ভোর ৫:৪০, সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং
/ ফুটবল / চার ফুটবলারের শাস্তি চান সাবেকরা
সত্যজিৎ দাস রূপুর প্রশংসা
চার ফুটবলারের শাস্তি চান সাবেকরা
নভেম্বর ২৪, ২০১৮



স্পোর্টস রিপোর্টার

গতকাল শুক্রবার ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে ক্রীড়াশৈলীর চেয়ে শারীরিক ক্ষমতা প্রদর্শনে বেশী ব্যস্ত ছিলেন চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী ও রানার্সআপ বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা। শুরু থেকেই উভয় দলের ফুটবলাররা ছিলেন লাগামছাড়া। কখনো প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে রাফ ট্যাকল করে নগ্ন উল্লাস, আবার কখনো প্রতিপক্ষের ফুটবলারের দিকে তেড়ে যাওয়া ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।

ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত দু’দলের ফুটবলাররাই ট্যাকল আর তেড়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু শেষ দিকে এসে উভয় দলের ফুটবলাররাই হারালেন মেজাজ। ফলে মাঠের মধ্যেই মারামারিতে লিপ্ত হন আবাহনী-বসুন্ধরার ফুটবলাররা। একে অন্যের উপর ফ্লাইং কিক, কিল, ঘুষি, গলা ধাক্কা দিতেও টেরেনি। মারামারির কারনে ম্যাচ বন্ধ রাখতে দশ মিনিট। পরে চার ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজ, সুশান্ত ত্রিপুরা, মামুন মিয়া ও নাবীব নেওয়াজ জীবনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেন রেফারী মিজানুর রহমান। ফাইনালে এক সঙ্গে চার ফুটবলারকে লাল কার্ড দেয়ার ঘটনা দেশের ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম। শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্বব্ধ পুরো ক্রীড়াঙ্গন। সাবেক ফুটবলাররা হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ। মাঠে মারামারি করা চার ফুটবলারেরই শাস্তি দাবী করছেন সাবেক ফুটবলাররা।

আগেই ধরে নেয়া হয়েছিল, ফাইনালটা হবে উত্তেজনাপূর্ণ। শক্তিশালী দু’দলের লড়াই দেখতে তাই হাজির হয়েছিলেন হাজার দশেক দর্শক। কিন্তু মাঠে ফুটবলারদের ‘ফুটবলশৈলী’ নয়, শারীরিক কসরত করতেই দেখলেন সবাই। ফুটবলারদের মারামারি দেখে হতাশ দর্শকরা। ঘটনার শুরু ৮৫ মিনিটে। আবাহনীর জীবন প্রথম ঘুষি মারেন সুশান্ত ত্রিপুরার মুখে। সুশান্ত ঘুরে পাল্টা আঘাত করেন জীবনকে- ঘুষি, লাথি ও কিল মেরে ফেলে দেন আবাহনীর স্টাইকারকে। এ যেন বল ছেড়ে দুই খেলোয়াড় কুংফু-কারাতে শুরু করলেন। আবাহনীর বদলি ডিফেন্ডার মামুন মিয়া অনেক দূর থেকে দৌড়ে গিয়ে ফ্লাইং কিক মারেন সুশান্তকে। যা দেখে সবাই হতবাক। ফুটবল মাঠে এটাও সম্ভব? তারপর বসুন্ধরা কিংসের বদলি স্ট্রাইকার তৌাহিদুল আলম সবুজ দৌড়ে গিয়ে ঘুষি মারেন মামুন মিয়াকে। শুরু হয়ে যায় গণমারামারি। দুই দলের ডাগআউট ছেড়ে কোচ-অফিসিয়ালরাও ছুটে যান মাঠের মধ্যে। আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু মাঠে ছুঁটে গিয়ে নিজ দলের ডিফেন্ডার মামুন মিয়াকে চড়-থাপ্পর মেরে শান্ত করেন।

ঢাকার মাঠে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় হতবাক সাবেক ফুটবলাররা। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু চার ফুটবলারের শাস্তি দাবী করে বলেন, ‘এটা দেশের ফুটবলের জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকবে। এমন ঘটনা অতিতে কখনোই ঘটেনি। ফুটবল ফেডারেশন ও লিগ কমিটির ব্যর্থতার কারনে ক্লাবগুলো মাঠে যাচ্ছেতাই আচরনের সাহস দেখাচ্ছে। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমি দোষি চার ফুটবলারের শাস্তি দাবী করছি।’ একই সঙ্গে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুর সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে সাবেক এ ফুটবলার বলেন, ‘আমি মনেকরি রুপু সফল একজন ম্যানেজার। তার ভূমিকা ছিল জাত ক্যাপ্টেনের মতো। মাঠে প্রবেশ করে যেভাবে তিনি দলের ফুটবলারকে চড়-থাপ্পর মেরে শান্ত করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।’

জাতীয় দলের আরেক সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম বলেন, ‘মাঠে এ ধরনের ঘটনা প্রত্যাশিত নয়। কাল (শুক্রবার) ফুটবলারদের যে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব দেখেছি, সেটা কাম্য নয়। এটাকে স্পোটিং মনোভাব বলে না। খেলায় হার-জিত থাকবেই। সেটা মেনে নেয়াটাই একজন খেলোয়াড়ের আসল কাজ। অথচ আমরা মাঠে কি দেখলাম? এ ধরনের ব্যবহার ফুটবলারদের কাছ থেকে আশাকরি না। আমি দোষিদের আইনানুযায়ী শাস্তি দাবী করছি।’ সাবেক এ ফুটবলারও আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুর প্রশংসা করতে ভুল করেননি।

এদিকে, মাঠে ঘটে যাওয়া অনাকাংঙ্খিত ঘটনার প্রতিবেদন দাখিল করেছেন ম্যাচ কমিশনার। আগামি সভাতেই লিগ কমিটি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানালেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :