রাত ৪:১২, বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ফিলিস্তিন
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল
বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ফিলিস্তিন
অক্টোবর ১০, ২০১৮



কবিরুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে

স্বাগতিক বাংলাদেশকে বিদায় করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী ফিলিস্তিন। আজ বুধবার সেমি ফাইনালের মহারণে লাল-সবুজদের ২-০ গোলে ধরাশায়ী করেছে ফিলিস্তিনিরা। একটি করে গোল করেন মোহাম্মেদ বালাহ ও সামি মারাবাহ। এ নিয়ে চারবারের লড়াইয়ে তিনবারই হারতে হলো বাংলাদেশকে। আর একটি ম্যাচ ছিল ড্র। আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারনী লড়াইয়ে র‌্যাংকিংয়ের শততম স্থানে থাকা ফিলিস্তিনিরা মুখোমুখি হবে তাজিকিস্তানের। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

 

ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এ লড়াইয়ে একাদশে চারটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জেমি ডে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়ছাল। সঙ্গে জায়গা পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। আর একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেনন তৌহিদুল আলম সবুজ, সুশান্ত ত্রিপুরা, রহমত মিয়া ও রবিউল হাসান। তবে লোকাল কোন ফুটবলারই জায়গা পাননি একাদশে। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ এ ম্যাচে লড়াই করেই হেরেছে। কাউন্টার অ্যাটাকে নয়, বরং পুরো ম্যাচেই আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছে। বারবার আক্রমন করেও গোলের দেখাটা পাওয়া হয়নি তাদের। ফিনিসিংয়ের অভাবটা গতকালও ফুঁটে উঠেছে। ফুটবল গোলের খেলা। দিন শেষে গোলের বিচারেই জয়-পরাজয় নির্ধারন হয়ে থাকে। ইতিহাসও মনে রাখে বিজয়ীদের। তপুু-সুফিল-জীবনরা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও সফরকারীরা ঠিকই সুযোগের সদ্বব্যবহার করেছে। দুই গোল আদায় করে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।

বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের কারনে গত তিন দিন ধরেই কক্সবাজারের আকাশে মেঘ জমে আছে। বৃষ্টি ঝড়ছে প্রতিনিয়ত। লাল-সবুজদের সমর্থন দিতে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই এদিন সমর্থকরা ছুঁটে আসেন মাঠে। গ্যালারী ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। টিকিট না পেয়ে অনেকেই ফিরে গেছেন হতাশা নিয়ে। টানা বৃষ্টির কারনে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্টেডিয়াম হয়ে উঠে কর্দমাক্ত। মাঠের মধ্যে পানি জমে ছিল। বারবার থেমে যাচ্ছিল বল। বলের নিয়ন্ত্রন নিতে উভয় দলের ফুটবলারদেরই গলদঘর্ম পোহাতে হয়েছে। এমন ভারী মাঠে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৮ মিনিটেই গোল হজম করে তারা। ফিলিস্তিনির পরিকল্পিত আক্রমনের সামনে অসহায় ছিলো লাল-সবুজদের রক্ষণভাগ। ডানপ্রান্ত দিয়ে মুসাবের ক্রসে মোহাম্মেদ বালাহর দারুন এক হেডে বল আশ্রয় নেয় জালে (১-০)। গোলরক্ষক আশরাফুল রানা চেষ্টা করেও পারেননি গোল প্রতিহত করতে। পিনপতন নিরবতা নেমে আসে পুরো গ্যালারী জুড়ে।

এরপরই যেনো জেগে উঠেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। আক্রমনে পর আক্রমন করে ভাবিয়ে তুলেছিল সফরকারীদের। ম্যাচের ১৩ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগটা হাতছাড়া হয় গোলরক্ষক রামি হামাদার কারনে। মাহুবুবর রহমান সুফিলের কাটব্যাকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মাসুক মিয়া জনি জোড়ালো শট নিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনির গোলরক্ষক সেই বল গ্রীপে নিয়ে হতাশ করেন লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। আট মিনিট পরেই গোল মিস করেন সুফিল। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটালেও গোলমুখে শট নিতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আবারো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন জীবন। সুফিলের বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল আদায় করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। তার নেয়া শটটি ছিল দিকভ্রষ্ট। ফিনিসিংয়ের যে অভাবটা তা স্পষ্ট হয়ে স্বাগতিক ফরোয়ার্ডদের একের পর এক গোল মিসের মহড়ায়।

পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধেও ছিল আগ্রাসী। গোলের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এ অর্ধে অনেকটাই রক্ষনাত্মক ভূমিকায় খেলতে থাকে ফিলিস্তিনিরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালে ফাঁটল ধরাতে পারেননি জামাল, বিপলু, সবুজরা। বরং কাউন্টার অ্যাটাকে খেলে ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলে চলতি এ আসরের শীর্ষ র‌্যাংকধারী দলটি। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে ইয়াজানের লংবলে দাবাগের হেডে বল পেয়ে যান ফরোয়ার্ড সামেহ। তার সামনে একজন ডিফেন্ডারও ছিলেন না। সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সেকেন্ডবার দিয়ে নিশানা ভেদ করেন তিনি (২-০)।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :