রাত ১:২৪, বৃহস্পতিবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / পরাজয়েও অনেক অর্জন বাংলাদেশের
পরাজয়েও অনেক অর্জন বাংলাদেশের
জুন ২১, ২০১৯



পরাগ আরমান

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হারলে‌ও অর্জন অনেক বাংলাদেশের। নানা রেকর্ডে একাকার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। তাতে পরাজয়ের বেদনার মধ্যে‌ও এই অর্জনকেই বড় হিসেবে মানছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বৃহস্পতিরার নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েও অস্ট্রেলিয়াকে হারতে পারেনি টিম বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের হার না মানা সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ৩৩৩ তোলে বাংলাদেশ। নটিংহ্যামের এই ইনিংসটিই টাইগারদের ‌ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে, চলতি বিশ্বকাপে ‌ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের ইনিংসটিই ছিল সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার সেই ইনিংসটিকে ছাড়িয়ে যায় টাইগাররা। তার আগে অবশ্য ২০১৫ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩২৯ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের আসনে ছিল। তার‌ও আগে ২০১৪ সােল মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে ৩ উইকেটে ৩২৬ রানই ছিল সর্বোচ্চ। এরআগে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১১ সালে মিরপুরে ৬ উইকেটে ২৯৫ রানের ইনিংসটিই ছিলো সর্বোচ্চ।

মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপে এর আগে তিনবার তিনশ'র বেশি রান করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের কোনটিতেই হারেনি টাইগাররা। জয় এসেছিল প্রতিবারই। কিন্তু এই ম্যাচে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান করেও জয় পেলো না মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন টাইগার তারকা মুশফিকুর রহিম। লড়াকু সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌছান বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। শুধু সেঞ্চুরি নয়, মুশফিক বিশ্বকাপে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি‌ও খেলেন বৃহস্পতিবার। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা তার ৮৯ রানের ইনিংসটিই এতোদিন ছিলো সর্বোচ্চ। এর আগে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২০১৫) এবং সাকিব আল হাসান (২০১৯)। আগের দুইজনই করেছেন দুটি করে সেঞ্চুরি, তাও আবার পরপর দুই ম্যাচে। তবে মুশফিকের সামনে টানা দুই সেঞ্চুরি করার সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তা পারবেন কিনা সেটি জানা যাবে পরের ম্যাচেই।

৯টি বাইন্ডারি ও ১টি ছক্কায় ৯৭ বলে ১০২ রান করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন মুশফিক। তবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম শতরান করতে গিয়ে মুশফিক বল খরচ করেন ৯৫টি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্রুততম ফিফটি‌ করার রেকর্ডও গড়েন বাংলাদেশর ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ। ৫০ বলে ৫ চার আর তিন ছক্কায় ৬৯ রানে সাজঘরে ফেরার আগে মাহমুদুল্লাহ, ৪১ বলে অর্ধশত রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। এটি বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অজিদের বিপক্ষে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আর আগে, ২০১১ সালে মাহমুদুল্লাহ ৪৯ বলে ফিফটি করেছিলেন। ২০১১ সালে ৫০ বলে ইমরুল কায়েস এবং অজিদের বিপক্ষে মাহমুদুল্লাহর দ্রুততম ফিফটির দিনে ৫৪ বলে ফিফটির দেখা পান সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। তাছাড়া পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ‌ও মাহমুদুল্লাহর ১২৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি। ২০১১ সালে দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল কায়েস ‌ও শাহরিয়ার নাফিজের ১৩৬ রান এখনও সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড ধরে রেখেছে। আর দ্বিতীয় স্থানে আছে ২০০৫ সালে কার্ডিফে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে চতুর্থ উইকেটে আশরাফুল আর হাবিবুল বাশারের গড়া ১৩০ রান।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :