ভোর ৫:৪৪, সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং
/ ফুটবল / ফাইনালে শেখ রাসেল
স্বাধীনতা কাপ ফুটবল
ফাইনালে শেখ রাসেল
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮



স্পোর্টস রিপোর্টার

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে ২-০ গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে শেখ রাসেল।

কোয়ার্টার ফাইনালে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আরামবাগকে হারিয়ে দিয়ে উজ্জীবিত ব্রাদার্স ইউনিয়নের স্বপ্ন ছিলো দীঘদিন পর ফাইনালে খেলা। আত্মবিশ্বাসী নঈমুদ্দিনের দলকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করাটা খুব একটা সহজ ছিলো না শেখ রাসেলের পক্ষে। ঢাকা আবাহনীর মতো দলের সঙ্গেও এই টুর্নামেন্টে গোল শুন্য ড্র করার কৃতিত্ব আছে ব্রাদার্সের। সেটি মাথায় রেখেই ছক কষেছিলেন রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটু। রক্ষণাত্মক ফুটবল থেকে সরে এসে এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলিয়েছেন শিষ্যদের। ১২ মিনিটে কর্ণার থেকে রাফায়েল দা সিলভার বল বক্সে ঝাপিয়ে উঠে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক সুজন। তবে বল চলে যায় মাঠের বাইরে। ১৮ মিনিটে এভারটনের কর্ণার বক্সে পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সতীর্থরা। ২০ মিনিটে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন লিওনার্দো। কিন্তু কেড়ে নেন রাসেলের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এলিসন উদোকা। ৩৭ মিনিটে রাসেলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল ওডোইন ডি বক্সের মাথা থেকে বা পায়ের গড়ানো ক্রস গ্রিপ করতে চেষ্টা করেছিলেন সুজন চৌধুরী। কিন্তু বলের গতি এতোটাই বেশি ছিলো যে তিনি ঠিক মতো ধরে রাখতে পারেননি। ফলে কর্ণার পায় শেখ রাসেল। তবে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি তারা। অবশেষে প্রথমার্ধের অন্তিম সময়ে দারুণ এক গোলে ম্যাচে লিড নেয় তারা। ৪৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রাসেলের রাফায়েল ওডোইনের ডান পায়ের ক্রসে বা প্রান্ত থেকে লাফিয়ে উঠে উড়ন্ত বলে বা পায়ের দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করেন উজবেক ফরোয়ার্ড আজিজভ আলীসের (১-০)।

তবে রাসেলের গোলটি মেনে নিতে পারেনি ব্রাদার্স শিবির। তাদের দাবী গোলটি ছিলো অফসাইড। তাই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান। তবে সহকারী রেফারী তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

প্রথমার্ধ পিছিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় গোপীবাগের দলটি। ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ‘অল ব্লু’রা। বা প্রান্ত থেকে খালেকুর জামানের গড়ানো ক্রস বক্সে পেয়ে ডান পায়ের শটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলীসের (২-০)। যদিও এগিয়ে এসেছিলেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক। তবে বলের নাগাল পাননি।

জয় একরকম নিশ্চিত হয়ে যাওয়াতেই বোধহয় খোলসে ঢুকে পড়েন টিটু শিষ্যরা। ম্যাচে ফেরার আশাটা হারিয়ে ফেলেন নঈমুদ্দিন শিষ্যরাও। যে কারণে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে আসে। অবশ্য ৬৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে একটা চেষ্টা করেছিলেন রাসেলের রাফায়েল। কিন্তু তার শট সরাসরি গ্রিপ করেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক সুজন চৌধুরী।

শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি শেখ রাসেল। ব্রাদার্সেরও ম্যাচে ফেরা হয়নি। তাই ২-০ গোলের জয়ে দীর্ঘ পাচ বছর পর স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে অল ব্লু’রা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীর মুখোমুখি হচ্ছে রানার্স আপ বসুন্ধরা কিংস। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টে ফাইনালে হেরে যাওয়ার আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ বসুন্ধরার সামনে। ফলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকাল সাড়ে চারটার এক জমজমাট ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় দেশের ফুটবলপ্রেমিরা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :