রাত ২:২৯, মঙ্গলবার, ১৫ই জুলাই, ২০১৯ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / দারুণ জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ
দারুণ জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
এপ্রিল ৩০, ২০১৯



কবিরুল ইসলাম
মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ এক জয় দিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনালে জায়গা উঠেছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, ৩-০ গোলের জয় পায় লাল-সবুজের দল। স্বাগতিকদের হয়ে একটি করে গোল করেন মনিকা চাকমা, মার্জিয়া ও তহুরা খাতুন। আগামী ৩ মে একই ভেন্যুতে লাওসের বিরুদ্ধে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। তবে ম্যাচ জিতলে‌ও আগের মতোই ছিল ফিনিসিংয়ের অভাব। নয়তো ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো।

এ ম্যাচে দু’টি পরিবর্তন ছিল বাংলাদেশের একাদশে। ইনজুরির কারনে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচের স্কোরার কৃষ্ণা রানী সরকার ও সিরাত জাহান স্বপ্না সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি। তাদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা করে নেন মিডফিল্ডার মার্জিয়া ও ফরোয়ার্ড সাজেদা খাতুন। শুরুতেই ছিল আক্রমন। ২৪ সেকেন্ডেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন সাজেদা খাতুন। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক সেনজাভকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি কৃষ্ণার পরিবর্তে মাঠে নামা এই ফরোয়ার্ড। পরের মিনিটেই আঁখি খাতুনের লম্বা পাস ধরে আবারও গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েগিছিলেন সাজেদা। কিন্তু এবারও সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ তিনি। গোল মিসের মহড়ায় এরপর নাম লেখান সানজিদা। ১৬ মিনিটে ভাগ্য সহায় না থাকায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি স্বাগতিকদের। মঙ্গোলিয়ার গোলরক্ষক সেনজাভের কাছ থেকে পাওয়া বল ধরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে গোল মুখে জোড়ালো শট নেন সানজিদা। সাইডবারে লেগে ফিরে আসে বল।

অবশেষে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে কাঙ্খিত সেই গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। সাজেদার পাসে পাওয়া বলে হেড নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মনিকা চাকমা বাঁ-পায়ের দূর্দান্ত এক শটে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে নিশানা ভেদ করেন (১-০)। উৎসবে মেতে উঠেন হাজার সাতেক সমর্থক। আনন্দের বন্যা বইয়ে যায় লাল-সবুজ শিবিরে। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আগের সেই ধারা ধরে রেখেই খেলা শুরু করে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ মিস করা সাজেদা খাতুনকে তুলে নিয়ে তহুরা খাতুনকে মাঠে নামান কোচ। আক্রমনের ধারটাও যেনো বেড়ে গিয়েছিল। মুহুর্মুহু আক্রমনে কোনঠাসা করে ফেলেছিল মঙ্গোলিয়াকে। কিন্তু ফিনিসিংয়ের অভাব ছিল আগের মতোই। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মারিয়া মান্ডার জোড়ালো শট গোলরক্ষক সেনজাভের হাতে লেগে বাইরে চলে যাওয়ায় হতাশার গল্পটা আরও একটু দীর্ঘায়িত হয়। বারবার সুযোগ হাতছাড়া হলেও ৬৯ মিনিটে ভুল করেননি স্বপ্নার পরিবর্তে একাদশে ঠাঁই পাওয়া মার্জিয়া। প্রথম গোলদাতা মনিকা চাকমার ছোট পাস ধরে ডান পায়ের দারুণ শটে গোল ব্যবধান দ্বিগুন করেন তিনি (২-০)।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে গোলের গ্রাফটা আরও একধাপ উপরে নিয়ে যান বদলী হিসেবে মাঠে নামা তহুরা খাতুন (৩-০)। অবশেষে ৩-০ গোলের জয়ে ফাইনালে পৌছে যায় লাল-সবুজের বাংলাদেশ। যেখানে শিরোপা লড়াইয়ে তাদের অপেক্ষায় লা‌ওস।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :