সন্ধ্যা ৬:৪৯, বুধবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / বাংলাদেশ-ভারত লড়াই কাল
বাংলাদেশ-ভারত লড়াই কাল
জুলাই ১, ২০১৯



২০০৭ সালে ‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় করে দিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও ভারত দু’দলেরই প্রথম ম্যাচ ছিলো সেটি। ভারত বধের পর বারমুডাকেও হারিয়ে গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করে, ‘সুপার-৮’-এ খেলে বাংলাদেশ।

যখনই ভারত-বাংলাদেশ খেলা হয়েছে তখনই বাংলাদেশের সামনে ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগোর পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভাল স্টেডিয়ামে, ৫ উইকেটের সেই জয়টি প্রেরণা হয়ে ধরা দিয়েছে। আর তাই বার্মিংহামের এজবাস্টনে আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ কী সেই ২০০৭ বিশ্বকাপের সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারবে?

সেই বিশ্বকাপে হারে, অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় কষ্ট পেয়েছেন। ফেবারিট হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিলে কষ্ট পাওয়ারই কথা। আবার ভারতীয় সমর্থকরা ক্রিকেটারদের বাড়িতে হামলাও চালিয়েছিলেন! কি যে হতাশায় কাটাতে হয়েছে ভারত ক্রিকেটারদের। দ্রাবিড় বলেছিলেনও, ‘২০০৭ সালে বাংলাদেশের কাছে হারের অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছিল আমাদের।’ পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই যে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে ভারতের বিদায়ে তোলপাড় লেগে গিয়েছিল। শচীন টেন্ডুলকরতো তার, ‘আঃ বিলিয়ন ড্রিমসে’ এ নিয়ে কষ্টের স্মৃতিচারণও করেছেন। সব দোষ বিতর্কিত কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের কাঁধে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন নিয়ে ব্যস্ত না থেকে, ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন গ্রেগ। বিশ্বকাপে বিদায়ের পরতো কোচ হিসেবে চ্যাপেল আর অধিনায়ক হিসেবে দ্রাবিড়ের বিদায় ঘণ্টাও বেজেছিল।

সৌরভ গাঙ্গুলী, বীরেন্দ্রর শেবাগ, শচীন টেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি, স্পিনার হরভজন সিং, পেসার অজিত আগারকার, জহির খান; সেই সময়ের সেরা সব ক্রিকেটার ছিলেন ভারত দলে। অথচ সেই দলকেই টালমাটাল করে দেন বল হাতে ম্যাচসেরা পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা (৪/৩৮), স্পিনার মোহাম্মদ রফিক (৩/৩৫), আব্দুর রাজ্জাক (৩/৩৮)। আর ব্যাট হাতে মুশফিকুর রহিম (৫৬*), সাকিব আল হাসান (৫৩) ও তামিম ইকবাল (৫১)। ভারতকে ১৯১ রানে অলআউট করে দিয়ে বাংলাদেশ (১৯২/৫; ৪৮.৩ ওভার) ম্যাচ জিতে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারায় বাংলাদেশ।

সেটি এক যুগ আগের। এখন বাংলাদেশ দল আরো ভয়ঙ্কর। ওয়ানডেতে যে কোন দলকে হারিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। যে মুশফিক, সাকিব, তামিমরা এত সাহস দেখান তখনই, এক যুগ হয়ে যাওয়ার পর কী করবেন? তারা এতটাই অভিজ্ঞ এখন প্রতিপক্ষের আতঙ্ক এ তিন ব্যাটসম্যান। সাকিবতো আবার এবার বিশ্বকাপে ব্যাট-বল হাতে মাতাচ্ছেন। বিশ্বকাপে সেরা হওয়ার মতো খেলছেন। এই তিন ক্রিকেটারের সঙ্গে এবার ব্যাট হাতে আবার সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আছেন। মাহমুদুল্লাহ যদিও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারবেন কিনা শতভাগ নিশ্চয়তা নেই। তিনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের সময় কাফ মাসলে চোট পান। যদিও এখন সুস্থ। ভারত ম্যাচের আগে পাঁচদিনের ছুটিতে অনেকটাই ফিটও হয়ে উঠেছেন। ব্যথাও কম। কিন্তু খেলার মতো শতভাগ ফিট কিনা তা ম্যাচের আগেই বোঝা যাবে। তবে সব ব্যাটসম্যানই দলের জয়ে অবদান রাখছেন। ফর্মেও আছেন।

তাই ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের সুখস্মৃতি ফিরে আসুক ২০১৯ সালে, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আছেন সেই অপেক্ষায়।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :