রাত ৪:১৩, শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / রোনালদোর স্পন্সর বিড়ম্বনা
রোনালদোর স্পন্সর বিড়ম্বনা
অক্টোবর ৫, ২০১৮



নয় বছর আগের এক ঘটনাতেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্পন্সররা বিড়ম্বনায় পড়ে গেছে। ধীরে ধীরে সেই উত্তাপ আসতে শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার সিআরসেভেনের দিকে‌ও। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ বছর বয়সী সেই নারীর, রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে, পর্তুগিজ মহাতারকার স্পন্সর Nike এবং গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান EA Sports।

এই অভিযোগের পর মুখ খুলেছে নাইকি। ২০০৩ সালে তারা প্রথম চুক্তি করেছিল রোনালদোর সঙ্গে। ২০১৬ সালে এক বিলিয়ন ডলারে চুক্তি নবায়ন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড নাইকি। তারা এপিকে জানিয়েছে, ‘আমরা বিষয়টি অবহিত হয়েছি। অবস্থার গতি-প্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ বলাবাহুল্য রোনালদো নাইকির বুট পড়ে খেলে থাকেন।

এদিকে, গত সপ্তাহে EA Sports প্রকাশ করেছে FIFA বিশ্বকাপের খেলার গেমস। ২০১৯ সালের সংস্করণে বাজারে আসা এই গেমসের কাভার পেইজে আছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি। তারা জানিয়েছে, ‘রোনালদোর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটা আমরা শুনেছি। আমরা গভীরভাবে বিষয়টি মনিটর করছি। আমরা আশা করি, ভালো এবং যোগ্যদেরই কাভারে থাকা উচিত। এটাই EA’র মূল লক্ষ্য।

ঘটনা যাই হোক না কেন, রোনালদোর ক্লাব দল জুভেন্টাস ঠিকই তাঁকে সাপোর্ট করছে। ক্যাথরিন মায়োরগা নামে ৩৪ বছর বয়সী মার্কিন এক নারী সিআরসেভেনর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালে মায়োরগা এক ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হন। অবশ্য এখন তিনি একজন স্কুল শিক্ষিকা। এক সাক্ষাত্কারে রোনালদোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন ক্যাথরিন মায়োরগা। জানান, পর্তুগিজ তারকা তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। সেই সময় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের‌ও করেছিলেন। কিন্তু রোনালদোর পক্ষ থেকে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে চাপ আসে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ট্রান্সফার করা হয়। প্রবল লড়াইয়ের পরও একটা সময় বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়োরগা। কিন্তু আবার তিনি সাহস জুগিয়ে ফিরে এসেছেন। জানালেন, সেদিনের ঘটনা‌ও।

রোনাল্ডোর সঙ্গে মায়োরগার পরিচয় হয় এক বিখ্যাত নাইটক্লাবে। তখন মায়োরগা ঐ নাইটক্লাবে চাকরি করতেন। ২০০৯-এ রোনাল্ডো সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছেন। একটা সময়ে সেই নাইটক্লাবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাঁকে নিজের হোটেলের ঘরে আসার আমন্ত্রণ জানান সিআরসেভেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েই মহাবিপদে পড়েন মায়োরগা।

অভিযোগ প্রমানিত হলে রোনালদো বেশ বেকায়দায় পড়ে যাবেন। হারাবেন বিপুল পরিমান স্পন্সর মানি‌ও। গত জুনে Forbes পত্রিকা জানিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রতি বছর ১০৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। তার মধ্যে বেতন আর বোনাস মিলিয়ে ৬১ মিলিয়ন, আর ৪৭ মিলিয়ন বিভিন্ন এনডোর্সম্যান্ট থেকে। অবশ্য খেলোয়াড়দের মধ্য আয়ের তালিকায় রোনালদো আছেন তৃতীয়তে। তাঁর উপরে আছেন, বক্সিং তারকা (বর্মানে অবসরে) ফ্লোয়েড মে‌ওয়েদার এবং বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লি‌ওনেল মেসি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :