চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেরা কোরিয়া

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেরা কোরিয়া

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকি

রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকির শিরোপা জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এশিয়ান হকির মর্যাদাপূর্ণ আসরে এই প্রথম সেরার মুকুট জয় করলো কোরিয়া। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে, চরম নাটকীয়তার মধ্যে ৩–৩ ড্রয়ের পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। হকির নিয়ম অনুযায়ী টাইব্রেকারে ২৫ গজ দূর থেকে বল নিয়ে গোল করতে হয়। প্রতি দলের ৫ জন করে খেলোয়াড় এই সুযোগ পান। কোরিয়ার গোলকিপার কিম ঝে ইং রুখে দেন জাপানের দুজনের প্রচেষ্টা। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪–২ গোলে জিতে শিরোপা জয়ের উৎসব করে দক্ষিণ কোরিয়া।


কোরিয়া ৩-৩ জাপান (শুট-আউটে ৪-২)

পেনাল্টি শুট-আউটে কোরিয়ার হয়ে গোল করেন- লী জুং জুন, জি ও চিওন, ওয়াং তায়েল ও লী হায়ে সিউং। জাপানের হয়ে গোল করেন- ওকা রায়োমা ও সারেন তানাকা। রাইকি ফুজিশিমা ও কোসেই কাওয়াবের প্রচেষ্টার রুখে দিয়ে জয়ের নায়ক বনে যান কোরিয়া গোলরক্ষক কিম জা ইয়োন।

প্রতিযোগিতায় কোরিয়ার ৩৭ বছর বয়সি ডিফেন্ডার জ্যাং জং ইয়োন সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন। ২০০৭ ও ২০১১ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন বর্ষীয়ান এ ডিফেন্ডার। ৮ গোল করেছেন ভারতের ডিফেন্ডার হারমানপ্রিত সিং। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলায় ৩-৩ গোলের সমতা ছিল। দুই দেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচও ৩-৩ গোলে শেষ হয়।

প্রথম কোয়ার্টার (১-০)
সেমিফাইনালের মতো এ ম্যাচে জাপানের শুরুটা ছিল গতিময়। বলের দখল নিজেদের অনুকূল রেখে খেলছিল এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়নরা। দ্রুত গতির পাল্টা আক্রমণে ৮ম মিনিটে বামদিক থেকে জ্যাং জি হুনের হিট স্টিকে দিক পরিবর্তন করে জালে পাঠান জিয়ং জুন উ। ১০ ও ১২ মিনিটে দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি জাপান।

দ্বিতীয় কোয়ার্টার (১-২)
২৪ মিনিটে কেন নাগায়োশির পেনাল্টি কর্নার গোলে সমতায় আসে জাপান। ৪৪ মিনিটে দ্রুত গতির পাল্টা আক্রমণে ওচাই হিরোমাশার রিভার্স হিটে জাপানকে এগিয়ে নেন। ৪৫ মিনিটে জ্যাং জং ইয়োনের পেনাল্টি ফিরিয়ে দেন জাপান গোলরক্ষক তাকাশি ইয়োশিকাওয়া। ২৯ মিনিটে ওকা রায়োমার ফিল্ড গোলে লিড নেয় জাপান।

তৃতীয় কোয়ার্টার (১-৩)
ইয়োশিকি কিরিশিতার পেনাল্টি কর্নার গোলে স্কোরলাইন ৩-১ করে জাপান। ৪৪ মিনিটে জ্যাং জং ইয়োনের পেনাল্টি কর্নার রুখেদেন জাপান গোলরক্ষক।

চতুর্থ কোয়ার্টার (৩-৩)
জ্যাং জং ইয়োনের পেনাল্টি কর্নার গোলে স্কোরলাইন ৩-২ করে কোরিয়া। এ নিয়ে প্রতিযোগিতার সবগুলো ম্যাচেই গোল করেছেন দলটির অন্যতম সেরা এ তারকা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করেছেন তিনি। শেষমূহুর্তে জ্যাং জং ইয়োনের পেনাল্টি কর্নার গোলে ম্যাচে ফিরে আসে কোরিয়া।

এর আগে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ফাইনালে ওঠে জাপান। কিন্তু ঘরের মাঠে ফাইনালে সেবার তারা হেরে যায় পাকিস্তানের কাছে। দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে নিজেদের হকির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্যের কাছাকাছি এসে‌ও অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেল তারা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ফাইনালেই সফল কোরিয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD