ম্যারাডোনার মেয়ের আবেগঘন পোস্ট

ম্যারাডোনার মেয়ের আবেগঘন পোস্ট

ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ান্নিনা আবেগী এক পোস্ট ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে। দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বহু বছর ধরে আমার বাবাকেই একমাত্র বলির পাঁঠা করা হয়েছিল। প্রশ্ন তোলা হত, ওঁর চেয়ে খারাপ মানুষ আর কে? বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ওঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কগুলো নিয়ে চর্চায় মেতে থাকত সংবাদমাধ্যম। আর এই সবই আমাদের সহ্য করতে হত। যাদের পদবি এখনও ম্যারাডোনা! আমি শুধু জানতে চাই, যারা আমার প্রয়াত বাবাকে এভাবে জনসমক্ষে কাঠগড়ায় তুলে এনেছেন দিনের পর দিন তাদের বিচার কে করবে? কোন টিভি চ্যানেলে বিচারসভা বসবে ওদের নিয়ে?’

৩৬ হাজার ৯০০ মানুষ ‘লাইক’ করেছেন ম্যারাডোনার মেয়ের এই টুইট। আড়াই হাজার ‘রিটুইট’ হয়েছে। দিয়েগোপ্রেমীরা পাশে দাঁড়িয়েছেন জিয়ান্নিনা এবং ম্যারাডোনা-পরিবারের। সান্দ্রা ওয়ালাস লিখেছেন, ‘জানি মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু সোনা আমার, ওদের একটুও গুরুত্ব দিও না। তোমার প্রতি ওরা যা যা করেছে তাতে আমরাও ব্যথিত। বুঝতে পারছি কী কী সইতে হয়েছে তোমাকে। কিন্তু মনে রেখো, আর্জেন্টিনা তোমাদের পাশে আছে। তোমার বাবাকে আমরা কতটা ভালবেসেছি, আমরাই জানি। বাকি আর কোনও কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

উত্তরে জিয়ান্নিনা লিখেছেন, ‘জানি, তাই গুরুত্ব দিইও না। কিন্তু সহ্যেরও তো একটা সীমা থাকে, তাই না? সন্তান হিসেবে তার মা-বাবা এমনকি ঠাকুরদা সম্পর্কেও রোজ ভুড়ি ভুড়ি মিথ্যে পড়তে-শুনতে হচ্ছে। সব কিছুরই শেষ থাকা উচিত। আর কতদিন এগুলো চলবে, চলতেই থাকবে এমন? যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।’

জিয়ান্নিনার এমন টুইটগুলোর দিনেই ম্যারাডোনার মৃত্যু-তদন্তে নতুন মোড়। দুই নার্স ও এক মনোবিদের নাম জুড়েছে তদন্তে। গত ২৫ নভেম্বর মাত্র ৬০ বছর বয়সে মারা যান আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার মূল কারিগর। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সপ্তাহখানেক পরই মারা যান ম্যারাডোনা।

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করেছিলেন যিনি, নিউরো সার্জেন লিওপোলদো লুকে এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইক্রিয়াট্রিস্ট) অগাস্তিনা কোসাচোভের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। এখন যে তিনজনের নাম নতুন করে উঠে এল– মনোবিদ (সাইকোলজিস্ট) কার্লোস দিয়াজ এবং দুই নার্স দাইয়ানা খিসেলা মাদ্রিদ ও রিকার্দো আলমিরোন। এই সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক তাঁদের।

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছিল, মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD