বিকাল ৩:৩৯, মঙ্গলবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং
/ ক্রিকেট / কুমিল্লার বিপিএল শিরোপা পুনরুদ্ধার
কুমিল্লার বিপিএল শিরোপা পুনরুদ্ধার
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯



দেশি ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরিই ছিল না। সেটি এলো ফাইনালে। তামিম ইকবাল খেললেন ৬১ বলে অপরাজিত ১৪১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। পরে ফিল্ডিংয়ে নেমে নিলেন দুর্দান্ত দুটি ক্যাচ। ব্যবধান তৈরি হয়ে গেল তাতেই। ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারিয়ে বিপিএলের িশরোপা পুনরুদ্ধার করল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে, নীলদের উৎসব ম্লান করে রঙিন হয়ে উঠল রাতের আকাশ।

২০১৫ সালে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে প্রথমবার শিরোপা জেতে কুমিল্লা। দুই মৌসুম পর ইমরুল কায়েসের অধিনায়কত্বে দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ নিল তারা। শুরুতে দলটির অধিনায়ক ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। চোট নিয়ে ফিরে যাওয়ায় ইমরুলের কাঁধে ওঠে নেতৃত্বের ভার।

২০০ রানের বিশাল টার্গেটে নেমে শুরুতেই সুনিল নারিনের উইকেট হারায় ঢাকা। তবে রনি তালুকদার ও উপুল থারাঙ্গার ব্যাটে জয়ের সুবাস পায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৫২ বলে ১০২ রান যোগ করে কঠিন লক্ষ্য সহজ করে দিচ্ছিলেন তারা। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পরই সাকিব আল হাসান, আন্দ্রে রাসেল, কাইরেন পোলার্ড দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় ঢাকা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের বেশি তুলতে পারেনি ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ও গত আসরেও ফাইনালিস্টরা। রানআউটে কাটা পড়ার আগে দলের পক্ষে ৩৮ বলে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন রনি তালুকদার।

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের ফাইনাল স্মরণীয় করে রাখেন তামিম। তার ওয়ান ম্যান শো’য়ের কাছেই মূলত সাকিবদের হার। শুক্রবার গ্যালারিভরা দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে। তামিম ৫০ বলে শতক ছুঁয়ে শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬১ বলে ১৪১ রান করে।

মিরপুরের রহস্যময় উইকেটে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করাকেই শ্রেয় মনে করে বোলিং বেছে নেন ঢাকা অধিনায়ক সাকিব। দ্বিতীয় ওভারে কুমিল্লা ওপেনার এভিন লুইসকে ৬ রানে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সাকিবকে স্বস্তি দেন রুবেল হোসেন।

লুইসকে হারানোর পরই সাবধানী হয়ে যান আরেক ওপেনার তামিম। এনামুল হককে নিয়ে এগোতে থাকেন ধীরে। প্রথমে আস্তে চললেও পরে রীতিমতো দৌড়েছেন দুজনে। বিশেষ করে তামিম। সাকিবের করা ষষ্ঠ ওভারে টানা দুই চার মেরে শুরু করেন ঝড়। ৩১ বলে তুলে নেন এবারের বিপিএলে নিজের তৃতীয় ফিফটি।

তামিম তার মতো থাকলেও বিপত্তি বাধান অপরপ্রান্তের ব্যাটসম্যানরা। ১২তম ওভারে এনামুলকে আউট করে ৮৯ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। গড়েন বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট নেয়ার রেকর্ড।

পরের ওভারে ভুল বোঝাবুঝিতে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন কুমিল্লার ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান শুভ। ১ উইকেটে ৯৮ রানে থাকা কুমিল্লা এক রানের ব্যবধানে হারায় দুই ব্যাটসম্যানকে। খানিকটা বিপদ তখন।

কিন্তু সব ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য থেকে গেলেন তামিম। বল দেখতে লাগলেন ফুটবলের মতো সাইজে! যেখানেই মারতে চেয়েছেন, কথা শুনেছে ব্যাট। মাঠের সবখানেই খেলেছেন চোখজুড়ানো সব শট। ৩১ বলে পেয়েছিলেন প্রথম ফিফটি, পরের ফিফটি পেলেন মাত্র ১৯ বলে। ঠিক ৫০ বলে সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরির পরেও থামানো যায়নি তামিম ঝড়। আরও বেড়েছে। শেষ ১১ বল খেলে নিয়েছেন আরও ৪১ রান। এই ১৪১ রানের মধ্যে ১০৬ রানই তামিম করেছেন বাউন্ডারি থেকে। যাতে ১০ চারের সঙ্গে এসেছে বিশাল ১১টি ছক্কার মার। বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। অল্পের জন্য গেইলের ১৪৬ টপকে যাওয়া হয়নি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :