রাত ১০:৪৮, বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০১৯ ইং

রাজস্থান রয়্যালসকে ১২ রানে হারিয়ে আইপিএলে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে উঠে এলো কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। নিজেদের মাঠ মোহালিতে মঙ্গলবার রাতে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে পাঞ্জাব। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৭০ রানে থামে রাজস্থানের ইনিংস। পাঞ্জাবের অধিনায়ক ম্যাচ সেরা রবিচন্দ্রন অশ্বিন ২৪ রানে ২ উইকেট তুলে নেন।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে, পাঞ্জাব শুরুটা খারাপ করেনি। ক্রিস গেইল ষষ্ঠ ওভারে ২২ বলে ব্যক্তিগত ৩০ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ময়াঙ্ক আগরওয়াল বিধ্বংসী শুরু করলেও ১২ বলে ২৬ রানেই থামেন। শেষদিকে ডেভিড মিলার ২৭ বলে ৪০ রান করে দলের রানকে ১৮২ রানে পৌঁছে দেন। একেবারে শেষদিকে নেমে অধিনায়ক অশ্বিন মাত্র ৪ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। রাজস্থানের বোলারদের মধ্যে জোফ্রা আর্চার ১৫ রানে ৩টি উইকেট তুলে নেন।

আবার‌ও হার কোহলিদের

হার্দিক হাঙ্গামায়, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ১৭১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে একটা সময়ে কিছুটা চাপে ছিল মুম্বাই। তবে শেষদিকে মাত্র ১৬ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। এই জয়ের ফলে ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আইপিএলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ম্যাচ সেরা লাসিথ মালিঙ্গা ৩১ রানে চার উইকেট নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ধ্বস নামান।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভালো খেলতে থাকেন মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানরা। কুইন্টন ডি কক ২৬ বলে ৪০ ও রোহিত শর্মা ১৯ বলে ২৮ রান করে ভালো শুরু এনে দেন। এরপরে ২৯ রান করে ফেরেন সূর্যকুমার যাদব। ইশান কিষাণও মাত্র ৯ বলে ২১ রান করে ফেরেন। তবে এদিন ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। তিনি ২১ বলে ১১ রান করে কিছুটা চাপ বাড়িয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু তার ভাই হার্দিক পান্ডিয়া মাত্র ১৬ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন। আরসিবি বোলারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল ও মঈন আলী দুটি করে উইকেট তুলে নেন। এই পরাজয়ে টুর্নামেন্টের প্লে অফে ওঠা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে গেল বিরাট কোহলির দলের।

ঠেকানো যাচ্ছেনা ধোনীদের

যেনো ঠেকানোই যাচ্ছেনা মহেন্দ্র সিং ধোনীর দল চেন্নাই সুপার কিংসকে। আইপিএলের ম্যাচে আজ রোববার কোলকাতা নাইটরাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরো সুসংহত করলো চেন্নাই। এতে টানা তিন ম্যাচ হারলো কেকেআর। কোলকাতার ৮ উইকেটে ১৬১ রানের জবাবে দুই বল বাকী থাকতেই ৫ উইকেটে ১৬২ রান তুলে জয় পায় ধোনীরা। নিজ শহরের প্রতিশোধের ম্যাচে পরাজয়ই সঙ্গী হয় নাইটদের। সুরেশ রায়নার অপরাজিত ৫৮ রানে জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই।

ইডেন গার্ডেন্সে, শেষ দু’ ওভারে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ২৪ রান। গার্নির ওভারে উঠে ১৬ রান। শেষ ওভারে জেতার জন্য সিএসকের দরকার ছিল আট রান। চেন্নাই শিবির খুব সহজেই ম্যাচটা জিতে নেয়।

এর আগে, আন্দ্রে রাসেল ঝড় ওঠেনি। তাঁর পরিবর্তে ক্রিস লিন মারমুখী ব্যাটিং করেন। কিন্তু উইকেট ছুড়ে দেওয়ার বদভ্যাসে বড় রান করতে পারেনি কেকেআর। আগের ম্যাচে দীপক চাহার, নাইটদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙেছিলেন। এদিন প্রথম ওভার থেকেই চাহারকে আক্রমণ করে খেলেন ক্রিস লিন। তিনি ভয়হীন ব্যাটিং করলেও অন্য প্রান্ত থেকে উইকেট পড়তে থাকে নিয়মিত।

সুনীল নারাইন (২) ব্যর্থ। নীতীশ রাণা ১৮ বলে ২১ রান করেন। রাণা ও উথাপ্পা ইমরান তাহিরের শিকার। ৩৬ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন লিন। আন্দ্রে রাসেল (১০) শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিলেন। কিন্তু তাহিরের বলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। শার্দুল ঠাকুরের বলে ফেরেন অধিনায়ক কার্তিক। দ্রুত উইকেট পড়তে থাকায় কোলকাতা বড় স্কোর গড়তে পারেনি। ম্যাচ সেরা ইমরান তাহির ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কোলকাতার ব্যাটিংয়ে ধ্বস নামান।

কলকাতাকে হারাল দিল্লি

চিপকের পরে এবার ঘরের মাঠ ইডেনে, টানা দুই ম্যাচ হারল কোলকাতা নাইটরাইডার্স। দিল্লি ক্যাপিটালসের ওপেনার শিখর ধা‌ওয়ানের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে মাথা নীচু করে মাঠ ছাড়তে হল নাইটদের। ধা‌ওয়ান ৬৩ বলে ৯৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ঋষভ পান্ট। ধা‌ওয়ান ও পান্ট ১০৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন। পান্ট (৪৬ রান) যখন সাজঘরে ফেরেন, তখন দিল্লির রান ৩ উইকেটে ১৬২। বাকি কাজটা সারেন ধা‌ওয়ান ও ইনগ্রাম (৮ অপরাজিত)। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১৮০ রান করে ৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে দিল্লি।

টস জিতে কেকেআর-কে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার। শুরুতেই ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ইশান্ত শর্মা। প্রথম বলেই তিনি ফিরিয়ে দেন নাইট ওপেনার জো ডেনলিকে। ইডেনের বুক তখন দুরুদুরু কাঁপছে। তবে কি আবার চিপকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে? নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে নাইটরা করে সাত উইকেটে ১৭৮। এর পুরো কৃতিত্ব শুভমান গিল ও আন্দ্রে রাসেলের।

ডেনলি ফিরে যাওয়ার পরে গিল ও রবিন উথাপ্পা ইনিংস গড়ার কাজটা করেন। উথাপ্পাকে ২৮ রানে ফেরান রাবাদা। নীতীশ রাণা ১১ রান করে ফেরেন ডাগ আউটে। ৩৪ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন গিল। ব্যক্তিগত ৬৫ রানে তিনি ফেরার পরে রাসেল কেকেআরকে এগিয়ে নিয়ে যান। ২১ বলে ৪৫ রান করেন রাসেল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ধা‌ওয়ানের দাপটে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় নাইটদের। পৃথ্বী শ’ ১৪ ও শ্রেয়াস আয়ার ৬ রানে ফিরলেও দিল্লির জিততে বেগ পেতে হয়নি। ধা‌ওয়ান শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে দিল্লিকে জেতান।

রূপকথার জয়ে চেন্নাই শীর্ষে

আবার‌ও একটা রূপকথার জয় পেল চেন্নাই। ত্রাতা সেই মহেন্দ্র সিং ধোনি। কঠিন হয়ে যাওয়া টার্গেটকে সহজ করে দলকে জয় এনে দিলেন তিনি। অপরাজিত থাকতে না পারলেও ধোনির করা ৫৮ রানের ইনিংসে ভর করে শেষ বলে ছক্কা মেরে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ৪ উইকেটে জিতল চেন্নাই সুপার কিংস। তাতে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে তারাই।

প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫১ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস। শেষ ওভারে শার্দুল ঠাকুরের বলে ওঠে ১৮ রান। তা নাহলে দেড়শ’ রানের গণ্ডিও পার হতে পারত না রাজস্থান। শুরুতে অজিঙ্কা রাহানে ১১ বলে ১৪ রান ও জস বাটলার ১০ বলে ২৩ রান করে শুরুটা খারাপ করেননি। তবে দুজনে ফিরে গেলে টানা উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে রাজস্থান। মিডল অর্ডারে স্টিভ স্মিথ ১৫, রাহুল ত্রিপাঠী ১০, বেন স্টোকস ২৮ ও রিয়ান পরাগ ১৬ রান করলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষদিকে জোফ্রা আর্চার ১৩ ও শ্রেয়স গোপাল ১৯ রান করে দলকে দেড়শ’ রানের উপরে সংগ্রহ এনে দেন।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে চেন্নাই শুরুটা একেবারেই ভালো করতে পারেনি। পরপর আউট হয়ে ফেরেন দুই ওপেনার শ্যেন ওয়াটসন (০) ও ফাফ ডু প্লেসিস (৭)। সুরেশ রায়নাও ৪ রানে কাটা পড়েন। চার নম্বরে নামা অম্বাতি রাইডু খেলা ধরার চেষ্টা করলেও কেদার যাদব ১ রানে ফিরে যান। এরপরে নামেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। রাইডু ও ধোনি লম্বা পার্টনারশিপ গড়েন। রাইডু ৫৭ রান করে ফেরেন। শেষ ধোনি শেষ ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে করেন ৫৮ রান। শেষ বলে বাকী ছিল ৩ রান। তবে মিচেল স্যান্টনার ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেয়।

এই জয়ে চেন্নাই ৭ ম্যাচ ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রইল। হেরে রাজস্থান ছয় ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে চলে গেল।

পোলার্ড তান্ডবে মুম্বাইয়ের জয়

প্রথম ইনিংসে তাণ্ডব দেখিয়েছিলেন ক্রিস গেইল। পরের ইনিংসে মহাতাণ্ডব দেখালেন আর এক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান, কাইরন পোলার্ড। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের করা ১৯৭ রান তাড়া করতে নেমে হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন তিনি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ইনিংসের একেবারে শেষ বলে ৩ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বুধবার রাতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও গেইলের ব্যাটিং ঝড়ে ৪ উইকেটে ১৯৭ রান তোলে। মুম্বাইয়ের ‌ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শুরুতে স্বাগতিকদের বোলিংকে আক্রমণ শুরু করেন গেইল। মাত্র ৩৬ বলে ৬৩ রান করে ফিরে যাওয়ার পরে বাকী কাজটা সারেন লোকেশ রাহুল। মাত্র ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৪ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন, আইপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি করা রাহুল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি মুম্বাই। প্রথমবার খেলতে নামা সিদ্ধার্থ লাড চালিয়ে খেলছিলেন। তবে মোহাম্মদ শামির বলে ১৫ রানে ফেরেন। আর এক ওপেনার কুইন্টন ডি কক ২৪ ও তিন নম্বরে নামা সূর্যকুমার যাদব ২১ রানে ফেরেন। এরপর মুম্বাই ব্যাটিংকে একা টেনে নিয়ে যান পোলার্ড। শুধু রান করাই নয়, বিস্ফোরক ব্যাটিং করেন। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৮৩ রান করে তিনি যখন ফিরছেন তখন মুম্বাইয়ের চার বলে চার রান বাকী। শেষ বলে ২ রান নিয়ে জয় পায় মুম্বাই। চোটের কারণে অধিনায়ক রোহিত শর্মার বদলে দায়িত্ব পালন করেন পোলার্ড। ৭ উইকেটে ১৯৮ রান করে জয় পায় মুম্বাই।

সবার শীর্ষে চেন্নাই

কোলকাতা নাইটরাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে সবার শীর্ষে উঠে গেলো মহেন্দ্র সিং ধোনীর দল চেন্নাই সুপার কিংস। চেন্নাইয়ে কোলকাতার দেয়া ১০৯ রানের টার্গেট ১৬ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে ১১১ রান তুলে জয় পায় চেন্নাই।

প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে কোলকাতা। ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৫০ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেললে‌ও আন্দ্রে রাসেল দানবীয় ব্যাটিং করতে পারেন নি। তার বড় স্কোর গড়া হয়নি কোলকাতা নাইটরাইডার্সের। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১০৮ রান তোলে কোলকাতা। ম্যাচ সেরা চেন্নাইয়ের বোলার ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কোলকাতার ধ্বস নামান।

জবাবে, ১০৯ রানের টার্গেটে নেমে খুবই সাবধানী সুচনা করে চেন্নাই সুপার কিংস। ধীর-স্থির এবং ছোটো ছোঠো জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন খেলোয়াড়রা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ফ্যাফ ডুপ্লেসিস। ‌ওয়াটসন ১৭ আর রাইডু করেন ২১ রান। তাতে ৩ উইকেটে ১১১ রান তুলে জয় পায় চেন্নাই।

হায়দরাবাদকে হারিয়ে পাঞ্জাবের রুদ্ধশ্বাস জয়

সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএলে) লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দুই দলই ম্যাচ শুরুর আগে ছিল একই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। যদিও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ লিগ তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকলেও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব নেট রান রেটের কারণে ষষ্ঠ স্থানে ছিল। তবে ঘরের মাঠে শক্তিশালী হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আইপিএল লিগ তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এল পাঞ্জাব।

টসে জিতে পাঞ্জাব হায়দরাবাদকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। খুব ধীরগতিতে শুরু করে হায়দরাবাদ। প্রথম ১০ ওভারে তোলে ৫০ রান। পরের অর্ধে ওঠে ১০০ রান। সবমিলিয়ে ৪ উইকেটে ১৫০ রানে শেষ হয় হায়দরাবাদের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে ক্রিস গেইলের (১৬ রান) উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে লোকেশ রাহুল ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল সামলে নেন। মায়াঙ্ক ৫৫ রানে ফিরে গেলেও রাহুল শেষ পর্যন্ত ৭১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরেন। হায়দরাবাদের বোলার সন্দীপ শর্মা ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। রশিদ খান ২০ রানে ১টি উইকেট নেন। তবে ছোট লক্ষ্য হওয়ায় সহজেই তা অতিক্রম করে যায় পাঞ্জাব।

আলজারির রেকর্ডের দিনে হায়দ্রাবাদের পরাজয়

পারেনি হায়দরাবাদ। বলা যায় তাদেরকে পারতে দেয়া হয়নি। হায়দরাবাদের পরাজয়ের দিনে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন মুম্বাইয়ের ‌ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলার আলজারি জোসেফ। মাত্র ১৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করে মাত্র ৯৬ রানে অলআউট সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তাতে ৪০ রানের জয় মুম্বাইয়ের।

নির্ধারিত ৪ ওভারের কোটা শেষ করার আগে(৩.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে) ১২ রান খরচ করে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে সানরাইজার্স ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সূর্যাস্তে পাঠালেন নবাগত আলজারি। অভিষেক ম্যাচে নায়ক ২৩ বছরের ক্যারিবিয়ান সেনশেসন। ১৩৬ রানের পুঁজির ভরসায় লড়াইয়ে নেমে আলজারির বিধ্বংসী বোলিংয়ের ভর করেই ৪০ রানে ম্যাচ জিতল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স৷ সানরাইজার্সের ইনিংস গুটিয়ে যায় ৯৬ রানে৷ হায়দরাবাদের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন দীপক হুডা।

৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন আলজারি। সেই সঙ্গে আইপিএলের বারো বছরের ইতিহাসেও রেকর্ড গড়লেন ডানহাতি পেসার। এতদিন অভিষেক ম্যাচে অ্যান্ড্রু টাইয়ের পাঁচ উইকেটই ছিল সেরা স্পেল। টাইকে সরিয়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে আইপিএল টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সেরা বোলিং অভিষেকের রেকর্ড গড়ে ফেললেন আলজারি। এদিন তাঁর শিকারের তালিকায় রয়েছেন ওয়ার্নার, বিজয় শংকর, দীপক হুডা ও আরও তিন।

দিল্লিকে হারিয়ে শীর্ষে হায়দরাবাদ

আবার‌ও হারল দিল্লি ক্যাপিটালস। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির মতো একজন ‘উপদেষ্টা’ এবং রিকি পন্টিংয়ের মতো কোচ থাকা সত্ত্বেও দিল্লির ব্যাটিং বিপর্যয় ঠেকানো যাচ্ছে না। তাতে সানরাজার্স হায়দরাবাদ তাদেরকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে এবং ৯ বল হাতে রেখেই।

বৃহস্পতিবার সাইরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধেও ফের ব্যাটিং ভরাডুবি হল। শ্রেয়স আয়ার (৪৩) ও অক্ষর পটেল (২৫) ছাড়া বলার মতো কেউ রান পাননি। ফলে, ১৮.৩ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ জিতে যায় হায়দরাবাদ।

আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ তোলে দিল্লি ক্যাপিটালস। ১৮.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩১ তুলে, ম্যাচ জিতে নেয় হায়দরাবাদ। এদিনের জয়ের সঙ্গেই আইপিএল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে চলে যায় সানরাইজার্স। তিন ম্যাচ জিতে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।

কিংস ইলেভেন পঞ্জাব ও চেন্নাই সপার কিং-ও ছয় পয়েন্ট করে পেয়েছে। কিন্তু, ভালো রান রেটের কারণে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় হায়দরাবাদ। ২৮ বলে ৪৮ করে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন জনি বেয়ারস্টো।

বিরাটদের টানা চার পরাজয়

টানা চার ম্যাচেই পরাজয়। দৈন্যদশা কাটল না বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর। তাতে প্রথম তিন ম্যাচ হারের পর চলতি আইপিএলে প্রথম জয়ের দেখা পেল রাজস্থান রয়্যালস। আজ মঙ্গলবার রাতে পিঙ্ক সিটি রাজস্থানে আরসিবিকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে স্বাগতিকরা। অবশ্য রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে ১ বল বাকি থাকতে ১৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে থ্রিলার জয় তুলে নিল রাজস্থান রয়্যালস।

আইপিএল অভিযানে শুরু থেকে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স কিংবা রাজস্থান রয়্যালস। তাই জয়ের ছন্দ খুঁজে পেতে মরিয়া দু’দলই একাধিক পরিবর্তন করে মাঠে নামে। নিজেদের মাঠে টস জিতে কোহলিদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান রাহানে। অধিনায়ক হিসেবে মাইলস্টোন গড়ার দিনে ব্যাট হাতে সফল হতে পারলেন না আরসিবি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। উদ্বোধনী জুটিতে পার্থিবকে নিয়ে দরের সঙ্গে ৪৯ রান যোগের পর ব্যক্তিগত ২৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বিরাট।

ডি ভিলিয়ার্স (১৩) কিংবা শিমরন হেটমেয়ারও (১) সফল হতে পারেননি। এরপর দলের হাল ধরেন পার্থিব-স্টোনিস জুটি। চতুর্থ উইকেটে তারা ৫৩ রানের পার্টনারশিপ দলের রানকে কিছুটা মজবুত জায়গায় নিয়ে যান। ফিফটি করে ৬৭ রানে ডাগ আউটে ফেরেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান পার্থিব। এরপর মইন আলিকে সঙ্গে নিয়ে আরসিবির রান ১৫০ পার করেন অজি অলরাউন্ডার স্টোনিস। ২৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৫৮ রানের পুঁজি পায় আরসিবি।

জবাবে শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে শুরু করেন রাজস্থানের ইংরেজ ওপেনার জস বাটলার। রাহানে-বাটলারের ওপেনিং জুটিতে ৬০ রান উঠতেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই ঝুঁকে যায় রাজস্থানের দিকে। অধিনায়ক রাহানে ২২ রানে ফিরলেও স্টিভ স্মিথকে নিয়ে দলের রান ১০০’র গন্ডি পার করেন বাটলার।

অর্ধশতরান পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে ডাগআউটে ফেরেন ইংরেজ ব্যাটসম্যান। এরপর রাহুল ত্রিপাঠির সঙ্গে জুটি বেঁধে তৃতীয় উইকেটে ৫০ রান যোগ করেন স্টিভ স্মিথ। একাধিক ক্যাচ মিস করে রাজস্থানকে সহজ জয়ের সুযোগ করে দেন কোহলির দলের ফিল্ডাররা। ১৯ ওভারের শেষ বলে ৩৪ বলে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে আউট হন স্মিথ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজস্থানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। বেন স্টোকসকে নিয়ে ১ বল বাকি থাকতেই দলকে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দেন ত্রিপাঠি। ২৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা শ্রেয়াস গোপাল।

আইপিএলে মুম্বাইয়ের জয়

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ৬ রানে হারিয়ে আইপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পেলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ১৮৮ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে, নির্ধারিত ওভারে ১৮১ রানে থামে ৫ উইকেট হারানো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রান করে অপরাজিত থাকেন ডি ভিলিয়ার্স। আর আইপিএলে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া বিরাট কোহলি করেন ৪৬ রান। মুম্বাইয়ের বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ব্যাঙ্গালোরের ধ্বস নামান।

এর আগে, ব্যাঙ্গালোরের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে, প্রথমে ব্যাট করে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার ১৪ বলে ৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। যুবরাজ ২৩ আর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ব্যাঙ্গালোরের বোলারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল ৩৮ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন।

টানা দুই জয়ে শীর্ষে কলকাতা

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ২৮ রানে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় কলকাতা নাইটরাইডার্স। টানা দু’ ম্যাচ জিতে দ্বাদশ আইপিএল দারুণ শুরু করল কিং শাহরুখ খানের দল। সেই সঙ্গে লিগ টেবিলের এক নম্বরে উঠে গেল কেকেআর। নাইটদের পরের ম্যাচ শনিবার ফিরোজ শাহ কোটলায়, দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে।

ইডেন গার্ডেন্সে নাইটদের বিরুদ্ধে রেকর্ড রান তাড়া করতে নামেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও ক্রিস গেইল। ২১৯ রান তাড়া করে ২০ ওভার শেষে কিংস ইলেভেন চার উইকেটে ১৯০ রান তোলে। ডেভিড মিলার ৪০ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৯ এবং মনদীপ সিং ১৫ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মৈনাক আগার‌ওয়ালের ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান। কেকেআরের বোলারদের মধ্যে ম্যাচ সেরা আন্দ্র রাসেল ২১ রানে ২ উইকেট তুলে নেন।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে, ২০ ওভারে কেকেআর চার উইকেটে তোলে ২১৮ রান। কিংস ইলেভেনের সামনে বড় রানের টার্গেট রাখল নাইটরা। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও রাসেল ধামাকা। ইডেনে আইপিএলের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। নারিন-রানা-রবিন-রাসেলের ব্যাটে ইডেনে রেকর্ড স্কোর নাইটদের।

ইনিংসের শেষ বলে বাউন্ডারি নাইট অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের। নো-বলে রাসেলের জীবন দানের পর মাত্র ১৯ বলে ৫৬ রান তোলে কেকেআর৷ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন রবিন উথাপ্পা। নিতিশ রানা ৩৪ বলে ৬৩ রান করেন। আর আন্দ্রে রাসেল ১৭ বলে ৪৮ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন।

রাসেল আউট..১৭ বলে ৪৮ রান করে ডাগ-আউটে ফিরলেন রাসেল৷ পাঁচটি ছক্কা ও তিনটি বাউন্ডারি মারেন ক্যারিবিয়ান বিগ-হিটার৷

হেরে গেল রাজস্থান

হেরে গেল রাজস্থান। শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে দরকার ছিল ২১ রান। মাত্র ৬ রানের বেশি তুলতেই পারল না স্টিভ স্মিথের দল রাজস্থান রয়্যালস। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা তুলল ১৭০ রান। তাতে আইপিএলের প্রথম ম্যাচটি হার দিয়ে শুরু করল তারা।

href=”http://bangladesherkhela.com/wp-content/uploads/2019/03/KP-03.jpg”>

শেষ ওভারের প্রথম বলেই আউট হন জয়দেব উনাদকাট। নিজের বলেই ক্যাচ ধরলেন অঙ্কিত রাজপুত। পরের বলেই আউট কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। এবার তালুবন্দি করেন মোহাম্মদ শামি।

এর আগে পাঞ্জাবের ১৮৪ রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল রাজস্থান রয়্যালস। বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করেন জস বাটলার। তাঁর ৬৯ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংসটি সাজানো ছিল দুটি ছক্কা এবং দশটি চার দিয়ে। মাত্র ৪৩ বলে এই রান করেন তিনি। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও খেলছেন অতি ভরসাযোগ্য এক ইনিংস। বাটলারকে যোগ্য সহায়তা করছিলেন তিনি। তারপরই যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

রাহানেকে বোল্ড করেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তারপরই মুহূর্তের অসতর্কতায় ফিরে যান জস বাটলারও। বল করছিলেন অশ্বিন। তিনি নন-স্ট্রাইকার এন্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্রিজ থেকে দু’পা এগিয়ে গিয়েছিলেন বাটলার। অশ্বিন বল করা থামিয়ে দিয়ে বেলস ফেলে দেন। দৃশ্যতই প্রবল অসন্তুষ্ট বাটলার মাথা নাড়তে নাড়তে ফিরে যান ড্রেসিংরুমে। অশ্বিনের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এর আগে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ২০ ওভারের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে তুলল ১৮৪ রান। মাঠে ঝড় তুললেন ক্রিস গেইল! ৪৭ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। সোমবার রাতে মানসিংহ স্টেডিয়ামে নিজেদের আইপিএল সফর শুরু করল প্রথমবারের চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালস।

রাসেল ঝড়ে হার সাকিবের হায়দ্রাবাদের

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এবারের আইপিএলে জয় দিয়ে শুরু করল দীনেশ কার্তিকের দল কোলকাতা নাইটরাইডার্স। অবশ্য নাইটদের ব্যাটিংয়ে ১৫.২ ওভার নাগাদ ফ্লাডলাইটের কিছু আলো বন্ধ হয়ে যায়। আলো ফিরতেই ইডেনে শুরু হয় রাসেল ঝড়। আর সেই ঝড়েই কুপোকাত হায়দরাবাদ। ক্যারিবিয়ান বিগ হিটারের দাপটে আইপিএলের দ্বাদশ আসর জয় দিয়েই শুরু করল কোলকাতা।

অবশ্য খেলার শুরুতে ইডেন গার্ডেন্সে ‌ওঠে কমলা রঙের ঝড়। ডেভিড ওয়ার্নারের ৮৫, জনি বেয়ারস্টোর ৩৯ এবং বিজয় শঙ্করের অপরাজিত ৪০ রানে প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ তোলে ৩ উইকেটে ১৮১ রান। নয় চার আর তিন ছক্কায় ৫৩ বলে ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার আগে অবশ্য ৩৫ বলে ৩৯ রান করে আউট হন জনি বেয়ারস্টো। প্রথম উইকেটে ১১৮ রানের পার্টনারশিপ হায়দরাবাদের। এরপর বিজয় শঙ্কর ২৪ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন। সুনীল নারিন, কুলদীপ যাদবরা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ৩২ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন আন্দ্রে রাসেল।

জবাবে, ১৮২ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাকিব আল হাসান তুলে নেন ক্রিস লিনের উইকেট। বিপদে পড়ে কোলকাতা। এরপর নীতিশ রানা ও রবিন উথাপ্পা জুটি টেনে তোলেন নাইটদের। কিন্তু পর পর উইকেট হারিয়ে আবার‌ও চাপে পরে কোলকাতা। রানা ৬৮ আর উথাপ্পা ৩৫ রান করেন। মাত্র ২ রান করেন দীনেশ কার্তিক। এরপরেই ইডেনে নামে রাসেল ঝড়। তাতে লন্ডভন্ড সাকিবের হায়দরাবাদের সকল প্রতিরোধ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন তিনি। আর ১০ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন শুভমান গিল। তাতে দুই বল বাকি ম্যাচ জিতে নেয় শাহরুখ খানের দল।

আইপিএলে জয়ে শুরু চেন্নাইয়ের

কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেন না বিরাট কোহলিরা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে আইপিএলে চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে যাত্রা শুরু করল চেন্নাই সুপার কিংস। এদিন আরসিবি-কে মাত্র ৭০ রানে অল আউট করে সিএসকে।

চেন্নাইয়ের স্পিনারদের সামনে কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেননি কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সরা। চেন্নাইয়ের হয়ে ৯ রানে ৩ উইকেট নেন ইমরান তাহির। ২০ রানের খরচায় হরভজন‌ও তুলে নেন ৩ উইকেট।

আগে ব্যাট করে, বিরাট কোহলি (৬) ও এবি ডিভিলিয়ার্স (৯) প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল চেন্নাই। কোহলি ফিরে যাওয়ার পরে তিন নম্বরে নামা মঈন আলি ৯ রানে এবংডি ভিলিয়ার্সও ৯ রানে ফেরেন। সকলের চোখ ছিল শিমরান হেটমায়ারের দিকে। তবে শূন্য রানে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি। তারপরে নামা শিবম দুবে (২), কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমরাও (৪) রান করতে ব্যর্থ হন। আরসিবি-র হয়ে একমাত্র পার্থিব প্যাটেল ২৯ রান করেন। আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

জবাবে চেন্নাই ১০ বল বাকী থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ৭১ রান তুলে জয় পায়। অাম্বাতি রাইডু ২৮, সুরেশ রায়না ১৯ করলেও শেন ওয়াটসন শূন্য রানে ফেরেন। কেদার যাদব ১৩ ও রবীন্দ্র জাদেজা ৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরেন।

ফিট থাকলে আইপিএল খেলবেন সাকিব

টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের আইপিএল খেলার অনুমতি আছে, তবে খেলতে যাওয়ার আগে শতভাগ ফিটনেস থাকতে হবে তার। আইসিসি ও কোকাকোলার গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ঘোষণার অনুষ্ঠান শেষে একথা বলেন, বিসিবি’র পরিচালক জালাল ইউনুস।

তিনি বলেন, পুরোপুরি ফিট থাকলে আইপিএলে সাকিবের খেলা নিয়ে কোন সমস্যা নেই। তবে আইপিএলের পরই যেহেতু বিশ্বকাপ তাই তার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে, যেন আবারও ইনজুরির শঙ্কায় না পড়েন সাকিব আল হাসান।

আইসিসি-কোকাকোলার চুক্তির এই অনুষ্ঠানে আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার ক্যাম্পবেল জেমিসন, কোকাকোলার সাউথ ওয়েস্ট এশিয়া অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট সন্দীপ বাজোরিয়া এবং বিসিবি’র কর্মকর্তাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আইপিএল ভারতেই শুরু ২৩ মার্চ

নির্বাচনের কারণে আগে দুবার দেশের বাইরে হয়েছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএল। এবার‌ও লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে তেমনই শংকা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেটি হচ্ছেনা। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা এল আইপিএলের দ্বাদশ আসর হবে ভারতেই। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৩ মার্চ। দেশে লোকসভা নির্বাচনের কারণে এই টি-টোয়েন্টি লিগের খেলা এবার দেশের মাটিতে হবে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে দেখা দিয়েছিল সংশয়। মঙ্গলবার সেই ধোঁয়াশা কেটে যায়। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসকরা এদিন নয়াদিল্লিতে আসন্ন আইপিএলের ভেন্যু ও সূচি নির্ধারণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেন।

সাধারণত এপ্রিল-মে মাসেই আইপিএলের আসর বসে। এবার সেদেশে নির্বাচনের কারণে টুর্নামেন্ট এগিয়ে এল আনা হয়। অবশ্য অতীতে দু’বার নির্বাচনের জন্য আইপিএল ভারতের বাইরে চলে গিয়েছিল। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসর বসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। আর ২০১৪ সালে আইপিএলের আংশিক আয়োজন করা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

এবারও ধারণা করা হয়েছিল তেমনটাই হতে পারে। শেষে জানা যায় ভারতেই হচ্ছে খেলা। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর কথা জানা গেল‌েও ফাইনালের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আইপিএলে যতো পুরস্কার

এবারের আইপিএল আসরে বেশকিছু পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ফাইনাল শেষে এই পুরস্কারগুলো দেয়া হয়। যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন তাদের নাম নিচে দে‌ওয়া হলো।

স্টাইলিশ প্লেয়ার: রিশাভ প্যান্ট (দিল্লি ডেয়ারডিয়াভিলস)।

ইমাজিং প্লেয়ার: রিশাভ প্যান্ট (দিল্লি ডেয়ারডিয়াভিলস)।

মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার: সুনিল নারাইন (কলকাতা নাইট রাইডার্স)।

সেরা ক্যাচ: ট্রেন্ট বোল্ড (দিল্লি ডেয়ারডিয়াভিলষ)।

সুপার স্টাইকরেট: সুনিল নারাইন (কলকাতা নাইট রাইডার্স)।

সবচেয়ে বেশি উইকেট: অ্যান্ড্রু টাই (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব)।

সর্বোচ্চ রান: কেন উইলিয়ামসন (সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ)।

ফেয়ার প্লে: অদিত্য তাবে (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)।

তৃতীয়বার আইপিএল ট্রফি জিতল চেন্নাই

শেন ‌ওয়াটসেনর অপরাজিত সেঞ্চুরিতে তৃতীয়বার আইপিএল ট্রফি জিতল চেন্নাই সুপার কিংস। প্রতিযোগিতার ফাইনালে তারা ৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটে পরাজিত করে সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে। আর তিনবার ট্রফি জয় করে রোহিত শর্মার রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেললেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।

১৭৯ রানের টার্গেটে নেমে চেন্নাই দলের ১৬ রানেই হারায় ফ্যাফ ডু প্লেসিসের উইকেট। অন্য ওপেনার ওয়াটসন ১১ বলে প্রথম রান পেলে‌ও স্বমুর্তি ধারণ করতে সময় নেননি। ৫১ বলে করেন সেঞ্চুরি। এবারের আইপিএলে এটি ‌ওয়াটসেনর দ্বিতীয় শতরান। শেষ পর্যন্ত ৫৭ বলে ১১ চার আর ৮ ছক্কায় ১১৭ রানে শিরোপা জেতানো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন এই অজি ব্যাটসম্যান। সুরেশ রায়না ৩২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। আর অম্বাতি রাইডু ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

https://www.iplt20.com/video/144838

মুম্বাইয়ের ‌ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান ক্যাপ্টেন কুল মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পরে ব্যাট করা দলের জেতার নিয়ম হয়ে গিয়েছে। ধোনিও সেই কারণেই প্রতিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠান।

ব্যাট করতে নেমে রান আউট হয়ে ফেরেন ফাইনালে সুযোগ পাওয়া শ্রীবৎস গোস্বামী। চোটের কারণে ঋদ্ধিমান সাহা খেলতে পারেননি। এর পর আক্রমণাত্মকভাবেই ইনিংসের হাল ধরেন শিখর ‌ও উইলিয়ামসন। উইলিয়ামসন ৪৭ রানে ফিরতেই রান রেট কিছুটা কমে যায় হায়দ্রাবাদের। আউট হয়ে যান শাকিবও(২৩)। কিন্তু ইউসুফ পঠানের মারকাটারি ৪৫ এবং কার্লোস ব্রাথওয়েটের ঝড়ো ২১ রান হায়দ্রাবাদকে ১৭৮ রানের একটি সম্মানজনক স্কোর এনে দেয়। এই রান যে শিরোপা জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না পরে চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানরা তা প্রমান করেন।

আইপিএলের ফাইনাল আজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের শিরোপা লড়াইয়ে আজ রবিবার চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে সাকিবের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এ নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফ্রাঞ্চাইজি লিগে, তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলতে চলেছেন সাকিব আল হাসান।

এর আগে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে দুবার ফাইনাল খেলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সানরাইজার্সের জন্য ম্যাচটি যেমন শিরোপা পুনরুদ্ধারের তেমনি প্রতিশোধেরও। এ মৌসুমে আগের তিন সাক্ষাতেই মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের বিপক্ষে হেরেছে কেন উইলিয়ামসনের দল। সবশেষ ২০১৬ তে আইপিএলের শিরোপা জিতেছিলো হায়দ্রাবাদ। মুম্বাইয়ে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুখোমুখি হবে দু দল।

রশিদ খানের অলরাউন্ড নৈপুন্যে ফাইনালে হায়দ্রাবাদ

আফগান বোলার রশিদ খানের অলরাউন্ড নৈপুন্যে আইপিএলে দ্বিতীয় কোয়লিফায়ারে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠলো সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। আগামী ২৭ মে শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ মহেদ্র সিং ধোনির দল চেন্নাই সুপার কিংস।

হায়দ্রাবাদের দেওয়া ১৭৫ রানের টার্গেটে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে কলকাতার দুই বিদেশি খেলোয়াড় সুনিল নারাইন ও ক্রিস লিন। ব্যক্তিগত ২০ রানে আউট হন নারাইন। ৮ রানে থাকা কলকাতার অধিনায়ক দিনেশ কার্তিকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান সাকিব। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করে রশিদ খানের বলে লেগ বিফোর হন ক্রিস লি। শেষ ১২ বলে ৩০ রান প্রয়োজন ছিলো নাইটদের, হাতে ছিলো ৪ উইকেট। কিন্তু হায়দ্রাবাদের বোলাদের নৈপূণ্যে ১৫ রানে বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারানো কলকাতার ইনিংস থামে ১৬০ রানে। ফলে ১৪ রানে জয় পায় কেন উইলিয়ামসনের দল। সানরাইজার্সের রশিদ খান ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচ সেরা।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রশিদ খানের ১০ বলে ৩৪ রান, শিখর ধা্ওয়ানের ২৪ বলে ২৪ এবং সাকিবের ২৪ বলে ২৮ রানের ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। রবিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সিরোপার জন্যা লড়বে হায়দ্রাবাদ ও চেন্নাই সুপার কিংস।

এলিমিনেটরে কলকাতার জয়

এলিমিনেটর রাউন্ডে রাজস্থান র‌্যায়েলসকে ২৫ রানে হারিয়ে ফাইনালের আশা বাচিয়ে রাখল শাহারুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এতে আগামী ২৫ মে দ্বিতীয় কোয়লিফায়ার ম্যাচে সাকিব আল হাসানের দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে মাঠে নামবে কলকাতার নাইটরা।

কলকাতার দেওয়া ১৭০ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমেই আক্রামণাত্বক ব্যাটিং করতে থাকে দুই ওপেনার অজিঙ্কা রাহানে ও রাহুল ত্রিপাঠি। ৫ ওভারেই দলের স্কোরে তারা জমা করেন ৪৭ রান। ত্রিপাঠি ২০ রান করে আউট হলে সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে ৬২ রানের জুটি গড়েন রাহানে। রাহানে ৪১ বলে ৪৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ।দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন সঞ্জু স্যামসন। শেষ ১৮ বলে ৪৩ রান প্রয়োজন ছিলো রাজস্থান রয়্যালসের। কিন্তু কলকাতার বোলাদের বোলিং নৈপূণ্যে ১৮ রান তুলতে পারে রাহানেরা। ৪ উইকেট হারানো রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংস থামে ১৪৪ রানে। ফলে ২৫ রানে জয় পায় দিনেশ কার্তিকের দল। কলকাতার বোলারদের মধ্যে পিযুষ চাওলা ২৪ রানে নেন ২ উইকেট।

এর আগে, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে অধিনায়ক দিনেশ কার্তিকের ৩৮ বলে ৫২ এবং অান্দ্রে রাসেলের ২৫ বলে ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে কলকাতা।

প্লে-অফ কোলকাতা

আইপিএলে ডু আর ডাই ম্যাচে হায়দ্রাবাদকে ৫ উইকেট হারিয়েছে বলিউড বাদশা শাহারুখ খানের দল কোলকাতা নাইট রাইডার্স। তাতে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকেই প্লে-অফ নিশ্চিত করলো কোলকাতা।

হায়দ্রাবাদের দেয়া ১৭৩ রানে টার্গেটে নেমে আক্রামণাত্মক ব্যাটিং করে দুই ওপেনার সুনিল নারাইন ও ক্রিস লিন। মাত্র ৩.৪ ওভারে দলের স্কোরেজমা করেন তারা ৫২ রান। সুনিল নারাইন ভয়ংকর হবার আগে ১০ বলে ২৯ রান করেন। তাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান সাকিব আল হাসান। এরপর ক্রিস লিন ও রবিন উথাপ্পা দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লক্ষের কাছে চলে আসে কলকাতা। ক্রিস লিন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন। রবিন উথাপা করেন ৪৫ রান। শেষ পর্যন্ত ২২ বলে ২৬ রান করে দলেকে জিতেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক।হাদ্রাবদের হয়ে প্রথম খেলতে নামা কার্লোস ব্রেথওয়েট ২১ রানে তুলে নেন ২ উইকেট।

এর আগে রাজিব গান্ধি আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ব্যাটিং নেমে ভালো শুরু এনে দেন শিখর ধাওয়ান ও শ্রীবৎস গোস্বামী। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৭৯ রান। শ্রীবৎস গো্স্বামী ২৬ বলে ৩৫ রানে আউট হলে, পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৩৯ বলে ফিফটি তুলে নেনে শিখর ধাওয়ান। ৩৬ রান করেন হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসান। ব্যাট হাতে সাকিব করেন ৭ বলে দুই চারে করেন ১০ রান। শেষ পর্যন্ত হায়দ্রাবাদের ইনিংস থামে ১৭২ রানে।

কোহলিদের বিদায়

আইপিএলে প্লে-অফের ‌ওঠার ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে ৩০ রানে হেরে আসর থেকে বিদায় নিলো বিরাট কোহলির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। এতে প্লে-অফের খুব কাছে এখন রাহনেরা। প্লে-অফের জন্য তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে মুম্বাই ম্যাচের দিকে।

রাজস্থানের দেওয়া ১৬৫ রানের টার্গেটে ভালো সূচনা করে ব্যাঙ্গালুরু। তবে ম্যাচ সেরা গোপালের বোলিং তোপে ১৩৪ রানে থেমে যায় বেঙ্গালুরু ইনিংস। বিরাট কোহলি ৪ রানে গৌতমের বলে আউট হলে দ্বিতীয় উইকেটে পার্থিব প্যাটেলের সাথে ৫৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৩৩ রান করে প্যাটেল প্যাভিলিয়নে ফিরলে আর কোন ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্সকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি। ডি ভিলিয়ার্স সর্বোচ্চ ৫৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। রাজস্থানের রয়্যালসের শ্রেয়াস গোপাল নেনে ১৬ রানে ৪ উইকেট।

আপরদিকে প্রথমে ব্যাটিং নেমে রাহুল ত্রিপাঠির ৫৮ বলে ৮০ রান। অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানের ৩১ বলে ৩৩ রান এবং প্রিটোরিয়ার ব্যাটসম্যান হেইনরিচি ক্লাসেনের ২১ বলে ৩২ রানের উপর ভর করে ১৬৪ রান স্কোর বোর্ড জমা করে রাজস্থান।

প্লে-অফের পথে ব্যাঙ্গালুরু

সাকিবদের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ১৪ রানে জয় পেয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তাতে ১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এলো বিরাট কোহলির দল।

ব্যাঙ্গালুরুর দেওয়া ২১৯ রানে টার্গেটে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন দু্‌ই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও অ্যালেক্স হেলস। ধাওয়ান ১৫ বলে ১৮ রানে করে আউট হন। এবি ডি ভিলিয়ার্সের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হ‌ওয়ার আগে ২৪ বলে ৩৭ রান করেন অ্যালেক্স হেলস। এরপর অধিনায়ক কেন
উইলিয়ামসের সাথে ১৩৫ রানে জুটি গড়েন মানিশ পান্ডিয়া। কেন উইলিয়ামসন ৮১ রানে আউট হলে ম্যাচ চলে যায় ব্যাঙ্গালুরু হাতে। শেষে ওভারে হায়দ্রাবাদের জয়ে প্রয়োজন ছিলো ২০ রান। তবে সেই ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে ব্যাঙ্গালুরুকে ১৪ রানের জয় এনে দেন মোহাম্মদ সিরাজ। মানিশ পান্ডিয়া শেষ পর্যন্ত অপারিজিত থাকেন ৬২ রানে।

এর আগে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টসে হরে ব্যাটিং নেমে মাত্র ৬ রানে পার্থিব প্যাটলের উইকেট হরায় ব্যাঙ্গালুরু। অধিনায়ক বিরাট কোহলি‌ও ১২ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেন নি। পরে মঈন আলীকে সাথে নিয়ে তৃতীয় উইকেট ১০৭ রানের জুটি গড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ম্যাচ সেরা ডি ভিলিয়ার্স ৩৯ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন। মঈন আলির ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান। শেষদিকে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ১৭ বলে ৪০ রান ও সরফরাজ খানের ৮ বলে ২২ রানের ঝড়‌ে ৬ উইকেটে ২১৮ রান তোলে ব্যাঙ্গালুরু। হায়দ্রাবাদের হয়ে রাশিদ খান ২৭ রানে নেন ৩ উইকেট। তবে সাকিব আল হাসান ছিলেন উইকেট শূন্য। এদিকে, ৪ ওভারে ৭০ রান দিয়ে এবারের আসরে রেকর্ড গড়েন বাসিল থাম্পি।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মুম্বাইয়ের জয়

আইপিএলে প্লে-অফে উঠার লড়াইয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ৩ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে আসলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।এই জয়ে ১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে এখন মুস্তাফিজদের দল মুম্বাই।

মুম্বাইয়ের দেওয়া ১৮৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে, ১১ বলে ১৮ রান করে গেইল আউট হন। পরে অ্যারন ফিঞ্চকে নিয়ে ১১১ রানের জুটি গড়েন লোকেশ রাহুল। ফিঞ্চ ব্যাক্তিগত ৩৫ বলে ৪৬ রানে বুমরাহ বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়েনে ফেরেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন লোকেশ রাহুল। শেষ ওভারে পাঞ্জাবের জয়ে প্রয়োজন ছিলো ১৭ রান। কিন্তু শেষ ওভারে মাত্র ১৩ রান তুলতে পারে পাঞ্জাব। এতে ৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মুস্তাফিজের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মুম্বাইয়ের বোলার ম্যাচ সেরা জাসপ্রিত বুমরাহ ১৫ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট।

প্রীতি জিনতার এই হাসি শেষ র্পযন্ত থাকে নি

এর আগে, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কাইরন পোলার্ডের ২৩ বলে ৫০, সুর্যকুমার যাদবের ১৫ বলে ২৭ ও ইশান কিশানের ১২ বলে ২০ রানের উপর ভর করে ৮ উইকেট ১৮৬ রান সংগ্রহ মুম্বাই।

প্লে-অফের পথে কলকাতা

আইপিএলে রাজস্থান র‌য়্যালসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে আসলো শাহারুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই জয়ে ১৩ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের খেলার পথে শক্ত অবস্থানে রইলো নাইটরা।

রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ১৪৩ রানের টার্গেটে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে ছয় মেরে কলকাতাকে শুভ সূচনা এনে দেন ‍সুনিল নারাইন। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার ব্যাট। ৭ বলে ২১ রানে আউট হন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিস লিন ও অধিনায়ক দিনেশ কার্তিকের দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলকাতা। নাইট রাইডার্সদের হয়ে সর্বোচ্চ ক্রিস লিন ৪২ বলে করেন সর্বোচ্চ ৪৫ রান। দিনেশ কার্তিক অপরাজিত থাকেন ৩১ বলে ৪১ রান করে।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কুলদিপ যাদবের বোলিংয়ের তোপে মাত্র ১৪২ রানে গুাটিয়ে যায় রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংস। রাজস্থানের হয়ে জস বাটলার ২২ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন। রাহুল ত্রিপাঠি করেন ২৭ রান। কলকাতার বোলারদের মধ্য কুলদিপ যাদব ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রাজস্থানের ব্যাটিংয়ে ধ্বস নামান।

কলকাতা-রাজস্থান লড়াই আজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে আজকের একমাত্র ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হবে রাজস্থান রয়্যালস। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হবে ম্যাচটি। প্লে অফ খেলতে হবে দুই দলের জন্যই এই ম্যাচে জয় পা‌ওয়া জরুরী। ১২ ম্যাচে উভয় দলের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট করে।

এদিকে, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে কাল ১০ উইকেটে হারিয়েছে বিরাট কোহিলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরু। এই জয়ে ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে উঠার আশাটা জিইয়ে রাখলো ব্যাঙ্গালুরু।

টসে হেরে ব্যাট করে মাত্র ৮৮ রানে গুটিয়ে যায় পাঞ্জাবের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন অ্যারন ফিঞ্চ। লোকশ রাহুল ২১ ও ক্রিস গেইল করেন ১৮ রান। ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে ম্যাচ সেরা উমেশ যাদব ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন।

৮৯ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত খেলেতে থাকেন দুই ওপেনার বিরাট কোহলি ও পার্থিব প্যাটেল। তাদের ব্যাটিংয়ে মাত্র ৮.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে জয়ের লক্ষে পৌঁছায় ব্যাঙ্গালুরু। অধিনায়ক বিরাট কোহলি অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ৪৮ রান করে। আর পার্থিবের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান।

আশার আলো রাজস্থান শিবিরে

আইপিএলের ম্যাচে, ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান বিহীন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রাখলো রাজস্থান রয়্যালস। ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে এখন তারা।

চিয়ারলিডারদের আনন্দ নৃত্য

১৬৯ রানের টার্গেটে নেমে দলের ৯ রানেই ম্যাথু শর্টেও উইকেট হারায় রাজস্থান রয়্যালস। পরে উইকেটকিপার জস বাটলারের অপরাজিত ৯৪ রান এবং অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের ৩৭ রানে ভর করে, ৩ উইকেটে ১৭১ রান তুলে ম্যাচ জেতে, রাজস্থান।

এর আগে নিজেদের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, প্রথমে ব্যাট করে, ৬ উইকেটে ১৬৮ রান তোলে মুম্বাই। দলের পক্ষে ৪২ বলে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন এভিন লুইস।

৩৮ সূর্যকুমার যাদব এবং ৩৬ রান করেন হার্দিক পান্ডিয়া। রাজস্থানের বোলারদের মধ্যে জোফরা আর্চার ও বেন স্টোকস ২টি করে উইকেট তুলে নেন।

প্লে অফের পথে চেন্নাই সুপার কিংস

অম্বাতি রাইডুর অপরাজিত সেঞ্চুরিতে, সাকিব আল হাসানের দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে প্লে অফের পথে এগিয়ে গেলো চেন্নাই সুপার কিংস।

পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে, ১৮০ রানের টার্গেটে নেমে, দুই ওপেনার ওয়াটসন ও রাইডু ১৩৪ রানের জুটি গড়ে দলের জয়কে সহজ করে দেন। ৩৫ বলে ৫৭ রান করে ওয়াটসন রান আউট হলেও, দলের জয়ে কোনো প্রভাব পড়ে নি। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনীকে নিয়ে, ৬ বল আগেই চেন্নাই সুপার কিংসকে জয় পাইয়ে দেন অম্বাতি রাইডু। ৬২ বলে সাত চার ও সাত ছক্কায় ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন রাইডু।

এর আগে, টসে হেরে ব্যাট করে, শিখর ধাওয়ানের ৭৯ এবং অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ৫১ রানে ভর করে, ৪ উইকেটে ১৭৯ রানে থামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ইনিংস। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ৬ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

জিতলো ব্যাঙ্গালুরু

আইপিএলের ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বিরাট কোহলির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। এতে ১১ ম্যাচে চার জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তমস্থানেই থেকে গেলো কোহলিবাহিনি।

১৮২ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে, দলের ১৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয় পড়ে ব্যাঙ্গালুরু। এরপর বিরাট কোহলি ও এবি ডিভিলিয়ার্সের ১১৮ রানের জুটি দলের বিপর্যয় রোধ করে। ডি ভিলিয়ার্স ৩৭ বলে সর্বোচ্চ ৭২ রানে অপারাজিত থাকেন। বিরাট কোহলি করেন ৪০ বলে ৭০ রান। শেষ পর্যন্ত তাদের কল্যাণে ৬ বল হতে রেখে ৫ উইকেটের জয় পায় ব্যাঙ্গালুরু।

এর আগে, দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে, টসে হেরে ব্যাট করে, আগের ম্যাচে সেঞ্চুরিয়ান রিষভ পান্টের ৩৪ বলে ৬১ রান, অভিষেক শর্মার ১৯ বলে ৪৬ রান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারের ৩৫ বলে ৩২ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের স্কোর গড়ে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। ব্যাঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে চাহাল ২৪ রানে নেন ২ উইকেট।

প্লে অফের আশা কলকাতার

আইপিএলের ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ৩১ রানে হারিয়ে চতুর্থস্থানে উঠে এলো কলকাতা নাইট রাইডার্স।

অশ্বীনের স্ত্রী প্রীতি নারায়নন মাঠে উপস্থিত থেকেও পাঞ্জাবকে জেতাতে পারলেন না

২৪৬ রানের টার্গেটে নেমে, দলের ৫৭ রানে ক্রিস গেইল ও মৈনাক আগারওয়ালের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। পরে লোকেশ রাহুল ২৯ বলে ৬৬ এবং অধিনায়ক অশ্বীন ২২ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেললেও, ৮ উইকেটে ২১৪ রানে থামে পাঞ্জাবের ইনিংস।

সুনীল নারাইনের রান উৎসব

এর আগে, ইন্দোরে টসে হেরে ব্যাট করে সুনীল নারাইনের ৩৬ বলে ৭৫, অধিনায়ক দিনেশ কার্তিকের ২৩ বলে ৫০ এবং আন্দ্রে রাসেলের ১৪ বলে ৩১ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ২৪৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

এই জয়ে ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রাখলো শাহরুখ খানের কলকাতা।

প্রথম দল হিসেবে প্লেঅফে হায়দ্রাবাদ

ঋষভ পান্টের সেঞ্চুরি‌ও জেতাতে পারেনি দিল্লী ডেয়ারডেভিলসকে। সাত বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। তাতে ১১ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফে কোয়ালিফাই করলো সাকিব আল হাসানের দল হায়দ্রাবাদ।

দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলায়, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে অনবদ্য শতরান করলেন দিল্লী ডেয়ারডেভিলসের ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ট। মাত্র ৫৬ বলে প্রথম আইপিএল শতরান করেন পান্ট। তাঁর ব্যাটে ভর করে দিল্লী নিজেদের মাঠে তুলল ১৮৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন পান্ট। তার মারকুটে ইনিংসে রয়েছে ১৫টা চার, ৭টা ছয়।

শুধু শতরানই নয়, অনেকগুলো নজিরও তৈরি করলেন এই ব্যাটসম্যান। আইপিএল ইতিহাসে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের(১২৮) মুকুট উঠল তাঁর মাথায়। দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম (২০ বছর ২১৮ দিন) ব্যাটসম্যান হিসাবে আইপিএল শতরান পান্টের ব্যাট থেকে (প্রথম কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরানের মালিক মানীশ পাণ্ডে, ২০০৯)। এছাড়াও ঋষভ আইপিএলে সেঞ্চুরি করা ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান করলেন(১২৮)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মুরলী বিজয়(১২৭)। চলতি আইপিএলেও এটাই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। সেই সঙ্গে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসেবে ২১ বছর ২১৮ দিন বয়সে আইপিএলে এক হাজার রানের মালিক হন। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে দিল্লী।

জবাবে, শিখর ধাওয়ান আর কেন উইলিয়ামসন জুটির দাপটে ৭ বল বাকি থাকতেই ৯ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় হায়দ্রাবাদ। ধাওয়ান করেন ৫০ বলে ৯২ রান আর অধিনায়ক উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে এসে ৫৩ বলে ৮৩ রান। এই পরাজয়ে দিল্লী ছিটকে গেল প্লে-অফের দৌড় থেকে।

মুম্বাইয়ের কাছে ১০২ রানে হার কোলকাতার

বিশাল রানের টার্গেটের সামনে রীতিমতো নাকানি-চোবানি খেলো বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের কোলকাতা। বুধবার আইপিএলে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে কলকাতাকে ১০২ রানে হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এই জয়ে ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলির চতুর্থ স্থানে উঠে এলো রোহিত শর্মার দল।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে কোলকাতাকে ২১১ রানের টার্গেট দেয় মুম্বাই। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পুরো ওভার শেষ করার আগেই ধসে যায় কলকাতার ইনিংস। ১০২ রানে হেরে এ যাত্রায় আর নক-আউটে যাওয়া হল না কোলকাতার।

শুরুটা করে দিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদব ও লুইস। সূর্যকুমারের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রানের ইনিংস। লুইসের রান ১৮। এরপর মুম্বাই ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সঙ্গে ঈশান কিষান। রোহিত শর্মা ৩৬ রানে আউট হলে‌ও ঈশানের ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান। হার্দিক পাণ্ডিয়া ১৯ ও বেন কাটিংয়ের ২৪ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ২১০ রানের বিশাল স্কোর গড়ে মুম্বাই।

জবাবে ব্যর্থ কোলকাতার ব্যাটিং। ১৮.১ ওভারে ১০৮ রানেই শেষ হয়ে দিনেশ কার্তিকের দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১ রান নীতিশ রানা ও ক্রিস লিনের। মুম্বাইয়ের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন ক্রুনাল পাণ্ডিয়া ও হার্দিক পাণ্ডিয়া।

তৃতীয় স্থানে পাঞ্জাব

আইপিএলে রাজস্থান ‌রয়েলসকে ৬ উইকেটে হারালে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। এই জয়ে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দল।

রাজস্থানের দেওয়া ১৫৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি পাঞ্জাবের। দলের ২৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া ক্রিস গেইল আউট হন মাত্র ৮ রানে। ২ রান করেন আগরওয়াল। এরপর দলের কান্ডারি হয়ে হাল ধরেন লোকেশ রাহুল। লোকেশ রাহুল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন এবং করুণ নায়ারেপ ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান।রাজস্থানের বোলারদের পক্ষে বেন স্টোকস, গৌতম ও অ্যার্চার একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে জস বাটলারে ৩৯ বলে ৫১ ও সঞ্জু স্যামসনের ২৩ বলে ২৮ রানের উপর ভর করে ১৫২ রান তোলে আজিঙ্কা রাহানের দল। আফগানিস্থানের মজিবুর রহমান ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। এই হারে পয়েন্ট টেবিলের সবচেয়ে নিচে চলে আসলো রাজস্থান রয়েলস।

কোলকাতাকে হারাল মুম্বাই

আইপিএলের ম্যাচে কোলকাতা নাইট রাইডার্সকে ১৩ রানে হারিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অবস্থান এখন লিগ টেবিলের পঞ্চমে। এই নিয়ে আইপিএলে টানা সাতবার কোলকাতাকে পরাজিত করলো মুম্বাই।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, ১৮২ রানে জয়ের টার্গেটে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬৮ রানে থামে কোলকাতার ইনিংস। ৩৫ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন রবিন উথাপ্পা। ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক। মুম্বাইয়ের বোলারদের মধ্যে ম্যাচ সেরা হার্দিক পান্ডিয়া ১৯ রানে নেন ২ উইকেট।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করে, সূর্যকুমার যাদবের ৫৯ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ১৮১ রান তোলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এভিন লুইস করেন ৪৩ এবং পান্ডিয়া ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

শীর্ষে এবার হায়দ্রাবাদ

আইপিএলের ইদুর দৌড়ে সবাইকে পেছনে ফেল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে সাকিব আল হাসানের দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুন্য দেখিয়ে চলতি বছর সর্বোচ্চ রানের টার্গেট চেজ করে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে উইলিয়ামসন-শিখর ধা‌ওয়ানদের দল হায়দ্রাবাদ।

শিখর ধাওয়ানের স্ত্রী আয়েশা মুখার্জি

হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে টসে জিতে দারুণ সূচনা করে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। ১০ ‌ওভারেই দলের সংগ্রহে ৯৫ রান যোগ করে দুই উইকেট হারানো দিল্লি। এরপর রান তোলার সেই গতি আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। তাতে ৫ উইকেটে ১৬৩ রান তোলে শ্রেয়াস আয়ারের দল। দলের পক্ষে ৩৬ বলে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পৃথিবী শ’। শ্রেয়াসের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের কোচ টম মুডির স্ত্রী হেলেন

আফগানিস্তানের স্পিনার রশীদ খান ২৩ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। সাকিব আল হাসান ৩৪ রান খরচা করলে‌ও উইকেট বঞ্চিত থাকেন।

সানরাইজার্সের সমর্থকদের উল্লাস

জবাবে শুরু থেকেই মারমুখি ছিলেন সানরাইজার্সের ‌ওপেনাররা। শিখর ধা‌ওয়ান ‌ও অ্যালেক্স হেলস উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৭৬ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করে হেলস সাজঘরে ফেরেন। ধা‌ওয়ান করেন ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত ইউসুফ পাঠানের ১২ বলে ২৭ রানের ঝড়ে এক বল আগেই ১৭৪ রান করে জয় নিশ্চিত করে ৩ উইকেট হারানো সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে গেলো কেন উইলিয়ামসন-সাকিবদের দল।

পাঞ্জাবকে হারিয়ে পঞ্চমে মুম্বাই

পঞ্চম উইকেটে রোহতি শর্মা ও কুনাল পান্ডিয়ার হার না মানা ৫৬ রানের জুটিতে আইপিএলের ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চমস্থানে উঠে এলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

বৃথাই গেল গেইলের ফিফটি

ইন্দোরে, ১৭৫ রানের টার্গেটে নেমে, ১৩ ওভারে মাত্র ১০০ রান তোলে মুম্বাই। ম্যাচ সেরা সূর্যকুমার যাদব ৪২ বলে ৫৭ রান করেন। পরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় রোহিত শর্মা ‌ও পান্ডিয়া জুটি। রোহিত ১৫ বলে ২৪ এবং কুনাল পান্ডিয়া ১২ বলে ৩১ রান। তাতে ৬ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে জয় পায় মুম্বাই।

যুবরাজ ও অশ্বীনের স্ত্রী: পাঞ্জাবরে সর্মথনে মাঠে

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করে, ক্রিস গেইলের ফিফটিতে ৬ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে পাঞ্জাব। ৪০ বলে ৬ চার আর ২ ছক্কায় ৫০ রান করে বিদায় নেন গেইল। মারকাস স্টোনিস করেন ১৫ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

নাইটরাইডার্সে ধরাশায়ী চেন্নাই

শুভমান গিল আর অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের ব্যাটে চেন্নাই সুপার কিংসকে ১৪ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে হারিয়েছে কোলকাতা নাইট রাইডার্স।

কোলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ১৭৮ রানে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করে ৩৬ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৫৭ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলেন শুভমান গিল। অধিনায়ক কার্তিক ১৮ বলে ৭ চার আর ১ ছক্কায় করেন অপরাজিত ৪৫ রান। এছাড়া সুনীল নারিন ওপেনিংয়ে নেমে ২০ বলে করেন ৩২ রান।

এর আগে নির্ধারিত ২০ ওভারে চেন্নাই সুপার কিংস তুলেছিল ৫ উইকেটে ১৭৮ রান। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত ছিল চেন্নাইয়ের। ফাফ ডু প্লেসিস আর শেন ওয়াটসন ৩১ বলের উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৪৮ রান।

১৫ বলে ২৭ রান করেন ডু প্লেসিস। ২৫ বলে ৩৬ রান আসে ওয়াটসনের ব্যাট থেকে।

মুম্বাইকে হারিয়ে পঞ্চমে ব্যাঙ্গালুরু

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১৪ রানে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এলো রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে, ১৬৮ রানের টার্গেটে নেমে, ৭ উইকেটে ১৫৩ রানে থামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করে বিদায় নেন হার্দিক পান্ডিয়া। ব্যাঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে ম্যাচ সেরা টিম সাউদি, উমেশ যাদব এবং মোহাম্মদ সিরাজ ২টি করে উইকেট তুলে নেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করে, ৭ উইকেটে ১৬৭ রান তোলে ব্যাঙ্গালুরু। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন মানান ভোরা। ব্রান্ডন ম্যাককালাম ৩৭। আর অধিনায়ক বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।

এই জয়ে ৮ ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুর পয়েন্ট বেড়ে হলো ৬।

ব্যাঙ্গালুরুর প্রতিপক্ষ আজ মুস্তাফিজের মুম্বাই

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে আজ মঙ্গলবার মাঠে নামছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও র‌য়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে, রাত সাড়ে আটটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

আগের ম্যাচে মুস্তাফিজবিহীন মুম্বাই ৮ উইকেটে হারিয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনীর দল চেন্নাই সুপার কিংসকে। কাটার মাস্টারের পরিবর্তে একাদশে নেয়া হয়েছিল বেন কাটিংকে। সেই ম্যাচে ১ ওভার বোলিং করে ১৪ রান দিয়েছিলেন কাটিং। এরপর তাকে আর বোলিংয়ে আনেনি রোহিত শর্মা। তাই আজকের ম্যাচে একাদশে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশর কাটার মাস্টার `দ্যা ফিজ’কে। এবারে আসরের ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৪৫ রানের জয়ের সুখস্মৃতি আছে মুম্বাইয়ের। তবে ৭ ম্যাচে ২ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৬ নম্বরে এখন মুম্বাই।

অপরদিকে আইপিএলে সবচেয় শক্তিশালী দল গড়েও পয়েন্ট টেবিলের সবচেয়ে নিচের অবস্থানে বিরাট কোহেলির দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। ব্রান্ডেন ম্যাককালাম, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডি কক- এর মত তারকা নিয়ে এবারের আইপিএলে তেমন কোন সুবিধা করতে পারছেনা ব্যাঙ্গালুরু। ৭ ম্যাচে দুইটিতে জয় থাকলেও রানে রেটে বেশ পিছিয়ে আছে তারা। তাই আজকের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিস গেইলের অবকাশ যাপন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএল খেলতে আসা ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল এখন অবকাশ যাপন করছেন। এবারের নিলামে দুই কোটি রুপিতে তাকে কিনে নেয় কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

খেলার ফাকে ফাকে অবকাশ যাপন করেন এই ব্যাটিং জিনিয়াস। এবারের আইপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি করা ক্রিস গেইল এখন অবকাশ যাপন করছেন কেরালায়। তার সঙ্গে আছে স্ত্রী, একমাত্র কন্যা আর শাশুড়ি।

ছয়টি আইপিএল খেলা ক্রিস গেইল বেশ মজা‌ও করছেন। হোটেলর শিখছেন যোগ ব্যায়াম। সেই সঙ্গে আয়ুর্বেদ ম্যাসেজ‌ও করাচ্ছেন কেরালায়। অবকাশ যাপন শেষে ক্রিস গেইল আগামী ৩ মে ইন্দোরে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। কারণ ৪ মে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হবে ক্রিস গেইলের কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

আবার‌ও শীর্ষে চেন্নাই সুপার কিংস

দিল্লি ডেয়ারেডভিলসকে ১৩ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরল চেন্নাই সুপার কিংস। সেই সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনীর দল ফিরল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে‌ও।

সোমবার রাতে পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ম্যাচ সেরা শেন ‌ওয়াটসেনর ৪০ বলে ৭৮ রানের ঝড়ো ইনিংসের পর, অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনীর ২২ বলে ৫১ রানের ব্যাটিং তান্ডবে ৪ উইকেটে ২১১ রান তোলে চেন্নাই সুপার কিংস। ডুপ্লেসিস ৩৩ এবং অম্বাতি রাইডু করেন ৪১ রান।

আগের ম্যাচে গৌতম গাম্ভীরকে সরিয়ে শ্রেয়াস আয়ারকে অধিনায়কের দায়িত্ব দে‌ওয়ার পর ৫৫ রানে কোলকাতা নাইটরাইডার্সকে হারিয়েছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। কিন্তু এবার আর সুবিধা করতে পারেনি শ্রেয়াস আয়ারের দল। রিষভ পান্ট ৭৯ এবং বিজয় শংকর ৫৪ রান করলে‌ও ৫ উইকেট হারানো দিল্লি ১৯৮ এর বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি।

এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে পেছনে সরিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো চেন্নাই সুপার কিংস।

কোলকাতার কাছে ব্যাঙ্গালুরুর হার

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে রোববারের দ্বিতীয় ম্যাচে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ৬ উইকেটে হারিয়ে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এলো কোলকাতা নাইটরাইডার্স। ৮ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। এদিকে, ৭ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরু আছে সপ্তমে।

নিজেদের মাঠ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক বিরাট কোহলির অপরাজিত ৬৮ রানে ১৭৫ রান তোলে ৪ উইকেট হারানো রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। কোহলি তার ইনিংসটি সাজান ৪৪ বলে ৫ চার আর ৩ ছক্কায়। ব্রান্ডন ম্যাককালাম ৩৮ আর ২৯ রান করেন কুইন্টন ডি কক। কোলকাতার বোলারদের মধ্য আন্দ্র রাসেল ৩১ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন।

১৭৬ রানে জয়ে টার্গেটটা ৫ বল হাতে রেখেই ছুয়ে ফেলে ৪ উইকেট হারানো কোলকাতা নাইটরাইডার্স। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ম্যাচ সেরা ক্রিস লিন। রবিন উথাপ্পা ৩৬। আর ২৭ রান করেন সুনীল নারাইন।

শীর্ষে সাকিবের সানরাইজার্স

আইপিএলে রোববারের প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়েলসকে ১১ রানে হারিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষেই রইলো সানরাইজার্স।

নিজেদের মাঠ জয়পুরে ১৫২ রানের টার্গেটে ব্যাট করে, ১৪০ রানে থামে ৬ উইকেট হারানো রাজস্থান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। ৪০ রান আসে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাট থেকে।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করে, অধিনায়ক ও ম্যাচ সেরা কেন উইলিয়ামসনের ৪৩ বলে ৬৩ রানের ঝড়ে ৭ উইকেটে ১৫১ রান করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ওপেনার অ্যালেক্স হেলস করেন ৪৩ রান।

জয়ে ফিরল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে জয়ে ফিরল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অধিনায়ক রোহিত শর্মার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অপরাজিত ফিফটিতে ২ বল হাতে রেখেই চেন্নাই সুপার কিংসকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে জয়ে ফিরল আইপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শনিবার রাতে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, এই জয়ে সাত ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে ষষ্ঠ স্থানে রইল মুম্বাই। আর সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পা‌ওয়া চেন্নাই শীর্ষেই আছে।

১৭০ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে সূর্যকুমার যাদব ‌ও এভিন লুইস ১০ ‌ওভারের আগেই দলের স্কোরে ৬৯ রান যোগ করেন। তাদের চমৎকার সূচনাতেই আর কখনো পথ হারায়নি মুম্বাই। শেষ পর্যন্ত রোহিত শর্মার ৩৩ বলে অপরাজিত ৫৬ আর হার্দিক পান্ডের ৮ বলে অপরাজিত ১৩ রানে ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মুম্বাই। দলের পক্ষে এভিন লুইস ৪৭ আর সূর্যকুমার ৪৪ রান করেন।

ম্যাচ সেরা: রোহিত শর্মা

এরআগে, টসে হেরে ব্যাট করে, সুরেশ রায়নার অপরাজিত ৭৫ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। ৪৭ বলে অপরাজিত ৭৫ করে সুরেশ রায়না আইপিএলে বিরাট কোহলিকে হটিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় নিজের নাম ‌ওঠালেন। ছয় চার আর চার ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান রায়না। কিন্তু তাতে কি, তার রেকর্ডের দিনে জয় পেল না দল, ডুবে যেতে হলো পরাজয়ের পঙ্কিলে।

অবশ্য সাজঘরে ফেরার আগে রায়না অম্বাতি রাইডুর সঙ্গে ৭১ এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে ৪৬ রানের কার্যকর দুটো জুটি গড়েন।

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুন্যে হায়দরাবাদের জয়

বিশ্বের অন্যতম সেরা সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপূন্যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে জয় পেয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ব্যাট হাতে গড়েছেন দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করা জুটি। বল হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দারুণ জয়ে আবারও উজ্জ্বল সকিব আল হাসান।

পুঁজি ছিল মাত্র ১৩২ রানের। কিন্তু দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণ ও কেন উইলিয়ামসনের বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্বে হায়দরাবাদ পায় আরও একটি জয়। ফর্মে থাকা কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ১৩ রানে হারায় হায়দরাবাদ।

সাকিব ব্যাটিংয়ে নেমে করেছেন ২৮ রান। বল হাতে ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৩২ রান করে হায়দরাবাদ। জবাবে ৪ বল বাকী থাকতেই মাত্র ১১৯ রানে অলআউট হয় কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

এই ম্যাচ জয়ে ৭ ম্যাচে সমান ৫টি করে জয় হায়দরাবাদ ও পাঞ্জাবের। ৬ ম্যাচের ৫টি জিতে শীর্ষে চেন্নাই সুপার কিংস।

সাকিবের রেকর্ডের দিনে মুম্বাইয়ের পরাজয়

মাত্র ১১৯ রানের টার্গেট তাতে‌ও পারলো না মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিনটা‌ও তাই জয় দিয়ে উদযাপন করা হলোনা তাদের। ১১৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে মাত্র ৮৭ রানেই অলআউট হয়ে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। পরাজয় হলো তাদের। ৩১ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতলো সাকিব আল হাসানের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।। একই সঙ্গে টানা দুই ম্যাচ হারের পর আবারও জয়ের ধারায় ফিরলো তারা। সঙ্গে সাকিব আল হাসান করলেন রেকর্ড‌ও।

একটি মাত্র উইকেটের জন্য তিন ম্যাচ অপেক্ষা করতে হলো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। অবশেষে দুই ম্যাচ অপেক্ষার পর তৃতীয় ম্যাচে এসে পেলেন উইকেটের দেখা। মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে শিখর ধাওয়ানের ক্যাচে পরিণত করার সঙ্গে সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চার হাজার রানের পাশাপাশি ৩০০ উইকেটের মালিক হয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান।

দুটি মাইলকের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সাকিব। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের এলিট ক্লাব এবং আইপিএলে ৫০০ রান ও ৫০ উইকেটের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করার সুযোগ। আইপিএলে খেলতে যাওয়ার আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাকিবের রান ছিল ৩৯৮০ এবং উইকেট সংখ্যা ছিল ২৯৪। এই দুটো ছুঁতে বল হাতে সাকিবকে নিতে হতো ৭টি উইকেট। তবে ৬টি উইকেট নিলেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট এবং ৪০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন তিনি।

হায়দরাবাদের হয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই ৫ উইকেট দখল করেন সাকিব। প্রত্যাশা ছিল চতুর্থ ম্যাচেই হয়তো ছুঁয়ে ফেলবেন ৩০০ উইকেটের মাইলফলক। কিন্তু কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ২ ওভার বোলিং করে ২৮ রানে কোনো উইকেট পাননি তিনি। অপেক্ষাটা বাড়ান রোববার চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত। চেন্নাইয়ের বিপক্ষেও উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব।

অবশেষে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে এই রেকর্ডটা স্পর্শ করলেন তিনি। এই ক্লাবের একমাত্র সদস্য ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভো। তবে টি-টোয়েন্টিতে শুধু ৩০০ উইকেট নেয়ার তালিকায় সাকিব পঞ্চম। তার আগের চার সদস্য হলেন ডোয়াইন ব্র্যাভো, সুনিল নারিন, শহিদ আফ্রিদি ‌ও লাসিথ মালিঙ্গা।

সাকিব-মুস্তাফিজের শত্রুতা

আজ আবার‌ও সাকিব আল হাসান ‌ও মুস্তাফিজুর রহমান একে অন্যের সঙ্গে শত্রুতা করবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ড্রেসিং রুমে একে অন্যের সহায়ক হলে‌ও আজ অপরের অমঙ্গল চিন্তায় মশগুল থাকবেন তারা। কারণ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের আসরে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের এই দুই তারকা ক্রিকেটার। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার স্বাগতিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। খেলাটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

এবারের আসরে ভাগ্যটা একেবারেই সঙ্গে নেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। ৫ ম্যাচের ৪টিতেই শেষ ওভারে হেরেছে রোহিত শর্মার দল। পয়েন্ট টেবিলে তারা আছে ৭ নম্বরে। বল হাতে প্রত্যাশা পূরণে শতভাগ সফল হননি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। ৫ ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তবে বেশ খরুচে বোলিং করেছেন এই টাইগার পেসার। তার ইকোনমি রেট প্রায় ৯।

যদিও আসরে নিজের সফলতম ম্যাচটি মুস্তাফিজ খেলেছেন হায়দরাবাদের বিপক্ষেই। সে ম্যাচে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন দ্য ফিজ। এদিকে, টানা ৩ ম্যাচ জিতে দারুণ শুরু করলেও, পরের দু’ম্যাচেই হেরেছে সাকিবের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

বল হাতে ৭ দশমিক ছয় ছয় ইকোনমিতে এখন পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। তবে, ব্যাট হাতে এখনো জ্বলে উঠতে পারেননি তিনি। ৫ ম্যাচে মোট রান তার ৮৭।

প্রথম পর্বের ম্যাচে, মুস্তাফিজের মুম্বাইকে ১ উইকেটে হারিয়েছিল সাকিব আল হাসানের হায়দরাবাদ। মুম্বাইয়ের করা ৮ উইকেটে ১৪৭ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ১৫১ রান করে জয় পেয়েছিল হায়দরাবাদ।

রাতে সাকিব-মুস্তাফিজের লড়াই

আইপিএলে আজ রাতে মাঠে নামছে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

আইপিএলের প্রথম ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে ১ উইকেটে হেরেছিলো মুস্তাফিজুর রহমানের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জয় দিয়ে হায়দরাবাদে নিজের অভিষেকটাকে স্মরণীয় করে রাখেন সাকিব। সেই ম্যাচে সাকিব চার ওভার বল করে ২৩ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। এদিকে নতুন মাইলফলক সামনে সাকিব। আর মাত্র ৪টি উইকেট পেলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পঞ্চম বোলার হিসাবে ৩০০ উইকেটের মালিক হবেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে হারের ব্যর্থতা ভুলে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চান মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

উদ্বোধনী ম্যাচে চেন্নাইয়ের জয়

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১ উইকেটে হারিয়েছে দুই বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আবার ফেরা চেন্নাই সুপার কিংস।

মুম্বাইয়ের ‌ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, ১৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই মাত্র ৫১ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দুই বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আবার আইপিএলে ফেরা চেন্নাই।

এরপর ডোয়াইন ব্রাভোর দাপুটে ব্যাটিংয়ে ১৮ বলে ৪৭ রানের প্রয়োজন হয় চেন্নাইয়ের। পরের ৫ বলে তিন ছক্কায় দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান ব্রাভো। ৩০ বলে ৬৮ রানের দারুণ এক ইনিংসে চেন্নাইকে জয়ের পথেই রাখেন ব্রাভো। কিন্তু তার বিদায়ে শেষ ‌ওভারে ৭ রানের প্রয়োজন হয় মহেন্দ্র সিং ধোনীর দলের। বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের করা শেষ ‌ওভারে এক ছয় আর এক চারে এক বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটে ১৬৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই।

এরআগে, চেন্নাই টসে জিতে ব্যাট করার জন্য আমন্ত্রণ জানায় রোহিত শর্মার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে। মুম্বাইয়ের হয়ে ওপেনিং করেতে নামেন রোহিত ও এভিন লুইস। দলের ৭ রানে লুইস এবং ২০ রানে রোহেত শর্মার উইকেট হারালে চাপে পড়ে মুম্বাই। পরে ইশান ও যাদবের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সেই চাপ থেকে দ্রুতই বের হয়ে আসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ইশান ২৯ বলে ৪০ এবং যাদব করেন ৪৩ রান। এরপর কুনাল পান্ডে ও হার্দিক পান্ডের মারমুখি ব্যাটিংয়ে ১৬৫ রানে পুঁজি পায় ৪ উইকেট হারানো মুম্বাই। চেন্নাই হয়ে শেন ওয়াটশন ২৯ রানে দুটি এবং মার্ক উড ও দিপক চাহাল একটি করে উইকেট তুলে নেন।

১৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এখন ব্যাট করছে চেন্নাই শেষ খবর পাওয়া প্রর্যন্ত চেন্নায়ের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৯ রান।

১৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে চেন্নাই

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার ‍লিগ-আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যচে মুস্তাফিজুর রহমানের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ১৬৬ রানে জয়ের জন্য ব্যাট করছে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।

এর আগে, টসে হেরে ব্যাট করতে নামে, রোহিত শর্মার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। দলের ৭ রানে এভিন লুইস এবং ২০ রানে রোহেত শর্মার উইকেট হারালে চাপে পড়ে মুম্বাই। এরপর ইশান ও যাদবের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সেই চাপ থেকে দ্রুতই বের হয়ে আসে মুাম্বই ইন্ডিয়ান্স। ইশান ২৯ বলে ৪০ এবং যাদব করেন ৪৩ রান। আপরদিকে কুর্নাল পান্ডের ও হার্দিক পান্ডের মারমুখি ব্যাটিংয়ে ১৬৫ রানে পুঁজি পায় ৫ উইকেট হারানো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। চেন্নাই হয়ে শেন ওয়াটশন ২৯ রানে দুটি এবং মার্ক উড ও দিপক চাহার একটি করে উইকেট তুলে নেয়।

১৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এখন ব্যাট করছে চেন্নাই। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৭৫ রান।

জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অপেক্ষা

ইন্ডিয়ার প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের এবারের আসর শুরু হতে এখন‌ও দুই সপ্তাহ বাকী। মুম্বাইয়ের ‌ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আগামী ৭ এপ্রিল হবে আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বলিউড তারকা রানভীর সিং, পরিণিতি চোপরা, বরুণ ধা‌ওয়ান এবং জ্যাকুইলিন ফার্নান্দেজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন। তবে ক্রিকেটপ্রেমিদের জন্য দু:সংবাদ যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাত্র দু’জন অধিনায়ক উপস্থিত থাকবেন। তারা হলেন- মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং চেন্নাই সুপার কিংসের মহেন্দ্র সিং ধোনী।

জানা গেছে, রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (রাজস্থান রয়েলস), গৌতম গাম্ভির (দিল্লী ডেয়ারডেভিলস), রবিচন্দন অশ্বীন (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব), দিনেশ কার্তিক (কোলকাতা নাইটরাইডার্স) এবং ডেভিড ‌ওয়ার্নার (হায়দরাবাদ সানরাইজার্স) আর্থিক কারণে আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না।

নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের দল কোলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক করা হয়েছে দিনেশ কার্তিককে। কেকেআরের হয়ে এবারই প্রথম খেলছেন দিনেশ কার্তিক। ফেব্রুয়ারির নিলামে দিনেশকে ৭.৪ কোটি রুপি দিয়ে কিনে নিয়েছিল শাহরুখ খানের দল। আর রবিন উত্থাপাকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে।

৩২ বছর বয়সী কার্তিক এ পর্যন্ত ৫টি ভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন। দলগুলো হলো- দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু এবং সর্বশেষ ছিলেন গুজরাট লায়ন্সে। ওই দলগুলোতে তিনি প্রায় সময়ই অস্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নিজ রাজ্য তামিলনাড়ুর অধিনায়ক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

নাইট রাইডার্সের সহকারী কোচ সাইমন ক্যাটিচ বলেন, ‘আমি মনে করি দিনেশের এখন যা বয়স তাতে ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা তার জন্য অপেক্ষা করছে। গত ১০ বছর যাবত সে আইপিএল খেলে যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তামিলনাড়ুর অধিনায়ক হিসেবে তার দুর্দান্ত রেকর্ড আছে। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে তার সাফল্যের রেট ৭২ শতাংশ।’

আগামী ৭ এপ্রিল থেকে মুম্বাইয়ে শুরু হবে আইপিএলের একাদশতম আসর।

পাঞ্জাবের অধিনায়ক অশ্বীন

ভারতের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বীনকে আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব তাদের অধিনায়ক নির্বাচিত করেছে। আজ সোমবার একথা জানানো হয়। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক হিসেবে অশ্বীনের নাম ঘোষণা করেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির যৌথ-মালিক বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা।

এ সময় অশ্বীন বলেন, এটা আমার জীবনের একটি অন্যতম স্মরণীয় দিন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই দলের হয়ে আমার সেরাটা দে‌ওয়ার চেষ্টা থাকবে। এবং নিশ্চয়ই খেলায় অনেক মজা হবে। এ মৌসুমে খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দলগুলোর মধ্যে।’

আবার‌ও কোলকাতা নাইটরাইডার্সে আন্দ্রে রাসেল

ডোপিং আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল। সময় অতিবাহিত হ‌ওয়ায় আবার‌ও ফিরছেন তিনি ক্রিকেটে। আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে খেলবেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের দল কোলকাতা নাইটরাইডার্সে।

আন্দ্রে রাসেল ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২০১৬ সালে শেষ খেলেছেন ভারতের বিপক্ষে। সে সময় ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলো ভারত।

অবশেষে দল পেলেন ক্রিস গেইল

অবশেষে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলে দল পেলেন ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। আইপিএলের একাদশ আসরে প্রথম দিনের নিলামে দল না পেলেও দ্বিতীয় দিনে তৃতীয় রাউন্ডে দল পেলেন ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। বেসপ্রাইজ ২ কোটি রুপিতে গেইলকে দলে ভিড়িয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

নিলামের প্রথম দিনে অবিক্রিত ছিলেন গেইল। দ্বিতীয় দিনে এসেও প্রথম দুই রাউন্ডে দল পায়নি এই টি-টোয়েন্টি হিরো। তবে তৃতীয় রাউন্ডে ২ কোটি রুপিতে গেইলকে দলে টানে পাঞ্জাব।

ক্রিস গেইল এখন পর্যন্ত আইপিএলের ৯টি আসরে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯ সালে আইপিএলে অভিষেক তার। এরপর থেকে এ পর্যন্ত তিনবার নিলামে উঠবে এ ব্যাটিং দানব। নয় মৌসুমে ১০১ টি ম্যাচ খেলে ৩৬২৬ রান সংগ্রহ করেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ করে ১৭৫ রান (অপরাজিত)। যা আইপিএল তথা টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেও সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

আইপিএলে গেইলের স্টাইক রেট ১৫১.২০। এভারেজ ৪১.২০। ৫টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটির সংখ্যা ২১টি। ২৯৪ চার আর ২৬৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ক্রিস গেইল।

আইপিএলের নিলাম ২৭ ‌ও ২৮ জানুয়ারি

আগামী ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি হবে ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগ-আইপিএলে নিলাম। ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ১১তম আসরের বর্ণাঢ্য নিলাম। বিসিসিআই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিসিবি’র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘যেহেতু এবারের নিলামে আবার‌ও তারকা খেলোয়াড়রা ফিরে এসেছে সে কারণেই আগামী ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিতব্য নিলাম অনুষ্ঠানটি অনেক বেশী আকর্ষণীয় হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলোর ইচ্ছাতেই প্রতিবারের মতই এবারও ব্যাঙ্গালুরুতেই এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।’

এবারের আসরে নিলামের জন্য দলগুলোর বাজেট বাড়িয়ে ৮০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়। আগের বছরে এর পরিমান ছিল ৬৬ কোটি রুপি।

আগামী ১ ডিসেম্বর বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র

আগামী ১ ডিসেম্বর রাশিয়ার ক্রেমলিনে হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮’র ড্র। কিভাবে এবং কোন্ পদ্ধতিতে হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র, সেটা জানার আগ্রহ আছে নিশ্চয়ই সবার।

আগেরবারের মতো এবারও বিশ্বকাপ ফুটবলে ৩২ টি দল অংশ নেবে। স্বাগতিক রাশিয়া সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পেলেও অন্য দলগুলোকে রীতিমতো বাছাই পর্বের গন্ডি পার হয়ে আসতে হয়েছে। গত অক্টোবর মাসের ফিফা র‌্যাংকিং অনুযায়ী আটটি করে দল নিয়ে চারটি পটে রাখা হবে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে রাশিয়া প্রথম পটেই থাকবে।

প্রথম পটে থাকবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, ব্রাজিল, পর্তুগাল, বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং রাশিয়া। আর দ্বিতীয় পটে থাকবে ফ্রান্স, স্পেন, ইটালি, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, উরুগুয়ে, কলম্বিয়া এবং ইংল্যান্ড। চারটি করে দল বিশ্বকাপে আট গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠা দল

ইউরোপ: রাশিয়া (স্বাগতিক), বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আইসল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সার্বিয়া ও স্পেন। আফ্রিকা: মিশর ও নাইজেরিয়া।
এশিয়া: ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরব।
উত্তর আমেরিকা: কোস্টারিকা, মেক্সিকো ও পানামা।
দক্ষিণ আমেরিকা: আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে।

আরো নয়টি দলের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখানো এখনো বাকী রয়েছে। আগামী বছরের ১৪ জুন থেকে রাশিয়ায় শুরু হবে বিশ্বকাপ আসর। ১৫ জুলাই হবে প্রতিযোগিতার ফাইনাল।

২১৯৯ কোটি রুপিতে আইপিএলের সঙ্গে ভিভো

আগামী পাঁচ বছরের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ- আইপিএলের টাইটেল স্পন্সর স্বত্ত্ব ধরে রাখলো মোবাইল ফোন কোম্পানি ভিভো। অবশ্য এজন্য তাদেরকে খরচ করতে হবে ২১৯৯ কোটি রুপি। আগের চুক্তির চেয়ে শতকরা ৫৫৪ ভাগ বেশি।

বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী পাঁচটি আইপিএল আসরের জন্য মোবাইল ফোন কোম্পানী ভিভো নতুন (২০১৮-২০২২) চুক্তি করেছে। এদিকে, চুক্তির পর আইপিএল-এর চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা বলেন, ‘এই সংস্থা আবার আমাদের টাইটেল স্পন্সর হওয়ায় আমরা খুশি। পাঁচ বছরের জন্য ওরা আমাদের সঙ্গে থাকছে। গত দু’বছর ওদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন খুব ভাল ছিল। আমার বিশ্বাস এই চলা আরও বাড়বে।’


২০১৬ এবং ২০১৭ আইপিএল টাইটেল কিনতে ভিভো খরচ করেছিল ২০০ কোটি টাকা। প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা, বিগত দু বছর ভিভো’র সঙ্গে এই চুক্তিই চলছে বিসিসিআইয়ের। সেই চুক্তি শেষ হওয়ার পরই নতুন ভাবে চুক্তি করার জন্য নিলামের আয়োজন করে বিসিসিআই। সেই নিলামে ভারতীয় দলের স্পনসর ‘অপ্পো’ মোবাইলকে টেক্কা দিয়ে আইপিএল টাইটেল সত্ত্ব নিজেদের পকেটে পুরে নিল ‘ভিভো’। নিলামে আইপিএল টাইটেল সত্ত্ব কিনে নিতে ১,৪৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত দর হেঁকেছিল অপ্পো। কিন্তু দিনের শেষে ভিভোর দেওয়া ২,১৯৯ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি আর কোনও সংস্থা।

সাকিব ছাড়াই আইপিএলের সেরা একাদশ

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের মধ্যকার খেলা দিয়েই আজ শেষ হচ্ছে আইপিএলের দশম আসর। দীর্ঘ ৪২ দিন ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটের পর জুরি বোর্ড বাছাই করে আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ। জানা যায়, ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোটে বাংলাদেশ ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এগিয়ে থাকলেও জুরি বোর্ডের হস্তক্ষেপে বাদ পড়েন আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ থেকে।
আইপিএলের নিয়ম মেনে অর্থাৎ, সাতজন স্থানীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি চারজন বিদেশী ক্রিকেটারকে নিয়ে গড়া আইপিএলের দলে ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিকেটার ডোয়েন ব্রাভোর কাছে জায়গা হারিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে প্রতিনিধিত্ব করা সাকিব আল হাসান।
তবে নাটকীয়ভাবে সর্বকালের সেরা একাদশের চার বিদেশী ক্রিকেটারের মধ্যে তিনজনই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার সাথে বাকী তিনজন বিদেশী ক্রিকেটার হলেন, ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইন এবং ডোয়াইন ব্রাভো।
ক্রিকেট অনলাইন ইএসপিএন ক্রিকইনফো ঘোষিত আইপিএলের সর্বকালের সেরা একাদশ হলো: মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার/ অধিনায়ক), ক্রিস গেইল, বিরেন্দ্র শেবাগ, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা, ডোয়াইন ব্রাভো, সুনীল নারাইন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং ভুবনেশ্বর কুমার।

আইপিএলের ফাইনাল আগামীকাল

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসরের ফাইনালে আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনাল খেলতে নামবে পুনে। পক্ষান্তরে মুম্বাইয়ের চোখ তৃতীয় শিরোপার দিকে। হায়দারাবাদে এই ফাইনালটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।
গেল আসরে সপ্তম স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করেছিলো পুনে। তাই চলমান মৌসুম শুরুর আগেই অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনে পুনে ফ্র্যাঞ্চাইজি। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয় পুনে। এমনকি দলের শক্তি বাড়াতে নিলামে বেশ পারদর্শীতা দেখায় তারা। ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে রেকর্ড মূল্যে দলে ভেড়ায় তারা। তাকে দলে নেয়ার কারণটা লিগ পর্বে প্রদর্শন করেছেন স্টোকস। ব্যাট-বল দিয়ে সেরা পারফরমেন্সই দেখিয়েছেন তিনি। তবে প্লে-অফে খেলা হয়নি তার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন স্টোকস।
তবে কোয়ালিফাইয়ার-১এর বাঁধা পেরিয়ে যেতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি পুনের। আজিঙ্কা রাহানে-মনোজ তিওয়ারির হাফ-সেঞ্চুরির সাথে সাবেক ধোনির ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রান লড়াই করার পুঁজি দেয় পুনেকে।
এরপর শুরুতেই অফ-স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের ধাক্কায় খেই হারিয়ে ফেলে মুম্বাই। পরবর্তীতে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মুম্বাই। শারদুল ঠাকুরের পেস তোপে ১৬৩ রানের টার্গেটে ১৪২ পর্যন্ত সমর্থ হয় মুম্বাই। ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সুন্দর। তাই স্টোকসের অভাব বুঝতে পারেনি পুনে।
তবে আগামী মৌসুম থেকে আইপিএলে থাকছে না পুনে ও গুজরাট লায়ন্স। কারন স্পট ফিক্সিং-এর দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া দুই দল চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসকে ফিরিয়ে আনার সিদ্বান্ত নিয়েছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। আগামী মৌসুম থেকে পুনে ও গুজরাটের পরিবর্তে আইপিএলে দেখা যাবে চেন্নাই ও রাজস্থানকে।
তাই ভালোভাবে এই মৌসুম শেষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন স্মিথ, ‘টুর্নামেন্টের সঠিক সময়ে সেরাটাই এখন প্রয়োজন। এটি সত্যিই এখন আমাদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময়।’
এবারের আসরে ১৪ ম্যাচে ৪২১ রান করেছেন স্মিথ। অধিনায়কত্ব হারালেও, ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় সময় ঠিকই জ্বলে উঠেছেন ধোনি। কোয়ালিফাইয়ার-১এ ধোনি ২৬ বলে অপরাজিত ৪০ রানের কল্যাণে লড়াই করার পুঁজি পায় পুনে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এক কলামে ভারতের সবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার বলেন, ‘স্মিথের নেতৃত্বে পুনে ফাইনালে ওঠে। তবে অবশ্যই ধোনির সাহায্য নিয়ে।’
পুনের বোলিং-কে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন বাঁ-হাতি জয়দেব উনাদকত। তার সাথে সহযোগিতায় থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার ড্যান ক্রিস্টিয়ান-লেগ স্পিনার এডাম জাম্পা ও সুন্দর-ঠাকুর।
কোয়ালিফাইয়ার-১এ পুনের কাছে হারলেও, কোয়ালিফাইয়ার-২এ কলকাতা নাইট রাইডার্সকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট পায় মুম্বাই। এই নিয়ে চতুর্থবারের মত ফাইনাল খেলবে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১১ জয়কে সাথে নিয়ে ফাইনালে খেলতে নামবে মুম্বাই।
কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি পরিশ্রম করেছি। শিরোপা জয় থেকে এখন আমরা এক ধাপ দূরে। পুনের বিপক্ষে আমাদের ভালো রেকর্ড নেই। তবে আর মাত্র একটি বাঁধা।’
এই মৌসুমে পুনের সাথে তিনবারের দেখায় সবগুলোতেই হেরেছে মুম্বাই।
২০১৩ ও ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের হাতে রয়েছে একাই ম্যাচ ঘুড়িয়ে দেয়ার মত বহু খেলোয়াড়। বিদেশীদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড ও নিউজিল্যান্ডের পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান অন্যতম। চলমান মৌসুমে সেটি বেশ কয়েকবারই প্রমান দিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছেন ওপেনার উইকেটরক্ষক পার্থিব প্যাটেল। পরের দিকে রোহিতের সাথে পোলার্ড-দুই পান্ডে ভাই দলের জয়ে প্রধান ভূমিকাও রাখেন। তাই এরা পুনের বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন।
বোলিং-এ মুম্বাইয়ের সেরা অস্ত্র জসপ্রিত বুমরাহ। ডেথ ওভারে দুর্দান্ত সব ইর্য়কারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি দিচ্ছেন বুমরাহ। সাথে আছেন শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা-ম্যাকক্লেনাঘান-করন শর্মার মত বোলার। ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কলকাতাকে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন করন। ফাইনালেও তার স্পিন বিষ দেখতে চাইবে মুম্বাই। এতে তৃতীয়বারের মত আইপিএলের শিরোপা জয় করতে সুবিধাই হবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের।

ভারতের নারী ক্রিকেটারদের বিশ্বরেকর্ড

বিশ্ব রেকর্ডই করে ফেললো ভারতের নারী ক্রিকেট দল। ব্যাট হাতে তারা ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ কওে এই বিশ্ব রেকর্ডেও অধিকারী হন। বিশ্ব ক্রিকেটে এবারই প্রথম কোনো নারী দল তিনশ’ রানের গন্ডি পাড় হলো।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমে চারজাতি ক্রিকেট সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫৮ রানের বিরাট স্কোর গড়ে মিতালী রাজের দল। শুধু তাই নয়, দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের সেঞ্চুরিতে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ভারতের মেয়েরা। দীপ্তি শর্মা ১৮৮ রানের ইনিংস খেললেন। দীপ্তি শর্মার ১৬০ বলে ১৮৮ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ২৭টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারিতে। ভারতের হয়ে এটাই সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান। এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল জয়া শর্মার ১৩৮। এই সিরিজেই এর আগে সর্বোচ্চ উইকেট নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন ঝুলন গোস্বামী। আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে পুনম রাউতের ব্যাট থেকে আসে ১০৯ রান। এর পরের আর কাউকে বেশি কিছু করতে হয়নি। ভারতের ওপেনিংয়ের ব্যাটন ছিল দীপ্তি শর্মা ও পুনম রাউতের হাতে। যার ফলে নিজেদের সর্বোচ্চ রান ২৯৮ পেছনে ফেলে নতুন স্কোর গড়লো ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। এটাই তাদের সর্বোচ্চ ওয়ানডে রান। বলাই বাহুল্য রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়া এই ম্যাচে ভারতের জয় ২৪৯ রানের।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা-আইসিসি। আগামী ১-১৮ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। অংশগ্রহণকারী আটটি দলকে মোট সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ২০১৩ সালের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবার পাঁচ লাখ পাউন্ড বাড়ানো হয়েছে। খেলা হবে তিনটি ভেন্যু কার্ডিফ, এজবাস্টন ও ওভালে। এরমধ্যে শিরোপা জয়ী দল পাবে ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড আর রানার্সআপ দল পাবে ১.১ মিলিয়ন পাউন্ড। দুই সেমিফাইনালিস্ট পাবে সাড়ে চার লাখ পাউন্ড করে। প্রত্যেক গ্রুপের তৃতীয়স্থানের দল পাবে ৯০ হাজার পাউন্ড। আর গ্রুপের শেষ দল পাবে ৬০ হাজার পাউন্ড।

ভারতে আসছেন রোনাল্ডো

আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে শুরু হবে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল। ২৪ দলের এই প্রতিযোগিতার ড্র অনুষ্ঠানে থাকার জন্য ভারতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে চারবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর। অবশ্য এরই মধ্যে ভারতে আসার কথা নিশ্চিত করেছেন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো ম্যারাডোনা । এবারে ভারতীয় দর্শকদের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিতে আসছেন পর্তুগিজ মহাতারকা রোনাল্ডো। ৭ জুলাই মুম্বাইয়ে হবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান।
সপ্তাখানেক আগেই সিআর সেভেন বলেছিলেন, ‘বিশ্বের বেশ কিছু জায়গায় আমি যেতে চাই। তার মধ্যে ভারতও রয়েছে।’ তাই বিশ্বকাপের আগে যদি রিয়াল মহাতারকাকে ভারতে আসেন তবে এবারের জুনিয়র বিশ্বকাপটা যে আলোড়ন তুলবে তা বলাই বাহুল্য।

আইপিএলের ফাইনালকে মনোহরের না

আইপিএলের ফাইনালে থাকবেন না আইসিসি-র চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড-বিসিসিআই মনোহর ও তার স্ত্রী বর্ষা মনোহরকে আইপিএলের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য দাওয়াত করলে, তিনি তা প্রত্যাক্ষান করেন। আগামী ২১ মে হায়দ্রাবাদে হবে এবারের আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচটি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত বিসিসিআই-র বর্তামান কমিটি শশাঙ্ক মনোহরকে আমন্ত্রণ জানায়। তিনি হায়দ্রাবাদের ফাইনালে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির কিছু সদস্যের সঙ্গে মনোহর এবং তার সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ থাকার কারণেই তিনি সেখানে যাবেন না। তবে পারিবারিক ব্যস্ততার কারণই বলেছেন তিনি আইপিএলের ফাইনালে উপস্থিত হতে না পারার কারণ হিসেবে।

আইপিএলে এতো রঙ!

টেস্ট ক্রিকেটের পর ওয়ানডের সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বের পরিচয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যেতে থাকে ক্রিকেটের খোল-নলচে। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার পর তো রীতিমতো বিপ্লব ঘটে ক্রিকেটবিশ্বে। তার প্রভাব পড়ে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজিতেও। প্রভাব পড়ে পোশাক-আশাকে, জার্সিতে এবং জীবনাচারেও। ক্রিকেটারদের পরণে এখন রঙিন জার্সি, সেই সঙ্গে রংবেরংয়ের ট্রাউজার। ভক্তদের চোখ টানে প্রিয় ব্যাটসম্যানের গ্লাভস, জুতো, প্যাডও। ক্রিকেটে এতো রঙ ভালো নয় বলে অনেকেই হচ্ছেন সমালোচনামুখর।
এই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বদৌলতে কত কিছুই না ঘটছে মাঠে। মাঠে আপেলের পসরা নিয়ে বসছেন সুন্দরী বিদেশিনী। আম্পায়ারকে বলের পরিবর্তে দিচ্ছেন আপেল। চিয়ারলিডাররা উদ্দাম নাচছেন। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সির রংও চোখ পরার মতো। যুবরাজ সিংহ, ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, রবিন উথাপ্পা, মিচেল মার্শরা রঙিন জুতো পরে খেলছেন আইপিএল-এর আসরে। ব্যাট করতে নামার সময়ে বদলে যায় জুতো-প্যাড এমনকি হেলমেটের রংও।
হায়দরাবাদ-এর তারকা ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিংহ জানান, রংবেরংয়ের জুতো, প্যাড, গ্লাভস পরার কারণ। বলেন, ক্রিকেট কিট প্রস্তুকারী সংস্থাগুলো এখন ক্রিকেটারদের কথা মাথায় রেখেই গ্লাভস, প্যাড, জুতো রঙিন করেই এখন বানাচ্ছে। ক্রিকেটাররা এখন রোল মডেল, নায়ক একেকজন। বিশ্বজুড়ে তাদের ভক্তের সংখ্যাও অসংখ্য। মাঠের ভিতরে তাদের হাটা চলা, জামা কাপড় পরার ধরনধারণ অনুকরণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের চোখে পছন্দের নায়ক যাতে আরও গ্ল্যামারার্স হয়ে ওঠেন, সেই কারণেই কিট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো সবকিছুতেই রং মেশায় আজকাল। হরেকরকমের জার্সি ও ট্রাউজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গ্লাভস-প্যাডও রঙিন বানানো হচ্ছে। ব্যাট করার সময়ে সেগুলো পরে ব্যাটসম্যানদের আরও আকর্ষণীয় দেখায়।

কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সদের দলে মুস্তাফিজ

প্রতি বছরের মতো ভারতের মুম্বাইয়ে এবারও অনুষ্ঠিত হল ‘দ্য সিয়াট ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ডস’। আর অনুষ্ঠানে ২০১৫-১৬ মৌসুমের সেরা ক্রিকেটারদের পুরস্কৃত করার সঙ্গে সেরা একাদশও ঘোষণা করা হয়। আর এ তালিকায় কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সদের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান।

`সিয়াট টি-টুয়েন্টি ড্রিম টিম` -এ মুস্তাফিজের সঙ্গে আরো রয়েছেন রোহিত শর্মা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মিচেল স্টার্ক, অমিত মিশ্র, বিরাট কোহলি, আন্দ্রে রাসেল, ডেভিড ওয়ার্নার, মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), ফ্যাফ ডু প্লেসিস, সুরেশ রায়না ও রবীচন্দ্রন অশ্বিন।

টিম ইন্ডিয়ার ওপেনার রোহিত শর্মা ভারতের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন। আইপিএলের রানমেশিন বিরাট কোহলি টি-টোয়েন্টির বর্ষসেরা পুরস্কার জেতেন। শ্রেয়ার্স ইয়ার জেতেন বর্ষসেরা ঘরোয়া ক্রিকেটারের পুরস্কার।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার নির্বাচিত হন। এছাড়া, ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা হন কিউই তারকা কেন উইলিয়ামসন, ভারতের রবীচন্দ্রন অশ্বিন আর আজিঙ্কা রাহানে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পুরস্কার পাওয়াদের তালিকা:

বিরাট কোহলি (ভারত): বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার (আইপিএলে চারটি সেঞ্চুরি আর সাতটি হাফ-সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ৯৭৩ রান)
রবীচন্দ্রন অশ্বিন: বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক বোলার
জো রুট (ইংল্যান্ড): বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার
কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড): বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার
মার্টিন গাপটিল (নিউজিল্যান্ড): বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার
রোহিত শর্মা (ভারত): বর্ষসেরা ভারতীয় ক্রিকেটার
রিশব প্যান্ট (ভারত): বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটার
শ্রেয়ার্স ইয়ার (ভারত): বর্ষসেরা ঘরোয়া ক্রিকেটার (২০১৫-১৬ রঞ্জিতে ১৩২১ রান)
আজিঙ্কা রাহানে (ভারত): বর্ষসেরা বিশেষ ক্রিকেটার (দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি)
দীলিপ ভেঙ্গসরকার (ভারত): জীবনকৃতী সম্মানে ভূষিত

রানমেশিন কোহলি, সেরা শিকারি ভুবনেশ্বর

বেঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে হায়দ্রাবাদের হাতে শিরোপা উঠে শেষ হয়েছে আইপিএলের নবম আসর। শুরু থেকেই ব্যাট-বলের জমজমাট এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে শীর্ষে থেকে আসরকে স্মরণীয় করে রাখলেন বিরাট কোহলি ও ভুবনেশ্বর কুমার।

ব্যাট হাতে আসরের প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের নাজেহাল করে ছাড়েন কোহলি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দলপতি কোহলি ১৬ ম্যাচে করেছেন সর্বোচ্চ ৯৭৩ রান। ৭টি অর্ধশতক আর ৪টি শতকে তার ব্যাটিং গড় ছিল অসাধারণ। ৮১.০৮ গড়ে আর ১৫২.০৩ স্ট্রাইক রেটে কোহলি ৬৪০টি বল মোকাবেলা করেন। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেছেন তিনি। ভারতীয় এই রানমেশিনের ব্যাট থেকে ৮৩টি বাউন্ডারি আর আসরের সর্বোচ্চ ৩৮টি ওভার বাউন্ডারি এসেছে।

এবারের আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৪৮ রান করেছেন হায়দ্রাবাদের দলপতি ডেভিড ওয়ার্নার। সর্বোচ্চ নয়টি অর্ধশতক হাঁকালেও তার কোনো শতক ছিল না। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৮৮টি চারের পাশাপাশি তিনি হাঁকিয়েছেন ৩১টি ছক্কা।

১৭ ম্যাচে ৬৬ ওভার বল করে ৪৯০ রানের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ২৩টি উইকেট দখল করেন হায়দ্রাবাদের পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ৭.৪২ ইকোনমি রেটে বল করা এই পেসারের সেরা বোলিং ফিগার ছিল ২৯ রানের বিনিময়ে চার উইকেট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি উইকেট দখল করেন বেঙ্গালুরুর যোগেন্দ্র চাহাল।

এবারের আইপিএলের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন কোহলি। ৩৫৬.৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনি টপকে যান ৩৩৮.৫ পয়েন্ট পাওয়া ডেভিড ওয়ার্নারকে। কোহলি-ভিলিয়ার্সদের বেঙ্গালুরুকে হারানোর পর এবারের আসরের ফেয়ার-প্লে অ্যাওয়ার্ডও নিজেদের নামে রেখেছে ওয়ার্নার-মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ।

সেরা ইকোনমি রেটে বল করেছেন পুনের অজি তারকা মিচেল মার্শ। ৩ ম্যাচ খেলে ইনজুরিতে ছিটকে পড়া এই পেসার ৫.০০ ইকোনমি রেট ধরে রেখেছিলেন। কলকাতার অলরাউন্ডার ইউসুফ পাঠান ১৫ ম্যাচ খেলে ৫.৫০ ইকোনমি রেটে বল করে এই তালিকায় দুইয়ে।

আইপিএলের সেরা একাদশে বাংলাদেশ তারকা মুস্তাফিজ

শেষ হয়ে গেল আইপিএল ২০১৬, নবম আসর। আসরের ফাইনালে রয়্যেল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ী এ দলটিকে ট্রফির স্বাদ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

 

সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলের এবারের আসর নিয়ে সেরা একাদশ তৈরি করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ইএসপিএনক্রিকইনফো’। একাদশটি আইপিএলের দলগুলোর আদলে ৭জন ভারতীয় ও ৪জন বিদেশি ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে। আর এ তালিকায় জায়গা হয়েছে ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজের নাম।

চলতি আসরে দুর্দান্ত বল করে মুস্তাফিজ তুলে নিয়েছেন ১৭টি উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিতে ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার (২৩) হলেও, সেরা ইকোনোমিতে (কৃপন বোলিং) ছিলেন টাইগার তারকা। ব্যাটসম্যানদের দাপট থাকলেও তিনি টুর্নামেন্টে রান দিয়েছে মাত্র সাতের নিচে (৬.৯০)।

এবারই প্রথম আইপিএল আসরে খেলতে গিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। তবে নিজের প্রথম অ্যাসাইন্টমেন্টেই আলো ছড়িয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্ট শেষে তার হাতে উঠেছে সেরা উদীয়মান তারকার খেতাব।

মুস্তাফিজের সঙ্গে সেরা একাদশে অন্য তিনজন বিদেশি ক্রিকেটার হলেন, হায়দ্রাবাদে মুস্তাফিজের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার, বেঙ্গালুরুর এবিডি ভিলিয়ার্স ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ক্রিস মরিস।

নিচের সেরা একাদশের দেওয়া হলো:

বিরাট কোহলি: ৯৭৩ রান, স্ট্রাইক রেট ১৫২.০৩
ডেভিড ওয়ার্নার: ৮৪৮ রান, স্ট্রাইক রেট ১৫১.৪২
এবিডি ভিলিয়ার্স: ৬৮৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬৮.৭৯
লোকেশ রাহুল: ৩৯৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৬.৪৯, ৫টি ক্যাচ, চারটি স্ট্যাম্পিং
ইউসুফ পাঠান: ৩৬১ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৫৬
ক্রিস মরিস: ১৯৫ রান, স্ট্রাইক রেট ১৭৮.৮৯, ১৩টি উইকেট, ইকোনোমি ৭
ক্রুনাল পান্ডে: ২৩৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৯১.১২, ৬টি উইকেট, ৭.৫৭ ইকোনোমি
ভুবনেশ্বর কুমার: ২৩ উইকেট, ইকোনোমি ৭.৪২
যুভেন্দর চাহাল: ২১ উইকেট, ইকোনোমি ৮.১৫
ধাওয়াল কুলকার্নি: ১৮ উইকেট, ইকোনোমি ৭.৪২
মুস্তাফিজুর রহমান: ১৭ উইকেট, ইকোনোমি ৬.৯০

মুস্তাফিজের কাউন্টি খেলা এখনও অনিশ্চিত

আইপিএল শেষ। শিরোপা জয় করে দেশেও ফিরে এসেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলের পরপরই তার ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট লিগ খেলতে যাওয়ার কথা। তবে ফিট থাকা সাপেক্ষেই তাকে কাউন্টিতে খেলার অনুমতি দেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

সেই ফিট কতটা মুস্তাফিজ? তা জানতে আজ মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসেছিলেন তিনি। দেখা করেছেন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীর সঙ্গে। বিসিবির চিকিৎসক এবং ট্রেনার তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করিয়েছেন।

পরীক্ষা-নীরিক্ষাগুলোর রিপোর্ট পেতে দু’দিন অপেক্ষা করতে হবে। মুস্তাফিজের পরীক্ষা-নীরিক্ষার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই বোঝা যাবে তিনি কতটা ফিট এবং এরপরই জানা যাবে তিনি আসলে কাউন্টি খেলতে যেতে পারবেন কি না।

তবে মুস্তাফিজ নিজে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হননি।

বিস্তারিত আসছে….

সম্পূর্ণ সুস্থ নন মুস্তাফিজ

রোববার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফাইনাল খেলে সোমবারই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের বিস্ময়বালক মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের ঘরোয়া এ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে ৪৫ দিন দেশের বাইরে ছিলেন তিনি। দেশে ফিরে জানালেন এখন শরীরের অবস্থা খুব ভালো নেই, পায়ে এখনো সমস্যা রয়েছে।

ভারত থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মুস্তাফিজুর রহমান। দেশে ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে মুস্তাফিজ নিজের শরীরের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমার পায়ে একটু সমস্যা আছে। আমি কালকে ক্রিকেট বোর্ডে যাবো। ফিজিওকে দেখাবো। বোর্ডে কথা বলবো তারপর জানা যাবে।’

বর্তমানে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ চলছে। এ আসরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ হয়ে খেলার কথা তার।

শরীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খেলতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচের আগে পায়ে একটু ব্যথা ছিল। এখন হালকা আছে। বিসিবিতে যাবো, ফিজিওকে দেখাবো তারপর মূল ব্যাপারটা জানা যাবে’

সবাই আমার থেকে বাংলা শিখতে চেয়েছিল’

ডেভিড ওয়ার্নার ও টম মুডি মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলার জন্যে ব্যবহার করেছেন গুগল ট্রান্সলেটর। হায়দরাবাদের টিম বাসে মুস্তাফিজকে পানি দিয়ে ওয়ার্নার বলেছিলেন, ‘নাও, ঠান্ডা পানি।’ মুস্তাফিজের জন্যে দোভাষী নিয়োগ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষ।

 

আইপিএল চলাকালেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছিল, ‘হায়দরাবাদের চোখের মণি মুস্তাফিজুর রহমান’। দেশে ফিরে মুস্তাফিজও বললেন একই কথা।

 

তার সঙ্গে কথা বলার জন্যে কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্টের অনেকেই তার থেকে বাংলা ভাষা শিখতে চেয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। মুস্তাফিজ এ নিয়ে বলেন, ‘আমি ইংলিশ খুব বেশি পারি না। ক্রিকেটের কিছু ভাষা পারি। সবাই আমার সঙ্গে কথা বলার জন্যে বাংলা শিখতে চেয়েছিল।’

 

আইপিএলে তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন সবাই। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ট্রামকার্ড ছিলেন বাঁহাতি এ পেসার। দলের মেন্টর ভিভিএস লক্ষণ বিভিন্ন সময়ে মুস্তাফিজকে বলেছিলেন ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা। মুস্তাফিজের প্রশংসা করতে কেউই বাদ যায়নি।

 

মুস্তাফিজ জানালেন, দলের ভেতরে-বাইরে যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারাই তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। দ্য ফিজ বলেন, ‘সবাই আমার সঙ্গে কথা বললে শুধু আমার বোলিংয়ের প্রশংসা করে।’

 

 

মুস্তাফিজকে সাসেক্সের অভিনন্দন

ন্যাটওয়েস্ট ক্রিকেটে মুস্তাফিজকে পেতে আশায় বুক বেঁধে আছে ইংলিশ ক্লাব সাসেক্স। তাদের সঙ্গে মুস্তাফিজের চুক্তি হলেও বাংলাদেশের আশ্চার্য প্রদীপকে পাওয়াটা যে অনেক কঠিন। কাউন্টি ক্লাবটির হয়ে মাঠে নামুক আর না নামুক, আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজকে অভিনন্দন জানিয়েছে সাসেক্স।

মুস্তাফিজ আইপিএলে খেলার কারণে সাসেক্সে খেলতে যেতে পারেননি। এবার খেলতে যেতে পারবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু নিজেদের দলের খেলোয়াড়ের সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে ভুল করেনি ক্লাবটি।

রোববার ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের প্রথম শিরোপা জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এই ম্যাচের পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ফিজকে অভিনন্দন জানায় সাসেক্স।

টুইটারে তারা লিখেছে, ‘আইপিএল জেতায় মুস্তাফিজ ও সানরাইজার্সকে অভিনন্দন। ক্রিস জর্ডান ও ডেভিড উইজির প্রতি সমবেদনা।’ ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার ক্রিস জর্ডান ও ডেভিড উইজি ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে খেলেছেন।

আইপিএলে রান হয়েছে মোট ১৮ হাজার আটশ

নানা রঙ্গের আইপিএল শেষ হলো রোমাঞ্চকর এক ফাইনালের মধ্য দিয়ে। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের ২০৮ রান তাড়া করে ২০০ রান পর্যন্ত করে ফেলেছিল বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরু। শেষ পর্যন্ত ৮ রানে জিতে ৬ষ্ঠ দল হিসেবে নব্ম আইপিএলের শিরোপা জিতলো মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ।

আইপিএল শেষ। এবার হিসাব নিকাশের পালা। কে কেমন করলো, কার কত রান, কত উইকেট। কে সেরা, কে ফ্লপ। নানা হিসেব নিকেশের মাঝ থেকে কিছু এক্সক্লুসিভ তথ্য তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

১০৫৫৭৭৪৪: সর্বমোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৪টি টুইট হয়েছে এবারের আইপিএলে
৭ : ৬০ ম্যাচে সর্বমোট সেঞ্চুরি হয়েছে ৭টি। এর মধ্যে একাই চারটি সেঞ্চুরি করেছেন বিরাট কোহলি। বাকি তিনটি করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, কুইন্টন ডি কক এবং স্টিভেন স্মিথ একটি করে।
১১০: এই আইপিএলে মোট হাফ সেঞ্চুরি হয়েছে ১১০টি।
১৮৮৬২ : এবারের আইপিএলে সর্বমোট রান হয়েছে ১৮ হাজার ৮৮২টি।
১০৩৬০ : মোট রানের মধ্যে শুধু বাউন্ডারি থেকেই (ছক্কাসহ) রান হয়েছে ১০ হাজার ৩৬০। যা মোট রানের প্রায় ৫৫ ভাগ।
৯৭৩ : আইপিএলে ব্যক্তিগত সর্বমোট রান বিরাট কোহলির। জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ।
২৪৮: এবারের আইপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর, ব্যাঙ্গালুরুর। গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে।
১২৯ : আইপিএলে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান এবি ডি ভিলিয়ার্সের অপরাজিত ১২৯, গুজরাটের বিপক্ষে।
১ : আইপিএলে হ্যাটট্রিক হয়েছে মাত্র একটি। করেছেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অক্ষর প্যাটেল।
১৫০: আইপিএলে এবারের আসরে সবচেয়ে দ্রুতগতির বল ১৫০.৩১ কিলোমিটার গতির।
৬৬৫ : আইপিএলে মোট ৬০ ম্যাচে সর্বমোট উইকেটের পতন ঘটেছে মোট ৬৬৫টি।
২৩: এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি ২৩টি উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপ জিতেছেন ভুবনেশ্বর কুমার।
১০: আইপিএলে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় ১০ উইকেটে। জিতেছে সানরাইজার্স, গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে।
৬৩৮ : আইপিএলে সর্বমোট ছক্কা হয়েছে ৬৩৮টি।
৩৮ : পুরো আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন বিরাট কোহলি। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৮টি ছক্কা। ৩৭টি ছক্কা ডি ভিলিয়ার্সের। ফাইনালে তিনি ছিলেন ছক্কাহীন।
১১৭ : সবচেয়ে লম্বা ছক্কা মেরেছেন বেন কাটিং। ফাইনালে নিজেদের শেষ ওভারে শেন ওয়াটসনের বলে ১১৭ মিটার দীর্ঘ এই ছক্কা মারেন তিনি।
৪: আইপিএলের ৬০ ম্যাচের মধ্যে শেষ বলে ম্যাচ শেষ হয়েছে মোট চারটি।
৬ : আইপিএলের সেরা বোলিং অ্যাডাম জাম্পার। পুনে সুপার জায়ান্টসের এই বোলার ১৯ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট, সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বিপক্ষে।

মুস্তাফিজের প্রশংসায় বিশ্ব ক্রিকেট

দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট শেষ করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলে নিজের দল সানরাইজার্স হায়দারাবাদের চেহারাই বদলে দিয়েছিলেন তিনি। সেই দলটিই শেষ পর্যন্ত জিতলো আইপিএল নবম আসরের শিরোপা। শুরু থেকেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। ডেথ ওভারে এসে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার মূল কাজটা হতো তাকে দিয়েই।

সুতরাং, তিনিই এবারের আইপিএলের সেরা আবিষ্কার। আইপিএল শেষে তার হাতেই উঠেছে সেরা নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের পুরস্কার। পুরো টুর্নামেন্টে তাকে নিয়ে শোনা গিয়েছে নানা মন্তব্য। পুরো বিশ্বের ক্রিকেট মহল ঘুরে ফিরে মন্তব্য করেছে তাকে নিয়ে।

মুস্তাফিজকে প্রসংশায় ভাসিয়েছেন সকলেই। সেই মুস্তাফিজুরের প্রথম আইপিএল শেষ হল সাফল্যের সঙ্গে। চোটের জন্য খেলতে পারেননি প্লে অফের একটি ম্যাচ; কিন্তু ফাইনালে ফিরেছেন স্বমহিমায়। আইপিএল শেষে চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্সের অন্যতম সেরা বোলার মুস্তাফিজকে নিয়ে প্রশংসায় মেতে উঠেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

রামিজ রাজা: অ্যান্ডারসন, স্টেইনদের মতো প্লেয়াররা রয়েছেন। যারা টেস্টে খুব ভাল; কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানই।

মনোজ প্রভাকর: এটা নিয়ে কোনও সংশয় নেই মুস্তাফিজুরই এই মুহূর্তের সেরা বোলার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ভাল ইয়র্কার দিতে পারে; কিন্তু মুস্তাফিজুর এখন তার সেরা ফর্মে রয়েছে। ও দারুণ দ্রুততার সঙ্গে কাটার করতে পারে। একই সঙ্গে বলে নানা রকম পরিবর্তন আনতে পারে।

কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত: এই মুহূর্তে তার থেকে ভাল বোলার খুব একটা নেই; কিন্তু ওকে এই খেলাটা আরও কিছুদিন ধরে রাখতে হবে। তারপরই তাকে আমরা সেরার তকমা দিতে পারব।

ডেল স্টেইন: ওয়াসিম আক্রামের মধ্যে যে এক্স-ফ্যাক্টর ছিল সেটা মুস্তাফিজুরের মধ্যেও আছে। ওর বোলিং দেখতে দারুণ লাগে। ও যেভাবে পেসের পরিবর্তন করে সেটা আগে দেখিনি। ও আরও উন্নতি করবে।

রবি শাস্ত্রী: এ ছেলে বিস্ময় প্রতিভা। ভারতের বিরুদ্ধে একটা ওয়ানডে সিরিজে দুটো পাঁচ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিল। এরকম প্রতিভাকে লালন করতে হবে।

হাবিবুল বাশার: টি-টোয়েন্টিতে যেখানে বোলারদের উপর চড়াও হয় ব্যাটসম্যানরা, সেখানে ও রানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখছে। ওকে মেরে খেলা বিপজ্জনক বলেই ব্যাটসম্যানরা মেরে খেলতে চায় না।

মুত্তিয়া মুরালিধরন: মুস্তাফিজ শুধু বাংলাদেশ নয়, এই আইপিএলে হায়দরাবাদেরও বড় সম্পদ হয়ে উঠে এসেছে। ওকে সঠিক পরিচর্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তবেই ওর জন্য আগামীতে ও আরও বড় সাফল্য পাবে।

ডার্ক ন্যানেস: এখনও পর্যন্ত মুস্তাফিজুরের বল কেউ পড়তে পারেনি। যেভাবে অ্যাকশন পরিবর্তন না করে বলের গতি বদলে ফেলতে পারে সেটাই সবাইকে ধন্দে ফেলে দেয়।

আইপিএলের সেরা একাদশে মুস্তাফিজ

আইপিএল চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। টুর্নামেন্টের আগেই ঝড় তুলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এক কোটি ৪০ লাখ রুপিতে তাকে কিনেছিল সানরাইজার্স। কেন নতুন এক ক্রিকেটারকে এত টাকা দিয়ে কেনা হলো? সে প্রশ্নের জবাবে অনেক বাক্য ব্যায় করতে হয়েছিল মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণকে।

তবে এবার আর সমালোচকরা মুখ খুলবে না। উল্টো প্রশংসায় ভাসাচ্ছে সানরাইজার্সকে। মুস্তাফিজকে নিয়ে বাজি ধরার জন্য। ম্যান অব আইপিএলে পরিণত হলেন দ্য ফিজ। যে কারণে আইপিএলের সেরা একাদশেও ঠাঁই পেয়ে গেলেন তিনি।

আইপিএলের সেরাদের নিয়ে গঠন করা হলো এই একাদশটি। যার অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকে। এই একাদশে ঠাঁই পেয়েছে অধিকাংশই সানরাইজার্স হায়দারাবাদ এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ক্রিকেটার। অপরিহার্যভাবেই এই একাদশে পেসার হিসেবে রয়েছেন মুস্তাফিজ।

ভবিষ্যতে মুস্তাফিজ আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠবে: ওয়ার্নার

এবারের আইপিএল-এ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের আস্থার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বলা যায় পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ওয়ার্নারের তুরপের তাস ছিলেন ‘দ্য ফিজ’।
যখনই প্রয়োজন হয়েছে মুস্তাফিজকে ডেকেছেন ওয়ার্নার। প্রতিপক্ষের রানের চাকা যখন টেনে ধরতে হবে ঠিক সে সময় মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন তিনি। অধিনায়কের আস্থার দুর্দান্ত প্রতিদানও দেন কাটার মাস্টার।
ভুবনেশ্বর কুমার আর মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং জুটিই যে হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে, তা অস্বীকার করতে পারবে না কেউই। একপাশে রানের রাশ টেনে ধরেন মুস্তাফিজ। অন্য পাশে উইকেট তুলে নেন ভুবনেশ্বর। অধিনায়ক ওয়ার্নারও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এ দুই পেসারকে।
গতকাল ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজকে শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়। ভুবনেশ্বরের সঙ্গে সে যেরকম অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে, তাতে তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আশা করছি, সে সুস্থ থাকবে আর ভবিষ্যতে আরও দুর্দান্ত হয়ে উঠবে।’

আইপিএলে মুস্তাফিজের যত কীর্তি

প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে গিয়েই শিরোপা জিতেছেন মুস্তাফিজ। তার অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ পায় ট্রফি জয়ের স্বাদ। ইনজুরির কারণে কেবল একটি ম্যাচেই বসে ছিলেন মুস্তাফিজ। ইনজুরি না থাকলে হয়ত সে ম্যাচেও মাঠে নামতেন কাটার মাস্টার।

মূলত স্লোয়ার এবং কাটারে পারদর্শী এই বোলারকে নিলামে ১ কোটি ৪০ লক্ষ রুপি দিয়ে কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত দলের হয়ে মাঠে নেমেছেন মুস্তাফিজ।

দেখে নেয়া যাক এবারের আইপিএলের মুস্তাফিজের বোলিংয়ের কিছু কীর্তিঃ
১. ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে আইপিএলে সর্বাধিক উইকেট পাওয়া বোলারদের তালিকায় মুস্তাফিজ রয়েছেন ৫ নম্বরে।

২. এক ইনিংসে বোলিংয়ে সব থেকে কম স্ট্রাইক রেটের বোলারদের তালিকাতে ১৯ নম্বরে রয়েছেন মুস্তাফিজ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের
বিপক্ষে ম্যাচে ৩ ওভার বল করে ১৬ রান দিয়েছিলেন তিনি যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৬।

৩. পুরো টুর্নামেন্টের সব থেকে কম স্ট্রাইক রেটের বোলারদের তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ২৯ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে ৪২১ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ২১.৫২।

৪. পুরো টুর্নামেন্টের সব থেকে কম ইকোনমির তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ৭ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে তার ইকোনমি ৬.৯০। কিন্তু ১০ বা তার বেশি ইনিংসে বোলিং করা বোলারদের ভেতর মুস্তাফিজ রয়েছেন তালিকার শীর্ষে।

৫. ম্যাচে সব থেকে কম ইকোনমির তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ৪ নম্বরে। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে ৯ রান দিয়েছিলেন। যেখানে তার ইকোনমি ছিল ২.২৫। এই ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচও হয়েছিলেন তিনি।

৬. এক ইনিংসে ১৭টি ডট বল দিয়ে আইপিএলের এক ম্যাচে সর্বাধিক ডট বল দেয়ার তালিকাতে রয়েছেন দুই নম্বরে।

৭. পুরো আইপিএল টুর্নামেন্টে ১৩৭টি ডট বল দিয়ে সর্বাধিক ডট বল দেয়ার তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন দুই নম্বরে।

৮. ১৬টি ম্যাচে ১টি মেডেন ওভার করে আইপিএলে সর্বাধিক মেডেন ওভার করা বোলারদের তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ষষ্ঠ স্থানে (স্ট্রাইক রেটে এগিয়ে থেকে)।

৯. পুরো টুর্নামেন্টে বল প্রতি উইকেট নেয়ার তালিকাতে মুস্তাফিজ রয়েছেন ২৩ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে মুস্তাফিজের গড় ২৪.৭৬।

প্রথমবার খেলতে গিয়েই এমন ঈর্শনীয় সাফল্যের কারণে সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কারও জেতেন মুস্তাফিজ।

হোটেলে ট্রফি নিয়ে মুস্তাফিজদের উল্লাস (ভিডিও)

উচ্ছ্বাসটা এমনই হওয়ার কথা ছিল। প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়েই হায়দারাবাদের হয়ে আইপিএল জিতেছেন মুস্তাফিজ।

টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৮ রানে জয় পায় মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ। ট্রফি নিয়ে স্টেডিয়ামেই এক ধাপ আনন্দ উল্লাস সেরে নেয় সানরাইজার্স। এর পর চলে নিজেদের টিম হোটেলে গেলে সেখানেও অপেক্ষা করছিল বিস্ময়।

হায়দারাবাদ সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় হোটেলে প্রবেশ করে মুস্তাফিজরা। এ সময় একে অপরের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন সবাই। পুরো রাত ব্যাপী চলে হায়দারাবাদের এই বিজয় উল্লাস।

‘বিষাক্ত’ মুস্তাফিজকে মনে রাখবে আইপিএল

মাহফুজ রাহমান : গত কয়েক বছর ধরে আইপিএল-এ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান। তবে চলতি আসরে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন তরুণ টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এবারের আইপিএল-এ সেরা উইকেট শিকারি তার সতীর্থ ভুবনেশ্বর কুমার হলেও ‘হট কেক’ ছিলেন মুস্তাফিজ-ই।
আইপিএল-এর নিলামে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ানোর জন্য লড়াই হয়েছিল হায়দরাবাদ ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যে। ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ রুপি হলেও শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজকে পাওয়ার জন্য এক কোটি ৪০ লাখ রুপি দাম ওঠে। নিলামে তাকে কিনে নেয় হায়দরাবাদ। এখন সে জন্য বড্ড আফসোস করতেই পারেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি!
স্কোয়াডে বর্তমান বিশ্বক্রিকেটের ভীতি জাগানিয়া সব ব্যাটসম্যান। আইপিএল জেতার মতো সব রসদই ছিল কোহলির অস্ত্রাগারা। কেবল একজন মুস্তাফিজ ছাড়া। মুস্তাফিজ হিন্দি জানেন না, ইংরেজিতেও নাকি তার ভীষণ ভয়। কিন্তু ক্রিকেটের নিজস্ব ভাষা যে মুস্তাফিজের বেশ রপ্ত! সেই ক্রিকেটীয় ভাষাতেই নিজের কাজটা করে গেলেন নিপুণভাবে। তার প্রধান অস্ত্র ‘বিষাক্ত’ ইয়র্কার। সঙ্গে কাটার ও স্লোয়ারে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের গলা চেপে ধরেছেন মুস্তাফিজ।
তবে দাপুটে বোলিং করলেও ভাগ্য সহায় না থাকায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি নন তিনি। কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর তার চাপ সৃষ্টির ফায়দা তুলে নেন অপর প্রান্তে থাকা হায়দরাবাদের আরেক পেসার ভুবনেশ্বর কুমার।
মুস্তাফিজের ইয়র্কার সামলাতে না পেরেই মাটিতে কুপোকাত হয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। যা ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে এখনও ভাসছে। মুস্তাফিজের ওই ‘বিষাক্ত’ ইয়র্কারও মনে রাখবে আইপিএল।

এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিশ্বব্যাপি নতুন করে নজর কেড়েছেন অভিষেকে হইচই ফেলে দেওয়া ‘দ্য ফিজ’। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেটবিশ্বের রথী-মহারথীরা। ঘোরতর বাংলাদেশ বিরোধী বলে পরিচিত নভোজ্যাৎ সিং সিধুর কণ্ঠেও শোনা গেছে মুস্তাফিজ স্তুতি। কাটার মাস্টারকে নিয়ে তার উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে কবিতাও লিখেছেন তিনি। মুস্তাফিজের প্রশংসায় সিধু মেতেছেন এভাবে, ‘মুস্তাফিজ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আর সে এখানে এসে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাকি সবাইকে। হি ইজ অ্যাবসলিউটলি মাইন্ডব্লোইং!’

ভারতীয় সাবেক মিডিয়াম পেসার মনোজ প্রভাকর বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ ইয়র্কার ও কাটার সব কিছুই দারুণভাবে আয়ত্ব করেছে। তার কব্জির ব্যবহার আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে ভবিষ্যতে তাকে আটকানো মুশকিল হয়ে যাবে। সে সুইংটাকে একেবারে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’

অ্যালান ডোনাল্ডের ভাষ্য, ‘সে আসলে অসাধারণ আবিষ্কার। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এমন একজন বোলারের অপেক্ষায়। তাকে মারার আগে ব্যাটসম্যানদের দুইবার ভাবতে হবে। এ ছাড়াও তার চমৎকার ইয়ার্কার আছে। গতির পরিবর্তন করে দারুণভাবে। বয়স কম হলেও সবকিছু চমৎকারভাবেই করে।’

সাবেক অসি পেসার ডার্ক ন্যানেস বলেন, ‘এখনও মুস্তাফিজের বল কেউই রিড করতে পারেনি। যেভাবে অ্যাকশন পরিবর্তন না করে বলের গতি বদলে ফেলতে পারে ও সেটাই সবাইকে ধন্দে ফেলে দেয়। যেটা অনবদ্য। আমার বিশ্বাস অনেকদিন ক্রিকেট মাঠ দাঁপানোর জন্যই এসেছে মুস্তাফিজ।’

বাংলাদেশবিরোধী হিসেবে পরিচিত রমিজ রাজা বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে জেমস অ্যান্ডারসন আর ডেল স্টেইন খুবই ভালো বোলার। তবে এই মুহূর্তে সীমিত ওভারে মুস্তাফিজই সেরা পেসার।’ সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের মতে, ‘ক্রিকেট বিশ্বে মুস্তাফিজের চেয়ে ভালো কেউ নেই। কিন্তু মুস্তাফিজকে সেরাদের সেরা হতে আরও লম্বা সময় ধরে পারফর্ম করতে হবে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ড্যারেন সামি বলেন, “এই ছেলেটি আমাকে অবাক করে দিয়েছে। কী নিখুঁত তার বোলিং। ‘ফিজ’ তুমি এগিয়ে যাও, সামনে তোমার অনেক বড় দিন আসতে চলেছে।”

আরেক ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ তার বোলিং ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছে, সে ১৪৫ কি.মি গতিতে খুব সহজেই বল করতে পারে। তার স্লোয়ারগুলো দুর্দান্ত। আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে সে তার বোলিংয়ের অ্যাকশন ও রানআপ পরিবর্তন করে না। ফলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তার বল খেলা খু্বই কঠিন।’

যেখানে সবার সেরা মুস্তাফিজ

রবিউল ইসলাম : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ হয়েছে তার।
আর এই সুযোগটা খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন মুস্তাফিজ। নিজের বোলিং দ্যুতি ছড়িয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। কী স্লোয়ার! কী কাটার! কী ইয়র্কার! সবখানে যেন মুস্তাফিজ দিনে দিনে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন সবাইকে।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম ম্যাচ থেকেই চমক দেখাতে থাকেন ফিজ। ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে শুরু হয় তার আইপিএল মিশন। তবে এই প্রাপ্তির মধ্যেও একটি অপ্রাপ্তি যোগ হয়েছে। বারবার হ্যাটট্রিকের সামনে গিয়েও হতাশ হতে হচ্ছে তাকে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিমধ্যে তিনি চারবার টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেই হ্যাটট্রিক পাননি। আইপিএল অভিষেকেও সুযোগ এসেছিল তার সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক ছুঁতে পারেননি তিনি। ওটা নিয়ে মোট পাঁচবার হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হলো মুস্তাফিজের।
আইপিএল-এ ১৭টি ম্যাচ খেলেছে মুস্তাফিজের সানরাইর্জাস। এর মধ্যে মুস্তাফিজ খেলেছেন ১৬টি ম্যাচ; যেখানে তার উইকেট সংখ্যা ১৭টি উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তিনি ৫ নম্বরে।
তবে কোনও মাচে ব্যাট হাতে নামতে পারেননি তিনি। ফলে রানের খাতা শূন্য। ১৬ ম্যাচে ৬১ ওভার বল করেছেন ফিজ। রান দিয়েছেন ৪২১। ওভার প্রতি তার নেট রান রেট ৬.৯০। কমপক্ষে ২০ ওভার বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে তার চেয়ে কম ইকোনোমি রেট নেই আর কারও। তার বেস্ট বোলিং ফিগার ১৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট। বেশ কিছু ম্যাচে উইকেট না পেলেও কিপটে বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন তিনি।
সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই মুস্তাফিজকে ডেথ ওভারের রাজা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। মুস্তাফিজ অবশ্য শুধু ডেথ ওভার নয়, পাওয়ার প্লে-তেও কার্যকরী বোলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
চলতি মৌসুমে ১৬ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে অন্তত ৬ ওভার হলেও করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানই রান খরচে সবচেয়ে বেশি কৃপণতা দেখিয়েছেন। যেখানে এই সময়টায় ব্যাটসম্যানদের মারকুটে তাণ্ডবে ওভারপ্রতি গড়ে ১২-১৫ রান পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়, সেখানে টাইগার বিস্ময় বালকের ওভার প্রতি খরচ মাত্র ৭ দশমিক ২৮ করে।
সানরাইজার্সের হয়ে ১৬ ম্যাচ খেলা মুস্তাফিজুরের প্রতি ম্যাচে ওভারপ্রতি রান খরচ ৬.৯০। যেখানে তার পেছনে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুনীল নারিনের খরচ ৬ দশমিক ৯২।

আইপিএল-এর সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় মুস্তাফিজ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। রবিবার বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় হায়দরাবাদ। পুরস্কার বিতরণের সময় সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে মুস্তাফিজের নাম ঘোষণা করেন রবি শাস্ত্রী।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নবম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেকের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ হয়েছে তার। আর এই সুযোগটা খুব ভালো ভাবেই কাজে লাগিয়েছেন মুস্তাফিজ। নিজের বোলিং দ্যুতি ছড়িয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
কী স্লোয়ার! কী কাটার! কী ইয়র্কার! সবখানে যেন মুস্তাফিজ দিনে দিনে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন সবাইকে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম ম্যাচ থেকেই চমক দেখাতে থাকেন ফিজ। ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে শুরু হয় তার আইপিএল মিশন।
আইপিএল-এ ১৭টি ম্যাচ খেলেছে মুস্তাফিজের সানরাইর্জেস হায়দরাবাদ। এরমধ্যে মুস্তাফিজ খেলেছেন ১৬টি ম্যাচ; যেখানে তার উইকেট সংখ্যা ১৭টি উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তিনি ৫ নম্বরে। ১৬ ম্যাচে ৬১ ওভার বল করেছেন ফিজ। রান দিয়েছেন ৪২১। ওভার প্রতি তার নেট রান রেট ৬.৯০। কমপক্ষে ২০ ওভার বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে তার চেয়ে কম ইকোনোমি রেট নেই আর কারও।

রানমেশিন কোহলি, সেরা শিকারি ভুবনেশ্বর

বেঙ্গালুরুকে ৮ রানে হারিয়ে হায়দ্রাবাদের হাতে শিরোপা উঠে শেষ হয়েছে আইপিএলের নবম আসর। শুরু থেকেই ব্যাট-বলের জমজমাট এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে শীর্ষে থেকে আসরকে স্মরণীয় করে রাখলেন বিরাট কোহলি ও ভুবনেশ্বর কুমার।

ব্যাট হাতে আসরের প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের নাজেহাল করে ছাড়েন কোহলি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দলপতি কোহলি ১৬ ম্যাচে করেছেন সর্বোচ্চ ৯৭৩ রান। ৭টি অর্ধশতক আর ৪টি শতকে তার ব্যাটিং গড় ছিল অসাধারণ। ৮১.০৮ গড়ে আর ১৫২.০৩ স্ট্রাইক রেটে কোহলি ৬৪০টি বল মোকাবেলা করেন। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেছেন তিনি। ভারতীয় এই রানমেশিনের ব্যাট থেকে ৮৩টি বাউন্ডারি আর আসরের সর্বোচ্চ ৩৮টি ওভার বাউন্ডারি এসেছে।

এবারের আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৪৮ রান করেছেন হায়দ্রাবাদের দলপতি ডেভিড ওয়ার্নার। সর্বোচ্চ নয়টি অর্ধশতক হাঁকালেও তার কোনো শতক ছিল না। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৮৮টি চারের পাশাপাশি তিনি হাঁকিয়েছেন ৩১টি ছক্কা।

১৭ ম্যাচে ৬৬ ওভার বল করে ৪৯০ রানের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ২৩টি উইকেট দখল করেন হায়দ্রাবাদের পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ৭.৪২ ইকোনমি রেটে বল করা এই পেসারের সেরা বোলিং ফিগার ছিল ২৯ রানের বিনিময়ে চার উইকেট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি উইকেট দখল করেন বেঙ্গালুরুর যোগেন্দ্র চাহাল।

এবারের আইপিএলের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন কোহলি। ৩৫৬.৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনি টপকে যান ৩৩৮.৫ পয়েন্ট পাওয়া ডেভিড ওয়ার্নারকে। কোহলি-ভিলিয়ার্সদের বেঙ্গালুরুকে হারানোর পর এবারের আসরের ফেয়ার-প্লে অ্যাওয়ার্ডও নিজেদের নামে রেখেছে ওয়ার্নার-মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ।

সেরা ইকোনমি রেটে বল করেছেন পুনের অজি তারকা মিচেল মার্শ। ৩ ম্যাচ খেলে ইনজুরিতে ছিটকে পড়া এই পেসার ৫.০০ ইকোনমি রেট ধরে রেখেছিলেন। কলকাতার অলরাউন্ডার ইউসুফ পাঠান ১৫ ম্যাচ খেলে ৫.৫০ ইকোনমি রেটে বল করে এই তালিকায় দুইয়ে।

মুস্তাফিজরাই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন

টস জিতেও সানরাইজার্স হায়দারাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ব্যাটিং নিয়েছিলেন বোলারদের ওপর আস্থা রেখে। ২০৯ রানের টার্গেট বেধে দেয়ার পর চ্যাম্পিয়নশিপটাও যেন নিজেদের করে নিয়েছিল মুস্তাফিজরা। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরাও জবাব দিয়েছিল বেশ। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বোলারদের নৈপুন্যেই আইপিএল নবম আসরের শিরোপা জিতে নিল মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

Sunrisers Hyderabad

Sunrisers Hyderabad


সানরাইজার্স হায়দারাবাদের দেয়া ২০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিরাট কোহলি আর ক্রিস গেইলের দুর্দর্ষ ওপেনিং জুটির পরও ৮ রানের ব্যবধানে হেরে যেতে হলো রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে। মাত্র ১০.৩ ওভারেই ১১৪ রানের বিশাল জুটি গড়ে ফেলেছিলেন কোহলি-গেইল। সে জায়গা থেকে বোলাররাই জয়ের পথে ফিরিয়েছে সানরাইজার্সকে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তুললো বিরাট কোহলির দল।

ম্যাচ শুরুর আগেও বেশ শঙ্কা ছিল মুস্তাফিজ খেলতে পারবেন কি না। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিকই ফিট হয়ে মাঠে ফিরলেন তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই দিলেন মাত্র ৪ রান। অথচ ওই সময় গেইল-কোহলির ধুন্দুমার ব্যাটিং চলছিল। সানরাইজার্সের বোলারদের কোন পাত্তাই দিচ্ছিল না তারা দু’জন।
Vivo IPL 2016 M34 - SRH v GL
অবশেষে সানরাইজার্সের ত্রানকর্তা হয়ে এলেন বেন কাটিং। ব্যাট হাতে যেমন শেষ মুহূর্তে ঝড় তুলে সানরাইজার্সের রান পার করে দিয়েছিলেন দুইশ’র বেশি। বল হাতে এসেই তুলে নিলেন ক্রিস গেইলের উইকেট। ৩৮ বলে ৭৬ রান করে আউট হন গেইল। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ৮টি ছক্কার মার।

এরপর বাকি ছিল বিরাট কোহলির উইকেট। তাকে বোল্ড করে ফেরালেন বারিন্দার ¯্রান। ৩৫ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ২ টি ছক্কার মার। বাকি ছিলেন আরেক ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট। বিপুল শর্র্মার বলে মাত্র ৫ রান করে ফিরে গেলেন তিনিও।

শেন ওয়াটসন চোখ রাঙ্গানি দিয়েছিলেন কিছুটা। তবে তাকে দারুন এক ¯েøায়ারে তুলে নিলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের এই বিস্ময় পেসার পেতে পারতেন আরও উইকেট। একটি ক্যাচ মিস হয়েছিল, আরও কয়েকটি ভালো বলে উইকেট পেলেন না তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত দিয়েছিলেন ৩৭ রান।

শচিন বেবি ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১১ রান করে করেন ওয়াটসন এবং লোকেশ রাহুল। বেন কাটিং ২ উইকেট নেন। ৩৯ রানের সঙ্গে ২ উইকেট নিয়ে তিনিই হলেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, ম্যান অব দ্য ফাইনাল।

প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজুর রহমান। সম্ভবত বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারের নাম। বাংলাদেশের সাৎক্ষীরার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্ব জয় করে নিয়েছেন তিনি। সবার মুখে মুখেই ঘুরছে তার নাম।

বিস্ময়কর পেসার হিসেবে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। সেই মুস্তাফিজ এবার জিতে গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে গø্যামারাস ফ্রাঞ্জাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট, আইপিএল। প্রথমবার খেলতে গিয়েই শিরোপা এনে দিলেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে।

পুরো আইপিএলজুড়ে করলেন অসাধারণ বোলিং। সবচেয়ে কৃপণ বোলার হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন তিনি আইপিএলে। ঈর্ষনীয় ইকনোমি রেট। ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষের কোমর ভেঙে দেয়ার মূল কাজটি তিনিই করে আসছিলেন। আজও যেমন শেষ দুই ওভারে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর মত ব্যাটিং নির্ভর দলের বিপক্ষে কম খরুচে বোলার ছিলেন তিনিই।

সব মিলিয়ে ১৬ ম্যাচ খেললেন তিনি। উইকেট নিলেন ১৭টি। ইকনোমি রেট মাত্র ৬.৯ করে। ১৬ ম্যাচে ৬১ ওভার বল করে ৪২১ রান দিয়েছেন।

হায়দারাবাদ নয় যেন জিতেছে বাংলাদেশ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এটি নবম আসর। এর আগে আটটি আসর হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এবারের মত এতটা আলোচনায় কখনোই ছিল না আইপিএল। আর এর একটাই কারণ, এবার যে খেলছেন বাংলাদেশের বিস্ময়বালক মুস্তাফিজুর রহমান।

এর আগে আইপিএলে খেলেছেন বাংলাদেশের আব্দুর রাজ্জাক, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মোহাম্মদ আশরাফুল। সাকিব আল হাসানতো দুইবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনায় ছিলেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত বোলিং করে সে আলোচনায় আরও রশদ জুগিয়ে দিয়েছেন এ নবীন পেসার।

ছেলে বুড়ো হতে সবাই রোববার চোখ রেখেছিলেন টিভির পর্দায়। সবার চাওয়া ছিল একটি। শিরোপাটা যেন মুস্তাফিজের হাতে ওঠে। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। দারুণ জমজমাট লড়াই শেষে শিরোপা জিতে নেয় হায়দারাবাদ। আর তাতেই গর্জে ওঠে বাংলাদেশ।

আইপিএলের ফাইনাল শেষ হবার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে মুস্তাফিজকে অভিনন্দন জানিয়ে স্ট্যাটাসের হিড়িক পরে যায়। শাহিন আহমেদ নামে একজন লিখেন, ‘এরচেয়ে ভালো আর কি হতে পারে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের হাতেই শিরোপা। মুস্তাফিজ তুমি সত্যিই সুন্দর।’

রুবেল নামে একজন লিখেছেন, ‘প্রথমবারেই কাপ মুস্তাফিজের হাতে। অবাক হবার কিছুই নেই। কারণ টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে কি টেস্ট অভিষেকেতো ওই হিরো ছিল। ইউ ডিজার্ভ ইট দ্যা ফিজ!’

আক্তারুজ্জান নামে একজন লিখেছেন, ‘ডেথ ওভারের হিরো সত্যিই ফিজ। আজকে কয়েকটা ছয় হয়েছে বলে অর বোলিং খারাপ হয়নি। আসলে পিচটাই ছিল পাটা। কে না আজ মেরেছে। সানরাজার্সের হিরো মুস্তাফিজ, ভুবেনেস্বর আর অবশ্যই ওয়ার্নার।’

আরিফ নামে একজন লিখেছেন, ‘প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়েই শিরোপার স্বাদ পেলেন মুস্তাফিজ! অভিনন্দন মুস্তাফিজ, অভিনন্দন ওয়ার্নার, অভিনন্দন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।’

ফাইনালে খেলছেন মুস্তাফিজ

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে আইপিএলের ফাইনালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুস্তাফিজের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে নিশ্চিত করা হয় তার খেলার খবর। বেঙ্গালুরুর চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুস্তাফিজদের প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়ে গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচই খেলেছেন মুস্তাফিজ। খেলেছেন এলিমিনেটর ম্যাচটিও। তবে শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ছিলেন না একাদশে। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার জানিয়েছিলেন, হালকা হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার।
১৫ ম্যাচ খেলে এবারের আইপিএলে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৬.৭৩। কমপক্ষে ১০ ওভার বোলিং করা বোলারদের মধ্যে এবারের আইপিএলে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং মুস্তাফিজেরই।

ব্যাটিং ডায়নামাইটসদের বিরুদ্ধে মুস্তাফিজদের স্বপ্নপূরণের যুদ্ধ

আইপিএলে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আজ মাঠে নামছে মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও বিরাট কোহলি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। আগের আট আসরের কোনটিতেই শিরোপা জিততে পারেনি হায়দরাবাদ ও ব্যাঙ্গালুরু। ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বমী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হবে ফাইনাল।

টুর্নামেন্টের পুরো আসর জুড়েই দাপট দেখিয়েছে মুস্তাফিজুরের হায়দরাবাদ। ফলে শেষ চারে জায়গা পেতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি তাদের। তৃতীয় দল হিসেবেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় হায়দরাবাদ। ১৪ খেলায় ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় হয় তারা।

দলের এমন দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পেছনে আসল ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান, অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও ভুবেনশ্বর কুমার। ১৬ ম্যাচে ৭৭৯ রান করে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ওয়ার্নার। আর বোলার হিসেবে ভুবেনশ্বর ২৩ ও মুস্তাফিজুর ১৬ উইকেট নেন। এই তিন খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে প্রথমবারের ফাইনালে নাম লেখায় হায়দরাবাদ।

এলিমিনেটর ম্যাচে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে কোয়ালিফাইয়ার-২ এ নাম লেখায় হায়দ্রবাদ। ২২ রানে ম্যাচটি জিতে তারা। আর কোয়ালিফাইয়ার-২ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পায় তারা। ৫৮ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারনে গুজরাটের বিপক্ষে কোয়ালিফাইয়ার-২ ম্যাচে খেলতে পারেননি মুস্তাফিজুর। তবে তার ইনজুরিটা খুব বেশি মারাত্মক কিছু নয় জানিয়েছিলেন ওয়ার্নার। ফাইনালে মুস্তাফিজুরকে খেলার ব্যাপারে আশাবাদি হায়দরাবাদ। ম্যাচ শুরুর আগে মুস্তাফিজুরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নিবে হায়দরাবাদ। তবে যাই হোক, ফাইনাল বলে কথা। যেভাবেই হোক দলের অন্যতম সেরা তারকাকে ফাইনালে খেলানোর পরিকল্পনা হায়দরাবাদের।

হায়দরাবাদের মত দুর্দান্ত ফর্ম টুর্নামেন্টের শুরু থেকে প্রদর্শন করতে পারেনি ব্যাঙ্গালুরু। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষদিকে এসে ঝলসে উঠে ব্যাঙ্গালুরু। আসলে ব্যাঙ্গালুরু বললে ভুলই হবে। দলকে একাই খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে শেষ চারে নিয়ে আসেন কোহলি। ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন শেষ আট ম্যাচে। ৩টি সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকান কোহলি। তার এমন রাজকীয় ইনিংসগুলোর উপর ভর করেই পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয়স্থান পায় ব্যাঙ্গালুরু। সেই অপ্রতিরোধ্য এবি ডি’ভিলিয়ার্সের সব টর্নেডো ইনিংস।

তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠছে ব্যাঙ্গালুরু। তাই এবার আর কোনো ভুল না করে শিরোপা জয়ের স্বাদ নিতে ব্যাকুল হয়ে আছে দলটি। শিরোপা জয়ের জন্য ব্যাকুল হায়দরাবাদও। তাই ফাইনালটি যে জম্পেশ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লিগ পর্বে দু’বার মুখোমুখি হয়েছিলো হায়দরাবাদ ও ব্যাঙ্গালুরু। প্রথম দেখায় ব্যাঙ্গালুরু জিতেছিলো ৪৫ রানে। আর দ্বিতীয় দেখায় হায়দরাবাদ জয় পেয়েছিলো ১৫ রানে।

ইনজুরি কাটানো মুস্তাফিজ আরো ভয়ংকর

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনবার ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে প্রত্যেকবার ইনজুরি থেকে ফিরে আরো ভয়ংকর রূপেই আর্বিভূত হয়েছেন বাইশ গজের ক্রিজে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইনজুরিতে পড়েছিলেন মুস্তাফিজ। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে বাম কাঁধের ইনজুরিতে পড়েছিলেন কাটার মাস্টার।

সেই ইনজুরি থেকে ফিরে ভয়ংকর রূপে দেখা দিলেন মুস্তাফিজ। এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অফ কাটার ম্যাজিকে চার ওভারে মাত্র ১৩ রানে নিয়েছিলেন দুই উইকেট, পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজ ভেলকিতে খেই হারিয়েছিলেন। ওই ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ার আগে চার ওভারে ১৯ রানে নিয়েছিলেন এক উইকেট।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরির কারণে মুস্তাফিজ টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাই এবং মূল পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে এক রানের হারের ম্যাচে ইনজুরি ফেরত মুস্তাফিজকে পড়তে হিমশিম খেতে হয়েছিল ভারতীয় শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের ব্যাটসম্যানদের।ওই ম্যাচে চার ওভারে ৩৪ রানে দুই উইকেট শিকার করেছিলেন দ্যা ফিজ।

তবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজ দেখান সেরা ভেলকি। নিউজিল্যান্ডের স্পেশালিস্ট টি-২০ ব্যাটসম্যানদের নাকনি চুবানি দিয়ে ঘোল খায়িয়ে চার ওভারে ২২ রানে শিকার করেছিলেন ৫ উইকেট।

চলতি আইপিএলে এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচে ৬.৭৩ ইকোনোমি রেটে ১৬ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি মুস্তাফিজ। ‘দ্যা ফিজ’ গেল প্রায় দুই মাস ধরে হায়দরাবাদের হয়ে টানা ১৫ ম্যাচ খেলেছেন। ১৫ ম্যাচে ৫৭ ওভার বল করেছেন তিনি। ১ মেডেনসহ ৩৮৪ রান দিয়েছেন। তার সেরা বোলিং ফিগার ১৬ রানে ৩ উইকেট। এবারের অইপিএলে সেরা ১০ উইকেট শিকারীর মধ্যে ইকোনমি রেটে মুস্তাফিজই সবার উপরে। আইপিএলে ডেথ ওভারে সবচেয়ে সেরা ইকোনোমি রেটও (৭.২৮) তার।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির জন্য শুক্রবার প্লে অফের কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে মাঠে নামেন নি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ।

রবিবারের ফাইনালের জন্য পুরো ফিট অবস্থায় রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। নতুন কোনো সমস্যা না হলে ফাইনালে ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরা ইনজুরি ফেরত কাটার মাস্টারের ভয়ংকর রূপ দেখতে পারবে ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান তাই বলে দিচ্ছে।

ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও বলেছেন মুস্তাফিজ একাই পারে শক্তিশালী ব্যাঙ্গালুরুর লাইন আপ গুড়িয়ে দিতে। আর মুস্তাফিজ ভক্তরাও চাচ্ছে প্রথমবারের আইপিএলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে দারুণ ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশি বাঁহাতি এই পেসার মুস্তাফিজ।

নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে আইপিএল

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ফাইনাল দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরের দেড় মাসের মহোৎসব। আর এ ম্যাচ শেষে আইপিএল পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে দুই দলের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে আজ মাঠে নামবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দুই দলের কেউই এখন পর্যন্ত জিততে পারেনি আইপিএল শিরোপা। আইপিএলের প্রথম থেকে শুরু করে সব আসরেই খেলছে বেঙ্গালুরু। আর ২০১৩ সালে আইপিএলে যাত্রা শুরুর পর হায়দরাবাদ এবার খেলছে চতুর্থবারের মতো।

২০০৯ ও ২০১১ সালে ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি বেঙ্গালুরু। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মোক্ষম সুযোগ আছে তাদের সামনে। অধিনায়ক বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্সরা যেভাবে ব্যাটিং করছেন, তাতে অনেকের চোখেই শিরোপার প্রধান ফেভারিট বেঙ্গালুরু। প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট লায়ন্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কোহলির দল।

আর আইপিএলে হায়দরাবাদের সেরা সাফল্য এসেছিল ২০১৩ সালে। সেবার তারা খেলেছিল প্লে-অফে। তবে এলিমিনেটর ম্যাচে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার অবশ্য একধাপ এগিয়ে গেছেন ডেভিড ওয়ার্নার-মুস্তাফিজরা। এলিমিনেটর ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

দলের অধিনায়ক ওয়ার্নার আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। আর বোলিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভুবনেশ্বর কুমার-মুস্তাফিজরা। তাই বলা যায় আজ লড়াইটা হবে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং বনাম হায়দরাবাদের বোলিং।

ফাইনালে কোহলি-মুস্তাফিজদের সম্ভাব্য একাদশ

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ফাইনাল দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরের দেড় মাসের মহোৎসব। দুই দলই তাদের প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। অবশ্য আজ লড়াইটা হবে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং বনাম হায়দরাবাদের বোলিং।

ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম থেকে যা সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন, সনি সিক্স ও সনি ইএসপিএন।

প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে যে দুই দলই সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বেঙ্গালুরু ফাইনালে সুযোগ দিতে পারে চাহালকে। তিনি কোয়ালিফায়ার ম্যাচ না খেললেও পুরো টুর্নামেন্টে বেশ ভালো বল করেছেন।

অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমানের ইনজুরি ঘাম ছুটিয়ে দিচ্ছে হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্টের। ইনজুরির কারণে মুস্তাফিজ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলতে পারেননি। তার পরিবর্তে সেরা একাদশে সুযোগ পাওয়া ট্রেন্ট বোল্ট খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। মুস্তাফিজ যদি ফিট থাকেন তবে ফাইনালে খেলবেন। আর ফিট না থাকলে তার পরিবর্তে বোল্ট মাঠে নামবেন।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সম্ভাব্য একাদশ :
ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, লোকেশ রাহুল, শেন ওয়াটসন, স্টুয়ার্ড বিনি, শচীন বেবি, ক্রিস জর্দান, ইকবাল আবদুল্লাহ,  শ্রীনাথ অরবিন্দ, ইউযবেন্দ্র চাহাল।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সম্ভাব্য একাদশ :
ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, মইসেস হেনরিকস, যুবরাজ সিং, দীপক হুদা, বেন কাটিং, নামান ওঝা, ভুবনেশ্বর কুমার, বিপুল শর্মা, বারিন্দার স্রান, মুস্তাফিজুর রহমান/ট্রেন্ট বোল্ট।

ফাইনাল খেলতে আত্মবিশ্বাসী মুস্তাফিজ

ইনজুরির কারণে আইপিএল-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে খেলতে পারেননি টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। যদিও তাকে ছাড়াই আইপিএল-এর ফাইনালে উঠেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
রবিবার ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মুস্তাফিজ খেলবেন কিনা তা নিয়ে বেশ চিন্তিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম জানালেন, ফাইনালে খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মুস্তাফিজ।
তিনি বলেন, ‘আজ দুপুরে মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জানালো ব্যথা নেই, ভালোই আছে। রাতে খুব ভালো সময় কেটেছে, সবার সঙ্গে মজা করেছে। সকালে ফিজিও দেখে জানিয়েছেন তেমন কোনও সমস্যা নয়। তবে আমি যেহেতু কাছে নেই এই মুহূর্তে আমার পক্ষে সব বলা সম্ভব নয়। তবে মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো, কালকে খেলার ব্যাপারে ওর আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন ইনজুরি সাধারণত খুব বেশি ভোগায় না ক্রিকেটারদের। মুস্তাফিজকে ইতিবাচকই মনে হয়েছে। এই ইনজুরিটা আগের নয়, এটা নতুন সমস্যা। মনে হয় খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই।’
আইপিএল-এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে টস জয়ের পর ওয়ার্নার বলেন, ‘মুস্তাফিজ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছে। তবে তা তেমন গুরুতর নয়।’

কোমর দুলিয়ে নাচলেন মুস্তাফিজ

যে রাঁধে সে চুলও বাধে- অথ্যাৎ সব কাজে পটু। বাংলায় বিভিন্ন স্লোকে কথাটা ব্যবহার হলেও এর সঙ্গে মুস্তাফিজের সংযোগ টানা কেন? তবে তার আগে একটু বিশ্লেষণ করা যাক, মুস্তাফিজ বাঁ-হাতের ভেলকি দেখিয়ে বিশ্ব মাত করে বেড়াচ্ছেন। তাই বলে কী, কোমর দুলিয়ে নাচবেন? কিংবা বন্দুক হাতে তুলে নেবেন? সব কাজে পটু হলেও তো এমন করার কথা নয়!

পাঠক, কথাগুলো শুনে অবাক হচ্ছেন! আসলে মুস্তাফিজকে নিয়ে এমন কথা লিখলে তো অবাক হওয়ারই কথা; কিন্তু কথাগুলো যে মজা করার জন্য নয়, সিরিয়াসলি বলা। কারণ, সত্যি সত্যি মুস্তাফিজ কোমর দুলিয়ে নেচেছেন এবং বন্দুকও হাতে তুলে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বোলিং ছেড়ে দিয়ে উইকেটরক্ষকের দায়িত্বও পালন করলেন তিনি।

আগেরদিনই অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে গুজরাট লায়ন্সকে হারিয়ে আইপিএল নবম আসরের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেললো সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। রোববার ফাইনালে মাঠে নামার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেলো সানরাইজার্স হায়দারাবাদের ক্রিকেটারদের।

হায়দারাবাদের স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেলো মুস্তাফিজদের। সময়টা অবশ্য প্লে অফ খেলার আগের ঘটনা। হায়দারাবাদের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে হায়দারাবাদের তিনজন করে ক্রিকেটারের একটি করে দল সময় কাটায়। মুস্তাফিজের সঙ্গে ছিলেন মইসেস হেনরিক্স এবং বিপুল শর্মা।

সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে মজা করতে যাওয়ার পর প্রথমেই দেখা গেলো প্ল্যাকার্ডে লেখা মুস্তাফিজের নাম। তার নামে স্লোগান দিয়ে শিশুরাও মুস্তাফিজকে স্বাগত জানায়। এরপর মঞ্চে দেখা গেলো হেনরিক্স আর বিপুল শর্মার নাচ। মুস্তাফিজ বসে বসে হাসছেন। শিশুদের জন্য প্রতিকী চিহ্ন হিসেবে সাদা ব্যানারে হাতের চাপ দিতে দেখা গেলো তাকে।

হেনরিক্স, বিসলাসহ নানা কার্যক্রম দিয়ে শিশুদের মাতিয়ে তোলেন। এরই এক ফাঁকে দেখা গেলো মঞ্চে দুই শিশুর হাত ধরে নাচছেন মুস্তাফিজ। এর একটু পরই বিপুল শর্মার সামনে ব্যাট করতে দাঁড়িয়ে গেলেন হেনরিক্স। উইকেটকিপার হলেন মুস্তাফিজ। তিনি আবার আউটও করলেন হেনরিক্সকে।

শেষে দেখা গেলো বন্দুক হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। না, কাউকে মারার উদ্দেশ্যে নয়, বেলুন ফাটানোর জন্য। আইপিএলে খেলতে গিয়ে যে বেশ মজার মধ্যেও আছেন মুস্তাফিজ, এ ভিডিও দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

কোহলির প্রেমে মজেছেন পুনম পান্ডে (ভিডিও)

সামনেই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে এক হাজার রানের হাতছানি। ৮১ রান দূরে থেকে ফাইনাল শুরু করবেন বিরাট কোহলি। এবারের আইপিএলে যেন ভিনগ্রহের ক্রিকেট খেলছেন এই ব্যাটসম্যান। টুর্নামেন্টে চারটি সেঞ্চুরি করে ইতোমধ্যে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন কোহলি। এমন সুদর্শন ব্যাটসম্যানের প্রেম পড়তে বাধ্য হলেন ভারতের অভিনেত্রী পুনম পান্ডে।

সম্প্রতি বিশ্বের তৃতীয় সেরা বাজারজাত খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিরাট কোহলি। তার চাহিদাও রয়েছে আকাশচুম্বী। অন্যদিকে পুরনো প্রেমিকা আনুশকা শর্মার সাথেও বিরাটের সম্পর্ক ঠিক হয়েছে বলে বিভিন্ন দিকে গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। ঠিক এ সময়েই বিরাটকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেন পুনম পান্ডে। একটি সাক্ষাৎকারে পুনম পান্ডে বলেন, ‘আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বিরাটকে ভালোবাসি।’

এর আগে নানা কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন পুনম পান্ডে। ২০১৫ সালে ভারত বিশ্বকাপ জিতলে নিজের নগ্ন ছবি প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অবশ্য ভারত না জেতায় সেটি বাস্তবে ঘটেনি।

অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি মডেল বিরাট কোহলির প্রেমে পড়ে আবেদনময়ী ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেন। যদিও কোহলি সে সকল বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে মাঠেই লড়ে গেছেন ভারতের হয়ে।

তবে পুনম পান্ডের সাক্ষাৎকারে বোঝা গেল, কোহলি আইপিএলের ফাইনাল জিতলে হয়ত বিশেষ কিছু অপেক্ষা করছে তার ভক্ত-সমর্থকদের জন্য।

মুস্তাফিজের ইনজুরিতে দুশ্চিন্তায় ভুবনেশ্বর

গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে টসের আগ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। টসে জিতে বোলিং নেয়ার সময়েই হায়দারাবাদের অধিনায়ক ওয়ার্নার জানালেন দুঃসংবাদটি। ইনজুরির কারণে আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ মিস করছেন মুস্তাফিজ। অবশ্য তাকে ছাড়াই ভুবনেশ্বরের অসাধারণ বোলিংয়ে ভালো লড়াই করে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে হায়দারাবাদ। কিন্তু মুস্তাফিজের অভাব বেশ ভালোভাবেই অনুভব করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার।

মুস্তাফিজের ইনজুরি নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। ফাইনালের মত বড় মঞ্চে মুস্তাফিজকে ছাড়া হায়দারাবাদ দল অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। কুমার বলেন, ‘মুস্তাফিজ এখন পর্যন্ত অসাধারণ পারফর্ম করে আসছে কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুস্তাফিজকে হারানো আমাদের জন্য খুব সহজ বিষয় ছিল না। কিন্তু বোল্ট বেশ ভালো করেছে। শেষের দিকে যদিও বোল্ট বেশ কিছু রান দিয়েছে কিন্তু এগুলো খেলারই অংশ।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিউই দলের সাথে থেকেও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ট্রেন্ট বোল্ট। হায়দারাবাদের হয়েও টুর্নামেণ্টের ১৫টি ম্যাচে খেলতে পারেননি এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম ম্যাচে বল হাতে ৪ ওভারে ৩৯ রান দেয়ার পাশাপাশি নিয়েছেন ১টি উইকেট।

দলে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে বেশ পরিশ্রম করেছেন বোল্ট। ভুবনেশ্বরের কথায়, ‘আপনি যদি তাকে দেখেন, সে অনেক পরিশ্রম করছে নেটে। সে জানে হয়ত সেমিফাইনাল কিংবা দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাকে মাঠে নামতে হতে পারে।তবে মুস্তাফিজকে হারানোটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি ছিল।’

ফাইনালে মাঠে নামবেন মুস্তাফিজ

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে দলে ছিলেন না কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। তবে ওয়ার্নারের ব্যাটের উপর ভর করে ফাইনালে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে মুস্তাফিজের দল। আর ফাইনালে দলের হয়ে মাঠে নামবেন এই কাটার মাস্টার। এমনটাই জানালেন দলের অধিনায়ক।

এ নিয়ে ওয়ার্নার বলেন, অনুশীলনের সময় সামান্য হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় এ ম্যাচে নেই মুস্তাফিজ। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়েই ফাইনালে আবারো মাঠে নামবেন ফিজ।

তবে, টানা খেলার মধ্যে থাকা মুস্তাফিজের শারিরীক অবস্থা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। আইপিএল খেলতে গিয়েই পায়ে সামান্য চোঁট পেয়েছেন মুস্তাফিজ। আর সাথে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার কারণে কাজ করছে ‘হোম সিকনেস’। সেকারণেই, গত কয়েকদিন যাবৎ নিষ্প্রভ বাঁ-হাতি এই পেসার।

এদিকে আইপিএল শেষ করে দেশে ফেরার পর কতটা বিশ্রাম পাবেন – সে ব্যাপারটাও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, সাসেক্সে খেলতে গেলে আবারও দীর্ঘ সময় থাকতে হবে দেশের বাইরে। আর দেশে থাকলে, মোহামেডানের হয়ে খেলতে নেমে যেতে হবে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে।

মুস্তাফিজের হায়দারাবাদকে ফাইনালে তুললেন ওয়ার্নার

মুস্তাফিজের অভাবটা ভালোই টের পেলো সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি তিনি। পরিবর্তে ট্রেন্ট বোল্ট সুযোগ পেলেন। কিন্তু কিউই এই পেসারের কাছ থেকে ৩৯ রান নিল গুজরাট ব্যাটসম্যানরা। সবচেয়ে বড় কথা, ডেথ ওভারে মুস্তাফিজ যেভাবে রান আটকায়, সেটা তো পারেইনি বোল্ট, উল্টো ডেথ ওভারে সানরাইজার্সের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ রান আদায় করে নিয়েছিল গুজরাট।

শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য দাঁড়াল ১৬৩। এই রান তাড়া করতে নেমেও যেভাবে একের পর এক উইকেট বিলাতে শুরু করে হায়দারবাদের ব্যাটসম্যানরা, তাতে পরাজয়ের শঙ্কাই দেখা দেয় মুস্তাফিজের দলের সামনে। ১১৭ রানের মাথায় ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের দৃঢ়তায় গুজরাটকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেলো সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

ডেভিড ওয়ার্নারকে সম্ভবত কোন বিশেষণেই বিশেষায়িত করা যাবে না। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে বলতে গেলে হায়দারাবাদকে একা টেনে নিয়ে এসেছেন তিনি। বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থতার পরিচয় দিলে সেখানে করার কিছু থাকে না; কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ ওয়ার্নারের ব্যাটই বাঁচিয়ে দিয়েছে সানরাইজার্সকে।

আজও যেমন শিখর ধাওয়ান গোল্ডেন ডাক মেরে দিল, হেনরিক্স আউট হয়ে গেলেন ১১ রানে। যুবরাজ সিং ১৩ বল খেলে ৮ রান, দীপক হুদা ৯ বলে ৪, বেন কাটিং ৭ বলে ৮ রান এবং নোমান ওঝা ৮ বলে ১০ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর সানরাইজার্সের জয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় বলতে গেলে। কেউ আর তখন তাদের পক্ষে বাজি ধরার মত ছিল না।

তবে, ডেভিড ওয়ার্নার তখনও উইকেটে ছিলেন বলে কেউ কেউ বাজি ধরার সাহস পেয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদেরই জয় হলো। ওয়ার্নারের উইলোবাজি এতটাই প্রকট ছিল যে, গুজরাট অধিনায়ক সুরেশ রায়নার কোন কুটচালও তাকে সেখান থেকে ফেরাতে পারেনি। মাত্র ৫৮ বল খেলে ১১টি বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৯৩ রান সংগ্রহ করেন ওয়ার্নার। এমনকি অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই তবে মাঠ ছাড়েন তিনি।

শেষ মুহূর্তে ওয়ার্নারকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন বিপুল শর্মা। মূলতঃ স্পিনার হলেও কার্যকরি ব্যাটিং করে থাকেন তিনি। ১১ বল খেলে ২৭ রান তুলে জয়ের কৃতিত্বটা কিন্তু তারও প্রাপ্য। ২৭ রানের মধ্যে তিনটি ছক্কা। কোন বাউন্ডারি নেই। ওয়ার্নারের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

গুজরাট লায়ন্সের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন শিবিল কৌশিক এবং ডোয়াইন ব্রাভো। ১ উইকেট নেন ডোয়াইন স্মিথ। ২৯ মে রোববার ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ।

আইপিএলে ডেথ ওভারের সেরা বোলার মুস্তাফিজুর

এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ডেথ ওভারের (১৬-২০) সবচেয়ে কৃপণ বোলার হিসেবে জায়গা দখল করে আছেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বাংলাদেশি পোস্টারবয় মুস্তাফিজুর রহমান।
শুক্রবার দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও গুজরাট লায়ন্সের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের আগে এ পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো।
তারা বলছে, চলতি মৌসুমে ১৬ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে অন্তত ৬ ওভার হলেও করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানই রান খরচে সবচেয়ে বেশি কৃপণতা দেখিয়েছেন। যেখানে এই সময়টায় সব দলের ব্যাটসম্যানদের মারকুটে তাণ্ডবে ওভারপ্রতি গড়ে ১২-১৫ রান পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়, সেখানে টাইগার বিস্ময়বালকের খরচ মাত্র ৭ দশমিক ২৮ করে। অর্থাৎ এই সময়টার প্রতিটি ওভারে তিনি রান দিয়েছেন মাত্র ৭ দশমিক ২৮ রান করে।
পুরো ম্যাচের বোলিং বিচারেও সবচেয়ে কৃপণ বোলার মুস্তাফিজুর। সানরাইজার্সের হয়ে ১৫ ম্যাচ খেলা মুস্তাফিজুরের প্রতি ম্যাচে ওভারপ্রতি রান খরচ ৬ দশমিক ৭৩। যেখানে তার পেছনে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুনীল নারিনের খরচ ৬ দশমিক ৯২।
এই টুর্নামেন্টে ১৬ ব্যাটসম্যানকে ধরাশায়ী করে মুস্তাফিজ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদেরও তালিকায় আছেন ৬ নম্বরে। সানরাইজার্স ও লায়ন্সের খেলা শুরু হওয়ার আগে ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ডার্ক ন্যানেস বলছেন, এবারের আইপিএলে সেরা বোলিং টিম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদই। মুস্তাফিজুর রহমান ও ভুবনেশ্বর কুমারদের নেতৃত্বাধীন এ টিমের বোলিং আক্রমণের সামনে প্রত্যেকটি টিমকেই পরীায় পড়তে হয়েছে, সে পরীা শুক্রবার ফিরোজ শাহ কোটলায় দিতে হবে গুজরাট লায়ন্সকেও। শুক্রবার লড়াইয়ের আগে ক্রিকইনফোর পাঠকদের অনেকেই ম্যাচে মুস্তাফিজের ওপর আলো থাকবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন।

আইপিএল-এ নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ সাকিব

আইপিএলের চলতি আসরে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার খেলেছেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমান খেলছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। গত বুধবার মুস্তাফিজের দলের সঙ্গে হেরে চলতি আসর থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সাকিবের কলকাতাকে।
শুক্রবার বিকেলে সাকিব দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, আইপিএল-এ কলকাতার পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও নিজের পারফম্যান্স নিয়ে হতাশ। সাকিব বলেন, ‘দলের জন্য ভালো। আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে বললে, আরও ভালো করার সুযোগ ছিলো। সব সময় মানুষ যেমন চায়, তেমনটা হয় না। আমি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো তেমন কোনও ভালো পারফরম্যান্স করিনি।’
আইপিএল-এর মতো বড় একটি টুর্নামেন্টে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের খেলাকে দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আইপিএলে মুস্তাফিজের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিলো। দুই জন বাংলাদেশি এমন একটি বড় আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার।’ শেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন না, এটা নিয়ে আপে আছে কিনা জানতে চাইলে সাকিব বলেন, ‘আসলে টিম যা ভালো মনে করে, সে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। দলের স্বার্থে সেরা কম্বিনেশনই সেট করার চেষ্টা করা হয়। এখানে কিছু মনে করার কোনও অবকাশ নেই। সুযোগ পেলে আমার সব সময়ই চেষ্টা থাকে ভালো করার। সেদিন সুযোগ পেলেও তাই করতাম।’
আবাহনীর হয়ে মাঠে শনিবার মাঠে দেখা যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আপাতত পরিকল্পনা বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেব। তারপর চিন্তা করবো কি করা যায়।’

ইনজুরিতে মুস্তাফিজ

আইপিএল-এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে নেই মুস্তাফিজুর রহমান। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আজ গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি চলতি আইপিএল-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মুস্তাফিজ। এদিন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।
টস জয়ের পর ওয়ার্নার বলেন, ‘মুস্তাফিজ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছে। তবে তা তেমন গুরুতর নয়। তার বদলে খেলছে ট্রেন্ট বোল্ট।’
দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটিতে যারা জয় লাভ করবে তারা ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে খেলবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ : ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, ময়েস হেনরিকস, যুবরাজ সিং, বেন কাটিং, নমান ওঝা, দীপক হুদা, ভুবনেশ্বর কুমার, বরিন্দ্রার স্রান, বিপুল শর্মা, ও টেন্ট বোল্ট।

গুজরাট লায়ন্স : অ্যারন ফিঞ্চ, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, সুরেশ রায়না, দিনেশ কার্তিক, ডোয়াইন স্মিথ, রবীন্দ্র জাদেজা, ডোয়াইন ব্রাভো, একলব্য দ্বিভেদী, ধবল কুলকারনি, প্রভিন কুমার ও শিভিল কৌশিক।

মুস্তাফিজ-রায়নাদের সম্ভাব্য একাদশ

আইপিএলের চলতি আসরের ফাইনালে জায়গা করে নিতে আজ মাঠে নামবে মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ ও রায়নার গুজরাট লায়ন্স। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সুরেশ রায়নার গুজরাট এর আগে প্রথম কোয়ালিফায়ারে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে হেরে যায়। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ফাইনালের আশা টিকে থাকে দলটির সামনে।

আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বুধবার রাতে এলিমিনেটর ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলার সুযোগ অর্জন করে। আজকের ম্যাচে গুজরাটকে হারাতে পারলে ২৯ মে ফাইনালে বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে তারা।

দু’দলের সম্ভাব্য একাদশ:

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ:
ডেভিড ওয়ার্নার, শিখর ধাওয়ান, মইসেস হেনরিকেস, যুবরাজ সিং, দীপক হুদা, নামান ওঝা, বেন কাটিং, ভুবনেশ্বর কুমার, মুস্তাফিজুর রহমান।

গুজরাট লায়ন্স:
অ্যারন ফিঞ্চ, ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম, সুরেশ রায়না, দিনেশ কার্তিক, ডোয়েন স্মিথ, রবিন্দ্র জাদেজা, ডোয়েন ব্রাভো, একলব্য দ্বিবেদী, প্রভীন কুমার, ধাওয়াল কুলকার্নি, প্রভিন তামবে।

আইপিএলের দরজা বন্ধ হচ্ছে গেইলের!

বিগ ব্যাশে নারী সাংবাদিককে ডেটিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি ক্রিস গেইলকে। জরিমানাও গুনতে হয়েছিল তাকে। এবার আইপিএলে এক বৃটিশ নারী সাংবাদিককে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান।

ব্যাঙ্গালুরুতে গেইলের সাক্ষাৎকার নেয়া শার্লট এডওয়ার্ডসের দাবি, গেইল তাকে বলেন, ‘আপনি কোনও কৃষ্ণাঙ্গের সঙ্গে সহবাস করেছেন বা একসঙ্গে তিনজনে রাত কাটিয়েছেন?’ যৌন ইঙ্গিতবাহী, আপত্তিকর বেশ কিছু মন্তব্যের মধ্যে গেইল এমনও দাবি করেন যে, তার ‘ব্যাট’ বিশ্বের বৃহত্তম, যা তুলে ধরতে দুটো হাতই লাগে। বলেছেন, ‘আমি এতটাই সুপুরুষ যে আমাকে দেখে মেয়েরা নিজেদের সামলাতেই পারে না!’

এদিকে এমন কর্মকাণ্ডের পর নড়ে চড়ে বসেছে আইপিএল কর্তৃপক্ষও। আইপিএল চেয়ারম্যান রাজিব শুক্লা বলেন,  ক্রিকেটারদের অবশ্যই আচরণগত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। আমরা তাদের কাছে এসব টুর্নামেন্টে নির্ধারিত আচরণে সীমাবদ্ধ থাকতেই প্রত্যাশা করি। বিতর্কিত মন্তব্য জনসম্মুখে কোনওভাবেই কাম্য নয়। আমি ইস্যুটি নিয়ে বিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করবো।

এমনকি এ নিয়ে গেইলের আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর কাছেও কথা বলতে চান রাজিব শুক্লা। তার এই কথার পর ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে আইপিএল থেকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে যাচ্ছেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।

কলকাতাকে হারিয়ে টিকে রইলেন মুস্তাফিজরা

এলিমিনেটর ম্যাচে ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) হারিয়ে ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখলো সানরাইজার্স হায়াদারাবাদ। হায়দারাবাদের দেয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৪০ রান তুলতে সক্ষম হয় কলকাতা।

কলকাতার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন মনীষ পাণ্ডে। তিনি ২৮ বলে ৩৬ রানে সাজঘরে ফেরেন। একটি ছয় ও দুটি চারের মার ছিল তার ইনিংসে। গৌতম গম্ভীর ২৮ বলে ২৮ রান করে আউট হন। তার ইনিংসেও ছিল একটি ছয় ও দুটি চার।

হায়দারাবাদের ভুবনেশ্বর কুমার তিনটি, ময়েসেস হেনরিকস দুটি এবং বারিন্দর স্রান ও বেন কাটিং একটি করে উইকেট লাভ করেন। মুস্তাফিজ চার ওভার বল করে ২৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। ম্যান অব দ্য প্লেয়ার নির্বাচিত হন ময়েসেস হেনরিকস।

এরআগে, দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে সানরাইজার্সকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় কলকাতা। এদিন কেকেআর বোলারদের সামনে বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি সানরাইজার্স ব্যাটসম্যানরা। তবুও মাঝারিমানের কয়েকটি ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে ১৬২ রান তুলতে সক্ষম হন ওয়ার্নার-মুস্তাফিজরা।

ডেভিড ওয়ার্নার এবং শিখর ধাওয়ান বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি। ১২ রানের মাথায় আউট হন ধাওয়ান। ২৮ বলে ২৮ রান করে আউট হন ডেভিড ওয়ার্নার। ২১ বলে ৩১ রান করে আউট হন মইসেস হেনরিক্স।

সর্বোচ্চ ৩০ বলে ৪৪ রান করেন যুবরাজ সিং। ১৩৪ বলে ২১ রান করেন দীপক হুদা। ৫ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন বিপুল শর্মা।

এই ম্যাচে কেকেআরের পক্ষে ৩৫ রানে ৩ উইকেট নেন কুলদ্বীপ যাদব, ২টি করে উইকেট নেন মরনে মর্কেল আর জ্যাসন হোল্ডার।

কোহলির চোখে সেরা ডি ভিলিয়ার্স

বিরাট কোহলি নাকি এবি ডি ভিলিয়ার্স কে সেরা? এমন প্রশ্নে ক্রিকেটবোদ্ধারা হয়তো এগিয়ে রাখতে পারেন বিধ্বংসী বিরাট কোহলিকে। এক আইপিএল মৌসুমে চারটি সেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে সেরা বলা হয় কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্সও বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? দলের প্রয়োজনে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে এবি ডি ভিলিয়ার্সকেই সেরা ক্রিকেটার মেনে নিলেন বিরাট কোহলি।

গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে আইপিএলের ১ম কোয়ালিফায়ারের এক পর্যায়ে ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ব্যাঙ্গালুরু। কিন্তু তখনও ক্রিজে ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ইকবাল আবুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ১০ বল হাতে থাকতেই ১৫৮ রান টপকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ডি ভিলিয়ার্স।

ম্যাচ শেষে বিরাটের সহজ সরল স্বীকারোক্তি, ‘অবিশ্বাস্য! আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা আমি জয়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমার মনে হয় কে সেরা এই তর্কের অবসান আজকেই শেষ হল। পুরো বিশ্ব দেখেছে এবিই সেরা। এ ব্যপারে আর কোন প্রশ্ন থাকতে পারেনা।’

‘বড় ম্যাচে চাপের ভেতর থেকে দলকে এভাবে জেতানো সত্যিই অসাধারণ। তাকে স্যালুট জানাই। চাপের ভেতর থেকে সম্ভবত এটি তার সেরা একটি ইনিংস। ইকবাল আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে একাই লড়ে গেছে। আমি খুবই খুশি তার জন্য। সে ছাড়াও পুরো দলের এমন লড়াকু মানসিকতায় সত্যিই ভালো লাগছে।’

অথচ এক সময় মনে হয়েছিল এই দলটি প্লে-অফেই খেলতে পারবেনা। প্রথম সাত ম্যাচের মাত্র ২টি ম্যাচে জিতেছিল ব্যাঙ্গালুরু। কিন্তু পরের সাত ম্যাচে অসাধারণ ভাবে ফিরে এসে দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে ব্যাঙ্গালুরু। অবশেষে এখন তারা ফাইনালে। টুর্নামেন্টে ফর্মের তুঙ্গে থাকলেও গুজরাটের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হন কোহলি।

‘আমরা প্লে অফে ভালো ক্রিকেট খেলেই এসেছি। ক্রিকেটাররা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। আমরা ম্যাচ প্রতি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি। গুজরাটের বিপক্ষে টপ অর্ডার ভালো করেনি। কিন্তু এবির নজরকাড়া ব্যাটিংয়ে আমরা জয় পেয়েছি।’

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে কলকাতা

আজ জিতলেও ফাইনালে ওঠা হবে না। তবে হারলে বিদায়। একপ্রকার নকআউট। এই ম্যাচে জিতে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখা যাবে শুধু। আইপিএলের ইলিমিনেটর রাউন্ডে মুখোমুখি মুস্তাফিজুর রহমান এবং সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দারাবাদ ও কলকাতা নাইট রাইডার্স।

দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় এই ম্যাচে কয়েন নিক্ষেপে জয় হয়েছে নাইট অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তই নিলেন তিনি। ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে।

বিস্তারিত আসছে…

ক্ষমা চাইলেন রোহিত শর্মা

গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবারের আইপিএলে প্লে অফে উঠতেই ব্যর্থ হয়। ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে ভক্ত সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের কাছে ছয় উইকেটে হারার মধ্য দিয়ে মুম্বাইর বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হয়েও প্লে-অফে উঠতে না পারাটা ভীষণ পীড়া দিচ্ছে রোহিতকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে নিজের আইডিতে রোহিত শর্মা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দলগত ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘এটি কেবলমাত্র একটি দল নয়, এটি একটি পরিবার। খুবই খারাপ লাগছে আমরা প্লে অফে উঠতে পারিনি দেখে। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। যারা খেলতে এসেছেন এবং যারা খেলা দেখতে এসেছেন তাদের প্রত্যেককেই অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি আগামী বছর আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবো।’

টুর্নামেন্টের শুরুতেই লাসিথ মালিঙ্গা এবং লেন্ডল সিমন্সের মত ক্রিকেটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। পরবর্তীতে দলের ব্যাটম্যানদের ফর্মহীনতায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। শেষ ম্যাচ জিতলে প্লে-অফে যাওয়ার আশা বেঁচে থাকতো। কিন্তু সুরেশ রায়নার গুজরাটের বিপক্ষে ১৭২ রান করেও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং সুরেশ রায়নার ৯৬ রানের জুটিতে হেরে যায় মুম্বাই।

মুস্তাফিজের দুই শব্দ ‘প্রোবলেম’, ‘নো প্রোবলেম’!

 ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় আইপিএলে মাঠের বাইরের মুস্তাফিজকে তুলে ধরেছেন রিকি ভুই। এই মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি তরুণ এই ব্যাটসম্যান। তবে করে যাচ্ছেন আরেকটি মহাগুরুত্বপূর্ণ কাজ। টিম ম্যানেজমেন্ট ও দলের অন্যদের সঙ্গে মুস্তাফিজের যোগসূত্র তিনিই!

সাসেক্সে না খেললেও টাকা পাবেন মুস্তাফিজ!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মাতিয়ে তারপরই ইংলিশ কাউন্টি লিগে খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে মুস্তাফিজের। কিন্তু এখনো নিশ্চিত নয় মুস্তাফিজের সাসেক্স যাত্রা। তবে মুস্তাফিজের জন্য সুখবর হল কাউন্টিতে তার খেলা না হলে বিসিবি থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক তাকে দিয়ে দেওয়া হবে। এমনটাই জানালেন ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান আকরাম খান।

এ নিয়ে আকরাম খান সাংবাদিকদের বলেন, সাসেক্সের হয়ে মুস্তাফিজের খেলা না হলে বিসিবি থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া হবে মুস্তাফিজকে।  বোর্ড কিন্তু সবসময়েই ক্রিকেটারদের সাহায্য করতে চায়। কাউন্টির ব্যাপারেও এমন কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে। ফলে আর যাই হোক আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে না তাকে।

আকরাম আরও বলেন, যেহেতু ভারতে গিয়ে সে খেলছে, তার আগে ওয়ার্ল্ড কাপ খেলছিল এবং তার আগে ইনজুরিতে ছিল। সেটা কিন্তু আমরা চিন্তা ভাবনা করছি, ইংল্যান্ডে ওর যে চুক্তি আছে সেটার কি হবে। ওর জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে কি না। তার মতামত আমরা নিবো। তারপর এটি বোর্ডে আলোচনা করে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিবো।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডে খেলতে গেলেও সাসেক্সের হয়ে প্রথম তিন ম্যাচ খেলতে পারছেন না মুস্তাফিজ। সেক্ষেত্রে তার অভিষেক হতে পারে ১০ জুন কেন্টের বিপক্ষে। কিন্তু সর্বদাই সজাগ বিসিবি দেশের সেরা অস্ত্রকে কি ইংল্যান্ড পাঠাবে? উত্তর মিলবে মুস্তাফিজ দেশে ফিরলেই।

ভুবনেশ্বরকে গোপন অস্ত্র শেখালেন মুস্তাফিজ!

মুস্তাফিজকে নিয়ে ভয়টা আইপিএলে যাওয়ার আগে থেকেই ছিল। তার বোলিংয়ের গোপন অস্ত্রগুলো যেন ভারতীয়রা না জানতে পারে সেজন্য একবার তার আইপিএল খেলা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সবকিছুকে উপেক্ষা করে আইপিএলে নিজেকে মেলে ধরেছেন রাজার মত করেই। কিন্তু তার বোলিংয়ের ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্রগুলো কি ভারতীয়রা আয়ত্ত করে ফেলতেছে?

সেটা না হয় ভবিষ্যতে জানা যাবে কিন্তু সানরাইজার্স হায়দারাবাদের পেস বোলার ভুবনেশ্বর কুমার মুস্তাফিজের কাছ থেকে আইপিএল চলাকালীন সময়েই অনেক কিছু শিখেছেন। টুর্নামেন্টে ১৮ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। অন্যদিকে মুস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা ১৬। সবগুলো ম্যাচ খেলেছেনও একই সঙ্গে। এ সময় মুস্তাফিজের থেকে তার কিছু অস্ত্র আয়ত্ত করার চেষ্টাও করেছেন কুমার।

‘আপনি খুব কমই শিখতে পারবেন তার কাছ থেকে। কিন্তু আপনি তার সবকিছুকে আয়ত্ত করতে পারবেন না। তার অ্যাকশন অন্যান্য বোলারের থেকে ভিন্ন যে কারণেই সে অনেক কার্যকরী বোলার।’

তাহলে কি ভুবনেশ্বর কুমার কিছু শিখে ফেলেছেন মুস্তাফিজের কাছ থেকে? দলের প্রয়োজনের খাতিরে সেটি হয়তো শেখাতেই পারেন মুস্তাফিজ কিন্তু মুস্তাফিজের অস্ত্র দিয়েই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ঘায়েল করার কথা বললেন ভুবনেশ্বর কুমার।

‘মুস্তাফিজ এবং আমাদের ভাষাও আলাদা। সে খুব সামান্যই বলেছে আমাদের। সেটি আমাকে সাহায্য করছে নিজেকে আরো পরিণত করতে। আশাকরি ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশের বিপক্ষে এটির সুবিধা পাবে।’

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে মুস্তাফিজের হায়দারাবাদ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজেদের শেষ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। মুস্তাফিজের হায়দারাবাদের জন্য এই ম্যাচটি টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াই হলেও সাকিবের কলকাতার জন্য অনেকটা বাঁচা মরার ম্যাচ। প্লে-পফ নিশ্চিত করতে এই ম্যাচ জিততেই হবে কেকেআরকে।

ইনজুরির কারণে এই ম্যাচেও খেলছেন না কেকেআরের ভরসার প্রতীক আন্দ্রে রাসেলকে। দু দলের রয়েছে পরিবর্তন। ইয়ন মরগানের পরিবর্তে হায়দারাবাদ দলে ফিরেছেন কেন উইলিয়ামসন। অন্যদিকে মরনে মরকেলের পরিবর্তে কলিন মুনরো এবং পীযূষ চাওলার পরিবর্তে কুলদিপ যাদবকে দলে নিয়েছে কলকাতা। কলকাতার হয়ে আজকেও খেলছেন নামছেন সাকিব। আশীষ নেহরার ইনজুরিতে এ ম্যাচেও হায়দারাবাদের বোলিং বিভাগের দায়িত্ব থাকবে মুস্তাফিজের উপর।

কলকাতা নাইট রাইডার্সঃ
রবীন উথাপ্পা, গৌতম গম্ভীর, মানিষ পাণ্ডে, সুর্যকুমার যাদব, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, জ্যাসন হোল্ডার, ব্র্যাড হগ, কলিন মুনরো, কুলদিপ, উমেষ যাদব।

সানরাইজার্স হায়দারাবাদঃ
ডেভিড ওয়ার্নার, শেখর ধাওয়ান, ময়সেস হেনরিকস, যুবরাজ সিং, নামাজ ওঝা, দীপক হোড্ডা, কেন উইলিয়ামসন, কারন শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, বারিন্দর স্রান, মুস্তাফিজুর রহমান।

মুস্তাফিজদের ম্যাচ দেখতে আইপিএলে ‘টাইগার শোয়েব’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে ইতোমধ্যে নাম কুড়িয়েছেন ‘টাইগার শোয়েব’ খ্যাত শোয়েব আলী। বিশ্বের যে প্রান্তে বাংলাদেশের খেলা হতো সেখানেই ছুটে যেতেন ক্রিকেটের এই পাগল সমর্থক। এবার মুস্তাফিজের ম্যাচ দেখতে আইপিএলে ছুটে গেলেন শোয়েব আলী।

shoyeb

রোববার আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বিপক্ষে খেলবে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই ম্যাচেই আবার মাঠে দেখা যাবে টাইগার শোয়েবকে। আজকের ম্যাচের টিকেটাও শোয়েবকে উপহার দেন মুস্তাফিজ। নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে শোয়েব লেখেন, ‘আজকে থাকছি মাঠে। ধন্যবাদ মুস্তাফিজ ভাইকে আজকের ম্যাচের টিকেটটি দেওয়ার জন্য।’

প্রথমবারের মত আইপিএলের প্লে-অফে নেই ধোনি

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে জয় দিয়ে এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শেষ করলেন ধোনি এবং তার দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলের আটটি আসর খেলার পর এই আসরেই প্রথমবার পুনের হয়ে খেলেন ধোনি। ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসকে বহিষ্কার করে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পুনের হয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি ধোনি। প্লে-অফের আগেই বাদ পড়তে হল তাকে।

আটটি আইপিএলের সবগুলোতেই খেলেছিলেন প্লে-অফ রাউন্ডে। আইপিএলকে অনেকটা নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলছিলেন ধোনি। প্রথম আইপিএলের ফাইনালে খেলে ধোনির নেতৃত্বে চেন্নাই। আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে ফাইনালে উঠতে না পারলেও প্লে-অফে খেলেন ধোনি। ২০১০ এবং ২০১১ সালের মৌসুমে টানা দুবার আইপিএল শিরোপা জেতে ধোনির নেতৃত্বে চেন্নাই।

dhoni

২০১২ এবং ২০১৩ সালেও ফাইনালে উঠেছিল চেন্নাই কিন্তু দুবারই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ২০১৪ সালের আইপিএলেও প্লে অফ খেলেন ধোনি। ২০১৫ সালের আইপিএল ফাইনালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।

কিন্তু এবার মুদ্রোর উল্টোপিঠ দেখতে হলো ধোনিকে। পুনের হয়ে প্রথম আসরেই দলকে প্লে-অফে নিতে ব্যর্থ হলেন বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়ক। অবশ্য এতে দলের ইনজুরিকেও অনেকাংশে দায়ী করা যায়। ডু প্লেসি, পিটারসেন, মিচেল মার্শের মত ব্যাটসম্যানদের ইনজুরিতে অনেকটা নাজেহাল হয়ে পড়ে পুনে। পরবর্তীতে অন্য ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আর পায়নি পুনে।

ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতালেন ধোনি

শেষ ওভারে দরকার ২২ রান। যেকোন ব্যাটসম্যানের জন্যেই এটি অনেক চাপের। অক্ষর প্যাটেল যখন বোলিংয়ে আসলেন ম্যাচে তখনো এগিয়ে ছিল পাঞ্জাব। কিন্তু ব্যাটিং প্রান্তে ছিলেন ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ফিনিশার ধোনি। প্রথম পাঁচ বলে ১৬ রান নিয়ে ম্যাচ নিয়ে আসেন ১ বলে ৬ রানে। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা মেরে এবারের অসাধারণ এক জয় উপহার দেন ধোনি।

টস জিতে ব্যাটিং নেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক মুরালি বিজয়। শুরুতেই হাশিম আমলা এবং মুরালি বিজয় উড়ন্ত সূচণা এনে দেন পাঞ্জাবকে। ৭ ওভারে ৫৬ রান তুলেন এই দুই ওপেনার। দলীয় ৬০ রানে আমলা ৩০ রান করে আউট হলে ঋদিমান সাহাও দ্রুত ৩ রান করে আউট হন। কিন্তু তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান গুরকিত সিং এবং অধিনায়ক মুরালি বিজয়।

৫৮ রানের জুটি করে বিপর্যয় সামাল দেন তারা। ৫৯ রান করে অশ্বিনের বলে শিকার হন বিজয়। বিজয়ের মত গুরকিতও হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। ৫১ রান করে তিনিও অশ্বিনের শিকারে পরিণত হন। শেষের দিকে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৭ উইকেট হারিয়েই ১৭২ রানে থামতে হয় পাঞ্জাবকে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

১৭৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ১৯ রান করেই রাহানে আউট হন। খাজাও ফিরে যান ৩০ রান করে। দলের বিপর্যয়ে একাই হাল ধরেন ধোনি। তার হার না মানা ৬৪ রানে ভর করে শেষ বলে ম্যাচ জিতে পুনে। ৪ উইকেটে পাঞ্জাবকে হারিয়ে ১৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলো ধোনির পুনে। অন্যদিকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকেই আইপিএলকে বিদায় জানাতে হল প্রীতি জিনতার পাঞ্জাবকে।

রবিবার মুখোমুখি সাকিব-মুস্তাফিজ

আইপিএল-এ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রবিবার মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাঠে নামবে সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইতোমধ্যে শেষ চার নি‌‌‌শ্চিত করেছে সানরাইজার্স। তবে মুস্তাফিজদের বিপক্ষে হেরে গেলে শঙ্কায় পড়ে যাবে সাকিবের কলকাতার শেষ চারে ওঠা।
আবহাওয়া রিপোর্ট বলছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ম্যাচটি ভেস্তেও যেতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গ রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়ো-বাতাস ও প্রবল বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটা বলও মাঠে না গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ ম্যাচেও ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না হায়দরাবাদের ভারতীয় পেসার আশিষ নেহরা। এতে মুস্তাফিজই ওয়ার্নারের বড় ভরসার নাম। আসরের প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য তার ওপর নির্ভর করবে অনেক কিছু।

ভারতকে হারিয়েই কষ্ট ভুলতে চান সাকিব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ‘তিন বলে দুই রান’ নিতে না পাড়াটা আজও পীড়া দেয় বাংলাদেশের সকলকে। ক্রিকেটাররাও এর ব্যতিক্রম নন। সম্প্রতি ভারতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানালেন, তিনি আজও সেই হার ভুলতে পারেননি।

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে বেশ ভালো মৌসুম পাড় করছেন সাকিব। শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজের হায়দারাবাদের বিপক্ষে জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হবে তাদের। শেষ ম্যাচের আগে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ঘুরে ফিরে সেই ভারত ম্যাচের প্রসঙ্গই টানলেন ভারতীয় সাংবাদিক।

কলকাতার টিম হোটেলে প্রথমেই সেই ম্যাচ নিয়ে করা প্রশ্নে চমকে যান সাকিব। পরবর্তীতে নিজেকে সামলিয়ে সাকিব বলেন, ‘হ্যা, সেই হার এখনো কষ্ট দেয় আমাদের।’ নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না।

কিছুক্ষণ পর সাকিব সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, একটি দল কিংবা জাতি হিসেবে ঐ ম্যাচের হারটি ভুলতে পারবো। আশা করি, কোন একদিন ঐ রকম পরিস্থিতিতেই আমরা ভারতকে হারিয়ে এই ম্যাচের কষ্ট ভুলে যাবো। কিন্তু তবুও আক্ষেপ থেকে যাবে।’

পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটে বলে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে ১২৯ রান এবং বল হাতে ১০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। ভারতের বিপক্ষেও দ্রুত ১৫ বলে ২২ রান করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

‘যা ঘটেছিল সেটি আসলেই বলার মত নয়। রান তাড়া করে জেতা সবসময়েই কষ্টের এবং খেলোয়াড়রা চিন্তাতে থাকে। কিন্তু ঐ ম্যাচে আমরা আমাদের কৌশল অনুযায়ী সব কিছুই ঠিকঠাক করেছিলাম। আমরা কখনোই সেদিন স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাইনি কেননা এটি আলাদা চাপ সৃষ্টি করে।’

নায়ারের কাছে শেষ বলে হারল মুস্তাফিজরা

আইপিএলের চলতি আসরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস একমাত্র দল যারা দুই-দুইবারই সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়েছে।

 

প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদের ঘরের মাঠে তারা ওয়ার্নারদের হারায় ৭ উইকেটে। আর শুক্রবার রায়পুরে ৬ উইকেটে হারিয়েছে অরেঞ্জ শিবিরকে।

 

রায়পুরে শুক্রবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ। জবাবে শেষ বলে চার মেরে দিল্লির জয় নিশ্চিত করেন করুন নায়ার। তিনি ৫৯ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। রিশাপ প্যান্টের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।

 

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১১ রানের প্রয়োজন ছিল। প্রথম ৪ বলে ৫ রান নেন নায়ার ও স্যামসন। পঞ্চম বলে চার মারেন নায়ার। ফলে শেষ বলে জয়ের জন্য ২ রান প্রয়োজন ছিল। সেখানে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন নায়ার।

 

আইপিএলে নিজের সেরা ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন করুন নায়ার।

 

বল হাতে হায়দরাবাদের বারিন্দার ৩৪ রানে ২টি উইকেট নেন। একটি উইকেট নেন মুস্তাফিজ।

 

এর আগে হায়দরাবাদের ইনিংসে ডেভিড ওয়ার্নার ৫৬ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি ছাড়া বাকিদের কেউ তেমন উল্লেখযোগ্য রান পাননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন মইসেস হেনরিকস। ফলে ২০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ১৫৮ রানের বেশি হয়নি।

 

বল হাতে দিল্লির কার্লোস বার্থওয়েট ২টি উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন কাল্টার নাইল ও জেপি ডুমিনি।

 

এই ম্যাচে হারলেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে হায়দরাবাদ। শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজরা মুখোমুখি হবে সাকিবদের কলকাতা নাইট রাইডার্সের।

 

মুস্তাফিজকে সতর্ক করলেন রবী শাস্ত্রী

প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে গিয়েই সকলের প্রশংসার পাত্রে পরিণত হয়েছেন মুস্তাফিজ। বর্তমান থেকে শুরু করে সাবেক কিংবদন্তীদের প্রশংসায় ভাসছেন টাইগার এই তারকা। তবে এবার এই বাংলাদেশের বিরল এই প্রতিভাকে খুব সাবধানে, বুঝেসুঝে ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রবী শাস্ত্রী।

সম্প্রতি ভারতের ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি বলেন, মুস্তাফিজুরের আরো যত্ন নেওয়া জরুরি। এ রকম খাঁটি প্রতিভাকে লালন করার জন্য সঠিক লোক চাই। ছেলেটা কিন্তু এখনো শরীর আর মনের দিক থেকে কিশোরই। শরীরটাও তাই পুরোপুরি শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেনি। ওর মতো প্রতিভাকে কিন্তু খুব সাবধানে, বুঝে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মুস্তাফিজুরের একটা বিরল ডেলিভারি আছে। এমনিতে ওর অস্ত্র দুরন্ত সুইং, ধারালো কাটার, আর এমন একটা ইয়র্কার, যেটা ব্যাট থামাবে সাধ্য কী! তবে মুস্তাফিজুরের সবচেয়ে ধারালো অস্র হল সেই ডেলিভারিটা, যেটা পিচে পড়ে থমকে গিয়ে ব্যাটসম্যানের সামনে লাফিয়ে ওঠে। আর বেশির ভাগ সময়ই ব্যাটসম্যান সেটা কভারের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ফেরে। এই বলটা করার সময় ওর বোলিং অ্যাকশনে কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয় না।

রবী শাস্ত্রী মুস্তাফিজুরকে সাবধান করে বলেন, বাংলাদেশে আলোচনা হচ্ছে, মুস্তাফিজুর ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অন্তত বোলারের ঘনিষ্ঠমহলের তেমনই দাবি। সুতরাং ওর মতো প্রতিভাকে খুব সাবধানে, বুঝেসুঝে ব্যবহার করার বিকল্প নেই।

উদয়ীমান তালিকায় শীর্ষেই মুস্তাফিজ

আইপিএলের চলমান আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে দ্যুতি ছড়াতে থাকায় মুস্তাফিজকে রাখা হয়েছে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের তালিকায়। বিশ্ব গণমাধ্যমের সঙ্গে মুস্তাফিজে ‘বুঁদ’ হয়ে আছে আইপিএলের অফিসিয়াল পেজ। এ রিপোর্ট লেখা অবধি (২০ মে, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত) মুস্তাফিজ ৯৩.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে আইপিএলে উদয়ীমান খেলোয়াড়ের তালিকায় শীর্ষে আছেন।

আইপিএলের নবম আসর মাতানো হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বসেরা ক্রিকেট তারকার মাঝে অন্যতম বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজ। নবম আসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন টাইগার এই পেসার। আইপিএলের অফিসিয়াল পেজে নতুন একটি বিভাগ চালু হয়েছে। যেখানে ভোটিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন করা হচ্ছে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। ‘Emerging Player of the Season’ শিরোনামে অনলাইনে ভোটের মাধ্যমে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি করা হচ্ছে। অনলাইনে এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন যে কেউ।

বাংলাদেশের বোলিং পোস্টারবয় খ্যাত মুস্তাফিজুর এই তালিকায় রয়েছেন বেশ দাপটের সঙ্গেই। আইপিএলে উদয়ীমান খেলোয়াড় নির্বাচনের তালিকায় আরও রয়েছেন ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ, মুরুগান অশ্বিন, শিভিল কৌশিক, ক্রুনাল পান্ডে, হারদিক পান্ডে, সরফরাজ খান, লোকেশ রাহুল, বারিন্দ্রান স্রান, রিশব প্যান্ট ও অস্ট্রেলিয়ার কেন রিচার্ডসন, অ্যাডাম জাম্পা।
Mustafiz-Voting
মুস্তাফিজের পরে থাকা লোকেশ রাহুল এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ১.৭ শতাংশ ভোট। ক্রুনাল পান্ডে ১.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। চার নম্বরে থাকতে জাসপ্রিত বুমরাহ পেয়েছেন মাত্র ১.১ শতাংশ ভোট।

মুস্তাফিজকে উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করতে আপনারাও ভোট দিতে পারেন। টাইগার এই পেসারকে ভোট দিতে http://www.iplt20.com/polls ঠিকানায় প্রবেশ করুন। বামপাশের উপরের দিকে রয়েছে ইমার্জিং প্লেয়ারের (Emerging Player of the Season) একটি অপশন। যেখানে মুস্তাফিজের নামের পাশে ‘Vote Now’ লেখা রয়েছে। মুস্তাফিজকে ভোট দিতে সেখানে ক্লিক করতে হবে। এরপরই ভোটিংয়ের ফলাফল দেখতে পারবেন আপনিও।

আইপিএলেই কোহলির চার হাজার রান

ব্যাট হাতে যেভাবে ঝড় তুলছেন, তাতে একের পর এক মাইলফলক তার নামের পাশে যুক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। বরং, বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখে কেউ কেউ বলেও বসতে পারেন, ‘আরে, এ তো মানুষ নয়, ভিনদেশি কোন গ্রহের কোন ব্যাটসম্যান হবে হয়তো। একজন মানুষের পক্ষে কীভাবে সম্ভবত এভাবে ব্যাটিং করে যাওয়া!’ সেই বিরাট কোহলি এবার আইপিএল ক্যারিয়ারে ছুঁয়ে ফেললেন চার হাজার রানের মাইলফলক।

কী অবিশ্বাস্য ব্যাটিং! বিরাট কোহলি ব্যাট হাতে নিজেকে বিধ্বংসী নয়, ভক্তদের মাঝে মুগ্ধতাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন একের পর এক। পুরো টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যার ব্যাটে কোন সেঞ্চুরি ছিল না, তার ব্যাটে কি না এবারের আইপিএলেই চলে এলো চারটি সেঞ্চুরি। মাত্র ১৩ ম্যাচ খেলে ৪ সেঞ্চুরি এবং ৫ হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে তার ব্যাটে রান উঠেছে ৮৬৫টি। গড় ৮৬.৫০ করে এবং স্ট্রাইকরেট ১৫৫.০১। যদিও কোহলির সতীর্থ ডি ভিলিয়ার্সের স্ট্রাইকরেট আরও বেশি। ১৭২.৫৪ করে।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করার পর ৫০ বলে আউট হয়েছেন ১১৩ রানে। এই ইনিংস দিয়েই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে ৪০০০ রানের মাইলফলক পূর্ণ করে ফেললেন কোহলি। তবে কোহলির ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছেন সুরেশ রায়না। আইপিএলে তার রান ৩৯৮৫। আর ১৫ রান করলে তিনিও হয়ে যাবেন ৪ হাজার রান সংগ্রাহক। আইপিএল শুরুর আগে কোহলি ছিলেন এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে।

আইপিএলে এখনও পর্যন্ত ১৩৬টি ম্যাচ খেলেছেন কোহলি। ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ১২৮ ইনিংসে। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১১৩ রান করার পর তার সর্বমোট রান এখন ৪০০২। গড় ৩৭.৭৫ করে। সেঞ্চুরি ৪টিই। হাফ সেঞ্চুরি ২৪টি। বিপরীতে রায়না খেলেছেন ১৪৩টি ম্যাচ। ব্যাট করেছেন ১৩৯ ম্যাচে। তৃতীয়স্থানে থাকা রোহিত শর্মার রান ৩৮৪৪। তিনি খেলেছেন ১৪১ ম্যাচ। ব্যাট করেছেন ১৩৭টিতে।

এবারের আইপিএলে ৪টি সেঞ্চুরি করে একটি রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন কোহলি। ফ্রাঞ্জাইজি ভিত্তিক কোন টি-টোয়েন্টি লিগে সর্বাধিক সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালে নেটওয়েস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টিতে তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন মাইকেল ক্লিজ্ঞার। তবে সব আইপিএল মিলিয়ে কোহলির চেয়ে একটি বেশি সেঞ্চুরি তার সতীর্থ ক্রিস গেইলের। তার সর্বমোট সেঞ্চুরির সংখ্যা ৫টি।

ওয়ার্নারদের সঙ্গে সিরিয়াল দেখে কাঁদছিলেন মুস্তাফিজ!

শিরোনাম দেখে চমকে যেতে পারেন! কেউ কেউ বলবেন, কী হাবিজাবিই না লিখে দিয়েছে। তবে মুস্তাফিজ ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলছি, সত্যিই ডেভিড ওয়ার্নার, কেনে উইলিয়ামসন কিংবা ইয়ন মরগ্যানদের সঙ্গে বসে ভারতের কালারস টিভিতে সিরিয়াল দেখছিলেন মুস্তাফিজ। শুধু তাই নয়, সেই সিরিয়ালের একটি সিকুয়েন্স দেখে চোখের পানি এসে গিয়েছে উপস্থিত সবার।

চোখের পানি মুছতে যখন সবাই ব্যাস্ত- এ সময়ই হন্তদন্ত হয়ে দরজা ঠেলে প্রবেশ করলেন যুবরাজ সিং। সবাইকে এভাবে কাঁদতে দেখে রাগে-ক্ষোভে টিভিই অফ করে দিলেন যুবরাজ এবং হাতে থাকা দুটি ব্যাগই জোর করে রাখলেন টেবিলের ওপর। বললেন, প্র্যাকটিসের সময় হয়ে গেছে। শুনেই উঠে আসলেন সানরাইজার্স অধিনায়ক ওয়ার্নার। ব্যাগ খুলে দেখলেন তার ব্যাট নেই।

খুজে খুঁজে যখন পাওয়া গেলো না এবং ওয়ার্নারকে দেখা গেলো খুব টেনশনে রয়েছেন। তখন উইলিয়ামসন বললেন, একটি ব্যাটের জন্য এত চিন্তা কেন? মরগ্যান তার নিজের ব্যাট নিয়ে এসে বললেন, তারটা নিয়ে অনুশীলন করতে। কিন্তু ওয়ার্নার গোঁ ধরে বসে আছেন। তিনি যে ব্র্যান্ডের ব্যাট ব্যবহার করেন, সেটা ছাড়া তো আর ম্যাচ জেতা যাবে না। তাহলে কী করা যায়?

তাহলে কী কোন উপায় নেই? কোন পথ কী খোলা নেই ওয়ার্নারের ব্যাট পাওয়ার? আবার তার এই ব্র্যান্ডের ব্যাট পাওয়াও যে খুব কঠিন! সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলেন যুবরাজ সিং। তিনি ফোন করলেন একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে। ডিটিডিসি- নামক এই প্রতিষ্ঠানটিতে অর্ডার দিয়ে দিলেন ব্যাটের জন্য। নির্দেশ দিলেন আর্জেন্ট ডেলিভারির।

অর্ডার দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সময় হয়ে যায় ম্যাচের। যুবরাজ হাঁকাচ্ছেন, দ্রুত আসুন, দেরি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হতাশ ওয়ার্নার তার ব্যাট নেই দেখে হতাশা নিয়ে বসেই রইলেন। এ সময় বাজলো কলিং বেল। উইলিয়ামসন বললেন, নিশ্চয়ই কোচ এসেছেন। দ্রুত গিয়ে দরজা খুললেন তিনি। দেখলেন, কোচ নয়, দাঁড়িযে ডিটিডিসির প্রতিনিধি। তার হাতে প্যাকেট। যেখানে রয়েছে ওয়ার্নারের কাংখিত ব্র্যান্ডের সেই ব্যাট।

ব্যাট পেয়ে অবশেষে হাসি ফুটবল ওয়ার্নারের মুখে। মরগ্যান বললেন, মাত্র ১২ ঘন্টায় কিভাবে সম্ভব- এই ব্যাট পাওয়া? ডিটিডিসি আছে না!

পাঠক, পড়েই মনে হচ্ছে না কোন নাটকের সংলাপ এগুলো! সত্যি ধরলেন- ডিটিডিসি নামের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন করলেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদের এই ক্রিকেটাররা। বিজ্ঞাপনের গল্পটা এভাবেই সাজানো হয়েছিল। বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে মুস্তাফিজকে। যদিও তার মুখে কোন সংলাপ ছিল না। শুধু অংশগ্রহণ করেছেন এবং পারফর্ম করেছেন।

এরপর ওয়ার্নাররা কোচও খোঁজা শুরু করে দিয়েছেন ডিটিডিসিতে। তাহলে দেখুন মুস্তাফিজদের নেই নতুন বিজ্ঞাপনটি:

বড় জয়ে সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলেন কোহলিরা

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে বড় পেয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এ জয়ের ফলে শেষ চারের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলেন গেইল-কোহলিরা। কোহলিদের দেয়া ২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৪ ওভারে ৯ উইকেটে ১২০ রান তুলতে সক্ষম হয় পাঞ্জাব।

নির্ধারিত ১৫ ওভারে বেঙ্গালুরু ২১১ রান করলেও পাঞ্জাবের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৪ ওভারে ২০৩। পরে ১৪ ওভারের পর আর ব্যাট করতে পারেনি পাঞ্জাব। ফলে বৃষ্টি আইনে পাঞ্জাবকে ৮২ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি।

এরআগে ক্রিস গেইল ও বিরাট কোহলির ঝড়ো ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে তোলে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এদিন টসে হেরে ব্যাট করতে নামে বেঙ্গালুরু। বৃষ্টিতে দেরিতে খেলা শুরু হওয়ায় ১৫ ওভারে খেলা নির্ধারণ করা হয়।

গেইল ৩২ বলে ৭৩ রান করে আউট হন। ৮টি ছয় ও চারটি চার ছিল তার ইনিংসে। কোহলিও ঝড়ো ইনিংস খেলেন। করেন এবারের টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ শতক। ৫০ বলে ১১৩ রান করে আউট হন।

কোহলির ইনিংসেও ৮টি ছয়ের মার ছিল। এছাড়া ১২টি চার মারেন তিনি। শতক পূর্ণ করেন ৪৭ বলে। তবে আজকের ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি এবি ডি ভিলিয়ার্স। দুই বল খেলে কোনো রান না করেই আউট হন তিনি।

লোকেশ রাহুল ৬ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৩টি চার ছিল তার ইনিংসে। এছাড়া ২ বলে ১ রান করে অপরাজিত ছিলেন শেন ওয়াটসন। পাঞ্জাবের সন্দ্বীপ সাহু, কাইল অ্যাবোট ও অক্ষর প্যাটেল একটি করে উইকেট লাভ করেন।

বৃষ্টি আইনে ধোনিদের ১৯ রানের জয়

টার্গেট ছিল মাত্র ১২২ রান। এই স্বল্প রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে খেলার মাঝপথে বাগড়া দেয় বৃষ্টি। রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের রান যখন ১১ ওভারে ১ উইকেটে ৭৬ তখনই বৃষ্টি শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় খেলা।

রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর ডিএল পদ্ধতিতে পুনেকে ১৯ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। দলীয় ৩১ রানে একমাত্র উইকেটির পতন ঘটে। এসময় ১৩ বলে ১৯ রান করে আউট হন উসমান খাজা। চারটি চার মারেন তিনি।

অজিঙ্ক রাহানে ৩৬ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১টি ছয় ও পাঁচটি চারে সাজানো তার ইনিংস। এছাড়া জর্জ বেইলি ১৮ বলে একটি চারে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন অশোক ধিন্দা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পুনের বোলারদের তোপের মুখে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২১ রান তুলতে সক্ষম হয় দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। এদিন দিল্লির ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি পুনের বোলারদের সামনে।

কুইন্টন ডি কক এবং স্রেয়াশ আয়ার দ্রুত ফিরে যান। তবে করুণ নায়ার একপাশে দাঁড়িয়ে থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান। ৪৩ বলে তিনি করেন ৪১ রান। ৫টি বাউন্ডারির মার ছিল তার ইনিংসে।

এছাড়া শেষ দিকে ক্রিস মরিস ঝড় তুলেছিলেন। ২০ বলে তিনি অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। ১৪ রান করেন জেপি ডুমিনি। পুনের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন অশোক ধিন্দা এবং অ্যাডাম জাম্পা।

টস জিতে বোলিংয়ে পুনে

আইপিএল থেকে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের। তবুও নিয়ম রক্ষার লড়াইয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে ধোনির দলকে। যদিও আজ পুনের বিপক্ষে যারা মাঠে নামছে, সেই দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের জন্য লড়াইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শেষ চারে যেতে হলে জয়ের কোন বিকল্প খোলা নেই জহির খানের দলের সামনে।

এমনই এক পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে শুরুতেই অবশ্য জহির খানকে হারিয়ে দিলেন ধোনি। টস জিতলেন তিনি। তবে অবধারিতভাবেই টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। আইপিএলে ১২ ম্যাচে ধোনির দলের অর্জন মাত্র ৬ পয়েন্ট। একেবারে তলানীর দলটির নামই হচ্ছে পুনে সুপার জায়ান্টস। অপরদিকে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে দিল্লি।

আজ জিততে পারলে অন্তত চতুর্থ স্থানে উঠে যাবে জহির খানের দল। সে লক্ষ্যেই শুরুতে ব্যাট করতে নামবে তারা। যদিও ম্যাচটিতে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টির শঙ্কা। তবে জহির খান বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই বৃষ্টি আসবে কি না। সিদ্ধান্ত হলো আমরাই প্রথমে ব্যাট করবো। সুতরাং, আমি খুশি। আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের জন্যই আমাদের পরিকল্পনা থাকে। তিনটি পরিবর্তন এই ম্যাচে। নাথান কাউল্টার নেইল, মোহাম্মদ শামি এবং স্রেয়াশ আয়ারকে ফেরানো হয়েছে এই ম্যাচে।’

পুনে অধিনায়ক ধোনি বলেন, ‘পয়েন্ট টেবিল কী বলছে সেদিকে আমি তাকাতে রাজি নই। প্রতিটি ম্যাচই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। ম্যাচে যার প্রভাব পড়তে পারে। আমরা সংগ্রাম করছি। সুতরাং, ধারাবাহিক হওয়া প্রয়োজন। এখন তো হারানোর কিছু নেই। সুতরাং, সব উজাড় করে দিয়ে খেলবো আমরা।’

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস
আজিঙ্কা রাহানে, উসমান খাজা, জর্জ বেইলি, সৌরভ তিওয়ারি, ইরফান পাঠান, মহেন্দ্র সিং ধোনি, থিসারা পেরেরা, রবিচন্দ্র অশ্বিন, অ্যাডাম জাম্পা, অশোক দিন্দা, দীপক চাহার।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলস
স্রেয়াশ আয়ার, কুইন্টন ডি কক, করুণ নায়ার, সাঞ্জু স্যামসন, রিশাভ পান্তে, জেপি ডুমিনি, ক্রিস মরিস, নাথান কাউল্টার নেইল, অমিত মিশ্র, জহির খান, মোহাম্মদ শামি।

ইডেনের পিচ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাকিব

কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) বোলিং আক্রমণ অনেকটাই স্লো বোলারদের ওপর নির্ভরশীল বলে দাবি সাকিব আল হাসানের। তবে হোম ভেন্যু ইডেন গার্ডেনসের পিচ থেকে সে অনুযায়ী যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন টি-টোয়েন্টিতে বর্তমান বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার।

ইডেনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ১৮৩ রানের স্কোর গড়েও ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পেছনে এটিকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সাকিব, ‘আমি নিজের ব্যাপারে বলতে পারি এবং আমি বলবো হ্যাঁ, আমরা ওই সুবিধাটুকু (স্পিন সহায়ক উইকেট) পাইনি।’

‘আমরা স্পিন বোলিং নির্ভরশীল টিম, তাই সব সময়ই ঘরের মাঠে এমন কিছু সহায়তার আশা রাখি। এখন পর্যন্ত আমরা তা পাইনি। এটা খেলোয়াড়দের জন্য হতাশাজনক।’-যোগ করেন সাকিব।

এবারের আসরে হোম ভেন্যুতে ছয়টি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই (মুম্বাই, গুজরাট, বেঙ্গালুরু) হার মানে কেকেআর। আগামী ২২ মে (রোববার) ইডেনে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা।

পয়েন্ট টেবিলে ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও এখনো প্লে-অফ নিশ্চিত নয় কলকাতার। নিজেদের শেষ দুই ম্যাচের (গুজরাট ও সানরাইজার্সের বিপক্ষে) ফলাফলের ওপরই দু’বারের চ্যাম্পিয়নদের প্লে-অফ ভাগ্য নির্ভর করছে। গতবার তাদের গ্রুপ স্টেজ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মে) নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে গুজরাট লায়ন্সের মুখোমুখি হবে কেকেআর। খেলা ‍শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

আইপিএল সেরার পথে মুস্তাফিজ

প্রথমবারের মত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে গিয়েই সকলের প্রশংসার পাত্রে পরিণত হয়েছেন মুস্তাফিজ। প্রতিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের ধরাশয়ী করে দিতে তার জুড়ি নেই। রানের চাকা অচল করে দিতেও বেশ পটু। তার বলে ভূপাতিত হচ্ছেন বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা। এবার আইপিএলে সেরা সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে টাইগার এই বোলার।

আইপিএলের নবম আসরে `Emerging Player of the Season` শিরোনামে অনলাইনে ভোটের মাধ্যমে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচন করা হচ্ছে। আর এ তালিকায় রয়েছেন মোট পাঁচজন বোলার। তারা হলেন -মুস্তাফিজুর রহমান, জাস্প্রিত বুমরাহ, কেন রিচার্ডসন, মুরুগান অশ্বিন, শিবিল কৌশিক। অনলাইনে এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন যে কেউ।

অনলাইনে এই ভোট প্রক্রিয়ায় মুস্তাফিজ প্রায় ৯০.৯ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় বোলার শিবিল কৌশিক আছেন ৩.৯ শতাংশ ভোট নিয়ে আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। তৃতীয় স্থানে আছেন জাস্প্রিত বুমরাহ তার প্রাপ্ত ভোট ৩.৭ শতাংশ।

মুস্তাফিজকে ভোট দিতে www.iplt20.com ঠিকানায় প্রবেশ করে ইমার্জিং প্লেয়ারের (Emerging Player of the Season) অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে মুস্তাফিজকে ভোট দিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, মুস্তাফিজ আইপিএলে এ পর্যন্ত ১২ টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৪টি উইকেট।

মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন সাকিব!

জিতলেই প্লে-অফ মোটামুটি নিশ্চিত কেকেআরের। এমন এক সমীকরণ সামনে রেখে আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে কোহলির আরসিবির মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮.৩০ মিনিটে।

বিশ্বকাপে পারফর্ম করলেও আইপিএলে নিজেকে খুঁজছিলেন সাকিব। ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে গুরুর শরণাপন্ন হয়েছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার। আর তার পরামর্শেই সফল কেকেআরের এই তারকা। ফিরে পেয়েছেন নিজের ছন্দ। ব্যাট হাতে রানের সাথে উইকেটও পাচ্ছেন বল হাতে। আর ঐ সময় কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। এবার জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল :

প্রশ্ন :  ইডেনে যে দিন ভাল ইনিংসটা খেললেন সে দিন গ্যালারিতে মাত্র তিরিশ হাজার দর্শক ছিল। নিশ্চয়ই ভাল লাগেনি?
সাকিব: আসলে এ বছর ইডেনে এত আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে— বিশ্বকাপ ফাইনাল, বাংলাদেশ-পাকিস্তান, ভারত-পাকিস্তান। অনেক বড় বড় ম্যাচ হয়েছে যে কলকাতার মানুষের কাছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা একটু হলেও একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে। সব জায়াগাতেই দেখছি, এ বার যেন আইপিএল নিয়ে আগ্রহটা বেশ কম।

প্রশ্ন : সামনে কঠিন লড়াই। আপনাদের ড্রেসিংরুমের অবস্থা কী?
সাকিব: ভাল অবস্থা। তবে পরের সব ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছি না আমরা, একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে। গতকাল জিতে যে মোমেন্টাম পেয়েছি, কাল তা কাজে লাগাতে হবে।

প্রশ্ন : শুনলাম গত সপ্তাহে ছোটবেলার কোচ সালাউদ্দিনের কাছে গিয়েছিলেন। নাইট শিবিরে জাক ক্যালিস, সাইমন ক্যাটিচ, ওয়াসিম আকরামরা থাকতে তার কাছে কেন?
সাকিব: না, না। সে রকম কিছু নয়। ভাবলাম ওখানে (ঢাকা) গেলে তার সঙ্গে কথা বললে কিছুটা আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বাড়িতে দু’দিন সময় কাটানোর প্রয়োজনও ছিল। দুটো কাজই হল।

প্রশ্ন : বলা হয়ে থাকে ব্যাটসম্যানদের ব্যাড প্যাচ চললে, একটা ভাল ইনিংসই তাদের ছন্দে ফিরিয়ে আনতে পারে। গুজরাট লায়ন্সের বিরুদ্ধে ইনিংসটাই কি সেই ইনিংস?
সাকিব: দেখুন, আমি যে খারাপ জায়গায় ছিলাম, তা নয়। ভাল জায়গায় ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। আসলে আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারছিলাম না। এখন সেটা পারছি মনে হচ্ছে।

প্রশ্ন : কী সমস্যা হচ্ছিল আপনার?
সাকিব: সমস্যাটা যতটা না টেকনিকের, তার চেয়ে বেশি ছিল মানসিক। আসলে আত্মবিশ্বাসটা মাঝে মাঝে কমে যায়। এত দিন ধরে খেলার পর টেকনিক্যাল সমস্যা সে রকম হয় না। মানসিকতাতেই হয়। এ রকম সময়ে অনেকক্ষণ ধরে ব্যাটিং করার সুযোগ পেলে ব্যাটিংয়ের ফ্লো-টা বাড়ে। কনফিডেন্সও বাড়ে।

প্রশ্ন : কী এমন বললেন সালাউদ্দিন, যে আপনার ব্যাটিংটাই খুলে গেল?
সাকিব: বেশিরভাগটাই মানসিক শক্তি বাড়ানো নিয়ে বা মানসিকতা নিয়ে। কিছু ছোটখাটো টেকনিক্যাল মেরামতি তো করতেই হয়। তবে ওটাই আসল। আসলে যার সঙ্গে কথা বলে ভাল লাগে, কমফর্ট অনুভব করি, এই রকম সময় তার পরামর্শ নিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। আগেও এ  ভাল ফল পেয়েছি।

প্রশ্ন : তার মানে কেকেআর কোচেদের সঙ্গে কথা বলে আপনি কমফর্টেবল নন?
সাকিব: না, না। এর মানে এই নয় যে, এখানে আমি কমফর্টেবল নই। আসলে আমার ক্রিকেটের শুরু থেকে, মানে অনূর্ধ্ব-১৩`র সময় থেকে থেকে উনি আমাকে দেখে আসছেন, তাই স্বাভাবিক ভাবেই উনি আমাকে আরও ভাল ভাবে জানেন, আমার সমস্যাগুলো আরও ভাল বোঝেন। সে জন্যই তার কাছে গিয়েছিলাম পরামর্শ করতে। ক্যাটিচ, ক্যালিসরা তো আর ছোটবেলা থেকে আমাকে চেনেন না। ওদের পক্ষে আমার সমস্যাগুলো স্যারের মতো করে বোঝা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : তিন নম্বরে ব্যাট করতে কি অসুবিধা হচ্ছে?
সাকিব: তিন নম্বর নিয়ে সমস্যা থাকবে কেন? ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ও সব বললে চলে না। দলের প্রয়োজনে যে কোনও জায়গায় খেলতে হয়। আমাকেও খেলতে হবে।

প্রশ্ন : আপনাকে তো বরাবর মাঠে সভ্য-ভদ্র বলেই জানি সবাই। কিন্তু গত বছর বিপিএলে আম্পায়ারকে গালিগালাজের জন্য এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল আপনাকে। হঠাৎ কী হয়েছিল?
সাকিব: আসলে যারা বেশি জিততে আগ্রহী, যাদের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইচ্ছা অনেক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এটা মাঝে মাঝে হয়। হিট অফ দ্য মোমেন্টে এগুলো হয়ে যায়। এ নিয়ে বেশি না বলাই ভাল।

প্রশ্ন : ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই এখন একটা উত্তেজনার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচটা হলেই আপনাদের সংবাদমাধ্যম, সমর্থকরা বলতে শুরু করেন, ভারতের বিরুদ্ধে নামলেই বাংলাদেশকে ইচ্ছে করে হারিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রবণতা কেন?
সাকিব: আমাদের মিডিয়া, সমর্থকরা কী বলেন, তা নিয়ে বলতে পারব না। আমি ক্রিকেটারদের কথা বলতে পারি। আমরা যারা ক্রিকেটের বাস্তবটা জানি, খেলাটা বুঝি, তারা সে রকম ভাবি না।

প্রশ্ন : কী মনে হচ্ছে, নক আউটে যেতে পারবেন?
সাকিব: কেন নয়? একটা বেশি ম্যাচ জেতা থাকলে তো এখনই চলে যেতাম। শনিবার জেতায় সম্ভাবনাটা আরও বেড়ে গেল। নিজেদের খেলাটা ঠিক খেলতে পারলে বাকি তিনটে ম্যাচেই জিতব আমরা।

সাকিব-কোহলিদের সম্ভাব্য একাদশ

জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত সাকিবদের আর হারলেই বাদ কোহলির আরসিবি। এমন এক সমীকরণ সামনে রেখে আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮.৩০ মিনিটে।

১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাকিব-গম্ভীরদের কলকাতা। আজকের ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে প্লে-অফ। তাই কোহলিদের বিপক্ষে জয় দিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করতে চায় গম্ভীররা। তবে আজকের ম্যাচ হারলেও সমস্যা নেই সাকিবদের। বাকি দুই ম্যাচে এক জয় পেলেই নিশ্চিত হবে শেষ চার।

এদিকে আইপিএলে চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে চলেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দুই ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্স। তবে বোলারদের ব্যর্থতায় কাগজে কলমে শক্তিশালী দল গড়েও জয় পাচ্ছে না তারা। প্লে-অফে খেলতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই কোহলি- ডি ভিলিয়ার্সদের। চলুন দেখে নেয়া যাক রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে কলকাতার সম্ভাব্য একাদশটি।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরু (সম্ভাব্য) একাদশ:
ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, শেন ওয়াটসন, কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক), শচীন বেবি, স্টুয়ার্ট বিনি, জুবেন্দ্র চাহাল, এস অরবিন্দ, ক্রিস জর্ডান, বরুন অরুন।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (সম্ভাব্য) একাদশ:
গৌতম গম্ভীর (অধিনায়ক), রবিন উথাপ্পা (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, আন্দ্রে রাসেল, মানীষ পান্ডে, পীযুষ চাওলা, সুনীল নারাইন, অঙ্কিত রাজপুত, মরনে মরকেল।

যুবরাজ ঝড়ে শেষ চারে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স

যুবরাজ সিংয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে হারিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শেষ চার নিশ্চিত করেছে মুস্তাফিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এদিন পাঞ্জাবের দেওয়া ১৮০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় তুলেন নেয় সানরাইজার্স।

২৪ বলে ৪২ রান করেছেন যুবরাজ সিং। এছাড়া ৪১ বলে ৫২ রান করেছেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। এই জয়ে প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করলো সানরাইজার্স। এদিন ৪ ওভারে ৩২ রানে এক উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ।

টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামে সানরাইজার্স। ইনিংসের শুরুতেই মুস্তাফিজের মায়াবি জাদুতে বোকা বনে যান মুরলি বিজয়। ৬ রান করেই ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। কিন্তু এমন দুর্দান্ত সূচনার পরেও আমলা ম্যাজিকে আর পেরে ওঠেনি হায়দারাবাদ। পাঞ্জাবকে যেন একাই টেনে নিয়ে গেলেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান।

৫৬ বলে ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচের শেষ ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন। ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও দলকে নিয়ে গেছেন ১৭৯ রানের সংগ্রহে। ২৭ রান করে গুরকিত সিং এবং ২০ রান করে ডেভিড মিলার তাকে যোগ্য সহযোগিতা করেন। চার ওভার বোলিং করে ৩২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ।

১৮০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৮ ওভারের ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান তুলেন ওয়র্নার-শিখর ধাওয়ান। ২৫ রানে রান-আউট হয়ে ফিরে যান ধাওয়ান। ৪১ বলে ৫২ রান করে হিট-আউটের শিকার হন ওয়ার্নার। ২২ বলে ৩৪ রান করেন দীপক হুদা। এরপরই শুরু হয় যুবরাজ সিং ঝড়। তিনি ২৪ বলে অপরাজিত ৪২ রান করেন। এছাড়া ১১ বলে অপরাজিত ২১ রান করে বেন কাটিং।

মুস্তাফিজের ‘হাফ সেঞ্চুরি’

গত বছরের এপ্রিলে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বছর পেরুতেই তার ঝুলিতে এখন অর্ধশত টি-টোয়েন্টি উইকেট!
রোববার আইপিএলে মোহালিতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপে ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে উইকেটের ‘হাফ সেঞ্চুরি’ স্পর্শ করেছেন মুস্তাফিজ। পাঞ্জাবের অধিনায়ক মুরালি বিজয় তার ৫০তম শিকার।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের। সব ধরণের ক্রিকেট মিলিয়েও সেটি ছিল তার প্রথম টি-টোয়েন্টি। শহিদ আফ্রিদি ছিল মুস্তাফিজের প্রথম শিকার। অভিষেকে নিয়েছিলেন মোহাম্মদ হাফিজের উইকেটও।
৫০ উইকেট পেয়ে গেলেন মুস্তাফিজ ৩৫তম ম্যাচে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে উইকেট ২২টি, বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে নিয়েছিলেন ১৪টি। আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ১৪টি নিয়ে স্পর্শ করলেন অর্ধশত।
৫০তম শিকারও ছিল মুস্তাফিজের ‘ট্রেডমার্ক’ ডেলিভারি। ৪ ওভারে ৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন বিজয় ও হাশিম আমলা। মুস্তাফিজ জুটি ভাঙলেন বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই। দারুণ এক স্লোয়ারে বিভ্রান্ত বিজয়; ফিক করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে ধরা পড়লেন মিড অফে।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে মুস্তাফিজের সানরাইজার্স

প্লে-অফ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এদিন টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমেছেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

প্রথম দেখায় পাঞ্জাবের বিপক্ষে জ্বলে উঠেছিলেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভারে ১ মেডেন ও ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন কাটার মাস্টার।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন হায়দরাবাদের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ। পাঞ্জাবকে হারালেই নক আউটে জায়গা করে নেবে তারা।

মুস্তাফিজকে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে: রবি শাস্ত্রী

আনন্দবাজারে লেখা এক কলামে মুস্তাফিজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন সাবেক ভারতীয় কিংবদন্তী রবি শাস্ত্রী। একইসঙ্গে মুস্তাফিজকে নিয়ে আরও যত্নশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রবি শাস্ত্রী লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে মুস্তাফিজুরের আরও যত্ন নেওয়া জরুরি। এ রকম খাঁটি প্রতিভাকে লালন করার আরও লোক চাই। ছেলেটা কিন্তু এখনও শরীর আর মনের দিক থেকে কিশোরই, পুরুষ হয়ে ওঠা বাকি। শরীরটাও পুরোপুরি শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেনি। ওর মতো প্রতিভাকে কিন্তু খুব সাবধানে, বুঝে-সুঝে ব্যবহার করতে হবে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে এ ছেলে বিস্ময়-প্রতিভা। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে দুটো পাঁচ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স দিয়ে শুরু। আমলা, দুমিনি আর ডি’কককে আউট করে টেস্ট অভিষেক। চলতি আইপিএলে ওকে দেখেই ব্যাটসম্যানরা গলে যাচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই মুস্তাফিজুর এমন একটা সমীহ আদায় করে নিয়েছে যেটা অনেক পেশাদার বোলারের তৈরি করতে সারাজীবন লেগে যায়। অথচ দেখে মনে হয় গতকালই ছেলেটা বাংলাদেশে ওর গ্রামের পুকুরের পাশে বসে ছিল।’

মুস্তাফিজের বোলিং অস্ত্রে বিস্মিত রবি শাস্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘মুস্তাফিজুরের ভাণ্ডারে একটা বিরল ডেলিভারি আছে। এমনিতে ওর অস্ত্র দুরন্ত সুইং, ধারালো কাটার আর এমন একটা ইয়র্কার যেটা ব্যাট থামাবে সাধ্য কী! তবে মুস্তাফিজুরের শোকেসের ব্রহ্মাস্ত্র হল সেই ডেলিভারিটা যেটা পিচে পড়ে থমকে গিয়ে ব্যাটসম্যানের সামনে লাফিয়ে ওঠে। আর বেশির ভাগ সময়ই ব্যাটসম্যান সেটা কভারের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ফেরে।’

আইপিএলে সেরা আট বোলার

চলতি মৌসুমে আইপিএলের প্রথম পর্বের খেলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মাঝে অনেকেই হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করে দিয়েছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। কে যাবে শেষ চারে। কারা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন। কে সবচেয়ে বেশি রান করেছে কিংবা কে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টিকে বলা হয় ব্যাটসম্যানদের খেলা। তবে এর মাঝেও কিছু কিছু বোলার নিজেদের স্বমহিমায় আলো কেড়ে নেন। এবারের আইপিএলেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত একাধিক বোলারের মারাত্মক স্পেল দেখেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। মিচেল ম্যাকক্লেনাঘ্যানের মারাত্মক স্পেল থেকে মুস্তাফিজুরের অসাধারণ কাটারে বিভ্রান্ত হতে দেখেছে তাবড় ব্যটসম্যানদের। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এ বারের আইপিএলের আট সেরা বোলারকে।

মিচেল ম্যাকক্লেনাঘ্যান: মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের এই পেসার ১২ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে রয়েছেন তালিকার শীর্ষে। গুজরাতের বিরুদ্ধে ২১ রানে ৪ উইকেট তার সেরা বোলিং।

ভুবনেশ্বর কুমার: মিচেলের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা হায়দরাবাদের ভুবি ১৪ উইকেট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে। তারও সেরা বোলিং গুজরাটের বিরুদ্ধে। ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

আন্দ্রে রাসেল: নাইট শিবিরের অন্যতম ভরসা ক্যারিবিয়ান রাসেলও নিয়েছেন ১০ ম্যাচে ১৪ উইকেট। তবে বোলিং গড়ে সামান্য পিছিয়ে থাকায় তিনি তিন নম্বরে। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ২০ রানে ৪ উইকেট তার সেরা বোলিং।

শেন ওয়াটসন: চার নম্বরে বেঙ্গালুরুর ওয়াটসন। রাসেলদের থেকে এক ম্যাচ কম খেলে ১৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং পুণের বিরুদ্ধে ২৪রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

মুস্তাফিজুর রহমান: ১১ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে পাঁচ নম্বরে রয়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ১৬ রানে তিন উইকেট তার সেরা বোলিং।

সন্দীপ শর্মা: চলতি আইপিএলের অন্যতম ইকনমিক্যাল বোলার পঞ্জাবের সন্দীপ। ১১ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে তিনি ছয় নম্বরে।

অমিত মিশ্র: দিল্লির এই লেগ স্পিনার ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট। সেরা বোলিং পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১১ রানে ৪ উইকেট।

মোহিত শর্মা: ১১ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে আট নম্বরে রয়েছেন পঞ্জাবের মোহিত। পুণের বিরুদ্ধে ২৩ রানে ৩ উইকেট তার সেরা বোলিং।

আবাহনীতে খেলতে ঢাকায় মনোজ তিওয়ারী

এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে খেলতে ঢাকা এসেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান মনোজ তিওয়ারী। আবাহনীর আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার উদয় কাউলের স্থলাভিষিক্ত হলেন পশ্চিম বঙ্গের এ ক্রিকেটার। এছাড়া একই দলে খেলছেন আরেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান মানবিন্দর সিং বিসলা।

এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলা মনোজ চলতি আইপিএলে খেলতে পারছেন না। সর্বশেষ নিলামে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজিই এবার তার ওপর আস্থা রাখতে পরেনি। যে কারণে সম্পূর্ণ বেকার বসেছিলেন তিনি। এ সুযোগটাই নিয়েছেন আবাহনীর কর্মকর্তারা।

২০০৯ সালের পর ভারতীয় ক্রিকেটাররা অন্য কোন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পাননি। আইপিএলের বাইরে থাকার কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্যই মূলতঃ তাদেরকে ঢাকা ক্রিকেট প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে খেলার সুযোগ দেয়া হয়।

ভারতের হয়ে এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মনোজ। ১টি সেঞ্চুরিসহ ওয়ানডেতে করেছেন ২৮৭ রান। আর টি-টোয়েন্টিতে একটি ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে করেছেন ১৫ রান।

এখনো অনেক অস্ত্র রয়েছে মুস্তাফিজের কাছে

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস এবং দিল্ল ডেয়ারডেভিলসের বিপে শেষ দু ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকতে হয়েছে মুস্তাফিজকে। পুনের বিপে ুদ্র সংগ্রহ নিয়েও মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছিল হায়দারাবাদ। উইকেটশূন্য থেকেও সেই ম্যাচে পুনের রানের চাকা আটকাতে সম হয়েছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু দিল্লির বিপে একটু অচেনাই লেগেছিল মুস্তাকে। ৪ ওভার বল করে ৩৯ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য। অনেকে মুস্তাফিজের দিন শেষ বলে রব ওঠালেও তাদের কথার সাথে একমত হতে পারছেন না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাাৎকারে বর্তমান জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এর আগের ম্যাচে তো ধোনির মতো ক্রিকেটারও মুস্তাফিজুরকে খেলতে পারেনি। ভুবনেশ্বর কুমার, আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস জর্ডন, মোহাম্মদ সামি, জহির খানরা যেখানে ইনিংসে ৫০ রানের বেশি খরচ করে ফেলেছেন, সেখানে এক ম্যাচে মুস্তাফিজুর ৩৯ রান দেওয়া নিয়ে এত আলোচনা হওয়া উচিত না।’
মুস্তাফিজের বল বুঝতে সব সময়েই সমস্যা হয়ে আসতেছে ব্যাটসম্যানদের। আইপিএলে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সুফল পাচ্ছে না আইপিএলের দলগুলো। শেষ দু ম্যাচে উইকেট না পেলেও মুস্তাফিজের বোলিংয়ের এখনো অনেক অস্ত্র দেখার বাকি রয়েছে বলে মনে করেন বাশার। ‘মুস্তাফিজুর কিন্তু সিম অফ করে ভেরিয়েশনে বল করছে না। কাটার দিয়েই ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করছে। আইপিএলে এক একটি দলে প্রচুর সাপোর্টি স্টাফ। তাই ভিডিও অ্যানালিসিস অথবা অন্য কোনও প্রযুক্তির মাধ্যমে মুস্তাফিজুরের বল বোঝার চেষ্টা করছে সবাই। তবে ওর কিছু কিছু অস্ত্র ধরতে পারলেও সমস্যার কিছুই দেখছি না। মুস্তাফিজুর যে মানের বোলার, তাতে ওর সব কাটার বুঝে ওঠা সম্ভব নয়।’
আইপিএলে এখন পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচ খেলে ১৩ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকাতে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মুস্তাফিজ। মাত্র এক দু ম্যাচ দেখেই মুস্তাফিজ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোহলির রেকর্ডের দিনে ব্যাঙ্গালুরুর ১৪৪ রানের জয়

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চটা যেন কোহলির জন্যেই প্রস্তুত করা ছিল। এবি ডি ভিলিয়ার্সের ঝড়ো সেঞ্চুরির পরেও ম্যাচের সবটুকু আকর্ষণ নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। এবারের আইপিএলের নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি করে ছাড়িয়ে গেছেন অতীতের সকল রেকর্ডকে। তার এবং ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরির সুবাদেই ২৪৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় ব্যাঙ্গালুরু। জবাবে পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০৪ রানেই গুটিয়ে যায় গুজরাট। ব্যাঙ্গালুরু পায় ১৪৪ রানের বিশাল জয়।
টস জিতে ব্যাঙ্গালুরুকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ব্রেন্ডন ম্যাককালামের গুজরাট লায়ন্স। প্রথম বাবা হওয়ার জন্য স্ত্রীকে সময় দিতে এই ম্যাচ থেকে বিশ্রামে ছিলেন সুরেশ রায়না। কিন্তু রায়নার অবর্তমানে যেন মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখতে হলো গুজরাটকে। গেইলকে ৬ রানে আউট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিলেও সেগুলোকে নিমিষেই টর্নেডোর মত উড়িয়ে দেয় ডি ভিলিয়ার্স-কোহলি জুটি।
রেকর্ড জুটি গড়ে দুজনই তুলে নেন সেঞ্চুরি। কোহলির থেকে একটু বেশিই ভয়ঙ্কর ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ১২৯ রানে অপরাজিত থাকার ম্যাচে হাঁকিয়েছেন ১২টি বিশাল ছক্কা। পাশাপাশি ছিল ১০টি চারের মারও। ২২৯ রানের জুটি গড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়লেন তারা। এর আগের রেকর্ডটাও তাদের দখলে ছিল। ২০১৫ সালে মুম্বাইর বিপে ২১৫ রানের জুটি গড়েছিল তারা।
২৪৯ রানের ল্েয ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে গুজরাটের ব্যাটসম্যানরা। ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে এদিন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেন বোলার ক্রিস জর্ডান। ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ১৮.৪ বলেই মাত্র ১০৪ রান করে অলআউট হয় গুজরাট লায়ন্স।

সাকিবের চোখে সেরা মুস্তাফিজ

প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে একের পর এক বিস্ময়ই উপহার দিচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ১১ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। আর মুস্তাফিজের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাকিব। তার মতে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মুস্তাফিজই সেরা।

দীর্ঘ বিরতির পর আজ ইডেন গার্ডেনে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের বিপক্ষে মাঠে নামবে সাকিবের কলকাতা। এর আগে সংবাদমাধ্যমকে সাকিব বলেন, মুস্তাফিজুর অসম্ভব প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটার। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ও এখন বিশ্বের সেরা পেসার।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ খুব ভাল খেলছে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভাল খেলতে হবে। টেস্ট জিততে হবে। তবেই সকলের কাছ থেকে আরও সমীহ আদায় করে নিতে পারবো।

মুস্তাফিজকে বশে আনলেন পান্ট!

বিস্ময় জন্ম দেয়া বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বল বোঝা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলতে গিয়েও ব্যাটসম্যানদের নাস্তানবুদ করে ছেড়েছেন মুস্তাফিজ। তার স্লোয়ার এবং কাটারের রহস্য ভেদ করতে কেউই এখন পর্যন্ত সম হননি।
কিন্তু সানরাইজার্সের হয়ে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে দেখা গেল অন্য মুস্তাফিজকে। ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন ৩৯ রান। থেকেছেন উইকেটশূন্য। একটা বাজে দিন ভেবে এদিনকে ঠিকই ভুলতে চাইবেন মুস্তাফিজ। কিন্তু দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ব্যাটসম্যান পান্ট কি পারবেন ভুলতে? কেননা তিনি যে অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুস্তাফিজ রহস্যকে যেখানে কেউ ভেদ করতে পারেনি সেখানে ভারতীয় ব্যাটসম্যান পান্ট অনেকটাই সম হয়েছেন মুস্তাফিজকে ভেদ করতে। হায়দারাবাদ দিল্লিকে ১৪৭ রানের টার্গেট দিলে ১১ বল হাতে থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় দিল্লি। এ ম্যাচেও হায়দারাবাদের তুরুপের তাস ছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু এদিন যে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হল মুস্তাফিজ। দিল্লির রিসবাহ পান্টের অনবদ্য ২৬ বলে ৩৯ রানে ভর করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় দিল্লি। কিন্তু মুস্তাফিজ-পান্টের লড়াইটা ছিল একদমই এক পেশে।
পান্টকে মোট ১৩টি বল করেছেন মুস্তাফিজ। যেখানে মহেন্দ্র সিং ধোনির মত ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে খেলার চিন্তা করে সেখানে পান্ট ছিলেন পুরোটাই ব্যতিক্রম। মুস্তাফিজের ১৩ বলে মোট ২৬ রান নিয়েছেন পান্ট! পান্টই একমাত্র ক্রিকেটার যে কিনা একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুস্তাফিজের বলে এতো রান নিয়েছেন। চারটি ডট বল খেললেও সিঙ্গেল নিয়েছেন ৪টি এবং দুই নিয়েছেন ১টি। কিন্তু বাউন্ডারি মেরেছে ২টি এবং ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন ২টি। তাতেই বনে গেছেন ম্যাচের নায়ক। এখন দেখার বিষয় পরবর্তী ম্যাচে আরো ভয়ঙ্কর রুপে মুস্তাফিজ নিজে প্রকাশ করেন কিনা!

‘সাসেক্সে খেলতে হলে মুস্তাফিজকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মাতিয়ে তারপরই ইংলিশ কাউন্টি লিগে খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে মুস্তাফিজের। কিন্তু এখনো নিশ্চিত নয় মুস্তাফিজের সাসেক্স যাত্রা। সাসেক্সে যাওয়ার ব্যাপারে মুস্তাফিজের নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
আইপিএল, সিপিএল, বিগ ব্যাশ, এসএলপিএল, পিএসএল খেলে আসা সাকিব আল হাসান নিজেকে দূরে রাখলেন মুস্তাফিজকে পরামর্শ দেয়া থেকে। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোতে দেয়া এক সাাৎকারে সাকিব বলেন, ‘মুস্তাফিজ তো আর ওখানে চার দিনের ম্যাচ খেলবে না। তবে এটা ওর জীবন, ও-ই ভালো বুঝবে কী করতে হবে। এগুলো যার যার শরীর ও মনের ওপর নির্ভর করে। আমি পরামর্শ দেওয়ার কেউ নই।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল এক বছর অতিক্রম করেছেন মুস্তাফিজ। এই ুদ্র সময়েই অনেক খ্যাতি অর্জন করতে সম হয়েছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার। কিন্তু কাউন্টি লিগে খেলতে যাওয়ার ব্যপারের মুস্তাফিজের মতামতকে বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন সাকিব।
সাকিব নিজে একা একাই এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। মুস্তাফিজকেই তাই পাড়ি দিতে হবে লম্বা পথ। ‘আমার বেলায় আমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কী করব। এখানেও একমাত্র মুস্তাফিজই জানে, ও কী পারবে আর কী পারবে না। ওর সিদ্ধান্ত ওকেই নিতে হবে।’

অনুজ্জ্বল মুস্তাফিজ, সানরাইজার্সের হার

আইপিএলের ৪২তম ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপে ৭ উইকেটে হেরে গেছে মুস্তাফিজুর রহমানের দল সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। হায়দারাবাদের দেওয়া ১৪৭ রানের ল্েয ব্যাট করতে নেমে ১১ বল বাকি থাকতে সহজেই জয় পায় জেপি ডুমিনিরা।
এদিন বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতাই হলো মুস্তাফিজুর রহমানের। ৪ ওভার বল করে ৩৯ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি তিনি। যা তার নামের সঙ্গে বেমানান।
টস জিতে ডেভিড ওয়ার্নারকে ব্যাটিংয়ে পাঠান দিল্লির অধিনায়ক জেপি ডুমিনি। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক জহির খানের বদলে এই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন ডুমিনি। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ভালোই সূচনা এনে দেয় দিল্লির বোলাররা। কিন্তু তারপরেই ওয়ার্নার তাণ্ডবে খেই হারাতে শুরু করে তারা।
হাফ সেঞ্চুরি থেকে চার রান দূরে থাকতে দলীয় ৬৭ রানে আউট হন ওয়ার্নার। অপর প্রান্তে শেখর ধাওয়ানও বেশিণ টেকেননি। ৩৪ রান করে তিনিও ওয়ার্নারের পথ ধরেন। মিডল অর্ডারে আর কোনও ব্যাটসম্যানই বলার মতো রান করতে পারেননি। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানেই থামে হায়দারাবাদের ইনিংস।
জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি দিল্লিরও। দলীয় ২০ রানে ফিরে যান আগরওয়াল। এরপর ঘুরে দাঁড়ান কুইন্টন ডি কক ও করুন নায়ার। একই ওভারে এই দুজনকে ফিরিয়ে সানরাইজার্সকে ম্যাচে ফেরান ময়েস হেনরিকস। তবে সঞ্জু স্যামসন ও রিশব পান্তের ব্যাটে সহজ জয় পায় দিল্লি।
৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। ভুবনেশ্বর কুমার ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩২ রান। ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন হেনরিকস। ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়েছেন আশিষ নেহরা।

মুস্তাফিজ সমস্যায় আম্পায়াররা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে শুরু হয়ে মুস্তাফিজ সংক্রান্ত আলোচনা এখনও ভেসে বেড়াচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের আকাশে-বাতাসে। আইপিএলে হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলা এই টাইগার পেসার প্রতিপরে জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন। শুধু ব্যাটসম্যানরাই না, মুস্তাফিজের বোলিংয়ে সমস্যায় পড়ছেন ম্যাচের দায়িত্বে থাকা আম্পায়াররাও।
মুস্তাফিজ কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্ব ক্রিকেটের এক অনন্য প্রতিভা।
ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’তে উঠে এসেছে মুস্তাফিজের বোলিং বৈচিত্র্য সমস্যায় ফেলছেন ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ফিল্ড আম্পায়ারদের। কিছু ম্যাচ অফিসিয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশি এই পেসারের ‘কাটার’ গুলো পিচ করে অফস্ট্যাম্পের দিকে ধেয়ে যাবে নাকি লেগস্ট্যাম্পের দিকে যাবে সেটি মাঠে থেকে বুঝতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে, সিদ্ধান্ত নিতেও সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
একজন ম্যাচ অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, ‘মুস্তাফিজের যেসব বল মিডল এবং লেগস্ট্যাম্পের মাঝে থাকে সেই বলগুলোকে বোঝা খুবই কষ্টকর। পরিস্কার করে বোঝা যায় না তার বলটা লেগস্ট্যাম্পে লাগবে, নাকি বের হয়ে যাবে। মুস্তাফিজ বলের অনেক রকম ভেরিয়েশন দেখাতে পারে। তার কাটারগুলো বোঝা মুশকিল। সে সাধারণভাবেই লেগস্ট্যাম্প এবং অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল করে থাকে। বাংলাদেশি এই পেসার মিডলস্ট্যাম্পের বোলার নয়।’
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই সংবাদের শেষ প্যারায় বাংলাদেশের ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের কথাও লেখা হয়েছে। বিজয় সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে গত দুই বছর থেকে খেলেছি। তাকে নেটেও মোকাবেলা করেছি। কিন্তু, তার বলগুলো বুঝে উঠা সত্যিই কষ্টকর।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দু’দুবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি বলেছিলেন, এই মুস্তাফিজুর রহমান পুরো ক্রিকেটের জন্যই দারুণ এক আবিষ্কার। বাংলাদেশ তাকে পেয়েছে। মুস্তাফিজুর ক্রিকেট বিশ্বের একটা আবিষ্কার। আমি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলেছি। তার সাধারণ বল আর কাটার বলের মধ্যে কোনো পার্থক্য বের করা কষ্টকর।
মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররাও প্রশংসায় মুখরিত হচ্ছেন। সম্প্রতি তার বোলিং নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া একান্ত সাাৎকারে ভারতের সাবেক স্পিনার মানিন্দার সিং জানান, ‘মুস্তাফিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন, দেখবেন তার পেস বৈচিত্র্য। তার স্লোয়ার গুলো সত্যিই দেখার মতো। বাংলাদেশি এই পেসারের স্লোয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য বোঝা কষ্টকরই বটে।’

মুস্তাফিজের জন্য গলা ফাটানো সেই তরুণী কে?

আইপিএলে এখন পর্যন্ত যা করেছেন মুস্তাফিজ তাতে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছে। মিতব্যয়ী বোলিং করে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছেন এই তরুণ বোলার। কাটার, স্লোয়ারে বিখ্যাত সব ব্যাটসম্যানদের স্টাম্প উপড়ে দিয়ে ইতিমধ্যে আইপিএলের হিরোতে পরিণত হয়েছেন।

এবার না চাইতেও খলনায়কে পরিণত হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে এবার খানখান হতে চলেছে যুবরাজ সিংয়ের হৃদয়। কি এমন করলেন মুস্তাফিজ!

পুনে ও সানরাইজ হায়দরাবাদ ম্যাচের মাঝামাঝি সময়! টানটান উত্তেজনা! ম্যাচের যা অবস্থা তাতে পুনের জয়ের পাল্লা ভারি। অধিনায়ক ওয়ার্নার বল তুলে দিলেন ভারতের বিশ্বকাপ হিরো যুবরাজ সিংয়ের হাতে। সেই ওভারে ১০ রান দিলেন যুবি।

পরের ওভারে হেনরিকস দিলেন আরো ৭ রান। আস্তে আস্তে ম্যাচ ঝুকে পড়ছে পুনের দিকে। বিপদ এড়াতে ওয়ার্নার বল দিলেন তার প্রধান অস্ত্র মুস্তাফিজকে। মাত্র ৫ রান দিলেন ফিজ।

গ্যালারিতে মুস্তাফিজের নামে তখন গলা ফাটাচ্ছেন যুবরাজের প্রিয়তমা হ্যাজেল কিথ। পুনের ইনিংসের ১৭তম ওভার। ২৪ বলে দরকার ৪২ রান। উইকেটে আছেন ধোনি ও পেরেরা। বল হাতে তৃতীয় ওভার করতে আসছেন মুস্তাফিজ।

ধোনি-পেরেরার চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস স্পস্ট। সেই ওভারে ফিজ দিলেন মাত্র ৫ রান। প্রতিবার দৌড় শুরু করেছেন মুস্তাফিজ আর প্রতিবার আসন ছেড়ে দাড়িয়ে পড়েছেন হ্যাজেল। মুস্তাফিজের প্রতি হ্যাজেলের অনুরাগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইনিংসের ১৮তম ওভারে।

পুনের জয়ের জন্য দরকার ২২ রান। ধোনি আর পেরেরার ব্যাটে ততক্ষণে আগুন ঝড়ছে। প্রথম ২ বলে চার রান নিলেন ধোনি। তৃতীয় সজোরে ব্যাট চালালেন ধোনি। তবে ফিজের কাটারে পরাস্ত হলেন ধোনি। লাফিয়ে উঠলেন হ্যাজেল। তার কণ্ঠে তখন কেবলই মুস্তাফিজ! মুস্তাফিজ!

শেষ দুই বলেও একইভাবে গলা ফাটালেন হ্যাচেল। শেষ পর্যন্ত ৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় যুবরাজ-মুস্তাফিজের দল হায়দরাবাদ। তবে হ্যাজেলের এমন উলম্ফন ভালো চোখে নেয়নি কেউই। যুবরাজের প্রেমিকা হয়ে মুস্তাফিজের নামে এমন উচ্ছাসকে অনেকেই বাড়াবাড়ি বলছেন।

আর মাঠ থেকে এমন দৃশ্য দেখতে যুবরাজেরও ভালো লাগেনি নিশ্চয়।

উল্লেখ্য, এরই মধ্যে বাগদান হয়ে গিয়েছে যুবরাজ সিংহ ও ব্রিটিশ সুন্দরী হ্যাজেল কিথের। খুব শিগগিরিই বিয়ে করতে যাচ্ছেন এই দুজন।

ডেথ ওভারে সেরা মুস্তাফিজ : ওয়ার্নার

আইপিএলে অভিষেকের পর থেকেই ঝড় তুলেছেন মুস্তাফিজ। নিজের পারফর্মেন্স দিয়ে চলে এসেছেন ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে। পুনের বিপক্ষে তার দল ৪ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিলেও নিজে ছিলেন উইকেট শূন্য। তবে ডেথ ওভারে তার অবিশ্বাসও বোলিংয়ের জন্যই জয় এসেছে, এমনটাই মনে করে দলের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজেরও প্রশংসা করে ওয়ার্নার বলেন, ডেথ ওভারে মুস্তাফিজ সেরা। সে ডেথ ওভারে আমাদের পক্ষে ম্যাচটি নিয়ে এসেছিল, ডেথ ওভারে তার বিকল্প নেই, এজন্যই তাকে আমি সবসময় শেষে ব্যবহার করি।

এদিকে, এই ম্যাচে উইকেট না পেলেও ডেথ ওভারে চমৎকার বোলিং করেছেন মুস্তাফিজ। তার চারটি ওভার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চার ওভার বল করে তিনি রান দিয়েছেন ২৬। তার বলে বাউন্ডারি এসেছে মাত্র একটি, এরকম লো-স্কোরিং ম্যাচে এরকম বোলিং ফিগার প্রশংসা পাওয়ারই যোগ্য। ম্যাচের ১৭তম ওভারে তিনি মাত্র ৫ রান দিয়েছেন অপরদিকে নিজের করা শেষ ওভারে রান দিয়েছেন ৮।

ভারতে কোহলির চেয়ে জনপ্রিয় মুস্তাফিজ

কাটার মাস্টার মুস্তাফিজকে নিয়ে চমকের যেন শেষ নেই। ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) চোখ ধাঁধানো বোলিং উপহার দিয়ে কিংবদন্তীদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। আর ভারতে শীর্ষ ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির চেয়েও জনপ্রিয় বাংলাদেশের মুস্তাফিজ। এমনটাই মনে করেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

মঙ্গলবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি আয়োজিত ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনায় বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারতে মুস্তাফিজের যত ফ্যান আছে, বিরাট কোহলির তত নেই—এটা সত্য। আইপিএলে মুস্তাফিজ যেভাবে খেলছেন, প্রতিদিন তাকে নিয়ে ভারতের পত্রিকায় খবর আসে। আমার বাড়িতে এটা নিয়ে তো লড়াই। আমি বিরাটের ফ্যান, আর ছেলেমেয়ে মুস্তাফিজের ফ্যান। আমার বউও তাই। মানে ডিভোর্স হওয়ার জোগাড়।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী আরও বলেন, ভারতের প্রতিটি সংবাদপত্রে মুস্তাফিজকে একবার উল্লেখ করা হচ্ছেই। প্রত্যেক বড় বড় খেলোয়াড় ডেল স্টেইন, মুত্তিয়া মুরলিধরন, রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলেসহ মুস্তাফিজের প্রশংসা করছেন। মুস্তাফিজ আমাদের এই অঞ্চলে এক বিরাট আবিষ্কার, সেটা আমি জোরগলায় বলতে পারি। আমি বলি, মুস্তাফিজ ইন্ডিয়ায় জন্মালেন না কেন, তাহলে ভারতের হয়ে খেলতে পারতেন। আমি নিজে ওর খেলা দেখেছি। যেভাবে খেলছেন, একদিন অনেক বড় খেলোয়াড় হবেন।

মুস্তাফিজকে আটকানোর উপায় খুঁজছেন ফ্লেমিং!

অভিষেকের পর থেকেই ঝড় তুলেছেন মুস্তাফিজ। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন তিনি। দিন যত গড়িয়েছে, তত তিনি নিজেকের তুলে ধরেছেন অন্য উচ্চতায়। চলতি আইপিএলে প্রথম বারের মত অংশ নিয়ে নিজেকে চিনিয়েছেন অন্যভাবে। আজ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুস্তাফিজের বিপক্ষে মাঠে নামছে ফ্লেমিংয়ের পুনে।

আইপিএলে তিকে থাকতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই পুনের। তবে জয়ের সবচেয়ে বড় বাঁধা মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজুর রহমানের গল্পটা যেন ‘এলাম, দেখলাম, আর জয় করলাম’। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। তাই মুস্তাফিজকে আটকানোর উপায় খুঁজছেন পুনে কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং।

এ নিয়ে ফ্লেমিং বলেন, মুস্তাফিজ আসলে দারুণ। ও এবারের আসরে যা করে দেখাচ্ছে, সেটা সত্যি অবিশ্বাসও। সে বড় একটা সেনসেশন। আমাদের অবশ্যই এই হুমকি সামলাতে হবে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা মুস্তাফিজের বল বিশ্লেষণ করছে কিভাবে সামালানো যায়।

তবে আজকের ম্যাচটা মুস্তাফিজের জন্য বড় একটা পরীক্ষাই। আইপিএলে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ ধারাবাহিক থাকলেও পুনের সঙ্গে আগের ম্যাচটাতেই মনে রাখার মতো কিছুই করতে পারেননি। ২ ওভারে ২১ রান দিয়েছিলেন। তার জন্য এবারের আসরে ওভারপ্রতি নয়ের বেশি রান দেওয়ার ঘটনা ওই একবারই ঘটেছে। আইপিএলে ওই ম্যাচেই শুধু উইকেটবিহীন ছিলেন।

আইপিএল ছেড়ে নেদারল্যান্ডস গেলেন রায়না

সন্তান সম্ভবা স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার পাশে থাকতেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মাঝপথেই নেদারল্যান্ডসে পাড়ি জমালেন ভারতীয় ক্রিকেটার ও গুজরাট লায়ন্সের অধিনায়ক সুরেশ রায়না। আইপিএলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা গুজরাটের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ১৪ মে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচের আগেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে গুজরাট অধিনায়কের।

কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর রায়না জানান,  আমার স্ত্রী মা হতে চলেছেন। আমি সোমবার আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হল্যান্ড যাচ্ছি। তাই ভীষণ উত্তেজিত।` এদিকে মা দিবস উপলক্ষ্যে ইনস্টাগ্রামে মায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন রায়না। তার আগে গত ১৮এপ্রিল স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার একটি ছবি পোস্ট করেন। যাতে দেখা যায় রায়নার স্ত্রী এক পুতুলের ডাইপার চেঞ্জ করছেন।

গাভাস্কারের চোখে সেরা বোলার মুস্তাফিজ

অভিষেকের পর থেকে ঝড় তুলেছিলেন। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন তিনি। দিন যত গড়িয়েছে, তত তিনি নিজেকের তুলে ধরেছেন অন্য উচ্চতায়। ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেকে চিনিয়েছেন অন্যভাবে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ, নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেনে উইলিয়ামসন থেকে শুরু করে সেরা সেরা ব্যাটসম্যানদের বোল্ড করেছিলেন তিনি।

এ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দারাবাদ তাকে কিনে নিয়েছে। প্রথমবারেরমত আইপিএল খেলতে গিয়েও বেশ আলোচনার জন্ম দিলেন বিস্ময়কর এই পেসার। তাদের হাতের জাদু দেখতে দেখতে যেন এখন মুগ্ধ পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

একের পর এক কার্টার, স্লোয়ার, ইয়র্কারে তিনি মাতিয়ে তুলেছেন আইপিএলকে। ভারতীয় মিডিয়া, ভারতীয় বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু পুরো পুরো বিশ্বের ক্রিকেটমহল তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আগেও মুস্তাফিজের দারুণ প্রশংসা করেছিলেন সুনিল গাভাস্কার। এবার আর প্রশংসা নয়, তিনি তৈরী করলেন এবারের আইপিএলের সেরা তিন ব্যাটসম্যান এবং সেরা তিন বোলারের একটি তালিকা। যেখানে অবধারিতভাবেই চলে এলো মুস্তাফিজের নাম।

সুনিল গাভাস্কারের চোখে সেরা তিন ব্যাটসম্যানের প্রথমজন বিরাট কোহলি। এবারের আইপিএলে যে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন তিনি, তাতে সুনিল গাভাস্কার কেন, যে কারও সেরা পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসবে তার নাম। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৮ ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৪১ রান। দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে তাতে। সর্বশেষ রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি।

কোহলি সম্পর্কে গাভাস্কার বলেন, ‘ব্যাট হাতে তিনি তার কাজটি সম্পাদক করে দিয়ে আসছেন শতভাগ। অন্যাদের জন্য খুব বেশি কিছু বাকি রাখছেন না। নিঃসন্দেহে এখনও পর্যন্ত তিনি একজন সেরা ব্যাটসম্যান।’

গাভাস্কারের চোখে দ্বিতীয় সেরা ডেভিড ওয়ার্নার। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট নিয়মিত হেসে চলছে আইপিএলে। ব্যাটিংয়ে একার হাতে দলকে অনেকটা টেনে নিয়ে চলছেন তিনি। নেতৃত্বেও তার ব্যাটিংয়ের প্রভাব পড়ছে। একই শিখর ধাওয়ানকেও ফর্মে ফিরিয়েছেন তিনি। ৯ ম্যাচে তিনি করেছেন ৪৫৮ রান।

গাভাস্কার বলেন, ‘কৃতিত্ব অবশ্যই ডেভিডের প্রতি যাওয়া উচিৎ। কারণ সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। যেমন অধিনায়কত্বে, তেমনি ব্যাট হাতেও। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ের সময়ও দারুন অধিনায়ক তিনি। ফিল্ডিং সাজানো এবং নিজের ফিল্ডিং দিয়ে উদাহরণ তৈরী করছেন ওয়ার্নার।’

তবে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নির্দিষ্ট কাউকে নির্বাচন করতে পারলেন না গাভাস্কার। তার মতে এই স্থানটির জন্য টস হওয়া প্রয়োজন রোহিত শর্মা, আজিঙ্কা রাহানে এবং গৌতম গম্ভীরের মধ্যে। এই তিন ওপেনার দলের জন্য প্রথম থেকে দারুণ অবদান রেখে চলেছেন। রান তাড়া করতে নেমে রোহিত তো দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন। গৌতম গম্ভীরও একইভাবে ব্যাট করে যাচ্ছেন। রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের হয়ে আজিঙ্কা রাহানের ব্যাটও নিয়মিত কথা বলে যাচ্ছে।

গাভাস্কারের চোখে সেরা তিন বোলারের মধ্যে শীর্ষে আছেন কেকেআরের ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। বল হাতে যেন নতুন বিপ্লব সূচনা করেছেন এই জ্যামাইকান। এখনও পর্যন্ত ১০ ম্যাচ থেকে ১৪টি উইকেট নিয়ে সেরা অবস্থানে রয়েছেন তিনি। আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে গাভাস্কার বলেন, ‘সে তো এক ওভারেই খেলার চেহারা পরিবর্তন করে দিতে পারে। সেটা হোক ব্যাট হাতে কিংবা বল হাতে। বেশ শক্তিশালী ক্রিকেটার তিনি। তার গতিময় বল এবং মাঝে মধ্যে স্লোয়ারগুলো বেশ কাজ দিচ্ছে এবারের আইপিএলে।’

গাভাস্কারের চোখে এবারের দ্বিতীয় সেরা বোলার নিউজিল্যান্ডের মিচেল ম্যাকক্লেনঘান। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই পেসারকে কমপ্লিট এ বোলার হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। ‘যেভাবে সে ক্রিজকে ব্যবহার করে এবং যেভাবে সে কোনাকুনি বল ডেলিভারি দেয়, তাতে বেশ ফল পাচ্ছেন তিনি। ওভার দ্য উইকেট কিংবা অ্যারাউন্ড দ্য উইকেট যেটাই হোক ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলছেনই তিনি। তার বল বুঝতেই পারছে না ব্যাটসম্যানরা।’

গাভাস্তারের চোখে এরপরের সেরা বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। স্পেশালি তিনি এই স্থানটি রাখলেন মুস্তাফিজের জন্য। কারণ বাংলাদেশের এই পেসারে দারুণ মুগ্ধ তিনি। গাভাস্কার বলেন, ‘তিনি খুব সহজেই ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারেন। তবে তার স্পেশালিটিটা হলো গতি পরিবর্তন না করেই স্লোয়ার দেয়ার ক্ষেত্রে। রানআপ কিংবা অ্যাকশন পরিবর্তন না করেই বলে দারুণ বৈচিত্র্য আনতে পারে মুস্তাফিজ। যে বলগুলো বোঝা ব্যাটসম্যানদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

শচীনের পা ছুয়ে যুবরাজের প্রণাম

তিন বছর আগে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও শচীনের জনপ্রিয়তা কিংবা মাহাত্ব্য একটুও কমেনি তার প্রমাণ পাওয়া গেল আইপিএলে। রোববার সানরাইজার্স হায়দারাবাদ ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচ শেষে শচীনকে দেখেই তার কাছে ছুটে এসে পা ছুয়ে প্রণাম করতে যান হায়দারাবাদের তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিং।

সানরাইজার্স হায়দারাবাদ ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচে ডাগআউটে উপস্থিত ছিলেন মুম্বাইয়ের ব্যাটিং পরামর্শক ও উপদেষ্টা শচীন টেন্ডুলকার। দল বাজেভাবে হেরে গেলেও প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের শুচেচ্ছা জানাতে মাঠে আসেন শচীন। এ সময় শচীনকে দেখেই তার কাছে ছুটে আসেন যুবরাজ। আর কাছেই এসেই পা ছুয়ে প্রণাম করতে যান তিনি।

যদিও শেষ শেষে শচীন তাকে পা ছুতে দেননি বরং বুকে টেনে নিয়ে অালিঙ্গন করছেন। ভারতে শচীন টেন্ডুল্কারকে ক্রিকেটার দেবতা হিসেবে মানা হয়। ১৩০ কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ নিয়ে ২৪ বছর দেশের হয়ে খেলে যাওয়া কম বড় অর্জন নয়।

আইপিএল শেষ গেইলের!

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মহানায়ক ক্রিস গেইল। তাকে ছাড়া ক্রিকেটের এই সংস্করণটির কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু ক্যারিবীয়ান ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল এবারের আইপিএলে ব্যাট হাতে এখন পর্যন্ত জ্বলে উঠতে পারেননি। তাই তিনি দলে আছেন, কিন্তু মাঠে নেই। সম্ভবত পরের ম্যাচগুলোতেও দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে গেইলকে।

এবারের আইপিএলে আরসিবি দলটির ব্যাটিং লাইন আপ দুর্ধর্ষ। গেইল ছাড়াও আছে বিরাট কোহলি, দক্ষিণ আফ্রিকার এ বি ডি ভিলিয়ার্স, অস্ট্রেলিয়ার অল রাউন্ডার শেন ওয়ানসন। এদের যেকোনো একজনই যেকোনো বোলিং লাইনআপকে তছনছ করে দিতে পারেন।

গেইলের মত খেলোয়াড় এমন দলেও তার স্থান হতে পারে আনায়াসে। তবে অধিনায়ক কোহলি বলেন, গেইলকে বিশ্রামে নয়, ফর্মহীনতা কারণে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। আর তার বদলে নেয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার ট্রাভিস হেডকে। সম্ভবত পরের ম্যাচগুলোতেও গেইলের কোনো সুযোগ নেই।

আইপিএলের সপ্তাহ সেরা ক্রিকেটার মুস্তাফিজ

আন্দ্রে রাসেলের দুই বার ম্যান অফ দ্য ম্যাচ, বিরাট কোহলির অনবদ্য সেঞ্চুরি কিংবা শেখর ধাওয়ানের দুর্দান্তভাবে রানে ফেরা; গেল সপ্তাহে আইপিএলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এগুলোই ছিল সবার উপরে। কিন্তু এদের সব পারফরম্যান্সকে তুচ্ছ বানিয়ে আইপিএলে গেল সপ্তাহের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। ভারতীয় পত্রিকা ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়ায়’ আয়োজিত ভোটে সকলেই ভোট দেন মুস্তাফিজকে। মূলত তার বাঁ-হাতের কারিশমার উপর ভর করেই সানরাইজার্স হায়দারাবাদ উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে। কিন্তু গেল সপ্তাহে খেলা একটি ম্যাচেও তার হাতে ওঠেনি ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

আইপিএলের প্রথম ছয় ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নারের হায়দারাবাদ মোটামুটি লড়াই করলেও শেষ ম্যাচে যেন নিজেদের নিয়ে গেছে সবার উপরে। ছয় দিনের বিরতি দিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স, গুজরাট লায়ন্স এবং দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মত শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে নামে সানরাইজার্স। কিন্তু সবাইকে তাক লাগিয়ে মুস্তাফিজের বদৌলতে প্রত্যেক ম্যাচেই দাপট দেখিয়ে জিতেছে হায়দারাবাদ।

গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে শুক্রবার মুখোমুখি হয় হায়দারাবাদ। ঐ ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ভুবনেশ্বর কুমার প্রথমেই ডুয়েন স্মিথ এবং সুরেশ রায়নার উইকেট নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে দেন। কিন্তু মুস্তাফিজের শেষ দিকের বোলিংয়েই মূলত বেশি দূর এগুতে পারেনি গুজরাট। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফর্মের তুঙ্গে থাকা দীনেশ কার্তিককে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে কেন উইলিয়ামসের ক্যাচের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজ। তারপরেই আবার বোলিংয়ে আসেন ১৪তম, ১৭তম এবং ১৯তম ওভার। এই ওভারগুলোতে দিয়েছেন যথাক্রমে  ১, ৬ এবং ৮ রান! শেষের দিকে নিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজার উইকেট। চার ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ৪-০-১৭-২!

গুজরাটের থেকেও বেশি উজ্জ্বল ছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে। প্রথমেই ডেভিড ওয়ার্নার এবং শেখর ধাওয়ানের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহ পায় হায়দারাবাদ। এ ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ আশীষ নেহরা প্রথম পাঁচ ওভারের ভেতরেই মুম্বাইর প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করে হায়দারাবাদকে বড় জয়ের ভিত গড়ে দেন। মুস্তাফিজ যখন নবম ওভারে বোলিংয়ে আসেন তখন মুম্বাইর নেই ৬ উইকেট। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ব্যাটসম্যানরাই যেখানে মুস্তাফিজকে বুঝতে পারে না সেখানে শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের জন্য তো মুস্তাফিজ সাক্ষাৎ যমদূত! বোলিং করতে এসে হার্দিক পান্ডিয়াকে প্রথম বলেই নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করেন। তারপর একে একে টিম সাউদি এবং মিশেল ম্যাকগ্লেন্যাহানকে আউট করেন তিনি। তিন ওভার বোলিং করে শেষের ৪ উইকেটের ৩ উইকেটই নেন সাতক্ষীরার এই বিস্ময় বালক। ম্যাচ শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩-০-১৬-৩!  দুই ম্যাচে ৭ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

কোচ হিসেবে ভেট্টরিকে পছন্দ কোহলির

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বর্তমানে নতুন কোচ খোঁজার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দলের কোচ হিসেবে ভেট্টোরির নাম প্রস্তাব করলেন ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি। আর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতীয় পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চলতি বছর জুন থেকে আগামী বছর মার্চে ভারত ১৮টি টেস্ট খেলবে। তার আগেই ভারতীয় বোর্ড চাইছে নতুন কোচ নিয়োগ করতে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রীকেই পছন্দ বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ভেত্তোরির ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পরই অবসর নিয়েছিলেন। তারপর কোচ হিসেবে ব্রিসবেন হিটসের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। অনেকেই বলেন,আধুনিক ক্রিকেটে ভেট্টোরির মস্তিষ্ক বেশ ক্ষুরধার।

দেশের কোচ হিসেবে গ্রেগ চ্যাপেল, গ্যারি কার্স্টেনের নিয়োগের সময়ও অধিনায়কদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছিল বোর্ড। কোহলি এখন দেশের টেস্ট অধিনায়ক। নতুন কোচ খোঁজার ব্যাপারে তার বক্তব্য যে গুরুত্ব পাবে সেটা বলাই বাহুল্য।

বিকেলে মুস্তাফিজের মুখোমুখি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

সুপ্রিম কোর্টের আদেশে শেষ পর্যন্ত মুম্বাই থেকে সরাতে হলো আইপিএলের ম্যাচ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হোম ভেন্যু এখন ভিসাখাপত্মম। এখানেই আজ তারা নিজেদের ১০ম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমানের সানরাইজার্স হায়দারাবাদের। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে দু’দলেরই লক্ষ্য শেষ চারের পথে অনেকটুকু এগিয়ে যাওয়া।

৮ ম্যাচ খেলে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের পয়েন্ট ১০। ৯ ম্যাচ খেলে মুম্বাইরও পয়েন্ট সমান ১০। আজ যে জিতবে তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে ১২। শীর্ষে থাকা দুই দল কেকেআর এবং গুজরাট লায়ন্সের ওপর তখন চাপ বাড়িয়ে দিতে পারবে তারা। বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে মুস্তাফিজ বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচটি।

তবে একটি বিষয়ে কিছুটা হলেও পিছিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কারণ, ইতিমধ্যে ৯টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা। আজ হয়ে যাবে ১০টি। সানরাইজার্স খেলেছে এক ম্যাচ কম। আজ হেরে গেলেও তাদের ফিরে আসার দারুন সুযোগ রয়েছে; কিন্তু মুম্বাই যদি হারে তাহলে তাদের ফেরার রাস্তা অনেক কমে যাবে। সুতরাং, শেষ চারের সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে সানরাইজার্সকে হারাতেই হবে রোহিত শর্মার দলকে।

সেটা কতটা সম্ভব? কারণ, সানরাইজার্সে রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এবারের আইপিএলের নিঃসন্দেহে সেরা বোলার। ৮ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। উইকেট হয়তো তার পারফরম্যান্স তেমন তুলে ধরবে না। তবে তিনি যে সত্যি সত্যি এবারের আইপিএলে ম্যাচের ফল নির্ধারক একজন বোলার তাতে কোন সন্দেহ নেই।

দুর্দান্ত ইকনোমি রেট। যাকে বলে সত্যিকার কৃপণ। ব্যাটসম্যানদের রান দেয়ার কোন ইচ্ছেই নেই। সর্বশেষ গুজরাটের বিপক্ষে দিয়েছেন মোটে ১৭ রান। ডট বল দিয়েছেন ১৪টি। উইকেট নিয়েছেন ২টি।

সুতরাং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের রোহিত শর্মা, কিয়েরণ পোলার্ড কিংবা জস বাটলারদের কঠিন পরীক্ষাই নিতে পারেন আজ মুস্তাফিজ। তার ওপর রোহিত শর্মা হচ্ছেন মুস্তাফিজের প্রিয় উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজার পর সবচেয়ে বেশি সম্ভবত রোহিতকেই আউট করেছেন মুস্তাফিজ। সুতরাং, মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে সানরাইজার্সই।

ঢাকা লিগে আরও তিন বিদেশি

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে এখনও পর্যন্ত যারা সেরা পারফরমার তাদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন বিদেশি ক্রিকেটার। এদের সঙ্গে এবার যোগ হচ্ছেন আরও তিনজন বিদেশি। তিনজনই অবশ্য উপমহাদেশের। ভারতের একজন এবং শ্রীলংকার দু’জন।

২০০৯ সালের পর এই প্রথম ভারতীয় কোন ক্রিকেটার তাদের দেশের বাইরে কোন ঘরোয়া লিগ খেলার অনুমতি পেলো। বিশেষ করে যারা বেশ পরিচিতি, অথচ এবারের আইপিএলে খেলতে পারছে না, তাদের আর্থিক বিষয়টা বিবেচনা করেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার অনুমতি দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

এর আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে ঢাকায় এসেছিলেন পশ্চিম বঙ্গের ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। আইপিএলে কেকেআর, দিল্লির হয়ে খেলেছিলেন তিনি একসময়। খেলেছেন ভারতীয় জাতীয় দলেও। অথচ এবার কোন ফ্রাঞ্চাইজি তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি।

তেমনই আরেক ক্রিকেটার মানবিন্দর সিং বিসলা। আইপিএল কাঁপানো। অথচ এখন বেকার। তাকেই দলে টেনে নিয়েছে আবাহনী। শনিবারই ঢাকা এসে পৌঁছেছেন তিনি।

অপর দুই ক্রিকেটার শ্রীলংকার। এদের একজন হলেন আশান প্রিয়ঞ্জন। তিনি খেলবেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে। শ্রীলংকার আরেকজন ঢাকায় আসছেন। শেনান জয়সুরিয়া। তিনি খেলার কথা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে।

মানবিন্দর সিং বিসলাকে আবাহনী নিয়ে এসেছে উদয় কাউলের পরিবর্তে। কারণ, উদয় খেলতে যাচ্ছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে। সোমবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষেই তামিম ইকবালের দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেন বিসলা। একই দিন রূপগঞ্জের হয়ে অভিষেক হতে পারে আশান প্রিয়ঞ্জনেরও। পাকিস্তানের আসার জাইদিও খেলেন রূপগঞ্জের হয়ে।

দিলশান মুনাভিরার পরিবর্তে প্রাইম ব্যাংকে খেলতে আসছেন শেনান জয়সুরিয়া। প্রাইম ব্যাংকের কোচ আবদুল করিম জুয়েল বলেন, ‘জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য ডাক পাওয়ায় আমরা দিলশান মুনাভিরাকে ছেড়ে দিয়েছি। তার পরিবর্তে আনা হচ্ছে শেনান জয়সুরিয়াকে।’

সানরাইজার্সের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজ!

প্রতিদিনই কোন না কোন বিদেশি মিডিয়া মুস্তাফিজকে নিয়ে রচনা করছে প্রশংসাগাথা। আইপিএলে খেলার কারণে ভারতীয় মিডিয়াগুলোর তো উচ্চসিত প্রশংসা পাচ্ছেনই। সঙ্গে যোগ হয়েছে এএফপি, গালফ নিউজসহ অনেকগুলো মিডিয়া। কেউ মুস্তাফিজের কথা দিয়ে, কেউ আবার নিবন্ধ রচনা করছে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। এবার সেই দলে সরাসরি যোগ দিলো ভারতের বিখ্যাত মিডিয়া এনডিটি অনলাইন।

এতদিন অন্যদের নিউজগুলোই হয়তো কপি করে, নয়তো অন্যদের উদ্বৃতি দিয়ে প্রকাশ করতো এনডিটিভি। এবার তারা নিজেরাই এক প্রস্থ প্রশংসাগাঁথা রচনা করলো মুস্তাফিজের নামে।

মুস্তাফিজুর রহমান অ্যান্ড দা ফিজ দ্যাট ইজ বুস্টিং সানরাইজার্স হায়াদারাবাদ- শিরোনামে এই ছোট লেখাটিতে মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাই তুলে আনলো তারা। সেখানেই এনডিটিভি লিখেছে, দ্য ফিজ- এবারের আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যে পারফরম্যান্স দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে। বাংলাদেশ থেকে আসা পেসার মুস্তাফিজের কারণেই এই দলটির মূল্য বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

মাত্র ১২ মাসেই কীভাবে নিজেকে এত মূল্যবান করে তুললেন মুস্তাফিজ! এর মধ্যে মাত্র ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ২২টি। ঈর্ষনীয় গড় ১৩.৯৫ করে। ইকনোমি রেট মাত্র ৫.৯৮ করে। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ১০টির বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা বোলারদের মধ্যে সেরা ইকনোমি রেট মুস্তাফিজের।

আইপিএলে তো আরও দুর্দান্ত। ৮ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১০ উইকেট। গড় ১৮.৭ করে। ইকনোমি রেট ৬.২৩। বয়সের তুলনায়, আইপিএলের উইকেট এবং ছোট মাঠের তুলনায় যে ইকনোমি রেট, তা নিশ্চিতভাবেই অসাধারণ।

দুর্দান্ত সব স্লোয়ার এবং কার্টার দিয়ে সবার নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি। বলের গতি পরিবর্তন না করে, কোন স্টাইল পরিবর্তন না করে স্লোয়ার দিতে পারেন, কার্টার করতে পারেন, এটা যেন ক্রিকেটের ইতিহাসে একক কোন কৃতিত্ব। যে কারণে প্রযুক্তির এই যুগেও মুস্তাফিজ এখনও পর্যন্ত রয়ে গেছেন দারুণ এক রহস্যময়ী বোলার হিসেবে।

আইপিএলে ভারতীয় ক্রিকেটার থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা পর্যন্ত প্রশংসায় পঞ্চমূখ মুস্তাফিজের বোলিংয়ের। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ানরা তো তাকে চিনেছে সেই বিশ্বকাপের সময় ব্যাঙ্গালুরুতেই। বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়ে মুস্তাফিজকে সামলাতে হিমসিম খেতে হয়েছে তাদের। নিউজিল্যান্ড বুঝেছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলকাতায়। মাত্র ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। যার চারটিই বোল্ড। ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ৫ উইকেটের ঘটনা।

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য সবারই টুপিখোলা অভিনন্দন পাচ্ছেন মুস্তাফিজ। তার অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার যেমন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচের পর বলেছিলেন, মুস্তাফিজ একজন বিরল প্রতিভা। তাকে পেয়ে তো বাংলাদেশ গর্বিত হতে পারে এবং তাদের উচিৎ হবে তাদের পরিচর্যা সঠিকভাবে করা। তার পেস পরিবর্তন এবং সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন যেন দুর্দান্ত।

মুস্তাফিজদের হিন্দি শেখালেন যুবরাজ (ভিডিও)

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ আর অধিনায়ক মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য বাংলা শিখছেন, খবরটা পুরনো। নতুন হলো, যুবরাজ সিং সবাইকে হিন্দি শিখিয়েছেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে ট্রেন্ট বোল্ট, ইয়ন মরগ্যান আর ওয়ার্নারদের হিন্দি শেখান যুবরাজ।
mustafiz-3
বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে অবশ্য হিন্দি বলতে হয়নি। নিজের আসনে বসে উপভোগ করেছেন সতীর্থদের মজার এসব কাণ্ড। তাই বলে একেবারে ছাড় পাননি তিনি। মজার একটা খেলা দেখাতে হয়েছে তাকে। যেখানে হাটু দিয়ে ঠেলে ক্রিকেট বলকে নিয়ে একটি বৃত্তের মধ্যে ফেলতে হয়েছে।

ভিডিওতে দেখুন মুস্তাফিজদের হিন্দি শেখানো:

‘মানুষ’ মুস্তাফিজে মুগ্ধ মুডি

মুস্তাফিজদের সঙ্গে এই ছবিটি মুডি পোস্ট করেছিলেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে।দুজনের দেখা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। মুস্তাফিজুর রহমানকে তখনই খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন টম মুডি। হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের কোচ হিসেবে বাংলাদেশি পেসারকে আগে থেকেই জানতেন, তবে পরিচয় ছিল না। এরপর মুস্তাফিজ এলেন আইপিএলে, আর সেখানেই তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখা। বোলার মুস্তাফিজ আইপিএলে কী করেছেন, সেটা সবাই জেনে গেছেন। শুধু একজন ক্রিকেটার মুস্তাফিজেই নন, মানুষ মুস্তাফিজেও মুগ্ধ মুডি।

আইপিএল শুরুর আগেই মুডি বলেছিলেন, মুস্তাফিজের দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হবে না। মুডির কথা যে ঠিক, মুস্তাফিজের মাঠের পারফরম্যান্সই তো সেই কথা বলে। কাল ২ উইকেট নিয়ে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে দলকে জেতাতে বড় অবদান রেখেছেন। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার নিজের আগের কথাটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘মানুষ হিসেবে সে দারুণ। সে খুবই সুন্দরভাবে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। সে বেশ মজার ছেলে।’

আইপিএলে মুস্তাফিজের ইংরেজি নিয়ে শুরু থেকেই কী সব মজার গল্প চলছে। মুডি তো আছেনই, অধিনায়ক ওয়ার্নার ও মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণও মুস্তাফিজের জন্য বাংলায় টুইট করেন। কাল পুনের সঙ্গে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুডি অবশ্য দাবি করেছেন, এই ব্যাপারটা এখন বড় কিছু নয়, ‘ওর ভাষা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সে ইংরেজিতে ঠিক স্বচ্ছন্দ নয়, আমরাও সেভাবে বাংলা বলতে পারি না। তবে ক্রিকেটের ভাষা সর্বজনীন, দিন শেষে আমাদের যোগাযোগ করতে তাই কোনো সমস্যা হয় না।’

হায়দরাবাদ দলের সঙ্গে অনেক দিন হয়ে গেল মুস্তাফিজের। মুডি তাই মানুষ হিসেবেও মুস্তাফিজকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতায়ও মুগ্ধতার রেশ, ‘তার রসবোধ দারুণ। সহজেই সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারে। মাঠে সে যা করেছে, সেটা এরই মধ্যে সবার নজর কেড়েছে। আর মাঠের বাইরে সে যা করছে, সেটাও দলের জন্য দারুণ।’

আগ্রাসী মনোভাব আমাকে সেরা হতে সাহায্য করেছে: কোহলি

বিরাট কোহলি বর্তমান সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান একথা স্বীকার করেন অনেকেই। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোহলি বরাবরই সমীহ আদায় করে নিয়েছেন ক্রিকেট সমর্থক থেকে বিশ্লেষকদের। তবে বিভিন্ন সময় নিয়ে মেজাজ হারিয়ে সমালোচিত হয়েছেন তিনি।
এবার নিজেই স্বীকার করলেন সে কথা। ২৭ বছর বয়সী কোহলি জানালেন, সহজে তিনি মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। এটা নাকি তার জন্য বেশ কঠিন কাজ! তবে নিজের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খুব বিচলিত নন কোহলি।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই আগ্রাসী হতে হয়। আপনার দক্ষতার প্রতি আপনার বিশ্বাস থাকতে হবে। তবে এ নিয়ে দম্ভ করা ঠিক নয়। আগ্রাসী মনোভাব আমার রয়েছে। নিজেকে এভাবেই উপস্থাপন করে থাকি। এটা আমাকে সেরা হতে সাহায্য করছে!’
কোহলি আরও বলে , ‘মেজাজ ধরে রাখা আমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এটা ধরে রাখা আমার জন্য বেশ কঠিন। আমি জানি, আমাকে খেলাধুলা নিয়েই কাজ করতে হবে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলায় বিশেষ কিছু নিয়ম মানতে হয়। এটা মাথায় রাখতে হয়। এমন আচরণের কোনও মানে নেই। তাই সমালোচিত হতে হয়।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অ্যাডিলেড টেস্টের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে জরিমানা গুণেছিলেন কোহলি। চলতি বছরে এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে তৈরি হয়েছিল আম্পায়ারিং বিতর্ক। বাংলাদেশের আম্পায়ার শারফুদ্দৌলা সৈকতের একটি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ভারতের ক্রিকেটাররা। আর ভারতের সহ-অধিনায়ক বিরাট কোহলি তো গালিই দিয়ে বসেন আম্পায়ারকে! এ ছাড়াও ক্রিকেট মাঠে ও বাইরে মেজাজ হারানোর বেশ কিছু নজির রয়েছে কোহলির।

আইপিএলে ধোনির দলে খেলতে পারেন তামিম!

ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরে চোটে জর্জরিত এবারের দলগুলো। আগের কোনো আসরে এত বেশি ইনজুরি দেখা যায়নি। যে কারনে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি সংবাদ প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ নাকি ইনজুরি প্রিমিয়ার লিগ।
এবারের আইপিএলে এই পর্যন্ত ১৩ জন তারকা ক্রিকেটার ইনজুরি সমস্যায় ভুগেছেন। যাদের মধ্যে ১১ জন ইনজুরির জন্য এই মৌসুমে আর অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় ভুগেছে আসরের নতুন দল রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। মাত্র ৯ দিনের মধ্যে তাদের ৪ জন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি খেলোয়াড় ইনজুরির কারনে এখন আসরের বাইরে। তাই তারা এখন দলে নতুন করে খেলোয়াড় নেয়ার পরিকল্পনা করছে। তাই এবার আইপিএলে সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশ দলের ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েব সাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এমনটাই জানিয়েছে।
ক্রিকইনফো পুনের জন্য দশ জন ক্রিকেটারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আর সে তালিকায় বেশ উপরেই আছেন বাংলাদেশ দলের ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তালিকায় তার অবস্থান তিনে।
আইপিএলে অন্তর্ভুক্ত হবার মত সেই ১০ জন ক্রিকেটারের তালিকা নিম্নে দেয়া হল-
১. বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)
২. জনসন চার্লস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৩. তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)
৪. মাইকেল হাসি (অস্ট্রেলিয়া)
৫. ড্যারেন সামি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৬. জো রুট (ইংল্যান্ড)
৭. গ্রান্ট ইলিয়ট (নিউজিল্যান্ড)
৮. কেভন কুপার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৯. মারলন স্যামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
১০. কেভিন ওব্রায়ান (আয়ারল্যান্ড)

সব খেলাতেই বাংলাদেশের মাথা উঁচু দেখতে চান মুস্তাফিজ

অভিষেকের পর মাত্রই এক বছর পার করলেন বিস্ময়কর পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এরই মধ্যে পুরো ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস ক্রিকেট লিগ ভারতের আইপিএলে নিজেকে মেলে ধরেছেন পূর্ণরূপে। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সব বিশেষজ্ঞ। তার কারণে এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটও পৌঁছে গেছে সমীহের নতুন একটা পর্যায়ে।
তবে মুস্তাফিজ যেখানেই যান, যত বড় তারকাই হযে উঠুন না কেন- বাংলাদেশই যে তার প্রাণ, বাংলাদেশই যে তার হৃদয়ে সেটা বলতে বিন্দুমাত্র ভুল করলেন না। আইপিএলে খেলার জন্য পুরো ভারতবর্ষের এই শহর থেকে সেই শহর উড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু তাতে মোটেও দেশের কথা ভুলছেন না সানরাইজার্স হায়দারাবাদের আদরের ‘ফিজ’।
আপাদমস্তক নিস্পাপ চেহারার। চেহারা থেকে এখনও কৈশোরের চঞ্চলতা মুছে যায়নি। অথচ তিনিই কি না কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন আইপিএলের মত কঠিন এবং গ্ল্যামারাস টুর্নামেন্টটি। সেখানে থেকেই এএফপিকে ফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ বলেন, ‘আমি সব সময়ই আমার দেশের মাথা উঁচুতে দেখতে চাই। সেটা ক্রিকেটই হোক কিংবা অন্য কোনো খেলা।’
নিজের জন্মস্থান, নিজের মাতৃভুমি খুব টানে মুস্তাফিজকে। এলাকার মানুষ, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের কোনভাবে ভুলেন না তিনি। গ্রামের মানুষ যখন তার খেলা দেখে আগ্রহভরে এবং তার জন্য গর্ব করে, তখন ব্যাপারটা মুস্তাফিজের অনুভূতিকে আনন্দ আর তৃপ্তিকে ভরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, যখন গ্রামের কেউ এসে তাকে বলেন, ‘মুস্তাফিজ তোমার খেলা দেখলাম’- তখন তার ভেতরে যে আনন্দ অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তা অন্য রকম। এএফপিকে এমনটাই জানিয়েছেন মুস্তাফিজ।

মুস্তাফিজের ফোন নম্বর পেতে তরুণীদের ভিড়!

অভিষেকের এক বছরের ভেতরেই তারকা ক্রিকেটারের খ্যাতি পেয়ে গেছেন মুস্তাফিজ। মাঠের ভেতরে কাটার এবং স্লোয়ারে ব্যাটসম্যানদের হৃদয় ভেঙ্গে দিতে জুড়ি নেই মুস্তাফিজের। তাকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ারও আগ্রহের কমতি নেই। তাই মাঠের বাইরেও তাকে নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাশেম গাজী ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন।
মুস্তাফিজের প্রতি সবার আগ্রহের কারণেই দূর দূরান্ত থেকে অনেকে ছুটে যান মুস্তাফিজের সাতক্ষীরার বাড়িতে। তাকে শুভকামনা জানাতেই মানুষদের তার বাড়িতে যাওয়া। কিন্তু তরুণীদের আগ্রহ রয়েছে অন্য খানে। অসংখ্য তরুণী মুস্তাফিজের মোবাইল নম্বর চাচ্ছেন মুস্তাফিজের বাবার কাছে।
এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজের বাবা অবশ্য সে বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের ঠিকানায় অসংখ্য চিঠি আসে। আমি পোস্ট অফিসে গিয়ে বলে এসেছি, তারা যেন আমাদের ঠিকানার কোনো চিঠি বাড়িতে না পাঠায়। মুস্তাফিজ এখন অনেক ছোট। খেলায় মনযোগ দেয়ার সময় এখন।’
গত মাসেই বাবাকে যাতায়াতের জন্য গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। তাছাড়া নিজে একটি বাইকও কিনেছেন। আইপিএল খেলতে গেলেও মুস্তাফিজের মনটা গ্রামেই পড়ে রয়েছে। বাবার আশা একদিন বড় ক্রিকেটার হবেন মুস্তাফিজ। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছেন মুস্তাফিজ।

ইউটিউবে ভাইরাল মুস্তাফিজের নতুন ভিডিও

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই বল হাতে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে বাংলাদেশের বোলিং বিস্ময় মুস্তাফিজুর রহমান। অফ কার্টার, অন কার্টারের সঙ্গে স্লোয়ার, ইয়র্কার দিয়ে ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের নতুন পেস সেনসেশন। এবার মুস্তাফিজের জাদুকরি সব বল নিয়ে ইউটিউবে পাওয়া গেল নতুন এক ভিডিও।

ভিডিওতে পাকিস্তানের বিপক্ষের অভিষেক থেকে শুরু করে সর্বশেষ আইপিএল পর্যন্ত টাইগার এই বোলারের জাদুকরী সব বল তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে আফ্রিদি-হাফিজদের নাকানি-চুবানি খাওয়ানো বোলিং, ওয়ানডেতে ভারতীয় শিবিরকে স্তব্ধ করে দিয়ে মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, টেস্টে হাশিম আমলা, ডু প্লেসিসের উইকেট নেয়ার পর কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া চলতি আইপিএলে তার দুর্দান্ত সব ডেলিভারিও রয়েছে এই ভিডিওতে। কলকাতার বিপক্ষে রাসেল, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পান্ডে ও গুজরাটের জাদেজার বোল্ডও তুলে ধরা হয়েছে এই ভিডিওতে।

https://www.youtube.com/watch?v=_-sKhPZxCF0

এবার মুস্তাফিজে মুগ্ধ মুরালি

মুস্তাফিজে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারছেই না। প্রায় সব কিংবদন্তীর মুখেই শোনা যাচ্ছে মুস্তাফিজ বন্দনা। কিংবদন্তীরা একের পর এক প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন বাংলাদেশের এই বিস্ময় পেসারকে। তার প্রতিভা দেখে একের পর এক বিস্ময়াবিভূত হচ্ছেন বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা পর্যন্ত। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শ্রীলংকার কিংবদন্তী স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন।
সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে আইপিএলেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। তার একের পর এক বিস্ময় মাখানো বোলিং দেখার পর আর চুপ করে থাকতে পারলেন না লংকান কিংবদন্তী। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ শুধু বাংলাদেশেরই নয়, সানরাইজার্স হায়দারাবাদেরও বড় সম্পদ।’
ওর মধ্যে অনেক সম্ভবনা রয়েছে বলেই মনে করেন মুরালি। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজুর রহমান এমন এক বোলার, যিনি সানরাইজার্স হায়দারাবাদে আসার পর থেকেই তার অসম্ভব প্রতিভা দেখিয়ে যাচ্ছেন। ওকে সঠিক পরিচর্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমি মনে করি, ওর জন্য আগামীতে আরও অনেক সাফল্য অপেক্ষা করছে।’
মুস্তাফিজের কারণেই সানরাইজার্স হায়দারাবাদের বোলিং এবারের আইপিএলে অন্যতম সেরা বলে মনে করছেন মুরালিধরন। তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে রয়েছেন আশিস নেহরা, ভুবনেশ্বর কুমার। সবাই দারুন বোলিং করছেন। আমি মনে করি, কঠিন সমযে যদি আমরা সঠিক জায়গায় বল করে যেতে পারি, তাহলে এখনও টুর্নামেন্টে আমাদের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।’
এখনও পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট এসেছে তাঁর ঝুলিতে। তাঁর দলও ৭টির মধ্যে জিতেছে ৪টিতে। রয়েছেন ৫ নম্বরে।

আইপিএলের সেরা একাদশে মুস্তাফিজ

আইপিএলের চলছে মাত্র মাঝপথ। এই মাঝপথে এসে অনেকেই হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করে দিয়েছেন। কে যাবে শেষ চারে। কারা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন। কে সবচেয়ে বেশি রান করেছে কিংবা কে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন।
তবে ব্যতিক্রমি একটি কাজ করে বসেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ক্রিকেটডটকম ডটএইউ। আইপিএলের মাঝপথেই তারা তৈরী করেছে এখনও পর্যন্ত পারফরম্যান্সের নিক্তিতে আইপিএলের সেরা একাদশ। যেখানে অবধারিতভাবেই ঠাঁই মিলে গেছে নতুন পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমানের।
আসুন দেখে নেয়া যাক স্যাম ফেরিস কর্তৃক তৈরীকৃত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আইপিএল একাদশ

ডেভিড ওয়ার্নার (সানরাইজার্স হায়দারাবাদ)
৭ ইনিংস, ৩৮৬ রান, ৭৭.২০ গড়, ১৬৮.৫৫ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৯০, হাফ সেঞ্চুরি ৫টি
বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে আইপিএলের তৃতীয় ম্যাচ থেকেই ফর্মে ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচ ছিলেন নিষ্প্রভ। তবে পরের ৫টি ইনিংসেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। সবগুলোতেই তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। আইপিএলে টানা ৫ ইনিংসে কোন অধিনায়ক হিসেবে ৫ হাফ সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি।

বিরাট কোহলি (রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু)
৭ ইনিংস, ৪৩৩ রান, ৭২.১৬ গড়, ১৩৭.০২ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ১০০*, সেঞ্চুরি: ১টি, হাফ সেঞ্চুরি ৪টি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফর্মই যেন আইপিএলে টেনে এনেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করেছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (বাছাইপর্ব বাদ দিয়ে) হিসেবে। আইপিএলেও ধরে রেখেছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের খেতাব। টি-টোয়েন্টির বর্তশান সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান তিনি। তার ব্যাটেই কেবল সম্ভব রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর শিরোপা জয়। নতুন বলে অসাধারণ ব্যাট করে থাকেন।

রোহিত শর্মা (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)
৯ ইনিংস, ৩৮৩ রান, ৬৩.৮৩ গড়, ১৩৭.২৭ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৮৫*, হাফ সেঞ্চুরি ৫টি
ওপেনিংয়ে বরাবরই বিধ্বংসী তিনি। তবে পার্টনারের অভাবে রোহিত দলকে কাংখিত সাফল্য এনে দিতে পারছেন না। তবে এই দলে রোহিতকে রাখা হল তিন নম্বরে। এর কারণ, রোহিতের সাফল্যের প্রকৃতি দেখে। গত বছরের মতই শুরুটা ছিল মুম্বাইর একেবারে ব্যাকফুটে থেকে। যদিও ধীরে ধীরে খোলস মেলতে শুরু করেছে রোহিতের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। রোহিতের ব্যাটের কল্যানেই সম্ভব হচ্ছে শুধু। মুম্বাইর সাফল্য পেতে হলে রোহিতের ব্যাটে ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

এবি ডি ভিলিয়ার্স (রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু)
৭ ইনিংস, ৩২০ রান, ৪৫.৭১ গড়, ১৬৩.২৬ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৮৩, হাফ সেঞ্চুরি: ৩টি
রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর আকর্ষণের অর্ধেকই যেন এই ক্রিকেটারের মধ্যে। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করছেন প্রথম থেকেই। রীতিমত ঝড় তুলে ছুটছেন তিনি। বিরাট কোহলির সঙ্গে তার সমন্বয়টা অবম্ভব রকমের। দু’জনের বড় বড় জুটিই প্রতিপক্ষের সামনে বিশাল বড় স্কোর দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। তিনটি সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করেছেন এই জুটি। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে ১৫৭ এবং ১৫৫ রানের। কোহিল তাকে আবার প্রজন্মের সেরা ব্যাটসম্যান আখ্যায়িত করেছেন।

গৌতম গম্ভীর (কলকাতা নাইট রাইডার্স)
৮ ইনিংস, ৩৩৯ রান, ৫৬.৫০ গড়, ১২৩.৭২ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৯০*, হাফ সেঞ্চুরি: ৩টি
এই একাদশে আরও একজন ওপেনার। তবে রাখা হয়েছে ৫ নম্বরে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক এবং ওপেনার। তার ব্যাটে ভর করে একের পর এক জয় রচনা করছে শাহরুখ খানের দল কেকেআর। তিনি যেদিন নিষ্প্রভ, সেদিন দলেরও যেন পরাজয় নিশ্চিত। ৩৪ বছর বয়সেও দারুন ধারাবাহিক তিনি। সানরাইজার্সের বিপক্ষে তার অসাধারণ ব্যাটিংই জিতিয়েছে কেকেআরকে। ৬০ বলে করেছিলেন ৯০। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাট করে যেতে সিদ্ধহস্ত তিনি।

কুইন্টন ডি কক, উইকেটরক্ষক (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)
৬ ইনিংস, ১৯৯ রান, ৩৯.৮০ গড়, ১৬০.৪৮ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ১০৮, সেঞ্চুরি: ১টি, হাফ সেঞ্চুরি: ১টি
দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের আরেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। দিল্লিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছেন যেন তিনি। এবারের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে করেছেন ১০৮ রানের ইনিংস। মাত্র ৫১ বলে খেলেছিলেন এই ইনিংসটি। ১৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ৬টি ছক্কার মারও। যে কারণে ১৯২ রানের চ্যালেঞ্জও টপকে যায় দিল্লি।

ক্রিস মরিস (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)
৩ ইনিংস, ৯৩ রান, ৪৬.৫০ গড়, ২১৬.২৭ স্ট্রাইকরেট, সর্বোচ্চ : ৮২*, হাফ সেঞ্চুরি: ১টি
প্রায় ১৪ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিলেন ক্রিস মরিস। মূল্যের সঙ্গে নামের সুবিচার করতে না পারলে যে মান-সম্মানই থাকে না! সুতরাং, প্রোটিয়া এই অলরাউন্ডারের ওপর চাপটাও ছিল। তবে দিল্লির ৬ ম্যাচের মধ্যে যে কয়টা খেলেছেন সেগুলোতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে কৃপণ বোলার হিসেবেও বেশ পরিচিত। ৬.২৫ করে ইকনোমি রেট। গুজরাটের বিপক্ষে খেলেছেন দুর্দান্ত একটি ইনিংসও। যদিও ওই ম্যাচে হারতে হয়েছিল তার দলকে। করেছিলেন ৮২ রান। ছক্কা মেরেছিলেন ৮টি।

মোহিত শর্মা (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব)
৭ ইনিংস, উইকেট: ১০টি, গড় : ১৭.৬, ইকনোটি: ৭.৭০, স্ট্রাইক রেট: ১৩.৭০, সেরা: ৩/২৩
মোহিত শর্মা এমন একটি দলে খেলেন যে দলটি এবারের আইপিএলে একেবারে তলানীতে। তবে অন্যদের ছাড়িয়ে মোহিত একাই যেন জ্বল জ্বল করে জ্বলছেন এই দলটিতে। তার ডান হাতি মিডিয়াম পেস ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ সমস্যার সৃষ্টি করছে। পুনের বিপক্ষে মোহিত কোন অ্যাকশনেই যেতে পারছিলেন না পাওয়ার প্লেতে। তবে ডেথ বোলিংয়ে এসে স্টিভেন স্মিথ, ধোনি এবং ফ্যাফ ডু প্লেসিসকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছেন নিজের অপরিহার্যতা।

মিচেল ম্যাকক্লেনঘান (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)
৯ ইনিংস, উইকেট: ১৩টি, গড় : ২১.১৫, ইকনোটি: ৭.৯৭, স্ট্রাইক রেট: ১৫.৯২, সেরা: ৪/২১
এবারের আইপিএলে সবচেয়ে বেশি উইকেট দখলে নিয়েছেন মিচেল ম্যাকক্লেনঘান। মুম্বাইর আক্রমণের সবচেয়ে বড় শক্তিই এখন এই কিউই পেসার। নিউজিল্যান্ড যখন ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদির মত বোলারকে জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে রেখেছিল, তখন আলোচনায় আসে তারা আসলে কী করতে যাচ্ছে। তবে সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন ম্যাকক্লেনঘান। আইপিএলেও যার ধারাবাহিকতা। রাজকোটে গুজরাটের বিপক্ষে শেষ বলে দুর্দান্ত একটি বল করেছিলেন তিনি। ফলে মুম্বাইকে জয় এনে দিতে পারলেন তিনি।

মুস্তাফিজুর রহমান (সানরাইজার্স হায়দারাবাদ)
৭ ইনিংস, উইকেট: ৮টি, গড় : ২১.২৫, ইকনোটি: ৬.৫৩, স্ট্রাইক রেট: ১৯.৫০, সেরা: ২/৯
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বকাপেই তাকে আবিস্কার করা হয়েছিল। এখন তো পুরোপুরি আইপিএল তারকা। বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি পেসারের হাতে রয়েছে সব ধরনের অস্ত্র। কার্টার, ইয়র্কার, স্লোয়ার, বাউন্সার- কী নেই তার হাতে! সানরাইজার্স হায়দারাবাদে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ফিজ’ নামে। শুধুমাত্র ভাষাগত সমস্যার কারণে অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে তার যোগাযোগে একটু সমস্যা হয়। কিন্তু তার বলে বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটসম্যানরা সমস্যায় পড়েছেনই। পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। প্রথম ১৫ বলে দিয়েছেন মাত্র ১টি রান। পুরো চার ওভারে একটি বাউন্ডারিও হজম করেননি তিনি। ২৪ বলের মধ্যে দিয়েছেন মোট ১৭টি ডট বল। এই একাদশের নিশ্চিতভাবেই তাকে রাখতে হলো।

অমিত মিশ্র (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)
৬ ইনিংস, উইকেট: ৮টি, গড় : ১৬.৮৭, ইকনোটি: ৭.১০, স্ট্রাইক রেট: ১৪.২৫, সেরা: ৪/১১
এবারের আইপিএলে স্পিনারদের দুরাবস্থার মধ্যে উজ্জ্বল অমিত মিশ্র। ৩৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার যেভাবে বল ঘুরাচ্ছেন, তাতে বিপদে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। প্রতি ম্যাচেই তিনি থাকছেন কৃপণ বোলার হিসেবে। এক ম্যাচ সর্বোচ্চ ২৭ রান দিয়েছেন তিনি। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তো বিস্ময়ই সৃষ্টি করেছিলেন। একই সঙ্গে পাঞ্জাবের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন তিনি। ম্যানন ভোরা, শন মার্শ, ডেভিড মিলার এবং গ্লেন ম্যক্সওয়েলের উইকেট নেন তিনি।

কলকাতায় নেই সাকিব

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সোমবারের ম্যাচেও একাদশে জায়গা পাননি সাকিব আল হাসান। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দল কলকাতা।
আজকের একাদশে সাকিবের জায়গায় ফিরেছেন মরকেল। এছাড়া আরও দুটি পরিবর্তন এসেছে দলে। ফিরেছেন লিন ও পান্ডে।
বেঙ্গালুরুর হয়ে একাদশে ফিরেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল।

সাকিব আজ খেলবেন তো?

কলকাতা নাইট রাইডার্সের সর্বশেষ ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি সাকিব আল হাসানের। আজ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে খেলবেন তো সাকিব?

 

জবাব মিলবে কয়েক ঘণ্টা পরেই। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

 

কলকাতা ও বেঙ্গালুরু- দুই দলেরই বেশ মিল। দুই দলই তাদের শেষ দুই ম্যাচে হেরেছে। তবে বেঙ্গালুরুর চেয়ে এগিয়ে আছে কলকাতা।

 

এখন পর্যন্ত কলকাতা সাত ম্যাচের ৪টিতে জিতেছে, হেরেছে ৩টিতে। আর বেঙ্গালুরু ৬ ম্যাচের ৪টিতেই হেরেছে, জিতেছে ২টিতে।

 

কলকাতা সবশেষ ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছিল। সাকিব, ক্রিস লিন ও উনাদকাতকে বাদ দিয়ে একাদশে নিয়েছিল জেসন হোল্ডার, ব্র্যাড হগ ও পীযূষ চাওলাকে। তবে তিনজনই অনেক খরুচে বোলিং করেন। তিনজনেরই ইকোনোমি রেট ছিল ৮-এর ওপরে।

 

আর ব্যাটিংয়ে রবিন উথাপ্পা ছাড়া আর কেউই ভালো করতে পারেননি। আজ তাই সাকিবের একাদশে ফেরার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্র্যাড হগের জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার।

 

অন্যদিকে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুর দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইনআপের পর বোলারদের ব্যর্থতায় বারবার হেরে যাচ্ছে। আজ তাদের একাদশে ফিরতে পারেন সদ্যই বাবা হওয়া ক্রিস গেইল।

 

টুইট ঝড়ে মুস্তাফিজ-কোহলি

ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে টুইটারে ঝড় উঠা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কালও তার ব্যতিক্রম হল না। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুরের বিপক্ষে বল হাতে তুলে নেন দলের ইনফর্ম ভিরাট কোহলির উইকেট। এর পরই শুরু হয় মুস্তাফিজ-কোহলিকে নিয়ে টুইট ঝড়।

Mustafiz-tweets

Mustafiz

অভিষেকের পর থেকে অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যানকে ফাঁদে ফেলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ক্রিস গেইলকে তো প্রথম বলেই বোল্ড করেছেন। এবি ডি বিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, স্টিভেন স্মিথ কিংবা কেন উইলিয়ামসন- কার স্ট্যাম্প ওড়াননি দ্য ফিজ?

Mustafiz-tweets

Mustafiz

কিন্তু একটা আক্ষেপ ছিল যেন। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা আইপিএল- বিরাট কোহলিকে একবারও আউট করতে পারেননি তিনি। এটা যেন একটা ধাঁ ধাঁ হয়েছিল এতদিন মুস্তাফিজের জন্য। কোহলি কী তবে তার কাছে অজেয়?

Mustafiz-tweets

Mustafiz-tweets

Mustafiz-tweets

যদিও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। তবুও তার উইকেট নিতে পারলে যেন মুস্তাফিজের বোলিংয়ে অন্য মাত্রা যোগ হবে। অবশেষে সেই ধাঁ ধাঁরও উত্তর মেলালেন মুস্তাফিজ। বিরাট কোহলিও শেষ পর্যন্ত তার সামনে আর অজেয় থাকতে পারলেন না। তাকেও আউট করলেন `দ্য ফিজ`। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মুস্তাফিজের বোলিং নিয়ে কে কি টুইট করেছেন।

মিলারের পরিবর্তে অধিনায়ক বিজয়

অস্ট্রেলিয়ান জর্জ বেইলির পরিবর্তে চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) প্রীতির দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারকে। তবে টুর্নামেন্টে দলকে জয় এনে দিতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে পাঞ্জাবের এই অধিনায়ক। তাই এবার দক্ষিণ আফ্রিকান এই ক্রিকেটারকে সরিয়ে দলের অধিনায়ক করা হল ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান মুরালি বিজয়কে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চলমান নবম আসরে বেশ বাজে খেলছে প্রীতি জিনতার দল কিংস একাদশ পাঞ্জাব। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছে তারা। ফলে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে দলটির অবস্থান।

টুর্নামেন্টের অন্যান্য দলের জয়ের পেছনে যেখানে দলগুলোর অধিনায়কের বড় ভূমিকা রাখছেন সেখানে পাঞ্জাবের অধিনায়ক ডেভিড মিলার যেন একদমই অচল হয়ে আছেন। টুর্নামেন্টে নিজ দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে মাত্র ৭৬ রান করেছেন।

এদিকে আজ নিজেদের সপ্তম ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঞ্জাব। ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪ টায়।

‘পরিকল্পনা করে মুস্তাফিজকে আটকানো কঠিন’

আইপিএল-এর ফিরতে লিগে আবারও কোহলি-ভিলিয়ার্সদের মুখোমুখি হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমানের হায়দরাবাদ সানরাইজার্স। মুস্তাফিজের আইপিএল অভিষেক হয়েছিল কোহলি-গেইল-ভিলিয়ার্সদের বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে। সেদিন অন্য বোলাররা পিটুনি খেলেও মুস্তাফিজ ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত খেলতে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ফিরিয়েছিলেন ‘দ্য ফিজ’। পরে আউট করেছিলেন শেন ওয়াটসনকেও।
আজ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডার্ক ন্যানেস ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউই তাকে সেভাবে পড়তে পারেনি। যেভাবে সে অ্যাকশন একই রকম রেখে বলের গতি পরিবর্তন করছে, সেটা আসলেই দুর্দান্ত।’
ন্যানেস আরও বলেন, ‘কত দিন এভাবে সে বল করে যেতে পারবে জানি না, তবে আমার মনে হয় সে অনেক দিন থাকার জন্যই এসেছে। সে আসলেই অবিশ্বাস্য।’

সাকিববিহীন কলকাতার হার

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) শনিবারের প্রথম ম্যাচে কলকাতার বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। দিল্লির ছুঁড়ে দেওয়া ১৮৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় কলকাতা। ফলে ২৭ রানে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি। এদিন সাকিবকে ছাড়াই মাঠে নামে কলকাতা।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিক দিল্লি। প্রথম ওভারেই ফিরে যান দলের দুই ওপেনার শ্রেয়াস আইয়ার ও কুইন্ট ডি কক। তবে ডি কক এক রান করলেও এদিন রানের খাতা খুলতে পারেননি শ্রেয়াস আইয়ার। দলীয় দুই রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়া দিল্লিকে টেনে তোলেন করুণ নায়ার ও স্যাম বিলিংস। দুজনই এদিন অর্ধশতকের দেখা পান।
দলীয় ৩২ রানে সঞ্জু স্যামসন আউট হবার পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১০৫ রান যোগ করেন নায়ার ও বিলিংস। তবে নায়ারকে ফিরিয়ে কলকাতার জন্য ব্রেকথ্রু এনে দেন উমেশ যাদব। ৫০ বলে নয় চার ও এক ছয়ে দিল্লির পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করা নায়ারকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন উমেশ।
এদিন রানের খাতা খুলতে পারেনি আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস মরিসও। একই ওভারে মরিসকে বোল্ড করেন উমেশ। এরপর ইনিংসের ১৯তম ওভারে দিল্লির আরেক দায়িত্বশীল ব্যাটসম্যান বিলিংসকেও ফেরান উমেশ। ৩৪ বলে তিন চার ও দুই ছয়ে ৫৪ রান করা বিলিংসকে বোল্ড করেন তিনি।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক কার্লোস ব্রেথওয়েট মাত্র ১১ বলে ৩৪ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে দিল্লিকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। ১১ বলে তিন চার ও তিন ছয়ে ৩৪ রান করা ব্রেথওয়েটকে তার স্বদেশি সুনীল নারাইনের তালুবন্দী করেন আরেক স্বদেশি আন্দ্রে রাসেল। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দিল্লির সংগ্রহ দাড়ায় আট উইকেটে ১৮৬।
এদিকে কলকাতার পক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল ও উমেশ যাদব। এছাড়া সুনীল নারাইন নিয়েছেন একটি উইকেট। ১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ২১ রানে ফিরে যান গৌতম গম্ভীর (৬)। কিছুক্ষণ পর ফিরে যান চাওলা (৮)। ১৩.৩ ওভারে দলীয় ১০৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় কলকাতা। তবে একপ্রান্ত আগলে রাখেন রবিন উত্থাপা। তিনি ৫২ বলে ৭২ রান করেন। বাকিদের মধ্যে কেউই দাঁড়াতে না পারলে ১৮.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান করে কলকাতা।

সাকিব-ডুমিনিদের সম্ভাব্য একাদশ

জয়ের ধারায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে আজ দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্স। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায়।

গত ম্যাচেই মুম্বাইয়ের কাছে হেরে আত্মবিশ্বাসে কিছুটা পিছিয়ে আছে কেকেআর। তবে ব্যাট হাতে বেশ ছন্দে আছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক গৌতম গাম্ভীর। আন্দ্রে রাসেলের মারমুখী ব্যাটিংয়ে স্বস্তি পাচ্ছে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে, সাকিবের অফ ফর্ম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছে তারা। আপাতত নারিনের বোলিংয়েই ভরসা খুঁজে বেড়াচ্ছে কলকাতা। বর্তমানে ছয় ম্যাচে চার জয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে কলকাতা।

এদিকে দিল্লির অবস্থাও ভালো নয়। অধিনায়ক জহির খান এবারের দলীয় পারফরমেন্সে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। আগের ম্যাচে হারলেও ক্রিস মরিসের ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স আশার আলো জ্বালাচ্ছে দিল্লির হয়ে। ৫ ম্যাচ খেলে ৩ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে অবস্থান করছে দলটি।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (সম্ভাব্য) একাদশ:
গৌতম গম্ভীর (অধিনায়ক), রবিন উথাপ্পা (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, আন্দ্রে রাসেল, রাজগোপাল সতীশ, পীযুষ চাওলা, উমেশ যাদব, সুনীল নারাইন এবং মর্নে মরকেল।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলস একাদশ (সম্ভাব্য):
মায়াঙ্ক আগারওয়াল, কুইন ডি কক (উইকেটরক্ষক), শ্রেয়াস আয়ার, সঞ্জু স্যামসন, কারুন নায়ার, জেপি ডুমিনি, পবন নেগি, ক্রিস মরিস, অমিত মিশ্র, জহির খান (অধিনায়ক) এবং ইমরান তাহির।

পোলার্ড ঝড়ে সাকিবদের হার

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান কিয়েরন পোলার্ডের ১৭ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংসে সাকিব আল হাসানের কলকাতাকে সহজেই হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতার দেওয়া ১৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে রোহিত শর্মা ও পোলার্ডের ব্যাটে ২ ওভার হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় মুম্বাই। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গৌতম গম্ভীর। তিনি ৪৫ বলে ৫৯ রান করেন। তার ইনিংসে ৬টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ১টি ছক্কার মার। ওপেনিং জুটিতে ২০ বলে ৩৬ রান করে আউট হয়ে যান রবিন উথাপ্পা।
আইপিএল ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান সাকিব আল হাসান। কিন্তু প্রিয় পজিশনে নেমেও খেলতে পারলেন না বড় ইনিংস। এই অলরাউন্ডার মাত্র ৪ বল খেলে ৬ রান করে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। এরপর সূর্যকুমার যাদব ২১, আন্দ্রে রাসেল ২২, ক্রিস লিনের অপরাজিত ১০ এবং ইউসুফ পাঠানের ১৯ রানের ওপর ভর করে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে কলকাতা। মুম্বাইয়ের হয়ে সাউদি নেন ২টি উইকেট। আর ম্যানকেনঘান, হরভজন সিং এবং হার্দিক পান্ডে নেন ১টি করে উইকেট।
১৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি মুম্বাইয়েরও। দলীয় ৮ রানে ফিরেন যান পার্থিব প্যাটের। এরপর ঝড় তোলেন আম্বাতি রাইডু। ২০ বলে ৩২ রান করে সাকিবে বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। কিছুণ পর ফিরে যান ক্রুনাল পান্ডে ও জস বাটলার। এরপর ঝড় তোলে পোলার্ড। ৬টি ছক্কা ও দুটি চারে ১৭ বলে ৫১ রান করেন তিনি। এছাড়া ৪৯ বলে ৬৮ রান করেন রোহিত শর্মা। এ দুজন দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব। এছাড়া ৪ ওভার ২২ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন সুনীল নারাইন।

মুস্তাফিজের ‘স্লোয়ারে’ মজেছেন মানিন্দার সিং

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবথেকে আলোচিত নাম বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলে দিনের পর দিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন তিনি। বিশ্বের নামীদামী ক্রিকেটারদের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি জুটেছে অনেক সম্মানও। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়েই সকলের চিন্তার কারণ হয়েছেন বাংলাদেশের এই কাটার মাস্টার। কাটারের পাশাপাশি ইদানিংকালে স্লোয়ারটাও বেশ ভালো দিচ্ছেন মুস্তাফিজ। তার স্লোয়ারে এবার মজেছেন ভারতের বাঁহাতি স্পিনার মানিন্দার সিং।
এবারের আইপিএলে স্পিনারদের তুলনায় পেসারদের সাফল্য অনেক বেশি। পেসারদের বল খেলতেও বেশ হিমসিম খেতে হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। এদিক দিয়ে মুস্তাফিজ যেন সকলের থেকে একটু বেশিই এগিয়ে রয়েছেন। তার স্লোয়ার এবং কাটারে ভূপাতিত হচ্ছেন ব্যাটসম্যান। তাকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনাও আঁটতে হচ্ছে বিপ দলকে। মুস্তাফিজের স্লেয়ার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মানিন্দার সিং বলেন, ‘আপনি মুস্তাফিজের বোলিংয়ের দিকে তাকান, তার স্লোয়ার বলগুলো বোঝা আসলেই কষ্টকর।’
বর্তমান সময়ের ব্যাটসম্যানদের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের কারণে বেশিরভাগ সময়েই বোলাররা আলোর মুখ দেখেননা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেটা অনেকাংশেই বদলে গেছে। পেস বোলারদের কথা বলতে গিয়ে মানিন্দার বলেন, ‘পেস বোলাররা এখন অনেক ভালো বল করছে। তারা বোলিংয়ে আনছে নতুনত্ব। তাদের স্লেয়ার, কাটারসহ অন্যান্য অস্ত্র বেকায়দায় ফেলছে ব্যাটসম্যানকে।’

লাল গালিচা সংবর্ধনা পাচ্ছেন মুস্তাফিজ

বর্তমান ক্রিকেট বিশ্ব মজে আছে বাংলাদেশের বিস্ময়বালক মুস্তাফিজুর রহমানে। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররাও প্রশংসায় মুখরিত হচ্ছেন। বিদেশের পাশাপাশি এবার দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও মেতেছেন মুস্তাফিজ বন্দনায়। কিছুদিন আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাইগার এই তারকাকে ‘জাতীয় বীর’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। এবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে লালগালিচা সংবর্ধনা।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেছেন, আইপিএল খেলে দেশে ফেরার পর মুস্তাফিজুর রহমানকে বিমান বন্দর থেকে বীরোচিত লাল গালিচা সংবর্ধনা ও পরবর্তীতে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপমন্ত্রী আরও বলেন, মুস্তাফিজ নিজেকে পরিচিত করার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সম্মানিত করেছেন, যা আমাদের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য।

এর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মুস্তাফিজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুস্তাফিজ জাতীয় বীর। তিনি বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, সম্মানিত করেছেন, আমাদেরকে প্রশংসিত করেছেন। ক্রিকেটে মুস্তাফিজের অবদানের জন্য জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা দোয়া করি সে যেনো তার বোলিংটা ধরে রাখতে পারে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে মুস্তাফিজ নি:সন্দেহে বিশ্বের এক নম্বর বোলার। দুর্দান্ত বোলার হিসেবে সারা বিশ্বে সে সমাদ্ধৃত। আমি এজন্য এখানেও তার (মুস্তাফিজ) ছবি লাগিয়েছি। বাইরেও লাগিয়েছি। আরো অনেক জায়গায় লাগাবো। মুস্তাফিজ যখন আপনাদের মাধ্যমে ফেসবুকে জানবে তখন সে অনেক খুশি হবে।’

মুস্তাফিজের থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারি: বোল্ট

টাইগার পেসার মুস্তাফিজের জন্য ডাগআউটে বসে অলস সময় পার করছেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। তাতে কিছুটা বিরক্ত হয়েই জানালেন, ‘মুস্তাফিজ দলের সেরা বোলার, তবে সুযোগ পেলে তার থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারি।’ কিউই এ পেসার টি-টোয়েন্টির সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ জানুয়ারি। এরপর বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও একটি ম্যাচও খেলা হয়নি বোল্টের। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছিলেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা বোলার বোল্ট।
এবারের হায়দ্রাবাদের দলটিতে বোল্টের মতো পেসার রয়েছেন মুস্তাফিজ, বারিন্দ্রার স্রান, ভুবনেশ্বর কুমার, আশিষ নেহারার মতো তারকারা। এই চার পেসারকেই হায়দ্রাবাদের হয়ে মাঠে নামতে দেখা গেলেও এখনও সুযোগ পাননি বোল্ট। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলের কোয়ালিটি নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। দুর্দান্ত একটি দল খেলছে। যেখানে মুস্তাফিজ দলের সফল বোলার। ভুবনেশ্বর অসাধারণ বল করছে। নেহারার মতো অভিজ্ঞ বোলার ফিরে এসেছেন।
মুস্তাফিজের সঙ্গে তার মিল কোথায় কিংবা দুই বোলারের মাঝে কোনো ভিন্নতা রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বোল্ট জানান, আমরা দু’জনই ভিন্ন ধরনের বোলার। মুস্তাফিজ যেকোনো সময় বলের গতির পরিবর্তন করতে পারে, তার স্কিল অসাধারণ। তার ইয়র্কারগুলো সত্যিই ভয়ঙ্কর। তবে, সুযোগ পেলে আমিও ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দেবো।
আইপিএলের আসরে সুযোগ পেলে তা কিভাবে কাজে লাগাবেন এমন প্রশ্নে বোল্ট যোগ করেন, আমাদের আর কিছু ম্যাচ বাকি আছে। যদি সুযোগ হয় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার যে সুইংগুলো আছে, সেগুলো কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নিয়ে দলকে সাহায্য করব। মুস্তাফিজের মতো বোলাররা যেভাবে হায়দ্রাবাদের দলটিকে টেনে তুলছে, আমারও চেষ্টা থাকবে সেভাবে দলকে সাহায্য করা।
হায়দরাবাদের হয়ে ছয় ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় নেন দুই উইকেট। সে ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন এই কাটার মাস্টার। আসরে প্রথমবারের মতো তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য। তার নিষ্প্রভতার দিনে দলও হেরেছে রাইজিং পুনের কাছে। প্রথম দুই ম্যাচ আর শেষের ম্যাচটি হেরে গেলেও মাঝের টানা তিন ম্যাচ জিতেছিল হায়দ্রাবাদ।

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন অনুতপ্ত শাহাদাত

বর্তমানে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ পেসার শাহাদাত হোসেন। গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় জেল খেটেছেন এ পেসার। তাই নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত শাহাদাত। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন শাহাদাত। এদিন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শাহাদাত বলেন, ‘আমি আমার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য অনুতপ্ত এবং আমি পুরো দেশ এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্টসহ সকল কর্মকর্তা এবং সকল খেলোয়াড়দের নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। মানুষ মাত্রই ভুল করে, আমিও একটা ভুল করেছি।’

নিজের জীবিকার জন্য একমাত্র ক্রিকেটই জানেন শাহাদাত। অন্য কিছু জানা না থাকাই জীবিকা নির্বাহের জন্য ক্রিকেটে ফিরতে চান তিনি। এ জন্য দেশবাসীর সহয়াতা কামনা করেছেন তিনি। ‘ক্রিকেট আমার ধ্যান, জ্ঞান ও পেশা। আমি বিশ্বাস করি দেশকে, দেশের ক্রিকেটকে আমার এখনও কিছু দেওয়ার বাকি আছে। এর জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সহয়তা চাই। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই আমি ক্রিকেটে ফিরতে চাই। তাই ক্রিকেটের স্বার্থে, জীবিকা নির্বাহের তাগিদে দ্রুতই ক্রিকেটে ফিরতে চাই।’

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে শাহাদাত আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে দেশবাসী, ক্রিকেটে বোর্ডসহ সকলের কাছে মিনতি করছি, অতীতের ভুল শুধরে আপনাদের আগের শাহদাত হয়ে ফেরার। আমি আমার অতীতের কৃতকর্মের জন্য আবারো অনুতপ্ত।’

মুস্তাফিজকে দেখলে ওয়াসিম আকরামের কথা মনে পড়ে: ডেল স্টেইন

এক সময় ক্রিকেট বিশ্বে আতঙ্কের নাম ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানি এই কিংবদন্তিকে ডাকা হতো ‘দ্য কিং অব সুইং’ নামে। ওয়াসিম আকরাম এখন অতীত। সম্প্রতি বিশ্বমঞ্চে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে চলছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। ‘দ্য ফিজ’ নামে পরিচিত পাওয়া এই কাটার মাস্টারকে ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে তুলনা করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ডেল স্টেইন।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওয়াসিম আকরামের মধ্যে যে এক্স ফ্যাক্টর ছিল মুস্তাফিজের মধ্যেও সেটা আছে। আমি বলছি না সে ওয়াসিমের মতো সুইং করাতে পারে। কিন্তু তাকে বোলিং করতে দেখা সত্যিই চমৎকার।’
তবে মুস্তাফিজকে একটি জায়গায় ওয়াসিম আকরামের চেয়েও এগিয়ে রাখলেন স্টেইন। তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত দেখি ডানহাতি বোলাররা অফ কাটার করে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করেন। কিন্তু বাঁহাতি মুস্তাফিজ কাটার ও পেস পরিবর্তন করতে পারে। এটা আগে কখনও কোনও বোলারের মধ্যে দেখা যায়নি।’
মুস্তাফিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করে ডেল স্টেইন বলেন, ‘আশা করছি দিনে দিনে সে আরও শক্তিশালী হবে। আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা আরও অনেক মুস্তাফিজের দেখা পাবো।’

বিগ বসে সাকিবরা

ভারতের জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো বিগ বস-এর বাংলা ভার্সন মাতিয়ে গেলেন কেকেআর-এর তারকা ক্রিকেটাররা। সাকিব আল হাসান, উমেশ যাদব, সূর্যকুমার যাদব ও জেসন হোল্ডাররা বিগ বসের ঘরের বাসিন্দাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেললেন।
মঙ্গলবার রাতে ‘কালারস বাংলা’ টিভিতে প্রচারিত শো’তে খেলার বাইরেও শিলাজিতের গানে নেচে গেয়ে আসর মাতিয়ে তোলেন সাকিবরা। বিগ বসের প্রতিযোগীদের লক্ষ করে সাকিবরা শুধু বল করেছেন। খেলার নিয়ম অনুযায়ী ব্যাট থেকে আসা বল বাউন্ডারি লাইনের চতুর্দিকে থাকা খাবারের ছবি দেওয়া ব্যানারে লাগলেই খাবার পাবেন গৃহস্থরা।
এরপর শিলাজিতের লোকগীতির তালে জেসন এবং উমেশদের নাচও ছিল প্রশংসার দাবিদার। সাকিব জানালেন বিগ বসে এসে তিনি অনেক উপভোগ করেছেন।

মুস্তাফিজের প্রশংসায় আইসিসি

অন্য সবার মতো কাটার মাস্টার মুস্তাফিজকে নিয়েও কথা বলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। রবিবার আইসিসি সভাতে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল সংস্থাটি।
এ প্রসঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বেক্সিমকো কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পাপন বলেন, ‘সভায় মুস্তাফিজকে কোথায় পেয়েছে বাংলাদেশ- এমনটা জানতে চান ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বললে সবাই মুস্তাফিজকে নিয়ে কথা বলে। আইসিসি মিটিংয়েও তাই হয়েছে। ওরা অবাক হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আইপিএল-এ ধারাভাষ্যকাররাতো প্রতিনিয়ত ওর প্রশংসাই করছে। ওর বয়স এখন অনেক কম। ওর মাসল যেভাবে বিল্ড আপ করার কথা সেভাবে এখনও হয়নি। আমরা কাজ করছি। মুস্তাফিজ যেন কোনও ইনজুরিতে না পড়ে, সেটা নিয়ে কাজ করছি। মুস্তাফিজ বাংলাদেশের সম্পদ। ওকে নিয়ে এখন সারা পৃথিবীতে কথা হচ্ছে।’
আইপিএল শেষে মুস্তাফিজ ইংলিশ কাউন্টি লিগ সাসেক্সে খেলতে যাওয়ার কথা। বিসিবি তাকে এনওসি দেবে কিনা বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। সোমবার এমনটাই জানালেন বিসিবির এই কর্তা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজের কাউন্টি থেকে অফার এসেছে। আমরা ওকে যদি পাঠাই তাহলে বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। আমাদের কন্ডিশনগুলো কী ধরনের হতে পারে সেটা জানানো হবে। আমরা চাই মুস্তাফিজ লংগার ভার্সন না খেলুক। শুধু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলুক। পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে। এগুলো আমরা চিন্তা ভাবনা করছি। এই সম্পদকে আমরা ইনজুরিতে ফেলে নষ্ট করতে চাই না। বাংলাদেশের জন্যে সে অনেক মূল্যবান। সেজন্য আমরা মুস্তাফিজকে সুরক্ষা করব।’

আইপিএল সেরার লড়াইয়ে থাকবে মুস্তাফিজ (ভিডিও)

বিতর্কিত মন্তব্য করে সব সময় সংবাদের শিরোনাম হতে পছন্দ করেন। তার বেশিরভাগ বিতর্কিত মন্তব্য যদিও বাংলাদেশ সম্পর্কিত। স্পষ্ট করে বলতে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটার সম্পর্কিত। তিনি আর কেউ নন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা।

তবে আইপিএলে মুস্তাফিজের পারফর্মেন্সে রীতিমত মুগ্ধ পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রমিজ রাজা বলেন, শুধু ম্যাচের সেরা নয় এবার টুর্নামেন্ট সেরার লড়াইয়ে থাকবে বাংলাদেশের এই তরুণ প্রতিভাবান পেসার।

এদিকে প্রথমবারের মতো আইপিএলে খেলতে গিয়ে একের পর এক বিস্ময়ই উপহার দিচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। চলতি এই আসরে হায়দারাবাদে যোগ দিয়ে হয়ে উঠেছে দলের উজ্জ্বল সূর্য। পাঁচ ম্যাচে ৫.৭৫ গড়ে এ পর্যন্ত ৭ উইকেট নিয়েছেন এই তারকা।

https://www.youtube.com/watch?v=9i_qdQNpw-8

বিফলে গেলো কোহলির সেঞ্চুরি

বিরাট কোহলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিও জেতাতে পারলো না রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। কোহলির ৬৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে ১৮০ রানের বিশাল স্কোর গড়ে বেঙ্গালুরু। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের দারুণ এক জয় তুলে নেয় গুজরাট লায়ন্স।
কোহলির মত বড় ইনিংস হয়তো গুজরাট লায়ন্সের কেউ খেলতে পারেনি। তবে মাঝারি মানের কয়েকটি ইনিংসই গুজরাটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। ওপেনিংয়ে ডোয়াইন ব্র্যাভো আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম জয়ের ভিত রচনা করেন। ৪৭ রানের জুটি গড়েন তারা। ৮৭ রানের মাথায় আউট হন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
এরপর সুরেশ রায়না আর দিনেশ কার্তিক গুজরাটকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। যদিও রায়না ২৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে যান। রবীন্দ্র জাদেজা করেন ১২ রান। দিনেশ কার্তিক ৩৯ বলে অপরাজিত থাকেন ৫০ রান করে। তার ইনিংসে ছিল মাত্র ৩টি বাউন্ডারি। এছাড়া ৪২ রান করেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
এ নিয়ে ৫ ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে গুজরাট লায়ন্স। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে গেলো টেবিলের শীর্ষে। অপরদিকে ৫ ম্যাচের মাত্র ২টিতে জিতেছে বেঙ্গালুরু।

‘মুস্তাফিজ আমাদের সম্পদ’

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের মুখে মুস্তাফিজ বন্দনা আগেও ছিল। গতকালকের ম্যাচের পর নতুন করে মুস্তাফিজ বন্দনায় মেতেছেন অসি এই ক্রিকেটার। মুস্তাফিজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে আইপিএল টোয়েন্টি ডট কমকে বলেছেন, ‘মুস্তাফিজের প্রতিভা বিশেষ মানের। সে শুধু বাংলাদেশেরই নয়, আমাদের জন্যেও বড় সম্পদ।’
মুস্তাফিজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে ওয়ার্নার আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা ওর অনন্য স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। যার বোলিং ডেলিভারিগুলোতে বৈচিত্র্য রয়েছে। আর এটাই তার বিপক্ষে খেলাটাকে কষ্টকর করে তোলে।’
আইপিএল-এ পাঁচ ম্যাচ খেলে ১৬.৪২ গড়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। ওভার প্রতি রান দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিলেন মিতব্যয়ী। এ পর্যন্ত ৫.৭৫ করে রান দিয়েছেন তিনি।
পুরো ম্যাচ জুড়ে ধারাভাষ্যকারদের প্রশংসায় ভেসেছেন মুস্তাফিজ। সুনিল গাভাস্কার-রমিজ রাজাদের শব্দ ভাণ্ডারও ফুরিয়ে গিয়েছিল তাকে বিশেষায়িত করতে। গতকালকের ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয়ে বোলিংয়ে সানর