রাত ১২:১৭, রবিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
/ এনএসসি / প্রয়াত বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম অধিনায়ক
প্রয়াত বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম অধিনায়ক
জুলাই ৩০, ২০১৯



বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৯ জুলাই) সকালে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শামীম কবির মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শামিম কবির ১৯৪৩ সালের ৩ মার্চ নরসিংদীর ঘোড়াশালে সম্ভ্রান্ত কবির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেই ঘোড়াশালেই চিরশায়িত হবেন তিনি। শামিম কবিরের আমেরিকা প্রবাসী ছেলে বুধবার ঢাকায় আসবেন। বৃহস্পতিবার ১ আগস্ট দুপুর ১১টায় মিরপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শামিম কবিরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ যোহর গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজা। এরপর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর ঘোড়াশালে নিয়ে যাওয়া হবে তাকে। এদিকে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শামিম কবিরের সম্মানার্থে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন।

১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকা ষ্টেডিয়ামে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম) বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ৩ দিনের একটি বেসরকারি টেষ্ট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ডের শক্তিশালী এমসিসি ক্রিকেট দল। ওটাই ছিল প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন খ্যাতিমান ওপেনিং ব্যাটসম্যান শামীম কবির।

এই ম্যাচটি মূলত বাংলাদেশের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য আয়োজিত হয়। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের যোগ্য কি না, সেটা পরীক্ষা করে দেখতেই এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বলা চলে, স্বাধীনতার পরে সেটাই ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম পথচলা।

শামীম কবির নামে পরিচিতি পেলেও তার আসল নাম আনোয়ারুল কবির। জন্ম ১৯৪৫ সালে, নরসিংদীর বনেদি জমিদার পরিবারে। পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ১৯৬১ সালে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি (৬৪) ১৯৬৪ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে পিআইএর বিপক্ষে। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শামীম কবিরের সর্বোচ্চ ইনিংস ৮৯ রানের। পূর্ব পাকিস্তান সবুজ দলের হয়ে পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ের বিপক্ষে তিনি এই ইনিংস খেলেছিলেন।

ক্লাব ক্রিকেটে তিনি আজাদ বয়েজ ক্লাবে খেলেছেন। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই তার ক্রিকেট জীবন সীমাবদ্ধ নয়, খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সম্পৃক্ত হন বিসিবিতে। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালের আইসিসি ট্রফিতে পালন করেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব। ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :