ভোর ৫:৪৫, সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং
/ ক্রিকেট / জয়ে শুরু কুমিল্লার
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
জয়ে শুরু কুমিল্লার
জানুয়ারি ৬, ২০১৯



জয় দিয়েই বিপিএলের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন শুরু করল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে তারা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ রোববার দিনের প্রথম এই ম্যাচে সিলেটকে ১২৭ রানে বেঁধে রেখে কুমিল্লার জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররা। পরে তামিম ইকবালের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিং ও শহীদ আফ্রিদির শেষের ঝড়ে এক বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় ভিক্টোরিয়ান্স।

কাগজে-কলমে ম্যাচটা কুমিল্লা ও সিলেটের হলেও লড়াই ছিল স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের। গত বছরের মার্চে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক। মার্চের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে জাতীয় দলে ফিরতে পারেন তারা। এর আগে দুজনের নিজেদের প্রস্তুত করার বড় জায়গা বিপিএল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওয়ার্নারের সিলেটের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই অফ স্পিনার মেহেদী হাসানকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বল আকাশে তোলেন লিটন দাস। ক্যাচ নেন স্মিথ। ওয়ার্নার শুরুটা করেছিলেন দারুণ। চতুর্থ ওভারে মেহেদীকে হাঁকান তিনটি চার। পরের ওভারেই তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন তিনি।

চারে নামা আফিফ হোসেন ১৯ রান করে বোল্ড হন। তৌহিদ হৃদয় আর সাব্বির রহমানের বিদায়ে দলের ৫৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে সিলেট।

ষষ্ঠ উইকেটে ৫৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন নিকোলাস পুরাণ ও অলোক কাপালি। তারা দলের স্কোর একশ’ পার করেন। এই জুটির ৫৫ রানের জুটিতেই শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের পুঁজি পায় সিলেট। ২৬ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন পুরাণ। ২০ বলে ১৯ রান করেন কাপালি।

কুমিল্লার বোলারদের মধ্য দুটি করে উইকেট তুলে নেন সাইফউদ্দিন, মেহেদী ও মোহাম্মদ শহীদ।

১২৮ রানে জয়ের টার্গেটে নেমে কুমিল্লার শুরুটা ভালো হয়নি। হার্ডহিটার এভিন লুইস ৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি। ব্যর্থ ইমরুল কায়েসও। ২১ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে কুমিল্লা। এরপর দলকে এগিয়ে নেন তামিম ও স্মিথ। দুজন দলের স্কোর পার করেন পঞ্চাশ। এরপরই স্মিথের বিদায়ে ভেঙে ৩০ রানের জুটি।

এরপর মালিক উইকেটে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন এনামুল হক বিজয়। নিজের পরপর দুই ওভারে দুজনকেই ফিরিয়েছেন সন্দ্বীপ লামিচানে। নেপালের এই লেগ স্পিনারকে উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মালিক (১৩)। গুগলিতে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড বিজয় (৫)।

শেষ পাঁচ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে কুমিল্লার দরকার ছিল ৪৫ রান। তখনো একপ্রান্তে ৩৩ রানে অপরাজিত তামিম। ১৭তম ওভারে ইরফানকে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান আফ্রিদি। পরের বলেই রান আউটে কাটা পড়েন তামিম। ইরফানকে কাভারে খেলেছিলেন আফ্রিদি। নন স্ট্রাইক থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তামিম। ফেরার আগেই সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন পুরাণ। ৩৪ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ রান করেন তামিম।

শেষ তিন ওভারে কুমিল্লার দরকার ছিল ২৭ রান। ১৮তম ওভারে তাসকিনকে আফ্রিদির একটি করে চার ও ছক্কায় আসে ১৫ রান। শেষ ওভারে ৪ রানের সমীকরণে কাপালি প্রথম চার বলে অবশ্য শুধু ৩ রান দিয়েছিলেন। তবে পঞ্চম বলে চার হাঁকিয়ে এক বল বাকি থাকতেই কুমিল্লার জয় নিশ্চিত করেন আফ্রিদি। ২৫ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :