প্রতি বছর এ ধরনের টুর্নামেন্ট হোক : তরফদার রুহুল সাইফ

প্রতি বছর এ ধরনের টুর্নামেন্ট হোক : তরফদার রুহুল সাইফ

সাইফ পাওয়ারটেকের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ‘শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক গ্রান্ডমাস্টার দাবা প্রতিযোগিতায়।’ চলবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। যেখানে বাংলাদেশসহ বিশে^র মোট ১৮টি দেশের গ্রান্ডমাস্টাররা অংশ নিবেন। সব মিলে প্রায় ১০০ জন খেলোয়াড় থাকছেন এবারের প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের দাবাড়–রা আসতে শুরু করেছেন। তাদের থাকা-খাওয়া যাওয়াত ভাড়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে পৃষ্ঠপোষক সাইফ পাওয়ারটেক। দাবার ইতিহাসে এত বড় আয়োজন (প্রাইজমানির দিক থেকে) এর আগে হয়নি। ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিনের কারণেই মূলত এত বড় একটি আয়োজন মাঠে নামাতে সক্ষম হয়েছে তারা।

আগামীকাল ১৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন। দিনটিকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। মূলত এই দুটি উপলক্ষ্য সামনে রেখে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে টুর্নামেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানান দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শামীম। এ সময় সাইফ পাওয়ারটেকের অন্যতম পরিচালক তরফদার মো. রুহুল সাইফ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তরফদার মো. রুহুল আমিনের থাকার কথা ছিল। কিন্তু কর্মব্যস্ততায় তিনি আসতে পারেননি। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক গ্রান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রতিযোগীদের শুভ কামনাও জানিয়েছেন তরফদার মো. রুহুল আমিন।

এশিয়া, ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত দাবাড়–রা অংশ নিবেন শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক এই আসরে। ৩২ জন পুরুষ গ্রান্ডমাস্টারের সঙ্গে ১ জন মহিলা গ্রান্ডমাস্টার ও ২০ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার খেলবেন শেখ রাসেল টুর্নামেন্টে। বাংলাদেশের ৫জন গ্রান্ডমাস্টারের মধ্যে তিন জনের অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শামীম। তারা হলেন- নিয়াজ মোরশেদ, জিয়াউর রহমান এবং এনামুল হোসেন রাজীব। পারিবারিক কারণে মোল্লা আব্দুল্লাহ আল রাকিব এবং রিফাত বিন সাত্তার অংশ নিচ্ছেন না। তবে আবু সুফিয়ান শাকিল, মিনহাজ উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফাহাদ রহমানের মতো আন্তর্জাতিক মাস্টাররা শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলবেন। থাকছেন বাংলার দাবার রানী আন্তর্জাতিক মাস্টার রানী হামিদও।

৯ রাউন্ড সুইস-লিগ পদ্ধডুতে অনুষ্ঠেয় আসরে নর্ম অর্জনের দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন আয়োজকরা। টুর্নামেন্টে মোট ৫৫ হাজার মার্কিন ডলারের অর্থ পুরস্কার রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় যিনি চ্যাম্পিয়ন হবেন তিনি পাবেন ১০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার। এছাড়া রানার আপ ৭ হাজার ডলার, তৃতীয়স্থান অধিকারী ৫ হাজার ডলার, চতুর্থস্থানের জন্য থাকছে ৩ হাজার ডলার, ৫ম থেকে ৮ম স্থান অধিকারীর প্রত্যেকে পাবেন ২ হাজার ডলার এবং নবম হতে ২০তম স্থান লাভকারী খেলোয়াড় পাবেন ১ হাজার মার্কিন ডলার করে। এছাড়া বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের অর্থ পুরস্কারও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলে ফেডারেশন কর্তারা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের অন্যতম পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের জানান, ‘আপনার সবাই জানেন যে আমার বাবা তরফদার মো. রুহুল আমিন একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। আমরা ফুটবল থেকে শুরু করে সব ধরনের স্পোর্টসেই থাকার চেষ্টা করি। দাবা ফেডারেশনের জন্য এই টুর্নামেন্ট একটি মাইলফলক হবে। বিশে^র ১৮টি দেশের প্লেয়াররা এখানে এসে খেলবে। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি ঘটনা। এটা বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের দেশেও প্রচারিত হবে। ১৮টি দেশের মানুষ আমাদের টুর্নামেন্ট সম্পর্কে জানবে। আমাদের জন্য কিন্তু কম বড় প্রাপ্তি নয়। যখন ওই দেশগুলো কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে; তখন তারা আমাদের তারা আমন্ত্রণ জানাবে- এটা প্রত্যাশা আমাদের। যারা এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন সকলের জন্য রইল আমার পক্ষ থেকে, আমাদের প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের পক্ষ থেকে শুভ কামনা।’

রুহুল সাইফ আরো যোগ করেন, ‘দাবা বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। আমরা চাই যে প্রত্যেক বছরই এমন একটি বড়োসড়ো টুর্নামেন্ট হোক। যেখানে বিদেশী খেলোয়াড়রা অংশ নিবেন। তাদের অংশগ্রহণের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশীদের আরো বেশি জানার সুযোগ হবে।’

এক সময় দাবা ছিল অবহেলিত ফেডারেশনগুলোর একটি। দাবার সেই দুর্দিন এখন আর নেই। গেল ৫ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। আর এই বদলে যাওয়ার রূপকার হলেন ফেডারেশনের বর্তমান সহ-সভাপতি ক্রীড়া সংগঠক তরফদার মো. রুহুল আমিন। ২০১৬ সালে নির্বাচনে প্রথমবার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তরফদার রুহুল আমিন। এ ক্রীড়াপ্রেমী সংগঠক দাবাতে এসেই ক্রিকেট ফুটবলের পর দাবাকে একটি ধনী ফেডারেশনে রূপ দিয়েছেন- আজ সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই জানান দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শামীম।

দাবার ফান্ডে বর্তমানে ২ কোটির মতো উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। শাহাব উদ্দিন শামীম আরো যোগ করেন, ‘দাবা ফেডারেশন যে শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক আসরের মতো বড় প্রতিযোগিতা; এর আগে জয়তু শেখ হাসিনা প্রতিযোগিতা কিংবা বছরব্যাপী নানান বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা করতে পারছে- এর পেছনের নায়ক তরফদার মো. রুহুল আমিন। আমাদের কিছু হাইড স্পন্সর আছেন। তাদেরও যুক্ত করার পেছনের তরফদার রুহুল আমিনের হাত রয়েছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD