সন্ধ্যা ৭:০৯, বৃহস্পতিবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ
সাফ অ-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ
পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ
নভেম্বর ৩, ২০১৮



স্পোর্টস রিপোর্টার

কিশোরদের সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা পূনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী পাকিস্তানকে ফাইনালের মহারণে টাইব্রেকারে ৩(১)-২(১) গোলে পরাস্ত করে লাল-সবুজের পতাকার সম্মান বৃদ্ধি করেছে মেহেদী, জুনায়েদ, আদনানরা। এ ম্যাচেও জয়ের নায়ক গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। যশোরের এ কিশোরের বীরত্বে টাইব্রেকারে পাকদের বিরুদ্ধে দারুণ এক জয় পায় মোস্তফা আনোয়ার পারভেজের শিষ্যরা। ম্যাচের মূল সময় ১-১ গোলে ড্র ছিল। আগামীকাল রোববার বিকেল তিনটায় সাফের শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরবে লাল-সবুজের দল। সেমি ফাইনালে গত আসরের রানার্সআপ ভারতকে পরাস্ত করে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচেও টাইব্রেকারে মেহেদী জাদুতে ভারতকে ধরাশায়ী করেছিল বাংলার কিশোররা।

আজ শনিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাদশে ছিলেন না গোলরক্ষক মেহেদী। লাল কার্ডের সমস্যা দূর হওয়ায় এক নম্বর গোলরক্ষক মিতুল মারমা সুযোগ পান। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে তাকে নামানোর জন্য কোচ হয়তো রিজার্ভ বেঞ্চ রেখে দিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদীকে। সে টোটকা বেশ ভালোই কাজে লেগেছে। কারণ ম্যাচ যখন ১-১ গোলের সমতায় শেষ হওয়ার পথে, তখনি কোচ আনোয়ার পারভেজ মিতুল মারমাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান মেহেদীকে। তার হয়তো অঘাত বিশ্বাস ছিল ১৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের উপর। কোচের সে বিশ্বাসের প্রতিদান গুনে গুনে দিয়েছেন মেহেদী।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা উচ্ছ্বাস

১-১ গোলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর শুরু আসল রোমাঞ্চ, টাইব্রেকার। একেতো ফাইনালের স্নায়ুচাপ, তার উপর টাইব্রেকার। দু’য়ে মিলে বাংলাদেশের প্রথম শট নিতে গিয়েই ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে দেন রাজন হাওলাদার। সে চাপটা সামলে প্রতিপক্ষের জুনায়েদ সাহার শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করে লাল-সবুজ শিবিরকে উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন মেহেদী। এরপর বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন তৌহিদুল ইসলাম। পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় শট নিতে আসা আদনান জাষ্টিনের শটটিও দারুন দক্ষতার সঙ্গে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করে শিরোপার পথ প্রসারিত করেন মেহেদী। এরপর লাল-সবুজদের হয়ে টানা দু’টি গোল করেন রাজা আনসারি ও রুস্তম ইসলাম দুখু মিয়া। পাকিস্তানের মহিব উল্লাহ ও ওয়াসীফ নিশানা ভেদ করে ব্যাধান ৩-২ এ নামিয়ে আনেন। বাংলাদেশের হয়ে শেষ শট নিতে আসা রবিউল আলম স্কোর করতে পারলেই ৪-২ ব্যবধানে শিরোপা উল্লাস করতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশী এ কিশোর বোকার মতো শট তুলে দেন পাকিস্তানী গোলরক্ষকের হাতে। জমে উঠে ম্যাচ।

আবারো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হন গোলরক্ষক মেহেদী। তার উপরই নির্ভর করছিল সব। শট ফেরাতে পারলেই শিরোপার স্বাদ। নয়তো আবারো পেনাল্টি শুট আউটের মুখোমুখি। এমন টেনশনের মুখোমুখি হয়েও মেহেদী নিজেকে সংবরন করেছেন সাবলীলভাবেই। ঠান্ডা মাথায় পাকিস্তানের মোদাস্সর নাজারের শটটি রুখে দেন পা দিয়ে। আর সঙ্গে সঙ্গে শিরোপা পূনরুদ্ধারের উল্লাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালেও ফাইনালে ভারতের কিশোরদের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে শিরোপা জয় করেছিল লাল-সবুজরা।

নেপালের এএনএফএ কমপ্লেক্স গ্রাউন্ডে দুপুরে শুরু হওয়া এ ম্যাচে শুরু থেকেই বেশ আক্রমনাত্মক খেলেছিল বাংলার কিশোররা। তিন মিনিটেই গোলের সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রাসেল। গোলরক্ষককে একা পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। ৯ মিনিট পর উচ্ছ্বাসও মিস করেন গোলের সুযোগ। তবে ২৫ মিনিটে আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কর্ণার থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হেড দিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন পাকিস্তানী ডিফেন্ডার হাসিব আহম্মেদ খান (১-০)। এগিয়ে যাওয়ার উৎসবে মেতে উঠে লাল-সবুজরা।

কিন্তু এরপরই যেনো ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের। নিজেদের খুঁজে পাচ্ছিল না আনোয়ার পারভেজের শিষ্যরা। আর এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান। বাংলাদেশী ডিফেন্ডার হেলাল নিজেদের বক্সে প্রতিপক্ষের এক ফরোয়ার্ডকে রাফ ট্যাকল করলে রেফারী সুদীপ কুমার পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে গোল করেন মহিব উল্লাহ (১-১)। শেষ পর্যন্ত সমতায় ম্যাচ শেষ হলে টাইব্রেকারে নিস্পত্তি হয় শিরোপা ভাগ্য।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :