রাত ১:২১, বুধবার, ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং
/ ক্রিকেট / তাসকিনের বিশ্বকাপ ভাবনা
তাসকিনের বিশ্বকাপ ভাবনা
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯



গোড়ালির লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। স্ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কমপক্ষে তিন-চার সপ্তাহ লাগবে কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়া চলতে। এরপর জানা যাবে কবে নাগাদ বল হাতে অনুশীলন শুরু করতে পারবেন। এরপর পূর্ণ রানআপে বল করতে সময় লাগবে কতদিন সেটিও জানা নেই। যে কারণে নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর তাসকিন আহমেদের বিশ্বকাপও শেষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু তার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে ইনজুরি বাধা হবে না বলেই মনে করেন এই তরুণ পেসার। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগেই মাঠে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তাসকিন।

তিনি জানান, ‘আসলে ইনজুরির ধরন দেখে হয়তো অনেকেই ভাবছে যে আমার ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলাই হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে এই ইনজুরি আমার বিশ্বকাপ স্বপ্নে কোনো বাধা হবে না। আমি চাইছি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই মাঠে ফিরতে। যদিও সুপার লিগের আগে হয়তো খেলা হবে না। এখানে খেলতে পারলে আমি আবার নিজের শক্তি ফিরে পাবো বলেই মনে করি।’

২০১৭ সালে একবছর ইনজুরির কারণে ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সিলেট সিক্সার্সের হয়ে ২২ উইকেট নিয়ে জানান দিয়েছিলেন ফিরে আসার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ওয়ানডে ও টেস্ট দলেও জায়গা করে নেন তাসকিন। কিন্তু বিপিএলে নিজ দলের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচেই পড়েন ইনজুরিতে। গোড়ালির লিগামেন্ট ছিড়ে যায়। যে কারণে কোনো অবস্থাতেই দেড়-দুই মাসের আগে মাঠে ফেরা তার জন্য প্রায় অসম্ভব। তারপরও বিশ্বকাপ খেলতে আত্মবিশ্বাসী তাসকিন। ইনজুরি নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘আমি জাতীয় দলে আসার আগে থেকেই ইনজুরির সঙ্গে যুদ্ধ করছি। এর মধ্যে কয়েকবার ইনজুরি থেকে মাঠে ফিরেছি। আবার বাইরেও গেছি। এবার যে ইনজুরিতে পড়লাম সেটি মানতে খুব কষ্টই হচ্ছে। বিপিএলে এত ভালো বল করলাম। এত কষ্ট করে নিজের ও বোলিংয়ে রিদম ফিরিয়েছি। তাই এবার একটু বেশিই খারাপ লাগছে। তবে, আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। হয়তো এতেই আমার কোনো মঙ্গল আছে।’

তাসকিন জানান ইনজুরিকে এখন জয় করা শিখে গেছেন তিনি। তার এই অনুপ্রেরণা দেশসেরা পেসার ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে আসার পর থেকেই আমি মাশরাফি ভাইকে ফলো করি। তার মতো হতে চাই। তার জীবনের বড় একটা অংশজুড়ে কিন্তু ইনজুরির সঙ্গেই লড়াই। আমি সব সময় চেয়েছি তার মতো হতে। তাই মাশরাফি ভাইয়ের উত্তরসূরি হতে হলে ইনজুরিকে ভয় পাওয়া চলবে না। আমি তার কাছ থেকেই শিখেছি কিভাবে ইনজুরি মোকাবিলা করে মাঠে ফিরতে হয়।’

বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার মঞ্চ হিসেবে তাসকিন বেছে নিয়েছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে। সেই সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই সম্ভব। আমি যদি প্রিমিয়ার লিগ ও সুপার লিগের কিছু ম্যাচও খেলতে পারি, ফের নিজেকে প্রমাণ করতে পারবো বলেই বিশ্বাস করি। যদি খেলতে না পারি তাহলে হয়তো প্রমাণ করা কঠিন হবে। এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে। সেখানেও যদি আমি সুযোগ পাই আমি নিজের সেরাটাই দিতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :