রাত ১২:১৭, রবিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / প্রশ্নবিদ্ধ ইংল্যান্ডের শিরোপা উল্লাস
প্রশ্নবিদ্ধ ইংল্যান্ডের শিরোপা উল্লাস
জুলাই ১৫, ২০১৯



অনেক ঐতিহাসিক ঘটনারই সাক্ষী লর্ডস। সেই লর্ডসেই গতকাল হয়ে গেলো আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। পঞ্চমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলো ইংল্যান্ডের লর্ডসে। তবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো টানটান উত্তেজনার আর কখনও দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। এ ম্যাচেই ক্রিকেটভক্তরা দখলেন অদ্ভুত এক জয়। হতবাক হয়ে গেলেন তারা এই জয় দেখে। অনেকে মনে করলেন, লিগ টেবিলে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ওপরে থাকার জন্যই হয়তো কাপ জিতলো ইংল্যান্ড। বিষয়টি বোধগম্য হয় কিছুক্ষণ পরে। জানা যায়, ম্যাচে কিউয়িদের চেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারায় জিতেছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জয়ের এক আলাদা তৃপ্তি আছে। কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদে একটু হলেও যেন কেমন ময়লা পড়ে গেল ইংল্যান্ডের। ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয় সমান সমান অবস্থায়। সুপার ওভারও শেষ হয় অমীমাংসিতভাবে। এই অবস্থায় কী করে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে শুধুমাত্র বাউন্ডারি মারার সংখ্যা? এই প্রশ্নই ঘুরছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাথায়।

চার বছরের অপেক্ষা। ১০ দলের লড়াই। ৪৪ দিন ধরে চলা মেগা টুর্নামেন্ট। একাধিক টানটান ম্যাচ। সেই টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণ হলো দুটি দলের মধ্যে কে বেশি চার মেরেছে তাই দিয়ে! ক্রিকেটে কি তা হলে শুধু বেশি বাউন্ডারি মারাই প্রধান লক্ষ্য? ‘জেন্টলম্যানস গেম’ বলা হয় ক্রিকেটকে। বোলার বুদ্ধি খাটিয়ে বল করে উইকেট নেন। ধীরে ধীরে সিঙ্গলস নিয়ে ইনিংস গড়েন ব্যাটসম্যান। কত রকমের মাইন্ড গেম চলে, তার ইয়ত্তা নেই। একের পর এক উইকেট হারানোর পরে ব্যাটসম্যান দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ইনিংস গড়েন, বোলারের মারাত্মক বাউন্সারের ছোবল সহ্য করেও ব্যাট করে চলার তো তা হলে কোনও মূল্য রইল না!

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে এ সব প্রশ্ন উঠছে। একটা ফাইনাল বেশ বিতর্ক তৈরি করে দিয়ে গেল। লর্ডসের হার নিউজিল্যান্ড শিবিরকে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়ার কথা। গতবারের হারের থেকেও এই হার যে বেশি যন্ত্রণার।

৫০ ওভারে ২৪১ রান করে দু’ দলই। কিন্তু সেই রান তুলতে নিউজিল্যান্ডের থেকে বেশি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। কিউইরা তো বটেই, ক্রিকেটবিশ্বের একটা বড় অংশের দাবি, কেন সেই বিষয়টা গ্রাহ্য করা হবে না? অনেকে আবার মনে করেন, এই অবস্থায় আইসিসি যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করলেই পারতো। ১০০ ওভারের শেষে দুটো দেশেরই রান সংখ্যা সমান। সুপার ওভারেও রান সমান। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড ক্রিকেটিয় বিচারে কোনও অবস্থাতেই ফাইনালে হারাতে পারেনি কিউইদের। পরে যে দল বেশি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে, সেই দলকেই চ্যাম্পিয়ন করে দেওয়া হোক। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মহামঞ্চে এভাবে হারটা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

এরকম নিয়মের বেড়াজালে হেরে যাওয়া সত্যিই দুঃখের। ২০১৮-র সেপ্টেম্বর থেকে ধার্য হওয়া আইসিসি-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী সুপার ওভার ড্র হলে বাউন্ডারি যেদল বেশি মেরেছে তাদের জয়ী ঘোষণা করা হবে। কথা উঠেছে গাপ্টিলের থ্রো স্টোকসের ব্যাটে লেগে হওয়া চারে ছয় রান দেওয়া নিয়েও। কারও মতে, এটা পাঁচ রান হওয়ার কথা ছিল। আইসিসি-র নিয়মও সে রকমই বলছে।

আলোচনা, যুক্তি পাল্টা যুক্তি চলতেই থাকবে। পাল্টানো যাবে না মহাম্যাচের ফলাফল। ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরুর ৪৪ বছর পর জিতলো ক্রিকেটের জনকেরা। কিন্তু সেই জয়টা‌ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রইলো।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :