শ্রীলংকাকে পাল্টা জবাব বাংলাদেশের

শ্রীলংকাকে পাল্টা জবাব বাংলাদেশের

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে শ্রীলংকার চেয়ে ৭৯ রানে পিছিয়ে থাকলেও ভালো অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। তবে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্ট মানেই রানবন্যা। ২০১৪ সালে ১৫৮৯, ২০১৮ সালে ১৫৩৩ রানের অতীত সে পূর্বাভাসই দিয়েছে। তিনদিনে পড়েছে মাত্র ১৩টি উইকেট। 

প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৩৯৭ রানের জবাবে বাংলাদেশের স্কোর ৩১৮/৩। মুশফিক ৫৩, লিটন ৫৪ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। এই জুটিটা এই সময় ৯৮ রান যোগ করেছে। 

৩৯ মাস পর টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন করেন তামিম। তামিম-জয় ওপেনিং পার্টনারশিপে ১৬২ রানে- শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০১৭ সালে গলে, তামিম-সৌম্য’র ১১৮। আর মাত্র ১৯ রান করতে পারলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার টেস্ট ক্লাবের সদস্যপদ পাবেন, তবে ১৩৩ রান শেষে তীব্র দাবদাহের এবং ক্লান্তির কারণে চা বিরতির পর আর ব্যাটিংয়েই নামেননি তামিম। এই সুযোগে ৫ হাজার রান থেকে মুশফিক আছেন এখন ১৫ রান দূরে।  


   
দিনের শুরুটা করেছেন তামিম দ্বিতীয় বলে মেন্ডিজকে আত্মবিশ্বাসী শটে দুই রান নিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে ফার্নান্দোকে মেরেছেন দুটি চার। মেন্ডিজকে শর্ট বলে চার মেরে ৩২তম ফিফটি পূর্ণ করেছেন ৭৩ বলে। লোকাল হিরো তামিমের এটা সাগরিকায় ১২তম ফিফটি। নিউজিল্যান্ড সফরে ৭৮, দ. আফ্রিকা সফরে ১৩৭ রানে নিজেকে চেনানো তরুণ ওপেনার জয় পেয়েছেন ফিফটি ১৭১ মিনিটে ফিফটি পূর্ণ করেছেন তিনি।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিলটনে নবম সেঞ্চুরি উদ্‌যাপনের পর থমকে দাঁড়িয়েছেন তামিম দীর্ঘ সময়। ডাবল ডিজিটের জন্য গুনতে হয়েছে তাকে অপেক্ষার প্রহর। হতে হতে হয়নি দশম সেঞ্চুরি। ফসকে গেছে গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে দুবার। পাল্লেকেলেতে ৯০ ও ৯২ রানে থেমে নিজেকে দুর্ভাগা মনে করেছেন তামিম।  

টেস্টে নবম সেঞ্চুরির পর পরবর্তী শতকের জন্য তামিমকে অপেক্ষা করতে হয়েছে তামিমকে ৩৯ মাস। আসিথার শর্ট বলে মিড অফে চার মেরে ৯৯, পরের বলে মিড উইকেটে পুশ করে ১ রান নিয়ে পূর্ণ করেছেন টেস্টে ১০ম  সেঞ্চুরি।

যেখানে বড় হয়েছেন, নিজেদের বাসা-বাড়ি, অথচ সেখানে একমাত্র  টেস্ট সেঞ্চুরিটি তার ২০১৪ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সাড়ে ৭ বছর পর সাগরিকায় পেলেন সেঞ্চুরির দেখা।

আগের দিন ৩৯ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন তামিম। ৩য় দিনের শুরুটা করেছেন তামিম দ্বিতীয় বলে মেন্ডিজকে আত্মবিশ্বাসী শটে দুই রান নিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে ফার্নান্দোকে মেরেছেন দুটি চার। মেন্ডিজকে শর্ট বলে চার মেরে ৩২তম ফিফটি পূর্ণ করেছেন ৭৩ বলে। লোকাল হিরো তামিমের এটা সাগরিকায় ১২তম ফিফটি। জয়কে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬২ রানে বাংলাদেশের ওপেনিং পার্টনারশিপে রেকর্ডের নায়ক তামিম ২১৯ মিনিটে পূর্ণ করেছেন ১০ম শতক।

১৬২ বলে ১২টি চার মেরে পূর্ণ হওয়া সেঞ্চুরিতে আরেকটা মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তামিম। মুশফিক, মুমিনুলের পর সাগরিকায় তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্টে হাজার রান পূর্ণ করেছেন দেশসেরা ব্যাটার। টি ব্রেকের সময় তার স্কোর ১৩৩। আরেকটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সেরা ব্যাটার। আর মাত্র ১৯ রান করতে পারলে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ৫ হাজারি ক্লাবের সদস্যপদ পাবেন তামিম।

তামিমের সেঞ্চুরির দিনে সেঞ্চুরি পেতে পারতেন জয়ও। তবে ৫১ রানের মাথায় আসিফার বলে এমবুলদুনিয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া জয় থেমেছেন ৫৮ রানে। আসিফার শর্ট বল ছাড়তে যেয়েও পারেননি, উইকেটরক্ষকের হাতে দিয়েছেন ক্যাচ।

বিশ্ব ফার্নান্দো হাসপাতালে ভর্তি হলে তার জায়গায় ৩য় দিনের শেষ ২ সেশনে কনকাশন সাব হিসেবে খেলতে নেমে দারুণ বোলিং করেছেন (১১-৪-১৭-২)। শান্তকে উইকেটের পিছনে (২২ বলে ১) এবং মুমিনুলকে বোল্ড আউটে (১৯ বলে ২) ফিরিয়ে দিয়েছেন কনকাশন সাব পেসার রাজিথা।

৩৩ রানের মাথায় ধনঞ্জয়ার বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ওসাডার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া লিটন ১২তম ফিফটি উদ্‌যাপন করেছেন। মুশফিক ফর্মে ফিরতে বেছে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কাকে। তিনি উদ্‌যাপন করেছেন ২৬তম ফিফটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD