সকাল ৮:৩৭, শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং
/ ক্রিকেট / সফর কঠিন হলেও নিউজিল্যান্ডে জেতা অসম্ভব নয়
সফর কঠিন হলেও নিউজিল্যান্ডে জেতা অসম্ভব নয়
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯



ইকরামউজ্জমান: কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

নতুন বছরের শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগামীকাল বুধবার ১৩ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দৃঢ় মনোবল এবং ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে তিন ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ নেপিয়ারে খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১৬ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ক্রাইস্ট চার্চ ও ডানেডিনে। সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে এখন তো সব চোখ নিবদ্ধ হয়ে আছে আগামী মে মাসে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দিকে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এ কারণে যে এই সিরিজের মাধ্যমে বাইরের কন্ডিশনে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে বিশ্বকাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাস অর্জনের সুযোগ আছে। সুযোগ আছে খেলোয়াড়দের নিজেদের মেলে ধরা এবং দলের অবস্থান যাচাই করার। নিউজিল্যান্ডের পর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ) খেলার সুযোগ আছে। ইংল্যান্ডে যখন বিশ্বকাপ শুরু হবে তখন আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসবে, উইকেট কিছুটা শুকিয়ে যাবে, উইকেটের আচরণে কিছুটা পার্থক্য লক্ষণীয় হবে। তবে লড়াইয়ের মেজাজে কোনো রকম হেরফের হবে না।

গত সফরেও বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারেনি। এবারও পারল না। কিছুই করার নেই। বিপিএল শেষ হওয়ার পরপরই দৌড়ে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে উড়োজাহাজে উড়তে হয়েছে। নিজেদের বিপিএল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন খেলোয়াড় আগে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় কন্ডিশনের সঙ্গে নিজকে পরিচিত ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অধিনায়ক মাশরাফি, তামিম, রুবেল, সাইফুদ্দিনরা এক সেশনের বেশি প্রস্তুতির সুযোগ পাননি। খেলার আগে ভালো প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়রা দেশের মন্থর উইকেটে দীর্ঘ সময় ধরে বিপিএলে টি-টোয়েন্টি খেলে গিয়ে খেলতে নামবেন দ্রুতগতির উইকেটে, যেখানে বল সুইং করে মারাত্মকভাবে। তা ছাড়া খেলতে হবে ওয়ানডে, যার সঙ্গে টি-টোয়েন্টির অনেক পার্থক্য আছে। ভরসা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের স্কিল ও টেকনিককে যতদূর সম্ভব খাপ খাইয়ে নেওয়া ভিন্ন কন্ডিশনে, ভিন্ন সংস্করণের ক্রিকেটে। নিজের খেলার ওপর বিশ্বাস, মনের জোর এবং ছন্দে যাঁরা আছেন, তাঁদের দায়িত্ব এখন অনেক বেশি। গত সফরের অভিজ্ঞতার অবশ্যই মূল্য আছে। যাঁরা এবারের স্কোয়াডে আছেন, তাঁদের বেশির ভাগই গত সফরে দলে ছিলেন। সেই সফরের ভুলত্রুটিগুলো এবং দুর্বলতা সংশোধন করে ইতিবাচক সাহসী মনোভাব নিয়ে খেলতে পারলে ভালো না খেলার কোনো কারণ নেই। মানসিক শক্তি বড় শক্তি। বিশ্বাস করতে হবে সবাইকে। জেতা অবশ্যই সম্ভব!

একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল ২ উইকেটে হেরেছে। এখানেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে নামার আগে সংশোধনের সুযোগ আছে। বলের লাইনে না গিয়ে অনর্থক স্ট্রোক খেলার চেষ্টা সব সময়ই বিপজ্জনক। ব্যাট করা উচিত বলের লাইন লক্ষ করে। বোলিংয়ে বলের লাইন এবং লেন্থ মেইনটেন করেই জায়গামতো বল করতে হবে। এ সবই ক্রিকেটের মৌলিক দিক। এ কাজগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করা ছাড়া উপায় নেই। ভালো খেলতে হলে এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। পুরোপুরি ক্রিকেটের মধ্যে ডুবে থাকতে হবে।

নিউজিল্যান্ড সফর এমনিতেই কঠিন। তার ওপর বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার, দলের সবচেয়ে বড় ভরসা সাকিব আল হাসান শেষ মুহূর্তে ইনজুরিতে পড়ায় তাঁকে ছাড়া দল খেলতে নামবে। এতে ওয়ানডে সিরিজ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারলেও তারা কিন্তু টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে (২-১) অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলকে মোকাবেলা করার জন্য। নিউজিল্যান্ডের সব লক্ষ্যই আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপ ঘিরে।

বাংলাদেশ দলে সাকিবের কোনো বিকল্প নেই—এটা সত্যি। কিন্তু ইনজুরির ওপর তো কারো হাত নেই। এখন ভরসা হলো, দলের অন্য খেলোয়াড়দের ইতিবাচক মনোভাব, মনের জোর আর আত্মবিশ্বাস। মনে রাখতে হবে, অতীতে সাকিব ছাড়াও কিন্তু বাংলাদেশ দল সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অবদানের মাধ্যমে ভালো খেলেছে। সব কিছুই নির্ভর করছে খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের সেরাটা সময়মতো উজাড় করে দেওয়া, দায়িত্বশীল খেলার ওপর। রানের ক্ষুধা, উইকেট নেওয়ার তীব্র ইচ্ছা, ম্যাচ জয়ের তাড়না সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চাইতে হবে দলের হয়ে ম্যাচ জিততে। পরিবেশ-পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, খেলাটা উপভোগ করার চেষ্টা করতে হবে। নির্ভার না হতে পারলে ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ দল দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও গত চারবারের সফরে কোনো সংস্করণে একটি খেলায়ও জিততে পারেনি। গত সফরে ওয়ানডেতে বেশ ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারেনি। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো ওয়ানডে। কয়েক বছর ধরে এ ক্ষেত্রে উন্নয়নের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী আছে! প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে জিতেছে, বিদেশে কারো কারো বিপক্ষে জিতেছে। বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য হলো বিদেশের মাটিতে এখন থেকে বেশি জেতা। চলতি বছর তো বিদেশে অনেক বেশি ওয়ানডে খেলতে হবে। বাংলাদেশ কখনো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতেনি, তাই এবারও জিতবে না, ক্রিকেটে এ ধরনের মনোভাবের স্থান নেই। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড় সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্যে ঘাটতি নেই—প্রয়োজন শুধু শৃঙ্খলার মাধ্যমে মাঠে নেমে পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা। দলীয় খেলায় সবার দায়িত্ব আছে। কার কী দায়িত্ব সেটা বুঝতে হবে। বাংলাদেশ দল আস্তে আস্তে ভালো দল হয়ে উঠছে। বেশ কিছু খেলোয়াড় অনেক বছর ধরে খেলছেন, তাঁরা দলকে জেতাতে পারছেন। তরুণরা, যাঁরা দলে আছেন তাঁরাও মেধাসম্পন্ন। আমরা মনে করি, সবাই মিলে খেলতে পারলে চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন হোক না কেন, জয়ের স্বাদ পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটাররা লড়াইকে ভয় পান না।

নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে ক্রিকেটে একটি জয় অনেক বড় প্রেরণা হতে পারে আসন্ন বিশ্বকাপে লড়াইয়ে নামার আগে! বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ডের ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগামী ২ জুন।

স্কোয়াড গঠন নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে, দলের অপারেশন ম্যানেজার নিয়োগ নিয়েও কথা উঠেছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। এটা দুঃখজনক। যে স্কোয়াড গঠিত হয়েছে ওয়ানডের জন্য, এর বাইরে চিন্তার তো সুযোগ ছিল না। ক্রিকেটীয় অনেক কিছু ভেবেই তো স্কোয়াড গঠন করেছেন নির্বাচকরা। সূত্র: কালের কন্ঠ



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :