রাত ৪:১৪, শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং
/ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ / দুর্ভাগ্যই সঙ্গী বাংলাদেশের ক্রিকেটের
দুর্ভাগ্যই সঙ্গী বাংলাদেশের ক্রিকেটের
অক্টোবর ৬, ২০১৮



মোঃ মামুন রশীদ

সময়ের সঙ্গে সবকিছুই পাল্টে যায়, বদলে যায় সংজ্ঞা ব্যর্থতারও! একটা সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ম্যাচ জয়ের ব্যাপারটি ছিল বিরল। জিততে পারলে সেটিকে বলা হতো সফলতা, হারলে ব্যর্থতা। কিন্তু এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে ব্যর্থতা-সাফল্যের সংজ্ঞা বদলে গেছে। এখন জয় পাওয়াটা ধারাবাহিক হলেও বড় সাফল্য না আসাটাই ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় দল কিংবা অনুর্ধ-১৯ দল এখন তেমন একটি ব্যর্থতার বৃত্তে আটকা। বড় টুর্নামেন্টগুলোয় সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত খেলতে থাকা দল বারবারই নকআউট ম্যাচগুলো হেরে বড় প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। অনেকেই এটিকে দুর্ভাগ্য আখ্যা দিয়ে আক্ষেপে কপাল চাপড়াতে থাকেন। হতাশায় করেন কান্না। কিন্তু এটি কী দুর্ভাগ্য নাকি বড় ম্যাচের চাপ নিতে না পারার ফল? সর্বশেষটি ঘরের মাটিতে অনুর্ধ-১৯ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে স্বাগতিক বাংলাদেশের মাত্র ২ রানের পরাজয়। ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারায় কেঁদেছেন যুব ক্রিকেট দলের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান শামীম হোসেন।

কিছুদিন আগেই জাতীয় ক্রিকেট দল এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে ভারতের কাছে মাত্র ৩ উইকেটে পরাজিত হয়। ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনালেও হেরে গিয়েছিল ভারতের কাছেই। ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হেরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ২০০৯ সালে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবার কোন ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। কিন্তু ম্যাচ মুঠোর মধ্যে নিয়েও শেষ পর্যন্ত তা হাতছাড়া করে। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত খেলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে হেরে আর বড় কোন প্রাপ্তি যোগ হয়নি। ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপেও ভারতের কাছে ১ রানে হেরে যেতে হয়েছে। এ বছর শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা টাইগাররা ফাইনালে হেরে যায় ভারতের কাছে। ধারাবাহিকভাবে এই ঘটনাগুলো ঘটার পর এখন বিষয়টিকে পুরোপুরি দুর্ভাগ্যও হয়তো বলা যাচ্ছে না। বড় ম্যাচ কিংবা ফাইনালে কি বাংলাদেশ স্নায়ুচাপ কাটিয়ে উঠতে পারে না? বারবার কেন তীরে এসেই তরীটা ডুবে যায়?

তবে সেই বৃত্তটা ভেঙ্গে ফেলেছিল এবার বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। মহিলা এশিয়া কাপ ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখান রুমানা আহমেদ, সালমা খাতুনরা। দেশের ক্রিকেটে প্রথম কোন বড় শিরোপা জয়ের আনন্দ উপহার দেন তারা জাতিকে। গ্রুপপর্বে পাকিস্তান ও ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দেয়ার পর ফাইনালে আবার ভারতকে পরাজিত করে শেষ ওভারের নাটকীয়তার মধ্যে। চলছিল দেশের মাটিতে ছোটদের এশিয়া কাপ। সেমিফাইনালে এখানেও ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দল। হাতের মুঠোয় পেয়েও সেই ভারতের যুবাদের হারাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। এই ম্যাচটি জিতলে প্রথমবার যুব এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে খেলার সুযোগ হতো। ভারতীয়দের মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে দেয়ার পর ৫ উইকেটে ১৩৯ রান তুলে ফেলেছিল বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯। এরপর আর বাকি ৩৪ রান করতে পারেনি তারা, ৩১ রানেই সবগুলো উইকেট হারিয়েছে। এমনকি সর্বোচ্চ ৫৯ রান করে জয়ের স্বপ্ন দেখানো শামীমও সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ২ রানে হেরে প্রথমবার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের যুবাদের।

পরে এ বিষয়ে শামীম বলেন, ‘এমন হারের কষ্ট তো বলে বোঝানো যাবে না। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম ম্যাচটা শেষ করে আসার। যথেষ্ট চেষ্টা করেছি, আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। আমাদের ব্যাটসম্যানরা মোটামুটি ভালই করেছে, কিন্তু ম্যাচ শেষ করতে পারেনি। আমাদের কিছু কিছু জায়গায় ঘাটতি ছিল। এবারের অনুর্ধ-১৯ দলটি নতুন। সামনে যেসব টুর্নামেন্ট হবে, আমরা চেষ্টা করব এই ছোট ছোট ভুলগুলো শুধরে নেয়ার। ড্রেসিং রুমে কথা হয়েছিল স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার। স্বাভাবিক খেলাটা খেললেই আমরা ম্যাচ জিততে পারতাম। শেষদিকে অহেতুক কিছু ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছি।’ এমন ঝুঁকিগুলোর কারণে এবং স্নায়ুচাপ ধরে রাখতে না পারার কারণেই বড় ম্যাচগুলো হেরে বাংলাদেশের ক্রিকেট বড় অর্জন থেকে বারবারই বঞ্চিত হচ্ছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :