ভোর ৫:৩৯, সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং
/ ফুটবল / অঘটনের ম্যাচে আবাহনী হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন
ফেডারেশন কাপ ফুটবল
অঘটনের ম্যাচে আবাহনী হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন
নভেম্বর ২৩, ২০১৮



স্পোর্টস রিপোর্টার

চরম উত্তেজনা ও নানা নাটকীয়তায় ভরা ফাইনালে জয় তুলে নিয়ে ফেডারেশনের কাপের হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতলো দেশসেরা ঢাকা আবাহনী। নবাগত বসুন্ধরা কিংসকে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত করে মৌসুমের প্রথম আসরের ট্রফিটা নিজেদের করে নেয় আকাশী-হলুদ শিবির। দুই বিদেশী সানডে ও বেলফোর্ট ম্যাজিকে পিছিয়ে পড়েও দারুণ এক জয় পায় জাকারিয়া বাবুর দল। সানডে করেছেন জোড়া গোল। ফাইনালে যেমন ছিল উত্তেজনা, তেমনি ঘটেছে হাতাহাতি-মারামারির ঘটনাও।

জয় থেকে যখন আবাহনী তখন পাঁচ মিনিট দূরে, তখনই শুরু মারামারি। চলছিল অতিরিক্ত সময়ের খেলা। আবাহনীর ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবনকে লাথি মারেন বসুন্ধরার সুশান্ত ত্রিপুরা। সতীর্থকে আঘাতের পাল্টা জবাব দিতে দৌড়ে এসে সুশান্তকে উড়ন্ত লাথি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান মামুন মিয়া। সাথে সাথেই তৌহিদুল আলম সবুজ পাল্টা আঘাত করতে মামুনের দিকে ছুঁটে যান। এ সময় উত্তেজীত আবাহনীর সমর্থকরা পানির খালি বোতল গ্যালারি থেকে ছুড়ে ফেলেন মাঠে। পরে দু’দলের অফিসিয়ালরা ছুঁটে এসে নিজ নিজ দলের ফুটবলারদের শান্ত করেন। রেফারী মিজানুর রহমান বসুন্ধরার কিংসের সুশান্ত ত্রিপুরা ও তৌহিদুল আলম সবুজ এবং আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ জীবন ও মামুন মিয়াকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ঢাকার ইতিহাসে এই প্রথম এক ম্যাচে এক সঙ্গে চার লালকার্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু ও ইমতিয়াজ আহমেদ জনিও।

আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হয় ফাইনালের এই মহারণ। গ্যালারীতে দর্শক ছিল পরিপূর্ণ। টানাটন উত্তেজনার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে জমে উঠে ম্যাচ। তবে প্রথমে গোলের দেখাটা পেয়ে যায় নবাগত বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের ২০ মিনিটেই এগিয়ে যায় অধিনায়ক কলিন্ড্রেসের গোলে। আলমগীর কবির রানা প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও বাঁ-পায়ের প্লেসিং শটে আবাহনীর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোল আদায় করতে ভুল করেননি বিশ্বকাপ খেলা এই ফরোয়ার্ড (১-০)। ফেডকাপে এটা তার পঞ্চম গোল।

পিছিয়ে থেকে ম্যাচে ফিরতে একের পর এক চেষ্টা চালায় আবাহনী। কিন্তু সানডে-বেলফোর্টের আক্রমনগুলো আলোর মুখ দেখছিল না। কখনো ক্রসবার, আবার কখনো সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে যাচ্ছিল। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমন করে ম্যাচে ফিরতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিটেই গোলের দেখা পায় ধানমন্ডির ক্লাবটি। রায়হানের লম্বা থ্রু থেকে বল বক্সে পড়া মাত্রই ডান পায়ের বাঁকানো প্লেসিং শটে গোলরক্ষক জিকুকে বোকা বানিয়ে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন তিনি (১-১)।

প্রথম গোলের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো গোল করেন সানডে। এবার গোলের পেছনের কারিগর সোহেল রানা। মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে যান এ মিডফিল্ডার। বসুন্ধরার চার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডানদিকে থাকা সানডের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে দেন। ডান পায়ের দারুন প্লেসিংয়ে কয়েক হাজার সমর্থককে উৎসবে মাতিয়ে তুলেন (২-১)। ফেডকাপে এটা তার ৬ষ্ঠ গোল। সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটিও মজবুত করেন তিনি।

৮৩ মিনিটে আরেক বিদেশী ফরোয়ার্ড বেলফোর্ট ঝলকে মাঠ কাঁপায় আবাহনী। ওয়ালী ফয়ছালের কর্ণারে মাথা ছুঁইয়ে নিশানা ভেদ করেন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড বেলফোর্ট (৩-১)।

এরপরই শুরু শারীরিক যুদ্ধ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে জোড়া গোল করা সানডেকে রাফ ট্যাকল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন বসুন্ধরার নাসির উদ্দিন। মাঠেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন এ নাইজেরিয়ান। পাঁচ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর শুরু দু’দলের ফুটবলারদের মারামারি। যে ঘটনায় চারজন এক সঙ্গে লালকার্ড দেখেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :