চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬’তে লিভারপুল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬’তে লিভারপুল

ইনজুরি আক্রান্ত লিভারপুলের জন্য কাল ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক স্বস্তির রাত। ডাচ চ্যাম্পিয়ন আয়াক্সকে ১-০ গোলে পরাজিত করে গ্রুপ পর্বের বাঁধা পেরিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। সে কারণেই 'অল রেড' বস জার্গেন ক্লপ স্বীকার করেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল লিভারপুলের জন্য অন্যতম একটি স্মরণীয় ম্যাচ।

ইনজুরির তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় ক্লপকে বাধ্য হয়ে তরুণদের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে। আর সেই প্রতিদানও দিয়েছে শিষ্যরা। ১৯ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার কার্টিস জোনসের একমাত্র গোলে লিভারপুলের জয় নিশ্চিত হয়। ইউরোপিয়ান আসরে অভিষেক হওয়ায় লিভারপুলের ২২ বছর বয়সী আইরিশ গোলরক্ষক কোয়াইমহিন কেলেহার কোন গোল হজম না করে ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখেন। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে চার জয়সহ ১২ পয়েন্ট নিয়ে ডি-গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠে ইংলিশ জায়ান্টরা।

হাতে রয়েছে আর মাত্র এক ম্যাচ। আগামী সপ্তাহে মিডজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ক্লপ তার মূল খেলোয়াড়দের আরো একবার বিশ্রামে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। ক্লপের অধীন দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছে লিভারপুল। এর মধ্যে ২০১৯ সালের শিরোপা জয় করার কৃতিত্ব দেখায় রেড'রা। ক্লপ বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থেই আমি যখন থেকে লিভারপুলে এসেছি তার মধ্যে কালকের ম্যাচটি ছিল অন্যতম বড় একটি ম্যাচ। সমর্থকদের ছাড়া এটা যে কতটা কঠিন ছিল তা সবাই জানে। এ কারণেও ম্যাচটি অন্যান্য সব ম্যাচের থেকে ব্যতিক্রম ছিল।

ম্যাচের ঠিক আগে এ্যালিসন বেকারের ইনজুরি ক্লপের ইনজুরি তালিকা দীর্ঘ করেছে। যে কারণে কেলেহারকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন ক্লপ। প্রথমার্ধে গোঁড়ালিতে ভারী ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলতে নেমেছিলেন এন্ড্রু রবার্টসন। ইতোমধ্যেই ইনজুরির কারণে দলের বাইরে রয়েছেন ভার্জিল ফন ডাইক, জো গোমেজ, এ্যালেক্স অক্সালেড-চেম্বারলেইন, নেবি কেইটা, জিহার্দান শাকিরি, ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ড ও জেমস মিলনার। ক্লপ বলেন, ‘তরুণরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি সত্যিই বিস্মিত। কিন্তু এখনই আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোন কারণ নেই। ইনজুরি থেকে আমরা কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছি না। বড় ইনজুরি নিয়েই আজ রক্ষণভাগ সামলেছে রবার্টসন।’

তারকাদের অনুপস্থিতিতে যাদের ভাগ্য খুলেছে তাদের মধ্যে জোনস অন্যতম। মাচের ৫৮ মিনিটে নেকো উইলিয়ামসের লফটেড ক্রস থেকে তিনি লিভারপুলের জয় নিশ্চিত হয়। আর এতেই মূল দলে তার জায়গাটা এখন থেকেই শক্তিশালী করার কথা সামনে চলে এসেছে। এর আগে ম্যাচ শুরুর ৬ মিনিটের মধ্যে তার কার্লিং শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ক্লপ মনে করেন যখন দল সমস্যায় পড়ে তখন সেখান থেকে উদ্ধারের কোন না কোন পথ ঠিকই বের হয়ে যায়। আজ তরুনরা সেই পথ দেখিয়েছে লিভারপুলকে।

অক্টোবরে লিভারপুলের কাছে ঘরের মাঠে পরাজয়ের পর থেকে শেষ আটটি ম্যাচেই অপরাজিত ছিল আয়াক্স। কিন্তু উজ্জীবির কেলেহারকে কাল পরাস্ত করার সামর্থ্য তাদের ছিলনা। এর আগে তরুন এই আইরিশ গোলরক্ষক ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এত বড় আসরে খেলতে নেমেই কোন গোল হজম না করে স্বাভাবিক ভাবেই সকলের নজড় কেড়েছেন। প্রথমার্ধে নুসাইয়ের মাজারাওর একটি দুর পাল্লার শট রুখে দেন কেলেহার। এরপর দ্বিতয়ার্ধের শুরুতেই তিনি আবারো মাজারাওরির আরো একটি প্রচেস্টা নষ্ট করে দেন।

ম্যাচের একেবারের শেষ দিকে আয়াক্সের স্প্যানিশ গোলরক্ষক ওনানা রবার্তো ফিরমিনোর একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ ভেস্তে দেন। কিন্তু ম্যাচ শেষের দুই মিনিট আগে তার থেকেও ক্ষিপ্র গতিতে ক্লাস-ইয়ান হান্টেলারের শক্তিশালী হেড কেলেহার রুখে দেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে ক্লপ দৌড়ে গিয়ে কেলেহারকে জড়িয়ে ধরতে ভুল করেননি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকতে হলে আটালান্টার বিপক্ষে আগামী সপ্তাহে এ্যামাস্টারডামে অবশ্যই জিততে হবে আয়াক্সকে।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD