রাত ৪:৪৪, শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং
/ ফুটবল / ভালো খেলেই ফিলিপাইনের কাছে হারলো বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল
ভালো খেলেই ফিলিপাইনের কাছে হারলো বাংলাদেশ
অক্টোবর ৬, ২০১৮



স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে

ফিলিপাইনের কাছে হেরে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবেই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমি ফাইনালে খেলতে হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। ১-০ এ গোলের হারে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন তাজিকিস্তান অথবা ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হতে হবে লাল-সবুজদের। আর টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ফিলিপাইন। শুক্রবার সিলেটে হারলেও দর্শকদের মন জয় করেছে বাংলার দামাল ছেলেরা। পুরো ম্যাচে ছিল তাদেরই আধিপাত্য। ছোট ছোট পাসে নান্দনিক ফুটবল খেলে ফিলিপাইনকে চাপের মুখেই রেখেছিল পুরো ৯০ মিনিট। ভাগ্য সহায় ছিল না বলে ম্যাচে জয় পা‌ওয়া হয়নি।

সেমিফাইনালটা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকদের। তাই শেষ চারের লড়াইকে সামনে রেখে একাদশে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জেমি ডে। রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিটা পরখ করার জন্যই চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ইনজুরির কারনে মাঠে নামা হয়নি নিয়মিত অধিনায়ক মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া ও ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সালকে। আর বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ এবং আক্রমনভাগের হাতিয়ার মাহবুবুর রহমান সুফিলকে। তপু বর্মনের সঙ্গে রক্ষণপ্রাচীর সামলে রাখার দায়িত্ব ছিল সুশান্ত ত্রিপুরা ও রহমত মিয়ার। আর আক্রমনভাগে নামানো হয়েছিল তৌাহিদুল আলম সবুজকে। মধ্যমাঠে ছিলেন ইমন মাহমুদ।

ইনজুরির কারনে দলে না থাকায় অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পড়ে তপু বর্মনের উপর। কিন্তু আগে দেয়া প্লেয়ার লিষ্টে কাপ্তান হিসেবে নাম ছিল মামুনুল ইসলামের। ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপও করতে দেখা যায় তাকে। কিন্তু টিম যখন মাঠে নামে তখন তাকে মাঠে কিংবা ডাগআউটে দেখা যায়নি। নতুন দেয়া প্লেয়ার লিষ্টে পরিবর্তিত প্লেয়ার হিসেবেও নাম ছিল না তার। এ নিয়ে দেখা দেয় সন্দেহ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা জানান, অধিনায়কত্ব নিয়ে সমস্যার কারনেই তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।

র‌্যাংকিংয়ের ১১৪ নম্বরে থাকা ফিলিপাইনের বিরুদ্ধেও ৪-৪-২ ফরমেশনে টিম মাঠে নামান জেমি ডে। আক্রমনাত্মক ধারাতেই খেলতে থাকে দল। ম্যাচের চার মিনিটেই আক্রমনের সুফলও পেতে বসেছিল টিম বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক মাইকেল কেসাস হতাশ করেন মাঠে ছুঁটে আসা হাজার পঁচিশেক দর্শককে। রহমতের লম্বা থ্রু থেকে বক্সের ভেতরে দাঁড়ানো তপুর ব্যাকহেড ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেন গোলবারের মাইকেল কেসাস। ফিরতি বলে নাবীব নেওয়াজ জীবন হেড নিলে সেটি ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে।

এরপরও দমে যায়নি স্বাগতিকরা। পরিকল্পিত আক্রমনে চাপে রেখেছিল প্রতিপক্ষকে। কিন্তু ২৪ মিনিটে ডিফেন্ডার তপু বর্মনের ভুলের মাশুল গুনতে হয় লাল-সবুজজ জার্সীধারীদের। মাইকেল দানিয়েলসের নেয়া শট তপুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে জালে প্রবেশ করে (১-০)। গোলরক্ষক আশরাফুল লাইনেই ছিলেন। ঘুঁড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশের আরো একটি আক্রমন নসাৎ করেন গোলরক্ষক মাইকেল কেসাস। রবিউলের কর্ণার সরাসরি জাল স্পর্শ করার ঠিক আগ মুহুর্তে ফিলিপাইনের গোলরক্ষক ফিষ্ট করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা। বেশ কয়েকবার ফিলিপাইনের ভিতও কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তপু, বিপলু, জীবনরা। এ অর্ধের পুরোটা সময় জুড়েই পুরোপুরি রক্ষনাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় সফরকারীদের। ৭০ মিনিটেতো গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন জীবন। ডানদিক থেকে তৌহিদুল আলম সবুজের আলতো চিপে দৌড়ে এসে দারুন এক হেড নেন জীবন। কিন্তু বল জাল খুঁজে পায়নি। দুই মিনিট বাদেই আরো একবার গোলবঞ্চিত হয় সবুজের লক্ষ্যহীন শটের কারনে। ম্যাচের শেষ মিনিটেও মতিন, তপু আর ইব্রাহিমদের আক্রমন জটলার মধ্যে ঘুরপাক খেলেও ফিলিপাইনের জালে প্রবেশ করেনি। কপাল মন্দ হলে যা হয়, ঠিক তাই হলো।

রবিবার দুপুরের ফ্লাইটে সেমিফাইনালের ভেন্যু সমুদ্র সৈকতনগরী কক্সবাজারে যাবে টপ ফোরে নাম লেখানো দলগুলো।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :