দুপুর ২:৩৬, রবিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ ফুটবল / স্ট্রাইকার সংকটে বাংলাদেশ
স্ট্রাইকার সংকটে বাংলাদেশ
অক্টোবর ১৮, ২০১৮



স্পোর্টস রিপোর্টার
সদ্য সমাপ্ত সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে অসাধারণ পারফর্ম্যান্স করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম আসরের গ্রুপ পর্ব আর দ্বিতীয়টির সেমি ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও নিজেদের ফুটবলশৈলী প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষের ফুটবলার ও কোচদের মন জয় করে লাল-সবুজের দল। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে গোছানো ও পাসিং ফুটবল খেলেছেন জামাল-জীবন-বিপলুরা। জেমি ডে’র তত্বাবধায়নে ফুটবলের যে উন্নতি হয়েছে সেটা মাঠেই প্রমানিত। তবে আফসোসের বিষয় গোল না পাওয়া। স্ট্রাইকার সংকটের কারনেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জিততে পারছে না বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলেতো ফিলিপাইন ও ফিলিস্তিনির বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আধিপাত্য ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু একের পর এক আক্রমন করেও গোল না পাওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

ফরোয়ার্ডদের ফিনিসিংয়ের অভাবটা ভাবাচ্ছে খোদ কোচকেও। চেষ্টা করছেন; কিন্তু পারছেন না এ সমস্যার সমাধান করতে। স্ট্রাইকারদের এমন সংকটের মধ্যেও এবার পেশাদার লিগ কমিটি এশিয়ান কোটাসহ চার বিদেশী ফুটবলারকে রেজিস্ট্রেশন করানোর সুযোগ দিয়েছে। ক্লাবগুলোও এ সুযোগে বিদেশী ফরোয়ার্ডদের দলে নিয়েছে। যার ফলে আসন্ন মৌসুমে দেশী ফরোয়ার্ডরা যে মাঠে নামার সুযোগ কম পাবেন- সেটা সহজেই অনুমেয়। লিগ কমিটির এমন সিদ্ধান্তে দেশে স্ট্রাইকার সংকট বাড়বে, কোনোমতেই কমবে না। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জাতীয় দলে। ভালো খেলার পরও আবার হতাশা নিয়েই ছাড়তে হবে মাঠ। তবে এমন যুক্তি মানতে নারাজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তার মতে, বিদেশী ফরোয়ার্ড যতোই আসুক, নিজে ভালো খেলে দলে জায়গা করে নিতে হবে। কেউ কাউকে সুযোগ দেয় না। নিজের জায়গাটা নিজেরই করে নিতে হয়।

আসন্ন ফুটবল মৌসুমের দল-বদল শেষ হয়েছে সোমবার। এবার অধিকাংশ দলই লিগ কমিটির নিয়মানুসরন করে চারজন করে বিদেশী ফুটবলারকে দলে নিয়েছে। হাতেগোনা দুই একটি ক্লাবছাড়া বাকী সব ক্লাবই ফরোয়ার্ড নিয়েছেন দলে। বিদেশী ফরোয়ার্ডদের কারনে এবার স্থানীয় ফরোয়ার্ডরা সেরা একাদশে জায়গা পাবেন কম। মাঠে নামতে না পারলে নিজেদের প্রমানও করতে পারবেন না। মৌসুমটাই কাটাতে হবে সাইডবেঞ্চে বসে। স্ট্রাইকার সংকটের মধ্যেও লিগ কমিটির এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘চারজনের পক্ষে আমিও ছিলাম না। কিন্তু ফিফা ও এএফসির নিয়ম আমাকে ফলো করতে হয়েছে। তবে এটাকে আমি সমস্যা মনে করি না। কারন স্ট্রাইকাররা যদি নিজেদের প্রমান করতে পারেন, তাহলে তাকে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হবে না। নিজেদের সুযোগটা আদায় করে নিতে হবে। আমি যখন মোহামেডানে নাম লেখাই, তখন অনেকেই বাঁধা দিয়েছিল। বলেছিলো একাদশে ঠাঁই পাবো না। মাঠে নামতে পারবো না। কিন্তু খুব বেশী সময় লাগেনি নিজেকে প্রমান করতে। চার ম্যাচ বসে থাকার পর মাঠে নেমেই গোল করেছিলাম দুইটি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। জায়গা আমার পারমানেন্ট হয়ে গিয়েছিল। এভাবেই প্রত্যেক ফুটবলারকে দলে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে হয়। কিন্তু আমাদের ফুটবলাররা বেশী টাকার আশায় বড় ক্লাবে নাম লেখায় এবং মৌসুম জুড়ে সাইড বেঞ্চে বসে থাকে। লিগের মাঝ পথে দল পাল্টানোর সুযোগ থাকলেও অন্য দলে যায় না। কারন সেখানে টাকা কম। ফুটবলারদের লড়াই করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব থাকতে হবে। তবেই তারা দলে জায়গা পাবে এবং বিদেশীদের ভিড়েও নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে ফেলবে।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :