আর ভারতের সহ-অধিনায়ক বিরাট কোহলি তো গালিই দিয়ে বসেন আম্পায়ারকে! এ ছাড়াও ক্রিকেট মাঠে ও বাইরে মেজাজ হারানোর বেশ কিছু নজির রয়েছে কোহলির।

আইপিএলে ধোনির দলে খেলতে পারেন তামিম!

ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরে চোটে জর্জরিত এবারের দলগুলো। আগের কোনো আসরে এত বেশি ইনজুরি দেখা যায়নি। যে কারনে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি সংবাদ প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ নাকি ইনজুরি প্রিমিয়ার লিগ।
এবারের আইপিএলে এই পর্যন্ত ১৩ জন তারকা ক্রিকেটার ইনজুরি সমস্যায় ভুগেছেন। যাদের মধ্যে ১১ জন ইনজুরির জন্য এই মৌসুমে আর অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় ভুগেছে আসরের নতুন দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। মাত্র ৯ দিনের মধ্যে তাদের ৪ জন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি খেলোয়াড় ইনজুরির কারনে এখন আসরের বাইরে। তাই তারা এখন দলে নতুন করে খেলোয়াড় নেয়ার পরিকল্পনা করছে। তাই এবার আইপিএলে সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশ দলের ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েব সাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এমনটাই জানিয়েছে।
ক্রিকইনফো পুনের জন্য দশ জন ক্রিকেটারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আর সে তালিকায় বেশ উপরেই আছেন বাংলাদেশ দলের ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তালিকায় তার অবস্থান তিনে।
আইপিএলে অন্তর্ভুক্ত হবার মত সেই ১০ জন ক্রিকেটারের তালিকা নিম্নে দেয়া হল-
১. বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)
২. জনসন চার্লস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৩. তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)
৪. মাইকেল হাসি (অস্ট্রেলিয়া)
৫. ড্যারেন সামি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৬. জো রুট (ইংল্যান্ড)
৭. গ্রান্ট ইলিয়ট (নিউজিল্যান্ড)
৮. কেভন কুপার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৯. মারলন স্যামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
১০. কেভিন ওব্রায়ান (আয়ারল্যান্ড)

সব খেলাতেই বাংলাদেশের মাথা উঁচু দেখতে চান মুস্তাফিজ

অভিষেকের পর মাত্রই এক বছর পার করলেন বিস্ময়কর পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এরই মধ্যে পুরো ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস ক্রিকেট লিগ ভারতের আইপিএলে নিজেকে মেলে ধরেছেন পূর্ণরূপে। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সব বিশেষজ্ঞ। তার কারণে এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটও পৌঁছে গেছে সমীহের নতুন একটা পর্যায়ে।
তবে মুস্তাফিজ যেখানেই যান, যত বড় তারকাই হযে উঠুন না কেন- বাংলাদেশই যে তার প্রাণ, বাংলাদেশই যে তার হৃদয়ে সেটা বলতে বিন্দুমাত্র ভুল করলেন না। আইপিএলে খেলার জন্য পুরো ভারতবর্ষের এই শহর থেকে সেই শহর উড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু তাতে মোটেও দেশের কথা ভুলছেন না সানরাইজার্স হায়দারাবাদের আদরের ‘ফিজ’।
আপাদমস্তক নিস্পাপ চেহারার। চেহারা থেকে এখনও কৈশোরের চঞ্চলতা মুছে যায়নি। অথচ তিনিই কি না কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন আইপিএলের মত কঠিন এবং গ্ল্যামারাস টুর্নামেন্টটি। সেখানে থেকেই এএফপিকে ফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ বলেন, ‘আমি সব সময়ই আমার দেশের মাথা উঁচুতে দেখতে চাই। সেটা ক্রিকেটই হোক কিংবা অন্য কোনো খেলা।’
নিজের জন্মস্থান, নিজের মাতৃভুমি খুব টানে মুস্তাফিজকে। এলাকার মানুষ, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের কোনভাবে ভুলেন না তিনি। গ্রামের মানুষ যখন তার খেলা দেখে আগ্রহভরে এবং তার জন্য গর্ব করে, তখন ব্যাপারটা মুস্তাফিজের অনুভূতিকে আনন্দ আর তৃপ্তিকে ভরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, যখন গ্রামের কেউ এসে তাকে বলেন, ‘মুস্তাফিজ তোমার খেলা দেখলাম’- তখন তার ভেতরে যে আনন্দ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তা অন্য রকম। এএফপিকে এমনটাই জানিয়েছেন মুস্তাফিজ।

মুস্তাফিজের ফোন নম্বর পেতে তরুণীদের ভিড়!

অভিষেকের এক বছরের ভেতরেই তারকা ক্রিকেটারের খ্যাতি পেয়ে গেছেন মুস্তাফিজ। মাঠের ভেতরে কাটার এবং স্লোয়ারে ব্যাটসম্যানদের হৃদয় ভেঙ্গে দিতে জুড়ি নেই মুস্তাফিজের। তাকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ারও আগ্রহের কমতি নেই। তাই মাঠের বাইরেও তাকে নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাশেম গাজী ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন।
মুস্তাফিজের প্রতি সবার আগ্রহের কারণেই দূর দূরান্ত থেকে অনেকে ছুটে যান মুস্তাফিজের সাতক্ষীরার বাড়িতে। তাকে শুভকামনা জানাতেই মানুষদের তার বাড়িতে যাওয়া। কিন্তু তরুণীদের আগ্রহ রয়েছে অন্য খানে। অসংখ্য তরুণী মুস্তাফিজের মোবাইল নম্বর চাচ্ছেন মুস্তাফিজের বাবার কাছে।
এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজের বাবা অবশ্য সে বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের ঠিকানায় অসংখ্য চিঠি আসে। আমি পোস্ট অফিসে গিয়ে বলে এসেছি, তারা যেন আমাদের ঠিকানার কোনো চিঠি বাড়িতে না পাঠায়। মুস্তাফিজ এখন অনেক ছোট। খেলায় মনযোগ দেয়ার সময় এখন।’
গত মাসেই বাবাকে যাতায়াতের জন্য গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। তাছাড়া নিজে একটি বাইকও কিনেছেন। আইপিএল খেলতে গেলেও মুস্তাফিজের মনটা গ্রামেই পড়ে রয়েছে। বাবার আশা একদিন বড় ক্রিকেটার হবেন মুস্তাফিজ। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছেন মুস্তাফিজ।

ইউটিউবে ভাইরাল মুস্তাফিজের নতুন ভিডিও

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই বল হাতে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে বাংলাদেশের বোলিং বিস্ময় মুস্তাফিজুর রহমান। অফ কার্টার, অন কার্টারের সঙ্গে স্লোয়ার, ইয়র্কার দিয়ে ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন। এবার মুস্তাফিজের জাদুকরি সব বল নিয়ে ইউটিউবে পাওয়া গেল নতুন এক ভিডিও।

ভিডিওতে পাকিস্তানের বিপক্ষের অভিষেক থেকে শুরু করে সর্বশেষ আইপিএল পর্যন্ত টাইগার এই বোলারের জাদুকরী সব বল তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে আফ্রিদি-হাফিজদের নাকানি-চুবানি খাওয়ানো বোলিং, ওয়ানডেতে ভারতীয় শিবিরকে স্তব্ধ করে দিয়ে মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, টেস্টে হাশিম আমলা, ডু প্লেসিসের উইকেট নেয়ার পর কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া চলতি আইপিএলে তার দুর্দান্ত সব ডেলিভারিও রয়েছে এই ভিডিওতে। কলকাতার বিপক্ষে রাসেল, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পান্ডে ও গুজরাটের জাদেজার বোল্ডও তুলে ধরা হয়েছে এই ভিডিওতে।

https://www.youtube.com/watch?v=_-sKhPZxCF0

এবার মুস্তাফিজে মুগ্ধ মুরালি

মুস্তাফিজে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারছেই না। প্রায় সব কিংবদন্তীর মুখেই শোনা যাচ্ছে মুস্তাফিজ বন্দনা। কিংবদন্তীরা একের পর এক প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন বাংলাদেশের এই বিস্ময় পেসারকে। তার প্রতিভা দেখে একের পর এক বিস্ময়াবিভূত হচ্ছেন বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা পর্যন্ত। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শ্রীলংকার কিংবদন্তী স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন।
সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে আইপিএলেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। তার একের পর এক বিস্ময় মাখানো বোলিং দেখার পর আর চুপ করে থাকতে পারলেন না লংকান কিংবদন্তী। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ শুধু বাংলাদেশেরই নয়, সানরাইজার্স হায়দারাবাদেরও বড় সম্পদ।’
ওর মধ্যে অনেক সম্ভবনা রয়েছে বলেই মনে করেন মুরালি। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজুর রহমান এমন এক বোলার, যিনি সানরাইজার্স হায়দারাবাদে আসার পর থেকেই তার অসম্ভব প্রতিভা দেখিয়ে যাচ্ছেন। ওকে সঠিক পরিচর্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমি মনে করি, ওর জন্য আগামীতে আরও অনেক সাফল্য অপেক্ষা করছে।’
মুস্তাফিজের কারণেই সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বোলিং এবারের আইপিএলে অন্যতম সেরা বলে মনে করছেন মুরালিধরন। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে রয়েছেন আশিস নেহরা, ভুবনেশ্বর কুমার। সবাই দারুন বোলিং করছেন। আমি মনে করি, কঠিন সমযে যদি আমরা সঠিক জায়গায় বল করে যেতে পারি, তাহলে এখনও টুর্নামেন্টে আমাদের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।’
এখনও পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট এসেছে তাঁর ঝুলিতে। তাঁর দলও ৭টির মধ্যে জিতেছে ৪টিতে। রয়েছেন ৫ নম্বরে।

আইপিএলের সেরা একাদশে মুস্তাফিজ

আইপিএলের চলছে মাত্র মাঝপথ। এই মাঝপথে এসে অনেকেই হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করে দিয়েছেন। কে যাবে শেষ চারে। কারা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন। কে সবচেয়ে বেশি রান করেছে কিংবা কে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন।
তবে ব্যতিক্রমি একটি কাজ করে বসেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ক্রিকেটডটকম ডটএইউ। আইপিএলের মাঝপথেই তারা তৈরী করেছে এখনও পর্যন্ত পারফরম্যান্সের নিক্তিতে আইপিএলের সেরা একাদশ। যেখানে অবধারিতভাবেই ঠাঁই মিলে গেছে নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমানের।
আসুন দেখে নেয়া যাক স্যাম ফেরিস কর্তৃক তৈরীকৃত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আইপিএল একাদশ

ডেভিড ওয়ার্নার (সানরাইজার্স হায়দারাবাদ)
৭ ইনিংস, ৩৮৬ রান, ৭৭.২০ গড়, ১৬৮.৫৫ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৯০, হাফ সেঞ্চুরি ৫টি
বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে আইপিএলের তৃতীয় ম্যাচ থেকেই ফর্মে ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচ ছিলেন নিষ্প্রভ। তবে পরের ৫টি ইনিংসেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। সবগুলোতেই তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। আইপিএলে টানা ৫ ইনিংসে কোন অধিনায়ক হিসেবে ৫ হাফ সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি।

বিরাট কোহলি (রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু)
৭ ইনিংস, ৪৩৩ রান, ৭২.১৬ গড়, ১৩৭.০২ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ১০০*, সেঞ্চুরি: ১টি, হাফ সেঞ্চুরি ৪টি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফর্মই যেন আইপিএলে টেনে এনেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করেছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (বাছাইপর্ব বাদ দিয়ে) হিসেবে। আইপিএলেও ধরে রেখেছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের খেতাব। টি-টোয়েন্টির বর্তশান সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান তিনি। তার ব্যাটেই কেবল সম্ভব রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর শিরোপা জয়। নতুন বলে অসাধারণ ব্যাট করে থাকেন।

রোহিত শর্মা (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)
৯ ইনিংস, ৩৮৩ রান, ৬৩.৮৩ গড়, ১৩৭.২৭ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৮৫*, হাফ সেঞ্চুরি ৫টি
ওপেনিংয়ে বরাবরই বিধ্বংসী তিনি। তবে পার্টনারের অভাবে রোহিত দলকে কাংখিত সাফল্য এনে দিতে পারছেন না। তবে এই দলে রোহিতকে রাখা হল তিন নম্বরে। এর কারণ, রোহিতের সাফল্যের প্রকৃতি দেখে। গত বছরের মতই শুরুটা ছিল মুম্বাইর একেবারে ব্যাকফুটে থেকে। যদিও ধীরে ধীরে খোলস মেলতে শুরু করেছে রোহিতের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। রোহিতের ব্যাটের কল্যানেই সম্ভব হচ্ছে শুধু। মুম্বাইর সাফল্য পেতে হলে রোহিতের ব্যাটে ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

এবি ডি ভিলিয়ার্স (রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু)
৭ ইনিংস, ৩২০ রান, ৪৫.৭১ গড়, ১৬৩.২৬ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৮৩, হাফ সেঞ্চুরি: ৩টি
রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর আকর্ষণের অর্ধেকই যেন এই ক্রিকেটারের মধ্যে। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করছেন প্রথম থেকেই। রীতিমত ঝড় তুলে ছুটছেন তিনি। বিরাট কোহলির সঙ্গে তার সমন্বয়টা অবম্ভব রকমের। দু’জনের বড় বড় জুটিই প্রতিপক্ষের সামনে বিশাল বড় স্কোর দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। তিনটি সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করেছেন এই জুটি। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে ১৫৭ এবং ১৫৫ রানের। কোহিল তাকে আবার প্রজন্মের সেরা ব্যাটসম্যান আখ্যায়িত করেছেন।

গৌতম গম্ভীর (কলকাতা নাইট রাইডার্স)
৮ ইনিংস, ৩৩৯ রান, ৫৬.৫০ গড়, ১২৩.৭২ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৯০*, হাফ সেঞ্চুরি: ৩টি
এই একাদশে আরও একজন ওপেনার। তবে রাখা হয়েছে ৫ নম্বরে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক এবং ওপেনার। তার ব্যাটে ভর করে একের পর এক জয় রচনা করছে শাহরুখ খানের দল কেকেআর। তিনি যেদিন নিষ্প্রভ, সেদিন দলেরও যেন পরাজয় নিশ্চিত। ৩৪ বছর বয়সেও দারুন ধারাবাহিক তিনি। সানরাইজার্সের বিপক্ষে তার অসাধারণ ব্যাটিংই জিতিয়েছে কেকেআরকে। ৬০ বলে করেছিলেন ৯০। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাট করে যেতে সিদ্ধহস্ত তিনি।

কুইন্টন ডি কক, উইকেটরক্ষক (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)
৬ ইনিংস, ১৯৯ রান, ৩৯.৮০ গড়, ১৬০.৪৮ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ১০৮, সেঞ্চুরি: ১টি, হাফ সেঞ্চুরি: ১টি
দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের আরেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। দিল্লিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছেন যেন তিনি। এবারের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে করেছেন ১০৮ রানের ইনিংস। মাত্র ৫১ বলে খেলেছিলেন এই ইনিংসটি। ১৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ৬টি ছক্কার মারও। যে কারণে ১৯২ রানের চ্যালেঞ্জও টপকে যায় দিল্লি।

ক্রিস মরিস (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)
৩ ইনিংস, ৯৩ রান, ৪৬.৫০ গড়, ২১৬.২৭ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৮২*, হাফ সেঞ্চুরি: ১টি
প্রায় ১৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিলেন ক্রিস মরিস। মূল্যের সঙ্গে নামের সুবিচার করতে না পারলে যে মান-সম্মানই থাকে না! সুতরাং, প্রোটিয়া এই অলরাউন্ডারের ওপর চাপটাও ছিল। তবে দিল্লির ৬ ম্যাচের মধ্যে যে কয়টা খেলেছেন সেগুলোতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে কৃপণ বোলার হিসেবেও বেশ পরিচিত। ৬.২৫ করে ইকনোমি রেট। গুজরাটের বিপক্ষে খেলেছেন দুর্দান্ত একটি ইনিংসও। যদিও ওই ম্যাচে হারতে হয়েছিল তার দলকে। করেছিলেন ৮২ রান। ছক্কা মেরেছিলেন ৮টি।

মোহিত শর্মা (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব)
৭ ইনিংস, উইকেট: ১০টি, গড় : ১৭.৬, ইকনোটি: ৭.৭০, স্ট্রাইক রেট: ১৩.৭০, সেরা: ৩/২৩
মোহিত শর্মা এমন একটি দলে খেলেন যে দলটি এবারের আইপিএলে একেবারে তলানীতে। তবে অন্যদের ছাড়িয়ে মোহিত একাই যেন জ্বল জ্বল করে জ্বলছেন এই দলটিতে। তার ডান হাতি মিডিয়াম পেস ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ সমস্যার সৃষ্টি করছে। পুনের বিপক্ষে মোহিত কোন অ্যাকশনেই যেতে পারছিলেন না পাওয়ার প্লেতে। তবে ডেথ বোলিংয়ে এসে স্টিভেন স্মিথ, ধোনি এবং ফ্যাফ ডু প্লেসিসকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছেন নিজের অপরিহার্যতা।

মিচেল ম্যাকক্লেনঘান (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)
৯ ইনিংস, উইকেট: ১৩টি, গড় : ২১.১৫, ইকনোটি: ৭.৯৭, স্ট্রাইক রেট: ১৫.৯২, সেরা: ৪/২১
এবারের আইপিএলে সবচেয়ে বেশি উইকেট দখলে নিয়েছেন মিচেল ম্যাকক্লেনঘান। মুম্বাইর আক্রমণের সবচেয়ে বড় শক্তিই এখন এই কিউই পেসার। নিউজিল্যান্ড যখন ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদির মত বোলারকে জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে রেখেছিল, তখন আলোচনায় আসে তারা আসলে কী করতে যাচ্ছে। তবে সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন ম্যাকক্লেনঘান। আইপিএলেও যার ধারাবাহিকতা। রাজকোটে গুজরাটের বিপক্ষে শেষ বলে দুর্দান্ত একটি বল করেছিলেন তিনি। ফলে মুম্বাইকে জয় এনে দিতে পারলেন তিনি।

মুস্তাফিজুর রহমান (সানরাইজার্স হায়দারাবাদ)
৭ ইনিংস, উইকেট: ৮টি, গড় : ২১.২৫, ইকনোটি: ৬.৫৩, স্ট্রাইক রেট: ১৯.৫০, সেরা: ২/৯
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বকাপেই তাকে আবিস্কার করা হয়েছিল। এখন তো পুরোপুরি আইপিএল তারকা। বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি পেসারের হাতে রয়েছে সব ধরনের অস্ত্র। কার্টার, ইয়র্কার, স্লোয়ার, বাউন্সার- কী নেই তার হাতে! সানরাইজার্স হায়দারাবাদে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ফিজ’ নামে। শুধুমাত্র ভাষাগত সমস্যার কারণে অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে তার যোগাযোগে একটু সমস্যা হয়। কিন্তু তার বলে বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটসম্যানরা সমস্যায় পড়েছেনই। পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। প্রথম ১৫ বলে দিয়েছেন মাত্র ১টি রান। পুরো চার ওভারে একটি বাউন্ডারিও হজম করেননি তিনি। ২৪ বলের মধ্যে দিয়েছেন মোট ১৭টি ডট বল। এই একাদশের নিশ্চিতভাবেই তাকে রাখতে হলো।

অমিত মিশ্র (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)
৬ ইনিংস, উইকেট: ৮টি, গড় : ১৬.৮৭, ইকনোটি: ৭.১০, স্ট্রাইক রেট: ১৪.২৫, সেরা: ৪/১১
এবারের আইপিএলে স্পিনারদের দুরাবস্থার মধ্যে উজ্জ্বল অমিত মিশ্র। ৩৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার যেভাবে বল ঘুরাচ্ছেন, তাতে বিপদে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। প্রতি ম্যাচেই তিনি থাকছেন কৃপণ বোলার হিসেবে। এক ম্যাচ সর্বোচ্চ ২৭ রান দিয়েছেন তিনি। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তো বিস্ময়ই সৃষ্টি করেছিলেন। একই সঙ্গে পাঞ্জাবের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন তিনি। ম্যানন ভোরা, শন মার্শ, ডেভিড মিলার এবং গ্লেন ম্যক্সওয়েলের উইকেট নেন তিনি।

কলকাতায় নেই সাকিব

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সোমবারের ম্যাচেও একাদশে জায়গা পাননি সাকিব আল হাসান। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দল কলকাতা।
আজকের একাদশে সাকিবের জায়গায় ফিরেছেন মরকেল। এছাড়া আরও দুটি পরিবর্তন এসেছে দলে। ফিরেছেন লিন ও পান্ডে।
বেঙ্গালুরুর হয়ে একাদশে ফিরেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল।

সাকিব আজ খেলবেন তো?

কলকাতা নাইট রাইডার্সের সর্বশেষ ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি সাকিব আল হাসানের। আজ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে খেলবেন তো সাকিব?

 

জবাব মিলবে কয়েক ঘণ্টা পরেই। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

 

কলকাতা ও বেঙ্গালুরু- দুই দলেরই বেশ মিল। দুই দলই তাদের শেষ দুই ম্যাচে হেরেছে। তবে বেঙ্গালুরুর চেয়ে এগিয়ে আছে কলকাতা।

 

এখন পর্যন্ত কলকাতা সাত ম্যাচের ৪টিতে জিতেছে, হেরেছে ৩টিতে। আর বেঙ্গালুরু ৬ ম্যাচের ৪টিতেই হেরেছে, জিতেছে ২টিতে।

 

কলকাতা সবশেষ ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছিল। সাকিব, ক্রিস লিন ও উনাদকাতকে বাদ দিয়ে একাদশে নিয়েছিল জেসন হোল্ডার, ব্র্যাড হগ ও পীযূষ চাওলাকে। তবে তিনজনই অনেক খরুচে বোলিং করেন। তিনজনেরই ইকোনোমি রেট ছিল ৮-এর ওপরে।

 

আর ব্যাটিংয়ে রবিন উথাপ্পা ছাড়া আর কেউই ভালো করতে পারেননি। আজ তাই সাকিবের একাদশে ফেরার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্র্যাড হগের জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার।

 

অন্যদিকে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুর দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইনআপের পর বোলারদের ব্যর্থতায় বারবার হেরে যাচ্ছে। আজ তাদের একাদশে ফিরতে পারেন সদ্যই বাবা হওয়া ক্রিস গেইল।

 

টুইট ঝড়ে মুস্তাফিজ-কোহলি

ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে টুইটারে ঝড় উঠা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কালও তার ব্যতিক্রম হল না। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুরের বিপক্ষে বল হাতে তুলে নেন দলের ইনফর্ম ভিরাট কোহলির উইকেট। এর পরই শুরু হয় মুস্তাফিজ-কোহলিকে নিয়ে টুইট ঝড়।

Mustafiz-tweets

Mustafiz

অভিষেকের পর থেকে অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যানকে ফাঁদে ফেলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ক্রিস গেইলকে তো প্রথম বলেই বোল্ড করেছেন। এবি ডি বিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, স্টিভেন স্মিথ কিংবা কেন উইলিয়ামসন- কার স্ট্যাম্প ওড়াননি দ্য ফিজ?

Mustafiz-tweets

Mustafiz

কিন্তু একটা আক্ষেপ ছিল যেন। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা আইপিএল- বিরাট কোহলিকে একবারও আউট করতে পারেননি তিনি। এটা যেন একটা ধাঁ ধাঁ হয়েছিল এতদিন মুস্তাফিজের জন্য। কোহলি কী তবে তার কাছে অজেয়?

Mustafiz-tweets

Mustafiz-tweets

Mustafiz-tweets

যদিও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। তবুও তার উইকেট নিতে পারলে যেন মুস্তাফিজের বোলিংয়ে অন্য মাত্রা যোগ হবে। অবশেষে সেই ধাঁ ধাঁরও উত্তর মেলালেন মুস্তাফিজ। বিরাট কোহলিও শেষ পর্যন্ত তার সামনে আর অজেয় থাকতে পারলেন না। তাকেও আউট করলেন `দ্য ফিজ`। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে কে কি টুইট করেছেন।

মিলারের পরিবর্তে অধিনায়ক বিজয়

অস্ট্রেলিয়ান জর্জ বেইলির পরিবর্তে চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) প্রীতির দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারকে। তবে টুর্নামেন্টে দলকে জয় এনে দিতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে পাঞ্জাবের এই অধিনায়ক। তাই এবার দক্ষিণ আফ্রিকান এই ক্রিকেটারকে সরিয়ে দলের অধিনায়ক করা হল ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান মুরালি বিজয়কে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলমান নবম আসরে বেশ বাজে খেলছে প্রীতি জিনতার দল কিংস একাদশ পাঞ্জাব। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছে তারা। ফলে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে দলটির অবস্থান।

টুর্নামেন্টের অন্যান্য দলের জয়ের পেছনে যেখানে দলগুলোর অধিনায়কের বড় ভূমিকা রাখছেন সেখানে পাঞ্জাবের অধিনায়ক ডেভিড মিলার যেন একদমই অচল হয়ে আছেন। টুর্নামেন্টে নিজ দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে মাত্র ৭৬ রান করেছেন।

এদিকে আজ নিজেদের সপ্তম ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঞ্জাব। ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪ টায়।

‘পরিকল্পনা করে মুস্তাফিজকে আটকানো কঠিন’

আইপিএল-এর ফিরতে লিগে আবারও কোহলি-ভিলিয়ার্সদের মুখোমুখি হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমানের হায়দরাবাদ সানরাইজার্স। মুস্তাফিজের আইপিএল অভিষেক হয়েছিল কোহলি-গেইল-ভিলিয়ার্সদের বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে। সেদিন অন্য বোলাররা পিটুনি খেলেও মুস্তাফিজ ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত খেলতে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ফিরিয়েছিলেন ‘দ্য ফিজ’। পরে আউট করেছিলেন শেন ওয়াটসনকেও।
আজ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডার্ক ন্যানেস ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউই তাকে সেভাবে পড়তে পারেনি। যেভাবে সে অ্যাকশন একই রকম রেখে বলের গতি পরিবর্তন করছে, সেটা আসলেই দুর্দান্ত।’
ন্যানেস আরও বলেন, ‘কত দিন এভাবে সে বল করে যেতে পারবে জানি না, তবে আমার মনে হয় সে অনেক দিন থাকার জন্যই এসেছে। সে আসলেই অবিশ্বাস্য।’

সাকিববিহীন কলকাতার হার

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) শনিবারের প্রথম ম্যাচে কলকাতার বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। দিল্লির ছুঁড়ে দেওয়া ১৮৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় কলকাতা। ফলে ২৭ রানে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি। এদিন সাকিবকে ছাড়াই মাঠে নামে কলকাতা।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিক দিল্লি। প্রথম ওভারেই ফিরে যান দলের দুই ওপেনার শ্রেয়াস আইয়ার ও কুইন্ট ডি কক। তবে ডি কক এক রান করলেও এদিন রানের খাতা খুলতে পারেননি শ্রেয়াস আইয়ার। দলীয় দুই রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়া দিল্লিকে টেনে তোলেন করুণ নায়ার ও স্যাম বিলিংস। দুজনই এদিন অর্ধশতকের দেখা পান।
দলীয় ৩২ রানে সঞ্জু স্যামসন আউট হবার পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১০৫ রান যোগ করেন নায়ার ও বিলিংস। তবে নায়ারকে ফিরিয়ে কলকাতার জন্য ব্রেকথ্রু এনে দেন উমেশ যাদব। ৫০ বলে নয় চার ও এক ছয়ে দিল্লির পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করা নায়ারকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন উমেশ।
এদিন রানের খাতা খুলতে পারেনি আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস মরিসও। একই ওভারে মরিসকে বোল্ড করেন উমেশ। এরপর ইনিংসের ১৯তম ওভারে দিল্লির আরেক দায়িত্বশীল ব্যাটসম্যান বিলিংসকেও ফেরান উমেশ। ৩৪ বলে তিন চার ও দুই ছয়ে ৫৪ রান করা বিলিংসকে বোল্ড করেন তিনি।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক কার্লোস ব্রেথওয়েট মাত্র ১১ বলে ৩৪ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে দিল্লিকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। ১১ বলে তিন চার ও তিন ছয়ে ৩৪ রান করা ব্রেথওয়েটকে তার স্বদেশি সুনীল নারাইনের তালুবন্দী করেন আরেক স্বদেশি আন্দ্রে রাসেল। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দিল্লির সংগ্রহ দাড়ায় আট উইকেটে ১৮৬।
এদিকে কলকাতার পক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল ও উমেশ যাদব। এছাড়া সুনীল নারাইন নিয়েছেন একটি উইকেট। ১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ২১ রানে ফিরে যান গৌতম গম্ভীর (৬)। কিছুক্ষণ পর ফিরে যান চাওলা (৮)। ১৩.৩ ওভারে দলীয় ১০৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় কলকাতা। তবে একপ্রান্ত আগলে রাখেন রবিন উত্থাপা। তিনি ৫২ বলে ৭২ রান করেন। বাকিদের মধ্যে কেউই দাঁড়াতে না পারলে ১৮.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান করে কলকাতা।

সাকিব-ডুমিনিদের সম্ভাব্য একাদশ

জয়ের ধারায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে আজ দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায়।

গত ম্যাচেই মুম্বাইয়ের কাছে হেরে আত্মবিশ্বাসে কিছুটা পিছিয়ে আছে কেকেআর। তবে ব্যাট হাতে বেশ ছন্দে আছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক গৌতম গাম্ভীর। আন্দ্রে রাসেলের মারমুখী ব্যাটিংয়ে স্বস্তি পাচ্ছে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে, সাকিবের অফ ফর্ম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছে তারা। আপাতত নারিনের বোলিংয়েই ভরসা খুঁজে বেড়াচ্ছে কলকাতা। বর্তমানে ছয় ম্যাচে চার জয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে কলকাতা।

এদিকে দিল্লির অবস্থাও ভালো নয়। অধিনায়ক জহির খান এবারের দলীয় পারফরমেন্সে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। আগের ম্যাচে হারলেও ক্রিস মরিসের ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স আশার আলো জ্বালাচ্ছে দিল্লির হয়ে। ৫ ম্যাচ খেলে ৩ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে অবস্থান করছে দলটি।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (সম্ভাব্য) একাদশ:
গৌতম গম্ভীর (অধিনায়ক), রবিন উথাপ্পা (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, আন্দ্রে রাসেল, রাজগোপাল সতীশ, পীযুষ চাওলা, উমেশ যাদব, সুনীল নারাইন এবং মর্নে মরকেল।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলস একাদশ (সম্ভাব্য):
মায়াঙ্ক আগারওয়াল, কুইন ডি কক (উইকেটরক্ষক), শ্রেয়াস আয়ার, সঞ্জু স্যামসন, কারুন নায়ার, জেপি ডুমিনি, পবন নেগি, ক্রিস মরিস, অমিত মিশ্র, জহির খান (অধিনায়ক) এবং ইমরান তাহির।

পোলার্ড ঝড়ে সাকিবদের হার

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান কিয়েরন পোলার্ডের ১৭ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংসে সাকিব আল হাসানের কলকাতাকে সহজেই হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতার দেওয়া ১৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে রোহিত শর্মা ও পোলার্ডের ব্যাটে ২ ওভার হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় মুম্বাই। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গৌতম গম্ভীর। তিনি ৪৫ বলে ৫৯ রান করেন। তার ইনিংসে ৬টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ১টি ছক্কার মার। ওপেনিং জুটিতে ২০ বলে ৩৬ রান করে আউট হয়ে যান রবিন উথাপ্পা।
আইপিএল ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান সাকিব আল হাসান। কিন্তু প্রিয় পজিশনে নেমেও খেলতে পারলেন না বড় ইনিংস। এই অলরাউন্ডার মাত্র ৪ বল খেলে ৬ রান করে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। এরপর সূর্যকুমার যাদব ২১, আন্দ্রে রাসেল ২২, ক্রিস লিনের অপরাজিত ১০ এবং ইউসুফ পাঠানের ১৯ রানের ওপর ভর করে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে কলকাতা। মুম্বাইয়ের হয়ে সাউদি নেন ২টি উইকেট। আর ম্যানকেনঘান, হরভজন সিং এবং হার্দিক পান্ডে নেন ১টি করে উইকেট।
১৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি মুম্বাইয়েরও। দলীয় ৮ রানে ফিরেন যান পার্থিব প্যাটের। এরপর ঝড় তোলেন আম্বাতি রাইডু। ২০ বলে ৩২ রান করে সাকিবে বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। কিছুণ পর ফিরে যান ক্রুনাল পান্ডে ও জস বাটলার। এরপর ঝড় তোলে পোলার্ড। ৬টি ছক্কা ও দুটি চারে ১৭ বলে ৫১ রান করেন তিনি। এছাড়া ৪৯ বলে ৬৮ রান করেন রোহিত শর্মা। এ দুজন দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব। এছাড়া ৪ ওভার ২২ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন সুনীল নারাইন।

মুস্তাফিজের ‘স্লোয়ারে’ মজেছেন মানিন্দার সিং

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবথেকে আলোচিত নাম বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলে দিনের পর দিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন তিনি। বিশ্বের নামীদামী ক্রিকেটারদের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি জুটেছে অনেক সম্মানও। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়েই সকলের চিন্তার কারণ হয়েছেন বাংলাদেশের এই কাটার মাস্টার। কাটারের পাশাপাশি ইদানিংকালে স্লোয়ারটাও বেশ ভালো দিচ্ছেন মুস্তাফিজ। তার স্লোয়ারে এবার মজেছেন ভারতের বাঁহাতি স্পিনার মানিন্দার সিং।
এবারের আইপিএলে স্পিনারদের তুলনায় পেসারদের সাফল্য অনেক বেশি। পেসারদের বল খেলতেও বেশ হিমসিম খেতে হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। এদিক দিয়ে মুস্তাফিজ যেন সকলের থেকে একটু বেশিই এগিয়ে রয়েছেন। তার স্লোয়ার এবং কাটারে ভূপাতিত হচ্ছেন ব্যাটসম্যান। তাকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনাও আঁটতে হচ্ছে বিপ দলকে। মুস্তাফিজের স্লেয়ার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মানিন্দার সিং বলেন, ‘আপনি মুস্তাফিজের বোলিংয়ের দিকে তাকান, তার স্লোয়ার বলগুলো বোঝা আসলেই কষ্টকর।’
বর্তমান সময়ের ব্যাটসম্যানদের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের কারণে বেশিরভাগ সময়েই বোলাররা আলোর মুখ দেখেননা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেটা অনেকাংশেই বদলে গেছে। পেস বোলারদের কথা বলতে গিয়ে মানিন্দার বলেন, ‘পেস বোলাররা এখন অনেক ভালো বল করছে। তারা বোলিংয়ে আনছে নতুনত্ব। তাদের স্লেয়ার, কাটারসহ অন্যান্য অস্ত্র বেকায়দায় ফেলছে ব্যাটসম্যানকে।’

লাল গালিচা সংবর্ধনা পাচ্ছেন মুস্তাফিজ

বর্তমান ক্রিকেট বিশ্ব মজে আছে বাংলাদেশের বিস্ময়বালক মুস্তাফিজুর রহমানে। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররাও প্রশংসায় মুখরিত হচ্ছেন। বিদেশের পাশাপাশি এবার দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও মেতেছেন মুস্তাফিজ বন্দনায়। কিছুদিন আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাইগার এই তারকাকে ‘জাতীয় বীর’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। এবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে লালগালিচা সংবর্ধনা।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেছেন, আইপিএল খেলে দেশে ফেরার পর মুস্তাফিজুর রহমানকে বিমান বন্দর থেকে বীরোচিত লাল গালিচা সংবর্ধনা ও পরবর্তীতে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপমন্ত্রী আরও বলেন, মুস্তাফিজ নিজেকে পরিচিত করার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সম্মানিত করেছেন, যা আমাদের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য।

এর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মুস্তাফিজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুস্তাফিজ জাতীয় বীর। তিনি বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, সম্মানিত করেছেন, আমাদেরকে প্রশংসিত করেছেন। ক্রিকেটে মুস্তাফিজের অবদানের জন্য জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা দোয়া করি সে যেনো তার বোলিংটা ধরে রাখতে পারে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে মুস্তাফিজ নি:সন্দেহে বিশ্বের এক নম্বর বোলার। দুর্দান্ত বোলার হিসেবে সারা বিশ্বে সে সমাদ্ধৃত। আমি এজন্য এখানেও তার (মুস্তাফিজ) ছবি লাগিয়েছি। বাইরেও লাগিয়েছি। আরো অনেক জায়গায় লাগাবো। মুস্তাফিজ যখন আপনাদের মাধ্যমে ফেসবুকে জানবে তখন সে অনেক খুশি হবে।’

মুস্তাফিজের থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারি: বোল্ট

টাইগার পেসার মুস্তাফিজের জন্য ডাগআউটে বসে অলস সময় পার করছেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। তাতে কিছুটা বিরক্ত হয়েই জানালেন, ‘মুস্তাফিজ দলের সেরা বোলার, তবে সুযোগ পেলে তার থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারি।’ কিউই এ পেসার টি-টোয়েন্টির সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ জানুয়ারি। এরপর বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও একটি ম্যাচও খেলা হয়নি বোল্টের। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছিলেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা বোলার বোল্ট।
এবারের হায়দ্রাবাদের দলটিতে বোল্টের মতো পেসার রয়েছেন মুস্তাফিজ, বারিন্দ্রার স্রান, ভুবনেশ্বর কুমার, আশিষ নেহারার মতো তারকারা। এই চার পেসারকেই হায়দ্রাবাদের হয়ে মাঠে নামতে দেখা গেলেও এখনও সুযোগ পাননি বোল্ট। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের কোয়ালিটি নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। দুর্দান্ত একটি দল খেলছে। যেখানে মুস্তাফিজ দলের সফল বোলার। ভুবনেশ্বর অসাধারণ বল করছে। নেহারার মতো অভিজ্ঞ বোলার ফিরে এসেছেন।
মুস্তাফিজের সঙ্গে তার মিল কোথায় কিংবা দুই বোলারের মাঝে কোনো ভিন্নতা রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বোল্ট জানান, আমরা দু’জনই ভিন্ন ধরনের বোলার। মুস্তাফিজ যেকোনো সময় বলের গতির পরিবর্তন করতে পারে, তার স্কিল অসাধারণ। তার ইয়র্কারগুলো সত্যিই ভয়ঙ্কর। তবে, সুযোগ পেলে আমিও ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দেবো।
আইপিএলের আসরে সুযোগ পেলে তা কিভাবে কাজে লাগাবেন এমন প্রশ্নে বোল্ট যোগ করেন, আমাদের আর কিছু ম্যাচ বাকি আছে। যদি সুযোগ হয় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার যে সুইংগুলো আছে, সেগুলো কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নিয়ে দলকে সাহায্য করব। মুস্তাফিজের মতো বোলাররা যেভাবে হায়দ্রাবাদের দলটিকে টেনে তুলছে, আমারও চেষ্টা থাকবে সেভাবে দলকে সাহায্য করা।
হায়দরাবাদের হয়ে ছয় ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় নেন দুই উইকেট। সে ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন এই কাটার মাস্টার। আসরে প্রথমবারের মতো তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য। তার নিষ্প্রভতার দিনে দলও হেরেছে রাইজিং পুনের কাছে। প্রথম দুই ম্যাচ আর শেষের ম্যাচটি হেরে গেলেও মাঝের টানা তিন ম্যাচ জিতেছিল হায়দ্রাবাদ।

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন অনুতপ্ত শাহাদাত

বর্তমানে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ পেসার শাহাদাত হোসেন। গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় জেল খেটেছেন এ পেসার। তাই নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত শাহাদাত। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন শাহাদাত। এদিন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শাহাদাত বলেন, ‘আমি আমার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য অনুতপ্ত এবং আমি পুরো দেশ এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্টসহ সকল কর্মকর্তা এবং সকল খেলোয়াড়দের নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। মানুষ মাত্রই ভুল করে, আমিও একটা ভুল করেছি।’

নিজের জীবিকার জন্য একমাত্র ক্রিকেটই জানেন শাহাদাত। অন্য কিছু জানা না থাকাই জীবিকা নির্বাহের জন্য ক্রিকেটে ফিরতে চান তিনি। এ জন্য দেশবাসীর সহয়াতা কামনা করেছেন তিনি। ‘ক্রিকেট আমার ধ্যান, জ্ঞান ও পেশা। আমি বিশ্বাস করি দেশকে, দেশের ক্রিকেটকে আমার এখনও কিছু দেওয়ার বাকি আছে। এর জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সহয়তা চাই। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই আমি ক্রিকেটে ফিরতে চাই। তাই ক্রিকেটের স্বার্থে, জীবিকা নির্বাহের তাগিদে দ্রুতই ক্রিকেটে ফিরতে চাই।’

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে শাহাদাত আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে দেশবাসী, ক্রিকেটে বোর্ডসহ সকলের কাছে মিনতি করছি, অতীতের ভুল শুধরে আপনাদের আগের শাহদাত হয়ে ফেরার। আমি আমার অতীতের কৃতকর্মের জন্য আবারো অনুতপ্ত।’

মুস্তাফিজকে দেখলে ওয়াসিম আকরামের কথা মনে পড়ে: ডেল স্টেইন

এক সময় ক্রিকেট বিশ্বে আতঙ্কের নাম ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানি এই কিংবদন্তিকে ডাকা হতো ‘দ্য কিং অব সুইং’ নামে। ওয়াসিম আকরাম এখন অতীত। সম্প্রতি বিশ্বমঞ্চে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে চলছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। ‘দ্য ফিজ’ নামে পরিচিত পাওয়া এই কাটার মাস্টারকে ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে তুলনা করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ডেল স্টেইন।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওয়াসিম আকরামের মধ্যে যে এক্স ফ্যাক্টর ছিল মুস্তাফিজের মধ্যেও সেটা আছে। আমি বলছি না সে ওয়াসিমের মতো সুইং করাতে পারে। কিন্তু তাকে বোলিং করতে দেখা সত্যিই চমৎকার।’
তবে মুস্তাফিজকে একটি জায়গায় ওয়াসিম আকরামের চেয়েও এগিয়ে রাখলেন স্টেইন। তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত দেখি ডানহাতি বোলাররা অফ কাটার করে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করেন। কিন্তু বাঁহাতি মুস্তাফিজ কাটার ও পেস পরিবর্তন করতে পারে। এটা আগে কখনও কোনও বোলারের মধ্যে দেখা যায়নি।’
মুস্তাফিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করে ডেল স্টেইন বলেন, ‘আশা করছি দিনে দিনে সে আরও শক্তিশালী হবে। আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা আরও অনেক মুস্তাফিজের দেখা পাবো।’

বিগ বসে সাকিবরা

ভারতের জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো বিগ বস-এর বাংলা ভার্সন মাতিয়ে গেলেন কেকেআর-এর তারকা ক্রিকেটাররা। সাকিব আল হাসান, উমেশ যাদব, সূর্যকুমার যাদব ও জেসন হোল্ডাররা বিগ বসের ঘরের বাসিন্দাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেললেন।
মঙ্গলবার রাতে ‘কালারস বাংলা’ টিভিতে প্রচারিত শো’তে খেলার বাইরেও শিলাজিতের গানে নেচে গেয়ে আসর মাতিয়ে তোলেন সাকিবরা। বিগ বসের প্রতিযোগীদের লক্ষ করে সাকিবরা শুধু বল করেছেন। খেলার নিয়ম অনুযায়ী ব্যাট থেকে আসা বল বাউন্ডারি লাইনের চতুর্দিকে থাকা খাবারের ছবি দেওয়া ব্যানারে লাগলেই খাবার পাবেন গৃহস্থরা।
এরপর শিলাজিতের লোকগীতির তালে জেসন এবং উমেশদের নাচও ছিল প্রশংসার দাবিদার। সাকিব জানালেন বিগ বসে এসে তিনি অনেক উপভোগ করেছেন।

মুস্তাফিজের প্রশংসায় আইসিসি

অন্য সবার মতো কাটার মাস্টার মুস্তাফিজকে নিয়েও কথা বলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। রবিবার আইসিসি সভাতে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল সংস্থাটি।
এ প্রসঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বেক্সিমকো কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পাপন বলেন, ‘সভায় মুস্তাফিজকে কোথায় পেয়েছে বাংলাদেশ- এমনটা জানতে চান ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বললে সবাই মুস্তাফিজকে নিয়ে কথা বলে। আইসিসি মিটিংয়েও তাই হয়েছে। ওরা অবাক হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আইপিএল-এ ধারাভাষ্যকাররাতো প্রতিনিয়ত ওর প্রশংসাই করছে। ওর বয়স এখন অনেক কম। ওর মাসল যেভাবে বিল্ড আপ করার কথা সেভাবে এখনও হয়নি। আমরা কাজ করছি। মুস্তাফিজ যেন কোনও ইনজুরিতে না পড়ে, সেটা নিয়ে কাজ করছি। মুস্তাফিজ বাংলাদেশের সম্পদ। ওকে নিয়ে এখন সারা পৃথিবীতে কথা হচ্ছে।’
আইপিএল শেষে মুস্তাফিজ ইংলিশ কাউন্টি লিগ সাসেক্সে খেলতে যাওয়ার কথা। বিসিবি তাকে এনওসি দেবে কিনা বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। সোমবার এমনটাই জানালেন বিসিবির এই কর্তা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজের কাউন্টি থেকে অফার এসেছে। আমরা ওকে যদি পাঠাই তাহলে বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। আমাদের কন্ডিশনগুলো কী ধরনের হতে পারে সেটা জানানো হবে। আমরা চাই মুস্তাফিজ লংগার ভার্সন না খেলুক। শুধু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলুক। পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে। এগুলো আমরা চিন্তা ভাবনা করছি। এই সম্পদকে আমরা ইনজুরিতে ফেলে নষ্ট করতে চাই না। বাংলাদেশের জন্যে সে অনেক মূল্যবান। সেজন্য আমরা মুস্তাফিজকে সুরক্ষা করব।’

আইপিএল সেরার লড়াইয়ে থাকবে মুস্তাফিজ (ভিডিও)

বিতর্কিত মন্তব্য করে সব সময় সংবাদের শিরোনাম হতে পছন্দ করেন। তার বেশিরভাগ বিতর্কিত মন্তব্য যদিও বাংলাদেশ সম্পর্কিত। স্পষ্ট করে বলতে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটার সম্পর্কিত। তিনি আর কেউ নন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা।

তবে আইপিএলে মুস্তাফিজের পারফর্মেন্সে রীতিমত মুগ্ধ পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রমিজ রাজা বলেন, শুধু ম্যাচের সেরা নয় এবার টুর্নামেন্ট সেরার লড়াইয়ে থাকবে বাংলাদেশের এই তরুণ প্রতিভাবান পেসার।

এদিকে প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে একের পর এক বিস্ময়ই উপহার দিচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। চলতি এই আসরে হায়দারাবাদে যোগ দিয়ে হয়ে উঠেছে দলের উজ্জ্বল সূর্য। পাঁচ ম্যাচে ৫.৭৫ গড়ে এ পর্যন্ত ৭ উইকেট নিয়েছেন এই তারকা।

https://www.youtube.com/watch?v=9i_qdQNpw-8

বিফলে গেলো কোহলির সেঞ্চুরি

বিরাট কোহলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিও জেতাতে পারলো না রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। কোহলির ৬৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে ১৮০ রানের বিশাল স্কোর গড়ে বেঙ্গালুরু। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের দারুণ এক জয় তুলে নেয় গুজরাট লায়ন্স।
কোহলির মত বড় ইনিংস হয়তো গুজরাট লায়ন্সের কেউ খেলতে পারেনি। তবে মাঝারি মানের কয়েকটি ইনিংসই গুজরাটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। ওপেনিংয়ে ডোয়াইন ব্র্যাভো আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম জয়ের ভিত রচনা করেন। ৪৭ রানের জুটি গড়েন তারা। ৮৭ রানের মাথায় আউট হন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
এরপর সুরেশ রায়না আর দিনেশ কার্তিক গুজরাটকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। যদিও রায়না ২৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে যান। রবীন্দ্র জাদেজা করেন ১২ রান। দিনেশ কার্তিক ৩৯ বলে অপরাজিত থাকেন ৫০ রান করে। তার ইনিংসে ছিল মাত্র ৩টি বাউন্ডারি। এছাড়া ৪২ রান করেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
এ নিয়ে ৫ ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে গুজরাট লায়ন্স। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে গেলো টেবিলের শীর্ষে। অপরদিকে ৫ ম্যাচের মাত্র ২টিতে জিতেছে বেঙ্গালুরু।

‘মুস্তাফিজ আমাদের সম্পদ’

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের মুখে মুস্তাফিজ বন্দনা আগেও ছিল। গতকালকের ম্যাচের পর নতুন করে মুস্তাফিজ বন্দনায় মেতেছেন অসি এই ক্রিকেটার। মুস্তাফিজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে আইপিএল টোয়েন্টি ডট কমকে বলেছেন, ‘মুস্তাফিজের প্রতিভা বিশেষ মানের। সে শুধু বাংলাদেশেরই নয়, আমাদের জন্যেও বড় সম্পদ।’
মুস্তাফিজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে ওয়ার্নার আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা ওর অনন্য স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। যার বোলিং ডেলিভারিগুলোতে বৈচিত্র্য রয়েছে। আর এটাই তার বিপক্ষে খেলাটাকে কষ্টকর করে তোলে।’
আইপিএল-এ পাঁচ ম্যাচ খেলে ১৬.৪২ গড়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। ওভার প্রতি রান দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিলেন মিতব্যয়ী। এ পর্যন্ত ৫.৭৫ করে রান দিয়েছেন তিনি।
পুরো ম্যাচ জুড়ে ধারাভাষ্যকারদের প্রশংসায় ভেসেছেন মুস্তাফিজ। সুনিল গাভাস্কার-রমিজ রাজাদের শব্দ ভাণ্ডারও ফুরিয়ে গিয়েছিল তাকে বিশেষায়িত করতে। গতকালকের ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয়ে বোলিংয়ে সানরাইজার্সের হয়ে নেতৃত্বে ছিলেন মুস্তাফিজ। এর ফলে টানা তিন জয়ে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সানরাইজার্স।

আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন পিটারসেন

সময়টা ভালো যাচ্ছে না আইপিএলে নতুন নাম লেখানো রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের। টানা তিন ম্যাচ হেরে এরই মধ্যে পয়েন্ট টেবিলে আট দলের মধ্যে সাতে অবস্থান করছে ধোনি নেতৃত্বাধীন পুনে। এবার নতুন এক দুঃসংবাদ শুনল পুনে। ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন ইংল্যান্ড সাবেক ব্যাটসম্যান পিটারসেন। এই মৌসুমে আর খেলা হচ্ছে না ইংলিশ এই তারকার। গত শুক্রবার রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়েন তিনি। পরে নিজের ইন্সটগ্রামে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার খবর জানান পিটারসেন।
ম্যাচে পিটারসেন তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র এক বল খেলেই ইনজুরিতে পড়েন। পরে রিটার্ডহার্ট হয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান তিনি। ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত পুনে ১৩ রানে হার মানে।

আইপিএলে সেরা বাঁহাতি বোলার মুস্তাফিজ

প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে একের পর এক বিস্ময়ই উপহার দিচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। সবাই শুধু যেন তার বোলিং দেখতেই মাঠে উপস্থিত হয়। এবার দর্শক জরিপে চলতি আইপিএলের সেরা বাঁহাতি বোলার নির্বাচিত হয়েছেন টাইগার এই বোলার।
mustafi22
পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে আইপিএল কর্তৃপক্ষ চলতি আসরে বাঁহাতি সেরা বোলার কে এ রকম এক জরিপ চালায়। জরিপে ৭১ ভাগ দর্শক ভোট দিয়েছেন মুস্তাফিজকে। ২১ ভাগ ভোট পেয়েছেন ম্যাগ্লেগান। জনসন আর ফকনার যৌথ ভাবে পেয়েছেন ৪ ভাগ ভোট।
উল্লেখ্য, শনিবার রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে দুর্ধর্ষ বোলিং করেন মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে মুস্তাফিজের অসাধারণ এই বোলিং নজর কেড়েছে সবার। মাত্র ৪ ওভারে ১টি মেডেন দিয়ে রান দিলেন মাত্র ৯টি। উইকেটও নিয়েছেন দুটি।

মুস্তাফিজকে বাংলায় অভিনন্দন জানালেন মুডি-লক্ষণ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই নিজের প্রতিভা দিয়ে ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে প্রথম বারের মত আইপিএলে খেলতে গিয়ে ভাষা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন টাইগার এই বোলার। আর এ সমস্যা সমাধানের জন্য একজন দোভাষীও নিয়োগ দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।
musatfij20160424065955
পাঞ্জাবের বিপক্ষে দুর্ধর্ষ বোলিং করেন মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে মুস্তাফিজের অসাধারণ এই বোলিং নজর কেড়েছে সবার। মাত্র ৪ ওভারে ১টি মেডেন দিয়ে রান দিলেন মাত্র ৯টি। উইকেটও নিয়েছেন দুটি। তবে এবার দোভাষীর উপর ভরসা না করে বাংলাই শেখা শুরু করে দিয়েছেন দলের কোচ, অধিনায়ক ও মেন্টররা।
পাঞ্জাবের বিপক্ষে জয়ের পর বাংলায় কোচ টম মুডি ও মেন্টর ভিভিএস লক্ষণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার-ইন্সটাগ্রামে মুস্তাফিজকে অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করলেন। টম মুডি লিখেছেন, ‘আমাদের ফিজ জন্য উজ্জ্বল খেলা, অভিনন্দন!’ গুগল ট্রান্সলেটরের সাহায্যে বাংলায় লিখেছেন লক্ষণও। যার ভাষা অনেকটা এমন, ‘ মুস্তাফিজের আরও একটি চমৎকার পারফরম্যান্স। খুব চিত্তাকর্ষক; এবার এটা ধরে রাখার পালা।’

মুস্তাফিজ ৪-১-৯-২!

২০ ওভারের খেলা শেষ। একই সঙ্গে শেষ ম্যাচের প্রথম ইনিংস। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের দুই ব্যাটসম্যানের সঙ্গে মাঠ ত্যাগ করছিলেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের খেলোয়াড়রাও। ক্যামেরা পুরোপুরি নিবদ্ধ মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর। হঠাৎ দেখা গেলো মুস্তাফিজের সামনে চলে আসলে ডেভিড ওয়ার্নার। মুস্তাফিজের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পেছন দিকে হাঁটছেন আর হাত তালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানাচ্ছেন। সে এক অভাবনীয় দৃশ্য।
সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। অধিনায়কের কাছ থেকে এমন অভাবনীয় অভিবাদন পাওয়ার নিশ্চিত কারণ আছে। টি-টোয়েন্টিতে যেখানে বোলাররা একের পর এক মার খেয়ে চোখে-মুখে ধুলো দেখতে শুরু করে, সেখানে ৪ ওভার বল করে মাত্র ৯ রান যদি একজন বোলার দিয়ে থাকেন, তাহলে প্রতিপক্ষের কী অবস্থা হতে পারে!
তেমনটিই করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্সের জন্য কতবড় সম্পদে পরিণত হয়েছেন তিনি, তা যেন বলার বাইরে। কারণ, শেষ দিকে ডেথ ওভারগুলোকে যেখানে প্রতিটি দলই লক্ষ্যবস্তু বানায় যে, পিটিয়ে রান তুলবে, তখনই মুস্তাফিজকে বোলিংয়ে নিয়ে আসে সানরাইজার্স।
প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই পুরো তিনটি ওভার ওই সময় মুস্তাফিজের হাতে বাকি থেকে যায়। সুতরাং, ডেথ ওভারে বোলার নয়, ব্যাটসম্যানরাই ডেড। রান নেয়াই যেন তাদের জন্য রীতিমত এক দুরহ কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথম ওভার করতে এসেছিলেন ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে। এসে তুলে নিলেন মেডেন ওভার। এই ওভারে আবার রান নিতে গিয়ে রানআউটের শিকার হলেন ম্যানন ভোরা। এরপর তাকে তুলে রাখলেন ডেভিড ওয়ার্নার, ডেথ ওভারের জন্য। ফেরালেন ১৪তম ওভারে।
এই ওভারে দিলেন ১ রান। নিলেন ১ উইকেট। আউট হলেন শন মার্শ। ১৬তম ওভারে আবারও এলেন। এবার উইকেট পেলেন না। তবে রান দিলেন মাত্র ২টি। ইনিংসের শেষ ওভারে আসেন তিনি। পিটিয়ে রান তুলতে থাকা অক্ষর প্যাটেল তার কাছ থেকে নিলেন মাত্র ১ রান। অন্যরা নিলেন ৫ রান। মোট ৬ রান।
৪ ওভার শেষে মুস্তাফিজের বোলিং ফিগার দাঁড়ালো ৪-১-৯-২। কী অসাধারণ বোলিং ফিগার। কতটা কৃপণ তিনি। টি-টোয়েন্টি, তারওপর আইপিএল। এখানে এসে ৪ ওভার অথ্যাৎ ২৪টি বল করে দিলেন মাত্র ৯ রান। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই মাত্র ১৪৩ রানে থমকে গেলো কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। যে কারণে শুধু ডেভিড ওয়ার্নারই নয়, মুস্তাফিজকে অভিবাদন জানালেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের খেলোয়াড়রাও।

দিল্লির বিপক্ষে ১০ রানে হারলো মুম্বাই

১৬৫ রানের লক্ষ্য পার হতে পারলো না মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। স্বাগতিক দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের কাছে ১০ রানের ব্যবধানে হার মানতে হলো জহির খানের দলকে। ১৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মুম্বাই থেমে গেলো ৭ উইকেটে ১৫৪ রানে। এ নিয়ে ৬ ম্যাচের চারটিতেই হারলো মুম্বাই। আর ৪ ম্যাচের ৩টিতেই জিতলো দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাঞ্জু স্যামসনের ৬০ এবং জেপি ডুমিনির অপরাজিত ৪৯ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।
জয়ের জন্য ১৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রোহিত শর্মার ৬৫ রান সত্ত্বেও ১৫৪ রানের বেশি আর যেতে পারলো না মুম্বাই। দিল্লির বোলারদের আক্রমণের মুখে রান তোলার গতিই মন্থর হয়ে যায় রোহিত শর্মা রানআউট হওয়ার পর।
রোহিত ৪৮ বলে ৭ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় করেন ৬৫। ৩৬ রান করে রানআউট হয়ে যান হার্দিক পান্ডিয়া। ২৫ রান করেন আম্বাতি রাইডু। ১৯ রান করেন কিয়েরন পোলার্ড। দিল্লির হয়ে ২ উইকেট নেন অমিত মিশ্র আর ১টি করে উইকেট নেন জহির খান ও ক্রিস মরিস। বাকি ৩টি হলো রানআউট।

বোলিংয়ে মুস্তাফিজের সানর‌‌‌াইজার্স

আইপিএলে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মুখোমুখি হয়েছে মুস্তাফিজর রহমানের হায়দরাবাদ সানরাইজার্স। রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।
নিজেদের ৫ম ম্যাচ খেলতে নেমে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙলো না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দলের অপরিহার্য সদস্য মুস্তাফিজেরও খেলা হচ্ছে টানা ৫ম আইপিএল ম্যাচ।
এবারের আসরে প্রথম দুই ম্যাচে হারলেও পরের দুই ম্যাচে জয় তুলে নেয় হায়দরাবাদ। অসাধারণ বোলিংয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন মুস্তাফিজ। সর্বশেষ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন বাংলাদেশের তারকা এই ক্রিকেটার।
এছাড়া শেষ দুই ম্যাচে ফিফটি করে হায়দরাবাদের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। প্রথম কয়েক ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে খেলা শিখর ধাওয়ানও সর্বশেষ ম্যাচে রানে ফিরেছেন। ওয়ার্নার-ধাওয়ানের অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গুজরাটকে ১০ উইকেটে হারায় তাদের দল হায়দরাবাদ।
অন্যদিকে পাঞ্জাব প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পায়। তবে সর্বশেষ ম্যাচে কলকাতার কাছে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে নেমে যায় দলটি।

বিগ বসের অতিথি সাকিব

হিন্দি বিগ বস অনুষ্ঠানের আদলে তারকাদের নিয়ে এবার বাংলায়ও শুরু হচ্ছে বিগ বস। কালারস টিভির ঐ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হবেন সাকিব আল হাসান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল)কলকাতা নাইট রাইডারসের একমাত্র বাঙালী তারকা খেলোয়াড়। আর তাই এবার তারকা হিসেবেই কলকাতার একটি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন তিনি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে সাকিব ছাড়াও  কলকাতা নাইট রাইডারসের আরও কয়েকজন তারকা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টায়।

মুস্তাফিজ-মিলারদের সম্ভাব্য একাদশ

পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা পাঞ্জাবের বিপক্ষে আজ মাঠে নামবে মুস্তাফিজের হায়দরাবাদ। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। সরাসরি দেখাবে চ্যানেল নাইন, সনি সিক্স ও সনি ইএসপিএন চ্যানেল।

এবারের আসরে প্রথম দুই ম্যাচে হেরে গেলেও পরের দুই ম্যাচেই টানা জয় তুলে নেয় হায়দারাবাদ। নিয়মিত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে দলের জয়ে অবদান রেখে চলেছেন মুস্তাফিজ। অন্যদিকে পাঞ্জাব প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছিল। তবে সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ ম্যাচে কলকাতার কাছে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে নেমে গেছে দলটি। এবার এক নজরে দেখে দেওয়া যাক দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ :

সানরাইজার্স হায়দারাবাদ একাদশ (সম্ভাব্য) :
ডেভিড ওয়ার্নার (অধিনায়ক), শেখর ধাওয়ান, ময়েসেস হেনরিকস, ইয়ইন মরগান, দীপক হুদা, নমন ওঝা (উইকেটরক্ষক), আশীষ রেড্ডি, করণ শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, মুস্তাফিজুর রহমান এবং বরিন্দর স্রান।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব একাদশ (সম্ভাব্য):
মুরলি বিজয়, মনন বহরা, ডেভিড মিলার (অধিনায়ক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, রিদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), মারকাস স্টইনিস/ফারহান বেহারডিয়েন, অক্ষর প্যাটেল, মোহিত শর্মা/ঋষি ধাওয়ান, মিচেল জনসন, প্রদীপ সাহু এবং সন্দ্বীপ শর্মা।

পুণের বৃদ্ধাশ্রমে কোহলি

ক্রিকেট মাঠে আগ্রাসী মেজাজের কারণে ভক্তদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় কোহলি। একাধিকবার আগ্রাসী ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষ বোলারদের লণ্ডভণ্ড করে দলকে এনে দিয়েছেন জয়ের আনন্দ। তবে মাঠের সেই আগ্রাসী কোহলিকে এবার দেখা গেল মানবিক রূপে। পুণের অভলমায়া নামক একটি বৃদ্ধাশ্রমের উন্নতিকল্পে সাহায্যের হাত বাড়ালেন ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক।

কোহলি দেখা করেন বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রিয়জনের থেকে দূরে সরে থেকে যে সমস্ত মানুষ এভাবে যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো একান্ত কর্তব্য বলে মনে করি।’’

এদিকে, শচিন টেন্ডুলকারও মুম্বাইয়ের বস্তিবাসীদের প্রাথমিক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মুস্তাফিজের কাছ থেকে স্লোয়ার শিখছেন ভুবেনেশ্বর

অভিষেকের পর থেকে অফ কার্টার, অন কার্টারের সঙ্গে স্লোয়ার, ইয়র্কার দিয়ে ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। এবার তার কাছ থেকেই স্লোয়ার শিখছেন ভারতের তারকা বোলার ভুবেনেশ্বর কুমার। বৃহস্পতিবার গুজরাট লায়ন্সের বিপে ম্যাচসেরার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গিয়ে এ কথা বলেন ভুবেনেশ্বর।
এ নিয়ে ভুবেনেশ্বর বলেন, মুস্তাফিজের সঙ্গে বোলিং করতে পারাটা অসাধারণ। আমি তার স্লোয়ার শেখার চেষ্টা করছি। সে যেভাবে বল করতে পারে, অন্যরা সেটা পারে না।
এদিকে নিজের তৃতীয় ম্যাচে বল হাতে চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে এক উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এমন পারফরম্যান্সের রীতিমত মুগ্ধ টিম ইন্ডিয়ার অন্যতম সেরা এই বোলিং অস্ত্র। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাপের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু চাপের মধ্যে স্লোয়ারগুলো খুব কাজ করেছে মুস্তাফিজের। এটা আমাদের জন্য দারুণ কিছু বয়ে এনেছে।
মুস্তাফিজের জন্য বাংলা শিখছেন লক্ষ্মণ-মুডি-ওয়ার্নার!
মুস্তাফিজুর রহমান নিজে বাংলা ছাড়া অন্য কোনও ভাষা বলতে পারেন না। কিন্তু তাতে কী? বল হাতে স্নারাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্বে আছেন তিনি। আর সে কারণেই কিনা দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পেসারের সঙ্গে ভাব বিনিময় করতে বাংলা শিখছেন দলের কোচ টম মুডি, মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মন ও অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।
ভারতীয় কিংবদন্তী ভিভিএস লক্ষ্মণ টুইট করেছেন, মুস্তাফিজকে পেয়ে সানরাইজার্স আনন্দিত। ও উজ্জ্বল ও আমুদে’। তা-ই নয় কি?’ লক্ষ্মণের টুইটে উজ্জ্বল ও আমুদে শব্দ দুটি লেখা হয়েছে বাংলায়।
লক্ষ্মণের প্রশ্নের উত্তরটাও বাংলায় দেওয়ার চেষ্টা করলেন কোচ টম মুডি। তবে গুগল ট্রান্সলেটরের সাহায্য নিয়ে। কোনও কারণে সেটা বাংলায় অনুবাদ না হয়ে তার টুইট হয়ে গেছে বাংলা অরে ইংরেজি। মুডি টুইট করেছেন, নিঃসন্দেহে ভিভিএস। ও ‘বন্দের্ফুল্লি ফানি এন্ড তালেন্তেদ ইউং মান।’ মুডি সম্ভবত লিখতে চেয়েছিয়েন ‘ওয়ান্ডারফুল ফানি অ্যান্ড ট্যালেন্টেড ইয়াং ম্যান।’
সানরাইজার্স অধিনায়ক টুইট করেছেন, ফিজের জন্য আমি গুগলে ট্রান্সলেশন ব্যবহার করছিলাম। দেখছিলাম কীভাবে বাংলা বলতে পারি।

বোলিংয়ে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স

প্রথম দুই ম্যাচে হার। তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয় পেয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। চতুর্থ ম্যাচে আজ রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে স্বাগতিক গুজরাটের মুখোমুখি হয়েছেন মুস্তাফিজরা।
এদিন টসে জিতেছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়ার্নার। ব্যাট করার আমন্ত্রন জানিয়েছেন স্বাগতিক গুজরাটকে। প্রথমবারের মতো আইপিএল-এ খেলছে গুজরাট। নিজেদের প্রথম আসরেই বাজিমত। প্রথম তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয়। হারিয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকেও।
সানরাইজার্সের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। তিন ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছিল। শেষ ম্যাচটায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন মুস্তাফিজরা। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পালা।

নতুন বিতর্কে ধোনি

আইপিএল থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ায় চেন্নাই থেকে নাম লিখিয়েছেন পুনে সুপার জায়ান্টসে। এ পর্যন্ত নতুন দলের হয়ে তিন ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছেন মাত্র ১ ম্যাচে। এরই মধ্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে পুনের এই অধিনায়ককে ঘিরে।

আইপিএলে চলতি আসরে এবারের আইপিএলে মুম্বাই, নাগপুর এবং পুনের মোট ২০টি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে মহারাষ্ট্রে। অথচ সেই মহারাষ্ট্রেই চলছে খরা। যেখানে মানুষ ব্যবহার করার মত পানি পাচ্ছে না সেখানে পুনের অধিনায়ক ধোনি নিজের সুইমিং পুলে প্রতিদিন পনের হাজার লিটার পানি নষ্ট করছে।

ঝাড়খণ্ডের আয়কর মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, মহারাষ্ট্রের মত এই অঞ্চলের মানুষও পানির সমস্যায় ভুগছে। এরই মধ্যে ধোনি নিজের সুইমিং পুলের জন্য হাজার হাজার লিটার পানি নষ্ট করছে।

এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে রঞ্ছিতে পনের হাজার লিটার পানি দিয়ে ধোনির বাড়ির সুইমিং পুলে ভরে রাখা হয় যেখানে ধোনি খুব কম সময়ই অবস্থান করেন। আর এই পানি দিয়ে ঐ অঞ্চলের পাঁচ হাজার লোকের সমস্যা দূর করা সম্ভব। তবে ধোনির এক সহযোগী দাবি করে বলেছেন সুইমিং পুলের পানি প্রতিদিন পরিবর্তন করা হয় না।

উল্লেখ্য, এর আগে নোইদা অঞ্চলের বাসিন্দাদের অনুরোধের ভূসম্পত্তি ফার্ম আরমাপালি সোসাইটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ধোনি। আর মহারাষ্ট্র থেকে আইপিএলের সবগুলো ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই হাইকোর্ট।

লক্ষ্মণের মুখে মুস্তাফিজ-বন্দনা

অভিষেকের মাত্র এক বছরেই পুরো ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বিষাক্ত অফ কাটারে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের বোকা বানাতে পারেন বলেই তাকে নিয়ে চলছে এত আলোচনা।

 

দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে চেনানোর পর এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশি এই কাটার মাস্টার। বিশ্বসেরা তারকাদের পর এবার মুস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসালেন ভারতের গ্রেট ক্রিকেটার ভি ভি এস লক্ষ্মণ।

অভিষেক মৌসুমে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো বাঁ হাতি বোলার মুস্তাফিজের মতো এতটা সাফল্য পাননি। আইপিএলে ২০ বছর বয়সি মুস্তাফিজের পারফরম্যান্স এতটাই ক্ষুরধারা যে, তাকে জায়গা ছেড়ে দিতে বেঞ্চে বসে থাকতে হচ্ছে বিশ্বসেরা বোলার ট্রেন্ট বোল্টকেও। আর তাই দারুণ সাফল্যের জন্য মুস্তাফিজকে হায়দরাবাদ শিবিরের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ বলেছেন ভি ভি এস লক্ষ্মণ।

দুই সপ্তাহ ধরে হায়দরাবাদের হয়ে কাজ করছেন লক্ষ্মণ। তাই মুস্তাফিজকে খুব কাছ থেকেই পর্যবেক্ষণ করছেন ভারতের প্রাক্তন এই ক্রিকেটার। মুস্তাফিজের বোলিং বৈচিত্র্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘তার (মুস্তাফিজ) বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এবং নির্ভুলতা রয়েছে। চাপের মুহূর্তেও আপনাকে সেই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই চাপের সময় তা ঠিক রাখতে পারে না। কিন্তু মুস্তাফিজ নিয়মিতই তা করছে।’

মুস্তাফিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে লক্ষ্মণ বলেন, ‘মুস্তাফিজ আত্মবিশ্বাসী একজন বোলার। তার কাজের ধরন অসাধারণ। সে বরাবরই স্মার্ট একজন বোলার। সে তার দক্ষতা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে। তাই আমার মনে হয়ে কেবল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেকের প্রথম বছরই নয়, পুরো ক্যারিয়ারেই দীর্ঘ সময় ধরে ভালো করবে সে।’

 

 

 

মুস্তাফিজের নতুন বন্ধু বোল্ট!

সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম মৌসুমটা ভালোই কাটছে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের। মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও বেশ হাসি ঠাট্টায় সময় কাটাচ্ছেন মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজের সাথে দলে কয়েকজন বিদেশী ক্রিকেটার থাকলেও অন্য সবার থেকে ট্রেন্ট বোল্টের সাথেই ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে মুস্তাফিজের। এমনটাই জানালেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন।
স্থানীয় এক পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুজন বলেন, ‘মুস্তাফিজের নতুন বন্ধু এখন ট্রেন্ট বোল্ট’। মুস্তাফিজের কাটার নিয়ে বিশ্বের সকল বোলারদের উৎসাহের কমতি নেই। হয়তো ট্রেন্ট বোল্টও তাই। একই দলে খেলায় মুস্তাফিজের কাছ থেকে হয়তো রপ্ত করে নিচ্ছেন কাটার নামক আলাদীনের চেরাগকে।
কিন্তু মুস্তাফিজের কাছ থেকে কাটার শেখার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিলেন সুজন। নেটে এবং ড্রেসিংরুমে মুস্তাফিজকে অনেক কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। ‘কোনো চান্স নেই। ব্যাটসম্যানরা বোলিং রহস্য বুঝে ফেলতে পারে ভেবে নেটেই ও কাটার করে না, আর সেটা শিখিয়ে দেবে বিদেশি কোনো বোলারকে! কোনো সম্ভাবনা নেই’।
কয়েকদিন আগেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে খেলতে এসে এয়ারপোর্টে করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, মুস্তাফিজ তার সতীর্থ কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্টকে বাংলা শেখানোর চেষ্টা করেছিলেন।

চিয়ারলিডার হতেও পরীক্ষা

আধুনিক ক্রিকেট থেকে ফুটবল, খেলার দুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণ চিয়ারলিডার। খেলার সময় দলকে সমর্থকদের সাথে চিয়ারলিডার নেচে সমর্থন করেন। তবে ইচ্ছা করলেই চিয়ারলিডার হওয়া যায় না। এরই জন্য রীতিমত পরীক্ষায় বসতে হয় তাঁদেরও। পাস করলে চাকরি, ফেল হলেই, `আপনি আসতে পারেন`।

এমনটাই ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পরীক্ষা দিয়েই বেছে নেওয়া হয় চিয়ারলিডারদের। পরীক্ষায় থাকে `বুদ্ধিমত্তার টেস্ট`। শুধু রূপে মাত করলেই চলবে না, হতে হবে স্মার্ট এবং ইনটেলিজেন্ট। প্রশ্নের উত্তর আর সুইমস্যুটের দর্শন, একের পর এক ধাপ পেরিয়েই বাছাই হন একজন আদর্শ চিয়ারলিডার। এখানেই শেষ নন। জানতে হবে নৃত্যও। নাচের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা থাকবেন, তাদের সঙ্গেই হবে চুক্তি।

উল্লেখ্য, আমেরিকার  ফুটবল টিম, `লস অ্যাঞ্জেলেস র্যাসমস` এভাবেই চিয়ারলিডারদের চুক্তিবদ্ধ করল। ৪০০ জনের মধ্যে ৬৬ জনকে বাছাই করেছেন তারা।

ইনজুরিতে আইপিএল শেষ কলকাতার হ্যাস্টিংসের

চোটের কারণে আইপিএলের মাঝ পথ থেকেই দেশে ফিরতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা অলরাউন্ডার জন হ্যাস্টিংসের। বুধবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে সময় গোড়ালির চোটে পড়েন অস্ট্রেলিয়ান এই তারকা।

কলকাতার সহকারী কোচ সাইমন ক্যাটিচ বলেন, খেলার সময়  কিছুটা ব্যথা নিয়েই সে বল করেছিল। চোটের কারণে ভালো চিকিৎসার জন্য তাকে এখন অস্ট্রেলিয়া যেতে হবে। মনে হচ্ছে এই মৌসুমের জন্য তার খেলা শেষ।

চলতি আসরে কলকাতার প্রথম ম্যাচেই দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন হ্যাস্টিংস। ওই ম্যাচে তার ছয় রানের খরচে দুটি মূল্যবান উইকেট দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখে।

বুমরাহ`র চেয়ে মুস্তাফিজই সেরা

এক সময় বাঘা বাঘা বোলারদের রীতিমত আতঙ্কের নাম ছিল অস্ট্রেলিয়া ওপেনার ম্যাথু হেইডেন। ক্রিকেটকে অনেক আগে বিদায় বললেও এখনো ক্রিকেটের সাথেই যুক্ত আছেন সাবেক এই ওপেনার। আইপিএলের  চলতি আসরে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন তিনি। আর তার মতে এবারের আইপিএলের সেরা দুই বোলার মুস্তাফিজুর রহমান ও জাসপ্রিত বুমরাহ। তবে স্লগ ওভারে বুমরার চেয়ে মুস্তাফিজকেই এগিয়ে রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক ওপেনার।

মুম্বাই ইনিংসের শেষের দিকের খেলা চলছে তখন। টিভিতে দর্শক জরিপের প্রশ্ন ছিল, স্লগ ওভারে বুমরাহ ও মুস্তাফিজের মধ্যে সেরা কে। তখন ৫২ শতাংশ ভোট পান বুমরাহ, ৪৮ শতাংশ মুস্তাফিজ। তবে হেইডেন বলেন, স্লগ ওভারে তিনি একটু এগিয়ে রাখবেন মুস্তাফিজকেই।

jasprit-bumrah

সোমবার হায়দরাবাদে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচে মুস্তাফিজের বোলিংয়ে সময় হেইডেন বলেন, আমার মতে এবারের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত সেরা দুজন বোলার মুম্তাফিজুর ও জাসপ্রিত বুমরাহ। দুজনই দারুণ বোলার। এই দুই তরুণ আর সবার চেয়ে এগিয়ে আছে।

আইপিএলেও মাশরাফির কথা মেনে চলছেন মুস্তাফিজ

বিশ্বকাপের আগে থেকেই তার দিকে বিশেষ নজর ছিল সব দলের। কেননা তার স্লোয়ার এবং কাটার বোঝার মতো দুর্বোধ্য কাজ করা যেকোন ব্যাটসম্যানের পক্ষেই কঠিন। ইনজুরির কারণে প্রথম পর্বের কোনো ম্যাচ না খেলতে পারলেও সুপার টেন পর্বে তিন ম্যাচ খেলে নয় উইকেট নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন মুস্তাফিজ। বিশ্বকাপ শেষে আইপিএলের প্রথম দুই ম্যাচেও নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন এই কাটার মাস্টার।

আইপিএলে হায়দারাবাদের হয়ে খেললেও সব সময় ঠিক মেনে চলছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফির কথা। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের অনুশীলন শেষে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কাটার ছোঁড়ার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন মুস্তাফিজ। আর প্রধান এই অস্ত্রটাকে সবার কাছে অজানা রাখতে সেখানকার অনুশীলনেও কাটার না দিতে বলে দিয়েছি। অধিনায়ক মনে করছেন, নেটে কাটার দিলে ব্যাটসম্যানরা বুঝে ফেলবেন মুস্তাফিজকে। সেক্ষেত্রে ধার কমে যাবে বলের।

মুস্তাফিজকে নিয়ে চিন্তিত মাশরাফি

দু্ই ম্যাচের দুইটিতেই হেরে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে নিচে অবস্থান করছে হায়দারাবাদ। তবে দলের আর সবাই যেখানে ফ্লপ সেখানে ঠিকই জ্বলে উঠেছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। স্লোয়ার এবং কাটারের মায়াজালে আটকা পড়ে একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন। আর এখানেই মুস্তাফিজকে নিয়ে ভয় টাইগার অধিনায়ক মাশরাফির।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলতে থাকাকালীন সময়ে মুস্তাফিজকে নিয়ে ভয়টা হল ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার। মুস্তাফিজের সরলতার সুযোগে চাপে ফেলে ওকে ফিক্সিংয়ে বাধ্য করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যদিও আইপিএল খেলতে যাওয়ার আগে আমি মুস্তাফিজকে বলেছি, কখনো কোনো সমস্যা মনে হলে আমাকে ফোন করে জানাবি। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন ভাইয়ের ফোন নম্বরও নিয়ে যেতে বলেছি। কিছু হলে ওনাকেও ফোন করে জানাতে বলেছি।

আইপিএল শেষ মালিঙ্গার

ইনজুরির কারণে এশিয়া কাপে মাত্র একটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন মালিঙ্গা। খেলতে পারেননি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। এবার ইনজুরির কারণে আইপিএল থেকে ছিটকে পড়লেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের লাসিথ মালিঙ্গা। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা শেষে জানায়, মাঠে ফিরতে চার মাস সময় লাগতে পারে মালিঙ্গার। ফলে, এবারের আইপিএলে আর খেলা হবে না এই পেসারের।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচ রিকি পন্টিং জানান, মালিঙ্গার পরিবর্তে টিম সাউদি ও মার্চেন্ট ডি লাঙ্গে এই দুই পেসারকে রাখা হয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে এবারের আইপিএলে দুই ম্যাচ খেলেছেন টিম সাউদি।

এদিকে শুধু আইপিএল নয়, শ্রীলঙ্কার আসন্ন ইংল্যান্ড ও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও খেলতে পারবেন না মালিঙ্গা।

জয়ের দেখা পেলো পাঞ্জাব

আইপিএল এর নবম আসরে প্রথম জয় পেল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। প্রথম দুই ম্যাচের হারের পর রবিবার এমএস ধোনির পুনে সুপারজায়‌‌‌ান্টসের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ডেভিড মিলারের পাঞ্জাব।
পাঞ্জাবের মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ফাফ ডু প্লেসিসের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান সংগ্রহ করে পুনে। জবাবে মুরালি বিজয় ও মানান ভোরার পর ম্যাক্সওয়েলের তাণ্ডবে ৮ বল হাতে থাকতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
আরও পড়ুন: শেখ জামালে রবি বোপারা!

মোহালির আইএস বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১০ রানেই আজিঙ্কা রাহানের উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়ে যায় পুনে। শুধু রাহানেই নয়, ফ্যাফ ডু প্লেসিস ছাড়া অন্য প্রান্তে ছিল শুধু আসা যাওয়ার মিছিল। ১৫ রান করে আউট হয়েছেন কেভিন পিটারসেন। থিসারা পেরেরা আউট হয়েছেন ৮ রানে।

তবে প্লেসিস আর স্টিভেন স্মিথ মিলে পুনেকে সম্মানজনক স্কোর গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ ভুমিকা পালন করেছে। দু’জন মিলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। ২৬ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৮ রান করে আউট হন স্টিভেন স্মিথ। ৫৩ বলে ৬৭ রান করে আউট হন ফ্যাফ ডু প্লেসিস। ৮টি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন মোহিত শর্মা। ২৩ রানে ২ উইকেট নেন সন্দ্বীপ শর্মা। ১ উইকেট নেন কাইল অ্যাবট।

১৫৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে বিজয় ও ভোরা ৯৭ রান করেন। মারমুখী ব্যাটিং করা ভোরা হাফ সেঞ্চুরি করে মাঠ থেকে বিদায় নেন। ৩৩ বলে সাতটি চারের সুবাদে ৫১ রান করেন তিনি। এরপর দ্রুতই তিনটি উইকেট হারায় পাঞ্জাব। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে মুরুগান অশ্বিনের বলে বোল্ড হন ওয়ানডাউনে মাঠে নামা শন মার্শ। একই ওভারের শেষ বলে ধোনির হাতে ক্যাচ আউট হন ওপেনার বিজয়। সাজঘরে ফেরার আগে ৪৯ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৩ রান করেন তিনি। মিলার মাঠ ছাড়েন সাত রান করেই।

তবে ম্যাক্সওয়েল ব্যাট হাতে ঝড় তুলে জয় ছিনিয়ে নেন। ১৪ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

সাকিবের কলকাতার কাছে হারলো মুস্তাফিজের সানরাইজার্স

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের খেলায় সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে হারলো মুস্তাফিজুর রহমানের হায়দরাবাদ সানরাইজার্স। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪২ রান সংগ্রহ করে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। জবাবে ১৮.২ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ল্েয পৌঁছে যায় কলকাতা।
এদিন বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন দুই টাইগার তারকা সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজ। ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়েছেন সাকিব। ব্যাট হাতে নামারই সুযোগ পাননি তিনি। অন্যদিকে ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। এর মধ্যে শেষ ওভারে ১৪ রান দেন মুস্তাফিজ।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না সানরাইজার্সের। ৩৬ রানের মধ্যেই হারায় তারা তিন উইকেট। দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার (১৩), শিখর ধাওয়ান (৬) ও ময়েস হেনরিকস (৬)। দলীয় ৫০ রানের মাথায় পড়ে চতুর্থ উইকেট। ১১ বলে মাত্র ৬ রান করে ফেরেন দীপক হুদা। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে সানরাইজার্সকে আশা দেখায় মরগান ও ওঝা। ৭.৫ ওভারে এই জুটি থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬৭ রান। ২৮ বলে ৩৭ রান করা ওঝাকে আউট করে এই জুটি বিচ্ছিন্ন করেন প্রোটিয়া পেসার মরনে মর্কেল। এরপর মরগানকে বিদায় করেন উমেশ যাদব। তবে সাজঘরে ফেরার আগে মরগান করে যান ফিফটি। ৪৩ বলে করেন ৫১ রান। যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কার মার। শেষের দিকে ৮ বলে ১৩ রান করে রান আউট হন আশিষ রেড্ডি।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে উমেশ যাদব তিনটি, মরকেল দুটি ও আন্দ্রে রাসেল নেন একটি করে উইকেট। প্রথম ম্যাচে খেলতে নামা বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান পাননি কোনও উইকেটের দেখা। তবে তিন ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে বোলিংটা ভালোই করেছেন তিনি। আন্দ্রে রাসেলের পরেই কলকাতার হয়ে সেরা ইকোনোমি রেট ছিল সাকিবেরই।
১৪৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই করে কলকাতা। ১২.৩ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৯২ রান। ৩৮ রানে রবিন উত্থাপা আউট হন। এরপর মুস্তাফিজের শিকার হন আন্দ্রে রাসেল। দারুণ এক ইয়র্কারে তার স্টাম্প ভেঙে দেন মুস্তাফিজ। ব্যালেন্স হারিয়ে ভূপাতিত হন রাসেলও। এরপর খেলা কিছুটা জমে উঠলেও আর কোনও বোলার ভালো করতে না পারায় ম্যাচ হেরে যায় সানরাইজার্স। কলকাতার হয়ে ৬০ বলে অপরাজিত ৯০ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ। এর মধ্যে শেষ ওভারে ১৪ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ।

আজ মাঠে নামছেন সাকিব!

কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম ভরসা সাকিব আল হাসান। দলটির দুবার আইপিএল শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি। অথচ সেই নাইট রাইডার্সে এবার যেন ভ্রাত্য হয়ে গেলেন তিনি। ইডেন গার্ডেন্সে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। অথচ, এই দুই ম্যাচেই সাইড লাইনে বসে থাকতে হয়েছে সাকিবকে।

এই প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গেলো কেকেআর। প্রতিপক্ষ মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। অ্যাওয়ে ম্যাচে কী তবে কেকেআরের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পাবেন সাকিব? এ প্রশ্ন যেন বাংলাদেশের সব ক্রীড়া প্রেমীর। জানা গেছে, আজ মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে সাকিব আল হাসানের।

যদি হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে সাকিব খেলার সুযোগ পেয়ে যান, তাহলে সেটা রূপ নিতে পারে টাইগার ডার্বিতে। মুখোমুখি হয়ে যাবেন সাকিব-মুস্তাফিজ। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় মুখোমুখি হবেন মুস্তাফিজ-সাকিব।

হায়দারাবাদের একাদশে তো মুস্তাফিজের স্থান নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তিনি থাকছেনই একাদশে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত সাফল্যের পর তার না থাকার কোন কারণ নেই। তবে, মুস্তাফিজ সানরাইজার্সের একাদশে থাকতে পারলেও, কেকেআরের একাদশে সাকিব থাকবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে ঘোর সন্দেহ।

প্রথম ম্যাচে কেকেআর দিল্লির বিপক্ষে জিততে পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে। হেরে যাওয়া ম্যাচটিতে কেকেআর বেশ অনুভব করেছে তাদের দলের সেরা অলরাউন্ডারটির অনুপস্থিতি। সুতরাং, গুঞ্জন যদি বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে বলাই যায়, সানরাইজার্সের বিপক্ষে মাঠে নামছেন সাকিব।’

৫০০ উইকেট পাবে মুস্তাফিজ: মাশরাফি

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন কোন ক্রিকেটারকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়! নিশ্চিতভাবেই তার নাম মুস্তাফিজুর রহমান। একজন সুপারস্টার হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, সব ধরনের উপাদানই রয়েছে তার মধ্যে এবং সবচেয়ে প্রচলিত যে কথা, সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে পরবর্তী সবচেয়ে বড় নামটি হতে যাচ্ছে মুস্তাফিজ। যেই তার সম্পর্কে আলোচনা করতে যাক, সবাই’ই কোন না কোন বিশেষণ যোগ করেন তার সাথে। মাশরাফি বিন মর্তুজা হলেন তাদের মধ্যে একজন।

প্রথম থেকেই খুব কাছ থেকে মুস্তাফিজকে দেখে আসছেন মাশরাফি। এ কারণেই সম্ভবত অন্য যে কারও চাইতে মুস্তাফিজের নামে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা ঝরে মাশরাফির কন্ঠ থেকেই। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে লেখা এক কলামে মুস্তাফিজ সম্পর্কে নিজের একটি স্বপ্নের কথা জানান মাশরাফি।

মাশরাফির বিশ্বাস, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সামর্থ্য রয়েছে মু্স্তাফিজের। শুধু তাই নয়, এই সময়ের মধ্যে নিজেকে যেমন বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি স্থানে নিয়ে যেতে পারবেন তিনি, তেমনি বাংলাদেশকেও নিয়ে যাবেন অনেক উপরে।

মাশরাফি লেখেন, ‘সে এমন ধরনের একজন বোলার, যার নামের পাশে ৪০০ থেকে ৫০০ উইকেট লেখা কোন ব্যাপারই না। মুস্তাফিজকে নিয়ে আমি অনেক বড় স্বপ্ন দেখি। যদি সে ফিট থাকতে পারে এবং নাম, যশ-খ্যাতির মোহে পড়ে অন্যদিকে চলে না যায়, তাহলে তার পক্ষে কিংবদন্তী হওয়া কোন ব্যাপারই না।’

মাশরাফি আরও লিখেন, ‘তার বয়স তো মাত্র ২০ বছর। মাত্রই ক্যারিয়ার শুরু করেছে। তার সামনে অনেক কিছু খেলার সুযোগ আসবে। বিপিএল, আইপিএল, পিএসএল, সিপিএল, বিগব্যশ লিগ কিংবা কাউন্টি ক্রিকেট। কারণ, সব জায়গায় তার চাহিদা প্রচুর। তবে, আমার মনে হয়, তাকে অবশ্যই এখান থেকে বাছাই করতে হবে, কোনটায় খেলবে আর কোনটায় খেলবে না। যদি আপনি ১৫ বছর দেশকে সার্ভিস দিতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। নয়তো হতে হবে ব্যর্থ।’

মুস্তাফিজের ইনজুরি নিয়ে চিন্তিত মাশরাফি। তিনি লেখেন, ‘তার ইনজুরি নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিৎ। পেস বোলারদের জন্য নিজেকে ফিট রাখা, ইনজুরিমুক্ত রাখা খুবই কঠিন। মুস্তাফিজের দিকেই তাকিয়ে দেখুন! মাত্র তো এক বছর খেলল। তার মধ্যেই দু’বার ইনজুরিতে পড়েছে। এই একটি জায়গায় তাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা হয়। যদি বাংলাদেশ মুস্তাফিজুরের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করতে না পারে, তাকে সর্বোচ্চ যত্ন না করে, তাহলে এটা হবে একটা ট্র্যাজেডি। তবে, সে বাংলাদেশের জন্য খেলে যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে বেশ সাফল্যও এনে দিয়েছে।’

মুস্তাফিজুরের মত একজন প্রতিভাকে আবিস্কার করে তাকে সামনে নিয়ে আসার জন্য একই সঙ্গে মাশরাফি ধন্যবাদ জানান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকেও। তিনি লেখেন, ‘অবশ্যই কৃতিত্ব দেয়া উচিৎ হাথুরুসিংহকে। কারণ, তিনিই মুস্তাফিজকে আবিস্কার করেছেন। একদিন চন্ডিকা আমাদের ডেকে বললেন, তিনি এমন একজন ছেলেকে দেখেছেন যার হাতে কাটার রয়েছে। যে কিনা ব্যাটসম্যানদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তাকে এনে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুনে আমরা সিনিয়র ক্রিকেটাররা একমত হলাম। এরপর তো বাকি সব ইতিহাস। যদি চন্ডিকা তার প্রতিভা বের করে না আনতেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই এখনও পর্যন্ত নেট বোলার হয়েই থাকতো মুস্তাফিজ।’

মুখোমুখি সাকিবের কলকাতা ও মুস্তাফিজের হায়দরাবাদ

মুস্তাফিজ-সাকিব দ্বৈরথ হচ্ছে তো?

বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে নাকাল হতে হয় মুস্তাফিজুর রহমানের অফ কাটারে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সতীর্থদেরও কি একইভাবে বেকায়দায় ফেলতে পারেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজ, নাকি তারা গোপন রহস্যটা জানেন বলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তেমন সুবিধা করতে পারেন না ‍মুস্তাফিজ?
বিশ্বে ক্রিকেটে ‘মুস্তাফিজ ঝলক’ শুরু হওয়ার পর থেকেই এমন কৌতূহল তাড়া করছে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের। তবে লাল-সুবজের জার্সির সতীর্থ বলে মুস্তাফিজের বিপক্ষে সাকিব-মুশফিক-তামিম কিংবা সাব্বিররা কেমন ব্যাট করেন; তা কখনোই দেখা হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশি ভক্তদের। এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি২০ ক্রিকেট আসরের বদৌলতে তেমন একটা সুযোগ এসেছে। যে সুযোগ করে দিচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দল দুটি।
শনিবার বিকেলে মুখোমুখি হবে আইপিএলের এই দুই দল। দেশের দুই বিশ্বখ্যাত তারকা সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের একে-অন্যের বিপক্ষে ক্রিকেটীয় লড়াই দেখার জন্যে এই ম্যাচ ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ বাংলাদেশি ভক্তদের। কিন্তু বাস্তবতা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সাকিব-মুস্তাফিজ দ্বৈরথ আদৌ দেখা যাবে কি না, তেমন আশঙ্কাতেই পড়েছেন টাইগার ভক্তরা। কারণটা কেকেআরের একাদশে ‍সাকিবের জায়গা না পাওয়া।
আসরে এখন অব্দি দুটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের দল কেকেআর। কিন্তু ওই দুই ম্যাচের একটিতেও একাদশে জায়গা হয়নি সাকিবের। এক ম্যাচে ৪ জনের বেশি বিদেশি খেলোয়াড় খেলাতে পারবে না কোনো দল, এটাই আইপিএলের নিয়ম। একঝাঁক তারকাসমৃদ্ধ কেকেআর তাই একাদশ গঠন করতে গিয়ে সাকিবসহ অনেক তারকাকেই বসিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। সেই একই কারণে শনিবার হায়দরাবাদের বিপক্ষেও সাকিবকে মাঠে না দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অফস্পিনার ও আইপিএলের সবগুলো আসর মিলিয়ে দলটির সেরা উইকেটশিকারি বোলার সুনিল নারিন এই ম্যাচে মাঠে নামার জন্য প্রায় প্রস্তুত। তার যোগ্য সঙ্গী হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার লেগস্পিনার ব্র্যাড হগকে। ফলে ৪ বিদেশি কোটার দুটিই পূর্ণ করে ফেলছেন এই দুই বোলার। ওদিকে, বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং শক্তির ধার বাড়াতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিগ হিটার আন্দ্রে রাসেল ও নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরোকে একাদশে রাখতেই হচ্ছে কেকেআরকে। ফলে ৪ বিদেশির কোটা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে; সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হচ্ছে সাকিবকে। ফলে আগমনেই ক্রিকেট বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া মুস্তাফিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের আরেক তারকা সাকিব কেমন ব্যাট করেন, তা হয়তো আর দেখার সুযোগ মিলছে না ভক্তদের।
সাকিব যখন এবারের আইপিএলে সাইড বেঞ্চে বসে সময় কাটাচ্ছেন, তখন মুস্তাফিজের আইপিএল অভিষেকটা জমকালোই হয়েছে। আসরে এখন অব্দি একটি ম্যাচ খেলেছে তার দল সানরাইজার্স। ওই ম্যাচে দলটি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর কাছে হেরেছে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মুস্তাফিজ ছিলেন অনন্য। রানবন্যায় ভাসা ম্যাচটিতে ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৬ রান খরচ করেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার, সঙ্গে নিয়েছিলেন মূল্যবান ২টি উইকেটও। শনিবার হায়দরাবাদের মাঠে মুস্তাফিজের মাঠে নামাটা তাই নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু অনিশ্চিত থাকছে সাকিবের মাঠে নামার বিষয়টি। ফলে সাকিব-মুস্তাফিজ দ্বৈরথ উপভোগের বিষয়টিও থাকছে অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা।

দলের টিম মিটিংয়ে অংশ নেন না মুস্তাফিজ!

বিশ্বকাপের অসাধারণ পারফর্মেন্সের পর আইপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে জাত চেনান মুস্তাফিজ। তবে আইপিএলের নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলেও ভাষা নিয়ে বেশ বিপাকেই আছেন এই টাইগার এই বোলার। আর এই ভাষাগত সমস্যার জন্য দলের অন্যান্য ক্রিকেটারদের সাথে টিম মিটিংয়ে অংশ নিতে পারেন না মুস্তাফিজ।

বাংলা ছাড়া ইংরেজি কিংবা হিন্দী কোনটাই ঠিক মতো পারেন না তিনি। তাই মূল সমস্যা হয়ে দাড়াচ্ছে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা। হায়দারাবাদে একজনও বাঙালি নেই। তবে আশার কথা হচ্ছে ক্রিকেটে মুখের ভাষাটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ব্যাট-বলের তাল বুঝলেই তো চলে! আর তাই মিটিং শেষে পরবর্তীতে সহজ ভাষায় মুস্তাফিজকে বুঝিয়ে বলা হয় তা সহজেই আয়ত্তে পারেন মুস্তাফিজ।

এদিকে হায়দ্রাবাদের ম্যানেজার বিজয় কুমার স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সে এখানে ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। হয়তো টিম মিটিংয়ে ওভাবে উপস্থিত হতে পারেন না। কারণ আমাদের আলোচনা সে তেমন একটা বুঝতে পারে না। ভাষটা এখনও ঠিকমতো রপ্ত করে পারেনি। কিন্তু তবে ক্রিকেটীয় বিষয়গুলো খুব সহজেই ধরতে পারে। তাকে এক-দুই শব্দে পরবর্তীতে বুঝিয়ে দিলে সে বেশ দ্রুত তা নিজের আয়ত্তে নিতে পারে। ধীরে ধীরে আরও মানিয়ে নিবে। খুব একটা সমস্যা হবে না।’

অন্যদিকে মুস্তাফিজের প্রতি দারুণ খুশি হায়দ্রাবাদের মালিকপক্ষ। রোজ বালকের খবর নেয়া হয়। তবে আইপিএলের পরপরই ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে যাবেন মুস্তাফিজ। কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে যাবেন বলে ইংরেজি তার শিখতেই হবে বলেও জানান তিনি। মুস্তাফিজের ভাষ্য, ‘ইংরেজি শেখা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মুস্তাফিজের বর্ণিল ম্যাচেও বিবর্ণ হায়দরাবাদ

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সংগ্রহ ২২৭ রান।

 

তাদের যে চারটি উইকেটের পতন ঘটেছে তার ২টি নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আর ২টি নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার।

 

ভুবনেশ্বর যেখানে ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন, সেখানে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাকি বোলারদের রান বন্যার কথা আর নাইবা বললাম।

 

কিন্তু মুস্তাফিজের এমন জমকালো অভিষেকের দিনে হেরেছে হায়দরাবাদ। বেঙ্গালুরুর ছুড়ে দেওয়া ২২৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরুর কাছে ৪৫ রানে হার মেনেছে ডেভিড ওয়ার্নারের হায়দরাবাদ।

 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মঙ্গলবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ৬ রানেই উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। ক্রিস গেইলকে সরাসরি বোল্ড করেন ভুবনেশ্বর কুমার। ১ রানে গেইল ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তিনি এসে বিরাট কোহলির সঙ্গে জুটি বেধে তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন।

 

হায়দরাবাদের বোলারদের পিটিয়ে তুলোধুনো করেন। তারা দুজন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৪.৩ ওভারে ১০.৮২ গড়ে ১৫৭ রান সংগ্রহ করেন। এরপর দলীয় ১৬৩ রানে ব্যক্তিগত ৭৫ রানে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে বোল্ড হয়ে যান বিরাট কোহলি। তার ৫১ বলে করা ৭৫ রানের ইনিংসে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার মার ছিল।

 

১৮৩ রানের মাথায় দানব মূর্তি ধারণ করা এবি ডি ভিলিয়ার্সকে নিজের শিকারে পরিণত করেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। আউট হওয়া আগে ৪২ বলে অনবদ্য ৮২ রানের ইনিংস খেলে যান প্রোটিয়া এই ব্যাটসম্যান। তার ইনিংসে ৭টি চারের পাশাপাশি ৬টি ছক্কার মার ছিল। শেষ দিকে ১০ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৫ রান করেন সরফরাজ খান। তার সঙ্গে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন কেদার জাদব। ফলে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রানের পাহাড় গড়ে বেঙ্গালুরু।

 

এই রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন ধাওয়ান ও ওয়ার্নার। দলীয় ৩৫ রানে ধাওয়ান আউট হলেও ওয়ার্নার রুদ্রমূর্তি ধারন করে বেঙ্গালুরুর বোলারদের শাসন করতে থাকেন। দলীয় ৮৬ রানে ওয়ার্নার ৫৮ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর জয়ের বন্দর থেকে ছিটকে যায় হায়দরাবাদ।

 

এরপর ইয়ান মরগান ১৮ বলে ২২, আশিষ রেডি ১৮ বলে ৩২ ও করন শর্মা ১৭ বলে ২৬ রান করে দলকে জেতানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তারা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান তুলতে সমর্থ হয় তারা। ফলে ৪৫ রানে হেরে যায় মুস্তাফিজের দল।

 

বল হাতে বেঙ্গালুরুর ওয়াটসন ও চাহাল ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

 

আজ কি মাঠে নামবে সাকিব!

ক্রিকেট
আইপিএল
কলকাতা-মুম্বাই
সরাসরি, রাত ৮.৩০ মি.
সনি সিক্স ও ইএসপিএন

আইপিএল অভিষেকে উজ্জ্বল মুস্তাফিজ

আইপিএল অভিষেকেই নিজের জাত চেনালেন মুস্তাফিজুর রহমান। বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং স্বর্গে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর রান বন্যার মাঝেও মু্স্তাফিজ ছিলেন দুর্বোধ্য। দারুণ বোলিংয়ে নিয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ও শেন ওয়াটসনের উইকেট।

মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সামনে লক্ষ্যটা অবশ্য বিশাল। বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের দুর্দান্ত দুটি ইনিংস ও শেষ দিকে সরফরাজ খানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৭ রান তুলেছে বেঙ্গালুরু।

মুস্তাফিজ প্রথম বল পেয়েছিলেন তৃতীয় ওভারে। কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সকে বোলিং করে মুস্তাফিজকে দেন মাত্র ৪ রান। পাওয়ার প্লেতে আরও এক ওভার করে দেন ৬ রান।

সানরাইজার্স অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার আবার মুস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনেন ১৮তম ওভারে। মাঝের সময়টায় তাণ্ডব চালান কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্স। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৮৭ বলে ১৫৭ রানের জুটি!

বেঙ্গালুরুর বিস্ফোরক ওপেনার ক্রিস গেইলকে (১) ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। কিন্তু কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের পাল্টা আক্রমণে দিশাহারা হয়ে যায় সানরাইজার্সের বোলিং। এই সময়টায় আক্রমণে ছিলেন না মুস্তাফিজ, বেঙ্গালুরুর কোনো বোলারকেই রেহাই দেননি সময়ের সেরা দুই ব্যাটসম্যান। মাত্র ২.১ ওভার বোলিং করেই চোট নিয়ে আশিস নেহরার মাঠ ছাড়াও ভুগিয়েছে সানরাইজার্সকে।

শেষ পর্যন্ত দারু এক ইয়র্কারে কোহলিকে (৫১ বলে ৭৫) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ভুবনেশ্বর। পরের ওভারেই কর্ন শর্মাকে টানা তিনটি ছক্কা মারেন শেন ওয়াটসন।

মুস্তাফিজ আক্রমণে ফিরে দারুণ এক কাটারে আউট করেন ডি ভিলিয়ার্সকে (৪২ বলে ৮২)। তার পরের বলে কট বিহাইন্ড ওয়াটসন (৮ বলে ১৯)।

কিন্তু ভুবনেশ্বরের পরের ওভারেই ঝড় তোলেন বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে যাওয়া সরফরাজ খান। এক ওভারেই আসে ২৮ রান! মুস্তাফিজের করা ইনিংসের শেষ ওভারেও সরফরাজ মারেন একটি ছক্কা ও চার। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত তিনি ১০ বলে ৩৫ রান করে।

সানরাইজার্সের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার নেহরা রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি প্রায় ১০ করে। বাকিরা দশের বেশি। মুস্তাফিজ সেখানে ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট!

মুস্তাফিজের হায়দরাবাদ মাঠে নামছে রাতে

কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি সাকিব আল হাসানের। এবারের আইপিএলে বাংলাদেশ থেকে খেলতে যাওয়া আরেক ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আজ তাদের একাদশে রাখবে তো?

 

জবাব মিলবে আরো কয়েক ঘণ্টা পর। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মাঠে নামছে আজ রাতে।

 

বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। সরাসরি দেখাবে চ্যানেল নাইন, সনি ইএসপিএন, সনি সিক্স, সনি সিক্স এইচডি চ্যানেল।

 

২০১১ সাল থেকে আইপিএলে খেলছেন সাকিব। তবে মুস্তাফিজের জন্য এবারই প্রথম। বাংলাদেশের তরুণ পেসার তাই ভারতের এই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অভিষেকের অপেক্ষায়। সাকিব প্রথম ম্যাচে একাদশে জায়গা না পেলেও আজ হায়দরাবাদের একাদশে মুস্তাফিজকে দেখতে পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

 

একটা ম্যাচে কোনো দল চারজন করে বিদেশি খেলোয়াড় খেলাতে পারবে। সেক্ষেত্রে অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার, কেন উইলিয়ামসন ও মইসেস হেনরিকসের একাদশে থাকাটা একরকম নিশ্চিতই।

 

চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে লড়াইটা হবে বাংলাদেশের মুস্তাফিজ আর নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্টের মধ্যে। আর এক্ষেত্রে মুস্তাফিজই যে এগিয়ে থাকছেন, সেটা বলাই বাহুল্য।

 

ভারতের মাটিতে কিছুদিন আগেই শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা সাইডবেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছে বোল্টকে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের খেলা পাঁচ ম্যাচের একটিতেও একাদশে জায়গা হয়নি এই ডানহাতি পেসারের।

 

অন্যদিকে মুস্তাফিজ চোটের কারণে বাংলাদেশের প্রথম কয়েকটা ম্যাচে খেলতে না পারলেও শেষ তিন ম্যাচ খেলেই নেন ৯ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ২২ রানে ৫ উইকেট তো এবারের টুর্নামেন্টেরই সেরা বোলিং।

 

আজ হায়দরাবাদের একাদশে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাই বোল্টের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছেন মুস্তাফিজ। আশিস নেহরা ও ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে হায়দরাবাদের পেস আক্রমণ সামলাবেন বাংলাদেশের তরুণ তুর্কি। আর ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলীয় ওপেনার ওয়ার্নারের সঙ্গে থাকছেন উইলিয়ামসন, শিখর ধাওয়ান, নামান ওঝারা।

 

অন্যদিকে বেঙ্গালুরু দলটাও তারকায় ঠাসা। নামগুলো দেখুন, ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, বিরাট কোহলি, শেন ওয়াটসন। টি-টোয়েন্টির টপ ব্যাটসম্যানরাই যে বেঙ্গালুরু দলে। ম্যাচটি যে তাই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, এটা বলাই যায়।

 

 

 

 

বোল্টকে বাংলা শেখালেন মুস্তাফিজ!

বিশ্বকাপের অসাধারণ পারফর্মেন্সের পর আইপিএল মাতাতে ভারতে রয়েছেন মুস্তাফিজ। গত একবছর স্বপ্নের মতই কেটেছে এই বাঁ হাতি পেসারের। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা তার বোলিংয়ের বৈচিত্র্য এখনো বুঝতে পারেনি। সানরাইজার্সের হয়ে খেলতে দলে সাথেই বর্তমানে ব্যাঙ্গালুরুতে রয়েছেন তিনি। কিন্তু ভারতের প্রধান ভাষা হিন্দি কিংবা ইংরেজি কোনটাই ঠিকমত বুঝেন না মুস্তাফিজ। এমনকি বলতেও পারেন না খুব একটা।
হায়দারাবাদের হয়ে তার সময়টাও খারাপ যাচ্ছেনা। সতীর্থদের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। বিলিয়ার্ড খেলছেন। অনুশীলনে সকলের সাথে হাসি ঠাট্টাতেও মেতে উঠছেন। কয়েকদিনেই দলের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন মুস্তাফিজ।
ব্যাঙ্গালুরু আসার পর বিমানবন্দরে নেমে দলের সবাই একে অপরের সাথে মজা করছিলেন। সেই অংশটুকু ভিডিওতে ধারণ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ভিডিওধারণকারী ব্যক্তি মুস্তাফিজকে কিছু বলতে বলেন ক্যামেরার সামনে। তখন পাশেই ছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। তাকে হঠাৎ করেই মুস্তাফিজ বাংলায় জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘কেমন আছ?’ স্বভাবতই বোল্ট বাংলা বুঝেন না। তাই হাসির ছলেই মুস্তাফিজের কাছে ইংলিশে জিজ্ঞেস করেন, ‘হোয়াট?’ তখনই মুস্তাফিজ ইংরেজিতে বলেন ‘গুড’।
পাশ থেকে একজন বাংলা জানা লোক বোল্টকে ইংরেজিতে বুঝিয়ে বললেন, মুস্তাফিজ তাকে জিজ্ঞেস করেছে কেমন আছো। তখনই দুজন অট্টহাসি দেন। বোল্টকে বাংলা শেখানোর বৃথা চেষ্টাই করলেন মুস্তাফিজ।
আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রিস গেইল-বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে বুধবার মাঠে নামবে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

সাকিবকে না খেলানােয় বিস্মিত ভোগলে

আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে না খেলানোয় বিস্মিত ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক হর্ষ ভোগলে।
সোমবার ম্যাচ চলাকালীন সময়ে একটি টুইট করেন তিনি। টুইটে ভোগলে লিখেন, ‘সাকিবের অনেক বড় ভক্ত হিসাবে তাকে প্রতিদিনই দলে নিতাম। তবে কেকেআর হয়তো নিজেদের অবস্থার কথা ভালো জানে।’

সুনিল নারাইন না থাকায় ভাবা হচ্ছিল সাকিবকে নিয়ে নিজেদের স্পিন আক্রমণ সাজাবে কেকেআর। দু’দিন আগে কেকেআরের অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত হয়েছিলেন সাকিব। দলের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি সম্পর্কে জানিয়েছেন তিনিই। কিন্তু দিল্লি ডেয়ার ডেভিলসের বিপক্ষে একাদশেই রাখা হয়নি সাকিবকে।

আগামী ১৩ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেকেআর। দেখা যাক ওই ম্যাচে সাকিব খেলেন কিনা!

মুস্তাফিজের আইপিএল অভিষেক মঙ্গলবার

টাইগারদের পেস বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র মুস্তাফিজুর রহমানের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) অভিষেক হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার। দুর্দান্ত গতি, কাটার, অফকাটার, স্লোয়ারসহ বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের মিশেলে বিস্ময়রূপে আবির্ভূত হওয়া মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ কাল মুখোমুখি হবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর।
মঙ্গলবার রাত ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি খেলতে বেঙ্গালুরু যায় কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানসহ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ টিম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায় মুস্তাফিজ টিমমেট নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্টের সঙ্গে হোটেলে প্রবেশ করছেন।
এর আগে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে ফ্লাইটেও সানরাইজার্সের সতীর্থরা মুস্তাফিজের সঙ্গে ফটো শুটে অংশ নেন। মুস্তাফিজকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব আয়েশি ভাবেই খোশ মেজাজে রয়েছেন তিনি।
আইপিএলের হায়দ্রাবাদ দলে বেশ কয়েকদিন অনুশীলনও করেছে মুস্তাফিজ।
গত মঙ্গলবার ৫ মে আইপিএলে যোগ দিতে ভারত যান মুস্তাফিজুর রহমান। গত বছর জুনে ওয়ানডে অভিষেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ঘোল খাওয়ানোর পরই মুস্তাফিজের দিকে নজর পড়েছিল ভিভিএস লক্ষণের।
সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান এখন আইপিএল দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মেন্টর। তখন থেকেই নিজ দলে মুস্তাফিজকে ভেড়ানোর লক্ষ্য ছিল তার।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি আইপিএলের নিলামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে পায় সানরাইজার্স।

সাকিব-মাশরাফিদের প্রশংসায় বাদ হার্শা ভোগলে

আইপিএলের শুরু থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সাথে ছিলেন হার্শা ভোগলে। নবম আসরের নিলাম অনুষ্ঠানও পরিচালনা করেছেন তিনি। তবে নবম আসরের খেলায় আর শোনা যাবে না তার ধারাভাষ্য। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েকদিন আগে হার্শা ভোগলেকে ধারাভাষ্য থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আর এর পেছনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও ভারতের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটিকেই দায়ী করা হচ্ছে। ঐ ম্যাচে হার্শা ভোগলে প্রশংসা করেছিলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের, যা কি-না সহ্য করতে পারেননি অমিতাভ বচ্চন। সেদিনই তিনি টুইটারে লেখেন- `ভারতীয় ধারাভাষ্যকার ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রশংসা না করে প্রতিপক্ষ দলের হয়ে কথা বলছেন… ভারতীয় বোলারদের প্রশংসা করবে তা না, উনি ব্যাটসম্যানদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন…`। সেই টুইটারে নিচে ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও লেখেন- `আমি আর কিছু যোগ করতে চাই না…।` ব্যস, ওই টুইটারের পরই আইপিএল থেকে ধারাভাষ্য প্যানেল থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে হার্শা ভোগলেকে।

তবে সেদিন অমিতাভের টুইটারেরও কড়া জবাব দিয়েছিলেন। বলিউডের বুড়ো অভিনেতার সদ্য ক্রিকেট প্রেম জেগে ওঠায় ভোগলে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন- ভারতীয় দর্শকদের জন্য হিন্দি চ্যানেল রয়েছে। কেউ চাইলে ওই চ্যানেলে খেলা দেখতে পারেন। `বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রশংসা করায় কেউ কেউ আমাকে সমালোচনা করেছেন। তাদের উদ্দেশেই বলতে চাই, স্টারস্পোর্টস-১ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শকদের জন্য খেলা সম্প্রচার করে। সেখানে আমাদের বাংলাদেশি সমর্থকরাও রয়েছে। স্টারস্পোর্টস-৩-এ হিন্দি ধারাভাষ্য দেওয়া হয়। সেটা কেবলই ভারতীয় দর্শকদের কথা মাথায় রেখে। তাই কেউ যদি শুধুই ভারতীয় ক্রিকেটের প্রশংসা শুনতে চায় সেটা চালু করে দেখতে পারে। আমি সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য কথা বলি। সেখানে বাংলাদেশিরা সেদিন দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছিল, প্রশংসা তাদের প্রাপ্য। এটাকে কেউ অন্যভাবে দেখলে আমি তাদের বলব- সরি… আমি পারব না।` ভোগলের এই জোরালো কথাটিই ভালো লাগেনি ভারতীয় বোর্ডের, শাস্তি- আইপিএল থেকে ব্রাত্য!

যদিও অফিসিয়ালভাবে সনি থেকে ভোগলের না থাকার কথাটি জানানো হয়নি। তবে ভোগলে নিজে টুইট করে তা নিশ্চিত করেছেন- `আইপিএলে অংশ নিতে পারলে ভালো লাগত।`

ধোনির হৃদয়ে এখনো চেন্নাই

বাজি ও স্পট ফিক্সিংয়ের কেলেঙ্কারিতে আইপিএল থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে ধোনির সাবেক দল চেন্নাই। এবার ভারতের এই অধিনায়ক মাঠে নামছে পুনে সানরাইজার্সের জার্সি গায়ে। তবে এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না যে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের কেউ নন।

এ বিষয়ে ধোনি বলেন, আমি জানতাম যে এবার পুনের হয়ে খেলব। কিন্তু দলটাকে সত্যিকার অর্থে অনুভব করতে পারলাম যখন খেলোয়াড়দের তালিকা হাতে টস করতে নামলাম। চেন্নাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা আবেগের।

তিনি আরও বলেন, চেন্নাইয়ের হয়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে আমি মাঠে নেমেছি। তবে পেশাদারি খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে এখন সামনের দিকেই তাকাতে হবে। আমি এখন পুরোপুরিই পুনের। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমি চেন্নাইকে যা দিয়েছি, পুনে তার চেয়ে কোনো অংশেই কম পাবে না।

উল্লেখ্য, প্রথম ম্যাচে মুম্বাইকে হারিয়ে জয় দিয়েই আইপিলের যাত্রা করেছে ধোনির পুনে সানরাইজার্স।

প্রথম ম্যাচেই কেকেআর’র স্কোয়াডে নেই সাকিব

কলকাতা নাইট রাইডার্সের দু’টি শিরোপা (২০১২ ও ২০১৪) জয়েই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু, আইপিএলের নবম আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সাকিবকে স্কোয়াডের বাইরে রাখল কেকেআর।
রোববার দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তৃতীয় শিরোপা মিশনে নেমেছে শাহরুখ খানের কেকেআর। ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে টস জিতে দিল্লিকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর।
কিন্তু, কলকাতার একাদশে নেই বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বিজ্ঞাপন সাকিবের নাম। চারজন বিদেশি খেলোয়াড় হলেন, নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা আন্দ্রে রাসেল, অস্ট্রেলিয়ান পেসার জন হ্যাস্টিংস ও সাবেক অজি স্পিনার ব্র্যাড হগ।
বাবার মৃত্যুর কারণে কলকাতার হয়ে এ ম্যাচে খেলতে পারছেন না ক্যারিবিয়ান স্পিনার সুনীল নারাইন। আইপিএল শুরুর আগেই তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ হিসেবে ঘোষণা দেয় আইসিসি।
অন্যদিকে, দিল্লির স্কোয়াডে দুই প্রোটিয়া তারকা জেপি ডুমিনি ও ইমরান তাহিরকে রাখা হয়নি। তবে দলে আছেন তাদেরই জাতীয় দল সতীর্থ কুইন্টন ডি কক ও ক্রিস মরিস। বাকি দু’জন বিদেশি খেলোয়াড় হলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতানো কার্লোস ব্রাথওয়েট ও অজি পেসার নাথান কোল্টার নাইল

ব্যাঙ্গালুরুতে মুস্তাফিজ

প্রথমবারেরমত আইপিএল খেলতে গেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে মঙ্গলবারই মাঠে নামছেন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন। প্রতিপক্ষ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলিদের মুখোমুখি হচ্ছেন মুস্তাফিজ। অভিষেক আসরে বাংলাদেশের এই বিস্ময় পেসার কেমন করবেন? দেখতে যেন মুখিয়ে আছেন ভক্তরা।
১২ এপ্রিল বেঙ্গালুরুর এম চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। ওই ম্যাচ খেলতে ইতোমধ্যেই হায়দারাবাদ থেকে ব্যাঙ্গালুরু পৌঁছে গেছেন দ্য অরেঞ্জ আর্মি সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। হায়দারাবাদ থেকে বিমানে ওঠার আগে ছবি তুলে টুইটারে ছবি পোস্ট করে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ কর্তৃপক্ষ।
নিজের প্রথম ম্যাচেই অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে মুস্তাফিজকে। কারণ এদিন বিরাট কোহলি ও ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানকে মোকাবেলা করবেন তিনি।
তবে আজই আইপিএল যুদ্ধে নামছেন সাকিব আল হাসান। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স। মুস্তাফিজের সঙ্গে সাকিবের মুখোমুখি লড়াই হবে আগামী ১৬ এপ্রিল, হায়দরাবাদের রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।

কলকাতা আমার আরেক ঘর

বিশ্বকাপের পর কয়েকদিনের বিরতি, তারপর আবার মাঠে নামতে হচ্ছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মাঠ মাতাবেন সাকিব। কলকাতার হয়ে শিরোপাও জিতেছেন। ২০১১ সাল থেকে টানা কলকাতার হয়ে খেলে যাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার। ফলে কলকাতাকে নিজের ঘরের মতই মনে হয় সাকিবের। কলকাতার ভাষা এক হওয়ায় তেমন একটা সমস্যায়ও পড়তে হয় না সাকিবকে। সংস্কৃতিও অনেকটা একই। মোটকথা সব মিলিয়ে কলকাতায় বেশ ভালোই আছেন সাকিব।
ভারতীয় এক দৈনিক হিন্দুস্থান টাইমস পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় সাকিব বলেন, ‘কলকাতাকে তার নিজের ঘরের মতই মনে হয়। জাতীয় দলের পর এটাই একমাত্র দল, যেখানে আমি অনেক দিন ধরে খেলছি। আমরা একই ভাষায় কথা বলি, একই সংস্কৃতি মেনে চলি, আবহাওয়াও একই। এমনকি বিমানে উড়ে আসতে লাগে মাত্র আধ ঘন্টা। অথচ ভারতের অন্য রাজ্যের খেলোয়াড়দের কলকাতায় আসতে এরচেয়ে বেশি সময় লাগে।’
তবে কেকেআরে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে থাকায় একটু সমস্যা হয় সাকিবের। বাইরের মানুষজনও সাকিবকে নিজেদের বলে মনে করে। ‘একটাই বাধা, আমাকে খেলতে হয় বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে। যখন বাইরে বেরোই, মানুষ আমাকে তাদেরই একজন হিসেবে দেখে। এখানকার মানুষদের উষ্ণ ব্যবহার অসাধারণ।’

চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইকে উড়িয়ে পুনের যাত্রা শুরু

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর নবম আসরের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। অষ্টম আসরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে আইপিএলের নতুন এ দলটি।

 

রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল পুনে ৩২ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখে টুর্নামেন্টের প্রথম জয় তুলে নেয়।

 

১২২ রানের সহজ টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৮ রান জমা করে অজিঙ্কা রাহানে ও ফাপ ডু প্লেসিস। দশম ওভারের চতুর্থ বলে এ জুটি ভাঙেন হরভজন সিং। ৩৩ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৪ রান করা ডু প্লেসিস ডানহাতি এ স্পিনারের বলে সরাসরি বোল্ড হন। এরপর আর কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি আইপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অজিঙ্কা রাহানের ৪২ বলে ৬৬ ও কেভিন পিটারসেনের ১৪ বলে ২১ রানে সহজেই জয় নিশ্চিত হয় পুনের। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তাদের সংগ্রহ ৩০ বলে ৪৮ রান।

 

এর আগে পুনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি মুম্বাইয়ের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুধু আম্বাতি রাইডু দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেন। রাইডুর ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান। মুম্বাইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন হরভজন সিং। ৩০ বলে ৪৫ রান করেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

 

পুনের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা ও মিচেল মার্শ। এছাড়া আর পি সিং, রাজাত ভাটিয়া, মুরুগান অশ্বিন ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন ১টি করে উইকেট নেন।

 

রাতে মাঠে নামছে সাকিবের কলকাতা

ক্রিকেট
আইপিএল
কলকাতা-দিল্লি
সরাসরি, রাত ৮.৩০ মি.
সনি সিক্স ও ইএসপিএন

নিজ দল নিয়ে যা বললেন সাকিব

আইপিএল খেলতে কলকাতায় প্রথম সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বড় একটা অংশই থাকলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ পারফরমেন্স এবং সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ সুনীল নারাইনের ফিরে আসা প্রসঙ্গ।
আগে যাই হোক না কেনো এবারের টাইগার ক্যালেন্ডারে আইপিএল চলাকালীন সময়ে কোনো আন্তর্জাতিক আসর না থাকায় পুরো টুর্নামেন্ট খেলার প্রত্যাশা জানালেন দেশ সেরা এ ক্রিকেটার। তবে এটি বোর্ডের ম্যাসেজের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানিয়ে রাখেন তিনি।
বিশ্বকাপ শেষে আবার আইপিএল সাকিবের জন্য চাপ মনে হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের পর আমরা দশদিনের মতো বিশ্রামের সময় পেয়েছি। আমার মনে হয় এ লেভেলে ১০ দিন বিশ্রামই যথেষ্ট।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের একটি ম্যাচ জিততে না পারার প্রসঙ্গ টেনে আনেন ভারতীয় সংবাদিকরা। উত্তরে সাকিব বলেন: আমাদের ম্যাচ গুলো কিন্তু খুব ক্লোজ ছিলো। একটিতে তো খুব অল্প ব্যবধানে হেরেছি। লাক ফেভার করলে আমরাও দু-একটি ম্যাচ জিততে পারতাম।
সন্দেহজনক বোলিংয়ের থেকে ফিরে আসায় নারাইনের বোলিংয়ে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা? সাংবাদিক এমন প্রশ্ন এড়িয়ে সাকিব বলেন, নারাইন সব সময় আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার অনেক পারফরমেন্সে আমাদের বড় জয় এসেছে। তবে তার বোলিং অ্যাকশনে কোন বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে কিনা আমি এখনও নিশ্চিত নয়।

আইপিএলে কে কোন দলে খেলছেন

মুম্বাই-পুনে ম্যাচ দিতে আজ শুরু হচ্ছে এবারের আইপিএল নাইট। মোট ৫১ দিনের টুর্নামেন্টে ৬০টি ম্যাচ খেলা হবে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মে। প্রথম ম্যাচটি হবে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

ফিক্সিং বিতর্কে চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়ালস দলকে দুবছরের জন্য সাসপেন্ড করায় নতুন দুটি দল গুজরাট লায়ন্স ও রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস নামে নতুন দুটি দল সংযুক্ত হয়েছে। মোট ৮টি দলের এই আকর্ষণীয় টুর্নামেন্টে কে কোন দলে রয়েছে-

গুজরাট লায়ন্সঃ মোট ২৪ জন সদস্য। এর মধ্যে ১৭ জন ভারতীয় ও ৭ জন বিদেশি। এরা হলেন- সুরেশ রায়না, ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, ডোয়াইন ব্র্যাভো, জেমস ফকনার, প্রবীণ কুমার, ডেল স্টেইন, দিনেশ কার্তিক, ডোয়াইন স্মিথ, ধবল কুলকার্নি, অ্যারন ফিঞ্চ, একলব্য দ্বিবেদী, অ্যান্ড্রু টাই, ঈশা কিষণ, প্রদীপ সাঙ্গওয়ান, প্রবীণ তাম্বে, পরশ ডোগরা, শিভিল কৌশিক, সরবজিত লাড্ডা, উমঙ্গ শর্মা, জয়দেব শাহ, শাদাব জাকাতি, অমিত মিশ্র ও অক্ষদ্বীপ নাথ।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলসঃ মোট ২৭ জন খেলোয়াড়। ১৮ জন ভারতীয় ও ৯ জন বিদেশি। জাহির খান, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, মহম্মদ শামি, শাহবাজ নাদিম, শ্রেয়স আইয়ার, অমিত মিশ্র, জেপি ডুমিনি, কুইন্টন ডি কক, নাথন কুল্টার নাইল, জয়ন্ত যাদব, পবন নেগি, ক্রিস মরিস, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, সঞ্জু স্যামসন, করুণ নায়ার,ঋষভ পান্থ, জোয়েল প্যারিস, স্যাম বিলিংস, চামা মিলিন্দ, প্রত্যুষ সিং, মহিপাল লোমরোর, সাঈদ খলিল আহমেদ, অখিল অরবিন্দ হেরওয়াড়কর ও পবন সুয়াল।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবঃ মোট ২২ জন খেলোয়াড়। ১৫ জন ভারতীয় ও ৭ জন বিদেশি। ডেভিড মিলার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল জনসন, শন মার্শ, মোহিত শর্মা, কাইল অ্যাবট, কেসি কারিয়াপ্পা, মার্কাস স্টোইনসিস, ফারহান বেহারডিন, প্রদীর সাহু, আরমান জাফর, স্বপ্নীল সিং, অক্ষর প্যাটেল, অনুরীত সিং, গুরকীরত সিং, মনন ভোহরা, মুরলী বিজয়, নিখিল নায়েক, ঋষি ধাওয়ান, সন্দীপ শর্মা, শর্দুল ঠাকুর ও ঋদ্ধিমান সাহা।

কলকাতা নাইট রাইডার্সঃ মোট ২২ জন সদস্য। ১৩ জন ভারতীয় ও ৯ জন বিদেশি। গৌতম গম্ভীর, সাকিব আল হাসান, কুলদীপ যাদব, মনীশ পান্ডে, পীযূষ চাওলা, রবীন উথাপ্পা, শেলডন জ্যাকসন, সূর্যকুমার যাদব, উমেশ যাদব, ইউসুফ পাঠান, আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন, ব্র্যাড হগ, ক্রিস লিন, মরনে মর্কেল, জয়দেব উনাদকাট, অঙ্কিত সিং রাজপুত, জন হেস্টিংস, জেসন হোল্ডার, কলিন মুনরো, রাজাগোপাল সতীশ ও মনন অজয় শর্মা।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সঃ মোট ২৬ জন সদস্য। এর মধ্যে ১৮ জন ভারতীয় ও ৮ জন বিদেশি। রোহিত শর্ম, শ্রেয়স গোপাল, সিদ্ধেশ লাড, উন্মুক্ত চাঁদ, আর বিনয় কুমার, পার্থিব প্যাটেল, নীতীশ রানা, জসপ্রীত বুমরাহ, জে সূচিত, হার্দিক পান্ডিয়া, হরভজন সিং, অম্বাতি রায়াডু, অক্ষয় ওয়াখাড়ে, কোরি অ্যান্ডারসন, মিচেল ম্যাকক্লেনাগন, কায়রন পোলার্ড, লেন্ডল সিমন্স, লাসিথ মালিঙ্গা, মার্চেন্ট ডি লাঞ্জ, জোস বাটলার, নাথু সিং, টিম সাউদি, কৃনাল পান্ডিয়া, কিশোর প্রমোদ কামাথ, দীপক পুনিয়া, জীতেশ শর্মা,

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসঃ মোট সদস্য ২৩ জন। এর মধ্যে ১৬ জন ভারতীয় ও ৭ জন বিদেশি। মহেন্দ্র সিং ধোনি, আর অশ্বিন, অজিঙ্কা রাহানে, স্টিভ স্মিথ, ফ্যাফ ডু প্লেসি, মিচেল মার্শ, এম অশ্বিন, ইশান্ত শর্মা, কেভিন পিটারসন, ইরফান পাঠান, থিসারা পেরেরা, রজত ভাটিয়া, অশোক দিন্দা, স্কট বোল্যান্ড, আরপি সিং, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, অ্যাডাম জাম্পা, ঈশ্বর পান্ডে, অঙ্কিত শর্মা, দীপক চাহার, জসকরণ সিং, অঙ্কুশ বেইনস, সৌরভ তিওয়ারি ও অ্যালবি মর্কেল।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরঃ মোট ২৫ জন সদস্য। এর মধ্যে ১৬ জন ভারতীয় ও ৯ জন বিদেশি। বিরাট কোহলি, শেন ওয়াটসন, যুজভেন্দ্র চাহাল, স্টুয়ার্ট বিনি, কেন রিচার্ডসন, স্যামুয়েল বদ্রি, ট্রাভিস হেড, এবি ডি’ভিলিয়ার্স, ডেভিড ওয়েইস, অ্যাডাম মিলনে, ক্রিস গেইল, মিচেল স্টার্ক, প্রবীণ দুবে, বিক্রমজিত মালিক, ইকবাল আবদুল্লা, শচিন বেবি, অক্ষয় কারনেওয়ার, বিকাশ টোকাস, কেএল রাহুল, পারভেজ রসুল, আবু নেচিম, হর্শল প্যাটেল, কেদার যাদব, মনদীপ সিং, সরফরাজ আহমেদ, শ্রীনাথ অরবিন্দ ও বরুণ অ্যারন।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদঃ মোট ২৫ জন সদস্য। এর মধ্যে ১৮ জন ভারতীয় ও ৭ জন বিদেশি। যুবরাজ সিং, আশিস নেহরা, মুস্তাফিজুর রহমান, ডেভিড ওয়ার্নার, মোয়েস এনরিকেস, ইয়ন মর্গান, কেন উইলিয়ামসন, ট্রেন্ট বোল্ট, আদিত্য তারে, বারিন্দর সিং শ্রন, বেন কাটিং, বিজয় শঙ্কর, অভিমন্যু মিথুন, তিরুমালাশেট্টি সুমন, আশিস রেড্ডি, ভুবনেশ্বর কুমার, বিপুল শর্মা, করণ শর্মা, নমন ওঝা, রিকি ভুঁই, শিখর ধাওয়ান ও সিদ্ধার্থ কউল।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে মুম্বাই

শুরু হয়ে গেলো আইপিএলের জমজমাট লড়াই। মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মার মধ্যকার কয়েন নিক্ষেপের মধ্য দিয়েই বাদ্য বেজে উঠলো আইপিএল লড়াইয়ের। উদ্বোধনী ম্যাচেই টস জিতেছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং টস জিতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রথমে ব্যাট করার।
‘আইপিএল বড় না মানুষ বড়’- মহামূল্যবান এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই দামামা বেজেছে আইপিএলের। প্রচণ্ড খরার কারণে যেখানে মহারাষ্ট্র প্রদেশে পানিশূণ্যতা দেখা দিয়েছে, মানুষ পানির জন্য হাহাকার করছে, সেখানে লাখ লাখ লিটার পানি ব্যায় করে মুম্বাইর ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরী করা হবে- এ জন্য মুম্বাই হাইকোর্টই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ‘মানুষ বড় না আইপিএল বড়?’
শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের অনুমতিক্রমেই মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে আইপিএল। টস জেতার পর মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘ওয়াংখেড়েতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। সুতরাং, আমাদের চেনা মাঠ। প্রস্তুতিও দুর্দান্ত। ভালোমানের অনেক বিদেশি ক্রিকেটার রয়েছেন এই দলে। দুর্দান্ত একটি সূচনা এনে দিতে চাই দলকে। ৫জন বোলার এবং ৬জন ব্যাটসম্যান নিয়ে দল সাজাচ্ছি। বিদেশিদের তিনজন ব্যাটসম্যান এবং একজন সিমার।’
মহেন্দ্র সিং ধোনি বলেন, ‘টস জিতলে বোলিংই নিতাম। নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন দল। আশা করছি ভালো করতে পারবো। বিদেশি ক্রিকেটারদের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। সুতরাং চ্যালেঞ্জটা আমরা নিচ্ছি।’

দেশে ফিরতে হতে পারে সাকিব-মুস্তাফিজকে

শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসর। জনপ্রিয় এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শেষ হবে আগামী ২৯ মে। আইপিএ‌‌‌লে খেলতে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন দুই টাইগার তারকা সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। তবে আইপিএলের মাঝপথেই ফিরে আসতে হতে পারে এই দুজনকে।
আগামী দু মাসের মধ্যে টেস্ট ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল যদি বাংলাদেশ সফরে আসে তাহলে আইপিএল শেষ না করেই দেশে ফিরতে হবে সাকিব ও মুস্তাফিজকে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের শেষ দিকে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ। এর আগে টাইগারদের কোনও আন্তর্জাতিক খেলা নেই। তাই ভারত সফরের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে খেলতে আগ্রহী বিসিবিও।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, আগামী রবিবার বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে হোম সিরিজ ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছি। ওরা একটি টেস্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা টেস্টের পাশাপাশি অন্য ফরম্যাটের ম্যাচও খেলতে আগ্রহী।’

নাচে গানে আইপিএলের জমকালো উদ্বোধন

নাচে গানে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠলো আইপিএলের নবম আসরের। মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রায় ৩৩ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এক অসাধারণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইপিএল কমিটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল আইপিএলের সব দলের ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় আট দলের অধিনায়ককে। চেন্নাই সুপারকিংস এবং রাজস্থান রয়েলসের পরিবর্তে এবার গুজরাট লায়ন্স এবং রাইজিং পুনে সুপারস্টার দল সুযোগ পেয়েছে আইপিএলে। রাইজিং সুপারস্টারের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং গুজরাট লায়ন্সের অধিনায়ক সুরেশ রায়নাসহ বাকি ছয় দলের অধিনায়ককেও পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।
IPL12
রবি শাস্ত্রীর পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আইপিএল কমিশনার রাজীব শুক্লা। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই’র সেক্রেটারি অনুরাগ ঠাকুর। আট অধিনায়ক ট্রফির সঙ্গে ছবির পোজই দেননি শুধু। নিজেদের ডিজিটাল অটোগ্রাফও দিলেন দর্শকদের জন্য।
পরিচয় পর্ব শেষে স্টেজে আসেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। টানা ১০ মিনিট নেচে-গেয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী। বলিউডের বিভিন্ন মুভিতে নিজের পারফর্ম করা গানগুলোর সঙ্গে ঠোট মিলিয়ে এবং নেচে-গেয়ে পুরো ওয়াংখেড়েকে মাতিয়ে তোলেন তিনি।|
IPL
ক্যাটরিনার পরেই মঞ্চে আসেন ক্যরিবীয় ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্র্যাভো। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে নিজের ডিজে পরিচয়কে ব্র্যাভো পরিচিত করেছেন বিশ্বজুড়ে। মঞ্চ মাতান তিনি নিজের গাওয়া গান ‘চ্যাম্পিয়ন চ্যাম্পিয়ন’ গান দিয়ে। এরপর নিজের আরো একটি পরিবেশন করে দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে তোলেন এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার।
ব্রাভোর পরেই মঞ্চে আসেন বর্তমান সময়ের বলিউডের অন্যতম নামকরা গায়ক হানি সিং। গানের মাধ্যমে দর্শকদের মনে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে জুড়ি নেই তার। হানি সিংয়ের পর একজন ব্যাটসম্যানের বেশ ধরে মঞ্চে আসেন রনবির সিং। শুরুতে ব্যাটসম্যানের আদলে একটু পারফরম্যান্স এরপর পরিবেশন করেন নিজের জনপ্রিয় কিছু গানের সঙ্গে ড্যান্স দিয়ে। সর্বশেষ একজন সুলতানের বেশে মঞ্চে এসে তাক লাগিয়ে দেন রনবির।
শুধু তাই নয়, একে একে মঞ্চে পারফর্ম করা জাকুলিন ফার্নান্দেজ ক্যাটরিনা কাইফ, হানি সিং, ডোয়াইন ব্র্যাভোদের মঞ্চে ডেকে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন চ্যাম্পিয়ন গানের সঙ্গে ড্যান্স করে অনুষ্ঠান জমিয়ে তোলেন তিনি।

আইপিএলের কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ডস

শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) নবম আসর। আগের আট আসরে হয়েছে অনেক রেকর্ডস। তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো ক্রিকেট পাগল পাঠকদের জন্য।
১. সবচেয়ে বেশি রান : সুরেশ রায়না (১২৮ ইনিংসে ৩৬৯৯ রান)।
২. ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস : ক্রিস গেইল (১৭৫* রান ৬৬ বল)।
৩. সবচেয়ে বেশি ছক্কা : ক্রিস গেইল (২৩০টি)।
৪. দ্রুততম সেঞ্চুরি : ক্রিস গেইল (৩০ বল)।
৫. দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি : ইউসুফ পাঠান (১৫ বল)।
৬. সেরা স্ট্রাইক রেট : আন্দ্রে রাসেল (১৭৭.৮৮)।
৭. সবচেয়ে বেশি উইকেট : লাসিথ মালিঙ্গা (১৪৩ উইকেট)।
৮. সেরা বোলিং (ইনিংসে) : সোহেল তানভীর (৪ ওভারে ১৪ রানে ৬ উইকেট)।
৯. সেরা ইকোনমি রেট : সুনীল নারাইন (৫৫ ম্যাচ, ৬.০০)।
১০. এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান দেয়া বোলার : ইশান্ত শর্মা (৪ ওভারে ৬৬ রান)।
১১. এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ডট বল দেয়া বোলার : ডেল স্টেইন (১৭ ম্যাচ ২১২ ডট বল, ২০১৩ সাল)।
১২. হ্যাট্টিক : ১৩টি।
১৩. সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল (উইকেটরক্ষক) : দীনেশ কার্তিক (৮৪টি)।
১৪. সবচেয়ে বেশি ক্যাচ : সুরেশ রায়না (১৩২ ম্যাচ ৭৫ ক্যাচ)।
১৫. সবচেয়ে বেশি ম্যাচে জয়ী : চেন্নাই সুপার কিংস (৭২টি ম্যাচে জয়ী)।
১৬. সবচেয়ে বেশি ম্যাচে হার : দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (৬১টি ম্যাচে হার)।

নতুন উদ্যমে শনিবার শুরু আইপিএলের নবম আসর

কেলেঙ্কারি-অপবাদকে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) নবম আসর। উদ্বোধনী দিনে রয়েছে একটি খেলা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও নয়া দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।
গত আসর শেষেই বিভিন্ন কেলেঙ্কারীর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো। অবশেষে গত বছরের শেষের দিকে গুঞ্জনের সত্যতা মিলে। জুয়া-কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কারণে চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসকে নিষিদ্ধ করে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। ফলে দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয় দল দু’টি।
চেন্নাই-রাজস্থানের পরিবর্তে নবম আসরে অংশ নিবে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস ও রাজকোটের দল গুজরাট লায়ন্স। নবম ও দশম আসরের জন্য দল দু’টির স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছে। ১৬ কোটি রুপি দিয়ে পুনের মালিকানা কিনেছেন গোয়েঙ্কা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান নিউ রাইজিং। আর ১০ কোটি রুপি দিয়ে রাজকোটের মালিকানা কিনে নেয় মোবাইল প্রস্তুতকারক কোম্পানি ইনটেক্স।
আইপিএলে নিজেদের অর্ন্তভুক্তি নিশ্চিত করে দল গোছাতে নিলামের কাজও সেরে ফেলে রাইজিং পুনে ও গুজরাট লায়ন্স। মূলত নিষিদ্ধ দু’দল চেন্নাই ও রাজস্থান থেকেই বেশির ভাগ খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েছে তারা। তারকাদে মধ্যে রাইজিং দলে ভিড়িয়েছে ভারত ও সাবেক দল চেন্নাইয়ের দলপতি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। দলে আরও আছেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন, ইরফান পাঠান, আজিঙ্কা রাহানে, ইশান্ত শর্মা, আরপি সিং, দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ-ডু-প্লেসিস, অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ,মিচেল মার্শ, দুক্ষণ আফ্রিকার আলবি মরকেল, শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা ও ইংল্যান্ডের কেভিন পিটারসেন।
আর গুজরাট লায়ন্সের অধিনায়কত্ব করবেন সুরেশ রায়না। তার সর্তীথ হিসেবে থাকবেন রবীন্দ্র জাদেজা, দীনেশ কার্তিক, টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্য ডোয়াইন ব্রাভো, ডোয়াইন স্মিথ, অস্ট্রেলিয়ার জেমস ফকনার-অ্যারন ফিঞ্চ, নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইন।
উদ্বোধনী ম্যাচে ধোনির নেতৃত্বাধীন দলটি মুখোমুখি হবে রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। গত আসরে বাজেভাবে শুরু করেও শেষপ র্যন্ত নাটকীয়ভাবে দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বাই।
তাই এবারও দলটির মূল লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা, এমনটা জানালেন মুম্বাই দলপতি রোহিত, ‘সেরা দল হিসেবেই গতবার শিরোপা জিতেছিলাম আমরা। এবারও আমাদের দলটি বেশ ভারসাম্যপুর্ন । শিরোপা জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। তবে অনেক লম্বা টুর্নামেন্ট। ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলতে হবে আমাদের। শুরুটা ভালোভাবে করতে চাই। শুরুটা ভালো হলে পরের ম্যাচগুলোতে চাপ কম থাকবে।’
প্রথম ম্যাচের আগে শিরোপা নিয়ে কোন কথাই বলেননি নয়া রাইজিং পুনের দলপতি ধোনি, ‘সেরা হওয়ার লক্ষ্য তো সবারই থাকে। আমাদেরও আছে। তবে নতুন দল নিয়ে আগেভাগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। কয়েকটা ম্যাচ গেলেই বুঝা যাবে। এই দলটি বেশ ভালো।লোকাল ও বিদেশী খেলোয়াড়ও ভালো আছে আমাদের। যেকোন দলকে হারানোর মত সামর্থ্য রয়েছে এই দলের।’
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনেই মাঠে নামবে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স। ঐ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। সাকিব ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে এবারের আসরে খেলছেন কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজ হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলবেন মুস্তাফিজুর। তাই সাকিব ও মুস্তাফিজুরের খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে টিভি সেটের সামনে বসবেন বাংলাদেশের দর্শকরা, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি কলকাতা ও হায়দ্রাবাদকেও সাপোর্ট যোগাতে ভুল করবেন না ক্রিকেট ভক্তরা।
তাদের সাপোর্টে উৎসাহি হয়ে টুর্নামেন্টের ৬০তম ম্যাচ, ফাইনালে কলকাতা-হায়দ্রাবাদ খেললে সবচেয়ে খুশী হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমিরা। আগামী ২৯ মে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতেই অনুষ্ঠিত হবে নবম আইপিএলের ফাইনাল।

আইপিএলের প্রথম আট আসরের চ্যাম্পিয়ন-রানার্স আপরা :
সাল চ্যাম্পিয়ন রানার্স-আপ
২০০৮ রাজস্থান রয়্যালস চেন্নাই সুপার কিংস
২০০৯ ডেকান চার্জার্স রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু
২০১০ চেন্নাই সুপার কিংস মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
২০১১ চেন্নাই সুপার কিংস রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু
২০১২ কলকাতা নাইট রাইডার্স চেন্নাই সুপার কিংস
২০১৩ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চেন্নাই সুপার কিংস
২০১৪ কলকাতা নাইট রাইডার্স কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব
২০১৫ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চেন্নাই সুপার কিংস

আকাশ চোপরার বাজি মুস্তাফিজদের পক্ষে

ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডেতেই পাঁচ উইকেট নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হচ্ছে না। ধারাবাহিকতা সারা বছরই। বিশ্বকাপেও তার অর্জন ছিল প্রশংসনীয়। এবার মুস্তাফিজের সামনে মিশন আইপিএল।
ভারতের জমজমাট এই ঘরোয়া লিগ মাতাতে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে মাঠে নামবেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের এই পেস বিস্ময় আসায় হায়দারাবাদের বোলিং শক্তি আরো বেড়ে গেলো। এ কারণেই নিজের পছন্দের তালিকায় মুস্তাফিজের দলের বোলিং শক্তিকেই শীর্ষে রাখলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার এবং ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপরা।
সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে প্রথমবার আইপিএলে খেলছেন মুস্তাফিজ। তিনি ছাড়াও এ দলের বোলিং লাইনআপে রয়েছে আশীষ নেহরার মত অভিজ্ঞ বাম হাতি পেসার। বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে নেহরা নিজেই বলেছিলেন, ‘মুস্তাফিজের থেকে অনেক কিছু শিখতে চান তিনি। তাছাড়াও রয়েছে অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমার। এই দুই ভারতীয় পেস বোলার ছাড়া রয়েছে আরেক অভিজ্ঞ কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই বোল্টের কল্যাণেই নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল। তাছাড়া রয়েছেন করণ শর্মার মত লেগ স্পিনারও।
আকাশ চোপরা নিজের টুইট পেজে লেখেন, ‘নেহরা, বোল্ট, ভুবনেশ্বর, মুস্তাফিজুর, করণ শর্মা। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বোলিং লাইন আমার দেখা এবারকার সেরা বোলিং লাইন আপ।’

মুস্তাফিজের প্রশংসায় টম মুডি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বিপক্ষে ব্যাটিং করতে মাঠে নামার সময় বুক ধুরু ধুরু করে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম বারের মত আইপিএলে সানরাইজের হয়ে মাঠে নামবেন কাটার মাস্টার।
তবে মাঠে নামার আগেই মুস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসালেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ টম মুডি। বাংলাদেশের তরুণ পেসারকে বিশ্বমানের বোলার হিসেবে আখ্যায়িত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন এই ক্রিকেটার বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে মুস্তাফিজুরের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। ও ভালো একজন তরুণ ক্রিকেটার। ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। ও সুযোগটি লুফে নিতে এবং আরো ভালো কিছু শিখতে অপেক্ষা করছে।’
এদিকে বৃহস্পতিবার সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে প্রথমবারের মত অনুশীলন করেছেন মুস্তাফিজ। দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুস্তাফিজের হাতে তুলে দেয়া সানরাইজার্স হায়দারাবাদের নতুন জার্সি। ৯০ নাম্বার জার্সি পরে মাঠ মাতাবেন মুস্তাফিজ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাভোর ‘চ্যাম্পিয়ন! চ্যাম্পিয়ন!’

টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের মুকুট মাথায় পরেছেন। এবার আইপিএলের মুকুট মাথায় পরার পালা ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভোর। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি জয়ের আনন্দের রেশ এখনো রয়ে গেছে; এরই মাঝে শুরু হচ্ছে আইপিএল। ভারতের জমজমাট এই লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাভো গাইবেন নিজের গাওয়া গান ‘চ্যাম্পিয়ন! চ্যাম্পিয়ন!’ টুর্নামেন্টের চেয়ারম্যান রাজিব শুকলা এমনটাই জানিয়েছেন।
বিগত আইপিএলের সবগুলোতেই চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে মাঠ মাতিয়েছিলেন ব্রাভো। এবার গুজরাট লায়ন্সের জার্সি গায়ে দেখা যাবে ব্রাভোকে। ইতোমধ্যেই খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্রাভোর চ্যাম্পিয়ন গানটি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তারকারা ব্রাভোর এই গানে নেচে গেঁয়ে নিজেদের উচ্ছাসের কথা প্রকাশ করেন।
আইপিএল চেয়ার রাজিব শুকলা বলেন, ‘মুম্বাইতে হতে যাওয়া আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাভো তার চ্যাম্পিয়ন গানে নাচবে। তার গানের সাথে কয়েকজন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারও নাচবে যা আইপিএলের প্রতি মানুষের আকর্ষন বাড়াবে।’
তাছাড়া এবার আমেরিকার নিউ জার্সিতে ফ্যান পার্কে আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখানো হবে বড় পর্দায়। বিশ্বের ৩৫টি দেশে দেখানো হবে আইপিএলের অনুষ্ঠান, এমনটাই জানালেন আইপিএলের চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টাইগারদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লিউআইসিবি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
আগামী দুই মাসের (এপ্রিল-মে) মধ্যে যে কোনও সময় বাংলাদেশে টেস্ট দল পাঠাতে আগ্রহী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি টেস্টের সঙ্গে ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তাবটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিসিবি। আগস্টে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ। ওই সফরে ভারতের সঙ্গে টেস্ট খেলবেন টাইগাররা। বিসিবি মনে করছে ভারত সফরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলে নিজেদেরকে ঝালিয়ে নিতে পারবেন ক্রিকেটাররা।
বিসিবি সভাপতি পাপন জানিয়েছেন, আগামী রবিবার বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে হোম সিরিজ ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছি। ওরা একটি টেস্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা টেস্টের পাশাপাশি অন্য ফরম্যাটের ম্যাচও খেলতে আগ্রহী।’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগসাকিব-মুস্তাফিজের ম্যাচের সূচি

শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর নবম আসর। এই আসরে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন। এই কারণে বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের নজর থাকবে আইপিএল-এর দিকে।
গত কয়েক আসরে সাকিব কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। এবারও তাকে দেখা যাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিতে। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো আইপিএল-এ খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের পেস বোলিং সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান খেলবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে।
আইপিএল ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হলেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মিশন শুরু হবে রবিবার থেকে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে ইডেনে ম্যাচটি শুরু হবে। অপরদিকে মুস্তাফিজুরের সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রথম ম্যাচ ১২ এপ্রিল র‌য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে।
বাংলাদেশের দুই সতীর্থ মুখোমুখি হবেন ১৬ এপ্রিল ও ২২ মে দুটি ম্যাচে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এই লড়াই দেখতে মুখিয়ে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।

কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ফিক্সচার:

১০ এপ্রিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কলকাতা

১২ এপ্রিল, র‌য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু

১৩ এপ্রিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, কলকাতা

১৬ এপ্রিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ

১৮ এপ্রিল, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, হায়দরাবাদ

১৯ এপ্রিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, মোহালি

২১ এপ্রিল, গুজরাট লায়ন্স-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, রাজকোট

২৩ এপ্রিল, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, হায়দরাবাদ

২৪ এপ্রিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, দিল্লি

২৬ এপ্রিল, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-পুনে সুপারজায়ান্টস, হায়দরাবাদ

২৮ এপ্রিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, মুম্বাই

৩০ এপ্রিল, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, দিল্লি

৩০ এপ্রিল, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-র‌য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ

২ মে, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস বেঙ্গালুরু, বেঙ্গালুরু

৪ মে, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্চাব, কলকাতা

৬ মে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-গুজরাট লায়ন্স, হায়দরাবাদ

৮ মে, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম গুজরাট লায়ন্স, কলকাতা

৮ মে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, মুম্বাই

১০ মে, পুনে সুপারজায়ান্টস-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, পুনে

১২ মে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, হায়দরাবাদ

১৪ মে, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, কলকাতা

১৫ মে, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, নাগপুর

১৬ মে, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস বেঙ্গালুরু, কলকাতা

১৯ মে, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম গুজরাট লায়ন্স, কানপুর/রাজকোট

২০ মে, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি

২২ মে, কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, কলকাতা

আইপিএলে প্রথমবার অনুশীলনে মুস্তাফিজ

আইপিএলে নিজের দল সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে প্রথমবারের মত অনুশীলনে নামলেন মুস্তাফিজ। বিশ্বকাপ শেষে কয়েকদিনের বিরতির পর আইপিএল খেলতে উড়ে গেছেন মুস্তাফিজ। বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মত দলের সঙ্গে অনুশীলনে নামেন মুস্তাফিজ।
Mustafiz-3277
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুস্তাফিজের হাতে তুলে দেয়া সানরাইজার্স হায়দারাবাদের নতুন জার্সি। ৯০ নাম্বার জার্সি পরে মাঠ মাতাবেন মুস্তাফিজ। এছাড়া আগত মিডিয়ার সামনেও পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় মুস্তাফিজসহ দলের অন্যান্য সদস্যদের। নেটে বোলিং অনুশীলন করেন তিনি। তাছাড়া সতীর্থ ট্রেন্ট বোল্টের সাথেও খোশ গল্পে মেতে উঠতে দেখা যায় মুস্তাফিজকে।
১২ই এপ্রিল গেইল-কোহলিদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

সাকিবকে স্বাগত জানালেন কিং খান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ। এরপর দেশে এসে দিন পাঁচেক সস্ত্রীক ভ্রমণ। তারপর আবার বিদেশ ছুটলেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। হালকা বিশ্রামেরও সুযোগ নেই এই ক্রিকেটারের। কলকাতা পৌঁছেই পর দিন নেমে পরলেন অনুশীলনে। এর আগে বিশ্বকাপের জন্য কলকাতা গিয়েছিলেন তিনি। এবার গেলেন আইপিএল খেলতে। আর তাতেই খুশি বলিউড কিং খান খ্যাত অভিনেতা শাহরুখ খান। সাকিবসহ কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) সব ক্রিকেটারকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
কলকাতায় যারাই এসেছে খেলতে তাদেরকে স্বাগত বার্তা জানিয়েছেন শাহরুখ খান। সুদূর কানাডার রকি মাউন্টেন অভিযান শেষ করে যিনি গম্ভীরদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে তাদের শিবিরে যোগ দিতে আসছেন, সেই পেশাদার এক্সপ্লোরার মাইক হর্ন তার ‘নিজের পরিবারে’ ফিরে আসার খবর টুইট করতেই শাহরুখের জবাব, ‘ওয়েলকাম হোম মাই ফ্রেন্ড।’
অস্ট্রেলিয়ান বোলার ব্র্যাড হগ, যিনি গম্ভীরদের সংসারকে মাতিয়ে রাখতে ওস্তাদ, তিনি যখন টুইটারে লিখলেন, ‘আবার আইপিএল চলে এল, নাইট রাইডাররা ফের এক জায়গায়,’ তখন কিং খান তাকে পাল্টা লিখলেন, ‘লাভ ইউ। এখন মজা করার সময়। খুব তাড়াতাড়ি দেখা হবে।,
মঙ্গলবার রাতেই কলকাতা পৌঁছান সাকিব। বুধবার বিকেলে কেকেআরের অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। এর আগে হোটেলে টিম মিটিং সেরে নেন নতুন কোচ জ্যাক ক্যালিসের অধীনে। সহকারী কোচ হিসেবে ছিলেন সাইমন ক্যাটিচও।

হায়দারাবাদে পুল খেলায় ব্যস্ত মুস্তাফিজ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। এবার তার মিশন আইপিএল। সানরাইজ হায়দারাবাদের হয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে গেছেন কাটার মাস্টার। তবে অনুশীলনে নামার আগে সতীর্থদের সাথে পুল খেলায় মেতেছেন টাইগার এই বোলার।
বাংলাদেশ দলের বাইরে একা প্রথম বারের মত বিদেশ সফর করছেন মুস্তাফিজ। বাংলা ছাড়া ইংরেজি কিংবা হিন্দী কোনটাই ঠিক মতো পারেন না তিনি। তাই মূল সমস্যা হয়ে দাড়াচ্ছে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা। হায়দারাবাদে একজনও বাঙালি নেই। তবে ছবি দেখে মনে হচ্ছে না যোগাযোগে কোন সমস্যা হচ্ছে মুস্তাফিজের। দলের সবার সাথে ঠিক মতই নিজেদে মানিয়ে নিয়েছেন কাটার মাস্টার।

আইপিএলের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি

বিশ্বকাপের ময়দানি লড়াই শেষ হয়েছে। মর্যাদার শিরোপা জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে অনেক দেরি। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা দুদিন বাদেই জমজমাট ব্যাট-বলের লড়াই দেখতে পাবেন। আর সেটা ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া আসর আইপিএলে।
৯ এপ্রিল শুরু হচ্ছে চার-ছক্কার ধুন্ধুমার এই আসর। শেষ হবে ২৯ মে। ৫১ দিনের এবারের এই আসরে মোট ৬০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং নতুন দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস।
এবারের আসরে এবং পরের আসর থেকে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় থাকছে না চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়েলস। চেন্নাই ও রাজস্থান অংশ নিতে না পারায় এবারের সূচিতে চেন্নাই ও জয়পুরের দর্শকরা নিজেদের মাটিতে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন।
তবে পুনে ও রাজকোটের দর্শকরা বিশ্বের সেরা এই টুর্নামেন্টটি দেখতে পারবেন নিজেদের শহরে। চেন্নাইয়ের দলটিকে এবার নেতৃত্ব দেবেন মহেন্দ্র সিং ধোনি আর রাজকোটভিত্তিক গুজরাট লায়ন্সের নেতৃত্বে থাকবেন সুরেশ রায়না।
মুম্বাইয়ের স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। চলুন আরো একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক আইপিএলের সময়সূচিতে।

আইপিএল ২০১৬ পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি:

০৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: মুম্বাই ইন্ডিয়ানস বনাম রাইজিং পুনে (মুম্বাই)

১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (কলকাতা)

১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বনাম গুজরাট লায়ন্স (মোহালি)

১২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (বেঙ্গালুরু)

১৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (কলকাতা)

১৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: গুজরাট লায়ন্স বনাম রাইজিং পুনে (রাজকোট)

১৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (দিল্লি)

১৬ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪ টা: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স (হায়দ্রাবাদ)

১৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: মুম্বাই ইন্ডিয়ানস বনাম গুজরাট লায়ন্স (মুম্বাই)

১৭ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টা: কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বনাম রাইজিং পুনে (মোহালি)

১৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (বেঙ্গালুরু)

১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (হায়দ্রাবাদ)

১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স (মোহালি)

২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: মুম্বাই ইন্ডিয়ানস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (মুম্বাই)

২১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: গুজরাট লায়ন্স বনাম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (রাজকোট)

২২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: রাইজিং পুনে বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (পুনে)

২৩ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪ টা: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (দিল্লি)

২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (হায়দ্রাবাদ)

২৪ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪ টা: গুজরাট লায়ন্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (রাজকোট)

২৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: রাইজিং পুনে বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স (পুনে)

২৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (মোহালি)

২৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম রাইজিং পুনে (হায়দ্রাবাদ)

২৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস বনাম গুজরাট লায়ন্স (দিল্লি)

২৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: মুম্বাই ইন্ডিয়ানস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স (মুম্বাই)

২৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: রাইজিং পুনে বনাম গুজরাট লায়ন্স (পুনে)

৩০ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪ টা: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স (দিল্লি)

৩০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টা: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (হায়দ্রাবাদ)

০১ মে বিকাল সাড়ে ৪ টা: গুজরাট লায়ন্স বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (রাজকোট)

০১ মে রাত সাড়ে ৮ টা: রাইজিং পুনে বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (পুনে)

০২-মে রাত সাড়ে ৮ টা: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স (বেঙ্গালুরু)

০৩-মে রাত সাড়ে ৮ টা: গুজরাট লায়ন্স বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (রাজকোট)

০৪-মে রাত সাড়ে ৮ টা: কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (কলকাতা)

০৫-মে রাত সাড়ে ৮ টা: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস বনাম রাইজিং পুনে (দিল্লি)

০৬-মে রাত সাড়ে ৮ টা: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম গুজরাট লায়ন্