বিকাল ৪:১৫, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং

ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য এসেছে তার হাত ধরেই। প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে টুর্নামেন্ট-সেরাও হয়েছেন তিনিই। এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিজে হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। যুব বিশ্বকাপ তো বটেই, বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের এমন অর্জন এটাই প্রথম। পুরস্কার পেয়ে কেমন লেগেছে মিরাজের?
অধিনায়ক বললেন, ‘পুরস্কার পাওয়ার পর অবশ্যই অনেক ভালো লেগেছে। এই টুর্নামেন্টে ১৬টা দল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আমি টুর্নামেন্ট-সেরা হয়েছি। তাই এটার আনন্দটা অনেক বেশি। আর টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমার লক্ষ্য ছিল সেরা অলরাউন্ডার হওয়া। তবে হতেই হবে- এমনটা কখনো চিন্তা করিনি।’
এবারের বিশ্বকাপ দিয়ে যুব ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে গেল মিরাজের। তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, যুব ক্যারিয়ার শেষ করলেন উইকেটের চূড়ায় থেকে। ৫৬ ম্যাচে ৮০ উইকেট নিয়ে যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট মিরাজের। আরেকটি বড় বিষয়, যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও একজন বাংলাদেশি। আর তিনি আবার মিরাজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সতীর্থের পাশাপাশি প্রিয় বন্ধুও, নাজমুল হোসেন শান্ত। এবারের যুব বিশ্বকাপেই নতুন রেকর্ডধারী হয়েছেন দুজন।
আগে দুটি রেকর্ডই ছিল পাকিস্তানের খেলোয়াড়ের। সেটা এখন বাংলাদেশের। এমন প্রাপ্তিকে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা বড় একটা অর্জন। আগে সর্বোচ্চ রান ও উইকেট দুটি রেকর্ডই ছিল পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের। রেকর্ড ভাঙার পর দুজনই এখন বাংলাদেশি। আমরা দুজনই আবার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর এই রেকর্ডটা আমাদের দেশের জন্য বড় পাওয়া।’
এবারের বিশ্বকাপে মিরাজ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই লড়েছেন সমানতালে। ৬ ম্যাচে চার ফিফটিতে ৬০.৫০ গড়ে রান করেছেন ২৪২। দলের বিপর্যয়ে লড়েছেন বুক চিতিয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে মিরাজ যখন উইকেটে আসেন দল তখন ৯৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে। সেখান থেকে জাকির হাসানকে নিয়ে ১১৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ৮৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নেমে খেলেছেন ৬০ রানের কার্যকরী ইনিংস। যদিও ক্যারিবীয়দের কাছে হেরে বৃথা গেছে তার লড়াকু ইনিংসটি। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মিরাজের ৫৩ রানের ইনিংসটি আর বৃথা যায়নি।
বোলিংয়েও সমান উজ্জ্বল ছিলেন মিরাজ। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২টি উইকেট নিয়েছেন। ফিল্ডিংয়েও কম যাননি। গ্রুপপর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান লিয়াম স্মিথকে ফেরানো তার ক্যাচটি তো এবারের বিশ্বকাপেরই সেরা ক্যাচগুলোর অন্যতম একটি। মিরাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে, তীব্র চাপের মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখে খেলা। খুব বেশি পেছনে যাওয়ার দরকার নেই। কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালই যার বড় উদাহরণ। ওই পরিস্থিতে এটা কীভাবে সম্ভব হয়? মিরাজের জবাব, ‘আমি যখন চাপের মুখে ব্যাটিং করি তখন অল্প করে রান করার চেষ্টা করি। আমাকে ৬০-৭০ রান করতে হবে, এটা আমি চিন্তা করিনা। ৭০-৮০ রানে ৪ উইকেট পড়ে গেলে আমি চিন্তা করি দলকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যাব। প্রথমে চিন্তা করি আমি ২০ রান করব। সেটা হয়ে গেলে চিন্তা করি ৫০ করব। আমি নিজের রান চিন্তা করি না কখনো। চাপের মধ্যে আমি দলকে ভালো একটা সংগ্রহ এনে দেওয়ার চেষ্টা করি।’
যুব ক্যারিয়ার শেষ। এবার পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নতুন পথচলার পালা। আসল চ্যালেঞ্জও শুরু এখান থেকেই। চ্যালেঞ্জটা যে অনেক বড় থাকবে সেটা মিরাজও ভালো করেই জানেন, ‘অবশ্যই চ্যালেঞ্জটা এখন অনেক বড় থাকবে। আগে যদি ষাট বা সত্তর ভাগ দিয়ে থাকি তাহলে এখন আমাকে একশতে একভাগই দিতে হবে। কারণ এখন চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়।
অনূর্ধ্ব-১৯ দল একটা স্টেজ। এখানে নিজেকে অনেক পরিচিত করে, নিজেকে ওপরে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। আর পরের স্টেজটা অনেক কঠিন হবে। তবে তখনই কঠিন হবে যখন আমি এটাকে হালকাভাবে নেব। আর যখন আমি কষ্ট করব, কঠোর পরিশ্রম করব তখন আমার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। এভাবেই মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে।’
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট পেরিয়ে সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। স্বপ্ন দেখেন মিরাজও। তবে জাতীয় দলে ঢোকার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো নেই এই অফ স্পিন অলরাউন্ডারের, ‘জাতীয় দলে ঢোকার কোনো তাড়া নেই আমার। আমার যে ভুলগুলো আছে সেগুলো শুধরে পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলে ঢুকতে চাই। যেন টানা ১০ বছর খেলতে পারি। আমি বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হতে চাই।’
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) সর্বশেষ মৌসুমে কাঁধে সামান্য চোট পেয়েছিলেন মিরাজ। চোট তেমন গুরুতর না হলেও সেটা নিয়েই যুব বিশ্বকাপে খেলেছেন। এখন অবশ্য ব্যথা নেই। তবে বিশ্রাম প্রয়োজন। তাই প্রথম দুই রাউন্ডের পর বিরতি দিয়ে আগামী সপ্তাহে আবার শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) খেলছেন না মিরাজ।
আগামী ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে আবার মাঠে ফিরতে চান, ‘বিসিএলে আমি খেলতে পারব না। কারণ শেষ এনসিএলে আমি কাঁধে ব্যথা পেয়েছিলাম। এখন ওটা মারাত্মক কোনো ইনজুরি না। তবে এখন একটু বিশ্রাম নিতে হবে। অন্যথায় ব্যথাটা আস্তে আস্তে বেড়ে যাবে। ইনশা আল্লাহ নিজেকে প্রস্তুত করে প্রিমিয়ার লিগের মাঠে নামতে চাই।’
প্রায় দেড় মাস দলের সঙ্গে বিশ্বকাপ ক্যাম্পে থাকায় আপাতত ক্রিকেটের চিন্তা বাদ দিয়ে পরিবারকে সময় দিতে চান মিরাজ। মঙ্গলবারই গ্রামের বাড়ি খুলনাতে যাওয়ার কথা তার।

ক্রিকইনফোর সেরা একাদশের অধিনায়ক মিরাজ

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নেমেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ১১তম আসরের। এ আসরে আইসিসির কোন টুর্নামেন্টে সেরা সাফল্য নিয়ে শেষ করেছে বাংলাদেশ। দলের তৃতীয় স্থান ছাড়াও ব্যক্তিগত টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আর টুর্নামেন্ট শেষে ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সেরা একাদশের অধিনায়কও নির্বাচিত হলেন এ অলরাউন্ডার।
ক্রিকইনফোর ঘোষণা করা মিরাজের সঙ্গে একাদশে জায়গা হয়েছে বাংলাদেশি পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের। তবে সর্বোচ্চ চারজন জায়গা পেয়েছেন ভারত থেকে। এছাড়া বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে দুইজন করে জায়গা পেয়েছেন। পাকিস্তান থেকে রয়েছেন একজন।
ইএসপিএন ক্রিকইনফো আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেরা একাদশ :
১. রিশাভ পান্ত (ভারত)
২. গিড্রন পোপ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৩. জ্যাক বার্নহাম (ইংল্যান্ড)
৪. সরফরাজ খান (ভারত)
৫. হাসান মহসিন (পাকিস্তান)
৬. মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক-বাংলাদেশ)
৭. মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (বাংলাদেশ)
৮. মায়াঙ্ক ডাগার (ভারত)
৯. সাকিব মাহমুদ (ইংল্যান্ড)
১০. আলজারি জোসেফ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
১১. আভেস খান (ভারত)

বাংলাদেশকে জহির আব্বাসের অভিনন্দন

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পর্দা নেমেছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এবারের আসরের। বিশ্বের ১৬টি দেশের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত এই মেগা টুর্নামেন্টটিতে ছিলোনা কোন অসঙ্গতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। বেশ শৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই শেষ হয়েছে এবারের আসর। এমন সুশৃঙ্খল ও গোছালোভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করার জন্য আয়োজক দেশ বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে টুর্নামেন্ট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিনন্দন বার্তা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিসিরি প্রধান নির্বাহি ডেভিড রিচার্ডসন ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
এসময় আইসিসির প্রধান বলেন, ‘আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এবারের আসর যতটা দক্ষ হাতে সম্পন্ন করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।’ পরে এবারের বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য সিরিজ হওয়া বাংলাদেশ যুবা দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে তিনি অভিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এবারের আসরে ৬ ম্যাচে ব্যাট হাতে ২৪২ রান করে বল হাতে তুলেও ১২টি উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন এই জুনিয়র টাইগার অলরাউন্ডার।
শুধু মিরাজইকেই নয়, এ সময় তিনি অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে মিরপুরে তুলে ধরেছে নিজেদের প্রথম শিরোপা। আর তাদের এই শিরোপা জয়ের পেছনের কুশীলব ছিলেন দলটির পেস বোলাররা। এদিন, আলজারি জোসেপ, রায়ান জন, কেমো পল, চেমার হোল্ডার ও শামার স্প্রিঙ্গারের মতো পেসারদের পেস তোপেই মূলত ১৪৫ রানে তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায় ভারতের ইনিংস।
তাইতো জহির আব্বাসের এমন প্রশংসা, ‘ওদের পেস বোলিং অ্যাটাক দেখে আমার মনেই হয়নি যে, এটা কোনো যুবা দল, বরং বারবারই মনে হচ্ছিল যে নিশ্চয়ই বিশ্বের সেরা কোন দলের বেশ অভিজ্ঞদের পেস বোলিং দেখছি।’

বাংলাদেশের প্রতি আইসিসি’র সন্তুষ্টি

নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে বিশ্বের ১৬টি দেশের অংশগ্রহনে ৮টি ভেন্যুতে কোনোরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই অনুষ্টিত হয়েছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এবারের আসর। ২২ জানুয়ারি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট শেষ হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে। এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং নির্বিঘ্নে আসরটি সম্পন্ন করতে পারায় বাংলাদেশ সরকার এবং দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি সন্তুষ্টি জানিয়েছেন আইসিসি’র প্রধান নির্বাহি ডেভিড রিচার্ডসন।
সোমবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে টুর্নামেন্ট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইসিসি’র পক্ষ থেকে এমন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন‌ আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
এসময় রিচার্ডসন বিশ্বকাপের এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অভিনন্দন জানান। পরে, বিশ্বকাপের সফল আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বকাপের এমন সফল আয়োজন আমি খুব কমই দেখেছি। আমার দেখা অনেকগুলো সফল বিশ্বকাপের মধ্যে এটি একটি। আর বাংলাদেশ দারুণ সফলতার সঙ্গে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে পারায় আমি দেশটির সরকার প্রধান ও ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
শুধু বাংলাদেশ সরকার প্রধান ও ক্রিকেট বোর্ডকেই নয়, আইসিসি’র সিইও এসময় সন্তোষ প্রকাশ করেন, আয়োজক দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তাদের কর্ম দক্ষতারও, ‘বাংলাদেশের আইন শৃ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দক্ষ তৎপরতা আমাকে রীতিমতো মুগ্ধ করেছে। ২৪ দিন তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই এমন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বকাপ সম্পন্ন হয়েছে।’
এরপর সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তাকে প্রশ্ন করা হয়, নিরাপত্তার অযুহাতে অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহন না করাটা কতটুকু যুক্তিসংগত ছিল? উত্তরে রিচার্ডসন জানান, ‘নিরাপত্তার অযুহাতে অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহন না করাটা ছিল সত্যিই হতাশার। তবে, তারা অংশ না নিলেও তাদের ছাড়াই বিশ্বকাপ চালিয়ে যাওয়ার যে সিদ্ধান্তটি আমরা নিয়েছি সেটা ছিল সময়োপযোগী। মূলত আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার ব্যাপারে সদস্য দেশগুলোকে এখনও কোনো চুক্তির আওতায় ‍আনা হয়নি, তাহলে চুক্তি ভঙ্গের ‍অভিযোগে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে জরিমানা করতে পারতাম। আর চুক্তির আওতায় না থাকায় কোন দেশ অংশ না নিলে আমরা তাদের বাধ্য করতে পারিনা।’
তবে, খুব শিগগিরই এই মর্মে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ডেভিড রিচার্ডসন।

অস্ট্রেলিয়ার না আসাটা ছিলো হতাশাজনক: রিচার্ডসন

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে নিজেদের দল পাঠায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে অজি যুবারা এ টুর্নামেন্টে না এলেও আসরটি শেষ হয়েছে দুর্দান্ত ভাবে। রোমাঞ্চকর ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় একটি দল আসরে না থাকায় হতাশা জানিয়েছে আইসিসি।
১৬ দলের অংশগ্রহনে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে খেলেছে আয়ারল্যান্ড। অজিরা না আসাতে টুর্নামেন্টে কোন ধরনের প্রভাব না পরলেও এর আলো কিছুটা ফিকে হয়েছে। কিন্তু আসরের কোন ম্যাচে নিরাপত্তা সমস্যায় ভুগতে হয়নি দলগুলোকে। সুষ্ঠভাবেই শেষ হয়েছে বিশ্বকাপটি। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে টুর্নামেন্ট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন।
সাংবাদিকদের সামনে আরও ছিলেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় বক্তারা নিজেদের কথায় আসরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সুষ্ঠভাবে আসরটি সম্পন্ন হওয়া ধন্যবাদ জানিয়ে ডেভ রিচার্ডসন বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে অস্ট্রেলিয়া তাদের দল পাঠায়নি, এটি যে কোন দেশের নিজস্ব ব্যাপার। আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাই। কিন্তু পাশাপাশি এত বড় একটি আসরে তাদের অংশগ্রহন না করাটাও ছিলো হতাশার।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমি বলবো অস্ট্রেলিয়ার বদলে আমরা আসরে আয়ারল্যান্ডকে খেলিয়েছে। আর আমাদের এই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিলো । কিন্তু আশাকরি ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া অংশগ্রহন করবে।’
এদিকে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপটি সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও নিরাপত্তাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন আইসিসির প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস।

বিশ্বকাপ আয়োজন সহজ ছিল না: পাপন

বিশ্বের ১৬টি দেশের অংশগ্রহনে দেশের ৮টি ভেন্যুতে মাঠে গড়ায় একাদশতম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। আয়োজক হিসেবে তাই বাংলাদেশকেই সামলাতে হয় সকল ঝক্কি-ঝামেলা। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ।
অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের থাকা, খাওয়া, চলাফেরা, মাঠ প্রস্তুত করাসহ ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়ার মতো গুরুতর বিষয়ও। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে নিরাপত্তার খোড়া অযুহাত দিয়ে অস্ট্রেলিয়া অংশ না নেওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি একটু বেশিই অগ্রাধীকার পায়। তাই চ্যালেঞ্জটা একটু বেশিই ছিল। তারপরেও এমন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফল হয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে টুর্নামেন্ট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সন্তুষ্টির কথা ব্যক্ত করেন। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস ও সিইও ডেভিড রিচার্ডসন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সফল আয়োজন সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাপন জানান, ‘কাজটি খুব সহজ ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার ভীষণ ভাল লাগছে এই ভেবে যে, আমরা টুর্নামেন্টটি সফলভাবে আয়োজন করতে পেরেছি।’
আর এমন সফল আয়োজনের জন্য বিসিবি’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি তিনি দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে বিশ্ববাসীর প্রতি নিজের বার্তায় পাপন বলেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তবে আমরা বিশ্বের প্রতিটি দেশের নাগরিকদের জন্যই একটি মানসম্মত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করতে সব সময়ই চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় যুব বিশ্বকাপের এবারের আসরে আমরা সফল হয়ে বিশ্বকে দেখিয়েছি যে, এদেশে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। বিশ্বের প্রতিটি দেশের নাগরিকই এদেশে নিরাপদ।

হেরে আম্পায়ারকে দুষলেন ভারতীয় অধিনায়ক

মাত্র ১৪৫ রানের সামান্য পুঁজি নিয়ে শেষ ওভার পর্যন্ত দারুণ লড়াই করেছে ভারত; কিন্তু ম্যাচ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় অধিনায়ক বললেন অন্য কথা। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই নাকি হারতে হয়েছে তাদের! তবে নিজেদের বাজে ব্যাটিংয়ের কথাও স্বীকার করেছেন ভারত অধিনায়ক ঈশান কিশান।
রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় যুবাদের অধিনায়ক বলেন, ‘বোলাররা খুব ভালো করেছেন এবং সঠিক জায়গায় বল করেছে। উইকেটে খুব ভালো বাউন্স ছিল। আমরা জানতাম না কতটুকু বাউন্স হবে। পান্তের উইকেট পতনটা ভালো ছিল না। এরপর আমি যখন ব্যাট করছিলাম, তখন আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের ভালো জুটির দরকার ছিল; কিন্তু এ জন্য (আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত) আমরা তা করতে পারিনি।’
এদিন অনেকটা দৃষ্টিকটুভাবে রানআউট হয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্ত। এছাড়াও ৩৫তম ওভারে কেমু পলের একটি ক্যাচ মিস করেন সরফরাজ খান। এ প্রসঙ্গে ঈশান বলেন, ‘এটা ক্রিকেটে হতেই পারে। প্রতিদিন আমাদের সবকিছু ভালো যাবে না। আমরা মাঠে চেষ্টা করেছি। পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছি।’
৬ ম্যাচে ৩৫৫ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ভারতের সরফরাজ খান। তার উপর দলের অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিল কি না জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা তার উপর নির্ভরশীল ছিলাম না। সে খুব ভালো ব্যাটসম্যান এবং ভালো ফর্মে আছে। এমন নয় একজনকেই প্রতিদিন দায়িত্ব নিতে হবে। মাঝে মাঝে এমন হয়, কিছু কিছু খেলোয়াড়রা ফর্মে থাকে না। তাই যে ফর্মে থাকে তাকে একটু বেশি দায়িত্ব নিতে হয়। আমরা অপ্রয়োজনীয় রানআউট এবং আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে হেরেছি। তবে আমরা যদি ক্যাচটা ধরতে পারতাম তাহলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো।’

ব্যাটে সেরা বার্নহ্যাম, বলে সেরা কর্টেজ

রোববার মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামলো এবারের যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। বড়রা প্রথম দুই আসরে শিরোপা জিতলেও ছোটরা এতদিন পারেনি। অবশেষে এগারোতম আসরে এসে ভারতকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপায় চুমু খেলো ক্যারিবিয়ানরা।
এবারের আসরে সেরা রান সংগ্রাহক হয়েছেন ইংল্যান্ডের ওপেনার জ্যাক বার্নহ্যাম। ৬ ম্যাচে ৪২০ রান করেছেন তিনি। এবারের আসরে প্রথম সেঞ্চুরিসহ তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। ৩১৫ রান নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের আরেক ওপেনার ড্যান লরেন্স। তবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের সরফরাজ খান। ৬ ম্যাচে ৩৫৫ রান করেছেন এই ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৫৯ রান করে দশম স্থানে আছেন তিনি। ৬ ম্যাচে ২৪২ রান নিয়ে তার পিছেই আছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
আইসিসির সহযোগী দেশ নামিবিয়ার বাঁহাতি ফাস্ট বোলার ফিটজ কর্টেজ এবারের আসরের সেরা বোলার। ৬ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষ বোলারের তালিকায় অবস্থান করছেন তিনি। এরপরেই রয়েছেন আরেক সহযোগী দেশ নেপালের স্পিনার সন্দীপ লামিচানে। তিনি ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন এ স্পিনার। ১৩ উইকেট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন আয়ারল্যান্ডের ডানহাতি পেসার ররি অ্যান্ডোস। সমান সংখ্যক ১৩ উইকেট পেলেও গড় বেশি হওয়ায় ৬ষ্ঠ স্থানে আছেন বাংলাদেশ পেস অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিন। ১২ উইকেট নিয়ে সপ্তম ও নবম স্থানে আছেন বাংলাদেশের শাওন গাজী ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
এবারের বিশ্বকাপে এক ইনিংসে ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ রান ইংল্যান্ডের ওপেনার ড্যান লরেন্সের। ফিজির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১৭৪ রান করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের করিম জানাত সেই ফিজির বিপক্ষেই করেছেন ১৫৬ রান। মজার বিষয় হলো ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের তিনটিই এসেছে ফিজির বিপক্ষে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪৮ রান করেছেন ইংল্যান্ডের জ্যাক বার্নহাম । বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
ছোট্ট দেশ ফিজিকে পেয়ে সবাই শুধু রেকর্ড গড়েছে। একের পর এক রান বন্যায় ভাসিয়েছে কিংবা খুব কম রানে অলআউট করেছে। তবে যুবাদের এই বিশ্বকাপে সেরাদের একটি আসন কিন্তু দখলে রেখেছে ফিজির এক ক্রিকেটার। বিশ্বকাপে যে কোন এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হলেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটির ক্রিকেটার। চাকাচাকা তিকোইসুভা। ডান হাতি এই মিডিয়াম পেসার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচে ৫৯ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। জিম্বাবুয়ের ওয়েসলি মেধভেরে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন, যা দ্বিতীয় সেরা। এছাড়া এক ইনিংসে ৫টি করে উইকেট নিযেছেন নেপালের সন্দিপ লামিচ্চানে এবং ভারতের মায়াঙ্ক লোরমোর।
টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৫টি ছক্কার মার মেরেছেন ইংলিশ ওপেনার জ্যাক বার্নহ্যাম। সর্বোচ্চ বাউন্ডারিও মেরেছেন তিনি, সর্বমোট ৩৯টি। ৬টি করে ছক্কা মেরেছেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন, ভারতের রিশাব পান্তে, শ্যাম স্প্রিঙ্গার। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানের জুটি ৩০৩ রানের। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ড্যান লরেন্স আর জ্যাক বার্নহ্যাম মিলে ফিজির বিপক্ষে এই বিশাল জুটি গড়েন দ্বিতীয় উইকেটে। এছাড়া চতুর্থ উইকেটে ১৮৯ রানের জুটি গড়েন পাকিস্তানের সাইফ বদর এবং হাসান মহসিন, নেপালের বিপক্ষে।

যুব বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার মিরাজ

দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ যুব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শেষ করা বাংলাদেশ এবারই প্রথম এই টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনালে খেলে। স্বাগতিকদের এই পথ চলায় দারুণ অবদান ছিল অলরাউন্ডার মিরাজের।
টুর্নামেন্টে ১৭.৬৬ গড়ে ১২ উইকেট নেন মিরাজ। চারটি অর্ধশতকসহ ৬০.৫০ গড়ে করেন ২৪২ রান। ২০১৩ সালের এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে অভিষেক হয় মিরাজের। ৫৬ ম্যাচে ২০.৯০ গড়ে ৮০ উইকেট নিয়ে যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট তারই। পাশাপাশি ২০ গড়ে ১ হাজার ৩০৫ রানও করেন তিনি।
সব মিলিয়ে মিরাজকে বলা যায় অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে ফেলা মিরাজের নজর এখন আরও উঁচুতে। পুরস্কার হাতে নিয়ে মিরাজ বলেন, “আমি খুব রোমাঞ্চিত। আমার লক্ষ্য অনেক বড় ছিল, আমি সেরা অলরাউন্ডার হতে চেয়েছিলাম।”
ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলা আর সেরা অলরাউন্ডার হওয়ার জন্য সেরা চেষ্টা করবেন বলে জানান মিরাজ। রোববার টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশ্বকাপের সেরা হলেন মেহেদী মিরাজ

লকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ যুব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শেষ করা বাংলাদেশ এবারই প্রথম এই টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনালে খেলে। স্বাগতিকদের এই পথ চলায় দারুণ অবদান ছিল অলরাউন্ডার মিরাজের। টুর্নামেন্টে ১৭.৬৬ গড়ে ১২ উইকেট নেন মিরাজ। চারটি অর্ধশতকসহ ৬০.৫০ গড়ে করেন ২৪২ রান।
২০১৩ সালের এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে অভিষেক হয় মিরাজের। ৫৬ ম্যাচে ২০.৯০ গড়ে ৮০ উইকেট নিয়ে যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট তারই। পাশাপাশি ২০ গড়ে ১ হাজার ৩০৫ রানও করেন তিনি।
সব মিলিয়ে মিরাজকে বলা যায় অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে ফেলা মিরাজের নজর এখন আরও উঁচুতে। পুরস্কার হাতে নিয়ে মিরাজ বলেন, “আমি খুব রোমাঞ্চিত। আমার লক্ষ্য অনেক বড় ছিল, আমি সেরা অলরাউন্ডার হতে চেয়েছিলাম।”
ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলা আর সেরা অলরাউন্ডার হওয়ার জন্য সেরা চেষ্টা করবেন বলে জানান মিরাজ। রোববার টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

হতে চান সাকিবের মতো ‘এক নম্বর’

মেহেদী হাসান মিরাজের আজ মন খারাপই থাকার কথা। কথা ছিল মাঠে থাকার, মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দর্শকপূর্ণ গ্যালারির সামনে যুব বিশ্বকাপের শিরোপার জন্য লড়াই করার। কিন্তু একটা খারাপ দিনের ধাক্কায় সেই স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। কিন্তু মন খারাপের মাঝে ব্যক্তিগত অর্জনের পুরস্কারটা পেলেন। তাঁর দল টুর্নামেন্ট সেরা হয়নি। তবে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা হয়েছেন। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও কম গৌরবের নয়। সেটি হাতে নিয়ে মিরাজ বললেন আরও বড় স্বপ্নের কথা।
প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার হওয়ার গৌরবে মিরাজ গর্বিত করলেন দেশকেও। নিজের অর্জন তাঁর স্বপ্নের পরিধিকে করেছে অনেকটাই বড়, তিনি এখন স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার। যুব বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার—ব্যাপারটার মধ্যেই তো রোমাঞ্চকর ব্যাপার। মিরাজ নিজেও রোমাঞ্চিত। মুখে স্মিত হাসিটা নিয়ে বললেন, ‘আনন্দিত, রোমাঞ্চিত ঠিকই, ভালো করার প্রত্যাশাও ছিল, কিন্তু এতটা হবে ভাবিনি।’
কী অসাধারণই না তিনি খেলেছেন পুরো বিশ্বকাপে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সত্যিকারের ‘কান্ডারি’। ব্যাট হাতে চারটি ফিফটিসহ ৬০.৫ গড়ে করেছেন ২৪২ রান। উইকেট নিয়েছেন ১২টি। দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনাল অবধি। কিন্তু ফাইনালটা খেলা হয়নি। দলের লক্ষ্যপূরণ না হওয়ার বেদনাটাও আছেই। কিন্তু তাই বলে একেবারে আশাহতও নন সদা হাস্যোজ্জ্বল এই তরুণ, ‘আমাদের লক্ষ্যটা অনেক বড় ছিল। আমরা বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। তবে আশা করি ভবিষ্যতে হয়তো আমরা পারব।’
কালই বলেছিলেন তাঁর আগামীর লক্ষ্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিটা গায়ে চড়ানো। সে লক্ষ্যেই তো তাঁর পথচলা। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা হাতে নিয়েও আবারও বললেন সেই লক্ষ্যের কথা, ‘আমার লক্ষ্য অবশ্যই জাতীয় দলে খেলা। নিজের খেলাটাকে আরও এগিয়ে নেওয়া।’ সঙ্গে আরও একটি স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নটাও খুবই বাস্তব। এবারের যুব বিশ্বকাপে তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্য তাঁকে এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই সত্তাটাকে আরও বিকশিত করার। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার তাঁর লক্ষ্যটা তাই খুব একটা দূরেরও মনে হয় না।
প্রত্যয়ের সঙ্গেই বললেন, ‘আমি এক নাম্বার অলরাউন্ডার হতে চাই।’

ক্যারিবিয়ান যুবাদের বিশ্বজয়

জয়সূচক রানটি নিয়েই দুহাত উঁচিয়ে ছুটলেন কিমো পল। মাঠের বাইরে থেকে ছুটে এল সব সতীর্থ। ক্যারিবিয়ান যুবাদের তখন বিশ্ব জয়ের উৎসব! ফাইনালে ফেভারিট ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচটিকে বলা হচ্ছিল টুর্নামেন্টের সেরা পেস আক্রমণের সঙ্গে সেরা ব্যাটিং লাইন আপের লড়াই। ২২ গজে সেটির প্রতিফলন পড়ল সামান্যই। সবুজাভ উইকেটে আগুন ঝরালেন ক্যারিবিয়ান পেসাররা, তাতে ছারখার ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ। ৪৫.১ ওভারে গুটিয়ে যায় তারা ১৪৫ রানে। স্নায়ুচাপ জয় করে সতর্ক রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেয়েছে শেষ ওভারে, ৩ বল বাকি থাকতে।
দুবার মূল বিশ্বকাপ ও একবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলো প্রথমবার। তিনবারের যুব চ্যাম্পিয়ন ভারত ফাইনালে হারল দ্বিতীয়বার।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দলই। বিশ্বকাপেও চলে গিয়েছিল প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে যাওয়ার দোরগোড়ায়। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছিল শেষ ওভারের নাটকীয় রান আউটে। সেই দলই সবাইকে চমকে দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল দারুণ টিম স্পিরিট আর চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায়। নক আউট পর্বে উপমহাদেশের তিন দল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতকে হারিয়ে হাসল শিরোপার হাসি।
WI-2
প্রাণবন্ত উইকেটে ছোট পুঁজি নিয়েও লড়াই করেছেন ভারতীয় বোলাররা। বিপজ্জনক ওপেনার গিডরন পোপকে (৩) শুরুতেই ফিরিয়ে দেন আবেশ খান। আরেক পেসার খলিল আহমেদের শিকার টেভিন ইমলাখ (১৫)। দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাঁহাতি স্পিনার মায়াঙ্ক ডাগার তুলে নেন ৩ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ৫ উইকেটে ৭৭; ম্যাচ দুলছে সমতায়।
ষষ্ঠ উইকেটে অসাধারণ ধৈর্য্য আর টেম্পারামেন্টের পরিচয় দিয়ে ম্যাচ জেতানো জুটি গড়ে তোলেন কিসি কার্টি ও কিমো পাল। প্রচণ্ড চাপের মাঝে বিশ্বকাপের ফাইনালে কার্টি করেন যুব ওয়ানডেতে নিজের প্রথম অর্ধশতক। অপরাজিত থাকেন ১২৫ বলে ৫২ রানে। ৬৮ বলে অপরাজিত ৪০ পল। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৬৯ রানের।
ব্যাটিং ব্যর্থতার পর ভারত ভুগেছে বাজে ফিল্ডিংয়েও। ১০ রানে পলের ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি সরফরাজ। ৩৫ রানে কার্টির ক্যাচ ছেড়েছেন উইকেটকিপার রিশাভ পান্ত। শেষ ২ ওভারে যখন প্রয়োজন ৯ রান, কাভারে আবারও পলের কঠিন ক্যাচ ছেড়েছেন আবেশ খান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩ রান। খলিলের প্রথম ৩ বলেই আসে ৩টি সিঙ্গেল।
সকালে আগের কদিনের মত কুয়াশা না থাকলেও তরতাজা ঘাসের উইকেটে টস জিতে বোলিং নিতে একটুও সময় নেননি ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার। ভারতীয় অধিনায়ক ইশান কিশান টসের সময় জানালেন, তারা জিতলে ব্যাটিংই নিতেন। টস তাই প্রভাব ফেলেনি বড় কোনো।
টুর্নামেন্টে আগের পাঁচ ম্যাচের চারটিই মিরপুরে খেলেছে ভারত। তবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং উইকেট পেল তারা ফাইনালে। আলোচিত ব্যাটিং লাইনআপ পারল না সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে। নতুন বলে তোপ দাগিয়েছেন টুর্নামেন্টের আলোচিত নাম আলজারি জোসেফ। শুরুতেই বিপর্যস্ত ভারতীয় ব্যাটিংকে আরও দমিয়ে দিয়েছেন রায়ান জন, শেমার হোল্ডাররা। ক্যারিবিয়ানদের খুনে বোলিংয়ের সামনে বুক চিতিয়ে লড়েছেন কেবল সরফরাজ খান।
ক্যারিবিয়ানরা আঘাত হানে প্রথম ওভারেই। উইকেট আসে অদ্ভুতভাবে। জোসেফের অফ স্টাম্পের বাইরের বল না খেলে ছেড়ে দিয়েছিলেন রিশাভ পান্ত। কিন্তু ফরোয়ার্ড খেলার চেষ্টায় ক্রিজ থেকে ক্ষণিকের জন্য বাইরে বেরিয়েছিলেন পান্ত। উইকেটের অনেক পেছনে দাঁড়ানো উইকেটকিপার টেভিন ইমলাখ দারুণ তৎপরতায় বল ধরেই ছুঁড়ে দেন স্টাম্পে। ১৩৮ কিলোমিটার গতির বলে স্টাম্পড পান্ত!
প্রথম স্পেলেই জোসেফ তুলে নেন আরও ২ উইকেট। সুইং ও বাউন্সে নাভিশ্বাস উঠে যায় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। জন-হোল্ডার-স্প্রিঙ্গাররাও বোলিং করেছেন দারুণ। ৫০ রানে ভারত হারায় ৫ উইকেট।
সেখান থেকে দলকে বলতে গেলে একাই টেনেছেন সরফরাজ। খানিকটা সঙ্গ দিয়েছেন মাহিপাল লমরোর (১৯)। সরফরাজ (৫১) অর্ধশতকে পৌঁছার পরপরই তাকে ফেরান রায়ান জন। শেষ দিকে ২১ রান করে দলের রান দেড়শর কাছাকাছি নিয়ে যান রাহুল বাথামা। দু অঙ্ক ছুঁয়েছেন এই তিনজনই।
একজন স্পিনারও আক্রমণেই আনেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাজ শেষ করেন পেসাররাই। ৩৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন জন, ৩৯ রানে ৩টি জোসেফ। হোল্ডার-স্প্রিঙ্গার একটি করে। আর যথারীতি শেষের দিকে কিমো পল ছিলেন দুর্দান্ত, নিয়েছেন শেষ ২ উইকেট।
পরে ব্যাট হাতেও মহামূল্য এক ইনিংস খেললেন পল। অমূল্য আরেক ইনিংসে ম্যাচ সেরা হয়েছেন কার্টি। আর এই দুইজনের দারুণ নৈপুণ্যে ফাল্গুনের শেষ বিকেলে শের-ই-বাংলার সবুজ মখমলে তাই দেখা গেল এক দল মেরুন প্রজাপতির ছুটোছুটি। সবশেষে সবাই একসঙ্গে হয়ে চলল ‘স্পিঙ্গার ড্যান্স’! চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতায় জাতীয় দলকে নিয়ে যখন চলছে অনিশ্চয়তা, ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে তখন খানিকটা স্বস্তির সুবাতাস তরুণদের সৌজন্যে।

১৪৫ রানেই শেষ ভারত

এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ ভারতের। কিন্তু ফাইনালে সেই ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের তোপে পড়ে।

 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪৫ রানেই গুটিয়ে গেছে ভারতের ইনিংস। প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাই ১৪৬ রান।

 

সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা ওয়েস্ট ইন্ডিজ রোববার সকালে মিরপুরে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায়। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার আলজারি জোসেপের তোপের মুখে পড়েন ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।

 

জোসেপ নিজের প্রথম ১৯ বলের মধ্যেই তুলে নেন ৩ উইকেট। তার শিকারে পরিণত হওয়া ওপরের দিকের তিন ব্যাটসম্যান রিশাব পান্ত, ইশান কিষান ও আনমলপ্রীত সিং- কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

 

এরপর দলীয় ৪১ রানে ওয়াশিংটন সুন্দর ও ৫০ রানে আরমান জাফর ফিরে গেলে মহাবিপদে পড়ে যায় ভারত। এই দুজনও দুই অঙ্ক ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছেন।

 

ষষ্ঠ উইকেটে মহীপাল লোমরোরকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন সরফরাজ খান। কিন্তু লোমরোরকে (১৯) ফিরিয়ে ৩৭ রানের এ জুটি ভাঙেন চেমার হোল্ডার। দলীয় ১১৬ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান মায়াঙ্ক ডাগার।

 

এক প্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নিয়েছিলেন সরফরাজ। কিন্তু ফিফটির পরই সরফরাজকে (৫১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রায়ান জন। তখন ১২০ রানেই ৮ উইকেট নেই ভারতের।

 

স্কোরবোর্ডে আর ৩ রান যোগ হতেই নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরের পথ ধরেন আভেশ খান। শেষ পর্যন্ত দেড়শ রানও হয়নি ভারতের, ৪৫ ওভার ১ বলে তারা অলআউট যায় মাত্র ১৪৫ রানে। তাও এ রান হয়েছে নয় নম্বরে নামা রাহুল বাথামের ২১ রানের সুবাদে।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জোসেপ ও জন ৩টি করে উইকেট নেন। এ ছাড়া কেমো পল ২টি এবং হোল্ডার ও স্প্রিঙ্গার নেন একটি করে উইকেট।

 

তৃতীয় হয়ে খুশি বাংলাদেশ দলের কোচ

শ্রীলংকাকে তিন উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আইসিসির কোন টুর্নামেন্টে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। তাই দলের এমন অর্জনে দারুণ খুশি দলের প্রধান কোচ মিজানুর রহামান বাবুল।
শনিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘দলের ফলাফলে আমি দারুণ খুশি। আজকে আমাদের দেড় বছরের কষ্টের একটা সুন্দর সমাপ্তি হলো।’ তবে ফাইনালে খেলতে পারলে আরও বেশি খুশি হতেন কোচ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবারই ফাইনাল খেলার আশা ছিল, আর এ আশা তৈরি করেছিল ছেলেরাই। আশা ছিল ইনশাল্লাহ আমরা কাপও জিতবো। ছেলেরা এ দেড় বছর বিভিন্ন জায়গায় খেলে এটা তৈরি করেছিল। হয়তো আমরা পারিনি। গতদিনটা আমাদের ছিল না’
আগের ম্যাচের হারের পর কী প্রভাব পড়েছিল? জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘সেমিফাইনালে হেরে ছেলেরা মুষড়ে পরেছিল। কান্নাকাটি করেছে। সেখান থেকে ফিরিয়ে আনতে অনেক কষ্ট কয়েছে। যেহেতু সব বাচ্চা ছেলে-পেলে। তাদের সাথে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে, মজা করতে হয়েছে। গল্প করতে হয়েছে। হাসি মুখ ফিরিয়ে আনতে অনেক কষ্ট হয়েছে এবং শেষে ওদের ম্যাসেজ দেওয়া হয়েছিল যে আমরা শেষদিনের প্রতিশোধ নিব। একটা চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল যাতে আমরা হাসিমুখে ঘরে ফিরে যেতে পারি। গত দেড় বছর আমরা অনেক কষ্ট করেছি। শেষ ম্যাচে যদি হাসতে না পারি। তাহলে পূর্ণতা পাবে না এবং ছেলেরা তা করতে পেরেছে।’
মিরাজদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কি বলেছিলেন জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘আমরা ওদের ম্যাসেজ দিয়েছি, যা আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের বলছেন যে দেশের সবাই খুশি। এর আগে কেউ সেমিফাইনালে খেলেনি। তোমাদের অর্জনে সবাই খুশি। এটা বলার পর ওরা অনেকটা শান্ত হয়েছে এবং আজকের ম্যাচে খেলার মনোবল ফিরে পেয়েছে।’
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালে মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিল। এরপর এবার মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে তৃতীয় হলো বাংলাদেশ।

যুব দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন মিরাজ

শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। জয় দিয়েই স্মরণীয় করে রাখলেন নিজের যুব ক্যারিয়ারের শেষ দিনটাকে। শুধু তাই নয়, অনুর্ধ্ব-১৯ ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে (তিন দিনের ম্যাচ) সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু করা মিরাজ এদিনও দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি উপহার দেন। এই শ্রীলংকার বিপক্ষেই ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়াও আদায় করেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
শনিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘আজকে আমার শেষ ম্যাচ। সবচেয়ে মজার জিনিস হচ্ছে আমার অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল শ্রীলংকার বিপক্ষে। আজকেও শেষ হল শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার সবকিছুর জন্যে অবদান আল্লাহর। আরও একটা জিনিস, শুরুটা সেঞ্চুরি দিয়ে করছিলাম। শেষটা ৫০ আর ৩ উইকেট দিয়ে করলাম। সব মিলিয়ে মোটামুটি বলা যায় যে, শুরুটা ও শেষটা দুটোই ভালো হয়েছে। আমি অনেক খুশি। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ আমাকে এ জিনিসটি দেওয়ার জন্যে।’
যুব ক্রিকেটের ক্যারিয়ারে মোট ৫৬টি ম্যাচে ৫১টি ইনিংস খেলে মোট ১৩০৫ রান করেন মিরাজ। ২৯ গড়ে সর্বোচ্চ রান ৮৭। আর ৫৫ ইনিংসে বল করে ৩.৭৬ হারে রান দিয়ে মোট ৮০টি উইকেট তুলের নেন তিনি। এর মধ্যে ৫৩টি মেডেন পেয়েছেন এই তরুণ। সেরা ১৭ রানে ৫ উইকেট। মিরাজের এই ৮০ উইকেট অনুর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বিশ্ব রেকর্ড। তিনিই এই বিশ্ব যুব ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটের অধিকারি।
তবে পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি তার প্রাপ্তি। আইসিসির কোন টুর্নামেন্টে সেরা সাফল্য এলো তার হাত ধরেই। এছাড়া যুবাদের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ডও এই বিশ্বকাপেই নিজের করে নিয়েছেন। পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিমের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন এই রেকর্ড গড়েন তিনি। এছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দলের হয়ে একমাত্র মিরাজই দুইবার বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেবার বিরল কৃতিত্ব গড়েছেন। তার ক্যারিয়ারের ৫৬ ম্যাচের জয় পেয়েছেন ৩০টিতে, হার ১৭টি অপর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত।
দশ বছর জাতীয় দলে খেলতে চান মিরাজ
অনূর্ধ্ব-১৯ লেভেলে শেষ হলেও এবার গায়ে জড়াতে চান জাতীয় দলের জার্সি। আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কমপক্ষে দশ বছর ক্রিকেট খেলে যেতে চান এ তরুণ ক্রিকেটার।
শনিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘সবারই লক্ষ্য থাকে জাতীয় দলে খেলার জন্যে। আমি চিন্তা করবো যে, আমি আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে জাতীয় দলে যেন নিজের একটা অবস্থান তৈরী করতে পারি এবং সাফল্যের সাথে খেলে যেতে পারি। আমার যে ভুলগুলো আছে, সেগুলো আরও ভালো করে শুধরে জাতীয় দলে পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হয়ে ঢুকতে চাই। ইনশাআল্লাহ জাতীয় দলে যখন ঢুকব তখন টানা দশ বছর ক্রিকেট খেলতে চাই।
ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে দারুণ অলরাউন্ড পারফরমেন্স প্রদর্শণ করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন এ তরুণ। শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাট হাতে শাসন করছিলেন স্বাগতিক বোলারদের, তখন বল হাতে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনি। টপ অর্ডারের তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছিলেন মিরাজ। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্ভাগ্যজনক রানআউট হবার আগে করেছেন ৫৩ রান।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত-উইন্ডিজ

ভারত না ওয়েস্ট ইন্ডিজ! কে হবে যুব ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন? রোববার যুব বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে নিশ্চই ইতিহাসের আনাগোনা চলছে। ভারতীয় শিবিরেও ঢুকে গেছে কপিল দেবের ভারতীয় দলের ইতিহাস। হয়তো দলের মেন্টর রাহুল দ্রাবিরের চোখ দিয়ে ইশান, ঋষভরা দেখে নিয়েছে ভারতের সাফল্যের সেই কাহিনী। ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ মনে আছে নিশ্চই সবার। ২৫ জুন লর্ডসের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। এরপর তো আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ফাইনালেও ওঠা হয়নি।
২০১২ টি২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ক্যারিবীয়রা; কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ? না সেখানেও চ্যাম্পিয়ন হয়নি। আবার সেই বিশ্বকাপ, আবার মুখোমুখি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও অনূর্ধ্ব-১৯। তবুও বিশ্বকাপ তো। এই বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরেও উত্তেজনা কিছু কম নয়। ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে। সেই একদল যুব ক্রিকেটারের দিকেই তাকিয়ে পুরো ভারত। কয়েকদিন পরেই সিনিয়ররা নামবে টি২০ বিশ্বকাপের আসরে। তার আগে ছোটদের সাফল্য তাতিয়ে দিতে পারে ধোনি ব্রিগেডকে।
পুরো টুর্নামেন্টে ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারেনি কোনও দল। ফাইনালেও নিজেদের সেরাটাই দিতে চাইছে পুরো দল। ধারাবাহিকতার দিক থেকে দেখতে গেলে ভারতের মিডল অর্ডার নিয়মিত ভরসা দিচ্ছে দলকে। সেমিফাইনালেই তা প্রমাণ হয়েছে। ভারতীয় ব্যাটিংকে ভরসা দিচ্ছেন সরফরাজ খান, ঋষভ পান্থ, আরমান জাফররা। ফাইনালেও এরাই বড় ভরসা। রিকি ভুঁইকে বসিয়ে আনমোলপ্রীতকে দলে নেওয়াটাও কাজে লেগেছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ভরসা দিচ্ছেন আনমোল।
ভারতীয় বোলিং অ্যাটাককে ভরসা দিচ্ছেন মায়াঙ্ক দাগার, আবেশ খান ও মহিপাল লোমোর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংকে আটকাতে যথেষ্ট এই তিন মূর্তি। মিরপুরের পিচে বাউন্স থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্লো হয়ে যায়। প্রথমে ব্যাট করলে বড় রানের সম্ভবনা থাকছে। ভারত অধিনায়ক ইশান কিষান বলেন, ‘আমি আর ঋষভ যদি ১২ ওভার পর্যন্ত টিকে যাই তাহলে ৩০০ রান তোলা সম্ভব। আমাদের পোকাস থাকবে শুরুটা ভাল করার দিকে। তবে ২৭০-২৮০ এই পিচে ভাল রান। আমরা আত্মবিশ্বাসী। সবাই নিজের খেলাটাই খেলবে। কারও উপর কোনও চাপ নেই।’

ভারতকে নিয়ে ভাবছে না ক্যারিবীয়রা

সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ক্যারিবিয়ানরা। এবার তাদের সামনে আরেক অপরাজিত দল ভারত। এই টুর্নামেন্টে এখনও হারেনি তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানার পর এইসব নিয়ে ভাবনা নেই বলে জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দলের অধিনায়ক শিমরন হেটমেয়ার।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারত ভালো দল। তারা এখনও অপরাজিত। কিন্তু এক দিন আগে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে খেলেছি এবং তাদেরকে হারিয়েছি। তারাও অপরাজিত ছিল। আসলে কে হেরেছে বা জিতেছে সেটা বড় কথা নয়। আমরা মাঠে নামবো এবং নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলবো এটাই একমাত্র চিন্তা। আশা করছি আমরা সবার উপরে উঠতে পারবো।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বশেষ ফাইনাল খেলেছিল ২০০৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে। সেবার অবশ্য পাকিস্তানের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন খুইয়েছিল তারা। এক যুগ পরে আবার ফাইনালে খেলতে পেরে উচ্ছ্বসিত হেটমেয়ার। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য দারুণ ব্যাপার। অনুভূতিটাও খুব ভালো। গত দীর্ঘ সময়ে আমরা এতো দূর আসতে পারিনি। ফাইনালের একটি দল হওয়া বিরাট ব্যাপার। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এতো দিনে আমরা একটি ভালো দল হয়ে উঠেছি।’
এই টুর্নামেন্টে অধিনায়কত্ব করার সুযোগে শেখার অনেক কিছু পাচ্ছেন বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বড় কোনও টুর্নামেন্টে অধিনায়কত্ব করিনি। এটা আমার জন্য শেখার সুযোগ। উপমহাদেশে অনেক কিছু শিখেছি। বাংলাদেশে খেলেছি এবং শিখেছি। ইংল্যান্ডসহ আরও অন্যান্য দেশেও আমরা খেলেছি।’

নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন মিরাজ

২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয়েছিল বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের। শেষও হলো তাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। অবশ্য শুরুটা জয় দিয়ে না হলেও শেষটা জয় দিয়ে হয়েছে। এজন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন তিনি।
শনিবার ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই জয়ে ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তরুণ এই অলরাউন্ডার। এদিন ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ৫৩ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২টি ৪ দিনের ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন নিজের অভিষেকেই। করেছিলেন ১০৫ রান। শনিবার এমন ভালো ইনিংস খেলে দিনটি স্মরণীয় উল্লেখ করে মিরাজ বলেন, ‘এই দিনটি আমার জন্য বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আজকে আমার শেষ দিন। জয় দিয়ে শেষ করতে পেরে তাই খুশি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার অ-১৯ ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আজকেও শেষ হল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এটা আমার কাছে বড় একটি প্রাপ্তি। আমি অনেক খুশি। প্রথম ম্যাচেও সেঞ্চুরি (৪ দিনের ম্যাচ) দিয়ে শুরু করেছিলাম; শেষ ম্যাচেও হাফসেঞ্চুরি ও ৩ উইকেট নিয়ে শেষ করেছি।’
নিজের বর্তমান লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘অনেক দিন ধরে ক্রিকেটের মধ্যে ছিলাম। এখন বাড়িতে গিয়ে কিছুদিন বিশ্রাম নেবো। তারপর ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হবো।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সবারই লক্ষ্য থাকে জাতীয় দলে খেলার। তবে আমি চাই এর চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলোয়াড় হয়ে জাতীয় দলে ঢুকতে; যাতে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে পারি। এখন যেসব ভুল আছে সেগুলো শুধরে জাতীয় দলে পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হয়ে ঢুকতে চাই। যখন সুযোগ পাবো তখন টানা দশ বছর খেলতে চাই।’
নিজেদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘শান্ত রান করছে, একটি সেঞ্চুরিও করেছে। আমি ২৪১ রান করছি সঙ্গে ১২টা উইকেট পেয়েছি। সাইফউদ্দিন ১৩টি উইকেট পাইছে। গাজীও ১২টি উইকেট পেয়েছে। জাকির হাসান একটা ভালো ইনিংস খেলছে। সার্বিকভাবে সবাই ভালো খেলছে। সবাই নজর কাড়ছে। এই খেলোয়াড়দের দিকে সবার একটি আলাদা নজর থাকবে।’

শুরুর মত শেষটাও ভালো চায় ভারত

গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে লড়ছে ভারত। ২০১২ সালে যুব বিশ্বকাপের তৃতীয় শিরোপা জিতেছিল তারা। এর আগে ২০০০ ও ২০০৮ সালেও এ শিরোপা পেয়েছিল ভারত। দাপটের সঙ্গে শুরু থেকে ভালো খেলে আসা ভারত শেষটাও রঙিন করে তুলতে চায়।
রোববার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ভারতের হয়ে চতুর্থ শিরোপা জিততে চায় ইশান কিষান। শনিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারতের যুব অধিনায়ক বলেন, ‘শেষ ম্যাচে আমরা এমন কিছু করতে চাই না, যার জন্য ভবিষ্যতে আফসোস করতে হয়। আমরা আমাদের শতভাগ উজাড় করে দিব। যেভাবে শুরুটা করেছিলাম সেভাবেই শেষ করতে চাই। আমরা একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসরণ করে এই পর্যন্ত এসেছি। এখন আবার সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে। যেভাবে খেলে এতো দূর এসেছি, সেভাবেই খেলতে হবে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা ফাইনাল পরীক্ষার মতো। ভালো করতে পারলে সারাজীবন ভালো লাগবে।’
শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত সকাল ৯টা থেকে অনুশীলন করে। নিজেদের ঘাম ঝরানো অনুশীলন সম্পর্কে ইশান কিষান বলেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভালো। আজ কঠোর পরিশ্রম করলাম। বোলিং ও ফিল্ডিং সেশন দুর্দান্ত ছিল। বোলাররা লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বোলিং করেছে। ইয়র্কার অনুশীলন হয়েছে। স্লগ ওভারের বোলিংটাও ঝালিয়ে নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামীকালের জন্য আমরা প্রস্তুত। আশা করছি কাল আমরা দারুণ কিছু করব।’
মোহাম্মদ কাইফ, ভিরাট কোহলি ও উন্মুখ চাঁদ ভারতকে শিরোপা এনে দিয়েছেন। সে পথেই আছেন ইশান কিষান। রোমাঞ্চকর মুহুর্তের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইশান কিষানের ইচ্ছে তাদের পাশে নিজের নামটি বসানোর। দল ভালো করলেও ইশানের ব্যাট হাসছে না বিশ্বকাপের শুরু থেকেই। শেষ ম্যাচে দারুণ কিছু করার ঘোষণা না দিলেও জানিয়েছেন নিজের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।
প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ইশান কিষানের ভাষ্য, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো খেলছে। আমরাও সেটা করার চিন্তা করছি। মাঠে নেমে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে কী করবো বা কী হবে তা নিয়ে চিন্তা করছি না। আমরা শুধুমাত্র বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে ভাবছি। আলাদা কিছু চিন্তা করছি না।’

ইনজুরিতে জাকের আলী

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইনিংসের ১৫তম ওভারে ইনজুরিতে পড়েছেন বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকের আলী অনিক। ১৫তম ওভারের তৃতীয় বল খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়েন এই ব্যাটসম্যান। এ সময় পেশিতে টান লাগায় শুয়ে পড়েন জাকের। পরবর্তীতে ফিজিও মাঠে প্রবেশ করে প্রাথমিক চিকিৎসা করলেও খেলার মত ফিট না থাকায় নেমে যেতে বাধ্য হন তিনি। এর আগে ৩৮ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ১৯ রান করেন অনিক।
এদিকে শ্রীলঙ্কার দেয়া ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালোই জবাব দিচ্ছিল বাংলাদেশ। শুরুতে জাকির হাসানের উইকেট হারালেও তিন নাম্বারে নেমে আরেক ওপেনার জয়রাজ শেখকে নিয়ে ১৪.২ ওভারেই দলের অর্ধশত এনে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান। তবে জাকের মাঠ থেকে উঠে যাবার পরই আউট হয়ে যান সেট ব্যাটসম্যান জয়রাজ শেখ।

মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে তৃতীয় বাংলাদেশ

টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে থাকা রানিং বিটুইন দ্য উইকেট ভোগাল শেষ ম্যাচেও। তিনটি রান আউটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা স্বাগতিকরা জিতল কঠিন করে। ঘরের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ মেহেদি হাসান মিরাজের দল শেষ করল তৃতীয় হওয়ার স্বস্তিতে।
ফতুল্লায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ৪৮.৫ ওভারে ২১৪ রান করেছিল লঙ্কানরা। মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশ জয় পায় ৩ বল বাকি থাকতে।
তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটির সময় মনে হচ্ছিল অনায়াসেই জিতে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু দৃষ্টিকটু রান আউটে কাটা পড়েন দুজনই।
সেই ধাক্কা সামলেও এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান, হাতে ৬ উইকেট। কিন্তু আরেক থিতু ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও (১৯) ফিরে যান রান আউটে। তিন নম্বরে নেমে চোট নিয়ে বাইরে চলে যাওয়া ব্যাটসম্যান জাকের আলি অনিককে ফিরে আসতে হয় উইকেটে। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে প্রথমবার মাঠে নামা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের দুটি বাউন্ডারি বড় ভূমিকা রাখে বাংলাদেশের জয়ে। শেষ ওভারে লাহিরু কুমারাকে মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে জয় এনে দেন জাকেরই।
তিনটি পরিবর্তন নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। জায়গা পাননি নিয়মিত দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও পিনাক ঘোষ। প্রথমবার মাঠে নামেন জাকের ও শফিউল হায়াত। টুর্নামেন্ট জুড়ে বিবর্ণ সাঈদ সরকারও হারান জায়গা, ফিরেন পেসার মোহাম্মদ হালিম।
জয়রাজ শেখের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন জাকির হাসান। নতুন জুটিতেও শুরু ভালো হয়নি বাংলাদেশের। আসিথা ফার্নান্ডোর দারুণ ইয়র্কারে প্রথম ওভারেই বোল্ড জাকির (০)। যথারীতি থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি জয়রাজ (২৬)।
পায়ে ক্র্যাম্প নিয়ে এর আগেই মাঠ ছাড়েন তিনে নামা জাকের। তৃতীয় উইকেটে মিরাজ ও শান্ত গড়েন ৮৮ রানের জুটি। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের রেকর্ড টানা চতুর্থ অর্ধশত করে এক বল পরই রান আউট মিরাজ (৫৩)। খানিক পর অধিনায়ককে অনুসরণ করেন সহ-অধিনায়ক শান্তও (৪০)। এরপর শফিউল (২১), সাইফুদ্দিনরা (১৯) দলকে এগিয়ে নিলেও শেষ করতে পারেননি কাজ। ফিরে আসতে হয় তাই জাকেরকে। দলকে জেতানও তিনিই।
ব্যাটে-বলে আরেকটি অসাধারণ পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা যদিও আবারও মিরাজই। অর্ধশতকের আগে বল হাতে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যাচের প্রথম ভাগ ছিল দুই অধিনায়কের লড়াই। বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন মিরাজ, ব্যাট হাতে দলকে বলতে গেলে এটাই টেনেছেন চারিথ আসালাঙ্কা।
কুয়াশা ঘেরা সকালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানদের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। ওপেনিংয়ে উঠে আসা কামিন্ডু মেন্ডিস ও টুর্নামেন্টে প্রথমবার মাঠে নামা সালিন্ডু উশান পেরেইরাকে নিয়ে গড়া নতুন উদ্বোধনী জুটি দলকে এনে দেয় ৬০ রানের ভিত্তি।
টুর্নামেন্টে প্রথমবার ৩ পেসার নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে নতুন বলে সুবিধা করতে পারেননি দুই পেসার মেহেদি হাসান রানা ও সাইফুদ্দিন। প্রথম পরিবর্ত বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে লঙ্কানদের জোর ধাক্কা দেন মিরাজ। দারুণ টার্ন ও বাউন্সে বিভ্রান্ত করেন পেরেইরাকে (৩৪)। পরের ওভারে আরেক ওপেনার মেন্ডিসকেও (২৬) ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
জোড়া ধাক্কা না সামলাতেই মিরাজের আরেকটি আঘাত। এবার ফিরিয়ে দেন তিনে নামা আভিশকা ফার্নান্ডোকে (৬)। বিনা উইকেটে ৬০ থেকে শ্রীলঙ্কা তখন ৩ উইকেটে ৭০! মিরাজের প্রথম স্পেলটি ছিল দেখার মতো, ৬-২-৮-৩!
মিরাজ আক্রমণ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলে আলগা হয় লঙ্কানদের ফাঁস। একটু একটু করে দলকে এগিয়ে নেন আসালাঙ্কা। চতুর্থ উইকেটে শামু আশানের (২৭) সঙ্গে গড়েন ৩৯ রানের জুটি। ষষ্ঠ উইকেটে ভানিডু হাসারাঙ্গার সঙ্গে জুটি ৫৫ রানের। শ্রীলঙ্কা তখন এগিয়ে যাচ্ছিল আড়াইশ রানের দিকে।
পুরোনো বলে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাইফুদ্দিন আক্রমণে এসে এলোমেলো করে দেন লঙ্কানদের। ফুল লেংথ বলে হাসারাঙ্গাকে (৩০) বোল্ড করে ভাঙেন জমে ওঠা জুটি। পরের বলেই দারুণ এক ইনসুইঙ্গিং ইয়র্কারে উড়িয়ে দেন জেহান ড্যানিয়েলের (০) বেলস।
স্রোতের বিপরীতে আসালাঙ্কা দারুণ সব শটে বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন দলের রান। ৭৬ রানে লঙ্কান দলপতিকে ফেরান আব্দুল হালিম, ৭৬ রানে সীমানায় ক্যাচ দেন আসালাঙ্কা। ওই ওভারেই লাহিরু কুমারাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের মুড়িয়ে দেন হালিম। ২৮ রানে শ্রীলঙ্কা হারায় শেষ ৫ উইকেট।
টুর্নামেন্টে চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথমবার উইকেটের দেখা পেলেন হালিম, ২৬ রানে ২ উইকেট তার। ৪৮ রানে দুটি সাইফুদ্দিনের। মেহেদি হাসান রানা ও শাওন গাজী পেয়েছেন একটি করে। ২৮ রানে ৩ উইকেটে নিয়ে সেরা বোলার মিরাজ। পরে ব্যাট হাতেও সবচেয়ে বড় অবদান সেই মিরাজেরই। সেমি-ফাইনালে উঠেই ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সাফল্য পেয়ে যাওয়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত হলো তৃতীয়।

যুব বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি করে মিরাজের বিরল রেকর্ড

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারার দুঃখ কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। শ্রীলংকার বিপক্ষে আজও বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেছে বীরোচিত ৫৩ রানের ইনিংস। এই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে বিরল একটি রেকর্ড গড়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন এই অলরাউন্ডার। যুব বিশ্বকাপে এর আগে যে টানা চারটি হাফ সেঞ্চুরি করার গৌরব আর কেউ অর্জন করতে পারেনি!

শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে প্রতিপক্ষের ছুড়ে দেয়া ২১৪ রান তাড়া করতে নেমে টানা চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ফলে বাংলাদেশ দলের জার্সি গায়ে আরও বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে যুবাদের বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে কেউ হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেনি। ছয় ম্যাচে পাঁচ ইনিংস ব্যাট করে ২৪২ রান সংগ্রহ করে সেরা দুইয়ে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

শনিবার ফতুল্লার খান সাহেব উসমান আলী স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৬ বলে ৫৩ রান করেন মিরাজ। এরপর দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন তিনি। মিডঅফের দিকে পুস করে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যান শান্ত রান নিতে না চাওয়ার ফিরে আসার সময় পরে যান মিরাজ। ফলে বল ধরে সহজেই উইকেট ভাঙ্গেন শ্রীলঙ্কান উইকেটরক্ষক।

এর আগে সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৪ বলে ৬০ রান করেন মিরাজ। আর কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ৬৫ বলে করেন ৫৫। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং করার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশ অধিনায়কের। আর গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৯ বলে ৫১ রান করেছিলেন তিনি। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৮ বলে করেছিলেন ২৩ রান।

ফলে টানা চার ইনিংসে চারটি হাফ সেঞ্চুরি মেরে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মিরাজ। এর আগে বল হাতে যুবাদের হয়ে সর্বাধিক উইকেট নেবার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন তিনি। এর আগে এক বিশ্বকাপে চারটি হাফ সেঞ্চুরি করার রেকর্ড থাকলেও টানা চারটি কেউ করতে পারেননি। গত বিশ্বকাপেই (২০১৪) শ্রীলংকার সাদিরা সামারাভিকরামা, ২০১০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রেইগ ব্রাফেট, দক্ষিণ আফ্রিকার ডমিনিক হেনরিক্স, ২০০৪ সালে ভারতের শিখর ধাওয়ান, ২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার ক্রেইগ সিমন্স, ২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ করেছিলেন চারটি করে হাফ সেঞ্চুরি। তবে কোনটিই টানা নয়।

স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাংলাদেশ যুবাদের

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের যুবারা মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কান যুবাদের। সেমি ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরে বাংলাদেশের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে।

শনিবার সকালে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কান যুবারা টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা এ প্রতিবেদন লিখা অবধি কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮ ওভারে সংগ্রহ করেছে ৩৯ রান। দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন উশান পেরাইরা। আর কামিন্ড মেনডিস করেছেন ১৭ রান।

বাংলাদেশ দল প্রথম সব ম্যাচে জয় লাভ করলেও সেমি ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছে। আর আজকে শুধুই স্থান নির্ধারণী ম্যাচ তাদের। আজকের মাচে বিজয়ী দল তৃতীয় স্থানে আসীন হবে।

তৃতীয় স্থানে চোখ বাংলাদেশের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জমজমাট লড়াই শেষে তিন উইকেটে হেরে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের যুবাদের। সেমিফাইনালে হারের ক্ষত এখন তৃতীয় স্থান অর্জন করেই ভুলতে চায় মেহেদি হাসান মিরাজরা। শনিবার ফতুল্লার খান সাহেব আলী স্টেডিয়ামে সকাল ৯টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান দখল লড়াইয়ে মাঠে নামবে জুনিয়র টাইগাররা।
সেমিফাইনালে হারের পর মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে যুবা টাইগারদের অধিনায়ক মিরাজ বলেন, ‘এটাই শেষ নয়। আরও সামনে যেতে হবে। সামনে আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী। ওটাও আমাদের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওটা জিততে পারলে, আমার কাছে মনে হবে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। দশটা টেস্ট দলের থেকে যদি আমরা তিনে থাকতে পারি তাহলে আমাদেরকে শীর্ষ পাঁচটি দলের একটি দল ধরা হবে।’
এর আগে ২০০৬ সালে মুশফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান লাভ করে। এতদিন এটাই ছিল সর্বোচ্চ অর্জন। এবার মিরাজরা নুন্যতম চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের এই অর্জনের চেয়ে আরও বেশিকিছু করবে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম। এমনটা আশা করছেন মিরাজ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় চ্যাম্পিয়ন অথবা রানারআপ হওয়াটা বড় বিষয় না। আমরা যে টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে টপ তিন কিংবা পাঁচে আছি এটা অনেক বড় বিষয়। আাস্তে আস্তে আমরা অনেক এগিয়ে যাব। যা আমরা পারিনি, আশা করি সামনের প্রজন্মরা পারবে। মুশফিক ভাইয়েরা পাঁচ নম্বর হয়েছিল। আমরা যদি তিন বা চার নম্বর হই। পরের প্রজন্ম চিন্তা করবে আমাদেরকে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হতে হবে। আস্তে আস্তে এগুলোই চিন্তায় বাড়বে।’
অন্যদিকে ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কা নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে রানারআপ হয়েছিল। এরপর ৭টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও শিরোপার কাছাকাছি যেতে পারেনি লঙ্কানরা। এবারও সিংহের দলটি ব্যর্থ হয়েছে। তাই বাংলাদেশকে হারিয়ে নিজেদেরকে আরেকটু উপরে নিয়ে যেতে চাইবে ম্যাথুউসদের পরবর্তী প্রজন্মরা।

তারিকের বীরত্বে প্লেট চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান

বাংলাদেশে অনুষ্ঠানরত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আফগানিস্তান। শুক্রবার কক্সবাজারে প্লেট ফাইনালে তারিক স্টানিকজাইয়ের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে আফগানরা। যুব বিশ্বকাপে এবারই প্রথম প্লেট চ্যাম্পিয়ন হলো আফগানিস্তান।
কক্সবাজারের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।
২১৭ রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের শুরুটা যদিও ভালো হয়নি। ১২ রানেই পড়ে গিয়েছিল ১ উইকেট। এক পর্যায়ে তো ১২৩ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে আফগানরা।
তবে তিনে নামা তারিক ষষ্ঠ উইকেটে রশিদ খানের সঙ্গে ৯৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন। ১৪২ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ১০৬ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন তারিক। রশিদ অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে।
এর আগে জিম্বাবুয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তো ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। তবে উইলিয়ামস মাশিঙ্গের ৬৬, রায়ান মারের ৫৩ ও অ্যাডাম কেফের ৩৮ রানের সুবাদে ২১৬ রানের লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছিল জিম্বাবুইয়ানরা।
২১৬ রানের পুঁজি নিয়ে জিম্বাবুইয়ের বোলাররাও বেশ লড়াই করলেন। কিন্তু তারিকের বীরত্বের কাছে হেরে গেল তারা। ব্যাটিংয়ে ম্যাচজয়ী ১০৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার আগে বল হাতেও ১ উইকেট নিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সি তারিক। ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও তাই তার হাতেই উঠেছে।

যুবাদের বিশ্বকাপে পঞ্চম পাকিস্তান

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পঞ্চম স্থান নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলো পাকিস্তানের ‍যুবারা।
শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান তোলে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন স্যাম কুরান।
জবাবে খেলতে নেমে ৪৩.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের জয়ের নায়ক ছিলেন ওপেনার জিশান মালিক ও সাইফ বাদর। জিশান ৯৩ রান করে বিদায় নিলেও সাইফ ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান মোহসিন।

‘টেনশনে’ ছিলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক

দারুণ ইনিংস খেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হয়ে যাওয়ায় দুর্ভাবনায় ছিলেন শিমরন হেটমায়ার। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে পেরে উচ্ছ্বসিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দলের অধিনায়ক।
২২৭ রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন ওপেনার গিডরন পোপ। দুই ওপেনার ফেরত যাওয়ার পর দলকে টেনে নেন অধিনায়ক হেটমায়ার। সময়ের দাবি মিটিয়ে দুর্দান্ত খেলছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। প্রথম রান করতে বল খেলেন ১৫টি। থিতু হওয়ার পর খেলেছেন দারুণ সব শট।
তবে আউট হয়েছেন বাজে এক শটে। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের নতুন স্পেলের প্রথম ওভারেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়েছেন ৫৯ বলে ৬০ রান করে। দল তখন ৪ উইকটে ১৪৭।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হেটমায়ার জানালেন, দলের ড্রেসিং রুমে তখন ছিল শঙ্কা, তিনি নিজেও ছিলেন খানিকটা ভাবনায়।
“হ্যাঁ, টেনশন তো ছিলই। আমি ছিলাম থিতু ব্যাটসম্যান, অনায়াসেই শট খেলছিলাম, বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান হচ্ছিলো। ড্রেসিংরুমও খানিকটা দুশ্চিন্তায় ছিল।”
শেষ পর্যন্ত ড্রেসিং রুমের সেই শঙ্কা রূপ নিয়েছে জয়ের উদ্ভাসিত আনন্দে। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক স্বপ্ন দেখছেন আরও বড় কিছুর।
“খুব, খুব ভালো লাগছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে আমরা যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলাম। আমাদের দারুণ লাগছে, ক্যারিবিয়ানেও নিশ্চয়ই সবাই খুব খুশি! যদি ফাইনালেও আমরা আজকের মত খেলতে পারি, হয়তো ফাইনালও জিতে যাব!

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বটা দিয়ে রাখলেন মিরাজ

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগের সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে এবারের দল। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের মঞ্চে ওঠা হলো না। তবে দেশকে ট্রফি এনে দেওয়ার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিয়ে রাখলেন এখনকার অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল ২০০৬ সালে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে দলটির পঞ্চম হওয়া। সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে এবার প্রথমবারের মত যুব বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। হাতছানি ছিল আরও বড় সাফল্যের। শিরোপা জয়ের সব সম্ভাবনাই ছিল এবারের দলটির। কিন্তু বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে শেষ হয়েছে ফাইনালের আশা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির নানা হিসাব-নিকাশ মেলানোর চেষ্টা করলেন মিরাজ।
“চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ হওয়া বড় কথা নয়। ১৬টি দলের বিশ্বকাপ, ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে আমরা ওপরের দিকে আছি। একটা বিশ্বকাপে আমরা সেরা তিন-চারে আছি, এটাও কম কথা নয়।”
সবশেষে জানিয়ে রাখলেন, দেশকে যুব ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করতে আগ্রহ ভরে তাকিয়ে থাকবেন উত্তরসূরীদের দিকে। “আস্তে আস্তে আমরা উন্নতি করছি। মুশফিক ভাইরা পাঁচ নম্বর হয়েছিল, আমরা আরেকটু এগোলাম। আশা করি, সামনের প্রজন্ম আরও এগোবে। ওরা চিন্তা করবে, চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ হতে হবে।”
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহেদি জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী বল করতে পারেননি স্পিনাররা।
“আসলে স্পিনাররা কেউই ভালো বোলিং করিনি। স্পিনাররা যদি ভালো বোলিং করত তাহলে ওরা এই রানও এই উইকেটে করতে পারত না।”
মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫ ওভার শেষে তার স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৪৪ রান। মিরাজ মনে করেন, এটাই এগিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
“শুরুতেই ওদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অ্যাটাকিং খেলছে, ওটা কাজে দিয়েছে। ওটা ওদের চাপ কমিয়ে দিয়েছে। ওটা অনেক ‍গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
ফাইনালে যেতে না পেরে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ মিরাজ। প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে পৌঁছানোকেই এবারে আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ স্বীকার করে নিলেন, চাপটাই পেয়ে বসেছিল দলকে। “আমরা সবাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেট খেলি। আমরা যতই বলি চাপ নিব না, কিন্তু চাপ এসেই যায় নানা ভাবে। মাঠে সব সময়ই চাপ থাকে। এত দর্শকের সামনে কেউ কোনো দিনও খেলেনি, এটা স্বাভাবিকভাবেই চাপ। সেমি-ফাইনাল ম্যাচ জিততে হবে, সেই চাপ।”
সময়ের বাস্তবতার কাছে হার মানলেও বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। “আমাদের বয়স এখনও কম। এতকিছু সামলে ওঠা, এখনও আমরা অভ্যস্ত নই। এবার অভিজ্ঞতাটা হলো। আমরা পরিস্থিতিটা দেখেছি, দর্শকের সামনে খেলছি, আমরাও বেড়ে উঠছি। আশা করি, সামনে কখনও এরকম সমস্যা হবে না।”
“আমি যদি শেষ করতে পারতাম তাহলে ২৫০ রান হত। আমি আউট হওয়ার পরের বলেই সাইফুদ্দিন আউট হয়েছে। এদিকে আমরা পিছিয়ে গেছি।”
সেই সময়ে কেন ঝুঁকি নিতে চেয়েছিলেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অলরাউন্ডার মিরাজ, “আমাদের ৫ ওভার বাকি ছিল, ৫ উইকেট হাতে ছিল। ঝুঁকি তখন নিতেই হবে। একটা-দুটা চার-ছয় যদি হয়ে যায় তাহলে পরে আমার স্বাভাবিক খেলা খেলা যাবে।”
শেষ ৫ ওভারে ৩০ রান যোগ করতে শেষ পাঁচ হারায় বাংলাদেশ। ২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেটে জিতে ফাইনালে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের অধিনায়কের বিশ্বাস, স্কোর বোর্ডে আর ২০ রান যোগ করতে পারলে খেলার চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত।
কোয়ার্টার-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক জানান, সেই চাপ এড়াতে সেমি-ফাইনালে আগে ব্যাটিংয়ের লক্ষ্য ছিল তাদের। “উইকেট একটু মন্থর ছিল। এখানে আগে ব্যাটিং করলে ভালো …আসলে সব সময় চাপে খেলা ভালো হয় না। আজকেও চাপের মধ্যে ভালো করতে পারিনি। আমরা যদি আগে ব্যাট করে ২৪০/২৫০ রান করি তাহলে যে কোনো দলের জন্য আমাদের হারানো কঠিন হবে।”

মিরাজের ২০ রানের আক্ষেপ

শেষ পর্যন্ত হেরেই গেল বাংলাদেশ। স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছে সেমিফাইনাল খেলাটাই স্বান্তনা হয়ে থাকল যুব টাইগারদের। এদিন বাংলাদেশ বোলিং, ব্যাটিং ও ফিল্ডিং কোনো বিভাগেই ভালো খেলতে পারেনি। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষত তৈরি হয়েছে ব্যাটিংয়ে। আর ২০টি রান বেশি করতে পারলে হয়তো মেচের ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো বলে ভাবছেন দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘উইকেট একটু স্লো ছিল। আগে ব্যাটিং করলে ভালো। সিদ্ধান্ত হয়েছিল আমরা যদি আগে ব্যাটিং করে ২৪০-২৫০ রান তুলতে পারি, তাহলে আমাদের বিপক্ষে যে কোন দলের জিততে পারা মুশকিল। ওরকম টার্গেটই পেয়েছি। আমরা ২২৭ রান টার্গেট দিয়েছি। যদি আর ২০টা রান করতে পারতাম, তাহলে জিততেও পারতাম আমরা। বিশেষ করে আমি আর সাইফউদ্দিন আউট হওয়াতে শেষ ৫ ওভারে কম রান হয়েছে। এ জায়গাতেই আমাদের সমস্যা।’
তিনি সঙ্গে আরও যোগ করেন, ‘আমি যদি ফিনিশ করতে পারতাম, তাহলে ২৫০ রান হত। আমাদের ৫ ওভার বাকি ছিল। হাতে ছিল আরও ৬ উইকেট। রিক্স নিতেই হবে। একটা-দুটা রিক্স নিয়ে যদি চার-ছয় হয়ে যায়, তাহলে পরে আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলা যাবে। আমি আউট হওয়ার পরের বলেই সাইফউদ্দিন আউট হয়েছে। তখনই আমরা পিছিয়ে গেছি।’
তবে শুধু ব্যাটিংকেই দুষছেন না মিরাজ। তার মতে, বোলিং এবং ফিল্ডিংও এদিন ভালো হয়নি। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দারুণ খেলা স্পিনাররা এদিন সুবিধা করে উঠতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘আসলে স্পিনাররা কেউই ভালো বোলিং করিনি। স্পিনাররা যদি ভালো বোলিং করত, তাহলে ওরা এই রানও এই উইকেটে করতে পারত না। সবচেয়ে বড় কথা, শুরুতেই ওদের দুটো ব্যাটসম্যান অ্যাটাকিং খেলছে। যা ওদেরকে কাজে দিয়েছে। ওদের ওপর চাপ কমিয়ে দিয়েছে। তাদের জন্য ওটা অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

বড় তারকা মেহেদী হাসান মিরাজ

বড় মাপের ক্রিকেটাররা এমনই হয়। ছোটকাল থেকেই তারা নিজেদের প্রতিভা সবার সামনে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দলের সবচেয়ে বড় তারকা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলছে বাংলাদেশ। মুশফিক-সাকিবরা যা করতে পারেননি, তা-ই করে দেখিয়েছেন মিরাজ-শান্তরা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনাল খেলার সুবর্ণ সুযোগ তাদের সামনে।
বিগ সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আতিথেয়তা দেয় জুনিয়র টাইগাররা। যুদ্ধের প্রথম পর্বে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে। তবে শুরুতেই ব্যর্থ ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ৮৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর মাঠে নামেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। মাঠে নেমে যেন পুরো দলের দায়িত্ব নিজের ছোট্ট কাঁধে নেন মিরাজ। তার অসাধারণ ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২২৬। সর্বোচ্চ ৬০ রান আসে মিরাজের ব্যাট থেকেই।
পুরো টুর্নামেন্টেই অসাধারণ খেলে আসছেন মিরাজ। নিয়মিত রানের দেখা পাচ্ছেন। তবে আজ যেন তার ইনিংসটি অনন্য উচ্চতায় ঠাঁই পেল। বড় ম্যাচের বড় তারকা মিরাজ। বাংলাদেশ ফাইনালে যাক আর না-ই যাক মিরাজের ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন।
পঞ্চম উইকেটে জাকির হাসানকে নিয়ে ২৫ রানের জুটি গড়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে সাইফউদ্দিনের সঙ্গে ৮৫ রান যোগ করেন মিরাজ। যখন যেটা প্রয়োজন তখন সেটাই করেছেন। সিঙ্গেল, ডাবলস, বাউন্ডারিতে পরম মমতায় ৬০ রানের কার্যকরী ইনিংসটি খেলেন মিরাজ। ৭৪ বলে ৭ বাউন্ডারিতে এই ইনিংসটির ইতি টানেন ইনিংসের শেষ দিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষেও ৯৮ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পঞ্চম উইকেটে জাকির হোসেনের সঙ্গে ১১৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে সেমিতে তোলার বড় অবদান মিরাজেরই।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মিরাজের সংগ্রহ ৪ ইনিংসে ১৮৯ রান। গড় ৬৩.০০। শুধু ব্যাটিংয়ে নয় বল হাতেও দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেমিফাইনালের আগে ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। যুব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের দৌড়ে মিরাজ হতে পারেন অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী।

‘অনেক চাপ আজ জয় করেছি’

ব্যাট হাতে অপরাজিত ৬২ ও বল হাতে ২ উইকেট। এর থেকে ভালো একটি দিন হয়ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার সামার স্পিঙ্গার আর কোনো দিনও পাবেন না! নিজের সেরা দিনে তাই তিনি ম্যাচসেরা। বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের আত্মচিৎকারের দিন স্পিঙ্গার দেখিয়েছেন নিজের নাচ। যাকে তিনি বলছেন,‘চেস্ট রোল।’
যুব বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশ দাপট দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩ উইকেটে জিতেছে তারা। জয়ের নায়ক স্পিঙ্গার ম্যাচ শেষে জানালেন ম্যাচটি জয়ের জন্যে প্রচন্ড চাপ ছিল তার উপর। চাপ জয় করে নিজেকে চ্যাম্পিয়ন মনে করছেন তিনি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডানহাতি এ অলরাউন্ডার বলেন,‘আজকের ম্যাচে আমার উপর অনেক চাপ ছিল। কিন্তু আমি সে চাপ সামলে নিতে পেরেছি। ম্যাচের আগে প্রেরণাদায়ী বক্তৃতা শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। এখন মনে হচ্ছে আমি চ্যাম্পিয়ন। অনেক চাপ জয় করতে পেরেছি।’

নেপালকে হারিয়ে সপ্তম স্থান নামিবিয়ার

যুব বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচ জিতে আসরের সপ্তম স্থান নিশ্চিত করলো নামিবিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ফতুল্লায় প্লেট পর্বের ম্যাচে ২২৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে ১৫ রানের আক্ষেপে পুড়ে নেপালের যুবারা। আবহাওয়াজনিত কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য পাঁচ ওভার কমিয়ে দেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নামিবিয়ানরা নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২২৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ ‍দাঁড় করায়।
ওয়ানডাউনে নামা লোহান লরেন্স (৫৯) ও মাইকেল ভ্যান লিনগেন (৫৮) অর্ধশতক হাঁকান। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ফ্রানকয়েস রাতেনব্যাকের ব্যাট থেকে আসে ৩৯। নেপালিদের হয়ে লেগস্পিনার সন্দীপ লামিচানে তিনটি ও সাসিল কান্দেল দু’টি উইকেট লাভ করেন। একটি করে উইকেট নেন সুনীল ধামালা ও প্রেম তামাং।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এক উইকেটে ১০৪ রান তুলে শুরুটা ভালোই করে নেপাল অ-১৯ দল। কিন্তু ৯ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৪৪.২ ওভারে জয় থেকে ১৬ রান দূরে থাকতে অলআউট হয় নেপালিরা। ওপেনার সুনীল ধামালার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫৯ রান। এছাড়া জুগেন্দ্র কারকি ৩৫, আরিফ শেখ ৩০, দীপেন্দ্র সিং আইরি ৩১ ও প্রেম তামাং ৩২ রান করে আউট হন। নামিবিয়ানদের হয়ে একাই চারটি উইকেট দখল করেন মাইকেল ভ্যান লিনগেন। বাঁহাতি পেসার ফিটজ তিনটি ও বার্টন জ্যাকবস নেন দু’টি উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন চমৎকার অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখানো মাইকেল ভ্যান লিনগেন।

বাংলাদেশ পারল না

থেমে গেল দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যুব দলের স্বপ্নযাত্রা। প্রথমবার সেমি-ফাইনালে ওঠার সাফল্য দীর্ঘায়িত হলো না ফাইনাল পর্যন্ত। স্বাগতিকদের ৩ উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ২২৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। রান তাড়ায় শেষ দিকে চাপে পড়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে যায় ৮ বল বাকি থাকতে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠেছিল দিনেশ রামদিন, রবি রামপল, লেন্ডল সিমন্সদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে এলো ২০০৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে ইংল্যান্ডকে তিন বার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপে সেই ইংল্যান্ডের কাছেই হেরেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। এবার বিশ্বকাপের ঠিক আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ তে হারিয়েছিল মিরাজরা। সেমি-ফাইনালে হারতে হলো সেই দলের কাছেই।
গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার খুব কাছে চলে গিয়েছিল যে দলটি, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবাইকে চমকে দিয়ে উঠে গেল ফাইনালে। ম্যাচ জেতানো ইনিংস আর শেষের বাউন্ডারিতে দলকে ফাইনালে তুলে উল্লাসে মেতে উঠেন শামার স্প্রিঙ্গার, ডাগ আউট থেকে ছুটে আসে তার সব সতীর্থ। মাঠের নানা প্রান্তে মিরাজরা তখন হতাশায় নুইয়ে পড়েছেন। রোববার শিরোপার মঞ্চে স্বাগতিকেরা এখন শুধুই দর্শক। এর আগে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
টপ অর্ডারের আরেকটি ব্যর্থতায় শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের দিন। ক্যরিবিয়ান পেস তোপে তারা ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ১১৩ রানেই। খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। টুর্নামেন্টে তৃতীয় অর্ধশতক করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটিতে দলকে এনে দেন ২২৬ রানের পুঁজি। রানটা লড়াই করার মতোই, কিন্তু প্রথম ২৫ ওভারে বাজে বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের লাগাম নিতে পারেনি বাংলাদেশ। পরে নিজেদের শুধরে চেষ্টা করেছে ফেরার, কিন্তু ততক্ষণে হয়ে বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
কৃতিত্ব দিতে হবে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদেরও। ওপেনার গিডরন পোপের ঝড়ে ৫ ওভারেই ৪৫ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংস জুড়ে তাই কখনও রান রেটের চাপে পড়তে হয়নি ব্যাটসম্যানদের। বড় ম্যাচে মাঝারি সংগ্রহের চাপেই কিনা, টুর্নামেন্টে অসাধারণ ফিল্ডিং করা বাংলাদেশ সেমি-ফাইনালে হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে। ২৩ রানে পোপের সহজ ক্যাচ ছাড়েন সালেহ আহমেদ শাওন গাজী। প্রথম ওভারেই মিরাজকে দুটি চার ও একটি ছক্কায় শুরু করেন পোপ। ব্যক্তিগত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়টা বাংলাদেশ অধিনায়কেরই হয়। পোপকে (২৫ বলে ৩৮) বোল্ড করে খ্যাপাটে উদযাপনে মাতেন মিরাজ। এর আগেই অবশ্য টেভিন ইমলাখকে (১৪) ফিরিয়ে দলকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক।
সেই চাপটাকে পেয়ে বসতে দেয়নি ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা। কিস কার্টিকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার। বাংলাদেশের বোলারদের আলগা বোলিংকে কাজে লাগিয়ে দলের রান বাড়ান দুজন। বিস্ময়কর ভাবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাইফুদ্দিকে ১ ওভার করিয়ে আর বোলিংয়ে আনছিলেন না মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ২৮তম ওভারে বল হাতে পেয়ে সাইফুদ্দিনই ফেরান হেটমায়ারকে (৬০)।
শাওন গাজী পরে এক ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে জমিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচ। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান শামার স্প্রিঙ্গার। বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে প্রচণ্ড চাপের মাঝে ৬২ রানের অসাধারণ অপরাজিত ইনিংস, ম্যাচসেরায় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না স্প্রিঙ্গারের। ক্যারিবিয়ানদের জয়ের ভিত্তি অনেকটা গড়া হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই। ক্যারিবিয়ান পেসাররা নিজেদের পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিতে সময় নেননি একটুও। ম্যাচের প্রথম বলেই আলজারি জোসেফের বাউন্সার উড়ে যায় পিনাক ঘোষের মাথার ওপর দিয়ে। গতি আর আগ্রাসন দিয়ে টুর্নামেন্টের আলোচিত এই ফাস্ট বোলার প্রথম ওভারে ৫টিই করেন শর্ট বল। একটি শর্ট বলে হেলমেটে লাগিয়ে নাড়িয়ে দেন পিনাককে।
শর্ট বলে স্রোতে নড়বড়ে হয়েই কিনা, পিনাক আউট হন বাজে এক বলে। শেমার হোল্ডারের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বল পাঠিয়ে দেন থার্ডম্যানের হাতে! যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দেড়শ’ রানের ইনিংস খেলা একমাত্র ব্যাটসম্যান এই বিশ্বকাপের ৫ ম্যাচে ৩ বারই আউট হলেন শূন্য রানে! ব্যর্থতার বলয় থেকে বের হতে পারেননি আরেক ওপেনার সাইফ হাসানও। জোসেফের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে একটু দেরি করে ফেলেছিলেন, ধরা পড়েন শর্ট স্কয়ার লেগে (১০)।
জোড়া ধাক্কার পরও প্রথম ১০ ওভারে রান ছিল ২ উইকেটে ৪৮। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা শুরু! আগের ৪ ম্যাচে প্রথম ১০ ওভারে রান ছিল যথাক্রমে ৩৭, ১৯, ৩৮ ও ২১।
সকাল ৯টায় শুরু ম্যাচে প্রথম ১০ ওভার নিয়েই ছিল শঙ্কা। কিন্তু সে সময়টা মোটামুটি উতরে গিয়েও বাংলাদেশ গড়বড় করে পরে। একের পর এক ব্যাটসম্যান ফেরেন বাজে শটে। অফ-মিডলে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়ে আউট হন দলের সেরা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত (১১)। আরও একবার থিতু হয়েও উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন জয়রাজ শেখ (৩৫)। হোল্ডারকে ক্রস ব্যাটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্প হারান জাকির (২৪)। এরপরই মিরাজ-সাইফুদ্দিনের জুটি। প্রথম ৩০ ওভারে স্পিন আনেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বোলিং করান প্রথম চার পেসারকেই। আরেক পেসার কিমো পল ফিল্ডিংয়ে চোট পেয়ে ওই সময় বোলিং করতে না পারায় বিপাকে পড়েন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। স্পিন আক্রমণে আসায় স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান।
থিতু হওয়ার পর পেসারদের বিপক্ষেও দারুণ খেলেছেন দুজন। সিঙ্গেল-ডাবলস নেওয়ার ফাঁকে বাজে বলকে দিয়েছেন প্রাপ্য সাজা। চোট কাটিয়ে বল হাতে নিয়েই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থমকে দেন কিমো পল। ৪৬তম ওভারে পরপর দু বলে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়ে দেন এই মিডিয়াম পেসার। টুর্নামেন্টে তৃতীয় অর্ধশতকের পর শর্ট বল আকাশে উড়িয়ে ধরা পড়েন মিরাজ। পরের বলেই ডাউন দা উইকেটে খেলে লাইন মিস করে বোল্ড সাইফুদ্দিন (৩৬)। পরের ওভারে পল ফিরিয়ে দেন সাইদ সরকারকেও (২)। শেষ ২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২৬ রানে থমকে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বোলিং শক্তি বিবেচনায় রানটাকে তখন খারাপ মনে হয়নি। কে জানত, এই দিনটিতেই সবচেয়ে বিবর্ণ হয়ে উঠবে দলের বোলিং-ফিল্ডিং!

বাংলাদেশের সংগ্রহ ২২৬

মিরপুরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ৫০ ওভার শেষে সব উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান করেছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের এই ম্যাচে তারা মুখোমুখি হয়েছে ক্যারিবীয় যুবাদের। জয়ের জন্যে ২২৭ রানের টার্গেটে এখন ব্যাটিং শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবারা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সকালে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় যুব অধিনায়ক মেহদি হাসান মিরাজ। কুয়াশাভেজা সকালের মাঠে খেলতে নেমে এদিন ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও জয়রাজ শেখের ওপর ভর করে ভালোই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। তার উইকেটটি হারানোর পর অনেকটা সেট ব্যাটসম্যান জাকির হোসেনকে সাথে দলের হাল ধরেছিলেন অধিনায়ক মিরাজ নিজেই। দলীয় শতক রান পূরণ করার পর ২৮ ওভারের প্রথম বলে ২৪ রানে আউট হয়ে যান জাকির। এ উইকেটটি হারানোর পর মিডিলঅর্ডার ব্যাটসম্যান সাইফুদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিজে থেকে চাপ সামলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন মিরাজ। পাউলের বলে আউট হওয়ার আগে ৭৪ বলে তিনি করেছেন ৬০ রান। এটি দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ইনিংস। এরপর মুসাদ্দেক, মেহদি হাসান রানা আর সালেহ আহমেদ শাওন খেলেছেন নির্ধারিত ৫০ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত। এদিনের বাংলাদেশ ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটি হাঁকান শেষ ব্যাটসম্যান শাওন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবাদের পক্ষে কেমো পউল ২০ রানে নিয়েছেন ৩ টি উইকেট। এছাড়া ২ টি করে উইকেট নিয়েছেন হোল্ডার ও স্প্রিংগার। আর ১ টি করে উইকেট নিয়েছেন জোসেফ ও জন।

এদিকে দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে প্রথম উইকেট হারিয়েছিল বাংলার যুবারা। শূন্যরানে সাজঘরে ফিরে গেছে পিনাক ঘোষ। যার উইকেটি তুলে নিয়েছেন হোল্ডার। এরপর সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ১০ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন আর এক ওপেনার সাইফ হোসেন। ১২ ওভারের শেষ বলে ওয়ান ডাউনে নামা নাজমুল হাসান শান্ত ২৪ বলে ১১ রান করে জনের বলে আউট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। এখন পর্যন্ত দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর করা জয়রাজ শেখ আউট হয়েছেন ৩৫ রানে। আর তার সঙ্গে যোগ দেয়া জাকির হাসান ব্যক্তিগত ২৪ রানে আউট হয়ে ফিরে গেছেন সাজঘরে।

আজকের এই ম্যাচে জয় লাভ করলেই বাংলার যুবারা পৌঁছে যাবে স্বপ্নের ফাইনালে। আর সে লক্ষ্যেই ক্যারিবীয় যুবাদের বিপক্ষে ২২৭ রানে টার্গেট ছুড়ে দিয়েছে টাইগার যুবারা।

মিরাজের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি

ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের আত্মহত্যার মিছিলের মধ্যে মিডল অর্ডারে দারুণ ব্যাটিং করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দিলেন সাইফউদ্দিন। মিরাজের ৬০ আর সাইফউদ্দিনে ৩৬ রানের দুটি কার্যকরী ইনিংসে বাংলাদেশও তাই লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ২২৬ রান করেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের সামনে লক্ষ্য ২২৭ রান।

 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কুয়াশায় ঢাকা ছিল মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। এর মাঝেই সবাইকে কিছুটা অবাক করে দিয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচের আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ সামলানোই হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাটিংয়ে নেমে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে বাংলাদেশের উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান ব্যর্থই বলা যায়।

 

ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে গতিময় বোলার আলজারি জোসেপের একটি বাউন্সার বল পুল করতে গিয়েছিলেন পিনাক ঘোষ, কিন্তু ব্যাটে-বলে এক করতে পারেননি। বল সোজা আঘাত হানে পিনাকের হেলমেটে। মাঠে ফিজিরও থেকে সেবা-শুশ্রূষাও নিতে হয় তাকে।

 

পরের ওভারেই আরেক পেসার চেমার হোল্ডারের শর্ট বলে শট খেলতে গিয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন পিনাক। এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি এই বাঁহাতি। ভালো করতে পারেননি তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী সাইফ হাসানও। দলীয় ২৭ রানে জোসেপের বলে স্কয়ার লেগে গুলিকে ক্যাচ দেন সাইফ (১০)।

 

শুরুতেই উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ৩১ রানের বেশি স্থায়ী হয়নি এ জুটিও। আরেক পেসার রায়ান জনের বলে শিমরন হেটমায়ারকে ক্যাচ দেন শান্ত। এদিন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান।

 

৫৮ রানেই ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জাকির হাসানকে নিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন জয়রাজ। ধীরগতিতে রান তুললেও দুজন দলকে একটু একটু করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ৮৮ রানে পেসার শামার স্প্রিঙ্গারের একটি স্লোয়ার বল জয়রাজের ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়, বোল্ড। ৫৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৫ রান করেন জয়রাজ।

 

কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ২১২ রান তাড়া করতে নেমে ৯৮ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হাল ধরে দারুণ জয় এনে দিয়েছিলেন জাকির হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ জুটি। আজ সেমিফাইনালে ৮৮ রানেই ৪ উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন এই দুজন। কিন্তু এদিন আগে ব্যাটিং করতে নামা দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেনি এ জুটি। জাকিরের বিদায়ে ২৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। হোল্ডারের বলে বোল্ড হন জাকির (২৪)।

 

১১৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ভীষণ বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তবে ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মিরাজ। এই দুজনের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সাইফউদ্দিনের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়ে ফেরার সময় ৬০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন মিরাজ। তার ৭৪ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চারের মার।

 

মিরাজের বিদায়ের পরের বলে অবশ্য সাইফউদ্দিনও বিদায় নেন। তার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৩৬ রান। দুটি উইকেটই নেন কেমো পল। এরপর মোসাব্বেক হোসেনের ১৪ ও মেহেদী হাসান রানার ১০ রান শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশকে ২২৬ রানের লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।

 

বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম সেমিফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন এসেছে। বাঁহাতি স্পিনার আরিফুল ইসলাম জনির পরিবর্তে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন মোসাব্বেক হোসেন সান।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবাদের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশই ফেবারিট। সাম্প্রতিক সাফল্য আর ঘরের মাঠের সুবিধা-সব দিক দিয়েই এগিয়ে আছেন মেহেদীরা।

 

যুব ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ১৭ বার মুখোমুখি হয়ে ১২ বার জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯। যুব বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে বাংলাদেশই। তিনবার মুখোমুখি হয়ে দুবার জিতেছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া বিশ্বকাপের আগে তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে মেহেদীর দল।

 

আবারও ব্যর্থ উদ্বোধনী জুটি

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দারুণভাবে ব্যর্থ হয়ে আসছিল বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী জুটি। গ্রুপপর্ব ও কোয়ার্টার ফাইনাল পার হওয়ার পরও সেই একই সমস্যা রয়ে গেল বাংলাদেশ দলের। এদিনও ১০ রানেই ভেঙ্গে গেছে উদ্বোধনী জুটি।

সাধারণ বলের তুলনায় জোরে ছোড়া বল একটু বেশি ভালো খেলে বাংলাদেশ। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো খেলার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিলেন দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু সেমিফাইনালের ম্যাচেও শুরুতেই ভেঙ্গে পড়লো উদ্বোধনী জুটি।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পিনাক ঘোষ ১০ বল মোকাবেলা করে কন রান না করেই ফিরে গেছেন হোল্ডারের বলে। অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান ফিরেছেন ১৬ বলে ১০ রান করে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে তুমুল আলোচনায় থাকা জোসেফের বলে আউট হন তিনি।

এবারের আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রানের জুটি গড়তে পেরেছিল বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়ার বিপক্ষে ১ রান ও কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ১৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের দুই ওপেনার।

স্কটিশদের বিশাল ব্যবধানে হারালো আইরিশরা

আয়ারল্যান্ড যুবাদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না স্কটল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। যুব বিশ্বকাপের ১৩তম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে ৯৫ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আইরিশরা। ২৩৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ১৪০ রানেই গুটিয়ে গেছে স্কটিশদের ইনিংস।
বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন স্কটল্যান্ড অ-১৯ দলের অধিনায়ক নেইল ফ্ল্যাক। লোরকান টাকার ও উইলিয়াম ম্যাকক্লিন্টকের অর্ধশতকে ভর করে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় আইরিশরা।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আইরিশ যুবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একশ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে স্কটিশরা। শুরুর ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি তারা। কোনো ব্যাটসম্যানই দলের হাল ধরতে পারেননি। ৪৪ ওভার শেষে ১৪০ রানেই তাদের ইনিংস থেমে যায়। অধিনায়ক নেইল ফ্ল্যাক ও ররি জন্সটন দু’জনের ব্যাট থেকেই সর্বোচ্চ ১৯ রান করে আসে। বলা বাহুল্য, সম্মানজনক পরাজয় নিয়েও মাঠ ছাড়তে ব্যর্থ হলো স্কটল্যান্ড অ-১৯ দল।
আইরিশদের হয়ে ‍একাই চারটি উইকেট দখল করেন অফস্পিনার হ্যারি টেক্টর। তিনটি উইকেট নেন ফায়াচরা টাকার। ররি আন্দ্রেস দু’টি ও গ্যারি ম্যাকক্লিন্টক একটি উইকেট লাভ করেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে সাত উইকেট হারিয়ে ‍২৩৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় আয়ারল্যান্ড যুবারা। ১০৭ রানের জুটি গড়ে ৪৯তম ওভারের মাথায় আউট হন লোরকান টাকার (৫৯) ও উইলিয়াম ম্যাকক্লিন্টক (৪৫ বলে ৬৮)। এছাড়া দুই ওপেনার জ্যাক টেক্টর (১০) ও স্টিফেন ডোহেনি ৪৫ রান করেন। গ্যারি ম্যাকক্লিনটকের ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান।
স্কটিশদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট লাভ করেন ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ গাফফার। একটি করে উইকেট নেন রায়ান ব্রাউন, ইহতিশাম মালিক ও হারিস আসলাম ও ফিনলে ম্যাকক্রিথ। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন উইলিয়াম ম্যাকক্লিন্টক।

প্লে-অফ সেমিতে ইংলিশদের উড়ন্ত জয়

ইংল্যান্ড যুবাদের বোলিং তোপে ২৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৮৩ রানেই গুটিয়ে গেল নামিবিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ২০৩ রানের দাপুটে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার যুব বিশ্বকাপের পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে (১২ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ইংলিশরা।
বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে প্লে-অফ সেমিফাইনালে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামে নামিবিয়ার যুবারা। আবহওয়াজনিত কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য দুই ওভার কমিয়ে দেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। টম মুরস ও জ্যাক বার্নহামের ব্যাটে ভর করে ২৮৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় নামিবিয়ানরা। ইংলিশ বোলিংয়ের সামনেই দাঁড়াতেই পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২৫.২ ওভারে ৮৩ রানেই নামিবিয়ার ইনিংস থেমে যায়। সবোচ্চ ২৪ রান আসে চার নম্বরে নামা লোহান লোরেন্সের ব্যাট থেকে।
ইংলিশদের হয়ে দুই লেগস্পিনার ম্যাসন ক্রেন তিনটি ও ড্যান লরেন্স দু’টি উইকেট তুলে নেন। বাঁহাতি পেসার জর্জ গার্টন নেন দু’টি। একটি করে উইকেট লাভ করেন অফস্পিনার ব্র্যাড টেইলর ও পেসার সাকিব মাহমুদ।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় ইংলিশ যুবারা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৭০ রান তুলে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন জ্যাক বার্নহাম ও টম মুরস। ওয়ানডাউনে নামা বার্নহাম ১০৯ রানের চমৎকার ইনিংস উপহার দেন। তবে শতক থেকে ১৫ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মুরস। এছাড়া মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান স্যাম কারান ২২ ও অধিনায়ক ব্র্যাড টেইলর ২৩ রান করে আউট হন।
নামিবিয়ানদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট লাভ করেন বাঁহাতি পেসার ফিটজ কোয়েতজে। ডানহাতি মিডিয়াম পেসার বার্টন জ্যাকবস নেন দু’টি। একটি করে উইকেট নেন ওয়ারেন ভ্যান উইক, ক্রিস্টিয়ান অলিভার ও পেট্রাস বার্গার। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন জ্যাক বার্নহাম।

বেশি গতির বল খেলতেই পছন্দ মিরাজদের

বিশ্বজয় থেকে আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরে বাংলাদেশ। সেমিতে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত গতিতে বল করে বেশ নজর কেড়েছেন ক্যারিবিয়ান পেসাররা। তাই স্বপ্নের সামনে বড় বাঁধা ক্যারিবিয়ান পেসাররাই। কিন্তু বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ জানালেন অন্য কথা। বেশি গতির বল খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাই সেমিতে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছেন অধিনায়ক।
বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমাদের কাছে বেশি গতির বল খেলতে ভালো লাগে। কম গতির বল খেললে মিস টাইমিংয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে। বেশি গতির বোলারদের বিপক্ষে খেলতে আমরা সব সময় আত্মবিশ্বাসী থাকি। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলে এসেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলেছি। আমাদের ব্যাটসম্যান যারা আছে তারা বেশি গতির বোলারদের বল খেলতে পছন্দ করে। টুর্নামেন্টে আমরা ৪টি ম্যাচ খেলেছি ওইরকম গতির কোন বোলার ছিলো না। এই জন্য আমাদের ওপেনারদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আশা করি কালকের ম্যাচটা অনেক ভালো খেলবে সবাই।’
পেস বল খেলতে পছন্দ করলেও প্রতিপক্ষকে স্পিন দিয়েই ঘায়েল করবেন বলে জানান মিরাজ। তার মতে বাংলাদেশের স্পিনাররাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দলে বেশ ভালো স্পিনার আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের সম্পর্কে জানি তারা কি করতে পারে। আমরা আমাদের স্পিনাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমার কাছে মনে হয়, স্পিনাররা ভালো বোলিং করলে ওরা দাঁড়াতে পারবে না।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনালের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৯৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত।

সেমিফাইনালের ভাবনা নেই মিরাজদের!

নতুন স্বপ্নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশের যুবারা। প্রথমবারের মত সেমিফাইনালে খেললেও এটা নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করছেন না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়রা। কারণ, সেমিফাইনাল কিংবা বড় ম্যাচ- এসব নিয়ে ভাবলেই বাড়তি চাপে পড়ে যাবেন বলে জানালেন দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তাই সাধারণ অন্য ম্যাচের মত এ ম্যাচকেও ভাবছেন তারা। তবে ভাবনায় যাই থাকুক জিততে হবে, এটাই মূল লক্ষ্য বলে জানালেন মিরাজ।
প্রথমবারেরমত সেমিফাইনালে খেলতে পারায় রোমাঞ্চ, উত্তেজনা নাকি চাপ- কোনটা কাজ করে? জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, ‘এগুলোর কোনটাই আসলে বেশি না। কারণ আসলে আমরা যদি এখানে খুশি থাকি, তাহলে এখানেই শেষ করতে হবে। আমরা কিন্তু খুশি না। আমাদের লক্ষ্য একটি একটি করে ম্যাচ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্যার (বাবুল) একটা কথাই বলেছে, আমরা প্রতিদিন একটা করে ম্যাচ খেলবো আর একটা করে জিতবো। এখন অবস্থানটা আমাদের কাছে এমন যে, সেমিফাইনালে উঠেছি; এই সেমিফাইনাল বিষয়টা নিয়ে আমরা কেউ চিন্তাই করছি না। আমাদের মাথার ভেতর কাজ করছে না। আমার চিন্তা কালকে একটা ম্যাচ ওটা আমাদের জিততে হবে। তারপরও সামনে যা হবার হবে… নো প্রবলেম!’
নিজেরা সেমিফাইনাল নিয়ে না ভাবলেও বাহির থেকে কোন চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তা নাকচ করে দেন মিরাজ। এ প্রসঙ্গে বুধবার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি তখন আসলে পরিবার, দর্শকদের কথাও চিন্তা করি না। বাইরের কোন চিন্তাও মাথায় ঢুকে না। তখন একটা চিন্তা থাকে, বলটা আসছে কিভাবে ভালো খেলবো। কিভাবে রান করতে হবে। কিভাবে উইকেট নিতে হবে। এটাই চিন্তাই করি।’
পরিবার থেকে কোন চাপ আছে কি না জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, ‘আমার পরিবার সেভাবে খেলা বোঝে না। তারা শুধু দেখে রান করেছি কি না কিংবা উইকেট পেয়েছি কি না। এটা হলেই বাবা-মা খুশি। তারা এটাই ভালো বোঝে। ওই রকম কোন চাপও দেয় না। অবশ্যই পরিবার চায় ভালো কিছু হোক। আমাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ খুব কম হয়। আমরা তাদের সঙ্গে অল্প কিছুক্ষন কথা বলি। কারণ আমাদের এখন ক্রিকেট নিয়ে ফোকাস করতে হয়। আমাদরে সামনে দুটি ম্যাচ আছে। বাবা-মা একটা কথাই বলে, তোমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করো, খারাপ হলে মন খারাপ করো না। সামনে হবে ইনশাল্লাহ।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলংকাকে ৯৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত।

সাফল্য যাত্রায় মিরাজদের অনুপ্রেরণা মাশরাফিরা

গত বছর আন্তর্জাতিক আঙিনায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাফল্য দারুণ অনুপ্রাণিত করে চলেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে। দলের টেকনিক্যাল উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট ল জানাচ্ছেন, বড়দের মতোই দারুণ কিছু করতে চায় যুবারা। একটা জায়গায় এর মধ্যেই বড়দের ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশে যুবারা। অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে হেরেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। আর যুব বিশ্বকাপে মেহেদি হাসান মিরাজের দল উঠে গেছে সেমি-ফাইনালে। তবে বাস্তবতার বিচারে দুটির তুলনা কঠিন। মিরাজদের কাছে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ই প্রত্যাশিত।
কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য থেকে আর মাত্র দুটি ম্যাচ জয়ের দূরত্বে বাংলাদেশের যুবারা। বৃহস্পতিবার সেমি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মঙ্গলবার বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলণ শেষে স্টুয়ার্ট ল জানালেন, সাফল্যের পথে মিরাজদের এগিয়ে চলায় নিরন্তর অনুপ্রেরণা মাশরাফিদের সাফল্য।
“গত দুই সপ্তাহে ছেলেরা সামনে এগিয়ে চলার পথে অনেক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সেটার পথে ওদের অনুপ্রেরণা ছিল জাতীয় দলের সত্যিকারের সাফল্য। তরুণ টাইগাররা ওদের নায়কদের মতোই সাফল্য পেতে চায়। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে লক্ষ্য পূরণে, আমরা খুব সতর্ক পদপেক্ষপে এগোচ্ছি।”
সেমি-ফাইনালে উঠতে পারাই অবশ্য যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবসময়ের সেরা সাফল্য। আগের ম্যাচগুলোয় দল যেভাবে খেলেছে, তাতে দারুণ সন্তুষ্ট টেকনিক্যাল উপদেষ্টা।
“ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি দারুণ গর্বিত। আমি এখানে আসার আগে থেকেই দল কঠোর পরিশ্রম করে আসছে, দুবছর ধরে দলটাকে গড়ে তুলেছে কোচিং স্টাফরা, ছেলেদেরকে প্রস্তুত করতে তারা সবসময় চেষ্টা করে আসছে। ছেলেরা যে ক্রিকেট খেলেছে, সেটা গর্ব করার মতই।”

‘চাপ উপভোগ করে বাংলাদেশ’

ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে বাংলাদেশ দল খেলা উপভোগ করে বলে জানিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের মতে, চাপে পড়লে সেরাটা বের হয়ে আসে তাদের।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে লক্ষ্য তাড়া করার সময় চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মিরাজ-জাকির হাসানের দৃঢ়তায় ৬ উইকেটের দারুণ এক জয় পায় স্বাগতিকরা। Bangladesh_Practice
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ বলেন, “আমাদের দলের ভেতর একটি বিশ্বাস আছে, যে কোনো পরিস্থিতিতে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমরা কখনও নেতিবাচক চিন্তা করি না। শেষ ম্যাচটায় যেমন পরিস্থিতিতে আমি ব্যাটিং করেছি, ওই পরিস্থিতিতে আমি খেলতে পছন্দ করি এবং উপভোগ করি।”
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে গত দুই বছরে অনেক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। অলরাউন্ডার মিরাজ মনে করেন, সেই অভিজ্ঞতাই কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের এগিয়ে রাখে। “শ্রীলঙ্কায় আমরা পরপর দুই ম্যাচে হেরেছিলাম। এরপর টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতেছিলাম। ওইসব কন্ডিশনে গিয়ে আমরা চাপ নেওয়া শিখেছি। ওগুলো এখন আমাদের কাজে লাগছে।”

প্লেট ফাইনালে আফগানিস্তান

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের প্লেট ফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান। মঙ্গলবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম অ্যাকাডেমি মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে আফগান যুবারা।
প্রথমে ব্যাট করে ৪৪ ওভার ৫ বলে ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। আগামী শুক্রবার প্লেট ফাইনালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলবে আফগানিস্তান।
টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। সপ্তম উইকেট জুটিতে ক্লার্কসনকে নিয়ে ৩১ রানের জুটি গড়েন অনিকেত পরিখ। অষ্টম উইকেট জুটিতে নাথান স্মিথকে নিয়ে আরো ৫৭ রানের জুটি গড়ে দলীয় স্কোরটাকে ১৩৫ রানে নিয়ে যান অনিকেত।
জবাবে শুরুতেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান করিম জানাতকে হারালেও তারিক স্ট্যানিকজাইয়ের ৫০ ও এহসানুল্লাহর ৪৭ রানে ভর করে ৮ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় আফগানরা। এদিকে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ সেমিফাইনালে নেপালকে ১২২ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৫৮ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ৪৩ ওভার ৫ বলে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় নেপাল। হাসান মহসিনের ১০৬ বলে ১১৭ ও সাইফ বদরের ৮৮ রানে ভর করে ২৫৮ রান তোলে পাকিস্তান। ৫৩ রানে তিন উইকেট নেন সন্দিপ লামিছানে।
জবাবে ২৯ রানেই প্রথম পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে নেপাল। প্রেম তামাংয়ের ৬৫ রানের কল্যানে টেনেটুনে ১৩৬ রান সংগ্রহ করে নেপাল। বল হাতেও সফল ছিলেন মহসিন। ৪ উইকেট নিঢে নেপালি ব্যাটিং লাইন আপ গুড়িয়ে দেন ম্যাচ সেরা এই অলরাউন্ডার।

শ্রীলংকাকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত

ফেভারিটের মতই টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ভারত। ফেভারিট হওয়ার মর্যাদাও রক্ষা করে ফেলল রাহুল দ্রাবিড়ের অভিভাবকত্বে থাকা দলটি। সেমিফাইনালে শ্রীলংকার অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে ৯৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেলো ভারতের অনুর্ধ্ব-১৯ দল।
মিরপুর শেরে-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা ভারতীয় যু্ব দল ৯ উইকেট হারিয়ে শ্রীলংকার সামনে ২৬৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪২.৪ ওভারে ১৭০ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলংকার যুবারা।
অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। অপরদিকে শ্রীলংকা এখনও কোন শিরোপা জিততে পারেনি। এমনই এক সমীকরণকে সামনে রেখে ভারতীয়দের মুখোমুখি হয় লংকানরা। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকালে টস জিতে প্রথমে ভারতকেই ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় শ্রীলংকা অধিনায়ক চারিথ আশালঙ্কা।
ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কিন্তু বিপদে পড়ে ভারত। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা রিসবাহ পান্তে আউট হয়ে যান দলীয় ২৩ রানে। দলীয় ২৭ রানে, ব্যাক্তিগত ৭ রানে আউট হয়ে যান ইশান-কিশান। ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ভারতকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন আমলপ্রিত সিং এবং সরফরাজ খান। দু’জন মিলে ৯৬ রানের জুটি গড়েন।
এ সময় আউট হয়ে যান সরফরাজ খান, ৭১ বলে ৫৯ রান করে। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে আরও ৭০ রানের জুটি গড়েন আমলপ্রিত সিং। দলীয় ১৯৩ রানে ৭২ রান করে আউটন হন আমলপ্রিত। ওয়াশিংটন সুন্দর করেন ৪৫ বলে ৪৩ রান।
আরমান জাফর করেন ২৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬৭ রান। শ্রীলংকান বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিলেন আসিথা ফার্নান্দো। ৪৩ রান দিয়ে তিনি নেন ৪ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন লাহিরু কুমারা এবং থিলান নিমেশ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই দারুন বিপদে লংকান ব্যাটসম্যানরা। ১৩ রানের মধ্যে ২ উইকেট, ৪২ রানে ৩টি, ৯১ রানে হারায় ৪ উইকেট। এভাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর মধ্যেই থাকে লংকান ব্যাটসম্যানরা। যে কারণে ৪২.৪ ওভার শেষে ১৭০ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলংকা।
সর্বেচ্চি ৩৯ রান করেন কামিন্দু মেন্ডিস। ৩৮ রান করেন শাম্মু আশান। ২৮ রান করেন ভিসাদ চন্ডিকা। ২৪ রান করেন দামিথা সিলভা। ১৪ ফেব্রুয়ারি, রোববার ফাইনালে বাংলাদেশ কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে ভারত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসে চ্যালেঞ্জ দেখছেন শান্ত

ফাইনালে ওঠার পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিংকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার লিগ সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। সেই ম্যাচে অতিথিদের পেস আক্রমণকে সামলানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শান্ত।

“ওদের পেসাররা শেষ কয়েক দিন ধরে খুব ভালো বল করছে। তবে আমরা শেষ কিছু দিন পেসের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করেছি। সেমি-ফাইনাল এমন একটি জায়গা এখানে যারা ভালো করবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকবে তারাই জিতবে।”

অলরাউন্ডারসহ পাঁচ পেসারে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণের নেতৃত্বে আছেন আলঝারি জোসেফ। ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার বেগে বল করে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন দীর্ঘদেহী এই পেসার।

নতুন বলের আরেক বোলার চেমার হোল্ডার কোয়ার্টার-ফাইনালে পাকিস্তানকে হারানোর নায়ক। উইকেট থেকে একটু সহায়তা পেলে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন এই পেসার। অন্য তিন পেসার শামার স্প্রিঙ্গার, রায়ান জন ও কেমো পলের সামর্থ্য আছে জোসেফ-হোল্ডারকে সহায়তা দিয়ে যাওয়ার।

কোয়ার্টার-ফাইনালে ফতুল্লার উইকেটে সুবিধা পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা। মিরপুরে সেই সুবিধা ততটা পাওয়ার কথা নয়। শান্ত জানান, তবে এই সব নিয়ে মোটেও ভাবছেন না তারা।

“আমরা প্রথম থেকে জয়ের পথে আছি। তাই আমরা সবাই ফুরফুরে মেজাজে আছি। পরিস্থিতি যাই হোক ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস আমাদের আছে।”

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশের লক্ষ্য ধাপে ধাপে এগোনো। টানা চার ম্যাচ জেতা বাংলাদেশ এখন ফাইনাল থেকে এক ম্যাচ দূরে। শান্ত জানান, এখন তাদের ভাবনা জুড়ে কেবল সেমি-ফাইনাল।

“আমাদের ইচ্ছে আছে ফাইনালে খেলার। সবারই আছে। তবে এই মুহূর্তে আমরা ফাইনাল নিয়ে চিন্তা করছি না। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছি। ফাইনালে কে আসবে না আসবে; কি হবে না হবে, এগুলো নিয়ে চিন্তা করছি না।”

সেমিফাইনালে লড়াই হবে মনোবল ও মানসিকতার

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্পিন অলরাউন্ডার নাজমুল হাসান শান্ত মনে করেন যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মনোবল ও মানসিকতার লড়াই হবে।

ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নিজেদেরকে এগিয়ে রাখলেও বড় ম্যাচের চাপ সামলে নিতে পারলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত ফাইনাল খেলতে পারবে বলে বিশ্বাস শান্তর।

মঙ্গলবার মিরপুরের একাডেমি মাঠে প্রায় আড়াই ঘন্টা অনুশীলন করে বাংলাদেশ। অনুশীলন শেষে নাজমুল হোসেন শান্ত গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন,‘সেমিফাইনালের মত একটি জায়গায় যে ভালো করবে। মানসিকভাবে যারা শক্ত থাকবে তারাই জিতবে। মনোবল ঠিক রাখতে হবে। ম্যাচে সঠিক পরিকল্পনা করে এগুতে হবে।’

আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি যুব বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ প্রথমবারের মত সেমিফাইনালে খেলবে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর আগেও ফাইনালেও উঠেছিল। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০০৪ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিতে উঠেছে যুব ক্যারিবীয়ানরা। তবে এ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বকাপের আগে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রস্তুতিটা ভালোই সেরেছিল বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপের ম্যাচ আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ দুটোই আলাদা তা খুব ভালো করে বুঝিয়েছেন শান্ত।

‘আগে জিতেছি বলে রিল্যাক্সের কোনো সুযোগ নেই এখানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোক, ভারত হোক আর নেপালই হোক এটা সেমিফাইনাল ম্যাচ। আমাদের আত্মবিশ্বাস আগের মতই। বেশিও নেই, কমও নেই। বড় ম্যাচ তাই আমাদেরকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। আমরা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ম্যাচ জিতছি। আমরা সবাই ফুরফুরে মেজাজে আছি।’

সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই পেল বাংলাদেশ

আগের দিনই বাংলাদেশ যুব দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাকির হাসান বলেছিলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চান তিনি। তার চাওয়াটাই পূর্ণ হলো।

 

সোমবার শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে খেলবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

 

সোমবার ফতুল্লায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ২১ রানের মধ্যেই তারা ওপরের দিকের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায়। এরপর ৪০ রানে চতুর্থ ও ৫৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে। তবে ষষ্ঠ উইকেটে উমাইর মাসুদ ও সালমান ফায়াজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান।

 

মাসুদ ও ফায়াজ মিলে ১৬৪ রানের বিশাল এক জুটি গড়েন। ইনিংসের শেষ ওভারে ফেরার আগে ১১৪ বলে ১১৩ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন মাসুদ। তার সেঞ্চুরির সঙ্গে ফায়াজের অপরাজিত ৫৮ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২৭ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান।

 

২২৮ রান তাড়া করতে নেমে ১৫.১ ওভারেই ১ উইকেটে ১০০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা জয়ও তুলে নেয় ৬০ বল হাতে রেখেই।

 

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন টেভিন ইমলাখ। এ ছাড়া শিমরন হায়াত ৫২, শামার স্প্রিঙ্গার ৩৭, গিডরন পোপ ২৫, জেড গুডলি অপরাজিত ২৬ ও কেমো পল অপরাজিত ২৪ রান করে দলের জয়ে অবদান রাখেন। হেরেও ম্যাচসেরা হয়েছেন পাকিস্তানের সেঞ্চুরিয়ান মাসুদ।

 

শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় পাকিস্তানের

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আজ চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবদল। এই ম্যাচে বিজয়ী দল সেমি ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ যুবদলের।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সোমবার সকালে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়েছে তারা। দলীয় রান ২১ সংগ্রহ করতেই তারা উইকেট হারিয়েছে ৩টি। আর সবাই একের ঘরে থেকেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। এরপর সাইফ বদর ও হাসান মহসিন জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও বিফল হন। সাইফ বদরকে ১০ রানে সাজঘরে পাঠিয়েছেন স্প্রিঞ্জার। এ প্রতিবেদন লেখা অবধি পাকিস্তান স্কোর বোর্ডে জমা করেছে ১৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন হোল্ডর এবং একটি করে উইকেট নিয়েছেন জোসেফ ও স্প্রিঞ্জার।

প্রসঙ্গত, আগের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা তাদের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। সেমিতে ভারতের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। আর আজকের ম্যাচে বিজয়ী দল হবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।

অ-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে থাকবেন আইসিসি সভাপতি

অনূর্ধ্ব- ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন আইসিসি সভাপতি জহির আব্বাস। রবিবার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে মধ্যহৃভোজে বিসিবি সভাপতি।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে মধ্যহৃভোজে অংশ নেন বিসিবি সভাপতি। সেখানেই এ কথা জানান তিনি। তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী আইসিসি সভাপতি চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি।
এসময় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলকে প্রশংসায় ভাসান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সংবাদ মাধ্যমকে নাজমুল হাসান বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দিকে আমরা অনেক বেশী মনযোগী এবং সেটি বিশ্বকাপ শুরুর বেশ আগে থেকেই ছিল। এবার তাদের পারফরম্যান্স, স্কিল, ফিটনেস, টেকনিক আগের যে কোনওবারের দলের চেয়ে ভালো। দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। তারা সেমিফাইনালেও পৌঁছে গেছে। এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ও ভারতই ফেভারিট দল।’
সামনের ম্যাচগুলোতে কৌশল কেমন থাকতে পারে এমন প্রশ্নে পাপন বলেন, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ মাথায় রেখে আমাদের সামনে যেতে হবে। তাহলেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। পরের ম্যাচ সেমিফাইনাল, এখানে জয় পাওয়া আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জিতলেই প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলবো আমরা। যেটা হবে অনেক বড় একটি ব্যাপার।’

আত্মবিশ্বাস ফিরেছে জাকিরের

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মিডল অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশের যাও একটু দুর্ভাবনা ছিল, তা মিলিয়ে গেছে জাকির হাসান রানে ফেরায়। গত শুক্রবারের নেপাল ম্যাচ জাকিরের জন্য বড় একটা পরীক্ষা ছিল। দলকে জয় এনে দিয়ে তাতে ভালোভাবেই উতরে গেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনের পর জাকির সংবাদ সম্মেলনে জানান, শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিলেন তিনি।
“ম্যাচের আগে ৬-৭ দিন ধরে নেটে আমি খুব ভালো ব্যাট করছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও ভালো খেলেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছিলাম। আত্মবিশ্বাস তাই কিছুটা ফেরত পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমি পারব।”
ঠিকই পেরেছেন জাকির, অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসে রেখেছেন সামর্থ্যের প্রমাণ। সেই ইনিংসে পুরোপুরি ফিরে পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত সেদিন দ্রুত ফেরার পর দলকে পথ দেখান তিনি।
“আসলে আমাদের পরিকল্পনাই ছিল যে ডানহাতি-বাঁহাতি জুটি থাকবে উইকেটে। শান্ত আউট হলে এমনিতে আমারই নামার কথা। আমি উইকেটে গিয়ে বেশি মনোযোগী ছিলাম; আজকে দ্রুত উইকেট পড়ে গেছে, আমাকে শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে। আমার মনে হয়েছে, আমাকে ভালো খেলতেই হবে।”
অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১১৭ রানের জুটিতে দলকে ৬ উইকেটের জয় এনে দেন জাকির। এই জয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পৌঁছায় যুব বিশ্বকাপের শেষ চারে।
“আমাদের তখন পরিকল্পনা ছিল যে, আগে দেড়শ’ রান পর্যন্ত করব। তারপর পরিস্থিতি বুঝে এগোবো। মাঠ অনেক বড় ছিল, প্রতি ওভারেই চার-পাঁচ করে আসছিল। বড় শট খেলার দরকারই ছিল না। ওদের থ্রোয়িং আর্ম বেশি শক্তিশালী ছিল না। দুই রান নিতে গিয়ে কোনো ঝুঁকি ছিল না, সহজেই আসছিল। ৪-৬ মারার দরকার ছিল না, পরিকল্পনাই ছিল ১-২ করে খেলার।
জাকিরের খেলার ধরনটাই এমন। সময় নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন, “আমি সবসময়ই এভাবে খেলি। গিয়েই শট খেলতে পারি না, আগে সেট হই। টি-টোয়েন্টি, আইপিএল, বিপিএল নিয়ে ভাবছি না। এই পর্যায়ে আছি, এটা নিয়েই ভাবছি। খেলতে খেলতে আরও শট আসবে হাতে। আরও প্র্যাকটিস করতে হবে, আরও উন্নতি করতে হবে।”
কতটা উন্নতি করতে হবে সেটাও জানা আছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জাকিরের। কিপিংয়ে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা আর ব্যাটিংয়ে মুমিনুল হককে আদর্শ মানা ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের চোখে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন।

ইংল্যান্ডকে পাত্তা না দিয়ে সেমিতে শ্রীলঙ্কা

[spacer height=”20px”]বল হাতে ইংলিশ টপ অর্ডার কাঁপিয়ে দিলেন আসিথা ফার্নান্দো। ব্যাট হাতে ইংলিশ বোলারদের গুড়িয়ে দিলেন আভিশকা ফার্নান্দো। দুই ফার্নান্দোর নৈপুণ্যে শ্রীলঙ্কা পৌঁছে গেল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৪৯.২ ওভারে ১৮৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। লঙ্কানরা লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ৮৬ বল বাকি রেখেই। সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা সামনে পাচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ফেভারিট দল ভারতকে।[spacer height=”20px”]
দলের দারুণ এই জয়ের আনন্দেও খানিকটা আক্ষেপ থাকতে পারে কেবল আভিশকা ফার্নান্দোর, আউট হয়েছেন সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে। তার জন্য সান্ত্বনা হয়ে এসেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। গ্রুপ পর্বে দারুণ দাপট দেখিয়েছিল ইংলিশ ব্যটিং লাইন আপ, টুর্নামেন্টের শীর্ষ দুই রান সংগ্রহকারী ইংল্যান্ডেরই জ্যাক বার্নহ্যাম ও ডেভিড লরেন্স। কিন্তু চট্টগ্রামের ব্যাটিং উইকেট থেকে মিরপুরের মন্থর উইকেটে আসতেই আটকে গেল ইংলিশদের রান-রথ।
ইংল্যান্ডের দুই ওপেনারকেই ফেরান পেসার আসিথা ফার্নান্দো। টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান লরেন্স (৯) ধীরগতির উইকেটে শট খেলতে গিয়ে বল টেনে আনেন স্টাম্পে। ম্যাক্স হোল্ডেন (৮) ধরা পড়েন স্লিপে। শুরুর এই ধাক্কার পর ইংলিশদের আর দাঁড়াতেই দেয়নি লঙ্কান স্পিনাররা। টুর্নামেন্টে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বার্নহ্যাম তিনশ’ রান স্পর্শ করার পর তাকে ফেরান ভানিদু হাসারাঙ্গা। এই লেগ স্পিনার পরে নিয়েছেন আরও ২ উইকেট। একপ্রান্তে ভরসা হয়ে থাকা ক্যালাম টেলর (৪২) ধরা পড়েন লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কার স্পিন ফাঁদে। শেষের দিকে বেন গ্রিন (২৬) ও অধিনায়ক ব্র্যাড টেলরের (২২) ব্যাটে কোনোরকমে ১৮০ ছাড়ায় ইংল্যান্ড।
লঙ্কানদের উদ্বোধনী জুটিই শেষ করে দেয় ইংলিশদের লড়াইয়ের আশা। ক্যাভিন বান্দারাকে (২২) নিয়ে নিয়ে ৭৬ রানের জুটি গড়েন আভিশকা। তৃতীয় উইকেটে আভিশকা ও আসালাঙ্কার জুটি ৬৯ রানের। ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯৫ রান করে আভিশকা আউট হন ইংলিশ পেসার সকিব মাহমুদের স্লোয়ারে। অধিনায়ক আসালাঙ্কা করেছেন ৩৪। আগামী মঙ্গলবার মিরপুরেই প্রথম সেমি-ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।

সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চায় বাংলাদেশ

রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। যুব বিশ্বকাপে তো বটেই; ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার নজির এটাই প্রথম। কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।

 

সোমবার শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের পরই জানা যাবে, সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গী কে হচ্ছে। তবে শেষ চারে প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এমনটাই জানালেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাকির হাসান।

 

রোববার অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমকে জাকির বলেন, ‘অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেলে খুশি হব। ওদেরকে আমরা ৩ ম্যাচে হারিয়েছি, শক্তিতে এগিয়ে আছি। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেলেই বেশি খুশি হব।’

গ্রুপপর্বে তিন ম্যাচের দুটিতে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন জাকির। অবশ্য একটা বলতে হবে। কারণ এক ম্যাচে তিনি বলই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র একটি, অপরাজিত ছিলেন শূন্য রানে। আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছিলেন ১৯ রান। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে অপরাজিত ৭৫ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জাকির। রানে ফিরে তাই ভীষণ স্বস্তিতে এই ডানহাতি।

রানে ফেরার কারণ বলতে গিয়ে জাকির বলেন, ‘ম্যাচের আগে ৬-৭ দিন ধরে নেটে আমি খুব ভালো ব্যাট করছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও ভালো খেলেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছিলাম। আত্মবিশ্বাস তাই কিছুটা ফেরত পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি পারব।’

নেপালের বিপক্ষে প্রথম ৫৯ বলে ৩৬ রান করেছিলেন জাকির। তবে পরের ১৮ বলে যোগ করেন আরো ৩৯ রান। নিজের খেলার ধরন নিয়ে জাকির বলেন, ‘আমি সব সময় এভাবেই খেলি। গিয়েই শট খেলতে পারি না। আগে সেট হই, সময় নিয়ে খেলি।’

শেষ আটের ওই ম্যাচে এক সময় ৯৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক মিরাজের সঙ্গে ১১৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন জাকির।

ওই ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমি উইকেটে যাওয়ার পর চিন্তা করেছি, আমাকে শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে। তখন আমাদের পরিকল্পনা ছিল কমপক্ষে দেড় শ’ রান পর্যন্ত করব। তারপর পরিস্থিতি বুঝে এগোব। মাঠ অনেক বড় ছিল, প্রতি ওভারেই চার-পাঁচ রান করে আসছিল। বড় শট খেলার দরকারই ছিল না।’

 

আড্ডা দিয়ে সময় কাটালো জুনিয়র টাইগাররা

আগের দিন নেপালকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তাইতো শনিবার পুরো অবসরে কাটিয়েছে জুনিয়র টাইগাররা। দিনভর ছোট ছোট আড্ডায় কেটে গেছে সময়গুলো।
আগের রাতেই অবশ্য পুরো টিম ম্যানেজম্যান্ট এক সঙ্গে ডিনার করেছে। সেমিফাইনালে উঠার আনন্দ ভাগাভাগি করেছে। শনিবার রাতে এক সঙ্গে ডিনার করবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল।
তবে শনিবার বিশ্রামে কাটালেও রবিবার থেকে অনুশীলনে নেমে পড়বে বাংলাদেশের যুবারা। এদিন সকাল ৯টায় মিরপুরের একাডেমিতে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। যদিও ব্যাট-বলের অনুশীলন হচ্ছে না এদিন। ওয়ার্মআপ ছাড়াও জিম সেশনে অংশ নেবে ক্রিকেটাররা।
দলের ম্যানেজার সাজ্জাদ আহমেদ শিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা সবাই আজকে খুব ভালো সময় কাটিয়েছে। সবার মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। রবিবার থেকে ছেলেরা তাদের পরবর্তী মিশনের জন্য প্রস্তুতি নিবে। আজকের দিনটি তাই তারা ক্রিকেট ছাড়া কাটিয়েছে। এমন একটি জয়ের পর এটা আসলে প্রয়োজন ছিল।’
উল্লেখ্য, ১১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সেমিফাইনালে তারা পাকিস্তান কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

নামিবিয়াকে উড়িয়ে সেমিতে ভারত

প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের পাওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ যেহেতু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো, সেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকাই ছিল বাকি অপশন; কিন্তু যুব বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা চরম হতাশ করে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। সুযোগে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো নামিবিয়া। ভারতের জন্য সেমি ফাইনালে ওঠাটাই যেন খুব সহজ করে দিল গ্রুপ পর্ব। কারণ, দু’দলের মধ্যে যে জোযন জোযন দুরত্ব!

মাঠের খেলায়ও সেটা প্রমাণ হলো। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে নামিবিয়াকে রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় যুবারা নামিবিয়ার সামনে ৩৪৯ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৯ ওভারে ১৫২ রানেই শেষ হয়ে যায় নামিবিয়ার ইনিংস। ফলে ১৯৭ রানে নামিবিয়ান যুবাদের হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেললো ভারতীয় যুবারা।

ভারতের দেয়া ৩৪৯ রান তাড়া করতে নেমে লোফটি ইটন এবং নিকো ডাভিন মিলে ভালোই সূচনা এনে দিয়েছিল নামিবিয়াকে। দুই ওপেনার মিলে ৫৯ রান তোলেন ৯.৩ ওভারেই। নামিবিয়ার প্রত্যাশার মাত্রা শেষ হয়েছিল সেখানেই। দলীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে নিকো ডাভিন আউট হওয়ার পরই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নামিবিয়ার ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক জেন গ্রিন নেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান। জার্গেন লিন্ডে করেন ২৫ রান এবং লোফটি ইটন করেন ২২ রান। বাকিরা ছিলেন শুধু আসা-যাওয়ার মিছিলে।

মায়াঙ্ক দাগার এবং আনমলপ্রিত সিংয়ে তোপের সামনে ৩৯ ওভারে মাত্র ১৫২ রানেই অলআউট হয়ে যায় নামিবিয়া। দু’জনই নেন ৩টি করে উইকেট। ২ উইকেট নেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ১টি করে উইকেট নেন খলিল আহমেদ, রাহুল বাথামে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার রিশাবন পান্তের অনবদ্য সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। ৯৬ বলে ১১১ রান করেন তিনি। ১৪টি বাউন্ডারি আর ২টি ওভার বাউন্ডারি মারেন তিনি।

এছাড়া সরফরাজ খান করেন ৭৬ বলে ৭৬ রান। আরমান জাফর করেন ৫৫ বলে ৬৪ রান। মহিপাল লমরর খেলেন ২১ বলে করেন ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস। নামিবিয়ার পক্ষে ফ্রিটজ কোয়েৎজি ৭৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

টার্নিং পয়েন্ট বাংলাদেশের পক্ষে

জাকিরকে প্রশংসায় ভাসালেন মিরাজ

উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জাকির হাসান (৭৫) ও অলরাউন্ডার মিরাজুল ইসলাম শান্ত (৫৫) মিলে পঞ্চম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েছেন। তাদের এই জুটিতে ভর করেই মূলত নেপালের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।
বেশ কিছুদিন থেকে রান পাচ্ছিলেন না জাকির হাসান। তবে এমন বড় ম্যাচে বিপদের সময় তিনি রানে ফেরায় স্বস্তি জুনিয়র টাইগারদের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠে। জাকির হাসানের এমন প্রত্যাবর্তন ইনিংসে দেখে সন্তুষ্টি ঝরছে মিরাজের কণ্ঠে। একই সঙ্গে সতীর্থকে প্রশাংসায়ও ভাসালেন তিনি।
শুক্রবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘জাকির অবিশ্বাস্য খেলেছে। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে অনেকদিন পর ও (জাকির) রানে ফিরেছে। ফিরেই দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে। ওই মুহূর্তে দলের জন্য এমন একটি ইনিংস খুব প্রয়োজন ছিলো।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি যখন উইকেটে যাই, ওই সময় দল বেশ চাপে ছিলো। জাকিরই আমাকে বলেছিল যে, আমরা শুধু সিঙ্গেল খেলব, স্ট্রাইক রোটেট করব। চার-ছয়ের জন্য যাব না। ওর কথা খুব কাজে লেগেছে।’
নিজেদের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন , ‘আসলে আমরা কখনও চাপ নিইনি। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিলো। শুরুতে আমাদের উইকেট পড়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমি আর জাকির সেট হওয়ার পর কিন্তু ভালো ব্যাট করেছি। সমস্যা হয়নি।’

মুশফিক-সাকিব-তামিমদের ছাড়িয়ে গেলেন মিরাজরা

নেপালকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এর আগে আইসিসি আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এত ওপরে উঠতে পারেনি। এবারই প্রথম বাংলাদেশকে শেষ চারে নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে মেহেদী হাসান মিরাজ বাহিনী।
এর আগে যুব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ২০০৬ সালে। সেবার পঞ্চম হয়েছিল বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে মঈন আলীর ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। এরপর সুপার লিগ প্লে-অফ সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেটে ও ফাইনালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৯৮ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে পঞ্চম স্থানটি নিজেদের দখলে নেয়।
২০০৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় দলের বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের সঙ্গে ওই দলটিতে ছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। লর্ডসে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবালও ছিলেন ওই দলে। তারাই আজ বাংলাদেশে ক্রিকেটের বড় বিজ্ঞাপন।
মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল ছাড়াও এ দলটিতে খেলেছিলেন রকিবুল হাসান, সোহরাওয়ার্দী শুভ, শামসুর রহমান ও মেহরাব হোসেন জুনিয়ররা। বড় তারকা হতে না পারলেও তারাও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলে খেলেছেন, লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন। এতদিন বলা হত যুব বিশ্বকাপে ওই দলটি ছিল বাংলাদেশের সেরা যুব দল।
মিরাজ, শান্ত ও জয়রাজরা মুশফিক, সাকিবদের টপকে গেলেন। বাংলাদেশকে উঠিয়ে নিলেন অনন্য উচ্চতায়। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ অথবা পাকিস্তান। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে বাংলাদেশ জয় পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমরা চাপের মুখেই ভালো খেলি: মিরাজ

যুব বিশ্বকাপে এতোদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিলো কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্তই। ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১০ যুব বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে শুক্রবার ম্যাচের পরিস্থিতি যেমন ছিলো; তাতে করে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছিল।
হাফ সেঞ্চুরির করে মিরাজের উদযাপন
তবে ওই চাপ থেকে দলকে টেনে তুলেছেন দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। শেষ পর্যন্ত ১১৭ রানের জুটি গড়ে দলকে ৬ উইকেট জয় উপহার দেন তারা দুইজন। শুধু জয়ই না, প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ।
দলকে সেমিফাইনালে উঠায় স্বস্তিতে মেহেদী হাসান মিরাজ। শুক্রবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে, আমরা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমাদের প্রথম পরিকল্পনাই ছিল সেমিফাইনাল খেলার। আমাদের সবার ভেতর বিশ্বাস ছিল। এজন্যই এমন অর্জন করতে পেরেছি। আমরা কিন্তু চাপেই ভালো খেলি।’
টুর্নামেন্টে ওপেনিং জুটি আগের তিন ম্যাচের মতো ব্যর্থ কোয়ার্টার ফাইনালেও। বিষয়টি নিয়ে মিরাজ এদিনও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল ১০ ওভার দেখে শুনে ব্যাটিং করা। রান যাই হোক না কেন উইকেট দেওয়া যাবে না। তবে সামনের ম্যাচগুলোয় আশা করি ভালো হবে।’
চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশর ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হলেও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাই ম্যাচ জিতিয়েছেন। মিরাজ বলেন, ‘আমাদের শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা খুবই ভালো। উইকেট হাতে রেখে আমরা শেষের দিকে অনেক ভালো খেলতে পারি; সেটার প্রমাণ কিন্তু আজ হয়েছে। আমি আর জাকির যখন খেলছিলাম, শেষের দিকে ১০ ওভারে ৭০ রানের মতো লাগত, তারপরও আমরা কিন্তু ১০ বল আগেই ম্যাচ জিতেছি।’
রান আউটের ব্যাখা দিতে গিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘এখানে মাঠ একটু অন্যরকম। অনেক সময় বোঝ যায় না। আমরা হয়ত ডিফেন্স করলাম, বল গ্যাপে গেল কি গেল না, ঠিক বোঝা যায় না। এমনিতে আমাদের বোঝাপড়া খুব ভালো। একটা-দুটি ম্যাচে এমন হতেই পারে। সবমিলিয়ে এটা বড় সমস্যা বলে মনে হয় না আমার কাছে।’
অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য কিভাবে উপভোগ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি সবসময় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই। দল যেন সবসময় ভালো করে এবং আমি যেন তাতে অবদান রাখি। আমি কখনও চাপ নেই না। উপভোগ করি সবসময়। দলের সবাই আমাকে খুব সাহায্য করে, সবাই খুব ভালো।’
বোলারদের প্রশংসা করতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের বোলাররা খুব ভালো বল করেছে। বিশেষ করে সাইফুদ্দিন খুব ভালো ইয়র্কার করতে পারে। এছাড়া শান্ত দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে দুটি রান আউট করেছে। তাতে করেই ম্যাচ আমাদের পক্ষে চলে আসে।’

প্লেট সেমি-ফাইনালে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান

সহজ জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্লেট সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। জিম্বাবুয়ে ৬ উইকেটে হারিয়েছে কানাডাকে। করিম জানাতের শতকে ফিজিকে ২২৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। শুক্রবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম অ্যাকাডেমি মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মন্থর ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ১৮৬ রান করে কানাডা।
সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে আমিশ টাপলুর ব্যাট থেকে। এছাড়া আবরাস খান ৩২ ও আর্সলান খান ৩১ রান করেন। জিম্বাবুয়ের জেরেমি আইভস ৩০ রানে নেন তিন উইকেট।
জবাবে ৩১ ওভার ৪ বলে চার উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ৪২ বলে ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে শন স্নাইডার জিম্বাবুয়েকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। পরে অলরাউন্ডার আইভসের অপরাজিত ৪৩ রানে ভর করে ১১০ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় দলটি।
1.+AFGANISTAN+IN+PLATE+SEMI
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের অন্য ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ৩৪০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তান। ১৫৬ রানের চমৎকার ইনিংসে দলকে এই সংগ্রহ এনে দেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান করিম। তার ১৩২ বলের ইনিংসটি ১২টি চার ও ৬টি ছক্কায় গড়া। করিমের সঙ্গে ১৩০ রানের জুটি উপহার দেওয়ার পথে ৭৪ রানের ভালো একটি ইনিংস খেলেন পারভেজ মালাকজাই। ফিজির পেনিভুনিওয়াকা তিন উইকেট নেন ৪১ রানে।
জবাবে ৩১ ওভার ২ বলে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় ফিজি। আফগানিস্তানের নিজাত মাসুদ (৩/৬) ও রশিদ খান (৩/১৬) তিনটি করে উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট নেন মুসলিম মুসা ও জহির খান।

মাঠের বাইরেও দেখা মিলল সেই অধিনায়কের

ইতিহাস গড়েছেন একটু আগেই। বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছেন, যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সাফল্য। সে জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও নিলেন। চোখে মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ। কিন্তু দলের জয়ে নিজের কৃতিত্বকে মোটেও আলাদা করে দেখতে চাইলেন না। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েও নিজের কথা তো বললেনই না, বরং সব কৃতিত্ব ভাগ করে দিলেন সতীর্থদের। এমনকি ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না সমর্থকদের। বললেন, ‘সমর্থকদের জন্যই ​এই জয়।’
এটাই তো আসল অধিনায়কের পরিচয়। যিনি পুরো কৃতিত্ব দিয়ে দেন সতীর্থদের। আর চাপ, ভুল ও ব্যর্থতা নিজে বুক পেতে নিয়ে নেন। বয়স মাত্র ১৯। কিন্তু মাঠের বাইরেও দেখা মিলল মাঠের সেই দুর্দান্ত অধিনায়কেরও।
প্রতিপক্ষ নেপাল বলে বাংলাদেশকে ম্যাচের আগেই সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু এশিয়ার নবীনতম ক্রিকেট শক্তি দাঁতে দাঁতে চেপে লড়েছে আজ। ব্যাটিংয়ে তো একপর্যায়ে ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিল তারা। মনে হচ্ছিল ২৫০-ই করে ফেলবে নেপাল। কিন্তু তখনই মিরাজ দেখিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতার ছাপ। মোট সাতজনকে দিয়ে বোলিং করিয়েছেন। একের পর এক বোলিং পরিবর্তন করেছেন।
নিজে ভালো বোলিং করছিলেন না জন্য সরিয়ে এনেছেন। আবার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফিরে এসে একটি উইকেটও তুলে নিয়েছেন। আরিফ শেখ তখন বেশ জমিয়ে ব্যাটিং করছেন। এমন সময় ২০ ওভার পর সাইফকে ফেরালেন বোলিং আক্রমণে। ফিরেই সাইফ তুলে নিলেন আরিফকে। ফিল্ডিং সব সময় গলা চড়িয়ে সতীর্থদের উজ্জীবিত রেখেছেন। বাংলাদেশ দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে চার ব্যাটসম্যানকে রান আউট করেছে আজ।
কিন্তু অধিনায়ক তাঁর আসল পরিণতবোধের পরিচয় দিলেন ব্যাটিংয়ে। এমনিতে দলের টপ অর্ডার দারুণ ফর্মে থাকায় সব সময় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান না। মিডল অর্ডার তাতে স্বস্তি পেলেও এটি তাদের জন্য পরীক্ষারও। হুট করে কোনো দিন টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে তো তাদেরই সামলাতে হবে। আজ ছিল সেই পরীক্ষার দিন। তাতে মিরাজ পেলেন গোল্ডেন এ প্লাস!
যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে পঞ্চম উইকেটে রেকর্ড ১১৭ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত থেকেই ফিরেছেন। কিন্তু ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সবার আগে ​জাকিরের নামটাই মনে পড়ল তাঁর। যেন বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, জাকিরও তো ম্যাচের সেরা, ‘এই জয়ে আমরা অবশ্যই খুব খুশি। আমি যখন ব্যাট করতে নামলাম, দল তখন বিপদে ছিল। কিন্তু জাকির অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছে। আমাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছে সে।’
এরপরই ম্যাচ জয়ের ফর্মুলাটা জানিয়েছেন। সেখানে শুধু জাকিরের প্রশংসা, ‘আমি ব্যাটিংয়ে নামার সময়ই জাকির সতর্ক করে দিয়েছিল বাউন্ডারির মারার ব্যাপারে। সে বলল শুরুতে সিঙ্গেল নিয়ে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখতে। উইকেট খারাপ ছিল না, কিন্তু বল মাঝে মাঝেই নিচু হয়ে আসছিল। আবার মাঝে মাঝেই বেশি ঘুরছিল বল। তবে এক-দুই করে রান তোলায় ম্যাচটি পরে সহজ হয়ে গিয়েছিল।’
টুর্নামেন্টে আজই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ‘হোম অব ক্রিকেটে’ খেলতে নেমেছিল মিরাজরা। বাংলাদেশের সমর্থকেরা যে গলা ফাটিয়ে সমর্থন দিয়ে গেলেন, এ জন্যও ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না, ‘দর্শকদের ধন্যবাদ আমাদের এভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য। তাঁদের এমন সমর্থনেই ম্যাচ জিতেছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বপ্নযাত্রাটি আরেকটু লম্বা করার আশাটাও জানিয়ে দিলেন মিরাজ, ‘প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। আমরা এ নিয়ে রোমাঞ্চিত। সেমিফাইনালে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।’
প্রত্যাশা তো বাড়বে, স্বাভাবিক। বাড়বে চাপ, দায়িত্বও। তবে মিরাজরা যেন মনের আনন্দে খেলে যেতে পারেন, সেই প্রার্থনাতেও নিশ্চয়ই শামিল ৩২ কোটি হাত!

ধারাভাষ্যকার হাথুরুসিংহে

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-নেপাল কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে নতুন রুপে দেখা দেখা গেল মাশরাফি-সাকিবদের গুরু হাথুরুসিংহেকে। কমেন্ট্রি বক্সে বসে অন্যান্য ধারাভাষ্যকারদের সঙ্গে ধারাভাষ্যও দিলেন টাইগার এই কোচ।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা হচ্ছে মিরপুরে। হাথুরুসিংহ সকালেই মাঠে চলে আসেন। তারপর ঘুরতে ঘুরতে কমেন্ট্রি বক্সে। অন্য ধারাভাষ্যকারদের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে প্রায় মিনিট ৩০ কথা বলতে শোনা যায় তাকে। মাশরাফিদের বর্তমান সাফল্য, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে যেয়ে এই শ্রীলঙ্কান বলেন, ‘যুব দল থেকে ভবিষ্যতে বেশ ভালো কিছু খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আমার মনে হয়। এখানে অনূর্ধ্ব-২৪/২৫ পর্যায়েও প্রচুর ভালো মানের ছেলেরা আছে।’
প্রথমবারের মতো যুবাদের সবচেয়ে বড় আসর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে নেপালের দেওয়া ২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার মিরাজের হাতে

সাকিব-মাশরাফি কিংবা মুশফিকুর রহিমরাও একের পর এক শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছিলেন। বুকে সাহস রেখে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছিলেন। যুব দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে বিশ্বকাপের অনুশীলণ চলাকালেই মাশরাফি টিপস দিয়েছিলেন, কিভাবে চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রেখে ম্যাচ বের করে আনতে হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে লড়াইয়ে সব আশীর্বাদই যেন এক করে ফেললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সবচেয়ে বড় কথা, আরও একবার প্রমান দিলেন তার নিজের যোগ্যতার। বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন, দেখ! কত বড় ম্যাচ উইনার।

নেপালের বিপক্ষে বল হাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১টা উইকেট নিতে দিয়েছেন ৫১ রান। তবে একটা রানআউটে দারুন ভুমিকা রেখেছিলেন। এরপর ২১২ রানের মামুলি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে যখন প্রথমে বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের যুবারা, তখন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসানকে নিয়ে বাংলাদেশের হাল ধরেন মিরাজ। ১১৭ রানের অপারাজিত জুটি গড়ে প্রথমবারেরমত কোন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলে দিল বাংলাদেশকে। জাকির হাসান ৭৭ বলে ৭৫ রান সংগ্রহ করেন। তিনিই সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবধান তার।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত জুরি বোর্ড মেহেদী হাসান মিরাজকেই বেছে নিল ম্যাচ সেরার পুরস্কারের জন্য। কারণ, ৬৫ বলে ৫৫ রানের জন্যই নয় শুধু, ম্যাচের শুরু থেকে তার অসাধারণ নেতৃত্ব, বোলিং এবং ফিল্ডিং, সব কারণেই তাকে সেরা হিসেবে বাছাই করতে কোনই বেগ পেতে হয়নি বিচারকদের। সুতরাং, বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের ম্যাচে সেরার পুরস্কার জিতলেন অধিনায়কই। সেরা অধিনায়ক বুঝি একেই বলে!

মিরাজ-জাকিরের ব্যাটেই স্বপ্ন পূরণ

নেপাল অধিনায়ক রাজু রিজালই যা বিপদ সৃষ্টি করতে পারে বাংলাদেশের সামনে। এটা ছিল অনুমিত বিষয়ই। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হলো। রাজু রিজালের ৮০ বলে ৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসই ২১১ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সামনে। একই সঙ্গে নেপাল আরও একবার প্রমাণ করলো, যোগ্য দল হিসেবেই তারা উঠে আসলো যুব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ২১১ রান স্কোরবোর্ডে তোলার পর এটাকে কিভাবে রক্ষা করা যায়, সেটাও যেন রপ্ত করে ফেলেছে হিমালয় পাদদেশের দেশটি। রীতিমত পেশাদার ক্রিকেটার। বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিল শুরু থেকেই।

২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানকে তুলে নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল নেপাল। সুনিল দামালার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান বাংলাদেশ দলের ওপেনার। শঙ্কাটা ঘিরে ধরেছিল তখনই। ২০০২ যুব বিশ্বকাপের প্লেট পর্বের সেমিফাইনালে এই নেপালের কাছে তো এভাবেই উইকেট খুইয়ে পরাজয়ের লজ্জা বরণ করেছিলেন আশরাফুল-আফতাবরা।
Zakir-Hasan
শঙ্কাটা প্রলম্বিত হতেই থাকল, ২০তম ওভারে যখন পিনাক ঘোষ রান আউটের দুর্ভাগ্যে কাটা পড়লেন। দলীয় রান তখন ৬৩। এরপর ৭৫ রানে আউট হয়ে গেলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভ নাজমুল হোসেন শান্ত। যার ব্যাটে স্বপ্নের রং ছড়াচ্ছিল প্রথম থেকেই। ৬ বলে মাত্র ৮ রান করে যখন সন্দিপ লামিচ্চানেকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি, তখন শঙ্কার কালো মেঘ তখন মিরপুরের পুরো আকাশজুড়ে।

বিপদ আরও ঘণিভূত হলো ২৯তম ওভারে গিয়ে। বাংলাদেশের রান তখনও ১০০ পার হয়নি। অথচ, তখনই আউট হয়ে গেলেন উইকেটে সেট হয়ে বসতে থাকা জয়রাজ শেখ। ৬৭ বলে ৩৮ রান করে সেই দামালার বলেই যখন এলবিডব্লিউ হয়ে গেলেন তিনি। বাংলাদেশের রান তখন ৯৮। জয় থেকে তখনও অনেক দুরে বাংলাদেশ।
Miraj
৯৮ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ডুবন্ত তরীর হাল ধরলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। অনেক ম্যাচেই এভাবে তরীর হাল ধরতে হয়েছিল; কিন্তু ওসব ম্যাচ থেকে তো এই ম্যাচটি একটু ভিন্ন ধরনেরই। মাহাত্ম্যও অনেক বেশি ভিন্ন। সুতরাং, চাপকে জয় করার কঠিন চ্যালেঞ্জই গ্রহণ করলেন মিরাজ-জাকির।

দু’জনের ব্যাট চড়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের তরী জয়ের তীরে ভিড়তে শুরু করে। শঙ্কা বাকি ছিলই। ৪০ ওভারে যখন রান ১৪৪, তখন শঙ্কা না করে উপায়ও ছিল না। যে কোন সময় ভেঙে যেতে পারে এই জুটি; কিন্তু বৈঠা শক্ত করেই ধরেছিলেন মিরাজ-জাকির। দু’জনের কেউই শেষ পর্যন্ত হার মানলেন না নেপালি আক্রমণের সামনে। লড়াই করে গেছেন বুক চিতিয়ে। প্রথমে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন জাকির হাসান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ।

তাদের দু’জনের ব্যাটে চড়েই ১০ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ পৌঁছে গেলো যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনলে। দু’জন মিলে গড়লেন ১১৭ রানের অসাধারণ এক জুটি। এই জুটিই শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। অধিনায়ক মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৬৫ বলে ৫৫ রানে। আর ৭৭ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন জাহির হাসান। যদিও ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠলো মেহেদী হাসান মিরাজের হাতেই।

নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

স্বপ্ন পূরণটা যেন অবশ্যম্ভাবীই ছিল বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষ তো নেপালই। সুতরাং, সেমিফাইনাল তো আর অকল্পনীয় কিছু হয়ে থাকছে না। তবুও সতর্কতার মার নেই। যে দলটি নিউজিল্যান্ডের মত দলকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল। হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ডকে। তারা যদি কোন অঘটন ঘটিয়ে বসে! কিন্তু না, মাঠের খেলায় যে বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত! মাশরাফিরা যেভাবে একের পর এক পরাশক্তিকে নাস্তানাবুধ করতে পারে, মেহেদী হাসান মিরাজরা কেন পারবে না। আর নেপাল তো পুঁচকে একটি দল। একটি অঘটন না হয় ঘটিয়েছে। তাই বলে একটি ক্রিকেট পাগল দেশের স্বপ্ন পূরণে বাধা হতে পারে না। পারলোও না। যদিও ২১১ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ভালোই লড়াই জমিয়ে তুলেছিল নেপাল; কিন্তু বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে ৬ উইকেটে নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারেরমত কোন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল।

টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর করার পর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর স্বপ্নরা ডানা মেলতে শুরু করেছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে স্কটল্যান্ড এবং কেনিয়াকে দাপটের সঙ্গেই হারিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। ফলে, শেষ আটে তারা ঠাঁই করে নিয়েছিল ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই। প্রতিপক্ষ ‘ডি’ গ্রুপের রানারআপ নেপাল। এই দলটিকে বলা হচ্ছিল টুর্নামেন্টের কালো ঘোড়া। চমক সৃষ্টি করাই যেন হিমাল দুহিতাদের কাজ। যদিও চমক যে সব সময় ঘটে না, সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল মেহেদী হাসান মিরাজদের। টস জিতে ২১১ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার পর নেপাল কিন্তু ভালোই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশকে। ৯৮ রানের মধ্যে চার উইকেট হারানোই নয় শুধু, অসাধারণভাবে রান আটকে দিয়ে বাংলদেশের জয়টাকেই যেন সুদুর পরাহত করে তুলছিল নেপালি যুবারা।

কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ আর জাকির হাসানের ব্যাটই স্বপ্ন পূরণ করে দিল বাংলাদেশের। ১০ বল হাতে রেখেই বাংলাদেশকে তারা পৌঁছে দিল যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনলে। দু’জন মিলে গড়লেন ১১৭ রানের অসাধারণ এক জুটি। এই জুটিই শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। অধিনায়ক মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৬৫ বলে ৫৫ রানে। আর ৭৭ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন জাহির হাসান। তবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠলো মেহেদী হাসান মিরাজের হাতেই।

নেপালের দেওয়া ২১১ রান তাড়া করতে নেমে নেমে শুরুতেই সাইফের (৫) উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর জয়রাজকে সাথে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন পিনাক। তবে নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝিতে ব্যক্তিগত ৩২ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন এই ওপেনার। এরপর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শান্ত ব্যক্তিগত (৮) আর জয়রাজ (৩২) রানে সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

৪০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১৪৪। তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬০ বলে ৬৬ রান। যেভাবে মন্থর গতিতে রান উঠছিল তাতে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের স্বপ্নটা সম্ভবত অধরাই থেকে যাচ্ছে। নেপালের মত দলের কাছে হেরে সম্ভবত নাক-মুখে কালিই লাগতে যাচ্ছে। কিন্তু এই আশঙ্কাকে সত্যি হতে দিলেন না প্রথমে জাকির হাসান। অসাধারণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করলেন। একপ্রান্তে উইকেটের হাল ধরলেন তিনি। ৫৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে তিনি প্রমাণ করলেন, বড় রেসের ঘোড়াই হতে যাচ্ছেন ভবিষ্যতে। শেষ পর্যন্ত এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসলো অসাধারণ ৭৫ রানের ইনিংস।

আর মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীলতার কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। জুটি গড়তে অসাধারণ সহযোগিতা করলেন। দুর্দান্ত ম্যাচ উইনার। কখনও বল হাতে, আবার কখনও ব্যাট হাতে। যুব ক্রিকেটে অলারাউন্ডারের র্যাংকিং করা হলে নিশ্চিত সাকিব আল হাসানের মত তিনিও এই পর্যায়ে বিশ্বসেরা অলারাউন্ডারের খেতাবটা জিতে নিতেন। ৬৫ বলে তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৫ রানে। সবচেয়ে বড় কথা, শেষ ৮.২ ওভারে এই জুটি রান তুলেছে ৬৭টি। ১২১ বলে গড়েছে অপরাজিত ১১৭ রানের জুটি।

এর আগে শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রাজু রিজালের ৭২ রানের উপর ভর করে ২১১ রান সংগ্রহ করে নেপাল। তবে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শুরুটা ভালো করতে পারেনি নেপাল। দলীয় ১৭ রানে সন্দ্বীপকে (৭) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান টাইগার বোলার সাইফউদ্দিন। এরপর যুগেন্দ্র সিংকে (১) সাইফের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান রানা।

এরপর ধামালাকে সাথে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন দলের অধিনায়ক রাজু রিজাল। তবে ব্যক্তিগত ২৫ রানে করে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান সুনীল। এরপর আরিফকে সাথে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন রাজু। দলীয় শত রানের সাথে তুলে নেন নিজের অর্ধশত।

একপ্রান্ত আগলে ব্যাট করতে থাকা নেপাল দলের অধিনায়ক রাজু রিজাল (৭২) রান করে আউটের ফাঁদে পরে সাজঘরে ফিরে যান। রাজভির সিংও দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। এরপর নিয়মিত বিরতেতে উইকেট হারাতে থাকলে ২১১ রানেই শেষ হয় নেপালের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে সাইফউদ্দিন নেন ২ উইকেট।

হুমকি নয়, বাংলাদেশকে সমীহ নেপালের

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশকে এক প্রকার হুমকি দিয়েছিল নামিবিয়া। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে হুমকির বিপরীতে তাদের উল্টো ক্রিকেট শিখিয়েছে বাংলাদেশি যুবারা। ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে এবার হুমকি নয় বরং বাংলাদেশকে সমীহ করছে ক্রিকেট বিশ্বের আরেক বিস্ময়ের নাম নেপাল। দলটির কোচ জগত বাহাদুর তামাটা সে কথাই জানালেন।
যুব ক্রিকেটে ততটা শক্ত অবস্থানে না থাকলেও গ্রুপপর্বে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শেষ আটে উঠে এসেছে নেপাল। তাই এবার বাংলাদেশি যুবাদের হারিয়ে যে কোনো অঘটনও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ক্রিকেটবোদ্ধারা। তবে কথার লড়াইয়ে বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছে নেপাল। স্বাগতিকদের ফেবারিট বলে প্রত্যাশার চাপ তাদের ঘাড়েই চাপানোকে একটি মনস্তাত্বিক কৌশলও মনে করছেন অনেকেই।
বাংলাদেশকে সমীহ করে জগত বাহাদুর তামাটার বলেন, ‘বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ভালো দল। তারা খুবই শক্তিশালী। তবে তাদের সঙ্গে আমরা ভালো খেলাটা দিতে চাই। আমরা তাদেরকে অনুসরণ করছি। এটা আমাদের জন্য খবুই চ্যালেঞ্জিং হতে পারে কেননা তারা টেস্ট খেলুড়ে একটি দেশ এবং খুব ভালো ক্রিকেট খেলে।’
বাংলাদেশকে শক্তিশালী দাবী করলেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী রয়েছে নেপাল। এ প্রসঙ্গে দলটির কোচের বক্তব্য, ‘মনে হচ্ছে আমাদের দলটিও বেশ ভালো। গত কয়েকমাস ধরে আমাদের ছেলেরা কঠিন পরিশ্রম করছে। আমাদের খুবই শৃঙ্খল এবং আত্মত্যাগী একটি দল রয়েছে। তাই আমরা আগামীকাল ভালো একটি ম্যাচ খেলার প্রত্যাশায় রয়েছি।’
দলের মূল শক্তি এবং সেমিতে উঠার প্রত্যায় নিয়ে নেপাল কোচের ভাষ্য, ‘স্পিনাররাই আমাদের আসল শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের খুব ভালো বোলিং অ্যাটাক রয়েছে। ব্যাটিংয়ের অবস্থাও বেশ ভালো তবে বোলারদের কাছ থেকেই আমাদের প্রত্যাশা বেশি।
সেমিফাইনালে খেলার প্রত্যাশা করছি। জয়-পরাজয় খেলারই একটি অংশ। আশা করছি আগামী দিন ভালো খেলে আমরা ভালো ফল পাবো।’
নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ দলের তুলনা করে নেপালের কোচ বলেন, ‘আমি ওই দুই দল নিয়ে কোনো তুলনায় যেতে চাই না। তবে তারা দুটিই এই প্রতিযোগিতায় বেশ ভালো দল। তুলনায় না গিয়ে আমরা ভালো খেলাটার দিকেই নজর রাখছি। তবে হ্যা, নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশই এগিয়ে।’
উপমহাদেশে অন্য দলগুলোর চেয়ে ক্রিকেটে নেপালের অবস্থান সক্রিয়তা সিরিজে নিজের দিকেই। তাই এই টুর্নামেন্টে শিরোপার কথা মুখে না বললেও সেমিতে কোয়ালিফাই করতে পারাটাই বিস্ময়ের হবে বলে জানান নেপাল কোচ। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘কোয়ালিফাই করে বাড়ি ফিরতে পারাটা খুবই বিস্ময়ের হবে। আমাদের ক্রিকেট ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। ছেলেরা খুবই পরিশ্রম করছে। শেষ কয়েক মাসে এসিসি ট্রফি ও বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই ম্যাচে আমরা একত্রিত হয়েছি। এখানে আমাদের টিকে থাকাটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা প্রতিদিন কঠিন পরিশ্রম করছি। আর এ জন্যই এখানে আমাদের এতদূর পর্যন্ত আসা সম্ভব হয়েছে।’

নেপালকে সমীহ করছে ক্ষুদে টাইগাররা

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে শুক্রবার প্রথমবারের মত সেমিফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশের যুবারা। প্রতিপক্ষ নেপাল। টুর্নামেন্টে দারুণ খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সহযোগী দেশটি। শক্তির দিকে দুর্বল হলেও নেপালকে সমীহ করছে ক্ষুদে টাইগাররা। নিজেদের সেরাটা দিয়েই জয় তুলে নিবেন বলে জানান দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমী মাঠে অনুশীলন শেষে অধিনায়ক বলেন, ‘নেপাল সম্পর্কে আমরা জানি। ওদেরকে সহজভাবে নেওয়ার কিছু নেই। ওরা যেহেতু গ্রুপ পর্বে ভালো খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে কোয়ালিফাই করেছে, অবশ্যই তারা ভালো দল। ওদের হালকাভাবে নিলে আমাদের সমস্যা হবে। যে ভাবে দিনে দিনে উন্নতি করছি, যেভাবে চলছে, ওই প্রসেসে থাকব। ইনশা আল্লাহ ভালো কিছু হবে।’
নিজেদের প্রসেস ঠিক রাখার পাশাপাশি নেপালের শক্তিশালী দিকগুলো নিয়েও কাজ করছে বাংলাদেশ। তবে নিজেদের মানসিকতা ইতিবাচক হলে সহজ জয় পাবেন বলেই ধারণা অধিনায়কের। এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওদের ব্যাটসম্যানরা শুরুতে শট খেলতে চায়। ওদের একটা-দুইটা ভালো বোলার আছে। তবে আমাদের ভালো খেলার মানসিকতা থাকতে হবে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল ৯ টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশের যুবারা।

ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই : মিরাজ

জিতলেই ইতিহাস। প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব- ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। মুশফিক-নাফিসরা যা পারেননি তা করার হাতছানি মিরাজদের সামনে। শেষ আটের প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল নেপাল হলেও সামান্য ছাড় দিতে নারাজ বাংলাদেশ। শুধু নেপালই নয় ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে কোন দলকেই ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
মিরাজ বলেন, ‘বাংলাদেশ এর আগে কখনো সেমিফাইনাল খেলেনি, যদি নেপালের সঙ্গে জিততে পারি, সেটি অনেক বড় অর্জন হবে। এখন যে পর্যায়ে আছি, এখানে হারলে আর সুযোগ নেই। বাদ পড়ে যেতে হবে। তাই আগের চেয়ে মনোযোগ আরও বেশি থাকবে। যেহেতু নক আউট খেলা। জিতলে ওপরে যাব, হারলে নিচে নেমে যেতে হবে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’
এর আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ছিলেন মুশফিকুর রহিমের মতো বড় তারকা। সেবার বাংলাদেশ ভালো দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে এবার আর এমন কিছু হবেনা জানান মিরাজ। ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই জয় ছিনিয়ে আনবেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমী মাঠে অনুশীলন শেষে অধিনায়ক বলেন, ‘যেহেতু কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি, এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। ভালো লাগছে। এর আগে মুশফিক ভাইয়েরা ভালো পজিশনে ছিল। আমাদের সামনেও ভালো যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চেষ্টা করব সুযোগটা কাজে লাগানোর। বিন্দু মাত্র ছাড় দেব না। ব্যাটসম্যান-বোলাররা যা করছে সেটাই করবে, নতুন করে কিছু করব না। নতুন কিছু করতে গেলে সমস্যা হবে। আগের তিনটা ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, কোয়ার্টার ফাইনালও সেভাবে খেলব।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল ৯ টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশের যুবারা।

নেতৃত্ব উপভোগ করেন মিরাজ

যুবাদের সবচেয়ে বড় আসর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা দু’বার কোন দলকে নেতৃত্ব দেয়ার বিরল রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত মাইলফলকেও আগের ম্যাচে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে হয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। ব্যাক্তিগত অর্জনের সঙ্গে এবার দলগতবভাবে ইতিহাসের সামনে এ ক্ষুদে টাইগার। আগামীকাল (শুক্রবার) নেপালকে হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। মিরাজের তুখোড় নেতৃত্বে দারুণ সাফল্যের মাঝেই রয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। আর দলকে নেতৃত্ব দেওয়াটা উপভোগ করেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমী মাঠে অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘নেতৃত্ব খুবই উপভোগ করি। খেলোয়াড়রা সবাই দারুন সহায়তা করে। সিনিয়রদের মধ্যে যেমন শান্ত-ইমন-জাকির, পাশাপাশি জুনিয়ররাও সহায়তা করে। দলের সবাই পারফর্ম করছে। অধিনায়ক হিসেবে এটাই চাই, সবাই পারফর্ম করবে, দল ভালো করবে। অধিনায়ক হিসেবে আমি ভালো খেললে এবং দলের সবাই পারফর্ম করলে ভালো ফল পাবো।’
তবে ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে বাংলাদেশ শিবির। মিরপুরের পরিচিত উইকেটে তারা জ্বলে উঠতে পারবে বলে আশা করছেন মিরাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা খেলি দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী। কক্সবাজারের উইকেট মন্থর দেখে দলের পরিকল্পনা ছিল, ওপেনারদের ধীর-লয়ে খেলতে হবে। উইকেট যেন বিলিয়ে দেয়া না হয়। সাইফ-ইমন ওভাবেই খেলেছে। এখানে উইকেটটা ভিন্ন হতে পারে। এখানে আমরা অভ্যস্ত। উইকেট ভালো থাকলে শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানরা হয়তো শট খেলবে। রান তোলার চেষ্টা করবে।’
দলের সবাই দেশের সম্মানের কথা ভেবেই খেলে বলে জানান মিরাজ। তাই মাঠে শতভাগ দিতে বদ্ধপরিকর ক্ষুদে টাইগাররা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, সবাই প্রত্যাশা করছে সে অনুযায়ী খেলতে হবে। তবে এতে চাপ ঠিক নয়, চেষ্টা থাকবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার। যদি নাও হয়, তাহলে তো কিছু করার নেই। তবে আমরা আমাদের শতভাগ দেওয়া চেষ্টা করব।’

উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই মাঠে নামবে যুবারা

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রকিপক্ষ নেপাল। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের যুবাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল। তবুও সতর্কতার মার নেই। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে যে দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে, তাদের খাটো করে দেখারও উপায় নেই। সুতরাং, সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে লড়াই করতে নামবে কোন একাদশ, কারা কারা থাকছে স্কোয়াডে, এটাই যেন আগে থেকে জানতে চায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সে তথ্যটাই পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশ যুব দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। জানালেন, নেপালের বিপক্ষে উইনিং কম্বিনেশনে কোন পরিবর্তণ আসছে না। কম্বিনেশন ঠিক রেখেই মাঠে নামবে তারা।
গত দু’বছর ধরে ধারাবাহিকখাকে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সে ধারা ধরে রেখেছে বিশ্বকাপেরও। টানা তিন ম্যাচ দাপটের সঙ্গেই হারিয়েছে প্রতিপক্ষকে। ধারাবাহিতা ধরে রাখতে শেষ আটেও তারা একই দল নিয়ে খেলতে নামছে। ধারাবাহিকভাবে জিততে থাকা দলটিকে নিয়ে আপাতত কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে রাখলেন দলের প্রধান কোচ।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমী মাঠে অনুশীলন শেষে প্রধান কোচ বলেন, `দল আগের মতোই থাকতে পারে। যেহেতু উইনিং কম্বিনেশন। কালকে খেলা এখন এটা নিয়ে আলোচনা করার কিছু নেই। কালকে মিটিংয়ে হয়তো চিন্তা করবো। বাড়তি অফস্পিনার খেলবে কি না এটা আসলে এখন বলার সময় নয়।’
পেস বোলিংয়ে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না আব্দুল হালিম। তাই তাকে পরিবর্তন করা হবে কি না জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘আমরা যত সফর করেছি, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে খেলেছি, ও (হালিম) ভালো খেলেছে। অতটুকু ভরসা ওর উপর আমরা রাখছি। আর এটা এমন একটি টুর্নামেন্ট যেখানে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় না। এখন যে অবস্থায় আমরা এসেছি এখানে একটি ম্যাচ বাজে খেললেই আউট। এজন্য পরীক্ষা করার সুযোগ অনেক নেই।’
ধারাবাহিকভাবে জয় পেলে দলের দুর্বলতার দিকে বিশেষ নজর না পড়াই স্বাভাবিক। কিন্তু কোচ তা মানতে নারাজ। তার মতে নিয়মিত তারা দলের ভুল-ত্রুটির দিকে খেয়াল রাখছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিততে থাকলে যে সমস্যা বোঝা যাবে না, বিষয়টি এমন নয়। ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের দিক দিয়ে আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছি। এটা নিয়ে কাজও করছি। আশাকরি, ইনশাল্লাহ সামনের ম্যাচে এটা ওভারকাম করতে পারবো। ওপেনাররা পুনরায় তাদের পুরনো ছন্দে ফিরে আসবে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল ৯ টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশের যুবারা।

শুক্রবার থেকে শুরু নকআউট পর্ব

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে বুধবার শেষ হলো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বের খেলা। তবে এর আগেই শেষ আটের সবকটি দল নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে শেষ দিন গ্রুপ ‘বি’ এর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্বাচন হয়। এ ম্যাচে লঙ্কান যুবাদের ২৩ রানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।
আগের দিন নামিবিয়াকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘ডি’ রানারআপ নেপাল। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হবে মেহেদী হাসান মিরাজরা। আর ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ভারত পরদিন ফতুল্লায় নামিবিয়ার মোকাবেলা করবে।
শেষ আটের অপর দুই ম্যাচে সোমবার ফতুল্লায় ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোকাবেলা করবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। তার আগেরদিন রোববার মিরপুরে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ‘বি’ গ্রুপের রানারআপ শ্রীলংকা।
00

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ আটে পাকিস্তান

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’ থেকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা যুবারা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আগেই। বুধবার গ্রুপের শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। সেই লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২৩ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২১২ রান করে পাকিস্তান যুবারা। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৬ রানের ইনিংসটি খেলেন হাসান মহসিন। ৮৬ বল মোকাবেলায় ৮ চার ও ১ ছক্কায় এই ইনিংসটি সাজান তিনি। তা ছাড়া সালমান ফায়েজ ৩৩, মোহাম্মদ উমার ২৬ ও সাইফ বাদার ২৪ রান করেন।
বল হাতে শ্রীলঙ্কার হয়ে নিমেশ, ডি সিলভা ও দামিথা সিলভা ২টি করে উইকেট পান। তা ছাড়া ফের্নান্দো ও আসালাঙ্কা ১টি করে উইকেট নেন।
২১৩ রানে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২১ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তবে ওয়ানডাউনে নামা কামিন্দু মেন্ডিস লঙ্কানদের কিছুটা আশা দেখান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংসটি আসে তার ব্যাট থেকেই। ১০৪ বল মোকাবেলা করে ৫ বাউন্ডারীতে এই ইনিংস সাজান তিনি। বিশাদ সিলভা ৪৬ রান করেন।
তাছাড়া দামিথা সিলভা ২১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি লঙ্কানরা। শেষ পর্যন্ত ৪৬.৪ ওভারে ১৮৯ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ফলে এই ম্যাচে ২৩ রানের জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই কোয়ার্টারে খেলবে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব -১৯ দল। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সাদাব খান ৩টি উইকেট পান। তা ছাড়া সামিন গুল, হাসান মহসিন ও আহমদ শফিক ২টি করে উইকেট নেন।

ভালো লাগার রথ থামাতে চান না মিরাজ

দলীয় ও ব্যক্তিগত অর্জনে পরিপূর্ণ এক ম্যাচ খেলে উচ্ছ্বসিত মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে তৃপ্ত হচ্ছেন না এখনই। বাংলাদেশ যু্ব দলের অধিনায়ক তাকিয়ে আরও অনেক দূরে। ভালো লাগার এই রথে চেপেই ছুঁতে চান লক্ষ্য। মঙ্গলবার নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে যুব ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছেন মিরাজ। পরে ম্যাচও জিতে গ্রুপ শীর্ষে থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ, সেমি-ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে সামনে পাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ নেপালকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের সব পাওয়ার খুশি প্রতিফলিত হলো কণ্ঠেও। “আসলে অধিনায়ক হিসেবে আমার খুব ভালো লাগছে। আজকের ম্যাচ আমরা জিতেছি, আমার রেকর্ডটাও হলো। আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলাম। আর কি চাওয়ার থাকতে পারে! সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগছে।”
তবে উচ্ছ্বাসে পুরো ভেসে যাচ্ছেন না মিরাজ। চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণে দৃঢপ্রতিজ্ঞ অধিনায়ক বাঁধ দিলেন উচ্ছ্বাসের জোয়ারে। “ভালো লাগছে আমাদের সবার। তবে ভালো লাগাটা এখানেই শেষ করলে হবে না। আমাদের যেতে হবে আরও অনেক দূর। ভালো লাগা এখানেই থামলে আমরা বেশি দূর যেতে পারব না। লক্ষ্য পূরণ করতে পারব না।”
শিরোপা লক্ষ্য পূরণের পথে বাংলাদেশের পরবর্তী বাধা নেপাল, শুক্রবার কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচটি হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।

সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত বাংলাদেশ অধিনায়ক

মেহেদি হাসান মিরাজের রেকর্ড গড়ার মুহূর্ত সতীর্থরা রাঙিয়েছেন দারুণ উদযাপনে। সতীর্থদের কাছ থেকে প্রাণখোলা ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত বাংলাদেশ অধিনায়ক। যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ড এখন মিরাজের। মঙ্গলবার কক্সবাজারে নামিবিয়াকে হারানোর ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিমের রেকর্ড।
নামিবিয়ার শেষ উইকেটটি নিয়ে যুব ওয়ানডেতে উইকেটের চূড়ায় পা রাখেন মিরাজ। সতীর্থরা তখন আক্ষরিক অর্থেই চূড়ায় তুলে ধরেন অধিনায়ককে। নাজমুল হোসেন শান্ত ছুটে এসে কাধে তুলে নেন প্রিয় বন্ধুকে। যোগ দেন সতীর্থরাও। সবাই মিলে ওপরে তুলে ধরেন মিরাজকে। জড়িয়ে ধরা, পিঠ চাপড়ানোর পর্ব তো ছিলই। সতীর্থদের কাছ থেকে এমন অভিনন্দন পেয়ে উচ্ছ্বসিত মিরাজ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েও লুকালেন না সেই খুশি।
“শেষ উইকেটটি যখন পাই, দলের সবাই আমাকে এসে জড়িয়ে ধরেছে। অভিনন্দন জানিয়েছে। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। সবাই বলেছে দারুণ রেকর্ড করেছিস, বিশেষ করে শান্ত অনেক রোমাঞ্চিত ছিল।”
যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান ও উইকেট, দুটিতেই শীর্ষে এখন বাংলাদেশের নাম। আগের ম্যাচে রানের রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেদিন রেকর্ড গড়ার সময় শান্তর সঙ্গে উইকেট ছিলেন মিরাজ, বন্ধুর রেকর্ড উদযাপনে তার উচ্ছ্বাসটাই ছিল বেশি। এবার মিরাজের রেকর্ডে আলাদা করে চোখে পড়ল শান্তর খুশি। শুধু রেকর্ড উদযাপনে নয়, নামিবিয়ার ম্যাচেই রেকর্ডটি গড়ে ফেলায় শান্তর পরামর্শও কাজে লেগেছে মিরাজের।
“আমি রেকর্ডটা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে আজকেই হবে। তবে ইচ্ছে করলেই তো সব হয় না। বরং বেশি চেষ্টা করলে উল্টো ফল হয়। শান্তও এই কথাটি আমাকে বলছিল যে ‘রেকর্ডের কথা মাথায় রাখলে কিন্তু উইকেট একটিও পাবি না, নরম্যাল বোলিংটা কলেই উইকেট পাবি’। ওর কথাটা আমার কাজে লেগেছে। নিজের বোলিংটা করে গেছি আমি।”

নাটকীয় রান আউটে সুপার লিগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

নাটকীয় রান আউটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ আটে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হতে জিম্বাবুয়েকে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ম্যাচে দুই রানে হারিয়েছে তারা।
জিম্বাবুয়ের প্রাণপণ লড়াই কিংবা আলজারি জোসেফের দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারত ম্যাচটি। কিন্তু শেষটায় সব পেছনে ফেলে বিতর্কেরই জন্ম দিলেন কিমো পল।
শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল তিন রান, ব্যাট করছিল শেষ উইকেট জুটি। প্রথম বলটি করতে এসে নন স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানকে রান আউট করেন কিমো। তিনি বল করতে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটু করে এগোচ্ছিলেন জিম্বাবুয়ের শেষ ব্যাটসম্যান রিচার্ড নগারাভা। সুযোগটা দেখে বল না করে তাকে রান আউট করেন কিমো।
এভাবে আউটের নিয়ম আছে। কিন্তু নন স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যানকে এভাবে আউট ক্রিকেটের স্পিরিটের বিরুদ্ধ বলে সমালোচনাও রয়েছে।
ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন মাভুটার চেহারাই বলে দিচ্ছিল এই আউটকে কিভাবে দেখছেন তারা। এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন এলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
অন্য দিকে, কোনোমতে শেষ আট নিশ্চিত করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ারের কাছে জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ, কিভাবে এল তা নয়।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২২৬ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন স্প্রিঙ্গার। তার ৭১ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও দুটি ছক্কায়। দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিতে দশম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটি গড়েন রায়ান জন (১৬*) ও ওডেন স্মিথ (১৬*)।
জিম্বাবুয়ের রুগারে মাগারিরা তিন উইকেট নেন ৪৮ রানে। জবাবে এক ওভার বাকি থাকতে ২২৪ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শন স্নাইডার খেলেন ৫২ রানের ভালো এক ইনিংস। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অ্যাডাম কিফে খেলেন ৪৩ রানের আরেকটি কার্যকর ইনিংস। অন্যদেরও অবদানে আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ দিকে তালগোল পাকিয়ে আর শেষ রক্ষা করতে পারেনি দলটি। ১৫ রানে শেষ চার উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
৩০ রানে চার উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার জোসেফ। ঘণ্টায় ৯০ মাইল বেগে এদিন কিছু বল করেন ডানহাতি এই পেসার।

বাংলাদেশকে ‘ভাবাতে পারার’ তৃপ্তি নামিবিয়ার

যতটা গর্জন শোনা গিয়েছিল, বর্ষণ ততটা হয়নি। মাঠে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশকে হারানোর প্রত্যয় জানানো নামিবিয়া। তবে এই হারেও প্রাপ্তি খুঁজে নিয়েছেন কোচ নর্বার্ট মানিয়ান্ডে।
ম্যাচের আগে নামিবিয়ার কোচ ও অধিনায়ক করেছিলেন, বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলবেন না তারা। তবে মাঠের ক্রিকেটে খুব একটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি আইসিসির সহযোগী দেশটি।
তবে একটা জায়গায় ঠিকই নিজেদের ‘জয়’ খুঁজে পেয়েছেন মানিয়ান্ডে। ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নামিবিয়ার কোচ বলেন, “আজকে যেটা হয়েছিল, বাংলাদেশ জানত যে আমাদের পেস আক্রমণ খুব ভালো। দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের খেলা থেকে এই ধারণা ওরা পেয়েছিল। দু সপ্তাহ হলো আমরা এখানে আছি, এই ভেন্যুতে খেলেছি। আজকেই প্রথমবার দেখলাম উইকেটে একটুও ঘাস রাখা হয়নি। তার মানে, আমরা ওদের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। লোকে এটা মানবে কি মানবে না, সেটা তাদের ব্যাপার!”
মানিয়ান্ডের মতে, উইকেটে ঘাস না রাখার এই কৌশলই বলে দিচ্ছে, একটা বার্তা দিতে পেরেছে নামিবিয়া।
“একটা টেস্ট খেলুড়ে দেশের জন্য যখন আমরা এতটা ভাবনার কারণ হতে পেরেছি, তার মানে সবাই জানতে পেরেছে যে আমরা এখানে ঘুরতে আসিনি, ক্রিকেট খেলতেই এসেছি। আমরা হেলাফেলা করার মত নয়। তারা হোমওয়ার্ক করেছে আমাদের নিয়ে।”
তবে বাংলাদেশকে প্রাপ্য কৃতিত্বটাও দিয়েছেন নামিবিয়ার কোচ। “বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশ দারুণ খেলেছে। অনেক কিছু শিখেছি আমরা। বাস্তবতা হলো, আমরা আইসিসির সহযোগী দেশ, দলটি প্রথমবার উপমহাদেশে খেলছে। শুধু ক্রিকেটাররা নয়, আমাদের কোচিং স্টাফও এই কন্ডিশনের জন্য অনভিজ্ঞ।”
তবে এই হারে ভেঙে পড়ছে না দলটি। যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জয়ের প্রত্যয় জানালেন কোচ। “কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারাই আমাদের জন্য বড় অর্জন। আজকের হারেই দুনিয়ার শেষ নয়। আরও দু-তিনটি খেলা পাব আমরা সামনে, জিততে চাই যত বেশি সম্ভব।”

দুর্ঘটনা এড়াতে চায় বাংলাদেশ

কোয়ার্টার-ফাইনালে কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ পেলেও সতর্ক বাংলাদেশ। শেষ চারে জায়গা করে নিতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ অধিনায়ক, তবে হালকা করে নিচ্ছেন না নেপালকে।
মঙ্গলবার কক্সবাজারে নামিবিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ে শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০০ ওভারের ম্যাচ মিরাজরা জিতে ৫০ ওভারের আগেই। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, এই জয়ের আত্মবিশ্বাস প্রেরণা জোগাবে সামনের পথচলায়।
“অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এই সব দলের সঙ্গে ভালো করতে না পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাস হয়ত কমে যেতে পারত। এই বড় জয় আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে আমাদের।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে নেপাল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর মিরাজ বলেছিলেন, নেপালকে পেলে সেমি-ফাইনালে ওঠার পথ সহজ হয়ে যাবে অনেকটাই।
তবে সেই পথ যখন সামনে চলে এসেছে, পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ যখন সেই নেপাল, তখন আত্মতুষ্টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন না অধিনায়ক।
“আমাদের সামনে এখন নেপাল। এই সব দলের বিপক্ষেই আমাদের বেশি সাবধান থাকতে হবে। কারণ, এই দলগুলির বিপক্ষেই দুর্ঘটনা বেশি হয়। আমাদের লক্ষ্য থাকবে কোনো দুর্ঘটনা যাতে না হয়। নেপালকে হালকা করে নেওয়া যাবে না। আমরা ঠিক পথে থাকলে সব দরজাই খোলা।”
টিভিতে নেপালের খেলা কিছুটা দেখেছে বাংলাদেশ দল। সেই দেখার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে আশাবাদী করছে আরও বেশি।
“ভারতের বিপক্ষে নেপালের ম্যাচটি আমরা দেখেছি। আমাদের মনে হয়েছে, আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারলে নেপাল ভালো কিছু করতে পারবে না। আমরা আমাদের স্ট্যান্ডার্ড জানি। তবে লেভেলটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।”
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

কম রান দেওয়াই লক্ষ্য ছিল শাওনের

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সে ভীষণ খুশি সালেহ আহমেদ শাওন। তরুণ এই বাঁহাতি স্পিনার টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন বোলিং করে যেতে চান। সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতকে এড়াতে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জিততেই হত বাংলাদেশের। সেই ম্যাচে দলের ৮ উইকেটের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান শাওনের।
“ভালো তো অবশ্যই লাগছে। ম্যান অব দা ম্যাচ হলে কে না খুশি হয়! সবাই খুশি হয়।” ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শাওন জানান, উইকেট নেওয়া নয়, কম রান দেওয়াই ছিল তার ভাবনা।
“আমি যখন বোলিং করি, নিজের বোলিংটাই করে যাই। উইকেটের জন্য বোলিং করি না। উইকেট বলে কয়ে নেওয়া যায় না। আমার যেটা ভালো, আমি একটা জায়গায় বোলিং করে যেতে পারি।”
শাওনের ৮ ওভারের চারটিই ছিল মেডেন। ১০ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। সর্বোচ্চ ১৯ রান করা নিকো ড্যাভিনকে দুর্দান্ত এই আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করেন শাওন। এরপর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে ছিল শুধুই আসা-যাওয়া। “প্রথম উইকেট..হ্যাঁ ওটা আর্ম ডেলিভারি ছিল। নতুন বলে আমার বল একটু ভেতরে যায় এমনিতেই। ওটা আমার সহজাত। এটাই আমার স্টক ডেলিভারি।”
সেমি-ফাইনালে যাওয়ার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। দলটি এরই মধ্যে স্পিন দিয়ে বাংলাদেশকে বধের হুমকি দিয়ে রেখেছে। শেষ আটের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খুব একটা জানেন না শাওন। তবে নিজের ওপর আস্থা থাকায় নেপালের বিপক্ষেও ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাঁহাতি এই স্পিনার, “আমি মনে করি, নিজের বোলিং করতে পারলে সব দলের বিপক্ষেই ভালো করব।”

সান্ত্বনার জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা

টানা দুই ম্যাচ হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার লড়াই থেকে আগেই ছিটকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মূলপর্বে উঠতে না পেরে মনের ক্ষোভ ঝাড়তে বোধ হয় এদিন বেছে নিলেন স্কটিশদের। নিছক আনুষ্ঠানিকতার এ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে প্রোটিয়া যুবারা। ১০ উইকেটের বিশাল জয় তুলে সান্ত্বনা পেল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

স্কটল্যান্ডের দেওয়া ১২৮ রান তেমন বড় লক্ষ্য নয়। এই ছোট লক্ষ্যেকে আরো মামুলি বানিয়ে দিলেন দুই ওপেনার কায়েল ভ্যারেন্নি ও লিয়াম স্মিথ। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই মাঠ ছাড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। ১২৬ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন তারা।

এ ম্যাচে ঘটেছে আরো একটি মজার ঘটনা। দুই ব্যাটসম্যানই ৮৭টি বল মোকাবেলা করেছেন। রানও করেছেন ৬৪ রান করে। এমনকি সমান সংখ্যক ৭টি করে চার মেরেছেন দু`জনই। তবে ভ্যারেন্নি ছক্কা না হাঁকাতে না পারলেও ২টি ছক্কাও হাঁকিয়েছেন স্মিথ।

এর আগে মঙ্গলবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে স্কটল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৭ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

আট নম্বরে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন হ্যারিস কার্নেগি। এছাড়া ফিনলে ম্যাকক্রিথ করেন ২৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ডায়ান গালিয়েম, ইয়ান মুল্ডার, শেন হোয়াইটহেড ও টনি ডি জর্জি ২টি করে উইকেট পান।

নামিবিয়াকে গুঁড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ম্যাচের আগে বাংলাদেশকে একরকম হুমকিই দিয়ে রেখেছিল নামিবিয়া। তবে মাঠের লড়াইয়ে আইসিসির সহযোগী দেশটি বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায়নি, স্রেফ উড়ে গেছে।

মঙ্গলবার কক্সবাজারে নামিবিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। শেষ আটে নেপালের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের স্পিনারদের তোপে মাত্র ৬৫ রানেই গুটিয়ে যায় নামিবিয়া। জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
স্বল্প লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা যদিও খুব একটা ভালো হয়নি। ১৩ রানের মধেই ফিরে যান পিনাক ঘোষ (০) ও সাইফ হাসান (৮)। তবে জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ২০৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

৫৫ বলে ৫টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৩৪ রান করেন জয়রাজ। আর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শান্ত ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এর আগে টস জিতে নামিবিয়াকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ব্যাট করতে নেমে ১০ রানেই ২ উইকেট হারায় নামিবিয়া।

পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে গালিতে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন লফটি এটন। ১৬ বলে ৫ রান করেন নামিবিয়ার এই ওপেনার। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নামিবিয়ার অধিনায়ক জিন গ্রিনও। জাকির হাসানের অসাধারণ থ্রোতে রানের খাতা খোলার আগেই রানআউট হন গ্রিন।

তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন নিকো ডাভিন ও লোহান লরেন্স। ৭.৩ ওভারে ২৭ রান যোগ করেন তারা। কিন্তু স্পিনার সালেহ আহমেদ শাওন গাজীর ঘূর্ণিতে এ প্রতিরোধ ভাঙে ১৩তম ওভারের চতুর্থ বলে।

গাজীর সোজা ডেলিভারি নিকো ডাভিনের উইকেটে আঘাত করে। ১৯ রান করেন ডাভিন। মেহেদী হাসানের করা ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ভ্যান লিনগেন।

দলীয় ৫১ রানে জার্গেন লিন্ডে ও এলবিডব্লিউ করেন শাওন। এরপর ৫৯ থেকে ৬৫, ৬ রানের মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় নামিবিয়া! তাদের ইনিংস স্থায়ী হয় ৩২.৫ ওভার।

ফন উইককে এলবিডব্লিউ করে নামিবিয়ার ইনিংসের ইতি টেনে দেন মিরাজ। আর এই উইকেট নিয়ে যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়ে গেছেন মিরাজ।

ডাভিন (১৯) আর লরেন্স (১৭)  ছাড়া নামিবিয়ার আর কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি!

বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ, শাওন ও আরিফুল- তিনজনই দুটি করে উইকেট নেন। সাইফউদ্দিন ও সাঈদ সরকারের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

শান্তর পর মিরাজের বিশ্বরেকর্ড

নামিবিয়া শিবিরের শেষ উইকেট হিসাবে ওয়ারেন ভ্যান উইক যখন আউট হলেন তখন রেকর্ড বুকে ঢুকে গেলেন আরেক বাংলাদেশি। যুবাদের হয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারি এখন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দিনই যুবাদের হয়ে সর্বোচ্চ রানের অধিকারী হয়েছিলেন দলের সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

বিশ্বরেকর্ড গড়তে দরকার ছিল আর দুটি উইকেট। ঠিক পেলেনও তাই। নামিবিয়ার উইকেট বৃষ্টিতে কে কত উইকেট পকেটে পুরবেন এই প্রতিযোগিতার শেষ অধ্যায়ে বিশ্বরেকর্ডটি করেন মিরাজ। এতদিন এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন পাকিস্তানি বোলার ইমাদ ওয়াসিম। ৪৯ ম্যাচে ৭৩ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন এই পাকিস্তানি। আজকের ম্যাচে দুই উইকেট তুলে ৭৪ উইকেট নিয়ে শীর্ষে উঠে এলেন মিরাজ।

এদিন ৭ ওভার ৫ বল করে মাত্র ১২ রান দিয়ে ২টি উইকেট পান মিরাজ। ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মাইকেল ভ্যান লিংগেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। এরপর ৩৩তম ওভারে ভ্যান উইককে একই ঢংয়ে আউট করে বিশ্বরেকর্ডের মালিক হন তিনি।

বাংলাদেশের স্পিন ও ফিল্ডিংয়ে ৬৫ রানেই শেষ নামিবিয়া

বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ ও দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে দাঁড়াতেই পারল না নামিবিয়ার ব্যাটসম্যানরা। গ্রুপ শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে এবারের টুর্নামেন্টে চমকে দেওয়া দলটিকে ৬৫ রানেই গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ।

প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স বলে দিচ্ছিল বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ গড়তে পারে নামিবিয়া। আদতে স্বাগতিকদের স্পিনের জবাবই খুঁজে পেল না আইসিসির সহযোগী দেশটি। আর হাঁসফাঁস করতে থাকা ব্যাটসম্যানদের আরও মুড়িয়ে দিল বাংলাদেশের দুর্দান্ত ক্যাচিং ও গ্রাউন্ড ফিল্ডিং।

সকালে প্রথম ব্রেক থ্রুটা অবশ্য দিয়েছিলেন একজন পেসার। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দুই পেসার আব্দুল হালিম ও মোহামমদ সাইফুদ্দিন একটু সময় নিয়েছেন লাইন ও লেংথ খুঁজে পেতে। তবে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রেক থ্রুর জন্য।

চতুর্থ ওভারে দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন সাইফুদ্দিন। গালিতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে এসজে লফটি-ইটনের ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

বাংলাদেশের পরের উইকেটটিও এসেছে অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে। গালি থেকে দারুণ থ্রোতে উইকেট ভেঙেছিলেন আরিফুল ইসলাম, ব্যাটসম্যান তখনও ক্রিজে। কিন্তু রান নিতে ছুটেছিলেন ওভারথ্রোতে। ছুটে গিয়ে উইকেটকিপার জাকির হাসান গুলির বেগে সরাসরি থ্রোয়ে আউট করেছেন নামিবিয়ান অধিনায়ক জেন গ্রিনকে।

নামিবিয়ার ইনিংসের একমাত্র দু অঙ্কের জুটি এসেছে এরপরই। তৃতীয় উইকেটে ২৭ রানের জুটি গড়েন নিকো ড্যাভিন ও লোহান লরেন্স। দুর্দান্ত এক আর্ম ডেলিভারিতে ড্যাভিনকে (১৯) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সালেহ আহমেদ শাওন। এরপর থেকে শুধুই ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া।

কুইকার ডেলিভারিতে মাইকেল ফন লিনজেনকে এলবিডব্লিউ করে যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারেই উইকেট নেন অফ স্পিনার সাঈদ সরকার, মিড উইকেটে আরেকটি রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন শান্ত।

নামিবিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর নায়ক লরেন্স লড়াই করছিলেন আবারও। কিন্তু নিজের প্রথম ওভারেই দ্রুতগতির এই সোজা বলে লরেন্সকে (১৭) বোল্ড করেন আরিফুল ইসলাম। এই বাঁহাতি স্পিনারকে পরে দ্বিতীয় উইকেট উপহার দেয় সিলি মিড অনে পিনাক ঘোষের দুর্দান্ত ক্যাচ।

নামিবিয়া ইনিংসের শেষটিও বাংলাদেশ দলে জন্য আসে দারুণ এক উপলক্ষ হয়ে। শেষ উইকেট নিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডটি নিজের করে নেন মিরাজ।

বাংলাদেশের গ্রুপ শীর্ষে থাকার ভিত তখন গড়া হয়ে গেছে।

শুরুতেই বাংলাদেশের দুই উইকেটের পতন

নামিবিয়ার দেওয়া ৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ফ্রিটজ কোয়েটজির বোলিং তোপে পড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দুই ওপেনারকে হারিয়ে দারুণভাবে চাপে পড়েছে স্বাগতিকরা।

স্কোরবোর্ডে কোন রান না তুলতেই সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার পিনাক ঘোষ। কোয়েটজির বলে লরেন্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। তার পরের ওভারেই উইকেটরক্ষক জেন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৫ ওভারে ১৫ রান। নাজমুল হোসেন শান্ত ২ এবং জয়রাজ শেখ ১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে নামিবিয়াকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নামিবিয়া। স্পিনারদের ঘূর্ণিতে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। তবে নামিবিয়ার বিপর্যয়ে শুরুটা এনে দেন পেসার সাইফুদ্দিন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরান ফর্মে থাকা ওপেনিং ব্যাটসম্যান লফটি-এটনকে।

এক ওভার পরে নিজেদের ভুলে বিপর্যয় আরো বাড়িয়ে তোলে নামিবিয়া। ওভার থ্রো থেকে রান নিতে গিয়ে উইকেটরক্ষক জাকির হোসেনের সরাসরি থ্রোতে আউট হন জেন গ্রিন। ১০ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ওপেনার নিকো ড্যাভিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন লোহান লরেন্স।

১০ ওভার শেষে স্পিনারদের আক্রমণে আনেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই ওভার পর থেকেই শুরু হয় তাদের ভেলকি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে মাত্র ৬৫ রানেই গুটিয়ে দেন নামিবিয়াকে। আর নামিবিয়ার উইকেট বৃষ্টিতে একে একে শামিল হলেন সব স্পিনারই। স্পিনারদের হয়ে শুরুটা করেন শাওন গাজী। এরপর মিরাজ, আরিফুল ইসলাম জনি ও সাঈদ সরকার।

নামিবিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন নিকো ড্যাভিন। এছাড়া লোহান লরেন্স করেন ১৭ রান। এই দুই ব্যাটসম্যান ছাড়া নামিবিয়ার আর কোন ব্যাটসম্যান দুই অংকের কোঠা ছুঁতে পারেননি।

বাংলাদেশের পক্ষে আরিফুল ৯, শাওন ১০ এবং মিরাজ ১২ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট পান। এছাড়া সাঈদ ও সাইফুদ্দিন ১টি উইকেট নেন।

২৪০ রানই বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট

বাংলাদেশের বোলারদের ওপর অনেক আস্থা সালেহ আহমেদ শাওনের। বাঁহাতি এই স্পিনার জানিয়েছেন, ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও ২৪০ রান নিয়ে লড়াই করতে পারবেন তারা।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশের কোচ-খেলোয়াড়রা বলে আসছেন, এবারের টুর্নামেন্টে বোলিং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির দিক। প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সে বোলারদের ওপর আস্থা আরও বেড়েছে।
নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন সোমবার সংবাদ সম্মেলনে সেই আস্থা থাকার কথাই জানালেন শাওন, “আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, তাতে আমরা আশা করি যে কোনো উইকেটে ২৪০ রান আমাদের জন্য অনেক। যে কোনো উইকেটে, যত ভালো ব্যাটিং উইকেট হোক, আমাদের বিপক্ষে ২৪০ তাড়া করা প্রতিপক্ষ দলের জন্য অনেক কঠিন হবে।”
কাউকে খাটো করতে রাজি নন শাওন। তবে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে সহজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই তরুণ।
“আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে অন্য কেউ পাত্তা পাবে না। আত্মবিশ্বাস আসে নিজের কাছ থেকেই। আমরা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে আছি। আমরা অনেক ভালো টিম মেট। সবাই ভালো করছি মাঠে, সব মিলিয়েই বিশ্বাস আসে।”
নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৭ উইকেটে ২৪০ রান করে স্বাগতিকরা। আট বল বাকি থাকতে গত আসরের চ্যাম্পিয়নদের ১৯৭ রানে গুটিয়ে দেন মেহেদি হাসান মিরাজরা।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ৬ উইকেটে ২৫৬ রান করে বাংলাদেশ। সুপার লিগ নিশ্চিত করার পথে ১১৪ রানের বড় জয় পায় তারা। বোলারদের দাপটে ৪৭.২ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায় স্কটল্যান্ড।

স্পিনে বাংলাদেশকে নেপালের হুমকি

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের পরপরই সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে নেপাল। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে স্পিন দিয়ে বধের হুমকি দিয়ে রেখেছে দলটি।
সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপে নিজের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলে নেপাল। সেই ম্যাচে ৭ উইকেটের হারে দ্বিতীয় হয়ে সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে দলটি।
‘এ’ গ্রুপের সেরা হতে পারে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জিততে হবে মেহেদি হাসান মিরাজদের।
নেপালের অলরাউন্ডার আরিফ শেখ জানান, বাংলাদেশ বা নামিবিয়া যেই আসুক কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচে প্রস্তুত থাকবেন তারা। “বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী দল। আমরা ওদের খেলা দেখেছি। এটা ওদের মাঠ। তবে আমাদের স্পিনারদের সামর্থ্য আছে ওদের পরীক্ষা নেওয়ার। সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারলে যে কাউকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।”
সোমবার ম্যাচ শেষে নেপালের ড্রেসিং রুমে যান ভারতের কোচ রাহুল দ্রাবিড়। তার প্রশংসা নেপালের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়েছে বলে জানান আরিফ।
“তিনি আমাদের ড্রেসিং রুমে এসেছিলেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের বোলিং আক্রমণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, পুঁজি না পাওয়ায় এই ম্যাচে বোলারদের কিছু করার ছিল না।”
১৭৯ বল হাতে রেখে নেপালের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। ১৮ বলে অর্ধশতক করে যুব ওয়ানডেতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ত।
আরিফ জানান, ভারত ম্যাচকে নিজেদের বাজে একটা দিন হিসেবেই দেখছেন তারা, এর চেয়ে অনেক ভালো খেলার সামর্থ্য তাদের আছে।
“আমরা অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ডের মতো দলকে আমরা হারিয়েছি। নিজেদের ওপর আস্থা আমাদের বড় শক্তি।”
ব্যাটিং অলরাউন্ডার আরিফের বিশ্বাস, মিরপুরের উইকেটে ২২০/২৩০ রান করতে পারলে বাংলাদেশকেও হারানো সম্ভব হতে পারে। তবে বাংলাদেশের বোলারদের সামলানোকেও বড় একটা চ্যালেঞ্জ মানছেন আরিফ, “লড়াইয়ের পুঁজি পেতে আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভালো করতে হবে। ২২০/২৩০ রান করার সামার্থ্য আমাদের আছে।”

টিম স্পিরিট নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নামছে নামিবিয়া

গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে নামিবিয়ার অধিনায়ক ও কোচ জানিয়েছেন, টিম স্পিরিট তাদের এত দূর নিয়ে এসেছে।
স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে নামিবিয়া। পরের ম্যাচে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি।
‘এ’ গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে এবার দলটির প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে এক দল হিসেবেই খেলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন অধিনায়ক জেন গ্রিন।
“আমরা একটা দল হিসেবে খেলি। সবাই পরস্পরের জন্য খেলি। সবাই এক হয়ে খেলি।” দলে সবার অবদান রাখাকেই বড় করে দেখছেন কোচ নর্বার্ট মানিয়ান্ডে।
“আমরা একটা দল হিসেবে খেলি, এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের দলটা খুব চনমনে, ফুরফুরে। সবাই একতাবদ্ধ। সবাই পরস্পরের সাফল্য উপভোগ করে। আর আমরা একজনের ওপর নির্ভর করি না। অনেকে ভালো খেলেছে, অনেকে এখনও পারেনি। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, যে কোনো সময় ওরা জ্বলে উঠবে।”

সঞ্জিতের বদলে বাংলাদেশ দলে মোসাব্বেক

অবৈধ অ্যাকশনের কারণে বোলিংয়ে নিষিদ্ধ সঞ্জিত সাহার বদলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলে নেওয়া হয়েছে মোসাব্বেক হোসেন সানকে।
সঞ্জিতের মতো মোসাব্বেকও অফ স্পিনার, পাশাপাশি ব্যাটের হাতও বেশ ভালো। অনুর্ধ্ব-১৯ দলের এই ব্যাচেরই অংশ ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। খেলছিলেন নিয়মিতই। তবে গত জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর জায়গা হারান দলে।
মোসাব্বেকের বড় ভাই মোসাদ্দেক হোসেন বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। পরে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের রানের জোয়ার বইয়ে দিয়ে। কদিন আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকও হয়েছে মোসাদ্দেকের। নানা কারণে পথ থেকে খানিকটা ছিটকে পড়েছিলেন ছোট ভাই মোসাব্বেক। তবে সঞ্জিতের দুর্ভাগ্যই তার জন্য বয়ে আনল সৌভাগ্য।
যুব বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ হয় সঞ্জিতের বোলিং অ্যাকশন। পরে ভিডিও বিশ্লেষণ করে দ্বিতীয় ম্যাচের আগের রাতে আইসিসির বিশেষজ্ঞ কমিটি জানিয়ে দেয়, অবৈধ অ্যাকশনের কারণে বোলিং করতে পারবেন না সঞ্জিত।

বিশ্বকাপ নয় সিরিজ খেলছেন শাওন

ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। যুবাদের সবচেয়ে বড় এই আসরকে ঘিরে এবার অনেক বড় স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তরা। কিন্তু এ টুর্নামেন্টকে একটি সিরিজ হিসাবে দেখছেন দলের অন্যতম সেরা স্পিনার সালেহ আহমেদ শাওন গাজী। বিশ্বকাপ খেলছেন এমন কোন ভাবনাই নেই এই স্পিনারের।

সোমবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনশেষে শাওন বলেন, ‘আমরা এটিকে বিশ্বকাপ নয়, সিরিজ হিসেবে দেখছি। বিশ্বকাপ হিসেবে ভাবছি না, মনে করছি যে একটি সিরিজে ঢুকেছি।

আমাদের অধিনায়ক মিরাজ, সহ-অধিনায়ক শান্ত, সবাই টুর্নামেন্টের আগে এখনও বলছে যে আমরা একটা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যেভাবে খেলি, ওরকমই খেলব। বিশ্বকাপ খেলছি, ওরকম কোনো টেনশনই নেই মাথায়। চ্যাম্পিয়ন হতে হবে, এরকম ভাবনাও নেই।’

বিশ্বকাপ, বড় আসর এই সব নিয়ে ভাবলে নিজেদের উপর চাপ বেড়ে যাবে বলে জানান শাওন। তাই ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রস্তুত করছেন বলেও জানান তিনি।

এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বকাপ শিরোপা পেতে হলে ছয়টি ম্যাচ জিততে হবে। চারটি ম্যাচ বাকি আছে। আমরা তিন ম্যাচ করে দুটি সিরিজে ভাগ করেছি। গ্রুপে তিন ম্যাচ। এরপর সুপার লিগে তিন ম্যাচ।’

তবে এভাবে খেললে দলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে শাওন জানান, আত্মবিশ্বাসটাই আসল। বিশ্বাস করলেই হয়। আরও জানান, নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে অন্য কেউ তাদের সামনে পাত্তায় পাবেনা।

তিনি আরও বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস আসে নিজের কাছ থেকেই। আমরা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে আছি, অনেক ভালো সতীর্থ আমরা সবাই, ভালো করছি মাঠে। সব মিলিয়েই বিশ্বাস আছে। আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, তাতে আশা করি যে কোনো উইকেটে ২৪০ রান আমাদের জন্য অনেক। যে কোনো উইকেটে, যত ভালো ব্যাটিং উইকেটই হোক, আমাদের বিপক্ষে ২৪০ তাড়া করতে প্রতিপক্ষ দলের জন্য অনেক কঠিন হবে।’

মর্যাদার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের জয়

টানা দুই ম্যাচ হেরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে আগেই বিদায় নিয়েছে নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড। এদিন ম্যাচটি ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা ও মর্যাদার। আর মর্যাদার লড়াইয়ে আইরিশদের হারিয়েছে কিউইরা। ফিন অ্যালেনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটের জয় পায় তারা।

আয়ারল্যান্ড যুবাদের দেওয়া ২১৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে কিউইরা। দলীয় স্কোর ৩৩ রান থেকে ৪৫ রানে যেতেই টপ অর্ডারের সেরা চার ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ডেল ফিলিপকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ এক জুটি গড়েন ফিন অ্যালেন। এই দুই ব্যাটসম্যান ১৪১ রান সংগ্রহ করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৭ রান করেন অ্যালেন। টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাটিং করে ৭৬ বলে ৯টি চার এবং ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৯৭ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন ফিলিপ। ৬৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি। এছাড়া গ্লেন ফিলিপ করেন ৩৪ রান। আইরিশ যুবাদের পক্ষে ররি এন্ডার্স ৩২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট পান। এছাড়া ফিচ্রা টুকার নেন ২টি উইকেট।

এর আগে সোমবার ফতুল্লার খান সাহেব আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে আয়ারল্যান্ড। দলীয় ১৫ রানে স্টিফেন দোহেনিকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে তারা। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অ্যাডাম ডেনিসনকে নিয়ে ৮৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন জ্যাক টেকটর। তবে দলীয় ১০০ রানে দোহেনি আউট হলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৪৭.৫ ওভারে ২১২ রানে অলআউট হয় তারা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন টেকটর। ৮৩ বল মোকাবেলা করে ৬টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন এ আইরিশ ওপেনার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে দোহেনির ব্যাট থেকে। ৫৬ বলে ৪৬ রান করতে ৭টি চার মারেন তিনি। এছাড়া গ্যারি ম্যাকক্লিনটক করেন ৩৪ রান। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে জশ ফিনি ৩০ রানে এবং রাচিন রবীন্দ্র ৩৬ রানে ৩টি করে উইকেট পান।

ভারতীয় যুবার নতুন রেকর্ড

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে দারুণ রেকর্ড গড়েছেন ভারতীয় ওপেনার রিশাভ পান্ত। ১৮ বলে মোকাবেলা করে এই আসরের সবচেয়ে দ্রুততম অর্ধশতকের অধিকারী হয়েছেন তিনি।

এর আগে যুবাদের এ রেকর্ডটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ট্রেভন গ্রিফিথের দখলে। ২০০৯-১০ মৌসুমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯ বলে এই মাইলফলক অর্জন করেছিলেন তিনি।

সোমবার মিরপুরে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দারুণ এই ইনিংসটি খেলেন পান্ত। ১৮ বলে অর্ধশত ছুঁলেও শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। এই রান করতে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন তিনি।

উল্লেখ্য, এদিন নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হেসে খেলে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

শিরোপায় চোখ যুব টাইগারদের

যুব বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিপক্ষে মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ আটে খেলতে চায় হোস্টরা। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, কোয়ার্টার-পর্ব কিংবা প্রতিপক্ষ নিয়ে আলাদা করে ভাবছে না তারা, দলের একটাই লক্ষ্য আর তা হলো চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
সোমবার প্র্যাকটিসে নামার আগের ছবি, কোচের সঙ্গে হাসাহাসি এসব। আগের দিন বিকালে স্কটিশদের হারিয়ে শুধু রাতটাই হোটেলে ছিলো বাংলাদেশ। সকালে উঠেই মাঠে চলে আসলো পুরো টিম, অথচ শেষ ম্যাচের আগে ঐচ্ছিক অনুশীলনই রেখেছিলো টিম ম্যানেজমেন্ট। হালকা স্ট্রেচিং এবং ওয়ার্মআপের পর শেখ কামাল স্টেডিয়ামের নেটে ব্যাটে-বলে ঘাম ঝড়িয়েছেন যুব দলের বোলার ব্যাটসম্যানরা। অনুশীলন শেষ করে জুনিয়র টিম টাইগার্স জানিয়েছে, শুধুই জিততে চাওয়া ছাড়া কোন চাপে নেই তারা।
গ্রুপ সঙ্গী নামিবিয়াও বাংলাদেশের মতো জিতেছে দুই ম্যাচের দুটোই। স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে, আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাউথ আফ্রিকাকে আটকে দিয়ে অবাক করেছে ক্রিকেট বিশ্বকেই। স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাদের চেষ্টা থাকবে শতভাগ উজাড় করে দেয়ার।
নামিবিয়ার অনুশীলনের খোঁজ খবর জানেন বাংলাদেশ কোচও। নজর থাকবে তাদের লাইনআপেও। তবে দিন শেষে যা করার করতে হবে তার দলকে। এমন কি পরের রাউন্ডের প্রতিপক্ষ কে তা নিয়েও এখনই চিন্তা নয়।
নামিবিয়া এবং হোস্ট বাংলাদেশের যুব ক্রিকেটারদের ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ৯টায়। তবে এ ম্যাচও সরাসরি সম্প্রচার হবে না। তাই বাংলাদেশের খেলা দেখতে পারবে না হোস্ট বাংলাদেশের কোটি মানুষ।

নেপালকে মাটিতে নামাল ভারত

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা নেপালকে একেবারে মাটিতে নামিয়ে আনল ভারত। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হেসে খেলে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিলো তারা।

শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেপালের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে আগ্রাসীভাবে ব্যাট করতে থাকে ভারত। মাত্র ৪ ওভারেই তুলে নেন অর্ধশত। আর রিশাব পান্ত ১৭ বলেই তুলে নেন নিজের অর্ধশত। এরপর ৩৭ বলে ৯ চার ৫ ছয়ে ৭৮ রানে থামে তার ইনিংস।

এরপর দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে বিদায় নেন আরেক ওপেনার ইশান। তিনিও তুলে নেন নিজের অর্ধশত। ব্যক্তিগত ৫২ রানে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। বাকি দায়িত্ব পালন করেন সরফরাজ খান। ২১ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দলে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আইপিএলে খেলা এই ব্যাটসম্যান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধামালার উইকেট হারিয়ে চাপে পরে নেপাল। এরপর দ্রুত কারকি ও দলীয় অধিনায়ক রিজাল বিদায় নিলে চাপ আরও বেড়ে যায়। পঞ্চম উইকেটে ২৮ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আরিফ শেখ ও রাজবির সিং।

তবে আরিফ(২৬) ও রাজবিরের (৩৫) বিদায়ের পর আর কোন ব্যাটসম্যান দাড়াতে না পারলে ১৬৯ রানেই শেষ হয় নেপালের ইনিংস। ভারতের পক্ষে আভেষ খান নেন ৩ উইকেট।

অপেক্ষা বাড়লো মিরাজের

বিশ্বরেকর্ড গড়তে নাজমুল হোসেন শান্তর চাই ৬৫ রান আর মিরাজের ৩ উইকেট। এমন সমীকরণ নিয়েই অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ক্ষুদে টাইগাররা; কিন্তু এদিন রেকর্ডের ‘ডাবল’ হলো না স্বাগতিকদের। শান্ত পারলেও অপেক্ষা বেড়েছে অধিনায়ক মিরাজের।
রোববার স্কটিশদের বিপক্ষে ২৭ রানের বিনিময়ে ১টি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানি ইমাদ ওয়াসিমের ঘাড়ে এখনও নিঃশ্বাস ফেলছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪৯ ম্যাচে ৭৩ উইকেট নিয়েছেন এই পাকিস্তানি। ৭২ উইকেট নিয়ে তার পরেই অবস্থান করছেন বাংলাদেশি যুবাদের অধিনায়ক। আর একটি উইকেট পেলে ইমাদের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায় এখনও কমপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ বাংলাদেশের যুবাদের। সে ক্ষেত্রে ইমাদকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন মিরাজ, বলেই প্রত্যাশা লাখো বাংলাদেশির।
তবে মিরাজ না পারলেও মূল পর্ব নিশ্চিতের দিনে যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের সর্বোচ্চ রানের অধিকারী হয়েছেন শান্ত। ৪০ ম্যাচে ১৬৯৫ রান নিয়ে তার সামনে ছিলেন পাকিস্তানের সামি আসলাম। ৫৩ ম্যাচে ১৬৩৪ রান নিয়ে মাঠে নেমে এদিন দারুণ শতক হাঁকিয়ে শান্ত পেছনে ফেলেন আসলামকে। করেন হার না মানা ১১৩ রান। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে এখন তার সংগ্রহ ১৭৪৭। ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারলে আরও চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। সেক্ষেত্রে রেকর্ডটা আরও দীর্ঘ করতে পারবেন বলেই প্রত্যাশা সবার।

অবৈধ বোলিং অ্যাকশন: নিষিদ্ধ সঞ্জিত সাহা

সন্দেহটাই সত্যে পরিণত হলো। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলো অফ স্পিনার সঞ্জিত সাহার। রবিবারই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ নয় বলে আপাতত ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হচ্ছেন তিনি।
নতুন করে বোলিং অ্যাকশন শুধরে আইসিসি নির্ধারিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা দিয়েই বোলিংয়ে ফিরতে হবে সঞ্জিতকে।
এর আগে গত বুধবার যুব বিশ্বকাপে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের দায়ে অভিযুক্ত হন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অফ স্পিনার সঞ্জিত সাহা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বোলিং করেই এ অভিযোগে অভিযুক্ত হন তিনি।

শেষ আট নিশ্চিত করলো যারা

আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সুপার লিগ বা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সাতটি দল। ইতিমধ্যেই সুপার লিগে উঠে গেছে বাংলাদেশ-নামিবিয়া (গ্রুপ এ), শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান (গ্রুপ বি), ভারত, নেপাল (গ্রুপ ডি) ও ইংল্যান্ড (গ্রুপ সি)।
গ্রুপ সি থেকে একমাত্র ইংলিংশ যুবারা সুপার লিগ নিশ্চিত করেছে। এই গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ঝুলে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের ভাগ্য।
গ্রুপ রানার্স-আপ নিশ্চিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি লড়াইয়ে। দুই দলের সংগ্রহ দুই পয়েন্ট। এদিন মুখোমুখি লড়াইয়ে যে দল জয়ী হবে তারাই উঠে যাবে শেষ আটে।

শান্তর ‘স্পেশাল’ দিন

একদিনেই কতগুলো ঘটনা ঘটে গেলো শান্তর জীবনে। তাইতো এ দিনটি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর জন্য স্পেশাল হয়ে উঠেছে। রবিবার ম্যাচ সেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে এই দিনটিকে ‘স্পেশাল ডে’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। হবেই না কেন? এই দিনে শান্তর অর্জনও যে কম নয়!
ছোটদের ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন নাজমুল হোসেন শান্ত। এছাড়া বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরির পাশাপাশি দল কোয়ার্টার ফাইনালে 914d51686022e8832e5439869fab13e0-খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সবকিছুই মিলে দিনটি শান্তর জন্য স্পেশাল হয়ে উঠেছে। শান্ত বলেন, ‘আজ দিনটা আমার জন্য খুব স্পেশাল। কারণ প্রথমেই আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠছি। আমি সেঞ্চুরি পেয়েছি; প্রথম ম্যাচে যা করতে পারেনি। টিম জিতেছে। সব মিলিয়ে এটা আমার জন্য খুব স্পেশাল দিন।’
আগের দিনই জানা গিয়েছিল মাত্র ৬২ রান করতে পারলেই সর্বোচ্চ রানের মালিক হবেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান। মাঠে নামার আগে বিষয়টি ভাবনায় ছিলো তার। সেভাবেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এদিন ১১৩ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন তিনি। অপরাজিত এই শতকের সুবাদে ৫৪ ম্যাচ তার সংগ্রহ ১৭৪৭ রান।
এ প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘রেকর্ড সম্পর্কে আগে থেকে কিছু না জানলেও গতকাল (শনিবার) জেনেছি। আজ ওটা মাথায়ও ছিল। রেকর্ড তো হয়েছে। আমার খুব ভালো লাগছে। রেকর্ড করতেই হবে সেভাবেই কিছু ভাবিনি। তবে চিন্তা করেছি চেষ্টা করবো। আমার আম্মা- আব্বাও ভীষণ খুশি।’
৬২ রান করে মাইলফলক ছোঁয়ার পর শান্তকে জড়িয়ে ধরেন অধিনায়ক মিরাজ। বিষয়টি ব্যাখা করতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘৬২ হওয়ার পর ও (মিরাজ) অনেক ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলো। মনে হচ্ছিল যেন রেকর্ডটা ওই করেছে। ও সব সময় আমাকে এরকম সাপোর্ট করে।’
দলীয় ১৭ রানের মধ্যে দুই উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। তাতে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ খুব ভালো মতোই সামাল দেন সাইফ-শান্ত। কী পরিকল্পনা ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উইকেট খুব একটা ভালো ছিল না। বল ব্যাটে আসেনি ঠিকমত। ওই সময় আমার চিন্তায় ছিল সময় নিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করা।’

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দিলো নামিবিয়া

আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের জানিয়ে দিয়েছিল নামিবিয়া। হুঙ্কার দিয়েছিল বাংলাদেশকেও হারাবে। তবে তার আগে নিজেদের আরও একবার জাহির করলেন তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় পায় আইসিসির সহযোগী এই দেশটি।

আর এই হারে মূল পর্বে খেলার আশা শেষ হয়ে গেলো প্রোটিয়াদের। আগের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবার মূল পর্বে না খেলার লজ্জায় পরতে হলো দলটিকে। গ্রুপ পর্ব উতরাতে না পারায় এখন তাদের খেলতে হবে প্লেট পর্বে।

রোববার দক্ষিণ আফ্রিকা যুবাদের দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নামিবিয়ার। দলীয় ১০ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও ছোট ছোট কয়েকটি জুটিতে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় সহযোগী দেশটি। এক প্রান্তে দারুণ ব্যাটিং করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন লোহান লরেন্স। ৯৭ বলে ৯টি চারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১.১ ওভার বাকি থাকতেই ঐতিহাসিক জয়ের দেখা পায় নামিবিয়ার যুবারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে জিয়াদ আব্রাহাম ও শেন হোয়াইটহেড ২টি করে উইকেট পান।

এর আগে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সস্টেডিয়ামের একাডেমী মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৬ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা।

আট নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে উইলিয়াম লুডিকের ৪২ রানে মান রক্ষা হয় প্রোটিয়াদের। ৯৮ বলে ৪টি ও ১টি ছক্কার সাহায্যে এই রান করেন তিনি। লুথো সিপামলাকে নিয়ে তার করা ৫৫ রানের জুটিই ছিল ইনিংসের সর্বোচ্চ।

নামিবিয়ার পক্ষে মাইকেল ভ্যান লিঙ্গেন ২৪ রানে ৪ উইকেট পান। এছাড়া ১৬ রানে ৩টি উইকেট নেন ফ্রিটজ কোয়েটজি।

জিতেই চলেছে ইংলিশ যুবারা

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ১২৯ রানের বিশাল জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই মূল পর্বে উঠলো প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়নরা। জ্যাক বার্নহ্যামের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর সাকিব মাহমুদের বোলিং তোপে সহজ জয় পায় ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৮৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ১৪ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলে তারা। এক প্রান্তে জেরেমি আইভিস দারুণ লড়াই করলেও যোগ্য সঙ্গীর অভাবে বড় হার মানতে হয় তাদের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ার ফলে ৪৩.৪ ওভারে মাত্র ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের যুবারা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন আইভিস। ১৩২ বলে ৯টি চারের সাহায্যে দারুণ এই ইনিংস খেলেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন অধিনায়ক ব্র্যান্ডেন বাভুতা। ইংল্যান্ডের পক্ষে ৩৯ রানে ৪টি উইকেট পান সাকিব মাহমুদ। এছাড়া ১৪ রানে ৩টি উইকেট পান কলাম টেলর।

এর আগে রোববার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড এবং শুরুটাও করে দুর্দান্ত। ওপেনিং জুটিতে ৯১ রান সংগ্রহ করেন ড্যান লরেন্স ও ম্যাক্স হোল্ডেন। ২০তম ওভারে লরেন্স আউট হলে উইকেটে নামেন জ্যাক বার্নহ্যাম। হোল্ডেনকে নিয়ে ৭৩ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান বার্ন্যোম। শেষ দিকে পঞ্চম উইকেট জুটিতে অ্যানিউরিন ডোনাল্ড ও স্যাম কারেন ৩৪ বলে ৬২ ঝড়ো ইনিংস খেললে, শেষ পর্যন্ত ২৮৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় ইংলিশরা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৬ রান করেন বার্নহ্যাম। ১০৪ বলে ৫টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে এই রান করেন তিনি। দুই ওপেনার ড্যান লরেন্স ৬৭ বলে ৫৯ ও ম্যাক্স হোল্ডেন ৯০ বলে ৫১ রান করেন। এছাড়া শেষ দিকে অ্যানিউরিন ডোনাল্ড ১৭ বলে ২৫ ও স্যাম কারেন ১৬ বলের ৩২ রানের দুটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে রুগারে মাগারিরা ৩৬ রানে পান ২টি উইকেট।

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে মূলপর্বে বাংলাদেশ

চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে স্বপ্নের শুরু। ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলো স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্কটিশদের ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করলো মেহেদী হাসান মিরাজরা। বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ২৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং সালেহ আহমেদ শাওনের তোপের মুখে পড়ে ১৪২ রানেই অলআউট হয়ে গেলো স্কটল্যান্ড।

এর আগে বাংলাদেশ যুবাদের দেওয়া ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ সূচনা করেছে স্কটল্যান্ড। দুই ওপেনার ১২ বলে তুলে নেন ৪৮ রান। এরপরই ঘটে ছন্দ পতন। ১৩ তম ওভারে দলের হয়ে ফ্ল্যাককে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। একই ওভারের শেষ বলে রান আউটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ওয়াইজ শাহ।

এরপর ররি জনস্টোন আর জ্যাক ওয়ালারকে সাজঘরে ফিরিয়ে জোড়া আঘাত হানেন সঞ্জিত শাহার পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া আরিফুল হক।  দলীয় ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে স্কটল্যান্ড। এরপর শাওন আরও দুই উইকেট তুলে নিলে বিপদতা আরও বেড়ে যায় স্কটল্যান্ডের।

এর আগে এর আগে রোববার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ যুব দল। যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহকারী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়া শান্তর শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৫৬ রান করে বাংলাদেশ।

তবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি যুবা টাইগারদের।  শুরুতেই গাফফারের জোড়া আঘাতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ গাফফারের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে শূন্য রানেই ফেরেন পিনাক ঘোষ। আর অষ্টম ওভারের শেষ বলে গাফফারের দ্বিতীয় শিকারে ফেরেন ১৩ রান করা জয়রাজ শেখ।

তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান এবং টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাআজমুল হোসেন শান্ত। ১০১ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে প্রাথমিক চাপ সামলে নেন। তবে ৩৩তম ওভারে দলীয় ১১৮ রানে  ব্যক্তিগত ৪৯ রানে সাজঘরে ফেরেন সাইফ। এরপর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে মিরাজ এবং শান্ত গড়েন আরো একটি শত রানের জুটি। অধিনায়ক মিরাজ তুলে নেন অর্ধশতক। তবে ৪৮তম ওভারে ক্যাচ আউট হয়ে ৪৮ বলে ব্যক্তিগত ৫১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে সাইফুদ্দিন ও সাইদ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এনে ২৫৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেন শান্ত। স্কটল্যান্ডের পক্ষে মোহাম্মদ গাফফার নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট।

যুব ওয়ানডের রান চূড়ায় শান্ত

স্কটিশ উইকেটের অপেক্ষায় টাইগাররা

যুব বিশ্বকাপের একাদশতম আসরের ১৪তম ম্যাচে সকাল নয়টায় মাঠে নামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও স্কটল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের যুবারা। নিজেদের দ্বিতীয় অনুমিত জয় তুলে নিতে ফিল্ডিংয়ে নামে টাইগার যুবারা। ১২ ওভারে স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৪৮ রান।

স্কটিশদের হয়ে ব্যাটিং শুরু করতে ওপেনিংয়ে নামেন ররি জন্সটন ও নেইল ফ্লাক।

কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্কটিশরা। নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য শতকে ভর করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৬ উইকেট হারিয়ে স্কটিশদের ২৫৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়। শান্ত অপরাজিত থেকে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ ৫১ ও ওপেনার সাইফ হাসান ৪৯ রান করে দলের স্কোরে ভূমিকা রাখেন।

টাইগার যুবাদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন সাইফ হাসান ও পিনাক ঘোষ।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বিদায় নেন পিনাক ঘোষ। মোহাম্মদ গাফফারের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে শূন্য রানেই ফেরেন তিনি। অষ্টম ওভারের শেষ বলে গাফফারের দ্বিতীয় শিকারে ফেরেন ১৩ রান করা জয়রাজ শেখ।

দলীয় ১৭ রানের মাথায় দুই উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দুই টাইগার ব্যাটসম্যান স্কোরবোর্ডে আরও ১০১ রান যোগ করেন। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় মিচেল রাওয়ের বলে বোল্ড হন সাইফ হাসান। টাইগার এ ওপেনার অর্ধশতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে বিদায় নেন।

বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতকের দেখা পান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শান্ত। ৭১ বলে অর্ধশতকের দেখা পান তিনি। আর ১১১ বলে সেই অর্ধশতককে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে নিয়ে যান ইনফর্ম এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারে ১৭০০ রানের পাশাপাশি যুবাদের ওয়ানডেতে এখন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী শান্ত।

যুবাদের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার হাতছানি নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান ছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটার সামি আসলামের। ৪০ ম্যাচে পাকিস্তানের ওপেনার করেন ১৬৯৫ রান। ঠিক দ্বিতীয় অবস্থানেই ছিলেন নাজমুল। ৫৩ ম্যাচে তার ছিল ১৬৩৪ রান। সামিকে ছাড়িয়ে যেতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এ ব্যাটসম্যানের প্রয়োজন হয় ৬২ রানের। ৩৮তম ওভারে চার হাঁকিয়ে তিনি এই রেকর্ডের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

শান্তর দিনে অর্ধশতকের দেখা পান টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। ৪৮ বলে ৫১ রান করে মোহাম্মদ গাফফারের তৃতীয় শিকারে বিদায় নেন মেহেদি। ইনিংসের ৪৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে মেহেদি চারটি বাউন্ডারি হাঁকান। শান্তর সঙ্গে ১০০ রানের জুটিও গড়েন টাইগার দলপতি।

দারুণ একটি শতক হাঁকিয়ে শান্ত ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১১৭ বলে সাজানো ইনিংস তার ব্যাট থেকে আসে ১০টি বাউন্ডারি। শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ৩ রান করে বিদায় নিলেও সাঈদ সরকার ১৬ রান করেন। তার ৬ বলের ইনিংসে ছিল একটি করে চার ও ছক্কা।

এ ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে নেই স্পিনার সঞ্জিত সাহা। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির আপত্তির কারণে তাকে এ ম্যাচে খেলাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তার বদলি হিসেবে দলে এসেছেন আরিফুল হক।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছে টাইগার যুবারা। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ৪৩ রানে প্রোটিয়াদের হারায় নাজমুল হোসেন শান্ত, পিনাক ঘোষ, সাঈদ সরকার, জয়রাজ শেখরা।

অপরদিকে, স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয়েছে নামিবিয়ার বিপক্ষে। শক্তির বিচারে এগিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ফলে, এ ম্যাচেও জয় ছাড়া কিছু ভাবছে না টাইগার যুবারা।

বল হাতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মেহেদি। আজকের ম্যাচে তিন উইকেট নিলেই যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়ে যাবেন মেহেদি হাসান। যুব ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে ৭৩ উইকেট নিয়ে সবার উপরে পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম। ৭১ উইকেট নিয়ে ইমাদের পরই মিরাজের অবস্থান। পাকিস্তানি বাঁহাতি স্পিনারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক।

আফগানিস্তানকে হারিয়ে শেষ আটে শ্রীলঙ্কা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। কানাডার পর আফগানিস্তানকে হারিয়ে সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ ওভার ১ বলে ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ায় সবচেয়ে বড় অবদান অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কার। তার ৯১ বলে ৭১ রানের ইনিংসটি ৮টি চার ও একটি ছক্কা সমৃদ্ধ। এছাড়া অভিশকা ফার্নান্দো ৩০ রান করেন।
আফগানিস্তানের শামসুর রহমান ৩ উইকেট নেন ১৯ রানে। এছাড়া জহির খান ও করিম জানাত দুটি করে উইকেট নেন।
জবাবে ৪৪ ওভার ৫ বলে ১৫১ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। ওয়াহিদুল্লাহ শাফাক ৪৭ ও করিম ৪০ রানের দুটি ভালো ইনিংস খেলেন। কিন্তু আর কেউ ভালো করতে না পারায় হার এড়াতে পারেনি আফগানিস্তান।
৩৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার কামিন্দু মেন্ডিস। এছাড়া আসালঙ্কা ও দামিথা সিলভা দুটি করে উইকেট নেন। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া আসালঙ্কা অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এদিন গ্রুপের অন্য ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই জয় দলটিকে পৌঁছে দিয়েছে শেষ আটে।

শেষ আটে পাকিস্তান

যুব বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পর কানাডাকে হারিয়েছে পাকিস্তান। টানা এই দুই জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে তারা। শনিবার কানাডার বিপক্ষে পাকিস্তানের ৭ উইকেটের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান জিশান মালিকের। এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান খেলেন ৮৯ বলের চমৎকার এক ইনিংস। তার ১২২ বলের ইনিংসটি সাজানো ৯টি চার ও একটি ছক্কায়। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ ওভার ৩ বলে ১৭৮ রানে অলআউট হয়ে যায় কানাডা। সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন ভাভিন্দু আধিহেত্তি। এছাড়া ৪৪ রান করেন অধিনায়ক আবরাস খান।
৩৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার হাসান খান। শাদাব খান দুই উইকেট নেন ৪৪ রানে। কানাডার তিন ব্যাটসম্যান ফিরেন রান আউট হয়ে।
জবাবে ৪০ ওভার ৫ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। অধিনায়ক গওহর হাফিজের সঙ্গে মালিকের ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি পাকিস্তানকে ভালো সূচনা এনে দেয়। তৃতীয় উইকেটে সাইফ বাদরের (৪৪) সঙ্গে ১০৮ রানের আরেকটি ভালো জুটিতে দলকে সহজ জয় এনে দেন মালিক। এই দিন গ্রুপের অন্য ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩৩ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই জয় দলটিকে পৌঁছে দিয়েছে সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের লড়াইয়ে ঠিক হবে গ্রুপ সেরা।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারত

সহজ জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। টানা দ্বিতীয় জয় পেতে নিউজিল্যান্ডকে ১২০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৫৮ রান করে ভারত। সর্বোচ্চ ৭৪ রান আসে সরফরাজ খানের ব্যাট থেকে। টুর্নামেন্টে এটি তার দ্বিতীয় অর্ধশতক। তার ৮০ বলের ইনিংসটি গড়া ৯টি চারে। ১৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ভারতকে পথ দেখান সরফরাজ ও ঋষভ পান্ত। তৃতীয় উইকেটে এই দুই জনে গড়েন ৬৯ রানের জুটি। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পান্ত খেলেন ৫৭ রানের ভালো একটি ইনিংস।
ভারতের সংগ্রহ আড়াইশ’ পার হওয়ায় অবদান রয়েছে দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আরফাম জাফর (৪৬) ও মাহিপাল লোমরোরের (৪৫)। নিউজিল্যান্ডের জ্যাক গিবসন ৩ উইকেট নেন ৫০ রানে। এছাড়া নাথাম স্মিথ ও রাচিন রবিন্দ্র দুটি করে উইকেট নেন। জবাবে ৩১ ওভার ৩ বলে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড।
শনিবার গ্রুপের অন্য ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারায় নেপাল। তাই শেষ আটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ভারতের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না নিউজিল্যান্ড। শুরু থেকেই উইকেট হারানো দলটি কখনও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি। ১৬ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। ক্রিস্টিয়ান লিওপার্ড (৪০), ফিন অ্যালেন (২৯), ট্যালর স্কটরা (২৯) পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন কেবল। ৪৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতেরা সেরা বোলার লামরোর। এছাড়া আভেশ খান ৪ উইকেট নেন ৩২ রানে। ভারতের জয়ে শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়া নেপালেরও। এই দুই দলের লড়াইয়েই ঠিক হবে গ্রুপ সেরা।

টেপ টেনিসের অভিজ্ঞতায় বিশ্বকাপে উজ্জ্বল সাইফুদ্দিন

টেপ টেনিস দিনগুলিতে ইয়র্কারে হাত পাকিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। সেটির সুফল পাচ্ছে এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথম ম্যাচের জয়ে দলের সেরা বোলার ছিলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ দল স্পিন নির্ভর হলেও প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের সেরা বোলার ছিলেন পেসার সাইফুদ্দিন। ভিয়ান মুল্ডারকে বোল্ড করেছিলেন দারুণ এক ইনকাটারে। পরে বোল্ড করেছেন টনি ডি জর্সিকে; ইয়র্কার ব্লক করেও লাভ হয়নি, বল গড়িয়ে লাগে স্টাম্পে। পরে স্লগ ওভারে ফিরে আরেকটি ফুল লেংথ বলে ফিরিয়েছেন লুক ফিল্যান্ডারকে। সেদিন ৩০ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।
উইকেট তিনটি ছাড়াও সাইফুদ্দিন আলাদা করে নজর কেড়েছেন প্রায় নিখুঁত ইয়র্কারে। নতুন বল বা পুরোনো, যে কোনো সময় ইচ্ছে মতো ইয়র্ক করতে পারেন সাইফুদ্দিন! শনিবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে সংবাদ মাধ্যমের মুথোমুখি হয়ে সাইফুদ্দিন শোনালেন তার ইয়র্কার রপ্ত করার গল্প।
বাংলাদেশের আর দশটা কিশোরের মতোই একসময় চুটিয়ে টেপ টেনিস খেলতেন সাইফুদ্দিন। বেশির ভাগ সময়ই তার দায়িত্ব ছিল শেষের দিকে বোলিং করা। টেপ টেনিসে তো আর সুইংয়ের কারিকুরির সুযোগ নেই। সাইফুদ্দিন চাইতেন শুধু ইয়র্ক করতে।
ইয়র্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লেংথ। একটু আগে-পিছে হলেই হয়ে যাবে হাফ ভলি কিংবা ফুলটস। ফেনীর ছেলে সাইফুদ্দিন জানালেন, টেপ টেনিস খেলেই কঠিন ইয়র্ক লেংথ তার জন্য হয়ে উঠেছে সহজ।
“ছোটবেলা থেকে পাড়ায় অনেক ক্রিকেট খেলতাম। ফেনী, কুমিল্লা, লক্ষীপুর, নোয়াখালি, সব জায়গায় খেলে বেড়াতাম। আমার দায়িত্ব থাকত ১৬ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে বল করা। তখন থেকেই ইয়র্কার করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছ। টেপ টেনিসে আমার ইয়র্কারের অ্যাকুরেসিটাই ক্রিকেট বলে এসেছে।”
যথেচ্ছা ইয়র্ক করতে পারার সেই সহজাত ক্ষমতা দেখে বাংলাদেশ যুব দলের কোচিং স্টাফরাও আলাদা করে কাজ করেছেন সাইফুদ্দিনের ইয়র্কার নিয়ে। আলাদা অনুশীলনে আরও শানিত হয়েছে তার এই অস্ত্র।
“অনুশীলনে স্পট বোলিংয়ের পাশাপাশি ইয়র্কারও অনেক ট্রাই করি। আমার জন্য আলাদা একটা নিয়ম আছে। প্রথমে ১৮-২০টি লেংথ বল করি। তারপর স্লগ ওভারের বোলিং অনুশীলনের জন্য কোচ আলাদা সময় রাখেন আমার জন্য।”
ইয়র্কারের জন্য লেংথের পাশাপাশি গতিটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাইফুদ্দিন খুব গতিময় নন, টেনেটুনে বলা যায় মিডিয়াম পেসার। গতি বাড়ানোর ভাবনাও আপাতত নেই তার। নিখুঁত লেংথ দিয়েই ঢেকে দিতে চান গতির ঘাটতি।
“লেংথ ঠিক থাকলে সব গতির বলই খেলা কঠিন। গতি নিয়ে আমি ভাবি না। আমার চাওয়া থাকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং।”বোলিংয়ের পাশাপাশি সাইফুদ্দিনের ব্যাটিংও বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বড় শট খেলতে পারেন, রান করতে পারেন দ্রুত। প্রথম ম্যাচে যদিও ঝড় তুলতে পারেননি, ১৬ বলে করেছিলেন অপরাজিত ১৭। সামনে আরও ভালো করতে চান ব্যাটিংয়ে। “আমি নিজেকে ব্যাটিং অলরাউন্ডারই ভাবি। এখানে টিম কম্বিনেশনের কারণে ৭-৮ নম্বরে ব্যাট করছি, কিন্তু খেলতে পারি ওপরেও। চেষ্টা করব ব্যাটে-বলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।”

বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলবে না স্কটল্যান্ড

প্রথম ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে হারলেও আশা ছেড়ে দেয়নি স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সুপার লিগে খেলার স্বপ্ন দেখছেন স্কটিশ অধিনায়ক নিল ফ্ল্যাক।
যুব বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’ তে দুর্বলতম দল মনে করা হচ্ছে স্কটল্যান্ডকেই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইসিসির আরেক সহযোগী দেশ নামিবিয়ার কাছেই যাচ্ছেতাই ভাবে হেরেছে স্কটিশরা। রোববার তাদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টেরই অন্যতম ফেবারিট বাংলাদেশ; মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে বাস্তবতা যেটাই হোক, স্বপ্নের আকাশে রঙিন ঘুড়িই ওড়াচ্ছেন নিল ফ্ল্যাক। নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হারের পর কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কটিশ অধিনায়ক জানালেন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়।
“প্রথম ম্যাচে আমাদের হারটা ছিল হতাশাজনক। এমন হার মেনে নেওয়া কঠিন। তবে আমাদের বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি। আরও দুটি ম্যাচ বাকি আছে, দুটিই কঠিন। দেখা যাক, আমরা অঘটন ঘটাতে পারি কিনা। অবশ্যই আমরা এখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারি।”
রোববার বাংলাদেশের বিপক্ষে হারলে সুপার লিগের আশা একরকম শেষ হয়ে যাবে স্কটল্যান্ডের। তবে স্বাগতিকদের হারিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন স্কটিশ অধিনায়ক।
“অবশ্যই বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি আমরা। প্রথম ম্যাচে দিনটি আমাদের ভালো যায় না। তবে ক্রিকেটে যে কোনো কিছুই হতে পারে। কে জানে, হয়ত স্কটল্যান্ড ঠিকই গ্রুপ পর্ব উতরে যাবে এবং বড় অঘটন ঘটাবে!”
নামিবিয়ার বিপক্ষে যে মানের ক্রিকেট খেলেছে স্কটল্যান্ড, তাতে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোকে মনে হতে পারে অলীক কল্পনা। প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াইয়ে স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অনুপ্রেরণা মানছেন নেপালকে।
“নেপাল হতে পারে আমাদের বড় অনুপ্রেরণা। আর অপ্রত্যাশিত ফল ক্রিকেট আগে অনেকবারই দেখেছে। আবার কেন হবে না? বাছাইপর্বেও সবার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে আমরা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। এখন বিশ্বকাপেও আমরা দেশকে গর্বিত করতে চাই। সেটা না করে আমরা ফিরতে চাই না।”

বড় জয় চান সাইফুদ্দিন, ল খুশি শুধু জিতলেই

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য বড় জয়, জানিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। তবে টেকনিক্যাল উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট ল জানালেন, যে কোনো ভাবে জয়টাই দলের চাওয়া।
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের পর কোচ মিজানুর রহমান স্বীকার করেছিলেন, দারুণ চাপে ছিল দল, জয়ের পর মিলিয়ে গেছে সব চাপ।
Practice_Cox'sbaz
রোববার কক্সবাজারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড প্রথম ম্যাচে পাত্তা পায়নি নামিবিয়ার কাছেই। শনিবার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিন তাই জানালেন, কোয়ার্টার-ফাইনালের ভাবনাতেই স্কটিশদের বিপক্ষে বড় জয় চায় বাংলাদেশ।
“পরের পর্বে যেতে হলে অবশ্যই কিছু রান রেটের ব্যাপার-স্যাপার থাকে। এজন্যই আমরা চাইব জয়টা যেন একটু বড় হয়। এটাই থাকবে লক্ষ্য।”
তবে একটু পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টেকনিক্যাল উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট ল বললেন অন্য কথা। “দাপুটে জয়ের ব্যাপার নয়, জয়টাই আসল। যদি দাপটে জিততে পারি, তাহলে তো ভালোই। কিন্তু সেটা নিয়ে ভাবতে পারি না আমরা!”
প্রতিপক্ষ হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সর্বোচ্চ সমীহ দেখাচ্ছে দল, জানালেন ল। “টুর্নামেন্টে আমাদের আর সব প্রতিপক্ষের মতোই সমান শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমরা ওদের। ওরা এখানে স্রেফ সংখ্যা বাড়াতে আসেনি, ক্রিকেট খেলতে এসেছে। আমরা ওদের অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সম্মান জানাব।”

আফ্রিদি নয়, সাইফুদ্দিনের উদযাপন নিজের মতোই

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের আলোচিত উদযাপন শহিদ আফ্রিদির অনুকরণ করে নয়। এই অলরাউন্ডার জানালেন, তার উদযাপন নিজের মতোই!
যুব বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ে অন্যতম নায়ক ছিলেন সাইফুদ্দিন। ৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা বোলার। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর দারুণ সব ইয়র্কারে নজর কেড়েছেন আর তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছেন উইকেট শিকার উদযাপনে।
উদযাপনে নজর কাড়া শুরু প্রথম উইকেটেই। দুর্দান্ত ইনকাটারে ভিয়ান মুল্ডারের স্টাম্প উপড়ে দিয়েই দু পা দুই দিকে ছড়িয়ে, দুই হাত দুই দিকে উঁচিয়ে, বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন সাইফুদ্দিন!
শহিদ আফ্রিদির সৌজন্যে ক্রিকেট বিশ্বে এই উদযাপন দারুণভাবেই পরিচিত। ঠিক এভাবেই উদযাপন করেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার; বছরের পর বছর ধরে যেটি হয়ে গেছে অনেকটা তার ‘ট্রেডমার্ক।’ ধারাভাষ্যকারদের সৌজন্যে কেতাবি নামও পেয়ে গেছে উদযাপনটি, ‘স্টার ম্যান পোজ!’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ‘স্টার ম্যান’ উদযাপনেই দেখা গেল সাইফুদ্দিনকে।
দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন, শনিবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন সেই সাইফুদ্দিন। জানালেন, আফ্রিদিকে অনুকরণ করে নয়, এই উদযাপন একান্তই তার নিজের।
“আমি কাউকে অনুসরণ করে এটা করি না। আফ্রিদির খেলা এমনিতে ভালো লাগে। তবে উদাযাপনটা আমি আমার মতো করেই করি। অনেকেই বলে, আমার সেলিব্রেশন আফ্রিদির মত। কিন্তু সত্যিই আমি আমার মত করেই করি।”
সাইফুদ্দিনের উদযাপন কিন্তু থেমে থাকেনি ওইটুকুতেই। ‘স্টার ম্যান পোজ’-এর নিজের সংস্করণ দেখানোর পর খ্যাপাটে দৌড়ে ছুটলেন সতীর্থদের দিকে। জোড় পায়ে দারুণ এক লাফে ভাসলেন আকাশে!
সেই বুনো উদযাপনের নেপথ্যে ছিল মুল্ডারের সঙ্গে সাইফুদ্দিনের ছোট্ট একটা দ্বৈরথ। হাসিমুখে সেই গল্পটিও শোনালেন বাংলাদেশ যুব দলের অলরাউন্ডার।
“আসলে আমরা তো একে অপরের বিপক্ষে অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি। অনেককেই চিনি। আমি যখন ব্যাটিং করছিলাম, স্লগ ওভারে ওর কয়েকটা বল ঠিকমত খেলতে পারিনি। মাঠের ভেতরে ইশারা-ইঙ্গিতে অনেক কিছু হয়। আমার ইচ্ছা ছিল ওকে আউট করব। আউট করার ওই ওভারে প্রথম বলে আমাকে চারও মেরেছিল। এজন্যই আউট করে আরও ভালো লেগেছিল।”
শুধু মুল্ডারকে আউট করেই নয়, পরে টনি ডি জর্সি ও লুক ফিল্যান্ডারের উইকেট নিয়েও নিজের মত সেই ‘স্টার ম্যান’ উদযাপন দেখিয়েছেন সাইফুদ্দিন।

আইরিশদের হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে নেপাল

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে নেপাল। একপেশে লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। গ্রুপের অন্য ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে সহজেই হারিয়েছে ভারত। এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে ভারত, নেপালের।
শনিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩১ রান করে আয়ারল্যান্ড।
২৭ রানে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে কম রানে বেধে রাখার কৃতিত্ব সন্দিপ লামিচানের। ৩২তম ওভারে পরপর তিন বলে লোরক্যান টাকার, উইলিয়াম ম্যাকক্লিনটক ও ফিয়াচরা টাকারকে ফিরিয়ে চলতি আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন তিনি। সর্বোচ্চ ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন হ্যারি হেক্টর। এছাড়া ২৭ রান করেন জ্যাক টেকটর।
জবাবে ২৫ ওভার ৩ বলে দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নেপাল। যারা আগের ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল।
১৪৭ বল হাতে রেখে পাওয়া জয়ে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন যুগেন্দ্র সিং কার্কি। তার ৮১ বলের ইনিংসটি গড়া ৮টি চারে। ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন আরিফ শেখ। এছাড়া সুনিল ধামালা করেন ২৮ রান।

বড় জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের ৪৩ হারিয়ে ইতোমধ্যেই মূল পর্বে খেলার পথ অনেকটাই সহজ করে ফেলেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের এবারের মিশন স্কটল্যান্ড। তুলনামূলক দুর্বল হলেও, আগের ম্যাচেই নামিবিয়ার কাছে হারা স্কটিশদের বিপক্ষে বড় জয় তুলতে চায় বাংলাদেশের যুবারা। দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এমনটাই জানালেন আজ।

শনিবার কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে হলে, অবশ্যই রান রেটের কিছু ব্যাপার-স্যাপার থাকে; আমরা চাইব জয়টা যেন একটু বড় হয়। এ লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবো আমরা।’

তবে প্রতিপক্ষকে মোটেও খাটো করে দেখছেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটি জিতেছি; আমাদের দলের আত্মবিশ্বাস এখন উঁচুতে। তাই বলে পরের ম্যাচগুলো খাটো চোখে দেখছি না। জয় ছাড়া কোনো কিছুই এখন আমাদের ভাবনায় নেই। কোনো ম্যাচ হাল্কাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমরা যে মনযোগ দিয়ে খেলেছি, সে মনযোগ দিয়েই আমরা কালকের (রোববারের) ম্যাচ খেলব।’

এর আগে বাংলাদেশের এই দলটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেনি। তাই অপরিচিত প্রতিপক্ষ নিয়ে সাবধানী বাংলাদেশ দল। এ প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘স্কটল্যান্ড নতুন দল। ওদের সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। ওদেরকে আমরা চিনি না। ওদের সঙ্গে আমরা কোনো হোম এন্ড অ্যাওয়ে ম্যাচও খেলিনি। যতটুকু ধারণা টিমটা নিশ্চয়ই ভালো হবে। সুতরাং, শতভাগ দিয়েই আমাদের খেলতে হবে।’

দলগত পারফরম্যান্সকেই বড় করে দেখছেন সাইফ। তবে পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথা জানান সাইফ। এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের রোলটা ছিল ভালো বোলিং করা। যেহেতু আমাদের স্পিন অ্যাটাক আছে। স্যাররা আমাদেরকে বলছে আমরা যেন রানটা প্রথম দশ ওভারে একটু চেক দেই। আমরা করছি; মোটামুটি পারছি। এজন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাড়াতাড়ি অলআউট করতে পারছি।’

‘ডট’ বল ও সাইফউদ্দিনের উল্লাস

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে খেলার সময় থেকে ভারতের বিরাট কোহলি ও বাংলাদেশের রুবেল হোসেনের ‘শত্রুতা’! যুবক বয়সের সে শত্রুতা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দেখা গিয়েছে। কোহলি রুবেলের বল শাসন করলেই খুশি হয়ে যান। আবার রুবেল কোহলির উইকেট নিতে পারলে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন। এরকম ছোট-ছোট গল্প ক্রিকেটে অনেক রয়েছে।

 

নতুন করে হয়ত সে তালিকায় যোগ হচ্ছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের  অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও উইয়ান মুল্ডারের নাম। যুব বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুল্ডারকে আউট করে যেভাবে সাইফউদ্দিন উল্লাস করেছিলেন, তা নজর কেড়েছে সবার। প্রোটিয়া অলরাউন্ডারকে সরাসরি বোল্ড করে দুই হাত তুলে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা! অনেকটা পাকিস্তানের ‘বুম বুম’ খ্যাত শহীদ আফ্রিদির স্টাইল। তাতেও ক্ষান্ত নন সাইফউদ্দিন। দৌড়ে, দুই পা হাওয়ায় ভাসিয়ে একসঙ্গে জড়ো করে যে ভঙ্গিমায় উল্লাস করেছিলেন, সেটা অবিকল অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লির নকলই বলা চলে!

 

উল্লাস নিয়ে সাইফের ব্যক্তব্য, ‘উল্লাসে আমি কাউকে ফলো করি না। আমি আমার মতো করেই করি। শহীদ আফ্রিদির খেলা ভালো লাগে। কিন্তু আমি আমার মতো করেই উল্লাস করি।’

 

উল্লাস যেমনই হোক তা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা থাকার কথা নয়! দল জিতেছে, বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো যুব বিশ্বকাপের কাপ পর্বে খেলতে যাচ্ছে, সেটাই মূল কথা। সাফল্য পাওয়ার থেকে বড় কোনো আনন্দ তো আর হতে পারে না। কিন্তু মুল্ডারের প্রতি সাইফের ‘অতিরিক্ত’ ক্ষোভের কারণ কী?

 

 

উত্তরটা শুনুন সাইফউদ্দিনের মুখ থেকেই, ‘আসলে আমরা অনেক দিন ধরেই একে অপরের সঙ্গে খেলছি। সেদিন স্লগ ওভারে আমি ওর বলে ব্যাটিং করছিলাম। বেশ কয়েকটি বলই বিট করতে পেরেছিলো ও। ‘ইশারা-ইঙ্গিতে’ ওই সময়ে অনেক কিছু হয়েছিল। আমার ইচ্ছে ছিল বোলিং করে আমি ওর উইকেটটা নিব। বোলিংয়ে আবার শুরুতেই ও আমার বলে চার মেরে দিয়েছিল। তখন উইকেট নেওয়াটা জোর আর বেড়ে যায়। সেটা পূরণ হয়েছে আর কি। এজন্যই ওরকম কিছু!’

 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে উইয়ান মুল্ডারের ৯ বল খেলেন সাইফ। ৪টি ছিল ডট বল। ৩টি সিঙ্গেল ও ২টি দুই রান নেন সাইফ। তবে বল হাতে প্রতিশোধটা ভালোই নেন সাইফ। ডানহাতি এ পেসার মুল্ডারকে ৯টি বল করেন। প্রথম বলে বাউন্ডারি মারলেও পরবর্তী ৭ বলে একটি রানও নিতে পারেনি মুল্ডার। বোল্ড হওয়ার আগে দুই রান নিলেও তা ছিল শুধুই সান্তনাদায়ক!

 

দক্ষিণ আফ্রিকার কোরি এন্ডারসন ও ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসকে ফলো করা এ অলরাউন্ডারের ইচ্ছে, এবারের যুব বিশ্বকাপে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। টুর্নামেন্টে নিজের পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু শুরুটা ভালো করেছি। লক্ষ্য থাকবে অলরাউন্ডার হিসেবের নিজের রোলটা আরো ভালোভাবে প্লে করার। যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা, চাইব অন্তত ফাইনাল পর্যন্ত খেলা।’

 

প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৭ রান ও বল হাতে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশে সচরাচর পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুব কমই এসেছে। যারা এসেছেন, খেলেছেন তাদের রাজত্বও বেশিদিনের নয়। ১৯ বছর বয়সি সাইফকে নিয়ে আশা দেখতেই পারে বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাস, আগ্রাসী মনোভাব, ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ও বোলিংয়ের কিপটেমি সাইফকে আলাদাভাবে চেনাচ্ছে। পেস অলরাউন্ডারদের একটু বাড়তি উত্তেজনা না থাকলে কি আর চলে? থাকুক না সাইফের সে উত্তেজনা। তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বারবার দেখবে ফেনির এ ক্রিকেটারের সাফল্য, উল্লাস।

 

পরিশ্রমেই পুল শটের ‘মাস্টার’ পিনাক

একটা সময় পুল শট খেলতেই পারতেন না পিনাক ঘোষ। কোচের সঙ্গে পুল শট নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার এখন এই শটেই হয়ে উঠেছেন ‘মাস্টার!’
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদশের জয়ের ম্যাচে টুকরো টুকরো বেশ কটি ছবি এখনও লেগে আছে অনেকের চোখে। জয়রাজ শেখের ফ্লিক, নাজমুল হোসেন শান্তর পরিণত ব্যাটিং, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের ইয়র্কার, চিতার ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচ, সাঈদ সরকারের টার্ন ও বাউন্সে হতভম্ব প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ডায়ান গালিম, আর পিনাক ঘোষের চোখধাঁধানো দুটি ছক্কা!
দুটি ছক্কাই ছিল পুল শটে, দ্বিতীয় ছক্কায় বল পাঠিয়েছিলেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। মাঠে থাকা ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার ইয়ান বিশপ টুইট করেছিলেন, ভবিষ্যতের জন্য দারুণ এক ব্যাটসম্যান পাচ্ছে বাংলাদেশ।
পুল শটে পিনাকের দখল বুঝিয়ে দিতে ওই দুটি শটই যথেষ্ট। তবে পিনাকের ব্যাটিং যারা আগে থেকেই অনুসরণ করেছেন, বিষয়টি আলাদা করে নজর কেড়েছে সবারই। বরাবরই পুল শটে দুর্দান্ত বাঁহাতি এই ওপেনার।
শর্ট বল বা শর্ট অব লেংথে যতটা দ্রুত পজিশনে চলে যান পিনাক; যতটা নিয়ন্ত্রণ থাকে শটে, তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে এই শট তার অনেকটাই সহজাত। তিনি নিজে কিন্তু শোনালেন উল্টো কথা।
শুক্রবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের পিনাক বলেন, “এটা আমার ন্যাচারাল শট ছিল না। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে যখন প্রথম আসি, তখন পুল শট একদমই খেলতে পারতাম না। বাবুল স্যার (কোচ মিজানুর রহমান) আমার পুল শট নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। অনেক চেষ্টা করে উন্নতি হয়েছে। এখন আমি আশিতেও (ঘণ্টায় ৮০ মাইল গতির বলেও) পুল শট খেলতে পারি সহজেই। এর পেছনে আছেন বাবুল স্যারই।”
তবে কিছুটা প্রকৃতিপ্রদত্ত ব্যাপার তো আছেই। কোচ কাজ করেন সব ক্রিকেটারকে নিয়েই। সবার তো পুল শট বা সব শটে সমান উন্নতি হয় না! ব্যাপারটি মেনে নিলেন পিনাকও।
“হ্যাঁ, আমার রেডি পজিশন ব্যাকফুটে খেলার জন্য একটু ভালো। সামনের বলগুলো থেকে পেছনের বলগুলো একটু ভালো পিক করতে পারি।”
ব্যাকফুটে পিনাকের সামর্থ্যের প্রমাণ মিলেছিল গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও। যুব ওয়ানডে সিরিজে ডারবানের চ্যাটসওয়ার্থ স্টেডিয়ামের বাউন্সি উইকেটে ১৫০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছিলেন আগ্রাসী এই ওপেনার। যুব ওয়ানডের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের যেটি একমাত্র দেড়শ’ রানের ইনিংস।
৬ মাস আগের চেয়ে এখন পিনাকের পুল শট যেমন আরেকটু ভালো হয়ছে, উন্নতি হয়েছে তার সামগ্রিক ব্যাটিংয়েও। তামিম ইকবালের দারুণ ভক্ত এই ওপেনার তাই স্বপ্ন দেখছেন নিজের দেড়শ’ রানের ইনিংসটিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার।
“ভালো করার ইচ্ছা সবারই থাকে। একটা রেকর্ড গড়লে তো সেই রেকর্ড ভাঙার ইচ্ছে থাকেই। আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব ছাড়িয়ে যেতে।”

কক্সবাজারের নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে বঞ্চিত দর্শক

কক্সবাজারে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পারবেন কেবল আমন্ত্রিত অতিথিরা। নিরাপত্তাজনিত নানা সীমাবদ্ধতায় নয়নাভিরাম শেখ কামাল ক্রিকেট কমপ্লেক্সে খেলা দেখার সুযোগ থাকছে না সাধারণ দর্শকের জন্য।
স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ঢুকতেই পথের দুই পাশে দুটি পুকুর; সারি সারি নারিকেল গাছের চারাসহ লাগানো হয়েছে আরও অনেক গাছ। মাঠের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে এক চিলতে গ্যালারি, সুদৃশ্য যে কংক্রিট স্থাপনায় ঠাঁই পেয়েছে প্রেসিডেন্ট বক্স, প্রেসবক্স, কমেন্ট্রিবক্সসহ প্রয়োজনীয় কিছু কক্ষ। গ্যালারির সামনে আর চারপাশে শুধুই সবুজ, সবুজের সমারোহ।
মাঠ থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বঙ্গোপসাগর। কান পাতলেই শোনা যায় গর্জন। সৈকত আর মাঠের মাঝে ঝাউবন। সাগরের তীব্র বাতাস ঝাউবনে দোলা দিয়ে মাঠ পর্যন্ত আসতে আসতে হয়ে ওঠে আরামদায়ক, মৃদুমন্দ হাওয়া।
বাংলাদেশে ক্রিকেট মাঠ মানেই যেখানে ইট-কাঠ, লোহা-লক্করের খাঁচা, কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্স সেখানে প্রকৃতি আর সবুজের ছোঁয়ায় সৌন্দর্যের আধার। সাগরের কোলঘেঁষে নয়নাভিরাম মাঠ।
২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই শুরু হয়েছিল এই স্টেডিয়াম নির্মানের কাজ। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন এখানে সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এখানে ক্রিকেট হয়ে আসছে নিয়মিতই। ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সুযোগ-সুবিধা এখনও নেই। তবে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ‘এ’ দল, একাডেমি দলের সিরিজ, ঘরোয়া ক্রিকেট হয়ে আসছে নিয়মিতই। এবার ছোটদের বিশ্বকাপ দিয়ে এই স্টেডিয়াম এগোচ্ছে আরেক ধাপ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশে শেষ দুই ম্যাচ, প্লেট পর্বসহ মোট ৯টি ম্যাচ হবে এখানে।
06
মূল স্টেডিয়াম, পাশেই একাডেমি মাঠ ও আরেকটি অনুশীলন ভেন্যু, এই সব মিলিয়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমপ্লেক্স। মূল মাঠে ৭টি সেন্টার উইকেট; একাডেমি মাঠে ৫টি সেন্টার উইকেটের পাশাপাশি আছে ১২টি অনুশীলন উইকেট। পাশের অনুশীলন মাঠে উইকেট আরও এক ডজন। সব মিলিয়ে এই কমপ্লেক্সে আছে ৩৬টি মানসম্পন্ন উইকেট, বাংলাদেশের আর কোনো ভেন্যুতে নেই এত উইকেট।
নিজ শহরের দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারবেন না কক্সবাজারের সাধারণ দর্শক। যুব বিশ্বকাপের অন্য ভেন্যুগুলোতে টিকিট কেটে খেলা দেখার ব্যবস্থা থাকলেও কক্সবাজারে থাকছে না সেই সুযোগ। মূল কারণ নিরাপত্তা।
পুরো কমপ্লেক্স ইটের দেয়ালে ঘেরা। তবে মূল স্টেডিয়ামের ওই এক চিলতে গ্যালারি ছাড়া আর কোথাও নেই দর্শক বসার ব্যবস্থা। দর্শক ঢুকলে সীমানার চারপাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে হতো তাদের; ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য যেটি হতে পারত বড় হুমকি।
এই টুর্নামেন্টে মূল মাঠের ভেন্যু ম্যানেজার রতন কুমার বিশ্বাস তাই প্রবল দর্শক আগ্রহের কথা স্বীকার করেও তুলে ধরলেন বাস্তবতা।
“ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সব কিছুর আগে। যেহেতু এখানে গ্যালারি নেই, দর্শকের ভীড়ে এখানে প্রবল বিশৃঙ্খলা হতে পারত। প্যান্ডেল টাঙিয়ে দর্শকের জন্য ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু ঝুঁকির কারণেই সেটিতে সায় দেয়নি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। নিরুপায় হয়েই আমরা সাধারণ দর্শকের মাঠে আসার সুযোগ রাখতে পারিনি।
তবে একেবারেই দর্শকশূন্য মাঠে খেলতে হবে না ক্রিকেটাদের। ভেন্যু ম্যানেজার জানালেন, খেলা দেখতে পারবেন শুধু আমন্ত্রিত অতিথিরা।
“মূল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ১ হাজার ৬০০ জনের মত ধারণক্ষমতা আছে। একাডেমি মাঠে অস্থায়ী গ্যালারি করে দুই-আড়াইশ’ লোকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূলত বিসিবির আমন্ত্রিত অতিথিরা এখানে খেলা দেখবেন। আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে তাদেরকে, আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে তবেই মাঠে ঢুকতে হবে।”
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। শুধু মাঠ নয়, টিম হোটেলসহ পুরো শহরেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে ব্যাট-বলের মধুর ঠুকঠাক শোনার সৌভাগ্য যুব বিশ্বকাপের সময় পাচ্ছেন না সৈকত শহরের দর্শকদের। নিজেদের শহরেই একটা বিশ্বকাপ হচ্ছে, এই রোমাঞ্চই কেবল সান্ত্বনা!

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ইংল্যান্ড

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ড্যান লরেন্সের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে হারিয়েছে দলটি। শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ২৮২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড।
সর্বোচ্চ ৫৯ রান আসে ক্যালাম টেইলরের ব্যাট থেকে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লরেন্স খেলেন ৫৬ বলে ৫৫ রানের কার্যকর এক ইনিংস। এছাড়া জর্জ বার্টল্যাট ৪৮, জ্যাক বার্নহ্যাম ৪৪ ও স্যাম কুরান ৩৯ রান করেন।
জবাবে ৪৩ ওভার ৪ বলে ২২১ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওভারে শূন্য রানে দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন কুরান। সেই ধাক্কা সামলে কখনও সেভাবে জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধন ব্যাটসম্যান গিডরন পল খেলেন ৬০ বলে ৬০ রানের ভালো একটি ইনিংস। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কিমো পলের ব্যাট থেকে আসে ৫৮ বলে ৬৫ রানের আরেকটি চমৎকার ইনিংস। তবে তাদের প্রচেষ্টা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
৪২ রানে ৪ উইকেট নেন সাকিব মাহমুদ। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন কুরান ও ম্যাচ সেরা লরেন্স। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিজিকে ২৯৯ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড।

বোলারদের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বড় জয়

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপের নবাগত ফিজিকে ১৯ দলকে সহজেই ৭ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শুক্রবার চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েসলি মাদভেরে ও ব্লেসিং মাভুটার মারাত্মক বোলিংয়ে ২৭ ওভার ৪ বলে ৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় ফিজি।
ফিজির সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন চাকাচাকা টিকোইসুভা। ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন ম্যাচ সেরা মাদভেরে। মাভুটা ৩ উইকেট নেন ১৩ রানে।
জবাবে ১৮ ওভার ৫ বলে তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। সর্বোচ্চ ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন ব্রেন্ডন স্লাই। ১৮৭ বল হাতে রেখে পাওয়া জয়ে ২৩ রান করেন রায়ান মারে।

বাংলাদেশ ম্যাচের আগে স্কটল্যান্ডের বাজে হার

দুটিই আইসিসির সহযোগী দেশ; কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ব্যবধানটা ফুটে উঠল যোজন যোজন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করল নামিবিয়া, বাংলাদেশ পরীক্ষার আগে স্কটল্যান্ড হারল বাজেভাবে।
কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে নামিবিয়া। টস জয়ী স্কটল্যান্ড ৩৬.৩ ওভারে গুটিয়ে গিয়েছিল ১৫৯ রানে। নামিবিয়া জিতে যায় ২৬ ওভারেই। নামিবিয়ার জয়ের নায়ক এসজে লফটি-ইটন। মিডিয়াম পেসে ২ উইকেট নেওয়ার পর ওপেনিংয়ে নেমে তিনি অপরাজিত ছিলেন ৬৭ রানে। ম্যাচ-সেরা এই অলরাউন্ডারই।
ইটনের পাশাপাশি দুটি উইকেট নিয়েছেন ওয়ারেন ফন উইক ও চার্ল ব্রিটস। ৩ উইকেট নিয়ে নামিবিয়ার সেরা বোলার অবশ্য মাইকেল ফন লিনজেন। স্কটিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেছেন ওয়াইস শাহ; ৩২ করেছেন হারিস আসলাম। নবম উইকেটে ৩২ রান ছিল দলের সেরা জুটি! ১৬০ রান তাড়ায় নামিবিয়ার জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় উদ্বোধনী জুটিতেই। লফটি-ইটনের সঙ্গে নিকো ড্যাভিন গড়েন ৯৫ রানের জুটি। ৩৭ বলে ৫২ রান করে আউট হন ডাভিন। তিনে নেমে ৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক জেন গ্রিন, ৬৭ রানে অপরাজিত লফটি-ইটন। হেরে যাওয়া স্কটিশরা রোববার এই মাঠেই খেলবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। নামিবিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ আগামী মঙ্গলবার।

সঞ্জিতকে নিয়ে মানসিকভাবে তৈরি ছিল বাংলাদেশ দল

খোলা চোখে সঞ্জিত সাহার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যে সংশয় জাগতে পারে, সেই ধারণা আগে থেকেই ছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। সংশয়টা সঞ্জিতের অ্যাকশনের ধরনের কারণেই। কোচ মিজানুর রহমানের বিশ্বাস, আদতে সহনশীলতার মাত্রা ছাড়ায় না এই অফস্পিনারের কনুই।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতা ম্যাচে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের অফ স্পিনার সঞ্জিতের অ্যাকশন। তবে বাংলাদেশ দল খবরটি জানতে পেরেছে ম্যাচের পর পরই। সেটি খুব বড় বিস্ময় বা ধাক্কা হয়েও আসেনি দলের কাছে। কোচ মিজানুর রহমানের দাবি, দল এমন কিছুর জন্য মানসিকভাবে তৈরি ছিল টুর্নামেন্টের আগে থেকেই। বৃহস্পতিবার সকালেই চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এসেছে বাংলাদেশ দল। বিকেলে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় কোচ মিজানুর রহমান জানালেন, সঞ্জিতের অ্যাকশনের ধরনটাই সংশয়ের মূল কারণ। “সঞ্জিতের অ্যাকশন কিন্তু প্রথাগত না। একটু ব্যতিক্রমী অ্যাকশন; শ্রীলঙ্কায় যেমন প্রায়ই অপ্রথাগত স্পিনার বের হয়, তেমনই। এজন্যই সঞ্জিত নিজেও যেমন জানত, আমরাও জানতাম যে ওর অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ হতে পারে।”
আগে থেকে ধারণা থাকার পরও সঞ্জিতকে বাংলাদেশ খেলিয়েছে দল সংশ্লিষ্ট সবার বিশ্বাসের কারণে। সেই বিশ্বাসের ব্যাখ্যাটাও দিলেন কোচ মিজানুর। “ওর অ্যাকশন দেখে সন্দেহজনক মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের সবার বিশ্বাস, ওর অ্যাকশন ঠিকই আছে। ল্যাবে পরীক্ষা করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে ১৫ ডিগ্রির সীমা ছাড়ায় না ওর কনুই।” কোচ জানালেন, সংশয় থাকার পরও সঞ্জিতের সহজাত অ্যাকশন বদলানো হয়নি তার বোলিংয়ের স্বকীয়তা বজায় রাখতেই।
“ওর প্রথাগত অ্যাকশনে বদলে দেওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে ওর বোলিংয়ে আগের ধার নাও থাকতে পারে। অ্যাকশনের কারণেই ওকে খেলতে ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তি হয়, ওর বৈচিত্রগুলো ব্যাটসম্যানরা পড়তে পারে না। যেহেতু আমাদের বিশ্বাস, সে ১৫ ডিগ্রির বেশি সীমা ছাড়ায় না, আমরা চেয়েছি সহজাত অ্যাকশনে রেখেই বিভিন্ন ড্রিল করে ওর অ্যাকশন পরিশীলিত করতে। অনেক উন্নতিও করেছে সে।”
কোচের বিশ্বাস, যদি ল্যাবে পরীক্ষার পর সঞ্জিতের অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় সম্পদ হতে পারেন এই অফ স্পিনার। “আগেই বলেছি, আমরা অনেকটাই নিশ্চিত ওর অ্যাকশন ঠিকই আছে। এই অ্যাকশনটাই যদি ওর থাকে, শুধু যুব দল নয়, ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্যও বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে বড় সম্পদ হতে পারে ছেলেটি।”
ভবিষ্যত আপাতত দূরে। তবে বর্তমান নিয়েও নির্ভারই মনে হলো বাংলাদেশ কোচকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বোলারের অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে আইসিসি স্বীকৃত কোনো ল্যাবে অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হয়। ফল না আসা পর্যন্ত বোলিং করা যায়। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ব্যাপারটি একটু আলাদা। আইসিসির একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বুধবারের ম্যাচে সঞ্জিতের বোলিংয়ের ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখবেন। এরপর তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন। সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বোলিং চালিয়ে যেতে পারবেন সঞ্জিত। বাংলাদেশ কোচ জানালেন, দিন তিনেকের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসির প্যানেল।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত না হলে অবশ্য টুর্নামেন্ট চলাকালে এই ঝামেলা পোহাতে হতো না সঞ্জিত বা বাংলাদেশ দলকে। ম্যাচ টিভিতে দেখানোয় ফুটেজ সহজপ্রাপ্য হয়ে গেছে বলেই ত্বরিত সিদ্ধান্ত হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আগে এতটা কড়াকড়িও ছিল না আইসিসির। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যেমন সংশয় উঠেছিল বাংলাদেশ দলের দুই স্পিনার আল আমিন ও নাঈম ইসলাম জুনিয়রকে নিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে বোলিং করে যাওয়ায় বাধা ছিল না তাদের। বিশ্বকাপে শেষে অ্যাকশনের পরীক্ষা হয়েছিল ওই দুজনের। তবে এবারের বিশ্বকাপ থেকে অ্যাকশন নিয়ে একটু বেশি সতর্ক আইসিসি। সেটিরই প্রথম শিকার সঞ্জিত। প্রথম ম্যাচে ৮ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন সঞ্জিত। তবে এমনিতে দলের অন্যতম সেরা বোলার ১৮ বছল বয়সী এই অফ স্পিনার। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও তার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রোববার গ্রুপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই জানা যাবে সঞ্জিতের ভাগ্য।

আগের ভুল আর করতে চান না পিনাক

ভালো শুরুর পর আর উইকেট বিলিয়ে আসতে চান না পিনাক ঘোষ। প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা পরের ম্যাচগুলোয় কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই ওপেনার। যুব বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটিতে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন পিনাক। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের খেলছিলেন দাপটে। খেলেছেন দারুণ কিছু শট। পুল শটে মেরেছিলেন দুর্দান্ত দুটি ছক্কা, যার দ্বিতীয়টিতে বল আছড়ে ফেলেছিলেন চট্টগামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। তবে সম্ভাবনাময় ইনিংসটার অপমৃত্যু হয়েছিল উইকেটে সঙ্গী জয়রাজ শেখের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে। রান আউট হয়ে পিনাক ফেরেন ৪৩ রানে।
শুক্রবার কক্সবাজারে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের পিনাক জানালেন, ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চান না আর।
“প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করেছিলাম, কিন্তু একটা ভুলের কারণে আউট হয়ে গেছি। দলও তাতে একটু বিপাকে পড়ে গিয়েছিল। সামনে ম্যাচগুলোয় যদি ওই জায়গাটায় থাকি, চেষ্টা করব তাহলে ভুলটা আর না করতে।” রান আউট হওয়ার আগে বেশ কবারই ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল পিনাক ও জয়রাজের। বাউন্ডারি নিয়মিত এলেও তখন প্রত্যাশিত গতিতে সিঙ্গেল নিতে পারছিলেন না দুই ব্যাটসম্যান। তাতে একটু চাপে পড়ে গিয়েছিল দলও। সিঙ্গেল খোঁজার মরিয়া চেষ্টাতেই শেষ পর্যন্ত রান আউট হয়েছিলেন পিনাক।
সামনের ম্যাচগুলোয় সিঙ্গেল নেওয়ায় আরও মনোযোগী হতে চান আগ্রাসী এই বাঁহাতি ওপেনার। “সিঙ্গেল নিয়মিত নিতে পারলে চাপ থাকে না। সিঙ্গেল না হলেও চাপ চলে আসে, বড় শট খেলার ভাবনা আসে। কোচও সবসময় বলেন সিঙ্গেলটা যেন কখনোই আটকে না যায়। পরের ম্যাচ থেকে আরও বেশি সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টা করব।”
আগামী রোববার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশকে নামিবিয়ার হুমকি!

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরুর পর আরও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে নামিবিয়া। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারানোর প্রত্যয় কোচ নরর্বাট মানিয়ান্ডের কণ্ঠে!
শুক্রবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারায় নামিবিয়া। লড়াইটা আইসিসির সহযোগী দুই দলের মধ্যে হলেও মাঠের ক্রিকেটে তফাত ছিল আকাশ-পাতাল। নামিবিয়ানদের দাপুটে ক্রিকেটে অসহায় ছিল স্কটিশরা।
নামিবিয়ার কোচ মানিয়ান্ডে এটিকে বলছেন কেবলই শুরু। গ্রুপের বড় দুই ক্রিকেট শক্তি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন জিম্বাবুয়ের সাবেক এই অলরাউন্ডার।
“অবশ্যই বাংলাদেশকে হারাতে পারি আমরা। শুধু বাংলাদেশ কেন, দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারাতে পারি। ক্রিকেটে যে কোনো কিছুই হতে পারে। আমাদের সামর্থ্য আছে অনেক দূর যাওয়ার।”
বিশ্ব ক্রিকেটে এমন বড় কোনো নাম নয় নামিবিয়া। একবার অবশ্য মূল বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। ২০০৩ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দলটি হেরেছিল ৬ ম্যাচের সবকটি। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার বিব্রতকর অভিজ্ঞতাও হয়েছিল।
তবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মোটামুটি নিয়মিত তারা। এবার নিয়ে ছোটদের বিশ্বকাপে দেশটি খেলছে সপ্তমবার। টানা দুটি যুব বিশ্বকাপে দলকে নিয়ে এলেন কোচ মানিয়ান্ডে। এক সময় জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলে খেলা সাবেক এই অলরাউন্ডার দারুণ আশাবাদী তার এবারের স্কোয়াড নিয়ে।
“আমাদের দলের বড় শক্তি একতা। আজকের ম্যাচেও বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সেটি ফুটে উঠেছে। কেউ ৫ উইকেট নেয়নি, সবাই অবদান রেখেছে। টিম স্পিরিট দারুণ। আর দলীয় একতা দিয়ে ক্রিকেটে অনেক কিছুই করা সম্ভব।”
আগামী রোববার নামিবিয়া খেলবে প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াই মঙ্গলবার।

নেপালের জয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নেপালের জয়ে সতর্ক হয়ে গেছে বাংলাদেশ দলও। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কোনো দলকেই আর হালকা করে না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাগতিকদের ওপেনার পিনাক ঘোষ।
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপের সবচেয়ে বড় বাধা পেরিয়েছে বাংলাদেশ। পরের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দুই দল স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে দলগুলির ব্যবধান অনেকটাই কম থাকে বলে সতর্কই ছিল বাংলাদেশ।
সেই সতর্কতা আরও বাড়িয়েছে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নেপালের জয়। বৃহস্পতিবার ৩২ রানে জিতে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন ঘটিয়েছে নেপাল।
শুক্রবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে পিনাক ঘোষ জানালেন, প্রতিটি ম্যাচকেই বড় ম্যাচ ভাবছে বাংলাদেশ দল।
“গতকালই দেখেছি নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে নেপাল। কোনো দলকেই তাই ছোটো করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ভাবছি। স্কটল্যান্ড-নামিবিয়াকেও সমান গুরুত্ব দেব আমরা।”
প্রতিপক্ষকে সম্মান করলেও নিজেদের সামর্থ্যে প্রবল আস্থা পিনাকের। বাঁহাতি এই ওপেনারের বিশ্বাস, নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে কোনো দলই থামাতে পারবে না বাংলাদেশকে।
“আমরা যদি নিজেদের মত খেলতে পারি, তাহলে কোনো দলই আহামরি কিছু নয়। ভারত ও পাকিস্তানের দল ভালো, তবে হারানো অসম্ভব নয়। আমরা আমাদের মত খেলতে পারলে কোনো দলই কঠিন প্রতিপক্ষ হবে না।”
রোববার গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।

এবার গ্রুপ সেরার লড়াই বাংলাদেশের

প্রথম ম্যাচের জয়েই সুপার লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সব ম্যাচ জিতে গ্রুপ সেরা হওয়াটা নিশ্চিত করতে চান দলের টেকনিক্যাল উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট ল। আর তা হলে কোয়ার্টার-ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে এড়ানো যাবে।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধাটিই ছিল প্রথম ম্যাচে। সেই লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপে পরের দুই বাধা পেরোতে খুব একটা বেড় পাওয়ার কথা নয় মিরাজ-শান্তদের; প্রতিপক্ষ নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ড।
ল অবশ্য অপেক্ষাকৃত সহজ এই দুই প্রতিপক্ষকেও হালকা করে দেখতে নারাজ। প্রথম ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টেকনিক্যাল উপদেষ্টা বলেন, “উন্নতির ধারা ধরে রাখতে হবে আমাদের। গ্রুপের অন্য দলগুলিকে খাটো করে দেখলে চলবে না। প্রাপ্য সম্মান সব প্রতিপক্ষকেই দিতে হবে। যদি আমরা এভাবে এগোতে থাকি, ঠিকমত প্রস্তুতি নেই, ভালো ক্রিকেট খেলি, তাহলে অবশ্যই গ্রুপ শীর্ষে থাকতে পারব।”
সুপার লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের গ্রুপের সঙ্গে জুড়ে থাকবে গ্রুপ ‘ডি’, যেখানে আছে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড। ভারতকে মনে করা হচ্ছে এবারের আসরের ‘টপ ফেবারিট’। ভারতকে সম্ভাব্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ধরে নিলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদেরকে এড়াতে বাংলাদেশের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা জরুরি।

মিরাজরা এখন কক্সবাজারে

বাংলাদেশ অনুর্র্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা এখন কক্সবাজারে। তাদের সাথে কক্সবাজার এসে পৌঁছেছে দক্ষিণ আফ্রিকার যুবারাও। আজ বেলা সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দল দুটি কক্সবাজার বিমানবন্দের এসে পৌঁছায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয় বিমানবন্দর থেকে দু’দলের যুব ক্রিকেটারদের নিয়ে যাওয়া হয় নির্ধারিত হোটেল ওশান প্যারাডাইসে।
অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যা¤িপয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারিয়ে এবারের যুব বিশ্বকাপে অসাধারণ সূচনা করেছে মেহেদী হাসান মিরাজরা। শুধু স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিয়েই বাংলাদেশ যে জিতেছে এমনটি নয়, ব্যাটে-বলে অসাধারণ নৈপূণ্য দেখিয়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় মিরাজরা। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে দেশীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশার প্রথম ধাপ পূরণ করেছে বাংলার যুবারা।
বাংলাদেশের করা ৭ উইকেটে ২৪০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৭ রানেই অল আউট হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের অসাধারণ বোলিংয়ের সামনে উড়ে যায় প্রোটিয়ারা। দু’জনই নেন ৩টি করে উইকেট।
৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। একই দিন কক্সবাজারের শেখ কামাল একাডেমি মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে নামিবিয়ার।

আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতের শুভসূচনা

আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা পেয়েছে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া আয়ারল্যান্ডকে ৭৯ রানে হারিয়েছে ভারতীয় যুবারা।

ভারতের দেওয়া ২৬৯ রানের চ্যালেঞ্জ তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আয়ারল্যান্ড। দলীয় ৮ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। এরপর রাহুল বাথামের জোড়া আঘাতে ৪৬ রানেই টপ অর্ডারের সেরা চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে আইরিশরা। বিপর্যয়ে পড়ার পর লোরকান টুকার এবং উইলিয়ান ম্যাকক্লিনটক দলের হাল ধরেন।

পঞ্চম উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যান ১১৩ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। যদিও আইরিশদের আশা ওখানেই শেষ হয়ে যা। এরপর আবার নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৪৯.১ ওভারে ১৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন ম্যাকক্লিনটক। ৮৬ বলে ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। এছাড়া টুকার ৮৯ বলে ৬টি চারের সাহায্যে করেন ৫৭ রান। ভারতীয় যুবাদের পক্ষে বাথাম ১৫ রানে ৩টি উইকেট পান। এছাড়া অভিষ খান ও মাহিপাল লোমরোর ২টি করে উইকেট নেন।

বৃহস্পতিবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে ভারত। তবে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি তাদের। স্কোরবোর্ডে কোন রান না তুলতেই অধিনায়ক ঈশান কিষানকে হারায় তারা। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রিশাভ পান্তকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন রিকি ভুই। তবে এরপর স্কোরবোর্ডে আর ৯ রান তুলতে তিন উইকেট হারালে আবার চাপে পড়ে ভারতীয় যুবারা। যদিও পঞ্চম উইকেট জুটিতে ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে সরফরাজ খান দারুণ এক জুটি গড়ে সে চাপ সামলে নেন। এই জুটিতে ১১০ রান সংগ্রহ করেন দুই ব্যাটসম্যান।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জং স্কোর সংগ্রহ করে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন সরফরাজ। ৭০ বলে ৭টি চারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি। এছাড়া ৭১ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ৬২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন সুন্দর। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে জশুয়া লিটল ও ররি এন্ডার ৩টি করে উইকেট পান।

কানাডাকে ১৯৬ রানে হারাল শ্রীলংকা

চারিথ আসালাঙ্কা ও সামু আহসানের দারুণ ব্যাটিংয়ে যুব বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কানাডাকে উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলংকান যুবারা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বিতীয় দিনে কানাডাকে ১৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমবারেরমত আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি পাওয়া সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার করা ৩১৬ রানের জবাবে ১১৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় কানাডা।

লংকানদের বেধে দেয়া ৩১৬ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে স্কোরবোর্ডে কোন রান না তুলতেই আনান্থারাজাকে হারায় কানাডা। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ভবেন্দ্রু আধিহেত্তিকে নিয়ে ৪১ রান সংগ্রহ করে প্রাথমিক চাপ সামলে নেন আকাশ গিল; কিন্তু এরপর আর কোন ব্যাটসম্যান উইকেটে থিতু হতে পারলো না উত্তর আমেরিকার দেশটি। ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১১৯ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন আরসালান খান। ৭১ বলে ৪টি চারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি।

শ্রীলংকার পক্ষে আসিথা ফার্নান্দো, লাহিরু কুমারা, থালিন নিমেশ ও দামিথা সিলভা ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩১৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলংকা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন লংকান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। ৬৯ বলে ৯টি চারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে সামু আহসানের ব্যাট থেকে। ৬১ বলে ৩টি ছক্কা ও ৩টি চারের সাহায্যে ৭৪ রান করেন তিনি। এছাড়া কভিন বান্দারা ৬১ ও বিসাদ ডি সিলভা ৫১ রান করেন। কানাডার পক্ষে আব্দুল হাসিব ২টি উইকেট পান।

কিইউদের হারিয়ে চমকে দিল নেপাল যুবারা

রীতিমত অবিশ্বাস্য কাজ করে ফেললো নেপাল। টেস্ট খেলুড়ে দেশ নিউজিল্যান্ডের যুবাদের হারিয়ে দারুন বিস্ময় সৃষ্টি করলো আইসিসির সহযোগি দেশটি। রাজু রিজাল ও আরিফ শেখের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর প্রেম থামাং ও দিপেন্দ্র সিং আইরির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শক্তিশালি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুন এক জয় পেয়েছে নেপাল অনুর্ধ্ব-১৯ দল। যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বিতীয় দিনে কিউইদের ৩২ রানে হারিয়েছে হিমালয় দুহিতারা।

নেপালের দেওয়া ২৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড যুবারা। ৩১ রানে দু’ উইকেট হারানোর পর জস ফিনিকে নিয়ে দারুন এক জুটি গড়ে প্রাথমিক চাপ সামলে নেন গ্লেন ফিলিপ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান ৭২ রান সংগ্রহ করেন। এরপর থামাংয়ের জোড়া আঘাতে আবার চাপে পড়ে যায় কিইউরা। শেষ পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান করে অলআউট হয় ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন গ্লেন ফিলিপ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে নাথান ফিলিপের ব্যাট থেকে। ৪১ রান করেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়া ফিনি করেন ৩৭ রান। নেপালের পক্ষে দিপেন্দ্র সিং ২৪ রানে নেন ৩ উইকেট। এছাড়া থামাং নেন ২টি উইকেট।

বৃহস্পতিবার ফতুল্লার খান সাহেব আলী স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে নেপাল। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটাও খারাপ করেনি তারা। দুই ওপেনার সন্দীপ সুনার (৩৯) ও সুনীল ধামালা (১৫) প্রথম উইকেট জুটিতে ৩৯ রান এনে দেন। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে রাজু রিজাল ও আরিফ শেখের ৬১ রানের জুটিতে দারুন সংগ্রহ পায় নেপাল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৩৮ রান করে তারা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন রিজাল। এছাড়া আরিফ করেন ৩৯ রান। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নাথান স্মিথ ৫৮ রানে ৩টি উইকেট পান।

প্রশ্নবিদ্ধ সঞ্জিতের বোলিং অ্যাকশন

হেসে খেলে জয় পেল পাকিস্তান

আইসিসি’র অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দূর্দান্ত এক জয় দিয়ে যুব বিশ্বকাপের একাদশতম আসর শুরু করলো পাকিস্তানের যুবারা। গ্রুপ ‘বি’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বৃহস্পতিবার সিলেট আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলিং-ব্যাটিং দু বিভাগেই অসাধারণ নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হেসে খেলে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।

নিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। হাসান মোহসিন ও শাহদাব খানের দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ১২৬ রানেই গুটিয়ে আফগান যুবারা। আফগানিস্তানের তারিক দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৬ বলে ৫ চার এক ছয়ে ৫৩ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ওপেনার কারিম জ্যানেট। চারে নামা ইকরাম ফাইজি ১৯ রান করলেও অন্য কোন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাতে পারেননি। পাকিস্তানের পক্ষে হাসান মহসিন ৩ আর সাদাব খান ৪ উইকেট নেন।

আফগানদের দেওয়া ১২৭ রানের সহজ টার্গেটে নেমে দলীয় ১৩ রানের মাথায় দলপতি ও ওপেনার গৌহর হাফিজকে হারায় পাকিস্তান। ব্যক্তিগত এক রানে প্যাভেলিয়নের পথ ধরেন তিনি। আরেক ওপেনার জিসান মালিকের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। ২৫ রানে বিদায় নেন তিন নম্বরে নামা মোহাম্মদ উমরও। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান করে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ বাবর।

এরপর হাসান মোহসিন ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান উমর মাসুদ বাকি পথটা পাড়ি দেন। ৩১.৩ ওভারে মোহসিন ২৮ রানে ও মাসুদ ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। আফগানদের হয়ে জিয়াউর রহমান ২ আর রশিদ খান নেন ১ উইকেট।

আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে অভিষিক্ত হল সিলেট জেলা স্টেডিয়াম

আইসিসি`র অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা বনাম কানাডার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে অভিষিক্ত হল সিলেট জেলা স্টেডিয়াম। যদিও আইসিসি এই স্টেডিয়ামটিকে পাঁচ মাস আগেই আর্ন্তজাতিক ভেন্যুর মর্যাদা দিয়ে কিছু সংস্কারের তাগাদা দিয়েছিল। আইসিসি’র চাহিদা অনুযায়ী মাঠটিকে তৈরি করে বিসিবি।

আজ বৃহস্পতিবার ওই স্টেডিয়ামে যুব বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা বনাম কানাডার খেলা মাঠে গড়ানোর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি পাওয়া গেল। এই গৌরবের অংশীদার হতে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি ছিলো জেলা ক্রিড়া সংস্থারও। আইসিসিকে খুশি করে আর্ন্তজাতিক ম্যাচ গড়াতে পেরে খুশি সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিরা।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সিলেট পর্বের খেলা শুরু হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। শ্রীলঙ্কা ও কানাডার খেলার মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষিক্ত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলংকা যুব দল সংগ্রহ করেছে ৩১৫ রান। ৩১৬ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কানাডার সংগ্রহ ১৪ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান। কানাডার আকাশ গিল ১৫ ও আব্রাস খান ৭ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন।

এর আগে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল, বাংলাদেশ-নেপাল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও এবারই প্রথম জেলা স্টেডিয়ামে গড়ালো আন্তর্জাতিক কোন ক্রিকেট ম্যাচ। এর আগে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচের মধ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়েছিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

রেকর্ড গড়লেন ইয়ং টাইগার শান্ত

বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যটিং স্তম্ভ বলা হচ্ছে তাকে। নাজমুল হোসেন শান্ত। নামে শান্ত হলেও, ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের সামনে রীতিমত আতঙ্কের নাম। অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও তিনি প্রমাণ দিয়েছেন নিজের ব্যাটিং প্রতিভার। দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েছেন তিনি। ৮২ বলে ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন সর্বোচ্চ ৭৩ রান।
নাজমুলের ব্যাটেই ২৪০ রানের লড়াকু স্কোর পেয়ে যায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল এবং শেষ পর্যন্ত বোলারদের সাঁড়াসি আক্রমণের মুখে ১৯৭ রানেই অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের জয় এলো ৪৩ রানের ব্যবধানে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পুরস্কার হিসেবে ম্যাচ সেরার ট্রফিও ওঠে শান্তর হাতে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নাজমুল হোসেন শান্ত পৌঁছে গেছেন নতুন এক মাইলফলকে। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৬০০ রানের মাইলফলক পার করলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫৬১ রান নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। ১৬০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছাতে প্রয়োজন ছিল ৩৯ রানের। সেটা পার হনইনি শুধু, চলে গেলেন আরও ওপরে। তার নামের পাশে এখন শোভা পাচ্ছে ১৬৩৪ রান। ৮৯.০২ স্ট্রাইক রেটে যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে ১২তম হাফ সেঞ্চুরি করেন শান্ত।
শুধুমাত্র প্রথম বাংলাদেশী হিসেবেই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেও শান্ত হচ্ছেন দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান যিনি ইয়থ ওডিআইতে ১৬০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছালেন। তার সামনে রয়েছেন শুধুমাত্র পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান সামি আসলাম। পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যানের রান মোট ১৬৯৫। আর মাত্র ৬২ রান করতে পারলেই সামি আসলামকে ছুঁয়ে ফেলবেন শান্ত। এই বিশ্বকাপেই সেই গৌরব সৃষ্টি করতে পারবেন তিনি, এটা বলাই যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জয়ের পর শান্ত বলেন, ‘সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানাবো সর্বশক্তিমান আল্লাহকে। আসলে এটা ছিল খুবই কঠিন কন্ডিশন। উইকেট খুব স্লো। এ কারণে, আমাকে বার বার স্ট্রাইক পরিবর্তণ করতে হয়েছে। আমি বলগুলো নিয়ে কাজ করেছি। দেখে-শুনে শট খেলেছি এবং শেষ পর্যন্ত ভালো করার চেষ্টা করেছি।’

যুবাদের জন্য মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

শুরু হয়ে গেছে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের চারটি শহরের আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেট। চট্টগ্রামের দুটি ভেন্যুতে একযোগে শুরু হয়েছে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। উদ্বোধনী ম্যাচেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশের যুবারা।
অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশ্বকাপ চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না যুব ক্রিকেটাররা। অনুর্ধ্ব-১৯ দলের অপারেশন্স ম্যানেজার সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, ‘আপনারা ঠিকই শুনেছেন। আমরা ক্রিকেটারদের বলেছি, বিশ্বকাপ চলাকালে মোবাইল ব্যবহার না করতে।’
কেন এই নিষেধাজ্ঞা? জানতে চাইলে জুনিয়র দলের নির্বাচক কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আসলে আমরা চাই তাদেরকে রিল্যাক্স রাখতে। এ কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেয়। যদি তারা ফোন ব্যবহার করে, তাহলে অপরিচিত নাম্বার থেকে, বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে কিংবা পরিবার-আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ফোন আসবে। এতে করে তাদের মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটবে। তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। এ কারণেই মূলতঃ আমরা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।’
তবে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারলেও মেহেদী হাসান মিরাজরা কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। এ বিষযে ছাড় পাচ্ছেন তারা। সুতরাং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের জন্য মোবাইল সেট সঙ্গে রাখতে পারবেন তারা। এ বিষয়ে সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা তাদেরকে বলেছি, তাদের মোবাইলকে ফ্লাইট মুডে রাখতে। সুতরাং, তারা কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে। হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ভাইবার ব্যবহার করতে পারছে। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’

‘আর একটু চেষ্টা করলে লক্ষ্য তাড়া করা যেত’

আরও একটু চেষ্টা করলে ২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করা যেত বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টনি ডে জরজি। বুধবার বিকেলে নগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ওপেনিং এ নেমে লিয়াম স্মিথ খেলেছেন ১০০ রানের দূর্দান্ত ইনিংস। মূলত এ ইনিংস যেন আক্ষেপটা বাড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কের। তিনি বলেন, উইকেট কঠিন ছিল। তবে দেখেশুনে খেলে স্মিথ সেঞ্চুরি করল। অন্য ব্যাটসম্যানরা আরও একটু ভালো করলে ২৪১ রানের লক্ষ্যটা তাড়া করা যেত।
তবে এ ম্যাচ নিয়ে আর না ভেবে ভবিষ্যতের ম্যাচেই যাবতীয় মনোযোগ দিতে চান টনি ডে। তিনি বলেন, পরের ম্যাচটা আরও ভালো খেলতে চাই। এ ম্যাচে হওয়া ভুল শুধরে পরের ম্যাচে মাঠে নামতে চাই।

সর্বোচ্চ রান করতে চান শান্ত

তিনে নেমে খেলেছেন ৭৩ রানের দূর্দান্ত ইনিংস। মূলত তার রানের ওপর ভর করেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৪১ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ভালো করে নাজমুল হোসেন শান্ত’র চোখ এখন আরও দূরে। হতে চান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের অধিকারী।
ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, আমি ৭৩ রান করেছি সেটি বড় কিছু নয়। আমার রানের ওপর ভর করে যে টিম জয়লাভ সেটাই আমার কাছে বড়। আমি ১০০ করি, কিংবা ৭৩ করি তা টিমের কাজে আসতে হবে।
বিশ্বকাপ বলে কোন বাড়তি চাপ ছিল কি না এমন প্রশ্নে শান্ত বলেন, আমি এর আগের বিশ্বকাপেও খেলেছি। তাই আমার কাছে বাড়তি চাপ মনে হয়নি। নরমালি খেলে গেছি।
২৪০ রান কি নিরাপদ স্কোর ছিল এমন প্রশ্নে শান্ত বলেন, উইকেট অনেক স্লো ছিল। এ উইকেটে খেলাটা একটু কঠিন ছিল। তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল ২৪০ কিংবা ২৫০ রান করা। আমরা সেটা করতে পেরেছি। আর বোলিংটাও খুব ভালো হয়েছে।
Santo-2
অনেকদিন ধরে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকভাবে খেলছেন শান্ত। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও শান্ত। বিশ্বকাপের আগে এ মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে এসেছে দারুণ সেঞ্চুরি।
নিজের ব্যাটিং সর্ম্পকে বলতে গিয়ে শান্ত বলেন, প্রথমদিকে উইকেটে গিয়ে আমার লক্ষ্য ছিল সিঙ্গেল বের করে দেখেশুনে খেলা। আর খারাপ বল পেলেই বাউন্ডারি হাকানোর চেষ্টা করা। কিন্তু মাঝখানে কয়েকটা উইকেট পড়ে গেলে উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করি। আমি আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছি। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারলে আরও ৬ -৭টা রান বাড়তো।’
তবে প্রথম ম্যাচে জিতে গা ছেড়ে দিচ্ছে না বাংলাদেশ। শান্তর কথায় তা উঠে আসে। শান্ত বলেন, সবে প্রথম ম্যাচ জিতেছি। এটা খুব দরকার ছিল। আর প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে স্বাভাবিকভাবে দল একটু ফুরফুরে অবস্থায় আছে। তবে আমরা পরের ম্যাচগুলো হালকাভাবে নিচ্ছি না। পরের ম্যাচগুলোও সিরিয়াসলি খেলবো।

প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি জুটিতে লরেন্স-বার্নহ্যামের রেকর্ড

যুব ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি জুটির কীর্তি গড়েছেন ইংল্যান্ডের ড্যান লরেন্স ও জ্যাক বার্নহ্যাম। অল্পের জন্য ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হাতছাড়া করেছেন লরেন্স।
বুধবার চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম দিনে টুর্নামেন্টের নবাগত ফিজির বিপক্ষে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৭১ রান তোলে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেটে ৩০৩ রানের জুটি গড়েছেন লরেন্স ও বার্নহ্যাম।
যুব ওয়ানডেতে জুটির আগের রেকর্ডটিও হয়েছিল বাংলাদেশেই। ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বিকেএসপিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭৩ রানের জুটি গড়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের বিজে ওয়াটলিং ও ব্র্যাড উইলসন।
লরেন্স পরে খুব কাছে গিয়ে ছুঁতে পারেননি ব্যক্তিগত মাইলফলক। যুব ওয়ানডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার থিও ডোরোপোলাসের ১৭৯ রান। আর যুব বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেভন প্যাগনের ১৭৬। ফিজির বিপক্ষে বুধবার শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হওয়ার আগে লরেন্স করেছেন ১৭৪ রান। বার্নহ্যাম আগেই ফিরেছেন ১৪৮ রানে।
সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড না ছুঁলেও এবারের যুব বিশ্বকাপের প্রথম শতকটি করেছেন লরেন্সই। ডানহাতি ওপেনার শুরু করেছিলেন ঝড়ের গতিতে। ৩৯ বলে ছুঁয়েছিলেন পঞ্চাশ। পরে স্ট্রোক সামলে মন দেন ইনিংস গড়ায়। শতক করেন ১০৮ বলে। অষ্টম যুব ওয়ানডেতে লরেন্সের এটি দ্বিতীয় শতক।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অবশ্য ইংল্যান্ড দলের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটার ছিলেন এই লরেন্স। গত এপ্রিলে ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে গড়েছিলেন ইতিহাস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই এসেক্সের হয়ে সারের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৬১ রানের ইনিংস।
১৭ বছর ২৯০ দিন বয়সে লরেন্সের সেই শতক এসেক্স কাউন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে করা শতক; ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা মাঠ ওভালেও। আর সব মিলিয়ে লরেন্স ইংলিশ কাউন্টির ইতিহাসে শতক করা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান। এবার রেকর্ড গড়লেন যুব বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই।

ইংল্যান্ডের ২৯৯ রানের বিশাল জয় ‌‌

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে ফিজি। প্রথমবারই তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো দলটির। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ২৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারলো ফিজি। ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৭২ রানে গুটিয়ে যায় ফিজি।
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ২২ রানেই ওপেনার হোল্ডেনের (৩) উইকেট হারায়। এরপরে দুই ইংলিশ

ড্যান লরেন্স ও জ্যাক বার্নহাম

ড্যান লরেন্স ও জ্যাক বার্নহাম

ব্যাটসম্যানের হাতে বিধ্বস্ত হয় ফিজি। দ্বিতীয় উইকেটে ৩০৩ রানের জুটি গড়েন তারা। যুব ক্রিকেটে যে কোনও উইকেট জুটিতে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। সেঞ্চুরি করেছেন ড্যান লরেন্স ও জ্যাক বার্নহাম।
লরেন্স ১০৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। পরে ১১৭ বলে তিন অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করে বার্নহাম। ৪৭তম ওভারে বার্নহাম বোল্ড হলে ভাঙে তাদের জুটি। বার্নহাম ১৩৭ বলে ১৪৮ রান (১৯ চার, ৪ ছয়) করেন। ইনিংসের শেষ ওভারে সাজঘরে ফিরেন লরেন্সও। তিনি ১৫০ বলে ১৭৪ রানের (২৫ চার, ১ ছয়) দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।
বল হাতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ব্যাট হাতেও বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয় ফিজির ব্যাটসম্যানেরা। ২৭.৩ ওভারে ৭২ রানে গুটিয়ে যায় ক্রিকেট বিশ্বে নবাগত দলটি। সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন পেনি ভুনিওয়াকা। ইংলিশদের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব মাহমুদ ও স্যাম কারেন।

চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা যুবাদের

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই দলটিকেই ৪৩ রানে হারিয়ে যুবাদের বিশ্বকাপে অসাধারণ সূচনা করলো বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব-১৯ দল। শুধু স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিয়েই যে জিতলো বাংলাদেশ, এমন নয়। ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয় তুলে নিল মেহেদী হাসান মিরাজরা। সে সঙ্গে এই বিশ্বকাপে যে বাংলাদেশের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, তারও শুভ সূচনা করে ফেলল, যুবারা।
বাংলাদেশের করা ৭ উইকেটে ২৪০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৭ রানেই অল আউট দক্ষিণ আফ্রিকার যুবারা। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের অসাধারণ বোলিংয়ের সামনে উড়ে গেল প্রোটিয়ারা। দু’জনই নিলেন ৩টি করে উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাঈদ সরকার এবং সালেহ আহমেদ শাওন।
bangladese-1
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৪০ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে।
এর আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও পিনাক ঘোষ। দুজন মিলে ৯ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৩ রান জমা করেন। তবে দশম ওভারে প্রোটিয়া পেসার উইয়ান মুল্ডারের অফ সাইডের বাইরের একটি শর্ট বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে কাইল ভেরেনেকে ক্যাচ দেন সাইফ (৬)। ফলে ভেঙে যায় ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি।
এরপর জয়রাজকে সাথে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়ে তোলেন পিনাক ঘোষ। তবে ব্যক্তিগত ৪৩ রান করে রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর শান্তকে সাথে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়রাজ। তবে ২৪ ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে হোয়াইটহেডের বলে ভেরিনেকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন জয়রাজ।
এরপর চতুর্থ উইকেটে নাজমুল হাসান শান্ত ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ভালো একটি জুটি গড়ে তোলেন। দলের স্কোরও দেড়শ পেরিয়ে যায়। কিন্তু মিরাজের বিদায়ে ভেঙে যায় ৫৯ রানের এ জুটি। প্রোটিয়া অধিনায়ক ডি জর্জির বলে লুডিককে ক্যাচ দেওয়ার আগে মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান।
মিরাজের বিদায়ের পর দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শান্ত। এরপর জাকিরকে সাথে নিয়ে ৪৫ জুটি গড়ার মধ্য দিয়ে নিজের অর্ধশত তুলে নেন। অবশেষে ৭৩ রান করে মুলডারের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার এই ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে জাকির ১৯ আর সাইফউদ্দিন ১৭ রান করলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৪০ রান। প্রোটিয়াদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নেন মুলডার।
২৪১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। টাইগারদের হয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করেন দলপতি অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ওভার মেডেন নিয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দেন প্রোটিয়া ওপেনার কাইল ভেরায়নিকে। স্লিপে দাঁড়ানো সাইফ হাসানের তালুবন্দি হয়ে পেরেন এক রান করা এই ওপেনার।
ইনিংসের নবম ওভারে মুলডারকে (৮) বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন সাইফুদ্দিন। এরপর সাইফুদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন প্রোটিয়া দলপতি টনি ডি জর্জি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে প্রোটিয়া অধিনায়ক করেন ৮ রান।
মেহেদি হাসান মিরাজের পর সাইফুদ্দিনের আঘাতে প্রোটিয়ারা তিন উইকেট হারায়। ইনিংসের ২১তম ওভারে সাইদ সরকার প্রোটিয়াদের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন। সাইদের বলে রিভালদো মনস্যামি ব্যক্তিগত ৫ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন। ডায়ান গালিয়েমকে (২২) বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন সাইদ সরকার।
২৫ ওভারের পর থেকে ৩৭ ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি দ. আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার লিয়াম স্মিথ ক্রিজের একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করতে থাকেন। ডায়ান গালিয়েমকে নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়েন স্মিথ।
ইনিংসের ৪২তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ ফেরান ১৭ রান করা ফারহানকে। ৪৫তম ওভারে প্রোটিয়াদের সফল ব্যাটসম্যান ওপেনার লিয়াম স্মিথকে ফিরিয়ে দেন সালেহ আহমেদ শাওন। ১৪৬ বলে ১০০ রান করে মেহেদি হাসান মিরাজের তালুবন্দি হন স্মিথ। ক্যারিয়ারে প্রথম শতকের দেখা পাওয়া স্মিথ ৯টি চারের সাথে একটি ছক্কাও হাঁকান। একই ওভারে লুডিককেও ফিরিয়ে দেন শাওন।
৪৮তম ওভারে সাইফুদ্দিন এলবির ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন ৬ রান করা ফিল্যান্ডারকে। পরের ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ ফেরান শেন উইটহেটকে। ৮ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় দ. আফ্রিকা।
টাইগার যুবাদের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন সাইফুদ্দিন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দুটি করে উইকেট দখল করেন সালেহ আহমেদ শাওন ও সাইদ সরকার।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টাইগার যুবারা শুরু করে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া।
বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, পিনাক ঘোষ, জয়রাজ শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, জাকির হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সাঈদ সরকার, সঞ্জিত সাহা, আব্দুল হালিম, সালেহ আহমেদ শাওন।
দ. আফ্রিকা একাদশ: লিয়াম স্মিথ, কাইল ভেরায়নি, উইয়ান মুলডার, টনি ডি জর্জি, রিভালদো মনস্যামি, ডায়ান গালিয়েম, ফারহান সায়ানভালা, উইলিম লুডিক, লুক ফিল্যান্ডার, শেন উইটহেট, লুথো সিপামলা।

‘বাংলাদেশ দলের মত আমরাও প্রতিভাবান’

দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে পাত্তাই পায়নি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে প্রোটিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক টনি ডি জর্জির বিশ্বাস, বাংলাদেশের পরীক্ষা নিতে পারবেন তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে প্রথম ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তো যুব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়েই দিয়েছে বাংলাদেশ। গত জুলাইয়ের বাংলাদেশের মাটিতে সিরিজে প্রোটিয়া যুবারা হেরেছিল ৬-১ ব্যবধানে, জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজের ফল ছিল ৫-২।
শক্তি-সামর্থ্য-কন্ডিশন, সবদিক থেকেই বুধবারের ম্যাচে ‘ফেভারিট’ বাংলাদেশ। তবে মাঠে নামার আগে ছেড়ে কথা বলছে না দক্ষিণ আফ্রিকাও। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলনের আগে প্রোটিয়া অধিনায়ক টনি ডি জর্জি একরকম চালেঞ্জই ছুঁড়ে দিলেন বাংলাদেশকে।
“আমরা আত্মবিশ্বাসী, দলটাও বেশ ভালো জায়গায় আছে। বাংলাদেশ প্রতিভাবান দল, তবে আমরাও প্রতিভাবান। আমাদেরকে হারাতে হলে ভালো খেলেই হারাতে হবে এবং আমার ধারণা, তারাও সেটা জানে।”
বরাবরের মতোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি স্পিন আক্রমণ। প্রোটিয়ারা ঐতিহ্যগত ভাবেই স্পিনে দুর্বল। দু দলের দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও সেটা ফুটে উঠেছে। তবে ব্যাটিং উপদেষ্টা সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার শ্রীধরন শ্রিরামের সহায়তায় স্পিন সামলানোয় উন্নতির চেষ্টা করেছে প্রোটিয়ারা। স্পিন-ভয়কে পাত্তাই দিলেন না ডি জর্জি।
“এখানে এসে আমরা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। ব্যাটিং উপদেষ্টা শ্রিরাম আমাদের সাহায্য করছেন স্পিন খেলা শেখাতে। দলের অনেকেই এখানে খেলে গেছে, জানে কিভাবে মানিয়ে নিতে হবে। স্পিন নিয়ে কোনো ভয় তাই নেই দলে।

এবারের বাংলাদেশ এগিয়ে ‘বোঝাপড়ায়’

পারস্পরিক সমঝোতা আর বোঝাপড়ায় বাংলাদেশ যুব দল আগের দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে আছে বলে মনে করেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ মিজানুর রহমান।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বরাবরই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে থাকে অনেক প্রত্যাশা। তবে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মিলেছে সামান্যই। কয়েকটি আসরে বাংলাদেশ ছিল অন্যতম ফেভারিট – দেশের মাটিতে ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে, সাকিব-তামিম-মুশফিকদের সোনালি প্রজন্মের খেলা ২০০৬ সালের শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপে, কিংবা এনামুল হক বিজয়-তাসকিন-সৌম্যদের খেলা ২০১০ ও ২০১২ বিশ্বকাপে। কিন্তু কোনো দলই সেমি-ফাইনালেও যেতে পারেনি।
বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন মিজানুর রহমান। এই নিয়ে টানা দুটি যুব বিশ্বকাপে তিনি বাংলাদেশের প্রধান কোচ। গতবারও অভিজ্ঞতাটা ছিল আগের মতোই। অনেক আশা নিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সেই বিশ্বকাপের পরপর থেকেই এখনকার দলটিকে নিয়ে কাজ করছেন মিজানুর। এবারের দলটিকে তার মনে হয়েছে আগের দলগুলি থেকে আলাদা। নতুন অভিযান শুরুর আগের দিন মঙ্গরবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ ব্যখ্যা করলেন তা।
“যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সব দলই সবসময় ভালো ছিল। তবে এই দলটি আলাদা। সব দিক থেকে এগিয়ে রাখার কথা বললে, এই দলের কম্বিনেশন ভালো। সবাই সবাইকে দারুণ বোঝে।”
কোচের মতে, দীর্ঘ দিন এক সঙ্গে থেকে দলের গাঁথুনিটা হয়েছে দারুণ।
“অন্যবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যেটা হয়েছে, ২-৩টি ছেলে হুট করেই দলে চলে আসে। তখন হয়ত বিশ্বকাপ অনেকটাই কাছে চলে এসেছে, অন্যদের সঙ্গে একটা তারতম্য থেকে যায়। কিন্তু এই ছেলেগুলো সবাই এক সঙ্গে অনেক দিন ধরে আছে। মাঠের ভেতরে-বাইরে সবাই পরস্পরকে বোঝে। এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি এটা।”

মেলে ধরার মঞ্চে তরুণ ক্রিকেটাররা

ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটারদের নিজেদের চেনানোর সবচেয়ে বড় মঞ্চ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। ওয়ানডে ক্রিকেটের এই প্রতিযোগিতা দিয়েই ব্রায়ান লারা, ক্রিস গেইল, বিরেন্দর শেবাগ, মুশফিকুর রহিমদের আগমন ধ্বনি শুনেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পর্দা উঠছে তরুণ ক্রিকেটারদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত সেই টুর্নামেন্টের। প্রথম দিন শিরোপাধারী দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অন্য ম্যাচে ফিজির বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড। ১৯ দিনের টুর্নামেন্টে ম্যাচ হবে ৪৮টি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের আটটি ভেন্যুতে হবে খেলা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৪ ফেব্রুয়ারি হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। এছাড়াও খেলা হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ও এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে, সিলেটের বিভাগীয় ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এবং কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের অ্যাকাডেমি মাঠে।
শিরোপা স্বপ্নটা গত দুই বছর ধরেই দেখছেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা। সেই স্বপ্ন পূরণে সবার আগে সুপার লিগ নিশ্চিত করতে চায় দলটি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়েই নিজেদের দাবিটা জানিয়ে রাখতে প্রত্যয়ী মেহেদি হাসান মিরাজরা। দক্ষিণ আফ্রিকার শিরোপা ধরে রাখার পথটাও কঠিন, নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অগ্নিপরীক্ষায় পড়তে হবে তাদের।
১৮ বছরের শিরোপা খরার অবসান ঘটাতে চায় ইংল্যান্ড। তবে উপমহাদেশে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে শিরোপা জেতা কঠিনই হবে তাদের জন্য।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে তরুণদের পরিণত হয়ে উঠার মঞ্চ হিসেবে দেখেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার কপিল দেব, “অনেক দল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সেই দলগুলোর জন্য নতুন খেলোয়াড় পাওয়ার প্ল্যাটফর্ম।”
হাশিম আমলা, বিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথ, কেন উইলিয়ামসন, জো রুটদের ক্রিকেট বিশ্ব চিনেছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে। জিম্বাবুয়ের কোচ ডেভ হোয়াইটমোর মনে করেন, তারাই আজ তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
বাংলাদেশের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের কাছে, এই টুর্নামেন্ট নতুন ক্রিকেটার তৈরির জায়গা। ১৯৮৮ সালে হওয়া প্রথম আসরের স্মৃতি এখনও তার মনে তাজা। সেবার ক্রিকেট বিশ্ব পেয়েছিল লারা, ইনজামাম-উল-হক, সনাৎ জয়াসুরিয়াদের।
তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের ‘স্পেশাল’ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ হিসেবে দেখেন হাথুরুসিংহে। কোনো চাপ না নিয়ে টুর্নামেন্ট উপভোগের মন্ত্র শুনিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ দলের প্রায় সব খেলোয়াড় উঠে এসেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে। মুশফিক, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমানরা বিশ্বকাপের পরেই নজরে আসেন।
পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনুস তরুণদের বিশ্বকাপ উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সাবেক এই পেসারের কাছে প্রতিযোগিতাটি তরুণদের নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের জায়গা।

‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আছে স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া।
‘বি’ গ্রুপে খেলবে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, কানাডা ও ২০০৪ ও ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান।
‘সি’ গ্রুপে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সঙ্গী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, ও ফিজি।
‘ডি’ গ্রুপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশে আসেনি দলটি। তিনবারের শিরোপা জয়ী দল ভারতের সঙ্গে এই গ্রুপে আছেন নিউ জিল্যান্ড ও নেপাল। অস্ট্রেলিয়ার জায়গায় আইসিসির আমন্ত্রণে খেলতে এসেছে আয়ারল্যান্ড।
প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে। শেষ দুই খেলবে প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপে।
২০টি ম্যাচ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এবার, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যা সবচেয়ে বেশি। গত যুব বিশ্বকাপের ১১টি খেলা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিল।

মিরপুরে ভারতীয় যুবাদের অনুশীলন

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রথম দল হিসেবে মিরপুর একাডেমি মাঠে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) অনুশীলন করেছে ভারতীয় যুবারা। কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের অধীনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কঠোর অনুশীলন করে ইশান কিষানের দল।
ব্যাটিং ও বোলিংয়েই ছিল ক্রিকেটারদের পুরো মনোযোগ। ভারতীয় দলের কোনো সদস্য এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি।
২৭ জানুয়ারি থেকে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের একাদশতম আসর শুরু হলেও মিরপুরে ম্যাচ গড়াবে ২৮ জানুয়ারি থেকে। ওই দিন আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ২০১২ সালের যুব বিশ্বকাপজয়ী দল ভারত।
১৬ দলের এ বিশ্ব আসরের ম্যাচগুলো হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার-এই চার শহরের আট ভেন্যুতে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট ৯টি ম্যাচ গড়াবে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ভারতের স্কোয়াড: ইশান কিষান (অধিনায়ক), রিশাব পান্ত (সহ-অধিনায়ক), খলিল আহমেদ, জিসান আনসারি, রাহুল বাথাম, রিকি ভুই, মায়াঙ্ক ডাগার, আরমান জাফির, সরফরাজ খান, আমানদ্বীপ খের, অভীশ খান, মহিপাল লমরর, সুবহাম মাভি, আনমলপ্রিত সিং, ওয়াশিংটন সুন্দর।

সিলেট পৌঁছেই অনুশীলনে তিন দলের খেলোয়াড়রা

সিলেট পৌঁছেই অনুশীলনে নেমেছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও কানাডা দলের খেলোয়াড়রা। সিলেটের দু’টি স্টেডিয়ামে তারা অনুশীলন করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা অনুশীলনে নামেননি।
বিসিবি’র পরিচালক (অর্থ) ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ক্রিকেট দল বিভাগীয় স্টেডিয়ামে এবং কানাডা দল দুপুর আড়াইটা থেকে জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে। তবে সিলেট পৌঁছানোর পর শ্রীলঙ্কা দল তাদের অনুশীলন পর্ব বাতিল করেছে বলে জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় নভো এয়ার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। এরপর শ্রীলঙ্কা ও কানাডা ক্রিকেট দল ইউএস বাংলা এয়ারের একটি ফ্লাইটে বেলা ১টা ২৫ মিনিটে সিলেটে এসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর সূত্র। ২৭ জানয়ারি থেকে ১৬ দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুব বিশ্বকাপ। আর ভেন্যুর তালিকায় রয়েছে সিলেটের দু’টি স্টেডিয়াম। সিলেটে অনুষ্ঠেয় ৫টি ম্যাচের তিনটি সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে হবে দু’টি ম্যাচ। ১ ফেব্রুয়ারি শেষ ম্যাচ হবে সিলেটে।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে

বাংলাদেশ ও দক্ষিন আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৬। বাংলাদেশের ৮টি ভেন্যু অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ৪৮টি ম্যাচ। সব ম্যাচই শুরু হবে সকাল ৯টায়। বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গাজী টিভিতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত বিটিভিতেও সম্প্রচার করা হবে। তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশের ম্যাচগুলো, এছাড়া সেমিফাইনাল ও ফাইনালও সম্প্রচার করা হবে বিটিভিতে।
এ ছাড়া যুব বিশ্বকাপ দেখতে পাবেন স্টার স্পোর্টস-১, সুপার স্পোর্টস-২ ও স্কাই স্পোর্টস-২ চ্যানেলে।

কেমন ছিল যুব বিশ্বকাপের আগের আসরগুলো?

১৯৮৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ ছাড়া বাকি ৯টি বিশ্বকাপে ১৬টি দলই অংশ নিয়েছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। এবারও ১০টি টেস্ট খেলুড়ে এবং ৬টি সহযোগী দেশসহ মোট ১৬টি দেশ নিয়ে বুধবার শুরু হচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এগারোতম আসর। বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ৪ বার প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়ে সন্তুষ্ট থেকেছে।
ক্রিকেটারদের বড় মঞ্চে যাওয়ার আগে এই টুর্নামেন্টকে ড্রেস রিহার্সালও বলা হয়। গত দশটি আসরে খেলা অনেক তরুণ ক্রিকেটার যুব বিশ্বকাপ খেলার মাধ্যমে তারকা খ্যাতি অর্জন করেছেন। সর্বশেষ বড়দের বিশ্বকাপ খেলাসহ অনেকে দলকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।
বুধবার শুরু হওয়া এগারোতম বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সবগুলো দলের অধিনায়ক। ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল খেলার মধ্যদিয়ে এগারোতম আসরটিতে সেরা ক্রিকেটার বের হয়ে আসবে; যারা পরবর্তীতে বিশ্বক্রিকেট শাসন করবে।

যুব বিশ্বকাপের গত ১০ আসর

প্রথম যুব বিশ্বকাপ (১৯৮৮): অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো আয়োজকের দায়িত্ব পালন করে অস্ট্রেলিয়া। তারাই প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ নেয়। ওই আসরে মোট ৮টি দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। দলগুলো হচ্ছে-ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং তৎকালীন আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে, বারমুডা, কানাডা, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডকে নিয়ে তৈরি করা হয় একটি দল।

দ্বিতীয় যুব বিশ্বকাপ (১৯৯৮) : প্রথমবার মাঠে গড়ানোর পর দশ বছর অপেক্ষা করতে হয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দ্বিতীয়বার আয়োজনের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হওয়া দ্বিতীয় আসরটিতে অংশ নেয় মোট ১৬টি দেশ। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। সেবার প্রথম অংশ নিয়েই প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ১৯৯৮ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন বর্তমান ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির ম্যানেজার সাব্বির খান।

তৃতীয় ‍যুব বিশ্বকাপ (২০০০) : আগের বারের মতো ২০০০ সালের বিশ্বকাপেও মোট ১৬টি দল অংশ গ্রহণ করে। শ্রীলঙ্কাতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আসরে শিরোপা জেতে ভারত। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। ওই বিশ্বকাপে তারকা খ্যাতি পান ভারতের যুবরাজ সিং। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন লাল-সবুজদের সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার।

চতুর্থ যুব বিশ্বকাপ (২০০২): চতুর্থ আসরটি অনুষ্ঠিত হয় নিউজিল্যান্ডে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা খেলেন। যদিও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন নাফিস ইকবাল।

পঞ্চম যুব বিশ্বকাপ (২০০৪) : আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরটির সফল আয়োজক বাংলাদেশ। ওই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। স্বাগতিক দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন আশিকুর রহমান।

৬ষ্ঠ যুব বিশ্বকাপ (২০০৬): দ্বিতীয় বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৩৮ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তান। বাংলাদেশ যুব দল ২০০৬ সালে বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে মাঠে নামে। এ আসর দিয়ে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

সপ্তম যুব বিশ্বকাপ (২০০৮) : যুব বিশ্বকাপের সপ্তম আসরটি অনুষ্ঠিত হয় মালয়েশিয়াতে। সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। কিনরারা একাডেমি মাঠে বৃষ্টি-আইনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১২ রানে হারিয়ে শিরোপা হাতে তোলেন বিরাট কোহলি। সোহরাওয়ার্দী শুভর নেতৃত্বে এবার বিশ্বকাপে মাঠে নামে বাংলাদেশ।

অষ্টম যুব বিশ্বকাপ (২০১০) : অষ্টম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজক হয় নিউজিল্যান্ড। ওই বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালে অসিদের কাছে ২৫ রানে হার মানে পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডে তৃতীয়বারের মতো আয়ারল্যান্ডকে ১৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন মাহমুদুল হাসান।

নবম যুব বিশ্বকাপ (২০১২) : অস্ট্রেলিয়ার মাঠিতে অনুষ্ঠিত ২০১২ যুব বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো ট্রফি জিতে ভারত। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারায় তারা। এনামুল হক বিজয়ের নেতৃত্বে মাঠে নামে বাংলাদেশের যুবারা। ওই বিশ্বকাপে অধিনায়ক এনামুল টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোর করেছিলেন ৩৬৫ রান করে।

দশম যুব বিশ্বকাপ (২০১৪): প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারায় তারা। আর নিউজিল্যান্ডকে ৭৭ রানে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপে চতুর্থবারের মতো প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ওইবার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বর্তমান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

সেরা অলরাউন্ডার হতে চান মিরাজ

এই নিয়ে দুটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এবার বাংলাদেশ অধিনায়কের লক্ষ্য, টুর্নামেন্টের সেরা অলরাউন্ডার হওয়া। বুধবার টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে টস করতে নামলেই একটি ইতিহাস গড়া হয়ে যাবে মিরাজের। হয়ে যাবেন যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার, যিনি দুটি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মিরাজ ছাড়া আরও চারজন আছেন বাংলাদেশ দলে, যারা খেলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিরাজ জানালেন, অভিজ্ঞদের উপস্থিতি আত্মবিশ্বাসী করছে দলকে। “পরপর দুটি বিশ্বকাপ খেলা দারুণ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। আমাদের কয়েকজন আছে দুটি বিশ্বকাপ খেলবে, দলের জন্য এটি খুব ভালো ব্যাপার। এই অভিজ্ঞতা দলেল কাজে লাগবে। ব্যক্তিগতভাবে, অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ খেলাটাও দারুণ ব্যপার। চাপ নিচ্ছি না, চেষ্টা করব ভালো করতে।”
দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দৃষ্টি শিরোপাতে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখও সেরা হওয়ায়। পরিণত ব্যাটিং আর কার্যকর অফ স্পিন মিলিয়ে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমারদের একজন মিরাজ। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে গত জাতীয় লিগে পারফর্ম করেছেন দারুণ। এবার সেরা হতে যান যুব বিশ্বকাপে। “আমার লক্ষ্য থাকবে একটিই। এটা অনেক বড় একটা টুর্নামেন্ট, অনেক বড় সুযোগ সেরা অলরাউন্ডার হওয়ার। আমার টার্গেট থাকবে সেরা অলরাউন্ডার হওয়া।”

প্রত্যাশা চাপ নয়, বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রত্যাশার ভারে নুইয়ে পড়ছেন না মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়ক বরং এটিকেই করে নিতে চান অনুপ্রেরণা। এমনিতে বিশ্বের প্রায় সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আলোড়ন জাগায় সামান্যই। কিন্তু ক্রিকেট উন্মাদনার বাংলাদেশে এই বিশ্বকাপও তুলেছে আলোচনার ঝড়। লোকের আগ্রহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রত্যাশাও। ক্রিকেট আঙিনায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, দেশের মাটিতে ছোটদের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন।
প্রত্যাশার হাত ধরে আসে চাপ। বড় স্বপ্ন মানে চাপের ভারও বেশি। তবে চাপটাকে পেয়ে বসতে দিতে চান না মিরাজ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমদে চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, লোকের চাওয়াকে অনুপ্রেরণা মেনে মাঠে নামতে চান তারা। “মানুষের আশা তো অবশ্যই বেশি। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ, সবাই চায় আমরা ভালো করি। আমাদের পারফরম্যান্সও বলে দিচ্ছে যে আমরা ভালো করছি। সবার আশা থাকবেই। তবে এটাকে চাপ ভাবলে চলবে না। বরং উৎসাহ ধরে নিয়ে খেলতে হবে। আমাদের সেই আত্মবিশ্বাস আছে।”
গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর পরই কাজ শুরু হয়েছিল এই দল গড়ে তোলায়। গত দেড় বছরে দলের পারফরম্যান্সও দারুণ। বুধবার প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি সিরিজে অনায়াসেই জিতেছে মিরাজরা; সিরিজ জিতেছে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অধিনায়কের মতে, এই সাফল্যযাত্রাই দারুণ আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে দলকে।
“সাফল্য পেয়েছি বলেই সবাই আমাদের নিয়ে আশা করছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমাদের স্ট্যান্ডার্ড আমরা বুঝি, সেটা পূরণ করার চেষ্টা করব। সবার আশা পূরণ করার চেষ্টা করব। তবে এটা চাপ নয়। ক্রিকেট খেলাটা প্রক্রিয়ার খেলা, চাপ ভাবার কারণ নেই। আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলেই আমরা পারব।”

বিশ্বকাপে বড় ভাইরা অনুপ্রেরণা ছোটদের

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পারফরম্যান্স এখনও্ তাজা।বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান, ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তিন ক্রিকেট পরাশক্তির স্রেফ ওড়ে যাওয়ার গল্প তো আরও নিকট অতীতেরই। এদিকে আর মাত্র কয়েকটা দিন পর শুরু হচ্ছে আরও একটা বিশ্বকাপ।তবে এটি ছোটদের।মানে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ।আর এ বিশ্বকাপে বড়দের পারফরম্যান্সই অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ছোট টাইগারদের।জাতীয় দলের দেখিয়ে দেওয়া পথে এগিয়ে বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার স্বপ্ন মেহেদী হাসান মিরাজদের।
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন জার্সি হস্তান্তর করা হয়।এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, সহ অধিনায়ক নাজমুল হোসাইন শান্ত ও পেসার মো. আবদুল হালিমের সঙ্গে।তারা তাদের ব্যক্তিগত লক্ষ্য, বিশ্বকাপের বাংলাদেশের চাওয়াসহ নানা বিষয়ে সাবলিল কথা বলেন।
অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশের হতাশা, প্লেট কাপ নিয়েই তৃপ্তির ঢেকুর তোলা।এবার নিশ্চয় বাড়তি প্রত্যাশা আছে দলের-এমন কথায় বাংলাদেশ দলের পেসার আবদুল হালিম বলেন, ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন বলতে পঞ্চম স্থান লাভ করা।তাও সাকিব ভাইদের সময়ে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে।এবার দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ।আমাদের ওপর দেশবাসীর প্রত্যাশাও তাই অনেক বেশী।আমরা খুব ভালো করতে চাই।চ্যম্পিয়ন হওয়ার মত করেই খেলতে চাই।’
নিজে পেস বোলার বলে ভালোই জানেন উপমহাদেশের উইকেটে পেস বোলারদের জন্য তেমন কিছু নেই।তাই বিশ্বকাপে নিজের লক্ষ্যের কথা বলতে গিয়ে সেই কথাটিই বলে দিলেন আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ‘দেশের উইকেট স্পিনারদের জন্য স্বর্গরাজ্য।তবুও আমার লক্ষ্য থাকবে ভালো কিছু করার।’
ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা খোঁজার জন্য তো বেশী দূর যাওয়ার দরকার নেই আবদুল হালিমের।জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন মাশরাফি কিংবা রুবেল পর্যন্ত গেলেই তো হলো।আবদুল হালিমও তাই বলে দিলেন জাতীয় দলের বড় ভাইদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই আমি।’
দলের সহ অধিনায়ক নাজমুল হোসাইন শান্ত।শনিবার যার ব্যাট থেকে এসেছে দূর্দান্ত এক সেঞ্চুরি।একদিন আগে সেঞ্চুরি করে দলকে জেতালেও তা নিয়ে বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস নেই এ তরুণের।এখনও পা মাটিতেই রাখছেন শান্ত।আগেই বলা হয়ে গেছে, বয়সটা এখনও ১৮ এর ভেতরে হলেও কথা বলাতে যে কতটা পরিপক্ক শান্ত। রোববার তার আরেকবার প্রমাণ পাওয়া গেল।
বিশ্বকাপে কি বাংলাদেশ চ্যম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলবে-এমন সোজাসাপ্টা প্রশ্নে শান্ত চটপট বলে গেলেন, এক লাফে গাছে উঠা যায় না।আমরা তাই ধাপে ধাপে এগুতে চাই।এভাবে এগুলে ভালো কিছু করা সম্ভব।
ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ।তাই বাড়তি কোনো চাপ আছে কিনা দলের ওপর-এ কথার উত্তরে শান্ত বলেন, চাপের কিছু নেই, আবার চাপ নেই বললেও ভুল হবে। জাতীয় দল বিশ্বকাপে ভালো খেলেছে।আমাদের ওপরও তেমন আশা থাকবে সবার।আমরাও জাতীয় দল থেকে অনুপ্রেরণা পাই।তাই গত এক বছর ধরে যা খেলেছি তার চেয়েও ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই বিশ্বকাপে।’
চট্টগ্রাম দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু বলে শান্ত কিছুটা খুশি।বলেন, চট্টগ্রামের মাটিতে বেশ কিছুদিন ধরে খেলছি।তাই চট্টগ্রামের উইকেটের সঙ্গে কিছুটা পরিচিতিও হয়ে গেছে আমাদের। এর ফলে হয়তো কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাব আমরা।’
সর্বশেষ গণমাধ্যমের সামনে আসেন দলীয় অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।দীর্ঘদিন ধরে অধিনায়কের ভার সামলাচ্ছেন মিরাজ।যাকে ইতিমধ্যেই জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফির মত অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক হিসেবে ডাকতে শুরু করেছে অনেকেই।
মেহেদি হাসান মিরাজ বিশ্বকাপে আপাতত প্রথম ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন।কারণ প্রথম ম্যাচেই যে প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা।তাই মিরাজ দক্ষিণ আফ্রিকা বাধা ভালোমতন টপকাতে চান আগে।এই ম্যাচ জিতলে পরের ম্যাচগুলো ইজিলি খেলা যাবে বলেন মিরাজ।
আর দলের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা স্থির অধিনায়ক।শুধু বললেন আমরা আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চাই।এরপর বাকিটা দেখা যাবে।

টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ২০ টাকা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ‍(‌আইসিসি)। সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা। ম্যাচের একদিন আগে স্টেডিয়ামের নির্ধারিত কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন দর্শকরা। ম্যাচের দিন স্টেডিয়াম সংলগ্ন কোথাও টিকিট পাওয়া যাবে না।
যুব বিশ্বকাপের একাদশতম আসর শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ জানুয়ারি। ১৬ দলের এ বিশ্ব আসরের ম্যাচগুলো গড়াবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার এই চার শহরের আট ভেন্যুতে। মোট ১৬টি দল চার গ্রুপে লড়াই করবে এবারের আসরে। ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট ও অ্যাফিলিয়েট সদস্য দেশ সাতটি।
ভেন্যু: শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা
কাউন্টার: মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম।
টিকিট পাওয়া যাবে: ২৭ জানুয়ারি থেকে।

টিকিটের মূল্য:
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড উত্তর/দক্ষিণ – ৩০০ টাকা।
ভিআইপি স্ট্যান্ড – ১৫০।
শহীদ মুস্তাক ও জুয়েল স্ট্যান্ড – ১০০।
উত্তর/দক্ষিণ গ্যালারি – ৪০।
পূর্ব গ্যালারি – ২০।

ভেন্যু: খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম।
টিকিট কাউন্টার: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জালকুড়ি, ফতুল্লা।
টিকিট পাওয়া যাবে: ২৭ জানুয়ারি থেকে।

টিকিটের মূল্য:
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড – ৩০০ টাকা।
ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি (পশ্চিম) – ১৫০।
ক্লাব হাউজ (পূর্ব/পশ্চিম) – ১০০।
পশ্চিম গ্যালারি – ৮০।
পূর্ব গ্যালারি – ২০।

ভেন্যু: জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম।
টিকিট কাউন্টার: বিটেক মোড়, সাগরিকা, চট্টগ্রাম।
টিকিট পাওয়া যাবে: ২৬ জানুয়ারি থেকে।

টিকিটের মূল্য:
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড – ২০০ টাকা।
রুফ টপ হসপিটালিটি – ২০০।
ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ড – ১০০।
ক্লাব হাউজ (পূর্ব/পশ্চিম) – ১০০।
পশ্চিম গ্যালারি – ৫০।
পূর্ব গ্যালারি – ৩০।

ভেন্যু: এম এ আজিজ স্টেডিয়াম।
টিকিট কাউন্টার: আলমাস সিনেমা হল, দামপাড়া, চট্টগ্রাম।
টিকিট পাওয়া যাবে: ২৬ জানুয়ারি থেকে।

টিকিটের মূল্য:
ভিআইপি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড – ১০ টাকা।
রুফ টপ – ১০০।
ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ড (উত্তর/দক্ষিণ) – ৭৫।
ক্লাব হাউজ (উত্তর/দক্ষিণ) – ৫০।
সাধারণ গ্যালারি – ২০।

ভেন্যু: সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
টিকিট কাউন্টার: লুকাতুরা, এয়ারপোর্ট রোড, সিলেট।
টিকিট পাওয়া যাবে: ২৭ জানুয়ারি থেকে।

টিকিটের মূল্য:
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড (পূর্ব/পশ্চিম) – ২০০ টাকা।
ক্লাব হাউজ (পূর্ব/পশ্চিম) – ১০০।
গ্রিন হিল এরিয়া – ৩০।
পশ্চিম গ্যালারি – ৩০।
পূর্ব গ্যালারি – ৩০।

ভেন্যু: সিলেট জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
টিকিট কাউন্টার: স্টেডিয়াম মার্কেট কাউন্টার দরগা প্রান্ত, সিলেট।
টিকিট পাওয়া যাবে: ২৭ জানুয়ারি থেকে।

টিকিটের মূল্য:
ক্রিকেট প্যাভিলিয়ন – ২০০ টাকা।
সাধারণ গ্যালারি – ৫০।
সাধারণ গ্যালারি – ৩০।

ক্যারিবীয়-প্রোটিয়া যুবাদের প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র

আইসিসি অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ড্র হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫ ওভারে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয় যুবারা। জবাবে জয়ের জন্য ১৫৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৫৩ রানেই থেমেছে প্রোটিয়া যুবাদের ইনিংস। এর আগে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে দ. আফ্রিকার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ব্যাটিংয়ে নেমে কেসি কার্টির ৪৫ ও মাইকেল ফ্রিউ’র ৩৪ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে ৩৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৩ রানের সংগ্রহ পায় ক্যারিবীয় যুবারা। বল হাতে প্রোটিয়াদের হয়ে কনর ম্যাকার ৩টি, ডায়ান জালিম ২টি, উইয়ান মুলডার, উইলিয়াম লুডিক ও শিন হোয়াইটহেড নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।
জয়ের জন্য ১৫৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে উইয়ান মুলডারের অপরাজিত ৫৮, লিয়াম স্মিথের ৩৯ ও কাইল ভেরিনের ৩৩ রানে নির্ধারিত ৩৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যারিবীয় যুবাদের হয়ে বল হাতে জিড গুলি, শামার স্প্রিঙ্গার, কিমো পাল ও মাইকেল ফ্রিউ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

এবার ইংলিশদের মুখোমুখি মিরাজবাহিনী

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরুর আগে প্রতিটি দলই পাচ্ছে দু’টি করে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ। প্রথমটিতে জিম্বাবুয়েকে ৬৩ রানে হারানোর পর এবার দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ যুবারা। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে নামিবিয়াকে ১৫৫ রানে হারায় ইংলিশরা।
ইংলিশদের বধ করে আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে বিশ্বকাপের মূলপর্বে প্রবেশ করতে চায় মিরাজবাহিনী। ইংল্যান্ডেরও অভিন্ন লক্ষ্য। প্রথম ম্যাচে বিশাল জয় পাওয়ার পর এবার স্বাগতিক দলকে হারাতে উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শক্তিশালী এ দুই দলের লড়াই শুরু হবে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায়।
প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে এ দিন মাঠে নামবে আরও ১০টি দল। বিকেএসপির এক নম্বর মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে আফগানিস্তান। বিকেএসপির দুই নম্বর মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে মাঠে নামবে নেপাল। অায়ারল্যান্ড-কানাডা মুখোমুখি হবে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে। আর চার নম্বর মাঠে মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি গড়াবে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। সবগুলো ম্যাচই শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়।
যুব বিশ্বকাপের একাদশতম আসর শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ জানুয়ারি। ১৬ দলের এ বিশ্ব আসরের ম্যাচগুলো গড়াবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার এই চার শহরের আট ভেন্যুতে।
মোট ১৬টি দল চার গ্রুপে লড়াই করবে এবারের আসরে। ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট ও অ্যাফিলিয়েট সদস্য দেশ সাতটি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া বাংলাদেশের গ্রুপে বাকি দুই দল হচ্ছে স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সুপার লিগে অংশ নেবে। আর নিচের দুই দল অংশ নেবে প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপে।

প্রস্তুতি ম্যাচে ফিজিকে হারালো স্কটল্যান্ড

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ফিজিকে ২১ রানে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। ৩৬ ওভারের এ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের দেয়া ১৯৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে সমানে লড়ছিল ফিজির ব্যাটসম্যানরা। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে শতরানেও পৌঁছে যায় দলটি। জয়ের বন্দরে থাকা দলটির হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে ইনিংসের ২২তম ওভারে। ওই ওভারেই দুটি উইকেট হারায় তারা। ১২২-১২৩ এই এক রানের মাঝে তিনটি উইকেট হারালে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীন হয়ে আসে ফিজির। এর পর দলীয় ১৩০ রান পর্যন্ত যেতে অাট উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে তারা। শেষ দিকে তুয়াই ইয়াবাকি একাই লড়াই চালিয়ে যান। ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। দলের শেষ দুই ব্যাটসম্যানের সঙ্গ না পাওয়ায় ৩১.৩ ওভারে ১৭১ রানে গুটিয়ে যায় ফিজি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন ওপেনার দেলামাকুতু মারাইয়া। স্কটিস বোলার হারিস আসলাম চারটি, মিশেল রাও তিনটি ও আজিম দার দুটি উইকেট নেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্কটল্যান্ড। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী আউটার স্টেডিয়ামে রোববার (২৪ জানুয়ারি) কুয়াশার কারণে দেঢ় ঘণ্টা বিলম্বে ম্যাচ শুরু হয়। ফলে ৬ ওভারে নেমে আসে ম্যাচটি। রোরি জনস্টনের অর্ধশতকে ৩৬ ওভারে আট উইকেটে ১৯২ রান করে স্কটিশরা। জন্সটন করেন ৫৩ রান। ফিনলে ম্যাকক্রেথ ৩৬ ও ওয়াইস শাহর ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। ফিজির জসাইয়া বেলেচিকবিয়া তিনটি উইকেট নেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা থাকবে

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এবার প্রযুক্তিগত বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বেশি। শনিবার র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের প্রতিটি দলের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা স্কোয়াডে সাদা পোশাকে র‌্যাবের গোয়েন্দা দলও থাকবে।’
ক্রিকেট বিশ্বকাপের নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে জানাতে শনিবার দুপুরে লা মেরিডিয়ান হোটেলে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় র‌্যাবমহাপরিচালক আরও বলেন, ‘২৭ জানুয়ারি থেকে চার জেলার আটটি ভেন্যুতে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। এর আগে ক্রিকেট বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ ও টি২০-এর বড় আসর সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থেকে এবারও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইসিসি ও বিসিবির নিরাপত্তা দলের সঙ্গে র‌্যাবের বৈঠক হয়েছে। তারা নিরাপত্তা আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে।’
বেনজীর আহমেদ জানান, একটি ভেহিকল স্ক্যানার কম সময়ে ২০০ ফোর্সের চেয়ে বেশি কাজ করতে পারে। তাই ভেহিকল স্ক্যানার, জিপিএস পদ্ধতি, প্রতি ভেন্যুতে অপারেশন কমান্ড স্থাপনসহ পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও হুমকির বিষয়গুলো। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের হোটেল, খেলার মাঠ ও চলাচলের পথসহ সংশ্লিষ্ট সব স্থানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সোয়াত ইউনিটের মহড়া

আগামী ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে বসছে অনূর্ধ্ব-১৯ বা যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একাদশতম আসর। টেস্ট খেলুড়ে ৯টি দেশ ও আইসিসি’র ৭ সহযোগী সদস্য দেশকে নিয়ে দেশের আটটি ভেন্যুতে শুরু হচ্ছে এবারের আসর। ১৬টি দেশের প্রায় আড়াই’শ ক্রিকেটারের পদচারণায় মুখর থাকবে ভেন্যুগুলো। যে কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্ট শুরুর আগে ভাবতে হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। সেক্ষেত্রে আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, মঙ্গলবার তারই মহড়া হয়ে গেল হোম অব ক্রিকেটখ্যাত মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ম্যাচের ভেতর হঠাৎ করে দুষ্কৃতিকারীরা নাশকতা ঘটালে তাৎক্ষনিকভাবে কী ব্যবস্থা নেবে স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস (সোয়াত) ইউনিট-তারই চিত্রনাট্য দেখানো হলো মঙ্গলবার দুপুরে।
Rab-2
ক্রিকেটাররা মাঠে খেলছেন, গ্যালারিতে দর্শক। হঠাৎই মিডিয়া সেন্টারের সামনে বোমাবাজ দুই দুষ্কৃতিকারীরা বিকট আওয়াজে ঘটালেন বোমার বিস্ফোরণ। স্তব্ধ পুরো স্টেডিয়াম। আতঙ্কিত ক্রিকেটাররা জড়ো হলেন মাঠের সেন্টার উইকেটে। সঙ্গে সঙ্গেই ভারী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সোয়াত ইউনিটের ৫০ সদস্যের দল সারিবদ্ধভাবে ঢুকে পড়লো মাঠে। মাঝমাঠে গিয়ে ভাগ হয়ে এক দল ছুটলেন সেন্টার উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিকেটারদের রক্ষা করতে। ক্রিকেটার ও আম্পায়ারদের ঘিরে বেষ্টনী তৈরি করে সোয়াতের সদস্যরা তাদের নিরাপদেই নিয়ে গেলেন ড্রেসিংরুমের ভেতর।
আরেকদল উত্তর দিকের মিডিয়া সেন্টারের সামনে পৌঁছে আটক করলেন দুই দুষ্কৃতিকারীদের। পুলিশ সদস্য, র‌্যাব ও সোয়াত ইউনিটের সদস্যদের পদচারণায় মুখর হয়েছিল শের-ই-বাংলার সবুজ চত্ত্বর। নিরাপত্তা মহড়া দাঁড়িয়ে দেখলেন আইসিসির নিরাপত্তা পরিদর্শক শন নরিস, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ বিসিবি কর্মকর্তারা।
মহড়া শেষে মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘যে মহড়াটি আপনারা দেখলেন তা হলো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কিভাবে আমরা নিরাপত্তা দেব সেটি। যদি কোনো দূর্ঘটনা ঘটে আমাদের প্রশিক্ষিত সোয়াত টিম কিভাবে এটিকে ট্যাকল করবেন, প্রতিরোধ গড়ে প্লেয়ার এবং টিম ম্যানেজম্যান্টকে কিভাবে নিরাপদ রাখবেন সেটির মহড়া আমরা দেখলাম। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলতে পারি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে ইভেন্টকে উৎসবমুখর ও নিরাপদ করার জন্য।’
ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলোতেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি, ‘ফতুল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার-যেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো হবে সেগুলো ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, ‌আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আমাদের ইন্টেলিজেন্সির সমন্বয়ে সেখানেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতে আমরা যেমন প্রত্যেকটি ইভেন্ট সাফল্যের সাথে শেষ করতে পেরেছি, আশা করি এটিও ভালোভাবে শেষ করবো।’

প্রথম লক্ষ্য দ্বিতীয় রাউন্ড

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রথম লক্ষ্য দ্বিতীয় রাউন্ড টপকানো। এরপর ধীরে ধীরে কোয়ার্টার, সেমি খেলে ফাইনালে যেতে চায় বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে দলের এমন পরিকল্পনার কথা জানালেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বিকেল সাড়ে তিনটায় নগরীর রেডিসন ব্লু ’তে অনুষ্ঠিত হয় এ সংবাদ সম্মেলন। এর মধ্য দিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশ দলনায়ক।
আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের প্রথমদিনে নগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল।
এ বিষ‍য়ে সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতির সবকিছু ঠিকঠাকমতো হয়েছে। সর্বশেষ সিরিজগুলোতেও আমরা দূর্দান্ত খেলেছি। কোচিং স্টাফরা বিশ্বকাপে আমাদের কৌশল অনুযায়ী খেলতে পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা নরমাল ক্রিকেট খেলতে চাই। এখন শুধু ক্রিকেটকে এনজয় করতে চাই।’
বিশ্বকাপকে বাড়তি চাপ হিসেবে নিতে নারাজ মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ক্রিকেট অনেক চাপের খেলা। খেলায় ক্রিকেটারদের ওপর কোচ, পরিবার কিংবা দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ থাকবে। ওসব চাপ নিয়েই ক্রিকেট খেলতে হয় আমাদের। তাই আশা করছি বিশ্বকাপ আমাদের জন্য বাড়তি চাপ হবে না।’
সর্বশেষ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে প্রথমদিকে দারুণ খেলেও পরে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। তাই এবার বাড়তি সতর্ক স্বাগতিকরা। মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘দ্বি-জাতীয় সিরিজে প্রথম এক ম্যাচ হারলে পরবর্তী ম্যাচে কামব্যাক করার সুযোগ থাকে। কিন্তু বিশ্বকাপে সেই সুযোগ নেই। এক ম্যাচ খারাপ করলেই সব শেষ। গত বিশ্বকাপে আমাদের কিছু ভুল ছিল। এবার সেই ভুলগুলো যাতে আর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।’
সরাসরি ফাইনালে যেতে চাই- এটা না বললেও, আকারে ইঙ্গিতে বিশ্বকাপ জয়ই যে বাংলাদেশের লক্ষ্য তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন। ক্ষণে ক্ষণে চোখ রাখছিলেন টেবিলের ওপর রাখা বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে। কয়েকবার ট্রফিটা ছুঁয়েও দেখলেন তিনি।
মিরাজ বলেন, ‘দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। তাই সবার আশা আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। আমরাও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত সবকিছু আমাদের পক্ষে আছে। ন্যাচারাল ক্রিকেট খেললে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কঠিন হবে না।’
দল নিয়ে দারুণ আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিশেষ করে স্পিন বিভাগ নিয়ে। তিনি বলেন, দলে চারজন খুব ভালো স্পিনার রয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের ব্যাটিং লাইনআপও অনেক শক্তিশালী। দলের ১০ থেকে ১১জন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছে। তাই প্রায় সবাই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
উপমহাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। তাই এ উপমহাদেশের দলগুলোকেই কঠিন প্রতিপক্ষ ভাবছে বাংলাদেশ। মিরাজের ভাষায়, উপমহাদেশে কন্ডিশনে ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান বাড়তি সুবিধা পাবে। তারাই আমাদের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে।
এর আগে সকালে অনুশীলন করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন দলের বোলিং ভরসা সালেহ আহমদ শাওন গাজী। তবে তিনি একদিনের মধ্যেই মাঠে ফিরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিশ্বকাপ হাতে ক্যামেরাবন্দী হন বাংলাদেশ দলনেতা। রেডিসন ব্লু’র ভেতরে রয়েছে একটু খোলা জায়গা। সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে পাথরের স্তুপ। সেই স্তুপের ওপর ‘দাঁড়িয়ে’ আছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য সাম্পান। সাম্পানের পাশেই হাসিমুখে বিশ্বকাপ হাতে বাংলাদেশ দলের জুনিয়র মাশরাফি। মিরাজের মুখের এ চওড়া হাসি যেন শেষ পর্যন্ত লেগে থাকে এমনটি প্রত্যাশা দেশের ১৬ কোটি মানুষের।

বিশ্বকাপে টাইগার যুবাদের পৃষ্ঠপোষক ‘ফ্রেশ’

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের কাছে নিজেকে চেনানোর সবচেয়ে বড় মঞ্চ যুব বিশ্বকাপ। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ‍একাদশতম আসর বসছে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পন্সর হয়েছে ভোক্তাপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ‘ফ্রেশ’।
টেস্ট খেলুড়ে ১০টি দেশ ও আইসিসির ৬ সহযোগী সদস্য দেশকে নিয়ে জানুয়ারির ২৭ তারিখ থেকে দেশের চারটি ভেন্যুতে শুরু হচ্ছে এবারের আসর। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ যুব বিশ্বকাপ নামেও পরিচিত। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইসিসির মেগা এ টুর্নামেন্ট চলবে।
এর আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পৃষ্ঠপোষক ছিল সাহারা। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা জানান, আমরা সব সময়ই খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে চাই। আর খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে আমাদের যে প্রচেষ্টা, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ক্রিকেট কমিউনিটি ও এর বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের গর্বিত স্পন্সর হতে পেরে আমরা আনন্দিত।
উল্লেখ্য, মেগা এ ইভেন্টের মধ্যদিয়ে বিশ্বের কাছে পরিচিত হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আসর থেকে উঠে আসেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ। তারও আগে টাইগারদের জাতীয় দলে এসেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, এনামুল হকরা (জুনিয়র)। এবারো অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকে জাত চেনানোর অপেক্ষায় মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাঈদ সরকার, সালেহ আহমেদ শাওন, সাইফ হানার আর পিনাক ঘোষদের মতো উঠতি তারকারা।

সিলেটে স্টেডিয়াম পরিদর্শনে আইসিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক

আসন্ন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভেন্যু হিসেবে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামও রয়েছে। এ ভেন্যুর সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করতে মঙ্গলবার দুপুরে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন আইসিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাথান কের। পরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম, ডিজিএফআই-সিলেটের উপপরিচালক কাজী রাজীব রুবায়েত হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) রহমত উল্লাহ, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক গোলাম জাবির চৌধুরী জাবু, আলী ওয়াসিক উজ্জজামান চৌধুরী অনি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী মাজেদ আহমদ প্রমুখ।

মাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে যুব দলের শাওন

দেশের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে চট্টগ্রামে প্রস্তুতির সময় মাথায় চোট পেয়েছেন বাংলাদেশ যুবদলের ক্রিকেটার সালেহ আহমেদ শাওন গাজী। পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বাঁহাতি এই স্পিনারকে।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ মিজানুর রহমান জানান, অনুশীলনে কট অ্যান্ড বোল্ড করতে গিয়ে মাথায় চোট পান শাওন। চোট তেমন গুরুতর নয়। তাকে স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যুব দলের ম্যানেজার সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, “শাওনের সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তাকে আজকে হাসপাতালে রাখা হতে পারে।”
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শাওন বড়ুয়া জানান, শাওন গাজীর অবস্থা স্বাভাবিক আছে। পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সম্প্রতি শেষ হওয়া সিরিজে প্রথম ম্যাচে ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন শাওন। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।
আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শিরোপাধারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে বাংলাদেশ যুব দলের।

বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত সিলেট

জানুয়ারি ২৭ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পর্দা ওঠছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের। ১৬ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের ভেন্যুর তালিকায় আছে সিলেটের দুই স্টেডিয়ামও। সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৩টি এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ২টি ম্যাচ। ২৮, ৩০ ও ১ ফেব্রুয়ারি ম্যাচগুলো হওয়ার কথা রয়েছে।
২৮ জানুয়ারি দুটি ম্যাচ দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সিলেট পর্বের সূচনা হবে। সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও কানাডা। ৩০ জানুয়ারি বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এবং জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে কানাডা ও পাকিস্তান। বিশ্বকাপের সিলেট পর্বের শেষদিন, ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামবে আফগানিস্তান ও কানাডা।
বিশ্বকাপের এই ডামাঢোলের জন্য পুরোদমে প্রস্তত হয়ে আছে সিলেট। সিলেটের দুটি ভেন্যুর প্রস্তুতিই প্রায় চূড়ান্ত। টুকটাক কিছু কাজ ছাড়া আনুষাঙ্গিক অন্যান্য সংস্কার কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। গত মাসে আইসিসি’র টুর্নামেন্ট ম্যানেজার ক্রিস টেটলির নেতৃত্বে একটি দল সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে। আইসিসি’র পরিদর্শক দল স্টেডিয়াম দুটির পিচ, গ্যালারি, আউটফিল্ডসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা উভয় স্টেডিয়ামের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিসিবি সংশ্লিষ্টদের কিছু পরামর্শ প্রদান করে।
সিলেট বিভাগীয় আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এর আগেও বড় ধরনের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয় সেখানে। পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও চমকপ্রদ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত বিভাগীয় স্টেডিয়াম। তার সাথে যুক্ত হয়েছে সিলেট স্টেডিয়াম।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসক্রিপশন মেনেই সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও জেলা স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। প্রায় বছর খানেক ধরে বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রস্তুত করতে কাজ করেছেন গ্রাউন্ডস কর্মীরা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নতুন ২টি পিচসহ ৭টি আন্তর্জাতিক মানের পিচ তৈরী করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে অতিদ্রুত যাতে পানি নিষ্কাশন হয়, সেজন্য অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্যালারির ধারণক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা যায়, স্টেডিয়ামে সাজ সাজ রব চলছে। পুরোদমে প্রস্তুত রয়েছে ম্যাচ পিচ, অনুশীলন পিচ, গ্রাউন্ডস। বিসিবি’র পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার তত্ত্বাবধানে পিচ তৈরী করা হয়েছে। উন্নতির ছোঁয়া লাগছে প্রেসবক্সে। ঝকঝকে করে রাখা হয়েছে গ্যালারি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডও স্টেডিয়াম দুটির প্রস্তুতি কাজে অর্থায়ন করছে।
সিলেটের দুটি ভেন্যুর প্রস্তুতি বিষয়ে শফিউল আলম নাদেল চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের দুটি ভেন্যুই আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত। আনুষাঙ্গিক যে কাজগুলো বাকি রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করা হচ্ছে।’
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘প্রথমবারের মতো জেলা স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর মর্যাদা পাচ্ছে। এ জন্য এই স্টেডিয়াম পুরোদমে প্রস্তুত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সিংহভাগ কাজ শেষ করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য সিলেট প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের পিচগুলো অত্যন্ত ভালোমানের। ভবিষ্যতে সিলেটে আরো বড় ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।’

ঢাকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি

ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে বুধবার রাতে বাংলাদেশে এসেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি। ফলে বিশ্বকাপের ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। আজ বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা এবং শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে ট্রফিটি।
সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে বিবিসির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এর পর্দা উন্মোচন করবেন। পরে সাধারণ দর্শকরা মুহূর্তগুলো স্মৃতিময় করে রাখতে ছবি ও সেলফি তুলতে পারবেন ট্রফিকে ঘিরে।
জানা গেছে, ট্রফিটি ৫ ফিট ‍উচ্চতার একটি টেবিলে রাখা হবে। এছাড়াও বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় এবং বিসিবির কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে ট্রফির প্রদর্শনী শেষে ১৭ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কায় প্রদর্শনের জন্য স্থানান্তর করা হবে। ২১ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং পরে ২৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় নেয়া হবে। ক্রিকেট বিশ্বের ১২টি দেশ ভ্রমণ শেষে ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে পৌঁছাবে বিশ্বকাপের এই ট্রফি।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর বসবে ভারতে। ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত পরিসরের এ আসর অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগে ৮ মার্চ থেকে শুরু হবে বাচ্ছাই পর্ব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ওমান, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। আর প্রথম রাউন্ড পার হলে মূল পর্বে বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী হবে স্বাগতিক ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

ভারতের যুব দলের অধিনায়ক আটক

যুবাদের সবচেয়ে বড় আসর অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ২৭ জানুয়ারি। এ আসরে অংশগ্রহণের আগে বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শিবির। কেননা ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ঈশান কিষানকে আটক করেছে পুলিশ। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে অটো গাড়িতে ধাক্কা দেয়ার অপরাধে পুলিশ তাকে আটক করে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পাটনায় বাবার সঙ্গে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে অটোতে ধাক্কা মারেন বছর ১৭ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ঈশান। তার গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন অটো যাত্রীরা। এ নিয়ে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে। শেষে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়৷ কিষাণসহ ঘটনার জড়িত অন্যদের আটক করে পুলিশ৷
রঞ্জি ট্রফিতে একটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরিসহ ৭৩৬ রান করে কিষাণ৷ যার ফলে গত মাসে তাকে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়।

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতেই খেলবে বাংলাদেশ

সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ৮ উইকেটের বড় জয় নিয়ে দারুণ শুরু করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সফরকারীদের দেয়া ১১৫ রানের লক্ষ্য স্বাগতিকরা অতিক্রম করেছে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে। এমন বড় জয়ের পর আসছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের পালে জোর হাওয়া লেগেছে বলে মনে তিনি করেন, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অফস্পিনার সালেহ আহমেদ শাওন।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডতে ৯.২ ওভার বল করে মাত্র ২৪ রান দিয়ে শাওন তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর ম্যাচ শেষে হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হবার পর শাওন বলেন, আসলে উইকেট ভাল থাকায় জয় তুলে নেয়া আমাদের পক্ষে সহজ হয়েছে। মিরপুরের উইকেটে কোন ভেরিয়েশন ছিলনা। ফলে উইকেট ফ্ল্যাট থাকায় দলীয় পারফরমেন্স ভাল হয়েছে বলেও মত তার।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় যুবা টাইগারদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, বাকি দুই ম্যাচে জয় তো চাচ্ছেনই, চ্যাম্পিয়ন হতে চাচ্ছেন এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও। শাওন জানান, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই। আর সেটা হলো, বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’ নিজে বাংলাদেশ দলের হয়ে অফস্পিন করে থাকেন তাই এই অফস্পিনই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ের প্রধান অস্ত্র হবে বলে আগে থেকেই জানিয়ে দিলেন এই টাইগার যুবা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যুবাদের দাপুটে জয়

স্পিনারদের অসাধারণ বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইয়ুথ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জয়টি ৮ উইকেটের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিমূলক এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩৯.২ ওভারে ১১৪ রানে অল আউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭৭ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ডানহাতি এই পেসার টেভিন ইমল্যাচকে ফেরানোর পর উইকেট-উৎসবে মাতেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। ৯.২ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার বাঁহাতি স্পিনার সালেহ আহমেদ শাওন। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনিই। দুই অফস্পিনার সঞ্জিত সাহা ও সাইদ সরকার নেন দুটি করে উইকেট।
১৪ রানে শেষ ছয় উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন গিডরন পোপ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান আসে এমানুয়েল স্টুয়ার্টের ব্যাট থেকে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ রানে পিনাক ঘোষ (৩) আর ৪৬ রানে জয়রাজ শেখকে (১৮) হারায় বাংলাদেশ। তবে সাইফ হাসান আর নাজমুল হাসান শান্তর ভালো ব্যাটিংয়ে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
৫টি চার ও একটি ছয়ে ৬৮ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন সাইফ। আর ৩৬ বলে অপরাজিত ৪১ রান করার পথে নাজমুল হাসান ৬টি চার ও একটি ছয় মারেন। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টি হবে চট্টগ্রামে আগামী বৃহস্পতিবার। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি একই ভেন্যুতে হবে আগামী শনিবার।

স্পিনেই ছক কষছে মিরাজরা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলতে সোমবার (১১ জানুয়ারি) মাঠে নামছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। টাইগার যুবাদের কাছে খুব বেশি চেনা প্রতিপক্ষ নয় ক্যারিবীয়ান যুবারা। ২০১৩ সালে ক্যারিবীয় যুবাদের বিপক্ষে একবার মুখোমুখি হয়েছিল তারা। চট্টগ্রামে সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি খেলেই নিরাপত্তার অজুহাতে দেশ ছেড়েছিল সফরকারীরা। একমাত্র ম্যাচটিতে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশই। তবে টাইগার যুবাদের বর্তমান দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ছিলেন না আগের সিরিজটিতে। তাই খুব বেশি জানাশোনা নেই প্রতিপক্ষ দল নিয়ে।
শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে তেমন ধারণা না থাকলেও প্রতিপক্ষ দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ছড়াছড়ি-এটি সম্পর্কে অবগত আছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। তাইতো ডানহাতি অফস্পিনকেই ‘অস্ত্র’ হিসেবে বেছে নিচ্ছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলে রয়েছে চার ডানহাতি অফস্পিনার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করতে অফস্পিনকেই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে মিরপুরের উইকেট স্পিন-বান্ধব হওয়ায় স্পিনেই সফরকারীদের নাস্তানাবুদ করার পরিকল্পনা স্বাগতিক দলের।
টাইগার যুবাদের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ নিজেও অফস্পিনার। ১৫ সদস্যের দলে আছে আরও তিন অফস্পিনার। ব্যাটসম্যানরা ভালো স্কোর দাঁড় করালে বাংলাদেশের স্পিন খেলা সহজ হবে না বলেই জানালেন মিরাজ, ‘গতকাল জিম করার সময় ওদের অনুশীলন দেখছিলাম। ওদের দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি। আর আমাদের চার অফস্পিনার রয়েছে। আমাদের উইকেটে স্পিনে রান করা কঠিন। ব্যাটসম্যানদের উপরও ফোকাস থাকবে। ব্যাটসম্যানরা যদি রান করতে পারে তাহলে সহজ হয়ে যাবে। আমাদের স্পিনাররা অনেক ভালো। ভালো স্কোর পেলে সেটা অতিক্রম করা সহজ হবে না প্রতিপক্ষ দলের।’
যুব দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুলও মনে‍ করেন স্পিনে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ, ‘ওদের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান যেমন বেশি আমাদের ডানহাতি স্পিনার বেশি। এদিক থেকে আমরা এগিয়ে থাকবো। আমরা কিন্তু এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এসেছি। সেই আত্মবিশ্বাসটা কাজে লাগবে।’
সোমবার সকাল ৯টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে দু’দল। যুব বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজটিকে সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি মানছেন দু’দলের ক্রিকেটাররাই। আগামী ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহেমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের বাকি দু’টি ম্যাচ। আর যুব বিশ্বকাপ শুরু ২৭ জানুয়ারি।

বাংলাদেশে খেলা নিশ্চিত বাকি দলগুলোর: আইসিসি

২০০৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যুব বিশ্বকাপের ১১তম আসরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে, আর কোনো দল অজিদের দেখানো শঙ্কা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইসিসি থেকে জানানো হয়েছে, বাকি দলগুলো নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের মাটিতে খেলতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে যুব বিশ্বকাপ। মোট আটটি ভেন্যুতে ফাইনালসহ খেলা গড়াবে ৪৮টি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ইভেন্টটি। ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্যদিয়ে পর্দা নামবে আসরের। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৫ জানুয়ারি শেষ হবে যুবাদের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো।
ইতোমধ্যেই যুব বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশে পা রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে, বিশ্বমঞ্চে নামার আগে টাইগার যুবাদের বিপক্ষে একটি সিরিজ খেলবে ক্যারিবীয়ান যুবারা। আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে অজিরা বাদে আপত্তি নেই আর কোনো দলেরই।
টিম অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে আইসিসির আমন্ত্রণে বাংলাদেশে খেলতে আসবে আয়ারল্যান্ড। এক বিবৃতিতে আইসিসি যুব বিশ্বকাপে ১৬টি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। অংশগ্রহণকারী সব দেশ এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে আইসিসি।
নয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে মেগা এই ইভেন্টে থাকছে আইসিসির সাতটি সহযোগী সদস্য দেশ। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান। এছাড়া নিশ্চিত করা দেশগুলোর মাঝে আরও রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, কানাডা, ফিজি, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, নেপাল ও স্কটল্যান্ড।
আইসিসি থেকে আরও জানানো হয়, ৫০ ওভারের প্রতিটি ম্যাচই হবে দিনের আলোতে। বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টায় শুরু হবে ম্যাচ। সুপার লিগের সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।

অভিজ্ঞতায় এগিয়ে টাইগার যুবারা

আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের চারটি শহরের আটটি ভেন্যুতে শুরু হচ্ছে যুব বিশ্বকাপের ১১তম আসর। ৪৮টি ম্যাচ নিয়ে গড়া আইসিসির মেগা এ ইভেন্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাঁচ ক্রিকেটার টানা দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিতে চলেছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
১৬টি দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এই আসরের পর্দা নামবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ইভেন্টটি। ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্যদিয়ে পর্দা নামবে আসরের। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৫ জানুয়ারি শেষ হবে যুবাদের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো।
অংশগ্রহণকারী সব দেশ এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে আইসিসি। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়া রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, কানাডা, ফিজি, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, নেপাল ও স্কটল্যান্ড।
আইসিসি আরও নিশ্চিত করেছে ১৮ ক্রিকেটার এই মেগা ইভেন্টের মধ্যদিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে অংশ নেবেন। যার মধ্যে স্বাগতিক বাংলাদেশের রয়েছেন সর্বোচ্চ পাঁচজন। আরব আমিরাতে হওয়া আগের ইভেন্টে নবম হওয়া বাংলাদেশের হয়ে এই ইভেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো মাঠে নামার সুযোগ হয়েছে দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসাইন শান্ত, জয়রাজ শেখ ইমন, জাকির হাসান এবং সাঈদ সরকারের।
BD_under_19
আফগানিস্তানের চারজন ক্রিকেটার রয়েছেন টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বমঞ্চে নামার অপেক্ষায়। এশিয়ার আরেক দেশ ভারতের রয়েছেন তিনজন ক্রিকেটার। এছাড়া নামিবিয়ার হয়ে টানা দ্বিতীয়বার যুব বিশ্বকাপের আসরে নামবেন দুইজন।
কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর স্কটল্যান্ডের হয়ে একজন করে ক্রিকেটার খেলবেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার মতো নতুন দল নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে অংশ নেবে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর জিম্বাবুয়ে। প্রোটিয়াদের হয়ে টানা দ্বিতীয়বার নামার সুযোগ পেয়েছিলেন ডিয়ান গেলিম। তবে, শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এ সুযোগ হারাচ্ছেন তিনি।
২০১৪ সালের যুব বিশ্বকাপের আসরে খেলেনি আয়ারল্যান্ড এবং নেপাল। ইস্ট এশিয়া প্যাসিফিকের শিরোপা জেতা ফিজি এবারই প্রথম যুব বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে।

ঢাকায় নিরাপত্তা-শঙ্কা দেখছে না উইন্ডিজ যুবারা

আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে যুব বিশ্বকাপের একাদশতম আসর। ২০০৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক হলো বাংলাদেশ। এবারের আসরে অংশ নেবে ১৬টি দেশ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগ মূহুর্তে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় অস্ট্রেলিয়া দল। তাদের পরিবর্তে এ আসরে অংশে নেবে আয়ারল্যান্ড। অজিরা ছাড়া আর কোনো দল নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেনি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি) থেকে জানানো হয়েছে, বাকি দলগুলো নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের মাটিতে খেলতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগেভাগেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গতকাল (০৮ জানুয়ারি) ঢাকায় এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবারা। মিরপুরে আজ অনুশীলনও করেছে তারা।
অনুশীলন শুরুর আগে একাডেমি মাঠে ক্যারবীয়ান যুবাদের অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার বলেন, ‘বাংলাদেশে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছি না। আমরা এখানে খেলতে এসেছি। খেলাতেই ফোকাস করছি । বিশ্বকাপের আগে স্বাগতিক দলের সঙ্গে সিরিজটা আমাদের খুব কাজে লাগবে। এখানকার উইকেট স্পিন-নির্ভর হবে। এটা জেনেই আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি।’
আগামী ১১ জানুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের যুবাদের বিপক্ষে মাঠে নামবে অতিথি দলটি। ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। তিন ম্যাচের সিরিজ খেলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশেই রয়ে যাবে উইন্ডিজ যুবারা। এরপর তারা অংশ নেবে যুব বিশ্বকাপে।

ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় উইন্ডিজ যুবারা

আগামী ২৭ জানুয়ারী বাংলাদেশে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের একাদশতম আসর। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ আগেভাগেই বাংলাদেশে চলে এসেছে ২৫ সদস্যের ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
বাংলাদেশের যুবাদের বিপে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতেই তাদের আগেভাগে বাংলাদেশে আগমন। আগামী ১১, ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের ম্যাচগুলো।
তিন ম্যাচের সিরিজ খেলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশেই রয়ে যাবে উইন্ডিজ যুবারা। এরপর তারা অংশ নেবে যুব বিশ্বকাপে।
আগামী ১১ জানুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের যুবাদের বিপে মাঠে নামবে অতিথি দলটি।
১৪ ও ১৬ জানুয়ারি সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত অস্ট্রেলিয়ার: পিসিবি চেয়ারম্যান

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ বর্জন করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। অসিদের এমন সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান। তিনি বলেছেন, ‘যদি কেউ নিশ্চিত কোনও টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। তাহলে তাদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে আয়োজক দেশটিকে অর্থ প্রদান করা উচিত।’
মূলত আয়োজক দেশটির নানা আয়োজন ও কঠোর পরিশ্রমকেই প্রাধান্য দিয়ে এ কথা বলেন শাহরিয়ার খান। তিনি বলেন, ‘এমন ইভেন্টে বাংলাদেশ অনেক কঠোর পরিশ্রম করেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।’
এসময় তিনি আইসিসিকে বিষয়টিতে মাথা ঘামানো উচিত বলে মন্তব্য করেন।
গতকাল মঙ্গলবারই নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের কথা জানায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। একইকারণ দেখিয়ে গত অক্টোবরে নির্ধারিত সফরটিও বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া। যদিও বিশ্বকাপ ফুটবলে বাছাই ম্যাচে কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ সফর করে গেছে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ফুটবল দল।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় নিউজিল্যান্ড

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ বর্জন করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডও। তবে এ ক্ষেত্রে অসিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে না তাদের প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ড।
এ সম্পর্কে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ডেভিড হোয়াইট বলেছেন, ‘ আমরা প্রতিদিনই আইসিসি ও বাংলাদশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করছি। প্রতিদিনই তাদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
নিরাপত্তার যে ঝুঁকির কথা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বলছে এ প্রসঙ্গে হোয়াইট বলেন, ‘ওরা যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা তাদের সরকারের নির্দেশেই। তবে আমরা এই পর্যায়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। কারণ সবগুলো দল যেসব ভেন্যুতে থাকবে তার সবগুলোতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দিচ্ছে।’
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের যুবদল দেশ ছাড়বে বুধবার। আর বাংলাদেশে ছোটদের এই বিশ্বকাপ শুরু হবে ২৭ জানুয়ারি।

নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডও!

নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের জায়গায় ডাকা হয়েছে আয়ারল্যান্ডকে। তবে তাদের ডাকা হলেও বাংলাদেশে খেলার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দেশটি। নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডও!
ক্রিকইনফো জানিয়েছে এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আয়ারল্যান্ড। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ডিউট্রম বলেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ দেওয়া নির্দেশনাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে তারা সার্বিক নিরাপত্তা অবস্থা স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে।’
বর্তমানে বাংলাদেশে ব্রিটিশ নাগরিকরা সন্ত্রাসবাদের উচ্চ ঝুঁকিতে আছে বলে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। তাই তাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শও দিয়ে রেখেছে। একইভাবে আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দফতর তাদের নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছে।
তবে ওয়ারেন ডিউট্রম বলেছেন, ‘ সেখানে যাবো কিনা যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে ক্রিকেটীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উত্তর হ্যাঁ। কিন্তু আইসিসি ও বিসিবি যে ধরনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা স্বাধীনভাবে এই পরিকল্পনার মূল্যায়ন করতে চাই।’

যুবাদের প্রেরণা যোগালেন মাশরাফি

বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনুশীলন যখন শেষের পথে তখন একে একে মিরপুর একাডেমি মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। বড় টাইগারদের পাশেই অনুশীলন করলেন ছোটরা। জাতীয় দলকে অনুপ্রেরণা মেনে কঠোর অনুশীলন হলো অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের।
হালকা অনুশীলনের পর যুবারা ঢুকলেন একাডেমির একটি কক্ষে-যেখানে উপস্থিত জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, যুবাদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর স্টুয়ার্ট ল, কোচ মিজানুর রহমান বাবুল, বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও সাবেক ক্রিকেটার এ এস এম ফারুক।
আর দুই সপ্তাহ পরই দেশের মাটিতে শুরু হবে যুব বিশ্বকাপ। এ আসরে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। মাঠের অনুশীলনের সঙ্গে যুব ক্রিকেটারদের চাই মানসিক দৃঢ়তা, সাহস আর উদ্দীপনা। মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে যুবাদের আইডল মাশরাফি বিন মর্তুজা তরুণদের পরামর্শ দেন। নিজের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে।
যুব বিশ্বকাপে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল এবার স্বপ্ন দেখছে শিরোপার। এবার নিজ দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ, তাইতো ঘরেই বিশ্বকাপ রেখে দিতে আত্মবিশ্বাসী মেহেদি ‍হাসান মিরাজের দল। এ জন্য কঠোর পরিশ্রমও করছে তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তরুণদের সুযোগ-সুবিধার কোনো কমতি রাখছে না।
আগামী ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। দ. আফ্রিকা ছাড়াও বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপের ওয়ার্মআপ ম্যাচ।

যুবাদের চাপ না দেওয়ার আহ্বান ল’য়ের

যুব বিশ্বকাপের সাফল্য পেতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন কোচ স্টুয়ার্ট ল`কে পরামর্শক হিসেবে গত এপ্রিলে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি। ষোল সপ্তাহের জন্যে ল’কে নিয়োগ দেয় বিসিবি। চার সপ্তাহ কাজ করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে দেশে ফিরে যান তিনি। তবে আবারো ঢাকায় এসেছেন ল। রোববার গভীর রাতে ঢাকায় আসেন ল। সোমবার মাঠে আসেননি তিনি। মঙ্গলবার দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল সাফল্য পাবে, এমনটি বিশ্বাস করেন ল। নিজেদের সামর্থ্যমত খেলতে পারলে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন কোচ। অভিজ্ঞ এ কোচের ভাষ্য,‘তাদের যদি ভালো পরিকল্পনা থাকে এবং ম্যাচগুলো যদি ঠিকমত বুঝতে পারে তাহলে মাঠে তাদের কাজটা সহজ হয়ে যাবে। যখন তারা সহজেই একটি কাজ সমাধান করতে পারবে তখন আপনা-আপনি বাকি কাজগুলোও সহজ হয়ে যাবে। তারা যদি তাদের সামর্থ্য দিয়ে খেলতে পারে আমি নিশ্চিত তারা বিশ্বকাপে অনেক ভালো করবে।’
সম্প্রতি ভারত সফরে ব্যাটিং ব্যর্থতা বেশ ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। বোলিং ও ফিল্ডিং বিভাগ বেশ ভালো করলেও ব্যাটিং নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। তবে পরামর্শক ল এসব নিয়ে ভাবছেন না। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচে সঠিক পথে ক্রিকেটাররা চলে আসবে। এ নিয়ে স্টুয়ার্ট ল বলেন,‘তারা খুব ভালো খেলে আসছে। কিন্তু যেভাবে ধারাবাহিক খেলতে চাচ্ছে সেভাবে পারছে না। তবুও আমাদের তিনটি ম্যাচ আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এটা আমাদের জন্যে ভালো একটি সুযোগ ঘুরে দাঁড়ানোর। সঠিক পথে আসার সুযোগও এটি। আশা করছি কাপের লড়াইয়ে আগে আমরা সঠিক পথেই এগুবো।’
ভারত সফরের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ বেশ ভালো পারফরম্যান্স করে। সেখানে সিরিজ জেতে জুনিয়র টাইগাররা। এর আগে ঘরের মাঠেও একই দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতে টাইগাররা। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতে মিরাজের দল। সব কিছু মিলিয়ে এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাশা দ্বিগুনেরও বেশি হয়ে গেছে। অনেকেই বাইরে থেকে ক্রিকেটারদের শিরোপার চাপ দিচ্ছেন। বোর্ড, সংশ্লিষ্টরা সবাই শিরোপা পেতে ব্যাকুল হয়ে আছেন।
তবে ল বলছেন ক্রিকেটারদের বাড়তি চাপ দেওয়া থেকে সবার বিরত থাকা উচিত। ‘ক্রিকেটাররা মাঠে খেলে জিতুক এই ছোট্ট জিনিসটাই আমি তাদের থেকে চাই। সব কিছুই জিততে হবে এমন নয়। আমরা যদি ভালো দল হিসেবে বিশ্বকাপ জিততে পারি তাহলে সাফল্য অবশ্যই আসবে। ছেলেদের চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা এখনও তরুণ। ক্রিকেট এমনিতেই চাপের খেলা। এখানে ছেলেদের বাড়তি চাপ দেওয়ার কিছু নেই। তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। নিজের দেশকে উপস্থাপন করতে পেরে এমনিতেই গর্বিত।’
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশেই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে খেলবে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

বাংলাদেশে নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের : আইসিসি

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় যুব বিশ্বকাপ থেকে দল প্রত্যাহার করে নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন সিদ্ধান্তকে অবশ্য শ্রদ্ধা জানাচ্ছে আইসিসি। তবে আইসিসি টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোকে এটাও আশ্বাস দিচ্ছে যে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুরো দায় তাদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং বাংলাদেশ সরকার যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে নিজেদের সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
মঙ্গলবার আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা শ্রদ্ধা করছি। আমরা বুঝতে পারছি, অস্ট্রেলিয়া সরকারের পরামর্শেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্তে আমরা অবশ্যই হতাশ।’
টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব আইসিসি নিচ্ছে জানিয়ে রিচার্ডসন বলেন, ‘আইসিসি তার যেকোনো আয়োজনে নিরাপত্তার দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। বাংলাদেশ সরকার তার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উচ্চ পর্যায় থেকে পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা আমাদের নিজস্ব ও নিরপেক্ষ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিয়েছি। অটুট নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। তাই আমরা মনে করি, নির্দিষ্ট সময়ে এই টুর্নামেন্ট এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।
যুব বিশ্বকাপ হলেও এই টুর্নামেন্টটিকে আসল বিশ্বকাপের চেয়ে খুব কম গুরুত্ব আইসিসি দেয় না বলে মন্তব্য করেন রিচার্ডসন। ১৬ দলের টুর্নামেন্ট থেকে অস্ট্রেলিয়া তাদের দল প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আয়ারল্যান্ডকে খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হতাশ বিসিবি

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে আসছে না অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব ১৯ দল। এমন ঘটনার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মঙ্গলবার মিরপুরে বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘আসলে বিষয়টি খুব দুঃখজনক। তাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পরও তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে না। এটা সত্যিই হতাশাজনকও।’
এ অবস্থায় বিসিবির করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘ এটা আসলে আইসিসি ইভেন্ট। তাই এ বিষয়ে আমাদের বলার কিছুই নেই। তারা আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই মেনে নিতে হবে। আর কে আসলো না আসলো এটা নিয়ে বসে থাকলে হবে না। আমরা আয়োজক। আমরা টুর্নামেন্টটি সফলভাবে আয়োজন করতে চাই।’
একইভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে আইসিসিও। আইসিসি প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বলেছেন, ‘আমরা জানি অস্ট্রেলিয়া সরকারের আদেশেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের এমন সিদ্ধান্তে সত্যিই হতাশ।’

অস্ট্রেলিয়ার জায়গায় আয়ারল্যান্ডকে আইসিসির আমন্ত্রণ

অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে না আসার ঘোষণা দেওয়ায় তাদের জায়গায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে আয়ারল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আইসিসি। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তা শঙ্কায় নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলেও চলতি মাসে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলবে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে সোমবার টুর্নামেন্ট থেকে দল প্রত্যাহার করে নেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২৭ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্ট সামনে রেখে লম্বা সময় ধরে বিসিবি ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজস্ব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ছাড়াও স্বাধীন একটি নিরাপত্তা দলও এই ব্যাপারে কাজ করছে।
অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বললেও আইসিসি জানায়, আইসিসির নিজস্ব ও স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষনে বোঝা গেছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রস্তাবিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য যথাযথ।
এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেমস সাদারল্যান্ড জানান, অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের দল প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তিন বারের চ্যাম্পিয়নরা সরে গেলেও টুর্নামেন্ট সফল করার ব্যাপারে আশাবাদী আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন।
“আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আইসিসির ক্যালেন্ডারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট, যার আন্তর্জাতিক তারকা তৈরির খ্যাতি রয়েছে। আমরা এখনও আত্মবিশ্বাসী যে, বিসিবিকে নিয়ে আইসিসি বাংলাদেশে সাফল্যের সঙ্গে এই টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারবে।”

যুব বিশ্বকাপে খেলতে আসছে না অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না অস্ট্রেলিয়া দল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে দল প্রত্যাহার করে নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এর আগে গত অক্টোবরে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়ার বড়দের দল। তবে টালবাহানার পর গত নভেম্বরে ঢাকায় ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলে গেছে অস্ট্রেলিয়া দল।
এরপর বাংলাদেশ সফর করে গেছে জিম্বাবুয়ে। বিপিএলে খেলে গেছেন ৬৫ জন বিদেশি খেলোয়াড়। টুর্নামেন্টে কোচ-ফিজিও-ট্রেনার ছিলেন আরও ৬ বিদেশি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেমস সাদারল্যান্ড জানান, অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তা শঙ্কায় নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলেও চলতি মাসে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি স্বাভাবিকভাবেই চলবে। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার জায়গায় খেলার জন্য আয়ারল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বিসিবির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, আইসিসির চাওয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এখন কোনো একটি দল যদি না আসে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। আগামী ২৭ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া ১৯ দিনের এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ হওয়ার কথা ৪৮টি। ঢাকা, চট্টগ্রাম সিলেট ও কক্সবাজারের আটটি ভেন্যুতে হবে খেলা।
প্রথম দিনেই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ‘এ’ গ্রুপে এই দুই দলের সঙ্গী স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, কানাডা ও ২০০৪ ও ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। ‘সি’ গ্রুপে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সঙ্গী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও ফিজি।
তিন বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ছিল ‘ডি’ গ্রুপে। ওই গ্রুপে আছে তিন বার শিরোপা জয়ী আরেক দল ভারত, নিউ জিল্যান্ড ও নেপাল। কয়েক দিন আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল বাংলাদেশ সফরে এসে সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নিল সিএ।
সাদারল্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা সব সময়ই বলে এসেছি যে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।”
সিইও জানান, অস্ট্রেলিয়া সরকার মনে করে, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখনও উচ্চ ঝুঁকি রয়ে গেছে, যেমনটা ছিল টেস্ট দলের সফর স্থগিত করার সময়।
“শেষ পর্যন্ত সব তথ্য ও পরামর্শ পাওয়ার পর আমরা মনে করি, আমাদের কঠিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।”

‘পারফরম্যান্সের কারণেই বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী’

ব্যাট-বল নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। যুব বিশ্বকাপের আগে অবশ্য ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচও খেলবে জুনিয়র টাইগাররা। তবে বিশ্বকাপকে মাথায় নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে মিজানুর রহমানের শিষ্যরা।
যুব বিশ্বকাপের বাংলাদেশের রেকর্ড তলানিতে। এবার সুপার লিগে খেলতে প্রত্যয়ী মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে নিজেদের ভুলভ্রান্তিগুলো শুধরে নিতে চান কোচ মিজানুর রহমান। প্লেট পর্বের পরিবর্তে বাংলাদেশ যুব বিশ্বকাপের সুপার লিগ ও পরবর্তী রাউন্ডে নজর কাড়বে এ বিশ্বাস যুব দলের কোচের।
সোমবার যুব দলের অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন যুব দলের কোচ মিজানুর রহমান। যুব বিশ্বকাপ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
পাঠকদের জন্যে তা দেওয়া হল:

প্রশ্ন : বিশ্বকাপের জন্য কতটুকু প্রস্তুত আপনার দল?
মিজানুর রহমান বাবুল : আমরা আজ (সোমবার) থেকে অনুশীলন শুরু করেছি। সামনে আমাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলা আছে তিনটি। এটাতেই আমরা বেশি মনোনিবেশ করছি। তারপর বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করবো। আপাতত আমরা এটাতেই মনোনিবেশ করছি।

প্রশ্ন: তবে এবারের বিশ্বকাপের প্রত্যাশা আগের থেকে অনেক বেশি?

মিজানুর রহমান বাবুল : আমরা যদি বিগত দিনের পারফরম্যান্স দেখি তাহলে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। আমরা ঘরের মাঠে এবং ঘরের বাইরেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও আমরা ভালো পারফরম্যান্স করেছি ও সিরিজ জিতেছি। পারফরম্যান্সের কারণেই এরকমটা ভাবা হচ্ছে।

প্রশ্ন : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ দুই সিরিজে দুটিতেই জিতেছেন। বিশ্বকাপে ওদের বিপক্ষে আমাদের প্রথম খেলা?

মিজানুর রহমান বাবুল : দক্ষিণ আফ্রিকা আমাদের গ্রুপে আছে। ওদের সঙ্গে খেলার আগে মানসিক ভাবে আমাদের ছেলেরা এগিয়ে থাকবে। যেহেতু আমাদের কন্ডিশনে খেলা, দর্শক সাপোর্ট আমাদের পক্ষে থাকবে। আশা করছি শুরুটা ভালো করেই করতে পারব।

প্রশ্ন:সব সময় একটা উত্তেজনা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু পরবর্তীতে ম্যাচে সে উত্তেজনা ধরে রাখতে পারে না?

মিজানুর রহমান বাবুল : আমি ২০১০ থেকেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে আছি। ২০১২ সালে আমার প্লেট পর্বে খেলেছি। যা অস্ট্রেলিয়াতে হয়েছিল। প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ভালো খেলি কিন্তু নির্দিষ্ট একটি ম্যাচে গিয়ে আমরা হেরে যাই। এবার এই দিকে আমাদের নজর রয়েছে। এটা আসলে অভিজ্ঞতার কারনেই হয়। আমাদের ছেলেরা ভালো খেলেও নিজেদের মধ্যে চাপ নিয়ে নেয়। যার ফলে আমরা মূল পর্বে খুব কম খেলেছি।

প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়াতে খেলেছে এমন পাঁচজন ক্রিকেটার এবার এ দলে আছে। তাদেরঅভিজ্ঞতাকাজেলাগবে?

মিজানুর রহমান বাবুল : এ বছর আমরা আশা করতে পারি কাপ পর্বে আমরা খেলবো। যেহেতু আমাদের নিজের মাঠে খেলা। আমাদের পাঁচ জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে। শুধু যে বিশ্বকাপ খেলেছে তা নয় এই বয়সে জাতীয় লিগও খেলেছে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি কাপ পর্বে খেলার মতো আমার দল পুরোপুরি প্রস্তুত।

প্রশ্ন: আপনার দলের শক্তিরদিক?

মিজানুর রহমান বাবুল : এখন পর্যন্ত যদি চিন্তা করি আমাদের স্পিন আক্রমণই সেরা।

প্রশ্ন: মিরাজের অধিনায়কত্ব বরাবরই খুব ভালো। এবার তাকে নিয়ে কতটুকু আশাবাদী?

মিজানুর রহমান বাবুল : মিরাজ এই বয়সে খুব ভালো অধিনায়ক। খেলাটা খুব ভালো বোঝে। কোন সময় কি করতে হবে এই ব্যাপারে অন্য অনেকের চেয়ে সে এগিয়ে। আসলে ছোটবেলা থেকেই অধিনায়কত্ব করেছে মিরাজ। অনুর্ধ্ব-১৫ দল থেকে শুরু করে অনেকদিন ধরেই অধিনায়কত্ব করে আসছে।শেষ বিশ্বকাপেও শেষ অধিনায়কত্ব করেছে। এখন আরও পরিপক্ক হয়েছে। এখন আর বাইরে থেকে কিছু বলতে হয় না। সে বিষয়গুলো খুব ভালো করে হ্যান্ডেল করতে পারে।

প্রশ্ন: অন্য অধিনায়কের সঙ্গে মিরাজের পার্থক্য কি?

মিজানুর রহমান বাবুল : মিরাজ ছোটবেলা থেকে অধিনায়কত্ব করছে। অধিনায়ক থাকার ফলশ্রুতিতে সে এটা ভালোভাবে আয়ত্ব করতে পেরেছে। শুধু অধিনায়ক নয়, সে দলের একজন পারফরমারও। যা অধিনায়কত্ব করতে আরও বেশি সুবিধা হয়। সে সব সময় নতুন বল নিয়ে বোলিং করতে পারে। বিপদের সময় ত্রাতার ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব কারণে তার অধিনায়কত্বটা আরও বের হয়ে আসে।

প্রশ্ন : টিমমেটদের সঙ্গে তার মেশার ক্ষমতা কি রকম?

মিজানুর রহমান বাবুল : ও খুব ভালো টিমমেট। টিমকে গোছানোর ক্ষমতা খুব ভালো। টিম যখন বিপদে থাকে, তখন সবাইকে নিয়ে একটা ফাইট করার ক্ষমতা ওর আছে। দূরদর্শী ক্ষমতাও আছে ওর।

যুবাদের ক্যাচ ধরাতেই আনন্দ!

‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’…ক্রিকেটের এ প্রবাদের সত্যতা হরহামেশাই মেলে মাঠে। ক্যাচ মিসে জীবন পাওয়া ব্যাটসম্যানের ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে হয় বোলার-ফিল্ডারদের। প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের এমন সুযোগ অবশ্য দিতে চায় না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা।
যুব বিশ্বকাপ নিজেদের মাটিতে রাখতে অনুশীলনে চেষ্টার কমতি নেই মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হাসান শান্তদের। তাইতো ব্যাট-বলের পাশাপাশি ক্যাচে হাত-পাকা করতে মিরপুর একাডেমি মাঠে ব্যস্ত ক্রিকেটাররা। কোচের ব্যাট থেকে হাওয়ায় উড়িয়ে মারা বল উল্টো দিকে দৌড়ে তালুবন্দি করার কঠিন কাজটিই সোমবার (০৪ জানুয়ারি) করলেন যুবারা।
দলের অন্য ক্রিকেটাররা যখন নেটে ব্যাট-বলে মনোযোগী মিরাজ-শান্তরা তখন উল্টোদিকে দৌড়ে বলে চোখ রেখে সুনিপুন দক্ষতায় তালুবন্দি করছেন একেকটি ক্যাচ। সতীর্থরা একে অপরকে উৎসাহও যোগালেন। ক্যাচ নেওয়ার অনুশীলন যে এতটা আনন্দপূর্ণ, বৈচিত্র্যময় ও চনমনে হতে পারে তা মিরাজ-শান্তদের অনুশীলন না দেখলে বোঝার উপায় নেই!
যুব বিশ্বকাপে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল এবার স্বপ্ন দেখছে শিরোপার। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ বলেই হয়তো ঘরেই বিশ্বকাপ রেখে দিতে আত্মবিশ্বাসী মেহেদি ‍হাসান মিরাজের দল। এ জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেও প্রস্তুত তারা।
আগামী ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। দ. আফ্রিকা ছাড়াও বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া।

দেশবাসীর প্রত্যাশা মেটাতে চান মিরাজ

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অতীতের পারফরমেন্স দেখলে কিছুটা হতাশই হতে হয়। এ পর্যন্ত তিনবার প্লেট চ্যাম্পিয়ন ও তিনবার কাপ পর্বের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ। যারা কিনা কখনও যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই উঠতে পারেনি তারাই এবার স্বপ্ন দেখছে শিরোপার। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ বলেই হয়তো ঘরেই বিশ্বকাপ রেখে দিতে আত্মবিশ্বাসী মেহেদি ‍হাসান মিরাজের দল।
সাম্প্রতিক পারফরমেন্স, দলের চার ক্রিকেটারের গত বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা, দেশবাসীর প্রত্যাশা সবমিলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নে একাট্টা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। যুবাদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ আরও বেশি সাহস পাচ্ছেন দলের সবার চোখ শিরোপায় থাকায়।
তবে শিরোপা জয়ের পথ সহজ হবে না মানছেন মিরাজ, ‘বিশ্বকাপে প্রসেস মেইনটেইন করলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো। প্রথমে তিনটি ম্যাচ জিতে কোয়ায়র্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে হবে, এরপর সেমিফাইনাল। এভাবে এগোতে হবে। আমাদের মূল ফোকাস থাকবে ম্যাচ বাই ম্যাচ জেতায়।’
যুবাদের দলটিকে নিয়ে সবার প্রত্যাশা কত বেশি সেটাও জানা মিরাজের। সেই প্রত্যাশা মেটাতে বদ্ধপরিকর যুবাদের এ অধিনায়ক, ‘কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবি কর্মকর্তা সবাই চাইছেন বিশ্বকাপ এবার ঘরেই থাক। ক্রিকেট বোর্ডসহ সকলের প্রত্যাশা এবার মেটাতে চাই। এ জন্য দেশবাসীর দোয়া চাইছি।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ০৮ জানুয়ারি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ১১, ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজটা বেশ কাজে লাগবে বলে মনে করেন মেহেদি হাসান মিরাজ, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আমরা ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিতে চাই। তাদের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ রয়েছে। যা খুব কাজে দেবে আমাদের। এর আগে বিসিবি একাদশের সঙ্গে চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। তিনটিতেই আমরা জিতেছি। তবে, উইকেটের ‍কারণে হয়তো ক্রিকেটাররা খুব বেশি রান পাইনি।’
আগামী ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। দ. আফ্রিকা ছাড়াও বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। মূলপর্বের আগে ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলতে নামবে মিরাজবাহিনী। ২৫ জানুয়ারি একই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলতে নামবে স্বাগতিকরা।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় দল

শিমরন হেটমায়ারকে অধিনায়ক করে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো যুবাদের বিশ্বকাপে খেলবেন শিমরন। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ২০১৪ আসরে তিনি ক্যারিবীয় দলে ছিলেন।
আগামী ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে অ-১৯ বিশ্বকাপের ১১তম আসরের পর্দা উঠবে। আর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৪ ফেব্রুয়ারির ফাইনালের মধ্য দিয়ে এবারের আসরের সমাপ্তি ঘটবে। উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দনি আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশের যুবারা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সকায় ৯টায় গ্রুপ ‘এ’র হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘সি’ তে ও. ইন্ডিজের সঙ্গে রয়েছে ইংল্যান্ড, ফিজি ও জিম্বাবুয়ে। এর মধ্যে ইংলিশরা অ-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরের (১৯৯৮, দণি আফ্রিকায়) চ্যাম্পিয়ন দল। অন্যদিকে, এখনো যুব বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। প্রসঙ্গত, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এর প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ অ-১৯ দলের বিপে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে ও. ইন্ডিজ যুবারা।
ও. ইন্ডিজ অ-১৯ দল : শিমরন হেটমায়ার (অধিনায়ক), কিমো পল, ক্যাসি কার্টি, শহীদ ক্রুকস, মাইকেল ফ্রিউ, জাইদ গুলি, টেভিন ইমলাখ, রায়ান জন, অলজারি জোসেফ,
কিরস্তান কালিচরন, ওবেদ ম্যাককয়, গিডরন পোপ, ওডিন স্মিথ, শ্যামার ¯িপ্রঙ্গার ও ইমানুয়েল স্টুয়ার্ট।

টিকিট কেটে দেখতে হবে যুব বিশ্বকাপ

আগামী ২৭ জানুয়ারি শুরু হবে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের একাদশতম আসর। ১৬টি দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মূলপর্বের ম্যাচগুলো। যুবাদের বিশ্বকাপের খেলা টিকিট কেটেই দেখতে হবে দর্শকদের। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কমকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার বিসিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আমরা টিকিটের ব্যবস্থা রাখছি। স্বল্প মূল্যেই মিলবে যুব বিশ্বকাপের টিকিট।
বিসিবির অন্য একটি সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে ২০ টাকা। আর ফাইনাল ম্যাচের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হবে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা।
প্রসঙ্গত, ১৯ দিনের টুর্নামেন্টে ভেন্যু হিসেবে থাকছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট। সব মিলিয়ে মোট ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সকাল ৯টায় হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে। আর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৪ ফেব্রুয়ারির ফাইনালের মধ্য দিয়ে জমজমাট আসরটির পর্দা নামবে।

টাইগারদের উদ্ভাসিত হওয়ার যুব বিশ্বকাপ

আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। যুবাদের ব্যাটে-বলের এ লড়াই শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। আইসিসির টেস্ট খেলুড়ে দশটি ও সহযোগী ছয়টি সদস্য মিলিয়ে মোট ১৬ দলের অংশগ্রহণে দেশের আটটি ভেন্যুতে হবে জমজমাট এ লড়াই। যুব বিশ্বকাপের এ আসরে অংশ নিতে এরইমধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন টাইগার তরুণ-তুর্কিরা।
লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আগে লাল-সবুজের যুব প্রতিনিধিদের ক্রমান্বয়ে উদ্ভাসিত হওয়ার সোনালী অতীত স্মরণ করতে পারেন সমর্থকেরা।
আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাং